(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ আলা কাবাইলির রুওয়াত - ত আবিয়ারী (পৃষ্ঠা: -)
الإنباه على قبائل الرواة - ت الإبياري   (ابن عبد البر)

القسم: الأنساب


الكتاب: الإنباه على قبائل الرواة

المؤلف: ابن عبد البر، أبو عمر يوسف بن عبد الله (368 - 463 هـ)

حققه وقدم له ووضع فهارسه: إبراهيم الأبياري [ت 1414 هـ]

الناشر: دار الكتاب العربي، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1405 هـ - 1985 م

عدد الصفحات: 140

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-ইনবাহ আলা কাবাইলির রুওয়াত - ইবইয়্যারীর সম্পাদনা   (ইবন আবদিল বার)

বিভাগ: বংশতত্ত্ব


বই: আল-ইনবাহ আলা কাবাইলির রুওয়াত

লেখক: ইবন আবদিল বার, আবু উমর ইউসুফ বিন আব্দুল্লাহ (৩৬৮ - ৪৬৩ হিজরি)

সম্পাদনা, ভূমিকা ও নির্ঘণ্ট প্রণয়ন: ইবরাহিম আল-ইবইয়্যারী [মৃত্যু ১৪১৪ হিজরি]

প্রকাশক: দারুল কিতাব আল-আরাবি, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৫ হিজরি - ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪০

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ আলা কাবাইলির রুওয়াত - ত আবিয়ারী (পৃষ্ঠা: ১১)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة المؤلف

قال الشيخ الإِمام أبو عُمر يوسف بن عبد الله بن محمد بن عبد البر النّمري، رحمه الله:

الحمد لله ذي القدرة والآلاء، والعظمة والكبرياء، فاطر الأرض والسماء، الذي خلقنا من نفس واحدة، وخلق منها زوجها وبَث منهما رجالا كثيرا ونساء، وجعلهم شعوباً وقبائل، وباين بينهم بالفضائل، وتعبَدهم بالأقوال والأعمال، ليبلوهم أيكفرون أم يشكرون، لا لحاجة إليهم، إن الله لغَني عن العالمين. وصلى الله على محمد خاتم النبيين، وعلى آله أجمعين.

أما بعد. فإني ذكرت في كتابي هذا أمهات القبائل التي رَوت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وقربت ذلك واختصرته وبيّنته، وجعلته دليلا على أصول الأنساب، ومدخلاً إلى كتابي في الصحابة، ليكون عوناً للناظرين فيه، ومنبهاً على ما يُحتاج إليه من معرفة الأنساب، فإنه عِلْمٌ لا يليق جهلُه بذوي الهمم والآداب، لما فيه من صلة الأرحام،
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

‌‌লেখকের ভূমিকা

শেখ ইমাম আবু উমর ইউসুফ বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল বার আন-নামারি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেন:

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি ক্ষমতা ও নেয়ামতসমূহের অধিকারী এবং মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বের মালিক; আসমান ও জমিনের স্রষ্টা; যিনি আমাদের এক সত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর থেকেই তাঁর জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁদের উভয় থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী; এবং তিনি তাদের বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছেন এবং তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের পার্থক্য দান করেছেন; আর তিনি কথা ও কাজের মাধ্যমে তাঁদের ইবাদত বা দাসত্বের নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তিনি তাদের পরীক্ষা করেন যে তারা অকৃতজ্ঞ হয় নাকি কৃতজ্ঞ হয়; এটি তাদের প্রতি কোনো মুখাপেক্ষিতা থেকে নয়, নিশ্চয়ই আল্লাহ সৃষ্টিজগত থেকে অমুখাপেক্ষী। এবং আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক নবীগণের সমাপ্তিকারী মুহাম্মদের ওপর এবং তাঁর সকল পরিবারের ওপর।

অতঃপর, নিশ্চয়ই আমি আমার এই কিতাবে সেই সব মূল গোত্রগুলোর কথা উল্লেখ করেছি যারা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। আমি বিষয়টিকে সহজবোধ্য ও সংক্ষেপ করেছি এবং তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছি। আর একে আমি বংশপরম্পরার মূলনীতির ওপর একটি দলীল হিসেবে এবং সাহাবীগণ সম্পর্কে আমার রচিত কিতাবের একটি প্রবেশদ্বার হিসেবে নির্ধারণ করেছি, যাতে এটি পাঠকদের জন্য সহায়ক হয় এবং বংশপরম্পরা বিষয়ক প্রয়োজনীয় জ্ঞানের ক্ষেত্রে সচেতনকারী হয়। কেননা এটি এমন এক বিদ্যা যা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও শিষ্টাচারসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য শোভনীয় নয়, যেহেতু এতে রয়েছে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষার বিষয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ আলা কাবাইলির রুওয়াত - ত আবিয়ারী (পৃষ্ঠা: ১২)
والوقوف على ما نَدب إليه النبي صلى الله عليه وسلم بقوله: تعلموا من أنسابكم ما تصلون به أرحامكم.

وروى أنس بن عياض، عن عبد الملك بن عيسى الثقفي، عن عبد الله بن يزيد، مولى المُنبعث، عن أبي هريرةِ، عن النبي صلى الله عليه وسلم، قال: تعلموا من أنسابكم ما تصلون به أرحامكم، فإن صلة الرحم محبة في الأهل، مثراة في المال، منسأة في الأجل.

وقال عمر بن الخطاب، رضي الله عنه: تعلموا أنسابكم تصلوا أرحامكم، ولا تكونوا كنَبط السواد إذا سُئل أحدهم: ممن أنت؟ قال: من قرية كذا، فوالله إنه ليكون بين الرجل وبين أخيه الشيء لو يَعلم الذي بينه وبينه من دِخلةٌ الرحم لَردَعه

ذلك عن انتهاكه. ولعمري ما أنصف القائل: إن عِلْم النسب عِلْم لا يَنفع، وجَهالة لا تضر، لأنه بيَّن نفعُه لما قدّمنا ذكره، ولما رُوي عن النبي، صلى الله عليه وسلم، أنه قال: كُفْرٌ بالله تبرُّؤ من نسب وإن دق، وكفر بالله آدعاء إلى نَسب لا يُعرف.

وروي عن أبي بكر الصديق، رضي الله عنه مثلُه.

وقال صلى الله عليه وسلم: من ادعى إلى غير أبيه، أو انتمى إلى غير مواليه، فعليه لعنة الله والملائكة والناس أجمعين، لا يقبل الله منه صَرفاً ولا عدلاً.

فلو كان لا منفعة له لمَا اشتغل العلماء به، فهذا أبو بكر الصديق رضي الله عنه كان اعلم الناس بالنسب، نسب قريش وسائر العرب، وكذلك جُبير بن مطعم، وابن عباس، وعقيل بن أبي طالب، كانوا مِن
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বাণীর মাধ্যমে যে বিষয়ের প্রতি উৎসাহিত করেছেন তা অবগত হওয়া: তোমরা তোমাদের বংশপরিচয় সম্পর্কে ততটুকু শেখো যা দিয়ে তোমরা তোমাদের রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করতে পারো।

আনাস বিন আইয়াদ, আব্দুল মালিক বিন ঈসা আস-সাকাফি থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন ইয়াজিদ থেকে, যিনি আল-মুনবাইসের আযাদকৃত দাস, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: তোমরা তোমাদের বংশপরিচয় সম্পর্কে ততটুকু শেখো যা দিয়ে তোমরা তোমাদের রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করতে পারো। কেননা আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা পরিবারের মধ্যে প্রীতি বৃদ্ধি করে, সম্পদে প্রাচুর্য আনে এবং আয়ু বৃদ্ধি করে।

উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: তোমরা তোমাদের বংশপরিচয় শেখো যাতে তোমরা আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করতে পারো। তোমরা সওয়াদ অঞ্চলের নবতীদের মতো হয়ো না, যাদের কাউকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়: "তুমি কার বংশের?" তখন সে বলে: "অমুক গ্রামের।" আল্লাহর কসম, কোনো ব্যক্তি ও তার ভাইয়ের মধ্যে এমন কিছু ঘটে থাকে, যা থেকে তাদের মধ্যকার রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তার নিবিড়তা সম্পর্কে অবগত থাকলে তা তাকে বিরত রাখত

সেটি তাকে তার মর্যাদা লঙ্ঘন করা থেকে বিরত রাখত। আমার জীবনের কসম, যে ব্যক্তি বলে: "বংশবিদ্যা এমন এক জ্ঞান যা কোনো উপকারে আসে না এবং এমন এক অজ্ঞতা যা কোনো ক্ষতি করে না," সে ইনসাফ করেনি। কারণ এর উপকারিতা আমাদের পূর্বোক্ত আলোচনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে, এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার কারণেও, তিনি বলেছেন: আল্লাহর সাথে কুফরি হলো নিজের বংশ অস্বীকার করা যদিও তা অতি সামান্য হয়, এবং আল্লাহর সাথে কুফরি হলো এমন বংশের দাবি করা যা কারো জানা নেই।

আবু বকর সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেছেন: যে ব্যক্তি তার পিতা ব্যতীত অন্য কাউকে পিতা বলে দাবি করে, অথবা তার প্রকৃত অভিভাবক ব্যতীত অন্য কারো দিকে নিজেকে সম্পর্কিত করে, তবে তার ওপর আল্লাহ, ফেরেশতাকুল এবং সকল মানুষের লানত। আল্লাহ তার কোনো ফরজ বা নফল ইবাদত কবুল করবেন না।

যদি এর কোনো উপকারিতা না থাকত, তবে উলামায়ে কেরাম এতে আত্মনিয়োগ করতেন না। এই যে আবু বকর সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু), তিনি কুরাইশ এবং সমগ্র আরবের বংশপরম্পরা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন। অনুরূপভাবে জুবাইর বিন মুতয়িম, ইবনে আব্বাস এবং আকিল বিন আবি তালিবও ছিলেন তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা...
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ আলা কাবাইলির রুওয়াত - ত আবিয়ারী (পৃষ্ঠা: ১৩)
أعلم بذلك. وهو عِلم العرب الذي كانوا به يتفاضلون، وإليه ينتسبون. وقد ذكر أبنُ وهب، عن مالك بن انَّس، أنه قال: كان أبن شهاب مِن أعلم الناس بالأنساب، وكان أخذ ذلك من عبد الله بن ثَعلبة بن صُغير العذري، وغيره، قال: فبينا هو يوماً جالس عند عبد الله بن ثعلبة يتعلّم منه الأنساب إذ سأله عن شيء من الفقه، فقال له: إِن كنت تريد هذا الشأن فعليك بهذا الشيخ، يعني سعيد بن المسيِّب.

قال: وسمعت مالكاً يقول: لم يكن مع أبن شهاب كتاب إلا كتاب فيه نَسب قومه، يعني قريشاً.

وقد روي عن النبي صلى الله عليه وسلم من الوجوه الصحاح ما يدل على عِلْمه بأنساب العرب، منها الحديث الذي قدمناه في هذا الباب، وغيره.

أخبرنا عبد الوهاب، ثنا قاسم، قال: نا أحمد بن زهير، قال: نا منصور بن أبي مزاحم، قال: نا أبو بكر بن عياش، عن أبي حصين، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس، في قوله تعالى: (وجَعلناكم شُعوبا وقبائل)، قال: الشعوب: البطون الجُماع، والقبائل الأفخاذ.

قال أحمد بن زهير: وأما محمد بن بكار، قال: نا أبو معشر، عن محمد بن كعب، في قوله تعالى: (وفَصيلته التي تؤْويه)، قال: قبيلته التي يُنسب إليها.

قال: وأنا منصور بن أبي مزاحم، ويحيى بن معين، قالا: ثنا
আমি এ সম্পর্কে জানি। আর এটিই ছিল আরবদের সেই জ্ঞান যার মাধ্যমে তারা একে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করত এবং এর দিকেই তারা নিজেদের সম্বন্ধ করত। ইবনে ওয়াহাব মালেক ইবনে আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: ইবনে শিহাব বংশবিদ্যা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী ছিলেন। তিনি এই জ্ঞান আব্দুল্লাহ ইবনে সা'লাবা ইবনে সুগাইর আল-উযরি এবং অন্যদের কাছ থেকে গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলেন: একদিন তিনি যখন আব্দুল্লাহ ইবনে সা'লাবার নিকট বসে বংশবিদ্যা শিখছিলেন, তখন তিনি তাকে ফিকহের কোনো একটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন তিনি তাকে বললেন: "তুমি যদি এই বিষয়টি অর্জন করতে চাও, তবে তোমার এই শাইখের কাছে যাওয়া উচিত", অর্থাৎ সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব।

তিনি বলেন: আমি মালেককে বলতে শুনেছি: ইবনে শিহাবের কাছে তাঁর নিজ কওম অর্থাৎ কুরাইশদের বংশতালিকা সংবলিত একটি কিতাব ছাড়া অন্য কোনো কিতাব ছিল না।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহিহ সূত্রে এমন অনেক বর্ণনা এসেছে যা আরবদের বংশবিদ্যা সম্পর্কে তাঁর জ্ঞানের প্রমাণ দেয়। এর মধ্যে সেই হাদিসটিও রয়েছে যা আমরা এই অধ্যায়ে আগে উল্লেখ করেছি এবং এ ছাড়া আরও বর্ণনা রয়েছে।

আব্দুল ওয়াহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, কাসিম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবনে জুহাইর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মানসুর ইবনে আবু মুজাহিম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর ইবনে আইয়াশ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু হাসিন থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেন: (আমি তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি), তিনি বলেন: 'শুউব' (জাতি) হলো মূল বংশধারা এবং 'কাবাইল' (গোত্র) হলো উপশাখা।

আহমদ ইবনে জুহাইর বলেন: মুহাম্মদ ইবনে বাক্কার আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মা'শার আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ ইবনে কাব থেকে মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেন: (এবং তার সেই নিকটাত্মীয়দের, যারা তাকে আশ্রয় দিত), তিনি বলেন: এর অর্থ হলো তার সেই গোত্র যার দিকে তাকে সম্বন্ধ করা হয়।

তিনি বলেন: মানসুর ইবনে আবু মুজাহিম এবং ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তারা উভয়ে বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন—
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ আলা কাবাইলির রুওয়াত - ত আবিয়ারী (পৃষ্ঠা: ১৪)
سفيان بن عيينة، عن ابن أبي نجيح، عن مجاهد، في قوله تعالى: (وإنه لَذِكْر لَك ولِقَوْمِك)، قال: يقال: ممن الرجل؟ فيقال: من العرب، فيقال: مِن أي العرب؟ فيقال: من قريش.

وأخبرنا عبد الوارث بن سفيان، قال: نا قاسم بن اصبغ، قال: نا محمد بن عبد السلام الخشني، قال: نا نصر بن علي الجهضمي، قال: نا الأصمعي، قال. نا يحيى بن طلحة، قال: جئت سعيد بن المسيب فسلّمت عليه، فرد عليّ، فقلت: علمني النسب، فقال: أنت تريد أن تُساب الناس، ثم قال لي: مَن أنت؟ فقلت: أنا يحيى بن طلحة، فضمني إليه وقال: إئت محمداً ابني، فإن عنده ما عندي، إنما هي شعوب وقبائل وبطون وعمائر وأفخاذ وفصائل. وقال أبو عمر: قال الخليل: العمارة أكبر من القبيلة. قال: والفصيلة: فخذ الرجل وقومه.

وقال المفسرون في قول الله عز وجل: (وفَصيلته التي تُؤْويه): عشيرته الأدنون.

وقال أهل النسب: الشعوب: الجماهير، والجراثيم التي تفرقت منها العرب، ثم تفرقت القبائل من الشعوب، ثم تفرقت العمائر من القبائل، ثم تفرقت البطون من العمائر، ثم تفرقت الأفخاذ من البطون، ثم تفرقت الفصائل من الأفخاذ، وليس دون الفصائل شيء.

فصيلة الرجل: رهطه الأدنى وبنو أبيه.

وقد قيل بعد الفصيلة: العشيرة، وليس بعد العشيرة شيء، فهي
সুফিয়ান বিন উয়াইনা, ইবনে আবি নাজিহ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই এটি আপনার এবং আপনার কওমের জন্য এক সম্মান" প্রসঙ্গে তিনি বলেন: জিজ্ঞেস করা হবে: এই ব্যক্তিটি কার অন্তর্ভুক্ত? বলা হবে: আরবদের অন্তর্ভুক্ত। জিজ্ঞেস করা হবে: কোন আরবদের অন্তর্ভুক্ত? বলা হবে: কুরাইশদের অন্তর্ভুক্ত।

আব্দুল ওয়ারিস বিন সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: কাসিম বিন আসবাগ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন আব্দুল সালাম আল-খুশানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নাসর বিন আলী আল-জাহদামি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-আসমাঈ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন তালহা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সাঈদ বিন আল-মুসাইয়্যিবের নিকট আসলাম এবং তাকে সালাম দিলাম। তিনি আমার সালামের উত্তর দিলেন। আমি বললাম: আমাকে বংশবিদ্যা শিক্ষা দিন। তিনি বললেন: তুমি কি মানুষের সাথে বংশমর্যাদা নিয়ে প্রতিযোগিতা করতে চাও? অতঃপর তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন: তুমি কে? আমি বললাম: আমি ইয়াহইয়া বিন তালহা। তখন তিনি আমাকে তার সাথে জড়িয়ে ধরলেন এবং বললেন: আমার পুত্র মুহাম্মদের কাছে যাও, কারণ তার কাছেও তা-ই আছে যা আমার কাছে আছে; এগুলি মূলত শুউব, কাবাইল, বুতুন, আমাইর, আফখাজ এবং ফাসাইল। আবু উমর বলেন: আল-খলিল বলেছেন: 'ইমারা' হলো 'কাবিলা'র চেয়ে বড়। তিনি বলেন: 'ফাসিলা' হলো ব্যক্তির নিকটতম বংশীয় গোষ্ঠী ও তার কওম।

মহান আল্লাহর বাণী: "এবং তার সেই নিকটাত্মীয় গোষ্ঠী যারা তাকে আশ্রয় দান করত" এর ব্যাখ্যায় মুফাসসিরগণ বলেছেন: তার অতি নিকটবর্তী আত্মীয়স্বজন।

বংশবিদগণ বলেন: 'শুউব' হলো জনসমষ্টি এবং সেই মূল ভিত্তি যা থেকে আরবরা বিভক্ত হয়েছে। অতঃপর 'শুউব' থেকে 'কাবাইল' (গোত্রসমূহ) পৃথক হয়েছে, 'কাবাইল' থেকে 'আমাইর' পৃথক হয়েছে, 'আমাইর' থেকে 'বুতুন' পৃথক হয়েছে, 'বুতুন' থেকে 'আফখাজ' পৃথক হয়েছে এবং 'আফখাজ' থেকে 'ফাসাইল' পৃথক হয়েছে। আর 'ফাসিলা'র নিচে আর কিছু নেই।

ব্যক্তির 'ফাসিলা' হলো তার অতি নিকটবর্তী আত্মীয় এবং তার পিতৃবংশীয়রা।

আর 'ফাসিলা'র পরে 'আশিরা'র কথাও বলা হয়েছে, এবং 'আশিরা'র পরে আর কিছু নেই, এটি হলো
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ আলা কাবাইলির রুওয়াত - ত আবিয়ারী (পৃষ্ঠা: ১৫)
عندهم شعوب وقبائل، ثم ما دون القبائل عمائر وبطون، ثم ما دون البطون أفخاذ وقبائل.

وفي قول الله تعالى: (شُعُوباً وقَبَائِل لتعارَفُوا) دليل واضح على تعلم الأنساب، وبالله تعالى التوفيق.

قال أبو عمر، رضي الله عنه: هذا كتاب: أخذته من أمهات كتب العلم بالنسب وأيام العرب، بعد مطالعتي لها ووقوفي على أغراضها، فمن ذلك: كتاب أبي بكر محمد بن إسحاق، وكتاب أبي المنذر هشام بن محمد بن السائب الكلبي، وكتاب أبي عبيدة معمر بن المثنى، وكتاب محمد بن سليمان، وكتاب محمد بن حبيب، وكتاب أبي عبد الله أحمد بن محمد بن عبيد العدويّ في نسب قريش، وكتاب الزبير بن بكار في نسب قريش، وكتاب عمه مصعب بن عبد الله الزبيري في ذلك، وكتاب علي بن كيسان الكوفي في أنساب العرب قاطبة، وكتاب علي بن عبد العزيز الجرجاني، وكتاب عبد الملك بن حبيب الأندلسي، إلى فِقَرٍ قيّدتها من الحديث والآثار، ونوادر اقتطفتها من كتب أهل الأخبار وأخذت من ذلك كلّه عُيونه، وما يجب الوقوف عليه، ويجمل بأهل الأدب والكمال معرفته والانتساب إليه.

والله المعين، لا شريك له، وهو حسبي ونعم الوكيل.

قال محمد بن عَبدة بن سليمان النسّابة في كتابه: أجمع النسابون جميعاً، العدنانية والقحطانية والأعاجم، على أن إبراهيم خليل الله، عليه السلام، من ولد عابر بن شالح بن أرفخشذ بن سام بن نوح، عليه السلام.
তাদের নিকট রয়েছে জাতি ও গোত্র, অতঃপর গোত্রের নিচে রয়েছে বৃহৎ বংশ ও শাখা-পরিবার, এবং শাখা-পরিবারের নিচে রয়েছে উপশাখা ও ছোট গোত্র।

আর মহান আল্লাহর বাণী: (যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পারো সেজন্য আমি তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি) — এতে বংশবিদ্যা শিক্ষার সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে, আর আল্লাহর মাধ্যমেই সকল সামর্থ্য অর্জিত হয়।

আবু উমর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেন: এটি এমন একটি গ্রন্থ যা আমি বংশবিদ্যা ও আরবদের ইতিহাস সম্পর্কিত মৌলিক শাস্ত্রীয় গ্রন্থসমূহ থেকে সংগ্রহ করেছি, সেগুলোর ওপর গভীর পর্যবেক্ষণ ও সেগুলোর উদ্দেশ্য অনুধাবনের পর। তার মধ্যে রয়েছে: আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইসহাকের কিতাব, আবু আল-মুনযির হিশাম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আস-সাইব আল-কালবীর কিতাব, আবু উবাইদাহ মা'মার ইবনুল মুসান্নার কিতাব, মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমানের কিতাব, মুহাম্মদ ইবনে হাবিবের কিতাব, কুরাইশদের বংশপরিচয় বিষয়ে আবু আব্দুল্লাহ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ আল-আদাবীর কিতাব, কুরাইশদের বংশপরিচয় বিষয়ে যুবাইর ইবনে বাক্কারের কিতাব, সেই একই বিষয়ে তাঁর চাচা মুসআব ইবনে আব্দুল্লাহ আয-যুবাইরীর কিতাব, সমগ্র আরবদের বংশপরিচয় বিষয়ে আলী ইবনে কায়সান আল-কুফীর কিতাব, আলী ইবনে আব্দুল আজিজ আল-জুরজানীর কিতাব, আব্দুল মালিক ইবনে হাবিব আল-আন্দালুসির কিতাব; এর সাথে আমি হাদিস ও আছার থেকে কিছু উদ্ধৃতি এবং ইতিহাসবিদদের কিতাব থেকে চয়ন করা কিছু দুর্লভ তথ্যাবলি এতে লিপিবদ্ধ করেছি। আমি এসবের সারবস্তু এবং যা সম্পর্কে অবগত হওয়া আবশ্যক এবং যা শিষ্টাচার ও পূর্ণতার অধিকারীদের জন্য জানা ও যার সাথে সম্পৃক্ত হওয়া শোভনীয়, তা গ্রহণ করেছি।

আল্লাহই সাহায্যকারী, তাঁর কোনো শরিক নেই, আর তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

বংশবিদ মুহাম্মদ ইবনে আবদাহ ইবনে সুলাইমান তাঁর কিতাবে বলেন: আদনানি, কাহতানি এবং অনারব নির্বিশেষে সকল বংশবিদগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, আল্লাহর বন্ধু ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) হলেন আবির ইবনে শালিহ ইবনে আরফাখশায ইবনে সাম ইবনে নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধর।
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ আলা কাবাইলির রুওয়াত - ত আবিয়ারী (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌عدنان

قال محمد بن عبدة: وأجمعوا أن عدنان من ولد إسماعيل بن إبراهيم، عليهما السلام، إلا أنهم اختلفوا فيما بين عدنان وإسماعيل من الأباء، فذكر عن طائفة: سبعة آباء بينهما، وعن طائفة: مثل ذلك، إِلا أنها خالفتها في بعض الأسماء، وعن طائفة: تسعة آباء، مخالفة أيضاً في بعض الأسماء، وعن طائفة: خمسة عشر أبا، بين عدنان وإسماعيل عليه السلام.

ثم قال: وأما الذين جعلوا بين عدنان وبين إسماعيل أربعين أبا، فإنهم استخرجوا

ذلك من كتاب رخيا، وهو يوْرخ، كاتب أرميا عليه السلام، وكانا قد حملا معد بن عدنان من جزيرة العرب ليلا إلى بُخت نصر، فأثبت رخيا في كُتبه نسبة عدنان.

فهو معروف عند أحبار أهل الكتاب وعلمائهم، مثبت في أسفارهم.

قال: وقد وجدنا طائفة من علماء العرب تحفظ لمعد أربعين أباً بالعربية إلى إسماعيل، وتحتج في أسمائهم بالشعر، من شعر أمية بن
আদনান

মুহাম্মদ ইবনে আবদাহ বলেন: ঐতিহাসিকগণ এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, আদনান হলেন ইব্রাহিমের পুত্র ইসমাইল (আলাইহিমাস সালাম)-এর বংশধর। তবে তারা আদনান ও ইসমাইলের মধ্যবর্তী পিতৃপুরুষদের সংখ্যার ব্যাপারে মতভেদ করেছেন। একদলের মতে: তাদের উভয়ের মাঝে সাতজন পিতৃপুরুষ রয়েছেন; অন্য একদলও অনুরূপ সংখ্যা উল্লেখ করেছেন, তবে তারা কিছু নামের ক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। আরেকটি দল নয়জন পিতৃপুরুষের কথা উল্লেখ করেছেন, তারাও কিছু নামের ক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। আবার অন্য একদল আদনান ও ইসমাইল (আলাইহিস সালাম)-এর মাঝে পনেরোজন পিতার কথা উল্লেখ করেছেন।

অতঃপর তিনি বলেন: আর যারা আদনান ও ইসমাইলের মাঝে চল্লিশজন পিতার কথা উল্লেখ করেছেন, তারা তা সংগ্রহ করেছেন

রাখিয়ার কিতাব থেকে, আর তিনি হলেন ঐতিহাসিক এবং আরমিয়া (আলাইহিস সালাম)-এর লেখক। তারা উভয়ই আদনানের পুত্র মা'আদকে আরব উপদ্বীপ থেকে রাতের আঁধারে বুখতে নাসরের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন, ফলে রাখিয়া তার কিতাবসমূহে আদনানের বংশপরম্পরা লিপিবদ্ধ করে রাখেন।

সুতরাং এটি আহলে কিতাবদের পণ্ডিত ও আলেমদের নিকট সুপরিচিত এবং তাদের ধর্মগ্রন্থসমূহে তা লিপিবদ্ধ রয়েছে।

তিনি বলেন: আমরা আরব আলেমদের এমন একদলকে পেয়েছি যারা আরবি ভাষায় ইসমাইল পর্যন্ত মা'আদের চল্লিশজন পূর্বপুরুষের নাম মুখস্থ রাখেন এবং তারা তাদের নামের স্বপক্ষে উমাইয়া ইবনে এর কবিতা থেকে দলিল পেশ করেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ আলা কাবাইলির রুওয়াত - ত আবিয়ারী (পৃষ্ঠা: ১৭)
أبي الصلت وغيره، من علماء الشعر بأمر الجاهلية ومطالعة الكتب، وكل الطوائف تقول: عدنان بن أدد، إلا طائفة قالوا: عدنان بن أدّ بن أدد.

قال أبو عمر: الاختلاف فيما بين عدنان وإسماعيل، صلوات الله عليه، من عدد الأباء، كثير جدا، نذكر منه في كتابنا هذا ما يقف به الناظر فيه على البُغية منه، وحسبه أن يعلم أنه لا خلاف بين جماعة أهل العلم بالنسب وأيام العرب: أن عدنان، من ولد إسماعيل بن إبراهيم، عليهما السلام، وإنما اختلفوا في قحطان، وسنذكر الاختلاف في قحطان في موضعه من هذا الكتاب.

وقد روى موسى بن يعقوب بن عبد الله بن وهب بن زَمعة الزمعي، عن عمته، عن أم سلمة، قالت: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: معد بن عدنان بن أدد بن زيد بن براء بن أعراق الثري.

قالت أم سلمة: فريد، هو الهميسع، وبراء هو نبت، وأغراق الثري هو إسماعيل بن إبراهيم عليهما السلام.

فهذا أرفع ما روي في ذلك، وأولى ما قيل به فيه، والله أعلم.

وروي عن داود بن أبي هند: أنه قال: حفظت العرب أنسابها إلى أدد.

وروي ابن لهيعة، عن أبي الأسود: أنه سمع عروة بن الزبير، يقول: ما وجدنا أحداً يعرف ما وراء معد بن عدنان.

قال: وقالت عائشة، رضي الله عنها: ما وجدنا أحداً يعرف ما وراء معد بن

عدنان، ولا وراء قحطان، إلا تخرما.
আবুস সালত এবং জাহিলিয়াত যুগের কবিতা ও প্রাচীন পাণ্ডুলিপি অধ্যয়নকারী অন্যান্য বিশেষজ্ঞগণ, এবং সকল গোষ্ঠীই বলে: আদনান ইবনে আদাদ, তবে একটি দল বলে: আদনান ইবনে আদ্দ ইবনে আদাদ।

আবু উমর বলেন: আদনান এবং ইসমাঈল আলাইহিস সালামের মধ্যবর্তী পিতৃপুরুষের সংখ্যার ব্যাপারে মতভেদ অনেক বেশি। আমরা আমাদের এই গ্রন্থে তা থেকে ততটুকুই উল্লেখ করব যা দ্বারা পাঠক তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারে। আর তার জন্য এতটুকু জানাই যথেষ্ট যে, বংশবিদ্যায় পারদর্শী আলিম সমাজ এবং আরবদের ইতিহাস বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, আদনান ছিলেন ইবরাহীম আলাইহিস সালামের পুত্র ইসমাঈল আলাইহিস সালামের বংশধর। তবে তাঁরা কাহতান সম্পর্কে মতভেদ করেছেন এবং আমরা এই কিতাবের নির্দিষ্ট স্থানে কাহতান সংক্রান্ত মতভেদ নিয়ে আলোচনা করব।

মূসা ইবনে ইয়াকুব ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব ইবনে জামআ আজ-জামাঈ তাঁর ফুফুর সূত্রে এবং তিনি উম্মে সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: মাআদ ইবনে আদনান ইবনে আদাদ ইবনে যায়দ ইবনে বারা ইবনে আরাকুত সারা।

উম্মে সালামাহ বলেন: ফারিদ (বর্ণনাভেদে যায়দ) হলেন হামায়সা, বারা হলেন নাবিত, আর আরাকুত সারা হলেন ইবরাহীম আলাইহিস সালামের পুত্র ইসমাঈল আলাইহিস সালাম।

এ বিষয়ে এটিই বর্ণিত সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বর্ণনা এবং এ ব্যাপারে বলা সবচাইতে সমীচীন কথা। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

দাউদ ইবনে আবি হিন্দ থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: আরবরা আদাদ পর্যন্ত তাদের বংশতালিকা মুখস্থ রেখেছে।

ইবনে লাহিয়া আবুল আসওয়াদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি উরওয়া ইবনে জুবায়েরকে বলতে শুনেছেন: আমরা এমন কাউকে পাইনি যিনি মাআদ ইবনে আদনানের ঊর্ধ্বতন বংশধারা সম্পর্কে অবগত আছেন।

তিনি বলেন: আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন: আমরা এমন কাউকে পাইনি যিনি মাআদ ইবনে আদনানের ঊর্ধ্বে কিংবা কাহতানের ঊর্ধ্বে অনুমান ছাড়া নিশ্চিত কিছু জানেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ আলা কাবাইলির রুওয়াত - ত আবিয়ারী (পৃষ্ঠা: ১৮)
وقال أبو الأسود، يتيم عروةِ: سمعت أبا بكر بن سليمان بن أبي حثمة، وكان أعلم قريش بأشعارهم وأنسابهم، يقول: ما وجدنا أحداً يعلم ما وراء معد بن عدنان في شعر شاعر، ولا علم عالم. وروى أبو الأسود أيضاً، عن عروة وغيره: أن عمر بن الخطاب، قال: إِنما ننتسب إلى عدنان، وما وراء ذلك لا أدري ما هو؟ وقال العدوي: لا أعلم أحداً من الشعراء بلغ في شعره عدنان إلا لَبيد بن ربيعة، وعباس بن مرداس السلمي، قال لبيد:

فإن لم تَجد من دون عَدنان والداً … ودُون معد فَلْتزعك العَواذِلُ

وقال عباس بن مرداس:

وعك بن عدنان الذين تلقبوا … بغسّان حتى طُردوا كل مُطرِد

قال ابن هشام: غسان: ماء بسد مأرب في اليمن، كان بنو مازن بن الأزد بن الغوث نزلوا عليه فسُمّوا به.

ويقال: غسان: ماء بالمشلل، قريب من الجحفة، والذين شربوا منه فسُموا به قبائل من ولد مازن بن الأزد.

قال أبو عمر: يشهد لهذا قول حسان بن ثابت:

إما سألت فإنّا مَعشر نُجُبٌ … الأزْدُ نِسْبتنا والماء غسّانُ

وقال قيس بن الخطيم:

ويوم بُعاث أسلمتنَا سيوفنا … إلى نَسب في جِذم غسّان ثاقبُ

وسيأتي ذكر من انتسب إلى غسان من بني جفنة وغيرهم، عند ذكر الأنصار في موضعه من هذا الكتاب، إن شاء الله تعالى.
ওরওয়ার ইয়াতীম আবু আল-আসওয়াদ বলেছেন: আমি আবু বকর ইবনে সুলায়মান ইবনে আবি হাছমাহকে বলতে শুনেছি—যিনি কুরাইশদের মধ্যে তাদের কবিতা ও বংশতালিকা সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন—তিনি বলতেন: আমরা এমন কাউকে পাইনি যে কোনো কবির কবিতায় বা কোনো জ্ঞানীর জ্ঞানে মা'আদ ইবনে আদনানের পূর্ববর্তী বংশধারা সম্পর্কে জানে। আবু আল-আসওয়াদ আরও ওরওয়া এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব বলেছেন: আমরা নিজেদের আদনান পর্যন্তই সম্পর্কিত করি, আর তার ঊর্ধ্বে যা আছে তা আমি জানি না। আল-আদাবী বলেছেন: লাবিদ ইবনে রাবিআহ এবং আব্বাস ইবনে মিরদাস আস-সুলামী ছাড়া আমি আর কোনো কবিকে জানি না যে তার কবিতায় আদনান পর্যন্ত পৌঁছেছে। লাবিদ বলেছেন:

যদি তুমি আদনানের নিচে কোনো পিতা (পূর্বপুরুষ) না পাও … এবং মা'আদের নিচেও নয়, তবে নিন্দুকরা তোমাকে নিবৃত্ত করুক।

আব্বাস ইবনে মিরদাস বলেছেন:

এবং আদনানের বংশোদ্ভূত আক্ক সম্প্রদায় যারা গাসসান উপাধিতে ভূষিত হয়েছিল … যতক্ষণ না তাদের সর্বতভাবে বিতাড়িত করা হয়েছিল।

ইবনে হিশাম বলেছেন: গাসসান হলো ইয়ামেনের মারিব বাঁধের নিকটবর্তী একটি পানির আধার, যেখানে বানু মাজিন ইবনুল আযদ ইবনুল গাওছ অবতরণ করেছিল, ফলে তাদের সেই নামেই নামকরণ করা হয়েছিল।

আবার বলা হয়: গাসসান হলো আল-মুশাল্লাল নামক স্থানের একটি পানি, যা আল-জুহফার নিকটবর্তী; যারা সেখান থেকে পান করেছিল তাদের সেই নামেই নামকরণ করা হয়েছিল, আর তারা ছিল মাজিন ইবনুল আযদের বংশধরদের গোত্রসমূহ।

আবু উমর বলেছেন: হাসসান ইবনে সাবিতের এই কথাটি এর সাক্ষ্য দেয়:

তুমি যদি জিজ্ঞাসা করো, তবে আমরা এক শ্রেষ্ঠ সম্প্রদায় … আযদ আমাদের বংশ পরিচয় এবং গাসসান হলো সেই পানি।

কায়েস ইবনুল খাতীম বলেছেন:

আর বুআসের দিনে আমাদের তলোয়ারগুলো আমাদের পৌঁছে দিয়েছিল … গাসসানের মূল শিকড়ের এক উজ্জ্বল বংশধারায়।

আর বানু জাফনাহ এবং অন্যদের মধ্য থেকে যারা গাসসানের সাথে নিজেদের সম্পর্কিত করে, তাদের আলোচনা এই গ্রন্থের যথাস্থানে আনসারদের বর্ণনার সময় আসবে, ইনশাআল্লাহ তাআলা।
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ আলা কাবাইলির রুওয়াত - ত আবিয়ারী (পৃষ্ঠা: ১৯)
وقد روى الكلبي، عن أبي صالح، عن ابن عباس، قال: كان النبي، صلى الله عليه وسلم، إذا انتهى في النسب إلى معد بن عدنانَّ، قال: كذب النسابون، قال الله عز

وجل: (وقرونا بين ذلك كثيراً). وليس هذا الإسناد بالقوي.

وقال آخرون: لم يتجاوز النبي، صلى الله عليه وسلم، في النسب، النضر بن كنانة.

وهذا لو صح كان معناه في نسبة قريش خاصة، لا في علمه بأنساب العرب، وقد جاء عنه من وجوه ما يدل على ما تأولناه عليه في ذلك.

وكان قوم من السلف، منهم: عبد الله بن مسعود، وعمرو بن ميمون الأودي، ومحمد بن كعب القرظي، إذا تلوا (والذين مِن بَعدهم لا يعلمهم إلا الله) قالوا: كذب النسابون.

ومعنى هذا عندنا، على غير ما ذهبوا إليه، وإنما المعنى فيها، والله أعلم: تكذيب من ادعى إحصاء بني آدم، فإنه لا يحصيهم إلا الذي خلقهم، فإنه هو الذي أحصاهم وحدَه لا شريك له، والله أعلم.
কালবী আবু সালিহ থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন বংশপরম্পরা বর্ণনায় মা'দ ইবনে আদনান পর্যন্ত পৌঁছাতেন, তখন তিনি বলতেন: "বংশবিশারদগণ মিথ্যা বলেছেন", আল্লাহ আযযা ও

জাল্লা বলেছেন: "এবং এর মধ্যবর্তী বহু প্রজন্মকে"। আর এই সনদটি শক্তিশালী নয়।

অন্য অনেকে বলেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বংশপরম্পরা বর্ণনায় নজর বিন কিনানার উর্ধ্বে যেতেন না।

এটি যদি বিশুদ্ধ হয়, তবে এর অর্থ হবে বিশেষভাবে কুরাইশদের বংশপরম্পরার ক্ষেত্রে, আরবদের বংশপরম্পরা সম্পর্কে তাঁর জ্ঞানের ক্ষেত্রে নয়। আর এ বিষয়ে আমরা যা ব্যাখ্যা করেছি, তাঁর থেকে বর্ণিত বিভিন্ন সূত্র সেটিরই প্রমাণ দেয়।

সালাফদের একটি দল, যাদের মধ্যে রয়েছেন: আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, আমর ইবনে মাইমুন আল-আওদি এবং মুহাম্মদ ইবনে কাব আল-কুরাযি; তাঁরা যখন "এবং তাদের পরবর্তীগণ, যাদের আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না" আয়াতটি পাঠ করতেন, তখন বলতেন: "বংশবিশারদগণ মিথ্যা বলেছেন"।

আমাদের নিকট এর অর্থ হলো তারা যেদিকে গিয়েছেন তার বিপরীত; বরং এর অর্থ—আল্লাহই ভালো জানেন—হলো সেই ব্যক্তিকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা যে বনী আদমের সংখ্যা নিরূপণের দাবি করে। কেননা, যিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন তিনি ছাড়া আর কেউ তাদের গণনা করতে পারে না; তিনিই তাদের গণনা করেছেন, তিনি এক ও তাঁর কোনো শরিক নেই, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ আলা কাবাইলির রুওয়াত - ত আবিয়ারী (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌وأما أنساب العرب

فإن أهل العلم بأيامها وأنسابها قد وعوا وحفظوا جماهيرها وأمهات قبائلها، واختلفوا في بعض فروع ذلك، وسترى في كتابنا هذا ما أجمعوا عليه، وكثيراً مما اختلفوا فيه، إن شاء الله.

والذي عليه أئمة هذا الشأن في نسب عدنَّان، قالوا: عدنان بن أدد بن مقوم بن ناحور بن تيرح بن يعرب بن يشجب بن نابت بن إسماعيل بن إبراهيم خليل الرحمن بن تارح، وهو آزر بن نأحور بن ساروح بن أرغو بن فالغ بن عيبر بن شالخ بن أرفخشذ بن سام بن نوح بن لامك بن متوشلخ بن خنوخ، وهو إدريس النبي، فيما يزعمون، والله أعلم.

وكان أول نبي أُعطي النبوةِ بعد آدم وشيث، وخط بالقلم: ابن يرد بن مهليل بن قينان بن يانش بن شيث بن آدم، صلى الله عليه وسلم.

قال ابن هشام: حدثنا زياد بن عبد الله البكائي، عن محمد بن إسحاق المطلبي بهذا الذي ذكرت من نسب عدنان إلى آدم، وما فيه من حديث إدريس وغيره.
আর আরবদের বংশবৃত্তান্ত

নিশ্চয়ই আরবদের ঐতিহাসিক ঘটনাবলী এবং বংশপরম্পরা সম্পর্কে যারা বিশেষজ্ঞ, তারা তাদের প্রধান জনগোষ্ঠী এবং মূল গোত্রসমূহকে অনুধাবন ও সংরক্ষণ করেছেন। তবে তারা এর কিছু উপশাখা সম্পর্কে মতভেদ করেছেন। আপনি আমাদের এই গ্রন্থে সেই সকল বিষয় দেখতে পাবেন যেগুলোতে তারা একমত হয়েছেন এবং অনেক বিষয় যাতে তারা মতভেদ করেছেন, ইনশাআল্লাহ।

আদনানের বংশপরম্পরার ক্ষেত্রে এই শাস্ত্রের ইমামগণ যে মত পোষণ করেছেন তা হলো: আদনান ইবনে উদাদ ইবনে মুকাউয়িম ইবনে নাহুর ইবনে তাইরাহ ইবনে ইয়ারুব ইবনে ইয়াশজুব ইবনে নাবিত ইবনে ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম খলিলুর রহমান ইবনে তারাহ—যিনি হলেন আজর—ইবনে নাহুর ইবনে সারুহ ইবনে আরগু ইবনে ফালিগ ইবনে আইবার ইবনে শালিহ ইবনে আরফাখশাদ ইবনে সাম ইবনে নুহ ইবনে লামাক ইবনে মাতুশালাখ ইবনে খানুখ। তাদের বর্ণনা অনুযায়ী তিনিই হলেন নবী ইদ্রিস, আর আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।

তিনিই ছিলেন প্রথম নবী যাকে আদম ও শিসের পর নবুওয়াত প্রদান করা হয়েছিল এবং যিনি কলম দ্বারা লিখেছিলেন। তিনি হলেন: ইয়ারদ ইবনে মাহলাইল ইবনে কাইনান ইবনে ইয়ানিশ ইবনে শিস ইবনে আদম, তাঁদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

ইবনে হিশাম বলেন: জিয়াদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-বাক্কায়ী আমাদের কাছে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আল-মুত্তালিবী থেকে আদনান হতে আদম পর্যন্ত এই যে বংশপরম্পরা আমি উল্লেখ করেছি এবং এতে ইদ্রিসের আলোচনা ও অন্যান্য যা কিছু রয়েছে, তা বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ আলা কাবাইলির রুওয়াত - ত আবিয়ারী (পৃষ্ঠা: ২১)
قال ابن هشام: وحدثنا خلاد بن قرة بن خالد السدوسي، عن شيبان بن زهير بن شقيق بن ثور، عن قتادةِ بن دعامة، أنَّه قال: إسماعيل بن إبراهيم خليل الله بن تارح، وهو ازر بن ناحور بن أشرع بن أرغو بن فالغ بن عابر بن شالخ بن أرفخشذ بن سام بن نوح بن لامك بن متوشلخ بن أخنوخ بن يرد بن مهلائيل بن قينان بن أنوش بن شيث بن آدم، عليه السلام.

وقال خليفة بن خياط، عن ابن الكلبي، عن أبيه، عن أبي صالح، عن ابن عباس، قال: بين معد بن عدنان إلى إسماعيل ثلاثون أبا.

وبإسناده عن ابن عباس قال كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا انتهى إلى عدنان أمسك، ثم يقول: كذب النسابون، قال الله تعالى: (وقروناً بين ذلك كثيراً).

وقال ابن جريج، عن القاسم بن أبي برة، عن عكرمة، قال: ألت نزار نسبها من عدنان.

ومن أحسن ما جاء في ذلك أيضا ما نظمه أبو العباس عبد الله بن محمد الناشئ في قصيدة يمدح بها رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهي قوله:

مدحتُ رسول الله أبغي بمَدْحه … وفُور حُظوظي من كريم المَآرِبِ

مدحت امرأً فات المديحَ مُوحداً … بأوصافه عن مُبْعَد ومُقارِبِ

نبياً تسامَى في المشارق نوره … فلاحت هواديه لأهل المَغارب

أتَتْنا به الأنباءُ قبلَ مَجيئه … وشاعت به الأخبارُ في كُل جانِبِ
ইবনে হিশাম বলেন: খাল্লাদ ইবনে কুররাহ ইবনে খালিদ আস-সাদুসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি শায়বান ইবনে যুহাইর ইবনে শাকিক ইবনে সাওর থেকে, তিনি কাতাদাহ ইবনে দি'আমাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম খালিলুল্লাহ ইবনে তারাহ—আর তিনিই হলেন আজর—ইবনে নাহুর ইবনে আশরা' ইবনে আরগু ইবনে ফালিগ ইবনে আবির ইবনে শালিহ ইবনে আরফাখশায ইবনে সাম ইবনে নূহ ইবনে লামিক ইবনে মাতুশালাখ ইবনে আখনুখ ইবনে ইয়ারদ ইবনে মাহলাইল ইবনে কাইনান ইবনে আনুশ ইবনে শিথ ইবনে আদম, আলাইহিস সালাম।

খলিফা ইবনে খাইয়াত ইবনুল কালবি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: মা'আদ ইবনে আদনান থেকে ইসমাইল পর্যন্ত ত্রিশজন পিতা রয়েছেন।

এবং তাঁর সনদে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বংশলতিকা বর্ণনায় আদনান পর্যন্ত পৌঁছাতেন, তখন থেমে যেতেন এবং বলতেন: "বংশবিদরা মিথ্যা বলেছে।" আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (এবং এর মধ্যবর্তী সময়ে অনেক প্রজন্ম অতিবাহিত হয়েছে)।

ইবনে জুরাইজ আল-কাসিম ইবনে আবি বাররাহ থেকে, তিনি ইকরামা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নিযার তাঁর বংশলতিকাকে আদনানের সাথে সম্পর্কিত করেছেন।

এই বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম চমৎকার হলো আবুল আব্বাস আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আন-নাশি-এর কাব্য গাঁথুনি, যা তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশংসায় একটি কাসিদায় বর্ণনা করেছেন। তা হলো তাঁর এই বক্তব্য:

আমি রাসূলুল্লাহর প্রশংসা করেছি, তাঁর প্রশংসার মাধ্যমে আমি কামনা করি … সম্মানজনক উদ্দেশ্য হাসিলের পূর্ণ সৌভাগ্য।

আমি এমন এক মহান মানবের প্রশংসা করেছি যিনি প্রশংসার ঊর্ধ্বে, যিনি তাঁর গুণাবলীতে অনন্য … যা নিকটবর্তী বা দূরবর্তী সকলের বর্ণনার অতীত।

তিনি এমন এক নবী যাঁর নূর প্রাচ্যে সমুজ্জ্বল হয়েছে … ফলে তাঁর হিদায়াতের চিহ্নসমূহ প্রতীচ্যের অধিবাসীদের নিকট প্রতিভাত হয়েছে।

তাঁর আগমনের পূর্বেই নবীগণের মাধ্যমে প্রাপ্ত সংবাদসমূহ আমাদের নিকট এসেছে … এবং তাঁর আগমনের খবর চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ আলা কাবাইলির রুওয়াত - ত আবিয়ারী (পৃষ্ঠা: ২২)
وأصبحت الكُهّان تَهتف بآسمه … وتَنْفي به رَحْم الظنون الكَواذبِ

وأنطقت الأصنامُ نُطْقاً تَبرّأت … إلى الله فيه من مَقال الأكاذِبِ

وقالت لأهل الكُفر قَوْلاً مُبيِّناً … أتاكم نبيٌّ من لُؤي بن غالبِ

ورام استراق السَمع جنٌّ فَزيَّلت … مقاعدَهم منها رجومُ الكَواكبِ

هَدانا إلى ما لم نَكُن نَهْتدِي لَهُ … لطُول المعَمَى مِن واضحات المَذاهِبِ

وجاء بآياتٍ تُبِّين أنها … دلائلُ جَبارٍ مُثيب مُعاقِبِ

فمنها انشقاق البَدر حين تَعمَّمت … شعوبُ الضِّيا منه رءوسَ الأخاشِبِ

ومنها نبُوعُ الماء بين بَنانِه … وقد عَدم الوُرَّادُ قُرْبَ المَشارِبِ

فروَّى به هِمّا فقيرا وأَمهلت … بأعناقه طوعاً أكُن المذانِبِ

وبِئرٌ طَغت بالماء من مس سَهمه … ومنْ قَبلُ لم تسمح بمُذقة شارِبِ

وضَرْعٌ مَرَاه فاسْتدَر ولم يكُنْ … به دِرَّةٌ تُصْغِي إلى كَف حالبِ

ونُطْقٌ فَصِيحٌ مِن ذِراع مُبِينَةٍ … لكَيْدِ عدوَّ للعَداوة ناصِبِ

وإخبارُه بالأمر من قَبلِ كَوْنِه … وعند بَواديه بماَ في العواقبِ

ومِن تِلْكم الأياتِ وحيٌ أتى بهِ … قريب المآتِي مُسِجّم العجائبِ

تَقَاصرت الأفكارُ عنه فلم يُطِعْ … بليغاً ولم يَخْطُر على قَلب خاطبِ

حَوى كلُ عِلْمٍ واحتوى كُلَّ حِكْمةٍ … وفاتَ مَرام المُستِمرِّ المُوارِبِ

أتانا به لا عَن روية مُرْئيء … ولا صُحْفِ مُسْتَمْلٍ ولا وصْف كاتِبِ

يواتيه طوراً في إجابة سائلً … وإفتاءِ مُسْتَفْتٍ ووعْظ مخاطبِ

وأتيانِ بُرْهان وفُرْضَ شرائعً … وقصّ احاديثٍ ونصّ مآربِ

وتَصريف أمثالٍ وتَثبيت حُجَّةٍ … وتَعرِيف ذي جَحْدٍ وتوقيفِ كاذِبِ

وفي مَجْمع النادي وفي حَوْمة الوغَى … وعند حُدوث المُعضلات الغرائبِ

فيأتي على ما شِئْتَ من طُرَقاته … قويمَ المعاني مُستدرَّ الضَّرائبِ

يُصدِّق منه البعضُ بعضاً كأنما … يُلاحظ مَعناه بعَيْن المُراقبِ
আর গণকগণ তার নাম ধরে উচ্চস্বরে ঘোষণা করতে লাগল … এবং এর মাধ্যমে তারা মিথ্যা ধারণার ভ্রান্তিকে প্রত্যাখ্যান করল।

আর প্রতিমাগুলো এমন বাক্যে কথা বলে উঠল যাতে তারা … মিথ্যাবাদীদের বক্তব্যের ব্যাপারে আল্লাহর কাছে দায়মুক্তি প্রকাশ করল।

আর তারা কুফুরির অনুসারীদের উদ্দেশ্যে সুস্পষ্ট কথা বলল যে … লুআই ইবনে গালিবের বংশ থেকে তোমাদের কাছে একজন নবী এসেছেন।

আর জিনেরা আড়ি পেতে শোনার চেষ্টা করল, কিন্তু নক্ষত্রের অগ্নিপিণ্ড … তাদের আসনগুলো থেকে তাদের সরিয়ে দিল।

দীর্ঘকালীন অন্ধত্বের কারণে যেসব সুস্পষ্ট পথ থেকে আমরা বঞ্চিত ছিলাম … তিনি আমাদের সেই পথের দিকে পরিচালিত করলেন।

আর তিনি এমন সব নিদর্শন নিয়ে এলেন যা স্পষ্ট করে দেয় যে … সেগুলো এক মহাপ্রতাপশালী সত্তার প্রমাণ, যিনি পুরস্কার ও শাস্তি প্রদানকারী।

তার মধ্যে অন্যতম হলো চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হওয়া, যখন … তার আলোকরশ্মি পাহাড়ের চূড়াগুলোকে ঢেকে দিয়েছিল।

আর অন্যতম হলো তার আঙ্গুলগুলোর মধ্য থেকে পানির উথলে পড়া … যখন পিপাসার্তরা পানীয়স্থলের কাছে পানি পাচ্ছিল না।

ফলে তিনি এর মাধ্যমে এক বিশাল অভাবী দলকে তৃপ্ত করলেন এবং … পানির স্রোতগুলো স্বেচ্ছায় তাদের জন্য প্রবাহিত হলো।

আর একটি কূপ তার তীরের স্পর্শে পানিতে উথলে উঠল … অথচ এর আগে তা পানকারীর জন্য এক ঢোক পানিও দিত না।

আর পশুর স্তন তিনি মর্দন করলেন আর তা দুধে ভরে গেল, অথচ আগে … দোহনকারীর হাতের জন্য তাতে এক ফোঁটা দুধও ছিল না।

আর (বিষমিশ্রিত) বাহুর গোশত থেকে সুস্পষ্ট ও সাবলীল কথা বের হয়ে এলো … এক ঘোর শত্রুর ষড়যন্ত্র ফাঁস করে দেওয়ার জন্য।

আর কোনো বিষয় ঘটার আগেই সে সম্পর্কে সংবাদ প্রদান … এবং সূচনালগ্নেই পরিণাম সম্পর্কে জানিয়ে দেওয়া।

আর সেসব নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত হলো তার আনীত ওহী … যা সহজে বোধগম্য কিন্তু বিস্ময়ে পরিপূর্ণ।

মানুষের চিন্তা-ভাবনা এর নাগাল পেতে অক্ষম, ফলে তা কোনো সুবক্তার … অনুগামী হয়নি এবং কোনো ভাষণদাতার হৃদয়েও উদিত হয়নি।

এটি সমস্ত জ্ঞানকে ধারণ করেছে এবং সকল প্রজ্ঞাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে … এবং তা চতুর প্রতারকের লক্ষ্যকে ব্যর্থ করে দিয়েছে।

তিনি এটি আমাদের কাছে নিয়ে এসেছেন কোনো চিন্তাশীল ব্যক্তির চিন্তা থেকে নয় … কোনো পাঠকারী বা লেখকের পাণ্ডুলিপি থেকেও নয়।

এটি কখনো প্রশ্নকারীর উত্তরের জন্য তার কাছে অবতীর্ণ হয় … কখনো ফতোয়া অন্বেষণকারীর সমাধানকল্পে এবং সম্বোধিত ব্যক্তির উপদেশের জন্য।

আর প্রমাণ উপস্থাপন, শরিয়তের বিধান সাব্যস্ত করা … কাহিনী বর্ণনা এবং লক্ষ্যসমূহ নির্ধারণের জন্য।

আর উদাহরণ প্রদান, দলিল সুদৃঢ় করা … অস্বীকারকারীকে চিনিয়ে দেওয়া এবং মিথ্যাবাদীকে নিবৃত্ত করার জন্য।

জনসভার মজলিসে, যুদ্ধের ময়দানে … এবং অদ্ভুত ও জটিল সমস্যাবলি সৃষ্টির সময়ে।

অতঃপর তা তোমার আকাঙ্ক্ষিত পন্থায় প্রকাশিত হয় … যার অর্থ সুসংহত এবং কল্যাণসমূহ নিরবচ্ছিন্ন।

এর একাংশ অপরাংশকে সত্যায়ন করে, যেন … এক পর্যবেক্ষকের দৃষ্টি এর অর্থের ওপর সদা জাগ্রত রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ আলা কাবাইলির রুওয়াত - ত আবিয়ারী (পৃষ্ঠা: ২৩)
وعَجَزُ الوَرَى عن أن يجيئوا بمثل مَا … وَصفناه مَعْلُوم بطُول التجارِبِ

تَأبَّى بعبد الله أكرمِِ والدٍ … تبلَج منه عن كَريم المَناسِبِ

وشَيبة ذي الحَمد الذي فخَرت به … قُريش على أهل العُلا والمَناصِبِ

ومَن كان يُسْتَسْقَى الغَمامُ بوَجْهه … وَيصْدر عن آرائه في النَّوائِبِ

وهاشمُ البانِي مَشِيد آفتخاره … بغُرّ المَساعي وامتنان المَواهِبِ

وعَبد مَناف وهو علَّم قَومَه اشْـ … تطاط الاماني واحْتكام الرَّغائبِ

وإنّ قُضَياَّ من كريم غِراسه … لَفي مَنْهل لم يَدْنُ من كفِّ قاضِبِ

بِه جَمع الله القبائلَ بعدما … تَقسَمها نَهْبُ الأكفِّ السوالِبِ

وحَلَّ كلابٌ من ذُرَى المجد مَعْقِلاً … تَقاصَرَ عنه كلُّ دانٍ وغائبِ

ومُرَّةُ لم يَحْلُلْ مَريرةَ عَزْمِهِ … سِفاهُ سَفِيه أو مَحوبة حائِبِ

وكَعْبٌ عَلا عن طالب المَجْد كَعْبُهُ … فنال بأدْنَى السعْي أعلى المَراتبِ

وألْوَى لُؤَي بالعُداة فطُوِّعتْ … له هِمَمُ الشُّمِّ الأنوف الأغالبِ

وفي غالبٍ بأسٌ أبى البَأسُ دونهمْ … يُدافع عنهم كُلً قِرْنٍ مُغالِبِ

وكانت لِفِهْرٍ في قُريش خطابةٌ … يَعوذ بها عند آشْتجار المُخاطبِ

وما زال منهمْ مالكٌ خيرَ مالك … وأكرمُ مَصحوب وأكرمُ صاحبِ

وللنَضْر طولٌ يَقْصُر الطَّرْفُ دونه … بحيثُ التقى ضَوء النُّجوم الثواقبِ

لَعَمْري لقد أبْدَى كنانةُ قَبْلَه … محاسنَ تأبَى أن تَطُوعَ لغَالِبِ

ومِن قَبله أبْقى خزيمةُ حَمْدُه … تَلِيدَ تُراثٍ عن حَميد الأقارِبِ

ومَدْركةٌ لم يُدرك الناسُ مثلَه … أعفُ وأعلى عن دَنيء المَكاسِبِ

وإلياسُ كان اليَأسُ منه مُقارنا … لأعدائه قبلَ اعتداد الكتائبِ

وفي مُضَرٍ يَسْتجمع الفخرُ كلُه … إذا اعتركت يوماً زُحوف المَقانِبِ

وحلَّ نزارٌ مِن رياسة أهله … محلا تسامَى عن عُيون الرَّواقِبِ

وكانَ مَعدُّ عُدًة لولِّيه … إذا خاف مِن كَيد العدوّ المُحاربِ
মানুষের অক্ষমতা তার মতো কোনো কিছু নিয়ে আসতে যা … আমরা বর্ণনা করেছি, দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় তা সুবিদিত।

আবদুল্লাহর মাধ্যমে তা ফুটে উঠেছে, যিনি সর্বশ্রেষ্ঠ পিতা … যাঁর মাধ্যমে উচ্চবংশীয় মর্যাদার জ্যোতি বিচ্ছুরিত হয়েছে।

এবং প্রশংসার অধিকারী শায়বা (আবদুল মুত্তালিব), যাঁকে নিয়ে কুরাইশরা … উচ্চ মর্যাদা ও পদের অধিকারীদের সামনে গর্ব করে।

যাঁর চেহারার উসিলায় মেঘের কাছে বৃষ্টি প্রার্থনা করা হতো … এবং বিপদের সময় যাঁর মতামতের ওপর নির্ভর করা হতো।

এবং হাশিম, যিনি তাঁর গৌরবের সুউচ্চ অট্টালিকা নির্মাণ করেছেন … মহৎ প্রচেষ্টা ও অফুরন্ত দানের মাধ্যমে।

এবং আবদে মানাফ, যিনি তাঁর কওমকে শিখিয়েছেন … আকাঙ্ক্ষার উচ্চশিখর ও কামনার দৃঢ়তা।

আর কুসাই তাঁর মহৎ রোপণকৃত ঐতিহ্যের কারণে … এমন এক প্রস্রবণে আছেন যা কোনো কর্তনকারীর হাতের নাগালের বাইরে।

তাঁর মাধ্যমেই আল্লাহ গোত্রগুলোকে একত্রিত করেছেন, যখন … লুণ্ঠনকারীদের হস্তক্ষেপে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল।

আর কিলাব গৌরবের উচ্চশিখরে এমন এক দুর্গে অবস্থান নিয়েছেন … যেখানে নিকট বা দূরের সবাই পৌঁছাতে ব্যর্থ।

আর মুররাহ, যাঁর সংকল্পের দৃঢ়তাকে কোনো … নির্বোধের মূর্খতা বা অপরাধীর পাপ স্পর্শ করতে পারেনি।

আর কাব, মর্যাদা অন্বেষণকারীর ওপর যাঁর শ্রেষ্ঠত্ব সমুন্নত হয়েছে … এবং সামান্য প্রচেষ্টাতেই তিনি সর্বোচ্চ স্তর লাভ করেছেন।

আর লুওয়াই শত্রুদের পরাস্ত করেছেন, ফলে তাঁর কাছে … অহংকারী ও প্রতাপশালীদের মনোবল নত হয়েছে।

وفي غالبٍ بأسٌ أبى البَأسُ دونهمْ … يُدافع عنهم كُلً قِرْنٍ مُغالِبِ

আর কুরাইশদের মধ্যে ফিহরের ছিল এমন বাগ্মিতা … বাকবিতণ্ডার সময় যার আশ্রয় নেওয়া হতো।

আর তাদের মধ্যে মালিক সর্বদা শ্রেষ্ঠ অধিপতি … এবং শ্রেষ্ঠ সঙ্গী ও শ্রেষ্ঠ সহচর হিসেবে গণ্য ছিলেন।

আর নাদরের ছিল এমন উচ্চতা যে দৃষ্টি সেখানে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয় … যেন তা উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজির আলোর সাথে মিলিত হয়েছে।

আমার জীবনের কসম! কিনানাহ তার আগেই এমন সব গুণাবলী প্রকাশ করেছেন … যা কোনো বিজয়ীর কাছে মাথানত করতে অস্বীকার করে।

আর তাঁর আগে খুজাইমাহ তাঁর প্রশংসা স্বরূপ এক সুপ্রাচীন ঐতিহ্য রেখে গেছেন … যা তিনি প্রশংসিত আত্মীয়দের থেকে পেয়েছেন।

আর মাদরিকাহ, মানুষ যাঁর মতো কাউকে পায়নি … তিনি ছিলেন অত্যন্ত পবিত্র এবং নীচ উপার্জন থেকে বহু ঊর্ধ্বে।

আর ইলিয়াস, বাহিনী প্রস্তুত করার আগেই শত্রুদের মনে … তাঁর ব্যাপারে নিরাশা পুঞ্জীভূত হতো।

আর মুদারের মধ্যে সমস্ত গৌরব পুঞ্জীভূত হয় … যখন কোনো দিন অশ্বারোহী বাহিনীগুলো যুদ্ধে লিপ্ত হয়।

আর নিযার তাঁর স্বজাতির নেতৃত্বে এমন এক স্থানে অধিষ্ঠিত হয়েছেন … যা পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টির ঊর্ধ্বে সমুন্নত।

আর মা'আদ ছিলেন তাঁর বন্ধুদের জন্য এক বড় শক্তি … যখন তারা যুদ্ধবাজ শত্রুর ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা করত।

(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ আলা কাবাইলির রুওয়াত - ত আবিয়ারী (পৃষ্ঠা: ২৪)
وما زال عدنانٌ إذا عُدَّ فضلُه … توحَّد فيه عَن قَرينٍ وصاحبِ

وأُدٌّ تأدى الفضلُ منه بغايةٍ … وإرْث حَواه عن قُرومٍ أشايِبِ

وفي أدَرٍ حِلْمٌ تزيَّن بالحِجَا … إذا الحِلم أزْهاه قطوبُ الحَواجِبِ

وما زال يَستعلي هَمَيْسَعُ بالعُلا … وَيتْبع آمالَ البَعيد المُراغبِ

ونَبْتٌ بَنَتْه دَوْحة العِز وَابْتَنَى … معاقِلَه في مُشمخرّ الاهَأضِبِ

وحِيزت لِقَيْذَارٍ سَماحة حاتِمٍ … وحِكْمَة لُقْمان وهِمَّة حاجِبِ

هُمُ نَسْلُ إسماعيل صادق وَعْدِه … فما بَعده في الفَخر مَسْعًى لذاهِبِ

وكان خليلُ الله أكرمَ مَن عَنَتْ … له الأرض من ماشٍ عليها وراكبِ

وتارَحُ ما زالت له أرْيَحيَّة … تُبيِّن منْه عن حَميد المَضارِبِ

وناحُور نَحَّار العِدَى حفِظت له … مآثرُ لما يُحْصِها عدُّ حاسبٍ

وأشْرع في الهَيجاء ضَيْغم غابةٍ … يَقُدّ الطُّلَى بالمُرْهَفات القواضبِ

وأرْغُوُ نابٌ في الحروب مُحكَّمٌ … ضنِينٌ على نَفْس المُشِحِّ المُغالبِ

وما فالغ في فَضْله تِلْوَ قومه … ولا عابِرٌ مِن دونهم في المَراتبِ

وشالَخْ وارْفَخْشَذَ وَسام سَمَتْ بهم … سَجايَا حَمَتهُم كُلَّ زارٍ وعائبِ

وما زال نوحٌ عند ذي العرش فاضلاً … يُعدِّده في المُصطفين الأطايبِ

ولَمْكٌ أبُوَه كان في الروع رائعاً … جَريئاً على نفس الكميّ المُضارِبِ

ومن قبُل لَمْكٌ لم يَزل مَتوشَلَخٌ … يَذُود العِدَى بالذائداتِ الشواربِ

وكانت لإدريسَ النبي منازل … من الله لم تُقْرَن بهمة راغِبِ

ويارَدٌ بَحْر عند أهل سَرَاتِه … أبيَّ الخَزايا مُسْتدِق المارِبِ

وكانت لِمْهلائيل فهم فضائلٌ … مهَذبة من فاحشات المَثالِبِ

وقَيْنان مِن قبلُ اقْتنى مجدَ قَومه … وفاتَ بشَأوِ الفَضل وَخْد الركائبِ

وكان أنُوشٌ ناشَ للمَجد نَفْسَه … ونَزهها عن مُرْدِيات المَطالِبِ

وما زال شِيثٌ بالفَضائل فاضلاً … شريفاً بريئاً من ذَميم المعايِبِ
আদনান সর্বদা এমন ছিলেন যে, যখন তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব গণনা করা হয় … তখন তিনি কোনো সমকক্ষ ও সঙ্গীহীনভাবে তাতে অনন্য প্রতিভাত হন।

এবং উদ, যাঁর মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্বের চরম পূর্ণতা প্রাপ্ত হয়েছে … এবং এমন এক উত্তরাধিকার যা তিনি প্রবীণ সর্দারদের থেকে লাভ করেছেন।

আর আদারের মধ্যে ছিল বুদ্ধিমত্তা দ্বারা সুশোভিত সহনশীলতা … যখন কঠোরতা সেই সহনশীলতাকে মহিমান্বিত করত।

হামায়সা সর্বদা আভিজাত্যের শিখরে আরোহণ করতেন … এবং দূরবর্তী প্রত্যাশাকারীদের আশা পূরণ করতেন।

এবং নাবত, যাঁর ভিত্তি সম্মানের বৃক্ষ দ্বারা নির্মিত এবং তিনি গড়ে তুলেছেন … সুউচ্চ পাহাড়ের চূড়ায় তাঁর সুদৃঢ় দুর্গসমূহ।

আর কায়দারের জন্য অর্জিত হয়েছিল হাতেমের বদান্যতা … লোকমানের প্রজ্ঞা এবং হাজিবের উচ্চাকাঙ্ক্ষা।

তাঁরা ইসমাইলের বংশধর, যিনি ওয়াদা রক্ষায় সত্যবাদী ছিলেন … গৌরবের ক্ষেত্রে তাঁর পরে আর কোনো গন্তব্য অবশিষ্ট নেই।

এবং আল্লাহর খলীল জমিনের উপর বিচরণকারী পদব্রজে বা আরোহী … সকল মানুষের মধ্যে অধিক সম্মানিত ছিলেন।

এবং তারাহ, তাঁর মধ্যে সর্বদা এমন এক মহানুভবতা ছিল … যা তাঁর প্রশংসনীয় উৎস ও বংশধারাকে সুস্পষ্ট করত।

এবং নাহুর, যিনি শত্রুদের পরাভূতকারী, তাঁর এমন কীর্তি সংরক্ষিত আছে … যা কোনো গণনাকারী গণনা করে শেষ করতে পারবে না।

আর আশরু যুদ্ধক্ষেত্রে বনের সিংহের ন্যায় আবির্ভূত হতেন … যিনি ধারালো তলোয়ার দিয়ে শত্রুদের গর্দান দ্বিখণ্ডিত করতেন।

আর আরগু যুদ্ধে একজন অভিজ্ঞ ও পারদর্শী যোদ্ধা … যিনি প্রবল আক্রমণকারী শত্রুর বিরুদ্ধে নিজের প্রাণ রক্ষায় অবিচল।

ফালিগ তাঁর জাতির শ্রেষ্ঠত্ব অনুসরণে পিছিয়ে ছিলেন না … এবং আবিরও মর্যাদায় তাঁদের চেয়ে নিচে ছিলেন না।

শালাখ, আরফাখশায এবং সাম—তাঁদের এমন উন্নত চরিত্র ছিল যা তাঁদেরকে … সকল নিন্দুক ও দোষ অন্বেষণকারী থেকে রক্ষা করেছে।

আর নূহ আরশের অধিপতির নিকট সর্বদা মর্যাদাবান ছিলেন … তিনি তাঁকে মনোনীত পবিত্র বান্দাদের মধ্যে গণ্য করেন।

এবং লমক, তাঁর পিতা যুদ্ধের ময়দানে ছিলেন অত্যন্ত ভয়ংকর … আক্রমণকারী বীর যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত সাহসী।

এবং লমকের পূর্বে মাতুশালাখ সর্বদা … তীক্ষ্ণ অস্ত্র দিয়ে শত্রুদের প্রতিহত করতেন।

নবী ইদ্রিসের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন সুউচ্চ মর্যাদা ছিল … যা অন্য কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষীর আকাঙ্ক্ষার সাথে তুলনীয় নয়।

এবং ইয়ারাদ তাঁর গোত্রের সর্দারদের কাছে ছিলেন এক মহান সমুদ্র … তিনি ছিলেন লজ্জাজনক বিষয় থেকে বিমুখ এবং লক্ষ্য অর্জনে সুনিপুণ।

এবং মিহলাইলের ছিল বোধসম্পন্ন অনেক গুণাবলী … যা সকল প্রকার অশ্লীল ত্রুটি ও নিন্দা থেকে পরিমার্জিত।

এবং কায়নান এর পূর্বে তাঁর কওমের গৌরব অর্জন করেছিলেন … এবং শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিযোগিতায় দ্রুতগামী আরোহীদের ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন।

এবং আনুশ গৌরবের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন … এবং ধ্বংসাত্মক কামনা-বাসনা থেকে নিজেকে পবিত্র রেখেছিলেন।

আর শীষ সর্বদা শ্রেষ্ঠত্বের কারণে শ্রেষ্ঠ ছিলেন … তিনি ছিলেন নিন্দনীয় দোষত্রুটি থেকে মুক্ত ও মহৎ।
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ আলা কাবাইলির রুওয়াত - ত আবিয়ারী (পৃষ্ঠা: ২৫)
وكُلّهم من نُور آدم أقْبَوُا … وعَن عُوده أجْنَوْا ثمارَ المَناقِبِ

وكان رسول الله أكرَم مُنْجَبٍ … جَرَى في ظُهور الطيبين المَناجب

مُقابَلة آباؤه وأمهانة … مُبرأة من فاضحات المَثالبِ

عليه سلامُ الله في كُلِّ شارقٍ … ألاحَ لنا ضوءا وفي كلُ غارب

قال أبو عمر، رضي الله عنه، الذي أجمعوا عليه من ولد عدنان: معد، وكثير منهم يقول: وعك، واختلفوا فيما سواهما.

فأما معد، فذكر بعضهم له ثمانية من الولد، منهم: قضاعة، وإياد، وحَيدان أبو مهرة، وقَنَص بن معد، ونزار بن معد.

وأنكر أكثر أهل العلم أن يكون لمعد ولد غير نزار، وأجمعوا كلهم على أن كل معدَي وعدناني اليوم، نزاري، ولا يعلمون لمعد ولداً غير نزار، فنزار صريحُ ولد معد بن عدنان بإجماع. وغير ذلك مختلف فيه على ما نذكره بعدُ، إن شاء الله تعالى.
তারা সবাই আদমের নূর থেকে প্রস্ফুটিত হয়েছেন … এবং তাঁর সত্তা থেকেই তারা গুণাবলির ফল আহরণ করেছেন।

আর আল্লাহর রাসূল ছিলেন সর্বাধিক সম্মানিত বংশোদ্ভূত … যিনি পবিত্র ও শ্রেষ্ঠ পূর্বপুরুষদের পৃষ্ঠদেশসমূহে অতিবাহিত হয়েছেন।

তাঁর পিতৃকুল ও মাতৃকুল ছিল মর্যাদাপূর্ণ … যা ছিল অপমানজনক সকল দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত।

তাঁর ওপর আল্লাহর শান্তি বর্ষিত হোক প্রতিটি উদীয়মান সূর্যালোকে … যা আমাদের নিকট প্রকাশিত হয় এবং প্রতিটি সূর্যাস্তে।

আবু উমর (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বলেন, আদনানের সন্তানদের মধ্যে যাঁর ব্যাপারে সকলে ঐকমত্য পোষণ করেছেন তিনি হলেন: মা'আদ। তাঁদের অনেকে বলেন: এবং আক্ক। তবে এই দুজন ব্যতীত অন্যদের ব্যাপারে তাঁরা মতভেদ করেছেন।

মা'আদ-এর ক্ষেত্রে, তাঁদের কেউ কেউ তাঁর আটজন সন্তানের কথা উল্লেখ করেছেন, তাঁদের মধ্যে হলেন: কুদাআহ, ইয়াদ, হাইদান—যিনি আবু মাহরাহ—কানাস বিন মা'আদ এবং নিযার বিন মা'আদ।

কিন্তু অধিকাংশ আলেম মা'আদ-এর নিযার ব্যতীত অন্য কোনো সন্তান থাকাকে অস্বীকার করেছেন। তাঁরা সকলে এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, বর্তমানের সকল মা'আদী ও আদনানীই হলো নিযারী। তাঁরা নিযার ব্যতীত মা'আদ-এর আর কোনো সন্তান সম্পর্কে জানেন না। সুতরাং নিযার সর্বসম্মতিক্রমে মা'আদ বিন আদনানের বিশুদ্ধ বংশধর। এ ছাড়া অন্য বিষয়গুলো মতভেদপূর্ণ, যা আমরা পরবর্তীতে বর্ণনা করব, ইনশাআল্লাহ তাআলা।
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ আলা কাবাইলির রুওয়াত - ত আবিয়ারী (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌قحطان

وأما قحطان، فالاختلاف فيه كثير، على ما اصف لك، إن شاء الله تعالى.

قال محمد بن عبدة بن سليمان النسّابة: اختلف النسابون جميعاً في نسبة قحطان، على ثلاث مقالات، تفرّق اهلُ كل مقالة منها على ثلاث مقالات، فنسبته طائفة إلى إرَم بن سام بن نوح، وقالت فيه ثلاث مقالات، ونسبته طائفة إلى إسماعيل بن إبراهيم، عليهما السلام وقالت في ذلك ثلاث مقالات.

فاما الذين نسبوه إلى: إرم.

فقالت الفرقة الأولى منهم: هو قحطان بن هود بن عبد الله بن الجلود بن عاد بن عوص بن إرم بن سام بن نوح.

وقالت الفرقة الثانية منهم: هو قحطان بن هود بن عبد الله بن رياح بن الجلود بن

عاد بن عوص بن إرم بن سام بن نوح.

وقالت الفرقة الثالثة منهم: هو قحطان بن هَميسع بن تيمن بن قحطان بن هود بن تيمن بن إرم بن سام بن نوح.
কাহতান

আর কাহতান সম্পর্কে অনেক মতভেদ রয়েছে, যেমনটি আমি আপনার নিকট বর্ণনা করব, ইনশাআল্লাহ তায়ালা।

বংশবিদ মুহাম্মদ ইবনে আবদাহ ইবনে সুলাইমান বলেন: বংশবিদগণ সকলেই কাহতানের বংশপরিচয় নিয়ে তিনটি প্রধান মতে বিভক্ত হয়েছেন; প্রতিটি মতের অনুসারীরা আবার তিনটি উপ-মতে বিভক্ত হয়েছে। একদল তাঁকে ইরাম ইবনে সাম ইবনে নুহ-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন এবং এ বিষয়ে তিনটি মত প্রদান করেছেন। অন্য একদল তাঁকে ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম—তাঁদের উভয়ের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক—এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন এবং সে বিষয়েও তিনটি মত প্রদান করেছেন।

সুতরাং যারা তাঁকে ইরামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন:

তাদের মধ্য থেকে প্রথম দল বলেছে: তিনি হলেন কাহতান ইবনে হুদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আল-জালুদ ইবনে আদ ইবনে আউস ইবনে ইরাম ইবনে সাম ইবনে নুহ।

তাদের মধ্য থেকে দ্বিতীয় দল বলেছে: তিনি হলেন কাহতান ইবনে হুদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে রিয়াহ ইবনে আল-জালুদ ইবনে

আদ ইবনে আউস ইবনে ইরাম ইবনে সাম ইবনে নুহ।

তাদের মধ্য থেকে তৃতীয় দল বলেছে: তিনি হলেন কাহতান ইবনে হামিসা ইবনে তাইমান ইবনে কাহতান ইবনে হুদ ইবনে তাইমান ইবনে ইরাম ইবনে সাম ইবনে নুহ।
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ আলা কাবাইলির রুওয়াত - ত আবিয়ারী (পৃষ্ঠা: ২৭)
ولا أظن هذه الفرقة صنعت شيئاً.

وأما الذين نسبوه إلى عابر.

فقالت الطائفة الأولى منهم، وهم جل أهل اليمن اليوم: قحطان، هو يقطان، وهو يقطون، وهو يقطن، ويقطن، ابن عابر، وهو هود نبي الله، ابن شالخ بن أرفخشذ بن سام بن نوح.

وقال الزبير بن بكار: قحطانِ، بالعربية، وهو يقطن بالعبرانية، ويقطان بالسريانية: ابن نبت، وهو تابت بن عابر بن شالخ بن أرفخشذ بن سام بن نوح بن لمك، وهو لامك بن متوشلخ بن أخنوخ، وهو إدريس بن يارد، وهو يرد بن قين، وهو قينان بن أنوش بن شيث بالعربية، وهو شاث بالسريانية، وشيث بالعبرانية، وهو هبة الله بن آدم، وإليه أوصى آدم، صلى الله عليه وسلم.

قال علي بن كيسان: أنوش بن شيث، هو بالعربية: أنس بن شيث.

وقالت الطائفة الثانية: قحطان، ويقطان، أخوانِ، وهما ابنا عابر وهو هود نبي الله، ابن شالخ بن أرفخشذ بن سام بن نوح.

وقالت الطائفة الثالثة: قحطان بن هميسع بن تيمن بن يقطان بن عابر وهو هود بن شالخ بن أرفخشذ بن سام بن نوح.

وأما الذين نسبوه إلى إسماعيل بن إبراهيم، عليهما السلام.

فقالت الطائفة الأولى منهم: قحطان، ابن هميسع بن تيمن بن نبت وهو نابت، ابن إسماعيل بن إبراهيم عليهما السلام.
এবং আমি মনে করি না যে এই দলটি কোনো কিছু করতে পেরেছে।

আর যারা তাঁকে আিবরের বংশধর বলেছেন:

তাদের মধ্য থেকে প্রথম দলটি বলেছে—আর তাঁরাই আজ ইয়েমেনের অধিকাংশ অধিবাসী—কাহতান হলেন ইয়াকতান, তিনিই ইয়াকতুন, তিনিই ইয়াকতিন এবং ইয়াকতান, আিবরের পুত্র; আর আিবর হলেন আল্লাহর নবী হুদ, যিনি শালাখের পুত্র, যিনি আরফাখশাযের পুত্র, যিনি সামের পুত্র, যিনি নূহের পুত্র।

যুবাইর ইবনে বাক্কার বলেন: আরবিতে কাহতান, হিব্রু ভাষায় ইয়াকতিন এবং সুরয়ানি ভাষায় ইয়াকতান; তিনি নাবতের পুত্র, যিনি তাবিদ ইবনে আিবর ইবনে শালাখ ইবনে আরফাখশায ইবনে সাম ইবনে নূহ ইবনে লামাক; আর লামাক হলেন মাতুশালাখ ইবনে আখনুখের পুত্র—যিনি ইদ্রিস ইবনে ইয়ারিদ ইবনে ইয়ারদ ইবনে কাইন ইবনে কাইনান ইবনে আনূশ ইবনে শিষ (আরবিতে), সুরয়ানি ভাষায় শাশ এবং হিব্রু ভাষায় শিষ। তিনি হলেন আদমের পুত্র হিবাতুল্লাহ, যাঁর প্রতি আদম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অসিয়ত করেছিলেন।

আলী ইবনে কায়সান বলেন: আনূশ ইবনে শিষ আরবিতে হলেন আনাস ইবনে শিষ।

দ্বিতীয় দলটি বলেছে: কাহতান এবং ইয়াকতান দুই ভাই, তাঁরা উভয়ে আিবরের পুত্র; আর আিবর হলেন আল্লাহর নবী হুদ ইবনে শালাখ ইবনে আরফাখশায ইবনে সাম ইবনে নূহ।

তৃতীয় দলটি বলেছে: কাহতান ইবনে হামাইসা ইবনে তাইমান ইবনে ইয়াকতান ইবনে আিবর; আর আিবর হলেন হুদ ইবনে শালাখ ইবনে আরফাখশায ইবনে সাম ইবনে নূহ।

আর যারা তাঁকে ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিমের (আলাইহিমাস সালাম) বংশধর বলেছেন:

তাদের মধ্য থেকে প্রথম দলটি বলেছে: কাহতান হলেন হামাইসা ইবনে তাইমান ইবনে নাবতের পুত্র; আর নাবত হলেন নাবিত ইবনে ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম (আলাইহিমাস সালাম)।
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ আলা কাবাইলির রুওয়াত - ত আবিয়ারী (পৃষ্ঠা: ২৮)
وقالت الطائفة الثانية: قحطان، ابن هميسع بن تيمن، وبه سميت اليمن، ابن نابت

بن إسماعيل.

قال أبو عمر، رضي الله عنه: يشهد لقول من جعل قحطان وسائر العرب من ولد إسماعيل، عليه السلام، قولُ رسول الله، صلى الله عليه وسلم لقومٍ مِن أسْلم والأنصار: ارموا بن إسماعيل، فإن أباكم كان رامياً، وقول المنذر بن حرام، جدّ حسان بن ثابت حيث يقول:

ورَثنا من البُهلول عَمرو بن عامر … وحَارثةَ الغِطريف مجداً مؤثَّلا

مآثَر من نَبْت بن نَبْتِ بن مالك … ونَبْتِ بن إسماعيل ما إن تَحولا

وقالت الطائفة الثالثة: قحطان، ابن هميسع بن أصاف بن هود بن شروان بن الميثان بن العامل بن مهران بن بحير بن يقظان بن نباوت، وهو نابت، ابن تيمن بن النبيت بن إسماعيل بن إبراهيم، عليهما السلام.

وأما الذين قالوا هذه المقالة التاسعة فهم الذين جعلوا بين عدنان وإسماعيل نيفا وثلاثين أبا.

قال: ووجدت أكثر أهل اليمن يقولون: قحطان بن عابر، وهو هود بن شالخ بن أرفخشذ بن سام بن نوح، ويقولون: نحن العرب العاربة، نحن أقدم من إبراهيم.

وقال الزبير: طسم وأميم، وعمليق، بنو لوذ بن سام بن نوح، وجديس وثمود ابنا جائر بن إرم بن سام بن نوح.

وأما هشام بن الكلبي، فقال: العرب العاربة، هم عاد، وعبيل، ابنا عوص بن إرم بن سام بن نوح، وطسم أخوه عمليق،
দ্বিতীয় দল বলেছে: কাহতান ইবনে হুমাইসা ইবনে তাইমান—যার নামে ইয়ামানের নামকরণ করা হয়েছে—ইবনে নাবিত

ইবনে ইসমাইল।

আবু উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: যারা কাহতান এবং অবশিষ্ট আরবদের ইসমাইল (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধর গণ্য করেন, তাদের বক্তব্যের সপক্ষে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আসলাম ও আনসার গোত্রের লোকদের প্রতি দেওয়া এই উক্তিটি সাক্ষ্য দেয়: “হে ইসমাইলের বংশধররা! তোমরা তির নিক্ষেপ করো, কেননা তোমাদের পিতা তিরন্দাজ ছিলেন।” এবং হাসান ইবনে সাবিতের দাদা মুনজির ইবনে হারামের উক্তি, যেখানে তিনি বলেন:

আমরা বুহলুল আমর ইবনে আমির থেকে … এবং হারিসা আল-গিতরিফ থেকে সুপ্রতিষ্ঠিত মর্যাদা উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করেছি

সেই সব গৌরবময় কীর্তি যা নাবিত ইবনে নাবিত ইবনে মালিক … এবং নাবিত ইবনে ইসমাইল থেকে এসেছে, যা কখনো বিলুপ্ত হয়নি

তৃতীয় দল বলেছে: কাহতান ইবনে হুমাইসা ইবনে আসাফ ইবনে হুদ ইবনে শিরওয়ান ইবনে আল-মাইসান ইবনে আল-আমিল ইবনে মিহরান ইবনে বুহাইর ইবনে ইয়াকজান ইবনে নাবাওত—যিনি নাবিত—ইবনে তাইমান ইবনে আন-নাবিত ইবনে ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম (আলাইহিমাস সালাম)।

আর যারা এই নবম মতটি ব্যক্ত করেছেন, তারা আদনান ও ইসমাইলের মধ্যে ত্রিশের অধিক পিতৃপুরুষের ব্যবধান নির্ধারণ করেছেন।

তিনি বলেন: আমি অধিকাংশ ইয়ামানবাসীকে বলতে শুনেছি: কাহতান ইবনে আবির—যিনি হলেন হুদ—ইবনে শালিখ ইবনে আরফাখশাদ ইবনে সাম ইবনে নুহ। তারা বলে: আমরাই খাঁটি আরব, আমরা ইব্রাহিমের চেয়েও প্রাচীন।

যুবাইর বলেন: তাসম, আমিম এবং আমালিক হলো লুজ ইবনে সাম ইবনে নুহের সন্তান; আর জাদিস ও সামুদ হলো জায়ির ইবনে ইরাম ইবনে সাম ইবনে নুহের দুই সন্তান।

হিশাম ইবনুল কালবি বলেন: খাঁটি আরব হলো আদ এবং আবিল—যারা ইরাম ইবনে সাম ইবনে নুহের পুত্র আউসের দুই সন্তান; আর তাসম হলো আমালিকের ভাই,
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ আলা কাবাইলির রুওয়াত - ত আবিয়ারী (পৃষ্ঠা: ২৯)
وأميم، ويقطون بن عابر بن شالخ بن أرفخشذ بن سام بن نوح. فهؤلاء هم العرب العاربة.

قال هشام: ومن زعم أن قحطان ليس من ولد إسماعيل فإنه يقول: قحطان، هو يقطون بن عابر بن شالخ بن أرفخشذ بن سام بن نوح.

قال أبو عمر: هكذا قال ابن الكلبي في العرب العاربة، ورأيت بخط أبي جعفر

العقيلي، قال: نا محمد بن إسماعيل، قال: حدثنا سلام بن مسكين، قال: نا عون بن ربيعة، عن يزيد الفارسي، عن ابن عباس، قال: العرب العاربة: قحطان بن الهميسع، والامداد، والسالفات وحضرموت.

وهذا حديث حسن الإسناد، وهو أعلى ما روي في هذا الباب وأولى بالصواب، والله أعلم.

قال ابن الكلبي: قول الناس: إن هوداً هو عابر، باطل، لأن هودا، ابن عبد الله بن الجلود بن عاد بن عوص بن إِرم بن سام بن نوح.

وأما وهب بن منبه فقال في هود: هود بن عبد الله بن رياح بن حوبا بن عاد بن عوص بن إرم بن سام بن نوح.

قال وهب بن منبه: وليس هو بأب لليمن، لأن اليمن من ولد قحطان بن عابر بن شالخ بن أرفخشذ بن سام بن نوح.

قال وهب: وإنما ادعت اليمن هودا أبا حين وقعت العصبية بين اليمن ومضر، ففخرت مضر بابيها إسماعيل، فادعت اليمن عند ذلك هودا.
এবং অমীম ও ইয়াকতুন ইবনে আবির ইবনে শালিহ ইবনে আরফাখশাদ ইবনে সাম ইবনে নূহ। এরাই হলো আরবে আরিবা (বিশুদ্ধ আরব)।

হিশাম বলেন: যারা মনে করে যে কাহতান ইসমাইলের বংশধর নয়, তারা বলে যে: কাহতান হলো ইয়াকতুন ইবনে আবির ইবনে শালিহ ইবনে আরফাখশাদ ইবনে সাম ইবনে নূহ।

আবু উমর বলেন: ইবনে আল-কালবী আরবে আরিবা সম্পর্কে এভাবেই বলেছেন। আমি আবু জাফর আল-উকাইলির হস্তলিপিতে দেখেছি, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট সালাম ইবনে মিসকিন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট আউন ইবনে রাবিয়া বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ আল-ফারিসির সূত্রে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: আরবে আরিবা হলো: কাহতান ইবনে আল-হামাইসা, আল-আমদাদ, আস-সালিফাত এবং হাজরামাউত।

এই বর্ণনাটির সনদ হাসান। এই বিষয়ে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তার মধ্যে এটিই সবচেয়ে উচ্চমানের এবং সত্যের অধিক নিকটবর্তী। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

ইবনে আল-কালবী বলেন: মানুষের এই দাবি যে—হূদই হলেন আবির—তা ভিত্তিহীন। কারণ হূদ হলেন আব্দুল্লাহ ইবনে আল-জুলুদ ইবনে আদ ইবনে আউস ইবনে ইরাম ইবনে সাম ইবনে নূহ।

আর ওয়াহব ইবনে মুনাব্বিহ হূদ সম্পর্কে বলেন: তিনি হলেন হূদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে রিয়াহ ইবনে হুবা ইবনে আদ ইবনে আউস ইবনে ইরাম ইবনে সাম ইবনে নূহ।

ওয়াহব ইবনে মুনাব্বিহ বলেন: তিনি ইয়ামেনবাসীদের পিতা নন। কেননা ইয়ামেনবাসী হলো কাহতান ইবনে আবির ইবনে শালিহ ইবনে আরফাখশাদ ইবনে সাম ইবনে নূহের বংশধর।

ওয়াহব বলেন: ইয়ামেনবাসী হূদকে তাদের পিতা হিসেবে কেবল তখনই দাবি করেছিল যখন ইয়ামেন ও মুদারের মধ্যে গোত্রীয় বিদ্বেষ দেখা দিয়েছিল। মুদার যখন তাদের পিতা ইসমাইলকে নিয়ে গর্ব করেছিল, তখন ইয়ামেনবাসী হূদকে (তাদের পিতা হিসেবে) দাবি করেছিল।
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ আলা কাবাইলির রুওয়াত - ত আবিয়ারী (পৃষ্ঠা: ৩০)
واحتج وهب بقول الله تعالى: (وإلى عاد أخاهم هودا)، يعني: أخاهم في النسب.

قال: وإنما اليمن من ولد أرفخشذ بن سام بن نوح.

قال أبو عمر: لا خلاف بين أهل العلم بالنسب أن العرب كلها بجمعها جِذمان، والجذم: الأصل، فأحدهما عدنان، والأخر قحطان، فإلى هذين الجذمين ينتهي كل عربي في الأرض، ولا يخلو أحد من العرب من أن ينتمي إلى أحدهما، ولا بد أن يقال: عدناني، أو قحطاني.

ولهذين الجذمين خمسة شعوب، وإن شئت قلت: ثلاثة شعوب، تفرقت منها قبائل العرب، فالخمسة: مضر بحشوتها من أياد، وربيعة بحشوتها من أنَّمار، وقضاعة شعب، وسبأ شعب، وحضرموت شعب، والثلاثة: نزار، وسبأ، وحضرموت.

وإن شئت قلت: عدنان وربيعة ومضر، وإن شئت قلت: نَّزار، وإن شئت قلت: اليمن: قضاعة وسبأ وحضرموت وقحطان، وإذا قلت: سبأ، لم تحتج إلى ذكر حمير بن سبأ.
ওয়াহাব মহান আল্লাহর বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: (আর আদ সম্প্রদায়ের নিকট তাদের ভাই হুদকে), অর্থাৎ: বংশগতভাবে তাদের ভাই।

তিনি বলেন: ইয়ামান মূলত নূহ-এর পুত্র সামের পুত্র আরফাখশাদ-এর বংশধর।

আবু উমর বলেন: বংশবিদ্যা বিশেষজ্ঞ আলেমদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, সমগ্র আরব জাতি সমষ্টিগতভাবে দুটি মূল ধারায় বিভক্ত, ‘জিদম’ অর্থ হলো মূল; তাদের একটি আদনান এবং অপরটি কাহতান। পৃথিবীর সকল আরবের বংশধারা এই দুটি মূল ধারায় গিয়েই সমাপ্ত হয় এবং আরবের এমন কেউ নেই যে এই দুটির কোনো একটির সাথে সম্পৃক্ত নয়। তাকে অবশ্যই আদনানি অথবা কাহতানি হতে হবে।

এই দুটি মূল ধারার পাঁচটি বৃহৎ শাখা রয়েছে, আর আপনি চাইলে বলতে পারেন তিনটি বৃহৎ শাখা, যেখান থেকে আরব গোত্রসমূহ বিভক্ত হয়েছে। পাঁচটি হলো: মুদার ও তার সাথে সংশ্লিষ্ট ইয়াদ, রাবিয়াহ ও তার সাথে সংশ্লিষ্ট আনমার, কুদাআ একটি শাখা, সাবা একটি শাখা এবং হাজরামাউত একটি শাখা। আর তিনটি হলো: নিযার, সাবা এবং হাজরামাউত।

আপনি চাইলে বলতে পারেন: আদনান, রাবিয়াহ ও মুদার; অথবা চাইলে বলতে পারেন: নিযার; আবার চাইলে ইয়ামানের ক্ষেত্রে বলতে পারেন: কুদাআ, সাবা, হাজরামাউত ও কাহতান। আর যখন আপনি ‘সাবা’ বলবেন, তখন হিমইয়ার বিন সাবা-এর আলাদাভাবে উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই।
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ আলা কাবাইলির রুওয়াত - ত আবিয়ারী (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌قضاعة

قال أبو عُمر: فأما قضاعة فالاختلاف فيها كثير، والأكثر على أنها من معدّ بن عدنان، وأن قُضاعة بكرْ ولدَ مَعدّا، وبه كان يكنى.

ورُوي هذا من حديث هشام بن عروة، عن عائشة، إنها قالت: سمعت رسول الله، صلى الله عليه وسلم، يقول: قضاعة من معد، كان بكر ولَدَه وأكبرهم، وبه كان يكنى.

وليس دون هشام بن عروةِ من يُحتج به في هذا الحديث.

وقد روي عن عمر بن الخطاب، وعبد الله بن عباس، وجُبير بن مطعم، مثل ذلك، وهو قول عبد الملك بن هشام، ومصعب بن الزبير، والزبير بن بكار.

ومما آحتج به من قال هذه المقالة قولُ زهير:

إذا لَقحت حَربٌ عوان مُضرِّةٌ … ضَروسّ تُهِرُ الناسَ أنيابُها عُصْلُ

قُضاعّية أو أختها مُضِرِيّة … يُحرق في حافاتها الحَطب الجَزْلُ

فجعل قُضاعة من معد بن عدنان، اخا لمُضر بن نزار بن معد بن عدنان.
কুদাআহ

আবু উমর বলেন: কুদাআহ গোত্র সম্পর্কে অনেক মতভেদ রয়েছে, তবে অধিকাংশের মতে এটি মা'আদ বিন আদনানের অন্তর্ভুক্ত। কুদাআহ ছিলেন মা'আদের প্রথমজাত সন্তান এবং তাঁর নামানুসারেই মা'আদের কুনিয়াত (উপনাম) রাখা হতো।

এটি হিশাম বিন উরওয়ার সূত্রে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: কুদাআহ মা'আদের অন্তর্ভুক্ত, সে ছিল তাঁর প্রথম ও জ্যেষ্ঠ সন্তান এবং তাঁর মাধ্যমেই মা'আদের কুনিয়াত রাখা হতো।

এই হাদীসটির ক্ষেত্রে হিশাম বিন উরওয়ার নিম্নে এমন কেউ নেই যাকে দলিল হিসেবে পেশ করা যায়।

উমর ইবনুল খাত্তাব, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস এবং জুবাইর ইবনে মুতয়িম থেকেও অনুরুপ বর্ণিত হয়েছে। আব্দুল মালিক বিন হিশাম, মুসআব বিন যুবাইর এবং যুবাইর বিন বাক্কারের অভিমতও এটিই।

যারা এই মত পোষণ করেন, তাদের উপস্থাপিত দলিলের মধ্যে যুহাইরের এই কবিতাটি অন্যতম:

যখন কোনো ভয়াবহ বিধ্বংসী যুদ্ধ প্রজ্জ্বলিত হয় যা মুদার গোত্রের... এক দংশনকারী যুদ্ধ যার বাঁকা দন্তসমূহ মানুষকে আতঙ্কিত করে।

কুদাআহ গোত্রীয় যুদ্ধ অথবা তার বোন মুদার গোত্রীয় যুদ্ধ... যার প্রান্তসমূহে প্রচুর পরিমাণে কাষ্ঠ দাহ করা হয়।

এখানে তিনি কুদাআহকে মা'আদ বিন আদনানের বংশধর এবং মুদার বিন নিযার বিন মা'আদ বিন আদনানের ভাই হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ আলা কাবাইলির রুওয়াত - ত আবিয়ারী (পৃষ্ঠা: ৩২)
وقال غيره:

قُضاعة العُنصر مَن لا لَها … أبٌ بِه تُعْرَفُ إلا مَعَدَّ

وقال لبيد:

فلا تسألينا واسألي عن بلائنا … إياداً وكَلْباً مِن. مَعَد ووائلا

ولا خلاف أن كلباً في قضاعة.

وقال الشرقي بن القُطامي: لم تزل قضاعة على نسبها في معدّ في الجاهلية

وأول الإسلام، إلى أن أحدثت حِلْفاً بينها وبين أهل اليمن، أيام ابن الزبير وبني مروان، وذلك في غارات عُمير بن الحُباب السلمي على كلب، وغارات حُميد بن حُريث بن بَجدل الكلبي على فزارةِ، فلم تزل كلب واليمن يشدون ذلك الحلف، ويحتجون بحديث عَمرو بن مُرة الجهني، وكانت له صُحبة وسابقة في الإسلام، وطاعة في قومه، فمالوا إلى قوله قال أبو عُمر، رضي الله عنه.

ومثل حديث عَمرو بن مُرة الجهني حديثُ عقبة بن عامر الجهني، رواه جرير بن حازم، عن ابن لهيعة، عن معروف بن سويد، عن أبي عُشًّانَة المَعافري، عن عُقبة بن عامر الجهني، في حديث ذكره، قال: قلت: يا رسول الله، أمَا نحن من معد؟ قال: لا. قلت: مَن نحن؟ قال: أنتم قضاعة بن مالك بن حمير.

فعلى هذا قضاعة في اليمن، في حمير بن سبا.

ولا يختلفون أن جُهينة بن زيد بن سَود بن اسلم بن عمران بن الحاف بن قضاعة، قَبِيل عُقبة بن عامر الجهني.
অন্য একজন বলেন:

কুদায়া এমন এক বংশীয় মূল যার মায়াদ ছাড়া অন্য কোনো … পিতা নেই যার মাধ্যমে তাদের পরিচয় পাওয়া যায়।

লাবিদ বলেন:

আমাদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না, বরং মায়াদ ও ওয়ায়েল বংশীয় … ইয়াদ এবং কালব গোত্রকে আমাদের বীরত্ব ও পরীক্ষা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো।

আর এতে কোনো মতভেদ নেই যে কালব গোত্র কুদায়ার অন্তর্ভুক্ত।

আশ-শারকি ইবনুল কুতামি বলেন: জাহিলিয়াত এবং ইসলামের প্রাথমিক যুগে কুদায়া তার মায়াদ সংশ্লিষ্ট বংশ পরিচয়ের উপরেই অটল ছিল

যতক্ষণ না ইবনে জুবায়ের ও বনু মারওয়ানের শাসনকালে তারা নিজেদের এবং ইয়ামেনবাসীদের মধ্যে একটি মৈত্রী চুক্তি গড়ে তোলে। এটি সংঘটিত হয়েছিল কালব গোত্রের উপর উমায়ের ইবনুল হুবাব আস-সুলামির আক্রমণ এবং ফাজারা গোত্রের উপর হুমাইদ ইবনে হুরাইছ ইবনে বাজদাল আল-কালবির আক্রমণের দিনগুলোতে। কালব ও ইয়ামেনবাসীরা সেই মৈত্রী চুক্তিকে সুদৃঢ় করতে থাকে এবং তারা আমর ইবনে মুররা আল-জুহানির বর্ণনাকে প্রমাণ হিসেবে পেশ করতে থাকে। ইসলামে আমর ইবনে মুররার সাহচর্য ও অগ্রগণ্যতা ছিল এবং নিজ কওমের মধ্যে তার আনুগত্য ছিল, ফলে তারা তার বক্তব্যের দিকে ঝুঁকে পড়ে। আবু উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এটি উল্লেখ করেছেন।

আমর ইবনে মুররা আল-জুহানির হাদিসের মতোই উকবা ইবনে আমির আল-জুহানির হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে। জারির ইবনে হাযিম এটি ইবনে লাহিয়া থেকে, তিনি মারুফ ইবনে সুয়াইদ থেকে, তিনি আবু উশশানা আল-মাআফিরি থেকে, এবং তিনি উকবা ইবনে আমির আল-জুহানি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি একটি হাদিসে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেন: আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি মায়াদ বংশীয় নই? তিনি বললেন: না। আমি বললাম: তবে আমরা কারা? তিনি বললেন: তোমরা কুদায়া ইবনে মালিক ইবনে হিমইয়ার-এর বংশধর।

সুতরাং এই বর্ণনা অনুযায়ী কুদায়া হলো ইয়ামেনীয় এবং সাবার পুত্র হিমইয়ারের বংশোদ্ভূত।

আর এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই যে, জুহাইনা ইবনে যায়েদ ইবনে সাওদ ইবনে আসলাম ইবনে ইমরান ইবনে আল-হাফ ইবনে কুদায়া হলো উকবা ইবনে আমির আল-জুহানির গোত্র।
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ আলা কাবাইলির রুওয়াত - ত আবিয়ারী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
قال الشرقي: فإن يكن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: فقد صدق رسول الله صلى الله عليه وسلم.

قال الشرقي: ومالأهم على ذلك خالد بن يزيد بن معاوية، خلافا على بني مروان، ثم استحكم ذلك، فلم تزل قضاعة في اليمن إلى اليوم مختلفين في أنسابهم.

وقال محمد بن حبيب: إنما فسد نسب قضاعة بالحرب التي كانت بالشام أيام حميد بن حريث وعمير بن الحباب، وذلك أن خالد بن يزيد قال لأخواله من كلب، وكان مطاعاً فيهم، وهم سادة قضاعة: أطيعوني وحالفوا اليمن وآنتسبوا إليها، فإنكم تُدالون بذلك بني مروان، ومن أنحط في أهوائهم من قيس وغيرها، فأطاعه بعضهم وعصاه آخرون، فكان بعضهم يقول: حالفنا اليمن، وبعضهم يقول: بل نحن منهم.

وكان أول من انتسب من قضاعة إلى مالك بن حِمير الأفلح بن يعقوب، حيث يقول:

يا أيها الداعي ادْعنا وأبْشِرِ … وكُنْ قضاعيّا ولا تَنَزَّرِ

نحن بنو الشيخ الهِجان الازْهري … قُضاعةَ بن مالك بن حِمْيَرِ

النسبُ المَعروف … غَير المُنْكَرِ

وأما ابن اسحاق، في غير رواية ابن هشام وابن الكلبي وطائفة من أهل النسب، فذهبوا إلى أن قضاعة في حمير.

قال ابن إسحاق: قضاعة بن مالك بن حمير بن سبأ بن يشجب بن يعرب بن قحطان.
আশ-শারকী বলেন: যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে থাকেন, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্যই বলেছেন।

আশ-শারকী আরও বলেন: আর খালিদ ইবনে ইয়াযিদ ইবনে মুয়াবিয়া বনু মারওয়ানের বিরোধিতার খাতিরে এই বিষয়ে তাদের সমর্থন করেছিলেন। এরপর বিষয়টি পাকাপোক্ত হয়ে যায়, ফলে কুযাআ গোত্র আজ পর্যন্ত ইয়ামেনে তাদের বংশপরিচয় নিয়ে মতভেদে লিপ্ত রয়েছে।

মুহাম্মদ ইবনে হাবীব বলেন: মূলত কুযাআ গোত্রের বংশপরিচয় সেই যুদ্ধের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে যা হুমায়দ ইবনে হুরায়স এবং উমায়র ইবনে আল-হুবাব-এর সময়ে শামে সংঘটিত হয়েছিল। এর কারণ ছিল এই যে, খালিদ ইবনে ইয়াযিদ তার কালব গোত্রীয় মাতুলদের (যাদের মধ্যে তিনি মান্যবর ছিলেন এবং যারা ছিলেন কুযাআ গোত্রের নেতা) বলেছিলেন: "তোমরা আমার আনুগত্য করো এবং ইয়ামেনীদের সাথে মৈত্রী স্থাপন করো ও নিজেদের তাদের অন্তর্ভুক্ত বলে পরিচয় দাও। এর মাধ্যমে তোমরা বনু মারওয়ান এবং কায়স ও অন্যদের মধ্যে যারা তাদের অনুগামী হয়েছে, তাদের ওপর বিজয়ী হতে পারবে।" ফলে তাদের কেউ কেউ তার আনুগত্য করল এবং অন্যরা তাকে অমান্য করল। তখন কেউ কেউ বলত: "আমরা ইয়ামেনীদের সাথে মৈত্রী করেছি", আবার কেউ কেউ বলত: "বরং আমরা তাদেরই বংশধর।"

কুযাআ গোত্রের মধ্যে সর্বপ্রথম আফলাহ ইবনে ইয়াকুব নিজেকে মালিক ইবনে হিময়ার-এর বংশধর হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন, যেখানে তিনি বলেন:

হে আহ্বানকারী! আমাদের আহ্বান করো এবং সুসংবাদ গ্রহণ করো … আর তুমি কুযাঈ হও, নিযারী (মুদারী) হয়ো না

আমরা সেই শুভ্র ও উজ্জ্বল মর্যাদাবান শায়খের সন্তান … হিময়ারের পুত্র মালিকের সন্তান কুযাআ

এই বংশপরিচয় সুপরিচিত … যা মোটেই অস্বীকৃত নয়

পক্ষান্তরে ইবনে হিশামের বর্ণনা ব্যতীত ইবনে ইসহাকের অন্যান্য বর্ণনায়, এবং ইবনুল কালবী ও একদল বংশ বিশেষজ্ঞের মতে, তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, কুযাআ হিময়ার গোত্রের অন্তর্ভুক্ত।

ইবনে ইসহাক বলেন: কুযাআ ইবনে মালিক ইবনে হিময়ার ইবনে সাবা ইবনে ইয়াশজুব ইবনে ইয়ারুব ইবনে কাহতান।
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ আলা কাবাইলির রুওয়াত - ত আবিয়ারী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وقال ابن الكلبي: هو قضاعة بن مالك بن عمرو بن مرة بن زيد بن مالك بن حمير.

وقد قيل: إن قضاعة كانت امرأة من جرهم، فتزوجها مالك بن حمير، ثم خلف عليها بعد، مالك معد، فولدت له قضاعة على فراش مالك، وقد كانت العرب تنسب الرجل إلى زوج أمه، ألا ترى أنها قالت، في بني كنانة: بنو علي، وذلك أن أم كنانة كانت قبل كنانة تحت عليّ بن مسعود الأزدي، فنسبهم العرب إلى علي، وذلك موجود في أشعارها.

وأما سعد هذيم، فهو سعد بن زيد من قضاعة، حضنته هذيم، فنُسب إلى حاضنته، وعكل، امرأة حضنت بني عوف بن قيس بن وائل بن عوف بن عبد مناةِ بن أد، فنسبوا إليها، وسنذكر خبرها في موضعه من هذا الكتاب.

وغُصينة، وسودان، وثعلبة، بنو عمر بن الغوث، من طيء، نسبوا إلى حواضنهم أيضاً.

فأما غصينة، ويقال: غصين، فحضنه يولان، فغلب على اسمه، وثعلبة، حضنته

امرأة يقال لها: جرم، فغلبت على اسمه.

هذا كله ذكره الزبير وغيره.

ولأعشى بني تغلب، وقيل: إنها لبعض بني تيم اللات بن رفيدة بن ثور بن كلب، يخاطب قضاعة.

أَزْنَيْتُم عَجوزكمُ وكانت … عجوزاً لا يُشمّ لها خِمارُ

عَجوز لَوْ دَنا منها يَمانٍ … لَلاقَى مثل ما لاقى يَسارُ
ইবনুল কালবি বলেন: তিনি হলেন কুযাআহ ইবনে মালিক ইবনে আমর ইবনে মুররাহ ইবনে যায়দ ইবনে মালিক ইবনে হিমইয়ার।

বলা হয়ে থাকে যে: কুযাআহ জুরহুম গোত্রের একজন নারী ছিলেন, যাকে মালিক ইবনে হিমইয়ার বিবাহ করেছিলেন। পরবর্তীতে মালিকের পর মাআদ তাকে বিবাহ করেন, ফলে মালিকের শয্যায় তার গর্ভে কুযাআহ জন্মগ্রহণ করেন। আর আরবরা কোনো ব্যক্তিকে তার মাতার স্বামীর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করত। আপনি কি দেখেন না যে, তারা বনু কিনানাহর ক্ষেত্রে 'বনু আলী' বলে থাকে? এর কারণ হলো কিনানাহর মাতা কিনানাহর পূর্বে আলী ইবনে মাসউদ আল-আযদির স্ত্রী ছিলেন, ফলে আরবরা তাদের আলীর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছে এবং এটি তাদের কবিতাসমূহে বিদ্যমান রয়েছে।

আর সা'দ হুযাইম হলেন কুযাআহ গোত্রের সা'দ ইবনে যায়দ; হুযাইম নামক এক নারী তাকে লালন-পালন করেছিলেন, ফলে তাকে তার লালনকারিণীর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে। আর উক্কল হলেন এক নারী যিনি বনু আওফ ইবনে কাইস ইবনে ওয়ািল ইবনে আওফ ইবনে আবদ মানাত ইবনে আদকে লালন-পালন করেছিলেন, ফলে তাদের তার নামেই ডাকা হয়। আমরা এই কিতাবের যথাস্থানে তার সংবাদ উল্লেখ করব।

আর গুসাইনা, সুদান এবং সা'লাবাহ হলেন তায়য়ি গোত্রের আমর ইবনুল গাওস-এর পুত্র, তাদেরকেও তাদের লালনকারিণীদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে।

গুসাইনা সম্পর্কে বলা হয়: তাকে গুসাইনও বলা হয়, তাকে ইয়ালান লালন-পালন করেছিলেন এবং সেই নামটিই তার নামের ওপর প্রাধান্য পায়। আর সা'লাবাহকে লালন-পালন করেছিলেন

জুরম নামক এক নারী, ফলে সেই নামই তার পরিচয়ে প্রাধান্য পায়।

এই সব কিছুই যুবায়ের এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।

বনু তাগলিবের আশা-র এক কবিতায়—আবার বলা হয় এটি বনু তায়মুল লাত ইবনে রুফাইদাহ ইবনে সাওর ইবনে কালব-এর কারো—কুযাআহকে সম্বোধন করে বলা হয়েছে:

তোমরা তোমাদের বৃদ্ধা জননীকে ব্যভিচারিণী সাব্যস্ত করেছ, অথচ তিনি ছিলেন এমন এক বৃদ্ধা যাঁর ওড়নার ঘ্রাণও কেউ পেত না … (অর্থাৎ তিনি অত্যন্ত সতী ও পর্দানশীন ছিলেন)।

এমন এক বৃদ্ধা যাঁর কাছে যদি কোনো ইয়ামানি লোক আসত … তবে সে ইয়াসারের মতো পরিণতিরই সম্মুখীন হতো।
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ আলা কাবাইলির রুওয়াত - ত আবিয়ারী (পৃষ্ঠা: ৩৫)
يعني: يسار الكواعب، وكان زنى في غير قومه، فأخذ فخُصى.

وقال أعشى بني تغَلب:

أبلغْ قُضاعة في القِرطاس أنًهمُ … لولا خلائفُ دين الله ما عًتِقُوا

قالت قضاعة إنّا من ذوي يَمَنٍ … والله يَعلم ما برُّوا وما صَدَقُوا

قد ادعوا والداً ما مَسَّ أمَهمُ … قد يَعلمون ولكنْ ذلك الفَرَق

ما ضَرَّّّّّّّ شيخُ نِزَار أنْ يُفارِقَه … مَن لا يَزين إذا أبناؤُه اتَسقُوا

معدّ شيخٌ بَنَى للمجد قُبًته … فالمجدُ منه، ومِن ابنائه خُلُقُ

لو جاهلوا الناسَ بَزت جاهليّتَهم … أو سابَقوا الناسَ عن أحسابهم سَبَقُوا

الوارثون نَبِيّ الله سُنَّته … في دِينه وعليه نُزَل الورَقُ

تزداد لَحم المَنايا في مَنازلنا … طيباً إذا عَزَّ في أعدائنا المَرَقُ

وقال بعضُ شعراء مُضر في قضاعة:

مَرَرْنا على حَيّ قُضاعة غُدوةً … وقد أخذوا في الزَّفن والزَّفَنَانِ

فقلتُ لهم ما بالدزَفْنكم كذا … لعُرْسٍ نرى ذا أو لِخِتانِ

فقالوا ألا إنا وجدنا لنا أباً … فقلتُ لِيَهْنئكمْ بأي مَكانِ

فقالوا وجدناه بِجَرْعاءِ مالكٍ … فقلتُ إذا ما أمَّكم بِحَصَانِ

فما مَسَّ خُصْيَا مالكٍ فرجَ أُمَّكم … ولا بات مِنه الفرجُ بالمُتداني

فقالوا بَلى والله حتى كأنما … خُصَيّاه مِن تحت استها جُعَلَان

وقال الكميت، يُعاتب قضاعة في تحولهم إلى اليمن:

علامَ نزلتُمُ مِن غير فَقْرٍ … ولا ضرَاء منزلَة الحَمِيلِ

وقال عبد الملك بن حبيب: سمعت محمد بن سلام البصري
অর্থাৎ: ইয়াসার আল-কাওয়াইব; সে তার নিজের গোত্র ছাড়া অন্য গোত্রে ব্যভিচার করেছিল, ফলে তাকে পাকড়াও করে খোজা করে দেওয়া হয়েছিল।

আর বনু তাগলিবের আ’শা বলেছেন:

কুদাআহকে এই পত্রের মাধ্যমে সংবাদ পৌঁছে দাও যে, তারা … যদি আল্লাহর দ্বীনের খলীফাগণ না থাকতেন তবে তারা মুক্ত হতে পারত না।

কুদাআহ বলল যে আমরা ইয়ামেনীদের বংশোদ্ভূত … অথচ আল্লাহ জানেন তারা পুণ্যবান ছিল না এবং সত্য বলেনি।

তারা এমন এক পিতার দাবি করেছে যে তাদের মাতাকে স্পর্শও করেনি … তারা তা ভালো করেই জানে, কিন্তু সেটি হলো তাদের বিচ্ছিন্নতা ও ভয়ের কারণ।

নিযার গোত্রের শ্রেষ্ঠ নেতার কোনো ক্ষতি হবে না যদি তাকে এমন কেউ ত্যাগ করে … যে তার সন্তানদের সুশৃঙ্খল অবস্থায় কোনো শোভা বৃদ্ধি করে না।

মা’আদ্দ হলেন এমন এক শায়খ যিনি মর্যাদার উচ্চ গম্বুজ নির্মাণ করেছেন … গৌরব তাঁর থেকেই উৎসারিত এবং তাঁর সন্তানদের মাঝে তা সহজাত স্বভাব।

তারা যদি মানুষের সাথে অজ্ঞতাসুলভ আচরণ করত তবে তাদের অজ্ঞতা সকলকে ছাড়িয়ে যেত … অথবা যদি তারা আভিজাত্যের গৌরবে মানুষের সাথে প্রতিযোগিতা করত তবে তারাই বিজয়ী হতো।

তারা আল্লাহর নবীর সুন্নাতের উত্তরাধিকারী … তাঁর দ্বীনের ক্ষেত্রে, এবং তাঁর ওপরই কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে।

আমাদের আবাসস্থলে মৃত্যুর গোশত অধিক সুস্বাদু হয়ে ওঠে … যখন আমাদের শত্রুদের মাঝে ঝোল দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়ে।

আর মুদার গোত্রের জনৈক কবি কুদাআহ সম্পর্কে বলেছেন:

আমরা প্রত্যুষে কুদাআহ গোত্রের জনপদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম … তখন তারা নাচ ও নৃত্যে মেতে ছিল।

আমি তাদের বললাম, তোমাদের এই নাচের হেতু কী? … আমরা কি এখানে কোনো বিবাহের উৎসব দেখছি নাকি খতনা অনুষ্ঠান?

তারা বলল, শোনো, আমরা আমাদের একজন পিতাকে খুঁজে পেয়েছি … আমি বললাম, যে কোনো স্থানেই হোক, তা তোমাদের জন্য মোবারক হোক।

তারা বলল, আমরা তাকে মালিকের বালুকাময় প্রান্তরে খুঁজে পেয়েছি … আমি বললাম, তাহলে তোমাদের মা সতী ও পবিত্রা ছিলেন?

মালিকের অণ্ডকোষ তোমাদের মায়ের জরায়ুকে স্পর্শ করেনি … এবং তাদের মাঝে শারীরিক সান্নিধ্যের কোনো রাত অতিবাহিত হয়নি।

তারা বলল, হ্যাঁ আল্লাহর কসম, এমনকি মনে হচ্ছিল যেন … তার নিতম্বের নিচে তার অণ্ডকোষ দুটি গোবরে পোকার মতো ছিল।

আর আল-কুমায়ত কুদাআহ গোত্রকে ইয়ামেনে স্থানান্তরের জন্য তিরস্কার করে বলেছেন:

কিসের ভিত্তিতে তোমরা কোনো অভাব বা দারিদ্র্য ছাড়াই … আগন্তুক বা আশ্রিত হিসেবে ভিনদেশে এসে অবতীর্ণ হলে?

আর আব্দুল মালিক ইবনে হাবীব বলেছেন: আমি মুহাম্মাদ ইবনে সাল্লাম আল-বাসরিকে বলতে শুনেছি
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ আলা কাবাইলির রুওয়াত - ত আবিয়ারী (পৃষ্ঠা: ৩৬)
النسابة، يقول: العرب ثلاث جراثيم: نزار، واليمن، وقضاعة: قلت له: فنزار أكثر أم اليَمن؟ فقال: ما شاءت قضاعة أن تَمَعْدَدت فنزارُ اكثر، وإن تَيمنت فاليمن اكثر، فما هي عندك؟ قال: معدية لا شك فيه، واحتج بحديث هشام بن عروة، الذي قدمنا ذكره. في أول باب قضاعة.

وروي عن عمر بن الخطاب، وعبد الله بن عباس، رضي الله عنهما: إن قضاعة، ابن معد.

قال أبو عمر، رضي الله عنه: فهذه الثلاثة الأصول في أنساب العرب التي لا يوجد عربي اليوم إلا منتسب إلى أحدها، وهي: معد بن عدنان، وقضاعة، وقحطان، مجماع عدنان: نزار بن معد بن عدنان، وكل عدناني اليوم نزاري.
বংশবিদ বলেন: আরবদের মূল ভিত্তি তিনটি: নিযার, ইয়ামেন এবং কুযাআহ। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম: নিযার কি সংখ্যায় বেশি নাকি ইয়ামেন? তিনি বললেন: কুযাআহ যা হতে চায়; যদি তারা নিজেদের মা'আদ-পন্থী হিসেবে গণ্য করে তবে নিযার বেশি হবে, আর যদি ইয়ামেন-পন্থী হিসেবে গণ্য করে তবে ইয়ামেন বেশি হবে। আপনার নিকট এটি কী? তিনি বললেন: এটি নিঃসন্দেহে মা'আদি (মা'আদ বংশীয়), এবং তিনি হিশাম ইবনে উরওয়াহর বর্ণিত সেই হাদীস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, যা আমরা ইতিপূর্বে কুযাআহ অধ্যায়ের শুরুতে উল্লেখ করেছি।

ওমর ইবনুল খাত্তাব এবং আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: নিশ্চয়ই কুযাআহ হলো মা'আদের পুত্র।

আবু ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: আরবদের বংশধারায় এই তিনটিই হলো মূল উৎস, যার ফলে বর্তমানের কোনো আরবকেই এই তিনটির কোনো একটির সাথে সম্পৃক্ত হওয়া ছাড়া পাওয়া যাবে না। সেগুলো হলো: মা'আদ ইবনে আদনান, কুযাআহ এবং কাহতান। আদনানের কেন্দ্রবিন্দু হলো: নিযার ইবনে মা'আদ ইবনে আদনান, এবং বর্তমানের প্রত্যেক আদনানিই হলো নিযারি।
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ আলা কাবাইলির রুওয়াত - ত আবিয়ারী (পৃষ্ঠা: ৩৭)
‌‌نزار

فأمّا نزار، فولد: مضر، وربيعة، وأنمارا، وإيادا، وهو إياد الأصغر، وفيهم صار إياد الأكبر، ابن معد بن عدنان، فيما ذكر اكثرهم.

واما أنمار، فأكثر أهل النسب يقولون: إنه ولَد،: خثعم، وبجيلة، وقد اختُلف في ذلك، على ما نذكره بعد، إن شاء الله تعالى.

فالصحيح الصريح من أنساب معد، الذي لا اختلاف فيه، أنه ولد نزار، والمجتمع عليه في نزار: ربيعة، ومضر، وذلك أن إيادا وأنمارا لحقا بأرض اليمن، فانتمى أكثرهم إلى اليمن، وهذا حين أفضى بنا القول إلى تفريع القبائل المنتسبة إِلى تلك الأصول.
নিযার

নিযারের কথা বলতে গেলে, তাঁর সন্তানরা হলো: মুযার, রাবীআহ, আনমার এবং ইয়াদ; আর তিনি হলেন ইয়াদ আল-আসগার (ছোট ইয়াদ)। তাঁদের মাঝেই ইয়াদ আল-আকবার ইবনে মাআদ ইবনে আদনান অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছেন বলে অধিকাংশ বংশবিদ উল্লেখ করেছেন।

আর আনমারের ব্যাপারে অধিকাংশ বংশবিদ বলেন যে, তিনি খাশআম ও বাজীলার জন্ম দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে, যা আমরা আল্লাহ তাআলা চাইলে পরে উল্লেখ করব।

মাআদের বংশপরম্পরায় যা সহীহ ও সুস্পষ্ট এবং যাতে কোনো মতভেদ নেই তা হলো, নিযার তাঁর সন্তান। আর নিযারের সন্তানদের ব্যাপারে যা সর্বসম্মত তা হলো রাবীআহ ও মুযার। এর কারণ হলো ইয়াদ ও আনমার ইয়ামেন ভূখণ্ডে চলে গিয়েছিলেন এবং তাঁদের অধিকাংশই ইয়ামেনের সাথে নিজেদের সম্বন্ধ যুক্ত করেছিলেন। আর এ পর্যায়ে আমাদের আলোচনা সেই মূল উৎসগুলো থেকে উদ্ভূত গোত্রসমূহের শাখা-প্রশাখা বর্ণনার দিকে ধাবিত হচ্ছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ আলা কাবাইলির রুওয়াত - ত আবিয়ারী (পৃষ্ঠা: ৩৮)
‌‌مضر

فأول ذلك: مضر، إذ هي شَعب النبي صلى الله عليه وسلم، ولا خلاف بين العلماء أن الصريح من ولد إسماعيل، عليه السلام: مضر، وربيعة، ابنا نزار بن معد بن عدنان.

وقد رُوي أن رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال: إن الله، عز وجل، اختار من العرب هذا الحي من مضر؟.

وأخبرنا عبد الوارث بن سفيان: نا قاسم، نا أحمد بن زهير: نا ابن الأصبهاني نا حميد بن عبد الرحمن الرؤاسي، عن المثني بن الصباح، عن عطاء، عن ابن عباس، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إذا اختلف الناس فالعدل في مضر.

وذكره ابن سنجر، قال: حدثنا محمد بن سعيد بن الأصبهاني، بإسناده مثلَه.

ورُوي عنه، صلى الله عليه وسلم أنه سمع رجلاً ينشد:

إنيَ امرؤ حميريٌّ حين تَنسُبني … لا مِن ربيعة آبائي ولا مُضَرِ

فقال: ذلك أبعد لك من الله ورسوله.
মুদার

প্রথমত: মুদার, কেননা এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গোত্র। আলেমদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, ইসমাইল আলাইহিস সালাম-এর সন্তানদের মধ্যে যারা বিশুদ্ধ বংশধারাভুক্ত তারা হলেন মুদার ও রাবীআহ—নিজার ইবনে মা’দ ইবনে আদনানের দুই পুত্র।

বর্ণিত আছে যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: নিশ্চয়ই মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ আরবদের মধ্য হতে মুদারের এই গোষ্ঠীটিকে মনোনীত করেছেন।

আবদ আল-ওয়ারিস ইবনে সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: কাসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমদ ইবনে জুহাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: ইবনুল আসবাহানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুমাইদ ইবনে আবদ আল-রহমান আল-রুআসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসান্না ইবনে আস-সাব্বাহ থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যখন মানুষের মধ্যে মতভেদ দেখা দেয়, তখন ন্যায়বিচার মুদারের মধ্যে থাকে।

ইবনে সাঞ্জার এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ ইবনুল আসবাহানী তাঁর সনদসহ অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এক ব্যক্তিকে কবিতা আবৃত্তি করতে শুনলেন:

আমি একজন হিময়ারী ব্যক্তি যখন তুমি আমার বংশ পরিচয় জানতে চাও … আমার পিতৃপুরুষগণ রাবীআহ-এর অন্তর্ভুক্ত নয় এবং মুদার-এরও নয়।

তখন তিনি বললেন: সেটি তোমাকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল থেকে আরও দূরে সরিয়ে দেয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ আলা কাবাইলির রুওয়াত - ত আবিয়ারী (পৃষ্ঠা: ৩৯)
‌‌خندف

امرأة، ينسب إليها بنوها، وهم، الياس بن مضر، وعيلان بن مضر.

ومضر، جِذْمان: خندف، وقيس، والمقدم منهما: خندف، لأنها جِذم رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأصل قريش.
খিন্দিফ

তিনি একজন নারী, যাঁর সাথে তাঁর সন্তানদের সম্বন্ধ করা হয়; আর তাঁরা হলেন ইলিয়াস ইবনে মুদার এবং আয়লান ইবনে মুদার।

মুদার বংশের দু’টি শাখা রয়েছে: খিন্দিফ এবং কায়স। আর এই দু’টির মধ্যে খিন্দিফই অগ্রগণ্য; কারণ তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশের মূল এবং কুরাইশ বংশের উৎস।