(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিকা ফী ফাদায়িলিস সালাসাতিল আইম্মাতিল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: -)
الانتقاء في فضائل الثلاثة الأئمة الفقهاء القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: الانتقاء في فضائل الثلاثة الأئمة الفقهاء (مالك والشافعي وأبي حنيفة رضي الله عنهم) وذِكر عيون من أخبارهم وأخبار أصحابهم للتعريف بجلالة أقدارهم
المؤلف: أبو عمر، يوسف بن عبد البر النمري القرطبي (ت 463 هـ)
عُنيَتْ بنشره: مكتبة القدسي، بالقاهرة، عام 1350 هـ
تصوير: دار الكتب العلمية - بيروت
عدد الصفحات: 175
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
তিনজন ফকিহ ইমামের মর্যাদার বিবরণে আল-ইনতিকা বিভাগ: জীবনী ও স্তর
বই: তিনজন ফকিহ ইমাম (মালিক, শাফিঈ এবং আবু হানিফা, আল্লাহ তাঁদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর মর্যাদার বিবরণে আল-ইনতিকা এবং তাঁদের ও তাঁদের সাথীদের সংবাদের সারাংশ উল্লেখ করার মাধ্যমে তাঁদের উচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে পরিচিতি প্রদান
লেখক: আবু উমর, ইউসুফ বিন আব্দুল বার আন-নামারি আল-কুরতুবি (মৃত্যু ৪৬৩ হিজরি)
প্রকাশনায় বিশেষ যত্ন নিয়েছেন: মাকতাবাতুল কুদসি, কায়রো, ১৩৫০ হিজরি
মুদ্রণ: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ - বৈরুত
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৫
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিকা ফী ফাদায়িলিস সালাসাতিল আইম্মাতিল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ৮)
بسم الله الرحمن الرحيم
وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى سيدنَا مُحَمَّد وَآله وَصَحبه وَسلم الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ إِلَهِ الأَوَّلِينَ وَالآخِرِينَ خَالِقِ الْخَلْقِ أَجْمَعِينَ وَمُفَضِّلِ بَعْضِهِمْ عَلَى بَعْضٍ فِي الْعَقْلِ وَالدِّينِ وَفِي الْفَقْرِ وَالْغِنَى وَفِي الضَّلالَةِ وَالْهُدَى وَفَضَّلَ مِنْهُمُ الْمَلائِكَةَ وَالأَنْبِيَاءَ وَلَمْ يَجْعَلْ لِلأَنْبِيَاءِ وَرَثَةً غَيْرَ الْعُلَمَاءِ إِذَا صَحِبَهُمُ التَّوْفِيقُ وَالتُّقَى فَمَنِ اسْتَوْدَعَهُ اللَّهُ عِلْمَ دِينِهِ وَعَمِلَ بِهِ وَعَلَّمَهُ وَلَمْ يَكْتُمْ شَيْئًا مِنْهُ لِمَنِ احْتَاجَ إِلَيْهِ كَانَ مِنْ وَرَثَةِ النَّبِيِّينَ وَمِنَ الأَئِمَّةِ الْمُتَّقِينَ وَاللَّهَ أَسْأَلُهُ ضَارِعًا إِلَيْهِ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ وَأَنْ لَا يَحِيدَ بِي عَنْهُمْ فَأَفُوزَ فِي الْفَائِزِينَ وَأَنْ يَجْعَلَ لِي لِسَانَ صِدْقٍ فِي الآخِرِينَ
أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّ طَائِفَةً مِمَّنْ عُنِيَ بِطَلَبِ الْعِلْمِ وَحَمْلِهِ وَعَلِمَ بِمَا عَلَّمَهُ اللَّهُ عَظِيمَ بَرَكَتِهِ وَفَضْلِهِ سَأَلُونِي مُجْتَمعين وَمُتَفَرِّقِينَ أَنْ أَذْكُرَ لَهُمْ مِنْ أَخْبَارِ الأَئِمَّةِ الثَّلاثَةِ الَّذِينَ طَارَ ذِكْرُهُمْ فِي آفَاقِ الإِسْلامِ لِمَا انْتَشَرَ عَنْهُمْ مِنْ عِلْمِ الْحَلالِ وَالْحَرَامِ وَهُمْ أَبُو عبد الله مَالك بن أنس الاصبحي الْمدنِي وَأَبُو عبد الله مُحَمَّد بن إِدْرِيس الشَّافِعِي الْمَكِّيُّ وَأَبُو حَنِيفَةَ النُّعْمَانُ بْنُ ثَابِتٍ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
এবং আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের উপাস্য, সকল সৃষ্টির স্রষ্টা, এবং যিনি তাদের এককে অপরের ওপর বুদ্ধি ও দ্বীন, দারিদ্র্য ও সচ্ছলতা এবং পথভ্রষ্টতা ও হিদায়াতের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। তিনি তাদের মধ্য থেকে ফেরেশতা ও নবীদের শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, আর তিনি নবীদের জন্য আলেমগণ ছাড়া অন্য কাউকে উত্তরসূরি বানাননি, যখন তাঁদের সাথে আল্লাহর তাওফিক ও তাকওয়া যুক্ত হয়। সুতরাং আল্লাহ যাকে তাঁর দ্বীনের ইলম আমানত হিসেবে দান করেছেন এবং সে অনুযায়ী সে আমল করেছে ও তা শিক্ষা দিয়েছে এবং ইলমের অভাবীদের কাছে তার কোনো কিছু গোপন করেনি, সে নবীদের উত্তরসূরি এবং মুত্তাকী ইমামদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর আমি আল্লাহর কাছে বিনীতভাবে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন এবং আমাকে তাদের পথ থেকে বিচ্যুত না করেন, যাতে আমি সফলকামদের মধ্যে সফল হতে পারি এবং তিনি যেন পরবর্তী প্রজন্মের মাঝে আমার সত্যবাদিতার সুখ্যাতি বজায় রাখেন।
অতঃপর, ইলম অর্জন ও তা ধারণে ব্রতী এবং আল্লাহ তাকে যা শিখিয়েছেন তার মহান বরকত ও অনুগ্রহ সম্পর্কে অবগত একদল ব্যক্তি সম্মিলিত ও পৃথকভাবে আমার কাছে অনুরোধ করেছেন যেন আমি তাদের কাছে সেই তিন ইমামের সংবাদ আলোচনা করি, যাঁদের খ্যাতি ইসলামের দিগন্ত জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে তাঁদের থেকে বর্ণিত হালাল ও হারামের ইলম প্রচার হওয়ার কারণে। তাঁরা হলেন—আবু আব্দুল্লাহ মালিক বিন আনাস আল-আসবাহি আল-মাদানি, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস আশ-শাফিয়ি আল-মাক্কি এবং আবু হানিফা আন-নুমান বিন সাবিত।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিকা ফী ফাদায়িলিস সালাসাতিল আইম্মাতিল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ৯)
الْكُوفِيُّ عُيُونًا وَفَقْرًا يَسْتَدِلُّونَ بِهَا عَلَى مَوْضِعِهِمْ مِنَ الإِمَامَةِ فِي الدِّيَانَةِ وَيَكُونُ ذَلِكَ كَافِيًا مُخْتَصَرًا لِيَسْهُلَ حِفْظُهُ وَمَعْرِفَتُهُ وَالْوُقُوفُ عَلَيْهِ وَالْمُذَاكَرَةُ بِهِ مِنْ ثَنَاءِ الْعُلَمَاءِ بَعْدَهُمْ عَلَيْهِمْ وَتَفْضِيلِهِمْ لَهُمْ وَإِقْرَارِهِمْ بِإِمَامَتِهِمْ وَقَدْ أَكْثَرَ النَّاسُ فِي ذَلِكَ بِمَا يُرْغَبُ عَنْ كَثِيرٍ مِنْهُ فَاقْتَصَرْتُ مِمَّا ذَكَرُوهُ عَلَى عُيُونِهِ دُونَ حَشْوِهِ وَعَلَى سَمِينِهِ دُونَ غَثِّهِ وَسَأَذْكُرُ فِي كِتَابِي هَذَا مِنْ ذَلِكَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ مَا يَكْفِي وَيَشْفِي مَعَ الاخْتِصَارِ وَطَرْحِ التِّكْرَارِ وَالاقْتِصَارِ عَلَى مَا يُجْمَلُ بِهِ التِّذْكَارُ وَاللَّهُ الْمُسْتَعَانُ وَهُوَ حَسْبِي وَنِعْمَ الْوَكِيلُ
بَابُ ذِكْرِ مَوْلِدِ مَالِكِ وَنَسَبِهِ وَحِلْفِهِ فِي قُرَيْشٍ
قَالَ أَبُو عُمَرَ رضي الله عنه نَذْكُرُ هَهُنَا مَوْلِدَهُ وَمُدَّةَ حَمْلِ أُمِّهِ بِهِ وَنَسَبَهُ
কুফি [ইমামের জীবনীর] মূল নির্যাস ও গুরুত্বপূর্ণ অংশসমূহ, যার মাধ্যমে দ্বীনের ইমামতের ক্ষেত্রে তাঁদের মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানের প্রমাণ পাওয়া যায়; আর এটি পর্যাপ্ত ও সংক্ষিপ্ত রাখা হয়েছে যাতে তা মুখস্থ করা, জানা, অনুধাবন করা এবং তা নিয়ে আলোচনা করা সহজ হয়; যা মূলত তাঁদের পরবর্তী আলেমদের পক্ষ থেকে তাঁদের প্রশংসা, শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান এবং তাঁদের ইমামতের স্বীকৃতির বর্ণনা হতে সংগৃহীত। এ বিষয়ে মানুষ এত অধিক বর্ণনা করেছে যে, তার অনেক কিছুই বর্জনীয়। তাই তাঁরা যা উল্লেখ করেছেন তা থেকে আমি কেবল মূল বিষয়গুলোর ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি এবং বাহুল্য বর্জন করেছি; আমি সারগর্ভ অংশটুকু গ্রহণ করেছি এবং অসারটুকু ত্যাগ করেছি। আমি আমার এই গ্রন্থে এ প্রসঙ্গে ইনশাআল্লাহ এমন বিষয় উল্লেখ করব যা হবে পর্যাপ্ত ও নিরাময়স্বরূপ, সেই সাথে তা হবে সংক্ষিপ্ত ও পুনরাবৃত্তিহীন এবং কেবল সেই সব বর্ণনার ওপর সীমাবদ্ধ যা স্মরণে রাখার জন্য কল্যাণকর। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাই, তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
মালিকের জন্ম, বংশপরিচয় এবং কুরাইশদের সাথে তাঁর মিত্রতার বর্ণনা সংক্রান্ত অধ্যায়
আবু উমর (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বলেন, আমরা এখানে তাঁর জন্ম, তাঁর মায়ের গর্ভে তাঁর অবস্থানের সময়কাল এবং তাঁর বংশপরিচয় উল্লেখ করব।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিকা ফী ফাদায়িলিস সালাসাতিল আইম্মাতিল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ১০)
فِي ذِي أَصْبَحَ وَحِلْفَهُ فِي قُرَيْشٍ وَصِفَتَهُ ونؤخر وَفَاتِهِ إِلَى آخِرِ أَخْبَارِهِ إِنْ شَاءَ اللَّهُ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ قَالَ نَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى بْنِ رِفَاعَةَ قَالَ نَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ بْنِ بَادِي الْعَلافُ قَالَ سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ بُكَيْرٍ يَقُولُ وُلِدَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ سَنَةَ ثَلاثٍ وَتِسْعِينَ مِنَ الْهِجْرَةِ وَقَالَ يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ نَا عَطَّافُ بْنُ خَالِدٍ قَالَ وُلِدَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ سَنَةَ ثَلاثٍ وَتِسْعِينَ قَالَ عَطَّافٌ وَوُلِدْتُ سَنَةَ إِحْدَى وَتِسْعِينَ قَالَ ابْنُ بُكَيْرٍ وَأَخْبَرَنِي غَيْرُ عَطَّافٍ أَنَّ أُمَّهُ حَمَلَتْ بِهِ سَنَتَيْنِ وَقَالَ عُمَارَةُ بْنُ وَثِيمَةَ وُلِدَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ فِي رَبِيعٍ الأَوَّلِ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَتِسْعِينَ وَكَذَلِكَ قَالَ مُحَمَّد بن عبد الله بن عبد الحكم وُلِدَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَتِسْعِينَ قَالَ وَفِيهَا وُلِدَ اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ قَالَ أَبُو عُمَرَ وَغَيْرُ هَؤُلاءِ يَقُولُونَ وُلِدَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ سَنَةَ سَبْعٍ وَتِسْعِينَ مِنَ الْهِجْرَةِ وَلَمْ يَخْتَلِفْ أَصْحَابُ التَّوَارِيخِ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ بِالْخَبَرِ وَالسِّيَرِ أَنَّ مَالِكًا رحمه الله تُوُفِّيَ سَنَةَ تِسْعٍ وَسَبْعِينَ وَمِائَةٍ وَسَنَذْكُرُ الْقَائِلِينَ بِذَلِكَ فِي آخِرِ أَخْبَارِهِ مِنْ هَذَا الْكِتَابِ إِنْ شَاءَ اللَّهُ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ فَتْحِ بْنِ عبد الله قَالَ نَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ الرَّازِيُّ بِمِصْرَ قَالَ نَا أَبُو الزِّنْبَاعِ رَوْحُ بْنُ الْفَرَجِ الْقَطَّانُ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا مُصْعَبٍ الزُّهْرِيَّ يَقُولُ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ مِنَ الْعَرَبِ صَلِيبَةٌ وَحِلْفُهُ فِي قُرَيْش فى بنى تَمِيم ابْن مرّة حَدثنَا عبد الله بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ قَالَ نَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ قَالَ نَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ الأَنْصَارِيُّ قَالَ أَنا الزُّبَيْرُ بْنُ بكار قَالَ نَا اسمعيل بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ ابْنُ أُخْتِ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ قَالَ هُوَ مَالِكُ بْنُ أَنَسِ بْنِ مَالِكِ بْنِ أَبِي
যী আসবাহ গোত্রে তাঁর বংশপরিচয়, কুরাইশদের সাথে তাঁর মিত্রতা এবং তাঁর গুণাবলি সম্পর্কে আলোচনা করা হবে; আমরা তাঁর মৃত্যুসংবাদ তাঁর জীবনের অন্যান্য খবরাখবরের শেষে উল্লেখ করব, ইনশাআল্লাহ।
আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা ইবনে রিফায়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব ইবনে বাদি আল-আল্লাফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইরকে বলতে শুনেছি যে, মালিক ইবনে আনাস হিজরী ৯৩ সালে জন্মগ্রহণ করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর বলেন, আত্তাফ ইবনে খালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, মালিক ইবনে আনাস ৯৩ সালে জন্মগ্রহণ করেছেন। আত্তাফ বলেন, আর আমি জন্মগ্রহণ করেছি ৯১ সালে। ইবনে বুকাইর বলেন, আত্তাফ ছাড়াও অন্য একজন আমাকে জানিয়েছেন যে, তাঁর মা তাঁকে দুই বছর গর্ভে ধারণ করেছিলেন। উমারা ইবনে ওয়াসিমা বলেন, মালিক ইবনে আনাস ৯৪ হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসে জন্মগ্রহণ করেন। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল হাকামও অনুরূপ বলেছেন যে, মালিক ইবনে আনাস ৯৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বলেন, এই বছরেই লাইস ইবনে সাদ জন্মগ্রহণ করেন। আবু উমর বলেন, অন্য কেউ কেউ বলেন যে মালিক ইবনে আনাস হিজরী ৯৭ সালে জন্মগ্রহণ করেছেন। তবে ইতিহাসবিদ এবং সীরাত বিশেষজ্ঞ উলামায়ে কেরাম এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেননি যে, মালিক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) ১৭৯ হিজরীতে ইন্তেকাল করেছেন; আর ইনশাআল্লাহ আমরা এই কিতাবে তাঁর জীবনের শেষদিকের খবরাখবরে এ কথার প্রবক্তাদের উল্লেখ করব।
আহমাদ ইবনে ফাতহ ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মিশরে আহমাদ ইবনে হাসান আর-রাজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবুয যিনবাও রাওহ ইবনে ফরাজ আল-কাত্তান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি আবু মুসআব আয-যুহরীকে বলতে শুনেছি যে, মালিক ইবনে আনাস বিশুদ্ধ আরব্য বংশোদ্ভূত এবং কুরাইশ বংশের বনী তামীম ইবনে মুররার সাথে তাঁর মৈত্রীচুক্তি ছিল। আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমাদ ইবনে হাসান আল-আনসারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, যুবাইর ইবনে বাক্কার আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন, মালিক ইবনে আনাসের ভাগ্নে ইসমাইল ইবনে আবি উয়াইস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, তিনি হলেন মালিক ইবনে আনাস ইবনে মালিক ইবনে আবি...
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিকা ফী ফাদায়িলিস সালাসাতিল আইম্মাতিল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ১১)
عَامِرِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ بْنِ غَيْمَانَ بْنِ خُثَيْلِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ وَهُوَ ذُو أَصْبَحَ مِنْ حِمْيَرَ بْنِ سَبَأٍ حَدَّثَنَا احْمَد بن عبد الله عَن أَبِيه عَن عبد الله ابْن يُونُسَ عَنْ بَقِيِّ بْنِ مَخْلَدٍ قَالَ قَالَ لَنَا خَلِيفَةُ بْنُ خَيَّاطٍ فِي كِتَابِ الطَّبَقَاتِ مَالِكُ بْنُ أَنَسِ بْنِ مَالِكِ بْنِ أَبِي عَامِرٍ مِنْ ذِي أَصْبَحَ مِنْ حِمْيَرَ يُكَنَّى أَبَا عبد الله وَقَالَ الْبُخَارِيُّ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ كُنْيَتُهُ أَبُو عبد الله كَانَ اماما روى عَنهُ يحيى ابْن سَعِيدٍ الأَنْصَارِيُّ وَقَالَ الْبُخَارِيُّ نَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ قَالَ نَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ قَالَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلالٍ عَنْ نَافِع بن مَالك بن أبي عَامر قَالَ قَالَ لى عبد الرحمن بن عُثْمَان بن عبيد الله التَّيْمِيُّ هَلْ لَكَ إِلَى مَا دَعَانَا إِلَيْهِ غَيْرُكَ فَأَبَيْنَا عَلَيْهِ أَنْ يَكُونَ هَدْمُنَا هَدْمَكَ دمنا ودمك تَرِثُنَا وَنَرِثُكَ مَا بَلَّ بَحْرٌ صُوفَةً وَقَالَ الواقدى وَهُوَ أَبُو عبد الله مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ الْقَاضِي الأَسْلَمِيُّ مَوْلًى لَهُمْ قَالَ مَالِكُ بْنُ أَنَسِ بْنِ مَالِكِ بْنِ أَبِي عَامِرٍ مِنْ ذِي أَصْبَحَ مِنْ حِمْيَرَ لَهُ عِدَادٌ فِي بَنِي تَيْمِ بْنِ مُرَّةَ الى عُثْمَان بن عبيد الله أخى طَلْحَة بن عبيد الله يكنى أَبَا عبد الله حَمَلَتْ بِهِ أُمُّهُ سَنَتَيْنِ قَالَ أَبُو عُمَرَ هَذَا لَا أَعْلَمُ أَنَّ أَحَدًا أَنْكَرَ أَنَّ مَالِكًا وَمَنْ وَلَدَهُ كَانُوا حُلَفَاءَ لِبَنِي تَيْمِ بْنِ مُرَّةَ مِنْ قُرَيْشٍ وَلا خَالَفَ فِيهِ إِلا أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْحَاقَ زَعَمَ أَنَّ مَالِكًا وَأَبَاهُ وَجَدَّهُ وَأَعْمَامَهُ مَوَالِي لِبَنِي تَيْمِ بن مرّة وَهَذَا هُوَ السَّبَب لتكذيب مَالك لمُحَمد ابْن إِسْحَاقَ وَطَعْنِهِ عَلَيْهِ وَقَدْ رُوِيَ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّهُ حَدَّثَ عَنْ أَبِي سُهَيْلٍ نَافِعِ بْنِ مَالِكٍ فَقَالَ حَدَّثَنِي نَافِعُ بْنُ مَالِكٍ مَوْلَى التَّيْمِيِّينَ وَهَذَا عِنْدَنَا لَا يَصِحُّ عَنِ ابْن شهَاب
আমির ইবনে আমর ইবনে আল-হারিস ইবনে গায়মান ইবনে খুসাইল ইবনে আমর ইবনে আল-হারিস; তিনি হিমইয়ার ইবনে সাবা গোত্রের যু আসবাহ বংশীয়। আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন তার পিতা থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে ইউনুস থেকে, তিনি বাকী ইবনে মাখলাদ থেকে। তিনি বলেন: খলিফা ইবনে খইয়াত তার 'কিতাবুত তবাকাত'-এ আমাদের বলেছেন, মালিক ইবনে আনাস ইবনে মালিক ইবনে আবি আমির যু আসবাহ গোত্রের হিমইয়ার বংশীয়, তার কুনিয়া (উপনাম) হলো আবু আব্দুল্লাহ। ইমাম বুখারী বলেন, মালিক ইবনে আনাস, তার কুনিয়া আবু আব্দুল্লাহ, তিনি একজন ইমাম ছিলেন, তার থেকে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী বর্ণনা করেছেন। বুখারী বলেন, আমাদের নিকট ইব্রাহিম ইবনে আল-মুনজির বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু বকর ইবনে আবি উওয়াইস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট সুলায়মান ইবনে বিলাল বর্ণনা করেছেন নাফে ইবনে মালিক ইবনে আবি আমির থেকে। তিনি বলেন: আব্দুর রহমান ইবনে উসমান ইবনে উবাইদুল্লাহ আল-তাইমী আমাকে বললেন, 'আপনার কি সেই বিষয়ের প্রতি আগ্রহ আছে যার দিকে আপনাকে ছাড়া অন্যকে আহ্বান করেছিলাম? অতঃপর আমরা এই শর্তে ঐক্যবদ্ধ হলাম যে, আপনার ধ্বংস হবে আমাদের ধ্বংস এবং আপনার রক্ত হবে আমাদের রক্ত; আপনি আমাদের ওয়ারিশ (উত্তরাধিকারী) হবেন এবং আমরা আপনার ওয়ারিশ হব, যতক্ষণ পর্যন্ত সমুদ্র পশমকে সিক্ত করবে।' ওয়াকিদী—যিনি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে উমর আল-কাজী আল-আসলামী এবং তাদের মুক্তদাস—বলেন, মালিক ইবনে আনাস ইবনে মালিক ইবনে আবি আমির যু আসবাহ গোত্রের হিমইয়ার বংশীয়। বনু তায়ম ইবনে মুররাহ গোত্রে তার বংশগণনা তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহর ভাই উসমান ইবনে উবাইদুল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছে। তার কুনিয়া আবু আব্দুল্লাহ এবং তার মা তাকে দুই বছর গর্ভে ধারণ করেছিলেন। আবু উমর বলেন: আমার জানা মতে কেউ এটি অস্বীকার করেননি যে মালিক এবং তার বংশধররা কুরাইশ বংশের বনু তায়ম ইবনে মুররাহর মিত্র (হালীফ) ছিলেন, আর এতে কেউ দ্বিমতও করেননি। কেবল মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক দাবি করেছেন যে মালিক, তার পিতা, তার দাদা এবং তার চাচারা বনু তায়ম ইবনে মুররাহর মাওয়ালী (মুক্তদাস) ছিলেন। আর এটিই ছিল মালিক কর্তৃক মুহাম্মদ ইবনে ইসহাককে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা এবং তার সমালোচনা করার কারণ। ইবনে শিহাব থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি আবু সুহাইল নাফে ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন: 'তাইমীদের মাওলা নাফে ইবনে মালিক আমার নিকট বর্ণনা করেছেন'। তবে এটি আমাদের মতে ইবনে শিহাব থেকে বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিকা ফী ফাদায়িলিস সালাসাতিল আইম্মাতিল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ১২)
وَقَدْ ذَكَرَ غَيْرُ الْوَاقِدِيِّ أَنَّ أُمَّهُ حَمَلَتْ بِهِ ثَلاثَ سِنِينَ وَأَنَّهُ كَانَ أَشْقَرَ شَدِيدَ الْبَيَاضِ رَبْعَةً مِنَ الرِّجَالِ كَبِيرَ الرَّأْسِ أَصْلَعَ وَكَانَ لَا يَخْضِبُ شَيْبَهُ وَذَكَرَ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ الْمَاجِشُونِ فِيمَا رَوَى الزُّبَيْرُ وَغَيْرُهُ عَنْهُ قَالَ بَعْضُ وُلاةِ أَهْلِ الَمْدِينَةِ لِمَالِكٍ يَا أَبَا عبد الله مَالك لَا تَخْضِبُ كَمَا يَخْضِبُ أَصْحَابُكَ فَقَالَ لَهُ مَالك لم يبْق عَلَيْك من العذل إِلا أَنْ أَخْضِبَ وَذَكَرَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عِيسَى الطَّبَّاعِ قَالَ رَأَيْتُ مَالِكَ بْنَ أَنَسٍ لَا يَخْضِبُ فَسَأَلْتُهُ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ بَلَغَنِي عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه أَنَّهُ كَانَ لَا يَخْضِبُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سُفْيَانَ قَالَ نَا قَاسِمُ بْنُ أَصْبَغَ قَالَ نَا أَحْمَدُ بْنُ زُهَيْرٍ قَالَ نَا مُصْعَبُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُصْعَبٍ الزُّبَيْرِيُّ قَالَ نَا أَبِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُصْعَبٍ عَنْ أَبِيهِ مُصْعَبِ بن ثَابت بن عبد الله بن الزبير قَالَ ذكر لعامر بن عبد الله بْنِ الزُّبَيْرِ أَبُو مَالِكِ بْنُ أَنَسٍ وَأَعْمَامُهُ وَأَهْلُ بَيْتِهِ فَقَالَ أَمَا إِنَّهُمْ مِنَ الْعَرَبِ قَالَ عبد الله بْنُ مُصْعَبٍ قَدِمَ مَالِكُ بْنُ أَبِي عَامِرٍ الْمَدِينَةَ مُتَظَلِّمًا مِنْ بَعْضِ وُلاةِ الْيَمَنِ فَمَالَ إِلَى بَعْضِ بَنِي تَيْمِ بْنِ مُرَّةَ فَعَاقَدَهُ وَصَارَ مَعَهُمْ
قَالَ أَبُو عُمَرَ رَوَى عَنْ مَالِكٍ رحمه الله جَمَاعَةٌ مِنْ شُيُوخِهِ الَّذِينَ رَوَى عَنْهُمْ مِنْهُمْ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيُّ وَأَبُو الاسود مُحَمَّد بن عبد الرحمن ابْن نَوْفَلٍ الأَسَدِيُّ الْقُرَشِيُّ الْمَعْرُوفُ بِيَتِيمِ عُرْوَةَ وَزِيَادُ بن سعد وروى عَنهُ من الْأَئِمَّة سوى هَؤُلاءِ أَبُو حَنِيفَةَ وَسُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَابْنُ عُيَيْنَةَ
ওয়াকিদি ব্যতীত অন্যরাও উল্লেখ করেছেন যে, তার মা তাকে তিন বছর গর্ভে ধারণ করেছিলেন এবং তিনি ছিলেন গৌরবর্ণের, অত্যধিক ফর্সা, মাঝারি গড়নের পুরুষ, বড় মাথা বিশিষ্ট ও টেকো। তিনি তার পাকা চুলে খেজাব লাগাতেন না। আব্দুল মালিক ইবনুল মাজিশুন জুবায়ের ও অন্যদের সূত্রে বর্ণিত রেওয়ায়েতে উল্লেখ করেছেন যে, মদিনার জনৈক শাসক মালিককে বললেন, "হে আবু আব্দুল্লাহ, আপনার সাথিরা যেভাবে খেজাব লাগান, আপনি কেন তা করেন না?" তখন মালিক তাকে বললেন, "আমাকে ভর্ৎসনা করার মতো কি আর কিছুই অবশিষ্ট নেই শুধু এই খেজাব না লাগানো ছাড়া?" আহমাদ ইবনে হাম্বল ইসহাক ইবনে ঈসা আত-তাব্বা’র সূত্রে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: আমি মালিক ইবনে আনাসকে দেখেছি তিনি খেজাব লাগাতেন না, তাই আমি তাকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে তিনি খেজাব লাগাতেন না। আব্দুল ওয়ারিস ইবনে সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন কাসিম ইবনে আসবাগ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আহমাদ ইবনে জুহায়ের আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন মুসআব ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুসআব আজ-জুবাইরি আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমার পিতা আব্দুল্লাহ ইবনে মুসআব তার পিতা মুসআব ইবনে সাবিত ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আজ-জুবাইরির সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমির ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আজ-জুবাইরির নিকট যখন মালিক ইবনে আনাস, তার চাচাগণ এবং তার পরিবারের কথা উল্লেখ করা হলো, তখন তিনি বললেন: "জেনে রেখো, তারা তো আরব বংশোদ্ভূত।" আব্দুল্লাহ ইবনে মুসআব বলেন: মালিক ইবনে আবু আমির ইয়েমেনের জনৈক শাসকের পক্ষ থেকে নির্যাতিত হয়ে প্রতিকারপ্রার্থী হিসেবে মদিনায় আসেন। এরপর তিনি বনু তাইম ইবনে মুররাহ গোত্রের প্রতি ঝুঁকেন এবং তাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যান।
আবু উমর বলেন: মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) এর এমন একদল উস্তাদ তার থেকে রেওয়ায়েত করেছেন যাদের থেকে তিনি নিজেও রেওয়ায়েত করেছিলেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারি, আবুল আসওয়াদ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে নাওফেল আল-আসাদি আল-কুরাইশি যিনি 'ইয়াতিমু উরওয়াহ' নামে পরিচিত এবং জিয়াদ ইবনে সা’দ। এঁরা ছাড়াও ইমামদের মধ্য থেকে আবু হানিফা, সুফিয়ান আস-সাওরি এবং ইবনে উইয়াইনাহ তার থেকে রেওয়ায়েত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিকা ফী ফাদায়িলিস সালাসাতিল আইম্মাতিল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وَشُعْبَةُ بْنُ الْحَجَّاجِ وَالأَوْزَاعِيُّ وَاللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ وَكُلُّهُمْ مَاتَ قَبْلَهُ إِلا ابْنَ عُيَيْنَةَ وَقِيلَ إِنَّهُ رَوَى عَنْهُ ابْنُ شِهَابٍ وَلا يَصِحُّ وَإِنَّمَا رَوَى ابْنُ شِهَابٍ عَنْ
শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ, আল-আওযায়ী এবং আল-লাইস ইবনু সাদ; ইবনু উয়ায়নাহ ব্যতীত তাঁদের সকলেই তাঁর পূর্বে মৃত্যুবরণ করেছেন। বলা হয়ে থাকে যে, ইবনু শিহাব তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু এটি সঠিক নয়। বরং ইবনু শিহাব বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিকা ফী ফাদায়িলিস সালাসাতিল আইম্মাতিল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
عَمِّهِ أَبِي سُهَيْلٍ نَافِعِ بْنِ مَالِكٍ حَدِيثًا وَاحِدًا فَقَالَ حَدَّثَنِي نَافِعُ بْنُ مَالِكٍ مَوْلَى التَّيْمِيِّينَ وَقَدْ رُوِيَ عَنْ مَالِكٍ أَنَّهُ قَالَ ليته لم يرو عَنهُ شَيْئا قَالَ
তাঁর চাচা আবু সুহাইল নাফে ইবনে মালিক থেকে একটি মাত্র হাদিস; তিনি বললেন, "তায়মিদের আযাদকৃত দাস নাফে ইবনে মালিক আমার নিকট বর্ণনা করেছেন।" আর ইমাম মালিক থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছিলেন, "হায়! তিনি যদি তাঁর থেকে কোনো কিছুই বর্ণনা না করতেন!" তিনি বললেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিকা ফী ফাদায়িলিস সালাসাতিল আইম্মাতিল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
أَبُو عُمَرَ مَا زَالَ الْعُلَمَاءُ يَرْوِي بَعْضُهُمْ عَنْ بَعْضٍ لَكِنَّ رِوَايَةَ هَؤُلاءِ الأَئِمَّةِ الْجِلَّةِ عَنْ مَالِكٍ وَهُوَ حَيٌّ دَلِيلٌ عَلَى جَلالَةِ قَدْرِهِ وَرَفِيعِ مَكَانِهِ فِي عِلْمِهِ وَدِينِهِ وَحِفْظِهِ وَإِتْقَانِهِ وَأَمَّا الَّذِينَ رَوَوْا عَنْهُ الْمُوَطَّأَ وَالَّذِينَ رَوَوْا عَنْهُ مَسَائِلَ الرَّأْيِ وَالَّذِينَ رَوَوْا عَنْهُ الْحَدِيثَ فَأَكْثَرُ مِنْ أَنْ يُحْصَوْا قَدْ بَلَغَ فِيهِمْ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عُمَرَ الدَّارَقُطْنِيُّ فِي كِتَابٍ جَمَعَهُ فِي ذَلِكَ نَحْوُ أَلْفِ رَجُلٍ
بَابُ كَيْفَ كَانَ أَخْذُ مَالِكٍ لِلْعِلْمِ وَعَمَّنْ أَخَذَ ذَلِكَ
وَانْتِقَاؤُهُ لِلرِّجَالِ وَأَنَّهُ لَمْ يَأْخُذْ إِلا عَنْ ثِقَةٍ وَلا حَدَّثَ إِلا عَن ثِقَة
حَدثنَا عبد الوارث بْنُ سُفْيَانَ قَالَ نَا قَاسِمُ بْنُ أَصْبَغَ قَالَ نَا أَبُو يحيى ابْن أَبِي مَسَرَّةَ بِمَكَّةَ قَالَ نَا مُطَرِّفُ بْنُ عبد الله قَالَ سَمِعْتُ مَالِكًا يَقُولُ أَدْرَكْتُ جَمَاعَةً مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ مَا أَخَذْتُ عَنْهُمْ شَيْئًا مِنَ الْعِلْمِ وَإِنَّهُمْ لَمِمَّنْ يُؤْخَذُ عِنْهُمُ الْعِلْمُ وَكَانُوا أَصْنَافًا فَمِنْهُمْ مَنْ كَانَ كَذَّابًا فِي أَحَادِيثِ النَّاسِ وَلا يَكْذِبُ فِي عِلْمِهِ فَتَرَكْتُهُ لِكَذِبِهِ فِي غَيْرِ عِلْمِهِ وَمِنْهُمْ مَنْ كَانَ جَاهِلا
আবু উমর বলেন, আলেমরা সর্বদা একে অপরের থেকে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এই মহান ইমামগণের মালেকের জীবদ্দশাতেই তাঁর থেকে বর্ণনা করা তাঁর জ্ঞান, ধর্মপরায়ণতা, স্মৃতিশক্তি এবং নির্ভুলতার ক্ষেত্রে তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা ও সুমহান অবস্থানের এক উজ্জ্বল প্রমাণ। আর যারা তাঁর থেকে মুয়াত্তা বর্ণনা করেছেন, এবং যারা তাঁর থেকে রায় (ফিকহি মাসআলা) বর্ণনা করেছেন, এবং যারা তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তাদের সংখ্যা গণনার অতীত। আবুল হাসান আলী ইবনে উমর আদ-দারা কুতনি এ বিষয়ে সংকলিত তাঁর গ্রন্থে তাদের সংখ্যা প্রায় এক হাজার ব্যক্তি পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন।
পরিচ্ছেদ: মালেক কীভাবে ইলম অর্জন করতেন এবং কার থেকে তা গ্রহণ করতেন
এবং বর্ণনাকারী নির্বাচনে তাঁর মানদণ্ড; তিনি কেবল নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি ছাড়া কারো থেকে ইলম গ্রহণ করতেন না এবং কেবল নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি ছাড়া কারো বর্ণনা উদ্ধৃত করতেন না
আবদ আল-ওয়ারিস ইবনে সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, কাসিম ইবনে আসবাগ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মক্কায় আবু ইয়াহইয়া ইবনে আবি মাসাররাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুতাররিফ ইবনে আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি মালেককে বলতে শুনেছি: "আমি মদীনার একদল লোকের সাক্ষাৎ পেয়েছি যাদের থেকে আমি ইলমের কিছুই গ্রহণ করিনি, অথচ তারা এমন ছিলেন যাদের থেকে ইলম গ্রহণ করা যেত। তারা কয়েক প্রকারের ছিলেন: তাদের মধ্যে কেউ মানুষের সাথে কথাবার্তায় মিথ্যা বলতেন, তবে নিজের ইলমের ক্ষেত্রে মিথ্যা বলতেন না; আমি ইলম বহির্ভূত ক্ষেত্রে তাঁর মিথ্যার কারণে তাঁকে বর্জন করেছি। আবার তাদের মধ্যে কেউ ছিলেন জাহিল (মূর্খ)।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিকা ফী ফাদায়িলিস সালাসাতিল আইম্মাতিল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
بِمَا عِنْدَهُ فَلَمْ يَكُنْ عِنْدِي أَهْلا لِلأَخْذِ عَنهُ وَمِنْهُم من كَانَ يرْمى برأى سوء حَدثنَا عبد الوارث بْنُ سُفْيَانَ قَالَ نَا قَاسِمُ بْنُ أَصْبَغَ قَالَ نَا مُحَمَّد بن اسمعيل التِّرْمِذِيُّ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ أَبِي أُوَيْسٍ يَقُولُ سَمِعْتُ خَالِي مَالِكَ بْنَ أَنَسٍ يَقُولُ إِنَّ هَذَا الْعِلْمَ دِينٌ فَانْظُرُوا عَمَّنْ تَأْخُذُونَ دِينَكُمْ لَقَدْ أَدْرَكْتُ سَبْعِينَ مِمَّنْ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عِنْدَ هَذِهِ الأَسَاطِينِ وَأَشَارَ إِلَى مَسْجِدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَمَا أَخَذْتُ عَنْهُمْ شَيْئًا وان أحدهم لواؤتمن على بَيت مَال لَكَانَ أَمِينًا إِلا أَنَّهُمْ لَمْ يَكُونُوا مِنْ أَهْلِ هَذَا الشَّأْنِ وَقَدِمَ عَلَيْنَا ابْنُ شِهَابٍ فَكُنَّا نَزْدَحِمُ على بَابه وَقَالَ الدولابي حَدثنَا اسمعيل بن اسحاق القَاضِي قَالَ نَا عَليّ بن الْمَدِينِيِّ قَالَ نَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ قَالَ سَمِعْتُ مَالِكَ بْنَ أَنَسٍ يَسْأَلُ زَيْدَ بْنَ أَسْلَمَ عَنْ حَدِيثِ عُمَرَ أَنَّهُ حُمِلَ عَلَى فَرَسٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَجَعَلَ يَرْفُقُ بِهِ ويسأله عَن الْكَلِمَة بعد الْكَلِمَة والشئ بعد الشئ حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ قَاسِمٍ قَالَ نَا أَبُو الطَّاهِر مُحَمَّد بن احْمَد ابْن يَحْيَى الْقَاضِي بِمِصْرَ قَالَ نَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفِرْيَابِيُّ قَالَ نَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ قَالَ نَا مَعْنُ بْنُ عِيسَى وَمُحَمَّدُ بْنُ صَدَقَةَ قَالا كَانَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ يَقُولُ لايؤخذ الْعِلْمُ مِنْ أَرْبَعَةٍ وَيُؤْخَذُ مِمَّنْ سِوَاهُمْ لَا يُؤْخَذُ مِنْ سَفِيهٍ وَلا يُؤْخَذُ مِنْ صَاحِبِ هَوًى يَدْعُو إِلَى بِدْعَتِهِ وَلا مِنْ كَذَّابٍ يَكْذِبُ فِي أَحَادِيثِ النَّاسِ وَإِنْ كَانَ لَا يُتَّهَمُ عَلَى حَدِيثِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلا مِنْ شَيْخٍ لَهُ فَضْلٌ وَصَلاحٌ وَعِبَادَةٌ إِذَا كَانَ لَا يَعْرِفُ مَا يَحْمِلُ وَمَا يُحَدِّثُ بِهِ قَالَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذر فَذكرت ذَلِك لمطرف بن عبد الله فَقَالَ أَشْهَدُ عَلَى
...তার নিকট যা ছিল তার ভিত্তিতে তিনি আমার নিকট হাদিস গ্রহণের যোগ্য ছিলেন না। তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও ছিলেন যাদেরকে ভ্রান্ত মতাদর্শের অপবাদ দেওয়া হতো। আব্দুল ওয়ারিস ইবনে সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, কাসিম ইবনে আসবাগ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আত-তিরমিজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি ইবনে আবি উওয়াইসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আমার মামা মালিক ইবনে আনাসকে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই এই ইলম হলো দ্বীন, সুতরাং তোমরা লক্ষ্য করো কার নিকট থেকে তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করছ। আমি এই স্তম্ভগুলোর নিকট (তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদের দিকে ইশারা করলেন) সত্তর জন এমন ব্যক্তিকে পেয়েছি যারা বলতেন 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন', কিন্তু আমি তাদের থেকে কিছুই গ্রহণ করিনি। যদিও তাদের কাউকে যদি বায়তুল মালের আমানতদার বানানো হতো, তবে সে অবশ্যই বিশ্বস্ত আমানতদার সাব্যস্ত হতো, কিন্তু তারা এই বিষয়ের (হাদিস বর্ণনার) যোগ্য লোক ছিলেন না। এরপর আমাদের নিকট ইবনে শিহাব আসলেন, তখন আমরা তাঁর দরজায় ভিড় জমাতাম।" আদ-দুলাবি বলেন, ইসমাইল ইবনে ইসহাক আল-কাদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আলী ইবনুল মাদিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সুফিয়ান ইবনে উইয়ায়না আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি মালিক ইবনে আনাসকে যায়েদ ইবনে আসলামের নিকট উমরের সেই হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে শুনেছি যেখানে তাঁকে আল্লাহর পথে একটি ঘোড়ায় সওয়ার করানো হয়েছিল। তিনি তাঁর প্রতি নম্রতা প্রদর্শন করছিলেন এবং তাঁকে একের পর এক শব্দ ও একের পর এক বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছিলেন। খালাফ ইবনে কাসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মিসরের বিচারক আবু তাহের মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, জাফর ইবনে মুহাম্মদ আল-ফিরিয়াবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইব্রাহিম ইবনে আল-মুনজির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মান ইবনে ঈসা এবং মুহাম্মদ ইবনে সাদাকা আমাদের বলেছেন যে, মালিক ইবনে আনাস বলতেন: "চার ধরণের ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারও থেকে ইলম গ্রহণ করা যাবে না: নির্বোধের কাছ থেকে গ্রহণ করা যাবে না; এমন প্রবৃত্তি পূজারীর কাছ থেকে গ্রহণ করা যাবে না যে মানুষকে তার বিদআতের দিকে আহ্বান করে; এমন মিথ্যুকের কাছ থেকে গ্রহণ করা যাবে না যে মানুষের সাথে কথাবার্তায় মিথ্যা বলে, যদিও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের ক্ষেত্রে সে অভিযুক্ত নয়; এবং এমন বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তির কাছ থেকে গ্রহণ করা যাবে না যার মর্যাদা, নেক আমল ও ইবাদত রয়েছে কিন্তু সে যা বহন (স্মরণ) করছে এবং যা বর্ণনা করছে সে সম্পর্কে তার সঠিক জ্ঞান নেই।" ইব্রাহিম ইবনুল মুনজির বলেন, আমি এই কথাটি মুতাররিফ ইবনে আব্দুল্লাহর নিকট উল্লেখ করলাম, তখন তিনি বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিকা ফী ফাদায়িলিস সালাসাতিল আইম্মাতিল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
مَالِكٍ لَسَمِعْتُهُ يَقُولُ أَدْرَكْتُ بِهَذَا الْبَلَدِ مَشْيَخَةَ لَهُم فَضْلٍ وَصَلاحٍ يُحَدِّثُونَ مَا سَمِعْتُ مِنْ أَحَدٍ مِنْهُم شَيْئا قيل لم يَا أَبَا عبد الله قَالَ لَمْ يَكُونُوا يَعْرِفُونَ مَا يُحَدِّثُونَ قَالَ أَبُو عُمَرَ قَدْ رُوِّينَا عَنِ ابْنِ أَبِي أويس واشهب بن عبد العزيز وَابْنِ كِنَانَةَ عُثْمَانَ وَعَنْ بِشْرِ بْنِ عُمَرَ عَنْ مَالِكٍ مَعْنَى مَا ذَكَرْتُهُ عَنْ مَعْنٍ وَمُطَرِّفٍ عَنْ مَالِكٍ وَفِي حَدِيثِ بَعْضِهِمْ عَنْ مَالِكٍ فِي الْمَشَايِخِ وَإِنَّ أَحَدَهُمْ لَوِ اؤْتُمِنَ عَلَى بَيْتِ مَالٍ لَكَانَ بِهِ أَمِينًا إِلا أَنَّهُمْ لَمْ يَكُونُوا مِنْ أَهْلِ هَذَا الشَّأْنِ ثُمَّ قَدِمَ عَلَيْنَا ابْنُ شِهَابٍ فَكُنَّا نَزْدَحِمُ عَلَى بَابِهِ حَدَّثَنَا أَبُو عُثْمَانَ سَعِيدُ بْنُ نصر وَأَبُو الْقَاسِم عبد الوارث بْنُ سُفْيَانَ قَالا نَا قَاسِمُ بْنُ أَصْبَغَ قَالَ نَا أَبُو قلَابَة عبد الملك بْنُ مُحَمَّدٍ الرَّقَاشِيُّ قَالَ نَا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ قَالَ سَأَلْتُ مَالِكَ بْنَ أَنَسٍ عَنْ رَجُلٍ فَقَالَ هَلْ رَأَيْتَهُ فِي كُتُبِي قُلْتُ لَا قَالَ لَوْ كَانَ ثِقَةً لَرَأَيْتَهُ فِي كُتُبِي حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ قَالَ نَا أَحْمَدُ بْنُ الْفَضْلِ قَالَ نَا مُحَمَّدُ بْنُ جَرِيرٍ قَالَ نَا ابْنُ الْبَرْقِيِّ قَالَ نَا عُثْمَانُ بْنُ كِنَانَةَ عَنْ مَالِكٍ قَالَ رُبَّمَا جَلَسَ إِلَيْنَا الشَّيْخُ فَيُحَدِّثُ جُلَّ نَهَارِهِ مَا نَأْخُذُ عَنْهُ حَدِيثًا وَاحِدًا مَا بِنَا أَنْ نَتَّهِمَهُ وَلَكِنْ لَمْ يَكُنْ مِنْ أهل الحَدِيث حَدثنَا عبد الرحمن بن عبد الله ابْن خَالِد الهمذاني قَالَ نَا أَبُو بكراحمد بْنُ جَعْفَرِ بْنِ حَمْدَانَ بْنِ مَالِكٍ قَالَ نَا أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ إِسْحَاقَ الْحَرْبِيُّ قَالَ نَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ قَالَ نَا عبد الرزاق عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ مُوسَى الْجَنَدِيِّ قَالَ رَدَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَهَادَةَ رَجُلٍ فِي كَذِبَةٍ كَذَبَهَا قَالَ مَعْمَرٌ لَا أَدْرِي أَكَذَبَ عَلَى اللَّهِ أَوْ عَلَى رَسُولِهِ أَوْ عَلَى أَحَدٍ مِنَ النَّاسِ قَالَ أَبُو عُمَرَ هَذَا حُجَّةٌ لِمَالِكٍ فِي أَنَّهُ كَانَ لَا يَرْوِي عَمَّنْ كَانَ يَكْذِبُ عَلَى النَّاسِ وَإِنْ كَانَ لَا يَكْذِبُ عَلَى رَسُولِ
ইমাম মালেক থেকে বর্ণিত, আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: আমি এই শহরে এমন অনেক বয়োজ্যেষ্ঠ আলেমকে পেয়েছি যারা ফযিলত ও নেক আমলের অধিকারী ছিলেন, তাঁরা হাদীস বর্ণনা করতেন; কিন্তু আমি তাঁদের কারো থেকে কোনো কিছু (হাদীস) গ্রহণ করিনি। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আবু আব্দুল্লাহ! কেন? তিনি বললেন, তাঁরা যা বর্ণনা করছিলেন সে সম্পর্কে তাঁদের (প্রয়োজনীয় ইলমী) পরিচয় ছিল না। আবু ওমর বলেন: আমরা ইবনে আবি উওয়াইস, আশহাব ইবনে আব্দুল আজিজ, উসমান ইবনে কিনানাহ এবং বিশর ইবনে ওমর থেকে ইমাম মালেক সূত্রে বর্ণনা করেছি যা আমি মা'ন ও মুতাররিফ সূত্রে মালেক থেকে উল্লেখ করেছি তার সমার্থবোধক। তাঁদের কারো বর্ণনায় শায়খদের সম্পর্কে মালেকের উক্তিটি এভাবে এসেছে: "তাদের কেউ যদি বায়তুল মালের আমানতদার নিযুক্ত হতো তবে সে অবশ্যই বিশ্বস্ত সাব্যস্ত হতো; কিন্তু তাঁরা এই ইলমের (হাদীস শাস্ত্রের) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।" অতঃপর আমাদের নিকট ইবনে শিহাব (যুহরী) আগমন করলেন, তখন আমরা তাঁর দরজায় ভিড় জমাতাম। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উসমান সাঈদ ইবনে নাসর এবং আবুল কাসিম আব্দুল ওয়ারিস ইবনে সুফিয়ান, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাসিম ইবনে আসবাগ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু কিলাবা আব্দুল মালিক ইবনে মুহাম্মদ আল-রাকাশি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিশর ইবনে ওমর, তিনি বলেন: আমি মালেক ইবনে আনাসকে জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, "তুমি কি তাকে আমার কিতাবসমূহে দেখেছ?" আমি বললাম, "না।" তিনি বললেন, "যদি সে নির্ভরযোগ্য হতো, তবে অবশ্যই তাকে আমার কিতাবসমূহে দেখতে পেতে।" আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনুল ফদল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে জারীর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনুল বারকী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে কিনানাহ, তিনি মালেক থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: "কখনও কখনও কোনো শায়খ আমাদের নিকট বসতেন এবং দিনের অধিকাংশ সময় হাদীস বর্ণনা করতেন, কিন্তু আমরা তাঁর থেকে একটি হাদীসও গ্রহণ করতাম না। এর কারণ এই নয় যে আমরা তাঁকে (মিথ্যাচারের) অভিযুক্ত করতাম, বরং তিনি হাদীস শাস্ত্রের পারদর্শী ছিলেন না।" আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে খালিদ আল-হামদানি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আহমদ ইবনে জাফর ইবনে হামদান ইবনে মালেক, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে ইসহাক আল-হারবী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক, তিনি মা'মার থেকে, তিনি মুসা আল-জানাদী থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জনৈক ব্যক্তির সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তার একটি মিথ্যার কারণে। মা'মার বলেন: আমি জানি না সে আল্লাহর ওপর মিথ্যা বলেছিল, নাকি তাঁর রাসূলের ওপর, নাকি মানুষের কোনো একজনের ওপর। আবু ওমর বলেন: এটি ইমাম মালেকের স্বপক্ষে একটি দলিল যে, তিনি এমন ব্যক্তি থেকে হাদীস বর্ণনা করতেন না যে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলার সময় মিথ্যা বলত, যদিও সে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নামে মিথ্যা না বলত।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিকা ফী ফাদায়িলিস সালাসাতিল আইম্মাতিল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ رَوَى عَن حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا اطَّلَعَ عَلَى أَحَدٍ مِنْ أَهْلِ بَيْتِهِ يَكْذِبُ كَذِبَةً لَمْ يَزَلْ مُعْرِضًا عَنْهُ حَتَّى يُحْدِثَ لِلَّهِ تَوْبَةً
بَابُ ذِكْرِ حِفْظِهِ وَضَبْطِهِ وَإِتْقَانِهِ
ذَكَرَ الدُّولابِيُّ فِي كِتَابِ فَضَائِلِ مَالِكٍ وَقَدْ ذَكَرْنَا الإِسْنَادَ عَنْهُ فِي غَيْرِ هَذَا الْمَوْضِعِ قَالَ نَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِسْحَاقَ وَقَدْ حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّد عبد الله ابْن مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْمُؤْمِنِ قَالَ نَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ قَالَ نَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِسْحَاقَ الْقَاضِي قَالَ نَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ قَالَ نَا حُسَيْنُ بْنُ عُرْوَةَ عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ قَالَ قَدِمَ عَلَيْنَا الزُّهْرِيُّ فَأَتَيْنَاهُ وَمَعَنَا رَبِيعَةُ فَحَدَّثَنَا نَيِّفًا وَأَرْبَعِينَ حَدِيثًا ثُمَّ أَتَيْنَاهُ الْغَدَ فَقَالَ انْظُرُوا كِتَابًا حَتَّى أُحَدِّثَكُمْ مِنْهُ أَرَأَيْتُمْ مَا حَدَّثْتُكُمْ بِهِ أَمْسِ أَيُّ شئ فِي أَيْدِيكُمْ مِنْهُ قَالَ فَقَالَ لَهُ رَبِيعَةُ هَهُنَا مَنْ يَرُدُّ عَلَيْكَ مَا حَدَّثْتَ بِهِ أَمْسِ قَالَ وَمَنْ هُوَ قَالَ ابْنُ أَبِي عَامِرٍ قَالَ هَاتِ قَالَ فَحَدَّثْتُهُ بِأَرْبَعِينَ حَدِيثًا مِنْهَا فَقَالَ الزُّهْرِيُّ مَا كُنْتُ أَرَى أَنَّهُ بَقِيَ أَحَدٌ يَحْفَظُ هَذَا غَيْرِي وَذَكَرَ أَبُو بِشْرٍ الدُّولابِيُّ قَالَ نَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عِيسَى قَالَ نَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ قَالَ لَقِيتُ ابْنَ شِهَابٍ يَوْمًا فِي مَوْضِعِ الْجَنَائِزِ عَلَى بَغْلَةٍ لَهُ فَسَأَلْتُهُ عَنْ حَدِيثٍ فِيهِ طُولٌ فَحَدَّثَنِي بِهِ فَلَمْ أَحْفَظْهُ قَالَ فَأَخَذْتُ بِلِجَامِ بَغْلَتِهِ فَقُلْتُ يَا أَبَا بَكْرٍ أَعِدْهُ عَلَيَّ فَأَبَى فَقُلْتُ أَمَا كُنْتَ تُحِبُّ أَنْ يُعَادَ عَلَيْكَ فَأَعَادَهُ قَالَ وَحَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِسْحَاقَ قَالَ نَا عَتِيقُ بْنُ يَعْقُوبَ قَالَ سَمِعْتُ مَالِكًا يَقُولُ حَدَّثَنَا ابْنُ شِهَابٍ ببضعة
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। হাম্মাদ ইবনে যায়েদ হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন জানতে পারতেন যে তাঁর পরিবারের কেউ মিথ্যা বলেছে, তখন তিনি তার থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখতেন যতক্ষণ না সে আল্লাহর কাছে তাওবা করত।
পরিচ্ছেদ: তাঁর মুখস্থ শক্তি, ধারণ ক্ষমতা এবং পারদর্শিতার বর্ণনা
আদ-দুলাবি তাঁর 'ফাদায়িলে মালিক' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন—আমরা এই স্থান ব্যতীত অন্যত্র তাঁর থেকে সনদটি বর্ণনা করেছি—তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনে ইসহাক। আর আমাদের কাছে আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল মুমিন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ আস-সাফফার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বিচারক ইসমাইল ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে নাসর ইবনে আলী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে হুসাইন ইবনে উরওয়াহ মালিক ইবনে আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (মালিক) বলেন: আয-যুহরি আমাদের কাছে আসলেন। আমরা তাঁর কাছে গেলাম এবং আমাদের সাথে রাবিআহ ছিলেন। তিনি আমাদের কাছে চল্লিশটিরও বেশি হাদিস বর্ণনা করলেন। এরপর দিন আমরা তাঁর কাছে আসলাম, তখন তিনি বললেন: "কোনো কিতাব দেখো যাতে আমি তোমাদের তা থেকে হাদিস শোনাতে পারি। তোমরা কি মনে করো গতকাল আমি তোমাদের কাছে যা বর্ণনা করেছি, তার কোনো অংশ তোমাদের কাছে সংরক্ষিত আছে?" রাবিআহ তাঁকে বললেন: "এখানে এমন একজন আছে যে গতকাল আপনি যা বর্ণনা করেছেন তা আপনাকে ফিরিয়ে শুনাতে পারবে।" তিনি বললেন: "সে কে?" রাবিআহ বললেন: "ইবনে আবি আমির (মালিক)।" তিনি বললেন: "শোনাও দেখি।" মালিক বলেন: তখন আমি তাঁকে সেই হাদিসগুলো থেকে চল্লিশটি হাদিস শুনালাম। আয-যুহরি বললেন: "আমি মনে করতাম না যে আমি ব্যতীত আর কেউ এটি মুখস্থ রেখেছে।" আবু বিশর আদ-দুলাবি আরও উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বল, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইসহাক ইবনে ঈসা থেকে। তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মালিক ইবনে আনাস। তিনি বলেন: একদিন আমি ইবনে শিহাবের দেখা পেলাম জানাজার স্থানে, তিনি তাঁর খচ্চরের ওপর আরোহিত ছিলেন। আমি তাঁকে একটি দীর্ঘ হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি তা বর্ণনা করলেন কিন্তু আমি তা মুখস্থ করতে পারলাম না। মালিক বলেন: আমি তাঁর খচ্চরের লাগাম ধরলাম এবং বললাম: "হে আবু বকর, এটি আমার কাছে পুনরায় বর্ণনা করুন।" তিনি অস্বীকার করলেন। আমি বললাম: "আপনার কাছে কেউ পুনরায় বর্ণনা করুক তা কি আপনি পছন্দ করতেন না?" তখন তিনি পুনরায় তা বর্ণনা করলেন। তিনি বলেন: আমাদের কাছে ইসমাইল ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আতিক ইবনে ইয়াকুব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মালিককে বলতে শুনেছি: ইবনে শিহাব আমাদের কাছে অল্প সংখ্যক...
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিকা ফী ফাদায়িলিস সালাসাতিল আইম্মাতিল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وَأَرْبَعِينَ حَدِيثًا ثُمَّ قَالَ إِيهًا أَعِدْهَا عَلَيَّ فَأَعَدْتُ عَلَيْهِ أَرْبَعِينَ حَدِيثًا وَأَسْقَطْتُ الْبِضْعَةَ
بَابُ ذِكْرِ ثَنَاءِ الْعُلَمَاءِ عَلَى مَالِكٍ
فَمِنْ ذَلِكَ قَوْلُ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ ذَكَرَ الدُّولابِيُّ أَبُو بِشْرٍ قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ وَالنَّضْرُ بْنُ سَلَمَةَ قَالا نَا الْحُمَيْدِيُّ عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ (يُوشِكُ أَنْ يَضْرِبَ النَّاسُ أَكْبَادَ الإِبِلِ فِي طَلَبِ الْعِلْمِ فَلا يَجِدُونَ عَالِمًا أَعْلَمَ مِنْ عَالِمِ الْمَدِينَةِ) قَالَ الْحُمَيْدِيُّ قَالَ سُفْيَانُ أَظُنُّهُ مَالِكَ بْنَ أَنَسٍ وَكَذَلِكَ رَوَاهُ إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ الْحِزَامِيُّ عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ قَالَ وَكَانَ سُفْيَانُ يَقُولُ أَرَاهُ مَالِكًا ثُمَّ قَالَ أرَاهُ أرَاهُ عبد الله بن عبد العزيز الْعُمَرِيَّ الْعَابِدَ وَذَكَرَ الزُّبَيْرُ بْنُ بَكَّارٍ قَالَ كَانَ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ إِذَا حَدَّثَ بِهَذَا الْحَدِيثِ فِي حَيَاةِ مَالِكٍ قَالَ أَرَاهُ مَالِكًا فَأَقَامَ عَلَى ذَلِكَ زَمَانًا ثُمَّ رَجَعَ بَعْدَ ذَلِكَ فَقَالَ أَرَاهُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْعُمَرِيَّ قَالَ أَبُو عُمَرَ لَيْسَ الْعُمَرِيُّ هَذَا مِمَّنْ يَلْحَقُ فِي الْعِلْمِ وَالْفِقْهِ بِمَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَإِنْ كَانَ عَابِدًا شَرِيفًا وَهَذَا الْحَدِيثُ لَا يَرْوِيهِ أَحَدٌ إِلا بِهَذَا الإِسْنَادِ وَهُمْ أَئِمَّةٌ كُلُّهُمْ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ إِمَامٌ وَابْنُ جُرَيْجٍ مِثْلُهُ وَأَجَلُّ مِنْهُ وَأَبُو الزُّبَيْرِ حَافِظٌ مُتْقِنٌ وَإِنْ كَانَ بَعْضُ النَّاسِ قَدْ تَكَلَّمَ فِيهِ وَأَبُو صَالِحٍ السَّمَّانُ أَحَدُ ثِقَاتِ التَّابِعِينَ وَكَانَ أَبُو هُرَيْرَةَ يَقُولُ فِيهِ إِذَا نظر اليه مَا يضر هَذَا الا أَن يَكُونُ مِنْ بَنِي عَبْدِ مَنَافٍ قَالَ أَبُو عمر الحَدِيث الْمُسْنَدُ الْمَذْكُورُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم رَوَاهُ عبيد الله بْنُ عُمَرَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ عَنْ أَبِي مُوسَى
...এবং চল্লিশটি হাদিস। তারপর তিনি বললেন, "সাবাশ, এগুলো আমার কাছে পুনরায় পাঠ করো।" অতঃপর আমি তাঁর কাছে চল্লিশটি হাদিস পুনরায় পাঠ করলাম এবং অতিরিক্ত কয়েকটিকে বাদ দিলাম।
অধ্যায়: ইমাম মালিকের প্রশংসায় আলেমগণের বক্তব্যের বর্ণনা
এর মধ্যে রয়েছে সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনার উক্তি। আবু বিশর আদ-দুলাবি উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস এবং আন-নাদর ইবনে সালামাহ, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হুমাইদি, সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা থেকে, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি আবুয যুবাইর থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "অচিরেই মানুষ জ্ঞান অন্বেষণে উটের কলিজায় আঘাত করবে (অর্থাৎ দ্রুত সফর করবে), কিন্তু তারা মদিনার আলেমের চেয়ে অধিক জ্ঞানী কোনো আলেম খুঁজে পাবে না।" হুমাইদি বলেন: সুফিয়ান বলেছেন, "আমি মনে করি তিনি হলেন মালিক ইবনে আনাস।" একইভাবে ইব্রাহিম ইবনে মুনজির আল-হিযামি সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, সুফিয়ান বলতেন, "আমি তাঁকে মালিক বলেই মনে করি।" এরপর তিনি বললেন, "আমি তাকে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল আজিজ আল-উমারি আল-আবিদ (ইবাদতগুজার) বলে মনে করি।" যুবাইর ইবনে বাক্কার উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা যখন মালিকের জীবদ্দশায় এই হাদিস বর্ণনা করতেন, তখন বলতেন, "আমি তাঁকে মালিক বলেই মনে করি।" দীর্ঘকাল তিনি এর ওপর অটল ছিলেন। এরপর তিনি তা থেকে ফিরে আসেন এবং বলেন, "আমি তাকে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল আজিজ আল-উমারি বলে মনে করি।" আবু উমর বলেন: এই উমারি ইলম ও ফিকহের ক্ষেত্রে মালিক ইবনে আনাসের সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারেন না, যদিও তিনি একজন ইবাদতগুজার ও সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন। আর এই হাদিসটি কেবল এই সনদ (সূত্র) দিয়েই বর্ণিত হয়েছে এবং বর্ণনাকারীদের সকলেই ইমাম। সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা একজন ইমাম, ইবনে জুরাইজও তাঁর অনুরূপ এবং তাঁর চেয়েও মহান। আবুয যুবাইর একজন প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন হাফেজ, যদিও কিছু মানুষ তাঁর সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন। আবু সালিহ আস-সাম্মান নির্ভরযোগ্য তাবেয়িদের অন্যতম। আবু হুরায়রা (রা.) তাঁর দিকে তাকিয়ে বলতেন, "বনু আব্দ মানাফের সদস্য না হওয়া ছাড়া অন্য কোনো কিছুই এই ব্যক্তির কোনো ক্ষতি করতে পারত না।" আবু উমর বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে আবু হুরায়রা (রা.) কর্তৃক বর্ণিত উল্লিখিত মুসনাদ হাদিসটি উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর, সাঈদ ইবনে আবি হিন্দ থেকে এবং তিনি আবু মুসা থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিকা ফী ফাদায়িলিস সালাসাতিল আইম্মাতিল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ২০)
الأَشْعَرِيِّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الا انه لم يروه عَن عبيد الله بْنِ عُمَرَ غَيْرُ زُهَيْرِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْخُرَاسَانِيِّ وَرَجُلٌ مَجْهُولٌ أَيْضًا حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ قَاسِمُ ابْن مُحَمَّدٍ قَالَ نَا خَالِدُ بْنُ سَعْدٍ قَالَ نَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ مَنْصُورٍ قَالَ نَا مُحَمَّد ابْن عبد الله بن سحر قَالَ نَا أَبُو مُسْلِمٍ الْمُسْتَمْلِي قَالَ نَا مَعْنُ بْنُ عِيسَى قَالَ نَا زُهَيْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (يَخْرُجُ النَّاسُ مِنَ الْمِشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ فَلا يَجِدُونَ عَالِمًا أَعْلَمَ مِنْ عَالِمِ أَهْلِ الْمَدِينَة)
حَدثنَا أَبُو الْقَاسِم عبد الوارث بْنُ سُفْيَانَ قَالَ نَا قَاسِمُ بْنُ أَصْبَغَ قَالَ نَا أَحْمَدُ بْنُ زُهَيْرٍ قَالَ نَا يحيى بن عبد الحميد الْحِمَّانِيُّ قَالَ نَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنِ ابْن جريج عَن ابْن الزُّبَيْرِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (يُوشِكُ أَنْ يَضْرِبَ النَّاسُ أَكْبَادَ الإِبِلِ فَلا يَجِدُونَ عَالِمًا أَعْلَمَ مِنْ عَالِمِ الْمَدِينَةِ) أخبرنَا عبد الله بن مُحَمَّد بن عبد المؤمن قَالَ نَا أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُثْمَانَ الْفَسَوِيُّ قَالَ نَا أَبُو يُوسُفَ يَعْقُوبُ بْنُ سُفْيَانَ الْفَسَوِيُّ قَالَ نَا أَبُو بكرالحميدى وَسَعِيد بن مَنْصُور قَالَا نَا سُفْيَان ابْن عُيَيْنَةَ قَالَ نَا ابْنُ جُرَيْجٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (يُوشِكُ أَنْ يَضْرِبَ النَّاسُ أَكْبَادَ الإِبِلِ فِي طَلَبِ الْعِلْمِ فَلا يُوجَدُ عَالِمٌ أَعْلَمُ مِنْ عَالِمِ الْمَدِينَةِ) قَالَ أَبُو يُوسُفَ وَيُرْوَى عَنْ مَعْنِ بْنِ عِيسَى عَنْ زُهَيْرٍ أَبِي الْمُنْذر عَن عبيد الله بْنُ عُمَرَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ عَنْ أبي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ (يَخْرُجُ طَالِبُ الْعِلْمِ مِنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ فَلا يُوجَدُ عَالِمٌ أَعْلَمُ من عَالم
আল-আশআরি থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সূত্রে বর্ণিত, তবে এটি উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে জুহাইর ইবনে মুহাম্মদ আল-খুরাসানি এবং জনৈক অজ্ঞাত ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ বর্ণনা করেননি। আবু মুহাম্মদ কাসিম ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, খালিদ ইবনে সাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমদ ইবনে আমর ইবনে মানসুর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সাহর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু মুসলিম আল-মুস্তামলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মা'ন ইবনে ঈসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, জুহাইর ইবনে মুহাম্মদ উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি সাইদ ইবনে আবি হিন্দ থেকে, তিনি আবু মুসা আল-আশআরি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (মানুষ পূর্ব ও পশ্চিম থেকে বের হবে, কিন্তু তারা মদিনার আলেম অপেক্ষা অধিক জ্ঞানী কোনো আলেম খুঁজে পাবে না।)
আবু আল-কাসিম আব্দুল ওয়ারিস ইবনে সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, কাসিম ইবনে আসবাগ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমদ ইবনে জুহাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল হামিদ আল-হিমানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সুফিয়ান ইবনে উয়ায়না ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি ইবনে আজ-জুবায়ের থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (অচিরেই মানুষ উটের কলিজায় আঘাত করবে অর্থাৎ উটের পিঠে চড়ে কঠোর সফর করবে, তখন তারা মদিনার আলেম অপেক্ষা অধিক জ্ঞানী কোনো আলেম খুঁজে পাবে না)। আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মুমিন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উসমান আল-ফাসাউই আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু ইউসুফ ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান আল-ফাসাউই আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু বকর আল-হুমাইদি এবং সাইদ ইবনে মানসুর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন, সুফিয়ান ইবনে উয়ায়না আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইবনে জুরাইজ আবু আজ-জুবায়ের থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (অচিরেই মানুষ জ্ঞান অন্বেষণে উটের কলিজায় আঘাত করবে অর্থাৎ কঠোর সফর করবে, তখন মদিনার আলেম অপেক্ষা অধিক জ্ঞানী কোনো আলেম পাওয়া যাবে না)। আবু ইউসুফ বলেন, মা'ন ইবনে ঈসা থেকে, তিনি জুহাইর আবু আল-মুনজির থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি সাইদ ইবনে আবি হিন্দ থেকে, তিনি আবু মুসা আল-আশআরি থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (জ্ঞান অন্বেষণকারী পূর্ব ও পশ্চিম থেকে বের হবে, কিন্তু মদিনার আলেম অপেক্ষা অধিক জ্ঞানী কোনো আলেম পাওয়া যাবে না)।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিকা ফী ফাদায়িলিস সালাসাতিল আইম্মাতিল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ২১)
الْمَدِينَة) أَو عَالم أهل الْمَدِينَة حَدثنَا عبد الوارث بن سُفْيَان قَالَ نَا قَاسم ابْن أَصْبَغَ قَالَ نَا أَحْمَدُ بْنُ زُهَيْرٍ قَالَ نَا مُصعب بن عبد الله الزُّبَيْرِيُّ قَالَ قَالَ لَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ ترى هَذَا الْحَدِيثَ الَّذِي يُرْوَى عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ (تُضْرَبُ أَكْبَادَ الإِبِلِ فِي طَلَبِ الْعِلْمِ فَلا يَجِدُونَ عَالِمًا أَعْلَمَ مِنْ عَالِمِ الْمَدِينَةِ) أَنَّهُ مَالِكُ بن أنس قَالَ مُصعب وَكَانَ سُفْيَان ابْن عُيَيْنَةَ إِذَا لَقِيتُهُ سَأَلَنِي عَنْ أَخْبَارِ مَالِكٍ وَذَكَرَ إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِسْحَاقَ قَالَ سَمِعْتُ عَلِيَّ بن الْمَدِينِيِّ يَقُولُ قَالَ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ رَحِمَ الله مَالِكًا مَا كَانَ أَشد انتقاءه للرِّجَال وَحدثنَا عبد الوارث بْنُ سُفْيَانَ قَالَ نَا قَاسِمُ بْنُ أَصْبَغَ قَالَ نَا أَحْمَدُ بْنُ زُهَيْرٍ قَالَ سَمِعْتُ يحيى بن معِين يَقُول قَالَ سُفْيَان ابْن عُيَيْنَةَ وَمَا نَحْنُ عِنْدَ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ إِنَّمَا كُنَّا نَتَّبِعُ آثَارَ مَالِكٍ وَنَنْظُرُ الشَّيْخَ اذا كَانَ كَتَبَ عَنْهُ مَالِكٌ كَتَبْنَا عَنْهُ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ قَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ التَّاهَرْتِيُّ قَالَ نَا أَبُو مُحَمَّدٍ قَاسِمُ بْنُ أَصْبَغَ قَالَ نَا أَبُو إِسْمَاعِيلَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ التِّرْمِذِيُّ قَالَ نَا نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ قَالَ نَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (يَضْرِبُ النَّاسُ أَكْبَادَ الإِبِلِ فَلا يَجِدُونَ عَالِمًا أَعْلَمَ مِنْ عَالِمِ الْمَدِينَةِ) قِيلَ لِسُفْيَانَ فَمَنْ تَرَاهُ قَالَ نُعَيْمٌ فَسَمِعْتُهُ مرَارًا أَكثر من ثَلَاثِينَ مرّة إِنْ كَانَ أَحَدًا فَهُوَ الْعُمَرِيُّ وَهُوَ الْعَابِدُ بِالْمَدِينَةِ يكنى أَبَا عبد الرحمن عبد الله بن عبد العزيز وَرَوَى طَاهِرُ بْنُ خَالِدِ بْنِ نِزَارٍ عَنْ أَبِيه عَن سُفْيَان ابْن عُيَيْنَةَ أَنَّهُ ذَكَرَ مَالِكَ بْنَ أَنَسٍ فَقَالَ كَانَ لَا يبلغ من الحَدِيث الاصحيحا وَلا يُحَدِّثُ إِلا عَنْ ثِقَاتِ النَّاسِ وَمَا أَرَى الْمَدِينَةَ إِلا سَتَخْرَبُ بَعْدَ مَوْتِ
(মদীনা) অথবা মদীনার অধিবাসীদের আলেম। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল ওয়ারিস বিন সুফিয়ান, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন কাসিম ইবনে আসবাগ, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন জুহাইর, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুসআব বিন আবদুল্লাহ আল-যুবাইরী, তিনি বলেন যে আমাদের কাছে সুফিয়ান বিন উয়ায়না বলেছেন: তোমরা কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত এই হাদীসটি দেখছো যে, তিনি বলেছেন, "ইলম অন্বেষণে উটের কলিজায় আঘাত করা হবে (অর্থাৎ দীর্ঘ সফর করা হবে), কিন্তু তারা মদীনার আলেমের চেয়ে অধিক জ্ঞানী আর কাউকে পাবে না," তিনি হলেন মালিক বিন আনাস।
মুসআব বলেন, সুফিয়ান বিন উয়ায়নার সাথে যখনই আমার দেখা হতো, তিনি আমাকে মালিকের সংবাদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন। ইসমাইল বিন ইসহাক উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: আমি আলী ইবনুল মাদিনীকে বলতে শুনেছি যে সুফিয়ান বিন উয়ায়না বলেছেন: আল্লাহ মালিকের ওপর রহম করুন, তিনি বর্ণনাকারী নির্বাচনে কতই না কঠোর ছিলেন।
এবং আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল ওয়ারিস বিন সুফিয়ান, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন কাসিম বিন আসবাগ, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন জুহাইর, তিনি বলেন আমি ইয়াহইয়া বিন মাঈনকে বলতে শুনেছি যে সুফিয়ান বিন উয়ায়না বলেছেন: মালিক বিন আনাসের তুলনায় আমরা আর কী! আমরা কেবল মালিকের পদাঙ্ক অনুসরণ করতাম এবং দেখতাম কোনো শায়েখ থেকে যদি মালিক বর্ণনা লিখে থাকতেন, তবেই আমরা তাঁর থেকে বর্ণনা লিখতাম।
আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন কাসিম বিন আবদুর রহমান আত-তাহেরতী, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ কাসিম বিন আসবাগ, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু ইসমাইল মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আত-তিরমিযী, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন নুয়াইম বিন হাম্মাদ, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান বিন উয়ায়না, ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি আবু যুবায়ের থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "মানুষ ইলম অন্বেষণে উটের কলিজায় আঘাত করবে, কিন্তু তারা মদীনার আলেমের চেয়ে অধিক জ্ঞানী আর কাউকে পাবে না।"
সুফিয়ানকে জিজ্ঞাসা করা হলো, তবে আপনি কাকে মনে করেন? নুয়াইম বলেন, আমি তাকে ৩০ বারেরও বেশি বার বলতে শুনেছি: যদি কেউ হয় তবে সে হলো আল-উমারী, তিনি মদীনার একজন ইবাদতগুজার ব্যক্তি, তাঁর উপনাম হলো আবু আবদুর রহমান আবদুল্লাহ বিন আবদুল আযীয।
এবং তাহির বিন খালিদ বিন নিযার তাঁর পিতার সূত্রে সুফিয়ান বিন উয়ায়না থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি মালিক বিন আনাসের কথা উল্লেখ করে বললেন: তিনি কেবল সহীহ হাদীসই পৌঁছাতেন এবং কেবল নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের থেকেই হাদীস বর্ণনা করতেন। আমি মনে করি মালিকের মৃত্যুর পর মদীনা বিরান হয়ে যাবে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিকা ফী ফাদায়িলিস সালাসাতিল আইম্মাতিল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ২২)
مَالِكِ بْنِ أَنِسٍ وَحَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ قَاسِمٍ قَالَ نَا الْحَسَنُ بْنُ رَشِيقٍ قَالَ نَا الطحاوى قَالَ نَا يُونُس بن عبد الاعلى قَالَ سَمِعْتُ سُفْيَانَ بْنَ عُيَيْنَةَ وَذَكَرَ حَدِيثًا فَقِيلَ لَهُ إِنَّ مَالِكًا يُخَالِفُكَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ فَقَالَ أَتَقْرِنُنِي بِمَالِكٍ مَا أَنَا وَمَالِكٌ إِلا كَمَا قَالَ جَرِيرٌ
(وَابْنُ اللَّبُونِ إِذَا مالز فِي قَرَنٍ
… لَمْ يَسْتَطِعْ صَوْلَةَ الْبُزْلِ الْقَنَاعِيسِ)
قَالَ يُونُسُ وَسَمِعْتُ الشَّافِعِيَّ يَقُولُ مَالِكٌ وَابْنُ عُيَيْنَةَ الْقَرِينَانِ وَلَوْلا مَالِكٌ وَابْنُ عُيَيْنَةَ لَذَهَبَ عِلْمُ الْحِجَازِ وَذَكَرَ ابْنُ أَبِي حَاتِمٍ الرَّازِيُّ رحمه الله قَالَ نَا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بن الْجُنَيْد قَالَ نَا أَبُو عبد الله الظهراني قَالَ قَالَ عَبْدُ الرَّزَّاقِ فِي قَوْلِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (يُوشِكُ أَنْ يضْرب النَّاس أكباد الابل فيطلبون الْعِلْمِ فَلا يَجِدُونَ عَالِمًا أَعْلَمَ مِنْ عَالِمِ الْمَدِينَة) قَالَ عبد الرازق وَكُنَّا نَرَاهُ مَالِكَ بْنَ أَنَسٍ
بَابُ قَوْلِ أَيُّوبَ السَّخْتِيَانِيِّ وَحَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ فِيهِ رضي الله عنهم أَجْمَعِينَ
حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ قَاسِمٍ قَالَ نَا عبد الله بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُفَسِّرِ قَالَ نَا أَحْمَدُ ابْن على بن سعيد القاضى قَالَ نَا عبيد الله بْنُ عُمَرَ الْقَوَارِيرِيُّ قَالَ كُنَّا عِنْدَ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ فَجَاءَهُ نَعْيُ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ فسالت دُمُوعه وَقَالَ يرحم الله أَبَا عبد الله لَقَدْ كَانَ مِنَ الدِّينِ بِمَكَانٍ ثُمَّ قَالَ حَمَّادٌ سَمِعْتُ أَيُّوبَ يَقُولُ لَقَدْ كَانَتْ لَهُ حَلْقَةٌ فِي حَيَاةِ نَافِعٍ
بَابُ قَوْلِ شُعْبَةَ بْنِ الْحَجَّاجِ فِيهِ
حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ قَاسِمٍ قَالَ نَا أَبُو الميمون عبد الرحمن بْنُ عُمَرَ بْنِ رَاشِدٍ بِدِمَشْقَ قَالَ نَا أَبُو زرْعَة عبد الرحمن بْنُ عَمْرِو بْنِ صَفْوَانَ الدِّمَشْقِيُّ قَالَ نَا
মালিক ইবনে আনাস। খালাফ ইবনে কাসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হাসান ইবনে রাশিয়াক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আত-তাহাবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইউনুস ইবনে আবদিল আলা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহকে একটি হাদিস উল্লেখ করতে শুনেছি। তখন তাঁকে বলা হলো যে, মালিক এই হাদিসে আপনার বিরোধিতা করছেন। তখন তিনি বললেন, "তোমরা কি আমাকে মালিকের সাথে তুলনা করছ? আমার এবং মালিকের দৃষ্টান্ত তো কবি জারির যা বলেছেন ঠিক তেমনই:"
(আর দুই বছর বয়সী উটের বাচ্চা যখন একটি রশিতে বড় উটের সাথে বাঁধা পড়ে
... তখন সে শক্তিশালী ও বিশালাকার পূর্ণবয়স্ক উটের আক্রমণ সহ্য করার ক্ষমতা রাখে না)
ইউনুস বলেন, আমি শাফিঈকে বলতে শুনেছি যে, মালিক এবং ইবনে উইয়াইনাহ হলেন সমসাময়িক দুই শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। যদি মালিক এবং ইবনে উইয়াইনাহ না থাকতেন, তবে হিজাজের ইলম বিলুপ্ত হয়ে যেত। ইবনে আবি হাতিম আর-রাজি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন, আলি ইবনে আল-হুসাইন ইবনুল জুনাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু আব্দুল্লাহ আদ-দাহরানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আব্দুর রাজ্জাক রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর এই বাণী সম্পর্কে বলেন: (অচিরেই মানুষ ইলম বা জ্ঞানের সন্ধানে উটের কলিজায় আঘাত করবে অর্থাৎ দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সফর করবে, কিন্তু তারা মদিনার আলেম অপেক্ষা অধিক জ্ঞানী আর কাউকে পাবে না)। আব্দুর রাজ্জাক বলেন, "আমরা তাঁকে মালিক ইবনে আনাস বলেই মনে করতাম।"
মালিক ইবনে আনাস সম্পর্কে আইয়ুব সাখতিয়ানি এবং হাম্মাদ ইবনে যাইদ (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হন)-এর উক্তি সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
খালাফ ইবনে কাসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল মুফাসসির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমদ ইবনে আলি ইবনে সাঈদ আল-কাদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর আল-কাওয়ারিরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমরা হাম্মাদ ইবনে যাইদের নিকট ছিলাম, এমন সময় তাঁর কাছে মালিক ইবনে আনাসের মৃত্যুর সংবাদ পৌঁছল। এতে তাঁর অশ্রু প্রবাহিত হতে লাগল এবং তিনি বললেন, "আল্লাহ আবু আব্দুল্লাহর প্রতি দয়া করুন, দ্বীনের ক্ষেত্রে তাঁর এক সুউচ্চ অবস্থান ছিল।" এরপর হাম্মাদ বললেন, আমি আইয়ুবকে বলতে শুনেছি যে, "নাফে-এর জীবদ্দশাতেই মালিকের একটি ইলমি মজলিস ছিল।"
মালিক ইবনে আনাস সম্পর্কে শুবা ইবনুল হাজ্জাজের উক্তি সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
খালাফ ইবনে কাসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবুল মাইমুন আব্দুর রহমান ইবনে উমর ইবনে রাশিদ দামেস্কে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু জুরআ আব্দুর রহমান ইবনে আমর ইবনে সাফওয়ান আদ-দিমাশকি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন...
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিকা ফী ফাদায়িলিস সালাসাতিল আইম্মাতিল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
مَحْمُودُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ عَنْ أَحْمَدَ بْنِ صَالِحٍ وَيَحْيَى بْنِ حَسَّانٍ وَوَهْبِ بْنِ جَرِيرٍ قَالُوا عَنْ شُعْبَةَ قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ بَعْدَ مَوْتِ نَافِعٍ بِسنة ولمالك حَلقَة
بَاب قَول الْمُغيرَة بن عبد الرحمن الْمَخْزُومِيِّ فِيهِ
رَوَى الْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ قَالَ أَنا أَشهب بن عبد العزيز قَالَ سَأَلْتُ الْمُغِيرَةَ الْمَخْزُومِيَّ مَعَ تَبَاعُدِ مَا كَانَ بَينه وَبَين مَالك عَن مَالك وعبد العزيز ابْن أَبِي سَلَمَةَ فَقَالَ مَا اعْتَدَلا فِي الْعِلْمِ قطّ وَرفع مَالِكًا على عبد العزيز
بَابُ قَوْلِ الشَّافِعِيِّ فِيهِ وَثَنَائِهِ عَلَيْهِ
نَا احْمَد بن عبد الله بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ قَالَ أَنا أَبِي قَالَ أَنا أَسْلَمُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ قَالَ نَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ سَمِعْتُ الشَّافِعِيَّ يَقُولُ إِذَا جَاءَكَ الْحَدِيثُ عَنْ مَالِكٍ فَشُدَّ بِهِ يَديك وَسمعت الشَّافِعِي يَقُول اذا جَاءَك الْخَبَر فَمَالِكٌ النَّجْمُ حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ قَاسِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ نَا خَالِدُ بْنُ سَعْدٍ قَالَ نَا أَبُو عَمْرو عُثْمَان بن عبد الرحمن قَالَ نَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ نَصْرٍ الْحَافِظُ قَالَ سَمِعت يُونُس ابْن عبد الأعلى يَقُولُ سَمِعْتُ الشَّافِعِيَّ يَقُولُ إِذَا ذُكِرَ الْعُلَمَاءُ فَمَالِكٌ النَّجْمُ وَمَا أَحَدٌ أَمَنَّ عَلَيَّ مِنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ قَاسِمٍ قَالَ نَا الْحسن ابْن رَشِيقٍ الْمُعَدِّلُ بِمِصْرَ قَالَ نَا أَبُو مُحَمَّدٍ عبد الله بن مُحَمَّد بن سَالم الْمَقْدِسِيُّ قَالَ نَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُمَرَ الْعَدَنِيُّ قَالَ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِدْرِيسَ الشَّافِعِيَّ يَقُولُ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ مُعَلِّمِي وَعَنْهُ أَخَذْتُ الْعِلْمَ أَخْبَرَنَا خَلَفُ بْنُ قَاسِمٍ قَالَ نَا الْحَسَنُ بْنُ رَشِيقٍ قَالَ نَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الْفَارِسِيُّ قَالَ نَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ سَمِعْتُ الشَّافِعِيَّ يَقُولُ كَانَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ إِذَا شَكَّ فِي الْحَدِيثِ طَرَحَهُ كُلَّهُ نَا قَاسِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ نَا خَالِدُ بن سعد قَالَ نَا عُثْمَان بن عبد الرحمن
মাহমুদ ইবনে ইবরাহিম থেকে বর্ণিত, তিনি আহমদ ইবনে সালিহ, ইয়াহইয়া ইবনে হাসসান এবং ওয়াহব ইবনে জারীর থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা শু'বাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নাফে'র মৃত্যুর এক বছর পর মদিনায় আগমন করলাম এবং (দেখলাম) মালিকের একটি (ইলমি) মজলিস রয়েছে।
তাঁর (ইমাম মালিক) সম্পর্কে মুগীরাহ ইবনে আব্দুর রহমান আল-মাখজুমীর বক্তব্যের পরিচ্ছেদ।
হারিস ইবনে মিসকীন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আশহাব ইবনে আব্দুল আজিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি মুগীরাহ আল-মাখজুমীকে—তাঁর ও মালিকের মাঝে দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও—মালিক এবং আব্দুল আজিজ ইবনে আবি সালামাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: ইলমের ক্ষেত্রে তাঁরা কখনোই সমান ছিলেন না এবং তিনি মালিককে আব্দুল আজিজের উপরে স্থান দিলেন।
তাঁর (ইমাম মালিক) সম্পর্কে শাফি'ঈর বক্তব্য এবং তাঁর প্রশংসার পরিচ্ছেদ।
আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আসলাম ইবনে আব্দুল আজিজ থেকে, তিনি রবী ইবনে সুলায়মান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি শাফি'ঈকে বলতে শুনেছি: যখন তোমার কাছে মালিকের পক্ষ থেকে কোনো হাদিস আসে, তখন তা তোমার দুই হাত দিয়ে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো। আমি শাফি'ঈকে আরও বলতে শুনেছি: যখন কোনো বর্ণনা (হাদিস) আসে, তখন মালিক হলেন উজ্জ্বল নক্ষত্র। আবু মুহাম্মদ কাসিম ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি খালিদ ইবনে সা'দ থেকে, তিনি আবু আমর উসমান ইবনে আব্দুর রহমান থেকে, তিনি ইবরাহিম ইবনে নাসর আল-হাফিয থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইউনুস ইবনে আব্দুল আ'লা-কে বলতে শুনেছি: আমি শাফি'ঈকে বলতে শুনেছি: যখন আলেমদের কথা উল্লেখ করা হয়, তখন মালিক হলেন উজ্জ্বল নক্ষত্র; আর মালিক ইবনে আনাসের চেয়ে আমার ওপর অধিক অনুগ্রহকারী আর কেউ নেই। খালাফ ইবনে কাসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মিশরের হাসান ইবনে রশীক আল-মুয়াদ্দিল থেকে, তিনি আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সালিম আল-মাকদিসী থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আবি উমর আল-আদানী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে ইদরীস আশ-শাফি'ঈকে বলতে শুনেছি: মালিক ইবনে আনাস হলেন আমার শিক্ষক এবং তাঁর কাছ থেকেই আমি ইলম গ্রহণ করেছি। খালাফ ইবনে কাসিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি হাসান ইবনে রশীক থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-ফারিসী থেকে, তিনি রবী ইবনে সুলায়মান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি শাফি'ঈকে বলতে শুনেছি: মালিক ইবনে আনাস যখন কোনো হাদিসের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করতেন, তখন তিনি সেটি পুরোপুরি বর্জন করতেন। কাসিম ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি খালিদ ইবনে সা'দ থেকে, তিনি উসমান ইবনে আব্দুর রহমান থেকে বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিকা ফী ফাদায়িলিস সালাসাতিল আইম্মাতিল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
قَالَ نَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ نَصْرٍ قَالَ سَمِعْتُ مُحَمَّد بن عبد الله بن عبد الحكم يَقُولُ سَمِعْتُ الشَّافِعِيَّ يَقُولُ قَالَ لِي مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ صَاحِبُنَا أَعْلَمُ مِنْ صَاحِبِكُمْ يَعْنِي أَبَا حَنِيفَةَ وَمَالِكًا وَمَا كَانَ عَلَى صَاحِبِكُمْ أَنْ يَتَكَلَّمَ وَمَا كَانَ لِصَاحِبِنَا أَنْ يَسْكُتَ قَالَ فَغَضِبْتُ وَقُلْتُ نَشَدْتُكَ اللَّهَ مَنْ كَانَ أَعْلَمَ بِسُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَالِكٌ أَوْ أَبُو حَنِيفَةَ قَالَ مَالِكٌ لَكِنْ صَاحِبُنَا أَقْيَسُ فَقُلْتُ نَعَمْ وَمَالِكٌ أَعْلَمُ بِكِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى وَنَاسِخِهِ وَمَنْسُوخِهِ وَسُنَّةِ رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ أَبِي حَنِيفَةَ فَمَنْ كَانَ أَعْلَمَ بِكِتَابِ اللَّهِ وَسُنَّةِ رَسُولِهِ كَانَ أَوْلَى بِالْكَلامِ حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ قَاسِمٍ قَالَ نَا الْحَسَنُ بْنُ رَشِيقٍ قَالَ نَا مُحَمَّدُ بْنُ الرَّبِيعِ بْنِ سُلَيْمَانَ وَمُحَمَّدُ بْنُ سُفْيَانَ بْنِ سَعِيدٍ قَالا نَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى قَالَ قَالَ لِي الشَّافِعِيُّ ذَاكَرْتُ مُحَمَّدَ بْنَ الْحَسَنِ يَوْمًا فَدَارَ بَيْنِي وَبَيْنَهُ
ইব্রাহিম ইবনে নাসর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন যে আমি মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদিল হাকামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন যে আমি শাফিঈকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে হাসান আমাকে বললেন, "আমাদের সাথী (অর্থাৎ আবু হানিফা) তোমাদের সাথী (অর্থাৎ মালিক) অপেক্ষা অধিক জ্ঞানী; আর তোমাদের সাথীর পক্ষে কথা বলা উচিত ছিল না, এবং আমাদের সাথীর চুপ থাকা সংগত ছিল না।" শাফিঈ বলেন, এতে আমি রাগান্বিত হলাম এবং বললাম, "আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ সম্পর্কে কে অধিক জ্ঞানী? মালিক না আবু হানিফা?" তিনি বললেন, "মালিক (অধিক জ্ঞানী), তবে আমাদের সাথী কিয়াসে (যৌক্তিক অনুমানে) অধিক দক্ষ।" তখন আমি বললাম, "হ্যাঁ, আর মালিক মহান আল্লাহর কিতাব, তার নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসুখ (রহিতকৃত) বিধানসমূহ এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ সম্পর্কে আবু হানিফা অপেক্ষা অধিক বিজ্ঞ। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাহ সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী, কথা বলার জন্য সেই ব্যক্তিই অধিক যোগ্য।" খালাফ ইবনে কাসিম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন যে হাসান ইবনে রাশিয়াক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন যে মুহাম্মদ ইবনে রাবি ইবনে সুলাইমান এবং মুহাম্মদ ইবনে সুফিয়ান ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন যে ইউনুস ইবনে আবদিল আলা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন যে শাফিঈ আমাকে বলেছেন, "একদিন আমি মুহাম্মদ ইবনে হাসানের সাথে ইলমী আলোচনা করছিলাম, তখন আমার এবং তাঁর মধ্যে (বিতর্ক) চলল..."
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিকা ফী ফাদায়িলিস সালাসাতিল আইম্মাতিল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
كَلامٌ وَاخْتِلافٌ حَتَّى جَعَلْتُ أَنْظُرُ إِلَى أَوْدَاجِهِ تَدُرُّ وَتَنْقَطِعُ أَزْرَارُهُ فَكَانَ فِيمَا قُلْتُ لَهُ يَوْمَئِذٍ نَشَدْتُكَ بِاللَّهِ هَلْ تَعْلَمُ أَنَّ صَاحِبَنَا يَعْنِي مَالِكًا كَانَ عَالِمًا بِكِتَابِ اللَّهِ قَالَ اللَّهُمَّ نَعَمْ قُلْتُ وَعَالِمًا بِاخْتِلافِ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ اللَّهُمَّ نَعَمْ
بَابُ قَوْلِ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ فِيهِ وَثَنَائِهِ عَلَيْهِ
حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ قَاسِمٍ قَالَ نَا الْحَسَنُ بْنُ رَشِيقٍ قَالَ نَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الْفَارِسِيُّ قَالَ نَا مُحَمَّدُ بْنُ عبد الله بْنِ عَبْدِ الْحَكَمِ قَالَ سَمِعْتُ الشَّافِعِيَّ يَقُولُ قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ أَقَمْتُ عِنْدَ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ ثَلاثَ سِنِينَ وَكَسْرًا وَكَانَ يَقُولُ انه سمع مِنْهُ لفظا أَكثر من سَبْعمِائة حَدِيثٍ وَكَانَ إِذَا حَدَّثَهُمْ عَنْ مَالِكٍ امْتَلأَ منزله وَكثر النَّاسُ عَلَيْهِ حَتَّى يَضِيقَ بِهِمُ الْمَوْضِعُ وَإِذَا حَدَّثَهُمْ عَنْ غَيْرِ مَالِكٍ مِنْ شُيُوخِ الْكُوفِيِّينَ لَمْ يَجِئْهُ إِلا الْيَسِيرُ وَكَانَ يَقُولُ مَا أَعْلَمُ أَحَدًا أَسْوَأَ ثَنَاءً عَلَى أَصْحَابِكُمْ مِنْكُمْ إِذَا حَدَّثْتُكُمْ عَنْ مَالِكٍ مَلأْتُمْ عَلَيَّ الْمَوْضِعَ وَإِذَا حَدَّثْتُكُمْ عَنْ أَصْحَابِكُمْ يَعْنِي الْكُوفِيِّينَ إِنَّمَا تأتون متكارهين
بَابُ قَوْلِ وُهَيْبِ بْنِ خَالِدٍ فِيهِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سُفْيَانَ قَالَ نَا قَاسِمُ بْنُ أَصْبَغَ قَالَ نَا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ عَلانُ قَالَ نَا صَالِحُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَل قَالَ سَمِعت عَليّ بن الْمَدِينِيِّ يَقُولُ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بَن مَهْدِيٍّ يَقُول أَخْبرنِي وهيب بن خَالِد وَكَانَ من أَبْصَرَ النَّاسِ بِالْحَدِيثِ وَالرِّجَالِ أَنَّهُ قَدِمَ الْمَدِينَةَ قَالَ فَلم أر أحدا إِلَّا يُعْرَفُ وَيُنْكَرُ إِلا مَالِكًا وَيَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيَّ قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ لَا أُقَدِّمُ عَلَى مَالِكٍ فِي صِحَّةِ الْحَدِيثِ أَحَدًا
অনেক কথা ও মতবিরোধ হলো, এমনকি আমি তাঁর ঘাড়ের রগগুলো ফুলে উঠতে দেখছিলাম এবং তাঁর (পোশাকের) বোতামগুলো ছিঁড়ে যাচ্ছিল। সেদিন আমি তাঁকে যা বলেছিলাম তার মধ্যে ছিল: আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, আপনি কি জানেন যে আমাদের সাথী—অর্থাৎ মালিক—আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে বিজ্ঞ ছিলেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আল্লাহর কসম। আমি বললাম: এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের মতভেদ সম্পর্কেও কি তিনি বিজ্ঞ ছিলেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আল্লাহর কসম।
অনুচ্ছেদ: মুহাম্মদ ইবনুল হাসান-এর বক্তব্য এবং ইমাম মালিকের প্রতি তাঁর প্রশংসা
আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন খালাফ ইবনে কাসিম, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাসান ইবনে রাশিদ, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-ফারিসি, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল হাকাম, তিনি বলেন: আমি শাফিয়ীকে বলতে শুনেছি, মুহাম্মদ ইবনুল হাসান বলেছেন: আমি মালিক ইবনে আনাসের নিকট তিন বছরের কিছু বেশি সময় অবস্থান করেছি। তিনি বলতেন যে, তিনি তাঁর (মালিকের) মুখ থেকে সরাসরি সাতশোরও বেশি হাদিস শুনেছেন। তিনি যখন তাদের কাছে মালিকের উদ্ধৃতি দিয়ে হাদিস বর্ণনা করতেন, তখন তাঁর ঘর পূর্ণ হয়ে যেত এবং মানুষের এত ভিড় হতো যে তাদের জন্য স্থান সংকীর্ণ হয়ে পড়ত। আর যখন তিনি মালিক ছাড়া কুফার অন্যান্য শায়খদের উদ্ধৃতি দিয়ে হাদিস বর্ণনা করতেন, তখন খুব সামান্য লোকই তাঁর কাছে আসত। তিনি বলতেন: তোমাদের চেয়ে খারাপভাবে তোমাদের সাথীদের প্রশংসা করতে আমি কাউকে দেখিনি; যখন আমি তোমাদের কাছে মালিকের উদ্ধৃতি দিয়ে হাদিস বর্ণনা করি, তখন তোমরা আমার কাছে ভিড় করে স্থান পূর্ণ করে ফেলো, আর যখন তোমাদের সাথীদের—অর্থাৎ কুফাবাসীদের—উদ্ধৃতি দিয়ে হাদিস বর্ণনা করি, তখন তোমরা অনিচ্ছা সত্ত্বেও আসো।
অনুচ্ছেদ: ইমাম মালিক সম্পর্কে উহাইব ইবনে খালিদের বক্তব্য
আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়ারিস ইবনে সুফিয়ান, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন কাসিম ইবনে আসবাগ, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে হাসান আলান, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সালিহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল, তিনি বলেন: আমি আলী ইবনুল মাদিনীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আব্দুর রহমান ইবনে মাহদীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমাকে উহাইব ইবনে খালিদ সংবাদ দিয়েছেন—যিনি হাদিস এবং রাবীদের (বর্ণনাকারী) ব্যাপারে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বিজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—যে তিনি মদিনায় এসেছিলেন। তিনি বলেন: আমি সেখানে মালিক এবং ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারি ব্যতীত এমন কাউকে দেখিনি যার (বর্ণনার) মধ্যে গ্রহণীয় ও বর্জনীয় উভয়ই বিদ্যমান নেই। আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী বলেন: হাদিসের বিশুদ্ধতার ক্ষেত্রে আমি মালিকের ওপর কাউকে প্রাধান্য দিই না।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিকা ফী ফাদায়িলিস সালাসাতিল আইম্মাতিল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
بَابُ قَوْلِ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الْقَطَّانِ فِيهِ
حَدثنَا عبد الوارث بْنُ سُفْيَانَ قَالَ نَا قَاسِمُ بْنُ أَصْبَغَ قَالَ نَا عَلانُ قَالَ نَا صَالِحُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْمَدِينِيِّ قَالَ سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ يَقُولُ مَا فِي الْقَوْمِ أَصَحُّ حَدِيثًا مِنْ مَالِكٍ يَعْنِي بِالْقَوْمِ الثَّوْرِيَّ وَالأَوْزَاعِيَّ وَابْنَ عُيَيْنَةَ قَالَ وَمَالِكٌ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ مَعْمَرٍ وَقَالَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ سُفْيَانُ وَشُعْبَةُ لَيْسَ لَهُمَا ثَالِثٌ إِلا مَالك حَدثنَا عبد الوارث بْنُ سُفْيَانَ قَالَ نَا قَاسِمُ بْنُ أَصْبَغَ قَالَ نَا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ عَلانُ قَالَ نَا صَالِحُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ قَالَ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ قَالَ سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ الْقَطَّانَ يَقُولُ كَانَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ إِمَامًا فِي الْحَدِيثِ قَالَ وَسَمِعْتُ يَحْيَى يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ فَوْقَ مَالِكٍ فِي كُلِّ شئ
بَابُ قَوْلِ أَبِي الأَسْوَدِ شَيْخِ مَالِكٍ فِيهِ
رُوِّينَا عَنِ ابْنِ بُكَيْرٍ أَنَّهُ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ لَهِيعَةَ يَقُولُ قَدِمَ عَلَيْنَا أَبُو الأَسْوَدِ سَنَةَ إِحْدَى وَثَلاثِينَ وَمِائَةٍ فَقُلْتُ مَنْ لِلرَّأْيِ بَعْدَ رَبِيعَةَ بِالَمْدِينَةِ قَالَ الْغُلامُ الأَصْبَحِيُّ قَالَ أَبُو عمر هُوَ أَبُو الاسود مُحَمَّد بن عبد الرحمن بْنِ نَوْفَلٍ الْقُرَشِيُّ الأَسَدِيُّ ابْنُ عَمِّ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ وَكَانَ عُرْوَةُ قَدْ حَضَنَهُ
ইমাম মালিক সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তানের উক্তির অধ্যায়
আব্দুল ওয়ারিস বিন সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, কাসিম বিন আসবাগ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল্লান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সালিহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী বিন মাদিনী থেকে, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া বিন সাঈদকে বলতে শুনেছি, এই জামাতের মধ্যে মালিকের চেয়ে বিশুদ্ধ হাদিস বর্ণনাকারী আর কেউ নেই—এখানে ‘জামাত’ বলতে তিনি সাওরি, আওযায়ী এবং ইবনে উইয়াইনাকে বুঝিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, মালিক আমার কাছে মা’মারের চেয়েও অধিক প্রিয়। ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আরও বলেন, সুফিয়ান ও শু’বার সমকক্ষ মালিক ছাড়া তৃতীয় কোনো ব্যক্তি নেই। আব্দুল ওয়ারিস বিন সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, কাসিম বিন আসবাগ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আলী বিন হাসান আল্লান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সালিহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আলী বিন মাদিনী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তানকে বলতে শুনেছি, মালিক বিন আনাস হাদিসের ক্ষেত্রে একজন ইমাম ছিলেন। তিনি আরও বলেন, আমি ইয়াহইয়াকে বলতে শুনেছি, সুফিয়ান সাওরি প্রতিটি বিষয়েই মালিকের চেয়ে অগ্রগামী ছিলেন।
মালিকের শিক্ষক আবুল আসওয়াদের উক্তির অধ্যায়
ইবনে বুকায়র থেকে আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: আমি ইবনে লাহিয়াকে বলতে শুনেছি, ১৩১ হিজরি সনে আবুল আসওয়াদ আমাদের এখানে আগমন করেন। তখন আমি জিজ্ঞাসা করলাম, মদীনায় রাবিয়ার পর ফিকহ বা রা’য়-এর পারদর্শী হিসেবে কে আছেন? তিনি বললেন: সেই আসবাহি যুবক। আবু উমর বলেন: তিনি হলেন আবুল আসওয়াদ মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন নওফাল আল-কুরাশি আল-আসাদি, যিনি উরওয়াহ বিন যুবায়েরের ভাতিজা এবং উরওয়াহ তাকে লালন-পালন করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিকা ফী ফাদায়িলিস সালাসাতিল আইম্মাতিল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وَرَبَّاهُ فَكَانَ يُقَالُ لَهُ يَتِيمُ عُرْوَةَ وَهُوَ مِنْ جِلَّةِ شُيُوخِ مَالِكٍ الَّذِينَ أَخَذَ عَنْهُمْ ثُمَّ انْتَقَلَ مِنَ الْمَدِينَةِ إِلَى مِصْرَ قَالَ أَبُو عُمَرَ كَانَ مَالِكٌ يُفْتِي فِي زَمَانٍ كَانَ يُفْتِي فِيهِ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيُّ وَرَبِيعَة بن أَبى عبد الرحمن وَنَافِعٌ مَوْلَى ابْنِ عُمَرَ وَمِثْلُهُمْ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ نَا أَحْمَدُ بْنُ الْفَضْلِ قَالَ حَدثنَا مُحَمَّد جريرة قَالَ وَذَكَرَ أَحْمَدُ بْنُ زُهَيْرٍ أَنَّ مُصْعَبًا حَدثهُ قَالَ قَالَ لى عبد العزيز ابْن أَبِي حَازِمٍ جَلَسْتُ إِلَى مَالِكٍ فِي زَمَنِ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ فَسَمِعْتُهُ يُسْأَلُ عَنِ امْرَأَةٍ بِكْرٍ دَخَلَ عَلَيْهَا زَوْجُهَا ثُمَّ خَرَجَ عَنْهَا فَطَلَّقَهَا وَقَالَ لَمْ أُصِبْهَا فَقَالَتْ صَدَقَ لَمْ يُصِبْنِي فَقَالَ مَالِكٌ لَهَا نِصْفُ الصَّدَاقِ فَأَنْكَرْتُهَا فَجِئْتُ يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ وَكَانَ مُتَّكِئًا فَجَلَسَ وَقَالَ أَفَعَلَ قُلْتُ نَعَمْ لَقَدْ كَانَ هَذَا مِنَ امْرَأَةٍ مِنَّا فِي زمن عمر بن الْحطاب فَجَاءَتْ بِحَمْلٍ فَقِيلَ لَهَا مَا هَذَا فَقَالَتْ هُوَ مِنْهُ تَعْنِي زَوْجَهَا قِيلَ أَفَلَيْسَ قَدْ زَعَمْتِ أَنَّهُ لَمْ يَمَسَّكِ فَقَالَتْ إِنَّهُ قَالَ شَيْئًا وَكُنْتُ بِكْرًا فَاسْتَحْيَيْتُ وَصَدَّقْتُهُ وَجَاءَ الأَمْرُ بمالم أَحْتَسِبْ فَقَضَى لَهَا عُمَرُ بِالصَّدَاقِ كُلِّهِ قَالَ أَبُو عُمَرَ رُوِّينَا عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ أَنَّهُ قَالَ أَفْقَهُ مَنْ رَأَيْتُ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيُّ وَقَالَ عَلِيُّ بن المدينى لم يكن بِالْمَدِينَةِ بعدكبار التَّابِعِينَ أَعْلَمُ مِنَ ابْنِ شِهَابٍ وَيَحْيَى بْنِ سعيد الانصاري وأبى الزِّنَاد وَبُكَيْر بن عبد الله بن الاشج
بَاب قَول عبد الله بْنِ وَهْبٍ فِيهِ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدِ بن بشر وَاحْمَدْ بن قَاسم بن عبد الرحمن قَالَا حَدثنَا مُحَمَّد بن عبد الله بْنِ أَبِي دُلَيْمٍ قَالَ نَا مُحَمَّدُ بْنُ وضاح قَالَ نَا الْحَارِث ابْن مِسْكين قَالَ سَمِعت عبد الله بْنَ وَهْبٍ يَقُولُ لَوْلا أَنِّي أَدْرَكْتُ مَالِكًا
এবং তিনি তাকে লালন-পালন করেছেন, ফলে তাকে 'উরওয়ার এতিম' বলা হতো। তিনি ইমাম মালিকের সেই মহান উস্তাদদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যাদের কাছ থেকে তিনি ইলম অর্জন করেছেন। অতঃপর তিনি মদিনা থেকে মিশরে স্থানান্তরিত হন। আবু উমর বলেন, মালিক এমন এক যুগে ফতোয়া দিতেন যখন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী, রাবিয়া ইবনে আবি আবদির রহমান, ইবনে উমরের মুক্তদাস নাফে এবং তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিগণ ফতোয়া দিতেন। আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমাদ ইবনে ফজল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ জারীরা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, আহমাদ ইবনে জুহাইর উল্লেখ করেছেন যে, মুসআব তাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, আব্দুল আজিজ ইবনে আবু হাযেম আমাকে বলেছেন: আমি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদের যুগে ইমাম মালিকের মজলিসে বসেছিলাম। তখন আমি তাঁকে এক কুমারী নারী সম্পর্কে প্রশ্ন করতে শুনলাম, যার স্বামী তার নিকট প্রবেশ করেছিল কিন্তু পরে তার থেকে আলাদা হয়ে তাকে তালাক দিয়ে দেয়। স্বামী দাবি করল যে সে তাকে স্পর্শ করেনি (সহবাস করেনি)। স্ত্রীও বলল, সে সত্য বলেছে, সে আমাকে স্পর্শ করেনি। তখন মালিক ফয়সালা দিলেন যে, সেই নারী অর্ধেক মোহরানা পাবে। আমি এই ফতোয়াটি প্রত্যাখ্যান করলাম এবং ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদের নিকট এসে বিষয়টি তাঁর কাছে উল্লেখ করলাম। তিনি হেলান দিয়ে ছিলেন, কথাটি শুনে সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেন, মালিক কি সত্যিই এমন ফতোয়া দিয়েছেন? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, উমর ইবনুল খাত্তাবের যুগে আমাদের গোত্রের এক নারীর ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেছিল। পরবর্তীতে সে গর্ভবতী হয়ে পড়ল। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, এই গর্ভ কোথা থেকে এল? সে বলল, এটি তার (অর্থাৎ স্বামীর) পক্ষ থেকে। তাকে বলা হলো, তুমি কি ইতিপূর্বে দাবি করোনি যে সে তোমাকে স্পর্শ করেনি? সে বলল, স্বামী এমনটি দাবি করেছিল, আর আমি ছিলাম কুমারী, তাই লজ্জাবশত আমি তাকে সত্য বলে মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এমন পরিণাম সামনে এল যা আমি কল্পনাও করিনি। তখন উমর (রা.) সেই নারীর জন্য পূর্ণ মোহরানার ফয়সালা করেছিলেন। আবু উমর বলেন, হাম্মাদ ইবনে যাইদ থেকে আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: মদিনাবাসীদের মধ্যে আমি যাকে সবচেয়ে বড় ফকীহ হিসেবে দেখেছি তিনি হলেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, প্রবীণ তাবেয়ীদের পরে মদিনায় ইবনে শিহাব, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী, আবুয যিনাদ এবং বুকাইর ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আশাজের চেয়ে বড় কোনো আলেম ছিলেন না।
পরিচ্ছেদ: ইমাম মালিক সম্পর্কে আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহবের বক্তব্য।
আহমাদ ইবনে সাঈদ ইবনে বিশর এবং আহমাদ ইবনে কাসিম ইবনে আবদির রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তারা বলেন, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবু দুলাইম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবনে ওয়াদদাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, হারিস ইবনে মিসকীন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহবকে বলতে শুনেছি, যদি আমি ইমাম মালিকের সাক্ষাৎ না পেতাম...
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিকা ফী ফাদায়িলিস সালাসাতিল আইম্মাতিল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وَاللَّيْث ببن سَعْدٍ لَضَلَلْتُ قَالَ ابْنُ وَضَّاحٍ وَسَمِعْتُ أَبَا جَعْفَر الايلى يَقُول سَمِعت ابْن وهب مَالا أُحْصِي يَقُولُ لَوْلا أَنَّ اللَّهَ أَنْقَذَنِي بِمَالِكٍ وَاللَّيْث لضللت وَذكر أَبُو مُحَمَّد عبد الرحمن بْنُ أَبِي حَاتِمٍ الرَّازِيُّ قَالَ نَا أَبِي قَالَ نَا هرون بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ وَهْبٍ وَذكر اخْتِلَاف الْأَحَادِيث وَالرِّوَايَات فَقَالَ لَوْلَا ان لقِيت مَالِكًا لضللت
بَاب قَول عبد الرحمن بن مهدى فِيهِ
حَدثنَا عبد الوارث بْنُ سُفْيَانَ قَالَ نَا قَاسِمُ بْنُ أَصْبَغَ قَالَ نَا مُحَمَّد ابْن عبد السلام الْخُشَنِيُّ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا حَفْصٍ عَمْرَو بْنَ عَلِيٍّ الْبَصْرِيَّ الْمَعْرُوفَ بِالْفَلاسِ يَقُولُ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ مَهْدِيٍّ يَقُولُ مَالِكٌ فِي نَافِعٍ أثبت من عبيد الله وَمْن مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ وَمِنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أُميَّة وَقَالَ عبد الرحمن بْنُ مَهْدِيٍّ أَئِمَّةُ النَّاسِ فِي زَمَانِهِمْ أَرْبَعَةٌ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ بِالْكُوفَةِ وَمَالِكٌ بِالْحِجَازِ وَالأَوْزَاعِيُّ بِالشَّامِ وَحَمَّاد بن زيد بِالْبَصْرَةِ وَقَالَ عبد الرحمن ابْن مَهْدِيٍّ لَا يَكُونُ إِمَامًا فِي الْعِلْمِ مَنْ أَخَذَ بِالشَّاذِّ مِنَ الْعِلْمِ وَلا يَكُونُ إِمَامًا فِي الْعِلْمِ مَنْ رَوَى عَنْ كُلِّ أَحَدٍ وَلا يَكُونُ إِمَامًا فِي الْعِلْمِ مَنْ رَوَى كُلَّ مَا سَمِعَ قَالَ وَالْحِفْظُ الإِتْقَانُ وَرَوَى أَبُو قدامَة عبيد الله بن سعيد قَالَ سَمِعت عبد الرحمن بْنَ مَهْدِيٍّ يَقُولُ مَا أَدْرَكْتُ أَحَدًا إِلا وَهُوَ يخَاف
...এবং লাইস বিন সাদ, তবে অবশ্যই আমি পথভ্রষ্ট হতাম। ইবন ওয়াদদাহ বলেন: আমি আবু জাফর আল-আইলিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইবন ওয়াহাবকে অগণিত বার বলতে শুনেছি, "যদি আল্লাহ আমাকে মালিক ও লাইসের মাধ্যমে রক্ষা না করতেন, তবে আমি অবশ্যই পথভ্রষ্ট হতাম।" আবু মুহাম্মাদ আব্দুর রহমান বিন আবি হাতিম আল-রাজি উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হারুন বিন সাঈদ আল-আইলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবন ওয়াহাবকে হাদিস ও বর্ণনাসমূহের মতভেদ সম্পর্কে আলোচনা করতে শুনেছি, অতঃপর তিনি বলেন: "যদি আমি মালিকের সাক্ষাৎ না পেতাম, তবে অবশ্যই পথভ্রষ্ট হতাম।"
পরিচ্ছেদ: তাঁর সম্পর্কে আব্দুর রহমান বিন মাহদীর বক্তব্য
আমাদের নিকট আব্দুল ওয়ারিস বিন সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট কাসিম বিন আসবাগ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবন আব্দুস সালাম আল-খুশানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু হাফস আমর বিন আলী আল-বাসরি—যিনি আল-ফাল্লাস নামে পরিচিত—তাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আব্দুর রহমান বিন মাহদীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: নাফে’-এর বর্ণনার ক্ষেত্রে উবায়দুল্লাহ, মুসা বিন উকবা এবং ইসমাইল বিন উমাইয়া অপেক্ষা মালিক অধিক সুদৃঢ়। এবং আব্দুর রহমান বিন মাহদী বলেন: তাদের সময়ে মানুষের ইমাম ছিলেন চারজন: কুফায় সুফিয়ান আল-সাওরি, হিজাজে মালিক, শামে আওজায়ি এবং বসরায় হাম্মাদ বিন যায়েদ। এবং আব্দুর রহমান বিন মাহদী বলেন: সেই ব্যক্তি ইলমের ইমাম হতে পারে না যে ইলমের বিচ্ছিন্ন (শায) বিষয়গুলো গ্রহণ করে; সেই ব্যক্তি ইলমের ইমাম হতে পারে না যে সবার নিকট থেকে বর্ণনা করে; এবং সেই ব্যক্তি ইলমের ইমাম হতে পারে না যে যা শোনে তাই বর্ণনা করে। তিনি বলেন: হিফজ হলো সুনিপুণতা। এবং আবু কুদামা উবায়দুল্লাহ বিন সাঈদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আব্দুর রহমান বিন মাহদীকে বলতে শুনেছি: আমি এমন কাউকে পাইনি যে ভীত ছিল না।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিকা ফী ফাদায়িলিস সালাসাতিল আইম্মাতিল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
هَذَا الْحَدِيثَ إِلا مَالِكًا وَحَمَّادَ بْنَ سَلَمَةَ فَإِنَّهُمَا كَانَا يَجْعَلانِهِ مِنْ أَعْمَالِ الْبِرِّ وَكَانَ شُعْبَة يَقُول ان هَذَا الحَدِيث يصدكم عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَعَنِ الصَّلاةِ فَهَلْ أَنْتُمْ مُنْتَهُونَ وَقَالَ أَبُو قُدَامَةَ كَانَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ أَحْفَظَ أَهْلِ زَمَانِهِ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ نَا أَحْمَدُ بْنُ الْفَضْلِ قَالَ نَا مُحَمَّد بن جرير قَالَ نَا عبد الله بن شبويه قَالَ سُئِلَ عبد الرحمن بْنُ مَهْدِيٍّ مَنْ أَعْلَمُ مَالِكٌ أَوْ أَبُو حَنِيفَةَ فَقَالَ مَالِكٌ أَعْلَمُ مِنْ أُسْتَاذِ أَبِي حَنِيفَةَ يَعْنِي حَمَّادَ بْنَ أَبِي سُلَيْمَانَ قَالَ ابْنُ مَهْدِيٍّ وَمَالِكٌ أَعْلَمُ عِنْدِي مِنَ الْحَكَمِ وَحَمَّادٍ وَبِهَذَا الإِسْنَادِ عَنِ ابْنِ مَهْدِيٍّ أَنَّهُ قَالَ مَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَعْقَلَ مِنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ رضي الله عنه وَأَرْضَاهُ
بَابُ قَول احْمَد بن حَنْبَل مِنْهُ
حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ قَاسِمٍ قَالَ نَا ابْنُ سُفْيَان قَالَ نَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عُثْمَانَ قَالَ نَا أَبُو دَاوُدَ السِّجِسْتَانِيُّ قَالَ سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ يَقُولُ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ أَتْبَعُ مِنْ سُفْيَان حَدثنَا عبد الله بن مُحَمَّد قَالَ نَا عبد الحميد قَالَ نَا الْخَضِرُ بْنُ دَاوُدَ قَالَ نَا أَبُو بَكْرٍ الأَثْرَمُ قَالَ سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ يَقُولُ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ أَحْسَنُ حَدِيثًا عَنِ الزُّهْرِيِّ مِنَ ابْنِ عُيَيْنَةَ قُلْتُ فَمَعْمَرٌ قَالَ مَالِكٌ أَتْقَنُ
এই হাদিসটি কেবল মালেক এবং হাম্মাদ ইবনে সালামাহ ব্যতীত কেউ বর্ণনা করেননি; কেননা তারা উভয়ই এটিকে সৎকাজসমূহের অন্তর্ভুক্ত মনে করতেন। আর শু'বাহ বলতেন যে, নিশ্চয়ই এই হাদিস তোমাদের আল্লাহর স্মরণ এবং সালাত থেকে বিরত রাখে, সুতরাং তোমরা কি নিবৃত্ত হবে? আবু কুদামাহ বলেন, মালেক ইবনে আনাস তাঁর সময়ের লোকদের মধ্যে সবচেয়ে বড় হাফেজ (স্মৃতিধর) ছিলেন। আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমদ ইবনুল ফজল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবনে জারির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে শাবওয়াহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবদুর রহমান ইবনে মাহদীকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, মালেক এবং আবু হানিফার মধ্যে কে অধিক জ্ঞানী? তখন তিনি বললেন, মালেক তো আবু হানিফার উস্তাদ অর্থাৎ হাম্মাদ ইবনে আবু সুলাইমানের চেয়েও অধিক জ্ঞানী। ইবনে মাহদী বলেন, মালেক আমার নিকট হাকাম এবং হাম্মাদের চেয়েও অধিক জ্ঞানী। এবং এই সনদে ইবনে মাহদী থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন, আমি মালেক ইবনে আনাস (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করুন)-এর চেয়ে অধিক বুদ্ধিমান কাউকে দেখিনি।
পরিচ্ছেদ: তাঁর সম্পর্কে আহমদ ইবনে হাম্বলের উক্তি
খালাফ ইবনে কাসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইবনে সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, ইব্রাহিম ইবনে উসমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আমি আহমদ ইবনে হাম্বলকে বলতে শুনেছি যে, মালেক ইবনে আনাস সুফিয়ানের চেয়েও অধিক সুন্নাহর অনুসারী। আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবদুল হামিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, খিজির ইবনে দাউদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু বকর আল-আছরাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আমি আহমদ ইবনে হাম্বলকে বলতে শুনেছি যে, জুহরী থেকে হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে মালেক ইবনে আনাস ইবনে উয়াইনার চেয়েও উত্তম। আমি বললাম, তাহলে মা'মারের কী অবস্থা? তিনি বললেন, মালেক অধিক সুদৃঢ় ও নির্ভরযোগ্য।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিকা ফী ফাদায়িলিস সালাসাতিল আইম্মাতিল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وَمَعْمَرٌ أَكْثَرُ حَدِيثًا عَنِ الزُّهْرِيِّ وَقَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ أَصْحَابُ نَافِعٍ ثَلاثَةٌ مَالِكٌ وَأَيُّوبُ وعبيد الله بن عمر وأعلمهم بِنَافِع عبيد الله بن عمر وأقعدهم بِهِ وَبَعْدَ هَؤُلاءِ الثَّلاثَةِ فِي نَافِعٍ ابْنُ جُرَيْجٍ حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ قَاسِمٍ قَالَ نَا أَبُو الميمون عبد الرحمن بْنُ عُمَرَ بْنِ رَاشِدٍ الْبَجَلِيُّ بِدِمَشْقَ قَالَ نَا أَبُو زرْعَة عبد الرحمن بْنُ عَمْرِو بْنِ صَفْوَانَ الدِّمَشْقِيُّ قَالَ سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ يَسْأَلُ عَنْ سُفْيَانَ وَمَالِكٍ إِذَا اخْتَلَفَا فِي الرِّوَايَةِ فَقَالَ مَالِكٌ أَكْبَرُ فِي قَلْبِي قُلْتُ فَمَالِكٌ وَالأَوْزَاعِيُّ إِذَا اخْتَلَفَا فَقَالَ مَالِكٌ أَحَبُّ إِلَيَّ وَإِنْ كَانَ الأَوْزَاعِيُّ مِنَ الأَئِمَّةِ قِيلَ لَهُ فَمَالِكٌ وَإِبْرَاهِيمُ النَّخَعِيُّ فَقَالَ هَذَا كَأَنَّهُ شَنَّعَهُ ضَعْهُ مَعَ أَهْلِ زَمَانِهِ وَقِيلَ لأَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ يَا أَبَا عبد الله رَجُلٌ يُرِيدُ أَنْ يَحْفَظَ حَدِيثَ رَجُلٍ وَاحِدٍ بِعَيْنِهِ حَدِيثُ مَنْ تَرَى لَهُ قَالَ يَحْفَظُ حَدِيثَ مَالِكٍ
بَابُ قَوْلِ يَحْيَى بْنِ مَعِينٍ فِيهِ
حَدثنَا أَبُو زيد عبد الرحمن بْنُ يَحْيَى قَالَ نَا أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ قَالَ نَا أَبُو سَعِيدِ بْنُ الأَعْرَابِيِّ قَالَ نَا عَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ الدُّورِيُّ قَالَ سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ مَعِينٍ يَقُولُ مَالِكٌ أَثْبَتُ فِي نَافِع من أَيُّوب وعبيد الله بْنِ عُمَرَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سُفْيَانَ قَالَ نَا قَاسِمُ بْنُ أَصْبَغَ قَالَ نَا أَحْمَدُ بْنُ زُهَيْرٍ قَالَ سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ مَعِينٍ يَقُولُ مَالِكٌ أَثْبَتُ فِي نَافِعٍ مِنْ عبيد الله بْنِ عُمَرَ وَأَيُّوبَ
এবং মা'মার যুহরি থেকে অধিক হাদিস বর্ণনাকারী। আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেছেন: নাফি'র প্রধান ছাত্র তিনজন—মালিক, আইয়ুব এবং উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর। আর নাফি' সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী এবং তাঁর সর্বাধিক দীর্ঘ সাহচর্য লাভকারী হলেন উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর। আর নাফি'র বর্ণনার ক্ষেত্রে এই তিনজনের পরে ইবনে জুরাইজ। খালাফ ইবনে কাসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: দামেস্কে আবু মাইমুন আবদুর রহমান ইবনে উমর ইবনে রাশিদ আল-বাজালি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু যুরআ আবদুর রহমান ইবনে আমর ইবনে সাফওয়ান আদ-দিমাশকি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আহমাদ ইবনে হাম্বলকে সুফিয়ান ও মালিক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে শুনেছি যে, যখন তাঁরা বর্ণনায় ভিন্নমত পোষণ করেন। তখন তিনি বললেন: মালিক আমার হৃদয়ে অধিকতর মর্যাদাবান। আমি বললাম: মালিক ও আওজাই যখন মতভেদ করেন? তিনি বললেন: মালিক আমার নিকট অধিকতর প্রিয়, যদিও আওজাই ইমামদের অন্তর্ভুক্ত। তাঁকে বলা হলো: মালিক ও ইব্রাহিম আন-নাখয়ী? তখন তিনি যেন এই প্রশ্নটিকে অপছন্দ করলেন এবং বললেন: তাঁকে তাঁর সমসাময়িকদের সাথে তুলনা করুন। এবং আহমাদ ইবনে হাম্বলকে বলা হলো: হে আবু আবদুল্লাহ! কোনো ব্যক্তি যদি নির্দিষ্ট কোনো এক ব্যক্তির হাদিস মুখস্থ করতে চায়, তবে আপনি কার হাদিস মুখস্থ করতে পরামর্শ দেন? তিনি বললেন: সে যেন মালিকের হাদিস মুখস্থ করে।
পরিচ্ছেদ: তাঁর সম্পর্কে ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের বক্তব্য
আবু যাইদ আবদুর রহমান ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু সাঈদ ইবনুল আরাবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ আদ-দুরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে বলতে শুনেছি: নাফি'র বর্ণনার ক্ষেত্রে মালিক আইয়ুব এবং উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর অপেক্ষা অধিকতর নির্ভরযোগ্য। আবদুল ওয়ারিস ইবনে সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কাসিম ইবনে আসবাগ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে জুহাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে বলতে শুনেছি: নাফি'র বর্ণনার ক্ষেত্রে মালিক উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর ও আইয়ুব অপেক্ষা অধিকতর নির্ভরযোগ্য।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিকা ফী ফাদায়িলিস সালাসাতিল আইম্মাতিল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وَقَالَ ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ قُلْتُ لِيَحْيَى اللَّيْثُ ارْفَعْ عنْدك أومالك قَالَ مَالِكٌ قُلْتُ أَلَيْسَ مَالِكٌ أَعْلَى أَصْحَابِ الزهرى قَالَ نعم قلت فعبيد الله أَثْبَتُ فِي نَافِعٍ أَوْ مَالِكٌ قَالَ مَالِكٌ أَثْبَتُ النَّاسِ وَقَالَ يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ كَانَ مَالِكٌ مِنْ حُجَجِ اللَّهِ عَلَى خَلْقِهِ
بَابُ قَول على بن الْمَدِينِيِّ فِيهِ
ذَكَرَ أَبُو حَاتِمٍ الرَّازِيُّ قَالَ سُئِلَ على بن الْمَدِينِيِّ مَنْ أَثْبَتُ أَصْحَابِ نَافِعٍ فَقَالَ مَالِكٌ واتقانه وَأَيوب وفضله وعبيد الله وَحِفْظُهُ
بَابُ قَوْلِ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيِّ فِيهِ
حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ قَاسِمٍ قَالَ نَا عبد الله بْنُ جَعْفَرِ بْنِ الْوَرْدِ قَالَ نَا الْخَفَّافُ قَالَ سَمِعْتُ الْبُخَارِيَّ يَقُولُ مَالِكُ بْنُ أَنَسِ بن أَبى عَامر الاصبحى كنيته أَبُو عبد الله كَانَ إِمَامًا رَوَى عَنْهُ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيُّ
بَابُ قَوْلِ أَحْمَدَ بْنِ شُعَيْبٍ النَّسَائِيِّ فِيهِ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ قَالَ نَا مُحَمَّدُ بْنُ مُعَاوِيَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَن وَحَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ الْقَاسِمِ بْنِ سَهْلٍ قَالَ نَا الْحَسَنُ بْنُ رَشِيقٍ قَالا جَمِيعًا سَمِعْنَا أَبَا عبد الرحمن أَحْمَدَ بْنَ شُعَيْبٍ النَّسَائِيَّ يَقُولُ أُمَنَاءُ اللَّهِ عز وجل عَلَى عِلْمِ رَسُولِهِ عليه السلام شُعْبَةُ بْنُ الْحَجَّاجِ وَمَالِكُ بْنُ أَنَسٍ وَيَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ قَالَ وَالثَّوْرِيُّ إِمَامٌ إِلا انه كَانَ يَرْوِي عَنِ الضُّعَفَاءِ قَالَ وَمَا أَحَدٌ عِنْدِي بَعْدَ التَّابِعِينَ أَنْبَلُ مِنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَلا أَحَدٌ آمَنُ عَلَى الْحَدِيثِ مِنْهُ ثُمَّ شُعْبَةُ فِي الْحَدِيثِ ثُمَّ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ لَيْسَ بَعْدَ التَّابِعِينَ آمَنُ عَلَى الْحَدِيثِ مِنْ هَؤُلاءِ الثَّلاثَةِ وَلَا أَقَلُّ رِوَايَةً عَنِ الضُّعَفَاء مِنْهُم
ইবনে আবি মারইয়াম বলেছেন, আমি ইয়াহইয়াকে বললাম, আপনার কাছে লাইস অগ্রগণ্য নাকি মালিক? তিনি বললেন, মালিক। আমি বললাম, মালিক কি যুহরীর সঙ্গীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, নাফির বর্ণনার ক্ষেত্রে ওবায়দুল্লাহ কি অধিক নির্ভরযোগ্য নাকি মালিক? তিনি বললেন, মালিক সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি। এবং ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেছেন, মালিক ছিলেন তাঁর সৃষ্টির ওপর আল্লাহর অন্যতম প্রমাণ।
অনুচ্ছেদ: তাঁর সম্পর্কে আলী ইবনুল মাদিনীর বক্তব্য
আবু হাতিম আর-রাজি উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন যে আলী ইবনুল মাদিনীকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, নাফির সঙ্গীদের মধ্যে কে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য? তিনি বললেন, মালিক ও তাঁর নিখুঁত দক্ষতা, আইয়ুব ও তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব, এবং ওবায়দুল্লাহ ও তাঁর স্মরণশক্তি।
অনুচ্ছেদ: তাঁর সম্পর্কে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারীর বক্তব্য
খালাফ ইবনে কাসেম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনুল ওয়ারদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন খাফফাফ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আমি বুখারীকে বলতে শুনেছি, মালিক ইবনে আনাস ইবনে আবি আমির আল-আসবাহী, তাঁর উপনাম আবু আব্দুল্লাহ, তিনি একজন ইমাম ছিলেন, তাঁর থেকে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী বর্ণনা করেছেন।
অনুচ্ছেদ: তাঁর সম্পর্কে আহমদ ইবনে শুআইব আন-নাসায়ীর বক্তব্য
আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন মুহাম্মদ ইবনে মুয়াবিয়া ইবনে আব্দুর রহমান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, এবং খালাফ ইবনে কাসেম ইবনে সাহল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন হাসান ইবনে রাশীক আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তাঁরা উভয়েই বলেন আমরা আবু আব্দুর রহমান আহমদ ইবনে শুআইব আন-নাসায়ীকে বলতে শুনেছি: তাঁর রাসূলের (আলাইহিস সালাম) ইলমের ওপর মহান আল্লাহর বিশ্বস্ত আমানতদার হলেন—শু'বা ইবনুল হাজ্জাজ, মালিক ইবনে আনাস এবং ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান। তিনি বলেন, সাওরী একজন ইমাম, তবে তিনি দুর্বল রাবীদের থেকে বর্ণনা করতেন। তিনি আরও বলেন, তাবেঈদের পরে আমার কাছে মালিক ইবনে আনাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ কেউ নেই এবং হাদীসের ক্ষেত্রে তাঁর চেয়ে বেশি বিশ্বস্ত আর কেউ নেই। এরপর হাদীসের ক্ষেত্রে শু'বা, তারপর ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান। তাবেঈদের পরে হাদীসের ক্ষেত্রে এই তিনজন অপেক্ষা অধিক বিশ্বস্ত এবং তাদের চেয়ে কম দুর্বল রাবীদের থেকে বর্ণনাকারী আর কেউ নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিকা ফী ফাদায়িলিস সালাসাতিল আইম্মাতিল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ৩২)
بَابُ قَوْلِ أَبِي حَاتِمٍ الرَّازِيِّ فِيهِ
قَالَ أَبُو مُحَمَّد عبد الرحمن بْنُ أَبِي حَاتِمٍ الرَّازِيُّ سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ الْحُجَّةُ عَلَى الْمُسْلِمِينَ الَّذِينَ لَيْسَ فِيهِمْ لَبْسٌ سُفْيَان الثورى وَشعْبَة وَمَالك بْنُ أَنَسٍ وَسُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ وَحَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ
بَابُ قَوْلِ أَبِي زُرْعَةَ الرَّازِيِّ فِيهِ
قَالَ أَبُو زُرْعَةَ الرَّازِيُّ أَوَّلُ شَيْءٍ أَخَذَتْ نَفْسِي بِحِفْظِهِ مِنَ الْحَدِيثِ حَدِيثُ مَالِكٍ فَلَمَّا حفظته ووعيته طلبت حَدِيث الثَّوْرِيَّ وَشُعْبَةَ وَغَيْرَهُمَا فَلَمَّا تَنَاهَيْتُ فِي حِفْظِ الْحَدِيثِ نَظَرْتُ فِي رَأْيِ مَالِكٍ وَالثَّوْرِيِّ وَالأَوْزَاعِيِّ وَكَتَبْتُ كُتُبَ الشَّافِعِيِّ
بَابُ قَوْلِ أَبِي دَاوُدَ السجستانى فِيهِ
حَدثنَا عبد الله بن مُحَمَّد بن عبد المؤمن بْنِ يَحْيَى رحمه الله قَالَ أَنا أَبُو بكر مُحَمَّد بن بكر بن عبد الرازق التَّمَّارُ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ دَاسَةَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا دَاوُدَ سُلَيْمَانَ بْنَ الأَشْعَثِ بْنِ إِسْحَاقَ السِّجِسْتَانِيَّ رحمه الله يَقُولُ رَحِمَ اللَّهُ مَالِكًا كَانَ إِمَامًا رَحِمَ اللَّهُ الشَّافِعِيَّ كَانَ إِمَامًا رَحِمَ اللَّهُ أَبَا حَنِيفَةَ كَانَ إِمَامًا
بَابُ قَوْلِ أَيُّوب بن سُوَيْد الرملى مِنْهُ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ بِشْرٍ قَالَ نَا ابْنُ أَبِي دُلَيْمٍ قَالَ نَا ابْنُ وَضَّاحٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا الطَّاهِرِ أَحْمَدَ بْنَ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ يَقُولُ سَمِعْتُ أَيُّوبَ بْنَ سُوَيْدٍ الرَّمْلِيَّ يَقُولُ مَا رَأَيْتُ أَحَدًا قَطُّ أَجْوَدَ حَدِيثًا مِنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ
بَابُ قَوْلِ مَالِكِ رحمه الله فِي أَهْلِ الأَهْوَاءِ وَالْبِدَعِ
ذَكَرَ الدُّولابِيُّ قَالَ نَا يَزِيدُ بْنُ عبد الصمد قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو مُسْهِرٍ قَالَ
ইমাম আবু হাতিম আর-রাজীর উক্তি সম্পর্কিত অধ্যায়
আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবনে আবু হাতিম আর-রাজী বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, মুসলমানদের জন্য এমন অকাট্য দলিল যাদের মধ্যে কোনো সংশয় নেই তারা হলেন: সুফিয়ান আস-সাওরী, শুবা, মালিক ইবনে আনাস, সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ এবং হাম্মাদ ইবনে যাইদ।
ইমাম আবু জুরআ আর-রাজীর উক্তি সম্পর্কিত অধ্যায়
আবু জুরআ আর-রাজী বলেন, হাদীসের মধ্য থেকে সর্বপ্রথম যে বিষয়টি আমি মুখস্থ করা শুরু করেছিলাম তা ছিল মালিকের হাদীস। যখন আমি তা মুখস্থ করলাম এবং আয়ত্ত করলাম, তখন আমি আস-সাওরী, শুবা এবং অন্যদের হাদীসের অন্বেষণ করলাম। এরপর যখন হাদীস মুখস্থ করার ক্ষেত্রে আমি পূর্ণতা লাভ করলাম, তখন আমি মালিক, আস-সাওরী ও আওযায়ীর মতামতের প্রতি দৃষ্টিপাত করলাম এবং শাফেয়ীর গ্রন্থসমূহ লিখে নিলাম।
ইমাম আবু দাউদ আস-সিজিস্তানির উক্তি সম্পর্কিত অধ্যায়
আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল মুমিন ইবনে ইয়াহইয়া (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে বকর ইবনে আবদুর রাজ্জাক আত-তাম্মার, যিনি ইবনে দাসা নামে পরিচিত, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আবু দাউদ সুলাইমান ইবনে আশআস ইবনে ইসহাক আস-সিজিস্তানি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-কে বলতে শুনেছি: আল্লাহ মালিকের ওপর রহম করুন, তিনি একজন ইমাম ছিলেন; আল্লাহ শাফেয়ীর ওপর রহম করুন, তিনি একজন ইমাম ছিলেন; আল্লাহ আবু হানিফার ওপর রহম করুন, তিনি একজন ইমাম ছিলেন।
আইয়ুব ইবনে সুওয়াইদ আর-রামলির উক্তি সম্পর্কিত অধ্যায়
আহমদ ইবনে সাঈদ ইবনে বিশর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে আবি দুলাইম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনে ওয়াদদাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আবু তাহির আহমদ ইবনে আমর ইবনে আস-সারহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আইয়ুব ইবনে সুওয়াইদ আর-রামলিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মালিক ইবনে আনাসের চেয়ে উৎকৃষ্ট হাদীস বর্ণনাকারী আর কাউকে দেখিনি।
প্রবৃত্তি পূজারী ও বিদআতিদের সম্পর্কে মালিক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর উক্তি সম্পর্কিত অধ্যায়
আদ-দুলাবি উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াজিদ ইবনে আবদুল সামাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু মুশহির আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন...
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিকা ফী ফাদায়িলিস সালাসাতিল আইম্মাতিল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
قُلْتُ لِمَالِكٍ كَلَّمَنِي رَجُلٌ فِي الْقَدَرِ فَبَلَغَ الْوَالِيَ فَأَرْسَلَ إِلَيَّ فَسَأَلَنِي عَنْهُ أَفَأَشْهَدُ عَلَيْهِ قَالَ نَعَمْ قَالَ وَحَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ الْفِرْيَابِيُّ قَالَ نَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ الْحِزَامِيُّ قَالَ نَا مَعْنُ بْنُ عِيسَى قَالَ انْصَرَفَ مَالِكٌ يَوْمًا مِنَ الْمَسْجِدِ وَهُوَ مُتَّكِئٌ عَلَى يَدِي قَالَ فَلَحِقَهُ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ أَبُو الْجُوَيْرِيَةِ كَانَ يُتَّهَمُ بِالإِرْجَاءِ فَقَالَ يَا أَبَا عبد الله اسْمَعْ مِنِّي شَيْئًا أُكَلِّمُكَ بِهِ وَأُحَاجُّكَ وَأُخْبِرُكَ برأى قَالَ فَإِنْ غَلَبْتَنِي قَالَ اتَّبَعْتَنِي قَالَ فَإِنْ غَلَبْتُكَ قَالَ اتَّبَعْتُكَ قَالَ فَإِنْ جَاءَ رَجُلٌ فكلمناه فغلبنا قَالَ تَبِعْنَاهُ قَالَ أَبُو عبد الله بَعَثَ اللَّهُ مُحَمَّدًا بِدِينٍ وَاحِدٍ وَأَرَاكَ تَتَنَقَّلُ قَالَ عمر بن عبد العزيز من جعل دينه عرضة لِلْخُصُومَاتِ أَكْثَرَ التَّنَقُّلَ قَالَ وَأَخْبَرَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى قَالَ نَا ابْنُ وَهْبٍ قَالَ سُئِلَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ عَنِ الإِيمَانِ فَقَالَ قَوْلٌ وَعَمَلٌ قُلْتُ أَيَزِيدُ وَيَنْقُصُ قَالَ قَدْ ذَكَرَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ فِي غَيْرِ آيٍ مِن الْقُرْآنِ أَنَّ الإِيمَانَ يَزِيدُ فَقُلْتُ لَهُ أَيَنْقُصُ قَالَ دَعِ الْكَلامَ فِي نُقْصَانِهِ وَكُفَّ عَنْهُ فَقُلْتُ فَبَعْضُهُ أَفْضَلُ مِنْ بَعْضٍ قَالَ نَعَمْ وَفِي سَمَاعِ ابْنِ الْقَاسِمِ قَالَ مَالِكٌ مَا آيَة قى كِتَابِ اللَّهِ أَشَدُّ عَلَى أَهْلِ الأَهْوَاءِ مِنْ هَذِهِ الآيَةِ {يَوْمَ تَبْيَضُّ وُجُوهٌ وَتَسْوَدُّ وُجُوهٌ} ) يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى {فَأَمَّا الَّذِينَ اسْوَدَّتْ وُجُوهُهُمْ أَكَفَرْتُمْ بَعْدَ إِيمَانِكُمْ فَذُوقُوا الْعَذَابَ بِمَا كُنْتُمْ تكفرون}
আমি মালেককে বললাম, "তাকদীর সম্পর্কে এক ব্যক্তি আমার সাথে কথা বলেছে। বিষয়টি গভর্নরের কাছে পৌঁছালে তিনি আমাকে ডেকে পাঠিয়ে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। আমি কি তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেব?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ।"
তিনি বলেন, জাফর বিন মুহাম্মদ আল-ফিরইয়াবি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইব্রাহিম বিন আল-মুনজির আল-হিযামি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মা’ন বিন ঈসা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন: একদিন ইমাম মালেক মসজিদ থেকে ফিরছিলেন এবং তিনি আমার হাতের উপর ভর দিয়েছিলেন। তখন আবু জুওয়াইরিয়াহ নামে এক ব্যক্তি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করল, যার বিরুদ্ধে ইরজা’র অভিযোগ ছিল। সে বলল, "হে আবু আব্দুল্লাহ! আমার থেকে কিছু শুনুন, আমি আপনার সাথে কথা বলতে চাই, আপনার সাথে বিতর্ক করতে চাই এবং আমার অভিমত আপনাকে জানাতে চাই।" তিনি বললেন, "যদি তুমি তর্কে জয়লাভ করো?" সে বলল, "আপনি আমার অনুসরণ করবেন।" তিনি বললেন, "আর যদি আমি জয়লাভ করি?" সে বলল, "আমি আপনার অনুসরণ করব।" তিনি বললেন, "যদি অন্য কোনো ব্যক্তি আসে এবং আমাদের সাথে কথা বলে আমাদের হারিয়ে দেয়?" সে বলল, "আমরা তার অনুসরণ করব।" তখন আবু আব্দুল্লাহ বললেন, "আল্লাহ মুহাম্মদকে একটিমাত্র দ্বীন দিয়ে পাঠিয়েছেন, আর আমি দেখছি তুমি কেবল এক মত থেকে অন্য মতে স্থানান্তরিত হচ্ছ।" ওমর বিন আব্দুল আজিজ বলতেন, "যে ব্যক্তি নিজের দ্বীনকে বিতর্কের বিষয়ে পরিণত করে, সে অধিক হারে পরিবর্তন ও স্থানান্তরের শিকার হয়।"
তিনি বলেন, ইউনুস বিন আব্দুল আ’লা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, ইবনে ওয়াহব আমাদের বলেছেন যে, মালেক বিন আনাসকে ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন, "তা হলো কথা ও কাজ।" আমি বললাম, "তা কি বাড়ে এবং কমে?" তিনি বললেন, "আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা কুরআনের একাধিক আয়াতে উল্লেখ করেছেন যে ঈমান বাড়ে।" আমি তাঁকে বললাম, "তা কি কমে?" তিনি বললেন, "এর কমা নিয়ে কথা বলা ছেড়ে দাও এবং তা থেকে বিরত থাকো।" আমি বললাম, "তবে কি ঈমানের এক অংশ অপর অংশের চেয়ে শ্রেষ্ঠ?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ।" ইবনুল কাসিমের বর্ণনায় আছে, মালেক বলেছেন: "আল্লাহর কিতাবে প্রবৃত্তি পূজারীদের জন্য এই আয়াতের চেয়ে কঠিন আর কোনো আয়াত নেই— ‘সেদিন কিছু চেহারা উজ্জ্বল হবে এবং কিছু চেহারা কালো হয়ে যাবে।’ আল্লাহ তা’আলা বলেন— ‘যাদের চেহারা কালো হয়ে যাবে (তাদের বলা হবে), তোমরা কি ঈমান আনার পর কুফরি করেছিলে? সুতরাং তোমরা যা কুফরি করতে তার কারণে আজ আযাব ভোগ করো’।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিকা ফী ফাদায়িলিস সালাসাতিল আইম্মাতিল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
قَالَ فَأَيُّ كَلامٍ أَبْيَنُ مِنْ هَذَا وَرَأَيْتُهُ تَأَوَّلَهَا عَلَى أَهْلِ الأَهْوَاءِ قَالَ مَالِكٌ وَبَلَغَنِي ان عمر بن عبد العزيز قَالَ إِنَّ فِي كِتَابِ اللَّهِ لَعِلْمًا بَيِّنًا عَلِمَهُ مَنْ عَلِمَهُ وَجَهِلَهُ مَنْ جَهِلَهُ يَقُولُ الله تَعَالَى {فَإِنَّكُمْ وَمَا تَعْبُدُونَ مَا أَنْتُمْ عَلَيْهِ بِفَاتِنِينَ إِلَّا من هُوَ صال الْجَحِيم} وَقَالَ مَالِكٌ مَا رَأَيْتُ أَحَدًا مِنْ أَهْلِ الْقَدَرِ إِلا أَهْلَ سَخَافَةٍ وَطَيْشٍ وَخِفَّةٍ وَقَالَ مَالك كَانَ عمر بن عبد العزيز يَقُولُ لَوْ أَرَادَ اللَّهُ أَلا يُعْصَى مَا خَلَقَ إِبْلِيسَ قَالَ وَهُوَ رَأْسُ الْخَطَايَا وَقَالَ مَالِكٌ مَا أَبْيَنُ هَذِهِ الآيَةِ عَلَى أَهْلِ الْقَدَرِ وَأَشَدِّهَا عَلَيْهِمْ {وَلَوْ شِئْنَا لآتَيْنَا كُلَّ نَفْسٍ هُدَاهَا وَلَكِنْ حَقَّ الْقَوْلُ مِنِّي لأَمْلأَنَّ جَهَنَّم من الْجنَّة وَالنَّاس أَجْمَعِينَ} فَلَا بُد أَنْ يَكُونَ مَا قَالَ قَالَ وَقَالَ مَالِكُ بن أنس لَيْسَ الْجِدَال فِي الدّين بشئ قَالَ وَقَالَ مَالِكٌ أَهْلُ الأَهْوَاءِ بِئْسَ الْقَوْمُ لَا يُسَلَّمُ عَلَيْهِمْ وَاعْتِزَالُهُمْ أَحَبُّ إِلَيَّ قَالَ حَدثنَا مُحَمَّد بن عبد الله بن عبد الحكم قَالَ أَنا أَشهب بن عبد العزيز قَالَ قَالَ مَالِكٌ أَقَامَ النَّاسُ يُصَلُّونَ نَحْوَ بَيْتِ الْمَقْدِسِ سِتَّةَ عَشَرَ شَهْرًا ثُمَّ أُمِرُوا بِالْبَيْتِ الْحَرَامِ فَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى {وَمَا كَانَ الله لِيُضيع إيمَانكُمْ} أَيْ صَلاتَكُمْ إِلَى بَيْتِ الْمَقْدِسِ قَالَ مَالِكٌ وانى لَا ذكر بِهَذِهِ الآيَةِ قَوْلَ الْمُرْجِئَةِ إِنَّ الصَّلاةَ لَيْسَتْ مِنَ الإِيمَانِ قَالَ وَسَمِعْتُ مُؤَمَّلَ بْنَ إِهَابٍ يَقُول سَمِعت عبد الرزاق بْنَ هَمَّامٍ يَقُولُ سَمِعْتُ ابْنَ جُرَيْجٍ وَسُفْيَانَ الثَّوْرِيَّ وَمَعْمَرَ بْنَ رَاشِدٍ وَسُفْيَان بْنَ عُيَيْنَةَ وَمَالِكَ بْنَ أَنَسٍ يَقُولُونَ الإِيمَانُ قَوْلٌ وَعَمَلٌ يزِيد وَينْقص قَالَ وأخبرنى عبد الله بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ قَالَ نَا أَبِي
তিনি বললেন, এর চেয়ে স্পষ্ট কথা আর কী হতে পারে? আর আমি তাকে দেখলাম যে তিনি এর ব্যাখ্যা প্রবৃত্তিপূজারীদের বিপক্ষে করেছেন। মালিক বললেন, আমার কাছে পৌঁছেছে যে উমর ইবন আবদুল আজিজ বলেছেন: আল্লাহর কিতাবে সুস্পষ্ট জ্ঞান রয়েছে; যে তা জানার সে জেনেছে, আর যে তা না জানার সে তা জানে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, "অতএব তোমরা এবং তোমরা যা ইবাদত করো, তোমরা তাকে বিভ্রান্ত করতে পারবে না; কেবল তাকে ছাড়া যে জাহান্নামে প্রবেশকারী।" মালিক আরও বলেন, আমি কদরপন্থীদের মধ্যে এমন কাউকে দেখিনি যে নির্বুদ্ধিতা, অস্থিরতা ও লঘুচারিতার অধিকারী নয়। মালিক বলেন, উমর ইবন আবদুল আজিজ বলতেন: আল্লাহ যদি চাইতেন যে তাঁর অবাধ্যতা করা না হোক, তবে তিনি ইবলিসকে সৃষ্টি করতেন না। তিনি বললেন, আর ইবলিস হলো সকল পাপের মূল। মালিক বলেন, কদরপন্থীদের বিপক্ষে এই আয়াতটি কতই না স্পষ্ট এবং তাদের ওপর কতই না কঠোর: "আর আমি যদি চাইতাম তবে প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার হিদায়াত দান করতাম, কিন্তু আমার পক্ষ থেকে এই কথা সত্য হয়েছে যে, আমি অবশ্যই জিন ও মানুষ উভয় দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করব।" সুতরাং তিনি যা বলেছেন তা অবশ্যই হতে হবে। তিনি বলেন, মালিক ইবন আনাস বলেছেন: দ্বীনের ব্যাপারে বিতর্ক কোনো ফলপ্রসূ বিষয় নয়। তিনি বলেন, মালিক বলেছেন: প্রবৃত্তিপূজারীরা কতই না নিকৃষ্ট সম্প্রদায়! তাদের সালাম দেওয়া যাবে না এবং তাদের থেকে দূরে থাকাই আমার কাছে অধিক পছন্দনীয়। তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবদুল হাকাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আশহাব ইবন আবদুল আজিজ আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন, মালিক বলেছেন: মানুষ ষোল মাস পর্যন্ত বায়তুল মাকদিসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করেছে, এরপর তাদের বায়তুল হারামের দিকে ফেরার আদেশ দেওয়া হয়। তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, "আর আল্লাহ তোমাদের ঈমান নষ্ট করবেন না।" অর্থাৎ বায়তুল মাকদিসের দিকে তোমাদের আদায়কৃত সালাত। মালিক বলেন, এই আয়াতের মাধ্যমে আমি মুরজিয়াদের সেই উক্তির প্রতিবাদ করি যে, সালাত ঈমানের অংশ নয়। তিনি বলেন, আমি মুয়াম্মিল ইবন ইহাবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আবদুর রাজ্জাক ইবন হাম্মামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি ইবন জুরাইজ, সুফিয়ান আস-সাওরী, মা'মার ইবন রাশিদ, সুফিয়ান ইবন উইয়াইনাহ এবং মালিক ইবন আনাসকে বলতে শুনেছি যে, ঈমান হলো কথা ও কাজ, যা বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন আহমাদ ইবন হাম্বল আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিকা ফী ফাদায়িলিস সালাসাতিল আইম্মাতিল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
قَالَ نَا سُرَيْجُ بْنُ النُّعْمَانِ قَالَ نَا عبد الله بْنُ نَافِعٍ قَالَ كَانَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ يَقُولُ الإِيمَانُ قَوْلٌ وَعَمَلٌ وَيَقُولُ الْقُرْآنُ كَلامُ اللَّهِ وَيَقُولُ مَنْ قَالَ الْقُرْآنُ مَخْلُوقٌ يُوجَعُ ضَرْبًا وَيُحْبَسُ حَتَّى يَتُوبَ وَكَانَ مَالِكٌ يَقُولُ اللَّهُ فِي السَّمَاءِ وَعِلْمُهُ فِي كُلِّ مَكَانٍ لَا يَخْلُو مِنْهُ شئ أخبرنَا عبد الله بن مُحَمَّد بن عبد المؤمن قَالَ أَخْبَرَنِي الْقَاضِي مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الْمَالِكِيُّ قَالَ نَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ حَمَّادٍ قَالَ نَا الْحَسَنُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْجَرَوِيُّ قَالَ نَا شَيْخٌ لَنَا قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى مَالِكٍ فَقَالَ يَا أَبَا عبد الله أَسْأَلُكَ عَنْ مَسْأَلَةٍ أَجْعَلُكَ حُجَّةً فِيمَا بَيْنِي وَبَيْنَ اللَّهِ عز وجل قَالَ مَالِكٌ مَا شَاءَ اللَّهُ لَا قُوَّةَ إِلا بِاللَّهِ سَلْ قَالَ مَنْ أَهْلُ السُّنَّةِ قَالَ أَهْلُ السُّنَّةِ الَّذين لَيْسَ لَهُم لقب يعْرفُونَ بِهِ لاجهمى وَلا قَدَرِيٌّ وَلا رَافِضِيٌّ قَالَ وَنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِسْحَاقَ الْقَاضِي قَالَ نَا أَبُو مُصْعَبٍ قَالَ نَا عبد العزيز بْنُ أَبِي حَازِمٍ قَالَ سَأَلْتُ مَالِكًا فِيمَا بَيْنِي وَبَيْنَهُ مَنْ تُقَدِّمُ بَعْدَ رَسُولِ اللَّهِ قَالَ أُقَدِّمُ أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ لَمْ يَزِدْ عَلَى هَذَا قَالَ وَذَكَرَ الزُّبَيْرَ
সুরাইজ ইবনুন নুমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু নাফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মালিক ইবনু আনাস বলতেন, ঈমান হলো কথা ও কাজ। আর তিনি বলতেন, কুরআন আল্লাহর কালাম। আর তিনি বলতেন, যে ব্যক্তি বলে কুরআন মাখলুক (সৃষ্ট), তাকে কঠোরভাবে প্রহার করা হবে এবং তওবা করা পর্যন্ত বন্দী রাখা হবে। আর মালিক বলতেন, আল্লাহ আসমানে আছেন এবং তাঁর জ্ঞান সর্বস্থানে রয়েছে, কোনো কিছুই তা থেকে মুক্ত নয়। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল মুমিন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, কাজী মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ আল-মালিকী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, ইব্রাহীম ইবনু হাম্মাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, হাসান ইবনু আবদিল আজিজ আল-জারাবী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আমাদের একজন শায়খ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি মালিকের নিকট এসে বলল, হে আবু আবদুল্লাহ, আমি আপনাকে একটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছি, যা আমার ও মহান আল্লাহর মাঝে আপনাকে দলিল হিসেবে সাব্যস্ত করব। মালিক বললেন, আল্লাহ যা চান (তা-ই হয়), আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি নেই। জিজ্ঞাসা করো। সে বলল, আহলে সুন্নাত কারা? তিনি বললেন, আহলে সুন্নাত তারা যাদের এমন কোনো উপাধি নেই যা দিয়ে তারা পরিচিত হয়; তারা জাহমি নয়, কাদারি নয় এবং রাফিজিও নয়। তিনি বলেন, কাজী ইসমাইল ইবনু ইসহাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু মুসআব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবদুল আজিজ ইবনু আবি হাযিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আমি মালিককে একান্তে জিজ্ঞাসা করলাম, আল্লাহর রাসূলের পর আপনি কাকে অগ্রাধিকার দেন? তিনি বললেন, আমি আবু বকর ও উমরকে অগ্রাধিকার দেই। তিনি এর বেশি কিছু বলেননি। বর্ণনাকারী বলেন, আর তিনি জুবাইরের কথা উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিকা ফী ফাদায়িলিস সালাসাতিল আইম্মাতিল ফুকাহা
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي أُوَيْسٍ عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ قَالَ لَيْسَ مِنْ أَمْرِ النَّاسِ الذى مضوا عَلَيْهِ أَنْ يُفَاضِلُوا بَيْنَ النَّاسِ قَالَ وَنا مُحَمَّدُ بن عبد الله بن عبد الحكم قَالَ انا اشهب بن عبد العزيز قَالَ قَالَ مَالِكٌ لَا يَنْبَغِي الإِقَامَةُ بِأَرْضٍ يَكُونُ الْعَمَلُ فِيهَا بِغَيْرِ الْحَقِّ وَالسَّبُ لِلسَّلَفِ قَالَ وَنا أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ الْفِهْرِيُّ قَالَ نَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ قَالَ نَا مَعْنُ بْنُ عِيسَى قَالَ سَمِعْتُ مَالِكًا يَقُولُ لَيْسَ لِمَنْ سَبَّ أَصْحَابَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الفئ حق قد قسم الله الفئ عَلَى ثَلاثَةِ أَصْنَافٍ فَقَالَ {لِلْفُقَرَاءِ الْمُهَاجِرِينَ الَّذِينَ أخرجُوا من دِيَارهمْ وَأَمْوَالهمْ} الْآيَة وَقَالَ {وَالَّذين تبوؤوا الدَّار وَالْإِيمَان من قبلهم} الْآيَة وَقَالَ {وَالَّذين جاؤوا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلإِخْوَانِنَا الَّذين سبقُونَا بِالْإِيمَان} الْآيَة وانما الفئ لِهَؤُلاءِ الثَّلاثَةِ الأَصْنَافِ قَالَ وَسَمِعْتُ جَعْفَرَ بْنَ مُحَمَّدٍ الصَّائِغَ يَقُولُ سَمِعْتُ سُرَيْجَ بْنَ النُّعْمَانِ يَقُول سَمِعت عبد الله بْنِ نَافِعٍ الصَّائِغَ يَقُولُ كَانَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ يَقُولُ الإِيمَانُ قَوْلٌ وَعَمَلٌ يَزِيدُ وَيَنْقُصُ وَذكر أَبُو اسحاق بن مرين عَن عِيسَى بْنِ دِينَارٍ عَنِ ابْنِ الْقَاسِمِ قَالَ سَأَلَ أَبُو السَّمْحِ مَالِكًا فَقَالَ يَا أَبَا عبد الله أَيُرَى اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَقَالَ نَعَمْ يَقُولُ اللَّهُ عز وجل {وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَاضِرَةٌ إِلَى رَبهَا ناظرة} وَقَالَ لِقَوْمٍ آخَرِينَ {كَلَّا إِنَّهُمْ عَنْ رَبِّهِمْ يَوْمئِذٍ لمحجوبون} أخبرنَا عبد الوارث ابْن سُفْيَانَ قَالَ نَا قَاسِمُ بْنُ أَصْبَغَ قَالَ نَا ابْن أبي خَيْثَمَة قَالَ نَا أَبُو الْهَيْثَمُ بْنُ خَارِجَةَ قَالَ نَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ قَالَ سَأَلْتُ الأَوْزَاعِيَّ وَسُفْيَانَ الثَّوْرِيَّ وَمَالِكَ بن أنس عَنْ هَذِهِ الأَحَادِيثِ الَّتِي فِيهَا ذِكْرُ الرُّؤْيَةِ فَقَالُوا أمروها كَمَا جَاءَت وَلَا كَيْفَ وَكَانَ مَالِكٌ رحمه الله كَثِيرًا مَا يَتَمَثَّلُ بِقَوْلِ الشَّاعِرِ
ইসমাইল বিন আবি উওয়াইস থেকে বর্ণিত, তিনি মালিক বিন আনাস থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: পূর্ববর্তী লোকেরা যে রীতির ওপর অতিবাহিত হয়েছেন তাতে মানুষের মাঝে পরস্পর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করা (অহেতুক ভেদাভেদ করা) তাদের স্বভাব ছিল না। তিনি বলেন, আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদিল হাকাম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আশহাব বিন আবদিল আজিজ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মালিক বলেছেন: এমন কোনো ভূখণ্ডে বসবাস করা উচিত নয় যেখানে সত্য বর্জিত আমল করা হয় এবং সালাফদের (পূর্বসূরিদের) গালি দেওয়া হয়। তিনি বলেন, আমাদের নিকট আহমদ বিন সাঈদ আল-ফিহরি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট ইবরাহিম বিন আল-মুনজির বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট মা'ন বিন ঈসা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি মালিককে বলতে শুনেছি: যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের গালি দেয়, ফায়-এর (বিনা যুদ্ধে প্রাপ্ত সম্পদ) মালে তাদের কোনো অধিকার নেই। আল্লাহ তাআলা ফায়-কে তিন শ্রেণির জন্য বণ্টন করেছেন; তিনি বলেছেন: {সেই দরিদ্র মুহাজিরদের জন্য, যারা নিজেদের ঘরবাড়ি ও সম্পদ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছে...} আয়াত পর্যন্ত। এবং তিনি বলেছেন: {আর যারা আগে থেকেই এই নগরীতে (মদিনায়) বসবাস করছিল এবং ঈমান এনেছিল...} আয়াত পর্যন্ত। এবং তিনি বলেছেন: {আর যারা তাদের পরে এসেছে, তারা বলে: হে আমাদের রব! আমাদের এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করুন যারা আমাদের আগে ঈমান এনে অগ্রগামী হয়েছেন...} আয়াত পর্যন্ত। আর ফায় তো কেবল এই তিন শ্রেণির লোকদের জন্যই। তিনি বলেন, আমি জাফর বিন মুহাম্মাদ আস-সায়িগকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি সুরাইজ বিন আন-নুমানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ বিন নাফি আস-সায়িগকে বলতে শুনেছি যে, মালিক বিন আনাস বলতেন: ঈমান হলো কথা ও কাজ, যা বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়। আবু ইসহাক বিন মারিন, ঈসা বিন দিনার থেকে এবং তিনি ইবনুল কাসিম থেকে বর্ণনা করেন যে, আবুল সামহ মালিককে জিজ্ঞাসা করলেন: হে আবু আবদুল্লাহ! কিয়ামতের দিন কি আল্লাহকে দেখা যাবে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেন: {সেদিন অনেক চেহারা উজ্জ্বল হবে, তারা তাদের রবের দিকে তাকিয়ে থাকবে} এবং অন্য একদল সম্পর্কে তিনি বলেছেন: {কখনোই নয়, তারা সেদিন তাদের রব থেকে পর্দার আড়ালে (বঞ্চিত) থাকবে}। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল ওয়ারিস বিন সুফিয়ান, তিনি বলেন, আমাদের নিকট কাসিম বিন আসবাগ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট ইবনু আবি খাইসামা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবু আল-হাইসাম বিন খারিজাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আল-ওয়ালিদ বিন মুসলিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আওজায়ি, সুফিয়ান সাওরি এবং মালিক বিন আনাসকে সেই সব হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যাতে (আল্লাহকে) দেখার বিষয়টি উল্লেখ আছে। তাঁরা বললেন: এগুলো যেভাবে এসেছে সেভাবেই সেগুলোকে অতিবাহিত হতে দাও (অপরিবর্তিত রাখো), কোনো ধরণ (কাইফিয়াত) নির্ধারণ করো না। আর মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) প্রায়ই কবির এই চরণে উপমা দিতেন-