(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবি হানিফা রিওয়ায়াতু আবি নুআইম (পৃষ্ঠা: -)
مسند أبي حنيفة رواية أبي نعيم   (أبو نعيم الأصبهاني)

القسم: كتب السنة


الكتاب: مسند الإمام أبي حنيفة رواية أبي نعيم

المؤلف: أبو نعيم أحمد بن عبد الله بن أحمد بن إسحاق بن موسى بن مهران الأصبهاني (ت 430هـ)

المحقق: نظر محمد الفاريابي

الناشر: مكتبة الكوثر - الرياض

الطبعة: الأولى، 1415 هـ

عدد الصفحات: 278

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মুসনাদে আবু হানিফা - আবু নুয়াইমের বর্ণনা   (আবু নুয়াইম আল-আসফাহানি)

বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: মুসনাদে ইমাম আবু হানিফা - আবু নুয়াইমের বর্ণনা

লেখক: আবু নুয়াইম আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন ইসহাক বিন মুসা বিন মিহরান আল-আসফাহানি (মৃত্যু ৪৩০ হিজরি)

গবেষক: নজর মুহাম্মদ আল-ফারিয়াবি

প্রকাশক: মাকতাবাতুল কাওসার - রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৫ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৭৮

[গ্রন্থের সংখ্যাবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবি হানিফা রিওয়ায়াতু আবি নুআইম (পৃষ্ঠা: -)
ـ[مسند الإمام أبي حنيفة]ـ

المؤلف: أبو نعيم أحمد بن عبد الله بن أحمد بن إسحاق بن موسى بن مهران الأصبهاني (المتوفى: 430هـ)

المحقق: نظر محمد الفاريابي

الناشر: مكتبة الكوثر - الرياض

الطبعة: الأولى، 1415 هـ

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، وهو ضمن خدمة التخريج]
[মুসনাদ ইমাম আবু হানীফা]

লেখক: আবু নুআইম আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন ইসহাক বিন মুসা বিন মিহরান আল-আসবাহানী (মৃত্যু: ৪৩০ হিজরি)

সম্পাদক: নজর মুহাম্মদ আল-ফারিয়াবী

প্রকাশক: মাকতাবাতুল কাওসার - রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৫ হিজরি

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইটির নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ এবং এটি তাখরীজ সেবার অন্তর্ভুক্ত]
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবি হানিফা রিওয়ায়াতু আবি নুআইম (পৃষ্ঠা: ١٧)
بسم الله الرحمن الرحيم

قَالَ الشَّيْخ الْحَافِظ أَبُو نعيم أَحْمد بن عبد الله بن أَحْمد بن إِسْحَاق الإصبهاني: ذكر مَا انتهي إِلَيْنَا من مسانيد حَدِيث الإِمَام أبي حنيفَة النُّعْمَان بن الثَّابِت الْكُوفِي فَقِيه أهل الْعرَاق ومفتيهم رَحمَه الله تَعَالَى.

كَانَ أَبُو حنيفَة مولى تيم الله بن ثَعْلَبَة بن بكر بن وَائِل، وَيُقَال: مولى لبني بغل وَكَانَ أول أمره خزازا، يَبِيع الْخَزّ بِالْكُوفَةِ، وَكَانَ حِينَئِذٍ يذكر عَنهُ إقبالا على الْعِبَادَة وَالصَّلَاة الْكَثِيرَة، ثمَّ أقبل على التفقه، فَلَزِمَ حَمَّاد بن أبي سُلَيْمَان، وضرباءه من أَصْحَاب إِبْرَاهِيم النَّخعِيّ، فَعلم علم الشَّرِيعَة، وتفقه فِي أصُول الْأَحْكَام.

وَكَانَ مِمَّن سلم لَهُ دقة النّظر، وغوص الْفِكر، ولطف الْحِيَل ولى الْقَضَاء للمنصور وَالصَّحِيح أَنه امْتنع، وَتُوفِّي بِبَغْدَاد وَدفن بمقبرة الخيزرانية، وَتقدم فِي الصَّلَاة عَلَيْهِ الْحسن بن عمَارَة النَّخعِيّ الْكُوفِي، وَذَلِكَ سنة خمسين وَمِائَة.

حَدثنَا بذلك أَبُو عَليّ مُحَمَّد بن أَحْمد بن الْحسن، ثَنَا مُحَمَّد بن عُثْمَان بن أبي شيبَة، قَالَ: قَالَ أبي، وَعمي أَبُو بكر: مَاتَ أَبُو حنيفَة النُّعْمَان بن الثَّابِت التَّيْمِيّ - تيم ربيعَة - مولى لَهُم، توفّي بِبَغْدَاد سنة مائَة وَخمسين.

حَدثنَا مُحَمَّد بن أَحْمد، ثَنَا مُحَمَّد بن عُثْمَان بن أبي شيبَة، ثَنَا نصر بن عبد الرَّحْمَن، قَالَ: سَمِعت أَبَا نعيم يَقُول: سَمِعت زفر بن الْهُذيْل، يَقُول: كَانَ أَبُو حنيفَة رحمه الله يجْهر بالْكلَام أَيَّام إِبْرَاهِيم جَهرا شَدِيدا، فجَاء كتاب أبي جَعْفَر - يَعْنِي - الْمَنْصُور، إِلَى عِيسَى ابْن مُوسَى، أَن أحمل أَبَا حنيفَة إِلَى بَغْدَاد فَحمل، فَعَاشَ أَيَّامًا ثمَّ مَاتَ، فِي سنة خمسين وَمِائَة، فِي شعْبَان، توفّي وَهُوَ ابْن سبعين سنة.
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে।

শায়খ আল-হাফিজ আবু নুয়াইম আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে ইসহাক আল-ইসফাহানি বলেন: ইরাকবাসীদের ফকিহ ও মুফতি ইমাম আবু হানিফা নুমান ইবনে সাবিত আল-কুফি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন)-এর হাদিসের মুসনাদসমূহের মধ্য হতে যা আমাদের নিকট পৌঁছেছে তার বর্ণনা।

আবু হানিফা তায়মুল্লাহ ইবনে সালাবা ইবনে বকর ইবনে ওয়াইলের মুক্তদাস ছিলেন; আবার বলা হয় যে, তিনি বনু বাগলের মুক্তদাস ছিলেন। শুরুর জীবনে তিনি রেশম ব্যবসায়ী ছিলেন এবং কুফায় রেশম বিক্রি করতেন। সেই সময়ে তাঁর ইবাদত-বন্দেগি এবং অধিক সালাত আদায়ের প্রতি গভীর মনোযোগের কথা আলোচিত হতো। অতঃপর তিনি ফিকহ অর্জনে আত্মনিয়োগ করেন এবং হাম্মাদ ইবনে আবু সুলায়মান ও ইব্রাহিম আন-নাখায়ির সমসাময়িক ছাত্রদের সান্নিধ্য গ্রহণ করেন। এভাবে তিনি শরিয়তের ইলম অর্জন করেন এবং বিধানের মূলনীতিসমূহে ব্যুৎপত্তি লাভ করেন।

তাঁর সূক্ষ্ম অন্তর্দৃষ্টি, চিন্তার গভীরতা এবং বিচক্ষণ বুদ্ধিমত্তা সর্বজনস্বীকৃত ছিল। মানসুর তাঁকে বিচারকের (কাজি) দায়িত্ব দিতে চেয়েছিলেন, তবে সঠিক বর্ণনা অনুযায়ী তিনি তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বাগদাদে ইন্তেকাল করেন এবং খাইজুরানিয়া গোরস্তানে সমাহিত হন। তাঁর জানাজার নামাজে ইমামতি করেন হাসান ইবনে আমারা আন-নাখায়ি আল-কুফি, আর তা ছিল একশত পঞ্চাশ হিজরি সনে।

আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন আবু আলি মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আল-হাসান, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে উসমান ইবনে আবু শায়বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা এবং আমার চাচা আবু বকর বলেছেন: আবু হানিফা নুমান ইবনে সাবিত আত-তায়মি—তায়ম রাবিআ—তাদের মুক্তদাস, একশত পঞ্চাশ হিজরি সনে বাগদাদে ইন্তেকাল করেন।

মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ ইবনে উসমান ইবনে আবু শায়বাহ হতে, তিনি নাসর ইবনে আবদুর রহমান হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবু নুয়াইমকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি জুফার ইবনুল হুযাইলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: আবু হানিফা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) ইব্রাহিমের দিনগুলোতে অত্যন্ত জোরালোভাবে ও স্পষ্টভাবে কথা বলতেন। অতঃপর আবু জাফর অর্থাৎ মানসুরের পক্ষ থেকে ঈসা ইবনে মুসার নিকট পত্র আসে যে, আবু হানিফাকে যেন বাগদাদে নিয়ে আসা হয়; ফলে তাকে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তিনি কয়েকদিন জীবিত থাকার পর একশত পঞ্চাশ হিজরির শাবান মাসে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল সত্তর বছর।
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবি হানিফা রিওয়ায়াতু আবি নুআইম (পৃষ্ঠা: ١٨)
قَالَ: وَقَالَ أَبُو نعيم: يَقُولُونَ: أَنه سقَاهُ شربه.

وَقَالَ بشر بن الْوَلِيد: فِيمَا أخبرنيه عَنهُ: إِن أَبَا حنيفَة مَاتَ فِي السجْن، إِذْ أَرَادَهُ أَبُو جَعْفَر أَن يوليه، فَأبى، فَحلف عَلَيْهِ ليفعلن، فَحلف أَبُو حنيفَة أَن لَا يفعل، فَحلف أَبُو جَعْفَر ثَانِيَة، فَحلف أَبُو حنيفَة أَنه لَا يفعل، فَقيل لأبي حنيفَة، أَلا ترى أَمِير الْمُؤمنِينَ يحلف، فَقَالَ: أَمِير الْمُؤمنِينَ أقدر على كَفَّارَة أيمانه، فَأمر بِهِ إِلَى الْحَبْس فَلم يزل فِي الْحَبْس بِهَذِهِ الْحَال، حَتَّى توفّي فِيهِ.

حَدثنَا أَبُو إِسْحَق إِبْرَاهِيم بن (ق 2 / أ) عبد الله، ثَنَا مُحَمَّد بن إِسْحَق الثَّقَفِيّ ثَنَا يُوسُف بن مُوسَى، ثَنَا أَبُو نعيم، قَالَ: ولد أَبُو حنيفَة سنة ثَمَانِينَ، وَكَانَ لَهُ يَوْم مَاتَ سبعين سنة، وَمَات فِي سنة خمسين وَمِائَة، وَهُوَ النُّعْمَان بن الثَّابِت.

حَدثنَا أَبُو بكر الطلحي، ثَنَا أَبُو جَعْفَر مُحَمَّد بن عبد الله الْحَضْرَمِيّ، قَالَ: سَمِعت عُثْمَان بن أبي شيبَة يَقُول: مَاتَ أَبُو حنيفَة النُّعْمَان بن الثَّابِت مولى تيم الله بن ثَعْلَبَة فِي سنة خمسين وَمِائَة، وأخبرت أَنه كَانَ لَهُ سبعين سنة.

حَدثنَا أَبُو مُحَمَّد بن حَيَّان، ثَنَا مُحَمَّد بن عبد الله بن رسته، ثَنَا مُحَمَّد بن عبد الله أَبُو زيد عبد الرَّحْمَن بن مُصعب، قَالَ: مَاتَ النُّعْمَان سنة خمسين وَمِائَة، وَكَانَ أحد من يَدْعُو إِلَى مُوالَاة بَيت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم، وَإِلَى نصرتهم وَإِلَى متابعتهم لذَلِك.
তিনি বলেন: এবং আবু নুআইম বলেন: তারা বলে যে, তাকে পানীয় (বিষ) পান করানো হয়েছিল।

এবং বিশর ইবনুল ওয়ালিদ আমাকে যা জানিয়েছেন তাতে তিনি বলেন: আবু হানিফা কারাগারে মৃত্যুবরণ করেছেন। যখন আবু জাফর (আল-মানসুর) তাকে দায়িত্ব প্রদান করতে চাইলেন, তিনি তা অস্বীকার করলেন। তখন তিনি (খলিফা) শপথ করলেন যে তাকে অবশ্যই তা গ্রহণ করতে হবে। আবু হানিফাও শপথ করলেন যে তিনি তা করবেন না। আবু জাফর পুনরায় শপথ করলেন, আবু হানিফাও পুনরায় শপথ করলেন যে তিনি তা করবেন না। তখন আবু হানিফাকে বলা হলো, আপনি কি দেখছেন না যে আমিরুল মুমিনীন শপথ করছেন? তিনি বললেন: আমিরুল মুমিনীন তার শপথের কাফফারা প্রদানে অধিক সক্ষম। অতঃপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হলো এবং তিনি এই অবস্থায় কারাবন্দী ছিলেন যতক্ষণ না সেখানে তার মৃত্যু হয়।

আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে (পৃষ্ঠা ২ / ক) আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আস-সাকাফি আমাদের বলেছেন, ইউসুফ ইবনে মুসা আমাদের বলেছেন, আবু নুআইম বলেন: আবু হানিফা আশি হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং তার মৃত্যুর দিন তার বয়স ছিল সত্তর বছর। তিনি একশ পঞ্চাশ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন, আর তিনি হলেন নুমান ইবনে সাবিত।

আবু বকর আত-তালহি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-হাদরামি আমাদের বলেছেন, তিনি বলেন: আমি উসমান ইবনে আবি শায়বাকে বলতে শুনেছি: তায়মুল্লাহ ইবনে সালাবার মুক্ত দাস আবু হানিফা নুমান ইবনে সাবিত একশ পঞ্চাশ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন এবং আমাকে জানানো হয়েছে যে তার বয়স হয়েছিল সত্তর বছর।

আবু মুহাম্মদ ইবনে হাইয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে রুস্তাহ আমাদের বলেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আবু যাইদ আবদুর রহমান ইবনে মুসআব আমাদের বলেছেন, তিনি বলেন: নুমান একশ পঞ্চাশ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। তিনি ছিলেন তাদের একজন যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আহলে বাইতের আনুগত্য, তাদের সাহায্য এবং তাদের অনুসরণের প্রতি আহ্বান জানাতেন।
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবি হানিফা রিওয়ায়াতু আবি নুআইম (পৃষ্ঠা: ١٩)
حَدثنَا مُحَمَّد بن أَحْمد بن الْحُسَيْن، ثَنَا مُحَمَّد بن عُثْمَان بن أبي شيبَة، ثَنَا أَبُو نعيم، قَالَ: سَمِعت عمار بن رُزَيْق يَقُول: كَانَ أَبُو حنيفَة يكْتب إِلَى إِبْرَاهِيم - يَعْنِي - ابْن عبد الله بن الْحسن بن الْحُسَيْن بن عَليّ بن أبي طَالب، فحثه على الْقدوم إِلَى الْكُوفَة، بعد مُنْصَرفه.

حَدثنَا أَبُو أَحْمد الغطريفي، قَالَ: سَمِعت السَّاجِي، يَقُول: سَمِعت مُحَمَّد بن مُعَاوِيَة الزيَادي يَقُول: سَمِعت أَبَا جَعْفَر يَقُول: كَانَ أَبُو حنيفَة اسْمه: عتِيك بن زوطرة، فَسَماهُ نَفسه: النُّعْمَان وأباه ثَابتا.
মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনুল হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে উসমান ইবনে আবি শায়বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু নুআইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আম্মার ইবনে রুজাইককে বলতে শুনেছি: আবু হানিফা ইব্রাহিমকে—অর্থাৎ আব্দুল্লাহ ইবনুল হাসান ইবনুল হুসাইন ইবনে আলী ইবনে আবি তালিবের পুত্রকে—চিঠি লিখতেন এবং তাকে ফিরে আসার পর কুফায় আসার জন্য উৎসাহিত করতেন।

আবু আহমদ আল-গতরিফী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আস-সাজি থেকে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে মুয়াবিয়া আজ-জিয়াদী থেকে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু জাফরকে বলতে শুনেছি: আবু হানিফার নাম ছিল আতিক ইবনে জাওতারা, অতঃপর তিনি নিজের নাম নুমান এবং তার পিতার নাম সাবিত রেখেছিলেন।
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবি হানিফা রিওয়ায়াতু আবি নুআইম (পৃষ্ঠা: ٢٠)
‌‌(وَمن أخباره)

 

حَدثنَا إِبْرَاهِيم بن عبد الله، ثَنَا مُحَمَّد بن إِسْحَاق الثَّقَفِيّ، ثَنَا الْجَوْهَرِي، ثَنَا أَبُو نعيم، قَالَ: كَانَ أَبُو حنيفَة صَاحب غوص فِي الْمسَائِل.

حَدثنَا أَبُو إِسْحَاق إِبْرَاهِيم بن عبد الله، حَدثنَا أَبُو الْعَبَّاس السراج، قَالَ: سَمِعت مُحَمَّد بن بنْدَار الشَّيْبَانِيّ يَقُول: سَمِعت النَّضر بن الشميل يَقُول: سَمِعت بن عون يَقُول: بَلغنِي أَن بِالْكُوفَةِ رجل يُجيب فِي المعضلات - يَعْنِي - أَبَا حنيفَة.

حَدثنَا أَبُو مُحَمَّد بن حَيَّان فِيمَا قريء عَلَيْهِ، ثَنَا أَبُو الْعَبَّاس الْحمال، حَدثنِي أَحْمد بن أبي سريح يَقُول: سَمِعت الشَّافِعِي يَقُول: سَأَلَ مَالك بن أنس هَل رَأَيْت أَبَا حنيفَة وناظرته؟ قَالَ: نعم رَأَيْت رجلا لَو نظر فِي هَذِه السارية، وَهِي من الْحِجَارَة، فَقَالَ: إِنَّهَا من ذهب لقام بحجته - لفظ الشَّافِعِي -.

حَدثنَا مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم، ثَنَا أَبُو عرُوبَة الْحَرَّانِي يَقُول: سَمِعت سَلمَة بن شبيب يَقُول: سَمِعت عبد الرَّزَّاق يَقُول: سَمِعت ابْن الْمُبَارك يَقُول: إِن كَانَ أحدا يَنْبَغِي أَن يَقُول بِرَأْيهِ، فَأَبُو حنيفَة يَنْبَغِي لَهُ أَن يَقُول بِرَأْيهِ.

حَدثنَا أَبُو مَسْعُود عبد الله بن مُحَمَّد بن أَحْمد، ثَنَا أَبُو الْعَبَّاس الْهَرَوِيّ، ثَنَا أَبُو حَاتِم السجسْتانِي، ثَنَا المقريء قَالَ: قَالَ أَبُو حنيفَة: إِنِّي لأروى النَّاس للْحَدِيث.
‌(তার সংবাদসমূহের মধ্য হতে)

 

ইবরাহীম ইবনে আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক আস-সাকাফী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-জাওহারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু নুআইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু হানিফা মাসআলাসমূহের সূক্ষ্ম তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন।

আবু ইসহাক ইবরাহীম ইবনে আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আব্বাস আস-সাররাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মাদ ইবনে বুন্দার আশ-শাইবানীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি নাদর ইবনে শুমাইলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইবনে আউনকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, কুফায় এমন এক ব্যক্তি আছেন যিনি অতি জটিল সমস্যাসমূহের সমাধান প্রদান করেন—অর্থাৎ আবু হানিফা।

আবু মুহাম্মাদ ইবনে হাইয়ান তার নিকট পঠিত পাণ্ডুলিপি অনুযায়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আব্বাস আল-হাম্মাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমদ ইবনে আবি সুরাইহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি শাফিঈকে বলতে শুনেছি, মালিক ইবনে আনাসকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, আপনি কি আবু হানিফাকে দেখেছেন এবং তাঁর সাথে বিতর্ক করেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমি এমন এক ব্যক্তিকে দেখেছি যিনি যদি এই স্তম্ভটির দিকে তাকিয়ে—যা পাথরের তৈরি—বলেন যে এটি স্বর্ণের, তবে তিনি তাঁর সপক্ষে অকাট্য দলিল পেশ করবেন। —এটি শাফিঈর শব্দসমষ্টি—।

মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আরুবাহ আল-হাররানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সালামাহ ইবনে শাবীবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আব্দুর রাজ্জাককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইবনে আল-মুবারককে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: যদি কারো জন্য নিজ গবেষণালব্ধ রায় অনুযায়ী কথা বলা সমীচীন হয়, তবে আবু হানিফার জন্যই তা সমীচীন।

আবু মাসউদ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আব্বাস আল-হারাউয়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হাতিম আস-সিজিস্তানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-মুকরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু হানিফা বলেছেন: নিশ্চয়ই আমি মানুষের মধ্যে হাদীসের সর্বাধিক বড় বর্ণনাকারী (বা সংরক্ষণকারী)।
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবি হানিফা রিওয়ায়াতু আবি নুআইম (পৃষ্ঠা: ٢١)
حَدثنَا عَليّ بن أَحْمد بن (ق 3 / 1) أبي غَسَّان الدقيقي الْبَصْرِيّ، ثَنَا جَعْفَر بن مُحَمَّد بن مُوسَى النَّيْسَابُورِي الْحَافِظ، قَالَ: سَمِعت عَليّ بن مُسلم العامري يَقُول: سَمِعت أَبَا يحيى الْحمانِي يَقُول: مَا رَأَيْت رجلا قطّ خيرا من أبي حنيفَة.

أخبرنَا القَاضِي مُحَمَّد بن عمر بن سلم، وَأذن لي فِي الرِّوَايَة عَنهُ، حَدثنِي إِبْرَاهِيم بن مُحَمَّد بن دَاوُد، ثَنَا إِسْحَاق ابْن بهْلُول، قَالَ: سَمِعت سُفْيَان بن عُيَيْنَة يَقُول: مَا مقلت عَيْني مثل أبي حنيفَة.

وَحدثنَا أَبُو مُحَمَّد بن حَيَّان، ثَنَا إِبْرَاهِيم بن مُحَمَّد بن عَليّ، ثَنَا السّري بن مهْرَان، ثَنَا عبد الحميد الْحمانِي، ثَنَا سلم بن سَالم عَن أبي الجويرية، قَالَ: سَمِعت حَمَّاد بن أبي سُلَيْمَان، وعلقمة بن مرْثَد، ومحارب بن دثار، وَعون بن عبد الله بن عتبَة، وَأَبا حنيفَة، فَمَا كَانَ فِي الْقَوْم أحسن لَيْلًا من أبي حنيفَة، صحبته سِتَّة أشهر، فَمَا رَأَيْته لَيْلَة وَاحِدَة وضع فِيهَا جَنْبَيْهِ، ونام فِي الطَّرِيق.

أخبرنَا عبد الله بن جَعْفَر بن أَحْمد بن فَارس فِيمَا أجَاز لي، ثَنَا هَارُون بن سُلَيْمَان، ثَنَا عَليّ بن الْمَدِينِيّ، قَالَ: سَمِعت سُفْيَان بن عُيَيْنَة يَقُول: ح -

وَحدثنَا أَبُو مُحَمَّد بن حَيَّان، ثَنَا عَليّ بن رستم، ثَنَا هَارُون ابْن سُلَيْمَان، ثَنَا عَليّ بن الْمَدِينِيّ، قَالَ: سَمِعت سُفْيَان يَقُول: كَانَ أَبُو حنيفَة لَهُ مُرُوءَة، وَصَلَاح فِي أول زَمَانه.
আলী ইবনে আহমাদ ইবনে (পৃ ৩ / ১) আবু গাসসান আদ-দাকিকি আল-বাসরি আমাদের বর্ণনা করেছেন, হাফিজ জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুসা আন-নাইসাবুরি আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আলী ইবনে মুসলিম আল-আমিরিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু ইয়াহইয়া আল-হিমানিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু হানিফার চেয়ে উত্তম আর কোনো মানুষ কখনো দেখিনি।

কাজী মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনে সালাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং তিনি আমাকে তাঁর থেকে বর্ণনা করার অনুমতি দিয়েছেন, ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে দাউদ আমাকে বর্ণনা করেছেন, ইসহাক ইবনে বাহলুল আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাকে বলতে শুনেছি: আমার চোখ আবু হানিফার মতো আর কাউকে দেখেনি।

আবু মুহাম্মদ ইবনে হাইয়ান আমাদের বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আমাদের বর্ণনা করেছেন, আস-সাররি ইবনে মিহরান আমাদের বর্ণনা করেছেন, আবদুল হামিদ আল-হিমানি আমাদের বর্ণনা করেছেন, সালাম ইবনে সালিম আবু জুওয়াইরিয়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি হাম্মাদ ইবনে আবি সুলাইমান, আলকামাহ ইবনে মারসাদ, মুহারিব ইবনে দিসার, আউন ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উতবাহ এবং আবু হানিফাকে শুনেছি; এই দলের মধ্যে রাতের ইবাদতে আবু হানিফার চেয়ে সুন্দর আর কেউ ছিল না। আমি ছয় মাস তাঁর সাথে ছিলাম, এক রাতের জন্যও তাঁকে দেখিনি যে তিনি তাঁর পার্শ্বদেশ বিছানায় রেখেছেন; তিনি পথিমধ্যেও (এভাবেই) ঘুমাতেন।

আবদুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে আহমাদ ইবনে ফারিস আমাকে যা ইজাজত দিয়েছেন তাতে সংবাদ দিয়েছেন, হারুন ইবনে সুলাইমান আমাদের বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনুল মাদিনি আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাকে বলতে শুনেছি: হা -

আবু মুহাম্মদ ইবনে হাইয়ান আমাদের বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে রুস্তম আমাদের বর্ণনা করেছেন, হারুন ইবনে সুলাইমান আমাদের বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনুল মাদিনি আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সুফিয়ানকে বলতে শুনেছি: আবু হানিফার মধ্যে তাঁর জীবনের শুরু থেকেই পৌরুষত্ব এবং নেককারিতা বিদ্যমান ছিল।
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবি হানিফা রিওয়ায়াতু আবি নুআইম (পৃষ্ঠা: ٢٢)
قَالَ سُفْيَان الثَّوْريّ: اشْترى أبي مَمْلُوكا فَأعْتقهُ، وَكَانَ لَهُ صَلَاة من اللَّيْل فِي دَاره، فَكَانَ النَّاس ينتابونه فِيهَا يصلونَ مَعَه اللَّيْل، فَكَانَ أَبُو حنيفَة فِيمَن يَجِيء يُصَلِّي.

حَدثنَا مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم بن عَليّ، قَالَ: سَمِعت حَمْزَة بن عَليّ، قَالَ: سَمِعت حَمْزَة بن عَليّ الْبَصْرِيّ، يَقُول: سَمِعت الرّبيع يَقُول: سَمِعت الشَّافِعِي، يَقُول: النَّاس عِيَال على أبي حنيفَة فِي الْفِقْه.

حَدثنَا أَبُو عبد الله أَحْمد بن بنْدَار، ثَنَا أَبُو بكر بن أبي عَاصِم، ثَنَا الْحسن بن عَليّ، ثَنَا نعيم بن حَمَّاد، قَالَ: سَمِعت ابْن الْمُبَارك يَقُول: سَمِعت أَبَا حنيفَة، يَقُول: مَا جَاءَ عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لم يقدم عَلَيْهِ أحد، وَمَا جَاءَ عَن أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم اخترنا.

حَدثنَا مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم بن عَليّ من أَصله، حَدثنَا فَقير ابْن مُوسَى بن فَقير، ثَنَا عَليّ بن عبد الرَّحْمَن، ثَنَا عَليّ بن معبد، ثَنَا عبيد الله بن عمر قَالَ: كنت عِنْد الْأَعْمَش، فَسئلَ عَن مَسْأَلَة، فَنظر فِي وَجه الْقَوْم، ثمَّ قَالَ لأبي حنيفَة: اجبه يَا نعْمَان، فَأَجَابَهُ. قَالَ لَهُ: من أَيْن قلت هَذَا؟ قَالَ بِحَدِيث حَدَّثتنَا بِهِ أَنْت. فَقَالَ الْأَعْمَش: أَنْتُم الْأَطِبَّاء، وَنحن الصيادلة.

حَدثنَا مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم من أَصله، ثَنَا أَحْمد بن مُحَمَّد ابْن سَلامَة الطَّحَاوِيّ، ثَنَا إِبْرَاهِيم بن أَحْمد بن مَرْوَان، ثَنَا سُلَيْمَان بن أبي شيخ، ثَنَا مُحَمَّد بن (ق 3 / ب) عمر، عَن أبي حَمَّاد الْكُوفِي، قَالَ: قَالَ لي الْأَعْمَش: كَيفَ ترك
সুফিয়ান আস-সাওরি বলেন: আমার পিতা এক গোলাম ক্রয় করেন এবং তাকে মুক্ত করে দেন। তাঁর ঘরে রাতে সালাত আদায় করার ব্যবস্থা ছিল। মানুষ সেখানে তাঁর সাথে রাতের সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে পর্যায়ক্রমে যাতায়াত করত। যারা এসে সালাত আদায় করতেন আবু হানিফাও তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন আলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি হামযাহ বিন আলিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি হামযাহ বিন আলি আল-বাসরিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি রাবি’কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি শাফিয়িকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: ফিকহ শাস্ত্রের ক্ষেত্রে সকল মানুষ আবু হানিফার মুখাপেক্ষী।

আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন বান্দার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু বকর বিন আবি আসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাসান বিন আলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, নুআইম বিন হাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনুল মুবারককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু হানিফাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, তার ওপর অন্য কাউকে প্রাধান্য দেওয়া যাবে না। আর যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণ থেকে এসেছে, তা থেকে আমরা পছন্দ করে গ্রহণ করি।

মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন আলি তাঁর মূল পাণ্ডুলিপি থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ফাকির ইবনে মুসা বিন ফাকির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলি বিন আব্দুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলি বিন মা’বাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উবায়দুল্লাহ বিন উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমাশের নিকটে ছিলাম। তাঁর কাছে একটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো। তিনি উপস্থিত লোকদের চেহারার দিকে তাকালেন, অতঃপর আবু হানিফাকে বললেন: হে নুমান, এর জবাব দাও। তখন তিনি এর জবাব দিলেন। আমাশ তাঁকে বললেন: তুমি এ কথা কোত্থেকে বললে? তিনি বললেন: আপনি আমাদের নিকট যে হাদিস বর্ণনা করেছেন তার ভিত্তিতে। তখন আমাশ বললেন: তোমরা হলে চিকিৎসক, আর আমরা হলাম ওষুধ বিক্রেতা।

মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম তাঁর মূল পাণ্ডুলিপি থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ বিন মুহাম্মদ ইবনে সালামাহ আত-তাহাবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম বিন আহমাদ বিন মারওয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুলাইমান বিন আবি শাইখ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হাম্মাদ আল-কুফি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাশ আমাকে বললেন: কীভাবে পরিত্যাগ করল...
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবি হানিফা রিওয়ায়াতু আবি নুআইম (পৃষ্ঠা: ٢٣)
صَاحبك قَول ابْن مَسْعُود فِي بيع الْأمة وطلاقها، قَالَ: قلت: تَركه لحديثك الَّذِي حدثته، عَن إِبْرَاهِيم، عَن الْأسود، عَن عَائِشَة، أَن بَرِيرَة حِين أعتقت خيرت، قَالَ: فَقَالَ: إِن أَبَا حنيفَة لفطن، وَأَعْجَبهُ.

أخبرنَا الْحُسَيْن بن مَنْصُور إجَازَة، وحَدثني عَنهُ مُحَمَّد بن إِسْحَاق، ثَنَا مُحَمَّد بن إِسْحَاق، ثَنَا أَحْمد بن مُحَمَّد بن عَليّ، قَالَ: سَمِعت يحيى بن معِين، وَذكر أَبُو حنيفَة عِنْده، فَقَالَ: هُوَ أنبل من أَن يكذب.

حَدثنَا أَبُو بكر الطلحي، ثَنَا عُثْمَان بن عبد الله الطلحي، ثَنَا إِسْمَاعِيل بن مُحَمَّد الطلحي، ثَنَا سعيد بن سَالم الْبَصْرِيّ، سَمِعت أَبَا حنيفَة، يَقُول: لقِيت عَطاء بِمَكَّة، فَسَأَلته عَن شَيْء فَقَالَ: من أَيْن أَنْت؟ قلت: من أهل الْكُوفَة، قَالَ: أَنْت من الَّذين فارقوا دينهم وَكَانُوا شيعًا، قلت: نعم. قَالَ: فَمن أَي الْأَصْنَاف أَنْت؟ قلت: مِمَّن لَا يسب السّلف، ويؤمن بِالْقدرِ، وَلَا يكفر أحدا بذنب، قَالَ لي عَطاء: عرفت، فألزم.

حَدثنَا أَبُو بكر أَحْمد بن مُوسَى، ثَنَا خَالِد بن أبي النَّضر، سَمِعت عبد الْوَاحِد بن غياث، يَقُول: كَانَ أَبُو الْعَبَّاس الطوسي سيء الرَّأْي فِي أبي حنيفَة، وَكَانَ أَبُو حنيفَة يعرف ذَلِك، فَدخل أَبُو حنيفَة على أَمِير الْمُؤمنِينَ أبي جَعْفَر، فَكبر النَّاس، فَقَالَ البواب: أقبل أَبَا حنيفَة، فَأقبل عَلَيْهِ، فَقَالَ: يَا أَبَا حنيفَة، إِن أَمِير الْمُؤمنِينَ يَدْعُو الرجل منا، فيأمره بِضَرْب عنق الرجل، لَا يدْرِي مَا هُوَ؟ أيسعه أَن يضْرب عُنُقه؟ فَقَالَ لَهُ: يَا أَبَا الْعَبَّاس أَمِير الْمُؤمنِينَ يَأْمر بِالْحَقِّ أَو بِالْبَاطِلِ؟ قَالَ: بِالْحَقِّ. قَالَ: انفذ الْحق حَيْثُ كَانَ، وَلَا تسْأَل عَنهُ، ثمَّ قَالَ أَبُو حنيفَة: إِن هَذَا أَرَادَ أَن يوثقني، فربطته.
আপনার সাথী (আবু হানিফা) ক্রীতদাসী বিক্রি ও তার তালাক সম্পর্কে ইবনে মাসউদের মত পরিত্যাগ করেছেন। তিনি (আবু হানিফা) বললেন: আমি আপনার বর্ণিত সেই হাদিসের কারণে এটি পরিত্যাগ করেছি, যা আপনি ইব্রাহিম থেকে, তিনি আসওয়াদ থেকে এবং তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, বারীরাকে যখন মুক্ত করা হয়েছিল, তখন তাকে (বিবাহ বহাল রাখা বা না রাখার) ইখতিয়ার বা স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল। রাবী বলেন: তখন তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আবু হানিফা অত্যন্ত বুদ্ধিমান; এবং এটি তাকে মুগ্ধ করল।

হুসাইন বিন মানসুর ইজাজাতান (অনুমতিক্রমে) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং মুহাম্মাদ বিন ইসহাক তার সূত্রে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমদ বিন মুহাম্মাদ বিন আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া বিন মঈনকে বলতে শুনেছি—তার নিকট যখন আবু হানিফার কথা উল্লেখ করা হলো, তখন তিনি বললেন: তিনি মিথ্যা বলার ঊর্ধ্বে অত্যন্ত মহৎ ব্যক্তি।

আবু বকর আল-তালহি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উসমান বিন আব্দুল্লাহ আল-তালহি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাইল বিন মুহাম্মাদ আল-তালহি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ বিন সালিম আল-বাসরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি আবু হানিফাকে বলতে শুনেছি: আমি মক্কায় আতা-এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাকে কোনো একটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: আপনি কোথা থেকে এসেছেন? আমি বললাম: কুফাবাসীদের মধ্য থেকে। তিনি বললেন: আপনি কি সেই লোকদের অন্তর্ভুক্ত যারা তাদের দ্বীনকে খণ্ডবিখণ্ড করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে? আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তবে আপনি কোন দলের অন্তর্ভুক্ত? আমি বললাম: আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা পূর্বসূরিদের (সালাফদের) গালি দেয় না, তাকদীরের ওপর বিশ্বাস রাখে এবং কোনো গুনাহের কারণে কাউকে কাফের ঘোষণা করে না। তখন আতা আমাকে বললেন: আপনি সঠিক পথ চিনেছেন, সুতরাং এটিকেই আঁকড়ে ধরুন।

আবু বকর আহমদ বিন মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, খালিদ বিন আবিন নাযর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি আব্দুল ওয়াহিদ বিন গিয়াসকে বলতে শুনেছি: আবুল আব্বাস আল-তুসী আবু হানিফা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করতেন এবং আবু হানিফাও সেটি জানতেন। একবার আবু হানিফা আমিরুল মুমিনীন আবু জাফরের দরবারে প্রবেশ করলেন এবং লোকজন তাকে সম্মান জানাল। তখন দারোয়ান (বা তুসী) বললেন: আবু হানিফা এগিয়ে আসছেন। এরপর তিনি আবু হানিফার দিকে ফিরে বললেন: হে আবু হানিফা! আমিরুল মুমিনীন আমাদের মধ্য থেকে কাউকে ডেকে পাঠান এবং তাকে কোনো ব্যক্তির গর্দান উড়িয়ে দেওয়ার (মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার) নির্দেশ দেন, অথচ সেই ব্যক্তি জানে না যে লোকটির অপরাধ কী? তার জন্য কি সেই ব্যক্তির গর্দান উড়িয়ে দেওয়া বৈধ হবে? তখন আবু হানিফা তাকে বললেন: হে আবুল আব্বাস! আমিরুল মুমিনীন কি ন্যায়ের আদেশ দেন নাকি অন্যায়ের? তিনি বললেন: ন্যায়ের। আবু হানিফা বললেন: তবে ন্যায় যেখানেই থাকুক তা কার্যকর করুন এবং সে সম্পর্কে প্রশ্ন করবেন না। পরবর্তীতে আবু হানিফা বললেন: এই ব্যক্তি আমাকে বিপদে ফেলতে (বা আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধতে) চেয়েছিল, কিন্তু আমিই তাকে উল্টো বেঁধে ফেলেছি।
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবি হানিফা রিওয়ায়াতু আবি নুআইম (পৃষ্ঠা: ٢٤)
‌‌(ذكر من رأى من الصَّحَابَة وروى عَنْهُم)

 

أنس بن مَالك، وَعبد الله بن الْحَارِث بن جُزْء الزبيدِيّ، وَيُقَال: عبد الله بن أبي أوفى الْأَسْلَمِيّ رضي الله عنهم.

وَاخْتلفُوا فِي وَفَاة أنس بن مَالك، فَقيل إِنَّه: مَاتَ سنة تسعين، وَقيل: سنة ثَلَاث وَتِسْعين، وَقيل: سنة أَربع وَتِسْعين.

حَدثنَا إِبْرَاهِيم بن عبد الله، ثَنَا مُحَمَّد بن إِسْحَاق الثَّقَفِيّ، ثَنَا زِيَاد بن أَيُّوب، ويوسف بن مُوسَى، قَالَا: ثَنَا أَبُو نعيم، قَالَ: توفّي أنس بن مَالك، سنة ثَلَاث وَتِسْعين، وَولد أَبُو حنيفَة سنة ثَمَانِينَ، وَكَانَ بَين مولده إِلَى وَفَاة أنس، ثَلَاث عشرَة سنة.

وروى عَن أبي حنيفَة من التَّابِعين: الْأَحْوَص بن حَكِيم الشَّامي، والأحوص لَقِي أنس بن مَالك، وَرَآهُ يطوف بَين الصَّفَا والمروة.

حَدثنَا مُحَمَّد بن عمر بن (ق 4 / أ)

إملاء، وحَدثني مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم عَنهُ، حَدثنِي مُحَمَّد بن عمر بن الْبَراء، ثَنَا أَحْمد بن مُوسَى بن عمرَان الحجلي من كِتَابه، ثَنَا مُحَمَّد بن سعيد، ثَنَا أبي، ثَنَا أَبُو يُوسُف، عَن أبي حنيفَة، قَالَ: رَأَيْت أنس بن مَالك، قَائِما يُصَلِّي.

حَدثنَا أَبُو الْحسن مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن أَحْمد الْمُؤَذّن الحبلي، ثَنَا إِبْرَاهِيم بن مُحَمَّد بن عمرويه، ثَنَا أَحْمد بن أبي الصَّلْت بن الْمُغلس، ثَنَا بشر بن الْوَلِيد، ثَنَا يَعْقُوب بن إِبْرَاهِيم، عَن أبي حنيفَة، سَمِعت أنس بن مَالك، يَقُول: سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول: طلب الْعلم فَرِيضَة على كل مُسلم.
‌(যাঁরা সাহাবীগণকে দেখেছেন এবং তাঁদের থেকে বর্ণনা করেছেন তাঁদের উল্লেখ)

 

আনাস ইবনে মালিক, আবদুল্লাহ ইবনে হারিস ইবনে জুজ আল-জুবাইদি, এবং বলা হয়: আবদুল্লাহ ইবনে আবি আউফা আল-আসলামি (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন)।

আনাস ইবনে মালিকের ইন্তেকাল সম্পর্কে উলামাগণ মতভেদ করেছেন। বলা হয়েছে যে, তিনি নব্বই হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেছেন; আবার বলা হয়েছে তিরানব্বই হিজরীতে; এবং আরও বলা হয়েছে চুরানব্বই হিজরীতে।

ইব্রাহিম ইবনে আবদুল্লাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আস-সাকাফি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, জিয়াদ ইবনে আইয়ুব এবং ইউসুফ ইবনে মুসা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আবু নুয়াইম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আনাস ইবনে মালিক তিরানব্বই হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। আবু হানিফা আশি হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর জন্ম থেকে আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ইন্তেকাল পর্যন্ত সময়ের ব্যবধান ছিল তেরো বছর।

তাবেয়ীগণের মধ্য থেকে আল-আহওয়াস ইবনে হাকিম আশ-শামি আবু হানিফা থেকে বর্ণনা করেছেন। আল-আহওয়াস আনাস ইবনে মালিকের সাক্ষাৎ লাভ করেছেন এবং তাঁকে সাফা ও মারওয়ার মাঝে তাওয়াফ করতে দেখেছেন।

মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনে (পৃষ্ঠা ৪ / ক) আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন

শ্রুতিলিপি অনুযায়ী, এবং মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম তাঁর থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনে আল-বাররা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, আহমদ ইবনে মুসা ইবনে ইমরান আল-হিজলি তাঁর পাণ্ডুলিপি থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু ইউসুফ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু হানিফা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আনাস ইবনে মালিককে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে দেখেছি।

আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-মুয়াজ্জিন আল-হাবলি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমরওয়াইহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আহমদ ইবনে আবিস সালত ইবনুল মুগাল্লিস আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, বিশর ইবনুল ওয়ালিদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইয়াকুব ইবনে ইব্রাহিম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু হানিফা থেকে বর্ণিত, আমি আনাস ইবনে মালিককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফরজ।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবি হানিফা রিওয়ায়াতু আবি নুআইম (পৃষ্ঠা: ٢٥)
‌‌وَأَمَّا رِوَايَتُهُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ جَزْءٍ الزُّبَيْدِيِّ لَهُ صُحْبَةٌ، سَكَنَ مِصْرَ، لَقِيَهُ بِمَكَّةَ، وَسَمِعَ مِنْهُ وَهُوَ ابْنُ سِتَّ عَشْرَةَ سَنَةً
আর আবদুল্লাহ ইবনে আল-হারিস ইবনে জায আল-জুবাইদী থেকে তাঁর বর্ণনার বিষয় হলো—তিনি একজন সাহাবী ছিলেন এবং মিশরে বসবাস করতেন; তিনি মক্কায় তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং তাঁর নিকট হতে শ্রবণ করেছিলেন যখন তাঁর বয়স ছিল ষোলো বছর।
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবি হানিফা রিওয়ায়াতু আবি নুআইম (পৃষ্ঠা: ٢٥)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ سَلْمٍ، فِي الْأَمَالِي، وَسَمِعَ مِنْهُ وَهُوَ مَجْلِسُ الْقَاضِي مُحَمَّدِ بْنِ عُمَرَ بْنِ سَلْمٍ الْبَغْدَادِيِّ، وَكَتَبْتُ عَنْهُ غَيْرَ حَدِيثٍ، وَكَانَ فِيمَا قُرِئَ عَلَيْهِ، وَأَذِنَ لِي فِي الرِّوَايَةِ عَنْهُ بِهَذَا الْحَدِيثِ خَاصَّةً أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَمْرٍو، وَمُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَلِيٍّ، قَالَا: ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ سَلْمٍ، حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ الرَّازِيُّ أَبُو عَلِيٍّ مِنْ كِتَابِ أَبِيهِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَمَاعَةَ، عَنْ أَبِي يُوسُفَ قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا حَنِيفَةَ يَقُولُ: حَجَجْتُ مَعَ أَبِي سَنَةَ سِتٍّ وَتِسْعِينَ، وَلِي سِتَّةَ عَشَرَ سَنَةً، فَإِذَا أَنَا بِشَيْخٍ قَدِ اجْتَمَعَ عَلَيْهِ النَّاسُ، فَقُلْتُ لِأَبِي: يَا أَبَهْ، مَنْ هَذَا الشَّيْخُ؟ قَالَ: هَذَا رَجُلٌ قَدْ صَحِبَ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم، يُقَالُ لَهُ: عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَارِثِ بْنِ جَزْءٍ الزُّبَيْدِيُّ، فَقُلْتُ: فَأَيُّ شَيْءٍ عِنْدَهُ؟ قَالَ: أَحَادِيثُ سَمِعَهَا مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقُلْتُ لَهُ: قَدِّمْنِي إِلَيْهِ حَتَّى أَسْمَعَ مِنْهُ، فَتَقَدَّمَ بَيْنَ يَدَيَّ، فَجَعَلَ يَفُوحُ النَّاسَ حَتَّى دَنَا مِنْهُ، فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ تَفَقَّهَ فِي دِينِ اللَّهِ كَفَاهُ اللَّهُ عز وجل، وَرَزَقَهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ» هَذَا لَا يُعْرَفُ لَهُ مَخْرَجٌ إِلَّا مِنْ هَذَا الْوَجْهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ جَزْءٍ، وَهُوَ مِمَّا تَفَرَّدَ بِهِ مُحَمَّدُ بْنُ سَمَاعَةَ، عَنْ أَبِي يُوسُفَ، عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ حَدَّثَنَاهُ فِي الْأَمَالِي، وَوَقَفَتُ عَلَى سَمَاعِي، وَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ طَرِيقٍ آخَرَ مَا يُجَانِسُ هَذَا الْمَتْنَ، وَهَذَا أَيْضًا حَدِيثٌ غَرِيبٌ

মুহাম্মাদ ইবন উমর ইবন সালম আমাদের নিকট 'আল-আমালি' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন; আর তাঁর থেকে এটি শোনা হয়েছে যখন সেটি বাগদাদের কাজি মুহাম্মাদ ইবন উমর ইবন সালমের মজলিস ছিল। আমি তাঁর থেকে একাধিক হাদিস লিপিবদ্ধ করেছি। তাঁর সামনে যা পাঠ করা হয়েছিল তার অন্তর্ভুক্ত ছিল এটি, এবং আবু বকর মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন আমর ও মুহাম্মাদ ইবন ইব্রাহিম ইবন আলি আমাকে বিশেষভাবে এই হাদিসটি তাঁর থেকে বর্ণনা করার অনুমতি দিয়েছেন। তাঁরা উভয়ে বলেন: মুহাম্মাদ ইবন উমর ইবন সালম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উবায়দুল্লাহ ইবন জাফর আর-রাজি আবু আলি তাঁর পিতার কিতাব থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মাদ ইবন সামাআহ থেকে, তিনি আবু ইউসুফ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবু হানিফাকে বলতে শুনেছি: আমি ছিয়ানব্বই হিজরি সনে আমার পিতার সাথে হজ করেছি, তখন আমার বয়স ছিল ষোলো বছর। হঠাৎ আমি একজন শায়খকে দেখতে পেলাম যার নিকট মানুষ সমবেত হয়েছে। তখন আমি আমার পিতাকে বললাম: হে আব্বা, এই শায়খ কে? তিনি বললেন: ইনি এমন এক ব্যক্তি যিনি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহচর্য লাভ করেছেন, তাঁকে আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস ইবন জায আল-জুবাইদি বলা হয়। আমি বললাম: তাঁর কাছে কী আছে? তিনি বললেন: অনেক হাদিস যা তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শুনেছেন। তখন আমি তাঁকে বললাম: আমাকে তাঁর সামনে নিয়ে চলুন যাতে আমি তাঁর থেকে শুনতে পারি। অতঃপর তিনি আমার সামনে এগিয়ে গেলেন এবং মানুষের ভিড় ঠেলে তাঁর নিকটবর্তী হলেন। তখন আমি তাঁকে বলতে শুনলাম: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: 'যে ব্যক্তি আল্লাহর দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করে, আল্লাহ মহা প্রতাপশালী ও মহিমান্বিত তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দান করেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না।' আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস ইবন জায-এর সূত্র ছাড়া অন্য কোনোভাবে এই হাদিসটির উৎস জানা যায় না। এটি সেই সব হাদিসের অন্তর্ভুক্ত যা মুহাম্মাদ ইবন সামাআহ এককভাবে আবু ইউসুফ থেকে, তিনি আবু হানিফা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি এটি আমাদের নিকট 'আল-আমালি' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং আমি আমার শ্রবণের বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছি। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অন্য সূত্রেও এই মূল পাঠের সদৃশ বর্ণনা বর্ণিত হয়েছে; আর এটিও একটি গরিব বা বিরল হাদিস।

(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবি হানিফা রিওয়ায়াতু আবি নুআইম (পৃষ্ঠা: ٢٥)
حَدَّثَنَاهُ أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ حُبَيْشٍ الْمُقْرِئُ بِبَغْدَادَ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ ⦗ص: 26⦘ الْقَاسِمِ بْنِ هَاشِمٍ، ثَنَا أَبِي، ثَنَا يُونُسُ بْنُ عَطَاءٍ، ثَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ زِيَادِ بْنِ الْحَارِثِ الصدَائِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ طَلَبَ الْعِلْمَ تَكَفَّلَ اللَّهُ بِرِزْقِهِ» هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ مَفَارِيدِ يُونُسَ عَنِ الثَّوْرِيِّ، لَا أَعْرِفُ لَهُ رَاوِيًا غَيْرَهُ
আমাদের কাছে এটি বর্ণনা করেছেন বাগদাদের আবুল হুসাইন মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে হুবাইশ আল-মুকরি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ২৬⦘ আল-কাসিম ইবনে হাশিম, আমাদের কাছে আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে ইউনুস ইবনে আতা বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আস-সাওরী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে, তিনি যিয়াদ ইবনে আল-হারিস আস-সুদায়ী থেকে; তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি জ্ঞান অন্বেষণ করে, আল্লাহ তাঁর রিযিকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন»। এই হাদীসটি সাওরী থেকে বর্ণিত ইউনুসের একক বর্ণনা (মাফারিদ), তিনি ব্যতীত এর অন্য কোনো বর্ণনাকারী আমার জানা নেই।
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবি হানিফা রিওয়ায়াতু আবি নুআইম (পৃষ্ঠা: ٢٧)
‌‌مَنِ اسْمُهُ مُحَمَّدٌ، بَدَأْنَا بِذِكْرِهِ تَشَرُّفًا بِذِكْرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَمِنْهُمْ
যাঁদের নাম মুহাম্মদ; আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নাম স্মরণের মাধ্যমে বরকত ও সম্মান লাভের উদ্দেশ্যে আমরা তাঁদের আলোচনার মাধ্যমেই শুরু করেছি। তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হলেন—
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবি হানিফা রিওয়ায়াতু আবি নুআইম (পৃষ্ঠা: ٢٧)
‌‌أَبُو حَنِيفَةَ، عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنهم
আবু হানিফা, আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আলী বিন আল-হুসাইন বিন আলী বিন আবু তালিব (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে।
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবি হানিফা রিওয়ায়াতু আবি নুআইম (পৃষ্ঠা: ٢٧)
حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ، ثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى، ثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِئُ، ثَنَا أَبُو حَنِيفَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، «أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى عُمَرَ بَعْدَ مَوْتِهِ، وَهُوَ مُسَجًّى عَلَى سَرِيرِهِ، فَقَالَ: رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْكَ، وَاللَّهِ مَا كَانَ أَحَدٌ أَحَبَّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَلْقَى اللَّهَ بِصَحِيفَتِهِ» هَذَا حَدِيثٌ، وَإِنْ أَرْسَلَهُ أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ، يُعَدُّ مِنْ صِحَاحِ حَدِيثِ عَلِيٍّ وَجِيَادِهِ رَوَاهُ عَنْهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْعَبَّاسِ فَجَوَّدَهُ
আমাদের নিকট আবু আলী মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবনুল হাসান বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট বিশর ইবন মুসা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু আবদুর রহমান আল-মুকরি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু হানিফা বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন আলী ইবনুল হুসাইন ইবন আলী ইবন আবি তালিব থেকে যে, তিনি উমরের মৃত্যুর পর তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন, যখন তিনি তাঁর খাটিয়ায় বস্ত্রাবৃত ছিলেন। অতঃপর তিনি বললেন: "আপনার প্রতি আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। আল্লাহর কসম, আপনার আমলনামার মতো আমলনামা নিয়ে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করার চেয়ে প্রিয় আমার নিকট আর কারও আমলনামা নেই।" এটি একটি হাদিস; যদিও আবু জাফর মুহাম্মদ ইবন আলী ইবনুল হুসাইন এটি মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তবুও এটি আলীর সহিহ ও উৎকৃষ্ট হাদিসসমূহের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য হয়। আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং একে উত্তম বলেছেন।
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবি হানিফা রিওয়ায়াতু আবি নুআইম (পৃষ্ঠা: ٢٧)
حَدَّثَنَا أَبُو عَمْرِو بْنُ حَمْدَانَ، وَأَبُو أَحْمَدَ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ قَالَا: ثَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، ثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْمَكِّيُّ، ثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، ثَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ أَبِي حُسَيْنٍ النَّوْفَلِيُّ، ثَنَا ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ، رضي الله عنه يَقُولُ: «إِنَّ النَّاسَ يَتَرَحَّمُونَ عَلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، وَكُنْتُ فِيهِمْ، وُضِعَ عَلَى سَرِيرِهِ، فَجَاءَ رَجُلٌ مِنْ وَرَائِي فَوَضَعَ يَدَهُ عَلَى مَنْكِبِي، فَالْتَفَتُّ فَإِذَا عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه يَتَرَحَّمُ عَلَيْهِ، فَقَالَ: مَا خَلَّفْتَ أَحَدًا أَحَبَّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَلْقَى اللَّهَ بِمِثْلِ عَمَلِهِ مِنْكَ، وَإِنِّي كُنْتُ لَأَظُنُّ لَيَجْعَلَنَّكَ اللَّهُ مَعَ صَاحِبَيْكَ» زَادَ أَبُو أَحْمَدَ: «فَإِنِّي كُنْتُ أَظُنُّ أَنْ أَسْمَعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: كُنْتُ أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ، وَخَرَجْتُ أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ» ⦗ص: 28⦘ حَدَّثَ بِهَذَا الْحَدِيثِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ فِي جَامِعِهِ، مِنْ حَدِيثِ عِيسَى بْنِ يُونُسَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ سَعِيدٍ هَكَذَا، وَلَهُ مِنْ حَدِيثِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ أَصْلٌ، فَإِنَّ جَعْفَرَ رَوَاهُ عَنْ جَابِرٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ
আমাদের কাছে আবু আমর বিন হামদান এবং আবু আহমদ মুহাম্মদ বিন আহমদ বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের কাছে হাসান বিন সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে ইসহাক বিন ইব্রাহিম আল-মাক্কি বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে ঈসা বিন ইউনুস বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে ওমর বিন সাঈদ বিন আবি হুসাইন আন-নাওফালি বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে ইবনে আবি মুলাইকাহ বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছেন: «নিশ্চয়ই লোকেরা ওমর বিন আল-খাত্তাবের জন্য রহমতের দোয়া করছিল এবং আমিও তাদের মধ্যে ছিলাম। তাঁকে তাঁর খাটিয়ার ওপর রাখা হয়েছিল। এমতাবস্থায় আমার পেছন থেকে এক ব্যক্তি এসে আমার কাঁধে তাঁর হাত রাখলেন। আমি ফিরে তাকালাম এবং দেখলাম তিনি আলী বিন আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু), তিনি তাঁর (ওমরের) ওপর রহমত বর্ষণের দোয়া করছেন। অতঃপর তিনি বললেন: "আপনি আপনার পিছনে এমন কাউকে রেখে যাননি যার আমলের ন্যায় আমল নিয়ে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করা আমার নিকট আপনার চেয়ে অধিক প্রিয়। আর আমি নিশ্চিতভাবে মনে করতাম যে, আল্লাহ অবশ্যই আপনাকে আপনার দুই সঙ্গীর সাথেই রাখবেন।"» আবু আহমদ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন: «"কেননা আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে প্রায়ই বলতে শুনতাম: 'আমি, আবু বকর এবং ওমর ছিলাম' এবং 'আমি, আবু বকর এবং ওমর বের হলাম'।"» ⦗পৃষ্ঠা: ২৮⦘ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল তাঁর জামি' গ্রন্থে ঈসা বিন ইউনুসের হাদিস থেকে ওমর বিন সাঈদের সূত্রে এই হাদিসটি এভাবেই বর্ণনা করেছেন। আর মুহাম্মদ বিন আলীর হাদিস থেকেও এর একটি মূল সূত্র রয়েছে; কেননা জাফর এটি জাবিরের সূত্রে আলী বিন আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবি হানিফা রিওয়ায়াতু আবি নুআইম (পৃষ্ঠা: ٢٨)
حَدَّثَنَا الطَّلْحِيُّ، ثَنَا عُبَيْدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ صُبَيْحٍ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ وَلِيدٍ، ثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: وَقَفَ عَلِيٌّ عَلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنهما، وَهُوَ مُسَجًّى، فَقَالَ: «رَضِيَ اللَّهُ عَنْكَ، مَا أُحِبُّ أَنْ أَلْقَى اللَّهَ عز وجل إِلَّا بِصَحِيفَةِ هَذَا الْمُسَجَّى»
আত-তালহি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উবাইদ বিন মুহাম্মদ বিন সুবাইহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন উমর বিন ওয়ালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক বিন মানসুর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান বিন উয়াইনা থেকে বর্ণিত, জাফর বিন মুহাম্মদ থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আলী (রা.) উমর বিন খাত্তাব (রা.)-এর নিকট দাঁড়ালেন—এমতাবস্থায় যে তিনি বস্ত্রাবৃত ছিলেন—অতঃপর তিনি বললেন: "আল্লাহ আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হোন; এই বস্ত্রাবৃত ব্যক্তির আমলনামার ন্যায় আমলনামা ব্যতীত অন্য কিছু নিয়ে মহান আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করা আমি পছন্দ করি না।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবি হানিফা রিওয়ায়াতু আবি নুআইম (পৃষ্ঠা: ٢٩)
‌‌أَبُو حَنِيفَةَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ مُحَمَّدِ بْنِ مُسْلِمِ بْنِ تَدْرُسَ الْمَكِّيِّ مَوْلَى حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ «سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، وَابْنَ عُمَرَ، وَكَانَ حَافِظًا، حَدَّثَ عَنْهُ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْأَنْصَارِيُّ، وَأَيُّوبُ السِّخْتِيَانِيُّ، وَمَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، وَشُعْبَةُ، وَمِسْعَرٌ، تُوُفِّيَ فِي وِلَايَةِ مَرْوَانَ، سَنَةَ خَمْسٍ وَعِشْرِينَ وَمِائَةٍ»
আবু হানিফা বর্ণনা করেছেন আবুয যুবায়ের মুহাম্মাদ ইবন মুসলিম ইবন তাদরুস আল-মাক্কী থেকে, যিনি হাকিম ইবন হিযামের মাওলা ছিলেন। «তিনি জাবির ইবন আবদুল্লাহ এবং ইবন উমর থেকে শ্রবণ করেছেন, তিনি একজন হাফিয ছিলেন। তাঁর থেকে ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ আল-আনসারী, আইয়ুব আস-সিখতিয়ানী, মালিক ইবন আনাস, শুবা এবং মিসআর বর্ণনা করেছেন। তিনি মারওয়ানের শাসনকালে একশত পঁচিশ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন»
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবি হানিফা রিওয়ায়াতু আবি নুআইম (পৃষ্ঠা: ٢٩)
حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ، قَالَا: ثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى، ثَنَا أَبُو حَنِيفَةَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْأَنْصَارِيِّ، أَنَّ سُرَاقَةَ بْنَ مَالِكِ بْنِ جُعْشُمٍ الْمُدْلَجِيَّ، قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَخْبِرْنَا عَنْ دِينِنَا هَذَا، كَأَنَّنَا خُلِقْنَا لَهُ السَّاعَةَ، فِي أَيِّ شَيْءٍ نَعْمَلُ، أَفِي شَيْءٍ تَثْبُتُ فِيهِ الْمَقَادِيرُ وَجَرَتْ فِيهِ الْأَقْلَامُ، أَمْ فِي أَيِّ شَيْءٍ يُسْتَقْبَلُ فِيهِ الْعَمَلُ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا، بَلْ شَيْءٌ يَثْبُتُ بِهِ الْمَقَادِيرُ، وَجَرَتْ بِهِ الْأَقْلَامُ» ، قَالَ سُرَاقَةُ رضي الله عنه: فَفِيمَ الْعَمَلُ إِذًا يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «اعْمَلُوا؛ فَكُلٌّ مُيَسَّرٌ لِمَا خُلِقَ لَهُ» ، وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: « {فَأَمَّا مَنْ أَعْطَى وَاتَّقَى، وَصَدَّقَ بِالْحُسْنَى فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْيُسْرَى} [اللَّيْل: 6] ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، {وَأَمَّا مَنْ بَخِلَ وَاسْتَغْنَى، وَكَذَّبَ بِالْحُسْنَى} [اللَّيْل: 8] » ، يَقُولُ: «لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، {فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْعُسْرَى} [اللَّيْل: 10] » وَرَوَاهُ زُفَرُ أَيْضًا عَنْ حَمَّادِ بْنِ أَبِي حَنِيفَةَ، وَأَبُو يُوسُفَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ زِيَادٍ، وَحَمْزَةُ الزَّيَّاتُ، وَسَعِيدُ بْنُ أَبِي الْجَهْمِ، وَأَيُّوبُ بْنُ هَانِئٍ، وَالْحَسَنُ بْنُ الْفُرَاتِ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عُمَيْرِ بْنِ أَبِي الْعَرِيفِ ⦗ص: 30⦘ وَهَذِهِ الزِّيَادَةُ فِي هَذَا التَّفْسِيرِ لَمْ يَرْوِهِ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ غَيْرُ أَبِي حَنِيفَةَ، وَلَا عَنْهُ إِلَّا الْمُقْرِئُ، حَدَّثَ بِهِ ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ بِشْرِ بْنِ مُوسَى، عَنْهُ
আবু আলী মুহাম্মদ ইবন আহমদ এবং সুলায়মান ইবন আহমদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: বিশর ইবন মূসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হানিফা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু যুবাইর থেকে, তিনি জাবির ইবন আব্দুল্লাহ আল-আনসারী থেকে বর্ণনা করেন যে, সুরাকাহ ইবন মালিক ইবন জুশুম আল-মুদলিজী বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের এই দ্বীন সম্পর্কে আমাদের অবহিত করুন, যেন আমরা এইমাত্র এর জন্য সৃষ্টি হয়েছি। আমরা কিসের ভিত্তিতে আমল করছি? এমন কোনো বিষয়ে কি যাতে তাকদীর নির্ধারিত হয়ে গেছে এবং কলমসমূহ লিখে শেষ করেছে, নাকি এমন কোনো বিষয়ে যা ভবিষ্যতে শুরু হবে? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «না, বরং এমন বিষয়ে যাতে তাকদীর নির্ধারিত হয়ে আছে এবং কলমসমূহ লিখে শেষ করেছে।» সুরাকাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, তাহলে আমল করার সার্থকতা কী? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «তোমরা আমল করে যাও; কারণ যাকে যার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তার জন্য সেটি সহজ করে দেওয়া হবে।» রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বললেন: « {অতঃপর যে দান করে ও তাকওয়া অবলম্বন করে, এবং উত্তম বিষয়কে সত্য বলে বিশ্বাস করে, আমি তার জন্য সহজ পথ সুগম করে দেব} [আল-লাইল: ৬], আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, {আর যে কার্পণ্য করে ও নিজেকে অমুখাপেক্ষী মনে করে, এবং উত্তম বিষয়কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে} [আল-লাইল: ৮] », তিনি বলছিলেন: «আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, {তবে আমি তার জন্য কঠিন পথ সুগম করে দেব} [আল-লাইল: ১০] »। এবং এটি যুফারও হাম্মাদ ইবন আবু হানিফা থেকে বর্ণনা করেছেন, এবং আবু ইউসুফ, মুহাম্মদ ইবনুল হাসান ইবন যিয়াদ, হামজা আয-যায়্যাত, সাঈদ ইবন আবিল জাহম, আইয়ুব ইবন হানি, হাসান ইবনুল ফুরাত এবং মুহাম্মদ ইবন উমাইর ইবন আবিল আরিফ এটি বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৩০⦘ এবং এই তাফসীরের এই অতিরিক্ত অংশটি আবু যুবাইর থেকে আবু হানিফা ব্যতীত অন্য কেউ বর্ণনা করেননি এবং তাঁর থেকে মুকরি ব্যতীত অন্য কেউ এটি বর্ণনা করেননি। ইবন উয়াইনা এটি বিশর ইবন মূসা থেকে, তিনি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবি হানিফা রিওয়ায়াতু আবি নুআইম (পৃষ্ঠা: ٣٠)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ، ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ رُسْتَهْ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، ثَنَا الْحَكَمُ بْنُ أَيُّوبَ، ثَنَا زُفَرُ بْنُ الْهُذَيْلِ، عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ سُرَاقَةَ بْنَ مَالِكٍ، قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، حَدِّثْنَا عَنْ دِينِنَا كَأَنَّنَا وُلِدْنَا لَهُ، أَوْ نَعْمَلُ بِشَيْءٍ قَدْ جَرَتْ بِهِ الْمَقَادِيرُ، وَجَفَّتْ بِهِ الْأَقْلَامُ، أَمْ لِشَيْءٍ نَسْتَقْبِلُ؟ قَالَ: «بَلْ لِمَا جَرَتْ بِهِ الْمَقَادِيرُ، وَجَفَّتْ بِهِ الْأَقْلَامُ» ، قَالَ: فَفِيمَ الْعَمَلُ؟ قَالَ: «اعْمَلْ؛ فَكُلٌّ مُيَسَّرٌ لِمَا خُلِقَ لَهُ» ، ثُمَّ قَرَأَ {فَأَمَّا مَنْ أَعْطَى وَاتَّقَى وَصَدَّقَ} [اللَّيْل: 6] إِلَى آخِرِ الْآيَتَيْنِ رَوَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ، نَحْوَهُ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، ثَنَا أَبُو عَرُوبَةَ، وَأَبُو مَعْشَرٍ، قَالَا: ثَنَا عَمْرٌو، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ، نَحْوَهُ ح وَثنا الْقَاضِي أَبُو أَحْمَدَ، ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ رُسْتَهْ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، ثَنَا الْحَكَمُ بْنُ أَيُّوبَ، ثَنَا زُفَرُ، عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، ح
আমাদের কাছে আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন জাফর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে আহমদ ইবন রুস্তাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে মুহাম্মাদ ইবনুল মুগীরাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে আল-হাকাম ইবন আইয়ুব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে জুফার ইবনুল হুযাইল বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু হানীফা থেকে, তিনি আবুল জুবায়ের থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, সুরাকাহ ইবন মালিক বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের দ্বীন সম্পর্কে আমাদের এমনভাবে অবহিত করুন যেন আমরা এই মাত্র তার জন্য জন্মলাভ করেছি; আমরা কি এমন কিছুর ভিত্তিতে আমল করছি যা তাকদীরের লিখন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়ে গেছে এবং যে ব্যাপারে কলম শুকিয়ে গেছে, নাকি আমরা নতুন কোনো বিষয়ের সম্মুখীন হচ্ছি? তিনি বললেন: «বরং যা তাকদীরের লিখন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়ে গেছে এবং যে ব্যাপারে কলম শুকিয়ে গেছে (তারই ভিত্তিতে)»। তিনি (সুরাকাহ) বললেন: তবে আমল করার সার্থকতা কী? তিনি বললেন: «তোমরা আমল করতে থাকো; কেননা প্রত্যেক ব্যক্তিকে সেই কাজের জন্যই সহজ সুযোগ করে দেওয়া হয় যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে»। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: {সুতরাং যে দান করে, তাকওয়া অবলম্বন করে এবং উত্তম বিষয়কে সত্য বলে বিশ্বাস করে...} [সূরা আল-লাইল: ৬] দুই আয়াতের শেষ পর্যন্ত। এটি মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আবু হানীফা থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আমাদের কাছে মুহাম্মাদ ইবন ইবরাহীম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে আবু আরুবাহ এবং আবু মা'শার বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন আমাদের কাছে আমর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু হানীফা থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (হ) এবং আমাদের কাছে কাযী আবু আহমদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে আহমদ ইবন রুস্তাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে মুহাম্মাদ ইবনুল মুগীরাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে আল-হাকাম ইবন আইয়ুব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে জুফার বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু হানীফা থেকে, তিনি আবুল জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন (হ)।
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবি হানিফা রিওয়ায়াতু আবি নুআইম (পৃষ্ঠা: ٣٠)
وَثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ، ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ ابْنُ بِنْتِ نَصْرِ بْنِ زِيَادٍ، ثَنَا خَارِجَةُ، عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ سُرَاقَةَ بْنَ مَالِكٍ، قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَرَأَيْتَ عُمْرَتَنَا هَذِهِ لِعَامِنَا، أَمْ لِلْأَبَدِ؟ قَالَ: «بَلْ لِلْأَبَدِ» لَفْظُهُمَا سَوَاءٌ ⦗ص: 31⦘ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّيْرَفِيُّ، ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ خَلِيٍّ الْحِمْصِيُّ، ثَنَا أَبِي، ثَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ، ثَنَا يُوسُفُ بْنُ زَيْدٍ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُولُ: قَالَ سُرَاقَةُ بْنُ مَالِكٍ، فَذَكَرَهُ وَهَذَا الْحَدِيثُ مِنْ صِحَاحِ حَدِيثِ أَبِي الزُّبَيْرِ وَعُيُونِهِ، وَافَقَ فِيهِ أَبُو حَنِيفَةَ الْمُتْقِنِينَ الْأَثْبَاتَ
মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে বিনতে নাসর ইবনে যিয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, খারিজাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হানিফা থেকে, তিনি আবু জুবায়ের থেকে, তিনি জাবির থেকে (বর্ণনা করেন) যে, সুরাকা ইবনে মালিক বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের এই উমরাহ কি কেবল এই বছরের জন্য নাকি চিরকালের জন্য? তিনি বললেন: «বরং তা চিরকালের জন্য»। উভয়ের শব্দগত বর্ণনা একই। ⦗পৃষ্ঠা: ৩১⦘ সাঈদ ইবনে মুহাম্মদ আস-সাইরাফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমদ ইবনে খালিদ ইবনে খলি আল-হিমসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি বাকিয়্যাহ ইবনে ওয়ালিদ থেকে, তিনি ইউসুফ ইবনে যাইদ থেকে, তিনি নুমান ইবনে সাবিত থেকে, তিনি আবু জুবায়ের থেকে, তিনি জাবির থেকে (বর্ণনা করেন), তিনি তাঁকে বলতে শুনেছেন যে সুরাকা ইবনে মালিক বললেন—অতঃপর তিনি পূর্বোক্ত হাদিসটি উল্লেখ করলেন। আর এই হাদিসটি আবু জুবায়েরের বর্ণিত সহিহ ও শ্রেষ্ঠ হাদিসসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যাতে আবু হানিফা নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় বর্ণনাকারীদের সাথে একমত পোষণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবি হানিফা রিওয়ায়াতু আবি নুআইম (পৃষ্ঠা: ٣١)
حَدَّثَنَاهُ الْخَطَّابِيُّ فَارُوقُ بْنُ عَبْدِ الْكَبِيرِ، ثَنَا أَبُو مُسْلِمٍ الْكَشِّيُّ، ثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، ثَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: جَاءَ سُرَاقَةُ بْنُ مَالِكٍ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، بَيِّنْ لَنَا دِينَنَا، أَرَأَيْتَ عُمْرَتَنَا هَذِهِ لِعَامِنَا أَمْ لِلْأَبَدِ؟ قَالَ: «بَلْ لِلْأَبَدِ» وَمِمَّنْ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ: حَمَّادُ بْنُ أَبِي حَنِيفَةَ، وَأَبُو يُوسُفَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ، وَالْحَسَنُ بْنُ زِيَادٍ، وَأَسَدٌ، وَأَيُّوبُ بْنُ هَانِئٍ، وَحَمْزَةُ الزَّيَّاتُ، وَالْحُسَيْنُ بْنُ الْفُرَاتِ، وَالْقَاسِمُ بْنُ مَعْنٍ، وَالْمُقْرِئُ، وَخَلَفُ بْنُ يَاسِينَ قَالَ الشَّيْخُ: «مُحَمَّدُ بْنُ الْمُغِيرَةِ الرَّاوِي عَنِ الْحَكَمِ بْنِ أَيُّوبَ: هُوَ مُحَمَّدُ بْنُ مُغِيرَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ، يُكْنَى أَبَا عَبْدِ اللَّهِ الْأَصْبَهَانِيَّ، كَذَا رَأَيْتُهُ بِخَطِّ ابْنِ عُقْدَةَ، وَقَرَأْتُهُ مِنْهُ»

আল-খাত্তাবি ফারুক ইবনে আব্দুল কাবীর আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন, আবু মুসলিম আল-কাশশি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবুল ওয়ালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম ইবনে মুয়াবিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু যুবায়ের আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সুরাকা ইবনে মালিক (রা.) আসলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, আমাদের নিকট আমাদের দ্বীন ব্যাখ্যা করুন। আমাদের এই উমরাহ কি শুধু এই বছরের জন্য নাকি চিরকালের জন্য? তিনি বললেন: «বরং চিরকালের জন্য»। আর যারা ইমাম আবু হানিফা থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন তারা হলেন: হাম্মাদ ইবনে আবি হানিফা, আবু ইউসুফ, মুহাম্মদ ইবনুল হাসান, হাসান ইবনে যিয়াদ, আসাদ, আইয়ুব ইবনে হানি, হামজা আয-যাইয়াত, আল-হুসাইন ইবনুল ফুরাত, আল-কাসিম ইবনে মান, আল-মুকরি এবং খালাফ ইবনে ইয়াসিন। শায়খ বলেন: «মুহাম্মদ ইবনুল মুগীরা, যিনি হাকাম ইবনে আইয়ুব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে মুগীরা ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি মারয়াম। তার উপনাম (কুনিয়াত) হলো আবু আব্দুল্লাহ আল-আসবাহানী। আমি ইবনে উকদাহর হস্তলিপিতে এভাবেই দেখেছি এবং তা থেকে এটি পাঠ করেছি»।

(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবি হানিফা রিওয়ায়াতু আবি নুআইম (পৃষ্ঠা: ٣١)
وَحَدَّثَنَا الطَّلْحِيُّ، ثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْعَبَّاسِ، ثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، ثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، ح وَثنا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ، ثَنَا عُثْمَانُ بْنُ خَالِدِ بْنِ عَمْرٍو الْحِمْصِيُّ، ثَنَا أَبِي، ثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنِي الْأَبْيَضُ بْنُ الْأَغَرِّ، عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، ⦗ص: 32⦘ ح وَثنا أَبُو بَكْرٍ الْعَاصِمِيُّ، ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، ثَنَا أُسَيْدُ بْنُ عَاصِمٍ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، ثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عَبْدِ السَّلَامِ، عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، ح وَثنا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ يَحْيَى بْنُ صَاعِدٍ: ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ صَالِحِ بْنِ النَّطَّاحِ، ثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ حَبِيبٍ، بِتِرْمِذَ، ثَنَا أَبُو حَنِيفَةَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ بَاعَ نَخْلًا مُؤَبَّرَةً، فَثَمَرَتُهُ لِلْبَائِعِ، إِلَّا أَنْ يَشْتَرِطَ الْمُشْتَرِي» لَفْظُ وَكِيعٍ وَالْأَغَرِّ نَحْوُهُ، وَرَوَاهُ حَمْزَةُ الزَّيَّاتُ، وَأَبُو يُوسُفَ، وَمُحَمَّدٌ، نَحْوَهُ وَأَسَدٌ، وَالْحِمَّانِيُّ، وَأَيُّوبُ بْنُ هَانِئٍ، وَسَعِيدُ بْنُ أَبِي الْجَهْمِ، وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَعَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ خَالِدٍ، وَعَوْنُ بْنُ الْعَلَاءِ، وَعَبْدُ الْكَرِيمِ، وَالْحُسَيْنُ بْنُ الْفُرَاتِ، وَعَمْرُو بْنُ الْهَيْثَمِ، وَمِنْدَلُ بْنُ عَلِيٍّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ، وَالْحُسَيْنُ بْنُ زِيَادٍ وَرَوَاهُ أَصْحَابُ أَبِي حَنِيفَةَ، عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ، عَنْ أَبِي الْوَلِيدِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আত-তালহি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে আব্বাস, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু কুরাইব, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওয়াকি, তিনি আবু হানিফা থেকে, তিনি আবু জুবাইর থেকে, তিনি জাবির থেকে; (সনদান্তর) এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনে আহমদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে খালিদ ইবনে আমর আল-হিমসি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইকরিমা ইবনে ইব্রাহিম, তিনি বলেন আমাকে বর্ণনা করেছেন আল-আবইয়াদ ইবনে আল-আগার, তিনি আবু হানিফা থেকে, তিনি আবু জুবাইর থেকে, তিনি জাবির থেকে, ⦗পৃষ্ঠা: ৩২⦘ (সনদান্তর) এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আল-আসিমী, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসাইদ ইবনে আসিম, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আল-মুগিরা, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে আবদুস সালাম, তিনি আবু হানিফা থেকে, তিনি আবু জুবাইর থেকে, তিনি জাবির থেকে, (সনদান্তর) এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হাসান ইবনে আলী, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে সালিহ ইবনে আন-নাত্তাখ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হুসাইন ইবনে হাবিব তিরমিজে থাকাকালীন, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হানিফা, তিনি আবু জুবাইর থেকে, তিনি জাবির থেকে; তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি পরাগায়িত খেজুর গাছ বিক্রি করবে, তার ফল বিক্রেতার প্রাপ্য হবে, যদি না ক্রেতা (তা নেওয়ার) শর্ত করে।" এটি ওয়াকি এবং আল-আগার কর্তৃক বর্ণিত শব্দের অনুরূপ। হামজা আজ-জাইয়াত, আবু ইউসুফ, মুহাম্মদ, আসাদ, আল-হিম্মানি, আইয়ুব ইবনে হানি, সাঈদ ইবনে আবিল জাহম, ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ, আব্দুল আজিজ ইবনে খালিদ, আউন ইবনুল আলা, আব্দুল কারীম, আল-হুসাইন ইবনুল ফুরাত, আমর ইবনুল হাইসাম, মিনদাল ইবনে আলী, মুহাম্মদ ইবনুল হাসান এবং আল-হুসাইন ইবনে জিয়াদও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর আবু হানিফার সাথীবৃন্দ আবু হানিফা থেকে, তিনি জায়েদ ইবনে আবু আনাইসা থেকে, তিনি আবু ওয়ালিদ থেকে, তিনি জাবির থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবি হানিফা রিওয়ায়াতু আবি নুআইম (পৃষ্ঠা: ٣٢)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ حُبَيْشٍ، ثَنَا عَلِيُّ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ حَبِيبٍ التَّمَّارُ، ثَنَا عَلِيُّ بْنُ إِشْكَابَ، ثَنَا إِسْحَاقُ الْأَزْرَقُ، عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ كَانَ لَهُ إِمَامٌ، فَقِرَاءَةُ الْإِمَامِ لَهُ قِرَاءَةٌ» كَذَا فِي أَصْلِ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ
আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে হুবায়শ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাবীব আত-তাম্মার, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে ইশকাব, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইসহাক আল-আযরাক, তিনি আবু হানিফা থেকে, তিনি আবু যুবায়র থেকে, তিনি জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যার ইমাম রয়েছে, ইমামের কিরাত তার জন্য কিরাত হিসেবে গণ্য হবে» আবু যুবায়রের মূল পাণ্ডুলিপিতে জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবি হানিফা রিওয়ায়াতু আবি নুআইম (পৃষ্ঠা: ٣٣)
وَفِيمَا كُتِبَ إِلَى أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ حَبِيبٍ الْأَرْجَانِيِّ، وَحَدَّثَنِي عَنْهُ عَبْدُ الرَّزَّاقِ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مَعْمَرٍ، ثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ بَحْرِ بْنِ بَرِّيٍّ، ثَنَا عَاصِمُ بْنُ عَلِيٍّ، ثَنَا أَبُو حَنِيفَةَ، ثَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَهُوَ مُنْطَلِقٌ إِلَى بَنِي الْمُصْطَلِقِ، فَأَتَيْتُهُ وَهُوَ يُصَلِّي عَلَى بَعِيرِهِ، فَلَمَّا صَلَّى قَالَ: «مَا فَعَلْتَ فِيمَا أَرْسَلْتُكَ فِيهِ؟ فَإِنَّهُ لَمْ يَمْنَعْنِي عَنْ أَنْ أُكَلِّمَكَ إِلَّا أَنِّي كُنْتُ أُصَلِّي» وَهَذَا حَدِيثٌ جَيِّدٌ مِنْ حَدِيثِ أَبِي الزُّبَيْرِ، وَرَوَاهُ اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، وَهِشَامُ بْنُ حَسَّانَ، وَزُهَيْرُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে হাবীব আল-আরজানি-র নিকট যা লেখা হয়েছিল তার অন্তর্ভুক্ত, এবং আমার নিকট তাঁর সূত্রে আব্দুর রাজ্জাক এবং আব্দুল্লাহ ইবনুল হাসান ইবনে আলী ইবনে আহমাদ ইবনে মা’মার বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আল-হাসান ইবনে আলী ইবনে বাহর ইবনে বাররি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আসিম ইবনে আলী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু হানীফা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবুয যুবাইর বর্ণনা করেছেন জাবির (রা.) থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন বনু আল-মুস্তালিকের অভিমুখে যাচ্ছিলেন, তখন আমি তাঁর নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি তখন তাঁর উটের পিঠে সালাত আদায় করছিলেন। যখন তিনি সালাত সমাপ্ত করলেন, তখন তিনি বললেন: «আমি তোমাকে যে উদ্দেশ্যে পাঠিয়েছিলাম, তাতে তুমি কী করেছ? আমি সালাত রত ছিলাম বলেই মূলত তোমার সাথে কথা বলা থেকে আমি বিরত ছিলাম।’ আর আবুয যুবাইরের বর্ণিত হাদীসসমূহের মধ্যে এটি একটি উত্তম (জায়্যিদ) হাদীস। আর লাইস ইবনে সাদ, হিশাম ইবনে হাসান এবং যুহাইর ইবনে মুয়াবিয়া এটি আবুয যুবাইরের সূত্রে জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)...
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবি হানিফা রিওয়ায়াতু আবি নুআইম (পৃষ্ঠা: ٣٣)
وَأَمَّا حَدِيثُ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ خَلَّادٍ، ثَنَا الْحَارِثُ بْنُ أَبِي أُسَامَةَ، ثَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، ثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَنِي فِي حَاجَةٍ، ثُمَّ أَدْرَكْتُهُ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ، فَأَشَارَ إِلَيَّ، فَلَمَّا فَرَغَ دَعَانِي، فَقَالَ: «إِنَّكَ سَلَّمْتَ عَلَيَّ وَأَنَا أُصَلِّي» ، وَهُوَ حِينَئِذٍ قِبَلَ الْمَشْرِقِ
আর লাইস ইবন সা'দ বর্ণিত হাদিসটির ব্যাপারে বলা যায়: আবু বকর ইবন খাল্লাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হারিস ইবন আবি উসামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইউনুস ইবন মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, লাইস ইবন সা'দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু যুবাইর থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে একটি প্রয়োজনে পাঠিয়েছিলেন। অতঃপর আমি তাঁর সাক্ষাৎ পেলাম এবং তাঁকে সালাম দিলাম। তিনি আমার প্রতি ইশারা করলেন। এরপর যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, আমাকে ডাকলেন এবং বললেন: "নিশ্চয়ই তুমি আমাকে সালাম দিয়েছিলে যখন আমি সালাত আদায় করছিলাম।" আর সে সময় তিনি পূর্ব দিকে মুখ করে ছিলেন।
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবি হানিফা রিওয়ায়াতু আবি নুআইম (পৃষ্ঠা: ٣٣)
وَأَمَّا حَدِيثُ هِشَامٍ: فَإِنَّ أَبَا حَفْصٍ فَارُوقَ بْنَ عَبْدِ الْكَبِيرِ، ثَنَا أَبُو مُسْلِمٍ الْكَشِّيُّ، قَالَ: ثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، ثَنَا هِشَامٌ، ثَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: بَعَثَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي حَاجَةٍ، فَلَمَّا جِئْتُ سَلَّمْتُ عَلَيْهِ، فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيَّ، وَكَانَ يُصَلِّي، فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ صَلَاتِهِ، قَالَ: «إِنِّي لَمْ يَمْنَعْنِي أَنْ أَرُدَّ عَلَيْكَ إِلَّا أَنِّي كُنْتُ أُصَلِّي»

আর হিশামের হাদীসের ব্যাপারে কথা হলো: আবু হাফস ফারূক ইবন আবদুল কাবীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু মুসলিম আল-কাশশী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুসলিম ইবন ইবরাহীম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হিশাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবুয যুবাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে একটি প্রয়োজনে পাঠিয়েছিলেন। যখন আমি ফিরে আসলাম এবং তাঁকে সালাম দিলাম, তখন তিনি আমার সালামের উত্তর দিলেন না; তিনি তখন সালাত আদায় করছিলেন। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, তখন তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আমি সালাত আদায় করছিলাম বলেই তোমার সালামের উত্তর দিতে কোনো কিছু আমাকে বাধা দেয়নি।"

(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবি হানিফা রিওয়ায়াতু আবি নুআইম (পৃষ্ঠা: ٣٣)
وَأَمَّا حَدِيثُ زُهَيْرٍ: فَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ مَالِكٍ، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، ثَنَا أَبِي، ثَنَا حَسَنٌ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، ثَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ قَالَ: أَرْسَلَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، ⦗ص: 34⦘ وَهُوَ يَنْطَلِقُ إِلَى بَنِي الْمُصْطَلِقِ، فَأَتَيْتُهُ وَهُوَ يُصَلِّي عَلَى بَعِيرِهِ، فَكَلَّمْتُهُ، فَقَالَ بِيَدِهِ هَكَذَا، وَأَشَارَ زُهَيْرٌ بِكَفِّهِ، ثُمَّ كَلَّمْتُهُ، فَقَالَ بِيَدِهِ هَكَذَا، وَأَنَا أَسْمَعُهُ يَقْرَأُ فِي تَأْنِيَتِهِ، فَلَمَّا فَرَغَ، قَالَ: «مَا فَعَلْتَ فِي الَّذِي أَرْسَلْتُكَ فِيهِ؟ إِنَّهُ لَمْ يَمْنَعْنِي أَنْ أَرُدَّ عَلَيْكَ إِلَّا أَنَّنِي كُنْتُ أُصَلِّي»
আর যুহাইরের বর্ণিত হাদীস: এটি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর বিন মালিক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যুহাইর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু যুবাইর, জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে একটি কাজে পাঠিয়েছিলেন, ⦗পৃষ্ঠা: ৩৪⦘ এমতাবস্থায় যে তিনি বনু মুস্তালিক অভিমুখে যাচ্ছিলেন। আমি তাঁর কাছে ফিরে আসলাম যখন তিনি তাঁর উটের পিঠে সালাত আদায় করছিলেন। আমি তাঁর সাথে কথা বললাম, তখন তিনি তাঁর হাত দিয়ে এভাবে ইশারা করলেন—আর বর্ণনাকারী যুহাইর তাঁর হাতের তালু দিয়ে ইশারা করে দেখালেন—অতঃপর আমি পুনরায় তাঁর সাথে কথা বললাম, তিনি তাঁর হাত দিয়ে এভাবে ইশারা করলেন। আমি তাঁকে অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে কিরাআত পাঠ করতে শুনছিলাম। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, তখন বললেন: "আমি তোমাকে যে প্রয়োজনে পাঠিয়েছিলাম সে বিষয়ে কী করেছ? তোমার কথার উত্তর দিতে আমি সালাত আদায়রত ছিলাম কেবল এটাই আমাকে বাধা দিয়েছে।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবি হানিফা রিওয়ায়াতু আবি নুআইম (পৃষ্ঠা: ٣٤)
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ، ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ الْمِصْرِيُّ الْأَيْلِيُّ، ثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، ثَنَا أَبُو حَنِيفَةَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ سَائِلًا سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الصَّلَاةِ فِي الثَّوْبِ الْوَاحِدِ؟ فَقَالَ: «كُلُّكُمْ يَجِدُ ثَوْبَيْنِ؟» كَذَا رَأَيْتُهُ فِي كِتَابِ بَعْضِ أَصْحَابِنَا، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنِ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، وَلَا أَدْرِي هُوَ فِي جُمْلَةِ مَا سَمِعْتُهُ مِنْهُ أَمْ لَا؟ وَهَذَا خَطَأٌ، فَإِنَّ هَذَا لَا أَصْلَ لَهُ مِنْ حَدِيثِ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، وَالْوَاهِمُ فِيهِ الْمِصْرِيُّ، فِيمَا أَرَى وَقَدْ حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ مَحْمُودٍ، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْوَلِيدِ الْقُرَشِيُّ، ثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، أنبأ أَبُو حَنِيفَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَجُلًا، سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَذَكَرَ مِثْلَهُ سَوَاءً، ⦗ص: 35⦘ حَدَّثَ بِهِ عَبْدُ الْبَاقِي بْنُ قَانِعٍ، عَنِ الْمَقْبُرِيِّ، فَقَالَ: أَبُو حَنِيفَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، تَبَيَّنَ أَنَّ الْوَهْمَ عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْهُ، فَقَدْ تَبَيَّنَ أَنَّ الْوَهْمَ فِيهِ عَنْ غَيْرِ أَبِي عَاصِمٍ وَكَانَ سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ حَافِظًا مُتْقِنًا، وَلَمْ يَكُنْ مِمَّنْ يَذْهَبُ عَلَيْهِ مِثْلُ هَذَا، فَدَلَّ أَنَّ الْوَاهِمَ فِيهِ الْمِصْرِيُّ، أَوْ غَيْرُ سُلَيْمَانَ، وَالْحَدِيثُ فَهُوَ مِنْ مَشَاهِيرِ حَدِيثِ الزُّهْرِيِّ وَعُيُونِهِ، وَلَا أَعْرِفُ لَهُ أَصْلًا مِنْ حَدِيثِ أَبِي الزُّبَيْرِ
সুলাইমান ইবন আহমদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আহমদ ইবনুল হাসান আল-মিসরী আল-আইলী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু আসিম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু হানীফা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি আবু যুবায়ের থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, এক প্রশ্নকারী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এক কাপড়ে নামায পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন? তিনি বললেন: "তোমাদের প্রত্যেকের কি দুটি করে কাপড় আছে?" আমি আমাদের কিছু সঙ্গীর কিতাবে এভাবেই দেখেছি, সুলাইমান থেকে, তিনি মাকবুরী থেকে, তিনি আবু যুবায়ের থেকে। আমি জানি না এটি আমি তার কাছ থেকে যা শুনেছি তার অন্তর্ভুক্ত কি না। আর এটি ভুল, কারণ সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবের হাদীসের মধ্যে এর কোনো ভিত্তি নেই। আমার দেখা মতে এতে বিভ্রমকারী হলেন আল-মিসরী। আব্বাস ইবন মাহমুদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবন ওয়াহাব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনুল ওয়ালীদ আল-কুরায়শী আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু আসিম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু হানীফা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, অতঃপর তিনি অবিকল একই রকম বর্ণনা করলেন, ⦗পৃষ্ঠা: ৩৫⦘ আবদুল বাকী ইবন কানি' এটি মাকবুরী থেকে বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি বললেন: আবু হানীফা যুহরী থেকে বর্ণনা করেছেন। এতে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, ভুলটি সুলাইমান থেকে তার বর্ণনায় ঘটেছে। আরও স্পষ্ট হলো যে, এতে ভুলটি আবু আসিম ব্যতীত অন্য কারো পক্ষ থেকে হয়েছে। সুলাইমান ইবন আহমদ ছিলেন একজন অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য হাফিয, এবং তিনি এমন ব্যক্তি ছিলেন না যার উপর এ জাতীয় বিষয় অস্পষ্ট থাকতে পারে। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, এতে ভুলকারী হলেন আল-মিসরী, অথবা সুলাইমান ব্যতীত অন্য কেউ। আর এই হাদীসটি যুহরীর প্রসিদ্ধ এবং প্রধান হাদীসসমূহের অন্তর্ভুক্ত, এবং আবু যুবায়েরের হাদীস হিসেবে এর কোনো ভিত্তি আমার জানা নেই।