(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুগনিয়াহ ফিস সুকূত ওয়া লুযূমিল বুয়ূত
(পৃষ্ঠা: -)
الرسالة المغنية في السكوت ولزوم البيوت (ابن البنا)
القسم: كتب السنة
الكتاب: الرسالة المغنية في السكوت ولزوم البيوت
المؤلف: الحسن بن أحمد بن عبد الله بن البَناَّ، أبو علي، البغدادي الحنبلي (ت 471هـ)
المحقق: عبد الله يوسف الجديع
الناشر: دار العاصمة - الرياض
الطبعة: الأولى، 1409
عدد الصفحات: 62
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মৌনতা অবলম্বন এবং ঘরে অবস্থানের বিষয়ে পর্যাপ্ত রিসালাহ (ইবনুল বান্না)
বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: মৌনতা অবলম্বন এবং ঘরে অবস্থানের বিষয়ে পর্যাপ্ত রিসালাহ
লেখক: আল-হাসান বিন আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-বান্না، আবু আলী، আল-বাগদাদী আল-হাম্বলী (মৃত্যু ৪৭১ হিজরি)
সম্পাদক: আব্দুল্লাহ ইউসুফ আল-জুদাঈ
প্রকাশক: দারুল আসিমাহ - রিয়াদ
সংস্করণ: প্রথম، ১৪০৯
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬২
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুগনিয়াহ ফিস সুকূত ওয়া লুযূমিল বুয়ূত
(পৃষ্ঠা: ১৯)
بسم الله الرحمن الرحيمأخبرنَا الشَّيْخ الإِمَام الْعَالم الْحَافِظ المتقن شرف الدّين أَبُو الْحُسَيْن عَليّ بن شَيخنَا الإِمَام أبي عبد الله مُحَمَّد بن أبي الْحُسَيْن بن عبد الله اليونيني بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِوالحافظ الْمُفِيد جمال الدّين أَبُو حَامِد مُحَمَّد بن عَليّ بن مَحْمُود المحمودي عرف بِابْن الصَّابُونِيوعماد الدّين أَبُو الْعَبَّاس أَحْمد بن مُحَمَّد بن سعد الْمَقْدِسِيوالإمامانتَقِيّ الدّين سُلَيْمَان بن حَمْزَة بن أَحْمد بن عمر بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّد بن قدامَةوفخر الدّين أَبُو مُحَمَّد عبد الرَّحْمَن بن يُوسُف بن مُحَمَّدوعفيف الدّين عَبَّاس بن عمر بن عَبْدَانِ البعليانقَالُواأخبرنَا أَبُو المنجا عبد الله بن عمر بن عَليّ بن عمر بن زيد الْمَعْرُوف بِابْن اللتي قدم علينا دمشق قِرَاءَة عَلَيْهِ فِي شَوَّال سنة ثَلَاث وَثَلَاثِينَ وستمئة
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ, ইমাম, আলিম, হাফিজ, অতি সূক্ষ্ম বিশারদ শরফুদ্দীন আবুল হুসাইন আলী ইবনে আমাদের শাইখ ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবু আল-হুসাইন ইবনে আব্দুল্লাহ আল-ইউনিনী—তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে—এবং হাফিজ ও মুফীদ (উপকারী আলিম) জামালুদ্দীন আবু হামিদ মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে মাহমুদ আল-মাহমুদী, যিনি ইবনুল সাবুনী নামে পরিচিত,এবং ইমাদুদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাদ আল-মাকদিসী,এবং ইমামদ্বয়—তকীউদ্দীন সুলাইমান ইবনে হামজাহ ইবনে আহমদ ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে কুদামা,এবং ফখরুদ্দীন আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান ইবনে ইউসুফ ইবনে মুহাম্মদ,এবং আফীফুদ্দীন আব্বাস ইবনে উমর ইবনে আবদান—উভয়ে বালবেকের নিবাসী।তাঁরা বলেন—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল মুনজা আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে আলী ইবনে উমর ইবনে যাইদ, যিনি ইবনুল লাত্তী নামে পরিচিত; তিনি যখন দামেস্কে আমাদের নিকট এসেছিলেন, তখন হিজরী ছয়শত তেত্রিশ সনের শাওয়াল মাসে তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে (এই সংবাদ প্রাপ্তি)।
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুগনিয়াহ ফিস সুকূত ওয়া লুযূমিল বুয়ূত
(পৃষ্ঠা: ২০)
قيل لَهُ أخْبركُم أَبُو الْفَتْح أَحْمد بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ اليعسوب قِرَاءَة عَلَيْهِ فِي شعْبَان سنة إِحْدَى وَخمسين وخمسمئةأخبرنَا أَبُو غَالب مُحَمَّد بن عبد الْوَاحِد بن الْحسن الْقَزاز فِي جُمَادَى الْآخِرَة سنة تسع وَثَمَانِينَ وأربعمئةأَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمد بن عبد الله بن الْبناء الْفَقِيه المقرىء قَالَالْحَمد لله رب الْعَالمين وَالْعَاقبَة لِلْمُتقين وَصلى الله على سيد الْمُرْسلين مُحَمَّد النَّبِي وَآله الطاهرينوَبعد أحسن الله عونك وتوفيك وصونك وتحقيقك فَإنَّك سَأَلت تَعْجِيل رِسَالَة تنفعك فِي أولاك وأخراك وَتجمع لَك سَلامَة دينك ودنياك فأتيتك بهَا مختصرة يسْتَدلّ بأبوابها على مَفْهُوم خطابها نفعنا الله وَإِيَّاك بهَا وَجَمِيع الْمُسلمين إِن شَاءَ الله تَعَالَى
তাঁকে বলা হলো, আবুল ফাতহ আহমাদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-ইয়াসুব আপনাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে, ৫৫১ হিজরির শাবান মাসে।আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু গালিব মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আল-হাসান আল-কাযযায, ৪৮৯ হিজরির জুমাদাল আখিরা মাসে।আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হাসান বিন আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-বান্না আল-ফকিহ আল-মুকরি, তিনি বলেছেন:সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর শুভ পরিণাম মুত্তাকিদের জন্য। আর আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক রাসূলগণের সরদার নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গের ওপর।অতঃপর, আল্লাহ আপনার সহায়তা, তাওফিক, সুরক্ষা এবং সত্যানুসন্ধানকে উত্তম করুন। আপনি এমন একটি পুস্তিকা দ্রুত প্রদানের অনুরোধ করেছেন যা আপনার ইহকাল ও পরকালে উপকারে আসবে এবং আপনার দ্বীন ও দুনিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তাই আমি আপনার কাছে এটি সংক্ষিপ্ত আকারে নিয়ে এসেছি, যার অধ্যায়গুলো এর বক্তব্য অনুধাবনের পথ নির্দেশ করবে। আল্লাহ তাআলা এর মাধ্যমে আমাদের, আপনাকে এবং সকল মুসলিমকে উপকৃত করুন, ইনশাআল্লাহ।
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুগনিয়াহ ফিস সুকূত ওয়া লুযূমিল বুয়ূত
(পৃষ্ঠা: ২১)
بَابُ نَجَاةِ الْإِنْسَانِ بِالصَّمْتِ وَحِفْظِ اللِّسَانِ 1 - حَدَّثَنَا أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي الْفَوَارِسِ الْحَافِظُ إِمْلَاءً أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ الصَّوَّافُ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بن أَحْمد ابْن حَنْبَلٍ حَدَّثَنِي أَبِي رضي الله عنه حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنِي ابْنُ لَهِيعَةَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَمْرٍو عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رضي الله عنهما قَالَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ صَمَتَ نَجَا
পরিচ্ছেদ: নীরবতা ও জিহ্বা হেফাজতের মাধ্যমে মানুষের মুক্তি ১ - আমাদের কাছে হাফেজ আবু আল-ফাতহ মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে আবিল ফাওয়ারিস ইমলা যোগে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনুল হাসান আস-সাউওয়াফ, তিনি বলেন, আমাদের কাছে আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে ইসহাক ইবনে ঈসা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার কাছে ইবনে লাহিয়াহ বর্ণনা করেছেন, তিনি ইয়াজিদ ইবনে আমর থেকে, তিনি আবু আবদুর রহমান আল-হুবুলি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি নীরব থাকল, সে মুক্তি পেল।"
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুগনিয়াহ ফিস সুকূত ওয়া লুযূমিল বুয়ূত
(পৃষ্ঠা: ২৩)
2 - حَدَّثَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ السُّكَّرِيُّ الْمُعَدَّلُ أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُقَالَ حَدَّثَنَا الرَّمَادِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلَيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ
২ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আল-হুসাইন আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বিশরান আস-সুক্কারী আল-মুআদ্দাল, তিনি বলেন: আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ আস-সাফফার।তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আর-রামাদী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক, আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন মা'মার, তিনি আয-যুহরী থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন উত্তম কথা বলে অথবা নীরব থাকে।"
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুগনিয়াহ ফিস সুকূত ওয়া লুযূমিল বুয়ূত
(পৃষ্ঠা: ২৪)
3 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ السُّكَّرِيُّ أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ قَالَ حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ الدُّورِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا أبوعاصم عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلَانَ عَنْ أَبْيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَسْكُتْ
৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আবদুল জাব্বার আস-সুক্কারি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাঈল ইবনে মুহাম্মদ আস-সাফফার, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আব্বাস আদ-দুরি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু আসিম, মুহাম্মদ ইবনে আজলান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা নীরব থাকে।"
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুগনিয়াহ ফিস সুকূত ওয়া লুযূমিল বুয়ূত
(পৃষ্ঠা: ২৫)
4 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَضْلِ عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ الْحَارِثِ التَّمِيمِي رحمه الله قَالَ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْفَقِيهُ النَّجَّادُ قَالَ حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو قَالَ حَدَّثَنَا زَائِدَةُ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ يَزِيدَ بن حَيَّان عَنْ عَنْبَسِ بْنِ عُقْبَةَ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ رضي الله عنه وَالَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ مَا عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ أَحْوَجُ إِلَى طُولِ سَجْنٍ مِنْ لِسَانٍ
৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফজল আব্দুল ওয়াহিদ ইবন আব্দুল আজিজ ইবনুল হারিস আত-তামিমী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন), তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবন সুলায়মান আল-ফকিহ আন-নাজ্জাদ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিশর ইবন মূসা, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুয়াবিয়া ইবন আমর, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যাইদাহ, তিনি আমাশ থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবন হাইয়ান থেকে, তিনি আনবাস ইবন উকবা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) বলেছেন: সেই সত্তার কসম, যিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, ভূপৃষ্ঠে জিহবার চেয়ে দীর্ঘ কারাবাসের অধিক মুখাপেক্ষী আর কিছু নেই।
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুগনিয়াহ ফিস সুকূত ওয়া লুযূমিল বুয়ূত
(পৃষ্ঠা: ২৭)
5 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ رزقويه الْبَزَّاز أخبرنَا إِسْمَاعِيل ابْن مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورٍ الرَّمَادِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمد الزبيرِي قَالَ حَدثنَا [عمروبن] عَبْدِ اللَّهِ النَّخَعِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَمْرٍو الشَّيْبَانِيُّ عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ رضي الله عنه قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنُؤَاخَذُ بِكُلِّ مَا نَتَكَلَّمُ بِهِ فَقَالَ ثَكِلَتْكَ أُمُّكَ ابْنَ جَبَلٍ وَهَلْ يَكُبُّ النَّاسَ عَلَى مَنَاخِرِهِمْ فِي جَهَنَّمَ إِلَّا حَصَائِدُ أَلْسِنَتِهِمْ
৫ - আবুল হাসান ইবন মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন রিযকাবাইহ আল-বাযযায আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইসমাঈল ইবন মুহাম্মদ আস-সাফফার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবন মানসুর আর-রামাদি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আহমদ আয-যুবাইরি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: [আমর ইবন] আবদুল্লাহ আন-নাখায়ি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আমর আশ-শাইবানি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি মুআয ইবনে জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা যা কিছু বলি তার সবকিছুর জন্যই কি আমাদের পাকড়াও করা হবে? তখন তিনি বললেন: হে ইবনে জাবাল! তোমার মা তোমাকে হারাক; মানুষের জিহ্বার উপার্জিত মন্দ কর্ম ছাড়া আর কোন জিনিস কি তাদেরকে তাদের নাকের ওপর ভর দিয়ে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত করবে?
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুগনিয়াহ ফিস সুকূত ওয়া লুযূমিল বুয়ূত
(পৃষ্ঠা: ২৮)
6 - أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ عَبْدُ الْغَفَّارِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ زَيْدٍ الْمُؤَدِّبُ أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيِّ بْنُ الصَّوَّافِ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ حَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ وَيُونُس ابْن عُبَيْدٍ وَحُمَيْدٍ عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه قَالَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ
৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহির আব্দুল গাফফার ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে যায়েদ আল-মুয়াদ্দিব, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী ইবনুল সাউয়াফ, তিনি বলেন, আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন হাসান ইবনে মুসা, আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, তিনি আলী ইবনে যায়েদ, ইউনুস ইবনে উবাইদ এবং হুমায়দ থেকে, তাঁরা আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে।
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুগনিয়াহ ফিস সুকূত ওয়া লুযূমিল বুয়ূত
(পৃষ্ঠা: ২৯)
7 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ السِّمْسَارُ الْحُرْفِيُّ أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَلْمَانَ النَّجَّادُ أَخْبَرَنَا هِلَالُ بْنُ الْعَلَاءِ قَالَ حَدثنَا عمر [و] بْنُ عُثْمَانَ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ أَعْيَنَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عُقَيْلٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنهما قَالَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ حَفِظَ مَا بَيْنَ فُقْمَيْهِ وَرِجْلَيْهِ دَخَلَ الْجَنَّةَ
৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আবদুর রহমান বিন উবায়দুল্লাহ আস-সিমসার আল-হারফি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন সালমান আন-নাজ্জাদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হিলাল বিন আল-আলা, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবন উসমান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসা বিন আয়ান, আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আকিল থেকে, তিনি জাবির বিন আবদুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "যে ব্যক্তি তার দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী স্থান এবং তার দুই পায়ের মধ্যবর্তী স্থানের হিফাযত করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুগনিয়াহ ফিস সুকূত ওয়া লুযূমিল বুয়ূত
(পৃষ্ঠা: ৩২)
8 - أَخْبَرَنَا أَبُو مَنْصُورٍ مُحَمَّدُ بْنُ رَامِشٍ قَدِمَ عَلَيْنَا الْحَجَّ أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ شَيْبَانَ الْمُعَدَّلُ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ قَالَ حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ قَالَ قَالَ اللَّيْثُ بن سعدمروا مردا بِرَاهِبٍ فَنَادَوْهُ فَلَمْ يُجِبْهُمْ ثُمَّ عَادُوا فَنَادَوْهُ فَلَمْ يُجِبْهُمْ فَقَالُوا لَهُ لِمَ لَا تُكَلِّمُنَا فَاطَّلَعَ عَلَيْهِمْ وَقَالَيَا هَؤُلَاءِ إِنَّ لِسَانِي سَبُعٌ وَإِنِّي أَخَافُ أَنْ أُرْسِلَهُ فَيَأْكُلَنِي9 - وَأَنْشَدُوْنَا فِي مَعْنَاهُاحْفَظْ لِسَانَكَ أَيُّهَا الْإِنْسَانُلَا يَقْتُلَنَّكَ إِنَّهُ ثُعْبَانُ … كَمْ فِي الْمَقَابِرِ مِنْ قَتِيلِ لِسَانُهُكَانَتْ تَهَابُ لِقَاءَهُ الْفُرْسَانُ10 - أَنْشَدَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ الْمُظَفَّرِ بْنِ بَدْرٍ الشَّافِعِيُّ الْبَنْدَنِيجِيُّ بِهَا أَنْشَدَنَا أَبُو النُّعْمَان عَبْدُ الْأَعْلَى بْنُ أُحْمَدَ النَّجْلِيُّ أَنْشَدَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ بِسْطَامٍ لِأَبِي نُوَاسٍخَلِّ جَنْبَيْكَ لِرَامٍوَامْضِ عَنْهُ بِسَلَامٍ …
8 - আমাদের জানিয়েছেন আবু মানসুর মুহাম্মদ বিন রামেশ, তিনি হজ্জ উপলক্ষে আমাদের নিকট আগমন করেছিলেন। আমাদের জানিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আল-হাসান বিন আহমাদ বিন শাইবান আল-মুআদ্দাল। আমাদের জানিয়েছেন মুহাম্মদ বিন ইসহাক, তিনি বলেছেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন কুতায়বাহ বিন সাঈদ, তিনি বলেন, লাইস বিন সা'দ বলেছেন—একদল যুবক এক সন্ন্যাসীর পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় তাকে ডাকল, কিন্তু সে তাদের কোনো উত্তর দিল না। তারপর তারা পুনরায় ফিরে এসে তাকে ডাকল, তবুও সে উত্তর দিল না। তখন তারা তাকে বলল, "আপনি কেন আমাদের সাথে কথা বলছেন না?" তখন সে তাদের দিকে তাকিয়ে বলল—"হে লোকসকল! নিশ্চয়ই আমার জিহ্বা হলো একটি হিংস্র প্রাণী। আমি আশঙ্কা করি যে, যদি আমি একে ছেড়ে দিই, তবে এটি আমাকেই খেয়ে ফেলবে।"9 - আর আমাদের সামনে এই অর্থেই কবিতা আবৃত্তি করা হয়েছে—হে মানুষ! তুমি তোমার জিহ্বা হিফাজত করো,তা যেন তোমাকে হত্যা না করে, নিশ্চয়ই এটি একটি বিষধর সাপ … কবরে স্বীয় জিহ্বার কারণে নিহত এমন কত ব্যক্তি রয়েছে—যাদের সাথে মোকাবিলা করতে বীর যোদ্ধারাও ভয় পেত।10 - আমাদের নিকট কবিতা আবৃত্তি করেছেন আবুল হাসান আলী বিন আল-মুজাফফর বিন বদর আশ-শাফিয়ী আল-বানদানিজি। সেখানে আমাদের শুনিয়েছেন আবু নুমান আব্দুল আ'লা বিন আহমাদ আন-নাজলি। তিনি শুনিয়েছেন আল-হুসাইন বিন আহমাদ বিন বিসতাম, আবু নুয়াসের এই কবিতাটি—তীরন্দাজের লক্ষ্য থেকে নিজের পার্শ্বদেশ সরিয়ে নাও,এবং তার নিকট থেকে নিরাপদে প্রস্থান করো …
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুগনিয়াহ ফিস সুকূত ওয়া লুযূমিল বুয়ূত
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
.مُتْ بِدَاءِ الصَّمْتِ خَيْرٌلَكَ مِنْ دَاءِ الْكَلَامِ … رُبَّمَا اسْتُفْتِحَ بالقول مَغَالِيقُ الْحِمَامِ … رُبَّ قَوْلٍ سَاقَ آجال قِيَامٍ وَفِئَامِ … إِنَّمَا السَّالِمُ مَنْ ألجم فَاهُ بِلِجَامٍ11 - وَأَنْشَدَنَا أَيْضًاأَنْتَ مِنَ الصَّمْتِ آمِنُ الزَّلَلِوَمِنْ كَثِيرِ الْكَلَامِ فِي وَجَلِ … لَا تَقُلِ الْقَوْلَ ثُمَّ تُتْبِعُهُيَا لَيْتَ مَا كُنْتُ قُلْتُ لَمْ أَقُلِ12 - وَأَنْشَدَنَا أَيْضًااسْتُرِ الْعِيَّ مَا اسْتَطَعْتَ بِصَمْتٍإِنَّ فِي الصَّمْتِ رَاحَةً لِلصَّمُوتِ … وَاجْعَلِ الصَّمْتِ إِنْ عَيِيتَ جَوَابًارُبَّ قَوْلٍ جَوَابُهُ فِي السُّكُوتِ13 - وَقَالَتِ الْحُكَمَاءُ مَثَلُ الْكَلِمَةِ كَالسَّهْمِ لَا يُمْكِنُ رَدُّهُ وِإِنَّمَا جُعِلَ لِلْإِنَسَانِ لِسَانٌ وَاحِدٌ وَأُذُنَانِ حَتَّى يَكُونَ مَا يَسْمَعُ أَكْثَرَ مِمَّا يَتَكَلَّمُ وَهُوَ عَلَى رَدِّ مَا لَمْ يَقُلْ أَقْدَرُ مِنْهُ عَلَى رَدِّ مَا قَدْ قَالَ
নিরবতার ব্যাধিতে মৃত্যু হওয়া তোমার জন্য কথা বলার ব্যাধি অপেক্ষা উত্তম … কত কথাই তো মৃত্যুর রুদ্ধদ্বার উন্মোচন করে দেয় … কত কথা অনেক ব্যক্তি ও দলের ধ্বংস ডেকে আনে … প্রকৃত নিরাপদ সেই ব্যক্তিই, যে তার মুখে লাগাম টেনে ধরেছে।১১ - তিনি আমাদের আরও পাঠ করে শোনালেনতুমি নিরবতার মাধ্যমে স্খলন থেকে নিরাপদ থাকবে,আর অধিক কথা বলার কারণে সর্বদা শঙ্কিত থাকতে হয় … তুমি এমন কোনো কথা বলো না, যার পিছে তোমাকে বলতে হয়—হায়! আমি যা বলেছি, তা যদি না বলতাম!১২ - তিনি আমাদের আরও পাঠ করে শোনালেনতোমার অক্ষমতাকে যথাসম্ভব নিরবতার মাধ্যমে গোপন রাখো,নিশ্চয়ই নিরব ব্যক্তির জন্য নিরবতার মাঝে রয়েছে প্রশান্তি … তুমি যদি উত্তর দিতে অক্ষম হও তবে নিরবতাকেই উত্তর বানিয়ে নাও,কেননা অনেক কথা এমন আছে যার উত্তর নিরবতার মাঝেই নিহিত।১৩ - প্রাজ্ঞ ব্যক্তিগণ বলেছেন: শব্দের উদাহরণ তীরের মতো যা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। মানুষকে কেবল একটি জিহ্বা এবং দুটি কান দেওয়া হয়েছে যেন তার শ্রবণ করার পরিমাণ কথা বলার চেয়ে অধিক হয়। মানুষ যা বলেনি তা রুখতে যতটা সক্ষম, যা সে বলে ফেলেছে তা ফিরিয়ে নিতে সে ততটা সক্ষম নয়।
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুগনিয়াহ ফিস সুকূত ওয়া লুযূমিল বুয়ূত
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
14 - وَأَنْشَدَنَا أَيْضًايَمُوتُ الْفَتَى مِنْ عَثْرَةٍ بِلِسَانِهِوَلَيْسَ يَمُوتُ الْمَرْءُ مِنْ عَثْرَةِ الرِّجْلِ … فَعَثْرَتُهُ مِنْ فِيهِ تُذْهِبُ نَفْسَهُوَعَثْرَتُهُ بِالرِّجْلِ تَبْرَى عَلَى مَهْلِ
১৪ - তিনি আমাদের আরও আবৃত্তি করে শুনিয়েছেনযুবক তার জিহ্বার স্খলনের কারণে মৃত্যুবরণ করেকিন্তু পায়ের স্খলনের কারণে মানুষ মারা যায় না ... কেননা তার মুখের স্খলন তার প্রাণ কেড়ে নেয়অথচ পায়ের স্খলন ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে যায়
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুগনিয়াহ ফিস সুকূত ওয়া লুযূমিল বুয়ূত
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
بَابُ السُّكُوتِ وَلُزُومِ الْبُيُوتِ 15 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ دَاوُدَ الرَّزَّازُ أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ الشَّافِعِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ زُهَيْرٍ الضَّبِّيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَيُّوبَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ زَحْرٍ عَنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ قَالَ عُقْبَةُ بْنُ عَامِرٍ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا النَّجَاةُ قَالَ امْلِكْ عَلَيْكَ لِسَانَكَ وَلْيَسَعْكَ بَيْتُكَ وَابْكِ عَلَى خَطِيئَتِكَ
চুপ থাকা এবং ঘরে অবস্থানের অধ্যায় ১৫ - আবু হাসান আলী ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে দাউদ আল-রাযযায আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর আল-শাফিঈ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, দাউদ ইবনে আমর ইবনে জুহাইর আল-দাব্বী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে যাহর থেকে, তিনি কাসিম থেকে, তিনি আবু উমামাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, উকবাহ ইবনে আমির বলেছেন, আমি বললাম, "হে আল্লাহর রাসূল, মুক্তি কিসে?" তিনি বললেন, "তুমি তোমার জিহ্বা নিয়ন্ত্রণ করো, তোমার ঘর যেন তোমার জন্য যথেষ্ট হয় এবং নিজের পাপের জন্য রোদন করো।"
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুগনিয়াহ ফিস সুকূত ওয়া লুযূমিল বুয়ূত
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
16 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ شَاذَانَ أَخْبَرَنَا أَبُو عَمْرٍو عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ السَّمَّاكِ حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْخَيَّاطُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ يَزِيدَ الصَّائِغُ قَالَ سَمِعْتُ الْفُضَيْلَ بْنَ عِيَاضٍ يَقُولُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ عَلَيْكُمْ بِالصَّوَامِعِ قُلْنَا وَمَا الصَّوَامِعُ قَالَ الْبُيُوتُ فَإِنَّهُ لَيْسَ يَنْجُو مِنْ شَرِّ ذَلِكَ الزَّمَانِ إِلَّا صَفْوَتُهُ مِنْ خَلْقِهِ17 - وَكَانَ يَقُولُ لَيْسَ هَذَا زَمَانَ الْكَلَام هَذَا زمَان السُّكُوت وَلزِمَ الْبُيُوتِ
16 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হাসান বিন আহমাদ বিন ইবরাহীম বিন শাযান, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর উসমান বিন আহমাদ ইবনাস সাম্মাক, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর বিন মুহাম্মদ আল-খাইয়্যাত, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুস সামাদ বিন ইয়াযিদ আস-সাঈগ, তিনি বলেন: আমি ফুযাইল বিন ইয়াযকে বলতে শুনেছি, শেষ জামানায় তোমরা নিভৃতবাসসমূহকে (সাওয়ামি) আঁকড়ে ধরো। আমরা বললাম, নিভৃতবাসসমূহ কী? তিনি বললেন: ঘরসমূহ। কেননা সেই সময়ের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর সৃষ্টির মধ্য হতে কেবল মনোনীতরাই মুক্তি পাবে।17 - এবং তিনি বলতেন, এটি কথা বলার সময় নয়, এটি হলো নীরবতা পালনের এবং ঘরে অবস্থান করার সময়।
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুগনিয়াহ ফিস সুকূত ওয়া লুযূমিল বুয়ূত
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
18 - وَقَالَ أَيْضًا لِيَكُنْ شُغْلُكَ فِي نَفْسِكَ وَلَا يَكُنْ شُغْلُكَ فِي غَيْرِكَ فَمَنْ كَانَ شُغْلُهُ فِي غَيْرِهِ فَقَدْ مُكِرَ بِهِ19 - أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمُعَدَّلُ أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ إِسْحَاقُ بْنُ أَحْمَدَ الْكَاذِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ حَدَّثَنِي أَبِي حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ حدثن سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْأَغَرِّ عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ قَالَ فِي حِكْمَةِ آلِ دَاوُدَ حَقٌّ عَلَى الْعَاقِلِ أَنْ تَكُونَ لَهُ أَرْبَعُ سَاعَاتٍ سَاعَةٌ يُحَاسِبُ فِيهَا نَفْسَهُ وَسَاعَةٌ يُنَاجِي فِيهَا رَبَّهُ وَسَاعَةٌ يَخْلُو فِيهَا إِلَى إِخْوَانِهِ الَّذِينَ يُخْبِرُونَهُ بِعِيوبِ نَفْسِهِ وَسَاعَةٌ يُخْلِي بَيْنَ نَفْسِهِ وَبَيْنَ شَهَوَاتِهَا الَّتِي لَا قِوَامَ لَهُ إِلَّا بِهَا مِمَّا يَحِلُّ وَيَحْسُنُ فَإِنَّ فِي هَذِهِ السَّاعَةِ عَوْنًا لَهُ عَلَى السَّاعَاتِ الْأُخَرِ وَحَقٌّ عَلَى الْعَاقِلِ أَنْ يَكُونَ عَارِفًا بِزَمَانِهِ حَافِظًا لِلِسَانِهِ مُقْبِلًا عَلَى شَانِهِ وَحَقٌّ عَلَى الْعَاقِلِ أَنْ لَا يُرَى ظَاعِنًا إِلَّا فِي ثَلَاثٍ زَادٍ لِمِعَادٍ أَوْ مَرَمَّةٍ لِمَعَاشٍ أَوْ لَذَّةٍ فِي غَيْرِ مُحَرَّمٍ
১৮ - তিনি আরও বলেন: তোমার ব্যস্ততা যেন নিজের সংশোধনেই হয়, অন্যের বিষয়ে যেন না হয়। কারণ যে ব্যক্তি অন্যের (ত্রুটি অন্বেষণে) মগ্ন থাকে, প্রকৃতপক্ষে তার সাথে কৌশল (মকর) করা হয়েছে।১৯ - আলী ইবন মুহাম্মাদ আল-মুআদ্দাল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-হুসাইন ইসহাক ইবন আহমাদ আল-কাযী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবন আহমাদ ইবন হাম্বল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহমান ইবন মাহদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আস-সাওরী আবু আবদুল্লাহ আল-আগার থেকে, তিনি ওহাব ইবন মুনাব্বিহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: দাউদ আলাইহিস সালামের বংশধরদের হিকমতের (প্রজ্ঞার) অন্তর্ভুক্ত হলো যে, একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য চারটি সময় থাকা আবশ্যক: একটি সময় যেখানে সে নিজের আত্মার হিসাব নেবে, একটি সময় যেখানে সে তার রবের সাথে নির্জনে কথা (মুনাজাত) বলবে, একটি সময় যেখানে সে তার এমন ভাইদের সাথে একান্তে মিলিত হবে যারা তাকে তার নিজের দোষ-ত্রুটিগুলো সম্পর্কে অবহিত করবে এবং একটি সময় যেখানে সে নিজের প্রবৃত্তি ও ঐসব বৈধ ও সুন্দর স্বাদ গ্রহণের মাঝে অবকাশ দেবে যা ব্যতীত জীবন অতিবাহিত করা সম্ভব নয়; কেননা এই সময়টি তাকে অন্যান্য সময়ের কাজগুলো সম্পাদন করতে সাহায্য করবে। আর বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য উচিত নিজ জামানা সম্পর্কে সচেতন থাকা, স্বীয় জিহ্বা সংবরণ করা এবং নিজ কাজে মনোযোগী হওয়া। এছাড়া বুদ্ধিমান ব্যক্তিকে তিনটি বিষয় ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সচেষ্ট দেখা যাবে না: পরকালের পাথেয় সংগ্রহ, জীবন নির্বাহের সংশোধন অথবা হারাম নয় এমন কোনো বিষয়ে আনন্দ উপভোগ করা।
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুগনিয়াহ ফিস সুকূত ওয়া লুযূমিল বুয়ূত
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
20 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَوَارِسِ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي الْفَوَارِسِ أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيِّ ابْنُ الصَّوَّافِ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ حَدَّثَنِي أَبِي حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ الْحِمْصِيُّ حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ عَمْرٍو حَدَّثَنِي قَيْسُ بْنُ عَمْرٍو السَّكُونِيُّ حَدَّثَنِي عَاصِمُ بْنُ حُمَيْدٍ قَالَ سَمِعْتُ مُعَاذًا يَقُولُ إِنَّكُمْ لَنْ تَرَوْا مِنَ الدُّنْيَا إِلَّا بَلَاءً وَفِتْنَةً وَلَنْ يَزْدَادَ الْأَمْرُ إِلَّا شِدَّةً وَلَنْ تَرَوْا مِنَ الْأُمَرَاء إِلَّا غلطة وَلَنْ تَرَوْا أَمْرًا يَهُولُكُمْ وَيَشْتَدُّ عَلَيْكُمْ إِلَّا حَقَرَهُ بَعْدُ مَا [هُوَ] أَشَدُّ مِنْهُ قَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ رضي الله عنه اللَّهُمَّ رَضِّنَا مَرَّتَيْنِ
২০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাওয়ারিস আল-হাসান ইবন আহমাদ ইবন আবিল ফাওয়ারিস, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী ইবন আস-সাওয়াফ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবন আহমাদ ইবন হাম্বল, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-মুগীরা আল-হিমসী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাফওয়ান ইবন আমর, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন কায়স ইবন আমর আস-সাকুনী, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আসিম ইবন হুমাইদ, তিনি বলেন: আমি মুয়াজকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছেন: নিশ্চয়ই তোমরা দুনিয়াতে পরীক্ষা ও ফিতনা ছাড়া আর কিছুই দেখবে না, এবং পরিস্থিতি কেবল কঠোর হতেই থাকবে। তোমরা শাসকদের থেকে কঠোরতা ছাড়া আর কিছুই দেখবে না। আর তোমরা এমন কোনো বিষয় দেখবে না যা তোমাদের আতঙ্কিত করে এবং তোমাদের ওপর কঠিন হয়ে দাঁড়ায়, তবে তার পরবর্তী বিষয়টি তাকে তুচ্ছ করে দেবে যা তার চেয়েও অধিক কঠিন হবে। আহমাদ ইবন হাম্বল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: হে আল্লাহ, আমাদের সন্তুষ্ট রাখুন—একথাটি তিনি দুইবার বললেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুগনিয়াহ ফিস সুকূত ওয়া লুযূমিল বুয়ূত
(পৃষ্ঠা: ৪০)
21 - وَأَنْشَدَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ عليه السلام فِي مَعْنَى هَذَا الْحَدِيثِعَجَبًا لِلزَّمَانِ فِي حَالَتَيْهِوَلِأَمْرٍ دُفِعْتُ مِنْهُ إِلَيْهِ … رُبَّ يَوْمٍ بَكَيْتُ مِنْهُ فَلَمَّاصِرْتُ فِي غَيْرِهِ بَكَيْتُ عَلَيْهِ22 - وَأَنْشَدَ أَيْضا بعض أهل الْعلم مَعْنَاهُإِذَا مَا الدَّهْرُ أَوْرَثَنِي انْتِقَاصًاحَنَوْتُ لَهُ غِمَاصًا لَا انْتِكَاصًا … وَقُلْتُ لَهُ نَعِمْنَا فِيكَ حِينًاوَهَذَا الْفِعْلُ مِنْكَ لَنَا قِصَاصًا … فَطَوْرًا شَاكِرًا مَا كَانَ مِنْهُوَطَوْرًا صَابِرًا أَرْجُو الْخَلَاصَا23 - وَاجْتَمَعَ أَرْبَعَةٌ مِنَ الْعُبَّادِ فَقَالَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ لِيَقُلْ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْكُمْ فِي زَمَنِهِ شَيْئًا فَأَنْشَأَ الأول يَقُولُإِنْ دَامَ ذَا الدَّهْرُ لَمْ يَحْزَنْ عَلَى أَحَدٍ …مِمَّنْ يَمُوتُ وَلَمْ يُفْرَحْ بِمَوْلُودِ …
21 - এবং আলি ইবন আবি তালিব (আলাইহিস সালাম) এই হাদিসের মর্মার্থে আবৃত্তি করেছেন:বিস্ময়কর এই জামানা তার উভয় অবস্থায়,এবং সেই বিষয়ের জন্য যা থেকে আমাকে তার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে … কত দিন এমন গিয়েছে যখন আমি তার কষ্টে কেঁদেছি, কিন্তু যখনআমি অন্য দিনে উপনীত হলাম, তখন আগের সেই দিনটির জন্যই বিলাপ করলাম।22 - জনৈক আলেমও এর মর্মার্থে আবৃত্তি করেছেন:যখনই কাল আমাকে কোনো সংকীর্ণতার সম্মুখীন করেছে,আমি তার প্রতি ধৈর্যভরে ঝুঁকেছি, পিছু হটে যাইনি … এবং আমি তাকে বলেছি: আমরা তোমার মাঝে একদা নিআমতে ছিলাম,আর তোমার এই আচরণ আমাদের প্রতি তোমার পক্ষ থেকে প্রতিশোধ স্বরূপ … ফলে কখনো আমি তার ফয়সালায় কৃতজ্ঞ হই,আবার কখনো মুক্তির আশায় ধৈর্য ধারণ করি।23 - চারজন ইবাদতকারী একত্রিত হলেন এবং একে অপরকে বললেন, তোমাদের প্রত্যেকে নিজ নিজ কাল সম্পর্কে কিছু বলো। তখন প্রথমজন আবৃত্তি করতে শুরু করলেন:যদি এই কাল চিরস্থায়ী হয়, তবে কেউ কারো জন্য শোকার্ত হবে না …যারা মৃত্যুবরণ করে তাদের জন্য, আর নবজাতকের জন্মেও কেউ আনন্দিত হবে না …
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুগনিয়াহ ফিস সুকূত ওয়া লুযূমিল বুয়ূত
(পৃষ্ঠা: ৪১)
وَأَنْشَأَ الثَّانِي يَقُولُهَذَا الزَّمَانُ الَّذِي كُنَّا نُحَذَّرُهُ …فِي قَوْلِ كَعْبٍ وَفِي قَوْلِ ابْنِ مَسْعُودِ … وَأَنْشَأَ الثَّالِثُ يَقُولُأَعْمَى أَصَمُّ مِنَ الْأَزْمَانِ مُلْتَبِسٌ …وَفِيهِ لِلنَّفْسِ تَصْويبٌ [بِتَصْعِيدِ] … وَأَنْشَأَ الرَّابِعُ يَقُولُفَاطْلُبْ لِنَفْسِكَ مَنْجَاةً وَمُدَّخَلًا …لَا بُدَّ مِنْهُ وَلَوْ فِي قَعْرِ مَلْحُودِ …24 - وَقَالَ بَعْضُ الْحُكَمَاءِ الزَّمَانُ لَا عَيْبَ لَهُ وَلَا ذَمَّ لِأَنَّ اللَّهُ تَعَالَى يُصَرِّفُ أَقْدَارَهُ فِيهِ25 - وَأَنْشَدَنَعِيبُ زَمَانَنَا وَالْعَيْبِ فِينَاوَمَا لِزَمَانِنَا عَيْبٌ سِوَانَا … وَقَدْ نَهْجُو الزَّمَانَ بِغَيْرِ جُرْمٍوَلَوْ نَطَقَ الزَّمَانُ بِهِ هَجَانَا … دِيَانَتُنَا التَّخَادُعُ وَالتَّرَائِيفَنْحَنُ لَهُ نُخَادِعُ مَنْ يَرَانَا26 - وَأَنْشَدَ أَيْضًاأَرَى حُلَلًا تُصَانُ عَلَى رِجَالٍوَأَعْرَاضًا تُذَلُّ فَلَا تُصَانُ … يَقُولُونَ الزَّمَانُ بِهِ فَسَادٌوَهُمْ فَسَدُوا وَمَا فَسَدَ الزَّمَانُ
আর দ্বিতীয়জন বলতে শুরু করলেনএই সেই কাল যা থেকে আমাদের সতর্ক করা হতো …কা'ব এবং ইবনে মাসউদের উক্তিতে … আর তৃতীয়জন বলতে শুরু করলেনকালসমূহের মধ্যে এক অন্ধ ও বধির কাল, যা অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর …আর তাতে প্রাণের জন্য রয়েছে আক্ষেপ [দীর্ঘশ্বাসের সাথে] … আর চতুর্থজন বলতে শুরু করলেনসুতরাং নিজের জন্য মুক্তির পথ ও আশ্রয়ের সন্ধান করো …তা অনিবার্য, যদিও তা কবরের তলদেশে হয় …২৪ - জনৈক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি বলেছেন, কালের কোনো দোষ নেই এবং তা নিন্দনীয় নয়; কারণ আল্লাহ তাআলা এতে তাঁর তাকদীরসমূহ পরিচালনা করেন।২৫ - তিনি আবৃত্তি করলেনআমরা আমাদের কালের দোষ খুঁজি, অথচ দোষ আমাদের মধ্যেই নিহিতআমাদের কাল ছাড়া আমাদের আর কোনো দোষ নেই … আমরা কোনো অপরাধ ছাড়াই কালকে গালি দিইকাল যদি কথা বলতে পারত, তবে সে আমাদেরই গালি দিত … আমাদের ধর্মপরায়ণতা হলো পরস্পরকে প্রতারণা করা ও লোকদেখানোসুতরাং আমাদের যে দেখে আমরা তাকেই প্রতারিত করি২৬ - তিনি আরো আবৃত্তি করলেনআমি এমন পোশাক দেখছি যা পুরুষদের শরীরে সংরক্ষিত হচ্ছেঅথচ সম্মান লাঞ্ছিত হচ্ছে, যা রক্ষা করা হচ্ছে না … তারা বলে কালে বিপর্যয় রয়েছেঅথচ তারাই বিপর্যস্ত হয়েছে, কাল বিপর্যস্ত হয়নি।
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুগনিয়াহ ফিস সুকূত ওয়া লুযূমিল বুয়ূত
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
بَابُ مَا يَجِبُ عِنْدَ ظُهُورِ الْفِتَنُ مِنْ طَلَبِ السَّلَامَةِ وَلُزُومِ الْوَطَنِ 27 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدِ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْخَلَّالُ الْحَافِظُ رحمه الله أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ شَاهِينَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْبَغَوِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ ابْن عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي الشَّوَارِبِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنِ زِيَادٍ حَدَّثَنَا عَاصِمٌ عَنْ أَبِي كَبْشَةَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا مُوسَى الْأَشْعَرِيَّ رضي الله عنه يَقُولُ عَلَى الْمِنْبَرِقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ بَيْنَ أَيْدِيكُم فتنا تقطع اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ يُصْبِحُ الرَّجُلُ فِيهَا مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافُرًا وَيُمْسِي مُؤْمِنًا وَيُصْبِحُ كَافِرًا الْقَاعِدُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ الْقَائِمِ وَالْقَائِمُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ الْمَاشِي وَالْمَاشِي فِيهَا خَيْرٌ مِنَ السَّاعِي
ফিতনা প্রকাশের সময় নিরাপত্তা অন্বেষণ এবং নিজ বাসস্থানে অবস্থান করা ওয়াজিব হওয়ার অধ্যায় ২৭ - হাফিয আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ আল-খল্লাল (রহিমাহুল্লাহ) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনে আহমাদ ইবনে শাহীন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-বাগাওয়ী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে আবিল শাওয়ারিব আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে যিয়াদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আসিম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু কাবশাহ থেকে, তিনি বলেন: আমি আবু মুসা আল-আশআরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে মিম্বারের উপর বলতে শুনেছি:রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের সামনে অন্ধকার রাতের টুকরোর ন্যায় ফিতনা রয়েছে। তাতে মানুষ সকালে মুমিন থাকবে এবং সন্ধ্যায় কাফির হয়ে যাবে, আবার সন্ধ্যায় মুমিন থাকবে এবং সকালে কাফির হয়ে যাবে। সেই ফিতনার সময় উপবিষ্ট ব্যক্তি দণ্ডায়মান ব্যক্তির চেয়ে উত্তম, দণ্ডায়মান ব্যক্তি হেঁটে চলা ব্যক্তির চেয়ে উত্তম এবং হেঁটে চলা ব্যক্তি দ্রুত ধাবমান ব্যক্তির চেয়ে উত্তম।"
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুগনিয়াহ ফিস সুকূত ওয়া লুযূমিল বুয়ূত
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
قَالُوا فَمَا تَأْمُرُنَاقَالَ كُونُوا أَحْلَاسَ بُيُوتِكُمْ
তারা বললেন, তবে আপনি আমাদের কী নির্দেশ দিচ্ছেন?তিনি বললেন, তোমরা তোমাদের ঘরের অবিচ্ছেদ্য আসবাব হয়ে থাকো।
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুগনিয়াহ ফিস সুকূত ওয়া লুযূমিল বুয়ূত
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
28 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بِشْرَانَ الْوَاعِظُ الزَّاهِدُ أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْآجُرِيُّ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى الْحُلْوَانِيُّ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَكُونُ فِتْنَةٌ الْقَاعِدُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ الْمَاشِي وَالْمَاشِي فِيهَا خَيْرٌ مِنَ السَّاعِي مَنْ يَسْتَشْرِفْ لَهَا تَسْتَشْرِفْ لَهُ وَمَنْ وَجَدَ مِنْهَا مَلْجَأً أَوْ مَعَاذًا فَلْيَعُذْ بِهِ
২৮ - আবুল কাসিম আব্দুল মালিক বিন মুহাম্মাদ বিন বিশরান আল-ওয়াইজ আল-যাহিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন আল-আজুররী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ বিন ইয়াহইয়া আল-হুলওয়ানি আমাদের বর্ণনা করেছেন, সাঈদ বিন সুলায়মান ইবরাহিম বিন সা’দ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: অচিরেই এমন ফিতনা প্রকাশ পাবে যাতে উপবিষ্ট ব্যক্তি পদচারণাকারীর চেয়ে উত্তম হবে এবং পদচারণাকারী ব্যক্তি ধাবমান ব্যক্তির চেয়ে উত্তম হবে। যে ব্যক্তি এর দিকে উঁকি দেবে, ফিতনা তাকে গ্রাস করবে। আর যে ব্যক্তি তা থেকে কোনো আশ্রয়স্থল বা শরণস্থল খুঁজে পাবে, সে যেন সেখানে আশ্রয় গ্রহণ করে।
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুগনিয়াহ ফিস সুকূত ওয়া লুযূমিল বুয়ূত
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
29 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ رِزْقَوَيْهِ أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورٍ الرَّمَادِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَلَمَّا وَقَعَتْ فِتْنَةُ عُثْمَانَ رضي الله عنه قَالَ رَجُلٌ مِنَ الْعَرَبِ لِأَهْلِهِ إِنِّي قد جننت فقيدوني فَلَمَّا زَالَتِ الْفِتْنَةُ قَالَ لَهُمْ حُلُّوا قَيْدِي الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي عَافَانِي مِنَ الْجُنُونِ وَعَافَانِي مِنْ فِتْنَةِ عُثْمَانَ30 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ الْبَزَّازُ أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْهَرَوِيُّ أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ السَّمَرْقَنْدِيُّ قَالَ سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ مُعَاذٍ الرَّازِيَّ يَقُولُإِلَهِي أَدْعُوكَ بِلِسَانِ نِعَمِكَ فَأَجِبْنِي بِلِسَانِ كَرَمِكَ إِلَهِي إِذَا شَهِدَ لِيَ الْإِيمَانُ بِتَوْحِيدِكَ وَنَطَقَ لِسَانِي بِتَحْمِيدِكَ وَدَلَّنِي الْقُرْآنُ عَلَى فَوَاضِلِ جُودِكَ وَيَشْفَعُ لِي مُحَمَّدٌ خَيْرُ عَبِيدِكَ فَكَيْفَ لَا يَبْتَهِجُ رَجَائِي بِحُسْنِ مَوْعُودِكَ31 - وَكَانَ يَحْيَى كَثِيرًا يَطْلُبُ الْخُلْوَةَ وَالتَّفَرُّدَ مِنَ النَّاسِ فَدَخَلَ عَلَيْهِ أَخُوهُ ذَاتَ يَوْمٍ فَقَالَ لَهُ يَا أَخِي كَمْ تَتَرُكُ مِنَ النَّاسِ إِنْ كُنْتَ مِنَ النَّاسِ فَلَا بُدَّ مِنَ النَّاسِ
২৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন রিজকোয়াইহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল বিন মুহাম্মাদ আস-সাফফার, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন মানসুর আর-রামাদি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা'মার, ইবনে তাউস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:যখন উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ফিতনা সংঘটিত হলো, তখন আরবদের জনৈক ব্যক্তি তার পরিবারকে বলল, "নিশ্চয়ই আমি পাগল হয়ে গিয়েছি, অতএব তোমরা আমাকে বেঁধে রাখো।" অতঃপর যখন ফিতনা দূরীভূত হলো, তখন সে তাদের বলল, "আমার বাঁধন খুলে দাও। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাকে পাগলামি থেকে সুস্থতা দান করেছেন এবং উসমানের ফিতনা থেকে আমাকে রক্ষা করেছেন।"৩০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মাদ বিন উমর আল-বাযযায, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হারাওয়ী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ আস-সামারকান্দী, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া বিন মুয়ায আর-রাযীকে বলতে শুনেছি:হে আমার ইলাহ! আমি আপনার নিকট আপনারই নেয়ামতের ভাষায় প্রার্থনা করছি, অতএব আপনি আপনার মহানুভবতার ভাষায় আমাকে উত্তর দিন। হে আমার ইলাহ! যখন ঈমান আপনার একত্বের সাক্ষ্য দেয়, আমার জিহবা আপনার প্রশংসায় মুখরিত হয়, কুরআন আমাকে আপনার দানশীলতার আধিক্যের পথপ্রদর্শন করে এবং আপনার সর্বোত্তম বান্দা মুহাম্মাদ আমার জন্য সুপারিশ করেন, তবে আপনার সুন্দর প্রতিশ্রুতির কারণে আমার আশা কেন আনন্দিত হবে না?৩১ - আর ইয়াহইয়া মানুষের নিকট থেকে অনেক বেশি নির্জনতা ও একাকীত্ব তালাশ করতেন। একদিন তাঁর ভাই তাঁর নিকট প্রবেশ করে তাঁকে বললেন, "হে আমার ভাই! আপনি কতক্ষণ মানুষকে বর্জন করে থাকবেন? আপনি যদি মানুষেরই অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকেন, তবে মানুষের সঙ্গ ছাড়া আপনার উপায় নেই।"
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুগনিয়াহ ফিস সুকূত ওয়া লুযূমিল বুয়ূত
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
قَالَ فَنَظَرَ إِلَيْهِ يَحْيَى ثُمَّ قَالَ إِنْ كُنْتُ مِنَ النَّاسِ فَلَا بُدَّ مِنَ اللَّهِ ثُمَّ أَنْشَأَ يَحْيَى يَقُولُدَعُوا بِاللَّهِ تَعْذَالِيفَمَا أَنْ تَفْهَمُوا حَالِي … دَعُونِي وَاخْرُجُوا عَنِّيرِجَالَ الْقِيلِ وَالْقَالِ … فَيَا شَوْقِي إِلَى شَخْصٍإِلَى الرَّحْمَنِ مَيَّالِ … وَفِي سِرٍّ من الْأسرار حَطَّاطٍ وَرَحَّالِ32 - وَأَنْشَدَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِمَنْ حَمِدَ النَّاسَ وَلَمْ يَبْلُهُمْثُمَّ بَلَاهُمْ ذَمَّ مَنْ يَحْمَدُ … وَصَارَ بِالْوَحْدَةِ مُسْتَأْنِسًايُوحِشُهُ الْأَقْرَبُ وَالْأَبْعَدُ33 - وَأَنْشَدَ الْحُسَيْنُ بن عبد الرَّحْمَنطب من الْأُمَّةِ نَفْسًاوَارْضَ بِالْوَحْدَةِ أُنْسًا … مَا رَأَيْنَا أَحَدًا يَسْوَىعَلَى الْخِبْرَةِ فَلْسًا34 - وَأَنْشَدَ أَبُو بَكْرِ بْنُ مُسْلِمٍتَوَحَّشْ مِنَ الْإِخْوَانِ لَا تَبْغِ مُؤْنِسًاوَلَا تَتَّخِذْ خِلًّا وَلَا تَبْغِ صَاحِبًا … وَكُنْ سَامِرِيَّ الْفِعْلِ مِنْ نَسْلِ آدَمٍوَكن أَو حديا مَا حَيِيتَ مُجَانِبًا … فَقَدْ فَسَدَ الْإِخْوَانُ وَالْحُبُّ وَالْهَوَىفَلَسْتَ تَرَى إِلَّا صَدُوقًا وَكَاذِبًا … فَوَاللَّهِ لَوْلَا أَنْ يُقَالَ مُدَهْدَهٌوَتُنْكَرُ أَحْوَالِي لَقَدْ صِرْتُ رَاهِبًا
তিনি বললেন, ইয়াহইয়া তাঁর দিকে তাকালেন এবং বললেন, "আমি যদি মানুষের অন্তর্ভুক্ত হই, তবে আল্লাহর দিক থেকে বিমুখ হওয়া সম্ভব নয়।" অতঃপর ইয়াহইয়া আবৃত্তি করতে লাগলেন:
আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলছি, তোমরা আমাকে তিরস্কার করা ছেড়ে দাও
কেননা তোমরা আমার অবস্থা অনুধাবন করতে পারবে না … আমাকে ছেড়ে দাও এবং আমার নিকট থেকে চলে যাও
হে অনর্থক কথা বলা লোকেরা … হায়, সেই ব্যক্তির প্রতি আমার কী ব্যাকুলতা
যিনি পরম করুণাময় আল্লাহর দিকে ধাবিত … এবং রহস্যসমূহের এক গোপন রহস্যের মধ্যে
তিনি অবতরণকারী ও পরিভ্রমণকারী।
৩২ - ইব্রাহিম ইবনে আব্দুল মালিক আবৃত্তি করেছেন:
যে ব্যক্তি মানুষকে পরীক্ষা না করেই প্রশংসা করল
অতঃপর তাদের পরখ করল, সে তার প্রশংসিত ব্যক্তিকে নিন্দা করল … সে একাকিত্বের সঙ্গেই অভ্যস্ত হয়ে গেল
নিকটবর্তী এবং দূরবর্তী সকলে তাকে বিমর্ষ করে তোলে।
৩৩ - হুসাইন ইবনে আব্দুর রহমান আবৃত্তি করেছেন:
মানুষের দিক থেকে নিজের মনকে স্বচ্ছ রাখো
এবং নির্জনতাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে সন্তুষ্ট থাকো … আমরা অভিজ্ঞতার আলোকে এমন কাউকেই দেখিনি
যে একটি কড়ির সমান মূল্য রাখে।
৩৪ - আবু বকর ইবনে মুসলিম আবৃত্তি করেছেন:
বন্ধুবান্ধবদের থেকে দূরে থাকো, কোনো অন্তরঙ্গ সাথী খুঁজো না
কোনো সুহৃদ গ্রহণ করো না এবং কোনো সঙ্গী তালাশ করো না … আদম সন্তানদের মাঝে সামিরীর মতো (স্পর্শবিমুখ) আচরণকারী হও
এবং জীবনভর একাকী ও অন্যদের থেকে পৃথক থাকো … কেননা ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা এবং অনুরাগ কলুষিত হয়ে গেছে
তুমি কেবল সত্যবাদী (ছদ্মবেশী) ও মিথ্যাবাদীই দেখতে পাবে … আল্লাহর শপথ, লোকে অপ্রকৃতিস্থ বলবে এমন ভয় যদি না থাকত
এবং আমার অবস্থা যদি নিন্দিত না হতো, তবে আমি অবশ্যই একজন সংসারত্যাগী সন্ন্যাসী হয়ে যেতাম।
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুগনিয়াহ ফিস সুকূত ওয়া লুযূমিল বুয়ূত
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
بَابُ الِاشْتِغَالِ بِمَا يُغْنِي وَتَرْكِ الْخَوْضِ فِيمَا لَا يَعْنِي 35 - أَخْبَرَنَا أبوعلي الْحَسَنُ بْنُ شِهَابِ بْنِ الْحَسَنِ الْعُكْبَرِيُّ حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حِمْدَانَ بْنِ بَطَّةَ حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحُلْوَانِيُّ حَدَّثَنَا أَبُو يُوسُفَ يَعْقُوبُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ دِينَارٍ الْبَغْدَادِيُّ حَدَّثَنَا يزِيد بن عبدربه حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ حُسْنِ إِسْلَامِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَا لَا يَعْنِيهِ
প্রয়োজনীয় বিষয়ে আত্মনিয়োগ এবং অনর্থক বিষয়ে লিপ্ত হওয়া বর্জন করার অধ্যায় ৩৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী হাসান ইবন শিহাব ইবনুল হাসান আল-উকবারী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আবদুল্লাহ উবাইদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন হামদান ইবন বাত্তাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আলী ইসহাক ইবন ইবরাহিম আল-হুলওয়ানি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইউসুফ ইয়াকুব ইবন ইউসুফ ইবন দিনার আল-বাগদাদি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াযিদ ইবন আবদুর রব্বিহি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালিদ আওযায়ি থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি আবু সালামাহ ইবন আবদুর রহমান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "একজন ব্যক্তির ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হলো তার জন্য অনর্থক বিষয় বর্জন করা।"
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুগনিয়াহ ফিস সুকূত ওয়া লুযূমিল বুয়ূত
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
36 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ الْعَبَّاسِ الْوَرَّاقُ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُلَاعِبٍ حَدَّثَنَا سَعْدُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ حَدَّثَنَا عِصَامُ بْنُ طُلَيْقٍ عَنْ سَعِيدٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَكْثَرُ النَّاسِ ذُنُوبًا أَكْثَرُهُمْ كَلَامًا فِيمَا لَا يَعْنِيهِ
৩৬ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনুল আব্বাস আল-ওয়াররাক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে মুলাইব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাদ ইবনে আব্দুল হামিদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসাম ইবনে তুলাইক, সাঈদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: "মানুষের মধ্যে সর্বাধিক পাপী তারাই, যারা তাদের জন্য অপ্রয়োজনীয় বা অনর্থক বিষয়ে অধিক কথা বলে।"
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুগনিয়াহ ফিস সুকূত ওয়া লুযূমিল বুয়ূত
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
37 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ الْعَطَّارُ أَخْبَرَنَا ابْنُ الصَّوَّافِ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ حَدَّثَنِي أَبِي حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا الْمَسْعُودِيُّ عَنْ عَوْنٍ أَنَّ امْرَأَةً قَالَتْقَدْ أَوْجَبْتُ قَدْ بَايَعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَمَا عَمِلْتُ كَبِيرَةًفَأُرِيَتْ فِي الْمَنَامِ فَقِيلَ لَهَا يَا فُلَانَةُ أَنْتِ الْقَائِلَةُ كَذَا وَكَذَا وَأَنْتِ تَنْطِقِينَ فِيمَا لَا يَعْنِيكِ وَتَمْنَعِينَ مَالَا يَضُرُّكِ38 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْفَضْلِ الْقطَّان أخبرنَا ابوعمرو عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ السَّمَّاكُ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ أَبُو الْحَسَنِ الْوَاسِطِّيُّ حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ نُصَيْرٍ قَالَ قَالَ عِيسَى بْنُ مَرْيَمَ عليه السلامخَتَمَ الْمَلَكُ الْخَيْرَ فِي ثَلَاثٍ فِي الْمَنْطِقِ وَالصَّمْتِ وَالنَّظَرِ فَمَا كَانَ مِنْ مَنْطِقٍ فِي غَيْرِ ذِكْرٍ فَهُوَ لَغْوٌ وَمَا كَانَ مِنْ صَمْتٍ فِي غَيْرٍ تَفَكُّرٍ فَهُوَ سَهْوٌ وَمَا كَانَ مِنْ مَنْظَرٍ فِي غَيْرِ عِبْرَةٍ فَهُوَ لَهْوٌ
৩৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আব্দুল আজিজ ইবন মুহাম্মদ ইবন জাফর আল-আত্তার, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনুস সাওয়াফ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবন আহমাদ ইবন হাম্বল, তিনি বলেন আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হুসাইন ইবন মুহাম্মদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আল-মাসউদী, তিনি আউন থেকে বর্ণনা করেন যে, এক নারী বলেছিলেন:"আমি (জান্নাত) অবধারিত করে নিয়েছি, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট বায়আত হয়েছি এবং আমি কোনো বড় গুনাহ করিনি।"অতঃপর তাকে স্বপ্নে দেখানো হলো এবং তাকে বলা হলো, "হে অমুক নারী! তুমিই কি সেই ব্যক্তি যে এমন এমন কথা বলেছিলে? অথচ তুমি এমন বিষয়ে কথা বলো যা তোমার কোনো প্রয়োজনে আসে না এবং তুমি এমন জিনিস দিতে অস্বীকার করো যা (প্রদান করলে) তোমার কোনো ক্ষতি হতো না।"৩৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন মুহাম্মদ ইবন আল-হুসাইন ইবন মুহাম্মদ ইবন আল-ফদল আল-কাত্তান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর উসমান ইবন আহমাদ আস-সাম্মাক, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আলী ইবন ইব্রাহিম আবুল হাসান আল-ওয়াসিতী, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাজ্জাজ ইবন নুসায়র, তিনি বলেন, ঈসা ইবন মারইয়াম আলাইহিস সালাম বলেছেন:"মালিক (আল্লাহ) কল্যাণকে তিনটি বিষয়ের মধ্যে নিহিত করেছেন: কথা বলা, নীরবতা এবং দৃষ্টিপাত। সুতরাং আল্লাহর জিকির ব্যতীত যে কথা তা বৃথা, চিন্তা-গবেষণা ব্যতীত যে নীরবতা তা উদাসীনতা এবং শিক্ষা গ্রহণ ব্যতীত যে দৃষ্টিপাত তা নিরর্থক খেল-তামাশা।"
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুগনিয়াহ ফিস সুকূত ওয়া লুযূমিল বুয়ূত
(পৃষ্ঠা: ৬০)
39 - أخبرنَا أَبُو القتح هِلَالُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ الْحَفَّارُ أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ أَحْمَدَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا حَدَّثَنَا الْأَصْمَعِيُّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ قَالَقَالَ زَيْدُ بْنُ عَلِيٍّ لِابْنِهِيَا بُنَيَّ اطْلُبْ مَا يَعْنِيك بترك مَالا يَعْنِيك فَإِن فِي ترك مَالا يَعْنِيكَ دَرَكًا لِمَا يَعْنِيكَ وَاعْلَمْ أَنَّكَ تَقْدَمُ عَلَى مَا قَدَّمْتَ وَلَسْتَ تَقْدَمُ عَلَى مَا أَخَّرْتَ فَآثِرْ مَا تَلْقَاهُ غَدًا عَلَى مَالَا تَرَاهُ أَبَدًا40 - وَفِي مَعْنَاهُاغْتَنِمْ فِي الْفَرَاغِ فَضْلَ رُكُوعٍفَعَسَى أَنْ يَكُونَ مَوْتُكَ بَغْتَهْ …
৩৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাতহ হিলাল ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর আল-হাফফার, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উমর ইবনে আহমদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাকারিয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসমাঈ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ, তিনি বলেছেন-জাইদ ইবনে আলী তাঁর পুত্রকে বলেছিলেন:হে বৎস! যা তোমার কোনো কাজে আসে না তা বর্জনের মাধ্যমে যা তোমার জন্য প্রয়োজনীয় তা অন্বেষণ করো। কেননা যা তোমার কাজে আসে না তা বর্জনের মধ্যেই রয়েছে যা তোমার জন্য প্রয়োজনীয় তা অর্জনের উপায়। আর জেনে রাখো, তুমি যা আগে পাঠিয়েছো তারই সম্মুখীন হবে, আর যা পেছনে রেখে গিয়েছো তার সম্মুখীন হবে না। অতএব, আগামীকাল যা তুমি পাবে তাকে এমন বিষয়ের ওপর প্রাধান্য দাও যা তুমি আর কখনোই দেখবে না।৪০ - এবং একই অর্থে বলা হয়েছে:অবসরের সময়ে রুকুর ফজিলতকে লুফে নাওকারণ সম্ভবত তোমার মৃত্যু হতে পারে আকস্মিক …
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুগনিয়াহ ফিস সুকূত ওয়া লুযূমিল বুয়ূত
(পৃষ্ঠা: ৬১)
.كَمْ صَحِيحٍ رَأَيْتَ مِنْ غَيْرِ سُقْمٍذَهَبَتْ نَفْسُهُ الصَّحِيحَةُ فَلْتَهْ41 - وَأَنْشَدَ آخَرُاعْمَلْ وَأَنْتَ مِنَ الدُّنْيَا عَلَى حَذَرٍوَاعْلَمْ بِأَنَّكَ بَعْدَ الْمَوْتِ مَبْعُوثُ … وَاعْلَمْ بِأَنَّكَ مَا قَدَّمَتَ مِنْ عَمَلٍيُحْصَى عَلَيْكَ وَمَا جَمَّعَتَ مَوْرُوثُ42 - وَأَنْشَدَ آخَرُاعْمَلْ لِئَلَّا تَسْقَمْفَعُمْرُكَ الْيَوْم مغنم … فجد بِهِ لَا لَهُوَسَيِّدٍ لَا يُطْعَمْ … وَإِنْ رَأَيْتَ فُتُورًافَقُلْ لَهُ فَسَتَنْعَمْ … بِقُرْبِ رَبٍّ جَلِيلٍوَمَنْ خَدَمَ فَسَيُخْدَمْ … وَاعْلَمْ يَقِينًا بِفَهْمٍفَأَنْتَ عِنْدِي مُقَدَّمْ … مَنْ لَمْ يُقَدِّمْ فِعَالًافَسَوْفَ يَوْمًا يَنْدَمْ43 - أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ حَمْزَةُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ طَاهِرٍ الدَّقَّاقُ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ بَهْتَهْ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْهَيْثَمِ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الرَّبِيعِ قَالَقَالَ أَعْرَابِيٌطَلَبْتُ الرَّاحَةَ لِنَفْسِي فَلَمْ أَرَ شَيْئًا أَرْوَحَ لَهَا مِنْ تَرْكِ مَالَا يَعْنِيهَا
.কত সুস্থ মানুষকে তুমি দেখেছ কোনো রোগ ছাড়াই,যাদের সুস্থ প্রাণ আকস্মিকভাবে চলে গেছে।৪১ - অন্য একজন আবৃত্তি করেছেন—আমল করো যখন তুমি দুনিয়া সম্পর্কে সতর্ক অবস্থায় আছ,আর জেনে রেখো যে, মৃত্যুর পর তোমাকে পুনরুত্থিত করা হবে … আর জেনে রেখো যে, তুমি যে আমল অগ্রিম পাঠিয়েছ,তা তোমার জন্য গণনা করা হবে, আর যা তুমি জমা করেছ তা হবে উত্তরাধিকারীদের প্রাপ্য।৪২ - অন্য একজন আবৃত্তি করেছেন—আমল করো যাতে তুমি রুগ্ন না হয়ে পড়ো,কেননা তোমার আজকের এই জীবন এক মহাসুযোগ … সুতরাং তা তাঁর (আল্লাহর) জন্য ব্যয় করো, নিজের জন্য নয়,এবং এমন এক মুনিবের জন্য যাঁকে আহার করানো হয় না … আর যদি তুমি অবসাদগ্রস্ত হও,তবে তাকে (মনকে) বলো—তুমি শীঘ্রই নেয়ামতপ্রাপ্ত হবে … মহান রবের নৈকট্য লাভের মাধ্যমে।আর যে সেবা করবে, অচিরেই তার সেবা করা হবে … আর তুমি গভীর উপলব্ধির সাথে নিশ্চিতভাবে জেনে রাখো,আমার নিকট তুমি অগ্রগণ্য … যে ব্যক্তি কোনো (সৎ) কাজ অগ্রিম পাঠাবে না,সে অচিরেই একদিন অনুতপ্ত হবে।৪৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহের হামযাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে তাহের আদ-দাক্কাক, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনে বাহতাহ, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে হাইসাম, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সুলাইমান ইবনে রাবী', তিনি বলেন—এক গ্রাম্য আরব বলেছেন—আমি নিজের আত্মার জন্য প্রশান্তি খুঁজেছি, কিন্তু অনর্থক বিষয় বর্জন করার চেয়ে অধিকতর আরামদায়ক আর কিছুই আমি দেখিনি।
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুগনিয়াহ ফিস সুকূত ওয়া লুযূমিল বুয়ূত
(পৃষ্ঠা: ৬২)
44 - وَكَانَ الْحَسَنُ يَقُولُمِنْ عَلَامَةِ إِعْرَاضِ اللَّهِ عَنْ عَبْدِهِ أَنْ يَجْعَلَ شُغْلَهُ فِيمَا لَا يَعْنِيهِ45 - وَقَالَ غَيْرُهُهَلَاكُ النَّاسِ فِي خَصْلَتَيْنِ فُضُولِ مَالٍ وَفُضُولِ مَقَالٍ46 - وَقَالَ شُمَيْطُ بْنُ عَجْلَانَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى وَسَمَ الدَّنْيَا بِالْوَحْشَةِ ليَكُون أنس المطيعين بِهِآخر الرسَالَة وَالْحَمْد لله وصلواته على سيدنَا مُحَمَّد وَآلهتمت يَوْم الْإِثْنَيْنِ ثَانِي جُمَادَى الأولى سنة ثَمَان وَسبعين وستمئة بِدِمَشْق
৪৪ - আল-হাসান বলতেনআল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো বান্দার প্রতি বিমুখ হওয়ার অন্যতম নিদর্শন হলো তাকে অনর্থক কাজে লিপ্ত করে দেওয়া।৪৫ - এবং অন্য একজন বলেছেনমানুষের ধ্বংস দুটি অভ্যাসের মধ্যে নিহিত: প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত কথাবার্তা।৪৬ - এবং শুমাইত ইবনে আজলান বলেছেননিশ্চয়ই মহান আল্লাহ দুনিয়াকে নিঃসঙ্গতা বা ভীতিকর রূপ দিয়ে চিহ্নিত করেছেন, যাতে অনুগতদের হৃদয়ের প্রশান্তি কেবল তাঁর মাধ্যমেই হয়।রিসালাহর সমাপ্তি। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং আমাদের নেতা মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক।৬৭৮ হিজরি সালের ২রা জুমাদাল উলা সোমবার দামেস্কে এটি সম্পন্ন হয়েছে।