(খণ্ড: ১)
আশ-শাকায়িকুন নুমানিয়া ফী উলামায়িদ্দাওলাতিল উসমানিয়া
(পৃষ্ঠা: -)
الشقائق النعمانية في علماء الدولة العثمانية القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: الشقائق النعمانية في علماء الدولة العثمانية
المؤلف: أحمد بن مصطفى بن خليل، أبو الخير، عصام الدين طاشْكُبْري زَادَهْ (ت 968 هـ)
الناشر: دار الكتاب العربي - بيروت
عدد الصفحات: 503
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
উসমানীয় সাম্রাজ্যের আলেমগণের জীবনী সংক্রান্ত আশ-শাকাইকুন নু'মানিয়্যাহ বিভাগ: জীবনী ও শ্রেণিবিভাগ
গ্রন্থ: উসমানীয় সাম্রাজ্যের আলেমগণের জীবনী সংক্রান্ত আশ-শাকাইকুন নু'মানিয়্যাহ
লেখক: আহমদ বিন মুস্তফা বিন খলিল, আবুল খায়ের, ইসামুদ্দিন তাশকুপরি জাদাহ (মৃত্যু ৯৬৮ হিজরি)
প্রকাশক: দারুল কিতাব আল-আরাবি - বৈরুত
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫০৩
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আশ-শাকায়িকুন নুমানিয়া ফী উলামায়িদ্দাওলাতিল উসমানিয়া
(পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيم
الْحَمد لله الَّذِي رفع بفضله طَبَقَات الْعلمَاء وَجعل اصولهم ثَابِتَة وفروعهم فِي السَّمَاء وزين سَمَاء الشَّرِيعَة والاسلام بأنوار افكار الْفُضَلَاء وَأحكم مباني الاحكام بقواعد وَضعهَا بِاجْتِهَاد الْفُقَهَاء وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على نبيه سيد الرُّسُل وَخَاتم الانبياء من بَعثه الله تَعَالَى على فَتْرَة من الرُّسُل ليقيم بِهِ الْملَّة العوجاء وَهُوَ صَاحب الْملَّة الحنيفية السمحة اليضاء وَصَاحب ذيل الْعِزّ والشرف على الْقبَّة الخضراء وعَلى آله وَأَصْحَابه الَّذين هم نُجُوم الاهتداء وعَلى من تَبِعَهُمْ من الْمُسلمين الى يَوْم الْبَعْث وَالْجَزَاء وَبعد فَإِنِّي مُنْذُ مَا عرفت الْيَمين من الشمَال والمستقيم من الْمحَال كنت مشغوفا بتتبع مَنَاقِب الْعلمَاء وأخبارهم ومتهالكا على حفظ مآثرهم وآثارهم حَتَّى اجْتمع من ذَلِك شَيْء كثير فِي الخاطر الفاتر بِحَيْثُ يمتلئ بِهِ بطُون الْكتب والدفاتر وَلَقَد دون المؤرخون مَنَاقِب الْعلمَاء والاعيان مِمَّا ثَبت بِالنَّقْلِ اَوْ اثبته العيان وَلم يلْتَفت اُحْدُ الى جمع اخبار عُلَمَاء هَذِه الْبِلَاد وَكَاد لَا يبْقى اسمهم ورسمهم على السن كل حَاضر وباد وَلما شَاهد هَذِه الْحَال بعض من أَرْبَاب الْفضل والكمال التمس مني ان اجْمَعْ مَنَاقِب عُلَمَاء الرّوم فأجبت الى ملتمسه مستعينا بِالْملكِ الْحَيّ القيوم وأردفت ذكر عُلَمَاء الشَّرِيعَة بِبَيَان احوال مَشَايِخ الطَّرِيقَة زَاد الله أنوارهم وَقدس اسرارهم وَلَقَد ذكرت فِي هَذَا الْكتاب من بلغ مِنْهُم الى المناصب الجليلة وان كَانُوا متفاوتين فِي الْعلم والفضيلة وَمن لم يبلغ الى تِلْكَ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি নিজ অনুগ্রহে আলেমগণের স্তরকে সমুন্নত করেছেন এবং তাঁদের মূলকে সুদৃঢ় ও শাখাসমূহকে আকাশে বিস্তৃত করেছেন; আর শরীয়ত ও ইসলামের আকাশকে বিদগ্ধজনদের চিন্তার নূর দ্বারা সুশোভিত করেছেন এবং ফকীহগণের ইজতিহাদ দ্বারা প্রণীত নিয়মনীতির মাধ্যমে বিধানসমূহের ভিত্তি সুসংহত করেছেন। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর নবী, রাসূলগণের সরদার ও নবীদের সমাপ্তিকারীর ওপর, যাঁকে মহান আল্লাহ রাসূলগণের আগমনের দীর্ঘ বিরতির পর প্রেরণ করেছেন, যাতে তাঁর মাধ্যমে বিচ্যুত মিল্লাতকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি স্বচ্ছ ও প্রশস্ত হানিফী মিল্লাতের অধিকারী এবং সবুজ গম্বুজের ওপর মহিমা ও মর্যাদার চাদরের অধিকারী। এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর, যাঁরা হিদায়াতের নক্ষত্রস্বরূপ; আর পুনরুত্থান ও প্রতিদান দিবস পর্যন্ত তাঁদের অনুসারী মুসলিমদের ওপর। অতঃপর, আমি যখন থেকে ডানের সাথে বামের এবং সঠিকের সাথে ভুলের পার্থক্য করতে শিখেছি, তখন থেকেই আলেমগণের মহিমা ও সংবাদ অনুসরণে অনুরাগী ছিলাম এবং তাঁদের কীর্তি ও নিদর্শনসমূহ সংরক্ষণে নিবেদিত ছিলাম। এমনকি আমার দুর্বল স্মৃতিতে এ বিষয়ে এতো তথ্য জমা হয়েছে যা দ্বারা বহু কিতাব ও খাতার উদর পূর্ণ হয়ে যাবে। ঐতিহাসিকগণ আলেম ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মহিমা লিপিবদ্ধ করেছেন যা বর্ণনা বা প্রত্যক্ষ দর্শনের মাধ্যমে প্রমাণিত। কিন্তু এই অঞ্চলের আলেমদের সংবাদ সংগ্রহে কেউ ভ্রুক্ষেপ করেননি, এমনকি শহর ও গ্রামের মানুষের মুখে তাঁদের নাম ও চিহ্ন অবশিষ্ট না থাকার উপক্রম হয়েছে। যখন গুণী ও পূর্ণতা সম্পন্ন কিছু ব্যক্তি এই অবস্থা প্রত্যক্ষ করলেন, তখন তাঁরা আমার নিকট রোম অঞ্চলের আলেমদের জীবনী সংকলন করার অনুরোধ জানালেন। সুতরাং আমি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী মহাক্ষমতাবান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে তাঁদের আবেদনে সাড়া দিলাম। আমি শরীয়ত বিশেষজ্ঞ আলেমদের আলোচনার পাশাপাশি তরীকতের মাশায়েখদের অবস্থাও বর্ণনা করেছি; আল্লাহ তাঁদের নূর বৃদ্ধি করুন এবং তাঁদের রহস্যসমূহ পবিত্র করুন। আমি এই গ্রন্থে তাঁদের মধ্য থেকে তাঁদেরকেই উল্লেখ করেছি যারা উচ্চ পদে আসীন হয়েছেন, যদিও জ্ঞান ও ফযীলতে তাঁদের মাঝে তারতম্য রয়েছে, এবং যারা সে পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেননি।
(খণ্ড: ১)
আশ-শাকায়িকুন নুমানিয়া ফী উলামায়িদ্দাওলাতিল উসমানিয়া
(পৃষ্ঠা: ٦)
المناصب مَعَ مَالهم من الِاسْتِحْقَاق لتِلْك الْمَرَاتِب وَمَعَ ذَلِك فَلَعَلَّ مَا تركت اكثر مِمَّا ذكرت وَلما لم اطلع على تَارِيخ وفيات هَؤُلَاءِ الاعيان وضعت الرسَالَة على تَرْتِيب سلاطين آل عُثْمَان وَلِهَذَا سميت الرسَالَة ب
الشقائق النعمانية فِي عُلَمَاء الدولة العثمانية
وَقد وَقع هَذَا الْجمع والتأليف فِي ظلّ دولة من خصّه الله تَعَالَى بالألطاف السبحانية من سلاطين الدولة الْقَاهِرَة العثمانية الَّذِي تضعضع بسطوته مباني الاكاسرة وتطأطأ دون سرادقات عَظمته سوامد القياصرة وفوضت اليه السَّعَادَة مقاليدها وأنجزت بِهِ الايام للانام مواعيدها خُلَاصَة أَرْبَاب الْخلَافَة فِي الْعَالمين شرف الاسلام ملاذ الْمُسلمين اخص الخواقين الْعِظَام وقطب السلاطين الْكِرَام مُطَاع الْمُلُوك والسلاطين مُطِيع احكام الشَّرِيعَة وَالدّين السُّلْطَان ابْن السُّلْطَان والخاقان ابْن الخاقان ابو الْفَتْح والنصر السُّلْطَان سُلَيْمَان خَان ابْن السُّلْطَان سليم خَان ادام الله أَيَّام سلطنته الزهراء الى آخر الزَّمَان وخلد اعوام دولته الغراء الى انْقِرَاض الدوران وَلَا زَالَت دولته الابدية محفوفة بالعواطف الرحمانية وَمَا بَرحت غرته السرمدية مقرونة باللطائف الربانية وَهَا أَنا اشرع فِي الْمَقْصُود متوكلا على الصَّمد المعبود وَمَا توفيقي الا بِاللَّه عَلَيْهِ توكلت واليه انيب وَهُوَ السَّمِيع الْقَرِيب
الطَّبَقَة الاولىفِي عُلَمَاء دولة السُّلْطَان عُثْمَان الْغَازِي روح الله تَعَالَى روحه الْعَزِيز بُويِعَ لَهُ بالسلطنة فِي سنة تسع وَتِسْعين وسِتمِائَة وَمن الْعلمَاء فِي زَمَانه الْمولى اده بالي ولد بالبلاد القرامانية وَقَرَأَ هُنَاكَ بَعْضًا من الْعُلُوم ثمَّ ارتحل الى الْبِلَاد الشامية وتفقه بهَا على مَشَايِخ الشَّام وَقَرَأَ التَّفْسِير والْحَدِيث والاصول عَلَيْهِم ثمَّ ارتحل الى بِلَاده واتصل بِخِدْمَة السُّلْطَان عُثْمَان الْغَازِي ونال عِنْده الْقبُول التَّام وَكَانُوا يرجعُونَ اليه بالمسائل الشَّرْعِيَّة ويتشاورون مَعَه فِي أُمُور السلطنة وَكَانَ عَالما عَاملا عابدا زاهدا يرْوى انه كَانَ مَقْبُول الدعْوَة وَكَانُوا يتبركون بأنفاسه الشَّرِيفَة وَكَانَ رحمه الله ذَا ثروة عَظِيمَة الا انه سلك مَسْلَك الصُّوفِيَّة وَبنى فِي الدولة
ঐ সকল পদের জন্য তাঁদের যে যোগ্যতা ছিল সেই মর্যাদাসহ উচ্চ পদসমূহ, তা সত্ত্বেও আমি যা বাদ দিয়েছি তা হয়তো যা উল্লেখ করেছি তার চেয়েও বেশি। আর যখন আমি এই মহৎ ব্যক্তিদের মৃত্যুর তারিখ সম্পর্কে জানতে পারলাম না, তখন এই গ্রন্থটিকে আমি ওসমানীয় বংশের সুলতানদের ক্রমানুসারে সাজালাম। এই কারণে আমি এই গ্রন্থের নাম দিয়েছি-
ওসমানীয় সাম্রাজ্যের আলেমদের বর্ণনায় আশ-শাকাইকুন নুমানিয়্যাহ
এই সংকলন ও রচনাটি এমন এক সাম্রাজ্যের ছায়াতলে সম্পন্ন হয়েছে, যাকে আল্লাহ তাআলা তাঁর সুবহানি অনুগ্রহে বিশেষায়িত করেছেন; তা হলো বিজয়ী ওসমানীয় সাম্রাজ্যের সুলতানদের শাসনকাল। যাঁর প্রতাপে প্রাচীন পারস্য সম্রাটদের প্রাসাদসমূহ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গিয়েছিল এবং যাঁর মহত্ত্বের রাজকীয় শামিয়ানার সামনে রোমান সম্রাটদের মস্তকসমূহ নত হয়ে গিয়েছিল। সুখ-সমৃদ্ধি যাঁর হাতে এর চাবিকাঠি অর্পণ করেছে এবং যাঁর মাধ্যমে মহাকাল মানুষের নিকট তার প্রতিশ্রুতিসমূহ পূর্ণ করেছে। তিনি উভয় জগতের খেলাফতের অধিপতিদের সারসংক্ষেপ, ইসলামের মর্যাদা, মুসলমানদের আশ্রয়স্থল, মহান সম্রাটদের মধ্যে বিশেষ ব্যক্তিত্ব এবং সম্মানিত সুলতানদের কেন্দ্রবিন্দু; রাজা ও সুলতানদের মান্যবর, শরিয়ত ও দ্বীনের বিধানের অনুগত। সুলতানের পুত্র সুলতান, সম্রাটের পুত্র সম্রাট, বিজয়ী ও সাহায্যপ্রাপ্ত সুলতান সুলাইমান খান বিন সুলতান সেলিম খান। আল্লাহ তাআলা কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর উজ্জ্বল রাজত্বের দিনগুলোকে দীর্ঘায়িত করুন এবং মহাপ্রলয় পর্যন্ত তাঁর মহিমান্বিত শাসনের বছরগুলোকে চিরস্থায়ী করুন। তাঁর চিরন্তন সাম্রাজ্য যেন সর্বদা রহমানি করুণায় পরিবেষ্টিত থাকে এবং তাঁর শাশ্বত শুভ ললাট যেন সর্বদা রব্বানি অনুগ্রহের সাথে যুক্ত থাকে। এখন আমি মহান ও একমাত্র উপাস্য আল্লাহর ওপর ভরসা করে মূল উদ্দেশ্য শুরু করছি। আমার তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই, তাঁর ওপরই আমি ভরসা করেছি এবং তাঁর দিকেই আমি প্রত্যাবর্তন করি; আর তিনি সর্বশ্রোতা ও অতি নিকটবর্তী।
প্রথম স্তরসুলতান ওসমান গাজীর শাসন আমলের আলেমদের বর্ণনায় (আল্লাহ তাআলা তাঁর সম্মানিত আত্মাকে শান্তিতে রাখুন)। ৬৯৯ হিজরি সনে তাঁর সালতানাতের আনুগত্যের শপথ বা বায়আত গ্রহণ করা হয়েছিল। তাঁর সমসাময়িক আলেমদের মধ্যে অন্যতম হলেন মাওলা এদে বালি। তিনি কারামানিয়া অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানে প্রাথমিক কিছু শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। এরপর তিনি সিরিয়া অভিমুখে যাত্রা করেন এবং সেখানে শামের মাশায়েখদের নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। তিনি তাঁদের কাছে তাফসির, হাদিস ও উসুল শাস্ত্র পাঠ করেন। এরপর তিনি নিজ দেশে ফিরে আসেন এবং সুলতান ওসমান গাজীর সেবায় নিয়োজিত হন এবং তাঁর নিকট পূর্ণ গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেন। তাঁরা শরিয়ত সংশ্লিষ্ট মাসআলা-মাসায়েলের জন্য তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করতেন এবং সালতানাতের বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর সাথে পরামর্শ করতেন। তিনি ছিলেন একজন আমলদার আলেম, ইবাদতকারী ও দুনিয়াবিমুখ। বর্ণিত আছে যে, তিনি ছিলেন এমন ব্যক্তি যাঁর দোয়া কবুল হতো এবং তাঁরা তাঁর পবিত্র নিঃশ্বাসের বরকত গ্রহণ করতেন। তিনি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) অনেক সম্পদের অধিকারী ছিলেন, তবে তিনি সুফিদের পথ অবলম্বন করেছিলেন এবং তিনি এই সাম্রাজ্যে নির্মাণ করেন...
(খণ্ড: ১)
আশ-শাকায়িকুন নুমানিয়া ফী উলামায়িদ্দাওলাতিল উসমানিয়া
(পৃষ্ঠা: ٧)
العثمانية زَاوِيَة ينزل فِيهَا المسافرون وَرُبمَا يبيت فِيهَا السُّلْطَان عُثْمَان الْغَازِي وَبَات لَيْلَة فِيهَا فَرَأى فِي الْمَنَام قمرا خرج من حضن الشَّيْخ اده بالي وَدخل فِي حضنه وَعند ذَلِك نَبتَت من سرته شَجَرَة عَظِيمَة سدت أَغْصَانهَا الافاق وتحتها جبال عَظِيمَة تتفجر مِنْهَا الانهار وَالنَّاس يَنْتَفِعُونَ بِتِلْكَ الانهار لأَنْفُسِهِمْ ودوابهم وبساتينهم فَقص هَذِه الرُّؤْيَا على الشَّيْخ فَقَالَ لَك الْبُشْرَى بهَا نلْت مرتبَة السلطنة وَينْتَفع بك وبأولادك الْمُسلمُونَ وَإِنِّي زوجت لَك بِنْتي هَذِه فولد لعُثْمَان الْغَازِي مِنْهَا اولاد وَكَانَ الشَّيْخ بلغ من السن مائَة وَعشْرين سنة وَمَات فِي سنة سِتّ وَعشْرين وَسَبْعمائة وَمَاتَتْ بعد شهر ابْنَته ويه زَوْجَة السُّلْطَان عُثْمَان الْغَازِي وَأم السُّلْطَان اورخان وَبعد مُضِيّ ثَلَاثَة اشهر من وفاتها مَاتَ السُّلْطَان عُثْمَان الْغَازِي روح الله أَرْوَاحهم
وَمِنْهُم الْمولى طورسون فَقِيه ختن الْمولى اده بالي وَهُوَ ايضا من بِلَاد قرامان قَرَأَ على الْمولى الْمَذْكُور التَّفْسِير والْحَدِيث والاصول وتفقه عِنْده وَبعد وَفَاته قَامَ مقَامه فِي أَمر الْفَتْوَى وتدبير امور السلطنة وتدريس الْعُلُوم الشَّرْعِيَّة وَكَانَ عَالما عَاملا مجاب الدعْوَة
وَمِنْهُم الْمولى خطاب بن ابي الْقَاسِم القره حصاري رحمه الله قَرَأَ ببلاده على عُلَمَاء عصره ثمَّ ارتحل الى الْبِلَاد الشامية وقرا على علمائها وَأخذ مِنْهُم الْفِقْه والْحَدِيث وَالتَّفْسِير ثمَّ عَاد الى بِلَاده وَتُوفِّي بهَا رحمه الله وَله شرح نَافِع على منظومة الشَّيْخ الْعَالم عمر النَّسَفِيّ فِي الخلافيات فرغ من تصنيفه فِي صفر سنة سبع عشرَة وَسَبْعمائة
وَمِنْهُم الشَّيْخ الْعَارِف بِاللَّه مخلص بَابا توطن فِي بِلَاد قرامان وَحضر مَعَ السُّلْطَان عُثْمَان الْغَازِي فِي فتوحاته وَكَانَ رحمه الله مجاب الدعْوَة سالكا واصلا الى الله تَعَالَى وَكَانَ صَاحب كرامات علية ومقامات سنية قدس الله تَعَالَى سره الْعَزِيز
وَمِنْهُم الشَّيْخ الْعَارِف بِاللَّه تَعَالَى عاشق باشا ابْن الشَّيْخ مخلص بَابا الْمَذْكُور توطن رحمه الله فِي مَوضِع يُقَال لَهُ قر شَهْري من بِلَاد قرامان وَتُوفِّي بهَا
উসমানীয় খানকাহ (জাউইয়া) যেখানে মুসাফিররা অবস্থান করতেন। সম্ভবত সুলতান উসমান গাজীও সেখানে রাত কাটিয়েছিলেন। এক রাতে তিনি সেখানে অবস্থানকালে স্বপ্নে দেখলেন যে, শেখ এদেবালীর বক্ষ থেকে একটি চাঁদ বের হয়ে তার বক্ষে প্রবেশ করল। সেই মুহূর্তে তার নাভি থেকে একটি বিশাল বৃক্ষ উৎপন্ন হলো যার শাখা-প্রশাখা দিগন্তজুড়ে বিস্তৃত হলো। তার নিচে বিশাল পাহাড়সমূহ ছিল যেখান থেকে নদীসমূহ প্রবাহিত হচ্ছিল এবং মানুষ, তাদের গবাদিপশু ও বাগানসমূহ সেই নদীগুলো থেকে উপকৃত হচ্ছিল। তিনি শেখের কাছে এই স্বপ্ন বর্ণনা করলে তিনি বললেন: "আপনার জন্য সুসংবাদ, এর মাধ্যমে আপনি সালতানাতের মর্যাদা লাভ করেছেন এবং আপনার ও আপনার সন্তানদের দ্বারা মুসলমানরা উপকৃত হবে। আমি আমার এই মেয়েকে আপনার সাথে বিয়ে দিলাম।" উসমান গাজী তার গর্ভে সন্তান লাভ করেন। শেখ একশ বিশ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন এবং ৭২৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তার এক মাস পর তার কন্যা, সুলতান উসমান গাজীর স্ত্রী এবং সুলতান ওরখানের মাতা মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর তিন মাস পর সুলতান উসমান গাজী মৃত্যুবরণ করেন। আল্লাহ তাদের রুহসমূহকে পবিত্র করুন।
তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন মাওলা তোরসুন ফকিহ, যিনি মাওলা এদেবালীর জামাতা তিনিও কারামান অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন। তিনি উল্লিখিত মাওলার কাছে তাফসীর, হাদিস ও উসুল অধ্যয়ন করেন এবং তার কাছে ফিকহ শিক্ষা লাভ করেন। তার মৃত্যুর পর তিনি ফতোয়া প্রদান, সালতানাতের বিষয়াদি পরিচালনা এবং শরয়ী ইলমসমূহের পাঠদানের ক্ষেত্রে তার স্থলাভিষিক্ত হন। তিনি একজন আমলকারী আলেম ছিলেন যার দোয়া কবুল হতো।
তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন মাওলা খাত্তাব ইবনে আবিল কাসিম আল-কারাহ হিসারি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তিনি নিজ দেশে সমসাময়িক আলেমদের কাছে অধ্যয়ন করেন, তারপর শাম দেশে সফর করেন এবং সেখানকার আলেমদের কাছে পড়াশোনা করেন। তাদের থেকে তিনি ফিকহ, হাদিস ও তাফসীর গ্রহণ করেন। এরপর তিনি নিজ দেশে ফিরে আসেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)। মতভেদপূর্ণ বিষয়াবলির (খিলাফিয়াত) ওপর প্রাজ্ঞ আলেম উমর নাসাফীর কাব্যগ্রন্থের ওপর তার একটি উপকারী ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে; তিনি ৭১৭ হিজরির সফর মাসে এর সংকলন সমাপ্ত করেন।
তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আরেফ বিল্লাহ শেখ মুখলিস বাবা তিনি কারামান অঞ্চলে বসবাস করতেন এবং সুলতান উসমান গাজীর সাথে তার বিজয় অভিযানে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) মুজাবুদ দাওয়াহ (যার দোয়া কবুল হয়), আল্লাহ তায়ালার দিকে ধাবিত সালিক এবং তাঁর সান্নিধ্যপ্রাপ্ত ছিলেন। তিনি উচ্চতর কারামত এবং মহিমান্বিত মাকামসমূহের অধিকারী ছিলেন। আল্লাহ তায়ালা তার রহস্যকে পবিত্র করুন।
তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আরেফ বিল্লাহ তায়ালা শেখ আশিক পাশা, যিনি উল্লিখিত শেখ মুখলিস বাবার পুত্র তিনি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) কারামান অঞ্চলের কিরশেহির নামক স্থানে বসবাস করতেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১)
আশ-শাকায়িকুন নুমানিয়া ফী উলামায়িদ্দাওলাতিল উসমানিয়া
(পৃষ্ঠা: ٨)
وقبره مَشْهُور هُنَاكَ تستجاب عِنْده الدَّعْوَات وَالنَّاس يتبركون بِهِ كَانَ قدس سره عابدا زاهدا عَارِفًا بِاللَّه وَصِفَاته وعالما بأطوار السلوك ومقامات السالكين وَله كتاب منظوم بالتركية مُشْتَمل على أَحْوَال السلوك واطواره
وَمِنْهُم الشَّيْخ علوان جلبي ابْن الشَّيْخ عاشق باشا الْمَذْكُور توطن رحمه الله فِي مَوضِع قريب من بَلْدَة اماسيه وَمَات هُنَاكَ وَدفن فِيهِ وَقد زرت مرقده الْمُقَدّس فِي عنفوان الشَّبَاب وتبركت بِهِ كَانَ رحمه الله عابدا زاهدا عَارِفًا بِاللَّه تَعَالَى وَكَانَ صَاحب جذبة عَظِيمَة وَله نظم ايضا فِي أطوار السلوك
وَمِنْهُم الشَّيْخ الْعَارِف بِاللَّه الشَّيْخ حسن كَانَ عابدا زاهدا مجاب الدعْوَة ومظهر الكرامات ومعدن البركات وَكَانَ لَهُ زَاوِيَة قريبَة من دَار السَّعَادَة ببلدة بروسه وَكَانَ يلقب بأخي حسن قدس تَعَالَى سره الْعَزِيز
الطَّبَقَة الثَّانِيَةفِي عُلَمَاء دولة السُّلْطَان اورخان بن عُثْمَان الْغَازِي طيب الله ثراه
بُويِعَ لَهُ بالسلطنة بعد وَفَاة ابيه سنة سِتّ وَعشْرين وَسَبْعمائة وَمن الْعلمَاء فِي زَمَانه
الْعَالم الْعَامِل والفاضل الْكَامِل الْمولى دَاوُد القيصري القراماني اشْتغل فِي بِلَاده ثمَّ ارتحل الى مصر وقرا على علمائه التَّفْسِير والْحَدِيث والاصول وبرع فِي الْعُلُوم الْعَقْلِيَّة وَحصل علم التصوف وَشرح فصوص ابْن الْعَرَبِيّ وَوضع لشرحه مُقَدّمَة بَين فِيهَا اصول علم التصوف وَيفهم من كَلَامه فِي تِلْكَ الْمُقدمَة مهارته فِي الْعُلُوم النقلية ايضا وَبنى السُّلْطَان اورخان مدرسة فِي بَلْدَة ازنيق وَهِي على مَا سمعته من الثِّقَات اول مدرسة بنيت فِي الدولة العثمانية وَعين تدريسها للشَّيْخ دَاوُد القيصري فدرس هُنَاكَ وَأفَاد وصنف وأجاد وَكَانَ عابدا زاهدا متورعا صَاحب اخلاق حميدة روح الله روحه
সেখানে তাঁর কবর প্রসিদ্ধ, সেখানে দোয়া কবুল হয় এবং মানুষ তা থেকে বরকত লাভ করে। তিনি (আল্লাহ তাঁর রহস্য পবিত্র করুন) একজন ইবাদতকারী, দুনিয়াবিমুখ, আল্লাহ ও তাঁর গুণাবলি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানধারী এবং আধ্যাত্মিক পরিক্রমার স্তরসমূহ ও পথিকদের মাকাম সম্পর্কে অভিজ্ঞ ছিলেন। তুর্কি ভাষায় তাঁর একটি কাব্যগ্রন্থ রয়েছে যা আধ্যাত্মিক পরিক্রমার অবস্থা ও স্তরসমূহ সম্বলিত।
তাদের অন্যতম হলেন উল্লিখিত শেখ আশিক পাশার পুত্র শেখ আলওয়ান চালাবি আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি আমাসিয়া শহরের নিকটবর্তী একটি স্থানে বসতি স্থাপন করেন এবং সেখানেই ইন্তেকাল করেন ও সমাহিত হন। আমি আমার যৌবনের প্রারম্ভে তাঁর পবিত্র মাজার জিয়ারত করেছি এবং বরকত লাভ করেছি। আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি একজন ইবাদতকারী, দুনিয়াবিমুখ ও মহান আল্লাহ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানধারী ছিলেন এবং তিনি এক মহান আধ্যাত্মিক আকর্ষণের অধিকারী ছিলেন। আধ্যাত্মিক পরিক্রমার স্তরসমূহ নিয়ে তাঁর কাব্যগ্রন্থও রয়েছে।
তাদের অন্যতম হলেন আল্লাহ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানধারী শেখ হাসান তিনি ছিলেন একজন ইবাদতকারী, দুনিয়াবিমুখ, যার দোয়া কবুল হতো এবং তিনি অলৌকিক নির্দশন ও বরকতের আধার ছিলেন। বুরসা শহরের দারুস সাআদাহ-এর নিকটবর্তী তাঁর একটি খানকাহ ছিল। তাঁকে 'আখি হাসান' উপাধিতে ভূষিত করা হতো, আল্লাহ তাঁর মহান রহস্যকে পবিত্র করুন।
দ্বিতীয় স্তরসুলতান উরখান বিন উসমান আল-গাজীর আমলের উলামায়ে কেরামের বিবরণে (আল্লাহ তাঁর মাটি বা কবরকে সুগন্ধিময় করুন)।
সাতশ ছাব্বিশ হিজরি সনে তাঁর পিতার ইন্তেকালের পর তাঁকে সালতানাতের বায়আত প্রদান করা হয়। তাঁর সময়ের আলেমদের মধ্যে অন্যতম হলেন:
আলেম-ই-আমেল ও ফাজেল-ই-কামেল মাওলা দাউদ আল-কায়সারী আল-কারামানি তিনি নিজ দেশে জ্ঞানচর্চায় লিপ্ত হন, অতঃপর মিশরে পাড়ি জমান এবং সেখানকার আলেমদের কাছে তাফসির, হাদিস ও উসুল পাঠ করেন। তিনি যুক্তিভিত্তিক জ্ঞানসমূহে পারদর্শিতা অর্জন করেন এবং তাসাউফ শাস্ত্রের জ্ঞান লাভ করেন। তিনি ইবনে আরাবীর 'ফুসুস' এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেন এবং সেই ব্যাখ্যার জন্য একটি ভূমিকা লেখেন যাতে তাসাউফ শাস্ত্রের মূলনীতিসমূহ বর্ণনা করেন। সেই ভূমিকায় তাঁর বক্তব্য থেকে বর্ণনাভিত্তিক জ্ঞানেও তাঁর দক্ষতার বিষয়টি প্রতীয়মান হয়। সুলতান উরখান ইজনিক শহরে একটি মাদ্রাসা নির্মাণ করেন এবং বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের নিকট থেকে আমি যা শুনেছি সে অনুযায়ী এটিই উসমানীয় রাষ্ট্রে নির্মিত প্রথম মাদ্রাসা। তিনি শেখ দাউদ আল-কায়সারীকে সেখানে পাঠদানের জন্য নিযুক্ত করেন। অতঃপর তিনি সেখানে পাঠদান করেন, জ্ঞান দান করেন এবং অত্যন্ত নিপুণভাবে গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি ছিলেন একজন ইবাদতকারী, দুনিয়াবিমুখ, মুত্তাকী এবং উত্তম চরিত্রের অধিকারী। আল্লাহ তাঁর আত্মাকে প্রশান্তি দান করুন।
(খণ্ড: ১)
আশ-শাকায়িকুন নুমানিয়া ফী উলামায়িদ্দাওলাতিল উসমানিয়া
(পৃষ্ঠা: ٩)
وَمِنْهُم الْمولى الْفَاضِل تَاج الدّين الكردريقَرَأَ رحمه الله على عُلَمَاء عصره مِنْهُم الْعَالم الْفَاضِل سراج الدّين الارموي صَاحب الْمطَالع وَبَيَان الْحِكْمَة وَحصل من الْعُلُوم شَيْئا كثيرا وبرع فِي جَمِيعهَا وتمهر فِي الْفِقْه واشتهرت فضائله فِي الافاق وَلما مَاتَ دَاوُد القيصري مدرسا بمدرسة ازنيق نَصبه السُّلْطَان اورخان مقَامه ودرس هُنَاكَ مُدَّة وَأفَاد طلبة زَمَانه وَكَانَ زوج احدى ابْنَتَيْهِ للشَّيْخ اده بالي الْمَذْكُور وَزوج ابْنَته الاخرى للْمولى خير الدّين القَاضِي ثمَّ صَار هُوَ وزيرا ولقب بِخَير الدّين باشا رُوِيَ عَن بعض الثِّقَات ان السُّلْطَان اورخان الْغَازِي لما حاصر بَلْدَة ازنيق ظهر عَسْكَر الْكفَّار من بعض الجوانب يقصدون السُّلْطَان الْمَذْكُور فتحير السُّلْطَان وشاور مَعَ الْأَمِير شاهين لَا لَا من عبيد السُّلْطَان الْمَذْكُور فَأَشَارَ اليه ان لَا يُؤَخر امْر الْحصار وَقَالَ ان وهبت لي الْغَنِيمَة الْحَاصِلَة من هَؤُلَاءِ الْكفَّار ذهبت اليهم فَقبله السُّلْطَان فَهزمَ الامير الْمَذْكُور عَسْكَر الْكفَّار وَحصل لَهُ مِنْهُم غنيمَة عَظِيمَة فندم السُّلْطَان على مَا فعله فاستفتى من الْمولى الْمَذْكُور وَحكى لَهُ مَا جرى بَينه وَبَين الامير شاهين من هبة الْغَنِيمَة الْمَذْكُورَة لَهُ فقالى الْمولى ان هَذَا عبد اَوْ مُعتق قَالَ السُّلْطَان انه مُعتق فَقَالَ الْمولى ان الْغَنِيمَة لَهُ وَلَا يجوز اخذها مِنْهُ وَبنى ذَلِك الامير بذلك المَال مدرسة بِمَدِينَة بروسا وجسرا ببلدة كرماستي وزاوية
وَمِنْهُم الْعَالم الْعَامِل الْفَاضِل الْكَامِل الْمولى عَلَاء الدّين الاسودشَارِح الْمُغنِي فِي الاصول وشارح الْوِقَايَة اشْتهر عِنْد اهل الرّوم بقره خواجه وارتحل الى بِلَاد الْعَجم وَقَرَأَ على علمائها ثمَّ اتى بِلَاد الرّوم واعطاه السُّلْطَان اورخان مدرسة ازنيق بعد وَفَاة تَاج الدّين الكردري وصنف وَقت تدريسه بِتِلْكَ الْمدرسَة شرح الْوِقَايَة وَهُوَ كتاب حافل كافل لحل مشكلات الْوِقَايَة رَأَيْته فِي مجلدين فطالعته وانتفعت بِهِ شكر الله سَعْيه وَسمعت من بعض الثِّقَات ان الْمولى شمس الدّين الفناري قَرَأَ عَلَيْهِ لَكِن وَقع بَينهمَا مُخَالفَة ومنافرة وَلِهَذَا تَركه وَذهب الى خدمَة الْمولى جمال الدّين الاقسرائي روح الله أروحهم
তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন মহীয়ান মওলা তাজউদ্দীন আল-কুরদারি।তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) তাঁর সমসাময়িক আলেমদের কাছে পাঠ গ্রহণ করেছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন 'আল-মাতালি' এবং 'বায়ানুল হিকমাহ' গ্রন্থের প্রণেতা বিজ্ঞ আলেম সিরাজউদ্দীন আল-উরমুভি। তিনি বিভিন্ন জ্ঞানবিজ্ঞানে প্রভূত পাণ্ডিত্য অর্জন করেন এবং সকল বিষয়ে পারদর্শিতা দেখান। বিশেষ করে ফিকহ শাস্ত্রে তিনি অত্যন্ত দক্ষ হয়ে ওঠেন এবং দিগ-দিগন্তে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ছড়িয়ে পড়ে। যখন ইজনিকে অবস্থিত মাদ্রাসার মুদাররিস দাউদ আল-কায়সারী মৃত্যুবরণ করেন, তখন সুলতান ওরখান তাঁকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করেন। তিনি সেখানে দীর্ঘকাল পাঠদান করেন এবং সমসাময়িক ছাত্রদের অনেক উপকৃত করেন। তাঁর দুই কন্যার মধ্যে একজনের বিবাহ হয়েছিল উল্লেখিত শায়খ এদে বালির সাথে এবং অন্য কন্যার বিবাহ হয়েছিল মওলা খায়রুদ্দীন কাজীর সাথে। পরবর্তীতে তিনি উজির হন এবং 'খায়রুদ্দীন পাশা' উপাধিতে ভূষিত হন। কিছু নির্ভরযোগ্য সূত্রের বর্ণনামতে, সুলতান ওরখান আল-গাজী যখন ইজনিক শহর অবরোধ করেন, তখন কোনো এক দিক থেকে কাফেরদের এক বিশাল বাহিনী সুলতানকে লক্ষ্য করে আবির্ভূত হয়। এতে সুলতান বিচলিত হয়ে পড়েন এবং সুলতানের অনুগত আমির শাহীন লালার সাথে পরামর্শ করেন। তিনি পরামর্শ দেন যে, অবরোধের কাজে যেন বিলম্ব করা না হয় এবং তিনি বললেন, "যদি এই কাফেরদের কাছ থেকে অর্জিত গণিমত আমাকে দান করা হয়, তবে আমি তাদের মোকাবিলা করতে যাব।" সুলতান তাঁর প্রস্তাবে রাজি হলেন। অতঃপর উক্ত আমির কাফের বাহিনীকে পরাজিত করেন এবং তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ গণিমত লাভ করেন। পরে সুলতান তাঁর এই কাজের জন্য অনুতপ্ত হলেন এবং উল্লেখিত মওলার কাছে ফতোয়া চাইলেন। তিনি আমির শাহীনের সাথে সেই গণিমত দান করার ব্যাপারে যা ঘটেছিল তা আদ্যোপান্ত বর্ণনা করলেন। মওলা জিজ্ঞাসা করলেন, "এই ব্যক্তি কি দাস নাকি মুক্ত?" সুলতান বললেন, "তিনি মুক্ত।" তখন মওলা বললেন, "তবে এই গণিমত তাঁরই এবং তা তাঁর কাছ থেকে ফিরিয়ে নেওয়া বৈধ হবে না।" সেই আমির ওই অর্থ দিয়ে বুরসা শহরে একটি মাদ্রাসা, কিরমাস্তি শহরে একটি সেতু এবং একটি খানকাহ নির্মাণ করেন।
তাদের মধ্যে অন্য একজন হলেন আলেম, আমলকারী, বিজ্ঞ ও পূর্ণ গুণসম্পন্ন মওলা আলাউদ্দীন আল-আসওয়াদ।তিনি উসুল শাস্ত্রের গ্রন্থ 'আল-মুগনি' এবং 'আল-বিকায়াহ' এর ব্যাখ্যাকার। রুমের অধিবাসীদের কাছে তিনি 'কারা খাজা' নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি পারস্য দেশসমূহে সফর করেন এবং সেখানকার আলেমদের কাছে পাঠ গ্রহণ করেন। এরপর তিনি রুম দেশে প্রত্যাবর্তন করেন এবং সুলতান ওরখান তাঁকে তাজউদ্দীন আল-কুরদারির ইন্তেকালের পর ইজনিকের মাদ্রাসার দায়িত্ব অর্পণ করেন। সেই মাদ্রাসায় পাঠদানকালে তিনি 'শারহুল বিকায়াহ' গ্রন্থটি রচনা করেন। এটি 'বিকায়াহ' গ্রন্থের জটিলতা নিরসনে একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ কিতাব। আমি এটি দুই খণ্ডে দেখেছি, অধ্যয়ন করেছি এবং এর দ্বারা উপকৃত হয়েছি। আল্লাহ তাঁর প্রচেষ্টাকে কবুল করুন। আমি কিছু নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির কাছে শুনেছি যে, মওলা শামসুদ্দীন আল-ফানারারি তাঁর কাছে পড়াশোনা করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তাঁদের মাঝে কিছু মতপার্থক্য ও দূরত্ব সৃষ্টি হয়, যার ফলে তিনি তাঁকে ত্যাগ করেন এবং মওলা জামালউদ্দীন আল-আকসারায়ির সান্নিধ্যে চলে যান। আল্লাহ তাঁদের আত্মাকে শান্তিতে রাখুন।
(খণ্ড: ১)
আশ-শাকায়িকুন নুমানিয়া ফী উলামায়িদ্দাওলাতিল উসমানিয়া
(পৃষ্ঠা: ١٠)
وَمِنْهُم الْمولى الْعَالم الْفَاضِل مَوْلَانَا خَلِيل الجندريالمشتهر بَين النَّاس بجندر لوقره خَلِيل كَانَ رحمه الله من طلبة الْمولى عَلَاء الدّين الاسود وَكَانَ هُوَ أول قَاض من قُضَاة الْعَسْكَر وقصته ان السُّلْطَان اورخان ذهب يَوْمًا الى بَيت الْمولى عَلَاء الدّين الاسود لاجل زيارته وَلما دخل دَاره وجد الْمولى الْمَذْكُور يُصَلِّي فِي منزله فتوقف سَاعَة وَقَالَ لبَعض الطّلبَة الْحَاضِرين هُنَاكَ اريد ان اصلي ايضا فَتقدم مَوْلَانَا خَلِيل الْمَذْكُور وَصلى هُوَ والحاضرون خَلفه وَلما خرج الْمولى عَلَاء الدّين من بَيته قَالَ لَهُ السُّلْطَان الرعايا يتحاكمون الي وَأَنا على السّفر وَلَا علم لي بالاحكام الشَّرْعِيَّة فعين لي وَاحِدًا من طلبتك ليسافر معي وَيحكم بَين النَّاس عِنْد الْحَاجة فَقَالَ الْمولى خُذ مَعَك وَاحِدًا من الْحَاضِرين فتضرع الْكل اليه ليرد عَنْهُم هَذِه الْمصلحَة فَقَالَ لَهُ السُّلْطَان عين وَاحِدًا مِنْهُم آخذه جبرا فعين مَوْلَانَا خَلِيلًا الْمَذْكُور فَذهب وَهُوَ يبكي وَمن نَسْله خَلِيل باشا وَزِير السُّلْطَان مرادخان وَالسُّلْطَان مُحَمَّد خَان وَفِي رِوَايَة اخرى ان الْمولى الْمَذْكُور كَانَ قَاضِيا فِي أَوَاخِر سلطنة السُّلْطَان عُثْمَان الْغَازِي ببلدة بلاجوك وَلما فتح السُّلْطَان اورخان بَلْدَة ازنيق نَصبه قَاضِيا بهَا ثمَّ جعله قَاضِيا بِمَدِينَة بروسه وَلما جلس السُّلْطَان مُرَاد الْغَازِي على سَرِير السلطنة جعله قَاضِيا بالعسكر ثمَّ جعله وزيرا وأمير الامراء ولقب نجم الدّين باشا وَالله اعْلَم بِحَقِيقَة الْحَال وَكَانَ رجلا عَاقِلا مُدبرا لامور السلطنة وَكَانَ من اقرباء الشَّيْخ اده بالي الْمَذْكُور
وَمِنْهُم الْعَالم الْفَاضِل الْمولى محسن القيصري قَرَأَ الْعُلُوم على الْمولى مجدالدين القيصري واطلع على فنون كَثِيرَة من أَقسَام الْفُنُون الادبية وانواع الْعُلُوم الشَّرْعِيَّة ثمَّ ارتحل الى الْبِلَاد الشامية وقرا على علمائها التَّفْسِير والْحَدِيث ثمَّ عَاد الى بِلَاده وَتُوفِّي بهَا ونظم تَرْجَمَة كتاب فِي الْفِقْه وأجاد فِيهِ كل الاجادة ونظم ايضا علم الْفَرَائِض نظما حسنا بليغا جَامعا للمسائل ثمَّ شَرحه شرحا بَين فِيهِ دقائقه واسراره وَله شرح على مُخْتَصر الشَّيْخ الاندلسي فِي علم الْعرُوض احسن فِي ترتيبه وَضَمنَهُ فَوَائِد كَثِيرَة
তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন বিজ্ঞ ও মহৎ আলেম মাওলানা খলিল আল-জান্দারিতিনি মানুষের কাছে চান্দারলি-কারা খলিল নামে সুপরিচিত ছিলেন। আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন; তিনি মাওলানা আলাউদ্দীন আল-আসওয়াদের ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তিনিই ছিলেন সামরিক বিচারপতিদের (কাজিউল আসকার) মধ্যে প্রথম। তাঁর ঘটনাটি হলো এই যে, সুলতান উরখান একদিন মাওলানা আলাউদ্দীন আল-আসওয়াদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে তাঁর বাড়িতে যান। যখন তিনি তাঁর ঘরে প্রবেশ করলেন, দেখলেন উক্ত মাওলানা তাঁর নামাজকক্ষে নামাজ পড়ছেন। সুলতান কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেন এবং সেখানে উপস্থিত জনৈক ছাত্রকে বললেন, 'আমিও নামাজ পড়তে চাই'। তখন উল্লিখিত মাওলানা খলিল সামনে এগিয়ে গেলেন এবং সুলতান ও উপস্থিত সকলে তাঁর পেছনে নামাজ আদায় করলেন। যখন মাওলানা আলাউদ্দীন ঘর থেকে বের হলেন, সুলতান তাঁকে বললেন, 'প্রজারা আমার কাছে বিচার নিয়ে আসে, অথচ আমি সফরে থাকি আর শরিয়তের বিধান সম্পর্কে আমার জ্ঞান নেই। তাই আপনার ছাত্রদের মধ্য থেকে একজনকে আমার জন্য মনোনীত করে দিন, যে আমার সাথে সফরে থাকবে এবং প্রয়োজন অনুসারে মানুষের মধ্যে বিচারকার্য পরিচালনা করবে।' তখন মাওলানা বললেন, 'এখানে উপস্থিতদের মধ্য থেকে একজনকে সাথে নিন।' তখন সকলেই এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির জন্য তাঁর কাছে মিনতি করতে লাগল। সুলতান বললেন, 'আপনি একজনকে নির্দিষ্ট করে দিন, আমি তাকে আবশ্যিকভাবেই নিয়ে যাব।' তখন তিনি উল্লিখিত মাওলানা খলিলকে নির্দিষ্ট করলেন। খলিল ক্রন্দনরত অবস্থায় বিদায় নিলেন। সুলতান মুরাদ খান ও সুলতান মুহাম্মদ খানের উজির খলিল পাশা তাঁরই বংশধর। অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে যে, উক্ত মাওলানা সুলতান উসমান গাজীর শাসনের শেষ দিকে বিলেজিক শহরে বিচারক ছিলেন। যখন সুলতান উরখান ইজনিক জয় করেন, তখন তাকে সেখানকার বিচারক নিযুক্ত করেন এবং পরবর্তীতে তাকে বুর্সা শহরের বিচারক বানান। সুলতান মুরাদ গাজী যখন সিংহাসনে আরোহণ করেন, তখন তাকে সামরিক বিচারপতি বানান এবং এরপর তাকে উজির ও প্রধান সেনাপতি (আমিরুল উমারা) পদে নিযুক্ত করেন। তাঁকে 'নাজমউদ্দীন পাশা' উপাধিতে ভূষিত করা হয়। প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে আল্লাহই সর্বাধিক অবগত। তিনি একজন বুদ্ধিমান ও রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি পরিচালনায় বিচক্ষণ ব্যক্তি ছিলেন এবং তিনি উল্লিখিত শেখ এদেবালির নিকটাত্মীয় ছিলেন।
তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন বিজ্ঞ ও মহৎ আলেম মাওলানা মহসিন আল-কায়সারি তিনি মাওলানা মাজদুদ্দীন আল-কায়সারির নিকট জ্ঞান অর্জন করেন এবং সাহিত্যের নানাবিধ শাখা ও শরিয়ত বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে বুৎপত্তি লাভ করেন। অতঃপর তিনি সিরিয়া অঞ্চলে সফর করেন এবং সেখানকার আলেমদের কাছে তাফসির ও হাদিস শাস্ত্র পাঠ করেন। এরপর তিনি নিজ ভূখণ্ডে ফিরে আসেন এবং সেখানেই ইন্তেকাল করেন। তিনি ফিকহ শাস্ত্রের একটি কিতাব ছন্দবদ্ধভাবে অনুবাদ করেন এবং এতে অত্যন্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন। এছাড়াও তিনি ফারাইদ (উত্তরাধিকার আইন) শাস্ত্রকে অত্যন্ত সুন্দর, প্রাঞ্জল ও মাসআলা সম্বলিত কাব্যাকারে সংকলন করেন এবং এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থও রচনা করেন, যাতে এর সূক্ষ্ম রহস্য ও বিষয়াবলি বিশদভাবে বর্ণনা করেন। ইলমে আরুজ (ছন্দতত্ত্ব) বিষয়ে শেখ আল-আন্দালুসির সংক্ষিপ্ত কিতাবের ওপর তাঁর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে, যার বিন্যাস অত্যন্ত চমৎকার এবং এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যে ভরপুর।
(খণ্ড: ১)
আশ-শাকায়িকুন নুমানিয়া ফী উলামায়িদ্দাওলাতিল উসমানিয়া
(পৃষ্ঠা: ١١)
وَمن مَشَايِخ زَمَانه الشَّيْخ الْعَارِف بِاللَّه الشَّيْخ الْمَعْرُوف بِالنِّسْبَةِ الى الغزال وَهُوَ الْمَشْهُور فِي لسانهم بكيكلوبابا وَلم يشْتَهر اسْمه وانما نسب الى الغزال لانه كَانَ يركب الغزال وَكَانَ الغزال مسخرا لَهُ ومولده ببلدة خوي من بلادالعجم ثمَّ ارتحل الى بلادالروم وَحضر فتح بروسا مَعَ السُّلْطَان اورخان رَاكِبًا الغزال وتوطن قَرِيبا من مَدِينَة بروسا وَمَات هُنَاكَ وَدفن بذلك الْموضع وَبنى السُّلْطَان اورخان على قَبره قبَّة وقبره مَشْهُور يزار ويتبرك بِهِ كَانَ قدس سره صَاحب جذبة عَظِيمَة وكرامات سنية متجردا عَن العلائق الدُّنْيَوِيَّة مُنْقَطِعًا الى الحضرة الالهية وَلَقَد زرت مرقده الشريف وَحصل لي عِنْد زيارته انس عَظِيم وَرَأَيْت عِنْده قبر آخر وَسَأَلت حَافظ قُبَّته عَن صَاحب هَذَا الْقَبْر قَالَ لقد سَمِعت انه من اولاد الامير كرميان وَلَقَد ترك الامارة واتصل بِخِدْمَة الشَّيْخ ونال عِنْده الْمَرَاتِب السّنيَّة وَكَانَ من جملَة احباء الشَّيْخ الْمَذْكُور رجل مُسَمّى بطور غوداب من أُمَرَاء السُّلْطَان الْغَازِي وَلما اسن الامير الْمَذْكُور وَضعف عَن الْحَرَكَة توطن فِي مَوضِع قريب من مقَام الشَّيْخ كيكلو بَابا وَذَلِكَ الْمَكَان مُسَمّى الان بطورغودابلي وَكَانَ الامير الْمَذْكُور مداوما لخدمة الشَّيْخ الْمَذْكُور الى ان مَاتَ وَقد أحب السُّلْطَان اورخان الشَّيْخ الْمَزْبُور واعطى لَهُ موضعا قَرِيبا من مقَامه يُقَال لَهُ اينه كول مَعَ مَا حوله من الْقرى وَلم يقبلهَا الشَّيْخ وَقَالَ الْملك وَالْمَال يَنْبَغِي لِلْأُمَرَاءِ والسلاطين وَلَا يحْتَاج اليه الْفُقَرَاء وَلما أبرم عَلَيْهِ السُّلْطَان قَالَ عين لي من مقَامي هَذَا الى هَذَا التل للْفُقَرَاء لاجل الاحتطاب وَسُئِلَ الشَّيْخ الْمَزْبُور عَن شَيْخه فَقَالَ انا من جملَة مريدي بَابا الياس وَمن طَريقَة الشَّيْخ ابي الْوَفَاء الْبَغْدَادِيّ قدس سره وَرُوِيَ ان السُّلْطَان اورخان سَأَلَ مِنْهُ الدُّعَاء لنَفسِهِ فَقَالَ الشَّيْخ اني لَا أغفل عَنْك وَإِذا وَقعت حَاجَة ادعو لَك وَبعد مُدَّة قلع الشَّيْخ شَجَرَة غَرِيبَة وَحملهَا الى مَدِينَة بروسا وَدخل دَار السلطنة بذلك وغرسها فِي دَاخل الْبَاب قَرِيبا من اُحْدُ جانبيه ثمَّ ذهب فَأخْبر السُّلْطَان بذلك ففرح فَرحا شَدِيدا ثمَّ ربى تِلْكَ الشَّجَرَة فعظمت وَهِي بَاقِيَة الى الان
তাঁর সময়ের শায়খদের মধ্যে ছিলেন আল্লাহর পরিচয় লাভকারী শায়খ (আরিফ বিল্লাহ), যিনি হরিণের সাথে সম্পর্কের কারণে সুপরিচিত ছিলেন। তিনি তাঁদের ভাষায় 'কেইকলু বাবা' নামে প্রসিদ্ধ ছিলেন। তাঁর নাম তেমন প্রসিদ্ধি লাভ করেনি, বরং তাঁর নিসবত বা সম্পর্ক ছিল হরিণের সাথে; কারণ তিনি হরিণের পিঠে চড়তেন এবং হরিণ তাঁর অনুগত ছিল। তাঁর জন্ম পারস্য ভূখণ্ডের খোয় নামক জনপদে। অতঃপর তিনি রোম (আনাতোলিয়া) ভূখণ্ডের দিকে যাত্রা করেন এবং হরিণের পিঠে সওয়ার হয়ে সুলতান ওরহানের সাথে বুরসা বিজয়ে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বুরসা শহরের নিকটবর্তী স্থানে বসতি স্থাপন করেন এবং সেখানেই ইন্তেকাল করেন ও সেই স্থানেই তাঁকে সমাহিত করা হয়। সুলতান ওরহান তাঁর কবরের ওপর একটি গম্বুজ নির্মাণ করেন। তাঁর কবরটি প্রসিদ্ধ, যা যিয়ারত করা হয় এবং তা থেকে বরকত হাসিল করা হয়। তিনি (তাঁর গোপন রহস্য পবিত্র হোক) সুমহান আধ্যাত্মিক আকর্ষণ এবং উচ্চমর্যাদার অলৌকিক ক্ষমতার (কেরামত) অধিকারী ছিলেন। তিনি পার্থিব মোহ থেকে মুক্ত এবং আল্লাহ তাআলার সান্নিধ্যে একনিষ্ঠ ছিলেন। আমি তাঁর পবিত্র মাজার যিয়ারত করেছি এবং তাঁর যিয়ারতের সময় আমার এক গভীর প্রশান্তি লাভ হয়েছে। আমি সেখানে আরেকটি কবর দেখতে পাই এবং গম্বুজের খাদেমকে সেই কবরের অধিবাসী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: আমি শুনেছি যে, তিনি আমির কেরমিয়ানের সন্তানদের একজন ছিলেন। তিনি আমীরশাহি ত্যাগ করে শায়খের খিদমতে নিজেকে নিয়োজিত করেন এবং তাঁর সান্নিধ্যে উচ্চতর মর্যাদা লাভ করেন। উক্ত শায়খের মুহিব্বীনদের মধ্যে 'তুরগুত আল্প' নামক এক ব্যক্তি ছিলেন, যিনি সুলতান গাজীর আমিরদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। যখন উক্ত আমির বৃদ্ধ হয়ে পড়েন এবং চলাফেরায় অক্ষম হয়ে যান, তখন তিনি শায়খ কেইকলু বাবার মাকামের নিকটবর্তী এক স্থানে বসতি স্থাপন করেন। সেই স্থানটি বর্তমানে 'তুরগুত আল্পলি' নামে পরিচিত। উক্ত আমির তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত নিয়মিত উক্ত শায়খের খিদমতে নিয়োজিত ছিলেন। সুলতান ওরহান উক্ত শায়খকে অত্যন্ত মহব্বত করতেন এবং তিনি তাঁর মাকামের নিকটবর্তী 'ইনেগুল' নামক একটি স্থান ও তার চারপাশের গ্রামগুলো তাঁকে দান করেন। কিন্তু শায়খ তা গ্রহণ করেননি এবং বলেন: রাজত্ব ও সম্পদ আমির ও সুলতানদের জন্যই শোভনীয়, ফকিরদের এর কোনো প্রয়োজন নেই। যখন সুলতান এ ব্যাপারে পীড়াপীড়ি করলেন, তখন তিনি বললেন: আমার এই অবস্থানস্থল থেকে ঐ পাহাড় পর্যন্ত জায়গাটি ফকিরদের জন্য কাঠ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে নির্ধারণ করে দিন। উক্ত শায়খকে তাঁর শায়খ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: আমি বাবা ইলিয়াসের মুরিদদের অন্তর্ভুক্ত এবং শায়খ আবু আল-ওয়াফা আল-বাগদাদীর (তাঁর গোপন রহস্য পবিত্র হোক) তরিকার অনুসারী। বর্ণিত আছে যে, সুলতান ওরহান তাঁর কাছে নিজের জন্য দোয়া চেয়েছিলেন। শায়খ বললেন: আমি আপনার ব্যাপারে উদাসীন নই এবং কোনো প্রয়োজন দেখা দিলে আপনার জন্য দোয়া করব। কিছুকাল পর শায়খ একটি অদ্ভুত গাছ উপড়ে নিয়ে বুরসা শহরে আসলেন এবং সুলতানের প্রাসাদে প্রবেশ করে প্রবেশদ্বারের এক পাশে সেটি রোপণ করলেন। অতঃপর তিনি গিয়ে সুলতানকে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হলেন। এরপর সেই গাছটির পরিচর্যা করা হলো এবং সেটি বিশাল আকার ধারণ করল। গাছটি আজও টিকে আছে।
(খণ্ড: ১)
আশ-শাকায়িকুন নুমানিয়া ফী উলামায়িদ্দাওলাতিল উসমানিয়া
(পৃষ্ঠা: ١٢)
وَمِنْهُم الشَّيْخ الْعَارِف بِاللَّه قره جه احْمَد كَانَ رحمه الله من بلادالعجم من أَبنَاء بعض الْمُلُوك وَلما حصلت لَهُ الجذبة ترك بِلَاده وأتى بلادالروم وتوطن فِي مَوضِع قريب من اقحصار وقبره هُنَاكَ مَشْهُور يتبرك بِهِ ويزار ويستجاب عِنْده الدُّعَاء ويستشفي بِهِ الْمَرِيض وَذَلِكَ مَشْهُور فِي بِلَادنَا عندالخواص والعوام قدس الله سره الْعَزِيز
وَمِنْهُم الشَّيْخ الْعَارِف بِاللَّه أخي اوران كَانَ رحمه الله صَاحب دعوات مستجابة وأنفاس مستطابة وَظَهَرت مِنْهُ كرامات سنية قدس الله سره الْعَزِيز
وَمِنْهُم الشَّيْخ المجذوب مُوسَى ابدالحضر مَعَ السُّلْطَان اورخان فتح بروسا وقبره مَشْهُور هُنَاكَ وَمن كراماته انه اخذ جَمْرَة ولفها فِي قطنه وأرسلها مَعَ وَاحِد من أحبائه الى الشَّيْخ الْمَزْبُور كيكلوبابا وَلما رَآهَا الشَّيْخ ارسل مَعَه قَصْعَة فِيهَا لبن فَلَمَّا أَتَى بِهِ الى الشَّيْخ مُوسَى تعجب من ذَلِك وَقَالَ الرجل الْمَذْكُور اللَّبن كثير فَأَي فَائِدَة فِي ارساله فَقَالَ الشَّيْخ مُوسَى انه غلب عَليّ لانه لبن الغزال وتسخير الْحَيَوَان اصعب من تسخير النَّبَات
وَمِنْهُم الشَّيْخ المجذوب ابدال مُرَادحضر مَعَ السُّلْطَان اورخان فتح بروسا وقبره مَشْهُور هُنَاكَ فِي مَوضِع عَال
وَمِنْهُم الشَّيْخ المجذوب الْمَشْهُور بَدو غلوباباحضر مَعَ السُّلْطَان اورخان فتح بروسا وَكَانَ يهيء للغزاة لَبَنًا ممزوجا بِالْمَاءِ ويقسمه عَلَيْهِم وَقت عطشهم ودوغ عبارَة عَن ذَلِك فِي لسانهم وَله مَوضِع مَنْسُوب اليه على جبل قريب من مَدِينَة بروسا عَلَيْهِ الرَّحْمَة والرضوان
الطَّبَقَة الثَّالِثَةفِي عُلَمَاء دولة السُّلْطَان مُرَاد بن اورخان الْغَازِي الْمَشْهُور عِنْد النَّاس بغازي خداوند كار روح الله روحه وَنور ضريحه بُويِعَ لَهُ بالسلطنة بعد وَفَاة ابيه فِي سنة احدى وَسِتِّينَ وَسَبْعمائة وَمن الْعلمَاء فِي زَمَانه الْمولى مَحْمُود القَاضِي بِمَدِينَة بروسا ولد رَحمَه
তাদের মধ্যে রয়েছেন আল্লাহওয়ালা আরেফ শেখ কারাজা আহমদ। আল্লাহ তাঁর উপর রহম করুন, তিনি অনারব দেশীয় কোনো এক রাজার পুত্র ছিলেন। যখন তাঁর মধ্যে ঐশ্বরিক আকর্ষণ (জাযবা) সৃষ্টি হলো, তিনি স্বদেশ ত্যাগ করে রোম (আনাতোলিয়া) দেশে চলে আসেন এবং আকহিসারের নিকটবর্তী একটি স্থানে বসতি স্থাপন করেন। সেখানে তাঁর কবর সুপরিচিত, যা থেকে বরকত হাসিল করা হয় এবং যিয়ারত করা হয়। তাঁর কবরের নিকট দোয়া কবুল হয় এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা সেখানে আরোগ্য লাভ করে। আমাদের দেশে বিশিষ্ট ও সাধারণ সবার কাছেই এটি সুপ্রসিদ্ধ। আল্লাহ তাঁর মহান রহস্যকে পবিত্র করুন।
তাদের মধ্যে রয়েছেন আল্লাহওয়ালা আরেফ শেখ আখি ওরান। আল্লাহ তাঁর উপর রহম করুন, তিনি ছিলেন কবুল হওয়া দোয়ার অধিকারী এবং পবিত্র নিশ্বাসের অধিকারী। তাঁর থেকে উচ্চমর্যাদাপূর্ণ কারামত প্রকাশিত হয়েছে। আল্লাহ তাঁর মহান রহস্যকে পবিত্র করুন।
তাদের মধ্যে রয়েছেন মজজুব শেখ মুসা আবদাল।তিনি সুলতান ওরখানের সাথে বুরসা বিজয়ে উপস্থিত ছিলেন এবং সেখানে তাঁর কবর সুপরিচিত। তাঁর কারামতসমূহের মধ্যে একটি হলো, তিনি একটি জ্বলন্ত অঙ্গার নিয়ে তা তুলায় পেঁচিয়ে তাঁর এক প্রিয়জনের মাধ্যমে উল্লেখিত শেখ গেকলু বাবার নিকট পাঠিয়েছিলেন। শেখ যখন সেটি দেখলেন, তিনি তাঁর সাথে এক বাটি দুধ পাঠিয়ে দিলেন। যখন সেই ব্যক্তি তা শেখ মুসার নিকট নিয়ে এলেন, তিনি এতে আশ্চর্যান্বিত হলেন। সেই ব্যক্তিটি বলল, দুধ তো অনেক আছে, এটি পাঠানোর ফায়দা কী? তখন শেখ মুসা বললেন, তিনি (গেকলু বাবা) আমার ওপর জয়ী হয়েছেন, কারণ এটি হরিণীর দুধ। আর পশুকে বশীভূত করা উদ্ভিদকে বশীভূত করার চেয়ে কঠিন।
তাদের মধ্যে রয়েছেন মজজুব শেখ আবদাল মুরাদ।তিনি সুলতান ওরখানের সাথে বুরসা বিজয়ে উপস্থিত ছিলেন এবং সেখানে একটি উঁচু স্থানে তাঁর কবর সুপরিচিত।
তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রখ্যাত মজজুব শেখ দোগলু বাবা।তিনি সুলতান ওরখানের সাথে বুরসা বিজয়ে উপস্থিত ছিলেন। তিনি যোদ্ধাদের জন্য পানির সাথে মেশানো দুধ (ঘোল) প্রস্তুত করতেন এবং তৃষ্ণার সময় তাদের মধ্যে তা বণ্টন করতেন। তাঁদের ভাষায় 'দোগ' বলতে সেটিই বোঝায়। বুরসা শহরের নিকটবর্তী একটি পাহাড়ে তাঁর সাথে সম্পর্কিত একটি স্থান রয়েছে। তাঁর ওপর রহমত ও সন্তুষ্টি বর্ষিত হোক।
তৃতীয় স্তরসুলতান ওরখান গাজীর পুত্র সুলতান মুরাদ—যিনি মানুষের নিকট গাজী খুদাভান্দেগার নামে পরিচিত (আল্লাহ তাঁর আত্মাকে প্রশান্তি দিন এবং তাঁর কবরকে নূরানি করুন)—এর আমলের আলেমদের বর্ণনা। তাঁর পিতার মৃত্যুর পর সাতশ একষট্টি হিজরিতে তাঁর হাতে সালতানাতের বায়আত গ্রহণ করা হয়। তাঁর সময়ের আলেমদের মধ্যে অন্যতম হলেন বুরসা শহরের কাজী মাওলা মাহমুদ... [অসমাপ্ত বাক্য] রহমুল্লাহ।
(খণ্ড: ১)
আশ-শাকায়িকুন নুমানিয়া ফী উলামায়িদ্দাওলাতিল উসমানিয়া
(পৃষ্ঠা: ١٣)
الله بِموضع يُقَال لَهُ سُلْطَان اوكي وَقَرَأَ على عُلَمَاء زَمَانه الْعُلُوم الْعَرَبيَّة والشرعية وَالتَّفْسِير والْحَدِيث وبرع فِي كل مِنْهَا ثمَّ استقضاه السُّلْطَان مُرَاد الْغَازِي بِمَدِينَة بروسا وَكَانَ قَاضِيا بهَا مُدَّة كَبِيرَة وَكَانَ رجلا عَالما صَالحا تقيا متورعا مرضِي السِّيرَة فِي قَضَائِهِ وَلِهَذَا كَانَ النَّاس يحبونه محبَّة شَدِيدَة وَكَانَ شَيخا هرما وَلِهَذَا سموهُ بقوجه افندي رُوِيَ انه لما زوج السُّلْطَان مُرَاد بنت ابْن الامير كرميان لِابْنِهِ السُّلْطَان بايزيد خَان ارسل الْمولى الْمَذْكُور مَعَ جمع كثير من الامراء الْكِرَام والخواقين الْعِظَام وَجعل الْمولى الْمَذْكُور رَئِيسا لهَؤُلَاء الْجَمَاعَة وارسله مَعَهم وَكَانَ للْمولى الْمَذْكُور ولد اسْمه مُحَمَّد وَكَانَ عَالما فَاضلا الا انه مَاتَ فِي سنّ الشَّبَاب وأعقب ولدا اسْمه مُوسَى باشا وَهُوَ حصل فِي بِلَاده بَعْضًا من الْعُلُوم وَلما سمع صيت الْعلم فِي بلادالعجم عزم ان يذهب اليها لتَحْصِيل الْعلم لكنه كتم الْعَزْم عَن اقاربه وفطنت لذَلِك اخته فَوضعت بَين كتبه شَيْئا كثيرا من حليها ليستعين فِي ديار الغربة فارتحل الى بِلَاد الْعَجم وَقَرَأَ على مَشَايِخ خُرَاسَان ثمَّ ارتحل الى مَا وَرَاء النَّهر وَقَرَأَ على علمائها ايضا وَحصل هُنَاكَ علوما كَثِيرَة وَبلغ من مَرَاتِب الْفضل اعلاها واشتهرت فضائله وَبعد صيته وَدَار على الالسنة ذكره ولقبوه بقاضي زَاده رومي واتصل بِخِدْمَة ملك سَمَرْقَنْد وَهُوَ الامير الاعظم الغ بك ابْن شاه بن الامير تيمور وَاقْبَلْ الامير الْمَذْكُور عَلَيْهِ اقبالا عَظِيما وقرا عَلَيْهِ بعض الْعُلُوم وَكَانَ الامير الْمَذْكُور محبا للعلوم الرياضية فَقَرَأَ عَلَيْهِ من الْعُلُوم الرياضية كتبا كَثِيرَة واعتنى هُوَ بالرياضة اشد اعتناء حَتَّى برع فِيهَا وفَاق على أقرانه بل على من تقدمه وَشرح اشكال التأسيس فِي الهندسة فِي سنة خمس عشرَة وَثَمَانمِائَة وَشرح كتاب الجغمني فِي الْهَيْئَة فِي سنة ارْبَعْ عشرَة وَثَمَانمِائَة وَاعْتذر فِي خطبَته عَن ترك وَطنه وإقامته بسمرقند وَقَالَ
… وَلَا عيب فيهم غير ان ضيوفهم
… تلام بنسيان الاحبة والوطن
…
قَرَأت الشرحين الْمَذْكُورين على الْمولى الْوَالِد روح الله روحه وقرأهما هُوَ على خَاله الْمولى مُحَمَّد النكساري رحمه الله وقرأهما هُوَ على مَوْلَانَا فتح الله الشيرواني وقرأهما هُوَ على الْمولى الشَّارِح رحمه الله يروي انه قَرَأَ على السَّيِّد
তিনি সুলতান ওকি নামক একটি স্থানে জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর সমসাময়িক আলেমদের নিকট আরবি ভাষা, শরিয়ত সংক্রান্ত শাস্ত্র, তাফসির ও হাদিস পাঠ করেন এবং এগুলোর প্রতিটিতে দক্ষতা অর্জন করেন। অতঃপর সুলতান মুরাদ গাজী তাঁকে বুর্সা শহরে বিচারক হিসেবে নিযুক্ত করেন এবং তিনি সেখানে দীর্ঘকাল বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন একজন আলিম, সৎকর্মশীল, ধর্মভীরু ও পরহেজগার ব্যক্তি এবং তাঁর বিচারকার্যে তাঁর কর্মপদ্ধতি ছিল সন্তোষজনক; এই কারণে মানুষ তাঁকে অত্যন্ত ভালোবাসত। তিনি অত্যন্ত বয়োবৃদ্ধ ছিলেন, তাই তারা তাঁকে ‘কোজাহ এফেন্দি’ বলে ডাকতেন। বর্ণিত আছে যে, সুলতান মুরাদ যখন আমির কারমিয়ানের পৌত্রীকে তাঁর পুত্র সুলতান বায়েজিদ খানের সাথে বিয়ে দেন, তখন তিনি উক্ত মওলানা সাহেবকে অনেক সম্মানিত আমির ও মহান খাকানদের একটি দলের সাথে প্রেরণ করেন এবং তাঁকে সেই দলের প্রধান নিযুক্ত করেন। উক্ত মওলানার মুহাম্মদ নামে একজন পুত্র ছিল, যিনি একজন শ্রেষ্ঠ আলিম ছিলেন; তবে তিনি যৌবনকালেই মৃত্যুবরণ করেন এবং মুসা পাশা নামে একজন পুত্র রেখে যান। তিনি (মুসা পাশা) নিজ দেশে কিছু শাস্ত্র অর্জন করেন এবং যখন অনারব দেশসমূহে ইলমের সুখ্যাতি শুনতে পান, তখন ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে সেখানে যাওয়ার সংকল্প করেন, কিন্তু তিনি তাঁর আত্মীয়-স্বজনদের নিকট এই সংকল্প গোপন রাখেন। তাঁর বোন বিষয়টি বুঝতে পেরে তাঁর কিতাবপত্রের মাঝে নিজের অনেক অলঙ্কার রেখে দেন যাতে তিনি প্রবাস জীবনে তা দিয়ে সাহায্য পেতে পারেন। অতঃপর তিনি অনারব দেশে পাড়ি জমান এবং খোরাসানের শায়খদের নিকট পাঠ গ্রহণ করেন, এরপর মা-ওয়ারাউন নাহর অঞ্চলে গমন করেন এবং সেখানকার উলামাদের নিকট থেকেও শিক্ষালাভ করেন। সেখানে তিনি অনেক জ্ঞান অর্জন করেন এবং শ্রেষ্ঠত্বের উচ্চতম শিখরে আরোহণ করেন। তাঁর গুণাবলি প্রসিদ্ধি লাভ করে, তাঁর সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষের মুখে মুখে তাঁর আলোচনা হতে থাকে; তারা তাঁকে ‘কাজি জাদাহ রুমি’ উপাধিতে ভূষিত করে। তিনি সমরকন্দের অধিপতি মহান আমির উলুগ বেগ ইবনে শাহ ইবনে আমির তৈমুরের সান্নিধ্যে আসেন। উক্ত আমির তাঁর প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেন এবং তাঁর নিকট কিছু শাস্ত্র পাঠ করেন। উক্ত আমির গণিতশাস্ত্রের প্রতি অনুরাগী ছিলেন, ফলে তিনি তাঁর নিকট গণিতশাস্ত্রের অনেক কিতাব পাঠ করেন। তিনি (কাজি জাদাহ) গণিতশাস্ত্রের প্রতি অত্যন্ত মনোনিবেশ করেন, এমনকি তিনি এতে ব্যুৎপত্তি লাভ করেন এবং তাঁর সমসাময়িকদের, এমনকি তাঁর পূর্ববর্তীদেরও ছাড়িয়ে যান। তিনি ৮১৫ হিজরি সনে জ্যামিতি বিষয়ক ‘আشকালুত তাসিস’ গ্রন্থের ব্যাখ্যা রচনা করেন এবং ৮১৪ হিজরি সনে জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক ‘আল-জাগমিনি’ কিতাবের ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেন। তিনি তাঁর ভূমিকার বক্তব্যে নিজ দেশ ত্যাগ করা এবং সমরকন্দে অবস্থানের বিষয়ে ওজর পেশ করেন এবং বলেন
... তাদের মাঝে অন্য কোনো দোষ নেই তবে তাদের মেহমানদের
... প্রিয়জন ও স্বদেশকে ভুলে যাওয়ার কারণে তিরস্কার করা হয়
...
আমি উক্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থ দুটি মওলানা পিতার নিকট পাঠ করেছি—আল্লাহ তাঁর আত্মাকে শান্তিতে রাখুন—এবং তিনি তা পাঠ করেছেন তাঁর মামা মওলানা মুহাম্মদ নিকসারির নিকট—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—এবং তিনি তা পাঠ করেছেন আমাদের মওলানা ফাতহুল্লাহ শিরওয়ানির নিকট এবং তিনি তা পাঠ করেছেন ব্যাখ্যাকার মওলার নিকট—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—বর্ণিত আছে যে তিনি সাইয়্যেদের নিকট পাঠ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আশ-শাকায়িকুন নুমানিয়া ফী উলামায়িদ্দাওলাতিল উসমানিয়া
(পৃষ্ঠা: ١٤)
الشريف وَلم تحصل الْمُوَافقَة بَينهمَا فَترك درسه وَقَالَ السَّيِّد الشريف فِي حَقه غلب على طبعه الرياضيات وَقَالَ هُوَ فِي حق السَّيِّد الشريف هولا يقدر على الافادة لي فِي الْعُلُوم الرياضية ثمَّ إِنَّه طالع شرح المواقف للسيدالشريف ورد كثيرا من موَاضعه لكنه لم يكْتب بل أَشَارَ فِي حَاشِيَة الْكتاب الى تِلْكَ الْمَوَاضِع بِحَلقَة رسمها بالقلم وَالْعُلَمَاء فِي بِلَاد الْعَجم يمْتَحنُونَ الطلاب بِالْوُقُوفِ على مَا قَصده من الرَّد ويحكى انه كَانَ فِي بَلْدَة سَمَرْقَنْد مدرسة مربعة لَهَا حجرات كَثِيرَة وَوَضَعُوا فِي كل ضلع مِنْهَا مَوضِع درس وعينوا لكل مَوضِع مِنْهَا مدرسا رئيسيهم الْمولى الْمَذْكُور وَكَانَ من عَادَتهم ان المدرسين مَعَ طلبتهم يَجْتَمعُونَ عِنْد الْمولى الْمَذْكُور فيقرؤن عَلَيْهِ الدَّرْس ثمَّ يذهب الْمولى الْمَذْكُور الى منزله فيدرس كل مدرس فِي مَوضِع عين لَهُ وَكَانَ يحضر الامير الغ بك فِي بعض الاحيان درس الْمولى الْمَذْكُور وَاتفقَ ان عزل الامير الْمَذْكُور وَاحِدًا من هَؤُلَاءِ المدرسين فَترك الْمولى الْمَذْكُور اياما فَظن الغ بك انه وَقعت لَهُ عارضة مزاجية فَذهب الى بَيته لعيادته فَإِذا هُوَ صَحِيح فَسَأَلَهُ عَن سَبَب تَركه الدَّرْس مُنْذُ أَيَّام فَقَالَ اني خدمت بَعْضًا من مَشَايِخ الصُّوفِيَّة فأوصاني ان لَا اتولى المناصب الدُّنْيَوِيَّة الا منصبا لَا يعْزل صَاحبه عَنهُ عَادَة فَكنت ظَنَنْت الان ان التدريس كَذَلِك فَلَمَّا علمت انه يعْزل صَاحبه عَنهُ تركته فَاعْتَذر الامير الغ بك عَن فعله وتضرع اليه فِي قبُول التدريس وَأعَاد الْمدرس الَّذِي عَزله الى مقَامه وَحلف ان لَا يعْزل بعد ذَلِك مدرسا اصلا فَقبل الْمولى الْمَذْكُور التدريس ثمَّ ان الامير الغ بك قصد رصد الْكَوَاكِب لما رأى من الخللل فِي ارصاد الْمُتَقَدِّمين فرتب مَكَان الرصد بسمرقند فتولاه اولا غياث الدّين جمشيد فَلم يلبث الا قَلِيلا حَتَّى مَاتَ ثمَّ تولاه قَاضِي زَاده الرُّومِي فتوفاه الله تَعَالَى قبل اتمامه وأكمله الْمولى عَليّ بن مُحَمَّد القوسجي وستجيء تَرْجَمته تغمدهم الله تَعَالَى بغفرانه
وَمِنْهُم الْمولى الاعظم الشَّيْخ جمال الدّين مُحَمَّد بن مُحَمَّد الاقسرائي قدس الله سره الْعَزِيزكَانَ عَالما فَاضلا كَامِلا تقيا نقيا عَارِفًا بالعلوم الْعَرَبيَّة والشرعية والعقلية وَقد
শরীফ এবং তাঁর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি, ফলে তিনি তাঁর পাঠদান ত্যাগ করেন। সাইয়্যিদ শরীফ তাঁর সম্পর্কে বলেছিলেন যে, গণিতশাস্ত্র তাঁর স্বভাবের ওপর জয়ী হয়ে আছে। আর তিনি সাইয়্যিদ শরীফ সম্পর্কে বলেছিলেন যে, গাণিতিক বিজ্ঞানে তিনি আমাকে উপকৃত করতে সক্ষম নন। অতঃপর তিনি সাইয়্যিদ শরীফের 'শরহুল মাওয়াকিফ' অধ্যয়ন করেন এবং এর অনেক স্থানের ওপর আপত্তি উত্থাপন করেন; তবে তিনি তা লিখে যাননি, বরং কিতাবের পার্শ্বটীকায় কলম দিয়ে বৃত্ত এঁকে সেই স্থানগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে গিয়েছেন। পারস্যের আলেমগণ ছাত্রদেরকে তাঁর খণ্ডন বা আপত্তির উদ্দেশ্যগুলো অনুধাবনের মাধ্যমে পরীক্ষা করতেন। বর্ণিত আছে যে, সমরকন্দ শহরে একটি চতুর্ভুজাকৃতি মাদ্রাসা ছিল যার অনেকগুলো কক্ষ ছিল। এর প্রত্যেক বাহুতে একটি করে পাঠদানের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং প্রত্যেক স্থানের জন্য একজন প্রধান শিক্ষক নিযুক্ত ছিলেন, যাঁদের প্রধান ছিলেন উক্ত মাওলা। তাঁদের রীতি ছিল এই যে, শিক্ষকগণ তাঁদের ছাত্রদের নিয়ে উক্ত মাওলার নিকট সমবেত হতেন এবং তাঁর নিকট পাঠ গ্রহণ করতেন। অতঃপর উক্ত মাওলা তাঁর বাসভবনে চলে যেতেন এবং প্রত্যেক শিক্ষক তাঁদের জন্য নির্ধারিত স্থানে পাঠদান করতেন। আমির উলুগ বেগ মাঝেমধ্যে উক্ত মাওলার পাঠে উপস্থিত হতেন। ঘটনাচক্রে উক্ত আমির এই শিক্ষকদের মধ্য থেকে একজনকে বরখাস্ত করেন। ফলে উক্ত মাওলা কয়েক দিন পাঠদান বন্ধ রাখেন। উলুগ বেগ ধারণা করলেন যে, হয়তো তাঁর কোনো শারীরিক অসুস্থতা ঘটেছে, তাই তিনি তাঁর কুশল বিনিময়ের জন্য তাঁর বাড়িতে গেলেন। সেখানে গিয়ে তাঁকে সুস্থ দেখতে পেলেন। তিনি কয়েক দিন যাবৎ পাঠদান বন্ধ রাখার কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: "আমি কয়েকজন সুফি মাশায়েখের খিদমত করেছি, তাঁরা আমাকে অসিয়ত করেছেন যেন আমি এমন কোনো দুনিয়াবি পদ গ্রহণ না করি যেখান থেকে সাধারণত তার অধিকারীকে বরখাস্ত করা যায় না। আমি এতকাল মনে করেছিলাম যে পাঠদানের পদটি তেমনই; কিন্তু যখন জানতে পারলাম যে এখান থেকে বরখাস্ত করা হয়, তখন আমি তা ছেড়ে দিয়েছি।" আমির উলুগ বেগ তাঁর কাজের জন্য ক্ষমা চাইলেন এবং পাঠদান পুনরায় শুরু করার জন্য তাঁর নিকট অনুনয়-বিনয় করলেন। তিনি বরখাস্তকৃত শিক্ষককে তাঁর পদে পুনর্বহাল করলেন এবং কসম করলেন যে ভবিষ্যতে তিনি আর কোনো শিক্ষককে বরখাস্ত করবেন না। অতঃপর উক্ত মাওলা পাঠদান গ্রহণে সম্মত হলেন। এরপর আমির উলুগ বেগ পূর্ববর্তীদের পর্যবেক্ষণে ত্রুটি পরিলক্ষিত হওয়ায় নক্ষত্র পর্যবেক্ষণের সঙ্কল্প করলেন। তিনি সমরকন্দে একটি মানমন্দির নির্মাণ করেন। প্রথমে গিয়াসুদ্দিন জামশিদ এর দায়িত্ব পালন করেন, কিন্তু তিনি অল্পকাল পরেই ইন্তেকাল করেন। এরপর কাজী জাদা রূমী এর দায়িত্ব নেন, তিনিও এটি সমাপ্ত করার পূর্বেই আল্লাহ তাআলার সান্নিধ্যে চলে যান। পরিশেষে মাওলা আলী বিন মুহাম্মাদ আল-কুশজী এটি সম্পন্ন করেন এবং অচিরেই তাঁর জীবনী আসবে। আল্লাহ তাআলা তাঁদেরকে তাঁর ক্ষমার চাদরে আবৃত করুন।
তাঁদেরই অন্তর্ভুক্ত হলেন মহান মাওলা শায়খ জামালুদ্দিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ আল-আকসারায়ী (আল্লাহ তাঁর পবিত্র রহস্যকে মহিমান্বিত করুন)তিনি ছিলেন একজন বিদগ্ধ আলেম, পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তিত্ব, অতিশয় পরহেজগার, পবিত্র চরিত্রের অধিকারী এবং আরবি, শরিয়ত ও আকলি (যুক্তিনির্ভর) বিদ্যায় পারদর্শী। তিনি...
(খণ্ড: ১)
আশ-শাকায়িকুন নুমানিয়া ফী উলামায়িদ্দাওলাতিল উসমানিয়া
(পৃষ্ঠা: ١٥)
درس فَأفَاد وصنف فأجاد وانتفع بِهِ كثير من الْفُضَلَاء وَتخرج عِنْده جمع من الْعلمَاء كتب حَوَاشِي على الْكَشَّاف وصنف شرح الايضاح فِي الْمعَانِي وَشرح الانموذج فِي الطِّبّ رُوِيَ ان الْمولى الْمَذْكُور من نسل الامام فَخر الدّين الرَّازِيّ وَهُوَ رَابِع مرتبَة مِنْهُم لانه هُوَ الْمولى جمال الدّين مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن مُحَمَّد ابْن الامام فَخر الدّين مُحَمَّد الرَّازِيّ روح الله أَرْوَاحهم وَكَانَ رحمه الله مدرسا فِي بِلَاد قرامان بمدرسة مَشْهُورَة بمدرسة السلسلة وَقد شَرط بانيها ان لَا يدرس فِيهَا الا من حفظ الصِّحَاح للجوهري فَتعين لذَلِك الْمولى جمال الدّين الْمَذْكُور فِي زَمَانه وَكَانَ طلبته ثَلَاث طَبَقَات الادنى مِنْهُم من يستفيدون مِنْهُ فِي ركابه عِنْد ذَهَابه الى الدَّرْس وَسَمَّاهُمْ بالمشائية والاوسطين مِنْهُم من يسكنون فِي رواق الْمدرسَة وَسَمَّاهُمْ الرواقيين على عَادَة الْحُكَمَاء الاقدمين والاعلى مِنْهُم من يسكنون فِي دَاخل الْمدرسَة وَكَانَ يدرس اولا للمشائين فِي ركابه ثمَّ ينزل عَن فرسه ويدرس للساكنين فِي الرواق ثمَّ يدْخل الْمدرسَة ويدرس للساكنين فِي داخلها وَكَانَ الْمولى الفناري سَاكِنا فِي رواق الْمدرسَة لحداثة سنه فِي ذَلِك الْوَقْت رُوِيَ انه لما بلغ السَّيِّد الشريف صيت الْمولى جمال الدّين الْمَذْكُور ارتحل الى بلادالروم ليقْرَأ عَلَيْهِ فَلَمَّا قرب مِنْهُ رأى شَرحه للايضاح فَلم يُعجبهُ حَتَّى رُوِيَ انه قَالَ فِي حَقه انه كالذباب على لحم الْبَقر وَإِنَّمَا قَالَ ذَلِك لَان الايضاح كتاب مَبْسُوط لَا يحْتَاج الى الشَّرْح الا فِي بعض الْمَوَاضِع وَالْمولى الْمَذْكُور كتب فِي شَرحه الْمَتْن بِتَمَامِهِ وَضرب عَلَيْهِ بالمداد الاحمر فَبَقيَ الشَّرْح فِيمَا بَينه كالذباب على لحم الْبَقر وَلما قَالَ السَّيِّد الشريف هَذَا الْكَلَام فِي حَقه قَالَ لَهُ بعض الطالبين ان تَقْرِيره احسن من تحريره فقصده السَّيِّد الشريف فَأتى بِلَاد قرامان فصادف دُخُوله الى الْبَلَد موت الْمولى المرحوم جمال الدّين وَلَقي السَّيِّد الشريف هُنَاكَ الْمولى الفناري وَذهب مَعَه الى مَدِينَة مصر فَقَرَأَ ثمت على الشَّيْخ أكمل الدّين روح الله أَرْوَاحهم
وَمِنْهُم الْعَالم الْفَاضِل الْمولى برهَان الدّين احْمَد قَاضِي ارزنجان كَانَ رحمه الله عَالما فَاضلا ورعا تقيا نقيا وَكَانَ أَمِيرا على ارزنجان حِين فَتْرَة من الامراء صنف حَاشِيَة على التَّلْوِيح وسماها التَّرْجِيح وَهِي مَشْهُورَة بَين الْعلمَاء ومقبولة عِنْدهم قَالَ الشَّيْخ شهَاب الدّين بن حجر فِي الدُّرَر الكامنة فِي تَرْجَمته
তিনি পাঠদান করে উপকৃত করেছেন এবং গ্রন্থ রচনা করে শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়েছেন। বহু গুণী ব্যক্তি তাঁর দ্বারা উপকৃত হয়েছেন এবং তাঁর নিকট একদল আলেম শিক্ষা সমাপ্ত করেছেন। তিনি 'আল-কাশশাফ'-এর ওপর টীকা রচনা করেছেন এবং ইলমুল মা'আনির ক্ষেত্রে 'আল-ঈজাহ'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে 'আল-উনমুজাজ'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন। বর্ণিত আছে যে, উল্লিখিত মউলা ইমাম ফখরউদ্দীন আর-রাজীর বংশধর ছিলেন এবং তিনি ছিলেন তাঁর চতুর্থ স্তরের বংশধর; কেননা তিনি হলেন মউলা জামালউদ্দীন মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ ইবন ইমাম ফখরউদ্দীন মুহাম্মদ আর-রাজী, আল্লাহ তাঁদের আত্মাকে পবিত্র করুন। তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) কারামান অঞ্চলে 'মাদরাসাতুস সিলসিলা' নামক এক প্রসিদ্ধ মাদরাসায় শিক্ষক ছিলেন। এর প্রতিষ্ঠাতা শর্ত দিয়েছিলেন যে, জওহরীর 'আস-সিহাহ' গ্রন্থটি যাঁর মুখস্থ নেই, তিনি সেখানে পাঠদান করতে পারবেন না। ফলে তৎকালীন সময়ে উল্লিখিত মউলা জামালউদ্দীনই এর জন্য নির্ধারিত হন। তাঁর ছাত্ররা ছিল তিন স্তরের: নিম্নস্তরের তারা, যারা তাঁর পাঠদানের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে তাঁর সওয়ারির সাথে সাথে চলে উপকৃত হতো, তাদের তিনি 'মাশশায়িয়া' (পরিক্রমণকারী) নামকরণ করেছিলেন। মধ্যস্তরের তারা, যারা মাদরাসার বারান্দায় অবস্থান করত, প্রাচীন দার্শনিকদের রীতি অনুযায়ী তিনি তাদের 'রুওয়াকিয়্যিন' (বারান্দাবাসী) নাম দিয়েছিলেন। আর উচ্চস্তরের তারা, যারা মাদরাসার ভেতরে অবস্থান করত। তিনি প্রথমে সওয়ারিতে থাকা অবস্থায় 'মাশশায়িন'দের পাঠদান করতেন, এরপর ঘোড়া থেকে নেমে বারান্দায় অবস্থানকারীদের পাঠদান করতেন, অতঃপর মাদরাসায় প্রবেশ করে ভেতরে অবস্থানকারীদের পাঠদান করতেন। মউলা আল-ফানারারি সেই সময় তাঁর অল্প বয়সের কারণে মাদরাসার বারান্দায় অবস্থান করতেন। বর্ণিত আছে যে, যখন সাইয়্যিদ শরীফের কাছে উল্লিখিত মউলা জামালউদ্দীনের সুখ্যাতি পৌঁছাল, তখন তিনি তাঁর কাছে পাঠ গ্রহণের জন্য রুম অভিমুখে যাত্রা করেন। যখন তিনি তাঁর নিকটবর্তী হলেন, তখন 'আল-ঈজাহ'-এর ওপর তাঁর লিখিত ব্যাখ্যাগ্রন্থটি দেখেন এবং সেটি তাঁর পছন্দ হয়নি। এমনকি বর্ণিত আছে যে, তিনি এর ব্যাপারে বলেছিলেন: এটি গরুর মাংসের ওপর মাছির মতো। তিনি এ কথাটি এ কারণে বলেছিলেন যে, 'আল-ঈজাহ' একটি বিস্তারিত গ্রন্থ যা কেবল কিছু কিছু স্থান ব্যতীত ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয় না। অথচ উল্লিখিত মউলা তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থে মূল পাঠটি পূর্ণাঙ্গরূপে লিখেছেন এবং তার ওপর লাল কালির রেখা টেনেছেন, ফলে এর মাঝে ব্যাখ্যাটি গরুর মাংসের ওপর মাছির মতো হয়ে রয়ে গেছে। যখন সাইয়্যিদ শরীফ তাঁর সম্পর্কে এই মন্তব্য করলেন, তখন জনৈক ছাত্র তাঁকে বলল যে, তাঁর মৌখিক বর্ণনা তাঁর লেখনীর চেয়েও উত্তম। তখন সাইয়্যিদ শরীফ তাঁর উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন এবং কারামান অঞ্চলে পৌঁছালেন। কিন্তু শহরে তাঁর প্রবেশের মুহূর্তটি মরহুম মউলা জামালউদ্দীনের ইন্তেকালের সাথে মিলে গেল। সাইয়্যিদ শরীফ সেখানে মউলা আল-ফানারিকে পেলেন এবং তাঁর সাথে মিসর শহরে চলে গেলেন। সেখানে তিনি শেখ আকমালউদ্দীনের নিকট পাঠ গ্রহণ করলেন, আল্লাহ তাঁদের আত্মাকে পবিত্র করুন।
তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন প্রাজ্ঞ আলেম মউলা বুরহানউদ্দীন আহমদ, যিনি এরযিনজানের কাজী ছিলেন। তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) একজন প্রাজ্ঞ আলেম, পরহেযগার, মুত্তাকী ও পবিত্র চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। তিনি আমীরদের শাসনকালের এক অন্তর্বর্তী সময়ে এরযিনজানের আমীর ছিলেন। তিনি 'আত-তালবীহ'-এর ওপর একটি টীকা রচনা করেন এবং এর নামকরণ করেন 'আত-তারজীহ'। এটি আলেমদের মাঝে প্রসিদ্ধ এবং তাঁদের নিকট সমাদৃত। শেখ শিহাবউদ্দীন ইবন হাজার 'আদ-দুরারুল কামিনাহ' গ্রন্থে তাঁর জীবনীতে বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
আশ-শাকায়িকুন নুমানিয়া ফী উলামায়িদ্দাওলাতিল উসমানিয়া
(পৃষ্ঠা: ١٦)
تفقه قَلِيلا واشتغل بحلب ثمَّ رَجَعَ الى بَلَده وصادق اميره ثمَّ اتّفق انه وَقع بَينهمَا تنفر فَعمل عَلَيْهِ وَقتل وتسلط مَكَانَهُ وَكَانَ عَارِفًا فَاضلا ذَا هَيْئَة لَهُ نظم وشجاعة وَقد نازله عَسْكَر مصر فِي سنة تسع وَثَمَانِينَ وَسَبْعمائة وَثمّ لما كَانَت سنة تسع وَتِسْعين قابله التتار الَّذين بأرزنجان فاستنجد الظَّاهِر برقوق فَأرْسل اليه جَرِيدَة فَهزمَ التتار ثمَّ وَقع بَينه وَبَين قرا ايلوك بن طور عَليّ فَقتل برهَان الدّين فِي المعركة وَذَلِكَ فِي أَوَاخِر سنة ثَمَانمِائَة اتهى كَلَامه
وَمِنْهُم الشَّيْخ الْعَارِف بِاللَّه تَعَالَى الْحَاج بكتاشكَانَ رحمه الله من جملَة اصحاب الكرامات وأرباب الولايات وقبره بِبِلَاد تركمان وعَلى قَبره قبَّة وَعِنْده زَاوِيَة يزار ويتبرك بِهِ وتستجاب عِنْده الدَّعْوَات وَقد انتسب اليه فِي زَمَاننَا هَذَا بعض من الْمَلَاحِدَة نِسْبَة كَاذِبَة وَهُوَ بَرِيء مِنْهُم بِلَا شكّ قدس الله تَعَالَى سره الْعَزِيز
وَمِنْهُم الشَّيْخ الْعَارِف بِاللَّه الشَّيْخ مُحَمَّد الكشتريأَتَى من بلادالعجم الى الرّوم وتوطن فِي مَدِينَة بروسا فِي مَوضِع يعرف بالانتساب اليه الان وَكَانَ صَاحب جذبة عَظِيمَة وكرامات سنية وَكَانَ مجاب الدعْوَة قدس سره
وَمِنْهُم الشَّيْخ المجذوب الْمَعْرُوف ببوستين بوش أَتَى من بِلَاد الْعَجم الى بِلَاد الرّوم وتوطن بِمَدِينَة بروسا وَكَانَ صَاحب جذبة وكرامات سنية وأحوال عَظِيمَة وَكَانَ مجاب الدعْوَة وَبنى لَهُ السُّلْطَان مرادخان الْغَازِي زَاوِيَة فِي قَصَبَة بكي شهر وقبره بهَا يزار ويتبرك بِهِ قدس الله تَعَالَى سره الْعَزِيز
الطَّبَقَة الرَّابِعَةفِي عُلَمَاء دولة السُّلْطَان بايزيد خَان ابْن السُّلْطَان مُرَاد الْغَازِي الملقب بيلدرم بايزيد روح الله روحه وَغفر لَهُ بُويِعَ لَهُ بالسلطنة بعد وَفَاة ابيه فِي رَابِع شهر رَمَضَان الْمُبَارك من شهور سنة احدى وَتِسْعين وَسَبْعمائة وَمن الْعلمَاء فِي زَمَانه الْمولى الْعَالم الْعَامِل ابو الْفَضَائِل والكمالات مَوْلَانَا
তিনি সামান্য জ্ঞান অর্জন করেন এবং আলেপ্পোতে কর্মজীবনে নিযুক্ত হন। এরপর তিনি নিজ শহরে ফিরে যান এবং সেখানকার আমিরের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন। অতঃপর তাদের উভয়ের মাঝে তিক্ততা সৃষ্টি হয়, ফলে তিনি আমিরের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেন এবং তাকে হত্যা করে তার স্থলাভিষিক্ত হন। তিনি একজন জ্ঞানী, গুণী, মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিত্ব এবং কাব্যপ্রতিভার অধিকারী ও সাহসী ব্যক্তি ছিলেন। ৭৮৯ হিজরিতে মিশরের সেনাবাহিনী তাকে আক্রমণ করেছিল। এরপর ৭৯৯ হিজরিতে আরজিনজানের তাতাররা তার মোকাবিলা করলে তিনি আজ-জাহির বারকুর্কের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন। তিনি তার কাছে একটি অশ্বারোহী বাহিনী প্রেরণ করেন এবং তিনি তাতারদের পরাজিত করেন। অতঃপর তার এবং ক্বারা ইলুক বিন তুর আলীর মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং ৮০০ হিজরির শেষদিকে সেই রণক্ষেত্রে বোরহানউদ্দীন নিহত হন। এখানেই তার বিবরণ শেষ।
তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আল্লাহ তাআলার মারেফাতপ্রাপ্ত শায়খ আল-হাজ্জ বকতাশতিনি (আল্লাহ তার ওপর রহম করুন) বহু অলৌকিক ঘটনা (কেরামাত) এবং বেলায়েতের অধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তার কবর তুর্কমেন দেশে অবস্থিত এবং তার কবরের ওপর একটি গম্বুজ রয়েছে। সেখানে একটি খানকাহ রয়েছে যা জিয়ারত করা হয় এবং তার মাধ্যমে বরকত হাসিল করা হয় এবং সেখানে দোয়া কবুল হয়। বর্তমান সময়ে কিছু পথভ্রষ্ট ব্যক্তি মিথ্যাভাবে তার সাথে নিজেদের সম্বন্ধ করে থাকে, অথচ নিঃসন্দেহে তিনি তাদের থেকে মুক্ত। আল্লাহ তাআলা তার পবিত্র রহস্যকে আরও মহিমান্বিত করুন।
তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আল্লাহ তাআলার মারেফাতপ্রাপ্ত শায়খ মুহাম্মদ আল-কাশতারিতিনি পারস্য দেশ থেকে রোম (আনাতোলিয়া) দেশে আগমন করেন এবং ব্রুসা শহরের এমন একটি স্থানে বসতি স্থাপন করেন যা বর্তমানে তার নামেই পরিচিত। তিনি প্রবল আধ্যাত্মিক আকর্ষণ এবং মহান কেরামাতের অধিকারী ছিলেন এবং তিনি ছিলেন মুজাবুদ দাওয়াহ। আল্লাহ তার রহস্যকে পবিত্র করুন।
তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন শায়খ আল-মাজজুব, যিনি ‘পোস্তিন পুশ’ নামে পরিচিত তিনি পারস্য দেশ থেকে রোম দেশে আগমন করেন এবং ব্রুসা শহরে বসতি স্থাপন করেন। তিনি আধ্যাত্মিক আকর্ষণ, মহান কেরামাত ও উচ্চ স্তরের আধ্যাত্মিক অবস্থার অধিকারী ছিলেন এবং তিনি ছিলেন মুজাবুদ দাওয়াহ। সুলতান মুরাদ খান আল-গাজী তার জন্য বাকি-শহর উপশহরে একটি খানকাহ নির্মাণ করে দেন এবং সেখানেই তার কবর অবস্থিত, যা জিয়ারত করা হয় এবং যেখান থেকে বরকত হাসিল করা হয়। আল্লাহ তাআলা তার পবিত্র রহস্যকে আরও মহিমান্বিত করুন।
চতুর্থ স্তরসুলতান বায়েজিদ খান ইবনে সুলতান মুরাদ আল-গাজীর শাসনামলের উলামায়ে কেরামের বর্ণনায়—যিনি ‘ইলদিরিম বায়েজিদ’ উপাধিতে ভূষিত ছিলেন, আল্লাহ তার আত্মাকে শান্তি দান করুন এবং তাকে ক্ষমা করুন। ৭৯১ হিজরির পবিত্র রমজান মাসের চার তারিখে তার পিতার ইন্তেকালের পর তার হাতে সালতানাতের বায়আত গ্রহণ করা হয়। তার সমসাময়িক আলেমদের মধ্যে অন্যতম হলেন কর্মঠ আলেম, ফযিলত ও পূর্ণতার আধার আমাদের মাওলানা আবু আল-ফাদাইল।
(খণ্ড: ১)
আশ-শাকায়িকুন নুমানিয়া ফী উলামায়িদ্দাওলাতিল উসমানিয়া
(পৃষ্ঠা: ١٧)
شمس الدّين مُحَمَّد بن حَمْزَة بن مُحَمَّد الفناري قدس الله روحه الْعَزِيزقَالَ السُّيُوطِيّ سَمِعت من شَيخنَا الْعَلامَة محيي الدّين الكافيجي ان نِسْبَة الفناري الى صَنْعَة الفنار قلت سَمِعت من وَالِدي رحمه الله يَحْكِي عَن جدي ان نسبته الى قَرْيَة مُسَمَّاة بفنار وَالله أعلم قَالَ السُّيُوطِيّ لَازمه شَيخنَا الْعَلامَة محيي الدّين الكافيجي وَكَانَ يُبَالغ فِي الثَّنَاء عَلَيْهِ جدا وَقَالَ ابْن حجر كَانَ الْمولى الفناري عَارِفًا بالعلوم الْعَرَبيَّة وَعلمِي الْمعَانِي وَالْبَيَان وَعلم القراآت كثير الْمُشَاركَة فِي الْفُنُون ولد رحمه الله فِي صفر سنة احدى وَخمسين وَسَبْعمائة وَأخذ عَن الْعَلامَة عَلَاء الدّين الاسود شَارِح الْمُغنِي والوقاية وَأخذ ببلاده عَن الْجمال مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن مُحَمَّد الاقسرائي ولازم الِاشْتِغَال ورحل الى مصر لاجل الِاشْتِغَال واخذ عَن الشَّيْخ أكمل الدّين وَغَيره ثمَّ رَجَعَ الى الرّوم فولي قَضَاء بروسا وارتفع قدره عِنْد ابْن عُثْمَان جدا وَحل عِنْده الْمحل الاعلى وَصَارَ فِي معنى الْوَزير واشتهر ذكره وشاع فَضله وَكَانَ حسن السمت كثير الْفضل والافضال وَلما دخل الْقَاهِرَة يُرِيد الْحَج اجْتمع بِهِ فضلاء الْعَصْر وذاكروه وباحثوه وشهدوا لَهُ بالفضيلة ثمَّ رَجَعَ وَكَانَ قد أثرى الى الْغَايَة حَتَّى يُقَال ان عِنْده من النَّقْد خَاصَّة بِمِائَة وَخمسين الف دِينَار وَحج سنة اثْنَتَيْنِ وَعشْرين فَلَمَّا رَجَعَ طلبه الْمُؤَيد فَدخل الْقَاهِرَة وَاجْتمعَ بفضلائها ثمَّ رَجَعَ الى الْقُدس فزار ثمَّ رَجَعَ الى بِلَاده ثمَّ حج سنة ثَلَاث وَثَلَاثِينَ على طَرِيق انطاكية وَرجع فَمَاتَ ببلاده فِي شهر رَجَب وَكَانَ قد اصابه رمد وأشرف على الْعَمى بل يُقَال انه عمي ثمَّ رد الله تَعَالَى اليه بَصَره فحج فِي هَذِه الْحجَّة الاخيرة شكرا لله تَعَالَى على ذَلِك وَله مُصَنف فِي أصُول الْفِقْه سَمَّاهُ فُصُول الْبَدَائِع فِي أصُول الشَّرَائِع جمع فِيهِ الْمنَار والبزدوي ومحصول الامام الرَّازِيّ ومختصر ابْن الْحَاجِب وَغير ذَلِك واقام فِي عمله ثَلَاثِينَ سنة وَله تَفْسِير الْفَاتِحَة ورسالة اتى فِيهَا بمسائل من مائَة فن وَأورد عَلَيْهَا اشكالات وسماها انموذج الْعُلُوم قَالَ ابْن حجر كتب لي بِخَطِّهِ بالاجازة لما قدم الْقَاهِرَة مَاتَ فِي رَجَب سنة ارْبَعْ وَثَلَاثِينَ وَثَمَانمِائَة هَذَا مَا ذكره ابْن حجر وَلَقَد سَمِعت من بعض احفاده ان الرسَالَة الَّتِي اتى فِيهَا بمسائل من مئة فن إِنَّمَا هِيَ لِابْنِهِ مُحَمَّد شاه
শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে হামজা ইবনে মুহাম্মদ আল-ফানারারি, আল্লাহ তাঁর পবিত্র আত্মাকে মহিমান্বিত করুনআস-সুয়ূতী বলেন, আমি আমাদের শায়খ আল্লামা মুহিউদ্দিন আল-কাফিয়াজি থেকে শুনেছি যে, ফানারারি নিসবতটি ফানার (বাতি) তৈরির পেশার সাথে সম্পৃক্ত। আমি বলছি, আমি আমার পিতা (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে শুনেছি, তিনি আমার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর এই নিসবতটি ‘ফানার’ নামক একটি গ্রামের দিকে সম্পৃক্ত। আর আল্লাহই ভালো জানেন। আস-সুয়ূতী বলেন, আমাদের শায়খ আল্লামা মুহিউদ্দিন আল-কাফিয়াজি তাঁর সান্নিধ্যে ছিলেন এবং তিনি তাঁর অত্যধিক প্রশংসা করতেন। ইবনে হাজার বলেন, মাওলা ফানারারি আরবি ভাষাবিজ্ঞান, ইলমে মাআনি ও বায়ান (অলংকারশাস্ত্র) এবং ইলমে কিরাত সম্পর্কে অভিজ্ঞ ছিলেন এবং বিভিন্ন জ্ঞান-শাখায় তাঁর ব্যাপক বিচরণ ছিল। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) সাতশত একান্ন হিজরি সনের সফর মাসে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ‘আল-মুগনি’ ও ‘আল-উগায়া’ এর ব্যাখ্যাকার আল্লামা আলাউদ্দিন আল-আসওয়াদ থেকে শিক্ষা লাভ করেন। তিনি নিজ দেশে জামাল মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-আকসারায়ি-র কাছে শিক্ষা অর্জন করেন এবং নিরন্তর জ্ঞানচর্চায় নিমগ্ন থাকেন। এরপর জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে তিনি মিসর সফর করেন এবং শায়খ আকমালুদ্দিন ও অন্যদের কাছ থেকে জ্ঞান লাভ করেন। এরপর তিনি রুম (তুরস্ক) অঞ্চলে ফিরে আসেন এবং বুর্সার কাজি হিসেবে নিযুক্ত হন। উসমানীয় সুলতানদের কাছে তাঁর মর্যাদা অত্যধিক বৃদ্ধি পায় এবং তিনি তাঁদের নিকট উচ্চ আসনে সমাসীন হন; এমনকি তিনি উজিরের (মন্ত্রীর) সমমর্যাদা লাভ করেন। তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব সর্বজনবিদিত হয়। তিনি অত্যন্ত মার্জিত এবং দানশীল ও মহৎ গুণের অধিকারী ছিলেন। যখন তিনি হজের উদ্দেশ্যে কায়রোতে প্রবেশ করেন, তখন সমসাময়িক শ্রেষ্ঠ আলিমগণ তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেন, তাঁর সাথে জ্ঞানতাত্ত্বিক আলোচনা ও গবেষণা করেন এবং তাঁর পাণ্ডিত্যের সাক্ষ্য প্রদান করেন। এরপর তিনি ফিরে আসেন। তিনি অত্যন্ত সম্পদশালী ছিলেন, এমনকি বলা হয় যে তাঁর কাছে নগদ দেড় লক্ষ দিনার ছিল। তিনি আটশত বাইশ হিজরি সনে হজ করেন। যখন তিনি ফিরে আসছিলেন, সুলতান আল-মুয়াইয়াদ তাঁকে তলব করেন, ফলে তিনি কায়রোতে প্রবেশ করেন এবং সেখানকার বিদগ্ধ সমাজ ও আলিমদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এরপর তিনি বায়তুল মুকাদ্দাস ভ্রমণ করেন এবং নিজ দেশে ফিরে যান। এরপর তিনি আটশত তেত্রিশ হিজরি সনে আন্তাকিয়া হয়ে হজে যান এবং ফিরে আসার পর রজব মাসে নিজ দেশে ইন্তেকাল করেন। তিনি চোখের পীড়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং প্রায় অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন; এমনকি বলা হয় যে তিনি পুরোপুরি দৃষ্টিহীন হয়ে পড়েছিলেন। এরপর আল্লাহ তাআলা তাঁর দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেন, ফলে আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া স্বরূপ তিনি এই শেষ হজটি পালন করেন। উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর একটি প্রসিদ্ধ গ্রন্থ রয়েছে যার নাম ‘ফুসুলুল বাদায়ি ফি উসুলিশ শারায়ি’। এতে তিনি ‘আল-মানার’, ‘আল-বাজদাউয়ি’, ইমাম রাজির ‘আল-মাহসুল’, ‘মুখতাসার ইবনুল হাজিব’ এবং অন্যান্য কিতাবের সারসংক্ষেপ একত্রিত করেছেন। তিনি তাঁর পদে ত্রিশ বছর অধিষ্ঠিত ছিলেন। তাঁর অন্যান্য রচনার মধ্যে রয়েছে সূরা ফাতিহার তাফসীর এবং একটি রিসালা যাতে তিনি একশতটি জ্ঞান-শাখার মাসআলা আলোচনা করেছেন এবং সেগুলোর ওপর বিভিন্ন তাত্ত্বিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন; তিনি এর নাম দিয়েছেন ‘আনমুজাজুল উলুম’। ইবনে হাজার বলেন, তিনি যখন কায়রোতে আসেন, তখন তিনি নিজ হাতের লেখায় আমাকে ইজাজত প্রদান করেছিলেন। তিনি আটশত চৌত্রিশ হিজরি সনের রজব মাসে মৃত্যুবরণ করেন। ইবনে হাজার এভাবেই উল্লেখ করেছেন। আমি তাঁর কোনো এক বংশধরের কাছ থেকে শুনেছি যে, একশতটি জ্ঞান-শাখার মাসআলা সম্বলিত রিসালাটি প্রকৃতপক্ষে তাঁর পুত্র মুহাম্মদ শাহ-এর রচনা।
(খণ্ড: ১)
আশ-শাকায়িকুন নুমানিয়া ফী উলামায়িদ্দাওলাতিল উসমানিয়া
(পৃষ্ঠা: ١٨)
وَرَأَيْت للْمولى الفناري عشْرين قِطْعَة منظومة كل قِطْعَة مِنْهَا مسئلة من فن مُسْتَقل وَغير أَسمَاء تِلْكَ الْفُنُون بطرِيق الالغاز امتحانا لفضلاء دهره وَلم يقدروا على تعْيين فنونها فضلا عَن حل مسائلها على انه قَالَ فِي خطْبَة تِلْكَ الرسَالَة وَذَلِكَ عجالة يَوْم مِمَّا تبصرون وَشرح هَذِه الرسَالَة ابْنه مُحَمَّد شاه الْمَذْكُور وَعين اسامي الْفُنُون وَبَين الْمُنَاسبَة فِيمَا ذكره من الالغازات وَحل مشكلات مسائلها ونظم عقيب كل قِطْعَة مِنْهَا قِطْعَة اخرى قَالَ فِي بَعْضهَا قلت مؤكدا وَفِي بَعْضهَا قلت مجيبا وأتى بِأَحْسَن الاجوبة وَشرح الْمولى الفناري الرسَالَة الاثيرية فِي الْمِيزَان شرحا لطيفا حسنا وَقَالَ فِي خطبَته شرعت فِيهِ غدْوَة يَوْم من اقصر الايام وختمت مَعَ اذان مغربه بعون الْملك العلام وَشرح الْفَرَائِض السِّرَاجِيَّة أَيْضا شرحا لطيفا وهومن احسن شروحها وَلما رأى شرح المواقف للسَّيِّد الشريف علق عَلَيْهِ تعليقات متضمنة لمؤاخذات لَطِيفَة على السَّيِّد الشريف وَله كثير من الرسائل والحواشي لَكِنَّهَا بقيت فِي المسودة وَمنع الافتاء والتدريس وَالْقَضَاء من تبييضها وَسمعت من بعض الثِّقَات ان مَوْلَانَا حَمْزَة وَالِد الْمولى الفناري كَانَ من تلامذة الشَّيْخ صدر الدّين القونوي وَقَرَأَ عَلَيْهِ من تصانيفه مِفْتَاح الْغَيْب واقرأه على وَلَده الْمولى الفناري ثمَّ ان الْمولى الْمَذْكُور شَرحه شرحا وافيا وَضَمنَهُ من معارف الصُّوفِيَّة مالم تسمعه الاذان وتقصر عَن فهمه الاذهان وَسمعت من وَالِدي رحمه الله يَحْكِي عَن جدي ان الْمولى الفناري كَانَ مدرسا بِمَدِينَة بروسا فِي مدرسة مناستر وَكَانَ قَاضِيا بهَا ومفتيا فِي المملكة العثمانية وَكَانَ صَاحب ثروة عَظِيمَة وجاه وَاسع وَصَاحب ابهة وشوكة وَكَانَ إِذا خرج الى الْجَامِع يَوْم الْجُمُعَة يزدحم النَّاس على بَابه بِحَيْثُ يمتلىء من النَّاس مَا بَين بَيته وَبَين الْجَامِع الشريف وَكَانَ لَهُ عبيد لَا يُحصونَ كَثْرَة حُكيَ ان الْمولى خطيب زَاده قَالَ للسُّلْطَان مُحَمَّد خَان ان الْمولى الفناري من احسن مصنفاته فُصُول الْبَدَائِع وَأَنا ازيفه بادنى مطالعة وَكَانَ لَهُ مَعَ ذَلِك اثْنَا عشر من العبيد يلبسُونَ الثِّيَاب الفاخرة وَالْفراء النفيسة وَكَانَ لَهُ فِي بَيته جوَار لَا يحصين كَثْرَة اربعون مِنْهُنَّ يلبسن القلانس الذهبية وَحكي ايضا انه مَعَ هَذِه الابهة وَالْجَلالَة كَانَ يلبس نَفسه النفيسة ثيابًا دنيئة وَكَانَ على ر أسه
আমি মওলা ফানারির বিশটি পদ্যের অংশ দেখেছি, যার প্রতিটি অংশ একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্রের একটি মাসআলা। তিনি সমসাময়িক বিজ্ঞজনদের পরীক্ষার জন্য ধাঁধার ছলে সেই শাস্ত্রগুলোর নাম পরিবর্তন করে দিয়েছিলেন। তারা সেই মাসআলাগুলো সমাধান করা তো দূরের কথা, শাস্ত্রগুলো শনাক্ত করতেই সক্ষম হননি। অথচ তিনি উক্ত রিসালার ভূমিকায় লিখেছিলেন যে, এটি তোমাদের চোখের সামনে একদিনের সামান্য প্রচেষ্টার ফসল মাত্র। এই রিসালাটির ব্যাখ্যা করেছেন তার পুত্র, ইতিপূর্বে উল্লিখিত মুহাম্মদ শাহ। তিনি শাস্ত্রগুলোর নাম নির্দিষ্ট করেছেন, ধাঁধাগুলোর সাথে শাস্ত্রের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করেছেন এবং মাসআলাগুলোর জটিলতা নিরসন করেছেন। এছাড়া তিনি প্রতিটি পদ্যের পরপর আরেকটি পদ্য যোগ করেছেন; কোনোটিতে বলেছেন যে এটি তিনি জোর দিয়ে বলছেন, আবার কোনোটিতে উত্তরের সুরে বলেছেন এবং তিনি সর্বোত্তম উত্তর প্রদান করেছেন। মওলা ফানারি মিজান (যুক্তিবিদ্যা) শাস্ত্রের আসিরিয়্যাহ রিসালাটির একটি সূক্ষ্ম ও চমৎকার ব্যাখ্যা লিখেছিলেন। এর ভূমিকায় তিনি বলেন যে, আমি বছরের ক্ষুদ্রতম দিনগুলোর একটির সকালে এটি শুরু করি এবং মহান অধিপতির সাহায্যে মাগরিবের আজানের সাথে সাথে তা সম্পন্ন করি। তিনি আল-ফারায়িয আস-সিরাজিয়্যাহ-এরও একটি সুন্দর ব্যাখ্যা গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যাখ্যা হিসেবে পরিগণিত। যখন তিনি সাইয়্যেদ শরীফ আল-জুরজানির শারহুল মাওয়াকিফ দেখেন, তখন তিনি সাইয়্যেদ শরীফের ওপর কিছু সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ ও আপত্তি সম্বলিত টীকা যুক্ত করেন। তার আরও অনেক রিসালা ও হাশিয়া (টীকা) রয়েছে, তবে সেগুলো খসড়া পাণ্ডুলিপি আকারেই রয়ে গেছে; ফতোয়া প্রদান, শিক্ষকতা ও বিচারিক দায়িত্বের ব্যস্ততা সেগুলোকে চূড়ান্ত রূপ দিতে বাধা দিয়েছে। আমি নির্ভরযোগ্য সূত্রে শুনেছি যে, মওলা ফানারির পিতা মাওলানা হামজাহ শেখ সদরুদ্দিন আল-কুনাভির ছাত্র ছিলেন এবং তার নিকট তার রচিত ‘মিফতাহুল গায়েব’ পাঠ করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি তা তার পুত্র মওলা ফানারিকেও পড়ান। অতঃপর উল্লিখিত মওলা ফানারি এর একটি বিস্তৃত ব্যাখ্যা গ্রন্থ রচনা করেন এবং এতে সুফিবাদ ও আধ্যাত্মিক জ্ঞানের এমন সব রহস্য সন্নিবেশিত করেন যা কান কখনো শোনেনি এবং সাধারণ মেধা যার অনুধাবনে অক্ষম। আমি আমার পিতার (আল্লাহ তাকে রহম করুন) নিকট শুনেছি, তিনি আমার দাদার সূত্রে বর্ণনা করতেন যে, মওলা ফানারি বুর্সা শহরের মানাস্তির মাদরাসায় শিক্ষক ছিলেন এবং সেখানে তিনি বিচারক ও উসমানীয় সাম্রাজ্যের মুফতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি বিপুল সম্পদ ও ব্যাপক প্রতিপত্তির অধিকারী ছিলেন এবং অত্যন্ত প্রতাপশালী ও শান-শওকত সম্পন্ন ছিলেন। জুমার দিন তিনি যখন জামে মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হতেন, তখন তার দরজায় মানুষের ভিড় এমন হতো যে, তার বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত পুরো রাস্তা মানুষে ভরে যেত। তার অসংখ্য দাস ছিল। বর্ণিত আছে যে, মওলা খতিবজাদা সুলতান মুহাম্মদ খানকে বলেছিলেন, মওলা ফানারির অন্যতম শ্রেষ্ঠ কিতাব হলো ফুসুলুল বাদায়ি, অথচ আমি সামান্য পড়াশোনা করলেই একে অসার প্রমাণ করতে পারব। তার বাড়িতে এমন বারোজন দাস ছিল যারা দামী পোশাক ও মূল্যবান লোমশ বস্ত্র পরিধান করত। তার গৃহে অগণিত দাসী ছিল, যাদের মধ্যে চল্লিশজন স্বর্ণখচিত টুপি পরিধান করত। আরও বর্ণিত আছে যে, এই প্রতাপ ও মহিমা থাকা সত্ত্বেও তিনি ব্যক্তিগতভাবে অতি সাধারণ পোশাক পরিধান করতেন এবং তার মাথায়...
(খণ্ড: ১)
আশ-শাকায়িকুন নুমানিয়া ফী উলামায়িদ্দাওলাতিল উসমানিয়া
(পৃষ্ঠা: ١٩)
عِمَامَة صَغِيرَة على زِيّ مَشَايِخ الصُّوفِيَّة وَكَانَ يتعلل فِي ذَلِك وَيَقُول ان ثِيَابِي وطعامي من كسب يَدي وَلَا يَفِي كسبي بِأَحْسَن من ذَلِك وَكَانَ يعْمل صَنْعَة القزازية وَكَانَ بَيته بَين الْمدرسَة وَبَين قصر السُّلْطَان بايزيدخان الْمَذْكُور وَله مدرسة وجامع بِمَدِينَة بروسا ومرقده الشريف قُدَّام الْجَامِع يحْكى انه خلف عشرَة آلَاف مُجَلد من الْكتب يرْوى انه شهد السُّلْطَان الْمَذْكُور عِنْده يَوْمًا بقضية فَرد شَهَادَته فَسَأَلَهُ عَن سَبَب رده فَقَالَ انك تَارِك للْجَمَاعَة فَبنى السُّلْطَان قُدَّام قصره جَامعا وَعين لنَفسِهِ فِيهِ موضعا وَلم يتْرك الْجَمَاعَة بعد ذَلِك ثمَّ انه وَقع بَينهمَا خلاف فَترك الْمولى الفناري مناصبه ورحل الى بِلَاد قرامان وَعين لَهُ صَاحب قرامان كل يَوْم الف دِرْهَم ولطلبته كل يَوْم خَمْسمِائَة دِرْهَم وقرا عَلَيْهِ هُنَاكَ الْمولى يَعْقُوب الاصفر وَالْمولى يَعْقُوب الاسود وَكَانَ الْمولى الفناري يفتخر بذلك وَيَقُول ان يعقوبين قرآ عَليّ ثمَّ ان السُّلْطَان الْمَذْكُور نَدم على مَا فعله فِي حق الْمولى الفناري فارسل الى صَاحب قرامان يَسْتَدْعِي الْمولى الْمَذْكُور فَأجَاب اليه وَعَاد الى مَا كَانَ عَلَيْهِ من المناصب وَحكي انه صحب الشَّيْخ الْعَارِف بِاللَّه الشَّيْخ حميد شيخ الْحَاج بيرام واخذ مِنْهُ التصوف ورايت لَهُ نظما ارسله الى الشَّيْخ عبد اللَّطِيف بن غَانِم الْقُدسِي خَليفَة الشَّيْخ زين الدّين الخافي قدس الله سره الْعَزِيز
… قدمت بِلَاد الرّوم يَا خير قادم
… بِخَير طَرِيق جلّ عَن كل نَائِم
فمنذ فتوح الرّوم لم يَأْتِ مثله
… الى ملكه يهدي بِهِ كل عَالم
على مَسْلَك الْمُخْتَار من سَائِر الورى
… الى حَضْرَة الْغفار من كل عَالم
يلقب زين الدّين قد صَحَّ كَامِلا
… وَيُسمى اذا عبد اللَّطِيف بن غَانِم
لعمرك ان ابْن الفناري طَالب
… وَلَكِن تقصيري لملزوم لَازم
وَقد حثني شوق شَدِيد لارضه
… لاقضي بقايا الْعُمر هذي عزائمي
وانتظر المخدوم فِي الْقُدس راجيا
… لجمع بِجمع السِّرّ عَن كل هائم
فَقُمْ واستلم حبرًا يعز بعصرنا
… وَسلم لَهُ مَا دمت حَيا بقائم
ورض واغتنم واخدم سَبِيلا لعارف
… تنَلْ بغية تعلو على كل خَادِم
…
সুফি মাশায়েখদের রীতি অনুযায়ী একটি ছোট পাগড়ি পরিধান করতেন এবং তিনি এ বিষয়ে ওজর পেশ করে বলতেন যে, আমার পোশাক ও খাদ্য আমার স্বহস্তের উপার্জন থেকে অর্জিত, আর আমার উপার্জন এর চেয়ে উত্তম কিছুর সামর্থ্য রাখে না। তিনি রেশম শিল্পের (কাজ্জাজিয়া) কাজ করতেন। তাঁর ঘরটি ছিল মাদ্রাসা ও উল্লিখিত সুলতান বায়েজিদ খানের প্রাসাদের মধ্যবর্তী স্থানে। বুরসা শহরে তাঁর একটি মাদ্রাসা ও একটি জামে মসজিদ রয়েছে এবং তাঁর বরকতময় মাজার সেই মসজিদের সম্মুখভাগে অবস্থিত। বর্ণিত আছে যে, তিনি দশ হাজার খণ্ড গ্রন্থ রেখে গেছেন। রেওয়ায়েত আছে যে, একদিন উল্লিখিত সুলতান তাঁর নিকট একটি মামলায় সাক্ষ্য প্রদান করেন, কিন্তু তিনি সুলতানের সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যান করেন। সুলতান প্রত্যাখ্যানের কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আপনি জামাত বর্জনকারী।" অতঃপর সুলতান তাঁর প্রাসাদের সামনে একটি জামে মসজিদ নির্মাণ করেন এবং সেখানে নিজের জন্য একটি স্থান নির্দিষ্ট করেন এবং এরপর তিনি আর কখনো জামাত বর্জন করেননি। অতঃপর তাঁদের উভয়ের মধ্যে মতভেদ দেখা দিলে মাওলা ফানারি তাঁর পদসমূহ ত্যাগ করেন এবং কারামান অঞ্চলে হিজরত করেন। কারামানের অধিপতি তাঁর জন্য প্রতিদিন এক হাজার দিরহাম এবং তাঁর ছাত্রদের জন্য প্রতিদিন পাঁচশত দিরহাম বরাদ্দ করেন। সেখানে মাওলা ইয়াকুব আল-আসফার এবং মাওলা ইয়াকুব আল-আসওয়াদ তাঁর নিকট অধ্যয়ন করেন। মাওলা ফানারি এতে গর্ববোধ করতেন এবং বলতেন যে, দুই ইয়াকুব আমার নিকট পাঠ গ্রহণ করেছেন। অতঃপর উল্লিখিত সুলতান মাওলা ফানারির প্রতি যা করেছিলেন তার জন্য অনুতপ্ত হলেন এবং কারামানের অধিপতির নিকট লোক পাঠিয়ে উল্লিখিত মাওলাকে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানালেন। তিনি তাতে সাড়া দিলেন এবং তাঁর পূর্ববর্তী পদমর্যাদায় ফিরে এলেন। বর্ণিত আছে যে, তিনি আরিফ বিল্লাহ শায়খ হামিদ, যিনি হাজি বয়রামের শায়খ ছিলেন, তাঁর সাহচর্য লাভ করেন এবং তাঁর নিকট থেকে তাসাউফ গ্রহণ করেন। আমি তাঁর রচিত একটি কাব্য দেখেছি যা তিনি শায়খ জয়নুদ্দিন খাফির (আল্লাহ তাঁর সুমহান রহস্য পবিত্র করুন) খলিফা শায়খ আব্দুল লতিফ বিন গানিম আল-কুদসির নিকট পাঠিয়েছিলেন:
… আপনি রুম দেশে আগমন করেছেন হে সর্বোত্তম আগন্তুক
… এমন এক শ্রেষ্ঠ পথে যা সকল নিদ্রিত ব্যক্তির ঊর্ধ্বে
রুম বিজয়ের পর থেকে তাঁর মতো কেউ আসেনি
… যাঁর মাধ্যমে প্রতিটি আলেম তাঁর রাজত্বের দিকে হেদায়েত প্রাপ্ত হন
তামাম সৃষ্টির মধ্য থেকে মনোনীত সত্তার অনুসৃত পথে
… প্রতিটি জগত থেকে মহান ক্ষমাশীল আল্লাহর দরবারের দিকে
যিনি জয়নুদ্দিন উপাধিতে ভূষিত এবং পূর্ণাঙ্গরূপে স্বীকৃত
… আর যাঁর নাম হলো আব্দুল লতিফ বিন গানিম
আপনার জীবনের কসম, নিশ্চয়ই ইবনে ফানারি একজন জ্ঞানপ্রার্থী
… কিন্তু আমার ত্রুটিসমূহ আমার জন্য অনিবার্য হয়ে আছে
তাঁর ভূমির প্রতি তীব্র শোর আমাকে উৎসাহিত করেছে
… যেন আমি আমার জীবনের অবশিষ্টাংশ সেখানে অতিবাহিত করি—এটাই আমার সংকল্প
আমি কুদস নগরীতে সেই মহান সেবকের প্রতিক্ষা করছি এই আশায়
… যেন সকল অস্থিরতা থেকে মুক্ত হয়ে এক গোপন রহস্যের সমাবেশে মিলিত হতে পারি
সুতরাং উঠুন এবং এমন এক বিদগ্ধ পণ্ডিতের সাথে সাক্ষাৎ করুন যিনি আমাদের যুগে বিরল
… আর যতক্ষণ জীবিত আছেন ততক্ষণ তাঁর প্রতি অনুগত থাকুন
অনুগত হোন, সুযোগ গ্রহণ করুন এবং একজন আরিফের পথের সেবা করুন
… তবেই আপনি এমন এক উচ্চ লক্ষ্য অর্জন করবেন যা সকল সেবকের ঊর্ধ্বে
…
(খণ্ড: ১)
আশ-শাকায়িকুন নুমানিয়া ফী উলামায়িদ্দাওলাতিল উসমানিয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
وارسل اليه الشَّيْخ عبد اللطيف الْقُدسِي نظما جَوَابا لنظمه وَهُوَ هَذَا
… الا يَا امام الْعَصْر يَا خير قَائِم
… بشرع رَسُول الله يَا خير حَاكم
لانت فريد الْعَصْر فِي الْعلم والنهى
… وانت وحيد الدَّهْر اكرم حَازِم
وانت ضِيَاء الدّين بل انت شمسه
… بعلمك سَاد النَّاس يَا خير عَالم
ركبت مُحِيط الْعلم فِي سفن التقى
… ففقت على الاقران حَادث وقادم
فَأَنت اذا مَا كنت فِي بَلْدَة صبَّتْ
… وايقظ يقظان بهَا كل نَائِم
فان غبت لَا يخفى ضياك وايما
… حضرت فانت الشَّمْس فِي أفق عَالم
سَأَلت الهي ان يديم بقاءكم
… تقيض على الطلاب جن وآدمي
لعمرك شعري فِي جوابك عَاجز
… كنظم لحسان وكف لحاتم
قريضي اذا مَا فَازَ مِنْك بنظرة
… فَلَا بُد ان تُخْفُوهُ عَن كل ناظم
فَانِي لاستحيي اذا قيل انه
… اجاب مديح ابْن الفناري ابْن غَانِم
…
وَمن جملَة اخباره ان الطّلبَة الى زَمَانه يعطلون يَوْم الْجُمُعَة وَيَوْم الثُّلَاثَاء فأضاف الْمولى الْمَذْكُور اليهما يَوْم الِاثْنَيْنِ وَالسَّبَب فِي ذَلِك انه اشْتهر فِي زَمَانه تصانيف الْعَلامَة التَّفْتَازَانِيّ وَرغب الطّلبَة فِي قرَاءَتهَا وَلم تُوجد تِلْكَ الْكتب بِالشِّرَاءِ لعدم انتشار نسخهَا فاحتاجوا الى كتَابَتهَا وَلما ضَاقَ وقتهم عَن كتَابَتهَا اضاف الْمولى الْمَذْكُور يَوْم الِاثْنَيْنِ الى يَوْم العطلة وَمن جملَة اخباره ايضا انه كَانَ للسُّلْطَان الْمَذْكُور وَزِير مُسَمّى بعوض باشا وَكَانَ يبغض الْمولى الفناري وَلما عمي الْمولى الْمَذْكُور فِي أَوَاخِر عمره قَالَ الْوَزير الْمَذْكُور يَوْمًا ارجو من الله تَعَالَى ان اصلي على هَذَا الشَّيْخ الاعمى فَسَمعهُ الْمولى الفناري وَقَالَ انه جَاهِل لَا يحسن الصَّلَاة على الْمَيِّت وَأَرْجُو من الله تَعَالَى ان يشفيني ويعميه وأصلي عَلَيْهِ فشفى الله تَعَالَى الْمولى الفناري وكحل السُّلْطَان عين الْوَزير بحديدة محماة فَعميَ ثمَّ مَاتَ وَصلى عَلَيْهِ الْمولى الفناري رُوِيَ انه كَانَ سَبَب عماه انه لما سمع ان الارض لَا تَأْكُل لُحُوم الْعلمَاء العاملين نبش قبر استاذه الْمولى عَلَاء الدّين الاسود ليتَحَقَّق عِنْده الرِّوَايَة
শাইখ আব্দুল লতিফ আল-কুদসি তাঁর কবিতার উত্তরে একটি কাব্যিক জবাব পাঠিয়েছিলেন, যা নিম্নরূপ:
… হে জামানার ইমাম, হে সর্বোত্তম আদিষ্ট ব্যক্তিত্ব,
… হে শ্রেষ্ঠ বিচারক যিনি রাসূলুল্লাহর শরীয়ত অনুযায়ী ফয়সালা করেন।
নিশ্চয়ই আপনি জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় আপনার যুগের অদ্বিতীয়,
… এবং আপনি সময়ের অনন্য ও সবচেয়ে সম্মানিত দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ব্যক্তি।
আপনি দ্বীনের জ্যোতি, বরং আপনি তাঁর সূর্য,
… হে শ্রেষ্ঠ আলেম, আপনার ইলমের মাধ্যমেই মানুষ শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে।
আপনি তাকওয়ার নৌকায় চড়ে জ্ঞানের অগাধ সমুদ্রে বিচরণ করেছেন,
… ফলে আপনি অতীত ও বর্তমানের সকল সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে গেছেন।
আপনি যখন কোনো শহরে অবস্থান করেন তখন সেখানে রহমত বর্ষিত হয়,
… এবং সেখানে জাগ্রত ব্যক্তিরা প্রতিটি ঘুমন্ত ব্যক্তিকে জাগিয়ে তোলে।
আপনি অনুপস্থিত থাকলেও আপনার জ্যোতি গোপন থাকে না, আর যেখানেই
… আপনি উপস্থিত হন, সেখানেই আপনি জগতের দিগন্তে সূর্যের মতো দেদীপ্যমান।
আমি আমার ইলাহের নিকট প্রার্থনা করেছি যেন তিনি আপনাদের দীর্ঘায়ু করেন,
… যাতে জিন ও মানব জাতির ছাত্ররা আপনার দ্বারা উপকৃত হতে পারে।
আপনার জীবনের শপথ, আপনার কবিতার উত্তরে আমার এই কাব্য অক্ষম,
… যেমন হাসসানের কাব্যের বিপরীতে সাধারণ পদ্য কিংবা হাতিমের বদান্যতার বিপরীতে সাধারণ দান।
আমার এই কবিতা যদি আপনার কৃপাদৃষ্টি লাভে ধন্য হয়,
… তবে অবশ্যই আপনাকে তা অন্য সকল কবিদের কাছ থেকে গোপন রাখতে হবে।
কেননা আমি লজ্জিত হই যখন বলা হয় যে,
… সে ইবনে গানিম ইবনে ফানারির প্রশংসার উত্তর প্রদান করেছে।
…তাঁর সম্পর্কে প্রাপ্ত সংবাদসমূহের মধ্যে একটি হলো এই যে, তাঁর সময় পর্যন্ত ছাত্ররা শুক্রবার ও মঙ্গলবার ছুটি কাটাত। উল্লিখিত মওলা এই দুই দিনের সাথে সোমবারকেও যুক্ত করেন। এর কারণ ছিল এই যে, তাঁর সময়ে আল্লামা তাফতাজানির রচনাবলি অত্যন্ত প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল এবং ছাত্ররা সেগুলো পাঠ করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছিল। কিন্তু সেই কিতাবগুলোর পাণ্ডুলিপি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে না পড়ার কারণে বাজারে সেগুলো ক্রয় করতে পাওয়া যেত না। ফলে তাদের সেগুলো নিজ হাতে লিখে নেওয়ার প্রয়োজন দেখা দিল। কিন্তু লেখার জন্য সময় সংকুচিত হওয়ায় উল্লিখিত মওলা সোমবারকেও ছুটির দিনের অন্তর্ভুক্ত করেন। তাঁর সম্পর্কে আরও সংবাদ এই যে, উল্লিখিত সুলতানের ইওয়াদ পাশা নামক একজন উজির ছিল, যে মওলা ফানারির প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করত। মওলা ফানারি যখন জীবনের শেষ দিকে অন্ধ হয়ে যান, তখন একদিন উজির বলল, "আমি আল্লাহ তাআলার কাছে আশা করি যেন এই অন্ধ শাইখের জানাযার নামাজ পড়াতে পারি।" মওলা ফানারি এ কথা শুনতে পেয়ে বললেন, "সে তো একজন জাহিল, সে মৃত ব্যক্তির জানাযার নামাজও সুন্দরভাবে পড়াতে জানে না। আমি আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাকে সুস্থ করে দেন এবং তাকে অন্ধ করে দেন, আর আমি যেন তার জানাযার নামাজ পড়ি।" অতঃপর আল্লাহ তাআলা মওলা ফনারিকে সুস্থ করে দিলেন এবং সুলতান একটি উত্তপ্ত লৌহশলাকা দিয়ে উজিরের চোখে সুরমা লাগিয়ে দিলেন (চোখ বিদ্ধ করলেন), ফলে সে অন্ধ হয়ে গেল। এরপর সে মারা গেল এবং মওলা ফানারি তার জানাযার নামাজ পড়লেন। বর্ণিত আছে যে, তার অন্ধ হওয়ার কারণ এটিও ছিল যে, যখন সে শুনতে পেল জমিন আমলকারী আলেমদের দেহ ভক্ষণ করে না, তখন এই বর্ণনার সত্যতা যাচাই করার জন্য সে তার উস্তাদ মওলা আলাউদ্দীন আসওয়াদের কবর খনন করেছিল।
(খণ্ড: ১)
আশ-শাকায়িকুন নুমানিয়া ফী উলামায়িদ্দাওলাতিল উসমানিয়া
(পৃষ্ঠা: ٢١)
الْمَذْكُورَة فَوَجَدَهُ كَمَا وضع مَعَ انه مر عَلَيْهِ زمَان مديد فَعِنْدَ ذَلِك سمع صَوتا من هَاتِف والتفت اليه فاذا هُوَ يَقُول هَل صدقت اعمى الله بَصرك وَمن جملَة اخباره ان الْمولى الْمَذْكُور ومولانا احمدي ناظم تَارِيخ اسكندر وَالْمولى حاجي باشا مُصَنف كتاب الشِّفَاء فِي الطِّبّ كَانُوا شُرَكَاء الدَّرْس عِنْد الشَّيْخ أكمل الدّين فزاروا يَوْمًا رجلا من اولياء الله تَعَالَى فَنظر اليهم ذَلِك الرجل فَقَالَ لمولانا احمدي انك ستضيع وقتك فِي الشّعْر وَقَالَ للْمولى حاجي باشا انك ستضيع عمرك فِي الطِّبّ وَقَالَ للْمولى الفناري انك ستجمع بَين رياستي الدّين وَالدُّنْيَا وَالْعلم وَالتَّقوى وَكَانَ كَمَا قَالَ لِأَن الموَالِي احمدي صحب الامير ابْن كرميان واشتغل لاجله بالنظم وَالْمولى حاجي باشا عرض لَهُ مرض فاضطره الى الِاشْتِغَال بالطب
وَمِنْهُم الْمولى الْعَالم حَافظ الدّين بن مُحَمَّد بن مُحَمَّد الكردري الْمَشْهُور بِابْن البزازيلَهُ كتاب مَشْهُور فِي الفتاوي اشْتهر بالفتاوي الْبَزَّازِيَّة وَله كتاب فِي مَنَاقِب الامام الاعظم ابي حنيفَة رضي الله عنه وَهُوَ كتاب نَافِع فِي الْغَايَة مُشْتَمل على المطالب الْعَالِيَة طالعته من اوله الى آخِره واستفدت مِنْهُ وَلما دخل بِلَاد الرّوم باحث مَعَ الْمولى الفناري وَغلب هُوَ عَلَيْهِ فِي الْفُرُوع وَغلب ذَلِك عَلَيْهِ فِي الاصول وَسَائِر الْعُلُوم مَاتَ رحمه الله عَلَيْهِ فِي أواسط رَمَضَان سنة سبع وَعشْرين وَثَمَانمِائَة
وَمِنْهُم الْمولى الْفَاضِل صَاحب الْقَامُوس وَهُوَ مجد الدّين ابو طَاهِر مُحَمَّد بن يَعْقُوب بن مُحَمَّد الشِّيرَازِيّ الفيروز اباديوَكَانَ ينتسب الى الشَّيْخ ابي اسحق الشِّيرَازِيّ صَاحب التَّنْبِيه وَرُبمَا يرفع نسبه الى ابي بكر الصّديق رضي الله عنه وَكَانَ يكْتب بِخَطِّهِ الصديقي دخل بلادالروم واتصل بِخِدْمَة السُّلْطَان الْمَذْكُور ونال عِنْده مرتبَة وجاها واعطاه السُّلْطَان الْمَذْكُور مَالا جزيلا واعطاه الامير تيمورخان خَمْسَة آلَاف دِينَار ثمَّ جال الْبِلَاد شرقا وغربا وَأخذ من علمائها حَتَّى برع فِي الْعُلُوم كلهَا سِيمَا الحَدِيث وَالتَّفْسِير
উল্লিখিত, তিনি সেটিকে সেভাবেই পেলেন যেভাবে রেখেছিলেন, যদিও এর ওপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়েছিল। সেই মুহূর্তে তিনি এক অদৃশ্যের আহ্বানকারীর কণ্ঠস্বর শুনতে পেলেন এবং সেদিকে ফিরে তাকালেন; সে বলছিল: "তুমি কি এখন বিশ্বাস করেছ? আল্লাহ তোমার দৃষ্টিশক্তি অন্ধ করে দিন।" তাঁর ঘটনাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো এই যে, উল্লিখিত মউলা, 'তারিখে ইস্কান্দার' এর রচয়িতা মাওলানা আহমাদি এবং চিকিৎসাবিদ্যা বিষয়ক গ্রন্থ 'কিতাবুশ শিফা' এর প্রণেতা মউলা হাজি পাশা—তাঁরা সকলে শেখ আকমালুদ্দীনের নিকট সহপাঠী ছিলেন। একদিন তাঁরা মহান আল্লাহর ওলিদের মধ্য হতে এক ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলেন। সেই ব্যক্তি তাঁদের দিকে তাকালেন এবং মাওলানা আহমাদিকে বললেন: "তুমি কবিতাচর্চায় তোমার সময় নষ্ট করবে।" মউলা হাজি পাশাকে বললেন: "তুমি চিকিৎসাবিদ্যায় তোমার জীবন ব্যয় করবে।" আর মউলা ফানারিকে বললেন: "তুমি দ্বীন ও দুনিয়ার নেতৃত্ব এবং জ্ঞান ও তাকওয়ার সমন্বয় ঘটাবে।" বিষয়টি তেমনই হয়েছিল যেমনটি তিনি বলেছিলেন। কারণ মাওলানা আহমাদি আমির ইবনে কারমিয়ানের সান্নিধ্য লাভ করেন এবং তাঁর জন্য কাব্যচর্চায় নিয়োজিত হন, আর মউলা হাজি পাশা একটি রোগে আক্রান্ত হন যা তাঁকে চিকিৎসাবিদ্যায় আত্মনিয়োগ করতে বাধ্য করে।
তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আলেম মউলা হাফিজুদ্দীন বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-কারদারি, যিনি ইবনুল বাযযাজি নামে প্রসিদ্ধ।ফাতাওয়া বিষয়ে তাঁর একটি প্রসিদ্ধ গ্রন্থ রয়েছে যা 'ফাতাওয়া আল-বাযযাজিয়া' নামে পরিচিত। ইমামে আজম আবু হানিফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মানাকিব বা গুণাবলি সম্পর্কেও তাঁর একটি গ্রন্থ রয়েছে; এটি অত্যন্ত উপকারী একটি কিতাব যা উচ্চাঙ্গের আলোচনা সমৃদ্ধ। আমি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এটি অধ্যয়ন করেছি এবং তা থেকে উপকৃত হয়েছি। তিনি যখন রুম (আনাতোলিয়া) দেশে প্রবেশ করেন, তখন মউলা ফানারি-র সাথে বিতর্ক করেন; ফুরু বা ফেকাহর প্রায়োগিক বিষয়ে তিনি ফানারি-র ওপর বিজয়ী হন এবং মূলনীতি (উসুল) ও অন্যান্য শাস্ত্রে ফানারি তাঁর ওপর জয়লাভ করেন। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) ৮২৭ হিজরি সনের রমজান মাসের মাঝামাঝি সময়ে ইন্তেকাল করেন।
তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কামুস অভিধানের প্রণেতা বিজ্ঞ মউলা মাজদুদ্দীন আবু তাহের মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব বিন মুহাম্মদ আশ-শিরাজি আল-ফিরোজাবাদি।তিনি 'তানবিহ' গ্রন্থের রচয়িতা শেখ আবু ইসহাক শিরাজি-র বংশধর ছিলেন এবং কখনো কখনো তাঁর বংশপরম্পরা আবু বকর সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) পর্যন্ত পৌঁছাত; তিনি নিজ হস্তাক্ষরে 'সিদ্দিকি' লিখতেন। তিনি রুম দেশে প্রবেশ করেন এবং উল্লিখিত সুলতানের খিদমতে যুক্ত হন। সেখানে তিনি উচ্চ মর্যাদা ও প্রতিপত্তি লাভ করেন। উক্ত সুলতান তাঁকে প্রচুর ধনসম্পদ প্রদান করেন এবং আমির তৈমুর খাঁ তাঁকে পাঁচ হাজার দিনার উপহার দেন। এরপর তিনি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন এবং সেসব অঞ্চলের উলামায়ে কেরামের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন, এমনকি তিনি সকল শাস্ত্রে—বিশেষ করে হাদিস ও তাফসির শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেন।
(খণ্ড: ১)
আশ-শাকায়িকুন নুমানিয়া ফী উলামায়িদ্দাওলাতিল উসমানিয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
واللغة وَله تصانيف كَثِيرَة تنيف على اربعين مصنفا واجل مصنفاته اللامع الْمعلم العجاب الْجَامِع بَين الْمُحكم والعباب وَكَانَ تَمَامه فِي سِتِّينَ مجلدة ثمَّ لخصها فِي مجلدتين وسمى ذَلِك الملخص بالقاموس الْمُحِيط وَله تَفْسِير الْقُرْآن الْعَظِيم وَشرح البُخَارِيّ والمشارق وَكَانَ رحمه الله لَا يدْخل بَلْدَة الا وأكرمه واليها وَكَانَ سريع الْحِفْظ وَكَانَ يَقُول لَا أَنَام الا واحفظ مِائَتي سطر وَكَانَ كثير الْعلم والاطلاع على المعارف العجيبة وَبِالْجُمْلَةِ كَانَ آيَة فِي الْحِفْظ والاطلاع والتصنيف ولد سنة تسع وَعشْرين وَسَبْعمائة بكارزين وَتُوفِّي قَاضِيا بزبيد من بِلَاد الْيمن لَيْلَة الْعشْرين من شَوَّال سنة سِتّ اَوْ سبع عشرَة وَثَمَانمِائَة وَهُوَ ممتع بحواسه وَدفن بتربة الشَّيْخ اسمعيل الجبرتي وَهُوَ آخر من مَاتَ من الرؤساء الَّذين انْفَرد كل مِنْهُم بفن فاق فِيهِ اقرانه على رَأس الْقرن الثَّامِن وهم الشَّيْخ سراج الدّين البُلْقِينِيّ فِي الْفِقْه على مَذْهَب الشَّافِعِي رحمه الله وَالشَّيْخ زين الدّين الْعِرَاقِيّ فِي الحَدِيث وَالشَّيْخ سراج الدّين بن الملقن فِي كَثْرَة التصانيف فِي فن الْفِقْه والْحَدِيث وَالشَّيْخ شمس الدّين الفناري فِي الِاطِّلَاع على كل الْعُلُوم الْعَقْلِيَّة والنقلية والعربية وَالشَّيْخ ابو عبد الله بن عَرَفَة فِي فقه الْمَالِكِيَّة وَفِي سَائِر الْعُلُوم بالمغرب وَالشَّيْخ مجد الدّين الشِّيرَازِيّ فِي اللُّغَة رَحِمهم الله تَعَالَى رَحْمَة وَاسِعَة
وَمِنْهُم الْعَالم الْعَامِل والفاضل الْكَامِل الْعَارِف بِاللَّه الشَّيْخ شهَاب الدّين السيواسي ثمَّ الاياثلوغيكَانَ رحمه الله عبد لبَعض من اهالي سيواس فتعلم فِي صغره مباني الْعُلُوم ثمَّ قرا على عُلَمَاء عصره حَتَّى فاق أقرانه وبرع فِي كل الْعُلُوم ثمَّ اتَّصل بِخِدْمَة الشَّيْخ مُحَمَّد خَليفَة الشَّيْخ زين الدّين الحافي وَحصل عِنْده عُلُوم الصُّوفِيَّة ثمَّ ارتحل مَعَ شَيْخه الى بَلْدَة أياثلوغ وأكرمه الامير ابْن ايدين غَايَة الاكرام فتوطن هُنَاكَ وَمَات فِي حُدُود الثَّمَانِينَ من الْمِائَة الثَّامِنَة وَدفن بهَا وقبره مَشْهُور يزار ويتبرك بِهِ وَله تَفْسِير الْقُرْآن الْعَظِيم سَمَّاهُ بعيون التفاسير وَهُوَ الْمَشْهُور بَين النَّاس بتفسير شيخ وَرَأَيْت لَهُ رِسَالَة فِي طَريقَة الصُّوفِيَّة سَمَّاهَا رِسَالَة النجَاة فِي شرف الصِّفَات من تصفحها يشْهد لَهُ بِأَن لَهُ قدما راسخا فِي التصوف ورايت لَهُ رِسَالَة أُخْرَى فِي
ভাষা বিজ্ঞানে তাঁর চল্লিশটিরও অধিক বহুসংখ্যক গ্রন্থ রয়েছে। তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ সংকলন হলো 'আল-লামে আল-মুআল্লিম আল-উজাব আল-জামে বাইনাল মুহকাম ওয়াল উবাব', যা ষাট খণ্ডে সমাপ্ত হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি একে দুই খণ্ডে সংক্ষেপিত করেন এবং সেই সংক্ষেপিত রূপের নাম দেন 'আল-কামুস আল-মুহিত'। এছাড়াও তাঁর রয়েছে পবিত্র কুরআনের তাফসির, সহিহ বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং আল-মাশারিক। আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, তিনি যখনই কোনো জনপদে প্রবেশ করতেন, সেখানকার শাসক তাঁকে সম্মান প্রদর্শন করতেন। তাঁর মুখস্থ করার শক্তি ছিল অত্যন্ত প্রখর। তিনি বলতেন, 'আমি দুইশ লাইন মুখস্থ না করে ঘুমাতাম না।' তিনি ছিলেন অগাধ জ্ঞান ও বিস্ময়কর সব তত্ত্বের অধিকারী। সংক্ষেপে বলতে গেলে, মুখস্থ বিদ্যা, প্রজ্ঞা এবং গ্রন্থ রচনায় তিনি ছিলেন এক অনুপম নিদর্শন। তিনি ৭২৯ হিজরিতে কারযিন শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ইয়েমেনের জাবিদ শহরে প্রধান বিচারক হিসেবে ৮১৬ বা ৮১৭ হিজরির বিশে শাওয়ালের রাতে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর ইন্দ্রিয়শক্তি অটুট ছিল। তাঁকে শাইখ ইসমাইল আল-জাবারতির সমাধিস্থলে সমাহিত করা হয়। তিনি ছিলেন অষ্টম শতাব্দীর সেই শীর্ষস্থানীয় পণ্ডিতদের মাঝে সর্বশেষ ব্যক্তি, যাঁদের প্রত্যেকেই স্ব-স্ব শাস্ত্রে অনন্য ছিলেন এবং নিজ সময়ের সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। তাঁরা হলেন: ইমাম শাফেয়ী রহ.-এর মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ শাস্ত্রে শাইখ সিরাজুদ্দীন আল-বুলকিনি, হাদিস শাস্ত্রে শাইখ জাইনুদ্দীন আল-ইরাকি, ফিকহ ও হাদিস শাস্ত্রে প্রচুর গ্রন্থ রচনায় শাইখ সিরাজুদ্দীন ইবনুল মুলাক্কিন, আকলি (যৌক্তিক), নাকলি (চিরাচরিত) এবং আরবি ভাষা ও সংশ্লিষ্ট সকল বিদ্যায় প্রজ্ঞার জন্য শাইখ শামসুদ্দীন আল-ফানারানি, মাগরিব অঞ্চলে মালিকি ফিকহ ও অন্যান্য সকল বিদ্যায় পারদর্শিতার জন্য শাইখ আবু আব্দুল্লাহ ইবনে আরাফা এবং ভাষা বিজ্ঞানে শাইখ মাজদুদ্দীন আশ-শিরাজি। আল্লাহ তাআলা তাঁদের সকলের প্রতি প্রশস্ত রহমত বর্ষণ করুন।
তাঁদেরই অন্তর্ভুক্ত হলেন আমলকারী আলিম, পূর্ণাঙ্গ ফযিলতের অধিকারী এবং আল্লাহ সম্পর্কে মারেফতসম্পন্ন ব্যক্তি শাইখ শিহাবুদ্দীন আস-সিওয়াসি, যিনি পরবর্তীতে আল-আয়াসুলুগি নামে পরিচিত হন।আল্লাহ তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন, তিনি সিওয়াসের কোনো এক অধিবাসীর গোলাম ছিলেন। শৈশবে তিনি জ্ঞানের প্রাথমিক বিষয়াদি শিক্ষা করেন, এরপর নিজ সময়ের আলিমদের নিকট অধ্যয়ন করেন এবং নিজ সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে যান ও সকল বিদ্যায় পারদর্শী হয়ে ওঠেন। অতঃপর তিনি শাইখ জাইনুদ্দীন আল-হাফির খলিফা শাইখ মুহাম্মদের খিদমতে যুক্ত হন এবং তাঁর নিকট সুফিবাদের জ্ঞান অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি তাঁর শাইখের সঙ্গে আয়াসুলুগ শহরে পাড়ি জমান। সেখানকার আমির ইবনে আইদিন তাঁকে অত্যন্ত সম্মান প্রদর্শন করেন, ফলে তিনি সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং অষ্টম শতাব্দীর আশি হিজরির দিকে সেখানেই ইন্তেকাল করেন। তাঁর কবর অত্যন্ত প্রসিদ্ধ, যেখানে মানুষ জিয়ারত করতে আসেন এবং বরকত লাভ করেন। পবিত্র কুরআনের ওপর তাঁর একটি তাফসির গ্রন্থ রয়েছে যার নাম তিনি দিয়েছেন ‘উয়ুনুত তাফাসির’, যা মানুষের মাঝে ‘তাফসিরে শাইখ’ নামে পরিচিত। আমি সুফিবাদের তরীকা সম্পর্কে তাঁর একটি পুস্তিকা দেখেছি, যার নাম তিনি দিয়েছেন ‘রিসালাতুন নাজাত ফি শারাফিস সিফাত’। যে কেউ এটি পাঠ করবে সে সাক্ষ্য দেবে যে, তাসাউফের ক্ষেত্রে তাঁর সুদৃঢ় পা ছিল। আমি তাঁর আরও একটি পুস্তিকা দেখেছি...
(খণ্ড: ১)
আশ-শাকায়িকুন নুমানিয়া ফী উলামায়িদ্দাওলাতিল উসমানিয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
التصوف ايضا وَلَكِن لم يحضرني اسْمهَا الان طيب الله مرقده وَفِي اعلى غرف الْجنان ارقده
وَمِنْهُم الْعَالم الْفَاضِل الْمولى حسن باشا ابْن الْمولى عَلَاء الدّين الاسودقرا على وَالِده اولا ثمَّ قَرَأَ على الْمولى جمال الدّين الاقسرائي وَاجْتمعَ عِنْده مَعَ الْمولى شمس الدّين الفناري رُوِيَ ان الْمولى جمال الدّين نظر يَوْمًا فِي حجرات الطّلبَة خُفْيَة فَرَأى الْمولى حسن باشا مُتكئا ينظر فِي الْكتاب وَنظر الى الْمولى الفناري فَرَآهُ جاثيا على رُكْبَتَيْهِ يطالع الْكتب وَيكْتب الْحَوَاشِي عَلَيْهَا فَقَالَ فِي حق الاول انه لَا يبلغ دَرَجَة الْفضل وَقَالَ فِي حق الثَّانِي انه سيحصل الْفضل وَيكون لَهُ شَأْن فِي الْعلم وَكَانَ كَمَا قَالَ وَالْمولى حسن باشا شرح المراح فِي الصّرْف وَشرح الْمِصْبَاح فِي النَّحْو وَسَماهُ بالافتتاح
وَمِنْهُم الْعَالم الْفَاضِل الْمولى صفر شاهكَانَ عَالما بِجَمِيعِ الْعُلُوم وَله يَد طولى فِي البلاغة وَقد جمع بَين الْمَعْقُول وَالْمَنْقُول وَالْفُرُوع والاصول ارسل اليه الْمولى الْعَلامَة شمس الدّين الفناري بعض المشكلات من الْعُلُوم الْعَقْلِيَّة وَأمره بِالْجَوَابِ عَنْهَا فَكتب اجوبتها وأرسلها اليه وَاعْتذر عَن التَّعَرُّض للجواب اظهارا للتأدب مَعَه وَذكر انه شرع فِي الْجَواب بِحكم مَا قيل الْمَأْمُور مَعْذُور وَرَأَيْت لَهُ خطبا بليغة حَسَنَة التَّرْتِيب مَقْبُولَة النظام روح الله روحه
وَمِنْهُم الْعَالم الْفَاضِل الْمولى المرحوم مُحَمَّد شاه ابْن الْمولى شمس الدّين الفناريكَانَ رحمه الله عَالما فَاضلا ذكيا وَكَانَ مطلعا على مَا اطلع عَلَيْهِ وَالِده من الْعُلُوم وَكَانَ زَائِدا عَلَيْهِ فِي الذكاء وفوض اليه فِي حَيَاة ابيه تدريس الْمدرسَة السُّلْطَانِيَّة بِمَدِينَة بروسا وَسنة ثَمَانِي عشرَة سنة وَاجْتمعَ عِنْده فِي أول يَوْم من درسه عُلَمَاء تِلْكَ الْبَلدة وفضلاء طلبتها وسألوه عَن مسَائِل من الْفُنُون المتفرقة فَأجَاب عَن كل مِنْهَا باحسن الاجوبة وشهدوا لَهُ بالفضيلة واعترفوا باطلاعه على جَمِيع الْعُلُوم وَكَانَ معيد درسه وقتئذ الْمولى فَخر الدّين العجمي وستجيء تَرْجَمته حُكيَ انه مَا عجز فِي ذَلِك الْيَوْم عَن جَوَاب اُحْدُ الا عَن جَوَاب
সুফিবাদ সম্পর্কেও (তিনি গ্রন্থ লিখেছিলেন), কিন্তু বর্তমানে আমার কাছে তাঁর নামটি উপস্থিত নেই। আল্লাহ তাঁর সমাধিকে পবিত্র করুন এবং জান্নাতের উচ্চকক্ষে তাঁকে শায়িত করুন।
তাঁদের মধ্য থেকে অন্যতম হলেন বিজ্ঞ ও ফাযেল আলেম মাওলা হাসান পাশা ইবনে মাওলা আলাউদ্দীন আল-আসওয়াদতিনি প্রথমে তাঁর পিতার নিকট পাঠ গ্রহণ করেন, অতঃপর মাওলা জামালুদ্দীন আল-আকসারায়ীর নিকট পড়াশোনা করেন এবং সেখানে মাওলা শামসুদ্দীন আল-ফানারীর সাথে তাঁর একত্র হওয়ার সুযোগ ঘটে। বর্ণিত আছে যে, মাওলা জামালুদ্দীন একদিন গোপনে ছাত্রদের কক্ষগুলোতে উঁকি দিলেন। তিনি দেখলেন মাওলা হাসান পাশা হেলান দিয়ে কিতাব দেখছেন। আবার মাওলা ফানারীর দিকে তাকিয়ে দেখলেন যে, তিনি হাঁটু গেড়ে বসে কিতাব মুতালাআ করছেন এবং তার ওপর টীকা লিখছেন। তখন তিনি প্রথমজনের ব্যাপারে বললেন যে, সে শ্রেষ্ঠত্বের স্তরে পৌঁছাতে পারবে না। আর দ্বিতীয়জনের ব্যাপারে বললেন যে, সে শীঘ্রই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করবে এবং ইলমের ময়দানে তার এক বিশেষ মর্যাদা হবে। বাস্তবেও তা-ই ঘটেছিল। মাওলা হাসান পাশা সরফ শাস্ত্রের ‘আল-মারাআ’ গ্রন্থের ব্যাখ্যা এবং নাহু শাস্ত্রের ‘আল-মিসবাহ’ গ্রন্থের ব্যাখ্যা রচনা করেন এবং তার নাম দেন ‘আল-ইফতিতাহ’।
তাঁদের মধ্য থেকে অন্যতম হলেন বিজ্ঞ ও ফাযেল আলেম মাওলা সফর শাহতিনি সমস্ত বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন এবং অলঙ্কারশাস্ত্রে তাঁর ব্যাপক বুৎপত্তি ছিল। তিনি যৌক্তিক ও শ্রুতিনির্ভর বিদ্যা এবং শাখা ও মূলনীতি শাস্ত্রের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছিলেন। আল্লামা মাওলা শামসুদ্দীন আল-ফানারীর তাঁর নিকট আকলী বা যুক্তিবিদ্যার কিছু জটিল বিষয় পাঠিয়েছিলেন এবং সেগুলোর উত্তর প্রদানের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি সেগুলোর উত্তর লিখে তাঁর নিকট পাঠিয়ে দেন এবং তাঁর সাথে আদব রক্ষার খাতিরে উত্তর প্রদানের ধৃষ্টতা প্রদর্শনের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ‘আদিষ্ট ব্যক্তি মাজুর বা নিরুপায়’—এই উক্তির প্রেক্ষিতেই তিনি উত্তর লিখতে প্রবৃত্ত হয়েছেন। আমি তাঁর অত্যন্ত প্রাঞ্জল, সুবিন্যস্ত ও সুসংবদ্ধ কিছু খুতবা দেখেছি। আল্লাহ তাঁর রুহকে প্রশান্ত করুন।
তাঁদের মধ্য থেকে অন্যতম হলেন বিজ্ঞ ও ফাযেল আলেম মরহুম মাওলা মুহাম্মদ শাহ ইবনে মাওলা শামসুদ্দীন আল-ফানারীরতিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) একজন বিজ্ঞ, ফাযেল ও মেধাবী আলেম ছিলেন। তাঁর পিতা যেসব জ্ঞান অর্জন করেছিলেন তিনি সে সম্পর্কে অবগত ছিলেন এবং মেধার ক্ষেত্রে তিনি তাঁর পিতাকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর পিতার জীবদ্দশাতেই আঠারো বছর বয়সে তাঁকে বুর্সা শহরের সুলতানিয়া মাদ্রাসার অধ্যাপনার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। তাঁর পাঠদানের প্রথম দিনে ওই শহরের ওলামায়ে কেরাম এবং মেধাবী ছাত্ররা সমবেত হন। তাঁরা তাঁকে বিভিন্ন বিষয়ের নানা জটিল প্রশ্ন করেন, আর তিনি অত্যন্ত চমৎকারভাবে সেগুলোর উত্তর দেন। তাঁরা তাঁর পাণ্ডিত্যের সাক্ষ্য দেন এবং সমস্ত বিদ্যায় তাঁর গভীর জ্ঞানের কথা স্বীকার করেন। সেই সময় তাঁর পাঠদানকালে সহায়তাকারী ছিলেন মাওলা ফখরুদ্দীন আল-আজমী, যাঁর জীবনী পরে আসবে। বর্ণিত আছে যে, সেদিন তিনি কারো প্রশ্নের উত্তর দিতে অপরাগ হননি, কেবল একটি প্রশ্নের উত্তর ব্যতীত...
(খণ্ড: ১)
আশ-শাকায়িকুন নুমানিয়া ফী উলামায়িদ্দাওলাতিল উসমানিয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
وَاحِد من الطّلبَة وَكَانَ ذَلِك الطَّالِب مشتهرا بِالْفِسْقِ رُوِيَ انه حِين الزمه وَسلم ذَلِك الطَّالِب جَوَابه بَكَى من شدَّة غيرته وَرُوِيَ انه أَتَى وَالِده ذَلِك الْيَوْم بعد الدَّرْس وَقَالَ كنت تَقول ان الْفَاسِق لَا يكون عَالما وَمَا اتعبني هَذَا الْيَوْم الا سُؤال فلَان وانه فَاسق قَالَ الْمولى الفناري لَو لم يكن هُوَ فَاسِقًا لَكَانَ فَضله فَوق مَا رَأَيْت توفّي فِي سنة تسع وَثَلَاثِينَ وَثَمَانمِائَة
وَمِنْهُم الْعَالم الْعَامِل والفاضل الْكَامِل الْمولى يُوسُف بالي ابْن الْمولى شمس الدّين الفناري روح الله روحمهماكَانَ عَالما فَاضلا فوض اليه تدريس الْمدرسَة المزبورة بعد وَفَاة اخيه وَقَرَأَ عَلَيْهِ جدي المرحوم ثمَّ استقضي بِمَدِينَة بروسا وَمَات قَاضِيا بهَا فِي سنة سِتّ وَأَرْبَعين وَثَمَانمِائَة
وَمِنْهُم الْعَالم الرباني والفاضل الصمداني الشَّيْخ قطب الدّين الازنيقيكَانَ رَحمَه الله تَعَالَى عَالما فَاضلا زاهدا متورعا وَكَانَ لَهُ حَظّ عَظِيم من التصوف ولد بازنيق وقرا على عُلَمَاء زَمَانه وتمهر فِي كل الْعُلُوم لَا سِيمَا الْعُلُوم الشَّرْعِيَّة وَتُوفِّي بهَا وصنف فِي كتاب الصَّلَاة مصنفا جَامعا لمسائلها رُوِيَ انه لما اجتاز تيمور خَان بالبلاد الرومية اجْتمع مَعَ الشَّيْخ الْمَذْكُور فَقَالَ لَهُ الشَّيْخ عَلَيْك ان تتْرك صنيعك هَذَا من قتل عباد الله وَسَفك الدِّمَاء الْمُحرمَة فَقَالَ يَا شيخ إِنِّي انْزِلْ فِي منزل وَبَاب خَيْمَتي الى الشرق فأجد بَابهَا فِي الْغَد الى الْمغرب فَإِذا ركبت يركب امامي نَحْو خمسين رجلا لَا يراهم غَيْرِي وَإِنِّي اقفو اثرهم وامتثل امرهم فَقَالَ لَهُ الشَّيْخ كنت سَمِعتك رجلا عَاقِلا والان علمت انك جَاهِل فَقَالَ من ايْنَ قلت هَذَا قَالَ لانك تفتخر بِوَصْف الشَّيْطَان وَهُوَ كَونه مظْهرا لقهر الله سبحانه وتعالى ثمَّ افْتَرقَا مَاتَ رحمه الله فِي الْيَوْم الثَّامِن من ذِي الْقعدَة لسنة احدى وَعشْرين وَثَمَانمِائَة رَحمَه الله تَعَالَى
وَمِنْهُم الْعَالم الْعَامِل والواصل الْكَامِل الْمولى بهاء الدّين عمر ابْن مَوْلَانَا قطب الدّين الْحَنَفِيّكَانَ رحمه الله عَالما فَاضلا فَقِيها متشرعا يرجع اليه فِي أَمر الْفَتْوَى فِي زَمَانه
জনৈক ছাত্র এবং সেই ছাত্রটি পাপাচারের জন্য পরিচিত ছিল। বর্ণিত আছে যে, যখন তিনি তাকে নিরুত্তর করে দিলেন এবং সেই ছাত্রটি তাঁর উত্তর মেনে নিল, তখন তিনি তাঁর প্রবল আত্মমর্যাদাবোধ থেকে কেঁদে ফেললেন। আরও বর্ণিত আছে যে, সেই দিন পাঠদানের পর তিনি তাঁর পিতার নিকট আসলেন এবং বললেন, "আপনি বলতেন যে পাপাচারী ব্যক্তি আলেম হতে পারে না; অথচ আজ অমুকের প্রশ্ন ব্যতীত অন্য কিছুই আমাকে ক্লান্ত করতে পারেনি, আর সে তো একজন পাপাচারী।" মাওলা ফানারি বললেন, "সে যদি পাপাচারী না হতো, তবে তার শ্রেষ্ঠত্ব তুমি যা দেখেছ তার চেয়েও অধিক হতো।" তিনি আটশ ঊনচল্লিশ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।
তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হলেন আমলকারী আলেম এবং পূর্ণাঙ্গ গুণী ব্যক্তি মাওলা ইউসুফ বালি ইবনে মাওলা শামসুদ্দিন ফানারি, আল্লাহ তাঁদের রূহকে প্রশান্ত করুন।তিনি একজন প্রাজ্ঞ আলেম ছিলেন। তাঁর ভাইয়ের ইন্তেকালের পর উক্ত মাদ্রাসার পাঠদানের দায়িত্ব তাঁর ওপর অর্পণ করা হয়। আমার মরহুম দাদাজান তাঁর নিকট পাঠ গ্রহণ করেছেন। অতঃপর তাঁকে বুরসা নগরীর বিচারক নিযুক্ত করা হয় এবং তিনি আটশ ছেচল্লিশ হিজরি সনে সেখানে বিচারক থাকাবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হলেন রব্বানি আলেম এবং আধ্যাত্মিক গুণী শায়খ কুতুবুদ্দিন আজনিকি।আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, তিনি একজন প্রাজ্ঞ আলেম, দুনিয়াবিমুখ এবং পরহেজগার ছিলেন। তাসাউফ শাস্ত্রে তাঁর বিশেষ বুত্পত্তি ছিল। তিনি আজনিকে জন্মগ্রহণ করেন এবং তৎকালীন উলামায়ে কেরামের নিকট শিক্ষালাভ করেন। তিনি সকল শাস্ত্রে, বিশেষ করে শরিয়তের জ্ঞানে পারদর্শিতা অর্জন করেন এবং সেখানেই ইন্তেকাল করেন। তিনি নামাজ সম্পর্কে একটি কিতাব রচনা করেন যা এর মাসআলাসমূহকে সুসংহতভাবে ধারণ করেছে। বর্ণিত আছে যে, তৈমুর খান যখন রোম অঞ্চল অতিক্রম করছিলেন, তখন তিনি উক্ত শায়খের সাথে সাক্ষাৎ করেন। শায়খ তাঁকে বললেন, "আপনার উচিত আল্লাহর বান্দাদের হত্যা করা এবং নিষিদ্ধ রক্তপাত ঘটানোর এই পথ বর্জন করা।" তিনি বললেন, "হে শায়খ, আমি যখন কোনো স্থানে অবস্থান করি তখন আমার তাঁবুর দরজা থাকে পূর্ব দিকে, অথচ পরদিন সকালে আমি তা পশ্চিম দিকে দেখতে পাই। আর আমি যখন সওয়ারিতে আরোহন করি, তখন আমার সামনে প্রায় পঞ্চাশজন লোক আরোহন করে যাদের আমি ব্যতীত আর কেউ দেখতে পায় না। আমি তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করি এবং তাদের আদেশ পালন করি।" তখন শায়খ তাঁকে বললেন, "আমি আপনাকে একজন বুদ্ধিমান লোক হিসেবে জানতাম, কিন্তু এখন বুঝতে পারলাম যে আপনি একজন মূর্খ।" তিনি বললেন, "আপনি কেন এমন কথা বললেন?" শায়খ বললেন, "কারণ আপনি শয়তানের গুণাবলি নিয়ে গর্ব করছেন, যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।" অতঃপর তাঁরা বিচ্ছিন্ন হলেন। তিনি আটশ একুশ হিজরি সনের আটই জিলকদ তারিখে ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হলেন আমলকারী আলেম এবং পূর্ণাঙ্গ আধ্যাত্মিক সাধক মাওলা বাহাউদ্দিন উমর ইবনে মাওলানা কুতুবুদ্দিন হানাফি।আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, তিনি একজন প্রাজ্ঞ আলেম, ফকিহ এবং শরিয়তপন্থী ছিলেন, যাঁর নিকট তাঁর সমসাময়িককালে ফতোয়ার বিষয়াদিতে প্রত্যাবর্তন করা হতো।
(খণ্ড: ১)
আশ-শাকায়িকুন নুমানিয়া ফী উলামায়িদ্দাওলাতিল উসমানিয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
تغمده الله بغفرانه
وَمِنْهُم الْعَالم الْعَامِل والفاضل الْكَامِل الْمولى إِبْرَاهِيم بن مُحَمَّد الْحَنَفِيّكَانَ رحمه الله عَالما عَاملا فَقِيها فَاضلا يرجع اليه ايضا فِي أَمر الْفَتْوَى فِي زَمَانه اسكنه الله بحبوحة جنانه
وَمِنْهُم الْعَالم الْعَامِل والفاضل الْكَامِل الْمولى نجم الدّين الْحَنَفِيّكَانَ رحمه الله عَالما عَاملا فَاضلا كَامِلا جَامعا بَين الرِّوَايَة والدراية يرجع اليه ايضا فِي أَمر الْفَتْوَى فِي زَمَانه أكْرمه الله برضوانه
وَمِنْهُم الشَّيْخ يار عَليّ الشِّيرَازِيّرُوِيَ انه كَانَ رجلا عَالما فَاضلا عَارِفًا بالاصول وَالْفُرُوع والمعقول والمشروع وَكَانَ يُفْتِي فِي زَمَانه وَيرجع النَّاس اليه فِي المشكلات رَحمَه الله تَعَالَى
وَمِنْهُم الشَّيْخ مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن عَليّ بن يُوسُف الْجَزرِييكنى بَابي الْخَيْر ولد فِيمَا حَقَّقَهُ نَفسه من لفظ وَالِده فِي لَيْلَة السبت الْخَامِس وَالْعِشْرين من شهر رَمَضَان سنة احدى وَخمسين وَسَبْعمائة بِدِمَشْق وَحفظ الْقُرْآن سنة أَربع وَسِتِّينَ وَصلى بِهِ سنة خمس وَسِتِّينَ وَسمع الحَدِيث من جمَاعَة وافردالقراآت على بعض الشُّيُوخ وَجمع السَّبْعَة فِي سنة ثَمَان وَسِتِّينَ وَحج فِي هَذِه السّنة ثمَّ رَحل الى الديار المصرية فِي سنة تسع وَجمع القراآت الْعشْر والاثنتي عشرَة ثمَّ الثَّلَاث عشرَة ثمَّ رَحل الى دمشق وَسمع الحَدِيث من اصحاب الدمياطي والابرقوهي وَأخذ الْفِقْه عَن الاسنوي وَغَيره ثمَّ رَحل الى الديار المصرية وَقَرَأَ بهَا الاصول والمعاني وَالْبَيَان ورحل الى اسكندرية وَسمع من اصحاب ابْن عبد السلام وَغَيرهم وَأذن لَهُ بالافتاء شيخ الاسلام ابو الْفِدَاء اسمعيل بن كثير سنة أَربع وَسبعين وَسَبْعمائة وَكَذَلِكَ الشَّيْخ ضِيَاء الدّين سنة ثَمَان وَسبعين وَكَذَلِكَ شيخ الاسلام البُلْقِينِيّ سنة خمس وَثَمَانِينَ ثمَّ جلس للاقراء وَقَرَأَ عَلَيْهِ القراآت جمَاعَة كَثِيرُونَ وَولي قَضَاء الشَّام سنة ثَلَاث وَتِسْعين وَسَبْعمائة ثمَّ دخل الرّوم لما ناله من الظُّلم من أَخذ أَمْوَاله وَغَيره بالديار المصرية فِي سنة ثَمَان وَتِسْعين وَسَبْعمائة فَنزل بِمَدِينَة بروسا دَار
আল্লাহ তাঁকে তাঁর ক্ষমা দ্বারা আবৃত করুন।
তাদের মধ্যে একজন হলেন ইলম অনুযায়ী আমলকারী আলেম এবং পূর্ণ গুণসম্পন্ন শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব মওলা ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ আল-হানাফি।তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) একজন আমলকারী আলেম, ফকিহ এবং ফাযেল ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর সময়ে ফতোয়ার বিষয়েও তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন করা হতো। আল্লাহ তাঁকে তাঁর জান্নাতের প্রশস্ততম স্থানে বসবাস করার তৌফিক দান করুন।
তাদের মধ্যে অন্যজন হলেন ইলম অনুযায়ী আমলকারী আলেম এবং পূর্ণ গুণসম্পন্ন শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব মওলা নাজমুদ্দিন আল-হানাফি।তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) একজন আমলকারী আলেম, ফাযেল ও কামিল ব্যক্তি ছিলেন। তিনি বর্ণনা ও গবেষণামূলক জ্ঞান (রেওয়ায়েত ও দেরায়েত)-এর সমন্বয়কারী ছিলেন। তাঁর সময়ে ফতোয়ার বিষয়েও তাঁর কাছে প্রত্যাবর্তন করা হতো। আল্লাহ তাঁকে তাঁর সন্তুষ্টির মাধ্যমে সম্মানিত করুন।
তাদের মধ্যে অন্যজন হলেন শেখ ইয়ার আলী আশ-শিরাজি।বর্ণিত আছে যে, তিনি একজন আলেম ও ফাযেল ব্যক্তি ছিলেন এবং উসুল (মূলনীতি), ফুরু (শাখা), মা’কুল (যুক্তিবিদ্যা) ও মাশরু (শরীয়াহ শাস্ত্র) বিষয়ে পারদর্শী ছিলেন। তিনি তাঁর সময়ে ফতোয়া দিতেন এবং জটিল বিষয়সমূহে মানুষ তাঁর অভিমুখী হতো। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন।
তাদের মধ্যে অন্যজন হলেন শেখ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন ইউসুফ আল-জাযারি।তাঁর উপনাম ছিল আবু আল-খায়ের। তিনি দামেস্কে সাতশ একান্ন হিজরি সালের রমজান মাসের পঁচিশ তারিখ শনিবার রাতে জন্মগ্রহণ করেন, যা তিনি স্বয়ং তাঁর পিতার বক্তব্য থেকে যাচাই করে বর্ণনা করেছেন। তিনি সাতশ চৌষট্টি হিজরি সালে কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন এবং সাতশ পঁয়ষট্টি সালে তা দিয়ে নামাজ (ইমামতি) আদায় করেন। তিনি একদল উস্তাদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন এবং কিছু শায়খের নিকট একক কেরাতসমূহ পাঠ করেন। তিনি সাতশ আটষট্টি সালে সাত কেরাত আয়ত্ত করেন এবং ঐ বছরই হজ পালন করেন। তারপর তিনি সাতশ উনসত্তর সালে মিসর অভিমুখে যাত্রা করেন এবং দশ, বারো ও তেরো কেরাত আয়ত্ত করেন। এরপর তিনি দামেস্কে ফিরে আসেন এবং দামিয়াতি ও আবরকুহি-এর সাথীদের থেকে হাদিস শ্রবণ করেন। তিনি আল-ইসনাভি ও অন্যান্যদের থেকে ফিকহ শাস্ত্র গ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি পুনরায় মিসর গমন করেন এবং সেখানে উসুল, মাআনি ও বায়ান পাঠ করেন। তিনি আলেকজান্দ্রিয়া সফর করেন এবং ইবনে আবদুস সালামের সাথী ও অন্যদের থেকে জ্ঞান অর্জন করেন। শায়খুল ইসলাম আবু আল-ফিদা ইসমাইল বিন কাসির সাতশ চুয়াত্তর হিজরি সালে তাঁকে ফতোয়া প্রদানের অনুমতি দান করেন। একইভাবে শায়খ জিয়াউদ্দিন সাতশ আটাত্তর সালে এবং শায়খুল ইসলাম আল-বুলকিনি সাতশ পঁচাশি সালে তাঁকে অনুমতি প্রদান করেন। এরপর তিনি কেরাত শিক্ষাদানের জন্য আসীন হন এবং বহু সংখ্যক লোক তাঁর নিকট কেরাত পাঠ করেন। তিনি সাতশ তিরানব্বই হিজরি সালে শামের বিচারক (কাজি) নিযুক্ত হন। অতঃপর মিসরে তাঁর সম্পদ ছিনিয়ে নেওয়া ও অন্যান্য জুলুমের শিকার হওয়ার কারণে সাতশ আটানব্বই হিজরি সালে তিনি রোম (তৎকালীন উসমানীয় ভূখণ্ড) প্রবেশ করেন এবং বুরসা শহরে অবস্থান গ্রহণ করেন।
(খণ্ড: ১)
আশ-শাকায়িকুন নুমানিয়া ফী উলামায়িদ্দাওলাতিল উসমানিয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
دَار الْملك الْكَامِل الْمُجَاهِد بايزيد بن عُثْمَان فأكمل عَلَيْهِ القراآت الْعشْر بهَا جمَاعَة كَثِيرُونَ من اهل تِلْكَ الديار وَغَيرهم وَلما كَانَت الْفِتْنَة الْعَظِيمَة الْمَشْهُورَة من قبل تيمور خَان فِي أول سنة خمس وَثَمَانمِائَة فَأَخذه الامير تيمور مَعَه الى مَا وَرَاء النَّهر وأنزله بِمَدِينَة كش ثمَّ الى سَمَرْقَنْد وقرا عَلَيْهِ فِي كل مِنْهَا جمَاعَة كَثِيرُونَ وَلما توفّي الامير تيمور خَان فِي شعْبَان سنة سبع وَثَمَانمِائَة خرج من بِلَاد مَا وَرَاء النَّهر فوصل الى خُرَاسَان وَدخل الى هراة ثمَّ الى مَدِينَة يزدْ ثمَّ الى اصبهان ثمَّ الى شيراز فقرا عيه فِي كل مِنْهَا جمَاعَة بَعضهم السَّبْعَة وَبَعْضهمْ الْعشْرَة وألزمه صَاحب شيرازبير مُحَمَّد قَضَاء شيراز ونواحيها فَبَقيَ فِيهَا كرها حَتَّى فتح الله عَلَيْهِ فَخرج مِنْهَا الى الْبَصْرَة ثمَّ فتح الله لَهُ الْمُجَاورَة بِمَكَّة وَالْمَدينَة سنة ثَلَاث وَعشْرين وَحين اقامته بِالْمَدِينَةِ قَرَأَ عَلَيْهِ شيخ الْحرم وَألف فِي القراآت كتاب النشر فِي القراآت الْعشْر فِي مجلدين ومختصره التَّقْرِيب وتحبير التَّيْسِير فِي القراآت الْعشْرَة وطبقات الْقُرَّاء وتاريخهم كبرى وصغرى الَّتِي نقلت هَذِه التَّرْجَمَة من صغراها وَلما أَخذه الامير تيمور خَان الى مَا وَرَاء النَّهر ألف هُنَاكَ شرح المصابيح فِي ثَلَاثَة اسفار وَألف فِي التَّفْسِير والْحَدِيث وَالْفِقْه ونظم قَدِيما غَايَة المهرة فِي الزِّيَادَة على الْعشْرَة ونظم طيبَة النشر فِي القراآت الْعشْر والجوهرة فِي النَّحْو والمقدمة فِيمَا على قَارِئ الْقُرْآن ان يُعلمهُ وَغير ذَلِك فِي فنون شَتَّى هَذَا مَا حَكَاهُ الْجَزرِي عَن نَفسه فِي طبقاته الصُّغْرَى نقلته عَن خطه وَقَالَ بعض تلامذته بِخَطِّهِ قَالَ الْفَقِير المغترف من بحاره توفّي شَيخنَا رحمه الله ضحوة الْجُمُعَة لخمس خلون من أول الربيعين سنة ثَلَاث وَثَلَاثِينَ وَثَمَانمِائَة بِمَدِينَة شيراز وَدفن بدار الْقُرَّاء الي انشأها وَكَانَت جنَازَته مَشْهُورَة تبادر الاشراف والخواص الى حملهَا وتقبيلها ومسها تبركا بهَا وَمن لم يُمكنهُ الْوُصُول الى ذَلِك كَانَ يتبرك بِمن يتبرك بهَا وَقد اندرس بِمَوْتِهِ كثير من مهام الاسلام رضي الله عنه وَعَن اسلافه واخلافه وَمن جملَة تصانيف الشَّيْخ الْمَذْكُور كتاب الْحصن الْحصين فِي الدَّعْوَات الماثورة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَهُوَ كتاب نَفِيس جدا ثمَّ اخْتَصَرَهُ اختصارا غير مخل وَكَانَ للشَّيْخ الْمَذْكُور ابْنَانِ فاضلان احدهما وَهُوَ الاكبر مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن
কামিল (পূর্ণাঙ্গ) বাদশাহ ও মুজাহিদ বায়েজিদ বিন উসমানের রাজদরবার; সেখানে সেই জনপদের বহু মানুষ এবং অন্যান্য এলাকার অধিবাসীরা তাঁর কাছে দশ কিরাত (পঠনপদ্ধতি) সম্পন্ন করেন। যখন ৮০৫ হিজরীর শুরুতে তৈমুর খাঁ কর্তৃক সেই সুবিখ্যাত মহাবিপর্যয় (ফিতনা) সংঘটিত হলো, তখন আমীর তৈমুর তাঁকে নিজের সাথে মাওয়ারাউন্নহর (ট্রান্সঅক্সিয়ানা) নিয়ে গেলেন এবং তাঁকে প্রথমে কিশ শহরে ও পরে সমরকন্দে অবস্থান করালেন। এই প্রত্যেকটি স্থানে বহু সংখ্যক মানুষ তাঁর কাছে কিরাত পাঠ করেন। যখন ৮০৭ হিজরীর শাবান মাসে আমীর তৈমুর খাঁ ইন্তেকাল করেন, তখন তিনি মাওয়ারাউন্নহর থেকে বের হয়ে খুরাসানে পৌঁছান এবং হেরাতে প্রবেশ করেন। অতঃপর ইয়াজদ শহর, এরপর ইসফাহান এবং সবশেষে শিরাজ শহরে গমন করেন। সেখানেও একদল লোক তাঁর কাছে সাবআ (সাত কিরাত) এবং অপর একটি দল আশারা (দশ কিরাত) পাঠ করেন। শিরাজের অধিপতি পীর মুহাম্মদ তাঁকে শিরাজ ও তৎসংলগ্ন এলাকার কাজীর (বিচারপতি) দায়িত্ব পালনে বাধ্য করেন। ফলে অনিচ্ছা সত্ত্বেও তিনি সেখানে অবস্থান করেন, যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর জন্য পথ প্রশস্ত করে দিলেন। অতঃপর তিনি সেখান থেকে বসরায় চলে যান। পরবর্তীতে ৮২৩ হিজরীতে আল্লাহ তাআলা তাঁকে মক্কা ও মদীনায় অবস্থানের সৌভাগ্য দান করেন।
মদীনায় অবস্থানকালে শায়খুল হারাম তাঁর নিকট কিরাত পাঠ করেন। তিনি কিরাত শাস্ত্রের ওপর দুই খণ্ডে 'আন-নাশরু ফিল কিরাআতিল আশর' গ্রন্থটি রচনা করেন। এছাড়াও এর সংক্ষিপ্ত রূপ 'আত-তাকরীব', 'তাহবীরুত তাইসীর ফিল কিরাআতিল আশারা' এবং ক্বারিদের জীবনী ও ইতিহাসের ওপর 'তাবাকাতুল কুররা' (বড় ও ছোট) রচনা করেন। মূলত তাঁর এই জীবনীটি সেই 'তাবাকাতুস সুগরা' (ছোট সংস্করণ) থেকেই উদ্ধৃত করা হয়েছে। যখন আমীর তৈমুর খাঁ তাঁকে মাওয়ারাউন্নহর নিয়ে গিয়েছিলেন, তখন তিনি সেখানে তিন খণ্ডে 'শারহুল মাসাবিহ' রচনা করেন। তিনি তাফসীর, হাদীস ও ফিকহ শাস্ত্রের ওপরও গ্রন্থ রচনা করেছেন। এছাড়া প্রাচীনকালে তিনি 'গায়াতুল মাহারা ফিজ জিয়াদাতি আলাল আশারা' কাব্যগ্রন্থ, কিরাআতের ওপর 'তৈয়্যেবাতুন নাশর', নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রের ওপর 'আল-জাওহারা' এবং 'আল-মুকাদ্দিমা' (কুরআন পাঠকারীর জন্য যা জানা আবশ্যক) সহ বিভিন্ন শাস্ত্রের ওপর বহু গ্রন্থ রচনা করেন। আল-জাজারি তাঁর 'তাবাকাতুস সুগরা' গ্রন্থে নিজের সম্পর্কে এই বর্ণনা দিয়েছেন; যা আমি তাঁর স্বহস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি থেকে নকল করেছি।
তাঁর জনৈক ছাত্র নিজ হাতে লিখে বর্ণনা করেছেন: "এই ফকীর, যে তাঁর জ্ঞান-সমুদ্র থেকে সামান্য অঞ্জলি গ্রহণকারী, সে বলছে যে—আমাদের শায়খ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) ৮৩৩ হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসের ৫ তারিখ শুক্রবার পূর্বাহ্ণে শিরাজ শহরে ইন্তেকাল করেন। তাঁকে তাঁরই প্রতিষ্ঠিত 'দারুল কুররা'-তে দাফন করা হয়। তাঁর জানাজা ছিল অত্যন্ত প্রসিদ্ধ। উচ্চবংশীয় ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বরকতের আশায় তাঁর খাটিয়া বহন করতে এবং তা স্পর্শ ও চুম্বন করতে একে অপরের অগ্রগামী হচ্ছিলেন। যারা সরাসরি খাটিয়া পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হয়নি, তারা সেই বরকত লাভকারীদের স্পর্শ করে বরকত গ্রহণ করছিল। তাঁর প্রয়াণের ফলে ইসলামের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে; আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পূর্বসূরি ও উত্তরসূরিদের ওপর সন্তুষ্ট হোন।
উল্লিখিত শায়খের সংকলনসমূহের মধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত মা'সুর (প্রসিদ্ধ) দুআসমূহের ওপর সংকলিত 'আল-হিসনুল হাসিন' অন্যতম, যা অত্যন্ত মূল্যবান একটি গ্রন্থ। পরবর্তীতে তিনি এর মূল বক্তব্যের কোনো হানি না ঘটিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণও প্রস্তুত করেন। উক্ত শায়খের দুই সুযোগ্য পুত্র ছিলেন, যাঁদের বড়জন হলেন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন...
(খণ্ড: ১)
আশ-শাকায়িকুন নুমানিয়া ফী উলামায়িদ্দাওলাতিল উসমানিয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن الْجَزرِي ابو الْفَتْح الشَّافِعِي قَالَ الشَّيْخ رحمه الله ولد هُوَ فِي يَوْم الاربعاء ثَانِي شهر ربيع الاول سنة سبع وَسبعين وَسَبْعمائة بِدِمَشْق حفظ الْقُرْآن وَله ثَمَان سِنِين وَاسْتظْهر الشاطبية والرائية ومنظومتي الْهِدَايَة وَشرع فِي الْجمع بالعشر عَليّ ثمَّ رحلت بِهِ الى الديار المصرية وقرا القراآت على شيوخها ثمَّ اشْتغل بالفقه وَغَيره فحفظ عدَّة كتب فِي عُلُوم مُخْتَلفَة كالتنبيه للامام ابي اسحق والفية ابْن مَالك ومنهاج الْبَيْضَاوِيّ وتلخيص الْمِفْتَاح والمنهج فِي أصُول الدّين لشيخه شيخ الاسلام البُلْقِينِيّ وألفية شَيْخه الْعِرَاقِيّ فِي عُلُوم الحَدِيث وَغير ذَلِك وَقَرَأَ محفوظاته مَرَّات على شُيُوخ عصره واجازوه وَأذن لَهُ بالافتاء والتدريس شَيْخه الامام برهَان الدي الانباشي قَالَ الشَّيْخ لما دخلت الرّوم بَاشر وظائفي بِدِمَشْق ودرس وأقرا حَتَّى اخترمته يَد الْمنون فانا لله وانا اليه رَاجِعُون وَمَات بِمَرَض الطَّاعُون سنة ارْبَعْ عشرَة وَثَمَانمِائَة وَأَنا بشيراز وَلَا حول وَلَا قُوَّة الا بِاللَّه وَثَانِيهمَا وَهُوَ الاصغر مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن الْجَزرِي ابو الْخَيْر قَالَ الشَّيْخ ولد هُوَ فِي جمادي الاولى سنة تسع وَثَمَانِينَ وَسَبْعمائة بعد عودنا من مصر واتمام اخيه القراآت وَأَجَازَهُ مَشَايِخ الْعَصْر وَحضر على أَكْثَرهم ثمَّ رحلت بِهِ وباخوته الى مصر فَسمع الشاطبية وَسَائِر كتب القراآت من مَشَايِخ مصر بِقِرَاءَة اخيه ابي بكر احْمَد وَلما عدنا الى دمشق سمع البُخَارِيّ وَلما دخلت الرّوم حضر الي فِي سنة احدى وَثَمَانمِائَة فصلى بِالْقُرْآنِ وَحفظ الْمُقدمَة والجوهرة وأكمل على جَمِيع القراآت الْعشْر فِي ذِي الْقعدَة سنة ثَلَاث ثمَّ اعادها فِي ختمة اخرى فختمها يَوْم الِاثْنَيْنِ وَهُوَ يَوْم الوقفة تَاسِع ذِي الْحجَّة سنة ارْبَعْ وَثَمَانمِائَة ثمَّ لحقنى إِلَى مَدِينَة كش فِي أَيَّام الْأَمِير تيمور فِي اوائل سنة سبع وَثَمَانمِائَة ثمَّ كَانَ فِي صحبتي الى شيراز وأكمل بهَا أَيْضا القراآت الْعشْر سنة تسع وَثَمَانمِائَة وللشيخ ولد آخر اسْمه احْمَد بن مُحَمَّد بن مُحَمَّد ابْن مُحَمَّد بن الْجَزرِي قَالَ الشَّيْخ ولد هُوَ فِي لَيْلَة الْجُمُعَة سَابِع عشر من شهر رَمَضَان سنة ثَمَانِينَ وَسَبْعمائة بِدِمَشْق ختم الْقُرْآن سنة تسعين وَصلى بِهِ سنة احدى وَتِسْعين وَحفظ الشاطبية والرائية وقصيدتي فِي الْعشْرَة ثمَّ قرا بالقراآت
মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-জাযারি আবু আল-ফাতহ আশ-শাফিয়ি। শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, তিনি ৭৭৭ হিজরি সালের রবিউল আউয়াল মাসের দ্বিতীয় দিন বুধবার দামেস্কে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আট বছর বয়সে কুরআন হিফজ করেন এবং আশ-শাতিবিয়্যাহ, আর-রায়িয়্যাহ ও আল-হিদায়াহ-এর দুটি কাব্যগ্রন্থ মুখস্থ করেন। তিনি আমার কাছে দশ কিরাআত একত্রিত করে পড়া শুরু করেন, অতঃপর আমি তাঁকে নিয়ে মিসর অভিমুখে সফর করি। সেখানে তিনি সেখানকার শায়খদের কাছে কিরাআতসমূহ পড়েন, এরপর ফিকহ ও অন্যান্য বিষয়ে ব্যস্ত হন। তিনি বিভিন্ন ইলমের বেশ কিছু কিতাব মুখস্থ করেন, যেমন ইমাম আবু ইসহাকের 'আত-তানবিহ', ইবনে মালিকের 'আলফিয়্যাহ', বায়যাবির 'মিনহাজ', 'তালখিসুল মিফতাহ', তাঁর উস্তাদ শায়খুল ইসলাম আল-বুলকিনির উসুলুদ্দিন বিষয়ক 'আল-মানহাজ' এবং তাঁর উস্তাদ আল-ইরাকির ইলমে হাদিস বিষয়ক 'আলফিয়্যাহ' ইত্যাদি। তিনি তাঁর মুখস্থ বিষয়গুলো তাঁর সমসাময়িক শায়খদের কাছে বারবার পড়েন এবং তাঁরা তাঁকে অনুমতি প্রদান করেন। তাঁর উস্তাদ ইমাম বুরহান উদ্দিন আল-আনবাশি তাঁকে ইফতা ও পাঠদানের অনুমতি দেন। শায়খ বলেন, আমি যখন রোম অঞ্চলে প্রবেশ করি, তখন তিনি দামেস্কে আমার দায়িত্বসমূহ আঞ্জাম দেন এবং পাঠদান ও কিরাআত শিক্ষা দেন, যতক্ষণ না মৃত্যুর হাত তাঁকে ছিনিয়ে নেয়। আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। তিনি ৮১৪ হিজরি সালে প্লেগ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান, তখন আমি শিরাজ শহরে ছিলাম। আল্লাহ ছাড়া কোনো সামর্থ্য ও শক্তি নেই। এবং তাঁদের মধ্যে দ্বিতীয়জন হলেন কনিষ্ঠ মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-জাযারি আবু আল-খায়ের। শায়খ বলেন, তিনি মিসর থেকে আমাদের ফেরার পর এবং তাঁর ভাইয়ের কিরাআত সম্পন্ন করার পর ৭৮৯ হিজরি সালের জুমাদাল উলা মাসে জন্মগ্রহণ করেন। সমসাময়িক মাশায়েখগণ তাঁকে অনুমতি প্রদান করেছেন এবং তিনি তাঁদের অধিকাংশের মজলিসে উপস্থিত ছিলেন। এরপর আমি তাঁকে ও তাঁর ভাইদের নিয়ে মিসরে সফর করি, সেখানে তিনি তাঁর ভাই আবু বকর আহমদের কিরাআতের মাধ্যমে মিসরের মাশায়েখদের কাছ থেকে শাতিবিয়্যাহ ও কিরাআতের অন্যান্য কিতাব শ্রবণ করেন। যখন আমরা দামেস্কে ফিরে আসি, তিনি বুখারি শ্রবণ করেন। আমি যখন রোমে প্রবেশ করি, তখন তিনি ৮০১ হিজরি সালে আমার কাছে আসেন এবং কুরআন দিয়ে সালাত আদায় করেন। তিনি আল-মুকাদ্দিমাহ ও আল-জাওহারাহ মুখস্থ করেন এবং ৮০৩ হিজরি সালের জিলকদ মাসে দশ কিরাআতের সবগুলো সম্পন্ন করেন। এরপর অন্য এক খতমে পুনরায় তা তিলাওয়াত করেন এবং ৮০৪ হিজরি সালের ৯ই জিলহজ সোমবার আরাফাতের দিনে তা সম্পন্ন করেন। এরপর ৮০৭ হিজরির শুরুর দিকে আমির তৈমুরের শাসনামলে তিনি কেশ শহরে আমার সাথে মিলিত হন। এরপর তিনি শিরাজ পর্যন্ত আমার সফরসঙ্গী ছিলেন এবং ৮০৯ হিজরি সালে সেখানেও দশ কিরাআত সম্পন্ন করেন। শায়খের অন্য এক ছেলে আছেন যাঁর নাম আহমদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-জাযারি। শায়খ বলেন, তিনি ৭৮০ হিজরি সালের ১৭ই রমজান শুক্রবার রাতে দামেস্কে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ৭৯০ হিজরি সালে কুরআন খতম করেন এবং ৭৯১ হিজরি সালে তা দিয়ে সালাত আদায় করেন। তিনি শাতিবিয়্যাহ, রায়িয়্যাহ এবং দশ কিরাআতের ওপর আমার রচিত কাসিদাহ মুখস্থ করেন, এরপর কিরাআত পড়া শুরু করেন।
(খণ্ড: ১)
আশ-শাকায়িকুন নুমানিয়া ফী উলামায়িদ্দাওলাতিল উসমানিয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
الاثْنَي عشر بِقِرَاءَة أَخِيه ابي الْفَتْح ثمَّ قَرَأَ ثَانِيًا القراآت الْعشْر واجازه الْمَشَايِخ وقرا عَليّ كتابي النشر والطيبة وسمعهما غير مرّة وَحفظ كتبا وَكتب عَن الشَّيْخ الْحَافِظ الْعِرَاقِيّ وَغَيره وَسمع البُخَارِيّ وَلما دخلت الرّوم لَحِقَنِي بِكَثِير من كتبي فَأَقَامَ عِنْدِي يُفِيد ويستفيد وانتفع بِهِ اولاد الْملك الْكَامِل بايزيد بن عُثْمَان الْكَامِل مُحَمَّد والسعيد مصطفى والاشرف عِيسَى وَصَارَ مُتَوَلِّي الْجَامِع الاكبر البيزيدي بِمَدِينَة بروسا وَنَشَأ مَعَ دين وعفاف اسعده الله وَبَارك فِيهِ ثمَّ لما وَقعت الْفِتْنَة التيمورية فَأرْسلهُ تيمورلنك رَسُولا الى السُّلْطَان النَّاصِر فرج ابْن برقوق ففارقني نَحْو عشْرين سنة هُوَ بالروم وَأَنا بالعجم مَعَ تيمور وَلما يسر الله تَعَالَى لي الْحَج فِي سنة سبع وَعشْرين وَثَمَانمِائَة كتبت اليه فَحَضَرَ عِنْدِي واجتمعنا بِمصْر نَحْو سِتَّة عشر يَوْمًا وتوجهت الى الْحَج وجاورت واقام هُوَ بِمصْر من شَوَّال الى شَوَّال سنة فحج معي سنة ثَمَان ورجعنا جَمِيعًا الى الديار المصرية وَتوجه الى الرّوم ليحضر اهله ففارقته بِدِمَشْق فِي جمادي الاخرة سنة تسع وَلما كَانَ بِمصْر فِي غيبتي وانا مجاور بِمَكَّة شرح طيبَة النشر فَأحْسن فِيهِ مَعَ انه لم يكن عِنْده نُسْخَة بالحواشي الَّتِي كنت كتبت عَلَيْهَا وَمن قبل ذَلِك شرح مُقَدّمَة التجويد ومقدمة علم الحَدِيث من نظمي فِي غَايَة الْحسن وولاه السُّلْطَان الاشرف برسباي وظائف أَخِيه ابي الْفَتْح رحمه الله من المشيخة والاقراء والتدريس وَتوجه لاحضار اهله من الرّوم وتوجهت انا لذَلِك الى الْعَجم وَالله تَعَالَى يجمع شملنا فِي خير وَذَلِكَ سنة تسع وَعشْرين وَثَمَانمِائَة وللشيخ غير هَؤُلَاءِ ابْنَانِ ابو الْبَقَاء اسمعيل وَأَبُو الْفضل اسحق وَبَنَات فَاطِمَة وَعَائِشَة وسلمى جَمِيع هَؤُلَاءِ من الْقُرَّاء المجودين والمرتلين وَمن الْحفاظ الْمُحدثين رضي الله عنهم وأرضاهم ثمَّ ان الْمولى خضر بك ابْن جلال ارسل الى الشَّيْخ الْجَزرِي نظما وَهُوَ هَذَا
… لَو كَانَ فِي بَابه للنظم مفرخة
… الفت فِي مدحه الْفَا من الْكتب
لكنه الْبَحْر فِي كل الْفُنُون فَمَا
… اهداء در الى بَحر من الادب
…
فَأرْسل اليه الشَّيْخ جَوَابا لنظمه وَهُوَ هَذَا … فِي در نظمك بَحر الْفضل ذُو لجب … ودرنظمك عقد فِي طلي الادب …
বারোটি কিরাত তার ভাই আবু আল-ফাতহের নিকট পাঠ করেন, অতঃপর তিনি দ্বিতীয়বার দশ কিরাত পাঠ করেন এবং শায়খগণ তাকে ইজাজাহ প্রদান করেন। তিনি আমার নিকট আমার লিখিত কিতাব 'আন-নশর' ও 'আত-তয়্যিবাহ' পাঠ করেন এবং সেগুলো একাধিকবার শ্রবণ করেন এবং বহু কিতাব মুখস্থ করেন। তিনি শায়খ হাফিজ আল-ইরাকি ও অন্যান্যদের নিকট থেকে হাদীস লিখে নেন এবং বুখারি শ্রবণ করেন। আমি যখন রোম দেশে প্রবেশ করি, তখন তিনি আমার অনেক কিতাবসহ আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি আমার নিকট অবস্থান করে জ্ঞান দান ও গ্রহণ করতে থাকেন। সুলতান আল-মালিকুল কামিল বায়াজিদ ইবনে উসমান আল-কামিল মুহাম্মাদ, সাঈদ মুস্তফা এবং আশরাফ ঈসার সন্তানগণ তার দ্বারা উপকৃত হন। তিনি ব্রুসা শহরের বায়াজিদিয়া জামে মসজিদের মুতাওয়াল্লি নিযুক্ত হন। তিনি দ্বীনদারি ও পবিত্রতার সাথে বেড়ে ওঠেন, আল্লাহ তাকে সুখী করুন ও তাতে বরকত দান করুন। অতঃপর যখন তৈমুরলঙের ফিতনা সংঘটিত হলো, তখন তৈমুরলঙ তাকে সুলতান আন-নাসির ফারাজ ইবনে বারকুনের নিকট দূত হিসেবে প্রেরণ করেন। ফলে তিনি আমার থেকে প্রায় বিশ বছর বিচ্ছিন্ন ছিলেন; তিনি ছিলেন রোম দেশে আর আমি তৈমুরের সাথে আজম দেশে। যখন আল্লাহ তাআলা আটশ সাতাশ হিজরি সনে আমার জন্য হজ সহজ করে দিলেন, আমি তাকে পত্র লিখলাম। তিনি আমার নিকট উপস্থিত হলেন এবং আমরা মিসরে প্রায় ষোল দিন একত্রিত ছিলাম। আমি হজের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম এবং সেখানে অবস্থান করলাম। তিনি শাওয়াল থেকে পরবর্তী বছরের শাওয়াল পর্যন্ত মিসরে অবস্থান করলেন। অতঃপর আটশ আটাশ হিজরি সনে তিনি আমার সাথে হজ করলেন এবং আমরা একত্রে মিসর ভূখণ্ডে ফিরে এলাম। তিনি তার পরিবারকে নিয়ে আসার জন্য রোমের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন, ফলে আটশ ঊনত্রিশ হিজরি সনের জুমাদাল আখিরা মাসে দামেস্কে তার সাথে আমার বিচ্ছেদ ঘটে। আমার অনুপস্থিতিতে তিনি যখন মিসরে ছিলেন এবং আমি মক্কায় অবস্থান করছিলাম, তখন তিনি 'তয়্যিবাতুন নশর'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেন এবং তাতে অত্যন্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন। যদিও তার নিকট সেই পাণ্ডুলিপিটি ছিল না যাতে আমি টীকা লিখেছিলাম। এর আগে তিনি অত্যন্ত সুন্দরভাবে আমার রচিত কবিতা 'মুকাদ্দিমাতুত তাজবিদ' এবং 'ইলমে হাদীসের মুকাদ্দিমা'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছিলেন। সুলতান আল-আশরাফ বার্সবে তাকে তার ভাই আবু আল-ফাতহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর পদসমূহ তথা শায়খগিরি, কিরাত পাঠ ও অধ্যাপনার দায়িত্বে নিযুক্ত করেন। তিনি তার পরিবারকে নিয়ে আসতে রোমের দিকে রওয়ানা হলেন এবং আমি সেই উদ্দেশ্যে আজম অভিমুখে যাত্রা করলাম। আল্লাহ তাআলা যেন কল্যাণের সাথে আমাদের পুনর্মিলন ঘটান। আর এটি ছিল আটশ ঊনত্রিশ হিজরি সনের ঘটনা। শায়খের এরা ছাড়াও আরও দুই পুত্র ছিল—আবু আল-বাকা ইসমাইল ও আবু আল-ফজল ইসহাক, এবং কন্যাগণ—ফাতিমা, আয়েশা ও সালমা। তারা সকলেই কিরাতে পারদর্শী, উত্তম তিলাওয়াতকারী এবং হাফিজ ও মুহাদ্দিস ছিলেন, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাদের সন্তুষ্ট করুন। অতঃপর মাওলা খিজর বেগ ইবনে জালাল শায়খ আল-জাজারির নিকট একটি কবিতা পাঠালেন, যা হলো এই:
… যদি কাব্যের অঙ্গনে বংশবৃদ্ধির কোনো অবকাশ থাকতো
… তবে আপনার প্রশংসায় আমি হাজারো কিতাব রচনা করতাম।
কিন্তু তিনি তো সকল ইলমের সমুদ্র, তাই
… সাহিত্যের সমুদ্রের নিকট মুক্তা উপহার দেওয়ার সার্থকতা কোথায়?
…
শায়খ তার কবিতার জবাবে এই উত্তর পাঠালেন … আপনার কাব্য-মুক্তায় রয়েছে এক উত্তাল শ্রেষ্ঠত্বের সমুদ্র … আর আপনার কাব্য-মুক্তা হলো সাহিত্যের গ্রীবায় এক রত্নহার। …
(খণ্ড: ১)
আশ-শাকায়িকুন নুমানিয়া ফী উলামায়িদ্দাওলাতিল উসমানিয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
.. الدّرّ فِي الْبَحْر مَعْهُود تكونه
… وَالْبَحْر فِي الدّرّ يُبْدِي غَايَة الْعجب
… ثمَّ ان الشَّيْخ ابا الْخَيْر من ابناء الشَّيْخ الْجَزرِي اتى بِلَاد الرّوم فِي أَيَّام دولة السُّلْطَان مُحَمَّد بن مرادخان وَكَانَ عَالما فَاضلا كَمَا مر ذكره وَكَانَ بارعا فِي صنعه الانشاء حَتَّى فاق الاقدمين ونصبه السُّلْطَان مُحَمَّد خَان موقعا بالديوان العالي وأكرمه غَايَة الاكرام لوفور فَضله وَحسن اخلاقه وشمائله الا انه كَانَ مبتلي بِاسْتِعْمَال بعض الترياقات واختل مزاجه لذَلِك وَكَانَ يَقُول السُّلْطَان مُحَمَّد خَان فِي حَقه لَو لم يكن مَعَه هَذَا الِابْتِلَاء لقلدته الوزارة ثمَّ انه مرض وَكَانَ لَهُ بنت سنّهَا مِقْدَار عشر سِنِين وَكَانَ عين لَهَا ثَلَاثِينَ الف دِينَار وَكَانَ لَهُ ابْن صَغِير وَعين لَهُ ايضا ثَلَاثِينَ الف دِينَار وَكَانَ الْمولى عَليّ بن يُوسُف ابْن الْمولى شمس الدّين الفناري ارتحل الى بِلَاد الْعَجم لتَحْصِيل الْعلم وَسمع الشَّيْخ ابو الْخَيْر الْمَذْكُور فِي ايام مَرضه ان الْمولى عليا الفناري توجه الى بِلَاد الرّوم فاوصى ان تزوج بنته مِنْهُ فَلَمَّا توفّي الشَّيْخ ابو الْخَيْر اتى هُوَ بِلَاد الرّوم فزوجوا بنته مِنْهُ وسلموها اليه مَعَ ثَلَاثِينَ الف دِينَار وَحصل لَهُ مِنْهَا ابْنَانِ فاضلان وَسَيَجِيءُ ترجمتهما بعد تَرْجَمَة ابيهما ان شَاءَ الله تَعَالَى ثمَّ ان الشَّيْخ الْجَزرِي رَحْمَة الله عَلَيْهِ لما ذهب بِهِ الامير تيمور الى مَا وَرَاء النَّهر اتخذ الامير تيمور هُنَاكَ وَلِيمَة عَظِيمَة وَكَانَ السَّيِّد الشريف الْجِرْجَانِيّ مدرسا فِي ذَلِك الْوَقْت بسمرقند فعين الْأَمِير تيمور جَانب يسَاره للامراء وجانب يَمِينه للْعُلَمَاء وَقدم فِي ذَلِك الْمجْلس الشَّيْخ الْجَزرِي على السَّيِّد الشريف فَقَالُوا لَهُ فِي ذَلِك فَقَالَ كَيفَ لَا أقدم رجلا عَارِفًا بِالْكتاب وَالسّنة ويشاور مَا أشكل عَلَيْهِ مِنْهُمَا النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِالذَّاتِ فَيحل لَهُ وَنَظِير هَذِه الْحِكَايَة مَا وَقع بَين الْعَلامَة التَّفْتَازَانِيّ وَالسَّيِّد الشريف الْجِرْجَانِيّ حَيْثُ اجْتمعَا عندالامير تيمور خَان فَأمر بتقدم السَّيِّد الشريف عَليّ الْعَلامَة التَّفْتَازَانِيّ وَقَالَ لَو فَرضنَا انكما سيان فِي الْفضل فَلهُ شرف النّسَب فَاغْتَمَّ لذَلِك الْعَلامَة التَّفْتَازَانِيّ وحزن حزنا شَدِيدا فَمَا لبث حَتَّى مَاتَ رحمه الله وَقد وَقع ذَلِك بعد مباحثتهما عِنْده وَكَانَ الحكم بَينهمَا نعْمَان الدّين الْخَوَارِزْمِيّ المعتزلي فرجح هُوَ كَلَام السَّيِّد الشريف على كَلَام الْعَلامَة التَّفْتَازَانِيّ وَكَانَ سَبَب ارتحال السَّيِّد الشريف من شيراز الى مَا وَرَاء النهران
.. সমুদ্রের মধ্যে মুক্তার সৃষ্টি হওয়া একটি পরিচিত বিষয়
… কিন্তু মুক্তার ভেতরে সমুদ্রের প্রকাশ চরম বিস্ময় সৃষ্টি করে
… এরপর শেখ আল-জাযারীর সন্তানদের একজন শেখ আবু আল-খাইর সুলতান মুহাম্মদ বিন মুরাদ খানের শাসনকালে রোম ভূখণ্ডে আগমন করেন। তিনি ছিলেন একজন বিদগ্ধ আলিম, যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে এবং তিনি গদ্য রচনায় অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন, এমনকি এক্ষেত্রে তিনি পূর্ববর্তীদেরও ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। সুলতান মুহাম্মদ খান তাকে উচ্চ দেওয়ানে (রাজকীয় দপ্তরে) একজন সচিব হিসেবে নিয়োগ দেন এবং তার অগাধ পাণ্ডিত্য, উত্তম চরিত্র ও গুণাবলির কারণে তাকে অত্যন্ত সম্মানিত করেন। তবে তিনি কিছু ভেষজ আরক ব্যবহারের ব্যাধিতে আক্রান্ত ছিলেন এবং এর ফলে তার মেজাজ কিছুটা ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছিল। সুলতান মুহাম্মদ খান তার সম্পর্কে বলতেন, ‘যদি তার মধ্যে এই সমস্যাটি না থাকত, তবে আমি তাকে উজির নিযুক্ত করতাম।’ এরপর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার একটি দশ বছর বয়সী কন্যা সন্তান ছিল, যার জন্য তিনি ত্রিশ হাজার দিনার নির্ধারণ করেছিলেন এবং তার একটি ছোট ছেলে ছিল, তার জন্যও তিনি ত্রিশ হাজার দিনার নির্দিষ্ট করে রেখেছিলেন। এদিকে মাওলা শামস আদ-দীন আল-ফানারীর নাতি মাওলা আলী বিন ইউসুফ জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে আজম ভূখণ্ডে পাড়ি দিয়েছিলেন। উল্লিখিত শেখ আবু আল-খাইর তার অসুস্থতার দিনগুলোতে সংবাদ পেলেন যে, মাওলা আলী আল-ফানারী রোম ভূখণ্ডের দিকে রওনা হয়েছেন, তখন তিনি অসিয়ত করলেন যেন তার কন্যার বিয়ে তার সাথে দেওয়া হয়। অতঃপর যখন শেখ আবু আল-খাইর ইন্তেকাল করলেন, তখন তিনি (মাওলা আলী) রোম ভূখণ্ডে আসলেন এবং লোকেরা সেই কন্যার সাথে তার বিয়ে দিলেন এবং ত্রিশ হাজার দিনারসহ তাকে তার কাছে সমর্পণ করলেন। তার থেকে তার দুইজন গুণী পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করেন, আল্লাহ চাহেন তো তাদের জীবনী তাদের পিতার জীবনীর পরে আলোচিত হবে। এরপর শেখ আল-জাযারী (আল্লাহ তার ওপর রহম করুন)-কে যখন আমির তৈমুর ‘মা ওয়ারাউন নহর’ অঞ্চলে নিয়ে গেলেন, তখন সেখানে আমির তৈমুর একটি বিশাল ভোজের আয়োজন করেন। সে সময় সায়্যিদ শরীফ আল-জুরজানী সমরকন্দে একজন শিক্ষক ছিলেন। আমির তৈমুর তার বাম দিক আমিরদের জন্য এবং ডান দিক আলেমদের জন্য নির্ধারণ করলেন। সেই মজলিসে তিনি সায়্যিদ শরীফ আল-জুরজানীর ওপর শেখ আল-জাযারীকে অগ্রাধিকার দিলেন। লোকেরা এই বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করলে তিনি বললেন, ‘আমি কেন এমন একজন ব্যক্তিকে অগ্রাধিকার দেব না, যিনি কিতাব ও সুন্নাহ সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের অধিকারী এবং এই দুইটির কোনো বিষয়ে অস্পষ্টতা দেখা দিলে তিনি স্বয়ং নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে সরাসরি পরামর্শ করেন এবং তা তার কাছে সমাধান হয়ে যায়?’ এই ঘটনার অনুরূপ আরেকটি কাহিনী হলো আল্লামা তাফতাযানী ও সায়্যিদ শরীফ আল-জুরজানীর মধ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি, যখন তারা আমির তৈমুর খানের দরবারে সমবেত হয়েছিলেন। তখন তিনি আল্লামা তাফতাযানীর ওপর সায়্যিদ শরীফকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দিলেন এবং বললেন, ‘যদি আমরা ধরে নিই যে আপনারা উভয়েই পাণ্ডিত্যে সমান, তবুও তার বংশীয় মর্যাদা রয়েছে।’ এতে আল্লামা তাফতাযানী অত্যন্ত ব্যথিত হলেন এবং গভীর শোক প্রকাশ করলেন। এরপর তিনি আর বেশিদিন বাঁচেননি এবং ইন্তেকাল করেন (আল্লাহ তার ওপর রহম করুন)। তাদের উভয়ের মধ্যকার বিতর্ক আমির তৈমুরের সামনে অনুষ্ঠিত হওয়ার পরই এই ঘটনা ঘটে। তাদের বিতর্কের বিচারক ছিলেন নুমান আদ-দীন আল-খাওয়ারিজমী আল-মুতাজিলী; তিনি আল্লামা তাফতাযানীর বক্তব্যের ওপর সায়্যিদ শরীফের বক্তব্যকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন। সায়্যিদ শরীফের শিরাজ থেকে মা ওয়ারাউন নহর-এ গমনের কারণও ছিল এটিই।
(খণ্ড: ১)
আশ-শাকায়িকুন নুমানিয়া ফী উলামায়িদ্দাওলাতিল উসমানিয়া
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
الامير تيمور لما قدم شيراز أَمر بنهبها وأغار بهَا فَسَأَلَ بعض من وزرائه الامان للسَّيِّد الشريف فاعطى الامان لَهُ وعلقوا على بَابه سَهْما من سِهَام الامير تيمور خَان وَكَانَ من عَادَتهم عِنْد الامان ذَلِك فنجت بَنَات أهالي شيراز وَنِسَاؤُهُمْ فِي بَيت السَّيِّد الشريف ثمَّ ان الْوَزير الْمَذْكُور لما اثْبتْ حَقًا على السَّيِّد الشريف التمس مِنْهُ ان يذهب مَعَه الى مَا وَرَاء النَّهر فَأَجَابَهُ لذَلِك وَهَذَا قَوْله فِي خطْبَة شرح الْمِفْتَاح حَتَّى ابْتليت فِي آخر الْعُمر بالارتحال الى مَا وَرَاء النَّهر
وَمِنْهُم الْعَالم الْعَامِل والفاضل الْكَامِل الْمولى عبد الْوَاجِد بن مُحَمَّد بن مُحَمَّداتى رحمه الله من بلادالعجم وَصَارَ مدرسا فِي مدرسة كوتاهية وَتلك الْمدرسَة تنْسب اليه فِي عصرنا ايضا وَكَانَ عَالما فَاضلا عَالما بالعلوم الادبية بارعا فِي الْفُنُون الشَّرْعِيَّة والعقلية عَالما بالتفسير والْحَدِيث شرح كتاب النقاية شرحا حسنا وأتى فِيهِ بمسائل كَثِيرَة مهمة فرغ من تأليفه فِي جمادي الاولى سنة سِتّ وَثَمَانمِائَة وَرَأَيْت لَهُ كتابا منظوما فِي علم الاسطرلاب صنفه لاجل حفظ مَوْلَانَا مُحَمَّد شاه بن الْمولى الفناري وَكَانَ نظمه نظما بليغا فِي غَايَة الْحسن رَأَيْته بِخَطِّهِ الْمليح
وَمِنْهُم الْعَالم الْعَامِل والفاضل الْكَامِل الْمولى عز الدّين عبد اللطيف بن الْملككَانَ رَحمَه الله تَعَالَى معلما للامير مُحَمَّد بن آيدين وَكَانَ مدرسا بِمَدِينَة تيره وَتلك الْمدرسَة مُضَافَة اليه الى الان كَانَ عَالما فَاضلا ماهرا فِي جَمِيع الْعُلُوم خُصُوصا الْعُلُوم الشَّرْعِيَّة شرح مجمع الْبَحْرين شرحا حسنا جَامعا للفوائد وَهُوَ مقبلول فِي بِلَادنَا وَشرح ايضا مَشَارِق الانوار للامام الصَّاغَانِي شرحا لطيفا اتى فِيهِ من النكت اللطيفة مَالا يُحْصى وَشرح ايضا كتاب الْمنَار فِي الاصول وَرَأَيْت لَهُ رِسَالَة لَطِيفَة من علم التصوف تدل تِلْكَ الرسَالَة على ان لَهُ حظا عَظِيما من معارف الصُّوفِيَّة المتشرعة وَكَانَ للْمولى الْمَذْكُور اخ من اصحاب فضل الله التبريزي رَئِيس الطَّائِفَة الضَّالة الحروفية وَيَا سُبْحَانَ الله هَذَا ملح اجاج وَذَاكَ عذب فرات
আমির তিমুর যখন শিরাজ শহরে এলেন, তখন তিনি তা লুণ্ঠনের নির্দেশ দিলেন এবং সেখানে আক্রমণ চালালেন। অতঃপর তাঁর উজিরদের মধ্য থেকে কেউ একজন সাইয়্যেদ আশ-শরিফের জন্য নিরাপত্তা প্রার্থনা করলেন, ফলে তিনি তাঁকে নিরাপত্তা প্রদান করলেন। তারা তাঁর দরজায় আমির তিমুর খানের একটি তীর ঝুলিয়ে দিলেন; নিরাপত্তা প্রদানের ক্ষেত্রে এটিই ছিল তাদের রীতি। এর ফলে শিরাজবাসীদের কন্যা ও মহিলারা সাইয়্যেদ আশ-শরিফের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে রক্ষা পেলেন। এরপর যখন উক্ত উজির সাইয়্যেদ আশ-শরিফের ওপর একটি হক সাব্যস্ত করলেন, তখন তিনি তাঁর নিকট মা-ওয়ারাউন নহর-এর দিকে তাঁর সাথে যাওয়ার অনুরোধ জানালেন। তিনি তাতে সাড়া দিলেন। ‘শারহুল মিফতাহ’-এর ভূমিকার তাঁর উক্তিটি নিম্নরূপ: “অবশেষে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মা-ওয়ারাউন নহর-এর দিকে হিজরত করার পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছি।”
তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন আমলকারী আলিম ও পূর্ণাঙ্গ ফযিলতের অধিকারী আল-মাওলা আব্দুল ওয়াজিদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদতিনি (রাহিমাহুল্লাহ) পারস্য দেশ থেকে আগমন করেন এবং কুতাহিয়াহ মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। সেই মাদ্রাসাটি বর্তমানকালেও তাঁর নামেই পরিচিত। তিনি ছিলেন একজন বিদগ্ধ আলিম, সাহিত্যশাস্ত্রে পারদর্শী এবং শরয়ী ও যৌক্তিক উভয় বিদ্যায় দক্ষ। তিনি তাফসীর ও হাদীস শাস্ত্রেও অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন। তিনি ‘কিতাবুন নুকায়াহ’-এর একটি চমৎকার ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেন এবং তাতে বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করেছেন। তিনি ৮০৬ হিজরী সনের জুমাদাল উলা মাসে এর রচনা সম্পন্ন করেন। আমি জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ে তাঁর একটি কাব্যগ্রন্থ দেখেছি, যা তিনি মাওলানা মুহাম্মদ শাহ ইবনে আল-মাওলা আল-ফানারির কণ্ঠস্থ করার সুবিধার্থে সংকলন করেছিলেন। তাঁর সেই কাব্যটি ছিল অত্যন্ত সাবলীল ও অত্যন্ত সুন্দর; আমি তা তাঁর নিজের চমৎকার হস্তাক্ষরে দেখেছি।
তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন আমলকারী আলিম ও পূর্ণাঙ্গ ফযিলতের অধিকারী আল-মাওলা ইযযুদ্দীন আব্দুল লতিফ ইবনুল মালিকতিনি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) আমির মুহাম্মদ বিন আইদিন-এর শিক্ষক ছিলেন এবং তিরহ শহরে শিক্ষকতা করতেন। সেই মাদ্রাসাটি আজও তাঁর নামে সমধিক পরিচিত। তিনি ছিলেন একজন বিদগ্ধ আলিম এবং সমস্ত বিজ্ঞানে, বিশেষ করে শরয়ী বিজ্ঞানে অত্যন্ত দক্ষ। তিনি ‘মাজমাউল বাহরাইন’-এর একটি চমৎকার এবং বহুবিধ উপকারী তথ্যে সমৃদ্ধ ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেন, যা আমাদের দেশে অত্যন্ত সমাদৃত। তিনি ইমাম সাগানির ‘মাশারিকুল আনওয়ার’-এরও একটি চমৎকার ব্যাখ্যা লিখেছিলেন, যেখানে তিনি অসংখ্য সূক্ষ্ম ও চমৎকার বিষয় তুলে ধরেছেন। এছাড়া তিনি উসুল শাস্ত্রের ‘কিতাবুল মানার’-এরও ব্যাখ্যা রচনা করেন। আমি তাসাউফ শাস্ত্রের ওপর তাঁর একটি চমৎকার পুস্তিকা দেখেছি, যা প্রমাণ করে যে, শরীয়তপন্থী সূফীদের আধ্যাত্মিক জ্ঞানে তাঁর বিশাল অংশ ছিল। উল্লিখিত মাওলার এক ভাই ছিলেন ভ্রান্ত ‘হুরুফি’ সম্প্রদায়ের প্রধান ফজলুল্লাহ তাবরিজির অনুসারীদের একজন। সুবহানাল্লাহ! এটি যেন চরম লোনা পানি, আর ওটি অত্যন্ত সুপেয় মিষ্ট পানি।
(খণ্ড: ১)
আশ-শাকায়িকুন নুমানিয়া ফী উলামায়িদ্দাওলাতিল উসমানিয়া
(পৃষ্ঠা: ٣١)
وَمِنْهُم الْمولى الْفَاضِل المرحوم مُحَمَّد بن عبد اللَّطِيف بن الْملك روح الله روحهشرح الْوِقَايَة شرحا لطيفا وَله كتاب مُسَمّى بروضة الْمُتَّقِينَ
وَمِنْهُم الشَّيْخ الْعَارِف بِاللَّه عبد الرحمن بن عَليّ بن احْمَد البسطامي مشربا والحنفي مذهبا والانطاكي مولداكَانَ رحمه الله عَالما بِالْحَدِيثِ وَالتَّفْسِير وَالْفِقْه عَارِفًا بخواص الْحُرُوف وَعلم الوفق والتكسير وَله يَد طولى فِي معرفَة الجفر والجامعة وَالْوُقُوف على التواريخ وَلما رغب فِي الِاطِّلَاع على الْعُلُوم الغريبة طَاف الْبِلَاد ورحل الى الْبِلَاد الشامية وَدخل الْقَاهِرَة وَطَاف الْبِلَاد الغربية حَتَّى نَالَ بغيته وَكَانَ لَهُ تصرف عَظِيم بخواص الْحُرُوف وتأثير عَظِيم بالاشتغال بأسماء الله تَعَالَى وَكَانَ لَهُ فِي ذَلِك حكايات غَرِيبَة لَا يَفِي بذكرها هَذَا الْمُخْتَصر ثمَّ انه دخل مَدِينَة بروسا وَاجْتمعَ مَعَه الْمولى الفناري واستفاد مِنْهُ كثيرا من العوم الغريبة وَله تصانيف فِي علم الجفر وَعلم الوفق وخواص أَسمَاء الله تَعَالَى وَفِي علم التواريخ لَا يُمكن تعدادها وَرَأَيْت اكثرها بِخَطِّهِ وَكَانَ خطه فِي غَايَة الاحكام والاتقان وَجَمِيع مصنفاته محررة متقنة يعْتَمد عَلَيْهَا وَأجل مصنفاته كتاب الفوائح المسكية فِي الفواتح المكية أدرج فِيهِ مَا يفوق مائَة علم وَكتاب شمس الافاق فِي علم الْحُرُوف والاوفاق وَلما دخل مَدِينَة بروسا استأنس بهَا وتوطن فِيهَا وقبره هُنَاكَ قَالَ رحمه الله فِي بعض ابياته
فَقير غَرِيب قد اتى روم زَائِرًا… دعِي عبد الرحمن الْمُقِيم ببروسا روح الله روحه وَنور ضريحه
وَمِنْهُم الْمولى عَلَاء الدّين الرُّومِيكَانَ رحمه الله عَالما فَاضلا حَدِيد الطَّبْع قوي الذكاء والبحث حضر دروس الْعَلامَة التَّفْتَازَانِيّ وَالسَّيِّد الشريف الْجِرْجَانِيّ وَحضر مباحثتهما وَحفظ مِنْهُمَا اسئلة كَثِيرَة مَعَ اجوبتها وَكَانَ يلقِي تِلْكَ الاسئلة ويعجز الْحَاضِرين عَن المباحثة ثمَّ دخل الْقَاهِرَة واعجز علماءها وَله رِسَالَة جمع فِيهَا الاسئلة من فنون شَتَّى وَهِي عِنْدِي بِخَط جدي رَحمَه الله
এবং তাদের মধ্যে রয়েছেন মরহুম ফাযিল মাওলা মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল লতিফ ইবনুল মালিক, আল্লাহ তাঁর আত্মাকে শান্তিতে রাখুনতিনি 'উইকায়াহ'-এর একটি সূক্ষ্ম ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন এবং তাঁর 'রওজাতুল মুত্তাকিন' নামক একটি কিতাব রয়েছে।
এবং তাদের মধ্যে রয়েছেন আরিফ বিল্লাহ শায়খ আব্দুর রহমান ইবনে আলী ইবনে আহমদ, যিনি চিন্তাধারায় বিস্তামি, মাযহাবে হানাফি এবং জন্মসূত্রে আন্তাকিআল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি হাদিস, তাফসির ও ফিকহ শাস্ত্রের আলেম ছিলেন এবং হরফের বৈশিষ্ট্য, ওফক ও তাকসির বিদ্যায় অভিজ্ঞ ছিলেন। জাফর ও জামিআ বিদ্যা এবং ইতিহাস পর্যালোচনায় তাঁর বিশেষ বুতপত্তি ছিল। যখন তিনি দুর্লভ ইলমসমূহ অর্জনে আগ্রহী হলেন, তখন তিনি বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করলেন। তিনি সিরিয়া অঞ্চলে সফর করলেন, কায়রোতে প্রবেশ করলেন এবং পশ্চিমা দেশসমূহ ঘুরে বেড়ালেন, যতক্ষণ না তিনি তাঁর অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছালেন। হরফের রহস্যভেদে তাঁর মহান প্রভাব ছিল এবং আল্লাহর নামসমূহ জিকিরের মাধ্যমে প্রভাব সৃষ্টিতে তাঁর বিশেষ দক্ষতা ছিল। এই বিষয়ে তাঁর এমন সব অদ্ভুত ঘটনা রয়েছে যা এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে বর্ণনা করা সম্ভব নয়। অতঃপর তিনি ব্রুসা শহরে প্রবেশ করেন এবং সেখানে মাওলা ফানারি-র সাথে সাক্ষাৎ করেন। তাঁর নিকট থেকে তিনি অনেক দুর্লভ ইলম অর্জন করেন। জাফর বিদ্যা, ওফক বিদ্যা, আল্লাহর নামসমূহের বৈশিষ্ট্য এবং ইতিহাস বিদ্যায় তাঁর অসংখ্য রচনা রয়েছে যা গণনা করা অসম্ভব। আমি তাঁর অধিকাংশ কিতাব তাঁর নিজ হাতে লেখা দেখেছি। তাঁর হাতের লেখা ছিল অত্যন্ত সুনিপুণ ও পরিপাটি। তাঁর সকল সংকলন ছিল সুবিন্যস্ত ও নির্ভুল, যার ওপর নির্ভর করা যায়। তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাব হলো 'আল-ফাওয়ায়েহুল মিসকিয়াহ ফিল ফাওয়াইহিল মক্কিয়া', যাতে তিনি শতাধিক বিষয়ের সমন্বয় ঘটিয়েছেন। এছাড়াও তাঁর 'শামসুল আফাক ফি ইলমিল হুরুফ ওয়াল আউফাক' নামক গ্রন্থ রয়েছে। যখন তিনি ব্রুসা শহরে প্রবেশ করেন, তখন সেখানকার পরিবেশে তিনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তাঁর কবর সেখানেই অবস্থিত। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর কতিপয় পঙক্তিতে বলেছেন:
এক নিঃস্ব মুসাফির রুম দেশে পরিভ্রমণকারী হিসেবে এসেছে… যাকে ব্রুসায় অবস্থানকারী আব্দুর রহমান বলে ডাকা হয়; আল্লাহ তাঁর আত্মাকে শান্তিতে রাখুন এবং তাঁর কবরকে নূরে আলোকিত করুন।
এবং তাদের মধ্যে রয়েছেন মাওলা আলাউদ্দীন রুমিআল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি ছিলেন একজন বিজ্ঞ আলেম, তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী এবং গভীর গবেষক। তিনি আল্লামা তাফতাজানি ও সাইয়্যিদ শরীফ জুরজানি-র দরসে উপস্থিত হতেন এবং তাঁদের পারস্পরিক বিতর্ক সভায় অংশগ্রহণ করতেন। তিনি তাঁদের নিকট থেকে বহু প্রশ্ন ও উত্তর মুখস্থ করেছিলেন। তিনি সেই প্রশ্নগুলো উত্থাপন করতেন এবং উপস্থিতদের বিতর্কে নিরুত্তর করে দিতেন। অতঃপর তিনি কায়রোতে প্রবেশ করেন এবং সেখানকার আলেমদেরও লা-জওয়াব করে দেন। তাঁর একটি রিসালা (পুস্তিকা) রয়েছে যেখানে তিনি বিভিন্ন শাস্ত্রের প্রশ্নাবলি সংকলন করেছেন; সেই পাণ্ডুলিপিটি আমার কাছে রয়েছে যা আমার দাদা (রহিমাহুল্লাহ)-এর স্বহস্তে লিখিত।
(খণ্ড: ১)
আশ-শাকায়িকুন নুমানিয়া ফী উলামায়িদ্দাওলাতিল উসমানিয়া
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
وَمِنْهُم الشَّيْخ الْعَارِف بِاللَّه الْمُنْقَطع الى الله الشَّيْخ فَخر الدّين الرُّومِي كَانَ متوطنا ببلدة مدرني وَكَانَ عَالما عَارِفًا زاهدا ورعا منجمعا عَن الْخَلَائق ومشتغلا بِنَفسِهِ وَكَانَ من التقوي على جَانب عَظِيم كَانَ لَا يُصَلِّي خلف امام يؤم باجرة احْتِيَاطًا بِنَاء على ان السّلف قد كَرهُوا الاجرة فِي الْعِبَادَات وَكَانَ لَهُ حَظّ عَظِيم من الْعُلُوم الشَّرْعِيَّة وَقد ألف كتابا فِي الدَّعْوَات المأثورة فِي عمل الْيَوْم وَاللَّيْلَة وَضَمنَهُ مبَاحث دقيقة ولطائف اينقة من كل علم يدل ذَلِك على حذاقته فِي الْعُلُوم روح الله روحه وَنور ضريحه
وَمِنْهُم الْعَالم الْعَامِل والفاضل الْكَامِل الشَّيْخ رَمَضَانقَرَأَ على عُلَمَاء عصره وتفقه ثمَّ جعله السُّلْطَان بايزيدخان شَيخا لنَفسِهِ ثمَّ جعله قَاضِيا بالعسكر روح الله روحه
وَمِنْهُم الْعَالم الْفَاضِل الْكَامِل الْمولى احمديكَانَ اصله من ولَايَة كرمان وقرا ببلاده على عُلَمَاء عصره ثمَّ دخل الْقَاهِرَة وَدخل هُوَ وَالْمولى الفناري والفاضل حاجي باشا على شيخ من مَشَايِخ الصُّوفِيَّة فَنظر الشَّيْخ اليهم وَقَالَ للْمولى احمدي واأسفي ستضيع عمرك فِي الشّعْر وَقَالَ للفاضل حاجي باشا انك ستضيع عمرك فِي الطِّبّ وَقَالَ للفاضل الْمولى الفناري انك ستصير عَالما ربانيا وَكَانَ كل مِنْهُم كَمَا قَالَ وَصَاحب الْمولى احمدي بعد قدومه الى بِلَاده الامير ابْن كرميان وَصَارَ معلما لَهُ وَكَانَ ذَلِك الامير رَاغِبًا فِي الشّعْر ثمَّ صَاحب مَعَ الامير سُلَيْمَان بن السُّلْطَان بايزيدخان وتقرب عِنْده وَحصل لَهُ جاه عَظِيم وحشمة وافرة ونظم لاجله كِتَابه الْمُسَمّى باسكندر نامه ونظم كثيرا من القصائد والاشعار وَمن نوادره ان الامير تيمورخان لما دخل تِلْكَ الْبِلَاد وَطلب الْمولى احمدي وَصَاحب مَعَه وَمَال الى مصاحبته وَدخل مَعَه الْحمام يَوْمًا فَقَالَ لَهُ قوم من كَانَ معي فِي الْحمام فَقَالَ نعم قَالَ هَذَا يُسَاوِي الْفَا وَهَذَا يُسَاوِي كَذَا وَكَذَا الى آخر من حضر فِي الْحمام ثمَّ قَالَ لَهُ الامير تيمور خَان قومني فَقَالَ أَنْت تَسَاوِي ثَمَانِينَ درهما وَقَالَ الامير تيمور مَا حكمت بِالْعَدْلِ وازاري وَحده يُسَاوِي ثَمَانِينَ درهما فَقَالَ الْمولى احمدي إِنَّمَا قومت الازار وَأما انت فَلَا تَسَاوِي درهما فَاسْتحْسن
তাদের মধ্যে রয়েছেন আল্লাহ সম্পর্কে মারেফাতপ্রাপ্ত এবং আল্লাহর জন্য নিবেদিতপ্রাণ শাইখ ফখরুদ্দীন রুমি। তিনি মাদারনি শহরে বসবাস করতেন। তিনি একজন আলেম, আরিফ, দুনিয়াবিমুখ, মুত্তাকি এবং লোকালয় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজ সাধনায় মগ্ন ব্যক্তি ছিলেন। তিনি তাকওয়ার এক সুউচ্চ স্তরে আসীন ছিলেন। পূর্বসূরিগণ ইবাদতের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করাকে অপছন্দ করতেন—এই বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে সতর্কতাবশত তিনি কোনো পারিশ্রমিক গ্রহণকারী ইমামের পেছনে নামাজ পড়তেন না। শরয়ি জ্ঞান-বিজ্ঞানে তার বিশাল বুৎপত্তি ছিল। তিনি দিন ও রাতের আমল এবং মা’ছুর দোয়াগুলোর ওপর একটি কিতাব রচনা করেন, যেখানে তিনি প্রতিটি শাস্ত্রের সূক্ষ্ম ও চমৎকার আলোচনা অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এটি তার জ্ঞানের গভীরতা ও পারদর্শিতার প্রমাণ দেয়। আল্লাহ তার আত্মাকে শান্তি দান করুন এবং তার কবরকে আলোকিত করুন।
তাদের মধ্যে রয়েছেন আমলকারী আলেম এবং পূর্ণাঙ্গ ফাজিল শাইখ রমজান।তিনি তার সময়ের আলেমদের নিকট পাঠ গ্রহণ করেন এবং ফিকহশাস্ত্রে পাণ্ডিত্য লাভ করেন। অতঃপর সুলতান বায়েজিদ খান তাকে নিজের শাইখ হিসেবে নিযুক্ত করেন এবং পরবর্তীতে তাকে প্রধান সামরিক বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন। আল্লাহ তার আত্মাকে শান্তি দান করুন।
তাদের মধ্যে রয়েছেন বিজ্ঞ আলেম ও পূর্ণাঙ্গ ফাজিল মাওলা আহমদী।তার আদি নিবাস ছিল কিরমান প্রদেশে। তিনি নিজ দেশে সমকালীন আলেমদের নিকট শিক্ষা লাভ করেন। অতঃপর তিনি কায়রোতে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি, মাওলা ফানারি এবং ফাজিল হাজি পাশা এক সুফি শাইখের দরবারে উপস্থিত হন। শাইখ তাদের দিকে দৃষ্টিপাত করে মাওলা আহমদীকে বললেন, "আফসোস! তুমি কবিতার পেছনে তোমার জীবন অতিবাহিত করবে।" ফাজিল হাজি পাশাকে বললেন, "তুমি চিকিৎসাবিজ্ঞানের পেছনে তোমার জীবন ব্যয় করবে।" আর ফাজিল মাওলা ফানারিকে বললেন, "তুমি একজন রব্বানি আলেম হবে।" পরবর্তীতে তাদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রে শাইখের ভবিষ্যৎবাণী সত্য প্রমাণিত হয়। মাওলা আহমদী নিজ দেশে ফেরার পর আমির ইবনে কারমিয়ানের সঙ্গী হন এবং তার শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। সেই আমির কবিতার প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন। এরপর তিনি সুলতান বায়েজিদ খানের পুত্র আমির সুলায়মানের সান্নিধ্য লাভ করেন এবং তার অতি ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। এর ফলে তার প্রভূত সম্মান ও প্রতিপত্তি অর্জিত হয়। তিনি আমিরের সম্মানে "ইসকান্দার নামাহ" নামক গ্রন্থ এবং অসংখ্য কাসিদা ও কবিতা রচনা করেন। তার জীবনের এক চমকপ্রদ ঘটনা হলো, যখন আমির তৈমুর খান সেই দেশসমূহ জয় করেন, তিনি মাওলা আহমদীকে তলব করেন এবং তার সাহচর্য পছন্দ করেন। একদিন তিনি তার সাথে হাম্মামে প্রবেশ করে তাকে বললেন, "আমার সাথে হাম্মামে যারা আছে তাদের মূল্য নিরূপণ করো।" তিনি বললেন, "হ্যাঁ।" এরপর তিনি বলতে লাগলেন, "এর মূল্য এক হাজার, এর মূল্য অমুক পরিমাণ," এভাবে সেখানে উপস্থিত সবার মূল্য নির্ধারণ করলেন। অতঃপর আমির তৈমুর খান বললেন, "আমার মূল্য নিরূপণ করো।" তিনি বললেন, "আপনার মূল্য আশি দিরহাম।" আমির তৈমুর বললেন, "তুমি ন্যায়বিচার করোনি, কারণ শুধু আমার পরিহিত লুঙ্গিটির মূল্যই তো আশি দিরহাম।" মাওলা আহমদী উত্তর দিলেন, "আমি তো ওই লুঙ্গিরই মূল্য বলেছি, আর আপনার নিজের কোনো মূল্য নেই।" তৈমুর তার এই জবাবে সন্তুষ্ট হলেন।
(খণ্ড: ১)
আশ-শাকায়িকুন নুমানিয়া ফী উলামায়িদ্দাওলাতিল উসমানিয়া
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
الامير تيمور هَذَا الْكَلَام وَضحك مِنْهُ ضحكا كثيرا حَتَّى وهب لَهُ مَا فِي الْحمام من آلَات الذَّهَب وَالْفِضَّة وَكَانَ شيأ كثيرا جدا
وَمِنْهُم الشَّيْخ بدر الدّين مُحَمَّد بن إِسْرَائِيل بن عبد العزيز الشهير بِابْن قَاضِي سماونةولد فِي قلعة سماونة من بِلَاد الرو حِين كَانَ ابوه قَاضِيا بهَا وَكَانَ ايضا اميرا على عَسْكَر الْمُسلمين بهَا وَكَانَ فتح تِلْكَ القلعة على يَده ايضا يُقَال ان اُحْدُ اجداده كَانَ وزيرا لال سلجوق وَكَانَ هُوَ ابْن اخي السُّلْطَان عَلَاء الدّين السلجوقي وَكَانَ فتح القلعة الْمَذْكُورَة وولادة الشَّيْخ بدر الدّين فِي زمن السُّلْطَان غَازِي خداوندكار من سلاطين آل عُثْمَان ثمَّ ان الشَّيْخ اخذ الْعلم فِي صباه عَن وَالِده الْمَذْكُور وَحفظ الْقُرْآن الْعَظِيم وقرا على الْمولى المشتهر بالشاهدي وَتعلم الصّرْف والنحو من مَوْلَانَا يُوسُف ثمَّ ارتحل الى الديار المصرية مَعَ ابْن عَم ابيه وَهُوَ مؤيد ابْن عبد المؤمن وَقَرَأَ بقونية من بِلَاد الرّوم بَعْضًا من الْعُلُوم وَعلم النُّجُوم على مَوْلَانَا فيض الله من تلامذة فضل الله وَمكث عِنْده اربعة اشهر وَلما توفّي مَوْلَانَا فيض الله ارتحل الى الديار المصرية وقرا هُنَاكَ مَعَ الشريف الْجِرْجَانِيّ على مَوْلَانَا مبارك شاه المنطقي الْمدرس بِالْقَاهِرَةِ ثمَّ حج مَعَ مبارك شاه وقرا بِمَكَّة على الشَّيْخ الزَّيْلَعِيّ ثمَّ قدم الْقَاهِرَة وقرا مَعَ الشريف الْجِرْجَانِيّ على الشَّيْخ أكمل الدّين وَحصل عِنْده جَمِيع الْعُلُوم وقرا على الشَّيْخ بدر الدّين الْمَذْكُور السُّلْطَان فرج ابْن السُّلْطَان برقوق ملك مصر ثمَّ ادركته الجذبة الالهية والتجأ الى كنف الشَّيْخ سيد حُسَيْن الاخلاطي السَّاكِن بِمصْر وقتئذ وَحصل عِنْده مَا حصل وأرسله الشَّيْخ الاخلاطي الى بَلْدَة تبريز للارشاد وَحكي انه لما جَاءَ الامير تيمور خَان الى تبريز وَقع عِنْده مُنَازعَة بَين الْعلمَاء وَلم ينْفَصل الْبَحْث عِنْده فَذكر الشَّيْخ الْجَزرِي الشَّيْخ بدر الدّين الْمَذْكُور للمحاكمة بَين المتخاصمين فَدَعَاهُ الامير تيمور خَان فَحكم الشَّيْخ بَينهمَا وَرَضي الْكل بِحكمِهِ واعترف الْعلمَاء بفضله ونال من الامير الْمَذْكُور مَالا جزيلا واكراما بَالغا لاالى نِهَايَة ثمَّ ترك الشَّيْخ الْكل وَلحق ببدليس ثمَّ سَافر الى مصر وَوصل الى الشَّيْخ الاخلاطي الْمَذْكُور ثمَّ مَاتَ الشَّيْخ الاخلاطي وأجلس الشَّيْخ مَكَانَهُ فَجَلَسَ فِيهِ سِتَّة أشهر ثمَّ جَاءَ الى حلب ثمَّ الى قونية ثمَّ الى
আমির তৈমুর এই কথা শুনে অত্যন্ত উচ্চৈঃস্বরে হাসলেন, এমনকি তিনি হাম্মামে থাকা স্বর্ণ ও রৌপ্যের সমস্ত সরঞ্জাম তাকে দান করে দিলেন। আর তা ছিল পরিমাণে অনেক বেশি।
তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন শায়খ বদরুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে ইসরাঈল ইবনে আব্দুল আজিজ, যিনি ইবনে কাজি সামাওনাহ নামে সুপরিচিত।তিনি রুম দেশের সামাওনাহ দুর্গে জন্মগ্রহণ করেন, যখন তাঁর পিতা সেখানে বিচারক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। তাঁর পিতা সেখানে মুসলিম বাহিনীর আমিরও ছিলেন এবং উক্ত দুর্গটি তাঁর হাতেই বিজিত হয়েছিল। বলা হয় যে, তাঁর পূর্বপুরুষদের একজন সেলজুক বংশের উজির ছিলেন এবং তিনি স্বয়ং সুলতান আলাউদ্দিন সেলজুকির ভ্রাতুষ্পুত্র ছিলেন। উক্ত দুর্গ বিজয় এবং শায়খ বদরুদ্দিনের জন্ম হয়েছিল উসমানীয় সুলতানদের মধ্যে সুলতান গাজী খুদাওয়ান্দিকারের সময়ে। অতঃপর শায়খ শৈশবে তাঁর উল্লিখিত পিতার নিকট জ্ঞান অর্জন করেন এবং মহান কুরআন হিফজ করেন। এরপর তিনি 'শাহেদী' নামে পরিচিত মাওলানার নিকট পাঠ গ্রহণ করেন এবং মাওলানা ইউসুফের নিকট সরফ ও নাহু (ব্যাকরণ) শেখেন। অতঃপর তিনি তাঁর পিতার চাচাতো ভাই মুয়াইয়্যিদ ইবনে আব্দুল মুমিনের সাথে মিশর অভিমুখে যাত্রা করেন। পথিমধ্যে রুম দেশের কুনিয়াতে ফজলুল্লাহর ছাত্র মাওলানা ফয়জুল্লাহর নিকট কিছু শাস্ত্র ও জ্যোতির্বিজ্ঞান অধ্যয়ন করেন এবং তাঁর কাছে চার মাস অবস্থান করেন। মাওলানা ফয়জুল্লাহ মৃত্যুবরণ করলে তিনি মিশর অভিমুখে রওনা হন। সেখানে তিনি কায়রোর শিক্ষক মাওলানা মুবারক শাহ মানতিকির নিকট শরীফ জুরজানির সাথে পাঠ গ্রহণ করেন। এরপর তিনি মুবারক শাহের সাথে হজ পালন করেন এবং মক্কায় শায়খ যাইলায়ির নিকট অধ্যয়ন করেন। অতঃপর কায়রো ফিরে এসে শরীফ জুরজানির সাথে শায়খ আকমালুদ্দিনের নিকট পাঠ গ্রহণ করেন এবং তাঁর নিকট থেকে সমস্ত শাস্ত্রে জ্ঞান অর্জন করেন। মিশরের অধিপতি সুলতান বারকুকের পুত্র সুলতান ফারাজ উক্ত শায়খ বদরুদ্দিনের নিকট পাঠ গ্রহণ করেছিলেন। অতঃপর তিনি ঐশী আকর্ষণের সম্মুখীন হন এবং তৎকালীন মিশরে বসবাসকারী শায়খ সাইয়্যেদ হুসাইন আখলাতির সান্নিধ্যে আশ্রয় নেন এবং সেখানে যা অর্জন করার ছিল তা লাভ করেন। শায়খ আখলাতি তাঁকে হেদায়েতের উদ্দেশ্যে তাবরিজ শহরে প্রেরণ করেন। বর্ণিত আছে যে, আমির তৈমুর খাঁ যখন তাবরিজে আসেন, তখন সেখানে আলেমদের মধ্যে একটি বিতর্ক সৃষ্টি হয় যা নিষ্পত্তি হচ্ছিল না। তখন শায়খ জাজরি বিবাদমান পক্ষগুলোর মধ্যে ফয়সালার জন্য উক্ত শায়খ বদরুদ্দিনের কথা উল্লেখ করেন। আমির তৈমুর খাঁ তাঁকে ডেকে পাঠালে শায়খ তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেন এবং সকলেই তাঁর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হন। ওলামায়ে কেরাম তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি দেন এবং তিনি উক্ত আমিরের নিকট থেকে প্রচুর ধন-সম্পদ ও সীমাহীন সম্মান লাভ করেন। অতঃপর শায়খ সবকিছু ত্যাগ করে বিদলিস চলে যান। এরপর তিনি মিশরে ভ্রমণ করেন এবং উক্ত শায়খ আখলাতির নিকট পৌঁছেন। অতঃপর যখন শায়খ আখলাতি ইন্তেকাল করেন, তখন তিনি শায়খকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করেন এবং তিনি সেখানে ছয় মাস অবস্থান করেন। এরপর তিনি আলেপ্পো, তারপর কুনিয়া, তারপর...