(খণ্ড: ১)
আয-যাইল আলা জুযই বাকি ইবনে মাখলাদ মিন আহাদীসিল হাওদ
(পৃষ্ঠা: -)
الذيل على جزء بقي بن مخلد من أحاديث الحوض القسم: كتب السنة
الكتاب: الذيل على جزء بقي بن مخلد من أحاديث الحوض (مطبوع مع كتاب الحوض والكوثر لبقي بن مخلد)
المؤلف: أبو القاسم خلف بن عبد الملك بن مسعود بن بشكوال الخزرجي الأنصاري الأندلسي (ت 578هـ)
المحقق: عبد القادر محمد عطا صوفي
الناشر: مكتبة العلوم والحكم - المدينة المنورة
الطبعة: الأولى، 1413
عدد الصفحات: 170
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
হাওয সম্পর্কিত হাদীসসমূহের বর্ণনায় বাকি ইবনে মাখলাদের জুয-এর পরিশিষ্ট (যাইল) বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: হাওয সম্পর্কিত হাদীসসমূহের বর্ণনায় বাকি ইবনে মাখলাদের জুয-এর পরিশিষ্ট (যাইল) (বাকি ইবনে মাখলাদের কিতাবুল হাওয ওয়াল কাওসার-এর সাথে মুদ্রিত)
লেখক: আবুল কাসেম খালাফ বিন আব্দুল মালিক বিন মাসউদ বিন বাশকুওয়াল আল-খাযরাজী আল-আনসারী আল-আন্দালুসী (মৃ. ৫৭৮ হি.)
সম্পাদক: আব্দুল কাদির মুহাম্মদ আতা সূফী
প্রকাশক: মাকতাবাতুল উলূম ওয়াল হিকাম - মদীনা মুনাওয়ারা
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৩
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭০
[কিতাবটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আয-যাইল আলা জুযই বাকি ইবনে মাখলাদ মিন আহাদীসিল হাওদ
(পৃষ্ঠা: ১১১)
هَذَا مَا ذيل بِهِ ابْن بشكوال جُزْء بَقِي ابْن مخلد رَحمَه الله تَعَالَى من أَحَادِيث الْحَوْض بأسانيده كَمَا أُشير إِلَيْك فِي البدءرِوَايَة الصنابح
45 - أَنا صاحبنا الْفَقِيه الْحَافِظ الْمُحدث أَبُو الْوَلِيد يُوسُف بن عبد الْعَزِيز حفظه الله قِرَاءَة مِنْهُ علينا بِلَفْظِهِ فِي منزله وَمن خطّ يَده نقلته قَالَ أخبرنَا الشَّيْخ أَبُو عبد الله أَحْمد بن مُحَمَّد الْخَولَانِيّ إجَازَة بِخَطِّهِ عَن أبي ذَر عبد بن أَحْمد الْهَرَوِيّ قَالَ نَا مُحَمَّد بن عبد الله بن مُحَمَّد بن جبرويه قَالَ نَا الْحُسَيْن بن إِدْرِيس قَالَ نَا عُثْمَان بن أبي شيبَة قَالَ نَا جرير بن عبد الحميد ووكيع بن الْجراح وَيزِيد بن هَارُون وَإِسْمَاعِيل بن أبي خَالِد عَن قيس بن أبي حَازِم عَن الصنابح هُوَ ابْن الأعسر قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول أَنا فَرَطكُمْ على الْحَوْض وَإِنِّي مُكَاثِر بكم الْأُمَم أَلا فَلَا تقتتلوا
এটিই সেই অংশ যা ইবনে বাশকুয়াল রহমাতুল্লাহি তা'আলা তাঁর সনদের মাধ্যমে হাউজ সংক্রান্ত হাদিসসমূহ থেকে বাকি ইবনে মাখলাদের অংশে পরিশিষ্ট হিসেবে যুক্ত করেছেন, যেমনটি শুরুতে আপনার নিকট ইঙ্গিত করা হয়েছে।সুনাবেহী-র বর্ণনা
৪৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমাদের সাথী ফকিহ, হাফিজ, মুহাদ্দিস আবু আল-ওয়ালিদ ইউসুফ ইবনে আব্দুল আজিজ হাফিজাহুল্লাহ। তাঁর নিজ বাসভবনে তাঁর নিজ কণ্ঠে আমাদের সম্মুখে পাঠ করার মাধ্যমে এবং তাঁর স্বহস্ত লিখিত পাণ্ডুলিপি থেকে আমি তা নকল করেছি। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবু আব্দুল্লাহ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-খাওলানি তাঁর স্বহস্ত লিখিত ইজাজতের মাধ্যমে আবু জার আবদ ইবনে আহমদ আল-হারাভি থেকে। তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাবরুয়াইহ। তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন হুসাইন ইবনে ইদ্রিস। তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে আবি শাইবাহ। তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন জারির ইবনে আব্দুল হামিদ, ওয়াকি ইবনে আল-জাররাহ, ইয়াজিদ ইবনে হারুন এবং ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ; তারা কায়েস ইবনে আবি হাজিম থেকে, আর তিনি সুনাবেহী (যিনি ইবনুল আসআর নামে পরিচিত) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "আমি হাউজের কিনারায় তোমাদের অগ্রগামী থাকব এবং আমি তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে অন্য উম্মতদের ওপর গর্ব করব; সাবধান! তোমরা একে অপরের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়ো না।"
(খণ্ড: ১)
আয-যাইল আলা জুযই বাকি ইবনে মাখলাদ মিন আহাদীসিল হাওদ
(পৃষ্ঠা: ১১২)
بعدِي
46 - قَالَ أَبُو ذَر أخبرناه أَبُو الْفضل بن أبي الْقَاسِم قَالَ نَا مُحَمَّد بن عبد الرَّحْمَن السّلمِيّ قَالَ نَا أَبُو الصَّلْت قَالَ نَا سُفْيَان عَن إِسْمَاعِيل بن أبي خَالِد عَن قيس بن أبي حَازِم عَن الصنَابحِي شيخ من بجيلة قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَنا فَرَطكُمْ على الْحَوْض وَأَنا مُكَاثِر بكم الْأُمَم فَلَا تقتتلوا بعدِي هَكَذَا قَالَ الصنَابحِي أَبُو الصَّلْت عَن سُفْيَان وَخَالفهُ غَيره فَقَالَ الصنابح وَقَالَ ابْن الْمُبَارك أَيْضا الصنَابحِي
47 - أخبرناه مُحَمَّد بن عمر بن حفصوية قَالَ نَا يزِيد قَالَ نَا عبد الْجَبَّار بن الْعَلَاء قَالَ نَا سُفْيَان عَن ابْن أبي خَالِد قَالَ سَمِعت قيسا يَقُول سَمِعت الصنابح الأحمسي يَقُول سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول أَلا إِنِّي فَرَطكُمْ على الْحَوْض وَإِنِّي مُكَاثِر بكم الْأُمَم فَلَا تقتتلن بعدِي
48 - أَنا أَبُو حَفْص بن شاهين قَالَ نَا عبد الله بن سُلَيْمَان قَالَ نَا مُحَمَّد بن آدم المصِّيصِي قَالَ نَا ابْن الْمُبَارك عَن إِسْمَاعِيل بن أبي خَالِد عَن قيس بن أبي حَازِم عَن الصنَابحِي عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ
আমার পরে
৪৬ - আবু যার বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফজল ইবনে আবিল কাসিম, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আস-সুলামি, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবুস সালত, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, তিনি ইসমাঈল ইবনে আবি খালিদ থেকে, তিনি কায়েস ইবনে আবি হাজিম থেকে, তিনি বাজিলা গোত্রের একজন শায়খ সুন্নাবিহি থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি হাওযের পাড়ে তোমাদের অগ্রগামী হব এবং তোমাদের মাধ্যমে আমি অন্যান্য উম্মতের ওপর সংখ্যাধিক্য প্রকাশ করব। সুতরাং তোমরা আমার পরে একে অপরের সাথে লড়াই করো না।" আবুস সালত সুফিয়ান থেকে এভাবেই 'সুন্নাবিহি' নামটি উল্লেখ করেছেন, তবে অন্যরা তার বিরোধিতা করে 'সুন্নাবিহ' বলেছেন। ইবনুল মুবারকও 'সুন্নাবিহি' বলেছেন।
৪৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনে হাফসাওয়িয়া, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল جাব্বার ইবনুল আলা, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, তিনি ইবনে আবি খালিদ থেকে, তিনি বলেন, আমি কায়েসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি সুন্নাবিহ আল-আহমাসিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসুলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতে শুনেছি যে: "জেনে রেখো, আমি হাওযের পাড়ে তোমাদের অগ্রগামী হব এবং আমি তোমাদের মাধ্যমে অন্যান্য উম্মতের ওপর সংখ্যাধিক্য প্রকাশ করব। সুতরাং তোমরা আমার পরে অবশ্যই একে অপরের সাথে লড়াই করবে না।"
৪৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাফস ইবনে শাহিন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে সুলাইমান, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আদম আল-মাসসিসি, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইবনুল মুবারক, তিনি ইসমাঈল ইবনে আবি খালিদ থেকে, তিনি কায়েস ইবনে আবি হাজিম থেকে, তিনি সুন্নাবিহি থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন-
(খণ্ড: ১)
আয-যাইল আলা জুযই বাকি ইবনে মাখলাদ মিন আহাদীসিল হাওদ
(পৃষ্ঠা: ১১৩)
أَنا فَرَطكُمْ على الْحَوْض وَإِنِّي مُكَاثِر بكم الْأُمَم فَلَا تقتتلن بعدِي انْتهى
আমি হাউযের নিকট তোমাদের অগ্রগামী থাকব এবং আমি তোমাদের মাধ্যমে অন্যান্য উম্মতের ওপর সংখ্যাধিক্যের গৌরব করব; সুতরাং আমার পরে তোমরা একে অপরের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়ো না। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
আয-যাইল আলা জুযই বাকি ইবনে মাখলাদ মিন আহাদীসিল হাওদ
(পৃষ্ঠা: ১১৪)
مَا رَوَاهُ الْبَراء بن عَازِب 49 - أخبرنَا أَبُو أَحْمد بن عمر بن أنس نَا مكي بن عَليّ نَا أَحْمد بن عبد الله بن زُرَيْق قَالَ نَا أَبُو الْأَشْعَث قَالَ نَا مُحَمَّد بن بشر قَالَ نَا شُعْبَة عَن يزِيد بن أبي زِيَاد قَالَ سَمِعت ابْن أبي ليلى يَقُول سَمِعت الْبَراء بن عَازِب فِي هَذَا الْمجْلس يحدث قوما قَالَ رَأَيْت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم حِين افْتتح الصَّلَاة رفع يَدَيْهِ فِي أول تَكْبِيرَة وَقَالَ للْأَنْصَار إِنَّكُم سَتَرَوْنَ بعدِي أَثَرَة قَالُوا يَا رَسُول الله فَمَا تَأْمُرنَا قَالَ تصبروا حَتَّى تردوا عَليّ الْحَوْض
আল-বারা বিন আযিব যা বর্ণনা করেছেন ৪৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমাদ বিন উমর বিন আনাস, তিনি বলেন আমাদের বর্ণনা করেছেন মাক্কী বিন আলী, তিনি বলেন আমাদের বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন যুরাইক, তিনি বলেন আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু আল-আশ’আস, তিনি বলেন আমাদের বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন বিশর, তিনি বলেন আমাদের বর্ণনা করেছেন শু’বাহ, ইয়াযিদ বিন আবি যিয়াদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি ইবনে আবি লাইলা-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন আমি আল-বারা বিন আযিব-কে এই মজলিসে একদল লোকের নিকট বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে দেখেছি, যখন তিনি সালাত শুরু করতেন তখন প্রথম তাকবীরে তাঁর হাত দুটি উত্তোলন করতেন। এবং তিনি আনসারদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই তোমরা আমার পরে পক্ষপাতিত্ব দেখতে পাবে।" তারা বলল: "হে আল্লাহর রাসূল! তবে আপনি আমাদের কী নির্দেশ দিচ্ছেন?" তিনি বললেন: "তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, যতক্ষণ না হাউজে (কাওসারে) আমার সাথে সাক্ষাৎ করো।"
(খণ্ড: ১)
আয-যাইল আলা জুযই বাকি ইবনে মাখলাদ মিন আহাদীসিল হাওদ
(পৃষ্ঠা: ১১৫)
مَا رَوَت مَيْمُونَة فِي الْحَوْض وَلم يذكرهُ بَقِي 50 - حَدثنَا أَبُو مُحَمَّد نَا عمر بن عبد الله نَا عبد الرَّحْمَن بن مُحَمَّد نَا مُحَمَّد بن أَحْمد بن مفرج نَا أَبُو الْحسن أَحْمد بن عبد الرَّحْمَن القَاضِي نَا عَمْرو بن ثَوْبَان نَا فديك بن سُلَيْمَان عَن يَعْنِي أَبَا سعيد عَن يزِيد بن الْأَحْمَر عَن مَيْمُونَة زوج النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَت دخل علينا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَنحن جُلُوس فَقَالَ أولكن يرد عَليّ الْحَوْض أَطْوَلكُنَّ يدا فَجعلنَا نقدر أذرعنا أَيَّتنَا أطول يدا قَالَت فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم (لست ذَاك أَعنِي إِنَّمَا أَعنِي أصنعكن يدا)
হাউয সম্পর্কে মাইমুনা যা বর্ণনা করেছেন এবং বাক্বী যা উল্লেখ করেননি ৫০ - আমাদের নিকট আবু মুহাম্মাদ বর্ণনা করেছেন, উমর ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে মুফাররাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবুল হাসান আহমাদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-ক্বাযী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনে সাওবান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ফুদাইক ইবনে সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু সাঈদ থেকে, তিনি ইয়াযীদ ইবনে আল-আহমার থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী মাইমুনা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট প্রবেশ করলেন যখন আমরা উপবিষ্ট ছিলাম। অতঃপর তিনি বললেন: "তোমাদের মধ্যে যার হাত সবচেয়ে দীর্ঘ, সেই হাউযের নিকট সর্বপ্রথম আমার নিকট পৌঁছাবে।" তিনি (মাইমুনা) বলেন: তখন আমরা আমাদের হাত মেপে দেখতে শুরু করলাম যে আমাদের মধ্যে কার হাত সবচেয়ে দীর্ঘ। তিনি বলেন: তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "আমি সেটা বুঝাইনি; বরং আমি তোমাদের মধ্যে যে সবচেয়ে বেশি কর্মঠ হাতবিশিষ্টা (দানশীলা) তাকেই বুঝিয়েছি।"
(খণ্ড: ১)
আয-যাইল আলা জুযই বাকি ইবনে মাখলাদ মিন আহাদীসিল হাওদ
(পৃষ্ঠা: ১১৬)
مَا رَوَاهُ جَابر بن عبد الله 51 - حَدثنَا أَبُو مُحَمَّد بن عبد الرَّحْمَن بن مُحَمَّد بن عتاب قِرَاءَة عَلَيْهِ مني قَالَ نَا لبيد قَالَ نَا عبد الرَّحْمَن بن مَرْوَان قَالَ نَا الْبَاجِيّ قَالَ نَا الزبيدِيّ نَا مُحَمَّد بن حميد نَا أَحْمد بن دَاوُد نَا عَليّ بن قُتَيْبَة الرِّفَاعِي قَالَ نَا مَالك بن أنس عَن أبي الزبير عَن جَابر بن عبد الله قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بروا آبَاءَكُم تبركم أبناؤكم وعفوا تعف نِسَاؤُكُمْ وَمن تنصل إِلَيْهِ فَلم يقبل فَلَنْ يرد عَليّ الْحَوْض
জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ যা বর্ণনা করেছেন ৫১ - আবু মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আত্তাব আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, যা আমি তাঁর নিকট পাঠ করেছি; তিনি বলেন, লুবাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, আব্দুর রহমান ইবনে মারওয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, আল-বাজী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, আয-যুবাইদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; মুহাম্মদ ইবনে হুমাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; আহমদ ইবনে দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; আলী ইবনে কুতাইবা আর-রিফায়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, মালিক ইবনে আনাস আমাদের নিকট আবু যুবাইর হতে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: তোমরা তোমাদের পিতাদের সাথে সদাচরণ করো, তবে তোমাদের সন্তানরাও তোমাদের সাথে সদাচরণ করবে; এবং তোমরা পবিত্রতা বজায় রাখো, তবে তোমাদের মহিলারাও পবিত্র থাকবে; আর যার নিকট কোনো ব্যক্তি ওজর পেশ করল কিন্তু সে তা গ্রহণ করল না, সে হাউজে আমার নিকট উপস্থিত হতে পারবে না।
(খণ্ড: ১)
আয-যাইল আলা জুযই বাকি ইবনে মাখলাদ মিন আহাদীসিল হাওদ
(পৃষ্ঠা: ১১৭)
مَا رَوَاهُ أسيد بن حضير فِي الْحَوْض 52 - أخبرنَا أَبُو مُحَمَّد بن عتاب قِرَاءَة عَلَيْهِ وَأَنا أسمع قَالَ نَا أبي قَالَ نَا خلف بن يحيى قَالَ نَا عبد الله بن يُوسُف قَالَ نَا مُحَمَّد بن وضاح قَالَ نَا أَبُو بكر ابْن أبي شيبَة نَا يزِيد بن هَارُون قَالَ أَنا شُعْبَة عَن قَتَادَة عَن أنس عَن اسيد بن حضير أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّكُم سَتَرَوْنَ بعدِي أَثَرَة فَقَالُوا فَمَا تَأْمُرنَا قَالَ فاصبرا حَتَّى تَلْقَوْنِي على الْحَوْض
হাউজ সম্পর্কে উসাইদ ইবনে হুদায়র যা বর্ণনা করেছেন ৫২ - আবু মুহাম্মদ ইবনে আত্তাব আমাদের কাছে পাঠের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন এবং আমি তা শুনছিলাম, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, খালাফ ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবনে ওয়াদদাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইয়াযিদ ইবনে হারুন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, শু'বাহ আমাদের কাতাদাহ থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আনাস থেকে, তিনি উসাইদ ইবনে হুদায়র থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "নিশ্চয়ই তোমরা আমার পরে স্বার্থপরতা ও স্বজনপ্রীতি দেখতে পাবে।" তারা বললেন, "তাহলে আপনি আমাদের কী নির্দেশ দিচ্ছেন?" তিনি বললেন, "তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, যতক্ষণ না হাউজের পাড়ে আমার সাথে তোমাদের সাক্ষাৎ হয়।"
(খণ্ড: ১)
আয-যাইল আলা জুযই বাকি ইবনে মাখলাদ মিন আহাদীসিল হাওদ
(পৃষ্ঠা: ১১৮)
مَا رَوَاهُ عبد الله بن مَسْعُود 53 - نَا ابْن عتاب نَا عبد الله بن يحيى صاحبنا أَنا مُحَمَّد بن أَحْمد الرَّازِيّ نَا أَبُو الْحسن عبد الْملك بن عبد الله بن مِسْكين بِمصْر نَا أَبُو الْعَبَّاس الْأَبْيَض نَا النَّسَائِيّ إملاء نَا إِسْحَاق بن إِبْرَاهِيم أَنا جرير عَن الْمُغيرَة عَن أبي وَائِل عَن عبد الله أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ أَنا فَرَطكُمْ على الْحَوْض رَوَاهُ البُخَارِيّ فِي جَامعه فَقَالَ حَدثنِي يحيى بن حَمَّاد حَدثنَا أَبُو عوَانَة عَن سُلَيْمَان عَن أبي وَائِل عَن عبد الله فَذكره
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ যা বর্ণনা করেছেন ৫৩ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইবনে আততাব, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আমাদের সাথী আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াহইয়া, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-রাজি, মিসরে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান আবদুল মালিক ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মিসকিন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস আল-আবইয়াদ, ইমাম নাসায়ি শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে ইবরাহিম, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জারির, তিনি মুগিরা থেকে, তিনি আবু ওয়ায়েল থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাললাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি হাউজের পাড়ে তোমাদের অগ্রবর্তী থাকব।" ইমাম বুখারি এটি তাঁর জামে গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে হাম্মাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু আওয়ানা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুলাইমান থেকে, তিনি আবু ওয়ায়েল থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ থেকে, অতঃপর তিনি এটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আয-যাইল আলা জুযই বাকি ইবনে মাখলাদ মিন আহাদীসিল হাওদ
(পৃষ্ঠা: ১১৯)
مَا رَوَاهُ أَبُو الدَّرْدَاء 54 - نَا أَبُو مُحَمَّد بن عتاب نَا حَاتِم نَا أَحْمد بن مُحَمَّد نَا ابْن مفرج نَا أَحْمد بن سهل نَا عبد الله بن مُحَمَّد الْمَقْدِسِي قَالَ نَا هِشَام بن عمار قَالَ نَا يحيى بن حَمْزَة قَالَ أَنا يزِيد بن أبي مَرْيَم أَن أَبَا عبيد الله حَدثهُ عَن أبي الدَّرْدَاء قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَنا فَرَطكُمْ على الْحَوْض فلأعرفن مَا نوزعت فِي أحد مِنْكُم فَأَقُول هَذَا مني فَيُقَال إِنَّك لَا تَدْرِي مَا أحدث بعْدك فَقلت يَا رَسُول الله ادْع الله أَن لَا يَجْعَلنِي مِنْهُم فَقَالَ لست مِنْهُم
আবু আদ-দারদা যা বর্ণনা করেছেন ৫৪ - আমাদের নিকট আবু মুহাম্মদ ইবনে আত্তাব বর্ণনা করেছেন, তিনি হাতেম থেকে, তিনি আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি ইবনে মুফাররাজ থেকে, তিনি আহমাদ ইবনে সাহল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-মাকদিসি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হিশাম ইবনে আম্মার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে হামযাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাকে ইয়াযিদ ইবনে আবি মারইয়াম সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু উবাইদুল্লাহ তাকে আবু আদ-দারদা থেকে হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমি হাউযের নিকট তোমাদের অগ্রগামী থাকব। তোমাদের মধ্য থেকে যাদের (আমার থেকে) সরিয়ে নেওয়া হবে, তাদের আমি অবশ্যই চিনতে পারব। তখন আমি বলব, ‘এ তো আমার লোক!’ তখন বলা হবে, ‘নিশ্চয়ই আপনি জানেন না আপনার পরে তারা (ধর্মে) কী নতুন বিষয় উদ্ভাবন করেছিল।’ আমি (আবু আদ-দারদা) বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কাছে দুআ করুন যেন তিনি আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত না করেন।’ তিনি বললেন, ‘তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত নও’।”
(খণ্ড: ১)
আয-যাইল আলা জুযই বাকি ইবনে মাখলাদ মিন আহাদীসিল হাওদ
(পৃষ্ঠা: ১২০)
مَا رَوَاهُ أَبُو بكرَة 55 - أَنا أَبُو مُحَمَّد بن عتاب نَا حَاتِم بن مُحَمَّد نَا أَحْمد بن مُحَمَّد الْمُقْرِئ أَنا ابْن مفرج قَالَ نَا أَحْمد بن إِسْمَاعِيل بن عَاصِم قَالَ نَا أَبُو زرْعَة الدِّمَشْقِي قَالَ نَا مُحَمَّد بن بكار قَالَ نَا سعيد عَن قَتَادَة عَن الْحسن عَن أبي بكرَة أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ ليردن على الْحَوْض أَقوام حَتَّى إِذا رفعوا إِلَيّ ورأيتهم اختلجوا دوني فلأقولن ردوا إِلَيّ أَصْحَابِي فَيَقُول لَا تَدْرِي مَا أَحْدَثُوا بعْدك
আবু বাকরাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে ৫৫ - আবু মুহাম্মাদ ইবনে আত্তাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাতিম ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-মুকরী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইবনে মুফাররাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে ইসমাঈল ইবনে আসিম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু যুরআহ আদ-দিমাশকী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে বাক্কার আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: সাঈদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি আবু বাকরাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে! অবশ্যই কিছু সম্প্রদায় হাউজের (কাওসার) নিকট আমার কাছে উপস্থিত হবে; এমনকি যখন তাদের উঠিয়ে আমার সামনে আনা হবে এবং আমি তাদের দেখতে পাব, তখন আমার সম্মুখ হতে তাদের সরিয়ে নেওয়া হবে। তখন আমি অবশ্যই বলব: ‘আমার সঙ্গীদের আমার কাছে ফিরিয়ে দাও।’ তখন বলা হবে: ‘আপনার পরে তারা (দ্বীনের মধ্যে) কী নতুন বিষয় উদ্ভাবন করেছিল, তা আপনি জানেন না’।"
(খণ্ড: ১)
আয-যাইল আলা জুযই বাকি ইবনে মাখলাদ মিন আহাদীসিল হাওদ
(পৃষ্ঠা: ১২১)
مَا رَوَاهُ سلمَان الْفَارِسِي فِي الْحَوْض 56 - نَا أَحْمد قَالَ نَا أَبُو عَليّ الْحُسَيْن بن مُحَمَّد عَن أبي عمر النمري قَالَ نَا أَحْمد بن قَاسم قَالَ نَا قَاسم بن أصبغ قَالَ نَا الْحَارِث بن أبي أُسَامَة نَا يحيى بن هَاشم نَا سُفْيَان الثَّوْريّ عَن سَلمَة بن كهيل عَن أبي صَادِق عَن عليم الْكِنْدِيّ عَن سلمَان الْفَارِسِي قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أولكم ورودا عَليّ الْحَوْض أولكم إسلاما عَليّ بن أبي طَالب
সালমান আল-ফারিসি হাওয সম্পর্কে যা বর্ণনা করেছেন ৫৬ - আহমদ আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু আলী আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উমর আন-নামারি থেকে, তিনি বলেন, আহমদ বিন কাসিম আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন, কাসিম বিন আসবাগ আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন, আল-হারিস বিন আবু উসামা আমাদের জানিয়েছেন, ইয়াহিয়া বিন হাশিম আমাদের জানিয়েছেন, সুফিয়ান আস-সাওরি আমাদের জানিয়েছেন সালামাহ বিন কুহাইল থেকে, তিনি আবু সাদিক থেকে, তিনি আলিম আল-কিন্দি থেকে, তিনি সালমান আল-ফারিসি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: তোমাদের মধ্যে হাওযে আমার নিকট সবার আগে সেই পৌঁছাবে, যে তোমাদের মাঝে সবার আগে ইসলাম গ্রহণ করেছে; সে হলো আলী বিন আবি তালিব।
(খণ্ড: ১)
আয-যাইল আলা জুযই বাকি ইবনে মাখলাদ মিন আহাদীসিল হাওদ
(পৃষ্ঠা: ১২২)
مَا رَوَاهُ أنس بن مَالك 57 - نَا أَبُو مُحَمَّد بن عتاب قَالَ نَا أبي قَالَ نَا أَبُو الْقَاسِم خلف بن يحيى قَالَ نَا أَحْمد بن مطرف قَالَ قَالَ نَا مُحَمَّد بن عَزِيز بن عبد الله قَالَ نَا سَلامَة قَالَ نَا عقيل قَالَ نَا ابْن شهَاب قَالَ نَا أنس بن مَالك أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ حَوْضِي مَا بَين أَيْلَة وَمَكَّة فِيهِ من الأباريق بِعَدَد نُجُوم السَّمَاء
আনাস ইবন মালিক যা বর্ণনা করেছেন ৫৭ - আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মাদ ইবন আত্তাব, তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন আবুল কাসিম খালাফ ইবন ইয়াহইয়া, তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবন মুতাররিফ, তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবন আজিজ ইবন আব্দুল্লাহ, তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন সালামাহ, তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন উকাইল, তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন ইবন শিহাব, তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন আনাস ইবন মালিক যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আমার হাওজ হচ্ছে আয়লাহ ও মক্কার মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান, তাতে আকাশের নক্ষত্ররাজির সমসংখ্যক পানপাত্র রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আয-যাইল আলা জুযই বাকি ইবনে মাখলাদ মিন আহাদীসিল হাওদ
(পৃষ্ঠা: ১২৩)
مَا روى عرباض بن سَارِيَة فِي الْحَوْض 58 - أَنا ابْن مغيث أَنا أَحْمد بن مُحَمَّد بن يحيى نَا العثماني نَا حَمْزَة بن عَليّ قَالَ نَا عَليّ بن معبد قَالَ نَا إِسْحَاق بن إِبْرَاهِيم الزبيدِيّ قَالَ حَدثنِي عَمْرو بن الْحَارِث قَالَ أَخْبرنِي عبد الله بن سَالم عَن الزبيدِيّ قَالَ نَا عمرَان بن عَامر عَن سُوَيْد بن جبلة عَن عرباض بن سَارِيَة أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ لتزدحمن هَذِه الْأمة على الْحَوْض ازدحام إبل وَردت لخمس
হাউজ প্রসঙ্গে ইরবাদ ইবনে সারিয়াহ যা বর্ণনা করেছেন ৫৮ - ইবনুল মুগীস আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন—আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন—আল-উসমানি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন—হামযাহ ইবনে আলী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন—আলী ইবনে মাবাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন—ইসহাক ইবনে ইবরাহীম আল-যুবাইদী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন—আমর ইবনুল হারিস আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন—আবদুল্লাহ ইবনে সালিম আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আল-যুবাইদী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন—ইমরান ইবনে আমির আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি সুওয়াইদ ইবনে জাবাল্লাহ থেকে, তিনি ইরবাদ ইবনে সারিয়াহ থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: অবশ্যই এই উম্মত হাউজের নিকট এমন প্রচণ্ড ভিড় করবে, যেমন তৃষ্ণার্ত উট পানি পানের নির্দিষ্ট পঞ্চম দিনে ভিড় জমায়।
(খণ্ড: ১)
আয-যাইল আলা জুযই বাকি ইবনে মাখলাদ মিন আহাদীসিল হাওদ
(পৃষ্ঠা: ১২৪)
رِوَايَة جمَاعَة من الصَّحَابَة فِي الْحَوْض 59 - نَا أَبُو مُحَمَّد بن عتاب نَا أبي نَا أَبُو ايوب سُلَيْمَان بن خلف نَا مُحَمَّد بن مفرج نَا مُحَمَّد بن أَيُّوب نَا أَبُو بكر الْبَزَّار نَا الْحُسَيْن بن مُحَمَّد الذارع قَالَ نَا عبد الْمُؤمن بن عباد بن عَمْرو قَالَ حَدثنِي يزِيد بن معن قَالَ حَدثنِي عبد الله بن شُرَحْبِيل عَن رجل من قُرَيْش عَن زيد بن ابي أوفى قَالَ دخلت على رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مَسْجِد الْمَدِينَة فَجعل يَقُول أَيْن فلَان أَيْن فلَان فَلم يزل يتفقدهم وَيبْعَث إِلَيْهِم حَتَّى اجْتَمعُوا عِنْده فَقَالَ إِنِّي محدثكم بِحَدِيث فاحفظوه وَحَدثُوا من بعدكم إِن الله تبارك وتعالى اصْطفى من خلقه خلقا ثمَّ تَلا هَذِه الْآيَة {الله يصطفي من الْمَلَائِكَة رسلًا وَمن النَّاس} خلقا قد خلقهمْ للجنة وَإِنِّي أصطفي مِنْكُم من أحب أَن أصطفيه ومؤاخ بَيْنكُم كَمَا آخى الله بَين الْمَلَائِكَة قُم يَا أَبَا بكر فَقَامَ فَجَثَا بَين يَدَيْهِ فَقَالَ لَك عِنْدِي يَد الله يجْزِيك بهَا وَلَو كنت متخذا خَلِيلًا لاتخذتك خَلِيلًا وَأَنت مني بِمَنْزِلَة قَمِيصِي من جَسَدِي قَالَ وحرك قَمِيصه بِيَدِهِ ثمَّ قَالَ يَا عمر قد كنت شَدِيدا علينا فدعوت الله أَن يعز الدّين بك أَو بِأبي جهل فَفعل الله ذَلِك بك وَكنت أحبهما إِلَى الله فَأَنت معي فِي الْجنَّة ثَالِث ثَلَاثَة من هَذِه الْأمة ثمَّ تنحى وآخى بَينه وَبَين أبي بكر ثمَّ دَعَا عُثْمَان بن عَفَّان وَقَالَ ادن مني فَلم يزل يدنو
একদল সাহাবী থেকে বর্ণিত হাউয সংক্রান্ত বর্ণনা ৫৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ বিন আত্তাব, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আইয়ুব সুলায়মান বিন খালাফ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন মুফাররিজ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আইয়ুব, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আল-বাযযার, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুসাইন বিন মুহাম্মদ আয-যারা'ই, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল মুমিন বিন আব্বাদ বিন আমর, তিনি বলেন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াযিদ বিন মা'ন, তিনি বলেন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন শুরাহবীল, তিনি কুরাইশ বংশীয় এক ব্যক্তি থেকে, তিনি যায়েদ বিন আবি আওফা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মদীনার মসজিদে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রবেশ করলাম। তখন তিনি বলতে শুরু করলেন, "অমুক কোথায়? অমুক কোথায়?" এভাবে তিনি একে একে তাঁদের খোঁজ করতে থাকলেন এবং তাঁদের কাছে লোক পাঠাতে থাকলেন যতক্ষণ না তাঁরা তাঁর কাছে সমবেত হলেন। অতঃপর তিনি বললেন, "আমি তোমাদের নিকট একটি হাদিস বর্ণনা করছি, তোমরা তা মুখস্থ রেখো এবং তোমাদের পরবর্তীদের কাছে তা বর্ণনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে একদল সৃষ্টিকে মনোনীত করেছেন। অতঃপর তিনি এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন: {আল্লাহ ফেরেশতাদের মধ্য থেকে রাসূল মনোনীত করেন এবং মানুষের মধ্য থেকেও}। এমন এক সৃষ্টি যাদের তিনি জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। আর আমি তোমাদের মধ্য থেকে তাঁদের মনোনীত করছি যাঁদের মনোনীত করতে আমি পছন্দ করি এবং তোমাদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে দিচ্ছি যেমনভাবে আল্লাহ ফেরেশতাদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন। হে আবু বকর! ওঠো।" তখন তিনি উঠে তাঁর সামনে হাঁটু গেড়ে বসলেন। তিনি বললেন, "আমার নিকট তোমার প্রতি আল্লাহর হাত রয়েছে, যার প্রতিদান আল্লাহ তোমাকে দেবেন। আমি যদি কাউকে খলীল (অন্তরঙ্গ বন্ধু) হিসেবে গ্রহণ করতাম, তবে তোমাকেই খলীল হিসেবে গ্রহণ করতাম। আমার কাছে তোমার অবস্থান আমার দেহের সাথে আমার জামার ন্যায়।" বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তাঁর হাত দিয়ে নিজের জামা নাড়ালেন। এরপর তিনি বললেন, "হে উমর! তুমি আমাদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর ছিলে, তাই আমি আল্লাহর নিকট দুআ করেছিলাম যেন তিনি তোমার মাধ্যমে অথবা আবু জাহলের মাধ্যমে দ্বীনকে শক্তিশালী করেন। আল্লাহ তোমার মাধ্যমেই তা করেছেন এবং তুমি আল্লাহর নিকট তাদের দুজনের মধ্যে অধিক প্রিয় ছিলে। তুমি এই উম্মতের তিনজনের মধ্যে তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে আমার সাথে জান্নাতে থাকবে।" অতঃপর তিনি সরে গিয়ে তাঁর ও আবু বকরের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করে দিলেন। এরপর তিনি উসমান বিন আফফানকে ডাকলেন এবং বললেন, "আমার নিকটবর্তী হও।" তিনি ক্রমাগত তাঁর নিকটবর্তী হতে থাকলেন।
(খণ্ড: ১)
আয-যাইল আলা জুযই বাকি ইবনে মাখলাদ মিন আহাদীসিল হাওদ
(পৃষ্ঠা: ১২৫)
حَتَّى ألصق ركبته بركبة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم ثمَّ نظر إِلَى السَّمَاء فَقَالَ سُبْحَانَ الله الْعَظِيم ثمَّ نظر إِلَى عُثْمَان فَإِذا إزَاره محلولة فزرها رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بِيَدِهِ ثمَّ قَالَ اجْمَعْ عطفي ردائك على نحرك فَإِن لَك شَأْنًا فِي السَّمَاء ثمَّ قَالَ سُبْحَانَ الله الْعَظِيم ثَلَاث مَرَّات ثمَّ قَالَ أَنْت مِمَّن يرد عَليّ الْحَوْض وأوداجه تشخب دَمًا فَأَقُول من فعل هَذَا بك فَتَقول فلَان وَفُلَان إِذْ هتف هَاتِف من السَّمَاء أَلا إِن عُثْمَان أَمِين على كل مخذول ثمَّ دَعَا عبد الرَّحْمَن بن عَوْف وَقَالَ ادن يَا أَمِين الله وَتسَمى فِي السَّمَاء الْأمين يسلطك الله على مَالك بِالْحَقِّ إِن لَك عِنْدِي دَعْوَة قد اختبأتها فَقَالَ أخر لي يَا رَسُول الله فَقَالَ حَملتنِي أَمَانَة أَكثر الله مَالك وآخى بَينه وَبَين عُثْمَان ثمَّ دَعَا طَلْحَة وَالزُّبَيْر فَقَالَ ادْنُوا مني قَرِيبا فَقَالَ أَنْتُمَا حوارِي كحواري عِيسَى بن مَرْيَم ثمَّ آخى بَينهمَا ثمَّ دَعَا سَعْدا وعمار بن يَاسر فَقَالَ يَا عمار بن يَاسر تقتلك الفئة الباغية ثمَّ آخى بَينهمَا ثمَّ دَعَا أَبَا الدَّرْدَاء وسلمان فَقَالَ يَا سلمَان أَنْت منا أهل الْبَيْت وَقد آتاك الله الْعلم الأول ثمَّ الْعلم الآخر وَالْكتاب الأول وَالْكتاب الآخر ثمَّ قَالَ يَا أَبَا الدَّرْدَاء أَلا أرشدك قَالَ بلَى يَا رَسُول الله قَالَ إِن تنقدهم ينقدوك وَإِن تتركهم لَا يتركوك وَإِن تهرب مِنْهُم يدركوك فأقرضهم عرضك ليَوْم فقرك وَاعْلَم أَن الْخَيْر أمامك ثمَّ آخى بَينهمَا ثمَّ نظر فِي وُجُوه أَصْحَابه فَقَالَ أَبْشِرُوا وقروا عينا فَإِنَّكُم مِمَّن يرد عَليّ الْحَوْض وَأَنْتُم فِي أعلا الغرف ثمَّ نظر إِلَى عبد الله فَقَالَ الْحَمد لله الَّذِي يهدي من يَشَاء من الضَّلَالَة فَقَالَ عَليّ يَا رَسُول الله ذهبت روحي وَانْقطع ظَهْري حِين رَايَتك فعلت بِأَصْحَابِك مَا فعلت غَيْرِي إِن كَانَ من سخط عَليّ فلك العتبى والكرامة وَإِن كَانَ غير ذَلِك فَلَا أُبَالِي قَالَ فَقَالَ
এমনকি তিনি তাঁর হাঁটু আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাঁটুর সাথে মেলালেন। তারপর তিনি আকাশের দিকে তাকালেন এবং বললেন, "মহান আল্লাহ অতীব পবিত্র ও মহান।" এরপর তিনি উসমানের দিকে তাকালেন এবং দেখলেন যে তাঁর নিম্নাচ্ছাদনটি খোলা রয়েছে, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত দিয়ে সেটি বেঁধে দিলেন। তারপর বললেন, "তোমার চাদরের দুই প্রান্ত তোমার কণ্ঠনালীর ওপর একত্র করো, কারণ আকাশে তোমার এক বিশেষ মর্যাদা রয়েছে।" এরপর তিনি তিনবার বললেন, "মহান আল্লাহ অতীব পবিত্র ও মহান।" এরপর বললেন, "তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা হাউজে (কাউসারে) আমার নিকট উপস্থিত হবে এমতাবস্থায় যে, তোমার ঘাড়ের রগসমূহ থেকে রক্ত প্রবাহিত হতে থাকবে। তখন আমি বলব, 'কে তোমার সাথে এমন করেছে?' তুমি বলবে, 'অমুক এবং অমুক'। তখন আকাশ থেকে এক অদৃশ্য ঘোষক চিৎকার করে বলবে, 'জেনে রেখো, নিশ্চয়ই উসমান প্রত্যেক সহায়হীনের জন্য বিশ্বস্ত আমানতদার'।" এরপর তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আউফকে ডাকলেন এবং বললেন, "হে আল্লাহর আমানতদার! কাছে এসো; আকাশেও তোমাকে 'আল-আমীন' (বিশ্বস্ত) বলে অভিহিত করা হয়। আল্লাহ তোমাকে ন্যায়ের সাথে তোমার সম্পদের ওপর কর্তৃত্ব দান করবেন। নিশ্চয়ই তোমার জন্য আমার কাছে একটি দুআ রয়েছে যা আমি জমা রেখেছি।" তিনি বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! এটি আমার জন্য (পরকালের জন্য) স্থগিত রাখুন।" তিনি বললেন, "তুমি আমাকে একটি আমানতের ভার দিলে; আল্লাহ তোমার সম্পদ বৃদ্ধি করে দিন।" এবং তিনি তাঁর ও উসমানের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করে দিলেন। এরপর তিনি তালহা ও যুবাইরকে ডাকলেন এবং বললেন, "তোমরা আমার নিকটবর্তী হও।" তিনি বললেন, "তোমরা দুজনেই আমার হাওয়ারী (একনিষ্ঠ সঙ্গী), যেমন ঈসা ইবনে মারিয়ামের হাওয়ারী ছিল।" এরপর তিনি তাঁদের উভয়ের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করে দিলেন। এরপর তিনি সাদ ও আম্মার ইবনে ইয়াসিরকে ডাকলেন এবং বললেন, "হে আম্মার ইবনে ইয়াসির! তোমাকে একটি বিদ্রোহী দল হত্যা করবে।" এরপর তিনি তাঁদের উভয়ের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করে দিলেন। এরপর তিনি আবু দারদা ও সালমানকে ডাকলেন এবং বললেন, "হে সালমান! তুমি আমাদের আহলে বাইতের (পরিবারের) অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তোমাকে পূর্ববর্তী জ্ঞান ও পরবর্তী জ্ঞান দান করেছেন এবং পূর্ববর্তী কিতাব ও পরবর্তী কিতাব দান করেছেন।" এরপর তিনি বললেন, "হে আবু দারদা! আমি কি তোমাকে পথনির্দেশ দেব না?" তিনি বললেন, "অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল!" তিনি বললেন, "যদি তুমি তাদের সমালোচনা করো, তবে তারাও তোমার সমালোচনা করবে; যদি তুমি তাদের ছেড়ে দাও, তবে তারা তোমাকে ছাড়বে না; আর যদি তুমি তাদের থেকে পলায়ন করো, তবে তারা তোমাকে ধরে ফেলবে। সুতরাং তোমার অভাবের দিনের জন্য তোমার সম্মানকে তাদের কাছে ঋণ হিসেবে দাও। আর জেনে রেখো যে, কল্যাণ তোমার সামনেই রয়েছে।" এরপর তিনি তাঁদের উভয়ের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করে দিলেন। এরপর তিনি তাঁর সাহাবীদের চেহারার দিকে তাকালেন এবং বললেন, "তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো এবং চক্ষু শীতল করো, কারণ তোমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা হাউজে আমার নিকট উপস্থিত হবে এবং তোমরা জান্নাতের উচ্চতর কক্ষসমূহে অবস্থান করবে।" এরপর তিনি আবদুল্লাহর দিকে তাকালেন এবং বললেন, "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্টতা থেকে হিদায়াত দান করেন।" তখন আলী বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আমার প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়েছিল এবং আমার মেরুদণ্ড ভেঙে গিয়েছিল যখন আমি দেখলাম আপনি আপনার অন্য সাহাবীদের সাথে যা করার তা করলেন অথচ আমার সাথে তা করলেন না। এটি যদি আমার প্রতি কোনো অসন্তুষ্টির কারণে হয়, তবে আপনার সন্তুষ্টি ও মর্যাদাই কাম্য। আর যদি তা ছাড়া অন্য কিছু হয়, তবে আমি পরোয়া করি না।" তিনি বললেন, অতঃপর তিনি বললেন—
(খণ্ড: ১)
আয-যাইল আলা জুযই বাকি ইবনে মাখলাদ মিন আহাদীসিল হাওদ
(পৃষ্ঠা: ১২৬)
وَالَّذِي بَعَثَنِي بِالْحَقِّ مَا أخرتك إِلَّا لنَفْسي فَأَنت عِنْدِي بِمَنْزِلَة هَارُون من مُوسَى غير أَنه لَا نَبِي بعدِي وَأَنت أخي ووزيري ووارثي قَالَ يَا رَسُول الله وَمَا أرث مِنْك قَالَ كتاب الله وسنتي وَأَنت معي فِي قصري مَعَ فَاطِمَة ابْنَتي وَأَنت أخي ورفيقي ثمَّ تَلا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم {إخْوَانًا على سرر مُتَقَابلين} المتحابين فِي الله ينظر بَعضهم إِلَى بعض قَالَ أَبُو بكر وَلَا نعلم روى زيد بن أبي أوفى عَن النَّبِي عليه السلام إِلَّا هَذَا انْتهى آخر مَا كتب الْحَافِظ ابْن بشكوال من أَحَادِيث الْحَوْض وَالْحَمْد لله أَولا وآخرا
সেই সত্তার কসম, যিনি আমাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, আমি আপনাকে কেবল নিজের জন্যই বিলম্বিত করেছি। আপনি আমার নিকট হারূনের ন্যায় মর্যাদাবান যেমনটি তিনি মূসার নিকট ছিলেন, তবে আমার পরে আর কোনো নবী নেই। আপনি আমার ভাই, আমার উজির এবং আমার উত্তরাধিকারী। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার থেকে কীসের উত্তরাধিকার লাভ করব? তিনি বললেন: আল্লাহর কিতাব এবং আমার সুন্নাহ। আপনি আমার প্রাসাদে আমার সাথে থাকবেন, সাথে থাকবে আমার কন্যা ফাতিমা; আপনি আমার ভাই এবং আমার সঙ্গী। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিলাওয়াত করলেন: {ভ্রাতৃরূপে তারা একে অপরের মুখোমুখি সিংহাসনসমূহে অবস্থান করবে}। আল্লাহর জন্য পরস্পরকে ভালোবাসেন যারা, তারা একে অপরের দিকে তাকাবেন। আবু বকর বলেন: জায়েদ বিন আবি আওফা হতে নবী আলাইহিস সালামের সূত্রে এই হাদিসটি ব্যতীত অন্য কোনো বর্ণনা আমাদের জানা নেই। হাফেজ ইবন বাশকুওয়াল হাওয সংক্রান্ত হাদিসসমূহ থেকে যা লিখেছিলেন, তার শেষাংশ এখানেই সমাপ্ত। আদিতে ও অন্তে সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১)
আয-যাইল আলা জুযই বাকি ইবনে মাখলাদ মিন আহাদীসিল হাওদ
(পৃষ্ঠা: ১২৭)
الْمُسْتَدْرك فِي أَحَادِيث الْحَوْض جمعه عبد الْقَادِر بن مُحَمَّد عطا صوفي
হাওয সংক্রান্ত হাদিসসমূহের আল-মুস্তাদরাক; সংকলন করেছেন আব্দুল কাদির বিন মুহাম্মদ আতা সূফী
(খণ্ড: ১)
আয-যাইল আলা জুযই বাকি ইবনে মাখলাদ মিন আহাদীসিল হাওদ
(পৃষ্ঠা: ১২৯)
الْحَمد لله نحمده ونستعينه ونستهديه وَنَسْتَغْفِرهُ ونعوذ بِاللَّه من شرور أَنْفُسنَا وسيئات أَعمالنَا من يهده الله فَلَا مضل لَهُ وَمن يضلل فَلَا هادي لَهُ واشهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ وَأشْهد أَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله أما بعد فَهَذِهِ مَجْمُوعَة من الْأَحَادِيث الْمُتَعَلّقَة بالحوض لعدد من الصَّحَابَة استدركتهم على الْإِمَامَيْنِ الحافظين بَقِي بن مخلد وَابْن بشكوال ورتبتهم على الأحرف مبتدئا بأسماء الرِّجَال ومثنيا بالكنى وختمتهم بأسماء النِّسَاء من الصَّحَابَة رضي الله عنهم أَجْمَعِينَ
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁর নিকট হেদায়াত কামনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হেদায়াত দান করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল। অতঃপর, এটি হাউজ (কাওসার) সংশ্লিষ্ট হাদিসসমূহের একটি সংকলন যা বেশ কয়েকজন সাহাবী থেকে বর্ণিত; আমি এগুলোকে দুই হাফেজ ইমাম—বাকি ইবনে মাখলাদ এবং ইবনে বাশকুওয়াল-এর বর্ণনার ওপর পরিশিষ্ট হিসেবে যুক্ত করেছি। আমি সেগুলোকে বর্ণানুক্রমে বিন্যস্ত করেছি—প্রথমে পুরুষ সাহাবীদের নাম দিয়ে শুরু করেছি, অতঃপর তাদের উপনাম (কুনিয়াত) উল্লেখ করেছি এবং সবশেষে নারী সাহাবীদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন) নাম উল্লেখ করার মাধ্যমে সমাপ্ত করেছি।
(খণ্ড: ১)
আয-যাইল আলা জুযই বাকি ইবনে মাখলাদ মিন আহাদীসিল হাওদ
(পৃষ্ঠা: ১৩১)
مَا رَوَاهُ أبي بن كَعْب60 - قَالَ الإِمَام الْحَافِظ أَبُو بكر عَمْرو بن أبي عَاصِم الضَّحَّاك بن مخلد الشَّيْبَانِيّ (ثَنَا عقبَة بن مكرم الضَّبِّيّ ثَنَا يُونُس بن بكير ثَنَا عبد الْغفار بن الْقَاسِم عَن عدي بن ثَابت عَن زر بن حُبَيْش عَن أبي بن كَعْب قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَأَنا على الْحَوْض قيل وَمَا الْحَوْض يَا رَسُول الله قَالَ وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ إِن شرابه أَبيض من اللَّبن وَأحلى من الْعَسَل وأبيض من الثَّلج وَأطيب ريحًا من الْمسك وآنيته أَكثر عددا من النُّجُوم لَا يشرب مِنْهُ إِنْسَان فيظمأ أبدا وَلَا يصرف عَنهُ إِنْسَان فيروى أبدا
উবাই ইবনে কাব যা বর্ণনা করেছেন৬০ - ইমাম হাফেজ আবু বকর আমর ইবনে আবু আসিম আদ-দাহহাক ইবনে মাখলাদ আশ-শাইবানি বলেন (আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উকবা ইবনে মুকরিম আদ-দব্বি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউনুস ইবনে বুকাইর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল গাফফার ইবনে কাসিম, আদি ইবনে সাবিত থেকে, তিনি জির ইবনে হুবাইশ থেকে, তিনি উবাই ইবনে কাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমি হাউজের নিকট থাকব। জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, হাউজ কী? তিনি বললেন: সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, নিশ্চয়ই এর পানীয় দুধের চেয়ে সাদা, মধুর চেয়ে মিষ্টি, বরফের চেয়ে শুভ্র এবং কস্তুরীর চেয়ে অধিক সুগন্ধিযুক্ত। এর পানপাত্রের সংখ্যা আকাশের নক্ষত্ররাজির চেয়েও বেশি। যে ব্যক্তি তা থেকে পান করবে সে আর কখনো তৃষ্ণার্ত হবে না, আর যাকে তা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া হবে সে আর কখনো তৃপ্ত হবে না।
(খণ্ড: ১)
আয-যাইল আলা জুযই বাকি ইবনে মাখলাদ মিন আহাদীসিল হাওদ
(পৃষ্ঠা: ১৩২)
مَا رَوَاهُ أَوْس بن الأرقم 61 - قَالَ الإِمَام أَحْمد بن مُحَمَّد بن حَنْبَل الشَّيْبَانِيّ (حَدثنَا عبد الرَّزَّاق عَن معمر عَن مطر الْوراق عَن عبد الله بن بُرَيْدَة قَالَ شكّ عبيد الله بن زِيَاد فِي الْحَوْض وَكَانَت فِيهِ حرورية فَقَالَ أرايتم الْحَوْض الَّذِي تذكرُونَ مَا أرَاهُ شَيْئا فَقَالَ لَهُ نَاس من أَصْحَابه عنْدك رَهْط من أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَأرْسل إِلَيْهِم فسلهم فَأرْسل عبيد الله إِلَى زيد بن أَرقم فَسَأَلَهُ عَن الْحَوْض فحدثه حَدِيثا موثقًا أعجبه فَقَالَ أَنْت سَمِعت هَذَا من رَسُول الله قَالَ لَا وَلَكِن حَدَّثَنِيهِ أخي قَالَ لَا حَاجَة لنا فِي حَدِيث أَخِيك)
আউস ইবনে আল-আরকাম যা বর্ণনা করেছেন ৬১ - ইমাম আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাম্বল আশ-শাইবানী বলেন (আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, তিনি মা’মার থেকে, তিনি মাতার আল-ওয়াররাক থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উবাইদুল্লাহ ইবনে জিয়াদ হাউয (কাওসার) সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করলেন এবং সেখানে হারুরিয়াদের প্রভাব ছিল। তিনি বললেন: তোমরা যে হাউযের কথা আলোচনা করো, সে সম্পর্কে তোমাদের অভিমত কী? আমি তো একে বাস্তব কিছু মনে করি না। তখন তার সঙ্গীদের মধ্য থেকে কিছু লোক তাকে বলল: আপনার নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একদল সাহাবী রয়েছেন। আপনি তাদের নিকট লোক পাঠান এবং তাদের জিজ্ঞাসা করুন। অতঃপর উবাইদুল্লাহ যায়িদ ইবনে আরকামের নিকট লোক পাঠালেন এবং তাকে হাউয সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি তাকে একটি নির্ভরযোগ্য হাদীস শোনালেন যা তাকে মুগ্ধ করল। তখন তিনি (উবাইদুল্লাহ) বললেন: আপনি কি সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি শুনেছেন? তিনি বললেন: না, তবে আমার ভাই এটি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি (উবাইদুল্লাহ) বললেন: আপনার ভাইয়ের বর্ণিত হাদীসে আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই।)
(খণ্ড: ১)
আয-যাইল আলা জুযই বাকি ইবনে মাখলাদ মিন আহাদীসিল হাওদ
(পৃষ্ঠা: ১৩৩)
مَا رَوَاهُ بُرَيْدَة بن الْحصيب 62 - قَالَ الإِمَام أَبُو الْقَاسِم هبة الله بن الْحسن بن مَنْصُور الطَّبَرِيّ اللالكائي أَنا مُحَمَّد بن عبد الرَّحْمَن قَالَ يحيى بن مُحَمَّد بن صاعد قَالَ نَا عبد الله بن الوضاح اللؤْلُؤِي قَالَ نَا يحيى بن مُحَمَّد بن يمَان عَن عَائِذ بن نسير عَن عَلْقَمَة بن مرْثَد عَن ابْن بُرَيْدَة عَن أَبِيه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم حَوْضِي مَا بَين عمان واليمن فِيهِ آنِية عدد النُّجُوم أحلى من الْعَسَل وأبيض من اللَّبن وألين من الزّبد من شرب مِنْهُ شربه لم يظمأ بعْدهَا أبدا
বুরাইদাহ ইবনুল হাসিব থেকে যা বর্ণিত হয়েছে ৬২ - ইমাম আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ ইবনুল হাসান ইবনু মানসুর আত-তাবারী আল-লালকাঈ বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনু আবদুর রহমান, তিনি বলেন, ইয়াহইয়া ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু সাঈদ বলেছেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনুল ওয়াদদাহ আল-লু’লুঈ, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু ইয়ামান, আইয ইবনু নুসাইর থেকে, তিনি আলকামা ইবনু মারসাদ থেকে, তিনি ইবনু বুরাইদাহ থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমার হাউয আম্মান ও ইয়ামানের মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান। তাতে নক্ষত্ররাজির ন্যায় অসংখ্য পানপাত্র রয়েছে। তার পানি মধুর চেয়েও মিষ্টি, দুধের চেয়েও সাদা এবং মাখনের চেয়েও নরম। যে ব্যক্তি সেখান থেকে একবার পান করবে, এরপর সে আর কখনো পিপাসার্ত হবে না।”
(খণ্ড: ১)
আয-যাইল আলা জুযই বাকি ইবনে মাখলাদ মিন আহাদীসিল হাওদ
(পৃষ্ঠা: ১৩৪)
مَا روى حَارِثَة بن وهب 63 - قَالَ الإِمَام أَبُو عبد الله مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل البُخَارِيّ (ت 256 هـ) حَدثنَا عَليّ بن عبد الله حَدثنَا حرمي بن عمَارَة حَدثنَا شُعْبَة عَن معبد بن خَالِد أَنه سمع حَارِثَة بن وهب يَقُول سَمِعت النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَذكر الْحَوْض فَقَالَ كَمَا بَين الْمَدِينَة وَصَنْعَاء
হারিসা ইবনে ওয়াহাব যা বর্ণনা করেছেন ৬৩ - ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারী (মৃত্যু ২৫৬ হিজরী) বলেছেন, আলী বিন আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, হারামি বিন উমারা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, শু'বাহ মা'বাদ বিন খালিদ থেকে আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, তিনি হারিসা ইবনে ওয়াহাবকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হাউজের কথা উল্লেখ করতে শুনেছি, তখন তিনি বলেছিলেন: এটি মদিনা এবং সান'আর মধ্যবর্তী দূরত্বের মতো।
(খণ্ড: ১)
আয-যাইল আলা জুযই বাকি ইবনে মাখলাদ মিন আহাদীসিল হাওদ
(পৃষ্ঠা: ১৩৫)
مَا روى الْحسن بن عَليّ 64 - قَالَ ابْن أبي عَاصِم (حَدثنَا إِسْمَاعِيل بن مُوسَى ثَنَا سعيد بن خثيم الْهِلَالِي عَن الْوَلِيد بن مسار الْهَمدَانِي عَن عَليّ بن أبي طَلْحَة مولى بني أُميَّة قَالَ حج مُعَاوِيَة بن أبي سُفْيَان وَحج مَعَه مُعَاوِيَة بن خديج فَمر فِي مَسْجِد الرَّسُول صلى الله عليه وسلم وَالْحسن بن عَليّ جَالس فَدَعَاهُ فَقَالَ لَهُ الْحسن أَنْت الساب لعَلي رضي الله عنه أما وَالله لتردن عَلَيْهِ الْحَوْض وَمَا أَرَاك أَن ترده فتجده مشمر الْإِزَار عَن سَاق يذود عَنهُ لَا يَأْتِي المُنَافِقُونَ ذود (كَذَا) غَرِيبَة الْإِبِل قَول الصَّادِق المصدوق وَقد خَابَ من افترى)
হাসান ইবনে আলী যা বর্ণনা করেছেন ৬৪ - ইবনু আবি আসিম বলেন (ইসমাঈল ইবনে মুসা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে খুথাইম আল-হিলালী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ওয়ালিদ ইবনে মাসার আল-হামদানী থেকে, তিনি বনু উমাইয়ার মুক্তদাস আলী ইবনে আবি তালহা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান হজ্জ পালন করলেন এবং তার সাথে মুয়াবিয়া ইবনে খুদাইযও হজ্জ পালন করলেন। অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন যখন হাসান ইবনে আলী সেখানে বসা ছিলেন। তখন তিনি (হাসান) তাকে ডাকলেন এবং হাসান তাকে বললেন: আপনিই কি সেই ব্যক্তি যে আলীকে (রাযিয়াল্লাহু আনহু) গালি দেয়? সাবধান! আল্লাহর শপথ, আপনি অবশ্যই হাউযের নিকট তার কাছে উপস্থিত হবেন, যদিও আমি মনে করি না যে আপনি সেখানে পৌঁছাতে পারবেন। তখন আপনি তাকে দেখতে পাবেন যে, তিনি তার পায়ের নলা থেকে লুঙ্গি গুটিয়ে রেখেছেন এবং সেখান থেকে [মুনাফিকদের] তাড়িয়ে দিচ্ছেন, যাতে মুনাফিকরা সেখানে না আসতে পারে, যেমন করে অপরিচিত উটকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এটি সত্যবাদী এবং সত্যায়িত সত্তার (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী; আর যে মিথ্যা রটনা করে সে তো বিফল হয়েছে।)
(খণ্ড: ১)
আয-যাইল আলা জুযই বাকি ইবনে মাখলাদ মিন আহাদীসিল হাওদ
(পৃষ্ঠা: ১৩৬)
مَا روى خباب بن الْأَرَت 65 - قَالَ ابْن أبي عَاصِم حَدثنَا عبيد الله بن معَاذ ثَنَا أبي ثَنَا حَاتِم بن أبي صَغِيرَة أَبُو يُونُس عَن سماك عَن عبد الله بن خباب عَن أَبِيه قَالَ كُنَّا قعُودا عِنْد بَاب النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَخرج علينا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ اسمعوا فَقُلْنَا قد سمعنَا ثمَّ قَالَ اسمعوا فَقُلْنَا قد سمعنَا مرَّتَيْنِ أَو ثَلَاثًا فَقَالَ إِنَّه سَيكون بعدِي أُمَرَاء فَلَا تُصَدِّقُوهُمْ بكذبهم وَلَا تعينوهم على ظلمهم فَإِنَّهُ من صدقهم بكذبهم وَأَعَانَهُمْ على ظلمهم لم يرد عَليّ الْحَوْض
খাব্বাব ইবনুল আরাত থেকে যা বর্ণিত হয়েছে ৬৫ - ইবনে আবি আসিম বলেন, উবাইদুল্লাহ ইবনে মুয়াজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হাতিম ইবনে আবি সাগিরা আবু ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সিমাক থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে খাব্বাব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরজার নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নিকট বের হয়ে আসলেন এবং বললেন, "তোমরা শোনো।" আমরা বললাম, "আমরা শুনেছি।" এরপর তিনি পুনরায় বললেন, "তোমরা শোনো।" আমরা দুই অথবা তিনবার বললাম, "আমরা শুনেছি।" তখন তিনি বললেন, "নিশ্চয়ই আমার পরে এমন কিছু শাসক আসবে, সুতরাং তোমরা তাদের মিথ্যাকে সত্য বলে বিশ্বাস করো না এবং তাদের জুলুমে তাদের সহযোগিতা করো না। কারণ, যে ব্যক্তি তাদের মিথ্যাকে সত্য বলে বিশ্বাস করবে এবং তাদের জুলুমে তাদের সহযোগিতা করবে, সে (কিয়ামতের দিন) হাওযের নিকট আমার কাছে আসতে পারবে না।"
(খণ্ড: ১)
আয-যাইল আলা জুযই বাকি ইবনে মাখলাদ মিন আহাদীসিল হাওদ
(পৃষ্ঠা: ১৩৭)
مَا رَوَاهُ زيد بن ثَابت [66] قَالَ ابْن أبي عَاصِم ثَنَا أَبُو بكر ثَنَا عَمْرو بن سعد أَبُو دَاوُد الْحَفرِي عَن شريك عَن الركين عَن الْقَاسِم بن حسان عَن زيد بن ثَابت قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِنِّي تَارِك فِيكُم الخليفتين من بعدِي كتاب الله وعترتي أهل بَيْتِي وإنهما لن يَتَفَرَّقَا حَتَّى يردا عَليّ الْحَوْض)
যা যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) বর্ণনা করেছেন [৬৬]: ইবন আবি আসিম বলেন, আবু বকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনে সাদ আবু দাউদ আল-হাফারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শারিক থেকে, তিনি রুকাইন থেকে, তিনি কাসিম ইবনে হাসান থেকে, তিনি যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মাঝে আমার পরে দুইজন স্থলাভিষিক্ত রেখে যাচ্ছি: আল্লাহর কিতাব এবং আমার বংশধর—আমার আহলে বাইত। আর তারা কখনোই পরস্পর বিচ্ছিন্ন হবে না যতক্ষণ না তারা হাউজে আমার নিকট উপনীত হয়।"
(খণ্ড: ১)
আয-যাইল আলা জুযই বাকি ইবনে মাখলাদ মিন আহাদীসিল হাওদ
(পৃষ্ঠা: ১৩৮)
مَا رَوَاهُ سلمَان الْفَارِسِي67 - قَالَ الإِمَام أَبُو بكر مُحَمَّد بن إِسْحَاق بن خُزَيْمَة السّلمِيّ النَّيْسَابُورِي (ثَنَا عَليّ بن حجر السَّعْدِيّ ثَنَا يُوسُف بن زِيَاد ثَنَا همام بن يحيى عَن عَليّ بن زيد بن جدعَان عَن سعيد بن الْمسيب عَن سلمَان قَالَ خَطَبنَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي آخر يَوْم من شعْبَان فَقَالَ أَيهَا النَّاس قد أظلكم شهر عَظِيم شهر مبارك شهر فِيهِ لَيْلَة خير من ألف شهر جعل الله صِيَامه فَرِيضَة وَقيام ليله تَطَوّعا من تقرب فِيهِ بخصلة من الْخَيْر كَانَ كمن أدّى فَرِيضَة فِيمَا سواهُ وَمن أدّى فِيهِ فَرِيضَة كَانَ كمن أدّى سبعين فَرِيضَة فِيمَا سواهُ وَهُوَ شهر الصَّبْر وَالصَّبْر ثَوَابه الْجنَّة وَشهر الْمُوَاسَاة وَشهر يزْدَاد فِيهِ رزق الْمُؤمن من فطر فِيهِ صَائِما كَانَ مغْفرَة لذنوبه وَعتق رقبته من النَّار وَكَانَ لَهُ مثل أجره من غير أَن ينتقص من أجره شَيْء قَالُوا لَيْسَ كلنا نجد مَا يفْطر الصَّائِم فَقَالَ يُعْطي الله هَذَا الثَّوَاب من فطر صَائِما على تَمْرَة أَو شربة مَاء أَو مذقة لبن وَهُوَ شهر أَوله رَحْمَة واوسطه مغْفرَة وَآخره عتق من النَّار من خفف عَن مَمْلُوكه غفر الله لَهُ وَأعْتقهُ من النَّار واستكثروا فِيهِ من أَربع خِصَال خَصْلَتَيْنِ ترْضونَ بهما ربكُم وخصلتين لَا غنى بكم عَنْهُمَا فَأَما الخصلتان اللَّتَان ترْضونَ بهما ربكُم فشهادة أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وتستغفرونه وَأما اللَّتَان لَا غنى بكم عَنْهُمَا فتسألون الله الْجنَّة
সালমান আল-ফারিসি থেকে যা বর্ণিত হয়েছে৬৭ - ইমাম আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুজাইমাহ আস-সুলামি আন-নাইসাবুরি বলেছেন (আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলি ইবনে হুজর আস-সাদি, তিনি ইউসুফ ইবনে জিয়াদ থেকে, তিনি হাম্মাম ইবনে ইয়াহইয়া থেকে, তিনি আলি ইবনে যাইদ ইবনে জুদআন থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি সালমান থেকে বর্ণনা করেন) যে, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাবান মাসের শেষ দিনে আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন এবং বলেন, "হে লোকসকল! তোমাদের নিকট এক মহান মাস ছায়া বিস্তার করেছে, এক বরকতময় মাস। এমন এক মাস যাতে এমন একটি রাত রয়েছে যা হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আল্লাহ এই মাসের রোজা পালনকে ফরজ করেছেন এবং এর রাতে দাঁড়িয়ে ইবাদত করাকে নফল (ঐচ্ছিক) করেছেন। যে ব্যক্তি এই মাসে কোনো ভালো কাজের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করবে, সে যেন অন্য সময়ে একটি ফরজ আদায় করল। আর যে ব্যক্তি এই মাসে একটি ফরজ আদায় করল, সে যেন অন্য সময়ে সত্তরটি ফরজ আদায় করল। এটি ধৈর্যের মাস, আর ধৈর্যের প্রতিদান হলো জান্নাত। এটি সহমর্মিতার মাস এবং এমন এক মাস যাতে মুমিনের রিজিক বৃদ্ধি করা হয়। যে ব্যক্তি এই মাসে কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, তা তার গুনাহসমূহের জন্য ক্ষমা এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তির কারণ হবে এবং সে রোজাদারের সমান সওয়াব পাবে, অথচ রোজাদারের সওয়াব থেকে কিছুই কমানো হবে না।" তারা বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের সকলের তো রোজাদারকে ইফতার করানোর মতো সামর্থ্য নেই।' তখন তিনি বললেন, "আল্লাহ এই সওয়াব সেই ব্যক্তিকেও দান করবেন যে কোনো রোজাদারকে একটি খেজুর অথবা এক ঢোক পানি অথবা সামান্য এক ঢোক দুধ দিয়ে ইফতার করাবে। এটি এমন এক মাস যার প্রথম অংশ রহমত, মধ্যভাগ মাগফিরাত (ক্ষমা) এবং শেষাংশ জাহান্নাম থেকে মুক্তি। যে ব্যক্তি এই মাসে তার অধীনস্থের কাজের বোঝা লাঘব করবে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন এবং তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন। তোমরা এই মাসে চারটি কাজ অধিক পরিমাণে করো; এর মধ্যে দুটি কাজ এমন যা দ্বারা তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে সন্তুষ্ট করবে এবং দুটি কাজ এমন যা ছাড়া তোমাদের কোনো উপায় নেই। যে দুটি কাজ দ্বারা তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে সন্তুষ্ট করবে তা হলো: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। আর যে দুটি কাজ ছাড়া তোমাদের কোনো উপায় নেই তা হলো: আল্লাহর কাছে জান্নাত প্রার্থনা করা।"
(খণ্ড: ১)
আয-যাইল আলা জুযই বাকি ইবনে মাখলাদ মিন আহাদীসিল হাওদ
(পৃষ্ঠা: ১৩৯)
وتعوذون بِهِ من النَّار وَمن أشْبع فِيهِ صَائِما سقَاهُ الله من حَوْضِي شربة لَا يظمأ حَتَّى يدْخل الْجنَّة)
এবং তোমরা এর মাধ্যমে জাহান্নামের আগুন থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করবে। আর যে ব্যক্তি এই মাসে কোনো রোজাদারকে তৃপ্তিসহকারে আহার করাবে, আল্লাহ তাকে আমার হাউয থেকে এমন এক ঢোক পানীয় পান করাবেন যার ফলে জান্নাতে প্রবেশ করা পর্যন্ত সে আর কখনো তৃষ্ণার্ত হবে না।)
(খণ্ড: ১)
আয-যাইল আলা জুযই বাকি ইবনে মাখলাদ মিন আহাদীসিল হাওদ
(পৃষ্ঠা: ১৪০)
مَا رَوَاهُ سَمُرَة بن جُنْدُب 68 - قَالَ الإِمَام أَبُو عِيسَى مُحَمَّد بن عِيسَى بن سُورَة التِّرْمِذِيّ (ت 297 حَدثنَا أَحْمد بن مُحَمَّد بن عَليّ بن نيزك الْبَغْدَادِيّ حَدثنَا مُحَمَّد بن بكار الدِّمَشْقِي حَدثنَا سعيد بن بشير عَن قَتَادَة عَن الْحسن عَن سَمُرَة قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِن لكل نَبِي حوضا وَإِنَّهُم يتباهون أَيهمْ أَكثر وَارِدَة وَإِنِّي أَرْجُو أَن أكون أَكْثَرهم وَارِدَة)
সামুরা ইবনে জুনদুব কর্তৃক যা বর্ণিত হয়েছে ৬৮ - ইমাম আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে সাওরাহ আত-তিরমিজি (মৃত্যু ২৯৭ হি.) বলেন, আমাদের নিকট আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলি ইবনে নায়জাক আল-বাগদাদি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে বাক্কার আদ-দিমাশকি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট সাঈদ ইবনে বাশির বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ হতে, তিনি হাসান হতে, তিনি সামুরা হতে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই প্রত্যেক নবীর একটি হাউজ (জলাধার) রয়েছে এবং তাঁরা একে অপরের ওপর গর্ব করবেন যে কার নিকট আগমনকারীর সংখ্যা সর্বাধিক। আর আমি আশা করি যে আমার নিকট আগমনকারীর সংখ্যাই হবে তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক।"
(খণ্ড: ১)
আয-যাইল আলা জুযই বাকি ইবনে মাখলাদ মিন আহাদীসিল হাওদ
(পৃষ্ঠা: ১৪১)
مَا رَوَاهُ سهل بن سعد 69 - قَالَ الإِمَام البُخَارِيّ حَدثنَا يحيى بن بكير حَدثنَا يَعْقُوب بن عبد الرَّحْمَن عَن أبي حَازِم قَالَ سَمِعت سهل بن سعد يَقُول سَمِعت النَّبِي صلى الله عليه وسلم يَقُول أَنا فَرَطكُمْ على الْحَوْض من روده شرب مِنْهُ وَمن شرب مِنْهُ لم يظمأ بعده أبدا ليرد عَليّ أَقوام أعرفهم ويعرفوني يُحَال بيني وَبينهمْ)
সাহল ইবনে সাদ যা বর্ণনা করেছেন ৬৯ - ইমাম বুখারী বলেন, আমাদের কাছে ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি ইয়াকুব ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি আবু হাযিম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি সাহল ইবনে সাদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: "আমি হাউজের নিকট তোমাদের অগ্রবর্তী থাকব। যে সেখানে আসবে সে তা থেকে পান করবে এবং যে তা থেকে পান করবে সে আর কখনো পিপাসার্ত হবে না। অবশ্যই আমার নিকট এমন কিছু দল উপস্থিত হবে যাদেরকে আমি চিনি এবং তারাও আমাকে চেনে, অতঃপর আমার ও তাদের মাঝে আড়াল তৈরি করে দেওয়া হবে।"