(খণ্ড: ১) সফর নামা (পৃষ্ঠা: -)
سفر نامه   (ناصر خسرو)

القسم: البلدان والرحلات


الكتاب: سفر نامه

المؤلف: أبو معين الدين ناصر خسرو الحكيم القبادياني المروزي (ت 481هـ)

المحقق: د. يحيى الخشاب

الناشر: دار الكتاب الجديد - بيروت

الطبعة: الثالثة، 1983

عدد الصفحات: 160

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সফরনামা   (নাসির খসরু)

বিভাগ: দেশসমূহ ও ভ্রমণবৃত্তান্ত


বই: সফরনামা

লেখক: আবু মুঈন উদ্দিন নাসির খসরু আল-হাকিম আল-কুবাদিয়ানি আল-মারওয়াযি (মৃত্যু ৪৮১ হি.)

সম্পাদক: ড. ইয়াহইয়া আল-খাশ্শাব

প্রকাশক: দারুল কিতাব আল-জাদিদ - বৈরুত

সংস্করণ: তৃতীয়, ১৯৮৩

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬০

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) সফর নামা (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌سفر نامه نَاصِر خسرو
নাসির খসরুর সফরনামা
(খণ্ড: ১) সফর নামা (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

هَذَا مَا يَقُول أَبُو معِين الدّين نَاصِر خسرو القبادياني الْمروزِي تَابَ الله عَنهُ كَانَت صناعتي الْإِنْشَاء وَكنت من المتصرفين فِي أَمْوَال السُّلْطَان وأعماله واشتغلت بالديوان وباشرت هَذَا الْعَمَل مُدَّة من الزَّمن وذاع صيتي بَين أقراني وَفِي ربيع الآخر سنة 437 أَيَّام أبي سُلَيْمَان جغري بيك دَاوُد بن مِيكَائِيل بن سلجوق حَاكم خُرَاسَان ذهبت من مرو فِي عمل للديوان وَنزلت فِي بنج ديه مرو الرود كَانَ ذَلِك يَوْم قرَان الرَّأْس وَالْمُشْتَرِي وَيُقَال إِن الله تَعَالَى وتقدس يستجيب فِيهِ إِلَى مَا يطْلب النَّاس من حاجات فَذَهَبت إِلَى زَاوِيَة وَصليت رَكْعَتَيْنِ ودعوته تَعَالَى وتبارك أَن ييسر لي أَمْرِي فَلَمَّا عدت لأصدقائي وأصحابي وجدت أحدهم ينشد شعرًا فارسيا فجال بخاطري أَبْيَات فكتبتها على ورقة لأعطيه إِيَّاهَا حَتَّى ينشدها فَإِذا بِهِ ينشد مَا كتبت من شعر وَلما أعْطه الورقة فتفاءلت بِهَذِهِ الْحَال وَقلت فِي نَفسِي إِن الله تَعَالَى وتبارك قد قضى حَاجَتي ثمَّ ذهبت إِلَى جزجانان فَمَكثت بهَا حوالي شهر وظللت أشْرب الْخمر
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আবু মুঈন উদ্দীন নাসির খসরু আল-কুবাদিয়ানি আল-মারওয়াযি (আল্লাহ তাঁর তওবা কবুল করুন) যা বলেন তা হলো এই: আমার পেশা ছিল রচনা ও লিখনশৈলী এবং আমি সুলতানের সম্পদ ও কার্যাবলীর তদারককারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। আমি দিওয়ানে (প্রশাসনিক দপ্তরে) নিয়োজিত ছিলাম এবং দীর্ঘকাল যাবত এই দায়িত্ব পালন করেছি। ফলে আমার সমসাময়িকদের মাঝে আমার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল। ৪৩৭ হিজরির রবিউস সানি মাসে, খোরাসানের শাসক আবু সুলাইমান চাগরি বেগ দাউদ ইবনে মিকাইল ইবনে সেলজুকের শাসনামলে, আমি দিওয়ানের কাজে মার্ভ থেকে বের হয়ে মার্ভ আল-রুদের 'পাঞ্জ দেহ' নামক স্থানে অবতরণ করলাম। সেটি ছিল রা’স (রাহু) ও মুশ্তারি (বৃহস্পতি) গ্রহের সংযোগের দিন। বলা হয় যে, আল্লাহ তাআলা ও পবিত্র সত্তা সেই সময়ে মানুষের প্রার্থিত প্রয়োজনসমূহ কবুল করেন। ফলে আমি একটি নিভৃত কোণে গেলাম এবং দুই রাকাত সালাত আদায় করলাম। আমি আল্লাহ তাআলা ও বরকতময় সত্তার নিকট প্রার্থনা করলাম যেন তিনি আমার কাজ সহজ করে দেন। যখন আমি আমার বন্ধুদের কাছে ফিরে এলাম, দেখলাম তাদের একজন ফারসি কবিতা আবৃত্তি করছে। আমার মনেও কিছু চরণ উদিত হলো, তাই আমি একটি কাগজে তা লিখলাম যাতে তাকে আবৃত্তি করতে দিতে পারি। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, তাকে কাগজটি দেওয়ার আগেই সে আমার লেখা কবিতাটি আবৃত্তি করতে শুরু করল। আমি এই ঘটনাকে শুভলক্ষণ হিসেবে গ্রহণ করলাম এবং মনে মনে বললাম যে, আল্লাহ তাআলা ও বরকতময় সত্তা নিশ্চয়ই আমার হাজত পূরণ করেছেন। এরপর আমি জুযজানানে গেলাম এবং সেখানে প্রায় এক মাস অবস্থান করলাম এবং মদ্যপান অব্যাহত রাখলাম।
(খণ্ড: ১) সফর নামা (পৃষ্ঠা: ৩৪)
قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم {قُولُوا الْحق وَلَو على أَنفسكُم} حَتَّى إِذا كَانَت ذَات لَيْلَة رَأَيْت فِي الْمَنَام رجلا يَقُول لي إِلَى مَتى تشرب هَذَا الشَّرَاب الَّذِي يسلب لب الرِّجَال خير لَك أَن تصحو فأجبت إِن الْحُكَمَاء لَا يَسْتَطِيعُونَ شَيْئا غير هَذَا يقلل هموم الدُّنْيَا فَأجَاب إِن التسرية عَن النَّفس لَا تتأتى بفقد الشُّعُور وَالْعقل والحكيم لَا يَسْتَطِيع أَن يَقُول إِن الرجل المسلوب الْفُؤَاد يصلح هاديا للنَّاس بل يَنْبَغِي عَلَيْهِ أَن يبْحَث عَمَّا يزِيد الْعقل وَالْحكمَة قلت وأنى لي هَذَا قَالَ من جد وجد ثمَّ أَشَارَ إِلَى الْقبْلَة وَلم يقل شَيْئا فَلَمَّا صحوت من النّوم كَانَت هَذِه الرُّؤْيَا ماثلة بأكملها أَمَامِي وَقد أثرت فِي فَقلت لنَفْسي صحوت من نوم البارحة وَيَنْبَغِي أَن أصحو من نوم أَرْبَعِينَ سنة خلت وأمعنت الْفِكر فوجدتني لن أسعد مَا لم أعدل عَن كل سلوكي

وَفِي يَوْم الْخَمِيس من جمادي الآخر سنة 437 (20 ديسمبر 1045) منتصف شهر دي من السّنة الفارسية 410 من التَّقْوِيم اليزدجردي اغْتَسَلت وَذَهَبت إِلَى الْجَامِع فَصليت ودعوت الله تبارك وتعالى أَن يُعِيننِي على أَدَاء الْوَاجِب وعَلى ترك المنهيات والسيئات كَمَا أَمر الْحق سُبْحَانَهُ تَعَالَى
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, {তোমরা সত্য বলো, যদিও তা তোমাদের নিজেদের বিরুদ্ধে যায়}। পরিশেষে এক রাতে আমি স্বপ্নে এক ব্যক্তিকে দেখলাম যে আমাকে বলছে, আর কতকাল তুমি এই পানীয় পান করবে যা মানুষের বিবেক হরণ করে নেয়? তোমার জন্য এটিই কল্যাণকর যে তুমি সচেতন হও। আমি উত্তর দিলাম যে, প্রাজ্ঞ ব্যক্তিগণ দুনিয়ার দুশ্চিন্তা লাঘব করার জন্য এ ছাড়া অন্য কোনো উপায় খুঁজে পান না। তিনি উত্তর দিলেন যে, অনুভূতি ও জ্ঞান হারিয়ে আত্মিক প্রশান্তি অর্জিত হয় না; আর কোনো প্রাজ্ঞ ব্যক্তি এ কথা বলতে পারেন না যে, হিতাহিত জ্ঞানহীন কোনো ব্যক্তি মানুষের পথপ্রদর্শক হওয়ার যোগ্য। বরং তার উচিত এমন কিছুর সন্ধান করা যা জ্ঞান ও প্রজ্ঞা বৃদ্ধি করে। আমি বললাম, আমি এটি কীভাবে পেতে পারি? তিনি বললেন, যে চেষ্টা করে সেই পায়। অতঃপর তিনি কিবলার দিকে ইশারা করলেন এবং আর কিছু বললেন না। যখন আমি ঘুম থেকে জাগ্রত হলাম, তখন এই স্বপ্নটি সম্পূর্ণভাবে আমার সামনে ভেসে উঠল এবং এটি আমাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করল। আমি মনে মনে বললাম, গতরাতের ঘুম থেকে তো জাগ্রত হলাম, এখন গত চল্লিশ বছরের তন্দ্রা থেকেও আমার জাগ্রত হওয়া উচিত। আমি গভীর চিন্তা করলাম এবং বুঝতে পারলাম যে, যতক্ষণ না আমি আমার সমস্ত আচরণ সংশোধন করছি, ততক্ষণ আমি সৌভাগ্যবান হতে পারব না।

আর ৪৩৭ হিজরি সালের জমাদিউল আখির মাসের বৃহস্পতিবার (২০ ডিসেম্বর ১০৪৫), যা পারস্য বর্ষপঞ্জির ৪১০ ইজদাজিরদি সালের 'দে' মাসের মাঝামাঝি সময়; আমি গোসল করলাম এবং জামে মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করলাম। আমি বরকতময় ও সুউচ্চ আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলাম যাতে তিনি আমাকে ওয়াজিবসমূহ পালন করতে এবং নিষিদ্ধ ও মন্দ কাজসমূহ বর্জন করতে সাহায্য করেন, ঠিক যেমনটি সত্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) সফর নামা (পৃষ্ঠা: ৩৫)
ثمَّ تَوَجَّهت من هُنَاكَ إِلَى شبورغان وَفِي الْمسَاء كنت فِي قَرْيَة بارياب وَمِنْهَا سرت إِلَى مرو الرود عَن طَرِيق سنكلان وطالقان فَلَمَّا بلغت مرو طلبت إعفائي مِمَّا عهد إِلَيّ من عمل وَقلت إِنِّي عازم على الْحَج ثمَّ أدّيت مَا عَليّ من حِسَاب وَتركت أَمْوَالِي عدا الْقَلِيل الضَّرُورِيّ مِنْهَا

وَفِي الثَّالِث وَالْعِشْرين من شعْبَان (6 مارس 1046) عزمت على السّفر إِلَى نيشابور فسرت من مرو إِلَى سرخس وَهِي على ثَلَاثِينَ فرسخا مِنْهَا وَمن سرخس إِلَى نيشابور أَرْبَعُونَ فرسخا وَقد بلغتهَا يَوْم السبت الْحَادِي عشر من شَوَّال (22 ابريل 1046) وَيَوْم الْأَرْبَعَاء آخر هَذَا الشَّهْر كسفت الشَّمْس وَكَانَ الْحَاكِم حِينَئِذٍ طغرل بيك مُحَمَّد أَخُو جغري بيك وَكَانُوا يشيدون مدرسة بِقرب سوق السراجين أَمر ببنائها وَقد ذهب أثْنَاء ولَايَته لأوّل مرّة للاستيلاء على ولَايَة اصفهان

وَفِي الثَّانِي من ذِي الْقعدَة (12 مايو 1046) غادرت نيشابور فِي صُحْبَة الْأُسْتَاذ الْمُوفق الَّذِي كَانَ مؤدبا للسُّلْطَان فَبَلغنَا قومس عَن طَرِيق كوان وزرت الشَّيْخ بايزيد البسطامي قدس الله روحه

وَفِي الْجُمُعَة الثَّامِن من ذِي الْقعدَة (18 مايو 1046) سرت إِلَى دامغان
অতঃপর আমি সেখান থেকে শিবুরগানের দিকে যাত্রা করলাম এবং সন্ধ্যায় বারিয়াব গ্রামে পৌঁছলাম। সেখান থেকে সানকালান ও তালকান হয়ে মার্ভুর রূদ অভিমুখে অগ্রসর হলাম। যখন আমি মার্ভে পৌঁছলাম, তখন আমাকে অর্পিত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রার্থনা করলাম এবং বললাম যে আমি হজ করার সংকল্প করেছি। অতঃপর আমি আমার যাবতীয় হিসাব বুঝিয়ে দিলাম এবং অতি প্রয়োজনীয় যৎসামান্য ব্যতীত আমার সকল ধন-সম্পদ ত্যাগ করলাম।

২৩শে শাবান (৬ই মার্চ ১০৪৬ খ্রিস্টাব্দ) আমি নিশাপুরের উদ্দেশ্যে সফরের সংকল্প করলাম। অতঃপর আমি মার্ভ থেকে সারাখস অভিমুখে যাত্রা করলাম, যা সেখান থেকে ত্রিশ ফরসাখ দূরত্বে অবস্থিত। আর সারাখস থেকে নিশাপুরের দূরত্ব চল্লিশ ফরসাখ। আমি সেখানে ১১ই শাওয়াল (২২শে এপ্রিল ১০৪৬ খ্রিস্টাব্দ) শনিবার পৌঁছলাম। এই মাসের শেষ বুধবার সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। তৎকালীন শাসক ছিলেন তুঘরিল বেগ মুহাম্মাদ, যিনি চাগরি বেগের ভাই ছিলেন। তারা সুক আস-সাররাজিনের (জিন প্রস্তুতকারকদের বাজার) নিকটে একটি মাদ্রাসা নির্মাণ করছিলেন যা সুলতান নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি তাঁর শাসনামলে প্রথমবারের মতো ইসফাহান প্রদেশ বিজয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন।

২রা জিলকদ (১২ই মে ১০৪৬ খ্রিস্টাব্দ) আমি উস্তায আল-মুওয়াফফাকের সাহচর্যে নিশাপুর ত্যাগ করলাম, যিনি সুলতানের শিক্ষক ছিলেন। অতঃপর আমরা কুওয়ান হয়ে কুমিস পৌঁছলাম এবং আমি শায়খ বায়েজিদ বোস্তামী (আল্লাহ তাঁর রূহকে পবিত্র করুন)-এর মাজার যিয়ারত করলাম।

৮ই জিলকদ শুক্রবার (১৮ই মে ১০৪৬ খ্রিস্টাব্দ) আমি দামগানের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।
(খণ্ড: ১) সফর নামা (পৃষ্ঠা: ৩৬)
ثمَّ بلغت سمنان عَن طَرِيق آنجوري وجاشت خواران فِي غرَّة ذِي الْحجَّة سنة 437 (9 يونيو 1046) وَقد مكثت هُنَاكَ زَمنا وتعرفت بِأَهْل الْعلم وَقد دلوني على رجل اسْمه عَليّ النَّسَائِيّ وَهُوَ شَاب يتَكَلَّم الفارسية بلهجة الديالمة كَانَ شعر رَأسه مُرْسلا وَكَانَ وَهُوَ يتَكَلَّم يَقُول إِنِّي قَرَأت كَذَا على الْأُسْتَاذ أبي عَليّ سينا رحمه الله وَهَكَذَا سَمِعت عَنهُ لكَي أعرف أَنه تلميذ ابْن سينا وَلما ناظرته قَالَ إِنِّي قَلِيل الْمعرفَة بِكُل علم وَأحب أَن أَقرَأ مَعَك قَلِيلا فِي الْحساب فَخرجت مُتَعَجِّبا قلت مَاذَا يعلم الآخرين وَهُوَ لَا يعلم شَيْئا

وعدت من بَلخ إِلَى الرّيّ ثَلَاثمِائَة وَخمسين فرسخا وَيُقَال إِنَّه من الرّيّ إِلَى ساوه ثَلَاثُونَ فرسخا وَمن ساوه إِلَى هَمدَان كَذَلِك وَمن الرّيّ إِلَى أصفهان خَمْسُونَ فرسخا وَإِلَى آمل ثَلَاثُونَ وَبَين الرّيّ وآمل جبل دماوند وَهُوَ كالقبة وَيُسمى لواسان وَيُقَال إِن بقمته بِئْرا يسْتَخْرج مِنْهُ النوشادر وَيُقَال والكبريت أَيْضا فيصعد عَلَيْهَا رجال يحملون جُلُود الْبَقر ويملئونها بالنوشادر ثمَّ يدحرجونها من قمة الْجَبَل لتعذر إِيجَاد طَرِيق لنقلها

وَفِي الْخَامِس من محرم سنة 43 {13 يوليو 1046) الْمُوَافق الْعَاشِر من شهر مرداد سنة 415 من تَارِيخ الْفرس تَوَجَّهت نَاحيَة قزوين فبلغت قَرْيَة قوهة وَكَانَ بهَا قحط حَتَّى بيع الْمَنّ من خبز الشّعير بِدِرْهَمَيْنِ وَقد غادرتها فِي التَّاسِع من محرم (17 يوليو) فبلغت قزوين وَهِي آهلة بالحدائق الَّتِي لَا تحدها أسوار أَو أشواك فَلَا يحول دون دُخُولهَا عائق رَأَيْت قزوين مَدِينَة عَظِيمَة ذَات حصن مكين عَلَيْهِ شرفات وَبهَا أسواق جميلَة إِلَّا أَن المَاء بهَا قَلِيل وَهُوَ يجْرِي فِي قنوات تَحت الأَرْض وَكَانَ حاكمها رجلا من العلويين ويشتغل مُعظم صناعها بصناعة الأحذية

وَفِي الثَّانِي عشر من محرم سنة 43 {20 يوليو 1046) غادرت قزوين عَن طَرِيق بيل وقبان وهما من ضواحيها وسرت إِلَى قَرْيَة تسمى خرزويل
অতঃপর ৪৩৭ হিজরি সনের যিলহজ মাসের শুরুতে (৯ জুন ১০৪৬) আনজুরি এবং জাশত খাওয়ারান হয়ে আমি সেমনানে পৌঁছলাম। সেখানে আমি কিছুকাল অবস্থান করলাম এবং আলিমগণের সাথে পরিচিত হলাম। তাঁরা আমাকে আলী নাসাঈ নামক এক ব্যক্তির সন্ধান দিলেন। তিনি ছিলেন একজন যুবক, যিনি দাইলামি উপভাষায় ফারসি বলতেন। তাঁর মাথার চুল ছিল লম্বা ও বিন্যস্ত। তিনি কথা বলার সময় বলতেন, "আমি উস্তাদ আবু আলী সিনা (রহিমাহুল্লাহ)-এর কাছে এটি পড়েছি" এবং "আমি তাঁর নিকট থেকে এমনটি শুনেছি"—যাতে আমি জানতে পারি যে তিনি ইবনে সিনার ছাত্র ছিলেন। যখন আমি তাঁর সাথে বিতর্কে লিপ্ত হলাম, তিনি বললেন, "আমি প্রতিটি বিদ্যায় সামান্য জ্ঞানের অধিকারী এবং আমি আপনার নিকট পাটিগণিত বিষয়ে সামান্য পাঠ গ্রহণ করতে চাই।" আমি আশ্চর্যান্বিত হয়ে বেরিয়ে আসলাম এবং মনে মনে বললাম, সে অন্যদের কী শেখায় যখন সে নিজেই কিছু জানে না?

আমি বলখ থেকে রয় পর্যন্ত সাড়ে তিনশ ফারসাখ পথ পাড়ি দিয়ে ফিরে এলাম। বলা হয়ে থাকে যে, রয় থেকে সাভেহ ত্রিশ ফারসাখ এবং সাভেহ থেকে হামাদান পর্যন্তও একই দূরত্ব। রয় থেকে ইসফাহান পঞ্চাশ ফারসাখ এবং আমল পর্যন্ত ত্রিশ ফারসাখ। রয় এবং আমলের মাঝে দামাভান্দ পর্বত অবস্থিত, যা দেখতে গম্বুজের মতো এবং একে লাভাসানও বলা হয়। কথিত আছে যে, এর চূড়ায় একটি কূয়া রয়েছে যেখান থেকে নিশাদল এবং গন্ধক সংগ্রহ করা হয়। একদল লোক গরুর চামড়া নিয়ে উপরে আরোহণ করে এবং সেগুলো নিশাদল দিয়ে পূর্ণ করে পাহাড়ের চূড়া থেকে নিচে গড়িয়ে দেয়, কারণ তা পরিবহনের জন্য কোনো রাস্তা পাওয়া দুষ্কর।

৪৩৮ হিজরি সনের ৫ই মহররম (১৩ জুলাই ১০৪৬), যা পারস্য পঞ্জিকা অনুযায়ী ৪১৫ সনের ১০ই মোরদাদ মাসের সমসাময়িক, আমি কাজভিনের অভিমুখে রওয়ানা হলাম এবং কুহা নামক একটি গ্রামে পৌঁছলাম। সেখানে এমন দুর্ভিক্ষ ছিল যে, এক 'মান' যবের রুটি দুই দিরহামে বিক্রি হচ্ছিল। আমি ৯ই মহররম (১৭ জুলাই) সেখান থেকে প্রস্থান করে কাজভিনে পৌঁছলাম। শহরটি অসংখ্য বাগানে ঘেরা ছিল যার কোনো সীমানা প্রাচীর বা কাঁটাঝোপের বেড়া ছিল না, ফলে সেখানে প্রবেশে কোনো বাধা ছিল না। আমি কাজভিনকে একটি সুদৃঢ় দুর্গবিশিষ্ট বিশাল শহর হিসেবে দেখলাম যার প্রাচীরে সুউচ্চ অলঙ্কৃত গম্বুজ সদৃশ স্তম্ভ ছিল এবং সেখানে চমৎকার সব বাজার ছিল। তবে সেখানে পানির স্বল্পতা ছিল এবং তা মাটির নিচ দিয়ে কৃত্রিম নালায় প্রবাহিত হতো। এর শাসক ছিলেন আলবী বংশীয় এক ব্যক্তি এবং সেখানকার অধিকাংশ কারিগর জুতা তৈরির পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।

৪৩৮ হিজরি সনের ১২ই মহররম (২০ জুলাই ১০৪৬) আমি কাজভিনের শহরতলী বিল ও কাবান হয়ে সেখান থেকে যাত্রা করলাম এবং খারযাওয়ীল নামক একটি গ্রামের দিকে এগিয়ে গেলাম।
(খণ্ড: ১) সফর নামা (পৃষ্ঠা: ৩৭)
كَانَ مَعنا أَنا وَأخي وَغُلَام هندي كَانَ يصحبنا زَاد قَلِيل فَذهب أخي للقرية ليَشْتَرِي شَيْئا من الْبَقَّال فَقَالَ لَهُ أحدهم مَاذَا تُرِيدُ أَنا الْبَقَّال فَقلت كل مَا عنْدك يناسبنا فَإنَّا غرباء وعابرو سَبِيل فَقَالَ لَيْسَ عِنْدِي شَيْء أبدا وَبعد ذَلِك كنت أَقُول إِنَّه بقال خرزويل عَن كل شخص فِي أَي مَكَان يَقُول كلَاما من هَذَا النَّوْع

بعد مغادرة هَذِه الْقرْيَة جزنا منحدرا صعبا وَبعد مسيرَة ثَلَاثَة فراسخ بلغنَا قَرْيَة تسمى الْخَيْر من أَعمال طارم كَانَ جوها حارا وَبهَا شجر كثير من الرُّمَّان والتين ومعظمه بري وَمن هُنَاكَ اجتزنا نَهرا يُسمى شاه رَود عَلَيْهِ قَرْيَة تسمى خندان تجبى فِيهَا المكوس من قبل أَمِير الْأُمَرَاء وَهُوَ من مُلُوك الديلم وَحين يخرج النَّهر مِنْهَا يلتقي بنهر آخر اسْمه سبيدرود ثمَّ يدْخل النهران وَاديا شَرْقي جبال جيلان ويمر النَّهر بجيلان ثمَّ يصب فِي بَحر آبسكون بَحر قزوين وَيُقَال إِن ألفا وَأَرْبَعمِائَة نهر تصب فِي هَذَا الْبَحْر الَّذِي يُقَال إِن محيطه ألف وَمِائَتَا فَرسَخ وَإِن فِي وَسطه جزائر آهلة بالسكان وَقد سَمِعت هَذَا من كثرين

والآن أَعُود إِلَى رحلتي وَمَا كَانَ فِيهَا

وَمن خندان إِلَى شميران ثَلَاثَة فراسخ من صحراء صخرية كلهَا وشميران قَصَبَة ولَايَة طارم وعَلى حافة الْمَدِينَة قلعة مُرْتَفعَة مشيدة على صَخْر صلد محاطة بِثَلَاثَة أسوار وَقد حفرت فِي وَسطهَا قناة تجْرِي حَتَّى شاطىء النَّهر وَمِنْهَا يستخرجون المَاء ويحملونه إِلَى القلعة وَيُقِيم بهَا ألف رجل مُخْتَار من أَبنَاء عُظَمَاء الْولَايَة وَذَلِكَ حَتَّى لَا يَسْتَطِيع أحد أَن يضل أَو يثور وَيُقَال إِن لهَذَا الْأَمِير قلاعا كَثِيرَة فِي ولَايَة الديلم وَإِن الْعدْل والأمن مستتبان بهَا فَلَا يَسْتَطِيع أحد أَن يغتصب شَيْئا من غَيره بل إِن النَّاس هُنَاكَ يدْخلُونَ مَسْجِد الْجُمُعَة ويتركون أحذيتهم خَارِجَة فَلَا يَأْخُذهَا أحد وَيكْتب هَذَا الْأَمِير اسْمه هَكَذَا مرزبان الديلم جيل جيلان أَبُو صَالح
আমার সাথে আমি, আমার ভাই এবং আমাদের সঙ্গী এক ভারতীয় ভৃত্য ছিল। আমাদের কাছে সামান্য পাথেয় ছিল। তখন আমার ভাই গ্রামের দিকে গেল যেন কোনো মুদির দোকান থেকে কিছু ক্রয় করতে পারে। তখন জনৈক ব্যক্তি তাকে বলল: "তুমি কী চাও? আমিই মুদি।" আমি বললাম: "আপনার কাছে যা আছে তা-ই আমাদের জন্য উপযুক্ত, কেননা আমরা আগন্তুক এবং পথিক।" সে বলল: "আমার কাছে কিছুই নেই।" এরপর থেকে আমি যেকোনো স্থানে এই ধরণের কথা বলা ব্যক্তিকে 'খারজুয়িল এর মুদি' বলতাম।

এই গ্রাম ত্যাগের পর আমরা এক দুর্গম ঢালু পথ অতিক্রম করলাম এবং তিন ফরসাখ পথ চলার পর আমরা তারিম অঞ্চলের অন্তর্গত 'আল-খাইর' নামক এক গ্রামে পৌঁছালাম। সেখানকার আবহাওয়া ছিল তপ্ত এবং সেখানে প্রচুর ডালিম ও ডুমুর গাছ ছিল, যার অধিকাংশই ছিল বনজ। সেখান থেকে আমরা 'শাহ রুদ' নামক একটি নদী পার হলাম, যার তীরে 'খন্দান' নামক এক গ্রাম অবস্থিত। সেখানে 'আমীরুল উমারা'র পক্ষ থেকে শুল্ক আদায় করা হতো এবং তিনি দায়লামের রাজন্যবর্গের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। নদীটি যখন সেখান থেকে নির্গত হয়, তখন তা 'সেফিদ রুদ' নামক অন্য একটি নদীর সাথে মিলিত হয়। অতঃপর নদী দুটি গিলান পর্বতমালার পূর্বদিকের একটি উপত্যকায় প্রবেশ করে। নদীটি গিলান হয়ে প্রবাহিত হয় এবং অবশেষে আবস্কুন সাগরে (কাস্পিয়ান সাগর) গিয়ে পতিত হয়। বলা হয়ে থাকে যে, এক হাজার চারশত নদী এই সাগরে পতিত হয় এবং এর পরিধি এক হাজার দুইশত ফরসাখ। এর মধ্যভাগে জনবসতিপূর্ণ অনেক দ্বীপ রয়েছে এবং আমি অনেকের নিকট থেকে এটি শুনেছি।

এখন আমি পুনরায় আমার সফর ও তাতে যা ঘটেছিল সে প্রসঙ্গে ফিরে আসছি।

খন্দান থেকে শামিরান পর্যন্ত তিন ফরসাখ পথ সম্পূর্ণ পাথুরে মরুভূমি। শামিরান হলো তারিম প্রদেশের প্রধান কেন্দ্র। শহরের এক প্রান্তে একটি সুউচ্চ কেল্লা রয়েছে, যা একটি শক্ত পাথরের ওপর নির্মিত এবং তিনটি প্রাচীর দ্বারা বেষ্টিত। এর মাঝখানে একটি নালা খনন করা হয়েছে যা নদীর তীর পর্যন্ত বিস্তৃত; সেখান থেকে তারা পানি উত্তোলন করে কেল্লায় নিয়ে যায়। সেখানে প্রদেশের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সন্তানদের মধ্য থেকে বাছাইকৃত এক হাজার লোক অবস্থান করে, যেন কেউ পথভ্রষ্ট হতে না পারে বা বিদ্রোহ করতে না পারে। বলা হয় যে, দায়লাম প্রদেশে এই আমীরের অনেক কেল্লা রয়েছে এবং সেখানে ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা এমনভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত যে, কেউ অন্য কারো কোনো কিছু জবরদখল করতে পারে না। এমনকি সেখানকার মানুষ যখন জুমার মসজিদে প্রবেশ করে, তখন তারা তাদের জুতা বাইরে রেখে যায় এবং কেউ তা চুরি করে না। এই আমীর তার নাম এভাবে লিখতেন: মারজুবান আদ-দায়লাম জীল জীলান আবু সালিহ।
(খণ্ড: ১) সফর নামা (পৃষ্ঠা: ৩৮)
مولي أَمِير الْمُؤمنِينَ واسْمه جستان إِبْرَاهِيم وَقد رَأَيْت فِي شميران رجلا طيبا من دربند اسْمه أَبُو الْفضل خَليفَة بن عَليّ الفيلسوف كَانَ رجلا فَاضلا أضافنا وَأَكْرمنَا وَقد تناظرنا مَعًا واتصلت بَيْننَا الصداقة سَأَلَني علام عزمت فَقلت أَنِّي أنوي الْحَج قَالَ أُرِيد أَن تمر بِنَا فِي عودتك حَتَّى أَرَاك

وَفِي السَّادِس وَالْعِشْرين من محرم (3 أغسطس 1046) غادرت شميران وَفِي الرَّابِع عشر من صفر (21 أغسطس) بلغت مَدِينَة سراب وغادرتها فِي السَّادِس عشر (23 أغسطس) ثمَّ مَرَرْت بِسَعِيد آباد وَبَلغت تبريز فِي عشْرين صفر 43 {27 أغسطس 1046) وَكَانَ ذَلِك فِي الْخَامِس من شهر يور الشَّهْر الْقَدِيم وتبريز قَصَبَة ولَايَة آذربيجان وَهِي مَدِينَة عامرة وَقد قست طولهَا وعرضها فَكَانَ كل مِنْهُمَا الْفَا وَأَرْبَعمِائَة قدم وَكَانَ ملك ولَايَة آذربيجان يذكر هَكَذَا فِي الْخطْبَة الْأَمِير الْأَجَل سيف الدولة وَشرف الْملَّة أَبُو مَنْصُور وهسودان بن مُحَمَّد مولى أَمِير الْمُؤمنِينَ وحكوا لي أَنه فِي لَيْلَة الْخَمِيس السَّابِع عشر من ربيع الأول 434 (5 ديسمبر 1042) فِي الْأَيَّام المسترقة بعد الْعشَاء زلزلت الأَرْض فخرب جُزْء من الْمَدِينَة وَلم يصب الْجُزْء الآخر بِسوء وَيُقَال إِنَّه هلك فِيهَا حِينَئِذٍ أَرْبَعُونَ ألف نسمَة وَرَأَيْت فِي تبريز شَاعِرًا اسْمه قطران يَقُول شعر
আমিরুল মুমিনিনের মুক্তদাস, যার নাম জুস্তান ইব্রাহিম। আমি শামিরানে দরবান্দের একজন সজ্জন ব্যক্তিকে দেখেছি, যার নাম আবু আল-ফজল খলিফা বিন আলি আল-ফায়লাসুফ; তিনি একজন বিদগ্ধ ব্যক্তি ছিলেন, তিনি আমাদের আতিথেয়তা প্রদান করেন ও সম্মানিত করেন। আমাদের মধ্যে জ্ঞানতাত্ত্বিক আলোচনা ও বিতর্ক হয়েছিল এবং আমাদের মাঝে হৃদ্যতা তৈরি হয়েছিল। তিনি আমার সংকল্প সম্পর্কে জানতে চাইলেন, আমি বললাম যে আমি হজ্জ পালনের নিয়ত করেছি। তিনি বললেন, "আমি চাই আপনার ফেরার পথে আপনি আমাদের এখান দিয়ে যান যেন আমি পুনরায় আপনার দেখা পাই।"

২৬শে মহররম (৩ আগস্ট ১০৪৬) আমি শামিরান ত্যাগ করি এবং ১৪ই সফর (২১ আগস্ট) সারাব শহরে উপনীত হই এবং ১৬ই সফর (২৩ আগস্ট) সেখান থেকে প্রস্থান করি। অতঃপর আমি সাঈদাবাদ অতিক্রম করে ২০শে সফর ৪৩৮ হিজরি (২৭ আগস্ট ১০৪৬) তাবরিজে পৌঁছাই। দিনটি ছিল প্রাচীন মাস শাহরিউরের পাঁচ তারিখ। তাবরিজ আজারবাইজান প্রদেশের প্রধান নগরী এবং এটি একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও জনবহুল শহর। আমি এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ পরিমাপ করেছি, যার প্রতিটি ছিল দুই হাজার চারশ ফুট। আজারবাইজান প্রদেশের শাসকের নাম খুতবায় এভাবে উল্লেখ করা হতো: মহিমান্বিত আমির সাইফুদ্দৌলা ও শারাফুল মিল্লাহ আবু মনসুর ওয়াহসুদান বিন মুহাম্মদ, যিনি আমিরুল মুমিনিনের মুক্তদাস। তারা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, ৪৩৪ হিজরির ১৭ই রবিউল আউয়াল (৫ ডিসেম্বর ১০৪২) বৃহস্পতিবার রাতে, অতিরিক্ত দিনগুলোর (আইয়ামে মুস্তারিফাহ) সময় এশার নামাযের পর এক প্রবল ভূমিকম্প হয়েছিল, যাতে শহরের একাংশ ধ্বংস হয়ে যায় এবং বাকি অংশটি অক্ষত থাকে। বলা হয় যে, সেই সময় সেখানে চল্লিশ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। আমি তাবরিজে কাত্রান নামক একজন কবিকে দেখেছি যিনি কবিতা আবৃত্তি করছিলেন।
(খণ্ড: ১) সফর নামা (পৃষ্ঠা: ৩৯)
جميلا وَلكنه لم يكن يجيد الفارسية وَقد زارني وَمَعَهُ ديواني منجيك والدقيقي وَقَرَأَ عَليّ مِنْهُمَا وسألني عَمَّا أشكل عَلَيْهِ من الْمعَانِي فَكنت أُجِيبهُ وَهُوَ يكْتب مَا أَقُول ثمَّ تلى عَليّ شَيْئا من أشعاره

فِي الرَّابِع عشر من ربيع الأول (19 سبتمبر) غادرت تبريز عَن طَرِيق مرند مَعَ جمَاعَة من جَيش الْأَمِير وهسودان فسرنا حَتَّى بلغنَا خوى وَمن هُنَاكَ سرنا إِلَى بر كري بِصُحْبَة رَسُول وَمن خوى إِلَى بركزي ثَلَاثُونَ فرسخا وَقد بلغناها فِي الثَّانِي عشر من جُمَادَى الأولى (16 نوفمبر) وَمن هُنَاكَ ذَهَبْنَا إِلَى وان ثمَّ إِلَى وسطان وَكَانَ لحم الْخِنْزِير يُبَاع فِي سوقها كَمَا يُبَاع الضَّأْن وَيجْلس نساؤها ورجالها أَمَام الحوانيت وَيَشْرَبُونَ بِغَيْر حَيَاء

وَمن هُنَاكَ بلغنَا مَدِينَة أخلاط فِي الثَّامِن عشر من جُمَادَى الأولى (22 نوفمبر) وَهِي على الْحُدُود مَا بَين بِلَاد الْمُسلمين والأرمن وَبَينهَا
সুন্দর, কিন্তু তিনি ফারসি ভাষায় পারদর্শী ছিলেন না। তিনি আমার সাথে সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন এবং তাঁর সাথে মানজিক ও দাকিকির দিওয়ান (কবিতা সংকলন) ছিল। তিনি আমাকে সেই গ্রন্থদ্বয় থেকে পড়ে শোনালেন এবং যে সকল অর্থ তাঁর নিকট অস্পষ্ট ছিল সে সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন। আমি তাঁকে উত্তর দিতাম এবং আমি যা বলতাম তিনি তা লিখে নিতেন। অতঃপর তিনি আমাকে তাঁর কিছু কবিতা পড়ে শোনালেন।

চৌদ্দই রবিউল আউয়াল (১৯শে সেপ্টেম্বর) আমি আমীর ওয়াহসুদানের একদল সৈন্যের সাথে মারান্দ হয়ে তাবরিজ ত্যাগ করলাম। আমরা পথ চলে খওয়াইয়ে পৌঁছলাম এবং সেখান থেকে একজন দূতের সাথে বারকারির উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। খওয়াই থেকে বারকারি পর্যন্ত দূরত্ব ত্রিশ ফারসাখ এবং আমরা সেখানে বারোই জমাদিউল আউয়াল (১৬ই নভেম্বর) পৌঁছলাম। সেখান থেকে আমরা ভান এবং তারপর ওয়াত্তানে গেলাম। সেখানকার বাজারে শূকরের মাংস এমনভাবে বিক্রি হচ্ছিল যেন তা ভেড়ার মাংস। সেখানকার নারী ও পুরুষেরা দোকানের সামনে বসে কোনো লজ্জা ছাড়াই মদ্যপান করছিল।

সেখান থেকে আঠারোই জমাদিউল আউয়াল (২২শে নভেম্বর) আমরা আখলাত শহরে পৌঁছলাম। এটি মুসলিম ভূখণ্ড এবং আর্মেনীয়দের মধ্যবর্তী সীমান্তে অবস্থিত এবং তার মধ্যে...
(খণ্ড: ১) সফর নামা (পৃষ্ঠা: ৪০)
وَبَين بركري تِسْعَة عشر فرسخا وَعَلَيْهَا أَمِير اسْمه نصر الدولة نَيف على الْمِائَة وَله أَبنَاء كَثِيرُونَ أعْطى كلا مِنْهُم ولَايَة ويتكلمون بهَا ثَلَاث لُغَات الْعَرَبيَّة والفارسية والأرمنية وأظن أَنَّهَا سميت أخلاط لهَذَا السَّبَب والمعاملة هُنَاكَ بالنقود النحاسية ورطلهم ثَلَاثمِائَة دِرْهَم

فِي الْعشْرين من جُمَادَى الأول (24 نوفمبر) غادرنا أخلاط ونزلنا فِي رِبَاط كروانسراي كَانَت السَّمَاء تمطر ثلجا وَالْبرد قارسا وَقد غرسوا فِي جُزْء من الطَّرِيق عمدا ليسير المسافرون على هديها أَيَّام الثَّلج والضباب ثمَّ بلغنَا مَدِينَة بطليس وَهِي وَاقعَة فِي وَاد وَقد اشترينا مِنْهَا عسلا الْمِائَة من بِدِينَار حسب مَا باعونا وَيُقَال إِن بهَا من يجني فِي السّنة الْوَاحِدَة ثَلَاثمِائَة وَأَرْبَعمِائَة جرة عسل

وَخَرجْنَا مِنْهَا فَرَأَيْنَا قلعة تسمى قف انْظُر وتركناها إِلَى مَكَان بِهِ جَامع يُقَال بناه اويس الْقَرنِي قدس الله روحه وَرَأَيْت النَّاس عِنْد حُدُوده يطوفون بِالْجَبَلِ ويقطعون أشجارا تشبه السرو فَسَأَلت مَاذَا تَعْمَلُونَ بهَا فَقَالُوا نضع طرفا من الشَّجَرَة فِي النَّار فَيخرج هَذَا القطران من طرفها الآخر فنجمعه فِي الْبِئْر ثمَّ نضعه فِي أوعية ونحمله إِلَى الْأَطْرَاف وَهَذِه الولايات الَّتِي ذكرت بعد أخلاط وَقد اختصرنا ذكرهَا هُنَا
বারকারি এবং এর মধ্যবর্তী দূরত্ব উনিশ ফরসাখ। সেখানে নসরুদ্দৌলা নামক একজন আমির রয়েছেন, যাঁর বয়স একশ বছরেরও অধিক। তাঁর বহু পুত্র সন্তান রয়েছে এবং তিনি তাঁদের প্রত্যেককে একটি করে প্রদেশ প্রদান করেছেন। সেখানে তিনটি ভাষা প্রচলিত: আরবি, ফারসি এবং আর্মেনীয়। আমার ধারণা, সম্ভবত এই কারণেই স্থানটির নাম ‘আখলাত’ (মিশ্রণ) রাখা হয়েছে। সেখানকার লেনদেন তাম্রমুদ্রার মাধ্যমে সম্পন্ন হয় এবং তাদের ‘রতল’ (ওজনের একক) হলো তিনশ দিরহাম।

বিশে জুমাদাল উলা (২৪শে নভেম্বর) তারিখে আমরা আখলাত ত্যাগ করি এবং একটি সরাইখানায় (কারভানসরাই) অবস্থান করি। তখন আকাশ থেকে তুষারপাত হচ্ছিল এবং প্রচণ্ড শীত অনুভূত হচ্ছিল। তুষারপাত ও কুয়াশার দিনগুলোতে মুসাফিররা যাতে সঠিক দিকনির্দেশনা পেয়ে পথ চলতে পারে, সেজন্য তারা রাস্তার একটি অংশে কিছু খুঁটি পুঁতে রেখেছিল। এরপর আমরা বিতলিস শহরে পৌঁছালাম, যা একটি উপত্যকায় অবস্থিত। সেখান থেকে আমরা মধু ক্রয় করলাম; তারা আমাদের কাছে এক দিনারে একশ (একক) মধু বিক্রি করেছিল। বলা হয়ে থাকে যে, সেখানে এমন ব্যক্তিও আছেন যারা বছরে তিনশ থেকে চারশ কলস মধু সংগ্রহ করেন।

আমরা সেখান থেকে বের হলাম এবং ‘কাফ উনজুর’ নামক একটি দুর্গ দেখলাম। সেটি অতিক্রম করে আমরা এমন এক স্থানে পৌঁছালাম যেখানে একটি জামে মসজিদ রয়েছে; লোকমুখে প্রচলিত আছে যে এটি উওয়াইস আল-কারনি (আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন) নির্মাণ করেছিলেন। আমি দেখলাম সেখানকার সীমানায় লোকজন পাহাড় প্রদক্ষিণ করছে এবং ‘সারু’ (সাইপ্রাস) সদৃশ বৃক্ষসমূহ কর্তন করছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, “তোমরা এগুলো দিয়ে কী করো?” তারা উত্তর দিল, “আমরা বৃক্ষের এক প্রান্ত আগুনের মধ্যে স্থাপন করি, ফলে অন্য প্রান্ত দিয়ে এই আলকাতরা নির্গত হয়। তখন আমরা তা কূপে সংগ্রহ করি এবং পরবর্তীতে পাত্রে ভরে বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে যাই।” এগুলোই সেই সকল প্রদেশ যা আখলাতের পরে আলোচিত হয়েছে এবং আমরা এখানে সংক্ষেপে সেগুলোর বর্ণনা প্রদান করেছি।
(খণ্ড: ১) সফর নামা (পৃষ্ঠা: ৪১)
تَابِعَة لميافارقين

ثمَّ سرنا إِلَى مَدِينَة أرزن وَهِي مَدِينَة عامرة وجميلة فِيهَا أَنهَار جَارِيَة وبساتين وأشجار وأسواق جميلَة وَيبِيع البرسيون هُنَاكَ المائتا من عنبا بِدِينَار وَاحِد فِي شهر آذر نوفمبر وديسمبر ويسمون هَذَا الْعِنَب رز إرمانوش

وانتقلنا إِلَى مَدِينَة ميافارقين الَّتِي يفصلها عَن أخلاط ثَمَانِيَة وَعِشْرُونَ فرسخا وَمن بَلخ إِلَيْهَا عَن الطَّرِيق الَّذِي إجتزناه إثنان وَخَمْسُونَ وَخَمْسمِائة فَرسَخ وَقد دخلناها يَوْم الْجُمُعَة السَّادِس وَالْعِشْرين من جمادي الأول 33 {23 نوفمبر 1036) وَكَانَت أوراق الشّجر حِينَئِذٍ لَا تزَال خضراء وميافارقين محاطة بسور عَظِيم من الْحجر الْأَبْيَض الَّذِي يزن الْحجر مِنْهُ خَمْسمِائَة من وعَلى بعد كل خمسين ذِرَاعا من هَذَا السُّور برج عَظِيم من الْحجر نَفسه وَفِي أَعْلَاهُ شرفات وَهِي من الدقة بِحَيْثُ تَقول أَن يَد بِنَاء ماهر أكملتها الْيَوْم ولهذه الْمَدِينَة بَاب من نَاحيَة الغرب لَهُ عتبَة عَلَيْهَا طاق حجري وَقد ركب عَلَيْهَا بَاب من حَدِيد لَا خشب فِيهِ وَيطول وصف مَسْجِد الْجُمُعَة بهَا لَو ذكرته وَلَو أَن صَاحب الْكتاب شرح كل شَيْء أتم الشَّرْح وَقد قَالَ إِن للميضأة الَّتِي عملت بِهَذَا الْمَسْجِد أَرْبَعِينَ مرحاضا تمر أمامها قناتان كبيرتان الأولى ظَاهِرَة ليستعمل مَاؤُهَا وَالثَّانيَِة وَهِي تَحت الأَرْض لحمل الثفل وللصرف وخارج هَذِه الْمَدِينَة فِي الربض أربطة كروانسراها وأسواق وحمامات وَمَسْجِد وجامع آخر يصلونَ فِيهِ الْجُمُعَة ايضا وَفِي نَاحيَة الشمَال سَواد آخر يُسمى المحدثة بِهِ سوق وَمَسْجِد
মিয়াফারেকিনের অধীনস্থ

অতঃপর আমরা আরজান শহরের অভিমুখে যাত্রা করলাম। এটি একটি জনাকীর্ণ ও অত্যন্ত সুন্দর শহর; যেখানে প্রবহমান নদ-নদী, বাগান, বৃক্ষরাজি এবং চমৎকার বাজারসমূহ রয়েছে। পারস্যবাসীরা সেখানে আযার মাসে (নভেম্বর ও ডিসেম্বর) মাত্র এক দিনারে দুইশত ‘মান’ আঙুর বিক্রয় করে এবং তারা এই আঙুরকে ‘রেয আরমানুশ’ বলে ডাকে।

এরপর আমরা মিয়াফারেকিন শহরে পৌঁছালাম, যা আখলাত থেকে আটাশ ফারসাখ দূরে অবস্থিত। আমরা যে পথে এসেছি, সেই পথ অনুযায়ী বলখ থেকে এর দূরত্ব পাঁচশত বায়ান্ন ফারসাখ। আমরা সেখানে জুমাদাল উলা মাসের ছাব্বিশ তারিখ, ৪৩৩ হিজরি (২৩শে নভেম্বর ১০৩৬ খ্রিষ্টাব্দ) শুক্রবার প্রবেশ করেছি। সেই সময়েও গাছের পাতাসমূহ সবুজ ছিল। মিয়াফারেকিন শ্বেত পাথরের এক বিশাল প্রাচীর দ্বারা পরিবেষ্টিত, যার একেকটি পাথরের ওজন পাঁচশত ‘মান’। এই প্রাচীরের প্রতি পঞ্চাশ হাত অন্তর একই পাথরের একটি করে বিশাল বুরুজ রয়েছে এবং এর শীর্ষে কারুকার্যখচিত অলিন্দ রয়েছে; যা এতোটাই সূক্ষ্ম যে দেখলে মনে হবে কোনো দক্ষ রাজমিস্ত্রির হাত আজই এর কাজ শেষ করেছে। এই শহরের পশ্চিম দিকে একটি প্রবেশদ্বার রয়েছে যার চৌকাঠে পাথরের খিলান আছে এবং সেখানে কাঠের বদলে লোহার দরজা লাগানো হয়েছে। সেখানকার জামে মসজিদের বর্ণনা অত্যন্ত দীর্ঘ হবে যদি আমি তা বিস্তারিত উল্লেখ করি, যদিও গ্রন্থকার প্রতিটি বিষয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই মসজিদের ওযুখানায় চল্লিশটি শৌচাগার রয়েছে এবং সেগুলোর সামনে দিয়ে দু’টি বড় নালা প্রবাহিত হয়। প্রথমটি দৃশ্যমান যা ব্যবহারের পানির জন্য এবং দ্বিতীয়টি মাটির নিচ দিয়ে প্রবাহিত যা ময়লা-আবর্জনা ও পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য। এই শহরের বাইরে শহরতলী এলাকায় অনেক রিবাত (আস্তানা), সরাইখানা, বাজার, হাম্মামখানা, একটি মসজিদ এবং আরও একটি জামে মসজিদ রয়েছে যেখানে মানুষ জুমআর সালাত আদায় করে। উত্তর দিকে ‘আল-মুহাদ্দাসাহ’ নামক অন্য একটি জনপদ রয়েছে যেখানে একটি বাজার ও মসজিদ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) সফর নামা (পৃষ্ঠা: ৪২)
جَامع وحمامات وكل مَا يَنْبَغِي لمدينة من مهمات وَيذكر اسْم سُلْطَان الْولَايَة فِي الْخطْبَة هَكَذَا الْأَمِير الْأَعْظَم عز الْإِسْلَام سعد الدّين نصر الدولة وَشرف الْملَّة أَبُو نصر أَحْمد وَقد بلغ الْمِائَة من عمره وَيُقَال إِنَّه حَيّ والرطل هُنَاكَ أَرْبَعمِائَة وَثَمَانُونَ درهما وَقد بنى هَذَا الْأَمِير مَدِينَة على مَسَافَة أَرْبَعَة فراسخ من ميافارقين سَمَّاهَا الناصرية وَمن آمد إِلَى ميافارقين تِسْعَة فراسخ

فِي السَّادِس من شهر دي الْقَدِيم (22 ديسمبر 1036) بلغنَا آمد الَّتِي شيدت على صَخْرَة وَاحِدَة طولهَا ألفا قدم وعرضها كَذَلِك وَهِي محاطة بسور من الْحجر الْأسود كل حجر مِنْهُ يزن مَا بَين مائَة وَألف من وَأكْثر هَذِه الْحِجَارَة ملتصق بعضه بِالْبَعْضِ من غير طين أَو جص وارتفاع السُّور عشرُون ذِرَاعا وَعرضه عشر أَذْرع وَقد بني على بعد كل مائَة ذِرَاع برج نصف دائرته ثَمَانُون ذِرَاعا وشرفاته من هَذَا الْحجر بِعَيْنِه وَقد شيدت فِي عدَّة أَمَاكِن دَاخل الْمَدِينَة سلالم من الْحجر ليتيسر الصعُود إِلَى السُّور وَقد بنيت قلعة على قمة كل برج ولهذه الْمَدِينَة أَرْبَعَة أَبْوَاب كلهَا من الْحَدِيد الَّذِي لَا خشب فِيهِ يطلّ كل مِنْهَا على جِهَة من الْجِهَات الْأَصْلِيَّة وَيُسمى الْبَاب الشَّرْقِي بَاب دجلة والغربي بَاب الرّوم والشمالي بَاب الأرمن والجنوبي بَاب التل وخارج هَذَا السُّور سور آخر من نفس الْحجر ارتفاعه عشر أَذْرع وَمن فَوْقه شرفات فِيهَا ممر يَتَّسِع لحركة رجل كَامِل السِّلَاح بِحَيْثُ يَسْتَطِيع ان يقف فِيهِ ويحارب بسهولة وَلِهَذَا السُّور الْخَارِجِي أَبْوَاب من الْحَدِيد شيدت مُخَالفَة لأبواب السُّور الداخلي بِحَيْثُ لَو اجتاز السائر أَبْوَاب السُّور الأول وَجب عَلَيْهِ اجتياز مَسَافَة لبلوغ أَبْوَاب السُّور الثَّانِي وَهَذِه الْمسَافَة تبلغ خمس عشرَة ذِرَاعا وَفِي وسط الْمَدِينَة عين يتفجر مَاؤُهَا من الْحجر الصلب وَهَذَا المَاء من الغزارة بِحَيْثُ يَكْفِي لإدارة خمس طواحين وَهُوَ غَايَة فِي العذوبة وَلَا يعرف أحد من أَيْن يَنْبع وَفِي الْمَدِينَة أَشجَار وبساتين تَقِيّ من هَذَا المَاء وأمير الْمَدِينَة وحاكمها هُوَ ابْن نصر
জামে মসজিদ, হাম্মামখানা এবং একটি শহরের জন্য প্রয়োজনীয় সকল গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সেখানে বিদ্যমান। খুতবায় এই প্রদেশের সুলতানের নাম এভাবে পাঠ করা হয়: ‘আমিরুল আজম ইজ্জুল ইসলাম সাদউদ্দীন নাসরুদ্দৌলা ওয়া শরাফুল মিল্লাত আবু নাসর আহমদ’। তিনি শতবর্ষে উপনীত হয়েছেন এবং বলা হয় যে তিনি এখনও জীবিত। সেখানকার রতল (ওজনের একক) চারশত আশি দিরহামের সমান। এই আমির মিয়াফারিকিন থেকে চার ফারসাখ দূরত্বে একটি শহর নির্মাণ করেছেন এবং তার নাম রেখেছেন নাসিরিয়া। আমেদ থেকে মিয়াফারিকিন পর্যন্ত দূরত্ব নয় ফারসাখ।

প্রাচীন দি মাসের ষষ্ঠ তারিখে (২২ ডিসেম্বর ১০৩৬ খ্রিষ্টাব্দ) আমরা আমেদে পৌঁছলাম, যা একটি অখণ্ড শিলার ওপর নির্মিত; এর দৈর্ঘ্য দুই হাজার ফুট এবং প্রস্থও তদ্রূপ। এটি কৃষ্ণ পাথরের একটি প্রাচীর দ্বারা পরিবেষ্টিত, যার প্রতিটি পাথরের ওজন একশত থেকে এক হাজার মওন বা তারও বেশি। এই পাথরগুলো চুন বা কাদা ছাড়াই একটির সঙ্গে অন্যটি ঘনিষ্ঠভাবে লেগে আছে। প্রাচীরটির উচ্চতা বিশ হাত এবং এর প্রস্থ দশ হাত। প্রতি একশত হাত অন্তর একটি করে বুরুজ নির্মাণ করা হয়েছে যার অর্ধবৃত্তাকার অংশ আশি হাত এবং এর প্রাচীর-শীর্ষের অলঙ্করণগুলোও এই একই পাথর দিয়ে নির্মিত। প্রাচীরে আরোহণ সহজতর করার জন্য শহরের ভেতর বেশ কিছু স্থানে পাথরের সিঁড়ি তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি বুরুজের ওপর একটি করে দুর্গ নির্মিত হয়েছে। এই শহরের চারটি প্রবেশদ্বার রয়েছে যার সবগুলোই নিরেট লোহার তৈরি, তাতে কাঠের কোনো ব্যবহার নেই। প্রতিটি দ্বার এক একটি প্রধান দিকের মুখোমুখি; পূর্ব দিকের দ্বারটিকে দজলা দরজা, পশ্চিমেরটিকে রুম দরজা, উত্তরেরটিকে আরমানি দরজা এবং দক্ষিণেরটিকে তাল দরজা বলা হয়। এই প্রাচীরের বাইরে একই পাথরের নির্মিত আরও একটি প্রাচীর রয়েছে যার উচ্চতা দশ হাত। এর ওপরে এমন প্রশস্ত পথ রয়েছে যেখানে একজন পূর্ণ সাজসজ্জায় সজ্জিত সৈনিক দাঁড়িয়ে অনায়াসে যুদ্ধ করতে পারে। এই বহিঃপ্রাচীরের লোহার দরজাগুলো অভ্যন্তরীণ প্রাচীরের দরজাগুলোর সোজাসুজি নয় বরং ভিন্ন অবস্থানে নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে কোনো ব্যক্তি প্রথম প্রাচীরের দরজা অতিক্রম করার পর দ্বিতীয় প্রাচীরের দরজায় পৌঁছাতে পনেরো হাত দূরত্ব অতিক্রম করতে বাধ্য হয়। শহরের মধ্যস্থলে একটি ঝরনা রয়েছে যার পানি কঠিন পাথর বিদীর্ণ করে নির্গত হয়। এই পানি এতটাই পর্যাপ্ত যে তা পাঁচটি যাঁতা চালানোর জন্য যথেষ্ট। এটি অত্যন্ত সুমিষ্ট এবং এর উৎসস্থল কারও জানা নেই। শহরে অনেক বৃক্ষরাজি ও উদ্যান রয়েছে যা এই পানি দ্বারা সিক্ত হয়। শহরের আমির ও প্রশাসক হলেন ইবনে নাসর।
(খণ্ড: ১) সফর নামা (পৃষ্ঠা: ৪৩)
الدولة الَّذِي مر ذكره وَقد رَأَيْت كثيرا من المدن والقلاع فِي أَطْرَاف الْعَالم فِي بِلَاد الْعَرَب والعجم والهند وَالتّرْك وَلَكِنِّي لم أر قطّ مثل مَدِينَة آمد فِي أَي مَكَان على وَجه الأَرْض وَلَا سَمِعت من أحد أَنه رأى مَكَانا آخر مثلهَا ومسجدها الْجَامِع من الْحجر الْأسود وَلَيْسَ مثله متانة وإحكاما وَقد أقيم فِي وَسطه مِائَتَا عَمُود ونيف من الْحجر كل عَمُود قِطْعَة وَاحِدَة وَفَوق هَذِه الأعمدة عُقُود من الْحجر وَقد نصبت فَوْقهَا أعمدة أقصر من تِلْكَ وَجَمِيع أَسْقُف الْمَسْجِد على هَيْئَة الجملون وَقد كملت نجارة ونقارة ونقشا ودهنا وَفِي ساحته صَخْرَة كَبِيرَة عَلَيْهَا حَوْض كَبِير مستدير من الْحجر يبلغ ارتفاعه قامة رجل ومحيط دائرته ذراعان وَفِي وسط الْحَوْض أنبوبة من النّحاس يتفجر مِنْهَا مَاء صَاف لَا يظْهر مدخله أَو مخرجه وبالمسجد ميضأة عَظِيمَة جميلَة الصنع بِحَيْثُ لَا يُوجد أحسن مِنْهَا وَقد بنيت عمارات آمد كلهَا من الْحجر الْأسود وَأما ميافارقين فعماراتها من الْحجر الْأَبْيَض

وبالقرب من الْمَسْجِد كَنِيسَة عَظِيمَة غنية بالزخارف مَبْنِيَّة كلهَا من الْحجر وَقد فرشت أرْضهَا بالرخام المنقوش وَقد رَأَيْت فِيهَا على الطارم وَهُوَ مَكَان الْعِبَادَة عِنْد النَّصَارَى بَابا من الْحَدِيد المشبك لم أر مثله فِي أَي مَكَان

وَمن آمد إِلَى حران طَرِيقَانِ أَحدهمَا لَا عمرَان فِيهِ وَهُوَ أَرْبَعُونَ فرسخا وَالثَّانِي بِهِ أَمَاكِن معمورة وقرى كَثِيرَة مُعظم أَهلهَا من النَّصَارَى وَهُوَ سِتُّونَ
যে রাজ্যের কথা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। আমি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আরব, অনারব, ভারত এবং তুর্কি ভূখণ্ডে অনেক শহর ও দুর্গ দেখেছি। কিন্তু পৃথিবীর কোনো স্থানে আমদ শহরের মতো শহর আমি কখনও দেখিনি এবং কারও কাছে শুনিওনি যে এর মতো অন্য কোনো স্থান কেউ দেখেছে। এর জামে মসজিদটি কালো পাথর দিয়ে তৈরি এবং মজবুত ও সুদৃঢ় হওয়ার দিক থেকে এর কোনো তুলনা নেই। এর মাঝখানে দুই শতাধিক পাথরের খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে, যার প্রতিটি খুঁটিই এক একটি অখণ্ড পাথর। এই খুঁটিগুলোর ওপর পাথরের খিলান রয়েছে এবং সেগুলোর ওপর আরও ছোট আকারের খুঁটি বসানো হয়েছে। মসজিদের সমস্ত ছাদ ঢালু চালা আকৃতির এবং এর কাঠমিস্ত্রির কাজ, খোদাই, নকশা ও রঙের কাজ অত্যন্ত নিপুণভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। এর আঙিনায় একটি বিশাল পাথরখণ্ড রয়েছে, যার ওপর পাথরের তৈরি একটি বড় গোলাকার জলাধার রয়েছে। এর উচ্চতা একজন মানুষের সমান এবং এর পরিধি দুই হাত। জলাধারের মাঝখানে একটি তামার নল রয়েছে যেখান থেকে স্বচ্ছ পানি নির্গত হয়, যার প্রবেশপথ বা নির্গমনপথ দৃশ্যমান নয়। মসজিদে ওজু করার জন্য একটি বিশাল ও সুন্দর স্থান রয়েছে, যার চেয়ে উত্তম আর কিছুই হতে পারে না। আমদের সমস্ত ইমারত কালো পাথর দিয়ে নির্মিত, আর মিয়্যাফারেকিনের ইমারতগুলো সাদা পাথরের তৈরি।

মসজিদের নিকটেই কারুকার্যমণ্ডিত একটি বিশাল গির্জা রয়েছে যা সম্পূর্ণ পাথর দিয়ে নির্মিত। এর মেঝে নকশা করা মার্বেল পাথর দিয়ে বাঁধানো। আমি সেখানে তারেমের ওপর—যা খ্রিস্টানদের উপাসনার স্থান—একটি লোহার জালিযুক্ত দরজা দেখেছি, যার অনুরূপ আর কোথাও দেখিনি।

আমদ থেকে হাররান পর্যন্ত দুটি পথ রয়েছে। একটি পথ জনবসতিহীন যার দৈর্ঘ্য চল্লিশ ফরসাখ। দ্বিতীয় পথটি জনবসতিপূর্ণ এবং এতে অনেক গ্রাম রয়েছে যার অধিবাসীদের অধিকাংশই খ্রিস্টান, আর এই পথটি ষাট ফরসাখ দীর্ঘ।
(খণ্ড: ১) সফর নামা (পৃষ্ঠা: ৪৪)
فرسخا وَقد سرنا مَعَ الْقَافِلَة فِي هَذَا الطَّرِيق وَكَانَت الصَّحرَاء غَايَة فِي الاسْتوَاء إِلَّا أَن بهَا أحجارا كَثِيرَة بِحَيْثُ لَا تَسْتَطِيع الدَّوَابّ أَن تخطو خطْوَة وَاحِدَة من غير أَن تعثر بِحجر وَقد بلغنَا حران يَوْم الْجُمُعَة الْخَامِس وَالْعِشْرين من جُمَادَى الآخر سنة 33 {28 ديسمبر 1046) الْمُوَافق اثْنَيْنِ وَعشْرين من شهر دي الْقَدِيم وَكَانَ هواؤها فِي ذَلِك الْوَقْت كهواء خُرَاسَان أَيَّام النوروز

وسرنا من هُنَاكَ فَبَلغنَا مَدِينَة تسمى قرول حَيْثُ أضافنا رجل كريم فِي بَيته وَهُنَاكَ دخل أَعْرَابِي فِي السِّتين من عمره فاقترب مني وَقَالَ حفظني الْقُرْآن فلقنته {قل أعوذ بِرَبّ النَّاس} فَكَانَ يقْرؤهَا معي فَلَمَّا وصلت إِلَى آيَة {من الْجنَّة وَالنَّاس} قَالَ أَقُول أَيْضا سُورَة أَرَأَيْت النَّاس فَقلت هَذِه السُّورَة لَيست قبل تِلْكَ فَقَالَ مَا سُورَة نقالة الْحَطب وَلم يعرف أَنه قيل فِي سُورَة {تبت} حمالَة الْحَطب لَا نقالة الْحَطب وَلم يسْتَطع هَذَا الْأَعرَابِي المشرف على السِّتين فِي تِلْكَ اللَّيْلَة أَن يحفظ سُورَة {قل أعوذ} مَعَ تكراري لَهَا مَعَه

وَفِي يَوْم السبت الثَّانِي من رَجَب سنة 33 {2 يناير 1047) بلغنَا مَدِينَة سروج واجتزنا الْفُرَات فِي الْيَوْم التَّالِي ونزلنا فِي منبج وَهِي أول مدن الشَّام وَكَانَ هَذَا أول بهمن الْقَدِيم يناير فبراير والطقس هُنَاكَ معتدل جدا وَلم يكن خَارج الْمَدِينَة عمارات قطّ وَقد سرت مِنْهَا إِلَى حلب وَمن ميافارقين إِلَيْهَا إِلَى حلب مائَة فَرسَخ

وَرَأَيْت مَدِينَة حلب فَإِذا هِيَ جميلَة بهَا سور عَظِيم قست ارتفاعه فَكَانَ خمْسا وَعشْرين ذِرَاعا وَبهَا قلعة عَظِيمَة مشيدة كلهَا من الصخر وَيُمكن مُقَارنَة حلب ببلخ وَهِي مَدِينَة عامرة أبنيتها متلاصقة وفيهَا تحصل المكوس عَمَّا يمر بهَا من بِلَاد الشَّام وَالروم وديار بكر ومصر وَالْعراق
ফারসাখ। আমরা এই কাফেলার সাথে এই পথে ভ্রমণ করছিলাম এবং মরুভূমিটি ছিল অত্যন্ত সমতল, তবে সেখানে এত অধিক পাথর ছিল যে পশুরা কোনো পাথরে হোঁচট না খেয়ে এক কদমও এগোতে পারছিল না। আমরা ৩৩ হিজরি সনের ২৫শে জুমাদাল আখিরা, শুক্রবার (২৮শে ডিসেম্বর ১০৪৬ খ্রিস্টাব্দ), যা প্রাচীন 'দে' মাসের ২২ তারিখের সমসাময়িক, হাররানে পৌঁছলাম। সেই সময় সেখানকার আবহাওয়া ছিল নওরোজের দিনগুলোতে খোরাসানের আবহাওয়ার মতো।

আমরা সেখান থেকে যাত্রা করে কারুল নামক একটি শহরে পৌঁছলাম, যেখানে একজন মহানুভব ব্যক্তি তাঁর বাড়িতে আমাদের আতিথ্য প্রদান করলেন। সেখানে প্রায় ষাট বছর বয়সী একজন বেদুইন প্রবেশ করল এবং আমার নিকটবর্তী হয়ে বলল, "আমাকে কুরআন মুখস্থ করিয়ে দিন।" আমি তাকে সূরা "কুল আউজু বিরাব্বিন নাস" পাঠ করালাম। সে আমার সাথে সাথে তা পাঠ করছিল। যখন আমি "মিনাল জিন্নাতি ওয়ান নাস" আয়াতে পৌঁছলাম, সে বলল, "আমি কি 'আরাইতান নাস' সূরাটিও বলব?" আমি বললাম, "এই সূরাটি এর আগের সূরা নয়।" তখন সে বলল, "'নাক্কলাতুল হাতাব' সূরাটি কোনটি?" সে জানত না যে সূরা "তাব্বাত"-এ "হাম্মালাতাল হাতাব" বলা হয়েছে, "নাক্কলাতাল হাতাব" নয়। সেই ষাটোর্ধ্ব বেদুইন ব্যক্তিটি সেই রাতে আমার সাথে বারবার পুনরাবৃত্তি করা সত্ত্বেও সূরা "কুল আউজু" মুখস্থ করতে সক্ষম হলো না।

এবং ৩৩ হিজরি সনের ২রা রজব, শনিবার (২রা জানুয়ারি ১০৪৭ খ্রিস্টাব্দ) আমরা সারুজ শহরে পৌঁছলাম এবং পরবর্তী দিনে ফোরাত নদী অতিক্রম করলাম। এরপর আমরা মানবিজে অবতরণ করলাম, যা সিরিয়ার শহরগুলোর মধ্যে প্রথম শহর। এটি ছিল প্রাচীন 'বাহমান' মাসের শুরু (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি) এবং সেখানকার আবহাওয়া ছিল অত্যন্ত নাতিশীতোষ্ণ। শহরের বাইরে কোনো বসতি বা দালানকোঠা ছিল না। আমি সেখান থেকে আলেপ্পোর (হালাব) অভিমুখে যাত্রা করলাম। মিয়াফারিকিন থেকে এই শহর পর্যন্ত অর্থাৎ আলেপ্পো পর্যন্ত দূরত্ব ছিল একশ ফারসাখ।

আমি আলেপ্পো শহরটি দেখলাম এবং এটি ছিল অত্যন্ত চমৎকার। এর একটি বিশাল প্রাচীর রয়েছে যার উচ্চতা আমি মেপেছি পঁচিশ হাত। সেখানে একটি সুদৃঢ় বিশাল দুর্গ রয়েছে যা সম্পূর্ণ পাথর দিয়ে নির্মিত। আলেপ্পোকে বলখ শহরের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। এটি একটি অত্যন্ত জনবহুল ও সমৃদ্ধ শহর, যার দালানগুলো একে অপরের সাথে সংলগ্ন। সিরিয়া, রোম, দিয়ার বকর, মিশর এবং ইরাকের যেসব মালামাল এই শহরের ওপর দিয়ে অতিক্রম করে, তার ওপর এখানে শুল্ক আদায় করা হয়।
(খণ্ড: ১) সফর নামা (পৃষ্ঠা: ৪৫)
وَيذْهب اليها التُّجَّار من جَمِيع هَذِه الْبِلَاد وَلها أَرْبَعَة أَبْوَاب بَاب الْيَهُود وَبَاب الله وَبَاب الْجنان وَبَاب أنطاكية وَالْوَزْن فِي سوقها بالرطل الظَّاهِرِيّ وَهُوَ أَرْبَعمِائَة وَثَمَانُونَ درهما وَتَقَع حما جنوبي حلب بِعشْرين فرسخا وَمن بعْدهَا حمص وَمن حلب إِلَى دمشق خَمْسُونَ فرسخا وَإِلَى أنطاكية اثْنَا عشر فرسخا وَإِلَى طرابلس كَذَلِك وَيُقَال إِن من حلب حَتَّى الْقُسْطَنْطِينِيَّة مِائَتي فَرسَخ

وَفِي الْحَادِي عشر من رَجَب سنة 43 {11 يناير 1047) خرجنَا من حلب وعَلى مَسَافَة ثَلَاثَة فراسخ مِنْهَا قَرْيَة تسمى جند قنسرين وَفِي الْيَوْم التَّالِي سرنا سِتَّة فراسخ وبلغنا مَدِينَة سرمين الَّتِي لَا سور لَهَا وَبعد مسيرَة سِتَّة فراسخ أُخْرَى بلغنَا معرة النُّعْمَان وَهِي مَدِينَة عامرة وَلها سور مَبْنِيّ وَقد رَأَيْت على بَابهَا عمودا من الْحجر عَلَيْهِ كِتَابَة غير عَرَبِيَّة فَسَأَلت مَا هَذَا فَقيل إِنَّه طلسم الْعَقْرَب حَتَّى لَا يكون فِي هَذِه الْمَدِينَة عقرب أبدا وَلَا يَأْتِي اليها وَإِذا أحضر من الْخَارِج وَأطلق بهَا فَإِنَّهُ يهرب وَلَا يدخلهَا وَقد قست هَذَا العمود فَكَانَ ارتفاعه عشر أَذْرع وَرَأَيْت أسواق معرة النُّعْمَان وافرة الْعمرَان وَقد بني مَسْجِد الْجُمُعَة على مُرْتَفع وسط الْمَدِينَة بِحَيْثُ يصعدون اليه من أَي جَانب يُرِيدُونَ وَذَلِكَ على ثَلَاث عشرَة دَرَجَة وزراعة السكان كلهَا قَمح وَهُوَ كثير وفيهَا شجر وفير من التِّين وَالزَّيْتُون والفستق وَالْعِنَب ومياه الْمَدِينَة من الْمَطَر والآبار

وَكَانَ بِهَذِهِ الْمَدِينَة رجل أعمى اسْمه أَبُو الْعَلَاء المعري وَهُوَ حاكمها وَكَانَ وَاسع الثراء عِنْده كثير من العبيد وَكَانَ أهل الْبَلَد خدم لَهُ
এই সমস্ত দেশ থেকে বণিকরা সেখানে যাতায়াত করে। এর চারটি প্রবেশদ্বার রয়েছে: ইহুদি তোরণ, আল্লাহর তোরণ, জান্নাত তোরণ এবং আন্তাকিয়া তোরণ। এর বাজারে ওজনের ক্ষেত্রে 'রতল জাহিরি' ব্যবহৃত হয়, যা চারশত আশি দিরহামের সমান। হামা শহরটি হালব থেকে বিশ ফরসাখ দক্ষিণে অবস্থিত এবং এর পরে হিমস অবস্থিত। হালব থেকে দামেস্কের দূরত্ব পঞ্চাশ ফরসাখ, আন্তাকিয়ার দূরত্ব বারো ফরসাখ এবং তারাবুলুসের দূরত্বও তদ্রূপ। বলা হয়ে থাকে যে, হালব থেকে কুসতুনতুনিয়া পর্যন্ত দূরত্ব দুইশত ফরসাখ।

৪৩৮ হিজরীর ১১ই রজব (১১ই জানুয়ারি ১০৪৭ খ্রিস্টাব্দ) আমরা হালব থেকে বের হলাম। সেখান থেকে তিন ফরসাখ দূরত্বে 'জুন্দ কিননাসরিন' নামক একটি গ্রাম রয়েছে। পরদিন আমরা ছয় ফরসাখ পথ অতিক্রম করে সারমিন শহরে পৌঁছলাম, যার কোনো প্রাচীর নেই। আরও ছয় ফরসাখ পথ চলার পর আমরা মা’আররাত আন-নু’মান পৌঁছলাম; এটি একটি সমৃদ্ধ শহর এবং এর প্রাচীর নির্মিত রয়েছে। আমি এর প্রবেশদ্বারে একটি পাথরের স্তম্ভ দেখলাম যাতে অনারব ভাষায় লিপি উৎকীর্ণ ছিল। আমি এটি কী তা জিজ্ঞাসা করলে বলা হলো যে, এটি বৃশ্চিকের তিলসম বা জাদুকরী রক্ষাকবচ, যাতে এই শহরে কখনো কোনো বৃশ্চিক না থাকে এবং এখানে না আসে। যদি বাইরে থেকে কোনো বৃশ্চিক এনে এখানে ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে সেটি পালিয়ে যায় এবং ভেতরে প্রবেশ করে না। আমি এই স্তম্ভটি পরিমাপ করলাম, এর উচ্চতা ছিল দশ হাত। আমি মা’আররাত আন-নু’মানের বাজারগুলো দেখলাম যা অত্যন্ত উন্নত ও জনাকীর্ণ। জামে মসজিদটি শহরের মাঝখানে একটি উঁচু স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে মানুষ যেকোনো দিক থেকে এতে উঠতে পারে এবং এতে তেরোটি সিঁড়ি রয়েছে। এখানকার অধিবাসীদের চাষাবাদ মূলত গম, যা প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হয়। এছাড়াও এখানে ডুমুর, জয়তুন, পেস্তা ও আঙুরের প্রচুর গাছ রয়েছে। শহরের পানির উৎস হলো বৃষ্টির পানি ও কূপ।

এই শহরে আবু আল-আলা আল-মা’আররি নামক একজন অন্ধ ব্যক্তি ছিলেন এবং তিনি সেখানকার শাসক ছিলেন। তিনি অত্যন্ত ধনবান ছিলেন, তাঁর অনেক দাস ছিল এবং শহরের অধিবাসীরা তাঁর সেবক ছিল।
(খণ্ড: ১) সফর নামা (পৃষ্ঠা: ৪৬)
أما هُوَ فقد تزهد فَلبس الكلتم وَاعْتَكف فِي الْبَيْت وَكَانَ قوته نصف من من خبز الشّعير لَا يَأْكُل غَيره وَقد سَمِعت أَن بَاب سرايه مَفْتُوح دَائِما وَأَن نوابه وملازميه يدبرون أَمر الْمَدِينَة وَلَا يرجعُونَ إِلَيْهِ إِلَّا فِي الْأُمُور الهامة وَهُوَ لَا يمْنَع نعْمَته أحدا يَصُوم الدَّهْر وَيقوم اللَّيْل وَلَا يشغل نَفسه مُطلقًا بِأَمْر دُنْيَوِيّ وَقد سما المعري فِي الشّعْر وَالْأَدب إِلَى حد أَن أفاضل الشَّام وَالْمغْرب وَالْعراق يقرونَ بِأَنَّهُ لم يكن من يدانيه فِي هَذَا الْعَصْر وَلَا يكون وَقد وضع كتابا سَمَّاهُ الفضول والغايات ذكر بِهِ كَلِمَات مرموزة وأمثالا فِي لفظ فصيح عَجِيب بِحَيْثُ لَا يقف النَّاس إِلَّا على قَلِيل مِنْهُ وَلَا يفهمهُ إِلَّا من يقرأه عَلَيْهِ وَقد اتَّهَمُوهُ بأنك وضعت هَذَا الْكتاب مُعَارضَة لِلْقُرْآنِ يجلس حوله دَائِما أَكثر من مِائَتي رجل يحْضرُون من الْأَطْرَاف يقرءُون عَلَيْهِ الْأَدَب وَالشعر وَسمعت أَن لَهُ أَكثر من مائَة ألف بَيت شعر سَأَلَهُ رجل لم تعط النَّاس مَا أَفَاء الله تبارك وتعالى عَلَيْك من وافر النعم وَلَا تقوت نَفسك فَأجَاب إِنِّي لَا أملك أَكثر مِمَّا يُقيم أودي وَكَانَ هَذَا الرجل حَيا وَأَنا هُنَاكَ

وَفِي الْخَامِس عشر من رَجَب سنة 33 {15 يناير 1047) سرنا إِلَى كويمات وَمِنْهَا إِلَى حما وَهَذِه الْمَدِينَة جميلَة عامرة على شاطىء نهر العَاصِي وَيُسمى هَذَا النَّهر بالعاصي لِأَنَّهُ يذهب إِلَى بِلَاد الرّوم فَهُوَ يخرج من بِلَاد الْإِسْلَام ليدْخل بِلَاد الْكفْر وَقد نصبوا عَلَيْهِ سواقي كَثِيرَة وَمن حما طَرِيقَانِ أَحدهمَا بِجَانِب السَّاحِل غرب الشَّام وَالْآخر فِي الْجنُوب وَهُوَ يَنْتَهِي إِلَى دمشق فسرنا عَن طَرِيق السَّاحِل وَقد رَأينَا فِي الْجَبَل عينا قيل إِن ماءها يتفجر فِي الثَّلَاثَة أَيَّام التالية لنصف شعْبَان من كل سنة ثمَّ ينضب فَلَا تخرج مِنْهُ قَطْرَة وَاحِدَة حَتَّى السّنة التالية وَيذْهب الكثيرون
পক্ষান্তরে তিনি সংসারবিরাগী হয়েছিলেন, মোটা কাপড় পরিধান করতেন এবং ঘরে অবস্থান করতেন। তাঁর খাদ্য ছিল কেবল আধা মন্ন যবের রুটি, এর বাইরে তিনি কিছুই খেতেন না। আমি শুনেছি যে তাঁর প্রাসাদের দরজা সর্বদা উন্মুক্ত থাকে এবং তাঁর প্রতিনিধি ও অনুগামীরা শহরের বিষয়াদি পরিচালনা করেন; অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ব্যতীত তারা তাঁর শরণাপন্ন হন না। তিনি নিজের নেয়ামত থেকে কাউকেই বঞ্চিত করেন না। তিনি সর্বদা রোজা রাখেন এবং রাত জেগে ইবাদত করেন। তিনি পার্থিব কোনো বিষয়ে নিজেকে মোটেও ব্যাপৃত রাখেন না। আল-মাআরি কবিতা ও সাহিত্যে এমন এক উচ্চতায় আরোহণ করেছিলেন যে, শাম, মাগরিব ও ইরাকের পণ্ডিতবর্গ স্বীকার করেন যে, এই যুগে তাঁর সমকক্ষ কেউ ছিল না এবং হবেও না। তিনি 'আল-ফুজুল ওয়াল গায়াত' নামক একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন, যাতে তিনি বিস্ময়কর ও প্রাঞ্জল শব্দে এমন কিছু গূঢ় রহস্যময় কথা ও প্রবাদ উল্লেখ করেছেন যে, সাধারণ মানুষ তার অতি সামান্যই অনুধাবন করতে পারে। কেবল সেই ব্যক্তিই তা বুঝতে সক্ষম হয় যে তাঁর নিকট এটি পাঠ করেছে। লোকে তাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উত্থাপন করেছিল যে, আপনি এই গ্রন্থটি কুরআনের সমকক্ষতা করার জন্য রচনা করেছেন। তাঁর চারপাশে সর্বদা দুই শতাধিক মানুষ অবস্থান করতেন যারা দূর-দূরান্ত থেকে তাঁর নিকট সাহিত্য ও কবিতা পাঠ করতে আসতেন। আমি শুনেছি যে তাঁর এক লক্ষেরও অধিক কবিতার পঙ্ক্তি রয়েছে। এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিল, "আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা আপনাকে যে অঢেল নেয়ামত দান করেছেন তা কেন আপনি মানুষকে বিলিয়ে দেন এবং নিজের জন্য আহার্য সঞ্চয় করেন না?" তিনি উত্তরে বললেন, "আমার জীবন ধারণের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, তার অতিরিক্ত কোনো কিছুর মালিক আমি নই।" আমি যখন সেখানে ছিলাম, তখন এই ব্যক্তি জীবিত ছিলেন।

আর ৪৩৩ হিজরির ১৫ই রজব (১৫ই জানুয়ারি ১০৪৭ খ্রিস্টাব্দ) আমরা কুইমাতের দিকে যাত্রা করলাম এবং সেখান থেকে হামা শহরে পৌঁছালাম। আসী নদীর তীরে অবস্থিত এই শহরটি অত্যন্ত সুন্দর ও জনবহুল। এই নদীকে 'আসী' (অবাধ্য) বলা হয় কারণ এটি রোমীয় দেশসমূহের দিকে প্রবাহিত হয়; অর্থাৎ এটি মুসলিম ভূখণ্ড হতে নির্গত হয়ে কাফেরদের দেশে প্রবেশ করে। তারা এই নদীর উপর অনেক জলসেচন যন্ত্র স্থাপন করেছে। হামা থেকে যাওয়ার দুটি পথ রয়েছে; একটি শামের উপকূলীয় এলাকা দিয়ে এবং অন্যটি দক্ষিণ দিকে যা দামেস্ক অভিমুখে চলে গিয়েছে। আমরা উপকূলীয় পথ ধরে অগ্রসর হলাম। আমরা পাহাড়ে একটি ঝরনা দেখেছি যার সম্পর্কে বলা হয় যে, প্রতি বছর শাবান মাসের মাঝামাঝি সময়ের পরবর্তী তিন দিন এর পানি সজোরে প্রবাহিত হয়, এরপর তা শুকিয়ে যায় এবং পরবর্তী বছর না আসা পর্যন্ত তা থেকে এক ফোঁটা পানিও নির্গত হয় না। সেখানে অনেক মানুষ গমন করে...
(খণ্ড: ১) সফর নামা (পৃষ্ঠা: ৪৭)
لزيارة هَذِه الْعين تقربا إِلَى الله سبحانه وتعالى وَقد بنيت هُنَاكَ عمارات وأحواض وَلما سرنا من هُنَاكَ بلغنَا سهلا كَسَاه النرجس ثوبا أَبيض وذهبنا بعد ذَلِك إِلَى مَدِينَة تسمى عرقة وَبعد مسيرَة فرسخين مِنْهَا بلغنَا شاطىء الْبَحْر فتبعناه نَاحيَة الْجنُوب حَتَّى بلغنَا مَدِينَة طرابلس بعد مسيرَة خَمْسَة فراسخ

وَمن حلب إِلَى طرابلس أَرْبَعُونَ فرسخا عَن هَذَا الطَّرِيق وَكَانَ بلوغنا إِيَّاهَا يَوْم السبت الْخَامِس من شعْبَان (6 فبراير) وحول الْمَدِينَة الْمزَارِع والبساتين وَكثير من قصب السكر وأشجار النارنج والترنج والموز والليمون وَالتَّمْر وَكَانَ عسل السكر يجمع حينذاك ومدينة طرابلس مشيدة بِحَيْثُ أَن ثَلَاثَة من جوانبها مطلة على الْبَحْر فَإِذا ماج علت أمواجه السُّور أما الْجَانِب المطل على الْيَابِس فبه خَنْدَق عَظِيم عَلَيْهِ بَاب حديدي مُحكم وَفِي الْجَانِب الشَّرْقِي من الْمَدِينَة قلعة من الْحجر المصقول عَلَيْهَا شرفات ومقاتلات من الْحجر نَفسه وعَلى قمتها عرادات لوقايتها من الرّوم فهم يخَافُونَ أَن يُغير هَؤُلَاءِ عَلَيْهَا بالسفن ومساحة الْمَدِينَة ألف ذِرَاع مربع وأربطتها أَربع أَو خمس طَبَقَات وَمِنْهَا مَا هُوَ سِتّ طَبَقَات أَيْضا وشوارعها وأسواقها جميلَة ونظيفة حَتَّى لتظن أَن كل سوق قصر مزين وَقد رَأَيْت بطرابلس مَا رَأَيْت فِي بِلَاد الْعَجم من الْأَطْعِمَة والفواكه بل أحسن مِنْهُ
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে এই ঝর্ণাটি জিয়ারত করার জন্য সেখানে দালানকোঠা ও জলাধার নির্মাণ করা হয়েছে। যখন আমরা সেখান থেকে যাত্রা করলাম, তখন আমরা এমন এক সমতলে পৌঁছলাম যাকে নার্গিস ফুল সাদা পোশাকে আবৃত করে রেখেছিল। এরপর আমরা আরকা নামক এক শহরে গেলাম এবং সেখান থেকে দুই ফরসাখ পথ চলার পর সমুদ্রকূলে পৌঁছলাম। অতঃপর আমরা দক্ষিণ দিক বরাবর অগ্রসর হলাম যতক্ষণ না পাঁচ ফরসাখ পথ চলার পর ত্রিপোলি শহরে পৌঁছলাম।

এই পথে আলেপ্পো থেকে ত্রিপোলির দূরত্ব চল্লিশ ফরসাখ। আমাদের সেখানে পৌঁছানো হয়েছিল শাবান মাসের পাঁচ তারিখ শনিবার (৬ ফেব্রুয়ারি)। শহরের চারপাশ জুড়ে রয়েছে ক্ষেতখামার, বাগান এবং প্রচুর পরিমাণে আখ, কমলালেবু, বাতাবি লেবু, কলা, পাতিলেবু ও খেজুর গাছ। সেই সময় আখের রস সংগ্রহ করা হচ্ছিল। ত্রিপোলি শহরটি এমনভাবে নির্মিত যে এর তিন দিকই সমুদ্রের দিকে মুখ করা, ফলে যখন সমুদ্রে উত্তাল হয় তখন এর ঢেউগুলো প্রাচীরের ওপর আছড়ে পড়ে। আর স্থলের দিকের অংশটিতে একটি বিশাল পরিখা রয়েছে, যার ওপর একটি মজবুত লোহার ফটক বিদ্যমান। শহরের পূর্ব পাশে মসৃণ পাথরের একটি দুর্গ রয়েছে, যাতে পাথর দিয়েই তৈরি ঝুল বারান্দা এবং প্রতিরক্ষা মঞ্চ রয়েছে। দুর্গের চূড়ায় রোমানদের আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য প্রক্ষেপক যন্ত্র বসানো আছে, কারণ তারা আশঙ্কা করে যে রোমানরা জাহাজ নিয়ে অতর্কিত আক্রমণ করতে পারে। শহরের আয়তন এক হাজার বর্গ হাত এবং এর ভবনগুলো চার বা পাঁচ তলা বিশিষ্ট, এমনকি কিছু কিছু ছয় তলা বিশিষ্টও বটে। এর রাস্তাঘাট ও বাজারগুলো এতটাই সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন যে মনে হবে প্রতিটি বাজার যেন একেকটি সুসজ্জিত প্রাসাদ। আমি ত্রিপোলিতে পারস্যের দেশগুলোতে দেখা সমস্ত খাদ্য ও ফলমূল দেখেছি, বরং তার চেয়েও উত্তম ও উৎকৃষ্ট বস্তু সেখানে দেখেছি।
(খণ্ড: ১) সফর নামা (পৃষ্ঠা: ৪৮)
مائَة مرّة وَفِي وسط الْمَدِينَة جَامع عَظِيم نظيف جميل النقش حُصَيْن وَفِي ساحته قبَّة كَبِيرَة تحتهَا حَوْض من الرخام فِي وَسطه فواره من النّحاس الْأَصْفَر وَفِي السُّوق مشرعة ذَات خَمْسَة صنابير يخرج مِنْهَا مَاء كثير يَأْخُذ مِنْهُ النَّاس حَاجتهم وَيفِيض بَاقِيه على الأَرْض وَيصرف فِي الْبَحْر وَيُقَال إِن بهَا عشْرين ألف رجل ويتبعها كثير من السوَاد والقرى ويصنعون بهَا الْوَرق الْجَمِيل مثل الْوَرق السَّمرقَنْدِي بل أحسن مِنْهُ وَهِي تَابِعَة لسلطان مصر قيل وَسبب ذَلِك أَنه فِي زمن مَا أغار عَلَيْهَا جَيش الرّوم الْكفَّار فحاربه جند سُلْطَان مصر وقهروه فَرفع السُّلْطَان الْخراج عَنْهَا وَأقَام بهَا جَيْشًا من قبله على رَأسه قَائِد لحمايتها من الْعَدو وَتحصل المكوس بِهَذِهِ الْمَدِينَة فتدفع السفن الْآتِيَة من بِلَاد الرّوم والفرنج والأندلس وَالْمغْرب الْعشْر للسُّلْطَان فَيدْفَع مِنْهُ أرزاق الْجند وللسلطان بهَا سفن تُسَافِر إِلَى بِلَاد الرّوم وصقلية وَالْمغْرب للتِّجَارَة وسكان طرابلس كلهم شيعَة وَقد شيد الشِّيعَة مَسَاجِد جميلَة فِي كل الْبِلَاد وَهُنَاكَ بيُوت على مِثَال الأربطة وَلَكِن لَا يسكنهَا أحد وَتسَمى مشَاهد وَلَا يُوجد خَارج طرابلس بيُوت أبدا عدا مشهدين أَو ثَلَاثَة من الَّتِي مر ذكرهَا

وغادرت طرابلس وسرت على شاطىء الْبَحْر نَاحيَة الْجنُوب فَرَأَيْت على مَسَافَة فَرسَخ وَاحِد قلعة تسمى قلمون فِي داخلها عين مَاء وسرت من هُنَاكَ إِلَى طرابزون وَمن طرابلس إِلَيْهَا خَمْسَة فراسخ وَمِنْهَا بلغنَا مَدِينَة جبيل وَهِي مُثَلّثَة تطل زَاوِيَة مِنْهَا على الْبَحْر ويحيطها سور حُصَيْن شَاهِق الِارْتفَاع وحولها النخيل غَيره من أَشجَار المناطق الحارة وَقد رَأَيْت فِي يَد غُلَام بهَا وردة حَمْرَاء وَأُخْرَى بَيْضَاء ناضرة وَكَانَ ذَلِك فِي الْيَوْم الْخَامِس من استدارمذ الشَّهْر الْقَدِيم (فبراير) سنة 315 من تَارِيخ الْعَجم

وَمن هُنَاكَ بلغنَا بيروت فَرَأَيْت بهَا طاقا حجريا شقّ الطَّرِيق فِي وَسطه وَقد قدرت ارتفاعه بِخَمْسِينَ ذِرَاعا وجانباه من الْحجر الْأَبْيَض
একশ বার এবং শহরের মাঝখানে একটি বিশাল জামে মসজিদ আছে, যা পরিচ্ছন্ন, সুন্দর কারুকার্যময় ও সুরক্ষিত। এর চত্বরে একটি বড় গম্বুজ রয়েছে, যার নিচে একটি মার্বেল পাথরের হাউজ রয়েছে এবং এর মাঝখানে পিতলের একটি ফোয়ারা রয়েছে। বাজারে একটি ঝরনা রয়েছে যার পাঁচটি কল থেকে প্রচুর পানি বের হয়, যেখান থেকে মানুষ তাদের প্রয়োজন মেটায় এবং অবশিষ্ট পানি মাটিতে উপচে পড়ে সমুদ্রে গিয়ে মেশে। বলা হয় যে সেখানে বিশ হাজার পুরুষ রয়েছে এবং এর অধীনে অনেক গ্রাম ও জনপদ রয়েছে। তারা সেখানে সমরকন্দি কাগজের মতো সুন্দর কাগজ তৈরি করে, বরং তার চেয়েও উন্নত। এটি মিশরের সুলতানের শাসনাধীন। বলা হয় এর কারণ হলো, কোনো এক সময় সেখানে কাফের রোমান বাহিনী আক্রমণ করেছিল, তখন মিশরের সুলতানের সৈন্যরা তাদের সাথে যুদ্ধ করে তাদের পরাজিত করে। অতঃপর সুলতান সেখান থেকে খাজনা মওকুফ করে দেন এবং শত্রুদের হাত থেকে রক্ষার জন্য তার পক্ষ থেকে সেখানে একজন সেনাপতির নেতৃত্বে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেন। এই শহরে শুল্ক আদায় করা হয়; ফলে রোম, ইউরোপ, আন্দালুস এবং মাগরিব থেকে আসা জাহাজগুলো সুলতানকে দশমাংশ প্রদান করে, যা থেকে সৈন্যদের বেতন দেওয়া হয়। সুলতানের সেখানে নিজস্ব জাহাজ রয়েছে যা বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে রোম, সিসিলি ও মাগরিব দেশে যাতায়াত করে। ত্রিপোলির অধিবাসীরা সবাই শিয়া। শিয়ারা পুরো দেশে সুন্দর সুন্দর মসজিদ নির্মাণ করেছে। সেখানে 'রিবাত'-এর আদলে কিছু ঘর রয়েছে কিন্তু সেগুলোতে কেউ বাস করে না, সেগুলোকে 'মাশহাদ' বলা হয়। ত্রিপোলির বাইরে উল্লেখিত দুই-তিনটি মাশহাদ ছাড়া আর কোনো ঘরবাড়ি নেই।

আমি ত্রিপোলি ত্যাগ করে সমুদ্র উপকূল ধরে দক্ষিণ দিকে যাত্রা করলাম। এক ফারসাখ দূরত্বে 'কালামুন' নামক একটি দুর্গ দেখলাম যার ভেতরে একটি পানির প্রস্রবণ রয়েছে। সেখান থেকে আমি ত্রাবজুন অভিমুখে যাত্রা করলাম, যা ত্রিপোলি থেকে পাঁচ ফারসাখ দূরে। সেখান থেকে আমরা জুবাইল শহরে পৌঁছালাম। এটি ত্রিভুজাকৃতির, যার একটি কোণ সমুদ্রের দিকে মুখ করা এবং একে ঘিরে রয়েছে অত্যন্ত উঁচু ও মজবুত প্রাচীর। এর চারপাশে খেজুর গাছ ও অন্যান্য উষ্ণমন্ডলীয় গাছপালা রয়েছে। সেখানে আমি এক বালকের হাতে একটি লাল গোলাপ ও একটি সতেজ সাদা গোলাপ দেখলাম। সেটি ছিল পারস্য বর্ষপঞ্জির ৩১৫ সালের ইসতিনদারমাদ (ফেব্রুয়ারি) মাসের পাঁচ তারিখ।

সেখান থেকে আমরা বৈরুতে পৌঁছালাম। সেখানে আমি একটি পাথরের তৈরি খিলান দেখলাম যার মাঝখান দিয়ে রাস্তা চলে গেছে। আমি এর উচ্চতা পঞ্চাশ হাত অনুমান করলাম এবং এর দুই পাশ ছিল সাদা পাথরের তৈরি।
(খণ্ড: ১) সফর নামা (পৃষ্ঠা: ৪৯)
تزن كل قِطْعَة مِنْهُ أَكثر من ألف من وعَلى جانبيه بِنَاء من الطوب النيىء ارتفاعه عشرُون ذِرَاعا وَقد نصبت على قمته أعمدة من الرخام طول كل مِنْهَا ثَمَانِيَة أَذْرع وَهِي سميكة بِحَيْثُ لَا يَسْتَطِيع رجلَانِ أَن يحيطاها بأذرعهما إِلَّا بصعوبة وعَلى رَأس هَذِه الْعمد عُقُود على الْجَانِبَيْنِ كلهَا من الْحجر المنحوت الَّذِي لَا يفصله عَن بعضه حص أَو طين وَفِي الْوسط تَمامًا الطاق الْكَبِير يعلوها بِخَمْسِينَ ذِرَاعا وَقد قست كل حجر مِنْهُ فَإِذا بِهِ ثَمَانِيَة أَذْرع طولا وَأَرْبَعَة عرضا وأظن الْحجر الْوَاحِد يزن سَبْعَة آلَاف من وَقد نقشت هَذِه الْحِجَارَة بدقة ومهارة بِحَيْثُ يقل مَا يشابهها مِمَّا ينقش على الْخشب وَلم يبْق هُنَاكَ أبنية غير هَذَا الطاق وَقد سَأَلت أَي مَكَان هَذَا فَقيل لي سمعنَا أَنه بَاب حديقة فِرْعَوْن وَهُوَ بَالغ فِي الْقدَم والوادي المجاور لهَذِهِ النَّاحِيَة مَمْلُوء بأعمدة الرخام تيجانها وجذوعها وَهِي من الرخام المدور والمربع والمسدس والمثمن وَهِي من الصلابة بِحَيْثُ لَا يُؤثر فِيهَا الْحَدِيد وَلَيْسَ فِي هَذِه الْجِهَة جبل حَتَّى يُقَال إِنَّهُم جلبوها مِنْهُ وَهُنَاكَ حِجَارَة تبدو كَأَنَّهَا معجونة جرانيت وَهِي تفل الْحَدِيد وَفِي نواحي الشَّام أَكثر من خَمْسمِائَة ألف من أعمدة وتيجان وجذوع وَلَا يعرف أحد مَاذَا كَانَت وَلَا من أَيْن نقلت

ثمَّ بلغنَا مَدِينَة صيدا وَهِي على شاطىء الْبَحْر أَيْضا يزرع بهَا قصب السكر بوفرة وَبهَا قلعة حجرية محكمَة وَلها ثَلَاث بوابات وفيهَا مَسْجِد جُمُعَة جميل يبْعَث فِي النَّفس هَيْبَة تَامَّة وَقد فرش كُله بالحصير المنقوش وَفِي صيدا سوق جميل نظيف وَقد ظَنَنْت حِين رَأَيْته أَنه زين خَاصَّة لمقدم السُّلْطَان أَو لِأَن بشرى سعيدة أذيعت فَلَمَّا سَأَلت قيل لي هَكَذَا عَادَة هَذِه الْمَدِينَة دَائِما وفيهَا حدائق وأشجار منسقة حَتَّى لتقول إِن سُلْطَانا هاويا غرسها وَفِي كل من هَذِه الحدائق كشك وأغلب شَجَرهَا مثمر
এর প্রতিটি খণ্ডের ওজন এক হাজার মণেরও বেশি। এর দুই পাশে কাঁচা ইটের তৈরি একটি কাঠামো রয়েছে যার উচ্চতা বিশ হাত। এর শীর্ষে মার্বেল পাথরের স্তম্ভ স্থাপন করা হয়েছে, যার প্রতিটি আট হাত লম্বা। এগুলো এতই স্থূল যে, দুইজন ব্যক্তি তাদের হাত দিয়ে অতি কষ্ট ছাড়া তা বেষ্টন করতে পারে না। এই স্তম্ভগুলোর শীর্ষে দুই পাশে খোদাই করা পাথরের খিলান রয়েছে, যা চুন বা কাদা ছাড়াই একে অপরের সাথে যুক্ত। ঠিক মাঝখানে বড় তোরণটি অবস্থিত, যা এগুলোর ওপর থেকে আরও পঞ্চাশ হাত উঁচুতে। আমি এর প্রতিটি পাথর মেপে দেখেছি, প্রতিটি পাথর দৈর্ঘ্যে আট হাত এবং প্রস্থে চার হাত। আমার ধারণা, একেকটি পাথরের ওজন সাত হাজার মণ হবে। এই পাথরগুলো এত সূক্ষ্মতা ও দক্ষতার সাথে খোদাই করা হয়েছে যে, কাঠের ওপর খোদাই করা নকশার মধ্যেও এর সমতুল্য খুব কমই দেখা যায়। বর্তমানে সেখানে এই তোরণটি ছাড়া আর কোনো ভবন অবশিষ্ট নেই। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এটি কোন স্থান? আমাকে বলা হলো যে, আমরা শুনেছি এটি ফেরাউনের বাগানের তোরণ ছিল এবং এটি অত্যন্ত প্রাচীন। এই এলাকার পার্শ্ববর্তী উপত্যকাটি মার্বেল স্তম্ভের চূড়া ও মূল অংশে পরিপূর্ণ। এগুলো গোলাকার, বর্গাকার, ষড়ভুজ ও অষ্টভুজ আকৃতির মার্বেল পাথর দিয়ে তৈরি। এগুলো এতই শক্ত যে লোহাও এতে কোনো দাগ কাটতে পারে না। এই অঞ্চলে এমন কোনো পাহাড় নেই যে বলা যাবে তারা সেখান থেকে এগুলো নিয়ে এসেছে। সেখানে এমন কিছু পাথর আছে যা দেখে মনে হয় যেন গ্রানাইটের মিশ্রণ এবং সেগুলো লোহার ধার নষ্ট করে দেয়। শাম (সিরিয়া) অঞ্চলের বিভিন্ন প্রান্তে পাঁচ লক্ষাধিক স্তম্ভ, চূড়া ও মূল অংশ ছড়িয়ে রয়েছে; কেউ জানে না এগুলো আসলে কী ছিল অথবা কোথা থেকে এগুলোকে বয়ে আনা হয়েছিল।

অতঃপর আমরা সিদা (সাইদা) শহরে পৌঁছলাম, এটিও সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত একটি শহর। এখানে প্রচুর পরিমাণে আখ চাষ করা হয়। এখানে পাথরের তৈরি একটি সুদৃঢ় দুর্গ রয়েছে যার তিনটি প্রবেশদ্বার আছে। সেখানে একটি সুন্দর জামে মসজিদ রয়েছে যা মনে গভীর গাম্ভীর্য ও প্রশান্তি সঞ্চার করে; এর পুরো মেঝে কারুকার্যখচিত পাটি দিয়ে বিছানো। সিদাতে একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন বাজার রয়েছে। আমি যখন এটি দেখলাম, তখন মনে মনে ভাবলাম যে এটি সম্ভবত সুলতানের আগমন উপলক্ষে কিংবা কোনো সুসংবাদ প্রচারের কারণে বিশেষভাবে সাজানো হয়েছে। কিন্তু যখন আমি এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, তখন আমাকে বলা হলো যে, এই শহরের অবস্থা সর্বদা এমনই থাকে। এখানে এমন সুবিন্যস্ত বাগান ও গাছপালা রয়েছে যে, আপনার মনে হবে কোনো শৌখিন সুলতান নিজ হাতে এগুলো রোপণ করেছেন। এই বাগানগুলোর প্রতিটিতে একটি করে বিশ্রামাগার রয়েছে এবং এর অধিকাংশ গাছই ফলদায়ক।
(খণ্ড: ১) সফর নামা (পৃষ্ঠা: ৫০)
وَبعد مسيرَة خَمْسَة فراسخ على شاطىء الْبَحْر بلغنَا مَدِينَة صور وَهِي ساحلية أَيْضا وَقد بنيت على صَخْرَة امتدت فِي المَاء بِحَيْثُ أَن الْجُزْء الْوَاقِع على الْيَابِس من قلعتها لَا يزِيد على مائَة ذِرَاع وَالْبَاقِي فِي مَاء الْبَحْر والقلعة مَبْنِيَّة بِالْحجرِ المنحوت الَّذِي سدت فجواته بالقار حَتَّى لَا يدْخل المَاء من خلله وَقد قدرت الْمَدِينَة بِأَلف ذِرَاع مربع وأربطتها من خمس أَو سِتّ طَبَقَات وَكلهَا متلاصقة وَفِي كثير مِنْهَا نافورات وأسواقها جميلَة كَثِيرَة الْخيرَات وتعرف مَدِينَة صور بَين مدن سَاحل الشَّام بالثراء ومعظم سكانها شيعَة وَالْقَاضِي هُنَاكَ رجل سني اسْمه ابْن أبي عقيل وَهُوَ رجل طيب ثري وَقد بني على بَاب الْمَدِينَة مشْهد بِهِ كثير من السجاجيد والحصير والقناديل والثريات المذهبة والمفضضة وصور مشيدة على مُرْتَفع وتأتيها الْمِيَاه من الْجَبَل وَقد شيد على بَابهَا عُقُود حجرية يمر من فَوْقهَا إِلَى الْمَدِينَة وَفِي الْجَبَل وَاد مُقَابل لَهَا إِذا سَار السائر فِيهِ ثَمَانِيَة عشر فرسخا نَاحيَة الْمشرق بلغ دمشق

بعد أَن سرنا سَبْعَة فراسخ من صور بلغنَا عكة وتكتب هُنَاكَ مَدِينَة عكة وَهِي مشيدة على مُرْتَفع بعضه من أَرض وعرة وَبَعضه سهل وَلم تشيد الْمَدِينَة فِي الْوَادي المنخفض مَخَافَة غَلَبَة مَاء الْبَحْر عَلَيْهَا وخشية أمواجه الَّتِي تعج على السَّاحِل وَمَسْجِد الْجُمُعَة فِي وسط الْمَدِينَة وَهُوَ أَعلَى مبانيها وأعمدتها كلهَا من الرخام وَيَقَع قبر صَالح النَّبِي عليه السلام خَارجه على يَمِين الْقبْلَة وساحته بَعْضهَا من الْحجر وَبَعضهَا الآخر مزروع وَيُقَال إِن آدم عليه السلام كَانَ يزرع هُنَاكَ ومسحت الْمَدِينَة فَكَانَ طولهَا ألفي ذِرَاع وعرضها خَمْسمِائَة وَلها قلعة غَايَة فِي الإحكام يطلّ جانباها الغربي والجنوبي على الْبَحْر وعَلى الْأَخير ميناء ومعظم مدن السَّاحِل كَذَلِك والميناء اسْم يُطلق على الْجِهَة الَّتِي بنيت للمحافظة على السفن وَهِي تشبه الاسطبل وظهرها نَاحيَة الْمَدِينَة وحائطاها داخلان فِي الْبَحْر وعَلى امتدادهما مدْخل مَفْتُوح طوله خَمْسُونَ ذِرَاعا وَقد شدت السلَاسِل بَين
সমুদ্রতীর ধরে পাঁচ ফারসাখ পথ চলার পর আমরা সূর শহরে পৌঁছালাম। এটিও একটি উপকূলীয় শহর এবং এটি এমন এক পাথরের ওপর নির্মিত যা পানির ভেতরে প্রসারিত, ফলে এর দুর্গের স্থলভাগের অংশ একশত হাতের বেশি নয় এবং বাকি অংশ সমুদ্রের পানির ভেতরে অবস্থিত। দুর্গটি খোদাই করা পাথর দিয়ে তৈরি, যার ফাঁকগুলো পিচ দিয়ে বন্ধ করা হয়েছে যাতে ছিদ্রপথে পানি প্রবেশ করতে না পারে। শহরটি এক হাজার বর্গহাত পরিমাণ বলে অনুমান করা হয়েছে এবং এর সরাইখানাগুলো পাঁচ বা ছয় তলা বিশিষ্ট এবং সবই একটির সঙ্গে অন্যটি সংলগ্ন। এগুলোর অনেকগুলোতে ফোয়ারা রয়েছে এবং এর বাজারগুলো সুন্দর ও সম্পদে পরিপূর্ণ। সিরিয়ার উপকূলীয় শহরগুলোর মধ্যে সূর শহরটি তার সমৃদ্ধির জন্য পরিচিত এবং এর অধিকাংশ অধিবাসী শিয়া। সেখানকার বিচারক একজন সুন্নি ব্যক্তি, যার নাম ইবনে আবি আকিল; তিনি একজন সজ্জন ও বিত্তশালী মানুষ। শহরের প্রবেশপথে একটি মাশহাদ নির্মিত হয়েছে যাতে প্রচুর গালিচা, মাদুর, প্রদীপ এবং স্বর্ণ ও রৌপ্য খচিত ঝাড়বাতি রয়েছে। সূর শহরটি একটি উঁচু স্থানে নির্মিত এবং পাহাড় থেকে সেখানে পানি আসে। এর প্রবেশপথে পাথরের খিলান নির্মাণ করা হয়েছে যেগুলোর ওপর দিয়ে পানি শহরে প্রবাহিত হয়। পাহাড়ের মাঝে এর বিপরীতে একটি উপত্যকা রয়েছে, যেখান দিয়ে কোনো পথচারী পূর্ব দিকে আঠারো ফারসাখ পথ অতিক্রম করলে দামেস্কে পৌঁছাবে।

সূর থেকে সাত ফারসাখ পথ চলার পর আমরা আক্কা পৌঁছালাম—সেখানে একে ‘মদিনাতু আক্কা’ (আক্কা শহর) লেখা হয়। এটি একটি উঁচু স্থানে নির্মিত যার কিছু অংশ রুক্ষ ভূমি এবং কিছু অংশ সমতল। সমুদ্রের পানির প্রবলতা এবং উপকূলের আছড়ে পড়া ঢেউয়ের ভয়ে শহরটি নিচু উপত্যকায় নির্মাণ করা হয়নি। শহরের কেন্দ্রস্থলে জুমা মসজিদ অবস্থিত এবং এটি শহরের সর্বোচ্চ ভবন। এর সমস্ত স্তম্ভ মার্বেল পাথরের তৈরি। মসজিদের বাইরে কিবলার ডান দিকে নবী সালিহ আলাইহিস সালামের কবর অবস্থিত। এর চত্বরের কিছু অংশ পাথর দিয়ে বাঁধানো এবং বাকি অংশ চাষাবাদযোগ্য। বলা হয় যে, আদম আলাইহিস সালাম সেখানে চাষাবাদ করতেন। শহরটি পরিমাপ করা হয়েছে, যার দৈর্ঘ্য দুই হাজার হাত এবং প্রস্থ পাঁচশত হাত। এর একটি অত্যন্ত মজবুত দুর্গ রয়েছে যার পশ্চিম ও দক্ষিণ পাশ সমুদ্রের দিকে মুখ করা। দক্ষিণ দিকে একটি বন্দর রয়েছে এবং উপকূলীয় অধিকাংশ শহরই এই রূপ। ‘মিনা’ (বন্দর) হলো এমন একটি স্থানের নাম যা জাহাজ রক্ষার জন্য নির্মিত হয়েছে; এটি দেখতে অনেকটা আস্তাবলের মতো, এর পেছনের দিকটি শহরের অভিমুখে এবং এর প্রাচীর দুটি সমুদ্রের ভেতরে প্রবিষ্ট। এদের বিস্তৃতির মাঝে পঞ্চাশ হাত প্রশস্ত একটি খোলা প্রবেশপথ রয়েছে এবং সেখানে শিকল টেনে দেওয়া হয়েছে...
(খণ্ড: ১) সফর নামা (পৃষ্ঠা: ৫১)
الحائطين فَإِذا أُرِيد إِدْخَال سفينة إِلَى الميناء أرخيت السلسلة حَتَّى تغوص فِي المَاء فتمر السَّفِينَة فَوْقهَا ثمَّ تشد حَتَّى لَا يَسْتَطِيع عَدو أَن يقصدها بِسوء وَعند الْبَاب الشَّرْقِي على الْيَد الْيُسْرَى عين يصلونَ إِلَى مَائِهَا بنزول سِتّ وَعشْرين دَرَجَة وَتسَمى عين الْبَقر وَيُقَال آدم عليه السلام هُوَ الَّذِي كشفها وَكَانَ يسْقِي مِنْهَا بقرته وَلذَا سميت عين الْبَقر

وَحين يذهب الْمُسَافِر من عكة نَاحيَة الْمشرق يجد جبلا بِهِ مشَاهد الْأَنْبِيَاء عليهم السلام وَهَذَا الْجَبَل وَاقع على جَانب الطَّرِيق الْمُؤَدِّي إِلَى الرملة وَقد عزمت على التَّبَرُّك بزيارة هَذِه الْمشَاهد والتقرب إِلَى الله تبارك وتعالى وَقد قَالَ سكان عكة إِن فِي الطَّرِيق أشرارا يتعرضون لم يرَوْنَ من الغرباء وينهبون مَا مَعَهم فأودعت نفقتي بِمَسْجِد عكة وَخرجت من بَابهَا الشَّرْقِي يَوْم السبت الثَّالِث وَالْعِشْرين من شعْبَان سنة 33 {5 مارس 1037) وَقد زرت فِي الْيَوْم الأول قبر عك باني الْمَدِينَة وَهُوَ أحد الصَّالِحين الْأَوْلِيَاء وَكنت حائرا إِذا لم يكن معي دَلِيل يرشدني وفجأة تعرفت فِي الْيَوْم نَفسه بِفضل من الله تبارك وتعالى بِرَجُل من الْعَجم أَتَى من آذربيجان للتبرك بزيارة الْمشَاهد مرّة أُخْرَى فَشَكَرت لله تبارك وتعالى هِبته وَصليت رَكْعَتَيْنِ وسجدت لَهُ شكرا على توفيقه إيَّايَ لأفي بعزمي ثمَّ بلغت قَرْيَة تسمى بروة وزرت قبر عَيْش وشمعون عليهما السلام وَمن هُنَاكَ بلغت مغارك الَّتِي تسمى دامون فزرت المشهد الْمَعْرُوف بِقَبْر ذِي الكفل عليه السلام ثمَّ واصلت السّير إِلَى قَرْيَة أُخْرَى تسمى أعبلين وَبهَا قبر هود عليه السلام فزرته وَكَانَ بحظيرته شَجَرَة الخرتوت وَكَذَلِكَ زرت هُنَاكَ قبر النَّبِي عُزَيْر عليه السلام ثمَّ يممت وَجْهي شطر الْجنُوب فبلغت قَرْيَة تسمى حَظِيرَة
দুই দেয়াল; যখন কোনো জাহাজকে বন্দরে প্রবেশ করানোর ইচ্ছা করা হয়, তখন শিকলটি ঢিল করে দেওয়া হয় যাতে সেটি পানিতে ডুবে যায় এবং জাহাজটি তার ওপর দিয়ে চলে যেতে পারে। এরপর তা পুনরায় টেনে শক্ত করা হয় যাতে কোনো শত্রু মন্দের উদ্দেশ্যে সেখানে পৌঁছাতে না পারে। এবং পূর্ব দিকের দরজার বাম পাশে একটি ঝরনা রয়েছে, যার পানির কাছে পৌঁছাতে ছাব্বিশটি ধাপ নিচে নামতে হয়। একে ‘আইনুল বাকার’ বলা হয় এবং বলা হয়ে থাকে যে, আদম (আলাইহিস সালাম) এটি উন্মোচন করেছিলেন এবং তিনি এখান থেকে তাঁর গাভীকে পানি পান করাতেন; এ কারণেই একে ‘আইনুল বাকার’ নামকরণ করা হয়েছে।

যখন কোনো মুসাফির আক্কা থেকে পূর্ব দিকে যায়, তখন সে এমন একটি পাহাড় দেখতে পায় যেখানে নবীদের (আলাইহিমুস সালাম) মাযারসমূহ রয়েছে। এই পাহাড়টি রামলার দিকে গমনকারী রাস্তার পাশে অবস্থিত। আমি এই মাযারসমূহ জিয়ারতের মাধ্যমে বরকত লাভ এবং আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার নৈকট্য অর্জনের সংকল্প করেছিলাম। আক্কার অধিবাসীরা বলেছিল যে, পথে কিছু দুষ্ট লোক রয়েছে যারা অপরিচিতদের দেখতে পেলে আক্রমণ করে এবং তাদের সাথে যা থাকে তা লুণ্ঠন করে। তাই আমি আমার পাথেয় আক্কার মসজিদে জমা রাখলাম এবং ৪৩৩ হিজরি সনের (৫ মার্চ ১০৩৭ খ্রিস্টাব্দ) ২৩ শাবান, শনিবার দিন তার পূর্ব দরজা দিয়ে বের হলাম। প্রথম দিনে আমি শহরের নির্মাতা ‘আক’-এর কবর জিয়ারত করলাম, যিনি অন্যতম নেককার ওলী ছিলেন। আমার সাথে কোনো পথপ্রদর্শক না থাকায় আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ় ছিলাম, এমতাবস্থায় হঠাৎ ঐ দিনই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার অনুগ্রহে একজন অনারব ব্যক্তির সাথে আমার পরিচয় হলো, যিনি পুনরায় মাযারসমূহ জিয়ারত করে বরকত লাভের উদ্দেশ্যে আজারবাইজান থেকে এসেছিলেন। আমি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার এই অনুগ্রহের জন্য তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলাম এবং দুই রাকাত সালাত আদায় করলাম এবং তাঁর তাওফীকের জন্য সিজদা করলাম যাতে আমি আমার সংকল্প পূর্ণ করতে পারি। তারপর আমি বারওয়া নামক একটি গ্রামে পৌঁছালাম এবং আইশ ও শামউন (আলাইহিমাস সালাম)-এর কবর জিয়ারত করলাম। সেখান থেকে আমি দামুন নামক গুহাগুলোতে পৌঁছালাম এবং যুল-কিফল (আলাইহিস সালাম)-এর কবর হিসেবে পরিচিত মাযারটি জিয়ারত করলাম। অতঃপর আমি আ’বিলিন নামক অন্য একটি গ্রামের দিকে পথ চলা অব্যাহত রাখলাম এবং সেখানে হূদ (আলাইহিস সালাম)-এর কবর ছিল, যা আমি জিয়ারত করলাম; তাঁর কবরের আঙিনায় একটি তুঁত গাছ ছিল। একইভাবে আমি সেখানে নবী উযাইর (আলাইহিস সালাম)-এর কবরও জিয়ারত করলাম। এরপর আমি দক্ষিণ দিকে যাত্রা করলাম এবং হাযীরা নামক একটি গ্রামে পৌঁছালাম।
(খণ্ড: ১) সফর নামা (পৃষ্ঠা: ৫২)
وَفِي الْجَانِب الغربي مِنْهَا وَاد بِهِ عين مَاء عذب تخرج من الصخر وَقد بني أمامها مَسْجِد على الصخر بِهِ بيتان صخريان فَوْقهمَا سقف من الْحجر أَيْضا وَعَلَيْهِمَا بَاب صَغِير يَسْتَطِيع الزائر دُخُوله بصعوبة وَهُنَاكَ قبران متجاوران أَحدهمَا قبر شُعَيْب عليه السلام وَالثَّانِي قبر ابْنَته الَّتِي كَانَت زوج مُوسَى عليه السلام ويعنى أهل هَذِه الْقرْيَة بِهَذَا الْمَسْجِد عناية فائقة من تنظيف وإنارة وَغير ذَلِك وَمن هُنَاكَ بلغت قَرْيَة تسمى إربل وَفِي نَاحيَة الْقبْلَة مِنْهَا جبل فِي وَسطه حَظِيرَة بهَا أَرْبَعَة قُبُور لأربعة من أَبنَاء يَعْقُوب إخْوَة يُوسُف عليهم السلام وَذَهَبت من هُنَاكَ فَرَأَيْت تَلا من تَحْتَهُ غَار فِيهِ قبر أم مُوسَى عليه السلام فزرته ثمَّ خرجت فَبَدَا لي وَاد فِي آخِره بَحر صَغِير تقع عَلَيْهِ طبرية طوله سِتَّة فراسخ وَعرضه ثَلَاثَة وماؤه عذب لذيذ وَتَقَع غربية الْمَدِينَة وَتصرف فِي هَذَا الْبَحْر كل مياه الحمامات وفضلات الْمَدِينَة وَكَذَلِكَ يشرب مِنْهُ سكانها وسكان الْولَايَة الَّتِي على شاطئه وَسمعت أَن أَمِيرا دخل هَذِه الْمَدِينَة ذَات مرّة فَأمر بسد قنوات القاذورات وَالْمَاء الملوث حَتَّى لَا تُفْضِي إِلَى الْبَحْر فنتن مَاؤُهُ وَأصْبح لَا يصلح للشُّرْب فَأمر ثَانِيَة بِفَتْح هَذِه القنوات فَعَاد مَاء الْبَحْر عذبا ولطبرية سور حُصَيْن يبْدَأ من شاطئ الْبَحْر ويمتد حول الْمَدِينَة والطرف الْمَحْدُود بالبحر لَا حَائِط لَهُ وَبهَا مبان كَثِيرَة فِي وسط الْبَحْر فَإِن قاعه صخري وَقد شيدت هُنَاكَ مناظر على رُءُوس أعمدة رخامية أساسها فِي المَاء وَفِي بَحر طبرية سمك كثير وَمَسْجِد الْجُمُعَة فِي وسط الْمَدِينَة وَعند بَابه عين مَاء بني عِنْد رَأسهَا حمام مَاؤُهُ ساخن فَلَا يَسْتَطِيع مستحم أَن يصبهُ على جسده من غير أَن يمزجه بِمَاء بَارِد وَيُقَال إِن الَّذِي بناه هُوَ سُلَيْمَان بن دَاوُد عليه السلام وَقد دَخلته وَفِي الْجَانِب الغربي من مَدِينَة طبرية مَسْجِد اسْمه مَسْجِد الياسمين وَهُوَ مَسْجِد جميل فِي وَسطه ساحة كَبِيرَة بهَا محا ريب وحولها الياسمين الَّذِي سمي بِهِ الْمَسْجِد وَفِي رواق بالجانب الشَّرْقِي قبر يُوشَع بن نون وَتَحْت هَذِه الساحة قُبُور سبعين نَبيا عليهم السلام قَتلهمْ بَنو إِسْرَائِيل

এর পশ্চিম পার্শ্বে একটি উপত্যকা রয়েছে, যাতে পাথর থেকে নির্গত একটি মিষ্টি পানির ঝর্ণা আছে। তার সামনে পাথরের ওপর একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে পাথরের তৈরি দুটি ঘর রয়েছে এবং সে দুটির ওপরেও পাথরের ছাদ রয়েছে। সেগুলোতে একটি ছোট দরজা আছে যা দিয়ে দর্শনার্থীরা অত্যন্ত কষ্টে প্রবেশ করতে পারে। সেখানে পাশাপাশি দুটি কবর রয়েছে; একটি শুআইব (আলাইহিস সালাম)-এর কবর এবং দ্বিতীয়টি তাঁর কন্যার কবর, যিনি মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর স্ত্রী ছিলেন। এই গ্রামের অধিবাসীরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, আলোকসজ্জা ও অন্যান্য বিষয়ে এই মসজিদের অত্যন্ত যত্নের সাথে দেখাশোনা করে থাকে। সেখান থেকে আমি ইরবিল নামক একটি গ্রামে পৌঁছালাম। সেটির কিবলা অভিমুখে একটি পাহাড় রয়েছে, যার মাঝখানে একটি বেষ্টনী আছে। তাতে ইউসুফ (আলাইহিমুস সালাম)-এর ভাই ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম)-এর চার পুত্রের চারটি কবর রয়েছে। আমি সেখান থেকে গেলাম এবং একটি টিলা দেখতে পেলাম যার নিচে একটি গুহা রয়েছে; তাতে মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর মাতার কবর রয়েছে। আমি তা যিয়ারত করলাম, এরপর বের হয়ে আসলাম। তখন আমার সামনে একটি উপত্যকা দৃশ্যমান হলো যার শেষ প্রান্তে একটি ছোট সাগর রয়েছে এবং তার তীরে তাবারিয়াহ অবস্থিত। এর দৈর্ঘ্য ছয় ফারসাখ এবং প্রস্থ তিন ফারসাখ, আর এর পানি মিষ্টি ও সুস্বাদু। এটি শহরের পশ্চিমে অবস্থিত। গোসলখানাগুলোর সমস্ত পানি এবং শহরের বর্জ্য এই সাগরে নিষ্কাশিত হয়; আবার শহরের অধিবাসীরা এবং তীরের প্রদেশের অধিবাসীরাও এখান থেকে পানি পান করে। আমি শুনেছি যে, একদা জনৈক আমির এই শহরে প্রবেশ করেছিলেন এবং তিনি আবর্জনা ও দূষিত পানির নালাগুলো বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে সেগুলো সাগরে গিয়ে না পড়ে। ফলে এর পানি দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে যায় এবং পানের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে। তখন তিনি পুনরায় সেই নালাগুলো খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং সাগরের পানি আবার মিষ্টি হয়ে যায়। তাবারিয়াহর একটি মজবুত প্রাচীর রয়েছে যা সাগরের তীর থেকে শুরু হয়ে শহরের চারপাশে বিস্তৃত, তবে সাগরের দিকের সীমানায় কোনো প্রাচীর নেই। সাগরের মাঝখানে অনেক ভবন রয়েছে কারণ এর তলদেশ পাথুরে। সেখানে মার্বেল পাথরের স্তম্ভের ওপর অনেক সুরম্য অট্টালিকা নির্মিত হয়েছে যার ভিত্তি পানির নিচে। তাবারিয়াহ সাগরে প্রচুর মাছ রয়েছে। শহরের মাঝখানে জুমু'আ মসজিদ অবস্থিত। এর দরজার কাছে পানির একটি ঝর্ণা আছে যার মুখে একটি গোসলখানা তৈরি করা হয়েছে। এর পানি এত গরম যে, কোনো গোসলকারী শীতল পানি মিশ্রিত করা ছাড়া তা শরীরে ঢালতে পারে না। বলা হয়ে থাকে যে, এটি সুলাইমান ইবনে দাউদ (আলাইহিস সালাম) নির্মাণ করেছিলেন। আমি সেখানে প্রবেশ করেছি। তাবারিয়াহ শহরের পশ্চিম পার্শ্বে একটি মসজিদ আছে যার নাম ইয়াসমিন মসজিদ। এটি একটি সুন্দর মসজিদ যার মাঝখানে একটি বড় প্রাঙ্গণ রয়েছে এবং তাতে অনেক মেহরাব আছে। এর চারপাশে ইয়াসমিন ফুলের গাছ রয়েছে যার নামানুসারে মসজিদের নামকরণ করা হয়েছে। পূর্ব পাশের বারান্দায় ইউশা ইবনে নূন (আলাইহিস সালাম)-এর কবর রয়েছে। আর এই প্রাঙ্গণের নিচে সত্তরজন নবীর (আলাইহিমুস সালাম) কবর রয়েছে যাদেরকে বনী ইসরাঈল হত্যা করেছিল।

(খণ্ড: ১) সফর নামা (পৃষ্ঠা: ৫৩)
وجنوب طبرية بَحر لوط وَهُوَ مالح الْمِيَاه وَيصب بِهِ مَاء بَحر طبرية وَكَانَت مَدِينَة لوط تقع على شاطئه وَلم يبْقى مِنْهَا أثر قطّ وَسمعت من انسان أَن فِي مياه بَحر لوط المالحة شَيْئا كالحجارة السَّوْدَاء غير صلب يشبه الْبَقر يخرج من قاعه فَيَأْخذهُ السكان ويقطعونه ويحملونه إِلَى المدن والولايات وَيُقَال إِنَّه إِذا وضعت قِطْعَة مِنْهُ تَحت شَجَرَة يمْتَنع الدُّود عَنْهَا من غير أَن يمس جذرها أَذَى مِنْهُ فَلَا يتْلف الْبُسْتَان مِمَّا تَحت الأَرْض من دود وحشرات والعهدة على الرَّاوِي وَقيل كَذَلِك إِن العطارين يستخدمونه لِأَنَّهُ يبعد دودة تصيب البذور اسْمهَا النقرة وَفِي طبرية يصنعون الْحَصِير وَمِنْه حَصِير الصَّلَاة وتشتري الْوَاحِدَة مِنْهَا بِخَمْسَة جنيهات مغربية وَفِي الْجَانِب الغربي من الْمَدِينَة جبل فِيهِ قِطْعَة من حجر المرمر مَكْتُوب عَلَيْهَا بِخَط عبري أَن الثريا كَانَت على رَأس الْحمل سَاعَة الْكِتَابَة وَيَقَع قبر أبي هُرَيْرَة خَارج الْمَدِينَة نَاحيَة الْقبْلَة وَلَكِن لَا يَسْتَطِيع أحد زيارته لِأَن السكان هُنَاكَ شيعَة فَإِذا ذهب أحد للزيارة تجمع عَلَيْهِ الْأَطْفَال وتحرشوا بِهِ وحملوا عَلَيْهِ وقذفوه بِالْحِجَارَةِ وَلِهَذَا لم أستطع زيارته سرت بعد ذَلِك إِلَى قَرْيَة تسمى كفركنه بجانبها تل بنيت عَليّ قمته صومعة جميلَة بهَا قبر النَّبِي يُونُس عليه السلام وَعَلَيْهَا بَاب متين بِقُرْبِهِ بِئْر مَاؤُهَا عذب

وَقد عدت إِلَى عكا بعد زِيَارَة هَذَا المشهد وَبَينهمَا مَسَافَة أَرْبَعَة فراسخ فَمَكثت بهَا يَوْمًا وَاحِدًا ثمَّ غادرتها إِلَى قَرْيَة تسمى حيفا وَفِي طَرِيق بِهِ كثير من هَذَا الرمل الَّذِي يستخدمه صياغ الْعَجم والمسمى بالرمل الْمَكِّيّ وحيفا مشيدة على الْبَحْر وَبهَا نخل وأشجار كَثِيرَة وَهُنَاكَ عُمَّال يصنعون السفن البحرية الْمُسَمَّاة بالجودي وسرنا بعد ذَلِك فَبَلغنَا بعد مسيرَة فَرسَخ وَاحِد قَرْيَة أُخْرَى تسمى كَنِيسَة وَعِنْدهَا ينحرف الطَّرِيق عَن الْبَحْر وَيدخل الْجَبَل نَاحيَة الْمشرق حَيْثُ الصحروات والمحاجر الَّتِي تسمى وَادي التماسيح وَيعود لمحاذاة الشاطىء بعد مسيرَة فرسخين وَهُنَاكَ رَأينَا عِظَام حيوانات بحريّة كَثِيرَة مختلطة بِالتُّرَابِ
তাবারিয়ার দক্ষিণে লুত সাগর অবস্থিত। এর পানি অত্যন্ত লবণাক্ত এবং এতে তাবারিয়া সাগরের পানি এসে পড়ে। লুত আলাইহিস সালামের শহর এই সাগরের তীরেই অবস্থিত ছিল, তবে এখন তার কোনো চিহ্নই অবশিষ্ট নেই। আমি একজনের নিকট শুনেছি যে, লুত সাগরের লবণাক্ত পানির তলদেশ থেকে কৃষ্ণবর্ণের পাথরের মতো নরম কিছু একটা নির্গত হয়, যা দেখতে গরুর মতো এবং তা সমুদ্রের তলদেশ থেকে ভেসে ওঠে। অধিবাসীরা তা সংগ্রহ করে টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন শহর ও প্রদেশে নিয়ে যায়। বলা হয়ে থাকে যে, এর একটি টুকরো যদি কোনো গাছের নিচে রাখা হয়, তবে সেই গাছে পোকা ধরে না এবং গাছের শিকড়ও কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। ফলে মাটির নিচের পোকা ও কীটপতঙ্গ দ্বারা বাগানের কোনো ক্ষতি হয় না; তবে এই বর্ণনার সত্যতার দায় বর্ণনাকারীর ওপর। আরও বলা হয় যে, সুগন্ধি বিক্রেতারাও এটি ব্যবহার করেন, কারণ এটি বীজের ক্ষতিসাধনকারী 'নাকরাহ' নামক পোকাকে দূরে রাখে। তাবারিয়াতে পাটি তৈরি করা হয়, যার মধ্যে নামাজের পাটিও অন্তর্ভুক্ত। এর একেকটি পাটি পাঁচ মাগরিবি জুনেইহ মূল্যে কেনা যায়। শহরের পশ্চিম দিকে একটি পাহাড় রয়েছে যাতে মার্বেল পাথরের একটি খণ্ড আছে। তাতে হিব্রু লিপিতে উৎকীর্ণ আছে যে, যখন এটি লেখা হয়েছিল তখন সুরাইয়া নক্ষত্রপুঞ্জ মেষ রাশির শীর্ষে অবস্থান করছিল। শহরের বাইরে কিবলার দিকে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর কবর অবস্থিত। তবে স্থানীয় অধিবাসীরা শিয়া হওয়ার কারণে কেউ তা জিয়ারত করতে পারে না। যদি কেউ সেখানে জিয়ারতের উদ্দেশ্যে যায়, তবে শিশুরা তার ওপর চড়াও হয়, তাকে উত্ত্যক্ত করে এবং পাথর নিক্ষেপ করে। এই কারণেই আমি তা জিয়ারত করতে পারিনি। এরপর আমি কাফর কান্না নামক একটি গ্রামে পৌঁছালাম। এর পাশেই একটি টিলা রয়েছে যার শিখরে একটি সুন্দর মঠ নির্মিত হয়েছে, যেখানে নবী ইউনুস আলাইহিস সালামের কবর রয়েছে। এই মঠের দরজা অত্যন্ত মজবুত এবং এর সন্নিকটেই সুপেয় পানির একটি কূপ রয়েছে।

এই পুণ্যস্থান জিয়ারত শেষে আমি পুনরায় আক্কায় ফিরে এলাম। এদের মধ্যবর্তী দূরত্ব চার ফারসাখ। সেখানে একদিন অবস্থান করার পর হাইফা নামক গ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলাম। যাওয়ার পথে প্রচুর পরিমাণে সেই বালু দেখতে পেলাম যা পারস্যের স্বর্ণকাররা ব্যবহার করেন এবং একে 'মক্কি বালু' বলা হয়। হাইফা সমুদ্রতীরে অবস্থিত এবং সেখানে প্রচুর খেজুর গাছ ও অন্যান্য গাছপালা রয়েছে। সেখানে এমন কারিগর রয়েছে যারা 'জুদি' নামক সমুদ্রগামী জাহাজ তৈরি করে। এরপর আমরা আরও এক ফারসাখ পথ চলার পর কানিসা নামক আরেকটি গ্রামে পৌঁছালাম। সেখান থেকে পথটি সমুদ্রতীর ছেড়ে পূর্বদিকের পাহাড়ের দিকে ঘুরে গেছে, যেখানে মরুভূমি ও পাথরের খনি রয়েছে এবং একে 'ওয়াদি আত-তামাসিহ' বা কুমির উপত্যকা বলা হয়। দুই ফারসাখ পথ চলার পর রাস্তাটি পুনরায় সমুদ্রতীরের সমান্তরালে ফিরে আসে। সেখানে আমরা মাটির সাথে মিশে থাকা প্রচুর সামুদ্রিক প্রাণীর হাড় দেখতে পেলাম।
(খণ্ড: ১) সফর নামা (পৃষ্ঠা: ৫৪)
والطين وَقد تحجرت من كَثْرَة مَا ثار عَلَيْهَا من الموج

وقمنا من هُنَاكَ وسرنا حَتَّى بلغنَا مَدِينَة تسمى قيسارية بَينهَا وَبَين عكا سَبْعَة فراسخ وَهِي مَدِينَة جميلَة بهَا مَاء جَار ونخيل وأشجار النارنج والترنج وَلها سور حُصَيْن لَهُ بَاب حديدي وَبهَا عُيُون مَاء جَارِيَة وَمَسْجِد الْجَامِع جميل وَيرى المصلون الْبَحْر ويتمتعون بِهِ وهم جُلُوس فِي ساحته وَهُنَاكَ زير من الرخام يشبه الخزف الصيني وَهُوَ عميق بِحَيْثُ يسع مائَة من مَاء

فِي يَوْم السبت آخر شعْبَان (10 مارس) قمنا من هُنَاكَ وسرنا مِقْدَار فَرسَخ عَن طَرِيق الرمل الْمَكِّيّ وَقد رَأَيْت فِي الطَّرِيق كُله سهله وجبله كثيرا من شجر التِّين وَالزَّيْتُون وَبعد بضعَة فراسخ بلغنَا مَدِينَة تسمى كفرسابا أَو كفر سَلام وَمِنْهَا حَتَّى الرملة ثَلَاثَة فراسخ فِي طَرِيق كُله شجر كَالَّذي ذكرت

وَفِي يَوْم الْأَحَد غرَّة رَمَضَان (11 مارس) بلغنَا الرملة وَمن قيسارية إِلَيْهَا ثَمَانِيَة فراسخ وَهِي مَدِينَة كَبِيرَة بهَا سور حُصَيْن من الْحجر والجص مُرْتَفع ومتين وَعَلِيهِ أَبْوَاب من حَدِيد وَمن الْمَدِينَة إِلَى الشاطئ الْبَحْر ثَلَاثَة فراسخ وَالْمَاء هُنَاكَ من الْمَطَر وَلذَا فقد بني فِي كل منزل حَوْض لجَمِيع مياه الْمَطَر فَيبقى ذخيرة دائمة وَفِي وسط مَسْجِد الْجُمُعَة أحواض تمتلى بِالْمَاءِ فَيَأْخُذ مِنْهُ من يَشَاء ومساحة الْجَامِع ثَلَاثمِائَة قدم فِي مِائَتَيْنِ وَقد كتب أَمَام الضفة إِنَّه فِي الْخَامِس عشر من شهر محرم سنة 425 (11 ديسمبر 1033) زلزلت الأَرْض بِشدَّة هُنَا فخربت عمارات كَثِيرَة وَلم يصب أحد من السكان بِسوء وَفِي هَذِه الْمَدِينَة رُخَام كثير وَقد زينت مُعظم السرايات والبيوت بالرخام المنقوش الْكثير الزِّينَة وَيقطع الرخام بمنشار لَا أَسْنَان لَهُ وبالرمل الْمَكِّيّ ويعملون الْمِنْشَار على أعمدة الرخام بالطول لَا بِالْعرضِ فَيخْرجُونَ مِنْهُ ألواحا كألواح الْخشب وَرَأَيْت هُنَاكَ أنواعا وألوانا من
এবং কাদা যা ঢেউয়ের প্রবল অভিঘাতে পাথরের মতো শক্ত হয়ে গিয়েছিল।

আমরা সেখান থেকে রওনা হলাম এবং কায়সারিয়া নামক শহরে না পৌঁছানো পর্যন্ত পথ চললাম। এর এবং এক্কার মধ্যবর্তী দূরত্ব সাত ফারসাখ। এটি একটি অতি মনোরম শহর যেখানে প্রবহমান পানি, খেজুর বাগান এবং কমলা ও লেবু জাতীয় ফলের বাগান রয়েছে। এর একটি সুদৃঢ় প্রাচীর ও লোহার দরজা আছে। সেখানে প্রবহমান পানির ঝর্ণা বিদ্যমান এবং শহরের জামে মসজিদটি অত্যন্ত সুন্দর। মুসল্লিগণ মসজিদের চত্বরে বসে সমুদ্র দর্শন করেন এবং তা উপভোগ করেন। সেখানে মার্বেল পাথরের তৈরি একটি বড় জলাধার আছে যা দেখতে অনেকটা চীনামাটির পাত্রের মতো; এটি এত গভীর যে এতে প্রায় একশ মণ পানি ধারণ করতে পারে।

শাবান মাসের শেষ শনিবার (১০ মার্চ) আমরা সেখান থেকে রওনা হলাম এবং মক্কী বালুকার পথ ধরে এক ফারসাখ পরিমাণ পথ অতিক্রম করলাম। আমি পাহাড় ও সমতল উভয় পথের সর্বত্র প্রচুর ডুমুর ও জয়তুন গাছ দেখেছি। কয়েক ফারসাখ চলার পর আমরা কাফরসাবা অথবা কাফর সালাম নামক একটি শহরে পৌঁছলাম। সেখান থেকে রামলা পর্যন্ত তিন ফারসাখের পুরো পথটিই পূর্বোক্ত গাছপালায় ঘেরা ছিল।

রমজানের প্রথম দিন রবিবার (১১ মার্চ) আমরা রামলায় পৌঁছলাম। কায়সারিয়া থেকে এর দূরত্ব আট ফারসাখ। এটি একটি বিশাল শহর, যার পাথর ও চুন দিয়ে নির্মিত একটি সুউচ্চ ও মজবুত প্রাচীর রয়েছে এবং এতে লোহার ফটক লাগানো আছে। শহর থেকে সমুদ্রের কিনারা তিন ফারসাখ দূরে। সেখানে পানির প্রধান উৎস বৃষ্টির পানি, একারণে প্রতিটি বাড়িতে বৃষ্টির পানি জমিয়ে রাখার জন্য হাউজ নির্মাণ করা হয়েছে যা স্থায়ী মজুদ হিসেবে কাজ করে। জুমুআ মসজিদের মাঝখানেও পানির হাউজ রয়েছে যা পূর্ণ থাকে এবং যে কেউ ইচ্ছা করলে সেখান থেকে পানি গ্রহণ করতে পারে। মসজিদের আয়তন তিনশ ফুট দৈর্ঘ্য ও দুইশ ফুট প্রস্থ। মিম্বরের সামনে খোদাই করে লেখা আছে যে, ৪২৫ হিজরি সালের ১৫ মহরম (১১ ডিসেম্বর ১০৩৩) এখানে এক ভয়াবহ ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছিল যাতে প্রচুর ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়, তবে কোনো মানুষ হতাহত হয়নি। এই শহরে প্রচুর মার্বেল পাথর পাওয়া যায় এবং এখানকার অধিকাংশ রাজপ্রাসাদ ও বাড়িঘর সুশোভিত কারুকার্যময় মার্বেল পাথর দ্বারা সজ্জিত। দাঁতহীন করাত ও মক্কী বালুর সাহায্যে তারা মার্বেল পাথর কাটে; তারা মার্বেল স্তম্ভের ওপর লম্বালম্বিভাবে করাত চালায়, আড়াআড়িভাবে নয়, ফলে তা থেকে কাঠের তক্তার ন্যায় পাতলা তক্তা নির্গত হয়। আমি সেখানে নানা প্রকার ও রঙের...
(খণ্ড: ১) সফর নামা (পৃষ্ঠা: ৫৫)
الرخام من الملمع والأخضر والأحمر وَالْأسود والأبيض وَمن كل لون وَفِي الرملة صنف من التِّين لَيْسَ أحسن مِنْهُ فِي أَي مَكَان يصدر مِنْهَا إِلَى جَمِيع الْبِلَاد وَتسَمى مَدِينَة الرملة فِي الشَّام وَالْمغْرب فلسطين

وَفِي الثَّالِث من رَمَضَان غادرت الرملة فبلغت قَرْيَة تسمى خاتون وَقد سرت مِنْهَا إِلَى قَرْيَة أُخْرَى تسمى قَرْيَة الْعِنَب وَقد رَأينَا فِي الطَّرِيق كثيرا من نَبَات السذاب الَّذِي ينْبت بريا على الْجبَال وَفِي الصَّحرَاء وَقد رَأَيْت فِي هَذِه الْقرْيَة عين مَاء عذب تخرج من الصخر وَقد بنيت هُنَاكَ أحواض وعمارات وَقد ذَهَبْنَا صاعدين وَكُنَّا نحسب أَنا بعد صعُود الْجَبَل سنهبط إِلَى الْمَدِينَة فِي الطّرف الآخر وَلَكنَّا وجدنَا أمامنا بعد أَن صعدنا قَلِيلا سهلا وَاسِعًا بعضه صخري وَبَعضه كثير التُّرَاب وعَلى رَأس جبل فِيهِ تقع مَدِينَة بَيت الْمُقَدّس وَمن طرابلس الَّتِي هِيَ على السَّاحِل إِلَيْهَا سِتَّة وَخَمْسُونَ فرسخا وَمن بَلخ إِلَيْهَا سِتَّة وَسَبْعُونَ وَثَمَانمِائَة فَرسَخ

وَفِي الْخَامِس من رَمَضَان سنة 43 {16 مارس 1047) بلغنَا بَيت الْمُقَدّس وَكَانَ قد مضى على خروجنا من بلدنا سنة شمسية وطوال رحلتنا لم نقر فِي مَكَان قطّ وَلَا وجدنَا رَاحَة كَامِلَة وَأهل الشَّام وأطرافها يسمون بَيت الْمُقَدّس الْقُدس وَيذْهب إِلَى الْقُدس فِي موسم الْحَج من لَا يَسْتَطِيع الذّهاب إِلَى مَكَّة من أهل هَذِه الولايات فَيتَوَجَّه إِلَى الْموقف ويضحي ضحية الْعِيد كَمَا هِيَ الْعَادة ويحضر هُنَاكَ لتأدية السّنة وَفِي بعض السنين أَكثر من عشْرين ألف شخص فِي أَوَائِل ذِي الْحجَّة وَمَعَهُمْ أبناؤهم كَذَلِك يَأْتِي لزيارة بَيت الْمُقَدّس من ديار الرّوم كثير من النَّصَارَى وَالْيَهُود وَذَلِكَ لزيارة الْكَنِيسَة والكنيش هُنَاكَ وَهُنَاكَ كَنِيسَة عَظِيمَة سَيَأْتِي وصفهَا فِي مَكَانَهُ وَسَوَاد ورساتيق بَيت الْمُقَدّس جبلية كلهَا والزراعة وأشجار الزَّيْتُون والتين وَغَيرهَا تنْبت كلهَا بِغَيْر مَاء والخيرات بهَا كَثِيرَة ورخيصة
পালিশ করা এবং সবুজ, লাল, কালো ও সাদা সব রঙের মার্বেল পাথর। আর রামলায় এক প্রকারের ডুমুর রয়েছে যার চেয়ে উৎকৃষ্ট আর কোনো স্থানে পাওয়া যায় না, যা সেখান থেকে সমস্ত দেশে রপ্তানি করা হয়। শাম ও মাগরিব অঞ্চলে রামলা শহরকে ফিলিস্তিন বলা হয়।

রমজানের তিন তারিখে আমি রামলা ত্যাগ করলাম এবং খাতুন নামক একটি গ্রামে পৌঁছালাম। সেখান থেকে আমি অন্য একটি গ্রামে গেলাম যাকে কারইয়াতুল ইনাব বলা হয়। আমরা পথে প্রচুর সুদাব গাছ দেখেছি যা পাহাড় ও মরুভূমিতে বুনোভাবে জন্মে। আমি এই গ্রামে পাথর থেকে নির্গত একটি মিষ্টি পানির ঝরনা দেখেছি এবং সেখানে জলাধার ও অট্টালিকা নির্মিত হয়েছে। আমরা পাহাড়ে আরোহণ করতে লাগলাম এবং আমাদের ধারণা ছিল যে পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছানোর পর অপর প্রান্তে আমরা শহরে অবতরণ করব। কিন্তু সামান্য আরোহণের পর আমরা আমাদের সামনে এক বিশাল সমভূমি দেখতে পেলাম যার কিছু অংশ পাথুরে এবং কিছু অংশ অত্যন্ত ধূলিময়। সেই পাহাড়ের চূড়াতেই বায়তুল মুকাদ্দাস শহরটি অবস্থিত। উপকূলীয় অঞ্চল ত্রিপোলি থেকে এর দূরত্ব ছাপ্পান্ন ফারসাখ এবং বলখ থেকে এর দূরত্ব আটশ ছিয়াত্তর ফারসাখ।

৪৩ হিজরির (১৬ মার্চ ১০৪৭) রমজানের পাঁচ তারিখে আমরা বায়তুল মুকাদ্দাসে পৌঁছালাম। আমাদের নিজ দেশ থেকে বের হওয়ার এক সৌর বছর অতিবাহিত হয়েছে এবং আমাদের পুরো সফরে আমরা কোথাও স্থির থাকিনি কিংবা পূর্ণ বিশ্রাম পাইনি। শাম ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের অধিবাসীরা বায়তুল মুকাদ্দাসকে 'আল-কুদস' বলে ডাকে। এই প্রদেশগুলোর যে সকল অধিবাসী মক্কায় যাওয়ার সামর্থ্য রাখে না, তারা হজের মৌসুমে কুদসে গমন করে, সেখানে আরাফাতের ময়দানের মতো সমবেত হয় এবং প্রথা অনুযায়ী ঈদের কুরবানি দেয়। জিলহজ মাসের শুরুতে সেখানে সুন্নাত পালনের জন্য সমবেত হয় এবং কোনো কোনো বছর সেখানে বিশ হাজারেরও বেশি মানুষ তাদের সন্তানদের নিয়ে উপস্থিত হয়। একইভাবে রোমীয় দেশসমূহ থেকে প্রচুর সংখ্যক খ্রিস্টান ও ইহুদি বায়তুল মুকাদ্দাস পরিদর্শনে আসে তাদের গির্জা ও উপাসনালয় দর্শনের উদ্দেশ্যে। সেখানে একটি বিশাল গির্জা রয়েছে যার বর্ণনা যথাস্থানে প্রদান করা হবে। বায়তুল মুকাদ্দাসের আশেপাশের অঞ্চল ও গ্রামগুলো সম্পূর্ণ পাহাড়ি। এখানকার কৃষি এবং জয়তুন, ডুমুর ও অন্যান্য গাছপালা কোনো প্রকার সেচ ছাড়াই জন্মায়। এখানে প্রাচুর্য অনেক এবং সবকিছু সস্তা।
(খণ্ড: ১) সফর নামা (পৃষ্ঠা: ৫৬)
وفيهَا أَرْبَاب عائلات يملك الْوَاحِد مِنْهُم خمسين ألف من من زَيْت الزَّيْتُون يحفظونها فِي الْآبَار والأحواض ويصدرونها إِلَى أَطْرَاف الْعَالم وَيُقَال إِنَّه لَا يحدث قحط فِي بِلَاد الشَّام وَسمعت من ثِقَات أَن وليا رأى النَّبِي عليه السلام فِي الْمَنَام فَقَالَ لَهُ ساعدنا فِي معاشنا يَا رَسُول الله فَأَجَابَهُ النَّبِي عليه السلام على خبز الشَّام وزيته

والآن أصف مَدِينَة بَيت الْمُقَدّس

‌‌وصف بَيت الْمُقَدّس

هِيَ مَدِينَة مشيدة على قمة الْجَبَل لَيْسَ بهَا مَاء غير الأمطار ورساتيقها ذَات عُيُون وَالْمَدينَة محاطة بسور حُصَيْن من الْحجر والجص وَعَلَيْهَا بوابات حديدية وَلَيْسَ بقربها أَشجَار قطّ فَإِنَّهَا على رَأس صَخْر وَهِي مَدِينَة كَبِير كَانَ بهَا فِي ذَلِك الْوَقْت عشرُون ألف رجل وَبهَا أسواق جميلَة وأبنية عالية وكل أرْضهَا مبلطة بِالْحِجَارَةِ وَقد سووا الْجِهَات الجبلية والمرتفعات وجعلوها مسطحة بِحَيْثُ تغسل الأَرْض كلهَا وتنظف حِين تنزل الأمطار وَفِي الْمَدِينَة صناع كَثِيرُونَ لكل جمَاعَة مِنْهُم سوق خَاصَّة وَالْجَامِع شَرْقي الْمَدِينَة وسوره هُوَ سورها الشَّرْقِي وَبعد الْجَامِع سهل كَبِير مستو يُسمى الساهرة يُقَال أَنه سَيكون ساحة الْقِيَامَة والحشر وَلِهَذَا يحضر إِلَيْهِ خلق كَثِيرُونَ من أَطْرَاف الْعَالم ويقيمون بِهِ حَتَّى يموتوا فَإِذا جَاءَ وعد الله كَانُوا بِأَرْض الميعاد اللَّهُمَّ عفوك ورحمتك بعبيدك ذَلِك الْيَوْم آمين يَا رب الْعَالمين وعَلى حافة هَذَا السهل قرافة عَظِيمَة ومقابر كثير من الصَّالِحين يُصَلِّي بهَا النَّاس ويرفعون بِالدُّعَاءِ أَيْديهم فَيَقْضِي الله حاجاتهم اللَّهُمَّ تقبل حاجاتنا واغفر ذنوبنا وسيئاتنا وارحمنا بِرَحْمَتك يَا أرْحم الرَّاحِمِينَ وَبَين الْجَامِع وَسَهل الساهرة وَاد عَظِيم الانخفاض كَأَنَّهُ خَنْدَق وَبِه أبنية كَثِيرَة على نسق أبنية الأقدمين وَرَأَيْت قبَّة من الْحجر المنحوت مقامة على بَيت
সেখানে এমন অনেক পরিবারপ্রধান রয়েছেন যাদের মধ্যে একেকজন পঞ্চাশ হাজার ‘মান’ (ওজন বিশেষ) জয়তুনের তেলের মালিক। তারা তা কূয়া ও জলাধারে সংরক্ষণ করে এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে রপ্তানি করে। বলা হয় যে, শাম দেশে কখনো দুর্ভিক্ষ হয় না। আমি নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের নিকট শুনেছি যে, এক ওলী স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখে বলেছিলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের জীবিকার ব্যাপারে আমাদের সাহায্য করুন।’ প্রতিউত্তরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শামের রুটি ও শামের তেলের কথা উল্লেখ করলেন।

এখন আমি বায়তুল মুকাদ্দাস শহরের বর্ণনা দেব।

বায়তুল মুকাদ্দাসের বর্ণনা

এটি পাহাড়ের চূড়ায় নির্মিত একটি সুদৃঢ় শহর। এখানে বৃষ্টি ছাড়া অন্য কোনো পানির উৎস নেই, তবে এর গ্রামগুলোতে ঝরনাধারা রয়েছে। শহরটি পাথর ও চুন দিয়ে তৈরি একটি মজবুত প্রাচীর দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং এতে লোহার ফটক রয়েছে। এর আশেপাশে কোনো গাছপালা নেই, কারণ এটি একটি বিশাল পাথরের ওপর অবস্থিত। এটি একটি বড় শহর, সেই সময়ে সেখানে বিশ হাজার পুরুষ অধিবাসী ছিল। সেখানে সুন্দর সুন্দর বাজার ও সুউচ্চ ভবন রয়েছে এবং এর সমগ্র ভূমি পাথর দিয়ে বাঁধানো। পাহাড়ী ঢাল ও উঁচু স্থানগুলোকে তারা সমতল করে দিয়েছে যাতে বৃষ্টির সময় পুরো ভূমি ধুয়ে পরিচ্ছন্ন হয়ে যায়। শহরে অনেক কারিগর রয়েছে এবং তাদের প্রত্যেক শ্রেণির জন্য পৃথক বাজার রয়েছে। জামে মসজিদটি শহরের পূর্ব দিকে অবস্থিত এবং মসজিদের প্রাচীরটিই শহরের পূর্ব প্রাচীর। মসজিদের পর একটি বিশাল সমতল প্রান্তর রয়েছে যাকে ‘সাহেরা’ বলা হয়। জনশ্রুতি আছে যে, এটিই কিয়ামত ও হাশরের ময়দান হবে। একারণে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু মানুষ এখানে আসে এবং মৃত্যু পর্যন্ত অবস্থান করে; যাতে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি যখন আসবে, তখন তারা প্রতিশ্রুত ভূমিতেই থাকতে পারে। হে আল্লাহ! সেই দিনে আপনার বান্দাদের প্রতি আপনার ক্ষমা ও রহমত দান করুন। আমীন, হে বিশ্বজগতের প্রতিপালক। এই প্রান্তরের কিনারায় একটি বিশাল গোরস্থান এবং অনেক পুণ্যবান ব্যক্তির সমাধি রয়েছে। সেখানে মানুষ সালাত আদায় করে এবং দোয়ার জন্য তাদের হাত তোলে, ফলে আল্লাহ তাদের প্রয়োজনগুলো পূরণ করেন। হে আল্লাহ! আমাদের প্রয়োজনগুলো কবুল করুন, আমাদের পাপ ও মন্দ কাজগুলো ক্ষমা করুন এবং হে শ্রেষ্ঠ দয়ালু, আপনার রহমতে আমাদের ওপর দয়া করুন। জামে মসজিদ ও সাহেরা প্রান্তরের মাঝে অত্যন্ত গভীর একটি উপত্যকা রয়েছে যা দেখতে পরিখার মতো। সেখানে প্রাচীন নির্মাণশৈলীর অনেক ভবন রয়েছে এবং আমি খোদাই করা পাথরের একটি গম্বুজ দেখেছি যা একটি ঘরের ওপর স্থাপিত।
(খণ্ড: ১) সফর নামা (পৃষ্ঠা: ৫৭)
لم أر عجب مِنْهَا حَتَّى أَن النَّاظر إِلَيْهَا ليسأل نَفسه كَيفَ رفعت فِي مَكَانهَا وَيَقُول الْعَامَّة إِنَّهَا بَيت فِرْعَوْن وَاسم هَذَا الْوَادي وَادي جَهَنَّم وَقد سَأَلت عَمَّن أطلق هَذَا اللقب عَلَيْهِ فَقيل أَن عمر رضي الله عنه أنزل جَيْشه أَيَّام خِلَافَته فِي سهل الساهرة هَذَا فَلَمَّا رأى الْوَادي قَالَ هَذَا وَادي جَهَنَّم وَيَقُول الْعَوام إِن من يذهب إِلَى نهايته يسمع صياح أهل جَهَنَّم فَإِن الصدى يرْتَفع من هُنَاكَ وَقد ذهبت فَلم أسمع شَيْئا وَحين يسير السائر من الْمَدِينَة جنوبا مَسَافَة نصف فَرسَخ وَينزل المنحدر يجد عين مَاء تنبع من الصخر تسمى عين سلوان وَقد أُقِيمَت عِنْدهَا عمارات كَثِيرَة ويمر مَاء هَذَا الْعين بقرية شيدوا فِيهَا عمارات كَثِيرَة وغرسوا بهَا الْبَسَاتِين وَيُقَال إِن من يستحم من مَاء هَذِه الْعين يشفى مِمَّا ألم بِهِ من الأوصاب والأمراض المزمنة وَقد وقفُوا عَلَيْهَا مَالا كثيرا وَفِي بَيت الْمُقَدّس مستشفى عَظِيم عَلَيْهِ أوقاف طائلة وَيصرف لمرضاه العديدين العلاج والدواء وَبِه أطباء يَأْخُذُونَ مرتباتهم من الْوَقْف الْمُقَرّر لهَذِهِ المستشفى وَمَسْجِد الْجُمُعَة على حافة الْمَدِينَة من النَّاحِيَة الشرقية وَإِحْدَى حَوَائِط الْمَسْجِد على حافة وَادي جَهَنَّم وَحين ينظر السائر من خَارج الْمَسْجِد يرى الْحَائِط المطل على هَذَا الْوَادي يرْتَفع مائَة ذِرَاع من الْحجر الْكَبِير الَّذِي لَا يفصله عَن بعضه ملاط أَو جص والحوائط دَاخل الْمَسْجِد ذَات ارْتِفَاع مستو وَقد بني الْمَسْجِد فِي هَذَا الْمَكَان لوُجُود الصَّخْرَة بِهِ وَهِي الصَّخْرَة الَّتِي أَمر الله عز وجل مُوسَى عليه السلام أَن يتخذها قبْلَة فَلَمَّا قضي هَذَا الْأَمر واتخذها مُوسَى قبْلَة لَهُ لم يعمر كثيرا بل عجلت بِهِ الْمنية حَتَّى إِذا كَانَت أَيَّام سُلَيْمَان عليه السلام وَكَانَت الصَّخْرَة قبْلَة بنى مَسْجِدا حولهَا بِحَيْثُ أَصبَحت فِي وَسطه وظلت الصَّخْرَة قبْلَة حَتَّى عهد نَبينَا الْمُصْطَفى عليه الصلاة والسلام فَكَانَ المصلون يولون وُجُوههم شطرها إِلَى أَن أَمرهم الله تَعَالَى أَن يولوا وُجُوههم شطر الْكَعْبَة وَسَيَأْتِي وصف ذَلِك فِي مَكَانَهُ

আমি এর চেয়ে বিস্ময়কর কিছু দেখিনি, এমনকি যে এটি দেখে সে নিজেকে প্রশ্ন করে যে এটি কীভাবে তার স্থানে উন্নীত হয়েছে। সাধারণ মানুষ বলে যে এটি ফেরাউনের ঘর এবং এই উপত্যকার নাম জাহান্নাম উপত্যকা। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম কে এই উপাধি প্রদান করেছেন, তখন বলা হলো যে ওমর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) তাঁর খেলাফতকালে এই সাহিরাহ সমতলে তাঁর সৈন্যবাহিনী নামিয়েছিলেন। যখন তিনি উপত্যকাটি দেখলেন, তখন বললেন: "এটি জাহান্নাম উপত্যকা।" সাধারণ মানুষ বলে যে, যে ব্যক্তি এর শেষ প্রান্তে যায় সে জাহান্নামবাসীদের চিৎকার শুনতে পায়, কারণ সেখান থেকে প্রতিধ্বনি উত্থিত হয়। আমি সেখানে গিয়েছিলাম কিন্তু কিছুই শুনিনি। যখন কোনো পথিক শহর থেকে দক্ষিণ দিকে আধা ফারসাখ দূরত্ব অতিক্রম করে এবং ঢালু পথে নিচে নামে, তখন সে পাথর থেকে নির্গত একটি পানির ঝরনা দেখতে পায় যার নাম সিলওয়ান ঝরনা। এর পাশে অনেক ইমারত নির্মাণ করা হয়েছে এবং এই ঝরনার পানি এমন একটি গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় যেখানে তারা অনেক ভবন নির্মাণ করেছে এবং বাগান রোপণ করেছে। বলা হয়ে থাকে যে, যে ব্যক্তি এই ঝরনার পানিতে গোসল করবে সে তার দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ও ব্যাধি থেকে আরোগ্য লাভ করবে। এর জন্য তারা অনেক সম্পদ ওয়াকফ করেছেন। আর বায়তুল মুকাদ্দাসে একটি বিশাল হাসপাতাল রয়েছে যার জন্য বিপুল পরিমাণ ওয়াকফ সম্পত্তি বরাদ্দ আছে এবং সেখানে অসংখ্য রোগীদের চিকিৎসা ও ঔষধ প্রদান করা হয়। সেখানে এমন অনেক চিকিৎসক রয়েছেন যারা এই হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত ওয়াকফ থেকে তাদের বেতন গ্রহণ করেন। জুমার মসজিদটি শহরের পূর্ব প্রান্তের কিনারায় অবস্থিত এবং মসজিদের একটি প্রাচীর জাহান্নাম উপত্যকার কিনারায় অবস্থিত। যখন কোনো পথিক মসজিদের বাইরে থেকে তাকায়, সে দেখতে পায় যে এই উপত্যকার দিকে মুখ করা প্রাচীরটি বিশাল পাথর দিয়ে একশ হাত পর্যন্ত উঁচু, যার পাথরগুলোর মাঝে কোনো চুন বা আস্তর নেই। মসজিদের ভেতরের প্রাচীরগুলো সমান উচ্চতাসম্পন্ন। মসজিদটি এই স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে কারণ সেখানে সেই পবিত্র পাথর (সাখরাহ) বিদ্যমান। এটি সেই পাথর যেটিকে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা মুসা (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)-কে কিবলা হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। যখন এই আদেশ সম্পন্ন হলো এবং মুসা একে কিবলা হিসেবে গ্রহণ করলেন, তখন তিনি বেশিদিন জীবিত ছিলেন না বরং তাঁর মৃত্যু ঘনিয়ে এসেছিল। অতঃপর সুলাইমান (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)-এর সময় পর্যন্ত পাথরটি কিবলা ছিল এবং তিনি এর চারপাশে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন যাতে পাথরটি মসজিদের মাঝখানে থাকে। এই পাথরটি আমাদের নবী মুস্তফা (তাঁর ওপর দরুদ ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর যুগ পর্যন্ত কিবলা হিসেবেই ছিল। মুসল্লিগণ এর দিকে মুখ ফিরিয়ে সালাত আদায় করতেন যতক্ষণ না মহান আল্লাহ তাদেরকে কাবার দিকে মুখ ফেরানোর নির্দেশ দেন। এর বর্ণনা যথাস্থানে আসবে।

(খণ্ড: ১) সফর নামা (পৃষ্ঠা: ৫৮)
وَقد أردْت أَن أَقيس هَذَا الْمَسْجِد وَلَكِنِّي آثرت أَن أتقن معرفَة هيأته وَوَضعه أَولا ثمَّ أقيسه فَلَبثت فِيهِ زَمنا أمعن النّظر فَرَأَيْت عِنْد الْجَانِب الشمالي بجوار قبَّة يَعْقُوب عليه السلام طاقا مَكْتُوبًا على حجر مِنْهُ ان طول هَذَا الْمَسْجِد أَربع وَخَمْسُونَ وَسَبْعمائة ذِرَاع وَعرضه خمس وَخَمْسُونَ وَأَرْبَعمِائَة ذِرَاع وَذَلِكَ بِذِرَاع الْملك الْمُسَمّى فِي خُرَاسَان كزشايكان وَهُوَ أقل قَلِيلا من ذِرَاع وَنصف وَأَرْض الْمَسْجِد مغطاة بحجارة موثوقة الى بَعْضهَا الْبَعْض بالرصاص وَالْمَسْجِد شَرْقي الْمَدِينَة والسوق فَإِذا دخله السائر من السُّوق فَإِنَّهُ يتَّجه شرقا فَيرى رواقا عَظِيما جميلا ارتفاعه ثَلَاثُونَ ذِرَاعا وَعرضه عشرُون وللرواق جَنَاحَانِ وواجهتاهما وإيوانه منقوشة كلهَا بالفسيفساء المثبتة بالجص على الصُّورَة الَّتِي يريدونها وَهِي من الدقة بِحَيْثُ تبهر النّظر وَيرى على هَذَا الرواق كِتَابَة منقوشة بالمينا وَقد كتب هُنَاكَ لقب سُلْطَان مصر فحين تقع الشَّمْس على هَذِه النقوش يكون لَهَا من الشعاع مَا يحير الْأَلْبَاب وَفَوق الرواق قبَّة كَبِيرَة من الْحجر المصقول وَله بَابَانِ مزخرفان وواجهتاهما من النّحاس الدِّمَشْقِي الَّذِي يلمع حَتَّى لتظن أَنَّهُمَا طليا بِالذَّهَب وَقد طعما بِالذَّهَب وحليا بالنقوش الْكَثِيرَة وَطول كل مِنْهُمَا خمس عشرَة ذِرَاعا وَعرضه ثَمَان ويسميان بَاب دَاوُد عليه السلام وَحين يجتاز السائر هَذَا الْبَاب يجد على الْيَمين رواقين كبيرين فِي كل مِنْهُمَا تِسْعَة وَعِشْرُونَ عمودا من الرخام تيجانها وقواعدها مزينة بالرخام
আমি এই মসজিদটি পরিমাপ করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমি প্রথমে এর অবয়ব ও বিন্যাস সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন করাকেই প্রাধান্য দিয়েছি, অতঃপর তা পরিমাপ করার সংকল্প করি। ফলে আমি সেখানে কিছুকাল অবস্থান করে নিবিষ্ট মনে পর্যবেক্ষণ করলাম। তখন উত্তর পার্শ্বে ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম)-এর গম্বুজের সন্নিকটে একটি খিলান দেখতে পেলাম যার একটি পাথরের গায়ে উৎকীর্ণ আছে যে, এই মসজিদের দৈর্ঘ্য সাতশত চুয়ান্ন হাত এবং প্রস্থ চারশত পঞ্চান্ন হাত। আর এই পরিমাপ বাদশাহি হাতের হিসাবে, যা খুরাসানে ‘গজ-ই-শায়গান’ নামে পরিচিত; আর তা সাধারণ দেড় হাতের চেয়ে সামান্য কম। মসজিদের মেঝে সিসা দ্বারা একে অপরের সাথে সুদৃঢ়ভাবে আবদ্ধ পাথর দিয়ে আবৃত। মসজিদটি শহরের এবং বাজারের পূর্ব দিকে অবস্থিত। সুতরাং কোনো পথিক যদি বাজার থেকে এতে প্রবেশ করে, তবে সে পূর্বমুখী হয়ে একটি বিশাল ও সুদৃশ্য বারান্দা দেখতে পায় যার উচ্চতা ত্রিশ হাত এবং প্রস্থ বিশ হাত। বারান্দাটির দুটি পার্শ্বভাগ রয়েছে এবং এর সম্মুখভাগ ও আইওয়ান (হলঘর) সম্পূর্ণরূপে চুনাপাথরের ওপর স্থাপিত মোজাইক দ্বারা তাদের অভীষ্ট নকশায় খচিত। এটি এতটাই সূক্ষ্ম যে তা দৃষ্টিকে বিস্ময়াভিভূত করে। এই বারান্দার ওপর মিনা (এনামেল) দিয়ে খোদাই করা লিপি পরিলক্ষিত হয় এবং সেখানে মিশরের সুলতানের উপাধি উৎকীর্ণ রয়েছে। যখন এই নকশাগুলোর ওপর সূর্যকিরণ পতিত হয়, তখন তা থেকে এমন দীপ্তি বিচ্ছুরিত হয় যা জ্ঞানীদের বুদ্ধিকে হতবাক করে দেয়। বারান্দার উপরিভাগে মসৃণ পাথরের একটি বৃহৎ গম্বুজ বিদ্যমান। এর দুটি সুসজ্জিত দ্বার রয়েছে এবং সেগুলোর বহির্ভাগ দামেস্কি তামা দিয়ে নির্মিত, যা এমনভাবে উজ্জ্বলতা ছড়ায় যে ধারণা হবে সে দুটি স্বর্ণ দিয়ে প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। মূলত সেগুলোকে স্বর্ণ দ্বারা খচিত করা হয়েছে এবং বহুবিধ অলঙ্করণে ভূষিত করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেকটির দৈর্ঘ্য পনেরো হাত এবং প্রস্থ আট হাত এবং এই দরজা দুটিকে দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর দ্বার বলা হয়। যখন কোনো পথিক এই দ্বার অতিক্রম করে, তখন সে ডান দিকে দুটি বৃহৎ বারান্দা দেখতে পায়, যার প্রতিটিতে ঊনত্রিশটি করে মার্বেল পাথরের স্তম্ভ রয়েছে এবং সেগুলোর শীর্ষদেশ ও ভিত্তি মার্বেল পাথর দ্বারা সুশোভিত।
(খণ্ড: ১) সফর নামা (পৃষ্ঠা: ৫৯)
الملون ووصلاتها مثبتة بالرصاص وعَلى تيجان الأعمدة طيقان حجرية وَهِي مقامة فَوق بَعْضهَا بِغَيْر ملاط وجص لَا يزِيد عدد حِجَارَة الطاق مِنْهَا على أَربع أَو خمس قطع وَهَذَانِ الرواقان ممتدان الى الْمَقْصُورَة ثمَّ يجد على الْيَسَار وَهُوَ نَاحيَة الشمَال رواقا طَويلا بِهِ أَرْبَعَة وَسِتُّونَ طاقا كلهَا على تيجان أعمدة من رُخَام وعَلى هَذَا الْحَائِط نَفسه بَاب آخر اسْمه بَاب السقر وَطول الْمَسْجِد من الشمَال الى الْجنُوب وَهُوَ ساحة مربعة اذا اقتطعت الْمَقْصُورَة مِنْهُ والقبلة فِي الْجنُوب وعَلى الْجَانِب الشمالي بَابَانِ آخرَانِ متجاوران عرض كل مِنْهُمَا سبع أَذْرع وارتفاعه اثْنَتَيْ عشرَة ذِرَاعا ويسميان بَاب الأسباط فاذا اجتازه السائر وَذهب مَعَ عرض الْمَسْجِد الَّذِي هُوَ جِهَة الْمشرق يجد رواقا أخرا عَظِيما كَبِيرا بِهِ ثَلَاثَة أَبْوَاب متجاورة فِي حجم بَاب الأسباط وَكلهَا مزينة بزخارف من الْحَدِيد والنحاس قل مَا هُوَ أجمل مِنْهَا تسمى بَاب الْأَبْوَاب لِأَن للمواضع الْأُخْرَى بَابَيْنِ وَله ثَلَاثَة وَبَين هذَيْن الرواقين الواقعين على الْجَانِب الشمالي فِي الرواق ذِي الطيقان المحملة على أعمدة الرخام قبَّة رفعت على دعائم عالية وزينت بالقناديل والمسارج تسمى قبَّة يَعْقُوب عليه السلام لِأَنَّهُ كَانَ يُصَلِّي هُنَاكَ وَفِي عرض الْمَسْجِد رواق فِي حائطة بَاب خَارجه صومعتان للصوفية وَهُنَاكَ مصليات ومحاريب جميلَة يُقيم بهَا جمَاعَة مِنْهُم وَيصلونَ وَلَا يذهبون للجامع الا يَوْم الْجُمُعَة لأَنهم لَا يسمعُونَ التَّكْبِير حَيْثُ يُقِيمُونَ

وَعند الرُّكْن الشمالي لِلْمَسْجِدِ رواق جميل وقبة جميلَة لَطِيفَة مَكْتُوب عَلَيْهَا هَذَا محراب زَكَرِيَّا النَّبِي عليه السلام وَيُقَال انه كَانَ يُصَلِّي هُنَاكَ دَائِما وَعند الْحَائِط الشَّرْقِي وسط الْجَامِع رواق عَظِيم الزخرف من الْحجر المصقول حَتَّى تظن انه نحت من قِطْعَة وَاحِدَة ارتفاعه خَمْسُونَ ذِرَاعا
রঙিন এবং এর সংযোগস্থলগুলো সীসা দ্বারা মজবুত করা হয়েছে। স্তম্ভের উপরাংশে পাথরের খিলান রয়েছে, যা চুন বা পলেস্তারা ছাড়াই একটির ওপর আরেকটি স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি খিলানের পাথরের সংখ্যা চার বা পাঁচটির বেশি নয়। এই দুই বারান্দা মাকসুরা পর্যন্ত বিস্তৃত। এরপর বাম দিকে অর্থাৎ উত্তর পাশে একটি দীর্ঘ বারান্দা পাওয়া যায়, যেখানে চৌষট্টিটি খিলান রয়েছে। এর সবকটিই মার্বেল পাথরের স্তম্ভের উপরাংশের ওপর অবস্থিত। এই দেয়ালের ওপরেই 'বাব আস-সাকার' নামক অন্য একটি দরজা রয়েছে। উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত মসজিদের দৈর্ঘ্য একটি বর্গাকার চত্বরের মতো, যদি মাকসুরাকে তা থেকে আলাদা করা হয়। কিবলা দক্ষিণ দিকে অবস্থিত। উত্তর পাশে আরও দুটি পাশাপাশি দরজা রয়েছে, যার প্রত্যেকটির প্রস্থ সাত হাত এবং উচ্চতা বারো হাত। এই দুটির নাম 'বাবুল আসবাত'। কোনো পথচারী যদি এটি অতিক্রম করে মসজিদের প্রশস্ততা বরাবর পূর্ব দিকে যায়, তবে সে বিশাল এক বারান্দা দেখতে পাবে। সেখানে বাবুল আসবাত-এর আকারের পাশাপাশি তিনটি দরজা রয়েছে। এগুলোর সবকটি লোহা ও তামার কারুকার্য দ্বারা সুশোভিত, যার চেয়ে সুন্দর বস্তু খুব কমই আছে। একে 'বাবুল আবওয়াব' বলা হয়; কারণ অন্যান্য স্থানে দুটি করে দরজা থাকলেও এখানে তিনটি রয়েছে। উত্তর পাশে অবস্থিত এই দুই বারান্দার মাঝখানে, মার্বেল পাথরের স্তম্ভের ওপর স্থাপিত খিলানবিশিষ্ট বারান্দায় একটি গম্বুজ রয়েছে, যা সুউচ্চ স্তম্ভের ওপর উত্তোলিত। এটি ঝাড়বাতি ও প্রদীপ দ্বারা সুশোভিত এবং একে 'কুব্বাতু ইয়াকুব' (আলাইহিস সালাম) বলা হয়। কারণ তিনি সেখানে সালাত আদায় করতেন। মসজিদের প্রশস্ততার মধ্যে একটি বারান্দা রয়েছে যার দেয়ালে একটি দরজা আছে। এর বাইরে সুফীদের জন্য দুটি নির্জন ইবাদতখানা রয়েছে। সেখানে সুন্দর সুন্দর নামাজের স্থান ও মেহরাব আছে যেখানে তাদের একটি দল অবস্থান করে এবং সালাত আদায় করে। তারা জুমার দিন ছাড়া অন্য সময় জামে মসজিদে যায় না, কারণ তারা যেখানে অবস্থান করে সেখান থেকে তাকবীরের আওয়াজ শুনতে পায় না।

মসজিদের উত্তর কোণে একটি সুন্দর বারান্দা ও একটি চমৎকার ছোট গম্বুজ রয়েছে, যার ওপর লেখা আছে: এটি নবী যাকারিয়া আলাইহিস সালাম-এর মেহরাব। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি সেখানে নিয়মিত সালাত আদায় করতেন। মসজিদের মাঝখানে পূর্ব দেয়ালের কাছে মসৃণ পাথরের তৈরি অত্যন্ত কারুকার্যখচিত একটি বারান্দা রয়েছে; যা দেখে মনে হয় যে এটি একটি মাত্র খণ্ড খোদাই করে তৈরি করা হয়েছে। এর উচ্চতা পঞ্চাশ হাত।
(খণ্ড: ১) সফর নামা (পৃষ্ঠা: ৬০)
وَعرضه ثَلَاثُونَ عَلَيْهِ نقوش ونقر وَله بَابَانِ جميلان لَا يفصلهما أَكثر من قدم وَاحِدَة وَعَلَيْهِمَا زخارف كَثِيرَة من الْحَدِيد والنحاس الدِّمَشْقِي وَقد دق عَلَيْهِمَا الْحلق والمسامير وَيُقَال ان سُلَيْمَان بن دَاوُد عليه السلام بنى هَذَا الرواق لِأَبِيهِ

وَحين يدْخل السائر هَذَا الرواق متجها نَاحيَة الشرق فالأيمن من هذَيْن الْبَابَيْنِ هُوَ بَاب الرَّحْمَة والايسر بَاب التَّوْبَة وَيُقَال ان هَذَا الْبَاب هُوَ الَّذِي قبل الله تَعَالَى عِنْده تَوْبَة دَاوُد عليه السلام وعَلى هَذَا الرواق مَسْجِد جميل كَانَ فِي وَقت مَا دهليزا فصيروه جَامعا وزينوه بأنواع السَّجَّاد وَله خدم مخصصون وَيذْهب اليه كثير من النَّاس وَيصلونَ فِيهِ وَيدعونَ الله تبارك وتعالى فانه فِي هَذَا الْمَكَان قبل تَوْبَة دَاوُد وكل انسان هُنَاكَ يأمل فِي التَّوْبَة وَالرُّجُوع عَن الْمعاصِي وَيُقَال ان دَاوُد عليه السلام لم يكد يطَأ عتبَة هَذَا الْمَسْجِد حَتَّى بشره الْوَحْي بَان الله سُبْحَانَهُ تَعَالَى قد قبل تَوْبَته فَاتخذ هَذَا الْمَكَان مقَاما وَانْصَرف إِلَى الْعِبَادَة وَقد صليت أَنا نَاصِر فِي هَذَا الْمقَام ودعوت الله تَعَالَى أَن يوفقني لطاعته وَأَن يغْفر ذَنبي الله سبحانه وتعالى يهدي عباده جَمِيعًا لما يرضاه وَيغْفر لَهُم ذنوبهم بِحَق مُحَمَّد وَآله الطاهرين

وَحين يمْضِي السائر بحذاء الْجِدَار الشَّرْقِي الى ان يبلغ الزاوية الجنوبية عِنْد الْقبْلَة الَّتِي تقع على الضلع الجنوبي يجد أَمَام الْحَائِط الشمالي مَسْجِدا بهيئة السرداب ينزل اليه بدرجات كَثِيرَة مساحته عشرُون ذِرَاعا فِي خمس عشرَة وسقفه من الْحجر مَرْفُوع على أعمدة الرخام وَبِهَذَا السرداب مهد عِيسَى عليه السلام وَهُوَ من الْحجر حجمه كَبِير بِحَيْثُ يُصَلِّي عَلَيْهِ النَّاس وَقد صليت هُنَاكَ وَقد أحكم وَضعه فِي الأَرْض حَتَّى لَا يَتَحَرَّك وَهُوَ المهد الَّذِي أمضى فِيهِ عِيسَى طفولته وكلم النَّاس مِنْهُ وَهُوَ فِي الْمَسْجِد مَكَان الْمِحْرَاب وَفِي الْجَانِب الشَّرْقِي من هَذَا الْمَسْجِد محراب مَرْيَم عليها السلام وَبِه محراب آخر
এর প্রশস্ততা ত্রিশ, এর উপরে খোদাই ও কারুকার্য রয়েছে। এর দুটি সুন্দর দরজা রয়েছে যেগুলোর মধ্যবর্তী ব্যবধান এক ফুটের বেশি নয়। সেগুলোতে লোহা ও দামেস্কি তামার প্রচুর কারুকার্য রয়েছে এবং তাতে কড়া ও পেরেক লাগানো হয়েছে। বলা হয় যে, সুলাইমান ইবনে দাউদ (আলাইহিস সালাম) তাঁর পিতার জন্য এই বারান্দাটি নির্মাণ করেছিলেন।

যখন কোনো পথিক পূর্ব দিকে মুখ করে এই বারান্দায় প্রবেশ করেন, তখন এই দুটি দরজার ডানটি হলো রহমতের দরজা এবং বামটি হলো তওবার দরজা। বলা হয় যে, এই দরজার নিকটেই আল্লাহ তাআলা দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর তওবা কবুল করেছিলেন। এই বারান্দার উপরে একটি সুন্দর মসজিদ রয়েছে যা কোনো এক সময় করিডোর ছিল, পরে তারা সেটিকে জামে মসজিদে রূপান্তরিত করেছে এবং বিভিন্ন প্রকারের গালিচা দিয়ে সুসজ্জিত করেছে। এর জন্য সুনির্দিষ্ট খাদেম নিয়োজিত রয়েছে এবং অনেক মানুষ সেখানে যাতায়াত করেন, নামাজ পড়েন এবং আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার নিকট দোয়া করেন। কেননা এই স্থানেই দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর তওবা কবুল হয়েছিল এবং সেখানে অবস্থানকারী প্রত্যেক মানুষ তওবা ও গুনাহ থেকে প্রত্যাবর্তনের আশা পোষণ করে। বলা হয় যে, দাউদ (আলাইহিস সালাম) এই মসজিদের চৌকাঠে পা রাখা মাত্রই ওহীর মাধ্যমে সুসংবাদ পেয়েছিলেন যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর তওবা কবুল করেছেন। অতঃপর তিনি এই স্থানটিকে নিজের মাকাম হিসেবে গ্রহণ করেন এবং ইবাদতে মনোনিবেশ করেন। আমি নাসের এই মাকামে নামাজ পড়েছি এবং আল্লাহ তাআলার নিকট দোয়া করেছি যেন তিনি আমাকে তাঁর আনুগত্যের তাওফিক দান করেন এবং আমার গুনাহ ক্ষমা করেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর সকল বান্দাকে তাঁর সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত করুন এবং মুহাম্মদ ও তাঁর পবিত্র বংশধরদের উসিলায় তাঁদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন।

যখন কোনো পথিক পূর্ব দিকের দেয়াল ঘেঁষে দক্ষিণ দিকের কোণ পর্যন্ত অগ্রসর হন—যা দক্ষিণ পার্শ্বে অবস্থিত কিবলার নিকটবর্তী—তখন তিনি উত্তর দেয়ালের সামনে ভূগর্ভস্থ কক্ষের (সরদাব) আকৃতির একটি মসজিদ দেখতে পান যেখানে অনেকগুলো সিঁড়ি বেয়ে নামতে হয়। এর আয়তন বিশ হাত বাই পনের হাত এবং এর পাথুরে ছাদটি মার্বেল পাথরের স্তম্ভের ওপর স্থাপিত। এই সরদাবেই ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর দোলনা রয়েছে, যা পাথর দ্বারা নির্মিত এবং এর আকার এতই বড় যে মানুষ তার ওপরে নামাজ পড়ে। আমি সেখানে নামাজ পড়েছি। এটি ভূমিতে অত্যন্ত মজবুতভাবে স্থাপন করা হয়েছে যাতে এটি নড়াচড়া না করে। এটি সেই দোলনা যাতে ঈসা (আলাইহিস সালাম) তাঁর শৈশব অতিবাহিত করেছিলেন এবং যেখান থেকে তিনি মানুষের সাথে কথা বলেছিলেন। মসজিদের মেহরাবের স্থানে এটি অবস্থিত। এই মসজিদের পূর্ব দিকে মারিয়াম (আলাইহাস সালাম)-এর মেহরাব রয়েছে এবং সেখানে আরও একটি মেহরাব আছে।