(খণ্ড: ১)
আহকামুল গাসবি ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: -)
أحكام الغصب في الفقه الاسلامي القسم: مسائل فقهية
الكتاب: أحكام الغصب في الفقه الإسلامي
بحث موازن بين المذاهب الإسلامية السبعة مقارن بالقانون الوضعي
أصل الكتاب: رسالة ماجستير، كلية الآداب - جامعة بغداد، (1393 هـ - 1973 م)
المؤلف: عبد الجبار حمد حسين شرارة
الناشر: موسسه الأعلمي للمطبوعات - بيروت، مكتبة دار التربية - بغداد
الطبعة: الأولى، 1395 هـ - 1975 م
عدد الصفحات: 288
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 9 شعبان 1443
ইসলামী ফিকহে জবরদখলের (গসব) বিধান বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
কিতাব: ইসলামী ফিকহে জবরদখলের (গসব) বিধান
সাতটি ইসলামী মাযহাবের মধ্যে একটি তুলনামূলক গবেষণা এবং প্রচলিত (মানবরচিত) আইনের সাথে তুলনা
কিতাবের উৎস: মাস্টার্স থিসিস, কলা অনুষদ - বাগদাদ বিশ্ববিদ্যালয়, (১৩৯৩ হিজরি - ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দ)
লেখক: আব্দুল জব্বার হামাদ হোসেন শারারা
প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুল আলামী লিল মাতবুয়াত - বৈরুত, মাকতাবাতু দারিত তারবিয়াহ - বাগদাদ
সংস্করণ: প্রথম, ১৩৯৫ হিজরি - ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৮৮
[কিতাবের নম্বরবিন্যাস মুদ্রণকপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৯ শাবান ১৪৪৩
(খণ্ড: ১)
আহকামুল গাসবি ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৬)
شكر وتقديرلا يسعني وأنا أقدم هذه الرسالة بين يدي القراء إلا أن أتقدم بوافر الشكر والتقدير لكل من مد يد المعونة والمساعدة أو التوجيه والإرشاد على إنجاز هذا المؤلف وأخص بالذكر الأستاذ المشرف الدكتور صلاح الدين الناهي والدكتور الفاضل رشدي عليان الذي غمرني بفضل لا ينسى والعاملين في قسم الدراسات العليا في كلية الآداب ومكتبتها كما وأقدم شكري الخالص إلى الأخ عبد الحسن الراضي صاحب مكتبة دار التربية على ما بذل في طبع وإخراج هذا الكتاب وأشكر جميع الأصدقاء والزملاء الذين كانوا عونا لي في إنجاز هذا المؤلف
المؤلف
কৃতজ্ঞতা স্বীকারপাঠকদের নিকট এই গবেষণাপত্রটি উপস্থাপনের প্রাক্কালে আমি সেই সকল ব্যক্তিদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও সাধুবাদ জ্ঞাপন করছি, যারা এই গ্রন্থটি সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন কিংবা দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করেছেন। আমি বিশেষভাবে উল্লেখ করছি তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক ডক্টর সালাহউদ্দীন আন-নাহি এবং শ্রদ্ধেয় ডক্টর রুশদি আলইয়ান-এর কথা, যিনি আমাকে অবিস্মরণীয় অনুগ্রহে সিক্ত করেছেন। সেই সাথে কলা অনুষদের উচ্চতর শিক্ষা বিভাগ ও গ্রন্থাগারের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। অনুরূপভাবে, এই কিতাবটির মুদ্রণ ও প্রকাশের ক্ষেত্রে শ্রম প্রদানের জন্য ‘মাকতাবাতু দারুত তারবিয়াহ’-এর স্বত্বাধিকারী ভাই আব্দুল হাসান আর-রাদি-র প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা পেশ করছি। পরিশেষে আমার সেই সকল বন্ধু ও সহকর্মীদের ধন্যবাদ জানাই যারা এই গ্রন্থটি সুসম্পন্ন করার ক্ষেত্রে আমার সহায়ক ছিলেন।
লেখক
(খণ্ড: ১)
আহকামুল গাসবি ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৭)
فاتحة الكتاب ومنهج البحثبسم الله الرّحمن الرّحيم الحمد لله رب العالمين وصلاته تعالى على خاتم النبيين والمرسلين محمد صلى الله عليه وآله وسلم وعلى آله وصحبه المنتجبين.
وبعد:
فقد كان من توفيق الله تعالى ان يسر لي خدمة دينه الذي ارتضاه بالكشف عن بعض ما احتواه الفقه الإسلامي من ثروة تشريعية ضخمة لا يزال معظمها يرقد في بطون المصنفات الفقهية. وقد عنيت عناية كبيرة في عملية التبويب والتنظيم وجمال الإخراج. وترجيح رأي على رأي تبعا لقوة الدليل.
أ - موضوع الرسالة:ان الشريعة الإسلامية التي انتهجت طريقا خاصا في إيجاد حياة مستقرة آمنة ومجتمع متراص متحاب لا سبيل للفوضى في أوساطه ولا مجال للاعتداء على الحقوق المقررة لأفراده قد سعت الى تحقيق هذا اللون من الحياة بتشريع أحكام وتقرير مبادئ ثم وضع ضمانات كافية لإظهار هذه الحقيقة.
গ্রন্থের ভূমিকা ও গবেষণা পদ্ধতিপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং তাঁর উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন সালাত বর্ষিত হোক সর্বশেষ নবী ও রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও মনোনীত সাহাবীগণের ওপর।
অতঃপর:
মহান আল্লাহর তাওফিক যে, তিনি আমাকে তাঁর মনোনীত দ্বীনের খিদমত করার সুযোগ করে দিয়েছেন—ইসলামি ফিকহের বিশাল বিধানগত ভাণ্ডারের কিছু অংশ উন্মোচনের মাধ্যমে, যার অধিকাংশ এখনো ফিকহ শাস্ত্রের বিভিন্ন রচনার অভ্যন্তরে নিহিত রয়েছে। আমি এর অধ্যায় বিন্যাস, সুশৃঙ্খল বিন্যাস এবং উপস্থাপনার সৌন্দর্যের প্রতি বিশেষ যত্ন নিয়েছি। এছাড়া দলিলের শক্তির ওপর ভিত্তি করে এক মতের ওপর অন্য মতকে প্রাধান্য প্রদান করেছি।
ক - গবেষণাপত্রের বিষয়বস্তু:ইসলামি শরিয়ত একটি স্থিতিশীল ও নিরাপদ জীবন এবং একটি সুসংহত ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাজ গঠনের জন্য বিশেষ পথ অনুসরণ করেছে, যেখানে বিশৃঙ্খলার কোনো অবকাশ নেই এবং ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত অধিকার লঙ্ঘনের কোনো সুযোগ নেই। শরিয়ত বিভিন্ন বিধান প্রণয়ন এবং নীতিমালা নির্ধারণের মাধ্যমে এই ধরণের জীবন ব্যবস্থা অর্জনের প্রচেষ্টা চালিয়েছে এবং এই বাস্তবতা প্রকাশের জন্য পর্যাপ্ত নিশ্চয়তা প্রদান করেছে।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল গাসবি ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৮)
ولما كانت نظرة الشريعة إلى الملكية نظرة خاصة تنبع من تفهم عميق وواقعية فقد احترمتها ووضعت ما يكفل حمايتها. وإذ كان حق الملكية عرضة للاعتداء والتجاوز بوضع اليد العادية عليه فقد قررت أحكاما عامة واستنبط الفقهاء من مختلف المذاهب تفصيلات تلزم هذه اليد بالضمان وتحملها مسؤولية ما يطرأ على العين المستولي عليها من نقص أو هلاك أو أي شيء آخر مما ستراه في هذه الرسالة.
وهذا، وان كان يكشف كما سنرى عن دقة وشمولية في الفقه الإسلامي وعن عقلية تشريعية جديرة بالتقدير والاحترام وعن ميزة الفقه في تحريه العدالة. ووحده كان في دفعي الى خوض هذا الموضوع والكتابة فيه إلا ان مما زاد في رغبتي اني وجدت القانون المدني العراقي يفرد بابا خاصا لهذا الموضوع وان القضاء العراقي يأخذ بأحكامه مما يؤكد وجود واقع قضائي في هذا الميدان ومن هنا تنبع أهمية هذا الموضوع لعلاقته بالحياة القانونية في هذا البلد.
ولذلك كله استعرت الرغبة عندي في ان أجعل موضوع رسالتي «أحكام الغصب في الفقه الإسلامي».
ولا اخفي على القارئ اني وجدت صعوبات جمة في البحث لعل أبرزها منهج الفقهاء الأقدمين في مصنفاتهم الفقهية، فإضافة الى تشتت الموضوع واختلاط فروعه ومباحثه بعضها ببعض تجد فقدان التبويب وغموض العناوين وعدم وضوح الطباعة الى غير ذلك مما يدركه كل باحث في كتب الفقه الإسلامي وقد يكون ذلك وأحدا من الأسباب التي دفعت فقهاء القانون الوضعي الى التنكب عن الفقه الإسلامي والتيمم ناحية الفقه الغربي لما وجدوه من سهولة ويسر لا يكلفهم أكثر من عناء الترجمة والاقتباس.
ب - نهج الرسالة:لقد كنت عندما شرعت في الكتابة قد قررت أن اقصر رسالتي في
যেহেতু মালিকানার প্রতি শরীয়তের দৃষ্টিভঙ্গি একটি বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি যা গভীর উপলব্ধি এবং বাস্তবতাবাদ থেকে উৎসারিত, তাই শরীয়ত একে সম্মান করেছে এবং এর সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য বিধান নির্ধারণ করেছে। আর যেহেতু মালিকানার অধিকার অবৈধ হস্তক্ষেপ ও জবরদখলের মাধ্যমে লঙ্ঘিত হওয়ার ঝুঁকির সম্মুখীন হয়, তাই শরীয়ত সাধারণ বিধিবিধান নির্ধারণ করেছে এবং বিভিন্ন মাযহাবের ফকীহগণ এমন সব বিস্তারিত বিষয় উদ্ভাবন করেছেন যা এই দখলদার হাতকে ক্ষতিপূরণ (ضمان) দিতে বাধ্য করে এবং দখলকৃত মূল বস্তুর (العين) কোনো ঘাটতি, ধ্বংস বা অন্য যে কোনো পরিবর্তনের জন্য দখলকারীর দায়বদ্ধতা (مسؤولية) নির্ধারণ করে, যা আপনি এই গবেষণাপত্রে দেখতে পাবেন।
এটি—যেমনটি আমরা দেখতে পাব—ইসলামী ফিকহশাস্ত্রের সূক্ষ্মতা ও ব্যাপকতা, প্রশংসার যোগ্য একটি আইনপ্রণয়নমূলক মানসিকতা এবং ইনসাফ বা ন্যায়বিচার অন্বেষণে ফিকহশাস্ত্রের শ্রেষ্ঠত্বকে উন্মোচন করে। এটি একাই আমাকে এই বিষয়ে প্রবেশ করতে এবং লিখতে উদ্বুদ্ধ করেছিল; তবে আমার আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পায় যখন আমি দেখলাম যে ইরাকি দেওয়ানি আইন এই বিষয়ের জন্য একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় বরাদ্দ করেছে এবং ইরাকি বিচারব্যবস্থা এর বিধানগুলো গ্রহণ করে। এটি এই ক্ষেত্রে একটি বিচারিক বাস্তবতার অস্তিত্বকে নিশ্চিত করে এবং এখান থেকেই এ দেশের আইনি জীবনের সাথে এর সম্পর্কের কারণে এই বিষয়ের গুরুত্ব ফুটে ওঠে।
এই সব কারণেই আমার মধ্যে এই আকাঙ্ক্ষা তীব্রতর হয়েছে যে, আমি আমার গবেষণাপত্রের বিষয়বস্তু নির্ধারণ করি ‘ইসলামী ফিকহশাস্ত্রে জবরদখলের (الغصب) বিধানসমূহ’।
আমি পাঠকের কাছে গোপন করছি না যে, এই গবেষণায় আমি অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি, যার মধ্যে সম্ভবত প্রধান হলো তাদের ফিকহী গ্রন্থসমূহে প্রাচীন ফকীহগণের পদ্ধতি (منهج)। কারণ, বিষয়বস্তুর বিক্ষিপ্ততা এবং এর শাখা-প্রশাখা ও আলোচনার একে অপরের সাথে মিশে যাওয়ার পাশাপাশি সেখানে রয়েছে শ্রেণিবিন্যাসের (تبويب) অভাব, শিরোনামের অস্পষ্টতা এবং ছাপার অস্পষ্টতা; আরও এমন অনেক কিছু যা ইসলামী ফিকহশাস্ত্রের কিতাবসমূহের যেকোনো গবেষক উপলব্ধি করেন। আর এটিই হয়তো সেই কারণগুলোর মধ্যে একটি যা মানবরচিত আইনের (القانون الوضعي) ফকীহদের ইসলামী ফিকহ থেকে বিমুখ হতে এবং পাশ্চাত্য ফিকহশাস্ত্রের দিকে ধাবিত হতে বাধ্য করেছে, কারণ সেখানে তারা এমন সহজলভ্যতা ও সাবলীলতা খুঁজে পেয়েছেন যা তাদের অনুবাদ ও উদ্ধৃতির কষ্ট ছাড়া আর কোনো বাড়তি পরিশ্রমের প্রয়োজন করে না।
খ - গবেষণাপত্রের পদ্ধতি (منهج):যখন আমি লেখা শুরু করি, তখন আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে আমার গবেষণাপত্রটি সীমাবদ্ধ রাখব...
(খণ্ড: ১)
আহকামুল গাসবি ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৯)
موضوع الغصب لا أتعداه الى غيره وان أجعل البحث مقارنا بين المذاهب الفقهية إلا أن فضيلة الأستاذ صلاح الدين الناهي الأستاذ المشرف قد نبهني واسدى إليّ فضلا بأن أشار عليّ ان ابحث نظرية الحيازة بشكل عام وأحاول العثور على نقاط الالتقاء حتى يكتسب الموضوع حيوية خاصة. فما كان عليّ إلا ان ارحب بهذه الفكرة ولقد سعيت جهدي وبذلت ما في وسعي لأصل إلى شيء وعسى اني وصلت.
ج - خطة الرسالة:اشتملت الرسالة على بحوث تمهيدية وأربعة أبواب. أما التمهيد فقد تحدثت فيه عن تحديد بعض مصطلحات لها علاقة بالرسالة وما تضمنته من أحكام.
في الباب الأول: تناولت فيه نظرية الغصب بشكل عام وقد قسمته إلى ثلاثة فصول: تحدثت في الفصل الأول عن الغصب في اللغة والاصطلاح وأوردت تعريفات الفقهاء من مختلف المذاهب الإسلامية ثم اخترت تعريفا رجحته من بينها وتعرضت بعد ذلك الى ثمرة اختلاف التعاريف وما يبني عليها من تفريعات فقهية.
وفي الفصل الثاني تحدثت عن عناصر النظرية وأسسها وشروط المغصوب - اي شروط الشيء الذي يتحقق فيه الغصب. أما الفصل الثالث فقد خصصته للحديث عن حكم الغصب المباشر من وجوب ردّ المغصوب ومستلزمات هذا الردّ وفيما لو تعذر بنحو من الأنحاء.
إما الباب الثاني: فقد تحدثت في الفصل الأول عن أحكام الغاصب وما يجب عليه من الضمان وكيفيته. وفي الفصل الثاني تحدثت عما يطرأ على المغصوب من تغير زيادة أو نقصا. أما الفصل الثالث فقد تحدثت فيه عن الطواري على المغصوب.
أما الباب الثالث: فقد أفردته للحديث عن تصرفات الغاصب في
জবরদখল (الغصب) সংক্রান্ত বিষয়টি আমি অন্য কোনো বিষয়ের দিকে সম্প্রসারিত করতে চাইনি এবং গবেষণাটিকে বিভিন্ন ফিকহি মাযহাবের মধ্যে একটি তুলনামূলক পর্যালোচনারূপে সীমাবদ্ধ রাখতে চেয়েছিলাম। তবে আমার তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক সালাহউদ্দীন আন-নাহী আমাকে এ বিষয়ে সচেতন করেন এবং আমার প্রতি অনুগ্রহ প্রদর্শনপূর্বক পরামর্শ দেন যেন আমি সাধারণভাবে দখলস্বত্বের (الحيازة) তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করি এবং এর মধ্যকার সংযোগস্থলগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করি, যাতে বিষয়টি একটি বিশেষ প্রাণবন্ততা লাভ করে। ফলে এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানানো ছাড়া আমার কোনো উপায় ছিল না। আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি এবং কোনো একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য আমার সামর্থ্যের সবটুকু ব্যয় করেছি; আশা করি আমি সফল হয়েছি।
গ - গবেষণার রূপরেখা:গবেষণাটি একটি মুখবন্ধ এবং চারটি অধ্যায়ে বিভক্ত। মুখবন্ধে আমি গবেষণার সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু পরিভাষা (اصطلاح) এবং এর অন্তর্ভুক্ত বিধানাবলি নিয়ে আলোচনা করেছি।
প্রথম অধ্যায়ে: আমি সাধারণভাবে জবরদখল (الغصب) এর তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করেছি এবং একে তিনটি পরিচ্ছেদে ভাগ করেছি: প্রথম পরিচ্ছেদে আভিধানিক (لغة) ও পারিভাষিক (اصطلاح) অর্থে জবরদখল (الغصب) নিয়ে আলোচনা করেছি এবং বিভিন্ন ইসলামি মাযহাবের ফকিহদের প্রদানকৃত সংজ্ঞাগুলো উল্লেখ করেছি। এরপর আমি তাদের মধ্য থেকে একটি সংজ্ঞাকে প্রাধান্য দিয়ে বেছে নিয়েছি এবং সংজ্ঞার ভিন্নতার ফলে সৃষ্ট ফলাফল ও এর ওপর ভিত্তি করে যেসব ফিকহি শাখা-প্রশাখা নির্গত হয়, তা নিয়ে আলোচনা করেছি।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে আমি এই তত্ত্বের উপাদান, ভিত্তি এবং জবরদখলকৃত বস্তুর (المغصوب) শর্তাবলি—অর্থাৎ এমন সব শর্ত যার ফলে কোনো বস্তুর ক্ষেত্রে জবরদখল (الغصب) সাব্যস্ত হয়—তা নিয়ে আলোচনা করেছি। আর তৃতীয় পরিচ্ছেদটি আমি সরাসরি জবরদখলের বিধান, যেমন: জবরদখলকৃত বস্তু (المغصوب) ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা, এই ফেরত প্রদানের প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গসমূহ এবং কোনো কারণে তা অসম্ভব হয়ে পড়লে করণীয় কী হবে, সে সম্পর্কে আলোচনার জন্য নির্ধারিত করেছি।
দ্বিতীয় অধ্যায়ে: এর প্রথম পরিচ্ছেদে আমি জবরদখলকারীর বিধানসমূহ এবং তার ওপর ওয়াজিব হওয়া ক্ষতিপূরণ (الضمان) ও এর পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেছি। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে আমি জবরদখলকৃত বস্তুর (المغصوب) মধ্যে বৃদ্ধি বা ঘাটতিজনিত যেসব পরিবর্তন ঘটে, তা নিয়ে আলোচনা করেছি। আর তৃতীয় পরিচ্ছেদে আমি জবরদখলকৃত বস্তুর ওপর আপতিত আকস্মিক বিষয়সমূহ নিয়ে আলোচনা করেছি।
তৃতীয় অধ্যায়: এটি আমি জবরদখলকারীর কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট করেছি।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল গাসবি ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১০)
المغصوب سواء أكانت معاوضات أو عبادات أو تصرفات فعلية كزراعة المغصوب واستغلاله بأي نحو كان وكان ذلك في فصلين أما الفصل الثالث من هذا الباب فقد تناولت فيه أحكام اختلاف الغاصب مع المغصوب منه حول المغصوب من حيث وجوده أو صفاته وقيمته.
لقد حاولت وانا اكتب هذه الرسالة ان أكون موضوعيا سالكا المنهج الحديث في التعبير والعرض والتبويب وقمت بترجيح رأي على رأي والتزام اتجاه من الاتجاهات الفقهية - في المقام تبعا لقوة الدليل. وكانت طريقتي تتلخص باستعراض الآراء الفقهية - في نقطة البحث - لكل مذهب من المذاهب بعد التحقق من نسبة القول إلى أصحابه فيما تيسر لدي من مصادر ومراجع وأهملت بشكل كلي تقريبا ما يذكره أصحاب مذهب معين من رأي ينسبونه الى مذهب آخر لأن ذلك خلاف الأمانة العلمية والدقة في البحث. اضافة لما يحتمل - وهو احتمال قائم وله ما يبرره من الواقع التاريخي - من الكذب مما يكون مقصودا أو غير مقصود.
وهنا يمكن للقاري ان يتبين طريقتين في مناقشة أو استعراض الأحكام الفقهية التي تضمنتها الرسالة:
أما الطريقة الأولى: فتتم باستعراض آراء الفقهاء حسب تسلسل خاص ونقل نصوصهم في المقام ثم الخلوص الى تحديد اتجاهات معينة في مبحث مثلا ثم ذكر الأدلة لكل اتجاه - ان وجدت - ثم الاختيار والترجيح.
أما الطريقة الثانية: فتتم بذكر وحصر الاتجاهات مقدما ثم التحقق من نسبتها الى المذاهب الفقهية بالرجوع الى المصادر ثم ترجيح اتجاه على اتجاه.
وانما تمّ ذلك بهذا الشكل بحسب مقتضيات النقطة موضوع البحث ولتزويد القارئ بفكرة استخلاص اتجاهات معينة من النصوص الفقهية.
জবরদখলকৃত বিষয়াবলি, চাই তা বিনিময়মূলক লেনদেন, ইবাদাত, অথবা জবরদখলকৃত জমিতে চাষাবাদ ও যেকোনো প্রকারে তার ব্যবহারের মতো বাস্তব কর্মকাণ্ড হোক না কেন—তা দুটি পরিচ্ছেদে আলোচিত হয়েছে। আর এই অধ্যায়ের তৃতীয় পরিচ্ছেদে আমি জবরদখলকারী ও জবরদখলকৃত ব্যক্তির মধ্যে দখলকৃত বস্তুর অস্তিত্ব, গুণাবলি ও মূল্য নিয়ে মতভেদ সংক্রান্ত বিধানসমূহ আলোচনা করেছি।
আমি এই গবেষণাপত্রটি রচনার সময় বস্তুনিষ্ঠ থাকার চেষ্টা করেছি এবং বর্ণনাভঙ্গি, উপস্থাপন ও বিন্যাসের ক্ষেত্রে আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করেছি। দলীলের শক্তিমত্তার ওপর ভিত্তি করে আমি এক মতের ওপর অন্য মতকে প্রাধান্য দিয়েছি এবং একটি নির্দিষ্ট ফিকহী ধারার প্রতি অনুগত থেকেছি। আমার পদ্ধতিটি ছিল—গবেষণার প্রতিটি ক্ষেত্রে মাযহাবসমূহের ফিকহী মতামতের পর্যালোচনা করা, যা আমি লভ্য উৎস ও তথ্যসূত্র থেকে উদ্ধৃতির সত্যতা যাচাইয়ের পর তাদের প্রবক্তাদের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করেছি। আমি কোনো মাযহাবের অনুসারীদের দ্বারা অন্য মাযহাবের প্রতি আরোপিত মতামতগুলো প্রায় পুরোপুরি বর্জন করেছি, কারণ এটি জ্ঞানতাত্ত্বিক আমানতদারি ও গবেষণার সূক্ষ্মতার পরিপন্থী। এর সাথে যুক্ত হয়েছে মিথ্যার (الكذب) সম্ভাবনা—যা ঐতিহাসিকভাবে বাস্তব এবং এর পেছনে যৌক্তিক কারণও বিদ্যমান—চাই তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হোক বা অনিচ্ছাকৃত।
এখানে পাঠক এই গবেষণাপত্রে অন্তর্ভুক্ত ফিকহী বিধানসমূহ পর্যালোচনা বা উপস্থাপনের দুটি পদ্ধতি দেখতে পাবেন:
প্রথম পদ্ধতি: এটি একটি নির্দিষ্ট ধারাবাহিকতায় ফকীহগণের মতামতের পর্যালোচনার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এতে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে তাঁদের মূল বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়, এরপর গবেষণার কোনো বিষয়ে নির্দিষ্ট ধারাসমূহ চিহ্নিত করা হয়। অতঃপর প্রতিটি ধারার স্বপক্ষে প্রমাণাদি—যদি থাকে—উল্লেখ করার পর একটিকে নির্বাচন ও প্রাধান্য প্রদান করা হয়।
দ্বিতীয় পদ্ধতি: এটি প্রথমে গবেষণার ধারাসমূহকে নির্দিষ্ট ও সীমাবদ্ধ করার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এরপর মূল উৎসসমূহের দিকে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে ফিকহী মাযহাবগুলোর প্রতি সেগুলোর সঠিক সম্বন্ধ যাচাই করা হয় এবং পরিশেষে এক ধারার ওপর অন্য ধারাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।
গবেষণার বিষয়ের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী এবং পাঠককে ফিকহী বক্তব্যসমূহ থেকে নির্দিষ্ট ধারা নির্ণয়ের ধারণা প্রদানের লক্ষ্যে এটি এই আঙ্গিকে সম্পন্ন করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল গাসবি ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১১)
أما الباب الرابع والأخير فقد تناولت فيه نظرية الحيازة من حيث التعريف بها وتحديد عناصرها وشروطها ودعاوي الحيازة وما يتصل بها وفي خلال ذلك عرضت لنقاط الالتقاء بينها وبين الفقه الإسلامي بوجه عام وبينها وبين ما ورد في نظرية الغصب من أحكام مشابهة.
ثم انتهيت بعد ذلك الى خاتمة البحث حيث استخلصت من مجموع ما تناولته هذه الرسالة من بحوث نتائج وثمرات يمكن الاستناد إليها لتقرير حقيقة جوهرية هي عظمة الفقه الإسلامي وطابع الشمولية والدقة في أحكامه ومبادئه.
ولا يسعني في ختام هذه الرسالة إلا ان أتوجه بخالص الشكر والتقدير إلى الأستاذ العلامة الدكتور صلاح الدين الناهي الذي كان دائما وابدا يأخذ بيدي نحو الدقة في البحث ويسدي إليّ نصائح جليلة كان لها الفضل الأكبر في إخراج هذه الرسالة بهذا المستوي.
ولله الحمد أولا وآخرا وهو حسبي ونعم الوكيل.
الجمعة في 23/ذو القعدة/1392 هـ 12/ 1872/29 م
عبد الجبار حمد شرارة
চতুর্থ ও সর্বশেষ অধ্যায়ে আমি দখলি স্বত্ব (الحيازة) সংক্রান্ত মতবাদ নিয়ে আলোচনা করেছি, যেখানে এর সংজ্ঞা প্রদান এবং এর উপাদান ও শর্তাবলি নির্ধারণসহ দখলি স্বত্ব সংক্রান্ত মামলা (دعاوي الحيازة) এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ স্থান পেয়েছে। এ আলোচনার মধ্য দিয়ে আমি সাধারণভাবে ইসলামী আইনশাস্ত্র (الفقه الإسلامي) এবং জবরদখল (الغصب) সংক্রান্ত তত্ত্বে বর্ণিত সদৃশ বিধিবিধানের মধ্যকার পারস্পরিক সমন্বয় ও সাদৃশ্যের দিকগুলো তুলে ধরেছি।
এরপর আমি গবেষণার উপসংহারে পৌঁছেছি, যেখানে এই গবেষণাপত্রের (الرسالة) সামগ্রিক আলোচনা থেকে এমন কিছু ফলাফল ও নির্যাস বের করেছি যার ওপর ভিত্তি করে একটি মৌলিক সত্য অনুধাবন করা সম্ভব; আর তা হলো ইসলামী আইনশাস্ত্রের (الفقه الإسلامي) মাহাত্ম্য এবং এর বিধিবিধান ও মূলনীতিসমূহের ব্যাপকতা ও সূক্ষ্মতা।
এই গবেষণাপত্রের (الرسالة) শেষে আমি প্রফেসর আল্লামা ডক্টর সালাহউদ্দিন আন-নাহি-এর প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করছি, যিনি সর্বদা গবেষণার সূক্ষ্মতার ক্ষেত্রে আমার হাত ধরে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং আমাকে এমন মূল্যবান উপদেশ প্রদান করেছেন যা এই গবেষণাপত্রটিকে এই মানে উন্নীত করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে।
আদিতে ও অন্তে সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর এবং তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট (حسبي) এবং কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক (ونعم الوكيل)।
শুক্রবার, ২৩ জিলকদ, ১৩৯২ হিজরি / ২৯ ডিসেম্বর, ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দ
আব্দুল জব্বার হামাদ শারারা
(খণ্ড: ১)
আহকামুল গাসবি ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
بحث تمهيدي1 - المثلي والقيمي في اللغة والاصطلاح
2 - المتقوم وغير المتقوم
3 - العقار والمنقول في اللغة والاصطلاح
প্রারম্ভিক আলোচনা (بحث تمهيدي)1 - আভিধানিক (اللغة) ও পারিভাষিক (الاصطلاح) অর্থে সমজাতীয় (المثلي) এবং মূল্যভিত্তিক (القيمي) বস্তু
2 - মূল্যমানসম্পন্ন (المتقوم) এবং মূল্যমানহীন (غير المتقوم) বস্তু
3 - আভিধানিক (اللغة) ও পারিভাষিক (الاصطلاح) অর্থে স্থাবর (العقار) এবং অস্থাবর (المنقول) সম্পত্তি
(খণ্ড: ১)
আহকামুল গাসবি ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
المثلي والقيمي في اللغة والاصطلاحمثل في اللغة «كلمة تسوية يقال: هذا مثله ومثله كما يقال شبهه وشبهه بمعنى»
(1).
وقيل
(2) «المثل بالكسر: الشبه، تقول هذا الشيء مثل ذاك بلفظ واحد للجميع والمثلي: بالكسر: المنسوب الى المثل».
أما القيمي: فقد ورد في المعجم الوسيط
(3): «قوّمت السلعة: سعرها وثمنها: وتقوّم الشيء تعدل واستوى وقيمة الشيء: قدره والجمع قيم».
أمّا في الاصطلاح فالظاهر من كلمات الفقهاء ان المثلي ما تماثلت آحاده أو اجزاؤه بحيث يمكن أن يقوم بعضه مقام بعض دون فرق يعتد به. ويقدّر عادة بالوزن أو الكيل ويصح السلم فيه وكل ما يفقد شرطا من الشروط الآنفة يصبح قيميّا.
ويحسن هنا ان نورد بعض نصوص فقهاء المذاهب الإسلامية بهذا الخصوص لنتبين صحة ذلك.
--------------------------------------------
অভিধান (لغة) ও পরিভাষার (اصطلاح) আলোকে সমজাতীয় (مثلي) এবং মূল্যভিত্তিক (قيمي) বস্তুঅভিধানে (لغة) ‘মিছল’ (مثل) একটি সমতা জ্ঞাপক শব্দ। বলা হয়: “এটি তার মিছল বা সমান (مثله), যেমনটি বলা হয় এটি তার সদৃশ (شبهه) একই অর্থে”।
(১)বলা হয়েছে
(২) “মিছল (المثل) অর্থ হলো সদৃশ; আপনি বলবেন ‘এই বস্তুটি ওইটির সদৃশ’—সকলের ক্ষেত্রে একই শব্দ ব্যবহৃত হয়। আর মিছলি (المثلي) হলো মিছল-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত শব্দ”।
আর মূল্যভিত্তিক (قيمي) সম্পর্কে ‘আল-মুজাম আল-ওয়াসিত’ গ্রন্থে এসেছে
(৩): “আমি পণ্যটির মূল্যায়ন করেছি, অর্থাৎ এর দর ও মূল্য নির্ধারণ করেছি। কোনো জিনিসের মূল্য নির্ধারণের অর্থ হলো তা ভারসাম্যপূর্ণ ও সঠিক হওয়া। আর জিনিসের মূল্য বা ক্বিমাত (قيمة) হলো তার মান বা কদর, যার বহুবচন হলো ক্বিয়াম (قيم)”।
তবে পরিভাষার (اصطلاح) ক্ষেত্রে ফকিহগণের (فقهاء) বক্তব্য থেকে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, সমজাতীয় (مثلي) হলো এমন বস্তু যার প্রতিটি একক বা অংশ পরস্পরের সদৃশ, যাতে একটির স্থলে অন্যটি স্থলাভিষিক্ত হতে পারে এবং এর মধ্যে ধর্তব্য কোনো পার্থক্য থাকে না। সাধারণত এগুলো ওজন (وزن) বা পরিমাপের (كيل) মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয় এবং এতে অগ্রিম ক্রয় (سلم) চুক্তি বৈধ হয়। যে বস্তুর মাঝে উল্লিখিত শর্তাবলির কোনো একটির অভাব থাকে, তা মূল্যভিত্তিক (قيمي) হিসেবে গণ্য হয়।
বিষয়টি স্পষ্টভাবে অনুধাবনের জন্য বিভিন্ন ইসলামী মাজহাবের (مذاهب) ফকিহগণের (فقهاء) কিছু উদ্ধৃতি এখানে উল্লেখ করা সমীচীন হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল গাসবি ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ذكر ابن قاضي سماوة
(1) من فقهاء المذهب الحنفي ان: «المثلي: كل ما يكال أو يوزن وليس في تبعيضه مضرة وكذا العددي المتقارب كجوز وبيض ونحوها. أما الحيوانات والذرعيات والعددي المتفاوت كرمّان والوزني الذي في تبعيضه ضرر فهي قيميّات».
وفي الفقه الشافعي ذكر الرملي
(2): «والمثلي ما حصره كيل أو وزن وجاز السلم فيه». وذكر الغزالي
(3): «وحدّ المثلي ما تتماثل أجزاؤه في المنفعة والقيمة من حيث الذات».
ويظهر من هذه النصوص سواء في الفقه الحنفي والشافعي شرط كون الشيء مكيلا أو موزونا إضافة الى صحة السلم فيه لاعتباره مثليا.
وبنفس الشروط ورد تحديد المثلي في الفقه الحنبلي فقد ذكر ابن النجار
(4):
«المثلي هو كل مكيل أو موزون لا صناعة فيه مباحة يصح السلم فيه بمثله».
ومثل ذلك ورد في الفقه المالكي: «المثلي: ما حصره كيل أو وزن أو عدّ ولم تتفاوت أفراده يقيد بما إذا لم يكن أصله ودخلته صنعة»
(5).
أما في الفقه الجعفري فقد ذكر الشهيد الثاني
(6). «ضبطه بعضهم بالمقدر بالكيل والوزن وقد نقض هذا بالمعجونات وزاد آخرون عليه اشتراط جواز السلم فيه ليسلم من النقص».
--------------------------------------------
হানাফি মাযহাবের ফকিহগণের মধ্য থেকে ইবনে কাজি সামাওয়াহ
(১) উল্লেখ করেছেন যে: «সমজাতীয় (مثلي): এমন প্রতিটি বস্তু যা পরিমাপযোগ্য (مكيل) বা ওজনযোগ্য (موزون) এবং যা বিভাজন করলে কোনো ক্ষতি হয় না। তদ্রূপ কাছাকাছি বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন গণনাযোগ্য (عددي) বস্তু যেমন আখরোট, ডিম এবং অনুরূপ দ্রব্যাদি। পক্ষান্তরে গবাদিপশু, দৈর্ঘ্য দ্বারা পরিমাপযোগ্য বস্তু (কাপড় ইত্যাদি), ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন গণনাযোগ্য (عددي) বস্তু যেমন ডালিম এবং এমন ওজনযোগ্য (موزون) বস্তু যা বিভাজন করলে ক্ষতির কারণ হয়, সেগুলি মূল্যভিত্তিক (قيميات) পণ্যের অন্তর্ভুক্ত।»
শাফিঈ ফিকহে আর-রামলি
(২) উল্লেখ করেছেন: «সমজাতীয় (مثلي) হলো সেই বস্তু যা পরিমাপ বা ওজন দ্বারা নির্দিষ্ট করা যায় এবং যাতে অগ্রিম ক্রয় (سلم) বৈধ হয়।» ইমাম গাজালি
(৩) উল্লেখ করেছেন: «সমজাতীয় (مثلي)-এর সংজ্ঞা হলো যার প্রতিটি অংশ উপযোগিতা ও মূল্যের দিক থেকে সত্তাগতভাবে পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ হয়।»
হানাফি ও শাফিঈ উভয় মাযহাবের এই ভাষ্যসমূহ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, কোনো বস্তুকে সমজাতীয় (مثلي) হিসেবে গণ্য করার জন্য সেটি পরিমাপযোগ্য (مكيل) বা ওজনযোগ্য (موزون) হওয়া এবং তাতে অগ্রিম ক্রয় (سلم) শুদ্ধ হওয়া শর্ত।
অনুরূপ শর্তাবলির সাথেই হাম্বলি ফিকহে সমজাতীয় (مثلي) বস্তুর পরিচয় প্রদান করা হয়েছে। ইবনে নাজ্জার
(৪) উল্লেখ করেছেন:
«সমজাতীয় (مثلي) হলো এমন প্রত্যেক পরিমাপযোগ্য (مكيل) বা ওজনযোগ্য (موزون) বস্তু যাতে কোনো অনুমোদিত কৃত্রিম কারুকার্য নেই এবং যার অনুরূপ বস্তুর মাধ্যমে অগ্রিম ক্রয় (سلم) করা শুদ্ধ হয়।»
মালিকি ফিকহেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে: «সমজাতীয় (مثلي): যা পরিমাপ, ওজন বা গণনার মাধ্যমে নির্দিষ্ট করা যায় এবং যার এককগুলোর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এটি ওই অবস্থার সাথে শর্তযুক্ত যখন এর মূলে কোনো কৃত্রিম কারুকার্য প্রবেশ না করে»
(৫)।
জাফরি ফিকহের ক্ষেত্রে আশ-শাহিদ আস-সানি
(৬) উল্লেখ করেছেন: «তাদের কেউ কেউ এটিকে পরিমাপ ও ওজনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট হওয়ার দ্বারা সীমাবদ্ধ করেছেন। তবে মা'জুনাত (মিশ্রিত বস্তু) দ্বারা এই সংজ্ঞার ওপর আপত্তি তোলা হয়েছে। অন্য বিশেষজ্ঞগণ এতে ত্রুটি থেকে মুক্ত থাকার জন্য অগ্রিম ক্রয় (سلم) বৈধ হওয়ার শর্ত যোগ করেছেন।»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল গাসবি ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وذكر السيد الحكيم
(1): «المثلي ما يكثر وجود مثله في الصفات التي تختلف باختلافها الرغبات والقيمي بخلافه».
أما في الفقه الزيدي
(2) فقد ورد في تحديد المثلي: «هو ما ضبطه مكيال أو ميزان وقلّ التفاوت فيه كالحيوان والادهان وغيرها».
ومن استعراضنا لكلمات الفقهاء يتضح لنا ما خلصنا إليه في تعريف المثلي والقيمي ويظهر حينئذ مدى التقارب بين التعريف اللغوي والاصطلاحي ولا غرابة في ذلك فليس للمثلي حقيقة متشرعة أو شرعية بل هو بمعناه اللغوي والعرفي وهو المماثل.
ولكن يحسن بنا ان نزيد الأمر وضوحا بالتعريف «بما يصح السلم فيه» حيث ورد شرطا في اعتبار المثلية في الشيء (والسلم هو بيع عاجل بآجل)
(3) وهو عقد من العقود.
وقد ذكر الشيخ محمد جواد مغنية
(4) ان الفقهاء قالوا بصحة السلم في الفواكه والخضار والبيض، والجوز، والألبان والاسمان، والأطياب والملابس والأشربة لإمكان ضبطها بالوصف الذي تتفاوت فيه الرغبات.
وذكر ابن رشد
(5): «ان الفقهاء اتفقوا على جواز السلم في كل ما يكال أو يوزن وعلى امتناعه فيما لا يثبت في الذمة كالعقار والدور».
--------------------------------------------
সাইয়্যেদ আল-হাকিম
(১) উল্লেখ করেছেন: «সমজাতীয় (মিসলি) হলো সেই বস্তু যার গুণাবলির ক্ষেত্রে অনুরূপ বস্তু প্রচুর পাওয়া যায়, যা গুণাবলির ভিন্নতার কারণে মানুষের চাহিদাও ভিন্ন হয়; আর মূল্যভিত্তিক (কিয়িমি) বস্তু এর বিপরীত।»
অন্যদিকে জায়েদি ফিকহে
(২) সমজাতীয় (মিসলি) বস্তুর সংজ্ঞায় বর্ণিত হয়েছে: «এটি এমন বস্তু যা পরিমাপক বা তুলাদণ্ড দ্বারা নির্দিষ্ট করা যায় এবং যাতে পার্থক্যের মাত্রা খুবই সামান্য, যেমন গবাদি পশু, তেল এবং অন্যান্য।»
ফকিহগণের বক্তব্যের পর্যালোচনায় আমাদের কাছে সমজাতীয় (মিসলি) ও মূল্যভিত্তিক (কিয়িমি)-র সংজ্ঞার যে নির্যাস পৌঁছেছে তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তখন শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞার মধ্যকার ঘনিষ্ঠতা প্রতীয়মান হয় এবং এতে আশ্চর্যের কিছু নেই; কারণ সমজাতীয় (মিসলি)-র কোনো বিশেষ শরয়ী বা ফিকহি হাকিকত (মূলতত্ত্ব) নেই, বরং এটি তার শাব্দিক ও প্রথাগত অর্থের অনুরূপ বস্তু অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
তবে বিষয়টি আরও স্পষ্ট করতে «যাতে সালাম (অগ্রিম ক্রয়) চুক্তি বৈধ (صحيح) হয়»—এই সংজ্ঞার মাধ্যমে বর্ণনা করা সমীচীন হবে; যেখানে কোনো বস্তুর ক্ষেত্রে সমজাতীয়তা বিবেচনার জন্য এটি একটি শর্ত হিসেবে বর্ণিত হয়েছে (আর সালাম হলো নগদে মূল্য পরিশোধ করে ভবিষ্যতে পণ্য গ্রহণের একটি ক্রয়-বিক্রয় পদ্ধতি)
(৩), যা বিভিন্ন চুক্তির মধ্যে একটি বিশেষ চুক্তি।
শায়খ মুহাম্মদ জাওয়াদ মুগনিয়া
(৪) উল্লেখ করেছেন যে, ফকিহগণ ফলমূল, শাকসবজি, ডিম, আখরোট, দুগ্ধজাত পণ্য, ঘি, সুগন্ধি, পোশাক এবং পানীয়ের ক্ষেত্রে সালাম চুক্তির বৈধতা (صحيح) সম্পর্কে মত দিয়েছেন; কারণ বর্ণনার মাধ্যমে এগুলোর গুণাবলি নির্দিষ্ট করা সম্ভব, যা ভিন্ন হওয়ার কারণে মানুষের চাহিদাও ভিন্ন হয়।
ইবনে রুশদ
(৫) উল্লেখ করেছেন: «ফকিহগণ এই বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, পরিমাপযোগ্য বা ওজনযোগ্য প্রতিটি বস্তুর ক্ষেত্রে সালাম চুক্তি জায়েজ; আর যা জিম্মায় সাব্যস্ত হয় না, যেমন স্থাবর সম্পত্তি ও ঘরবাড়ি, সেগুলোর ক্ষেত্রে এটি নিষিদ্ধ।»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল গাসবি ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وبمثل اتجاه للفقه في تحديد المراد بالمثلي كان الاتجاه القانوني فقد ذكر محمد كامل مرسي
(1): «الأشياء المثلية هي التي يقوم بعضها مقام بعض عند الوفاء والتي تقدر عادة في التعامل بين الناس بالمقياس أو العدد أو الكيل أو الوزن فهي التي يوجد لها نظير من جنسها مساو أو مقارب لها في القيمة».
والأشياء القيمية هي التي لا يقوم غيرها مقامها ولو كان من نوعها مثل الحيوانات التي لا تباع بالعدد والأراضي والمنازل».
--------------------------------------------
ফিকহ শাস্ত্রে সমজাতীয় (المثلي) বস্তুর সংজ্ঞা নির্ধারণের যে দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, আইনি দৃষ্টিভঙ্গিও ঠিক তার অনুরূপ। মুহাম্মদ কামিল মুরসি
(১) উল্লেখ করেছেন: «সমজাতীয় বস্তু (الأشياء المثلية) হলো সেই সব বস্তু যা দায় পরিশোধের সময় একে অপরের স্থলাভিষিক্ত হতে পারে এবং মানুষের পারস্পরিক লেনদেনে যা সাধারণত পরিমাপ, সংখ্যা, আয়তন বা ওজন দ্বারা নির্ধারিত হয়; অর্থাৎ যার সমজাতীয় এমন কোনো প্রতিরূপ পাওয়া যায় যা মূল্যের দিক থেকে সমান বা কাছাকাছি»।
«আর অ-বিনিময়যোগ্য বস্তু (الأشياء القيمية) হলো সেই সব বস্তু যার পরিবর্তে অন্য কিছু স্থলাভিষিক্ত হতে পারে না, যদিও তা একই জাতীয় হয়; যেমন এমন সব প্রাণী যা সংখ্যা হিসেবে বিক্রি হয় না, এবং জমি ও ঘরবাড়ি»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল গাসবি ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
المتقوّم وغير المتقوّم من الماليقصد بالمال المتقوّم: «هو ما كان محرزا فعلا وانه محل لانتفاع معتاد شرعا حال السعة والاختيار وهذا النوع إذا تعدى عليه آخر وأتلفه ضمنه ان كان قيميّا فبقيمته وإن كان مثليا بمثله فالأرض والدور والسيارات والدواب والكتب والطعام وأمثال ذلك يعتبر مالا
(1) متقوّما».
وقد ذكر الكاساني
(2) من فقهاء الحنفية: «إن التقوّم ضربان: عرفي وهو بالإحراز فغير المحرز كالصيد وغيره كالحشيش ليس بمقوّم. وشرعي:
وهو بإباحة الانتفاع به».
وذكر السيد اليزدي
(3) من فقهاء الجعفرية: «ان إسقاط التقوم لمال من الأموال هو عدم إباحة الشارع الانتفاع به إذ المناط أن تكون المنفعة المحللة مقومة للمالية بحيث لو أغمض عن المنفعة المحرمة يعد مالا».
أما غير المتقوّم: «فهو الذي لا ينتفع به عادة على وجه يرتضيه الشارع
--------------------------------------------
মালের সংরক্ষিত (المتقوّم) এবং অসংরক্ষিত (غير المتقوّم) প্রকারভেদসংরক্ষিত মাল (المال المتقوّم) বলতে বোঝায়: «যা প্রকৃতপক্ষে হস্তগত (محرزا) করা হয়েছে এবং যা স্বচ্ছলতা ও ঐচ্ছিক অবস্থায় শরিয়তসম্মতভাবে স্বাভাবিক ব্যবহারের উপযোগী। এই প্রকার মালের ওপর যদি অন্য কেউ সীমালঙ্ঘন করে এবং তা ধ্বংস করে ফেলে, তবে সে তার ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে (ضمنه); যদি মালটি মূল্যভিত্তিক (قيميا) হয় তবে তার মূল্যের মাধ্যমে এবং যদি তা সমরূপ (مثليا) হয় তবে তার অনুরূপ বস্তুর মাধ্যমে। সুতরাং ভূমি, ঘরবাড়ি, যানবাহন, চতুষ্পদ জন্তু, কিতাব ও খাদ্যদ্রব্য এবং এই জাতীয় বস্তুগুলো সংরক্ষিত (متقوّما) মাল হিসেবে গণ্য
(১)»।
হানাফি ফকিহগণের অন্তর্ভুক্ত আল-কাসানি
(২) বর্ণনা করেছেন: «সংরক্ষিত হওয়া (التقوّم) দুই প্রকার: প্রথাগত (عرفي), যা হস্তগত (الإحراز) করার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়; সুতরাং যা হস্তগত করা হয়নি যেমন শিকারযোগ্য প্রাণী এবং অন্যান্য বস্তু যেমন ঘাস—তা সংরক্ষিত (مقوّم) নয়। এবং শরয়ি (شرعي): যা ব্যবহারের বৈধতার মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়»।
জাফরি ফকিহগণের অন্তর্ভুক্ত সাইয়্যেদ আল-ইয়াজদি
(৩) উল্লেখ করেছেন: «কোনো সম্পদের আর্থিক মূল্যমান (التقوّم) নাকচ হওয়া মানে হলো আইনদাতা (الشارع) কর্তৃক সেটি ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়া। কেননা মূল মানদণ্ড হলো হালাল উপযোগিতা আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করবে, যাতে করে হারাম উপযোগিতা উপেক্ষা করা হলেও সেটি মাল হিসেবে গণ্য হয়»।
পক্ষান্তরে অসংরক্ষিত (غير المتقوّم) মাল: «তা হলো যা সাধারণত শরিয়ত অনুমোদিত পদ্ধতিতে ব্যবহারের উপযোগী নয়...»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল গাসবি ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ويجيزه حال السعة والاختيار كالخمر والخنزير بالنسبة للمسلم». (كما ذكر الدكتور محمد سلام مدكور).
وهنا اتفق الفقهاء
(1) على إسقاط مالية الخمر والخنزير بالنسبة للمسلم واختلفوا فيها بالنسبة للذمي. والخلاف
(2) هنا مبني على أصل وهو هل ان الكفار مخاطبون بأحكام الشريعة مثلنا ومكلفون باتباعها أم لا؟.
فمن رأى انهم مكلفون بالأحكام وأن لهم ما لنا وعليهم ما علينا قال بعدم تقوم الخمر والخنزير بالنسبة لهم أيضا. ومن رأى أنهم غير مكلفين بالأحكام الشرعية بل نتركهم وما يدينون قال بتقوّمها بالنسبة لهم.
«فالاحناف والمالكية يرون تقوّمها بالنسبة لغير المسلمين ما داموا يعتقدون صحة التعامل بها في العادة أما عند الشافعي وأحمد فلا يجب ضمان الخمر والخنزير سواء أكان متلفه مسلما أم ذميا»
(3).
والظاهر ان الجعفرية
(4) وافقوا الحنيفة والمالكية في القول بتقوّم الخمر والخنزير بالنسبة لغير المسلمين أما الظاهرية
(5). فقد وافقوا الشافعية والحنابلة في القول بعدم التقوّم.
والظاهر كما ذكر الشيخ محمد أبو زهرة
(6) أن اصطلاح تقسيم الأموال إلى متقومة وغير متقومة يقاربه ما ورد في القانون إذ أن هناك من الأموال ما
--------------------------------------------
«এবং তিনি স্বাচ্ছন্দ্য ও ইচ্ছাধীন অবস্থায় একে বৈধ করেন, যেমন একজন মুসলিমের জন্য মদ ও শূকর»। (ড. মুহাম্মাদ সালাম মাদুর যেমনটি উল্লেখ করেছেন)।
এখানে ফকীহগণ
(১) মুসলিমের ক্ষেত্রে মদ ও শূকরের আর্থিক মূল্য বিলুপ্ত করার বিষয়ে একমত হয়েছেন এবং জিম্মির ক্ষেত্রে এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন। আর এখানে বিরোধের
(২) ভিত্তি হলো একটি মূলনীতি (أصل), আর তা হলো কাফেররা কি আমাদের মতো শরীয়তের বিধানের সম্বোধিত এবং তা অনুসরণে আদিষ্ট (مكلفون) নাকি নয়?
সুতরাং যারা মনে করেন যে তারা বিধানের দ্বারা আদিষ্ট (مكلفون) এবং আমাদের যা প্রাপ্য তাদেরও তা প্রাপ্য এবং আমাদের ওপর যা অর্পিত তাদের ওপরও তা অর্পিত, তারা তাদের ক্ষেত্রেও মদ ও শূকর মূল্যবান (تقوم) না হওয়ার কথা বলেছেন। আর যারা মনে করেন যে তারা শরয়ী বিধানের দ্বারা আদিষ্ট (غير مكلفين) নন, বরং আমরা তাদেরকে তাদের ধর্মের ওপর ছেড়ে দেব, তারা তাদের ক্ষেত্রে এগুলো মূল্যবান (تقوم) হওয়ার কথা বলেছেন।
«হানাফী ও মালিকীগণ অমুসলিমদের জন্য এগুলো মূল্যবান (تقوم) হওয়ার সপক্ষে মত দেন যতক্ষণ পর্যন্ত তারা স্বাভাবিকভাবে এগুলোর লেনদেন বৈধ বলে বিশ্বাস করে; পক্ষান্তরে শাফেয়ী ও আহমাদ (রহ.)-এর মতে মদ ও শূকরের ক্ষেত্রে কোনো ক্ষতিপূরণ (ضمان) ওয়াজিব হবে না, চাই তা বিনষ্টকারী মুসলিম হোক বা জিম্মি»
(৩)।
প্রকাশ্যত জাফরীয়গণ
(৪) অমুসলিমদের ক্ষেত্রে মদ ও শূকর মূল্যবান (تقوم) হওয়ার বিষয়ে হানাফী ও মালিকীদের সাথে একমত হয়েছেন। আর জাহেরীগণ
(৫) মূল্যবান না হওয়ার (عدم التقوم) বিষয়ে শাফেয়ী ও হাম্বলীদের সাথে একমত হয়েছেন।
শায়খ মুহাম্মাদ আবু জাহরা
(৬) যেমনটি উল্লেখ করেছেন, প্রকাশ্যত সম্পদকে মূল্যবান (متقومة) এবং অ-মূল্যবান (غير متقومة) হিসেবে বিভক্ত করার এই পরিভাষাটি আইনে যা বর্ণিত হয়েছে তার কাছাকাছি, যেহেতু সম্পদের মধ্যে এমন কিছু আছে যা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল গাসবি ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২০)
يحرم قانون العقوبات إحرازها. وإن من أتلفها لا عقوبة عليه فهي مهدرة المالية.
إما مجلة الأحكام العدلية فقد ذكر علي حيدر في شرحها
(1) ان المال المتقوّم هو المال المحرز الذي يباح الانتفاع به شرعا فيخرج من التعريف الأشياء التي كالعشب النابت بنفسه والأشجار التي في الجبال المباحة وما لا يباح الانتفاع به للمسلم كالخمر والخنزير.
--------------------------------------------
দণ্ডবিধি এটি সংরক্ষণ (إحراز) করা নিষিদ্ধ করে। আর যে ব্যক্তি এটি বিনষ্ট করবে তার ওপর কোনো দণ্ড নেই, কারণ এটি আর্থিক মূল্যহীন (مهدرة المالية)।
পক্ষান্তরে মাজাল্লাতুল আহকাম আল-আদলিয়্যাহ-এর ব্যাখ্যায়
(১) আলী হায়দার উল্লেখ করেছেন যে, মূল্যযোগ্য (متقوّم) সম্পদ হলো সেই সংরক্ষিত (محرز) সম্পদ যা থেকে উপকৃত হওয়া শরিয়তগতভাবে বৈধ (مباح)। সুতরাং এই সংজ্ঞা থেকে ঐসব বস্তু বাদ যাবে যেমন—স্বয়ংক্রিয়ভাবে জন্মানো ঘাস, উন্মুক্ত পাহাড়ের গাছপালা এবং যা থেকে উপকৃত হওয়া মুসলিমদের জন্য বৈধ নয়, যেমন—মদ ও শূকর।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল গাসবি ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২১)
العقار والمنقول في اللغة والاصطلاحالعقار
(1): بالفتح -: الأرض والضياع والنخل ومنه قولهم ما له دار ولا عقار. ويقال أيضا في البيت: عقار حسن: أي متاع واداة.
«وقيل
(2): العقار: هو المنزل والأرض والضياع.» أما في الاصطلاح: فالظاهر ان هناك اتجاهين في الفقه الإسلامي في تحديد العقار والمنقول:
الاتجاه الأول: يرى ان العقار: هو الأرض فقط وهي يمكن اعتبارها العقار بالطبيعة وأما ما يتصل بها من بناء أو شجر فهو عقار بالتبعية.
أما المنقول فهي كل الأموال بانفرادها عن الأرض. «ويظهر هنا ان العقار: هو كل ما له استقرار وثبات بحيث لا يمكن نقله وتحويله.».
وهذا هو رأي الحنفية
(3) والشافعية
(4) والحنابلة
(5) والجعفرية
(6)--------------------------------------------
অভিধান ও পরিভাষার আলোকে স্থাবর (العقار) ও অস্থাবর (المنقول) সম্পত্তিস্থাবর সম্পত্তি (العقار)
(১): আইন বর্ণে ফাতহাহ (জবর) যোগে— এর অর্থ হলো ভূমি, ভূসম্পত্তি ও খেজুর বাগান। এ থেকেই প্রবাদটি এসেছে: "তার কোনো ঘরবাড়ি বা স্থাবর সম্পত্তি নেই।" ঘরের আসবাবপত্রের ক্ষেত্রেও বলা হয়: "চমৎকার সরঞ্জাম (عقار حسن)" অর্থাৎ আসবাবপত্র ও তৈজসপত্র।
«বলা হয়েছে
(২): স্থাবর সম্পত্তি (العقار) হলো বাসস্থান, ভূমি ও ভূসম্পত্তি।» পরিভাষার (اصطلاح) ক্ষেত্রে: এটি প্রতীয়মান হয় যে, স্থাবর (العقار) ও অস্থাবর (المنقول) সম্পত্তির সংজ্ঞায়নে ইসলামি আইনশাস্ত্রে (ফিকহ) দুটি ধারা রয়েছে:
প্রথম ধারা: এই মতানুসারে স্থাবর সম্পত্তি (العقار) হলো কেবল ভূমি। একে প্রকৃতিগত স্থাবর (العقار بالطبيعة) হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে। আর ভূমির সাথে সংশ্লিষ্ট ভবন বা গাছপালা অনুবর্তী স্থাবর (عقار بالتبعية) হিসেবে বিবেচিত হয়।
অস্থাবর সম্পত্তি (المنقول) হলো ভূমি ব্যতিরেকে স্বতন্ত্র সকল সম্পদ। «এখানে এটি স্পষ্ট হয় যে, স্থাবর সম্পত্তি (العقار) হলো এমন প্রতিটি বস্তু যার স্থায়িত্ব ও স্থিরতা রয়েছে, ফলে তা স্থানান্তর ও রূপান্তর করা সম্ভব নয়।»
এটি হানাফি
(৩), শাফেয়ী
(৪), হাম্বলি
(৫) ও জাফরি
(৬) মাযহাবের অভিমত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল গাসবি ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২২)
والزيدية
(1) والظاهرية
(2).
أما الاتجاه الثاني في تحديد العقار: فهو اتجاه المالكية وهؤلاء يرون «ان العقار شامل للبناء والغرس وغيرهما كالأرض المجردة عن ذلك لأن العقار اسم للأرض وما اتصل بها من بناء أو شجر.
(3)».
وهذا التحديد أوسع من الأول وهو أقرب الى التحديد اللغوي.
ونحو هذا الاتجاه اتجه القانون المدني العراقي
(4) في تحديد العقار: فقد ورد في تحديده: «انه كل شيء له مستقر ثابت لا يمكن نقله وتحويله دون تلف.» أما المنقول: «فإنه كل شيء يمكن نقله وتحويله دون تلف فيشمل النقود والعروض والحيوانات والمكيلات والموزونات وغير ذلك».
ومثل هذا التعريف أو نحوه ورد في التقنين المصري
(5):
فالأشياء تنقسم بطبيعتها الى ثابتة ومنقولة وقد نصّ على هذا التقسيم في المادة (82) التي جاء فيها:
«كل شيء مستقر بحيزه ثابت فيه لا يمكن نقله منه دون تلف فهو عقار وكل ما عدا ذلك من شيء فهو منقول.»
--------------------------------------------
এবং জায়দিয়া
(1) ও জহিরিয়া
(2)।
স্থাবর সম্পত্তি (عقار) নির্ধারণের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় ধারাটি হলো মালিকি মাযহাবের (المالكية) দৃষ্টিভঙ্গি। তাঁরা মনে করেন যে, «স্থাবর সম্পত্তি (عقار) দালানকোঠা, বৃক্ষরোপণ এবং খালি জমির মতো বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে। কারণ স্থাবর সম্পত্তি (عقار) হলো ভূমি এবং তার সাথে সংশ্লিষ্ট দালানকোঠা বা বৃক্ষের নাম।
(3)»।
আর এই সংজ্ঞাটি প্রথমটির তুলনায় অধিকতর বিস্তৃত এবং এটি আভিধানিক সংজ্ঞার অধিক নিকটবর্তী।
স্থাবর সম্পত্তি (عقار) সংজ্ঞায়নের ক্ষেত্রে ইরাকি দেওয়ানি আইন
(4) এই ধারার অনুরূপ পথ অবলম্বন করেছে। এর সংজ্ঞায় বর্ণিত হয়েছে: «এটি এমন প্রতিটি বিষয় যা স্থায়ীভাবে এক জায়গায় প্রতিষ্ঠিত এবং যা ক্ষতিগ্রস্ত না করে স্থানান্তর বা রূপান্তর করা সম্ভব নয়।» পক্ষান্তরে অস্থাবর সম্পত্তি (المنقول) হলো: «এমন প্রতিটি বিষয় যা কোনো প্রকার ক্ষতি ছাড়াই স্থানান্তর ও রূপান্তর করা সম্ভব; এর মধ্যে নগদ অর্থ, বাণিজ্যিক পণ্য (العروض), গবাদিপশু এবং পরিমাপযোগ্য (المكيلات) ও ওজনযোগ্য (الموزونات) দ্রব্যাদিসহ অন্যান্য বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।»
অনুরূপ বা এর কাছাকাছি সংজ্ঞা মিশরীয় সংবিধিতেও
(5) উল্লেখ করা হয়েছে:
বস্তুসমূহ স্বভাবগতভাবে স্থাবর ও অস্থাবর—এই দুই ভাগে বিভক্ত। ৮২ নম্বর ধারায় এই বিভক্তির বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে:
«যে বস্তু নিজ স্থানে সুপ্রতিষ্ঠিত এবং যা ক্ষতিসাধন ব্যতীত সেখান থেকে স্থানান্তর করা সম্ভব নয়, তাই স্থাবর সম্পত্তি (عقار)। আর এ ছাড়া অন্য সকল বিষয়ই হলো অস্থাবর সম্পত্তি (منقول)।»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল গাসবি ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
صلة الغصب بفلسفة الملكيةلا بدّ لنا ونحن نريد بحث نظرية الغصب في الفقه الإسلامي المقارن ان نتطرق الى صلة الغصب بفلسفة الملكية باعتبار ان الغصب هو أحد الأعمال غير المشروعة التي تقع على الملك.
«ان حقّ الملكية الفردية يتصل بنظرية القانون الطبيعي تلك النظرية التي لم يستطع النقد ان يخمد أنفاسها لأن ما وجه إليها من تفنيد يتصل بخصائص القانون الطبيعي التقليدية ولا ينفي وجود هذا القانون.»
(1).
ان ميل الإنسان إلى احتياز الأشياء مركوز في طبيعته الإنسانية وهي ظاهرة حياتية لا يمكن التغافل عنها بحال مهما كانت الحجج والمبررات. ومن هنا يبدو ان القول الذاهب الى ان مسيرة الإنسان الحياتية قد شهدت صراعات دامية بسبب الملكية وعليه يلزم إسقاطها من الحساب لإيجاد حياة لا تبرز فيها ظواهر عدائية أو دامية يبدو ان هذا القول بعيد عن الصفة العلمية والواقعية. وان الحق يقتضينا ان نتعامل مع هذه الظاهرة - ميل الإنسان إلى التملك - بروح أكثر جديّة وواقعية فنسعى إلى إيجاد تخطيط متكامل ومتناسق يعنى بتنظيم هذا الحق - حق الملكية - مصادر اكتسابه ووسائل نمائه وطرق استثماره وتوظيفه وضمانات حمايته وحينذاك نكون قد أمنا ما يمكن ان يتأتى من فوضى إطلاقه بلا قيود أو شروط.
وهنا لو رجعنا الى مجمل التشريعات الإسلامية بهذا الخصوص لا نكشف لنا وبجلاء عظم ما تمتلكه هذه التشريعات من تخطيط وتنظيم رائعين لهذا الحق.
ومن هنا ايضا واستنادا الى القانون الطبيعي نرى أن الشريعة الإسلامية قد أولت حق الملكية أهمية خاصة فاحترمته أولا وأقرته وكفلت في تشريعاتها
--------------------------------------------
মালিকানা দর্শনের সাথে জবরদখলের (الغصب) সম্পর্কতুলনামূলক ইসলামি আইনশাস্ত্রে (الفقه الإسلامي المقارن) জবরদখল (الغصب) তত্ত্বটি আলোচনার সময় মালিকানা দর্শনের সাথে এর সম্পর্কের বিষয়টি আমাদের পর্যালোচনায় আনা আবশ্যক। কারণ জবরদখল (الغصب) হলো মালিকানার ওপর সংঘটিত একটি অবৈধ বা বেআইনি কর্মকাণ্ড।
«ব্যক্তিগত মালিকানার অধিকার প্রাকৃতিক আইন (القانون الطبيعي) তত্ত্বের সাথে সম্পৃক্ত। এটি এমন এক তত্ত্ব যাকে কোনো সমালোচনা নিস্তেজ করতে পারেনি। কারণ এর বিরুদ্ধে যে খণ্ডন উপস্থাপিত হয়েছে তা মূলত প্রাকৃতিক আইনের প্রথাগত বৈশিষ্ট্যের সাথে সংশ্লিষ্ট, যা এই আইনের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে না।»
(১)।
বস্তু সামগ্রী অর্জনের প্রতি মানুষের সহজাত ঝোঁক তার মানবীয় প্রকৃতির মাঝেই নিহিত। এটি জীবনের এমন এক বাস্তবতা যা কোনো যুক্তি বা অজুহাতেই উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। এখান থেকে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, মানুষের জীবনযাত্রা মালিকানাকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘাত প্রত্যক্ষ করেছে, তাই একে সম্পূর্ণ হিসেব থেকে বাদ দিয়ে এমন এক জীবন গড়া যেখানে কোনো শত্রুতা বা রক্তপাত থাকবে না—এরূপ বক্তব্য বৈজ্ঞানিক ও বাস্তবসম্মত বৈশিষ্ট্য থেকে বহু দূরে। সত্যের দাবি হলো এই প্রবণতাকে—অর্থাৎ মানুষের মালিক হওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে—অধিক গুরুত্ব ও বাস্তবতার সাথে বিবেচনা করা। ফলে আমাদের এমন একটি পূর্ণাঙ্গ ও সুসমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়নের চেষ্টা করা উচিত যা এই অধিকারের—অর্থাৎ মালিকানার অধিকারের—ব্যবস্থাপনা, এটি অর্জনের উৎস, এর বিকাশের মাধ্যম, বিনিয়োগ ও ব্যবহারের পদ্ধতি এবং সুরক্ষার নিশ্চয়তা প্রদান নিয়ে কাজ করবে। আর তখনই আমরা মালিকানাকে কোনো নিয়ন্ত্রণ বা শর্তহীনভাবে অবারিত করে দেওয়ার ফলে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা থেকে নিরাপদ থাকতে পারব।
এক্ষেত্রে যদি আমরা ইসলামি বিধানমালার (التشريعات الإسلامية) সামগ্রিক রূপরেখার দিকে দৃষ্টিপাত করি, তবে আমাদের সামনে এই অধিকারের বিষয়ে উক্ত বিধানমালার চমৎকার পরিকল্পনা ও সুশৃঙ্খল বিন্যাস স্পষ্টভাবে উন্মোচিত হবে।
এখান থেকেই এবং প্রাকৃতিক আইনের (القانون الطبيعي) ওপর ভিত্তি করে আমরা দেখতে পাই যে, ইসলামি শরিয়ত (الشريعة الإسلامية) মালিকানার অধিকারকে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছে। ফলে এটি একে প্রথমত সম্মান জানিয়েছে, স্বীকৃতি দিয়েছে এবং নিজ বিধানমালার মাধ্যমে এর নিশ্চয়তা প্রদান করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল গাসবি ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وسائل نمائه وطرق حمايته ومن خلال ذلك وباعتبار ان الغصب سبب من أسباب الكسب غير المشروع من جهة وطريق يهدد الملكية الفردية ويحول دون استثمارها على الوجه الأكمل نجد الفقه الإسلامي يعالجه بأسلوبه الخاص فيحمل الغاصب مسؤوليات خاصة تجعله يقف وجها لوجه امام التزام لا قبل له به فيسعى للتحلل من هذا الالتزام. ويتناول الفقه هنا كافة الاحتمالات القائمة سواء استغلال المغصوب والانتفاع به أو زيادته أو نقصانه وكل ما يمكن ان يطرأ عليه
(1).
وهذا ما سنتحدث عنه تفصيلا في رسالتنا هذه.
--------------------------------------------
এর প্রবৃদ্ধির উপায়সমূহ এবং এর সুরক্ষার পদ্ধতিসমূহ। এই প্রেক্ষাপটে এবং যেহেতু অনাধিকার দখল (الغصب) একদিকে যেমন অবৈধ উপার্জনের অন্যতম কারণ এবং অন্যদিকে তা ব্যক্তিগত মালিকানার জন্য হুমকিস্বরূপ যা এর যথাযথ বিনিয়োগে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, সেহেতু আমরা দেখি যে ইসলামি ফিকহ (الفقه) একে নিজস্ব পদ্ধতিতে নিরসন করে। এটি অনাধিকার দখলকারী (الغاصب)-এর ওপর এমন কিছু বিশেষ দায়দায়িত্ব অর্পণ করে যা তাকে এমন এক বাধ্যবাধকতার সম্মুখীন করে তোলে যা বহন করা তার পক্ষে অসম্ভব, ফলে সে এই দায়বদ্ধতা থেকে নিষ্কৃতি পেতে সচেষ্ট হয়। এখানে ফিকহ (الفقه) যাবতীয় সম্ভাব্য দিকসমূহ নিয়ে আলোচনা করে, চাই তা অনাধিকার দখলকৃত বস্তু (المغصوب)-এর ব্যবহার ও তা থেকে উপকৃত হওয়া হোক, কিংবা তার বৃদ্ধি বা হ্রাস পাওয়া হোক এবং এর ওপর আপতিত হতে পারে এমন সবকিছুই এর অন্তর্ভুক্ত
(১).
আর এটিই আমরা আমাদের এই গবেষণাপত্রে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল গাসবি ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الباب الأولنظرية الغصب
الفصل الأولالتحقيق اللغوي والاصطلاحي وثمرة الاختلاف في التعريفثلاثة مباحث المبحث الأول: التعريف لغة واصطلاحا البحث الثاني: مناقشة التعاريف واختيار الأرجح المبحث الثالث: ثمرة اختلاف التعاريف
প্রথম অধ্যায়অবৈধ দখল (الغصب) সংক্রান্ত তত্ত্ব
প্রথম পরিচ্ছেদশাব্দিক (اللغوي) ও পারিভাষিক (اصطلاحي) বিশ্লেষণ এবং সংজ্ঞার পার্থক্যের ফলাফলতিনটি অনুচ্ছেদ; প্রথম অনুচ্ছেদ: শাব্দিক (لغة) ও পারিভাষিক (اصطلاحا) সংজ্ঞা। দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সংজ্ঞাসমূহের পর্যালোচনা এবং অধিকতর সঠিক (الأرجح) সংজ্ঞা নির্বাচন। তৃতীয় অনুচ্ছেদ: সংজ্ঞার পার্থক্যের ফলাফল।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল গাসবি ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
المبحث الأول: التعريف لغة واصطلاحا (التحقيق اللغوي):ورد في تعريف الغصب في كتب اللغة:
أخذ الشيء ظلما
(1). وزاد آخرون
(2) «وقهرا» تقديما على «ظلما» الواردة في التعريف المذكور أو تأخيرا.
وقيل
(3): غصبه يغصبه غصبا أخذه قسرا وقهرا وقد يتعدى الى مفعولين فيقال غصبته ماله وقد يزاد (من) في المفعول الأول فيقال غصبت منه ماله.
وقيل
(4) «هو أخذ الشيء من الغير لا تغلب متقوّما كان أو لا».
«وغصبه على الشيء قهره، وعصبه منه والاغتصاب مثله»
(5).
والغصب: مصدر، والغاصب اسم فاعل جمعه غصاب وهي غاصبة»
(6).
«وبابه ضرب تقول غصبه منه وغصبه عليه»
(7).
التعريف اصطلاحا:
حتى نتبين المقصود بالغصب ونحدد مفهومه شرعا لا بدّ من استعراض كلمات الفقهاء على اختلاف مذاهبهم بهذا الخصوص.
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা (ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ):অভিধানের গ্রন্থসমূহে 'গসব' (জবরদখল)-এর সংজ্ঞায় বর্ণিত হয়েছে:
কোনো বস্তু অন্যায়ভাবে (ظلما) গ্রহণ করা
(১)। অন্যান্যরা উক্ত সংজ্ঞায় উল্লিখিত 'অন্যায়ভাবে' শব্দের আগে বা পরে 'জোরপূর্বক' (قهرا) শব্দটি যুক্ত করেছেন
(২)।
এবং বলা হয়েছে
(৩): 'গসব' (غصبا) অর্থ হলো কোনো কিছু বলপ্রয়োগ ও জোরপূর্বক গ্রহণ করা। এটি কখনো দুটি কর্মের (مفعولين) দিকে ক্রিয়াশীল হয়; যেমন বলা হয়: 'আমি তার সম্পদ ছিনিয়ে নিয়েছি' (غصبته ماله)। আবার প্রথম কর্মের শুরুতে 'মিন' (من) অব্যয়টিও যুক্ত হতে পারে; যেমন বলা হয়: 'আমি তার থেকে তার সম্পদ ছিনিয়ে নিয়েছি' (غصبت منه ماله)।
আরো বলা হয়েছে
(৪): "এটি হলো অন্যের থেকে কোনো বস্তু গ্রহণ করা, তবে তা পরাভূত করার মাধ্যমে নয়; চাই বস্তুটি মূল্যবান (متقوّما) হোক বা না হোক।"
"কারো ওপর কোনো বিষয়ে গসব করা মানে তাকে পরাভূত করা, এবং তার থেকে ছিনিয়ে নেওয়া; 'ইগতিসাব' (الاغتصاب) শব্দটিও একই অর্থ বহন করে"
(৫)।
এবং 'গসব' (الغصب) হলো একটি ক্রিয়ামূল (مصدر), আর 'গাসিব' হলো কর্তৃবাচক বিশেষ্য (اسم فاعل), যার বহুবচন হলো 'গুসসাব' (غصاب) এবং স্ত্রীলিঙ্গ হলো 'গাসিবাহ' (غاصبة)
(৬)।
"এর রূপান্তর প্রকরণ (باب) হলো 'দারাবা' (ضرب); আপনি বলবেন: 'সে তার থেকে এটি ছিনিয়ে নিয়েছে' এবং 'সে তাকে এ বিষয়ে বাধ্য করেছে'"
(৭)।
পারিভাষিক সংজ্ঞা:
গসব দ্বারা কী উদ্দেশ্য এবং শরিয়তের দৃষ্টিতে এর ধারণা সুনির্দিষ্ট করার জন্য বিভিন্ন মাজহাবের ফকিহগণের বক্তব্য পর্যালোচনা করা আবশ্যক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল গাসবি ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
فلو رجعنا الى الفقه الحنفي لوجدنا تعريفات مختلفة ولو دققنا أكثر لرأينا ان الاختلاف جوهري.
فالكاساني
(1) ذكر أن أبا حنيفة وأبا يوسف قد ذهبا الى أن الغصب «إزالة يد المالك عن ماله المتقوّم على سبيل المجاهرة والمغالبة يفعل في المال».
وقد ذهب محمد بن الحسن الشيباني الى ان «الفعل في المال» ليس بشرط وهذا الاختلاف بين محمد والشيخين تنبني عليه تفريعات عديدة سنذكرها في محلها.
وذكر ابن غانم
(2) تعريفا آخر للغصب يتحد في المعنى مع التعريف المتقدم إذ قال: «الغصب شرعا هو أخذ مال متقوّم محترم بلا اذن من له الإذن على وجه يزيل يده بفعل في العين».
ثم وضّح القيود الواردة في التعريف قائلا: فخرج بالقيد الأول أي - المال - الحرّ والميتة، وبالثاني خمر المسلم وبالثالث مال الحربي واحترز بالرابع عن الوديعة والقيد الخامس أي «بفعل في العين» لا بدّ منه على أصل الشيخين وبدونه ينطبق الحد على قول محمد فإنهما اعتبرا بالغصب إزالة اليد المحقة بإثبات اليد المبطلة بفعل في العين.
وأورد الموصلي
(3) تعريفا آخر يتحد في معناه مع التعريفين المتقدمين إذ قال: «الغصب: هو أخذ مال متقوّم محترم مملوك للغير بطريق التعدي.
واشترط أبو حنيفة وأبو يوسف كون المغصوب قابلا للنقل والتحويل على وجه يتضمن تفويت يد المالك ولم يشترط ذلك محمد».
وهذا الخلاف بين أبي حنيفة وأبي يوسف من جهة وبين محمد بن الحسن
--------------------------------------------
আমরা যদি হানাফি ফিকহের (الفقه الحنفي) দিকে ফিরে তাকাই, তবে সেখানে বিভিন্ন সংজ্ঞা দেখতে পাব এবং আমরা যদি আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করি, তবে দেখতে পাব যে এই মতপার্থক্যটি মৌলিক।
আল-কাসানি
(1) উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম আবু হানিফা এবং ইমাম আবু ইউসুফ এই মত পোষণ করেছেন যে, আত্মসাৎ (الغصب) হলো "সম্পত্তির ওপর কোনো কাজের মাধ্যমে প্রকাশ্য ও জবরদস্তিমূলক পন্থায় মালিকের দখল থেকে তার মূল্যবান (متقوّم) সম্পদ অপসারিত করা।"
তবে মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আশ-শায়বানি এই মত পোষণ করেছেন যে, "সম্পত্তির ওপর কাজ হওয়া" শর্ত নয়। মুহাম্মদ এবং শায়খায়নের মধ্যকার এই মতপার্থক্য থেকে অনেকগুলো উপ-শাখা (تفريعات) তৈরি হয়েছে, যা আমরা যথাস্থানে উল্লেখ করব।
ইবনে গানিম
(2) আত্মসাতের (الغصب) আরেকটি সংজ্ঞা উল্লেখ করেছেন যা পূর্বোক্ত সংজ্ঞার সমার্থবোধক; তিনি বলেছেন: "শরীয়তের পরিভাষায় আত্মসাৎ (الغصب) হলো অনুমতি প্রদানের অধিকারীর অনুমতি ব্যতিরেকে কোনো মূল্যবান (متقوّم) ও সংরক্ষিত (محترم) সম্পদ এমনভাবে গ্রহণ করা যা বস্তুটির ওপর কোনো কাজের মাধ্যমে মালিকের দখল অপসারিত করে।"
এরপর তিনি সংজ্ঞায় বর্ণিত সীমাবদ্ধতাগুলো ব্যাখ্যা করে বলেন: প্রথম শর্ত অর্থাৎ ‘সম্পদ’ দ্বারা স্বাধীন ব্যক্তি ও মৃত প্রাণী বহির্ভূত হয়েছে; দ্বিতীয়টি দ্বারা মুসলমানের মদ এবং তৃতীয়টি দ্বারা হারবির (حربي) সম্পদ বহির্ভূত হয়েছে। চতুর্থটি দ্বারা আমানত (الوديعة) থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। আর পঞ্চম শর্ত অর্থাৎ "বস্তুর ওপর কাজের মাধ্যমে" বিষয়টি শায়খায়নের মূলনীতি অনুযায়ী অপরিহার্য, এটি ছাড়া সংজ্ঞাটি কেবল ইমাম মুহাম্মদের মত অনুযায়ী প্রযোজ্য হতো; কেননা শায়খায়ন বস্তুর ওপর কোনো কাজের মাধ্যমে হকের দখল অপসারণ করে বাতিল দখল প্রতিষ্ঠা করাকে আত্মসাৎ (الغصب) হিসেবে গণ্য করেছেন।
আল-মাওসিলি
(3) অন্য একটি সংজ্ঞা প্রদান করেছেন যা পূর্ববর্তী সংজ্ঞাদ্বয়ের সাথে অর্থগতভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ; তিনি বলেছেন: "অন্যের মালিকানাধীন কোনো মূল্যবান (متقوّم) ও সংরক্ষিত (محترم) সম্পদ অন্যায়ভাবে (التعدي) গ্রহণ করাকে আত্মসাৎ (الغصب) বলা হয়।"
আবু হানিফা ও আবু ইউসুফ শর্তারোপ করেছেন যে, আত্মসাৎকৃত (المغصوب) বস্তুটি স্থানান্তর ও রূপান্তরযোগ্য হতে হবে এমনভাবে যা মালিকের দখল হারানোর শামিল হয়, কিন্তু ইমাম মুহাম্মদ এটি শর্ত হিসেবে গণ্য করেননি।
আর একদিকে আবু হানিফা ও আবু ইউসুফ এবং অন্যদিকে মুহাম্মদ ইবনুল হাসানের মধ্যকার এই মতবিরোধ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল গাসবি ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الشيباني من جهة أخرى المنصب على اشتراط النقل عند الشيخين وعدمه عند محمد قد نقله غير واحد من فقهاء المذهب والظاهر أن قول محمد هو المختار.
عند متأخري المذهب
(1).
وقد اختلفت تعريفات فقهاء المذهب الشافعي من بعض الوجوه.
جاء في نهاية المحتاج
(2): وشرعا: الاستيلاء على حق الغير عدوانا والاستيلاء مداره على العرف فليس منه منع المالك من سقي زرعه أو ماشيته حتى تلف فلا ضمان.
(على حق الغير) ولو كلبا وخمرا محترمين وشمل الاختصاصات كحق متحجر ومن قعد بنحو مسجد لا يزعج عنه. وعدوانا على وجه الظلم والتعدي فخرج به نحو مأخوذ بسوم وعارية.
وأورد زكريا الأنصاري
(3) تعريفا مشابها لما تقدم ولكنه استبدل كلمة (بلا حق) بكلمة (عدوانا) وقد اعتبر بناء على هذا التعريف ركوب الدابة والجلوس على الفراش وإزعاج المالك عن داره ودخوله لها بقصد الاستيلاء غصبا.
ومثل هذا التعريف ورد في حاشية البجيرمي وقد عقّب عليه بقوله (ودخل في هذا التعريف: ما لو أخذ مال غيره يظنه ماله فإنه غصب وإن لم يكن فيه إثم)
(4).
أما الأردبيلي
(5) فقد جاء تعريفه للغصب أخص من الأول إذ قال:
(الغصب: الاستيلاء على مال الغير بعدوان).
--------------------------------------------
অন্যদিকে আশ-শায়বানি যে বিষয়টি শায়খাইনের নিকট স্থানান্তরের শর্ত থাকা এবং ইমাম মুহাম্মদের নিকট তা না থাকার ওপর আলোকপাত করেছেন, তা মাযহাবের একাধিক ফকিহ বর্ণনা করেছেন। আর স্পষ্টত ইমাম মুহাম্মদের বক্তব্যই মনোনীত বা অগ্রগণ্য।
মাযহাবের পরবর্তী যুগের আলেমদের নিকট
(১)।
শাফেয়ী মাযহাবের ফকিহগণের সংজ্ঞাসমূহ কিছু দিক থেকে ভিন্ন হয়েছে।
নিহায়াতুল মুহতাজ-এ বর্ণিত হয়েছে
(২): আর শরয়ী পরিভাষায়: অন্যায়ভাবে অন্যের হকের ওপর দখল প্রতিষ্ঠা করা। আর দখল প্রতিষ্ঠার বিষয়টি প্রচলিত প্রথার ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং মালিককে তার ফসলে পানি দেওয়া বা গবাদিপশুকে পানি পান করানো থেকে বিরত রাখা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, এমনকি যদি সেগুলো ধ্বংসও হয়ে যায়, তবুও কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না।
(অন্যের হকের ওপর) যদিও তা শরিয়ত কর্তৃক সংরক্ষিত কুকুর বা মদ হয়। এটি বিশেষ অধিকারসমূহকেও অন্তর্ভুক্ত করে যেমন পাথর দিয়ে সীমানা নির্ধারণকারীর হক এবং যে ব্যক্তি মসজিদের মতো স্থানে বসল তাকে সেখান থেকে উচ্ছেদ করা যাবে না। আর 'অন্যায়ভাবে' বলতে জুলুম ও সীমালঙ্ঘনের দিক থেকে; ফলে এর মাধ্যমে যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে নেওয়া বা ধারের মতো বিষয়গুলো বাদ পড়ে যাবে।
জাকারিয়া আল-আনসারি
(৩) পূর্বের অনুরূপ একটি সংজ্ঞা প্রদান করেছেন, তবে তিনি 'অন্যায়ভাবে' শব্দের পরিবর্তে 'অধিকার ব্যতীত' শব্দটি ব্যবহার করেছেন। এই সংজ্ঞার ওপর ভিত্তি করে পশুর ওপর আরোহণ করা, বিছানায় বসা এবং মালিককে তার ঘর থেকে উচ্ছেদ করা ও দখলের উদ্দেশ্যে সেখানে প্রবেশ করাকে জবরদখল হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
হাশিয়াতুল বুজাইরিমিতেও অনুরূপ সংজ্ঞা বর্ণিত হয়েছে এবং তিনি এর ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন: (এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হবে: যদি কেউ অন্যের সম্পদকে নিজের সম্পদ মনে করে গ্রহণ করে, তবে সেটিও জবরদখল হিসেবে গণ্য হবে, যদিও এতে কোনো গুনাহ না থাকে)
(৪)।
পক্ষান্তরে আল-আরদাবিলি
(৫) এর প্রদত্ত জবরদখলের সংজ্ঞাটি প্রথমটির তুলনায় অধিকতর সুনির্দিষ্ট, যেখানে তিনি বলেছেন:
(জবরদখল হলো: অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদের ওপর দখল প্রতিষ্ঠা করা)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল গাসবি ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وهذا التعريف يردّ عليه:
انه غير جامع لأفراد المعرف لعدم دخول غصب الكلب وخمر الذمي والحقوق والاختصاص.
وقد اتفق فقهاء المذهب الحنبلي في تعريفهم للغصب مع فقهاء الشافعية، فقد عرفه ابن النجار
(1) بقوله: (الغصب: استيلاء غير حربي عرفا على حق غيره قهرا).
وهذا أوفق التعريفات كما حققه المرداوي في الإنصاف فقد ناقض قول من قال: «الغصب: هو الاستيلاء على مال الغير قهرا بغير حق» وهذا التعريف أورده صاحب المقنع
(2) وجاء في المحرر ايضا
(3).
قال في الإنصاف
(4): «وليس بجامع لعدم دخول غصب الكلب وخمر الذمي والمنافع والحقوق والاختصاص، قال الحارثي وحقوق الولايات كمنصب الامارة والقضاء».
ويظهر من تعريف الشافعية والحنابلة عدم اشتراط النقل لتحقق مفهوم الغصب بل يكفي ان يضع يده على الشيء المملوك للغير عدوانا ليصير غاصبا.
فقد جاء في الروض المربع: «الاستيلاء عرفا على حق غيره مالا كان أو اختصاصا قهرا بغير حق»
(5).
ويظهر لنا من خلال ذلك ان ركوب الدابة والجلوس على فراش الغير
--------------------------------------------
এই সংজ্ঞার ওপর আপত্তি উত্থাপিত হয় যে:
এটি সংজ্ঞায়িত বিষয়ের সমস্ত ক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে সর্বব্যাপী (جامع) নয়; কারণ কুকুর জবরদখল (غصب) করা, জিম্মির মদ এবং বিভিন্ন অধিকার ও বিশেষ সুবিধাসমূহ (الاختصاص) এর অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
আর জবরদখল (غصب)-এর সংজ্ঞার ক্ষেত্রে হাম্বলি মাযহাবের ফকিহগণ শাফেয়ি ফকিহগণের সাথে একমত হয়েছেন। ইবনুন নাজ্জার
(1) একে সংজ্ঞায়িত করে বলেছেন: (জবরদখল (غصب) হলো: প্রথাগতভাবে (عرفا) একজন অ-হারবি (غير حربي) কর্তৃক অন্যের অধিকারের ওপর জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা)।
আর এটিই সর্বাধিক সঠিক সংজ্ঞা, যেমনটি আল-মারদাউয়ি আল-ইনসাফ গ্রন্থে বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি ঐ ব্যক্তির বক্তব্যকে খণ্ডন করেছেন যে বলেছিল: «জবরদখল (غصب) হলো: অন্যায়ভাবে ও জোরপূর্বক অন্যের সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা»; এই সংজ্ঞাটি আল-মুকনি
(2) গ্রন্থের লেখক উল্লেখ করেছেন এবং এটি আল-মুহাররার
(3) গ্রন্থেও এসেছে।
তিনি আল-ইনসাফ
(4) গ্রন্থে বলেছেন: «এটি সর্বব্যাপী (جامع) নয়, কারণ এতে কুকুর জবরদখল (غصب), জিম্মির মদ, উপযোগিতা (المنافع), অধিকার এবং বিশেষ সুবিধাসমূহ (الاختصاص) অন্তর্ভুক্ত হয়নি। আল-হারিসি বলেছেন: শাসনতান্ত্রিক অধিকারসমূহ যেমন—আমির বা বিচারকের পদও এর অন্তর্ভুক্ত হবে না (পূর্বোক্ত সংজ্ঞা অনুযায়ী)»।
শাফেয়ি ও হাম্বলিগণের সংজ্ঞা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, জবরদখল (غصب)-এর ধারণা সাব্যস্ত হওয়ার জন্য স্থানান্তর (النقل) করা শর্ত নয়; বরং জবরদখলকারী (غاصب) হওয়ার জন্য অন্যের মালিকানাধীন বস্তুর ওপর অন্যায়ভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাই যথেষ্ট।
আর-রাওদুল মুরবি গ্রন্থে এসেছে: «প্রথাগতভাবে (عرفا) অন্যের অধিকারের ওপর অন্যায়ভাবে ও জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা, চাই তা সম্পদ হোক বা বিশেষ সুবিধা (الاختصاص) হোক»
(5)।
এর মাধ্যমে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, অন্যের পশুতে আরোহণ করা এবং অন্যের বিছানায় বসা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল গাসবি ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
غصب وقد صرح بذلك في غاية المنتهى
(1) «واستيلاء كل شيء بحسبه فمن ركب دابة واقفه بلا اذن فغاصب».
وقد اتفق أغلب فقهاء المالكية مع فقهاء الشافعية والحنابلة في حد الغصب وأنه:
(أخذ رقبة الملك أو منفعته بغير اذن المالك على وجه الغلبة والقهر دون حرابة)
(2).
وقد ناقش الدردير
(3) من ذهب الى ان الغصب «أخذ مال قهرا بلا حرابة» بقوله: (أخذ مال: جنس يشمل الغصب وغيره وهو من اضافة المصدر لمفعوله والفاعل محذوف أي أخذ آدمي مالا والمتبادر من المال الذات فخرج به التعدي وهو الاستيلاء على المنفعة فقط كسكنى الدار وركوب دابة من غير استيلاء على ذات الدار والدابة.).
ولم يشترط في الأخذ حقيقته أي نقل الشيء كما ذهب الى ذلك أبو حنيفة وأبو يوسف بل (المراد بالأخذ الاستيلاء عليه ولو لم يأخذه بالفعل فمن استولى على مال شخص بأن منع ربه منه ولو لم ينقله من موضعه فهو غاصب
(4).
وجاء في المواهب
(5): (وقال في الذخيرة قال بعضهم: الغصب: رفع اليد المستحقة ووضع اليد العادية قهرا. وقيل وضع اليد العادية قهرا ويبني على التعريفين ان الغاصب غاصب على الثاني دون الأول لكونه لم يرفع اليد المستحقة).
--------------------------------------------
জবরদখল (غصب) এবং এটি গায়াতুল মুনতাহা
(১) গ্রন্থে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, «প্রত্যেক বস্তুর দখল সেটির প্রকৃতি অনুযায়ী নির্ধারিত হয়; সুতরাং যে ব্যক্তি অনুমতি ব্যতিরেকে কোনো দাঁড়িয়ে থাকা পশুর পিঠে আরোহণ করল, সে জবরদখলকারী (غاصب) হিসেবে গণ্য হবে»।
অধিকাংশ মালিকি ফকিহ জবরদখলের (غصب) সংজ্ঞার ক্ষেত্রে শাফেয়ি ও হাম্বলি ফকিহদের সাথে একমত পোষণ করেছেন যে, এটি হলো:
(সশস্ত্র ডাকাতি (حرابة) ব্যতিরেকে প্রাবল্য ও জবরদস্তির মাধ্যমে মালিকের অনুমতি ছাড়া কোনো সম্পদের মূল মালিকানা অথবা তার উপযোগিতা কব্জা করা)
(২)।
আদ-দারদীর
(৩) সেই মতটি নিয়ে আলোচনা করেছেন যারা মনে করেন যে জবরদখল (غصب) হলো «ডাকাতি (حرابة) ব্যতীত জোরপূর্বক সম্পদ গ্রহণ করা»; তিনি বলেন: (সম্পদ গ্রহণ: এটি একটি সাধারণ পরিভাষা যা জবরদখল (غصب) এবং অন্যান্য বিষয়কেও অন্তর্ভুক্ত করে। এটি কর্মপদের (مفعول) দিকে ক্রিয়ামূলের (مصدر) সম্বন্ধ করার উদাহরণ এবং এর কর্তা (فاعل) এখানে উহ্য রয়েছে, যার অর্থ হলো কোনো মানুষের সম্পদ গ্রহণ করা। 'সম্পদ' বলতে সাধারণত মূল সত্তাকে বোঝায়, ফলে এর মাধ্যমে সীমালঙ্ঘন (تعدي) বিষয়টি সংজ্ঞার বাইরে চলে যায়, যা কেবল উপযোগিতার দখলকে বোঝায়; যেমন মূল বাড়ি বা পশুর মালিকানা দখল না করে কেবল বাড়িতে বসবাস করা বা পশুর পিঠে আরোহণ করা।)।
আর সম্পদ গ্রহণের ক্ষেত্রে এর প্রকৃত রূপ তথা বস্তুটিকে স্থানান্তর করা শর্ত নয়, যেমনটি ইমাম আবু হানিফা ও আবু ইউসুফ মনে করতেন; বরং (গ্রহণের উদ্দেশ্য হলো এর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা, যদিও বাস্তবে সেটি সরিয়ে নেওয়া না হয়। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো ব্যক্তির সম্পদ এভাবে কব্জা করল যে সেটির মালিককে তা থেকে বাধা প্রদান করল, সে জবরদখলকারী (غاصب) হিসেবে গণ্য হবে, যদিও সে বস্তুটিকে তার স্থান থেকে স্থানান্তর না করে)
(৪)।
মাওয়াহিব
(৫) গ্রন্থে এসেছে: (আদ-যাখিরা গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, কেউ কেউ বলেছেন: জবরদখল (غصب) হলো হকদারের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া এবং অন্যায়ভাবে জবরদস্তিমূলক দখল কায়েম করা। আবার বলা হয়েছে যে, এটি কেবল অন্যায়ভাবে জবরদস্তিমূলক দখল কায়েম করা। এই দুটি সংজ্ঞার ওপর ভিত্তি করে বিধান এই যে, দ্বিতীয় সংজ্ঞা অনুযায়ী ব্যক্তিটি জবরদখলকারী (غاصب) বিবেচিত হলেও প্রথম সংজ্ঞা অনুযায়ী হবে না, যেহেতু সে হকদারের অধিকার পুরোপুরি উচ্ছেদ করেনি)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল গাসবি ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وعرف الغصب في المذهب الجعفري بعدة تعريفات.
فقد عرفه المحقق الحلبي
(1) بأنه: «الاستقلال بإثبات اليد على مال الغير عدوانا، ولا يكفي رفع يد المالك ما لم يثبت الغاصب يده فلو منع غيره من إمساك دابته المرسلة فتلفت لم يضمن أما لو قعد على بساطه أو ركب دابته ضمن».
وأورد الشهيد الثاني
(2) في مسالكه التعريف المتقدم وعقب عليه بقوله:
«هذا تعريفه بحسب مفهومه شرعا وهو قريب من معناه اللغوي والمراد بالاستقلال الاستبداد به بغير مشارك. وينتقض لو اشترك اثنان في غصب مال بحيث يعجز كل واحد الاستقلال به منفردا».
وناقشه في الروضة
(3) أيضا بعد ان أورد التعريف وقال: «فلو أبدل الاستيلاء بالاستقلال لشمل ما لو اشترك اثنان فصاعدا في غصب مال لصدق الاستيلاء مع المشاركة».
أما العلامة الحلي
(4) فقد أورد التعريف المتقدم ثم أورد تعريفات أخرى قال: «وقيل: هو الاستيلاء على مال الغير بغير حق. ولا حاجة الى التقييد بالعدوان بل يثبت الغصب وحكمه من غير عدوان كما لو أودع ثوبا عند إنسان ثم جاء وأخذ ثوبا للمستودع على ظن أنه ثوبه وهذا أعم من الأوائل».
وناقش الشهيد
(5) الثاني في الروضة من أبدل بغير حق بالعدوان. وقال
--------------------------------------------
জাফরিয়া মাজহাবে গসব (জবরদখল)-কে কয়েকটি সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
মুহাক্কিক হিল্লি
(১) এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন: "অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদের ওপর এককভাবে দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করা; কেবল মালিকের দখল সরিয়ে দেওয়াই যথেষ্ট নয় যতক্ষণ না জবরদখলকারী নিজের দখল প্রতিষ্ঠা করে। সুতরাং যদি কেউ অন্যকে তার ছেড়ে দেওয়া পশুকে ধরা থেকে বিরত রাখে এবং ফলে সেটি ধ্বংস হয়ে যায়, তবে সে দায়ী হবে না। কিন্তু যদি সে তার বিছানায় বসে বা তার পশুতে আরোহণ করে, তবে সে দায়ী হবে।"
শহীদ সানি
(২) তার মাসালিক গ্রন্থে পূর্বোক্ত সংজ্ঞাটি উল্লেখ করেছেন এবং এর ওপর মন্তব্য করে বলেছেন:
"এটি শরয়ী পরিভাষা অনুযায়ী এর সংজ্ঞা, যা এর আভিধানিক অর্থের কাছাকাছি। এখানে 'এককভাবে' (ইস্তিকলাল) বলতে অন্য কোনো অংশীদার ব্যতিরেকে একচ্ছত্রভাবে কোনো কিছু দখল করাকে বোঝানো হয়েছে। তবে এই সংজ্ঞাটি তখন প্রশ্নবিদ্ধ হয় যখন কোনো সম্পদ জবরদখলে দুইজন ব্যক্তি এমনভাবে শরিক হয় যে, তাদের কেউই এককভাবে তা করতে সক্ষম নয়।"
আর-রওজা
(৩) গ্রন্থেও সংজ্ঞাটি উল্লেখ করার পর তিনি এটি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং বলেছেন: "যদি 'এককভাবে' (ইস্তিকলাল) শব্দটির পরিবর্তে 'কর্তৃত্ব' (ইস্তিলা) শব্দটি ব্যবহার করা হতো, তবে এটি দুই বা ততোধিক ব্যক্তির সম্পদ জবরদখলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতো; কারণ অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রেও 'কর্তৃত্ব' শব্দটি সঠিক হয়।"
আল্লামা হিল্লি
(৪) পূর্বোক্ত সংজ্ঞাটি উল্লেখ করার পর আরও কিছু সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। তিনি বলেন: "বলা হয়েছে: এটি হলো অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা। এখানে 'অন্যায়ভাবে' (উদওয়ানান) শর্তটি যুক্ত করার প্রয়োজন নেই, বরং অন্যায় উদ্দেশ্য ছাড়াও জবরদখলের বিধান সাব্যস্ত হয়। যেমন কেউ যদি কোনো ব্যক্তির নিকট একটি পোশাক আমানত রাখে এবং পরবর্তীতে মালিক এসে ভুলবশত অন্যের পোশাককে নিজের মনে করে নিয়ে যায়। এই সংজ্ঞাটি আগেরগুলোর তুলনায় অধিক ব্যাপক।"
শহীদ
(৫) সানি আর-রওজা গ্রন্থে তাদের সমালোচনা করেছেন যারা 'অন্যায়ভাবে' শব্দটির পরিবর্তে 'অবৈধভাবে' শব্দ দ্বারা স্থলাভিষিক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল গাসবি ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৩২)
عنه: «ليس بجيد. بل الأجود الافتقار الى قيد العدوان الدال على الظلم وقد تلخص أن الأجود في تعريفه هو: «الاستيلاء على حق الغير عدوانا».
وقد خلص الى هذا التعريف الأخير بعد مناقشة التعاريف المتقدمة كما نقلنا ذلك عنه في مناقشته «للاستقلال».
وقد ناقش أيضا من أورد (المال) في تعريفه لأنه حينئذ: «لا يكون جامعا للأفراد كالتحجير وحق المسجد والمدرسة ونحوه» مما لا يعد مالا فإن الغصب متحقق. وكذا بالنسبة للحر الصغير والمجنون إذا تلف تحت يده بسبب كلدغ الحية فإنه يضمنه عند المصنف كما اختاره في الدروس فلو أبدل الحق بالمال لشمل جميع ذلك.
أما المذهب الزيدي:
فانا نلاحظ ان فقهاء المذهب قد اتفقوا مع جمهور الفقهاء في بيان حد الغصب:
فقد ذكر ابن المرتضى
(1): «الغصب: هو الاستيلاء على مال الغير عدوانا وإن لم ينو في الأصح».
وجاء في التاج المذهب
(2): «هو الاستيلاء على مال الغير عدوانا وإن لم ينو المستولي الغصب بل أراد اللعب والمزاح، والاستيلاء هو إثبات اليد على الشيء والعدوان إثبات اليد لا بأذن الشرع وقد اتجه صاحب التاج الى التعريف الأجود فصوّب العبارة الواردة في الأزهار فقال: هو الاستيلاء على ما هو للغير. ليدخل في ذلك الحق فيثبت في غصب الحقوق».
--------------------------------------------
তাঁর থেকে বর্ণিত: «এটি উত্তম নয়। বরং অন্যায় (عدوان) এর শর্তারোপ করা অধিকতর যুক্তিযুক্ত যা জুলুমের পরিচয় দেয়। সংক্ষেপে এর সংজ্ঞায় শ্রেষ্ঠতর হলো: «অন্যায়ভাবে (عدوانا) অন্যের হকের (حق) ওপর দখল প্রতিষ্ঠা (الاستيلاء) করা»।
পূর্ববর্তী সংজ্ঞাসমূহ পর্যালোচনার পর তিনি এই সর্বশেষ সংজ্ঞায় উপনীত হয়েছেন, যেমনটি আমরা তাঁর পক্ষ থেকে 'ইস্তিকলাল' (স্বাধীন কর্তৃত্ব) পর্যালোচনার ক্ষেত্রে বর্ণনা করেছি।
তিনি তাঁদের বিষয়েও পর্যালোচনা করেছেন যারা সংজ্ঞার মধ্যে সম্পদের (مال) উল্লেখ করেছেন, কারণ সেক্ষেত্রে: «এটি সকল বিষয়কে অন্তর্ভুক্তকারী (جامعا) হবে না; যেমন পাথর দিয়ে সীমানা নির্ধারণ (تحجير), মসজিদ ও মাদ্রাসার হক (حق) এবং অনুরূপ বিষয়সমূহ» যা সম্পদ (مال) হিসেবে গণ্য নয়, অথচ সেখানে গসব (غصب) সংঘটিত হয়। তদ্রূপ স্বাধীন শিশু এবং পাগলের ক্ষেত্রেও, যদি সর্পদংশনের মতো কোনো কারণে কারো অধীনে থাকাবস্থায় সে বিনষ্ট হয়, তবে লেখকের নিকট সে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হবে (يضمنه), যেমনটি তিনি আদ-দুরুস গ্রন্থে পছন্দ করেছেন। সুতরাং যদি 'সম্পদ' শব্দটিকে 'হক' দ্বারা পরিবর্তন করা হয়, তবে তা এই সবকিছুকে অন্তর্ভুক্ত করবে।
আর যায়েদী মাজহাবের ক্ষেত্রে:
আমরা লক্ষ্য করি যে, এই মাজহাবের ফকিহগণ গসবের (غصب) সংজ্ঞা বর্ণনায় জুমহুর ফকিহদের সাথে একমত হয়েছেন:
ইবনুল মুরতাজা
(১) উল্লেখ করেছেন: «গসব (غصب) হলো: অন্যায়ভাবে (عدوانا) অন্যের সম্পদের (مال) ওপর দখল প্রতিষ্ঠা করা, যদিও অধিকতর বিশুদ্ধ (الأصح) মতানুসারে গসবের নিয়ত না করা হয়»।
আত-তাজুল মাজহাব
(২) গ্রন্থে এসেছে: «এটি হলো অন্যায়ভাবে (عدوانا) অন্যের সম্পদের (مال) ওপর দখল প্রতিষ্ঠা করা, যদিও দখলকারী গসবের (غصب) নিয়ত না করে বরং খেলাধুলা ও কৌতুক করতে চায়। দখল প্রতিষ্ঠা (الاستيلاء) হলো কোনো বস্তুর ওপর কর্তৃত্ব স্থাপন করা এবং অন্যায় (عدوان) হলো শরিয়তের অনুমতি ব্যতীত কর্তৃত্ব স্থাপন করা। 'আত-তাজ' এর লেখক অধিকতর উত্তম সংজ্ঞার দিকে অভিমত ব্যক্ত করেছেন এবং আল-আজহার গ্রন্থে বর্ণিত বক্তব্যটিকে সংশোধন করে বলেছেন: এটি হলো অন্যের মালিকানাধীন কোনো কিছুর ওপর দখল প্রতিষ্ঠা করা। যাতে এর মাধ্যমে হক (حق) অন্তর্ভুক্ত হয় এবং অধিকারের গসব (غصب) সাব্যস্ত হয়»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল গাসবি ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وقد تناول صاحب الروض الغصب وعرفه بقوله: «هو الاستيلاء على مال الغير أو حقه عدوانا فلا تدخل السرقة لأنها اختلاس ويدخل في الاستيلاء استعمال عبد الغير وركوب دابته فإنه يضمن، وقيل وفيه الجلوس على فراش الغير إذا كان لمثله اجرة وتدخل في الحق المنافع كمنفعة الكلب والسرجين ويخرج بالعدوان المغانم وما انتزع من يد الغاصب للحفظ»
(1).
وأما ابن حزم الظاهري
(2) فقد ذكر تعريفا يتحد في مضمونه مع تعريف الجمهور إذ قال: «الغصب أخذ الشيء بغير حقه ظلما».
وهذا التعريف أقرب الى التعريف اللغوي كما حققنا.
المبحث الثاني: «مناقشة التعاريف واختيار الأرجح».
يظهر لنا بعد استعراض تعريفات الفقهاء المتقدمة أن هنالك ثلاثة اتجاهات تلتقي عندها كلمات الفقهاء في بيان حد الغصب.
1 - اتجاه يذهب إلى أن حد الغصب: هو إزالة اليد المحقة بإثبات اليد المبطلة بعفل في العين أو كما ورد على لسانهم:
«أخذ مال متقوّم محترم مملوك للغير على وجه يزيل يده بفعل في العين بطريق التعدي».
وهذا هو (اتجاه أبي حنيفة وأبي يوسف)
(3) من الأحناف. وكذلك (الهادي وأبي طالب)
(4) من الزيدية كما ذكرنا.
--------------------------------------------
'আর্-রওদ' গ্রন্থের লেখক 'গসব' (অন্যায়ভাবে দখল) প্রসঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং এর সংজ্ঞা প্রদান করে বলেছেন: "এটি হলো সীমালঙ্ঘনের মাধ্যমে অন্যের সম্পদ বা তার অধিকারের ওপর জবরদস্তিমূলক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা। সুতরাং এর মধ্যে 'চুরি' অন্তর্ভুক্ত হবে না, কারণ তা হলো আত্মসাৎ। আর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার মধ্যে অন্যের দাসের সেবা গ্রহণ এবং অন্যের পশুর পিঠে আরোহণ অন্তর্ভুক্ত হবে, কারণ এমতাবস্থায় সে দায়বদ্ধ হবে। আরও বলা হয়েছে যে, এর মধ্যে অন্যের বিছানায় বসাও অন্তর্ভুক্ত হবে যদি তার সমজাতীয় কোনো বিষয়ের জন্য পারিশ্রমিক বা বিনিময় থেকে থাকে। আর অধিকারের মধ্যে ব্যবহারিক উপযোগিতাসমূহও অন্তর্ভুক্ত হবে, যেমন শিকারি কুকুরের উপযোগিতা বা সারের উপযোগিতা। আর 'সীমালঙ্ঘন' শর্তের কারণে গনিমতের মাল এবং গসবকারীর হাত থেকে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে যা ছিনিয়ে নেওয়া হয়, তা সংজ্ঞার বাইরে থাকবে।"
(১).
আর ইবনে হাযম আল-জাহিরী
(২) এমন একটি সংজ্ঞা উল্লেখ করেছেন যা বিষয়বস্তুর দিক থেকে জমহুর বা সংখ্যাগুরু আলিমদের সংজ্ঞার সাথে অভিন্ন; তিনি বলেছেন: "গসব হলো জুলুমের মাধ্যমে কোনো বস্তুকে অন্যায়ভাবে গ্রহণ করা।"
এবং এই সংজ্ঞাটি আভিধানিক সংজ্ঞার অধিকতর নিকটবর্তী, যেমনটি আমরা যাচাই করেছি।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: «সংজ্ঞাসমূহের পর্যালোচনা এবং অধিকতর গ্রহণযোগ্যটি নির্বাচন».
ফকিহগণের পূর্বোক্ত সংজ্ঞাসমূহ পর্যালোচনার পর আমাদের কাছে এটি স্পষ্ট হয় যে, গসব-এর সংজ্ঞা প্রদানের ক্ষেত্রে ফকিহগণের বক্তব্য তিনটি ধারায় বিভক্ত।
১ - একদল মনে করেন গসব-এর সংজ্ঞা হলো: কোনো বস্তুর ওপর কার্যকর আইনানুগ অধিকার অপসারণ করে সেখানে অন্যায়ভাবে কর্তৃত্ব স্থাপন করা, অথবা যেমনটি তাদের ভাষায় বর্ণিত হয়েছে:
«সীমালঙ্ঘনের মাধ্যমে কোনো বস্তুর ওপর থেকে প্রকৃত মালিকের অধিকার নষ্ট করে অন্যের মূল্যবান, শরয়িভাবে সংরক্ষিত ও মালিকানাধীন সম্পদ গ্রহণ করা»।
এটিই হলো হানাফিদের মধ্যে (আবু হানিফা ও আবু ইউসুফের অভিমত)
(৩)। অনুরূপভাবে যাইদিয়াদের মধ্যে (আল-হাদী ও আবু তালিবের মত)
(৪), যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল গাসবি ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وبمثل هذا التعريف ورد في شريعة النصارى
(1) إذا جاء «الغصب: هو أخذ مال متقوّم محترم بلا اذن مالكه كالمباح وغير المتقوّم كالمحرم».
وهو نفس اتجاه القانون الروماني إذ جاء في المدونة
(2) «الغصب: انتزاع مال مملوك للغير بالقوة» والانتزاع يفيد الإزالة.
2 - والاتجاه الثاني: لا يشترط إزالة يد المالك بفعل واقع في العين بل يكفي إثبات اليد المبطلة.
وقد جاء على لسانهم:
الغصب: «هو الاستيلاء على مال الغير عدوانا قهرا».
وهذا هو اتجاه جمهور الشافعية وجمهور الحنابلة والمالكية وجماعة من فقهاء الجعفرية وجماعة من فقهاء الزيدية والظاهرية وقد ذكرنا ذلك عنهم في المبحث الأول تفصيلا.
وقد ذهب القانون المدني الجديد
(3) الى هذا التعريف إذ جاء فيه:
«الغصب هو الاستيلاء على مال غيره بغير حق».
3 - أما الاتجاه الثالث فإنه يوافق الاتجاه الثاني في أن إثبات اليد هو المعوّل عليه والأساس في حد الغصب إلا أنه يخالفه في قيود التعريف.
فالغصب هنا: هو: «الاستيلاء على حق الغير بغير حق قهرا».
--------------------------------------------
অনুরূপ সংজ্ঞার উল্লেখ খ্রিস্টীয় আইনেও
(১) এসেছে, যেখানে বলা হয়েছে যে: «জবরদখল (غصب): হলো মালিকের অনুমতি ব্যতিরেকে কোনো মূল্যবান (متقوّم) ও সংরক্ষিত (محترم) সম্পদ গ্রহণ করা; যেমন বৈধ (مباح) বস্তু, তবে মূল্যহীন এবং সংরক্ষিত নয় এমন বস্তু এর অন্তর্ভুক্ত নয়, যেমন নিষিদ্ধ (محرم) বস্তু»।
এটি রোমান আইনেরও একই দৃষ্টিভঙ্গি, কারণ তাদের সংহিতায়
(২) এসেছে: «জবরদখল (غصب): শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে অন্যের মালিকানাধীন সম্পদ ছিনিয়ে নেওয়া» এবং ছিনিয়ে নেওয়া বলতে দখলচ্যুতি বুঝায়।
২ - এবং দ্বিতীয় দৃষ্টিভঙ্গি হলো: এতে মূল বস্তুর ওপর থেকে মালিকের দখল অপসারণ করা শর্ত নয়, বরং অবৈধ দখল (اليد المبطلة) প্রমাণিত হওয়াই যথেষ্ট।
তাদের পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে:
জবরদখল (غصب): «এটি হলো অন্যায়ভাবে ও বলপ্রয়োগে অন্যের সম্পদের ওপর কর্তৃত্ব (الاستيلاء) প্রতিষ্ঠা করা»।
এটিই শাফেয়ি, হাম্বলি ও মালেকি মাযহাবের জুমহুর (جمهور) বা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমদের এবং জাফরি ফকিহদের (فقهاء) একটি দল এবং জায়েদি ও জাহেরি ফকিহদের (فقهاء) একটি দলের অভিমত। আমরা প্রথম পরিচ্ছেদে তাদের সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি।
নতুন দেওয়ানি আইনেও
(৩) এই সংজ্ঞার দিকেই যাওয়া হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে:
«জবরদখল (غصب) হলো অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদের ওপর কর্তৃত্ব (الاستيلاء) লাভ করা»।
৩ - আর তৃতীয় দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রে এটি দ্বিতীয় দৃষ্টিভঙ্গির সাথে একমত যে, জবরদখল (غصب)-এর সংজ্ঞায় দখল বা কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হওয়াই মূল নির্ভরতা ও ভিত্তি, তবে এটি সংজ্ঞার সীমাবদ্ধতার ক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণ করে।
এখানে জবরদখল (غصب) হলো: «অন্যায়ভাবে এবং বলপ্রয়োগে অন্যের হকের ওপর কর্তৃত্ব (الاستيلاء) লাভ করা»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল গাসবি ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
وهذا هو تعريف جماعة من الشافعية والحنابلة والمالكية والجعفرية والزيدية. وقد نقلنا ذلك عنهم في المبحث الأول.
وقد أوردنا أثناء استعراضنا لهذه التعريفات ما يرد عليها من إشكالات ونعود هنا للناقش ثم نختار.
يرد على التعريف الأول الذي جاء فيه أن حد الغصب: هو إزالة اليد المحقة بإثبات اليد المبطلة بفعل في العين ما يلي:
أ - اشتراط (الفعل في العين) ليتحقق الغصب أمر لا حجة لهم عليه لا شرعا ولا عرفا. أما الشرع فإنه لم يرد في نصوصه ما يؤيد ذلك بل العكس هو الصحيح إذ ورد في النبوي أحاديث جمة في صحة غصب العقار كما سيأتي تحقيقه في محله من هذه الرسالة
(1).
وأما العرف فإنه من الثابت فيه أن من وضع يده عدوانا على ملك غيره من دار أو عقار يقال له غاصب.
وقد ذكر صاحب تكملة شرح المجموع
(2): «ان كل ما لم يصر به المال مسروقا لم يصر به مغصوبا كالمنع والإحالة» دليله ما روى عطاء بن يسار عن ابن عمر أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم قال: «ان أعظم الغلول عند الله أن يأخذ الرجل من أرض غيره إلى أرض نفسه» فأطلق على الأرض حكم الغلول والغصب وروى عنه صلى الله عليه وآله وسلم قوله: «لعن الله سارق المنار قيل وما سارق المنار قال أن يأخذ الرجل العلامة من أرضه إلى أرض غيره فجعل ذلك سرقة. ولأن ما ضمن به المنقول ضمن به غير المنقول كالعقود ولأنه عدوان فجاز أن يضمن به غير المنقول كالجناية. فأما الجواب بأن ما لم ينقل مختص بالمنع كالحبس فهو أن المحبوس عن ماله حصل التعدي عليه دون ماله فلم يصر المال مغصوبا وخالف
--------------------------------------------
এটিই শাফিঈ, হাম্বলী, মালিকী, জাফরি এবং জায়েদিগণের একটি জামাতের প্রদানকৃত সংজ্ঞা। আমরা প্রথম পরিচ্ছেদে তাদের থেকে এটি উদ্ধৃত করেছি।
আমরা এই সংজ্ঞাগুলো পর্যালোচনার সময় এগুলোর ওপর উত্থাপিত আপত্তিসমূহ উল্লেখ করেছি এবং আমরা এখন এখানে আলোচনার উদ্দেশ্যে ফিরে আসছি, অতঃপর আমরা (যথাযথটি) নির্বাচন করব।
প্রথম সংজ্ঞার ওপর যে আপত্তিগুলো উত্থাপিত হয়, যেখানে বলা হয়েছে যে, জবরদখল (গসব) এর সংজ্ঞা হলো: বস্তুর ওপর সরাসরি কোনো ক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়সঙ্গত কর্তৃত্ব অপসারণ করে সেখানে অবৈধ কর্তৃত্ব স্থাপন করা; সেগুলো নিম্নরূপ:
ক - জবরদখল সংঘটিত হওয়ার জন্য 'বস্তুর ওপর সরাসরি কোনো ক্রিয়া' হওয়ার শর্তারোপ এমন একটি বিষয়, যার স্বপক্ষে শরিয়ত বা প্রথা (উরফ) অনুযায়ী তাদের কাছে কোনো দলিল নেই। শরিয়তের ক্ষেত্রে দেখা যায়, এর মূল পাঠ (নস) সমূহে এমন কোনো বর্ণনা আসেনি যা একে সমর্থন করে, বরং এর বিপরীতটিই সঠিক; কেননা স্থাবর সম্পত্তি জবরদখল করার বাস্তবতা সম্পর্কে নবীজির অসংখ্য হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যা এই গবেষণাপত্রের যথাস্থানে বিস্তারিতভাবে আলোচিত হবে
(১)।
আর প্রথার (উরফ) ক্ষেত্রে এটি প্রতিষ্ঠিত যে, যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে অন্যের ঘর বা স্থাবর সম্পত্তির ওপর জবরদস্তিমূলক কর্তৃত্ব স্থাপন করে, তাকে জবরদখলকারী বলা হয়।
তাকমিলা শারহুল মাজমু-এর লেখক উল্লেখ করেছেন
(২): «যেই কারণে কোনো সম্পদ চুরিকৃত হিসেবে গণ্য হয় না, সেই কারণে তা জবরদখলকৃত হিসেবেও গণ্য হবে না, যেমন বাধা প্রদান করা বা সরিয়ে দেওয়া»; এর দলিল হলো আতা ইবনে ইয়াসার ইবনে উমর (রা.) থেকে যা বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট সবচেয়ে বড় আত্মসাৎ হলো কোনো ব্যক্তি অন্যের জমি থেকে নিজের জমির দিকে অংশ কেটে নেওয়া»; এখানে জমির ক্ষেত্রে আত্মসাৎ এবং জবরদখল এর হুকুম প্রয়োগ করা হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: «আল্লাহ লানত করেছেন সেই চোরকে যে সীমানা চিহ্ন চুরি করে»; জিজ্ঞেস করা হলো, সীমানা চিহ্ন চোর কে? তিনি বললেন: «যে ব্যক্তি তার জমি থেকে অন্যের জমির দিকে সীমানা সরিয়ে নেয়»; তিনি একে চুরি হিসেবে গণ্য করেছেন। আর যেহেতু যা দ্বারা অস্থাবর সম্পদ জামানতভুক্ত হয়, তা দ্বারা স্থাবর সম্পদও জামানতভুক্ত হয়, যেমন চুক্তিসমূহ; এবং যেহেতু এটি একটি সীমালঙ্ঘন, তাই স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রেও এর জামানত আবশ্যক হওয়া বৈধ, যেমন অপরাধের (জিনায়াহ) ক্ষেত্রে হয়। আর এই উত্তর যে—যা স্থানান্তরিত হয় না তা কেবল ভোগদখলে বাধার সাথে নির্দিষ্ট যেমন আটক রাখা—এর জবাবে বলা যায় যে, যাকে তার সম্পদ থেকে বঞ্চিত বা আটক রাখা হয়েছে, তার ওপর সীমালঙ্ঘন হয়েছে, তার সম্পদের ওপর নয়, ফলে সম্পদটি জবরদখলকৃত হয়নি এবং এটি ভিন্ন...
--------------------------------------------