(খণ্ড: ১) আল-ফুসুল ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: -)
الفصول في الأصول   (أبو بكر الرازي الجصاص)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: الفصول في الأصول

المؤلف: أحمد بن علي أبو بكر الرازي الجصاص الحنفي (ت 370هـ)

الناشر: وزارة الأوقاف الكويتية

الطبعة: الثانية، 1414هـ - 1994م

عدد الأجزاء:4

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-ফুসুল ফিল উসুল   (আবু বকর আর-রাজি আল-জাসসাস)

বিভাগ: উসুলুল ফিকহ


কিতাব: আল-ফুসুল ফিল উসুল

লেখক: আহমাদ বিন আলী আবু বকর আর-রাজি আল-জাসসাস আল-হানাফি (মৃত্যু ৩৭০ হিজরি)

প্রকাশক: কুয়েত আওকাফ মন্ত্রণালয়

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪১৪ হিজরি - ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৪

[কিতাবটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ١) আল-ফুসুল ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ٤٠)
‌‌[مُقَدِّمَة الْكتاب]

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ أَمَّا بَعْدَ حَمْدِ اللَّهِ، وَالصَّلَاةِ وَالسَّلَامِ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَهَذِهِ " فُصُولٌ وَأَبْوَابٌ فِي أُصُولِ الْفِقْهِ ". تَشْمَلُ عَلَى مَعْرِفَةِ طُرُقِ اسْتِنْبَاطِ مَعَانِي الْقُرْآنِ، وَاسْتِخْرَاجِ دَلَائِلِهِ، وَأَحْكَامِ أَلْفَاظِهِ، وَمَا تَتَصَرَّفُ عَلَيْهِ أَنْحَاءُ كَلَامِ الْعَرَبِ، وَالْأَسْمَاءُ اللُّغَوِيَّةُ، وَالْعِبَارَاتُ الشَّرْعِيَّةُ، وَاَللَّهَ نَسْأَلُ التَّوْفِيقَ لِمَا يُقَرِّبُنَا إلَيْهِ، وَيُزْلِفُنَا لَدَيْهِ، إنَّهُ وَلِيُّ ذَلِكَ وَالْقَادِرُ عَلَيْهِ

 

‌‌[بَابُ الْعَامِّ]

‌‌[فَصْلٌ فِي الظَّوَاهِرِ الَّتِي يَجِبُ اعْتِبَارُهَا]

بَابُ الْعَامِّ

وَفِيهِ فُصُولٌ: فَصْلٌ فِي الظَّوَاهِرِ الَّتِي يَجِبُ اعْتِبَارُهَا

مِنْ الظَّوَاهِرِ الَّتِي يَجِبُ اعْتِبَارُهَا: مَا رُوِيَ فِي خَبَرِ ابْنِ عُمَرَ «أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم: سُئِلَ عَنْ الْمَاءِ يَكُونُ فِي الْفَلَاةِ مِنْ
[গ্রন্থের ভূমিকা]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আল্লাহর প্রশংসা এবং আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর দরুদ ও সালামের পর: এগুলো হলো "উসূলুল ফিকহ বা ফিকহের মূলনীতির ওপর কিছু পরিচ্ছেদ ও অধ্যায়"। এটি কুরআনের মর্মার্থ উদ্ঘাটনের পদ্ধতিসমূহ পরিজ্ঞাত হওয়া, এর দলিলসমূহ বের করা, এর শব্দাবলির বিধানসমূহ এবং আরবি বাকপদ্ধতি যে সকল বিষয়ের ওপর আবর্তিত হয়, ভাষাগত নামসমূহ এবং শরয়ি পরিভাষাসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে। আমরা আল্লাহর কাছে সেই তাওফিক প্রার্থনা করি যা আমাদের তাঁর নিকটবর্তী করবে এবং তাঁর সান্নিধ্যে আমাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করবে; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।

 

[আম (সাধারণ) সংক্রান্ত অধ্যায়]

[যে সকল প্রকাশ্য অর্থের বিবেচনা করা আবশ্যক, সে সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ]

আম এর অধ্যায়

এর মধ্যে কয়েকটি পরিচ্ছেদ রয়েছে: যে সকল প্রকাশ্য অর্থের বিবেচনা করা আবশ্যক, সে সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ।

যে সকল প্রকাশ্য অর্থ বিবেচনা করা আবশ্যক, তার মধ্যে রয়েছে: ইবনে উমর (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসে যা এসেছে যে, «নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মরুপ্রান্তরের সেই পানি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যা...»
(খণ্ড: ١) আল-ফুসুল ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ٤١)
الْأَرْضِ، وَمَا يَنُوبُهُ مِنْ الدَّوَابِّ وَالسِّبَاعِ، فَقَالَ: إذَا كَانَ الْمَاءُ قُلَّتَيْنِ لَمْ يَحْمِلْ خَبَثًا» ، فَسُئِلَ عَنْ حُكْمِ النَّجَاسَاتِ، فَأَجَابَ عَنْ الدَّوَابِّ وَالسِّبَاعِ بِجَوَابٍ مُطْلَقٍ، فَدَلَّ عَلَى نَجَاسَةِ سُؤْرِ السِّبَاعِ، لَوْلَا ذَلِكَ لَبَيَّنَهُ عليه السلام، وَفَصَّلَ حُكْمَهُ فِي الْجَوَابِ. فَهَذَا، وَمَا جَرَى مَجْرَاهُ، هُوَ مِنْ الظَّوَاهِرِ الَّتِي يَجِبُ اعْتِبَارُهَا فِي إيجَابِ الْأَحْكَامِ بِهَا. وَمِنْ الظَّوَاهِرِ الَّتِي يَجِبُ اعْتِبَارُهَا: أَنْ يَرِدَ لَفْظُ عُمُومٍ مَعْطُوفٌ عَلَيْهِ وَمَعَ ذَلِكَ فَيُمْكِنُ اسْتِعْمَالُهُ فِي نَفْسِهِ إذَا أُفْرِدَ عَمَّا قَبْلَهُ.

فَالْجَوَابُ فِيمَا إذَا كَانَ هَذَا سَبِيلَهُ اعْتِبَارُهُ بِنَفْسِهِ مِنْ غَيْرِ تَضْمِينٍ بِمَا قَبْلَهُ إلَّا أَنْ تَقُومَ دَلَالَةُ النَّظِيرِ بِمَا عُطِفَ عَلَيْهِ. نَحْوُ قَوْله تَعَالَى: {وَاَللَّائِي يَئِسْنَ مِنْ الْمَحِيضِ} [الطلاق: 4] إلَى قَوْلِهِ
জমিন এবং সেখানে বিচরণকারী চতুষ্পদ জন্তু ও হিংস্র প্রাণীদের যাতায়াত সম্পর্কে। অতঃপর তিনি বললেন: "যখন পানি দুই কুল্লা পরিমাণে পৌঁছায়, তখন তা অপবিত্রতা বহন করে না।" তাকে নাপাকির বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি চতুষ্পদ জন্তু ও হিংস্র প্রাণীদের বিষয়ে একটি সাধারণ উত্তর প্রদান করেছিলেন। এটি হিংস্র প্রাণীর উচ্ছিষ্ট পানির অপবিত্রতার ওপর প্রমাণ বহন করে; তা না হলে তিনি (আলাইহিস সালাম) তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করতেন এবং উত্তরের মধ্যে এর বিধান বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করতেন। সুতরাং এটি এবং এর সমগোত্রীয় বিষয়গুলো সেই প্রকাশ্য (জাহির) বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যা দ্বারা বিধান সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে গ্রহণ করা আবশ্যক। আর সেই সকল প্রকাশ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা বিবেচনা করা ওয়াজিব তা হলো: এমন একটি সাধারণ শব্দ যা অন্য কিছুর ওপর সংযোজিত হয়ে আসে, অথচ পূর্ববর্তী অংশ থেকে পৃথক করা হলে সেটি স্বতন্ত্রভাবে ব্যবহৃত হওয়ার সক্ষমতা রাখে।

সুতরাং যে ক্ষেত্রে পদ্ধতিটি এমন হয়, সেখানে উত্তরটি পূর্ববর্তী বিষয়ের অন্তর্ভুক্তি ব্যতিরেকেই স্বতন্ত্রভাবে বিবেচনা করতে হবে; তবে যদি কোনো সদৃশ প্রমাণ এমন থাকে যা নির্দেশ করে যে তাকে পূর্ববর্তী বিষয়ের সাথে সংযুক্ত করতে হবে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আর তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যারা ঋতুস্রাব হওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছে" [আত-তালাক: ৪] থেকে তাঁর বাণী পর্যন্ত।
(খণ্ড: ١) আল-ফুসুল ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ٤٢)
{وَأُولَاتُ الْأَحْمَالِ أَجَلُهُنَّ} [الطلاق: 4] وَإِنْ كَانَ مَعْطُوفًا عَلَى غَيْرِهِ فَإِنَّهُ يُمْكِنُ إجْرَاءُ حُكْمِهِ عَلَى مَا أَوْجَبَهُ ظَاهِرُ لَفْظِهِ مِنْ غَيْرِ تَضْمِينٍ لَهُ مَا تَقَدَّمَهُ؛ لِأَنَّهُ لَوْ وَرَدَ مُنْفَرِدًا عَمَّا تَقَدَّمَهُ لَزِمَهُ الْحُكْمُ بِمَا تَضَمَّنَهُ مِنْ غَيْرِ افْتِقَارٍ إلَى وُرُودِ بَيَانٍ فِيهِ. وَلَيْسَ لِأَحَدٍ أَنْ يَقْصُرَ هَذَا الْحُكْمَ عَلَى الْمُطَلَّقَةِ مِنْ الْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا مِنْ أَجْلِ أَنَّ مَا تَقَدَّمَهُ مِنْ ذِكْرِ الْعِدَدِ وَارِدٌ فِي بَيَانِ الْمُطَلَّقَةِ دُونَ الْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا وَهُوَ قَوْله تَعَالَى {وَاَللَّائِي يَئِسْنَ مِنْ الْمَحِيضِ} [الطلاق: 4] وَذَلِكَ أَنَّ كُلَّ لَفْظٍ قَائِمٌ بِنَفْسِهِ غَيْرِ مُفْتَقِرٍ إلَى غَيْرِهِ مَتَى حَمَلْنَاهُ عَلَى غَيْرِهِ وَقَصَرْنَا حُكْمَهُ عَلَيْهِ فَقَدْ خَصَّصْنَاهُ. وَالتَّخْصِيصُ لَا يَجُوزُ إلَّا بِدَلَالَةٍ، فَوَجَبَ مِنْ أَجْلِ ذَلِكَ حَمْلُ اللَّفْظِ عَلَى مُقْتَضَاهُ مُنْفَرِدًا عَمَّا قَبْلَهُ. فَإِنْ قَالَ قَائِلٌ: وقَوْله تَعَالَى: {وَأُولَاتُ الْأَحْمَالِ أَجَلُهُنَّ أَنْ يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ} [الطلاق: 4] غَيْرُ مُكْتَفٍ بِنَفْسِهِ فِي إفَادَةِ الْحُكْمِ لِأَنَّ مَعْنَاهُ غَيْرُ مَفْهُومٍ مِنْ ظَاهِرِهِ إذْ لَيْسَ الْأَجَلُ مُخْتَصًّا بِالْعِدَدِ دُونَ غَيْرِهَا. قِيلَ لَهُ: هَذَا الْمَعْنَى الَّذِي ذَكَرْنَاهُ كَانَ مَعْقُولًا مِنْ ظَاهِرِ الْآيَةِ عِنْدَ الْمُخَاطَبِينَ بِهَا وَلَمْ يَكُونُوا مُفْتَقِرِينَ عِنْدَ سَمَاعِهَا فِي مَعْرِفَةِ حُكْمِهَا إلَى بَيَانٍ يَرِدُ مِنْ غَيْرِهَا، وَالدَّلِيلُ عَلَيْهِ «أَنَّ فُرَيْعَةَ بِنْتَ مَالِكٍ لَمَّا أَتَتْ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَسْأَلُهُ عَنْ الِانْتِقَالِ عَنْ بَيْتِ زَوْجِهَا فِي عِدَّتِهَا - وَكَانَ قَدْ قُتِلَ عَنْهَا - قَالَ لَهَا صلى الله عليه وسلم: لَا حَتَّى يَبْلُغَ الْكِتَابُ أَجَلَهُ» .

{এবং গর্ভবতী নারীদের ইদ্দতকাল...} [আত-তালাক: ৪] যদিও এটি অন্য বিষয়ের সাথে সংযোজিত, তবুও এর বিধানকে তার শব্দের বাহ্যিক অর্থের ওপর প্রয়োগ করা সম্ভব, পূর্ববর্তী বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত না করেই। কারণ এটি যদি পূর্ববর্তী বিষয় থেকে স্বতন্ত্রভাবে অবতীর্ণ হতো, তবে এর মাঝে বিদ্যমান বিধানটিই অবধারিত হতো এবং এক্ষেত্রে অন্য কোনো ব্যাখ্যার প্রয়োজন হতো না। আর কারো পক্ষে এই বিধানকে কেবলমাত্র তালাকপ্রাপ্তা নারীর ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ করে বিধবা নারীকে এর বাইরে রাখার সুযোগ নেই এই যুক্তিতে যে, এর পূর্বে ইদ্দতের যে আলোচনা এসেছে তা তালাকপ্রাপ্তা নারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, বিধবা নারীদের ক্ষেত্রে নয়; আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যারা ঋতুস্রাব হওয়ার বয়স অতিক্রম করেছে...} [আত-তালাক: ৪]। এর কারণ হলো, প্রতিটি শব্দই স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং অন্যের মুখাপেক্ষী নয়। যখনই আমরা একে অন্য বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল করব এবং এর বিধানকে সেখানে সীমাবদ্ধ করব, তখন মূলত আমরা একে সুনির্দিষ্ট করে ফেলব। আর সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ ছাড়া সুনির্দিষ্টকরণ বৈধ নয়। এই কারণে শব্দটিকে তার পূর্ববর্তী অংশ থেকে স্বতন্ত্র রেখে তার নিজস্ব চাহিদার ওপর প্রয়োগ করা আবশ্যক।

যদি কেউ বলে: মহান আল্লাহর বাণী: {এবং গর্ভবতী নারীদের ইদ্দতকাল হলো তাদের সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত} [আত-তালাক: ৪]—এই অংশটি বিধান প্রদানের ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়; কারণ এর অর্থ তার বাহ্যিক শব্দ থেকে স্পষ্ট নয়, যেহেতু ‘সময়সীমা’ বিষয়টি কেবল ইদ্দতের সাথেই সুনির্দিষ্ট নয়। তবে তাকে বলা হবে: আমরা যে অর্থ উল্লেখ করেছি, তা আয়াতের বাহ্যিক শব্দ থেকে সম্বোধিত ব্যক্তিদের কাছে বোধগম্য ছিল এবং তারা এর বিধান জানার জন্য এটি শোনার সময় অন্য কোনো ব্যাখ্যার মুখাপেক্ষী ছিলেন না। এর প্রমাণ হলো, ফুরাইআ বিনতে মালিক যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট তাঁর ইদ্দতকালীন সময়ে স্বামীর ঘর থেকে স্থানান্তরের অনুমতি চাইতে আসলেন—তখন তাঁর স্বামী নিহত হয়েছিলেন—তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে বলেছিলেন: “না, যতক্ষণ না নির্ধারিত বিধান তার সময়সীমায় পৌঁছায়।”

(খণ্ড: ١) আল-ফুসুল ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ٤٣)
فَلَمْ تَحْتَجْ هَذِهِ الْمَرْأَةُ مَعَ سَمَاعِ هَذَا اللَّفْظِ إلَى بَيَانٍ مِنْ غَيْرِهِ مَعَ كَوْنِهَا جَاهِلَةً بِالْحُكْمِ، وَلَوْ لَمْ يَكُنْ هَذَا اللَّفْظُ مُكْتَفِيًا فِي إلْزَامِهَا السُّكُونَ فِي بَيْتِ زَوْجِهَا مَا دَامَتْ مُعْتَدَّةً لَمَا اقْتَصَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَهَا عَلَيْهِ حَتَّى يَرُدَّهُ تِبْيَانٌ يَزُولُ مَعَهُ الْإِشْكَالُ لَا سِيَّمَا وَقَدْ عَلِمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا جَاءَتْ مُسْتَفْتِيَةً لَهُ جَاهِلَةً الْحُكْمَ. وَيَدُلُّ عَلَى صِحَّةِ مَا ذَكَرْنَا أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ كَانَ يَقُولُ (مَنْ شَاءَ بَاهَلْتُهُ أَنَّ قَوْله تَعَالَى {وَأُولَاتُ الْأَحْمَالِ أَجَلُهُنَّ أَنْ يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ} [الطلاق: 4] نَزَلَ بَعْدَ قَوْله تَعَالَى {أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا} [البقرة: 234]

এই নারী এই শব্দ বা বাক্যটি শোনার পর অন্য কোনো ব্যাখ্যার প্রয়োজন বোধ করেননি, যদিও তিনি এই বিধান সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলেন। আর যদি ইদ্দত পালনকারী হিসেবে থাকাকালীন তাকে তার স্বামীর ঘরে অবস্থান করতে বাধ্য করার জন্য এই শব্দটি যথেষ্ট না হতো, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতেন না, বরং এমন কোনো স্পষ্ট বর্ণনা প্রদান করতেন যার মাধ্যমে অস্পষ্টতা দূরীভূত হয়; বিশেষত যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবগত ছিলেন যে, তিনি বিধানটি না জানার কারণে ফতোয়া বা সমাধান নিতে এসেছেন। আমরা যা উল্লেখ করেছি তার সঠিকতার প্রমাণ এই যে, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলতেন, ‘যে ইচ্ছা করে আমি তার সাথে এই মর্মে মুবাহালা (শপথের মাধ্যমে সত্য-মিথ্যা নির্ধারণ) করতে প্রস্তুত যে, মহান আল্লাহর বাণী—{আর গর্ভবতী নারীদের ইদ্দতকাল হলো তাদের সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত} [আত-তালাক: ৪]—মহান আল্লাহর অন্য বাণী—{চার মাস দশ দিন} [আল-বাকারা: ২৩৪]—এর পরে অবতীর্ণ হয়েছে।’

(খণ্ড: ١) আল-ফুসুল ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ٤٤)
احْتَجَّ بِذَلِكَ عَلَى مَنْ خَالَفَهُ بِعِدَّةِ الْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا إذَا كَانَتْ حَامِلًا أَنَّهَا أَبْعَدُ الْأَجَلَيْنِ. فَكَانَ عِنْدَهُ أَنَّ عُمُومَ هَذَا اللَّفْظِ كَافٍ فِي اعْتِبَارِ الْحَمْلِ لِسَائِرِ الْمُعْتَدَّاتِ. فَبَانَ بِذَلِكَ صِحَّةُ مَا ذَكَرْنَا مِنْ وُجُوبِ اعْتِبَارِ حُكْمِ اللَّفْظِ بِنَفْسِهِ دُونَ تَضْمِينِهِ بِمَا هُوَ مَعْطُوفٌ عَلَيْهِ مَتَى اكْتَفَى بِنَفْسِهِ فِي إفَادَةِ الْحُكْمِ. وَمِنْ نَظَائِرِ ذَلِكَ قَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى {وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا جَزَاءً بِمَا كَسَبَا} [المائدة: 38] إلَى قَوْلِهِ {فَمَنْ تَابَ مِنْ بَعْدِ ظُلْمِهِ وَأَصْلَحَ} [المائدة: 39] كَلَامٌ مُكْتَفٍ بِنَفْسِهِ لَوْ اُبْتُدِئَ الْخِطَابُ بِهِ صَحَّ مَعْنَاهُ، وَلَا يَجُوزُ أَنْ يَجْعَلَهُ مُضَمَّنًا لِبَيَانِ السَّرِقَةِ. فَنَسْتَدِلُّ بِهِ عَلَى سُقُوطِ الْقَطْعِ بِالتَّوْبَةِ، وَلَيْسَ هَذَا كَقَوْلِهِ تَعَالَى فِي شَأْنِ الْمُحَارِبِينَ: {إلَّا الَّذِينَ تَابُوا مِنْ قَبْلِ أَنْ تَقْدِرُوا عَلَيْهِمْ} [المائدة: 34] ، لِأَنَّ قَوْله تَعَالَى رَاجِعٌ إلَى الْمَذْكُورَيْنِ لِأَنَّ فِيهِ كِنَايَةً لَا بُدَّ أَنْ يَكُونَ لَهُ مَظْهَرٌ يَرْجِعُ إلَيْهِ وَهُمْ مَنْ تَقَدَّمَ ذِكْرُهُمْ، وَلِأَنَّهُ اسْتِثْنَاءٌ غَيْرُ مُكْتَفٍ بِنَفْسِهِ إلَّا بِتَضْمِينِهِ بِمَا قَبْلَهُ. وَكُلُّ لَفْظٍ مَعْطُوفٍ عَلَى غَيْرِهِ لَا يَسْتَقِلُّ بِنَفْسِهِ إلَّا بِتَضْمِينِهِ بِمَا قَبْلَهُ وَجَبَ رَدُّهُ إلَيْهِ
তিনি এর মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে দলিল পেশ করেছেন যারা গর্ভবতী বিধবার ইদ্দতের ক্ষেত্রে দুই মেয়াদের মধ্যে যেটি দীর্ঘতর (সন্তান প্রসব অথবা চার মাস দশ দিন) সেটি পালনের বিষয়ে তাঁর সাথে ভিন্নমত পোষণ করেন। তাঁর নিকট অভিমত ছিল যে, এই শব্দের সাধারণ অর্থটি সকল ইদ্দত পালনকারিণী নারীর ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থাকে বিবেচনার জন্য যথেষ্ট। এর মাধ্যমে আমরা যা উল্লেখ করেছি তার যথার্থতা স্পষ্ট হলো যে, কোনো শব্দ যখন বিধান প্রদানের ক্ষেত্রে নিজে থেকেই স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়, তখন তাকে তার পূর্ববর্তী অন্বিত বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট না করে বরং শব্দের নিজস্ব বিধানটিকেই আবশ্যকীয়ভাবে গ্রহণ করতে হবে। এর অনুরূপ উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর চোর পুরুষ ও চোর নারী, তাদের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ তোমরা তাদের হাত কেটে দাও} [আল-মায়িদাহ: ৩৮] থেকে তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {অতঃপর যে ব্যক্তি তার অন্যায়ের পর তাওবাহ করে এবং নিজেকে সংশোধন করে} [আল-মায়িদাহ: ৩৯]। এটি এমন একটি বক্তব্য যা নিজেই স্বয়ংসম্পূর্ণ; যদি এই কথাটি দিয়েই বক্তব্য শুরু করা হতো তবে তার অর্থ শুদ্ধ হতো। সুতরাং চুরির বর্ণনার সাথে একে শর্তযুক্ত করা বৈধ নয়। আমরা এর মাধ্যমে তাওবাহর কারণে হাত কাটার দণ্ড রহিত হওয়ার স্বপক্ষে দলিল পেশ করি। এটি সন্ত্রাসী বা বিদ্রোহী যোদ্ধাদের বিষয়ে মহান আল্লাহর বাণীর মতো নয়: {তবে তারা ব্যতীত যারা তোমাদের আয়ত্তে আসার পূর্বেই তাওবাহ করেছে} [আল-মায়িদাহ: ৩৪]। কারণ মহান আল্লাহর এই বাণীটি উল্লিখিত ব্যক্তিদের দিকেই ফিরে যায়, যেহেতু এতে একটি সর্বনাম রয়েছে যার জন্য এমন একটি নির্দেশক বিশেষ্য থাকা আবশ্যক যার দিকে তা নির্দেশ করবে, আর তারা হলো পূর্বে উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গ। তাছাড়া এটি এমন একটি ব্যতিক্রম যা পূর্ববর্তী প্রসঙ্গের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া ছাড়া নিজে নিজে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। আর প্রত্যেক শব্দ যা অন্য কিছুর সাথে অন্বিত এবং পূর্ববর্তী প্রসঙ্গের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া ছাড়া স্বতন্ত্র অর্থ প্রকাশ করে না, সেটিকে অবশ্যই তার পূর্ববর্তী প্রসঙ্গের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া আবশ্যক।
(খণ্ড: ١) আল-ফুসুল ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ٤٥)
وَتَضْمِينُهُ بِهِ، نَحْوُ قَوْله تَعَالَى: {فَوَاحِدَةً أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ} [النساء: 3] ، هَذَا خِطَابٌ لَوْ اُبْتُدِئَ لَمْ يُفِدْ مَعْنًى، فَصَحَّ أَنَّهُ مَعْطُوفٌ عَلَى مَا تَقَدَّمَهُ، وَأَنَّ النِّكَاحَ الْمَبْدُوءَ بِذِكْرِهِ مُضْمَرٌ فِيهِ، فَصَارَ تَقْدِيرُ الْآيَةِ {فَانْكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِنْ النِّسَاءِ} [النساء: 3] وَانْكِحُوا مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ، وَيَكُونُ النِّكَاحُ الْمُضْمَرُ فِي مِلْكِ الْيَمِينِ هُوَ النِّكَاحَ الْمَبْدُوءَ بِذِكْرِهِ وَهُوَ الْعَقْدُ لِاقْتِضَاءِ اللَّفْظِ إضْمَارَهُ بِعَيْنِهِ. وَمَنْ حَمَلَهُ عَلَى الْوَطْءِ فَإِنَّمَا أَضْمَرَ فِيهِ مَعْنًى لَمْ يَجْرِ لَهُ ذِكْرٌ فِي الْخِطَابِ وَتَرَكَ مَا هُوَ مَذْكُورٌ فِيهِ وَهَذَا لَا يَجُوزُ.
এবং একে এর অন্তর্ভুক্ত করা, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তবে একজনকে অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদের} [আন-নিসা: ৩]। এটি এমন এক বক্তব্য যা স্বতন্ত্রভাবে শুরু করা হলে কোনো অর্থ প্রদান করত না; সুতরাং এটি প্রমাণিত যে, এটি তার পূর্ববর্তী বিষয়ের সাথে অন্বয়যুক্ত এবং শুরুতে উল্লিখিত 'নিকাহ' (বিবাহের চুক্তি) এর মাঝে উহ্য রয়েছে। ফলে আয়াতের প্রচ্ছন্ন অর্থ দাঁড়ায়: {তোমরা নারীদের মধ্য থেকে যাদের পছন্দ হয় তাদের বিবাহ করো} [আন-নিসা: ৩] এবং (তেমনি) তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদের বিবাহ করো। আর দাসীদের মালিকানার ক্ষেত্রে যে 'নিকাহ' উহ্য ধরা হয়েছে, তা মূলত শুরুতে উল্লিখিত সেই নিকাহ-ই, আর তা হলো 'চুক্তি' (আকদ); কারণ শব্দের দাবি অনুযায়ী এখানে এটিকেই সুনির্দিষ্টভাবে উহ্য রাখা আবশ্যক। পক্ষান্তরে যারা একে 'সহবাস' অর্থে গ্রহণ করেছেন, তারা মূলত এমন এক অর্থ উহ্য ধরেছেন যার উল্লেখ এই বক্তব্যে ইতিপূর্বে আসেনি এবং যা ইতিপূর্বে উল্লিখিত হয়েছে তারা তা বর্জন করেছেন; অথচ এটি বৈধ নয়।
(খণ্ড: ١) আল-ফুসুল ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ٤٦)
‌‌[فَصْل تَنَاوَلَ اللَّفْظ مَعْنَيَيْنِ هُوَ فِي أَحَدِهِمَا مَجَاز وَفِي الْآخَرِ حَقِيقَة]

فَصْلٌ: قَالَ أَبُو بَكْرٍ: وَمَتَى تَنَاوَلَ اللَّفْظُ مَعْنَيَيْنِ هُوَ فِي أَحَدِهِمَا مَجَازٌ وَفِي الْآخَرِ حَقِيقَةٌ فَالْوَاجِبُ حَمْلُهُ عَلَى الْحَقِيقَةِ، وَلَا يُصْرَفُ إلَى الْمَجَازِ إلَّا بِدَلَالَةٍ لِأَنَّ الْأَظْهَرَ مِنْ الْأَسْمَاءِ أَنَّ كُلَّ شَيْءٍ مِنْهَا فَهُوَ مُسْتَعْمَلٌ فِي مَوْضِعِهِ، وَلَا يُعْقَلُ مِنْهُ الْعُدُولُ بِهِ عَنْ مَوْضِعِهِ إلَّا بِدَلَالَةٍ. وَالْحَقِيقَةُ هِيَ اللَّفْظُ الْمُسْتَعْمَلُ فِي مَوْضِعِهِ الْمَوْضُوعِ لَهُ فِي اللُّغَةِ. وَالْمَجَازُ هُوَ الْمَعْدُولُ بِهِ عَنْ حَقِيقَتِهِ وَالْمُسْتَعْمَلُ فِي غَيْرِ مَوْضِعِهِ الْمَوْضُوعِ لَهُ فِي أَصْلِ اللُّغَةِ وَلَا يَجُوزُ أَنْ يُعْدَلَ بِهِ عَنْ جِهَتِهِ وَمَوْضِعِهِ إلَّا بِدَلَالَةٍ. وَكَانَ شَيْخُنَا أَبُو الْحَسَنِ الْكَرْخِيُّ يَقُولُ: لَا يَجُوزُ اسْتِعْمَالُهُ لِلْمَعْنَيَيْنِ جَمِيعًا فِي حَالٍ وَاحِدٍ لِأَنَّ هَذَا يُوجِبُ كَوْنَ اللَّفْظِ حَقِيقَةً مَجَازًا فِي حَالٍ وَاحِدَةٍ، وَهَذَا مُحَالٌ أَوْ كَانَتْ الْحَقِيقَةُ مَا اُسْتُعْمِلَ فِي مَوْضِعِهِ وَالْمَجَازُ مَا اُسْتُعْمِلَ فِي غَيْرِ مَوْضِعِهِ. وَمُحَالٌ أَنْ يَكُونَ لَفْظٌ وَاحِدٌ مُسْتَعْمَلًا فِي مَوْضِعِهِ وَمَعْدُولًا بِهِ عَنْ مَوْضِعِهِ فِي حَالٍ وَاحِدَةٍ.
[পরিচ্ছেদ: শব্দ যখন দুটি অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে যার একটি রূপক এবং অন্যটি প্রকৃত]

পরিচ্ছেদ: আবু বকর বলেছেন: যখন কোনো শব্দ দুটি অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে যার একটিতে শব্দটি রূপক এবং অন্যটিতে প্রকৃত, তখন সেটিকে প্রকৃত অর্থের ওপর প্রয়োগ করা আবশ্যক। এবং কোনো প্রমাণ ব্যতীত সেটিকে রূপক অর্থের দিকে সরিয়ে নেয়া যাবে না; কারণ নামসমূহের ক্ষেত্রে এটিই সবচেয়ে স্পষ্ট যে, তার প্রতিটি শব্দ স্বীয় স্থানেই ব্যবহৃত হবে। আর কোনো প্রমাণ ব্যতীত শব্দকে তার মূল স্থান থেকে বিচ্যুত করা যুক্তিযুক্ত নয়। প্রকৃত অর্থ (হাকিকাত) হলো সেই শব্দ যা ভাষায় তার জন্য নির্ধারিত মূল স্থানে ব্যবহৃত হয়। আর রূপক অর্থ (মাজায) হলো সেই শব্দ যা তার প্রকৃত অর্থ থেকে বিচ্যুত এবং যা ভাষার মূলে তার জন্য নির্ধারিত স্থান ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে ব্যবহৃত হয়। কোনো প্রমাণ ব্যতীত শব্দকে তার সঠিক দিক ও স্থান থেকে বিচ্যুত করা বৈধ নয়। আমাদের শায়খ আবুল হাসান আল-কারখি বলতেন: একই অবস্থায় শব্দটিকে উভয় অর্থের জন্য একত্রে ব্যবহার করা বৈধ নয়; কারণ এটি একই সময়ে শব্দটিকে প্রকৃত ও রূপক হওয়াকে আবশ্যক করে তোলে, আর এটি অসম্ভব। অথবা প্রকৃত অর্থ হলো যা তার স্বস্থানে ব্যবহৃত হয় এবং রূপক অর্থ হলো যা তার স্থান ব্যতীত অন্য কোথাও ব্যবহৃত হয়। আর একই সময়ে একটি শব্দ তার স্বস্থানে ব্যবহৃত হওয়া এবং তার স্বস্থান থেকে বিচ্যুত হওয়া অসম্ভব।
(খণ্ড: ١) আল-ফুসুল ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ٤٧)
وَذَلِكَ نَحْوُ الْقُرْءِ إنَّهُ حَقِيقَةٌ فِي الْحَيْضِ مَجَازٌ فِي الطُّهْرِ فَالْوَاجِبُ حَمْلُهُ عَلَى الْحَقِيقَةِ حَتَّى تَقُومَ دَلَالَةُ الْمَجَازِ وَلَا يَجُوزُ أَنْ يُرَادَ الْمَعْنَيَانِ جَمِيعًا فِي حَالٍ وَاحِدَةٍ.
আর এটি ‘কুরউ’ শব্দের উদাহরণের ন্যায়; নিশ্চয়ই এটি ঋতুস্রাবের ক্ষেত্রে প্রকৃত অর্থ এবং পবিত্রতার ক্ষেত্রে রূপক অর্থ। সুতরাং রূপক অর্থের স্বপক্ষে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত একে প্রকৃত অর্থেই গ্রহণ করা আবশ্যক এবং একই অবস্থায় উভয় অর্থ উদ্দেশ্য করা বৈধ নয়।
(খণ্ড: ١) আল-ফুসুল ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ٤٨)
وَمِنْ نَظَائِرِ ذَلِكَ قَوْله تَعَالَى: {وَلَا تَنْكِحُوا مَا نَكَحَ آبَاؤُكُمْ} [النساء: 22] وَاسْمُ النِّكَاحِ حَقِيقَةٌ لِلْوَطْءِ مَجَازٌ لِلْعَقْدِ. فَالْوَاجِبُ إذَا وَرَدَ مُطْلَقًا حَمْلُهُ عَلَى الْوَطْءِ حَتَّى تَقُومَ الدَّلَالَةُ عَلَى غَيْرِهِ.

وَلَا يَجُوزُ أَنْ يَنْتَظِمَهُمَا فِي حَالٍ وَاحِدَةٍ لِمَا وَصَفْنَا. وَكَذَلِكَ كَانَ يَقُولُ فِي اللَّفْظِ إذَا تَنَاوَلَ مَعْنَيَيْنِ وَهُوَ صَرِيحٌ فِي أَحَدِهِمَا كِنَايَةٌ عَنْ الْآخَرِ إنَّهُ لَا يَجُوزُ أَنْ يُرَادَ الْمَعْنَيَانِ جَمِيعًا بِلَفْظٍ وَاحِدٍ لِأَنَّ هَذَا يُوجِبُ كَوْنَ اللَّفْظِ صَرِيحًا كِنَايَةً فِي حَالٍ وَاحِدَةٍ وَهَذَا مُحَالٌ، وَأَيْضًا فَإِنَّهُ مَتَى أَرَادَ أَحَدَهُمَا فَكَأَنَّهُ قَدْ نَصَّ عَلَيْهِ بِعَيْنِهِ فَانْتَفَى أَنْ يَكُونَ عِبَارَةً عَنْ الْآخَرِ. وَمَتَى وَرَدَ مُطْلَقًا وَجَبَ حَمْلُهُ عَلَى الصَّرِيحِ دُونَ الْكِنَايَةِ حَتَّى تَقُومَ الدَّلَالَةُ عَلَى أَنَّ الْمُرَادَ الْكِنَايَةُ، وَذَلِكَ نَحْوُ قَوْله تَعَالَى: {أَوْ لَامَسْتُمْ النِّسَاءَ} [المائدة: 6] . فَاللَّمْسُ حَقِيقَةٌ بِالْيَدِ وَنَحْوِهَا فَهُوَ كِنَايَةٌ عَنْ الْجِمَاعِ فَغَيْرُ جَائِزٍ أَنْ يَكُونَ الْمُرَادُ بِهِ
এর সদৃশ উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমাদের পিতারা যাদেরকে বিবাহ করেছে তোমরা সেই নারীদের বিবাহ করো না} [আন-নিসা: ২২]। আর নিকাহ শব্দটি শাব্দিক অর্থে সহবাসের জন্য এবং রূপক অর্থে বিবাহের চুক্তির জন্য ব্যবহৃত হয়। সুতরাং যখন এটি শর্তহীনভাবে উল্লিখিত হয়, তখন একে সহবাসের অর্থেই গ্রহণ করা ওয়াজিব, যতক্ষণ না অন্য অর্থের কোনো প্রমাণ সাব্যস্ত হয়।

আর আমরা যা বর্ণনা করেছি তার প্রেক্ষিতে একই অবস্থায় উভয় অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করা বৈধ নয়। অনুরূপভাবে তিনি সেই শব্দের ব্যাপারে বলতেন যখন তা দুটি অর্থকে শামিল করে এবং যার একটিতে তা সুস্পষ্ট ও অন্যটিতে পরোক্ষ; তিনি বলতেন যে, একই শব্দের মাধ্যমে উভয় অর্থ একসাথে উদ্দেশ্য নেওয়া বৈধ নয়। কারণ এটি একই শব্দকে একই অবস্থায় সুস্পষ্ট ও পরোক্ষ হওয়াকে আবশ্যক করে, যা অসম্ভব। উপরন্তু, যখনই কেউ এর একটিকে উদ্দেশ্য করবে, তখন সেটি যেন সুনির্দিষ্টভাবে তার পক্ষেই সুস্পষ্ট বর্ণনা হিসেবে সাব্যস্ত হলো, ফলে অন্যটির অভিব্যক্তি হওয়া নাকচ হয়ে গেল। আর যখনই তা শর্তহীনভাবে আসবে, তখন পরোক্ষ অর্থের পরিবর্তে সুস্পষ্ট অর্থের ওপরই একে প্রয়োগ করা ওয়াজিব হবে, যতক্ষণ না পরোক্ষ অর্থ উদ্দেশ্য হওয়ার ব্যাপারে কোনো প্রমাণ সাব্যস্ত হয়। আর এটি মহান আল্লাহর বাণীর সদৃশ: {অথবা তোমরা যদি নারীদের স্পর্শ করো} [আল-মায়িদাহ: ৬]। কারণ স্পর্শ করা শাব্দিক অর্থে হাত বা অনুরূপ অঙ্গ দ্বারা ছোঁয়াকে বোঝায় এবং এটি সহবাসের জন্য পরোক্ষ অর্থ; সুতরাং এটি দ্বারা উদ্দেশ্য হওয়া বৈধ নয় যে...
(খণ্ড: ١) আল-ফুসুল ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ٤٩)
الْمَعْنَيَيْنِ جَمِيعًا فِي حَالٍ وَاحِدَةٍ. وَيَدُلُّ عَلَى انْتِفَاءِ إرَادَةِ الْمَعْنَيَيْنِ جَمِيعًا أَنَّ الصَّحَابَةَ لَمَّا اخْتَلَفَتْ فِي مُرَادِ الْآيَةِ أَنَّ كُلَّ مَنْ أَثْبَتَ الْمُرَادَ أَحَدَ الْمَعْنَيَيْنِ نَفَى الْمَعْنَى الْآخَرَ أَنْ يَكُونَ مُرَادًا، وَذَلِكَ أَنَّ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ عَلِيًّا وَابْنَ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما قَالَا الْمُرَادُ الْجِمَاعُ، وَكَانَ عِنْدَهُمَا أَنَّ اللَّمْسَ بِالْيَدِ
একই সাথে উভয় অর্থ। আর উভয় অর্থই উদ্দেশ্য হওয়ার অসারতার প্রমাণ হলো, সাহাবীগণ যখন আয়াতের উদ্দেশ্যের ব্যাপারে মতভেদ করেছেন, তখন তাঁদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি একটি অর্থকে উদ্দেশ্য হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন, তিনি অপর অর্থটি উদ্দেশ্য হওয়াকে অস্বীকার করেছেন। আর তা হলো, আমীরুল মুমিনীন আলী এবং ইবনে আব্বাস (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন: উদ্দেশ্য হলো সহবাস; এবং তাঁদের নিকট হাত দ্বারা স্পর্শ করা...
(খণ্ড: ١) আল-ফুসুল ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ٥٠)
غَيْرُ مُرَادٍ، وَقَالَ عُمَرُ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِمَا الْمُرَادُ اللَّمْسُ بِالْيَدِ دُونَ الْجِمَاعِ، فَكَانَا مِنْ أَجْلِ ذَلِكَ لَا يَرَيَانِ لِلْجُنُبِ أَنْ يَتَيَمَّمَ فَحَصَلَ مِنْ اتِّفَاقِهِمْ انْتِفَاءُ إرَادَةِ الْمَعْنَيَيْنِ جَمِيعًا بِلَفْظٍ وَاحِدٍ وَهَذَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّهُمْ كَانُوا لَا يُجِيزُونَ إرَادَةَ الْمَعْنَيَيْنِ بِلَفْظٍ وَاحِدٍ عَلَى الْحَدِّ الَّذِي بَيَّنَّاهُ.

 

‌‌[فَصْل الظَّوَاهِر الَّتِي يَقْضِي عَلَيْهَا دَلَالَةُ الْحَالِ فَيَنْقُلُ حُكْمه إلَى ضِدِّ مُوجَبِ لَفْظِهِ]

فَصْلٌ: قَالَ أَبُو بَكْرٍ: وَمِنْ الظَّوَاهِرِ مَا يَقْضِي عَلَيْهِ دَلَالَةُ الْحَالِ فَيَنْقُلُ حُكْمَهُ إلَى ضِدِّ مُوجَبِ لَفْظِهِ فِي حَقِيقَةِ اللُّغَةِ نَحْوُ قَوْله تَعَالَى: {اعْمَلُوا مَا شِئْتُمْ} [فصلت: 40] {فَمَنْ شَاءَ فَلْيُؤْمِنْ وَمَنْ شَاءَ فَلْيَكْفُرْ} [الكهف: 29] {وَاسْتَفْزِزْ مَنْ اسْتَطَعْتَ مِنْهُمْ} [الإسراء: 64] وَنَحْوُ ذَلِكَ. فَلَوْ وَرَدَ هَذَا الْخِطَابُ مُبْتَدِئًا عَارِيًّا عَنْ دَلَالَةِ الْحَالِ لَكَانَ ظَاهِرُهُ يَقْتَضِي إبَاحَةَ جَمِيعِ الْأَفْعَالِ، وَهُوَ فِي هَذِهِ الْحَالِ وَعِيدٌ وَزَجْرٌ بِخِلَافِ مَا يَقْتَضِيهِ حُكْمُ اللَّفْظِ الْمُطْلَقِ الْعَارِي عَنْ دَلَالَةِ الْحَالِ.
উদ্দেশ্য নয়। উমর এবং আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো হাত দিয়ে স্পর্শ করা, সহবাস নয়। এই কারণেই তাঁরা উভয়ে অপবিত্র ব্যক্তির জন্য তায়াম্মুম করা বৈধ মনে করতেন না। সুতরাং তাঁদের ঐকমত্য থেকে এটি প্রমাণিত হয় যে, একটি শব্দের মাধ্যমে উভয় অর্থ গ্রহণ করাকে তাঁরা নাকচ করেছেন। আর এটি নির্দেশ করে যে, আমরা যেভাবে বর্ণনা করেছি সেই সীমা অনুযায়ী তাঁরা একটি শব্দের মাধ্যমে উভয় অর্থ গ্রহণ করাকে বৈধ মনে করতেন না।

 

[পরিচ্ছেদ: সেই সকল প্রকাশ্য বিষয়াবলি যেগুলোর ওপর পরিস্থিতির পারিপার্শ্বিকতা প্রভাব বিস্তার করে, ফলে এর বিধান শব্দের আক্ষরিক দাবির বিপরীত দিকে ধাবিত হয়]

পরিচ্ছেদ: আবু বকর বলেন: প্রকাশ্য বা জাহির বিষয়ের মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যার ওপর পরিস্থিতির পারিপার্শ্বিকতা ফয়সালা প্রদান করে, ফলে তা ভাষাগত হাকিকত অনুযায়ী শব্দের আক্ষরিক দাবির বিপরীত দিকে এর বিধানকে স্থানান্তরিত করে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা যা ইচ্ছা করো" [ফুসসিলাত: ৪০], "যার ইচ্ছা সে ঈমান আনুক আর যার ইচ্ছা সে কুফরি করুক" [কাহাফ: ২৯], "তাদের মধ্যে যাদের পারো বিচলিত করো" [ইসরা: ৬৪] এবং এই জাতীয় আয়াতসমূহ। যদি এই সম্বোধনটি কোনো পরিস্থিতির পারিপার্শ্বিকতা বর্জিত অবস্থায় প্রাথমিকভাবে আসত, তবে এর বাহ্যিক রূপ সমস্ত কর্মের বৈধতা দাবি করত। অথচ এই অবস্থায় এটি হলো কঠোর সতর্কতা ও ধমক, যা পরিস্থিতির পারিপার্শ্বিকতা বর্জিত সাধারণ শব্দের বিধানের পরিপন্থী।
(খণ্ড: ١) আল-ফুসুল ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ٥١)
وَمِنْ نَظَائِرِ ذَلِكَ قَوْلُ النَّجَاشِيِّ

إذَا اللَّهُ عَادَى أَهْلَ لُؤْمٍ وَرِقَّةٍ … فَعَادَى بَنِي الْعَجْلَانِ رَهْطَ ابْنِ مُقْبِلِ

قَبِيلَةٌ لَا يَغْدِرُونَ بِذِمَّةٍ … وَلَا يَظْلِمُونَ النَّاسَ حَبَّةَ خَرْدَلِ

وَمَعْلُومٌ أَنَّ النَّاسَ يَتَمَدَّحُونَ بِنَفْيِ الْغَدْرِ وَالظُّلْمِ عَنْ أَنْفُسِهِمْ وَهُوَ فِي هَذَا الْمَوْضِعِ ذَمٌّ وَهِجَاءٌ فَخَرَجَ اللَّفْظُ مَخْرَجَ الْهِجَاءِ، فَكَانَ مَعْنَاهُ: أَنَّهُمْ أَقَلُّ مِنْ أَنْ يُوثَقَ لَهُمْ بِذِمَّةٍ يَغْدِرُونَ بِهَا، وَأَعْجَزُ مِنْ أَنْ يَظْلِمُوا أَحَدًا فَكَانَتْ دَلَالَةُ الْحَالِ نَاقِلَةً لِحُكْمِ اللَّفْظِ إلَى ضِدِّ مُقْتَضَاهُ وَمُوجَبِهِ لَوْ كَانَ وُرُودُهُ مُطْلَقًا. وَمِمَّا اعْتَبَرَ أَصْحَابُنَا فِي هَذَا الْمَعْنَى مِنْ مَسَائِلِ الْفِقْهِ قَوْلُهُمْ: مَنْ قَامَتْ امْرَأَتُهُ لِتَخْرُجَ فَقَالَ لَهَا: إنْ خَرَجْتِ فَأَنْتِ طَالِقٌ أَنَّهَا إنْ قَعَدَتْ ثُمَّ خَرَجَتْ بَعْدَ ذَلِكَ لَمْ يَحْنَثْ. وَكَذَلِكَ لَوْ قَالَ الرَّجُلُ: تَغَدَّ عِنْدِي الْيَوْمَ، فَقَالَ: إنْ تَغَدَّيْت فَعَبْدِي حُرٌّ، أَنَّ هَذَا عَلَى ذَلِكَ الْغَدَاءِ بِعَيْنِهِ، فَإِنْ تَغَدَّى عِنْدَهُ بَعْدَ ذَلِكَ لَمْ يَحْنَثْ. وَكَذَلِكَ لَوْ قَالَ: (وَاَللَّهِ إنْ تَغَدَّيْت الْيَوْمَ فَعَبْدِي حُرٌّ) فَصَارَتْ الْيَمِينُ عَلَى الْيَوْمِ لِدَلَالَةِ الْحَالِ عَلَيْهَا.

قَالَ أَبُو بَكْرٍ: وَمِمَّا يَجِبُ مُرَاعَاتُهُ مِنْ مُغَالَطَاتِ الْخُصُومِ فِي هَذَا الْبَابِ: احْتِجَاجُهُمْ فِي زَعْمِهِمْ
এর অনুরূপ উদাহরণ হলো নাজাশির উক্তি:

যখন আল্লাহ কোনো নিচ ও দুর্বল কওমের সাথে শত্রুতা করেন … তখন তিনি বনী আজলান তথা ইবনে মুকবেলের গোত্রের সাথে শত্রুতা করেন।

এমন এক গোত্র যারা অঙ্গীকার ভঙ্গ করে না … এবং মানুষকে সরিষা দানা পরিমাণও জুলুম করে না।

এটা সুবিদিত যে, মানুষ সাধারণত নিজেদের থেকে বিশ্বাসঘাতকতা ও জুলুম অস্বীকার করে প্রশংসা অর্জন করতে চায়, কিন্তু এই স্থানে এটি নিন্দা ও ব্যঙ্গার্থে ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে শব্দটি এখানে ব্যঙ্গ হিসেবেই প্রকাশিত হয়েছে। এর অর্থ দাঁড়ায়: তারা এতটাই নগণ্য যে তাদের সাথে কোনো অঙ্গীকার করার মতো আস্থাই রাখা যায় না যা তারা ভঙ্গ করবে, আর তারা এতটাই অক্ষম যে কাউকে জুলুম করার সামর্থ্যও তাদের নেই। সুতরাং পরিস্থিতির ইঙ্গিত শব্দের প্রয়োগকে তার আভিধানিক বা সাধারণ চাহিদার বিপরীতে নিয়ে গেছে, যা শব্দটির সাধারণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিপরীত হতো। আমাদের ইমামগণ ফিকহী মাসআলাসমূহের ক্ষেত্রে এই মূলনীতির আলোকে যে বিষয়গুলো বিবেচনা করেছেন তার মধ্যে রয়েছে: যদি কারও স্ত্রী বাইরে যাওয়ার জন্য উদ্যত হয় এবং স্বামী তাকে বলে, 'যদি তুমি বের হও তবে তুমি তালাক', এমতাবস্থায় সে যদি বসে পড়ে এবং পরবর্তীতে কোনো এক সময় বের হয়, তবে স্বামী শপথ ভঙ্গকারী হবে না। তদ্রূপ কোনো ব্যক্তি যদি কাউকে বলে, 'আজ আমার এখানে দুপুরের খাবার খাও', আর সে উত্তর দেয়, 'আমি যদি দুপুরের খাবার খাই তবে আমার দাস মুক্ত', তবে এটি ওই নির্দিষ্ট সময়ের খাবারের ওপরই বর্তাবে। ফলে সে যদি এরপর অন্য কোনো সময় তার নিকট দুপুরের খাবার খায় তবে সে শপথ ভঙ্গকারী হবে না। একইভাবে যদি সে বলে, 'আল্লাহর কসম, আমি যদি আজ দুপুরের খাবার খাই তবে আমার দাস মুক্ত', তবে অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এই শপথটি ওই নির্দিষ্ট দিনের জন্যই সাব্যস্ত হবে।

আবু বকর বলেন: এই অধ্যায়ে প্রতিপক্ষের বিভ্রান্তিগুলোর মধ্যে যা খেয়াল রাখা জরুরি তা হলো তাদের সেই সব দলিল যা তারা তাদের ধারণা অনুযায়ী পেশ করে থাকে।
(খণ্ড: ١) আল-ফুসুল ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ٥٢)
بِعُمُومِ أَلْفَاظٍ مِنْ الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ مَتَى حَصَلَتْ عَلَيْهِمْ وَكُشِفَ عَنْ حَقِيقَتِهَا لَمْ يَتَحَصَّلْ مِنْهَا شَيْءٌ نَحْوُ احْتِجَاجِ بَعْضِهِمْ فِي أَنَّ رَقَبَةَ الظِّهَارِ شَرْطُهَا أَنْ تَكُونَ مُؤْمِنَةً بِقَوْلِهِ تَعَالَى: {وَلَا تَيَمَّمُوا الْخَبِيثَ مِنْهُ تُنْفِقُونَ} [البقرة: 267] . وَالْكَافِرُ خَبِيثٌ وَلَا يَجُوزُ زَعْمٌ بِالظَّاهِرِ، وَنَحْنُ مَتَى سَلَّمْنَا أَنَّ الْعِتْقَ مِنْ الْإِنْفَاقِ لَمْ يَكُنْ فِي لَفْظِ الْآيَةِ دَلَالَةٌ عَلَى مَا قَالُوا، وَذَلِكَ لِأَنَّ الْخَبِيثَ هُوَ كُفْرُ الْكَافِرِ لَا عَيْنُ فِعْلِ اللَّهِ تَعَالَى، وَغَيْرُ جَائِزٍ أَنْ يُذَمَّ مِنْ أَجْلِهَا. وَاَلَّذِي أَنْفَقَهُ الْمُعْتِقُ بِعِتْقِهِ لَيْسَ هُوَ الْكُفْرَ وَإِنَّمَا هُوَ الْعِتْقُ، وَالْعِتْقُ لَيْسَ بِخَبِيثٍ وَكَيْفَ يَكُونُ خَبِيثًا وَهُوَ قُرْبَةٌ إلَى اللَّهِ تَعَالَى، فَلَمْ يَحْصُلْ لِهَذِهِ الْآيَةِ تَعَلُّقٌ بِهَذِهِ الْمَسْأَلَةِ. وَنَظِيرُهُ احْتِجَاجُ مَنْ احْتَجَّ مِنْهُمْ بِسُقُوطِ حَقِّ الْإِمَامِ فِي أَخْذِ صَدَقَةِ السَّائِمَةِ، إذَا

কুরআন ও সুন্নাহর শব্দাবলীর ব্যাপকতার মাধ্যমে, যখন তাদের সামনে সেগুলো উপস্থাপিত হয় এবং সেগুলোর প্রকৃত হাকিকত উন্মোচিত হয়, তখন তা থেকে (তাদের দাবির সপক্ষে) কিছুই অর্জিত হয় না। যেমন তাদের কারও এই যুক্তি পেশ করা যে, জিহারের কাফফারায় দাস মুক্তির শর্ত হলো তাকে মুমিন হতে হবে। তারা মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করে: "তোমরা তা থেকে নিকৃষ্ট বস্তুর সংকল্প করো না যা তোমরা ব্যয় করো।" [সূরা আল-বাকারা: ২৬৭]। এবং (তাদের মতে) কাফের হলো নিকৃষ্ট, আর বাহ্যিক অর্থের বিপরীতে কোনো দাবি করা বৈধ নয়। অথচ আমরা যদি এটি মেনেও নেই যে দাস মুক্তি প্রদান করা ব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত, তবুও আয়াতের শব্দে তারা যা বলেছে তার কোনো প্রমাণ নেই। তার কারণ হলো, ‘নিকৃষ্ট’ বা ‘খবিস’ বিষয়টি হলো কাফেরের কুফর, খোদ মহান আল্লাহর কৃত কোনো কাজ নয়; আর এর কারণে তাকে নিন্দা করা জায়েজ নয়। আর মুক্তিদাতা তার দাস মুক্তির মাধ্যমে যা ব্যয় করেছেন তা কুফর নয়, বরং তা হলো মুক্তি প্রদান। আর মুক্তি প্রদান তো নিকৃষ্ট হতে পারে না; এটি কীভাবে নিকৃষ্ট হবে যখন তা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি মাধ্যম? সুতরাং এই আয়াতের সাথে এই মাসআলার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এর অনুরূপ হলো তাদের মধ্যকার সেই ব্যক্তির দলিল পেশ করা, যে চারণভূমিতে বিচরণকারী পশুর জাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে ইমামের অধিকার রহিত হওয়ার সপক্ষে দলিল দিয়েছে, যখন...

(খণ্ড: ١) আল-ফুসুল ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ٥٣)
أَعْطَاهَا رَبُّ الْمَالِ الْمَسَاكِينَ بِقَوْلِهِ تَعَالَى: {إنْ تُبْدُوا الصَّدَقَاتِ فَنِعِمَّا هِيَ وَإِنْ تُخْفُوهَا وَتُؤْتُوهَا الْفُقَرَاءَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ} [البقرة: 271] . فَيَسْتَدِلُّ بِظَاهِرِ قَوْله تَعَالَى {فَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ} [البقرة: 271] عَلَى سُقُوطِ حَقِّ الْإِمَامِ فِي أَخْذِهَا مَتَى أَخْرَجَهَا رَبُّ الْمَالِ. وَهَذَا نَظِيرُ مَا ذَكَرْنَاهُ فِي الْفَصْلِ الَّذِي قَبْلَهُ لِأَنَّ هَذِهِ الْآيَةَ إنَّمَا تَدُلُّ عَلَى أَنَّهُ إذَا أَعْطَاهَا الْفُقَرَاءَ وَأَخْفَاهَا فَهُوَ خَيْرٌ لَهُ وَلَا دَلَالَةَ فِيهِ عَلَى أَنَّ الْإِمَامَ لَا يَأْخُذُهَا مِنْهُ ثَانِيًا. وَمَوْضِعُ دَلَالَةِ الْآيَةِ لَا يَتَنَافَى لِأَنَّا نَقُولُ: إخْفَاؤُهَا خَيْرٌ لَهُ، وَلِلْإِمَامِ مَعَ ذَلِكَ أَخْذُهَا، فَإِذَنْ لَا دَلَالَةَ فِي الْآيَةِ عَلَى مَوْضِعِ الْخِلَافِ، بَلْ دَلَالَتُهَا عَلَى صِحَّةِ قَوْلِنَا أَظْهَرُ مِنْهَا عَلَى قَوْلِ الْمُخَالِفِ، لِأَنَّا نَقُولُ هُوَ خَيْرٌ لَهُ لِأَنَّ الْإِمَامَ يَأْخُذُ مَرَّةً أُخْرَى فَيَحْصُلُ لَهُ الصَّدَقَةُ مَرَّتَيْنِ فَيَكُونُ خَيْرًا لَهُ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ.

وَمِنْ نَظَائِرِ احْتِجَاجِهِمْ بِمَا رُوِيَ عَنْ «النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ مَسَحَ رَأْسَهُ ثَلَاثًا فِي الْوُضُوءِ» قَالُوا: فَهَذَا أَوْلَى مِنْ رِوَايَةِ مَنْ رَوَى " الْمَسْحَ مَرَّةً وَاحِدَةً " لِأَنَّهُ زَائِدٌ عَلَيْهِ وَخَبَرُ الزَّائِدِ أَوْلَى وَمَتَى حَمَلْت عَلَيْهِمْ مَعْنَى هَذَا الْخَبَرِ وَقَابَلْته بِمَوْضِعِ الْخِلَافِ لَمْ يُعْتَرَضْ عَلَيْهِ لِأَنَّا لَمْ نَخْتَلِفْ فِيهِ أَنَّهُ يَمْسَحُ ثَلَاثًا وَإِنَّمَا الْخِلَافُ بَيْنَنَا وَبَيْنَهُ فِي تَجْدِيدِ الْمَاءِ لِكُلِّ مَسْحَةٍ، وَلَيْسَ لِهَذَا الْمَعْنَى ذِكْرٌ فِي الْخَبَرِ، وَالِاحْتِجَاجُ بِهِ ضَرْبٌ مِنْ الْمُغَالَطَةِ. وَنَحْوُهُ الِاسْتِدْلَال بِقَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي دَمِ الْحَيْضِ «حُتِّيهِ ثُمَّ اُقْرُصِيهِ ثُمَّ اغْسِلِيهِ بِالْمَاءِ» .
সম্পদের মালিক তা অভাবগ্রস্তদের প্রদান করে মহান আল্লাহর এই বাণীর প্রেক্ষিতে: {তোমরা যদি প্রকাশ্যে দান-সদকা করো তবে তা উত্তম, আর যদি তা গোপন করো এবং অভাবগ্রস্তদের প্রদান করো তবে তা তোমাদের জন্য অধিকতর কল্যাণকর} [আল-বাকারাহ: ২৭১]। অতঃপর মহান আল্লাহর বাণী {তা তোমাদের জন্য অধিকতর কল্যাণকর} [আল-বাকারাহ: ২৭১] এর বাহ্যিক অর্থের মাধ্যমে দালীলিক প্রমাণ পেশ করা হয় যে, সম্পদের মালিক যখন তা স্বয়ং প্রদান করে তখন তা গ্রহণের ক্ষেত্রে ইমামের অধিকার রহিত হয়ে যায়। এটি আমরা পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদে যা উল্লেখ করেছি তারই অনুরূপ; কারণ এই আয়াতটি কেবল এটিই নির্দেশ করে যে, যখন সে তা অভাবগ্রস্তদের প্রদান করে এবং গোপন রাখে তখন তা তার জন্য কল্যাণকর, আর এতে এমন কোনো প্রমাণ নেই যে ইমাম পুনরায় তার নিকট থেকে তা গ্রহণ করবেন না। আয়াতের দালীলিক দিকের সাথে আমাদের বক্তব্যের কোনো বিরোধ নেই, কারণ আমরা বলি: তা গোপন করা তার জন্য কল্যাণকর, তা সত্ত্বেও ইমামের সেটি গ্রহণ করার অধিকার রয়েছে। সুতরাং মতভেদের বিষয়ের ওপর আয়াতের কোনো প্রমাণ নেই, বরং আমাদের বক্তব্যের বিশুদ্ধতার ওপর এর প্রমাণ বিপক্ষ দলের দাবির চেয়ে অধিকতর স্পষ্ট; কারণ আমরা বলি এটি তার জন্য কল্যাণকর, যেহেতু ইমাম পুনরায় তা গ্রহণ করবেন, ফলে তার জন্য দুই বার সদকা অর্জিত হবে এবং এই দিক থেকে এটি তার জন্য অধিকতর কল্যাণকর হবে।

তাদের দলীল পেশ করার অনুরূপ বিষয়গুলোর মধ্যে এটিও একটি যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, "তিনি ওযুতে তাঁর মাথা তিনবার মাসেহ করেছেন।" তারা বলেন: যারা "একবার মাসেহ করা" বর্ণনা করেছেন তাদের বর্ণনার চেয়ে এটিই অগ্রগণ্য, কারণ এটি অতিরিক্ত তথ্য প্রদান করে আর অতিরিক্ত তথ্য সম্বলিত বর্ণনা অগ্রগণ্য। যখন আপনি তাদের ওপর এই বর্ণনার অর্থ প্রয়োগ করবেন এবং তা বিরোধপূর্ণ বিষয়ের সাথে তুলনা করবেন, তখন এর ওপর কোনো আপত্তি থাকবে না; কারণ তিনবার মাসেহ করার ব্যাপারে আমাদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই। বরং আমাদের ও তাদের মধ্যে মতভেদ কেবল প্রতিবার মাসেহের জন্য নতুন পানি গ্রহণ করার বিষয়ে, আর বর্ণনায় এই বিষয়টির কোনো উল্লেখ নেই। সুতরাং এটি দিয়ে দলীল পেশ করা এক প্রকার বিভ্রান্তি সৃষ্টি। অনুরূপভাবে ঋতুস্রাবের রক্ত সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীর মাধ্যমে দলীল পেশ করা: "তুমি এটি খুঁটে ফেলো, তারপর নখ দিয়ে ঘষো এবং এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলো।"
(খণ্ড: ١) আল-ফুসুল ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ٥٤)
عَلَى أَنَّ غَسْلَ النَّجَاسَاتِ لَا يَجُوزُ إلَّا بِالْمَاءِ وَهَذَا غَلَطٌ، وَلَيْسَ فِيهِ بَيَانُ مَوْضِعِ الْخِلَافِ لِأَنَّ الَّذِي تَضْمَنَّهُ الْخَبَرُ الْأَمْرُ بِغَسْلِ دَمِ الْحَيْضِ بِالْمَاءِ، وَمَتَى أُزِيلَ الدَّمُ بِخَلٍّ أَوْ نَحْوِهِ لَمْ يَبْقَ هُنَاكَ دَمٌ تَنَاوَلَهُ لَفْظُ الْخَبَرِ، فَإِذَنْ لَا تَعَلُّقَ لِهَذَا الْخَبَرِ بِمَسْأَلَةِ الْخِلَافِ. وَمِثْلُهُ اسْتِدْلَالُ مَنْ اسْتَدَلَّ عَلَى نَجَاسَةِ الْمَاءِ بِمَوْتِ (الذُّبَابِ فِيهِ) بِقَوْلِهِ تَعَالَى: {حُرِّمَتْ عَلَيْكُمْ الْمَيْتَةُ} [المائدة: 3] وَالْآيَةُ إنَّمَا أَوْجَبَتْ تَحْرِيمَ الْمَيْتَةِ، وَالْمَاءُ الَّذِي فِيهِ مَيْتَةٌ لَا يُسَمَّى مَيْتَةً فَكَيْفَ يَجُوزُ اعْتِبَارُ عُمُومِ لَفْظٍ لَمْ يَتَنَاوَلْ الْمَاءَ بِحَالٍ. وَنَظِيرُهُ اسْتِدْلَالُ مَنْ يَسْتَدِلَّ عَلَى ضَمَانِ الْعَارِيَّةِ وَالسَّرِقَةِ عِنْدَ الْهَلَاكِ بِقَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم «عَلَى الْيَدِ مَا أَخَذَتْ حَتَّى تَرُدَّهُ» . وَالْخَبَرُ إنَّمَا أَوْجَبَ رَدَّ الْمَأْخُوذِ بِعَيْنِهِ، وَالْقِيمَةُ الَّتِي يُرِيدُ الْمُخَالِفُ تَضْمِينَهَا إيَّاهُ لَا ذِكْرَ لَهَا فِي الْخَبَرِ فَاعْتِبَارُ الْعُمُومِ فِيهِ سَاقِطٌ. وَمِمَّا يَكْثُرُ اسْتِعْمَالُهُ مِنْ أَلْفَاظِ الْعُمُومِ بَيْنَ الْمُنَاظِرِينَ حَدِيثُ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ

নাপাকি ধৌত করা কেবল পানি দ্বারাই হতে হবে—এই অভিমতের সপক্ষে এটি (দলিল হিসেবে) গ্রহণ করা ভুল। এতে মতভেদের প্রকৃত ক্ষেত্র ফুটে ওঠেনি; কেননা হাদীসটিতে যা রয়েছে তা হলো ঋতুর রক্ত পানি দ্বারা ধৌত করার নির্দেশ। আর যখন সিরকা বা এই জাতীয় কিছু দ্বারা রক্ত অপসারিত হয়, তখন সেখানে আর এমন কোনো রক্ত বিদ্যমান থাকে না যা হাদীসের শব্দ দ্বারা উদ্দেশ্য হতে পারে। সুতরাং, মতভেদপূর্ণ মাসআলার সাথে এই হাদীসের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এর অনুরূপ হলো ওই ব্যক্তির দলিল পেশ করা, যে আল্লাহ তাআলার বাণী: "তোমাদের জন্য মৃত জীব হারাম করা হয়েছে" [আল-মায়িদাহ: ৩]-এর মাধ্যমে পানিতে (মাছি মারা যাওয়ার) কারণে পানি নাপাক হওয়ার সপক্ষে দলিল দেয়। অথচ আয়াতটি কেবল মৃত জীব হারাম হওয়াকে আবশ্যক করেছে; আর যে পানিতে মৃত জীব থাকে তাকে 'মৃত জীব' বলা হয় না। সুতরাং যে শব্দের ব্যাপকতা কোনোভাবেই পানিকে অন্তর্ভুক্ত করে না, তাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা কীভাবে জায়েজ হতে পারে? এর সদৃশ হলো ওই ব্যক্তির দলিল পেশ করা, যে ধার করা বস্তু বা চুরি করা মাল ধ্বংস হওয়ার ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ আবশ্যক হওয়ার সপক্ষে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল দেয়: "হাত যা গ্রহণ করেছে তার দায়িত্ব সেই হাতের ওপর বর্তাবে যতক্ষণ না সে তা ফেরত দেয়।" অথচ হাদীসটি কেবল গৃহীত মূল বস্তুটি ফিরিয়ে দেওয়া ওয়াজিব করেছে। আর প্রতিপক্ষ যে মূল্য বা বিনিময় আবশ্যক করতে চাইছেন, হাদীসে তার কোনো উল্লেখ নেই; ফলে এক্ষেত্রে ব্যাপকতার দাবি অসার। মুনাজির বা বিতর্ককারীদের মধ্যে ব্যাপক অর্থবোধক শব্দের প্রয়োগ হিসেবে যা অধিক প্রচলিত, তা হলো কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ থেকে বর্ণিত হাদীসটি...

(খণ্ড: ١) আল-ফুসুল ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ٥٥)
عَائِشَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: «مَنْ أَدْخَلَ فِي أَمْرِنَا مَا لَيْسَ فِيهِ فَهُوَ رَدٌّ» وَيُرْوَى: «مَنْ أَدْخَلَ فِي دِينِنَا مَا لَيْسَ مِنَّا فَهُوَ رَدٌّ» وَهَذَا اللَّفْظُ مِمَّا لَا يَصِحُّ (لِأَحَدٍ) الِاحْتِجَاجُ بِهِ عَلَى مُخَالَفَةٍ فِي فَسَادِ الْعُقُودِ وَالْقُرَبِ، وَذَلِكَ لِأَنَّهُ يَحْتَاجُ فِي إثْبَاتِ مَا رَامَ إثْبَاتِهِ إلَى دَلَالَةِ غَيْرِ اللَّفْظِ، إذَا كَانَ أَكْثَرُ مَا فِيهِ أَنَّ الشَّيْءَ إذَا حَصَلَ مَنْهِيًّا عَنْهُ كَانَ مَرْدُودًا. نَظِيرُ ذَلِكَ اخْتِلَافُهُمْ فِي الصَّلَاةِ فِي الدَّارِ الْمَغْصُوبَةِ. إذَا احْتَجَّ مُبْطِلُوهَا بِهَذَا الْخَبَرِ.
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমাদের এই শরীয়তের বিষয়ে এমন কিছু প্রবর্তন করে যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।" এবং বর্ণিত আছে: "যে ব্যক্তি আমাদের দ্বীনে এমন কিছু প্রবর্তন করে যা আমাদের থেকে নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।" আর এই শব্দগুচ্ছ এমন যা (কারো জন্য) চুক্তিসমূহ ও ইবাদতসমূহের বাতিলের বিষয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে দলিল হিসেবে ব্যবহার করা সঠিক নয়। আর তা এজন্য যে, তিনি যা প্রমাণ করতে চেয়েছেন তা সাব্যস্ত করার জন্য এই শব্দের অর্থ ব্যতিরেকে অন্য দলিলের প্রয়োজন রয়েছে; কেননা এর সারকথা হলো—কোনো কাজ যদি নিষিদ্ধ পন্থায় সম্পন্ন হয় তবে তা প্রত্যাখ্যাত হবে। এর উদাহরণ হলো জবরদখলকৃত ভূমিতে নামায পড়ার ব্যাপারে তাঁদের মতভেদ, যখন যারা এই নামাযকে বাতিল গণ্য করেন তারা এই হাদিসটি দ্বারা দলিল পেশ করেন।
(খণ্ড: ١) আল-ফুসুল ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ٥٦)
قِيلَ لَهُمْ: قَدْ عَلِمْنَا أَنَّهُ مَنْهِيٌّ عَنْ ذَلِكَ، فَمَا الدَّلَالَةُ عَلَى أَنَّ جَوَازَ الصَّلَاةِ فِي هَذَا الْحَالِ لَيْسَ مِنْ أَمْرِهِ، إذْ لَيْسَ يُمْنَعُ أَنْ يَكُونَ إبَاحَةُ الصَّلَاةِ فِي هَذِهِ الدَّارِ لَيْسَ مِنْ أَمْرِهِ، وَيَكُونُ جَوَازُهَا وَسُقُوطُ الْفَرْضِ بِهَا مِنْ أَمْرِهِ، وَهَذَا مَوْضِعُ خِلَافٍ، فَيَحْتَاجُ الْمُحْتَجُّ بِالْخَبَرِ إلَى أَنْ يُقِيمَ دَلَالَةً مِنْ غَيْرِ الْخَبَرِ عَلَى أَنَّ جَوَازَهَا لَيْسَ مِنْ أَمْرِهِ فَيَسْقُطُ الِاسْتِدْلَال بِهِ وَهَذَا الضَّرْبُ مِنْ احْتِجَاجِ الْمُخَالِفِينَ أَكْثَرُ مِنْ أَنْ يُحْصَى، وَإِنَّمَا ذَكَرْنَا مِنْهُ طَرَفًا لِنُنَبِّهَ بِهِ عَلَى نَظَائِرِهِ، وَلِئَلَّا يَحْسُنَ الظَّنَّ بِهِ فِيمَا يَدَّعِيهِ ظَاهِرًا حَتَّى يُوَافِقَ عَلَى تَصْحِيحِ وَجْهِ الدَّلَالَةِ مِنْهُ، فَإِنَّ أَكْثَرَ احْتِجَاجَاتِهِمْ تَجْرِي هَذَا الْمَجْرَى، فَمَتَى طُولِبَ بِتَحْقِيقِهِ اضْمَحَلَّ.

তাদের বলা হয়েছে: আমরা অবগত হয়েছি যে তা থেকে নিষেধ করা হয়েছে; তবে এর প্রমাণ কী যে এমতাবস্থায় সালাতের বৈধতা তাঁর নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত নয়? কারণ এমন হওয়া অসম্ভব নয় যে এই গৃহে সালাত বৈধ হওয়া তাঁর নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত নয়, অথচ এর বৈধতা এবং এর দ্বারা ফরয রহিত হওয়া তাঁর নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত। আর এটি একটি মতভেদের জায়গা; সুতরাং যে ব্যক্তি সংবাদের (হাদীস) মাধ্যমে দলিল পেশ করেন, তাকে সংবাদ ব্যতীত অন্য প্রমাণ দ্বারা এটি সাব্যস্ত করতে হবে যে এর বৈধতা তাঁর নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত নয়, যার ফলে উক্ত সংবাদ দ্বারা দলিল পেশ করা বাতিল হয়ে যাবে। বিরোধীদের এ জাতীয় যুক্তি উপস্থাপনের ধরণ এত অধিক যে তা গণনা করা যায় না। আমরা এর কেবল কিয়দাংশ উল্লেখ করেছি যাতে এর সদৃশ বিষয়গুলোর ব্যাপারে সচেতন করা যায় এবং তাদের বাহ্যিক দাবির ওপর যেন কেউ সুধারণা পোষণ না করে যতক্ষণ না এর দলিল হওয়ার দিকটি সঠিকভাবে সাব্যস্ত হয়। কেননা তাদের অধিকাংশ যুক্তিই এই ধারায় চলে, যা যখনই যাচাই করার দাবি জানানো হয় তখনই তা অসার হয়ে যায়।

(খণ্ড: ١) আল-ফুসুল ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ٥٩)
‌‌[بَابٌ فِي صِفَةِ النَّصّ]

قَالَ أَبُو بَكْرٍ: النَّصُّ: (كُلُّ) مَا يَتَنَاوَلُ عَيْنًا مَخْصُوصَةً بِحُكْمٍ ظَاهِرِ الْمَعْنَى بَيِّنِ الْمُرَادِ فَهُوَ نَصٌّ وَمَا يَتَنَاوَلُهُ الْعُمُومُ فَهُوَ نَصٌّ أَيْضًا وَذَلِكَ لِأَنَّهُ لَا فَرْقَ بَيْنَ الشَّخْصِ الْمُعَيَّنِ إذَا أُشِيرَ إلَيْهِ بِعَيْنِهِ وَبَيْنَ حُكْمِهِ وَبَيْنَ مَا يَتَنَاوَلُهُ الْعُمُومُ. إذْ كَانَ الْعُمُومُ اسْمًا لِجَمِيعِ مَا تَنَاوَلَهُ وَانْطَوَى تَحْتَهُ.
[নসের প্রকৃতি সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ]

আবু বকর বলেন: নস হলো এমন প্রতিটি বিষয় যা সুস্পষ্ট অর্থ ও পরিষ্কার উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়কে কোনো বিধানের অন্তর্ভুক্ত করে, তা-ই নস। আর ব্যাপকতা (আম) যা কিছুকে অন্তর্ভুক্ত করে তাও নস। কারণ নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর দিকে যখন সরাসরি ইঙ্গিত করা হয় তখন তার বিধান এবং ব্যাপকতা যা কিছুকে শামিল করে তার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। কেননা উমুম বা ব্যাপকতা হলো সেই সবকিছুর নাম যা এটি অন্তর্ভুক্ত করে এবং যা এর অধীনে নিহিত থাকে।
(খণ্ড: ١) আল-ফুসুল ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ٦٠)
وَالْمَنْصُوصُ عَلَيْهِ مَا نُصَّ عَلَيْهِ بِاسْمِهِ. وَمِنْ الدَّلِيلِ عَلَى ذَلِكَ أَنَّ أَحَدًا مِنْ الْمُسْلِمِينَ لَا يَمْتَنِعُ مِنْ إطْلَاقِ الْقَوْلِ بِأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَدْ نَصَّ عَلَى تَحْرِيمِ الْأُمِّ بِقَوْلِهِ تَعَالَى: {حُرِّمَتْ عَلَيْكُمْ أُمَّهَاتُكُمْ} [النساء: 23] وَأَنَّ قَطْعَ السَّارِقِ مَنْصُوصٌ عَلَيْهِ بِقَوْلِهِ تَعَالَى: {وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ} [المائدة: 38] وَكَذَلِكَ جَلْدُ الزَّانِي، وَإِيجَابُ الْقِصَاصِ عَلَى قَاتِلِ الْعَمْدِ. وَكُلٌّ إنَّمَا نَصَّ عَلَى حُكْمِهِ بِعُمُومِ لَفْظٍ يَنْتَظِمُ مَا شَمَلَهُ الِاسْمُ مِنْ غَيْرِ إشَارَةٍ إلَى عَيْنٍ مَخْصُوصَةٍ، وَلَيْسَ جَوَازُ دُخُولِ الِاسْتِثْنَاءِ عَلَى لَفْظِ الْعُمُومِ وَجَوَازُ تَخْصِيصِهِ بِمَانِعٍ مِنْ أَنْ يَكُونَ نَصًّا إذَا لَمْ تَقُمْ دَلَالَةُ التَّخْصِيصِ. كَمَا أَنَّ الْعَدَدَ الَّذِي يَتَنَاوَلُهُ اسْمُ الْعَشَرَةِ مَنْصُوصٌ عَلَيْهِ بِذِكْرِ الْعَشَرَةِ مَعَ جَوَازِ دُخُولِ الِاسْتِثْنَاءِ عَلَيْهَا، وَلِأَنَّ الْمُشَارَ إلَيْهِ بِعَيْنِهِ يَجُوزُ إدْخَالُ الشَّرْطِ عَلَيْهِ وَتَعْلِيقُهُ بِحَالٍ أُخْرَى، وَلَمْ يَمْنَعْ ذَلِكَ أَنْ يَكُونَ نَصًّا إذَا عَرِيَ مِنْ شَرْطٍ أَوْ ذِكْرِ حَالٍ.

وَالنَّصُّ فِي اللُّغَةِ: هُوَ الْمُبَالَغَةُ فِي إظْهَارِ الشَّيْءِ وَإِبَانَتِهِ. فَمِنْهُ قَوْلُهُمْ: نَصَصْت الْحَدِيثَ إلَى فُلَانٍ، بِمَعْنَى أَنِّي أَظَهَرْتُ أَصْلَهُ. وَمَخْرَجَهُ. قَالَ الشَّاعِرُ:

أَنُصُّ الْحَدِيثَ إلَى أَهْلِهِ … فَإِنَّ الْأَمَانَةَ فِي نَصِّهِ

وَمِنْهُ نَصَصْت الدَّابَّةُ فِي السَّيْرِ إذَا أَظْهَرْت أَقْصَى مَا عِنْدَهَا.
যা তার নাম দ্বারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে তাই 'মানসুস' (সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত)। এর একটি প্রমাণ হলো, কোনো মুসলিম আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মাধ্যমে মায়ের হারাম হওয়ার বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে বলে অভিহিত করতে দ্বিধা করেন না: {তোমাদের ওপর তোমাদের মায়েদের হারাম করা হয়েছে} [নিসা: ২৩]। এবং চোরের হাত কাটার বিষয়টি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত: {চোর পুরুষ ও চোর নারী} [মায়িদাহ: ৩৮]। অনুরূপভাবে ব্যভিচারীর বেত্রাঘাত এবং ইচ্ছাকৃত হত্যাকারীর ওপর কিসাস বা প্রতিবিধান আবশ্যক হওয়ার বিষয়টিও। এগুলোর প্রত্যেকটির বিধানই এমন ব্যাপক শব্দের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত হয়েছে যা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির প্রতি ইঙ্গিত ছাড়াই ওই নামের অন্তর্ভুক্ত সকল বিষয়কে শামিল করে। ব্যাপক শব্দের ওপর কোনো ব্যতিক্রম যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকা অথবা তা বিশেষায়িত করার অবকাশ থাকা একে 'নস' হওয়া থেকে বাধা দেয় না, যতক্ষণ না বিশেষায়িতকরণের কোনো দলিল বিদ্যমান থাকে। যেমন 'দশ' নামক শব্দটি যে সংখ্যার ওপর প্রযুক্ত হয় তা 'দশ' শব্দটির উল্লেখের মাধ্যমেই সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত, যদিও এর সাথে ব্যতিক্রম যুক্ত হওয়ার অবকাশ থাকে। তাছাড়া, সুনির্দিষ্টভাবে ইঙ্গিতকৃত বিষয়ের ওপর শর্তারোপ করা বা একে অন্য কোনো অবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট করা সম্ভব; কিন্তু যতক্ষণ তা শর্ত বা অবস্থার উল্লেখ থেকে মুক্ত থাকে, ততক্ষণ তা একে 'নস' হতে বাধা দেয় না।

আর আভিধানিক অর্থে 'নস' হলো: কোনো বিষয় প্রকাশ ও সুস্পষ্ট করার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত পর্যায়। এ থেকেই তাদের প্রবাদ: "আমি অমুকের কাছে হাদিসটি পৌঁছে দিয়েছি (নাসাসতু)", যার অর্থ হলো আমি এর মূল উৎস ও নির্গমনস্থল প্রকাশ করেছি। কবি বলেছেন:

আমি হাদিসটি তার যোগ্য লোকের কাছে পৌঁছে দেই … কেননা আমানতদারি এর সঠিক উৎস বর্ণনার মধ্যেই নিহিত।

এ থেকেই বাহন জন্তুর চলার ক্ষেত্রে 'নস' কথাটি এসেছে, যখন সে তার চূড়ান্ত গতি প্রকাশ করে।
(খণ্ড: ١) আল-ফুসুল ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ٦١)
قَالَ الشَّاعِر:

تَقْطَعُ الْخَرْقَ بِسَيْرِ نَصٍّ

، وَمِنْهُ الْمِنَصَّةُ، وَهُوَ الْفَرْشُ الَّذِي يُرْفَعُ لِيَقْعُدَ عَلَيْهِ الْعَرُوسُ (لِيَكُونَ ظَاهِرًا) لِلْحَاضِرَيْنِ، وَكَانَ أَبُو الْحَسَنِ الْكَرْخِيُّ رحمه الله يَقُولُ فِي مَعْنَى النَّصِّ نَحْوًا مِمَّا ذَكَرْنَا. وَكَانَ يَقُولُ أَيْضًا فِي اللَّفْظِ الْمُحْتَمِلِ لِضُرُوبٍ (مِنْ) التَّأْوِيلِ أَنَّ مَا قَامَتْ لَهُ الدَّلَالَةُ عَلَى بَعْضِ الْمَعَانِي أَنَّهُ (هُوَ) الْمُرَادُ جَازَ لَهُ أَنْ يَقُولَ (إنَّ) هَذَا نَصٌّ عِنْدِي، وَكَذَلِكَ إذَا رَوَى ذَلِكَ التَّأْوِيلَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَائِزٌ أَنْ يُقَالَ إنَّ ذَلِكَ نَصُّ الْكِتَابِ لِبَيَانِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرَادَ اللَّهِ تَعَالَى فِيهِ. وَذَلِكَ نَحْوُ قَوْله تَعَالَى: {فَقَدْ جَعَلْنَا لِوَلِيِّهِ سُلْطَانًا} [الإسراء: 33] يَحْتَمِلُ السُّلْطَانُ الْمَعَانِيَ الْمُخْتَلِفَةَ. فَإِذَا قَامَتْ الدَّلَالَةُ عِنْدَنَا عَلَى أَنَّ الْمُرَادَ (بِهِ) الْقَوَدُ جَازَ أَنْ يَقُولَ قَدْ نَصَّتْ هَذِهِ الْآيَةُ عَلَى إيجَابِ الْقَوَدِ لِوَلِيِّ الْمَقْتُولِ ظُلْمًا
কবি বলেছেন:

সে দ্রুত গতির চলার মাধ্যমে মরুভূমি পাড়ি দেয়

। আর এ থেকেই ‘মিনাসসাহ’ (উচ্চাসন) শব্দটি এসেছে, আর তা হলো সেই শয্যা যা উঁচু করা হয় যাতে কনে তার ওপর বসেন (যাতে তিনি উপস্থিতদের নিকট প্রকাশমান হন)। আর আবু হাসান আল-কারখী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) ‘নাস’ (সুস্পষ্ট ভাষ্য)-এর অর্থ সম্পর্কে আমরা যা উল্লেখ করেছি তার অনুরূপই বলতেন। তিনি সেই শব্দের ক্ষেত্রেও বলতেন যা বিভিন্ন প্রকার ব্যাখ্যার (তাবিল) সম্ভাবনা রাখে—যে, যখন কোনো নির্দিষ্ট অর্থের ওপর এই মর্মে দলিল প্রতিষ্ঠিত হয় যে এটিই উদ্দেশ্য, তখন তার জন্য এটা বলা বৈধ যে, ‘এটি আমার নিকট নাস’। একইভাবে যখন সেই ব্যাখ্যাটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়, তখন এটা বলা জায়েজ যে, তা কিতাবের (কুরআনের) নাস; কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এতে আল্লাহ তাআলার উদ্দেশ্য বর্ণনা করেছেন। আর এটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর অনুরূপ: {তবে আমি তার অভিভাবককে কর্তৃত্ব দান করেছি} [আল-ইসরা: ৩৩]। এখানে ‘কর্তৃত্ব’ (সুলতান) শব্দটি বিভিন্ন অর্থের সম্ভাবনা রাখে। অতঃপর যখন আমাদের নিকট এই দলিল প্রতিষ্ঠিত হয় যে এর দ্বারা কিসাস (কাওয়াদ) উদ্দেশ্য, তখন এটা বলা জায়েজ হবে যে, এই আয়াতটি অন্যায়ভাবে নিহত ব্যক্তির অভিভাবকের জন্য কিসাস সাব্যস্ত হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট ভাষ্য (নাস) প্রদান করেছে।
(খণ্ড: ١) আল-ফুসুল ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ٦٣)
‌‌[بَابٌ فِي مَعْنَى الْمُجْمَلِ] [‌‌فَصْل الْمُجْمَلُ عَلَى وَجْهَيْنِ]

فَصْلٌ: قَالَ أَبُو بَكْرٍ: الْمُجْمَلُ عَلَى وَجْهَيْنِ: أَحَدُهُمَا: يُقَارِبُ مَعْنَاهُ مَعْنَى الْعُمُومِ (لِأَنَّ الْعُمُومَ) لَا بُدَّ مِنْ أَنْ يَشْتَمِلَ عَلَى جُمْلَةٍ إذَا كَانَ يَقْتَضِي جَمْعًا مِنْ الْأَسْمَاءِ وَكُلُّ جَمْعٍ فَهُوَ جُمْلَةٌ. فَمَعْنَى الْعَامِّ وَالْمُجْمَلِ لَا يَخْتَلِفَانِ فِي هَذَا الْوَجْهِ. فَجَائِزٌ أَنْ يُعَبَّرَ بِالْمُجْمَلِ عَنْ الْعَامِّ

وَقَدْ ذَكَرَ أَبُو مُوسَى عِيسَى بْنُ أَبَانَ رحمه الله الْعَامَّ فِي مَوَاضِعَ فَسَمَّاهُ مُجْمَلًا، وَهَذَا كَلَامٌ فِي الْعِبَارَةِ لَا يَقَعُ فِي مِثْلِهِ مُضَايَقَةٌ. وَالْوَجْهُ الْآخَرُ: أَنْ يَكُونَ الْإِجْمَالُ فِي لَفْظٍ وَاحِدٍ مَجْهُولٍ فَهَذَا لَا يَكُونُ عُمُومًا وَلَا عِبَارَةَ عَنْهُ نَحْوُ قَوْله تَعَالَى {وَفِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ لِلسَّائِلِ وَالْمَحْرُومِ} [الذاريات: 19] ، (وَنَحْوُ قَوْلِ) الْقَائِلِ أَعْطِ زَيْدًا (حَقَّهُ) وَهُوَ مَا أُبَيِّنُهُ لَك بَعْدَ هَذَا، فَهَذَا مُجْمَلٌ لَيْسَ فِيهِ مَعْنَى الْعُمُومِ

فَالْمَعْقُولُ عِنْدَهُمْ مِنْ إطْلَاقِ لَفْظِ الْعُمُومِ: أَنَّهُ اللَّفْظُ الْمُشْتَمِلُ عَلَى مُسَمَّيَاتٍ قَدْ عُلِّقَ
[অধ্যায়: মুজমাল-এর অর্থ প্রসঙ্গে] [পরিচ্ছেদ: মুজমাল দুই প্রকার]

পরিচ্ছেদ: আবু বকর বলেন: মুজমাল দুই প্রকার: একটি হলো যার অর্থ ব্যাপকতা বা আম-এর অর্থের কাছাকাছি (কেননা ব্যাপকতা)-কে অবশ্যই একটি সমষ্টিকে অন্তর্ভুক্ত করতে হয় যখন তা একাধিক বিশেষ্যের সমষ্টির দাবি রাখে এবং প্রতিটি সমষ্টিই হলো একটি জুমলা বা সারসংক্ষেপ। সুতরাং আম এবং মুজমাল-এর অর্থ এই দিক থেকে ভিন্ন নয়। ফলে মুজমাল শব্দ দ্বারা আম-কে ব্যক্ত করা বৈধ।

আবু মুসা ঈসা ইবনে আবান (রহ.) বিভিন্ন স্থানে আম-কে উল্লেখ করেছেন এবং সেটিকে মুজমাল বলে অভিহিত করেছেন; এটি কেবল শব্দ চয়ন বা পরিভাষাগত বর্ণনা মাত্র, যাতে কোনো সংকীর্ণতার সুযোগ নেই। আর দ্বিতীয় প্রকারটি হলো: অস্পষ্টতা বা ইজমাল যখন এমন একটি একক শব্দের মধ্যে থাকে যা অজ্ঞাত, ফলে এটি ব্যাপকতা বা উমুম হয় না এবং এর দ্বারা আম-কে বুঝানোও যায় না। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আর তাদের ধন-সম্পদে যাঞ্চাকারী ও বঞ্চিতদের অধিকার রয়েছে" [আদ-যারিয়াত: ১৯], এবং যেমন কোনো বক্তার কথা: "যায়েদকে তার প্রাপ্য প্রদান করো", যা আমি আপনার কাছে এর পরে স্পষ্ট করব। সুতরাং এটি এমন মুজমাল যাতে ব্যাপকতার কোনো অর্থ নেই।

তাদের নিকট ব্যাপকতা বা উমুম শব্দটি প্রয়োগের যৌক্তিক অর্থ হলো: এটি এমন শব্দ যা এমন একাধিক নামভুক্ত বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে যার সাথে কোনো বিষয় সংশ্লিষ্ট করা হয়েছে...
(খণ্ড: ١) আল-ফুসুল ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ٦٤)
بِهِ حُكْمٌ يُمْكِنُ اسْتِعْمَالُهُ عَلَى ظَاهِرِهِ وَمَا تَنَاوَلَهُ لَفْظُهُ غَيْرُ مُفْتَقِرٍ إلَى بَيَانٍ مِنْ غَيْرِهِ. نَحْوُ قَوْله تَعَالَى {فَاقْتُلُوا الْمُشْرِكِينَ} [التوبة: 5] وَمَا أَشْبَهَهُ مِنْ أَلْفَاظِ الْجَمْعِ الْمُطْلَقِ.

وَأَمَّا الْمُجْمَلُ: فَهُوَ اللَّفْظُ الَّذِي يُمْكِنُ اسْتِعْمَالُ حُكْمِهِ عِنْدَ وُرُودِهِ، وَيَكُونُ مَوْقُوفًا عَلَى بَيَانٍ مِنْ غَيْرِهِ وَهُوَ عَلَى قِسْمَيْنِ. أَحَدُهُمَا: مَا يَكُونُ إجْمَالُهُ فِي نَفْسِ اللَّفْظِ بِأَنْ يَكُونَ اللَّفْظُ فِي نَفْسِهِ مُبْهَمًا غَيْرَ مَعْلُومٍ الْمُرَادُ عِنْدَ الْمُخَاطَبِينَ. وَالْقِسْمُ الْآخَرُ: أَنْ يَكُونَ اللَّفْظُ مِمَّا يُمْكِنُ اسْتِعْمَالُهُ لَوْ خَلَّيْنَا وَمَا يَقْتَضِيهِ ظَاهِرُهُ إلَّا أَنَّهُ يَصِيرُ فِي مَعْنَى الْمُجْمَلِ بِمَا يَقْتَرِنُ إلَيْهِ مِمَّا يُوجِبُ إجْمَالَهُ مِنْ لَفْظٍ أَوْ دَلَالَةٍ.

فَأَمَّا الْقِسْمُ الْأَوَّلُ: فَنَحْوُ قَوْله تَعَالَى {قُلْ اللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلَالَةِ} [النساء: 176] {وَآتُوا حَقَّهُ يَوْمَ حَصَادِهِ} [الأنعام: 141] وَ {حَتَّى يُعْطُوا الْجِزْيَةَ عَنْ يَدٍ وَهُمْ صَاغِرُونَ} [التوبة: 29] {فَقَدْ جَعَلْنَا لِوَلِيِّهِ سُلْطَانًا} [الإسراء: 33] وَقَوْلُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم -
এতে এমন বিধান রয়েছে যা তার বাহ্যিক রূপ অনুযায়ী প্রয়োগ করা সম্ভব এবং এর শব্দ যা অর্থ প্রকাশ করে তা অন্য কোনো ব্যাখ্যার মুখাপেক্ষী নয়। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমরা মুশরিকদের হত্যা করো} [আত-তাওবাহ: ৫] এবং এ জাতীয় সাধারণ বহুবাচক শব্দসমূহ।

আর মুজমাল (সংক্ষিপ্ত বা অস্পষ্ট) হলো: এমন শব্দ যা অবতীর্ণ হওয়ার সময় তার বিধান প্রয়োগ করা সম্ভব হয় না এবং তা অন্য কোনো ব্যাখ্যার ওপর নির্ভরশীল থাকে। এটি দুই প্রকার। এর একটি হলো: যার অস্পষ্টতা স্বয়ং শব্দের মধ্যেই থাকে, এভাবে যে শব্দটি নিজেই অস্পষ্ট এবং সম্বোধিত ব্যক্তিদের নিকট তার উদ্দেশ্য জ্ঞাত থাকে না। আর অন্য প্রকারটি হলো: শব্দটি এমন যা তার বাহ্যিক দাবি অনুযায়ী প্রয়োগ করা সম্ভব হতো যদি আমরা একে এককভাবে গ্রহণ করতাম, কিন্তু অন্য কোনো শব্দ বা প্রমাণের সংযুক্তির কারণে তা অস্পষ্টের (মুজমাল) অর্থে পরিণত হয় যা তার মধ্যে অস্পষ্টতা সৃষ্টি করাকে আবশ্যক করে।

প্রথম প্রকারের উদাহরণ হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {বলুন, আল্লাহ তোমাদেরকে কালালাহ (পিতামাতা ও সন্তানহীন ব্যক্তি) সম্পর্কে সমাধান দিচ্ছেন} [আন-নিসা: ১৭৬], {শস্য কাটার দিনে তার হক প্রদান করো} [আল-আনআম: ১৪১], {যতক্ষণ না তারা নত হয়ে নিজ হাতে জিজয়া প্রদান করে} [আত-তাওবাহ: ২৯], {আমি তার উত্তরাধিকারীকে কর্তৃত্ব দান করেছি} [আল-ইসরা: ৩৩] এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী -
(খণ্ড: ١) আল-ফুসুল ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ٦٥)
«أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ، فَإِذَا قَالُوهَا عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إلَّا بِحَقِّهَا» . وَقَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم «يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ يُؤْتَمَنُ فِيهِ الْخَائِنُ وَيُخَوَّنُ فِيهِ الْأَمِينُ وَيَتَكَلَّمُ فِيهِ الرُّوَيْبِضَةُ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا الرُّوَيْبِضَةُ؟ . قَالَ: سَفِيهُ الْقَوْمِ يَتَكَلَّمُ فِي أَمْرِ الْعَامَّةِ» وَقَدْ كَانَ السَّامِعُونَ لَهُ مِنْ أَهْلِ اللُّغَةِ وَلَمْ يَعْرِفُوا مَعْنَاهُ حَتَّى بَيَّنَهُ لَهُمْ بَعْدَ سُؤَالِهِمْ إيَّاهُ. وَكَقَوْلِ الْقَائِلِ أَعْطِ زَيْدًا حَقَّهُ فَهَذَا هُوَ الْمُجْمَلُ الَّذِي إجْمَالُهُ فِي نَفْسِ اللَّفْظِ وَلَا سَبِيلَ إلَى اسْتِعْمَالِ حُكْمِهِ إلَّا بِبَيَانٍ مِنْ غَيْرِهِ.

وَمِنْ هَذَا الضَّرْبِ أَسْمَاءُ الشَّرْعِ الْمَوْضُوعَةِ فِيهِ لِمَعَانٍ لَمْ تَكُنْ مَوْضُوعَةً لَهَا فِي اللُّغَةِ،
«আমি মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা বলে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। যখন তারা তা বলবে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ রক্ষা করে নেবে, তবে এর হকের বিষয়টি ভিন্ন»। এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: «মানুষের ওপর এমন এক সময় আসবে যখন বিশ্বাসঘাতককে বিশ্বস্ত মনে করা হবে এবং বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে বিশ্বাসঘাতক সাব্যস্ত করা হবে, আর তাতে রুয়াইবিযা কথা বলবে। জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! রুয়াইবিযা কী? তিনি বললেন: জাতির নির্বোধ ব্যক্তি, যে সাধারণ মানুষের (গুরুত্বপূর্ণ) বিষয়ে কথা বলে»। অথচ তাঁর এই বাণী শ্রবণকারীরা ছিলেন আরবি ভাষাভিজ্ঞ, তবুও তারা এর অর্থ বুঝতে পারেননি যতক্ষণ না তিনি তাদের জিজ্ঞাসার পর তা তাদের নিকট স্পষ্ট করেছেন। এবং যেমন কোনো বক্তার উক্তি: ‘যায়েদকে তার প্রাপ্য অধিকার (হক) প্রদান করো’; এটি হলো সেই মুজমাল (অস্পষ্ট) যার অস্পষ্টতা স্বয়ং শব্দের মধ্যেই নিহিত এবং অন্য কোনো উৎস থেকে ব্যাখ্যা ছাড়া এর বিধান কার্যকর করার কোনো উপায় নেই।

আর এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হলো শরিয়তের সেই সব পারিভাষিক নাম যা এমন সব অর্থের জন্য প্রবর্তন করা হয়েছে যার জন্য ভাষাতাত্ত্বিকভাবে সেগুলো নির্ধারিত ছিল না।
(খণ্ড: ١) আল-ফুসুল ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ٦٦)
نَحْوُ الرِّبَا فِي اللُّغَةِ الزِّيَادَةُ يُقَالُ: أَرْبَى فُلَانٌ عَلَى فُلَانٍ فِي الْقَوْلِ وَالْفِعْلِ، وَالرَّابِيَةُ هِيَ الْأَرْضُ الْمُرْتَفِعَةُ الزَّائِدَةُ عَلَى مَا يَلِيهَا. وَهُوَ فِي الشَّرْعِ اسْمٌ لَمَعَانٍ أُخَرَ غَيْرَ مَا كَانَ اسْمًا لَهُ فِي اللُّغَةِ. قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم «إنَّمَا الرِّبَا فِي النَّسِيئَةِ» وَقَالَ عُمَرُ رضي الله عنه " إنَّ مِنْ الرِّبَا أَبْوَابًا لَا تَخْفَى مِنْهَا السَّلَمُ فِي السِّنِّ " يَعْنِي (فِي) الْحَيَوَانِ. وَقَالَ عُمَرُ أَيْضًا " إنَّ آيَةَ الرِّبَا مِنْ آخَرِ مَا نَزَلَ مِنْ الْقُرْآنِ وَإِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تُوُفِّيَ (مِنْ) قَبْلِ أَنْ يُبَيِّنَهُ لَنَا فَدَعُوا الرِّبَا وَالرِّيبَةَ ".

ভাষাগতভাবে রিবা অর্থ হলো বৃদ্ধি। বলা হয়ে থাকে: অমুক ব্যক্তি কথা ও কাজে অমুকের ওপর আধিক্য বা বৃদ্ধি ঘটিয়েছে। আর 'রাবিয়াহ' হলো উচ্চভূমি যা তার পার্শ্ববর্তী ভূমির তুলনায় উঁচু। শরীয়তের পরিভাষায় এটি এমন কিছু অর্থের নাম যা এর আভিধানিক অর্থের চেয়ে ভিন্ন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "রিবা কেবল বাকিতে লেনদেনের (নাসীআহ) মধ্যেই সীমাবদ্ধ।" উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: "নিশ্চয়ই রিবার এমন কিছু প্রকার রয়েছে যা অস্পষ্ট নয়, তন্মধ্যে একটি হলো বয়সের ক্ষেত্রে সালাম (চুক্তি করা)," অর্থাৎ পশুর ক্ষেত্রে। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু আরও বলেছেন: "নিশ্চয়ই রিবার আয়াতটি কুরআনের সর্বশেষ অবতীর্ণ আয়াতসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি আমাদের নিকট বিস্তারিত বর্ণনা করার পূর্বেই ইন্তেকাল করেছেন; সুতরাং তোমরা রিবা এবং সন্দেহযুক্ত বিষয় বর্জন করো।"

(খণ্ড: ١) আল-ফুসুল ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ٦٧)
وَكَانَ عُمَرُ مِنْ أَهْلِ اللِّسَانِ، وَلَمْ يَكُنْ مُحْتَاجًا إلَى الْبَيَانِ فِيمَا (كَانَ) طَرِيقُ مَعْرِفَةِ اسْتِدْرَاكِهِ اللُّغَةَ، وَأَخْبَرَ مَعَ ذَلِكَ أَنَّ لَفْظَ الرِّبَا كَانَ مُفْتَقِرًا إلَى الْبَيَانِ إذْ كَانَ لَفْظًا شَرْعِيًّا قَدْ أُرِيدُ بِهِ مَا لَا يَنْتَظِمُهُ الِاسْمُ مِنْ طَرِيقِ اللُّغَةِ. وَالزَّكَاةُ هِيَ النَّمَاءُ، يُقَالُ: زَكَا الزَّرْعُ إذَا نَمَا. وَالصَّوْمُ: الْإِمْسَاكُ وَالْكَفُّ عَنْ الشَّيْءِ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {إنِّي نَذَرْتُ لِلرَّحْمَنِ صَوْمًا} [مريم: 26] يَعْنِي صَمْتًا. وَقَالَ امْرُؤُ الْقَيْسِ:

فَدَعْهَا وَسَلِّ الْهَمَّ عَنْك بِجَسْرَةٍ … ذَمُولٍ إذَا صَامَ النَّهَارَ وَهَجَّرَا
ওমর (রা.) ছিলেন আরব্য ভাষাভাষীদের অন্তর্ভুক্ত এবং ভাষার মাধ্যমে যা অনুধাবন করা সম্ভব, তা বুঝার ক্ষেত্রে তিনি কোনো ব্যাখ্যার মুখাপেক্ষী ছিলেন না। তা সত্ত্বেও তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, 'রিবা' (সুদ) শব্দটি ব্যাখ্যার মুখাপেক্ষী ছিল, যেহেতু এটি ছিল একটি শরয়ি পরিভাষা যার দ্বারা এমন বিষয় উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে যা আভিধানিক নামকরণের আওতায় বিন্যস্ত নয়। আর জাকাত হলো প্রবৃদ্ধি; বলা হয়: শস্য প্রবৃদ্ধ হয়েছে যখন তা বৃদ্ধি পায়। এবং সাওম হলো কোনো কিছু থেকে বিরত থাকা ও নিবৃত্ত থাকা। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমি পরম দয়াময় আল্লাহর উদ্দেশ্যে সাওমের মানত করেছি} [মারইয়াম: ২৬] অর্থাৎ মৌনতা। আর ইমরুল কায়েস বলেছেন:

সুতরাং তাকে বর্জন করো এবং এক শক্তিশালী উষ্ট্রীর মাধ্যমে তোমার দুশ্চিন্তা দূর করো … যা দ্রুতগামী যখন দিন স্থির হয় এবং তপ্ত মধ্যাহ্ন অতিক্রান্ত হয়।
(খণ্ড: ١) আল-ফুসুল ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ٦٨)
وَقَالَ النَّابِغَةُ:

خَيْلٌ صِيَامٌ وَخَيْلٌ غَيْرُ صَائِمَةٍ … تَحْتَ الْعَجَاجِ وَخَيْلٌ تَعْلُكُ اللُّجُمَا

وَالصَّلَاةُ الدُّعَاءُ فِي اللُّغَةِ، وَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [الأحزاب: 56] ، وَقَدْ أُرِيدَ بِهَذِهِ الْأَسْمَاءِ مَعَانِي لَمْ يَكُنْ الِاسْمُ مَوْضُوعًا (لَهَا) فِي اللُّغَةِ، فَمَتَى وَرَدَ شَيْءٌ مِنْ هَذِهِ الْأَلْفَاظِ مُطْلَقًا وَلَمْ يَكُنْ الْمُرَادُ بِهَا إشَارَةً إلَى مَعْهُودٍ فَهُوَ مُجْمَلٌ مُحْتَاجٌ إلَى الْبَيَانِ. وَقَدْ كَانَ شَيْخُنَا أَبُو الْحَسَنِ الْكَرْخِيُّ رحمه الله يَقُولُ مَرَّةً فِي قَوْله تَعَالَى: {وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا} [المائدة: 38] إنَّهُ (مِنْ الْمُجْمَلِ) لَا يَصِحُّ الِاحْتِجَاجُ بِعُمُومِهِ لِتَعَلُّقِ الْحُكْمِ
এবং নাবিগাহ বলেছেন:

কিছু ঘোড়া রোজা পালনকারী এবং কিছু ঘোড়া রোজা পালনকারী নয় … ধূলিঝড়ের নিচে এবং কিছু ঘোড়া লাগাম চিবুচ্ছে

আর আভিধানিক ভাষায় সালাত হলো দোয়া, এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ করো} [আল-আহযাব: ৫৬], আর এই নামগুলো দ্বারা এমন সব অর্থ উদ্দেশ্য করা হয়েছে যার জন্য ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে শব্দটি গঠন করা হয়নি। সুতরাং যখনই এই শব্দগুলোর কোনোটি নিঃশর্তভাবে আসে এবং তা দ্বারা সুপরিচিত কোনো বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করা উদ্দেশ্য না হয়, তখন তা 'মুজমাল' (সংক্ষিপ্ত), যা বিশদ ব্যাখ্যার মুখাপেক্ষী। এবং আমাদের শাইখ আবুল হাসান আল-কারখী (রহিমাহুল্লাহ) আল্লাহ তাআলার এই বাণী সম্পর্কে একবার বলতেন: {আর চোর পুরুষ ও চোর নারী, উভয়ের হাত কেটে দাও} [আল-মায়িদাহ: ৩৮], নিশ্চয়ই এটি 'মুজমাল'-এর অন্তর্ভুক্ত, এর ব্যাপকতা দিয়ে দলিল পেশ করা সঠিক নয় যেহেতু বিধানটির সংশ্লিষ্টতা...
(খণ্ড: ١) আল-ফুসুল ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ٦٩)
فِيهِ بِمَعَانٍ لَا يَنْتَظِمُهَا الِاسْمُ وَلَيْسَ هُوَ عِبَارَةً عَنْهَا، مِنْ نَحْوِ الْمِقْدَارِ وَالْحِرْزِ فَصَارَ كَاسْمِ الصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ وَالصَّوْمِ وَنَحْوِهَا لِتَعَلُّقِ الْحُكْمِ فِيهَا بِمَعَانٍ لَمْ يَكُنْ الِاسْمُ مَوْضُوعًا لَهَا فِي اللُّغَةِ.

قَالَ أَبُو بَكْرٍ: وَهَذَا عِنْدِي يُوجِبُ إجْمَالَهُ وَإِنْ كَانَ اللَّفْظُ قَدْ صَارَ مُجْمَلًا عِنْدِي مِنْ وَجْهٍ آخَرَ غَيْرَ هَذَا قَدْ بَيَّنَّاهُ فِي شَرْحِ (مُخْتَصَرِ الطَّحَاوِيِّ) .

وَأَمَّا الْقِسْمُ الْآخَرُ مِنْهُ: فَهُوَ أَنْ يَرِدَ لَفْظُ عُمُومٍ يُمْكِنُ اسْتِعْمَالُهُ عَلَى ظَاهِرِهِ فِيمَا انْتَظَمَهُ مَعْنَاهُ لَوْ اقْتَصَرَ عَلَيْهِ. فَتَعَلُّقُهُ بِمَعْنًى يُوجِبُ إجْمَالَهُ وَوُقُوعَهُ عَلَى وُرُودِ الْبَيَانِ فِيهِ نَحْوُ قَوْله تَعَالَى: {وَأُحِلَّتْ لَكُمْ الْأَنْعَامُ إلَّا مَا يُتْلَى عَلَيْكُمْ} [الحج: 30] فَصَارَ اللَّفْظُ (بِهِ) مُجْمَلًا إذَا أَرَادَ بِقَوْلِهِ {إلَّا مَا يُتْلَى عَلَيْكُمْ} [الحج: 30] (مِمَّا) قَدْ حَصَلَ تَحْرِيمُهُ الْآنَ وَأُبَيِّنُهُ لَكُمْ فِي الثَّانِي.
এতে এমন কিছু অর্থ বিদ্যমান যা মূল নামের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং নামটি তা সরাসরি প্রকাশ করে না, যেমন পরিমাণ ও হেফাজত (হির্জ)। ফলে এটি সালাত, যাকাত, সিয়াম ও তদ্রূপ নামসমূহের ন্যায় হয়ে গেছে; কারণ এগুলোর বিধান এমন কিছু অর্থের সাথে সংশ্লিষ্ট যার জন্য ভাষাগতভাবে এই নামগুলো গঠন করা হয়নি।

আবু বকর বলেন: আমার মতে এটি একে অস্পষ্ট (মুজমাল) করাকে আবশ্যক করে, যদিও শব্দটি আমার কাছে অন্য একটি কারণেও অস্পষ্ট হয়ে গেছে যা আমি (শারহু মুখতাসারিত তহাবী)-তে বর্ণনা করেছি।

আর এর অন্য প্রকারটি হলো: এমন একটি ব্যাপক শব্দ (আম) আসা যা তার বাহ্যিক অর্থের ওপর প্রয়োগ করা সম্ভব হতো যদি তা কেবল সেই অর্থের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত যা এর অন্তর্ভুক্ত। তবে একে এমন একটি অর্থের সাথে সংশ্লিষ্ট করা একে অস্পষ্ট করা এবং এতে ব্যাখ্যার আগমনের ওপর নির্ভরশীল হওয়াকে আবশ্যক করে; যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: “তোমাদের জন্য চতুষ্পদ জন্তু হালাল করা হয়েছে, তবে সেগুলো ব্যতীত যা তোমাদের নিকট তেলাওয়াত করা হয়” [আল-হাজ্জ: ৩০]। সুতরাং শব্দটি এর মাধ্যমে অস্পষ্ট হয়ে গেছে, যদি তিনি তাঁর বাণী “সেগুলো ব্যতীত যা তোমাদের নিকট তেলাওয়াত করা হয়” দ্বারা এমন কিছু উদ্দেশ্য করেন যার হারাম হওয়া এখনই সাব্যস্ত হয়েছে এবং যা আমি ভবিষ্যতে তোমাদের কাছে বর্ণনা করব।
(খণ্ড: ١) আল-ফুসুল ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ٧٠)
وَذَلِكَ لِأَنَّهُ (قَدْ يَجُوزُ أَنْ) يُرِيدَ بِقَوْلِهِ {إلَّا مَا يُتْلَى عَلَيْكُمْ} [الحج: 30] إلَّا مَا يَتَبَيَّنُ لَكُمْ مِمَّا قَدْ حَصَلَ تَحْرِيمُهُ الْآنَ. وَيَحْتَمِلُ أَنْ يُرِيدَ إلَّا مَا سَنُحَرِّمُ عَلَيْكُمْ. وَإِذَا كَانَ الْمُرَادُ الْوَجْهَ الثَّانِيَ لَمْ يَصِرْ لَفْظُ الْإِبَاحَةِ بِهِ مُجْمَلًا، (وَإِنَّمَا يَصِيرُ مُجْمَلًا) إذَا كَانَ الْمُرَادُ الْوَجْهَ الْأَوَّلَ. وَمِثْلُهُ قَوْله تَعَالَى {وَأُحِلَّ لَكُمْ مَا وَرَاءَ ذَلِكُمْ أَنْ تَبْتَغُوا بِأَمْوَالِكُمْ} [النساء: 24] فَلَوْ خَلَّيْنَا وَظَاهِرَهُ وَجَبَ اسْتِعْمَالُهُ عَلَى عُمُومِهِ فَلَمَّا قَرَنَ إلَيْهِ قَوْله تَعَالَى {مُحْصِنِينَ غَيْرَ مُسَافِحِينَ} [النساء: 24] احْتَمَلَ أَنْ يُرِيدَ أَنْ يَجْعَلَ كَوْنَهُ عَلَى صِفَةِ الْأَفْعَالِ شَرْطًا لِلْإِبَاحَةِ، فَإِنْ كَانَ كَذَلِكَ فَاللَّفْظُ مُجْمَلٌ لِأَنَّ الْإِبَاحَةَ مُعَلَّقَةٌ بِشَرْطِ حُصُولِ الْإِحْصَانِ بِالنِّكَاحِ وَالْإِحْصَانُ لَفْظٌ مُجْمَلٌ فَصَارَتْ الْإِبَاحَةُ مُجْمَلَةً مُفْتَقِرَةً إلَى الْبَيَانِ. وَيَحْتَمِلُ أَنْ يُرِيدَ بِقَوْلِهِ تَعَالَى {مُحْصِنِينَ} [النساء: 24] الْإِخْبَارَ بِحُصُولِ الْإِحْصَانِ بِالنِّكَاحِ فَيَصِيرَ حِينَئِذٍ عَقْدُ النِّكَاحِ شَرْطًا لِحُصُولِ الْإِحْصَانِ وَلَا يَكُونُ لَفْظُ الْإِبَاحَةِ مُجْمَلًا، وَ (مِنْ) نَحْوِ ذَلِكَ قَوْله تَعَالَى {فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمْ اللَّهُ} [البقرة: 222] . فَهَذِهِ الْإِبَاحَةُ لَا تَقُومُ بِنَفْسِهَا حَتَّى يَثْبُتَ أَنَّهَا مِمَّا أَمَرَ اللَّهُ بِهِ.

আর তা এই কারণে যে, মহান আল্লাহর বাণী—{তোমাদের নিকট যা তিলাওয়াত করা হয় তা ব্যতীত} [হজ্জ: ৩০] দ্বারা সম্ভবত উদ্দেশ্য করা হয়েছে সেই সকল বিষয় যা ইতিপূর্বে হারাম হওয়া সাব্যস্ত হয়েছে এবং যা এখন তোমাদের নিকট স্পষ্টভাবে বিবৃত হবে। আবার এমন সম্ভাবনাও রয়েছে যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই সকল বিষয় যা ভবিষ্যতে তোমাদের জন্য হারাম করা হবে। যদি দ্বিতীয় অর্থটি উদ্দেশ্য হয়, তবে এর দ্বারা বৈধতা জ্ঞাপক শব্দটি ‘মুজমাল’ (অস্পষ্ট) হয়ে যায় না; বরং এটি তখনই মুজমাল হয় যখন প্রথম অর্থটি উদ্দেশ্য নেওয়া হয়। এর একটি অনুরূপ দৃষ্টান্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী—{এদের বহির্ভূত নারীদের তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে যেন তোমরা তোমাদের সম্পদের বিনিময়ে তাদের অন্বেষণ করো} [নিসা: ২৪]। আমরা যদি শব্দটির বাহ্যিক রূপ বিবেচনা করি, তবে একে তার সাধারণ ব্যাপকতায় (উমুম) প্রয়োগ করা ওয়াজিব হবে। কিন্তু যখন এর সাথে মহান আল্লাহর বাণী—{বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে, ব্যভিচারে লিপ্ত না হয়ে} [নিসা: ২৪] সংযুক্ত করা হলো, তখন এ সম্ভাবনা তৈরি হলো যে, তিনি কার্যাবলীর বিশেষ এই গুণটিকে বৈধতার জন্য শর্ত হিসেবে নির্ধারণ করতে চেয়েছেন। যদি বিষয়টি এমন হয়, তবে শব্দটি ‘মুজমাল’ হিসেবে গণ্য হবে; কারণ বৈধতা এখানে বিবাহের মাধ্যমে ‘ইহসান’ (সতীত্ব রক্ষা) অর্জনের শর্তের ওপর নির্ভরশীল। আর ‘ইহসান’ শব্দটি একটি মুজমাল শব্দ, ফলে বৈধতার বিষয়টিও মুজমাল হয়ে গেল যা ব্যাখ্যার মুখাপেক্ষী। আবার এমন সম্ভাবনাও আছে যে, মহান আল্লাহর বাণী—{বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে} দ্বারা তিনি বিবাহের মাধ্যমে ইহসান অর্জিত হওয়ার সংবাদ দিতে চেয়েছেন; এমতাবস্থায় বিবাহের চুক্তিটি ইহসান অর্জনের শর্ত হিসেবে গণ্য হবে এবং বৈধতা জ্ঞাপক শব্দটি তখন আর মুজমাল থাকবে না। এর সদৃশ অন্য একটি উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী—{অতঃপর যখন তারা পবিত্র হবে, তখন তাদের নিকট গমন করো যেভাবে আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন} [বাকারা: ২২২]। সুতরাং এই বৈধতা ততক্ষণ পর্যন্ত সাব্যস্ত হবে না যতক্ষণ না এটি প্রমাণিত হয় যে এটি সেই নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহ প্রদান করেছেন।

(খণ্ড: ١) আল-ফুসুল ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ٧١)
وَمِمَّا يُضَاهِي ذَلِكَ أَنْ يَكُونَ مَا تَحْتَ الِاسْمِ مَعْلُومَ الْمَعْنَى إلَّا أَنَّ مُرَادَ الْمُخَاطِبِ فِيهِ الْبَعْضُ مِنْهُ غَيْرَ مُعَيَّنٍ فِي اللَّفْظِ يُعْلَمُ ذَلِكَ مَعَ وُرُودِ اللَّفْظِ لِاسْتِحَالَةِ اعْتِقَادِ الْعُمُومِ فِيهِ، فَيَصِيرُ اللَّفْظُ مُجْمَلًا مُحْتَاجًا إلَى الْبَيَانِ. وَذَلِكَ نَحْوُ قَوْله تَعَالَى: {وَافْعَلُوا الْخَيْرَ} [الحج: 77] لَيْسَ يَخْلُو قَوْلُهُ: {وَافْعَلُوا الْخَيْرَ} [الحج: 77] مِنْ أَنْ يَكُونَ الْمُرَادُ بِهِ الْوُجُوبَ أَوْ النَّدْبَ. فَإِنْ كَانَ الْمُرَادُ (بِهِ) الْوُجُوبَ اسْتَحَالَ اعْتِقَادُ الْعُمُومِ فِيهِ لِأَنَّهُ مَعْلُومٌ مَعَ وُرُودِ اللَّفْظِ امْتِنَاعُ اسْتِيعَابِ جَمِيعِهِ عَلَى وَجْهِ الْإِيجَابِ لِأَنَّهُ يُوجِبُ أَنْ يَكُونَ كُلُّ خَيْرٍ وَاجِبًا، وَيَسْتَحِيلُ أَيْضًا مِنْهُ فِعْلُ كُلِّ مَا يُسَمَّى خَيْرًا لِأَنَّهُ لَا يُحِيطُ بِهِ وَلَا يَتَأَتَّى لَهُ فِعْلُهُ. فَصَارَ حِينَئِذٍ كَقَوْلِهِ افْعَلُوا بَعْضَ الْخَيْرِ عَلَى وَجْهِ الْوُجُوبِ، وَذَلِكَ الْبَعْضُ غَيْرُ مَعْلُومٍ مِنْ اللَّفْظِ فَحُكْمُهُ مَوْقُوفٌ عَلَى الدَّلِيلِ، وَهُوَ فِي هَذَا الْوَجْهِ بِمَنْزِلَةِ قَوْلِهِ صُومُوا لَمَّا لَمْ يَجُزْ أَنْ يَكُونَ الْمُرَادُ الْإِمْسَاكَ عَنْ كُلِّ شَيْءٍ صَارَ بِمَنْزِلَةِ قَوْلِهِ امْسِكُوا عَنْ بَعْضِ الْأَشْيَاءِ. فَاللَّفْظُ مُجْمَلٌ مُفْتَقِرٌ إلَى الْبَيَانِ. هَذَا إذَا كَانَ الْمُرَادُ بِاللَّفْظِ الْإِيجَابَ. فَإِنْ كَانَ الْمُرَادُ بِقَوْلِهِ {وَافْعَلُوا الْخَيْرَ} [الحج: 77] النَّدْبَ صَحَّ أَنْ يَكُونَ الْمُرَادُ بِهِ الْجِنْسَ كُلَّهُ عَلَى حَسَبِ مَا يَخْتَارُهُ، فَيَصِيرُ تَقْدِيرُهُ افْعَلُوا مِنْ الْخَيْرِ مَا شِئْتُمْ فَإِنَّكُمْ مَنْدُوبُونَ إلَيْهِ وَمُثَابُونَ عَلَيْهِ.

وَكَيْفَمَا تَصَرَّفَتْ الْحَالُ فَالِاحْتِجَاجُ بِقَوْلِهِ {وَافْعَلُوا الْخَيْرَ} [الحج: 77] فِي إيجَابِ شَيْءٍ مِنْ الْأَحْكَامِ سَاقِطٌ. وَمِنْ نَحْوِ ذَلِكَ قَوْله تَعَالَى: {لَا يَسْتَوِي أَصْحَابُ النَّارِ وَأَصْحَابُ الْجَنَّةِ} [الحشر: 20] .
এবং এর সদৃশ বিষয় হলো এমন কিছু হওয়া যার শব্দের অর্থ জানা, তবে বক্তার উদ্দেশ্য হলো এর মধ্য থেকে এমন কিছু অংশ যা শব্দের দ্বারা নির্দিষ্ট নয়। শব্দের উপস্থিতির সাথে সাথেই এটি জানা যায় কারণ এতে ব্যাপকতা বিশ্বাস করা অসম্ভব। ফলে শব্দটি অস্পষ্ট হয়ে পড়ে এবং ব্যাখ্যার মুখাপেক্ষী হয়। আর তা মহান আল্লাহর বাণীর ন্যায়: "এবং তোমরা কল্যাণ করো" [হজ: ৭৭]। তাঁর বাণী "এবং তোমরা কল্যাণ করো" [হজ: ৭৭]-এর উদ্দেশ্য আবশ্যকতা অথবা পছন্দনীয়তা হওয়া থেকে মুক্ত নয়। যদি এর দ্বারা আবশ্যকতা উদ্দেশ্য হয়, তবে এতে ব্যাপকতা বিশ্বাস করা অসম্ভব; কারণ শব্দটির উপস্থিতির সাথে সাথেই এটি জানা যায় যে, আবশ্যকতার ভিত্তিতে এর সকল অংশকে অন্তর্ভুক্ত করা অসম্ভব। কারণ এটি প্রতিটি কল্যাণমূলক কাজকে আবশ্যক করে দেবে। অথচ কল্যাণ নামে অভিহিত সকল কাজ সম্পাদন করাও অসম্ভব, কারণ মানুষ একে আয়ত্ত করতে পারে না এবং তা করা তার পক্ষে সম্ভবও নয়। এমতাবস্থায় এটি যেন এরূপ দাঁড়াল: "তোমরা আবশ্যক হিসেবে কিছু কল্যাণ করো।" আর সেই 'কিছু' অংশটি শব্দের মাধ্যমে জানা যায় না, ফলে এর বিধান প্রমাণের ওপর স্থগিত থাকে। আর এই দিক থেকে এটি "তোমরা রোজা রাখো" বাণীর ন্যায়; যেহেতু সব কিছু থেকে বিরত থাকা উদ্দেশ্য হওয়া বৈধ নয়, তাই এটি "তোমরা কিছু বস্তু থেকে বিরত থাকো" বাণীর পর্যায়ভুক্ত হয়েছে। সুতরাং শব্দটি অস্পষ্ট এবং ব্যাখ্যার মুখাপেক্ষী। এটি তখনই হবে যখন শব্দের দ্বারা আবশ্যকতা উদ্দেশ্য হবে। আর যদি তাঁর বাণী "এবং তোমরা কল্যাণ করো" [হজ: ৭৭] দ্বারা পছন্দনীয়তা উদ্দেশ্য হয়, তবে ব্যক্তির ইচ্ছানুযায়ী এর দ্বারা সম্পূর্ণ প্রকারটিই উদ্দেশ্য হওয়া সঠিক হতে পারে। এমতাবস্থায় এর মর্ম হবে: "তোমরা কল্যাণ থেকে যা ইচ্ছা করো, কেননা তোমাদেরকে এর প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে এবং এর জন্য তোমরা পুরস্কারপ্রাপ্ত হবে।"

অবস্থা যাই হোক না কেন, কোনো বিধানকে আবশ্যক করার ক্ষেত্রে তাঁর বাণী "এবং তোমরা কল্যাণ করো" [হজ: ৭৭] দ্বারা দলিল পেশ করা অকার্যকর। আর এর সদৃশ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "জাহান্নামের অধিবাসী এবং জান্নাতের অধিবাসী সমান নয়" [হাশর: ২০]।