(খণ্ড: ১) আল-ইস্তিকামাহ (পৃষ্ঠা: -)
الاستقامة   (ابن تيمية)

القسم: العقيدة


الكتاب: الاستقامة

المؤلف: أبو العباس، تقي الدين، أحمد بن عبد الحليم ابن تيمية [ت 728 هـ]

المحقق: د. محمد رشاد سالم

الناشر: جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية

الطبعة: الأولى، (1403 هـ = 1983 م) - (1404 هـ = 1983 م)

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-ইস্তিকামাহ   (ইবনে তাইমিয়্যাহ)

বিভাগ: আকীদাহ


গ্রন্থ: আল-ইস্তিকামাহ

লেখক: আবুল আব্বাস, তাকীউদ্দীন, আহমাদ বিন আব্দুল হালীম ইবনে তাইমিয়্যাহ [মৃত্যু ৭২৮ হি.]

গবেষক: ড. মুহাম্মাদ রাশাদ সালিম

প্রকাশক: ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

সংস্করণ: প্রথম, (১৪০৩ হি. = ১৯৮৩ খ্রি.) - (১৪০৪ হি. = ১৯৮৩ খ্রি.)

খণ্ড সংখ্যা: ২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ١) আল-ইস্তিকামাহ (পৃষ্ঠা: ٣)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم وَبِه توفيق

الْحَمد لله رب الْعَالمين وَأشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ وَأشْهد أَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله صلى الله عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم تَسْلِيمًا

قَاعِدَة فِي وجوب الاسْتقَامَة والاعتدال ومتابعة الْكتاب وَالسّنة فِي بَاب أَسمَاء الله وَصِفَاته وتوحيده بالْقَوْل والاعتقاد وَبَيَان اشْتِمَال الْكتاب وَالسّنة على جَمِيع الْهدى وَأَن التَّفَرُّق والضلال إِنَّمَا حصل بترك بعضه والتنبيه على جَمِيع الْبدع الْمُقَابلَة فِي ذَلِك بِالزِّيَادَةِ فِي النَّفْي وَالْإِثْبَات ومبدأ حدوثها وَمَا وَقع فِي ذَلِك من الاسماء المجملة وَالِاخْتِلَاف والافتراق الَّذِي أوجب تَكْفِير بعض هَؤُلَاءِ الْمُخْتَلِفين بَعضهم لبَعض وَذَلِكَ بِسَبَب ترك بعض الْحق وَأخذ بعض الْبَاطِل وكتمان الْحق وَلبس الْحق بِالْبَاطِلِ

‌‌فصل الرأى الْمُحدث فِي الْأُصُول وَهُوَ الْكَلَام الْمُحدث وَفِي الْفُرُوع وَهُوَ الرأى

الْمُحدث فِي الْفِقْه والتعبد الْمُحدث كالتصوف الْمُحدث والسياسة المحدثة

يظنّ طوائف من النَّاس أَن الدّين مُحْتَاج إِلَى ذَلِك لَا سِيمَا كل طَائِفَة
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি এবং তাঁর মাধ্যমেই সক্ষমতা অর্জিত হয়।

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীবর্গের ওপর দরুদ ও পরিপূর্ণ সালাম বর্ষণ করুন।

আল্লাহর নাম ও গুণাবলি এবং কথা ও বিশ্বাসের মাধ্যমে তাঁর একত্ববাদের ক্ষেত্রে অবিচল থাকা, মধ্যপন্থা অবলম্বন করা এবং কুরআন ও সুন্নাহর অনুসরণের আবশ্যকতা সম্পর্কিত একটি মূলনীতি। কুরআন ও সুন্নাহ যে যাবতীয় হিদায়াত বা পথনির্দেশনা ধারণ করে আছে তার বর্ণনা, এবং সত্যের কিছু অংশ ত্যাগের মাধ্যমেই যে দলাদলি ও পথভ্রষ্টতা সৃষ্টি হয়েছে তার ব্যাখ্যা। সেইসাথে (আল্লাহর গুণাবলি) অস্বীকার বা সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ির মাধ্যমে যে সমস্ত বিদআত বা নবউদ্ভাবিত বিষয় তৈরি হয়েছে সে সম্পর্কে সতর্কতা; এসবের সূচনার প্রেক্ষাপট এবং এক্ষেত্রে যে সমস্ত অস্পষ্ট পরিভাষা, মতবিরোধ ও দলাদলি সৃষ্টি হয়েছে—যার ফলে এই মতবিরোধকারীদের একে অপরকে কাফির বা অবিশ্বাসী আখ্যা দিতে বাধ্য করেছে—তার বর্ণনা। আর এটি ঘটেছে মূলত সত্যের কিছু অংশ বর্জন, মিথ্যার কিছু অংশ গ্রহণ, সত্য গোপন এবং সত্যের সাথে মিথ্যার সংমিশ্রণের কারণে।

পরিচ্ছেদ: মূলনীতি বা আকীদার ক্ষেত্রে নবউদ্ভাবিত মতামত, যা হলো নবউদ্ভাবিত কালামশাস্ত্র; এবং শাখা-প্রশাখা বা ফিকহী মাসআলার ক্ষেত্রে নবউদ্ভাবিত মতামত।

যা ফিকহ শাস্ত্রের ক্ষেত্রে নবউদ্ভাবিত এবং ইবাদতের ক্ষেত্রে নবউদ্ভাবিত, যেমন নবউদ্ভাবিত তাসাউফ ও নবউদ্ভাবিত রাজনীতি।

মানুষের বিভিন্ন গোষ্ঠী মনে করে যে দ্বীন বা ধর্ম এসবের মুখাপেক্ষী, বিশেষ করে প্রতিটি দলই এটি মনে করে থাকে।
(খণ্ড: ١) আল-ইস্তিকামাহ (পৃষ্ঠা: ٤)
فِي طريقها وَلَيْسَ الْأَمر كَذَلِك فَإِن الله تَعَالَى يَقُول {الْيَوْم أكملت لكم دينكُمْ وَأَتْمَمْت عَلَيْكُم نعمتي ورضيت لكم الْإِسْلَام دينا} [سُورَة الْمَائِدَة 3] إِلَى غير ذَلِك من النُّصُوص الَّتِي دلّت على أَن الرَّسُول عرف الْأمة جَمِيع مَا يَحْتَاجُونَ إِلَيْهِ من دينهم

وَقَالَ تَعَالَى {وَمَا كَانَ الله ليضل قوما بعد إِذْ هدَاهُم حَتَّى يبين لَهُم مَا يَتَّقُونَ} [سُورَة التَّوْبَة 115]

وَقَالَ ص ص تركتكم على الْبَيْضَاء لَيْلهَا كنهارها لَا يزِيغ بعدِي إِلَّا هَالك وَقَالَ ص إِنَّه من يَعش مِنْكُم بعدى فسيرى اخْتِلَافا كثيرا فَعَلَيْكُم بِسنتي وَسنة الْخُلَفَاء الرَّاشِدين المهديين من بعدِي تمسكوا بهَا وعضوا عَلَيْهَا بالنواجذ

فلولا أَن سنته وَسنة الْخُلَفَاء الرَّاشِدين تسع الْمُؤمن وَتَكْفِيه عِنْد الِاخْتِلَاف الْكثير لم يجز الْأَمر بذلك
এর পথে, কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়। কারণ মহান আল্লাহ বলেন, "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম" [সূরা আল-মায়িদাহ: ৩]। এছাড়া আরও অনেক দলীল রয়েছে যা প্রমাণ করে যে, রাসূল উম্মতকে তাদের দ্বীনের যাবতীয় প্রয়োজনীয় বিষয় জানিয়ে দিয়েছেন।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, "আর আল্লাহ কোন সম্প্রদায়কে হিদায়াত দান করার পর ততক্ষণ পর্যন্ত বিভ্রান্ত করেন না, যতক্ষণ না তাদের জন্য যা পরিহার করা উচিত তা স্পষ্ট করে দেন" [সূরা আত-তাওবাহ: ১১৫]।

এবং নবী (সা.) বলেছেন, "আমি তোমাদেরকে এক উজ্জ্বল শুভ্র পথের ওপর রেখে গেলাম, যার রাতও দিনের মতো উজ্জ্বল। আমার পরে একমাত্র ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া কেউ তা থেকে বিচ্যুত হবে না।" তিনি (সা.) আরও বলেছেন, "তোমাদের মধ্যে যারা আমার পরে বেঁচে থাকবে, তারা অনেক মতবিরোধ দেখতে পাবে। এমতাবস্থায় তোমাদের ওপর আমার সুন্নাত এবং আমার পরবর্তী হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত অনুসরণ করা আবশ্যক। তোমরা তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরো।"

যদি তাঁর সুন্নাত এবং খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত মুমিনের জন্য যথেষ্ট না হতো এবং ব্যাপক মতবিরোধের সময় পথপ্রদর্শনে সক্ষম না হতো, তবে তিনি এর আদেশ দিতেন না।
(খণ্ড: ١) আল-ইস্তিকামাহ (পৃষ্ঠা: ٥)
وَكَانَ يَقُول فِي خطبَته شَرّ الْأُمُور محدثاتها وكل بِدعَة ضَلَالَة

وَكَانَ ابْن مَسْعُود يخْطب بِنَحْوِ ذَلِك كل خَمِيس وَيَقُول إِنَّكُم ستحدثون وَيحدث لكم

وَقد قَررنَا فِي الْقَوَاعِد فِي قَاعِدَة السّنة والبدعة أَن الْبِدْعَة هِيَ الدّين الَّذِي لم يَأْمر الله بِهِ وَرَسُوله فَمن دَان دينا لم يَأْمر الله وَرَسُوله بِهِ فَهُوَ مُبْتَدع بذلك وَهَذَا معنى قَوْله تَعَالَى أم لَهُم شُرَكَاء شرعوا لَهُم من الدّين مَا لم يَأْذَن بِهِ الله [سُورَة الشورى 21]

وَلَا ريب أَن هَذَا يشكل على كثير من النَّاس لعدم علمهمْ بالنصوص ودلالتها على الْمَقَاصِد وَلعدم علمهمْ بِمَا أحدث من الرأى وَالْعَمَل وَكَيف يرد ذَلِك إِلَى السّنة كَمَا قَالَ عمر بن الْخطاب ردوا الجهالات إِلَى السّنة
তিনি তাঁর খুতবায় বলতেন, সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো দ্বীনের মধ্যে নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ এবং প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা।

ইবনে মাসউদ প্রতি বৃহস্পতিবার অনুরূপ খুতবা দিতেন এবং বলতেন, নিশ্চয়ই তোমরা নতুন নতুন বিষয় উদ্ভাবন করবে এবং তোমাদের জন্য নতুন নতুন বিষয় উদ্ভাবন করা হবে।

আমরা মূলনীতিসমূহের মধ্যে সুন্নাহ ও বিদআতের নিয়মে স্থির করেছি যে, বিদআত হলো এমন দ্বীন যা পালনের নির্দেশ আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল দেননি। সুতরাং যে ব্যক্তি এমন দ্বীন পালন করল যার নির্দেশ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল দেননি, সে এর মাধ্যমে বিদআতি হিসেবে গণ্য হবে। আর এটাই মহান আল্লাহর বাণীর মর্মার্থ: "তবে কি তাদের এমন সব অংশীদার রয়েছে যারা তাদের জন্য দ্বীনের এমন বিধান সাব্যস্ত করেছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি?" [সূরা আশ-শূরা: ২১]

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এটি অনেক মানুষের নিকট অস্পষ্ট মনে হয় শরয়ি ভাষ্যসমূহ এবং সেগুলোর উদ্দেশ্য সম্পর্কে তাদের জ্ঞান না থাকার কারণে, এবং উদ্ভাবিত মতামত ও আমল সম্পর্কে এবং কীভাবে সেগুলোকে সুন্নাহর দিকে ফিরিয়ে নিতে হয় সে সম্পর্কে তাদের জ্ঞান না থাকার কারণে; যেমনটি উমর ইবনুল খাত্তাব বলেছেন: "তোমরা অজ্ঞতাসমূহকে সুন্নাহর দিকে ফিরিয়ে দাও।"
(খণ্ড: ١) আল-ইস্তিকামাহ (পৃষ্ঠা: ٦)
وَقد تكلم النَّاس على أَصْنَاف ذَلِك كَمَا بَين طوائف اسْتغْنَاء الدّين عَن الْكَلَام الْمُحدث وَأَن الله قد بَين فِي كِتَابه بالأمثال المضروبة من الدَّلَائِل مَا هُوَ أعظم مَنْفَعَة مِمَّا يحدثه هَؤُلَاءِ وَأَن مَا يذكرُونَهُ من الْأَدِلَّة فَهِيَ مندرجة فِيمَا ذكره الله تَعَالَى

حَتَّى ان الأشعرى نَفسه وَأَمْثَاله قد بينوا طَريقَة السّلف فِي أصُول الدّين واستغنائها عَن الطَّرِيقَة الكلامية كطريقة الْأَعْرَاض وَنَحْوهَا وَأَن الْقُرْآن نبه على الْأَدِلَّة لَيْسَ دلَالَته كَمَا يَظُنّهُ بعض أهل الْكَلَام من جِهَة الْخَبَر فَقَط

وَأَيْنَ هَذَا من أهل الْكَلَام الَّذين يَقُولُونَ إِن الْكتاب وَالسّنة لَا يدلان على أصُول الدّين بِحَال وَأَن أصُول الدّين تستفاد بِقِيَاس الْعقل الْمَعْلُوم من غَيرهمَا وَكَذَلِكَ الْأُمُور العملية الَّتِي يتَكَلَّم فِيهَا الْفُقَهَاء فَإِن من النَّاس من يَقُول إِن الْقيَاس يحْتَاج إِلَيْهِ فِي مُعظم الشَّرِيعَة لقلَّة النُّصُوص الدَّالَّة على الْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة كَمَا يَقُول ذَلِك أَبُو المعالى وَأَمْثَاله من الْفُقَهَاء مَعَ أنتسابهم إِلَى مَذْهَب الشَّافِعِي وَنَحْوه من فُقَهَاء الحَدِيث فَكيف بِمن كَانَ من أهل رأى الْكُوفَة وَنَحْوهم
মানুষ এ বিষয়ের প্রকারভেদ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, যেমন বিভিন্ন দল বর্ণনা করেছেন যে দ্বীন নবউদ্ভাবিত কালামশাস্ত্র হতে অমুখাপেক্ষী এবং আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে বর্ণিত উপমাসমূহ হতে এমন সব প্রমাণাদি স্পষ্ট করেছেন যা এই লোকদের উদ্ভাবিত বিষয়গুলোর চেয়ে অধিকতর কল্যাণকর। আর তারা যেসব প্রমাণাদি উল্লেখ করে সেগুলো আল্লাহ তাআলা যা উল্লেখ করেছেন তারই অন্তর্ভুক্ত।

এমনকি স্বয়ং আশআরি এবং তাঁর ন্যায় ব্যক্তিবর্গ দ্বীনের মূলনীতিসমূহের ক্ষেত্রে সালাফদের পদ্ধতি এবং কালামশাস্ত্রীয় পদ্ধতি—যেমন আকস্মিক গুণাবলি (আরাজ) বা এই জাতীয় পদ্ধতি—থেকে এর অমুখাপেক্ষিতা বর্ণনা করেছেন। আর কুরআন প্রমাণসমূহের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে; এর দালীলিকতা কেবল সংবাদের (খবর) দিক থেকে নয়, যেমনটি কালামশাস্ত্রের কিছু অনুসারী ধারণা করেন।

আর সেই কালামশাস্ত্রবিদদের অবস্থান কোথায় যারা বলেন যে কিতাব ও সুন্নাহ কোনোভাবেই দ্বীনের মূলনীতিসমূহ নির্দেশ করে না, বরং দ্বীনের মূলনীতিগুলো কিতাব ও সুন্নাহ ব্যতিরেকে পরিচিত বুদ্ধিবৃত্তিক কিয়াসের মাধ্যমে আহরণ করতে হয়? তদ্রূপ ব্যবহারিক বিষয়াবলি যার ব্যাপারে ফকিহগণ আলোচনা করেন; কেননা মানুষের মধ্যে এমন লোক রয়েছে যারা বলে যে শরিয়তের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কিয়াসের মুখাপেক্ষী হতে হয়, যেহেতু শরিয়তের বিধান নির্দেশকারী দলিলাদির সংখ্যা কম। যেমনটি আবু আল-মাআলি এবং তাঁর ন্যায় ফকিহগণ বলে থাকেন, যদিও তারা শাফেয়ি মাজহাব ও ফকিহুল হাদিসদের দিকে নিজেদের সম্পৃক্ত করেন। তাহলে কুফার আহলে রায় ও তাদের অনুসারীদের অবস্থা কেমন হবে?
(খণ্ড: ١) আল-ইস্তিকামাহ (পৃষ্ঠা: ٧)
فَإِنَّهُ عِنْدهم لَا يثبت من الْفِقْه بالنصوص إِلَّا أقل من ذَلِك وَإِنَّمَا الْعُمْدَة على الرأى وَالْقِيَاس حَتَّى أَن الخراسانيين من أَصْحَاب الشافعى بِسَبَب مخالطتهم [لَهُم] غلب عَلَيْهِم اسْتِعْمَال الرأى وَقلة الْمعرفَة بالنصوص

وبإزاء هَؤُلَاءِ أهل الظَّاهِر كأبن حزم وَنَحْوه مِمَّن يدعى أَن النُّصُوص تستوعب جَمِيع الْحَوَادِث بالأسماء اللُّغَوِيَّة الَّتِي لَا تحْتَاج إِلَى استنباط واستخراج أَكثر من جمع النُّصُوص حَتَّى تنفى دلَالَة فحوى الْخطاب وتثبته فِي معنى الأَصْل وَنَحْو ذَلِك من الْمَوَاضِع الَّتِي يدل فِيهَا اللَّفْظ الْخَاص على الْمَعْنى الْعَام

والتوسط فِي ذَلِك طَريقَة فُقَهَاء الحَدِيث وهى إِثْبَات النُّصُوص والْآثَار الصحابية على جُمْهُور الْحَوَادِث وَمَا خرج عَن ذَلِك كَانَ فِي معنى الأَصْل فيستعملون قِيَاس الْعلَّة وَالْقِيَاس فِي معنى الأَصْل وفحوى الْخطاب إِذْ ذَلِك من جملَة دلالات اللَّفْظ وَأَيْضًا فالرأى كثيرا مَا يكون فِي تَحْقِيق المناط الَّذِي لَا خلاف بَين النَّاس فِي اسْتِعْمَال الرأى
কেননা তাদের নিকট নصوص (নস) বা শরয়ি পাঠের মাধ্যমে ফিকহের খুব সামান্য অংশই প্রমাণিত হয়; বরং তাদের মূল ভিত্তি হলো রায় (ব্যক্তিগত অভিমত) এবং কিয়াস (অনুমান)। এমনকি শাফিঈর অনুসারীদের মধ্য থেকে খোরাসানিদের ওপর তাদের সাথে মেলামেশার কারণে রায়ের ব্যবহার প্রবল হয়ে উঠেছিল এবং নসসমূহ সম্পর্কে জ্ঞানের স্বল্পতা দেখা দিয়েছিল।

এদের বিপরীতে রয়েছেন আহলে জাহের বা জাহেরিগণ, যেমন ইবনে হাজম এবং তার ন্যায় ব্যক্তিবর্গ। তারা দাবি করেন যে, নসসমূহ সমস্ত ঘটনাবলীকে এমন ভাষাগত সংজ্ঞার মাধ্যমে পরিবেষ্টন করে আছে, যা নসসমূহকে একত্রিত করা ছাড়া অন্য কোনো উদ্ভাবন (ইস্তিনবাত) বা নির্যাস বের করার মুখাপেক্ষী নয়। এমনকি তারা ‘ফাহওয়াল খিতাব’ বা বাণীর অন্তর্নিহিত তাৎপর্যের প্রমাণকে অস্বীকার করেন এবং বিষয়টিকে মূল অর্থের (আসল) অন্তর্ভুক্ত সাব্যস্ত করাকেও অস্বীকার করেন। অনুরূপভাবে তারা ঐ সকল ক্ষেত্রকেও অস্বীকার করেন যেখানে বিশেষ শব্দ সাধারণ অর্থ নির্দেশ করে।

আর এই দুই প্রান্তিকতার মাঝে মধ্যপন্থা হলো ফুকাহাউল হাদিস বা হাদিসবেত্তা ফকিহদের পদ্ধতি। তা হলো অধিকাংশ ঘটনার ক্ষেত্রে নস এবং সাহাবীগণের আসার (বর্ণনা) সাব্যস্ত করা। আর যা এর বাইরে থাকে, তা মূলের অর্থের অন্তর্ভুক্ত ধরা হয়। ফলে তারা ‘কিয়াসুল ইল্লাহ’ (কারণভিত্তিক অনুমান), মূলের অর্থগত কিয়াস এবং ফাহওয়াল খিতাব ব্যবহার করেন; কেননা এগুলো শব্দের অর্থ নির্দেশক পদ্ধতিরই অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া রায় বা ব্যক্তিগত অভিমত প্রায়ই ‘তাহক্বীকুল মানাত’ (শরিয়তের বিধানের প্রয়োগক্ষেত্র নিশ্চিতকরণ) এর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে, যেক্ষেত্রে রায়ের ব্যবহারের ব্যাপারে মানুষের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই।
(খণ্ড: ١) আল-ইস্তিকামাহ (পৃষ্ঠা: ٨)
وَالْقِيَاس فِيهِ فَإِن الله أَمر بِالْعَدْلِ فِي الحكم وَالْعدْل قد يعرف بالرأى وَقد يعرف بِالنَّصِّ

وَلِهَذَا قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم إِذا اجْتهد الْحَاكِم فَأصَاب فَلهُ أَجْرَانِ وَإِذا اجْتهد فَأَخْطَأَ فَلهُ أجر إِذْ الْحَاكِم مَقْصُوده الحكم بِالْعَدْلِ بِحَسب الْإِمْكَان فَحَيْثُ تعذر الْعدْل الحقيقى للتعذر أَو التعسر فِي علمه أَو عمله كَانَ الْوَاجِب مَا كَانَ بِهِ أشبه وأمثل وَهُوَ الْعدْل الْمَقْدُور

وَهَذَا بَاب وَاسع فِي الحكم فِي الدِّمَاء وَالْأَمْوَال وَغير ذَلِك من أَنْوَاع الْقَضَاء وفيهَا يجْتَهد الْقُضَاة

ونعلم أَن عليا رضى الله عَنهُ كَانَ أقضى من غَيره بِمَا أفهم من ذَلِك مَعَ أَن سَماع النُّصُوص مُشْتَرك بَينه وَبَين غَيره

وَإِنَّمَا ظن كثير من النَّاس الْحَاجة إِلَى الرأى الْمُحدث لأَنهم يَجدونَ مسَائِل كَثِيرَة وفروعا عَظِيمَة لَا يُمكنهُم إدخالها تَحت النُّصُوص كَمَا يُوجد
এতে কিয়াসের অবকাশ রয়েছে, কেননা আল্লাহ বিচারে ইনসাফের নির্দেশ দিয়েছেন। আর ইনসাফ কখনো রায়ের মাধ্যমে জানা যায়, আবার কখনো নসের মাধ্যমে জানা যায়।

এই কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন বিচারক ইজতিহাদ করেন এবং সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছান, তখন তাঁর জন্য দুটি পুরস্কার রয়েছে; আর যখন তিনি ইজতিহাদ করেন এবং ভুল করেন, তখন তাঁর জন্য একটি পুরস্কার রয়েছে।" কারণ বিচারকের উদ্দেশ্য হলো সাধ্যমতো ইনসাফ অনুযায়ী ফয়সালা করা। সুতরাং যেখানে জ্ঞান বা কর্মের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকৃত ইনসাফ অর্জন করা অসম্ভব বা কঠিন হয়ে পড়ে, সেখানে যা সবচাইতে নিকটতর ও সামঞ্জস্যপূর্ণ তাই পালন করা আবশ্যক হয়; আর তা-ই হলো সাধ্যানুযায়ী ইনসাফ।

আর এটি জান-মাল এবং অন্যান্য বিচারিক বিষয়ের ক্ষেত্রে এক বিস্তৃত অধ্যায়, যেখানে বিচারকগণ ইজতিহাদ করে থাকেন।

আমরা জানি যে, আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) অন্যদের তুলনায় বিচারে অধিক পারদর্শী ছিলেন সেই প্রজ্ঞার কারণে যা তিনি অনুধাবন করতে পারতেন, যদিও দলীলের (নস) শ্রবণের ক্ষেত্রে তিনি এবং অন্যরা সমান অংশীদার ছিলেন।

প্রকৃতপক্ষে অনেক মানুষ নব্য উদ্ভাবিত মতামতের প্রয়োজনীয়তা এজন্যই মনে করেছে যে, তারা এমন অনেক সমস্যা ও বিশাল শাখাগত মাসআলা দেখতে পায় যা নসের অধীনে অন্তর্ভুক্ত করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না, যেমনটি পরিলক্ষিত হয়।
(খণ্ড: ١) আল-ইস্তিকামাহ (পৃষ্ঠা: ٩)
فِي فروع من ولد الْفُرُوع من فُقَهَاء الْكُوفَة وَمن أَخذ عَنْهُم

وَجَوَاب هَذَا من وُجُوه

أَحدهَا ان كثيرا من تِلْكَ الْفُرُوع المولد الْمقدرَة لَا يَقع أصلا وَمَا كَانَ كَذَلِك لم يجب أَن تدل عَلَيْهِ النُّصُوص وَمن تدبر مَا فَرعه المولدون من الْفُرُوع فِي بَاب الْوَصَايَا وَالطَّلَاق والأيمان وَغير ذَلِك علم صِحَة هَذَا

الْوَجْه الثَّانِي أَن تكون تِلْكَ الْفُرُوع والمسائل مَبْنِيَّة على أصُول فَاسِدَة فَمن عرف السّنة بَين حكم ذَلِك الأَصْل فَسَقَطت تِلْكَ الْفُرُوع المولدة كلهَا

وَهَذَا كَمَا فَرعه صَاحب الْجَامِع الْكَبِير فَإِن غَالب فروعه كَمَا بلغنَا عَن الإِمَام أبي مُحَمَّد الْمَقْدِسِي أَنه كَانَ يَقُول مثله مثل من بنى
কুফার ফকীহগণ এবং যারা তাদের থেকে ইলম হাসিল করেছেন, তাদের উদ্ভাবিত খুঁটিনাটি মাসআলাসমূহের প্রসঙ্গে।

এর উত্তর কয়েকটি দিক থেকে দেওয়া যায়।

প্রথমত: সেই উদ্ভাবিত ও অনুমিত খুঁটিনাটি মাসআলাগুলোর অনেকগুলোই বাস্তবে কখনো ঘটে না। আর যা বাস্তবে ঘটে না, সেগুলোর ব্যাপারে অকাট্য দলীল বা নসুস নির্দেশ করা আবশ্যক নয়। অসিয়ত, তালাক, কসম এবং এ জাতীয় অন্যান্য অধ্যায়গুলোতে পরবর্তী ফকীহগণ যেসব খুঁটিনাটি মাসআলা উদ্ভাবন করেছেন, সে বিষয়ে যে ব্যক্তি চিন্তা-ভাবনা করবে, সে এর যথার্থতা বুঝতে পারবে।

দ্বিতীয় দিকটি হলো, সেই শাখা-প্রশাখা ও মাসআলাগুলো কোনো ভ্রান্ত মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হতে পারে। সুতরাং যে ব্যক্তি সুন্নাহ সম্পর্কে অবগত, সে যখন সেই মূলনীতির হুকুম বর্ণনা করে দেয়, তখন সেই উদ্ভাবিত সকল মাসআলাই বাতিল হয়ে যায়।

এটি ঠিক তেমনি, যেমনটি 'আল-জামেউল কাবীর'-এর লেখক উদ্ভাবন করেছেন। কারণ এর অধিকাংশ মাসআলা সম্পর্কে ইমাম আবু মুহাম্মদ আল-মাকদিসি থেকে আমাদের নিকট পৌঁছেছে যে, তিনি বলতেন— এর উদাহরণ সেই ব্যক্তির মতো যে নির্মাণ করল...
(খণ্ড: ١) আল-ইস্তিকামাহ (পৃষ্ঠা: ١٠)
دَارا حَسَنَة على أساس مَغْصُوب فَلَمَّا جَاءَ صَاحب الأساس ونازعه فِي الاساس وقلعه انْهَدَمت تِلْكَ الدَّار

وَذَلِكَ كالفروع الْعَظِيمَة الْمَذْكُورَة فِي كتاب الْأَيْمَان وبناها على مَا كَانَ المفرع يَعْتَقِدهُ من مَذْهَب أهل النَّحْو الْكُوفِيّين فَإِن أصل بَاب الْأَيْمَان الرُّجُوع إِلَى نِيَّة الْحَالِف وقصده ثمَّ إِلَى الْقَرَائِن الحالية الدَّالَّة على قَصده كسبب الْيَمين وَمَا هيجها ثمَّ إِلَى الْعرف الَّذِي من عَادَته التَّكَلُّم بِهِ سَوَاء كَانَ مُوَافقا للغة الْعَرَبيَّة أَو مُخَالفا لَهَا فَإِن الْأَيْمَان وَغَيرهَا من كَلَام النَّاس بَعضهم لبَعض فِي الْمُعَامَلَات والمراسلات والمصنفات وَغَيرهَا تجمعها كلهَا دلَالَة اللَّفْظ على قصد الْمُتَكَلّم وَمرَاده وَذَلِكَ متنوع بتنوع اللُّغَات والعادات

وتختلف الدّلَالَة بالقرائن الحالية والمقالية ثمَّ إِنَّمَا يسْتَدلّ على مَقْصُود الرجل إِذا لم يعرف فَإِذا أمكن [الْعلم] بمقصوده يَقِينا لم يكن بِنَا حَاجَة إِلَى الشَّك لَكِن من الْأُمُور مَا لَا تقبل من قَائِله إِرَادَة تخَالف الظَّاهِر كَمَا إِذا تعلق بِهِ حُقُوق الْعباد كَمَا فِي الأقارير وَنَحْوهَا وَهَذَا مُقَرر فِي مَوْضِعه وَلَيْسَ الْغَرَض هُنَا إِلَّا التَّمْثِيل

وَإِذا كَانَ هَذَا أصل الْأَيْمَان فَيُقَال لذَلِك المفرع إِذا كَانَ هَذَا أصل قَصده الَّذِي هُوَ فِي أَكثر الْمَوَاضِع يُخَالف مُقْتَضى مَا ذكرته من
একটি সুন্দর ঘর যা একটি জবরদখলকৃত ভিত্তির ওপর নির্মিত। যখন সেই ভিত্তির মালিক আসল এবং ভিত্তিটি নিয়ে বিবাদ করল ও তা উপড়ে ফেলল, তখন সেই ঘরটি ধসে পড়ল।

আর এটি 'কিতাবুল আইমান' (শপথের অধ্যায়)-এ উল্লিখিত সেই বৃহৎ শাখা-মাসআলাগুলোর মতো, যেগুলোকে শাখা-মাসআলা প্রণয়নকারী কুফি ব্যাকরণবিদদের মাযহাবের ওপর ভিত্তি করে গড়ে তুলেছেন। কেননা শপথের অধ্যায়ের মূল ভিত্তি হলো শপথকারীর নিয়ত ও উদ্দেশ্যের দিকে ফিরে যাওয়া; এরপর তার উদ্দেশ্য নির্দেশকারী পারিপার্শ্বিক অবস্থাসমূহের প্রতি লক্ষ্য করা, যেমন শপথের কারণ এবং যা তাকে শপথ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। অতঃপর সেই প্রচলিত প্রথা বা অভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া যার মাধ্যমে সে কথা বলে থাকে, চাই তা আরবি ভাষার অনুকূলে হোক বা প্রতিকূলে। কারণ শপথ এবং লেনদেন, চিঠিপত্র, রচনা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে মানুষের পারস্পরিক কথোপকথনের সমষ্টিগত ভিত্তি হলো বক্তার উদ্দেশ্য ও মকসুদের ওপর শব্দের নির্দেশ করা, আর এটি ভাষা ও অভ্যাসের ভিন্নতার কারণে বিচিত্র হয়ে থাকে।

এবং পারিপার্শ্বিক ও ভাষাগত অনুষঙ্গের কারণে এর অর্থ ও নির্দেশনার পরিবর্তন ঘটে। এরপর কোনো ব্যক্তির উদ্দেশ্য তখনই অনুমান করা হয় যখন তা জানা না থাকে। কিন্তু যদি নিশ্চিতভাবে তার উদ্দেশ্য জানা সম্ভব হয়, তবে আমাদের সন্দেহের কোনো প্রয়োজন নেই। তবে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যেখানে বক্তার পক্ষ থেকে প্রকাশ্য অর্থের পরিপন্থী কোনো উদ্দেশ্য গ্রহণ করা হয় না, বিশেষ করে যখন তার সাথে বান্দার হক বা অধিকার সংশ্লিষ্ট থাকে; যেমনটি স্বীকারোক্তি ও অনুরূপ বিষয়াবলীতে হয়ে থাকে। এটি তার নিজ স্থানে সুপ্রতিষ্ঠিত এবং এখানে মূল লক্ষ্য হলো কেবল উদাহরণ পেশ করা।

আর যখন এটিই হলো শপথের মূলনীতি, তখন সেই শাখা-মাসআলা প্রণয়নকারীকে বলা হবে: যদি এটাই তার উদ্দেশ্যের মূল ভিত্তি হয় যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে আপনার বর্ণিত বিষয়ের চাহিদার পরিপন্থী...
(খণ্ড: ١) আল-ইস্তিকামাহ (পৃষ্ঠা: ١١)
الْجَواب وَينظر إِلَى الْقَرَائِن الحالية وَمَعَهَا لَا تستقيم عَامَّة الْأَجْوِبَة

وَإِذا عدم ذَلِك وَله عرف وَعَادَة يتَكَلَّم بهَا وغالب عادات النَّاس لَا يَنْبَنِي على المقاييس الَّتِي وَضَعتهَا أَنْت فَإِذا جَوَاب الحالفين بِمثل مَا أَجَبْتهم بِهِ لَيْسَ هُوَ من الشَّرِيعَة فِي غَالب الْمَوَاضِع

وَلَا يحْتَاج بَاب الْأَيْمَان إِلَى تَفْرِيع إِذْ هَذِه الْأُصُول الثَّلَاثَة تضبطه ضبطا حسنا لَكِن لَا بُد أَن يكون الْمُفْتى مِمَّن يحس أَن يضع الْحَوَادِث على الْقَوَاعِد وينزلها عَلَيْهَا

وَكَذَلِكَ مَا فرعوه فِي بَاب الحكم والسياسة وَغَيرهَا عَامَّة ذَلِك مبْنى على أصُول فَاسِدَة مُخَالفَة للشريعة وَهَذَا وَالله أعلم من معنى قَول ابْن مَسْعُود إِنَّكُم ستحدثون وَيحدث لكم وَلِهَذَا تكْثر هَذِه الْفُرُوع وتنتشر حَتَّى لَا تضبطها قَاعِدَة لِأَنَّهَا لَيست مُوَافقَة للشريعة فَأَما الشَّرِيعَة فَإِنَّهَا كَمَا قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم بعثت بجوامع الْكَلم والكلمة الجامعة هِيَ الْقَضِيَّة الْكُلية وَالْقَاعِدَة الْعَامَّة
উত্তর হলো, তাৎক্ষণিক পরিস্থিতির পারিপার্শ্বিক প্রমাণের (কারাইন) প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে; কেননা সেসবের উপস্থিতিতে সাধারণ উত্তরসমূহ সঠিক হয় না।

আর যখন তার অভাব থাকে, অথচ ব্যক্তির নিজস্ব প্রথা ও অভ্যাস থাকে যার ভিত্তিতে সে কথা বলে, আর মানুষের অধিকাংশ অভ্যাস আপনার নির্ধারিত মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে না—এমতাবস্থায় শপথকারীদের বিষয়ে আপনি যে ধরণের উত্তর দিয়েছেন, তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে শরীয়তসম্মত নয়।

শপথের (আইমান) অধ্যায়ে অতিরিক্ত শাখা-প্রশাখা বিন্যাসের প্রয়োজন নেই; কারণ এই তিনটি মূলনীতিই একে উত্তমরূপে বিন্যস্ত করে। তবে মুফতিকে অবশ্যই এমন হতে হবে যিনি ঘটনাগুলোকে মূলনীতির আলোকে অনুধাবন করে সেগুলোর ওপর প্রয়োগ করতে সক্ষম।

অনুরূপভাবে বিচারব্যবস্থা ও রাজনীতিসহ অন্যান্য বিষয়ে তারা যা উদ্ভাবন করেছে, সেগুলোর অধিকাংশ ভ্রান্ত এবং শরীয়ত বিরোধী মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে রচিত। আল্লাহই ভালো জানেন, ইবনে মাসউদ (রা.)-এর সেই বাণীর মর্মার্থ সম্ভবত এটাই যে: "তোমরা নতুন নতুন বিষয় উদ্ভাবন করবে এবং তোমাদের জন্য নতুন নতুন বিষয়ের উদ্ভব ঘটানো হবে।" একারণেই এসব শাখা-প্রশাখা বৃদ্ধি ও বিস্তৃত হয় এবং কোনো মূলনীতি দ্বারা এগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনা যায় না, কারণ এগুলো শরীয়তসম্মত নয়। পক্ষান্তরে শরীয়ত হলো তেমন, যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি ব্যাপক অর্থবোধক সংক্ষিপ্ত বাণীসহ প্রেরিত হয়েছি।" আর 'ব্যাপক অর্থবোধক বাণী' (কালিমা জামিয়া) হলো সামগ্রিক সিদ্ধান্ত ও সাধারণ মূলনীতি।
(খণ্ড: ١) আল-ইস্তিকামাহ (পৃষ্ঠা: ١٢)
الَّتِي بعث بهَا نَبينَا ص فَمن فهم كَلمه الْجَوَامِع علم اشتمالها لعامة الْفُرُوع وانضباطها بهَا وَالله أعلم

الْوَجْه الثَّالِث أَن النُّصُوص دَالَّة على عَامَّة الْفُرُوع الْوَاقِعَة كَمَا يعرفهُ من يتحَرَّى ذَلِك ويقصد الْإِفْتَاء بِمُوجب الْكتاب وَالسّنة ودلالتها وَهَذَا يعرفهُ من يتَأَمَّل كمن يُفْتى فِي الْيَوْم بِمِائَة فتيا أَو مِائَتَيْنِ أَو ثَلَاثمِائَة وَأكْثر أَو أقل وَأَنا قد جربت ذَلِك وَمن تدبر ذَلِك رأى أهل النُّصُوص دَائِما أقدر على الْإِفْتَاء وأنفع للْمُسلمين فِي ذَلِك من أهل الرأى الْمُحدث فَإِن الذى رَأَيْنَاهُ دَائِما أَن أهل رأى الْكُوفَة من أقل النَّاس علما بالفتيا وَأَقلهمْ مَنْفَعَة للْمُسلمين مَعَ كَثْرَة عَددهمْ وَمَا لَهُم من سُلْطَان وَكَثْرَة بِمَا يتناولونه من الْأَمْوَال الوقفية والسلطانية وَغير ذَلِك ثمَّ إِنَّهُم فِي الْفَتْوَى من أقل النَّاس مَنْفَعَة قل أَن يجيبوا فِيهَا وَإِن أجابوا فَقل أَن يجيبوا بِجَوَاب شاف وَأما كَونهم يجيبون بِحجَّة فهم من أبعد النَّاس عَن ذَلِك

وَسبب هَذَا ان الْأَعْمَال الْوَاقِعَة يحْتَاج الْمُسلمُونَ فِيهَا إِلَى معرفَة بالنصوص ثمَّ إِن لَهُم أصولا كَثِيرَة تخَالف النُّصُوص وَالَّذِي عِنْدهم من الْفُرُوع الَّتِي لَا تُوجد عِنْد غَيرهم فَهِيَ مَعَ مَا فِيهَا من الْمُخَالفَة للنصوص الَّتِي لم يُخَالِفهَا أحد من الْفُقَهَاء أَكثر مِنْهُم عامتها إِمَّا فروع مقدرَة غير وَاقعَة وَإِمَّا فروع متقررة على أصُول فَاسِدَة فَإِذا أَرَادوا أَن
যে (বার্তা) নিয়ে আমাদের নবী (সা.) প্রেরিত হয়েছেন; সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁর ব্যাপক অর্থবোধক সংক্ষিপ্ত বাক্যসমূহ (জাওয়ামিউল কালিম) বুঝতে পারবে, সে জানতে পারবে যে তা সাধারণ শাখা-প্রশাখাসমূহকে পরিবেষ্টন করে আছে এবং সেগুলোর মাধ্যমে তা সুসংহত। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

তৃতীয় দিকটি হলো, দলিলসমূহ (নুসুস) বাস্তবে সংঘটিত হওয়া সাধারণ সকল শাখা-প্রশাখাসমূহের ওপর প্রমাণ নির্দেশ করে, যেমনটি সেই ব্যক্তি জানতে পারে যে এটি নিবিড়ভাবে অনুসন্ধান করে এবং কিতাব ও সুন্নাহ ও এর দলিলের ভিত্তিতে ফতোয়া প্রদানের সংকল্প করে। আর এটি সেই ব্যক্তি উপলব্ধি করতে পারে যে গভীরভাবে চিন্তা করে; যেমন কেউ দিনে একশ, দুইশ বা তিনশ কিংবা এর চেয়ে বেশি বা কম ফতোয়া প্রদান করে। আমি নিজে এটি পরীক্ষা করে দেখেছি। আর যে ব্যক্তি এটি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করবে, সে দেখতে পাবে যে, দলিলপন্থীরা (আহলুন নুসুস) সবসময় ফতোয়া প্রদানে অধিক সক্ষম এবং এ ক্ষেত্রে মুসলমানদের জন্য নব উদ্ভাবিত রায়পন্থীদের (আহলুর রায় আল-মুহদাস) চেয়ে বেশি উপকারী। কারণ আমরা সবসময় যা দেখেছি তা হলো, কুফার রায়পন্থীরা ফতোয়া সংক্রান্ত জ্ঞানে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কম পারদর্শী এবং মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে কম উপকারী, যদিও তাদের সংখ্যা অনেক এবং তাদের ব্যাপক প্রভাব-প্রতিপত্তি রয়েছে এবং তারা ওয়াকফকৃত সম্পদ ও রাজকীয় অনুদানসহ অন্যান্য প্রচুর সম্পদ ভোগ করে থাকে। এরপর ফতোয়ার ক্ষেত্রেও তারা মানুষের জন্য সবচেয়ে কম উপকারী; তারা উত্তর খুব কমই দেয়, আর যদি দেয়ও তবে খুব কমই সন্তোষজনক উত্তর প্রদান করে। আর দলিলসহ উত্তর দেওয়ার বিষয়টি তো তাদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সুদূরপরাহত।

আর এর কারণ হলো, বাস্তবে সংঘটিত কর্মসমূহের ক্ষেত্রে মুসলমানদের দলিলের (নুসুস) জ্ঞানের প্রয়োজন হয়। তাছাড়া তাদের এমন অনেক মূলনীতি (উসুল) রয়েছে যা দলিলের (নুসুস) পরিপন্থী। আর তাদের কাছে এমন কিছু শাখা-প্রশাখা (ফুরু) রয়েছে যা অন্যদের কাছে পাওয়া যায় না; সেগুলো দলিলের সাথে যেমন বিরোধপূর্ণ, তেমনি ফকিহদের মধ্যে অন্য কারো তুলনায় তারা দলিলের সবচেয়ে বেশি বিরোধিতা করেছে। সেগুলোর অধিকাংশই হয় এমন কাল্পনিক শাখা-প্রশাখা যা বাস্তবে সংঘটিত হয়নি, অথবা সেগুলো ত্রুটিপূর্ণ মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত শাখা-প্রশাখা। সুতরাং যখন তারা চায় যে
(খণ্ড: ١) আল-ইস্তিকামাহ (পৃষ্ঠা: ١٣)
يجيبوا بمقتضاها رَأَوْا مَا فِي ذَلِك من الْفساد وإنكار قُلُوب الْمُؤمنِينَ علهيم فأمسكوا

لَكِن أعظم المهم فِي هَذَا الْبَاب وَغَيره تَمْيِيز السّنة من الْبِدْعَة إِذْ السّنة مَا أَمر بِهِ الشَّارِع والبدعة مَا لم يشرعه من الدّين فَإِن هَذَا الْبَاب كثر فِيهِ اضْطِرَاب النَّاس فِي الْأُصُول وَالْفُرُوع حَيْثُ يزْعم كل فريق أَن طَرِيقه هُوَ السّنة وَطَرِيق مخالفه هُوَ الْبِدْعَة ثمَّ إِنَّه يحكم على مخالفه بِحكم المبتدع فَيقوم من ذَلِك من الشَّرّ مَا لَا يُحْصِيه إِلَّا الله

وَأول من ضل فِي ذَلِك هم الْخَوَارِج المارقون حَيْثُ حكمُوا لنفوسهم بِأَنَّهُم المتمسكون بِكِتَاب الله وسنته وَأَن عليا وَمُعَاوِيَة والعسكرين هم أهل الْمعْصِيَة والبدعة فاستحلوا مَا اسْتَحَلُّوهُ من الْمُسلمين

وَلَيْسَ الْمَقْصُود هُنَا ذكر الْبدع الظَّاهِرَة الَّتِي تظهر للعامة أَنَّهَا بِدعَة كبدعة الْخَوَارِج وَالرَّوَافِض وَنَحْو ذَلِك لَكِن الْمَقْصُود التَّنْبِيه على مَا وَقع من ذَلِك فِي أخص الطوائف بِالسنةِ وأعظمهم انتحالا لَهَا كالمنتسبين إِلَى الحَدِيث مثل مَالك وَالشَّافِعِيّ وَأحمد فَإِنَّهُ لَا ريب أَن هَؤُلَاءِ أعظم اتبَاعا للسّنة وذما للبدعة من غَيرهم وَالْأَئِمَّة كمالك وَأحمد وَابْن الْمُبَارك وَحَمَّاد بن زيد وَالْأَوْزَاعِيّ وَغَيرهم يذكرُونَ من ذمّ المبتدعة وهجرانهم وعقوبتهم مَا شَاءَ الله تَعَالَى

وَهَذِه الْأَقْوَال سَمعهَا طوائف مِمَّن اتبعهم وقلدهم ثمَّ إِنَّهُم
তারা যদি এর দাবি অনুযায়ী উত্তর দিত, তবে তারা এর মধ্যকার অনিষ্টতা এবং তাদের প্রতি মুমিনদের অন্তরের ঘৃণা লক্ষ্য করত, ফলে তারা বিরত থাকল।

তবে এই অধ্যায়ে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সুন্নাহ ও বিদআতের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা। কেননা সুন্নাহ হলো তা-ই যার নির্দেশ শারি’ (বিধানদাতা) দিয়েছেন, আর বিদআত হলো তা-ই যা তিনি দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে বিধিবদ্ধ করেননি। প্রকৃতপক্ষে এই বিষয়ে উসুল (মূলনীতি) এবং ফুরু’ (শাখা-প্রশাখা)-তে মানুষের বিভ্রান্তি অনেক বেড়েছে; যেখানে প্রতিটি দল দাবি করে যে তাদের পথই হলো সুন্নাহ এবং তাদের বিরোধীদের পথ হলো বিদআত। অতঃপর তারা তাদের বিরোধীদের ওপর বিদআতি হওয়ার হুকুম আরোপ করে, যার ফলে এমন অনিষ্টের সৃষ্টি হয় যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ গণনা করতে পারে না।

আর এক্ষেত্রে যারা সর্বপ্রথম পথভ্রষ্ট হয়েছে তারা হলো ধর্মত্যাগী খারিজি সম্প্রদায়; যখন তারা নিজেদের সম্পর্কে এই ফয়সালা দিল যে তারাই আল্লাহর কিতাব ও তাঁর সুন্নাহকে মজবুতভাবে ধারণকারী, আর আলী, মুয়াবিয়া এবং উভয় বাহিনী হলো পাপাচারী ও বিদআতি। ফলে তারা মুসলমানদের ব্যাপারে সেই সব বিষয়কে বৈধ করে নিল যা তারা বৈধ মনে করেছিল।

এখানে সেই সকল প্রকাশ্য বিদআত উল্লেখ করা উদ্দেশ্য নয় যা সাধারণ মানুষের কাছে বিদআত হিসেবে স্পষ্ট, যেমন খারিজি, রাফেজি ও অনুরূপ দলগুলোর বিদআত। বরং উদ্দেশ্য হলো সুন্নাহর সাথে সবচেয়ে বেশি সংশ্লিষ্ট এবং সুন্নাহর অনুসারী হিসেবে সবচেয়ে বেশি দাবিদার দলগুলোর মধ্যে এ বিষয়ে যা ঘটেছে সেদিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা; যেমন মালিক, শাফেয়ী ও আহমাদ-এর মতো হাদিসপন্থীদের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গ। কেননা এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তারা অন্যদের তুলনায় সুন্নাহর অধিক অনুসারী এবং বিদআতের কঠোর সমালোচক ছিলেন। ইমাম মালিক, আহমাদ, ইবনুল মুবারক, হাম্মাদ বিন যায়েদ, আওযায়ী এবং অন্যান্য ইমামগণ বিদআতিদের নিন্দা, তাদের বর্জন এবং তাদের শাস্তির বিষয়ে আল্লাহ যা চেয়েছেন তা-ই উল্লেখ করেছেন।

আর এই কথাগুলো তাদের একদল অনুসারী ও অনুকরণকারী শুনেছিল, অতঃপর তারা...
(খণ্ড: ١) আল-ইস্তিকামাহ (পৃষ্ঠা: ١٤)
[يخلطون] فِي مَوَاضِع كَثِيرَة السّنة والبدعة حَتَّى قد يبدلون الْأَمر فيجعلون الْبِدْعَة الَّتِي ذمها أُولَئِكَ هِيَ السّنة وَالسّنة الَّتِي حمدها اولئك هِيَ الْبِدْعَة ويحكمون بِمُوجب ذَلِك حَتَّى يقعوا فِي الْبدع والمعاداة لطريق أئمتهم السّنيَّة وَفِي الْحبّ والموالاة لطريق المبتدعة الَّتِي أَمر أئمتهم بعقوبتهم ويلزمهم تَكْفِير أئمتهم ولعنهم والبراءة مِنْهُم وَقد يلعنون المبتدعة وَتَكون اللَّعْنَة وَاقعَة عَلَيْهِم أنفسهم ضد مَا يَقع على الْمُؤمن كَمَا قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَلا ترَوْنَ كَيفَ يصرف الله عني سبّ قُرَيْش يسبون مذمما وانا مُحَمَّد

وَهَؤُلَاء بِالْعَكْسِ يسبون المبتدعة يعنون غَيرهم وَيَكُونُونَ هم المبتدعة كَالَّذي يلعن الظَّالِمين وَيكون هُوَ الظَّالِم اَوْ اُحْدُ الظَّالِمين وَهَذَا كُله من بَاب قَوْله تَعَالَى {أَفَمَن زين لَهُ سوء عمله فَرَآهُ حسنا} [سُورَة فاطر 8]

وَاعْتبر ذَلِك بِأُمُور

أَحدهَا أَن كَلَام مَالك فِي ذمّ المبتدعة وهجرهم وعقوبتهم كثير
[তারা অনেক ক্ষেত্রে] সুন্নাহ ও বিদআতকে গুলিয়ে ফেলে, এমনকি তারা বিষয়টিকে এমনভাবে পরিবর্তন করে ফেলে যে, পূর্বসূরিগণ যে বিদআতকে নিন্দা করেছেন তাকে তারা সুন্নাহ বানিয়ে দেয়, আর যে সুন্নাহকে তারা প্রশংসা করেছেন তাকে বিদআত বানিয়ে দেয়। তারা এর আলোকেই ফয়সালা দেয়, যার ফলে তারা বিদআতে নিপতিত হয় এবং তাদের ইমামদের সুন্নাহসম্মত পথের সাথে শত্রুতা পোষণ করে। আর তারা সেই বিদআতীদের পথের প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্য প্রদর্শন করে, যাদেরকে শাস্তি দেওয়ার নির্দেশ তাদের ইমামগণ দিয়েছিলেন। এর ফলে তাদের ওপর নিজ ইমামদের কাফির বলা, তাদের অভিশাপ দেওয়া এবং তাদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। তারা হয়তো বিদআতীদের অভিশাপ দেয়, অথচ সেই অভিশাপ তাদের নিজেদের ওপরই আপতিত হয়—মুমিনের ক্ষেত্রে যা ঘটে তার ঠিক বিপরীত। যেমন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা কি দেখছ না আল্লাহ কীভাবে কুরাইশদের গালিগালাজ আমার থেকে ঘুরিয়ে দেন? তারা 'মুযাম্মাম' (নিন্দিত)-কে গালি দেয়, অথচ আমি হলাম 'মুহাম্মাদ'।"

আর এরা এর বিপরীত; এরা অন্যদের উদ্দেশ্য করে বিদআতীদের গালি দেয়, অথচ তারা নিজেরাই বিদআতী। যেমন ঐ ব্যক্তি যে জালেমদের অভিশাপ দেয় অথচ সে নিজেই জালেম অথবা জালেমদের একজন। এসবই মহান আল্লাহর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত: "তবে কি সেই ব্যক্তি যার কাছে তার মন্দ কাজকে সুশোভিত করে দেখানো হয়েছে এবং সে তাকে উত্তম মনে করে?" [সূরা ফাতির: ৮]

আর এটি কয়েকটি বিষয়ের মাধ্যমে বিবেচনা করো।

তার একটি হলো, বিদআতীদের নিন্দা করা, তাদের বর্জন করা এবং তাদের শাস্তি প্রদান সম্পর্কে ইমাম মালিকের বক্তব্য অনেক।
(খণ্ড: ١) আল-ইস্তিকামাহ (পৃষ্ঠা: ١٥)
وَمن أعظمهم عِنْده الْجَهْمِية الَّذين يَقُولُونَ إِن الله لَيْسَ فَوق الْعَرْش وَإِن الله لم يتَكَلَّم بِالْقُرْآنِ كُله وَإنَّهُ لَا يرى كَمَا وَردت بِهِ السّنة وينفون نَحْو ذَلِك من الصِّفَات

ثمَّ إِنَّه كثير فِي الْمُتَأَخِّرين من أَصْحَابه من يُنكر هَذِه الْأُمُور كَمَا ينكرها فروع الْجَهْمِية وَيجْعَل ذَلِك هُوَ السّنة وَيجْعَل القَوْل الَّذِي يُخَالِفهَا وَهُوَ قَول مَالك وَسَائِر أَئِمَّة السّنة هُوَ الْبِدْعَة ثمَّ إِنَّه مَعَ ذَلِك يعْتَقد فِي أهل الْبِدْعَة مَا قَالَه مَالك فبدل هَؤُلَاءِ الدّين فصاروا يطعنون فِي أهل السّنة

الثَّانِي أَن الشَّافِعِي من أعظم النَّاس ذما لأهل الْكَلَام وَلأَهل التَّغْيِير ونهيا عَن ذَلِك وَجعلا لَهُ من الْبِدْعَة الْخَارِجَة عَن السّنة ثمَّ إِن كثيرا من أَصْحَابه عكسوا الْأَمر حَتَّى جعلُوا الْكَلَام الَّذِي ذمه الشَّافِعِي هُوَ السّنة وأصول الدّين الَّذِي يجب اعْتِقَاده وموالاة أَهله وَجعلُوا مُوجب الْكتاب وَالسّنة الَّذِي مدحه الشَّافِعِي هُوَ الْبِدْعَة الَّتِي يُعَاقب أَهلهَا

الثَّالِث أَن الإِمَام أَحْمد فِي أمره بأتباع السّنة ومعرفته بهَا ولزومه لَهَا وَنَهْيه عَن الْبدع وذمه لَهَا ولأهلها وعقوبته لأَهْلهَا بِالْحَال الَّتِي لَا تخفى ثمَّ إِن كثيرا مِمَّا نَص هُوَ على أَنه من الْبدع الَّتِي يذم أَهلهَا صَار بعض أَتْبَاعه يعْتَقد أَن ذَلِك من السّنة وان الَّذِي يذم من خَالف ذَلِك مثل كَلَامه فِي مَسْأَلَة الْقُرْآن فِي مَوَاضِع مِنْهَا تبديعه لمن
এবং তাঁর কাছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে জঘন্য হলো জাহমিয়া গোষ্ঠী, যারা বলে যে আল্লাহ আরশের উপরে নেই, এবং আল্লাহ সমগ্র কুরআনের মাধ্যমে কথা বলেননি, এবং সুন্নাহতে বর্ণিত হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে দেখা যাবে না বলে তারা দাবি করে এবং তারা এ জাতীয় অন্যান্য সিফাত (গুণাবলী) অস্বীকার করে।

অতঃপর তাঁর পরবর্তী অনুসারীদের মধ্যে এমন অনেকে আছেন যারা এই বিষয়গুলোকে অস্বীকার করেন যেমন জাহমিয়াদের শাখাগুলো অস্বীকার করে, এবং তারা সেটাকেই সুন্নাহ হিসেবে গণ্য করেন। আর যা এর বিপরীত—অর্থাৎ ইমাম মালিক ও সুন্নাহর অন্যান্য ইমামগণের বক্তব্য—সেটিকে তারা বিদআত হিসেবে গণ্য করেন। এর পাশাপাশি তারা বিদআতীদের ব্যাপারে ইমাম মালিক যা বলেছেন তাই বিশ্বাস করেন; ফলে এরা দ্বীনকে পরিবর্তন করে ফেলেছে এবং আহলে সুন্নাহর সমালোচনা করতে শুরু করেছে।

দ্বিতীয়ত, ইমাম শাফেয়ী ইলমুল কালামের অনুসারী এবং (নصوص বা ভাষ্য) পরিবর্তনকারীদের সবচেয়ে কঠোর নিন্দাকারী ও তা থেকে নিষেধকারী ছিলেন এবং একে সুন্নাহ বহির্ভূত বিদআত হিসেবে গণ্য করতেন। অতঃপর তাঁর অনুসারীদের অনেকে বিষয়টিকে উল্টে দিয়েছেন, এমনকি ইমাম শাফেয়ী যে কালাম শাস্ত্রের নিন্দা করেছিলেন তারা সেটাকেই সুন্নাহ এবং দ্বীনের মূলনীতি হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন যা বিশ্বাস করা এবং এর অনুসারীদের সাথে মিত্রতা রাখা আবশ্যক। অন্যদিকে কুরআন ও সুন্নাহর অকাট্য বিধান যা ইমাম শাফেয়ী প্রশংসা করেছিলেন, তারা সেটাকে বিদআত হিসেবে গণ্য করেছেন যার অনুসারীদের শাস্তি দেওয়া উচিত।

তৃতীয়ত, সুন্নাহর অনুসরণ, সুন্নাহর গভীর জ্ঞান এবং তার ওপর অবিচল থাকার নির্দেশ প্রদানে এবং বিদআতের নিষেধ, বিদআত ও বিদআতীদের নিন্দা ও তাদের শাস্তির ক্ষেত্রে ইমাম আহমাদের অবস্থান অত্যন্ত সুস্পষ্ট। অতঃপর তিনি স্পষ্টভাবে যে বিষয়গুলোকে বিদআত হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন এবং যার অনুসারীদের নিন্দা করেছিলেন, তাঁর কিছু অনুসারী বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে সেগুলোই সুন্নাহ এবং যে এর বিরোধিতা করবে তাকে তারা নিন্দা করে; যেমন কুরআনের মাসআলায় বিভিন্ন স্থানে তাঁর বক্তব্য, যেখানে তিনি তাকে বিদআতী বলেছেন যে...
(খণ্ড: ١) আল-ইস্তিকামাহ (পৃষ্ঠা: ١٦)
قَالَ لفظى بِالْقُرْآنِ غير مَخْلُوق وتجهيه لمن قَالَ مَخْلُوق ثمَّ إِن من أَصْحَابه من جعل مَا بدعه الإِمَام أَحْمد هُوَ السّنة فتراهم يحكمون على مَا هُوَ من صِفَات العَبْد كألفاظهم وأصواتهم وَغير ذَلِك بِأَنَّهُ غير مَخْلُوق بل يَقُولُونَ هُوَ قديم ثمَّ إِنَّهُم يبدعون من لَا يَقُول بذلك ويحكمون فِي هَؤُلَاءِ بِمَا قَالَه أَحْمد فِي المبتدعة وَهُوَ فيهم

وَكَذَلِكَ مَا أثْبته أَحْمد من الصِّفَات الَّتِي جَاءَت بهَا الْآثَار وَاتفقَ عَلَيْهَا السّلف كالصفات الفعلية من الاسْتوَاء وَالنُّزُول المجئ والتكلم إِذا شَاءَ وَغير ذَلِك فينكرون ذَلِك بزعم أَن الحودث لَا تحل بِهِ ويجعلون ذَلِك بِدعَة ويحكمون على أَصْحَابه بِمَا حكم بِهِ أَحْمد فِي أهل الْبدع وهم من أهل الْبِدْعَة الَّذين ذمهم أَحْمد لَا أُولَئِكَ ونظائر هَذَا كَثِيرَة

بل قد يحْكى عَن وَاحِد من أئمتهم إِجْمَاع الْمُسلمين على أَن الْحَوَادِث لَا تحل بِذَاتِهِ لينفي بذلك مَا نَص أَحْمد وَسَائِر الْأَئِمَّة عَلَيْهِ من أَنه يتَكَلَّم إِذا شَاءَ وَمن هَذِه الْأَفْعَال التعلقة بمشيئته

وَمَعْلُوم أَن نقل الْإِجْمَاع على خلاف نصوصة ونصوص الْأَئِمَّة من أبلغ مَا يكون وَهَذَا كنقل غير وَاحِد من المصنفين فِي الْعلم إِجْمَاع الْمُسلمين على خلاف نُصُوص الرَّسُول وَهَذِه الْمَوَاضِع من ذَلِك أَيْضا فَإِن نُصُوص أَحْمد وَالْأَئِمَّة مُطَابقَة لنصوص الرَّسُول ص
তিনি বললেন: "কুরআনের ক্ষেত্রে আমার উচ্চারণ সৃজিত নয়" এবং যারা একে সৃজিত বলে তাদের তিনি অজ্ঞ সাব্যস্ত করেছেন। অতঃপর তাঁর অনুসারীদের মধ্যে কেউ কেউ এমন রয়েছেন যারা ইমাম আহমাদ যা কিছুকে বিদআত বলে অভিহিত করেছেন সেটাকেই সুন্নাহ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। ফলে আপনি দেখবেন যে, তারা বান্দার গুণাবলি যেমন তাদের উচ্চারণ, আওয়াজ ইত্যাদি সম্পর্কে ফয়সালা দেয় যে তা সৃজিত নয়, বরং তারা বলে যে এটি অনাদি। এরপর যারা এরূপ কথা বলে না তাদের তারা বিদআতি ঘোষণা করে এবং তাদের ক্ষেত্রে সেই সব ফয়সালা দেয় যা ইমাম আহমাদ বিদআতিদের সম্পর্কে দিয়েছিলেন, অথচ সেই বিদআত তাদের মধ্যেই বিদ্যমান।

তদ্রূপ ইমাম আহমাদ সেই সব গুণাবলি সাব্যস্ত করেছেন যা বর্ণনা সমূহে এসেছে এবং যার ওপর সালাফগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন; যেমন কার্যগত গুণাবলি—আরশের উপর উঠা, অবতরণ করা, আগমন করা এবং যখন ইচ্ছা কথা বলা ইত্যাদি। কিন্তু তারা এটি অস্বীকার করে এই দাবিতে যে, আল্লাহর সত্তায় কোনো নতুন ক্রিয়া সংঘটিত হতে পারে না। তারা একে বিদআত হিসেবে গণ্য করে এবং এর প্রবক্তাদের ওপর সেই হুকুম আরোপ করে যা ইমাম আহমাদ বিদআতিদের ক্ষেত্রে করেছিলেন। প্রকৃতপক্ষে তারাই বিদআতি যাদের ইমাম আহমাদ নিন্দা করেছেন, ঐ ব্যক্তিরা নন। আর এর অনুরূপ উদাহরণ অনেক।

বরং তাদের কোনো কোনো ইমামের পক্ষ থেকে মুসলমানদের ইজমা বা ঐকমত্য বর্ণনা করা হয় যে, আল্লাহর সত্তায় কোনো নতুন ক্রিয়া সংঘটিত হয় না; যাতে এর মাধ্যমে তিনি ইমাম আহমাদ ও অন্যান্য ইমামগণের সেই সুস্পষ্ট বক্তব্যকে নাকচ করতে পারেন যা বলে যে, আল্লাহ যখন ইচ্ছা কথা বলেন এবং তাঁর ইচ্ছার সাথে সংশ্লিষ্ট এই জাতীয় কর্মসমূহ সম্পাদন করেন।

এটি সুপরিচিত যে, ইমাম আহমাদ ও অন্যান্য ইমামদের সুস্পষ্ট বক্তব্যের বিপরীতে ইজমা বা ঐকমত্য দাবি করা চরম বিভ্রান্তিকর বিষয়। এটি ইলম বা জ্ঞানের ক্ষেত্রে বহু গ্রন্থকারের সেই আচরণের মতো যারা রাসূলুল্লাহর সুস্পষ্ট বক্তব্যের বিপরীতে মুসলিমদের ইজমা বর্ণনা করেন। এই বিষয়গুলোও তদ্রূপ, কারণ ইমাম আহমাদ ও অন্যান্য ইমামদের বক্তব্য রাসূলুল্লাহর বক্তব্যেরই হুবহু অনুরূপ।
(খণ্ড: ١) আল-ইস্তিকামাহ (পৃষ্ঠা: ١٧)
فصل قَوْله تَعَالَى {الَّذين يجادلون فِي آيَات الله بِغَيْر سُلْطَان أَتَاهُم كبر مقتا عِنْد الله وَعند الَّذين آمنُوا كَذَلِك يطبع الله على كل قلب متكبر جَبَّار} [سُورَة غَافِر 35] بعد قَوْله تَعَالَى {وَقَالَ الَّذِي آمن يَا قوم إِنِّي أَخَاف عَلَيْكُم مثل يَوْم الْأَحْزَاب} [سُورَة غَافِر 30] إِلَى قَوْله {وَلَقَد جَاءَكُم يُوسُف من قبل بِالْبَيِّنَاتِ فَمَا زلتم فِي شكّ مِمَّا جَاءَكُم بِهِ حَتَّى إِذا هلك قُلْتُمْ لن يبْعَث الله من بعده رَسُولا} [سُورَة غاقر 34] الْآيَة يخوفهم بِمثل عقوبات الله فِي الدُّنْيَا للأمم الْكَافِرَة قبلهم وخوفهم بِمَا يكون يَوْم الْقِيَامَة

وَهَذَا فِيهِ بَيَان إخْبَاره بِيَوْم الْقِيَامَة وَهُوَ مِمَّن آمن بمُوسَى كَمَا قد قَرَّرْنَاهُ فِي غير هَذَا الْموضع أَن جَمِيع الرُّسُل أخْبرت بِيَوْم الْقِيَامَة خلاف مَا تزْعم طوائف من الفلاسفة وَأهل الْكَلَام أَن الْمعَاد الجسماني لم يخبر بِهِ إِلَّا مُحَمَّد وَعِيسَى وَنَحْو ذَلِك

ثمَّ قَالَ الْمُؤمن {وَلَقَد جَاءَكُم يُوسُف من قبل بِالْبَيِّنَاتِ فَمَا زلتم فِي شكّ مِمَّا جَاءَكُم بِهِ حَتَّى إِذا هلك قُلْتُمْ لن يبْعَث الله من بعده رَسُولا كَذَلِك يضل الله من هُوَ مُسْرِف مرتاب} [سُورَة غَافِر 34] لِأَن الريب عدم الْعلم وَهَذِه حَال أهل الضلال

وَقَالَ هُنَاكَ {كَذَلِك يطبع الله على كل قلب متكبر جَبَّار} [سُورَة غَافِر 35] لِأَنَّهُ أخبر بجدالهم فِي آيَات الله بِغَيْر سُلْطَان أَتَاهُم وَهَذِه حَال الْمُتَكَلِّمين بِغَيْر علم لطلب الْعُلُوّ وَالْفساد
পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর বাণী: "যারা তাদের কাছে কোনো প্রমাণ আসা ছাড়াই আল্লাহর নিদর্শনাবলি নিয়ে বিতর্ক করে, তাদের এ কাজ আল্লাহর কাছে এবং মুমিনদের কাছে অত্যন্ত ঘৃণ্য। এভাবেই আল্লাহ প্রত্যেক অহঙ্কারী ও স্বৈরাচারী হৃদয়ের ওপর মোহর এঁটে দেন" [সূরা গাফির: ৩৫]। এটি এসেছে মহান আল্লাহর এই বাণীর পর: "এবং যে ব্যক্তি ঈমান এনেছিল সে বলল, 'হে আমার কওম! নিশ্চয় আমি তোমাদের ওপর পূর্ববর্তী দলগুলোর দিনের মতো (বিপর্যয়ের) আশঙ্কা করছি'" [সূরা গাফির: ৩০], এই পর্যন্ত: "আর নিশ্চয় ইতিপূর্বে ইউসুফ তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে এসেছিল, তবুও সে যা নিয়ে এসেছিল তোমরা সে বিষয়ে সন্দেহে ছিলে। পরিশেষে যখন সে ইন্তেকাল করল, তখন তোমরা বললে, 'আল্লাহ তার পর আর কোনো রসূল পাঠাবেন না'" [সূরা গাফির: ৩৪]। এই আয়াতের মাধ্যমে তিনি তাদের দুনিয়াতে তাদের পূর্ববর্তী কাফির জাতিগুলোর ওপর আল্লাহর শাস্তির অনুরূপ শাস্তির ভয় দেখাচ্ছেন এবং কিয়ামতের দিন যা ঘটবে সে সম্পর্কে তাদের সতর্ক করছেন।

এর মধ্যে রয়েছে তার পক্ষ থেকে কিয়ামতের দিন সম্পর্কে সংবাদ দেওয়ার বর্ণনা, আর সে ছিল মুসার প্রতি ঈমান আনয়নকারীদের অন্তর্ভুক্ত। যেমনটি আমরা অন্য স্থানে স্থির করেছি যে, সমস্ত রসূলই কিয়ামতের দিন সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন; এটি দার্শনিকদের একদল এবং ইলমুল কালামের অনুসারীদের দাবির পরিপন্থী, যারা মনে করে যে শারীরিক পুনরুত্থান সম্পর্কে মুহাম্মদ ও ঈসা এবং তাঁদের মতো কয়েকজন ছাড়া আর কেউ সংবাদ দেননি।

অতঃপর মুমিন ব্যক্তিটি বললেন: "আর নিশ্চয় ইতিপূর্বে ইউসুফ তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে এসেছিল, তবুও সে যা নিয়ে এসেছিল তোমরা সে বিষয়ে সন্দেহে ছিলে। পরিশেষে যখন সে ইন্তেকাল করল, তখন তোমরা বললে, 'আল্লাহ তার পর আর কোনো রসূল পাঠাবেন না'। এভাবেই আল্লাহ সীমা লঙ্ঘনকারী ও সংশয়বাদীকে পথভ্রষ্ট করেন" [সূরা গাফির: ৩৪]। কারণ সংশয় হলো জ্ঞানের অনুপস্থিতি, আর এটিই হলো পথভ্রষ্টদের অবস্থা।

আর তিনি সেখানে বলেছেন: "এভাবেই আল্লাহ প্রত্যেক অহঙ্কারী ও স্বৈরাচারী হৃদয়ের ওপর মোহর এঁটে দেন" [সূরা গাফির: ৩৫]। কারণ তিনি তাদের কাছে কোনো প্রমাণ ছাড়াই আল্লাহর নিদর্শনাবলি নিয়ে তাদের বিতর্কের সংবাদ দিয়েছেন, আর এটিই হলো জ্ঞানহীনভাবে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন ও ফাসাদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বিতর্ককারীদের অবস্থা।
(খণ্ড: ١) আল-ইস্তিকামাহ (পৃষ্ঠা: ١٨)
كَمَا قَالَ فِي الْآيَة الْأُخْرَى إِن الَّذين يجادلون فِي آيَات الله بِغَيْر سُلْطَان أَتَاهُم إِن فِي صُدُورهمْ إِلَّا كبر مَا هم ببالغيه باستعذ بِاللَّه إِنَّه هُوَ السَّمِيع الْبَصِير [سُورَة غَافِر 56]

وَلِهَذَا قَالَ فِي هَؤُلَاءِ المجادلين {كبر مقتا عِنْد الله وَعند الَّذين آمنُوا} [سُورَة غَافِر 35] أى كبر مقتهم أَو كبر هَذَا المقت أَو كبر هَذَا الْجِدَال أَو هَذَا الْفِعْل مقتا أى ممقوتا كَمَا قَالَ تَعَالَى {كَبرت كلمة تخرج من أَفْوَاههم} [سُورَة الْكَهْف 5] وكما قَالَ تَعَالَى {بئس للظالمين بَدَلا} [سُورَة الْكَهْف 50]

فَإِن الْمَخْصُوص بالمدح والذم فِي هَذَا الْبَاب كثيرا مَا يكون مضمرا إِذا تقدم مَا يعود الضَّمِير إِلَيْهِ والمدح يُرَاد بِهِ الرجل كَمَا تَقول نعم رجلا زيد وَنعم رجلا وَزيد نعم رجلا

والمقت يُرَاد بِهِ نفس المقت وَيُرَاد بِهِ الممقوت كَمَا فِي الْخلق ونظائره وَمثله قَوْله {لم تَقولُونَ مَا لَا تَفْعَلُونَ كبر مقتا عِنْد الله أَن تَقولُوا مَا لَا تَفْعَلُونَ} [سُورَة الصَّفّ 23] أَي كبر ممقوتا أَي كبر مقته مقتا

والمقت البغض الشَّديد وَهُوَ من جنس الْغَضَب الْمُنَاسب لحَال
যেমনটি তিনি অন্য আয়াতে বলেছেন: "নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর নিদর্শনাবলি সম্পর্কে তাদের কাছে আসা কোনো দলিল ছাড়াই বিতর্ক করে, তাদের অন্তরে কেবল অহংকারই রয়েছে, যা তারা অর্জন করতে পারবে না। সুতরাং আপনি আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করুন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।" [সূরা গাফির ৫৬]

এই কারণেই তিনি এই বিতর্ককারীদের সম্পর্কে বলেছেন: "আল্লাহর কাছে এবং মুমিনদের কাছে এটি অত্যন্ত ঘৃণা ও ক্রোধের বিষয়।" [সূরা গাফির ৩৫] অর্থাৎ তাদের ক্রোধ অত্যন্ত বড় হয়েছে, অথবা এই তীব্র ঘৃণা অত্যন্ত বড় হয়েছে, অথবা এই বিতর্ক বা এই কাজ অত্যন্ত ঘৃণ্য হিসেবে বড় হয়েছে; যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তাদের মুখ থেকে বের হওয়া কথাটি কতই না বড় (ভয়ংকর)!" [সূরা কাহফ ৫] এবং যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "জালিমদের জন্য বিনিময়টি কতই না নিকৃষ্ট!" [সূরা কাহফ ৫০]

কেননা প্রশংসা ও নিন্দার বিশেষ উদ্দেশ্যটি এই পরিচ্ছেদে প্রায়শই উহ্য থাকে যখন এমন কিছু পূর্বে অতিক্রান্ত হয় যার দিকে সর্বনামটি ফিরে যায়। আর প্রশংসা দ্বারা সেই ব্যক্তিই উদ্দিষ্ট হয়, যেমন আপনি বলেন: 'জায়েদ কতই না উত্তম ব্যক্তি' এবং 'সে কতই না উত্তম ব্যক্তি' অথবা 'জায়েদ, সে কতই না উত্তম ব্যক্তি'।

আর 'মাক্বত' (তীব্র ঘৃণা) দ্বারা মূল ঘৃণাও উদ্দিষ্ট হয় আবার যাকে ঘৃণা করা হয় তাও উদ্দিষ্ট হয়, যেমন 'সৃষ্টি' ও এর সদৃশ শব্দগুলোর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। এর অনুরূপ হলো তাঁর বাণী: "তোমরা যা করো না তা কেন বলো? তোমরা যা করো না তা বলা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত ঘৃণা ও ক্রোধের বিষয়।" [সূরা আস-সাফ ২-৩] অর্থাৎ তা অত্যন্ত ঘৃণিত হিসেবে বড় হয়েছে অথবা তার ঘৃণা তীব্রতর হয়েছে।

আর 'মাক্বত' হলো তীব্র বিদ্বেষ, যা অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ক্রোধের প্রকারভুক্ত।
(খণ্ড: ١) আল-ইস্তিকামাহ (পৃষ্ঠা: ١٩)
هَؤُلَاءِ كَمَا قَالَ فِي الْيَهُود {بل طبع الله عَلَيْهَا بكفرهم} [سُورَة النِّسَاء 144]

وَقد وصعهم بِنَحْوِ مِمَّا وصف عدوهم فِرْعَوْن فَقَوله {وقضينا إِلَى بني إِسْرَائِيل فِي الْكتاب لتفسدن فِي الأَرْض مرَّتَيْنِ ولتعلن علوا كَبِيرا} [سُورَة الْإِسْرَاء 4] فوصفهم بِالْفَسَادِ فِي الأَرْض والعلو كَمَا أَن فِرْعَوْن علا فِي الأَرْض وَجعل أَهلهَا شيعًا يستضعف طَائِفَة مِنْهُم يذبح أَبْنَاءَهُم ويستحي نِسَاءَهُمْ إِنَّه كَانَ من المفسدين [سُورَة الْقَصَص] وَختم السُّورَة بقوله {تِلْكَ الدَّار الْآخِرَة نَجْعَلهَا للَّذين لَا يُرِيدُونَ علوا فِي الأَرْض وَلَا فَسَادًا وَالْعَاقبَة لِلْمُتقين} [سُورَة الْقَصَص 83]

وَهَذَا مِمَّا يبين أَن قَوْله {الَّذين يجادلون فِي آيَات الله} [سُورَة غَافِر 35] مُبْتَدأ لَيْسَ بَدَلا من قَوْله {من هُوَ مُسْرِف مرتاب} سُورَة غَافِر 34 فَإِنَّهُ سُبْحَانَهُ وصف هَؤُلَاءِ بِغَيْر مَا وصف هَؤُلَاءِ وَيُؤَيّد هَذَا انه ابْتِدَاء قد قَالَ فِي الْأُخْرَى الَّذين يجادلون فِي آيَات الله بِغَيْر سُلْطَان أَتَاهُم] وَقَالَ قبل هَذِه الْآيَة مَا يُجَادِل فِي آيَات الله إِلَّا الَّذين كفرُوا [سُورَة غَافِر 4]

وَقد يُقَال يُمكن اجْتِمَاع الوصفين الريب والجدل بِغَيْر علم كَمَا هُوَ الْوَاقِع فِي طوائف كَثِيرَة كَمَا يجْتَمع الْغَضَب والضلال
এরা তেমনি যেমন তিনি ইহুদিদের সম্পর্কে বলেছেন {বরং তাদের কুফরির কারণে আল্লাহ তাতে মোহর মেরে দিয়েছেন} [সূরা আন-নিসা ১৫৫]

আর তিনি তাদের এমন সব বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন যা তাদের শত্রু ফেরাউনের বর্ণনার অনুরূপ। তাঁর বাণী: {আর আমরা কিতাবে বনী ইসরাঈলকে জানিয়ে দিয়েছি যে, তোমরা অবশ্যই পৃথিবীতে দুবার বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং বড় ধরনের ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করবে} [সূরা আল-ইসরা ৪]। এখানে তিনি তাদের পৃথিবীতে বিপর্যয় ও ঔদ্ধত্যের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, ঠিক যেমন ফেরাউন পৃথিবীতে ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেছিল এবং এর অধিবাসীদের বিভিন্ন দলে বিভক্ত করেছিল, তাদের মধ্য থেকে একটি দলকে সে হীনবল করে দিয়েছিল, তাদের পুত্রদের জবেহ করত এবং তাদের নারীদের জীবিত রাখত; নিশ্চয় সে ছিল বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের অন্তর্ভুক্ত [সূরা আল-কাসাস]। আর তিনি সূরার সমাপ্তি টেনেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: {সেই পরকালীন নিবাস তো আমরা তাদের জন্য নির্ধারণ করি যারা পৃথিবীতে ঔদ্ধত্য ও বিপর্যয় সৃষ্টি করতে চায় না। আর শুভ পরিণাম তো কেবল মুত্তাকীদের জন্য} [সূরা আল-কাসাস ৮৩]।

আর এটি সেই সকল বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা স্পষ্ট করে দেয় যে, তাঁর বাণী {যারা আল্লাহর আয়াতসমূহ নিয়ে বিতর্ক করে} [সূরা গাফির ৩৫] একটি মুবতাদা (উদ্দেশ্য), এটি তাঁর বাণী {যে ব্যক্তি সীমালঙ্ঘনকারী ও সংশয়ী} [সূরা গাফির ৩৪]-এর বদল (পরিবর্ত) নয়। কেননা তিনি (সুবহানাহু) এদের এমন বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন যা তাদের বৈশিষ্ট্যের চেয়ে ভিন্ন। আর এটি একটি প্রারম্ভিক বাক্য হওয়ার বিষয়টিকে এই কথাটি সমর্থন করে যে, তিনি অন্য আয়াতে বলেছেন: {যারা আল্লাহর আয়াতসমূহ নিয়ে বিতর্ক করে কোনো প্রমাণ ছাড়াই যা তাদের নিকট এসেছে} এবং এই আয়াতের পূর্বে তিনি বলেছেন: {কাফেররা ছাড়া আর কেউ আল্লাহর আয়াতসমূহ নিয়ে বিতর্ক করে না} [সূরা গাফির ৪]।

আর বলা যেতে পারে যে, জ্ঞান ছাড়াই সংশয় ও বিতর্কের এই দুটি বৈশিষ্ট্য একত্রিত হওয়া সম্ভব, যেমনটি অনেক গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে বাস্তবিকভাবেই ঘটে থাকে, ঠিক যেমন ক্রোধ ও পথভ্রষ্টতা একত্রিত হয়।
(খণ্ড: ١) আল-ইস্তিকামাহ (পৃষ্ঠা: ٢٠)
وَقد يُقَال الْآيَة تحْتَمل الْوَقْف وتحتمل الِابْتِدَاء وَقد يكون هَذَا قراءتين فتسوغ كل مِنْهُمَا وَيكون لَهُ صف صَحِيح كَمَا فِي نَظَائِره

وَفِي الحَدِيث الَّذِي رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ عَن الْحَارِث عَن عَليّ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَرَوَاهُ أَبُو نعيم الْأَصْفَهَانِي وَغَيره من طرق عديدة عَن عَليّ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي الْقُرْآن الحَدِيث الْمَعْرُوف قَالَ قلت يَا رَسُول الله سَتَكُون فتن فَمَا الْمخْرج مِنْهَا قَالَ كتاب الله فِيهِ نبأ مَا قبلكُمْ وَخبر مَا بعدكم وَحكم مَا بَيْنكُم هُوَ الْفَصْل لَيْسَ بِالْهَزْلِ من تَركه من جَبَّار قصمه الله وَمن ابْتغى الْهدى فِي غَيره أضلّهُ الله وَهُوَ حَبل الله المتين وَهُوَ الذّكر الْحَكِيم وَهُوَ الصِّرَاط الْمُسْتَقيم وَهُوَ الَّذِي لَا تزِيغ بِهِ الْأَهْوَاء وَلَا تخْتَلف بِهِ الآراء وَلَا تَلْتَبِس بِهِ الألسن وَلَا يخلق عَن كَثْرَة الرَّد وَلَا تنقضى عجائبه وَلَا يشْبع مِنْهُ الْعلمَاء من قَالَ بِهِ صدق وَمن حكم بِهِ عدل وَمن عمل بِهِ أجر وَمن دَعَا إِلَيْهِ هدى إِلَى صِرَاط مُسْتَقِيم
কখনও বলা হয় যে, আয়াতটি ওয়াকফ (থামা) এবং ইবতিদা (শুরু করা) উভয়ই সম্ভাবনা রাখে। হতে পারে এটি দুটি কিরাত (পাঠরীতি), ফলে তাদের প্রত্যেকটিই বৈধ এবং এর একটি সঠিক ব্যাখ্যা রয়েছে যেমনটি এর সমজাতীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে দেখা যায়।

আর সেই হাদিসে যা তিরমিজি আল-হারিস থেকে, তিনি আলি থেকে এবং তিনি নবী—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—থেকে বর্ণনা করেছেন এবং আবু নুআইম আল-আসফাহানি ও অন্যান্যরা আলির সূত্রে নবী—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—থেকে কুরআন সম্পর্কে একাধিক পথে বর্ণনা করেছেন, যা একটি সুপরিচিত হাদিস, তিনি (আলি) বললেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! শীঘ্রই ফিতনা (বিপর্যয়) দেখা দেবে, তা থেকে উত্তরণের উপায় কী? তিনি বললেন: "আল্লাহর কিতাব। এতে তোমাদের পূর্ববর্তীদের সংবাদ, তোমাদের পরবর্তীদের খবর এবং তোমাদের মধ্যকার বিচার-মীমাংসা রয়েছে। এটি সত্য-মিথ্যার চূড়ান্ত ফয়সালা, কোনো কৌতুক নয়। যে কোনো স্বৈরাচারী একে বর্জন করবে, আল্লাহ তাকে চূর্ণ করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি এটি ছাড়া অন্য কোথাও হেদায়েত খুঁজবে, আল্লাহ তাকে পথভ্রষ্ট করবেন। এটি আল্লাহর মজবুত রশি, প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ এবং সরল পথ। এটি এমন এক কিতাব যার দ্বারা প্রবৃত্তিগুলো সত্য বিচ্যুত হয় না, যার মাধ্যমে মতামতের ভিন্নতা ঘটে না এবং ভাষাগুলো এর পাঠে বিভ্রান্ত হয় না। এটি বারবার পাঠ করলেও পুরোনো হয় না, এর বিস্ময়কর বিষয়গুলো শেষ হয় না এবং আলেমগণ এটি থেকে কখনো তৃপ্ত হন না। যে ব্যক্তি এর মাধ্যমে কথা বলবে সে সত্য বলবে, যে এর মাধ্যমে বিচার করবে সে ইনসাফ করবে, যে এর ওপর আমল করবে সে পুরস্কৃত হবে এবং যে এর দিকে আহ্বান করবে সে সরল পথের দিকে পরিচালিত হবে।"
(খণ্ড: ١) আল-ইস্তিকামাহ (পৃষ্ঠা: ٢١)
فَقَوله من تَركه من جَبَّار قصمه الله وَمن ابْتغى الْهدى فِي غَيره أضلّهُ الله يُنَاسب قَوْله تَعَالَى كَذَلِك يضل الله من هُوَ مُسْرِف مرتاب [سُورَة غَافِر 34] وَكَذَلِكَ قَوْله كَذَلِك يطبع الله على كل قلب متكبر جَبَّار سُورَة غَافِر 35 فَذكر ضلال الأول وَذكر تجبر الثَّانِي وَذَلِكَ لِأَن الاول مرتاب ففاته الْعلم حَيْثُ ابْتغى الْهدى فِي غَيره وَالثَّانِي جَبَّار عمل بِخِلَاف مَا فِيهِ فقصمه الله وَهَذَانِ الوصفان يجمعان الْعلم وَالْعَمَل

وَفِي ذَلِك بَيَان ان كل علم دين لَا يطْلب من الْقُرْآن فَهُوَ ضلال كفاسد كَلَام الفلاسفة والمتكلمة والمتصوفة والمتفقهة وكل عَاقل يتْرك كتاب الله مرِيدا للعلو فِي الارض وَالْفساد فان الله يقصمه فالضال لم يحصل لَهُ الْمَطْلُوب بل يعذب بِالْعَمَلِ الَّذِي لَا فَائِدَة فِيهِ والجبار حصل لَذَّة فقصمه الله عَلَيْهَا فَهَذَا عذب بِإِزَاءِ لذاته الَّتِي طلبَهَا بِالْبَاطِلِ وَذَلِكَ يعذب بسعيه الْبَاطِل الَّذِي لم يفده

وَالْمَقْصُود هُنَا أَنه سُبْحَانَهُ فِي هَاتين الْآيَتَيْنِ بَين من يُجَادِل فِي آيَات الله بِغَيْر سُلْطَان أَتَاهُم وَقد بَين فِي غير مَوضِع ان السُّلْطَان هُوَ الْحجَّة وَهُوَ الْكتاب الْمنزل كَمَا قَالَ تَعَالَى أم أنزلنَا عَلَيْهِم سُلْطَانا فَهُوَ
তাঁর এই কথা: "কোনো অহংকারী যদি একে বর্জন করে তবে আল্লাহ তাকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেন, আর যে ব্যক্তি এটি ছাড়া অন্য কোথাও হিদায়াত বা পথপ্রদর্শন অনুসন্ধান করে তবে আল্লাহ তাকে পথভ্রষ্ট করেন" মহান আল্লাহর এই বাণীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ: "এভাবেই আল্লাহ তাকে পথভ্রষ্ট করেন যে সীমালঙ্ঘনকারী ও সংশয়বাদী" [সূরা গাফির: ৩৪]। তদ্রূপ তাঁর এই বাণী: "এভাবেই আল্লাহ প্রত্যেক অহংকারী ও স্বৈরাচারীর হৃদয়ে মোহর মেরে দেন" [সূরা গাফির: ৩৫]। এখানে প্রথম ব্যক্তির পথভ্রষ্টতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং দ্বিতীয় ব্যক্তির ঔদ্ধত্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর কারণ হলো প্রথম ব্যক্তি ছিল সংশয়বাদী, ফলে তার থেকে জ্ঞান হারিয়ে গেছে যেহেতু সে অন্য কোথাও হিদায়াত অন্বেষণ করেছিল। আর দ্বিতীয় ব্যক্তি ছিল অহংকারী স্বৈরাচারী যে এর (কুরআনের) বিপরীত আমল করেছে, ফলে আল্লাহ তাকে চূর্ণ করে দিয়েছেন। এই দুটি বৈশিষ্ট্য জ্ঞান ও কর্মকে একত্রিত করে।

এর মধ্যে এই বর্ণনা রয়েছে যে, দ্বীনের যেকোনো জ্ঞান যদি কুরআন থেকে অন্বেষণ করা না হয়, তবে তা পথভ্রষ্টতা; যেমন দার্শনিক, কালামশাস্ত্রবিদ, সুফি এবং (কুরআন বিমুখ) ফকীহদের ভ্রান্ত কথাবার্তা। আর প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তি যে যমীনে আধিপত্য বিস্তার ও বিপর্যয় সৃষ্টির উদ্দেশ্যে আল্লাহর কিতাব বর্জন করে, আল্লাহ তাকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেন। ফলে পথভ্রষ্ট ব্যক্তি তার কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য লাভ করতে পারে না, বরং সে এমন আমলের কারণে শাস্তি পায় যাতে কোনো উপকার নেই। আর অহংকারী ব্যক্তি সাময়িক স্বাদ লাভ করে, ফলে আল্লাহ তাকে তার ওপর ভিত্তি করেই চূর্ণ করেন। সুতরাং একে তার সেই উপভোগের বিনিময়ে শাস্তি দেওয়া হয় যা সে বাতিলের মাধ্যমে অন্বেষণ করেছিল, আর অন্যজনকে শাস্তি দেওয়া হয় তার বাতিল প্রচেষ্টার কারণে যা তার কোনো উপকারে আসেনি।

এখানে মূল উদ্দেশ্য হলো, মহান আল্লাহ এই দুই আয়াতে ঐ ব্যক্তির অবস্থা বর্ণনা করেছেন যে তার কাছে আসা কোনো প্রমাণ ছাড়াই আল্লাহর নিদর্শনাবলি নিয়ে বিতর্ক করে। তিনি অন্য অনেক স্থানে স্পষ্ট করেছেন যে, 'সুলতান' (প্রমাণ) হলো হুজ্জাত বা দলিল, আর তা হলো অবতীর্ণ কিতাব; যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "নাকি আমি তাদের ওপর এমন কোনো দলিল নাযিল করেছি?" সুতরাং তা হলো—
(খণ্ড: ١) আল-ইস্তিকামাহ (পৃষ্ঠা: ٢٢)
يتَكَلَّم بِمَا كَانُوا بِهِ يشركُونَ [سُورَة الرّوم 35] وَقيل إِن هِيَ إِلَّا أَسمَاء سميتموها أَنْتُم وآباؤكم مَا أنزل الله بهَا من سُلْطَان [سُورَة النَّجْم 23] فِي غير مَوضِع

وَقَالَ تَعَالَى أَلا إِنَّهُم من إفكهم ليقولون ولد الله إِلَى قَوْله أم لكم سُلْطَان مُبين فَأتوا بِكِتَابِكُمْ إِن كُنْتُم صَادِقين [سُورَة الصافات 151 157]

وَقَالَ أم لَهُم سلم يَسْتَمِعُون فِيهِ فليأت مستعهم بسُلْطَان [سُورَة الطّور 38] وَقَالَ أفنجعل الْمُسلمين كالمجرمين مَا لكم كَيفَ تحكمون أم لكم كتاب فِيهِ تدرسون [سُورَة الْقَلَم 35 37]

وَإِذا كَانَ كَذَلِك فَفِي هَذَا بَيَان أَنه لَا يجوز لأحد أَن يُعَارض كتاب الله بِغَيْر كتاب فَمن عَارض كتاب الله وجادل فِيهِ بِمَا يُسَمِّيه معقولات وبراهين وأقيسة أَو مَا يُسَمِّيه مكاشفات ومواجيد وأذواق من غير أَن يَأْتِي على مَا يَقُوله بِكِتَاب منزل فقد جادل فِي آيَات الله بِغَيْر سُلْطَان هَذِه حَال الْكفَّار الَّذين قَالَ فيهم مَا يُجَادِل فِي آيَات الله إِلَّا الَّذين كفرُوا [سُورَة غَافِر 4] فَهَذِهِ حَال من يُجَادِل فِي آيَات الله مُطلقًا

وَمن الْمَعْلُوم أَن الَّذِي يُجَادِل فِي جَمِيع آيَات الله لَا يُجَادِل بسُلْطَان
...এমন কিছু নিয়ে কথা বলে যা নিয়ে তারা শিরক করত [সূরা আর-রুম ৩৫] এবং অন্যত্র বলা হয়েছে: "এগুলো কেবল কতগুলো নাম যা তোমরা ও তোমাদের পিতৃপুরুষেরা রেখেছ, আল্লাহ এগুলোর পক্ষে কোনো দলীল নাযিল করেননি" [সূরা আন-নাজম ২৩]।

এবং মহান আল্লাহ বলেন: "জেনে রেখো, তারা তাদের মনগড়া মিথ্যার আশ্রয়ে বলে থাকে: আল্লাহ সন্তান জন্ম দিয়েছেন..." তাঁর বাণী পর্যন্ত: "নাকি তোমাদের কাছে কোনো সুস্পষ্ট দলীল আছে? তাহলে তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে তোমাদের কিতাব নিয়ে এসো" [সূরা আস-সাফফাত ১৫১-১৫৭]।

এবং তিনি বলেছেন: "নাকি তাদের কোনো সিঁড়ি আছে যাতে আরোহণ করে তারা শ্রবণ করে? তবে তাদের শ্রবণকারী কোনো সুস্পষ্ট দলীল নিয়ে আসুক" [সূরা আত-তূর ৩৮]। এবং তিনি বলেছেন: "তবে কি আমি আত্মসমর্পণকারীদের অপরাধীদের সমান করে দেব? তোমাদের কী হয়েছে? তোমরা কেমন ফয়সালা করছ? নাকি তোমাদের কোনো কিতাব আছে যা তোমরা পাঠ করে থাক?" [সূরা আল-কালাম ৩৫-৩৭]।

আর বিষয়টি যখন এমন, তখন এতে এই স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে যে, কারো জন্য আল্লাহর কিতাবের বিরোধিতা করা জায়েয নেই অন্য কোনো কিতাব ব্যতীত। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের বিরোধিতা করে এবং এতে বিবাদ করে এমন কিছু দ্বারা যাকে সে বুদ্ধিভিত্তিক যুক্তি, প্রমাণ ও তুলনা বলে নাম দেয়, অথবা যাকে সে কাশফ, আধ্যাত্মিক অনুভূতি ও আস্বাদন বলে অভিহিত করে—নাযিলকৃত কোনো কিতাব থেকে তার বক্তব্যের পক্ষে প্রমাণ না এনেই; তবে সে মূলত আল্লাহর আয়াতসমূহে কোনো দলীল ছাড়াই বিবাদ করল। এটিই কাফিরদের অবস্থা যাদের সম্পর্কে তিনি বলেছেন: "কাফিররা ছাড়া আর কেউ আল্লাহর আয়াতসমূহ নিয়ে বিবাদ করে না" [সূরা গাফির ৪]। এটিই সাধারণভাবে আল্লাহর আয়াতসমূহ নিয়ে বিবাদকারীদের অবস্থা।

এবং এটি সর্বজনবিদিত যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর সমস্ত আয়াত নিয়ে বিবাদ করে, সে কোনো দলীল ছাড়াই বিবাদ করে।
(খণ্ড: ١) আল-ইস্তিকামাহ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
فَإِن السُّلْطَان من آيَات الله وَإِنَّمَا الَّذِي يُجَادِل فِي آيَات الله بسُلْطَان يكون قد جادل فِي بعض آيَات الله بِبَعْض آيَات الله

وَهَذِه الْحَال يحمد مِنْهَا ان يكون إِحْدَى الْآيَتَيْنِ ناسخة لَهَا اَوْ مفسرة لَهَا بِمَا يُخَالف ظَاهرهَا وَإِن كَانَ السّلف يسمون الْجَمِيع نسخا وَلِهَذَا لم يكن السّلف من الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ يتركون دلَالَة آيَة من كتاب الله إِلَّا بِمَا يسمونه نسخا وَلم يكن فِي عَهدهم كتب فِي ذَلِك إِلَّا كتب النَّاسِخ والمنسوخ لِأَن ذَلِك غَايَته أَن نجادل فِي آيَات الله بسُلْطَان كجدالنا مَعَ أهل التَّوْرَاة وَالْإِنْجِيل وهما من آيَات الله بِالْقُرْآنِ الَّذِي أنزلهُ الله مُصدقا لما بَين يَدَيْهِ من الْكتاب ومهيمنا عَلَيْهِ

فَأَما مُعَارضَة الْقُرْآن بمعقول أَو قِيَاس فَهَذَا لم يكن يستحله أحد من السّلف وَإِنَّمَا ابتدع ذَلِك لما ظَهرت الْجَهْمِية والمعتزلة وَنَحْوهم مِمَّن بنوا أصُول دينهم على مَا سموهُ معقولا وردوا الْقُرْآن إِلَيْهِ وَقَالُوا إِذْ تعَارض الْعقل وَالشَّرْع إِمَّا أَن يُفَوض أَو يتَأَوَّل فَهَؤُلَاءِ من أعظم المجادلين فِي آيَات الله بِغَيْر سُلْطَان أَتَاهُم

وَأما تَسْمِيَة الْمُتَأَخِّرين تَخْصِيصًا وتقييدا وَنَحْو ذَلِك مِمَّا فِيهِ صرف الظَّوَاهِر فَهُوَ دَاخل فِي مُسَمّى النّسخ عِنْد الْمُتَقَدِّمين وعَلى هَذَا الِاصْطِلَاح فَيدْخل النّسخ فِي الْإِخْبَار كَمَا يدْخل فِي الْأَوَامِر وَإِنَّمَا النّسخ الْخَاص الَّذِي هُوَ رفع الحكم فَلَا بُد فِي الْخَبَر عَن أَمر مُسْتَقر
কেননা কর্তৃত্ব আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আর নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আল্লাহর নিদর্শনসমূহ সম্পর্কে দালিলিক প্রমাণের ভিত্তিতে বিতর্ক করে, সে আল্লাহর কিছু নিদর্শন দ্বারা আল্লাহর অন্য কিছু নিদর্শনের মাধ্যমে বিতর্ক করল।

এই অবস্থাটি তখন প্রশংসনীয় হয় যখন দুই নিদর্শনের একটি অপরটিকে রহিতকারী হয় অথবা এমন কোনো ব্যাখ্যা প্রদানকারী হয় যা তার বাহ্যিক অর্থের পরিপন্থী, যদিও সালাফগণ এই সব কিছুকেই রহিতকরণ নামে অভিহিত করতেন। আর এই কারণেই সাহাবী ও তাবিঈগণের মধ্য থেকে সালাফগণ আল্লাহর কিতাবের কোনো আয়াতের নির্দেশকে বর্জন করতেন না, যতক্ষণ না তা এমন কিছু হতো যাকে তারা রহিতকরণ বলতেন। তাদের যুগে এই বিষয়ে রহিতকারী ও রহিতকৃত বিষয়ক গ্রন্থ ছাড়া অন্য কোনো গ্রন্থ ছিল না। কারণ এর চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো আল্লাহর নিদর্শনসমূহ নিয়ে প্রমাণের ভিত্তিতে বিতর্ক করা, যেমনটি আমরা তাওরাত ও ইঞ্জিলপন্থীদের সাথে বিতর্ক করি—যা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত—সেই কুরআনের মাধ্যমে যা আল্লাহ তাঁর পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী ও সেগুলোর সংরক্ষক হিসেবে নাযিল করেছেন।

কিন্তু যুক্তি বা কিয়াসের মাধ্যমে কুরআনের বিরোধিতা করাকে সালাফগণের কেউ বৈধ মনে করতেন না। বরং এটি তখনই উদ্ভাবিত হয়েছে যখন জাহমিয়া, মুতাজিলা এবং তাদের মতো এমন দলগুলোর আত্মপ্রকাশ ঘটে যারা তাদের দ্বীনের মূলনীতিকে এমন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে গড়ে তুলেছিল যাকে তারা যুক্তি বলে অভিহিত করত এবং এর ভিত্তিতে তারা কুরআনকে প্রত্যাখ্যান করত। তারা বলত, যখন বুদ্ধি এবং শরীয়তের মধ্যে বিরোধ দেখা দেবে, তখন হয় আল্লাহর কাছে সোপর্দ করতে হবে অথবা ব্যাখ্যা করতে হবে। এরা হলো আল্লাহর নিদর্শনসমূহ সম্পর্কে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো প্রমাণ আসা ছাড়াই সর্বাধিক বিতর্ককারী।

আর পরবর্তীকালের আলিমগণ যাকে বিশেষায়ন, সীমাবদ্ধকরণ এবং অনুরূপ পরিভাষা হিসেবে অভিহিত করেছেন যার মধ্যে বাহ্যিক অর্থ থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয় থাকে, তা পূর্ববর্তীগণের নিকট রহিতকরণের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই পরিভাষা অনুযায়ী, রহিতকরণ বিবরণের ক্ষেত্রেও প্রবেশ করে যেমনটি তা আদেশের ক্ষেত্রে প্রবেশ করে। তবে বিশেষ রহিতকরণ যা মূলত বিধান উঠিয়ে নেওয়াকে বোঝায়, তা বিবরণের ক্ষেত্রে আসার জন্য সংবাদটি কোনো স্থায়ী বিষয় হতে হয়।
(খণ্ড: ١) আল-ইস্তিকামাহ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
وَأما مَا يدْخل فِي الْخَبَر عَن إنْشَاء أَمر فَيكون لدُخُوله فِي الْإِنْشَاء إنْشَاء الْأَمر وَالنَّهْي وإنشاء الْوَعيد عِنْد من يجوز النّسخ فِيهِ كآخر الْبَقَرَة على مَا روى عَن جُمْهُور السّلف

وَهُوَ مَبْنِيّ على أَن الْوَعيد هَل هُوَ خبر مَحْض أَو هُوَ مَعَ ذَلِك إنْشَاء كالعقود الَّتِي تقبل الْفَسْخ لكَونه إِخْبَارًا عَن إِرَادَة المتوعد وعزمه وكالخبر عَن الْأَمر وَالنَّهْي المتضمن خَبره عَن طلبه المتضمن إِرَادَته الشَّرْعِيَّة وَهَذَا مِمَّا يبين مَا قَرَّرْنَاهُ فِي غير هَذَا الْموضع أَن الله سُبْحَانَهُ بَين بكتابه سَبِيل الْهدى وَأَنه لَا يصلح أَن يُخَاطب بِمَا ظَاهر مَعْنَاهُ بَاطِل أَو فَاسد بل وَلَا يضلل المخاطبين بِأَن يحيلهم على الْأَدِلَّة الَّتِي يستسيغونها برأيهم بل يجب أَن يكون الْكتاب بَيَانا وَهدى وشفاء لما فِي الصُّدُور وَأَن مَدْلُوله وَمَفْهُومه حق وَهَذَا أصل عَظِيم جدا

‌‌فصل فِيمَا اخْتلف فِيهِ الْمُؤْمِنُونَ من الْأَقْوَال والافعال فِي الْأُصُول وَالْفُرُوع

فَإِن هَذَا من أعظم أصُول الْإِسْلَام الَّذِي هُوَ معرفَة الْجَمَاعَة وَحكم الْفرْقَة والتقاتل والتكفير والتلاعن والتباغض وَغير ذَلِك
আর যা কোনো বিষয়ের প্রবর্তন (ইনশা) সম্পর্কিত সংবাদের অন্তর্ভুক্ত হয়, তা প্রবর্তনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে আদেশ ও নিষেধের প্রবর্তন এবং শাস্তির হুমকির (ওয়াইদ) প্রবর্তন হিসেবে গণ্য হয়; এটি তাদের নিকট যারা এতে রহিতকরণ (নাসখ) জায়েয মনে করেন, যেমন সূরা বাকারার শেষাংশ সম্পর্কে জুমহুর সালাফ থেকে বর্ণিত হয়েছে।

এটি এই বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে যে, শাস্তির হুমকি কি কেবল একটি সংবাদ (খবর), নাকি এর পাশাপাশি এটি একটি প্রবর্তনও (ইনশা); যেমন এমন সব চুক্তি যা বাতিলযোগ্য (ফাসখ)। কেননা এটি হুমকি প্রদানকারীর ইচ্ছা ও সংকল্পের সংবাদ প্রদান। এটি আদেশ ও নিষেধ সম্পর্কিত সংবাদের মতো, যা তাঁর তলব বা দাবির সংবাদকে শামিল করে, আর তা আবার তাঁর শরয়ি ইচ্ছাকে (ইরাদা শারইয়্যাহ) শামিল করে। এটি সেই বিষয়সমূহকে স্পষ্ট করে যা আমরা অন্য স্থানে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছি যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর কিতাবের মাধ্যমে হিদায়াতের পথ বর্ণনা করেছেন। আর এমন কোনো কিছুর মাধ্যমে সম্বোধন করা সমীচীন নয় যার প্রকাশ্য অর্থ বাতিল বা ফাসিদ; এমনকি তিনি সম্বোধিত ব্যক্তিদেরকে এমন সব দলিলের দিকে সোপর্দ করে বিভ্রান্ত করেন না যা তারা নিজদের রায়ের মাধ্যমে সংগত মনে করে। বরং কিতাব স্পষ্ট বর্ণনা, হিদায়াত এবং অন্তরের ব্যাধিসমূহের আরোগ্য হওয়া আবশ্যক। আর এর নির্দেশিত অর্থ ও মর্ম সত্য হওয়া বাঞ্ছনীয়। এটি অত্যন্ত মহান একটি মূলনীতি।

‌‌পরিচ্ছেদ: মুমিনগণ উসুল (মূলনীতি) ও ফুরু (শাখা-প্রশাখা) সংশ্লিষ্ট যেসকল কথা ও কাজে মতভেদ করেছেন

কারণ এটি ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মূলনীতি, যা হলো জামাআত (ঐক্যবদ্ধ দল) সম্পর্কে জ্ঞান এবং অনৈক্য, পারস্পরিক লড়াই, কাফির সাব্যস্ত করা (তাকফির), পরস্পর লানত করা, ঘৃণা করা এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়ের বিধান জানা।
(খণ্ড: ١) আল-ইস্তিকামাহ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
فَنَقُول هَذَا الْبَاب أَصله الْمحرم فِيهِ من الْبَغي فَإِن الْإِنْسَان ظلوم جهول قَالَ تَعَالَى كَانَ النَّاس أمة وَاحِدَة فَبعث الله النَّبِيين مبشرين ومنذرين وَأنزل مَعَهم الْكتاب بِالْحَقِّ ليحكم بَين النَّاس فِيمَا اخْتلفُوا فِيهِ وَمَا اخْتلف فِيهِ إِلَّا الَّذين أوتوه من بعد مَا جَاءَتْهُم الْبَينَات بغيا بَينهم [سُورَة الْبَقَرَة 213] فِي غير مَوضِع

وَقد ثَبت فِي الصَّحِيحَيْنِ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ لتسلكن سنَن من قبلكُمْ حَذْو القذة بالقذة حَتَّى لَو دخلُوا جُحر ضَب لدخلتموه قَالُوا يَا رَسُول الله الْيَهُود وَالنَّصَارَى قَالَ فَمن

وَقد قَالَ تَعَالَى وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِين تفَرقُوا وَاخْتلفُوا من بعد مَا جَاءَهُم الْبَينَات وَأُولَئِكَ لَهُم عَذَاب عَظِيم [سُورَة آل عمرَان 105]
সুতরাং আমরা বলি, এই অধ্যায়ের মূল ভিত্তি যাতে মানুষ নিষিদ্ধ কার্যে লিপ্ত হয় তা হলো সীমালঙ্ঘন; কেননা মানুষ অত্যন্ত অন্যায়কারী ও অতিশয় অজ্ঞ। মহান আল্লাহ বলেছেন: “মানুষ ছিল একক উম্মতভুক্ত। অতঃপর আল্লাহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে নবীগণকে প্রেরণ করলেন এবং তাঁদের সাথে সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করলেন যেন মানুষেরা যে বিষয়ে মতভেদ করছে তার মীমাংসা করা যায়। আর যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল, তাদের নিকট স্পষ্ট নিদর্শন আসার পর তারা কেবল পারস্পরিক বিদ্বেষবশত তাতে মতভেদ সৃষ্টি করেছিল।” [সূরা আল-বাকারাহ: ২১৩] এটি কুরআনের আরও একাধিক স্থানে বর্ণিত হয়েছে।

সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: “তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি হুবহু অনুসরণ করবে, এমনকি তারা যদি কোনো গোসাপের গর্তে প্রবেশ করে থাকে, তবে তোমরাও তাতে প্রবেশ করবে।” তাঁরা বললেন: “হে আল্লাহর রাসূল! ইয়াহূদী ও খ্রিষ্টানদের কথা বলছেন কি?” তিনি বললেন: “তবে আর কাদের কথা?”

মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: “তোমরা তাদের মতো হয়ো না, যারা তাদের নিকট স্পষ্ট নিদর্শন আসার পর বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে এবং মতভেদ সৃষ্টি করেছে; আর তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি।” [সূরা আলে ইমরান: ১০৫]
(খণ্ড: ١) আল-ইস্তিকামাহ (পৃষ্ঠা: ٢٦)
وَقَالَ تَعَالَى إِن الَّذين فرقوا دينهم وَكَانُوا شيعًا لست مِنْهُم فِي شئ [سُورَة الْأَنْعَام 159]

وَمن هَذَا الْبَاب مَا هُوَ من بَاب التَّأْوِيل وَالِاجْتِهَاد الَّذِي يكون الْإِنْسَان مستفرغا فِيهِ وَسعه علما وَعَملا

ثمَّ الْإِنْسَان قد يبلغ ذَلِك وَلَا يعرف الْحق فِي الْمسَائِل الخبرية الاعتقادية وَفِي الْمسَائِل العملية الاقتصادية وَالله سُبْحَانَهُ قد تجَاوز لهَذِهِ الْأمة عَن الْخَطَأ وَالنِّسْيَان بقوله تَعَالَى رَبنَا لَا تُؤَاخِذنَا إِن نَسِينَا أَو أَخْطَأنَا [سُورَة الْبَقَرَة 286]

وَقد ثَبت فِي صَحِيح مُسلم من حَدِيث ابْن عَبَّاس وَمن حَدِيث أَبى هُرَيْرَة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَن الله اسْتَجَابَ لَهُم هَذَا الدُّعَاء وَقَالَ قد فعلت وَأَنَّهُمْ لم يقرأو بِحرف مِنْهَا إِلَّا أَعْطوهُ وَهَذَا مَعَ قَوْله تَعَالَى وَالَّذين آمنُوا وَعمِلُوا الصَّالِحَات أُولَئِكَ أَصْحَاب الْجنَّة [سُورَة الْبَقَرَة 82]
এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: "নিশ্চয়ই যারা তাদের দীনকে খণ্ডবিখণ্ড করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে, তাদের সাথে আপনার কোনো সম্পর্ক নেই।" [সূরা আল-আনআম ১৫৯]

আর এই অধ্যায়ভুক্ত হলো সেই সকল বিষয় যা ব্যাখ্যা এবং ইজতিহাদের পর্যায়ভুক্ত, যেখানে মানুষ জ্ঞান ও আমলের ক্ষেত্রে তার সাধ্যের সবটুকু ব্যয় করে।

অতঃপর মানুষ কখনও এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যে, সে বিশ্বাসগত সংবাদ সংক্রান্ত মাসআলা এবং আমলগত ইজতিহাদী মাসআলাসমূহে সত্যটি উদ্ঘাটন করতে পারে না। অথচ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই উম্মতের ভুল ও বিস্মৃতিকে মার্জনা করে দিয়েছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "হে আমাদের রব, যদি আমরা বিস্মৃত হই অথবা ভুল করি, তবে আপনি আমাদের পাকড়াও করবেন না।" [সূরা আল-বাকারাহ ২৮৬]

আর সহীহ মুসলিমে ইবনে আব্বাস এবং আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসে প্রমাণিত হয়েছে যে, আল্লাহ তাদের এই দুআ কবুল করেছেন এবং বলেছেন: "আমি তা করলাম"; এবং তারা এর প্রতিটি বর্ণ পাঠ করার সাথে সাথেই তাদের তা প্রদান করা হয়েছে। এটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর সমগোত্রীয়: "আর যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তারাই জান্নাতবাসী।" [সূরা আল-বাকারাহ ৮২]
(খণ্ড: ١) আল-ইস্তিকামাহ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
وَقَوله دَلِيل على ان الله لَا يُكَلف نفسا إِلَّا وسعهَا لَهَا مَا كسبت وَعَلَيْهَا مَا اكْتسبت وَغير ذَلِك دَلِيل على أَن الله تَعَالَى لَا يُكَلف نفسا إِلَّا وسعهَا

والوسع هُوَ مَا تسعه النَّفس فَلَا تضيق عَنهُ وَلَا تعجز عَنهُ فالوسع فعل بِمَعْنى مفعول كالجهد

وَهَذَا أَيْضا كَقَوْلِه تَعَالَى مَا جعل عَلَيْكُم فِي الدّين من حرج [سُورَة الْحَج 78]

وَقَوله يُرِيد الله بكم الْيُسْر وَلَا يُرِيد بكم الْعسر [سُورَة الْبَقَرَة 185]

وَقَوله مَا يُرِيد الله ليجعل عَلَيْكُم من حرج [سُورَة الْمَائِدَة 6] والحرج الضّيق فَهُوَ نفى أَن يكون عَلَيْهِم ضيق أَي مَا يضيق عَنْهُم كَمَا أخبر أَنه لَا يُكَلف النَّفس إِلَّا مَا تسعه فَلَا بُد أَن يكون الْإِيجَاب وَالتَّحْرِيم مِمَّا تسعه النَّفس حَتَّى يقدر الْإِنْسَان على فعله وَلَا بُد أَن يكون الْمُبَاح مِمَّا يسع الْإِنْسَان وَلَا يضيق عَنهُ حَتَّى يكون للانسان مَا يسع الْإِنْسَان وَيحمل الْإِنْسَان وَلَا يضيق عَنهُ من الْمُبَاح

وليتدبر الْفرق بَين مَا يَسعهُ الْإِنْسَان وَهُوَ الوسع الَّذِي قيل فِيهِ لَا يُكَلف الله نفسا إِلَّا وسعهَا [سُورَة الْبَقَرَة 286] وَبَين مَا يسع الْإِنْسَان فَلَا يكون حرجا عَلَيْهِ وَهُوَ مِمَّا لَا بُد للْإنْسَان مِنْهُ من الْمُبَاحَات وَهَذَا يكون فِي صفة فعل الْمَأْمُور بِهِ كَمَا فِي الْوضُوء وَالصَّلَاة فَلَا بُد ان يكون المجزئ لَهُ من ذَلِك مَا يسع الْإِنْسَان وَالْوَاجِب عَلَيْهِ مَا يَسعهُ
এবং তাঁর বাণী এই কথার দলিল যে, আল্লাহ কোনো আত্মাকে তার সামর্থ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেন না। সে যা অর্জন করেছে তা তার জন্য, আর সে যা কামাই করেছে তা তার বিপক্ষে। এটি এবং এ জাতীয় অন্যান্য আয়াত এই কথার দলিল যে, আল্লাহ তাআলা কোনো আত্মাকে তার সামর্থ্যের অতিরিক্ত কোনো দায়িত্ব অর্পণ করেন না।

আর সামর্থ্য (উস') হলো তা-ই যা আত্মা অনায়াসে ধারণ করতে পারে, ফলে তা তার জন্য সংকীর্ণ হয় না এবং সে তা পালনে অক্ষমও হয় না। সুতরাং 'উস' শব্দটি এখানে কর্মবাচ্যের (মাফউল) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমনটি 'জুহুদ' (প্রচেষ্টা) শব্দের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।

আর এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর মতো: "তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা চাপিয়ে দেননি।" [সূরা আল-হাজ্জ: ৭৮]

এবং তাঁর বাণী: "আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজতা চান এবং তিনি তোমাদের জন্য কোনো কাঠিন্য চান না।" [সূরা আল-বাকারাহ: ১৮৫]

এবং তাঁর বাণী: "আল্লাহ তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা সৃষ্টি করতে চান না।" [সূরা আল-মায়িদাহ: ৬]। আর 'হারাজ' (সংকীর্ণতা) হলো সংকীর্ণতা বা কষ্ট। সুতরাং তিনি তাদের ওপর সংকীর্ণতা থাকাকে অস্বীকার করেছেন, অর্থাৎ এমন কিছু যা তাদের জন্য সংকীর্ণ হয়ে যায়। যেমন তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি কোনো আত্মাকে তার সামর্থ্যের বাইরের কোনো দায়িত্ব দেন না। অতএব এটি আবশ্যক যে, কোনো বিষয়কে ওয়াজিব বা হারাম করা হবে কেবল এমন বিষয়ের ক্ষেত্রে যা আত্মা ধারণ করতে সক্ষম, যাতে মানুষ তা করতে সক্ষম হয়। আর এটিও আবশ্যক যে, মুবাহ (বৈধ) বিষয়গুলো এমন হতে হবে যা মানুষের জন্য প্রশস্ত হয় এবং তার জন্য সংকীর্ণ না হয়, যাতে মানুষের জন্য এমন বৈধ বিষয় থাকে যা সে অনায়াসেই বহন করতে পারে এবং যা তার জন্য সংকীর্ণতা তৈরি না করে।

আর মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে যা আছে—যা সম্পর্কে বলা হয়েছে যে "আল্লাহ কোনো আত্মাকে তার সামর্থ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেন না" [সূরা আল-বাকারাহ: ২৮৬]—এবং যা মানুষের জন্য প্রশস্ত বা সহজসাধ্য হয় যাতে তার ওপর কোনো সংকীর্ণতা না থাকে—যা মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় মুবাহ বা বৈধ বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত—এই দুইয়ের মধ্যবর্তী পার্থক্যটি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা উচিত। এটি নির্দেশিত কার্যের গুণাগুণের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যেমনটি অজু ও সালাতের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। সুতরাং তার জন্য যা যথেষ্ট হবে তা অবশ্যই এমন হতে হবে যা মানুষের জন্য সহজসাধ্য, আর তার ওপর যা ওয়াজিব বা আবশ্যক হবে তা অবশ্যই তার সামর্থ্যের অনুকূলে হতে হবে।
(খণ্ড: ١) আল-ইস্তিকামাহ (পৃষ্ঠা: ٢٨)
الْإِنْسَان وَيكون فِي بَاب الْحَلَال وَالْحرَام فَلَا يحرم عَلَيْهِ مَا لَا يسع هُوَ تَركه بِحَيْثُ يبْقى الْمُبَاح لَهُ ضيقا مِنْهُ لَا يَسعهُ

وَإِذا كَانَ كَذَلِك فَيَنْبَغِي أَن يعلم أَن للقلوب قدرَة فِي بَاب الْعلم والاعتقاد العلمى وَفِي بَاب الْإِرَادَة وَالْقَصْد وَفِي الْحَرَكَة الْبَدَنِيَّة أَيْضا

فالخطأ وَالنِّسْيَان هُوَ من بَاب الْعلم يكون إِمَّا مَعَ تعذر الْعلم عَلَيْهِ أَو تعسره عَلَيْهِ وَالله قد قَالَ مَا جعل عَلَيْكُم فِي الدّين من حرج [سُورَة الْحَج 78] وَقَالَ يُرِيد الله بكم الْيُسْر وَلَا يُرِيد بكم الْعسر [سُورَة الْبَقَرَة 185]

وَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي الحَدِيث الْمُتَّفق عَلَيْهِ لِمعَاذ وأبى مُوسَى لما أرسلها إِلَى الْيمن يسرا وَلَا تعسرا وبشرا وَلَا تنفرا وطاوعا وَلَا تختلفا

وَإِذا كَانَ كَذَلِك فَمَا عجز الْإِنْسَان عَن عمله واعتقاده حَتَّى يعْتَقد وَيَقُول ضِدّه خطأ أَو نِسْيَانا فَذَلِك مغْفُور لَهُ كَمَا قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم إِذا اجْتهد الْحَاكِم فَأصَاب فَلهُ أَجْرَانِ وَإِذا اجْتهد فَأَخْطَأَ
মানুষ এবং এটি হালাল ও হারামের অধ্যায়ে হয়ে থাকে। সুতরাং তার ওপর এমন কিছু হারাম করা হবে না যা ত্যাগ করা তার সামর্থ্যের বাইরে, যাতে করে তার জন্য মুবাহ (বৈধ) বিষয়টি সংকুচিত হয়ে না যায় যা সে সংকুলান করতে পারে না।

আর যখন বিষয়টি এমন, তখন জানা উচিত যে, ইলম (জ্ঞান) ও ইলমি আকিদার (বিশ্বাস) ক্ষেত্রে, এবং ইরাদাহ (ইচ্ছা) ও সংকল্পের ক্ষেত্রে, এমনকি শারীরিক নড়াচড়ার ক্ষেত্রেও অন্তরের সক্ষমতা রয়েছে।

ভুল এবং বিস্মৃতি হলো ইলমের অধ্যায়ভুক্ত; এটি হয় তার জন্য ইলম অর্জন করা অসম্ভব হওয়ার কারণে অথবা তা কষ্টসাধ্য হওয়ার কারণে। আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি” [সূরা আল-হজ্জ ৭৮] এবং তিনি বলেছেন, “আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজসাধ্যতা চান এবং তোমাদের জন্য কঠোরতা চান না” [সূরা আল-বাকারাহ ১৮৫]।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুআয ও আবু মূসা (রা.)-কে যখন ইয়ামেনে প্রেরণ করেন, তখন মুত্তাফাকুন আলাইহি (সর্বসম্মত) হাদিসে তাঁদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন: “তোমরা সহজ করো, কঠিন করো না; সুসংবাদ দাও, বিতৃষ্ণ করো না; এবং একে অপরের আনুগত্য করো, মতভেদ করো না।”

আর যখন বিষয়টি এমন, তখন মানুষ যা আমল করতে বা বিশ্বাস করতে অক্ষম হয়, এমনকি ভুলবশত বা বিস্মৃতিবশত তার বিপরীত বিশ্বাস করে বা বলে ফেলে, তবে তা তার জন্য ক্ষমাযোগ্য। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যখন কোনো বিচারক ইজতিহাদ (গবেষণা) করেন এবং সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছান, তবে তার জন্য রয়েছে দুটি প্রতিদান। আর যখন তিনি ইজতিহাদ করেন এবং ভুল করেন...”
(খণ্ড: ١) আল-ইস্তিকামাহ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
فَلهُ أجر وَهَذَا يكون فِيمَا هُوَ من بَاب الْقيَاس وَالنَّظَر بعقله ورأيه وَيكون فِيمَا هُوَ من بَاب النَّقْل وَالْخَبَر الَّذِي يَنَالهُ بسمعه وفهمه وعقله وَيكون فِيمَا هُوَ من بَاب الإحساس وَالْبَصَر الَّذِي يجده ويناله بِنَفسِهِ

فَهَذِهِ المدارك الثَّلَاثَة قد يحصل للشَّخْص بهَا علم يقطع بِهِ وَيكون ضَرُورِيًّا فِي حَقه مثل مَا يجده فِي نَفسه من الْعُلُوم الضرورية وَمثل مَا سَمعه من النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَو من المخبرين لَهُ الصَّادِقين خَبرا يفِيدهُ الْعلم كالخبر الْمُتَوَاتر الَّذِي يفِيدهُ الْعلم تَارَة بِكَثْرَة عدد المخبرين وَتارَة بصفاتهم وَتارَة بهما وَغير ذَلِك مِمَّا يُفِيد الْعلم

وَقد يكون مِمَّا علمه بآثاره الدَّالَّة عَلَيْهِ أَو بِحكم نظره المساوى لَهُ من كل وَجه اَوْ الَّذِي يدل على الآخر بطرِيق الأولى والتنبيه وَنَحْو ذَلِك وَمَعَ هَذَا فَتكون هَذِه الْعُلُوم عِنْد غَيره متيقنة مَعَ اجْتِهَاده لدقة الْعُلُوم أَو خفائها أَو لوُجُود مَا يعْتَقد المعتقد أَنه يُعَارض وَلَا يكون مُعَارضا فِي الْحَقِيقَة فيشتبه بالمعارض لاشتباه الْمعَارض لاشتباه الْمعَانِي اَوْ لاشتراك الْأَلْفَاظ

فَهَذَا من أعظم أَسبَاب اخْتِلَاف بني آدم من الْمُؤمنِينَ وَغَيرهم وَلِهَذَا نجد فِي الْمُخْتَلِفين كل طَائِفَة تدعى الْعلم الضَّرُورِيّ فَمَا يَقُوله إِمَّا من جِهَة الْقيَاس وَالنَّظَر وَإِمَّا من جِهَة السماع وَالْخَبَر وَإِمَّا من جِهَة الإحساس وَالْبَصَر وَلَا تكون وَاحِدَة من الطَّائِفَتَيْنِ كَاذِبَة بل صَادِقَة
অতএব তার জন্য রয়েছে প্রতিদান। আর এটি এমন ক্ষেত্রে হতে পারে যা যুক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিক পর্যালোচনার অন্তর্ভুক্ত যা সে তার বিবেক ও মতামতের মাধ্যমে করে থাকে; অথবা যা বর্ণনা ও সংবাদের অন্তর্ভুক্ত যা সে তার শ্রবণ, উপলব্ধি ও বিবেকের মাধ্যমে লাভ করে; অথবা যা অনুভূতি ও দর্শনের অন্তর্ভুক্ত যা সে স্বয়ং অনুভব করে এবং লাভ করে।

এই তিনটি জ্ঞানীয় উৎসের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির নিকট এমন জ্ঞান অর্জিত হতে পারে যার ব্যাপারে সে নিশ্চিত হয় এবং তা তার ক্ষেত্রে অকাট্য হিসেবে গণ্য হয়; যেমন সে নিজের মধ্যে যেসব আবশ্যকীয় জ্ঞান অনুভব করে, অথবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে যা শ্রবণ করেছে, কিংবা সত্যবাদী সংবাদদাতাদের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত এমন সংবাদ যা তাকে জ্ঞান দান করে। যেমন মুতাওয়াতির সংবাদ, যা কখনও সংবাদদাতার সংখ্যার আধিক্যের কারণে জ্ঞান দান করে, কখনও তাদের গুণের কারণে, আবার কখনও উভয় কারণে, এবং এ ব্যতীত অন্যান্য বিষয়ের মাধ্যমেও যা জ্ঞান প্রদান করে।

আবার কখনও এমন হতে পারে যা সে তার নিদর্শনাবলীর মাধ্যমে জেনেছে যা বিষয়ের ওপর প্রমাণ পেশ করে, অথবা তার পর্যালোচনার মাধ্যমে যা সব দিক থেকে সমতুল্য, কিংবা যা অধিকতর অগ্রাধিকারযোগ্য পদ্ধতি ও সতর্কীকরণের মাধ্যমে অন্য বিষয়ের ওপর প্রমাণ পেশ করে। তা সত্ত্বেও, অন্য ব্যক্তির নিকট এই জ্ঞানসমূহ গবেষণার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে পারে, যদিও বিষয়টির সূক্ষ্মতা বা অস্পষ্টতা থাকে, কিংবা এমন কিছুর উপস্থিতির কারণে যা বিশ্বাসী ব্যক্তি মনে করে যে এটি বিরোধপূর্ণ, অথচ প্রকৃতপক্ষে তা বিরোধী নয়। ফলে অর্থের অস্পষ্টতা বা শব্দের একাধিক অর্থের কারণে তা বিরোধী বিষয় হিসেবে ভ্রম সৃষ্টি করে।

এটি মুমিন ও অন্যদের মাঝে বনী আদমের মতপার্থক্যের অন্যতম প্রধান কারণ। এ কারণেই আমরা দেখতে পাই যে, মতপার্থক্যকারীদের প্রতিটি দলই অকাট্য জ্ঞানের দাবি করে। তারা যা কিছু বলে, তা হয় যুক্তি ও পর্যালোচনার দিক থেকে, অথবা শ্রবণ ও সংবাদের দিক থেকে, অথবা অনুভূতি ও দর্শনের দিক থেকে। আর উভয় দলের কোনোটিই মিথ্যাবাদী নয়, বরং সত্যবাদী।
(খণ্ড: ١) আল-ইস্তিকামাহ (পৃষ্ঠা: ٣٠)
لَكِن يكون قد أَدخل مَعَ الْحق مَا لَيْسَ مِنْهُ فِي النَّفْي وَالْإِثْبَات لاشتباه الْمعَانِي واشتراك الْأَلْفَاظ فَيكون حِينَئِذٍ مَا يَنْفِيه هَذَا يُثبتهُ الآخر وَلَو زَالَ الِاشْتِبَاه والاشتراك زَالَ الْخلاف التضادى وَكَانَ اخْتِلَاف النَّاس فِي مسَائِل الْجَبْر وَالْقدر ومسائل نفي الْجِسْم وإثباته وَنفى مُوجب الْأَخْبَار وَإِثْبَات ذَلِك هُوَ من هَذَا الْبَاب

وَهَذَا كُله مَوْجُود فِي كتب أهل الْكَلَام وَأهل الحَدِيث وَالْفِقْه وَغير ذَلِك

وَقَول الْقَائِل إِن الضروريات يجب اشْتِرَاك الْعُقَلَاء فِيهَا خطأ بل الضروريات كالنظريات تَارَة يشتركون فِيهَا وَتارَة يخْتَص بهَا من جعل لَهُ قُوَّة على إِدْرَاكهَا

وَكَذَلِكَ قَول الْقَائِلين إِن الطَّائِفَة الَّتِي تبلغ عدد التَّوَاتُر لَا يتفقون على جحد الضروريات لَيْسَ بصواب بل يتفقون على ذَلِك إِذا تواطأوا عَلَيْهَا وَخبر التَّوَاتُر مَتى كَانَ عَن تواطؤ لم يفد الْعلم وَإِنَّمَا يُفِيد الْعلم لانْتِفَاء التواطؤ فِيهِ وَإِذا كَانَ كَذَلِك فقد يكون المختلفون قد اجْتهد أحدهم فَأصَاب وَيكون الآخر اجْتهد فَأَخْطَأَ فَيكون للْأولِ أَجْرَانِ وَللثَّانِي أجر مَعَ أَن خطأه مغْفُور مغْفُور لَهُ وَقد يكون كِلَاهُمَا اجْتهد فَأَخْطَأَ فَيغْفر لَهما جَمِيعًا مَعَ وجود الْأجر

وَيكون الصَّوَاب فِي قَوْلنَا ثَالِثا أما تَفْصِيل مَا أَطْلقُوهُ
কিন্তু সত্যের সাথে এমন কিছু বিষয়ের অনুপ্রবেশ ঘটতে পারে যা নফি (অস্বীকৃতি) বা ইসবাত (স্বীকৃতি) এর ক্ষেত্রে সত্যের অন্তর্ভুক্ত নয়। এটি মূলত অর্থের অস্পষ্টতা এবং শব্দের দ্ব্যর্থবোধকতার কারণে ঘটে থাকে। এমতাবস্থায় দেখা যায় যে, একজন যা অস্বীকার করছেন, অন্যজন তা-ই সাব্যস্ত করছেন। যদি এই অস্পষ্টতা ও দ্ব্যর্থবোধকতা দূর হয়ে যেত, তবে এই পারস্পরিক বৈপরীত্যমূলক মতভেদও দূরীভূত হতো। জবর ও কদর (ভাগ্যের বাধ্যবাধকতা ও মানুষের ক্ষমতা) সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ, আল্লাহর দেহ (জিসম) হওয়াকে অস্বীকার বা সাব্যস্ত করা এবং বর্ণিত সংবাদের (খবর) দাবি অনুযায়ী কোনো বিষয় অস্বীকার বা সাব্যস্ত করার মতভেদগুলো এই পর্যায়েরই অন্তর্ভুক্ত।

আর এই সবকিছুই ইলমে কালাম, আহলে হাদীস, ফিকহ এবং অন্যান্য শাস্ত্রের কিতাবসমূহে বিদ্যমান রয়েছে।

আর এই কথা বলা যে— ‘স্বতঃসিদ্ধ বিষয়সমূহে (দরুরিয়াত) সকল বুদ্ধিমান ব্যক্তির ঐকমত্য থাকা আবশ্যক’—এটি একটি ভুল ধারণা। বরং স্বতঃসিদ্ধ বিষয়সমূহ তাত্ত্বিক বিষয়সমূহের (নজরিয়াত) মতোই; কখনো কখনো সকলে এতে অংশীদার হয়, আবার কখনো এটি কেবলমাত্র তাদের জন্য নির্দিষ্ট থাকে যাদের সেই বিষয় অনুধাবন করার বিশেষ শক্তি দান করা হয়েছে।

অনুরূপভাবে যারা বলে যে— ‘মুতাওয়াতির পর্যায়ের কোনো জনগোষ্ঠী স্বতঃসিদ্ধ বিষয়সমূহ অস্বীকার করার ওপর একমত হতে পারে না’—তাদের এই দাবিও সঠিক নয়। বরং তারা যদি পারস্পরিক যোগসাজশ করে, তবে তারা এর ওপর একমত হতে পারে। আর মুতাওয়াতির সংবাদ যখন পূর্বপরিকল্পিত যোগসাজশের মাধ্যমে প্রাপ্ত হয়, তখন তা নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে না। এটি কেবলমাত্র তখনই নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে যখন এতে যোগসাজশের সম্ভাবনা থাকে না। আর যখন বিষয়টি এমন, তখন হতে পারে যে বিরোধীদের মধ্যে একজন ইজতিহাদ করে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন, ফলে তার জন্য রয়েছে দুটি সওয়াব। আর অন্যজন ইজতিহাদ করে ভুল করেছেন, এমতাবস্থায় তার ভুলটি ক্ষমাযোগ্য হওয়ার পাশাপাশি তিনি একটি সওয়াব পাবেন। আবার এমনও হতে পারে যে, তারা উভয়েই ইজতিহাদ করে ভুল করেছেন, তখন সওয়াব পাওয়ার পাশাপাশি তাদের উভয়কেই ক্ষমা করে দেওয়া হবে।

আর আমাদের তৃতীয় বক্তব্যের ক্ষেত্রে সঠিক দিকটি হলো, তারা যে বিষয়গুলো অস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন সেগুলোর বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া।
(খণ্ড: ١) আল-ইস্তিকামাহ (পৃষ্ঠা: ٣١)
مثل أَن ينفى هَذَا نفيا عَاما وَيثبت الآخر مَا نَفَاهُ الأول فيفصل الْمفصل وَيثبت الْبَعْض دون الْبَعْض وَكَذَلِكَ فِي الْمَعْنى المشتبه وَاللَّفْظ الْمُشْتَرك يفصل بَين الْمَعْنى وَمَا يُشبههُ إِذا كَانَ مُخَالفا لَهُ وَبَين معنى لفظ وَمعنى لفظ

ثمَّ إِنَّه من مسَائِل الْخلاف مَا يتَضَمَّن أَن اعْتِقَاد أَحدهمَا يُوجب عَلَيْهِ بغض الآخر ولعنه أَو تفسيقه أَو تكفيره أَو قِتَاله فَإِذا فعل ذَلِك مُجْتَهدا مخطئا كَانَ خَطؤُهُ مغفورا لَهُ وَكَانَ ذَلِك فِي حق الآخر محنة فِي حَقه وفتنة وبلاء ابتلاه بِهِ

وَهَذِه حَال الْبُغَاة المتأولين مَعَ أهل الْعدْل سَوَاء كَانَ ذَلِك بَين أهل الْيَد والقتال من الْأُمَرَاء وَنَحْوهم أَو بَين أهل اللِّسَان وَالْعَمَل من الْعلمَاء والعباد وَنَحْوهم وَبَين من يجمع الْأَمريْنِ

وَلَكِن الِاجْتِهَاد السائغ لَا يبلغ مبلغ الْفِتْنَة والفرقة إِلَّا مَعَ البغى لَا لمُجَرّد الِاجْتِهَاد

كَمَا قَالَ تَعَالَى وَمَا اخْتلف الَّذين أُوتُوا الْكتاب إِلَّا من بعد مَا جَاءَهُم الْعلم بغيا بَينهم [سُورَة آل عمرَان 19] وَقَالَ إِن الذبن فرقوا دينهم وَكَانُوا شيعًا لست مِنْهُم فِي شئ [سُورَة الْأَنْعَام 159] وَقَالَ ولاتكونوا كَالَّذِين تفَرقُوا وَاخْتلفُوا من بعد مَا جَاءَهُم الْبَينَات [سُورَة آل عمرَان 105]

فَلَا يكون فتْنَة وَفرْقَة مَعَ وجود الِاجْتِهَاد السائغ بل مَعَ نوع بغى
যেমন, একজন ব্যক্তি কোনো বিষয়কে সাধারণভাবে অস্বীকার করল এবং অন্যজন প্রথম ব্যক্তি যা অস্বীকার করেছে তা সাব্যস্ত করল। তখন বিষয়টি বিশ্লেষণকারী ব্যক্তি তা পৃথক করে বিস্তারিত বর্ণনা করেন এবং কোনো কোনো অংশ সাব্যস্ত করেন আর অন্য অংশ বর্জন করেন। অনুরূপভাবে, অস্পষ্ট অর্থ এবং একাধিক অর্থবোধক শব্দের ক্ষেত্রে তিনি অর্থ এবং তার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করেন—যদি সেটি ভিন্নতর হয়—এবং এক শব্দের অর্থ ও অন্য শব্দের অর্থের মধ্যেও পার্থক্য নিরূপণ করেন।

অতঃপর মতভেদের এমন কিছু মাসআলা রয়েছে যেখানে একজনের বিশ্বাস বা দৃষ্টিভঙ্গি অন্যজনের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ, তাকে অভিশাপ দেওয়া, তাকে পাপাচারী (ফাসেক) সাব্যস্ত করা, কাফের বলা অথবা তার বিরুদ্ধে লড়াই করাকে আবশ্যক করে তোলে। এমতাবস্থায় যদি কোনো মুজতাহিদ ভুলবশত এমনটি করেন, তবে তার সেই ভুল ক্ষমাযোগ্য হবে। আর অপর ব্যক্তির ক্ষেত্রে তা হবে তার জন্য এক পরীক্ষা, ফিতনা ও বিপদ, যার মাধ্যমে তাকে পরীক্ষা করা হয়েছে।

আর এটিই হলো ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তিদের মোকাবিলায় অপব্যাখ্যাকারী বিদ্রোহীদের অবস্থা; চাই তা ক্ষমতা ও যুদ্ধ-বিগ্রহের সাথে সংশ্লিষ্ট আমির ও তাদের সমপর্যায়ের লোকদের মধ্যে হোক, কিংবা তা কথা ও কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট আলেম, ইবাদতকারী ও তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের মধ্যে হোক অথবা এমন ব্যক্তিদের মধ্যে হোক যারা উভয় বিষয়ের সমন্বয়কারী।

কিন্তু বৈধ ইজতিহাদ কেবল নিছক ইজতিহাদের কারণে ফিতনা ও বিভক্তির পর্যায়ে পৌঁছায় না, যতক্ষণ না তার সাথে সীমালঙ্ঘন বা অন্যায় বিদ্রোহ যুক্ত হয়।

যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে, তাদের কাছে জ্ঞান আসার পরেই কেবল তারা পারস্পরিক বিদ্বেষবশত মতভেদে লিপ্ত হয়েছে" [সূরা আল-ইমরান: ১৯]। তিনি আরও বলেছেন: "নিশ্চয় যারা নিজেদের দ্বীনকে খণ্ড-বিখণ্ড করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে, তাদের সাথে আপনার কোনো সম্পর্ক নেই" [সূরা আল-আন’আম: ১৫৯]। তিনি আরও বলেছেন: "তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা বিভক্ত হয়েছে এবং তাদের নিকট স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ আসার পর মতভেদে লিপ্ত হয়েছে" [সূরা আল-ইমরান: ১০৫]।

সুতরাং বৈধ ইজতিহাদ বিদ্যমান থাকলেই ফিতনা ও বিভক্তি সৃষ্টি হয় না, বরং এক প্রকার সীমালঙ্ঘন বা বিদ্রোহ যুক্ত হলেই তা ঘটে থাকে।