(খণ্ড: ১) যামমুস সুকালা (পৃষ্ঠা: -)
ذم الثقلاء   (ابن المرزبان المحولي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: ذم الثقلاء

المؤلف: محمد بن خلف بن المرزبان بن بسام، أبو بكر المحولي (ت 309هـ)

تحقيق: د. مأمون محمود ياسين

الناشر: مؤسسة علوم القرآن، دار ابن كثير - الشارقة

الطبعة: الأولى، 1412 هـ

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 74

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

বিরক্তিকর ব্যক্তিদের নিন্দা   (ইবনুল মারযুবান আল-মুহাওয়ালি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: বিরক্তিকর ব্যক্তিদের নিন্দা

লেখক: মুহাম্মদ ইবনে খালাফ ইবনুল মারযুবান ইবনে বাসসাম, আবু বকর আল-মুহাওয়ালি (মৃত্যু ৩০৯ হিজরি)

সম্পাদনা: ড. মামুন মাহমুদ ইয়াসিন

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতু উলূমিল কুরআন, দার ইবনে কাসীর - শারজাহ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১২ হিজরি

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৪

শামিলা সফটওয়্যারে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) যামমুস সুকালা (পৃষ্ঠা: ১৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌(أخبرنَا الشَّيْخ الإِمَام الزَّاهِد)

العابد بَقِيَّة السّلف الصَّالح أَمِين الدّين أَبُو الفدا الدهلي حَدثنَا أَبُو بكر بن جاد القلانسي وَفقه الله لمرضاته بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ وَذَلِكَ بمنزله فِي عَشِيَّة يَوْم حادي عشر من شهر صفر من سنة إِحْدَى وَأَرْبَعين وستمئة قَالَ حَدثنَا الشَّيْخ الإِمَام الثِّقَة أَبُو مَنْصُور بن مَكَارِم بن أَحْمد بن سعد الْمُؤَدب الْموصِلِي إجَازَة وَذَلِكَ فِي سَابِع شَوَّال من سنة خمس وَثَمَانِينَ وخمسمئة قَالَ حَدثنَا الشَّيْخ أَبُو الْحسن عَليّ بن إِبْرَاهِيم السراج وَالشَّيْخ أَبُو عبد الله الْحُسَيْن بن عَليّ النجار وَغَيره قَالُوا

حَدثنَا هبة الله إِبْرَاهِيم بن أنس عَليّ السماك حَدثنَا الْحُسَيْن بن سعيد الْآدَمِيّ حَدثنَا أَبُو بكر مُحَمَّد بن خلف بن الْمَرْزُبَان قَالَ أَنْشدني ابْن أبي الدُّنْيَا وَكتب بِهِ إِلَى المعتضد أَمِير الْمُؤمنِينَ وَكَانَ يُؤَدب ابْن أَمِير الْمُؤمنِينَ عَليّ المكتفي
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

‌‌(আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ, ইমাম, যাহিদ)

ইবাদতকারী, পুণ্যবান পূর্বসূরিদের অবশিষ্টাংশ আমিনুদ্দিন আবু আল-ফিদা আদ-দেহলভী; আমাদের নিকট আবু বকর বিন জাদ আল-কালানিসি—আল্লাহ তাঁকে তাঁর সন্তুষ্টির পথে তাওফিক দান করুন—তাঁর সম্মুখে আমার পাঠের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, আর তা ছিল ৬৪১ হিজরি সনের সফর মাসের একাদশ দিবসের সন্ধ্যায় তাঁর নিজ বাসভবনে। তিনি বলেন, নির্ভরযোগ্য শাইখ ইমাম আবু মনসুর বিন মাকারিম বিন আহমদ বিন সাদ আল-মুয়াদ্দিব আল-মাওসিলি ইজাজতসূত্রে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আর তা ছিল ৫৮৫ হিজরি সনের সাতই শাওয়াল তারিখে। তিনি বলেন, শাইখ আবু আল-হাসান আলি বিন ইব্রাহিম আস-সাররাজ এবং শাইখ আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আলি আন-নাজ্জার ও অন্যান্যরা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা বলেন—

আমাদের নিকট হিবাতুল্লাহ ইব্রাহিম বিন আনাস আলি আস-সাম্মাক বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আল-হুসাইন বিন সাইদ আল-আদামি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু বকর মুহাম্মদ বিন খালাফ বিন আল-মারযুবান বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ইবন আবিদ দুনিয়া আমাকে এটি পাঠ করে শুনিয়েছেন এবং তিনি এটি আমিরুল মুমিনিন আল-মুতাদিদ-এর নিকট লিখে পাঠিয়েছিলেন; তিনি আমিরুল মুমিনিনের পুত্র আলি আল-মুক্তাফি-এর শিক্ষক ছিলেন।
(খণ্ড: ১) যামমুস সুকালা (পৃষ্ঠা: ১৪)
. إِن حق التَّأْدِيب حق الْبُنُوَّة … عِنْد أهل التقى وَأهل الْمَرْوَة

إِن حق الْأَنَام أَن يعرفوا ذَا … ك ويدعوه أهل بَيت النُّبُوَّة

حَدثنَا ابْن الْمَرْزُبَان حَدثنَا عد الرَّحْمَن بن مُحَمَّد الْحَنْظَلِي حَدثنَا سُلَيْمَان بن حَرْب حَدثنَا حَمَّاد بن زيد عَن أَيُّوب عَن أبي قلَابَة عَن أنس أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي حَدِيث رَوَاهُ قَالَ لما أهديت زينت إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم صنع طَعَاما ودعا الْقَوْم فجاؤوا ودخلوا فَجعلُوا يتحدثون وَجعل رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يخرج ثمَّ يرجع وهم قعُود فَنزلت {فَإِذا طَعِمْتُمْ فَانْتَشرُوا} الْآيَة
. শিষ্টাচার প্রদানের অধিকার হলো সন্তানত্বের অধিকার … তাকওয়াবান ও পৌরুষদীপ্ত ব্যক্তিদের নিকট।

নিশ্চয়ই সৃষ্টির কর্তব্য হলো এটি জানা … এবং তাঁদেরকে নবুওয়াতের আহলে বাইত (পরিবার) বলে সম্বোধন করা।

ইবনুল মারজুবান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আল-হানজালি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুলায়মান ইবনে হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনে যাইদ আইয়ুব থেকে, তিনি আবু কিলাবা থেকে এবং তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বর্ণিত একটি হাদিসে বলেছেন: যখন জয়নাবকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট (বধূ হিসেবে) পাঠানো হলো, তখন তিনি খাবারের আয়োজন করলেন এবং লোকজনকে দাওয়াত দিলেন। তারা আসলেন এবং প্রবেশ করলেন, অতঃপর তারা কথাবার্তা বলতে শুরু করলেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাইরে বের হচ্ছিলেন এবং পুনরায় ফিরে আসছিলেন, অথচ তারা বসেই ছিলেন। তখন এই আয়াত অবতীর্ণ হলো: {অতঃপর যখন তোমরা আহার শেষ করবে, তখন তোমরা ছড়িয়ে পড়বে (চলে যাবে)}।
(খণ্ড: ১) যামমুস সুকালা (পৃষ্ঠা: ১৫)
حَدثنَا عبد الله بن أبي عبد الله الْمروزِي عَن إِبْرَاهِيم بن عبد الرَّحْمَن عَن يحيى بن الْمُغيرَة الرَّازِيّ عَن حَرْب عَن سُلَيْمَان بن أَرقم عَن الْحُسَيْن قَالَ لقد ذمّ الله عز وجل الثّقل فِي الْقُرْآن فَقَالَ {فَإِذا طَعِمْتُمْ فَانْتَشرُوا}

حَدثنَا أَبُو الْعَبَّاس الْمروزِي حَدثنَا ابْن أبي رزمة حَدثنَا الْحسن بن سعيد حَدثنَا عبد الله بن معمر عَن خَلاد بن عبد الله عَن أَبِيه عَن ابي سعيد الْخُدْرِيّ أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ أَلا أخْبركُم بأبغضكم إِلَى الله قُلْنَا بلَى يَا رَسُول الله قَالَ فَظَنَنْت أَنه سيسمى رجلا فَقَالَ إِن أبغضكم إِلَى الله أبغضكم إِلَى النَّاس
আবদুল্লাহ ইবনে আবু আবদুল্লাহ আল-মারওয়াযী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহীম ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আল-মুগীরা আল-রাযী থেকে, তিনি হারব থেকে, তিনি সুলাইমান ইবনে আরকাম থেকে, তিনি আল-হুসাইন থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা কুরআনে (দীর্ঘ অবস্থান করে) বোঝা হওয়াকে নিন্দা করেছেন, অতঃপর তিনি বলেছেন: {অতঃপর যখন তোমরা আহার শেষ করবে, তখন তোমরা ছড়িয়ে পড়বে}।

আবুল আব্বাস আল-মারওয়াযী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে আবি রাযমাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-হাসান ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে মা’মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খাল্লাদ ইবনে আবদুল্লাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমি কি তোমাদেরকে আল্লাহর নিকট তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে অপ্রিয় ব্যক্তি সম্পর্কে সংবাদ দেব না? আমরা বললাম: অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: আমি ধারণা করেছিলাম যে তিনি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম বলবেন। অতঃপর তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে অপ্রিয় ব্যক্তি সেই, যে মানুষের নিকট সবচেয়ে অপ্রিয়।
(খণ্ড: ১) যামমুস সুকালা (পৃষ্ঠা: ১৬)
حَدثنَا أبي حَدثنَا هَارُون بن عبد الله حَدثنَا أَبُو دَاوُد الطَّيَالِسِيّ عَن مُحَمَّد بن أبي حميد حَدثنَا زيد بن اسْلَمْ عَن أَبِيه عَن عمر بن الْخطاب قَالَ كنت جَالِسا عِنْد النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَلا أخْبركُم بِخَير أئمتكم قُلْنَا بلَى يَا رَسُول الله قَالَ الَّذين تحبونهم ويحبونكم وتدعون لَهُم وَيدعونَ لكم أَلا أخْبركُم بشرار أئمتكم قُلْنَا بلَى يَا رَسُول الله قَالَ الَّذين تبغضونهم ويبغضونكم وتلعنونهم ويلعنونكم

حَدثنَا مُوسَى بن الْحسن الغساني حَدثنَا عبد الله بن بكر السَّهْمِي حَدثنَا مُحَمَّد بن سَالم عَن ابي هِشَام مولى الحبيب عُثْمَان بن عَفَّان عَن مُحَمَّد بن كَعْب الْقرظِيّ
আমাদের কাছে আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে হারুন ইবনে আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে আবু দাউদ আত-তায়ালিসি বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আবু হুমায়দ থেকে, তিনি জায়েদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট বসা ছিলাম। তখন তিনি বললেন: আমি কি তোমাদেরকে তোমাদের সর্বোত্তম নেতৃবৃন্দ সম্পর্কে সংবাদ দেব না? আমরা বললাম: অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: তারা হলো সেই সব লোক যাদেরকে তোমরা ভালোবাসো এবং তারাও তোমাদেরকে ভালোবাসে, আর তোমরা তাদের জন্য দোয়া করো এবং তারাও তোমাদের জন্য দোয়া করে। আমি কি তোমাদেরকে তোমাদের নিকৃষ্টতম নেতৃবৃন্দ সম্পর্কে সংবাদ দেব না? আমরা বললাম: অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: তারা হলো সেই সব লোক যাদেরকে তোমরা ঘৃণা করো এবং তারাও তোমাদেরকে ঘৃণা করে, আর তোমরা তাদেরকে লানত করো এবং তারাও তোমাদেরকে লানত করে।

আমাদের কাছে মুসা ইবনুল হাসান আল-গাসসানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে আব্দুল্লাহ ইবনে বকর আস-সাহমি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে মুহাম্মদ ইবনে সালিম বর্ণনা করেছেন, তিনি হাবিবের মুক্তদাস আবু হিশাম থেকে, তিনি উসমান ইবনে আফফান থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে কাব আল-কুরাজি থেকে বর্ণনা করেন।
(খণ্ড: ১) যামমুস সুকালা (পৃষ্ঠা: ১৭)
قَالَ دخلت على عمر بن عبد الْعَزِيز فَقَالَ أعد لي حَدِيثا كنت حدثته عَن ابْن عَبَّاس فَقَالَ أتيت النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَلا أنبئكم بشراركم قَالُوا بلَى يَا رَسُول الله قَالَ الَّذِي ينزل وَحده ويجلد عَبده وَيمْنَع رفده أَلا أنبئكم بأشر من هَذَا الَّذِي يبغض النَّاس ويبغضونه

حَدثنَا عمر بن عبد الْوَهَّاب حَدثنَا عباد بن الْوَلِيد عَن حبَان بن هِلَال حَدثنَا الْمُبَارك بن فضَالة حَدثنَا عبد الله بن سعيد عَن ابْن الْمُنْكَدر عَن جَابر
তিনি বললেন, আমি উমর বিন আব্দুল আজিজের নিকট প্রবেশ করলাম, তখন তিনি বললেন, ইবনে আব্বাস থেকে যে হাদিসটি আপনি আমাকে শুনিয়েছিলেন তা পুনরায় আমার নিকট বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট আসলাম, তখন তিনি বললেন, “আমি কি তোমাদের মাঝে সবচেয়ে মন্দ ব্যক্তি সম্পর্কে সংবাদ দেব না?” তাঁরা বললেন, “হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল!” তিনি বললেন, “সেই ব্যক্তি যে একাকী অবস্থান করে, তার দাসকে প্রহার করে এবং তার দান-সহযোগিতা বন্ধ রাখে। আমি কি তোমাদের এর চেয়েও মন্দ ব্যক্তি সম্পর্কে সংবাদ দেব না? যে মানুষকে ঘৃণা করে এবং মানুষও তাকে ঘৃণা করে।”

উমর বিন আব্দুল ওয়াহহাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্বাদ বিন আল-ওয়ালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিব্বান বিন হিলাল থেকে, মুবারক বিন ফাদালা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ বিন সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনুল মুনকাদির থেকে, জাবির থেকে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১) যামমুস সুকালা (পৃষ্ঠা: ১৮)
قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أحبكم إِلَيّ وأقربكم مني مَجْلِسا أحاسنكم أَخْلَاقًا وأبغضكم إِلَيّ الثرثارون والمتشدقون المتفيهقون قيل قد عرفنَا الثرثارون فَمَا المتشدقون المتفيهقون فَقَالَ المستكبرون

حَدثنَا أَبُو بكر العامري حَدثنَا سعد بن أبي دَاوُد حَدثنَا شيخ يُقَال لَهُ إِسْحَاق كَانَ بِعَين زربة عَن رجل عَن الْحسن قَالَ خرج مُوسَى صلى الله عليه وسلم يَسْتَسْقِي فَلم يسق فَقَالَ يَا رب خرجت مَعَ بني إِسْرَائِيل استسقي فَلم تسقنا فَأوحى الله إِلَيْهِ أَن كَانَ فيهم عبد أبغضه قَالَ يَا رب من هُوَ حَتَّى أبغضه كماأبغضته قَالَ يَا مُوسَى أَنا أبْغض الشاعة من خلقي فَكيف أخْبرك

حَدثنَا عبد الرَّحْمَن بن مُحَمَّد التَّمِيمِي حَدثنَا عبد الْوَهَّاب بن عطا الْعجلِيّ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় এবং মজলিসের দিক থেকে আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী তারা, যারা তোমাদের মধ্যে চরিত্রের দিক থেকে সর্বোত্তম। আর তোমাদের মধ্যে আমার কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যক্তি হলো অধিক কথা বলা বাচাল (সারসারুন), মুখ বাঁকিয়ে কথা বলা লোক (মুতাশাদ্দিকুন) এবং গালভরা অহংকারী বাচাল (মুতাফাইহিকুন)।" জিজ্ঞাসা করা হলো, "আমরা সারসারুন (বাচালদের) চিনেছি, কিন্তু মুতাশাদ্দিকুন ও মুতাফাইহিকুন কারা?" তিনি বললেন, "তারা হলো অহংকারী।"

আমাদের নিকট আবু বকর আল-আমিরী হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট সা'দ বিন আবু দাউদ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইসহাক নামক একজন শায়খ হাদীস বর্ণনা করেছেন যিনি আইন জারবাহ নামক স্থানে ছিলেন, তিনি জনৈক ব্যক্তি থেকে এবং তিনি হাসান (বসরী) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মূসা (আলাইহিস সালাম) বৃষ্টির প্রার্থনায় বের হলেন কিন্তু বৃষ্টি বর্ষিত হলো না। তখন তিনি বললেন, "হে রব! আমি বনী ইসরাঈলের সাথে বৃষ্টির প্রার্থনায় বের হলাম অথচ আপনি আমাদের বৃষ্টি দিলেন না।" তখন আল্লাহ তাঁর প্রতি ওহী পাঠালেন যে, "নিশ্চয়ই তাদের মধ্যে এমন এক বান্দা আছে যাকে আমি ঘৃণা করি।" মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, "হে রব! সে কে? যাতে আমিও তাকে ঘৃণা করতে পারি যেমনটি আপনি তাকে ঘৃণা করেন।" আল্লাহ বললেন, "হে মূসা! আমি আমার সৃষ্টির মধ্যে চোগলখোরদের ঘৃণা করি, এমতাবস্থায় আমি কীভাবে তোমাকে তা জানিয়ে দেব (এবং নিজে চোগলখোরি করব)?"

আমাদের নিকট আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ আত-তামিমী হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আব্দুল ওয়াহাব বিন আতা আল-ইজলি হাদীস বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) যামমুস সুকালা (পৃষ্ঠা: ১৯)
حَدثنَا مُحَمَّد بن روح أَبُو سهل التاجي عَن مُحَمَّد بن زِيَاد قَالَ كَانَ أَبُو هُرَيْرَة إِذا ثقل عَلَيْهِ الرجل قَالَ اللَّهُمَّ اغْفِر لَهُ وَأَرِحْنَا مِنْهُ

حَدثنَا أَبُو مُحَمَّد التَّمِيمِي حَدثنَا مُحَمَّد بن حسن عَن أَحْمد بن يُونُس قَالَ لَا أعلم إِلَّا قَالَ كَانَ رجل يَأْتِي أَبَا هُرَيْرَة فيوخم قَالَ لَيْسَ فِي الْمَوْت شماتة أَلا قُلْتُمْ اسْتعْمل على إِمَارَة أَو أصَاب مَالا أَو ولد لَهُ غُلَام

حَدثنَا ابْن أبي الدُّنْيَا وَأحمد بن زُهَيْر حَدثنَا أَبُو الْحسن عَليّ بن مُحَمَّد السماوي عَن إِسْحَاق بن عِيسَى قَالَ حَدثنِي شيخ عَن حَمَّاد بن أبي سُلَيْمَان قَالَ قَالَ عمر بن الْخطاب من آمن الثّقل فَهُوَ ثقيل

حَدثنَا أَبُو بكر العامري حَدثنَا عبد الرَّحْمَن بن صَالح بن يُونُس بن بكير عَن إِسْمَاعِيل بن حَمَّاد بن أبي سُلَيْمَان عَن أَبِيه قَالَ من خَافَ أَن يكون ثقيلا
মুহাম্মাদ বিন রূহ আবু সাহল আত-তাজি আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বিন যিয়াদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন কোনো ব্যক্তি আবু হুরায়রা (রাযি.)-এর নিকট অসহনীয় হয়ে পড়ত, তখন তিনি বলতেন, "হে আল্লাহ! আপনি তাকে ক্ষমা করুন এবং তার থেকে আমাদের স্বস্তি দান করুন।"

আবু মুহাম্মাদ আত-তামিমী আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বিন হাসান থেকে এবং তিনি আহমাদ বিন ইউনুস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি যতদূর জানি তিনি বলেছেন, এক ব্যক্তি আবু হুরায়রা (রাযি.)-এর নিকট আসত এবং বিরক্তির উদ্রেক করত। তিনি বললেন, "মৃত্যুতে কোনো আনন্দ নেই। তোমরা কেন বললে না যে, তাকে কোনো নেতৃত্বের দায়িত্বে নিযুক্ত করা হোক অথবা সে সম্পদ লাভ করুক কিংবা তার কোনো পুত্র সন্তান জন্মাক?"

ইবনে আবিদ দুনইয়া এবং আহমাদ বিন যুহাইর আমাদের নিকট আবু আল-হাসান আলী বিন মুহাম্মাদ আস-সামাউয়ি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইসহাক বিন ঈসা থেকে, তিনি বলেন: জনৈক শাইখ আমার নিকট হাম্মাদ বিন আবি সুলাইমান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযি.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি নিজেকে অন্যের কাছে বিরক্তিকর হওয়া থেকে নিরাপদ মনে করে, সেই মূলত বিরক্তিকর ব্যক্তি।"

আবু বকর আল-আমিরি আমাদের নিকট আবদুর রহমান বিন সালিহ বিন ইউনুস বিন বুকাইর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইসমাঈল বিন হাম্মাদ বিন আবি সুলাইমান থেকে এবং তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "যে ব্যক্তি অন্যের নিকট বিরক্তিকর হওয়ার ভয় করে..."
(খণ্ড: ১) যামমুস সুকালা (পৃষ্ঠা: ২০)
فَهُوَ خَفِيف حَدثنَا أَبُو مُحَمَّد حَدثنَا عمر بن الصَّامِت حَدثنَا يُونُس بن حَمَّاد عَن قَتَادَة أَن رجلا قعد وسط الْحلقَة فَقَالَ لِحُذَيْفَة إِن فلَانا أَخَاك مَاتَ قَالَ وَأَنت احق على الله أَن يُمِيتك سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يلعن الْجَالِس وسط الْحلقَة

حَدثنَا حَارِث بن أبي اسامة عَن أبي الْحسن الْمَدَائِنِي قَالَ قَالَ ابْن السماك كم من رجل لَو قَدرنَا أَن نتحمل مَا بِهِ فعلنَا وَآخر نحب أَن يَمُوت حَدثنَا عبد الله بن نصر حَدثنَا مُحَمَّد بن نصر الصايغ قَالَ حَدثنِي أبي قَالَ جِئْت إِلَى عبد الرَّحْمَن بن سَالم فَجَاءَهُ رجل فَسلم عَلَيْهِ فَلم يرد عليه السلام وغمض عَيْنَيْهِ فدار إِلَى الشق الآخر من أحد شقيه فَلم يرد عَلَيْهِ فَقَالَ لَهُ يابا مُحَمَّد لم لَا ترد عَليّ السَّلَام قَالَ أتود أَن أنظر إِلَى رجل غمضت عَيْني لِئَلَّا أرَاهُ من بغضه يُرِيد أَن ارد عَلَيْهِ السَّلَام
সেটি হালকা। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ওমর ইবনুল সামিত, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইউনুস ইবনে হাম্মাদ, কাতাদাহ থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি মজলিসের মাঝখানে বসল। অতঃপর সে হুযায়ফাকে বলল যে, আপনার অমুক ভাই মারা গেছেন। তিনি বললেন: আর তুমি আল্লাহর নিকট অধিক হকদার যে তিনি তোমাকে মৃত্যু দান করেন; আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মজলিসের মাঝখানে উপবেশনকারীকে অভিশাপ দিতে শুনেছি।

আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হারিস ইবনে আবি উসামা, আবুল হাসান আল-মাদায়িনী থেকে, তিনি বলেন যে ইবনে সাম্মাক বলেছেন: কত এমন লোক আছে যার কষ্ট যদি আমরা নিজেরা বহন করতে পারতাম তবে অবশ্যই তা করতাম, আবার অন্য এমন লোকও আছে যার মৃত্যু আমরা পছন্দ করি। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে নাসর, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে নাসর আল-সায়েগ, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে বলেছেন: আমি আব্দুর রহমান ইবনে সালিমের নিকট গেলাম, তখন এক ব্যক্তি এসে তাকে সালাম দিল। তিনি তার সালামের উত্তর দিলেন না এবং তার চোখ বন্ধ করে নিলেন। অতঃপর লোকটি তার অন্য পাশে ঘুরে গেল, কিন্তু তিনি তখনও উত্তর দিলেন না। তখন সে তাকে বলল: হে আবু মুহাম্মদ, আপনি কেন আমার সালামের উত্তর দিচ্ছেন না? তিনি বললেন: তুমি কি চাও আমি এমন এক ব্যক্তির দিকে তাকাই যার প্রতি বিদ্বেষের কারণে আমি তাকে না দেখার জন্য চোখ বন্ধ করেছি, আর সে চায় যে আমি তার সালামের উত্তর দেই?
(খণ্ড: ১) যামমুস সুকালা (পৃষ্ঠা: ২১)
حَدثنَا عبد الله بن عبيد الْقرشِي قَالَ حَدثنِي مُحَمَّد بن قدامَة قَالَ سَمِعت أَبَا أُسَامَة يَقُول حَدثنَا هِشَام بن عُرْوَة يَقُول لرجل لأَنْت أثقل من الزواقي قَالَ ابْن قدامَة سَأَلت الْفراء عَنْهَا فَلم يعرفهَا فَقَالَ جليس لَهُ إِن الْعَرَب كَانَت تسمر بِاللَّيْلِ فَإِذا سَمِعت زقا الديكة أشرف عَلَيْهَا مَجِيء الصُّبْح قَالَ فأعجب الْفراء بذلك

حَدثنَا مُحَمَّد بن اسحق الْمَدَائِنِي حَدثنَا سُلَيْمَان بن أبي شيخ حَدثنَا أَبُو الصغدي الْحَارِثِيّ قَالَ أتيت عوَانَة بَعْدَمَا كف بَصَره فَسلمت عَلَيْهِ وَسَأَلت عَنهُ ثمَّ قلت إِن الله
আব্দুল্লাহ বিন উবাইদ আল-কুরাশি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন যে মুহাম্মদ বিন কুদামা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু উসামাকে বলতে শুনেছি যে হিশাম বিন উরওয়াহ এক ব্যক্তিকে বলছিলেন, "তুমি যাওয়াকি-এর চেয়েও অধিক বিরক্তিকর।" ইবনে কুদামা বলেন, আমি আল-ফাররা-কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তা চিনতে পারেননি। তখন তাঁর এক সহচর বললেন, আরবরা রাতে গল্পগুজব করত, অতঃপর যখন তারা মোরগের ডাক (যাকা) শুনতে পেত, তখন তাদের নিকট সকালের আগমন উপস্থিত হতো। বর্ণনাকারী বলেন, এতে আল-ফাররা বিস্ময় প্রকাশ করলেন।

মুহাম্মদ বিন ইসহাক আল-মাদায়িনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুলাইমান বিন আবি শাইখ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবুস সাগদি আল-হারিসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আওয়ানার দৃষ্টিশক্তি চলে যাওয়ার পর তাঁর নিকট আসলাম এবং তাঁকে সালাম দিলাম ও তাঁর কুশল জিজ্ঞাসা করলাম। অতঃপর আমি বললাম, নিশ্চয় আল্লাহ...
(খণ্ড: ১) যামমুস সুকালা (পৃষ্ঠা: ২২)
لم يسلب عبدا شَيْئا إِلَّا عوضه مَكَانَهُ شَيْئا هُوَ خير مِنْهُ فَمَا الَّذِي عوضك من بَصرك قَالَ الطَّوِيل العريض وَألا تقع عَيْني عَلَيْك

حَدثنَا مُحَمَّد بن اسحق حَدثنَا أَبُو دَاوُد الطَّيَالِسِيّ قَالَ حَمَّاد بن سَلمَة الصَّوْم فِي الْبُسْتَان الثّقل

حَدثنَا مُحَمَّد بن الْفضل قَالَ سمع يزِيد بن جَابَان كَلَام عبد الله بن الهيان يعبد مَا ذهب بَصَره فَقَالَ كَلَام من هَذَا فَقَالُوا كَلَام عبد الله بن الهيان قَالَ لَوَدِدْت أَن الله زادني طرشا حَتَّى لَا أسمع كَلَامه وَأتم عَليّ بذلك النعمتين

حَدثنَا إِسْحَاق بن مُحَمَّد قَالَ حَدثنِي ابْن عَائِشَة قَالَ قَالَ رجل لبشار الْأَعْمَى إِنَّه لم يذهب بصر أحد إِلَّا عوض فَمَا عوضت من ذهَاب بَصرك قَالَ أَلا أرى وَجهك فأموت غما

حَدثنَا عبد الله بن حَمْزَة عَن الْعَبَّاس بن الْحسن قَالَ بَلغنِي عَن الشّعبِيّ
তিনি কোনো বান্দার নিকট থেকে কোনো কিছু ছিনিয়ে নেন না যার পরিবর্তে তাকে তার চেয়ে উত্তম কিছু দান করেন না। সুতরাং আপনার দৃষ্টিশক্তির বিনিময়ে তিনি আপনাকে কী প্রতিদান দিয়েছেন? তিনি বললেন: দীর্ঘ ও প্রশস্ত (সুযোগ) এবং এই যে আমার দৃষ্টি আপনার ওপর পড়ে না।

মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু দাউদ আত-তায়ালিসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ বলেছেন: বাগানে রোজা রাখা অত্যন্ত কষ্টকর।

মুহাম্মদ ইবনে আল-ফাদল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াজিদ ইবনে জাবান দৃষ্টিশক্তি হারানো আব্দুল্লাহ ইবনে আল-হায়য়ানের কথা শুনলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "এটি কার কথা?" তারা বলল: "আব্দুল্লাহ ইবনে আল-হায়য়ানের কথা।" তিনি বললেন: "আমি আকাঙ্ক্ষা করি যদি আল্লাহ আমাকে আরও বধির করে দিতেন যাতে আমি তার কথা না শুনি, এবং এর মাধ্যমে আমার ওপর দুটি নিয়ামত পূর্ণ করতেন।"

ইসহাক ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে আয়েশা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি অন্ধ বাশারকে বলল: "নিশ্চয়ই কারও দৃষ্টিশক্তি চলে গেলে তাকে অবশ্যই বিনিময় প্রদান করা হয়। আপনার দৃষ্টিশক্তি চলে যাওয়ার বিনিময়ে আপনি কী পেয়েছেন?" তিনি বললেন: "যাতে আপনার চেহারা না দেখি এবং দুঃখে মারা না যাই।"

আব্দুল্লাহ ইবনে হামযাহ আব্বাস ইবনুল হাসান থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আশ-শা'বি থেকে আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে...
(খণ্ড: ১) যামমুস সুকালা (পৃষ্ঠা: ২৩)
أَنه قَالَ إِذا أردْت التَّخَلُّص فِيمَا بَيْنك وَبَين من تستثقله الْعين فحول قفاك إِلَيْهِ

قَالَ أَو الْقَاسِم بن الْمَرْزُبَان قَالَ أَنْشدني عَليّ بن مُحَمَّد لأبي زيد الْمَازِني … وبغيض فاق فِي البغض على كل بغيض

… فاق عِنْدِي قدح اللبلاب فِي عين الْمَرِيض

حَدثنَا ابْن الْمَرْزُبَان حَدثنَا مُحَمَّد بن الْحَنْظَلِي عَن مُحَمَّد بن سعد قَالَ كَانَ بِالْمَدِينَةِ رجل لَهُ ابْنَانِ لم يكن بِالْمَدِينَةِ أثقل مِنْهُمَا وَكَانَ أَبوهُمَا من الطيبين فتذاكروا يَوْمًا الثّقل فَقَالَ على رسلكُمْ امراته طَالِق إِن كَانَت الزَّوْرَاء دَار عُثْمَان ابْن عَفَّان عِنْد أحد بني مَا جاورته

حَدثنَا أَبُو بكر الْقرشِي حَدثنِي مُحَمَّد بن عبد الله حَدثنِي مُعلى بن مهْدي قَالَ سَمِعت حَمَّاد بن زيد قَالَ حَدثنِي شيخ من الباذرية قَالَ كَانَ عمي إِذا
তিনি বলেন যে, আপনি যদি নিজের এবং যার প্রতি আপনার দৃষ্টি বিরূপ—এমন ব্যক্তির মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে চান, তবে তার দিকে আপনার পিঠ ঘুরিয়ে দিন।

আবুল কাসিম ইবনুল মারযুবান বলেন, আলি ইবনে মুহাম্মদ আমার কাছে আবু যায়েদ আল-মাযিনির কবিতা আবৃত্তি করেছেন … এবং একজন ঘৃণিত ব্যক্তি, যে ঘৃণার ক্ষেত্রে অন্য সকল ঘৃণিত ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে গেছে।

… আমার কাছে সে (বিরক্তির ক্ষেত্রে) অসুস্থ ব্যক্তির চোখের সামনে লবলব (এক প্রকার তিতকুটে লতা) এর পাত্রের চেয়েও ছাড়িয়ে গেছে।

ইবনুল মারযুবান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনুল হানযালি আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে সা’দ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মদিনায় জনৈক ব্যক্তি ছিলেন যার দুই পুত্র ছিল। মদিনায় তাদের চেয়ে অধিক বিরক্তিকর আর কেউ ছিল না। তাদের পিতা ছিলেন একজন সজ্জন ব্যক্তি। একদিন তারা বিরক্তি বা ‘সাকল’ সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন। তখন তিনি (পিতা) বললেন, “শান্ত হোন! তার স্ত্রী তালাক, যদি উসমান ইবনে আফফানের বাড়ি ‘যাওরা’ আমার দুই পুত্রের কারোর নিকটে হতো, তবে আমি সেখানে প্রতিবেশী হয়ে থাকতাম না।”

আবু বকর আল-কুরাশি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, মুয়াল্লা ইবনে মাহদী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি হাম্মাদ ইবনে যায়েদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: বাযারিয়ার একজন বৃদ্ধ লোক আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার চাচা যখন...
(খণ্ড: ১) যামমুস সুকালা (পৃষ্ঠা: ২৪)
رأى الرجل يستثقله غش عَلَيْهِ أَنْشدني الْآدَمِيّ قَالَ أَنْشدني ابْن الْمَرْزُبَان قَالَ عبد الله بن نصر الرياش … لي صاحبان عَليّ هامتي … جلوسهما مثل حد الوتد

ثقيلان لَا يرتجى مِنْهُمَا … فَهَذَا الزُّكَام وَهَذَا الرمد … وأنشدني ابْن الْمَرْزُبَان قَالَ أَنْشدني أَبُو بكر لبَعض الْبَصرِيين … فرحمة الله على آدم … رَحْمَة من عَم وَمن خصصا

لَو كَانَ يدْرِي أَنه خَارج … مثلك من جربانه لاختصى … حَدثنَا أَبُو الْعَبَّاس الْمروزِي حَدثنَا أبي قَالَ كَانَ ابْن عَائِشَة إِذا بصر إِلَى ثقيل قَالَ صنجة الْمِيزَان
তিনি এক ব্যক্তিকে দেখলেন যে তাকে অত্যন্ত বিরক্তিকর (ভারী) মনে করছে এবং তার ওপর মূর্ছা যাওয়ার মতো অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। আল-আদামি আমাকে কবিতা শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনুল মারযুবান আমাকে শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে নাসর আর-রিয়াশি বলেছেন … আমার মাথার ওপর দুজন সাথী রয়েছে … তাদের অবস্থান যেন পেরেকের ফলার মতো।

তারা দুজন অত্যন্ত ভারাক্রান্তকারী যাদের থেকে কোনো নিষ্কৃতি আশা করা যায় না … এদের একজন হলো সর্দি এবং অন্যজন হলো চোখের রোগ … এবং ইবনুল মারযুবান আমাকে শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর আমাকে জনৈক বসরাবাসীর কবিতা শুনিয়েছেন … আদমের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক … এমন রহমত যা ব্যাপক এবং যা বিশেষ।

যদি তিনি জানতেন যে তার ঔরস থেকে … আপনার মতো কেউ বের হবে, তবে তিনি অবশ্যই নিজেকে নির্বীর্য করে ফেলতেন … আবু আব্বাস আল-মারওয়াযি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে আইশাহ যখনই কোনো বিরক্তিকর ব্যক্তিকে দেখতেন, তখন বলতেন: দাঁড়িপাল্লার ওজন পাথর।
(খণ্ড: ১) যামমুস সুকালা (পৃষ্ঠা: ২৫)
حَدثنِي أَبُو الْعَبَّاس الْمروزِي حَدثنِي عَليّ بن الْحسن قَالَ كَانَ أَبُو اسامة إِذا أبْصر إِلَى ثقيل قَالَ قد تغيمت السَّمَاء حَدثنَا ابْن الْمَرْزُبَان حَدثنَا أبي قَالَ كَانَ بعض مَشَايِخنَا إِذا أبْصر إِلَى ثقيل صَاح الْحجر الْحجر

وَقَالَ ابْن سِنَان الْقطَّان كَانَ وَكِيع إِذا جلس إِلَيْهِ الثقيل غمض عَيْنَيْهِ وَقَامَ عَنهُ

حَدثنَا أَحْمد بن مَنْصُور الرَّمَادِي حَدثنَا عبد الرَّزَّاق عَن معمر قَالَ كنت جَالِسا بِصَنْعَاء فَدخل عَلَيْهِ فَتى لَهُ ثقيل فَقَالَ يَا معمر دين تسلمه إِلَى عبد الله بصنعا فعدني وعده بعدهمْ

حَدثنَا مُحَمَّد بن عمرَان بن زِيَاد الضَّبِّيّ عَن أبي عبد الله الطوَال عَن الْأَصْمَعِي قَالَ قَالَ ابْن أبي طرفه مجالسة الثقيل حمى باطنة حَدثنَا مُحَمَّد بن
আবু আব্বাস আল-মারওয়াযী আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনুল হাসান আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু উসামা যখনই কোনো অপ্রীতিকর (ভারী স্বভাবের) ব্যক্তিকে দেখতেন, তখন বলতেন, "আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে গেছে।" ইবনুল মারযুবান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কোনো কোনো শায়খ যখনই কোনো অপ্রীতিকর ব্যক্তিকে দেখতেন, তখন চিৎকার করে বলতেন, "পাথর! পাথর!"

ইবনে সিনান আল-কাত্তান বলেন, ওয়াকি'র কাছে যখন কোনো অপ্রীতিকর ব্যক্তি এসে বসত, তখন তিনি নিজের চোখ বন্ধ করে ফেলতেন এবং তার নিকট থেকে উঠে যেতেন।

আহমদ বিন মানসুর আর-রামানী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবদুর রাজ্জাক মা'মার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি সানআয় বসা ছিলাম, তখন তার নিকট এক অপ্রীতিকর যুবক প্রবেশ করল এবং বলল, "হে মা'মার! একটি ঋণ কি আপনি সানআর আব্দুল্লাহর কাছে পৌঁছে দেবেন?" এরপর সে আমাকে এবং তাকে একের পর এক প্রতিশ্রুতি দিতে লাগল।

মুহাম্মদ ইবনে ইমরান ইবনে যিয়াদ আদ-দাব্বী আবু আব্দুল্লাহ আত-তাওয়াল থেকে, তিনি আসমাঈ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, ইবনে আবি তারাফা বলেছেন, "অপ্রীতিকর ব্যক্তির সাথে উঠাবসা করা এক প্রকার অভ্যন্তরীণ জ্বর।" মুহাম্মদ বিন...
(খণ্ড: ১) যামমুস সুকালা (পৃষ্ঠা: ২৬)
عبد الله بن عمر عَن عمر بن اسماعيل بن مجَالد عَن أَبِيه عَن جده عَن الشّعبِيّ قَالَ من فَاتَتْهُ رَكعَتَا الْفجْر فليلعن الثُّقَلَاء

حَدثنَا ابْن الْمَرْزُبَان حَدثنِي أَحْمد بن زُهَيْر حَدثنِي عبيد الله بن عمر حَدثنِي أَبُو أَحْمد الزبيرِي حَدثنَا سعد بن أَوْس عَن بِلَال بن يحيى الْعَبْسِي عَن حُذَيْفَة قَالَ إِن الرجل ليدعوني فَأَقُول إِنِّي صَائِم وَلست بصائم

حَدثنَا أَبُو مُحَمَّد التَّمِيمِي حَدثنِي مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل حَدثنِي ابْن الْوراق حَدثنَا ابْن فُضَيْل عَن عبد الله بن شبْرمَة قَالَ سَمِعت الشّعبِيّ يَقُول
আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, তিনি উমর ইবনে ইসমাঈল ইবনে মুজালিদ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে, তিনি আশ-শা‘বী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "যার ফজরের দুই রাকাত (সুন্নত) ছুটে যায়, সে যেন ভারী (অলস ও বিরক্তিকর) ব্যক্তিদের অভিশাপ দেয়।"

ইবনুল মারযুবান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ইবনে যুহাইর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আহমাদ আয-যুবাইরী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, সা‘দ ইবনে আউস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বিলাল ইবনে ইয়াহইয়া আল-আবছী থেকে, তিনি হুযায়ফা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তি আমাকে (খাওয়ার জন্য) ডাকে, তখন আমি বলি ‘আমি রোযা রেখেছি’, অথচ আমি রোযাদার নই।"

আবু মুহাম্মাদ আত-তামীমী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনুল ওয়াররাক আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে ফুদাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে শুবরুমাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আশ-শা‘বীকে বলতে শুনেছি:
(খণ্ড: ১) যামমুস সুকালা (পৃষ্ঠা: ২৭)
. وَمن النَّاس من يخف وَمِنْهُم … كرجا الْبِئْر ركبت فَوق ظَهْري … قَالَ حَدثنِي عبد الرَّحْمَن بن مُحَمَّد بن حميد بن حبيب أَنْشدني لبَعض الشُّعَرَاء … إِذا أَبْصرت شخصك قلت شخص … حقيق بالحياكة والحجامة

وَإِن أَبْصرت وَجهك قلت وَجه … حقيق بالنحامة والنخامة … أَنْشدني ابْن الْمَرْزُبَان قَالَ أَنْشدني أَبُو الْقَاسِم بن سُلَيْمَان الْإِيَادِي … يَا بغيض الله والشيطا … ن وَالْجِنّ وَالْإِنْس

أهج عرضي كَيْفَمَا شِئْت … وأهجو لَك نَفسِي …

حَدثنَا مُحَمَّد بن بكر حَدثنَا عبد الرَّحْمَن بن ابراهيم حَدثنَا أَبُو شهد عَن مُزَاحم بن زفر قَالَ سَالَتْ شُعْبَة عَن ابي بكر الْهُذلِيّ قَالَ دَعْنِي لَا اقيء
মানুষের মধ্যে কেউ কেউ হালকা হয়, আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ এমন … কূপের কপিকলের মতো যা আমার পিঠের ওপর সওয়ার হয়েছে … তিনি বলেন, আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন হুমাইদ বিন হাবিব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি জনৈক কবির এই কবিতা পাঠ করেছেন … যখন আমি তোমার অবয়ব দেখি, আমি বলি এটি এমন এক অবয়ব … যা বয়নশিল্প ও রক্তমোক্ষণ (শিঙা লাগানো) কাজেরই উপযুক্ত।

আর যখন আমি তোমার চেহারা দেখি, আমি বলি এটি এমন এক চেহারা … যা সর্দি ও কফ নিক্ষেপেরই উপযুক্ত। … ইবনুল মারযুবান আমার নিকট আবৃত্তি করেছেন, তিনি বলেন, আবুল কাসিম বিন সুলাইমান আল-ইয়াদি আমার নিকট আবৃত্তি করেছেন … হে আল্লাহর নিকট ঘৃণিত, এবং শয়তান … জিন ও মানুষের নিকট ঘৃণিত!

তুমি যেভাবে চাও আমার মান-সম্মানের কুৎসা গাও … আর আমি তোমার জন্য নিজেরই কুৎসা গাইছি …

মুহাম্মদ বিন বকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহমান বিন ইবরাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু শাহদ আমাদের নিকট মুযাহিম বিন যুফার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি শু'বাকে আবু বকর আল-হুদালী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তিনি বললেন: "আমাকে ছেড়ে দাও, পাছে আমার বমি না চলে আসে।"
(খণ্ড: ১) যামমুস সুকালা (পৃষ্ঠা: ২৮)
حَدثنَا عبد الله بن عبد الله الْخُرَاسَانِي قَالَ حَدثنِي جَعْفَر بن مُحَمَّد الْبُرُلُّسِيّ قَالَ سَمِعت جَعْفَر بن حميد سَمِعت مُحَمَّد بن جَابر يَقُول لما مَاتَ حَمَّاد بن أبي سُلَيْمَان كَانَ أَبُو حنيفَة رُبمَا لَقِيَنِي فيسألني الْمَسْأَلَة فيمنعني أَن أخبرهُ قَالَ أَنْشدني الأدمِيّ قَالَ أَنْشدني ابْن الْمَرْزُبَان قَالَ أَنْشدني أَبُو بكر الْقرشِي … انهضوا فَإِن أَتَى يَا جلسائي فانهضوا

… زبدة البغض أَرَاهَا فِي فُؤَادِي تمخض

قَالَ أَنْشدني الْحسن بن صَالح البرقي للمكتب … أما الحبيب فَلَا يمل حَدِيثه … وَحَدِيث من أبغضته مملول

وَترى على وَجه الحبيب بشاشة … وعَلى البغيض وخامة وخمول

وتدير طرفك للحبيب مَوَدَّة … والطرف من دون البغيض كليل …
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-খুরাসানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, জাফর ইবনে মুহাম্মদ আল-বুরুল্লুসি আমাকে বলেছেন, তিনি বলেন, আমি জাফর ইবনে হুমাইদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি মুহাম্মদ ইবনে জাবিরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: যখন হাম্মাদ ইবনে আবি সুলায়মান ইন্তেকাল করলেন, তখন আবু হানিফা প্রায়ই আমার সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং আমাকে কোনো মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন, কিন্তু আমি তাকে তা জানাতে অস্বীকৃতি জানাতাম। তিনি বলেন, আল-আদামী আমাকে কবিতা শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, ইবনুল মারযুবান আমাকে কবিতা শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু বকর আল-কুরাশী আমাকে শুনিয়েছেন … হে আমার উপবেশনকারী সাথীরা, উঠে দাঁড়ান; যদি তিনি আসেন, তবে আপনারা উঠে দাঁড়ান।

… আমি আমার হৃদয়ে ঘৃণার নির্যাস আলোড়িত হতে দেখছি।

তিনি বলেন, হাসান ইবনে সালিহ আল-বারকী আমাকে মাকতাবের জন্য কবিতা শুনিয়েছেন … প্রিয়জনের কথা কখনো ক্লান্তিকর হয় না … আর যাকে ঘৃণা করা হয় তার কথা অত্যন্ত বিরক্তিকর।

আপনি প্রিয়জনের চেহারায় প্রফুল্লতা দেখতে পাবেন … আর ঘৃণিত ব্যক্তির চেহারায় বিষণ্ণতা ও জড়তা।

আপনি ভালোবাসার সাথে প্রিয়জনের দিকে আপনার দৃষ্টি ফেরান … আর ঘৃণিত ব্যক্তির দিক থেকে দৃষ্টি ক্লান্ত ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে …
(খণ্ড: ১) যামমুস সুকালা (পৃষ্ঠা: ২৯)
حَدثنَا أَبُو الْفضل أَحْمد بن طيفور قَالَ حَدثنِي عبد الرَّحْمَن بن عبد الله الْخَوَارِزْمِيّ قَالَ لقِيت شريك بن عبد الله يَوْمًا بِبَاب الكرخ أَيَّام الْمَنْصُور فَقلت يَا باعبد الله حَدثنِي بِحَدِيث كَذَا وَكَذَا فَحَدثني فَقلت يابا عبد الله آخر فَحَدثني فَقلت آخرفحدثني فَقلت آخرفقال لي بِالْفَارِسِيَّةِ أَنْت ثقيل وَلَو كنت ثقيلا فِي العيان هينا وَلَكِن أَنْت ثقيل على الْقلب

حَدثنَا أبومحمد حَدثنِي جَعْفَر بن يَعْقُوب حَدثنِي أَحْمد بن إِبْرَاهِيم عَن جعغر الْأَحْمَر عَن إِسْمَاعِيل بن أبي خَالِد عَن الشّعبِيّ قَالَ عِيَادَة حمقاء الْقُرَّاء أشدعلى الْمَرِيض من مرض مريضهم يعودونة فِي غير وَقت عِيَادَة ويطيلون الْجُلُوس عِنْده

حَدثنَا عبد الرَّحْمَن بن مُحَمَّد حَدثنِي مُحَمَّد بن سعد حَدثنَا عَفَّان حَدثنَا
আমাদের নিকট আবুল ফজল আহমদ বিন তয়ফুর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ আল-খোয়ারিজমি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল-মনসুরের শাসনামলে একদিন কারখ-এর প্রবেশদ্বারে শারিক বিন আব্দুল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করলাম। আমি বললাম: হে আবু আব্দুল্লাহ! আমাকে অমুক ও অমুক হাদীস বর্ণনা করুন। অতঃপর তিনি আমার নিকট তা বর্ণনা করলেন। আমি বললাম: হে আবু আব্দুল্লাহ! আরও একটি। তিনি সেটি বর্ণনা করলেন। আমি পুনরায় বললাম: আরও একটি। তিনি সেটিও বর্ণনা করলেন। আমি আবারও বললাম: আরও একটি। তখন তিনি আমাকে ফারসি ভাষায় বললেন: তুমি অত্যন্ত বিরক্তির উদ্রেককারী। যদি তুমি কেবল শারীরিক গঠনেই ভারী হতে কিন্তু আচরণে সহজ হতে (তবে তা সহনীয় হতো), কিন্তু তুমি তো হৃদয়ের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছ।

আমাদের নিকট আবু মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, জাফর বিন ইয়াকুব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমদ বিন ইব্রাহিম আমার নিকট জাফর আল-আহমার থেকে, তিনি ইসমাইল বিন আবু খালিদ থেকে, তিনি আশ-শা’বি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (শা’বি) বলেন: মূর্খ ক্বারীদের রোগী দেখতে যাওয়া অসুস্থ ব্যক্তির জন্য তার নিজের রোগের চেয়েও বেশি যন্ত্রণাদায়ক। তারা অসময়ে রোগী দেখতে আসে এবং তার নিকট দীর্ঘক্ষণ বসে থাকে।

আমাদের নিকট আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন সা'দ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আফফান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) যামমুস সুকালা (পৃষ্ঠা: ৩০)
عمربن عَليّ قَالَ جَاءَ الْحجَّاج بن أَرْطَاة إِلَى الْأَعْمَش فَاسْتَأْذن عَلَيْهِ فَقَالَ
উমর ইবন আলী বলেন, হাজ্জাজ ইবন আরতাত আল-আমাশের নিকট আসলেন এবং তাঁর কাছে অনুমতি চাইলেন। অতঃপর তিনি বললেন:
(খণ্ড: ১) যামমুস সুকালা (পৃষ্ঠা: ৩১)
قُولُوا لَهُ ابْن أَرْطَاة على الْبَاب فَقَالَ الاعمش ابك عَليّ ابك عَليّ فَلم يَأْذَن لَهُ

حَدثنَا أَبُو مُحَمَّد التَّمِيمِي حَدثنَا مُحَمَّد بن يحيى عَن الْأَصْمَعِي قَالَ لَيْسَ فِي الدُّنْيَا إِلَّا ثقيل وَلَا أحب الثُّقَلَاء

حَدثنَا أَبُو الْفضل أَحْمد بن حبيب عَليّ بن يحيا قَالَ الْمَأْمُون يَوْمًا لجلسائه لم صَار الثقيل أثقل على الْقلب من الْحمل الثقيل فَلم يجب مِنْهُم أحد وَقَالُوا أَمِير الْمُؤمنِينَ أعلم فَقَالَ لِأَنَّهُ يجْتَمع على الْحمل الثقيل الرّوح وَالْبدن والثقيل تنفرد بِهِ الرّوح

أَتَى شريك بن عبد الله رجل من أَصْحَاب الحَدِيث لَهُ عَن أَطْرَاف كَانَت مَعَه وَكَانَ ذَلِك فِي يَوْم صَائِف وَأكْثر على شريك وَثقل عَلَيْهِ فصاح شريك يَا جَارِيَة تَعَالَى اسبلي السّتْر واحرقي الذُّبَاب

حَدثنَا أَبُو الأدمِيّ قَالَ أَنْشدني ابْن الْمَرْزُبَان قَالَ أَنْشدني ابْن صَالح الْكُوفِي … وثقيل قل صَاحبه … يحْسب كل النَّاس من خوله …
তাকে বলো যে ইবনে আরতাহ দরজায়। আ'মাশ বললেন: আমার জন্য বিলাপ করো, আমার জন্য বিলাপ করো! এরপর তিনি তাকে প্রবেশের অনুমতি দিলেন না।

আবু মুহাম্মদ আত-তামিমী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-আসমাঈ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: পৃথিবীতে বিরক্তিকর লোক ছাড়া আর কেউ নেই, আর আমি বিরক্তিকর ব্যক্তিদের পছন্দ করি না।

আবুল ফজল আহমদ ইবনে হাবিব আলী ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মামুন একদিন তাঁর সভাসদদের বললেন: কেন একজন বিরক্তিকর ব্যক্তি অন্তরের ওপর ভারী বোঝার চেয়েও বেশি ভারী হয়? তাঁদের মধ্য হতে কেউ উত্তর দিতে পারলেন না এবং তাঁরা বললেন: আমীরুল মুমিনীনই ভালো জানেন। তখন তিনি বললেন: কারণ ভারী বোঝা বহন করতে আত্মা ও দেহ উভয়ই সম্মিলিত হয়, কিন্তু বিরক্তিকর ব্যক্তিকে শুধু আত্মাকেই একাকী সহ্য করতে হয়।

শারীক ইবনে আবদুল্লাহর নিকট হাদীস অন্বেষণকারীদের একজন ব্যক্তি এলেন যার সাথে কিছু হাদীসের নোট ছিল। সেটি ছিল একটি গ্রীষ্মের দিন। সে শারীকের ওপর অধিক চাপ সৃষ্টি করল এবং তাঁর নিকট বিরক্তিকর হয়ে উঠল। তখন শারীক চিৎকার করে বললেন: হে পরিচারিকা, এদিকে এসো, পর্দা ফেলে দাও এবং মাছিগুলো পুড়িয়ে ফেলো।

আবু আদমী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনুল মারজুবান আমাকে কবিতা শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনে সালিহ আল-কুফি আমাকে শুনিয়েছেন ... এবং এমন এক বিরক্তিকর ব্যক্তি যার সাথী বা বন্ধু খুবই কম ... সে সমস্ত মানুষকে তার অনুচর মনে করে ...
(খণ্ড: ১) যামমুস সুকালা (পৃষ্ঠা: ৩২)
جَاءَنَا وَالشَّمْس قد غربت

فاصتبى رسلًا على مهله

… تأسر الْعَينَيْنِ طلعته … انقص الرحن من أَجله … قَالَ أَنْشدني عبد الله بن نصر قَالَ أَنْشدني أَبُو سعيد الْأَهْوَازِي … لشؤم بخت وقضم قت … وَألف سبت وأربعا

وَثقل صَخْر … وغيم شهر وَطول هجر على جَفا

وَكسر ضلع ونتف صدغ … بِمَاء صمغ وموميا

أَهْون من أَن تراك عَيْني … تمشي صَحِيحا على الفضا

أيا بغيضا تضج مِنْهُ الأر ضَجِيجًا إِلَى السما

حَدثنَا عبد الله بن جَعْفَر حَدثنِي مُحَمَّد بن الْحسن عَن الصَّلْت بن مَسْعُود قَالَ

سَمِعت جدي أَبَا صَالح قَالَ دخل رجل على رَقَبَة بن مصقلة قَالَ يابا عبد الله مَاتَ فلَان ثمَّ سكت سَاعَة ثمَّ قَالَ مَاتَ فلَان نعى ثَلَاثَة فَلَمَّا أَرَادَ أَن يخرج قَالَ لَك حَاجَة قَالَ أَلا تعودني مَا دمت مَرِيضا عدمتك حَوْلَيْنِ كفيتك بعفوين
সে আমাদের নিকট এল যখন সূর্য ডুবে গিয়েছিল

অতঃপর সে ধীরস্থিরভাবে দূতদের বিমোহিত করল

… তার চেহারা দুই চোখকে বন্দী করে ফেলে … তার কারণে পরম দয়ালু কমিয়ে দিলেন … তিনি বললেন, আমাকে আব্দুল্লাহ বিন নাসর পাঠ করে শুনিয়েছেন, তিনি বললেন, আমাকে আবু সাঈদ আল-আহওয়াজি পাঠ করে শুনিয়েছেন … দুর্ভাগ্যের জন্য এবং শুকনো ঘাস চিবানোর জন্য … এবং এক হাজার শনিবার ও চার দিন

এবং পাথরের ভার … এবং এক মাসের মেঘাচ্ছন্নতা আর নিষ্ঠুরতার ওপর দীর্ঘ বিচ্ছেদ

আর পাঁজরের হাড় ভাঙা এবং কানের পাশের চুল উপড়ে ফেলা … আঠা মিশ্রিত পানি এবং মমি দিয়ে

আমার চোখ তোমাকে উন্মুক্ত স্থানে সুস্থ অবস্থায় হাঁটতে দেখার চেয়ে এগুলো অনেক সহজ …

হে ঘৃণিত ব্যক্তি, যার অত্যাচারে পৃথিবী আকাশের কাছে উচ্চৈঃস্বরে আর্তনাদ করছে

আব্দুল্লাহ বিন জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন আল-হাসান আমার নিকট আল-সালত বিন মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন

আমি আমার দাদা আবু সালিহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাকাবাহ বিন মাসকালার নিকট প্রবেশ করে বলল, হে আবু আব্দুল্লাহ! অমুক ব্যক্তি মারা গিয়েছে। এরপর সে কিছুক্ষণ চুপ থাকল, তারপর পুনরায় বলল, অমুক মারা গিয়েছে—এভাবে সে তিনজনের মৃত্যুর সংবাদ দিল। যখন সে বের হয়ে যাওয়ার ইচ্ছা করল, তখন তিনি (রাকাবাহ) বললেন, আপনার কি কোনো প্রয়োজন আছে? সে বলল, আমি অসুস্থ থাকা অবস্থায় আপনি যেন আমাকে দেখতে না আসেন; আমি যেন আপনাকে দুই বছর না দেখি, দুটি ক্ষমার মাধ্যমে আমি আপনাকে অব্যাহতি দিলাম।
(খণ্ড: ১) যামমুস সুকালা (পৃষ্ঠা: ৩৩)
أَنْشدني الْآدَمِيّ قَالَ أَنْشدني ابْن الْمَرْزُبَان قَالَ أَنْشدني أَحْمد بن عَليّ … أَنْت وَالله ثقيل … وَأَنا أَيْضا ثقيل

لَك رَأس فِيهِ رأسان … ولي عقب طَوِيل

أَنْت فِي المنظر إِنْسَان … وَفِي الْمِيزَان فيل …

أخبرنَا بن مُحَمَّد عَن الحرمازي عَن مجَالد عَن الشّعبِيّ أَنه كَانَ قَاعِدا فِي مجْلِس فَأقبل رجل فَلَمَّا رَآهُ قَامَ وَقَالَ ثقيل وَالله

قَالَ أخبرنَا عبد الله عَن أبي مُحَمَّد الْخُرَاسَانِي قَالَ قَالَ حَمَّاد الراوية أَخْبرنِي من قَالَ للفرزدق يَا أَبَا فراس أَنْشدني قصيدة كَذَا وَكَذَا قَالَ يَا هَذَا إِن قدرت أَلا تكون ثقيلا فأفعل

حَدثنِي عبد الله بن نصر حَدثنِي إِبْرَاهِيم حَدثنَا عبيد الله بن عمر قَالَ قَالَ
আল-আদামি আমাকে কবিতা শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, ইবনুল মারজুবান আমাকে কবিতা শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, আহমাদ বিন আলি আমাকে কবিতা শুনিয়েছেন … আল্লাহর কসম, আপনি খুব ভারী … এবং আমিও ভারী।

আপনার এমন এক মাথা যাতে রয়েছে দুটি মাথা … আর আমার রয়েছে দীর্ঘ গোড়ালি।

দেখতে আপনি একজন মানুষ … কিন্তু ওজনে আপনি এক হাতি …

ইবনে মুহাম্মাদ আল-হিরমাজি থেকে, তিনি মুজালিদ থেকে, তিনি আশ-শা’বি থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি এক মজলিসে বসা ছিলেন। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি এগিয়ে এল। যখন তিনি তাকে দেখলেন, তিনি দাঁড়িয়ে পড়লেন এবং বললেন: আল্লাহর কসম, অতি ভারী।

তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ আবু মুহাম্মাদ আল-খুরাসানি থেকে আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন, হাম্মাদ আর-রাবিয়া বলেছেন: আমাকে এমন এক ব্যক্তি সংবাদ দিয়েছেন যিনি আল-ফারাজদাককে বলেছিলেন—হে আবু ফিরারাস, আমাকে অমুক অমুক কবিতা শুনিয়ে দিন। তিনি বললেন: হে ব্যক্তি, যদি আপনি ভারী না হয়ে থাকতে সক্ষম হন, তবে তাই করুন।

আব্দুল্লাহ বিন নাসর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবরাহিম আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, উবাইদুল্লাহ বিন উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, তিনি বলেছেন:
(খণ্ড: ১) যামমুস সুকালা (পৃষ্ঠা: ৩৪)
يحيا بن سعيد لرجل لِأَن تضربني ضَرْبَة بِالسَّوْطِ أحب إِلَيّ من أَن تَسْأَلنِي عَن حَدِيث

وَلَقَد جَاءَهُ مرّة رجل يستثقله فَقَالَ لي من بِالْبَابِ قلت فلَان فصك رَأسه بأصابع يَدَيْهِ كلهَا وَقَالَ يَا أَبَا سعيد جبل جبل فَلَمَّا انصرفت مَرَرْت بِالرجلِ وَهُوَ جَالس على الْبَاب فَلَا أَدْرِي أذن لَهُ أم لَا قَالَ أَنْشدني ابْن الْمَرْزُبَان قَالَ أنشدت لأبي حَازِم … فِي غير ستر الله من سَار … لأَقْرَب الله بِهِ الدَّار

لَو سخط الله على ناره … لعذب الله بِهِ النَّار …

وأنشدني الْآدَمِيّ قَالَ أَنْشدني ابْن الْمَرْزُبَان … سَار الحبيب الْغَدَاة مُنْطَلقًا … من عندنَا والبغيض لم يسر

مَتى يسير الثقيل أبعده … الله وَلَا رده من السّفر …

ثمَّ قَالَ أَنْشدني ابْن الْمَرْزُبَان قَالَ أَنْشدني آخر … يَا أبْغض الْخلق إِلَى نَفسه … بغضك لَا يجْرِي بِمِقْدَار

قد ترحم النَّار مِنْك بغضا … إِذا مَا رحم الْخلق من النَّار … وأنشدني لغيره … وثقيل أَشد من ثقل الْمَوْت وَمن شدَّة الْعَذَاب الْأَلِيم

… لَو عَصَتْ رَبهَا الْجَحِيم لما … كَانَ سواهُ عُقُوبَة للجحيم …
ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ এক ব্যক্তিকে বলেছিলেন, "আপনার আমাকে চাবুক দিয়ে একটি আঘাত করা আমার কাছে অধিক প্রিয়, আমার কাছে কোনো হাদিস সম্পর্কে আপনার জিজ্ঞাসা করার চেয়ে।"

একবার তাঁর কাছে এক ব্যক্তি এল যাকে তিনি অত্যন্ত বিরক্তিকর মনে করতেন। তিনি আমাকে বললেন, "দরজায় কে?" আমি বললাম, "অমুক।" তখন তিনি নিজের দুই হাতের সবকটি আঙুল দিয়ে নিজের মাথায় করাঘাত করলেন এবং বললেন, "হে আবু সাঈদ, পাহাড়! পাহাড় (বিরাট বোঝা)!" আমি যখন চলে যাচ্ছিলাম, তখন লোকটির পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম, সে দরজায় বসে ছিল; আমি জানি না তাকে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল কি না। তিনি বললেন, ইবনুল মারজুবান আমাকে পাঠ করে শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, আমি আবু হাজেমের জন্য পাঠ করেছি … আল্লাহর সুরক্ষা ছাড়া যে পথ চলে … আল্লাহ যেন তার মাধ্যমে ঘরকে নিকটবর্তী না করেন।

যদি আল্লাহ তাঁর আগুনের ওপর রাগান্বিত হতেন … তবে আল্লাহ সেই আগুনের মাধ্যমে আগুনকেই শাস্তি দিতেন …

আল-আদামি আমাকে পাঠ করে শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, ইবনুল মারজুবান আমাকে পাঠ করে শুনিয়েছেন … আজ সকালে প্রিয়জন প্রস্থান করে চলে গেল … আমাদের নিকট থেকে, অথচ অপ্রিয় লোকটি প্রস্থান করল না।

কখন সেই বিরক্তিকর ব্যক্তিটি প্রস্থান করবে? আল্লাহ তাকে … দূর করে দিন এবং তার সফর থেকে তাকে আর ফিরিয়ে না আনুন …

তারপর তিনি বললেন, ইবনুল মারজুবান আমাকে পাঠ করে শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, অন্য একজন আমাকে পাঠ করে শুনিয়েছেন … হে নিজের কাছেই সৃষ্টির সবচেয়ে ঘৃণ্য সত্তা … তোমার প্রতি ঘৃণা কোনো পরিমাপ দিয়ে মাপা যায় না।

ঘৃণাভরে জাহান্নামের আগুনও হয়তো তোমার প্রতি দয়া করবে … যখন সৃষ্টিজগত আগুন থেকে দয়া লাভ করবে … তিনি অন্য একজনের কবিতা পাঠ করে শুনিয়েছেন … এমন এক বিরক্তিকর ব্যক্তি যে মৃত্যুর বোঝার চেয়েও অধিক ভারী এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির তীব্রতার চেয়েও কঠিন।

… জাহান্নাম যদি তার রবের অবাধ্য হতো, তবে … তাকে ছাড়া জাহান্নামের জন্য অন্য কোনো শাস্তি হতো না …
(খণ্ড: ১) যামমুস সুকালা (পৃষ্ঠা: ৩৫)
أَنْشدني أَبُو الْعَبَّاس الْمروزِي قَالَ أَنْشدني إِبْرَاهِيم بن إِسْحَاق الْقرشِي قَالَ أَنْشدني الْعُتْبِي … أقطب حِين لَا ألْقى خَفِيفا … فَلم تطب الْحَيَاة مَعَ الثقيل

وَحين أرى الْخَفِيف قررت عينا … بِهِ وَأخذت فِي لعن الثقيل …

حَدثنِي أَبُو مُحَمَّد حَدثنِي أَحْمد بن أبي عَليّ الْبَزَّاز قَالَ قَالَ رجل للنضر بن شُمَيْل إِنِّي أحب أَن تقْرَأ عَليّ وتكثر وتترسل فَقَالَ النَّضر … تَسْأَلنِي أم الْحباب جملا … يمشي رويدا وَيكون أَولا …
আবু আব্বাস আল-মারওয়াযি আমাকে কবিতাটি পাঠ করে শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবরাহিম ইবনে ইসহাক আল-কুরাশি আমাকে শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-উতবি আমাকে শুনিয়েছেন … যখন আমি কোনো প্রাণোচ্ছল ব্যক্তির সাক্ষাৎ পাই না তখন ভ্রুকুঞ্চিত করি … বিরক্তি উদ্রেককারী ব্যক্তির সাথে জীবন সুখকর হয় না।

আর যখন আমি কোনো প্রাণোচ্ছল ব্যক্তিকে দেখি তখন আমার চোখ জুড়িয়ে যায় … তার দ্বারা, এবং আমি বিরক্তি উদ্রেককারী ব্যক্তিকে অভিশাপ দিতে শুরু করি …

আবু মুহাম্মদ আমাকে বর্ণনা করেছেন, আহমদ ইবনে আবি আলি আল-বায্যায আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি নাদর ইবনে শুমাইলকে বললেন, "আমি পছন্দ করি যে আপনি আমার নিকট পাঠ করবেন, অধিক পরিমাণে পাঠ করবেন এবং ধীরে ধীরে পাঠ করবেন।" তখন নাদর বললেন … উম্মুল হুবাব আমার কাছে এমন এক উট প্রার্থনা করছে … যা ধীরে চলবে অথচ সবার অগ্রবর্তী হবে …
(খণ্ড: ১) যামমুস সুকালা (পৃষ্ঠা: ৩৬)
حَدثنَا أَبُو مُحَمَّد التَّمِيمِي حَدثنِي أَحْمد بن الْوَلِيد عَن شُعَيْب بن حَرْب عَن سُفْيَان قَالَ إِنِّي لأكرم جلسائي لمَكَان رجل وَاحِد

حَدثنَا أَبُو مُحَمَّد حَدثنَا بن الْعَبَّاس قَالَ قيل للأعمش مَا تصنع عِنْد مطهر قَالَ أَتَيْته كَمَا آتِي الحش أذا كَانَت لي إِلَيْهِ حَاجَة

قَالَ أَخْبرنِي أَبُو بكر العامري قَالَ أَخْبرنِي أَبُو بكر الْمَدَائِنِي قَالَ
আবু মুহাম্মদ আত-তামিমী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ইবনুল ওয়ালীদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন শুআইব বিন হারব থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি কেবল একজন ব্যক্তির অবস্থানের কারণে আমার মজলিসের সাথীদের সম্মান করে থাকি।"

আবু মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনুল আব্বাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-আ'মাশকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, "আপনি মুতাহহারের নিকট কী করেন?" তিনি বললেন: "যখন আমার তার কাছে কোনো প্রয়োজন থাকে, তখন আমি তার কাছে সেভাবেই যাই যেভাবে আমি শৌচাগারে যাই।"

তিনি বলেন: আবু বকর আল-আমেরী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর আল-মাদায়িনী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) যামমুস সুকালা (পৃষ্ঠা: ৩৭)
أَتَى الْحجَّاج بِرَجُل من الْخَوَارِج فَقَالَ وَالله إِنِّي لأبغضكم فَقَالَ الْخَارِجِي أَدخل الله أشدنا بغضا لصَاحبه الْجنَّة

قَالَ أَخْبرنِي أَبُو بكر العامري قَالَ أَخْبرنِي أَبُو الْحسن الْمَدَائِنِي عَليّ بن مُحَمَّد عَن عَليّ بن مُجَاهِد عَن عَنْبَسَة بن سعيد أَن إِبْرَاهِيم بن مُحَمَّد بن طَلْحَة بن عبيد الله قَالَ لأبي هَاشم بن مُحَمَّد بن الْحَنَفِيَّة أما وَالله إِنِّي لأبغضك قَالَ مَا أحقك بذلك وَلم لَا تبغضين وَقد قتل جدي أَبَاك وَجدك ونكح عمي أمك

قَالَ حَدثنِي أَبُو الْحسن بن زَكَرِيَّا قَالَ حَدثنِي شيخ من أهل العلمط ب
হাজ্জাজের নিকট খারেজীদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হলো। তিনি বললেন, "আল্লাহর কসম, আমি নিশ্চয়ই তোমাদের ঘৃণা করি।" খারেজী ব্যক্তিটি বলল, "আল্লাহ যেন আমাদের মধ্যে যে তার সঙ্গীকে অধিক ঘৃণা করে, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান।"

তিনি বললেন, আবু বকর আল-আমিরি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু আল-হাসান আল-মাদায়িনী আলি ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি আলি ইবনে মুজাহিদ থেকে, তিনি আনবাসা ইবনে সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে তালহা ইবনে উবাইদিল্লাহ আবু হাশিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-হানাফিয়্যাহকে বললেন, "জেনে রাখুন, আল্লাহর কসম, আমি নিশ্চয়ই আপনাকে ঘৃণা করি।" তিনি বললেন, "আপনি এ কাজেরই যোগ্য; কেনই বা আপনি আমাকে ঘৃণা করবেন না যখন আমার দাদা আপনার পিতা ও আপনার দাদাকে হত্যা করেছেন এবং আমার চাচা আপনার মাকে বিবাহ করেছেন?"

তিনি বললেন, আবু আল-হাসান ইবনে জাকারিয়া আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বললেন, ইলমাতবাসীদের মধ্য থেকে একজন আলেম আমাকে বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) যামমুস সুকালা (পৃষ্ঠা: ৩৮)
قَالَ قيل لأيوب السّخْتِيَانِيّ لم لم تكْتب عَن طَاوس قَالَ أَتَيْته فَأَصَبْته بَين ثقلين لَيْث بن أبي سليم وَعبد الْكَرِيم الجدري فَرَجَعت وَلم أكتب عَنهُ

حَدثنَا أَبُو الْعَبَّاس الْمروزِي قَالَ سَمِعت سَلمَة بن شبيب قَالَ سَمِعت أَبَا أُسَامَة يَقُول إيتوني بمستمل خَفِيف عَن اللِّسَان خَفِيف على الْفُؤَاد إيَّايَ والثقلاء إيَّايَ والثقلاء

حَدثنَا أَبُو الْعَبَّاس قَالَ سَمِعت مشكان أَنه يَقُول قلت لأبي أُسَامَة أَنْت وَالله ثقيل قَالَ زد فِيهَا ووخم
তিনি বললেন: আইয়ুব আস-সাখতিয়ানিকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, কেন আপনি তাউস থেকে (হাদিস) লিখে নেননি? তিনি বললেন: আমি তাঁর নিকট গিয়েছিলাম এবং তাঁকে দুই ‘ভারী’ ব্যক্তির মাঝে দেখতে পেলাম—লাইস বিন আবি সুলাইম এবং আব্দুল কারিম আল-জাদারি; তাই আমি ফিরে এসেছি এবং তাঁর থেকে কিছু লিখিনি।

আবু আব্বাস আল-মারওয়াযি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সালামাহ বিন শাবিবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু উসামাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: তোমরা আমার নিকট এমন একজন মুসতামলি (শ্রুতিলিপিকার) নিয়ে এসো যে মুখে সাবলীল এবং অন্তরের জন্য আরামদায়ক; খবরদার, ভারী (বিরক্তিকর) লোকদের থেকে সাবধান! ভারী লোকদের থেকে সাবধান!

আবু আব্বাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মুসকানকে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলছেন: আমি আবু উসামাহকে বললাম, আল্লাহর কসম, আপনি তো অত্যন্ত ভারী! তিনি বললেন: এর সাথে ‘অসহ্য’ শব্দটিও বাড়িয়ে বলো।
(খণ্ড: ১) যামমুস সুকালা (পৃষ্ঠা: ৩৯)
حَدثنَا أَبُو عبد الله السدُوسِي عَن مُحَمَّد بن سَلام الجُمَحِي قَالَ كَانَ بشار المرعث يستثقل هِلَال بن سعيد بن عَطِيَّة وَقَالَ فِيهِ … وَكَيف يخف لي بَصرِي وسمعي … وحولي عسكران من الثقال

إِذا مَا شِئْت صبحني هِلَال … وَأي النَّاس أثقل من هِلَال …

قَالَ أَخْبرنِي سَالم بن يزِيد قَالَ حَدثنِي أَبُو حَاتِم السجسْتانِي قَالَ قَالَ الفضيل بن اسحاق الْهَاشِمِي قعد إِلَى بشار رجل وَكَانَ يستثقله فضرط عَلَيْهِ بشار فَقَالَ الرجل إنفلتت مِنْهُ ثمَّ ضرط عَلَيْهِ أُخْرَى فَقَالَ انغلتت مِنْهُ ثمَّ ضرط ثَالِثَة فَقَالَ لَهُ الرجل يَا أَبَا معَاذ مَا هَذَا قَالَ مَه رَأَيْت أَو سَمِعت قَالَ لَا بل سَمِعت قَالَ لَا تصدق حَتَّى ترى

حَدثنَا ابْن اسماعيل بن هَارُون قَالَ قَالَ الْمَأْمُون فِي نديم كَانَ لَهُ وَكَانَ يستثقله … ونديم كَأَنَّهُ غصص الْمَوْت … كثير المدي يشجي الخيلا

يتَغَنَّى وَلَيْسَ يحسن شَيْئا … لَا وَلم ير طَاهِرا إِلَّا قَلِيلا …
আবু আবদুল্লাহ আস-সাদুসী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে সালাম আল-জুমাহি থেকে, তিনি বলেন: বাশার আল-মুরআস হিলাল ইবনে সাঈদ ইবনে আতিয়্যাহকে অত্যন্ত অসহ্য মনে করতেন এবং তার সম্পর্কে বলেছেন … আমার দৃষ্টি ও শ্রবণ কীভাবে ভারমুক্ত হবে … অথচ আমার চারপাশে ভারাক্রান্ত লোকদের দুটি সেনাদল রয়েছে।

যখনই আমি চাই হিলাল ভোরে আমার নিকট উপস্থিত হয় … আর মানুষের মাঝে হিলালের চেয়ে অধিক অসহ্য আর কে আছে? …

তিনি বলেন, সালেম ইবনে ইয়াজিদ আমাকে অবহিত করেছেন, তিনি বলেন, আবু হাতিম আস-সিজিস্তানি আমাকে বলেছেন, তিনি বলেন, আল-ফুদাইল ইবনে ইসহাক আল-হাশেমি বলেছেন: বাশারের নিকট এক ব্যক্তি বসল যাকে তিনি অত্যন্ত বিরক্তিকর মনে করতেন। তখন বাশার তার সামনে সশব্দে বায়ু ত্যাগ করলেন। লোকটি বলল, ‘তা থেকে একটি নির্গত হলো’। অতঃপর বাশার আবারও বায়ু ত্যাগ করলেন। লোকটি বলল, ‘আরেকটি নির্গত হলো’। এরপর তিনি তৃতীয়বার বায়ু ত্যাগ করলেন। তখন লোকটি তাকে বলল, ‘হে আবু মুআয, এটি কী?’ তিনি বললেন, ‘থামো! তুমি কি দেখেছ নাকি শুনেছ?’ সে বলল, ‘না, বরং শুনেছি’। তিনি বললেন, ‘যতক্ষণ না দেখবে ততক্ষণ বিশ্বাস করো না’।

ইবনে ইসমাইল ইবনে হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল-মামুন তার এক সহচর সম্পর্কে বলেছেন যাকে তিনি অত্যন্ত বোঝা মনে করতেন … এমন এক সহচর যে যেন মৃত্যুর যন্ত্রণা … সে প্রচুর স্তুতি গায় যা বীরদেরও ক্লিষ্ট করে তোলে।

সে গান গায় অথচ কোনো কিছুই উত্তমরূপে পারে না … না, আর তাকে খুব কমই পবিত্র অবস্থায় দেখা যায় …
(খণ্ড: ১) যামমুস সুকালা (পৃষ্ঠা: ৪০)
. وَيُصلي فِي غير وَقت صَلَاة … لَيْسَ إِلَّا مبغضا أَو ثقيلا

ليته سجر أوقيد إِلَى النَّار … وَكَانَ الشَّيْطَان مِنْهُ وَكيلا …

 

قَالَ أَخْبرنِي عبد الْجَبَّار بن مُحَمَّد الطوسي قَالَ حَدثنِي أَحْمد بن أبي عَليّ قَالَ قَالَ رجل لهشيم بن بشير حَدثنَا قَالَ لَا أَقُول قَالَ إِذن أتركك قَالَ إِذن لَا تستوحش لَك الدَّار

قَالَ حَدثنِي أَبُو مُحَمَّد قَالَ أَخْبرنِي أَحْمد بن الدَّوْرَقِي قَالَ كُنَّا عِنْد أبي أُسَامَة فَجَاءَهُ رجل فَقَالَ لَهُ أَبُو أُسَامَة أَنْت فلَان قَالَ نعم قَالَ فَأول مَا رَأَيْتُك أردْت الْقَيْء من ثقلك

حَدثنِي أَبُو مُحَمَّد التَّمِيمِي حَدثنِي ابْن أبي عَليّ قَالَ قَالَ الْحجَّاج بن أَرْطَاة للأعمش مَا انْتَهَيْت حَتَّى جَاءَك اشراف أهل الْكُوفَة قَالَ إِذن يرجعُونَ بِغَيْر قَضَاء حَاجَة

أَخْبرنِي أَبُو مُحَمَّد عَن أبي الْحسن الْقرشِي قَالَ أُتِي الْحجَّاج بن بأسيرين مِمَّن كَانَ مَعَ ابْن الْأَشْعَث فَأمر بِضَرْب أَعْنَاقهم قَالَ أَحدهمَا أصلح الله الْأَمِير
. এবং সে সালাতের ওয়াক্ত ছাড়া সালাত আদায় করে … সে কেবল একজন বিদ্বেষী অথবা বিরক্তিকর ব্যক্তি ছাড়া আর কিছুই নয়।

হায়! তাকে যদি আগুনের জ্বালানি করা হতো অথবা আগুনের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়া হতো … এবং শয়তান ছিল তার পক্ষ থেকে কর্মবিধায়ক …

 

তিনি বললেন, আমাকে আব্দুল জাব্বার বিন মুহাম্মদ আত-তুসি সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন, আমার নিকট আহমদ বিন আবি আলী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, এক ব্যক্তি হুশাইম বিন বাশিরকে বললেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, আমি বলব না। লোকটি বলল, তাহলে আমি আপনাকে বর্জন করব। তিনি বললেন, তাহলে তোমার অনুপস্থিতিতে ঘরটি নির্জন হবে না (ঘরটি তোমার অভাব বোধ করবে না)।

তিনি বললেন, আমার নিকট আবু মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, আমাকে আহমদ বিন আদ-দাওরাকি সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন, আমরা আবু উসামার নিকটে ছিলাম, তখন এক ব্যক্তি তার নিকট আসল। আবু উসামা তাকে বললেন, তুমি কি অমুক? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আমি তোমাকে প্রথম দেখা মাত্রই তোমার উপস্থিতির ভারে (বিরক্তিতে) বমি করার উপক্রম হয়েছিলাম।

আবু মুহাম্মদ আত-তামিমি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবন আবি আলী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, হাজ্জাজ বিন আরতাহ আল-আমাশকে বললেন, তুমি কি ততক্ষণ পর্যন্ত বিরত হবে না যতক্ষণ না কুফার উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ তোমার নিকট আসে? তিনি বললেন, তবে তারা তাদের প্রয়োজন পূর্ণ না করেই ফিরে যাবে।

আবু মুহাম্মদ আমাকে আবুল হাসান আল-কুরাশি থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন, হাজ্জাজের নিকট ইবনুল আশআসের সাথীদের মধ্য থেকে দুইজন বন্দীকে আনা হল। অতঃপর তিনি তাদের শিরশ্ছেদ করার নির্দেশ দিলেন। তাদের একজন বলল, আল্লাহ আমিরের কল্যাণ করুন।
(খণ্ড: ১) যামমুস সুকালা (পৃষ্ঠা: ৪১)
إِن لي عنْدك يدا قَالَ وَمَا هِيَ قَالَ ذكر ابْن الْأَشْعَث أَنَّك إِبْلِيس فنهيته فَقَالَ وَمن يعلم ذَلِك قَالَ هَذَا يَعْنِي الْأَسير الآخر فَسَأَلَهُ الْحجَّاج فَقَالَ قد كَانَ ذَاك فَقَالَ الْحجَّاج فَلم لَا تفعل أَنْت كَمَا فعل قَالَ أينفعني عنْدك ذَلِك قَالَ نعم قَالَ لبغضك وبغض قَوْمك

قَالَ الْحجَّاج خلوا عَن هَذَا لصدقه وَعَن هَذَا لفعله

حَدثنَا أَبُو بكر الْكُوفِي حَدثنَا مُحَمَّد بن قدامَة عَن الحرمازي قَالَ سَمِعت جِبْرِيل وَهُوَ متطبب كَانَ بِالشَّام قَالَ نجد فِي كتَابنَا مجالسة الثقيل حمى الرّوح قَالَ أَنْشدني مُحَمَّد بن عَليّ لبَعْضهِم … شخصك فِي مقلة النديم … أثقل من رعيه النُّجُوم …
"আপনার নিকট আমার একটি অনুগ্রহ (হাত) পাওনা রয়েছে।" তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, "সেটি কী?" তিনি বললেন, "ইবনে আল-আশআস উল্লেখ করেছিলেন যে আপনি ইবলিস, তখন আমি তাকে এটি বলতে বাধা দিয়েছিলাম।" তিনি বললেন, "কে এ বিষয়ে অবগত?" তিনি বললেন, "এই ব্যক্তি," অর্থাৎ অন্য বন্দীটি। হাজ্জাজ তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে বলল, "হ্যাঁ, এমনটিই হয়েছিল।" হাজ্জাজ বললেন, "তুমি কেন তার মতো করলে না?" সে বলল, "আপনার কাছে কি তাতে আমার কোনো উপকার হতো?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ।" সে বলল, "আপনার প্রতি এবং আপনার সম্প্রদায়ের প্রতি আমার বিদ্বেষের কারণে (আমি তা করিনি)।"

হাজ্জাজ বললেন, "একে তার সত্যবাদিতার কারণে মুক্তি দাও, আর একে তার কর্মের জন্য (মুক্তি দাও)।"

আবু বকর আল-কুফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে কুদামা আল-হিরমাজি থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি জিবরিল নামক এক ব্যক্তিকে বলতে শুনেছি, যিনি সিরিয়ায় একজন চিকিৎসক ছিলেন, তিনি বলেন: আমরা আমাদের কিতাবে পাই যে, বিরক্তিদায়ক ব্যক্তির সান্নিধ্য হলো আত্মার জ্বর। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনে আলী আমাকে কারো রচিত এই পঙ্ক্তি পাঠ করে শুনিয়েছেন: ... সহচরের চোখের মনিতে আপনার উপস্থিতি ... নক্ষত্র পাহারার (সারারাত জেগে থাকা) চেয়েও অধিক ভারী ...