(খণ্ড: ১)
সালাতুত তারাবীহ - আলবানী
(পৃষ্ঠা: -)
صلاة التراويح - الألباني (ناصر الدين الألباني)
القسم: مسائل فقهية
الكتاب: صلاة التراويح
المؤلف: محمد ناصر الدين الألباني (ت 1420هـ)
الناشر: مكتبة المعارف للنشر والتوزيع - الرياض
الطبعة: الأولى - 1421
عدد الصفحات: 125
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সালাতুত তারাবিহ - আলবানি (নাসিরুদ্দিন আলবানি)
বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
বই: সালাতুত তারাবিহ
লেখক: মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আলবানি (ওফাত ১৪২০ হিজরি)
প্রকাশক: মাকতাবাতুল মাআরিফ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন - রিয়াদ
সংস্করণ: প্রথম - ১৪২১
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৫
[বইয়ের পৃষ্ঠা বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তারাবীহ - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ১)
صلاة التراويحصلوا كما رأيتموني أصلي (البخاري)للعلامة المحدثمحمد ناصر الدين الألبانيرحمه الله تعالىمكتبة المعارف للنشر والتوزيع - الرياضط 1، 1421 هـ
সালাতুত তারাবিহতোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ (বুখারি)বিজ্ঞ মুহাদ্দিস (المحدث)মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানীআল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুনমাকতাবাতুল মাআরিফ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন - রিয়াদ১ম সংস্করণ, ১৪২১ হিজরি
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তারাবীহ - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ১০)
- 1 - تمهيد في استحباب الجماعة في التراويحلا يشك عام اليوم بالسنة في مشروعية صلاة الليل جماعة في رمضان هذه الصلاة التي تعرف بصلاة التراويح لأمور ثلاثة:أ - إقراره صلى الله عليه وسلم بالجماعة فيهاب - إقامته إياهاج - بيانه لفضلها-أما الإقرار فلحديث ثعلبة بن أبي مالك القرظي قال:- 1 (حسن)خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات ليلة في رمضان فرأى ناسا في ناحية المسجد يصلون فقال: ما يصنع هؤلاء؟ قال قائل: يا رسول الله هؤلاء ناس ليس معهم قرآن وأبي بن كعب يقرأ وهم معه يصلون بصلاتهفقال: " قد أحسنوا " أو " قد أصابوا "ولم يكره ذلك منهمرواه البيهقي (2 / 495) وقال هذا مرسل حسنقلت: وقد روي موصولا من طريق آخر عن أبي هريرة بسند لابأس به في المتابعات والشواهد أخرجه ابن نصر في قيام الليل (ص 20) وأبو داود (1 / 217) والبيهقي][10]
- ১ - তারাবিহতে জামাতের মুস্তাহাব (পছন্দনীয়তা) বিষয়ে ভূমিকাসুন্নাহ সম্পর্কে অবগত বর্তমান সময়ের সাধারণ মানুষ রমজানে জামাতের সাথে রাতের সালাত বিধিবদ্ধ হওয়ার (مشروعية) ব্যাপারে কোনো সন্দেহ পোষণ করেন না; এই সালাত তিনটি কারণে 'সালাতুত তারাবিহ' নামে পরিচিত:ক - এতে জামাত অনুষ্ঠানের প্রতি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মৌন সম্মতি (إقرار)খ - তাঁর নিজের এটি কায়েম করাগ - এর ফজিলত বা গুরুত্ব বর্ণনা করা-মৌন সম্মতির (إقرار) দলিল হলো সা'লাবা বিন আবি মালিক আল-কুরাজি বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন:- ১ (হাসান (حسن))রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমজানের এক রাতে বের হলেন এবং মসজিদের এক কোণে কিছু লোককে সালাত আদায় করতে দেখলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "এরা কী করছে?" একজন উত্তর দিলেন: "হে আল্লাহর রাসুল! এরা এমন লোক যাদের কাছে (পুরো) কুরআন (মুখস্থ) নেই, আর উবাই ইবনে কাব তিলাওয়াত করছেন এবং তারা তাঁর সাথে তাঁর সালাত অনুসরণ করে সালাত আদায় করছে।"তখন তিনি বললেন: "তারা ভালো কাজ করেছে" অথবা "তারা সঠিক কাজ করেছে।"তিনি তাদের এই কাজটিকে অপছন্দ করেননি।এটি বায়হাকি বর্ণনা করেছেন (২ / ৪৯৫) এবং তিনি বলেছেন এটি মুরসাল (مرسل) হাসান (حسن)।আমি (লেখক) বলছি: এটি আবু হুরায়রা থেকে অন্য সূত্রে নিরবচ্ছিন্ন (موصول) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, যার সনদ (سند) মুতাবায়াত (المتابعات) এবং শাওয়াাহিদ (الشواهد) এর ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য (لا بأس به); এটি ইবনে নাসর 'কিয়ামুল লাইল' (পৃষ্ঠা ২০), আবু দাউদ (১ / ২১৭) এবং বায়হাকি বর্ণনা করেছেন।[10]
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তারাবীহ - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ১০)
ب - وأما إقامته صلى الله عليه وسلم إياها ففيه أحاديث:الأول- 2 (صحيح)عن النعمان بن بشير قال: قمنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلة ثلاث وعشرين في شهر رمضان إلى ثلث الليل الأول ثم قمنا معه ليلة خمس وعشرين إلى نصف الليل ثم قام بنا ليلة سبع وعشرين حتى ظننا أن لا ندرك الفلاح قال وكنا ندعو السحور الفلاحرواه ابن أبي شيبة في المصنف (2 / 90 / 2) وابن نصر (89) والنسائي (1 / 238) وأحمد (4 / 272) والفرياني واسناده صحيح وصححه الحاكم 1 / 440) وقال:وفيه الدليل الواضح أن صلاة التراويح في مساجد المسلمين سنة مسنونة وقد كان علي بن أبي طالب يحث عمر رضي الله عن هما على إقامة هذه السنة إلى أن أقامهاالثاني:- 3 (صحيح)عن أنس قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي في رمضان فجئت فقمت إلى جنبه ثم جاء آخر ثم جاء آخر حتى كنا رهطا (1) فلما أحس رسول الله صلى الله عليه وسلم أنا خلفه تجوز (2) في الصلاة ثم دخل منزله فلما دخل منزله صلى صلاة لم يصلها عندنا فلما أصبحنا قلنا: يا رسول الله أو فطنت لنا البارحة؟ فقال: نعم وذاك الذي حملني على ما صنعترواه أحمد وابن نصر بسندين صحيحين والطبراني في الأوسط بنحوه]
খ - আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক এটি পালনের বিষয়ে বেশ কিছু হাদিস রয়েছে:প্রথম- ২ (বিশুদ্ধ (صحيح))নুমান ইবনে বশীর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা রমজান মাসের তেইশতম রাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে রাতের প্রথম এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত নামাজ পড়লাম। এরপর পঁচিশতম রাতে তাঁর সাথে মধ্যরাত পর্যন্ত নামাজ পড়লাম। অতঃপর সাতাশতম রাতে তিনি আমাদের নিয়ে নামাজে দাঁড়ালেন, এমনকি আমাদের আশঙ্কা হলো যে আমরা ‘ফালাহ’ পাব না। তিনি বলেন, আমরা সাহরিকে ‘ফালাহ’ বলতাম।এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি শায়বা মুসান্নাফ গ্রন্থে (২/৯০/২), ইবনে নাসর (৮৯), নাসাঈ (১/২৩৮), আহমদ (৪/২৭২) এবং ফিরইয়াবি। এর সনদ (إسناد) বিশুদ্ধ (صحيح) এবং একে হাকিম (১/৪৪০) বিশুদ্ধ (صحيح) বলেছেন এবং তিনি বলেন:এতে সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে যে, মুসলিমদের মসজিদসমূহে তারাবিহ নামাজ পড়া একটি প্রতিষ্ঠিত সুন্নত। আর আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে এই সুন্নত কায়েম করার জন্য উৎসাহ দিতেন, যতক্ষণ না তিনি তা কায়েম করলেন।দ্বিতীয়:- ৩ (বিশুদ্ধ (صحيح))আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমজানে নামাজ পড়ছিলেন। আমি এসে তাঁর পাশে দাঁড়ালাম। এরপর অন্য একজন আসলেন, তারপর আরও একজন, এমনকি আমরা একটি ছোট দলে পরিণত হলাম। যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অনুভব করলেন যে আমরা তাঁর পেছনে আছি, তখন তিনি নামাজ সংক্ষেপ করলেন। এরপর তিনি নিজের ঘরে প্রবেশ করলেন। ঘরে ঢুকে তিনি এমন এক নামাজ পড়লেন যা আমাদের সামনে পড়েননি। যখন সকাল হলো, আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি গতরাতে আমাদের উপস্থিতি টের পেয়েছিলেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আর সেটিই আমাকে তা করতে উদ্বুদ্ধ করেছে যা আমি করেছি।এটি বর্ণনা করেছেন আহমদ এবং ইবনে নাসর দুটি বিশুদ্ধ (صحيح) সনদে এবং তাবারানি আল-আওসাত গ্রন্থে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন]
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তারাবীহ - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ১১)
(1) الرهط ما دون العشرة(2) أي: خفف[11]
(1) 'রাহত' (رهط) হলো দশের কম সংখ্যক ব্যক্তি।(2) অর্থাৎ: লাঘব করেছেন (خفف)।[11]
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তারাবীহ - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ১১)
الثالث:- 4 (صحيح)عن عائشة قالت: كان الناس يصلون في مسجد رسول الله صلى الله عليه وسلم رمضان بالليل أوزاعا (1) يكون مع الرجل شيء من القرآن فيكون معه النفر الخمسة والستة أو أقل من ذلك أو أكثر فيصلون بصلاته فأمرني رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلة من ذلك أن أنصب (2) له حصيرا على باب حجرتي ففعلت فخرج إليه رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد أن صلى العشاء الآخرة قالت: فاجتمع إليه من في المسجد فصلى بهم رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلا طويلا ثم انصرف رسول الله صلى الله عليه وسلم فدخل وترك الحصير على حاله فلما أصبح الناس تحدثوا بصلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم بمن كان معه في المسجد تلك الليلة (فاجتمع أكثر) منهم وأمسى المسجد راجا بالناس (3)(فخرج رسول الله صلى الله عليه وسلم في الليلة الثانية فصلوا بصلاته فاصبح الناس يذكرون ذلك فكثر أهل المسجد (حتى اغتص بأهله) من الليلة الثالثة فخرج فصلوا بصلاتهفلما كانت الليلة الرابعة عجز المسجد عن أهله) فصلى بهم رسول الله صلى الله عليه وسلم العشاء الآخرة ثم دخل بيته وثبت الناس قالت: فقال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم ما شأن الناس يا عائشة قالت: فقلت له: يا رسول الله سمع الناس بصلاتك البارحة بمن كان في المسجد فحشدوا لذلك لتصلي بهم قالت فقال: إطو عنا حصيرك يا عائشة قالت: ففعلت وبات رسول الله صلى الله عليه وسلم غير غافل وثبت الناس مكانهم (فطفق رجال منهم يقولون: الصلاة) حتى خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى الصبح (فلما قضى الفجر أقبل على الناس ثم تشهد (4) فقال أما بعد) أيها الناس أما والله ما بت والحمد لله ليلتي هذه غافلا وما خفي علي مكانكم ولكني تخوفت أن يفترض عليكم (وفي رواية ولكن خشيت أن تفرض عليكم صلاة الليل فتعجزوا عنها) فاكلفوا من الأعمال ما تطيقون فإن الله لا يمل حتى تملوازاد في رواية أخرى قال الزهري فتوفي رسول الله صلى الله عليه وسلم والناس على ذلك ثم كان الأمر على ذلك في خلافة أبي بكر وصدرا من خلافة عمر (5)
তৃতীয়:- ৪ (সহিহ (صحيح))আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রমজান মাসে রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদে মানুষ বিচ্ছিন্ন বিভিন্ন দলে (১) বিভক্ত হয়ে নামাজ আদায় করতেন। কোনো ব্যক্তির কাছে কুরআনের কিছু অংশ মুখস্থ থাকলে তাঁর সাথে পাঁচজন, ছয়জন বা তার চেয়ে কম-বেশি মানুষ সমবেত হতেন এবং তাঁর ইমামতিতে নামাজ পড়তেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রাতে আমাকে নির্দেশ দিলেন তাঁর জন্য আমার কক্ষের দরজায় একটি চাটাই (২) বিছিয়ে দিতে। আমি তা-ই করলাম। তিনি এশার নামাজ আদায়ের পর বের হলেন। আয়েশা (রা.) বলেন: মসজিদে যারা ছিলেন তারা তাঁর কাছে সমবেত হলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দীর্ঘ রাত পর্যন্ত তাঁদের নিয়ে নামাজ পড়লেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে গিয়ে তাঁর ঘরে প্রবেশ করলেন এবং চাটাইটি যেভাবে ছিল সেভাবেই রেখে দিলেন। যখন সকাল হলো, মানুষ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামাজ এবং সেই রাতে তাঁর সাথে যারা ছিলেন তাঁদের সম্পর্কে আলোচনা করলেন। ফলে (তাদের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেল) এবং মসজিদ মুসল্লিতে পূর্ণ ও মুখরিত হয়ে উঠল (৩)।(রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্বিতীয় রাতেও বের হলেন এবং তাঁরা তাঁর ইমামতিতে নামাজ পড়লেন। সকালে মানুষ এ বিষয়ে আলোচনা করতে লাগলেন, ফলে মসজিদে লোকসংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেল (এমনকি তা মানুষে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেল) তৃতীয় রাত থেকে এবং তিনি বের হলেন ও তাঁরা তাঁর ইমামতিতে নামাজ পড়লেন।যখন চতুর্থ রাত এল, তখন মসজিদ মুসল্লিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে সংকুলান হচ্ছিল না) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিয়ে এশার নামাজ আদায় করে তাঁর ঘরে প্রবেশ করলেন, আর মানুষ সেখানে স্থির হয়ে বসে রইল। আয়েশা (রা.) বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, 'হে আয়েশা! মানুষের কী হয়েছে?' আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রাসূল! গত রাতে আপনার সাথে যারা নামাজ পড়েছিলেন তাঁদের কথা শুনে আজ মানুষ সমবেত হয়েছে যাতে আপনি তাঁদের ইমামতি করেন।' তিনি বললেন, 'হে আয়েশা, আমাদের থেকে তোমার চাটাইটি গুটিয়ে ফেলো।' আমি তা-ই করলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই রাতটি জাগ্রত অবস্থায় কাটালেন এবং মানুষজন তাদের নিজ নিজ জায়গায় অবস্থান করতে লাগল (তখন তাদের মধ্য থেকে কিছু লোক বলতে লাগল: 'নামাজ, নামাজ'), যতক্ষণ না রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের নামাজের জন্য বের হলেন। (যখন ফজর শেষ হলো, তিনি মানুষের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসলেন, অতঃপর তাশাহহুদ (৪) পাঠ করলেন এবং বললেন: অতঃপর (أما بعد)) হে লোকসকল! আল্লাহর শপথ, আল্লাহর প্রশংসায় বলছি, আমার এই রাতটি ঘুমের ঘোরে বা উদাসীনতায় কাটেনি এবং তোমাদের অবস্থানও আমার কাছে গোপন ছিল না। কিন্তু আমি আশঙ্কা করছিলাম যে তোমাদের ওপর এটি ফরজ (يفترض) করে দেওয়া হবে (অন্য এক বর্ণনায় আছে: কিন্তু আমি ভয় পেয়েছিলাম যে রাতের এই নামাজ তোমাদের ওপর ফরজ (تفرض) করা হবে এবং তোমরা তা পালনে অক্ষম হয়ে পড়বে)। সুতরাং তোমরা সাধ্যমতো আমল করো। কেননা আল্লাহ তাআলা সওয়াব দানে ক্লান্ত হন না, যতক্ষণ না তোমরা নিজেরাই ক্লান্ত হও।অন্য এক বর্ণনায় অতিরিক্ত এসেছে, যুহরি (রহ.) বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকাল পর্যন্ত বিষয়টি এভাবেই ছিল। অতঃপর আবু বকরের খিলাফতকাল এবং উমরের খিলাফতের প্রথম অংশ পর্যন্ত (৫) এই নিয়মই বহাল ছিল।
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তারাবীহ - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ১২)
(1) أي: متفرقين(2) أي أضع في " اللسان ": " والنصب وضع الشيء ورفعه " ولعل الأول هو المناسب هنا والمراد أنه صلى الله عليه وسلم أمرها أن تضع حصيرا أمام الباب ويؤيده حديث زيد بن ثابت " اتخذ النبي صلى الله عليه وسلم حجرة في المسجد من حصير فصلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فيها ليالي حتى اجتمع إليه ناس. . . ". الحديث رواه مسلم (2 / 188) وغيره(3) أراد أن له رجة من كثرة الناس. نهاية(4) تعني أنه نطق بالشهادة ويحتمل عندي أنها أرادت خطبة الحاجة التي يذكر فيها الشهادة وقد ذكرنا نصها في خطبة الرسالة الأولى ثم طبعناها مفردة(5) رواه البخاري ومسلم وأبو داود والنسائي والفرياني في الصيام وابن نصر وأحمد والسياق لهما[12]
(1) অর্থাৎ: পৃথক পৃথক বা বিচ্ছিন্ন (متفرقين)(2) অর্থাৎ আমি 'আল-লিসান' গ্রন্থে পেয়েছি: "আন-নাসব (النصب) অর্থ কোনো কিছু রাখা এবং তা উত্তোলন করা।" সম্ভবত এখানে প্রথম অর্থটিই অধিক উপযুক্ত। এর উদ্দেশ্য হলো, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে দরজার সামনে একটি মাদুর বিছানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। জায়েদ ইবনে সাবিত-এর হাদিসটি একে সমর্থন করে: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদে মাদুর দিয়ে একটি কক্ষ তৈরি করেছিলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেখানে কয়েক রাত সালাত আদায় করেন, একপর্যায়ে সেখানে অনেক মানুষ সমবেত হয়..."। হাদিসটি মুসলিম (২/১৮৮) এবং অন্যরা বর্ণনা করেছেন।(3) তিনি বুঝিয়েছেন যে, মানুষের আধিক্যের কারণে সেখানে একটি শোরগোল (رجة) তৈরি হয়েছিল। - নিহায়া(4) এর অর্থ হলো তিনি শাহাদাহ (شهادة) পাঠ করেছিলেন। আমার নিকট এটিও সম্ভাব্য যে, তিনি 'খুতবাতুল হাজাহ' বুঝিয়েছেন যেখানে শাহাদাহ উল্লেখ করা হয়। আমরা আমাদের প্রথম রিসালার (পুস্তিকা) ভূমিকায় এর মূল পাঠ উল্লেখ করেছি এবং পরবর্তীতে তা স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশ করেছি।(5) এটি বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ এবং সিয়াম অধ্যায়ে আল-ফিরইয়াবি, ইবনে নাসর ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন; আর শব্দবিন্যাস (سياق) শেষোক্ত দুইজনের।[12]
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তারাবীহ - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ১২)
قلت وهذه الأحاديث ظاهرة الدلالة على مشروعية صلاة التراويح جماعة لاستمراره صلى الله عليه وسلم في تلك الليالي ولا ينافيه تركه صلى الله عليه وسلم لها في الليلة الرابعة في هذا الحديث لأنه صلى الله عليه وسلم علله بقوله خشيت أن تفرض عليكمولا شك أن هذه الخشية قد زالت بوفاته صلى الله عليه وسلم بعد أن أكمل الله الشريعة وبذلك يزول المعلول وهو ترك الجماعة ويعود الحكم السابق وهو مشروعية الجماعة ولهذا أحياها أحياها عمر بن الخطاب رضي الله عن هـ كما سبق ويأتي وعليه جمهور العلماءالرابع:- 5 (صحيح)عن حذيفة بن اليمان قال:قام رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات ليلة في رمضان في حجرة من جريد النخل ثم صب عليه دلوا من ماء ثم قال (الله أكبر) الله أكبر (ثلاثا) ذا الملكوت والجبروت والكبرياء والعظمة (ثم قرأ البقرة قال: ثم ركع فكان ركوعه مثل قيامه فجعل يقول في ركوعه: سبحان ربي العظيم سبحان ربي العظيم (مثلما كان قائما) ثم رفع رأسه من الركوع فقام مثل ركوعه فقال: لربي الحمد ثم سجد وكان في سجوده مثل قيامه (1) وكان يقول في سجوده سبحان ربي الأعلى ثم رفع رأسه من السجود (ثم جلس) وكان يقول بين السجدتين: رب اغفر لي (رب اغفرلي) وجلس بقدر سجوده (ثم سجد فقال: سبحان ربي الأعلى مثلما كان قائما) فصلى أربع ركعات يقرأ فيهن البقرة وآل عمران والنساء والمائدة والأنعام حتى جاء بلال فآذنه بالصلاة (2)
আমি বলি, এই হাদিসগুলো জামাতের সাথে তারাবিহ নামাজের বৈধতার (مشروعية) বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রমাণ বহন করে। কারণ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই রাতগুলোতে এটি অব্যাহত রেখেছিলেন। আর এই হাদিসে বর্ণিত চতুর্থ রাতে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর তা বর্জন করা উক্ত বৈধতার পরিপন্থী নয়, কারণ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কারণ দর্শিয়ে বলেছিলেন, "আমি আশঙ্কা করেছি যে এটি তোমাদের ওপর ফরজ করে দেওয়া হবে।"আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মহান আল্লাহ শরিয়ত পূর্ণ করার পর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ইন্তেকালের মাধ্যমে এই আশঙ্কার কারণ দূরীভূত হয়েছে। এর ফলে যা কারণের ওপর নির্ভরশীল ছিল (المعلول) অর্থাৎ জামাত বর্জন করার বিষয়টিও অপসারিত হয়েছে এবং পূর্ববর্তী বিধান অর্থাৎ জামাতের বৈধতা (مشروعية) পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ কারণেই উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) একে পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন, যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে এবং সামনে আসবে; আর জমহুর (جمهور) উলামায়ে কিরাম এরই ওপর রয়েছেন।চতুর্থ:- ৫ (সহিহ (صحيح))হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমজানের এক রাতে খেজুরের ডাল দিয়ে তৈরি একটি কক্ষে সালাতে দাঁড়ালেন। অতঃপর তিনি নিজের ওপর এক বালতি পানি ঢাললেন। তারপর তিনি বললেন: (আল্লাহু আকবার) আল্লাহু আকবার (তিনবার); রাজত্ব, পরাক্রম, মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী (ذا الملكوت والجبروت والكبرياء والعظمة)। এরপর তিনি সুরা আল-বাকারা পাঠ করলেন। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: তারপর তিনি রুকু করলেন এবং তাঁর রুকু ছিল তাঁর কিয়ামের সমপরিমাণ। তিনি তাঁর রুকুতে বলতে লাগলেন: 'সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম, সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম' (যতক্ষণ কিয়ামরত ছিলেন তার সমপরিমাণ)। অতঃপর তিনি রুকু থেকে মাথা তুললেন এবং রুকুর সমপরিমাণ সময় দাঁড়িয়ে থাকলেন এবং বললেন: 'লি-রাব্বিয়াল হামদ'। এরপর তিনি সিজদা করলেন এবং তাঁর সিজদা ছিল কিয়ামের সমপরিমাণ (১)। তিনি সিজদায় বলছিলেন: 'সুবহানা রাব্বিয়াল আলা'। এরপর তিনি সিজদা থেকে মাথা তুললেন (অতঃপর বসলেন) এবং দুই সিজদার মাঝখানে বলছিলেন: 'রাব্বিগফিরলী' (রাব্বিগফিরলী)। তিনি তাঁর সিজদার সমপরিমাণ সময় বসে থাকলেন। (অতঃপর তিনি সিজদা করলেন এবং বললেন: 'সুবহানা রাব্বিয়াল আলা', যা ছিল কিয়ামের সমপরিমাণ)। এভাবে তিনি চার রাকাত সালাত আদায় করলেন, যাতে তিনি সুরা আল-বাকারা, আলে ইমরান, আন-নিসা, আল-মায়িদা এবং আল-আনআম পাঠ করলেন। অবশেষে বিলাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এসে তাঁকে সালাতের সংবাদ দিলেন। (২)
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তারাবীহ - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
(1) يعني: القيام بعد الركوع(3) " يعني صلاة الفجر " والحديث رواه ابن أبي شيبة وابن نصر والنسائي وأحمد ومسلم وغيرهم مع ملاحظة الزيادات في الروايات الأخرى التي بين القوسين] والحاكم القول بين السجدتين وصححه ووافقه الذهبي ورجاله ثقات[15]
(1) অর্থাৎ: রুকুর পর দণ্ডায়মান হওয়া।(3) "অর্থাৎ ফজরের সালাত" এবং হাদিসটি বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি শায়বাহ, ইবনে নাসর, আন-নাসায়ি, আহমাদ, মুসলিম এবং অন্যান্যরা [বন্ধনীতে উল্লেখিত অন্যান্য বর্ণনাসমূহের অতিরিক্ত অংশসমূহ সহ] এবং আল-হাকিম দুই সিজদার মধ্যবর্তী সময়ের দুআটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে সহিহ (صحيح) বলে অভিহিত করেছেন ও আয-যাহাবি তার সাথে একমত হয়েছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)।[15]
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তারাবীহ - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ج - وأما بيانه صلى الله عليه وسلم لفضلها فهو ما رواه- 6 (صحيح)أبو ذر رضي الله عن هـ قال: صمنا فلم يصل صلى الله عليه وسلم بنا حتى بقي سبع من الشهر فقام بنا حتى ذهب ثلث الليل ثم لم يقم بنا في السادسة وقام بنا في الخامسة حتى ذهب شطر الليل فقلنا: يا رسول الله لو نفلتنا بقية ليلتنا هذه فقال:إنه من قام مع الإمام حتى ينصرف كتب له قيام ليلة ثم لم يصل بنا حتى بقي ثلاث من الشهر فصلى بنا الثالثة ودعى أهله ونساءه فقام بنا حتى تخوفنا الفلاح قلت: وما الفلاح قال السحوررواه ابن أبي شيبة وأبو داود والترمذي وصححه والنسائي وابن ماجة والطحاوي في شرح معاني الآثار وابن نصر والفريابي والبيهقي وسندهم صحيح]والشاهد من الحديث قوله: " من قام مع الإمام. . . " فإنه ظاهر الدلالة على فضيلة صلاة قيام رمضان مع الإمام يؤيد هذا ما ذكره أبو داود في المسائل (ص 62) قال:سمعت أحمد قيل له: يعجبك أن يصلي الرجل مع الناس في رمضان أو وحده؟قال يصلي مع الناس وسمعته أيضا يقول:يعجبني أن يصلي مع الإمام ويوتر معه قال النبي صلى الله عليه وسلم: " إن الرجل إذا قام مع الإمام حتى ينصرف كتب الله له بقية ليلته " ومثله ذكر ابن نصر (ص 91) عن أحمد ثم قال أبو داود: " قيل لأحمد وأنا أسمع: يؤخر القيام - يعني التراويح - إلى آخر الليل؟قال: لا سنة المسلمين أحب إلي (1)
গ - আর তার ফজিলত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বর্ণনা হলো যা বর্ণিত হয়েছে:
- ৬ (সহিহ (صحيح))আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা রোজা রাখলাম, কিন্তু মাস শেষ হওয়ার সাত দিন বাকি থাকা পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে (রাতে) সালাত আদায় করেননি। অতঃপর তিনি আমাদের নিয়ে সালাত কায়েম করলেন রাতের এক-তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত। এরপর ষষ্ঠ রাতে তিনি আমাদের নিয়ে সালাত পড়লেন না। অতঃপর পঞ্চম রাতে তিনি আমাদের নিয়ে সালাত কায়েম করলেন রাতের অর্ধেক পার হওয়া পর্যন্ত। আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি এই রাতের বাকি অংশটুকুও আমাদের নফল সালাত পড়াতেন! তিনি বললেন:
নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি ইমামের সাথে তার প্রস্থান করা পর্যন্ত সালাতে দাঁড়িয়ে থাকে, তার জন্য পূর্ণ রাত কিয়াম করার সওয়াব লিখে দেওয়া হয়। অতঃপর তিনি মাস শেষ হতে তিন দিন বাকি থাকা পর্যন্ত আমাদের নিয়ে সালাত পড়লেন না। এরপর তিনি তৃতীয় রাতে আমাদের নিয়ে সালাত পড়লেন এবং তার পরিবার ও নারীদের ডাকলেন। তিনি আমাদের নিয়ে সালাত কায়েম করলেন এমনকি আমরা 'ফালাহ' ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা করলাম। আমি (রাবী) বললাম: ফালাহ কী? তিনি বললেন: সাহরি।
এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি শাইবাহ, আবু দাউদ, তিরমিজি এবং তিনি এটিকে সহিহ (صحيح) বলেছেন, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, 'শারহু মাআনিল আসার' গ্রন্থে তাহাবি, ইবনে নাসর, ফারিয়াবি ও বায়হাকি; আর তাদের সনদ (سند) সহিহ (صحيح)]।
হাদিসটি থেকে 'শাহিদ' (شاهد) বা মূল সাক্ষ্য হলো তাঁর এই বাণী: "যে ব্যক্তি ইমামের সাথে কিয়াম করে..."। এটি ইমামের সাথে রমজানের কিয়াম বা তারাবিহ আদায়ের ফজিলতের ওপর সুস্পষ্ট প্রমাণ (ظاهر الدلالة)। আবু দাউদ 'আল-মাসাইল' গ্রন্থে (পৃ. ৬২) যা উল্লেখ করেছেন তা একে সমর্থন করে। তিনি বলেন:
আমি আহমদ (রহ.)-কে বলতে শুনেছি, যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: রমজানে একজন ব্যক্তি মানুষের সাথে সালাত আদায় করবে নাকি একাকী—আপনার কাছে কোনটি পছন্দনীয়?
তিনি বললেন: সে মানুষের সাথে সালাত আদায় করবে। আমি তাঁকে আরও বলতে শুনেছি:
আমার কাছে ইমামের সাথে সালাত আদায় করা এবং তাঁর সাথেই বিতর শেষ করা পছন্দনীয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তি যখন ইমামের সাথে প্রস্থান করা পর্যন্ত সালাতে দাঁড়িয়ে থাকে, আল্লাহ তার জন্য বাকি রাতটুকুর সওয়াব লিখে দেন।" অনুরূপ বর্ণনা ইবনে নাসর (পৃ. ৯১) আহমদ (রহ.) থেকে উল্লেখ করেছেন। অতঃপর আবু দাউদ বলেন: "আহমদ (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল আর আমি তা শুনছিলাম: কিয়াম—অর্থাৎ তারাবিহ—কি রাতের শেষ ভাগ পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হবে?
তিনি বললেন: না, মুসলমানদের প্রচলিত সুন্নাহ (سنة)-ই আমার কাছে অধিকতর পছন্দনীয়। (১)
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তারাবীহ - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
2 - لم يصل صلى الله عليه وسلم التراويح أكثر من (11) ركعةوبعد أن أثبتنا مشروعية الجماعة في صلاة التراويح بإقراره صلى الله عليه وسلم وفعله وحضه فلنبين كم كانت عدد ركعاته صلى الله عليه وسلم في تلك الليالي التي أحياها مع الناس فاعلم أن لدينا في هذ المسألة حديثين:الأول:- 7 (صحيح)عن أبي سلمة بن عبد الرحمن أنه سأل عائشة رضي الله عن ها كيف كانت صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم في رمضان فقالت:ما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يزيد في رمضان ولا في غيره على إحدى عشرة ركعة (2)يصلي أربعا فلا تسل عن حسنهن وطولهنثم يصلي أربعا فلا تسأل عن حسنهن وطولهنثم يصلي ثلاثارواه البخاري ومسلم وأبو عوانة وأبو داود والترمذي والنسائي ومالك وعنه البيهقي وأحمدوفي رواية لابن أبي شيبة ومسلم وغيرهما: كانت صلاته في شهر رمضان وغيره ثلاث عشر ركعة بالليل منها ركعتا الفجرلكن جاء في رواية أخرى عند مالك وعنه البخاري وغيره عنها قالت كان يصلي بالليل ثلاث عشر ركعة ثم يصلي اذا سمع النداء بالصبح ركعتين خفيفتين (قال الحافظ يحتمل أن تكون إضافة إلى صلاة الليل سنة العشاء لكونه كان يصليها في بيته أو ما كان يفتتح به صلاة الليل فقد ثبت عند مسلم عنها أنه كان يفتتحها بركعتين خفيفتين]
২ - রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ১১ রাকাতের অধিক তারাবিহ পড়েননি।আমরা যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুমোদন, কর্ম এবং উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে তারাবিহ নামাজে জামাতের বৈধতা (مشروعية) প্রমাণ করেছি, তখন এখন আমাদের বর্ণনা করা উচিত যে, তিনি মানুষের সাথে যে রাতগুলোতে ইবাদত করেছিলেন, তাতে তাঁর রাকাত সংখ্যা কত ছিল। জেনে রাখুন যে, এই বিষয়ে আমাদের কাছে দুটি হাদিস রয়েছে:প্রথম:- ৭ (সহিহ (صحيح))আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, রমজানে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নামাজ কেমন ছিল? তিনি উত্তরে বললেন:রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমজান এবং রমজান ব্যতীত অন্য সময়ে এগারো রাকাতের বেশি পড়তেন না (২)।তিনি চার রাকাত পড়তেন, এর সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো না।এরপর তিনি আরও চার রাকাত পড়তেন, এর সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো না।অতঃপর তিনি তিন রাকাত পড়তেন।এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি, মুসলিম, আবু আওয়ানা, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি, মালিক এবং তাঁর থেকে বায়হাকি ও আহমদ।ইবনে আবি শাইবা, মুসলিম ও অন্যদের এক বর্ণনায় রয়েছে: রমজান মাস ও অন্য সময়ে রাতে তাঁর নামাজ ছিল তেরো রাকাত, যার মধ্যে ফজরের দুই রাকাত (সুন্নত) অন্তর্ভুক্ত ছিল।তবে মালিক এবং তাঁর সূত্রে বুখারি ও অন্যদের অপর এক বর্ণনায় আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি (আয়েশা) বলেন, তিনি (রাসূলুল্লাহ) রাতে তেরো রাকাত পড়তেন, অতঃপর যখন ভোরের আজান শুনতেন তখন সংক্ষিপ্তভাবে দুই রাকাত (সুন্নত) পড়তেন। [হাফিজ (ইবনে হাজার) বলেন: সম্ভাবনা রয়েছে যে, রাতের নামাজের সাথে এশার সুন্নতকে যুক্ত করা হয়েছে, যেহেতু তিনি তা তাঁর ঘরে আদায় করতেন; অথবা এটি সেই আমল যা দিয়ে তিনি রাতের নামাজ শুরু করতেন, কারণ আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে মুসলিম-এ এটি প্রমাণিত (ثابت) হয়েছে যে, তিনি তা (রাতের নামাজ) দুই সংক্ষিপ্ত রাকাতের মাধ্যমে শুরু করতেন।]
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তারাবীহ - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
(1) يعني الاجتماع في صلاة التروايح مع التبكير بها أفضل عنده من الانفراد بها مع التأخير إلى آخر الليل وإن كان للتأخير فضيلة خاصة فالجماعة أفضل لإقامة النبي صلى الله عليه وسلم لها في تلك الليالي التي أحياها مع الناس في المسجد كما سبق في حديث عائشة وغيره ولذلك جرى عليه المسلمون من عهد عمر إلى الآن[18]
(1) অর্থাৎ তাঁর মতে রাতের শেষভাগ পর্যন্ত বিলম্ব করে একাকী পড়ার চেয়ে রাতের প্রথম ভাগে জামাতবদ্ধ হয়ে তারাবিহ সালাত আদায় করা উত্তম। যদিও বিলম্ব করার একটি বিশেষ ফজিলত রয়েছে, তবুও জামাতে (الجماعة) আদায় করাই অধিক উত্তম; কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে লোকেদের নিয়ে সেই রাতগুলোতে তা আদায় করেছিলেন যে রাতগুলো তিনি ইবাদতের মাধ্যমে জাগ্রত রেখেছিলেন, যেমনটি আয়েশা (রা.) এবং অন্যদের বর্ণিত হাদিসে ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। আর একারণেই ওমর (রা.)-এর যুগ থেকে বর্তমান পর্যন্ত মুসলমানগণ এই রীতির ওপর অটল রয়েছেন।[18]
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তারাবীহ - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
- 8 (صحيح)عن زيد بن خالد الجهني أنه قال: لأرمقن صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم الليلة فصلى ركعتين خفيفتين ثم صلى ركعتين طويلتين طويلتين طويلتين ثم صلى ركعتين وهما دون اللتين قبلهما ثم صلى ركعتين وهما دون اللتين قبلهما ثم صلى ركعتين وهما دون اللتين قبلهما ثم صلى ركعتين وهما دون اللتين قبلهما ثم أوتر فذلك ثلاث عشرة ركعة رواه مالك وعنه مسلم وأبو عوانة وأبو داود وابن نصر][19]
- 8 (সহিহ (صحيح))জাইদ ইবন খালিদ আল-জুহানি (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: আমি আজ রাতে অবশ্যই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করব। অতঃপর তিনি দুই রাকাত সংক্ষিপ্ত সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি দুই রাকাত অত্যন্ত দীর্ঘ, দীর্ঘ, দীর্ঘ সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি আরও দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন যা পূর্বের দুই রাকাতের তুলনায় সংক্ষিপ্ত ছিল। এরপর তিনি আরও দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন যা পূর্বের দুই রাকাতের তুলনায় সংক্ষিপ্ত ছিল। এরপর তিনি আরও দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন যা পূর্বের দুই রাকাতের তুলনায় সংক্ষিপ্ত ছিল। এরপর তিনি আরও দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন যা পূর্বের দুই রাকাতের তুলনায় সংক্ষিপ্ত ছিল। তারপর তিনি বিতর আদায় করলেন। সর্বমোট তেরো রাকাত হলো। এটি মালিক বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর সূত্রে মুসলিম, আবু আওয়ানা, আবু দাউদ এবং ইবন নাসর বর্ণনা করেছেন।[১৯]
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তারাবীহ - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ২১)
الثاني:- 9 (حسن)عن جابر بن عبد الله رضي الله عن هـ قال: صلى بنا رسول الله صلى الله عليه وسلم في شهر رمضان ثمان ركعات وأوتر فلما كانت القابلة اجتمعنا في المسجد ورجونا أن يخرج فلم نزل فيه حتى أصبحنا ثم دخلنا فقلنا يا رسول الله اجتمعنا البارحة في المسجد ورجونا أن تصلي بنا فقال:إني خشيت أن يكتب عليكمرواه ابن نصر والطبراني وسنده حسن بما قبله واشار الحافظ في الفتح وفي التلخيص إلى تقويته وعزاه لابن خزيمة وابن حبان في صحيحهما][21]
দ্বিতীয়:- ৯ (হাসান (حسن))জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমজান মাসে আমাদের নিয়ে আট রাকাত সালাত ও বিতর আদায় করলেন। অতঃপর পরবর্তী রাত উপস্থিত হলে আমরা মসজিদে সমবেত হলাম এবং তিনি (সালাত পড়াতে) বের হবেন বলে আশা করলাম; আমরা ভোর হওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করলাম। এরপর আমরা (তাঁর নিকট) প্রবেশ করে বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! গত রাতে আমরা মসজিদে সমবেত হয়েছিলাম এবং আপনি আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করবেন বলে আশা করেছিলাম। তখন তিনি বললেন:নিশ্চয়ই আমি আশঙ্কা করেছি যে, এটি তোমাদের ওপর ফরজ করে দেওয়া হবে।এটি ইবনে নাসর ও তাবারানি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ (سند) পূর্ববর্তী বর্ণনার ভিত্তিতে হাসান (حسن)। হাফিজ (ইবনে হাজার) আল-ফাতহ এবং আত-তালখিস গ্রন্থে এর শক্তিশালীকরণের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন এবং একে ইবনে খুজাইমাহ ও ইবনে হিব্বানের সহিহ গ্রন্থদ্বয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে তাদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন।[২১]
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তারাবীহ - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ২২)
حديث العشرين ضعيف جدا لا يجوز العمل بهثم قال في الفتح (4 / 205 - 206) تحت شرح الحديث الأول:- 10 (ضعيف جدا)وأما ما رواه ابن شيبة من حديث ابن عباس: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي في رمضان عشرين ركعة والوتر فإسناده ضعيف وقد عارضه حديث عائشة هذا الذي في الصحيحين مع كونها أعلم بحال النبي صلى الله عليه وسلم ليلا من غيرهاوسبقه إلى هذا المعنى الحافظ الزيلعي في نصب الرايةقلت: وحديث ابن عباس هذا ضعيف جدا كما قال السيوطي في " الحاوي للفتاوي " 2 / 73 وعلته أن فيه أبا شيبة إبراهيم بن عثمان قال الحافظ في التقريب: " متروك الحديث "[22]
২০ রাকাতের হাদিসটি অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جدا), এর ওপর আমল করা জায়েজ নয়।অতঃপর তিনি ফাতহুল বারিতে (৪/২০৫-২০৬) প্রথম হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন:- ১০ (অত্যন্ত দুর্বল - ضعيف جدا)আর ইবনে শাইবাহ ইবনে আব্বাস থেকে যে হাদিস বর্ণনা করেছেন যে: রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানে বিশ রাকাত এবং বিতর সালাত আদায় করতেন—তার সনদটি দুর্বল (ضعيف)। অথচ এটি আয়েশা (রা.)-এর সেই হাদিসের পরিপন্থী যা সহিহাইন-এ বর্ণিত হয়েছে, যদিও তিনি অন্যদের তুলনায় নবী (সা.)-এর রাতের অবস্থা সম্পর্কে অধিক অবগত ছিলেন।হাফেজ যাইলায়ি নাসবুর রায়াহ গ্রন্থে এই বিষয়টি উল্লেখ করার ক্ষেত্রে তাঁর অগ্রগামী হয়েছেন।আমি বলি: ইবনে আব্বাসের এই হাদিসটি অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جدا), যেমনটি সুয়ূতী "আল-হাবি লিল ফাতাওয়া" (২/৭৩) গ্রন্থে বলেছেন। এর ত্রুটি হলো এতে আবু শাইবাহ ইবরাহিম ইবনে উসমান রয়েছেন, হাফেজ ইবনে হাজার আত-তাকরিব গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "পরিত্যক্ত হাদিস বর্ণনাকারী (متروك الحديث)"।[22]
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তারাবীহ - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وأنه يروي الموضوعات كحديث (ما هلكت أمة إلا في آذار) ولا تقوم الساعة الا في آذار وأن حديثه هذا الذي في التراويح من جملة مناكيرهوقد صرح السبكي بأن شرط العمل بالحديث الضعيف أن لا يشتد ضعفهقال الذهبي ومن يكذبه مثل شعبة فلا يلتفت إلى حديثه]قلت: وفيما نقله عن السبكي إشارة لطيفة من الهيتمي إلى أنه لا يرى العمل بالعشرين فتأملثم قال السيوطي بعد أن ذكر حديث جابر من رواية ابن حبان:فالحاصل أن العشرين ركعة لم تثبت من فعله صلى الله عليه وسلم وما في صحيح ابن حبان غاية فيما ذهبنا إليه من تمسكنا بما في البخاري عن عائشة إنه كان لا يزيد في رمضان ولا في غيره على إحدى عشرة ومما يدل لذلك أيضا أنه صلى الله عليه وسلم كان إذا عمل عملا واظب عليه كما واظب على الركعتين اللتين قضاهما بعد العصر مع كون الصلاة في ذلك الوقت منهيا عنها ولو فعل العشرين ولو مرة لم يتركها أبدا ولو وقع لم يخف على عائشة حيث قالت ما تقدم[23]قلت: وفي كلامه إشارة قوية إلى اختياره الإحدى عشرة ركعة ورفضه العشرين الواردة في حديث ابن عباس لضعفها الشديد فتدبر[24]3 - اقتصاره صلى الله عليه وسلم على الإحدى عشرة ركعة دليل على عدم جواز الزيادة عليهاتبين لنا مما سق أن عدد ركعات قيام اليل إنما هو إحدى عشرة ركعة بالنص الصحيح من فعل رسول الله صلى الله عليه وسلم وإذا تأملنا فيه يظهر لنا بوضوح أنه صلى الله عليه وسلم استمر على هذا العدد طيلة حياته لا يزيد عليه سواء ذلك في رمضان أو في غيره فإذا استحضرنا في أذهاننا أن السنن الرواتب وغيرها كصلاة الاستسقاء والكسوف التزم النبي صلى الله عليه وسلم أيضا فيها جميعا عددا معينا من الركعات وكان هذا الالتزام دليلا مسلما عند العلماء على انه لا يجوز الزيادة عليها فكذلك صلاة التراويح لا يجوز الزيادة فيها على العدد المسنون لاشتراكها مع الصلوات المذكورات في التزامه صلى الله عليه وسلم عددا معينا فيها[26]لا يزيد عليه فمن ادعى الفرق فعليه الدليل ودون ذلك خرط القتادوليست صلاة التراويح من النوافل المطلقة حتى يكون لمصلي الخيار في أن يصليها بأي عدد شاء بل هي سنة مؤكدة تشبه الفرائض من حيث أنها تشرع مع الجماعة كما قالت الشافعية فهي من هذه الحيثية أولى بأن لا يزاد عليها من السنن الرواتب ولهذا منعوا من جمع أربع ركعات من التراويح في تسليمة واحدة ظنا منهم أنهم لم ترد واحتجوا (بأن التراويح أشبهت الفرض بطلب الجماعة فلا تغير عما ورد فيها)فتأمل كيف منعوا من وصل ركعتين بركعتين كل منهما وارد لأن في الوصل - عندهم - تغييرا لما ورد فيها من الفصل[27]أفلا يحق لنا حينئذ أن نمنع بهذه الحجة ذاتها من زيادة عشر ركعات لا أصل لها في السنة الصحيحة البتة؟ اللهم بلى بل هذا بالمعنع أولى وأحرى فهل من مدكر؟على أنه لو اعتبرنا صلاة التراويح نفلا مطلقا لم يحدده الشارع بعدد معين لم يجز لنا أن نلتزم نحن فيها عددا لا نجاوزه لما ثبت في الأصول: أنه لا يسوغ التزام صفة لم ترد عنه صلى الله عليه وسلم في عبادة من العباداتقال الشيخ ملا أحمد رومي الحنفي صاحب (مجالس الأبرار) ما ملخصه:(لأن عدم وقوع الفعل في الصدر الأول إما لعدم الحاجة إليه أو لوجود مانع أو لعدم تنبه أو لتكاسل أو لكراهة أو لعدم مشروعيته والأولان منفيان في العبادات البدنية المحضة لأن الحاجة في التقرب إلى الله تعالى لا تنقطع وبعد ظهور الإسلام لم يكن منها مانع ولا يظن بالنبي صلى الله عليه وسلم عدم التنبه والتكاسل فذاك أسوأ الن المؤدي إلى الكفر فلم يبق إلا كونها سيئة غير مشروعة وكذلك يقال لمن أتى في العبادات البدنية المحضة بصفة لم تكن في زمن الصحابة إذ لو كان وصف العبادة في الفعل المبتدع يقتضي كونها[28]بدعة حسنة لما وجد في العبادات بدعة مكروهة ولما جعل الفقهاء صلاة الرغائب والجماعة فيها وأنواع النغمات في الخطب وفي الأذان وقراءة القرآن في الركوع والجهر بالذكر أمام الجنازة ونحو ذلك من البدع المنكرة فمن قال بحسنها قيل له: ما ثبت حسنه بالأدلة الشرعية فهو إما غير بدعة فيبقى عموم العام في حديثكل بدعة ضلالة " وحديث " كل عمل ليس عليه أمرنا فهو رد " على حاله ويكون مخصوصا من هذا العام والعام المخصوص حجة فيما عدا ما خص منه فمن ادعى الخصوص فيما أحدث أيضا احتاج إلى دليل يصلح للتخصيص من كتاب أو سنة أو إجماع مختص بأهل الاجتهاد ولا نظر للعوام ولعادة أكثر البلاد فيه فمن أحدث شيئا يتقرب به إلى الله تعالى من قول أو فعل فقد شرع من الدين ما لم يأذن به الله فعلم أن كل بدعة في العبادات البدنية المحضة لا تكون إلا سيئة "شبهات وجوابها:إذا عرفنا إفادة هذا النص أنه لا يجوز الزيادة عليه فإن من تمام الفائدة أن نسوق بضع الشبهات التي قد يوردها البعض حول[29]
এবং তিনি জাল বা বানোয়াট (الموضوعات) বিষয়সমূহ বর্ণনা করেন, যেমন একটি হাদিস: (মার্চ মাসে ছাড়া কোনো উম্মত ধ্বংস হয়নি) এবং মার্চ মাসেই কিয়ামত হবে। আর তারাবিহ নামাজ সংক্রান্ত তার এই হাদিসটি তার আপত্তিকর বা পরিত্যক্ত (مناكير) বর্ণনাসমূহর অন্তর্ভুক্ত।আল-সুবকি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যে, দুর্বল (الضعيف) হাদিসের ওপর আমল করার শর্ত হলো সেটির দুর্বলতা যেন অত্যধিক না হয়।ইমাম দাহাবি বলেন: শু’বাহর মতো যারা তাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করেছেন (يكذبه), তাদের উপস্থিতিতে তার হাদিসের দিকে ভ্রুক্ষেপ করা যাবে না।]আমি বলি: আল-সুবকি থেকে বর্ণিত বক্তব্যের উদ্ধৃতিতে আল-হাইতামির পক্ষ থেকে একটি সূক্ষ্ম ইঙ্গিত রয়েছে যে, তিনি বিশ রাকাতের ওপর আমল করার প্রবক্তা নন; সুতরাং বিষয়টি ভেবে দেখুন।অতঃপর ইমাম সুয়ুতি ইবনে হিব্বান-এর বর্ণনা থেকে জাবির (রা.)-এর হাদিস উল্লেখ করার পর বলেন:সারকথা হলো, বিশ রাকাত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কর্ম দ্বারা প্রমাণিত নয়। সহিহ ইবনে হিব্বান-এ যা বর্ণিত হয়েছে তা-ই আমাদের অবস্থানের চূড়ান্ত দলিল। আমরা বুখারি-তে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসের ওপর নির্ভর করি যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানে বা রমজানের বাইরে এগারো রাকাতের বেশি বৃদ্ধি করতেন না। এর সপক্ষে আরও একটি দলিল হলো, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো আমল করতেন, তখন তার ওপর অবিচল থাকতেন; যেমনটি তিনি আসরের পরের দুই রাকাত কাজার ক্ষেত্রে অবিচল ছিলেন, যদিও ওই সময়ে নামাজ পড়া নিষিদ্ধ ছিল। যদি তিনি বিশ রাকাত পড়তেন, এমনকি একবারও পড়তেন, তবে তিনি তা কখনও পরিত্যাগ করতেন না। আর যদি তেমন কিছু ঘটত, তবে আয়েশা (রা.)-এর কাছে তা অজানা থাকত না, কারণ তিনি পূর্বোক্ত কথাটি স্পষ্টভাবে বলেছেন।[23]আমি বলি: তার এই বক্তব্যের মধ্যে এগারো রাকাতকে পছন্দ করা এবং ইবনে আব্বাস (রা.)-এর হাদিসে বর্ণিত বিশ রাকাতকে তার অত্যধিক দুর্বলতার (ضعفها الشديد) কারণে প্রত্যাখ্যান করার শক্তিশালী ইঙ্গিত রয়েছে; সুতরাং গভীরভাবে চিন্তা করুন।[24]3 - রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এগারো রাকাতের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা এর অতিরিক্ত রাকাত বৃদ্ধির অবৈধতার দলিল।পূর্বালোচিত আলোচনা থেকে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, রাতের নামাজের (কিয়ামুল লাইল) রাকাত সংখ্যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কর্মের সহিহ (صحيح) দলিলের মাধ্যমে এগারো রাকাতই সাব্যস্ত। যদি আমরা এটি নিয়ে চিন্তা করি, তবে আমাদের কাছে স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হবে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সারা জীবন এই সংখ্যার ওপরই অবিচল ছিলেন, এর বেশি তিনি পড়েননি—তা রমজানে হোক বা রমজানের বাইরে। যদি আমরা স্মরণ করি যে, সুন্নাহ রাওয়াতীব এবং অন্যান্য নামাজ যেমন ইস্তিসকা ও কুসুফ-এর ক্ষেত্রেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দিষ্ট সংখ্যক রাকাতের পাবন্দি করতেন, আর এই پابন্দি ওলামায়ে কেরামের নিকট একটি স্বীকৃত দলিল যে এগুলোর রাকাত সংখ্যা বৃদ্ধি করা জায়েজ নেই; তবে তারাবিহ নামাজের ক্ষেত্রেও সুন্নাহসম্মত সংখ্যার অতিরিক্ত রাকাত পড়া জায়েজ হবে না। কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক নির্দিষ্ট রাকাতের পাবন্দি করার ক্ষেত্রে এটি উল্লিখিত নামাজগুলোর সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ।[26]তিনি এর চেয়ে বেশি বৃদ্ধি করতেন না। সুতরাং যে কেউ এর বিপরীতে পার্থক্যের দাবি তুলবে, তাকেই দলিল পেশ করতে হবে, অন্যথায় তা হবে দুঃসাধ্য কল্পনা মাত্র।তারাবিহ নামাজ সাধারণ নফল (النوافل المطلقة) নামাজের অন্তর্ভুক্ত নয় যে মুসল্লি তার ইচ্ছামতো যেকোনো সংখ্যায় তা আদায় করবে। বরং এটি একটি সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ (سنة مؤكدة), যা জামাতে পড়ার বিধান থাকার কারণে ফরজের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ—যেমনটি শাফেয়ি ফকিহগণ বলেছেন। সুতরাং এই দৃষ্টিকোণ থেকে এটি সুন্নাহ রাওয়াতীবের চেয়েও বেশি গুরুত্ব রাখে যে এতে রাকাত সংখ্যা বৃদ্ধি করা যাবে না। এই কারণেই তারা তারাবিহর চার রাকাতকে এক সালামে পড়তে নিষেধ করেছেন এই ধারণায় যে এর পক্ষে কোনো বর্ণনা নেই। তারা দলিল দিয়েছেন যে, (তারাবিহ নামাজ জামাতবদ্ধ হওয়ার কারণে ফরজের সাদৃশ্যপূর্ণ হয়েছে, সুতরাং এতে যা বর্ণিত হয়েছে তার পরিবর্তন করা যাবে না)।অতএব লক্ষ করুন, তারা কীভাবে দুই দুই রাকাতকে মিলিয়ে এক সালামে পড়তে নিষেধ করেছেন—যদিও উভয় রাকাতের ভিত্তি স্বতন্ত্রভাবে প্রমাণিত। কারণ তাদের মতে, পৃথকভাবে পড়ার (ফাসল) যে বিধান বর্ণিত হয়েছে, তা মিলিয়ে পড়ার (ওয়াসল) মাধ্যমে পরিবর্তন করা হয়।[27]এমতাবস্থায় আমাদের জন্য কি এই একই যুক্তিতে অতিরিক্ত দশ রাকাতকে নিষেধ করা সংগত নয়, যার কোনো ভিত্তিই সহিহ সুন্নাহয় আদৈ নেই? অবশ্যই হ্যাঁ, বরং এটি নিষেধের ক্ষেত্রে অধিকতর অগ্রগণ্য। তবে উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি?তাছাড়া আমরা যদি তারাবিহ নামাজকে সাধারণ নফল হিসেবেও গণ্য করি যার কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা শরিয়ত প্রণেতা নির্ধারণ করেননি, তবুও আমাদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা আঁকড়ে ধরা জায়েজ হবে না যা আমরা অতিক্রম করব না। কারণ উসুল বা মূলনীতিতে প্রমাণিত আছে যে: ইবাদতের কোনো ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত নয় এমন কোনো বৈশিষ্ট্য বা পদ্ধতি আবশ্যক করে নেওয়া বৈধ নয়।মাজালিসুল আবরার গ্রন্থের লেখক হানাফি আলেম শেখ মোল্লা আহমাদ রুমি যা বলেছেন তার সারসংক্ষেপ হলো:(কারণ প্রথম যুগে কোনো আমল না হওয়ার কারণ হতে পারে—প্রয়োজন না থাকা, কোনো প্রতিবন্ধক থাকা, অসতর্কতা, অলসতা, অপছন্দনীয়তা অথবা সেটি শরিয়তসম্মত না হওয়া। প্রথম দুটি কারণ খাঁটি শারীরিক ইবাদতের ক্ষেত্রে অসম্ভব; কারণ মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের প্রয়োজন কখনও শেষ হয় না এবং ইসলামের প্রসারের পর এতে কোনো প্রতিবন্ধকও ছিল না। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ক্ষেত্রে অসতর্কতা বা অলসতার ধারণা করা অসম্ভব, কারণ এটি একটি জঘন্য ধারণা যা কুফর পর্যন্ত নিয়ে যায়। অতএব এটি শরিয়তসম্মত না হওয়া এবং মন্দ হওয়া ছাড়া অন্য কোনো কারণ অবশিষ্ট থাকে না। একইভাবে সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রেও বলা হবে যে খাঁটি শারীরিক ইবাদতে এমন কোনো বৈশিষ্ট্য নিয়ে আসে যা সাহাবিদের যুগে ছিল না। কেননা যদি নব উদ্ভাবিত আমলের ইবাদতের রূপটি তাকে[28]উত্তম বিদআত (بدعة حسنة) হওয়ার দাবি রাখে, তবে ইবাদতের মধ্যে কোনো অপছন্দনীয় বিদআত (بدعة مكروهة)-এর অস্তিত্ব থাকত না। এবং ফকিহগণ সালাতুর রাগায়েব ও এর জামাত, খুতবা ও আজানের মধ্যে বিভিন্ন সুরের মূর্ছনা, রুকুতে কোরআন তেলাওয়াত, জানাজার সামনে উচ্চস্বরে জিকির এবং এই জাতীয় বিষয়গুলোকে প্রত্যাখ্যাত বিদআতসমূহ (البدع المنكرة) হিসেবে গণ্য করতেন না। সুতরাং যে ব্যক্তি এগুলোকে উত্তম বলবে তাকে প্রশ্ন করা হবে: যা শরিয়তের দলিলের মাধ্যমে উত্তম প্রমাণিত তা হয় বিদআত নয়, ফলে 'প্রত্যেক বিদআত পথভ্রষ্টতা (ضلالة)' এবং 'যে আমলের ওপর আমাদের আদেশ নেই তা প্রত্যাখ্যাত (رد)'—এই হাদিসগুলোর ব্যাপকতা স্বস্থানে বহাল থাকবে। আর এটি হবে একটি বিশেষায়িত সাধারণ অর্থবোধক বাক্য (আম মাখসুস), যা থেকে বাদ পড়া অংশ ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে দলিল হিসেবে গণ্য হবে। সুতরাং যে ব্যক্তি নতুন উদ্ভাবিত বিষয়েও বিশেষত্বের দাবি করবে, তাকে কুরআন, সুন্নাহ বা মুজতাহিদগণ (أهل الاجتهاد)-এর ইজমা থেকে উপযুক্ত দলিলের প্রয়োজন হবে। এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ বা অধিকাংশ শহরের রীতিনীতির কোনো গুরুত্ব নেই। সুতরাং যে ব্যক্তি কথা বা কাজের মাধ্যমে এমন কিছু নতুন উদ্ভাবন করল যার মাধ্যমে সে আল্লাহর নৈকট্য চায়, তবে সে দ্বীনের এমন বিধান তৈরি করল যার অনুমতি আল্লাহ দেননি। সুতরাং জানা গেল যে, খাঁটি শারীরিক ইবাদতের ক্ষেত্রে প্রতিটি বিদআতই মন্দ ছাড়া আর কিছু নয়।)সন্দেহ ও তার নিরসন:যখন আমরা জানতে পারলাম যে এই পাঠ্যটি (দলিলটি) রাকাত সংখ্যা বৃদ্ধির অবৈধতা প্রকাশ করে, তখন এর পূর্ণাঙ্গ ফায়দার জন্য আমরা কিছু সংশয় বা সন্দেহ উল্লেখ করব যা কেউ কেউ উত্থাপন করতে পারে[29]
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তারাবীহ - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
هذه المسألة مع الجواب عليها حتى يكون القارئ على بينة من أمره فأقول:اشبهة الأوى: (اختلاف العلماء دليل على عدم ثيوت النص المعين للعدد)من المعلوم أن العلماء اختلفوا في عدد ركعات التراويح على أقوال كثيرة كما سيأتي بيانها فقد يقول قائل: إن هذا الاختلاف يدل على عدم وجود نص في العدد إذ لو ثبت لم يقع الاختلاف في عددها ولو ثبت ذلك من فعل النبي صلى الله عليه وسلم لم يختلف فيه كعدد الوتر والرواتب)الجواب: نحن نسلم بأن من الاختلافات ما يكون سببه عدم وجود النص ولكن من العجيب أن يقرر السيوطي هذا القول فإنه[30]
এই বিষয়টি এবং এর উত্তর এখানে তুলে ধরা হলো যেন পাঠক তার বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা লাভ করতে পারেন, তাই আমি বলছি:প্রথম সংশয়: (আলেমগণের মতভেদ নির্দিষ্ট সংখ্যার ব্যাপারে কোনো দলিল (نص) সাব্যস্ত (ثبوت) না হওয়ার প্রমাণ)এটি সর্বজনবিদিত যে, তারাবিহর রাকাত সংখ্যার বিষয়ে ওলামায়ে কেরাম বহুবিধ মতে বিভক্ত হয়েছেন, যা সামনে বিস্তারিত বর্ণিত হবে। এমতাবস্থায় কোনো প্রশ্নকারী বলতে পারেন: এই মতভেদ সংখ্যার ব্যাপারে কোনো দলিল (نص) না থাকারই ইঙ্গিত দেয়। কেননা, যদি বিষয়টি সাব্যস্ত (ثبوت) হতো, তবে এর সংখ্যার ক্ষেত্রে কোনো মতভেদ সৃষ্টি হতো না। আর যদি তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমল দ্বারা প্রমাণিত (ثابت) হতো, তবে বিতির ও সুন্নাতে রাতেবার সংখ্যার মতো এর ক্ষেত্রেও কোনো মতভেদ হতো না।উত্তর: আমরা এটি স্বীকার করি যে, কিছু কিছু মতভেদের কারণ হলো দলিল (نص) বিদ্যমান না থাকা; তবে ইমাম সুয়ূতী কর্তৃক এই মত ব্যক্ত করা বিস্ময়কর, কেননা তিনি...[30]
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তারাবীহ - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
يفهم منه أن الاختلاف ليس له إلا سبب واحد وهو عدم ثبوت النص مع أنه من المعلوم أن هناك اختلالفات كثيرةلم يكن سببها عدم وجود النص بل كان عدم وصوه إلى الإمام الذي قال بخلافه أو أنه بلغه ولكن من طريق لا تقوم الحجة به أو بلغه صحيحا ولكن فهمه على وجه غير الوجه الذي فهمه الإمام الآخر وغير ذلك من أسباب الاختلاف التي ذكرها العلماء فالاختلاف ليس له سبب واحد. بل له - كما ترى - أسباب كثيرة ألا ترى أن هناك مسأئل كثيرة اختلفوا فيها مع أن فيها نصوصا ثابتا عنه صلى الله عليه وسلم كما هو معلوم عند العلماء بالفقه والأخبار ولنضرب على ذلك مثالا واضحا إلا وهو (رفع اليدين في الصلاة عند الركوع والرفع منه) فقد اتفق العلماء كلهم من مختلف المذاهب على مشروعيته ما عدا الحنفية مع أنه ورد فيه نحو عشرين حديثاص صحيحا وفي بعضها أن أبا حميد الساعدي رضي الله عن هـ وصف صلاة النبي صلى الله عليه وسلم بحضور[31]
এর থেকে প্রতীয়মান হয় যে, মতপার্থক্যের পেছনে কেবল একটিই কারণ রয়েছে, আর তা হলো মূল পাঠ বা দলিল সাব্যস্ত না হওয়া (عدم ثبوت)। অথচ এটি সর্বজনবিদিত যে, এমন অনেক মতপার্থক্য রয়েছে যার কারণ দলিলের অনুপস্থিতি নয়; বরং তা সংশ্লিষ্ট ইমামের নিকট না পৌঁছানো, যিনি সেই দলিলের বিপরীতে মত প্রদান করেছেন। অথবা দলিলটি তাঁর নিকট পৌঁছেছে কিন্তু এমন সূত্রে যা দ্বারা প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয় না। অথবা তা তাঁর নিকট সহিহ (صحيح) সূত্রে পৌঁছেছে, কিন্তু তিনি তা এমনভাবে বুঝেছেন যা অন্য ইমামের উপলব্ধির চেয়ে ভিন্ন। এ ছাড়াও মতপার্থক্যের আরও অনেক কারণ রয়েছে যা উলামায়ে কেরাম উল্লেখ করেছেন; সুতরাং মতপার্থক্যের কেবল একটি কারণ নেই। বরং আপনি যেমনটি দেখছেন, এর অনেকগুলো কারণ রয়েছে। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, এমন অনেক মাসআলা রয়েছে যেগুলোতে তাঁরা মতপার্থক্য করেছেন, যদিও সে বিষয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত (ثابت) দলিল বিদ্যমান রয়েছে? যেমনটি ফিকহ ও হাদিস বিশারদ আলেমদের নিকট সুবিদিত। এ বিষয়ে আমরা একটি সুস্পষ্ট উদাহরণ প্রদান করতে পারি, আর তা হলো (নামাজে রুকুতে যাওয়ার সময় এবং রুকু থেকে ওঠার সময় রফউল ইয়াদাইন করা)। হানাফি মাজহাব ব্যতীত বিভিন্ন মাজহাবের সকল আলেম এর বৈধতার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন, যদিও এ বিষয়ে প্রায় বিশটি সহিহ (صحيح) হাদিস বর্ণিত হয়েছে। যার কোনো কোনো বর্ণনায় পাওয়া যায় যে, আবু হুমাইদ আল-সা’য়িদি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) উপস্থিত ব্যক্তিদের সামনে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নামাজের পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন...[31]
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তারাবীহ - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৩২)
عشرة من الصحابة وذكر فيه الرفع فلما فرغ من وصفها قالوا له: " صدقت هكذا كانت صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم ". رواه البخاريوقد أجاب أبو حنيفة رضي الله عن هـ حين سئل عن عدم أخذه بالرفع بقوله: " لأنه لم يصح فيه حديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم " في حكاية معروفة جرت بينه وبين أحدالمحدثين ذكرها الحنفية في كتبهم فهذا القول من قبل الإمام أبي حنيفة رحمه الله لا يمكن أن يقوله لو أنه وقف على هذه الطرق التي أشرنا إليها فهذا أكبردليل على أن الخلاف في هذه المسألة ليس سببه عدم وجود أو ثبوت النص بل السبب هو عدم وصوله إلى الإمام من طريق صحيح كما عبر عن ذلك الإمام أبو حنيفة نفسه رحمه الله تعالى[32]
দশজন সাহাবী (صحابة) উপস্থিত ছিলেন এবং তাতে হাত উঠানোর (الرفع) কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যখন তিনি নামাযের বর্ণনা শেষ করলেন, তখন তারা তাঁকে বললেন: "আপনি সত্য বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামায এভাবেই ছিল।" এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন।আর ইমাম আবু হানিফা (রা.) যখন হাত উঠানো (الرفع) গ্রহণ না করার বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হয়েছিলেন, তখন তিনি এ বলে উত্তর দিয়েছিলেন: "কেননা এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো হাদিস সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত হয়নি।" এটি একটি সুপরিচিত ঘটনা যা তাঁর এবং জনৈক মুহাদ্দিসের (المحدثين) মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল এবং হানাফিগণ তাঁদের কিতাবসমূহে এটি উল্লেখ করেছেন। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর পক্ষে এই উক্তিটি করা সম্ভব হতো না যদি তিনি আমাদের নির্দেশিত এই সূত্রগুলোর (الطرق) ব্যাপারে অবগত হতেন। সুতরাং এটিই সবচেয়ে বড় প্রমাণ যে, এই মাসআলায় মতভেদের কারণ নস বা দলিলের (النص) অনুপস্থিতি কিংবা তা সাব্যস্ত না হওয়া নয়; বরং কারণ হলো এটি ইমামের কাছে সহিহ (صحيح) সূত্রে (طريق) না পৌঁছানো, যেমনটি ইমাম আবু হানিফা (রহ.) নিজেই ব্যক্ত করেছেন।[32]
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তারাবীহ - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وهذا مثال واحد من أمثلة كثيرة معروفة عند المشتغلين بالسنةأقول: فكما أن الختلاف في هذه المسألة وحوها لا يدل على عدم ورود نص ثابت فيها فكذلك الاخلف في عدد ركعات التراويح لا يدل على عدم ورود نص ثابت فيه لأن الواقع أن النص وارد ثابت فيه فلا يجوز أن يرد النص بسبب الخلاف بل الواجب أن يزال الخلاف بالرجوع إلى النص عملا بقول الله تبارك تعالى:؟ فلا وربك لا يؤمنون حتى يحكموك فيما شجر بينهم ثم لا يجدوا في أنفسهم حرجا مما قضيت ويسلموا تسليما؟[33]
সুন্নাহ চর্চাকারীদের নিকট সুপরিচিত বহু উদাহরণের মধ্যে এটি একটি উদাহরণ মাত্র।আমি বলছি: এই মাসয়ালা এবং এর অনুরূপ বিষয়সমূহে মতভেদ থাকার অর্থ যেমন এই নয় যে, এতে কোনো সুপ্রতিষ্ঠিত নস (نص ثابت) বর্ণিত হয়নি, তেমনি তারাবিহর রাকাত সংখ্যার ক্ষেত্রে মতভেদ থাকার অর্থও এটি নয় যে, সেখানে কোনো সুপ্রতিষ্ঠিত নস (نص ثابت) নেই। কারণ বাস্তবতা হলো, এ বিষয়ে সুপ্রতিষ্ঠিত নস (نص ثابت) বর্ণিত হয়েছে। অতএব, মতভেদের কারণে নস (نص)-কে প্রত্যাখ্যান করা বৈধ নয়; বরং আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার বাণী অনুযায়ী নস (نص)-এর দিকে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে মতভেদ নিরসন করা ওয়াজিব:“অতএব, আপনার রবের কসম, তারা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা তাদের মধ্যকার বিবাদমান বিষয়ে আপনাকে বিচারক নিয়োগ করে, এরপর আপনি যে ফয়সালা দেবেন সে সম্পর্কে তাদের মনে কোনো সংকীর্ণতা না থাকে এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়।”[৩৩]
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তারাবীহ - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وقوله:؟ فإن تنازعتم في شيء فردوه إلى الله والرسول إن كنتم تؤمنون بالله واليوم الآخر ذلك خير وأحسن تأويلا؟الشبهةالثانية: (لا مانع من الزيادة على النص ما لم ينه عنها) . وقد يقول قائل آخر: سلمنا أنه ثبت النص أن النبي صلى الله عليه وسلم صلى التراويح إحدى عشرة ركعة فقط وأنه ثبت ضعف الخبر الذي فيه أن صلاها عشرين ولكن لا نرى مانعا من الزيادة عليه لأن رسول الله صلى الله عليه وسلم لم ينه عنهاقلت: الاصل في العبادات أنها لا تثبت إلا بتوقيف من رسول الله صلى الله عليه وسلم وهذا الأصل متفق عليه بين العلماء ولا نتصور مسلما عالما يخالفه فيه ولولا هذا الأصل لجاز لأي مسلم أن يزيد في عدد ركعات السنن بل والفرائض الثابت عددها بفعله صلى الله عليه وسلم واستمراره عليه بزعم أنه صلى الله عليه وسلم لم ينه عن الزيادة عليها وهذا بين ظاهر البطلان فلا ضرورة لأ نطيل فيه الكلام خاصة وقد سبق أن بينا مفصلا (ص 22 - 24) أن الزيادة على صلاة التراويح أخرى بالمنع من الزيادة على السنن والرواتب فتذكره[34]
এবং মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর তোমাদের মধ্যে কোনো বিষয়ে মতভেদ সৃষ্টি হলে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাকো। এটিই শ্রেয় এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর।"দ্বিতীয় সংশয়: (নস বা স্পষ্ট বিধানের ওপর অতিরিক্ত কিছু বৃদ্ধিতে কোনো বাধা নেই যতক্ষণ না তা নিষিদ্ধ করা হয়েছে)। অন্য কেউ বলতে পারেন: আমরা মেনে নিলাম যে নস বা অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমে এটি সাব্যস্ত হয়েছে যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তারাবিহ মাত্র এগারো রাকাত পড়েছেন এবং বিশ রাকাত পড়ার সংবাদ বা বর্ণনার (خبر) দুর্বলতা (ضعف) প্রমাণিত হয়েছে; কিন্তু আমরা এর ওপর বৃদ্ধিতে কোনো বাধা দেখছি না, কারণ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা থেকে নিষেধ করেননি।আমি বলি: ইবাদতের ক্ষেত্রে মূলনীতি (الأصل) হলো যে, এটি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট বিধান (توقيف) ব্যতীত সাব্যস্ত হয় না। এই মূলনীতিটি আলেমদের মধ্যে সর্বসম্মত (متفق عليه) একটি বিষয়। আমরা এমন কোনো মুসলিম আলেমের কল্পনা করতে পারি না যিনি এই বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করবেন। যদি এই মূলনীতিটি না থাকত, তবে যেকোনো মুসলিমের জন্য সুন্নাত এমনকি ফরজ নামাজগুলোর রাকাত সংখ্যাতেও বৃদ্ধি করা বৈধ হয়ে যেত, যা কি না তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমল ও তা নিয়মিত পালনের মাধ্যমে সংখ্যাতাত্ত্বিকভাবে সাব্যস্ত হয়েছে; কেবল এই অজুহাতে যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাতে বৃদ্ধিতে নিষেধ করেননি। এটি অত্যন্ত স্পষ্ট একটি বাতিল মত, তাই এ বিষয়ে আলোচনা দীর্ঘ করার কোনো প্রয়োজন নেই। বিশেষ করে আমরা পূর্বে বিস্তারিতভাবে (পৃষ্ঠা ২২-২৪) বর্ণনা করেছি যে, তারাবিহ নামাজের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি করা অন্যান্য সুন্নাত ও নিয়মিত সুন্নাত (رواتب) নামাজের চেয়েও অধিকতর বর্জনীয়, সুতরাং বিষয়টি স্মরণে রাখুন।[34]
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তারাবীহ - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
الشبهة الثالثة (التمسك بالنصوص المطلقة والعامة)تمسك بعضهم بالنصوص المطلقة والعامة في الحض على الإكثار من الصلاة بدون تحديد عدد معينكقوله صلى الله عليه وسلم لربيعة بن كعب وقد سأله مرافقته في الجنة- 11 (صحيح)فأعني على نفسك بكثرة السجود] رواه مسلم في صحيحه وأبوعوانة]وكحديث أبي هريرة رضي الله عن هـ " كان يرغب في قيام رمضان. . "ونحو ذلك من الأحاديث التي تفيد بإطلاقها وعمومها مشروعية الصلاة بأي عدد شاء المصلي[36]
তৃতীয় সংশয় (নিরঙ্কুশ (مطلقة) ও সাধারণ (عامة) ভাষ্যসমূহের ওপর নির্ভর করা)সালাতের সংখ্যা নির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা ছাড়াই এর আধিক্যের প্রতি উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে কেউ কেউ নিরঙ্কুশ (مطلقة) ও সাধারণ (عامة) ভাষ্যগুলোর ওপর নির্ভর করেছেনযেমন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী যা তিনি রাবিআ বিন কাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলেছিলেন যখন তিনি জান্নাতে তাঁর সান্নিধ্য চেয়েছিলেন:- ১১ (সহিহ (صحيح))[অতএব অধিক সিজদার মাধ্যমে তোমার নিজের প্রয়োজনে আমাকে সাহায্য করো।] এটি মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে এবং আবু আওয়ানা বর্ণনা করেছেনএবং আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের মতো: "তিনি রমজানের কিয়ামের প্রতি উৎসাহিত করতেন..."এবং এ জাতীয় অন্যান্য হাদিসসমূহ যা তাদের নিরঙ্কুশতা (إطلاق) ও ব্যাপকতা (عموم) দ্বারা মুসল্লি যে কোনো সংখ্যায় সালাত আদায় করতে চাইলে তার বৈধতা প্রদান করে[৩৬]
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তারাবীহ - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
والجواب: أن هذا ممسك واه جدا بل هي شبهة لا تساوي حكايتها كالتي قبلها؟فإن العمل بالمطلقات على إطلاقها إنما يسوغ فيما لم يقيده الشارع من المطلقات أما إذا قيد الشارع حكما مطلقا بقيد فإنما يجب التقيد به وعدم الاكتفاء بالمطلق ولما كانت مسألتنا (صلاة التراويح ليست من النوافل المطلقة لأنها صلاة مقيدة بنص عن رسول الله صلى الله عليه وسلم كما سبق بيانه في أول هذا الفصل فلا يجوز تعطيل هذا القيد تمسكا بالمطلقات وما مثل من يفعل ذلك إلا كمن يصلي صلاة يخالف بها صلاة النبي صلى الله عليه وسلم المنقولة عنه بالأسانيد الصحيحة يخالفها كما وكيفا متناسيا قوله صلى الله عليه وسلم: (صلوا كما رأيتموني أصلي) محتجا بمثل تلك المطلقات كمن يصلي مثلا الظهر خمسا وسنة الفجر أربعا وكمن يصلي بركوعين أو سجداتوفساد هذا لا يخفى على عاقل ولهذا قال العلامة الشيخ علي محفوظ في " الإبداع " (ص 25) بعد أن نقل من نصوص علماء المذاهب الأربعة أن ما تركه النبي صلى الله عليه وسلم مع قيام المقتضي على فعله فتركه هو السنة وفعله بدعة مذمومة قال:[37]
উত্তর হলো: এটি অত্যন্ত দুর্বল (واه) একটি যুক্তি, বরং এটি এমন একটি সংশয় যা এর পূর্ববর্তীদের মতো উল্লেখ করারও যোগ্য নয়।কেননা সাধারণ (مطلق) বিধানসমূহের ওপর তাদের অবারিত অর্থের ভিত্তিতে আমল করা কেবল তখনই বৈধ হয়, যখন শরীয়ত প্রণেতা সেগুলোকে কোনো বিশেষ শর্ত দ্বারা নির্দিষ্ট (مقيد) না করেন। কিন্তু যখন শরীয়ত প্রণেতা কোনো সাধারণ (مطلق) বিধানকে কোনো শর্তের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ (مقيد) করে দেন, তখন সেই সীমাবদ্ধতা মেনে চলাই আবশ্যক এবং কেবল সাধারণ (مطلق) বিষয়ের ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। আর যেহেতু আমাদের আলোচ্য বিষয়টি হলো—তরাবিহ নামাজ সাধারণ (مطلق) নফল ইবাদতগুলোর অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং এটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত একটি দলিল (نص) এর মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট (مقيدة) নামাজ, যা এই অধ্যায়ের শুরুতেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে—তাই সাধারণ (مطلق) বিধানগুলোর দোহাই দিয়ে এই সুনির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতাকে বাতিল করা জায়েজ নয়। আর যারা এমনটি করেন, তাদের উদাহরণ ঠিক সেই ব্যক্তির মতো যে এমনভাবে নামাজ আদায় করে যা সহিহ (صحيح) সনদ (أسانيد) সমূহের মাধ্যমে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামাজের পরিপন্থী; সে সংখ্যা ও পদ্ধতির দিক থেকে তাঁর বিরোধিতা করে এবং নবীজির এই নির্দেশটি ভুলে যায় যে: "তোমরা সেভাবেই নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ পড়তে দেখেছ।" সে ওইসব সাধারণ (مطلق) বিধানকে দলিল হিসেবে পেশ করে যেমনটি কেউ জোহরের নামাজ পাঁচ রাকাত পড়ে বা ফজরের সুন্নত চার রাকাত পড়ে, কিংবা এক রাকাতে দু’টি রুকু বা অধিক সিজদা করে।এর অসারতা কোনো বিবেকবানের কাছে অস্পষ্ট নয়। একারণেই আল্লামা শেখ আলী মাহফুজ তাঁর আল-ইবদা (পৃষ্ঠা ২৫) গ্রন্থে চার মাজহাবের ইমামদের উদ্ধৃতি প্রদানের পর বলেছেন যে, যে কাজটি করার প্রয়োজনীয়তা থাকা সত্ত্বেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা পরিত্যাগ করেছেন, সেই পরিত্যাগ করাই হলো সুন্নাহ এবং তা সম্পাদন করা নিন্দনীয় বিদআত (بدعة)। তিনি বলেছেন:[৩৭]
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তারাবীহ - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
" وعلمت أن التمسك بالعمومات مع الغفلة عم بيان الرسول وتركه هو اتباع المتشابه الذي نهى الله عنه ولو عولنا على العمومات وصرفنا النظر عن البيان لا نفتح باب كبير من أبواب البدعة لا يمكن سده ولا يقف الاختراع في الدين عند حد وإليك أمثلة في ذلك على ما تقدم:الأول جاء في حديث الطبرانيالصة خير موضوعلوتمسكنا بعموم هذا كيف تكون صلاة الرغائب بدعة مذمومة؟ وكيف تكون صلاة شعبان بدعة مذمومة مع دخولهما في عموم الحديث؟ وقد نص العلماء على أنهما بدعتان قبيحتان مذمومتان كما يأتيالثاني: قال تعالى: {ومن أحسن قولا ممن دعا إلى الله وعمل صالحا}وقال عز وجل: {اذكروا الله ذكرا كثيرا}إذا استحب لنا إنسان الأذان للعيدين والكسوفين والتراويح وقلنا كيف والنبي صلى الله عليه وسلم لم يفعلها ولم يأمر بها وتركها طول حياته فقال لنا: إن المؤذن داع إلى الله وإن المؤذن ذاكر لله كيف تقوم عليه الحجة وكيف تبطل بدعته؟الثالث:قال تعالى: {إن الله وملائكته يصلون على النبي} الآيةلو صح الأخذ بالعمومات لصح أن يتقرب إلى الله تعالى بالصلاة والسلام [عليه صلى الله عليه وسلم] في قيام الليل وركوعها واعتدالها وسجودها إلى غير ذلك من الأمكنة التي لم يضع الرسول صلى الله عليه وسلم فيها ومن الذي يجيز التقرب إلى الله تعالى بمثل ذلك وتكون الصلاة بهذه الصفة عبادة معتبرة؟ وكيف هذا مع حديث " صلوا كما رأيتموني أصلي " رواه البخاري؟الرابع: ورد في صحيح الحديث " فيما سقت السماء والعيون والبعل العشر وفيما سقي بالنضح نصف العشر " لو أخذ بعموم هذا لوجبت الزكاة فيها ولا مستند لهم في عدم وجوب الزكاة سوى هذا الأصل وهو أن ما تركه مع قيام المقتضي على فعله فتركه هو السنة وفعله هو البدعة[39]
আপনি অবগত হয়েছেন যে, রাসূলের ব্যাখ্যা এবং তাঁর (কোনো আমল) বর্জন করার বিষয়টি উপেক্ষা করে কেবল সাধারণ দলীলসমূহের (عمومات) ওপর নির্ভর করা হলো মূলত অস্পষ্ট বা রূপক বিষয়ের (متشابه) অনুসরণ করা, যা আল্লাহ নিষেধ করেছেন। যদি আমরা কেবল সাধারণ দলীলসমূহের (عمومات) ওপর নির্ভর করি এবং রাসূলের ব্যাখ্যার দিক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিই, তবে আমরা বিদআতের (بدعة) এমন এক বিশাল দ্বার উন্মুক্ত করে দেব যা রুদ্ধ করা সম্ভব হবে না এবং দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু উদ্ভাবনের কোনো সীমা থাকবে না। পূর্বে যা আলোচনা করা হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে নিচে কিছু উদাহরণ তুলে ধরা হলো:প্রথমত: তাবারানির একটি হাদিসে এসেছে:সালাত হলো সর্বোত্তম বিষয়।আমরা যদি এই হাদিসের সাধারণ অর্থের (عموم) ওপর নির্ভর করি, তবে 'সালাতুর রাগায়িব' কীভাবে একটি নিন্দনীয় বিদআত (بدعة مذمومة) হতে পারে? আর কীভাবে শাবান মাসের (বিশেষ) সালাত একটি নিন্দনীয় বিদআত (بدعة مذمومة) হবে, যেখানে এই উভয়টিই উক্ত হাদিসের সাধারণ হুকুমের (عموم) অন্তর্ভুক্ত? অথচ আলেমগণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এই দুটিই হলো অত্যন্ত জঘন্য ও নিন্দনীয় বিদআত (بدعة), যা সামনে আলোচিত হবে।দ্বিতীয়ত: আল্লাহ তাআলা বলেন: {ঐ ব্যক্তির চেয়ে উত্তম কথা আর কার হতে পারে, যে আল্লাহর দিকে ডাকে এবং সৎকর্ম করে?}আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো।}যদি কোনো ব্যক্তি আমাদের নিকট দুই ঈদ, সূর্যগ্রহণ-চন্দ্রগ্রহণের নামাজ এবং তারাবির নামাজের জন্য আজান দেওয়াকে মুস্তাহাব মনে করে, আর আমরা যদি বলি, "এটি কীভাবে সম্ভব, অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি করেননি, এর নির্দেশ দেননি এবং সারা জীবন এটি বর্জন করেছেন?" তখন সে যদি আমাদের বলে: "মুয়াজ্জিন তো আল্লাহর দিকেই আহ্বানকারী এবং মুয়াজ্জিন তো আল্লাহরই জিকিরকারী", তবে কীভাবে তার বিরুদ্ধে প্রমাণ পেশ করা সম্ভব হবে এবং কীভাবে তার এই বিদআতকে (بدعة) বাতিল করা যাবে?তৃতীয়ত:আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর ওপর দরূদ পাঠ করেন।} (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)যদি সাধারণ দলীলসমূহকে (عمومات) গ্রহণ করা সঠিক হতো, তবে তাহাজ্জুদ নামাজে, রুকুতে, রুকু থেকে দাঁড়ানো অবস্থায়, সিজদাতে এবং এমন সব স্থানেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরূদ ও সালাম পাঠের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অন্বেষণ করা বৈধ হতো যেখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা নির্দিষ্ট করেননি। অথচ এমন পদ্ধতিতে আল্লাহর নৈকট্য লাভের বিষয়টিকে কে বৈধতা দেবে এবং এই রূপ সালাতকে ইবাদত হিসেবে কে গণ্য করবে? আর সহীহ বুখারিতে বর্ণিত "তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো, যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ" এই হাদিসের উপস্থিতিতে এটি কীভাবে সম্ভব হতে পারে?চতুর্থত: সহীহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: "যা আসমানের পানি, ঝরনা ও ভূগর্ভস্থ পানি দ্বারা সিক্ত হয় তাতে ওশর (দশভাগের একভাগ) এবং যা সেচের মাধ্যমে সিক্ত হয় তাতে অর্ধেক ওশর প্রদান করতে হবে।" যদি কেউ এই হাদিসের সাধারণ হুকুমের (عموم) ওপর নির্ভর করে, তবে (অল্প ফসলেও) জাকাত ওয়াজিব হতো। অথচ জাকাত ওয়াজিব না হওয়ার সপক্ষে তাদের নিকট এই মূলনীতি (أصل) ব্যতীত অন্য কোনো দলিল নেই যে—কোনো কাজ করার প্রেক্ষাপট বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও রাসূল যা বর্জন করেছেন, তা বর্জন করাই হলো সুন্নাহ এবং তা সম্পাদন করা হলো বিদআত (بدعة)।[৩৯]
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তারাবীহ - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৪০)
السبب الحقيقي في اختلاف العلماء في عدد ركعات التراويحفإن قيل: سلمنا بفساد هذه الشبهات كلها وسلامة النص من أي معارض فما هو السبب الذي جعل العلماء يختلفون في عدد ركعات التراويح؟فنقول: الذي يبدو لنا في ذلك أمران لا ثالث لهما:الأول: وهو الأقوى والأكثر: عدم الاطلاع على هذا النص الواد في العدد فمن لم يبلغه ذلك فهو معذور في عدم العمل به لقوله تعالى عن لسان رسول الله صلى الله عليه وسلم في حق القرآن:؟ لأنذركم به ومن بلغ؟ بل هو مأجور لقوله صلى الله عليه وسلم:- 12 (صحيح)إذا حكم الحاكم فاجتهد فأصاب فله أجران وإذا حكم فاجتهد فأخطأ فله أجر واحد رواه البخاري وغيره]الثاني: أنهم فهموا النص فهما لا يلزمهم الوقوف عنده وعدم الزيادة عليه لوجه من وجوه التأويل التي قد تعرض لبعض العلماء بغض النظر عن كونه خطأ أو صوابا كقول الشافعية: " وأما قول عائشة: ما كان صلى الله عليه وسلم يزيد في رمضان ولا في غيره على إحدى عشرة ركعة فمحمول على الوتر ". ونحو ذلك من الوجوه التي لا تلزم غيرهم الأخذ بها لثبوت ضعفها لديهم فانظر مثلا إلى[40]
তারাবিহ নামাজের রাকাত সংখ্যার বিষয়ে আলেমদের মতভেদের প্রকৃত কারণযদি বলা হয়: আমরা এই সকল সংশয়ের অসারতা এবং যেকোনো বিরোধপূর্ণ বর্ণনা থেকে মূল পাঠের (نص) বিশুদ্ধতা মেনে নিলাম, তবে আলেমগণ তারাবিহ নামাজের রাকাত সংখ্যার বিষয়ে কেন মতভেদ করলেন?আমরা বলি: এই বিষয়ে আমাদের নিকট দুটি কারণ স্পষ্ট হয় যার কোনো তৃতীয়টি নেই:প্রথম: এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কারণ: সংখ্যা সম্পর্কিত এই বর্ণিত নস (نص) বা পাঠটি সম্পর্কে অবগত না থাকা। সুতরাং যার নিকট এটি পৌঁছেনি, সেটি আমল না করার ক্ষেত্রে তিনি ওজরপ্রাপ্ত; কারণ মহান আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যবানে কুরআনের বর্ণনায় বলেছেন: "যাতে আমি তোমাদের এবং যার নিকট এটি পৌঁছেছে তাদের সতর্ক করতে পারি"। বরং তিনি প্রতিদানপ্রাপ্ত হবেন, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:- ১২ (সহিহ (صحيح))[যখন কোনো বিচারক বিচার করেন এবং ইজতিহাদ (اجتهاد) করেন অতঃপর সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছান, তবে তাঁর জন্য রয়েছে দুটি প্রতিদান। আর যখন তিনি বিচার করেন এবং ইজতিহাদ (اجتهاد) করতে গিয়ে ভুল করেন, তবে তাঁর জন্য রয়েছে একটি প্রতিদান। এটি বুখারি ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।]দ্বিতীয়: তাঁরা নস (نص) বা পাঠটিকে এমনভাবে বুঝেছেন যা তাঁদেরকে এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে এবং এর ওপর বৃদ্ধি না করতে বাধ্য করে না। এটি ব্যাখ্যার (تأويل) এমন এক দিক যা কিছু আলেমের নিকট পরিলক্ষিত হতে পারে, তা ভুল হোক বা সঠিক—সেটি বিবেচনা না করেই। যেমন শাফেঈদের বক্তব্য: "আয়েশা (রা.)-এর কথা—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানে বা রমজানের বাইরে এগারো রাকাতের অধিক পড়তেন না—একে বিতর নামাজের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে।" এ জাতীয় অন্যান্য দিকগুলো যা অন্যদের গ্রহণ করা আবশ্যক নয়, কারণ তাঁদের নিকট এগুলোর দুর্বলতা (ضعف) প্রমাণিত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ দেখুন...[40]
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তারাবীহ - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৪১)
هذا الوجه الذي نقلته عن الشافعية فإنه ظاهر العف إذا تذكرت أن قول عاشة هذا إنما كان جوابا لمن سألها: " كيف كانت صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم في رمضان "؟ كما سبق فالصلاة المسول عنها شاملة لكل صلاة الليل فكيف يصح أن يحمل على الوتر فقط دون صلاة الليل كلها مع أن هذا الحمل يفيد أنه صلى الله عليه وسلم كان له صلاتان: إحداهما صلاة الليل - وما أدري كم تكون ركعاتها - والأخرى صلاة الوتر بأكثر ركعاته: إحدى عشرة ركعة وهذا مما لا يقوله عالم بالسنة فالأحاديث متضافرة على أن صلاته صلى الله عليه وسلم في الليل لم تزد على الإحدى عشرة ركعة على التفصيل المتقدم فهذا من نتائج تأويل النصوص لتأييد المذهبموقفنا من المخالفين لنا في هذه المسألة وغيرهاإذا عرفت ذلك فلا يتوهمن أحد أننا حين اخترنا الاقتصار على السنة في عدد ركعات التراويح وعدم جواز الزيادة عليها أننا نضلل أو نبدع من لا يرى ذلك من العلماء السابقين واللاحقين كما قد ظن ذلك بعض الناس واتخذوه حجة للطعن علينا توهما منهم أنه يلزم من قولنا: بأن الأمر الفلاني لا يجوز أو أنه بدعة أن[41]
শাফেয়ী মাজহাবের অনুসারীদের থেকে আমি যে অভিমতটি বর্ণনা করেছি, তা স্পষ্টতই দুর্বল (ضعيف) বলে প্রতীয়মান হয় যদি আপনি স্মরণ করেন যে, আয়িশা (রা.)-এর এই উক্তিটি মূলত তাঁর নিকট জিজ্ঞাসিত একটি প্রশ্নের উত্তর ছিল: "রমজানে আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর সালাত কেমন ছিল?" ইতিপূর্বে যেমনটি অতিক্রান্ত হয়েছে, জিজ্ঞাসিত সালাতটি পুরো রাতের সালাতকে শামিল করে। এমতাবস্থায় পুরো রাতের সালাত বাদ দিয়ে একে কেবল বিতর সালাতের ওপর প্রয়োগ করা কীভাবে সঠিক হতে পারে? অথচ এমন ব্যাখ্যার অর্থ দাঁড়ায় যে, নবী (সা.)-এর দুই ধরণের সালাত ছিল: একটি রাতের সালাত—যার রাকাত সংখ্যা কত ছিল আমি জানি না—এবং অন্যটি বিতর সালাত এর সর্বোচ্চ রাকাত সংখ্যায়: এগারো রাকাত। সুন্নাহ সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন এমন কোনো আলেম এ কথা বলবেন না। কেননা, হাদীসসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত (متضافر) যে, পূর্বে বর্ণিত বিস্তারিত বিবরণ অনুযায়ী রাতে নবী (সা.)-এর সালাত এগারো রাকাতের অধিক ছিল না। এটি মূলত নিজ মাজহাবকে সমর্থন করার উদ্দেশ্যে দলিলসমূহের (نصوص) অপব্যাখ্যার ফলাফল।এই মাসআলা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে আমাদের বিরোধীদের প্রতি আমাদের অবস্থানআপনি যখন এটি জানতে পারলেন, তখন কেউ যেন এই ভ্রান্ত ধারণা না করে যে, আমরা যখন তারাবিহ সালাতের রাকাত সংখ্যার ক্ষেত্রে সুন্নাহর ওপর সীমাবদ্ধ থাকাকে গ্রহণ করেছি এবং এর ওপর বৃদ্ধি করাকে অসিদ্ধ বলেছি, তখন আমরা পূর্ববর্তী বা পরবর্তী ঐ সকল আলেমদেরকে পথভ্রষ্ট বলছি কিংবা বিদআতি (مبتدع) সাব্যস্ত করছি যারা এটি মনে করেন না; যেমনটি কিছু মানুষ ধারণা করেছে এবং একে আমাদের সমালোচনা করার অজুহাত হিসেবে গ্রহণ করেছে। তারা ধারণা করেছে যে, আমাদের এ কথা বলা থেকে—অমুক বিষয়টি জায়েজ নয় বা এটি একটি বিদআত (بدعة)—এটিই আবশ্যক হয় যে...[41]
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তারাবীহ - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৪২)
كل من قال بجوازه واستحبابه فهو ضال مبتدع كلا فإنه وهم باطل وجهل بالغ لأن البدعة التي يذم صاحبها وتحمل عليه الأحاديث الزاجرة عن البدعة إنما هي " طريقة في الدين مخترعة تضاه الشيعة يقصد بالسلوك عليها المبالغة في التعبد لله سبحانه " فمن ابتدع بدعة يقصد بها المبالغة في التعبد وهو يعلم أنها ليست من الشرع فهو الذي تنصب عليه تلك لأحاديث وأما من وقع فيها دون أن يعلم بها ولم يقصد بها المبالغة في التعبد فلا تشمله تلك الأحاديث مطلقا ولا تعنيه البتة وإنما تعني أولئك المبتدعة الذي يقفون في طريق انتشار السنة ويستحسنون كل بدعة بدون علم ولا هدى ولا كتاب منير بل ولا تقليدا لأهل العلم والذكر بل اتباعا للهوى وإرضاء للعوام وحاشا أن يكون من هؤلاء أحد من العلماء المعروفين بعلمهم وصدقهم وصلاحهم وإخلاصهم ولا سيما الأئمة الأربعة المجتهدين رضي الله عن هم أجمعين فغننا نقطع بتنزههم أن يستحسنوا بدعة مبالغة منهم في التعبد كيف وهم قد نهوا عن ذلك كما سنذكر نصوصهم في ذلك في الرسالة الخاصة بالبدعة إن شاء الله تعالىنعم قد يقع أحدهم فيما هو خطأ شرعا ولكنه لا يؤاخذ على ذلك بل هو مغفور له ومأجور عليه كما سبق مرارا وقد[42]
যারা এর বৈধতা ও মুস্তাহাব হওয়ার কথা বলেন তারা পথভ্রষ্ট বিদআতি (مبتدع)—এ কথাটি একেবারেই সঠিক নয়; বরং এটি একটি অসার ধারণা এবং চরম অজ্ঞতা। কারণ, যে বিদআতের (بدعة) কারণে তার অনুসারীকে নিন্দা করা হয় এবং যার ওপর বিদআত (بدعة) বর্জন সংক্রান্ত সতর্কতামূলক হাদিসসমূহ প্রয়োগ করা হয়, তা হলো "দীনের মধ্যে উদ্ভাবিত এমন এক পথ যা শরয়ি পদ্ধতির সদৃশ, যা অনুসরণের মাধ্যমে মহান আল্লাহর ইবাদতে অতিরঞ্জনের উদ্দেশ্য রাখা হয়।" সুতরাং যে ব্যক্তি ইবাদতে অতিরঞ্জনের উদ্দেশ্যে এমন কোনো নতুন প্রথা বা বিদআত (بدعة) উদ্ভাবন করে—অথচ সে জানে যে এটি শরিয়তের অংশ নয়—মূলত তার ওপরই ওইসব হাদিস আপতিত হবে। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি না জেনে এতে লিপ্ত হয় এবং যার উদ্দেশ্য ইবাদতে অতিরঞ্জন নয়, তাকে ওইসব হাদিস মোটেই অন্তর্ভুক্ত করে না এবং এগুলো তার জন্য প্রযোজ্যও নয়। বরং ওই হাদিসগুলো সেইসব বিদআতিদের (مبتدعة) বুঝায় যারা সুন্নাহর প্রসারে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় এবং কোনো জ্ঞান, হিদায়াত কিংবা উজ্জ্বল কিতাব ছাড়া—এমনকি আহলে ইলম ও বিজ্ঞজনদের অনুসরণ না করে—কেবল প্রবৃত্তির অনুসরণ ও সাধারণ মানুষের সন্তুষ্টির জন্য প্রতিটি বিদআতকে (بدعة) ভালো মনে করে। জ্ঞান, সত্যবাদিতা, পুণ্য ও একনিষ্ঠতার জন্য সুপরিচিত আলেমদের কেউ—বিশেষত চারজন মুজতাহিদ (مجتهدين) ইমাম (আল্লাহ তাদের সবার ওপর সন্তুষ্ট হোন)—এমন হবেন তা অকল্পনীয়। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, তারা ইবাদতে অতিরঞ্জনের উদ্দেশ্যে কোনো বিদআতকে (بدعة) পছন্দ করা থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র। কীভাবে তা সম্ভব, যখন তারা নিজেরাই এ থেকে নিষেধ করেছেন? ইনশাআল্লাহ, বিদআত (بدعة) বিষয়ক বিশেষ রিসালায় আমরা এ সম্পর্কিত তাদের বক্তব্যসমূহ উল্লেখ করব।হ্যাঁ, তাদের কেউ কেউ শরয়িভাবে ভুল এমন কোনো বিষয়ে লিপ্ত হতে পারেন, তবে সেজন্য তাকে তিরস্কার করা হবে না; বরং তিনি ক্ষমাযোগ্য এবং এর জন্য তিনি সওয়াবও পাবেন, যা ইতিপূর্বে বারবার উল্লেখ করা হয়েছে।[42]
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তারাবীহ - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
يتبين للباحث أن هذا الخطأ من نوع البدعة فلا يختلف الحكم في كونه مغفورا له ومأجورا عليه لأنه وقع عن اجتهاد منه ولا يشك عالم أنه لا فرق من حيث كونه خطأ بين وقوع العالم في البدعة ظنا منه أنها سهنة وبين وقوعه في المحرم وهو يظن أنه حلال فهذا كل خطأ ومغفور كما علمت ولهذا نرى العلماء مع اختلافهم الشديد في بعض المسأئل لا يضلل بعضهم بعضا ولا يبدع بعضهم بعضا ولنضرب على ذلك مثالا واحدا لقد اختلفوا منذ عهد الصحابة في إتمام الفريضة في السفر فمنهم من أجازه ومنهم من منعه ورآه بدعة مخالفة للسنة ومع ذلك فلم يبدعوا مخالفيهم فهذا ابن عمر رضي الله عن هـ يقول:- 13 (أثر صحيح)صلاة المسافر ركعتان من خالف السنة كفررواه السراج في مسنده باسنادين صحيحين عنه]ومع هذا فلم يكفر ولم يضلل من خالف هذه السنة اجتهادا بل لما صلى وراء ن يرى الإتمام أتم معه- 14 (صحيح)فروى السراج بسند صحيح عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم صلى بمنى ركعتين وأبو بكر وعمر وعثمان صدرا من أمارته ركعتين ثم أن عثمان صلى بمنى أربعا فكان ابن عمر اذا صلى معهم صلى أربعا واذا صلى وحده صلى ركعتين وروى البخاري نحوه عن ابن مسعود وفيه أنه لما بلغه إتمام عثمان استرجع][43]
গবেষকের কাছে এটি স্পষ্ট হয় যে, এই ভুলটি বিদআত (بدعة) প্রকারের। সুতরাং এটি ক্ষমাযোগ্য হওয়া এবং এর জন্য সওয়াবপ্রাপ্ত হওয়ার বিধানের ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য নেই, কারণ এটি তার পক্ষ থেকে ইজতিহাদ (اجتهاد) এর মাধ্যমে ঘটেছে। কোনো আলিম এ বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করেন না যে, একজন আলিমের কোনো বিষয়কে সুন্নাহ (سنة) মনে করে বিদআত (بدعة)-এ পতিত হওয়া এবং কোনো হারামকে হালাল মনে করে তাতে লিপ্ত হওয়ার মাঝে 'ভুল' হওয়ার দিক থেকে কোনো পার্থক্য নেই। আপনি যেমনটি জেনেছেন, এ সবই ভুল এবং ক্ষমাযোগ্য। এ কারণেই আমরা উলামায়ে কিরামকে দেখি যে, বিভিন্ন মাসয়ালায় তাঁদের মধ্যে প্রবল মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও তাঁরা একে অপরকে পথভ্রষ্ট বা বিদআতি (مبتدع) আখ্যা দেন না। আমরা এর ওপর একটি উদাহরণ পেশ করি: সাহাবায়ে কিরামের যুগ থেকেই সফর অবস্থায় ফরজ সালাত পূর্ণ আদায় করা নিয়ে তাঁদের মাঝে মতভেদ ছিল। তাঁদের মধ্যে কেউ একে বৈধ বলেছেন এবং কেউ একে নিষেধ করেছেন এবং একে সুন্নাহ (سنة) বিরোধী বিদআত (بدعة) হিসেবে গণ্য করেছেন। তা সত্ত্বেও তাঁরা তাঁদের বিরোধীদের বিদআতি আখ্যা দেননি। যেমন ইবনে উমর (রাযি.) বলেন:- ১৩ (সহিহ বর্ণনা (أثر صحيح))মুসাফিরের সালাত দুই রাকাত; যে সুন্নাহ (سنة) এর বিরোধিতা করল সে কুফরি করলআস-সিরাজ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে তাঁর থেকে দুটি সহিহ (صحيح) সনদের (إسناد) মাধ্যমে এটি বর্ণনা করেছেন]তা সত্ত্বেও তিনি ইজতিহাদবশত (اجتهاد) এই সুন্নাহ (سنة) এর বিরোধিতা করেছেন এমন ব্যক্তিকে কাফির বা পথভ্রষ্ট বলেননি, বরং তিনি যখন পূর্ণ সালাত আদায়কারী ইমামের পেছনে সালাত পড়তেন, তখন তিনিও পূর্ণ সালাত আদায় করতেন- ১৪ (সহিহ (صحيح))সিরাজ একটি সহিহ (صحيহ) সনদের (سند) মাধ্যমে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মিনায় দুই রাকাত সালাত আদায় করেছেন। আবু বকর, উমর এবং উসমানের খিলাফতের শুরুর দিকেও তিনি দুই রাকাত আদায় করেছেন। পরবর্তীতে উসমান (রা.) মিনায় চার রাকাত আদায় করেন। ইবনে উমর (রা.) যখন তাদের সাথে সালাত আদায় করতেন তখন চার রাকাতই পড়তেন, আর যখন একা পড়তেন তখন দুই রাকাত পড়তেন। বুখারি ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং তাতে রয়েছে যে, যখন উসমানের পূর্ণ সালাত আদায়ের সংবাদ তাঁর নিকট পৌঁছাল, তখন তিনি ইস্তিরজা (استرجع) করলেন][43]
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তারাবীহ - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
فتأمل كيف أن ابن عمر لم يحمله اعتقاده بخطأ من يخالف السنة الثابتة بالإتمام في السفر على أن يضلله أو يبدعه بل إنه صلى وراءه لأنه يعلم أن عثمان رضي الله عن هـ لم يتم اتباعا للهوى - معاذ الله بل ذلك يجب عن اجتهاد منه وهذا هو السبيل الوسط الذي نرى من الواجب على المسلمين أن يتخذوه لهم طريقا لحل الخلافات القائمة بينهم أن يجهر كل منهم بما يراه هو الصواب الموافق للكتاب والسنة شريطة أن لا يضلل ولا يبدع من لم ير ذلك لشبهة عرضت له لأنه هو الطريق الوحيد الذي بحه تتحقق وحدة المسلمين وتتوحد لكمتهم ويبقى الحق فيه ظاهرا جليا غير منطمس المعالم ولهذا نرى أيضا أن تفرق المسلمين في صلاتهم وراء أئمة متعددين: هذا حنفي وهذا شافعي. . . . مما يخالف ما كان عليه سلفنا الصالح من الاجتماع في الصلاة وراء إمام واحد وعدم التفرق وراء أئمة متعددينهذا هو موقفنا في المسائل الخلافية بين المسلمين الجهر بالحق بالتي هي أحسن وعدم تضليل من يخالفنا لشبهة لا لهوى[44]
অতএব লক্ষ্য করুন, ইবনে ওমর (রা.)-এর এই বিশ্বাস যে, সফরের সময় নামাজ পূর্ণ করা (إتمام) সুপ্রতিষ্ঠিত সুন্নাহ (سنة ثابتة)-এর পরিপন্থী, তা তাকে (উসমান রা.-কে) পথভ্রষ্ট আখ্যা দিতে (تضليل) বা বিদআতি হিসেবে গণ্য করতে (تبديع) প্ররোচিত করেনি। বরং তিনি তাঁর পেছনে নামাজ আদায় করেছেন; কারণ তিনি জানতেন যে উসমান (রা.) প্রবৃত্তির অনুসরণ (اتباع الهوى)-এর বশবর্তী হয়ে নামাজ পূর্ণ করেননি—আল্লাহ রক্ষা করুন—বরং তা ছিল তাঁর নিজস্ব ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর ফসল। আর এটাই হলো সেই মধ্যপন্থা (السبيل الوسط), যা আমরা মুসলমানদের জন্য তাদের মধ্যকার বিদ্যমান বিরোধসমূহ (خلافات) মীমাংসার পথ হিসেবে গ্রহণ করা আবশ্যক মনে করি। আর তা হলো, প্রত্যেকেই কিতাব ও সুন্নাহ-এর আলোকে যা সঠিক মনে করে তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করবে, তবে শর্ত হলো, কোনো সংশয়ের (شبهة) কারণে যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করেনি তাকে যেন পথভ্রষ্ট (تضليل) বা বিদআতি (تبديع) না বলা হয়। কারণ এটাই একমাত্র পথ যার মাধ্যমে মুসলমানদের ঐক্য অর্জিত হয় এবং তাদের সংহতি সুদৃঢ় হয়, আর সত্যও তার সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলীসহ দেদীপ্যমান থাকে। এই কারণেই আমরা আরও মনে করি যে, নামাজের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ইমামের পেছনে মুসলমানদের বিভক্ত হওয়া—যেমন ইনি হানাফি এবং উনি শাফেয়ি—তা আমাদের সালফে সালেহীনদের (سلف صالح) রীতির পরিপন্থী; যারা একজন ইমামের পেছনে নামাজে একত্রিত হতেন এবং বিভিন্ন ইমামের পেছনে বিভক্ত হতেন না।মুসলমানদের মধ্যকার মতপার্থক্যপূর্ণ (خلافية) বিষয়াবলীতে এটাই আমাদের অবস্থান: সর্বোত্তম পন্থায় সত্যকে প্রকাশ করা এবং কোনো সংশয়ের (شبهة) কারণে যারা আমাদের বিরোধিতা করেন তাদের পথভ্রষ্ট (تضليل) না বলা, যতক্ষণ না তা প্রবৃত্তির (هوى) বশবর্তী হয়ে হয়।[44]
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তারাবীহ - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
وهذا هو الذي جرينا عليه منذ أن هدانا الله لاتباع السنة ولك من نحو عشرين سنة ونتمنى مثل هذا الموقف لأولئك المتسرعين في تضليل المسلمين الذين من مذهبهم قولهم: " إذا سئل عن مذهبنا؟ قلنا: صواب يحتمل الخطأ وإذا سئلنا عن مذهب غيرنا؟ قلنا خطأ يحتمل الصواب " ومن مذهب القول بكراهة الصلاة وراء المخالف في المذهب أو بطلانها ولذلك تفرقوا في المسجد الواحد كما سبق وخاصة في جماعة الوتر في رمضان لظن بعضهم أن الوتر لا يصح إذا فصل الإمام بين شفعه ووتره مع أنه هو الأفضل الثابت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم كما سيأتي في الفصل السابعوذلك هو موقفنا وما أظن عاقلا ينازعنا فيه فمن نسب إلينا غير ذلك فقد بغى وتعدى وظلم والله حسيبهوغرضنا من نشر السنة في هذه المسألة وغيرها بين ظاهر وهو تبليغها للناس لقوله صلى الله عليه وسلم: " بلغوا عني ولو آية. . . " الحديث رواه البخاري ومسلم لعلها إذا بلغتهم اقتنعوا بصحتها فالتزموها وفي ذلك فلاحهم وسعادتهم في الدارين وفيه تضعيف الأجر لنا إن شاء الله تعالى لقوله صلى الله عليه وسلم: " من سن سنة في الإسلام حسنة فله أجرها وأجر من عمل بها إلى يوم القيامة ". فمن لم يقتنع بها لشبهة[45]
আর এটিই সেই পথ যার ওপর আমরা চলছি যখন থেকে আল্লাহ আমাদের সুন্নাহর অনুসরণের জন্য হেদায়েত দান করেছেন, আর তা প্রায় বিশ বছর যাবত। আমরা এমন অবস্থানের প্রত্যাশা করি তাদের জন্য যারা মুসলমানদের পথভ্রষ্ট (تضليل) সাব্যস্ত করার ব্যাপারে তাড়াহুড়ো করে, যাদের মাযহাবের (مذهب) মূলনীতি হলো: "যখন আমাদের মাযহাব (مذهب) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, তখন আমরা বলি: এটি সঠিক যা ভুলের সম্ভাবনা রাখে; আর যখন আমাদের ছাড়া অন্য কারো মাযহাব (مذهب) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, তখন আমরা বলি: এটি ভুল যা সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা রাখে।" তাদের মাযহাবের (مذهب) অন্তর্ভুক্ত হলো মাযহাবী (مذهب) বিরোধীদের পেছনে নামাজ পড়াকে অপছন্দনীয় (كراهة) বা বাতিল (بطلان) মনে করা। এই কারণেই তারা একই মসজিদে বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে রমজান মাসে বিতরের জামাতের ক্ষেত্রে, কারণ তাদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করে যে ইমাম যদি বিতরের জোড় এবং বিজোড় রাকাতের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটান, তবে বিতর সহিহ (يصح) হবে না; অথচ এটিই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত (ثابت) সর্বোত্তম পদ্ধতি যেমনটি সপ্তম পরিচ্ছেদে সামনে আসবে।আর এটিই আমাদের অবস্থান এবং আমি মনে করি না কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি এতে আমাদের সাথে দ্বিমত পোষণ করবেন। সুতরাং যে ব্যক্তি আমাদের দিকে এর বিপরীত কিছু আরোপ করবে, সে সীমালঙ্ঘন ও জুলুম করল এবং আল্লাহই তার হিসাব গ্রহণকারী।এই মাসআলা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সুন্নাহ প্রচারের পেছনে আমাদের উদ্দেশ্য সুস্পষ্ট, আর তা হলো মানুষের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া; কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও, যদিও তা একটি আয়াত হয়..." হাদিসটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন। সম্ভবত যখন এটি তাদের কাছে পৌঁছাবে, তখন তারা এর বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে আশ্বস্ত হয়ে তা আঁকড়ে ধরবে। আর এর মধ্যেই রয়েছে উভয় জগতে তাদের সফলতা ও সৌভাগ্য। আর এতে ইনশাআল্লাহ আমাদের জন্য সওয়াব বৃদ্ধির আশা রয়েছে, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো উত্তম পদ্ধতি (সুন্নাত) চালু করবে, সে তার সওয়াব পাবে এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা সেই অনুযায়ী আমল করবে তাদের সওয়াবও সে পাবে।" তবে যে ব্যক্তি কোনো সংশয়ের (شبهة) কারণে এতে আশ্বস্ত হতে পারেনি[45]