(খণ্ড: ১) আল-গুরার ওয়াদ দুরার ফী সীরাতি খাইরিল বাশার (পৃষ্ঠা: -)
الغرر والدرر في سيرة خير البشر   (العز ابن جماعة الحفيد)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: الغرر والدرر في سيرة خير البشر صلي الله عليه وسلم

المؤلف: عز الدين محمد بن جماعة (ت 819 هـ)

تحقيق وتعليق: عدنان أبو زيد

الناشر: دار النوادر، دمشق - سوريا

الطبعة: الأولى، 1428 هـ - 2007 م

عدد الصفحات: 99

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 24 جُمادَى الآخرة 1443

শ্রেষ্ঠ মানবের জীবনীতে উজ্জ্বলতা ও মুক্তামালা   (আল-ইযয ইবনে জামাআহ পৌত্র)

বিভাগ: সীরাতুন নবী


বই: শ্রেষ্ঠ মানবের জীবনীতে উজ্জ্বলতা ও মুক্তামালা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

লেখক: ইযযুদ্দীন মুহাম্মদ বিন জামাআহ (মৃত্যু ৮১৯ হিজরি)

সম্পাদনা ও টীকা: আদনান আবু যায়েদ

প্রকাশক: দারুন নাওয়াদির, দামেস্ক - সিরিয়া

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৮ হিজরি - ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৯

[বইয়ের পৃষ্ঠা বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৪ জুমাদাল আখিরা ১৪৪৩

(খণ্ড: ১) আল-গুরার ওয়াদ দুরার ফী সীরাতি খাইরিল বাশার (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرّحيم

المقدمة

إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهد الله فلا مضلّ له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.

{يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اِتَّقُوا اللهَ حَقَّ تُقاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلاّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ}

[آل عمران:102]

{يا أَيُّهَا النّاسُ اِتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ واحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْها زَوْجَها وَبَثَّ مِنْهُما رِجالاً كَثِيراً وَنِساءً وَاِتَّقُوا اللهَ الَّذِي تَسائَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحامَ إِنَّ اللهَ كانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً}

[النساء:1]

{يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اِتَّقُوا اللهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فازَ فَوْزاً عَظِيماً}

[الأحزاب:70 - 71]

أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله، وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشرّ الأمور محدثاتها، وكلّ محدثة بدعة، وكلّ بدعة ضلالة، وكلّ ضلالة في النار.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন তার কোনো পথভ্রষ্টকারী নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}

[আলে ইমরান: ১০২]

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর থেকে তাঁর স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন, আর তাঁদের দু’জন থেকে বহু নর ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে চাও এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।}

[আন-নিসা: ১]

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো এবং সঠিক ও সত্য কথা বলো। (৭০) তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সফলতা অর্জন করল।}

[আল-আহযাব: ৭০ - ৭১]

অতঃপর: নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য বাণী আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম আদর্শ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, এবং প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা, আর প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।
(খণ্ড: ১) আল-গুরার ওয়াদ দুরার ফী সীরাতি খাইরিল বাশার (পৃষ্ঠা: ৬)
هذا أحد كتب الشيخ الإمام عزّ الدين محمد بن أبي بكر بن عبد العزيز بن محمد بن جماعة علاّمة الديار المصرية في العلوم العقلية في وقته، تناول فيه السيرة النبوية بأسلوب لطيف مختصر، حيث قال في مقدمته: هذا مصنّف صغير الحجم، عزيز العلم، مشتمل على مهمات من سيرة سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم، وسميته: «الغرر والدّرر في سيرة خير البشر»(1).

أقدمه للمكتبة الإسلامية خدمة للدين الحنيف، وقد قمت بتحقيقه، وعملت للمؤلّف ترجمة حافلة تعرّف به، وبذلت جهدي، وطاقتي، ومكنتي في إخراج الكتاب بأحسن صورة، فما كان فيه من صواب، فهو من توفيق الرحمن، وما كان من خطأ، فمنّي، وجلّ من كان له الكمال.

وأرجو من الله-سبحانه وتعالى-أن أكون قد وفّقت لذلك، فإنه خير من يسأل، وخير من يجيب.

عدنان ابو زيد

***

--------------------------------------------

(1) انظر: الصفحة رقم (29).

এটি শায়খ ইমাম ইজ্জুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর ইবনে আব্দুল আযীয ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জামাআহ-এর অন্যতম গ্রন্থ, যিনি তাঁর সময়ে বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞানসমূহে (উলূমুল আকলিয়্যাহ) মিসরীয় ভূখণ্ডের শ্রেষ্ঠ আলেম ছিলেন। তিনি এতে নববী সীরাতকে সাবলীল ও সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে আলোচনা করেছেন, যেখানে তিনি তাঁর ভূমিকায় বলেছেন: এটি ক্ষুদ্র আয়তনের একটি রচনা হলেও জ্ঞানে অত্যন্ত সমৃদ্ধ, যা আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সীরাতের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলিকে ধারণ করেছে এবং আমি এর নামকরণ করেছি: «আল-গুরার ওয়াদ-দুরার ফী সীরাতি খাইরিল বাশার»(১)।

আমি এটি হানিফ দ্বীনের সেবা হিসেবে ইসলামি গ্রন্থাগারের জন্য পেশ করছি। আমি এটি সম্পাদনা (তাহকীক) করেছি এবং লেখকের একটি বিস্তারিত জীবনী প্রস্তুত করেছি। গ্রন্থটিকে সর্বোত্তম অবয়বে প্রকাশের জন্য আমি আমার শ্রম, শক্তি ও সামর্থ্যের সবটুকু ব্যয় করেছি। সুতরাং এতে যা কিছু সঠিক রয়েছে তা পরম করুণাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যা কিছু ভুল হয়েছে তা আমার পক্ষ থেকে; এবং কেবল আল্লাহই পরিপূর্ণতার অধিকারী।

আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট আশা রাখি যে আমি এতে তাওফীক প্রাপ্ত হয়েছি, নিশ্চয়ই তিনি যাঁর নিকট সাহায্য চাওয়া হয় তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং সর্বোত্তম উত্তরদাতা।

আদনান আবু যায়েদ

***

--------------------------------------------

(১) দেখুন: পৃষ্ঠা নম্বর (২৯)।

(খণ্ড: ১) আল-গুরার ওয়াদ দুরার ফী সীরাতি খাইরিল বাশার (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌ترجمة المؤلف

‌‌1 - اسمه ونسبه:

محمد بن أبي بكر بن عبد العزيز بن محمد بن إبراهيم بن سعد الله بن جماعة بن محمد بن عليّ بن حازم بن صخر بن عبد الله، عزّ الدين، أبو عبد الله بن الشيخ شمس الدين بن قاضي القضاة عزّ الدين بن قاضي القضاة بدر الدين الكنانيّ الحمويّ الأصل، المصريّ الشافعيّ.

 

‌‌2 - مولده وعائلته:

ولد مترجمنا العزّ في سنة تسع وأربعين وسبع مئة بمدينة ينبع، وهي مدينة بساحل البحر الأحمر من جهة الجزيرة العربية(1).

اعتنت كتب التراجم بعائلة آل جماعة عناية كبيرة، وذلك لكونها من العائلات العلمية الكبيرة التي أنجبت العديد من العلماء الأفذاذ، الذين خدموا الدين الحنيف، ولم يختصّ وجودهم ببلد معين دون غيره، بل نجدهم في الشّام، والقدس، ومكّة، والقاهرة، فمنهم:

--------------------------------------------

(1) انظر: «معجم البلدان» (449/ 5).

‌লেখকের পরিচিতি

‌১ - তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

মুহাম্মদ বিন আবু বকর বিন আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন সাদুল্লাহ বিন জামা’আ বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন হাজিম বিন সাখর বিন আব্দুল্লাহ, ইজ্জুদ্দীন, আবু আব্দুল্লাহ বিন আশ-শাইখ শামসুদ্দীন বিন কাযীউল কুযাত ইজ্জুদ্দীন বিন কাযীউল কুযাত বদরুদ্দীন আল-কিনানি আল-হামাউয়ী আল-আসল, আল-মিসরী আশ-শাফি’ঈ।

 

‌২ - তাঁর জন্ম ও পরিবার:

আমাদের আলোচিত ব্যক্তিত্ব আল-ইজ্জ সাতশত ঊনপঞ্চাশ হিজরি সনে ইয়ানবু শহরে জন্মগ্রহণ করেন, যা আরব উপদ্বীপের পাশে লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী একটি শহর(১)।

জীবনীগ্রন্থসমূহ আল-জামা’আ পরিবারের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছে। কারণ এটি এমন এক মহান ইলমি পরিবার যা অনেক অসামান্য আলেম তৈরি করেছে, যারা এই হানীফ দ্বীনের সেবা করেছেন। তাঁদের উপস্থিতি কেবল নির্দিষ্ট কোনো ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তাঁদের শাম, কুদ্স, মক্কা এবং কায়রোতে পাওয়া যায়। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:

--------------------------------------------

(১) দেখুন: «মু’জামুল বুলদান» (৫/৪৪৯)।

(খণ্ড: ১) আল-গুরার ওয়াদ দুরার ফী সীরাতি খাইরিল বাশার (পৃষ্ঠা: ৮)
المحدّثون، والفقهاء، والقضاة، والخطباء، ومنهم: من حاز مرتبة شيخ الشيوخ، ومنهم: من جمعت له كل المراتب المذكورة.

 

‌‌وإليك بعض أعلام هذه العائلة:

1 - قاضي القضاة بدر الدين محمد بن إبراهيم بن سعد الله بن جماعة الكنانيّ، الحمويّ المولد، الشافعيّ، سمع الكثير، ودرّس، وأفتى، وصنّف، جمع بين القضاء، والخطابة بالقدس، والجامع الأموي، ومشيخة شيخ الشيوخ، وانتهت إليه الرئاسة في عصره، مع ما هو فيه من الديانة والورع والصيانة، توفي سنة (733 هـ)(1).

2 - قاضي القضاة عزّ الدين عبد العزيز بن محمد بن إبراهيم بن سعد الله بن جماعة، الكنانيّ، الدمشقيّ المولد، المصريّ، الشافعيّ، نشأ في بيت علم وحشمة.

سمع، وقرأ الكثير، وشيوخه بالسماع والإجازة يزيدون على ألف وثلاث مئة، جلس للتدريس وعمره أربع عشرة سنة، حدّث، وأفتى، وصنف، وكان كثير الحج والمجاورة، وكان يتمنى أن يموت بأحد الحرمين معزولا عن القضاء، فنال ذلك، فتوفي حاجّا سنة (767 هـ)(2).

3 - الشيخ الإمام بدر الدين إبراهيم بن محمد بن إبراهيم بن سعد الله بن جماعة، الكنانيّ، الشافعيّ، قاضي مصر والشّام، جمع

--------------------------------------------

(1) انظر: «البداية والنهاية» (163/ 14)، «الدرر الكامنة» (280/ 3 - 283)، «شذرات الذهب» (105/ 6).

(2) انظر: «طبقات الشافعية» لابن قاضي شهبة (253/ 2)، و «الدرر الكامنة» (378/ 2 - 382)، و «البدر الطالع» (359/ 2).

মুহাদ্দিসগণ, ফকিহগণ, বিচারকগণ এবং খতিবগণ; তাদের মধ্যে কেউ কেউ ‘শায়খুশ শুয়ুখ’ (প্রধান শায়খ) পদমর্যাদা লাভ করেছিলেন, আর কারো কারো ক্ষেত্রে উল্লিখিত সকল পদের সমাবেশ ঘটেছিল।

 

‌‌এই পরিবারের কতিপয় বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের পরিচয় নিম্নে প্রদত্ত হলো:

১ - কাযিউল কুজাত বদরুদ্দীন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম বিন সাদুল্লাহ বিন জামাআ আল-কিনানি, জন্মসূত্রে হামাউই, শাফেয়ি মাজহাবের অনুসারী। তিনি বিপুল পরিমাণ হাদিস শ্রবণ করেছেন, পাঠদান করেছেন, ফতোয়া দিয়েছেন এবং গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি কুদস ও উমাইয়া জামে মসজিদে বিচারকার্য ও খুতবার দায়িত্ব এবং শায়খুশ শুয়ুখের পদমর্যাদা লাভ করেছিলেন। স্বীয় দ্বীনদারিতা, পরহেজগারি ও পবিত্রতার পাশাপাশি তৎকালীন শ্রেষ্ঠত্ব ও নেতৃত্ব তার মাধ্যমেই পূর্ণতা লাভ করেছিল। তিনি ৭৩৩ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।(১)।

২ - কাযিউল কুজাত ইযযুদ্দীন আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম বিন সাদুল্লাহ বিন জামাআ আল-কিনানি, জন্মসূত্রে দামেশকি, মিশরীয়, শাফেয়ি মাজহাবের অনুসারী। তিনি একটি ইলমি ও মর্যাদাশীল পরিবারে বেড়ে ওঠেন।

তিনি বিপুল পরিমাণ হাদিস শ্রবণ ও পাঠ করেছেন। শ্রবণ ও ইজাজতসূত্রে তার শায়খদের সংখ্যা এক হাজার তিনশতেরও অধিক। চৌদ্দ বছর বয়সেই তিনি পাঠদানের জন্য উপবিষ্ট হন। তিনি হাদিস বর্ণনা করেছেন, ফতোয়া দিয়েছেন এবং গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি প্রচুর হজ করতেন এবং হারমাইন শরিফাইনে অবস্থান করতেন। তিনি কামনা করতেন যেন বিচারকের পদ থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত অবস্থায় দুই হারামের যেকোনো একটিতে তার মৃত্যু হয়। তিনি তা লাভ করেছিলেন এবং ৭৬৭ হিজরি সনে হজ পালনরত অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।(২)।

৩ - শায়খুল ইমাম বদরুদ্দীন ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম বিন সাদুল্লাহ বিন জামাআ আল-কিনানি, শাফেয়ি মাজহাবের অনুসারী, মিশর ও শামের বিচারক। তিনি একত্র করেছিলেন...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ (১৪/ ১৬৩), ‘আদ-দুরারুল কামিনাহ’ (৩/ ২৮০-২৮৩), ‘শাযারাতুয যাহাব’ (৬/ ১০৫)।

(২) দেখুন: ইবনু কাযি শুহবার ‘তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ’ (২/ ২৫৩), ‘আদ-দুরারুল কামিনাহ’ (২/ ৩৭৮-৩৮২) এবং ‘আল-বাদরুত তালি’ (২/ ৩৫৯)।

(খণ্ড: ১) আল-গুরার ওয়াদ দুরার ফী সীরাতি খাইরিল বাশার (পৃষ্ঠা: ৯)
بين الرئاسة، والخطابة، ومشيخة الشيوخ، ولي خطابة القدس بعد أبيه، كبير طائفة الفقهاء، وكان محببا للناس، وإليه انتهت رئاسة العلماء في زمانه، درّس، وأفتى، وصنف، توفي سنة (790 هـ)(1).

 

‌‌3 - بعض شيوخه:

1 - أحمد بن عليّ بن عبد الكافي بهاء الدين السّبكيّ(2).

2 - أحمد بن محمد علاء الدين السّيراميّ الحنفيّ(3).

3 - عبد الرحمن بن محمد بن محمد، الحضرميّ، المالكيّ، صاحب «المقدّمة»، الشهير بابن خلدون(4).

4 - عبد العزيز بن محمّد بن إبراهيم بن سعد الله بن جماعة، عزّ الدّين، قاضي القضاة، جدّه(5).

5 - عبد الوهاب بن عليّ بن عبد الكافي، تاج الدين السّبكيّ(6).

6 - عمر بن رسلان بن نصير بن صالح بن شهاب بن عبد الخالق بن عبد الحقّ، شيخ الإسلام، سراج الدين البلقينيّ(7).

--------------------------------------------

(1) انظر: «الدرر الكامنة» (38/ 1)، «طبقات الشافعية» لابن قاضي شهبة (290/ 2)، و «شذرات الذهب» (105/ 3).

(2) «الدرر الكامنة» (210/ 1).

(3) «الدرر الكامنة» (307/ 1).

(4) «البدر الطالع» (337/ 1).

(5) «إنباء الغمر» (115/ 3).

(6) «الدرر الكامنة» (425/ 2).

(7) «البدر الطالع» (506/ 1).

নেতৃত্ব, খুতবা প্রদান এবং শাইখদের শাইখ হওয়ার মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। তাঁর পিতার পর তিনি কুদসের খতিব নিযুক্ত হন। তিনি ফকিহদের প্রধান ব্যক্তিত্ব ছিলেন। মানুষের কাছে তিনি অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন এবং তাঁর সময়ে আলেমদের নেতৃত্ব তাঁর কাছেই সমাপ্ত হয়েছিল। তিনি পাঠদান করেছেন, ফতোয়া দিয়েছেন এবং গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি ৭৯০ হিজরি সালে ইন্তেকাল করেন(১).

 

‌‌৩ - তাঁর কতিপয় শাইখ (শিক্ষক):

১ - আহমদ বিন আলী বিন আব্দুল কাফি বাহাউদ্দীন আস-সুবকি(২).

২ - আহমদ বিন মুহাম্মদ আলাউদ্দীন আস-সাইরামি আল-হানাফি(৩).

৩ - আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ, আল-হাদরামি, আল-মালিকি, ‘আল-মুকাদ্দিমা’ গ্রন্থের রচয়িতা, ইবনে খালদুন নামে প্রসিদ্ধ(৪).

৪ - আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন সাদুল্লাহ বিন জামাআহ, ইযযুদ্দীন, প্রধান বিচারপতি, তাঁর দাদা(৫).

৫ - আব্দুল ওয়াহাব বিন আলী বিন আব্দুল কাফি, তাজউদ্দীন আস-সুবকি(৬).

৬ - উমর বিন রাসলান বিন নাসির বিন সালিহ বিন শিহাব বিন আব্দুল খালিক বিন আব্দুল হক, শাইখুল ইসলাম, সিরাজুদ্দীন আল-বুলকিনি(৭).

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ‘আদ-দুরারুল কামিনাহ’ (১/৩৮), ইবনে কাজি শুহবার ‘তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ’ (২/২৯০) এবং ‘শাযারাতুয যাহাব’ (৩/১০৫)।

(২) ‘আদ-দুরারুল কামিনাহ’ (১/২১০)।

(৩) ‘আদ-দুরারুল কামিনাহ’ (১/৩০৭)।

(৪) ‘আল-বাদরুত্তালি’ (১/৩৩৭)।

(৫) ‘ইনবাউল গুমর’ (৩/১১৫)।

(৬) ‘আদ-দুরারুল কামিনাহ’ (২/৪২৫)।

(৭) ‘আল-বাদরুত্তালি’ (১/৫০৬)।

(খণ্ড: ১) আল-গুরার ওয়াদ দুরার ফী সীরাতি খাইরিল বাশার (পৃষ্ঠা: ১০)
7 - محمّد بن إسحق بن أحمد الغزنويّ، سراج الدين الهنديّ، قاضي الحنفية(1).

8 - محمّد بن خليل بن محمد، شمس الدين، العرضيّ، الشّافعيّ(2).

9 - محمّد بن محمّد بن عبد الله بن محمود، المعروف بجار الله، قاضي الحنفية(3).

 

‌‌4 - بعض تلاميذه:

1 - أحمد بن عليّ بن محمد بن حجر العسقلانيّ، الحافظ، المصريّ(4).

2 - صالح بن عمر بن رسلاّن، علم الدين، البلقينيّ(5).

3 - عبد الله بن محمد بن طيمان، جمال الدين، الطيمانيّ، المصريّ(6).

4 - عليّ بن أحمد، علاء الدين القلقشنديّ(7).

--------------------------------------------

(1) «إنباء الغمر» (27/ 1).

(2) «إنباء الغمر» (205/ 2).

(3) «إنباء الغمر» (229/ 1).

(4) «إنباء الغمر» (115/ 3).

(5) «البدر الطالع» (286/ 1).

(6) «طبقات الشافعية» لابن قاضي شهبة (355/ 2).

(7) «النجوم الزاهرة» (12/ 16).

৭ - মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন আহমদ আল-গজনভি, সিরাজুদ্দিন আল-হিন্দি, হানাফিদের প্রধান বিচারপতি(১).

৮ - মুহাম্মদ বিন খলিল বিন মুহাম্মদ, শামসুদ্দিন, আল-আরজি, আশ-শাফিয়ি(২).

৯ - মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মাহমুদ, জারুল্লাহ নামে পরিচিত, হানাফিদের প্রধান বিচারপতি(৩).

 

‌‌৪ - তাঁর কিছু ছাত্র:

১ - আহমদ বিন আলি বিন মুহাম্মদ বিন হাজার আল-আসকালানি, আল-হাফিজ, আল-মিসরি(৪).

২ - সালিহ বিন উমর বিন রুসলান, আলমউদ্দিন, আল-বুলকিনি(৫).

৩ - আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন তৈমান, জামালউদ্দিন, আত-তৈমানি, আল-মিসরি(৬).

৪ - আলি বিন আহমদ, আলাউদ্দিন আল-কালকাশান্দি(৭).

--------------------------------------------

(১) «ইম্বাউল গুমুর» (১/২৭)।

(২) «ইম্বাউল গুমুর» (২/২০৫)।

(৩) «ইম্বাউল গুমুর» (১/২২৯)।

(৪) «ইম্বাউল গুমুর» (৩/১১৫)।

(৫) «আল-বাদরুত তালি» (১/২৮৬)।

(৬) ইবনে কাজি শুহবাহ-র «তবকাতে শাফিয়িয়াহ» (২/৩৫৫)।

(৭) «আন-নুজুমুজ জাহিরা» (১৬/১২)।

(খণ্ড: ১) আল-গুরার ওয়াদ দুরার ফী সীরাতি খাইরিল বাশার (পৃষ্ঠা: ১১)
5 - محمد بن العلامة زاده أحمد بن محمد، الحنفيّ، الشهير بابن مولانا زاده(1).

6 - محمد بن أحمد بن عثمان بن نعيم شمس الدين البسطي المالكي(2).

7 - محمد بن أبي بكر بن عليّ بن يوسف، نجم الدين، المرجانيّ(3).

8 - محمد بن حسن بن عليّ بن عثمان، النواجيّ، الشاعر(4).

 

‌‌5 - نشأته:

من أهمّ العوامل التي ساعدت على بناء شخصيته العلمية بعد العناية الإلهية هي البيئة الداخلية، والخارجية التي عاش فيها المؤلف، فالبيئة الداخلية المتمثلة بالعائلة، والتي لها الدور الكبير، والفعال في بناء شخصية أي فرد، فنشأته-رحمه الله-في كنف عائلة علمية كبيرة كان لها الدور الكبير في دعمه وتشجيعه، خاصّة جدّه قاضي القضاة العزّ عبد العزيز بن جماعة.

ومن ثمّ البيئة الخارجية التي عاش المؤلف فيها، المتمثلة بعصره الذي كان يزخر بالعديد من العلماء في شتى فنون العلم، فكان لذلك

--------------------------------------------

(1) «النجوم الزاهرة» (179/ 16).

(2) «البدر الطالع» (112/ 2).

(3) «طبقات الشافعية» لابن قاضي شهبة (425/ 2).

(4) «البدر الطالع» (156/ 2).

৫ - মুহাম্মদ বিন আল্লামা জাদাহ আহমদ বিন মুহাম্মদ, হানাফি, ইবনে মাওলানা জাদাহ নামে পরিচিত(১).

৬ - মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন উসমান বিন নুয়াইম শামসুদ্দিন আল-বিস্তি আল-মালিকি(২).

৭ - মুহাম্মদ বিন আবি বকর বিন আলি বিন ইউসুফ, নাজমুদ্দিন, আল-মারজানি(৩).

৮ - মুহাম্মদ বিন হাসান বিন আলি বিন উসমান, আন-নাওয়াজি, কবি(৪).

 

‌‌৫ - তাঁর বেড়ে ওঠা:

ঐশী যত্নের পর লেখকের ইলমি ব্যক্তিত্ব গঠনে যে সব অনুষঙ্গ সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছিল তা হলো অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক পরিবেশ, যার মধ্যে লেখক বসবাস করেছেন। পরিবারের সমন্বয়ে গঠিত অভ্যন্তরীণ পরিবেশ যে কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করে। তাঁর বেড়ে ওঠা—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—একটি বড় ইলমি পরিবারে হয়েছিল যা তাঁকে সমর্থন ও উৎসাহ প্রদানে বিশাল ভূমিকা রেখেছিল, বিশেষ করে তাঁর দাদা কাযিউল কুযাত আল-ইযয আব্দুল আজিজ বিন জামাআহ।

অতঃপর লেখকের বেড়ে ওঠার বাহ্যিক পরিবেশ যা তাঁর সমকালীন যুগকে প্রতিনিধিত্ব করে, যা ইলমের বিভিন্ন শাখায় বহু আলেমের উপস্থিতিতে সমৃদ্ধ ছিল, আর এর প্রভাব ছিল

--------------------------------------------

(১) «আন-নুজুম আয-যাহিরাহ» (১৬/১৭৯)।

(২) «আল-বাদরুত তালি’» (২/১১২)।

(৩) ইবনে কাযি শুহবাহ-র «তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ» (২/৪২৫)।

(৪) «আল-বাদরুত তালি’» (২/১৫৬)।

(খণ্ড: ১) আল-গুরার ওয়াদ দুরার ফী সীরাতি খাইরিল বাশার (পৃষ্ঠা: ১২)
الأثر الكبير في بناء شخصيته، وملكته، فخلق ذلك عاملا فاعلا في نبوغه، وتقدّمه على أقرانه.

أضف إلى ذلك الاستعداد الفطريّ الذي كان يتمتع به، مع ما حباه الله تعالى به من العناية والتوفيق، التي لا يتمّ بغيرها التسديد، فرغب إلى العلم وتحصيله، ومحبة أهله، بعد أن ذاق حلاوته، حتى بلغ من علوّ همّته ما بلغ، فكان لا ينظر إلى شيء إلا وأحبّ أن يقف على أصله، ويشارك فيه، ورحم الله تعالى الشيخ الزاهد محمد بن الفضل البلخي حينما قال: «من ذاق حلاوة العلم، لا يصبر عنه»(1).

فنشأ مشتغلا بالعلم، وسمع الكثير على جماعة من أكابر العلماء، فسمع من القلانسيّ، والعرضيّ، والتبانيّ، وجدّه عبد العزيز، وغيرهم، وأحضر على الميدوميّ، وأجاز له جماعة من الشّاميين، والمصريين بعناية الشيخ زين الدين العراقيّ، وتفقّه بالشيخ سراج الدين البلقيني.

ثم مال إلى العلوم العقلية، فقرأ على علماء المعقول في عصره، كالسيراميّ، والعزّ الرازيّ، وابن خلدون، حتى أتقن هذا العلم، وصار يشار إليه بالبنان، وتقصده الطلبة من كل حدب وصوب، وصار أمة وحده فيه. وقد أقبل في أواخر حياته على النظر في كتب الحديث، فاستعار من ابن العديم «تخريج أحاديث الرافعي الكبير» للشيخ ابن الملقّن، وهو في سبع مجلدات، فمرّ عليه كلّه، واختصره، وفرغ منه

--------------------------------------------

(1) «طبقات الصوفية» للسّلمي (215).

তাঁর ব্যক্তিত্ব ও সহজাত প্রতিভা গঠনে তা ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল, যা তাঁর মেধা ও সমসাময়িকদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে এক কার্যকর ভূমিকা পালন করেছিল।

এর সাথে যুক্ত হয়েছিল তাঁর সহজাত প্রবণতা, সেই সাথে মহান আল্লাহ তাঁকে যে বিশেষ যত্ন ও তৌফিক দান করেছিলেন, যা ছাড়া সঠিক পথে চলা সম্ভব নয়। জ্ঞানের স্বাদ পাওয়ার পর তাঁর মধ্যে জ্ঞানার্জন ও জ্ঞানীদের প্রতি ভালোবাসা জন্মেছিল। তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, তিনি কোনো কিছুর দিকে তাকালে সেটির উৎস জানতে এবং তাতে অংশ নিতে পছন্দ করতেন। মহান আল্লাহ জাহিদ শায়খ মুহাম্মদ ইবনুল ফজল আল-বলখির ওপর রহম করুন, যখন তিনি বলেছিলেন: «যে ব্যক্তি জ্ঞানের স্বাদ পেয়েছে, সে তা ছাড়া ধৈর্য ধরতে পারে না»(১)।

তিনি জ্ঞানচর্চায় রত হয়ে বেড়ে ওঠেন এবং একদল শীর্ষস্থানীয় আলেমের নিকট থেকে প্রচুর জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি আল-কালানিসি, আল-আরজি, আত-তাবানি এবং তাঁর দাদা আব্দুল আজিজ ও অন্যদের নিকট থেকে শ্রবণ করেন। তিনি আল-মাইদুমির পাঠে উপস্থিত হতেন এবং শায়খ জয়নুদ্দীন আল-ইরাকির বিশেষ তত্ত্বাবধানে সিরীয় ও মিশরীয় একদল আলেম তাঁকে ইজাজত প্রদান করেন। তিনি শায়খ সিরাজুদ্দীন আল-বুলকিনির নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন।

এরপর তিনি আকলি বা যুক্তিবিদ্যার প্রতি মনোযোগী হন এবং তাঁর সমসাময়িক যুক্তিবিদ্যার পণ্ডিতদের কাছে অধ্যয়ন করেন, যেমন আস-সিরামি, আল-ইযযুর রাজি এবং ইবনে খালদুন; এমনকি তিনি এই বিদ্যায় পারদর্শী হয়ে ওঠেন এবং সর্বজনবিদিত ব্যক্তিতে পরিণত হন। দূর-দূরান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা তাঁর উদ্দেশ্যে আসত এবং তিনি এই বিদ্যায় এক অনন্য ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। তাঁর জীবনের শেষভাগে তিনি হাদিস শাস্ত্রের কিতাবসমূহ পর্যালোচনার দিকে মনোনিবেশ করেন। তিনি ইবনে আদিমের নিকট থেকে শায়খ ইবনুল মুলাক্কিনের সাত খণ্ডের «তাখরিজু আহাদিসির রাফিঈ আল-কাবির» কিতাবটি ধার নেন, এরপর তিনি তা পুরোটি পাঠ করেন, সংক্ষেপ করেন এবং তা সমাপ্ত করেন।

--------------------------------------------

(১) আস-সুলামির «তাবাকাতুস সুফিয়া» (২১৫)।

(খণ্ড: ১) আল-গুরার ওয়াদ দুরার ফী সীরাতি খাইরিল বাশার (পৃষ্ঠা: ১৩)
عند موت ابن العديم، ثم لم يلبث هو بعد ذلك بيسير، فكان آخر عهده من العلم علم الحديث.

قال تلميذه الحافظ ابن حجر(1): ولم يتزوج فيما علمت، بل كانت عنده زوجة أبيه، فكانت تقوم بأمر بيته، ويبرّها، ويحسن إليها، ولم يتفق له أن حجّ، مع حرص أصحابه له على ذلك، وكان يعاب بالتزيّي بزيّ العجم من طول الشارب، وعدم السّواك، حتى سقطت أسنانه.

 

‌‌6 - ثناء العلماء عليه:

بلغ من علوّ همته ما ينقله لنا الحافظ ابن حجر(2) بقوله: مال إلى المعقول؛ فأتقنه، حتى صار أمّة وحده، وبقيت طلبة البلد كلّها عيالا عليه في ذلك، وصنّف التصانيف الكثيرة المنتشرة، وله على كل كتاب أقرأه-مع أنه كاد يقرئ جميع هذه المختصرات-التصنيف، والتصنيفان، والثلاثة، ما بين حاشية، ونكت، وشرح، وكان أعجوبة دهره في حسن التقرير.

وذكر ابن قاضي شهبة(3): كان آية من الآيات في معرفة العلوم الأدبية، والعقلية، والأصلين، وأخذ عنه غالب أهل مصر.

وقال الحافظ ابن حجر(4) أيضا: وكان من العلوم بحيث يقضى له

--------------------------------------------

(1) «إنباء الغمر» (116/ 3).

(2) «إنباء الغمر» (115/ 3).

(3) «طبقات الشافعية» (379/ 2).

(4) «إنباء الغمر» (116/ 3).

ইবনুল আদিমের মৃত্যুর সময়, এরপর তিনি নিজেও তার অল্পকাল পরেই আর বিলম্ব করেননি, আর তাঁর ইলমের শেষ চর্চা ছিল হাদিস শাস্ত্র।

তাঁর ছাত্র হাফেজ ইবনে হাজার(১) বলেন: আমি যতটুকু জানি তিনি বিবাহ করেননি, বরং তাঁর নিকট তাঁর পিতার স্ত্রী ছিলেন, যিনি তাঁর ঘরের কাজ দেখাশোনা করতেন। তিনি তাঁর সাথে সদাচরণ করতেন এবং তাঁর প্রতি উত্তম ব্যবহার করতেন। তাঁর হজ পালন করা হয়ে ওঠেনি, যদিও তাঁর সাথীরা তাঁকে এ বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহী করে তুলেছিলেন। অনারবদের মতো বেশভূষা ধারণ করার কারণে তাঁর সমালোচনা করা হতো, যেমন লম্বা গোঁফ রাখা এবং মেসওয়াক না করা, এমনকি তাঁর দাঁতগুলো পড়ে গিয়েছিল।

 

‌‌৬ - তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা:

তাঁর সুউচ্চ হিম্মত সম্পর্কে হাফেজ ইবনে হাজার(২) যা বর্ণনা করেছেন তা হলো: তিনি বুদ্ধিভিত্তিক শাস্ত্রের (আকলী উলূম) প্রতি ঝুঁকেছিলেন এবং তাতে পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন, এমনকি তিনি একাই একটি আদর্শে পরিণত হয়েছিলেন। ওই শহরের সমস্ত ছাত্ররা সে বিষয়ে তাঁর মুখাপেক্ষী ছিল। তিনি অনেক এবং বহুল প্রচারিত কিতাব রচনা করেছেন। তিনি যে কিতাবই পড়িয়েছেন—যদিও তিনি প্রায় সকল সংক্ষেপিত কিতাবই পড়িয়েছেন—সেগুলোর ওপর তাঁর একটি, দুটি বা তিনটি করে রচনা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে টীকা (হাশিয়া), সূক্ষ্ম ব্যাখ্যা (নুকাত) এবং ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শরহ)। সাবলীল উপস্থাপনায় তিনি তাঁর যুগের এক বিস্ময় ছিলেন।

ইবনে কাজী শুহবা(৩) উল্লেখ করেছেন: তিনি সাহিত্যিক জ্ঞান, বুদ্ধিভিত্তিক জ্ঞান এবং উভয় মূলনীতি (উসুলাইন) শাস্ত্রে অন্যতম নিদর্শন ছিলেন এবং মিশরের অধিকাংশ মানুষ তাঁর নিকট হতে জ্ঞান অর্জন করেছেন।

হাফেজ ইবনে হাজার(৪) আরও বলেন: তিনি ইলমের এমন এক স্তরে ছিলেন যেখানে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের ফয়সালা দেওয়া হতো

--------------------------------------------

(১) 'ইনবাউল গুমর' (৩/ ১১৬)।

(২) 'ইনবাউল গুমর' (৩/ ১১৫)।

(৩) 'তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ' (২/ ৩৭৯)।

(৪) 'ইনবাউল গুমর' (৩/ ১১৬)।

(খণ্ড: ১) আল-গুরার ওয়াদ দুরার ফী সীরাতি খাইরিল বাশার (পৃষ্ঠা: ১৪)
في كل فنّ بالجمع، هذا مع الانجماع عن بني الدنيا، وترك التعرض للمناصب، وقد نفق له سوق في الدولة المؤيدية، وهاداه السلطان عدّة مرار بجملة من الذهب، ومع ذلك كان يمتنع من الاجتماع به، ويتغير إذا عرض عليه ذلك.

ثم قال في «إنباء الغمر» (116/ 3): وكان يبرّ أصاحبه، ويساويهم في الجلوس، ويبالغ في إكرامهم.

وذكر أيضا: وكان يديم الطهارة، فلا يحدث إلا وتوضأ، ولا يترك أحدا يستغيب عنده أحدا، هذا مع ما هو عليه من محبة الفكاهة، والمزاح، واستحسان النادرة.

لازمته من سنة تسعين إلى أن مات، وكان يودّني كثيرا، ويشهد لي في غيبتي بالتقدم، ويتأدب معي إلى الغاية، مع مبالغتي في تعظيمه، حتى كنت لا أسميه في غيبته إلا: «إمام الأئمة».

وذكر محقق كتاب «إنباء الغمر»(1) الدكتور حسن حبشي: أنه كتب على هامش الأصل بخط الشيخ إبراهيم البقاعيّ ما نصّه: حدثني الشيخ محبّ الدين محمد بن مولانا زاده، الشهير بابن الأقصرائيّ، الحنفيّ، إمام السلطان، وكان محمد ممن لازم الشيخ عزّ الدين كثيرا: أنه رأى رجلا تكروريّا اسمه: عثمان ما غفا-بالغين المعجمة والفاء-ورد إلى القاهرة، وكان له عشرة بنين رجال، فأتى بهم إلى الشيخ عزّ الدين للاستفادة، فقرأ عليه كتابا، فكان إذا قرر له مسألة، ففهمها، وقف، ودار ثلاث دورات على شبه الراقص، ثم انحنى للشيخ على هيئة

--------------------------------------------

(1) «هامش إنباء الغمر» (116/ 3).

প্রতিটি বিদ্যায় সংকলনের সাথে সাথে, এই সবই ছিল দুনিয়াদারদের থেকে বিমুখতা এবং পদমর্যাদার মোহ ত্যাগের সাথে। মুয়াইয়্যিদিয়া রাষ্ট্রের সময় তার ব্যাপক কদর ছিল, এবং সুলতান তাকে কয়েকবার মোটা অংকের স্বর্ণ উপহার দিয়েছিলেন। এতদসত্ত্বেও তিনি সুলতানের সাথে সাক্ষাৎ করা থেকে বিরত থাকতেন এবং তাকে সাক্ষাতের প্রস্তাব দেওয়া হলে তিনি বিমর্ষ হয়ে পড়তেন।

এরপর তিনি ‘ইনবাউল গুমর’ (৩/১১৬) গ্রন্থে বলেছেন: তিনি তার সঙ্গীদের সাথে সদাচরণ করতেন, বসার ক্ষেত্রে তাদের সাথে সমতা বজায় রাখতেন এবং তাদের সম্মান প্রদর্শনে অত্যন্ত আন্তরিক ছিলেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন: তিনি সর্বদা পবিত্রাবস্থায় থাকতেন, তাই অজু ভঙ্গ হওয়া মাত্রই অজু করে নিতেন। তিনি তার সামনে কাউকে পরনিন্দা বা গিবত করতে দিতেন না; যদিও তিনি রসিকতা, কৌতুক এবং চমৎকার বিরল কথাবার্তা পছন্দ করতেন।

নব্বই হিজরি থেকে তার মৃত্যু পর্যন্ত আমি তার সান্নিধ্যে ছিলাম। তিনি আমাকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন, আমার অনুপস্থিতিতে আমার শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য দিতেন এবং আমার সাথে অত্যন্ত শিষ্টাচারপূর্ণ আচরণ করতেন। অথচ আমি তাকে অত্যন্ত সম্মান করতাম, এমনকি তার অনুপস্থিতিতে তাকে ‘ইমামদের ইমাম’ ছাড়া অন্য কোনো নামে ডাকতাম না।

‘ইনবাউল গুমর’ গ্রন্থের মুহাক্কিক(১) ডক্টর হাসান হাবশি উল্লেখ করেছেন যে, মূল পাণ্ডুলিপির টীকায় শায়খ ইব্রাহিম আল-বিকাঈর হস্তাক্ষরে যা লেখা আছে তার পাঠ হলো: সুলতানের ইমাম হিসেবে পরিচিত ইবনুল আকসারাঈ আল-হানাফি মুহিব্বুদ্দীন মুহাম্মাদ ইবনু মাওলানা জাদাহ আমাকে বলেছেন—আর মুহাম্মাদ ছিলেন শায়খ ইযযুদ্দীনের দীর্ঘদিনের সান্নিধ্য পাওয়া ব্যক্তিদের একজন—যে, তিনি উসমান মা গফা (নুক্তাযুক্ত ‘গইন’ ও ‘ফা’ সহযোগে) নামক জনৈক তাকরুরি ব্যক্তিকে দেখেছিলেন, যিনি কায়রোতে এসেছিলেন। তার দশজন প্রাপ্তবয়স্ক পুত্র সন্তান ছিল। তিনি জ্ঞান অর্জনের জন্য তাদেরকে শায়খ ইযযুদ্দীনের কাছে নিয়ে আসতেন। তিনি শায়খের কাছে একটি কিতাব পড়তেন। শায়খ যখন তার সামনে কোনো মাসআলা বর্ণনা করতেন এবং তিনি তা বুঝে ফেলতেন, তখন তিনি উঠে দাঁড়াতেন এবং নৃত্যশিল্পীর ন্যায় তিনবার চক্কর দিতেন। এরপর তিনি শায়খের প্রতি বিশেষ কায়দায় অবনত হতেন...

--------------------------------------------

(১) ‘ইনবাউল গুমর-এর টীকা’ (৩/১১৬)।

(খণ্ড: ১) আল-গুরার ওয়াদ দুরার ফী সীরাতি খাইরিল বাশার (পৃষ্ঠা: ১৫)
الراكع، وجلس، فإذا جلس، قام بنوه العشرة بعده، ففعلوا مثل فعله.

 

‌‌7 - مؤلفاته:

الغالب على آثاره العلمية التي صنفها: أنها كانت عبارة عن شروح، ونكت، ومختصرات للكتب التي كان يقرئها للطلبة، وكان يتمتع بذهن متوقّد، وفهم واسع، فتراه يكتب على الكتاب الواحد ثلاثة تصانيف، ما بين حاشية، أو شرح، أو نكت، وكان أعجوبة دهره في حسن التقرير، ولم يرزق ملكة، ولا سعادة في حسن التصنيف، والظاهر: أنه كان يروم بها تذكر ما يريد إلقاءه، وتقريره؛ ولذا كان بينهما كما بين الثرى والثريا، بل كان بين قلمه، ولسانه كما بينه هو، وآحاد طلبته، وصنف التصانيف الكثيرة: الدينية، والأدبية، والصناعية، وغيرها من العلوم السائدة في عصره، وهي تزيد على مئتي مصنف، تنوعت في عشرين فنا، وقد جمعها في جزء مفرد، وضاع أكثرها بأيدي الطلبة، كما نقل ذلك الحافظ ابن حجر(1)، وابن قاضي شهبة(2)، والسخاويّ(3).

 

‌‌وإليك تعداد بعض أسماء مؤلفاته التي وقفت عليها:

1 - أربعون حديثا في الجهاد، واسمها: «الإمداد فيما يتعلق بالجهاد»(4).

--------------------------------------------

(1) «إنباء الغمر» (116/ 3).

(2) «طبقات الشافعية» (379/ 2).

(3) «وجيز الكلام» (442/ 2).

(4) تقع ضمن مجموعه الذي عندي.

রুকুকারী, এবং তিনি বসলেন, অতঃপর যখন তিনি বসলেন, তাঁর দশ পুত্র তাঁর পরে দাঁড়ালেন এবং তাঁরা তাঁর কাজের অনুরূপ কাজ করলেন।

 

‌‌৭ - তাঁর রচনাবলি:

তাঁর রচিত ইলমী নিদর্শনসমূহের মধ্যে অধিকাংশ হলো সেই সকল বইয়ের ব্যাখ্যা, সূক্ষ্ম আলোচনা এবং সারসংক্ষেপ যেগুলো তিনি ছাত্রদের পড়াতেন। তিনি প্রখর মেধা ও প্রশস্ত বুঝ-শক্তির অধিকারী ছিলেন। দেখা যেত তিনি একটি মাত্র কিতাবের ওপর তিনটি রচনা তৈরি করতেন—কখনো হাশিয়া (টীকা), কখনো শরহ (ব্যাখ্যা), আবার কখনো নুকাত (সূক্ষ্ম বিষয়াবলি)। সাবলীল উপস্থাপনার (তাকরির) ক্ষেত্রে তিনি তাঁর যুগের এক বিস্ময় ছিলেন; কিন্তু গ্রন্থ রচনার (তাসনিফ) নিপুণতায় তিনি তেমন কোনো বিশেষ যোগ্যতা বা সফলতা লাভ করতে পারেননি। বাহ্যত মনে হয় যে, তিনি যা পাঠদান ও উপস্থাপন করতে চাইতেন, তা স্মরণ রাখার উদ্দেশ্যেই এগুলো লিখতেন। এ কারণে এই দুইয়ের (উপস্থাপনা ও রচনা) মধ্যে আসমান-জমিন ব্যবধান ছিল; বরং তাঁর কলম এবং তাঁর জবানের মধ্যে ততটুকুই ব্যবধান ছিল, যতটুকু ব্যবধান ছিল তাঁর নিজের এবং তাঁর সাধারণ ছাত্রদের মাঝে। তিনি দ্বীনি, সাহিত্যিক, কারিগরি এবং তাঁর যুগে প্রচলিত অন্যান্য শাস্ত্রের ওপর প্রচুর গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার সংখ্যা দুই শতাধিক। সেগুলো বিশটি ভিন্ন ভিন্ন শাস্ত্রের ওপর বৈচিত্র্যপূর্ণ ছিল। তিনি একটি স্বতন্ত্র খণ্ডে এগুলোকে একত্রিত করেছিলেন, তবে এগুলোর অধিকাংশ ছাত্রদের হাতে পড়ে হারিয়ে গেছে; যেমনটি হাফেজ ইবনে হাজার(১), ইবনে কাযী শুহবাহ(২) এবং সাখাভী(৩) বর্ণনা করেছেন।

 

‌‌নিম্নে তাঁর রচিত কতিপয় গ্রন্থের নাম উল্লেখ করা হলো যা আমি অবগত হয়েছি:

১ - জিহাদ বিষয়ে চল্লিশটি হাদিস, এবং এর নাম হলো: 'আল-ইমদাদ ফিমা ইয়াতাআল্লাকু বিল-জিহাদ'(৪)।

--------------------------------------------

(১) 'ইনবাউল গুমর' (৩/১১৬)।

(২) 'তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ' (২/৩৭৯)।

(৩) 'ওয়াজিজুল কালাম' (২/৪৪২)।

(৪) এটি আমার নিকট থাকা তাঁর সংকলনের অন্তর্ভুক্ত।

(খণ্ড: ১) আল-গুরার ওয়াদ দুরার ফী সীরাতি খাইরিল বাশার (পৃষ্ঠা: ১৬)
2 - «الأنوار في الطب»(1).

3 - «التبيين شرح الأربعين النووية»(2).

4 - «تصنيف في الرمح»(3).

5 - «تصنيف في الرمل»(4).

6 - «ثلاث نكت على مختصر ابن الحاجب»(5).

7 - «الجامع في الطب»(6).

8 - «حاشية على شرح الألفية» لابن المصنف(7).

9 - «حاشية على التوضيح»(8).

10 - «حاشية على شرح ابن العبري على منهاج الأصول»(9).

11 - «حاشية على العضد»(10).

--------------------------------------------

(1) «كشف الظنون» (196/ 1).

(2) «البدر الطالع» (148/ 2).

(3) «طبقات الشافعية» لابن قاضي شهبة (379/ 2).

(4) «طبقات الشافعية» لابن قاضي شهبة (379/ 2).

(5) «كشف الظنون» (1855/ 2).

(6) «الأعلام» (57/ 6).

(7) «كشف الظنون» (151/ 1).

(8) «كشف الظنون» (154/ 1).

(9) «كشف الظنون» (1879/ 2).

(10) «طبقات الشافعية» لابن قاضي شهبة (379/ 2).

২ - «আল-আনোয়ার ফিত-তিব্ব (চিকিৎসাবিজ্ঞানের আলোকমালা)»(১).

৩ - «আত-তাবয়ীন শারহুল আরবাঈন আন-নববিইয়্যাহ (ইমাম নববী রচিত চল্লিশ হাদিসের ব্যাখ্যা)»(২).

৪ - «তাসনীফ ফির-রুমহ্ (বর্শা চালনা বিষয়ক রচনা)»(৩).

৫ - «তাসনীফ ফির-রাযল (বালি-গণনা বিষয়ক রচনা)»(৪).

৬ - «সালাসু নুকাতি আলা মুখতাসার ইবনিল হাজিব (ইবনুল হাজিবের মুখতাসারের ওপর তিনটি সূক্ষ্ম আলোচনা)»(৫).

৭ - «আল-জামে ফিত-তিব্ব (চিকিৎসাবিজ্ঞানের সংকলন)»(৬).

৮ - ইবনুল মুসান্নিফ রচিত «হাশিয়াহ আলা শারহিল আলফিয়্যাহ (আলফিয়্যাহর ব্যাখ্যার ওপর টীকা)»(৭).

৯ - «হাশিয়াহ আলাত-তাওদীহ (আত-তাওদীহ-এর ওপর টীকা)»(৮).

১০ - «হাশিয়াহ আলা শারহি ইবনিল ইবরী আলা মিনহাজিল উসূল (মিনহাজুল উসূলের ওপর ইবনুল ইবরীর ব্যাখ্যার টীকা)»(৯).

১১ - «হাশিয়াহ আলাল আদাদ (আল-আদাদের ওপর টীকা)»(১০).

--------------------------------------------

(১) «কাশফুয যুনুন» (১/ ১৯৬).

(২) «আল-বাদরুত তালি’» (২/ ১৪৮).

(৩) ইবনে কাদী শুহবাহ রচিত «তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ» (২/ ৩৭৯).

(৪) ইবনে কাদী শুহবাহ রচিত «তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ» (২/ ৩৭৯).

(৫) «কাশফুয যুনুন» (২/ ১৮৫৫).

(৬) «আল-আলাম» (৬/ ৫৭).

(৭) «কাশফুয যুনুন» (১/ ১৫১).

(৮) «কাশফুয যুনুন» (১/ ১৫৪).

(৯) «কাশফুয যুনুন» (২/ ১৮৭৯).

(১০) ইবনে কাদী শুহবাহ রচিত «তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ» (২/ ৩৭৯).

(খণ্ড: ১) আল-গুরার ওয়াদ দুরার ফী সীরাতি খাইরিল বাশার (পৃষ্ঠা: ১৭)
12 - «حاشية على شرح العقيدة النسفية للتفتازاني»(1).

13 - «حاشية على مختصر ابن الحاجب»(2).

14 - «حاشية على مختصر المطول للتفتازاني»، واسمها: «سبك النضير في حواشي الشرح الصغير»(3).

15 - حاشية على «مطالع الأنوار» للأرموي، في المنطق(4).

16 - حاشية على «المطول» للتفتازاني، اسمها: «المعوّل»(5).

17 - حاشية على «منهاج الأصول» للبيضاوي(6).

18 - شرح «جمع الجوامع»(7).

19 - «شرح علوم الحديث لابن الصلاح»(8).

20 - «شرح القواعد الصغرى لابن هشام»(9).

21 - «شرح القواعد الكبرى لابن هشام».

--------------------------------------------

(1) «كشف الظنون» (1147/ 2).

(2) «كشف الظنون» (1855/ 2).

(3) «إنباء الغمر» (116/ 3).

(4) «كشف الظنون» (1715/ 2).

(5) «إنباء الغمر» (115/ 3).

(6) «كشف الظنون» (1879/ 2).

(7) «طبقات الشافعية» لابن قاضي شهبة (379/ 2).

(8) «البدر الطالع» (148/ 2).

(9) «البدر الطالع» (148/ 2)، و «شرح القواعد الكبرى» كذلك.

১২ - «তাফতাজানি রচিত শরহুল আকিদাহ আন-নাসাফিয়্যাহ-এর উপর হাশিয়া»(১).

১৩ - «মুখতাসার ইবনুল হাজিব-এর উপর হাশিয়া»(২).

১৪ - «তাফতাজানি রচিত মুখতাসারুল মুতাউওয়াল-এর উপর হাশিয়া», যার নাম: «সাবকুন্নজির ফি হাওয়াশিশ শরহিস সাগির»(৩).

১৫ - আরমাওয়ি রচিত যুক্তিবিদ্যা বিষয়ক গ্রন্থ «মাতালিউল আনওয়ার»-এর উপর হাশিয়া(৪).

১৬ - তাফতাজানি রচিত «আল-মুতাউওয়াল»-এর উপর হাশিয়া, এর নাম: «আল-মুআউওয়াল»(৫).

১৭ - বায়দাভি রচিত «মিনহাজুল উসুল»-এর উপর হাশিয়া(৬).

১৮ - «জামউল জাওয়ামি»-এর শরহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ)(৭).

১৯ - «ইবনুস সালাহ-এর উলূমুল হাদীস-এর শরহ»(৮).

২০ - «ইবন হিশাম রচিত আল-কাওয়াইদুল সুগরা-এর শরহ»(৯).

২১ - «ইবন হিশাম রচিত আল-কাওয়াইদুল কুবরা-এর শরহ»।

--------------------------------------------

(১) «কাশফুজ্জুনুন» (২/ ১১৪৭)।

(২) «কাশফুজ্জুনুন» (২/ ১৮৫৫)।

(৩) «ইনবাউল গুমর» (৩/ ১১৬)।

(৪) «কাশফুজ্জুনুন» (২/ ১৭১৫)।

(৫) «ইনবাউল গুমর» (৩/ ১১৫)।

(৬) «কাশফুজ্জুনুন» (২/ ১৮৭৯)।

(৭) ইবনে কাজি শুহবাহ রচিত «তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ» (২/ ৩৭৯)।

(৮) «আল-বাদরুত তালি» (২/ ১৪৮)।

(৯) «আল-বাদরুত তালি» (২/ ১৪৮), এবং «শরহুল কাওয়াইদিল কুবরা»-ও অনুরূপ।

(খণ্ড: ১) আল-গুরার ওয়াদ দুরার ফী সীরাতি খাইরিল বাশার (পৃষ্ঠা: ১৮)
22 - «الصفوة في التصوف»(1).

23 - «الغرر والدرر في سيرة خير البشر صلى الله عليه وسلم»(2)، وهو بين يديك.

24 - «المثلث في اللغة»(3).

25 - «لمعة الأنوار في التشريح»(4).

26 - «مختصر تخريج أحاديث الرافعي الكبير لابن الملقن»، وهو آخر كتبه(5).

27 - «المنهج السوي شرح المنهل الروي»(6) لجده.

 

‌‌8 - وفاته:

في سنة (819) حلّ بالناس وباء الطاعون في القاهرة، وكان- رحمه الله-ينهى أصحابه عن دخول الحمام العام أيام الطاعون، فلما كاد يرتفع الوباء عن الناس، دخل هو الحمام، فخرج، فطعن عن قرب، فمات في العشرين من شهر ربيع الآخر من نفس السنة، واشتد أسف الناس عليه، ولم يخلف بعده مثله.

ختم له-رحمه الله-بشيئين، نسأل الله-تبارك وتعالى-أن تكون خاتمة حسنة:

&

--------------------------------------------

(1) «كشف الظنون» (1080/ 2)، وعندي منه نسخة ضمن مجموع له.

(2) «الأعلام» (57/ 6)، ويحتل الصدارة في المجموع الذي عندي.

(3) «كشف الظنون» (1587/ 2).

(4) «الأعلام» (57/ 6).

(5) «إنباء الغمر» (116/ 3).

(6) «البدر الطالع» (148/ 2).

২২ - «আস-সাফওয়া ফিত-তাসাউউফ»(১)।

২৩ - «আল-ঘুরার ওয়াদ-দুরার ফি সিরাতি খয়রিল বাশার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম»(২), যা বর্তমানে আপনার সম্মুখেই রয়েছে।

২৪ - «আল-মুথাল্লাথ ফিল লুগাহ»(৩)।

২৫ - «লুমআতুল আনওয়ার ফিত-তাশরিহ»(৪)।

২৬ - «ইবনুল মুলাক্কিন রচিত আর-রাফেয়ি আল-কাবীর-এর হাদিসসমূহের তাখরিজের সংক্ষিপ্তসার», এটি তাঁর সর্বশেষ গ্রন্থ(৫)।

২৭ - তাঁর দাদার রচিত «আল-মানহাজুস সাউয়ি শারহুল মানহালির রাউয়ি»(৬)।

 

‌‌৮ - তাঁর মৃত্যু:

৮১৯ হিজরি সনে কায়রোতে প্লেগ মহামারি ছড়িয়ে পড়ে। তিনি—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—প্লেগের দিনগুলোতে তাঁর সঙ্গীদের গণ-গোসলখানায় (হাম্মাম) প্রবেশ করতে নিষেধ করতেন। অতঃপর যখন মহামারি মানুষের মধ্য থেকে প্রায় বিদায় নিচ্ছিল, তখন তিনি নিজে গোসলখানায় প্রবেশ করেন। সেখান থেকে বের হওয়ার পরই তিনি প্লেগে আক্রান্ত হন এবং একই বছরের বিশে রবিউস সানি ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুতে মানুষ গভীর শোকাহত হয় এবং তাঁর পরে তাঁর মতো কোনো যোগ্য উত্তরসূরি তিনি রেখে যাননি।

তাঁর জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটেছিল—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—দুটি বিষয়ের মাধ্যমে; আমরা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার নিকট উত্তম পরিণতির প্রার্থনা করছি:

&

--------------------------------------------

(১) «কাশফুজ্জুনুন» (২/ ১০৮০), আমার নিকট থাকা তাঁর একটি সংকলনের (মাজমু) মধ্যে এর একটি পাণ্ডুলিপি বিদ্যমান।

(২) «আল-আলাম» (৬/ ৫৭), আমার কাছে থাকা সংকলনটিতে এটিই প্রধান স্থান দখল করে আছে।

(৩) «কাশফুজ্জুনুন» (২/ ১৫৮৭)।

(৪) «আল-আলাম» (৬/ ৫৭)।

(৫) «ইনবাউল গুমর» (৩/ ১১৬)।

(৬) «আল-বাদরুত তালি’» (২/ ১৪৮)।

(খণ্ড: ১) আল-গুরার ওয়াদ দুরার ফী সীরাতি খাইরিল বাশার (পৃষ্ঠা: ১৯)
الأول: آخر عهده من العلم(1) كان مع أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم، نسأل الله-تبارك وتعالى-أن يحشرنا وإياه في زمرة أهل الحديث، ويجعلنا من الواردين على حوض النبي صلى الله عليه وسلم.

الثاني: كونه مات بالطاعون، والنبي صلى الله عليه وسلم يقول: «الطاعون شهادة لكلّ مسلم»(2).

***

--------------------------------------------

(1) انظر: الصفحة رقم (14).

(2) أخرجه مسلم (1522/ 3).

প্রথমত: ইলমের সাথে তার শেষ সময়(১) ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসসমূহের সাথে। আমরা আল্লাহ—তাবারাকা ওয়া তায়ালা—এর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদেরকে এবং তাকে আহলে হাদিসদের দলের অন্তর্ভুক্ত করে হাশর করান এবং আমাদেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাউজে উপনীতদের অন্তর্ভুক্ত করেন।

দ্বিতীয়ত: তার প্লেগ রোগে মৃত্যু হওয়া, আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: «প্লেগ প্রতিটি মুসলিমের জন্য শাহাদাত»(২)।

***

--------------------------------------------

(১) দেখুন: পৃষ্ঠা সংখ্যা (১৪)।

(২) এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (৩/ ১৫২২)।

(খণ্ড: ১) আল-গুরার ওয়াদ দুরার ফী সীরাতি খাইরিল বাশার (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌دراسة الكتاب

‌‌1 - وصف النسخة المعتمدة

اعتمدت في تحقيق الكتاب على مصورة عن النسخة الخطية التي توجد ضمن مجموع يحتوي على ثلاثة كتب من كتبه: «مختصر السيرة»، كتابنا هذا، و «الصفوة في التصوف»، و «أربعون حديثا في الجهاد»، وقد اطلعت على النسخة الخطية بنفسي، وخطها جيد مقروء، أثبت في أولها اسم الكتاب، وتقع في (10) ورقات، كتبت بخط نسخي واضح، مسطرة، كل صفحة منها: (19) سطرا، وعليها تملك باسم هكذا: الحاج سيدي، ومختومة بختمه كما تراه في صورة نماذج ورقات المخطوطة، وبعد تمعني في ختمه؛ وفيه اسم أبيه، فيكون: سيدي بن حسن السّعدي.

وكان تحريرها في يوم الجمعة في الثالث من شهر شوّال المكرم سنة (975 هـ) في حلب.

واسم صاحب النسخة التي نقلت منها هذه النسخة، حيث كتب عليها: علقه لنفسه، ولمن شاء من بعده، الواثق بالصمد الفردي عبيد الله: عمر بن أحمد بن خليفة، الحلبيّ، السّعديّ. ويغلب على
গ্রন্থ পর্যালোচনা

১ - নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপির বিবরণ

গ্রন্থটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমি এমন একটি পাণ্ডুলিপির ছায়ারূপের (ফটোকপি) ওপর নির্ভর করেছি যা একটি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত। সেই সংকলনে লেখকের তিনটি গ্রন্থ রয়েছে: ‘মুখতাসারুস সিরাহ’ (সীরাতের সংক্ষিপ্তসার), আমাদের এই আলোচ্য গ্রন্থটি, ‘আস-সাফওয়াহ ফিত তাসাউউফ’ এবং ‘জিহাদ বিষয়ক চল্লিশ হাদিস’। আমি পাণ্ডুলিপিটি স্বচক্ষে দেখেছি; এর লিপি অত্যন্ত চমৎকার ও পাঠযোগ্য। এর শুরুতেই গ্রন্থের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাণ্ডুলিপিটি ১০টি পত্র সম্বলিত এবং স্পষ্ট নাসখ লিপিতে লিখিত। এটি রুল টানা এবং এর প্রতিটি পৃষ্ঠায় ১৯টি করে লাইন রয়েছে। এতে মালিকানা স্বত্ব হিসেবে এই নাম রয়েছে: আল-হাজ্জ সিদি, এবং এটি তাঁর সিলমোহর দ্বারা মোহরাঙ্কিত, যেমনটি আপনি পাণ্ডুলিপির নমুনা পৃষ্ঠাগুলোর ছবিতে দেখতে পাবেন। তাঁর সিলমোহরটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করার পর সেখানে তাঁর পিতার নামও পাওয়া গেছে; পূর্ণ নামটি হলো: সিদি ইবনে হাসান আস-সাদি।

এটি ৯৭৫ হিজরি সালের জুমুআর দিনে, সম্মানিত শাওয়াল মাসের তিন তারিখে হালাব শহরে অনুলিপি করা হয়েছিল।

যে পাণ্ডুলিপি থেকে এই অনুলিপিটি করা হয়েছে তার মালিকের নাম সেখানে এভাবে লিখিত রয়েছে: “তিনি এটি নিজের জন্য এবং তাঁর পরে আল্লাহ যাকে চান তার জন্য লিপিবদ্ধ করেছেন; যিনি একক অমুখাপেক্ষী সত্তার ওপর আস্থাশীল, আল্লাহর নগণ্য বান্দা: উমর ইবনে আহমাদ ইবনে খলিফা, আল-হালাবি, আস-সাদি।” আর সাধারণত...
(খণ্ড: ১) আল-গুরার ওয়াদ দুরার ফী সীরাতি খাইরিল বাশার (পৃষ্ঠা: ২১)
الظن: أنه نقلها من نسخة المؤلف، لقرب الزمن بين كتابتها، وبين وفاة المؤلف، أو على الأقل نقلت من نسخة مقابلة على نسخة المصنف.

 

‌‌2 - إثبات صحة نسبة الكتاب:

ولغرض إثبات نسبة الكتاب للمؤلف، فإليك الآتي:

كتب على غلاف الأصل اسم الكتاب: «الغرر والدرر في سيرة خير البشر» تأليف الشيخ العالم العلامة عزّ الدين محمد ابن جماعة.

ذكر الزّركليّ في «الأعلام» (57/ 6) في ترجمة المؤلف ضمن مؤلفاته: مختصر في السيرة النبوية.

وجود الكتاب ضمن مجموع فيه كتاب: «الصفوة في التصوف» الذي أثبت نسبته له صاحب «كشف الظنون» (1855/ 2).

ومما تقدم أستطيع تأكيد نسبة الكتاب له، والله أعلم.

 

‌‌3 - عملي في الكتاب:

بعد اطلاعي على المجموع الخطي(1)، قمت بتصوير نسخة منه، ثم قمت بما يلي:

--------------------------------------------

(1) أطلعني عليه الأخ الفاضل محمد بن عبد الجليل البغدادي، شكر الله له سعيه. قلت: وقد توفي هذا الأخ الفاضل في التفجير الآثم الغادر الذي وقع بسوق المتنبي في بغداد، في أواخر الشهر الثالث من عام 2007 م، وقد راح ضحيته أكثر من مئة بائع للكتب، واحترقت فيه عشرات المكتبات، -

ধারণা: এটি লেখকের মূল পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করা হয়েছে, কারণ এটি রচনার সময় এবং লেখকের মৃত্যুর সময়ের ব্যবধান খুব কম, অথবা অন্ততপক্ষে এটি এমন একটি কপি থেকে অনুলিপি করা হয়েছে যা লেখকের মূল কপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছিল।

 

‌‌২ - গ্রন্থের নিসবত বা সম্পৃক্ততার বিশুদ্ধতা প্রমাণ:

লেখকের প্রতি গ্রন্থটির সম্পৃক্ততা প্রমাণের উদ্দেশ্যে নিচে কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো:

মূল কপির প্রচ্ছদে গ্রন্থের নাম লেখা আছে: 'আল-গুরার ওয়াদ-দুরার ফি সিরাতি খাইরিল বাশার', রচনায় শাইখ আল-আলিম আল-আল্লামা ইযযুদ্দীন মুহাম্মদ ইবন জামাআহ।

যিরিকলি তার 'আল-আলাম' (৬/৫৭) গ্রন্থে লেখকের জীবনী আলোচনায় তার রচনাবলির মধ্যে উল্লেখ করেছেন: সিরাতে নববীর উপর একটি সংক্ষিপ্ত সার।

এমন একটি পাণ্ডুলিপি সংকলনের (মাজমু) মধ্যে এই গ্রন্থটির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে যার মধ্যে 'আস-সাফওয়াহ ফিত তাসাউফ' নামক গ্রন্থটিও রয়েছে, যার লেখকের প্রতি সম্পৃক্ততা 'কাশফুয যুনুন' (২/১৮৫৫) প্রণেতা নিশ্চিত করেছেন।

উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমি তার প্রতি এই গ্রন্থটির সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে পারছি, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

 

‌‌৩ - গ্রন্থটিতে আমার কাজ:

হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি সংকলনটি দেখার পর(১), আমি সেটির একটি অনুলিপি সংগ্রহ করি, অতঃপর আমি নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করি:

--------------------------------------------

(১) সম্মানিত ভাই মুহাম্মদ বিন আব্দুল জলীল আল-বাগদাদী আমাকে এটি দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন, আল্লাহ তার প্রচেষ্টাকে কবুল করুন। আমি বলছি: এই গুণী ভাই ২০০৭ সালের মার্চ মাসের শেষের দিকে বাগদাদের মুতানাব্বি বাজারে সংঘটিত পাপিষ্ঠ ও বিশ্বাসঘাতকতামূলক বোমা বিস্ফোরণে শাহাদাত বরণ করেছেন, যাতে একশ’রও বেশি বই বিক্রেতা প্রাণ হারিয়েছিলেন এবং সেখানে কয়েক ডজন লাইব্রেরি পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছিল, -

(খণ্ড: ১) আল-গুরার ওয়াদ দুরার ফী সীরাতি খাইরিল বাশার (পৃষ্ঠা: ২২)
1 - نسخت الكتاب بيدي، ثم قابلته بالأصل.

2 - قارنت الكتاب بأمهات كتب السيرة، وما وقفت عليه من موارد الكتاب، وعلقت على بعض المواضع من الكتاب.

3 - خرّجت ما في الكتاب من الأحاديث، والآثار.

4 - ذكرت رقم الصفحة من المخطوطة عند بداية الورقة، ونهايتها.

5 - عملت للمؤلف ترجمة حافلة.

وإني لأدعو الله-جل وعلا-أن يجعل عملي كلّه خالصا لوجهه الكريم، وأن يوفقنا للاقتداء بسيرة نبينا الكريم صلى الله عليه وسلم، وينفع بهذا الجهد المسلمين، وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين.

***

--------------------------------------------

(1) -والله المستعان، وقد عرفت في هذا الأخ صدق التعامل، وحسن الأداء، ناهيك عن خبرته المميزة في المخطوطات والمطبوعات النادرة، فرحمه الله رحمة واسعة، وغفر له، وأسأل كل قارئ لهذا الكتاب أن يدعو له بالرحمة والمغفرة. (نور الدين طالب).

১ - আমি স্বহস্তে কিতাবটি অনুলিপি করেছি, অতঃপর মূল পাণ্ডুলিপির সাথে তা মিলিয়ে দেখেছি।

২ - আমি কিতাবটিকে সীরাতের মৌলিক গ্রন্থসমূহ এবং কিতাবটির যেসব উৎসের সন্ধান পেয়েছি সেগুলোর সাথে তুলনা করেছি, এবং কিতাবটির কিছু কিছু স্থানে টীকা প্রদান করেছি।

৩ - আমি কিতাবটিতে বিদ্যমান হাদীস এবং আসারসমূহের উৎসনির্দেশ (তাখরীজ) করেছি।

৪ - আমি পাণ্ডুলিপির প্রতিটি পাতার শুরুতে ও শেষে তার পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করেছি।

৫ - আমি লেখকের একটি বিস্তারিত জীবনী তৈরি করেছি।

আর আমি মহান ও প্রতাপশালী আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমার এই পুরো কাজটিকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন, এবং আমাদের মহান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাত অনুসরণ করার তাওফীক দান করেন, এবং এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে মুসলিমদের উপকৃত করেন। আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষণ করুন।

***

--------------------------------------------

(১) -আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাই। আমি এই ভাইয়ের মাঝে আচরণে সততা এবং কর্মে নৈপুণ্য লক্ষ্য করেছি; পাণ্ডুলিপি এবং দুর্লভ মুদ্রিত গ্রন্থের ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ অভিজ্ঞতার কথা তো বলাই বাহুল্য। আল্লাহ তাঁর প্রতি প্রশস্ত রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁকে ক্ষমা করুন। আমি এই কিতাবের প্রত্যেক পাঠকের কাছে তাঁর রহমত ও মাগফিরাতের জন্য দুআ করার অনুরোধ করছি। (নূরুদ্দীন তালিব)।

(খণ্ড: ১) আল-গুরার ওয়াদ দুরার ফী সীরাতি খাইরিল বাশার (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌صور المخطوطات
পাণ্ডুলিপিসমূহের চিত্র
(খণ্ড: ১) আল-গুরার ওয়াদ দুরার ফী সীরাতি খাইরিল বাশার (পৃষ্ঠা: ২৫)
صورة غلاف نسخة الأصل، ويظهر فيها اسم الكتاب
মূল কপির প্রচ্ছদচিত্র, যাতে গ্রন্থের নাম পরিদৃষ্ট হচ্ছে।
(খণ্ড: ১) আল-গুরার ওয়াদ দুরার ফী সীরাতি খাইরিল বাশার (পৃষ্ঠা: ২৬)
صورة الورقة الأولى من المخطوطة
পাণ্ডুলিপির প্রথম পত্রের চিত্র
(খণ্ড: ১) আল-গুরার ওয়াদ দুরার ফী সীরাতি খাইরিল বাশার (পৃষ্ঠা: ২৭)
صورة الورقة الأخيرة من المخطوطة
পাণ্ডুলিপির সর্বশেষ পাতার চিত্র
(খণ্ড: ১) আল-গুরার ওয়াদ দুরার ফী সীরাতি খাইরিল বাশার (পৃষ্ঠা: ২৯)
الغرر والدّرر في سيرة خير البشر صلى الله عليه وسلم

تأليف الشّيخ الإمام العلاّمة عزّ الدّين محمّد بن جماعة المتوفى سنة/819 هـ

تحقيق وتعليق عدنان أبو زيد
সৃষ্টিসেরা মানবের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সীরাত বিষয়ক উজ্জ্বল ও বহুমূল্য রত্নরাজি

রচনা: শায়খ আল-ইমাম আল-আল্লামা ইযযুদ্দিন মুহাম্মদ বিন জামাআ, মৃত্যু: ৮১৯ হিজরি

তাহকিক ও টীকা: আদনান আবু যায়েদ
(খণ্ড: ১) আল-গুরার ওয়াদ দুরার ফী সীরাতি খাইরিল বাশার (পৃষ্ঠা: ৩১)
بسم الله الرحمن الرحيم

قال الشّيخ الإمام العلاّمة مفتي المسلمين أوحد العلماء العاملين محمد بن جماعة(1) -لطف الله به في الدنيا والآخرة-بعد حمد الله، والصلاة على رسوله محمد وعلى آله وصحبه وسلّم:

هذا مصنّف صغير الحجم عزيز العلم، مشتمل على مهمّات من سيرة سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم، وسمّيته بالغرر والدّرر في سيرة خير البشر.

وعلى الله الكريم اعتمادي، وإليه تفويضي واستنادي، وهو حسبي ونعم الوكيل.

--------------------------------------------

(1) انظر ترجمته في المصادر الآتية: «إنباء الغمر» لابن حجر (115/ 3 - 117)، و «طبقات الشافعية» لابن قاضي شهبة (378/ 2 - 380)، و «الضوء اللامع» للسخاوي (171/ 7 - 174)، و «وجيز الكلام» للسخاوي (441/ 2 - 442)، و «بغية الوعاة»: (25 - 27)، و «حسن المحاضرة» (317/ 1)، و «شذرات الذهب» (139/ 4)، و «البدر الطالع» (171/ 2 - 174)، و «الأعلام» (5657)، و «معجم المؤلفين» (111/ 9).
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

শায়খ, ইমাম, আল্লামা, মুসলিমদের মুফতি, আমলকারী আলেমদের মধ্যে অনন্য মুহাম্মদ ইবনে জামাআহ(১) —আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে তাঁর প্রতি সদয় হোন— আল্লাহর প্রশংসা এবং তাঁর রাসুল মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর দরুদ ও সালাম পেশ করার পর বলেন:

এটি আকারে ছোট কিন্তু জ্ঞানে সমৃদ্ধ একটি সংকলন, যা আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সিরাতের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি সম্বলিত; আমি এর নাম রেখেছি 'সেরা মানবের সিরাতের ক্ষেত্রে উজ্জ্বল নক্ষত্র ও মুক্তাসমূহ'।

মহান আল্লাহর ওপরই আমার নির্ভরতা, তাঁরই নিকট আমার সমর্পণ ও আশ্রয়, আর তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

--------------------------------------------

(১) নিম্নোক্ত উৎসগুলোতে তাঁর জীবনী দেখুন: ইবনে হাজারের «ইনবাউল গুমর» (৩/ ১১৫-১১৭), ইবনে কাজি শুহবাহর «তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ» (২/ ৩৭৮-৩৮০), সাখাভীয়ের «আদ-দাওউল লামি» (৭/ ১৭১-১৭৪), সাখাভীয়ের «ওয়াজিজুল কালাম» (২/ ৪৪১-৪৪২), «বুগয়াতুল উয়াত» (২৫-২৭), «হুসনুল মুহাদারা» (১/ ৩১৭), «শাযারাতুজ জাহাব» (৪/ ১৩৯), «আল-বাদরুত তালি» (২/ ১৭১-১৭৪), «আল-আলাম» (৫৬৫৭), এবং «মুজামুল মুআল্লিফিন» (৯/ ১১১)।
(খণ্ড: ১) আল-গুরার ওয়াদ দুরার ফী সীরাতি খাইরিল বাশার (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌1 - 2 - نسبه صلى الله عليه وسلم وأسماؤه

هو أبو القاسم محمّد(1) بن عبد الله بن عبد المطّلب(2) بن هاشم(3) بن عبد مناف(4) بن [قصيّ(5) بن كلاب](6) بن مرّة بن كعب بن لؤيّ بن غالب بن فهر بن مالك بن النّضر بن كنانة بن خزيمة بن مدركة(7) بن إلياس [بن مضر بن نزار] بن معدّ بن عدنان، هذا ما اجتمع عليه(8).

--------------------------------------------

(1) رأيت أن أثبت هاهنا ذكر معنى اسمه صلى الله عليه وسلم، وما اشتمل عليه من الفضائل كما ذكره ابن القيم في «زاد المعاد» (89/ 1)، قال: «فهو اسم مفعول من حمّد، فهو محمّد: إذا كان كثير الخصال التي يحمد عليها، ولذلك كان أبلغ من محمود؛ فإن محمودا من الثلاثي المجرد، ومحمّد من المضاعف؛ للمبالغة، فهو الذي يحمد أكثر مما يحمد غيره من البشر؛ ولهذا-والله أعلم-سمي به في التوراة؛ لكثرة الخصال المحمودة التي وصف بها هو ودينه، وأمته في التوراة، حتى تمنى موسى-عليه الصلاة والسلام-أن يكون منهم».

(2) عبد المطّلب لقب له، واسمه: شيبة.

(3) واسمه: عمرو.

(4) واسمه: المغيرة.

(5) واسمه: زيد.

(6) ما بين المعكوفتين فات ذكره، لعله سبق قلم من الناسخ.

(7) واسمه: عامر.

(8) إلى هاهنا معلوم الصحة متفق عليه بين النسابين، ولا خلاف فيه ألبتة، وما فوق عدنان مختلف فيه، ولا خلاف بينهم أن عدنان من ولد إسماعيل- عليه السلام. قاله ابن القيم في «زاد المعاد» (71/ 1).
‌১ - ২ - তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বংশপরিচয় ও নামসমূহ

তিনি হলেন আবুল কাসেম মুহাম্মদ(১) বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুত্তালিব(২) বিন হাশিম(৩) বিন আব্দে মানাফ(৪) বিন [কুসাই(৫) বিন কিলাব](৬) বিন মুররাহ বিন কাব বিন লুআই বিন গালিব বিন ফিহর বিন মালিক বিন নাদর বিন কিনানাহ বিন খুজাইমাহ বিন মুদরিকাহ(৭) বিন ইলিয়াস [বিন মুদার বিন নিযার] বিন মাআদ বিন আদনান। এটিই সেই বংশপরম্পরা যার ওপর সকলে ঐকমত্য পোষণ করেছেন(৮)।

--------------------------------------------

(১) আমি এখানে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নামের অর্থের আলোচনা এবং এটি যে সকল ফযীলত বা গুণাবলিকে অন্তর্ভুক্ত করে তা সাব্যস্ত করা সমীচীন মনে করেছি, যেমনটি ইবনুল কাইয়্যিম 'যাদুল মাআদ' (১/৮৯) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: "এটি 'হাম্মাদা' (ক্রিয়ামূল) থেকে ইসমে মাফউল (কর্মবাচক বিশেষ্য), সুতরাং তিনি 'মুহাম্মদ': যখন প্রশংসিত হওয়ার মতো তাঁর গুণাবলি প্রচুর হয়। এ কারণেই এটি 'মাহমুদ' অপেক্ষা অধিক অর্থবহ; কেননা 'মাহমুদ' শব্দটি তিন অক্ষরবিশিষ্ট মৌলিক ক্রিয়ামূল (সুলাসি মুজাররাদ) থেকে আগত, আর 'মুহাম্মদ' শব্দটি আধিক্য বুঝানোর জন্য দ্বিত্বাক্ষরবিশিষ্ট (মুদাআফ) শব্দ থেকে গঠিত। ফলে তিনি এমন একজন ব্যক্তি যাঁর প্রশংসা মানুষের মধ্যে অন্য সকলের চেয়ে বেশি করা হয়। এ কারণেই—আল্লাহই ভালো জানেন—তাওরাত গ্রন্থে তাঁকে এই নামেই নামকরণ করা হয়েছে; কারণ তাওরাতে তিনি, তাঁর দীন এবং তাঁর উম্মতকে এমন অনেক প্রশংসনীয় গুণাবলিতে বিশেষিত করা হয়েছে যা বর্ণনা করা হয়েছে, এমনকি মূসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কামনা করেছিলেন।"

(২) আব্দুল মুত্তালিব তাঁর উপাধি, তাঁর নাম ছিল: শাইবাহ।

(৩) তাঁর নাম ছিল: আমর।

(৪) তাঁর নাম ছিল: মুগীরাহ।

(৫) তাঁর নাম ছিল: যায়েদ।

(৬) বন্ধনীদ্বয়ের মধ্যবর্তী অংশটি উল্লেখ করতে বাদ পড়েছিল, সম্ভবত এটি অনুলিপিকারীর অনিচ্ছাকৃত ভুল ছিল।

(৭) তাঁর নাম ছিল: আমির।

(৮) এ পর্যন্ত বংশপরম্পরা বিশুদ্ধ হিসেবে জানা যায় এবং বংশবিদদের নিকট এটি সর্বসম্মত, এতে বিন্দুমাত্র মতভেদ নেই। আর আদনানের পরবর্তী ঊর্ধ্বতন পুরুষদের ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে। তবে তাঁদের মধ্যে এ ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই যে, আদনান ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধর। ইবনুল কাইয়্যিম 'যাদুল মাআদ' (১/৭১) গ্রন্থে এমনটিই বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-গুরার ওয়াদ দুরার ফী সীরাতি খাইরিল বাশার (পৃষ্ঠা: ৩৩)
ومن أسمائه صلى الله عليه وسلم(1):

1 - أحمد.

2 - والماحي.

3 - والحاشر.

4 - والعاقب.

5 - والمنقّي(2).

6 - ونبيّ التوبة.

7 - ونبيّ الرحمة.

8 - ونبيّ الملحمة.

9 - والفاتح.

10 - وعبد الله.

11 - والمبشّر.

--------------------------------------------

(1) وفي «صحيح مسلم» (1828/ 4): أن رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال: «ثم إن لي أسماء، أنا: محمد، وأنا أحمد، وأنا الماحي الذي يمحو الله بي الكفر، وأنا الحاشر الذي يحشر الناس على قدمي، وأنا العاقب الذي ليس بعده أحد»، وقد سماه الله رؤوفا رحيما. وكذلك في نفس الجزء والصفحة: عن أبي موسى الأشعري، قال: ثم كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يسمي لنا نفسه أسماء؛ فقال: «أنا محمد، وأحمد، والمقفي، والحاشر، ونبي التوبة، ونبي الرحمة».

(2) كذا في الأصل، ولم أجده فيما بين يدي من المصادر التي سردت أسماءه، ولعله: (المقفّي)، وهو مذكور عندهم في عداد أسمائه صلى الله عليه وسلم.
এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো(১):

১ - আহমাদ।

২ - আল-মাহি।

৩ - আল-হাশির।

৪ - আল-আকিব।

৫ - আল-মুনাক্কি(২)।

৬ - তাওবার নবী।

৭ - রহমতের নবী।

৮ - মহাযুদ্ধের নবী।

৯ - আল-ফাতিহ (বিজয়ী)।

১০ - আবদুল্লাহ (আল্লাহর বান্দা)।

১১ - সুসংবাদদাতা।

--------------------------------------------

(১) এবং ‘সহীহ মুসলিম’-এ (৪/১৮২৮) বর্ণিত হয়েছে যে: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «অতঃপর নিশ্চয়ই আমার কতগুলো নাম রয়েছে; আমি মুহাম্মাদ, আমি আহমাদ, আমি আল-মাহি (মিটিয়ে দাতা) যার মাধ্যমে আল্লাহ কুফরকে মিটিয়ে দেন, আমি আল-হাশির (সমবেতকারী) যার পায়ের কাছে মানুষকে সমবেত করা হবে, এবং আমি আল-আকিব (সর্বশেষ) যার পরে আর কেউ নেই», আর আল্লাহ তাঁর নাম রেখেছেন রউফ (অত্যন্ত দয়ালু) ও রাহীম (পরম করুণাময়)। অনুরূপভাবে একই খণ্ড ও পৃষ্ঠায়: আবু মুসা আল-আশআরি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের কাছে তাঁর নিজের কতগুলো নাম উল্লেখ করতেন; তিনি বলতেন: «আমি মুহাম্মাদ, আহমাদ, আল-মুকাফ্ফি, আল-হাশির, তাওবার নবী এবং রহমতের নবী»।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, তবে আমার নিকট বিদ্যমান উৎসসমূহের মধ্যে যেখানে তাঁর নামগুলো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে সেখানে আমি এটি খুঁজে পাইনি। সম্ভবত এটি হবে: (আল-মুকাফ্ফি), যা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নামসমূহের তালিকায় তাদের কাছে উল্লিখিত রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-গুরার ওয়াদ দুরার ফী সীরাতি খাইরিল বাশার (পৃষ্ঠা: ৩৪)
12 - والنذير.

13 - والأمين.

14 - ومصطفى.

15 - والمتوكّل.

16 - وطه.

17 - ويس(1).

تنبيه: [قال] ابن دحية(2): إذا فحص عنها، بلغت الثلاث مئة.

 

‌‌3 - أمه صلى الله عليه وسلم:

آمنة بنت وهب بن عبد مناف بن زهرة بن كلاب.

توفي والده(3) وهو حمل-على الصحيح(4) -قبل ولادته بشهرين،

--------------------------------------------

(1) قال الذهبي في السيرة النبوية من «تاريخ الإسلام» (31): «وقال وكيع عن إسماعيل، عن ابن عمر، عن ابن الحنفية، قال: يس: محمد صلى الله عليه وسلم، وعن بعضهم، قال: لرسول الله صلى الله عليه وسلم في القرآن خمسة أسماء: محمد، وعبد الله، ويس، وطه».

(2) هو: عمر بن الحسن بن علي بن محمد بن فرج بن خلف بن دحية الكلبي، الأندلسي، الظاهري، محدث حافظ، رحالة، استوطن بجّاية، صاحب كتاب «نهاية السّول في خصائص الرسول صلى الله عليه وسلم»، انظر: «وفيات الأعيان» (482/ 1)، و «السير» (217/ 13)، و «شذرات الذهب» (16/ 5).

(3) توفي في المدينة عند أخواله بني النجار، وكان قد مر بهم، وهو في تجارة له، فمرض، فبقى عندهم شهرا، ثم توفي، ودفن بدار أحد بني النجار. انظر: «طبقات ابن سعد» (99/ 1).

(4) هذا قول ابن إسحاق، انظر: «السيرة النبوية» لابن هشام (167/ 1).
১২ - এবং সতর্ককারী।

১৩ - এবং বিশ্বস্ত।

১৪ - এবং মনোনীত।

১৫ - এবং তাওয়াক্কুলকারী।

১৬ - এবং ত্ব-হা।

১৭ - এবং ইয়া-সীন(১)।

সতর্কবার্তা: [বলেছেন] ইবনে দিহ্ইয়া(২): যদি এগুলো অনুসন্ধান করা হয়, তবে তা তিনশতে পৌঁছাবে।

 

‌‌৩ - তাঁর মা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম:

আমিনা বিনতে ওয়াহাব ইবনে আবদে মানাফ ইবনে যুহরাহ ইবনে কিলাব।

তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন(৩) যখন তিনি গর্ভে ছিলেন—সঠিক মতানুসারে(৪)—তাঁর জন্মের দুই মাস পূর্বে।

--------------------------------------------

(১) আয-যাহাবী ‘তারিখুল ইসলাম’-এর সীরাতুন্নববী অংশে (৩১) বলেছেন: “ওয়াকী‘ ইসমাইল থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি ইবনুল হানাফিয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইয়াসীন হলেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আবার কারো কারো থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: কুরআনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাঁচটি নাম রয়েছে: মুহাম্মদ, আবদুল্লাহ, ইয়াসীন এবং ত্ব-হা।”

(২) তিনি হলেন: উমর ইবনুল হাসান ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ফারাজ ইবনে খালাফ ইবনে দিহ্ইয়া আল-কালবী, আল-আন্দালুসী, আয-যাহিরী, মুহাদ্দিস ও হাফেয, পর্যটক, বিজায়াহ অঞ্চলে বসবাসকারী, ‘নিহায়াতুস সূল ফী খাসাইসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ গ্রন্থের রচয়িতা। দেখুন: ‘ওয়াফায়াতুল আইয়ান’ (১/৪৮২), ‘আস-সিয়ার’ (১৩/২১৭) এবং ‘শাযারাতুয যাহাব’ (৫/১৬)।

(৩) তিনি মদীনায় তাঁর মামার বংশ বনু নাজ্জারের নিকট ইন্তেকাল করেন। তিনি এক ব্যবসায়িক সফরে তাঁদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাঁদের কাছে এক মাস অবস্থান করেন। অতঃপর তিনি ইন্তেকাল করেন এবং বনু নাজ্জারের একজনের বাড়িতে তাঁকে দাফন করা হয়। দেখুন: ইবনে সা‘দের ‘তবাকাত’ (১/৯৯)।

(৪) এটি ইবনে ইসহাকের অভিমত। দেখুন: ইবনে হিশামের ‘আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ’ (১/১৬৭)।
(খণ্ড: ১) আল-গুরার ওয়াদ দুরার ফী সীরাতি খাইরিল বাশার (পৃষ্ঠা: ৩৫)
وقيل: وله شهران(1)، وقيل: سبعة، وقيل: ثمانية وعشرون شهرا(2)، وقيل: ثلاثون.

 

‌‌4 - مدة حمله صلى الله عليه وسلم:

قيل: عشرة، وقيل: تسعة، وقيل: ثمانية، وقيل: سبعة، وقيل: ستة.

 

‌‌5 - مولده صلى الله عليه وسلم:

المشهور: أنه عام الفيل(3) بمكّة في ربيع الأول يوم الاثنين.

والصحيح: لعشر(4) خلون منه حين طلع الفجر.

وقيل: ثانيه.

وقيل: ثالثه.

وقيل: ثامنه.

وقيل: ثاني عشره(5).

--------------------------------------------

(1) ذكره ابن سيد الناس في «سيرته» (38/ 1) نقلا عن ابن أبي خيثمة.

(2) كتب في الأصل: سنة، وهو خطأ بين، والله أعلم.

(3) قال خليفة بن خياط في «تاريخه» (53): «المجمع عليه أنه ولد عام الفيل».

(4) نقل ذلك الذهبي في السيرة من «تاريخه» (27)، نقلا عن شيخه الدمياطي.

(5) وهو قول ابن إسحاق، كما نقله ابن هشام في «السيرة» (167/ 1).
এবং বলা হয়েছে: তখন তাঁর বয়স ছিল দুই মাস(১), এবং বলা হয়েছে: সাত মাস, এবং বলা হয়েছে: আটাশ মাস(২), এবং বলা হয়েছে: ত্রিশ মাস।

 

‌‌৪ - তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গর্ভকালীন সময়কাল:

বলা হয়েছে: দশ মাস, এবং বলা হয়েছে: নয় মাস, এবং বলা হয়েছে: আট মাস, এবং বলা হয়েছে: সাত মাস, এবং বলা হয়েছে: ছয় মাস।

 

‌‌৫ - তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জন্ম:

প্রসিদ্ধ মত হলো: তিনি হস্তীবর্ষে(৩) মক্কায় রবিউল আউয়াল মাসে সোমবার দিনে জন্মগ্রহণ করেন।

আর বিশুদ্ধ মত হলো: সেই মাসের দশ দিন(৪) অতিবাহিত হওয়ার পর উষালগ্নে।

এবং বলা হয়েছে: দ্বিতীয় তারিখে।

এবং বলা হয়েছে: তৃতীয় তারিখে।

এবং বলা হয়েছে: অষ্টম তারিখে।

এবং বলা হয়েছে: দ্বাদশ তারিখে(৫)।

--------------------------------------------

(১) ইবনুল সায়্যিদিন নাস তাঁর ‘সিরাত’ (১/৩৮) গ্রন্থে ইবনে আবি খাইসামা থেকে উদ্ধৃত করে এটি উল্লেখ করেছেন।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে ‘বছর’ লেখা হয়েছে, যা একটি সুস্পষ্ট ভুল, আল্লাহই ভালো জানেন।

(৩) খলিফা ইবনে খাইয়াত তাঁর ‘তারিখ’ (৫৩) গ্রন্থে বলেছেন: ‘ঐকমত্য হলো যে, তিনি হস্তীবর্ষে জন্মগ্রহণ করেছেন’।

(৪) যাহাবি তাঁর ‘তারিখ’ (২৭) এর সীরাত অংশে তাঁর উস্তাদ দামিয়াতি থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন।

(৫) এটি ইবনে ইসহাকের অভিমত, যেমনটি ইবনে হিশাম তাঁর ‘সিরাত’ (১/১৬৭) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-গুরার ওয়াদ দুরার ফী সীরাতি খাইরিল বাশার (পৃষ্ঠা: ৩৬)
وقيل: ثاني عشر رمضان(1).

وقيل: في ربيع الآخر.

 

‌‌6 - [صفاته صلى الله عليه وسلم]:

تنبيه: ولد مختونا(2)، مسرورا(3).

-عن كعب الأحبار(4): خلق آدم مختونا، وثلاثة عشر نبيا من ولده

--------------------------------------------

(1) نقل ذلك الذهبي في السيرة النبوية من «تاريخ الإسلام» (25)، وضعفه.

(2) قال ابن القيم في «زاد المعاد» (81/ 1): «وقد اختلف فيه على ثلاثة أقوال: أحدها: أنه ولد مختونا مسرورا، وروي في ذلك حديث لا يصح، ذكره أبو الفرج بن الجوزي في «الموضوعات»، وليس فيه حديث ثابت، وليس هذا من خواصه، فإن كثيرا من الناس يولد مختونا»، ثم قال: «القول الثاني: أنه ختن يوم شق قلبه الملائكة عند ظئره حليمة، القول الثالث: أن جده عبد المطلب ختنه يوم سابعه، وصنع له مأدبة، وسماه: محمدا».

(3) ذكر ذلك ابن سعد (103/ 1)، عن ابن عباس عن أبيه-رضي الله عنهما. وقال الذهبي في «السيرة النبوية» (27): «عن ابن عباس-رضي الله عنهما: أن عبد المطلب ختن النبي صلى الله عليه وسلم يوم سابعه، وصنع له مأدبة، وسماه محمدا؛ وهذا أصحهما، رواه ابن سعد، وذكر إسناد ابن سعد إلى ابن عباس عن أبيه العباس-رضي الله عنهما، قال: ولد النبي صلى الله عليه وسلم مختونا مسرورا». وكذلك نقل ابن كثير في «السيرة النبوية» (209/ 1) الأخبار التي رويت في ذلك، وقال بعدها: «وقد ادعى بعضهم صحته؛ لما ورد له من الطرق، حتى زعم بعضهم أنه متواتر، وفي هذا كله نظر، ومعنى مختونا: أي مقطوع الختان، ومسرورا: أي مقطوع السرة من بطن أمه».

(4) ذكر ذلك الصالحي في «سبل الهدى والرشاد في سيرة خير العباد» (348/ 1)، نقلا عن ابن دريد في «الوشاح»، وابن الجوزي في «التلقيح».
এবং কেউ কেউ বলেছেন: রমজান মাসের বারো তারিখ(১)।

আবার কেউ কেউ বলেছেন: রবিউস সানি মাসে।

 

‌‌৬ - [তাঁর গুণাবলি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)]:

সতর্কবার্তা: তিনি খতনাকৃত(২) ও নাভি কাটা(৩) অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেন।

-কাব আল-আহবার(৪) থেকে বর্ণিত: আদমকে খতনাকৃত অবস্থায় সৃষ্টি করা হয়েছিল, এবং তাঁর সন্তানদের মধ্যে আরও তেরোজন নবীকেও (একই অবস্থায় সৃষ্টি করা হয়েছে)।

--------------------------------------------

(১) আয-যাহাবি ‘তারিখুল ইসলাম’ (২৫)-এর সীরাতুন নববী অংশে এটি উদ্ধৃত করেছেন এবং একে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন।

(২) ইবনুল কায়্যিম ‘যাদুল মাআদ’ (১/৮১)-এ বলেছেন: “এ বিষয়ে তিনটি অভিমত রয়েছে: প্রথমটি হলো: তিনি খতনাকৃত ও নাভি কাটা অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেছেন; এ বিষয়ে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে যা সহীহ নয়, আবুল ফারাজ ইবনুল জাওজি এটি ‘আল-মাওদুআত’-এ উল্লেখ করেছেন, এ বিষয়ে কোনো সাব্যস্ত হাদিস নেই। এটি তাঁর বিশেষ কোনো বৈশিষ্ট্যও নয়, কারণ অনেক মানুষই খতনাকৃত অবস্থায় জন্মগ্রহণ করে।” অতঃপর তিনি বলেন: “দ্বিতীয় অভিমত: ফেরেশতারা যখন তাঁর ধাত্রী হালীমার নিকট থাকা অবস্থায় তাঁর বক্ষ বিদীর্ণ করেছিলেন, তখন তাঁর খতনা করা হয়। তৃতীয় অভিমত: তাঁর দাদা আব্দুল মুত্তালিব সপ্তম দিনে তাঁর খতনা করান, তাঁর জন্য একটি ভোজের আয়োজন করেন এবং তাঁর নাম রাখেন মুহাম্মাদ।”

(৩) ইবনে সাদ (১/১০৩) ইবনে আব্বাস থেকে তাঁর পিতার সূত্রে (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এটি উল্লেখ করেছেন। আয-যাহাবি ‘সীরাতুন নববী’ (২৭)-তে বলেন: “ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত: আব্দুল মুত্তালিব সপ্তম দিনে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর খতনা করান, তাঁর জন্য একটি ভোজের আয়োজন করেন এবং তাঁর নাম রাখেন মুহাম্মাদ; এটিই দুটি মতের মধ্যে অধিক বিশুদ্ধ। এটি ইবনে সাদ বর্ণনা করেছেন।” তিনি ইবনে সাদ-এর সূত্র ইবনে আব্বাসের মাধ্যমে তাঁর পিতা আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) পর্যন্ত উল্লেখ করেন এবং বলেন: “নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খতনাকৃত ও নাভি কাটা অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেন।” অনুরূপভাবে ইবনে কাসীরও ‘সীরাতুন নববী’ (১/২০৯)-তে এ সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো উদ্ধৃত করেছেন এবং এরপর বলেছেন: “কেউ কেউ এর বিভিন্ন সূত্রের কারণে একে সহীহ দাবি করেছেন, এমনকি কেউ কেউ তো একে মুতাওয়াতিরও মনে করেছেন। তবে এ সবকিছুর মধ্যেই পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। ‘মাখতুন’ অর্থ হলো যার খতনা সম্পন্ন হয়েছে এবং ‘মাসরুর’ অর্থ হলো মায়ের গর্ভ থেকে যার নাভি কাটা হয়েছে।”

(৪) আস-সালিহী এটি ‘সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ ফী সীরাতি খাইরিল ইবাদ’ (১/৩৪৮)-এ ইবনে দুরাইদ-এর ‘আল-উশাহ’ এবং ইবনুল জাওজির ‘আত-তালকীহ’ থেকে উদ্ধৃত করে উল্লেখ করেছেন।