القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: نور القبس
المؤلف: أبو المحاسن يوسف بن أحمد بن محمود اليغموري (ت 673هـ)
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 128
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
গ্রন্থ: নূরুল ক্বাবাস
লেখক: আবু আল-মাহাসিন ইউসুফ বিন আহমদ বিন মাহমুদ আল-ইয়াগমুূরী (মৃত ৬৭৩ হি.)
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, যা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
পৃষ্ঠাসংখ্যা: ১২৮
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
আপনি কি তাদের প্রতি ভালোবাসায় সন্দেহ পোষণ করেছেন যে এটি সঠিক পথ নাকি বিভ্রান্তি? যখন তিনি জিয়াদের কাছে আসলেন, তখন তিনি আবু আল-আসওয়াদকে সে কথা বললেন। আবু আল-আসওয়াদ বললেন: তাকে বলো, আমি যা ভালোবাসি সে সম্পর্কে তুমি কি জানো না যে আমি সুনিশ্চিত যে তা সঠিক পথ? কেননা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: (নিশ্চয়ই আমরা অথবা তোমরা সঠিক পথের ওপর রয়েছি অথবা প্রকাশ্য বিভ্রান্তিতে লিপ্ত), তবে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা কি তাদের বিভ্রান্তির ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করেন? বরং তিনি তো সর্বজ্ঞ, তিনি এর মাধ্যমে তা সুনিশ্চিত করেছেন! আর যখন ইবনুল জুবায়েরের সময় বসরায় ফিতনা দেখা দিল, তখন আবু আল-আসওয়াদ বনু কুশাইরের এক মজলিসের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বললেন: হে বনু কুশাইর, এই ফিতনার ব্যাপারে তোমাদের রায় কিসে একমত হয়েছে? তারা বলল: আপনি কেন আমাদের জিজ্ঞেস করছেন? তিনি বললেন: যাতে আমি তোমাদের বিরোধিতা করতে পারি, কারণ আল্লাহ তোমাদের হিদায়াতের ওপর একত্রিত করবেন না! - আর এই অর্থেই উমর আবৃত্তি করেছেন:
যদি কোনো একদিন দুটি বিষয় আমার কাছে অস্পষ্ট ও সংশয়যুক্ত হয়ে পড়ে … আর আমি সঠিকটি চিনতে না পারি এবং বুঝতে না পারি
আমি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বন্ধু আবু বকরকে জিজ্ঞাসা করলাম … আমি তাকে বললাম: এ বিষয়ে কোনটি আপনার কাছে পছন্দনীয়?
যদি তিনি কোনো কথা বলেন তবে আমি তার বিপরীতটিই বলি … কারণ হকের পরিপন্থী হলো আবু বকরের উক্তি
জিয়াদ আবু আল-আসওয়াদকে বললেন: আলীর প্রতি আপনার ভালোবাসা কেমন? তিনি বললেন: আপনার মনে তার প্রতি ঘৃণা যত তীব্র হয়, আমার মনে তার প্রতি ভালোবাসা ঠিক ততটাই বৃদ্ধি পায়। আর মুয়াবিয়ার প্রতি আপনার ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়। আল্লাহর কসম, আমি আমার এই অবস্থার মাধ্যমে আখিরাত এবং আল্লাহর কাছে যা আছে তা কামনা করি, আর আপনি আপনার এই অবস্থার মাধ্যমে দুনিয়া ও এর চাকচিক্য কামনা করেন, যা অতি শীঘ্রই বিলীন হয়ে যাবে! জিয়াদ তাকে বললেন: আপনি একজন বৃদ্ধ মানুষ যিনি প্রলাপ বকছেন, আমি যদি আপনার প্রতি আগে থেকেই শ্রদ্ধাশীল না থাকতাম তবে আপনি আমার রোষানলে পড়তেন। আবু আল-আসওয়াদ বললেন:
আমীর রাগান্বিত হয়েছেন কারণ আমি সত্য বলেছি, আর আমীর কখনো কখনো … নির্দোষ মুসলিমের ওপরও রাগান্বিত হন
আবু আল-আসওয়াদ মুয়াবিয়ার কাছে প্রবেশ করলেন। মুয়াবিয়া তাকে বললেন: হে আবু আল-আসওয়াদ, আপনি তো বেশ সুশ্রী হয়ে গেছেন, যদি আপনি একটি তাবীজ লটকাতেন যা আপনাকে বদনজর থেকে রক্ষা করত! আবু আল-আসওয়াদ বুঝলেন যে মুয়াবিয়া তাকে নিয়ে উপহাস করছেন, তখন তিনি বললেন:
যৌবন নিঃশেষ হয়ে গেছে যার শোভা আমি হারিয়েছি … দিবা-রাত্রির আগমনে ও প্রস্থানে
তাদের দীর্ঘ যাতায়াত আমার জন্য এমন কিছু অবশিষ্ট রাখেনি … যার ওপর আমি চোখের তীক্ষ্ণ দৃষ্টির দহন ভয় করব
আমি মাথায় সাদা চুল দেখে ভীত হতাম … যখন তা চুলে দেখা দিত, অথচ এখন আমি বার্ধক্যে সুনিশ্চিত হয়েছি
আর এখন যখন আমি মাথা উজ্জ্বল কলপ করেছি … তখন আমি আমার জীবন ও স্বভাব থেকে যা উপভোগ করতাম তা হারিয়েছি
জিয়াদ আবু আল-আসওয়াদকে বললেন: আপনি যদি বৃদ্ধ না হতেন তবে আমি আমাদের কিছু কাজে আপনার সাহায্য নিতাম। তিনি বললেন: আপনি যদি আমাকে কুস্তির জন্য চান তবে তা আমার কাছে নেই, আর যদি আমার রায় ও বুদ্ধি চান তবে তা আগের চেয়েও অধিক সমৃদ্ধ। আর তিনি আবৃত্তি করলেন:
আমীর মনে করেছেন যে আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি, অথচ কখনো কখনো … সেই ব্যক্তিও মহান মর্যাদা লাভ করে যে লাঠিতে ভর দিয়ে হাঁটে
হে আবু আল-মুগীরাহ, অনেক অস্পষ্ট বিষয়কে … আমি আমার কৌশল ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে সমাধান করেছি
উবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদ আবু আল-আসওয়াদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন আবু আল-আসওয়াদের গায়ে জীর্ণ পোশাক ছিল যা তিনি প্রায়ই পরতেন। উবায়দুল্লাহ বললেন: আপনি কি আপনার এই জুব্বাটি পরিবর্তন করবেন না? তিনি বললেন: অনেক একঘেয়ে বিষয় আছে যা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া সম্ভব হয় না! তখন উবায়দুল্লাহ তার কাছে আশিটি পোশাক—কেউ বলেছেন একশটি—পাঠালেন। আবু আল-আসওয়াদ বললেন:
তিনি আপনাকে পোশাক পরিয়েছেন অথচ আপনি পোশাক চাননি, তাই তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন … আপনার এমন এক ভাই যিনি আপনাকে উত্তম দান করেন এবং একজন সাহায্যকারী
আর আপনি যদি কৃতজ্ঞ হতে চান তবে মানুষের মধ্যে আপনার কৃতজ্ঞতার সবচেয়ে বেশি হকদার সেই ব্যক্তি … যে আপনাকে দান করেছে এবং যার অনুগ্রহ অবারিত
আবু আল-আসওয়াদ তার ছেলেকে বললেন: হে বৎস, তুমি যখন কোনো সম্প্রদায়ের মধ্যে থাকবে তখন তাদের সাথে তোমার বয়স অনুযায়ী কথা বলো, আর তাদের কাছে তোমার মর্যাদা অনুযায়ী প্রশ্ন করো। আর ওয়াজিব সীমা অতিক্রম করো না, অন্যথায় তুমি তাদের কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়াবে, আবার তার চেয়ে নিচেও নেমো না, নতুবা তুমি তুচ্ছ হবে! যখন আল্লাহ তোমার ওপর প্রশস্ততা দান করেন তখন তুমিও অবারিত করো, আর যখন তিনি তোমার হাত গুটিয়ে রাখেন তখন তুমিও সংযত হও। আর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার সাথে দানশীলতায় পাল্লা দিও না, কারণ আল্লাহ তোমার চেয়েও অধিক দানশীল! - তিনি তার দুই কন্যাকে বিয়ে দিলেন এবং তাদের একজনকে বললেন: হে বৎস, তুমি তোমার স্বামীর নাক, চোখ ও কানের সম্মান রক্ষা কোরো! অর্থাৎ: সে যেন তোমার থেকে সুঘ্রাণ ছাড়া অন্য কিছু না পায়, সুন্দর ছাড়া অন্য কিছু না দেখে এবং ভালো কথা ছাড়া অন্য কিছু না শোনে। অন্যজনকে বললেন: হে বৎস, নিজের দুটি অতিরিক্ত বিষয়কে নিজের কাছে ধরে রেখো! অর্থাৎ: অতিরিক্ত সহবাস ও অতিরিক্ত কথা। - তিনি তার সন্তানদের বললেন: তোমাদের বড় অবস্থায়, ছোট অবস্থায় এবং তোমাদের জন্মের পূর্বেও আমি তোমাদের প্রতি ইহসান করেছি! তারা বলল: ছোট ও বড় অবস্থায় তো আমাদের প্রতি ইহসান করেছেন, কিন্তু জন্মের পূর্বে কীভাবে? তিনি বললেন: আমি তোমাদের জন্য উত্তম বংশমর্যাদা তালাশ করেছি যাতে তোমাদের লজ্জিত হতে না হয়।
তাকে জিজ্ঞেস করা হলো: মানুষের মধ্যে কার জীবন সবচেয়ে বেশি সম্মানজনক? তিনি বললেন: যার কল্যাণে অন্যের জীবনও সুন্দর হয়। তবে কার জীবন সবচেয়ে মন্দ? তিনি বললেন: যার জীবনে অন্য কেউ সুখে থাকে না। - তিনি আরও বললেন: সাবলীল ভাষা হলো জিহ্বার ক্ষিপ্রতা। কেউ বলেছেন: যা বিশিষ্টজনরা পছন্দ করেন এবং সাধারণ মানুষ সহজে বোঝেন। তিনি বললেন: ইলমের চেয়ে অধিক মূল্যবান আর কিছু নেই, আর তা এই কারণে যে রাজন্যবর্গ মানুষের ওপর শাসন করে আর উলামায়ে কিরাম রাজন্যবর্গের ওপর শাসন করেন। তিনি বললেন:
জ্ঞান হলো তার অধিকারীর জন্য এক অলঙ্কার ও সম্মান … তাই তুমি হিদায়াতপ্রাপ্ত হও এবং বিভিন্ন প্রকার জ্ঞান ও আদব অন্বেষণ করো
সেই ব্যক্তির মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই যার বংশ আছে কিন্তু আদব নেই … যতক্ষণ না সে তার অলঙ্কৃত বিষয়ের প্রতি অনুরাগী হয়
এমন কত সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি আছে যে জড়তা ও অস্পষ্টতায় আক্রান্ত … মানুষের মজলিসে সে হীন ও তুচ্ছ যখন সে নিজের বংশ পরিচয় দেয়
সম্মানের ঘরে তার পিতৃপুরুষগণ ছিলেন শ্রেষ্ঠ ও উচ্চমর্যাদাবান … তারা ছিলেন শিরোমণি, আর তাদের পরে সে হলো লেজস্বরূপ
পক্ষান্তরে এমন কত অখ্যাত ব্যক্তি যার পিতৃপুরুষগণ সাধারণ ছিল অথচ সে আদব ও শিষ্টাচারসম্পন্ন … সে তার আদব ও উন্নত স্তরের মাধ্যমে সুউচ্চ মর্যাদা লাভ করেছে
আমি কি তাকে বর্জন করার এবং তার কর্ণকুহরে দীর্ঘ বিরহের বার্তা শোনানোর উপযুক্ত নই?
তারা বলল: হ্যাঁ, আল্লাহর কসম, যার অবস্থা এমন সে অবশ্যই এরই যোগ্য। তিনি বললেন: সে তোমাদের বোন, তার হাত ধরো! এবং তিনি তাকে তালাক দিলেন।আবু আল-আসওয়াদ-এর স্ত্রী তার সন্তানের বিষয়ে আবু আল-আসওয়াদ-এর বিরুদ্ধে মুআবিয়ার নিকট নালিশ করলেন—তখন মুআবিয়া মদিনায় হজ পালনে এসেছিলেন। আবু আল-আসওয়াদ মুআবিয়ার নিকট অত্যন্ত সম্মানিত ছিলেন, তিনি তাকে মজলিসে নিজের নিকটে স্থান দিতেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করতেন, আর তিনি ইলমের সাথে তার উত্তর দিতেন। মহিলাটি বললেন: আল্লাহ আমীরুল মুমিনীনকে সংশোধন করুন এবং তাকে দীর্ঘজীবী করুন! আল্লাহ আযযা ওয়া জাল আপনাকে জনপদে খলিফা এবং বান্দাদের ওপর তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করেছেন; আপনার অসিলায় বৃষ্টির পানি চাওয়া হয়, আপনার অসিলায় বৃক্ষরাজি উৎপন্ন হয়, আপনার মাধ্যমে ভীত ব্যক্তি নিরাপত্তা পায় এবং আপনার মাধ্যমে সীমালঙ্ঘনকারীকে প্রতিহত করা হয়। আপনিই মনোনীত খলিফা এবং সন্তোষজনক আমীর। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আপনার নেয়ামত পরিবর্তন না করেন এবং বরকত সংকীর্ণ না করেন। হে আমীরুল মুমিনীন! একটি বিষয় আমাকে আপনার নিকট আসতে বাধ্য করেছে, যার চিন্তায় আমি সংকীর্ণ হয়ে পড়েছি। আপনি আমার প্রতিপক্ষ থেকে আমার ইনসাফ করুন, আর তা যেন আপনার হাতেই সম্পন্ন হয়। আমি আপনার নিকট সেই কলঙ্ক ও ভয়াবহ বিষয় থেকে আশ্রয় চাচ্ছি যা স্বামীদের অধীনে থাকা স্বাধীন নারীদের জন্য গোপন রাখা হয়। মুআবিয়া তাকে বললেন: কে সেই ব্যক্তি যে তোমাকে তার অপকর্মের স্বাদ আস্বাদন করিয়েছে? তিনি বললেন: একজন বিশ্বাসঘাতক স্বামীর পক্ষ থেকে তালাক, যে আল্লাহকে ভয় পায় না এবং কারো প্রতি দয়া দেখায় না। মুআবিয়া বললেন: তোমার স্বামী কে? তিনি বললেন: তিনি আবু আল-আসওয়াদ। মুআবিয়া তার দিকে ফিরে বললেন: এই মহিলা যা বলছে তা কি সত্য? আবু আল-আসওয়াদ বললেন: সে সত্যের কিছু অংশ বলছে বটে, কিন্তু তার কথার প্রতিবাদ করার ক্ষমতা কারো নেই। সে তার তালাকের যে কথা উল্লেখ করেছে তা সত্য, আর আমি আপনাকে সে বিষয়ে সত্য সংবাদ দিচ্ছি। আল্লাহর কসম, আমি তাকে কোনো সন্দেহের কারণে তালাক দিইনি যা প্রকাশ পেয়েছে, আর না কোনো উপস্থিত পদস্খলনের কারণে। বরং আমি তার স্বভাব অপছন্দ করেছি, তাই তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছি। মুআবিয়া বললেন: তার কোন স্বভাব তুমি অপছন্দ করেছ? তিনি বললেন: আপনি তার তীক্ষ্ণ জবান এবং প্রস্তুত উত্তরের মাধ্যমে তাকে আমার বিরুদ্ধে প্ররোচিত করছেন। মুআবিয়া বললেন: তোমাকে তো তার কথার উত্তর দিতেই হবে, সুতরাং কথোপকথনের সময় তার কথার জবাব দাও। আবু আল-আসওয়াদ বললেন: হে আমীরুল মুমিনীন! সে অতিশয় কোন্দলকারী, সর্বদা কটুভাষী, পরিজনদের প্রতি অবজ্ঞাকারী এবং স্বামীর জন্য কষ্টদায়ক। যদি কোনো কল্যাণের কথা উল্লেখ করা হয় তবে সে তা গোপন করে, আর যদি কোনো মন্দের কথা আলোচিত হয় তবে তা প্রচার করে বেড়ায়। সে মিথ্যার সংবাদ দেয়, উপহাসকারীর সাথে মেতে ওঠে, শোরগোল থেকে বিরত হয় না এবং তার স্বামী সর্বদা তার কারণে ক্লান্তিতে থাকে। মহিলাটি বললেন: আল্লাহর কসম! যদি আমীরুল মুমিনীন এবং উপস্থিত মুসলিমগণ এখানে না থাকতেন, তবে আমি আপনার কথার এমন তীক্ষ্ণ জবাব দিতাম যা আপনার সকল বাণকে প্রতিহত করত। মুআবিয়া বললেন: আমি তোমাকে আদেশ দিচ্ছি যে তুমি তার জবাব দাও! মহিলাটি বললেন: হে আমীরুল মুমিনীন! আল্লাহর কসম, সে হলো অতিশয় প্রশ্নকারী, মূর্খ, নাছোড়বান্দা এবং কৃপণ। যদি সে কথা বলে তবে মন্দ বলে, আর যদি নীরব থাকে তবে বিদ্বেষ পোষণ করে। সে ভীতির সময় খবিস সিংহ, আর যখন ভয়ের কিছু থাকে না তখন শেয়াল। মেহমান আসলে সে সংকীর্ণমনা হয়ে যায়। যদি তার নিকট বদান্যতা খোঁজা হয় তবে তা ছিন্ন হয়ে যায়, কারণ সে তার পিতৃপুরুষদের হীনতা এবং নিজ চরিত্রের দুর্বলতা সম্পর্কে জানে। তার মেহমান ক্ষুধার্ত থাকে, তার প্রতিবেশী অসহায় থাকে; সে নিজের মর্যাদা রক্ষা করে না, (আতিথেয়তার) আগুন জ্বালায় না এবং প্রতিবেশীর হকের তোয়াক্কা করে না। যে তাকে সম্মান করে সে তার কাছে সবচেয়ে তুচ্ছ, আর যে তাকে অপমান করে সে-ই তার কাছে সবচেয়ে সম্মানিত। মুআবিয়া বললেন: আমি এই মহিলার চেয়ে আশ্চর্যজনক আর কাউকে দেখিনি! তুমি অপরাহ্নে আমার কাছে ফিরে এসো। যখন অপরাহ্ন হলো সে পুনরায় আসলো, তখন মুআবিয়া ভাষণ দিচ্ছিলেন। আবু আল-আসওয়াদ বললেন: হে আল্লাহ! আপনি আমাকে তার মন্দ থেকে রক্ষা করুন! মহিলাটি বলল: আল্লাহ আপনাকে আমার মন্দ থেকে রক্ষা করেছেন এবং আমি আশা করি তিনি আপনাকে আপনার নফসের মন্দ থেকেও রক্ষা করবেন! মুআবিয়া বললেন: আমি এই মহিলার চেয়ে বিস্ময়কর কাউকে দেখিনি! আবু আল-আসওয়াদ বললেন: হে আমীরুল মুমিনীন! সে কিছু কবিতা বলে থাকে এবং তাতে সে বেশ পটু। মুআবিয়া বললেন: তবে তুমিও তার জন্য কিছু কবিতা তৈরি করো, সম্ভবত তুমি কবিতার মাধ্যমে তাকে পরাস্ত করতে পারবে। আবু আল-আসওয়াদ বললেন:স্বাগতম তাকে যে আমাদের ওপর জুলুম করে... অতঃপর স্বাগতম সেই বাহককে যে (গর্ভে) বাহিত হয়েছে।সে আমার সামনে নিজের দরজা বন্ধ করে দিল এবং বলল:... নিশ্চয়ই নারীদের মধ্যে সেই উত্তম যে স্বামীর অধিকার রক্ষা করে।সে তার হৃদয়কে আমার বিরুদ্ধে শূন্য করে ব্যস্ত করে রেখেছে... তোমরা কি কখনও কোনো শূন্য হৃদয়কে ব্যস্ত হতে দেখেছ?মহিলাটি তার জবাবে বলল:যে ব্যক্তি সঠিক এবং সত্য কথা বলে... সে তার মতো নয় যে হিদায়াতের পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে।যখন সে (সন্তানটি) ব্যথিত হতো তখন আমার কোল ছিল তার আঙিনা... আর অপরাহ্নে আমার স্তন ছিল তার পানপাত্র।হে ইবনে হারব! আমি আমার একমাত্র সন্তানের বিনিময়ে... মহান আল্লাহর কসম, অন্য কাউকে গ্রহণ করতে চাই না।অন্য বর্ণনায় এসেছে যে তিনি বলেছিলেন: এই ব্যক্তি আমার সন্তানের ওপর আমাকে পরাস্ত করতে চায়, অথচ আমার পেট ছিল তার জন্য আধার, আমার স্তন ছিল তার পানপাত্র এবং আমার কোল ছিল তার আঙিনা। আবু আল-আসওয়াদ বললেন: এই অজুহাতে কি তুমি আমার সন্তানের ওপর আমাকে পরাস্ত করতে চাও? আল্লাহর কসম, তুমি তাকে গর্ভে ধারণ করার আগেই আমি তাকে বহন করেছি, আর তুমি তাকে প্রসব করার আগেই আমি তাকে রেখেছি (বীর্য রূপে)। মহিলাটি বলল: উভয় অবস্থা সমান নয়; তুমি তাকে বহন করেছ হালকাভাবে আর আমি তাকে বহন করেছি ভারী অবস্থায়; তুমি তাকে ত্যাগ করেছ উত্তেজনায় আর আমি তাকে প্রসব করেছি যন্ত্রণায়। মুআবিয়া বললেন:সেই ব্যক্তি সমান নয় যে তাকে শিশুকালে খাদ্য দিয়েছে... এবং নিজ স্তন থেকে তাকে দুগ্ধ পান করিয়েছে।সে-ই তার জন্য অধিক যোগ্য এবং রক্ত সম্পর্কের অধিক নিকটবর্তী... তার পিতার তুলনায়; এবং রাসূলের ফয়সালা অনুযায়ী—যিনি কখনো সত্যের অপলাপ করেননি এবং কোমলতা দেখিয়েছেন... এই সুন্দর বালকটির জন্য এই নারীই অধিক যোগ্য।অতঃপর মুআবিয়া সন্তানটিকে মহিলার কাছে সমর্পণ করলেন।আবু আল-আসওয়াদ ‘সালাহ’ নামক এক দাসীকে খরিদ করলেন তার খেদমত করার জন্য। সে তার প্রতি প্রলুব্ধ হলো এবং সুগন্ধি মেখে তার শয্যার দিকে আসতে লাগল। তখন তিনি এই কবিতা আবৃত্তি করলেন:হে সালাহ! আমি তোমাকে প্রণয়লীলার জন্য চাই না... সুতরাং আমার চারপাশে এই রূপচর্চা ত্যাগ করো এবং নিজেকে পরিবর্তন করো।আমি তোমাকে চাই আটা মাখানো এবং যাঁতা ঘোরানোর জন্য... এবং আমাদের মশক বহন ও ডেকচি জ্বালানোর জন্য।