(খণ্ড: ১) মুনাদামাতুল আতলাল ওয়া মুসামারাতুল খায়াল (পৃষ্ঠা: -)
منادمة الأطلال ومسامرة الخيال   (ابن بدران)

القسم: البلدان والرحلات


الكتاب: منادمة الأطلال ومسامرة الخيال

المؤلف: عبد القادر بن أحمد بن مصطفى بن عبد الرحيم بن محمد بدران (ت 1346 هـ)

المحقق: زهير الشاويش [ت 1434 هـ]

الناشر: المكتب الإسلامي - بيروت

الطبعة: ط 2، 1985 م

عدد الصفحات: 421

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ধ্বংসাবশেষের সাথে কথোপকথন এবং কল্পনার সাথে নৈশ আলাপ   (ইবনে বদরান)

বিভাগ: দেশ-দেশান্তর ও ভ্রমণকাহিনী


বই: ধ্বংসাবশেষের সাথে কথোপকথন এবং কল্পনার সাথে নৈশ আলাপ

লেখক: আব্দুল কাদির বিন আহমদ বিন মুস্তফা বিন আব্দুর রহিম বিন মুহাম্মদ বদরান (মৃত্যু ১৩৪৬ হি.)

সম্পাদক: যুহাইর আশ-শাভিশ [মৃত্যু ১৪৩৪ হি.]

প্রকাশক: আল-মাকতাবুল ইসলামি - বৈরুত

সংস্করণ: ২য় সংস্করণ, ১৯৮৫ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪২১

[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মুনাদামাতুল আতলাল ওয়া মুসামারাতুল খায়াল (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

 

تبَارك الَّذِي بِيَدِهِ ملكوت كل شَيْء واليه يرجع الْأَمر كُله وَهُوَ الْعَلِيم الْحَكِيم كلما جال الْفِكر فِي تيار هَذَا الْوُجُود انْقَلب الْعقل رَاجعا إِلَى الْإِقْرَار بِوُجُودِهِ ووحدانيته تَعَالَى قهرا فَلَا يُنكره إِلَّا جَاهِل لم ير لمحة من أسرار الْكَوْن وَلم يذقْ قَطْرَة من كوثر حكمته يظْهر الْأَشْيَاء ثمَّ يطويها ويخفي ساعتها ثمَّ يجليها وَيفِيض على قُلُوب من يَشَاء بَيَانهَا واليه الحكم فِي كتمانها وتبيانها وَيُعْطِي كل عصر مَا يَلِيق بقابليته وَمَا يلائم مدنيته الْحَاضِرَة فَهُوَ الأول وَالْآخر وَالظَّاهِر وَالْبَاطِن وَهُوَ بِكُل شَيْء عليم والمعرضون عَن آثَار حكمته الباهرة صم بكم عمي فهم لَا يعْقلُونَ يناديهم من يُؤْتِي الْحِكْمَة {فَبِأَي آلَاء رَبكُمَا تُكَذِّبَانِ} وهم لَا يسمعُونَ فَلهُ الْحَمد على مَا أولانا من المكاشفة على أسرار مَا أودعهُ من الحكم وإياه نسْأَل الْمَزِيد من إفَاضَة أنوار لَا تَنْقَضِي عجائبها وَلَا تَنْتَهِي غرائبها وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على نبيه حَكِيم الْحُكَمَاء وَسيد الْأَنْبِيَاء مُحَمَّد الْمَبْعُوث إِلَى جَمِيع الْأُمَم وعَلى اله وَصَحبه البدور الكاملين مَا نسخت آيَة من آيَات سر الْوُجُود فانسيت أَو أَتَى الله بِخَير مِنْهَا أَو مثلهَا فَأَتَت الصُّحُف على تذكار ذَلِك المنسي تحمل أَخْبَار الماضين للآتين ليتذكر أولو الْأَلْبَاب وليكون لَهُم جدولا يبنون على كل فَرد مِنْهُ الْفُصُول والأبواب وتذكرهم الأطلال والدمن مَا كَانَ لأسلافهم من الْآثَار وينادمهم الخيال فيهبوا للْجدّ والتذكار

وَبعد فَيَقُول السَّائِل من وَاجِب الْوُجُود أَن يطلعه على أسرار الْحِكْمَة ويجعله مظْهرا لتِلْك النِّعْمَة عبد الْقَادِر بن احْمَد بن مصطفى بن عبد الرَّحِيم بن مُحَمَّد الشهير كأسلافه بِابْن بدران السَّعْدِيّ الدِّمَشْقِي
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

বরকতময় সেই সত্তা যাঁর হাতে সকল কিছুর রাজত্ব এবং সকল বিষয় তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন করে, আর তিনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। যখনই চিন্তা এই অস্তিত্বের প্রবাহে পরিভ্রমণ করে, বুদ্ধি বাধ্য হয়ে তাঁর অস্তিত্ব ও তাঁর একত্ববাদের স্বীকৃতির দিকেই ফিরে আসে। সুতরাং একে সেই মূর্খ ব্যতীত কেউ অস্বীকার করে না যে মহাবিশ্বের রহস্যের কোনো ঝলক দেখেনি এবং তাঁর প্রজ্ঞার কাউসারের এক বিন্দু স্বাদও গ্রহণ করেনি। তিনি বস্তুসমূহকে প্রকাশ করেন তারপর সেগুলোকে গুটিয়ে নেন, আর সেগুলোর সময়কালকে গোপন করেন তারপর তা প্রকাশ করেন এবং তিনি যার অন্তরে ইচ্ছা করেন তার বর্ণনা ঢেলে দেন। তা গোপন রাখা বা ব্যক্ত করার ফয়সালা তাঁরই কাছে। তিনি প্রত্যেক যুগকে তার যোগ্যতা অনুযায়ী এবং তার বর্তমান সভ্যতার সাথে যা সামঞ্জস্যপূর্ণ তা দান করেন। তিনি আদি, তিনি অন্ত, তিনি প্রকাশ্য ও তিনি গোপন এবং তিনি সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত। আর যারা তাঁর প্রজ্ঞার উজ্জ্বল নিদর্শনসমূহ থেকে বিমুখ তারা বধির, বোবা ও অন্ধ; তারা অনুধাবন করে না। যাঁর পক্ষ থেকে প্রজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে তিনি তাদের ডাকছেন: "অতএব তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে তোমরা উভয়ে অস্বীকার করবে?" অথচ তারা শোনে না। সুতরাং সকল প্রশংসা তাঁরই জন্য যিনি আমাদের ওপর তাঁর গচ্ছিত হিকমতের রহস্যসমূহ উন্মোচনের অনুগ্রহ করেছেন। আর আমরা তাঁরই নিকট সেই নূরের প্রবাহ বৃদ্ধির প্রার্থনা করছি যার আশ্চর্য বিষয়সমূহ নিঃশেষ হয় না এবং যার অভিনবত্ব শেষ হয় না। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর নবীর ওপর যিনি বিজ্ঞদের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞ এবং নবীদের সর্দার, সেই মুহাম্মদ যিনি সকল উম্মতের প্রতি প্রেরিত হয়েছেন। আরও বর্ষিত হোক তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর যারা পূর্ণিমার পূর্ণ চাঁদের ন্যায়; যতক্ষণ পর্যন্ত অস্তিত্বের রহস্যের কোনো নিদর্শন রহিত হয় এবং তা বিস্মৃত করে দেয়া হয় অথবা আল্লাহ তার চেয়ে উত্তম কিংবা তার অনুরূপ কিছু নিয়ে আসেন। অতঃপর কিতাবসমূহ সেই বিস্মৃত বিষয়ের স্মরণে উপনীত হয়, যা পরবর্তীদের জন্য পূর্ববর্তীদের সংবাদ বহন করে যাতে বুদ্ধিমানগণ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে এবং তাদের জন্য এমন এক রূপরেখা হয় যার প্রতিটি বিষয়ের ওপর তারা বিভিন্ন অধ্যায় ও পরিচ্ছেদ বিন্যাস করবে। আর ধ্বংসাবশেষ ও প্রাচীন চিহ্নসমূহ তাদের পূর্বসূরিদের রেখে যাওয়া নিদর্শনের কথা মনে করিয়ে দেয় এবং কল্পনা তাদের সঙ্গী হয় ফলে তারা ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও স্মৃতির উদ্দেশ্যে জাগ্রত হয়।

অতঃপর, 'ওয়াজিবুল উজুদ' (অনিবার্য অস্তিত্ববান সত্তা)-এর নিকট যাঁর প্রার্থনা এই যে, তিনি তাকে প্রজ্ঞার রহস্যসমূহ সম্পর্কে অবহিত করবেন এবং তাকে সেই নিয়ামতের বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর মাধ্যম বানাবেন; সেই বান্দা আব্দুল কাদির ইবনে আহমদ ইবনে মুস্তফা ইবনে আব্দুর রহিম ইবনে মুহাম্মদ—যিনি তাঁর পূর্বপুরুষদের ন্যায় ইবনে বদরান আস-সাদি আদ-দিমাশকি নামে পরিচিত।
(খণ্ড: ১) মুনাদামাতুল আতলাল ওয়া মুসামারাতুল খায়াল (পৃষ্ঠা: ২)
لج بِي السهر لَيْلَة من اللَّيَالِي مُنْفَردا أنادم الأطلال والخيال فتجلت لي دمشق غادة حسناء مسفرة عَن جمال وَجههَا تَقول أَلا لفتة لأحاديث آثاري وهلا سَاعَة فِي تذكار أخباري فَقلت أَنا كَمَا تعلمين غَرِيب حل مأوى الغرباء كَمَا قَالَ أَبُو سُلَيْمَان الْخطابِيّ

(وَمَا غمَّة الْإِنْسَان فِي شقة النَّوَى … وَلكنهَا وَالله فِي عدم الشكل)

(وَإِنِّي غَرِيب بَين بست وَأَهْلهَا … وان كَانَ فِيهَا أسرتي وَبهَا أَهلِي)

من قوم تلاعبت بهم الأقطار فحلوا جيرانا بغوطتك الفيحاء فنادمي أبناءك يَا ليلى الغرام وحيي إحباءك المدعين بك الهيام فَقَالَت ألم بِرَبِّك فِينَا وليدا وَلَبِثت فِينَا من عمرك سِنِين ألم تتقلب فِي مدارسي وتلتقط ثمار الْحِكْمَة من مغارسي أما ضممتك إِلَيّ ورمقتك بنظري وسقت إِلَيْك خيري حَتَّى تبنيتك وَمَا تركتك وَكلما تَبَاعَدت عني طلبتك أما هجرتني إِلَى الفرنجة متجولا وأبت إِلَى سواحل إفريقية متحولا فأضرمت فِي قَلْبك نَار غرامي وجذبتك إِلَيّ بمغناطيس هيامي ثمَّ لججت فِي الهجر قَافِلًا إِلَى دوماك جرثومة الهمجية العريقة ببغض الْحُكَمَاء وَالْعُلَمَاء فذقت بهَا ألم التَّعَدِّي والحسد وأضنى حمرها المستنفرة مِنْك الْعقل والجسد وتألب أُولَئِكَ المتوحشون عَلَيْك يُرِيدُونَ أَن يطفئوا نور الْحِكْمَة الَّذِي اطلعه الله فِي فُؤَادك ببغيهم وحسدهم ويأبى الله أَلا أَن يتم نوره وَلَو كره هَؤُلَاءِ الجاهلون قلبوا لَك ظهر الْمِجَن ورموك بالإفك ليسوقوا لَك المحن ويخلوا من فضلك ربع الوطن فمددت لإسعافك ساعدا أقوى من الْحَدِيد وأخرجتك من بَينهم رغما عَن انف كل جَبَّار عنيد ورميت حسادك بِسَهْم من سهم القهار وصلت عَلَيْهِم بِسيف قد سل من سطوة الْجَبَّار فذاق فريق مِنْهُم عَذَاب الْهون وارصدت للآخرين {وَمَا رَبك بغافل عَمَّا يعْملُونَ} ثمَّ اصطنعتك لنَفْسي فَمَا أثمرت من ثَمَر إِلَّا وَهُوَ من غرسي فبنعمة رَبك حدث فخلب لبي لطيف كَلَامهَا واتقدت فِيهِ جذوة غرامها وَقلت

(مَا بعد جلق للغرام مرام … وَغَيرهَا وَطن عَليّ حرَام)

(لَكِن هِيَ الأقدار تفعل مَا تشا … صبرا جميلا وَالْكَلَام كَلَام)

لبيْك يَا ليلى الْجمال وَيَا سلمى المحاسن أَنا الخاضع لما تأمرين مَا دمت عبد الْقَادِر
এক রাতে নির্জনে অনিদ্রা আমাকে পেয়ে বসল, আমি ধ্বংসাবশেষ ও স্মৃতির সাথে গল্প করছিলাম। তখন দামেস্ক এক রূপসী তরুণীর বেশে আমার সামনে প্রকাশিত হলো, যার চেহারা থেকে রূপের আভা ঝরছিল। সে বলল, "আমার নিদর্শনের কাহিনীগুলোর প্রতি কি তোমার একটুও নজর পড়বে না? আমার স্মৃতিচারণে কি একটি মুহূর্তও ব্যয় হবে না?" আমি বললাম, "আমি তো, যেমনটি তুমি জানো, এক আগন্তুক যে প্রবাসীদের আশ্রয়ে এসে উঠেছে, যেমনটি আবু সুলায়মান আল-খাত্তাবি বলেছিলেন:

দূরত্ব বা বিরহের কষ্টে মানুষের প্রকৃত দুঃখ নয় … আল্লাহর শপথ! বরং তা হচ্ছে সমমনা সাথীর অভাবে।

আমি বুস্ত শহর ও তার অধিবাসীদের মাঝে একজন আগন্তুক … যদিও সেখানে আমার পরিবার ও পরিজন রয়েছে।

এমন এক জাতির অন্তর্ভুক্ত যাদেরকে বিভিন্ন দেশ নিয়ে খেলা করেছে, ফলে তারা তোমার প্রশস্ত ঘুতায় (উর্বর ভূমি) প্রতিবেশী হয়ে আশ্রয় নিয়েছে। হে প্রেমের লায়লা! তুমি তোমার সন্তানদের সাথে প্রেমালাপ করো এবং তোমার প্রেমে আত্মহারা হওয়ার দাবিদার প্রিয়জনদের অভিবাদন জানাও। তখন সে বলল, "তোমার প্রভুর শপথ! তুমি কি আমাদের মাঝে শিশু হিসেবে বড় হওনি এবং তোমার জীবনের বহু বছর আমাদের মাঝে অতিবাহিত করোনি? তুমি কি আমার পাঠশালাগুলোতে বিচরণ করোনি এবং আমার বাগান থেকে প্রজ্ঞার ফল আহরণ করোনি? আমি কি তোমাকে নিজের সাথে জড়িয়ে রাখিনি, আমার কৃপাদৃষ্টিতে আগলে রাখিনি এবং আমার কল্যাণরাজি তোমার দিকে প্রবাহিত করিনি, যতক্ষণ না আমি তোমাকে নিজের করে নিয়েছি? আমি তোমাকে কখনো ছেড়ে যাইনি, বরং যখনই তুমি আমার থেকে দূরে গিয়েছ, আমি তোমাকে খুঁজেছি। তুমি কি পরিব্রাজক হয়ে ইউরোপীয়দের দেশে চলে যাওনি এবং আফ্রিকার উপকূলে প্রত্যাবর্তন করোনি? তখন আমি তোমার হৃদয়ে আমার প্রেমের আগুন জ্বালিয়েছি এবং আমার অনুরাগের চৌম্বকশক্তি দিয়ে তোমাকে আকর্ষণ করেছি। তারপর তুমি বিচ্ছেদে অটল থেকে তোমার 'দুমা' নামক স্থানে ফিরে গেলে, যা ছিল বিজ্ঞ ও আলেমদের প্রতি বিদ্বেষপরায়ণ প্রাচীন বর্বরতার মূল আধার। সেখানে তুমি সীমালঙ্ঘন ও হিংসার বিষাদ আস্বাদন করলে এবং সেখানকার পলায়নপর বন্য গাধারা তোমার বুদ্ধি ও শরীরকে ক্লান্ত করে দিল। সেই বর্বররা তোমার বিরুদ্ধে একত্রিত হয়েছিল, তারা তাদের অন্যায় ও হিংসার মাধ্যমে তোমার হৃদয়ে আল্লাহ যে প্রজ্ঞার নূর প্রজ্বলিত করেছেন তা নিভিয়ে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু আল্লাহ তাঁর নূর পূর্ণ করা ছাড়া অন্য কিছু চান না, যদিও এই মূর্খরা তা অপছন্দ করে। তারা তোমার প্রতি শত্রুতা পোষণ করল এবং তোমার ওপর মিথ্যারোপ করল যাতে তোমাকে বিপদে ফেলতে পারে এবং স্বদেশকে তোমার অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত করতে পারে। তখন আমি তোমাকে উদ্ধারের জন্য লোহার চেয়েও শক্তিশালী এক হাত প্রসারিত করলাম এবং প্রত্যেক উদ্ধত অবাধ্যের নাক ধুলোয় মিশিয়ে তোমাকে তাদের মধ্য থেকে বের করে আনলাম। আর তোমার হিংসুকদের ওপর 'কাহহার' (মহা পরাক্রমশালী)-এর তূণ থেকে একটি তীর নিক্ষেপ করলাম এবং 'জাব্বার' (মহা প্রতাপশালী)-এর প্রতাপ থেকে কোষমুক্ত এক তলোয়ার দিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লাম। ফলে তাদের একদল লাঞ্ছনার আযাব আস্বাদন করল এবং অন্যদের জন্য আমি এই সতর্কবার্তা ওৎ পেতে রাখলাম যে, {আপনার রব তারা যা করে সে সম্পর্কে গাফেল নন}। তারপর আমি তোমাকে নিজের জন্য গড়ে তুললাম; ফলে তুমি যে ফলই উৎপাদন করেছ তা আমারই রোপণ করা চারা থেকে। অতএব তোমার রবের নেয়ামত বর্ণনা করো।" তার মধুর কথায় আমার হৃদয় মোহিত হলো এবং তাতে প্রেমের শিখা প্রজ্বলিত হলো, আর আমি বললাম:

দামেস্কের পর প্রেমের আর কোনো গন্তব্য নেই … অন্য কোনো স্বদেশ আমার জন্য হারাম।

কিন্তু এগুলো হলো তাকদীর, যা ইচ্ছে তাই করে … সুতরাং সুন্দর ধৈর্যই কাম্য, আর কথা তো কথা মাত্র।

হে রূপের লায়লা ও সৌন্দর্যের সালমা! আমি তোমার ডাকে হাজির। আমি তোমার আদেশের অনুগত, যতক্ষণ আমি আব্দুল কাদির।
(খণ্ড: ১) মুনাদামাতুল আতলাল ওয়া মুসামারাতুল খায়াল (পৃষ্ঠা: ৩)
ودعيت بِابْن بدران أَنا الهائم فِي إِظْهَار صفاتك الْمُقِيم على محبتك ماكر الجديدان فَقَالَت انك لتعلم هَذَا الْعَصْر الزَّاهِر وَمَا تجلى فِيهِ من الْعُلُوم وَترى مَسْلَك أبنائي وَكَيف يتهافتون على القشر ويتركون اللّبَاب نبذوا الْعلم ظهريا فضمه الغربيون إِلَيْهِم وَإِذا انتبهوا من رقدتهم وجدوا أنفسهم عَالَة عَلَيْهِم فَذكرهمْ بأيامي الْمَاضِيَة علهم يتذكرون وخاطبهم بِمَا كَانَ بِي من الْآثَار وَمَا انفق فِي رياضي على الْعلم من الدِّرْهَم وَالدِّينَار وأعلمهم بِمَا كَانَ بِي من الْمدَارِس وأنبئهم بِتِلْكَ الْمعَاهد الدوارس وَذكرهمْ فان الذكرى تَنْفَع أولي الْأَلْبَاب فلعلهم يَجدونَ ويجتهدون ويتركون التفاخر بالماضي وَقل لشيخهم خل كَانَ ولناشئتهم اترك أَنا ابْن فلَان فان الْمَرْء ابْن تَحْصِيله وشرفه علمه وحكمته

(فمثلك من يدعى لكل عَظِيمَة … ومثلي من يفدى بِكُل مسود)

فطوينا بعد الْوَعْد بإجابة الطّلب الْأَحَادِيث وَقلت إِن لم يَفِ الْمُحب لمحبوبه بِمَا أَمر اسْتحق الهجر فِي شرع المحبين وطفقت اقلب الطّرف فِي أسفار المؤرخين وأتطلب مَا كَانَ من أَحَادِيث الماضين وأطوف لرؤية الْمعَاهد والْآثَار الَّتِي بقيت فِي تِلْكَ الدَّار مِمَّا نبا عَنهُ سيف الْقدَم وصبر على طُلُوع الشَّمْس وَالْقَمَر فأرسم مَا اهْتَدَى إِلَيْهِ على صفحات هَذَا السّفر الَّذِي هُوَ قسم من الْأَسْفَار الثَّلَاثَة لتاريخ دمشق وخصصته باسم منادمة الأطلال ومسامرة الخيال ليطابق اسْمه مَعْنَاهُ ثمَّ إِنَّنِي سلكت فِيهِ مسلكا وَهُوَ إِنَّنِي إِذا ذكرت مدرسة أَو آثرا مَا احافظ على تَرْجَمَة منشئه وَلَا أتعرض لتراجم المدرسين فِي الْمدَارِس كَمَا فعله الْعَلامَة عبد الْقَادِر النعيمي فِي كِتَابه تحفة الطَّالِب والدارس لَان الْمدرس إِن كَانَ من الْمَشَاهِير فَمحل تَرْجَمته السّفر الثَّالِث من هَذَا التَّارِيخ وان كَانَ من غَيرهم فَلَيْسَ من شَرط كتابي ان اذكره وايضا انني جعلت هَذَا السّفر اقساما

اولها لمدارس الْقُرْآن الْكَرِيم

وَثَانِيها للمدارس المختصة بِالْحَدِيثِ وللمشتركة بَينه وَبَين تَعْلِيم الْقُرْآن الْعَظِيم

وَثَالِثهَا للمدارس الَّتِي اسست للعلوم الْفِقْهِيَّة والادبية وَهَذَا الْقسم اربعة ابواب

اولها لمدارس الْحَنَفِيَّة

وَثَانِيها لمدارس الْمَالِكِيَّة
আমি ইবনে বদরান হিসেবে পরিচিত হলাম, যে ব্যক্তি আপনার গুণাবলি প্রকাশে ব্যাকুল এবং আপনার ভালোবাসায় অবিচল যতক্ষণ দিবারাত্রির আবর্তন ঘটে। তখন সে (দামেস্ক) বলল, আপনি তো এই প্রদীপ্ত যুগ এবং এতে প্রকাশিত জ্ঞানসমূহ সম্পর্কে জানেন এবং আমার সন্তানদের পথও দেখছেন যে কীভাবে তারা অসার বস্তুর দিকে ধাবিত হচ্ছে এবং সারবস্তু পরিত্যাগ করছে। তারা জ্ঞানকে পেছনে ফেলে দিয়েছে, ফলে পশ্চিমারা তা নিজেদের আয়ত্তে নিয়েছে। আর যখন তারা তাদের তন্দ্রা থেকে সজাগ হবে, তখন তারা নিজেদেরকে তাদের মুখাপেক্ষী হিসেবে দেখতে পাবে। অতএব, আপনি তাদের কাছে আমার অতীত দিনগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দিন, সম্ভবত তারা শিক্ষা গ্রহণ করবে। আমার মধ্যে যেসব নিদর্শন বিদ্যমান ছিল সে সম্পর্কে তাদের সম্বোধন করুন এবং জ্ঞানের জন্য আমার বাগিচায় কত দিরহাম ও দিনার ব্যয় করা হয়েছিল তা জানান। আমার মাঝে যেসব মাদরাসা বিদ্যমান ছিল সে সম্পর্কে তাদের অবহিত করুন এবং সেই বিলুপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সম্পর্কে সংবাদ দিন। আপনি তাদের উপদেশ দিন, কারণ উপদেশ জ্ঞানীদের উপকারে আসে। সম্ভবত তারা সচেষ্ট ও পরিশ্রমী হবে এবং অতীতের গৌরব করা পরিত্যাগ করবে। তাদের প্রবীণদের বলুন ‘সে তো ছিল’ পরিহার করতে এবং তাদের তরুণদের বলুন ‘আমি অমুকের পুত্র’ বলা ছেড়ে দিতে; কারণ মানুষ তার অর্জনেরই সন্তান এবং তার সম্মান হলো তার জ্ঞান ও প্রজ্ঞা।

(আপনার মতো ব্যক্তিই তো প্রতিটি মহান কাজের জন্য আহূত হন … আর আমার মতো ব্যক্তিকেই প্রতিটি নেতার জন্য উৎসর্গ করা হয়)

অতঃপর অনুরোধ রক্ষার ওয়াদা করার পর আমরা আলোচনা সংক্ষেপ করলাম। আমি মনে মনে বললাম, যদি প্রেমিক তার প্রেমাস্পদের আদেশ পালন না করে, তবে প্রেমিকের বিধান অনুযায়ী সে বিচ্ছেদের যোগ্য। তাই আমি ইতিহাসবিদদের কিতাবসমূহে দৃষ্টিপাত করতে শুরু করলাম এবং পূর্বসূরিদের ঘটনাবলী অনুসন্ধান করতে লাগলাম। আমি সেই আবাসস্থলে বিদ্যমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নিদর্শনসমূহ পরিদর্শনের জন্য ঘুরতে লাগলাম, যা কালের বিবর্তন থেকে রক্ষা পেয়েছে এবং সূর্য ও চন্দ্রের উদয়-অস্ত পর্যন্ত টিকে আছে। অতঃপর আমি যা জানতে পারলাম, তা এই গ্রন্থের পাতায় লিপিবদ্ধ করলাম, যা দামেস্কের ইতিহাসের তিন খণ্ডের একটি অংশ। আমি এর নামকরণ করেছি 'মুনদামাতুল আতলাল ওয়া মুসামারাতুল খায়াল' (ধ্বংসাবশেষের সহচর্য এবং কল্পনার সাথে নিশি আলাপ), যাতে এর নামের সাথে অর্থের মিল থাকে। তারপর আমি এতে একটি বিশেষ পদ্ধতি অনুসরণ করেছি; তা হলো, যখনই আমি কোনো মাদরাসা বা নিদর্শনের উল্লেখ করেছি, তখন তার প্রতিষ্ঠাতার জীবনী সংরক্ষণের চেষ্টা করেছি। কিন্তু মাদরাসার শিক্ষকদের জীবনী নিয়ে আলোচনা করিনি, যেমনটি আল্লামা আব্দুল কাদির নুয়াইমি তার 'তুহফাতুত তালিব ওয়াদ দারিস' গ্রন্থে করেছেন। কারণ শিক্ষক যদি বিখ্যাত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হন, তবে তার জীবনী এই ইতিহাসের তৃতীয় খণ্ডে স্থান পাবে। আর যদি তা না হয়, তবে তাকে উল্লেখ করা আমার কিতাবের শর্তভুক্ত নয়। অধিকন্তু, আমি এই খণ্ডটিকে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করেছি:

প্রথমটি: পবিত্র কুরআনের মাদরাসাসমূহের জন্য।

দ্বিতীয়টি: হাদিসের জন্য বিশেষায়িত এবং হাদিস ও পবিত্র কুরআন শিক্ষার সমন্বিত মাদরাসাসমূহের জন্য।

তৃতীয়টি: ফিকহ ও সাহিত্য বিষয়ক জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রতিষ্ঠিত মাদরাসাসমূহের জন্য; আর এই অংশটি চারটি অধ্যায়ে বিভক্ত:

প্রথম অধ্যায়: হানাফিদের মাদরাসাসমূহের জন্য।

দ্বিতীয় অধ্যায়: মালিকিদের মাদরাসাসমূহের জন্য।
(খণ্ড: ১) মুনাদামাতুল আতলাল ওয়া মুসামারাতুল খায়াল (পৃষ্ঠা: ৪)
وَثَالِثهَا لمدارس الشَّافِعِيَّة

وَرَابِعهَا لمدارس الْحَنَابِلَة

وَلَيْسَ الْقَصْد من هَذَا التَّرْتِيب على حسب التَّقَدُّم فِي الزَّمن والوجود وَلَو اشتهرت مدارس للظاهرية اَوْ للزيديه اَوْ لغَيرهم لم تجدني متقاعسا عَن اعطائهم حَقهم فِي التَّرْجَمَة

وَرَابِعهَا لمدارس الطِّبّ وَالْحكمَة

وخامسها لزوايا الْعِبَادَة وخوانق الصُّوفِيَّة

وسادسها للآثار الَّتِي ظَهرت فِي هَذَا الْعَصْر

وكل هَذِه الاقسام مرتبَة على حُرُوف المعجم ليسهل الْكَشْف عَنْهَا

وسابعها للمساجد فَمَا كَانَ مَشْهُورا مِنْهَا اعطيته من حَقه مَا اتَّصل بِي من تَرْجَمته وَمَا كَانَ مِنْهَا صَغِيرا اَوْ مندرسا اكتفيت باسمه

وختمت الْكتاب بخاتمة لبَيَان مَا كَانَ فِي دمشق من المتنزهات الشهيرة وَهَذَا اول الْمَقْصُود وَبِاللَّهِ تَعَالَى استعين وَعَلِيهِ اتوكل
তৃতীয়টি শাফেয়ী মাদরাসাগুলোর জন্য

চতুর্থটি হাম্বলী মাদরাসাগুলোর জন্য

এই বিন্যাসের উদ্দেশ্য কালানুক্রমিক বা অস্তিত্বের অগ্রবর্তিতা অনুযায়ী নয়। যদি যাহেরী, যায়েদী বা অন্য কারো মাদরাসা প্রসিদ্ধ হতো, তবে আপনি আমাকে তাদের বিবরণ প্রদানের ক্ষেত্রে তাদের প্রাপ্য অধিকার দিতে কুণ্ঠিত হতে দেখতেন না

চতুর্থটি চিকিৎসা বিজ্ঞান ও প্রজ্ঞার (হিকমত) মাদরাসাগুলোর জন্য

পঞ্চমটি ইবাদতের নিভৃত স্থান ও সূফীদের খানকাহগুলোর জন্য

ষষ্ঠটি এই যুগে প্রকাশিত নিদর্শনাদির জন্য

এই সবকটি পরিচ্ছেদ বর্ণানুক্রমে বিন্যস্ত করা হয়েছে যাতে সেগুলো খুঁজে বের করা সহজ হয়

সপ্তমটি মাসজিদসমূহের জন্য; সেগুলোর মধ্যে যা প্রসিদ্ধ ছিল, তার ইতিহাস সম্পর্কে আমার কাছে যা পৌঁছেছে আমি তা যথাযথভাবে প্রদান করেছি। আর যেগুলো ছোট বা বিলুপ্ত হয়ে গেছে, আমি কেবল সেগুলোর নাম উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হয়েছি

আমি কিতাবটি দামেস্কের প্রসিদ্ধ পর্যটন কেন্দ্র ও উদ্যানসমূহের বর্ণনায় একটি উপসংহারের মাধ্যমে সমাপ্ত করেছি। আর এটিই মূল প্রসঙ্গের সূচনা। আমি মহান আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁর ওপরই ভরসা করছি।
(খণ্ড: ১) মুনাদামাতুল আতলাল ওয়া মুসামারাতুল খায়াল (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌الْقسم الاول فِي دور الْقُرْآن الْكَرِيم

 

‌‌دَار الْقُرْآن الخيضرية

 

هَذِه الدَّار لم تزل إِلَى الْآن على رونقها وبهائها ومحلها كَمَا فِي تَنْبِيه الطَّالِب وإرشاد الدارس للفاضل عبد الْقَادِر النعيمي شمَالي دَار الحَدِيث السكرية بالقصاعين اهـ وَقد صحف النَّاس الْيَوْم اسْمهَا فَقَالُوا لَهَا الخضيرية نقلوا الْيَاء الْمُثَنَّاة من بَين الْخَاء وَالضَّاد المعجمتين إِلَى مَا بعد الضَّاد ومحلتها الْآن تعرف بالخضيرية وَهِي مَعْرُوفَة مَشْهُورَة فِي زمننا تُقَام فِيهَا الصَّلَوَات الْخمس ويتعاهدها فِي بعض اللَّيَالِي وَبعد صَلَاة الْفجْر جمَاعَة من المتصوفة الشاذلية الفاسية فيقيمون بهَا الْأَذْكَار ويقرؤون الأوراد وَفِي رَمَضَان يقْرَأ صَحِيح البُخَارِيّ وبعضا من الْكتب أستاذهم فِي زمننا الْعَالم الأديب الْكَاتِب الشَّاعِر الشَّيْخ مُحَمَّد بن الشَّيْخ الْمُبَارك

وَأما نعتها فَإِنَّهَا وَاقعَة فِي الْجَانِب الشَّرْقِي من الزقاق الْمُسَمّى بالخضيرية بِالتَّصْغِيرِ ويصعد إِلَيْهَا بمرقاتين وجدارها الغربي مَبْنِيّ بِالْحجرِ الأبلق وَتَحْته سِقَايَة وَفِيه الْبَاب وقنطرته من الْحجر الأبلق أَيْضا وَهُوَ متين وَفِي وَسطه صحيفَة من النّحاس مستديرة وَقد رسم عَلَيْهَا مَا صورته

رسم بَاب الْمدرسَة الَّتِي أَمر بإنشاء بَابهَا الْأَمِير العالي المولوي القاضوي القطبي ابْن الخيضري قَاضِي الْقُضَاة اسبغ الله عَلَيْهِ ظلاله مِمَّا عمل

وَتَحْت هَذِه الصَّحِيفَة شبكة من النّحاس قَائِمَة على هَيْئَة مثلث زاويتها الْعليا تسامت قطب دَائِرَة الصَّحِيفَة وَهَذَا الْوَضع على هندسة لَطِيفَة جدا فَإِذا دَخلهَا الدَّاخِل وخلص من دهليز لَهَا قصير رأى بركَة مَاء للْوُضُوء فِي وَسطهَا وَفِي الْجِدَار القبلي محراب وَفِي الْجِهَة الغربية شباكان مطلان على الطَّرِيق وبجانبهما حجرَة وَاسِعَة وبالجانب الشَّرْقِي حجرتان تَحت إِحْدَاهمَا خلْوَة وبجانبهما خلْوَة أَيْضا
প্রথম পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ প্রসঙ্গে

 

দারুল কুরআন আল-খাইদারিয়াহ

 

এই প্রতিষ্ঠানটি এখনো পর্যন্ত তার সৌন্দর্য ও জৌলুশ নিয়ে টিকে আছে। ফাযেল আব্দুল কাদির আন-নুআইমীর 'তানবিহুত তালিব ওয়া ইরশাদুদ্ দারিস' গ্রন্থে যেমন উল্লেখ করা হয়েছে, এর অবস্থান কাসসাঈনের দারুল হাদিস আস-সুক্কারিয়াহ-এর উত্তর দিকে। বর্তমানে মানুষ এর নাম বিকৃত করে 'খুদাইরিয়াহ' বলে থাকে; তারা 'ইয়া' বর্ণটিকে 'খা' ও 'দ্বদ' এর মধ্য থেকে সরিয়ে 'দ্বদ' এর পরে নিয়ে গেছে। বর্তমানে এই এলাকাটি খুদাইরিয়াহ নামেই পরিচিত। আমাদের যুগে এটি একটি সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ স্থান, যেখানে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা হয়। কিছু রাতে এবং ফজরের সালাতের পর শাযিলী ফাসী সুফিদের একটি দল এখানে সমবেত হয়ে যিকির-আযকার ও আওরাদ পাঠ করেন। রমজান মাসে এখানে সহীহ আল-বুখারী এবং অন্যান্য কিছু কিতাব পাঠ করা হয়। আমাদের সময়ে তাদের উস্তাদ হলেন প্রাজ্ঞ আলেম, সাহিত্যিক, লেখক ও কবি শেখ মুহাম্মদ বিন শেখ আল-মুবারক।

এর বর্ণনায় বলা যায়, এটি খুদাইরিয়াহ (ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপে) নামক গলির পূর্ব পাশে অবস্থিত। দুইটি সিঁড়ি বেয়ে এখানে উঠতে হয়। এর পশ্চিম দেয়ালটি সাদা-কালো পাথর দিয়ে নির্মিত এবং এর নিচে একটি পানি পানের ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানেই প্রবেশদ্বার অবস্থিত, যার খিলানটিও মজবুত সাদা-কালো পাথর দিয়ে তৈরি। এর মাঝখানে একটি গোলাকার তামার ফলক রয়েছে যাতে খোদাই করা আছে:

এই মাদরাসার প্রবেশদ্বারের নকশা, যার দরজা নির্মাণের আদেশ দিয়েছিলেন উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন আমীর, মাওলাওয়ী, কাযওয়ী, কুতবী ইবনে আল-খাইদারী—যিনি প্রধান বিচারপতি ছিলেন, আল্লাহ তাঁর ছায়াকে দীর্ঘায়িত করুন—তাঁর নির্দেশনায় এটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

এই ফলকের নিচে একটি তামার জাল রয়েছে যা ত্রিভুজাকৃতিতে দণ্ডায়মান, যার উপরের কোণটি বৃত্তাকার ফলকের কেন্দ্রের সমান্তরাল। এই স্থাপনাটি অত্যন্ত চমৎকার প্রকৌশল কৌশলে নির্মিত। যখন কেউ এতে প্রবেশ করে একটি ছোট বারান্দা অতিক্রম করে, তখন সে মাঝখানে ওযুর জন্য একটি পানির হাউজ দেখতে পায়। দক্ষিণ পাশের দেয়ালে একটি মেহরাব রয়েছে এবং পশ্চিম দিকে রাস্তার দিকে মুখ করা দুটি জানালা আছে। সেগুলোর পাশে একটি প্রশস্ত কক্ষ রয়েছে এবং পূর্ব পাশে দুটি কক্ষ রয়েছে যার একটির নিচে একটি নির্জন ইবাদতখানা আছে এবং তাদের পাশেও একটি নির্জন ইবাদতখানা রয়েছে।
(খণ্ড: ১) মুনাদামাতুল আতলাল ওয়া মুসামারাতুল খায়াল (পৃষ্ঠা: ৬)
وبالجانب الشمالي إيوَان وَفِي صَدره حجرَة وَقد كتب على الْجِدَار فَوق الْبَاب مِنْهَا مَا صورته

بِحَمْد الله تَعَالَى اللَّطِيف انشأ هَذِه الْمدرسَة الْمُبَارَكَة على الْفُقَرَاء المتعلمين لِلْقُرْآنِ الْعَظِيم الْفَقِير قَاضِي الْقُضَاة قطب الدّين الخيضري خَادِم السّنة النَّبَوِيَّة إرضاء لله تَعَالَى سنة ثَمَان وَسبعين وَثَمَانمِائَة

وبزاوية ملتقى الجدارين الشمالي والشرقي بَاب يدْخل مِنْهُ إِلَى مَكَان متسع وَفِيه ثَلَاثَة بيُوت خلاء وَفِي دهليزها بَاب يصعد مِنْهُ إِلَى غرفَة لَطِيفَة وَقَالَ فِي تَنْبِيه الطَّالِب رتب فِيهَا واقفها الجوامك وَالْخبْز للْفُقَرَاء اهـ يَعْنِي الَّذين كَانُوا يتعلمون بهَا الْقُرْآن الْكَرِيم وَلم نر لهَذَا آثرا فِي زمننا

‌‌تَرْجَمَة الخيضري

 

مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن عبد الله بن خيضر بن سُلَيْمَان بن دَاوُد بن فلاح بن ضميدة بِضَم الضَّاد الْمُعْجَمَة مُصَغرًا الزبيدِيّ بِضَم الزَّاي الْبُلْقَاوِيُّ الأَصْل الترملي الدِّمَشْقِي الشَّافِعِي وَيعرف بالخيضري نِسْبَة لجد أَبِيه هَكَذَا نسبه الْحَافِظ السخاوي فِي كِتَابه الضَّوْء اللامع لأهل الْقرن التَّاسِع وترجمه بترجمة مُطَوَّلَة كلهَا ثلب وَطعن فِيهِ وَفِي مؤلفاته كَمَا هِيَ عَادَته فِي أقرانه وَلَكِن نَادَى على نَفسه بالتهمة فِي آخر التَّرْجَمَة فَقَالَ وانه فعل معي مَا أَرْجُو أَن يجازى بمقصده عَلَيْهِ اهـ وَهَذَا دَلِيل على انه تحامل عَلَيْهِ فِيمَا كتب عَنهُ ولنلتقط من كَلَامه مَا صفي واليك هُوَ قَالَ ولد لَيْلَة الِاثْنَيْنِ منتصف رَمَضَان سنة إِحْدَى وَعشْرين وَثَمَانمِائَة بقرية بَيت لهيا الْقَرِيبَة من دمشق وَنَشَأ يَتِيما فِي كَفَالَة أمه ثمَّ فَارق سلفه الَّذين هم عرب البلقاء وانحاز إِلَى طَائِفَة الْفُقَهَاء فحفظ التَّنْبِيه والفيتي الحَدِيث والنحو وملحة الْأَعْرَاب ومختصر ابْن الْحجاب الاصولي ثمَّ اشْتغل على عُلَمَاء عصره بالفقه وَالْأُصُول والْحَدِيث والنحو وَهَذِه الْعُلُوم الَّتِي كَانَ لَهَا رواج فِي زَمَنه ثمَّ ارتحل إِلَى بعلبك سنة ثَلَاث وَأَرْبَعين وَدخل الْقَاهِرَة مرَارًا وَمَكَّة وَالْمَدينَة وَبَيت الْمُقَدّس ودمياط فَأخذ عَن علمائها وَبعد إِن ذكر السخاوي مَا رَأَيْت خلاصته قَالَ وَمَعَ ذَلِك فَلم يتَمَيَّز
উত্তর পাশের বারান্দার সম্মুখভাগে একটি কক্ষ রয়েছে এবং এর দরজার উপরের দেয়ালে যা খোদাই করা আছে তার পাঠ নিম্নরূপ:

মহান দয়াময় আল্লাহর প্রশংসায়; মহান কুরআনের শিক্ষার্থী অভাবগ্রস্তদের জন্য এই বরকতময় মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করেছেন আল্লাহর মুখাপেক্ষী কাযীউল কুযাত (প্রধান বিচারপতি) কুতুবুদ্দীন আল-খাইযারি, যিনি নববী সুন্নাহর সেবক; আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে, আটশ আটাত্তর হিজরি সনে।

উত্তর ও পূর্ব দেয়ালের মিলনস্থলের কোণে একটি দরজা রয়েছে, যা দিয়ে একটি প্রশস্ত স্থানে প্রবেশ করা যায়। সেখানে তিনটি শৌচাগার রয়েছে এবং এর বারান্দায় একটি দরজা আছে যা দিয়ে একটি সুন্দর কক্ষে উঠা যায়। 'তানবিহুত তালিব' গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, এর দাতা (ওয়াকিফ) এখানে অভাবগ্রস্তদের জন্য নিয়মিত ভাতা ও রুটির ব্যবস্থা করেছিলেন। অর্থাৎ যারা সেখানে কুরআনুল কারীম শিখত তাদের জন্য। তবে বর্তমান সময়ে আমরা এর কোনো চিহ্ন দেখতে পাইনি।

খাইযারির জীবনী

 

মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন খাইযার বিন সুলায়মান বিন দাউদ বিন ফাল্লাহ বিন যুমাইদাহ (যদ বর্ণটি পেশ যোগে ছোট অর্থে), আয-যাবাইদি (যা বর্ণটি পেশ যোগে), পৈতৃক নিবাস বুলকা, তারমালি, দামেশকি, শাফেয়ী। তিনি তার প্রপিতামহের সম্পর্কের কারণে 'আল-খাইযারি' নামে পরিচিত। হাফেজ সাখাবী নবম শতাব্দীর ব্যক্তিত্বদের জীবনী বিষয়ক তার 'আদ-দাওউল লামে' গ্রন্থে এভাবেই তার বংশপরম্পরা উল্লেখ করেছেন। তিনি তার একটি দীর্ঘ জীবনী লিখেছেন যার পুরোটাই নিন্দা এবং তাকে ও তার রচনাবলীকে আক্রমণ করে পূর্ণ ছিল, যেমনটি তার সমসাময়িকদের ক্ষেত্রে তার স্বভাব। তবে তিনি জীবনীর শেষে নিজের উপরেই পক্ষপাতের অভিযোগের সুযোগ করে দিয়েছেন এই বলে যে: "তিনি (খাইযারি) আমার সাথে এমন আচরণ করেছেন যে আমি আশা করি তিনি তার উদ্দেশ্য অনুযায়ী এর প্রতিদান পাবেন"। এটিই প্রমাণ করে যে তিনি যা লিখেছেন তাতে তার প্রতি বিদ্বেষ বা সংকীর্ণতা ছিল। সুতরাং আমরা তার কথা থেকে কেবল বস্তুনিষ্ঠ অংশগুলোই গ্রহণ করি, যা আপনার সামনে উপস্থাপন করা হলো। তিনি বলেছেন: তিনি আটশ একুশ হিজরি সনের রমজান মাসের মাঝামাঝি সোমবার রাতে দামেশকের নিকটবর্তী বায়ত লাহিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং মাতা কর্তৃক লালিত-পালিত হয়ে এতিম হিসেবে বেড়ে ওঠেন। অতঃপর তিনি তার পূর্বপুরুষদের সান্নিধ্য ত্যাগ করেন যারা বুলকার আরব ছিল এবং ফকীহদের দলের সাথে যুক্ত হন। তিনি আত-তানবিহ, হাদীস ও নাহুর দুটি আলফিয়া, মুলহাতুল আরাব এবং ইবনুল হাজিবের উসূলে ফিকহের মুখতাসারটি মুখস্থ করেন। এরপর তিনি তার সময়ের আলেমদের কাছে ফিকহ, উসূলে ফিকহ, হাদীস এবং নাহু শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন; তৎকালীন সময়ে এই শাস্ত্রগুলোরই ব্যাপক প্রচলন ছিল। এরপর তিনি আটশ তেতাল্লিশ সনে বালবাকের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন এবং বহুবার কায়রো, মক্কা, মদিনা, বায়তুল মুকাদ্দাস ও দামিয়েত্তা ভ্রমণ করে সেখানকার আলেমদের থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন। সাখাবী যা লিখেছেন তার সারসংক্ষেপ উল্লেখ করার পর পরিশেষে বলেছেন: "তা সত্ত্বেও তিনি কোনো অনন্য বৈশিষ্ট্যে উত্তীর্ণ হতে পারেননি।"
(খণ্ড: ১) মুনাদামাতুল আতলাল ওয়া মুসামারাতুল খায়াল (পৃষ্ঠা: ৭)
فِي الطّلب يَعْنِي فِي الحَدِيث فضلا عَمَّن هُوَ أَعلَى مِنْهُ فِي الرتب من حفظ وَضبط وغريب وَمَعْرِفَة باصطلاح وَمَا يذاكر بِهِ بَين الْعلمَاء غير أَن لَهُ يقظة فِي الْجُمْلَة وَكِتَابَة تروج عِنْد من لَا يحسن أَو يحسن وَلكنه يُدَارِي أَو يَرْجُو وَالرجل حِين كَانَ مَوْجُودا فِي الْقَاهِرَة لم يكن يتحاشى الْكَلَام فِي شَيْء وَلَا يتَوَقَّف لأجل تَحْرِير أَو تَحْقِيق

وَقَول شَيخنَا الْحَافِظ ابْن حجر فِي الأنباء انه الْفَاضِل البارع سمع الْكثير وَكتب الْكثير من الْأَجْزَاء وجد وَقد حصل فِي مُدَّة لَطِيفَة شَيْئا كثيرا وخطه مليح وفهمه جيد ومحاضراته تدل على كَثْرَة استحضاراته يحْتَاج إِلَى تَأْوِيل فِي بعض الْكَلِمَات وَكَذَا وَصفه لَهُ بِالْحِفْظِ بعد ذَلِك لَيْسَ على إِطْلَاقه

كَذَا قَالَ السخاوي وَأَقُول مَا عهدنا الْحَافِظ ابْن حجر إِلَّا منصفا فِيمَا يَقُوله فِي تراجم الْعلمَاء وَمَا وجدنَا السخاوي إِلَّا متحاملا على كل من يفوقه وَمن رأى كتب الرجلَيْن يعلم ذَلِك يَقِينا

ثمَّ قَالَ السخاوي وَقد اسْتعَار من شَيخنَا ابْن حجر نسخته من الطَّبَقَات الْوُسْطَى لِابْنِ السُّبْكِيّ فَجرد مَا بهَا من الْحَوَاشِي الْمُشْتَملَة على تراجم مُسْتَقلَّة وزيادات فِي أثْنَاء التراجم مِمَّا جردته أَيْضا فِي مُجَلد ثمَّ ضم ذَلِك لتصنيف لَهُ على الْحُرُوف لخص بِهِ طَبَقَات ابْن السُّبْكِيّ مَعَ زَوَائِد وصل إِلَيْهَا بالمطالعة من كتب أمده شَيخنَا بهَا كالموجود من تَارِيخ مصر للقطب الْحلَبِي ونيسابور للْحَاكِم والذيل عَلَيْهِ لعبد الغافر وتاريخ بخاري لفنجار واصبهان وَغير ذَلِك مِمَّا يفوق الْوَصْف وَسَماهُ اللمع الالمعية لأعيان الشَّافِعِيَّة

أَقُول أَي مطْعن على مؤرخ جمع مُؤَلفه من أسفار الْمُتَقَدِّمين سَوَاء كَانَت بالإعارة أَو بِالْملكِ وان كَانَ الطعْن فِيهِ من جِهَة مَا جرده من كَلَام ابْن حجر فالسخاوي نَفسه فعل ذَلِك فَتَأمل ثمَّ قَالَ وَكَذَا جرد مَا لشَيْخِنَا من المناقشات مَعَ ابْن الْجَوْزِيّ فِي الموضوعات مِمَّا هُوَ بهوامش نسخته وَغَيرهَا ثمَّ ضم ذَلِك لتلخيصه الأَصْل وَسَماهُ الْبَرْق اللموع لكشف الحَدِيث الْمَوْضُوع ولخص أَيْضا الْأَنْسَاب لِابْنِ السَّمْعَانِيّ مَعَ ضمه لذَلِك مَا عِنْد ابْن الْأَثِير والرشاطي وَغَيرهمَا من الزِّيَادَات وَنَحْوهَا وَسَماهُ الِاكْتِسَاب فِي تَلْخِيص الْأَنْسَاب وَمَا عَلمته حرر وَاحِدًا مِنْهَا وَاشْتَدَّ حرصي على الْوُقُوف عَلَيْهَا فَمَا أمكن ثمَّ رَأَيْت أَولهَا فِي حَيَاة شَيخنَا وانتقدت عَلَيْهِ إِذْ ذَاك شَيْئا
জ্ঞান অন্বেষণের ক্ষেত্রে, অর্থাৎ হাদীস শাস্ত্রের ক্ষেত্রে—হিফজ (মুখস্থকরণ), ضبط (সংরক্ষণ), বিরল শব্দাবলির জ্ঞান, পরিভাষা এবং আলেমদের মধ্যকার জ্ঞানতাত্ত্বিক আলোচনার বিষয়ে যারা তার চেয়ে উচ্চতর পর্যায়ের, তাদের কথা তো বাদই দিলাম—বরং তার মধ্যে সামগ্রিকভাবে কেবল একটি সজাগতা ছিল এবং এমন এক লিখনশৈলী ছিল যা সেইসব মানুষের নিকট সমাদৃত হতো যারা দক্ষ নয়, অথবা যারা দক্ষ হওয়া সত্ত্বেও তাকে এড়িয়ে চলত কিংবা তার নিকট কোনো প্রত্যাশা রাখত। কায়রোতে অবস্থানকালে এই ব্যক্তি কোনো বিষয়ে কথা বলতে দ্বিধাবোধ করতেন না এবং কোনো কিছু পরিমার্জন বা তাহকীক (যাচাই) করার জন্য থেমে থাকতেন না।

আমাদের শায়খ হাফেজ ইবনে হাজার 'আল-ইনবা' গ্রন্থে তার সম্পর্কে বলেছেন যে, তিনি ছিলেন একজন মেধাবী ও দক্ষ গুণীজন, তিনি প্রচুর হাদীস শ্রবণ করেছেন এবং প্রচুর খণ্ড ও পুস্তিকা লিখেছেন। তিনি কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে অনেক কিছু অর্জন করেছিলেন। তার হাতের লেখা ছিল চমৎকার, বোধশক্তি ছিল প্রখর এবং তার আলোচনা বা পাঠদান পদ্ধতি তার ব্যাপক উপস্থিত বুদ্ধির প্রমাণ দেয়। তবে তার কিছু উক্তি বা শব্দের ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে। অনুরূপভাবে, পরবর্তীতে তাকে 'হাফেজ' হিসেবে বর্ণনা করার বিষয়টি নিঃশর্ত বা ঢালাওভাবে প্রযোজ্য নয়।

সাখাভী এমনটিই বলেছেন। আমি (লেখক) বলি, আমরা হাফেজ ইবনে হাজারকে আলেমদের জীবনী বর্ণনার ক্ষেত্রে সর্বদা ন্যায়নিষ্ঠ হিসেবেই পেয়েছি। অন্যদিকে, সাখাভীকে আমরা কেবল তার চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী ব্যক্তিদের প্রতি বিদ্বেষপরায়ণ ও আক্রমণাত্মক হিসেবেই পেয়েছি। যারা এই দুই ব্যক্তির কিতাবসমূহ দেখেছেন, তারা বিষয়টি নিশ্চিতভাবেই অবগত আছেন।

অতঃপর সাখাভী বলেছেন: তিনি আমাদের শায়খ ইবনে হাজারের নিকট থেকে ইবনে সুবকীর 'তাবাকাতুল উসতা'-এর ব্যক্তিগত কপিটি ধার নিয়েছিলেন এবং সেখানে থাকা স্বতন্ত্র জীবনী ও জীবনীর মধ্যবর্তী অতিরিক্ত তথ্য সম্বলিত টীকাগুলো আলাদা করে নিয়েছিলেন, যা আমিও (সাখাভী) এক খণ্ডে সংকলন করেছিলাম। এরপর তিনি সেগুলোকে নিজের একটি বর্ণনানুক্রমিক রচনার সাথে যুক্ত করেন, যার মাধ্যমে তিনি ইবনে সুবকীর 'তাবাকাত' সংক্ষেপ করেছিলেন। এতে এমন কিছু অতিরিক্ত তথ্য ছিল যা তিনি আমাদের শায়খের প্রদানকৃত বিভিন্ন কিতাব অধ্যয়নের মাধ্যমে লাভ করেছিলেন; যেমন কুতুব আল-হালাবীর 'তারিখু মিসর', হাকিমের 'নিশাপুর' এবং এর ওপর আব্দুল গাফিরের 'যাইল', ফানজারের 'তারিখু বুখারা' ও 'আসবাহান' সহ বর্ণনাতীত অন্যান্য কিতাব। তিনি এর নামকরণ করেছিলেন 'আল-লুমাউল আলমিয়্যাহ লি-আ’য়ানিশ শাফিইয়্যাহ'।

আমি বলি, একজন ঐতিহাসিকের বিরুদ্ধে এটি কেমন আপত্তি যে তিনি পূর্ববর্তীদের গ্রন্থাবলি থেকে নিজের সংকলন তৈরি করেছেন, তা ধার করা গ্রন্থের মাধ্যমে হোক বা নিজের মালিকানাধীন গ্রন্থের মাধ্যমে? আর যদি সমালোচনা এই কারণে হয় যে তিনি ইবনে হাজারের কথাগুলো আলাদা করে নিয়েছেন, তবে সাখাভী নিজেও তো তাই করেছেন—অতএব বিষয়টি ভেবে দেখুন। এরপর তিনি (সাখাভী) বলেন: একইভাবে তিনি মাওজু (জাল) হাদীস বিষয়ে ইবনে জাওযীর সাথে আমাদের শায়খের যে বৈজ্ঞানিক বিতর্কগুলো পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকা ও অন্যত্র ছিল, সেগুলোও আলাদা করে নিয়েছেন। এরপর তিনি তা তার মূল সংক্ষেপের সাথে যুক্ত করেন এবং নাম দেন 'আল-বারকুল লামু' লি-কাশফীল হাদীসিল মাওজু'। এছাড়াও তিনি ইবনে সামআনী-র 'আল-আনসাব' সংক্ষেপ করেন এবং সেখানে ইবনে আসীর, রাশাতী ও অন্যদের অতিরিক্ত সংযোজনগুলো যুক্ত করেন এবং নাম দেন 'আল-ইকতিসাব ফী তালখীসিল আল-আনসাব'। আমি জানতে পারিনি যে তিনি এগুলোর কোনোটি যথাযথভাবে পরিমার্জন করেছেন কিনা। আমি সেগুলো দেখার জন্য অত্যন্ত আগ্রহী ছিলাম, কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। অতঃপর আমাদের শায়খের জীবদ্দশায় আমি এগুলোর প্রথম অংশটি দেখেছিলাম এবং তখন তার কিছু সমালোচনাও করেছিলাম।
(খণ্ড: ১) মুনাদামাতুল আতলাল ওয়া মুসামারাতুল খায়াল (পৃষ্ঠা: ৮)
فَتَأمل أَيهَا الْمنصف كَيفَ طعن فِي كتب الرجل ثمَّ اقر بِأَنَّهُ لم يرهَا ثمَّ قَالَ وَألف معجما سَمَّاهُ الرقم الْمعلم فِي تَرْتِيب الشُّيُوخ وَالسَّمَاع وَالْإِجَازَة على حُرُوف المعجم والمنهل الْجَارِي من فتح الْبَارِي شرح البُخَارِيّ وَشرع فِي شرح ألفية الْعِرَاقِيّ والصفا بتحرير الشفا وَمجمع العشاق على تَنْبِيه الشَّيْخ أبي اسحاق وَاللَّفْظ المكرم بخصائص النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَالرَّوْض النَّضر فِي حَال الْخضر واللواء الْمعلم فِي مَوَاطِن النَّبِي صلى الله عليه وسلم وزهر الرياض فِيمَا شنعه القَاضِي عِيَاض على الإِمَام الشَّافِعِي وتقويم الاسل فِي تَفْضِيل اللَّبن وَالْعَسَل وبغية المبتغي فِي تَبْيِين قَول الرَّوْضَة يَنْبَغِي

وَأول مَا ولي مشيخة دَار الحَدِيث ألاشرفية ثمَّ نزعت مِنْهُ وَاسْتقر فِي وكَالَة بَيت المَال وَفِي نظر الخوالي مِنْهَا ثمَّ ترقى لكتابة السِّرّ ثمَّ أضيف إِلَيْهَا قَضَاء الشَّافِعِيَّة وَصَارَت اكثر الْأُمُور الشامية منوطة بِهِ واتسعت دائرته فِي الْأَمْوَال والجهات والأملاك والوظائف والكتب وَغَيرهَا

وَحدث بِبَلَدِهِ وأملى ودرس وَوعظ وخطب وَأفْتى مَعَ الوجاهة والاعتلاء وَولي السميساطية وَغَيرهَا من الْمدَارِس زِيَادَة عَن الْمدَارِس الَّتِي تتَعَلَّق بالقضاة كالغزالية والعذراوية

وَكَانَت لَهُ صدقَات زَائِدَة وإحسان للغرباء وَبنى بِجَانِب بَيته مدرسة وَبنى تربة عِنْد بَاب مقَام الشَّافِعِي ورتب بهَا صوفية مَعَ شيخ لَهُم من الطّلبَة وَمَا زَالَ ملازما لخدمة السُّلْطَان حَتَّى مَاتَ فِي ربيع الثَّانِي سنة أَربع وَتِسْعين وَثَمَانمِائَة وَدفن بتربته هَذِه وتأسف السُّلْطَان عَلَيْهِ هَذَا ملخص كَلَام السخاوي

وترجمه الْحَافِظ ابْن حجر الْعَسْقَلَانِي فِي كِتَابه أنباء الْغمر فَقَالَ فِي حوادث سنة ثَلَاث وَأَرْبَعين وَثَمَانمِائَة

ورد ابْن المترجم إِلَى الْقَاهِرَة لطلب الحَدِيث وَوَصفه بالفاضل البارع ثمَّ قَالَ سمع الْكثير وَكتب كتبا كَثِيرَة وأجزاء وجد وَحصل فِي مُدَّة لَطِيفَة شَيْئا كثيرا وَكتب عني فِي مُدَّة يسيرَة المجلد الأول من الْإِصَابَة فِي تَمْيِيز الصَّحَابَة وقرأه وعارض عَليّ بِهِ وأتقنه وَنسخ أَيْضا تَعْجِيل الْمَنْفَعَة فِي رجال الْأَرْبَعَة
হে ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি, লক্ষ্য করুন যে তিনি কীভাবে সেই ব্যক্তির কিতাবগুলোর সমালোচনা করলেন অথচ স্বীকার করলেন যে তিনি সেগুলো দেখেননি। তারপর তিনি বললেন: এবং তিনি একটি অভিধান সংকলন করেছেন যার নাম রেখেছেন ‘আর-রাক্বমুল মুআল্লিম ফি তারতিবিশ শুইউখ ওয়াস সামা’ ওয়াল ইজাজাহ আলা হুরুফিল মুজাম’, ‘আল-মানহালুল জারি মিন ফাতহিল বারি শারহুল বুখারি’। তিনি ইরাকির আলফিয়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থ, ‘আস-সাফা বিতাহরিরিশ শিফা’, শায়খ আবু ইসহাকের তানবিহ-এর ওপর ভিত্তি করে ‘মাজমাউল উশাক্ব’, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বৈশিষ্ট্য সম্বলিত ‘আল-লাফজুল মুকাররম’, খিজির (আলাইহিস সালাম)-এর অবস্থা সম্পর্কে ‘আর-রাওদুন নাদর’, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অবস্থানস্থলগুলো নিয়ে ‘আল-লিওয়াউল মুআল্লিম’, ইমাম শাফেয়ির বিরুদ্ধে কাজি ইয়াজ যে অভিযোগ এনেছিলেন তার প্রেক্ষিতে ‘যাহরুর রিয়াদ’, দুধ ও মধুর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনায় ‘তাকবিমুল আসাল’ এবং রওদাহ কিতাবের ‘ইয়ামবাগি’ (উচিত) শব্দের ব্যাখ্যায় ‘বুগইয়াতুল মুবতাগি’ রচনা শুরু করেন।

তিনি সর্বপ্রথম আশরাফিয়া দারুল হাদিসের শায়খ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, অতঃপর সেখান থেকে পদচ্যুত হন। এরপর তিনি বাইতুল মালের ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) এবং পরিত্যক্ত সম্পত্তির তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে নিযুক্ত হন। এরপর তিনি সচিব প্রধান (কিতাবাতুস সির) পদে উন্নীত হন এবং তার সাথে শাফেয়ি মাযহাবের বিচারিক (কাজি) দায়িত্বও যুক্ত হয়। সিরিয়ার অধিকাংশ রাষ্ট্রীয় বিষয় তাঁর ওপর ন্যস্ত হয় এবং ধন-সম্পদ, প্রশাসনিক ক্ষেত্র, ভূ-সম্পত্তি, রাষ্ট্রীয় পদ ও কিতাবপত্র ইত্যাদি সব ক্ষেত্রেই তাঁর প্রভাবের পরিধি বিস্তৃত হয়।

তিনি নিজ শহরে হাদিস বর্ণনা করেন, শ্রুতিলিপি প্রদান করেন, শিক্ষাদান করেন, নসিহত করেন, খুতবা দেন এবং উচ্চ মর্যাদা ও প্রভাবের সাথে ফতোয়া প্রদান করেন। সুমাইসাতিয়া মাদ্রাসা এবং বিচারকদের সাথে সংশ্লিষ্ট গাজালিয়া ও আদরাভিয়া মাদ্রাসাসহ অন্যান্য মাদ্রাসার দায়িত্বও তিনি লাভ করেন।

তাঁর প্রচুর দান-সদকা ও প্রবাসীদের প্রতি দয়া-অনুগ্রহ ছিল। তিনি নিজের বাড়ির পাশে একটি মাদ্রাসা এবং ইমাম শাফেয়ির মাক্বামের দরজার কাছে একটি সমাধিস্থল নির্মাণ করেন। সেখানে তিনি একদল শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে একজন শায়খসহ সুফিদের থাকার ব্যবস্থা করেন। তিনি সুলতানের খিদমতে নিয়োজিত ছিলেন এবং ৮৯৪ হিজরি সনের রবিউস সানি মাসে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে তাঁর নির্মিত সেই সমাধিস্থলেই সমাহিত করা হয়। সুলতান তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। এটিই সাখাবীর বক্তব্যের সারসংক্ষেপ।

হাফিজ ইবনে হাজার আল-আসকালানি তাঁর ‘আনবাউল গুমর’ কিতাবে তাঁর জীবনী উল্লেখ করেছেন। তিনি ৮৪৩ হিজরি সনের ঘটনাবলি বর্ণনায় বলেছেন:

উক্ত জীবনীকারের পুত্র হাদিস সংগ্রহের উদ্দেশ্যে কায়রোতে আগমন করেন এবং ইবনে হাজার তাঁকে দক্ষ ও বিদগ্ধ ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন। এরপর তিনি বলেন: তিনি প্রচুর হাদিস শুনেছেন, অনেক কিতাব ও ক্ষুদ্র পুস্তিকা লিখেছেন, কঠোর পরিশ্রম করেছেন এবং অল্প সময়ের মধ্যে প্রচুর জ্ঞান অর্জন করেছেন। তিনি আমার নিকট থেকে অত্যন্ত অল্প সময়ে ‘আল-ইসাবাহ ফি তাময়িযিস সাহাবাহ’ কিতাবের প্রথম খণ্ডটি লিখেছেন, তা পাঠ করেছেন এবং আমার কাছে তা যাচাই করে নিখুঁতভাবে আয়ত্ত করেছেন। এছাড়াও তিনি ‘তাজিলুল মানফাতু ফি রিজালিল আরবাআ’ কিতাবটির প্রতিলিপি তৈরি করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুনাদামাতুল আতলাল ওয়া মুসামারাতুল খায়াল (পৃষ্ঠা: ৯)
وقرأه كُله وأتقنه وَسمع عدَّة أَجزَاء وَحضر مجَالِس فِي الامالي وخطه مليح وفهمه جيد ومحاضراته تدل على كَثْرَة استحضاره

هَذَا كَلَام الْحَافِظ ابْن حجر مُلَخصا وَمن خطه نقلته وَوَصفه للمترجم إِنَّمَا كَانَ أَيَّام طلبه للْعلم فَإِذا قابلته مَعَ كَلَام السخاوي وجدت الْحَافِظ قد أَتَى بالإنصاف كَمَا هِيَ عَادَته وَعلمت إِن التعصب هُوَ الَّذِي أودى بالعلوم وأهلكها

وترجمة صَاحب تَنْبِيه الطَّالِب بِنَحْوِ مَا تقدم وعد من مؤلفاته شرح التَّنْبِيه فِي فروع الشَّافِعِيَّة وَقَالَ أَبُو الْبَقَاء احْمَد البقاعي فِي مُخْتَصره إِن المترجم رتب على تربته لصيق المنجكية بمحلة مَسْجِد الذبان الجوامك وَالْخبْز على الْفُقَرَاء وَعمل مطبخا بِبَاب الفراديس ومطبخا بِالْمَدِينَةِ المنورة اهـ فجزاه الله خيرا

‌‌دَار الْقُرْآن الجزرية

 

هِيَ دَار أظهرها الدَّهْر بُرْهَة ثمَّ طواها وجلاها فِي وَقت ثمَّ أخفاها ذهبت أحاديثها إِلَّا من القرطاس وتبدلت أحوالها بانتقالها من أنَاس إِلَى أنَاس

(امراتع الغزلان غَيْرك البلا … حَتَّى غَدَوْت مراتع الغزلان)

وَالَّذِي أَفَادَهُ كَلَام المؤرخين إِن هَذِه الدَّار قد انطمست آثارها وخفيت رسومها مُنْذُ دهر طَوِيل فقد قَالَ النعيمي فِي تَنْبِيه الطَّالِب ووفاته سنة خمس وَأَرْبَعين وَتِسْعمِائَة قيل أَنَّهَا بدرب الْحجر وَكَذَا قَالَ الشَّيْخ عبد الباسط العلموي فِي مُخْتَصره ووفاته سنة إِحْدَى وَثَمَانِينَ وَتِسْعمِائَة وَهَذَا الصَّنِيع يَقْتَضِي أَنَّهَا لم تكن مَوْجُودَة فِي زمن أحد مِنْهُمَا وَلما اختصر أَبُو الْبَقَاء البقاعي تَنْبِيه الطَّالِب أسقطها من مُخْتَصره إِشَارَة مِنْهُ إِلَى انه لَا فَائِدَة فِي ذكرهَا لاندارسها وَالْكتاب مَوْجُود فِي ديوَان الْأَوْقَاف بِدِمَشْق إِلَى الْآن فَهِيَ خَارِجَة عَن الْأَوْقَاف رسما

ودرب الْحجر هُوَ فِي أَوَاخِر السُّوق الْكَبِير قَرِيبا من الْبَاب الشَّرْقِي وعَلى التَّحْقِيق
তিনি এর সম্পূর্ণ অংশ পাঠ করেছেন এবং এতে দক্ষতা অর্জন করেছেন, বেশ কিছু অংশ শ্রবণ করেছেন এবং আমালির মজলিসসমূহে উপস্থিত থেকেছেন। তাঁর হস্তাক্ষর সুন্দর, বোধশক্তি প্রখর এবং তাঁর আলোচনা বা পাঠদানসমূহ তাঁর ব্যাপক স্মরণশক্তির প্রমাণ দেয়।

এটি হাফেজ ইবনে হাজার-এর বক্তব্যের সংক্ষিপ্তসার, আমি তাঁর হস্তলিপি থেকেই এটি নকল করেছি। জীবনীকারের প্রতি তাঁর এই বর্ণনা মূলত তাঁর জ্ঞান অন্বেষণের দিনগুলোর। যখন আপনি এটি সাখাভীর বক্তব্যের সাথে তুলনা করবেন, তখন দেখবেন যে হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী ইনসাফ বা ন্যায়বিচার করেছেন। আর আপনি বুঝতে পারবেন যে, গোঁড়ামিই জ্ঞানকে ধ্বংস ও নিঃশেষ করে দিয়েছে।

‘তানবিহুত তালিব’ গ্রন্থের লেখক উপরের বর্ণনার অনুরূপ জীবনী উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর রচনাবলির মধ্যে শাফেঈ ফিকহশাস্ত্রের ‘শারহুত তানবিহ’কে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আবু আল-বাকা আহমাদ আল-বিকাঈ তাঁর সংক্ষেপে বলেছেন যে, জীবনীকার তাঁর সমাধির ওপর—যা মসজিদুজ জুব্বান মহল্লায় মানজাকিয়্যাহ সংলগ্ন—দরিদ্রদের জন্য উপবৃত্তি ও রুটি বরাদ্দ করেছিলেন। তিনি বাবুল ফারাদিস-এ একটি পাকশালা এবং মদিনা মুনাওয়ারায় একটি পাকশালা তৈরি করেছিলেন। সমাপ্ত। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন।

‌‌দারুল কুরআন আল-জাজারিয়্যাহ

 

এটি এমন এক গৃহ যা কালচক্র একসময় প্রকাশ করেছিল, অতঃপর তাকে গুটিয়ে নিয়েছে। একসময় একে উজ্জ্বল করেছিল, অতঃপর একে আড়াল করে দিয়েছে। এর কাহিনী কাগজ ছাড়া অন্য কোথাও বাকি নেই, আর ব্যক্তিবর্গের পরিবর্তনের সাথে সাথে এর অবস্থাও পরিবর্তিত হয়ে গেছে।

(হে হরিণদের চারণভূমি! জরাজীর্ণতা কি তোমাকে পরিবর্তন করে দিল … এমনকি পরিশেষে তুমি নিজেই হরিণদের চারণভূমিতে পরিণত হলে।)

ঐতিহাসিকদের বক্তব্য থেকে যা স্পষ্ট হয় তা হলো, দীর্ঘকাল পূর্বেই এই গৃহের চিহ্নসমূহ মুছে গেছে এবং এর অবয়ব অদৃশ্য হয়ে গেছে। নুআইমি ‘তানবিহুত তালিব’ গ্রন্থে (তাঁর মৃত্যু ৯৪৫ হিজরি) বলেছেন যে, এটি ‘দারবুল হাজার’-এ অবস্থিত ছিল বলে বলা হয়। অনুরূপ কথা শাইখ আব্দুল বাসিত আল-আলমাউই তাঁর সংক্ষেপে (তাঁর মৃত্যু ৯৮১ হিজরি) বলেছেন। এই বর্ণনাগুলো থেকে প্রতীয়মান হয় যে, এটি তাঁদের কারো সময়েই বিদ্যমান ছিল না। আবু আল-বাকা আল-বিকাঈ যখন ‘তানবিহুত তালিব’-এর সংক্ষিপ্তসার করেন, তখন তিনি এর আলোচনা বর্জন করেন; এর মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এটি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার কারণে এর উল্লেখ করার কোনো উপকারিতা নেই। গ্রন্থটি বর্তমানে দামেস্কের ওয়াকফ দপ্তরে সংরক্ষিত আছে, তবে দাপ্তরিকভাবে এটি ওয়াকফ বহির্ভূত হয়ে পড়েছে।

দারবুল হাজার হলো বড় বাজারের শেষ প্রান্তে, বাব আশ-শারকি-র সন্নিকটে এবং সঠিক অনুসন্ধান অনুযায়ী—
(খণ্ড: ১) মুনাদামাতুল আতলাল ওয়া মুসামারাতুল খায়াল (পৃষ্ঠা: ১০)
أَنَّهَا صَارَت دَارا للسُّكْنَى فَصَارَت مراتع غزلان بعد إِن كَانَت مراتع عُلَمَاء وطلاب إِلَّا أَن تَرْجِيع الألحان بِالْقُرْآنِ قد فقد مِنْهَا وَنحن أثبتناها فِي منادمة الأطلال تذكارا لَهَا وبيانا لترجمة واقفها

‌‌تَرْجَمَة شمس الدّين مُحَمَّد ابْن الْجَزرِي

 

هُوَ الإِمَام الْحَافِظ مُحَمَّد بن مُحَمَّد عَليّ بن يُوسُف الدِّمَشْقِي ثمَّ الشِّيرَازِيّ الشَّافِعِي الْمُقْرِئ الْمُحدث وَيعرف بِابْن الْجَزرِي نِسْبَة لجزيرة ابْن عمر وترجمته فِي كثير من كتب التَّارِيخ

قَالَ الْحَافِظ ابْن حجر فِي حوادث سنة أَربع وَثَلَاثِينَ وَثَمَانمِائَة

ولد المترجم سنة إِحْدَى وَخمسين وَسَبْعمائة بِدِمَشْق وتفقه بهَا ولهج بِطَلَب الحَدِيث وَالْقُرْآن وبرز فِي علم الْقرَاءَات وَعمر مدرسة للقراء سَمَّاهَا دَار الْقُرْآن واقرأ النَّاس وَعين لقَضَاء الشَّام مرّة ثمَّ عرض عَارض فَلم يتم لَهُ وَقدم الْقَاهِرَة مرَارًا وَكَانَ مثريا وشكلا حسنا وفصيحا بليغا وَأطَال فِي تَرْجَمته وَهُوَ من المعاصرين لَهُ

وَقَالَ الشَّيْخ رَضِي الدّين مُحَمَّد بن احْمَد بن عبد الله الْغَزِّي العامري وَهُوَ من معاصريه أَيْضا فِي كِتَابه بهجة الناظرين إِلَى تراجم الْمُتَأَخِّرين

هُوَ الشَّيْخ الْمُحدث الْفَاضِل الأديب المفنن القَاضِي شمس الدّين ثمَّ ذكر تَارِيخ مولده سنة إِحْدَى وَخمسين وَسَبْعمائة ثمَّ قَالَ قَالَ القَاضِي عَلَاء الدّين ابْن خطيب الناصرية فِي تَارِيخه كَذَا رَأَيْته بِخَطِّهِ اهـ قَالَ الْغَزِّي وَحضر على ابْن الخباز وروى لنا عَنهُ واتهمه فِي ذَلِك المصريون وَمِنْهُم الْحَافِظ ابْن حجر

قلت وَلَا وَجه لاتهامه وَحُضُور ابْن الْجَزرِي عَلَيْهِ مُمكن بل سَمَاعه كَمَا هُوَ مَعْرُوف عِنْد أهل الحَدِيث واخذ عَن جمَاعَة من عُلَمَاء الْإِسْلَام وبرع فِي علم الْقرَاءَات
এটি এখন বসবাসের ঘরে পরিণত হয়েছে এবং আলেম ও তালিবে ইলমদের বিচরণস্থলের পরিবর্তে হরিণদের চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। তবে কুরআনের সুরের গুঞ্জন সেখান থেকে হারিয়ে গেছে এবং আমরা এটিকে 'মুনদামাতুল আতলাল' গ্রন্থে তার স্মৃতি রক্ষার্থে এবং এর ওয়াকফকারীর জীবনবৃত্তান্ত বর্ণনার উদ্দেশ্যে লিপিবদ্ধ করেছি।

‌‌শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনুল জাযারীর জীবনী

 

তিনি হলেন ইমাম, হাফেজ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আলী বিন ইউসুফ আদ-দিমাশকী, পরবর্তীতে আশ-শিরাজী, আশ-শাফিয়ী, কারী, মুহাদ্দিস এবং তিনি ইবনুল জাযারী নামে পরিচিত, যা জাযিরা ইবনে ওমরের সাথে সম্পর্কিত। তাঁর জীবনী ইতিহাসের বহু গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

হাফেজ ইবনে হাজার ৮৩৪ হিজরী সালের ঘটনাবলীতে বলেছেন:

যাঁর জীবনী বর্ণিত হচ্ছে তিনি ৭৫১ হিজরী সালে দামেস্কে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। তিনি হাদিস ও কুরআন অন্বেষণে অত্যন্ত মনোযোগী ছিলেন এবং কিরাত শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেন। তিনি কারীদের জন্য একটি মাদ্রাসা নির্মাণ করেন যার নাম দেন 'দারুল কুরআন'। তিনি মানুষকে কুরআন পাঠ করাতেন এবং একবার সিরিয়ার বিচারক (কাযী) হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন, কিন্তু পরে এক বাধার কারণে তা আর পূর্ণ হয়নি। তিনি কয়েকবার কায়রো সফর করেন। তিনি সম্পদশালী, সুন্দর অবয়বের অধিকারী এবং অত্যন্ত বাগ্মী ও সাবলীল বক্তা ছিলেন। তিনি (ইবনে হাজার) তাঁর জীবনী দীর্ঘায়িত করেছেন এবং তিনি তাঁর সমসাময়িক ছিলেন।

শেখ রাযীউদ্দীন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আল-গাযযী আল-আমেরী—যিনিও তাঁর সমসাময়িক ছিলেন—তাঁর 'বাহজাতুন নাযিরীন ইলা তারাজিমিল মুতাআখখিরীন' গ্রন্থে বলেছেন:

তিনি হলেন শেখ, মুহাদ্দিস, ফাযিল, সাহিত্যিক, বহুবিদ্যায় পারদর্শী এবং কাযী শামসুদ্দিন। এরপর তিনি তাঁর জন্মের তারিখ ৭৫১ হিজরী উল্লেখ করেন। অতঃপর তিনি বলেন: কাযী আলাউদ্দীন ইবনে খাতিব আন-নাসিরিয়্যাহ তাঁর ইতিহাসে এভাবেই বর্ণনা করেছেন, আমি তাঁর স্বহস্তে লেখা এমনটাই দেখেছি। আল-গাযযী বলেন: তিনি ইবনুল খাব্বাযের নিকট উপস্থিত হয়েছিলেন এবং আমাদের নিকট তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তবে মিসরীয় আলেমগণ এবং তাঁদের মধ্যে হাফেজ ইবনে হাজারও এ ব্যাপারে তাঁকে অভিযুক্ত করেছেন।

আমি বলি: তাঁকে অভিযুক্ত করার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। ইবনুল জাযারীর তাঁর মজলিসে উপস্থিত হওয়া সম্ভব, বরং তাঁর থেকে শ্রবণ করাটাও হাদিস বিশারদদের নিকট সুবিদিত। তিনি একদল মুসলিম মনীষীর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং কিরাত শাস্ত্রে অনন্য পারদর্শিতা লাভ করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুনাদামাতুল আতলাল ওয়া মুসামারাতুল খায়াল (পৃষ্ঠা: ১১)
واتقنها وَأَخذهَا على وَجههَا من أئمتها وبرع فِي زَمَانه وشكره الْأَئِمَّة وَولي خطابة جَامع التَّوْبَة بالعقيبة ثمَّ قَضَاء الشَّافِعِيَّة بِالشَّام من قبل الظَّاهِر برقوق الجركسي لَكِن لم يتم لَهُ الْأَمر وَدخل الْقَاهِرَة واخذ عَن أئمتها وَكَانَ لَهُ صيت فِي ذَلِك الْوَقْت ثمَّ ولي الصلاحية فِي الْقُدس الشريف ثمَّ ذكر أَسْفَاره فِي الأقطار وتنقلاته على سَبِيل الْإِجْمَال ثمَّ قَالَ

وَلما قدم المترجم دمشق اجْتمعت عَلَيْهِ وَكَانَ مسنا عِنْده تواضع وَله رياسة ظَاهِرَة وَجلسَ بِجَامِع دمشق عِنْد بَاب الخطابة وَاجْتمعَ عَلَيْهِ بعض الْقُرَّاء والطلبة فَأخذُوا عَنهُ وسمعوا مِنْهُ وَكَانَت بضاعته مزجاة فِي الْعُلُوم سوى الْقُرْآن فانه كَانَ فِيهِ عَلامَة زَمَانه ثمَّ رَحل إِلَى بِلَاد الْعَجم وَكَانَ آخر الْعَهْد بِهِ توفّي سنة ثَلَاث وَثَلَاثِينَ وَثَمَانمِائَة عَن اثْنَيْنِ وَثَمَانِينَ عَاما

وَقَالَ فِي الْبَدْر الطالع جد المترجم فِي طلب الحَدِيث بِنَفسِهِ وَقَرَأَ الْفِقْه وَالْأُصُول والمعاني وَالْبَيَان

وترجمه الْعَلامَة طاش كبري فِي الشقائق النعمانية بترجمة طَوِيلَة حاصلها انه جمع الْقرَاءَات السَّبع وَالْعشر والاثنتي عشرَة وَدخل الديار المصرية فنشر بهَا الْعلم والقراءات ثمَّ تَأَلُّبُ عَلَيْهِ الْأَعْدَاء حَتَّى ناله ظلم شَدِيد أدّى إِلَى اخذ مَاله وَغَيره فَخرج مِنْهَا إِلَى مَدِينَة بروسا فَأكْرمه السُّلْطَان بايزيد ثمَّ أَتَى دمشق فَلم يكد يصف لَهُ الْمقَام بهَا حَتَّى دهمتها الْفِتْنَة الْعَظِيمَة من قبل تيمورلنك سنة خمس وَثَمَانمِائَة وَلما رَحل عَنْهَا أَخذه مَعَه فِي جملَة من أَخذه من الْفُضَلَاء إِلَى مَا وَرَاء النَّهر وأنزله بِمَدِينَة كشي ثمَّ بسمرقند فاشتهر بهما واقرأ جماعات لَا تحصى وَكثر نَفعه واشتهر فَضله حَتَّى إِن تيمور لما كَانَ بسمرقند اتخذ وَلِيمَة عَظِيمَة فَجَلَسَ فِي ديوانه وَعين جَانب يسَاره لِلْأُمَرَاءِ وجانب يَمِينه للْعُلَمَاء فَقدم فِي ذَلِك الْمجْلس الشَّيْخ الْجَزرِي على السَّيِّد الشريف الْجِرْجَانِيّ الْمَشْهُور وَكَانَ وقتئذ مدرسا بسمرقند فَقَالُوا لَهُ فِي ذَلِك فَقَالَ كَيفَ لَا اقدم رجلا عَالما بِالْكتاب وَالسّنة وَمَا يسْأَل عَمَّا أشكل على السَّائِل مِنْهُمَا إِلَّا حل الأشكال بِالذَّاتِ بِلَا تَأْخِير اهـ
তিনি তা আয়ত্ত করেন এবং সংশ্লিষ্ট ইমামদের কাছ থেকে যথাযথভাবে গ্রহণ করেন। তিনি স্বীয় যুগে পারদর্শী হয়ে ওঠেন এবং ইমামগণ তাঁর প্রশংসা করেন। তিনি আকিবায় অবস্থিত জামে আত-তাওবার খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, অতঃপর সারকাসীয় যাহের বারকুকের শাসনামলে শামে শাফিঈ মাযহাবের বিচারকের দায়িত্ব লাভ করেন, তবে তা পূর্ণতা পায়নি। তিনি কায়রোতে প্রবেশ করেন এবং সেখানকার ইমামদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন। সে সময় সেখানে তাঁর বিশেষ খ্যাতি ছিল। এরপর তিনি পবিত্র কুদসে (জেরুজালেম) মাদরাসায়ে সালাহিয়্যাহর প্রধানের দায়িত্ব লাভ করেন। এরপর সংক্ষেপে তাঁর বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ ও স্থানান্তরের কথা উল্লেখ করার পর তিনি বলেন:

যখন জীবনীকার (আলোচ্য ব্যক্তি) দামেস্কে আসলেন, তখন আমি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করলাম। তিনি তখন বৃদ্ধ ছিলেন এবং তাঁর মাঝে বিনয় ও প্রকাশ্য গাম্ভীর্য ছিল। তিনি দামেস্কের জামে মসজিদের 'বাব আল-খাতাবা'র নিকট বসতেন এবং কিছু কারী ও শিক্ষার্থী তাঁর কাছে সমবেত হতো। তারা তাঁর নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করতো ও শ্রবণ করতো। কুরআন ব্যতীত অন্যান্য শাস্ত্রে তাঁর জ্ঞান ছিল সীমিত, তবে কুরআনের ইলমে তিনি ছিলেন তাঁর যুগের শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত (আল্লামাহ)। এরপর তিনি অনারব (আজম) দেশসমূহের দিকে যাত্রা করেন এবং এটিই ছিল তাঁর সাথে শেষ সাক্ষাৎ। তিনি ৮৩৩ হিজরীতে বিরাশি বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

'আল-বাদরুত তালি' গ্রন্থে বলা হয়েছে: জীবনীকার নিজেই হাদিস অন্বেষণে গভীর মনোনিবেশ করেন এবং ফিকহ, উসুল, মাআনী ও বয়ান শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন।

আল্লামা তাশ কুবরি 'আশ-শাকাইকুন নুমানিয়্যাহ' গ্রন্থে তাঁর একটি দীর্ঘ জীবনী বর্ণনা করেছেন, যার সারকথা হলো: তিনি সাত, দশ ও বারো কিরাত (পঠনশৈলী) একত্রিত করেছিলেন। তিনি মিশর ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন এবং সেখানে ইলম ও কিরাত প্রচার করেন। অতঃপর শত্রুরা তাঁর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়, এমনকি তিনি চরম জুলুমের শিকার হন যা তাঁর ধন-সম্পদ ও অন্যান্য সামগ্রী কেড়ে নেওয়া পর্যন্ত গড়ায়। এরপর তিনি সেখান থেকে বের হয়ে বুর্সা শহরে চলে যান এবং সুলতান বায়েজিদ তাঁকে সম্মানিত করেন। এরপর তিনি দামেস্কে আসেন, কিন্তু সেখানে তাঁর অবস্থান দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আগেই ৮৫ হিজরীতে তৈমুর লঙের পক্ষ থেকে বিশাল ফিতনা হানা দেয়। যখন তৈমুর লঙ সেখান থেকে প্রস্থান করেন, তখন তিনি যেসব গুণীজনদের সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন তাদের সাথে তাকেও 'মা ওয়ারাউন নাহর' (ট্রান্সঅক্সিয়ানা) অঞ্চলে নিয়ে যান এবং তাঁকে কিশ শহরে, অতঃপর সমরকন্দে থাকার ব্যবস্থা করে দেন। এই দুই শহরে তিনি ব্যাপক প্রসিদ্ধি লাভ করেন এবং অসংখ্য মানুষকে কিরাত শিক্ষা দেন। তাঁর উপকারিতা ছড়িয়ে পড়ে এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব সুখ্যাতি লাভ করে। এমনকি তৈমুর যখন সমরকন্দে ছিলেন, তখন তিনি এক বিশাল ভোজের আয়োজন করেন এবং তাঁর দরবারে বসেন। তিনি তাঁর বাম পাশ উমরাদের (শাসক ও আমীর) জন্য এবং ডান পাশ ওলামাদের জন্য নির্ধারিত করেন। সেই মজলিসে তিনি বিখ্যাত সাইয়্যেদ শরীফ আল-জুরজানির ওপর শায়খ আল-জাযারিকে অগ্রাধিকার দিয়ে অগ্রবর্তী আসনে বসান, যিনি তখন সমরকন্দে শিক্ষকতা করছিলেন। এ বিষয়ে তৈমুরকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, "আমি কেন এমন এক ব্যক্তিকে অগ্রাধিকার দেব না যিনি কিতাব ও সুন্নাহর গভীর পণ্ডিত, এবং সেই দুই বিষয়ে প্রশ্নকারীর যেকোনো জটিল প্রশ্নের উত্তর তিনি নিজে কোনো বিলম্ব ছাড়াই তৎক্ষণাৎ মীমাংসা করে দেন?" সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) মুনাদামাতুল আতলাল ওয়া মুসামারাতুল খায়াল (পৃষ্ঠা: ১২)
قلت تَأمل وأمعن النّظر فِي هَذِه الْقَضِيَّة وادر انه إِن كَانَ مَا فعله تيمور لأمر سياسي فقد نَشأ عَن فكر عَال ومرتبة فِي السياسة سامية وان كَانَ عَن حب للسّنة فَللَّه در رجال تعرف مَرَاتِب أَصْحَاب الْكَمَال وَلَا تنقص الرِّجَال شَيْئا من حَقّهَا

وَالَّذِي يظْهر انه قصد الْأَمر الثَّانِي لَان تيمور مَعَ عتوه وظلمه وبغيه كَانَ مغرما بحب الْعلمَاء وَلَا سِيمَا الكاملون مِنْهُم

قَالَ فِي الشقائق ثمَّ لما مَاتَ تيمور سنة سبع وَثَمَانمِائَة فَارق المترجم بِلَاد مَا وَرَاء النَّهر فَدخل خُرَاسَان وهراة وشيراز ويزد ونواحيها وَنشر فِي تِلْكَ الْأَمَاكِن فن الْقرَاءَات والزمه صَاحب شيراز الْقَضَاء بهَا فَأَقَامَ مكْرها وَلما قضى الرَّحْمَن لَهُ بالخلاص سَافر إِلَى الْبَصْرَة ثمَّ إِلَى مَدِينَة الرَّسُول صلى الله عليه وسلم اهـ

وترجمه السخاوي فِي الضَّوْء اللامع تَرْجَمَة مُطَوَّلَة وَطعن فِيهِ وَفِي رِوَايَته كَمَا هُوَ دأبه فِي عُلَمَاء الحَدِيث الَّذين لم يعظموه وخلاصة مَا قَالَه

انه جعل نَفسه عمريا وَقَالَ كَانَ أَبوهُ تَاجِرًا وَحفظ الْقُرْآن وَهُوَ ابْن تسع سِنِين وَصلى بِهِ فِي السّنة الْعَاشِرَة ثمَّ ولي الْقَضَاء بِدِمَشْق على مَال يَدْفَعهُ فَلَمَّا تولاه لم يَفِ بِهِ فامتحن لذَلِك وفر إِلَى مصر سنة ثَمَان وَتِسْعين ثمَّ لحق بِبِلَاد الرّوم واتصل بالسلطان بايزيد فَأكْرمه وعظمه وأنزله عِنْده بضع سِنِين فنشر علم الْقرَاءَات والْحَدِيث وانتفعوا بِهِ فَلَمَّا دخل تيمورلنك الرّوم أَخذه مَعَه إِلَى سَمَرْقَنْد فَأَقَامَ بهَا إِلَى أَن مَاتَ تيمور فتحول حِينَئِذٍ إِلَى شيراز فنشر بهَا الْقرَاءَات والْحَدِيث وانتفع بِهِ أَهلهَا وَولي قضاءها وَقَضَاء غَيرهَا من الْبلدَانِ من جِهَة أَوْلَاد تيمورلنك ثمَّ قصد الْحَج سنة اثْنَتَيْنِ وَعشْرين فنهب فِي الطَّرِيق وتعوق عَن إِدْرَاك الْحَج فَأَقَامَ يَبِيع وَيَشْتَرِي ثمَّ تيَسّر لَهُ فَأَقَامَ بِمَكَّة مجاورا وَحدث بهَا ثمَّ سَافر إِلَى بِلَاد الْعَجم ثمَّ قدم الْقَاهِرَة واتصل بالسلطان الاشرف فَعَظمهُ وأكرمه وتصدى للإقراء والتحديث ثمَّ سَافر إِلَى مَكَّة ثمَّ إِلَى الْيمن تَاجِرًا فَأَسْمع بهَا الحَدِيث وأكرمه صَاحبهَا وَوَصله بِحَيْثُ رَجَعَ بِبَضَائِع كَثِيرَة وَعَاد إِلَى مَكَّة ثمَّ إِلَى الْقَاهِرَة ثمَّ إِلَى الْبَصْرَة والى شيراز فَمَاتَ بهَا وَدفن بمدرسته الَّتِي أَنْشَأَهَا هُنَاكَ
আমি বলছি: আপনি এই বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করুন এবং গভীরভাবে গভীর দৃষ্টি দিন। জেনে রাখুন যে, তৈমুর যা করেছেন তা যদি কোনো রাজনৈতিক কারণে হয়ে থাকে, তবে তা উচ্চ চিন্তা এবং রাজনীতিতে এক মহান স্তর থেকে উদ্ভূত হয়েছে। আর যদি তা সুন্নাহর প্রতি ভালোবাসার কারণে হয়ে থাকে, তবে সেই ব্যক্তিদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান হোক যারা পূর্ণতার অধিকারীদের মর্যাদা বুঝতে পারেন এবং মানুষের হকের ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র কমতি করেন না।

যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, তিনি দ্বিতীয় বিষয়টিই উদ্দেশ্য করেছিলেন; কারণ তৈমুর তার উদ্ধত আচরণ, জুলুম এবং সীমালঙ্ঘন সত্ত্বেও আলেমদের ভালোবাসায় মগ্ন ছিলেন, বিশেষ করে তাদের মধ্যে যারা পূর্ণতা অর্জন করেছিলেন।

'আশ-শাকায়িক' গ্রন্থে বলা হয়েছে, অত:পর যখন আটশত সাত হিজরিতে তৈমুর মৃত্যুবরণ করেন, তখন জীবনীকার মা-ওয়ারাউন নাহার অঞ্চল ত্যাগ করেন এবং খোরাসান, হেরাত, শিরাজ, ইয়াজদ ও তৎসংলগ্ন এলাকাগুলোতে প্রবেশ করেন। তিনি সেই স্থানগুলোতে কিরাআত শাস্ত্রের প্রসার ঘটান। শিরাজের শাসক তাকে সেখানকার বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণে বাধ্য করেন, ফলে তিনি অনিচ্ছাসত্ত্বেও সেখানে অবস্থান করেন। অত:পর যখন পরম করুণাময় আল্লাহ তাঁর মুক্তির ফয়সালা করেন, তখন তিনি বসরার উদ্দেশ্যে সফর করেন এবং এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শহরে (মদিনায়) গমন করেন। সমাপ্ত।

আস-সাখাভী 'আদ-দাও আল-লামি' গ্রন্থে তাঁর একটি দীর্ঘ জীবনী বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর ও তাঁর বর্ণনার সমালোচনা করেছেন, যেমনটি হাদিস শাস্ত্রের সেই সকল আলেমদের ক্ষেত্রে তাঁর অভ্যাস যারা তাঁকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করেননি। তাঁর বক্তব্যের সারসংক্ষেপ হলো:

তিনি নিজেকে উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর বংশধর হিসেবে দাবি করতেন এবং বলতেন যে তাঁর পিতা একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি নয় বছর বয়সে কুরআন হিফজ করেন এবং দশম বছরে তা নিয়ে সালাত পড়ান। এরপর তিনি একটি নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে দামেস্কের বিচারপতির পদ লাভ করেন, কিন্তু দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি তা পরিশোধ করতে পারেননি। এ কারণে তিনি বিপদে পড়েন এবং সাতশত আটানব্বই হিজরিতে মিশরে পালিয়ে যান। অতঃপর তিনি রোম (তৎকালীন উসমানীয় সালতানাত) অঞ্চলে পৌঁছান এবং সুলতান বায়েজিদের সাথে যোগাযোগ করেন। সুলতান তাঁকে সম্মান ও মর্যাদা প্রদান করেন এবং কয়েক বছর নিজের কাছে রাখেন। সেখানে তিনি কিরাআত ও হাদিস শাস্ত্রের প্রসার ঘটান এবং মানুষ তাঁর দ্বারা উপকৃত হয়। যখন তৈমুর লঙ রোমে প্রবেশ করেন, তখন তিনি তাঁকে নিজের সাথে সমরকন্দে নিয়ে যান। তৈমুরের মৃত্যু পর্যন্ত তিনি সেখানেই অবস্থান করেন। অতঃপর তিনি শিরাজে স্থানান্তরিত হন এবং সেখানে কিরাআত ও হাদিস শাস্ত্র প্রচার করেন, যা দ্বারা সেখানকার অধিবাসীরা উপকৃত হয়। তিনি তৈমুর লঙের সন্তানদের পক্ষ থেকে শিরাজ ও অন্যান্য শহরের বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। অতঃপর আটশত বাইশ হিজরিতে তিনি হজের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন, কিন্তু পথিমধ্যে লুণ্ঠনের শিকার হন এবং হজ পালন করতে বাধাগ্রস্ত হন। সেখানে তিনি ক্রয়-বিক্রয়ে লিপ্ত থাকেন। এরপর যখন পরিস্থিতি সহজ হয়, তখন তিনি মক্কায় অবস্থান করেন এবং সেখানে হাদিস বর্ণনা করেন। অতঃপর তিনি পারস্য (আজম) দেশসমূহে সফর করেন এবং এরপর কায়রোতে এসে সুলতান আল-আশরাফের সাথে সাক্ষাৎ করেন। সুলতান তাঁকে সম্মান ও মর্যাদা দেন এবং তিনি কিরাআত ও হাদিস পাঠদানে আত্মনিয়োগ করেন। এরপর তিনি মক্কায় এবং পরবর্তীতে ব্যবসায়ী হিসেবে ইয়েমেনে সফর করেন। সেখানে তিনি হাদিস শোনান এবং সেখানকার শাসক তাঁকে সম্মান করেন ও প্রচুর দান-অনুদান দেন, যার ফলে তিনি প্রচুর পণ্যসামগ্রী নিয়ে ফিরে আসেন। তিনি পুনরায় মক্কায়, এরপর কায়রোতে এবং পরবর্তীতে বসরা ও শিরাজে ফিরে যান। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয় এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত মাদরাসায় তাঁকে দাফন করা হয়।
(খণ্ড: ১) মুনাদামাতুল আতলাল ওয়া মুসামারাতুল খায়াল (পৃষ্ঠা: ১৩)
ثمَّ سرد السخاوي مصنفاته فَقَالَ هِيَ

النشر فِي الْقرَاءَات الْعشْر مجلدان وَاخْتَصَرَهُ بِكِتَاب سَمَّاهُ التَّقْرِيب وتحبير التَّيْسِير فِي الْقرَاءَات الْعشْر والتمهيد فِي التجويد وهما مِمَّا آلفه وَله من الْعُمر سبع عشرَة سنة ونظم الْهِدَايَة فِي تَتِمَّة الْعشْرَة وسماها الدرة وَله من الْعُمر ثَمَانِي عشرَة سنة وَرُبمَا حفظهَا أَو بَعْضهَا بعض شُيُوخه وإتحاف المهرة فِي تَتِمَّة الْعشْرَة وإعانة المهرة فِي الزِّيَادَات على الْعشْرَة نظم وطيبة النشر فِي الْقرَاءَات الْعشْر فِي آلف بَيت والمقدمة فِيمَا على قَارِئ الْقُرْآن أَن يُعلمهُ وَهِي نظم أَيْضا وَقل من يعاني فن التجويد فِي زمننا إِلَّا ويحفظها ومنجد المقرئين وطبقات الْقُرَّاء فِي مُجَلد ضخم وَغَايَة النِّهَايَة فِي أَسمَاء رجال الْقرَاءَات والحصن الْحصين من كَلَام سيد الْمُرْسلين فِي الْأَذْكَار والدعوات وَهُوَ غَايَة فِي الِاخْتِصَار وَالْجمع وعدة الْحصن الْحصين وجنة الْحصن الْحصين وَعرف التَّعْرِيف مُخْتَصره والتوضيح فِي شرح المصابيح وَهُوَ ثَلَاثَة أسفار آلفه فِيمَا وَرَاء النَّهر والبداية فِي عُلُوم الرِّوَايَة وَالْهِدَايَة فِي فنون الحَدِيث نظم والأولوية فِي أَحَادِيث الْأَوْلَوِيَّة وَعقد اللآلي فِي الْأَحَادِيث المسلسلة العوالي والمسند الاحمد فِيمَا يتَعَلَّق بِمُسْنَد احْمَد والمقصد الاحمد فِي رجال احْمَد والمصعد الاحمد فِي ختم مسانيد احْمَد والإجلال والتعظيم فِي مقَام إِبْرَاهِيم والإبانة فِي الْعمرَة من الْجِعِرَّانَة والتكريم فِي الْعمرَة من التَّنْعِيم وَغَايَة المنى فِي زِيَارَة منى وَفضل جبل حراء واحاسن المنن واسنى المطالب فِي مَنَاقِب عَليّ ابْن أبي طَالب والجوهرة فِي النَّحْو وَغير ذَلِك من الرسائل والتعليقات

وَقد ذكره الطاووسي فِي مشيخته وَقَالَ انه تفرد بعلو الرِّوَايَة وَحفظ الْأَحَادِيث وَالْجرْح وَالتَّعْدِيل وَمَعْرِفَة الروَاة الْمُتَقَدِّمين والمتأخرين اهـ وترجمه الْحَافِظ ابْن حجر فِي مُعْجم شُيُوخه الَّذِي سَمَّاهُ الْمجمع المؤسس للمعجم المفهرس فَذكر نَحوا مِمَّا سبق وَقَالَ كَانَ لَهُ توقيع الدست بِدِمَشْق وَعين لقَضَاء الشَّافِعِيَّة ثمَّ فر إِلَى بِلَاد الرّوم واتصل بِالْملكِ بايزيد بن عُثْمَان وَأقَام عِنْده بضع سِنِين إِلَى وقْعَة الكائنة الْعُظْمَى الَّتِي قتل فِيهَا الْملك بازيد فاتصل بعْدهَا بالأمير تيمور إِلَى أَن قَالَ وَلَيْسَ لَهُ فِي الْفِقْه يَد بل فنه الَّذِي مهر فِيهِ الْقرَاءَات وَله عمل فِي الحَدِيث وَله نظم وسيط اهـ
এরপর সাখাবী তাঁর গ্রন্থসমূহের তালিকা প্রদান করে বলেন যে, সেগুলো হলো:

দশ কিরাআতের উপর দুই খণ্ডে রচিত 'আন-নাশর ফীল কিরাআতিল আশর', এবং তিনি নিজেই এর সংক্ষেপণ করেছেন 'আত-তাকরীব' নামক গ্রন্থের মাধ্যমে। দশ কিরাআতের উপর 'তাহবীরুত তাইসীর' এবং তাজবীদের উপর 'আত-তামহীদ'; এই দুটি তিনি সতের বছর বয়সে রচনা করেছেন। দশ কিরাআতের পূর্ণতার বিষয়ে 'নাজমূল হিদায়াহ' যা তিনি আঠারো বছর বয়সে লিখেছিলেন এবং এর নাম দিয়েছিলেন 'আদ-দুররাহ'। সম্ভবতঃ তাঁর কোনো কোনো উস্তাদ এটি বা এর অংশবিশেষ মুখস্থ করেছিলেন। এছাড়া 'ইতহাফুল মাহারা ফী তাত্তিম্মাতিল আশারা', দশ কিরাআতের অতিরিক্ত বিষয় নিয়ে কাব্যগ্রন্থ 'ইআনাতুল মাহারা', দশ কিরাআতের উপর এক হাজার চরণের কাব্য 'তাইয়্যিবাতুন নাশর', এবং কুরআন পাঠকারীর যা জানা আবশ্যক সে বিষয়ে 'আল-মুকাদ্দিমাহ', এটিও একটি কাব্যগ্রন্থ; আমাদের যুগে তাজবীদ শাস্ত্রে নিয়োজিত খুব কম ব্যক্তিই আছেন যারা এটি মুখস্থ করেন না। আরও রয়েছে 'মুনজিদুল মুকরিয়ীন', বিশাল এক খণ্ডে 'তাবাকাতুল কুররা', কিরাআতের বর্ণনাকারীদের জীবনী নিয়ে 'গায়াতুন নিহায়াহ', রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী থেকে যিকির ও দুআর উপর 'আল-হাসনুল হাসীন' যা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও সারগর্ভ। আরও আছে 'উদ্দাতুল হিসনুল হাসীন', 'জান্নাতুল হিসনুল হাসীন', এর সংক্ষেপণ 'আরফুত তারিফ', 'শারহুল মাসাবীহ'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আত-তাওদীহ' যা তিন খণ্ডে বিভক্ত এবং তিনি তা মা-ওয়ারাউন নহরে (ট্রান্সঅক্সিয়ানা) থাকাকালীন রচনা করেছেন। রিওয়ায়াত বিজ্ঞানের উপর 'আল-বিদায়াহ' এবং হাদীস শাস্ত্রের বিভিন্ন শাখার উপর কাব্যগ্রন্থ 'আল-হিদায়াহ'। আরও আছে 'আল-আউলাউইয়্যাহ ফী আহাদীসিল আউলাউইয়্যাহ', উচ্চ সনদযুক্ত মুসালসাল হাদীসসমূহের উপর 'আকদুল লাআলী', মুসনাদে আহমাদ সংশ্লিষ্ট 'আল-মুসনাদুল আহমাদ', মুসনাদে আহমাদের বর্ণনাকারীদের নিয়ে 'আল-মাকসিদুল আহমাদ', মুসনাদে আহমাদের সমাপ্তি নিয়ে 'আল-মুসআদুল আহমাদ', মাকামে ইবরাহীমের মর্যাদার ওপর 'আল-ইজলাল ওয়াত তাজীম', জিররানা থেকে উমরার বিধান নিয়ে 'আল-ইবানাহ', তানঈম থেকে উমরার বিধান নিয়ে 'আত-তাকরীম', মিনা যিয়ারত নিয়ে 'গায়াতুন মুনা', হেরা পর্বতের ফযীলত, 'আহাসানুল মিনান', আলী ইবনে আবী তালিব রাযিয়াল্লাহু আনহুর মানাকিব বা গুণাবলী নিয়ে 'আসনাল মাতালিব', ব্যাকরণ বা নাহু শাস্ত্রের উপর 'আল-জাওহারাহ' এবং এছাড়াও অন্যান্য ছোট রিসালা ও পাদটীকা।

তাউসী তাঁর 'মাশয়াখাহ' গ্রন্থে তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে, তিনি উচ্চ সনদ (উলুউ), হাদীস মুখস্থ রাখা, জারহ ও তা’দীল (সনদ বিচার) এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী বর্ণনাকারীদের পরিচিতির ক্ষেত্রে অনন্য ছিলেন। হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর উস্তাদদের জীবনী গ্রন্থ 'আল-মুজামুল মুআসসিস লিল মুজামিল মুফাহরাস'-এ তাঁর জীবনী উল্লেখ করেছেন এবং পূর্বে বর্ণিত বিষয়ের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন যে, দামেস্কে তাঁর রাজকীয় স্বাক্ষর (তাওকী উদ-দুস্ত) প্রদানের ক্ষমতা ছিল এবং শাফেয়ী মাযহাবের বিচারক (কাযী) হিসেবে তাঁকে মনোনীত করা হয়েছিল। অতঃপর তিনি রোম দেশে (উসমানীয় সাম্রাজ্য) পালিয়ে যান এবং সুলতান বায়েজিদ ইবনে উসমানের সাথে যুক্ত হন। সেখানে তিনি সেই বড় যুদ্ধ (আঙ্কারার যুদ্ধ) পর্যন্ত কয়েক বছর অবস্থান করেন যাতে সুলতান বায়েজিদ নিহত হন। এরপর তিনি আমীর তৈমুরের সাথে যুক্ত হন। ইবনে হাজার আরও বলেন: ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর তেমন দখল ছিল না, বরং তাঁর মূল দক্ষতা ছিল কিরাআত শাস্ত্রে। হাদীস শাস্ত্রেও তাঁর অবদান রয়েছে এবং তাঁর কবিতা মাঝারি মানের।
(খণ্ড: ১) মুনাদামাতুল আতলাল ওয়া মুসামারাতুল খায়াল (পৃষ্ঠা: ১৪)
قلت وفن الْقرَاءَات فِي دمشق ومصر وَغَيرهمَا إِنَّمَا يَدُور على مصنفات ابْن الْجَزرِي فِي زمننا هَذَا وعَلى الشاطبية وشروحها وَرَأَيْت لَهُ كتابا فِي نظم السِّيرَة النَّبَوِيَّة وَأَنا فِي سنّ الصِّبَا وَقد غَابَ الْآن عني وَمن لطيف نظمه مَا قَالَه عِنْد ختم كتاب الشَّمَائِل للْإِمَام التِّرْمِذِيّ

(اخلاي أَن شط الحبيب وربعه … وَعز تلاقيه وناءت مَنَازِله)

(وفاتكم أَن تبصروه بعينكم … فَمَا فاتكم بِالسَّمْعِ هذي شمائله)

قَالَ المقريزي وَقد مدحه النواجي بقوله

(أيا شمس علم بالقراءات أشرقت … وحقك قد من الْإِلَه على مصر)

(وهاهي بالتقريب مِنْك تضوعت … عبيرا وأضحت وَهِي طيبَة النشر)

وَكتب إِلَيْهِ الْمولى خضر بك يَقُول

(لَو كَانَ فِي بَابه للنظم معْجزَة … الفت فِي مدحه آلفا من الْكتب)

(لكنه الْبَحْر فِي كل الْفُنُون فَمَا … إهداء در إِلَى بَحر من الْأَدَب)

فَأَجَابَهُ بقوله

(فِي در علمك بَحر الْفضل ذُو لجب … ودر نظمك عقد فِي حلى الْأَدَب)

(الدّرّ فِي الْبَحْر مَعْهُود تكونه … وَالْبَحْر فِي الدّرّ يُبْدِي غَايَة الْعجب)

‌‌دَار الْقُرْآن الدلامية

 

ترجمها صَاحب تَنْبِيه الطَّالِب والدارس بقوله هِيَ بِالْقربِ من الماردانية بالجسر الْأَبْيَض بالجانب الشَّرْقِي من الشَّارِع الْآخِذ إِلَى الجسر الْمَذْكُور بالصالحية زَاد العلموي فِي مُخْتَصره وَهِي مَعْرُوفَة انْتهى

وفيهَا تربة الْوَاقِف أَنْشَأَهَا الشهَاب الخواجكي الرئيسي الشهابي أَبُو الْعَبَّاس احْمَد بن الْمجْلس الخواجكي زين الدّين دلامة بن عز الدّين نصر الله الْبَصْرِيّ اجل أَعْيَان الخواجكية بِالشَّام إِلَى جَانب دَاره وترجمة السخاوي فِي الضَّوْء اللامع فَقَالَ
আমি বলছি, আমাদের এই যুগে দামেস্ক, মিসর ও অন্যান্য স্থানে কিরাআত শাস্ত্র মূলত ইবনুল জাযারীর সংকলনসমূহ এবং শাত্বিবিয়্যাহ ও তার ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের ওপর আবর্তিত হয়। আমি শৈশবে তাঁর সীরাত বিষয়ক একটি কাব্যগ্রন্থ দেখেছিলাম, যা এখন আমার স্মৃতি থেকে হারিয়ে গেছে। তাঁর চমৎকার কিছু পঙ্‌ক্তির মধ্যে সেই পঙ্‌ক্তিগুলো অন্তর্ভুক্ত যা তিনি ইমাম তিরমিযীর শামায়েল গ্রন্থটি শেষ করার সময় বলেছিলেন:

(হে আমার বন্ধুরা, যদি প্রিয়তম ও তাঁর আবাসস্থল দূরে চলে যায় … তাঁর সাথে সাক্ষাৎ কঠিন হয়ে পড়ে এবং তাঁর বাসস্থান দূরবর্তী হয়)

(তবে তাঁকে চাক্ষুষ দেখা থেকে যদি তোমরা বঞ্চিতও হও … শ্রবণেন্দ্রিয়ের মাধ্যমে তাঁর এই গুণাবলি শ্রবণ করা থেকে তো তোমরা বঞ্চিত হওনি)

মাকরীযী বলেছেন, আল-নাওয়াজী তাঁর প্রশংসা করে বলেছেন:

(হে কিরাআত বিজ্ঞানের সূর্য যা উদিত হয়েছে … আপনার শপথ, মহান আল্লাহ মিসরের ওপর অনুগ্রহ করেছেন)

(আর এই যে আপনার সান্নিধ্যের মাধ্যমে এটি সুগন্ধি ছড়িয়েছে … এবং এটি সুবাসিত ও সুঘ্রাণযুক্ত হয়ে উঠেছে)

মাওলা খিজর বেগ তাঁর কাছে লিখেছিলেন:

(কাব্যের ক্ষেত্রে যদি অলৌকিক কিছু ঘটানো সম্ভব হতো … তবে আমি তাঁর প্রশংসায় হাজার হাজার কিতাব রচনা করতাম)

(কিন্তু তিনি তো সকল শিল্পকলায় এক সমুদ্রসম … তাই সাহিত্যের এই সমুদ্রে মুক্তা উপহার দেওয়ার সার্থকতা কী?)

তিনি এর উত্তরে বলেছিলেন:

(আপনার জ্ঞানের মুক্তার মাঝে ফযিলতের এক উত্তাল সমুদ্র বিদ্যমান … আর আপনার কাব্যের মুক্তাসমূহ সাহিত্যের অলঙ্কারের হার স্বরূপ)

(সমুদ্রের ভেতরে মুক্তা সৃষ্টি হওয়া তো স্বাভাবিক বিষয় … কিন্তু মুক্তার ভেতরে সমুদ্র বিদ্যমান থাকা অত্যন্ত বিস্ময়কর)

‌‌দারুল কুরআন আদ-দালামিয়্যাহ

 

'তানবিহুত ত্বালিব ওয়াদ দারিস' গ্রন্থের লেখক এর পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছেন, এটি আল-মারদানিয়্যাহর কাছে আল-জিসরুল আবইয়ায (শ্বেত সেতু)-এর সন্নিকটে, যা সালিহিয়্যাহর দিকে চলে যাওয়া সড়কের পূর্ব পাশে অবস্থিত। আলমায়ী তাঁর সংক্ষিপ্তসারে যোগ করেছেন যে, এটি একটি পরিচিত স্থান। সমাপ্ত।

এখানে এই প্রতিষ্ঠানের ওয়াকফকারীর সমাধি রয়েছে। এটি নির্মাণ করেছিলেন আশ-শিহাব আল-খাওয়াজকি আর-রাইসি আশ-শিহাবি আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আল-মাজলিস আল-খাওয়াজকি যাইনুদ্দিন দালামা ইবনে ইযযুদ্দিন নাসরুল্লাহ আল-বাসরী, যিনি সিরিয়ার শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের অন্যতম ছিলেন। এটি তাঁর বাসভবনের পাশেই অবস্থিত। সাখাভী 'আদ-দউ আল-লামি' গ্রন্থে তাঁর জীবনী উল্লেখ করে বলেছেন:
(খণ্ড: ১) মুনাদামাতুল আতলাল ওয়া মুসামারাতুল খায়াল (পৃষ্ঠা: ১৫)
احْمَد بن دلامة الخواجا الْبَصْرِيّ ثمَّ الدِّمَشْقِي انشأ مدرسة بصالحية دمشق وتفقه وبرع وَمَات فِي ثامن عشر الْمحرم سنة ثَلَاث وَخمسين وَثَمَانمِائَة وَدفن بعد الْعَصْر من يَوْمه انْتهى

قَالَ البقاعي وَقد قَارب الثَّمَانِينَ قَالَ فِي التُّحْفَة وَقفهَا سنة سبع وَأَرْبَعين وَثَمَانمِائَة ورتب بهَا إِمَامًا وَله من الْمَعْلُوم مائَة دِرْهَم وقيما وَله مثل الإِمَام وَسِتَّة أَنْفَار من الْفُقَرَاء الغرباء الْمُهَاجِرين فِي قِرَاءَة الْقُرْآن وَلكُل وَاحِد مِنْهُم ثَلَاثُونَ درهما فِي كل شهر ولشيخهم عشرَة وَمن شَرط الإِمَام الرَّاتِب أَن يتَصَدَّى شَيخا لإقراء الْقُرْآن للْجَمَاعَة وَله على ذَلِك عشرُون درهما زِيَادَة على مَعْلُوم الأمامية وَسِتَّة أَيْتَام بالمكتب على بَابهَا وَلكُل وَاحِد مِنْهُم فِي كل شهر عشرَة دَرَاهِم وَقرر لَهُم شَيخا وَله من الْمَعْلُوم سِتُّونَ درهما فِي كل شهر ورتب أَيْضا قَارِئًا لصحيح الإِمَام البُخَارِيّ فِي كل من شهر رَجَب وَشَعْبَان ورمضان وَجعل لَهُ من الْمَعْلُوم مائَة وَعشْرين درهما وناظرا وَله من الْمَعْلُوم فِي الشَّهْر سِتُّونَ درهما وعاملا وَله من الْمَعْلُوم فِي السّنة سِتّمائَة دِرْهَم ورتب للزيت فِي كل عَام مثلهَا وَجعل للشمع ولقراءة البُخَارِيّ وَإِمَام التَّرَاوِيح مائَة دِرْهَم ولأرباب الْوَظَائِف خَمْسَة عشر رطلا من الْحَلْوَى ورأسي غنم أضْحِية وَلكُل يَتِيم جُبَّة قطنية وقميصا ومنديلا فِي كل سنة وَقرر قَارِئ ميعاد فِي يَوْم الثُّلَاثَاء من كل أُسْبُوع وَله فِي الشَّهْر ثَلَاثُونَ درهما وَشرط على أَرْبَاب الْوَظَائِف حفظ حزب الصَّباح والمساء لِابْنِ أبي دَاوُد يقرؤونه بعد صَلَاة الصُّبْح وَالْعصر وان يكون الإِمَام هُوَ الْقَارئ البُخَارِيّ والقارئ على ضريح الْوَاقِف والقيم هُوَ البواب والمؤذن حكى هَذَا ابْن طولون فِي كِتَابه القلائد الجوهرية فِي تَارِيخ الصالحية والنعيمي وَتَبعهُ فِي التَّنْبِيه وَأول من بَاشر الْإِمَامَة بهَا والمشيخة شمس الدّين البانياسي وَقِرَاءَة الميعاد شمس الدّين بن حَامِد وَذكر بَعضهم أَن سَبَب إنشائها أَن الخواجا إِبْرَاهِيم الأسعردي عمر مدرسة بالجسر الْأَبْيَض لَيْسَ لَهَا نَظِير وَجعل بهَا خلاوي فَطلب بهَا رجل من جمَاعَة ابْن دلامة خلْوَة بشفاعة ابْن دلامة فَلم يُعْطه الْخلْوَة الَّتِي طلبَهَا وَأَعْطَاهُ غَيرهَا فَلم يقبلهَا فَقَالَ الخواجا إِبْرَاهِيم لَهُ قل لِابْنِ دلامة يعمر مدرسة مثلهَا ويعمر لَك خلْوَة تريدها فَأخْبرهُ بذلك فَلم ينم تِلْكَ اللَّيْلَة
আহমদ বিন দুলামা আল-খাওয়াজা আল-বাসরি, অতঃপর আদ-দিমাশকি। তিনি দামেস্কের সালিহিয়াতে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন ও তাতে পারদর্শিতা অর্জন করেন। তিনি ৮৫৩ হিজরির ১৮ই মহরম মৃত্যুবরণ করেন এবং সেদিন আসরের পর তাঁকে দাফন করা হয়। সমাপ্ত।

আল-বিকায়ি বলেন, তাঁর বয়স আশি বছরের কাছাকাছি হয়েছিল। 'আত-তুহফা' গ্রন্থে বলা হয়েছে, তিনি এটি ৮৪৭ হিজরিতে ওয়াকফ করেন এবং সেখানে একজন ইমাম নিয়োগ করেন যার সম্মানী ছিল একশ দিরহাম এবং একজন তত্ত্বাবধায়ক (কায়্যিম) যার সম্মানী ছিল ইমামের সমান। কুরআন তিলাওয়াতের জন্য ছয়জন প্রবাসী দরিদ্র মুহাজির ব্যক্তিকে নির্ধারণ করেন, যাদের প্রত্যেকের জন্য প্রতি মাসে ত্রিশ দিরহাম এবং তাদের শায়খের জন্য দশ দিরহাম বরাদ্দ ছিল। নির্ধারিত ইমামের জন্য শর্ত ছিল যে, তিনি সাধারণের নিকট কুরআন তিলাওয়াত ও শিক্ষার জন্য শায়খ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং এর বিনিময়ে তিনি ইমামতির সম্মানীর অতিরিক্ত আরও বিশ দিরহাম পাবেন। মাদ্রাসার ফটকে অবস্থিত মক্তবে ছয়জন এতিম বালক ছিল, যাদের প্রত্যেকের জন্য প্রতি মাসে দশ দিরহাম বরাদ্দ ছিল। তিনি তাদের জন্য একজন শিক্ষক (শায়খ) নির্ধারণ করেন, যার মাসিক সম্মানী ছিল ষাট দিরহাম। তিনি রজব, শাবান ও রমজান মাসে ইমাম বুখারীর 'সহীহ' পাঠ করার জন্য একজন ক্বারি নিয়োগ করেন এবং তাঁর সম্মানী একশ বিশ দিরহাম নির্ধারণ করেন। এছাড়া একজন পরিদর্শক (নাযির) নিয়োগ করেন যার মাসিক সম্মানী ছিল ষাট দিরহাম এবং একজন কর্মী (আমিল) যার বাৎসরিক সম্মানী ছিল ছয়শ দিরহাম। তিনি প্রদীপের তেলের জন্য প্রতি বছর সমপরিমাণ (ছয়শ দিরহাম) বরাদ্দ করেন। মোমবাতি, বুখারী পাঠ এবং তারাবীহর ইমামের জন্য একশ দিরহাম বরাদ্দ করেন। বিভিন্ন পদে নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য পনের রতল মিষ্টি এবং কুরবানীর জন্য দুটি ভেড়া নির্ধারণ করেন। প্রত্যেক এতিম বালকের জন্য প্রতি বছর একটি করে সুতির জুব্বা, জামা ও রুমাল প্রদানের ব্যবস্থা করেন। তিনি প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার নির্দিষ্ট সময়ে পাঠের (মيعাদ) জন্য একজন ক্বারি নির্ধারণ করেন যার মাসিক সম্মানী ছিল ত্রিশ দিরহাম। তিনি দায়িত্বশীলদের জন্য ইবনে আবি দাউদ সংকলিত সকাল-সন্ধ্যার অজিফা (হিযব) মুখস্থ করার শর্ত আরোপ করেন, যা তারা ফজর ও আসরের নামাযের পর পাঠ করবে। শর্ত ছিল যে, ইমামই হবেন বুখারী পাঠকারী এবং ওয়াকফকারীর কবরের পাশে তিলাওয়াতকারী; আর তত্ত্বাবধায়কই হবেন দারোয়ান ও মুয়াজ্জিন। ইবনে তুলুন তাঁর 'আল-কালাইদ আল-জাওহারিয়াহ ফি তারিখিস সালিহিয়াহ' গ্রন্থে এবং নুয়াইমি এটি বর্ণনা করেছেন এবং 'আত-তানবিহ' গ্রন্থেও তাঁর অনুসরণ করা হয়েছে। সেখানে প্রথম ইমামতি ও শায়খের দায়িত্ব পালন করেন শামসুদ্দিন আল-বানিয়াসি এবং নির্ধারিত সময়ের তিলাওয়াতের দায়িত্বে ছিলেন শামসুদ্দিন বিন হামিদ। কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে, এই মাদ্রাসাটি নির্মাণের কারণ ছিল: খাজা ইব্রাহিম আল-আসআরদি জিসরুল আবয়াদ এলাকায় একটি অতুলনীয় মাদ্রাসা নির্মাণ করেছিলেন এবং সেখানে নির্জনে ইবাদতের কক্ষ (খালওয়াহ) তৈরি করেছিলেন। ইবনে দুলামার এক সঙ্গী ইবনে দুলামার সুপারিশে সেখানে একটি কক্ষ প্রার্থনা করেন। কিন্তু তিনি তাকে প্রার্থিত কক্ষটি না দিয়ে অন্য একটি দিলেন, যা ওই ব্যক্তি গ্রহণ করলেন না। তখন খাজা ইব্রাহিম তাকে বললেন, "ইবনে দুলামাকে বলো যেন সেও এর মতো একটি মাদ্রাসা নির্মাণ করে এবং তোমার পছন্দমতো কক্ষ তৈরি করে দেয়।" সেই ব্যক্তি ইবনে দুলামাকে বিষয়টি জানালেন, যা শুনে সেই রাতে তাঁর আর ঘুম হলো না।
(খণ্ড: ১) মুনাদামাতুল আতলাল ওয়া মুসামারাতুল খায়াল (পৃষ্ঠা: ১৬)
حَتَّى رسم مَكَانهَا وقاسها فَقَالَ الخواجا إِبْرَاهِيم مَا أردْت بذلك إِلَّا تنهيضه لفعل الْخَيْر

قلت وَقد شاهدت تِلْكَ الدَّار أثْنَاء كتابتي لهَذِهِ السطور وَهِي مَعْرُوفَة باسم الدلامية إِلَى الْآن فِي الطَّرِيق الْآخِذ إِلَى الصالحية فِي الْجِهَة الشرقية وَهِي عامرة مَشْهُورَة وحائطها الغربي مَبْنِيّ بِالْحِجَارَةِ السَّوْدَاء والصفراء على نمط جميل وبابها مَبْنِيّ على هندسة لَطِيفَة وإتقان يدل على مَا كَانَ للفن المعماري فِي ذَلِك الزَّمن من التَّقَدُّم وَكَأن الْمُتَقَدِّمين كَانُوا يتفننون فِي بِنَاء الْأَبْوَاب فيجعلون لأبواب دور الْقُرْآن طرزا غير طرز أَبْوَاب دور الحَدِيث ولأبواب الحَدِيث شكلا غير شكل أَبْوَاب مدارس الْفِقْه والعلوم ويميزون أَبْوَاب أبنية السلاطين والأمراء لمعاهد الْخَيْر عَن أَبْوَاب أبنية غَيرهم وَمن تَأمل مآثرهم رأى ذَلِك عيَانًا ثمَّ انك إِذا دخلت من الْبَاب أفْضى بك إِلَى صحن لطيف فِي وَسطه بركَة مَاء وَفِي الْجِهَة الشمالية إيوَان لطيف أَيْضا وَفِي الْجِهَة الْقبلية حرم جميل ثَلَاث عشرَة خطْوَة فِي سبع وَفِي الْحَائِط الشَّرْقِي حجرَة وَفِي الغربي حجرَة أَيْضا وَبهَا قبر الْوَاقِف وَلها شباك مطل على الطَّرِيق وَتلك الدَّار الْآن معدة لإِقَامَة الصَّلَوَات الْخمس والأوقات الَّتِي اصْطلحَ عَلَيْهَا أَتبَاع الشَّيْخ إِبْرَاهِيم الرَّشِيدِيّ من المتصوفة واخبرني أحد المقيمين بهَا أَن أَيدي المختلسين تناولتها قَدِيما فَجعلُوا نصفهَا دَارا وَالنّصف الآخر جنينة للورد والأزهار الَّتِي يَزْرَعهَا أهل الصالحية ويبيعونها فَلَمَّا كَانَت سنة ثَلَاثمِائَة وَألف انتدب لَهَا السّري المحسن عَليّ بك ابْن مردم باشا الْمُؤَيد العظمي فاستخلصها من يَد مختلسيها وبناها على الطّراز الَّذِي هِيَ عَلَيْهِ الْآن

‌‌دَار الْقُرْآن الرشائية

 

كَانَت هَذِه الدَّار شمَالي الخانقاه السميساطية وَكَانَ الطَّرِيق الَّذِي يمر إِمَام مدفن السُّلْطَان صَلَاح الدّين فَيَأْخُذ إِلَى الشرق يُقَال لَهُ درب الخزاعيين وَبَاب الْجَامِع الشمالي يُقَال لَهُ بَاب الناطفيين فَتغير الِاسْم وَبَقِي الْمَكَان على حَاله
এমনকি তিনি এর স্থানটি অঙ্কন করেন এবং তা পরিমাপ করেন। অতঃপর খাজা ইব্রাহিম বললেন, 'এর মাধ্যমে আমি তাকে কেবল সৎকর্মের প্রতি উৎসাহিত করতে চেয়েছিলাম।'

আমি বলি, আমি যখন এই পঙ্ক্তিগুলো লিখছি, সেই সময় উক্ত গৃহটি দেখেছি। এটি বর্তমানেও 'দুলামিয়া' নামে পরিচিত এবং সালিহিয়ার দিকে যাওয়া রাস্তার পূর্ব দিকে অবস্থিত। এটি একটি আবাদকৃত ও প্রসিদ্ধ অট্টালিকা। এর পশ্চিম দেওয়াল কালো ও হলুদ পাথর দিয়ে চমৎকার শৈলীতে নির্মিত এবং এর দরজাটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম স্থাপত্যশৈলী ও নিপুণতায় তৈরি, যা সেই সময়ের স্থাপত্য শিল্পের অগ্রগতির প্রমাণ দেয়। মনে হয় যেন প্রাচীনরা দরজা নির্মাণে বিশেষ পারদর্শিতা দেখাতেন; তারা কুরআন শিক্ষা কেন্দ্রগুলোর দরজার নকশা হাদিস শিক্ষা কেন্দ্রের নকশা থেকে ভিন্ন রাখতেন এবং হাদিস কেন্দ্রগুলোর দরজার রূপ ফিকহ ও বিজ্ঞান মাদরাসাগুলোর দরজার রূপ থেকে আলাদা করতেন। তারা সুলতান ও আমিরদের জনহিতকর প্রতিষ্ঠানের দরজাসমূহকে অন্যদের নির্মিত ভবনের দরজা থেকে স্বতন্ত্র রাখতেন। যে ব্যক্তি তাদের স্থাপত্য নিদর্শনগুলো পর্যবেক্ষণ করবে, সে তা স্বচক্ষেই দেখতে পাবে। এরপর আপনি দরজা দিয়ে প্রবেশ করলে এটি আপনাকে একটি মনোরম আঙিনায় নিয়ে যাবে, যার মাঝখানে একটি পানির জলাধার রয়েছে। উত্তর দিকে একটি সুন্দর আইওয়ানও রয়েছে। কিবলার দিকে একটি সুন্দর প্রার্থনা কক্ষ রয়েছে যা তেরো কদম লম্বা ও সাত কদম চওড়া। পূর্ব দিকের দেওয়ালে একটি কক্ষ এবং পশ্চিম দিকের দেওয়ালেও একটি কক্ষ রয়েছে, যাতে ওয়াকফকারীর কবর অবস্থিত। এই কক্ষটির একটি জানালা রাস্তার দিকে উন্মুক্ত। সেই গৃহটি বর্তমানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় এবং সুফি শায়খ ইব্রাহিম রাশিদির অনুসারীদের নির্ধারিত সময়ের ইবাদত-বন্দেগির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। সেখানকার একজন বাসিন্দা আমাকে জানিয়েছেন যে, অতীতে আত্মসাৎকারীদের হস্তক্ষেপে এর অর্ধেক অংশ বাসগৃহে এবং বাকি অর্ধেক অংশ গোলাপ ও বিভিন্ন ফুলের বাগানে পরিণত করা হয়েছিল, যা সালিহিয়ার অধিবাসীরা চাষ করে বিক্রি করত। অতঃপর ১৩০০ হিজরি সালে দানশীল ব্যক্তিত্ব আলী বেগ ইবনে মারদাম পাশা আল-মুয়াইয়্যাদ আল-আজমি এর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি একে আত্মসাৎকারীদের দখলমুক্ত করেন এবং বর্তমান রূপ ও শৈলীতে এটি পুনর্নির্মাণ করেন।

‌‌দারুল কুরআন আর-রাশাইয়া

 

এই গৃহটি সুমাইসাতিয়া খানকাহর উত্তর দিকে অবস্থিত ছিল। সুলতান সালাহউদ্দিনের সমাধির সামনে দিয়ে যে রাস্তাটি পূর্ব দিকে গিয়েছে, তাকে 'দারবুল খুজায়িয়িন' বলা হতো এবং জামে মসজিদের উত্তর দিকের দরজাকে 'বাবুন নাতিফিয়িন' বলা হতো। পরবর্তী সময়ে নাম পরিবর্তিত হলেও স্থানটি তার পূর্বের অবস্থায় রয়ে গেছে।
(খণ্ড: ১) মুনাদামাতুল আতলাল ওয়া মুসামারাতুল খায়াল (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌تَرْجَمَة واقفها

 

أَنْشَأَهَا عَلَاء الدّين عَليّ بن إِسْمَاعِيل بن مَحْمُود السنجاري

قَالَ الْحَافِظ ابْن كثير فِي تَرْجَمته هُوَ أحد التُّجَّار الْمَشْهُورين والأتقياء الورعين وَمن الأخيار ذَوي الْيَسَار المسارعين إِلَى الْخيرَات توفّي فَجْأَة فِي الْقَاهِرَة لَيْلَة الْخَمِيس ثَالِث عشر جُمَادَى الْآخِرَة سنة خمس وَثَلَاثِينَ وَسَبْعمائة وَدفن عِنْد قبر القَاضِي شمس الدّين الحريري وَمَات عَمَّا ينيف عَن ثَمَانِينَ سنة من الْعُمر

وَقَالَ الْحَافِظ البرزالي فِي تَرْجَمته كَانَ رجلا جيدا فِيهِ ديانَة وبر انشأ دَار الْقُرْآن السنجارية ورتب فِيهَا جمَاعَة يقرؤون الْقُرْآن ويتلقونه وَكَانَ لَهُ مواعيد حَدِيث يَعْنِي أوقاتا يحضرها النَّاس لسَمَاع الحَدِيث

وَقَالَ العلموي أَنْشَأَهَا سنة ثَلَاثِينَ وَسَبْعمائة وَقَالَ أَيْضا فِي تَعْرِيفهَا وَهِي الْآن مُتَّصِلَة ببيتي بِبَاب فَتحته من حَائِط مُشْتَرك بَين بَيْتِي وَبَينهَا غير بَابهَا الْمَخْصُوص بهَا انْتهى

وَانْظُر آيها الْعَاقِل مُرَاده بِهَذِهِ الْعبارَة الَّتِي قصد بهَا أَن يعرفنا مَكَان بَيته فَتوجه عَلَيْهِ اعْتِرَاض وَفتح عَلَيْهِ فتح ذَلِك الْبَاب بَابا وَهُوَ انه أَشَارَ إِلَى انه أول من سارع من الْقَوْم إِلَى التلاعب بهَا وَأول من انْتظر فرْصَة لضمها إِلَى بَيته وَقد شَاءَ لَهُ الزَّمَان ذَلِك فانه بِهَذَا تصرف بهَا نوعا من التَّصَرُّفَات ثمَّ جَاءَ من بعده فَبَالغ وَهَكَذَا إِلَى أَن صَارَت ملكا تبَاع وتوهب وتورث وَرُبمَا استبدلت بهَا قِرَاءَة الْقُرْآن بنغمات الأوتار وتلون الألحان ومغازلة الغادات والغزلان فبانيها سنّ سنة حَسَنَة فَكَانَ لَهُ اجرها ومختلسها سنّ سنة سَيِّئَة فَكَانَ عَلَيْهِ وزرها وَلَا يضيع عِنْد الله مِثْقَال ذرة

‌‌دَار الْقُرْآن الصابونية

 

هِيَ الْآن مَوْجُودَة مَشْهُورَة عامرة

قَالَ النعيمي هِيَ خَارج دمشق قبلي بَاب الْجَابِيَة غربي الطَّرِيق الْعُظْمَى ومزار اوس بن اوس الصَّحَابِيّ الْجَلِيل رضي الله عنه وَبهَا جَامع حسن بمنارة تُقَام فِيهِ الْجُمُعَة وتربة الْوَاقِف وأخيه وذريتهما انْتهى
‌ওয়াকিফের জীবনী

 

এটি প্রতিষ্ঠা করেছেন আলাউদ্দীন আলী ইবনে ইসমাইল ইবনে মাহমুদ আস-সিনজারি।

হাফিজ ইবনে কাসির তাঁর জীবনীতে বলেছেন: তিনি ছিলেন প্রসিদ্ধ বণিকদের একজন, অতিশয় পরহেজগার ও মুত্তাকি এবং সৎকর্মশীল বিত্তবানদের অন্তর্ভুক্ত যারা কল্যাণমূলক কাজে অগ্রগামী ছিলেন। তিনি সাতশ পঁয়ত্রিশ হিজরি সনের তেরোই জুমাদাল আখিরাত বৃহস্পতিবার রাতে কায়রোতে আকস্মিকভাবে ইন্তেকাল করেন এবং তাকে কাজী শামসুদ্দীন আল-হারিরির কবরের পাশে দাফন করা হয়। তিনি আশি বছরেরও বেশি বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

হাফিজ আল-বিরজালি তাঁর জীবনীতে বলেছেন: তিনি ছিলেন একজন উত্তম ব্যক্তি যার মাঝে ধর্মপ্রাণতা ও নেক আমল বিদ্যমান ছিল। তিনি 'দারুল কুরআন আস-সিনজারিয়া' প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানে একদল লোক নিয়োজিত করেন যারা কুরআন তেলাওয়াত ও শিক্ষা দান করতেন। তাঁর হাদিসের মজলিসও ছিল, অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময় যখন মানুষ হাদিস শোনার জন্য সমবেত হতো।

আল-লামাউয়ি বলেছেন: তিনি এটি সাতশ ত্রিশ হিজরিতে প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি এর বর্ণনায় আরও বলেন: এটি এখন আমার ঘরের সাথে একটি দরজার মাধ্যমে যুক্ত যা আমি আমার ঘর এবং এর মধ্যবর্তী সাধারণ একটি দেয়ালে খুলেছি, এর নিজস্ব নির্দিষ্ট দরজাটি বাদে। (সমাপ্ত)

হে বুদ্ধিমান পাঠক! এই বক্তব্যের মাধ্যমে তার উদ্দেশ্য লক্ষ্য করুন, যার দ্বারা তিনি আমাদের নিজের ঘরের অবস্থান জানাতে চেয়েছেন। কিন্তু এর ফলে তার ওপর আপত্তি উত্থাপিত হয়েছে এবং সেই দরজা খোলার ফলে আরেকটি মন্দ দরজা খুলে গেছে। আর তা হলো এই যে, তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনিই প্রথম ব্যক্তি ছিলেন যিনি এর সাথে কারসাজি করতে তড়িঘড়ি করেছেন এবং প্রথম ব্যক্তি যিনি এটিকে নিজের ঘরের সাথে যুক্ত করার সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। কালচক্র তার জন্য তা নির্ধারণ করে রেখেছিল; কেননা এর মাধ্যমে তিনি এর উপর এক ধরনের হস্তক্ষেপ করেন, অতঃপর তার পরে যারা এসেছে তারা বাড়াবাড়ি করেছে। এভাবে শেষ পর্যন্ত এটি এমন সম্পত্তিতে পরিণত হয় যা বিক্রি করা হয়, দান করা হয় এবং উত্তরাধিকার হিসেবে বণ্টন করা হয়। এমনকি কখনও কখনও কুরআন তেলাওয়াতের পরিবর্তে বাদ্যযন্ত্রের সুর, বিচিত্র তালের গান এবং রূপসী সুন্দরীদের সাথে প্রেম নিবেদনের আলাপচারিতা স্থান করে নেয়। সুতরাং এর নির্মাতা একটি উত্তম রীতি চালু করেছিলেন তাই তিনি এর সওয়াব পাবেন, আর এর আত্মসাৎকারী একটি মন্দ রীতি চালু করেছে তাই তার ওপর এর গুনাহ বর্তাবে। আর আল্লাহর নিকট অণু পরিমাণ কর্মও বৃথা যায় না।

‌দারুল কুরআন আস-সাবুনিয়া

 

এটি বর্তমানে বিদ্যমান, প্রসিদ্ধ এবং আবাদ রয়েছে।

আল-নুআইমি বলেছেন: এটি দামেস্কের বাইরে বাবুল জাবিয়ার দক্ষিণে, প্রধান রাস্তার পশ্চিমে এবং মহান সাহাবী আউস ইবনে আউস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাজারের কাছে অবস্থিত। এতে একটি সুন্দর জামে মসজিদ ও মিনার রয়েছে যেখানে জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে ওয়াকিফ, তাঁর ভাই ও তাঁদের বংশধরদের কবর রয়েছে। (সমাপ্ত)
(খণ্ড: ১) মুনাদামাতুল আতলাল ওয়া মুসামারাতুল খায়াল (পৃষ্ঠা: ১৮)
وَقد رَأَيْتهَا أثْنَاء كتابتي لهَذِهِ السطور لأصفها عَن مُشَاهدَة فَإِذا هِيَ مُقَابل تربة بَاب الصَّغِير غربي الطَّرِيق الْأَعْظَم الْآخِذ إِلَى بَاب الْمصلى والميدان وجدارها الشَّرْقِي شَاهِق متين مَبْنِيّ بِالْحجرِ الْأَصْفَر بِنَاء متقنا وَبِه نقوش بديعة محفورة بأحجاره وَفِيه الْبَاب وَهُوَ مُرْتَفع أَيْضا يماس اوجه علو الْجِدَار وَصدر قنطرته مزخرف بحجارة محفورة معجنة وَهُوَ على شكل محراب وَفِيه بَاب الْمدرسَة وَهُوَ صَغِير بِالنِّسْبَةِ إِلَيْهِ وَهَذَا الْعَمَل يدل على إتقان الْفَنّ المعماري وقتئذ فَإِذا دخلت من الْبَاب صرت فِي دهليز وَكَانَ عَن يسارك جَامع للمحاسن جَامع تُقَام فِيهِ الْجُمُعَة وَالْجَمَاعَة وَعَن يَمِينك قبَّة لَهَا شباكان مطلان على الطَّرِيق الْأَعْظَم وَفِي الجنوبي مِنْهُمَا فسقية مَاء يردهَا المارون وفيهَا قبر الْوَاقِف وأخيه وَاحِد أَقَاربه والقبور الثَّلَاثَة مَبْنِيَّة بالرخام الْأَبْيَض وَأَعْلَى الْقبَّة كَانَ متهدما فعمر عمَارَة لَطِيفَة وَجعل لَهُ شبابيك من البلور وبجانبها من الغرب حجرَة قد سقط سقفها وَبقيت جدرانها وَلها بَاب إِلَى الدهليز وَفِي داخلها بَاب إِلَى الْقبَّة فَإِذا خلصت من الدهليز وصلت إِلَى صحن الْمدرسَة وَطوله تسع عشرَة خطْوَة فِي عرض سبع عشرَة خطْوَة وَفِيه بركَة مَاء مربعة مَاؤُهَا دَائِم الجريان كَمَا هِيَ عَادَته فِي دمشق وقابلك من الغرب إيوَان فِي صَدره ثَلَاث حجرات وبجانبه الشمالي حجرَة وَعَن يَمِينه دَار للسُّكْنَى وَعَن يسَاره كَذَلِك وَفِي الْجَانِب الجنوبي إيوَان أَيْضا وَفِي صَدره محراب وحجرتان عَن يَمِينه وَعَن يسَاره وَفِي جَانِبه الشَّرْقِي حجرَة أَيْضا وَفِيه بَاب يصعد مِنْهُ إِلَى المنارة وَهِي شاهقة الْبناء حَسَنَة الْوَضع وَفِي الْجَانِب الشمالي بيُوت الْخَلَاء وحجرة إمامها قبران فجملة مَا هُوَ مَوْجُود بهَا عشر حجرات

قَالَ النعيمي وَهَذِه الدَّار أَنْشَأَهَا الْمقر الخواجكي شهَاب الدّين احْمَد الشهابي القضائي ابْن علم الدّين سُلَيْمَان بن مُحَمَّد الْبكْرِيّ الدِّمَشْقِي الْمَعْرُوف بالصابوني ابْتَدَأَ فِي عمارتها سنة ثَلَاث وَسِتِّينَ وَثَمَانمِائَة وَفرغ مِنْهَا سنة ثَمَان وَسِتِّينَ وَثَمَانمِائَة وَشرط الْوَاقِف النّظر لنَفسِهِ ثمَّ لذريته ثمَّ من بعد انقراضهم يكون النّظر نِصْفَيْنِ نصف مِنْهُ لحاجب دمشق يَعْنِي واليها أَو مَالِكهَا كَائِنا من كَانَ وَالنّصف الآخر للْإِمَام وَشرط قِرَاءَة البُخَارِيّ فِي شهور رَجَب وَشَعْبَان ورمضان وَاشْترط فِي الْخَطِيب أَن يكون شَافِعِيّ الْمَذْهَب وَفِي الإِمَام أَن يكون من الطَّائِفَة الجبرتية وَسَيَأْتِي بيانهم
এই পঙ্ক্তিগুলো লেখার সময় আমি তা প্রত্যক্ষ করেছি যাতে চাক্ষুষ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এর বর্ণনা প্রদান করতে পারি। এটি বাব আস-সাগীরের সমাধিস্থলের বিপরীতে, বাব আল-মুসাল্লা ও ময়দানের দিকে গমনকারী প্রধান সড়কের পশ্চিম পার্শ্বে অবস্থিত। এর পূর্ব প্রাচীর সুউচ্চ ও সুদৃঢ়, যা হলুদ বর্ণবিশিষ্ট প্রস্তর দ্বারা অত্যন্ত নিপুণভাবে নির্মিত। পাথরের গাত্রে চমৎকার সব নকশা খোদাই করা হয়েছে এবং এখানেই এর প্রবেশদ্বার অবস্থিত। তোরণটি বেশ উঁচু, যা প্রাচীরের উপরিভাগ স্পর্শ করে। এর খিলানের সম্মুখভাগ খোদাই করা সুসংবদ্ধ পাথর দ্বারা সুশোভিত এবং তা একটি মেহরাবের আকৃতিতে তৈরি। এর মধ্যেই মাদ্রাসার প্রবেশদ্বারটি অবস্থিত, যা তোরণের তুলনায় ক্ষুদ্রাকার। এই নির্মাণশৈলী তৎকালীন স্থাপত্যবিদ্যার চরম উৎকর্ষের সাক্ষ্য দেয়। প্রবেশদ্বার দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলে একটি অলিন্দ বা করিডোর পাওয়া যায়। আপনার বাম পার্শ্বে একটি সুদৃশ্য জামে মসজিদ বিদ্যমান, যেখানে জুমা ও জামাত অনুষ্ঠিত হয়। আপনার ডান পার্শ্বে রয়েছে একটি গম্বুজাকৃতি কক্ষ, যার দুটি জানালা প্রধান সড়কের দিকে মুখ করা। এর দক্ষিণ পাশের জানালার নিকটে একটি পানির ফোয়ারা বা আধার আছে যেখান থেকে পথচারীরা পানি পান করে। এখানে ওয়াকিফ (প্রতিষ্ঠাতা), তাঁর ভ্রাতা এবং তাঁর এক আত্মীয়ের সমাধি রয়েছে। এই তিনটি সমাধিই শ্বেত মর্মর পাথর দ্বারা নির্মিত। গম্বুজের ঊর্ধ্বাংশ ইতিপূর্বে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছিল, যা পরবর্তীতে অত্যন্ত সুচারুরূপে সংস্কার করা হয়েছে এবং এতে কাঁচের জানালা স্থাপন করা হয়েছে। এর পশ্চিম পার্শ্বে একটি কক্ষ রয়েছে যার ছাদ ধসে পড়েছে এবং কেবল প্রাচীরগুলোই অবশিষ্ট আছে। এর একটি দরজা অলিন্দের দিকে এবং অভ্যন্তরীণ একটি দরজা গম্বুজাকৃতি কক্ষের দিকে উন্মুক্ত। অলিন্দটি অতিক্রম করলে মাদ্রাসার প্রাঙ্গণে পৌঁছানো যায়। এর দৈর্ঘ্য ঊনিশ কদম এবং প্রস্থ সতেরো কদম। প্রাঙ্গণের অভ্যন্তরে একটি চতুষ্কোণ পানির চৌবাচ্চা আছে যাতে দামেস্কের রীতি অনুযায়ী সদাসর্বদা পানি প্রবাহিত থাকে। পশ্চিম দিকে আপনার সম্মুখভাগে একটি ‘আইওয়ান’ (উন্মুক্ত হলঘর) পড়বে যার সম্মুখভাগে তিনটি কক্ষ রয়েছে। এর উত্তর পার্শ্বে একটি কক্ষ এবং ডানে ও বামে আবাসিক ঘর বিদ্যমান। দক্ষিণ পার্শ্বেও একটি ‘আইওয়ান’ রয়েছে যার সম্মুখে মেহরাব এবং ডানে ও বামে দুটি কক্ষ আছে। এর পূর্ব দিকেও একটি কক্ষ রয়েছে এবং সেখানে একটি দরজা আছে যা দিয়ে মিনারে আরোহণ করা যায়। মিনারটি স্থাপত্যশৈলীতে সুউচ্চ ও মনোরম। উত্তর পার্শ্বে শৌচাগার এবং ইমামের একটি কক্ষ রয়েছে যাতে দুটি সমাধি বিদ্যমান। সব মিলিয়ে সেখানে দশটি কক্ষ রয়েছে।

নুআইমি বলেন, এই গৃহটি (মাদ্রাসাটি) আল-মুকার আল-খাওয়াজাকি শিহাবউদ্দীন আহমদ আশ-শিহাবী আল-কাদায়ী ইবনে আলমউদ্দীন সুলাইমান ইবনে মুহাম্মদ আল-বাকরি আদ-দিমাশকি নির্মাণ করেছেন, যিনি ইবনুল সাবুনী নামে পরিচিত। তিনি ৮৬৩ হিজরীতে এর নির্মাণ কাজ শুরু করেন এবং ৮৬৮ হিজরীতে তা সমাপ্ত করেন। ওয়াকিফ শর্তারোপ করেছেন যে, এর তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব প্রথমে তাঁর নিজের হাতে থাকবে, অতঃপর তাঁর বংশধরদের হাতে। তাদের ধারা বিলুপ্ত হওয়ার পর তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব সমান দুই ভাগে বিভক্ত হবে; যার এক অর্ধাংশ থাকবে দামেস্কের হাজিব তথা এর ওয়ালী বা মালিকের হাতে, আর অন্য অর্ধাংশ থাকবে ইমামের নিয়ন্ত্রণে। তিনি রজব, শাবান ও রমজান মাসে সহীহ বুখারী পাঠ করার শর্ত প্রদান করেছেন। তিনি আরও শর্ত দিয়েছেন যে, খতিবকে শাফেয়ী মাযহাবের হতে হবে এবং ইমামকে হতে হবে ‘জাবরতি’ সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত, যাদের পরিচয় সামনে বর্ণিত হবে।
(খণ্ড: ১) মুনাদামাতুল আতলাল ওয়া মুসামারাতুল খায়াল (পৃষ্ঠা: ১৯)
وان يكون حنفيا وان يكون مَعَه تِسْعَة عشر فَقِيرا من جنسه يُقْرِئهُمْ الْقُرْآن قَالَه أَبُو الْبَقَاء احْمَد البقاعي فِي مُخْتَصره وَفِي التَّنْبِيه عشرَة وَلَعَلَّه هُوَ الْأَصَح وَجعل لسكن الإِمَام وَعِيَاله قاعة وللفقراء عشر حجرات يَعْنِي خلاوي قلت وَهَذِه الحجرات والقاعة مَوْجُودَة الْآن كَمَا مر بَيَانه فان لم يُوجد إِمَام من الجبرتية الْحَنَفِيَّة فَيكون يَمَانِيا فان لم يُوجد فَيكون افاقيا ورتب سِتَّة مؤذنين وَجعل قيمًا وبوابا وفراشا وجابيا للْوَقْف وَبنى أَيْضا تجاه الْمَكَان الْمَذْكُور من الشرق مكتبا للأيتام وَاشْترط أَن تكون عدتهمْ عشرَة ورتب لَهُم شَيخا يُقْرِئهُمْ الْقُرْآن بمعلومات شَرطهَا لَهُم تصرف عَلَيْهِم من جِهَات عديدة مِنْهَا عدَّة قرى غربي مَدِينَة بيروت اسْمهَا الصابونية وَمِنْهَا جَمِيع قَرْيَة مديرى بِفَتْح الْمِيم وَسُكُون الدَّال الْمُهْملَة وَفتح الْمُثَنَّاة التَّحْتِيَّة آخرهَا آلف مَقْصُورَة وَهِي بالغوطة من المرج الشمالي مَعْرُوفَة مَشْهُورَة وَمِنْهَا قَرْيَة ترحيم بالبقاع وَعشرَة افدنة وَنصف فدان وَأَرْبَعَة فدادين بقرية الصويرة وَربع قَرْيَة القرعون بالبقاع وَسِتَّة فدادين من قَرْيَة كحيل بحوران وَعشرَة افدنة وَنصف فدان من قَرْيَة الخيارة قبلي دمشق وَعشرَة افدنة وَنصف فدان من قَرْيَة السبينة الغربية ومزرعة السياف الكائنة بِقرب بَيت الابيار وَربع بُسْتَان بقرية جرمانا وبستان الوثاب بالوادي التحتاني وبستان بِعَين ثرما وَسبع قطع ارْض بقرية سقبا وبستان بقرية حمورية وعدة بساتين ببرزة وَأَرْبَعَة بساتين بجوبر وعدة بساتين بالنيرب الفوقاني وَأَرْبَعَة بساتين بِأَرْض المزة وَمثلهَا بقرية كفرثوثا وَثَلَاثَة بساتين بِأَرْض قبنية فَهَذِهِ هِيَ الْأَرَاضِي والبساتين

وَأما المسقفات فَمِنْهَا خَان كَانَ يُسمى بخان البقسماتية وقاعة وَاحِدَة بِعَين اللؤلؤة وحانوت بالدباغة وَأَرْبع طباق بالعقيبة الْكُبْرَى وخان طولون بهَا وَثَلَاثَة حوانيت شركَة الْحَرَمَيْنِ بسوق الْعِمَارَة التحتاني وَكَانَت تسمى عمَارَة الاخنائي وَسِتَّة حوانيت بمحلة مَسْجِد الأقصاب وقاعتين بجوار الْجَامِع الْأمَوِي وَأَرْبع طباق جوَار المارستان النوري وطبقة وَاحِدَة جوَار بَاب الفراديس بِدِمَشْق وَأَرْبَعَة حوانيت بالقضمانية وَسِتَّة حوانيت بِبَاب الْجَابِيَة وخان بمحلة سوق الْهَوَاء وخان بمحلة قصر حجاج وطبقة فَوْقه
এবং তাকে হানাফী হতে হবে এবং তার সাথে তার স্বজাতীয় উনিশ জন দরিদ্র শিক্ষার্থী থাকতে হবে যাদেরকে তিনি কুরআন শিক্ষা দেবেন। আবু আল-বাকা আহমাদ আল-বিকাঈ তার 'মুখতাসার'-এ এমনটিই বলেছেন, তবে 'আত-তানবিহ' গ্রন্থে দশ জনের কথা উল্লেখ আছে এবং সম্ভবত এটিই অধিকতর সঠিক। তিনি ইমাম ও তার পরিবারের বসবাসের জন্য একটি হলঘর এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য দশটি কক্ষ—অর্থাৎ নির্জন কক্ষ—নির্ধারণ করেছেন। আমি বলছি: এই কক্ষগুলো এবং হলঘরটি বর্তমানেও বিদ্যমান রয়েছে যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। যদি জাবারতিয়া হানাফী সম্প্রদায়ের কোনো ইমাম না পাওয়া যায়, তবে ইয়েমেনি কেউ ইমাম হবেন; তাও না পাওয়া গেলে বহিরাগত কেউ ইমাম হবেন। তিনি ছয়জন মুয়াজ্জিন নিয়োগ করেছিলেন এবং একজন তত্ত্বাবধায়ক, একজন দারোয়ান, একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ওয়াকফের জন্য একজন খাজনা আদায়কারী নিযুক্ত করেছিলেন। তিনি উল্লেখিত স্থানের পূর্ব দিকে এতিমদের জন্য একটি মক্তবও নির্মাণ করেন এবং শর্ত দেন যে তাদের সংখ্যা হবে দশজন। তিনি তাদের জন্য একজন শায়খ নিয়োগ করেন যিনি তাদের কুরআন শিক্ষা দেবেন এবং তাদের জন্য নির্দিষ্ট বৃত্তির ব্যবস্থা করেন যা বিভিন্ন উৎস থেকে তাদের ওপর ব্যয় করা হবে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বৈরুত শহরের পশ্চিমে অবস্থিত সাবুনিয়াহ নামক বেশ কয়েকটি গ্রাম; এবং মুদায়রা নামক সম্পূর্ণ গ্রামটি—যা মিম বর্ণে ফাতহা, দাল বর্ণে সুকুন এবং ইয়া বর্ণে ফাতহা যোগে এবং শেষে আলিফ মাকসুরাসহ উচ্চারিত হয়; এটি উত্তর মারজের গুতা অঞ্চলে অবস্থিত একটি সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ গ্রাম। এছাড়া বেকা অঞ্চলের তারহিম গ্রাম; সাওয়াইরা গ্রামে সাড়ে দশ ফাদান এবং চার ফাদান জমি; বেকা অঞ্চলের কারউন গ্রামের এক-চতুর্থাংশ; হাওরান অঞ্চলের কুহাইল গ্রামের ছয় ফাদান জমি; এবং দামেস্কের দক্ষিণে আল-খায়ারা গ্রামের সাড়ে দশ ফাদান জমি; পশ্চিম সিবাইনা গ্রামের সাড়ে দশ ফাদান জমি; বাইত আল-আবিয়ারের নিকটবর্তী আস-সাইয়াফ খামার; জারমানা গ্রামের একটি বাগানের এক-চতুর্থাংশ; আল-ওয়াদি আত-তাহতানি এলাকায় অবস্থিত আল-ওয়াসসাব বাগান; আইন সারমা এলাকার একটি বাগান; সাকবা গ্রামের সাত খণ্ড জমি; হাম্মুরিয়া গ্রামের একটি বাগান; বারজাহ অঞ্চলের বেশ কয়েকটি বাগান; জওবার এলাকার চারটি বাগান; আন-নায়রাব আল-ফাওকানি এলাকার বেশ কয়েকটি বাগান; আল-মাজ্জাহ ভূমির চারটি বাগান; কাফর সুসা গ্রামের অনুরূপ সংখ্যক বাগান; এবং কিবানিয়াহ ভূমির তিনটি বাগান। এই হলো সমস্ত জমি ও বাগানসমূহ।

আর ছাদবিশিষ্ট স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে: একটি খান (সরাইখানা) যা খান আল-বাকসামাতিয়া নামে পরিচিত ছিল; আইন আল-লুলুআ এলাকার একটি হলঘর; চর্মশালা এলাকার একটি দোকান; আল-আকিবা আল-কুবরা এলাকার চারটি তলা এবং সেখানে অবস্থিত তুলুন খান; সুক আল-ইমারাহ আত-তাহতানি বাজারে হারামাইন শরীফাইনের অংশীদারিত্বে তিনটি দোকান, যা আল-ইখনাই ইমারত নামে পরিচিত ছিল; মসজিদ আল-আকসাব মহল্লার ছয়টি দোকান; উমাইয়া মসজিদের পার্শ্ববর্তী দুটি হলঘর; নূরী হাসপাতালের পার্শ্ববর্তী চারটি তলা; দামেস্কের বাবু আল-ফারা দিস সংলগ্ন একটি তলা; কুদমানিয়া এলাকার চারটি দোকান; বাবু আল-জাবিয়া এলাকার ছয়টি দোকান; সুক আল-হাওয়া মহল্লার একটি খান; এবং কাসর হাজ্জাজ মহল্লার একটি খান ও তার উপরের তলা।
(খণ্ড: ১) মুনাদামাতুল আতলাল ওয়া মুসামারাতুল খায়াল (পৃষ্ঠা: ২০)
وحانوت غربي النَّخْلَة الطَّوِيلَة قبلي جَامع حسان وَهَذِه النَّخْلَة كَانَت فِي زمن النعيمي والبقاعي وَأما الْآن فَلم يفدنا التَّعْرِيف بهَا شَيْئا

هَذَا مَا وَقفه الْوَاقِف واحتسب اجره عِنْد الله تَعَالَى

ثمَّ جَاءَ بعده مَمْلُوك لَهُ يُقَال لَهُ يُوسُف الرُّومِي فحذا حَذْو سَيّده فِي أَفعَال الْخَيْر والتربية الْحَسَنَة تفِيد المربى والمربي فَأوقف على الصابونية بستانا غربي مصلى الْعِيدَيْنِ جوَار بُسْتَان الصاحب ومعصرة زيتون بكفرثوثا وقاعة لصيق الْجَامِع وَفِي علوها طبقَة وقاعة أُخْرَى قبلي ذَلِك وفوقها طبقتان

‌‌الجبرتية

 

حَيْثُ انه قد سبق ذكر الجبرتية أثْنَاء شَرط الْوَاقِف كَانَ الالماع إِلَى تعريفهم وَبَيَان مواطنهم متمما للفائدة موقفا على مزِيد بَيَان تفكهة وتنقلا وَاللَّذَّات فِي التنقل وَلذَا وضعناها بِحَسب مَا كَانَت عَلَيْهِ من قبل وبمقتضى مَا هِيَ عَلَيْهِ الْآن واليك ذَاك

قَالَ الْفَاضِل عبد الرَّحْمَن الجبرتي فِي تَارِيخه الْمُسَمّى عجائب الْآثَار

بِلَاد جبرت هِيَ بِلَاد الزيلع بأراضي الْحَبَشَة تَحت حكم الخطا ملك الْحَبَشَة وَهِي عدَّة بِلَاد مَعْرُوفَة تسكنها هَذِه الطَّائِفَة وهم الْمُسلمُونَ بذلك الإقليم ويتمذهبون بمذهبي أبي حنيفَة وَالشَّافِعِيّ لَا غير وينتسبون إِلَى سيدنَا اسْلَمْ بن عقيل بن أبي طَالب وهم قوم يغلب عَلَيْهِم التقشف وَالصَّلَاح ويسافرون من بِلَادهمْ بِقصد الْحَج والمجاورة فِي طلب الْعلم ويحجون مشَاة وَلَهُم رواق بِالْمَدِينَةِ المنورة ورواق بِمَكَّة المشرفة ورواق بالجامع الْأَزْهَر ثمَّ قَالَ الجبرتي وَظهر مِنْهُم عُلَمَاء أفاضل كالزيلعي شَارِح الْكَنْز وَغَيره وسرد تراجمهم ثمَّ قَالَ وللحافظ المقريزي مؤلف فِي أَخْبَار بِلَادهمْ وتفصيل أَحْوَالهم وللشيخ عَلَاء الدّين مُحَمَّد بن عبد الله البُخَارِيّ كتاب سَمَّاهُ الطّراز المنقوش فِي محَاسِن الحبوش وللحافظ عبد الرَّحْمَن بن الْجَوْزِيّ كتاب تنوير الغبش فِي فَضَائِل السودَان والحبش وللجلال السُّيُوطِيّ كتاب أَيْضا سَمَّاهُ رفع شان الحبشان انْتهى
এবং দীর্ঘ তালগাছের পশ্চিমে, হাসসান জামে মসজিদের দক্ষিণ দিকে একটি দোকান। এই তালগাছটি নুয়াইমি ও বিকার সময়ে বিদ্যমান ছিল, তবে বর্তমানে এর মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করা আমাদের কোনো উপকারে আসে না।

ওয়াকিফ যা ওয়াকফ করেছেন এবং এর প্রতিদান তিনি মহান আল্লাহর কাছে আশা করেছেন।

অতঃপর তার পরে তার এক গোলাম এলো, যাকে ইউসুফ রুমি বলা হতো। সে তার মুনিবের পদাঙ্ক অনুসরণ করল সৎকাজ ও উত্তম লালন-পালনের ক্ষেত্রে, যা লালনকারী ও লালিত উভয়কেই উপকৃত করে। সে সাবুনিয়ার জন্য ঈদগাহের পশ্চিমে সাহেব-এর বাগানের পাশে একটি বাগান ওয়াকফ করল, কাফরসুসায় একটি জয়তুন মাড়াইয়ের কল, মসজিদের সাথে সংলগ্ন একটি কক্ষ এবং তার উপরের তলা, এবং তার দক্ষিণে অন্য একটি কক্ষ এবং তার উপরের দুই তলা ওয়াকফ করল।

‌‌জাবারতিয়া

 

যেহেতু ওয়াকফকারীর শর্তাবলির বর্ণনার সময় জাবারতিয়াদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তাই তাদের পরিচয় প্রদান এবং তাদের বাসস্থানের বর্ণনা দেওয়া ফায়দাকে পূর্ণতা দান করবে, যা বিস্তারিত বিবরণের মাধ্যমে আনন্দদায়ক এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বিচরণ স্বরূপ হবে; আর পরিভ্রমণের মধ্যে আনন্দ রয়েছে। তাই আমরা একে পূর্বের এবং বর্তমান অবস্থার নিরিখে বিন্যস্ত করেছি। তা নিচে দেওয়া হলো:

বিদগ্ধ পণ্ডিত আব্দুর রহমান আল-জাবারতি তাঁর 'আজায়িবুল আসার' নামক ইতিহাস গ্রন্থে বলেছেন:

জাবারত ভূখণ্ড হলো আবিসিনিয়ার যাইলা এলাকা, যা আবিসিনিয়ার রাজা খাতা-এর শাসনাধীন। এটি বেশ কয়েকটি সুপরিচিত জনপদ যেখানে এই দলটি বসবাস করে। তারা ওই অঞ্চলের মুসলিম এবং তারা শুধুমাত্র আবু হানিফা ও শাফেয়ী মাযহাব অনুসরণ করে। তারা আমাদের সর্দার আসলাম বিন আকিল বিন আবি তালিবের বংশধর হিসেবে নিজেদের সম্বন্ধযুক্ত করে। তারা এমন এক জাতি যাদের মধ্যে কৃচ্ছ্রসাধন ও নেককারিতা প্রবল। তারা হজ এবং জ্ঞান অন্বেষণের উদ্দেশ্যে অবস্থান করার জন্য নিজ দেশ থেকে সফর করে এবং পায়ে হেঁটে হজ করে। মদিনা মুনাওয়ারা, মক্কা মুকাররমা এবং জামে আজহারে তাদের নির্দিষ্ট ছাত্রাবাস রয়েছে। অতঃপর আল-জাবারতি বলেন: তাদের মধ্য থেকে অনেক বিজ্ঞ আলেম আবির্ভূত হয়েছেন, যেমন 'কানজ'-এর ব্যাখ্যাকার আজ-যাইলায়ী এবং আরও অনেকে। তিনি তাদের জীবনী বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি বলেন: হাফেজ মাকরিজির তাদের দেশের সংবাদ ও অবস্থার বিস্তারিত বিবরণ সম্বলিত একটি রচনা রয়েছে। শেখ আলাউদ্দিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বুখারীর 'আত-তিরাজুল মানকুশ ফি মাহাসিনিল হুবুশ' নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে। হাফেজ আব্দুর রহমান ইবনুল জাওযীর 'তানভীরুল গাবাশ ফি ফাদায়িলিস সুদান ওয়াল হাবাশ' নামক একটি কিতাব রয়েছে এবং জালালুদ্দিন সুয়ূতিরও 'রাফউ শানিল হুবশান' নামক একটি কিতাব রয়েছে। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) মুনাদামাতুল আতলাল ওয়া মুসামারাতুল খায়াল (পৃষ্ঠা: ২১)
هَذَا بِحَسب مَا كَانَت عَلَيْهِ من قبل وَأما مَا هِيَ عَلَيْهِ بِحَسب من جِهَة جغرافيتها فان تِلْكَ الأصقاع يُقَال لَهَا بِلَاد الصومال وَهِي بِلَاد وَاقعَة فِي الشرق الْأَقْصَى من إفريقية الشمالية بَين خليج عدن وَالْمُحِيط الْهِنْدِيّ تقَابل شبه جَزِيرَة الْعَرَب من الْجنُوب وَهِي هضبة بهَا جبال مُرْتَفعَة فِي الشمَال وُجُوهًا حَار جدا فِي النَّهَار وبارد جدا فِي اللَّيْل وَلَيْسَ للأمطار فِيهَا انتظام وأنهارها وقتية تستمد من الأمطار وتبلغ مساحتها سَبْعمِائة وَخمسين ألف كيلومتر مربع ويزرع فِيهَا البن واللبان بِكَثْرَة وتجارتها رائجة مَعَ الْحَبَشَة وبلاد الْيمن واهم صادراتها الصمغ واللبان وَرِيش النعام والعاج والجلود والبن وسكانها يقدرُونَ بثلاثمائة وَخمسين آلف نفس كلهم مُسلمُونَ حمر الْوُجُوه وهم قبيلتان فَفِي الشرق الصوماليون وَفِي الغرب قبائل الجالة وَالْفَرِيقَانِ فِي قتال مُسْتَمر لاتجمعهما إِلَّا كَرَاهَة الْأَجْنَبِيّ ومقاومة الْغَرِيب وَلم يتَمَكَّن الأوربيون من دُخُول الْبِلَاد لمقاومة أَهلهَا لَهُم فاحتلوا السواحل فاختصت إنكلترا بالسواحل الشمالية الَّتِي على خليج عدن وَبَين خليج تاجورا وبندر قَاسم وهواء هَذِه السواحل جيد

ويتولى إدارتها القنصل الإنكليزي الْمُقِيم فِي بربرة ويحافظ على سلطة الْحُكُومَة فِيهَا جنود هنود ضباطهم من الإنكليز وعاصمة هَذِه المستعمرة بربرة وَهِي مَدِينَة جَيِّدَة المَاء والهواء ذَات مرفأ أَمِين وَلها تِجَارَة مَعَ الْيمن والحبشة وَكَانَت تَابِعَة لحكومة شَرْقي السودَان الْمصْرِيّ قبل اسْتِيلَاء الإنكليز عَلَيْهَا واشهر مدنها زيلع وَهِي ميناء تجارية على خليج عدن وبلهار مثلهَا

وَأما شواطيء الْمُحِيط الْهِنْدِيّ فالنفوذ فِيهَا لإيطاليا واشهر المدن فِيهَا بروه مركه ومغدوش

ثمَّ إِن إنكلترا أَرَادَت بسط سلطتها على قبائل الصومال الداخلية كَمَا هِيَ عَادَتهَا ليقوى سلطانها هُنَاكَ وليقوى نفوذها فِي شَرْقي إفريقية فَأخذت ترسل وسواسها وتتبع طريقتها إِلَى أَن دخلت بِحجَّة مقاومة المنلا أحد رُؤَسَاء هَذِه الْقَبَائِل وَمَا زَالَت تتوسع فِي مطاردته وتحاوله وتطاوله إِلَى أَن تمّ لَهَا مَا أَرَادَت وحازت على مَا شَاءَت وَشاء لَهَا الْحَظ وهمجية السكان وتفرق الْكَلِمَة وتشعب الآراء وَالله يقْضِي مَا يُرِيد وَيفْعل مَا يَشَاء
এটি ছিল পূর্ববর্তী অবস্থা অনুযায়ী। আর ভৌগোলিক দিক থেকে বর্তমান অবস্থার কথা বলতে গেলে, এই অঞ্চলগুলোকে সোমালি দেশ বলা হয়। এটি উত্তর আফ্রিকার সুদূর পূর্বে এডেন উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত একটি দেশ। এটি দক্ষিণ দিক থেকে আরব উপদ্বীপের মুখোমুখি। এটি একটি মালভূমি অঞ্চল যেখানে উত্তর দিকে উঁচু পাহাড় রয়েছে। দিনের বেলা আবহাওয়া অত্যন্ত উষ্ণ এবং রাতে অত্যন্ত ঠান্ডা থাকে। সেখানে বৃষ্টির কোনো নিয়মিততা নেই। নদীগুলো সাময়িক, যা বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভরশীল। এর আয়তন সাত লক্ষ পঞ্চাশ হাজার বর্গকিলোমিটার। সেখানে প্রচুর পরিমাণে কফি ও লোবান চাষ করা হয়। হাবশা ও ইয়েমেনের সাথে এর বাণিজ্য রমরমা। প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে আঠা, লোবান, উটপাখির পালক, হাতির দাঁত, চামড়া ও কফি। এর জনসংখ্যা প্রায় তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার বলে অনুমান করা হয়, যাদের সবাই মুসলিম এবং লালচে বর্ণের। তারা দুটি প্রধান গোত্র: পূর্ব দিকে সোমালিরা এবং পশ্চিম দিকে গালা গোত্রসমূহ। এই দুই দল নিরন্তর দ্বন্দ্বে লিপ্ত থাকে, কেবল বিদেশিদের প্রতি ঘৃণা এবং বহিরাগতদের প্রতিরোধের ক্ষেত্রেই তারা ঐক্যবদ্ধ হয়। স্থানীয়দের প্রতিরোধের কারণে ইউরোপীয়রা দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেনি, তাই তারা উপকূলীয় এলাকাগুলো দখল করে নেয়। ব্রিটেন উত্তর উপকূলের এডেন উপসাগরীয় অংশ এবং তাজুরা উপসাগর ও বন্দর কাসিমের মধ্যবর্তী এলাকাটি নিজের অধিকারে নেয়। এই উপকূলের আবহাওয়া চমৎকার।

এর প্রশাসন বারবেরায় অবস্থানরত ব্রিটিশ কনসাল পরিচালনা করেন এবং সেখানে সরকারি কর্তৃত্ব বজায় রাখে ভারতীয় সৈন্যরা, যাদের অফিসাররা ব্রিটিশ। এই উপনিবেশের রাজধানী বারবেরা। এটি চমৎকার পানি ও আবহাওয়ার একটি শহর এবং একটি নিরাপদ বন্দরের অধিকারী। ইয়েমেন ও হাবশার সাথে এর বাণিজ্যিক লেনদেন রয়েছে। ব্রিটিশদের দখলের আগে এটি মিশরীয় পূর্ব সুদান সরকারের অধীনস্থ ছিল। এর বিখ্যাত শহরগুলোর মধ্যে জাইলা অন্যতম, যা এডেন উপসাগরের তীরে একটি বাণিজ্যিক বন্দর; বুলহারও অনুরূপ।

আর ভারত মহাসাগরের উপকূলীয় অঞ্চলে ইতালির প্রভাব বিদ্যমান। সেখানকার বিখ্যাত শহরগুলোর মধ্যে বারওয়া, মার্কা ও মোগাদিশু অন্যতম।

অতঃপর ব্রিটেন তার চিরচেনা রীতি অনুযায়ী সোমালিয়ার অভ্যন্তরীণ গোত্রগুলোর ওপর নিজের কর্তৃত্ব বিস্তার করতে চাইল, যাতে সেখানে তার শাসন সুসংহত হয় এবং পূর্ব আফ্রিকায় তার প্রভাব শক্তিশালী হয়। ফলে সে কুমন্ত্রণা ও তার চিরাচরিত কূটকৌশল প্রয়োগ করতে শুরু করল, যতক্ষণ না সে এই গোত্রগুলোর জনৈক নেতা 'মোল্লা'র প্রতিরোধের অজুহাতে সেখানে প্রবেশ করল। সে ক্রমাগত তাকে তাড়া করে চলল এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন কৌশল ও দীর্ঘসূত্রিতা অবলম্বন করল, যতক্ষণ না সে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করল এবং যা চেয়েছিল তা লাভ করল। এতে তার অনুকূলে কাজ করেছে ভাগ্য, স্থানীয়দের অনভিজ্ঞতা, অনৈক্য এবং মতের ভিন্নতা। আর আল্লাহ যা ইচ্ছা ফয়সালা করেন এবং যা চান তা-ই করেন।
(খণ্ড: ১) মুনাদামাতুল আতলাল ওয়া মুসামারাতুল খায়াল (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌دَار الْقُرْآن الوجيهية

 

كَانَت قبلي الْمدرسَة العصرونية والمسرورية وَغَرْبِيٌّ الصمصامية الَّتِي كَانَت شمَالي الخاتونية الَّتِي زقاقها يسْلك مِنْهُ إِلَى البيمارستان النوري والى ذَلِك الزقاق يفتح بَابهَا

هَذَا مَا حَكَاهُ النعيمي وَتَبعهُ العلموي والبقاعي ولعلها كَانَت مَوْجُودَة فِي زمنهم وَأما فِي زمننا فَلَا رسم لَهَا وَلَا اثر وسأفصل موضعهَا وَأَقُول

انك إِذا وقفت على درج بَاب الْبَرِيد ثمَّ سرت مغربا فانك لَا تسير قَلِيلا حَتَّى ترى عَن يَمِينك مبدأ سوق العصرونية فَإِذا دخلت وسرت إِلَى نَحْو من نصفه كَانَت الْمدرسَة العصرونية عَن يَمِينك ثمَّ بعْدهَا إِلَى الغرب الخاتونية الصُّغْرَى وإمامها فِي الْجِهَة الشمالية العادلية الصُّغْرَى وَبعدهَا إِلَى الغرب دَار الحَدِيث الأشرفية وَسَيَأْتِي الْكَلَام على هَذِه الْمدَارِس فِي محالها إِن شَاءَ الله تَعَالَى ثمَّ إِذا خلصت من السُّوق وجدت القلعة أمامك فَإِذا اتجهت إِلَى الْجنُوب وسرت إِلَى طَرِيق البيمارستان النوري لم يكن هُنَالك مدارس أبدا وَلم تَجِد إِلَّا البيمارستان وبجانبه بَاب وَله اسكفة من الْحجر مَكْتُوب عَلَيْهِ مَا يدل على انه بَاب الْمدرسَة الخاتونية لَكِنَّهَا صَارَت الْآن دَارا للسُّكْنَى واخبرني بعض الثِّقَات انه كَانَ يعرف زقاقا بِجَانِب العصرونية الجنوبي وَفِي آخِره دَار على هَيْئَة مدرسة فَلَمَّا فتحت سوق الحميدية ادخل هَذَا الْبناء فِي السُّوق وَلم يبْق لَهُ رسم وَلَا طلل وَمهما يكن فَإِنَّهَا إِمَّا أَن تكون قد صَارَت دورا للسُّكْنَى واخبرني بعض الثِّقَات انه كَانَ يعرف زقاقا بِجَانِب العصرونية الجنوبي وَفِي التَّنْصِيص على أَنَّهَا كَانَت أثرا فِي محلهَا وذخرا لواقفها

‌‌تَرْجَمَة واقفها

 

انشأ هَذِه الدَّار الشَّيْخ وجيه الدّين مُحَمَّد بن الإِمَام الرئيس شيخ الأكابر وَشَيخ الْحَنَابِلَة فِي وقته أَبُو الْمَعَالِي عُثْمَان بن المنجا التنوخي الدِّمَشْقِي ولد المترجم سنة ثَلَاثِينَ وسِتمِائَة وَتوفى سنة إِحْدَى وَسَبْعمائة وَكَانَ صَدرا مُحْتَرما دينا ذَا ثروة ومتاجر وبر وأوقاف انشأ دَار الْقُرْآن هَذِه ورباطا بالقدس وَكَانَ مُحدثا فَاضلا ولي نظارة
দারুল কুরআন আল-ওয়াজিহিয়্যাহ

 

এটি ছিল আসরুনিয়্যাহ ও মাসরুরিয়্যাহ মাদরাসার দক্ষিণে এবং সামসামিয়্যাহর পশ্চিমে, যা ছিল খাতুনিয়্যাহর উত্তরে। খাতুনিয়্যাহর গলিপথ দিয়ে নুরি হাসপাতালের (বিমারিস্তান) দিকে যাওয়া যেত এবং সেই গলিপথেই এর প্রবেশদ্বারটি উন্মুক্ত হতো।

এটি আল-নুআইমি বর্ণনা করেছেন এবং আল-ইলমাউয়ি ও আল-বিকাঈ তাকে অনুসরণ করেছেন। সম্ভবত তাদের যুগে এটি বিদ্যমান ছিল, তবে আমাদের সময়ে এর কোনো চিহ্ন বা অবশেষ নেই। আমি এর অবস্থান বিস্তারিত বর্ণনা করছি এবং বলছি:

আপনি যখন বাবুুল বারিদ-এর সিঁড়িতে দাঁড়াবেন, এরপর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হবেন, তখন অল্প দূর গেলেই আপনার ডানে আসরুনিয়্যাহ বাজারের শুরু দেখতে পাবেন। আপনি যদি ভেতরে প্রবেশ করেন এবং এর অর্ধেক পর্যন্ত অগ্রসর হন, তবে আপনার ডানে আসরুনিয়্যাহ মাদরাসা পড়বে। এরপর পশ্চিম দিকে খাতুনিয়্যাহ আস-সুগরা এবং উত্তর দিকে এর সম্মুখে আদিলিয়্যাহ আস-সুগরা অবস্থিত। এর আরও পশ্চিমে দারুল হাদিস আল-আশরাফিয়্যাহ। ইনশাআল্লাহ এই মাদরাসাগুলো নিয়ে পরবর্তী স্থানে আলোচনা আসবে। এরপর বাজার থেকে বের হলে আপনি সামনে দুর্গটি দেখতে পাবেন। এরপর আপনি যদি দক্ষিণ দিকে ঘুরে নুরি হাসপাতালের (বিমারিস্তান) রাস্তার দিকে অগ্রসর হন, সেখানে কোনো মাদরাসা খুঁজে পাবেন না। আপনি কেবল হাসপাতালটি পাবেন এবং এর পাশে একটি দরজা পাবেন, যার পাথরের চৌকাঠে এমন কিছু খোদাই করা রয়েছে যা নির্দেশ করে যে এটি খাতুনিয়্যাহ মাদরাসার দরজা। কিন্তু বর্তমানে এটি বসতবাড়িতে পরিণত হয়েছে। কয়েকজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি আমাকে জানিয়েছেন যে, তারা আসরুনিয়্যাহর দক্ষিণ পাশের একটি গলি চিনতেন যার শেষে মাদরাসার আদলে একটি বাড়ি ছিল। কিন্তু হামিদিইয়াহ বাজার খোলার সময় এই স্থাপনাটি বাজারের অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়া হয় এবং এর কোনো চিহ্ন বা অবশেষ অবশিষ্ট নেই। যাই হোক না কেন, এটি বর্তমানে হয়তো বসতবাড়িতে পরিণত হয়েছে—যেমনটি জনৈক বিশ্বস্ত ব্যক্তি আমাকে জানিয়েছেন যে তিনি আসরুনিয়্যাহর দক্ষিণ পাশের একটি গলিপথ চিনতেন—যাতে এটি স্বীয় অবস্থানে একটি নিদর্শন এবং এর ওয়াকিফ বা প্রতিষ্ঠাতার জন্য পরকালের সঞ্চয় হিসেবে পরিগণিত হয়।

প্রতিষ্ঠাতার জীবনী

 

এই প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণ করেছেন শায়খ ওয়াজিহ উদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে ইমাম আর-রাইস, শায়খুল আকাবির এবং সমকালীন হাম্বলিদের প্রধান আবুল মাআলি উসমান ইবনুল মানজা আত-তানুখি আদ-দিমাশকি। আলোচ্য ব্যক্তিত্ব ৬৩০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭০১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সম্মানিত এক শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব, ধর্মপ্রাণ, সম্পদশালী, ব্যবসায়ী এবং জনকল্যাণমূলক কাজ ও ওয়াকফের উদ্যোক্তা। তিনি এই দারুল কুরআন এবং বায়তুল মুকাদ্দাসে (জেরুজালেম) একটি রিবাত (মুসাফিরখানা) প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি একজন বিজ্ঞ মুহাদ্দিস ছিলেন এবং তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।
(খণ্ড: ১) মুনাদামাতুল আতলাল ওয়া মুসামারাতুল খায়াল (পৃষ্ঠা: ২৩)
الْجَامِع الْأمَوِي تَبَرعا وحسبة لله تَعَالَى ودرس بالمسمارية وَكَانَ مَعَ سَعَة ثروته مقتصدا بملبسه وَتوفى فِي تِلْكَ الدَّار الَّتِي أَنْشَأَهَا هَذَا كَلَام النعيمي فِي تَرْجَمته

وَقَالَ الشَّيْخ برهَان الدّين إِبْرَاهِيم بن مُفْلِح فِي كِتَابه الْمَقْصد الارشد فِي ذكر أَصْحَاب الإِمَام احْمَد فِي تَرْجَمَة الْوَاقِف

هُوَ مُحَمَّد بن عُثْمَان بن اِسْعَدْ بن المنجا الشَّيْخ الإِمَام صدر الرؤساء وجيه الدّين أَبُو الْمَعَالِي التنوخي حضر عَليّ ابْن اللتي وَابْن المقير ومكرم وَسمع من جَعْفَر الْهَمدَانِي والسخاوي وَكَانَ شَيخا عَالما فَاضلا كثير الْمَعْرُوف وَالصَّدقَات والتواضع وَله هَيْبَة وسطوة وجلالة درس بالمسمارية والصدرية ثمَّ تَركهمَا لوَلَده وَمَات فِي حَيَاته وَحدث روى عَنهُ جمَاعَة مَاتَ فِي شعْبَان سنة إِحْدَى وَسَبْعمائة انْتهى

وَرَأَيْت بِخَط الشَّيْخ عبد الباسط العلموي على هَامِش تَرْجَمَة جد الْوَاقِف اِسْعَدْ ابْن المنجا مَا صورته

هُوَ وَاقِف الوجيهية الَّتِي بِرَأْس بَاب الْبَرِيد وَهِي مدرسة قريبَة من الْمدرسَة الخاتونية الجوانية وَبهَا خلاوي كَثِيرَة وَلها وقف كثير فَأخذ واختلس اهـ

وَهُوَ خطأ وَالصَّحِيح أَن واقفها هُوَ المترجم لاجده كَمَا زعم العلموي على انه نَفسه قَالَ فِي مُخْتَصره أَن واقفها مُحَمَّد بن عُثْمَان ووفاته سنة سَبْعمِائة وَوَاحِدَة وجده اِسْعَدْ توفى كَمَا فِي طَبَقَات ابْن رَجَب سنة سِتّ وسِتمِائَة فَتنبه وَهَذَا آخر الْكَلَام على الدّور الَّتِي كَانَت مُخْتَصَّة بتعليم الْقُرْآن
উমাইয়া জামে মসজিদে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে স্বেচ্ছায় এবং সওয়াবের আশায় [শিক্ষা প্রদান করতেন] এবং মিসমারিয়া মাদরাসায় পাঠদান করতেন। প্রচুর ধন-সম্পদ থাকা সত্ত্বেও তিনি পোশাক-পরিচ্ছদে মিতব্যয়ী ছিলেন। তিনি তাঁর নিজের প্রতিষ্ঠিত সেই গৃহেই ইন্তেকাল করেন। এটি নুআইমীর বর্ণনায় তাঁর জীবনীতে উল্লিখিত হয়েছে।

শায়খ বুরহানুদ্দীন ইবরাহীম ইবন মুফলিহ তাঁর 'আল-মাকসাদুল আরশাদ ফী যিকরি আসহাবি ইমাম আহমাদ' গ্রন্থে দাতার জীবনীতে উল্লেখ করেছেন:

তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবন উসমান ইবন আসআদ ইবন আল-মুনাজ্জা, শায়খ, ইমাম, সদরুর রুআসা, ওয়াজিহুদ্দীন আবুল মাআলি আত-তানূখী। তিনি ইবনুল লাত্তী, ইবনুল মুকাইয়্যির এবং মাকরামের সান্নিধ্য লাভ করেন এবং জাফর আল-হামদানী ও সাখাভী থেকে শ্রবণ করেন। তিনি একজন আলিম ও ফযীলতপূর্ণ শায়খ ছিলেন, যিনি প্রচুর নেক আমল, দান-সদকা ও বিনয়ের অধিকারী ছিলেন। তাঁর প্রভাব, প্রতাপ ও গাম্ভীর্য ছিল। তিনি মিসমারিয়া ও সাদরিয়া মাদরাসায় পাঠদান করতেন, পরবর্তীতে তা তাঁর ছেলের জন্য ছেড়ে দেন, যে তাঁর জীবদ্দশাতেই মারা যায়। তিনি হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং একদল বর্ণনাকারী তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ৭০১ হিজরি সালের শাবান মাসে ইন্তেকাল করেন। (সমাপ্ত)

আমি শায়খ আবদুল বাসিত আল-আলমাভী-র হস্তলিপিতে দাতার দাদা আসআদ ইবন আল-মুনাজ্জার জীবনীর টীকায় নিম্নোক্ত বক্তব্যটি দেখেছি:

তিনি 'ওয়াজিহিয়া' মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা, যা বাবুল বারীদের প্রবেশমুখে অবস্থিত এবং এটি খাতুনিয়া জুওয়ানিয়া মাদরাসার নিকটবর্তী একটি মাদরাসা। এতে অনেক নির্জন কক্ষ ছিল এবং এর জন্য প্রচুর ওয়াকফ সম্পত্তি ছিল, যা কব্জা ও আত্মসাৎ করা হয়েছে। (সমাপ্ত)

এটি একটি ভুল তথ্য। সঠিক হলো, এর প্রতিষ্ঠাতা হলেন স্বয়ং এই জীবনীতে আলোচিত ব্যক্তি, আলমাভী যেমনটি দাবি করেছেন তাঁর দাদা নন। কারণ আলমাভী নিজেই তাঁর সংক্ষিপ্ত গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, এর প্রতিষ্ঠাতা হলেন মুহাম্মদ ইবন উসমান এবং তাঁর মৃত্যু ৭০১ হিজরি সনে। অথচ ইবন রজবের ‘তাবাকাত’ গ্রন্থে বর্ণিত তথ্য অনুযায়ী তাঁর দাদা আসআদ ৬০৬ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। অতএব বিষয়টি লক্ষ্য করুন। কুরআন শিক্ষার জন্য নির্ধারিত গৃহসমূহ সম্পর্কে আলোচনার এখানেই সমাপ্তি।
(খণ্ড: ১) মুনাদামাতুল আতলাল ওয়া মুসামারাতুল খায়াল (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌الْقسم الثَّانِي فِي دور الحَدِيث الشريف

 

‌‌حرف الْهمزَة

 

‌‌دَار الحَدِيث الأشرفية الأولى

 

عرف النعيمي وَغَيره محلهَا بِأَنَّهُ جوَار بَاب القلعة الشَّرْقِي غربي الْمدرسَة العصرونية وشمالي القيمازية الْحَنَفِيَّة انْتهى

أَقُول هِيَ الْآن مَشْهُورَة مَعْرُوفَة وَهِي فِي أَوَائِل سوق العصرونية من الْجَانِب الغربي وتعريفها الأول مَعْرُوف الْآن إِلَّا أَن القيمازية لم نر لَهَا أثرا والأشرفية جنوبي الطَّرِيق المخترق للسوق وَقد جدد لَهَا بَاب قنطرته من الْحجر الْمزي الْأَحْمَر وَالْأسود فَإِذا دخله الدَّاخِل أفْضى بِهِ إِلَى دهليز لطيف بجانبه الشَّرْقِي حجرَة ثمَّ يصل مِنْهُ إِلَى صحن لطيف فِي وَسطه بركَة مَاء وَفِي الْجَانِب الغربي مَوَاضِع الطَّهَارَة وحجرتان وَفِي القبلي مَسْجِد حسن الْبناء والوضع وَفِي الشَّرْقِي ثَلَاث حجرات وَفِي الشمالي سلم من الْحجر يصعد مِنْهُ إِلَى الطباق العلوية وَهِي ثَلَاث فِي الْجَانِب الغربي وَخمْس فِي الشَّرْقِي وَكَانَ سكني فِي غرفَة علوِيَّة من هَذِه الْمدرسَة أثْنَاء طلبي للْعلم فنلت بهَا من الانشراح والفتوح مَا يَجْعَلنِي حَامِد الله تَعَالَى وشاكرا لَهُ مُدَّة حَياتِي والفت بهَا بعض الْكتب وبجانبها الجنوبي دَار لَطِيفَة معدة لسكنى الْمدرس بهَا وَهُوَ الْآن الْعَالم الْفَاضِل الْمُحدث الصَّالح الشَّيْخ مُحَمَّد بدر الدّين ابْن الشَّيْخ يُوسُف بدر الدّين البيباني الشهير بالمغربي لَكِن تِلْكَ الدَّار قد أجرت لبَعض التُّجَّار وَجعلت محلا للتِّجَارَة وَفَوق شباك الْحُجْرَة الثَّانِيَة السفلية الشرقية مِنْهَا بلاطة طَوِيلَة محفور فِيهَا مَا صورته بعد الْبَسْمَلَة

مِمَّا أوقفهُ السُّلْطَان الْملك الْأَشْرَف أَبُو الْفَتْح مُوسَى ابْن الْملك الْعَادِل رحمه الله على هَذِه الدَّار الْمُبَارَكَة وَهُوَ ثلث قَرْيَة حزرما وقيسارية الْعُلُوّ بكمالها وَعشرَة حوانيت وفرنان واصطبل جوارها وحانوتان وحجرة جوَار كَنِيسَة مَرْيَم وَأَرْبع
দ্বিতীয় অংশ: সম্মানিত হাদিস কেন্দ্রসমূহের বর্ণনা

 

‌হরফ হামযাহ

 

‌প্রথম আশরাফিয়্যাহ দারুল হাদিস

 

নুআইমি এবং অন্যান্যরা এর অবস্থান চিহ্নিত করেছেন যে, এটি কেল্লার পূর্ব দরজার নিকটবর্তী, আসরুনিয়্যাহ মাদরাসার পশ্চিমে এবং হানাফী কায়মাযিয়্যাহ মাদরাসার উত্তরে অবস্থিত। সমাপ্ত।

আমি বলছি, এটি বর্তমানে সুপরিচিত ও বিখ্যাত এবং এটি আসরুনিয়্যাহ বাজারের শুরুতে পশ্চিম পার্শ্বে অবস্থিত। এর পূর্ববর্তী পরিচিতি এখনও সুপরিচিত, তবে কায়মাযিয়্যাহর কোনো চিহ্ন আমরা দেখতে পাইনি। আশরাফিয়্যাহ হলো বাজার অতিক্রমকারী রাস্তার দক্ষিণ দিকে অবস্থিত। এর জন্য লাল ও কালো ‘মাযযি’ পাথর দিয়ে একটি খিলানবিশিষ্ট প্রবেশপথ নতুনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। যখন কোনো প্রবেশকারী এতে প্রবেশ করে, তখন তা তাকে একটি সুন্দর বারান্দার দিকে নিয়ে যায়, যার পূর্ব পাশে একটি কক্ষ রয়েছে। এরপর সেখান থেকে একটি চমৎকার উঠানে পৌঁছানো যায় যার মাঝখানে একটি পানির হাউজ রয়েছে। পশ্চিম পাশে অজুুুুুুখানা ও দুটি কক্ষ রয়েছে। দক্ষিণ পাশে সুন্দর নির্মাণশৈলী ও বিন্যাসের একটি মসজিদ রয়েছে। পূর্ব পাশে তিনটি কক্ষ এবং উত্তর পাশে পাথরের সিঁড়ি রয়েছে যা দিয়ে উপরের তলাগুলোতে আরোহণ করা যায়। উপরের তলায় পশ্চিম পাশে তিনটি এবং পূর্ব পাশে পাঁচটি কক্ষ রয়েছে। ইলম অর্জনকালে এই মাদরাসার একটি উপরের কক্ষে আমার আবাসন ছিল। সেখানে আমি এমন মানসিক প্রশান্তি ও ইলমের দ্বার উন্মোচন লাভ করেছি, যা আমাকে সারা জীবন মহান আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারী করে রাখবে। সেখানে আমি কিছু কিতাব রচনা করেছি। এর দক্ষিণ পাশে শিক্ষকের বসবাসের জন্য একটি সুন্দর বাড়ি নির্ধারিত রয়েছে। বর্তমানে সেখানে অবস্থান করছেন গুণী আলেম, সৎকর্মপরায়ণ মুহাদ্দিস শায়খ মুহাম্মদ বদরুদ্দীন বিন শায়খ ইউসুফ বদরুদ্দীন আল-বিবানী, যিনি আল-মাগরিবী নামে প্রসিদ্ধ। কিন্তু সেই বাড়িটি বর্তমানে কিছু ব্যবসায়ীর কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছে এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছে। এর নিচতলার পূর্বদিকের দ্বিতীয় কক্ষের জানালার উপরে একটি লম্বা পাথরের ফলক রয়েছে যাতে বিসমিল্লাহর পর যা খোদাই করা আছে তার সারমর্ম হলো:

সুলতান আল-মালিকুল আশরাফ আবুল ফাতহ মূসা ইবনুল মালিকুল আদিল (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এই বরকতময় গৃহের জন্য যা ওয়াকফ করেছেন তা থেকে: হাযরামা গ্রামের এক-তৃতীয়াংশ, সম্পূর্ণ উচ্চ কায়সারিয়্যাহ, দশটি দোকান, দুটি রুটি তৈরির চুলা এবং এর নিকটবর্তী একটি আস্তবল, দুটি দোকান, মারিয়াম গির্জার নিকটবর্তী একটি কক্ষ এবং চারটি...
(খণ্ড: ১) মুনাদামাতুল আতলাল ওয়া মুসামারাতুল খায়াল (পৃষ্ঠা: ২৫)
حصص فِي أَرْبَعَة حوانيت بِبَاب الْبَرِيد وحصتان فِي حانوتين فِي الجزيرة وَحِصَّة فِي حَانُوت الحدادين

هَذَا مَا قرأته على البلاطة الْمَذْكُورَة

قَالَ ابْن كثير فِي تَارِيخه كَانَت هَذِه الْمدرسَة لصارم الدّين قايماز بن عبد الله النجمي وَاقِف القايمازية وَله بهَا حمام فَاشْترى ذَلِك الْملك الاشرف مظفر الدّين مُوسَى ابْن الْعَادِل وبناها دَار حَدِيث وَخرب الْحمام وبناه سكنا للشَّيْخ الْمدرس وَأتم بناءها فِي سنتَيْن وَجعل شيخها الشَّيْخ تَقِيّ الدّين ابْن الصّلاح ووقف عَلَيْهَا الْأَوْقَاف وَكَانَ بهَا نعل النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَاشْترط فِي الشَّيْخ أَن تَجْتَمِع فِيهِ الرِّوَايَة والدراية اهـ

وَكَانَ بناؤها سنة ثَمَان وَعشْرين وسِتمِائَة وَقَالَ الْحَافِظ ابْن كثير فِي طبقاته

وَفتحت سنة ثَلَاثِينَ وسِتمِائَة لَيْلَة نصف شعْبَان وأملى بهَا الشَّيْخ تَقِيّ الدّين ابْن الصّلاح الحَدِيث وَبهَا نعل النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَكَانَ عِنْد الإِمَام نظام الدّين أبي الْعَبَّاس احْمَد بن عُثْمَان بن أبي الْحَدِيد السّلمِيّ مولده بِدِمَشْق سنة سِتِّينَ وَخَمْسمِائة وَكَانَ وَرثهُ من آبَائِهِ وَكَانَ الاشرف يقربهُ ويجله لأَجله ويؤمل أَن يَشْتَرِيهِ مِنْهُ ويضعه فِي مَكَان ليزار فَلم يسمح بذلك وسمح بِأَن يقطع لَهُ قِطْعَة مِنْهُ فَامْتنعَ الْأَشْرَف حذرا من التطرق إِلَى إعدامه ثمَّ اقطعه الاشرف وَقدر لَهُ مَعْلُوما فاستمر كَذَلِك إِلَى أَن توفى وَأوصى بالنعل للاشرف فأقره بدار الحَدِيث الاشرفية وَيُقَال انه كَانَ الفردة الْيُسْرَى وان الفردة الْيُمْنَى كَانَت بِالْمَدْرَسَةِ الدماغية وَلم تزل إِلَى زمن تيمور فَلَمَّا دخل دمشق أخذهما وَفِي كتاب الْفَتَاوَى الْكُبْرَى للسبكي مَا صورته

وقف دَار الحَدِيث الأشرفية مُخْتَصرا هَذَا مَا وَقفه السُّلْطَان الْملك الْأَشْرَف أَبُو الْفَتْح مُوسَى ابْن الْعَادِل أبي بكر مُحَمَّد بن أَيُّوب بن شادي جَمِيع مَا يَأْتِي ذكره فَمِنْهُ الدَّار وَمِنْه جَمِيع الحانوتين من شَرق بَابهَا وَجَمِيع الْحَانُوت من غرب الشباك وَجَمِيع الْحُجْرَة من غرب مَا يَأْتِي ذكره وَمِنْه جَمِيع القيسارية السّفل والعلو وَجَمِيع الساباط قبالتها وَدَار أَيْضا وَمِنْه ثلث حزرما وَقفا مُؤَبَّدًا فالدار دَار حَدِيث وَأما جَمِيع الْعقار فموقوف على مصَالح هَذِه الدَّار وعَلى أَهلهَا

يبْدَأ النَّاظر فِي هَذِه الْأَمَاكِن بعمارة الدَّار وَعمارَة مَا هُوَ مَوْقُوف عَلَيْهَا وعَلى
বাব আল-বারীদের চারটি দোকানের অংশবিশেষ, জাযিরাহর দুটি দোকানের দুটি অংশ এবং কামারপট্টির (হাদ্দাদীন) একটি দোকানের একটি অংশ।

উক্ত শিলালিপিতে আমি যা পাঠ করেছি তা নিম্নরূপ।

ইবনে কাসীর তাঁর ইতিহাসে বলেন: এই মাদ্রাসাটি কায়মাযিয়াহর ওয়াকিফ সারিমুদ্দীন কায়মায বিন আব্দুল্লাহ আন-নাজমির মালিকানাধীন ছিল এবং সেখানে তাঁর একটি হাম্মামখানা (গোসলখানা) ছিল। অতঃপর আল-মালিকুল আশরাফ মুযাফফরুদ্দীন মূসা ইবনুল আদিল তা ক্রয় করেন এবং এটিকে দারুল হাদীস হিসেবে নির্মাণ করেন। তিনি হাম্মামখানাটি ভেঙে ফেলেন এবং সেখানে মুদাররিস শাইখের জন্য একটি বাসস্থান নির্মাণ করেন। তিনি দুই বছরে এর নির্মাণকাজ সমাপ্ত করেন এবং শাইখ তাকীউদ্দীন ইবনুস সালাহকে এর শাইখ নিযুক্ত করেন। তিনি এর জন্য নানাবিধ ওয়াকফ নির্ধারণ করেন। সেখানে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাদুকা মোবারক সংরক্ষিত ছিল। তিনি শাইখের জন্য এই শর্তারোপ করেন যে, তাঁকে রেওয়ায়াত এবং দেরায়াত (বর্ণনা ও অনুধাবন) উভয় শাস্ত্রে পারদর্শী হতে হবে। সমাপ্ত।

এর নির্মাণকাজ ৬২৮ হিজরীতে সম্পন্ন হয়েছিল। হাফেজ ইবনে কাসীর তাঁর 'তাবাকাত' গ্রন্থে বলেন:

এটি ৬৩০ হিজরীর শাবান মাসের পনেরো তারিখের রাতে উদ্বোধন করা হয় এবং শাইখ তাকীউদ্দীন ইবনুস সালাহ সেখানে হাদীস পাঠদান করেন। সেখানে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাদুকা মোবারক ছিল। এটি ইমাম নিযামুদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ বিন উসমান বিন আবিল হাদীদ আস-সুলামীর কাছে ছিল, যাঁর জন্ম ৫৬০ হিজরীতে দামেশকে। তিনি এটি তাঁর পূর্বপুরুষদের থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিলেন। আল-আশরাফ এই পাদুকার খাতিরে তাঁকে নিজের নিকটবর্তী করতেন এবং সম্মান প্রদর্শন করতেন। তিনি আশা করতেন যে, এটি তাঁর কাছ থেকে কিনে নেবেন এবং যিয়ারতের জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্থানে রাখবেন। কিন্তু তিনি (সুলামী) তাতে রাজি হননি, তবে তার একটি অংশ কেটে দেওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন। আল-আশরাফ এটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাতে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীতে আল-আশরাফ তাঁকে একটি জায়গির প্রদান করেন এবং তাঁর জন্য নির্দিষ্ট ভাতা নির্ধারণ করেন। তিনি মৃত্যু পর্যন্ত এভাবেই ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি পাদুকাটি আল-আশরাফের জন্য অসিয়ত করে যান এবং তিনি তা দারুল হাদীস আল-আশরাফিয়্যাহতে স্থাপন করেন। বলা হয়ে থাকে যে, এটি ছিল বাম পায়ের পাদুকা এবং ডান পায়ের পাদুকাটি ছিল দামাগিয়া মাদ্রাসায়। তৈমুর লঙের সময় পর্যন্ত এগুলো সেখানেই ছিল। যখন তিনি দামেশক জয় করেন, তখন তিনি উভয়টি নিয়ে যান। সুবকীর 'ফাতাওয়া আল-কুবরা' গ্রন্থে এর বিবরণ এভাবে এসেছে:

দারুল হাদীস আল-আশরাফিয়্যাহর ওয়াকফনামার সংক্ষিপ্তসার: সুলতান আল-মালিকুল আশরাফ আবুল ফাতাহ মূসা ইবনুল আদিল আবু বকর মুহাম্মদ বিন আইয়ুব বিন শাদী যা কিছু ওয়াকফ করেছেন তা হলো: উক্ত ভবনটি, এর দরজার পূর্ব দিকে অবস্থিত দুটি দোকান, জানালার পশ্চিম দিকের পূর্ণ দোকানটি, নিচে উল্লিখিত অংশের পশ্চিম দিকে অবস্থিত পূর্ণ কক্ষটি, কায়সারিয়াহর (মার্কেট) ঊর্ধ্ব ও নিম্ন তলার অংশ এবং এর সম্মুখস্থ সাবাত (ছাদযুক্ত পথ) এবং আরেকটি বাড়ি। এছাড়া হাযরামাহর এক-তৃতীয়াংশ চিরস্থায়ী ওয়াকফ হিসেবে দান করেন। এই ভবনটি দারুল হাদীস হিসেবে গণ্য হবে এবং অবশিষ্ট স্থাবর সম্পত্তি এই প্রতিষ্ঠানের এবং এর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কল্যাণে ব্যবহৃত হবে।

এসব সম্পত্তির তত্ত্বাবধায়ক প্রথমে এই ভবনের সংস্কার এবং এর জন্য যা কিছু ওয়াকফ করা হয়েছে তার রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু করবেন এবং...
(খণ্ড: ১) মুনাদামাতুল আতলাল ওয়া মুসামারাতুল খায়াল (পৃষ্ঠা: ২৬)
أَهلهَا قدر الْحَاجة إِلَيْهِ من زَيْت وشمع وقناديل ومصابيح وتعاليق وَحصر وَبسط برسم الْمَسْجِد وَسَائِر مَا لَا يخْتَص أحد بسكناه من سفل الدَّار وَمَا يحْتَاج إِلَيْهِ من الة تنظيف وكنس وَنَحْو ذَلِك وَمَا تَدْعُو الْحَاجة إِلَيْهِ من تَقْوِيَة فلاح وإقراضه وَشِرَاء دَوَاب وآلات

ويتعاهد كتب الْوَقْف وحججه بالإثبات وَيصرف فِي ذَلِك من فعل الْوَقْف مِقْدَار الْحَاجة وَله أَن يصرف من فعل بعض الْأَمَاكِن الْمَوْقُوفَة فِي عمَارَة مَكَان آخر مِنْهَا مِمَّا وقف الْآن وَمِمَّا سيوقف إِن شَاءَ الله تَعَالَى

وَمَا فضل بعد ذَلِك كَانَ مصروفا إِلَى أهل الدَّار من أَصْحَاب الحَدِيث والمشتغلين بِعِلْمِهِ والسامعين لَهُ والقراء للسبع وَالشَّيْخ الْمُحدث وَالْإِمَام وَسَائِر المرتبين بِالْمَكَانِ المتعلقين بِهِ على مَا سَيَأْتِي شَرحه

فَمِنْهُ مَا هُوَ مَصْرُوف إِلَى الإِمَام سِتُّونَ درهما عَن كل شهر فَفِي السّنة سَبْعمِائة وَعِشْرُونَ وَعَلِيهِ الْقيام بوظيفة الْإِمَامَة فِي الْخمس وَفِي التَّرَاوِيح وَعَلِيهِ عقد حَلقَة الإقراء والتلقين وَشَرطه فِي هَذَا أَن يكون حَافِظًا للقراءات السَّبع عَارِفًا بهَا وللشيخ النَّاظر أَن يَجْعَل حَلقَة الإقراء إِلَى شخص غير الإِمَام ويوزع الْمِقْدَار الْمَذْكُور عَلَيْهِمَا على حسب مَا يرى فِيهِ الْمصلحَة

وَيصرف إِلَى الشَّيْخ الْمُحدث فِي كل شهر تسعون درهما وَهُوَ أَبُو عَمْرو بن الصّلاح ولنسله خَمْسُونَ درهما إِلَى أَن ينقرض أخرهم

وَيصرف إِلَى أَوْلَاد الشَّيْخ أبي مُوسَى ونسله كل شهر سِتُّونَ درهما وَلَهُم أَو لمن شَاءَ مِنْهُم سُكْنى الْحُجْرَة الَّتِي من شمَالي الدَّار وَيصرف إِلَى خَادِم الْأَثر الشريف النَّبَوِيّ وَهُوَ الْحَاج ريطار واسْمه غُلَام الله فِي كل شهر أَرْبَعُونَ درهما وتجرى بعده على نَسْله فَإِذا انقرضوا عَاد ذَلِك إِلَى سَائِر مصارف الْوَقْف وجهاته وَيجْعَل شيخ الْمَكَان بعد انقراضهم خدمَة الْأَثر إِلَى من شَاءَ وَيجْعَل لَهُ مَا يرَاهُ والمصروف إِلَى هَؤُلَاءِ الثَّلَاثَة وهم أَوْلَاد أبي مُوسَى وعقبه وعقب ابْن الصّلاح وعقب ريطار من فعل مَا سوى الثُّلُث الْمعِين من حزرما لكَوْنهم لم يذكرُوا حَالَة إنْشَاء هَذِه الْمدرسَة

وَيصرف فِي كل شهر مائَة دِرْهَم إِلَى عشرَة انفس من قراء السَّبع لكل وَاحِد عشرَة وَيصرف إِلَى قَارِئ أَرْبَعَة وَعِشْرُونَ درهما كل شهر
এর অধিবাসীদের প্রয়োজন অনুপাতে তেল, মোমবাতি, প্রদীপ, লণ্ঠন, ঝাড়লণ্ঠন, মাদুর এবং গালিচা মসজিদের ব্যবহারের জন্য এবং বাড়ির নিচের তলার এমন সকল অংশ যা কারো ব্যক্তিগত বসবাসের জন্য নির্দিষ্ট নয়, তার জন্য প্রদান করা হবে। এছাড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ঝাড়ু দেওয়ার সরঞ্জাম এবং এ জাতীয় যা কিছু প্রয়োজন তা সরবরাহ করা হবে। কৃষকদের সামর্থ্য বৃদ্ধি, তাদের ঋণ প্রদান এবং গবাদি পশু ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য যা প্রয়োজন তাও প্রদান করা হবে।

ওয়াকফনামার দলিলসমূহ ও এর প্রমাণাদি সংরক্ষণের মাধ্যমে তদারকি করা হবে এবং সে বাবদ ওয়াকফকৃত সম্পদ থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যয় করা হবে। মুতাওয়াল্লির জন্য ওয়াকফকৃত কোনো স্থানের আয় থেকে অন্য কোনো ওয়াকফকৃত স্থানের নির্মাণ বা সংস্কার কাজে ব্যয় করার অধিকার থাকবে, যা বর্তমানে ওয়াকফ করা হয়েছে অথবা ভবিষ্যতে ওয়াকফ করা হবে, ইনশাআল্লাহ তায়ালা।

এরপর যা অবশিষ্ট থাকবে, তা এই স্থানের অধিবাসী ইলমে হাদিসের পণ্ডিতবৃন্দ, হাদিস চর্চায় নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ, হাদিস শ্রবণকারী, সাত ক্বিরাআতের ক্বারীগণ, শায়খুল মুহাদ্দিস, ইমাম এবং এই স্থানের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সকল দায়িত্বশীলদের জন্য ব্যয় করা হবে, যার বিস্তারিত ব্যাখ্যা সামনে আসছে।

এর মধ্য থেকে প্রতি মাসে ইমামের জন্য ষাট দিরহাম নির্ধারিত, অর্থাৎ বছরে সাতশ বিশ দিরহাম। তার দায়িত্ব হলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এবং তারাবির ইমামতি করা। এছাড়া তাকে ক্বিরাআত ও তিলওয়াত শিক্ষার মজলিস পরিচালনা করতে হবে। এক্ষেত্রে শর্ত হলো, তাকে সাত ক্বিরাআতের হাফেজ এবং এ বিষয়ে অভিজ্ঞ হতে হবে। মুতাওয়াল্লি শায়খের অধিকার থাকবে ক্বিরাআতের মজলিস পরিচালনার দায়িত্ব ইমাম ব্যতীত অন্য কাউকে প্রদান করার এবং উক্ত নির্ধারিত অর্থ তাদের উভয়ের মধ্যে মাসলাহাত বা উপযোগিতা অনুযায়ী বণ্টন করে দেওয়ার।

শায়খুল মুহাদ্দিস—যিনি হলেন আবু আমর ইবনুস সালাহ—তাঁর জন্য প্রতি মাসে নব্বই দিরহাম এবং তাঁর বংশধরদের জন্য পঞ্চাশ দিরহাম ব্যয় করা হবে, যতক্ষণ না তাদের শেষ বংশধর পর্যন্ত সমাপ্ত হয়।

শায়খ আবু মুসার সন্তান ও বংশধরদের জন্য প্রতি মাসে ষাট দিরহাম ব্যয় করা হবে। তাদের জন্য অথবা তাদের মধ্য থেকে যে ইচ্ছুক তার জন্য বাড়ির উত্তর দিকের কামরায় বসবাসের অধিকার থাকবে। পবিত্র নববী নিদর্শন বা আছারের খাদেম—যিনি হাজী রিতার এবং তাঁর নাম গোলামুল্লাহ—তাঁর জন্য প্রতি মাসে চল্লিশ দিরহাম ব্যয় করা হবে এবং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর বংশধরদের জন্য তা জারি থাকবে। তারা নির্বংশ হয়ে গেলে এই অর্থ ওয়াকফের অন্যান্য খাতে ব্যয় করা হবে। তাদের অবর্তমানে উক্ত স্থানের শায়খ যাকে ইচ্ছা আছারের খিদমতের দায়িত্ব দেবেন এবং তার জন্য যথাযথ পারিশ্রমিক নির্ধারণ করবেন। এই তিন পক্ষ—অর্থাৎ আবু মুসার সন্তান ও বংশধর, ইবনুস সালাহর বংশধর এবং রিতার-এর বংশধর—তাদের জন্য ব্যয় করা হবে ‘হাযরমা’র নির্ধারিত এক-তৃতীয়াংশ ব্যতীত অন্য আয় থেকে; যেহেতু এই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার সময় তাদের কথা উল্লেখ করা হয়নি।

সাত ক্বিরাআতের দশজন ক্বারীর জন্য প্রতি মাসে একশ দিরহাম ব্যয় করা হবে, প্রত্যেকের জন্য দশ দিরহাম করে। এছাড়া একজন ক্বারীর জন্য প্রতি মাসে চব্বিশ দিরহাম ব্যয় করা হবে।
(খণ্ড: ১) মুনাদামাতুল আতলাল ওয়া মুসামারাতুল খায়াল (পৃষ্ঠা: ২৭)
وَيصرف إِلَى خَازِن الْكتب ثَمَانِيَة عشر درهما فِي كل شهر وَعَلِيهِ الاهتمام بترميم الْكتب وإعلام النَّاظر أَو نَائِبه ليصرف فِيهِ من مغل الْوَقْف مَا يَفِي بذلك وَكَذَا إِذا مست الْحَاجة إِلَى تَصْحِيح كتاب ومقابلته

وَيصرف إِلَى شخص يكون مُرَتبا ونقيبا ثَمَانِيَة عشر درهما وللشيخ أَن يضم إِلَيْهِ فِي بعض ذَلِك شخصا من الْجَمَاعَة ويزيده على ذَلِك شَيْئا على مَا يرَاهُ

وللمؤذن فِي كل شهر عشرُون درهما وللبواب خَمْسَة عشر درهما

وَيصرف إِلَى قيمين ثَلَاثُونَ درهما وللشيخ النَّاظر أَن يفاوت بَينهمَا على حسب عملهما وان وَقع الِاسْتِغْنَاء بِوَاحِد اقْتصر عَلَيْهِ وَصرف إِلَيْهِ بعض ذَلِك على مَا يَقْتَضِيهِ حَاله

وَيصرف كل سنة آلفان من الدَّرَاهِم من مغل ثلث حزرما فِي مصَالح النورية والقائمين بمصالحها والمشتغلين بِالْحَدِيثِ من أَهلهَا على مَا يَقْتَضِيهِ رَأْي الْوَاقِف أَو من يفْرض ذَلِك إِلَيْهِ

وَيصرف فِي شِرَاء أوراق وآلات النّسخ من حبر وَأَقْلَام وَنَحْو ذَلِك من أدوات الْكِتَابَة مِمَّا تقع بِهِ الْكِفَايَة لمن ينْسَخ فِي الإيوان الْكَبِير أَو قبالته الحَدِيث أَو شَيْئا من علومه أَو الْقُرْآن الْعَظِيم أَو تَفْسِيره وَيصرف إِلَى من يكْتب فِي مجَالِس الاملاء والى من يتَّخذ لنَفسِهِ كتبا أَو استجازة وَلَا يعْطى من ذَلِك إِلَّا لمن ينْسَخ لنَفسِهِ لغَرَض الاستفادة والتحصيل دون التكسب وَالِانْتِفَاع بِثمنِهِ

وَمَا فضل عَن الْأَصْنَاف الْمَذْكُورين والجهات الْمَذْكُورَة إِلَى تَمام آلف ومائتي دِرْهَم يصرف إِلَى المشتغلين بِالْحَدِيثِ والسامعين لَهُ فَيجْعَل لكل من المشتغلين ثَمَانِيَة دَرَاهِم وَمن زَاد اشْتِغَاله زَاده وَمن نقص نَقصه وَيجْعَل لكل من السامعين أَرْبَعَة أَو ثَلَاثَة وَمن ترجح مِنْهُم زَاده وَمن كَانَ فِيهِ نباهة جَازَ إِلْحَاقه بالثمانية وَمن حفظ كتابا من كتب الحَدِيث فللشيخ أَن يَخُصُّهُ بجائزة وَمن انْقَطع مِنْهُم إِلَى الِاشْتِغَال بِالْحَدِيثِ وَكَانَ ذَا أَهْلِيَّة يُرْجَى مَعهَا أَن يصير من أهل الْمعرفَة فللشيخ أَن يوظف لَهُ تَمام كِفَايَة أَمْثَاله بِالْمَعْرُوفِ وَإِذا ورد شيخ لَهُ علو سَماع يرحل إِلَى مثله فَلهُ أَن ينزل بدار الحَدِيث وَيُعْطى كل يَوْم دِرْهَمَيْنِ فَإِذا فرغ أعطي ثَلَاثِينَ دِينَارا كل دِينَار بسبعة دَرَاهِم هَذَا إِذا ورد من غير الشَّام فَإِذا كَانَ مِمَّن هُوَ مُقيم بِالشَّام كَانَ لَهُ دون ذَلِك على مَا يرَاهُ
গ্রন্থাগারিককে প্রতি মাসে আঠারো দিরহাম প্রদান করা হবে। কিতাবসমূহ মেরামত করার ব্যাপারে যত্ন নেওয়া এবং নাজির বা তাঁর প্রতিনিধিকে অবহিত করা তাঁর দায়িত্ব, যাতে ওয়াকফকৃত সম্পদের আয় থেকে প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করা যায়। অনুরূপভাবে যদি কোনো কিতাব সংশোধন ও মূল কপির সাথে মিলিয়ে দেখার প্রয়োজন হয়, তবে তাও করতে হবে।

সুবিন্যস্তকারী ও নকিবের দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিকে আঠারো দিরহাম প্রদান করা হবে। শায়খের অধিকার থাকবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে জামাতের কোনো ব্যক্তিকে তাঁর সাথে যুক্ত করার এবং তাঁর বিবেচনানুযায়ী এই পারিশ্রমিকের অতিরিক্ত কিছু বৃদ্ধি করার।

মুয়াজ্জিনের জন্য প্রতি মাসে বিশ দিরহাম এবং দারোয়ানের জন্য পনেরো দিরহাম বরাদ্দ থাকবে।

দুজন তত্ত্বাবধায়ককে ত্রিশ দিরহাম প্রদান করা হবে। শায়খ-নাজির তাঁদের কাজের পরিমাণ অনুযায়ী তাঁদের পারিশ্রমিকের মধ্যে তারতম্য করতে পারবেন। আর যদি একজনের মাধ্যমেই প্রয়োজন পূর্ণ হয়ে যায়, তবে একজনের উপরেই সীমাবদ্ধ থাকা হবে এবং তাঁর অবস্থা বিবেচনা করে পারিশ্রমিকের একাংশ তাঁকে প্রদান করা হবে।

হাযরামার এক-তৃতীয়াংশ জমির উৎপাদন থেকে প্রতি বছর দুই হাজার দিরহাম নূরিয়া মাদরাসার জনকল্যাণমূলক কাজে, এর দায়িত্বশীলদের জন্য এবং সেখানে হাদিস চর্চায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য ওয়াকফকারীর সিদ্ধান্ত অথবা যাঁর ওপর এ দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে তাঁর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যয় করা হবে।

বড় বারান্দায় বা তার সামনের অংশে বসে যারা হাদিস বা এর কোনো শাখা জ্ঞান, অথবা মহান কুরআন কিংবা তার তাফসির অনুলিপি করবেন, তাঁদের জন্য পর্যাপ্ত কাগজ এবং অনুলিপিকরণের সরঞ্জাম যেমন—কালি, কলম ও অন্যান্য লেখার উপকরণ ক্রয়ে অর্থ ব্যয় করা হবে। এছাড়াও ইমলার মজলিসে যারা লিখেন এবং যারা নিজের জন্য কিতাব প্রস্তুত করেন বা ইজাজতপত্র লিখেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও ব্যয় করা হবে। তবে এই অর্থ কেবল তাঁদেরকেই প্রদান করা হবে যারা উপার্জনের উদ্দেশ্যে বা বিক্রির মাধ্যমে লাভের জন্য নয়, বরং জ্ঞান অর্জন ও জ্ঞান অন্বেষণের উদ্দেশ্যে অনুলিপি তৈরি করবেন।

উল্লেখিত ব্যক্তিবর্গ ও খাতসমূহের ব্যয় নির্বাহের পর বারোশ দিরহাম পর্যন্ত যা অবশিষ্ট থাকবে, তা হাদিস চর্চায় নিয়োজিত ব্যক্তি ও হাদিস শ্রবণকারীদের মাঝে ব্যয় করা হবে। হাদিস চর্চায় নিয়োজিত প্রত্যেকের জন্য আট দিরহাম করে নির্ধারণ করা হবে; তবে যার অধ্যবসায় বেশি হবে তার ভাতা বাড়ানো হবে এবং যার কম হবে তার কমানো হবে। হাদিস শ্রবণকারীদের প্রত্যেকের জন্য চার বা তিন দিরহাম করে নির্ধারণ করা হবে; তবে তাদের মধ্যে যাকে অগ্রগণ্য মনে করা হবে তার ভাতা বাড়িয়ে দেওয়া হবে। আর যারা মেধাবী ও প্রখর হবে, তাদের আট দিরহামের শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত করা বৈধ হবে। যদি কেউ হাদিসের কোনো কিতাব মুখস্থ করে, তবে শায়খ তাকে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করতে পারবেন। আর তাদের মধ্য থেকে যারা নিরবচ্ছিন্নভাবে হাদিস চর্চায় আত্মনিয়োগ করবেন এবং এমন যোগ্যতাসম্পন্ন হবেন যার মাধ্যমে আশা করা যায় যে তিনি বিজ্ঞ আলেম হবেন, শায়খ তার জন্য প্রথা অনুযায়ী সমপর্যায়ের অন্যদের ন্যায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ভাতা নির্ধারণ করতে পারবেন। যদি উচ্চ সনদধারী কোনো শায়খ আগমন করেন যাঁর নিকট যাওয়ার জন্য সফর করা হয়, তবে তিনি দারুল হাদিসে অবস্থান করতে পারবেন এবং তাঁকে প্রতিদিন দুই দিরহাম করে দেওয়া হবে। কাজ শেষ হলে তাঁকে ত্রিশ দিনার প্রদান করা হবে, যেখানে প্রতি দিনার সাত দিরহামের সমতুল্য হবে। এটি তখন কার্যকর হবে যখন তিনি সিরিয়ার বাহির থেকে আসবেন। আর যদি তিনি সিরিয়ার অধিবাসী হন, তবে শায়খের বিবেচনা অনুযায়ী তাঁকে এর চেয়ে কম প্রদান করা হবে।
(খণ্ড: ১) মুনাদামাতুল আতলাল ওয়া মুসামারাতুল খায়াল (পৃষ্ঠা: ২৮)
الشَّيْخ فَإِذا كَانَ صَاحب الْعُلُوّ من المستوطنين بِدِمَشْق واقتضت الْمصلحَة استحضاره فِي الدَّار لاستماع مَا عِنْده من العالي فللناظر أَن يُعْطِيهِ مَا يَلِيق بِحَالهِ من عشرَة دَنَانِير فَمَا دون ذَلِك

وَإِذا اقْتَضَت الْمصلحَة أمرا دينيا يُنَاسب مَقَاصِد دَار الحَدِيث زَائِدا على مَا نَص عَلَيْهِ فِي كتاب الْوَقْف فللشيخ النَّاظر أَن يصرف ذَلِك من مغل الْوَقْف مَا يَلِيق بالحالة وَمن قَامَ بِشَرْط جِهَتَيْنِ وَقدر على إِتْيَانه بهما فللناظر أَن يَجْعَل لَهُ ذَلِك

وللشيخ النَّاظر أَن يستنسخ للْوَقْف أَو يَشْتَرِي مَا تَدْعُو الْحَاجة إِلَيْهِ من الْكتب والأجزاء ثمَّ يقف ذَلِك اسوة بِمَا فِي الدَّار من كتبهَا

وَعَلَيْهِم أَن يجتمعوا فِي خمس لَيَال ويبتدؤوا بعد صَلَاة الظّهْر وللناظر أَن يتَّخذ لَهُم طَعَاما وَله أَن يَجْعَل بدل الطَّعَام كل لَيْلَة مائَة وَله أَن يَشْتَرِي مَا يَلِيق من شمع وعود يبخر بِهِ وكيزان وثلج وَنَحْو ذَلِك وَله أَن يتَّخذ فِي شهر رَمَضَان طَعَاما أَو يفرق عوضا عَنْهَا ألف دِرْهَم بِالسَّوِيَّةِ على جَمِيع من بِالدَّار من المرتبين والساكنين وَذَلِكَ إِذا رأى فِي مغل الْوَقْف اتساعا وَمهما كَانَ فِي مغل الْوَقْف نقص بِحَيْثُ لَا يَفِي بِجَمِيعِ الْجِهَات الْمَذْكُورَة فليجعل النَّقْص فِي الْأُمُور الزَّائِدَة دون الْأَصْلِيَّة المهمة وليكمل الْمُؤَذّن والقيم والخازن والبواب والقارئ وَالشَّيْخ وقراء السَّبع وطبقة المشتغلين ويخص بِالنَّقْصِ والحرمان السامعين وان زَاد النَّقْص وتناهى إِلَى الْأَهْلِيَّة والقائمين بهَا وزع عَلَيْهَا بِحَسب مَا يرَاهُ النَّاظر وَإِذا فضل من مغل الْوَقْف فَاضل فللناظر أَن يَشْتَرِي بِهِ ملكا يقفه على الْجِهَات الْمُتَقَدّمَة وَله أَن يستفضل شَيْئا من الْمغل لذَلِك وَإِذا رأى صرف الْفَاضِل على أهل الدَّار اصلح كَانَ لَهُ ذَلِك وللناظر شِرَاء حصر للبيوت المسكونة فِي علو الدَّار

هَذَا مَا اتَّصل بِي من كتاب وقف هَذِه الْمدرسَة وتاريخ هَذِه الشُّرُوط فِي يَوْم الْأَحَد التَّاسِع وَالْعِشْرين من شهر رَمَضَان سنة اثْنَتَيْنِ وسِتمِائَة ونقلته من نُسْخَة كتبت سنة خمس وَأَرْبَعين وَثَمَانمِائَة وَقد انْقَطع هَذَا كُله فِي زمننا وَلم يبْق مِنْهُ رسم وَلَا اثر وَإِنَّمَا كتبته ليرى قَارِئ كتَابنَا مَا كَانَ عَلَيْهِ الْقَوْم من الاعتناء بالعلوم وإقبالهم على ترقيتها وعَلى حب الحضارة والعمران وَمن الإقبال على نصْرَة المدنية ومحو آثَار الهمجية اللَّذين لَا يتمان إِلَّا بالعلوم ونشرها وحبذا لَو كَانَت المطابع مَوْجُودَة فِي ذَلِك
শাইখ [বলেন], যদি উচ্চ সনদধারী ব্যক্তি দামেস্কের স্থায়ী অধিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হন এবং দারুল হাদিসে তাঁর নিকট বিদ্যমান উচ্চমানের সনদ শ্রবণ করার জন্য তাঁকে উপস্থিত করা কল্যাণকর বিবেচিত হয়, তবে নাযির (তত্ত্বাবধায়ক) তাঁর পদমর্যাদা অনুযায়ী দশ দিনার বা তার কম যা উপযুক্ত মনে করেন, তা তাঁকে প্রদান করতে পারবেন।

যদি কোনো দ্বীনি স্বার্থ দারুল হাদিসের উদ্দেশ্যসমূহের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, যা ওয়াকফনামায় উল্লিখিত বিষয়ের অতিরিক্ত, তবে নাযির শাইখ ওয়াকফের আয় থেকে অবস্থা অনুযায়ী তা ব্যয় করতে পারবেন। আর যিনি একই সাথে দু’টি পদের শর্তাবলি পূরণ করবেন এবং উভয় দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবেন, নাযির তাকে উভয় পদের জন্য নির্ধারিত সুবিধা প্রদান করতে পারেন।

নাযির শাইখ ওয়াকফের জন্য প্রয়োজনীয় বই ও পাণ্ডুলিপি নকল করাতে পারেন অথবা ক্রয় করতে পারেন, অতঃপর মাদরাসার বিদ্যমান বইয়ের ন্যায় সেগুলোও ওয়াকফ করতে পারেন।

তাঁদের কর্তব্য হলো পাঁচ রাত একত্রিত হওয়া এবং যোহরের নামাযের পর কাজ শুরু করা। নাযির তাঁদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করতে পারেন অথবা খাবারের পরিবর্তে প্রতি রাতে একশত [মুদ্রা] প্রদান করতে পারেন। এছাড়া তিনি প্রয়োজন অনুযায়ী মোমবাতি, সুগন্ধি আগরকাঠি, পানি পানের পাত্র, বরফ এবং এই জাতীয় সামগ্রী ক্রয় করতে পারেন। রমজান মাসে তিনি খাবারের ব্যবস্থা করতে পারেন অথবা এর পরিবর্তে মাদরাসায় অবস্থানরত সকল বেতনভুক্ত ও আবাসিকদের মাঝে সমহারে এক হাজার দিরহাম বণ্টন করে দিতে পারেন, যদি তিনি ওয়াকফের আয়ে সচ্ছলতা দেখেন। যখনই ওয়াকফের আয়ে ঘাটতি দেখা দেবে এবং তা উল্লিখিত সকল খাতে ব্যয়ের জন্য যথেষ্ট হবে না, তখন মূল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অক্ষুণ্ণ রেখে অতিরিক্ত বিষয়গুলোতে বরাদ্দ কমিয়ে দেবেন। মুয়াজ্জিন, খাদেম, কোষাধ্যক্ষ, দারোয়ান, ক্বারী, শাইখ, সাবআ ক্বিরাত বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষার্থীগণের পাওনা পূর্ণ করবেন; আর বরাদ্দ কমানো বা বঞ্চিত করার ক্ষেত্রে কেবল শ্রোতাদের (সামেয়িন) নির্দিষ্ট করবেন। যদি ঘাটতি আরও বাড়ে এবং তা মূল পদধারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপরও প্রভাব ফেলে, তবে নাযির তাঁর বিচক্ষণতা অনুযায়ী তা বণ্টন করে দেবেন। ওয়াকফের আয়ের অতিরিক্ত কিছু উদ্বৃত্ত থাকলে নাযির তা দিয়ে স্থাবর সম্পত্তি ক্রয় করতে পারেন যা পূর্বোক্ত খাতসমূহে ওয়াকফ হিসেবে গণ্য হবে। তিনি এই উদ্দেশ্যে আয়ের কিছু অংশ সঞ্চয়ও করতে পারেন। আর যদি তিনি অতিরিক্ত অর্থ মাদরাসার সংশ্লিষ্টদের মাঝে ব্যয় করা বেশি কল্যাণকর মনে করেন, তবে তা করার অধিকার তাঁর রয়েছে। এছাড়া নাযির মাদরাসার উপরের তলার আবাসিক কক্ষগুলোর জন্য চাটাই ক্রয় করতে পারবেন।

এই মাদরাসার ওয়াকফনামা থেকে যা আমার কাছে পৌঁছেছে তা এ পর্যন্তই। এই শর্তাবলির তারিখ ছিল ৬০২ হিজরির ২৯শে রমজান, রবিবার। আমি এটি ৮৪৫ হিজরিতে লিখিত একটি কপি থেকে নকল করেছি। আমাদের সময়ে এ সব কিছুই বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং এর কোনো চিহ্ন বা অবশেষ অবশিষ্ট নেই। আমি এটি কেবল এজন্য লিখেছি যাতে আমাদের পাঠকরা দেখতে পান যে, পূর্ববর্তী জাতি ইলম অর্জনে কতটা যত্নবান ছিলেন এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নতি ও সভ্যতা বিকাশে তাঁদের কতটা অনুরাগ ছিল; আরও যাতে প্রকাশ পায় সভ্যতার বিকাশ ও বর্বরতা দূরীকরণে তাঁদের প্রচেষ্টা, যা কেবল জ্ঞানচর্চা ও তার প্রসারের মাধ্যমেই সম্ভব। কতই না চমৎকার হতো যদি সেই সময়ে মুদ্রণযন্ত্র বিদ্যমান থাকত!
(খণ্ড: ১) মুনাদামাতুল আতলাল ওয়া মুসামারাতুল খায়াল (পৃষ্ঠা: ২৯)
الْعَصْر إِذْ لَو وجدت فِيهِ وَفِي العصور الَّتِي قبله لأهدت إِلَيْنَا كتبا وعلوما وأخبارا لَيْسَ لدينا مِنْهَا سوى شَيْء يسير

ثمَّ أَن دَار الحَدِيث هَذِه بقيت عامرة إِلَى قبيل مَجِيء غازان أحد مُلُوك التتار فَلَمَّا دخل الشَّام واتى دمشق رام أَن يقصدها بِسوء وَكَانَت تهدمت زِيَادَة تهدم فَقَامَ فِي حمايتها الشَّيْخ زين الدّين أَبُو مُحَمَّد عبد الله بن مَرْوَان الفارقي الْمُتَوفَّى فِي سنة ثَلَاث وَسَبْعمائة فَتَوَلّى شؤونها وكف عَنْهَا يَد الَّذين أَرَادوا اختلاسها قَالَ الشَّيْخ أَبُو نصر عبد الْوَهَّاب السُّبْكِيّ فِي الطَّبَقَات الْوُسْطَى فِي تَرْجَمَة الفارقي خطيب دمشق وَشَيخ دَار الحَدِيث الاشرفية ومدرس الشامية البرانية اخذ الحَدِيث عَن جمَاعَة وَكَانَ فَقِيها فَاضلا دينا خيرا وقورا مهيبا قوي النَّفس آمرا بِالْمَعْرُوفِ ناهيا عَن الْمُنكر مصمما فِي دينه وَكَانَت وِلَادَته سنة ثَلَاث وَثَلَاثِينَ وسِتمِائَة اهـ

وَالَّذِي علمناه مِمَّن درس بهَا من الْكِبَار تَقِيّ الدّين أَبُو عَمْرو ابْن الصّلاح ثمَّ عماد الدّين عبد الْكَرِيم ابْن الحرستاني ثمَّ الشَّيْخ عبد الرَّحْمَن بن إِسْمَاعِيل الْمَقْدِسِي الْمَعْرُوف بِأبي شامة ثمَّ الشَّيْخ مُحي الدّين أَبُو زَكَرِيَّا يحيى النَّوَوِيّ ثمَّ زين الدّين الفارقي فصدر الدّين مُحَمَّد بن عمر العثماني الْمَعْرُوف بِابْن المرحل وبابن الْوَكِيل فكمال الدّين مُحَمَّد بن عَليّ الْمَعْرُوف بِابْن خطيب زملكا بِفَتْح الزَّاي وَسُكُون الْمِيم وَفتح اللَّام قَرْيَة فِي غوطة دمشق فَأَحْمَد بن مُحَمَّد الْبكْرِيّ الْمَشْهُور بالشريشي فالحافظ الْكَبِير جمال الدّين يُوسُف الْقُضَاعِي الْحلَبِي الدِّمَشْقِي الْمَعْرُوف بالمزي فَالْقَاضِي عَليّ السُّبْكِيّ فجماعات لم يَصح التَّرْتِيب فيهم مِنْهُم

الْحَافِظ الْكَبِير عماد الدّين إِسْمَاعِيل بن كثير وَالْقَاضِي تَاج الدّين وَالْقَاضِي بهاء الدّين السبكيان فولي الدّين عبد الله السُّبْكِيّ وزين الدّين عمر بن مُسلم الْقرشِي الملحي بِفَتْح الْمِيم وَاللَّام الدِّمَشْقِي وشمس الدّين مُحَمَّد بن بهاء الدّين عبد الله الْمَعْرُوف بِالْحَافِظِ ابْن نَاصِر وَرَأَيْت مجلدا يشْتَمل على مَا أملاه النَّاصِر فِي دروسه وَكله فِي تَفْسِير قَوْله تَعَالَى

{لقد من الله على الْمُؤمنِينَ إِذْ بعث فيهم رَسُولا من أنفسهم يَتْلُو عَلَيْهِم آيَاته ويزكيهم وَيُعلمهُم الْكتاب وَالْحكمَة وَإِن كَانُوا من قبل لفي ضلال مُبين} 164 / 3
সেই যুগ; যদি সেই যুগে এবং তার পূর্ববর্তী যুগগুলোতে এসব পাওয়া যেত, তবে তা আমাদের নিকট এমন সব কিতাব, জ্ঞান ও সংবাদ উপহার দিত যা থেকে বর্তমানে আমাদের কাছে যৎসামান্যই অবশিষ্ট আছে।

অতঃপর, এই দারুল হাদিস তাতার রাজাদের অন্যতম গাজান খানের আগমনের পূর্ব পর্যন্ত আবাদ ছিল। যখন সে শাম দেশে প্রবেশ করল এবং দামেস্কে আসল, তখন সে এর অনিষ্ট করার ইচ্ছা করল। এটি তখন অনেকখানি ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় ছিল। তখন এর সুরক্ষায় এগিয়ে আসেন শেখ জয়নুদ্দীন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবন মারওয়ান আল-ফারিকী (মৃত্যু ৭০৩ হিজরী)। তিনি এর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং যারা এটি আত্মসাৎ করতে চেয়েছিল তাদের হাত থেকে একে রক্ষা করেন। শেখ আবু নাসর আব্দুল ওয়াহহাব আল-সুবকী 'আত-তবাকাত আল-উসতা'-তে দামেস্কের খতিব, দারুল হাদিস আল-আশরাফিয়ার শায়খ এবং আশ-শামিয়া আল-বাররানিয়ার শিক্ষক আল-ফারিকীর জীবনীতে বলেন: তিনি এক জামাত উস্তাদ থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন। তিনি একজন ফকিহ, বিদগ্ধ পণ্ডিত, ধর্মপ্রাণ, নেককার, গাম্ভীর্যপূর্ণ, প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, তেজস্বী আত্মা, সৎকাজের আদেশদাতা ও অসৎকাজের নিষেধকারী এবং স্বীয় দ্বীনের ওপর অটল ছিলেন। তাঁর জন্ম হয়েছিল ৬৩৩ হিজরীতে। সমাপ্ত।

আমরা জানতে পেরেছি যে, বড়দের মধ্যে যারা সেখানে দরস দিয়েছেন তারা হলেন তকীউদ্দীন আবু আমর ইবনুস সালাহ, তারপর ইমাদুদ্দীন আব্দুল কারীম ইবনুল হারাসতানি, তারপর শেখ আব্দুর রহমান ইবন ইসমাইল আল-মাকদিসি যিনি আবু শামাহ নামে পরিচিত, তারপর শেখ মুহিউদ্দীন আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া আন-নববী, তারপর জয়নুদ্দীন আল-ফারিকী, তারপর সদরুদ্দীন মুহাম্মদ ইবন উমর আল-উসমানি যিনি ইবনুল মুরাহহাল ও ইবনুল ওয়াকিল নামে পরিচিত, তারপর কামালুদ্দীন মুহাম্মদ ইবন আলী যিনি ইবন খাতিব জামালাকা নামে পরিচিত (জামালাকা শব্দটি যা-এর ওপর ফাতহ, মীম-এর ওপর সুকুন এবং লাম-এর ওপর ফাতহ যোগে গঠিত, যা দামেস্কের গৌতার একটি গ্রাম), তারপর আহমাদ ইবন মুহাম্মদ আল-বাকরী যিনি আশ-শারীশী নামে পরিচিত, তারপর সুমহান হাফেজ জামালুদ্দীন ইউসুফ আল-কুযায়ী আল-হালাবি আদ-দিমাশকি যিনি আল-মিযযি নামে পরিচিত, তারপর কাজী আলী আল-সুবকী। এরপর আরও এমন এক জামাত রয়েছেন যাদের দরস প্রদানের সময়ানুক্রমিক বিন্যাস নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:

সুমহান হাফেজ ইমাদুদ্দীন ইসমাইল ইবন কাসির, কাজী তাজউদ্দীন ও কাজী বাহাউদ্দীন—উভয় সুবকী, ওলীউদ্দীন আবদুল্লাহ আল-সুবকী, জয়নুদ্দীন উমর ইবন মুসলিম আল-কুরাশি আল-মালিহী (মীম ও লাম-এর ওপর ফাতহ যোগে) আদ-দিমাশকি এবং শামসুদ্দীন মুহাম্মদ ইবন বাহাউদ্দীন আবদুল্লাহ যিনি হাফেজ ইবন নাসির নামে পরিচিত। আমি একটি খণ্ড দেখেছি যা হাফেজ ইবন নাসির তাঁর পাঠদানকালে বর্ণনা (ইমলা) করেছিলেন এবং তার পুরোটাই ছিল মহান আল্লাহর এই বাণীর তাফসির সংক্রান্ত:

{অবশ্যই আল্লাহ মুমিনদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের মধ্য থেকেই তাদের কাছে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন, যদিও তারা এর আগে সুস্পষ্ট গোমরাহিতে নিমজ্জিত ছিল।} ১৬৪ / ৩