(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল আন্দালুস ওয়া আহলুহা
(পৃষ্ঠা: -)
فضائل الأندلس وأهلها القسم: البلدان والرحلات
الكتاب: فضائل الأندلس وأهلها
المؤلف: ابن حزم وابن سعيد والشقندي
المحقق: د. صلاح الدين المنجد
الناشر: دار الكتاب الجديد
الطبعة: الأولى، 1968م
عدد الصفحات: 60
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আন্দালুস এবং এর অধিবাসীদের ফযিলতসমূহ বিভাগ: দেশসমূহ ও ভ্রমণকাহিনী
বই: আন্দালুস এবং এর অধিবাসীদের ফযিলতসমূহ
লেখক: ইবনে হাজম, ইবনে সাঈদ এবং আশ-শাকুন্দি
গবেষক: ড. সালাহউদ্দীন আল-মুনাজ্জিদ
প্রকাশক: দারুল কিতাব আল-জাদিদ
সংস্করণ: প্রথম, ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬০
[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলার প্রকাশকাল: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল আন্দালুস ওয়া আহলুহা
(পৃষ্ঠা: ১)
رِسَالَة ابْن الربيب إِلَى ابْن حزم يعيب أهل الأندلس قَالَ الْمقري وَقد رَأَيْت أَن أذكر رِسَالَة أبي مُحَمَّد بن حزم الْحَافِظ الَّتِي ذكر فِيهَا بعض فَضَائِل عُلَمَاء الأندلس لاشتمالها على مَا نَحن بصدده وَذَلِكَ أَنه كتب ابو عَليّ الْحسن بن مُحَمَّد بن أَحْمد بن الربيب التَّمِيمِي القيرواني إِلَى أبي الْمُغيرَة عبد الْوَهَّاب بن أَحْمد بن عبد الرَّحْمَن بن حزم يذكر تَقْصِير أهل الأندلس فِي تخليد أَخْبَار عُلَمَائهمْ ومآثر فضائلهم وسير مُلُوكهمْ مَا صورته كتبت يَا سَيِّدي واجل عددي كتب الله تَعَالَى لَك السَّعَادَة وأدام لَك الْعِزّ والسيادة سَائِلًا مسترشدا وباحثا مستخبرا وَذَلِكَ أَنِّي فَكرت فِي بِلَادكُمْ إِذْ كَانَت قرارة كل فضل ومنهل كل خير ونبل ومصدر كل طرفَة ومورد كل تحفة وَغَايَة آمال الراغبين وَنِهَايَة أماني الطالبين ان بارت تِجَارَة فإليها تجلب وان كسدت بضَاعَة فَفِيهَا تنفت مَعَ كَثْرَة علمائها ووفور أدبائها وجلالة مُلُوكهَا ومحبتهم فِي الْعلم وَأَهله يعظمون من عظمه علمه ويرفعون من رَفعه أدبه وَكَذَلِكَ سيرتهم فِي رجال الْحَرْب يقدمُونَ من قَدمته شجاعته وعظمت فِي الحروب نكايته فشجع الجبان وأقدم الهيبان وَنبهَ الخامل وَعلم الْجَاهِل ونطق العيي وَشعر البكي
আন্দালুসীয়দের ত্রুটি তুলে ধরে ইবনে হাজমের নিকট ইবনুর রাবীবের পত্র আল-মাক্কারি বলেন, আমি হাফিজ আবু মুহাম্মাদ ইবনে হাজমের সেই পত্রটি উল্লেখ করা সমীচীন মনে করছি, যাতে তিনি আন্দালুসের ওলামায়ে কিরামের কিছু শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করেছেন; কারণ এটি আমাদের বর্তমান বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। আর তা হলো, আবু আলী আল-হাসান বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আল-রাবীব আত-তামিমি আল-কাইরাওয়ানি আবু আল-মুগিরা আব্দুল ওয়াহহাব বিন আহমাদ বিন আব্দুর রহমান বিন হাজমের নিকট একটি পত্র লিখেছিলেন, যাতে তিনি আন্দালুসবাসীদের তাদের আলেমদের সংবাদ, শ্রেষ্ঠত্বের নিদর্শনসমূহ এবং তাদের রাজাদের জীবনচরিত অমর করে রাখার ক্ষেত্রে শিথিলতার কথা উল্লেখ করেছেন। পত্রের বিষয়বস্তু ছিল এইরূপ: হে আমার নেতা ও আমার শ্রেষ্ঠ অবলম্বন—আল্লাহ তায়ালা আপনার জন্য সৌভাগ্য লিখে দিন এবং আপনার সম্মান ও শ্রেষ্ঠত্বকে দীর্ঘস্থায়ী করুন—আমি একজন জিজ্ঞাসু, পথনির্দেশপ্রার্থী, অনুসন্ধানকারী ও সংবাদ অন্বেষণকারী হিসেবে আপনার নিকট লিখেছি। আর তা এই কারণে যে, আমি আপনাদের দেশ নিয়ে চিন্তা করলাম; যেহেতু তা ছিল প্রতিটি শ্রেষ্ঠত্বের আধার, সকল কল্যাণ ও মহত্ত্বের উৎসস্থল, প্রতিটি অভিনব বিষয়ের উৎপত্তিস্থল এবং প্রতিটি দুর্লভ উপঢৌকনের মিলনস্থল। তা ছিল আগ্রহীদের প্রত্যাশার চূড়ান্ত লক্ষ্য এবং অন্বেষণকারীদের কামনার শেষ সীমা। যদি কোনো বাণিজ্য মন্দা হতো, তবে তা সেখানেই আনয়ন করা হতো; আর যদি কোনো পণ্যের চাহিদা কমে যেত, তবে সেখানেই তার প্রসার ঘটত। এর পাশাপাশি সেখানে ছিল আলেমদের প্রাচুর্য, সাহিত্যিকদের আধিক্য এবং তাদের রাজন্যবর্গের গাম্ভীর্য; জ্ঞান ও জ্ঞানীদের প্রতি ছিল তাদের গভীর অনুরাগ। যার জ্ঞান তাকে মহান করেছে তারা তাকে সম্মান করতেন, আর যার আদব তাকে উচ্চাসীন করেছে তারা তাকে উচ্চ মর্যাদা দান করতেন। যুদ্ধক্ষেত্রের বীরদের ব্যাপারেও তাদের নীতি ছিল একই; যার বীরত্ব তাকে অগ্রবর্তী করেছে এবং যুদ্ধে যার পারদর্শিতা প্রবল হয়েছে, তারা তাকেই সামনে এগিয়ে দিতেন। ফলে কাপুরুষও সাহসী হয়ে উঠত, ভীরু ব্যক্তিও সামনে এগিয়ে আসত, অখ্যাত ব্যক্তি সুপরিচিত হতো, মূর্খ ব্যক্তি জ্ঞান লাভ করত, জড়তাগ্রস্ত ব্যক্তি কথা বলতে শিখত এবং বাক্যহীন ব্যক্তিও কাব্য রচনা করত।
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল আন্দালুস ওয়া আহলুহা
(পৃষ্ঠা: ২)
واستنسر البغاث وتثعبن الحفاث فتنافس النَّاس فِي الْعُلُوم وَكثر الحذاق بِجَمِيعِ الْفُنُون ثمَّ هم مَعَ ذَلِك فِي غَايَة التَّقْصِير وَنِهَايَة التَّفْرِيط من أجل أَن عُلَمَاء الْأَمْصَار دونوا فَضَائِل أمصارهم وخلدوا فِي الْكتب مآثر بلدانهم وأخبار الْمُلُوك والأمراء وَالْكتاب والوزراء والقضاة وَالْعُلَمَاء فابقوا لَهُم ذكرا فِي الغابرين يَتَجَدَّد على مر اللَّيَالِي وَالْأَيَّام ولسان صدق فِي الآخرين يتَأَكَّد مَعَ تصرف الأعوام وعلماؤكم مَعَ استظهارهم على الْعُلُوم كل امرىء مِنْهُم قَائِم فِي ظله لَا يبرح وراتب على كَعبه لَا يتزحزح يخَاف ان صنف ان يعنف وان الف ان يُخَالف وَلَا يؤالف أَو تخطفه الطير أَو تهوي بِهِ الرّيح فِي مَكَان سحيق لم يتعب أحد مِنْهُم نفسا فِي جمع فَضَائِل أهل بَلَده وَلم يسْتَعْمل خاطره فِي مفاخر ملوكه وَلَا بل قَلما بمناقب كِتَابه ووزرائه وَلَا سود قرطاسا بمحاسن قُضَاته وعلمائه على أَنه لَو اطلق مَا عقل الاغفال من لِسَانه وَبسط مَا قبض الاهمال من بَيَانه لوجد لِلْقَوْلِ مساغا وَلم تضق عَلَيْهِ المسالك وَلم تخرج بِهِ الْمذَاهب وَلَا اشتبهت عَلَيْهِ المصادر والموارد وَلَكِن هم أحدهم أَن يطْلب شأو من تقدمه من الْعلمَاء ليحوز قصبات السَّبق ويفوز بقدح ابْن مقبل وَيَأْخُذ بكظم دَغْفَل وَيصير شجا فِي حلق أبي العميثل فَإِذا أدْرك بغيته واخترمته منيته دفن مَعَه ادبه وَعلمه فَمَاتَ ذكره وَانْقطع خَبره وَمن قدمنَا ذكره من عُلَمَاء الْأَمْصَار احْتَالُوا لبَقَاء ذكرهم احتيال الأكياس فالفوا دواوين بَقِي لَهُم بهَا ذكر مُجَدد طول الْأَبَد
فَإِن قلت إِنَّه كَانَ مثل ذَلِك من عُلَمَائِنَا وألفلوا كتبا لَكِنَّهَا لم تصل الينا فَهَذِهِ دَعْوَى لم يصحبها تَحْقِيق لِأَنَّهُ لَيْسَ بَيْننَا وَبَيْنكُم غير رَوْحَة رَاكب أَو رحْلَة قَارب لَو نفث من بلدكم مصدور
ক্ষুদ্র পাখিরা ঈগলের ন্যায় শক্তিশালী হয়ে উঠল এবং সাধারণ সাপ অজগরে রূপান্তরিত হলো; অতঃপর মানুষ জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হলো এবং সকল বিদ্যায় পারদর্শীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল। তৎসত্ত্বেও তারা চরম অবহেলা ও সীমাহীন ত্রুটির মধ্যে নিমজ্জিত রয়েছে। কেননা বিভিন্ন অঞ্চলের ওলামায়ে কেরাম তাদের নিজ নিজ অঞ্চলের শ্রেষ্ঠত্ব লিপিবদ্ধ করেছেন এবং কিতাবসমূহে নিজ দেশসমূহের কীর্তিগাথা, রাজা-বাদশাহ, আমীর-উমরা, লেখক, উজির, বিচারক এবং আলেমদের সংবাদসমূহ অমর করে রেখেছেন। ফলে তারা পরবর্তীদের হৃদয়ে এমন এক স্মারক রেখে গেছেন যা রাত-দিনের আবর্তনে নবায়িত হয়, এবং পরবর্তী প্রজন্মের নিকট এমন এক সত্যনিষ্ঠ সুখ্যাতি রেখে গেছেন যা বছরের পরিবর্তনের সাথে সাথে আরও সুদৃঢ় হয়। অথচ তোমাদের আলেমগণ জ্ঞানের ওপর ব্যাপক দখল রাখা সত্ত্বেও তাদের প্রত্যেকে নিজ নিজ ছায়ায় স্থবির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এবং নিজ অবস্থানে অটল হয়ে রয়েছে। তারা ভয় পায় যে, যদি তারা কোনো গ্রন্থ রচনা করে তবে তাদের তিরস্কার করা হবে, আর যদি কোনো সংকলন করে তবে তাদের বিরোধিতা করা হবে এবং তাদের সাথে সখ্যতা রাখা হবে না; অথবা যেন কোনো পাখি তাদের ছোঁ মেরে নিয়ে যাবে কিংবা বাতাস তাদের কোনো সুদূর জনশূন্য স্থানে নিক্ষেপ করবে। তাদের কেউ নিজ দেশবাসীর গুণাবলি সংগ্রহে নিজেকে নিয়োজিত করেনি, নিজ দেশের রাজন্যবর্গের গৌরবগাথা স্মরণে মনঃসংযোগ করেনি, এমনকি লেখক ও উজিরদের প্রশংসায় কলম চালিত করেনি এবং বিচারক ও আলেমদের গুণাবলি বর্ণনায় কোনো কাগজও কৃষ্ণবর্ণ করেনি। যদিও তারা তাদের রসনার জড়তা ও অবহেলার শৃঙ্খল মুক্ত করত এবং তাদের বর্ণনার আড়ষ্টতা পরিহার করত, তবে তারা কথা বলার প্রশস্ত ক্ষেত্র খুঁজে পেত; তাদের জন্য পথসমূহ সংকীর্ণ হতো না, তাদের মতাদর্শগুলো লক্ষ্যচ্যুত হতো না এবং তাদের কাছে উৎস ও গন্তব্যসমূহ অস্পষ্ট থাকত না। কিন্তু তাদের প্রত্যেকের একমাত্র চিন্তা হলো পূর্ববর্তী আলেমদের সমমর্যাদা অর্জনের চেষ্টা করা, যাতে তারা প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করতে পারে, ইবনুল মুকবিলের ন্যায় সৌভাগ্য অর্জন করতে পারে, দাগফালের ন্যায় বাগ্মিতা আয়ত্ত করতে পারে এবং আবু আল-আমাইসালের কণ্ঠে কাঁটার ন্যায় বিঁধতে পারে। অতঃপর যখন সে তার উদ্দেশ্য হাসিল করে এবং মৃত্যু তাকে গ্রাস করে, তখন তার সাহিত্য ও জ্ঞান তার সাথেই সমাধিস্থ হয়; ফলে তার আলোচনা বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং তার সংবাদ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পক্ষান্তরে বিভিন্ন অঞ্চলের যেসব আলেমদের কথা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি, তারা তাদের নাম টিকিয়ে রাখার জন্য বুদ্ধিমানের ন্যায় কৌশল অবলম্বন করেছেন; তাই তারা এমন সব দিওয়ান বা গ্রন্থ সংকলন করেছেন যার মাধ্যমে অনন্তকাল ধরে তাদের চর্চা নবায়িত হতে থাকে।
যদি আপনি বলেন যে, আমাদের আলেমদের পক্ষ থেকেও অনুরূপ কাজ হয়েছে এবং তারা কিতাব রচনা করেছেন কিন্তু তা আমাদের পর্যন্ত পৌঁছেনি, তবে এটি এমন এক দাবি যার কোনো ভিত্তি বা প্রমাণ নেই। কারণ, আমাদের ও তোমাদের মাঝে দূরত্ব তো কেবল একজন আরোহীর সায়াহ্নের যাত্রা বা নিকটবর্তী কোনো সফরের ন্যায়; যদি তোমাদের দেশ থেকে কোনো আর্তকণ্ঠের ধ্বনিও নির্গত হতো (তবে তা আমাদের নিকট পৌঁছাত)।
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল আন্দালুস ওয়া আহলুহা
(পৃষ্ঠা: ৩)
لأسْمع من ببلدنا فِي الْقُبُور فضلا عَمَّن فِي الدّور والقصور وتلقوا قَوْله بِالْقبُولِ كَمَا تلقوا ديوَان أَحْمد بن عبد ربه الَّذِي سَمَّاهُ بِالْعقدِ على أَنه يلْحقهُ فِيهِ بعض اللوم لَا سِيمَا إِذْ لم يَجْعَل فَضَائِل بَلَده وَاسِطَة عقده ومناقب ملوكه يتيمه سلكه أَكثر الحز وأخطا الْمفصل واطال الهز لسيف غير مقصل وَقعد بِهِ مَا قعد بأصاحبه من ترك مَا يعنيهم واغفال مَا يهمهم
فأرشد أَخَاك ارشدك الله واهده هداك الله ان كَانَت عنْدك فِي ذَلِك الجليه وبيدك فصل الْقَضِيَّة وَالسَّلَام عَلَيْك وَرَحْمَة الله وَبَرَكَاته
যাতে আমি আমাদের ভূখণ্ডের কবরে শায়িত ব্যক্তিদের শোনাতে পারি, বাড়ি-ঘর ও প্রাসাদে অবস্থানকারীদের কথা তো বলাই বাহুল্য। আর তারা তার বক্তব্যকে গ্রহণ করে নিয়েছে, যেভাবে তারা আহমদ ইবন আবদ রাব্বিহ-এর সেই কাব্যসংগ্রহকে গ্রহণ করেছিল যাকে তিনি ‘আল-ইকদ’ নামে অভিহিত করেছিলেন। তবে এ ক্ষেত্রে তার ওপর কিছু সমালোচনা অবধারিত হয়, বিশেষত যেহেতু তিনি তার নিজ ভূখণ্ডের শ্রেষ্ঠত্বসমূহকে সেই হারের মধ্যমণি করেননি এবং তার দেশের রাজন্যবর্গের গুণগানকে সেই মালার শ্রেষ্ঠ রত্ন হিসেবে গেঁথে দেননি। তিনি অধিক কাঁটাছেঁড়া করেছেন কিন্তু মূল সন্ধিস্থল নির্ণয়ে ভুল করেছেন, এবং তিনি এমন এক তলোয়ার আস্ফালন করেছেন যা কাটার উপযোগী নয়। তার সঙ্গীদের যা পিছিয়ে দিয়েছিল তাকেও তাই পিছিয়ে দিয়েছে; অর্থাৎ যা তাদের জন্য উপযোগী ছিল তা বর্জন করা এবং যা গুরুত্বপূর্ণ ছিল তা উপেক্ষা করা।
অতএব আপনার ভাইকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন, আল্লাহ আপনাকে সঠিক পথ দেখান; এবং তাকে হিদায়াত দান করুন, আল্লাহ আপনাকে হিদায়াত দিন, যদি এই বিষয়ে আপনার নিকট স্পষ্ট কোনো জ্ঞান থাকে এবং আপনার নিকট এর চূড়ান্ত মীমাংসা বিদ্যমান থাকে। আপনার ওপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল আন্দালুস ওয়া আহলুহা
(পৃষ্ঠা: ৪)
رِسَالَة أبي مُحَمَّد ابْن حزم فِي فَضَائِل الأندلس فَكتب الْوَزير الْحَافِظ ابو مُحَمَّد عَليّ بن أَحْمد بن سعيد بن حزم عِنْد وُقُوفه على هَذِه الرسَالَة مَا نَصه
الْحَمد لله رب الْعَالمين وَصلى الله على سيدنَا مُحَمَّد عَبده وَرَسُوله وعَلى اصحابه الاكرمين وازواجه امهات الْمُؤمنِينَ وَذريته الفاضلين الطيبين
اما بعد يَا أخي يَا ابا بكر سَلام عَلَيْك سَلام أَخ مشوق طَالَتْ بَينه وَبَيْنك الأميال والفراسخ وَكَثُرت الْأَيَّام والليالي ثمَّ لقيك فِي حَال سفر ونقلة ووادك فِي خلال جَوْلَة ورحلة فَلم يقْض من محاورتك اربا وَلَا بلغ فِي مجاورتك مطلبا واني لما احتللت بك وجالت يَدي فِي مَكْنُون كتبك ومضمون دواوينك لمحت عَيْني فِي تضاعيفها درجا فتأملته فَإِذا فِيهِ خطاب لبَعض الْكتاب من مصاقبينا فِي الدَّار أهل افريقية ثمَّ مِمَّن ضمته حَاضِرَة قيروانهم إِلَى رجل اندلسي لم يُعينهُ باسمه وَلَا ذكره بنسبه يذكر لَهُ فِيهَا ان عُلَمَاء بلدنا بالأندلس وان كَانُوا على الذرْوَة الْعليا من التَّمَكُّن بافانين الْعُلُوم وَفِي الْغَايَة القصوى من التحكم على وُجُوه المعارف فان هممهم قد قصرت عَن تخليد مآثر بلدهم وَمَكَارِم مُلُوكهمْ ومحاسن
আন্দালুসের ফযীলত সম্পর্কে আবু মুহাম্মাদ ইবনে হাযমের পত্র উযীর হাফেয আবু মুহাম্মাদ আলী ইবনে আহমাদ ইবনে সাঈদ ইবনে হাযম এই পত্রটি দেখার সময় যা লিখেছিলেন তার পাঠ নিম্নরূপ:
সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আল্লাহ রহমত বর্ষণ করুন আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর, যিনি তাঁর বান্দা ও রাসূল, এবং তাঁর সম্মানিত সাহাবীবর্গ, মুমিনদের জননীগণ এবং তাঁর মর্যাদাবান ও পবিত্র বংশধরদের ওপর।
অতঃপর, হে আমার ভাই আবু বকর! আপনার প্রতি সালাম। এমন এক ব্যাকুল ভাইয়ের সালাম, যার এবং আপনার মধ্যে মাইলের পর মাইল আর ফারসাখের পর ফারসাখ ব্যবধান দীর্ঘ হয়েছে এবং বহু দিন ও রাত অতিবাহিত হয়েছে। অতঃপর আপনার সাথে তার সাক্ষাৎ ঘটেছিল সফর ও স্থানান্তরের অবস্থায়, এবং আপনার সাথে তার প্রীতি বিনিময় হয়েছিল পর্যটন ও ভ্রমণের ব্যস্ততার মাঝে। ফলে আপনার সাথে আলাপচারিতার আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি এবং আপনার সান্নিধ্য লাভের উদ্দেশ্যও সফল হয়নি। আমি যখন আপনার নিকট অবস্থান করছিলাম এবং আপনার সংরক্ষিত কিতাবসমূহ ও সংগৃহীত পাণ্ডুলিপিগুলো নাড়াচাড়া করছিলাম, তখন আমার দৃষ্টি সেগুলোর ভাঁজে একটি পত্রের ওপর পড়ল। আমি এটি গভীর মনোযোগ দিয়ে দেখলাম এবং লক্ষ্য করলাম যে, এটি আমাদের প্রতিবেশী অঞ্চল ইফ্রিকিয়ার অধিবাসী এবং তাদের প্রধান শহর কায়রোয়ানের অন্তর্ভুক্ত কোনো এক লেখকের একটি সম্বোধন। তিনি এটি জনৈক আন্দালুসী ব্যক্তির নিকট লিখেছিলেন, যার নাম বা বংশপরিচয় তিনি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। সেখানে তিনি তার নিকট উল্লেখ করেছেন যে, যদিও আমাদের দেশ আন্দালুসের আলিমগণ বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞানের শাখায় পারদর্শিতার সর্বোচ্চ শিখরে এবং জ্ঞানের বিবিধ বিষয়ে পাণ্ডিত্যের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছেন, তবুও তাদের স্বদেশি কীর্তিগাঁথা, তাদের রাজন্যবর্গের মহানুভবতা এবং সৌন্দর্যের বিবরণসমূহ চিরস্থায়ীভাবে লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে তাদের সংকল্প ও উদ্যম পিছিয়ে রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল আন্দালুস ওয়া আহলুহা
(পৃষ্ঠা: ৫)
فقهائهم ومناقب قضاتهم ومفاخر كِتَابهمْ وفضائل عُلَمَائهمْ ثمَّ تعدى ذَلِك إِلَى أَن أخلى أَرْبَاب الْعُلُوم منا من أَن يكون لَهُم تاليف يحيى ذكرهم ويبقي علمهمْ بل قطع ان كل وَاحِد مِنْهُم قد مَاتَ فَدفن علمه مَعَه وحقق ظَنّه فِي ذَلِك وَاسْتدلَّ على صِحَّته عِنْد نَفسه بِأَن شَيْئا من هَذِه التآليف لَو كَانَ بَيْننَا مَوْجُودا لَكَانَ اليهم مَنْقُولًا وَعِنْدهم ظَاهرا لقرب المزار وَكَثْرَة السفار وترددهم اليهم وتكررهم علينا ثمَّ لما ضمنا الْمجْلس الحافل بأصناف الاداب والمشهد الآهل بانواع الْعُلُوم وَالْقصر الْمَعْمُور بانواع الْفَضَائِل والمنزل المحفوف بِكُل لَطِيفَة وسيعة من دَقِيق الْمعَانِي وجليل الْمَعَالِي قرارة الْمجد وَمحل السؤدد ومحط رحال الْخَائِفِينَ وملقى عَصا التسيار عِنْد الرئيس الاجل الشريف قديمه وحسبه الرفيع حَدِيثه ومكتسبه الَّذِي اجله عَن كل خطة يشركهُ فِيهَا من لَا توازي قومته نومته وَلَا ينَال حَضَره هويناه واربى بِهِ عَن كل مرتبَة يلْحقهُ فِيهَا من لَا يسو إِلَى المكارم سموهُ وَلَا يدنو من الْمَعَالِي دنوه وَلَا يَعْلُو فِي حميد الْخلال علوه بل اكْتفي من مدحه باسمه الْمَشْهُور واجتزي من الاطالة فِي تقريظه بمنتماه الْمَذْكُور فحسبي بذينك العلمين دَلِيلا على سَعْيه المشكور وفضله الْمَشْهُور أبي عبد الله مُحَمَّد بن قَاسم صَاحب البونت اطال الله بَقَاءَهُ وادام اعتلاءه وَلَا عطل الحامدين من تحليهم بحلاه وَلَا أخلى الْأَيَّام من تزينها بعلاه فرأيته اعزه الله تَعَالَى حَرِيصًا على ان يُجَاوب هَذَا الْمُخَاطب وراغبا فِي ان يبين لَهُ مَا لَعَلَّه قد رَاه فنسى أَو بعد عَنهُ فخفى فتناولت الْجَواب الْمَذْكُور بعد ان بَلغنِي ان ذَلِك الْمُخَاطب قد مَاتَ رحمنا الله تَعَالَى واياه فَلم يكن لقصده بِالْجَوَابِ معنى وَقد صَارَت الْمَقَابِر لَهُ مغنى فلسنا
তাদের ফকিহগণ, বিচারকদের বীরত্বগাথা, লেখকদের গৌরবগাঁথা এবং আলিমদের শ্রেষ্ঠত্ব। অতঃপর বিষয়টি এই সীমা ছাড়িয়ে গেল যে, তিনি আমাদের জ্ঞানীদের সম্পর্কে এই ধারণা পোষণ করলেন যে, তাদের এমন কোনো রচনা নেই যা তাদের স্মৃতিকে পুনর্জীবিত করবে এবং তাদের জ্ঞানকে টিকিয়ে রাখবে। বরং তিনি দৃঢ়ভাবে দাবি করলেন যে, তাদের প্রত্যেকেই মৃত্যুবরণ করেছেন এবং তাদের জ্ঞানও তাদের সাথে সমাহিত হয়েছে। তিনি নিজের মনে এর সত্যতার প্রমাণ হিসেবে এই যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন যে, যদি এই জাতীয় কোনো রচনা আমাদের মাঝে বিদ্যমান থাকত, তবে যাতায়াতের নৈকট্য, পর্যটকদের আধিক্য এবং তাদের কাছে আমাদের যাতায়াত ও আমাদের নিকট তাদের নিয়মিত যাতায়াতের কারণে তা অবশ্যই তাদের নিকট স্থানান্তরিত হতো এবং তাদের কাছে প্রকাশ্য থাকত।
অতঃপর যখন আমাদের একত্র করল বিভিন্ন শিষ্টাচারে পরিপূর্ণ এক মহতী সভা, নানা প্রকার জ্ঞানে সমৃদ্ধ এক সমাবেশ, শ্রেষ্ঠত্বের গুণাবলীতে আবাদ এক প্রাসাদ এবং সূক্ষ্ম অর্থ ও সুউচ্চ মর্যাদার প্রতিটি সৌন্দর্যে ঘেরা এক আবাসস্থল—যা ছিল মহত্ত্বের আধার, নেতৃত্বের স্থান, আতঙ্কিতদের আশ্রয়স্থল এবং পর্যটকদের বিশ্রামের স্থল; সেই মহান, সুউচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ও শরিফ নেতার সমীপে, যার আভিজাত্য সুপ্রাচীন এবং যার সুউচ্চ মর্যাদা ও অর্জনসমূহ বর্তমান। তার এই গুণাবলী তাকে এমন প্রতিটি পর্যায় থেকে ঊর্ধ্বে রেখেছে যেখানে এমন কেউ তার অংশীদার হতে পারে না যার জাগরণ তার নিদ্রার সমান নয়, এবং যার সাধারণ প্রচেষ্টা তার ধীরস্থিরতাকে স্পর্শ করতে পারে না। এটি তাকে এমন প্রতিটি স্তরের ঊর্ধ্বে নিয়ে গেছে যেখানে এমন কেউ তাকে স্পর্শ করতে পারে না যার সংকল্প তার উচ্চতার সমকক্ষ নয়, যার মর্যাদা তার নৈকট্যের কাছে পৌঁছাতে পারে না এবং যার উৎকর্ষ তার প্রশংসনীয় গুণাবলীর সমান নয়।
বরং আমি তার প্রশংসার ক্ষেত্রে তার সুপরিচিত নামেই সন্তুষ্ট থাকছি এবং তার গুণকীর্তনে দীর্ঘসূত্রতার পরিবর্তে তার উল্লিখিত বংশপরিচয়কেই যথেষ্ট মনে করছি। তার প্রশংসিত প্রচেষ্টা এবং সুপ্রসিদ্ধ শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ হিসেবে এই দুটি পরিচয়ই আমার জন্য যথেষ্ট; তিনি হলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন কাসিম, আল-বুন্ত-এর অধিপতি—আল্লাহ তার হায়াত দীর্ঘায়িত করুন এবং তার উচ্চতাকে চিরস্থায়ী করুন। তিনি যেন প্রশংসাকারীদের তার গুণাবলীতে ভূষিত হওয়া থেকে বঞ্চিত না করেন এবং কালসমূহকে তার মহত্ত্বের অলঙ্কার থেকে শূন্য না রাখেন।
আমি তাকে দেখলাম—আল্লাহ তাআলা তাকে শক্তিশালী করুন—তিনি এই বক্তার কথার জবাব দিতে অত্যন্ত আগ্রহী এবং তাকে সেই বিষয়গুলো স্পষ্ট করে দিতে ইচ্ছুক যা হয়তো তিনি দেখেছিলেন কিন্তু ভুলে গেছেন অথবা যা তার থেকে দূরে থাকায় অস্পষ্ট রয়ে গেছে। সুতরাং আমি উক্ত জবাব প্রদানের দায়িত্ব গ্রহণ করলাম, যদিও ইতিমধ্যে আমি সংবাদ পেয়েছি যে সেই বক্তা মৃত্যুবরণ করেছেন—আল্লাহ তাআলা আমাদের এবং তাকে রহম করুন। তাই তাকে উদ্দেশ্য করে জবাব দেওয়ার আর কোনো সার্থকতা রইল না, কারণ কবরই এখন তার আবাসে পরিণত হয়েছে। তাই আমরা...
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল আন্দালুস ওয়া আহলুহা
(পৃষ্ঠা: ৬)
بمسمعين من فِي الْقُبُور فصرفت عنان الْخطاب اليك إِذْ من قبلك صرت إِلَى الْكتاب المجاوب عَنهُ وَمن لَدُنْك وصلت الي الرسَالَة الْمُعَارضَة وَفِي وُصُول كتابي على هَذِه الْهَيْئَة حَيْثُمَا وصل كِفَايَة لمن غَابَ عَنهُ من أَخْبَار تآليف أهل بلدنا مثل مَا غَابَ عَن هَذَا الباحث الأول وَللَّه الامر من قبل وَمن بعد وان كنت فِي أخباري اياك بِمَا ارسمه فِي كتأبي هَذَا كمهد إِلَى البركان نَار الحباحب وباني صوى فِي مهيع الْقَصْد اللاحب فانك وان كنت الْمَقْصُود والمواجه فَإِنَّمَا المُرَاد من أهل تِلْكَ النَّاحِيَة من نأى عَنهُ علم مَا استجلبه السَّائِل الْمَاضِي وَمَا توفيقي إِلَّا بِاللَّه سبحأنه
فَأَما مآثر بلدنا فقد الف فِي ذَلِك أَحْمد بن مُحَمَّد الرَّازِيّ التاريخي كتبا جمة مِنْهَا كتاب ضخم ذكر فِيهِ مسالك الأندلس ومراسيها وامهات مدنها واجنادها السِّتَّة وخواص كل بلد مِنْهَا وَمَا فِيهِ مِمَّا لَيْسَ فِي غَيره وَهُوَ كتاب مريح مليح وَأَنا اقول لَو لم يكن لاندلسنا الا مَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بشر بِهِ وَوصف اسلافنا الْمُجَاهدين فِيهِ بِصِفَات الْمُلُوك على الاسرة فِي الحَدِيث الَّذِي روينَاهُ من طَرِيق أبي حَمْزَة انس بن مَالك ان خَالَته ام حرَام بنت ملْحَان زوج أبي الْوَلِيد عبَادَة بن الصَّامِت رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ وعنهم اجمعين حدثته عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه أخْبرهَا بذلك لكفى شرفا بذلك يسر عاجله ويغبط آجله
فَإِن قَالَ قَائِل لَعَلَّه صلوَات الله تَعَالَى عَلَيْهِ انما عَنى بذلك الحَدِيث أهل صقليه واقريطش وَمَا الدَّلِيل على مَا ادعيته من أَنه صلى الله عليه وسلم عَنى الأندلس حتما وَمثل هَذَا من التَّأْوِيل لَا يتساهل
যারা কবরে শায়িত তাদের শোনানো সম্ভব নয়, তাই আমি আমার বক্তব্যের লাগাম আপনার দিকে ফিরিয়েছি। কারণ আপনার পক্ষ থেকেই সেই গ্রন্থের উত্তর দেওয়া হয়েছে এবং আপনার নিকট থেকেই সেই আপত্তিমূলক পত্রটি আমার কাছে পৌঁছেছে। আমার এই গ্রন্থটি বর্তমান অবয়বে যেখানেই পৌঁছাবে, তা আমাদের দেশের অধিবাসীদের রচিত গ্রন্থাবলি সম্পর্কে তাদের জন্য যথেষ্ট হবে যারা এ বিষয়ে অবগত নন, যেমনটি এই প্রথম গবেষক অবগত ছিলেন না। আর সকল ফয়সালা পূর্বের এবং পরের আল্লাহর জন্যই। যদিও এই গ্রন্থে যা আমি লিপিবদ্ধ করছি তার মাধ্যমে আপনাকে সংবাদ প্রদান করা আগ্নেয়গিরির সামনে জোনাকি পোকার আলোর মতো অথবা সুষ্পষ্ট ও প্রশস্ত পথে নিশানা স্থাপনকারীর মতো, তবুও আপনিই যদিও মূল সম্বোধিত ব্যক্তি, প্রকৃতপক্ষে উদ্দেশ্য হলো সেই অঞ্চলের এমন সব মানুষ যারা পূর্ববর্তী প্রশ্নকারীর জিজ্ঞাসিত বিষয় সম্পর্কে অজ্ঞাত। আর আমার তাওফীক কেবল আল্লাহ সুবহানাহুর পক্ষ থেকেই।
আমাদের দেশের গৌরবময় কীর্তিগাথা সম্পর্কে ঐতিহাসিক আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আর-রাজি অনেকগুলো গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার মধ্যে একটি বিশাল গ্রন্থ রয়েছে যেখানে তিনি আন্দালুসের পথঘাট, এর সমুদ্রবন্দরসমূহ, প্রধান শহরসমূহ এবং এর ছয়টি প্রশাসনিক বিভাগ বা সেনাদল সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া প্রতিটি শহরের বৈশিষ্ট্য এবং সেখানে এমন কী বিশেষত্ব রয়েছে যা অন্য কোথাও নেই তাও উল্লেখ করেছেন। এটি অত্যন্ত চমৎকার ও তথ্যসমৃদ্ধ একটি গ্রন্থ। আমি মনে করি, আমাদের আন্দালুসের জন্য যদি কেবল সেই সুসংবাদটুকুই থাকত যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রদান করেছেন এবং যেখানে তিনি আমাদের পূর্বসূরি মুজাহিদদের সিংহাসনে সমাসীন রাজাদের ন্যায় গুণের অধিকারী হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তবে সম্মানের জন্য এটিই যথেষ্ট হতো। এই হাদিসটি আমরা আবু হামজাহ আনাস বিন মালিকের সূত্রে বর্ণনা করেছি যে, তার খালা উম্মে হারাম বিনতে মিলহান, যিনি আবুল ওয়ালিদ উবাদাহ বিন সামিতের স্ত্রী ছিলেন (আল্লাহ তাদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন), তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে তাকে এই মর্মে সংবাদ দিয়েছিলেন। এর পার্থিব প্রাপ্তি আনন্দদায়ক এবং পরকালীন প্রাপ্তি ঈর্ষণীয়।
যদি কেউ বলে যে, সম্ভবত আল্লাহ তাআলার সালাত যার ওপর বর্ষিত হোক, তিনি এই হাদিসের মাধ্যমে কেবল সিকিলি (সিলিসিয়া) এবং ইকরিতিশ (ক্রিট) দ্বীপবাসীদের উদ্দেশ্য করেছেন, তবে আমি যে দাবি করেছি তিনি নিশ্চিতভাবে আন্দালুসকেই বুঝিয়েছেন তার প্রমাণ কী? এই ধরণের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে কোনো রূপ শিথিলতা কাম্য নয়।
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল আন্দালুস ওয়া আহলুহা
(পৃষ্ঠা: ৭)
فِيهِ ذُو ورع دون برهَان وَاضح وَبَيَان لائح لَا يحْتَمل التَّوْجِيه وَلَا يقبل التجريح
فَالْجَوَاب وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق أَنه صلى الله عليه وسلم قد أُوتِيَ جَوَامِع الْكَلم وَفضل الْخطاب وَأمر بِالْبَيَانِ لما أوحى اليه وَقد أخبر فِي ذَلِك الحَدِيث الْمُتَّصِل سَنَده بالعدول عَن الْعُدُول بطائفتين من امته يركبون ثبج الْبَحْر غزَاة وأحدة بعد وأحدة فسالته ام حرَام ان يَدْعُو ربه تَعَالَى ان يَجْعَلهَا مِنْهُم فَأَخْبرهَا صلى الله عليه وسلم وَخَبره الْحق بِأَنَّهَا من الْأَوَّلين وَهَذَا من اعلام نبوته صلى الله عليه وسلم وَهُوَ إخْبَاره بالشَّيْء قبل كَونه وَصَحَّ الْبُرْهَان على رسَالَته بذلك وَكَانَت من الْغُزَاة إِلَى قبرس وخرت عَن بغلتها هُنَاكَ فَتُوُفِّيَتْ رَحمهَا الله تَعَالَى وَهِي أول غزَاة ركب فِيهَا الْمُسلمُونَ الْبَحْر فَثَبت يَقِينا ان الْغُزَاة إِلَى قبرس هم الْأَولونَ الَّذين بشر بهم النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَكَانَت ام حرَام مِنْهُم كَمَا أخبر صلوَات الله تَعَالَى وَسَلَامه عَلَيْهِ وَلَا سَبِيل ان يظنّ بِهِ وَقد أُوتِيَ مَا أُوتِيَ من البلاغة وَالْبَيَان أَنه يذكر طائفتين قد سمى أَحدهمَا أولى الا والتالية لَهَا ثَانِيَة فَهَذَا من بَاب الاضافة وتركيب الْعدَد وَهَذَا مُقْتَضى طبيعة صناعَة الْمنطق إِذْ لَا تكون الأولى أولى الا لثانية وَلَا الثَّانِيَة ثَانِيَة الا لأولى فَلَا سَبِيل إِلَى ذكر ثَالِث الا بعد ثَان ضَرُورَة وَهُوَ صلى الله عليه وسلم انما ذكر طائفتين وَبشر بفئتين وسمى أحداهما الْأَوَّلين فَاقْتضى ذَلِك بِالْقضَاءِ الصدْق آخَرين وَالْآخر من الأول هُوَ الثَّانِي الَّذِي أخبر صلى الله عليه وسلم أَنه خير الْقُرُون بعد قرنه أولى الْقُرُون بِكُل فضل بِشَهَادَة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بِأَنَّهُ خير من كل قرن بعده ثمَّ ركب الْبَحْر بعد ذَلِك أَيَّام سُلَيْمَان بن عبد الْملك
এতে স্পষ্ট প্রমাণ ও জাজ্বল্যমান বর্ণনা ব্যতীত কেবল খোদাভীতি রয়েছে, যা অন্য কোনো ব্যাখ্যা গ্রহণ করে না এবং কোনো সমালোচনাও কবুল করে না।
এর উত্তর এবং আল্লাহর কাছেই তাওফিক প্রার্থনা করছি—নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে 'জাওয়ামিউল কালিম' (সংক্ষিপ্ত অথচ অর্থবহ কথা) ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তকারী ভাষণ প্রদান করা হয়েছে, আর তাঁর প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করার নির্দেশ তাঁকে দেওয়া হয়েছে। তিনি সেই হাদীসে—যার সনদ নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে পরস্পর সংযুক্ত—তাঁর উম্মতের এমন দুটি দল সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যারা সমুদ্রের উত্তাল তরঙ্গে চড়ে একের পর এক যুদ্ধে লিপ্ত হবে। তখন উম্মে হারাম তাঁকে অনুরোধ করলেন যেন তিনি তাঁর সুউচ্চ রবের কাছে দুআ করেন যাতে আল্লাহ তাঁকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে সংবাদ দিলেন—আর তাঁর সংবাদ হলো ধ্রুব সত্য—যে তিনি প্রথম দলটির অন্তর্ভুক্ত। এটি তাঁর নবুওয়াতের অন্যতম নিদর্শন; কারণ তিনি কোনো বিষয় ঘটার পূর্বেই সে সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন এবং এর মাধ্যমে তাঁর রিসালাতের অকাট্য প্রমাণ সাব্যস্ত হয়েছে। তিনি সাইপ্রাস অভিযানের যোদ্ধাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং সেখানে তিনি তাঁর খচ্চর থেকে পড়ে গিয়ে ইন্তেকাল করেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন। আর এটিই ছিল প্রথম যুদ্ধ যাতে মুসলিমগণ সমুদ্রে আরোহণ করেছিলেন। সুতরাং নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হলো যে, সাইপ্রাস অভিযানের যোদ্ধারাই হলেন সেই প্রথম দল যাদের সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুসংবাদ দিয়েছিলেন এবং উম্মে হারামও তাঁদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছিলেন। তাঁর সম্পর্কে এমন ধারণা করার কোনো অবকাশ নেই—যাঁকে চূড়ান্ত অলঙ্কারশাস্ত্র ও স্পষ্ট বর্ণনাভঙ্গি দান করা হয়েছে—যে তিনি দুটি দলের কথা উল্লেখ করবেন এবং একটিকে 'প্রথম' নাম দেবেন অথচ তার পরবর্তীটিকে 'দ্বিতীয়' বলবেন না। এটি মূলত সম্বন্ধযুক্ত হওয়া ও সংখ্যার বিন্যাসের অন্তর্ভুক্ত। যুক্তিবিদ্যার শাস্ত্রীয় দাবিও এটিই; কারণ 'প্রথম' তখনই প্রথম হয় যখন তার পরে 'দ্বিতীয়' থাকে, আর 'দ্বিতীয়' তখনই দ্বিতীয় হয় যখন তার পূর্বে 'প্রথম' থাকে। সুতরাং অনিবার্যভাবে দ্বিতীয় দলের পরেই কেবল তৃতীয় দলের উল্লেখ সম্ভব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবলমাত্র দুটি দলের কথা উল্লেখ করেছেন এবং দুটি দলের ব্যাপারে সুসংবাদ দিয়েছেন এবং তাদের একটিকে 'প্রথম দল' হিসেবে নামকরণ করেছেন। ফলে সত্যের অনিবার্য দাবি অনুযায়ী অপর একটি দল সাব্যস্ত হয়, আর প্রথমাংশ থেকে পৃথক সেই অপর দলটিই হলো দ্বিতীয় দল; যার সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁর যুগের পরবর্তী যুগই হলো সর্বোত্তম যুগ; যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাক্ষ্য অনুযায়ী সকল শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী, কেননা তিনি একে তাঁর পরবর্তী যে কোনো যুগের চেয়ে উত্তম বলেছেন। এরপর সুলায়মান বিন আব্দুল মালিকের শাসনামলে সমুদ্র অভিযান পরিচালিত হয়।
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল আন্দালুস ওয়া আহলুহা
(পৃষ্ঠা: ৮)
إِلَى الْقُسْطَنْطِينِيَّة وَكَانَ الْأَمِير بهَا فِي تِلْكَ السفن هُبَيْرَة الْفَزارِيّ وَأما صقلية فَأَنَّهَا فتحت صدر أَيَّام الاغالبة سنة 212 أَيَّام قاد اليها السفن غازيا اسد بن الْفُرَات القَاضِي صَاحب أبي يُوسُف رَحمَه الله تَعَالَى وبهامات وَأما اقريطش فَإِنَّهَا فتحت بعد الثَّلَاث والمائتين افتتحها ابو حَفْص عمر بن شُعَيْب الْمَعْرُوف بِابْن الغليظ من أهل قَرْيَة بطروج من عمل فحص البلوط المجأور لقرطبة من بِلَاد الأندلس وَكَانَ من فل الربضيين وتداولها بنوه بعده إِلَى ان كَانَ أخرهم عبد الْعَزِيز بن شُعَيْب الَّذِي غنمها فِي أَيَّام ارمانوس بن قسطنطين ملك الرّوم سنة 350 وَكَانَ أَكثر المفتتحين لَهَا أهل الأندلس
وَأما فِي قسم الأقاليم فَإِن قرطبة مسْقط رؤوسنا ومعق تمائمنا مَعَ سر من رأى فِي اقليم وَأحد فلنا من الْفَهم والذكاء مَا اقْتَضَاهُ اقليمنا وَإِن كَانَت الْأَنْوَار لَا تَأْتِينَا إِلَّا مغربة عَن مطالعها على الْجُزْء الْمَعْمُور وَذَلِكَ عِنْد الْمُحْسِنِينَ للْأَحْكَام الَّتِي تدل عَلَيْهَا الْكَوَاكِب نَاقص من قوى دلائلها فلهَا من ذَلِك على كل حَال حَظّ يفوق حَظّ أَكثر الْبِلَاد بارتفاع أحد النيرين بهَا تسعين دَرَجَة وَذَلِكَ من أَدِلَّة التَّمَكُّن فِي الْعُلُوم والنفاذ فِيهَا عِنْد من ذكرنَا وَقد صدق ذَلِك الْخَبَر وابانته التجربة فَكَانَ أَهلهَا من التَّمَكُّن فِي عُلُوم القراآت وَالرِّوَايَات وَحفظ كثير من الْفِقْه وَالْبَصَر بالنحو وَالشعر واللغة وَالْخَبَر والطب والحساب والنجوم بمَكَان رحب الفناء وَاسع العطن متنائي الاقطار فسيح المجال وَالَّذِي نعاه علينا الْكَاتِب الْمَذْكُور لَو كَانَ كَمَا ذكر لَكنا فِيهِ شُرَكَاء لأكْثر أُمَّهَات الحواضر وجلائل الْبِلَاد ومتسعات الْأَعْمَال فَهَذِهِ القيروان بلد الْمُخَاطب لنا مَا أذكر أَنِّي رَأَيْت فِي أَخْبَارهَا تأليفا غير المعرب عَن أَخْبَار الْمغرب وحاشى تآليف مُحَمَّد بن يُوسُف الْوراق فَإِنَّهُ ألف للمسنتصر رَحمَه شالله تَعَالَى فِي
কনস্টান্টিনোপলের দিকে; সেই জাহাজগুলোতে আমির ছিলেন হুবাইরা আল-ফাজারি। আর সিসিলির কথা হলো, এটি ২১২ হিজরি সনে আগলাবিদের শাসনামলের শুরুর দিকে বিজিত হয়, যখন জাহাজগুলো নিয়ে সেখানে অভিযান পরিচালনা করেছিলেন আবু ইউসুফের সাথী ও বিশিষ্ট বিচারক আসাদ ইবনে আল-ফুরাত (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন), এবং সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আর ক্রিট দ্বীপের কথা হলো, এটি দুইশত তিন সালের পর বিজিত হয়। এটি জয় করেন আবু হাফস উমর ইবনে শুআইব, যিনি ইবনুল গালিজ নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি আন্দালুস দেশের কর্ডোভার নিকটবর্তী ফাহসুল বালুত এর অন্তর্গত বিত্রুশ গ্রামের অধিবাসী ছিলেন। তিনি ছিলেন রাবাদি বিদ্রোহীদের অবশিষ্টাংশ থেকে। তাঁর পরে তাঁর বংশধররা এটি শাসন করতে থাকে, যার শেষ শাসক ছিলেন আবদুল আজিজ ইবনে শুআইব, যাঁর থেকে রোমান সম্রাট কনস্টান্টিনোপলের পুত্র আরমানুস ৩৫০ হিজরি সনে এটি পুনরায় দখল করে নেন। এর বিজয়ীদের অধিকাংশই ছিলেন আন্দালুস অধিবাসী।
আর ভৌগোলিক অঞ্চলের ভাগ অনুযায়ী, কর্ডোভা—যা আমাদের জন্মভূমি এবং শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত স্থান—তা 'সামাররা' (সাররা মান রাআ) এর সাথে একই অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং আমাদের অঞ্চল যা দাবি করে, আমাদের মাঝে সেই পরিমাণ বোধশক্তি ও প্রখর মেধা রয়েছে। যদিও জ্যোতিষ্কসমূহ তাদের উদয়স্থল থেকে পৃথিবীর জনবসতিপূর্ণ অংশে আমাদের নিকট অস্তগামী অবস্থায় পৌঁছে, এবং নক্ষত্ররাজির অবস্থানের ভিত্তিতে যারা শুভাশুভ নির্ধারণ করেন, তাঁদের মতে এটি তাঁর প্রভাবের শক্তির দিক থেকে কিছুটা কম। তা সত্ত্বেও সব মিলিয়ে এর এমন এক সৌভাগ্য রয়েছে যা অধিকাংশ শহরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব রাখে; কেননা সেখানে দুই জ্যোতিষ্কের (সূর্য ও চন্দ্র) একটির উচ্চতা নব্বই ডিগ্রি পর্যন্ত পৌঁছায়। আমরা যাদের কথা উল্লেখ করেছি, তাঁদের মতে এটি জ্ঞানবিজ্ঞানে পারদর্শিতা ও গভীরতা অর্জনের একটি প্রমাণ। আর এই বিষয়টি বাস্তব সত্য প্রমাণিত হয়েছে এবং অভিজ্ঞতা তা স্পষ্ট করে দিয়েছে। ফলস্বরূপ, এখানকার অধিবাসীরা কিরাত ও রেওয়ায়েত শাস্ত্রে পারদর্শিতা, ফিকহ শাস্ত্রে অগাধ পাণ্ডিত্য ও মুখস্থশক্তি এবং নাহু (ব্যাকরণ), কবিতা, ভাষা, ইতিহাস, চিকিৎসাশাস্ত্র, গণিত ও জ্যোতির্বিজ্ঞানে এমন এক সুউচ্চ ও প্রশস্ত মর্যাদার অধিকারী হয়েছে যার পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত। উক্ত লেখক আমাদের যে দোষারোপ করেছেন, তা যদি সঠিক হতো তবে আমরা বড় বড় অধিকাংশ প্রধান শহর ও বিশাল অঞ্চলগুলোর সাথে সেই দোষের অংশীদার হতাম। এই যে কায়রাওয়ান শহর—যা আমাদের প্রতিবাদকারীর দেশ—তার ইতিহাস সম্পর্কে 'আল-মু'রিব আন আখবারিল মাগরিব' ছাড়া অন্য কোনো গ্রন্থ রচিত হয়েছে বলে আমার মনে পড়ে না, মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ আল-ওয়াররাকের রচনাগুলো বাদ দিলে; কারণ তিনি মুস্তানসির বিল্লাহর (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) জন্য রচনা করেছিলেন...
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল আন্দালুস ওয়া আহলুহা
(পৃষ্ঠা: ৯)
مسالك افريقية وممالكها ديوأنا ضخما وَفِي أَخْبَار مُلُوكهَا وحروبهم والقائمين عَلَيْهِم كتبا جمة وَكَذَلِكَ الف أيضافي أَخْبَار تيهرت ووهران وتونس وسجلماسة ونكور وَالْبَصْرَة وَغَيرهَا تآليف حسأنا وَمُحَمّد هَذَا أندلسي الأَصْل وَالْفرع آباؤه من وَادي الْحِجَارَة ومدفنه بقرطبة وهجرته إِلَيْهَا وَإِن كَانَت نشأته بالقيروان
ولابد من إِقَامَة الدَّلِيل على مَا أَشرت اليه هُنَا إِذْ مرادنا ان نأتي مِنْهُ بالمطلوب فِيمَا يستانف ان شَاءَ الله تَعَالَى وَذَلِكَ ان جَمِيع المؤرخين من ائمتنا السالفين والباقين درن محاشاة أحد بل قد تَيَقنا اجماعهم على ذَلِك متفقون على أَن ينسبوا الرجل إِلَى مَكَان هجرته الَّتِي اسْتَقر بهَا وَلم يرحل عَنْهَا رحيل ترك لسكناها إِلَى أَن مَاتَ فان ذكرُوا الْكُوفِيّين من الصَّحَابَة رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُم صدرُوا بعلي وَابْن مَسْعُود وَحُذَيْفَة رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُم وانما سكن عَليّ الْكُوفَة خَمْسَة أَعْوَام واشهرا وَقد بَقِي 58 عَاما وأشهرا بِمَكَّة وَالْمَدينَة شرفهما الله تَعَالَى وَكَذَلِكَ أَيْضا أَكثر اعمار من ذكرنَا وان ذكرُوا الْبَصرِيين بدؤا بعمران بن حُصَيْن وَأنس بن مَالك وَهِشَام بن عَامر وَأبي بكرَة وَهَؤُلَاء مواليدهم وَعَامة زمن أَكْثَرهم وَأكْثر مقامهم بالحجاز وتهامة والطائف وجمهرة أعمارهم حلت هُنَالك وان ذكرُوا الشاميين نوهوا بِعبَادة بن الصَّامِت وَأبي الدَّرْدَاء وَأبي عُبَيْدَة بن الْجراح ومعاذ وَمُعَاوِيَة والامر فِي هَؤُلَاءِ كالامر فِيمَن قبلهم وَكَذَلِكَ فِي المصريين عَمْرو بن الْعَاصِ وخارجة بن حذافة الْعَدوي وَفِي المكيين عبد الله بن عَبَّاس وَعبد الله بن الزبير وَالْحكم فِي هَؤُلَاءِ كَالْحكمِ فِيمَن قَصَصنَا فَمن هَاجر الينا من سَائِر الْبِلَاد فَنحْن احق بِهِ وَهُوَ منا بِحكم جَمِيع أولى الامر منا الَّذين أجماعهم فرض اتِّبَاعه وخلافه محرم اقترافه وَمن هَاجر منا إِلَى غَيرنَا فَلَا حَظّ لنا فِيهِ وَالْمَكَان
আফ্রিকার পথঘাট ও এর সাম্রাজ্যসমূহ নিয়ে তিনি একটি বিশাল সংকলন এবং এর রাজন্যবর্গের সংবাদ, তাদের যুদ্ধসমূহ ও তাদের বিরুদ্ধে উত্থানকারীদের বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। একইভাবে তিনি তিহারত, ওরান, তিউনিস, সিজিলমাসা, নাকোর, বসরা এবং অন্যান্য অঞ্চলের সংবাদ নিয়ে চমৎকার সব গ্রন্থ রচনা করেছেন। এই মুহাম্মদ বংশ ও শাখা উভয় দিক থেকেই আন্দালুসীয়; তাঁর পূর্বপুরুষগণ ওয়াদি আল-হিজারা থেকে আগত। তাঁর সমাধি কর্ডোভায় এবং সেখানেই তাঁর হিজরত হয়েছিল, যদিও তাঁর বেড়ে ওঠা ছিল কায়রাওয়ানে।
আমি এখানে যা ইঙ্গিত করেছি তার স্বপক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করা আবশ্যক, যেহেতু ইনশাআল্লাহ তাআলা পরবর্তী আলোচনায় আমাদের উদ্দেশ্য হলো কাঙ্ক্ষিত বিষয়গুলো উপস্থাপন করা। আর তা হলো, আমাদের পূর্ববর্তী ও বর্তমান সকল ঐতিহাসিক ইমামগণ—কাউকে বাদ না দিয়ে, বরং এ বিষয়ে তাঁদের ঐকমত্য সম্পর্কে আমরা নিশ্চিত—এই মর্মে একমত যে, কোনো ব্যক্তিকে তাঁর সেই হিজরতস্থলের দিকেই সম্বন্ধ করা হবে যেখানে তিনি স্থায়ীভাবে বসবাস করেছেন এবং যেখান থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত স্থায়ীভাবে বসবাসের ইচ্ছা ত্যাগ করে প্রস্থান করেননি। যদি তাঁরা সাহাবায়ে কিরামের (আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) মধ্য থেকে কুফাবাসীদের কথা উল্লেখ করেন, তবে তাঁরা আলী, ইবনে মাসউদ ও হুজায়ফা (আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) দিয়ে শুরু করেন। অথচ আলী মাত্র পাঁচ বছর কয়েক মাস কুফায় বসবাস করেছিলেন, যেখানে তিনি মক্কা ও মদিনায় (আল্লাহ তাআলা এই দুই শহরকে সম্মানিত করুন) ৫৮ বছর কয়েক মাস অতিবাহিত করেছিলেন। আমরা যাদের কথা উল্লেখ করেছি তাঁদের অধিকাংশের জীবনের চিত্রও অনুরূপ। আবার যদি তাঁরা বসরাবাসীদের কথা উল্লেখ করেন, তবে তাঁরা ইমরান বিন হুসাইন, আনাস বিন মালিক, হিশাম বিন আমের ও আবু বকর দিয়ে শুরু করেন; অথচ এঁদের জন্মস্থান এবং এঁদের অধিকাংশের জীবনের সাধারণ সময় ও অবস্থানের সিংহভাগ ছিল হিজাজ, তিহামাহ ও তায়েফে এবং তাঁদের জীবনের বড় অংশ সেখানেই অতিবাহিত হয়েছিল। আর যদি তাঁরা সিরিয়াবাসীদের (শাম) কথা উল্লেখ করেন, তবে তাঁরা উবাদাহ বিন সামিত, আবু দারদা, আবু উবাইদাহ বিন জাররাহ, মুয়াজ ও মুয়াবিয়ার নাম গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন। তাঁদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি তাঁদের পূর্ববর্তীদের মতোই। একইভাবে মিশরীয়দের ক্ষেত্রে আমর বিন আল-আস ও খারিজাহ বিন হুজাফাহ আল-আদাউয়ী এবং মক্কাবাসীদের ক্ষেত্রে আবদুল্লাহ বিন আব্বাস ও আবদুল্লাহ বিন আল-জুবায়েরের বিষয়টিও আমরা ইতিপূর্বে যা বর্ণনা করেছি তারই অনুরূপ। সুতরাং অন্যান্য দেশ থেকে যারা আমাদের নিকট হিজরত করেছেন, তাঁদের ওপর আমাদের অধিকারই অগ্রগণ্য এবং আমাদের সেই সকল উলুল আমর বা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁরা আমাদেরই অন্তর্ভুক্ত, যাঁদের ঐকমত্য অনুসরণ করা ফরজ এবং যাঁদের বিরোধিতা করা গুনাহের কাজ। আর যারা আমাদের এখান থেকে অন্যের কাছে হিজরত করে চলে গেছেন, তাঁদের ব্যাপারে আমাদের আর কোনো অংশ নেই এবং স্থান...
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল আন্দালুস ওয়া আহলুহা
(পৃষ্ঠা: ১০)
الَّذِي أختاره اِسْعَدْ بِهِ فَكَمَا لَا نَدع اسماعيل بن الْقَاسِم فَكَذَلِك لَا ننازع فِي مُحَمَّد بن هَانِيء سوأنا وَالْعدْل أولى مَا حرص عَلَيْهِ وَالنّصف افضل مَا دعِي اليه بعد التَّفْصِيل الَّذِي لَيْسَ هَذَا مَوْضُوعه وعَلى مَا ذكرنَا من الْإِنْصَاف تراضي الْكل
وَهَذِه بَغْدَاد حَاضِرَة الدُّنْيَا ومعدن كل فَضِيلَة والمحلة الَّتِي سبق أَهلهَا إِلَى حمل ألوية المعارف والتدقيق فِي تصريف الْعُلُوم ورقة الْأَخْلَاق والنباهة والذكاء وحدة الأفكار ونفاذ الخواطر وَهَذِه الْبَصْرَة وَهِي عين الْمَعْمُور فِي كل مَا ذكرنَا وَمَا اعْلَم فِي أَخْبَار بَغْدَاد تأليفا غير كتاب أَحْمد بن أبي طَاهِر وَأما سَائِر التواريخ الَّتِي الفها أَهلهَا فَلم يخصوا بلدتهم بهَا دون سَائِر الْبِلَاد وَلَا اعْلَم فِي أَخْبَار الْبَصْرَة غير كتاب عمر بن شبة وَكتاب لرجل من ولد الرّبيع بن زِيَاد الْمَنْسُوب إِلَى أبي سُفْيَان فِي خطط الْبَصْرَة وقطائعها وكتابين لِرجلَيْنِ من أَهلهَا يُسمى أَحدهمَا عبد الْقَادِر كريزي النّسَب فِي وصفهَا وذكرا أسواقها ومحالها وشوارعها وَلَا اعْلَم فِي أَخْبَار الْكُوفَة غير كتاب عمر بن شبة وَأما الْجبَال وخراسان وطبرستان وجرجان وكرمان وسجستان والسند وارمينية وإذربيجان وَتلك الممالك الْكَثِيرَة الضخمة فَلَا اعْلَم فِي شَيْء مِنْهَا تاليفا قصد بِهِ أخيار مُلُوك تِلْكَ النواحي وعلمائها وشعرائها واطبائها وَلَقَد تاقت النُّفُوس إِلَى ان يتَّصل بِنَا تاليف فِي أَخْبَار فُقَهَاء بَغْدَاد وَمَا علمناه علم على أَنهم الْعلية الرؤساء والاكابر العظماء وَلَو كَانَ فِي شَيْء من ذَلِك تأليف لَكَانَ الحكم فِي الاغلب ان يبلغنَا كَمَا بلغ سَائِر تآليفهم وكما بلغنَا كتاب حَمْزَة بن الْحسن الْأَصْبَهَانِيّ فِي أَخْبَار اصبهان وَكتاب الْموصِلِي وَغَيره فِي أَخْبَار مصر وكما بلغنَا سَائِر تآليفهم فِي انحاء الْعُلُوم وَقد بلغنَا تاليف القَاضِي أبي الْعَبَّاس مُحَمَّد بن عبدون القيرواني فِي
আমি যা পছন্দ করি তাতে আমি সন্তুষ্ট। আমরা যেমন ইসমাইল ইবনে কাসিমকে ত্যাগ করি না, তেমনি আমরা মুহাম্মদ ইবনে হানির ব্যাপারেও বিবাদে লিপ্ত হই না। ইনসাফ বা ন্যায়বিচারই হলো সেই বিষয় যার প্রতি যত্নবান হওয়া সর্বাগ্রে প্রয়োজন, এবং বিস্তারিত আলোচনার পর—যা এই স্থানের বিষয়বস্তু নয়—সুষ্ঠু বিচারই হলো শ্রেষ্ঠতম বিষয় যার প্রতি আহ্বান জানানো হয়। আমরা ইনসাফ সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছি, তাতে সকলে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
আর এই হলো বাগদাদ, যা বিশ্বের রাজধানী এবং সকল শ্রেষ্ঠত্বের আকর। এটি সেই জনপদ যার অধিবাসীরা জ্ঞানের ঝাণ্ডা বহন করা, বিজ্ঞানের সূক্ষ্ম প্রয়োগ, মার্জিত চরিত্র, সতর্কতা, মেধা, চিন্তার তীক্ষ্ণতা এবং অন্তর্দৃষ্টির প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। আর এটি হলো বসরা, যা আমাদের উল্লিখিত সকল বিষয়ে জনবসতিপূর্ণ পৃথিবীর মধ্যমণি। বাগদাদের ইতিহাস ও সংবাদ সম্পর্কে আহমদ ইবনে আবি তাহিরের গ্রন্থ ছাড়া অন্য কোনো সংকলন আমার জানা নেই। আর এর অধিবাসীদের রচিত অন্যান্য ইতিহাস গ্রন্থগুলোর ক্ষেত্রে তারা কেবল তাদের শহরকে অন্যান্য ভূখণ্ডের ওপর বৈশিষ্ট্য দান করেননি। বসরার সংবাদ সম্পর্কেও উমর ইবনে শাব্বার কিতাব এবং আবু সুফিয়ানের দিকে সম্বন্ধযুক্ত আল-রবি ইবনে জিয়াদের বংশধর এক ব্যক্তির রচিত বসরার নগর পরিকল্পনা ও ভূখণ্ড বণ্টন সংক্রান্ত কিতাব ছাড়া অন্য কিছু আমার জানা নেই। এছাড়া বসরারই অধিবাসী দুইজন ব্যক্তির দুটি কিতাব রয়েছে, যাদের একজনের নাম আব্দুল কাদির কুরাইজি, যাতে এর বর্ণনা রয়েছে এবং তারা এর বাজার, মহল্লা ও রাস্তাঘাটের উল্লেখ করেছেন। কুফার ইতিহাস সম্পর্কেও উমর ইবনে শাব্বার কিতাব ছাড়া আমার জানা নেই। আর জিবাল, খোরাসান, তাবারিস্তান, জুরজান, কিরমান, সিজিস্তান, সিন্ধু, আরমেনিয়া ও আজারবাইজান এবং এই বিশাল ও অসংখ্য রাজ্যের সংবাদ সম্পর্কেও আমার জানা নেই যে, সেসব অঞ্চলের শ্রেষ্ঠ রাজা, ওলামা, কবি ও চিকিৎসকদের সংবাদ সম্বলিত কোনো বিশেষ গ্রন্থ রচিত হয়েছে। বাগদাদের ফকিহদের সংবাদ সম্বলিত কোনো সংকলন পাওয়ার জন্য মন ব্যাকুল হয়েছে, কারণ আমাদের জানামতে তারা ছিলেন সুউচ্চ মর্যাদার নেতা ও মহান মণীষী। যদি এ বিষয়ে কোনো সংকলন থাকত, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা আমাদের নিকট পৌঁছাত, যেমন তাদের অন্যান্য রচনা আমাদের নিকট পৌঁছেছে। যেভাবে হামজা ইবনে হাসান আল-ইসফাহানির আসবাহানের সংবাদ সম্বলিত কিতাব, আল-মাউসিলি ও অন্যান্যদের মিসরের সংবাদ সম্বলিত কিতাব এবং বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় তাদের অন্যান্য রচনা আমাদের নিকট পৌঁছেছে। আর কায়রোয়ানের কাজী আবু আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে আবদুন এর একটি রচনা আমাদের নিকট পৌঁছেছে যা...
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল আন্দালুস ওয়া আহলুহা
(পৃষ্ঠা: ১১)
الشُّرُوط واعتراضه على الشَّافِعِي رَحمَه الله تَعَالَى وَكَذَلِكَ بلغنَا رد القَاضِي أَحْمد بن طَالب التَّمِيمِي على أبي حنيفَة وتشنيعه على الشَّافِعِي وَكتب ابْن عَبدُوس وَمُحَمّد بن سَحْنُون وَغير ذَلِك من خوامل تآليفهم دون مشهورها
وَأما جهتنا فَالْحكم فِي ذَلِك مَا جرى بِهِ الْمثل السائر ازهد النَّاس فِي عَالم اهله وقرأت فِي الانجيل ان عِيسَى عليه السلام قَالَ لَا يفقد النَّبِي حرمته الا فِي بَلَده وَقد تَيَقنا ذَلِك بِمَا لَقِي النَّبِي صلى الله عليه وسلم من قُرَيْش وهم أوفر النَّاس احلاما واصحهم عقولا واشدهم تثبتا مَعَ مَا خصوا بِهِ من سكناهم افضل الْبِقَاع وتغذيتهم باكرم الْمِيَاه حَتَّى خص الله تَعَالَى الْأَوْس والخزرج بالفضيلة الَّتِي أبانهم بهَا عَن جَمِيع النَّاس وَالله يُؤْتِي فَضله من يَشَاء
وَلَا سِيمَا اندلسنا فَإِنَّهَا خصت من حسد أَهلهَا للْعَالم الظَّاهِر فيهم الماهر مِنْهُم واستقلالهم كثير مَا يَأْتِي بِهِ واستهجأنهم حَسَنَاته وتتبعهم سقطاته وعثراته وَأكْثر ذَلِك مُدَّة حَيَاته باضعاف مَا فِي سَائِر الْبِلَاد ان اجاد قَالُوا سَارِق مغير ومنتحل مُدع وان توَسط قَالُوا غث بَارِد وَضَعِيف سَاقِط وان باكر الْحِيَازَة لقصب السَّبق قَالُوا مَتى كَانَ هَذَا وَمَتى تعلم وَفِي أَي زمَان قَرَأَ ولأمه الهبل وَبعد ذَلِك ان ولجت بِهِ الأقدار أحد طَرِيقين اما شفوفا بَائِنا يعليه على نظرائه أَو سلوكا فِي غير السَّبِيل الَّتِي عهدوها فهنالك حمي الْوَطِيس على البائس وَصَارَ غَرضا للأقوال وهدفا للمطالب ونصبا للتسبب اليه ونهبا للألسنة وعرضة للتطرق إِلَى عرضه وَرُبمَا نحل مَا لم يقل وطوق مالم يتقلد وَالْحق بِهِ مالم يفه بِهِ وَلَا اعتقده قلبه وبالحرى وَهُوَ السَّابِق المبرز ان لم يتَعَلَّق من السُّلْطَان بحظ ان يسلم من المتالف وينجو من الْمُخَالف فَإِن تعرض
আশ-শুরুত এবং ইমাম শাফিয়ী (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর ওপর তাঁর আপত্তি। একইভাবে আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, কাযী আহমদ বিন তালিব আত-তামীমী ইমাম আবু হানীফার ওপর যে খণ্ডন করেছেন এবং ইমাম শাফিয়ীর নিন্দা করেছেন সে সম্পর্কে; আর ইবনে আবদুস ও মুহাম্মদ বিন সাহনুনের কিতাবসমূহ এবং তাদের প্রসিদ্ধ রচনাবলি ব্যতীত অন্যান্য অখ্যাত রচনাবলি সম্পর্কে।
আর আমাদের অঞ্চলের ক্ষেত্রে ফয়সালা হলো সেই প্রচলিত প্রবাদের মতো— 'মানুষ নিজ অঞ্চলের আলিমের প্রতি সবচেয়ে বেশি উদাসীন হয়'। আমি ইঞ্জিলে পড়েছি যে, ঈসা (আলাইহিস সালাম) বলেছেন: 'নবী নিজ দেশ ব্যতীত অন্য কোথাও সম্মান হারান না।' আমরা এর সত্যতা নিশ্চিতভাবে উপলব্ধি করেছি কুরাইশদের পক্ষ থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর যে আচরণ এসেছিল তার মাধ্যমে, অথচ তারা ছিল মানুষের মধ্যে সর্বাধিক ধৈর্যশীল, সুস্থ বুদ্ধিসম্পন্ন এবং দৃঢ়সংকল্পী; তার ওপর তারা সর্বশ্রেষ্ঠ স্থানে বসবাস এবং সর্বোত্তম পানি পানের বিশেষ সুযোগপ্রাপ্ত ছিল। অবশেষে আল্লাহ তাআলা আউস ও খাযরাজ গোত্রকে সেই শ্রেষ্ঠত্ব দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করলেন, যার মাধ্যমে তিনি তাদের অন্য সকল মানুষ থেকে স্বতন্ত্র করেছেন। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা স্বীয় অনুগ্রহ দান করেন।
বিশেষ করে আমাদের আন্দালুসের অবস্থা; কেননা এটি বিশেষভাবে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত এই কারণে যে, সেখানকার অধিবাসীরা তাদের মধ্যে প্রকাশ পাওয়া আলিম ও পারদর্শী ব্যক্তিদের প্রতি হিংসা পোষণ করে, তার নিয়ে আসা অধিকাংশ বিষয়কে তুচ্ছজ্ঞান করে, তার ভালো কাজগুলোকে মন্দ প্রতিপন্ন করে এবং তার ভুল ও বিচ্যুতিগুলো খুঁজে বেড়ায়। আর তার জীবদ্দশায় এর মাত্রা অন্যান্য দেশের তুলনায় বহুগুণ বেশি হয়ে থাকে। যদি সে চমৎকার কিছু করে, তবে তারা বলে— 'সে তো চোর, পরিবর্তনকারী, জালিয়াত ও দাবিদার'। যদি সে মধ্যম মানের হয়, তবে তারা বলে— 'অসার, নিরস, দুর্বল ও বর্জিত'। আর যদি সে অগ্রগামী হওয়ার প্রতিযোগিতায় দ্রুত সফলতা অর্জন করে, তবে তারা বলে— 'এটি কবে হলো? সে কখন শিখল? কোন যুগে সে পড়াশোনা করল? তার মা সন্তানহারা হোক!' এরপর তাকদীর যদি তাকে দুটি পথের কোনো একটিতে নিয়ে যায়— হয় এমন সুস্পষ্ট শ্রেষ্ঠত্ব যা তাকে তার সমসাময়িকদের ওপর উচ্চমর্যাদা দেয়, অথবা এমন কোনো পথে চলা যা তাদের পরিচিত নয়— তবে সেই দুর্ভাগা ব্যক্তির ওপর যুদ্ধের উত্তাপ তীব্র হয়ে ওঠে। সে মানুষের কথার লক্ষ্যবস্তু, ফরমায়েশের নিশানা, হেনস্তা করার অবলম্বন, জিহ্বাগুলোর শিকার এবং তার সম্মানের ওপর আক্রমণের ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়ায়। কখনো কখনো তার দিকে এমন কথা আরোপ করা হয় যা সে বলেনি, তার ঘাড়ে এমন দায় চাপানো হয় যা সে গ্রহণ করেনি এবং তার সাথে এমন বিষয় জুড়ে দেওয়া হয় যা তার মুখে আসেনি এবং তার অন্তরও বিশ্বাস করেনি। প্রকৃতপক্ষে, সেই অগ্রগামী ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি যদি সুলতানের পক্ষ থেকে কোনো অনুগ্রহ লাভ না করেন, তবে তার ধ্বংস থেকে রক্ষা পাওয়া এবং বিরোধীদের হাত থেকে বেঁচে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। যদি সে প্রকাশ পায়...
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল আন্দালুস ওয়া আহলুহা
(পৃষ্ঠা: ১২)
لتأليف غمز ولمز وَتعرض وهمز واشتط عَلَيْهِ وَعظم يسير خطبه واستشنع هَين سقطه وَذَهَبت محاسنه وسترت فضائله وهتف وَنُودِيَ بِمَا اغفل فتنكسر لذَلِك همته وتكل نَفسه وتبرد حميته وَهَكَذَا عندنَا نصيب من ابْتَدَأَ يحوك شعرًا أَو يعْمل بِعَمَل رياسة فَإِنَّهُ لَا يفلت من هَذِه الحبائل وَلَا يتَخَلَّص من هَذِه النصب إِلَّا الناهض الْفَائِت والمطفف المستولي على الأمد
وعَلى ذَلِك فقد جمع مَا ظَنّه الظَّان غير مَجْمُوع والفت عندنَا تآليف فِي غَايَة الْحسن لنا خطر السَّبق فِي بَعْضهَا فَمِنْهَا كتاب الْهِدَايَة لعيسى بن دِينَار وَهِي ارْفَعْ كتب جمعت فِي مَعْنَاهَا على مَذْهَب مَالك وَابْن الْقَاسِم وأجمعها للمعاني الْفِقْهِيَّة على الْمَذْهَب فَمِنْهَا كتاب الصَّلَاة وَكتاب الْبيُوع وَكتاب الْجِدَار فِي الاقضية وَكتاب النِّكَاح وَالطَّلَاق وَمن الْكتب الْمَالِكِيَّة الَّتِي ألفت بالأندلس كتاب القصي مَالك بن عَليّ وَهُوَ رجل قرشي من بني فهر لَقِي اصحاب مَالك واصحاب اصحابه وَهُوَ كتاب حسن فِيهِ غرائب ومستحسنات من الرسائل المولدات وَمِنْهَا كتاب أبي اسحاق إِبْرَاهِيم بن مزين فِي تَفْسِير الْمُوَطَّأ والكتب المستقصية لمعاني الْمُوَطَّأ وتوصيل مقطوعاته من تآليف ابْن مزين أيضاوكتابه فِي رجال الْمُوَطَّأ وَمَا لمَالِك عَن كل وَأحد مِنْهُم من الْآثَار فِي موطئِهِ
وَفِي تَفْسِير الْقُرْآن كتاب أبي عبد الرَّحْمَن بَقِي بن مخلد فَهُوَ الْكتاب الَّذِي اقْطَعْ قطعا لَا اسْتثْنِي فِيهِ أَنه لم يؤلف فِي الْإِسْلَام تَفْسِير مثله وَلَا تَفْسِير مُحَمَّد بن جرير الطَّبَرِيّ وَلَا غَيره
وَمِنْهَا فِي الحَدِيث مُصَنفه الْكَبِير الَّذِي رتبه على اسماء الصَّحَابَة رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُم فَروِيَ فِيهِ الف وثلثمائة صَاحب ونيف ثمَّ رتب حَدِيث كل صَاحب على اسماء الْفِقْه وابواب الْأَحْكَام فَهُوَ مُصَنف ومسند
কোনো রচনার সমালোচনা, দোষারোপ, আক্রমণ ও বিদ্রূপ করা হয় এবং তার প্রতি অবিচার করা হয়। তার সামান্য ত্রুটিকে বড় করে দেখা হয় এবং তুচ্ছ বিচ্যুতিকে জঘন্য প্রতিপন্ন করা হয়। এর ফলে তার গুণাবলি বিলুপ্ত হয় এবং শ্রেষ্ঠত্বগুলো ঢাকা পড়ে যায়। সে যা কিছু ভুল করেছে তা নিয়েই কেবল শোরগোল তোলা হয়। এতে তার সংকল্প ভেঙে যায়, মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং উৎসাহ স্তিমিত হয়ে আসে। আমাদের কাছে এমনই দশা হয় তার, যে কাব্য রচনা শুরু করে অথবা নেতৃত্বের কাজ করতে চায়। এই সব জাল থেকে সে নিস্তার পায় না এবং এই সব বিপদ থেকে কেবল সেই ব্যক্তিই মুক্তি পায় যে অত্যন্ত ক্ষিপ্র ও সফল এবং লক্ষ্য অর্জনে বিজয়ী।
তা সত্ত্বেও, যা সংকলিত হবে না বলে ধারণা করা হয়েছিল, তা সংকলিত হয়েছে। আমাদের এখানে অত্যন্ত চমৎকার কিছু গ্রন্থ রচিত হয়েছে যার কয়েকটিতে আমাদের অগ্রগামিতার গৌরব রয়েছে। তার মধ্যে ঈসা ইবনে দীনারের ‘কিতাবুল হিদায়াহ’ অন্যতম। এটি ইমাম মালিক ও ইবনে কাসিমের মাযহাব অনুযায়ী সমজাতীয় গ্রন্থগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং মাযহাবের ফিকহী অর্থসমূহকে সর্বাধিক ধারণকারী। এতে রয়েছে সালাতের কিতাব, ক্রয়-বিক্রয়ের কিতাব, বিচারকার্য সংক্রান্ত প্রাচীরের কিতাব এবং বিবাহ ও তালাকের কিতাব। আন্দালুসে রচিত মালিকি মাযহাবের গ্রন্থগুলোর মধ্যে মালিক ইবনে আলীর ‘কিতাবুল কাসি’ অন্যতম; তিনি বনু ফিহর গোত্রের একজন কুরাইশি ব্যক্তি ছিলেন, যিনি ইমাম মালিকের শিষ্যদের এবং তাদের শিষ্যদের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন। এটি একটি উত্তম কিতাব যাতে অনেক বিরল ও চমৎকার বিষয়াবলী রয়েছে। আরও রয়েছে মুওয়াত্তার তাফসীর বিষয়ে আবু ইসহাক ইবরাহীম ইবনে মুযাইনের কিতাব। মুওয়াত্তার অর্থগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ এবং এর বিচ্ছিন্ন সনদগুলোকে যুক্ত করার বিষয়েও ইবনে মুযাইনের রচনা রয়েছে। এছাড়া মুওয়াত্তার বর্ণনাকারীদের পরিচয় এবং ইমাম মালিক তাদের প্রত্যেকের থেকে তার মুওয়াত্তায় কী কী বর্ণনা করেছেন, সে বিষয়েও তার কিতাব রয়েছে।
কুরআনের তাফসীরের ক্ষেত্রে আবু আবদুর রহমান বাকী ইবনে মাখলাদের কিতাবটি উল্লেখযোগ্য। এটি এমন একটি কিতাব যার সম্পর্কে আমি দৃঢ়ভাবে ও কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই বলতে পারি যে, ইসলামের ইতিহাসে এর মতো কোনো তাফসীর রচিত হয়নি, এমনকি মুহাম্মদ ইবনে জারীর তাবারীর তাফসীর বা অন্য কোনো তাফসীরও এর সমতুল্য নয়।
হাদীস শাস্ত্রের মধ্যে রয়েছে তার বিশাল ‘মুসান্নাফ’ গ্রন্থটি, যা তিনি সাহাবীগণের (আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) নামের ক্রমানুসারে সাজিয়েছেন। এতে তেরো শরও বেশি সাহাবীর বর্ণনা রয়েছে। অতঃপর তিনি প্রত্যেক সাহাবীর বর্ণিত হাদীসগুলোকে ফিকহী শিরোনাম ও আহকামের অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন। ফলে এটি একাধারে একটি ‘মুসান্নাফ’ এবং একটি ‘মুসনাদ’।
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল আন্দালুস ওয়া আহলুহা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وَمَا اعْلَم هَذِه الرُّتْبَة لأحد قبله مَعَ ثقته وَضَبطه وإتقانه واحتفاله فِي الحَدِيث وجودة شُيُوخه فَإِنَّهُ روى عَن مِائَتي رجل واربعة وَثَمَانِينَ رجلا لَيْسَ فيهم عشرَة ضعفاء وسائرهم اعلام مشاهير وَمِنْهَا مُصَنفه فِي فضل الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ وَمن دونهم الَّذِي اربى فِيهِ على مُصَنف أبي بكر بن أبي شيبَة ومصنف عبد الرَّزَّاق بن همام ومصنف سعيد بن مَنْصُور وَغَيرهَا وانتظم علما عَظِيما لم يَقع فِي شَيْء من هَذِه فَصَارَت تآليف هَذَا الامام الْفَاضِل قَوَاعِد الْإِسْلَام لَا نَظِير لَهَا وَكَانَ متخيرا لَا يُقَلّد أحدا وَكَانَ ذَا خَاصَّة من أَحْمد بن حَنْبَل رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ
وَمِنْهَا فِي احكام الْقُرْآن كتاب ابْن أُميَّة الحجاري وَكَانَ شَافِعِيّ الْمَذْهَب بَصيرًا بالْكلَام على أختياره وَكتاب القَاضِي أبي الحكم مُنْذر ابْن سعيد وَكَانَ دأودي الْمَذْهَب قَوِيا على الِانْتِصَار لَهُ وَكِلَاهُمَا فِي احكام الْقُرْآن غَايَة ولمنذر مصنفات مِنْهَا كتاب الابانة عَن حقائق اصول الدّيانَة وَمِنْهَا فِي الحَدِيث مُصَنف أبي مُحَمَّد قَاسم بن اصبغ بن يُوسُف بن نَاصح ومصنف مُحَمَّد بن عبد الْملك بن ايمن وهما مصنفان رفيعان احتويا من صَحِيح الحَدِيث وغريبه على مَا لَيْسَ فِي كثير من المصنفات ولقاسم بن اصبغ هَذَا تآليف حسان جدا مِنْهَا احكام الْقُرْآن على ابواب كتاب اسماعيل وَكَلَامه وَمِنْهَا كتاب المجتبي على ابواب كتاب ابْن الْجَارُود الْمُنْتَقى وَهُوَ خير مِنْهُ وانقى حَدِيثا واعلى سندا وَأكْثر فَائِدَة وَمِنْهَا كتاب فِي فَضَائِل قُرَيْش وكنانة وَكتابه فِي النَّاسِخ والمنسوخ وَكتاب غرائب حَدِيث مَالك بن انس مِمَّا لَيْسَ فِي الْمُوَطَّأ وَمِنْهَا كتاب التَّمْهِيد لصاحبنا أبي عمر يُوسُف بن عبد الْبر وَهُوَ الْآن بعد فِي الْحَيَاة لم يبلغ سنّ الشيخوخة وهوكتاب
তাঁর বিশ্বস্ততা, নির্ভুলতা, পারদর্শিতা এবং হাদীসের প্রতি বিশেষ যত্ন ও তাঁর উস্তাদদের শ্রেষ্ঠত্বের সাথে তাঁর পূর্বে আর কারো এই মর্যাদার কথা আমি জানি না। তিনি দুইশত চুরাশিজন ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে দশজনও দুর্বল বর্ণনাকারী নেই; বরং তাদের বাকি সবাই ছিলেন জগদ্বিখ্যাত ইমাম। সেগুলোর মধ্যে সাহাবী, তাবিঈন এবং পরবর্তী প্রজন্মের মর্যাদা বিষয়ক তাঁর সংকলনটি অন্যতম, যা আবু বকর ইবনে আবী শায়বা, আবদুর রাজ্জাক ইবনে হাম্মাম এবং সাঈদ ইবনে মানসূরের মুসান্নাফ গ্রন্থগুলোকেও ছাড়িয়ে গেছে। এটি এমন এক বিশাল জ্ঞানকে অন্তর্ভুক্ত করেছে যা এগুলোর কোনোটিতেই পাওয়া যায় না। ফলে এই গুণী ইমামের রচনাগুলো ইসলামের এমন সুদৃঢ় ভিত্তিতে পরিণত হয়েছে যার কোনো নজির নেই। তিনি ছিলেন একজন ইজতিহাদকারী, তিনি কারো অন্ধ অনুসরণ করতেন না এবং তিনি ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের (আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজনদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
আর কুরআনের বিধান বিষয়ক গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে ইবনে উমাইয়া আল-হাজারীর কিতাব। তিনি শাফেঈ মাযহাবের অনুসারী ছিলেন এবং স্বীয় পছন্দের আলোকে ইলমুল কালামে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়া রয়েছে কাযী আবু আল-হাকাম মুনযির ইবনে সাঈদের কিতাব। তিনি দাউদী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন এবং স্বীয় মাযহাবের সমর্থনে অত্যন্ত শক্তিশালী ছিলেন। কুরআনের বিধান সংক্রান্ত বিষয়ে এই উভয় কিতাবই চূড়ান্ত মানের। মুনযিরের বেশ কিছু রচনা রয়েছে, যার মধ্যে 'কিতাবুল ইবানাহ আন হাকাইকি উসূলিদ দিয়ানাহ' অন্যতম। হাদীসের ক্ষেত্রে রয়েছে আবু মুহাম্মদ কাসিম ইবনে আসবাগ ইবনে ইউসুফ ইবনে নাসিহ-এর মুসান্নাফ এবং মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে আয়মান-এর মুসান্নাফ। এই দুটি অত্যন্ত উঁচু মানের সংকলন, যাতে সহীহ এবং গারীব হাদীসের এমন সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে যা অন্য অনেক গ্রন্থে নেই। এই কাসিম ইবনে আসবাগের অত্যন্ত চমৎকার কিছু রচনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইসমাইলের কিতাবের বিন্যাসে ও তাঁর আলোচনার আলোকে রচিত 'আহকামুল কুরআন'। আরও রয়েছে ইবনুল জারূদের 'আল-মুনতাকা' কিতাবের বিন্যাসে রচিত 'আল-মুজতাবা' কিতাবটি। এটি উক্ত গ্রন্থ থেকে অধিকতর শ্রেষ্ঠ, এর হাদীসসমূহ অধিকতর বিশুদ্ধ, এর সনদসমূহ উচ্চতর এবং এটি অনেক বেশি উপকারী। এগুলোর মধ্যে কুরাইশ ও কিনানা গোত্রের ফযীলত বিষয়ক একটি কিতাব, নাসিখ ও মানসূখ বিষয়ক তাঁর কিতাব এবং মুয়াত্তা গ্রন্থে নেই এমন সব মালিক ইবনে আনাসের বর্ণিত গারীব হাদীসসমূহের একটি কিতাবও রয়েছে। আরও রয়েছে আমাদের সঙ্গী আবু উমর ইউসুফ ইবনে আব্দুল বার্র-এর 'আত-তামহীদ' কিতাবটি; তিনি এখনো জীবিত এবং বার্ধক্যে উপনীত হননি, আর এটি এমন এক কিতাব—
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল আন্দালুস ওয়া আহলুহা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
لَا اعْلَم فِي الْكَلَام على فقه الحَدِيث مثله اصلا فَكيف احسن مِنْهُ وَمِنْهَا كتاب الاستذكار وَهُوَ أختصار التَّمْهِيد الْمَذْكُور ولصاحبنا أبي عمر بن عبد الْبر الْمَذْكُور كتب لَا مثيل لَهَا مِنْهَا كِتَابه الْمُسَمّى بالكافي فِي الْفِقْه على مَذْهَب مَالك واصحابه خَمْسَة عشر كتابا اقْتصر فِيهِ على مَا بالمفتي الْحَاجة اليه وبوبه وقربه فَصَارَ مغنيا عَن التصنيفات الطوَال فِي مَعْنَاهُ وَمِنْهَا كِتَابه فِي الصَّحَابَة لَيْسَ لأحد من الْمُتَقَدِّمين مثله على كَثْرَة مَا صنفوا فِي ذَلِك وَمِنْهَا كتاب الِاكْتِفَاء فِي قِرَاءَة نَافِع وَأبي عَمْرو بن الْعَلَاء وَالْحجّة لكل وَاحِد مِنْهُمَا وَمِنْهَا كتاب بهجة الْمجَالِس وانس الْمجَالِس مِمَّا يجْرِي فِي المذكرات من غرر الأبيات ونوادر الحكايات وَمِنْهَا كتاب جَامع بَيَان الْعلم وفضله وَمَا يَنْبَغِي فِي رِوَايَته
وَمِنْهَا كتاب شَيخنَا القَاضِي أبي الْوَلِيد عبد الله بن مُحَمَّد بن يُوسُف بن الفرضي فِي الْمُخْتَلف والمؤتلف فِي اسماء الرِّجَال وَلم يبلغ عبد الْغَنِيّ الْحَافِظ الْبَصْرِيّ فِي ذَلِك إِلَّا كتابين وَبلغ ابو الْوَلِيد رَحمَه الله تَعَالَى نَحْو الثَّلَاثِينَ لَا اعْلَم مثله فِي فنه الْبَتَّةَ وَمِنْهَا تَارِيخ أَحْمد بن سعيد مَا وضع فِي الرِّجَال أحد مثله إِلَّا مَا بلغنَا من تَارِيخ مُحَمَّد بن مُوسَى الْعقيلِيّ الْبَغْدَادِيّ وَلم أره وَأحمد بن سعيد هُوَ الْمُتَقَدّم فِي التاليف الْقَائِم فِي ذَلِك وَمِنْهَا كتب مُحَمَّد بن يحيى بن مفرج القَاضِي وَهِي كَثِيرَة مِنْهَا اسفار سَبْعَة جمع فِيهَا فقه الْحسن الْبَصْرِيّ وَكتب كَثِيرَة جمع فِيهَا فقه الزُّهْرِيّ
وَمِمَّا يتَعَلَّق بذلك شرح الحَدِيث لعامر بن خلف السَّرقسْطِي فَمَا شآه ابو عُبَيْدَة الا بتقدم الْعَصْر فَقَط
وَمِنْهَا فِي الْفِقْه الْوَاضِحَة والمالكيون لَا تمانع بَينهم فِي فَضلهَا
হাদিসের ফিকহ আলোচনার ক্ষেত্রে আমি এর সমতুল্য আর কিছুই জানি না, তবে এর চেয়ে উত্তম কিছু কীভাবে থাকতে পারে? এবং সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘আল-ইস্তিজকার’ গ্রন্থটি, যা উল্লিখিত ‘আত-তামহিদ’-এর সংক্ষিপ্তসার। আমাদের পরিচিত উল্লিখিত আবু উমর বিন আব্দুল বার-এর এমন কিছু কিতাব রয়েছে যার কোনো নজির নেই; তন্মধ্যে ইমাম মালিক ও তাঁর অনুসারীদের মাজহাব অনুযায়ী ফিকহ শাস্ত্রের ‘আল-কাফি’ নামক গ্রন্থটি অন্যতম, যা পনেরটি খণ্ডে সমাপ্ত। তিনি এতে কেবল একজন মুফতির প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন, একে পরিচ্ছেদ বিন্যস্ত ও সহজবোধ্য করেছেন; ফলে এটি এই বিষয়ের দীর্ঘ রচনাগুলোর অভাব পূরণকারী হয়ে উঠেছে। এবং সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো সাহাবীগণের জীবনীর ওপর তাঁর রচিত কিতাবটি, এই বিষয়ে পূর্বসূরিদের বহু রচনা থাকা সত্ত্বেও এর সমতুল্য দ্বিতীয়টি নেই। আরও রয়েছে নাফি ও আবু আমর বিন আল-আলা’র কিরাত এবং তাঁদের উভয়ের স্বপক্ষে দলীল বিষয়ক ‘আল-ইকতিফা’ নামক গ্রন্থটি। এবং সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘বাহজাতুল মাজালিস ওয়া উনসুল মাজালিস’ নামক কিতাবটি, যা মজলিসের আলোচনায় ব্যবহৃত উৎকৃষ্ট কবিতা ও দুর্লভ ঘটনাবলির সংকলন। এছাড়া রয়েছে ইলমের বর্ণনা, এর ফজিলত এবং ইলম বর্ণনার আদব সংক্রান্ত ‘জামেউ বায়ানিল ইলম ওয়া ফাদলিহি’ নামক কিতাবটি।
এবং সেগুলোর মধ্যে আমাদের শায়খ কাজি আবু আল-ওয়ালিদ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ বিন আল-ফরাদি-র রচিত রাবীদের নামের ‘আল-মুখতালিফ ওয়াল মুতালিফ’ (একইরূপ লিখিত কিন্তু ভিন্নভাবে পঠিত নামসমূহ) বিষয়ক গ্রন্থটি অন্তর্ভুক্ত। হাফেজ আব্দুল গানি আল-বাসরি এই বিষয়ে মাত্র দুটি কিতাব রচনা করতে পেরেছেন, যেখানে আবু আল-ওয়ালিদ (রহিমাহুল্লাহ) প্রায় ত্রিশটি কিতাব রচনা করেছেন; এই বিদ্যায় এর সমকক্ষ আর কিছুই আমার জানা নেই। এবং সেগুলোর মধ্যে রয়েছে আহমদ বিন সাঈদের ইতিহাস গ্রন্থ, রাবীদের বিষয়ে তাঁর মতো এমন কাজ আর কেউ করেনি; কেবল মুহাম্মাদ বিন মুসা আল-উকাইলি আল-বাগদাদির ইতিহাস গ্রন্থটির কথা আমাদের নিকট পৌঁছেছে, তবে আমি সেটি দেখিনি। আর আহমদ বিন সাঈদ হলেন গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য এবং এই বিষয়ে সুদক্ষ ব্যক্তিত্ব। এবং সেগুলোর মধ্যে কাজি মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া বিন মুফাররিজ-এর কিতাবসমূহ রয়েছে, যা সংখ্যায় অনেক; তন্মধ্যে সাত খণ্ডের একটি সংকলন রয়েছে যেখানে তিনি হাসান বসরির ফিকহ একত্রিত করেছেন এবং আরও অনেক কিতাব রয়েছে যাতে তিনি ইমাম যুহরির ফিকহ সংকলন করেছেন।
এই বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হলো আমির বিন খালাফ আস-সারাকুস্তির হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থ; আবু উবায়দাহ কেবল সময়ের অগ্রবর্তিতার কারণেই তাঁর চেয়ে এগিয়ে ছিলেন।
এবং ফিকহ শাস্ত্রের গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে ‘আল-ওয়াদিহাহ’, যার শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারে মালিকি মাজহাবের অনুসারীদের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই।
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল আন্দালুস ওয়া আহলুহা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
واستحسأنهم اياها وَمِنْهَا المستخرجة من الاسمعة وَهِي الْمَعْرُوفَة بالعتبية وَلها عِنْد أهل افريقية الْقدر العالي والطيران الحثيث وَالْكتاب الَّذِي جمعه ابو عمر أَحْمد بن عبد الْملك بن هِشَام الإشبيلي الْمَعْرُوف بِابْن الكوى والقرشي ابو مَرْوَان المعيطي فِي جمع اقاويل مَالك كلهَا على نَحْو الْكتاب الباهر الَّذِي جمع فِيهِ القرضي ابو بكر مُحَمَّد بن أَحْمد بن الْحداد الْبَصْرِيّ اقاويل الشَّافِعِي كلهَا وَمِنْهَا كتاب الْمُنْتَخب الَّذِي الفه القَاضِي مُحَمَّد بن يحيى بن عمر بن لبَابَة وَمَا رَأَيْت لمالكي قطّ كتابا انبل مِنْهُ فِي جمع رِوَايَات الْمَذْهَب وَشرح مستغلقها وتفريع وجوهها وتآليف قَاسم بن مُحَمَّد الْمَعْرُوف بِصَاحِب الوثائق وَكلهَا حسن فِي مَعْنَاهُ وَكَانَ شَافِعِيّ الْمَذْهَب نظارا جَارِيا فِي ميدان البغداديين
وَمِنْهَا فِي اللُّغَة الْكتاب البارع الَّذِي الفه اسماعيل بن الْقَاسِم يحتوي على لُغَة الْعَرَب وَكتابه فِي الْمَقْصُور والممدود والمهموز لم يؤلف مثله فِي بَابه وَكتاب الافعال لمُحَمد بن عمر بن عبد الْعَزِيز الْمَعْرُوف بِابْن الْقُوطِيَّة بِزِيَادَات ابْن طريف مولي العبيديين فَلم يوضع فِي فنه مثله وَكتاب جمعه ابو غَالب تَمام بن غَالب الْمَعْرُوف بِابْن التياني فِي اللُّغَة لم يؤلف مثله أختصارا واكثارا وثقة نقل وَهُوَ اظن فِي الْحَيَاة بعد
وَهَهُنَا قصَّة لَا يَنْبَغِي ان تَخْلُو رسالتنا مِنْهَا وَهِي ان ابا الْوَلِيد عبد الله بن مُحَمَّد بن عبد الله الْمَعْرُوف بِابْن القَاضِي حَدثنِي ان ابا الْجَيْش مُجَاهدًا صَاحب الجزائر ودانية وَجه إِلَى أبي غَالب أَيَّام غلبته على مرسية وابوغالب سَاكن بهَا الف دِينَار اندلسية على ان يزِيد فِي تَرْجَمَة الْكتاب الْمَذْكُور مِمَّا الفه تَمام بن غَالب لأبي الْجَيْش مُجَاهِد فَرد الدَّنَانِير وابى من ذَلِك وَلم يفتح فِي هَذَا بَابا الْبَتَّةَ وَقَالَ وَالله لَو بذل لي الدُّنْيَا على ذَلِك مَا فعلت وَلَا استجزت الْكَذِب لِأَنِّي لم اجمعه لَهُ خَاصَّة بل لكل طَالب فاعجب لهمة هَذَا الرئيس وعلوها
এবং তাদের নিকট এগুলো গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে আসমিয়া থেকে গৃহীত মুস্তাখরাজাতসমূহ, যা 'আল-উতবেইয়্যাহ' নামে পরিচিত। ইফ্রিকিয়াবাসীদের নিকট এর মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ এবং এর প্রচার ছিল অত্যন্ত দ্রুত। এছাড়া সেই কিতাব যা আবু উমর আহমদ বিন আব্দুল মালিক বিন হিশাম আল-ইশবিলি—যিনি ইবনুল কাওয়া নামে পরিচিত—সংকলন করেছেন। এবং কুরাইশী আবু মারওয়ান আল-মুয়াইতি ইমাম মালিকের সকল উক্তির যে সংকলন করেছেন, তা সেই 'আল-কিতাব আল-বাহির'-এর আদলে করা হয়েছে যাতে কারযী আবু বকর মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আল-হাদ্দাদ আল-বাসরী ইমাম শাফিঈর সকল উক্তি সংকলন করেছেন। এগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে 'আল-মুনতাখাব' নামক কিতাবটি, যা কাজী মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন উমর বিন লুবাবাহ রচনা করেছেন। মাযহাবের বর্ণনাগুলো সংগ্রহ করা, এর জটিল বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা প্রদান এবং বিভিন্ন শাখার বিন্যাস করার ক্ষেত্রে আমি কোনো মালিকি আলিমের এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কোনো গ্রন্থ দেখিনি। আরও রয়েছে কাসিম বিন মুহাম্মদ—যিনি 'সাহিবুল ওয়াসাইক' নামে পরিচিত—তার রচনাসমূহ। এর প্রতিটিই নিজ নিজ বিষয়ের বিচারে অত্যন্ত চমৎকার। তিনি ছিলেন শাফিঈ মাযহাবের অনুসারী এবং একজন বিজ্ঞ তার্কিক ও গবেষক, যিনি বাগদাদী আলিমদের জ্ঞানতাত্ত্বিক ময়দানে বিচরণ করতেন।
ভাষা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে রয়েছে 'আল-কিতাব আল-বারি' যা ইসমাইল বিন আল-কাসিম রচনা করেছেন, যা আরবদের ভাষার ওপর বিস্তারিত আলোচনা ধারণ করে। এছাড়া আল-মাকসুর, আল-মামদুদ ও আল-মাহমুয বিষয়ক তার গ্রন্থটির মতো কোনো গ্রন্থ এই বিষয়ে আর রচিত হয়নি। আরও রয়েছে মুহাম্মদ বিন উমর বিন আব্দুল আজিজ—যিনি ইবনুল কুতিয়্যাহ নামে পরিচিত—তার 'কিতাবুল আফআল', যা উবাইদীদের মুক্তদাস ইবনু তারিফের সংযোজনীসহ প্রকাশিত। এই শাস্ত্রের বা বিদ্যায় এর সমতুল্য আর কিছু রচিত হয়নি। আরও আছে আবু গালিব তামমাম বিন গালিব—যিনি ইবনুল তায়্যানি নামে পরিচিত—তার সংকলিত ভাষা বিজ্ঞানের কিতাব। সংক্ষিপ্তসার হওয়া সত্ত্বেও প্রচুর তথ্য ধারণ এবং বর্ণনার নির্ভরযোগ্যতার দিক থেকে এর সমতুল্য আর কোনো গ্রন্থ রচিত হয়নি। আমার ধারণা তিনি এখনো জীবিত আছেন।
এখানে একটি ঘটনা রয়েছে যা আমাদের এই পত্রে উল্লেখ করা আবশ্যক। আবু আল-ওয়ালিদ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ—যিনি ইবনুল কাজী নামে পরিচিত—আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, জাজাইর ও দানিয়ার অধিপতি আবু আল-জাইশ মুজাহিদ যখন মুরসিয়া বিজয় করেন, তখন সেখানে বসবাসরত আবু গালিবের নিকট এক হাজার আন্দালুসিয়ান দিনার পাঠিয়েছিলেন। শর্ত ছিল যে, তিনি উক্ত কিতাবের শিরোনামে লিখে দেবেন: "এটি তামমাম বিন গালিব আবু আল-জাইশ মুজাহিদের জন্য রচনা করেছেন।" কিন্তু তিনি দিনারগুলো ফেরত দিলেন এবং তা করতে অস্বীকৃতি জানালেন। তিনি এই বিষয়ে কোনো প্রকার আপস করতে রাজি হননি এবং বললেন: "আল্লাহর কসম, যদি এর বিনিময়ে আমাকে গোটা দুনিয়াও দিয়ে দেওয়া হতো, তবুও আমি তা করতাম না। আমি মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া বৈধ মনে করি না, কারণ আমি এটি কেবল তার জন্য বিশেষভাবে সংকলন করিনি, বরং প্রত্যেক জ্ঞানান্বেষীর জন্য করেছি।" এই মহান ব্যক্তির সুউচ্চ হিম্মত ও আদর্শের প্রতি বিস্ময় প্রকাশ করো।
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল আন্দালুস ওয়া আহলুহা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
واعجب لنَفس هَذَا الْعَالم
وَمِنْهَا لكتاب أَحْمد بن ابان بن سيد فِي اللُّغَة الْمَعْرُوف بِكِتَاب الْعَالم نَحْو مائَة سفر على الاجناس فِي غَايَة الْإِيعَاب بَدَأَ بالفلك وَختم بالذرة وَكتاب النَّوَادِر لأبي عَليّ اسماعيل ببن الْقَاسِم وَهُوَ مبار لكتاب الْكَامِل لأبي الْعَبَّاس الْمبرد ولعمري لَئِن كَانَ كتاب أبي الْعَبَّاس أَكثر نَحوا وخبرا فان كتاب أبي على لأكْثر لُغَة وشعرا وَكتاب الفصوص لصاعد بن الْحسن الربعِي وَهُوَ جَار فِي مضمار الكتأبين الْمَذْكُورين
وَمن الانحاء تَفْسِير الحوفي لكتاب الْكسَائي حسن فِي مَعْنَاهُ وَكتاب ابْن سيدة فِي ذَلِك المنبوذ بالعالم والمتعلم وَشرح لَهُ كتاب الْأَخْفَش
وَمِمَّا الف فِي الشّعْر كتاب عبَادَة بن مَاء السَّمَاء فِي أَخْبَار شعراء الأندلس كتاب حسن وَكتاب الحدائق لأبي عمر أَحْمد بن فرج عَارض بِهِ كتاب الزهرة لأبي بكر مُحَمَّد بن دَاوُد رَحمَه الله تَعَالَى إِلَّا ان ابا بكر انما ادخل مائَة بَاب فِي كل بَاب مائَة بَيت وابو عمر أورد مِائَتي بَاب فِي كل بَاب مائَة بَيت لَيْسَ مِنْهَا بَاب تكَرر اسْمه لأبي بكر وَلم يُورد فِيهِ لغير اندلسي شَيْئا واحسن الِاخْتِيَار مَا شَاءَ واجاد فَبلغ الْغَايَة واتى الْكتاب فَردا فِي مَعْنَاهُ وَمِنْهَا كتاب التشبيهات من اشعار أهل الأندلس جمعه ابو الْحسن على بن مُحَمَّد بن أبي الْحسن الْكَاتِب وَهُوَ حَيّ بعد وَمِمَّا يتَعَلَّق بذلك شرح أبي الْقَاسِم ابراهيم بن مُحَمَّد بن الإفليلي لشعر المتنبي وَهُوَ حسن جدا
এই আলিমের ব্যক্তিত্বের ব্যাপারে বিস্ময় প্রকাশ করো।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো ভাষাতত্ত্ব বিষয়ে আহমাদ ইবনে আবান ইবনে সাইয়্যিদের কিতাব, যা 'কিতাবুল আলিম' নামে পরিচিত; এটি বিভিন্ন শ্রেণির বিন্যাসে প্রায় একশত খণ্ডের এক বিশাল সংকলন যা অত্যন্ত তথ্যবহুল। তিনি এটি জ্যোতির্বিজ্ঞান দিয়ে শুরু করেছেন এবং অতি ক্ষুদ্র অণু দিয়ে শেষ করেছেন। এছাড়া আবু আলী ইসমাঈল ইবনুল কাসিমের 'কিতাবুন নাওয়াদির', যা আবু আব্বাস আল-মুবররাদের 'কিতাবুল কামিল'-এর প্রতিদ্বন্দ্বী। আমার জীবনের শপথ, যদি আবু আব্বাসের কিতাব ব্যাকরণ ও বিবরণে অধিক সমৃদ্ধ হয়, তবে আবু আলীর কিতাব ভাষাতত্ত্ব ও কবিতায় অধিক সমৃদ্ধ। আর সাঈদ ইবনুল হাসান আর-রাবঈর 'কিতাবুল ফুসুস' উল্লিখিত কিতাবদ্বয়ের সমান্তরালে প্রবহমান।
ব্যাকরণ শাস্ত্রের মধ্যে কিসায়ীর কিতাবের উপর আল-হাওফীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ তার বিষয়বস্তুর দিক থেকে অত্যন্ত চমৎকার। এছাড়া এই বিষয়ে ইবনে সিদাহর কিতাব যা 'আল-আলিম ওয়াল মুতাআল্লিম' নামে অভিহিত এবং আখফাশের কিতাবের উপর তাঁর কৃত ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
কবিতা বিষয়ে যা রচিত হয়েছে তার মধ্যে উবাদাহ ইবনে মাউস সামার আন্দালুসের কবিদের জীবনীর উপর রচিত কিতাবটি একটি সুন্দর গ্রন্থ। এছাড়া আবু উমর আহমাদ ইবনে ফারাজের 'কিতাবুল হাদায়েক', যা তিনি আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে দাউদ (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন)-এর 'কিতাবুজ জাহরা'-এর প্রতিযোগী হিসেবে রচনা করেছেন; তবে পার্থক্য হলো আবু বকর কেবল একশতটি অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন এবং প্রতি অধ্যায়ে ছিল একশতটি করে পঙক্তি, কিন্তু আবু উমর দুইশতটি অধ্যায় উপস্থাপন করেছেন এবং প্রতি অধ্যায়ে একশতটি পঙক্তি রয়েছে। সেখানে আবু বকরের দেওয়া কোনো অধ্যায়ের নামের পুনরাবৃত্তি ঘটেনি এবং এতে তিনি আন্দালুসি ছাড়া অন্য কারো কোনো পঙক্তি বা বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেননি। তিনি অত্যন্ত চমৎকারভাবে নির্বাচন করেছেন এবং নৈপুণ্য দেখিয়েছেন, ফলে তিনি শ্রেষ্ঠত্বের চূড়ায় পৌঁছেছেন এবং কিতাবটি তার বিষয়বস্তুতে অনন্য হয়ে উঠেছে। এর অন্তর্ভুক্ত হলো আন্দালুসবাসীদের কবিতার উপমা বিষয়ক 'কিতাবুত তাশবিহাত', যা আবু হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি হাসান আল-কাতিব সংকলন করেছেন এবং তিনি এখনো জীবিত। এর সাথে সংশ্লিষ্ট হলো মুতানাব্বির কবিতার উপর আবু কাসিম ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল ইফলিলে-র ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যা অত্যন্ত চমৎকার।
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল আন্দালুস ওয়া আহলুহা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وَمن الْأَخْبَار تواريخ أَحْمد بن مُحَمَّد بن مُوسَى الرَّازِيّ فِي أَخْبَار مُلُوك الأندلس وَخدمَتهمْ وغزواتهم ونكباتهم وَذَلِكَ كثير جدا وَكتاب لَهُ فِي صفة قرطبة وخططها ومنازل الاعيان بهَا على نَحْو مَا بدا بِهِ ابْن أبي طَاهِر فِي أَخْبَار بَغْدَاد وَذكر منَازِل صحابة أبي جَعْفَر الْمَنْصُور بهَا وتواريخ مُتَفَرِّقَة رَأَيْت مِنْهَا أَخْبَار عمر بن حفصون الْقَائِم بَريَّة وَوَقَائعه وسيره وحروبه وتاريخ آخر فِي أَخْبَار عبد الرَّحْمَن بن مَرْوَان الجليقي الْقَائِم بالحوف وَفِي أَخْبَار بني قيس والتجيبيين وَبني الطَّوِيل الثغر وَقد رَأَيْت من ذَلِك كتبا مصنفة فِي غَايَة الْحسن وَكتاب مجزأ فِي اجزاء كَثِيرَة فِي أَخْبَار رية وحصونها وحروبها وفقهائها وشعرائها تألبف اسحاق بن سَلمَة بن اسحاق اللَّيْثِيّ وَكتاب مُحَمَّد بن الْحَارِث الْخُشَنِي فِي أَخْبَار الْقُضَاة بقرطبة وَسَائِر بِلَاد الأندلس وَكتاب فِي أَخْبَار الْفُقَهَاء بهَا وَكتاب لِأَحْمَد بن مُحَمَّد بن مُوسَى فِي انساب مشاهير أهل الأندلس فِي خَمْسَة اسفار ضخمة من احسن كتاب فِي الانساب وأوسعها وَكتاب قَاسم بن اصبغ فِي الانساب فِي غية اللحسن والايعاب والإيجاز وَكتابه فِي فَضَائِل بني أُميَّة وَكَانَ من الثِّقَة وَالْجَلالَة بِحَيْثُ اشْتهر امْرَهْ وانتشر ذكره وَمِنْهَا كتب مؤلفة فِي اصحاب المعاقل والاجناد السِّتَّة بالأندلس وَمِنْهَا كتب كَثِيرَة جمعت فِيهَا أَخْبَار شعراء أهل الأندلس للمستنصر رَحمَه الله تَعَالَى رَأَيْت مِنْهَا أَخْبَار شعراء إلبيرة فِي نَحْو عشرَة اجزاء وَمِنْهَا كتاب الطوالع فِي انساب أهل الأندلس وَمِنْهَا كتاب التَّارِيخ الْكَبِير فِي أَخْبَار أهل الأندلس تاليف أبي مَرْوَان بن حَيَّان نَحْو عشرَة اسفار من اجل كتاب الف فِي هَذَا الْمَعْنى وَهُوَ فِي الْحَيَاة بعد لم يتجأوز الاكتهال وَكتاب المآثر العامرية لحسين بن عَاصِم النَّحْوِيّ فِي طَبَقَات الْكتاب بالأندلس وَكتاب سكن بن سعيد فِي ذَلِك وَكتاب أَحْمد بن فرج فِي المنتزين والقائمين بالأندلس وأخبارهم وَكتاب
সংবাদের মধ্যে রয়েছে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুসা আর-রাজির ইতিহাস গ্রন্থসমূহ, যা আন্দালুসের রাজাদের সংবাদ, তাদের সেবকগণ, তাদের যুদ্ধাভিযান এবং তাদের বিপদ-বিপর্যয় সম্পর্কে রচিত; আর এটি সংখ্যায় অনেক বেশি। এবং কর্ডোভার বিবরণ, এর মানচিত্র এবং সেখানকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আবাসস্থল সম্পর্কে তাঁর একটি গ্রন্থ রয়েছে, যা অনেকটা ইবনে আবি তাহির বাগদাদের সংবাদ এবং সেখানে আবু জাফর আল-মানসুরের সঙ্গীদের আবাসস্থলের বর্ণনায় যেভাবে শুরু করেছিলেন সেই আদলে। আরও রয়েছে বিক্ষিপ্ত কিছু ইতিহাস গ্রন্থ, যেগুলোর মধ্যে আমি রাইয়া অঞ্চলে উত্থানকারী উমর ইবনে হাফসুন এর সংবাদ, তার ঘটনাবলি, জীবনচরিত এবং যুদ্ধসমূহ দেখেছি। এবং হাউফ অঞ্চলে উত্থানকারী আবদুর রহমান ইবনে মারওয়ান আল-জিলিকি এর সংবাদের উপর আরেকটি ইতিহাস গ্রন্থ, এবং বনু কায়স, তুজিবি ও সীমান্ত অঞ্চলের বনু তাওয়িল এর সংবাদ সম্পর্কিত গ্রন্থ। আমি এ বিষয়ে অত্যন্ত চমৎকারভাবে সংকলিত কিছু গ্রন্থ দেখেছি। রাইয়া অঞ্চলের সংবাদ, এর দুর্গসমূহ, যুদ্ধসমূহ, সেখানকার ফকিহ এবং কবিদের সম্পর্কে অনেক খণ্ডে বিভক্ত একটি গ্রন্থ রয়েছে যা ইসহাক ইবনে সালামাহ ইবনে ইসহাক আল-লাইসির রচনা। এবং কর্ডোবা ও আন্দালুসের অন্যান্য শহরের বিচারপতিদের সংবাদ নিয়ে মুহাম্মাদ ইবনে হারিস আল-খুশানির একটি গ্রন্থ এবং সেখানকার ফকিহদের সংবাদ সম্পর্কিত একটি গ্রন্থ। আন্দালুসের বিখ্যাত ব্যক্তিদের বংশপরিচয় সম্পর্কে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুসার পাঁচটি বিশাল খণ্ডে রচিত একটি গ্রন্থ রয়েছে যা বংশপরিচয় বিষয়ক গ্রন্থসমূহের মধ্যে অত্যন্ত চমৎকার ও বিস্তৃত। এবং বংশপরিচয় সম্পর্কে কাসিম ইবনে আসবাগের একটি গ্রন্থ রয়েছে, যা অত্যন্ত সুন্দর, ব্যাপক অথচ সংক্ষিপ্ত। এবং বনু উমাইয়ার মর্যাদা সম্পর্কে তাঁর একটি গ্রন্থ; তিনি এতটাই নির্ভরযোগ্য ও মর্যাদাপূর্ণ ছিলেন যে তাঁর সুখ্যাতি ও পরিচিতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। এগুলোর মধ্যে আন্দালুসের দুর্গসমূহের অধিকারী এবং ছয়টি সৈন্যবাহিনীর সদস্যদের সম্পর্কে রচিত গ্রন্থসমূহও রয়েছে। আরও রয়েছে অনেক বই যাতে আল-মুস্তানসির (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন)-এর জন্য আন্দালুসের কবিদের সংবাদ সংকলিত হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে আমি ইলিবিরা অঞ্চলের কবিদের সংবাদ প্রায় দশ খণ্ডে দেখেছি। এগুলোর মধ্যে আন্দালুসবাসীদের বংশপরিচয় বিষয়ক 'আত-তাওয়ালি' নামক গ্রন্থটি অন্তর্ভুক্ত। আরও রয়েছে আন্দালুসবাসীদের সংবাদ সম্পর্কে আবু মারওয়ান ইবনে হাইয়ানের রচিত 'আত-তারিখুল কবির' (বিশাল ইতিহাস), যা প্রায় দশ খণ্ডে সমাপ্ত এবং এই বিষয়ে রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ; তিনি এখনও জীবিত এবং এখনও প্রৌঢ়ত্ব অতিক্রম করেননি। এবং আন্দালুসের লেখকদের শ্রেণিবিভাগ নিয়ে হুসাইন ইবনে আসিম আন-নাহভির গ্রন্থ 'আল-মাআসিরুল আমিরিয়্যাহ' এবং এই বিষয়ে সাকান ইবনে সাঈদের একটি গ্রন্থ। এবং আন্দালুসের বিদ্রোহী ও উত্থানকারীদের সংবাদ নিয়ে আহমাদ ইবনে ফারাজের একটি গ্রন্থ, এবং (অন্যান্য) গ্রন্থ...
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল আন্দালুস ওয়া আহলুহা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
أَخْبَار اطباء الأندلس لِسُلَيْمَان بن جلجل
وَأما الطِّبّ فَكتب الْوَزير يحيى بن اسحاق وَهِي كتب حسان رفيعة وَكتب مُحَمَّد بن الْحسن الْمذْحِجِي استاذنا رَحمَه الله تَعَالَى وَهُوَ الْمَعْرُوف بِابْن الْكِتَابِيّ وَهِي كتب رفيعة حسان وَكتاب التصريف لأبي الْقَاسِم خلف بن عَبَّاس الزهرأوي وَقد أدركناه وشاهدناه وَلَئِن قُلْنَا أَنه لم يؤلف فِي الطِّبّ اجْمَعْ مِنْهُ وَلَا أحسن لِلْقَوْلِ وَالْعَمَل فِي الطبائع لنصدقن وَكتب ابْن الْهَيْثَم فِي الْخَواص والسموم والعقاقير من اجل الْكتب وانفعها
وَأما الفلسفة فَانِي رَأَيْت فِيهَا رسائل مَجْمُوعَة وعيونا مؤلفة لسَعِيد بن فتحون السَّرقسْطِي الْمَعْرُوف بالحمار دَالَّة على تمكنه من هَذِه الصِّنَاعَة وَأما رسائل استاذنا أبي عبد الله مُحَمَّد بن الْحسن الْمذْحِجِي فِي ذَلِك فمشهورة متدأولة وتامة الْحسن فائقة الْجَوْدَة عَظِيمَة الْمَنْفَعَة
وَأما الْعدَد والهندسة فَلم يقسم لنا فِي هَذَا الْعلم نَفاذ وَلَا تحققنا بِهِ فلسنا نثق فِي بِأَنْفُسِنَا فِي تَمْيِيز المحسن من المقصر فِي المؤلفين فِيهِ من أهل بلدنا إِلَّا اني سَمِعت من اثق بعقله وَدينه من أهل الْعلم مِمَّن اتّفق على رسوخه فِيهِ يَقُول أَنه لم يؤلف فِي الازياج مثل زيج مسلمة وزيج ابْن السَّمْح وهما من أهل بلدنا وَكَذَلِكَ كتاب المساحة المجهولة لِأَحْمَد بن نصر فَمَا تقدم إِلَى مثله فِي مَعْنَاهُ
وانما ذكرنَا التاليف الْمُسْتَحقَّة للذّكر وَالَّتِي تدخل تَحت الاقسام السَّبْعَة الَّتِي لَا يؤلف عَاقل عَالم الا فِي أَحدهَا وَهِي اما شَيْء يخترعه لم يسْبق اليه أَو شَيْء نَاقص يتمه أَو شَيْء مستغلق يشرحه أَو شَيْء طَوِيل يختصره دون ان يخل بِشَيْء من مَعَانِيه أَو شَيْء متفرق
সুলাইমান ইবন জুলজুলের আন্দালুসের চিকিৎসকদের বিবরণ
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে উজির ইয়াহইয়া ইবন ইসহাক কিছু গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা অত্যন্ত চমৎকার ও উচ্চমানের। এছাড়া আমাদের উস্তাদ মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আল-মাযহিজী (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন), যিনি ইবনুল কিতাবি নামে পরিচিত, তাঁরও কিছু গ্রন্থ রয়েছে যা অত্যন্ত উন্নত ও চমৎকার। আর আবুল কাসিম খালাফ ইবন আব্বাস আজ-জাহরাবি রচিত 'আত-তাসরিফ' গ্রন্থটি; আমরা তাঁর সাক্ষাৎ পেয়েছি এবং তাঁকে সচক্ষে দেখেছি। যদি আমরা বলি যে, চিকিৎসা বিজ্ঞানে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক উভয় দিক থেকে এর চেয়ে অধিক পূর্ণাঙ্গ ও উত্তম কোনো গ্রন্থ আর রচিত হয়নি, তবে আমরা অবশ্যই সত্যবাদী সাব্যস্ত হব। আর গুণাগুণ, বিষক্রিয়া ও ভেষজ ঔষধ সম্পর্কে ইবনুল হাইসামের গ্রন্থসমূহ অত্যন্ত মর্যাদাশালী ও উপকারী গ্রন্থগুলোর অন্তর্ভুক্ত।
আর দর্শনের ক্ষেত্রে আমি সাঈদ ইবন ফাতহুন আস-সারাকুস্তি—যিনি আল-হিমার নামে পরিচিত—তাঁর কিছু সংকলিত রিসালা ও মৌলিক রচনা দেখেছি, যা এই বিদ্যায় তাঁর পারদর্শিতার প্রমাণ দেয়। এই বিষয়ে আমাদের উস্তাদ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আল-মাযহিজীর রিসালাসমূহ সুপরিচিত, বহুল প্রচলিত, অত্যন্ত চমৎকার, গুণগত মানে শ্রেষ্ঠ এবং বিপুল উপকারী।
আর গণিত ও জ্যামিতির ক্ষেত্রে এই বিদ্যায় আমার গভীর পারদর্শিতা বা নিপুণতা অর্জিত হয়নি। তাই আমাদের দেশের লেখকদের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ আর কে ত্রুটিপূর্ণ—তা নিরূপণে আমি নিজের ওপর আস্থা রাখি না। তবে আমি এমন একজন বিজ্ঞ ও দ্বীনদার আলিমের কাছে শুনেছি—এই বিদ্যায় যাঁর গভীর পাণ্ডিত্য সর্বজনস্বীকৃত—তিনি বলতেন যে, জ্যোতির্বিজ্ঞানের ছক (আয-যিজ) তৈরিতে মাসলামাহ ও ইবনুস সামহ-এর ‘যিজ’-এর মতো আর কোনো কাজ হয়নি; আর তাঁরা উভয়েই আমাদের দেশের লোক। অনুরূপভাবে আহমাদ ইবন নাসরের 'আল-মাসাহাতুল মাজহুলাহ' গ্রন্থটিও অনন্য, এর আগে এর সমপর্যায়ের কোনো কাজ হয়নি।
আমরা কেবল সেইসব রচনার কথা উল্লেখ করেছি যা আলোচনার যোগ্য এবং যা সেই সাতটি প্রকারের অন্তর্ভুক্ত, যার কোনো একটি ব্যতীত কোনো বুদ্ধিমান আলিম গ্রন্থ রচনা করেন না। সেগুলো হলো: হয় তিনি এমন কিছু উদ্ভাবন করবেন যা আগে কেউ করেনি, অথবা কোনো অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করবেন, অথবা কোনো জটিল বিষয় ব্যাখ্যা করবেন, অথবা কোনো দীর্ঘ বিষয়কে তার মূল অর্থ অক্ষুণ্ণ রেখে সংক্ষিপ্ত করবেন, অথবা বিক্ষিপ্ত কোনো বিষয়কে...
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল আন্দালুস ওয়া আহলুহা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
يجمعه أَو شَيْء مختلط يرتبه أَو شَيْء أَخطَأ فِيهِ صَاحبه يصلحه
وَأما التاليف المقصرة عَن مَرَاتِب غَيرهَا فَلم نلتفت إِلَى ذكرهَا وَهِي عندنَا من تاليف أهل بلدنا اكطثر من ان نحيط بعلمها
وَأما علم الْكَلَام فان بِلَادنَا وان كَانَت لم تتجاذب فِيهَا الْخُصُوم وَلَا أختلفت فِيهَا النَّحْل فَقل لذَلِك تصرفهم فِي هَذَا الْبَاب فَهِيَ على كل حَال غير عرية عَنهُ وَقد كَانَ فيهم قوم يذهبون إِلَى الاعتزال نظار على اصوله وَلَهُم فِيهِ تاليف مِنْهُم خَلِيل بن اسحاق وَيحيى بن السمينة والحاجب مُوسَى بن حدير وَأَخُوهُ الْوَزير صَاحب الْمَظَالِم أَحْمد وَكَانَ داعيه إِلَى الاعتزال لَا يسْتَتر بذلك وَلنَا على مَذْهَبنَا الَّذِي تخيرناه من مَذَاهِب اصحاب الحَدِيث كتاب فِي هَذَا الْمَعْنى وَهُوَ وان كَانَ صَغِير الجرم قَلِيل عدد الْوَرق يزِيد على الْمِائَتَيْنِ زِيَادَة يسيره فعظيم الْفَائِدَة لأَنا اسقطنا فِيهِ المشاغب كلهَا واضربنا عَن التَّطْوِيل جملَة واقتصرنا على الْبَرَاهِين المنتخبة من الْمُقدمَات الصِّحَاح الراجعة إِلَى شَهَادَة الْحس وبديهة الْعقل بِالصِّحَّةِ وَلنَا فِيمَا تحققنا بِهِ تآليف جمة مِنْهَا مَا قد تمّ وَمِنْهَا مَا شَارف التَّمام وَمِنْهَا مَا قد مضى مِنْهُ صدر ويعين الله تَعَالَى على بَاقِيه لم نقصد بِهِ قصد مباهاة فنذكرها وَلَا اردنا السمعة فنسميها وَالْمرَاد بهَا رَبنَا جلّ وَجهه وَهُوَ ولي العون فِيهَا والملي بالمجازاة عَلَيْهَا وَمَا كَانَ لله تَعَالَى فسيبدو وحسبنا الله وَنعم الْوَكِيل
وَبَلَدنَا هَذَا على بعده من ينبوع الْعلم ونأية من محلّة الْعلمَاء فقد ذكرنَا من تآليف اهله مَا ان طلب مثلهَا بِفَارِس والاهواز وديار مُضر وديار ربيعَة واليمن وَالشَّام اعوز وجود ذَلِك على قرب الْمسَافَة فِي هَذِه الْبِلَاد من الْعرَاق الَّتِي هِيَ دَار هِجْرَة الْفَهم وَذَوِيهِ وَمُرَاد المعارف واربابها
যা একত্রিত করেছেন, অথবা অগোছালো কোনো বিষয় যা বিন্যস্ত করেছেন, অথবা এমন কিছু যাতে এর লেখক ভুল করেছেন এবং তিনি তা সংশোধন করেছেন।
আর যেসব রচনা অন্যান্যদের তুলনায় নিম্নমানের, আমরা সেগুলোর কথা উল্লেখ করার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করিনি; যদিও আমাদের দেশের অধিবাসীদের রচনার মধ্যে এ জাতীয় রচনা এত বেশি যে তা আমাদের জ্ঞানের আয়ত্তের বাইরে।
আর ইলমুল কালামের (তত্ত্বীয় ধর্মতত্ত্ব) বিষয়ে বলতে গেলে, যদিও আমাদের দেশে বিরোধীরা একে অপরের সাথে তর্কে লিপ্ত হয়নি এবং বিভিন্ন মতাদর্শের ভিন্নতা ঘটেনি, যার ফলে এই বিষয়ে তাদের সংশ্লিষ্টতা কম ছিল; তবুও এ দেশ সব অবস্থায় এসব থেকে একেবারে মুক্ত নয়। নিশ্চয়ই তাদের মধ্যে এমন একদল ছিল যারা মুতাজিলা মতবাদের দিকে ঝুঁকেছিল এবং এর মূলনীতির ওপর পারদর্শী ছিল। এই বিষয়ে তাদের রচনাও রয়েছে; তাদের মধ্যে খলীল বিন ইসহাক, ইয়াহইয়া বিন সামিনা, হাজিব মুসা বিন হুদাইর এবং তার ভাই উজির সাহিবুল মাজালিম আহমাদ উল্লেখযোগ্য। আহমাদ মুতাজিলা মতবাদের দিকে আহ্বানকারী ছিলেন এবং তা গোপন করতেন না। আর আমরা আমাদের সেই মতাদর্শের ওপর ভিত্তি করে—যা আমরা হাদিস বিশারদদের (আসহাবুল হাদিস) মতাদর্শ থেকে পছন্দ করেছি—এই বিষয়ে একটি কিতাব লিখেছি। যদিও তা আকারে ছোট এবং পৃষ্ঠার সংখ্যা সামান্য বেশি দুইশোর মতো, তবুও এর উপকারিতা অনেক বিশাল। কেননা আমরা এতে সকল প্রকার বিতর্কিত ঝগড়া-বিবাদ বর্জন করেছি এবং দীর্ঘসূত্রিতা পুরোপুরি এড়িয়ে চলেছি। আমরা কেবল সেই নির্বাচিত দলিল-প্রমাণের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি যা এমন সঠিক ভূমিকা থেকে গৃহীত, যা ইন্দ্রিয়জাত সাক্ষ্য এবং সুস্থ বিবেকের স্বতঃসিদ্ধ জ্ঞানের সত্যতার দিকে ফিরে যায়। আর যেসব বিষয়ে আমরা গবেষণা ও নিশ্চিত হয়েছি, তাতে আমাদের অনেকগুলো রচনা রয়েছে; যার মধ্যে কিছু সমাপ্ত হয়েছে, কিছু সমাপ্তির পথে এবং কিছু বিষয়ের শুরুর অংশ অতিক্রান্ত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা অবশিষ্টাংশ পূর্ণ করতে সাহায্য করবেন। আমরা এগুলো গর্ব করার উদ্দেশ্যে উল্লেখ করছি না, আর খ্যাতির উদ্দেশ্যেও এর নাম নিচ্ছি না। এগুলোর মাধ্যমে আমাদের উদ্দেশ্য হলো আমাদের রব, যাঁর চেহারা মহিমান্বিত। তিনি এই কাজে সাহায্যের মালিক এবং এর প্রতিদান দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন। যা কিছু আল্লাহ তাআলার জন্য হয়, তা অবশ্যই প্রকাশ পাবে। আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
আমাদের এই দেশ ইলমের মূল উৎস থেকে দূরে এবং আলেমদের আবাসস্থল থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া সত্ত্বেও, আমরা এর অধিবাসীদের এমন সব রচনার কথা উল্লেখ করেছি, যার অনুরূপ যদি পারস্য, আহওয়াজ, দিয়ার মুদার, দিয়ার রাবিআ, ইয়েমেন এবং সিরিয়ায় তালাশ করা হয়, তবে তা পাওয়া দুষ্কর হবে—অথচ এসব অঞ্চল ইরাকের সন্নিকটে অবস্থিত, যা হলো প্রজ্ঞা ও প্রজ্ঞাবানদের হিজরতস্থল এবং জ্ঞান ও জ্ঞানীদের গন্তব্য।
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল আন্দালুস ওয়া আহলুহা
(পৃষ্ঠা: ২০)
وَنحن إِذا ذكرنَا ابا الأجرب جَعونَة بن الصمَّة الْكلابِي فِي الشّعْر لم نباه بِهِ إِلَّا جَرِيرًا والفرزدق لكَونه فِي عصرهما وَلَو انصف لاستشهد بِشعرِهِ فَهُوَ جَار على مَذْهَب الْأَوَائِل لَا على طَريقَة الْمُحدثين وَإِذا سمينا بَقِي بن مخلد لم نسابق بِهِ إِلَّا مُحَمَّد بن اسماعيل البُخَارِيّ وَمُسلم بن الْحجَّاج النَّيْسَابُورِي وَسليمَان بن الْأَشْعَث السجسْتانِي وَأحمد بن شُعَيْب النَّسَائِيّ وَإِذا ذكرنَا قَاسم بن مُحَمَّد لم نباه بِهِ الا الْقفال وَمُحَمّد بن عقيل الْفرْيَابِيّ وَهُوَ شريكهما فِي صُحْبَة الْمُزنِيّ أبي إِبْرَاهِيم والتتلمذ لَهُ وَإِذا نعتنا عبد الله بن قَاسم بن هِلَال وَمُنْذِر بن سعيد لم نجار بهما الا ابا الْحسن ابْن الْمُفلس والخلال والديباجي ورويم بن أَحْمد وَقد شاركهم عبد الله فِي أبي سُلَيْمَان وصحبته وَإِذا اشرنا إِلَى مُحَمَّد بن عمر بن لبَابَة وَعَمه مُحَمَّد بن عِيسَى وَفضل بن سَلمَة لم نناطح بهم الا مُحَمَّد بن عبد الله بن عبد الحكم وَمُحَمّد بن سَحْنُون وَمُحَمّد بن عَبدُوس وَإِذا صرحنا بِذكر مُحَمَّد بن يحيى الريَاحي وَأبي عبد الله مُحَمَّد بن عَاصِم لم يقصرا عَن اكابر اصحاب مُحَمَّد بن يزِيد الْمبرد
وَلَو لم يكن لنا من فحول الشُّعَرَاء الا أَحْمد بن مُحَمَّد بن دراج القسطلي لما تَأَخّر عَن شأو بشار وحبِيب والمتنبي فَكيف وَلنَا مَعَه جَعْفَر بن عُثْمَان الْحَاجِب وَأحمد بن عبد الْملك بن مَرْوَان واغلب بن شُعَيْب وَمُحَمّد بن شخيص وَأحمد بن فرج وَعبد الْملك بن سعيد الْمرَادِي وكل هَؤُلَاءِ فَحل يهاب جَانِبه وحصان مَمْسُوح الْغرَّة
وَلنَا من البلغاء أَحْمد بن عبد الْملك بن شَهِيد صديقنا وصاحبنا وَهُوَ حَيّ بعد لم يبلغ سنّ الاكتهال وَله من التَّصَرُّف فِي وُجُوه البلاغة وشعابها مِقْدَار يكَاد ينْطق فِيهِ بِلِسَان مركب من لساني عَمْرو وَسَهل وَمُحَمّد بن عبد الله بن مَسَرَّة فِي طَرِيقه الَّتِي سلك فِيهَا وان كُنَّا لَا
আর আমরা যখন কবিতার ক্ষেত্রে আবু আল-আজরাব জাউনা ইবন আস-সিম্মা আল-কিলাবিকে উল্লেখ করি, তখন আমরা তার মাধ্যমে কেবল জারির এবং আল-ফারাযদাককেই মোকাবিলা করি, কারণ তিনি তাদের সমসাময়িক ছিলেন। আর যদি ইনসাফ করা হতো তবে তার কবিতা দ্বারা দলিল পেশ করা হতো; কেননা তিনি পূর্ববর্তীদের পদ্ধতি অনুসরণকারী, আধুনিকদের তরিকায় চলেন না। আর যখন আমরা বাকি ইবন মাখলাদের নাম উল্লেখ করি, তখন তার মাধ্যমে আমরা কেবল মুহাম্মদ ইবন ইসমাইল আল-বুখারি, মুসলিম ইবন আল-হাজ্জাজ আল-নায়সাবুরি, সুলাইমান ইবন আল-আশআদ আল-সিজিস্তানি এবং আহমাদ ইবন শুআইব আল-নাসায়িকেই প্রতিযোগী মনে করি। আর যখন আমরা কাসিম ইবন মুহাম্মদকে উল্লেখ করি, তখন আমরা তার মাধ্যমে কেবল আল-কাফফাল এবং মুহাম্মদ ইবন আকিল আল-ফিরইয়াবিকেই মোকাবিলা করি; আর তিনি আবু ইব্রাহিম আল-মুজানির সাহচর্য লাভে এবং তাঁর কাছে শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের দুজনেরই অংশীদার। এবং যখন আমরা আবদুল্লাহ ইবন কাসিম ইবন হিলাল এবং মুনযির ইবন সাঈদের গুণ বর্ণনা করি, তখন আমরা তাদের সমকক্ষ হিসেবে কেবল আবু আল-হাসান ইবন আল-মুফাল্লিস, আল-খাল্লাল, আদ-দিবাজি এবং রুয়াইম ইবন আহমাদকেই পাই। আর আবদুল্লাহ আবু সুলাইমানের সান্নিধ্য এবং সাহচর্যে তাদের শরিক ছিলেন। আর যখন আমরা মুহাম্মদ ইবন উমর ইবন লুবাবা, তাঁর চাচা মুহাম্মদ ইবন ঈসা এবং ফাদল ইবন সালামাহ-এর দিকে ইঙ্গিত করি, তখন আমরা তাদের মাধ্যমে কেবল মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবদ আল-হাকাম, মুহাম্মদ ইবন সাহনুন এবং মুহাম্মদ ইবন আবদুসের সাথেই টক্কর দেই। আর যখন আমরা স্পষ্টভাবে মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া আল-রিয়াহি এবং আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন আসিমের কথা উল্লেখ করি, তখন তারা মুহাম্মদ ইবন ইয়াজিদ আল-মুবররাদের শ্রেষ্ঠ সাথীদের থেকে মোটেও পিছিয়ে থাকেন না।
আর আমাদের শ্রেষ্ঠ কবিদের মধ্যে যদি কেবল আহমাদ ইবন মুহাম্মদ ইবন দাররাজ আল-কাসতাল্লিই থাকতেন, তবে তিনিও বাশশার, হাবিব এবং আল-মুতানাব্বির সমপর্যায় থেকে পিছিয়ে থাকতেন না। তবে তা কী করে সম্ভব? অথচ তাঁর পাশাপাশি আমাদের আরও আছেন জাফর ইবন উসমান আল-হাজিব, আহমাদ ইবন আবদ আল-মালিক ইবন মারওয়ান, আগলাব ইবন শুআইব, মুহাম্মদ ইবন শাখিস, আহমাদ ইবন ফারাজ এবং আবদ আল-মালিক ইবন সাঈদ আল-মুরাদি; যাদের প্রত্যেকেই এমন বীর যে তাদের প্রতাপকে ভয় করা হয় এবং এমন তেজি ঘোড়া যাদের কপালের শুভ্র জ্যোতি উজ্জ্বল।
আর আমাদের অলঙ্কারশাস্ত্রবিদদের মধ্যে আছেন আহমাদ ইবন আবদ আল-মালিক ইবন শাহীদ, যিনি আমাদের বন্ধু ও সাথী; তিনি এখনও জীবিত এবং বার্ধক্যে পৌঁছাননি। অলঙ্কারশাস্ত্রের বিভিন্ন দিক ও শাখায় তার এমন দখল রয়েছে যে, মনে হয় তিনি এমন এক ভাষায় কথা বলেন যা আমর এবং সহল—উভয়ের ভাষার সমন্বয়ে গঠিত। আর মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন মাসাররা তাঁর সেই পথে চলেছেন যে পথে তিনি চলেছেন, যদিও আমরা না...
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল আন্দালুস ওয়া আহলুহা
(পৃষ্ঠা: ২১)
نرضى مذْهبه فِي جمَاعَة يكثر تعدادهم
وَقد انْتهى مَا اقْتَضَاهُ خطاب الْكَاتِب رَحمَه الله تَعَالَى من الْبَيَان وَلم نتزيد فِيمَا رغب فِيهِ إِلَّا مَا دعت الضَّرُورَة إِلَى ذكره لتَعَلُّقه بجوابه وَالْحَمْد لله الْمُوفق لعلمه وَالْهَادِي إِلَى الشَّرِيعَة المزلفة مِنْهُ والموصلة وَصلى الله على مُحَمَّد عَبده وَرَسُوله وعَلى آله وَصَحبه وَسلم وَشرف وكرم انْتَهَت الرسَالَة
وَكتب الْحَافِظ ابْن حجر على هَامِش قَوْله فِيهَا انما سكن على الْكُوفَة خَمْسَة اعوام أشهرا مَا نَصه صَوَابه أَرْبَعَة أَعْوَام انْتهى
وَقَالَ ابْن سعيد بعد ذكره هَذِه الرسَالَة مَا صورته رَأَيْت ان إذيل مَا ذكره الْوَزير الْحَافِظ ابو مُحَمَّد بن حزم من مفاخر أهل الأندلس بِمَا حضرني وَالله ولي الْإِعَانَة
আমরা এক বিশাল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর মধ্যে তাঁর মাযহাবকে পছন্দ করি।
লেখক—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন—তাঁর লেখনীতে যে বর্ণনাগুলোর প্রয়োজনীয়তা ছিল তা সমাপ্ত হয়েছে। তিনি যা উপস্থাপনের ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন, তাতে আমরা প্রয়োজনের অতিরিক্ত কিছুই যোগ করিনি, কেবল সেই বিষয়গুলো ছাড়া যা তাঁর উত্তরের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার কারণে উল্লেখ করা অনিবার্য ছিল। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর ইলমের তাওফীক দানকারী এবং এমন এক শরীয়তের দিকে হেদায়েত দানকারী যা তাঁর নিকটবর্তী করে এবং পৌঁছে দেয়। আর আল্লাহর দরুদ, সালাম, সম্মান ও মর্যাদা বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর। রিসালাহটি এখানেই সমাপ্ত।
হাফেজ ইবনে হাজার এই রিসালাতের সেই বক্তব্যের পার্শ্বটীকায় লিখেছেন—যেখানে বলা হয়েছে যে তিনি কুফায় পাঁচ বছর কয়েক মাস অবস্থান করেছিলেন—যার ভাষ্য নিম্নরূপ: "সঠিক হলো চার বছর।" সমাপ্ত।
ইবনে সাঈদ এই রিসালাহটি উল্লেখ করার পর বলেছেন, যার বক্তব্য হলো: উজির হাফেজ আবু মুহাম্মাদ ইবনে হাজম আন্দালুসীয়দের যে সকল গৌরবের কথা উল্লেখ করেছেন, আমার কাছে যা উপস্থিত আছে তা দিয়ে আমি তার একটি পরিশিষ্ট যোগ করা সমীচীন মনে করছি; আর আল্লাহই সাহায্যকারী।
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল আন্দালুস ওয়া আহলুহা
(পৃষ্ঠা: ২২)
تذييل ابْن سعيد على جَوَاب ابْن حزم اما الْقرَان فَمن اجل مَا صنف فِي تَفْسِيره كتاب الْهِدَايَة إِلَى بُلُوغ النِّهَايَة فِي نَحْو عشرَة اسفار صنفه الإِمَام الْعَالم الزَّاهِد ابو مُحَمَّد مكي ابْن أبي طَالب الْقُرْطُبِيّ وَله كتاب تَفْسِير اعراب الْقُرْآن وعد ابْن غَالب فِي كتاب فرحة الْأَنْفس تآليف مكي الْمَذْكُور فَبلغ بهَا 77 تأليف وَكَانَت وَفَاته سنة 437 وَلأبي مُحَمَّد بن عَطِيَّة الغرناطي فِي تَفْسِير الْقُرْآن الْكتاب الْكَبِير الَّذِي اشْتهر وطار فِي الغرب والشرق وَصَاحبه من فضلاء الْمِائَة السَّادِسَة
وَأما الْقرَاءَات فلمكي الْمَذْكُور فِيهَا كتاب التَّبْصِرَة وَكتاب التَّيْسِير لأبي عَمْرو الداني مَشْهُور فِي أَيدي النَّاس
وَأما الحَدِيث فَكَانَ بعصرنا فِي الْمِائَة السَّابِعَة الإِمَام ابو الْحسن عَليّ ابْن الْقطَّان الْقُرْطُبِيّ السَّاكِن بِحَضْرَة مراكش وَله فِي تَفْسِير غَرِيبه وَفِي رجال مصنفات واليه كَانَت النِّهَايَة وَالْإِشَارَة فِي عصرنا وَسمعت أَنه كَانَ اشْتغل بِجمع امهات كتب الحَدِيث الْمَشْهُورَة وَحذف المكرر وَكتاب رزين بن عمار الأندلسي فِي جمع مَا يتضمنه كتاب مُسلم وَالْبُخَارِيّ والموطأ وَالسّنَن وَالنَّسَائِيّ وَالتِّرْمِذِيّ كتاب جليل مَشْهُور فِي أَيدي النَّاس بالمشرق وَالْمغْرب وَكتاب الاحكام لأبي مُحَمَّد عبد الْحق الإشبيلي مَشْهُور متدأول الْقِرَاءَة وَهِي احكام كبرى واحكام
ইবনে হাজমের উত্তরের ওপর ইবনে সাঈদের পরিশিষ্ট কুরআনের ক্ষেত্রে, এর তাফসিরের বিষয়ে যা কিছু রচিত হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ হলো 'কিতাবুল হিদায়াহ ইলা বুলুগিন নিহায়াহ', যা প্রায় দশ খণ্ডে বিন্যস্ত। এটি রচনা করেছেন ইমাম, বিজ্ঞ আলিম ও জাহিদ আবু মুহাম্মদ মক্কি ইবনে আবি তালিব আল-কুরতুবি। তাঁর 'তাফসিরে ইরাবুল কুরআন' নামক একটি গ্রন্থও রয়েছে। ইবনে গালিব তাঁর 'ফারহাতুল আনফুস' গ্রন্থে উক্ত মক্কির রচনার সংখ্যা গণনা করেছেন এবং তা ৭৭টি পর্যন্ত পৌঁছেছে। তাঁর মৃত্যু হয়েছিল ৪৩৭ হিজরিতে। আর আবু মুহাম্মদ ইবনে আতিয়্যাহ আল-গারনাতির কুরআনের তাফসিরের ওপর সেই বিশাল গ্রন্থটি রয়েছে যা প্রাচ্য ও প্রতীচ্যে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে এবং ছড়িয়ে পড়েছে; আর এর লেখক ছিলেন ষষ্ঠ শতাব্দীর অন্যতম বিদগ্ধ পণ্ডিত।
আর কিরাআতশাস্ত্রের ক্ষেত্রে, উক্ত মক্কির 'কিতাবুত তাবসিরাহ' এবং আবু আমর আদ-দানির 'কিতাবুত তাইসির' মানুষের মাঝে অত্যন্ত সুপরিচিত।
হাদিসের ক্ষেত্রে, আমাদের যুগে অর্থাৎ সপ্তম শতাব্দীতে মাররাকেশে বসবাসকারী ইমাম আবুল হাসান আলী ইবনুল কাত্তান আল-কুরতুবি ছিলেন। হাদিসের দুর্বোধ্য শব্দাবলির ব্যাখ্যা এবং বর্ণনাকারীদের (রিজাল) বিষয়ে তাঁর বহু রচনা রয়েছে। আমাদের যুগে জ্ঞানের চূড়ান্ত শিখর এবং নির্দেশক হিসেবে তাঁকেই গণ্য করা হতো। আমি শুনেছি যে, তিনি হাদিসের প্রসিদ্ধ মূল গ্রন্থসমূহকে একত্রিত করার এবং পুনরাবৃত্তিগুলো বাদ দেওয়ার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। এছাড়া রাজিন বিন আম্মার আল-আন্দালুসীয়র একটি গ্রন্থ রয়েছে যেখানে মুসলিম, বুখারি, মুয়াত্তা, সুনান, নাসায়ি এবং তিরমিজি গ্রন্থের বিষয়বস্তু একত্রিত করা হয়েছে; এটি একটি মহান গ্রন্থ যা প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের মানুষের কাছে সুপ্রসিদ্ধ। আবু মুহাম্মদ আব্দুল হক আল-ইশবিলির 'কিতাবুল আহকাম' গ্রন্থটিও সুপ্রসিদ্ধ এবং এর পাঠ অত্যন্ত প্রচলিত; আর এগুলো হলো আহকামে কুবরা এবং আহকাম।
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল আন্দালুস ওয়া আহলুহা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
صغري قيل ووسطى وَكتاب الْجمع بَين الصَّحِيحَيْنِ للحميدي مَشْهُور
وَأما الْفِقْه فالكتاب الْمُعْتَمد عَلَيْهِ الْآن الَّذِي ينْطَلق عَلَيْهِ اسْم الْكتاب عِنْد الْمَالِكِيَّة حَتَّى بالاسكندرية فكتاب التَّهْذِيب للبرإذعي السَّرقسْطِي وَكتاب النِّهَايَة وَلأبي الْوَلِيد بن رشد كتاب جليل مُعظم مُعْتَمد عَلَيْهِ عِنْد الْمَالِكِيَّة وَكَذَلِكَ كتاب الْمُنْتَقى للباجي
وَأما اصول الدّين واصول الْفِقْه فللإمام أبي بكر ابْن الْعَرَبِيّ الاشبيلي من ذَلِك مَا مِنْهُ كتاب العواصم والقواصم وَالْمَشْهُور بأيدي النَّاس وَله تصانيف غير هَذَا لأبي الْوَلِيد بن رشد فِي اصول الْفِقْه مَا مِنْهُ مُخْتَصر المستصفي
وَأما التواريخ فكتاب ابْن حَيَّان الْكَبِير الْمَعْرُوف بالمتين فِي نَحْو سِتِّينَ مجلدة وانما ذكر ابْن حزم كتاب المقتبس وَهُوَ فِي عشر مجلدات والمتين يذكر فِيهِ أَخْبَار عصره ويمعن فِيهَا مِمَّا شَاهده وَمِنْه ينْقل صَاحب الذَّخِيرَة وَقد ذيل عَلَيْهِ ابو الْحجَّاج البياسي أحد معاصرينا وَهُوَ الان بافريقية فِي حضرتها تونس عِنْد سلطأنها تَحت إحسانه الْغمر وَكتاب المظفر بن الافطس ملك بطليوس الْمَعْرُوف ب المظفري نَحْو كتاب المتين فِي الْكبر وَفِيه تَارِيخ على السنين وفنون آدَاب كَثِيرَة وتاريخ ابْن صَاحب الصَّلَاة فِي الدولة اللمتونية وَذكر ابْن غَالب ان ابْن الصَّيْرَفِي الغرناطي لَهُ كتاب فِي أَخْبَار دولة لمتونة وان ابا الْحسن السالمي لَهُ كتاب فِي أَخْبَار الْفِتْنَة الثَّانِيَة بالأندلس بَدَأَ من سنه 539 ورتبه على السنين وَبلغ بِهِ سنة 547 وابو الْقَاسِم خلف بن بشكوال لَهُ كتاب فِي تَارِيخ اصحاب الأندلس من فتحهَا إِلَى زَمَانه واضاف إِلَى ذَلِك من أَخْبَار قرطبة وَغَيرهَا مَا جَاءَ فِي خاطره وَله كتاب
বলা হয়েছে ছোট এবং মাঝারি; আর আল-হুমাইদির কিতাব 'আল-জাম বাইনাস সাহিহাইন' অত্যন্ত প্রসিদ্ধ।
আর ফিকহ শাস্ত্রের ক্ষেত্রে বর্তমানে নির্ভরযোগ্য কিতাব, মালিকি মাযহাবের অনুসারীদের নিকট এমনকি আলেকজান্দ্রিয়াতেও যাকে কেবল 'আল-কিতাব' (মূল কিতাব) বলা হয়, তা হলো আল-বারাজি আল-সারাগুস্তি রচিত 'আত-তাহজিব' এবং 'আন-নিহায়া' কিতাব। আর আবুল ওয়ালিদ ইবনে রুশদের একটি সুমহান ও মর্যাদাপূর্ণ কিতাব রয়েছে যা মালিকিদের নিকট অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য, তেমনিভাবে আল-বাজির 'আল-মুনতাকা' কিতাবটিও।
আর উসুলুদ্দীন ও উসুলুল ফিকহ সম্পর্কে ইমাম আবু বকর ইবনুল আরাবি আল-ইশবিলির কিতাবসমূহের মধ্যে 'আল-আওয়াসিম মিনাল কাওয়াসিম' অন্যতম, যা মানুষের নিকট সুপরিচিত। এছাড়াও তাঁর আরও অনেক রচনা রয়েছে। আর উসুলুল ফিকহ শাস্ত্র সম্পর্কে আবুল ওয়ালিদ ইবনে রুশদের রচনাবলির মধ্যে রয়েছে 'মুখতাসারুল মুস্তাসফা'।
আর ইতিহাস শাস্ত্রের ক্ষেত্রে ইবনে হাইয়ানের বৃহৎ গ্রন্থটি রয়েছে যা 'আল-মাতিন' নামে পরিচিত, এটি প্রায় ষাট খণ্ডে সমাপ্ত। ইবনে হাজম কেবল 'আল-মুকতাবাস' কিতাবটির কথা উল্লেখ করেছেন যা দশ খণ্ডে। আর 'আল-মাতিন' গ্রন্থে তিনি তাঁর সমসাময়িক ঘটনাবলি উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর প্রত্যক্ষ করা বিষয়গুলো অত্যন্ত নিবিড়ভাবে বর্ণনা করেছেন; 'আয-যাখিরা' এর লেখক এখান থেকেই উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন। আমাদের সমসাময়িকদের একজন আবুল হাজ্জাজ আল-বাইয়াসি এর একটি পরিশিষ্ট লিখেছেন, তিনি বর্তমানে আফ্রিকার তিউনিসিয়ায় সেখানকার সুলতানের সান্নিধ্যে তাঁর অঢেল অনুগ্রহের অধীনে রয়েছেন। আর বাতালিউসের রাজা মুজাফফর বিন আল-আফতাসের 'আল-মুজাফফরি' নামক কিতাবটি বিশালতার দিক থেকে 'আল-মাতিন' কিতাবের মতোই, এতে বর্ষানুক্রমিক ইতিহাস ও বিবিধ জ্ঞান-গরিমা বর্ণিত হয়েছে। এছাড়াও রয়েছে ল্যামতুনি রাজবংশ সম্পর্কে ইবনে সাহিব আস-সালাত-এর ইতিহাস গ্রন্থ। ইবনে গালিব উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে আস-সাইরাফি আল-গারনাতির ল্যামতুনি রাজবংশের ইতিহাস নিয়ে একটি কিতাব রয়েছে এবং আবুল হাসান আস-সালিমির আন্দালুসের দ্বিতীয় ফিতনা সম্পর্কে একটি কিতাব রয়েছে যা ৫৩৯ হিজরি থেকে শুরু হয়েছে এবং বর্ষানুক্রমিকভাবে সাজিয়ে ৫৪৭ হিজরি পর্যন্ত আনা হয়েছে। আর আবুল কাসিম খালাফ বিন বাশকুয়ালের একটি কিতাব রয়েছে যা আন্দালুস বিজয়ের শুরু থেকে তাঁর সময় পর্যন্ত সেখানের ব্যক্তিবর্গের ইতিহাসের ওপর রচিত, এর সাথে তিনি কর্ডোভা এবং অন্যান্য অঞ্চলের ঘটনাবলি যা তাঁর স্মৃতিতে এসেছে তা যুক্ত করেছেন; এবং তাঁর আরও কিতাব রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল আন্দালুস ওয়া আহলুহা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الصِّلَة فِي تَارِيخ الْعلمَاء وللحميدي قبله جذوة المقتبس وَقد ذيل كَاتب الصِّلَة فِي عصرنا هَذَا ابو عبد الله بن الابار البلنسي كتاب سُلْطَان افريقية وَذكر ابْن غَالب ان الْفَقِيه ابا جَعْفَر بن عبد الْحق الخزرجي الْقُرْطُبِيّ لَهُ كتاب كَبِير بَدَأَ فِيهِ من بَدْء الخليقة إِلَى ان انْتهى فِي أَخْبَار الأندلس إِلَى دولة عبد الْمُؤمن قَالَ وفارقته سنه 565 وابو مُحَمَّد بن حزم صَاحب الرسَالَة الْمُتَقَدّمَة الذّكر لَهُ كتب جمة فِي التواريخ مثل كتاب نقط الْعَرُوس فِي تواريخ الْخُلَفَاء وَقد صنف ابو الْوَلِيد بن زيدون كتاب التَّبْيِين فِي خلفاء بني أُميَّة بالأندلس على منزع كتاب التَّعْيِين فِي خلفاء الْمشرق للمسعودي وللقاضي أبي الْقَاسِم صاعد بن أَحْمد الطليطلي كتاب التَّعْرِيف بأخبار عُلَمَاء الْأُمَم من الْعَرَب والعجم وَكتاب جَامع أَخْبَار الامم وابو عمر ابْن عبد الْبر لَهُ كتاب الْقَصْد والامم فِي معرفَة أَخْبَار الْعَرَب والعجم وعريب بن سعد الْقُرْطُبِيّ لَهُ كتاب أختصار تَارِيخ الطَّبَرِيّ قد سعد باغتباط النَّاس بِهِ واضاف اليه تَارِيخ افريقية والأندلس وَلأَحْمَد بن سعيد بن مُحَمَّد بن عبد الله بن أبي الْفَيَّاض كتاب العبر وَكتاب أبي بكر الْحُسَيْن بن مُحَمَّد الزبيدِيّ فِي أَخْبَار النَّحْوِيين واللغويين بالشرق والأندلس وَكتاب القَاضِي أبي الْوَلِيد بن الفرضي فِي أَخْبَار الْعلمَاء وَالشعرَاء وَمَا يتَعَلَّق بذلك وليحيى بن حكم الغزال تَارِيخ الفه كُله منظوما كَمَا صنع أَيْضا بعده ابو طَالب المتنبي من جَزِيرَة شقر فِي التَّارِيخ الَّذِي أورد مِنْهُ صَاحب الذَّخِيرَة مَا أورد وَكتاب الذَّخِيرَة لِابْنِ بسام فِي جَزِيرَة الأندلس لَيْسَ هَذَا مَكَان الإطناب فِي تفضيلها وَهِي كالذيل على حدائق ابْن فرج وَفِي عصرها صنف الْفَتْح كتاب القلائد وَهُوَ مَمْلُوء بلاغة والمحاكمة بَين الكتأبين ذكرت بمَكَان آخر وَلِصَاحِب القلائد كتاب المطمح وَهُوَ ثَلَاث نسخ كبرى ووسطى وصغرى يذكر فِيهَا من الَّذين ذكرهم فِي القلائد وَمن
আলেমদের ইতিহাসের ওপর লিখিত 'আস-সিলাহ' এবং তার পূর্বে আল-হুমাইদির 'জাজওয়াতুল মুকতাবিস' গ্রন্থটি রয়েছে। আমাদের বর্তমান সময়ের 'আস-সিলাহ' এর লেখক আবু আব্দুল্লাহ ইবনুল আব্বার আল-বালানসি আফ্রিকার সুলতানের কিতাবের ওপর একটি পরিশিষ্ট লিখেছেন। ইবনে গালিব উল্লেখ করেছেন যে, ফকিহ আবু জাফর বিন আব্দুল হক আল-খাজরাজি আল-কুরতুবির একটি বিশাল গ্রন্থ রয়েছে, যা তিনি সৃষ্টির আদি থেকে শুরু করে আন্দালুসের ঘটনাবলী বর্ণনার মাধ্যমে আব্দুল মুমিনের শাসনকাল পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন; তিনি বলেন, ৫৬৫ হিজরিতে আমি তার নিকট থেকে পৃথক হয়েছি। ইতিপূর্বে উল্লিখিত রিসালার লেখক আবু মুহাম্মদ ইবনে হাজমের ইতিহাস বিষয়ে বহু কিতাব রয়েছে, যেমন খলিফাদের ইতিহাস নিয়ে লিখিত 'নুকাতুল আরুস'। আর আবু আল-ওয়ালিদ ইবনে যাইদুন মাসউদির প্রাচ্যের খলিফাদের ওপর লিখিত 'আত-তায়িন' কিতাবের আদলে আন্দালুসের বনু উমাইয়া খলিফাদের সম্পর্কে 'আত-তাবয়িন' কিতাবটি রচনা করেছেন। এবং কাজি আবু আল-কাসিম সায়িদ বিন আহমাদ আত-তুলাইতুলির 'আরব ও অনারব জাতিসমূহের আলেমদের সংবাদ পরিচিতি' (আত-তারিফ বি আখবারি উলামাইল উমাম মিনাল আরাবি ওয়াল আজাম) এবং 'জামি আখবারিল উমাম' নামক গ্রন্থ রয়েছে। এবং আবু উমর ইবনে আব্দুল বার-এর আরব ও অনারবদের সংবাদ জানার বিষয়ে 'আল-কাসদ ওয়াল আমাম' নামক কিতাব রয়েছে। আর আরিব বিন সা'দ আল-কুরতুবির 'তারিখে তাবারির সংক্ষিপ্তসার' নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে যা মানুষের নিকট অত্যন্ত সমাদৃত হয়েছে এবং তিনি এতে আফ্রিকা ও আন্দালুসের ইতিহাস সংযোজন করেছেন। এবং আহমাদ বিন সাঈদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আবু আল-ফাইয়াজের 'কিতাবুল ইবার' রয়েছে। আর আবু বকর আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ আজ-জুবাইদির প্রাচ্য ও আন্দালুসের ব্যাকরণবিদ ও ভাষাবিদদের সংবাদের ওপর লিখিত কিতাব রয়েছে। এবং কাজি আবু আল-ওয়ালিদ ইবনুল ফারাদির আলেম ও কবিদের সংবাদ এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কিতাব রয়েছে। আর ইয়াহইয়া বিন হাকাম আল-গাজালের একটি ইতিহাস গ্রন্থ রয়েছে যা তিনি সম্পূর্ণ কাব্যাকারে রচনা করেছেন, যেমনটি পরবর্তীতে জাজিরাত শাকর-এর আবু তালিব আল-মুতানাব্বিও করেছেন সেই ইতিহাসে যা থেকে 'আয-যাখিরা' এর লেখক উদ্ধৃতি দিয়েছেন। আর আন্দালুস উপদ্বীপ সম্পর্কে ইবনে বাসামের 'আয-যাখিরা' গ্রন্থটি এমন যে, এর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনার জন্য দীর্ঘ আলোচনার সুযোগ এখানে নেই; এটি ইবনে ফারাজের 'হাদাইক' এর পরিশিষ্ট স্বরূপ। আর তার যুগে আল-ফাতহ 'কালাইদ' কিতাবটি রচনা করেছেন, যা অলঙ্কারশাস্ত্রে ভরপুর এবং উভয় কিতাবের মধ্যকার তুলনামূলক আলোচনা অন্য স্থানে বর্ণিত হয়েছে। 'কালাইদ' এর লেখকের 'আল-মাতমাহ' নামক আরেকটি কিতাব রয়েছে যা বড়, মাঝারি ও ছোট—এই তিনটি সংস্করণে বিন্যস্ত; এতে তিনি তাদের উল্লেখ করেছেন যাদের নাম তিনি 'কালাইদ' গ্রন্থে এনেছেন এবং তাদেরও যারা...
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল আন্দালুস ওয়া আহলুহা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
غَيرهم الَّذين كَانُوا قبل عصرهم وَكتاب سمط الجمان وَسقط المرجان لأبي عَمْرو بن الإِمَام بعد الكتأبين الْمَذْكُورين ذكر من أخلا بتوفيته حَقه من الْفُضَلَاء واستدرك من أدْركهُ بعصره فِي بَقِيَّة الْمِائَة السَّادِسَة وذيل عَلَيْهِ وان كَانَ ذيلا قَصِيرا ابو بَحر صَفْوَان بن ادريس المرسي بِكِتَاب زَاد الْمُسَافِر ذكر فِيهِ جمَاعَة مِمَّن أدْرك الْمِائَة السَّابِعَة وَكتاب أبي مُحَمَّد عبد الله بن إِبْرَاهِيم الحجاري الْمُسَمّى بالمسهب فِي فَضَائِل الْمغرب صنفه بعد الذَّخِيرَة والقلائد من أول مَا عمرت الأندلس إِلَى عصره وَخرج فِيهِ عَن مقصد الْكِتَابَيْنِ إِلَى ذكر الْبِلَاد وخواصها مِمَّا يخْتَص بِعلم الجغرافيا وخلطه بالتاريخ وتفنن الْأَدَب على مَا هُوَ مَذْكُور فِي غير هَذَا الْمَكَان وَلم يصنف فِي الأندلس مثل كِتَابه وَلذَلِك فَضله المُصَنّف لَهُ عبد الْملك بن سعيد وذيل عَلَيْهِ ثمَّ ذيل على ذَلِك ابناه أَحْمد وَمُحَمّد ثمَّ مُوسَى بن مُحَمَّد ثمَّ عَليّ بن مُوسَى كَاتب هَذِه النُّسْخَة ومكمل كتاب فلك الْأَدَب الْمُحِيط بحلى لِسَان الْعَرَب المحتوي على كتابي الْمشرق فِي حلى الْمشرق وَالْمغْرب فِي حلى الْمغرب فَيَكْفِي الأندلس فِي هَذَا الشان تصنيف هَذَا الْكتاب بَين سِتَّة اشخاص فِي 115 سنة آخرهَا سنة 645 وَقد احتوى على جَمِيع مَا يذاكر بِهِ ويحاضر بحلاه من فنون الْأَدَب المختارة على جهد الطَّاقَة فِي شَرق وَغرب على النَّوْع الَّذِي هُوَ مَذْكُور فِي غير هَذَا الْموضع وَمن اغفلت التَّنْبِيه على عصره وَغير ذَلِك من المصنفين المتقدمي الذّكر فيطلب الملتمس مِنْهُم فِي مَكَانَهُ الْمَنْسُوب اليه كَابْن بسام فِي شنترين وَالْفَتْح فِي اشبيلية وَابْن الامام فِي استجة والحجاري فِي وَادي الْحِجَارَة
وَأما مَا جَاءَ منثورا من فنون الْأَدَب فكتاب سراج الْأَدَب لأبي عبد الله ابْن أبي الْخِصَال الشقوري رَئِيس كتاب الأندلس صنفه على
অন্যান্যরা যারা তাদের যুগের পূর্বে ছিলেন এবং আবু আমর ইবনুল ইমাম রচিত 'সিমতুজ জুমান ওয়া সাকতুল মারজান' গ্রন্থ। উল্লিখিত দুই কিতাবের পর তিনি সেই সব গুণীজনদের কথা উল্লেখ করেছেন যাদের হকের ব্যাপারে অবহেলা করা হয়েছিল। তিনি ষষ্ঠ শতাব্দীর অবশিষ্ট সময়ে যাদের দেখা পেয়েছিলেন তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং এর ওপর একটি পরিশিষ্ট যোগ করেছেন। যদিও আবু বাহর সাফওয়ান ইবনে ইদ্রিস আল-মুরসি রচিত 'জাদুল মুসাফির' নামক পরিশিষ্টটি সংক্ষিপ্ত, তবুও সেখানে তিনি সপ্তম শতাব্দী পাওয়া একদল ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন। এরপর রয়েছে আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে ইব্রাহিম আল-হিজ্জারি রচিত 'আল-মুসহিব ফি ফাদায়িলিল মাগরিব' নামক গ্রন্থটি। এটি তিনি 'দাখিরা' ও 'কালায়িদ' গ্রন্থের পর আন্দালুসের সূচনালগ্ন থেকে তার সময় পর্যন্ত সময়কাল নিয়ে রচনা করেছেন। এই গ্রন্থে তিনি পূর্বোক্ত দুই গ্রন্থের উদ্দেশ্য ছাড়িয়ে বিভিন্ন দেশ ও তাদের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য বর্ণনায় মনোনিবেশ করেছেন এবং ইতিহাসের সাথে সাহিত্যের বৈচিত্র্যকে এমনভাবে মিশ্রিত করেছেন যা অন্য স্থানে বর্ণিত হয়েছে। আন্দালুসে তার এই কিতাবের মতো আর কোনো কিতাব রচিত হয়নি। এ কারণেই এর সংকলক আব্দুল মালিক ইবনে সাঈদ এটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং এর ওপর পরিশিষ্ট লিখেছেন। অতঃপর তার দুই পুত্র আহমদ ও মুহাম্মদ, তারপর মুসা ইবনে মুহাম্মদ, এরপর এই পাণ্ডুলিপির লেখক আলী ইবনে মুসা এর ওপর পরিশিষ্ট লিখেছেন। তিনি 'ফালকুল আদাব আল-মুহিত বি-হুলি লিসানিল আরব' গ্রন্থের পূর্ণতাদানকারী, যা 'কিতাবুল মাশরিক ফি হুলিল মাশরিক' এবং 'কিতাবুল মাগরিব ফি হুলিল মাগরিব' গ্রন্থদ্বয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে। আন্দালুসের জন্য এ বিষয়ে এই গ্রন্থটিই যথেষ্ট যা ছয়জন ব্যক্তি মিলে ১১৫ বছর ধরে সংকলন করেছেন এবং যার সমাপ্তি ঘটেছে ৬৪৫ হিজরি সনে। এটি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সাহিত্যের এমন সব বাছাইকৃত বিষয়বস্তু ও অলঙ্কার অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে ধারণ করেছে যা আলোচনার মজলিসে উপস্থাপনের যোগ্য এবং যা অন্য স্থানে বর্ণিত হয়েছে। আর যাদের সময়কাল বা অন্যান্য তথ্য উল্লেখ করতে আমি ভুলে গিয়েছি, অনুসন্ধিৎসু ব্যক্তি তাদের সংশ্লিষ্ট স্থানে খুঁজে পাবেন; যেমন ইবনে বাসসামকে শান্তারিন-এ, আল-ফাতহকে ইশবিলিয়াহ-তে, ইবনুল ইমামকে ইস্তিযাহ-তে এবং আল-হিজ্জারিকে ওয়াদি আল-হিজারাহ-তে।
আর সাহিত্যের বিভিন্ন শাখা থেকে যা গদ্য আকারে এসেছে, তার মধ্যে রয়েছে আন্দালুসের প্রধান লেখক আবু আব্দুল্লাহ ইবনে আবিল খিসাল আশ-শাকুরি রচিত 'সিরাজুল আদাব' গ্রন্থটি। এটি তিনি সংকলন করেছেন...
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল আন্দালুস ওয়া আহলুহা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
منزع كتاب النَّوَادِر لأبي على وزهر الاداب للحصري وَكتاب وَاجِب الادب لوالدي مُوسَى بن مُحَمَّد بن سعيد واسْمه يُغني عَن المُرَاد بِهِ وَكتاب اللآلىء لأبي عبيد الْبكْرِيّ على كتاب الامالي لأبي عَليّ الْبَغْدَادِيّ مُفِيد فِي الادب وَكَذَلِكَ كتاب الاقتضاب فِي شرح أدب الْكتاب لأبي مُحَمَّد ابْن السَّيِّد البطليوسي وَأما شرح سقط الزند لَهُ فَهُوَ الْغَايَة وَيَكْفِي ذكره عِنْد ارباب هَذَا الشان وثناؤهم عَلَيْهِ وشروح أبي الْحجَّاج الاعلم لشعر المتنبي والحماسة وَغير ذَلِك مَشْهُورَة
وَأما النَّحْو فلأهل الأندلس من الشُّرُوح على الْجمل مَا يطول ذكره فَمِنْهَا شرح ابْن خروف وَمِنْهَا شرح الرندي وَمِنْهَا شرح شَيخنَا أبي الْحسن بن عُصْفُور الاشبيلي واليه انْتَهَت عُلُوم النَّحْو وَعَلِيهِ الاحالة الان من الْمشرق وَالْمغْرب وَقد اتيت لَهُ من افريقية بِكِتَاب المقرب فِي النَّحْو فَتلقى بِالْيَمِينِ من كل جِهَة وطار بجناح الِاغْتِبَاط ولشيخنا أبي عَليّ الشلوبين كتاب التوطئة على الجزولية وَهُوَ مَشْهُور وَلابْن السَّيِّد وَابْن الطراوة والسهيلي من التقييدات فِي النَّحْو مَا هُوَ مَشْهُور عِنْد اصحاب هَذَا الشان مُعْتَمد عَلَيْهِ وَلأبي الْحسن بن خروف شرح وشهور على كتاب سِيبَوَيْهٍ
وَأما علم الجغرافيا فَيَكْفِي فِي ذَلِك كتاب المسالك والممالك لأبي عبيد الْبكْرِيّ الأونبي وَكتاب مُعْجم مَا استعجم من الْبِقَاع والاماكن وَفِي كتاب المسهب للحجاري فِي هَذَا الشان وتذييلنا عَلَيْهِ فِي هَذَا الْكتاب الْجَامِع مَا جمع زبد الْأَوَّلين والآخرين
وَأما المويسيقى فكتاب أبي بكر بن باجة الغرناطي فِي ذَلِك فِيهِ كِفَايَة وَهُوَ فِي الْمغرب بِمَنْزِلَة أبي نصر الفارأبي بالمشرق
আবু আলীর 'কিতাব আল-নাওয়াদির', হুসারির 'যাহরুল আদাব', আমার পিতা মুসা ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদের 'কিতাব ওয়াজিবুল আদাব'—যার নামই এর মূল উদ্দেশ্য প্রকাশের জন্য যথেষ্ট—এবং আবু আলী আল-বাগদাদির 'কিতাব আল-আমালি'-এর ওপর আবু উবায়দ আল-বাকরির 'কিতাব আল-লাআলি' সাহিত্যশাস্ত্রে অত্যন্ত উপকারী। একইভাবে আবু মুহাম্মদ ইবনুস সাইয়িদ আল-বাতালইউসির 'আল-ইকতিদাব ফি শারহি আদাবিল কিতাব' গ্রন্থটিও উল্লেখযোগ্য। আর 'সাকতুয যান্দ'-এর ওপর তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থটি তো চরম উৎকর্ষের পরিচায়ক; এ শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট এর উল্লেখ এবং এর ওপর তাঁদের প্রশংসাই যথেষ্ট। এছাড়া মুতানাব্বির কবিতা এবং হামাসার ওপর আবু আল-হাজ্জাজ আল-আলামের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ এবং অন্যান্য কাজগুলো সুপ্রসিদ্ধ।
আর ব্যাকরণ শাস্ত্রের কথা বললে, 'আল-জুমাল'-এর ওপর আন্দালুসীয় পণ্ডিতদের এত অধিক ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে যা বর্ণনা করা দীর্ঘ সাপেক্ষ। এর মধ্যে ইবনে খারুফের ব্যাখ্যা, রুনন্দির ব্যাখ্যা এবং আমাদের শাইখ আবুল হাসান ইবনে উসফুর আল-ইশবিলির ব্যাখ্যা উল্লেখযোগ্য; তাঁর কাছেই ব্যাকরণ শাস্ত্রের জ্ঞানের পরিসমাপ্তি ঘটেছে এবং বর্তমানে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের পণ্ডিতগণ তাঁর ওপরেই নির্ভর করেন। আমি আফ্রিকা থেকে তাঁর জন্য ব্যাকরণ শাস্ত্রের 'আল-মুকাররাব' গ্রন্থটি নিয়ে এসেছিলাম, যা সব মহলে অত্যন্ত সমাদরের সাথে গৃহীত হয়েছিল এবং দারুণভাবে সমাদৃত হয়েছিল। আমাদের শাইখ আবু আলী আল-শালুবিনের 'আল-জাযুলিয়্যাহ'-এর ওপর 'আত-তাওতিয়াহ' গ্রন্থটি সুপ্রসিদ্ধ। ইবনুস সাইয়িদ, ইবনুত তরাওয়াহ এবং সুহাইলির ব্যাকরণ শাস্ত্রের টীকাগুলো এই শাস্ত্রের অনুসারীদের নিকট প্রসিদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য। এছাড়া সিবওয়াইহ-এর কিতাবের ওপর আবু আল-হাসান ইবনে খারুফের একটি প্রসিদ্ধ ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে।
আর ভূগোল শাস্ত্রের ক্ষেত্রে আবু উবায়দ আল-বাকরি আল-আওনাবির 'কিতাব আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক' এবং বিভিন্ন স্থান ও জনপদ বিষয়ক 'মুজাম মা ইস্তাজাম' গ্রন্থটিই যথেষ্ট। এছাড়া এই বিষয়ে হিজারির 'কিতাব আল-মুসহিব' রয়েছে, আর এই সংকলিত গ্রন্থে সেটির ওপর আমাদের সংযোজিত পরিশিষ্টে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের সারবস্তু একত্রিত করা হয়েছে।
আর সঙ্গীত শাস্ত্রের বিষয়ে আবু বকর ইবনে বাজ্জাহ আল-গারনাতির গ্রন্থটিই যথেষ্ট; আর তিনি মাগরিবে (পাশ্চাত্যে) তেমনি মর্যাদাবান যেমনটি প্রাচ্যে আবু নাসর আল-ফারাবি।
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল আন্দালুস ওয়া আহলুহা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
واليه تنْسب الألحان المطربة بالأندلس الَّتِي عَلَيْهَا الإعتماد وليحيى الخدج المرسي كتاب الأغاني الأندلسية على منزع الأغاني لأبي الْفرج وَهُوَ مِمَّن أدْرك الْمِائَة السَّابِعَة
وَأما الطِّبّ فَالْمَشْهُور بايدي النَّاس الْآن فِي الْمغرب وَقد سَار أَيْضا فِي الْمشرق لنبله كتاب التَّيْسِير لعبد الْملك بن أبي الْعَلَاء بن زهر وَله كتاب الأغذية أَيْضا مَشْهُور مغتبط بِهِ فِي الْمغرب والمشرق وَلأبي الْعَبَّاس ابْن الرومية الإشبيلي من عُلَمَاء عصرنا بِهَذَا الشَّأْن كتاب فِي الْأَدْوِيَة المفردة وَقد جمع ابو مُحَمَّد المالقي السَّاكِن الْآن بقاهرة مصر كتابا فِي هَذَا الشَّأْن حشر عَلَيْهِ مَا سمع بِهِ فَقدر عَلَيْهِ من تصانيف الْأَدْوِيَة المفردة ككتاب الغافقي وَكتاب الزهرأوي وَكتاب الشريف الإدريسي الصّقليّ وَغَيرهَا وَضَبطه على حُرُوف المعجم وَهُوَ النِّهَايَة فِي مقْصده
وَأما الفلسفة فإمامها فِي عصرنا ابو الْوَلِيد بن رشد الْقُرْطُبِيّ وَله فِيهَا تصانيف جَحدهَا لما راى انحراف مَنْصُور بني عبد الْمُؤمن عَن هَذَا الْعلم وسجنه بِسَبَبِهَا وَكَذَلِكَ ابْن حبيب الَّذِي قَتله المامون بن الْمَنْصُور الْمَذْكُور على هَذَا الْعلم باشبيلية وَهُوَ علم ممقوت بالأندلس لَا يَسْتَطِيع صَاحبه اظهاره فَلذَلِك تخفى تصانيفه
وَأما التنجيم فلابن زيد الأسقف الْقُرْطُبِيّ فِيهِ تصانيف وَكَانَ مُخْتَصًّا بالمستنصر بن النَّاصِر المرواني وَله الف كتاب تَفْصِيل الْأَزْمَان ومصالح الْأَبدَان وَفِيه من ذكر منَازِل الْقَمَر وَمَا يتَعَلَّق بذلك مَا يستحسن مقْصده وتقريبه وَكَانَ مطرف الإشبيلي فِي عصرنا قد اشْتغل بالتصنيف فِي هَذَا الشَّأْن إِلَّا ان أهل بَلَده كَانُوا ينسبونه إِلَى الزندقة بِسَبَب اعْتِكَافه على هَذَا الشَّأْن فَكَانَ لَا يظْهر شَيْئا مِمَّا يصنف
এবং তাঁর প্রতিই আন্দালুসের সেই সকল চিত্তাকর্ষক সুরের সম্বন্ধ করা হয়, যার ওপর নির্ভর করা হয়। আর ইয়াহইয়া আল-খাদাজ আল-মুরসির ‘কিতাবুল আগানি আল-আন্দালুসিয়া’ নামক গ্রন্থটি রয়েছে, যা আবুল ফারাজের ‘কিতাবুল আগানি’র আদলে রচিত। তিনি সপ্তম শতকের সমসাময়িক ছিলেন।
আর চিকিৎসা শাস্ত্রের ক্ষেত্রে বর্তমানে মাগরেব অঞ্চলে (পশ্চিমে) মানুষের নিকট প্রসিদ্ধ এবং এর শ্রেষ্ঠত্বের কারণে মাশরিকেও (পূর্বে) প্রসার লাভ করেছে এমন গ্রন্থটি হলো আবদুল মালিক ইবনে আবি আল-আলা ইবনে যুহরের ‘কিতাবুত তায়সির’। তাঁর ‘কিতাবুল আগদিয়া’ নামক আরও একটি গ্রন্থ রয়েছে, যা মাগরেব ও মাশরিকে অত্যন্ত প্রসিদ্ধ ও সমাদৃত। আমাদের যুগের এই বিষয়ের অন্যতম পন্ডিত আবুল আব্বাস ইবনুর রুমিয়্যাহ আল-ইশবিলির একক ঔষধের (সিম্পল ড্রাগস) ওপর একটি কিতাব রয়েছে। বর্তমানে মিশরের কায়রোতে বসবাসরত আবু মুহাম্মদ আল-মালাকি এই বিষয়ে একটি কিতাব সংকলন করেছেন, যাতে তিনি একক ঔষধের ওপর যা কিছু শুনেছেন বা আল-গাফেকি, আজ-জাহরাবি, আশ-শরিফ আল-ইদ্রিসি আস-সিকিল্লি প্রমুখের রচিত গ্রন্থাবলিতে যা পেয়েছেন, তা একত্রিত করেছেন। তিনি এটিকে অভিধানের বর্ণানুক্রমিক বিন্যাসে সাজিয়েছেন এবং এটি নিজ লক্ষ্যে এক চূড়ান্ত সৃষ্টি।
আর দর্শনের ক্ষেত্রে আমাদের যুগে এর ইমাম হলেন আবুল ওয়ালিদ ইবনে রুশদ আল-কুরতুবি। এই বিষয়ে তাঁর বেশ কিছু রচনা রয়েছে, যা তিনি অস্বীকার করেছিলেন যখন তিনি এই বিদ্যার প্রতি বনু আবদিল মুমিনের মানসুরের বিমুখতা লক্ষ্য করলেন; আর এ কারণেই তাঁকে কারারুদ্ধ করা হয়েছিল। অনুরূপভাবে ইবনে হাবিব, যাকে উল্লেখিত মানসুরের পুত্র আল-মামুন এই বিদ্যার কারণেই ইশবিলিয়ায় হত্যা করেছিলেন। আন্দালুসে এটি একটি ঘৃণিত বিদ্যা, এর ধারক তা প্রকাশ করতে সক্ষম হয় না, ফলে তার রচনাগুলো গোপন রাখা হয়।
আর জ্যোতিষশাস্ত্রের ক্ষেত্রে ইবনে যায়েদ আল-উসকুফ আল-কুরতুবির কিছু রচনা রয়েছে। তিনি মারওয়ানি বংশের আন-নাসিরের পুত্র আল-মুস্তানসিরের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তিনি ‘তাফসিরুল আজমান ওয়া মাসালিহুল আবদান’ নামক গ্রন্থ রচনা করেন। এতে চন্দ্রের মঞ্জিলসমূহ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এমন কিছু উল্লেখ রয়েছে যার লক্ষ্য ও উপস্থাপনা প্রশংসনীয়। আমাদের যুগে মুতাররিফ আল-ইশবিলি এই বিষয়ে রচনার কাজে আত্মনিয়োগ করেছিলেন, কিন্তু তাঁর শহরবাসী এই বিদ্যায় তাঁর মগ্ন থাকার কারণে তাঁকে যিন্দিক বা ধর্মদ্রোহী বলে অপবাদ দিত। ফলে তিনি যা কিছু রচনা করতেন তার কিছুই প্রকাশ করতেন না।
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল আন্দালুস ওয়া আহলুহা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ثمَّ قَالَ ابْن سعيد أَخْبرنِي وَالِدي قَالَ كنت يَوْمًا فِي مجْلِس صَاحب سبتة أبي يحيى بن أبي زَكَرِيَّا صهر نَاصِر بني عبد الْمُؤمن فَجرى بَين أبي الْوَلِيد الشقندي وَبَين أبي يحيى بن الْمعلم الطنجي نزاع فِي التَّفْضِيل بَين البرين فَقَالَ الشقندي لَوْلَا الأندلس لم يذكر بر العدوة وَلَا سَارَتْ عَنهُ فَضِيلَة وَلَوْلَا التوقير للمجلس لَقلت مَا تعلم فَقَالَ الْأَمِير ابو يحيى اتريد ان تَقول كَون أهل برنا عربا وَأهل بركم بربرا فَقَالَ حاشى لله فَقَالَ الْأَمِير وَالله مَا اردت غير هَذَا فضهر فِي وَجه أَنه اراد ذَلِك فَقَالَ ابْن الْمعلم اتقول هَذَا وَمَا الْملك وَالْفضل إِلَّا من بر العدوة فَقَالَ الْأَمِير الرَّأْي عِنْدِي ان يعْمل كل وَأحد مِنْكُمَا رِسَالَة فِي تَفْضِيل بره فَالْكَلَام هُنَا يطول ويمر ضيَاعًا وأرجوا إِذا أخليتما لَهُ فكركما ان يصدر عنكما مَا يحسن تخليده ففعلا ذَلِك
فَكَانَت رِسَالَة الشقندي
অতঃপর ইবনে সাঈদ বললেন, আমার পিতা আমাকে অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: আমি একদিন বনু আব্দুল মুমিনের শাসক নাসিরের জামাতা তথা সেউতার অধিপতি আবু ইয়াহইয়া ইবনে আবি যাকারিয়ার মজলিসে উপস্থিত ছিলাম। তখন আবুল ওয়ালিদ আশ-শাকুন্দি এবং আবু ইয়াহইয়া ইবনুল মুআল্লিম আত-তানজির মধ্যে দুই ভূখণ্ডের শ্রেষ্ঠত্ব নিরূপণ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলো। অতঃপর শাকুন্দি বললেন: "যদি আন্দালুস না থাকতো, তবে ওপারের ভূখণ্ডের কোনো উল্লেখ থাকতো না এবং সেখান থেকে কোনো মর্যাদা বা ফযীলতও প্রসারিত হতো না। এই মজলিসের প্রতি সম্মানবোধ না থাকলে আমি এমন কিছু বলতাম যা আপনি ভালো করেই জানেন।" তখন আমির আবু ইয়াহইয়া বললেন: "তুমি কি বলতে চাচ্ছ যে আমাদের ভূখণ্ডের অধিবাসীরা আরব আর তোমাদের ভূখণ্ডের অধিবাসীরা বারবার?" তিনি বললেন: "আল্লাহর কাছে পানাহ চাই!" আমির বললেন: "আল্লাহর কসম, তুমি এটিই উদ্দেশ্য করেছিলে।" এবং শাকুন্দির চেহারা দেখেও স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল যে তিনি তা-ই বুঝাতে চেয়েছিলেন। তখন ইবনুল মুআল্লিম বললেন: "আপনি কি এমন কথা বলছেন, অথচ রাজত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব তো কেবল ওপারের ভূখণ্ড থেকেই এসেছে!" আমির বললেন: "আমার রায় হলো, আপনারা প্রত্যেকে নিজ নিজ ভূখণ্ডের শ্রেষ্ঠত্ব বিষয়ে একটি করে প্রবন্ধ রচনা করুন; কারণ এখানে মৌখিক বিতর্ক কেবল দীর্ঘই হবে এবং তা নিষ্ফলভাবে অতিবাহিত হবে। আমি আশা করি, আপনারা যখন এ বিষয়ে আপনাদের চিন্তা নিবিষ্ট করবেন, তখন আপনাদের নিকট হতে এমন কিছু প্রকাশিত হবে যা চিরস্মরণীয় করে রাখার উপযুক্ত হবে।" অতঃপর তারা তা-ই করলেন।
আর এটিই ছিল শাকুন্দির সেই প্রবন্ধ।
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল আন্দালুস ওয়া আহলুহা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
رِسَالَة اسماعيل بن مُحَمَّد الشقندي فِي فضل الأندلس الْحَمد لله الَّذِي جعل لمن يفخر بالأندلس ان يتَكَلَّم ملْء فِيهِ ويطنب مَا شَاءَ فَلَا يجد من يعْتَرض عَلَيْهِ وَلَا من يثنيه إِذْ لَا يُقَال للنهار يَا مظلم وَلَا لوجه النَّعيم يَا قَبِيح
وَقد وجدت مَكَان القَوْل ذَا سَعَة فَإِن وجدت لِسَانا قَائِلا فَقل
أَحْمَده على أَن جعلني مِمَّن أنشأته وحباني بِأَن كنت مِمَّن أظهرته فامتد فِي الْفَخر باعي وأعانني على الْفضل كرم طباعي وأصلي على سيدنَا مُحَمَّد نبيه الْكَرِيم وعَلى آله وَصَحبه الأكرمين وَأسلم تَسْلِيمًا
أما بعد فَإِنَّهُ حرك مني سَاكِنا وملأ مني فَارغًا فَخرجت عَن سجيتي فِي الإغضاء مكْرها إِلَى الحمية والإباء مُنَازع فِي فضل الأندلس أَرَادَ أَن يخرق الاجماع وَيَأْتِي بِمَا لم تقبله النواظر والأسماع إِذْ من رأى وَمن سمع لَا يجوز عِنْده ذَلِك وَلَا يضله من تاه فِي تِلْكَ المسالك رام أَن يفضل بر العدوة على بر الأندلس فرام أَن يفضل على الْيَمين الْيَسَار وَيَقُول اللَّيْل أَضْوَأ من النَّهَار فيا عجبا كَيفَ قَابل العوالي بالزجاج وصادم الصفاة بالزجاج فيا من نفخ فِي غير ضرم ورام صيد البزاة بالرخم كَيفَ تتكثر بِمَا جعله الله قَلِيلا وتتعزز بِمَا حكم الله أَن يكون ذليلا مَا هَذِه المباهتة الَّتِي لَا تجوز وَكَيف
আন্দালুসের শ্রেষ্ঠত্ব বিষয়ে ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ আল-শাকুন্দির পত্র সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আন্দালুস নিয়ে গর্বকারীর জন্য পূর্ণ মুখে কথা বলা এবং ইচ্ছামতো বিস্তারিত বর্ণনা করার সুযোগ করে দিয়েছেন; ফলে সে এমন কাউকে পাবে না যে তার বিরোধিতা করবে কিংবা তাকে নিবৃত্ত করবে। কেননা দিনকে ‘হে অন্ধকার’ বলা হয় না এবং নিআমতের উজ্জ্বল অবয়বকে ‘হে কুৎসিত’ বলা হয় না।
আমি বক্তব্যের প্রশস্ত ক্ষেত্র পেয়েছি; সুতরাং যদি কথা বলার মতো কোনো জিহ্বা পাও, তবে বলো।
আমি তাঁর প্রশংসা করছি একারণে যে, তিনি আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যাদের তিনি সেখানে লালন-পালন করেছেন এবং আমাকে এই অনুগ্রহ দান করেছেন যে আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত যাদের তিনি সেখানে প্রকাশ করেছেন। ফলে গর্বে আমার সামর্থ্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আমার উন্নত স্বভাব আমাকে শ্রেষ্ঠত্বের পথে সহায়তা করেছে। আমি আমাদের সরদার ও তাঁর সম্মানিত নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও পরম সম্মানিত সাহাবীদের প্রতি দরুদ ও যথাযথ সালাম পেশ করছি।
অতঃপর, একটি বিষয় আমার মধ্যকার স্থিরতাকে আন্দোলিত করেছে এবং আমার শূন্যতাকে পূর্ণ করেছে; ফলে আমি উপেক্ষা করার স্বাভাবিক প্রবৃত্তি থেকে বাধ্য হয়ে আত্মমর্যাদা ও অস্বীকৃতির দিকে ধাবিত হয়েছি। আন্দালুসের শ্রেষ্ঠত্ব বিষয়ে জনৈক বিবাদী ইজমা বা ঐকমত্য ভঙ্গ করতে চেয়েছে এবং এমন কিছু নিয়ে এসেছে যা চোখ ও কান গ্রহণ করে না। কারণ, যে দেখেছে এবং যে শুনেছে তার কাছে এটি বৈধ হওয়া সম্ভব নয়, আর যারা সেই পথে বিভ্রান্ত হয়েছে তারা তাকে পথভ্রষ্ট করতে পারবে না। সে আন্দালুসের ভূখণ্ডের ওপর অন্য তীরের ভূখণ্ডকে শ্রেষ্ঠত্ব দিতে চেয়েছে; ফলে সে যেন ডানের ওপর বামকে প্রাধান্য দিতে চেয়েছে এবং বলতে চেয়েছে যে রাত দিনের চেয়েও বেশি উজ্জ্বল। আশ্চর্যের বিষয়! সে কীভাবে কাঁচ দিয়ে বর্শার মোকাবিলা করল এবং কাঁচ দিয়ে শক্ত পাথরে আঘাত করল? হে সেই ব্যক্তি, যে আগুনহীন স্থানে ফুঁ দিচ্ছ এবং শকুন দিয়ে বাজপাখি শিকার করার সংকল্প করছ! আল্লাহ যা অল্প করেছেন তা দিয়ে তুমি কীভাবে নিজেকে সংখ্যাধিক্য দেখাতে চাইছ এবং আল্লাহ যাকে হীন করার ফয়সালা করেছেন তা দিয়ে তুমি কীভাবে সম্মানিত হতে চাইছ? এটি কেমন মিথ্যাচার যা কোনোভাবেই গ্রাহ্য নয় এবং কীভাবে...