(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদাতি মিনান নিসায়ি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: -)
أخبار الوافدات من النساء على معاوية بن أبي سفيان   (ابن بكار)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: أخبار الوافدات من النساء على معاوية بن أبي سفيان

المؤلف: العباس بن بكار (أو ابن الوليد بن بكار) الضبي (ت 222 هـ)

المحقق: سكينة الشهابي [ت 1427 هـ]

الناشر: مؤسسة الرسالة - بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1403 هـ - 1983 م

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 80

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মুআবিয়া ইবন আবি সুফিয়ানের নিকট আগত নারীদের সংবাদ   (ইবন বাক্কার)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরবিন্যাস


বই: মুআবিয়া ইবন আবি সুফিয়ানের নিকট আগত নারীদের সংবাদ

লেখক: আল-আব্বাস ইবন বাক্কার (অথবা ইবন আল-ওয়ালিদ ইবন বাক্কার) আল-দাব্বি (মৃত্যু ২২২ হিজরি)

সম্পাদক: সাকীনা আল-শিহাবি [মৃত্যু ১৪২৭ হিজরি]

প্রকাশক: মুআসসাসাতুর রিসালাহ - বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম، ১৪০৩ হিজরি - ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দ

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮০

শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল-হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদাতি মিনান নিসায়ি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌حَدِيث أم سِنَان بنت خَيْثَمَة بن خَرشَة المذحجية

 

اُخْبُرْنَا القَاضِي أَبُو الْقَاسِم قَالَ اُخْبُرْنَا أَبُو بكر الدوري عَن شُيُوخه قَالَ حَدثنَا الْعَبَّاس بن بكار قَالَ حَدثنِي عبد الله بن سُلَيْمَان الْمَدِينِيّ عَن أَبِيه عَن سعيد بن جُوَيْبِر قَالَ حبس مَرْوَان بن الحكم غُلَاما من بني لَيْث فِي جِنَايَة جناها بِالْمَدِينَةِ فَأَتَتْهُ جدة الغلأم أم أَبِيه وَهِي أم سِنَان فكلمته فِي أَمر الغلأم فاغلظ لَهَا مَرْوَان فَخرجت إِلَى مُعَاوِيَة إِلَى الشأم فاستاذنت عَلَيْهِ فاذن لَهَا فَلَمَّا دخلت عَلَيْهِ أنتسبت لَهُ فَقَالَ مرْحَبًا بك يَا بنت خَيْثَمَة مَا اقدمك ارضنا وَقد عهدتك تشنئين قربي وتحرضين عَليّ عدوي قَالَت يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ ان لبني عبد منَاف احلأما ظَاهِرَة واخلاقا طَاهِرَة لَا يجهلون بعد علم وَلَا يسفهون بعد حلم وَلَا يعاقبون بعد عَفْو وان أولى النَّاس بِاتِّبَاع سنَن ابائه أَنْت
উম্মে সিনান বিনতে খাইসামা বিন খারাশাহ আল-মাজহিজিয়্যার বর্ণনা

 

কাজী আবুল কাসেম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর আদ-দুরি তাঁর উস্তাদদের সূত্রে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্বাস বিন বাক্কার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বিন সুলাইমান আল-মাদিনি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন তাঁর পিতার সূত্রে, তিনি সাঈদ বিন জুবাইবির থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মারওয়ান বিন আল-হাকাম মদিনায় সংঘটিত এক অপরাধের কারণে বনু লাইস গোত্রের একটি কিশোরকে বন্দি করেন। তখন কিশোরটির দাদি, অর্থাৎ তার পিতার মা উম্মে সিনান তার কাছে আসলেন। তিনি কিশোরটির বিষয়ে তার সাথে কথা বললেন, কিন্তু মারওয়ান তার প্রতি রূঢ় আচরণ করলেন। এরপর তিনি শামে মুয়াবিয়ার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লেন এবং তাঁর কাছে সাক্ষাতের অনুমতি চাইলেন। তিনি তাকে অনুমতি দিলেন। যখন তিনি তাঁর কাছে প্রবেশ করলেন এবং নিজের বংশপরিচয় দিলেন, তখন মুয়াবিয়া বললেন: হে খাইসামার কন্যা! তোমাকে স্বাগতম। আমাদের দেশে তোমার আগমনের কারণ কী? অথচ আমি জানতাম তুমি আমার সান্নিধ্যকে ঘৃণা করতে এবং আমার শত্রুকে আমার বিরুদ্ধে উস্কানি দিতে। তিনি বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন! নিশ্চয়ই বনু আবদে মানাফের রয়েছে সুস্পষ্ট সহনশীলতা এবং পবিত্র চরিত্র। তারা জ্ঞান লাভের পর অজ্ঞতা প্রদর্শন করে না, ধৈর্য ধারণের পর নির্বুদ্ধিতা প্রকাশ করে না এবং ক্ষমা করার পর শাস্তি প্রদান করে না। আর আপনার পিতৃপুরুষদের আদর্শ অনুসরণ করার ক্ষেত্রে আপনিই মানুষের মধ্যে সবচেয়ে অগ্রগণ্য।
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদাতি মিনান নিসায়ি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ২৪)
قَالَ صدقت نَحن كَذَلِك فَكيف قَوْلك … عزب الرقاد فمقلتي لَا ترقد … وَاللَّيْل يصدر بإلهموم ويورد … يَا ال مذْحج لَا مقَام فشمروا … ان الْعَدو لال احْمَد يقْصد … هَذَا عَليّ كإلهلال تحفه … وسط السَّمَاء من الْكَوَاكِب اِسْعَدْ … خير الخلائف وَابْن عَم مُحَمَّد … فَكفى بِذَاكَ لمن شناه تهدد … مازال مذ عرف الحروب مظفرا … والنصر فَوق لوائه مَا يفقد …

قَالَت قد كَانَ ذَلِك يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ وَأَنا لَنَطْمَع بك مِنْهُ خلفا فَقَالَ رجل من جُلَسَائِهِ كَيفَ يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ وَهِي القائلة … إِمَّا هَلَكت ابا الْحُسَيْن فَلم تزل … بِالْحَقِّ تعرف هاديا مهديا … فَاذْهَبْ عَلَيْك سلأم رَبك مَا دعت … فَوق الغصون حمأمة قمريا … قد كنت بعد مُحَمَّد خلفا لنا … أوصى اليك بِنَا فَكنت وفيا … فاليوم لَا خلف يؤمل بعده … هَيْهَات نأمل بعده انسيا …
তিনি বললেন, "তুমি সত্য বলেছ, আমরা এমনই। তবে তোমার সেই উক্তির কী অবস্থা? … নিদ্রা উধাও হয়েছে, তাই আমার দুচোখ ঘুমাচ্ছে না … আর রাত দুশ্চিন্তা নিয়ে আসে এবং প্রস্থান করে … হে মাজহিজ বংশধরগণ! অবস্থানের সময় নেই, তাই তোমরা কোমর বেঁধে প্রস্তুত হও … নিশ্চয়ই শত্রু আহমদের বংশধরের লক্ষ্য পানে অগ্রসর হচ্ছে … এই তো আলী, উদিত চাঁদের মতো তাঁকে ঘিরে রেখেছে … আকাশের মধ্যভাগে অতি সৌভাগ্যবান নক্ষত্ররাজি … তিনি স্থলাভিষিক্তদের মধ্যে সর্বোত্তম এবং মুহাম্মদের চাচাতো ভাই … যারা তাঁকে ঘৃণা করে, তাদের জন্য এই হুমকিই যথেষ্ট … যুদ্ধ চেনার পর থেকেই তিনি সর্বদা বিজয়ী হয়ে আছেন … আর তাঁর পতাকার উপরে বিজয় কখনো বিলীন হয় না …

তিনি (মহিলা) বললেন, "হে আমিরুল মুমিনিন! এমনটাই ছিল, আর আমরা তাঁর পরিবর্তে আপনার কাছেই (কল্যাণের) প্রত্যাশা করি।" তখন তাঁর মজলিসে বসা এক ব্যক্তি বলল, "হে আমিরুল মুমিনিন, এটি কীভাবে সম্ভব? অথচ তিনিই তো সেই নারী যিনি বলেছিলেন— … হে আবুল হাসান! আপনি যদি মৃত্যুবরণ করে থাকেন, তবুও আপনি সর্বদা … সত্যের পথে পরিচালিত ও পথপ্রদর্শক হিসেবে পরিচিত ছিলেন … সুতরাং আপনি প্রস্থান করুন, আপনার প্রতি আপনার রবের সালাম বর্ষিত হোক যতক্ষণ … গাছের ডালপালার ওপর ঘুঘু পাখি ডাকবে … মুহাম্মদের পরে আপনিই আমাদের জন্য উত্তরসূরি ছিলেন … তিনি আপনার নিকট আমাদের ব্যাপারে অসিয়ত করেছিলেন এবং আপনি বিশ্বস্ত ছিলেন … আজ তাঁর পরে আর কোনো উত্তরসূরির আশা করা যায় না … কতই না সুদূরপরাহত যে আমরা তাঁর পরে আর কোনো মানুষের আশা করব! …
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদাতি মিনান নিসায়ি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ২৫)
قَالَت يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ لِسَان نطق وَقَول صدق وان نحقق فِيك مَا أملناه فحظك الأوفر وَالله مَا أورثك الشنآن فِي قُلُوب الْمُسلمين إِلَّا هَؤُلَاءِ فَارْفض مقالتهم وابعد مَنْزِلَتهمْ فانك ان فعلت ازددت من الله قربا وَمن الْمُؤمنِينَ حبا قَالَ وانك لتقولين ذَلِك قَالَت سُبْحَانَ الله مَا مثلك من مدح بباطل وَلَا اعتذر إِلَيْهِ بكذب انك لتعلم ذَلِك من رَأينَا وَضمير قُلُوبنَا كَانَ عَليّ وَالله أحب الينا مِنْك اذ كَانَ حَيا وَأَنت فِي إلاحياء أحب الينا من غَيْرك ان كنت بَاقِيا قَالَ فَمِمَّنْ شكواك قَالَت من مَرْوَان بن الحكم وَسَعِيد بن الْعَاصِ قَالَ فَفِيمَ استحققت ذَلِك عَلَيْهِمَا قَالَت بِحسن حلمك وكريم طبعك وَكَثْرَة عفوك قَالَ فَإِنَّهُمَا ليعظمان حَقي قَالَت هما وَالله لَك على مَا كنت عَلَيْهِ لعُثْمَان قَالَ وَالله لقد صدقت فَمَا حَاجَتك

তিনি বললেন, "হে আমিরুল মুমিনিন! এটি একটি মুখরিত জিহ্বা এবং সত্য বক্তব্য। আর আমরা আপনার মাঝে যে আশা পোষণ করেছি তা যদি বাস্তবে রূপ পায়, তবে তা হবে আপনার পরম সৌভাগ্য। আল্লাহর শপথ, এই লোকগুলো ছাড়া অন্য কেউ মুসলমানদের অন্তরে আপনার প্রতি বিদ্বেষের বীজ বপন করেনি। সুতরাং আপনি তাদের কথা প্রত্যাখ্যান করুন এবং তাদেরকে আপনার সান্নিধ্য থেকে দূরে সরিয়ে দিন। কেননা আপনি যদি তা করেন, তবে আল্লাহর নিকট আপনার নৈকট্য বৃদ্ধি পাবে এবং মুমিনদের মাঝে আপনার প্রতি ভালোবাসা সঞ্চারিত হবে।" তিনি বললেন, "তুমি কি সত্যিই এই কথা বলছ?" তিনি বললেন, "সুবহানাল্লাহ! আপনার মতো ব্যক্তিত্বের সামনে কোনো বাতিল প্রশংসা করা যায় না এবং কোনো মিথ্যার মাধ্যমে ওজর পেশ করা যায় না। নিশ্চয়ই আপনি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং আমাদের অন্তরের কথা সম্পর্কে অবগত আছেন। আল্লাহর শপথ, আলী (রা.) যখন জীবিত ছিলেন, তখন তিনি আমাদের নিকট আপনার চেয়ে অধিক প্রিয় ছিলেন। আর বর্তমানে জীবিতদের মধ্যে আপনিই আমাদের নিকট অন্যদের চেয়ে অধিক প্রিয়, যতক্ষণ আপনি অবস্থান করছেন।" তিনি বললেন, "তাহলে তোমার অভিযোগ কার বিরুদ্ধে?" তিনি বললেন, "মারওয়ান ইবনুল হাকাম এবং সাঈদ ইবনুল আসের বিরুদ্ধে।" তিনি বললেন, "তাদের দুজনের বিপক্ষে তুমি কিসের ভিত্তিতে এই অধিকার লাভ করলে?" তিনি বললেন, "আপনার উত্তম সহনশীলতা, মহৎ স্বভাব এবং আপনার অধিক ক্ষমাশীলতার বদৌলতে।" তিনি বললেন, "নিশ্চয়ই তারা দুজন আমার অধিকারের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে।" তিনি বললেন, "আল্লাহর শপথ, তারা আপনার ক্ষেত্রেও ঠিক তা-ই করবে, যা তারা উসমানের (রা.) সাথে করেছিল।" তিনি বললেন, "আল্লাহর শপথ, তুমি সত্য বলেছ। এখন বলো তোমার প্রয়োজন কী?"

(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদাতি মিনান নিসায়ি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ২৬)
قَالَت ان مَرْوَان بن الحكم تبنك بِالْمَدِينَةِ تبنك من لَا يُرِيد البراح مِنْهَا لَا يحكم بِعدْل وَلَا يقْضِي بِسنة يتتبع عثرات الْمُسلمين ويكشف عورات الْمُؤمنِينَ حبس ابْن ابْني فاتيته فَقَالَ كَيْت وَكَيْت فالقمته اخشن من الْحجر وَأمر من الدفلى ثمَّ رجعت باللائمة على نَفسِي فِي أَمْرِي فاتيتك يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ لتَكون فِي أَمْرِي نَاظرا وعَلى معديا

قَالَ صدقت فِي مقالك ولسنا نسالك عَن ذَنْب ابْن ابْنك وَلَا القيأم بِحجَّة اكتبوا لَهَا بحاجتها قَالَت يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ وأنى لي بالرجعة وَقد نفد زادي وكلت مطيتي فَأمر لَهَا براحلة موطأة وَخَمْسَة آلَاف دِرْهَم

তিনি বললেন, "নিশ্চয় মারওয়ান ইবনুল হাকাম মদিনায় এমনভাবে জাঁকিয়ে বসেছে যেমনটি কেউ করে যে সেখান থেকে বিদায় নিতে চায় না। সে ন্যায়বিচারের সাথে শাসন করে না এবং সুন্নাহ মোতাবেক ফয়সালা দেয় না। সে মুসলিমদের বিচ্যুতিগুলো খুঁজে বেড়ায় এবং মুমিনদের দোষ-ত্রুটি উন্মোচন করে। সে আমার নাতিকে বন্দি করেছে; ফলে আমি তার কাছে গেলাম। সে এটা-সেটা বলল, আর আমি তাকে পাথরের চেয়েও কঠোর এবং করবীর চেয়েও তিক্ত জবাব দিলাম। এরপর আমি আমার এ আচরণের জন্য নিজেকেই তিরস্কার করতে করতে ফিরে এলাম। তাই হে আমিরুল মুমিনীন! আপনার নিকট এসেছি যাতে আপনি আমার বিষয়টি তদারকি করেন এবং আমাকে তার বিরুদ্ধে সাহায্য করেন।"

তিনি বললেন, "আপনি আপনার বক্তব্যে সত্য বলেছেন। আমরা আপনাকে আপনার নাতির অপরাধ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করব না এবং কোনো প্রমাণ উপস্থাপনের দাবিও করব না। তোমরা তার প্রয়োজনের ব্যাপারে (আদেশ) লিখে দাও।" তিনি বললেন, "হে আমিরুল মুমিনীন! আমার ফেরার উপায় কী হবে? আমার পাথেয় ফুরিয়ে গেছে এবং আমার সওয়ারি ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।" তখন তিনি তার জন্য একটি আরামদায়ক সওয়ারি এবং পাঁচ হাজার দিরহামের নির্দেশ দিলেন।

(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদাতি মিনান নিসায়ি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ২৭)
2 -‌‌ حَدِيث أم الْخَيْر بنت الْحَرِيش بن سراقَة

وباسنادهم عَن الْعَبَّاس بن بكار قَالَ حَدثنَا عبد الله بن عمر والغسإني عَن الشّعبِيّ قَالَ كتب مُعَاوِيَة إِلَى وَإِلَيْهِ بِالْكُوفَةِ ان يحمل إِلَيْهِ أم الْخَيْر بنت الْحَرِيش بن سراقَة ويرحلها براحلة محمودة الصُّحْبَة غير مذمومة الْعَاقِبَة وَقَالَ لَهُ اعْلَم أَنِّي مجازيك بقولِهَا فِيك بِالْخَيرِ خيرا وبالشر شرا

فَلَمَّا ورد عَلَيْهِ الْكتاب ركب إِلَيْهَا واقراها اياه فَقَالَت أما أَنا فَغير زائغة عَن الطَّاعَة وَلَا معتلة بكذب وَلَقَد كنت أحب لِقَاء أَمِير الْمُؤمنِينَ لأمور تختلج فِي مجْرى النَّفس مني يغلي بهَا صَدْرِي كغلي الْمرجل يُوقد تَحْتَهُ بجزل السمر فِي الصَّيف فَلَمَّا حملهَا واراد مفارقتها قَالَ لَهَا يَا أم الْخَيْر ان أَمِير الْمُؤمنِينَ قد ضمن ان يجازيني فِيك بِالْخَيرِ خيرا وبالشر شرا فَمَالِي عنْدك قَالَت يَا هَذَا لَا يطمعنك برك بِي فِي تذويق الْبَاطِل وَلَا يؤنسك بِي معرفتي بك ان أَقُول فِيك إِلَّا الْحق
২ -‌‌ উম্মুল খায়ের বিনতে আল-হারিশ বিন সুরাকার বর্ণনা

এবং তাঁদের সনদে আব্বাস বিন বাক্কার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বিন উমর আল-গাসসানী বর্ণনা করেছেন আশ-শা’বী থেকে, তিনি বলেন: মুআবিয়া কুফায় তাঁর গভর্নরের নিকট এই মর্মে পত্র লিখলেন যে, তিনি যেন উম্মুল খায়ের বিনতে আল-হারিশ বিন সুরাকাকে তাঁর নিকট পাঠিয়ে দেন এবং তাঁকে এমন এক সওয়ারীতে আরোহন করান যার সাহচর্য প্রশংসনীয় এবং যার পরিণাম মন্দ নয়। তিনি তাঁকে আরও বললেন: জেনে রেখো, তোমার ব্যাপারে তাঁর বক্তব্যের ভিত্তিতে আমি তোমাকে প্রতিদান দেব; উত্তম বললে উত্তম প্রতিদান, আর মন্দ বললে মন্দ প্রতিদান।

যখন তাঁর নিকট পত্রটি পৌঁছাল, তিনি সওয়ার হয়ে তাঁর নিকট গেলেন এবং তাঁকে তা পড়ে শোনালেন। তখন তিনি বললেন: আমি আনুগত্য থেকে বিচ্যুত নই এবং কোনো মিথ্যার আশ্রয়ও নিচ্ছি না। আমি আমীরুল মুমিনীনের সাথে সাক্ষাতের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করছিলাম এমন কিছু বিষয়ের কারণে যা আমার অন্তরে আলোড়ন সৃষ্টি করছিল এবং যার কারণে আমার বক্ষদেশ এমনভাবে ফুটছিল যেমন গ্রীষ্মকালে বড় কাঠের জ্বালানি দিয়ে উত্তপ্ত ডেকচি ফুটতে থাকে। অতঃপর যখন তিনি তাঁকে সওয়ারিতে উঠালেন এবং বিদায় নিতে চাইলেন, তখন তিনি তাঁকে বললেন: হে উম্মুল খায়ের, আমীরুল মুমিনীন নিশ্চয়তা দিয়েছেন যে, তোমার ব্যাপারে তিনি আমাকে প্রতিদান দেবেন—ভালোর জন্য ভালো এবং মন্দের জন্য মন্দ। সুতরাং আমার ব্যাপারে তোমার কাছে কী রয়েছে? তিনি বললেন: হে ব্যক্তি, আমার প্রতি তোমার সদাচরণ যেন তোমাকে মিথ্যাকে সুশোভিত করতে প্রলুব্ধ না করে এবং তোমার সাথে আমার পরিচয় যেন তোমাকে এই বিষয়ে আশ্বস্ত না করে যে আমি তোমার ব্যাপারে সত্য ছাড়া অন্য কিছু বলব।
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদাতি মিনান নিসায়ি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ২৮)
قَالَ فسارت خير مسير فَلَمَّا قدمت على مُعَاوِيَة انزلها مَعَ الْحرم ثَلَاثًا ثمَّ اذن لَهَا فِي الْيَوْم الرَّابِع وَعِنْده جُلَسَاؤُهُ فَدخلت فَقَالَت السَّلَام عَلَيْك يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ فَقَالَ وَعَلَيْك السَّلَام وبالرغم مِنْك وَالله دعوتني أَمِير الْمُؤمنِينَ قَالَت يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ مَه فان بديهة السُّلْطَان مدحضة لما يجب علمه قَالَ صدقت كَيفَ حالك يَا خَالَة وَكَيف كنت فِي مسيرك قَالَت بِخَير لم ازل فِي عَافِيَة وسلأمة حَتَّى ادتني اليك الركاب وَأَنا فِي عَيْش وَملك رَفِيق فتيق

ثمَّ قَالَ مُعَاوِيَة بِحسن نيتي وَالله ظَفرت بكم واعنت عَلَيْكُم قَالَت مَه يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ اعيذك بِاللَّه من خطل القَوْل وَمَا تردي عاقبته قَالَ لَيْسَ لهَذَا اردناك قَالَت لَهُ فَأَنا اجري فِي ميدانك إِذا اجريت شَيْئا اجريته ثمَّ قَالَت فاسأل عَمَّا بدا لَك قَالَ اخبريني كَيفَ كَانَ كلأمك يَوْم قتل عمار بن يَاسر قَالَت لم اكن رويته قبل وَلَا درسته بعد وَإِنَّهَا كَأَنْت كَلِمَات نفثهن لسإني حِين الصدمة فان أَحْبَبْت ان احدث لَك مقإلا غَيره فعلت قَالَ لَا اشاء ثمَّ الْتفت إِلَى اصحابه فَقَالَ ايكم يحفظ كلا مها فَقَالَ رجل من الْقَوْم يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ أَنا احفظه كحفظي سُورَة الْحَمد قَالَ هاته قَالَ نعم كإني بهَا فِي ذَلِك الْيَوْم
বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তিনি সর্বোত্তমভাবে সফর করলেন। যখন তিনি মুয়াবিয়ার নিকট উপস্থিত হলেন, তখন মুয়াবিয়া তাঁকে তাঁর অন্তঃপুরবাসিনীদের সাথে তিন দিন অবস্থান করালেন। অতঃপর চতুর্থ দিনে তিনি তাঁকে সাক্ষাতের অনুমতি দিলেন; তখন তাঁর নিকট তাঁর সভাসদগণ উপস্থিত ছিলেন। তিনি প্রবেশ করলেন এবং বললেন, "হে আমিরুল মুমিনিন, আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।" মুয়াবিয়া বললেন, "আপনার ওপরও শান্তি বর্ষিত হোক। আল্লাহর কসম, আপনি অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমাকে আমিরুল মুমিনিন বলে সম্বোধন করেছেন।" তিনি বললেন, "হে আমিরুল মুমিনিন, শান্ত হোন! কেননা শাসকের তাৎক্ষণিক আবেগ অনেক সময় যা জানা আবশ্যক তা আড়াল করে দেয়।" মুয়াবিয়া বললেন, "আপনি সত্য বলেছেন। হে খালা, আপনার অবস্থা কেমন এবং আপনার সফর কেমন ছিল?" তিনি বললেন, "ভালো। বাহনসমূহ আমাকে আপনার নিকট পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত আমি সর্বদা সুস্থতা ও নিরাপত্তার মাঝেই ছিলাম এবং আমি স্বাচ্ছন্দ্যময় ও প্রশস্ত জীবন ও রাজত্বের মাঝেই রয়েছি।"

অতঃপর মুয়াবিয়া বললেন, "আল্লাহর কসম, আমার নিয়তের সততার কারণেই আমি আপনাদের ওপর জয়ী হয়েছি এবং আপনাদের বিরুদ্ধে সাহায্যপ্রাপ্ত হয়েছি।" তিনি বললেন, "হে আমিরুল মুমিনিন, ক্ষান্ত হোন! আমি আপনার জন্য আল্লাহর নিকট অসার কথা এবং যার পরিণাম মন্দ হয়—এমন বিষয় থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।" মুয়াবিয়া বললেন, "আমরা আপনাকে এই উদ্দেশ্যে তলব করিনি।" তিনি তাঁকে বললেন, "তবে আপনি যে ময়দানে অবতীর্ণ হবেন, আমি আপনার সাথে সেখানেই চলব।" অতঃপর তিনি বললেন, "এখন আপনার যা ইচ্ছা জিজ্ঞাসা করুন।" মুয়াবিয়া বললেন, "আমাকে বলুন, আম্মার ইবনে ইয়াসির যেদিন শহীদ হন, সেদিন আপনার বক্তব্য কেমন ছিল?" তিনি বললেন, "আমি তা ইতিপূর্বে প্রস্তুত করিনি এবং এরপরে চর্চাও করিনি। সেগুলো ছিল কেবল কিছু কথা যা প্রচণ্ড আঘাতের মুহূর্তে আমার জিহ্বা থেকে নিঃসৃত হয়েছিল। আপনি যদি চান যে আমি আপনার সামনে অন্য কোনো বক্তব্য পেশ করি, তবে আমি তা করব।" মুয়াবিয়া বললেন, "আমি তা চাই না।" অতঃপর তিনি তাঁর সঙ্গীদের দিকে ফিরে বললেন, "আপনাদের মধ্যে কে তাঁর বক্তব্য মুখস্থ রেখেছেন?" তখন লোকদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বলল, "হে আমিরুল মুমিনিন, আমি তা সূরা আল-হামদ মুখস্থ রাখার মতোই মুখস্থ রেখেছি।" মুয়াবিয়া বললেন, "তবে তা পেশ করো।" সে বলল, "জি, আমি যেন সেই দিন তাঁকে সেই অবস্থায় দেখতে পাচ্ছি..."
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদাতি মিনান নিসায়ি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ২৯)
وَعَلَيْهَا برد زبيدي كثيف الْحَاشِيَة وَهِي على جمل وبيدها سَوط منشورة الظفيرة وَهِي كالفحل يهدر فِي شقشقته وَهِي تَقول {يَا أَيهَا النَّاس اتَّقوا ربكُم إِن زَلْزَلَة السَّاعَة شَيْء عَظِيم} ان الله عز وجل قد أوضح الْحق وابان الْبَاطِل وَنور السبل وَرفع الْعلم فَلم يدعكم فِي عمياء مشتبهة وَلَا عشواء مدلهمة فَإلَى ايْنَ تُرِيدُونَ رحمكم الله افرارا من أَمِير الْمُؤمنِينَ وَمن الزَّحْف أم رَغْبَة عَن إلاسلام أم ارْتِدَادًا عَن الْحق أما سَمِعْتُمْ الله تَعَالَى يَقُول {ولنبلونكم حَتَّى نعلم الْمُجَاهدين مِنْكُم وَالصَّابِرِينَ ونبلو أخباركم} ثمَّ رفعت راسها إِلَى السَّمَاء وَقَالَت اللَّهُمَّ إِنَّه قد عيل الصَّبْر وَضعف الْيَقِين وأنتشرت الرَّغْبَة وبيدك يَا رب ازمة الْقُلُوب فاجمع اللَّهُمَّ الْكَلِمَة على التَّقْوَى والف الْقُلُوب على إلهدى واردد الْحق إِلَى أَهله هلموا رحمكم الله إِلَى إلامأم الْعدْل والتقي الوفي وَالصديق الْوَصِيّ إِنَّهَا احن بدرية وضغائن جأهلية واحقاد احدية وثب بهَا مُعَاوِيَة عِنْد الْغَفْلَة ليدرك بهَا الفرصة من ثَارَاتِ بني عبد شمس ثمَّ قَالَت {فَقَاتلُوا أَئِمَّة الْكفْر إِنَّهُم لَا أَيْمَان لَهُم لَعَلَّهُم ينتهون} صبرا معاشر الْمُهَاجِرين وَالْأَنْصَار قَاتلُوا على بَصِيرَة من ربكُم وثبات من دينكُمْ وَكُونُوا قوما مستبصرين فَكَأَنِّي
তাঁর পরিধানে ছিল একটি মোটা পাড়ের জুবাইদি চাদর এবং তিনি একটি উটের পিঠে আরোহণ করেছিলেন। তাঁর হাতে ছিল একটি চাবুক যার অগ্রভাগ বিনুনি করা ও উন্মুক্ত। তিনি এমনভাবে গর্জন করছিলেন যেন এক বলিষ্ঠ পুরুষ উট তার মুখগহ্বর থেকে শব্দ করছে। তিনি বলছিলেন, "হে লোকসকল! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো; নিশ্চয়ই কিয়ামতের প্রকম্পন এক ভয়াবহ বিষয়।" আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা সত্যকে সুস্পষ্ট করেছেন এবং মিথ্যাকে পৃথক করেছেন, পথসমূহকে আলোকিত করেছেন এবং নিশানকে সমুন্নত করেছেন। সুতরাং তিনি তোমাদের কোনো বিভ্রান্তিকর অন্ধকারে বা নিবিড় অমানিশার মধ্যে ছেড়ে দেননি। আল্লাহ তোমাদের প্রতি রহম করুন, আমিরুল মুমিনীনের কাছ থেকে এবং রণক্ষেত্র থেকে পলায়ন করে, নাকি ইসলাম থেকে বিমুখ হয়ে, নাকি সত্য থেকে বিচ্যুত হয়ে তোমরা কোথায় যাওয়ার ইচ্ছা করছ? তোমরা কি মহান আল্লাহকে বলতে শোনোনি— "আর আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব, যতক্ষণ না আমি তোমাদের মধ্য থেকে মুজাহিদ ও ধৈর্যশীলদের চিনে নিই এবং তোমাদের অবস্থা যাচাই করি।" অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মাথা তুললেন এবং বললেন, "হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই ধৈর্য নিঃশেষ হয়ে গেছে এবং বিশ্বাস দুর্বল হয়ে পড়েছে, আর লালসা ছড়িয়ে পড়েছে। হে রব! হৃদয়ের নিয়ন্ত্রণ তো আপনার হাতে। অতএব হে আল্লাহ! তাকওয়ার ওপর আমাদের ঐক্যবদ্ধ করুন, হিদায়াতের ওপর আমাদের হৃদয়গুলোকে মিলিয়ে দিন এবং সত্যকে তার প্রকৃত অধিকারীর কাছে ফিরিয়ে দিন। আল্লাহ তোমাদের প্রতি রহম করুন, তোমরা সেই ন্যায়নিষ্ঠ, মুত্তাকি, প্রতিশ্রুতি পালনকারী এবং সত্যবাদী স্থলাভিষিক্ত ইমামের দিকে এসো। নিশ্চয়ই এগুলো বদর যুদ্ধের ক্ষোভ, জাহেলিয়াতের বিদ্বেষ এবং ওহুদ যুদ্ধের ঘৃণা, যা মুয়াবিয়া মানুষের অসতর্কতার সুযোগে জাগিয়ে তুলেছে, যাতে সে বনু আবদে শামসের প্রতিশোধ গ্রহণের সুযোগ পায়।" অতঃপর তিনি পাঠ করলেন, "সুতরাং তোমরা কুফরের নেতাদের সাথে যুদ্ধ করো, নিশ্চয়ই তাদের কোনো শপথ নেই, যেন তারা বিরত হয়।" হে মুহাজির ও আনসার সম্প্রদায়! ধৈর্য ধারণ করো। তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত অন্তর্দৃষ্টি এবং দ্বীনের ওপর অবিচল থেকে যুদ্ধ করো এবং তোমরা দূরদর্শী জাতি হও। যেন আমি দেখতে পাচ্ছি...
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদাতি মিনান নিসায়ি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ৩০)
بكم وَقد لَقِيتُم أهل الشَّام كحمر مستنفرة لَا تَدْرِي ايْنَ يسْلك بهَا من فجاج الأَرْض باعوا الْآخِرَة بالدنيا واشتروا الضَّلَالَة بِالْهدى وَبَاعُوا البصيرة بالعمى وَعَما قَلِيل لتصبحن نادمين حِين تحل بكم الندأمة فتطلبون إلاقالة {ولات حِين مناص} إِنَّه وَالله من ضل عَن الْحق وَقع فِي الْبَاطِل وَمن لم يسكن الْجنَّة نزل النَّار ايها النَّاس ان إلاكياس استقصروا عمر الدُّنْيَا فرفضوها واستطالوا مُدَّة إلاخرة فسعوا لَهَا سعيا وابتاعوا بدار لَا يَدُوم نعيمها وَلَا تتصرم همومها ايها النَّاس إِنَّه لَوْلَا ان يبطل الْحق وتعطل الْحُدُود وَيظْهر الظَّالِمُونَ وتقوى كلمة الشَّيْطَان لما اخترنا وُرُود المنايا على خفض الْعَيْش وطيبه فَإلَى ايْنَ تُرِيدُونَ رحمكم الله افرارا عَن ابْن عَم رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَزوج ابْنَته وَأبي سبطيه خلق وَالله من طينته وتفرع من نبعته وَخَصه بسره وَجعله بَاب مدينته وَعم بحبه الْمُسلمين وابان ببغضه الْمُنَافِقين فَلم يزل كَذَلِك حَتَّى ايده الله بمعونته يمْضِي على سنَن استقامته لَا يعرج لراحة اللَّذَّات هَا هُوَ مفلق إلهام ومكسر الاصنام صلى وَالنَّاس مشركون واطاع وَالنَّاس مخالفون مرتابون فَلم يزل كَذَلِك حَتَّى قتل مبارزي بدر وافنى أهل اُحْدُ وَهزمَ الله بِهِ الاحزاب وَقتل أهل خَيْبَر وَفرق بِهِ جمع هوَازن فيا لَهَا من وقائع زرعت فِي قُلُوب قوم نفَاقًا وردة وشقاقا

তোমাদের কী হলো! তোমরা সিরিয়াবাসীদের সাথে এমনভাবে সাক্ষাৎ করেছ যেন তোমরা আতঙ্কিত গাধার পাল, যারা জানে না জমিনের কোন সংকীর্ণ পথ দিয়ে তাদের পরিচালিত করা হচ্ছে। তারা দুনিয়ার বিনিময়ে আখিরাতকে বিক্রি করে দিয়েছে, হেদায়েতের পরিবর্তে পথভ্রষ্টতাকে ক্রয় করেছে এবং অন্তর্দৃষ্টির বিনিময়ে অন্ধত্বকে গ্রহণ করেছে। অচিরেই তোমরা লজ্জিত হবে যখন তোমাদের ওপর অনুশোচনা নেমে আসবে; তখন তোমরা অব্যাহতি চাইবে, অথচ তখন পলায়নের কোনো সুযোগ থাকবে না। আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই যে সত্য থেকে বিচ্যুত হয় সে বাতিলের মধ্যে নিপতিত হয় এবং যে জান্নাতে আবাসন গ্রহণ করে না সে জাহান্নামে অবতরণ করে। হে লোকসকল, নিশ্চয়ই বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা দুনিয়ার হায়াতকে তুচ্ছ জ্ঞান করে একে বর্জন করেছে এবং আখিরাতের ব্যাপ্তিকে দীর্ঘ বিবেচনা করে তার জন্য যথাযথ প্রচেষ্টা চালিয়েছে। তারা এমন এক আবাসের বিনিময়ে সওদা করেছে যার নেয়ামত চিরস্থায়ী নয় এবং যার দুশ্চিন্তা শেষ হয় না। হে লোকসকল, যদি সত্য বিলুপ্ত হওয়া, দণ্ডবিধি স্থগিত হওয়া, জালেমদের আধিপত্য বিস্তার এবং শয়তানের বাণীর শক্তি বৃদ্ধির আশঙ্কা না থাকত, তবে আমরা স্বাচ্ছন্দ্যময় ও মনোরম জীবনের পরিবর্তে মৃত্যুকে বেছে নিতাম না। অতএব আল্লাহ তোমাদের ওপর রহম করুন, তোমরা কোথায় যেতে চাচ্ছ? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাচাতো ভাই, তাঁর কন্যার স্বামী এবং তাঁর দুই দৌহিত্রের পিতার নিকট থেকে কি তোমরা পলায়ন করছ? আল্লাহর কসম, তাঁকে সৃষ্টি করা হয়েছে তাঁরই উপাদান থেকে, তিনি তাঁরই উৎসের শাখা, রাসূল (সা.) তাঁকে স্বীয় গোপন রহস্যের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন এবং তাঁকে নিজ জ্ঞানের শহরের প্রবেশদ্বার বানিয়েছেন। তাঁর প্রতি ভালোবাসার মাধ্যমে তিনি মুসলিমদের ব্যাপৃত করেছেন এবং তাঁর প্রতি বিদ্বেষের দ্বারা মুনাফিকদের চিহ্নিত করেছেন। তিনি এভাবেই অটল ছিলেন যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁকে স্বীয় সাহায্যের মাধ্যমে শক্তিশালী করলেন। তিনি আপন একনিষ্ঠতার পথে এগিয়ে চলেছেন এবং সুখ-বিলাসের বিশ্রামের দিকে ভ্রুক্ষেপ করেননি। এই তো তিনি, বীরদের মস্তক বিদীর্ণকারী এবং মূর্তিসমূহ চূর্ণকারী; তিনি তখন সালাত আদায় করেছেন যখন মানুষ ছিল মুশরিক, আর তিনি তখন আনুগত্য করেছেন যখন মানুষ ছিল বিরোধী ও সংশয়বাদী। তিনি এভাবেই অবিচল ছিলেন যতক্ষণ না তিনি বদরের বীর যোদ্ধাদের হত্যা করেছেন, ওহুদের শত্রু পক্ষকে বিনাশ করেছেন; আল্লাহ তাঁর মাধ্যমেই সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করেছেন, খায়বরবাসীদের হত্যা করেছেন এবং হাওয়াযিন গোত্রের সমাবেশকে ছত্রভঙ্গ করেছেন। আক্ষেপ সেই সব যুদ্ধের প্রতি, যা একদল লোকের অন্তরে নিফাক, ধর্মত্যাগ ও বিভেদের বীজ বপন করেছে।

(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদাতি মিনান নিসায়ি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ৩১)
قد اجتهدت فِي القَوْل وبالغت فِي النَّصِيحَة وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق وَالسَّلَام عَلَيْكُم وَرَحْمَة الله وَبَرَكَاته

فَقَالَ مُعَاوِيَة يَا أم الْخَيْر وَالله مَا أردْت بِهَذَا الكلأم إِلَّا قَتْلِي وَلَو قتلتك لما حرجت فِي ذَلِك قَالَت إِنَّه وَالله إِنَّه ليسرني ان يجْرِي الله قَتْلِي على يَدي من يسعدني الله بشقائه فَقَالَ هَيْهَات يَا كَثِيرَة الفضول مَا تَقُولِينَ فِي عُثْمَان بن عَفَّان قَالَت وَمَا عَسَيْت ان أَقُول فِيهِ اسْتَخْلَفَهُ النَّاس وهم راضون بِهِ وقتلوه وهم لَهُ كَارِهُون ثمَّ قَالَ مُعَاوِيَة هَذَا وَالله اصلك الَّذِي تبنين عَلَيْهِ قَالَت لَكِن الله يشْهد وَكفى بِهِ شَهِيدا إِنِّي مَا أردْت بعثمان نقصا وَلَقَد كَانَ سباقا إِلَى الْخَيْر وَإنَّهُ لرفيع الدَّرَجَات غَدا قَالَ فَمَا تَقُولِينَ فِي طَلْحَة بن عبيد الله قَالَت وَمَا عَسَيْت ان أَقُول فِيهِ اغتيل من مأمنه واتى من حَيْثُ لم يحذر ووعده رَسُول الله صلى الله عليه وسلم الْجنَّة قَالَ فَمَا تَقُولِينَ فِي الزبير قَالَت لَا تدعني يَا مُعَاوِيَة ارْجع كرجيع الثَّوْب الصبيغ يعرك فِي المركن قَالَ حَقًا لتقولن
আমি বক্তব্যে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি এবং উপদেশের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ধৈর্য প্রদর্শন করেছি; আর আল্লাহর নিকটই তাওফিক। আপনাদের ওপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।

অতঃপর মুয়াবিয়া বললেন, হে উম্মুল খায়ের! আল্লাহর শপথ, তুমি এই কথার দ্বারা আমাকে হত্যা করা ছাড়া অন্য কিছু উদ্দেশ্য করোনি; আর আমি যদি তোমাকে হত্যা করতাম তবে তাতে কোনো গুনাহ হতো না। তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ, এটি আমাকে আনন্দিত করবে যে আল্লাহ আমার মৃত্যু এমন এক ব্যক্তির হাতে কার্যকর করবেন যার দুর্ভাগ্যের কারণে আল্লাহ আমাকে সৌভাগ্য দান করবেন। তিনি বললেন, অসম্ভব! হে অতি বাকপটু নারী, উসমান ইবনে আফফান সম্পর্কে তোমার বক্তব্য কী? তিনি বললেন, তার সম্পর্কে আমি আর কী বলতে পারি? মানুষ তাকে খলিফা নিযুক্ত করেছিল যখন তারা তার ওপর সন্তুষ্ট ছিল এবং তাকে হত্যা করেছিল যখন তারা তার প্রতি অসন্তুষ্ট ছিল। অতঃপর মুয়াবিয়া বললেন, আল্লাহর শপথ, এটিই তোমার সেই মূলনীতি যার ওপর তুমি তোমার যুক্তি নির্মাণ করো। তিনি বললেন, তবে আল্লাহ সাক্ষী এবং সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট যে, আমি উসমানের কোনো মর্যাদাহানি করার ইচ্ছা করিনি; তিনি কল্যাণের পথে অগ্রগামী ছিলেন এবং পরকালে তিনি অবশ্যই উচ্চ মর্যাদার অধিকারী হবেন। তিনি বললেন, তবে তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ সম্পর্কে তোমার অভিমত কী? তিনি বললেন, তার সম্পর্কে আমি কী বলতে পারি? তাকে তার নিরাপদ আশ্রয়ে থাকাকালীন অতর্কিতে হত্যা করা হয়েছিল এবং তার ওপর আক্রমণ এসেছিল এমন দিক থেকে যেখান থেকে তিনি সতর্কতা অবলম্বন করেননি; আর আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বললেন, তবে জুবায়ের সম্পর্কে তোমার অভিমত কী? তিনি বললেন, হে মুয়াবিয়া, আমাকে বাধ্য করবেন না যেন আমি সেই রঞ্জিত কাপড়ের মতো হয়ে যাই যা ধৌত করার পাত্রে বারবার রগড়ানো হয়। তিনি বললেন, অবশ্যই তোমাকে বলতে হবে।
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদাতি মিনান নিসায়ি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ৩২)
قَالَت وَمَا كنت أَقُول فِي الزبير ابْن عمَّة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وحواريه وَقد شهد رَسُول الله لَهُ بِالْجنَّةِ وَلَقَد كَانَ سباقا إِلَى كل مكرمَة فِي إلاسلام وَأَنا اسالك يَا مُعَاوِيَة الاعفاء فان قُريْشًا يَزْعمُونَ انك من احلمها واعقلها وان يسعني فضل حلمك وان تعفيني من هَذِه الْمسَائِل وأمض لما شِئْت قَالَ نعم ونعمة عين قد اعفيتك ثمَّ أَمر لَهَا بصلَة وجائزة وردهَا مكرمَة
তিনি বললেন, "আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফুফাতো ভাই এবং তাঁর হাওয়ারী (একনিষ্ঠ সহচর) জুবাইর সম্পর্কে আমি কী-ই বা বলব? অথচ আল্লাহর রাসূল তাঁর জান্নাতি হওয়ার সাক্ষ্য দিয়েছেন। আর তিনি ইসলামে প্রতিটি মহৎ কার্যের ক্ষেত্রে অগ্রগামী ছিলেন। হে মুয়াবিয়া! আমি আপনার নিকট অব্যাহতি প্রার্থনা করছি। কেননা কুরাইশরা মনে করে যে, আপনি তাদের মধ্যে সর্বাধিক সহনশীল ও বুদ্ধিমান। সুতরাং আপনার প্রশস্ত সহনশীলতা যেন আমাকেও শামিল করে এবং আপনি আমাকে এসব প্রশ্ন থেকে অব্যাহতি দান করেন; আর আপনি যা ইচ্ছা তা সম্পন্ন করুন।" তিনি বললেন, "হ্যাঁ, অত্যন্ত আনন্দের সাথেই আমি আপনাকে অব্যাহতি দিলাম।" অতঃপর তিনি তাঁর জন্য উপঢৌকন ও পুরস্কারের আদেশ দিলেন এবং তাঁকে সসম্মানে বিদায় করলেন।
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদাতি মিনান নিসায়ি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ৩৩)
3 -‌‌ حَدِيث جروة بنت مرّة بن غَالب التميمية

وَبِهَذَا إلاسناد عَن الْعَبَّاس بن بكار قَالَ حَدثنِي عبد الله بن سُلَيْمَان الْمدنِي عَن أَبِيه وَسُهيْل بن أبي سُهَيْل عَن أَبِيه عَن عمته قَالَت احْتجم مُعَاوِيَة بِالْمَدِينَةِ فَلَمَّا أَمْسَى ارق ارقا شَدِيدا فارسل إِلَى جروة بنت مرّة بن غَالب التميمية وَكَانَت مجاورة بِمَكَّة وَهِي من بني اسيد بن عَمْرو بن تَمِيم فَلَمَّا دخلت عَلَيْهِ قَالَ لَهَا مرْحَبًا بك يَا جروة ارعبناك قَالَت اي وَالله لقد طرقت فِي سَاعَة لَا يطْرق فِيهَا الطير فِي وَكره فارعب قلبِي وارعب صبياني وافزعت عشيرتي وَتركت بَعضهم يموج فِي بعض يراجعون القَوْل ويدبرون الرَّأْي خشيَة مِنْك وشفقة عَليّ

فَقَالَ مُعَاوِيَة لتسكن روعتك وتطب نَفسك فَإِن الْأَمر على محبتك
৩ -‌‌ জারওয়াহ বিনতে মুররাহ বিন গালিব আত-তামিমিয়ার বর্ণনা

এবং এই সনদেই আব্বাস বিন বাক্কার হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাকে আবদুল্লাহ বিন সুলায়মান আল-মাদানি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন, এবং সুহাইল বিন আবি সুহাইল তাঁর পিতা হতে, তিনি তাঁর ফুফু হতে বর্ণনা করেন, যিনি বলেন: মুআবিয়া মদিনায় হিজামা (শিঙা) গ্রহণ করলেন। অতঃপর যখন সন্ধ্যা হলো, তিনি তীব্র অনিদ্রায় আক্রান্ত হলেন। তখন তিনি জারওয়াহ বিনতে মুররাহ বিন গালিব আত-তামিমিয়ার নিকট লোক পাঠালেন; তিনি মক্কায় অবস্থান করতেন এবং বনু উসাইদ বিন আমর বিন তামিমে গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। যখন তিনি তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন, তিনি (মুআবিয়া) তাঁকে বললেন: হে জারওয়াহ, আপনাকে স্বাগতম। আমরা কি আপনাকে আতঙ্কিত করে ফেলেছি? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! আপনি এমন এক সময়ে সংবাদ পাঠিয়েছেন যখন পাখিরাও তাদের নীড়ে বিচলিত হয় না। এটি আমার হৃদয়কে শঙ্কিত করেছে, আমার সন্তানদের ভীত করেছে এবং আমার গোত্রকে আতঙ্কিত করেছে। আমি তাদের এমন অবস্থায় রেখে এসেছি যে তারা আপনার ভয়ে এবং আমার প্রতি আশঙ্কায় একে অপরের সাথে জল্পনা-কল্পনা ও নানা মত প্রকাশ করছিল।

মুআবিয়া বললেন: আপনার আতঙ্ক দূর হোক এবং আপনার মন শান্ত হোক; কারণ বিষয়টি আপনার অনুকূলেই হবে।
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদাতি মিনান নিসায়ি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ৩৪)
قَالَت احسن الله بشارتك وادام سلامتك ثمَّ قَالَ احتجمت فاعقبني ذَلِك ارقا شَدِيدا فَأرْسلت اليك لتخبريني عَن قَوْمك قَالَت عَن اي قومِي تسالني قَالَ عَن بني تَمِيم قَالَت يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ هم اكثر النَّاس عددا وأوسعهم بَلَدا وابعدهم أمدا هم الذَّهَب إلاحمر والحسب إلافخر وَالْعدَد الاكثر قَالَ صدقت فنزليهم لي قَالَت يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ أما بَنو عَمْرو بن تَمِيم فاصحاب بَأْس ونجدة وحشد وَشدَّة لَا يتخاذلون عِنْد اللِّقَاء وَلَا تطمع فيهم الاعداء سلمهم فيهم وسيفهم على عدوهم وَنعم الْقَوْم لأَنْفُسِهِمْ قَالَ صدقت

قَالَت وَأما بَنو سعد بن زيد مَنَاة فَفِي الْعدَد الاكثرون وَفِي الْحسب إلاطيبون يصبرون ان غضبوا ويدركون ان طلبُوا اصحاب سيوف وجحف ونزال ودلف إِلَّا ان باسهم فيهم وسيفهم عَلَيْهِم وَأما حَنْظَلَة فالبيت الرفيع والحسب البديع والعز المنيع والمكرمون للْجَار والطالبون للثأر والناقضون الأوتار
তিনি বললেন, “আল্লাহ আপনার সুসংবাদকে উত্তম করুন এবং আপনার নিরাপত্তা বজায় রাখুন।” অতঃপর তিনি বললেন, “আমি রক্তমোক্ষণ (হিজামা) করিয়েছিলাম, যার ফলে আমার তীব্র অনিদ্রা দেখা দিয়েছে। তাই আমি তোমাকে ডেকে পাঠিয়েছি যেন তুমি আমাকে তোমার গোত্র সম্পর্কে কিছু বলো।” তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “আপনি আমার কোন গোত্র সম্পর্কে জানতে চান?” তিনি বললেন, “বনু তামিমি সম্পর্কে।” তিনি বললেন, “হে আমিরুল মুমিনিন! তারা সংখ্যায় সর্বাধিক, ভূখণ্ডে সর্বাপেক্ষা প্রশস্ত এবং লক্ষ্যে সর্বাপেক্ষা সুদূরপ্রসারী। তারা হলো খাঁটি স্বর্ণ, গর্বিত আভিজাত্য এবং সংখ্যায় গরিষ্ঠ।” তিনি বললেন, “তুমি সত্য বলেছ, এখন তাদের শ্রেণিবিভাগ আমার কাছে বর্ণনা করো।” তিনি বললেন, “হে আমিরুল মুমিনিন! বনু আমর ইবন তামিম বীরত্ব, সাহসিকতা, সংহতি ও শক্তির অধিকারী। যুদ্ধের ময়দানে তারা একে অপরকে ত্যাগ করে না এবং শত্রুরা তাদের ওপর লোলুপ হওয়ার সাহস পায় না। নিজেদের মধ্যে তারা শান্তিকামী এবং শত্রুদের বিরুদ্ধে তাদের তরবারি কোষমুক্ত। তারা নিজেদের জন্য এক অনন্য জাতি।” তিনি বললেন, “তুমি সত্য বলেছ।”

তিনি বললেন, “আর বনু সাদ ইবন যায়েদ মানাত সংখ্যায় সর্বাধিক এবং আভিজাত্যে অত্যন্ত পবিত্র। তারা ক্রুদ্ধ হলে ধৈর্য ধারণ করে এবং কিছু অনুসন্ধান করলে তা লাভ করে। তারা তরবারি, ঢাল, দ্বন্দ্বযুদ্ধ এবং বীরবিক্রমে অগ্রসর হওয়ার অধিকারী। তবে তাদের অভ্যন্তরীণ সংঘাত প্রবল এবং তাদের তলোয়ার নিজেদের বিরুদ্ধেই উদ্যত। আর হানজালা হলো উচ্চ বংশীয় মর্যাদা, অনন্য আভিজাত্য ও অজেয় সম্মানের অধিকারী। তারা প্রতিবেশীদের সম্মানকারী, রক্তের প্রতিশোধ গ্রহণকারী এবং অন্যায়ের যোগ্য জবাব দানকারী।”
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদাতি মিনান নিসায়ি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ৩৫)
فَقَالَ مُعَاوِيَة ان حَنْظَلَة شَجَرَة تتفرع فنزليهم لي قَالَت أما البراجم فاصابع مجتمعة واكف ممتنعة وَأما بَنو طهية فقوم هوج وَقرن لجوج وَأما ربيعَة فصخرة صماء وحية رقشاء يعتزون بعزهم ويفخرون بقومهم وَأما بَنو يَرْبُوع ففرسان الرماح واسود الصَّباح يعتنقون الاقران وَيقْتلُونَ الابطال والفرسان وَأما بَنو مَالك فَجمع غير مفلول وَعز غير منحول لُيُوث هرارة وخيول كرارة وَأما بَنو دارم فكرم لَا يداني وَعز لَا يواتى وَشرف لَا يسامى قَالَ لَهَا مُعَاوِيَة أَنْت اعْلَم النَّاس بتميم فَكيف علمك بقيس قَالَت كعلمي بنفسي قَالَ فاخبريني عَنْهُم قَالَت أما غطفان فاكثر سادة وَأَمْنَع قادة وَأما فَزَارَة فبيتها الْمَشْهُور وحسبها الْمَذْكُور وَأما ذبيان فخطباء شعراء اعزة اقوياء وَأما عبس فحمية لَا تطفأ وَعقبَة لَا تعلى وحية لَا ترقى وَأما

মুয়াবিয়া বললেন, ‘নিশ্চয়ই হানজালা হলো একটি শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট বৃক্ষ, সুতরাং তাদের অবস্থান আমার কাছে বর্ণনা করো।’ তিনি বললেন, ‘বারাজিমরা হলো একত্রিত আঙুলের মতো এবং দুর্ভেদ্য হাতের তালুর মতো। আর বনু তাহিয়্যাহ হলো তেজস্বী সম্প্রদায় এবং একগুঁয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী। আর রাবিয়াহ হলো সুদৃঢ় পাথর এবং বিচিত্রবর্ণের বিষধর সাপ; তারা তাদের শক্তিতে বলীয়ান হয় এবং তাদের গোত্র নিয়ে গর্ব করে। আর বনু ইয়ারবু হলো বর্শাধারী অশ্বারোহী এবং প্রত্যুষের সিংহ; তারা সমকক্ষদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয় এবং বীর ও অশ্বারোহীদের হত্যা করে। আর বনু মালিক হলো এমন এক সুসংহত দল যারা অজেয় এবং এমন এক মর্যাদা যা অন্য থেকে গৃহীত নয়; তারা গর্জনকারী সিংহ এবং বারবার আক্রমণকারী অশ্ববাহিনী। আর বনু দারিম হলো এমন এক মহানুভবতা যার নিকটবর্তী হওয়া যায় না, এমন এক শক্তি যা পরাভূত করা যায় না এবং এমন এক শ্রেষ্ঠত্ব যার সমকক্ষ হওয়া যায় না।’ মুয়াবিয়া তাকে বললেন, ‘তুমি তামিম গোত্র সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী। কায়স গোত্র সম্পর্কে তোমার জ্ঞান কেমন?’ তিনি বললেন, ‘নিজে সম্পর্কে আমার যেমন জ্ঞান, তাদের সম্পর্কেও তেমনি।’ তিনি বললেন, ‘তাহলে তাদের সম্পর্কে আমাকে জানাও।’ তিনি বললেন, ‘গাতাফান হলো সর্দারদের মধ্যে সংখ্যায় অধিক এবং নেতৃবৃন্দের মধ্যে অধিক শক্তিশালী। আর ফাজারা হলো সুপ্রসিদ্ধ গৃহ এবং সুবিদিত আভিজাত্যের অধিকারী। আর যুবইয়ান হলো বাগ্মী ও কবিদের সমাবেশ, যারা অত্যন্ত সম্মানিত ও শক্তিশালী। আর আবস হলো এমন এক আত্মমর্যাদাবোধ যা কখনও নির্বাপিত হয় না, এমন এক উচ্চতা যাকে অতিক্রম করা যায় না এবং এমন এক বিষধর সাপ যার বিষ ঝাড়ফুঁকে নামে না। আর...’

(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদাতি মিনান নিসায়ি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ৩৬)
هوَازن فحلم ظَاهر وَعز قاهر وَأما بَنو سليم ففرسان الْمَلَاحِم واسود ضراغم وَأما نمير فشوكة مَسْمُومَة وَهَامة ملمومة واية مفهومة وَأما هِلَال فاسم فخم وَعز ضخم وَأما بَنو كلاب فعدد كثير وبحر ذخير وفخر اثير وَحكم كثير قَالَ فَمَا تَقُولِينَ فِي قُرَيْش قَالَت هم ذرْوَة السنام وسَادَة الْأَنَام والحسب القمقام قَالَ مَا تَقُولِينَ فِي عَليّ بن أبي طَالب قَالَت حَاز وَالله الشّرف حَتَّى لَا يُوصف وَغَايَة لَا تعرف وَبِاللَّهِ اسالك يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ اعفائي مِمَّا اتخوف قَالَ قد فعلت وَأمر لَهَا بضيعة فاخرة نفيسة غَلَّتهَا عشرَة آلَاف دِرْهَم وردهَا إِلَى أَهلهَا مكرمَة

হাওয়াযেন হলো প্রকাশ্য সহনশীলতা ও পরাক্রমশালী প্রতাপ। আর বানু সুলাইম হলো মহাযুদ্ধের বীর অশ্বারোহী এবং শিকারি সিংহ। আর নুমাইর হলো বিষাক্ত কণ্টক, সুসংহত মস্তক ও সুস্পষ্ট নিদর্শন। আর হিলাল হলো এক মহিমান্বিত নাম ও বিশাল সম্মান। আর বানু কিলাব হলো সংখ্যায় অগণিত, এক উথলে পড়া সমুদ্র, উচ্চতর গৌরব ও প্রভূত প্রজ্ঞা। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, "কুরাইশ সম্পর্কে তোমার বক্তব্য কী?" তিনি বললেন, "তারা হলো শ্রেষ্ঠত্বের উচ্চশিখর, সমগ্র সৃষ্টির নেতা এবং আভিজাত্যের মূল উৎস।" তিনি বললেন, "আলী ইবনে আবি তালিব সম্পর্কে তোমার মত কী?" তিনি বললেন, "আল্লাহর শপথ! তিনি এমন মর্যাদা অর্জন করেছেন যা বর্ণনা করা দুঃসাধ্য এবং এমন এক চরম সীমায় পৌঁছেছেন যা সাধারণের অজ্ঞাত। আর হে আমিরুল মুমিনীন! আল্লাহর দোহাই দিয়ে আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি যেন আমাকে আমার আশঙ্কার বিষয়গুলো থেকে রেহাই দেন।" তিনি বললেন, "আমি তা-ই করলাম।" অতঃপর তিনি তাঁর জন্য একটি চমৎকার ও মূল্যবান ভূ-সম্পত্তি বরাদ্দ করার নির্দেশ দিলেন যার বার্ষিক আয় ছিল দশ হাজার দিরহাম এবং তাঁকে সসম্মানে তাঁর স্বজনদের নিকট প্রেরণ করলেন।

(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদাতি মিনান নিসায়ি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ৩৭)
4 -‌‌ حَدِيث عكرشة بنت إلاطش

وبالاسناد الأول عَن الْعَبَّاس بن بكار قَالَ حَدثنِي عبد الله بن سُلَيْمَان بن دَاوُد عَن أَبِيه عَن عِكْرِمَة قَالَ دخلت عكرشة بنت الاطش على مُعَاوِيَة وَهِي متوكئة على عكاز لَهَا فَسلمت عَلَيْهِ بالخلافة فَقَالَ لَهَا مُعَاوِيَة هيه يَا عكرشة الْآن صرت أَمِير الْمُؤمنِينَ قَالَت نعم اذ لَا عَليّ حَيّ فَقَالَ لَهَا مُعَاوِيَة السِّت صَاحِبَة الكور المسدول وَالْوسط المشدود والمتقلدة بِالسَّيْفِ ذِي الحمائل وَأَنت واقفة بَين الصفين يَوْم صفّين تَقُولِينَ ايها النَّاس عَلَيْكُم انفسكم لَا يضركم من ضل اذ اهْتَدَيْتُمْ ان الْجنَّة دَار لَا يرحل من قطنها وَلَا يحزن من سكنها وَلَا يَمُوت من دَخلهَا فَلَا تَبِيعُوهَا بدار لَا يَدُوم نعيمها وَلَا تتصرم همومها
৪ -‌‌ ইকরাশাহ বিনতে ইলাতশ-এর বর্ণনা

প্রথম সনদে আব্বাস ইবনে বাক্কার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে সুলাইমান ইবনে দাউদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: ইকরাশাহ বিনতে ইলাতশ মুয়াবিয়ার নিকট প্রবেশ করলেন, এমতাবস্থায় তিনি তাঁর একটি লাঠিতে ভর দিয়ে চলছিলেন। তিনি তাকে খিলাফতের সম্ভাষণে সালাম দিলেন। তখন মুয়াবিয়া তাকে বললেন, ওহে ইকরাশাহ! এখন আমি আমিরুল মুমিনিন হলাম? তিনি বললেন, হ্যাঁ, যেহেতু আলী আর জীবিত নেই। মুয়াবিয়া তাকে বললেন, তুমি কি সেই নারী নও যে আচ্ছাদিত হাওদা ও কোমর বাঁধা অবস্থায় ছিলে এবং কোষবদ্ধ তলোয়ার ধারণ করেছিলে? যখন তুমি সিফফিনের দিন দুই সারির মাঝে দাঁড়িয়ে বলছিলে: হে লোকসকল! তোমরা নিজেদের সংশোধন করো; তোমরা যদি সঠিক পথে পরিচালিত হও তবে যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে তারা তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। নিশ্চয়ই জান্নাত এমন এক আবাস যেখানকার বাসিন্দারা কখনও প্রস্থান করে না, সেখানকার অধিবাসী কখনও দুঃখিত হয় না এবং যে সেখানে প্রবেশ করে সে কখনও মৃত্যুবরণ করে না। সুতরাং তোমরা একে এমন এক আবাসের বিনিময়ে বিক্রি করো না যার নিয়ামত স্থায়ী নয় এবং যার দুঃখ-কষ্টের সমাপ্তি নেই।
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদাতি মিনান নিসায়ি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ৩৮)
فكونوا قوما مستبصرين ان مُعَاوِيَة دلف اليكم بعجم الْعَرَب غلف الْقُلُوب لَا يعْرفُونَ إلايمان وَلَا يَدْرُونَ مَا الْحِكْمَة دعاهم بالدنيا فَأَجَابُوهُ واستدعاهم إِلَى الْبَاطِل فلبوه فَالله الله عباد الله فِي دين الله واياكم والتواكل فان ذَلِك نقض عرى الاسلام واطفاء نور الْحق واظهار الْبَاطِل وَذَهَاب للسّنة هَذِه بدر الصُّغْرَى والعقبة إلاخرى يَا معاشر الْمُهَاجِرين والانصار أمضوا على بصيرتكم واصبروا على نياتكم فَكَأَنِّي بكم غَدا وَقد لَقِيتُم أهل الشأم وهم كالحمر الناهقة وَالْبِغَال الشاحجة يضجون ضجيج الْبَقر وَلَا يروثون رَوْث الْعتاق

فَقَالَ مُعَاوِيَة وَكَأَنِّي اراك على عكازتك هَذِه وَقد انكفأ عَلَيْك العسكران يَقُولُونَ هَذِه عكرشة بنت الاطش فان كدت لتؤلبين عَليّ أهل الشَّام لَوْلَا مَا قدر الله وَمَا حعل لنا من هَذَا الامر وَكَانَ أَمر الله قدرا مَقْدُورًا

ثمَّ قَالَ مَا حملك على ذَلِك قَالَت يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ يَقُول الله عز وجل {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا لَا تسألوا عَن أَشْيَاء إِن تبد لكم تَسُؤْكُمْ}
সুতরাং তোমরা দূরদৃষ্টিসম্পন্ন জাতি হও। নিশ্চয়ই মুয়াবিয়া তোমাদের বিরুদ্ধে আরবের এমন কিছু অমার্জিত ও বোধশক্তিহীন লোকদের নিয়ে এসেছেন যাদের অন্তর মোহরাঙ্কিত, তারা ঈমান চেনে না এবং প্রজ্ঞা কী তাও জানে না। তিনি তাদের দুনিয়ার লোভ দেখিয়ে ডাকলে তারা সাড়া দিয়েছে এবং বাতিলের দিকে ডাকলে তারা আনুগত্য প্রকাশ করেছে। অতএব হে আল্লাহর বান্দারা! আল্লাহর দ্বীনের খাতিরে আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমরা একে অপরের ওপর দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া বা অলসতা থেকে বেঁচে থাকো; কেননা তা ইসলামের রজ্জু ছিঁড়ে ফেলা, সত্যের নূর নিভিয়ে দেওয়া, মিথ্যাকে প্রকাশ করা এবং সুন্নাতের বিলুপ্তি ঘটানোর নামান্তর। এটি হলো ছোট বদর এবং শেষ আকাবা। হে মুহাজির ও আনসারগণ! তোমরা তোমাদের প্রজ্ঞার ওপর অটল থাকো এবং নিজেদের নিয়তের ওপর ধৈর্য ধারণ করো। আমি যেন আগামীকাল তোমাদের দেখতে পাচ্ছি যে তোমরা সিরিয়াবাসীদের মুখোমুখি হয়েছ, আর তারা তখন উচ্চস্বরে চিৎকারকারী গাধা এবং হ্রেষাধ্বনি করা খচ্চরের মতো আচরণ করছে; তারা গরুর মতো শোরগোল করছে কিন্তু অভিজাত ঘোড়ার মতো তেজ দেখাচ্ছে না।

তখন মুয়াবিয়া বললেন: আমি যেন আপনাকে আপনার এই লাঠির ওপর ভর দিয়ে থাকা অবস্থায় দেখছি যখন উভয় বাহিনী আপনার ওপর চড়াও হবে এবং বলবে, 'এই সেই আত্বাশের কন্যা ইকরিাশাহ'। আপনি তো সিরিয়াবাসীদের আমার বিরুদ্ধে খেপিয়ে তোলার উপক্রম করেছিলেন, যদি না আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন তা হতো এবং এই বিষয়টিতে আমাদের জন্য যা নির্ধারিত ছিল তা না ঘটত। আর আল্লাহর নির্দেশ ছিল সুনির্ধারিত বিধান।

এরপর তিনি বললেন: কোন বিষয়টি আপনাকে এতে প্ররোচিত করেছিল? তিনি বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন! আল্লাহ পরাক্রমশালী ও মহান বলছেন, "হে ঈমানদারগণ! তোমরা এমন সব বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো না, যা তোমাদের সামনে প্রকাশ করা হলে তোমাদের কাছে তা খারাপ লাগবে।"
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদাতি মিনান নিসায়ি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ৩৯)
ان اللبيب إِذا كره شَيْئا لَا يحب اعادته قَالَ صدقت اذكري حَاجَتك قَالَت يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ ان الله تَعَالَى جعل صَدَقَاتنَا على فقرائنا ومساكيننا ورد أَمْوَالنَا فِينَا إِلَّا بِحَقِّهَا وَإِنَّا فَقدنَا ذَلِك فَمَا ينتعش لنا فَقير وَلَا ينجبر لنا كسير فَإِن كَانَ ذَلِك من رَأْيك فمثلك من أنتبه من الْغَفْلَة وراجع الْعقل وان كَانَ عَن غير رايك فَمَا مثلك من اسْتَعَانَ بالخونة وَاسْتعْمل الظلمَة

قَالَ مُعَاوِيَة يَا هَذِه إِنَّه تنوبنا النوائب هِيَ أولى بِنَا مِنْكُم من بحور تنبثق وثغور تنفتق قَالَت يَا سُبْحَانَ الله مَا فرض الله لنا حَقًا جعل فِيهِ ضَرَرا على غَيرنَا وَلَو علم جلّ ثَنَاؤُهُ ان فِي مَا جعل لنا ضَرَرا على غَيرنَا لما جعله لنا وَهُوَ علام الغيوب قَالَ مُعَاوِيَة هَيْهَات يَا أهل الْعرَاق قد فقهكم عَليّ بن أبي طَالب فَلَنْ تطاقوا ثمَّ أَمر لَهَا برد صدقاتها وانصافها وضيفها واطرفها وردهَا إِلَى أَهلهَا مكرمَة
নিশ্চয়ই বুদ্ধিমান ব্যক্তি যখন কোনো কিছু অপছন্দ করেন, তখন তিনি তার পুনরাবৃত্তি পছন্দ করেন না। তিনি বললেন: তুমি সত্য বলেছ; তোমার প্রয়োজনের কথা বিবৃত করো। তিনি বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন! নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আমাদের সদকাকে আমাদের দরিদ্র ও অভাবীদের জন্য নির্ধারিত করেছেন এবং আমাদের সম্পদকে আমাদের মাঝেই ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন, কেবল তার হক (ন্যায্য অধিকার) ব্যতীত। কিন্তু আমরা আজ তা হারিয়ে ফেলেছি; ফলে আমাদের কোনো দরিদ্র ব্যক্তি আর সচ্ছল হতে পারছে না এবং আমাদের কোনো আর্ত ব্যক্তিও আর বিপদ থেকে মুক্তি পাচ্ছে না। সুতরাং এটি যদি আপনার অভিমত হয়ে থাকে, তবে আপনার মতো ব্যক্তির উচিত উদাসীনতা থেকে সতর্ক হওয়া এবং বিবেকের পথে ফিরে আসা। আর যদি এটি আপনার অভিমত না হয়ে থাকে, তবে আপনার মতো ব্যক্তিত্বের জন্য বিশ্বাসঘাতকদের সহায়তা গ্রহণ করা এবং জালিমদের কাজে নিয়োগ দেওয়া সংগত নয়।

মুয়াবিয়া বললেন: হে নারী! নিশ্চয়ই আমাদের এমন সব পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয় যা আমাদের নিকট তোমাদের বিষয়ের চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ; যেমন—প্রবল জলোচ্ছ্বাস এবং উন্মুক্ত সীমান্তসমূহ। তিনি বললেন: সুবহানাল্লাহ! আল্লাহ আমাদের জন্য এমন কোনো হক নির্ধারিত করেননি যাতে অন্যের কোনো ক্ষতি নিহিত রয়েছে। আর আল্লাহ—যাঁর প্রশংসা অতি মহান—যদি জানতেন যে, তিনি আমাদের জন্য যা নির্ধারিত করেছেন তাতে অন্যের কোনো ক্ষতি রয়েছে, তবে তিনি তা আমাদের জন্য নির্ধারণ করতেন না; অথচ তিনি অদৃশ্যের সকল বিষয়ে মহাজ্ঞানী। মুয়াবিয়া বললেন: অসম্ভব! হে ইরাকবাসী, আলী ইবনে আবি তালিব তোমাদের এমন সুবিজ্ঞ করে তুলেছেন যে, তোমাদের মোকাবিলা করা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। অতঃপর তিনি মহিলার জন্য তার সদকা ফিরিয়ে দেওয়ার, তার প্রতি ইনসাফ করার এবং তাকে আতিথেয়তা ও উপঢৌকন প্রদানের নির্দেশ দিলেন এবং সসম্মানে তাকে তার পরিজনের নিকট পাঠিয়ে দিলেন।
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদাতি মিনান নিসায়ি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ৪০)
5 -‌‌ حَدِيث دارمية الحجونية

وبالاسناد عَن الْعَبَّاس بن بكار وَالْحُسَيْن بن أَسد الطفَاوِي قَالَا حَدثنَا سُهَيْل ابْن أبي سُهَيْل الهُجَيْمِي التَّمِيمِي عَن أَبِيه عَن عمته قَالَت حج مُعَاوِيَة سنة من السنين فَسَأَلَ عَن امْرَأَة من بني كنَانَة تنزل الْجحْفَة يُقَال لَهَا دارمية الحجونية وَكَانَت امْرَأَة سَوْدَاء كَثِيرَة اللَّحْم فاخبر بسلامتها فَبعث إِلَيْهَا فجيىء بهَا فَلَمَّا راها قَالَ لَهَا كَيفَ حالك يَا بنت حأم قَالَت بِخَير وَلست لحأم وَلَكِنِّي ابْنة أَبِيك وَلنْ يضر الْمَرْء نسب أمه قَالَ صدقت فَهَل تعلمين لم بعثت اليك قَالَت يَا سُبْحَانَ الله الْعَظِيم لَا يعلم الْغَيْب إِلَّا الله قَالَ بعثت اسألك علام أَحْبَبْت عليا وابغضتني وعلام واليته وعاديتني قَالَت أوتعفيني يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ من ذَلِك
5 -‌‌ দারমিয়্যাহ আল-হাজুনিয়্যাহ-এর বর্ণনা

এবং আব্বাস ইবনে বাক্কার ও আল-হুসাইন ইবনে আসাদ আল-তুফাওয়ি থেকে বর্ণিত সনদে তাঁরা বলেন, আমাদের নিকট সুহাইল ইবনে আবি সুহাইল আল-হুজাইমি আল-তামিমি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর ফুফু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুয়াবিয়া কোনো এক বছর হজ পালন করলেন এবং বনু কিনানা গোত্রের আল-জুহফায় বসবাসকারী দারমিয়্যাহ আল-হাজুনিয়্যাহ নাম্নী এক নারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি ছিলেন এক কৃষ্ণাঙ্গ ও স্থূলকায় নারী। তাঁর কুশল সংবাদ পাওয়ার পর তিনি তাঁকে ডেকে পাঠালেন এবং তাঁকে নিয়ে আসা হলো। অতঃপর যখন তিনি তাঁকে দেখলেন, তখন তাঁকে বললেন: "হে হামের কন্যা, তোমার অবস্থা কেমন?" তিনি বললেন: "ভালো, তবে আমি হামের বংশজাত নই, বরং আমি আপনার পিতার মতোই (আদম সন্তান); আর কোনো ব্যক্তির মায়ের বংশপরিচয় তার কোনো ক্ষতি করে না।" তিনি বললেন: "তুমি সত্য বলেছ। তুমি কি জানো আমি কেন তোমাকে ডেকে পাঠিয়েছি?" তিনি বললেন: "মহান আল্লাহ অতি পবিত্র! আল্লাহ ছাড়া আর কেউ গায়িব (অদৃশ্য) জানেন না।" তিনি বললেন: "আমি তোমাকে এটি জিজ্ঞাসা করার জন্য ডেকেছি যে, কিসের ভিত্তিতে তুমি আলীকে ভালোবাসলে আর আমাকে ঘৃণা করলে? এবং কিসের ভিত্তিতে তাঁর প্রতি বন্ধুত্ব পোষণ করলে আর আমার সাথে শত্রুতা করলে?" তিনি বললেন: "হে আমিরুল মুমিনিন, আপনি কি আমাকে এই বিষয় থেকে অব্যাহতি দেবেন?"
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদাতি মিনান নিসায়ি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ৪১)
قَالَ مَا كنت بفاعل وَلَا اعفيك قَالَت أما إِذا أَبيت عَليّ فَإِنِّي أَحْبَبْت عليا على عدله فِي الرّعية وقسمته بِالسَّوِيَّةِ وابعضتك على قتالك من هُوَ أولى بالامر مِنْك وطلبك مَا لَيْسَ لَك وواليت عليا على حبه الْمَسَاكِين واعطائه أهل السَّبِيل وفقهه فِي الدّين وبذله الْحق من نَفسه وَمَا عقد لَهُ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من الْولَايَة وعاديتك على ارادتك الدُّنْيَا وسفكك الدِّمَاء وشقك الْعَصَا قَالَ مُعَاوِيَة فَلذَلِك أنتفخ بَطْنك وَكبر ثديك وعظمت عجزتك قَالَت يَا هَذَا بهند وَالله يضْرب الْمثل قَالَ مُعَاوِيَة يَا هَذِه ارفقي فَإِنِّي لم اقل إِلَّا خيرا إِنَّه إِذا أنتفخ بطن الْمَرْأَة تمّ خلق وَلَدهَا وَإِذا كبر ثديها حسن غذَاء وَلَدهَا وَإِذا عظمت عجيزتها ثقل مجلسها فَرَجَعت وسكنت ثمَّ قَالَ لَهَا مُعَاوِيَة هَل رَأَيْت عليا قطّ قَالَت اي وَالله لقد رايته قَالَ كَيفَ رَأَيْته

তিনি বললেন: "আমি তা করব না এবং তোমাকে অব্যাহতিও দেব না।" তিনি বললেন: "যেহেতু আপনি আমার কথা প্রত্যাখ্যান করছেন, তবে আমি আলীকে ভালোবেসেছিলাম প্রজাসাধারণের প্রতি তাঁর ন্যায়বিচার এবং সমবণ্টনের কারণে। আর আমি আপনাকে ঘৃণা করেছি আপনার চেয়ে যিনি নেতৃত্বের অধিকতর হকদার ছিলেন তাঁর বিরুদ্ধে আপনার যুদ্ধ ঘোষণা এবং যা আপনার প্রাপ্য নয় তা অন্বেষণ করার কারণে। আমি আলীর সাথে বন্ধুত্ব করেছি অভাবগ্রস্তদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা, মুসাফিরদের প্রতি তাঁর দানশীলতা, দ্বীনের গভীর প্রজ্ঞা এবং তাঁর নিজের পক্ষ থেকে সত্যের পূর্ণ অনুসরণের কারণে; আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর জন্য যে নেতৃত্বের অঙ্গীকার করেছিলেন তার কারণে। পক্ষান্তরে আমি আপনার সাথে শত্রুতা পোষণ করেছি আপনার পার্থিব লিপ্সা, রক্তপাত এবং মুসলিমদের ঐক্যে ফাটল ধরানোর কারণে।" মুআবিয়াহ বললেন: "সে কারণেই কি তোমার উদর স্ফীত হয়েছে, স্তনযুগল বড় হয়েছে এবং নিতম্ব বিশাল হয়েছে?" তিনি বললেন: "হে লোক! আল্লাহর কসম, [আপনার মাতা] হিন্দের ব্যাপারেই তো এমন প্রবাদ দেওয়া হয়।" মুআবিয়াহ বললেন: "হে নারী, শান্ত হও; আমি তো কেবল ইতিবাচক কথাই বলেছি। কেননা যখন কোনো নারীর উদর স্ফীত হয় তখন তার সন্তানের শারীরিক গঠন পূর্ণতা পায়, যখন তার স্তন বড় হয় তখন তার সন্তানের আহার উত্তম হয় এবং যখন তার নিতম্ব বিশাল হয় তখন তার উপবেশন গাম্ভীর্যপূর্ণ হয়।" অতঃপর তিনি শান্ত ও স্থির হলেন। এরপর মুআবিয়াহ তাকে বললেন: "তুমি কি কখনো আলীকে দেখেছ?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, আল্লাহর কসম, আমি তাঁকে দেখেছি।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "তুমি তাঁকে কেমন দেখেছ?"

(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদাতি মিনান নিসায়ি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ৪২)
وَقَالَت رَأَيْته شثن الْقدَم والكف لم يعب بِالْملكِ وَلم تشغله النِّعْمَة قَالَ فَهَل سَمِعت كَلَامه قَالَت نعم قَالَ كَيفَ سمعته قَالَت كَانَ يجلو الْقُلُوب من الْعَمى كَمَا يجلو الزَّيْت الطست من الصدأ قَالَ صدقت هَل لَك من حَاجَة قَالَت أَو تفعل ذَلِك إِذا سَأَلتك قَالَ نعم قَالَت تُعْطِينِي مائَة نَاقَة حَمْرَاء والف راعية من رواعي نجد فِيهَا فحولها وغلمانها قَالَ لَهَا مُعَاوِيَة مَا تصنعين بهَا قَالَت اغذو بألبانها الصغار واتحف بهَا الْكِبَار واصلح بهَا بَين الْعَرَب
তিনি বললেন, “আমি তাঁকে দেখেছি যে, তাঁর পা ও হাতের তালু ছিল মাংসল ও বলিষ্ঠ। রাজপদ তাঁকে দাম্ভিক করেনি এবং বিলাসিতা তাঁকে মোহাচ্ছন্ন করেনি।” তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “আপনি কি তাঁর কথা শুনেছেন?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ।” তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “তা কেমন শুনেছেন?” তিনি বললেন, “তা অন্তর থেকে অন্ধত্ব দূর করত যেভাবে তেল পাত্র থেকে মরিচা পরিষ্কার করে।” তিনি বললেন, “আপনি সত্য বলেছেন। আপনার কি কোনো প্রয়োজন আছে?” তিনি বললেন, “আমি যদি আপনার কাছে চাই, তবে কি আপনি তা করবেন?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ।” তিনি বললেন, “আপনি আমাকে একশটি লাল মাদি উট এবং নজদ অঞ্চলের এক হাজার চারণকারী পশু দেবেন, যার মধ্যে তাদের পুরুষ উট ও রাখাল বালকগণ থাকবে।” মুয়াবিয়া তাঁকে বললেন, “আপনি এগুলো দিয়ে কী করবেন?” তিনি উত্তর দিলেন, “এগুলোর দুধ দিয়ে আমি শিশুদের প্রতিপালন করব, বড়দের উপহার দেব এবং এর দ্বারা আরবদের মাঝে সন্ধি ও সংশোধন করব।”
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদাতি মিনান নিসায়ি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ৪৩)
قَالَ فان اعطيتك هَل احل مِنْك مَحل عَليّ بن أبي طَالب قَالَت يَا سُبْحَانَ الله أَو دونه قَلِيلا فأنشا يَقُول … إِذا لم أجد بالحلم مني عَلَيْكُم … فَمن ذَا الَّذِي بعدِي يؤمل للحلم … خذيها هَنِيئًا واذكري فعل ماجد … حباك على حِين العدواة بالسلم …

ثمَّ قَالَ لَهَا وَالله لَو كَانَ عليا مَا اعطاك شَيْئا قَالَت لَا وَالله وَلَا وبرة وَاحِدَة من مَال الْمُسلمين يعطيني قَالَ لَا وَالله وللمسلمين مثل ذَلِك ثمَّ أَمر لَهَا بِمَا سَالَتْ وردهَا إِلَى منزلهَا مكرمَة
তিনি বললেন, "আমি যদি তোমাকে দান করি, তবে আমি কি তোমার কাছে আলী ইবনে আবি তালিবের স্থান লাভ করতে পারব?" তিনি বললেন, "সুবহানাল্লাহ! অথবা তার চেয়ে সামান্য নিচেও কি (সম্ভব)?" তখন তিনি আবৃত্তি করতে শুরু করলেন: ... যদি আমি আমার সহনশীলতা দ্বারা তোমাদের প্রতি উদারতা প্রদর্শন না করি, ... তবে আমার পরে সহনশীলতার জন্য কার কাছে প্রত্যাশা করা হবে? ... এটি তৃপ্তিসহকারে গ্রহণ করো এবং এক মহানুভব ব্যক্তির কাজ স্মরণ রেখো, ... যে তোমাকে শত্রুতার মাঝেও শান্তির সঙ্গে দান করেছে। ...

অতঃপর তিনি তাকে বললেন, "আল্লাহর কসম! যদি আলী থাকতেন, তবে তিনি তোমাকে কিছুই দিতেন না।" তিনি বললেন, "না, আল্লাহর কসম! তিনি মুসলিমদের সম্পদ থেকে আমাকে একটি পশম পরিমাণও দিতেন না।" তিনি বললেন, "না, আল্লাহর কসম! মুসলিমদের প্রতি আমারও তেমনই হওয়া উচিত।" অতঃপর তিনি তার যা প্রার্থনা ছিল তা প্রদানের নির্দেশ দিলেন এবং তাকে সসম্মানে তার আবাসে পাঠিয়ে দিলেন।
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদাতি মিনান নিসায়ি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ৪৪)
6 -‌‌ حَدِيث أم الْبَراء بنت صَفْوَان بن هِلَال

وبالاسناد الأول عَن الْعَبَّاس بن بكار قَالَ حَدثنِي سُهَيْل بن أبي سُهَيْل التَّمِيمِي عَن أَبِيه عَن جعدة بنت هُبَيْرَة قَالَت

اسْتَأْذَنت أم الْبَراء بنت صَفْوَان بن هِلَال على مُعَاوِيَة فاذن لَهَا فَدخلت وَعَلَيْهَا ثَلَاثَة دروع تسحبها قد كارت على راسها كورا كَهَيئَةِ المنسف فَسلمت وَجَلَست فَقَالَ لَهَا مُعَاوِيَة كَيفَ حالك قَالَت ضعفت بعد قُوَّة وكسلت بعد نشاط قَالَ شتان بَيْنك الْيَوْم وَحين تَقُولِينَ … يَا عَمْرو دُونك صَارِمًا ذَا رونق … عضب المهزة لَيْسَ بالخوار … اسرج جوادك مسرعا ومشمرا … للحرب غير مولي فرار … اجب الامام وذب تَحت لوائه … وافر الْعَدو بصارم بتار … يَا لَيْتَني أَصبَحت لَيْسَ بِعَوْرَة … فاذب عَنهُ عَسَاكِر الْفجار …
৬ -‌‌ উম্মুল বারা বিনতে সাফওয়ান বিন হিলালের বর্ণনা

এবং প্রথম সনদে আব্বাস বিন বাক্কার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সুহায়ল বিন আবি সুহায়ল আত-তামিমি তাঁর পিতা থেকে, তিনি জা’দাহ বিনতে হুবাইরাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

উম্মুল বারা বিনতে সাফওয়ান বিন হিলাল মুয়াবিয়ার কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন, তিনি তাকে অনুমতি দিলেন। অতঃপর তিনি প্রবেশ করলেন, তাঁর পরনে ছিল তিনটি দীর্ঘ পোশাক যা তিনি টেনে আনছিলেন এবং তাঁর মাথায় কাপড় (পাগড়ি) এমনভাবে পেঁচানো ছিল যা দেখতে অনেকটা কুলার মতো। তিনি সালাম দিলেন এবং বসলেন। তখন মুয়াবিয়া তাঁকে বললেন, আপনার অবস্থা কেমন? তিনি বললেন, শক্তির পর দুর্বলতা এবং কর্মতৎপরতার পর অলসতা আমাকে আচ্ছন্ন করেছে। তিনি বললেন, আপনার আজকের অবস্থা এবং সেই সময়ের মধ্যে অনেক ব্যবধান যখন আপনি বলছিলেন … হে আমর! এই নাও এক উজ্জ্বল দীপ্তিময় তলোয়ার … যা চালনায় অত্যন্ত তীক্ষ্ণ এবং মোটেও দুর্বল নয় … দ্রুত তোমার ঘোড়ায় জিন কষো এবং যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হও … পলায়নপর না হয়ে অটলভাবে যুদ্ধের ময়দানে থাকো … ইমামের ডাকে সাড়া দাও এবং তাঁর পতাকাতলে শত্রুকে প্রতিহত করো … আর শত্রুদের ছিন্নভিন্ন করো এক সংহারক তলোয়ার দিয়ে … হায়! আমি যদি নারী না হতাম … তবে আমি নিজেই পাপাচারী বাহিনীর হাত থেকে তাঁকে রক্ষা করতাম …
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদাতি মিনান নিসায়ি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ৪৫)
قَالَت قد كَانَ ذَلِك يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ وَمثلك من عَفا وَالله يَقُول {وَأَن تعفوا أقرب للتقوى} قَالَ هَيْهَات أما وَالله لَو عَاد لعدت وَلَكِن اخترم دُونك فَكيف قَوْلك حِين قتل قَالَت انسيته فَقَالَ بعض جُلَسَائِهِ هِيَ وَالله حِين قتل تَقول يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ … يَا للرِّجَال لعظم هول مُصِيبَة … فدحت فَلَيْسَ مصابها بإلهازل … الشَّمْس كاسفة لفقد أمأمنا … خير الخلائف وإلامأم الْعَادِل … يَا خير من ركب الْمطِي وَمن مَشى فَوق التُّرَاب لمحتف أَو ناعل … حاشا النَّبِي لقد هددت قواءنا … فَالْحق أصبح خاضعا للباطل …
তিনি বললেন, "হে আমিরুল মুমিনিন! তা তো হয়ে গিয়েছে। আর আপনার মতোই ব্যক্তি ক্ষমা করেন, আর আল্লাহ বলেন, {তোমাদের ক্ষমা করাই তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী}।" তিনি বললেন, "অসম্ভব! আল্লাহর শপথ, সে যদি পুনরায় তা করত, তবে আমিও পুনরায় (শাস্তি দিতে) প্রবৃত্ত হতাম। কিন্তু সে তো তোমার আগেই মারা গেল। তবে সে যখন নিহত হয়েছিল, তখন তোমার উক্তি কী ছিল?" তিনি বললেন, "আমি তা ভুলে গিয়েছি।" তখন তাঁর সভাসদদের কেউ কেউ বলল, "আল্লাহর শপথ হে আমিরুল মুমিনিন! সে যখন নিহত হয়েছিল তখন সে বলছিল: … হে পুরুষগণ! কী ভয়াবহ মুসিবতের আতঙ্ক! … যা আপতিত হয়েছে, আর এই শোক কোনো উপহাসের বিষয় নয়। … আমাদের নেতার বিয়োগে সূর্য আজ গ্রহণগ্রস্ত, … যিনি খলিফাদের মাঝে শ্রেষ্ঠ এবং ন্যায়পরায়ণ ইমাম। … হে সেই শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি, যিনি সওয়ারিতে চড়েছেন এবং যিনি মাটির ওপর হেঁটেছেন—নগ্ন পায়ে হোক কিংবা পাদুকা পরিহিত। … নবী ব্যতীত, আপনি আমাদের শক্তিকে চূর্ণ করেছেন, … ফলে সত্য আজ বাতিলের নিকট মস্তক অবনত করেছে। …
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদাতি মিনান নিসায়ি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ৪৬)
فَقَالَ مُعَاوِيَة قَاتلك الله يَا بنت صَفْوَان مَا كَانَ حسان بن ثَابت يحسن مثل هَذَا وَمَا تركت لقَائِل مقإلا اذكري حَاجَتك قَالَت بعد هَذَا وَالله لَا اسالك شَيْئا ثمَّ نهضت فَعَثَرَتْ فَقَالَت تعس شانئ عَليّ فَقَالَ مُعَاوِيَة يَا بنت صَفْوَان زعمت ان لَا تسالي شَيْئا قَالَت هُوَ وَالله مَا علمت فَلَمَّا كَانَ من الْغَد بعث إِلَيْهَا بكسوة فاخرة حَسَنَة وَقَالَ إِذا أَنا ضيعت الْحلم فَمن يحفظه

মুয়াবিয়া বললেন, হে সাফওয়ানের কন্যা! আল্লাহ তোমাকে ধ্বংস করুন। হাসসান বিন সাবিতও এমন চমৎকার কিছু করতে পারতেন না এবং তুমি কোনো বক্তার জন্য কিছু বলার অবকাশ রাখোনি। তোমার প্রয়োজনের কথা ব্যক্ত করো। তিনি বললেন, এরপর আল্লাহর শপথ, আমি আপনার কাছে কিছুই প্রার্থনা করব না। অতঃপর তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং হোঁচট খেয়ে বললেন, আলীর প্রতি বিদ্বেষপোষণকারীরা ধ্বংস হোক। মুয়াবিয়া বললেন, হে সাফওয়ানের কন্যা! তুমি তো দাবি করলে যে কিছুই প্রার্থনা করবে না? তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ, এটি আমি অজান্তেই বলে ফেলেছি। অতঃপর পরদিন তিনি তার নিকট অত্যন্ত চমৎকার ও মূল্যবান পরিচ্ছদ পাঠালেন এবং বললেন, আমি যদি সহনশীলতা বিসর্জন দেই, তবে তা কে রক্ষা করবে?

(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদাতি মিনান নিসায়ি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ৪৭)
‌‌حَدِيث اروى بنت الْحَارِث بن عبد الْمطلب

وبإلاسناد إلأول عَن عَبَّاس بن بكار قَالَ حَدثنَا عبد الله بن سُلَيْمَان الْمَدِينِيّ عَن قَتَادَة قَالَ دخلت اروى بنت الْحَارِث بن عبد الْمطلب على مُعَاوِيَة وَهِي عَجُوز كَبِيرَة فَلَمَّا راها قَالَ مرْحَبًا بك يَا خَالَة كَيفَ كنت بعدِي قَالَت بِخَير كَيفَ حالك وَكَيف أَنْت يَا ابْن اخي لقد كفرت النِّعْمَة واسات لِابْنِ عمك الصُّحْبَة وتسميت بِغَيْر اسْمك وَأخذت غير حَقك لَا نبْلًا مِنْك وَلَا من أَبِيك فِي دنيا وَلَا سَابِقَة كَأَنْت لكم فِي إلاسلام لَكِن كَفرْتُمْ بِمَا جَاءَ بِهِ مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم وَسلم فاتعس الله مِنْكُم الجدود واضرع مِنْكُم الخدود ورد الْحق إِلَى أَهله وكأنت كلمتنا الْعليا وَنَبِينَا الْمَنْصُور وَلَو كره الْمُشْركُونَ على من نأوأه فوثبتم علينا من بعده واحتججتم على سَائِر الْعَرَب بقرابتكم من رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَنحن اقْربْ إِلَيْهِ
আরওয়া বিনতে আল-হারিস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের বর্ণনা

প্রথম সনদ অনুযায়ী আব্বাস ইবনে বাক্কার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে সুলাইমান আল-মাদিনী বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি বলেন: আরওয়া বিনতে আল-হারিস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব মুয়াবিয়ার নিকট উপস্থিত হলেন; তিনি তখন একজন বয়োজ্যেষ্ঠ বৃদ্ধা ছিলেন। যখন মুয়াবিয়া তাকে দেখলেন, তিনি বললেন: হে খালা, আপনাকে স্বাগতম। আমার পরে আপনি কেমন ছিলেন? তিনি বললেন: ভালো। হে আমার ভ্রাতুষ্পুত্র, তোমার কী অবস্থা এবং তুমি কেমন আছ? তুমি তো নিআমতের প্রতি অকৃতজ্ঞ হয়েছ এবং তোমার চাচাতো ভাইয়ের সাহচর্যে মন্দ আচরণ করেছ। তুমি নিজেকে নিজের নাম ব্যতীত অন্য নামে অভিহিত করেছ এবং এমন কিছু গ্রহণ করেছ যা তোমার প্রাপ্য নয়। পার্থিব বিষয়ে তোমার বা তোমার পিতার কোনো শ্রেষ্ঠত্ব ছিল না, আর ইসলামেও তোমাদের কোনো অগ্রগণ্যতা ছিল না। বরং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা নিয়ে এসেছিলেন, তোমরা তা অস্বীকার করেছিলে। আল্লাহ তোমাদের ভাগ্যকে লাঞ্ছিত করুন, তোমাদের গালসমূহকে অবনত করুন এবং সত্যকে তার অধিকারীদের নিকট ফিরিয়ে দিন। আমাদের বাক্যই ছিল সুউচ্চ এবং আমাদের নবী ছিলেন সাহায্যপ্রাপ্ত ও বিজয়ী, যদিও মুশরিকরা তাঁর বিরোধীদের ব্যাপারে তা অপছন্দ করত। অতঃপর তোমরা তাঁর ইন্তেকালের পর আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে তোমাদের আত্মীয়তার দোহাই দিয়ে অন্যান্য আরবদের ওপর তর্কাভিজাত্য দেখালে, অথচ আমরাই তাঁর অধিক নিকটবর্তী।
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদাতি মিনান নিসায়ি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ৪৮)
من حَبل الوريد واحق بِهَذَا إلامر مِنْكُم فَكُنَّا فِيكُم بِمَنْزِلَة بني اسرائيل فِي ال فِرْعَوْن وَكَانَ سيدنَا مِنْكُم بعد نَبينَا صلى الله عليه وسلم بِمَنْزِلَة هَارُون من مُوسَى وغايتنا الْجنَّة وغايتكم النَّار

فَقَالَ لَهَا عَمْرو بن الْعَاصِ كفى ايتها الْعَجُوز وغضي طرفك واقصري من شَرّ لفظك فَإِنَّهُ أَمِير الْمُؤمنِينَ قَالَت لَهُ ايه عَنْك يَا ابْن النفيرة فوَاللَّه لعهدي بأمك بِأَبْيَات مَكَّة وَهِي باكية من الْخَطِيئَة من كل عبد لنا عاهر وَلَقَد احتكم فِيك خَمْسَة من قُرَيْش كلهم يدعيك ابْنه وَغلب عَلَيْك جزار قُرَيْش فَقَالَ لَهَا سعيد بن الْعَاصِ ايتها الْعَجُوز الضَّالة اقصري من قَوْلك مَعَ ذهَاب عقلك إِنَّه لَا تجوز شهادتك وَحدك
গলার শিরার চেয়েও [অধিক নিকটবর্তী] এবং তোমাদের চেয়ে এই বিষয়ের অধিক হকদার। তোমাদের মাঝে আমাদের অবস্থা ছিল ফেরাউন বংশে বনী ইসরাঈলের অবস্থার মতো। আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পরে তোমাদের মধ্য হতে আমাদের নেতা মুসার নিকট হারুনের মর্যাদাসম্পন্ন ছিলেন। আমাদের গন্তব্য জান্নাত এবং তোমাদের গন্তব্য জাহান্নাম।

অতঃপর আমর ইবনুল আস তাকে বললেন, "হে বৃদ্ধা, ক্ষান্ত হও! তোমার দৃষ্টি নিচু করো এবং তোমার কটু বাক্য সংক্ষেপ করো; কেননা তিনি আমিরুল মুমিনীন।" তিনি তাকে বললেন, "থামো হে ইবনে নুফাইরা! আল্লাহর শপথ, আমি মক্কার গৃহগুলোতে তোমার মাকে দেখেছি, সে আমাদের প্রত্যেক ব্যভিচারী দাসের পাপের কারণে ক্রন্দনরত ছিল। কুরাইশের পাঁচজন ব্যক্তি তোমার পিতৃপরিচয় নিয়ে বিবাদে লিপ্ত হয়েছিল, তারা প্রত্যেকেই তোমাকে নিজের পুত্র বলে দাবি করছিল; পরিশেষে কুরাইশের কসাই তোমার ওপর বিজয়ী হলো।" তখন সাঈদ ইবনুল আস তাকে বললেন, "হে পথভ্রষ্ট বৃদ্ধা! তোমার বুদ্ধি লোপ পাওয়ার সাথে সাথে তোমার কথা সংক্ষেপ করো। নিশ্চয়ই এককভাবে তোমার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়।"
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদাতি মিনান নিসায়ি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ৪৯)
قَالَت وَأَنت يَا ابْن الباغية تَتَكَلَّم وأمك اشهر بغيا فان اباك قد رأودها فادعاك فَقَالَ لَهَا مَرْوَان بن الحكم كفى ايتها الْمَرْأَة واقصدي لما جِئْت لَهُ

قَالَت لَهُ وَأَنت يَا ابْن الزَّرْقَاء تَتَكَلَّم وَوَاللَّه لأَنْت اشبه ببشر مولى الْحَارِث بن كلدة مِنْك بالحكم بن أبي الْعَاصِ وَلَقَد رايت الحكم سبط الشّعْر مديد القأمة فان بَيْنكُمَا من الْقَرَابَة إِلَّا كقرابة الْفرس الضأمر من إلاتان المقرب فسل عَمَّا اخبرتك بِهِ أمك فَإِنَّهَا تعلمك ذَلِك ثمَّ التفتت إِلَى مُعَاوِيَة وَقَالَت مَا عرضني وَمَا جرأ عَليّ هَؤُلَاءِ اُحْدُ غَيْرك يَا بن القائلة فِي قتل حَمْزَة … نَحن جزيناكم بِيَوْم بدر … وَالْحَرب بعد الْحَرْب ذَات سعر … ماكان لي عَن عتبَة من صَبر … وَلَا اخي وعمتي وبكري … سكن وَحشِي غليل صَدْرِي … سليت همي وشفيت صَدْرِي … فَشكر وَحشِي عَليّ دهري … حَتَّى توارى اعظمي فِي قَبْرِي …
সে বলল, ‘হে ব্যভিচারিণীর পুত্র! তুমিও কথা বলছ? অথচ তোমার মা ছিল একজন নামকরা ব্যভিচারিণী। তোমার পিতা তার সাথে লিপ্ত হয়েছিল এবং এরপর তোমাকে নিজের সন্তান বলে দাবি করেছিল।’ মারওয়ান ইবনে আল-হাকাম তাকে বলল, ‘হে নারী! যথেষ্ট হয়েছে, তুমি যে উদ্দেশ্যে এসেছ সে কথা বলো।’

সে তাকে বলল, ‘হে ইবনুল যারকা (নীল নয়নার পুত্র)! তুমিও কথা বলছ? আল্লাহর কসম, তুমি হাকাম ইবনে আবিল আস-এর চেয়ে হারিস ইবনে কালদাহর মুক্তদাস বিশরের সাথে অধিক সদৃশ। আমি হাকামকে দেখেছি সোজা চুল ও দীর্ঘদেহী পুরুষ হিসেবে। তোমাদের উভয়ের মধ্যে কেবল ততটুকুই আত্মীয়তা রয়েছে যতটুকু একটি দ্রুতগামী ঘোড়া ও একটি ভারবাহী গাধীর মধ্যে থাকে। সুতরাং আমি যা বললাম সে বিষয়ে তোমার মাকে জিজ্ঞাসা করো, কারণ তিনিই তোমাকে এ সম্পর্কে প্রকৃত সত্য জানাতে পারবেন।’ এরপর সে মুয়াবিয়ার দিকে ফিরে বলল, ‘হে হামজার হত্যার দিনে সেই পংক্তি পাঠকারিণীর পুত্র! আপনি ছাড়া আর কেউই এই লোকদের আমার সাথে কথা বলার বা আমার উপর স্পর্ধা দেখানোর সুযোগ করে দেয়নি— (যিনি বলেছিলেন:) … আমরা বদরের দিনের বদলা নিয়েছি … আর যুদ্ধের পর যুদ্ধ সর্বদাই ভয়াবহ রূপ নেয় … উতবার শোকে আমার কোনো ধৈর্য ছিল না … না ছিল আমার ভাই, আমার ফুফু ও আমার জ্যেষ্ঠ পুত্রের জন্য … ওয়াহশি আমার বুকের দহন প্রশমিত করেছে … সে আমার দুশ্চিন্তা দূর করেছে এবং আমার হৃদয়কে শীতল করেছে … সুতরাং সারা জীবন ওয়াহশির প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা থাকবে … যতক্ষণ না আমার অস্থিগুলো কবরের মাটিতে বিলীন হয় …
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদাতি মিনান নিসায়ি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ৫০)
فأجابتها ابْنة عمي وَهِي تَقول … جزيت فِي بدر وَغير بدر … ياابنة وقاع عَظِيم الْكفْر … صبحك الله غَدَاة النَّحْر … بإلهاشميين الطوَال الزهر … بِكُل قطاع حسأم يفري … حَمْزَة ليثي وَعلي صقري … اعطيت وحشيا ضمير الصَّدْر … هتك وَحشِي حجاب السّتْر … مَا للبغايا بعْدهَا من فَخر …

 

فَالْتَفت مُعَاوِيَة إِلَى عَمْرو ومروان فَقَالَ مَا جلب عَليّ هَذَا اُحْدُ غيركما وَلَا اسمعني هَذَا الكلأم إِلَّا أَنْتُمَا لَا حييتما ثمَّ قَالَ يَا خَالَة اقصدي أَنا الْفِدَاء لَك لحاجتك ودعي إلاساطير عَنْك قَالَت تُعْطِينِي الفي دِينَار والفي دِينَار والفي دِينَار قَالَ لَهَا مَا تصنعين بالفي دِينَار قَالَت اشْترِي بهَا عينا خرارة فِي ارْض خوارة تكون لفقراء بني الْحَارِث بن عبد الْمطلب قَالَ هِيَ لَك قَالَ وَمَا تصنعين بالفي دِينَار قَالَت ازوج بهَا فُقَرَاء بني الْحَارِث بن عبد الْمطلب قَالَ هِيَ لَك قَالَ وَمَا تصنعين بالفي دِينَار اخرى
আমার চাচাতো বোন তাকে উত্তর দিচ্ছিল এবং বলছিল … বদর ও বদর ছাড়া অন্যান্য যুদ্ধে তোমাকে প্রতিদান দেওয়া হয়েছে … হে মহান কুফরিতে লিপ্ত ব্যক্তির কন্যা … নহরের দিন ভোরে আল্লাহ তোমাকে লাঞ্ছিত করুন … দীর্ঘদেহী ও উজ্জ্বল হাশেমী বংশীয়দের মাধ্যমে … প্রত্যেক কর্তনকারী ধারালো তলোয়ারের আঘাতে … হামজা আমার সিংহ এবং আলী আমার বাজপাখি … তুমি ওয়াহশীকে অন্তরের গোপন সংকল্প ব্যক্ত করেছিলে … ওয়াহশী আবরুর পর্দা ছিন্ন করেছে … এরপর ব্যভিচারিণীদের জন্য গর্ব করার মতো আর কিছু অবশিষ্ট নেই …

 

অতঃপর মুআবিয়া আমর এবং মারওয়ানের দিকে ফিরে তাকালেন এবং বললেন, "তোমরা দুজন ব্যতীত অন্য কেউ আমার ওপর এই আপদ টেনে আনেনি এবং তোমরা ছাড়া আর কেউ আমাকে এই কথাগুলো শোনায়নি; তোমরা দীর্ঘজীবী না হও।" এরপর তিনি বললেন, "হে খালা, আপনি আপনার প্রয়োজনের কথা ব্যক্ত করুন, আমি আপনার জন্য উৎসর্গিত হই। আর এই উপাখ্যানগুলো ত্যাগ করুন।" তিনি বললেন, "তুমি আমাকে দুই হাজার দিনার, আরও দুই হাজার দিনার এবং আরও দুই হাজার দিনার দাও।" তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, "আপনি প্রথম দুই হাজার দিনার দিয়ে কী করবেন?" তিনি বললেন, "আমি তা দিয়ে উর্বর ভূমিতে একটি প্রবহমান ঝরনা ক্রয় করব, যা বনু আল-হারিস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের দরিদ্রদের কল্যাণে ব্যয় হবে।" তিনি বললেন, "তা আপনার জন্য মঞ্জুর করা হলো।" তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, "আর পরবর্তী দুই হাজার দিনার দিয়ে কী করবেন?" তিনি বললেন, "আমি তা দিয়ে বনু আল-হারিস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের দরিদ্রদের বিবাহের ব্যবস্থা করব।" তিনি বললেন, "তাও আপনার জন্য মঞ্জুর করা হলো।" তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, "বাকি দুই হাজার দিনার দিয়ে আপনি কী করবেন?"
(খণ্ড: ১) আখবারুল ওয়াফিদাতি মিনান নিসায়ি আলা মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (পৃষ্ঠা: ৫১)
قَالَت استعين بهَا على شدَّة الزَّمَان وزيارة بَيت الله الحرأم قَالَ قد أمرت لَك بهَا يَا خَالَة ثمَّ قَالَ أما وَالله لَو كَانَ عَليّ حَيا مَا أَمر لَك بِهَذَا قَالَت اتذكر عليا فض الله فَاك واجهد بلاءك ثمَّ علا نحيبها وبكاؤها وانشات تَقول … أَلا يَا عين وَيحك اسعدينا … أَلا ابكي أَمِير المؤمنينا … رزينا خير من ركب المطايا … وحبسها وَمن ركب السفينا … وَمن لبس النِّعَال وَمن حذاها … وَمن قرا المثإني المئينا … أَلا ابلغ مُعَاوِيَة بن حَرْب … فَلَا قرت عُيُون الشأمتينا … افي شهر الصيأم فجعتموه … بِخَير النَّاس طرا اجمعينا … وَمن بعد النَّبِي فدته نَفسِي … أَبُو حسن وَخير الصالحينا … كَانَ النَّاس اذ فقدوا عليا … نعأم جال فِي بلد سنينا … لقد علمت قُرَيْش حَيْثُ كَأَنْت … بانك خَيرهَا حسبا ودينا … إِذا اسْتقْبلت وَجه أبي حُسَيْن … رايت الْبَدْر راق الناظرينا … فَلَا وَالله لَا انسى عليا … وَحسن صلَاته فِي الراكعينا …

‌‌فَبكى مُعَاوِيَة وَقَالَ كَانَ وَالله يَا خَالَة كَمَا قلت وافضل وَأمر لَهَا بِالَّذِي سَالَتْ ثمَّ قأمت فَانْصَرَفت
তিনি বললেন, "আমি এর দ্বারা কালের কঠোরতা মোকাবিলায় এবং আল্লাহর পবিত্র ঘর যিয়ারতে সাহায্য গ্রহণ করব।" তিনি (মুয়াবিয়া) বললেন, "হে খালা, আমি আপনার জন্য তা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছি।" অতঃপর তিনি বললেন, "সাবধান! আল্লাহর কসম, আলী যদি জীবিত থাকতেন, তবে তিনি আপনার জন্য এই নির্দেশ দিতেন না।" তিনি বললেন, "আপনি কি আলীর কথা বলছেন? আল্লাহ আপনার মুখ চূর্ণ করুন এবং আপনার বিপদ তীব্রতর করুন!" অতঃপর তাঁর কান্নাকাটি ও বিলাপ উচ্চকিত হলো এবং তিনি আবৃত্তি করতে শুরু করলেন … হে চক্ষু, আফসোস তোমার প্রতি, তুমি আমাদের সঙ্গ দাও … হে চক্ষু, তুমি আমীরুল মুমিনীন-এর জন্য ক্রন্দন করো … আমরা সেই সর্বোত্তম ব্যক্তিকে হারিয়ে শোকাতুর, যিনি সওয়ারিতে আরোহণ করেছেন … এবং তা নিয়ন্ত্রণ করেছেন, আর যিনি নৌযানে আরোহণ করেছেন … এবং যিনি পাদুকা পরিধান করেছেন ও তা প্রস্তুত করেছেন … আর যিনি মাসানী ও মিয়ীন তিলাওয়াত করেছেন … জেনে রেখো, মুয়াবিয়া ইবনে হারবকে সংবাদটি পৌঁছে দাও … যেন বিদ্বেষ পোষণকারীদের চক্ষু কখনো শীতল না হয় … তোমরা কি সিয়ামের মাসে তাঁকে শোকার্ত করলে … যিনি সমগ্র মানবজাতির মধ্যে শ্রেষ্ঠ ছিলেন … আর নবীর পরে—আমার প্রাণ তাঁর জন্য উৎসর্গ হোক— … যিনি আবু হাসান এবং সৎকর্মশীলদের মধ্যে সর্বোত্তম … মানুষ যখন আলীকে হারালো, তখন তারা যেন … দিগভ্রান্ত উটপাখি যারা বছরের পর বছর মরুভূমিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে … কুরাইশরা যেখানেই থাকুক না কেন, তারা অবশ্যই জেনেছে … যে আপনি বংশমর্যাদা ও দ্বীনের বিচারে তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ … যখন আপনি আবু হুসাইনের চেহারার সম্মুখীন হতেন … তখন আপনি এক পূর্ণিমার চাঁদ দেখতে পেতেন যা দর্শকদের দৃষ্টিকে প্রশান্ত করে … না, আল্লাহর কসম, আমি কখনো আলীকে ভুলব না … এবং রুকুকারীদের মাঝে তাঁর অতি সুন্দর সালাতকেও না …

‌‌মুয়াবিয়া কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, "হে খালা, আল্লাহর কসম, তিনি তেমনই ছিলেন যেমনটি আপনি বললেন বরং তার চেয়েও উত্তম।" অতঃপর তিনি তাঁর প্রার্থিত বস্তু প্রদানের নির্দেশ দিলেন, তারপর তিনি উঠে প্রস্থান করলেন।