(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদিনি মিনার রিজালি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: -)
أخبار الوافدين من الرجال على معاوية بن أبي سفيان   (ابن بكار)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: أخبار الوافدين من الرجال من أهل البصرة والكوفة على معاوية بن أبي سفيان

المؤلف: العباس بن بكار (أو ابن الوليد بن بكار) الضبي (ت 222 هـ)

المحقق: سكينة الشهابي [ت 1427 هـ]

الناشر: مؤسسة الرسالة - بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1403 هـ - 1983 م

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 56

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের নিকট আগত পুরুষদের সংবাদ   (ইবনে বাকার)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমুহ


কিতাব: বসরা ও কুফাবাসীদের মধ্য হতে মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের নিকট আগত পুরুষদের সংবাদ

লেখক: আল-আব্বাস ইবনে বাকার (অথবা ইবনুল ওয়ালিদ ইবনে বাকার) আদ-দাব্বি (মৃত্যু ২২২ হিজরি)

সম্পাদক: সাকিনা আশ-শিহাবি [মৃত্যু ১৪২৭ হিজরি]

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ - বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৩ হিজরি - ১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দ

[কিতাবটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৬

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদিনি মিনার রিজালি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

 

حدث الْحسن بن الْحُسَيْن بن عَاصِم قَالَ

حضرت مجْلِس مُعَاوِيَة بن أبي سُفْيَان وَعِنْده كبراء الْكُوفَة ورؤساء الْقَبَائِل وَقد أجروا أَخْبَار شيعَة عَليّ بن أبي طَالب عليه السلام إِلَى أَن جن اللَّيْل فَلَمَّا جن اللَّيْل مضى إِلَى دَار اخته فَوَجَدَهَا ساهرة فَقَالَ يَا أم الحكم مَا الَّذِي أسهرك

قَالَت أسهرني الْعجب مِمَّن عدل عَنْك إِلَى عَليّ بن أبي طَالب عليه السلام وَجعله مثلك وَأَنت مُعَاوِيَة بن أبي سُفْيَان صَخْر بن حَرْب بن أُميَّة حصنها عِنْد التشاجر وَكَانَ حَرْب عمادها عِنْد التفاخر وفارسها عِنْد الْفَزع وفاتكها عِنْد الْعسر وَإِن مُعَاوِيَة كَاتب وَحي الله ورديف رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

হাসান ইবনে আল-হুসাইন ইবনে আসিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

আমি মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ানের মজলিসে উপস্থিত ছিলাম, এমতাবস্থায় তাঁর নিকট কুফার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও গোত্রপ্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। তারা আলী ইবনে আবু তালিব (আলাইহিস সালাম)-এর অনুসারীদের সংবাদ নিয়ে আলোচনা করছিলেন, যতক্ষণ না রাত গভীর হলো। অতঃপর যখন রাত নিবিড় হলো, তিনি তাঁর বোনের গৃহে গমন করলেন এবং তাকে জাগ্রত অবস্থায় পেলেন। তিনি বললেন, "হে উম্মুল হাকাম! কোন বিষয়টি তোমাকে বিনিদ্র রেখেছে?"

তিনি বললেন, "ঐসব লোকদের প্রতি বিস্ময় আমাকে বিনিদ্র রেখেছে যারা আপনাকে পরিহার করে আলী ইবনে আবু তালিব (আলাইহিস সালাম)-এর দিকে ঝুঁকেছে এবং তাঁকে আপনার সমতুল্য গণ্য করেছে। অথচ আপনি হলেন মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান সাখর ইবনে হারব ইবনে উমাইয়াহ; বিবাদের সময় যিনি ছিলেন তাদের দুর্গ। আর হারব ছিল গৌরব প্রদর্শনের সময় তাদের স্তম্ভ, ভীতি ও ত্রাসের সময় তাদের অশ্বারোহী বীর এবং সংকটের সময় তাদের অকুতোভয় যোদ্ধা। নিশ্চয়ই মুয়াবিয়া আল্লাহর ওহীর লেখক এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাহনের সহযাত্রী।"
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদিনি মিনার রিজালি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ২০)
فَقَالَ لَهَا مُعَاوِيَة يَا أختاه لَا يكذبنك ظَنك وَلَا يبعد عَنْك ذهنك وَالله مَا عادلت عليا قطّ فَكيف وَهُوَ عَليّ بن أبي طَالب بن عبد الْمطلب بن هَاشم من ولد إِبْرَاهِيم الْخَلِيل عليه السلام وَكَانَ عبد الْمطلب بن هَاشم جواد الْعَرَب وَفَارِس الكرب الْمطعم بالسغب وَكَانَ أَبُو طَالب السهل الطَّرِيقَة الحامي الْحَقِيقَة وَكَانَ عَليّ بن أبي طَالب قَاضِي الْأمة وأعظمهم فخرا وَأكْرمهمْ مجدا حامي الذمار عَزِيز الْجَار صهر الرَّسُول وَسيد الكهول وَزوج البتول فايم الله لأصبحن جَالِسا ولأسمعنك مِمَّن وَفد عَليّ من سَائِر الْعَرَب خلاف مَا ظَنَنْت وَغير مَا وصفت

فَلَمَّا أصبح قَالَ اجلسي فِي قبتك وارخي عَلَيْك سجفك لتسمعي مقَالَة من يدْخل عَليّ من وُجُوه بني أُميَّة ورؤساء أهل الْكُوفَة وأخبارهم

فَلَمَّا مثلُوا واستقرت بهم مجَالِسهمْ قَالَ مُعَاوِيَة للحاجب أَدخل عَليّ حجر بن عدي الْكِنْدِيّ الْكُوفِي فَأذن لَهُ فَدخل وَسلم فَقَالَ لَهُ مُعَاوِيَة يَا بن الأسن الْقَبِيح المنظر الْقَاطِع بِنَا الْأَسْبَاب الْمُسَمّى بالأحزاب والملتمس بحربنا الثَّوَاب والمساعد علينا أَبَا تُرَاب
অতঃপর মুয়াবিয়া তাকে বললেন, হে বোন, তোমার ধারণা যেন তোমাকে মিথ্যাবাদী না বানায় এবং তোমার চিন্তা যেন তোমাকে বিভ্রান্ত না করে। আল্লাহর কসম, আমি কখনোই নিজেকে আলীর সমকক্ষ মনে করিনি। আর তা হবেই বা কীভাবে, অথচ তিনি হলেন হাশিমের পুত্র আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র আবু তালিবের পুত্র আলী; যিনি ইব্রাহিম খলিল আলাইহিস সালামের বংশধর। আব্দুল মুত্তালিব বিন হাশিম ছিলেন আরবদের দানবীর, দুঃখ-কষ্টের অকুতোভয় অশ্বারোহী এবং দুর্ভিক্ষের সময় অন্নদানকারী। আবু তালিব ছিলেন অমায়িক স্বভাবের এবং সত্য ও মর্যাদার রক্ষক। আর আলী বিন আবি তালিব ছিলেন এই উম্মতের প্রধান বিচারক, তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ গৌরবের অধিকারী এবং সর্বাপেক্ষা সম্মানিত ঐতিহ্যের অধিকারী। তিনি ছিলেন পবিত্র আমানতের রক্ষক, প্রতিবেশীর আশ্রয়দাতা, রাসূলুল্লাহর জামাতা, প্রৌঢ়দের সর্দার এবং বাতুলের (ফাতিমা) স্বামী। আল্লাহর কসম, আমি প্রভাতে এমনভাবে আসীন হব এবং সমগ্র আরব থেকে আমার কাছে আগত ব্যক্তিদের নিকট থেকে তোমাকে এমন কিছু শ্রবণ করাব যা তোমার ধারণার বিপরীত এবং তোমার বর্ণনার ভিন্ন হবে।

অতঃপর যখন সকাল হলো, তিনি বললেন, তুমি তোমার তাঁবুতে বসো এবং তোমার পর্দা নামিয়ে দাও, যাতে বনু উমাইয়ার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং কুফার প্রধানদের কথা ও তাদের খবরাখবর শুনতে পাও যারা আমার নিকট আসবে।

যখন তারা উপস্থিত হলো এবং নিজ নিজ আসনে স্থির হলো, তখন মুয়াবিয়া দ্বাররক্ষীকে বললেন, হুজর বিন আদি আল-কিন্দী আল-কুফিকে আমার কাছে নিয়ে এসো। অতঃপর তাকে অনুমতি দেওয়া হলো, তিনি প্রবেশ করলেন এবং সালাম দিলেন। তখন মুয়াবিয়া তাকে বললেন, হে কুৎসিত দর্শনের বৃদ্ধের পুত্র, যে আমাদের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করেছে, যে শত্রুজোটের সাথে যুক্ত হয়েছে, আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে সওয়াব অন্বেষণ করেছে এবং আমাদের বিরুদ্ধে আবু তুরাবকে সাহায্য করেছে।
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদিনি মিনার রিজালি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ২১)
فَقَالَ يَا مُعَاوِيَة لَا تذكر رجلا كَانَ بِالدّينِ برورا راعي الْأمة وَخَلِيفَة النُّبُوَّة المحامي عَن الْإِسْلَام أَولا وآخرا خَائفًا لله وَبِمَا يرضيه عَارِفًا عَاملا بدين الله طَوِيل الرُّكُوع طَاهِر الْخُشُوع قَلِيل الهجوع قَائِما بالحدود مُتَوَجها للمعبود طَاهِر السريرة مَحْمُود السِّيرَة نَافِذ البصيرة ملك أمرنَا فَكَانَ كبعضنا لم يبطل حَقًا وَلم يظلم خلقا يخف إِلَّا من الله عز وجل ثمَّ بَكَى حَتَّى كَاد يتْلف ثمَّ رفع رَأسه وَقَالَ

أما توبيخك إيَّايَ وَمَا كَانَ مني فَاعْلَم أَيهَا الْإِنْسَان اني غير معتذر مِمَّا جنيت وَلَا مكترث مِمَّا بِهِ اتيت فأعلن سرك واظهر أَمرك فَقَالَ مُعَاوِيَة يَا غُلَام أخرجه عني فقد بلغ مني وَلَوْلَا مَا سبق مني لما فَاتَهُ طعم السَّيْف وَلَعَلَّ ذَلِك يكون بعد هَذَا ثمَّ قَالَ للحاجب أَدخل عَليّ عَليّ عَليّ عَمْرو بن الْحمق الْخُزَاعِيّ
তিনি বললেন, “হে মুয়াবিয়া! এমন এক ব্যক্তির আলোচনা করবেন না যিনি দ্বীনের প্রতি অত্যন্ত অনুগত, উম্মতের অভিভাবক এবং নবুওয়াতের খলিফা ছিলেন; যিনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ইসলামের রক্ষক, আল্লাহভীরু এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির বিষয়ে অবগত ছিলেন, আল্লাহর দ্বীনের ওপর আমলকারী ছিলেন। তিনি দীর্ঘ রুকুকারী, পবিত্র বিনয়সম্পন্ন, সল্প নিদ্রাকারী, আল্লাহর সীমানা (হুদুদ) প্রতিষ্ঠাকারী, মা'বুদের দিকে একনিষ্ঠভাবে মনোনিবেশকারী, নিষ্কলুষ অন্তরের অধিকারী, প্রশংসিত জীবনচরিত্রের অধিকারী এবং তীক্ষ্ণ অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ছিলেন। তিনি আমাদের শাসনভার গ্রহণ করেছিলেন, অথচ আমাদেরই একজনের মতো জীবনযাপন করতেন; তিনি কোনো অধিকার বিনষ্ট করেননি এবং কোনো সৃষ্টির প্রতি জুলুম করেননি। তিনি মহান আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় পেতেন না।” এরপর তিনি এমনভাবে কাঁদলেন যে মনে হচ্ছিল তিনি প্রাণ হারাবেন। অতপর তিনি মস্তক উত্তোলন করলেন এবং বললেন:

“আমার প্রতি আপনার তিরস্কার এবং আমার পক্ষ থেকে যা ঘটেছে সেই বিষয়ে জেনে রাখুন হে মানুষ, আমি যা করেছি তার জন্য কোনো ওজর পেশ করছি না এবং আপনি যা নিয়ে এসেছেন তা নিয়ে আমি পরোয়া করি না। সুতরাং আপনার গোপন কথা প্রকাশ করুন এবং আপনার উদ্দেশ্য ব্যক্ত করুন।” তখন মুয়াবিয়া বললেন, “হে গোলাম! একে আমার সামনে থেকে সরিয়ে দাও, সে আমাকে চরম বিরক্ত করেছে। আমার পক্ষ থেকে যদি ইতিপূর্বে কোনো প্রতিশ্রুতি না থাকত, তবে সে তলোয়ারের স্বাদ আস্বাদন করা থেকে রেহাই পেত না। আর সম্ভবত তা এর পরেই ঘটবে।” এরপর তিনি দ্বাররক্ষীকে বললেন, “আমর ইবনুল হামাক আল-খুজায়ীকে আমার সামনে উপস্থিত করো।”
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদিনি মিনার রিজালি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ২২)
فَلَمَّا دخل قَالَ السَّلَام عَلَيْكُم يَا معشر الكهول والشباب من الرِّجَال وَالصبيان فَقَالَ لَهُ مُعَاوِيَة يَا اخا خُزَاعَة لم لَا تخاطب بأمير ؤمنين وسلمين قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول بَدَأَ الْإِسْلَام غَرِيبا وَسَيَعُودُ كَمَا بَدَأَ وَهَذَا الْيَوْم الَّذِي وعد بِهِ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم

فَقَالَ لَهُ مُعَاوِيَة إِذا لَا نؤاخذك لِأَنَّك أشهرت سَيْفك وأهويت لنا حتفك وأطلت الْإِعْرَاض وأجررت رسنك مَعَ كلال بغرور جشمك الْمَحْذُور وَكَيف رَأَيْت صنع الله بِنَا وَبِه ألم تضق برحيله وعارضة أَجله

فَبكى عَمْرو بن الْحمق حَتَّى وَقع على وَجهه ثمَّ أَفَاق وَقَالَ بِأبي وَأمي من ذكرت وتنقصت كَانَ وَالله الْعَالم بِكِتَاب الله الْعَامِل بِحكم الله الْمَحْمُود عِنْد الله المستمسك بِسنة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم الزَّاهِد فِي الفانية الرَّاغِب فِي الْبَاقِيَة لم يضمر تكبرا وَلم يظْهر مِنْهُ تجبر يعْمل بِمَا يُرْضِي الله عَنهُ وَيقرب من رَحْمَة الله فَصَلَاة الله عَلَيْهِ وتحياته وَبَرَكَاته وَلَقَد ضربنا فَقده وتمنينا الْمَوْت بعده وَأما أَنا يَا مُعَاوِيَة فِي خَاصَّة نَفسِي فقد لعمري دانيت مِنْك أوغاد السامري وَأَوْلَاد الطُّلَقَاء من بني أُميَّة وَمَا ذَاك إِلَّا لأمر مفعول وتقديرات مِنْهُ ليحيط بكم غَضَبه وَهَذِه أَحْوَال ألهمكم الله فعالها ليدخلكم ناره سرمدا وددت أَنِّي قتلت بَين يَدَيْهِ وبمرافقة الْأَبْرَار الَّذين
অতঃপর যখন তিনি প্রবেশ করলেন, তখন তিনি বললেন, "হে পুরুষদের মধ্যে বৃদ্ধ ও যুবকগণ এবং শিশুগণ, তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক।" তখন মুয়াবিয়া তাকে বললেন, "হে খুজাআর ভাই, আপনি কেন আমাকে মুমিনদের আমির এবং শান্তিকামী হিসেবে সম্বোধন করছেন না?" তিনি বললেন, "আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: ইসলাম অপরিচিত অবস্থায় শুরু হয়েছিল এবং অচিরেই তা শুরুতে যেমন ছিল তেমনি অপরিচিত অবস্থায় ফিরে যাবে। আর আজ সেই দিন, যার প্রতিশ্রুতি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দিয়েছিলেন।"

মুয়াবিয়া তাকে বললেন, "তাহলে আমরা আপনাকে পাকড়াও করব না, কারণ আপনি আপনার তলোয়ার উন্মুক্ত করেছিলেন এবং আমাদের জন্য আপনার ধ্বংস কামনা করেছিলেন। আপনি দীর্ঘ সময় বিমুখ ছিলেন এবং আপনার অবাধ্যতাকে দীর্ঘায়িত করেছিলেন এমন এক ক্লান্তিকর প্রতারণা নিয়ে যা আপনাকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে। আল্লাহর আমাদের সাথে এবং তার সাথে করা ফয়সালাকে আপনি কেমন দেখলেন? তার প্রস্থান এবং তার আয়ু ফুরিয়ে আসায় কি আপনি ব্যথিত হননি?"

তখন আমর বিন আল-হামিক রোদন করলেন, এমনকি তিনি উপুড় হয়ে পড়ে গেলেন। অতঃপর তিনি সংবিত ফিরে পেয়ে বললেন, "আমার পিতা ও মাতা তার জন্য উৎসর্গিত হোক যাকে আপনি উল্লেখ করেছেন এবং যার অবমাননা করেছেন। আল্লাহর কসম, তিনি ছিলেন আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে প্রাজ্ঞ, আল্লাহর বিধানের অনুসারী, আল্লাহর নিকট প্রশংসিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরનાર, নশ্বর জগতের প্রতি বিরাগভাজন এবং অবিনশ্বর জগতের প্রতি লালায়িত। তিনি অন্তরে কোনো অহংকার পোষণ করতেন না এবং তার থেকে কোনো দম্ভ প্রকাশ পেত না। তিনি এমন আমল করতেন যা আল্লাহকে সন্তুষ্ট করে এবং আল্লাহর রহমতের নিকটবর্তী করে। সুতরাং তার ওপর আল্লাহর সালাত, অভিবাদন ও বরকত বর্ষিত হোক। আমরা তার তিরোধানে ব্যথিত হয়েছি এবং তার পর মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা করেছি। আর হে মুয়াবিয়া, আমি আমার ব্যক্তিগত বিষয়ে বলছি, আমার জীবনের শপথ, আমি আপনার সান্নিধ্যে সামেরির অধমদের এবং বনু উমাইয়ার মুক্তপ্রাপ্ত দাসদের সন্তানদের ভিড় দেখেছি। আর এটি কেবল এক অনিবার্য বিষয় এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত তকদির, যাতে আল্লাহর ক্রোধ আপনাদের পরিবেষ্টন করে। এগুলো এমন এক অবস্থা যা আল্লাহ আপনাদের কার্যাবলীর মাধ্যমে প্ররোচিত করেছেন যেন তিনি আপনাদের চিরস্থায়ী জাহান্নামে প্রবেশ করান। আমি আকাঙ্ক্ষা করি যে, আমি যদি তার সামনে এবং সেই পুণ্যবানদের সাহচর্যে নিহত হতাম যারা...
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদিনি মিনার রিজালি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ২৩)
اسْتشْهدُوا كعمار وَمن شاكله وَلَقَد استرحت الْيَوْم من ملاقاة الأشرار فِي هَذَا الْيَوْم الظامىء المظلم

فَقَالَ لَهُ مُعَاوِيَة لَوْلَا علمي بِمَا تصير إِلَيْهِ لعجلت ذَلِك وَمَا تلبثت ثمَّ قَالَ أخرجه فَأخْرجهُ وَأدْخل عَليّ عدي بن حَاتِم الطَّائِي

فَلَمَّا دخل وَسلم قَالَ مُعَاوِيَة مَا أبقى لَك الدَّهْر من حب عَليّ بن أبي طَالب عليه السلام قَالَ كحب أم مُوسَى إِذْ ألقته فِي اليم وعدوه فِرْعَوْن ثمَّ قَالَ حبي وَالله لَهُ شَدِيد لَا يقل بل يزِيد وَلَوْلَا حبه لما كنت أَرْجُو الْجنَّة وَلَا انالها إِلَّا بحبه وَشر أبي يزِيد أما كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم اقامه علما يَوْم حجَّة الْوَدَاع ونادى عَلَيْهِ يَوْم غَدِير خم أَلا من كنت مَوْلَاهُ فعلي مَوْلَاهُ اللَّهُمَّ وَال من وَالَاهُ وأخذل من خذله وانصر من نَصره
তারা আম্মার এবং তার সদৃশ ব্যক্তিদের ন্যায় শহীদ হয়েছেন। আজ আমি এই তৃষ্ণার্ত ও অন্ধকার দিনে দুষ্কৃতকারীদের সাক্ষাৎ থেকে মুক্তি পেয়েছি।

অতঃপর মুয়াবিয়া তাকে বললেন, তোমার যে পরিণাম হতে যাচ্ছে সে সম্পর্কে যদি আমার জানা না থাকত, তবে আমি অবশ্যই তা ত্বরান্বিত করতাম এবং বিলম্ব করতাম না। এরপর তিনি বললেন, একে বের করে দাও। অতঃপর তাকে বের করে দেওয়া হলো এবং আদি বিন হাতেম আত-তাঈকে আমার নিকট প্রবেশ করানো হলো।

যখন তিনি প্রবেশ করলেন এবং সালাম দিলেন, তখন মুয়াবিয়া বললেন, আলী বিন আবি তালিব (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি ভালোবাসা থেকে সময় তোমার মাঝে কী অবশিষ্ট রেখেছে? তিনি বললেন, মূসার মায়ের ভালোবাসার ন্যায়, যখন তিনি তাকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করেছিলেন এবং তার শত্রু ছিল ফেরাউন। অতঃপর তিনি বললেন, আল্লাহর কসম, তার প্রতি আমার ভালোবাসা অত্যন্ত প্রবল; এটি কমে না বরং বৃদ্ধি পায়। তার ভালোবাসা না থাকলে আমি জান্নাতের আশা করতাম না এবং কেবল তার ভালোবাসার মাধ্যমেই আমি তা লাভ করতে পারি, আর আবু ইয়াজীদের অনিষ্টতা (পরিহার করে)। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি বিদায় হজ্জের দিন তাকে এক সুউচ্চ নিদর্শন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেননি এবং গাদীরে খুমের দিন তাকে নিয়ে এই ঘোষণা দেননি যে— ‘সাবধান! আমি যার মাওলা, আলীও তার মাওলা। হে আল্লাহ! যে তাকে বন্ধু মনে করে আপনি তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করুন, যে তাকে অপদস্থ করে আপনি তাকে অপদস্থ করুন এবং যে তাকে সাহায্য করে আপনি তাকে সাহায্য করুন।’
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদিনি মিনার রিজালি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ২৪)
أما سَمِعت فِي ذَلِك الْيَوْم نداءه عَلَيْهِ وَهُوَ آخذ بعضده وَهُوَ على الأقتاب لقد سَمِعت كَمَا سمعنَا وَشهِدت كَمَا شَهِدنَا فالحجة عَلَيْك وعَلى غَيْرك وعَلى كل من شهد ذَلِك الْيَوْم وَسمع كَلَام مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم فَمَا نزل من الأقتاب إِلَّا وَقد تَفَرَّقت قُلُوبنَا شعبًا فَقَالَ قد كَانَ ذَلِك وَكَيف رضاك عَن ولدك زيد

فَقَالَ كَيفَ أَسخط عَلَيْهِ وَقد أقرّ عَيْني بقتل فَارس الْجَيْش

فَقَالَ عَمْرو بن الْعَاصِ الْأَمر فَوق ذَلِك يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ أصبح وَالله عدي بعد صفّين ذليلا فَبكى عدي وَأَنْشَأَ وَجعل يَقُول

(يجادلني مُعَاوِيَة بن حَرْب … وَلَيْسَ إِلَى الَّذِي ارجو سَبِيل)

(يكاشرني وَيعلم ان طرفِي … على مَا فِي الضَّمِير لَهُ دَلِيل)

(يذكرنِي ابا حسن عليا … وخطبي فِي أبي حسن جليل)

(وَيَزْعُم اننا قوم سفاه … حراديون لَيْسَ لنا عقول)
আপনি কি সেদিন তাঁর সেই আহ্বান শোনেননি যখন তিনি তাঁর বাহু ধরেছিলেন এবং তিনি উটের জিনের ওপর ছিলেন? আমরা যেভাবে শুনেছি আপনিও সেভাবে শুনেছেন এবং আমরা যেভাবে প্রত্যক্ষ করেছি আপনিও সেভাবেই প্রত্যক্ষ করেছেন। সুতরাং আপনার ওপর, অন্যের ওপর এবং যারা সেদিন উপস্থিত ছিল এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা শুনেছে তাদের সকলের ওপর এটি একটি প্রমাণ। তিনি জিনের ওপর থেকে নামার আগেই আমাদের অন্তরসমূহ বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। তিনি বললেন: তা অবশ্যই ঘটেছিল। আর তোমার পুত্র যায়িদের ব্যাপারে তোমার সন্তুষ্টি কেমন?

তিনি বললেন: আমি তার ওপর কীভাবে অসন্তুষ্ট হতে পারি, অথচ সে তো বাহিনীর অশ্বারোহীকে হত্যা করে আমার চোখ জুড়িয়েছে?

আমর ইবনুল আস বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন, বিষয়টি এর চেয়েও বেশি। আল্লাহর কসম, সিফফিনের পর আদী লাঞ্ছিত হয়ে পড়েছেন। তখন আদী কেঁদে ফেললেন এবং এই কবিতা আবৃত্তি করতে শুরু করলেন:

(মুআবিয়াহ ইবনে হারব আমার সাথে বিতর্ক করছে ... অথচ আমি যা আশা করি তার কোনো পথ নেই)

(সে আমার দিকে তাকিয়ে হাসে অথচ সে জানে যে আমার দৃষ্টি ... আমার অন্তরে যা আছে তার প্রমাণ দিচ্ছে)

(সে আমাকে আবুল হাসান আলীর কথা মনে করিয়ে দেয় ... অথচ আবুল হাসানের ব্যাপারে আমার শোক অত্যন্ত গভীর)

(সে দাবি করে যে আমরা এক নির্বোধ জাতি ... হারাদিয়ুন যাদের কোনো বুদ্ধি নেই)
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদিনি মিনার রিজালি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ২৫)
(وَكَانَ جَوَابه عِنْدِي عتيدا … وَيَكْفِي مثله عِنْدِي الْقَلِيل)

(وَقَالَ ابْن الْوَلِيد وَقَالَ عَمْرو … عدي بعد صفّين ذليل)

(فَقلت صَدقْتُمْ قد ذل ركني … وفارقني الَّذين بهم أصُول)

(سيخسر من يؤازره ابْن هِنْد … ويربح من يؤازره الرَّسُول)

(عَليّ أَنِّي على مَا كَانَ مني … اقضي حَاجَتي فِي مَا أَقُول) قَالَ الْهَيْثَم وَأدْخل من بعده عَمْرو بن وَاثِلَة الْكِنَانِي

فَلَمَّا دخل وَسلم رحب بِهِ مُعَاوِيَة فَقَالَ الْقَوْم هَذَا الَّذِي رَحبَتْ بِهِ يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ هُوَ خَلِيل عَليّ بن أبي طَالب عليه السلام وَفَارِس الْعرَاق وشاعرهم وَلَقَد انضج أكبادنا وأحرق جلودنا بنبله وفضحنا بطعناته وضرباته علام رَحبَتْ بِهِ وقربته مِنْك فَهَل نسيت مَا جرى علينا يَوْم صفّين وَلَقَد كدر علينا الْحيرَة وأفحش أعراضنا بِلِسَانِهِ وَصَارَ الْجَمَاعَة ينالون مِنْهُ وَمن عرضه

فَغَضب عَمْرو بن وَاثِلَة وَقَالَ يَا مُعَاوِيَة مَا سبني هَؤُلَاءِ وَأَنَّهُمْ لأَقل
(আর আমার নিকট তার উত্তর প্রস্তুত ছিল … আর আমার কাছে তার মতো ব্যক্তির জন্য অল্পই যথেষ্ট)

(আর ইবনুল ওয়ালিদ ও আমর বললেন … সিফফিনের যুদ্ধের পর আদি গোত্র লাঞ্ছিত)

(অতঃপর আমি বললাম, তোমরা সত্যই বলেছ, আমার স্তম্ভ দুর্বল হয়ে পড়েছে … আর যারা আমাকে শক্তি যোগাত তারা আমাকে ছেড়ে চলে গেছে)

(হিন্দের পুত্র যার পৃষ্ঠপোষকতা করবে সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে … আর রাসুল যার পৃষ্ঠপোষকতা করবেন সে সফলকাম হবে)

(আমার পক্ষ থেকে যা ঘটার তা সত্ত্বেও আমি … যা বলি তাতে আমার উদ্দেশ্য পূরণ করি) আল-হাইসাম বলেন, এরপর আমর ইবনে ওয়াসিলা আল-কিনানীকে ভেতরে আনা হলো।

যখন তিনি প্রবেশ করে সালাম দিলেন, তখন মুয়াবিয়া তাকে স্বাগত জানালেন। উপস্থিত লোকজন বলল, "হে আমিরুল মুমিনিন! আপনি যাকে স্বাগত জানালেন, সে আলী ইবনে আবি তালিব (আলাইহিস সালাম)-এর ঘনিষ্ঠ বন্ধু, ইরাকের অশ্বারোহী বীর এবং তাদের কবি। সে তার তীরের আঘাতে আমাদের কলিজা দগ্ধ করেছে এবং আমাদের চামড়া পুড়িয়ে দিয়েছে। সে তার বর্শার আঘাত ও তরবারির আঘাতে আমাদের অপদস্থ করেছে। আপনি কেন তাকে স্বাগত জানালেন এবং আপনার সান্নিধ্যে স্থান দিলেন? আপনি কি সিফফিনের দিনে আমাদের ওপর যা ঘটেছিল তা ভুলে গেছেন? সে তার জিহ্বা দিয়ে আমাদের সম্মানের ওপর চরম আঘাত হেনেছে এবং আমাদের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে।" এরপর উপস্থিত সবাই তাকে এবং তার সম্মান নিয়ে সমালোচনা করতে লাগল।

তখন আমর ইবনে ওয়াসিলা ক্রোধান্বিত হয়ে বললেন, "হে মুয়াবিয়া! এরা আমাকে গালি দেয়নি, কারণ তারা তো অত্যন্ত নগণ্য..."
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদিনি মিনার রিজালি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ২৬)
من ذَلِك وَمَا سبني غَيْرك فَإِن لم تجزني من سبني وَإِلَّا حق عَليّ سبك وشتمك

فَقَالَ مُعَاوِيَة هَذَا عمروبن الْعَاصِ ومروان بن الحكم وَسَعِيد بن الْعَاصِ فَقَالَ عَمْرو بن وَاثِلَة أما عمروبن الْعَاصِ فأنطقته خِيَانَة أمه وَمَا أَتَت بِهِ من الزِّنَا وَأما مَرْوَان بن الحكم وَسَعِيد بن الْعَاصِ فأنطقتهما خِيَانَة الْحجاز وَأما ابْن أَبِيه فَإِنَّهُ انطقته حَيَاته تهَامَة وَأما ابْن اخيك فَوَهَبته لَك فَقَالَ لَهُ مُعَاوِيَة يَا بن وَاثِلَة مَا ابقى لَك الدَّهْر من حب عَليّ بن أبي طَالب عليه السلام

قَالَ كحب الفاقد لأَخِيهَا وَزوجهَا وَوَلدهَا وَإِلَى الله تَعَالَى اشكو التَّقْصِير

فَقَالَ مَا ابقى لَك الدَّهْر من الوجد عَلَيْهِ قَالَ كوجد الْعَجُوز المقلات

فَقَالَ مَا بلغ من بغضك لنا قَالَ بغض آدم لإبليس لَعنه الله ثمَّ بَكَى وَهُوَ يَقُول

ي (أيشتمني عَمْرو ومروان ضلة … بِحكم ابْن هِنْد والشقي سعيد)
এর থেকে, আর আপনি ব্যতীত অন্য কেউ আমাকে গালি দেয়নি। সুতরাং আপনি যদি আমাকে তাদের থেকে প্রতিকার না দেন যারা আমাকে গালি দিয়েছে, তবে আপনার প্রতি গালি ও নিন্দা করা আমার জন্য অবধারিত হয়ে পড়বে।

মুয়াবিয়া বললেন, এই তো আমর ইবনুল আস, মারওয়ান ইবনুল হাকাম এবং সাঈদ ইবনুল আস। তখন আমর ইবনুল ওয়াসিলা বললেন, আমর ইবনুল আসের ক্ষেত্রে বলা যায় যে, তাকে তার মায়ের বিশ্বাসঘাতকতা এবং সেই ব্যভিচার কথা বলিয়েছে যা সে করেছিল। আর মারওয়ান ইবনুল হাকাম ও সাঈদ ইবনুল আসের ব্যাপারে কথা হলো, হিজাজের প্রতি তাদের বিশ্বাসঘাতকতা তাদের দিয়ে কথা বলিয়েছে। আর তার পিতার পুত্রের ক্ষেত্রে কথা হলো, তিহামার জীবন তাকে কথা বলিয়েছে। আর আপনার ভ্রাতুষ্পুত্রকে আমি আপনার খাতিরে মার্জনা করলাম। তখন মুয়াবিয়া তাকে বললেন, হে ইবনে ওয়াসিলা, আলী ইবনে আবি তালিব (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)-এর প্রতি ভালোবাসা থেকে কাল তোমার মাঝে কী অবশিষ্ট রেখেছে?

তিনি বললেন, সেই নারীর ভালোবাসার মতো যে তার ভাই, স্বামী ও সন্তানকে হারিয়েছে। আর মহান আল্লাহর কাছেই আমি আমার ত্রুটির অভিযোগ করছি।

তিনি বললেন, তাঁর শোকে সময় তোমার মাঝে কী অবশিষ্ট রেখেছে? তিনি বললেন, সেই বৃদ্ধা মায়ের শোকের মতো যার সব সন্তান মারা গেছে।

তিনি বললেন, আমাদের প্রতি তোমার ঘৃণা কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে? তিনি বললেন, ইবলিসের প্রতি আদমের ঘৃণার মতো, যাকে আল্লাহ অভিশপ্ত করেছেন। অতঃপর তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন—

(আমর এবং মারওয়ান কি আমাকে পথভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত হয়ে গালি দিচ্ছে … হিন্দের পুত্রের আদেশে এবং হতভাগ্য সাঈদের কারণে?)
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদিনি মিনার রিজালি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ২৭)
(وحول ابْن هِنْد سامرون كَأَنَّهُمْ … إِذا مَا استقاموا للْحَدِيث قرود)

(يعضون من غيظ عَليّ اكفهم … ودرؤك من لَا يستجيب شَدِيد)

(وماسبني إِلَّا ابْن هِنْد وانني … لتِلْك الَّتِي يسخو بهَا لنكود)

(كَمَا بلغت أَيَّام صفّين نَفسه … تراقيها والشامتون شُهُود)

(فَلم يمنعوه والرماح تنوشه … وَمَا قل حَرْب للسان عُقُود)

(وطارت بِعَمْرو فِي العجاج وسبطه … ومروان من وَقع السيوف بعيد)

(وَمَا لسَعِيد غير همة نَفسه … وعل الَّتِي نسخو بهَا فنعود)

(تخطفهم فِي الْحَرْب خطفا كَأَنَّهُ … وَقد ثار نقع لِلْقِتَالِ صفود)

فَقَالَ مُعَاوِيَة كَأَنَّك مِمَّن خذل أَمِير الْمُؤمنِينَ عُثْمَان يَوْم الدَّار والشاهر علينا سَيْفك يَوْم صفّين فَقَالَ عَمْرو بن وَاثِلَة أما قَوْلك فِي قتل عُثْمَان وتركي نصرته لأَنا رَأَيْنَاك وَأَنت ابْن عَمه ونازل بإزائه وَقد اسْتَغَاثَ بك فَتركت إجَابَته وانت ابْن عَمه فهان علينا ذَلِك وتربصت بِنَفْسِك عَنهُ فَزعًا من الْمنون وَلَو انك اظهرت فِي ذَلِك الْيَوْم مَا قد اعلنته الْيَوْم لما كنت تقعد هَذِه الْقعدَة وَلَقَد كنت أول طريح لمُحَمد بن أبي بكر وَرَأَيْت من خذله من الْمُهَاجِرين وَالْأَنْصَار فوسعني مَا وسعهم

فَقَالَ مُعَاوِيَة أَلَيْسَ طلبتي بدمه نصْرَة لَهُ
(এবং ইবনে হিন্দের চারপাশে এমন গল্পগুজবকারীরা রয়েছে যারা যেন … যখন তারা কথাবার্তায় লিপ্ত হয়, তখন তারা বানরের মতো।)

(তারা আমার প্রতি রাগে নিজেদের হাত কামড়ায় … এবং যে সাড়া দেয় না তার থেকে তোমার প্রতিরক্ষা অত্যন্ত কঠিন।)

(এবং ইবনে হিন্দ ছাড়া আর কেউ আমাকে গালি দেয়নি, আর আমি … সেই বিষয়ের প্রতি অকৃতজ্ঞ যা সে অকাতরে দান করে।)

(যেমন সিফফিনের দিনগুলোতে তার প্রাণ … কণ্ঠনালীতে পৌঁছে গিয়েছিল এবং উপহাসকারীরা তখন সাক্ষী ছিল।)

(অতঃপর তারা তাকে রক্ষা করতে পারেনি যখন বর্শাগুলো তাকে বিদ্ধ করছিল … আর জিহ্বার চুক্তির জন্য যুদ্ধ কোনো কম বিষয় নয়।)

(এবং ধূলিঝড়ের মধ্যে আমর ও তার পৌত্র পলায়ন করেছিল … আর মারওয়ান ছিল তলোয়ারের আঘাত থেকে অনেক দূরে।)

(এবং সাঈদের নিজের সংকল্প ছাড়া আর কিছু ছিল না … এবং সম্ভবত যেটির মাধ্যমে তারা ত্যাগ করে সেটি নিয়ে আমরা ফিরে আসব।)

(যুদ্ধের ময়দানে তিনি তাদের এমনভাবে ছিনিয়ে নিচ্ছিলেন যেন সেটি … যুদ্ধের ধূলি ওড়ার সময় শৃঙ্খলিত করার মতো।)

অতঃপর মুয়াবিয়া বললেন, “মনে হচ্ছে আপনি তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা ‘ইয়াওমুদ দারে’ (গৃহবন্দীত্বের দিনে) আমিরুল মুমিনীন উসমানকে একা ফেলে রেখেছিল এবং সিফফিনের দিন আমাদের বিরুদ্ধে তলোয়ার চালনা করেছিল।” তখন আমর ইবনুল ওয়াসিলা বললেন, “উসমানের হত্যাকাণ্ড এবং তার সাহায্যে আমার এগিয়ে না আসা সম্পর্কে আপনার বক্তব্যের উত্তর হলো— আমরা আপনাকে দেখেছি যে আপনি তার চাচাতো ভাই হয়েও তার নিকটবর্তী অবস্থানে ছিলেন, অথচ তিনি আপনার কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন কিন্তু আপনি তাকে সাহায্য করেননি। অথচ আপনি ছিলেন তার চাচাতো ভাই, তাই বিষয়টি আমাদের কাছেও সহজ মনে হয়েছে। আর আপনি মৃত্যুর ভয়ে তাকে ছেড়ে নিজের জীবন নিয়ে দূরে প্রতীক্ষায় ছিলেন। যদি আপনি সেদিন তা প্রকাশ করতেন যা আজ জাহির করছেন, তবে আপনি আজ এই আসনে বসে থাকতেন না। আপনিই ছিলেন মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকরের প্রথম পরাভূত ব্যক্তি। আর আমি দেখেছি মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা তাকে ত্যাগ করেছিল, তাই তারা যে পথ অবলম্বন করেছে আমিও সেই পথই অবলম্বন করেছি।”

তখন মুয়াবিয়া বললেন, “আমি কি তার রক্তের বদলা চাওয়ার মাধ্যমে তাকে সাহায্য করছি না?”
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদিনি মিনার রিজালি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ২৮)
فَقَالَ لَهُ عَمْرو بن وَاثِلَة بِعُذْرِهِ فِي ذَلِك وَلَكِن يصيبك كَقَوْل عبيد حَيْثُ يَقُول

(فَإِن قتلت فَلَا تطلب بثائرتي … وان مَرضت فَلَا الزمك عوادي)

(فَقَالَ الْقَوْم اقتله يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ فقد اجلى نَفسه

فَقَالَ كلا قد جعلت لَهُ الْأمان أخرجه ايها الْحَاجِب قَالَ الْهَيْثَم بن عدي وَأدْخل من بعده هانىء بن عُرْوَة فَلَمَّا دخل قَالَ لَهُ مُعَاوِيَة أَنْت المائل علينا مَعَ عَليّ بن أبي طَالب الْعَدو الْمُحَارب الْخَارِج علينا فِي جمَاعَة الْمُسلمين يَوْم صفّين

فَقَالَ هانىء بن عُرْوَة أما خروجي عَلَيْك يَا بن هِنْد فإنني غير معتذر مِنْك وَلَو كنت مبارزي يَوْم صفّين لقد كنت ايتم مِنْك هَذَا الْمجْلس وَكَذَلِكَ هَؤُلَاءِ الْجُلُوس لَو انهم بارزوا لأعولت عَلَيْهِم نِسَاؤُهُم فِي جملَة المعولات وَإِنَّمَا تربصت بِنَفْسِك عَن أَن تلْحق الْكِرَام فوَاللَّه مَا أَحْبَبْنَاك مُنْذُ عرفناك ويروي مُنْذُ ابغضناك وَلَا قلبنا السيوف الَّتِي فِيهَا جالدناك وَإِنَّهَا لحداد
অতঃপর আমর ইবন ওয়াছিলা তার সেই ওজরের বিষয়ে তাকে বললেন, কিন্তু আপনার ক্ষেত্রে উবাইদের সেই উক্তির মতোই হবে যেখানে সে বলেছিল:

(যদি আমি নিহত হই তবে আমার রক্তের প্রতিশোধ প্রার্থনা করো না … আর যদি আমি অসুস্থ হই তবে আমার সেবাকারীদের তোমার কাছে আসতে বাধ্য করব না)

(অতঃপর উপস্থিত লোকেরা বলল: হে আমিরুল মুমিনিন, তাকে হত্যা করুন, কারণ সে নিজেই নিজেকে প্রকাশ করে দিয়েছে (অর্থাৎ অপরাধ স্বীকার করেছে)।

তিনি বললেন: কক্ষনোই না, আমি তাকে নিরাপত্তা দান করেছি। হে দ্বাররক্ষী, তাকে বের করে দাও। আল-হাইছাম ইবন আদি বলেন, এরপর হানি ইবন উরওয়াহকে ভেতরে আনা হলো। তিনি যখন প্রবেশ করলেন, মুয়াবিয়া তাকে বললেন: তুমিই কি সেই ব্যক্তি যে আলী ইবন আবি তালিবের সাথে মিলে আমাদের বিরুদ্ধে ঝুঁকেছিলে? তুমি ছিলে সেই শত্রু যোদ্ধা যে সিফফিনের দিনে মুসলিম জামাতের বিরুদ্ধে আমাদের ওপর আক্রমণাত্মক হয়ে বেরিয়ে এসেছিল?

হানি ইবন উরওয়াহ বললেন: হে হিন্দের পুত্র! তোমার বিরুদ্ধে আমার বেরিয়ে আসার ব্যাপারে আমি তোমার কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করছি না। সিফফিনের দিন যদি তুমি আমার সাথে দ্বন্দ্বযুদ্ধে অবতীর্ণ হতে, তবে এই মজলিস আজ তোমার থেকে শূন্য থাকত। তেমনিভাবে এখানে যারা বসে আছে, তারাও যদি দ্বন্দ্বযুদ্ধে আসত, তবে বিলাপকারিনীদের ভিড়ে তাদের স্ত্রীরাও বিলাপ করত। তুমি কেবল সম্মানিত ব্যক্তিদের মোকাবিলা করা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রেখেছিলে। আল্লাহর কসম, তোমাকে চেনার পর থেকে আমরা তোমাকে কখনো ভালোবাসিনি—বর্ণিত আছে: যেদিন থেকে আমরা তোমাকে ঘৃণা করেছি—আর যে তলোয়ার দিয়ে আমরা তোমার মোকাবিলা করেছি, তা আমরা কোষবদ্ধ করিনি, এবং সেগুলো এখনও অত্যন্ত ধারালো।
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদিনি মিনার রিজালি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ২৯)
بأيدي أنَاس شَدَّاد وَإِن نصر الله لينزل علينا وَإِنَّا لنعرف ايادي الله عز وجل علينا

فَقَالَ لَهُ مُعَاوِيَة اتأكل المستحسن لرعايتك والمضمر لكفايتك فَمَا حَاجَتك قَالَ إِن تتركني كفاف لَا تُعْطِينِي وَلَا تطمع فِي وصالي وَإِن تأيس فِي مودتي وإنني من الله كافيات نعمتي وَأَنا اشكر الله على نعْمَته وعَلى مَا أولاني من أهل وَولد وَمَال وَكَثْرَة عشيرة

فَقَالَ أَنا أفعل ذَلِك إِن شَاءَ الله تَعَالَى ثمَّ قَالَ للحاجب اخرجه فَأخْرجهُ وَتقدم إِلَى الوافدين من أهل الْبَصْرَة إِن يدْخل وَاحِد بعد وَاحِد قَالَ الْهَيْثَم بن عدي دخل من بعد أهل الْكُوفَة صعصعة بن صوحان الْعَبْدي وَكَانَ من جملَة الْبَصرِيين الوافدين فَلَمَّا دخل عَلَيْهِ وَرَأى الرِّجَال عَلَيْهِم السِّلَاح قَالَ لَا إِلَه إِلَّا الله سُبْحَانَ الله وَالله اكبر

فَالْتَفت مُعَاوِيَة يَمِينا وَشمَالًا فَلم ير مَا يكرههُ فَقَالَ يَا بن صوحان مَا اظنك تعرف الله تَعَالَى
কঠোর একদল মানুষের হাতে, আর নিশ্চয়ই আল্লাহর সাহায্য আমাদের ওপর নাযিল হয় এবং আমরা আমাদের ওপর মহান আল্লাহর হাতসমূহ সম্পর্কে জানি।

অতঃপর মুআবিয়া তাকে বললেন, "তুমি কি তোমার দেখাশোনা ও তোমার পর্যাপ্ততার জন্য বরাদ্দকৃত উত্তম বস্তুসমূহ ভক্ষণ করো? তবে তোমার প্রয়োজন কী?" তিনি বললেন, "আপনি আমাকে আমার অবস্থায় ছেড়ে দিন, আমাকে কিছু দেবেন না এবং আমার সংশ্রবের লোভ করবেন না, আর আমার বন্ধুত্বের ব্যাপারে নিরাশ হোন। নিশ্চয়ই আল্লাহর পক্ষ থেকে আমার জন্য নেয়ামতসমূহ পর্যাপ্ত, আর আমি আল্লাহর নেয়ামতের জন্য এবং তিনি আমাকে পরিবার, সন্তান, সম্পদ ও বিশাল আত্মীয়গোষ্ঠী যা কিছু দান করেছেন তার জন্য তাঁর শুকরিয়া আদায় করি।"

তিনি (মুআবিয়া) বললেন, "আল্লাহ তাআলা চাইলে আমি তাই করব।" অতঃপর তিনি দ্বাররক্ষীকে বললেন, "তাকে বের করে দাও।" ফলে সে তাকে বের করে দিল। এরপর তিনি বসরার প্রতিনিধিদের নির্দেশ দিলেন যেন তারা একে একে প্রবেশ করে। হাইসাম ইবনে আদি বলেন, "কুফাবাসীদের পর সা'সা'আ ইবনে সাওহান আল-আবদি প্রবেশ করলেন, তিনি বসরার প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। যখন তিনি তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন এবং দেখলেন যে পুরুষদের সাথে অস্ত্র রয়েছে, তখন তিনি বললেন, 'আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আল্লাহ পবিত্র এবং আল্লাহ মহান'।"

তখন মুআবিয়া ডানে ও বামে তাকালেন কিন্তু অপছন্দনীয় কিছু দেখতে পেলেন না। অতঃপর তিনি বললেন, "হে ইবনে সাওহান, আমার মনে হয় না যে তুমি আল্লাহ তাআলাকে চেনো।"
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদিনি মিনার রিজালি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ৩০)
قَالَ بلَى انه رَبِّي وَرب آبَائِي الْأَوَّلين يحيي وَيُمِيت وَهُوَ بالمرصاد كَبِير متعال وَمن وَرَاء الْعباد فَقَالَ مُعَاوِيَة كنت أحب ان اراك فِي هَذَا الْمقَام حَتَّى يصيبك ظفر من أظفاري اهدي بِهِ نَفسِي مِمَّا تَجدهُ مِنْك وَمن مرارات أدخلتها بكلامك وَصدق قتالك يَوْم صفّين على قلبِي وَلَقَد كنت أتوقع عذرك يصلني مَعَ الترغيبات الَّتِي رغبتك عل اني اقامسك شطر قلبِي فَمَا فعلت

فَقَالَ لَهُ صعصعة وَكَذَلِكَ كنت أَنا أَقُول ان لَا تقعد هَذِه الْقعدَة وَلَا وَلَا تستعير هَذِه الْعَارِية وَلَقَد فرحت لَك لِأَنَّهُ مقَام يورثك النَّار فِي لظى الخلود السرمد وَقد كنت أحب ان لَا احييك بِهَذِهِ التَّحِيَّة حَتَّى تفي مقادير الله تَعَالَى فِيك وَأما قَوْلك لَو عذرت لقاسمتك شطر دولتك فَإِن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لوفائي لَهُ وحفظي وَصيته وتلزمي بسنته فَيكون أَمْرِي فِي دولته ومملكته كأمره وَمَا عِنْد الله خير وابقى للابرار

فَالْتَفت مُعَاوِيَة إِلَى عَمْرو بن الْعَاصِ وَقَالَ لَهُ أوسع لخالك حَتَّى يجلس إِلَى جَنْبك فَقَالَ عَمْرو لَا أوسع لَهُ انه ترابي فَقَالَ صعصعة أجل وَالله من التُّرَاب خلقت وَإِلَيْهِ أَعُود وَمِنْه أبْعث وانك يَا بن الْعَاصِ نَارِي من النَّار خلقت وإليها تعود فَضَحِك مُعَاوِيَة حَتَّى اسْتلْقى على صفحته ثمَّ عَاد فَقعدَ وَقَالَ يَا بن
তিনি বললেন, "অবশ্যই, তিনি আমার প্রতিপালক এবং আমার পূর্বপুরুষদের প্রতিপালক; তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান, তিনি সতর্ক পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত, তিনি মহান, সুউচ্চ এবং বান্দাদের অন্তরালে অবস্থিত।" মুয়াবিয়া বললেন, "আমি তোমাকে এই অবস্থানে দেখতে চেয়েছিলাম যাতে আমার নখসমূহের একটি নখ তোমাকে বিদ্ধ করতে পারে, যার মাধ্যমে আমি নিজের আত্মাকে সেই দুঃখ থেকে সান্ত্বনা দিতে পারি যা তোমার থেকে প্রাপ্ত এবং তোমার কথা ও সিফফিনের যুদ্ধের দিন তোমার কঠোর লড়াইয়ের কারণে আমার হৃদয়ে যে তিক্ততা প্রবেশ করেছে তা থেকে মুক্তি পেতে পারি। আমি আশা করেছিলাম যে তোমার ওজর বা কৈফিয়ত আমার কাছে পৌঁছাবে সেই সব প্রলোভনের সাথে যা আমি তোমাকে দিয়েছিলাম, যাতে সম্ভবত আমি আমার হৃদয়ের অর্ধেক তোমার সাথে ভাগ করে নিতে পারি, কিন্তু তুমি তা করোনি।"

সা'সা'আ তাকে বললেন, "আমিও তেমনই বলতাম যে, তুমি এই আসনে বসবে না এবং এই ধার করা বস্তু গ্রহণ করবে না। আমি তোমার জন্য আনন্দিত কারণ এটি এমন এক অবস্থান যা তোমাকে চিরস্থায়ী লেলিহান আগুনের উত্তরাধিকারী করবে। আমি পছন্দ করতাম যে তোমাকে এই অভিবাদন না জানাই যতক্ষণ না তোমার ব্যাপারে মহান আল্লাহর ফয়সালা পূর্ণ হয়। আর তোমার এই কথা যে—যদি আমি ওজর পেশ করতাম তবে তুমি তোমার রাজ্যের অর্ধেক আমার সাথে ভাগ করে নিতে—তবে জেনে রাখো, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি আমার আনুগত্য, তাঁর অসিয়তের হিফাযত এবং তাঁর সুন্নতের পাবন্দির কারণে তাঁর রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্যে আমার বিষয়টি হতো তাঁর নির্দেশের মতোই; আর আল্লাহর কাছে যা রয়েছে তা নেককারদের জন্য সর্বোত্তম ও চিরস্থায়ী।"

অতঃপর মুয়াবিয়া আমর ইবনুল আসের দিকে ফিরে বললেন, "তোমার মামার জন্য জায়গা প্রশস্ত করো যাতে সে তোমার পাশে বসতে পারে।" আমর বললেন, "আমি তার জন্য জায়গা প্রশস্ত করব না, সে একজন তুরাবি।" সা'সা'আ বললেন, "হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! আমি মাটি থেকেই সৃষ্টি হয়েছি, সেখানেই ফিরে যাব এবং সেখান থেকেই পুনরুত্থিত হব। আর হে আস-এর পুত্র! তুমি হলে আগুনের তৈরি, আগুন থেকেই তুমি সৃষ্টি হয়েছ এবং আগুনেই তুমি ফিরে যাবে।" তখন মুয়াবিয়া এমনভাবে হাসলেন যে তিনি চিৎ হয়ে পড়ে গেলেন, তারপর পুনরায় উঠে বসলেন এবং বললেন, "হে..."
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদিনি মিনার রিজালি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ৩১)
صوحان انما انت تهزل بلسانك وتفرح سلطانك وَمَا تنظر فِي الْأُمُور وَالْأَيَّام ونوادر الْكَلَام وَالله لقد هَمَمْت ان احملك خطب الْعرَاق فَقَالَ وَالله لَو رمت ذَلِك لغزوتك فِي مائَة أَمْرَد على مائَة ألف اجرد فَامْتَلَأَ مُعَاوِيَة غيظا واطرق طَويلا وَرفع رَأسه وَقَالَ لقد اكرم الله قُريْشًا اذ يَقُول لنَبيه مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم {وَإنَّهُ لذكر لَك ولقومك وسوف تسْأَلُون} فَقَالَ لَهُ صعصعة وَمَا قَالَ الله {وَكذب بِهِ قَوْمك وَهُوَ الْحق} أما القَوْل الأول فلرسول الله ولقومه من قرَابَته وَذريته وَأما القَوْل الثَّانِي فلك ولقومك وَمن شاكلهم

فَقَالَ مُعَاوِيَة قَاتلك الله لقد غلبتني سكت لَا أم لَك فَمَا أعجل جوابك واصعب خطابك مَا اظنك منتهيا حَتَّى افرق بَين روحك وجسدك قَالَ لَهُ صعصعة لَيْسَ ذَلِك اليك انما ذَلِك بيد من لَا يُؤَخر نفسا إِذا جَاءَ أجلهَا

فَقَالَ لَهُ مُعَاوِيَة لقد فقهكم عَليّ بن أبي طَالب عليه السلام مَا تركْتُم حجَّة فَلَنْ تطاقوا وَلَوْلَا أنني لم اجرع بجرعة افضل من جرعة غيظ لم أمكنك من الْحَيَاة
সুহান, তুমি কেবল তোমার জিহ্বা দিয়ে উপহাস করছ এবং তোমার সুলতানকে খুশি করছ। তুমি ঘটনাবলি, মহাকাল ও বাক্যের গূঢ় রহস্য অনুধাবন কর না। আল্লাহর কসম, আমি সংকল্প করেছিলাম যে তোমাকে ইরাকের যাবতীয় সংকট মোকাবিলা করার ভার দেব। তিনি বললেন, আল্লাহর কসম, আপনি যদি তা করার ইচ্ছা করতেন, তবে আমি এক লক্ষ দ্রুতগামী অশ্বারোহীর পিঠে একশত কিশোর যোদ্ধা নিয়ে আপনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতাম। এতে মুয়াবিয়া রাগে ফেটে পড়লেন এবং দীর্ঘক্ষণ মাথা নিচু করে রইলেন। এরপর মাথা তুলে বললেন, আল্লাহ কুরাইশদের সম্মানিত করেছেন যখন তিনি তাঁর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে লক্ষ্য করে বলেছেন: "আর নিশ্চয়ই এটি (কুরআন) আপনার জন্য ও আপনার জাতির জন্য এক মহাসম্মান এবং অচিরেই তোমাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।" তখন সা’সা’আ তাকে বললেন, আর আল্লাহ কি তা-ই বলেননি: "আপনার জাতি একে (কুরআনকে) অস্বীকার করেছে অথচ তা ধ্রুব সত্য।" প্রথম উক্তিটি তো আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর আত্মীয়-স্বজন ও বংশধরদের জন্য; আর দ্বিতীয় উক্তিটি আপনার জন্য, আপনার জাতির জন্য এবং যারা তাদের সদৃশ তাদের জন্য।

মুয়াবিয়া বললেন, আল্লাহ তোমাকে ধ্বংস করুন! তুমি আমাকে পরাস্ত করেছ; চুপ থাক, তোমার মা যেন তোমাকে হারিয়ে ফেলে! তোমার জবাব কতই না দ্রুত এবং তোমার বক্তব্য কতই না কঠোর! আমার মনে হয় না যে তুমি থামবে, যতক্ষণ না আমি তোমার আত্মা ও দেহের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটাই। সা’সা’আ তাকে বললেন, তা আপনার এখতিয়ারে নেই; বরং তা আল্লাহর হাতে, যিনি কোনো প্রাণকেই অবকাশ দেন না যখন তার নির্ধারিত সময় উপস্থিত হয়।

মুয়াবিয়া তাকে বললেন, আলী বিন আবি তালিব (আলাইহিস সালাম) তোমাদেরকে এমন গভীর জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছেন যে তোমরা কোনো যুক্তিই অবশিষ্ট রাখোনি, তাই তোমাদের মোকাবিলা করা দুঃসাধ্য। আর যদি এমন না হতো যে, ক্রোধ সংবরণ করার ঢোকের চেয়ে উত্তম কোনো পানীয় আমি পান করিনি, তবে আমি তোমাকে বেঁচে থাকার সুযোগ দিতাম না।
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদিনি মিনার রিজালি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ৩২)
ثمَّ ان مُعَاوِيَة قَالَ

(عَفَوْت عَن جهلهم حلما وتكرمة … والحلم عَن قدرَة فضل من الْكَرم)

فَقَالَ لحاجبه اخرجه وَأدْخل من بعده الْأَحْنَف بن قيس

فَمَا دخل الْأَحْنَف بن قيس على قَالَ لَهُ مُعَاوِيَة أَنْت المطلع علينا بالغدر والناظر فِي عطفيه شزرا انت الَّذِي مَرضت نَفسك بالغرور وقدمت على مفظعات الْأُمُور مَعَ إعانتك عَليّ بن أبي طَالب وجلادك إيَّايَ اجلابك عَليّ الْخَيل وَالرجل يَوْم صفّين وتحملك على أهل الشَّام بقوائم السيوف وَطول الرماح
অতঃপর মুআবিয়া বললেন

(আমি তাদের মূর্খতাকে ক্ষমা করেছি সহিষ্ণুতা ও মহানুভবতাবশত … আর সামর্থ্য থাকা অবস্থায় ধৈর্য ধারণ করা শ্রেষ্ঠতম উদারতা)

অতঃপর তিনি তাঁর দ্বাররক্ষীকে বললেন, তাকে বের করে দাও এবং এর পর আহনাফ ইবনে কাইসকে প্রবেশ করাও।

অতঃপর যখন আহনাফ ইবনে কাইস তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন, মুআবিয়া তাঁকে বললেন: তুমিই কি সেই ব্যক্তি যে আমাদের নিকট বিশ্বাসঘাতকতা নিয়ে উপস্থিত হয়েছ এবং অবজ্ঞার সাথে নিজের দুই পার্শ্বের দিকে দৃষ্টিপাত করছ? তুমিই সেই ব্যক্তি যে নিজের নফসকে অহংকারে কলুষিত করেছ এবং জঘন্য বিষয়গুলোতে লিপ্ত হয়েছ। এর পাশাপাশি তুমি আলী ইবনে আবি তালিবকে সহায়তা করেছ এবং আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছ। তুমিই সিফফিনের দিনে আমার বিরুদ্ধে অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনীকে সমবেত করেছিলে এবং তরবারির হাতল ও দীর্ঘ বল্লম নিয়ে শামের অধিবাসীদের ওপর আক্রমণ চালিয়েছিলে।
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদিনি মিনার রিজালি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ৩৩)
فَقَالَ الْأَحْنَف مَه يَا مُعَاوِيَة فَإِن لي مثل مَا أعرف وَمَا لَا أعرف فَإِن شِئْت ذكرتك مَا تعرف وأوضحت لَك مَا لَا تعرف وَأما قَوْلك اعنت أَمِير الْمُؤمنِينَ وأجلبت يَوْم صفّين الْخُيُول وَالرِّجَال فَأنْتم وَالله معاشر قُرَيْش قتلتم أميركم وجررتم افلاذه وَالدَّار منا نازحة عَنهُ وقطعتم رَحمَه وسفكتم دَمه ثمَّ إِنَّكُم ألزمتمونا دَمه فوَاللَّه إِن الْقُلُوب الَّتِي أبغضناك بهَا لبين جوارحنا وَإِن السيوف الَّتِي جالدناك بهَا لفي أعناقنا حمائلها وبأيدينا قَوَائِمهَا وإيم وَالله مَا تَدْنُو بباع من الْغدر إِلَّا دنونا مِنْهُ بباع من الختر وَإِن شِئْت لتصفين قُلُوبنَا بِحِلْمِك

فَقَالَ مُعَاوِيَة إِنِّي لفاعل ذَلِك ثمَّ قَالَ للحاجب أخرجه فَأخْرجهُ قَالَ الْهَيْثَم وَأدْخل من بعده خَالِد بن معمر السدُوسِي فَلَمَّا دخل قَالَ لَهُ مُعَاوِيَة يَا خَالِد لقد رايناك تضرب أهل الشَّام بسيفك وانت على فرسك الْأَشْقَر العالي فَقَالَ لَهُ خَالِد وَالله مَا أَصبَحت على مَا كَانَ
তখন আল-আহনাফ বললেন, “হে মুয়াবিয়া! থামুন। আমার কাছে এমন বিষয় রয়েছে যা আমি জানি এবং যা জানি না। আপনি যদি চান তবে আমি আপনাকে যা জানেন তা স্মরণ করিয়ে দেব এবং যা জানেন না তা আপনার কাছে স্পষ্ট করে দেব। আর আপনার এই বক্তব্য যে, আমি আমীরুল মুমিনীনকে সাহায্য করেছি এবং সিফফিনের যুদ্ধে ঘোড়া ও পদাতিক বাহিনী সমাবেশ করেছি—আল্লাহর শপথ, হে কুরাইশ দল! তোমরাই তোমাদের নেতাকে হত্যা করেছ এবং তার সন্তানদের টেনে এনেছ, অথচ আমাদের বসতি তার থেকে দূরে ছিল। তোমরাই তার আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করেছ এবং তার রক্ত প্রবাহিত করেছ। অতঃপর তোমরাই তার রক্তের দায়ভার আমাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছ। আল্লাহর শপথ, যে অন্তরসমূহ দিয়ে আমরা আপনাদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করতাম, তা আমাদের পাঁজরের ভেতরেই রয়ে গেছে। আর যে তলোয়ারসমূহ দিয়ে আমরা আপনাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, সেগুলোর ঝোলা আমাদের ঘাড়েই আছে এবং সেগুলোর মুষ্টি আমাদের হাতেই রয়েছে। আল্লাহর শপথ, আপনি যদি বিশ্বাসঘাতকতার দিকে এক হাত এগিয়ে আসেন, তবে আমরাও প্রবঞ্চনার দিকে এক হাত অগ্রসর হব। আর আপনি যদি চান, তবে আপনার সহনশীলতার মাধ্যমে আমাদের অন্তরসমূহকে স্বচ্ছ করতে পারেন।”

মুয়াবিয়া বললেন, “নিশ্চয়ই আমি তা করব।” অতঃপর তিনি দ্বাররক্ষীকে বললেন, “তাকে বের করে দাও।” সুতরাং সে তাকে বের করে দিল। আল-হাইসাম বলেন, তার পরে খালিদ ইবনে মুয়াম্মার আস-সাদুসীকে প্রবেশ করানো হলো। যখন তিনি প্রবেশ করলেন, মুয়াবিয়া তাকে বললেন, “হে খালিদ! আমরা তোমাকে দেখেছিলাম যে, তুমি তোমার উঁচু লালচে বর্ণের ঘোড়ায় চড়ে তোমার তলোয়ার দিয়ে সিরিয়াবাসীদের আঘাত করছিলে।” তখন খালিদ তাকে বললেন, “আল্লাহর শপথ, আগে যা ছিল আমি এখন আর তার ওপর নেই।”
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদিনি মিনার রিজালি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ৩৪)
مني نَادِما وَلَا على مَا فعلته مصارما وَإِنِّي أعيذ نَفسِي وَأَنا على ذَلِك مُقيم وَالله الْمُسْتَعَان على قُوَّة الظَّالِمين فَقَالَ مُعَاوِيَة مَا علمت يَا خَالِد مَا نذرت أَن أفعل فِي قَوْمك قَالَ لَا قَالَ إِنِّي نذرت اقْتُل مقاتلهم وَسبي ذَرَارِيهمْ وأفرق بَين الْأُمَّهَات وَأَوْلَادهَا ثمَّ ثنى عزمي بيع الخلب قَالَ لَهُ خَالِد عملت مَا علمت فِي ذَلِك قَالَ مُعَاوِيَة لَا قَالَ خَالِد فاسمع مَا أَقُول

(يروم ابْن حَرْب نَذره فِي نسائنا … وَدون الَّذِي يَنْوِي سيوف قواضب)

(وَسمر يحلونَ الْعَوَاتِق تبتغي … سوى بَعْلهَا بعلا فتبكي العرائب)

(فَإِن كنت لَا تُعْطِي على الْحِنْث فاعترف … بِحَرب تحامتها اللحى والتراتب)

فَقَالَ مُعَاوِيَة أَنا نعطيك على الْحِنْث قَالَ خَالِد اغمدنا سُيُوفنَا وأصفيناك مودتنا ثمَّ قَالَ لحاجبه أخرجه فَأخْرجهُ
...আমার পক্ষ থেকে অনুতপ্ত হয়ে নয় এবং আমি যা করেছি তার জন্য সম্পর্ক ছিন্নকারী হয়েও নয়। আমি এর ওপর অটল থাকা অবস্থায় নিজের জন্য আশ্রয় প্রার্থনা করছি। জালেমদের শক্তির বিরুদ্ধে আল্লাহই একমাত্র সাহায্যস্থল। তখন মুয়াবিয়া বললেন, "হে খালিদ, আমি তোমার কওমের ব্যাপারে কী করার মানত করেছি তা কি তুমি জানো?" তিনি বললেন, "না।" মুয়াবিয়া বললেন, "আমি মানত করেছিলাম যে, আমি তাদের যোদ্ধাদের হত্যা করব, তাদের সন্তানদের বন্দি করব এবং মা ও সন্তানদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাব। অতঃপর ধূর্ততা আমার সংকল্পকে ফিরিয়ে দিয়েছে।" খালিদ তাকে বললেন, "আমি এ বিষয়ে যা জানি আপনি কি তা জানেন?" মুয়াবিয়া বললেন, "না।" খালিদ বললেন, "তবে আমি যা বলছি তা শুনুন:"

(ইবনে হারব আমাদের নারীদের ব্যাপারে তার মানত পূর্ণ করতে চায় … অথচ তার সংকল্পের পথে বাধা হয়ে আছে ধারালো তলোয়ারসমূহ)

(এবং এমন সব বল্লম যা ঘাড়ের ওপর বিদীর্ণ হয়; সুন্দরী নারীরা তাদের স্বামী ছাড়া অন্য স্বামী কামনা করে না, ফলে তারা বিলাপ করে কান্নাকাটি করে)

(যদি আপনি মানত ভঙ্গের জন্য কিছু প্রদান না করেন, তবে এমন যুদ্ধের মুখোমুখি হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে নিন যা থেকে অভিজ্ঞ ও সম্মানিত ব্যক্তিরাও দূরে থাকে)

তখন মুয়াবিয়া বললেন, "আমি মানত ভঙ্গের জন্য কাফফারা প্রদান করব।" খালিদ বললেন, "তবে আমরা আমাদের তলোয়ারগুলো কোষবদ্ধ করলাম এবং আপনার জন্য আমাদের ভালোবাসাকে একনিষ্ঠ করলাম।" এরপর তিনি তার দ্বাররক্ষীকে বললেন, "তাকে বের করে দাও।" অতঃপর সে তাকে বের করে নিয়ে গেল।
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদিনি মিনার রিজালি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ৩৫)
قَالَ الْهَيْثَم بن عدي وَأدْخل من بعده جَارِيَة بن قدامَة فَدخل وَسلم

فَقَالَ لَهُ مُعَاوِيَة ماعسيت ان تبلغ هَل انت إِلَّا نحلة ضَعِيفَة الْبدن ضيقَة الْبَهَاء

فَقَالَ جَارِيَة وَالله لقد شعبتني بِشَهْوَة النطاف والحامية اللسعة وانت بِمَنْزِلَة الْكِير تحرق وتحيف وَلَا تطيب وَمَا انت بِطيب

فَقَالَ مُعَاوِيَة انت الشاهر علينا سيف صفّين فِي بني سعد بن زيد مَنَاة تمنيهم الْفِتَن وتحملهم على مُقَدمَات الْأجر مَعَ قَتلك أَمِير الْمُؤمنِينَ عُثْمَان وخذلانك أم الْمُؤمنِينَ عَائِشَة فَقَالَ جَارِيَة قد كَانَ ذَلِك وَمَا أَنا بمعتذر مِنْهُ وَأما اسْمِي فَخير من اسْمك

قَالَ مُعَاوِيَة وَكَيف ذَلِك قَالَ لِأَن الْجَارِيَة لَا يكون إِلَّا من قُرَيْش أَو من اقيال الْعَرَب وَمُعَاوِيَة لَا يكون إِلَّا من آثَار الضبع وَأما مَا ذكرت من
হাইসাম ইবনে আদি বলেন: এর পরে জারিয়া ইবনে কুদামাহকে প্রবেশ করানো হলো। তিনি প্রবেশ করে সালাম দিলেন।

মুয়াবিয়া তাকে বললেন, "তুমি আর কতটুকুই বা পৌঁছাতে পারবে? তুমি তো কেবল একটি মৌমাছি, যার শরীর দুর্বল এবং জৌলুস সংকীর্ণ।"

জারিয়া বললেন, "আল্লাহর কসম, আপনি আমাকে বীর্য এবং দংশনকারী হুলের কামনার সাথে তুলনা করেছেন, অথচ আপনি তো কামারের হাপরের মতো; যা পুড়িয়ে দেয় এবং জরাজীর্ণ করে, যার কোনো সুগন্ধ নেই এবং আপনি নিজেও সুগন্ধময় নন।"

মুয়াবিয়া বললেন, "তুমিই তো বনু সা’দ ইবনে যায়েদ মানাতের মাঝে আমাদের বিরুদ্ধে সিফফীনের তরবারি কোষমুক্ত করেছিলে; তুমি তাদেরকে ফিতনার প্রলোভন দেখাতে এবং আমিরুল মুমিনীন উসমানের হত্যাকাণ্ড ও উম্মুল মুমিনীন আয়েশাকে অপদস্থ করার পাশাপাশি তাদেরকে পরকালীন প্রতিদানের মোহে পরিচালিত করতে।" জারিয়া বললেন, "তা ঘটেছিল এবং আমি তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী নই। আর আমার নাম তো আপনার নামের চেয়ে উত্তম।"

মুয়াবিয়া বললেন, "তা কীভাবে?" তিনি বললেন, "কারণ 'জারিয়া' তো কেবল কুরাইশ অথবা আরবের রাজন্যবর্গের মধ্যেই হয়ে থাকে, আর 'মুয়াবিয়া' তো কেবল হায়েনার ডাকের অবশিষ্টাংশ। আর আপনি যা উল্লেখ করেছেন..."
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদিনি মিনার রিজালি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ৩৬)
أَمر أَمِير الْمُؤمنِينَ فَأَنت وَبَنُو عَمْرو بن أُميَّة خذلتموه وقتلتموه ودارنا نازحة عَنهُ وَأما قَوْلك فِي أم الْمُؤمنِينَ عَائِشَة فَإنَّا نَظرنَا فِي كتاب الله فَلم نجد لَهَا حَقًا فِيمَا ادَّعَت تلزمنا الطَّاعَة لَهَا لَان قعودها فِي بَيتهَا وطاعتها لِرَبِّهَا كَانَ اجدر بهَا فَلَمَّا أَلْقَت جلابيب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم عَن وَجههَا بَطل بذلك مَا كَانَ لَهَا علينا من حق وَأما مَا ذكرت من حَال يَوْم صفّين وانما ذَلِك حَيْثُ أردْت ان تقطع اعناقنا وَلم تنظر فِي عَاقِبَة وَلم تخف جَائِحَة فقدمنا عَلَيْك بِالْخَيْلِ مَعَ خير النَّاس وأورعهم وافضلهم علما واعظمهم حلما وَمَا اتيناك إِلَّا وَقد تحققنا انخلاعك عَن الْإِسْلَام فقدمنا على جلادك على البصيرة وانت تطلب جلادنا على الغروروالعمى فَمَا شِئْت فافعل وان أردْت يَوْمًا مثل ذَلِك فخيلنا معدة ورماحنا محدة

فاغتاظ مِنْهُ وَقَالَ للحاجب اخرجه من بَين يَدي فَأخْرجهُ قَالَ الْهَيْثَم بن عدي وَأدْخل من بعده شريك الْأَعْوَر وَسلم عَلَيْهِ بالإمارة وَكَانَ شريك قَصِيرا فَقَالَ لَهُ مُعَاوِيَة مَا انت وَيحك قَالَ أَنا من لَا تنكره وَلَا تجهله أَنا شريك الْحَارِثِيّ فَقَالَ لَهُ مُعَاوِيَة انك لِشَرِيك وَالله مَا لَهُ شريك وَإنَّك لاعور وَالصَّحِيح خير من الْأَعْوَر فَكيف سدت قَوْمك فَقَالَ شريك يَا مُعَاوِيَة انك لمعاوية وَمَا مُعَاوِيَة إِلَّا كلبة عوت واستعوت وانك لِابْنِ صَخْر والسهل خير من الصخر وانك ابْن حَرْب
আমীরুল মুমিনীনের বিষয়টি হলো—আপনি এবং বনী আমর ইবনে উমাইয়া তাঁকে লাঞ্ছিত করেছেন ও হত্যা করেছেন, অথচ আমাদের ঘরবাড়ি ছিল তাঁর থেকে অনেক দূরে। আর উম্মুল মুমিনীন আয়িশা সম্পর্কে আপনার বক্তব্যের ব্যাপারে আমরা আল্লাহর কিতাব অনুসন্ধান করেছি, কিন্তু তাঁর দাবিকৃত বিষয়ের সপক্ষে এমন কোনো হক পাইনি যা আমাদের ওপর তাঁর আনুগত্যকে আবশ্যক করে। কারণ, তাঁর নিজ গৃহে অবস্থান করা এবং নিজ রবের আনুগত্য করাই ছিল তাঁর জন্য অধিকতর সমীচীন। কিন্তু যখন তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাদরসমূহ নিজের চেহারা থেকে সরিয়ে দিলেন, তখন আমাদের ওপর তাঁর প্রাপ্য অধিকার বাতিল হয়ে গেল। আর সিফফীনের যুদ্ধের যে পরিস্থিতির কথা আপনি উল্লেখ করেছেন, তা তো ছিল তখন যখন আপনি আমাদের গর্দান কাটার সংকল্প করেছিলেন এবং আপনি পরিণতির চিন্তা করেননি কিংবা কোনো ধ্বংসের ভয় করেননি। অতঃপর আমরা আপনার বিরুদ্ধে অশ্বারোহী বাহিনী নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলাম এমন এক ব্যক্তির সাথে, যিনি ছিলেন মানবকুলের শ্রেষ্ঠ, সর্বাধিক পরহেজগার, ইলমের দিক থেকে সবচেয়ে উত্তম এবং সহনশীলতায় সুমহান। আমরা আপনার কাছে তখনই এসেছি যখন আমরা আপনার ইসলাম থেকে বিচ্যুত হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছি। সুতরাং আমরা দূরদর্শিতার সাথে আপনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলাম, আর আপনি বিভ্রান্তি ও অন্ধত্বের ওপর থেকে আমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে চেয়েছিলেন। এখন আপনি যা ইচ্ছা করুন। যদি পুনরায় তেমন কোনো দিন (যুদ্ধ) চান, তবে আমাদের অশ্বারোহী বাহিনী প্রস্তুত এবং বর্শাগুলো সুতীক্ষ্ণ।

এতে তিনি ক্রুদ্ধ হলেন এবং দ্বাররক্ষীকে বললেন: তাকে আমার সামনে থেকে বের করে দাও। ফলে সে তাকে বের করে দিল। হাইসাম ইবনে আদী বলেন: এরপর শারীক আল-আওয়ারকে প্রবেশ করানো হলো এবং তিনি তাকে ইমারত (শাসন) সম্বোধন করে সালাম দিলেন। শারীক ছিলেন খাটো। মুয়াবিয়া তাঁকে বললেন: তোমার ধ্বংস হোক, তুমি কে? তিনি বললেন: আমি এমন এক ব্যক্তি যাকে আপনি অস্বীকার করতে পারবেন না এবং যাকে আপনার অজানা থাকার কথা নয়; আমি শারীক আল-হারিসী। মুয়াবিয়া তাঁকে বললেন: তোমার নাম তো শারীক (অংশীদার), অথচ আল্লাহর কোনো শরিক নেই। আর তুমি তো একচোখা, অথচ সুস্থ ব্যক্তি একচোখা ব্যক্তির চেয়ে উত্তম। তবে কীভাবে তুমি তোমার সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব পেলে? তখন শারীক বললেন: হে মুয়াবিয়া! আপনার নাম তো মুয়াবিয়া, আর মুয়াবিয়া তো সেই কুক্কুরী যা ঘেউ ঘেউ করে এবং অন্যদের ঘেউ ঘেউ করতে প্ররোচিত করে। আর আপনি তো সাখর (পাথর)-এর পুত্র, অথচ সমতল ভূমি পাথরের চেয়ে উত্তম। আর আপনি তো হারব (যুদ্ধ)-এর পুত্র।
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদিনি মিনার রিজালি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ৩৭)
وَالسّلم خير من الْحَرْب وانك ابْن أُميَّة وَمَا أُميَّة إِلَّا أمة صغرت فَكيف صرت أَمِير الْمُؤمنِينَ وَاعْلَم بِأَنِّي خلفت خَلْفي اذرعا شدادا ورجالا انجادا وَأَنا سيدهم اقيم بهَا عوجك ويقرى بهَا ضيفك ويعز بهَا الذَّلِيل ويذل بهَا الْعَزِيز

فَأمر بِإِخْرَاجِهِ فَأخْرج وَهُوَ يَقُول

(ايشتمني مُعَاوِيَة بن حَرْب … وسيفي صارم وَمَعِي لساني)

(وحولي من بني عمي لُيُوث … ضراغمة تهش إِلَى الطعان)

(يعيرني الدمامة من سفاه … وربات الخدود هِيَ الغواني)

(فَلَا تبسط لسَانك يَا بن حَرْب … علينا قد بلغت مدى الْأَمَانِي)

(فَإِن تَكُ للشقاء لنا أَمِيرا … فَإنَّا لَا نقر على الهوان … فان تَكُ فِي أُميَّة فِي ذراها … فَإِنِّي فِي بني عبد المدان)

(وَلَو اني بليت بهاشمي … خؤولته بَنو عبد المدان)

(لهان عَليّ مَا القى وَلَكِن … تَعَالَى وانظري بِمن ابتلاني)
যুদ্ধের চেয়ে শান্তি শ্রেয়। আর তুমি তো উমাইয়ার পুত্র, অথচ উমাইয়া একটি ক্ষুদ্র সম্প্রদায় ছাড়া কিছুই নয়; তাহলে তুমি কীভাবে আমিরুল মুমিনীন হলে? জেনে রেখো, আমি আমার পেছনে শক্তিশালী বাহু এবং বীর যোদ্ধাদের রেখে এসেছি যাদের নেতা আমি। তাদের দ্বারা আমি তোমার বক্রতা সংশোধন করব, তোমার মেহমানদারি করব, লাঞ্ছিতকে সম্মানিত করব এবং প্রতাপশালীকে অপদস্থ করব।

অতঃপর তাকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো। তখন সে বের হতে হতে বলতে লাগল:

(মুয়াবিয়া ইবনে হারব কি আমাকে গালি দিচ্ছে … অথচ আমার তরবারি অত্যন্ত ধারালো এবং আমার রসনা আমার সাথেই আছে)

(আমার চারপাশে আমার পিতৃব্য বংশীয় এমন সব সিংহ রয়েছে … যারা যুদ্ধের ময়দানে আঘাত হানতে ব্যাকুল থাকে)

(সে মূর্খতাবশত আমার শারীরিক কুশ্রীতা নিয়ে বিদ্রূপ করছে … অথচ লাবণ্যময়ী তো কেবল সুন্দরী রমণীরাই হয়ে থাকে)

(হে হারবের পুত্র! আমাদের বিরুদ্ধে নিজের রসনা প্রসারিত করো না … তুমি তো তোমার আকাঙ্ক্ষার চরম সীমায় পৌঁছে গেছ)

(দুর্ভাগ্যক্রমে যদি তুমি আমাদের আমির হয়েও থাকো … তবুও আমরা অপমানের ওপর স্থির থাকব না … আর তুমি যদি উমাইয়া বংশের উচ্চ শিখরেও আরোহণ করো … তবে আমি বনু আব্দুল মাদানের অন্তর্ভুক্ত)

(যদি আমি কোনো হাশেমী ব্যক্তির পরীক্ষার সম্মুখীন হতাম … যার মাতুল কুল হতো বনু আব্দুল মাদান)

(তবে আমি যা ভোগ করছি তা আমার কাছে সহনীয় হতো, কিন্তু … তুমি এসো এবং দেখে যাও আমি কার দ্বারা বিপদগ্রস্ত হয়েছি)
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদিনি মিনার রিজালি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ৩৮)
قَالَ ونهض وَدخل على أُخْته أم الحكم فَقَالَ لَهَا كَيفَ رَأَيْت يَا أختاه قَالَت مَا رَأَيْت أحدا هُوَ أذلّ مِنْك وَلَقَد هَمَمْت ان أخرج إِلَيْهِم لاجل مَا استخفوا بك وأوعدوك من المواعيد فَقَالَ لَهَا مُعَاوِيَة لَا تتحدثين مَا نلْت هَذَا الْأَمر إِلَّا بالحلم والرفق وَإِنَّمَا هَؤُلَاءِ نفر من شيعَة على بن أبي طَالب

ثمَّ أَمر بِأَن يخلع عَلَيْهِم وَأَجَازَهُمْ الجوائز السّنيَّة وردهم مكرمين إِلَى الْكُوفَة وَالْبَصْرَة

وَهَذَا مَا انْتهى إِلَيْنَا من حَدِيث الوافدين من أهل الْكُوفَة وَالْبَصْرَة على مُعَاوِيَة وَالْحَمْد لله رب الْعَالمين وَصلَاته على سيدنَا مُحَمَّد وَآله وَسلم تَسْلِيمًا
তিনি বললেন এবং উঠে দাঁড়ালেন এবং তাঁর বোন উম্মুল হাকামের নিকট প্রবেশ করলেন। অতঃপর তিনি তাকে বললেন, "হে বোন, আপনি কেমন দেখলেন?" তিনি বললেন, "আমি আপনার চেয়ে অধিক লাঞ্ছিত কাউকে দেখিনি। তারা আপনাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছে এবং আপনাকে নানারূপ হুমকি দিয়েছে, যার কারণে আমি তাদের কাছে বেরিয়ে যাওয়ার সংকল্প করেছিলাম।" অতঃপর মুয়াবিয়া তাকে বললেন, "এমন কথা বলবেন না। আমি ধৈর্য ও নম্রতা ছাড়া এই ক্ষমতা অর্জন করিনি। আর তারা তো কেবল আলী ইবনে আবি তালিবের একদল অনুসারী।"

অতঃপর তিনি নির্দেশ দিলেন যাতে তাদের সম্মানসূচক পোশাক পরিধান করানো হয় এবং তিনি তাদের মূল্যবান উপঢৌকন প্রদান করলেন। এরপর তিনি তাদের সসম্মানে কুফা ও বসরায় ফেরত পাঠালেন।

কুফা ও বসরাবাসীদের মধ্য থেকে যারা মুয়াবিয়ার নিকট আগমন করেছিলেন, তাদের বিবরণ সম্পর্কে আমাদের নিকট এতটুকুই পৌঁছেছে। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদিনি মিনার রিজালি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ৩৯)
‌‌الوافدون على مُعَاوِيَة من طَرِيق الْحَافِظ ابْن عَسَاكِر

أخبرنَا أَبُو بكر مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن عَليّ ابْنا مُحَمَّد بن عَليّ بن مُحَمَّد نَا احْمَد ابْن عبد الله بن الْخضر نَا احمدبن أبي طَالب حَدثنِي أبي عَليّ بن مُحَمَّد حَدثنِي مُحَمَّد بن مَرْوَان الْقرشِي اخبرني أَبُو عَمْرو عُثْمَان بن سعيد بن عَمْرو الْقرشِي حَدثنِي أبي قَالَ

دخلت جوَيْرِية بنت أبي سُفْيَان على اخيها مُعَاوِيَة تَشْكُو إِلَيْهِ الأرق فَقَالَ وَلم ذَاك يَا خية قَالَت أم وَالله انه لمن غير ألم وَمَا هُوَ إِلَّا تفكر فِيك وَفِي عَليّ بن أبي طَالب وتفضيل النَّاس عليا عَلَيْك وَأَنت ابْن صَخْر ابْن حَرْب ابْن أُميَّة وَكَانَ أُميَّة من قُرَيْش لنا بهَا الَّذِي تقضي عِنْده آرابها وَأَنت ابْن صَخْر بن حَرْب بن أُميَّة الْقَائِل الْفَاعِل ابْن مَاء المزن الحلاحل وانت بعد ذَلِك كَاتب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَذُو أصهره من أُميَّة ونجيبه من عترته

فَقَالَ مُعَاوِيَة فعلى عَليّ تعولين بالشرف وَهُوَ ابْن عبد
হাফেজ ইবনে আসাকিরের সূত্রে মুয়াবিয়া (রা.)-এর নিকট আগমনকারীদের বর্ণনা

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী, যিনি মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুহাম্মদের দুই পুত্রের একজন; আমাদের বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ বিন খিজর; আমাদের বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন আবি তালিব; আমার পিতা আলী বিন মুহাম্মদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন; মুহাম্মদ বিন মারওয়ান আল-কুরাশী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন; আবু আমর উসমান বিন সাঈদ বিন আমর আল-কুরাশী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন; আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

আবু সুফিয়ানের কন্যা জুয়াইরিয়া তার ভাই মুয়াবিয়ার নিকট প্রবেশ করলেন এবং তার কাছে অনিদ্রার অভিযোগ করলেন। তিনি বললেন, "হে বোন, কেন এমন হচ্ছে?" তিনি বললেন, "আল্লাহর কসম, এটি কোনো শারীরিক ব্যথার কারণে নয়; বরং এটি কেবল আপনার এবং আলী বিন আবি তালিব সম্পর্কে এবং মানুষের আপনার ওপর আলীকে প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়ে চিন্তার কারণে। অথচ আপনি হলেন সাখর বিন হারব বিন উমাইয়ার পুত্র। আর কুরাইশদের মধ্যে উমাইয়ার মর্যাদা এমন ছিল যে, যার মাধ্যমে তাদের সকল প্রয়োজন পূরণ করা হতো। আর আপনি সাখর বিন হারব বিন উমাইয়ার পুত্র, যিনি ছিলেন প্রজ্ঞাবান বক্তা ও কর্মবীর, যিনি বৃষ্টির স্বচ্ছ পানির ন্যায় নির্মল এবং মহৎ নেতা। তদুপরি আপনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওহী লেখক এবং বনু উমাইয়ার মধ্য থেকে তাঁর বৈবাহিক আত্মীয় ও তাঁর পরিজনের মধ্য থেকে তাঁর মনোনীত ব্যক্তি।"

তখন মুয়াবিয়া বললেন, "তুমি কি আলীর আভিজাত্যের ওপর নির্ভর করছ? অথচ তিনি হলেন আবদ..."
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদিনি মিনার রিজালি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ৪০)
الْمطلب الْمطعم فِي الكرب الفراج للكرب مَعَ مَا كَانَ لَهُ من الْفضل والسوابق مَعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أما إِنِّي سأريك الَّتِي حاولت وحاولت حَتَّى تعلمي فضل رَأْيِي وحلمي فادخلي الْقبَّة وأرخي عَلَيْك السجف ثمَّ قَالَ لآذنه انْظُر من بِالْبَابِ فَإِذا هُوَ بأَرْبعَة من بني تَمِيم الْأَحْنَف بن قيس وَزيد بن جلبة وَجَارِيَة بن قدامَة وَسماك بن مخرمَة

فَقَالَ ائْذَنْ للأحنف بن قيس فَدخل وَقضى سَلَامه فَقَالَ ءايها يَا حنيف بني قيس فَقَالَ مهلا يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ بل إلاحنف بن قيس قَالَ أَأَنْت المطلع غدرا النَّاظر فِي عطفيه شزرا تحمل قَوْمك على مدلهمات الْفِتَن وتذكرهم قديمات الإحن مَعَ قَتلك أَمِير الْمُؤمنِينَ عُثْمَان وخذلانك أم الْمُؤمنِينَ عَائِشَة وورودك عَليّ بِالْخَيْلِ يَوْم صفّين

فَقَالَ وَالله يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ ان مِنْهُ مَا اعرف وَمِنْه مَا انكر فَأَما قَوْلك قَتْلِي أَمِير الْمُؤمنِينَ فَأنْتم معشر قُرَيْش نحرتم ودجه وسقيتم الأَرْض دَمه وَأما قَوْلك خذلاني أم الْمُؤمنِينَ عَائِشَة فَإِنِّي نظرت فِي كتاب الله فَلم أر لَهَا عَليّ حَقًا إِلَّا ان تقر فِي بَيتهَا وتستتر بسترها فَلَمَّا برزت عطلت مَا كَانَ لَهَا عَليّ من حق وَأما قَوْلك وورودي عَلَيْك بِالْخَيْلِ يَوْم صفّين حَتَّى أردْت ان تقطع اعناقهم عطشا وتقتلهم غرثا وَايْم الله لَو أحد الأعجميين غلب كَانُوا أنكى شَوْكَة وَأَشد كَلْبا
মুত্তালিব, যিনি সংকটে অন্ন দানকারী এবং দুঃখকষ্ট মোচনকারী, তাঁর সাথে আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি যে মর্যাদা ও অগ্রবর্তিতা ছিল (তা অনস্বীকার্য)। শোনো, তুমি যা চেষ্টা করেছ তা আমি তোমাকে দেখাব, যাতে তুমি আমার সিদ্ধান্ত ও সহনশীলতার শ্রেষ্ঠত্ব জানতে পারো। সুতরাং তুমি তাঁবুতে প্রবেশ করো এবং তোমার ওপর পর্দা টেনে দাও। অতঃপর তিনি তাঁর দ্বাররক্ষীকে বললেন, দেখো দরজায় কে আছে। তখন সেখানে বনু তামীমের চারজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন: আহনাফ বিন কায়েস, যায়েদ বিন জিলবাহ, জারিয়া বিন কুদামাহ এবং সিমাক বিন মুখাররামাহ।

তিনি বললেন, আহনাফ বিন কায়েসকে আসার অনুমতি দাও। তিনি প্রবেশ করলেন এবং অভিবাদন জানালেন। অতঃপর তিনি বললেন, ওহে বনু কায়েসের হুনাইফ! তিনি বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন, সংযত হোন! বরং আমি আহনাফ বিন কায়েস। তিনি বললেন, তুমিই কি সেই ব্যক্তি যে বিশ্বাসঘাতকতার সাথে উঁকি দাও এবং অবজ্ঞার সাথে ঘাড় বাঁকিয়ে তাকাও? তুমি তোমার কওমকে ঘোর ফিতনার দিকে চালিত করো এবং তাদের পুরাতন বিদ্বেষের কথা স্মরণ করিয়ে দাও; সাথে সাথে আমীরুল মুমিনীন উসমানের হত্যাকাণ্ড, উম্মুল মুমিনীন আয়েশাকে পরিত্যাগ করা এবং সিফফীনের যুদ্ধে ঘোড়সওয়ার বাহিনী নিয়ে আমার বিরুদ্ধে তোমার আসার বিষয়টিও তো রয়েছে।

তিনি বললেন, আল্লাহর কসম হে আমীরুল মুমিনীন! এর মধ্যে কিছু আমি স্বীকার করি আর কিছু অস্বীকার করি। আপনার এই কথা যে আমি আমীরুল মুমিনীনকে হত্যা করেছি—আপনারা কুরাইশরাই তো তাঁর শাহরগ কেটেছেন এবং জমিনকে তাঁর রক্তে রঞ্জিত করেছেন। আর উম্মুল মুমিনীন আয়েশাকে আমার পরিত্যাগ করার ব্যাপারে আপনার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বলব, আমি আল্লাহর কিতাবে দৃষ্টিপাত করেছি এবং সেখানে তাঁর আমার ওপর কোনো অধিকার দেখিনি, কেবল এটি ছাড়া যে তিনি নিজ গৃহে অবস্থান করবেন এবং পর্দার অন্তরালে থাকবেন। সুতরাং যখন তিনি বের হলেন, তখন আমার ওপর তাঁর যে অধিকার ছিল তা তিনি নিজেই বাতিল করে দিলেন। আর সিফফীনের দিন ঘোড়সওয়ার বাহিনী নিয়ে আপনার বিরুদ্ধে আমার আসার যে কথা আপনি বললেন, তখন তো আপনি তৃষ্ণায় তাদের ঘাড় কেটে ফেলতে চেয়েছিলেন এবং তাদের ক্ষুধায় মেরে ফেলতে চেয়েছিলেন। আল্লাহর কসম, যদি অনারব দুই দলের কোনো একটি বিজয়ী হতো, তবে তারা আরও শক্তিশালী আক্রমণকারী এবং অধিকতর হিংস্র হতো।
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদিনি মিনার রিজালি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ৪১)
قَالَ اخْرُج عني ثمَّ قَالَ ائْذَنْ لزيد بن جلبة فَدخل وَقضى سَلَامه إيها فَقَالَ لَهُ ايها يَا زييد بن جليبة قَالَ مهلا يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ بل زيد بن جلبة يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ اننا فَرَرْنَا قُريْشًا كلهَا فوجدناك آمنها عهدا وأوفاها عقدا فَإِن تف فَأهل الْوَفَاء انت وَإِن تغدر فَإنَّا خلفنا خيلا جيادا واذرعة شدادا واسنة حدادا وان شِئْت لتصفين روعة صدورنا بِفضل رَأْيك وحلمك قَالَ إِذا نَفْعل

قَالَ إِذا نقبل قَالَ اخْرُج عني ثمَّ

قَالَ ائْذَنْ لجارية بن قدامَة
তিনি বললেন, “আমার নিকট থেকে চলে যাও।” অতঃপর তিনি বললেন, “যাইদ ইবনে জুলবাহকে প্রবেশের অনুমতি দাও।” সে প্রবেশ করল এবং সালাম নিবেদন সম্পন্ন করল। তখন তিনি তাকে বললেন, “হে যুইয়াইদ ইবনে জুলাইবাহ!” সে বলল, “ধৈর্য ধরুন হে আমিরুল মুমিনীন, বরং আমি যাইদ ইবনে জুলবাহ। হে আমিরুল মুমিনীন, আমরা সমগ্র কুরাইশকে পরীক্ষা করেছি এবং আপনাকে অঙ্গীকার পালনে সবচেয়ে নিরাপদ ও চুক্তির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বিশ্বস্ত পেয়েছি। আপনি যদি পূর্ণ করেন তবে আপনিই বিশ্বস্ততার উপযুক্ত ব্যক্তি, আর যদি আপনি বিশ্বাসঘাতকতা করেন তবে আমরা আমাদের পেছনে দ্রুতগামী ঘোড়া, শক্তিশালী বাহু এবং ধারালো বর্শাফলক রেখে এসেছি। আর আপনি চাইলে আপনার প্রজ্ঞা ও সহনশীলতার মাধ্যমে আমাদের অন্তরের আতঙ্ক দূর করতে পারেন।” তিনি বললেন, “তবে আমরা তাই করব।”

সে বলল, “তবে আমরা তা গ্রহণ করলাম।” তিনি বললেন, “আমার নিকট থেকে চলে যাও।” অতঃপর

তিনি বললেন, “জারিয়াহ ইবনে কুদামাহকে প্রবেশের অনুমতি দাও।”
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদিনি মিনার রিজালি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ৪২)
فَدخل وَقضى سَلَامه فَقَالَ لَهُ ايها يَا جوَيْرِية بن قدامَة قَالَ مهلا يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ بل جَارِيَة بن قدامَة يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ إِنَّا كُنَّا نصار حَرْب الْفجار حِين حزتم الْغُبَار وهمت قُرَيْش بالفرار فَقَالَ لَهُ مَه الأَرْض لَك انت الَّذِي قريت أهل الشَّام ظبات السيوف واطراف الرماح قَالَ اي وَالله يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ اني لأَنا هُوَ وَلَو كنت بِالْمَكَانِ الَّذِي كَانَ فِيهِ أهل الشَّام لقريتك بِمثل مَا قريتهم بِهِ قَالَ فحاجتك يَا ابا قندس قَالَ أما انها اليك غير طَوِيلَة تقر النَّاس فِي بُيُوتهم فَلَا توفدهم اليك انما يوفد اليك الإغنياء وتذرون الْفُقَرَاء قَالَ ائْذَنْ لسماك بن مخرمَة فَدخل وَقضى سَلَامه فَقَالَ ايها يَا سميك بني مخرمَة قَالَ مهلا يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ بل سماك ابْن مخرمَة وَالله يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ مَا أَحْبَبْنَاك مذ ابغضناك وَلَا ابغضنا عليا مذ أحببناه وان السيوف الَّتِي ضربناك بهَا لعلى عواتقنا وان الْقُلُوب الَّتِي

অতঃপর তিনি প্রবেশ করলেন এবং সালাম নিবেদন করলেন। তখন তিনি তাকে বললেন, "হে জুওয়াইরিয়াহ বিন কুদামাহ!" তিনি বললেন, "ক্ষান্ত হোন হে আমীরুল মু'মিনীন; বরং আমি জারিইয়াহ বিন কুদামাহ, হে আমীরুল মু'মিনীন। আমরা তো ফিজার যুদ্ধের সাহায্যকারী ছিলাম যখন আপনারা ধূলি উড়িয়েছিলেন এবং কুরাইশরা পলায়নের উপক্রম হয়েছিল।" তখন তিনি তাকে বললেন, "থামুন! পৃথিবী আপনার জন্য প্রশস্ত হোক। আপনিই কি সেই ব্যক্তি যিনি শামের অধিবাসীদের তলোয়ারের ধার এবং বর্শার অগ্রভাগ দিয়ে আপ্যায়ন করেছিলেন?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ, আল্লাহর কসম হে আমীরুল মু'মিনীন, আমিই সেই ব্যক্তি। আর আপনি যদি সেই স্থানে থাকতেন যেখানে শামের অধিবাসীরা ছিল, তবে আমি আপনাকেও তা দিয়েই আপ্যায়ন করতাম যা দিয়ে তাদের করেছিলাম।" তিনি বললেন, "তাহলে হে আবু কুন্দুস, আপনার প্রয়োজন কী?" তিনি বললেন, "আপনার নিকট আমার আরজি খুব দীর্ঘ নয়; তা হলো, মানুষকে তাদের ঘরে থাকতে দিন এবং প্রতিনিধি হিসেবে তাদের আপনার নিকট পাঠাবেন না। কেননা আপনার নিকট কেবল ধনীদেরই প্রতিনিধি করে পাঠানো হয় এবং আপনারা দরিদ্রদের উপেক্ষা করেন।" তিনি বললেন, "সিমাক বিন মাখরামাহকে আসার অনুমতি দাও।" অতঃপর তিনি প্রবেশ করলেন এবং সালাম নিবেদন করলেন। তিনি বললেন, "হে বনু মাখরামাহর সুমাইক!" তিনি বললেন, "ক্ষান্ত হোন হে আমীরুল মু'মিনীন; বরং আমি সিমাক বিন মাখরামাহ। আল্লাহর কসম হে আমীরুল মু'মিনীন, যেদিন থেকে আপনাকে অপছন্দ করেছি তারপর থেকে আপনাকে ভালোবাসিনি, আর আলীকে যেদিন থেকে ভালোবেসেছি তারপর থেকে তাঁকে কখনো ঘৃণা করিনি। আর যে তলোয়ার দিয়ে আমরা আপনাকে আঘাত করেছিলাম তা এখনও আমাদের কাঁধেই রয়েছে এবং সেই অন্তরগুলো যা..."

(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদিনি মিনার রিজালি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ৪৩)
قَاتَلْنَاك بهَا لبين جوانحنا وَلَئِن قدمت إِلَيْنَا شبْرًا من غدر لنقدمن إِلَيْك باعا من ختر قَالَ اخْرُج عني ثمَّ قَالَ لاخته الَّذِي عَايَنت من قبله وَاحِدَة فَمَاذَا رَأَيْت قَالَت وَالله يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ لقد ضَاقَ بِي مجلسي حَتَّى أردْت ان أكلمهم لما كلموك بِهِ

قَالَ إِذا وَالله كَانُوا إِلَيْك أسْرع وَعَلَيْك أجرأ هم الْعَرَب لَا تفروها
আমরা আমাদের পাঁজরের মধ্যবর্তী (হৃদয়) দ্বারা আপনার বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। আর যদি আপনি আমাদের প্রতি এক বিঘত পরিমাণ বিশ্বাসঘাতকতা প্রদর্শন করেন, তবে আমরা আপনার প্রতি এক হাত পরিমাণ প্রতারণা নিয়ে অগ্রসর হব। তিনি বললেন, "আমার নিকট হতে বেরিয়ে যাও।" অতঃপর তিনি তার বোনকে বললেন, "এর আগে তুমি যা প্রত্যক্ষ করেছিলে তা তো ছিল একটি বিষয়, এখন তুমি কী দেখলে?" তিনি বললেন, "আল্লাহর শপথ, হে আমিরুল মুমিনীন! আমার বসার স্থানটি আমার নিকট সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল, এমনকি তারা আপনাকে যা বলেছিল, তার প্রেক্ষিতে আমি তাদের সাথে কথা বলতে চেয়েছিলাম।"

তিনি বললেন, "তবে আল্লাহর শপথ, তারা তোমার দিকে আরও দ্রুতবেগে ছুটে আসত এবং তোমার প্রতি আরও দুঃসাহসী হয়ে উঠত। তারা হলো আরব, তোমরা তাদের উত্তেজিত করো না।"
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদিনি মিনার রিজালি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ৪৪)
‌‌خَالِد بن المعمر السدُوسِي

 

ذكر أَبُو مُحَمَّد الْحسن بن مُحَمَّد الابجي الْكَاتِب أَنا أَبُو بكر مُحَمَّد ابْن الْحسن بن دُرَيْد أَنا أَبُو حَاتِم عَن أبي عُبَيْدَة قَالَ لما قتل عَليّ ابْن أبي طَالب أَرَادَ مُعَاوِيَة النَّاس على بيعَة يزِيد فتثاقلت ربيعَة وَلَحِقت بِعَبْد الْقَيْس بِالْبَحْرَيْنِ فاجتمعت بكر بن وَائِل إِلَى خَالِد بن المعمر فَلَمَّا تثاقلت ربيعَة تثاقلت الْعَرَب أَيْضا فَضَاقَ مُعَاوِيَة بذلك ذرعا فَبعث إِلَى خَالِد فَقدم عَلَيْهِ فَلَمَّا دخل إِلَيْهِ رحب بِهِ وَقَالَ كَيفَ مَا نَحن فِيهِ

قَالَ أرى ملكا طريفا وبغضا تليدا

فَقَالَ مُعَاوِيَة قل مَا بدا لَك فقد عَفَوْنَا عَنْك وَلَكِن مَا بَال ربيعَة أول النَّاس فِي حربنا وَآخرهمْ فِي سلمنَا قَالَ لَهُ خَالِد انما اتيتك مستأمنا وَلم آتِك مخاصما وَلست للْقَوْم بجزي فِي حجتهم وَإِن ربيعَة إِن تدخل فِي طَاعَتك تنفعك وَإِن تدخل كرها تكن قلوبها عَلَيْك وابدانها لَك فاعط الْأمان عامتهم شاهدهم وغائبهم وَإِن ينزلُوا حَيْثُ شاؤوا فَقَالَ افْعَل فَانْصَرف خَالِد إِلَى قومه بذلك

ثمَّ إِن مُعَاوِيَة بدا لَهُ فَبعث إِلَى خَالِد فَدَعَاهُ فَلَمَّا دخل إِلَيْهِ قَالَ كَيفَ حبك لعَلي قَالَ اعفني يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ مِمَّا اكره فابى أَن يعفيه فَقَالَ أحبه وَالله على حلمه إِذا غضب ووفائه إِذا عقد وَصدقه إِذا اكد وعدله إِذا حكم ثمَّ انْصَرف وَلحق بقَوْمه وَكتب إِلَى مُعَاوِيَة
খালিদ বিন আল-মুআম্মার আস-সাদুসী

 

আবু মুহাম্মদ আল-হাসান বিন মুহাম্মদ আল-আবজী আল-কাতিব বর্ণনা করেছেন যে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুল হাসান বিন দুরাইদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাতিম, আবু উবাইদাহ থেকে। তিনি বলেন, যখন আলী ইবনে আবি তালিব নিহত হলেন, তখন মুয়াবিয়া ইয়াজিদের বায়াতের জন্য লোকদের পক্ষ থেকে অঙ্গীকার নিতে চাইলেন। এতে রাবিআহ গোত্র দ্বিধাগ্রস্ত হলো এবং বাহরাইনে আবদ আল-কায়েস গোত্রের সাথে গিয়ে মিলিত হলো। অতঃপর বকর বিন ওয়াইল গোত্র খালিদ বিন আল-মুআম্মারের কাছে সমবেত হলো। যখন রাবিআহ গোত্র দ্বিধাগ্রস্ত হলো, তখন অন্যান্য আরবরাও পিছিয়ে গেল। এতে মুয়াবিয়া অত্যন্ত বিচলিত বোধ করলেন এবং খালিদের কাছে লোক পাঠালেন। অতঃপর খালিদ তাঁর কাছে আসলেন। যখন তিনি তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন, তখন তিনি তাকে স্বাগত জানালেন এবং বললেন, "আমরা বর্তমানে যে পরিস্থিতির মধ্যে আছি, সে সম্পর্কে তোমার অভিমত কী?"

তিনি বললেন, "আমি দেখছি এক নতুন রাজত্ব এবং এক প্রাচীন শত্রুতা।"

মুয়াবিয়া বললেন, "তোমার মনে যা উদয় হয় তা বলো, আমি তোমাকে ক্ষমা করেছি। কিন্তু রাবিআহ গোত্রের কী হলো যে, তারা আমাদের সাথে যুদ্ধে সবার আগে থাকে এবং শান্তিতে সবার শেষে থাকে?" খালিদ তাকে বললেন, "আমি আপনার কাছে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে এসেছি, বিবাদকারী হিসেবে নয়। আর আমি সেই কওমের পক্ষ থেকে তাদের পক্ষালম্বনকারী নই। নিশ্চয়ই রাবিআহ যদি স্বেচ্ছায় আপনার আনুগত্যে প্রবেশ করে তবে তারা আপনার উপকার করবে। আর যদি তারা অনিচ্ছাসত্ত্বেও প্রবেশ করে, তবে তাদের অন্তর আপনার বিরুদ্ধে থাকবে যদিও তাদের দেহ আপনার অনুগত থাকবে। অতএব তাদের সাধারণ মানুষ, উপস্থিত ও অনুপস্থিত সকলকে নিরাপত্তা প্রদান করুন এবং তারা যেখানে ইচ্ছা বসবাস করার অনুমতি দিন।" তিনি বললেন, "আমি তাই করব।" অতঃপর খালিদ এই আশ্বাস নিয়ে তাঁর কওমের কাছে ফিরে গেলেন।

অতঃপর মুয়াবিয়ার মনে নতুন চিন্তার উদয় হলো এবং তিনি পুনরায় খালিদকে ডেকে পাঠালেন। যখন তিনি তাঁর কাছে প্রবেশ করলেন, তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "আলীর প্রতি তোমার ভালোবাসা কেমন?" তিনি বললেন, "হে আমিরুল মুমিনিন! যা আমি অপছন্দ করি তা থেকে আমাকে অব্যাহতি দিন।" কিন্তু তিনি তাকে অব্যাহতি দিতে অস্বীকার করলেন। তখন তিনি বললেন, "আল্লাহর কসম! আমি তাঁকে ভালোবাসি তাঁর সহনশীলতার জন্য যখন তিনি রাগান্বিত হতেন, তাঁর বিশ্বস্ততার জন্য যখন তিনি কোনো অঙ্গীকার করতেন, তাঁর সত্যবাদিতার জন্য যখন তিনি কোনো কথা দৃঢ়ভাবে বলতেন এবং তাঁর ইনসাফের জন্য যখন তিনি বিচার ফয়সালা করতেন।" অতঃপর তিনি প্রস্থান করলেন এবং তাঁর কওমের সাথে যোগ দিলেন এবং মুয়াবিয়ার কাছে পত্র লিখলেন।
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদিনি মিনার রিজালি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ৪৫)
(معاوي لَا تجْهَل علينا فإننا … نذلك فِي الْيَوْم العصيب معاويا)

(مَتى تدع فِينَا دَعْوَة ربعية … تجبك رجال يخضبون العواليا)

(اجأبوا عليا إِذْ دعاهم لنصره … وجروا بصفين عَلَيْك الدواهيا)

(فَإِن تصطنعنا يَا بن حَرْب لمثلهَا … نَكُنْ خير من تَدْعُو إِذا كنت دَاعيا)

(ألم ترني أهديت بكر بن وَائِل … إِلَيْك وَكَانُوا بالعراق أفاعيا)

(إِذا نهشت قَالَ السَّلِيم لأَهله … رويدا فَانِي لَا ارى لي راقيا)

(فأضحوا وَقد اهدوا ثمار قُلُوبهم … إِلَيْك وافراق الذُّنُوب كَمَا هيا)

(ودع عَنْك شَيخا قد مضى لسبيله … على اي حإليه مصيبا وخاطيا)

(فَإنَّك لَا تَسْتَطِيع رد الَّذِي مضى … وَلَا دافعا شَيْئا إِذا كَانَ جائيا)

(وَكنت امْرَءًا تهوى الْعرَاق وَأَهله … إِذْ انت حجازي فَأَصْبَحت شاميا)

وَكتب الْأَعْوَر الشني إِلَى مُعَاوِيَة

(اتاك بسلم الْحَيّ بكر بن وَائِل … وانت شحوط كالسقاء الموكر)

(معاوي أكْرم خَالِد بن معمر … فَإنَّك لَوْلَا خَالِد لم تُؤمر)

(فخادعته بِاللَّه حَتَّى خدعته … وَلم يَك خبا خَالِد بن معمر)

(فَلم تجزه وَالله يَجْزِي بسعيه … وتسديده ملكي سَرِير ومنبر)
(হে মুআবিয়া, আমাদের প্রতি মূর্খতাসুলভ আচরণ করো না, কারণ আমরাই … সেই কঠিন দিনে তোমাকে লাঞ্ছিত করব, হে মুআবিয়া।)

(যখনই তুমি আমাদের মধ্যে রবীআ গোত্রের ডাক দাও … তখন এমন সব লোক তোমার ডাকে সাড়া দেয় যারা তাদের বর্শার অগ্রভাগকে রঞ্জিত করে।)

(তারা আলীর ডাকে সাড়া দিয়েছিল যখন তিনি তাদের সাহায্যের জন্য ডেকেছিলেন … এবং সিফফিনের যুদ্ধে তারা তোমার ওপর বিপদসমূহ বয়ে এনেছিল।)

(হে হারবের পুত্র, যদি তুমি আমাদের অনুরূপ কাজের জন্য নিয়োজিত করো … তবে যখনই তুমি আহ্বান করবে, আমরাই হব তোমার সর্বোত্তম সাড়া দানকারী।)

(তুমি কি দেখনি যে আমি বকর বিন ওয়াইল গোত্রকে তোমার কাছে … পাঠিয়েছি, অথচ ইরাকে তারা ছিল বিষধর সাপের মতো।)

(যখন তারা দংশন করে, তখন দংশিত ব্যক্তি তার পরিজনদের বলে … ধীরে চলো, কারণ আমি আমার জন্য কোনো ঝাড়ফুঁককারী দেখছি না।)

(অতঃপর তারা এমন অবস্থায় উপনীত হলো যে তারা তাদের অন্তরের ভালোবাসা … তোমার নিকট অর্পণ করেছে, আর গুনাহসমূহ যেভাবে ছিল সেভাবেই অপসারিত হয়েছে।)

(আর তুমি সেই বৃদ্ধের কথা ছেড়ে দাও যিনি তার পথে চলে গেছেন … তিনি যে অবস্থাতেই থাকুন না কেন—সঠিক কিংবা ভুল।)

(কেননা যা গত হয়ে গেছে তা ফিরিয়ে আনার ক্ষমতা তোমার নেই … আর যা অবধারিতভাবে আসতে চলেছে তাকেও প্রতিহত করার সাধ্য নেই।)

(তুমি এমন একজন ছিলে যে ইরাক ও তার অধিবাসীদের ভালোবাসতে … যখন তুমি হিজাযী ছিলে, অতঃপর এখন তুমি শামী হয়ে গেছ।)

আর আল-আওয়ার আশ-শান্নি মুআবিয়ার কাছে লিখলেন:

(বকর বিন ওয়াইল গোত্রের সন্ধি নিয়ে তোমার নিকট এসেছে … অথচ তুমি ছিলে পূর্ণ মশকের মতো দূরবর্তী।)

(হে মুআবিয়া, খালিদ বিন মা'মারকে সম্মান করো … কারণ খালিদ না থাকলে তুমি আজ আমীর হতে পারতে না।)

(তুমি আল্লাহর নামে তাকে প্রতারিত করেছ যতক্ষণ না সে প্রতারিত হয়েছে … অথচ খালিদ বিন মা'মার কোনো ধূর্ত লোক ছিল না।)

(কিন্তু তুমি তাকে প্রতিদান দাওনি, তবে আল্লাহ তাকে তার প্রচেষ্টার … এবং সিংহাসন ও মিম্বরের রাজত্ব সুপ্রতিষ্ঠিত করার যথাযথ প্রতিদান দেবেন।)
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদিনি মিনার রিজালি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ৪৬)
فدعاهما مُعَاوِيَة فوصلهما فَقَالَ الشني

(معاوي اني شَاكر لَك نعْمَة … رددت بهَا ريشي عَليّ مُعَاوِيه)

(وَكم من مقَام غائظ لَك قتمته … وداهية اسعرتها بعد داهيه)

(فموتها حَتَّى كَأَن لم اقم بهَا … عَلَيْك وأوتاري بصفين بَاقِيه)

(فابلعتني ريقي وَكَانَت مقاتلي … بكفيك لَو لم تكفف السهْم باديه)

فَقَالَ مُعَاوِيَة

(لقد رَضِي الشني من بعد عَتبه … بأيسر مَا يرضى بِهِ صَاحب العتب)
মুয়াবিয়া তাদের উভয়কে ডাকলেন এবং তাঁদেরকে দান-দক্ষিণা দিলেন। অতঃপর শান্নি বললেন:

(হে মুয়াবিয়া, আমি তোমার অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞ … যার মাধ্যমে তুমি আমার পাখা (অবস্থা) আমার নিকট ফিরিয়ে দিলে, হে মুয়াবিয়া।)

(আর তোমার বিরুদ্ধে কতই না ক্ষোভের পরিস্থিতি আমি অন্ধকারাচ্ছন্ন করেছিলাম … এবং বিপদের পর বিপদ প্রজ্বলিত করেছিলাম।)

(অতঃপর আমি সেগুলোকে নিভিয়ে দিয়েছি যেন মনে হয় আমি তোমার বিরুদ্ধে কখনো দাঁড়াইনি … অথচ সিফফিনে আমার প্রতিশোধ নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা অবশিষ্ট ছিল।)

(তুমি আমাকে ঢোক গিলার (স্বস্তির) সুযোগ দিলে, অথচ আমার মরণস্থলগুলো … তোমার দুই হাতের কবজায় ছিল; যদি তুমি তীর নিক্ষেপ থেকে বিরত না থাকতে, তবে তা প্রকাশিত হয়ে যেত।)

অতঃপর মুয়াবিয়া বললেন:

(নিশ্চয়ই শান্নি তার অনুযোগের পর সন্তুষ্ট হয়েছে … অতি সামান্য সেই বস্তুর দ্বারা যাতে একজন অভিযোগকারী সন্তুষ্ট হয়ে থাকে।)
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদিনি মিনার রিজালি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ৪৭)
‌‌شريك الْأَعْوَر

 

أخبرنَا أَبُو بكر مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن كرتيلا قَالَ اُخْبُرْنَا أَبُو بكر مُحَمَّد ابْن عَليّ الْخياط قَالَ اُخْبُرْنَا أبوالحسين أَحْمد بن عبد الله السوسنجردي قَالَ اُخْبُرْنَا أَبُو جَعْفَر احْمَد بن أبي طَالب قَالَ حَدثنِي أبي أَبُو طَالب عَليّ بن مُحَمَّد حَدثنِي أَبُو عَمْرو مُحَمَّد بن مَرْوَان بن عمر السعيدى حَدثنِي جَعْفَر بن احْمَد بن معدان نَا الْحسن بن جهور قَالَ قَالَ ابْن الْكَلْبِيّ

زَعَمُوا ان مُعَاوِيَة جلس ذَات يَوْم بَين يَدَيْهِ السماطان فَدخل النَّاس واشراف الْعَرَب وَدخل فِيمَن دخل شريك بن الْأَعْوَر الْحَارِثِيّ وافدا فَلَمَّا ان اطْمَأَن بِهِ مَجْلِسه نظر إِلَيْهِ مُعَاوِيَة فَقَالَ مَا اسْمك قَالَ شريك فَقَالَ مُعَاوِيَة مَا لله من شريك وانك لاعور وَالصَّحِيح خير من الْأَعْوَر وانك لدميم والجميل خير من الدميم فَبِمَ سدت قَوْمك

فَقَالَ لَهُ شريك وَالله لقد احميت انفي ولابد من اجابتك فوَاللَّه انك لمعاوية وَمَا مُعَاوِيَة إِلَّا كلبة عوت فاستعوت وانك لِابْنِ صَخْر والسهل خير من الصخر وانك لِابْنِ حَرْب وَالسّلم خير من الْحَرْب وانك لِابْنِ أُميَّة وَمَا أُميَّة إِلَّا أمة صغرت فاستصغرت فَبِمَ سدت قَوْمك فَقَالَ يَا غُلَام اقمه فَقَامَ شريك وأنشا يَقُول

(ايشتمني مُعَاوِيَة بن صَخْر … وسيفي صارم وَمَعِي لساني)

(وحولي من ذَوي يمن لُيُوث … ضراغمة تهش إِلَى الطعان)

(يعيرني الدمامة من سفاه … أربات الحجال من الغواني)
শারিক আল-আওয়ার

 

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে কারতিলা, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আলী আল-খাইয়াত, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সুসানজির্দি, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাফর আহমাদ ইবনে আবি তালিব, তিনি বলেন, আমার পিতা আবু তালিব আলী ইবনে মুহাম্মাদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু আমর মুহাম্মাদ ইবনে মারওয়ান ইবনে উমর আস-সাঈদী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, জাফর ইবনে আহমাদ ইবনে মাদান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাসান ইবনে জাহুর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইবনুল কালবী বলেছেন—

তারা বর্ণনা করেন যে, একদিন মুয়াবিয়া বসেছিলেন এবং তাঁর সামনে দুই সারিতে লোক উপবিষ্ট ছিল। তখন সাধারণ মানুষ ও আরবদের সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিগণ প্রবেশ করলেন। যারা প্রবেশ করেছিলেন তাদের মধ্যে শারিক ইবনুল আওয়ার আল-হারিসীও একজন প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত হলেন। যখন তিনি তাঁর আসনে স্থির হয়ে বসলেন, মুয়াবিয়া তাঁর দিকে তাকালেন এবং বললেন, "তোমার নাম কী?" তিনি বললেন, "শারিক।" তখন মুয়াবিয়া বললেন, "আল্লাহর তো কোনো শরিক (অংশীদার) নেই। আর তুমি হলে আওয়ার (একচক্ষুহীন), অথচ একচক্ষুহীন অপেক্ষা সুস্থ চক্ষুবিশিষ্ট ব্যক্তি উত্তম। আর তুমি কুৎসিত, অথচ কুৎসিত অপেক্ষা সুদর্শন ব্যক্তি উত্তম। তবে কিসের ভিত্তিতে তুমি তোমার সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব লাভ করলে?"

শারিক তাকে বললেন, "আল্লাহর কসম, আপনি আমাকে ক্রোধান্বিত করেছেন এবং আপনার কথার উত্তর দেওয়া আমার জন্য অনিবার্য হয়ে পড়েছে। আল্লাহর কসম, আপনি হলেন মুয়াবিয়া, আর মুয়াবিয়া তো এক চিৎকারকারী কুক্কুরী ছাড়া আর কিছু নয় যে চিৎকার করে অন্য কুকুরদের ডেকে আনে। আপনি সাখর (পাথর)-এর পুত্র, অথচ পাথরের চেয়ে সমতল ভূমি উত্তম। আপনি হারব (যুদ্ধ)-এর পুত্র, অথচ যুদ্ধের চেয়ে শান্তি উত্তম। আর আপনি উমাইয়ার বংশধর, আর উমাইয়া তো দাসীর ক্ষুদ্র রূপ ছাড়া আর কিছু নয়। তবে কিসের ভিত্তিতে আপনি আপনার সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব দিচ্ছেন?" তখন তিনি বললেন, "হে বালক, তাকে সরিয়ে দাও।" শারিক উঠে দাঁড়ালেন এবং বলতে লাগলেন—

(মুয়াবিয়া ইবনে সাখর কি আমাকে গালি দিচ্ছে … অথচ আমার তরবারি তীক্ষ্ণ এবং আমার জিহ্বা আমার সাথেই আছে।)

(আমার চারপাশে ইয়ামেনবাসীদের মধ্য হতে এমন সব সিংহ রয়েছে … যারা যুদ্ধের ময়দানে বর্শার লড়াইয়ে উল্লসিত হয়।)

(মূর্খতাবশত সে আমাকে কুৎসিত বলে তাচ্ছিল্য করছে … যেন সে পর্দানশীন নারী বা সুন্দরী রূপসীদের একজন।)