(খণ্ড: ১) উয়ুনুল আনবা ফী তবাকাতিল আতিব্বা (পৃষ্ঠা: -)
عيون الأنباء في طبقات الأطباء   (ابن أبي أصيبعة)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: عيون الأنباء في طبقات الأطباء

المؤلف: أحمد بن القاسم بن خليفة بن يونس الخزرجي موفق الدين، أبو العباس ابن أبي أصيبعة (ت 668هـ)

المحقق: الدكتور نزار رضا

الناشر: دار مكتبة الحياة - بيروت

عدد الصفحات: 768

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

উয়ুনুল আনবা ফি তাবাকাতিল আতিব্বা   (ইবনে আবি উসাইবিয়াহ)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমষ্টি


গ্রন্থ: উয়ুনুল আনবা ফি তাবাকাতিল আতিব্বা

লেখক: আহমাদ ইবনুল কাসিম ইবনে খলিফা ইবনে ইউনুস আল-খাজরাজি মুওয়াফফাকুদ্দিন, আবুল আব্বাস ইবনে আবি উসাইবিয়াহ (মৃত্যু ৬৬৮ হিজরি)

সম্পাদক: ডক্টর নিযার রিদা

প্রকাশক: দার মাকতাবাতিল হায়াত - বৈরুত

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৬৮

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) উয়ুনুল আনবা ফী তবাকাতিল আতিব্বা (পৃষ্ঠা: ١١)
الْبَاب الأول

 

‌‌كَيْفيَّة وجود صناعَة الطِّبّ وَأول حدوثها

 

أَقُول أَن الْكَلَام فِي تَحْقِيق هَذَا الْمَعْنى يعسر لوجوه

أَحدهَا بعد الْعَهْد بِهِ فَإِن كل مَا بعد عَهده وخصوصا مَا كَانَ من هَذَا الْقَبِيل فَإِن النّظر فِيهِ عسر جدا

الثَّانِي أننا لم نجد للقدماء والمتميزين وَذَوي الآراء الصادقة قولا وَاحِدًا سَادًّا فِي هَذَا مُتَّفقا عَلَيْهِ فنتبعه

الثَّالِث أَن الْمُتَكَلِّمين فِي هَذَا لما كَانُوا فرقا وَكَانُوا كثيري الِاخْتِلَاف جدا بِحَسب مَا وَقع إِلَى كل وَاحِد مِنْهُم أشكل التَّوْجِيه فِي أَي أَقْوَالهم هُوَ الْحق

وَقد ذكر جالينوس فِي تَفْسِيره لكتاب الْإِيمَان لَا بقراط أَن الْبَحْث فِيمَا بَين القدماء عَن أول من وجد صناعَة الطِّبّ لم يكن بحثا يَسِيرا

ولنبدأ أَولا بِإِثْبَات مَا ذكره مَعَ مَا ألحقناه بِهِ فِي جِهَة الْحصْر لهَذِهِ الآراء الْمُخْتَلفَة

وَذَلِكَ أَن القَوْل فِي وجود صناعَة الطِّبّ يَنْقَسِم إِلَى قسمَيْنِ أولين فقوم يَقُولُونَ بقدمه وَقوم يَقُولُونَ بحدوثه

فَالَّذِينَ يَعْتَقِدُونَ حُدُوث الْأَجْسَام يَقُولُونَ أَن صناعَة الطِّبّ محدثة لِأَن الْأَجْسَام الَّتِي يسْتَعْمل فِيهَا الطِّبّ محدثة
প্রথম অধ্যায়

 

‌‌চিকিৎসা বিদ্যার অস্তিত্ব লাভের স্বরূপ এবং এর সূচনালগ্ন

 

আমি বলব যে, এই বিষয়টি নিশ্চিতভাবে অনুসন্ধান ও পর্যালোচনা করা কয়েকটি কারণে অত্যন্ত কঠিন।

প্রথমত, এর সময়কাল অতি প্রাচীন হওয়ার কারণে। কেননা, যে কোনো বিষয় যদি সুদূর অতীতের হয়, বিশেষত এই প্রকারের কোনো বিষয়, তবে তা নিয়ে গবেষণা করা অত্যন্ত দুরূহ।

দ্বিতীয়ত, আমরা প্রাচীন মনীষী, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সঠিক মতাদর্শীদের মধ্যে এ বিষয়ে এমন কোনো একক ও অকাট্য বক্তব্য পাইনি যার ওপর ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত এবং যা আমরা অনুসরণ করতে পারি।

তৃতীয়ত, যারা এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন তারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত ছিলেন এবং প্রত্যেকের কাছে যে তথ্য পৌঁছেছিল সেই অনুযায়ী তাদের মধ্যে মতভেদও ছিল অত্যন্ত ব্যাপক। ফলে তাদের বক্তব্যের মধ্যে কোনটি সত্য, তা নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

জালিনুস (গ্যালেন), বুকরাত (হিপোক্রেটিস)-এর ‘কিতাবুল ঈমান’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, চিকিৎসা বিদ্যার আদি উদ্ভাবক কে—প্রাচীনদের মধ্যে এই অনুসন্ধান প্রক্রিয়াটি মোটেও সহজসাধ্য ছিল না।

তাই আমরা প্রথমে তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা এবং এর সাথে আমরা যা সংযোজন করেছি তা বর্ণনা করার মাধ্যমে এই ভিন্ন ভিন্ন মতগুলোকে সীমাবদ্ধ ও শ্রেণীবদ্ধ করতে শুরু করব।

মূল কথা হলো, চিকিৎসা বিদ্যার অস্তিত্ব লাভের বিষয়টি প্রথমত দুই ভাগে বিভক্ত: একদল এর অনাদিত্বের (কাদিম) কথা বলেন, আর অন্যদল এর সৃষ্টির (হুদুছ) কথা বলেন।

যারা শরীরের নশ্বরতা বা সৃষ্টির (হুদুছুল আজসাম) তত্ত্বে বিশ্বাসী, তারা বলেন যে চিকিৎসা বিদ্যাও একটি সৃজিত বা নতুন বিষয়; কেননা যে দেহের ওপর চিকিৎসা প্রয়োগ করা হয় তা নিজেই সৃষ্টি বা নশ্বর।
(খণ্ড: ১) উয়ুনুল আনবা ফী তবাকাতিল আতিব্বা (পৃষ্ঠা: ١٢)
وَالَّذين يَعْتَقِدُونَ الْقدَم يَعْتَقِدُونَ فِي الطِّبّ قدمه

وَيَقُولُونَ أَن صناعَة الطِّبّ قديمَة لم تزل مذ كَانَت كَأحد الْأَشْيَاء الْقَدِيمَة لم تزل مثل خلق الْإِنْسَان

وَأما أَصْحَاب الْحُدُوث فينقسم قَوْلهم إِلَى قسمَيْنِ فبعضهم يَقُول أَن الطِّبّ خلق مَعَ خلق الْإِنْسَان إِذْ كَانَ من أحد الْأَشْيَاء الَّتِي بهَا صَلَاح الْإِنْسَان

وَبَعْضهمْ يَقُول وهم الْجُمْهُور أَن الطِّبّ استخرج بعد

وَهَؤُلَاء أَيْضا ينقسمون قسمَيْنِ فَمنهمْ من يَقُول أَن الله تَعَالَى ألهمها النَّاس وَأَصْحَاب هَذَا الرَّأْي على مَا يَقُوله جالينوس وابقراط وَجَمِيع أَصْحَاب الْقيَاس وشعراء اليونانيين

وَمِنْهُم من يَقُول أَن النَّاس استخرجوها

وَهَؤُلَاء قوم من أَصْحَاب التجربة وَأَصْحَاب الْحِيَل وثاسلس المغالط وفيلن وهم أَيْضا مُخْتَلفُونَ فِي الْوَضع الَّذِي بِهِ استخرجت وبماذا استخرجت

فبعضهم يَقُول أَن أهل مصر استخرجوها ويصححون ذَلِك من الدَّوَاء الْمُسَمّى باليونانية الأنى وَهُوَ الراسن فبعضهم يَقُول أَن هرمس استخرج سَائِر الصَّنَائِع والفلسفة والطب وَبَعْضهمْ يَقُول أَن أهل فولوس استخرجوها من الْأَدْوِيَة الَّتِي ألفتها الْقَابِلَة لامْرَأَة الْملك فَكَانَ بهَا برؤها وَبَعْضهمْ يَقُول أَن أهل موسيا وأفروجيا استخرجوها وَذَلِكَ أَن هَؤُلَاءِ أول من استخرج الزمر فَكَانُوا يشفون بِتِلْكَ الألحان والإيقاعات آلام النَّفس ويشفي آلام النَّفس مَا يشفى بِهِ الْبدن

وَبَعْضهمْ يَقُول أَن الْمُسْتَخْرج لَهَا الْحُكَمَاء من أهل قو وَهِي الجزيرة الَّتِي كَانَ بهَا ابقراط وآباؤه وأعني آل أسقليبيوس

وَقد ذكر كثير من القدماء أَن الطِّبّ ظهر فِي ثَلَاث جزائر فِي وسط الإقليم الرَّابِع إِحْدَاهَا تسمى رودس وَالثَّانيَِة تسمى قنيدس وَالثَّالِثَة تسمى قو وَمن هَذِه كَانَ ابقراط

وَبَعْضهمْ يرى أَن الْمُسْتَخْرج لَهَا الكلدانيون

وَبَعْضهمْ يَقُول أَن الْمُسْتَخْرج لَهَا السَّحَرَة من أهل الْيمن

وَبَعْضهمْ يَقُول بل السَّحَرَة من بابل أَو السَّحَرَة من فَارس

وَبَعْضهمْ يَقُول أَن الْمُسْتَخْرج لَهَا الْهِنْد وَبَعْضهمْ يَقُول أَن الْمُسْتَخْرج لَهَا أهل أقريطش الَّذين ينْسب لافتيمون إِلَيْهِم وَبَعْضهمْ يَقُول أهل طور سينا

فَالَّذِينَ قَالُوا أَن الطِّبّ من الله تَعَالَى قَالَ بَعضهم هُوَ إلهام بالرؤيا

وَاحْتَجُّوا بِأَن جمَاعَة رَأَوْا فِي الأحلام أدوية استعملوها فِي الْيَقَظَة فشفتهم من أمراض صعبة وشفت كل من استعملها
যারা মহাবিশ্বের অনাদিত্বে বিশ্বাস করেন, তারা চিকিৎসাবিদ্যাকেও অনাদি বলে মনে করেন।

তারা বলেন যে, চিকিৎসাকলা হলো অনাদি; এটি সেই সূচনালগ্ন থেকেই বিদ্যমান ছিল যেমন অন্যান্য অনাদি বিষয়াবলী বিদ্যমান ছিল, যেমন মানুষের সৃষ্টি।

পক্ষান্তরে যারা চিকিৎসাবিদ্যার উৎপত্তিতে বিশ্বাস করেন, তাদের বক্তব্য দুই ভাগে বিভক্ত: তাদের কেউ কেউ বলেন যে, চিকিৎসাবিদ্যা মানুষের সৃষ্টির সাথেই সৃষ্টি করা হয়েছে, কারণ এটি এমন একটি বিষয় যার ওপর মানুষের কল্যাণ নির্ভরশীল।

আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ—যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ—বলেন যে, চিকিৎসাবিদ্যা পরবর্তীকালে উদ্ভাবিত হয়েছে।

তারাও আবার দুই ভাগে বিভক্ত: তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন যে, আল্লাহ তাআলা মানুষকে এর ইলহাম বা ঐশী অনুপ্রেরণা দান করেছেন। গ্যালেন, হিপোক্রেটিস, সকল যুক্তিনির্ভর বিশেষজ্ঞ এবং গ্রিক কবিগণ এই মত পোষণ করেন।

আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন যে, মানুষ নিজেই এটি উদ্ভাবন করেছে।

তারা হলেন একদল অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান চর্চাকারী, কুশলী ব্যক্তিবর্গ, ভ্রান্তিবাদী থাসলুস এবং ফিলন। তারা কীভাবে এবং কিসের মাধ্যমে এটি উদ্ভাবিত হয়েছে সে বিষয়েও ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেন।

তাদের কেউ বলেন যে, মিশরীয়রা এটি উদ্ভাবন করেছে এবং তারা গ্রিক ভাষায় 'আনি' নামক ওষুধের মাধ্যমে তা প্রমাণ করেন, যা মূলত রাসেন (এলিক্যাম্পেন)। আবার কেউ বলেন যে, হার্মিস সমস্ত শিল্পকলা, দর্শন ও চিকিৎসাবিদ্যা উদ্ভাবন করেছেন। কেউ বলেন যে, ফোলস নগরের অধিবাসীরা এটি সেই সব ওষুধের মাধ্যমে উদ্ভাবন করেছে যা রাজপত্নীর জন্য এক ধাত্রী প্রস্তুত করেছিলেন এবং যার মাধ্যমে তিনি আরোগ্য লাভ করেছিলেন। কেউ আবার বলেন যে, মুসিয়া ও ফ্রিজিয়া অঞ্চলের অধিবাসীরা এটি উদ্ভাবন করেছে; কারণ তারা ছিল বাঁশির সুরের প্রথম উদ্ভাবক এবং তারা সুর ও লয়ের মাধ্যমে মানসিক ব্যথার চিকিৎসা করত, আর যা মনের ব্যথা উপশম করে তা দেহেরও নিরাময় করে।

কেউ বলেন যে, এটি উদ্ভাবন করেছেন কু (কোস) দ্বীপের হেকিমগণ; এটি সেই দ্বীপ যেখানে হিপোক্রেটিস ও তার পূর্বপুরুষগণ—অর্থাৎ আসক্লেপিয়াস বংশীয়রা বাস করতেন।

প্রাচীনদের অনেকে উল্লেখ করেছেন যে, চিকিৎসাবিদ্যা চতুর্থ জলবায়ু অঞ্চলের মধ্যভাগে অবস্থিত তিনটি দ্বীপে বিকাশ লাভ করেছিল: একটির নাম রোডস, দ্বিতীয়টি ক্নিডাস এবং তৃতীয়টি কু (কোস), যেখান থেকে হিপোক্রেটিসের আবির্ভাব ঘটেছিল।

কেউ কেউ মনে করেন যে, ক্যালডীয়রা এটি উদ্ভাবন করেছে।

কেউ কেউ বলেন যে, ইয়েমেনের জাদুকররা এটি উদ্ভাবন করেছে।

কেউ আবার বলেন যে, বরং ব্যাবিলনের জাদুকররা অথবা পারস্যের জাদুকররা এটি উদ্ভাবন করেছে।

কেউ বলেন এটি ভারত উদ্ভাবন করেছে, কেউ বলেন এটি ক্রীট দ্বীপের অধিবাসীদের আবিষ্কার যাদের সাথে এফতিমুন সম্পর্কিত, আবার কেউ বলেন সিনাই পর্বতের অধিবাসীরা এটি আবিষ্কার করেছে।

যারা বলেন যে চিকিৎসাবিদ্যা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে প্রাপ্ত, তাদের কেউ কেউ বলেন যে এটি স্বপ্নের মাধ্যমে প্রাপ্ত ইলহাম।

তারা এই যুক্তি দেখান যে, একদল মানুষ স্বপ্নে বিভিন্ন ওষুধের কথা জানতে পেরেছেন, অতঃপর জাগ্রত অবস্থায় সেগুলো ব্যবহার করে জটিল রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করেছেন এবং যারা সেই ওষুধগুলো ব্যবহার করেছে তাদের সকলেই নিরাময় লাভ করেছে।
(খণ্ড: ১) উয়ুনুল আনবা ফী তবাকাতিল আতিব্বা (পৃষ্ঠা: ١٣)
وَقَالَ قوم ألهمها الله تَعَالَى بالتجربة ثمَّ زَاد الْأَمر فِي ذَلِك وَقَوي وَاحْتَجُّوا أَن امْرَأَة كَانَت بِمصْر وَكَانَت شَدِيدَة الْحزن والهم مبتلاة بالغنظ والدرد وَمَعَ ذَلِك فَكَانَت ضَعِيفَة الْمعدة وصدرها مَمْلُوء أخلاطا رَدِيئَة وَكَانَ حَيْضهَا محتبسا فاتفق لَهَا أَن أكلت الراسن مرَارًا كَثِيرَة بِشَهْوَة مِنْهَا لَهُ فَذهب عَنْهَا جَمِيع مَا كَانَ بهَا وَرجعت إِلَى صِحَّتهَا وَجَمِيع من كَانَ بِهِ شَيْء مِمَّا كَانَ بهَا لما اسْتَعْملهُ برأَ بِهِ فَاسْتعْمل النَّاس التجربة على سَائِر الْأَشْيَاء

وَالَّذين قَالُوا أَن الله تَعَالَى خلق صناعَة الطِّبّ احْتَجُّوا فِي ذَلِك بِأَنَّهُ لَا يُمكن فِي هَذَا الْعلم الْجَلِيل أَن يَسْتَخْرِجهُ عقل إِنْسَان وَهَذَا الرَّأْي هُوَ رَأْي جالينوس وَهَذَا نَص مَا ذكره فِي تَفْسِيره لكتاب الْإِيمَان لابقراط قَالَ

وَأما نَحن فالأصوب عندنَا وَالْأولَى أَن نقُول أَن الله تبارك وتعالى خلق صناعَة الطِّبّ وألهمها النَّاس وَذَلِكَ أَنه لَا يُمكن فِي مثل هَذَا الْعلم الْجَلِيل أَن يُدْرِكهُ عقل الْإِنْسَان لَكِن الله تبارك وتعالى هُوَ الْخَالِق الَّذِي هُوَ بِالْحَقِيقَةِ فَقَط يُمكنهُ خلقه وَذَلِكَ إِنَّا لَا نجد الطِّبّ أحسن من الفلسفة الَّتِي يرَوْنَ أَن استخراجها كَانَ من عِنْد الله تبارك وتعالى

وَوجدت فِي كتاب الشَّيْخ موفق الدّين أسعد بن إلْيَاس بن المطران الَّذِي وسمه ببستان الْأَطِبَّاء وروضة الألباء كلَاما نَقله عَن أبي جَابر المغربي وَهُوَ هَذَا قَالَ

سَبَب وجود هَذِه الصِّنَاعَة وَحي وإلهام وَالدَّلِيل على ذَلِك أَن هَذِه الصِّنَاعَة مَوْضُوعَة للعناية بأشخاص النَّاس إِمَّا لِأَن تفيدهم الصِّحَّة عِنْد الْمَرَض وَأما لِأَن تحفظ الصِّحَّة عَلَيْهِم

وممتنع أَن تَعْنِي الصِّنَاعَة بالأشخاص بذاتها دون أَن تكون مقرونة بِعلم أَمر هَذِه الْأَشْخَاص الَّتِي خصت الْعِنَايَة بهَا

وَمن الْبَين أَن الْأَشْخَاص ذَوَات مبدأ لوقوعها تَحت الْعدَد وكل مَعْدُود فأوله وَاحِد تكْثر وَلَا يجوز أَن تكون أشخاص النَّاس إِلَى مَا لَا نِهَايَة لَهُ لِأَن خُرُوج مَا لَا نِهَايَة لَهُ إِلَى الْفِعْل محَال قَالَ ابْن المطران لَيْسَ كل مَا لَا يقدر على حصره فَلَا نِهَايَة لَهُ بل قد تكون لَهُ نِهَايَة يضعف عَن حصرها

قَالَ أَبُو جَابر وَإِذا كَانَت الْأَشْخَاص الَّتِي لَا تقوم هَذِه الصِّنَاعَة إِلَّا بهَا ذَوَات مبدأ ضَرُورَة فالصناعة ذَات مبدأ ضَرُورَة

وَمن الْبَين أَن الشَّخْص الَّذِي هُوَ أول الْكَثْرَة مفتقر إِلَيْهَا كافتقار سَائِرهمْ

وَمن الْبَين أَيْضا أَنه لَا يَأْتِي من أول شخص وجد علم هَذِه الصِّنَاعَة استنباطا لقصر عمره وَطول الصِّنَاعَة وَلَا يجوز أَن يجتمعوا فِي مبدأ الْكَثْرَة على استنباطها من أجل أَن الصِّنَاعَة متقنة محكمَة

وكل أَمر متقن لَا يستنبط بالاختلاف بل بالِاتِّفَاقِ

والأشخاص الَّتِي
একদল লোক বলেন যে, মহান আল্লাহ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে এই বিষয়ের অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, অতঃপর বিষয়টি বিস্তার লাভ করে এবং শক্তিশালী হয়। তারা প্রমাণ হিসেবে পেশ করেন যে, মিশরে এক মহিলা ছিলেন যিনি অত্যন্ত বিষণ্ণতা, দুশ্চিন্তা এবং মনস্তাপ ও শারীরিক যন্ত্রণায় ক্লিষ্ট ছিলেন। এর পাশাপাশি তাঁর পাকস্থলী দুর্বল ছিল এবং তাঁর বক্ষদেশ মন্দ মিশ্রণে পূর্ণ ছিল। তাঁর মাসিক ঋতুস্রাবও রুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। ঘটনাক্রমে তিনি নিজের প্রবল ইচ্ছায় কয়েকবার রাসান ভক্ষণ করেন। এর ফলে তাঁর যাবতীয় ব্যাধি দূর হয়ে যায় এবং তিনি সুস্থতা ফিরে পান। যাদেরই অনুরূপ সমস্যা ছিল, তারা এটি ব্যবহার করে আরোগ্য লাভ করল। অতঃপর মানুষ অন্যান্য সকল বিষয়ের ওপরও অভিজ্ঞতার প্রয়োগ শুরু করে।

আর যারা বলেন যে মহান আল্লাহ চিকিৎসা বিদ্যা সৃষ্টি করেছেন, তারা যুক্তি দেন যে, মানুষের বিচারবুদ্ধি দিয়ে এই মহান জ্ঞান উদ্ভাবন করা সম্ভব নয়। এই অভিমতটি গ্যালেনের এবং এটি হিপোক্রেটিসের ‘কিতাবুল ঈমান’-এর ব্যাখ্যায় তাঁর উল্লেখিত বক্তব্যের মূল পাঠ। তিনি বলেন:

আমাদের মতে সবচেয়ে সঠিক ও উত্তম হলো এটি বলা যে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা চিকিৎসা বিদ্যা সৃষ্টি করেছেন এবং মানুষের হৃদয়ে এর অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। কারণ, মানুষের বিচারবুদ্ধির পক্ষে এই মহান জ্ঞান উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। বরং আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলাই হলেন সেই স্রষ্টা, প্রকৃতপক্ষে শুধুমাত্র যাঁর পক্ষেই এটি সৃষ্টি করা সম্ভব। কেননা আমরা চিকিৎসা শাস্ত্রকে দর্শনের চেয়ে উত্তম ছাড়া অন্য কিছু মনে করি না, যার উদ্ভাবন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলার পক্ষ থেকে হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

আমি শাইখ মুওয়াফ্ফাকুদ্দিন আসআদ ইবনে ইলিয়াস ইবনুল মাত্রানের গ্রন্থে—যাকে তিনি ‘বুস্তানুল অতিব্বা ওয়া রওজাতুল আলিব্বা’ নামে অভিহিত করেছেন—আবু জাবির আল-মাগরিবির উদ্ধৃতিতে কিছু কথা পেয়েছি, যা নিম্নরূপ। তিনি বলেন:

এই শাস্ত্রের অস্তিত্বের কারণ হলো ওহি এবং ইলহাম। এর প্রমাণ হলো, এই শাস্ত্র মানুষের পরিচর্যার উদ্দেশ্যে রচিত হয়েছে—হয় অসুস্থ অবস্থায় তাদের সুস্থতা দান করার জন্য, অথবা তাদের স্বাস্থ্য অটুট রাখার জন্য।

আর চিকিৎসা শাস্ত্র যাদের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে, সেই ব্যক্তিদের অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞানের সাথে যুক্ত হওয়া ব্যতীত এই শাস্ত্র নিজে থেকে ব্যক্তিদের পরিচর্যা করবে—তা অসম্ভব।

এটি স্পষ্ট যে, মানুষ একটি সূচনাবিন্দু সম্পন্ন, কারণ তারা সংখ্যার আওতাভুক্ত। আর প্রতিটি সংখ্যাভুক্ত বিষয়ের শুরু এক থেকে হয় যা পরে বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। মানুষের সংখ্যা অসীম হওয়া অসম্ভব, কারণ অসীম কোনো কিছু বাস্তবে ঘটা অসম্ভব। ইবনুল মাত্রান বলেন: যা কিছু গণনা করা দুঃসাধ্য তার সবই যে অসীম হবে তা নয়, বরং কোনো কিছুর সমাপ্তি থাকতে পারে যা গণনা করতে মানুষ অক্ষম হয়।

আবু জাবির বলেন: আর যখন সেই ব্যক্তিগণ—যাদের অস্তিত্ব ব্যতীত এই শাস্ত্র টিকে থাকা সম্ভব নয়—অপরিহার্যভাবে একটি সূচনাবিন্দু সম্পন্ন, তখন এই শাস্ত্রও অপরিহার্যভাবে একটি সূচনাবিন্দু সম্পন্ন।

এটিও স্পষ্ট যে, সংখ্যার শুরুতে থাকা প্রথম ব্যক্তিটিও এই শাস্ত্রের প্রতি তেমনই মুখাপেক্ষী যেমন অন্য সকলে মুখাপেক্ষী।

এটিও স্পষ্ট যে, প্রথম অস্তিত্বমান ব্যক্তির পক্ষ থেকে কেবল গবেষণালব্ধ উদ্ভাবনের মাধ্যমে এই শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব নয়; কারণ মানুষের আয়ু সংক্ষিপ্ত আর এই শাস্ত্র অত্যন্ত দীর্ঘ। আবার সৃষ্টির শুরুতে সকলে মিলে এটি উদ্ভাবন করার ওপর একত্রিত হবে তাও সম্ভব নয়, কারণ এই শাস্ত্র অত্যন্ত নিপুণ ও সুসংহত।

আর প্রতিটি সুসংহত বিষয় মতভেদের মাধ্যমে উদ্ভাবিত হয় না, বরং ঐকমত্যের ভিত্তিতে হয়।

আর সেই ব্যক্তিগণ যারা...
(খণ্ড: ১) উয়ুনুল আনবা ফী তবাকাতিল আতিব্বা (পৃষ্ঠা: ١٤)
هِيَ أول فِي الْكَثْرَة لَا يجوز أَن تَجْتَمِع على أَمر متقن من أجل أَن كل شخص لَا يُسَاوِي كل شخص من جَمِيع الْجِهَات

وَإِذا لم تتساو من جِهَة آرائها لم يجز أَن تَجْتَمِع على أَمر مُحكم

قَالَ ابْن المطران هَذَا يُؤَدِّي أَيْضا فِي بَاقِي الْعُلُوم والصناعات إِلَى أَنَّهَا إلهام لِأَنَّهَا ذَوَات إتقان أَيْضا وَقَوله أَيْضا أَن الْأَشْخَاص لَا يجوز أَن تَجْتَمِع على أَمر متقن لَيْسَ بِشَيْء بل اجتماعها لَا يكون إِلَّا على أَمر متقن

وَإِنَّمَا الِاخْتِلَاف يَقع مَعَ عدم الإتقان

قَالَ أَبُو جَابر فقد بَان أَن الْأَشْخَاص فِي مبدأ الْكَثْرَة لَا يَتَأَتَّى مِنْهَا استنباط هَذِه الصِّنَاعَة وَكَذَلِكَ عِنْد نِهَايَة الْكَثْرَة لتباينهم وافتراقهم وَوُقُوع الْخلف بَينهم

ونقول أَيْضا يجوز أَن يشك شَاك فَيَقُول هَل يَتَأَتَّى عنْدك أَن يعرف إِنْسَان من النَّاس أَو كثير مِنْهُم منابت الحشائش والعقاقير ومواضع الْمَعَادِن وخواصها وقوى أَعْضَاء سَائِر الْحَيَوَان وخواصها ومضارها ومنافعها وَيعرف سَائِر الْأَمْرَاض والبلدان وَاخْتِلَاف أمزجة أَهلهَا مَعَ تَفْرِيق دِيَارهمْ وَيعرف الْقُوَّة الَّتِي ينتجها تركيب الْأَدْوِيَة وَمَا يضاد قُوَّة قُوَّة من قوى الْأَدْوِيَة وَمَا يلائم مزاجا مزاجا وَمَا يضاده مَعَ مَا يتبع ذَلِك من سَائِر صناعَة الطِّبّ فَإِن سهل ذَلِك وهونه كذب وَإِن صَعب أمره فِي علمه من جِهَة الْمعرفَة قُلْنَا استنباطه مُمْتَنع

وَإِذا لم يكن للصناعة الطبية لابتدائها إِلَّا الاستنباط أَو الْوَحْي أَو الإلهام وَكَانَ لَا سَبِيل إِلَى استنباط هَذِه الصِّنَاعَة بَقِي أَن تكون مَوْجُودَة بطرِيق الْوَحْي والإلهام

قَالَ ابْن المطران هَذَا كَلَام مشوش كُله مُضْطَرب وَإِن كَانَ جالينوس قَالَ فِي تَفْسِير الْعَهْد أَن هَذِه الصِّنَاعَة وحيية إلهامية

وَقَالَ فلاطن فِي كتاب السياسة أَن أسقليبيوس كَانَ رجلا مؤيدا ملهما

لَكِن تبعيد حُصُول هَذِه الصِّنَاعَة باستنباط الْعُقُول خطأ وتضعيف الْعُقُول الَّتِي استنبطت أجل من صناعَة الطِّبّ

ولننزل أَن أول الْعَالم كَانَ وَاحِدًا مُحْتَاجا إِلَى صناعَة الطِّبّ كحاجة هَذَا الْعَالم الجم الْغَفِير الْيَوْم وَأَنه ثقل عَلَيْهِ جِسْمه واحمرت عَيناهُ وأصابه عَلَامَات الامتلاء الدموي وَلَا يدْرِي مَا يفعل فَأَصَابَهُ من قوته الرعاف فَزَالَ عَنهُ مَا كَانَ يجده فَعرف ذَلِك فعاوده فِي وَقت آخر ذَلِك بِعَيْنِه فبادر إِلَى أَنفه فخدشه فَجرى مِنْهُ الدَّم فسكن عَنهُ مَا كَانَ يجده فَصَارَ ذَلِك عِنْده مَحْفُوظًا يُعلمهُ كل من وجده من وَلَده ونسله

ولطفت حَوَاشِي الصِّنَاعَة حَتَّى فتح الْعرق بلطافة ذهن ورقة حس

وَلَو نزلنَا لفتح الْعرق أَن آخر مِمَّن هَذِه صفته أنجرح أَو انخدش فَجرى مِنْهُ الدَّم فَكَانَ لَهُ مَا ذكرنَا من النَّفْع ولطفت الأذهان فِي اسْتِخْرَاج الفصد جَازَ فَصَارَ هَذَا بَابا من الطِّبّ

وَآخر امْتَلَأَ من الطَّعَام امتلاء مفرطا فَأَصَابَهُ من طَبِيعَته أحد الاستفراغين أما الْقَيْء وَإِمَّا الإسهال بعد غثيان
এটি প্রথমে আধিক্যের স্তরে থাকে; তাই কোনো সুনিপুণ বিষয়ের ওপর একমত হওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়, কারণ প্রতিটি ব্যক্তি সকল দিক থেকে অন্য ব্যক্তির সমান নয়।

আর যখন তারা তাদের মতামতের দিক থেকে সমান নয়, তখন কোনো সুদৃঢ় বিষয়ের ওপর তাদের একমত হওয়া সম্ভব নয়।

ইবনুল মুতরান বলেন: এটি অন্যান্য বিজ্ঞান ও শিল্পের ক্ষেত্রেও এই সিদ্ধান্তে নিয়ে যায় যে, সেগুলোও অনুপ্রেরণা (ইলহাম), কারণ সেগুলোও সুনিপুণ। আর তার এই কথা যে—ব্যক্তিরা কোনো সুনিপুণ বিষয়ের ওপর একমত হতে পারে না—এটি অসার; বরং তাদের ঐক্য কেবল সুনিপুণ বিষয়ের ওপরই হয়ে থাকে।

প্রকৃতপক্ষে মতভেদ কেবল নিপুণতার অভাবেই ঘটে থাকে।

আবু জাবির বলেন: এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, আধিক্যের সূচনালগ্নে ব্যক্তিদের পক্ষে এই শিল্পের উদ্ভাবন সম্ভব নয়; একইভাবে আধিক্যের শেষ পর্যায়েও তাদের বৈচিত্র্য, বিচ্ছিন্নতা এবং তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টির কারণে এটি সম্ভব নয়।

আমরা আরও বলি: কোনো সংশয়বাদী সংশয় প্রকাশ করে বলতে পারেন—আপনার মতে এটি কি সম্ভব যে, কোনো একজন মানুষ বা তাদের অনেকে ঘাস ও ভেষজ উদ্ভিদের উৎপত্তিস্থল, খনিজ পদার্থের অবস্থান ও তাদের বৈশিষ্ট্য, যাবতীয় প্রাণীর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের শক্তি, তাদের বৈশিষ্ট্য, অপকারিতা ও উপকারিতা সম্পর্কে জানবে? এবং যাবতীয় রোগ, দেশসমূহ এবং তাদের দূরবর্তী জনপদ হওয়া সত্ত্বেও সেখানকার অধিবাসীদের মেজাজের ভিন্নতা সম্পর্কে অবগত হবে? এবং ঔষধের সংমিশ্রণের ফলে যে শক্তি উৎপন্ন হয় এবং ঔষধের শক্তির মধ্যে কোন শক্তি কোন শক্তির বিপরীত এবং কোন মেজাজের সাথে কোনটি সামঞ্জস্যপূর্ণ আর কোনটি বিপরীত—এসব সহ চিকিৎসা শাস্ত্রের অন্যান্য বিষয় কি সে জানতে পারবে? যদি সে বিষয়টিকে সহজ ও সাধারণ মনে করে, তবে সে মিথ্যা বলল। আর যদি জ্ঞানের দিক থেকে এটি অর্জন করা তার কাছে কঠিন মনে হয়, তবে আমরা বলব: এর উদ্ভাবন অসম্ভব।

আর যখন চিকিৎসা শাস্ত্রের সূচনার জন্য উদ্ভাবন, প্রত্যাদেশ (ওহী) বা অনুপ্রেরণা (ইলহাম) ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই, এবং এই শিল্পের উদ্ভাবনের কোনো পথ যখন অবশিষ্ট নেই, তখন এটি প্রমাণিত হয় যে, এটি ওহী এবং ইলহামের মাধ্যমেই অস্তিত্ব লাভ করেছে।

ইবনুল মুতরান বলেন: এটি একটি বিভ্রান্তিকর ও অসংলগ্ন কথা; যদিও গ্যালেন (জালিনুস) 'তাফসীরুল আহদ'-এ বলেছেন যে, এই শিল্পটি প্রত্যাদেশ ও অনুপ্রেরণা ভিত্তিক।

প্লেটো (আফলাতুন) 'কিতাবুস সিয়াসা'-য় বলেছেন যে, আস্ক্লিপিয়াস একজন ঐশ্বরিক সাহায্যপ্রাপ্ত ও অনুপ্রাণিত ব্যক্তি ছিলেন।

তবে বুদ্ধিবৃত্তিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে এই শিল্পের অর্জনকে অসম্ভব মনে করা একটি ভুল ধারণা; এবং যে বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতা চিকিৎসা শাস্ত্রের চেয়েও মহান বিষয়গুলো উদ্ভাবন করেছে, তাকে দুর্বল প্রতিপন্ন করাও ভুল।

ধরা যাক, জগতের প্রথম ব্যক্তিটি আজকের এই বিশাল জনসমষ্টির মতো চিকিৎসা শাস্ত্রের মুখাপেক্ষী ছিলেন; তার শরীর ভারী হয়ে গিয়েছিল, চোখ লাল হয়ে গিয়েছিল এবং রক্তাধিক্যের লক্ষণসমূহ দেখা দিয়েছিল, অথচ তিনি কী করবেন তা জানছিলেন না। এমতাবস্থায় প্রাকৃতিকভাবেই তার নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হলো এবং তিনি যে কষ্ট অনুভব করছিলেন তা দূর হয়ে গেল। তিনি বিষয়টি বুঝতে পারলেন। পরবর্তীতে যখন পুনরায় একই অবস্থার সৃষ্টি হলো, তখন তিনি দ্রুত তার নাক আঁচড়ালেন এবং রক্ত প্রবাহিত হলো, ফলে তার কষ্ট লাঘব হলো। এই বিষয়টি তার কাছে সংরক্ষিত হয়ে থাকল এবং তিনি তার সন্তানদের ও বংশধরদের তা শিক্ষা দিলেন।

পরবর্তীতে এই শিল্পের পরিধি আরও সূক্ষ্ম হলো, এমনকি মেধার সূক্ষ্মতা ও অনুভূতির তীক্ষ্ণতার মাধ্যমে শিরা উন্মোচনের পদ্ধতি আবিষ্কৃত হলো।

আর যদি আমরা শিরা উন্মোচনের জন্য ধরে নিই যে, এই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী অন্য কোনো ব্যক্তি আহত হলো বা তার শরীরে আঁচড় লাগল এবং তার থেকে রক্ত প্রবাহিত হলো, ফলে আমরা যে উপকারের কথা উল্লেখ করেছি তা অর্জিত হলো, এবং ফাসদ (শিরা কেটে রক্ত বের করা) পদ্ধতি উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে মেধা আরও সূক্ষ্ম হলো—তবে তা সম্ভব। এভাবেই এটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের একটি অধ্যায়ে পরিণত হলো।

আবার অন্য একজন খাবার খেয়ে অতিরিক্ত পেট ভরল, ফলে তার প্রকৃতির কারণে বমি বমি ভাবের পর বমি অথবা উদরাময়—এই দুই ধরনের রেচনের যেকোনো একটি ঘটল।
(খণ্ড: ১) উয়ুনুল আনবা ফী তবাকাতিল আতিব্বা (পৃষ্ঠা: ١٥)
وكرب وقلق وتهوع ومغص وقراقر وريح جوالة فِي الْبَطن فَعِنْدَ ذَلِك الاستفراغ سكن جَمِيع مَا كَانَ يجده

وَقد كَانَ آخر من النَّاس عَبث بِبَعْض اليتوعات فمغصه فأسهله وقيأه إسهالا وقيئا كثيرا وَصَارَت عِنْده معرفَة أَن هَذِه الحشيشة تفعل هَذَا الْفِعْل وَإِن هَذَا الْحَادِث مخفف لتِلْك الْأَعْرَاض مزيل لَهَا فَذكره لذَلِك الشَّخْص وحثه على اسْتِعْمَال الْقَلِيل مِنْهُ لما تعوق عَلَيْهِ الْقَيْء والإسهال وصعبت عَلَيْهِ الْأَعْرَاض فأداه إِلَى غَرَضه مِنْهُمَا وخفف عَنهُ مَا لَقِي من شَرّ تِلْكَ الْأَعْرَاض

ولطفت الصِّنَاعَة ورقت حواشيها وَنظرت فِي بَاقِي الحشائش الشبيهة بِتِلْكَ مَا مِنْهَا يفعل ذَلِك وَمَا مِنْهَا لَا يَفْعَله وَمَا مِنْهَا يَفْعَله بعنف وَمَا مِنْهَا يَفْعَله بِضعْف

وَجَاء صفاء الْعُقُول فَنظر فِي الدَّوَاء الَّذِي يفعل ذَلِك أَي الطعوم طعمه وَأي الكيفيات يسْبق إِلَى اللِّسَان مِنْهُ وأيها يتبعهَا فَجعل ذَلِك سباره ويستخرج مِنْهُ

وإعانته التجربة وأخرجت مَا وَقع لَهُ من القَوْل إِلَى الْفِعْل وكذبت مَا غلط فِيهِ وصححت مَا حدس عَلَيْهِ حدسا صَحِيحا حَتَّى اكْتفى من ذَلِك

وَإِذا نزلت أَن مسهولا لَا يعلم أَي الْأَدْوِيَة وَأي الأغذية يَنْفَعهُ أَو يضرّهُ اسْتعْمل بالِاتِّفَاقِ سماقا فِي غذائه فَانْتَفع بِهِ ودام عَلَيْهِ فَأَبْرَأهُ فَأحب أَن يعلم بِمَاذَا أَبرَأَهُ فتطعمه فَوَجَدَهُ حامضا قَابِضا فَعلم أَنه لَا يَخْلُو من أَن يكون حمضه نَفعه أَو قَبضه فذاق غَيره مِمَّا فِيهِ حموضة مَحْضَة فَقَط وَاسْتَعْملهُ فِي غَيره مِمَّن بِهِ مثل مَا كَانَ بِهِ فَوَجَدَهُ لَا يفِيدهُ مَا أَفَادَهُ هُوَ فَعمد إِلَى شَيْء آخر طعمه قَابض فَقَط فَاسْتَعْملهُ فِي ذَلِك الشَّخْص بِعَيْنِه فَوجدَ فَائِدَته فِيهِ أَكثر من فَائِدَة الحامض الْمُطلق فَعلم أَن ذَلِك الطّعْم مُفِيد فِي تِلْكَ الْحَالة وَسَماهُ قَابِضا وسمى ذَلِك استفراغا وَقَالَ أَن الْقَابِض ينفع من الاستفراغ

ولطفت الصِّنَاعَة ورقت حواشيها فِي ذَلِك حَتَّى استخرجت الْعَجَائِب واستنبطت الْبَدَائِع

وأتى الثَّانِي فَوجدَ الأول وَقد استخرج شَيْئا جربه فَوَجَدَهُ حَقًا فاحتفظ بِهِ وقاس عَلَيْهِ وتمم حَتَّى استكملت الصِّنَاعَة

وَلَو نزلنَا مَجِيء مُخَالف وجدنَا كثيرين موافقين وَإِذا غلط مُتَقَدم سدد مُتَأَخّر وَإِذا قصر قديم تمم مُحدث

هَكَذَا فِي جَمِيع الصناعات كَذَا الْغَالِب على ظَنِّي

قَالَ قَالَ حُبَيْش الأعسم أَن رجلا اشْترى كبدا طرية من جزار وَمضى إِلَى بَيته فَاحْتَاجَ أَن ينْصَرف فِي حَاجَة أُخْرَى فَوضع تِلْكَ الكبد الَّتِي كَانَت مَعَه على أوراق نَبَات مبسوطة كَانَت على وَجه الأَرْض ثمَّ قضى حَاجته وَعَاد ليَأْخُذ الكبد فَوَجَدَهَا قد ذَابَتْ وسالت دَمًا فَأخذ تِلْكَ الأوراق وَعرف ذَلِك النَّبَات وَصَارَ يَبِيعهُ دَوَاء للتلف حَتَّى فطن بِهِ وَأمر بقتْله
এবং কষ্ট, অস্থিরতা, বমি বমি ভাব, পেটে কামড়ানো ব্যথা, গুড়গুড় শব্দ এবং পেটের ভেতরে ঘূর্ণায়মান বায়ু; এরপর সেই নির্গমনের ফলে তিনি যা অনুভব করছিলেন তার সবকিছুই প্রশমিত হয়ে গেল।

মানুষের মধ্যে অন্য একজন ছিলেন যিনি কিছু তিক্ত কষযুক্ত উদ্ভিদ নিয়ে নাড়াচাড়া করেছিলেন, যা তার পেটে ব্যথা সৃষ্টি করে এবং প্রচুর পরিমাণে দাস্ত ও বমি করায়। এর ফলে তার এই জ্ঞান অর্জিত হলো যে, এই লতাটি এ ধরনের কাজ করে এবং এই ঘটনাটি ওই উপসর্গগুলোকে লাঘব ও দূর করতে সহায়ক। তাই তিনি সেই ব্যক্তির কাছে এটি উল্লেখ করলেন এবং তাকে এর সামান্য পরিমাণ ব্যবহারের উৎসাহ দিলেন যখন তার বমি ও দাস্ত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং উপসর্গগুলো কঠিন হয়ে পড়েছিল। ফলে এটি তাকে ওই দুটির (বমি ও দাস্ত) মাধ্যমে তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দিল এবং সেই উপসর্গগুলোর অনিষ্ট থেকে তিনি যা ভোগ করছিলেন তা লাঘব করল।

চিকিৎসা শাস্ত্র সূক্ষ্ম হলো এবং এর শাখা-প্রশাখা বিস্তারিত হলো। এরপর অনুরূপ অন্যান্য লতাপাতার প্রতি দৃষ্টিপাত করা হলো যে, সেগুলোর মধ্যে কোনটি এমন কাজ করে আর কোনটি করে না, এবং কোনটি তীব্রভাবে করে আর কোনটি মৃদুভাবে করে।

বুদ্ধিবৃত্তিক স্বচ্ছতা এল, তখন সেই ওষুধের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া হলো যা এই ক্রিয়া সম্পন্ন করে—তার স্বাদ কেমন এবং জিবের ওপর প্রথমে কোন গুণটি অনুভূত হয় আর কোনটির অনুসরণ করে। অতঃপর তিনি সেটিকে তার মাপকাঠি বানালেন এবং তা থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন।

অভিজ্ঞতা তাকে সহায়তা করল এবং তার তাত্ত্বিক কথাগুলোকে বাস্তব কর্মে রূপান্তর করল। যেখানে তিনি ভুল করেছিলেন তা মিথ্যা প্রতিপন্ন করল এবং যা তিনি সঠিকভাবে অনুমান করেছিলেন তা সঠিক সাব্যস্ত করল, যতক্ষণ না তিনি তাতে সন্তুষ্ট হলেন।

আর যদি ধরা হয় যে, উদরাময়ে আক্রান্ত এমন এক ব্যক্তি যে জানে না কোন ওষুধ বা কোন খাদ্য তার উপকার করবে কিংবা অপকার করবে, সে দৈবক্রমে তার খাদ্যে সুমাক ব্যবহার করল এবং তাতে উপকৃত হলো। সে এটি চালিয়ে গেল এবং তা তাকে সুস্থ করে তুলল। তখন সে জানতে চাইল কিসের মাধ্যমে সে সুস্থ হলো। সে এটি আস্বাদন করল এবং এটিকে টক ও কষযুক্ত পেল। সে বুঝতে পারল যে, হয় এর অম্লতা তাকে উপকৃত করেছে অথবা এর কষ ভাব। অতঃপর সে কেবল খাঁটি অম্লতা রয়েছে এমন অন্য কিছু আস্বাদন করল এবং তার মতো একই রোগে আক্রান্ত অন্য একজনের ওপর তা প্রয়োগ করল, কিন্তু দেখল যে তা আগের মতো ফলপ্রসূ হচ্ছে না। তখন সে কেবল কষযুক্ত স্বাদের অন্য একটি জিনিসের দিকে মনোনিবেশ করল এবং সেই ব্যক্তির ওপরই তা প্রয়োগ করল; সে দেখল যে এতে কেবল টক জিনিসের চেয়ে বেশি উপকার হচ্ছে। তখন সে বুঝতে পারল যে, ওই স্বাদটিই এই অবস্থায় উপকারী। সে এর নাম দিল ‘কষযুক্ত’ এবং সেই অবস্থাকে ‘নির্গমন’ নামে অভিহিত করল এবং বলল যে, কষযুক্ত বস্তু নির্গমন রোধে উপকারী।

এভাবেই এই বিদ্যা সূক্ষ্ম হলো এবং এর শাখাগুলো বিস্তারিত হলো, এমনকি তা থেকে বিস্ময়কর বিষয়গুলো বের হয়ে এল এবং চমৎকার উদ্ভাবনসমূহ সাধিত হলো।

এরপর দ্বিতীয় জন এলেন এবং দেখলেন যে প্রথম জন কিছু বিষয় উদ্ভাবন করেছেন যা তিনি পরীক্ষা করে সত্য পেয়েছেন। তিনি তা সংরক্ষণ করলেন এবং তার ওপর ভিত্তি করে অনুমান করলেন ও পূর্ণতা দিলেন, যতক্ষণ না এই বিদ্যা পূর্ণতা লাভ করল।

আর যদি আমরা কোনো ভিন্নমতাবলম্বীর আগমন ধরে নিই, তবে আমরা অনেককেই একমত পাব। যখন পূর্ববর্তী কেউ ভুল করেন, তখন পরবর্তী কেউ তা সংশোধন করে দেন; আর যখন প্রাচীন কেউ অপূর্ণতা রাখেন, তখন আধুনিক কেউ তা পূর্ণ করেন।

সকল শাস্ত্র ও পেশার ক্ষেত্রেই বিষয়টি এমন, এটাই আমার প্রবল ধারণা।

তিনি বলেন: হুবাইশ আল-আসাম বলেছেন যে, এক ব্যক্তি কসাইয়ের কাছ থেকে একটি তাজা কলিজা কিনল এবং বাড়ির দিকে রওনা হলো। পথে তার অন্য একটি প্রয়োজনে যাওয়ার দরকার হলো, তাই সে তার কাছে থাকা সেই কলিজাটি মাটির ওপর ছড়িয়ে থাকা কিছু গাছের পাতার ওপর রাখল। এরপর সে তার প্রয়োজন সেরে কলিজাটি নিতে ফিরে এল এবং দেখল যে সেটি গলে রক্ত হয়ে বয়ে যাচ্ছে। তখন সে সেই পাতাগুলো সংগ্রহ করল এবং সেই উদ্ভিদটি চিনে নিল। সে এটি জীবননাশের ওষুধ হিসেবে বিক্রি করতে লাগল, অবশেষে বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেল এবং তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো।
(খণ্ড: ১) উয়ুনুল আনবা ফী তবাকাতিল আতিব্বা (পৃষ্ঠা: ١٦)
أَقُول هَذِه الْحِكَايَة كَانَت فِي وَقت جالينوس

وَقَالَ أَنه كَانَ السَّبَب فِي مسك ذَلِك الرجل وَفِي توديته إِلَى الْحَاكِم حَتَّى أَمر بقتْله

قَالَ جالينوس وَأمرت أَيْضا فِي وَقت مروره إِلَى الْقَتْل أَن تشد عَيناهُ حَتَّى لَا ينظر إِلَى ذَلِك النَّبَات أَو أَن يُشِير إِلَى أحد سواهُ فيتعلمه مِنْهُ

ذكر ذَلِك فِي كِتَابه فِي الْأَدْوِيَة المسهلة

وحَدثني جمال الدّين النقاش السعودي أَن فِي لحف الْجَبَل الَّذِي باسعرد على الْجَانِب الآخر مِنْهُ قَرِيبا من الميدان عشبا كثيرا

وَأَن بعض الْفُقَرَاء من مَشَايِخ أهل الْمَدِينَة أَتَى إِلَى ذَلِك الْموضع ونام على نَبَات هُنَاكَ وَلم يزل نَائِما إِلَى أَن عبر عَلَيْهِ جمَاعَة فوجدوه كَذَلِك وَتَحْته دَمًا سائحا من أَنفه وَمن نَاحيَة الْمخْرج فأنبهوه وبقوا متعجبين من ذَلِك إِلَى أَن ظهر لَهُم أَنه من النَّبَات الَّذِي نَام عَلَيْهِ

وَأَخْبرنِي أَنه خرج إِلَى ذَلِك الْموضع وَرَأى ذَلِك النَّبَات وَذكر من صفته أَنه على شكل الهندبا غير أَنه مشرف الجوانب وَهُوَ مر المذاق

قَالَ وَقد شاهدت كثيرا مِمَّن يُدْنِيه إِلَى أَنفه ويستنشقه مَرَّات فَإِنَّهُ يحدث لَهُ رعافا فِي الْوَقْت

هَذَا مَا ذكره وَلم يتَحَقَّق عِنْدِي فِي أَمر هَذَا النَّبَات هَل هُوَ الَّذِي أَشَارَ إِلَيْهِ جالينوس أَو غَيره

قَالَ ابْن المطران فَأَقُول حِينَئِذٍ أَن النَّفس الفاضلة المفيدة للخير نظرت حِينَئِذٍ فَعلمت

وكما أَن الدَّوَاء فعل ذَلِك الْفِعْل فَلَا بُد وَأَن يكون خلق دَوَاء آخر ينفع هَذَا الْعُضْو ويقاوم هَذَا الدَّوَاء ففتش عَلَيْهِ بالتجربة وَلم يزل يطْلب فِي كل يَوْم أَو فِي كل وَقت حَيَوَانا فيعطيه الدَّوَاء الأول ثمَّ الثَّانِي فَإِن دفع ضَرَره فقد حصل مُرَاده وَإِن لم ينفع فِيهِ طلب غَيره حَتَّى وَقع على ذَلِك الدَّوَاء

وَفِي اسْتِخْرَاج الترياق أعظم دَلِيل على مَا قلت إِذْ لم يكن الترياق سوى حب الْغَار وَعسل ثمَّ صَار إِلَى مَا صَار إِلَيْهِ من الْكَثْرَة والنفع لَا بِوَحْي وَلَا إلهام وَلَكِن بِقِيَاس وصفاء عقول وَفِي مدد طَوِيلَة

فَإِن قلت من أَيْن علم أَن الدَّوَاء لَا بُد لَهُ من ضد

قُلْنَا أَنهم لما نظرُوا إِلَى قَاتل البيش وَهُوَ نَبَات يطلع فَإِذا وَقع على البيش جففه وأتلفه علمُوا أَن مثله فِي غَيره فطلبوه

والعالم الفطن يقدر على علم كَيْفيَّة اسْتِخْرَاج شَيْء من المعلومات إِذا نظر فِيهِ على قياسنا الَّذِي وضعناه لَهُ

وَقد عمل جالينوس كتابا فِي كَيفَ كَانَ اسْتِخْرَاج جَمِيع الصناعات فَمَا زَاد فِيهِ على النَّحْو الَّذِي ذكرنَا

أَقُول وَإِنَّمَا نقلنا هَذِه الآراء الَّتِي تقدم ذكرهَا على اختلافها وتنوعها لكَون مقصدنا حِينَئِذٍ أَن نذْكر جلّ مَا ذهب إِلَيْهِ كل فريق

وَلما كَانَ الْخلف والتباين فِي هَذَا على مَا ترى صَار طلب أَوله
আমি বলছি, এই কাহিনীটি গ্যালেন (জ্যালিনুস)-এর সময়ের ছিল।

তিনি বলেছিলেন যে, তিনিই সেই লোকটিকে পাকড়াও করার এবং তাকে বিচারকের কাছে সোপর্দ করার কারণ ছিলেন, যার ফলে তার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছিল।

গ্যালেন বলেছেন, তাকে হত্যার জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় আমি এ-ও নির্দেশ দিয়েছিলাম যেন তার চোখ বেঁধে রাখা হয়, যাতে সে সেই উদ্ভিদের দিকে তাকাতে না পারে অথবা অন্য কাউকে ইশারা করে সেটি শিখিয়ে দিতে না পারে।

তিনি তার 'আল-আদবিয়াহ আল-মুসহিলাহ' (রেচক ঔষধসমূহ) নামক গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।

জামালুদ্দিন আন-নাক্কাশ আস-সুউদি আমাকে জানিয়েছেন যে, বা’সারদ পাহাড়ের পাদদেশে অন্য প্রান্তে ময়দানের কাছাকাছি প্রচুর ঘাস বা লতাপাতা রয়েছে।

এবং শহরের মাশায়েখদের মধ্য থেকে জনৈক দরিদ্র ব্যক্তি সেই স্থানে এসেছিলেন এবং সেখানে একটি উদ্ভিদের ওপর ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তিনি একনাগাড়ে ঘুমিয়েই ছিলেন যতক্ষণ না একদল লোক সেখান দিয়ে অতিক্রম করল এবং তাকে ঐ অবস্থায় দেখতে পেল; তারা দেখল যে তার নাক ও মলদ্বার দিয়ে রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে। তারা তাকে জাগিয়ে তুলল এবং এই ঘটনায় বিস্মিত হয়ে রইল, শেষ পর্যন্ত তাদের কাছে স্পষ্ট হলো যে, এটি সেই উদ্ভিদের কারণেই হয়েছে যার ওপর তিনি ঘুমিয়েছিলেন।

তিনি আমাকে জানালেন যে, তিনি নিজে সেই স্থানে গিয়েছিলেন এবং সেই উদ্ভিদটি দেখেছিলেন। এর বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন যে, এটি দেখতে অনেকটা কাসনি (হিন্দবা) শাকের মতো, তবে এর কিনারাগুলো খাঁজকাটা এবং এটি স্বাদে তিতো।

তিনি আরও বলেন, আমি অনেককে দেখেছি যারা এটি নাকের কাছে নিয়ে কয়েকবার ঘ্রাণ নিলে তৎক্ষণাৎ তাদের নাক দিয়ে রক্ত পড়া (রআফ) শুরু হয়।

তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা এটাই, তবে আমার কাছে এই উদ্ভিদের বিষয়ে এটি নিশ্চিত নয় যে, গ্যালেন কি এরই প্রতি ইঙ্গিত করেছিলেন নাকি অন্য কিছুর প্রতি।

ইবনে আল-মুতরান বলেন, আমি তখন বলি যে, কল্যাণকামী ও গুণী আত্মা তখন পর্যবেক্ষণ করেছে এবং অবগত হয়েছে।

এবং যেহেতু এই ঔষধটি এই নির্দিষ্ট কাজটি করল, তাই অবশ্যই আল্লাহ অন্য একটি ঔষধ সৃষ্টি করেছেন যা এই অঙ্গের উপকারে আসবে এবং এই ঔষধের কার্যকারিতাকে প্রতিরোধ করবে। এরপর পরীক্ষামূলকভাবে তা অনুসন্ধান করা হলো এবং প্রতিদিন বা প্রতিক্ষণ কোনো প্রাণীকে খোঁজা হতো যাকে প্রথমে প্রথম ঔষধটি দেওয়া হতো, এরপর দ্বিতীয়টি। যদি তা ক্ষতি দূর করতে সক্ষম হতো, তবে উদ্দেশ্য সফল হতো। আর যদি তা উপকারে না আসত, তবে অন্য কিছু খোঁজা হতো, যতক্ষণ না কাঙ্ক্ষিত সেই ঔষধে পৌঁছানো যেত।

আর ত্রিয়াক (প্রতিষেধক) তৈরির প্রক্রিয়া আমি যা বলেছি তার সর্বশ্রেষ্ঠ প্রমাণ; কেননা ত্রিয়াক প্রথমে তেজপাতার বীজ এবং মধু ছাড়া আর কিছুই ছিল না, এরপর দীর্ঘকাল ধরে যুক্তিনির্ভর অনুমান ও স্বচ্ছ বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে তা বর্তমানের এই বহুমাত্রিক উপকারিতায় রূপ নিয়েছে—তা কোনো ওহী বা ইলহামের মাধ্যমে হয়নি।

যদি বলা হয়, তারা কীভাবে জানল যে ঔষধের জন্য অবশ্যই একটি বিপরীতধর্মী উপাদান থাকতে হবে?

আমরা বলব, যখন তারা 'কাতিলুল বিশ' (বিশ-হন্তারক) নামক উদ্ভিদের প্রতি লক্ষ্য করল—যা এমন এক উদ্ভিদ যেটি বিশ (অ্যাকোনাইট) উদ্ভিদের ওপর পড়লে তাকে শুকিয়ে দেয় ও ধ্বংস করে ফেলে—তখন তারা বুঝতে পারল যে অন্যান্য জিনিসের ক্ষেত্রেও এমন বিপরীতধর্মী বিষয় রয়েছে, ফলে তারা তা অনুসন্ধান করতে লাগল।

আর একজন বিজ্ঞ ও বুদ্ধিমান ব্যক্তি জ্ঞাত বিষয়সমূহ থেকে কোনো কিছু উদ্ভাবনের পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে সক্ষম হন যদি তিনি আমাদের নির্ধারিত ঐ যুক্তি বা মানদণ্ডের আলোকে তা পর্যবেক্ষণ করেন।

গ্যালেন সমস্ত শিল্পের উদ্ভাবন পদ্ধতি নিয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন, যেখানে তিনি আমরা যা উল্লেখ করেছি তার চেয়ে অতিরিক্ত কিছু বলেননি।

আমি বলছি, পূর্বে উল্লেখিত এই ভিন্ন ভিন্ন ও বৈচিত্র্যময় মতামতগুলো আমরা কেবল এই উদ্দেশ্যেই উদ্ধৃত করেছি যাতে প্রতিটি দলের অধিকাংশ অভিমতগুলো উল্লেখ করা যায়।

আর যেহেতু এই বিষয়ে মতভেদ ও বৈপরীত্য আপনার দৃষ্টিগোচর হচ্ছে, তাই এর মূল উৎস অনুসন্ধান করা আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
(খণ্ড: ১) উয়ুনুল আনবা ফী তবাকাতিল আতিব্বা (পৃষ্ঠা: ١٧)
عسرا جدا

إِلَّا أَن الْإِنْسَان الْعَاقِل إِذا فكر فِي ذَلِك بِحَسب معقوله فَإِنَّهُ يجد صناعَة الطِّبّ لَا يبعد أَن تكون أوائلها قد تحصلت من هَذِه الْأَشْيَاء الَّتِي قد تقدّمت أَو من أَكْثَرهَا

وَذَلِكَ إِنَّا نقُول أَن صناعَة الطِّبّ أَمر ضَرُورِيّ للنَّاس منوطة بهم حَيْثُ وجدوا وَمَتى وجدوا إِلَّا أَنَّهَا قد تخْتَلف عِنْدهم بِحَسب الْمَوَاضِع وَكَثْرَة التغذي وَقُوَّة التَّمْيِيز فَتكون الْحَاجة إِلَيْهَا أمس عِنْد قوم دون قوم

وَذَلِكَ أَنه لما كَانَت بعض النواحي قد يعرض فِيهَا كثيرا أمراض مَا لأهل تِلْكَ النَّاحِيَة وخصوصا كلما كَانُوا أَكثر تنوعا فِي الأغذية وهم أدوم أكلا للفواكه فَإِن أبدانهم تبقى متهيئة للأمراض وَرُبمَا لم يفلت مِنْهُم أحد فِي سَائِر أوقاته من مرض يَعْتَرِيه فَيكون أَمْثَال هَؤُلَاءِ مضطرين إِلَى الصِّنَاعَة الطبية أَكثر من غَيرهم مِمَّن هم فِي نواحي أصح هَوَاء وأغذيتهم أقل تنوعا وهم مَعَ ذَلِك قليلو الاغتذاء بِمَا عِنْدهم

ثمَّ أَن النَّاس أَيْضا لما كَانُوا متفاضلين فِي قُوَّة التَّمْيِيز النطقي كَانَ أتمهم تمييزا وَأَقْوَاهُمْ حنكة وأفضلهم رَأيا أدْرك وأحفظ لما يمر بهم من الْأُمُور التجريبية وَغَيرهَا لمقابلة الْأَمْرَاض بِمَا يعالجها بِهِ من الْأَدْوِيَة دون غَيره

فَإِذا اتّفق فِي بعض النواحي أَن يكون أَهلهَا تعرض لَهُم الْأَمْرَاض كثيرا وَكَانَ فيهم جمَاعَة عدَّة بِمَثَابَة من أَشَرنَا إِلَيْهِ أَولا فَإِنَّهُم يتسلطون بِقُوَّة إدراكهم وجودة قرائحهم وَبِمَا عِنْدهم من الْأُمُور التجريبية وَغَيرهَا على سَبِيل المداواة فيجتمع عِنْدهم على الطول أَشْيَاء كَثِيرَة من صناعَة الطِّبّ

ولنذكر حِينَئِذٍ أقساما فِي مبدئية هَذِه الصِّنَاعَة بِقدر الْمُمكن فَنَقُول

‌‌الْقسم الأول

 

أَن أحد الْأَقْسَام فِي ذَلِك أَنه قد يكون حصل لَهُم شَيْء مِنْهَا عَن الْأَنْبِيَاء والأصفياء عليهم السلام بِمَا خصهم الله تَعَالَى بِهِ من التأييد الإلهي

روى ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ (كَانَ سُلَيْمَان بن دَاوُد عليهما السلام إِذا صلى رأى شَجَرَة نابتة بن يَدَيْهِ فيسألها مَا اسْمك فَإِن كَانَت لغرس غرست وَإِن كَانَت لدواء كتبت)

وَقَالَ قوم من الْيَهُود إِن الله عز وجل أنزل على مُوسَى عليه السلام سفر الأشفية

والصابئة تَقول أَن الشِّفَاء كَانَ يُؤْخَذ من هياكلهم على يَد كهانهم وصلحائهم بعض بالرؤيا
অত্যন্ত কঠিন

তবে বিবেকবান মানুষ যখন তার বুদ্ধি অনুযায়ী এ বিষয়ে চিন্তা করে, তখন সে দেখতে পায় যে চিকিৎসাশাস্ত্রের প্রাথমিক জ্ঞান এই সমস্ত বিষয় অথবা এর অধিকাংশ থেকেই অর্জিত হওয়া অসম্ভব নয়।

আর তা এই কারণে যে, আমরা বলি চিকিৎসাশাস্ত্র মানুষের জন্য একটি অপরিহার্য বিষয় এবং তারা যেখানেই ও যে সময়েই থাকুক না কেন, এটি তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট। তবে স্থানকাল, খাদ্যাভ্যাসের আধিক্য এবং বিচারবুদ্ধির শক্তির পার্থক্যের কারণে বিভিন্ন জাতির কাছে এর প্রয়োজনীয়তা ভিন্ন হতে পারে; ফলে কোনো কোনো জাতির নিকট এর প্রয়োজনীয়তা অন্যদের চেয়ে অধিকতর তীব্র হয়ে ওঠে।

এর কারণ হলো, কিছু কিছু অঞ্চলে সেই এলাকার অধিবাসীদের মধ্যে বিভিন্ন রোগব্যাধি প্রচুর পরিমাণে দেখা দেয়, বিশেষ করে যখন তারা খাদ্যে অধিক বৈচিত্র্য আনে এবং নিরন্তর ফলমূল আহার করে; ফলে তাদের শরীর রোগাক্রান্ত হওয়ার অনুকূলে থাকে। এমনকি অনেক সময় তাদের মধ্যে এমন কেউ অবশিষ্ট থাকে না যে সবসময় রোগব্যাধি থেকে মুক্ত। তাই এই ধরনের ব্যক্তিরা চিকিৎসাশাস্ত্রের প্রতি অন্যদের তুলনায় অধিক মুখাপেক্ষী হয়, যারা অধিকতর স্বাস্থ্যকর আবহাওয়ার অঞ্চলে বাস করে এবং যাদের খাদ্যাভ্যাসে বৈচিত্র্য কম ও তারা পরিমিত আহার করে।

তদুপরি, মানুষের বিচারবুদ্ধির ক্ষমতার মধ্যে তারতম্য থাকায়, যাদের বিচারবুদ্ধি অধিক পূর্ণ, যারা অধিক অভিজ্ঞ এবং যাদের সিদ্ধান্ত অধিকতর সঠিক, তারা অন্যদের তুলনায় রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ঔষধ ও অন্যান্য পরীক্ষামূলক বিষয়াদি ভালোভাবে অনুধাবন করতে এবং মনে রাখতে সক্ষম হয়।

সুতরাং কোনো অঞ্চলে যদি এমন পরিস্থিতি হয় যে সেখানকার অধিবাসীরা প্রায়ই রোগাক্রান্ত হচ্ছে এবং তাদের মধ্যে এমন একদল লোক থাকে যাদের গুণাগুণ আমরা আগে উল্লেখ করেছি, তবে তারা তাদের প্রখর বোধশক্তি, উন্নত মেধা এবং অভিজ্ঞতার আলোকে চিকিৎসার বিভিন্ন উপায় বের করে ফেলে। এভাবে দীর্ঘ পরিক্রমায় তাদের কাছে চিকিৎসাশাস্ত্রের অনেক জ্ঞান পুঞ্জীভূত হয়।

অতএব, এখন আমরা এই শাস্ত্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত বিভাগগুলো যতটুকু সম্ভব উল্লেখ করছি এবং আমরা বলছি:

‌‌প্রথম বিভাগ

 

এর একটি বিভাগ হলো এই যে, এর কিছু অংশ তারা নবী এবং মনোনীত বান্দাদের (তাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) নিকট থেকে লাভ করেছে, যে বিষয়ে আল্লাহ তাআলা তাদেরকে বিশেষ ঐশী সাহায্য দ্বারা ধন্য করেছিলেন।

ইবনে আব্বাস (আল্লাহ তাদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) নবী (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন, “সুলাইমান ইবনে দাউদ (তাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) যখন সালাত আদায় করতেন, তখন তিনি তাঁর সামনে একটি চারাগাছ গজাতে দেখতেন। তিনি সেটিকে জিজ্ঞাসা করতেন, ‘তোমার নাম কী?’ যদি সেটি রোপণের জন্য হতো তবে তিনি তা রোপণ করতেন, আর যদি সেটি ঔষধের জন্য হতো তবে তিনি তা লিখে রাখতেন।”

বেশি কিছু ইহুদি বলেছে যে, আল্লাহ প্রতাপশালী ও মহান মুসা (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)-এর ওপর আরোগ্যের কিতাব নাজিল করেছেন।

আর সাবেয়িরা বলে যে, আরোগ্য বা চিকিৎসার জ্ঞান তাদের মন্দিরে অবস্থানরত পুরোহিত এবং পুণ্যবানদের মাধ্যমে প্রাপ্ত হওয়া যেত, যার কিছু অংশ স্বপ্নের মাধ্যমে অর্জিত হতো।
(খণ্ড: ১) উয়ুনুল আনবা ফী তবাকাতিল আতিব্বা (পৃষ্ঠা: ١٨)
وَبَعض بالإلهام

وَمِنْهُم من قَالَ أَنه كَانَ يُوجد مَكْتُوبًا فِي الهياكل لَا يعلم من كتبه وَمِنْهُم من قَالَ أَنَّهَا كَانَت تخرج يَد بَيْضَاء مَكْتُوب عَلَيْهَا الطِّبّ وَنقل عَنْهُم أَن شيت أظهر الطِّبّ وَأَنه وَرثهُ عَن آدم عَلَيْهِمَا الصَّلَاة وَالسَّلَام

فَأَما الْمَجُوس فَإِنَّهَا تَقول أَن زرادشت الَّذِي تَدعِي أَنه نَبِيّهم جَاءَ بكتب عُلُوم أَرْبَعَة زَعَمُوا أَنَّهَا جلدت بِاثْنَيْ عشر ألف جلد جاموس ألف مِنْهَا طب

وَأما نبط الْعرَاق والسورانيون والكلدانيون والكسدانيون وَغَيرهم من أَصْنَاف النبط الْقدَم فيدعى لَهُم أَنهم اكتشفوا مبادئ صناعَة الطِّبّ

وَأَن هرمس الهرامسة المثلث بالحكمة كَانَ بَينهم وَيعرف علومهم فَخرج حِينَئِذٍ إِلَى مصر وَبث فِي أَهلهَا الْعُلُوم والصنائع وَبنى الأهرام والبرابي ثمَّ انْتقل الْعلم مِنْهُم إِلَى اليونانيين

وَقَالَ الْأَمِير أَبُو الْوَفَاء المبشر بن فانك فِي كتاب مُخْتَار الحكم ومحاسن الْكَلم أَن الْإِسْكَنْدَر لما تملك مملكة دَارا واحتوى على فَارس أحرق كتب دين الْمَجُوسِيَّة وَعمد إِلَى كتب النُّجُوم والطب والفلسفة فنقلها إِلَى اللِّسَان اليوناني وأنفذها إِلَى بِلَاده وأحرق أُصُولهَا

وَقَالَ الشَّيْخ أَبُو سُلَيْمَان المنطقي قَالَ لي ابْن عدي أَن الْهِنْد لَهُم عُلُوم جليلة من عُلُوم الفلسفة وَأَنه وَقع إِلَيْهِ أَن الْعلم من ثمَّ وصل إِلَى اليونانيين

وَقَالَ الشَّيْخ أَبُو سُلَيْمَان وَلست أَدْرِي من أَيْن وَقع لَهُ ذَلِك

وَقَالَ بعض عُلَمَاء الإسرائيليين أَن الَّذِي استخرج صناعَة الطِّبّ يوقال بن لامخ بن متوشالخ
এবং কেউ কেউ ইলহামের (ঐশ্বরিক অনুপ্রেরণা) মাধ্যমে।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন যে, এটি মন্দিরসমূহে লিখিত অবস্থায় পাওয়া যেত, কে তা লিখেছে তা জানা ছিল না। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন যে, একটি সাদা হাত বের হয়ে আসত যার ওপর চিকিৎসাবিদ্যা লিখিত থাকত। এবং তাদের থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, শীস চিকিৎসাবিদ্যা প্রকাশ করেছিলেন এবং তিনি তা আদম (তাঁদের উভয়ের ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছিলেন।

আর মজুসীদের কথা হলো, তারা বলে যে জরথুষ্ট্র—যাকে তারা তাদের নবী বলে দাবি করে—চারটি বিজ্ঞানের কিতাব নিয়ে এসেছিলেন; তারা ধারণা করে যে সেগুলো বারো হাজার মহিষের চামড়ায় বাঁধানো ছিল, যার মধ্যে এক হাজার ছিল চিকিৎসাবিদ্যা সংক্রান্ত।

আর ইরাকের নাবাতি, সুরানি, ক্যালডীয় এবং কাসদানি ও অন্যান্য প্রাচীন নাবাতি জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে দাবি করা হয় যে, তারাই চিকিৎসাবিদ্যার মূলনীতিসমূহ আবিষ্কার করেছিলেন।

এবং হরমিস আল-হারামিসা, যিনি প্রজ্ঞার দিক থেকে ত্রয়ী ছিলেন, তিনি তাদের মধ্যে অবস্থান করতেন এবং তাদের জ্ঞানসমূহ জানতেন। অতঃপর তিনি সেই সময় মিশরে গমন করেন এবং সেখানকার অধিবাসীদের মধ্যে বিভিন্ন জ্ঞান ও শিল্পকলা ছড়িয়ে দেন, আর পিরামিড ও উপাসনালয়সমূহ নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে তাদের থেকে এই জ্ঞান গ্রিকদের নিকট স্থানান্তরিত হয়।

আমির আবু আল-ওয়াফা আল-মুবাশশির বিন ফাতক তাঁর 'মুখতার আল-হিকাম ওয়া মাহাসিন আল-কালাম' গ্রন্থে বলেছেন যে, আলেকজান্ডার যখন দারা-র রাজত্ব জয় করেন এবং পারস্যের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেন, তখন তিনি মজুসী ধর্মের কিতাবসমূহ পুড়িয়ে ফেলেন এবং জ্যোতির্বিদ্যা, চিকিৎসাবিদ্যা ও দর্শনের কিতাবসমূহ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়ে সেগুলো গ্রিক ভাষায় অনুবাদ করান এবং নিজ দেশে পাঠিয়ে দেন, আর সেগুলোর মূল কপিগুলো পুড়িয়ে ফেলেন।

শাইখ আবু সুলাইমান আল-মানতিকি বলেছেন, ইবন আদি আমাকে বলেছেন যে ভারতীয়দের নিকট দর্শনের অত্যন্ত মহান জ্ঞান ছিল এবং তিনি মনে করেন যে জ্ঞান সেখান থেকেই গ্রিকদের নিকট পৌঁছেছে।

শাইখ আবু সুলাইমান বলেন, তিনি কোথা থেকে এই তথ্য পেলেন তা আমার জানা নেই।

আর বনী ইসরায়েলের কোনো কোনো আলেম বলেছেন যে, যিনি চিকিৎসাবিদ্যা উদ্ভাবন করেছিলেন তিনি হলেন ইউকাল বিন লামেক বিন মাতুশালাখ।
(খণ্ড: ১) উয়ুনুল আনবা ফী তবাকাতিল আতিব্বা (পৃষ্ঠা: ١٩)
‌‌الْقسم الثَّانِي

 

أَن يكون قد حصل لَهُم شَيْء مِنْهَا بالرؤيا الصادقة مثل مَا حكى جالينوس فِي كِتَابه فِي الفصد من فصده للعرق الضَّارِب الَّذِي أَمر بِهِ

وَذَلِكَ أَنه قَالَ

إِنِّي أمرت فِي مَنَامِي مرَّتَيْنِ بفصد الْعرق الضَّارِب الَّذِي بَين السبابَة والإبهام من الْيَد الْيُمْنَى فَلَمَّا أَصبَحت فصدت هَذَا الْعرق وَتركت الدَّم يجْرِي إِلَى أَن انْقَطع من تِلْقَاء نَفسه لِأَنِّي كَذَلِك أمرت فِي مَنَامِي

فَكَانَ مَا جرى أقل من رَطْل فسكن عني بذلك على الْمَكَان وجع كنت أَجِدهُ قَدِيما فِي الْموضع الَّذِي يتَّصل بِهِ الكبد بالحجاب

وَكنت فِي وَقت مَا عرض لي هَذَا غُلَاما

قَالَ وَأعرف إنْسَانا بِمَدِينَة فرغامس شفَاه الله تَعَالَى من وجع مزمن كَانَ بِهِ فِي جنبه بفصد الْعرق الضَّارِب من كَفه وَالَّذِي دَعَا ذَلِك الرجل إِلَى أَن يفعل ذَلِك رُؤْيا رَآهَا

وَقَالَ فِي الْمقَالة الرَّابِعَة عشرَة من كِتَابه فِي حِيلَة الْبُرْء قد رَأَيْت لِسَانا عظم وانتفخ حَتَّى لم يَسعهُ الْفَم وَكَانَ الَّذِي أَصَابَهُ ذَلِك رجلا لم يعْتد إِخْرَاج الدَّم قطّ وَكَانَ من أَبنَاء سِتِّينَ سنة وَكَانَ الْوَقْت الَّذِي رَأَيْته فِيهِ أول مرّة السَّاعَة الْعَاشِرَة من النَّهَار فَرَأَيْت أَنه يَنْبَغِي لي أَن أسهله بِهَذَا الْحبّ الَّذِي قد جرت الْعَادة بِاسْتِعْمَالِهِ وَهُوَ الْحبّ الْمُتَّخذ بِالصبرِ والسقمونيا وشحم الحنظل فسقيته الدَّوَاء نَحْو الْعشَاء وأشرت عَلَيْهِ أَن يضع على الْعُضْو العليل بعض الْأَشْيَاء الَّتِي تبرد

وَقلت لَهُ افْعَل هَذَا حَتَّى أنظر مَا يحدث فأقدر المداواة على حَسبه

وَلم يساعدني على ذَلِك رجل حَضَره من الْأَطِبَّاء فَبِهَذَا السَّبَب أَخذ الرجل ذَلِك الْحبّ وَتَأَخر النّظر فِي أَمر مَا يداوي بِهِ الْعُضْو نَفسه إِلَى الْغَد

وَكُنَّا نطمع جَمِيعًا أَن يكون قد تبين فِيهِ حسن أثر الشَّيْء الَّذِي يداوى بِهِ ونجربه عَلَيْهِ

إِذْ كَانَ فِيهِ يكون الْبدن قد استفرغ كُله وَالشَّيْء المنصب إِلَى الْعُضْو قد انحدر إِلَى أَسْفَل
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

 

তা হলো সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে তাদের নিকট এ সংক্রান্ত কোনো কিছু অর্জিত হওয়া, যেমনটি জালিনুস তার রক্তমোক্ষণ (ফাসদ) বিষয়ক গ্রন্থে সেই স্পন্দনশীল শিরা রক্তমোক্ষণের ব্যাপারে বর্ণনা করেছেন, যার জন্য তাকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছিল।

আর তা হলো এই যে, তিনি বলেছেন:

আমি স্বপ্নে দুবার ডান হাতের তর্জনী ও বৃদ্ধাঙ্গুলির মধ্যবর্তী স্পন্দনশীল শিরাটি কাটার (রক্তমোক্ষণ করার) নির্দেশ প্রাপ্ত হই। অতঃপর যখন ভোর হলো, আমি সেই শিরাটি কাটলাম এবং রক্ত নির্গত হতে দিলাম যতক্ষণ না তা নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে গেল, কারণ আমাকে স্বপ্নে এমনই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

নির্গত রক্তের পরিমাণ ছিল এক রতলেরও কম। এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে আমার সেই ব্যথা উপশম হলো, যা আমি দীর্ঘকাল ধরে কলিজা ও মধ্যচ্ছদার সংযোগস্থলে অনুভব করতাম।

এবং যখন আমার সাথে এটি ঘটেছিল তখন আমি ছিলাম এক কিশোর।

তিনি বলেন: আর আমি পারগামাম শহরের একজন ব্যক্তিকে চিনি, যাকে আল্লাহ তাআলা তার হাতের তালুর স্পন্দনশীল শিরা রক্তমোক্ষণের মাধ্যমে তার পাঁজরের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা থেকে আরোগ্য দান করেছেন; আর সেই ব্যক্তিকে এটি করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল তার দেখা একটি স্বপ্ন।

তিনি তার 'হিলাতুল বুর' (আরোগ্য কৌশল) নামক গ্রন্থের চতুর্দশ প্রবন্ধে বলেছেন: আমি এমন একটি জিহ্বা দেখেছি যা এত বড় এবং স্ফীত হয়েছিল যে তা আর মুখে ধরছিল না। এতে আক্রান্ত ব্যক্তিটি ছিলেন এমন একজন লোক যিনি এর আগে কখনও রক্তমোক্ষণ করেননি এবং তার বয়স ছিল ষাট বছর। আমি তাকে প্রথমবার যখন দেখেছিলাম তখন দিনের দশম ঘণ্টা ছিল। তখন আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে, সচরাচর ব্যবহৃত সেই বড়ি দ্বারা তাকে রেচক ওষুধ দেওয়া উচিত, যা অ্যালোভেরা, স্ক্যামনি এবং হানজাল ফলের মজ্জা দিয়ে তৈরি করা হয়। আমি তাকে এশার (রাতের খাবারের) সময়ের দিকে সেই ওষুধ পান করালাম এবং অসুস্থ অঙ্গটির ওপর কিছু শীতলকারী বস্তু প্রয়োগ করার পরামর্শ দিলাম।

আমি তাকে বললাম: আপনি এটি করতে থাকুন যতক্ষণ না আমি দেখি কী ঘটে, তারপর আমি পরিস্থিতি অনুযায়ী চিকিৎসার ব্যবস্থা করব।

সেখানে উপস্থিত চিকিৎসকদের কেউই এ বিষয়ে আমাকে সহযোগিতা করেননি। এই কারণে লোকটি কেবল সেই বড়িটি গ্রহণ করল এবং আক্রান্ত অঙ্গটির চিকিৎসার বিষয়টি পরদিন পর্যন্ত বিলম্বিত হলো।

আমরা সবাই আশা করছিলাম যে, তাকে যে ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা হচ্ছে এবং যা তার ওপর প্রয়োগ করা হচ্ছে, তার উত্তম প্রভাব যেন প্রকাশ পায়।

কারণ ততক্ষণে পুরো শরীর থেকে বর্জ্য বা দূষিত পদার্থ নির্গত হয়ে যাবে এবং অঙ্গটির দিকে ধাবিত পদার্থগুলো নিচের দিকে নেমে যাবে।
(খণ্ড: ১) উয়ুনুল আনবা ফী তবাকাতিল আতিব্বা (পৃষ্ঠা: ٢٠)
فَفِي ليلته رأى فِي حلمه رُؤْيا ظَاهِرَة بَيِّنَة فَحَمدَ مشورتي وَاتخذ مشورتي مَادَّة فِي ذَلِك الدَّوَاء وَذَلِكَ أَنه رأى النَّائِم آمرا يَأْمُرهُ بِأَن يمسك فِي فِيهِ عصارة الخس فَاسْتعْمل هَذِه العصارة كَمَا أمره وبرأ برءا تَاما وَلم يحْتَج مَعهَا إِلَى شَيْء آخر يتداوى بِهِ

وَقَالَ فِي شَرحه لكتاب الْإِيمَان لابقراط وَعَامة النَّاس يشْهدُونَ على أَن الله تبارك وتعالى هُوَ الملهم لَهُم صناعَة الطِّبّ من الأحلام والرؤيا الَّتِي تنقذهم من الْأَمْرَاض الصعبة

من ذَلِك إِنَّا نجد خلقا كثيرا مِمَّن لَا يُحْصى عَددهمْ أَتَاهُم الشِّفَاء من عِنْد الله تبارك وتعالى بَعضهم على يَد سارافس وَبَعْضهمْ على يَد أسقليبيوس بِمَدِينَة أفيداروس ومدينة قو ومدينة فرغامس وَهِي مدينتي

وَبِالْجُمْلَةِ فقد يُوجد فِي جَمِيع الهياكل الَّتِي لليونانيين وَغَيرهم من سَائِر النَّاس الشِّفَاء من الْأَمْرَاض الصعبة الَّتِي تَأتي بالأحلام وبالرؤيا

وأريباسيوس يَحْكِي فِي كناشه الْكَبِير أَن رجلا عرض لَهُ فِي المثانة حجر عَظِيم

قَالَ وداويته بِكُل دَوَاء مستصلح لتفتيت الْحجر فَلم ينْتَفع أَلْبَتَّة وأشرف على الْهَلَاك

فَرَأى فِي النّوم كَأَن إنْسَانا أقبل عَلَيْهِ وَفِي يَده طَائِر صَغِير الجثة وَقَالَ لَهُ إِن هَذَا الطَّائِر اسْمه صفراغون وَيكون بمواضع السباحات وَالْآجَام فَخذه وَأحرقهُ وَتَنَاول من رماده حَتَّى تسلم من هَذِه الْعلَّة

فَلَمَّا انتبه فعل ذَلِك فَأخْرج الْحجر من مثانته متفتتا كالرماد وبرأ برءا تَاما

وَمِمَّا حصل أَيْضا من ذَلِك بالرؤيا الصادقة أَن بعض خلفاء الْمغرب مرض مَرضا طَويلا وتداوى بمداواة كَثِيرَة فَلم ينْتَفع بهَا فَلَمَّا كَانَ فِي بعض اللَّيَالِي رأى النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي نَومه وشكى إِلَيْهِ مَا يجده فَقَالَ لَهُ صلى الله عليه وسلم ادهن بِلَا وكل لَا تَبرأ فَلَمَّا انتبه من نَومه بَقِي متعحبا من ذَلِك وَلم يفهم مَا مَعْنَاهُ

فَسَأَلَ المعبرين عَنهُ فَكل مِنْهُم عجز عَن تَأْوِيله مَا خلا عَليّ بن أبي طَالب القيراوني فَإِنَّهُ قَالَ يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ إِن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَمرك أَن تدهن بالزيت وتأكل مِنْهُ فتبرأ

فَلَمَّا سَأَلَهُ من أَيْن لَهُ معرفَة ذَلِك

قَالَ من قَول الله عز وجل {من شَجَرَة مباركة زيتونة لَا شرقية وَلَا غربية يكَاد زيتها يضيء وَلَو لم تمسسه نَار}

فَلَمَّا اسْتعْمل ذَلِك صلح بِهِ وَبرا برءا تَاما

ونقلت من خطّ عَليّ بن رضوَان فِي شَرحه لكتاب جالينوس فِي فرق الطِّبّ ماهذا نَصه
সেই রাতে তিনি স্বপ্নে একটি অত্যন্ত স্পষ্ট ও সুস্পষ্ট স্বপ্ন দেখলেন। অতঃপর তিনি আমার পরামর্শের প্রশংসা করলেন এবং সেই ওষুধের প্রধান উপাদান হিসেবে আমার পরামর্শকে গ্রহণ করলেন। সেটি এই যে, তিনি স্বপ্নে এক আদেশকারীকে দেখলেন যিনি তাকে নির্দেশ দিচ্ছেন যেন তিনি তার মুখে লেটুস পাতার রস ধারণ করেন। অতঃপর তিনি সেই রস ব্যবহার করলেন যেভাবে তাকে আদেশ দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি পূর্ণরূপে আরোগ্য লাভ করলেন। এর সাথে অন্য কোনো ওষুধের প্রয়োজন তাঁর আর হয়নি।

তিনি হিপোক্রেটিসের 'কিতাবুল ঈমান'-এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: সাধারণ মানুষ এ বিষয়ে সাক্ষ্য দেয় যে, মহান ও বরকতময় আল্লাহই তাদের স্বপ্নের মাধ্যমে চিকিৎসা বিজ্ঞানের অনুপ্রেরণা দানকারী, যা তাদেরকে কঠিন সব ব্যাধি থেকে মুক্তি দেয়।

এর উদাহরণ স্বরূপ, আমরা এমন অসংখ্য মানুষ পাই যাদের সংখ্যা গণনা করা যায় না, যাদের কাছে মহান ও বরকতময় আল্লাহর পক্ষ থেকে আরোগ্য এসেছে; তাদের কেউ সারাপিসের হাতে এবং কেউ এসক্লেপিয়াসের হাতে এপিডোরাস শহর, কোস শহর এবং পারগামন শহরে (যা আমার শহর) আরোগ্য লাভ করেছে।

মোটের উপর, গ্রীকদের এবং অন্যান্য সকল মানুষের সমস্ত উপাসনালয়ে এমন সব কঠিন রোগ থেকে আরোগ্য পাওয়া যায় যা স্বপ্ন ও দর্শনের মাধ্যমে প্রাপ্ত হয়।

ওরিবেসিয়াস তার 'আল-কুনাশ আল-কাবীর' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তির মূত্রথলিতে এক বিশাল পাথর দেখা দিয়েছিল।

তিনি বলেন: আমি তাকে পাথর চূর্ণ করার জন্য সমস্ত উপযোগী ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করেছি, কিন্তু তা সামান্যতম উপকারে আসেনি এবং তিনি মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিলেন।

অতঃপর তিনি স্বপ্নে দেখলেন যেন এক ব্যক্তি তার দিকে এগিয়ে আসছে এবং তার হাতে একটি ক্ষুদ্রাকৃতির পাখি রয়েছে। সে তাকে বলল: এই পাখিটির নাম 'সাফরাগুন', এটি জলাভূমি ও ঝোপঝাড়ের স্থানে থাকে; তুমি এটি গ্রহণ করো এবং পুড়িয়ে ফেল, অতঃপর এর ছাই ভক্ষণ করো যাতে তুমি এই ব্যাধি থেকে মুক্তি পাও।

যখন তিনি জাগ্রত হলেন, তিনি তাই করলেন। ফলে তার মূত্রথলি থেকে পাথরটি ছাইয়ের মতো চূর্ণ হয়ে বের হয়ে এল এবং তিনি পূর্ণ সুস্থতা লাভ করলেন।

সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে যা ঘটেছে তার মধ্যে এটিও রয়েছে যে, মাগরিবের (পশ্চিমের) জনৈক খলিফা দীর্ঘকাল অসুস্থ ছিলেন এবং বহু চিকিৎসা করেও কোনো ফল পাননি। এক রাতে তিনি স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখলেন এবং তাঁর কাছে নিজের কষ্টের কথা জানালেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন: 'না' দিয়ে মালিশ করো এবং 'না' খাও, তবেই তুমি আরোগ্য লাভ করবে। তিনি যখন ঘুম থেকে জাগলেন, তখন এই বিষয়ে অত্যন্ত বিস্মিত হলেন এবং এর অর্থ অনুধাবন করতে পারলেন না।

অতঃপর তিনি স্বপ্ন ব্যাখ্যাকারীদের এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, কিন্তু আলী ইবনে আবু তালিব আল-কায়রাওয়ানী ব্যতীত তাঁদের সকলেই এর ব্যাখ্যা দিতে অক্ষম হলেন। তিনি বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে জয়তুনের তেল মালিশ করতে এবং তা খেতে নির্দেশ দিয়েছেন, তবেই আপনি আরোগ্য লাভ করবেন।

যখন তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন যে তিনি এটি কীভাবে জানলেন?

তিনি বললেন: মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর এই বাণী থেকে— "বরকতময় যাইতুন গাছ থেকে, যা পূর্ব দিকের নয় এবং পশ্চিম দিকের নয়; যার তেল প্রজ্জ্বলিত হওয়ার উপক্রম হয় যদিও আগুন তাকে স্পর্শ না করে।"

যখন তিনি সেটি ব্যবহার করলেন, তখন তিনি এর মাধ্যমে সুস্থ হলেন এবং পূর্ণরূপে আরোগ্য লাভ করলেন।

এবং আমি গ্যালেনের 'চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন মতবাদ' (ফিরকুত তিব) গ্রন্থের ব্যাখ্যায় আলী ইবনে রিদওয়ানের স্বহস্তে লেখা থেকে যা নকল করেছি, তার পাঠ্য হলো এই—
(খণ্ড: ১) উয়ুনুল আনবা ফী তবাকাতিল আতিব্বা (পৃষ্ঠা: ٢١)
قَالَ وَقد كَانَ عرض لي مُنْذُ سِنِين صداع مبرح عَن امتلاء فِي عروق الرَّأْس ففصدت فَلم يسكن وأعدت الفصد مرَارًا وَهُوَ بَاقٍ على حَاله فَرَأَيْت جالينوس فِي النّوم وَقد أَمرنِي أَن أَقرَأ عَلَيْهِ حِيلَة الْبُرْء فَقَرَأت عَلَيْهِ مِنْهَا سبع مقالات فَلَمَّا بلغت إِلَى آخر السَّابِعَة قَالَ نسيت مَا بك من الصداع وَأَمرَنِي أَن أحجم القمحدوة من الرَّأْس

ثمَّ استيقظت فحجمتها فبرأت من الصداع على الْمَكَان

وَقَالَ عبد الله بن زهر فِي كتاب التَّيْسِير إِنَّنِي كنت قد اعتل بَصرِي من قيئ بحراني أفرط عَليّ فَعرض لي انتشار فِي الحدقتين دفْعَة فشغل بذلك بالي فَرَأَيْت فِيمَا يرى النَّائِم من كَانَ فِي حَيَاته يعْنى بأعمال الطِّبّ فَأمرنِي فِي النّوم بالاكتحال بشراب الْورْد وَكنت فِي ذَلِك الزَّمَان طَالبا قد حذقت وَلم تكن لي حنكة فِي الصِّنَاعَة فَأخْبرت أبي فَنظر فِي الْأَمر مَلِيًّا ثمَّ قَالَ لي اسْتعْمل مَا أمرت بِهِ فِي نومك

فانتفعت بِهِ

ثمَّ لم أزل أستعمله إِلَى وَقت وضعي هَذَا الْكتاب فِي تَقْوِيَة الْأَبْصَار

أَقُول وَمثل هَذَا أَيْضا كثير مِمَّا يحصل بالرؤيا الصادقة فَإِنَّهُ قد يعرض أَحْيَانًا لبَعض النَّاس أَن يرَوا فِي منامهم صِفَات أدوية مِمَّن يوجدهم إِيَّاهَا فَيكون بهَا برؤهم ثمَّ تشتهر المداواة بِتِلْكَ الْأَدْوِيَة فِيمَا بعد

‌‌الْقسم الثَّالِث

 

أَن يكون قد حصل لَهُم شَيْء مِنْهَا أَيْضا بالِاتِّفَاقِ والمصادفة مثل الْمعرفَة الَّتِي حصلت لاندروماخس الثَّانِي فِي إلقائه لُحُوم الأفاعي فِي الترياق

وَالَّذِي نشطه لذَلِك وأفرد ذهنه لتأليفه ثَلَاثَة أَسبَاب جرت على غير قصد وَهَذَا كَلَامه قَالَ

أما التجربة الأولى فَإِنَّهُ كَانَ يعْمل عِنْدِي فِي بعض ضياعي فِي الْموضع الْمَعْرُوف ببورنوس
তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে মাথার শিরার রক্তাধিক্যের কারণে আমার প্রচণ্ড মাথাব্যথা হয়েছিল। আমি রক্তমোক্ষণ (ফাসদ) করিয়েছিলাম কিন্তু তা প্রশমিত হয়নি। আমি বারবার রক্তমোক্ষণ পুনরায় করেছি কিন্তু অবস্থা অপরিবর্তিতই রয়ে গেছে। এরপর আমি স্বপ্নে গ্যালেনকে (জালিনুস) দেখলাম; তিনি আমাকে আদেশ করলেন যেন আমি তাঁর সামনে 'হিলাতুল বুর' (আরোগ্য লাভের কৌশল) পাঠ করি। আমি তাঁর সামনে সাতটি প্রবন্ধ পাঠ করলাম। যখন আমি সপ্তম প্রবন্ধের শেষে পৌঁছলাম, তিনি বললেন, তোমার যে মাথাব্যথা ছিল তা তুমি ভুলে গিয়েছ। এরপর তিনি আমাকে মাথার পশ্চাৎভাগে হিজামা করার নির্দেশ দিলেন।

এরপর আমি জাগ্রত হলাম এবং সেখানে হিজামা করলাম, ফলে তৎক্ষণাৎ মাথাব্যথা থেকে আরোগ্য লাভ করলাম।

আবদুল্লাহ ইবনে যুহর তাঁর 'কিতাবুত তাইসির'-এ বলেছেন, আমার অত্যাধিক পিত্তজনিত বমির কারণে দৃষ্টিশক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। হঠাৎ আমার চোখের মণি প্রসারিত হয়ে যায়, যা আমাকে বেশ চিন্তিত করে তোলে। তখন আমি স্বপ্নে একজনকে দেখলাম যিনি তাঁর জীবনে চিকিৎসাবিদ্যার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি স্বপ্নে আমাকে গোলাপের নির্যাস সুরমা হিসেবে ব্যবহার করার নির্দেশ দিলেন। সেই সময়ে আমি একজন দক্ষ ছাত্র ছিলাম কিন্তু এই শিল্পে (পেশায়) আমার তেমন অভিজ্ঞতা ছিল না। আমি বিষয়টি আমার পিতাকে জানালাম। তিনি বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করলেন, এরপর আমাকে বললেন, স্বপ্নে তোমাকে যা করতে বলা হয়েছে তা প্রয়োগ করো।

এতে আমি উপকৃত হলাম।

এরপর এই কিতাবটি রচনা করা পর্যন্ত আমি চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধির জন্য এটি ক্রমাগত ব্যবহার করে আসছি।

আমি বলি, সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে অর্জিত এ ধরনের বিষয় আরও অনেক রয়েছে। কারণ মাঝে মাঝে এমন হয় যে, কিছু মানুষ স্বপ্নে এমন কারো পক্ষ থেকে ওষুধের গুণাগুণ দেখতে পায় যা তাদের আরোগ্য দান করে। পরবর্তীতে ওই ওষুধগুলো দিয়েই চিকিৎসা পদ্ধতি প্রসিদ্ধি লাভ করে।

‌‌তৃতীয় বিভাগ

 

তাদের জন্য এর মধ্য থেকে কিছু বিষয় কাকতালীয় এবং দৈবক্রমেও অর্জিত হয়েছে, যেমন দ্বিতীয় আন্দ্রোমাখাসের সেই জ্ঞান যা তিনি ত্রিয়াক (প্রতিষেধক) তৈরিতে সাপের মাংস ব্যবহার করার মাধ্যমে অর্জন করেছিলেন।

তাকে এর প্রতি আগ্রহী করে তোলার এবং এটি প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে তাঁর মনোযোগ নিবদ্ধ হওয়ার পেছনে অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটে যাওয়া তিনটি কারণ ছিল। আর এটি হচ্ছে তাঁর বক্তব্য, তিনি বলেন:

প্রথম অভিজ্ঞতার কথা বললে, আমার একটি কৃষি খামারে 'বুর্নোস' নামক স্থানে একজন শ্রমিক কাজ করত।
(খণ্ড: ১) উয়ুনুল আনবা ফী তবাকাতিল আতিব্বা (পৃষ্ঠা: ٢٢)
حراثون يحرثون الأَرْض للزَّرْع وَكَانَ بيني وَبَين الْموضع نَحْو فرسخين وَكنت أبكر إِلَيْهِم لأنظر مَا يعْملُونَ وأرجع إِذا فرغوا

وَكنت أحمل لَهُم معي على الدَّابَّة الَّتِي تَحت الْغُلَام زادا وَشَرَابًا لتطيب أنفسهم ويتجلدوا على الْعَمَل

فَمَا زلت كَذَلِك إِلَى أَن حملت الْغَدَاء فِي بعض الْأَيَّام وَكنت قد أخرجت إِلَيْهِم بستوقة خضراء وفيهَا خمر مطينة الرَّأْس لم تفتح مَعَ زَاد

فَلَمَّا أكلُوا الزَّاد قدمُوا البستوقة وفتحوها فَلَمَّا أَدخل أحدهم يَده مَعَ كوز ليغرف مِنْهَا الشَّرَاب وجد فِيهَا أَفْعَى قد تهرأ فأمسكوا عَن الشَّرَاب وَقَالُوا إِن هَهُنَا فِي هَذِه الْقرْيَة رجلا مجذوما يتَمَنَّى الْمَوْت من شدَّة مَا بِهِ فنسقيه من هَذَا الشَّرَاب ليَمُوت وَيكون لنا فِي ذَلِك أجر إِذْ نريحه من وصبه

فَمَضَوْا إِلَيْهِ بزاد وسقوه من ذَلِك الشَّرَاب متيقنين أَنه لَا يعِيش يَوْمه ذَلِك فَلَمَّا كَانَ قريب اللَّيْل انتفخ جِسْمه نفخا عَظِيما وَبَقِي إِلَى الْغَدَاة ثمَّ سقط عَنهُ الْجلد الْخَارِج وَظهر الْجلد الدَّاخِل الْأَحْمَر وَلم يزل حَتَّى صلب جلده وبرأ وعاش دهرا طَويلا من غير أَن يشكو عِلّة حَتَّى مَاتَ الْمَوْت الطبيعي الَّذِي هُوَ فنَاء الْحَرَارَة الغريزية

فَهَذَا دَلِيل على أَن لُحُوم الأفاعي تَنْفَع من الأوصاب الشَّدِيدَة والأمراض العتيقة فِي الْأَبدَان

وَأما التجربة الثَّانِيَة فَإِن أخي أبولونيوس كَانَ ماسحا من قبل الْملك على الضّيَاع وَكَانَ كثيرا مَا يخرج إِلَيْهَا فِي الْأَوْقَات الوعرة الرَّديئَة فِي الصَّيف والشتاء فَخرج ذَات يَوْم إِلَى بعض الْقرى على سَبْعَة فراسخ فَنزل يستريح عِنْد أصل شَجَرَة وَكَانَ الزَّمَان شَدِيد الْحر وَأَنه نَام فاجتازته أَفْعَى فنهشته فِي يَده وَكَانَ قد ألْقى يَده على الأَرْض من شدَّة تَعبه فانتبه بفزع وَعلم أَن الآفة قد لحقته وَلم يكن بِهِ على الْقيام طَاقَة ليقْتل الأفعى وَأَخذه الكرب والغشي فَكتب وَصِيَّة وضمنها اسْمه وَنسبه وَمَوْضِع منزله وَصفته وعلق ذَلِك على الشَّجَرَة كي إِذا مَاتَ واجتاز بِهِ إِنْسَان وَرَأى الرقعة يَأْخُذهَا ويقرأها وَيعلم أَهله ثمَّ استسلم للْمَوْت

وَكَانَ بِالْقربِ مِنْهُ مَاء قد حصل مِنْهُ فضلَة يسيرَة فِي جَوْفه فِي أصل تِلْكَ الشَّجَرَة الَّتِي علق عَلَيْهَا الرقعة وَكَانَ قد غَلبه الْعَطش فَشرب من ذَلِك المَاء شربا كثيرا

فَلم يلبث المَاء فِي جَوْفه حَتَّى سكن ألمه وَمَا كَانَ يجده من ضَرْبَة الأفعى ثمَّ برأَ فَبَقيَ مُتَعَجِّبا وَلم يعلم مَا كَانَ فِي المَاء

فَقطع عودا من الشَّجَرَة وَأَقْبل يفتش بِهِ المَاء لِأَنَّهُ
সেখানে চাষিরা চাষাবাদের জন্য জমি চাষ করছিল। আমার এবং সেই স্থানের মধ্যে প্রায় দুই ফারসাখ ব্যবধান ছিল। তারা কী কাজ করছে তা দেখার জন্য আমি খুব ভোরে তাদের কাছে যেতাম এবং তাদের কাজ শেষ হলে ফিরে আসতাম।

তাদের মনকে প্রফুল্ল করতে এবং কাজের প্রতি ধৈর্য ও শক্তি যোগাতে আমি দাসের নিচের পশুটির ওপর তাদের জন্য খাবার ও পানীয় বহন করে নিয়ে যেতাম।

আমি এভাবেই চলতে থাকলাম, এমনকি একদিন আমি দুপুরের খাবার নিয়ে গেলাম। আমি তাদের জন্য খাবারের সাথে একটি সবুজ রঙের মাটির পাত্র বের করেছিলাম যার মুখটি কাদা দিয়ে সিল করা ছিল এবং সেটি তখনও খোলা হয়নি, যার ভেতরে মদ ছিল।

যখন তারা খাবার খেল, তখন তারা পাত্রটি সামনে আনল এবং সেটি খুলল। যখন তাদের মধ্যে একজন পানীয় তোলার জন্য একটি পেয়ালাসহ তার হাত প্রবেশ করালো, সে সেখানে একটি পচে যাওয়া সাপ দেখতে পেল। তখন তারা পানীয়টি পান করা থেকে বিরত থাকল এবং বলল, "এই গ্রামে একজন কুষ্ঠরোগী আছে যে তার যন্ত্রণার তীব্রতার কারণে মৃত্যু কামনা করছে; আমরা তাকে এই পানীয়টি পান করতে দেই যাতে সে মারা যায় এবং এতে আমাদের সওয়াব হবে, যেহেতু আমরা তাকে তার কষ্ট থেকে মুক্তি দিচ্ছি।"

অতঃপর তারা খাবার নিয়ে তার কাছে গেল এবং তাকে সেই পানীয়টি পান করালো, এই বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে যে সে আর আজকের দিনটি বাঁচবে না। যখন রাত ঘনিয়ে এল, তখন তার শরীর ভীষণভাবে ফুলে উঠল এবং পরদিন সকাল পর্যন্ত সে এভাবেই থাকল। এরপর তার বাইরের চামড়া ঝরে পড়ল এবং ভেতরের লাল চামড়া প্রকাশিত হলো। এরপর ধীরে ধীরে তার চামড়া শক্ত হতে লাগল এবং সে সুস্থ হয়ে উঠল। সে দীর্ঘকাল বেঁচে থাকল এবং কোনো রোগের অভিযোগ ছাড়াই শেষ পর্যন্ত স্বাভাবিক মৃত্যু বরণ করল, যা মূলত সহজাত শারীরিক তাপের নিঃশেষ হওয়া।

এটি এই বিষয়ের প্রমাণ যে, সাপের মাংস শরীরের তীব্র যন্ত্রণা এবং দীর্ঘস্থায়ী পুরনো রোগ নিরাময়ে উপকারী।

দ্বিতীয় অভিজ্ঞতাটি হলো, আমার ভাই অ্যাপোলোনিয়াস রাজার পক্ষ থেকে ভূসম্পত্তি জরিপকারী ছিলেন। তিনি গ্রীষ্ম ও শীতকালে অনেক দুর্গম ও প্রতিকূল সময়ে সেসব স্থানে যেতেন। একদিন তিনি সাত ফারসাখ দূরে একটি গ্রামে বের হলেন এবং একটি গাছের নিচে বিশ্রাম নিতে বসলেন। সময়টি ছিল প্রচণ্ড গরমের। তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন এবং একটি সাপ তাকে অতিক্রম করার সময় তার হাতে কামড় দিল। অতিরিক্ত ক্লান্তির কারণে তিনি তার হাত মাটিতে ফেলে রেখেছিলেন। তিনি আতঙ্কে জেগে উঠলেন এবং বুঝতে পারলেন যে বিপদ তাকে স্পর্শ করেছে। সাপটিকে মারার জন্য উঠে দাঁড়ানোর মতো শক্তিও তার ছিল না। দুঃখ এবং মূর্ছা তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলল। এমতাবস্থায় তিনি একটি অসিয়তনামা লিখলেন যার মধ্যে তার নাম, বংশ পরিচয়, বাসস্থানের ঠিকানা এবং শারীরিক বিবরণ উল্লেখ করলেন এবং সেটি গাছের সাথে ঝুলিয়ে দিলেন। উদ্দেশ্য ছিল, যদি তিনি মারা যান এবং কোনো ব্যক্তি সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় চিরকুটটি দেখতে পান, তবে যেন তিনি সেটি নিয়ে পড়েন এবং তার পরিবারকে খবর দেন। এরপর তিনি মৃত্যুর জন্য নিজেকে সঁপে দিলেন।

তার কাছেই একটি গর্তে সামান্য অবশিষ্ট পানি ছিল, যে গাছের গোড়ায় তিনি চিরকুটটি ঝুলিয়েছিলেন। তার ওপর প্রবল তৃষ্ণা চেপে বসল, ফলে তিনি সেই পানি থেকে প্রচুর পরিমাণে পান করলেন।

পেটে পানি যাওয়ার পর সামান্য সময়ও পার হয়নি, অমনি সাপের কামড়ের কারণে তিনি যে যন্ত্রণা অনুভব করছিলেন তা শান্ত হয়ে গেল। এরপর তিনি সুস্থ হয়ে উঠল এবং বিস্ময়ে হতবাক হয়ে রইল, কারণ পানিতে কী ছিল তা সে জানত না।

এরপর তিনি গাছ থেকে একটি ডাল কাটলেন এবং তা দিয়ে পানি পরীক্ষা করতে শুরু করলেন কারণ তিনি...
(খণ্ড: ১) উয়ুনুল আনবা ফী তবাকাতিল আতিব্বা (পৃষ্ঠা: ٢٣)
كره أَن يفتشه بِيَدِهِ لِئَلَّا يكون فِيهِ أَيْضا شَيْء يُؤْذِيه فَوجدَ فِيهِ أفعيين قد اقتتلا ووقعا جَمِيعًا فِي المَاء وتهرءا فَأقبل أخي إِلَى منزلنا صَحِيحا سالما أَيَّام حَيَاته وَترك ذَلِك الْعَمَل الَّذِي كَانَ فِيهِ وَاقْتصر بملازمتي

وَكَانَ هَذَا أَيْضا دَلِيلا على أَن لُحُوم الأفاعي تَنْفَع من نهش الأفاعي والحيات وَالسِّبَاع الضارية

وَأما التجربة الثَّالِثَة فَإِنَّهُ كَانَ للْملك يبولوس غُلَام وَكَانَ شريرا غمازا خمانا فِيهِ كل بلَاء وَكَانَ كَبِيرا عِنْد الْملك يُحِبهُ لذَلِك وَكَانَ قد آذَى أَكثر النَّاس فَاجْتمع الوزراء والقواد والرؤساء على قَتله فَلم يتهيأ لَهُم ذَلِك لمكانته عِنْد الْملك

فاحتال بَعضهم وَقَالَ اذْهَبُوا فاسحقوا وزن دِرْهَمَيْنِ أفيونا وأطعموه إِيَّاه فِي طَعَامه أَو اسقوه فِي شرابه فَإِن الْمَوْت السَّرِيع يلْحق النَّاس كثيرا فَإِذا مَاتَ حملتموه إِلَى الْملك وَلَيْسَ بِهِ جِرَاحَة وَلَا قلبه

فَدَعوهُ إِلَى بعض الْبَسَاتِين فَلم يتهيأ لَهُم أَن يَفْعَلُوا ذَلِك فِي الطَّعَام فسقوه فِي الشَّرَاب فَلم يلبث إِلَّا قَلِيلا أَن مَاتَ فَقَالُوا نتركه فِي بعض الْبيُوت ونختم عَلَيْهِ ونوكل الفعلة بِبَاب الْبَيْت حَتَّى نمضي إِلَى الْملك نعلمهُ أَنه قد مَاتَ فَجْأَة ليَبْعَث ثقاته ينظرونه

فَلَمَّا صَارُوا بأجمعهم إِلَى الْملك نظر الفعلة إِلَى أَفْعَى قد خرج من بَين الْحجر وَدخل إِلَى الْبَيْت الَّذِي فِيهِ الْغُلَام فَلم يتهيأ لَهُم أَن يدخلُوا خَلفه ويقتلوه لِأَن الْبَاب كَانَ مَخْتُومًا فَلم يَلْبَثُوا إِلَّا سَاعَة والغلام يَصِيح بهم لم قفلتم عَليّ الْبَاب أعينوني قد لسعتني أَفْعَى وَمد الْبَاب من دَاخل وأعانه قوام الْبُسْتَان من خَارج فكسروه فَخرج وَلَيْسَ بِهِ قلبه

وَكَانَ هَذَا أَيْضا دَلِيلا على أَن لُحُوم الأفاعي تَنْفَع من شرب الْأَدْوِيَة القتالة الْمهْلكَة

هَذَا جملَة مَا ذكره اندروماخس

وَمثل هَذَا أَيْضا أَعنِي مَا حصل بالِاتِّفَاقِ والمصادفة أَنه كَانَ بعض المرضى بِالْبَصْرَةِ وَكَانَ قد استسقى ويئس أَهله من حَيَاته وداووه بوصفات كَثِيرَة من أدوية الْأَطِبَّاء فيئسوا مِنْهُ وَقَالُوا لَا حِيلَة فِي برئه فَسمع ذَلِك من أَهله فَقَالَ لَهُم دَعونِي الْآن أتزود من الدُّنْيَا وآكل كل مَا عَن لي وَلَا تقتلوني بالحمية

فَقَالُوا لَهُ كل مَا تُرِيدُ فَكَانَ يجلس بِبَاب الدَّار فمهما جَازَ اشْترى مِنْهُ وَأكل

فَمر بِهِ رجل يَبِيع جَرَادًا مطبوخا فَاشْترى مِنْهُ كثيرا فَلَمَّا أكله انسهل بَطْنه من المَاء الْأَصْفَر فِي ثَلَاثَة أَيَّام مَا كَاد بِهِ أَن يتْلف لإفراطه

ثمَّ إِنَّه عِنْدَمَا انْقَطع الْقيام زَالَ كل مَا كَانَ فِي جَوْفه من الْمَرَض وثابت قوته فبرأ وَخرج يتَصَرَّف فِي حَوَائِجه

فَرَآهُ بعض الْأَطِبَّاء فَعجب من أمره وَسَأَلَهُ عَن الْخَبَر فَعرفهُ فَقَالَ أَن الْجَرَاد لَيْسَ من طبعه أَن يفعل هَذَا فدلني على بَائِع الْجَرَاد فدله عَلَيْهِ فَقَالَ لَهُ من أَيْن تصطاد هَذَا الْجَرَاد فَخرج بِهِ إِلَى الْمَكَان فَوجدَ الْجَرَاد فِي أَرض أَكثر نباتها المازريون وَهُوَ من دَوَاء الاسْتِسْقَاء وَإِذا دفع إِلَى مَرِيض مِنْهُ وزن دِرْهَم أسهل إسهالا
তিনি নিজের হাত দিয়ে তা পরীক্ষা করা অপছন্দ করলেন পাছে সেখানেও ক্ষতিকারক কিছু থাকে। অতঃপর তিনি সেখানে দুটি সাপ পেলেন যারা একে অপরের সাথে লড়াই করছিল এবং উভয়েই একসাথে পানির মধ্যে পড়ে গিয়ে পচে গিয়েছিল। ফলে আমার ভাই তার জীবনের বাকি দিনগুলোতে সুস্থ ও নিরাপদ অবস্থায় আমাদের বাড়িতে ফিরে এলেন এবং তিনি যে কাজে নিয়োজিত ছিলেন তা ত্যাগ করে আমার সাহচর্যে থাকাই বেছে নিলেন।

এটিও একটি প্রমাণ ছিল যে, বিষধর সাপের মাংস সাপ ও অন্যান্য বিষাক্ত প্রাণীর দংশন এবং হিংস্র পশুর কামড়ের ক্ষেত্রে উপকারী।

আর তৃতীয় অভিজ্ঞতার কথা হলো, রাজা ইপুলুসের একজন দাস ছিল, যে ছিল অত্যন্ত মন্দ স্বভাবের, চোগলখোর ও খিয়ানতকারী; তার মধ্যে সব ধরনের অনিষ্ট বিদ্যমান ছিল। রাজার কাছে তার বিশেষ গুরুত্ব থাকার কারণে রাজা তাকে ভালোবাসতেন। সে অধিকাংশ মানুষকে কষ্ট দিয়েছিল, ফলে উজির, সেনাপতি এবং নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা তাকে হত্যা করার ব্যাপারে একমত হলেন। কিন্তু রাজার কাছে তার উচ্চ মর্যাদার কারণে তারা তা করতে সক্ষম হলেন না।

তাদের মধ্যে একজন কৌশল অবলম্বন করে বললেন, "যাও, দুই দিরহাম ওজনের আফিম পিষে নাও এবং তা তার খাবারে অথবা পানীয়তে মিশিয়ে তাকে খাইয়ে দাও। কারণ মানুষের দ্রুত মৃত্যু প্রায়ই ঘটে থাকে। সে মারা গেলে তোমরা তাকে রাজার কাছে নিয়ে যাবে, আর তখন তার শরীরে কোনো ক্ষত বা কষ্টের চিহ্ন থাকবে না।"

তারা তাকে একটি বাগানে আমন্ত্রণ জানালো, কিন্তু খাবারের সাথে তা মেশানো তাদের পক্ষে সম্ভব হলো না। তাই তারা তার পানীয়তে সেটি মিশিয়ে দিলো। কিছু সময় পার হওয়ার আগেই সে মারা গেল বলে মনে হলো। তারা বলল, "আমরা তাকে কোনো একটি ঘরে রেখে তালাবদ্ধ করে দেই এবং ঘরের দরজায় পাহারাদার নিযুক্ত করি। এরপর আমরা রাজার কাছে গিয়ে তাকে জানাব যে সে হঠাৎ মারা গেছে, যাতে তিনি তার বিশ্বস্ত লোক পাঠিয়ে তাকে দেখে নিতে পারেন।"

যখন তারা সবাই রাজার কাছে গেলেন, তখন পাহারাদাররা দেখতে পেল যে পাথরের মাঝখান থেকে একটি সাপ বেরিয়ে সেই ঘরে প্রবেশ করল যেখানে দাসটি ছিল। দরজাটি সিলগালা করা থাকায় তারা ভেতরে গিয়ে সেটিকে হত্যা করতে পারল না। কিছুক্ষণ পরেই দাসটি তাদের উদ্দেশে চিৎকার করে বলতে লাগল, "কেন তোমরা আমার ওপর দরজা বন্ধ করে দিলে? আমাকে সাহায্য করো, একটি সাপ আমাকে দংশন করেছে!" সে ভেতর থেকে দরজা ঠেলতে লাগল এবং বাগানের রক্ষীরা বাহির থেকে তাকে সাহায্য করল। তারা দরজাটি ভেঙে ফেলল এবং সে বেরিয়ে এল, অথচ তার মধ্যে কোনো ব্যথার চিহ্ন ছিল না।

এটিও একটি প্রমাণ ছিল যে, বিষধর সাপের মাংস মারাত্মক ও প্রাণঘাতী বিষক্রিয়া বা ওষুধের বিপরীতে কাজ করে।

এটিই হলো অ্যান্ড্রুমাখাস যা উল্লেখ করেছেন তার সারসংক্ষেপ।

অনুরূপ আরেকটি ঘটনা, যা দৈবক্রমে এবং আকস্মিকভাবে ঘটেছিল। বসরা শহরের এক ব্যক্তি উদরী (ইস্তিসকা) রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তার পরিবারের সদস্যরা তার জীবনের আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন এবং চিকিৎসকদের দেওয়া বহু ওষুধ ব্যবহারের পরও তারা হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। তারা বলেছিলেন, "তার আরোগ্য লাভের কোনো উপায় নেই।" পরিবারের পক্ষ থেকে এ কথা শুনে তিনি তাদের বললেন, "আমাকে এখন দুনিয়া থেকে শেষ বিদায় নিতে দাও, আমার যা ইচ্ছা তা খেতে দাও; আমাকে আর কঠোর খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে কষ্ট দিও না।"

তারা তাকে বলল, "আপনার যা ইচ্ছা তাই খান।" এরপর তিনি বাড়ির দরজায় বসে থাকতেন এবং সেখান দিয়ে যা-ই যেত, তিনি তা কিনে খেতেন।

এক ব্যক্তি রান্না করা পঙ্গপাল বিক্রি করতে করতে যাচ্ছিলেন। তিনি তার কাছ থেকে প্রচুর পঙ্গপাল কিনে খেলেন। সেগুলো খাওয়ার পর তিন দিন ধরে তার পেট দিয়ে অনবরত হলুদ পানি নির্গত হতে লাগল, যা তার তীব্রতার কারণে প্রায় তাকে ধ্বংসের কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিল।

অতঃপর যখন পেট নামা বন্ধ হলো, তখন তার উদরের সমস্ত রোগ দূরীভূত হলো এবং তার শক্তি ফিরে এল। তিনি সুস্থ হয়ে উঠলেন এবং নিজের প্রয়োজনে বাইরে চলাফেরা করতে লাগলেন।

জনৈক চিকিৎসক তাকে দেখে বিস্মিত হলেন এবং তার এই পরিবর্তনের কারণ জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বিস্তারিত ঘটনা বর্ণনা করলে চিকিৎসক বললেন, "পঙ্গপালের তো এমন বৈশিষ্ট্য নেই যা এমনটি ঘটাতে পারে।" তিনি পঙ্গপাল বিক্রেতার ঠিকানা জানতে চাইলেন। তিনি তাকে সেখানে নিয়ে গেলে দেখা গেল যে, সেই পঙ্গপালগুলো এমন একটি জায়গায় ধরা হয়েছে যেখানে মাযারিউন উদ্ভিদের আধিক্য ছিল। এটি হলো উদরী রোগের একটি ওষুধ; কোনো রোগীকে যদি এক দিরহাম পরিমাণ এটি দেওয়া হয়, তবে তা দাস্তের মাধ্যমে পেট পরিষ্কার করে দেয়।
(খণ্ড: ১) উয়ুনুল আনবা ফী তবাকাতিল আতিব্বা (পৃষ্ঠা: ٢٤)
ذريعا لَا يكَاد أَن يضْبط والعلاج بِهِ خطر وَلذَلِك مَا تكَاد تصفه الْأَطِبَّاء

فَلَمَّا وَقع الْجَرَاد على هَذِه الحشيشة ونضجت فِي جَوْفه ثمَّ طبخ الْجَرَاد ضعف فعلهَا

وَأكل الْجَرَاد فَعُوفِيَ بِسَبَبِهَا

وَمثل هَذَا أَيْضا أَي مِمَّا حصل من طَرِيق المصادفة والاتفاق أَنه كَانَ بافلوللن من سليلة أسقليبيوس ورم حَار فِي ذراعه مؤلم ألما شَدِيدا فَلَمَّا أشفى مِنْهُ ارتاحت نَفسه إِلَى الْخُرُوج إِلَى شاطئ نهر كَانَ عَلَيْهِ النَّبَات المسمي حَيّ الْعَالم وَأَنه وَضعهَا عَلَيْهِ تبردا بِهِ فخف بذلك ألمه فاستطال وضع يَده عَلَيْهِ وَأصْبح من غَد فَعمل مثل ذَلِك فبرأ برءا تَاما

فَلَمَّا رأى النَّاس سرعَة برئه علمُوا إِنَّه إِنَّمَا كَانَ بِهَذَا الدَّوَاء وَهُوَ على مَا قيل أول مَا عرف من الأوية

وَأَشْبَاه هَذِه الْأَمْثِلَة الَّتِي قد ذكرنَا كَثِيرَة

‌‌الْقسم الرَّابِع

 

أَن يكون قد حصل شَيْء مِنْهَا أَيْضا بِمَا شَاهده النَّاس من الْحَيَوَانَات واقتدى بأفعالها وتشبه بهَا وَذَلِكَ مثل مَا ذكره الرَّازِيّ فِي كتاب الْخَواص أَن الخطاف إِذا وَقع بفراخه اليرقان مضى فجَاء بِحجر اليرقان وَهُوَ حجر أَبيض صَغِير يعرفهُ فَجعله فِي عشه فيبرأوا

وَأَن الْإِنْسَان إِذا أَرَادَ ذَلِك الْحجر طلى فِرَاخه بالزعفران فيظن أَنه قد أَصَابَهُم اليرقان فيمضي فَيَجِيء بِهِ فَيُؤْخَذ ذَلِك الْحجر ويعلق على من بِهِ اليرقان فينتفع بِهِ

وَكَذَلِكَ أَيْضا شَأْن الْعقَاب الْأُنْثَى أَنه إِذا تعسر عَلَيْهَا بيضها وَخُرُوجه وصعب حَتَّى تبلغ الْمَوْت وَرَأى ذكرهَا ذَلِك طَار وأحضر حجرا يعرف بالقلقل لِأَنَّهُ إِذا حرك تقلقل فِي دَاخله فَإِذا كسر لم يُوجد فِيهِ شَيْء وكل قِطْعَة مِنْهُ إِذا حركت تقلقلت مثل صَحِيحه وَأكْثر النَّاس تعرفه بِحجر الْعقَاب ويضعه فيسهل على الْأُنْثَى بيضها

وَالنَّاس يستعملونه فِي عسر الْولادَة على مَا استنبطوه من الْعقَاب

وَمثل ذَلِك أَيْضا أَن الْحَيَّات إِذا أظلمت أعينهن لكمونهن فِي الشتَاء فِي ظلمَة بطن الأَرْض وخرجن من مكامنهن فِي وَقت مَا يدفأ الْوَقْت طلبن نَبَات الرازيانج وأمررن عيونهن عَلَيْهِ فيصلح مَا بهَا
মারাত্মক যা নিয়ন্ত্রণ করা প্রায় অসম্ভব এবং এর দ্বারা চিকিৎসা করা ঝুঁকিপূর্ণ, আর এই কারণেই চিকিৎসকরা সচরাচর এর পরামর্শ দেন না।

যখন পঙ্গপাল এই ঘাসের ওপর পড়ল এবং তাদের উদরে তা পরিপক্ক হলো, অতঃপর পঙ্গপালগুলোকে রান্না করা হলো, তখন সেটির প্রভাব দুর্বল হয়ে গেল।

আর পঙ্গপাল ভক্ষণ করার ফলে সেটির কারণে তিনি আরোগ্য লাভ করলেন।

অনুরূপভাবে ঘটনাক্রমে এবং আকস্মিকভাবে যা ঘটেছিল তা হলো, আসক্লিপিয়াসের বংশধর ফিলুলুনের হাতে একটি উত্তপ্ত শোথ (ফোলা) হয়েছিল যা তাকে প্রচণ্ড যন্ত্রণার উদ্রেক করত। যখন তিনি এর কারণে মুমূর্ষু অবস্থায় পৌঁছালেন, তখন তার মন নদীর তীরে যাওয়ার জন্য আগ্রহী হলো, যেখানে 'হাই আল-আলম' নামক উদ্ভিদটি ছিল। তিনি শীতলতার জন্য সেটি তার ক্ষতের ওপর রাখলেন, ফলে তার ব্যথা কমে গেল, তাই তিনি দীর্ঘক্ষণ তার হাত সেটির ওপর রেখে দিলেন। পরদিন সকালেও তিনি অনুরূপ করলেন এবং তিনি পূর্ণরূপে সুস্থ হয়ে গেলেন।

যখন মানুষ তার দ্রুত আরোগ্য লাভ দেখল, তখন তারা বুঝতে পারল যে এটি এই ওষুধের কারণেই হয়েছে। আর বলা হয়ে থাকে যে, এটিই প্রথম ওষুধ যা মানুষ জানতে পেরেছিল।

আমরা যে উদাহরণগুলো উল্লেখ করেছি তার সদৃশ আরও অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে।

‌‌চতুর্থ বিভাগ

 

এর কিছু অংশ সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত যা মানুষ পশু-পাখিদের পর্যবেক্ষণ করে এবং তাদের কার্যাবলীর অনুসরণ ও অনুকরণ করে প্রাপ্ত হয়েছে। যেমন আল-রাযী 'কিতাবুল খাওয়াছ'-এ উল্লেখ করেছেন যে, আবাবিল পাখির ছানাগুলো যখন জন্ডিসে আক্রান্ত হয়, তখন সে গিয়ে 'জন্ডিস পাথর' নিয়ে আসে—এটি একটি ছোট সাদা পাথর যা সে চেনে—অতঃপর সেটি তার বাসায় রাখে এবং তারা সুস্থ হয়ে যায়।

আর মানুষ যদি সেই পাথরটি পেতে চায়, তবে সে ছানাগুলোকে জাফরান দ্বারা লেপন করে দেয়, ফলে পাখিটি মনে করে যে তারা জন্ডিসে আক্রান্ত হয়েছে, তখন সে গিয়ে সেই পাথরটি নিয়ে আসে। তখন সেই পাথরটি গ্রহণ করা হয় এবং জন্ডিসে আক্রান্ত ব্যক্তির গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হয়, ফলে সে উপকৃত হয়।

অনুরূপভাবে স্ত্রী ঈগলের ক্ষেত্রেও দেখা যায় যে, যখন তার ডিম পাড়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে এবং এর নির্গমন কঠিন হয়ে দাঁড়ায় এমনকি সে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়, আর পুরুষ ঈগল যখন তা দেখতে পায়, তখন সে উড়ে গিয়ে 'কালকাল' (নড়নক্ষম) পাথর নামক একটি পাথর নিয়ে আসে; কারণ এটি নাড়াচাড়া করলে এর ভেতরে নড়াচড়ার শব্দ হয়, আর যদি তা ভাঙা হয় তবে ভেতরে কিছু পাওয়া যায় না। এর প্রতিটি খণ্ড নাড়াচাড়া করলে অক্ষত পাথরের মতোই ভেতরে নড়াচড়ার শব্দ হয়। অধিকাংশ মানুষ একে 'ঈগল পাথর' হিসেবে চেনে। পুরুষ ঈগল সেটি এনে রাখে, ফলে স্ত্রী ঈগলের জন্য ডিম পাড়া সহজ হয়ে যায়।

আর মানুষ ঈগলের কাছ থেকে প্রাপ্ত এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কঠিন প্রসব বেদনার ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করে।

অনুরূপ উদাহরণ হলো সাপ যখন শীতকালে মাটির নিচে অন্ধকারে লুকিয়ে থাকার কারণে তাদের দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলে এবং আবহাওয়া উষ্ণ হলে যখন তারা লুকানো স্থান থেকে বেরিয়ে আসে, তখন তারা 'রাজিয়ানাজ' উদ্ভিদ খোঁজে এবং তাদের চোখ সেটির ওপর ঘষে নেয়, ফলে তাদের চোখের সমস্যা দূর হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১) উয়ুনুল আনবা ফী তবাকাতিল আতিব্বা (পৃষ্ঠা: ٢٥)
فَلَمَّا رأى النَّاس ذَلِك وجربوه وجدوا من خاصيته إذهاب ظلمَة الْبَصَر إِذا اكتحل بِمِائَة

وَذكر جالينوس فِي كِتَابه فِي الحقن عَن أرودوطس أَن طائرا يَدعِي أيبس هُوَ الَّذِي دلّ على علم الحقن وَزعم أَن الطير كثير الإغتذاء لَا يتْرك شَيْئا من اللحوم إِلَّا أكله فيحتبس بَطْنه لِاجْتِمَاع الأخلاط الرَّديئَة وَكَثْرَتهَا فِيهِ فَإِذا اشْتَدَّ ذَلِك عَلَيْهِ توجه إِلَى الْبَحْر فَأخذ بمنقاره من مَاء الْبَحْر ثمَّ أدخلهُ فِي دبره فَيخرج بذلك المَاء الأخلاط المحتقنة فِي بَطْنه ثمَّ يعود إِلَى طَعَامه الَّذِي عَادَته الإغتذاء بِهِ

‌‌الْقسم الْخَامِس

 

أَن يكون حصل شَيْء مِنْهَا أَيْضا بطرِيق الإلهام كَمَا هُوَ لكثير من الْحَيَوَانَات

فَإِنَّهُ يُقَال أَن الْبَازِي إِذا اشْتَكَى جَوْفه عمد إِلَى طَائِر مَعْرُوف يُسَمِّيه اليونانيون ذريفوس فيصيده وَيَأْكُل من كبده فيسكن وَجَعه على الْحَال

وكما تشاهد عَلَيْهِ أَيْضا السنانير فَإِنَّهَا فِي أَوْقَات الرّبيع تَأْكُل الْحَشِيش فَإِن عدمت الْحَشِيش عدلت إِلَى خوص المكانس فتأكله وَمَعْلُوم أَن ذَلِك لَيْسَ مِمَّا كَانَت تغتذي بِهِ أَولا وَإِنَّمَا دَعَاهَا إِلَى ذَلِك الإلهام لفعل مَا جعله الله تَعَالَى سَببا لصِحَّة أبدانها وَلَا تزَال كَذَلِك إِلَى أَن تحس بِالصِّحَّةِ المأنوس إِلَيْهَا بالطبع فتكف عَن أكله

وَكَذَلِكَ أَيْضا مَتى نالها أَذَى من بعض الْحَيَوَانَات المؤذية ذَات السمُوم وأكلت شَيْئا مِنْهَا فَإِنَّهَا تقصد إِلَى السيرج وَإِلَى مَوَاضِع الزَّيْت فتنال مِنْهُ ذَلِك يسكن عَنْهَا سُورَة مَا تَجدهُ

ويحكى أَن الدَّوَابّ إِذا أكلت الدفلى فِي ربيعها أضرّ ذَلِك بهَا فَتسَارع إِلَى حشيشة هِيَ بادزهر للدفلى فترتعيها وَيكون بهَا برؤها

وَمِمَّا يُحَقّق ذَلِك حَالَة جرت من قريب وَهِي أَن بهاء الدّين بن
মানুষ যখন এটি দেখল এবং এটি পরীক্ষা করল, তারা এর বৈশিষ্ট্য হিসেবে চোখের দৃষ্টির অন্ধকার দূর করার ক্ষমতা পেল, যখন এর নির্যাস দিয়ে সুরমা লাগানো হয়।

গ্যালেন (জালিনুস) এনিমা বিষয়ক তার গ্রন্থে হেরোডোটাসের সূত্রে উল্লেখ করেছেন যে, 'আইবিস' নামক একটি পাখি এনিমা বিজ্ঞানের পথপ্রদর্শক। তিনি দাবি করেন যে, এই পাখিটি প্রচুর পরিমাণে আহার করে এবং কোনো প্রকার মাংসই সে খাওয়া থেকে বাদ দেয় না, যার ফলে তার পেটে বিভিন্ন দূষিত উপাদানের আধিক্য ঘটে এবং তা আটকে যায়। যখন এই অবস্থা তার জন্য অসহনীয় হয়ে ওঠে, তখন সে সমুদ্রের দিকে যায় এবং তার ঠোঁট দিয়ে সমুদ্রের পানি গ্রহণ করে তা নিজের পায়ুপথে প্রবেশ করায়। এর মাধ্যমে তার পেটে জমাটবদ্ধ দূষিত উপাদানগুলো বের হয়ে যায় এবং এরপর সে পুনরায় তার নিয়মিত খাদ্যাভ্যাসে ফিরে যায়।

‌‌পঞ্চম পরিচ্ছেদ

 

এগুলোর মধ্যে কিছু বিষয় ইলহাম বা সহজাত প্রেরণার মাধ্যমেও অর্জিত হয়েছে, যেমনটি অনেক প্রাণীর ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায়।

বলা হয়ে থাকে যে, বাজপাখি যখন পেটের সমস্যায় ভোগে, তখন সে গ্রিকদের কাছে 'থ্রিফস' নামে পরিচিত একটি বিশেষ পাখির সন্ধান করে। সে এটিকে শিকার করে তার কলিজা ভক্ষণ করে, ফলে তৎক্ষণাৎ তার ব্যথা উপশম হয়।

যেমনটি বিড়ালদের ক্ষেত্রেও পর্যবেক্ষণ করা যায়; তারা বসন্তকালে ঘাস ভক্ষণ করে। যদি তারা ঘাস না পায়, তবে তারা ঝাড়ুর কাঠির দিকে ঝুঁকে পড়ে এবং তা খায়। এটি সুবিদিত যে, এগুলো তাদের স্বাভাবিক খাদ্য নয়; বরং মহান আল্লাহ তাদের শরীরের সুস্থতার জন্য যে বিষয়কে কারণ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, তা করার জন্য ইলহাম বা সহজাত প্রেরণা তাদের উদ্বুদ্ধ করে। তারা এই অবস্থায় থাকে যতক্ষণ না তারা স্বাভাবিক সুস্বাস্থ্য অনুভব করে, এরপর তারা তা খাওয়া বন্ধ করে দেয়।

একইভাবে, যখন তারা কোনো বিষাক্ত ক্ষতিকারক প্রাণীর দ্বারা আক্রান্ত হয় বা তেমন কিছু খেয়ে ফেলে, তখন তারা তিলের তেল বা তেলের আধারগুলোর দিকে ছুটে যায় এবং তা গ্রহণ করে, ফলে তারা যা অনুভব করছিল তার তীব্রতা প্রশমিত হয়।

বর্ণিত আছে যে, চতুষ্পদ জন্তুরা যখন বসন্তকালে করবী লতা ভক্ষণ করে এবং তা তাদের জন্য ক্ষতিকর হয়, তখন তারা দ্রুত এমন এক ঘাসের দিকে ছুটে যায় যা করবীর বিষের প্রতিষেধক, এবং তারা তা চরে বেড়ায়, যার মাধ্যমে তারা আরোগ্য লাভ করে।

আর যা এই বিষয়টিকে সুনিশ্চিত করে তা হলো সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা, আর তা হলো বাহাউদ্দীন বিন...
(খণ্ড: ১) উয়ুনুল আনবা ফী তবাকাতিল আতিব্বা (পৃষ্ঠা: ٢٦)
نفادة الْكَاتِب حكى أَنه لما كَانَ مُتَوَجها إِلَى الكرك كَانَ فِي طَرِيقه بالطليل وَهِي منزلَة كَثِيرَة نَبَات الدفلى فَنزل هُوَ وَآخر فِي مَكَان مِنْهَا وَإِلَى جانبهم هَذَا النَّبَات فَربط الغلمان دوابهم هُنَالك وَجعلت الدَّوَابّ ترعى مَا يقرب مِنْهَا وأكلت من الدفلى فَأَما دوابه فَإِن غلمانه غفلوا عَنْهَا فسابت ورعت من مَوَاضِع مُتَفَرِّقَة وَأما دَوَاب الآخر فَأَنَّهَا بقيت فِي موضعهَا لم تقدر على التنقل مِنْهُ وَلما أَصْبحُوا وجدت دوابه فِي عَافِيَة ودواب الآخرين قد مَاتَت بأسرها فِي ذَلِك الْموضع

وَحكى ديسقوريدس فِي كِتَابه أَن المعزى الْبَريَّة باقريطش إِذا رميت بِالنَّبلِ وَبقيت فِي أبدانها فَإِنَّهَا ترعى النَّبَات الَّذِي يُقَال لَهُ المشكطرامشير وَهُوَ نوع من الفوتنج فيتساقط عَنْهَا مَا رميت بِهِ وَلم يَضرهَا شَيْء مِنْهُ

وحَدثني القَاضِي نجم الدّين عمر بن مُحَمَّد بن الكرندي أَن اللقلق يعشش فِي أَعلَى القباب والمواضع المرتفعة وَأَن لَهُ عدوا من الطُّيُور يتقصده أبدا وَيَأْتِي إِلَى عشه وَيكسر الْبيض الَّذِي فِيهِ

قَالَ وَإِن ثمَّ حشيشة من خاصيتها أَن عَدو اللقلق إِذا شم رائحتها يغمى فَيَأْتِي بهَا اللقلق إِلَى عشه ويجعلها تَحت بيضه فَلَا يقدر الْعَدو عَلَيْهَا

وَذكر أوحد الزَّمَان فِي الْمُعْتَبر أَن الْقُنْفُذ لبيته أَبْوَاب يسدها ويفتحها عِنْد هبوب الرِّيَاح الَّتِي تؤذيه وتوافقه

وَحكى أَن إنْسَانا رأى الحباري تقَاتل الأفعى وتنهزم عَنْهَا إِلَى بقلة تتَنَاوَل مِنْهَا ثمَّ تعود لقتالها

وَأَن هَذَا الْإِنْسَان عاينها فَنَهَضَ إِلَى البقلة فقطعها عِنْد اشْتِغَال الحباري بِالْقِتَالِ فَعَادَت الحباري إِلَى منبتها ففقدتها وطافت عَلَيْهَا فَلم تجدها فخرت ميتَة

فقد كَانَت تتعالج بهَا

قَالَ وَابْن عرس يستظهر فِي قتال الْحَيَّة بِأَكْل السذاب

وَالْكلاب إِذا دودت بطونها أكلت السنبل وتقيأت واستطلقت وَإِذا جرح اللقلق داوى جراحه بالصعتر الْجبلي

والثور يفرق بَين الحشائش المتشابهة فِي صورها وَيعرف مَا يُوَافقهُ مِنْهَا فيرعاه وَمَا لَا يُوَافقهُ فيتركه مَعَ نهمه وَكَثْرَة أكله وبلادة ذهنه

وَمثل هَذَا كثير
নাফাদাহ আল-কাতিব বর্ণনা করেছেন যে, যখন তিনি কারাক অভিমুখে যাচ্ছিলেন, তখন পথিমধ্যে তিনি বাতলীল নামক স্থানে পৌঁছেন। সেখানে প্রচুর পরিমাণে করবী (Oleander) গাছ ছিল। তিনি এবং অন্য একজন সেখানে যাত্রাবিরতি করেন এবং তাদের পাশে এই গাছগুলো ছিল। গোলামরা সেখানে তাদের পশুগুলোকে বাঁধল। পশুগুলো চারপাশের ঘাস খেতে শুরু করল এবং করবী গাছও খেল। তবে তাঁর (নাফাদাহর) পশুগুলোর ব্যাপারে তাঁর গোলামরা উদাসীন ছিল, ফলে সেগুলো ছাড়া পেয়ে বিভিন্ন স্থানে চরে বেড়াল। কিন্তু অন্য ব্যক্তির পশুগুলো নিজ স্থানেই রয়ে গেল এবং সেখান থেকে সরতে পারল না। সকালে দেখা গেল তাঁর পশুগুলো সুস্থ আছে, কিন্তু অন্যদের পশুগুলো সেই স্থানেই সব মারা গেছে।

ডায়োস্কোরাইডেস তাঁর কিতাবে বর্ণনা করেছেন যে, ক্রিট দ্বীপের বন্য ছাগলগুলো যখন তীরের আঘাতে বিদ্ধ হয় এবং তীর তাদের শরীরে বিদ্ধ থাকে, তখন তারা এমন এক উদ্ভিদ খায় যাকে 'মাশকাতরামশীর' বলা হয়, আর তা এক প্রকার পুদিনা জাতীয় উদ্ভিদ। ফলে তাদের শরীর থেকে বিদ্ধ তীরগুলো ঝরে পড়ে এবং এর দ্বারা তাদের কোনো ক্ষতি হয় না।

কাজী নাজমুদ্দিন উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-কারান্দি আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, সারস উঁচু গম্বুজ এবং উচ্চস্থানে বাসা বাঁধে। পাখিদের মধ্যে তার একজন শত্রু রয়েছে যে তাকে সর্বদা লক্ষ্য করে এবং তার বাসায় এসে সেখানে থাকা ডিমগুলো ভেঙে ফেলে।

তিনি বলেন, সেখানে এমন একটি ঘাস রয়েছে যার বৈশিষ্ট্য হলো, যখন সারসের সেই শত্রু এর ঘ্রাণ পায় তখন সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তাই সারস সেই ঘাসটি নিয়ে এসে তার বাসায় ডিমের নিচে রেখে দেয়, ফলে শত্রুটি আর ডিমের নাগাল পায় না।

আওহাদ আল-জামান 'আল-মুতাবার' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, সজারুর বাসার এমন দরজা রয়েছে যা সে বাতাস প্রবাহিত হওয়ার সময় বন্ধ করে বা খুলে দেয়, যা তাকে কষ্ট দেয় অথবা তার অনুকূলে থাকে।

বর্ণিত আছে যে, এক ব্যক্তি তিলাউড় পাখিকে সাপের সাথে লড়াই করতে দেখেন। পাখিটি সাপ থেকে পিছু হটে একটি উদ্ভিদের কাছে যেত এবং তা থেকে কিছু অংশ গ্রহণ করে পুনরায় লড়াইয়ে ফিরে আসত।

সেই ব্যক্তি এটি পর্যবেক্ষণ করলেন এবং যখন পাখিটি লড়াইয়ে ব্যস্ত ছিল তখন তিনি গিয়ে সেই উদ্ভিদটি কেটে ফেললেন। পাখিটি পুনরায় তার উদ্ভিদটির কাছে ফিরে এল, কিন্তু তা আর দেখতে পেল না। সে চারপাশে খুঁজেও তা পেল না এবং অবশেষে সেখানেই মারা পড়ে গেল।

কারণ সে সেটি দিয়ে নিজের চিকিৎসা করছিল।

তিনি বলেন, নেউল সাপের সাথে লড়াই করার সময় 'সুদাব' (Rue) খেয়ে শক্তি সঞ্চয় করে।

কুকুরের পেটে কৃমি হলে তারা 'সুনবুল' (Spikenard) খায় এবং বমি ও মলত্যাগের মাধ্যমে তা বের করে দেয়। আর সারস যখন আহত হয়, তখন সে বনজ জাইন (Mountain Thyme) দিয়ে নিজের ক্ষতের চিকিৎসা করে।

ষাঁড় দৃশ্যত সদৃশ ঘাসগুলোর মধ্যে পার্থক্য করতে পারে। সে তার জন্য কোনটি উপযুক্ত তা চেনে এবং তা ভক্ষণ করে। আর যা তার অনুপযোগী, প্রচণ্ড ক্ষুধা ও বেশি খাওয়ার প্রবণতা এবং বোধশক্তির স্থূলতা সত্ত্বেও সে তা বর্জন করে।

আর এমন উদাহরণ অগণিত।
(খণ্ড: ১) উয়ুনুল আনবা ফী তবাকাতিল আতিব্বা (পৃষ্ঠা: ٢٧)
فَإِذا كَانَت الْحَيَوَانَات الَّتِي لَا عقول لَهَا ألهمت مصالحها ومنافعها كَانَ الْإِنْسَان الْعَاقِل الْمُمَيز الْمُكَلف الَّذِي هُوَ أفضل الْحَيَوَان أولى بذلك

وَهَذَا أكبر حجَّة لمن يعْتَقد أَن الطِّبّ إِنَّمَا هُوَ إلهام وهداية من الله سُبْحَانَهُ لخلقه

وَبِالْجُمْلَةِ فَإِنَّهُ قد يكون من هَذَا وَمِمَّا وَقع بالتجربة والاتفاق والمصادفة أَكثر مَا حصلوه من هَذِه الصِّنَاعَة

ثمَّ تكاثر ذَلِك بَينهم وعضده الْقيَاس بِحَسب مَا شاهدوه وأدتهم إِلَيْهِ فطرتهم فَاجْتمع لَهُم من جَمِيع تِلْكَ الْأَجْزَاء الَّتِي حصلت لَهُم بِهَذِهِ الطّرق المتفننة الْمُخْتَلفَة أَشْيَاء كَثِيرَة

ثمَّ أَنهم تأملوا تِلْكَ الْأَشْيَاء وَاسْتَخْرَجُوا عللها والمناسبات الَّتِي بَينهَا فَتحصل لَهُم من ذَلِك قوانين كُلية ومبادئ مِنْهَا يبتدأ بالتعلم والتعليم وَإِلَى مَا أدركوه مِنْهَا أَولا يَنْتَهِي

فَعِنْدَ الْكَمَال يتدرج فِي التَّعْلِيم من الكليات إِلَى الجزئيات وَعند استنباطها يتدرج من الجزئيات إِلَى الكليات وَأَقُول أَيْضا وَقد أَشَرنَا إِلَى ذَلِك من قبل أَنه لَيْسَ يلْزم أَن يكون أول هَذَا مُخْتَصًّا بِموضع دون مَوضِع وَلَا يفرد بِهِ قوم دون آخَرين إِلَّا بِحَسب الْأَكْثَر والأقل وبحسب تنوع المداواة

وَلِهَذَا فَإِن كل قوم هم مصطلحون على أدوية يألفونها ويتداوون بهَا وَأرى أَنهم إِنَّمَا اخْتلفُوا فِي نِسْبَة صناعَة الطِّبّ إِلَى قوم بِحَسب مَا قد كَانَ يَتَجَدَّد عِنْد قوم فينسب إِلَيْهِم فَإِنَّهُ قد يُمكن أَن تكون صناعَة الطِّبّ فِي أمة أَو فِي بقْعَة من الأَرْض فتدثر وتبيد بِأَسْبَاب سَمَاوِيَّة أَو أرضية كالطواعين المفنية والقحوط المجلية والحروب المبيدة والملوك المتغلبة وَالسير الْمُخَالفَة

فَإِذا انقرضت فِي أمة ونشأت فِي أمة أُخْرَى وتطاول الزَّمَان عَلَيْهَا نسي مَا تقدم وَصَارَت الصِّنَاعَة تنْسب إِلَى الْأمة الثَّانِيَة دون الأولى وَيعْتَبر أَولهَا بِالْقِيَاسِ إِلَيْهِم فَقَط فَيُقَال لَهَا مذ ظَهرت كَذَا وَكَذَا وَإِنَّمَا يعْنى فِي الْحَقِيقَة مذ ظَهرت فِي هَذِه الْأمة خَاصَّة وَهَذَا مِمَّا لَا يبعد

فَإِنَّهُ على مَا تَوَاتَرَتْ بِهِ الْآثَار وخصوصا مَا حَكَاهُ جالينوس وَغَيره أَن أبقراط لما رأى صناعَة الطِّبّ قد كَادَت أَن تبيد وَأَنه قد درست معالمها عَن آل أسقليبيوس الَّذين أَبُو أبقراط مِنْهُم تداركها بِأَن أظهرها وبثها فِي الغرباء وقواها ونشرها وشهرها بِأَن أثبتها بالكتب

فَلهَذَا يُقَال أَيْضا على مَا ذهب إِلَيْهِ كثير من النَّاس أَن أبقراط أول من وضع صناعَة الطِّبّ وَأول من دونهَا وَلَيْسَ الْحق على مَا تَوَاتَرَتْ بِهِ الْآثَار إِلَّا أَنه أول من دونهَا من آل أسقليبيوس لتعليم كل من يصلح لتعلمها من النَّاس كَافَّة وَمثله سلك الْأَطِبَّاء من بعده وَاسْتمرّ إِلَى الْآن

وأسقليبيوس الأول هُوَ أول من تكلم فِي شَيْء من الطِّبّ على مَا سَيَأْتِي ذكره
সুতরাং যদি বিবেকহীন পশুরা তাদের নিজেদের কল্যাণ ও উপকারের বিষয়ে ইলহাম বা প্রকৃতিগত দিকনির্দেশনা লাভ করতে পারে, তবে বিবেকসম্পন্ন, পার্থক্যকারী এবং শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ মানুষ—যে কি না সৃষ্টির সেরা জীব—তার ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি প্রযোজ্য।

আর এটি তাদের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ প্রমাণ যারা বিশ্বাস করেন যে, চিকিৎসাবিদ্যা মূলত মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির প্রতি এক প্রকার ইলহাম এবং হিদায়াত।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, চিকিৎসাবিদ্যায় তারা যা কিছু অর্জন করেছে, তার অধিকাংশই অর্জিত হয়েছে এভাবে ইলহামের মাধ্যমে অথবা অভিজ্ঞতা, ঐক্যমত্য এবং আকস্মিক সংযোগের ফলে।

অতঃপর তাদের মধ্যে এসব জ্ঞানের ব্যাপক প্রসার ঘটে এবং তারা যা প্রত্যক্ষ করেছিল ও তাদের প্রকৃতি তাদের যেদিকে পরিচালিত করেছিল, তার ভিত্তিতে কিয়াস বা অনুমানের মাধ্যমে একে শক্তিশালী করে। এভাবে বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় পন্থায় অর্জিত এসকল খণ্ড খণ্ড জ্ঞান থেকে তাদের কাছে প্রচুর বিষয় ও উপকরণ জমা হয়।

এরপর তারা সেই সব বিষয় নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করেন এবং সেগুলোর কারণ ও পারস্পরিক সম্পর্ক উদঘাটন করেন। ফলে তাদের কাছে এমন কিছু সামগ্রিক নীতি ও মূলসূত্র অর্জিত হয়, যা থেকে শিক্ষা গ্রহণ ও প্রদান শুরু হয় এবং তারা শুরুতে যা উপলব্ধি করেছিলেন সেখানে গিয়ে তা শেষ হয়।

পূর্ণতা লাভের পর্যায়ে শিক্ষার গতি হয় সামগ্রিক নীতি থেকে বিশেষ বিষয়ের দিকে, আর উদ্ভাবনের সময় তা বিশেষ বিষয় থেকে সামগ্রিক নীতির দিকে অগ্রসর হয়। আমি আরও বলছি—যা আমি আগেও ইঙ্গিত করেছি—এই বিদ্যার সূচনালগ্ন কোনো নির্দিষ্ট স্থান বা নির্দিষ্ট কোনো জাতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা আবশ্যক নয়; বরং চিকিৎসার পদ্ধতির বৈচিত্র্য এবং জ্ঞানের পরিমাণের কম-বেশির ভিত্তিতে এটি বিভিন্ন স্থানে হতে পারে।

এই কারণেই প্রতিটি জাতি তাদের পরিচিত কিছু ওষুধের পরিভাষা ঠিক করে নিয়েছে এবং তা দ্বারা চিকিৎসা করে। আমার মতে, চিকিৎসাবিদ্যাকে কোনো নির্দিষ্ট জাতির দিকে সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে মতভেদের কারণ হলো, যখন কোনো জাতির কাছে এটি নতুনভাবে বিকশিত হয়েছে, তখন সেটি তাদের দিকেই সম্বন্ধ করা হয়েছে। কেননা এটি সম্ভব যে, কোনো একটি জাতি বা ভূখণ্ডে চিকিৎসাবিদ্যা বিদ্যমান ছিল, কিন্তু আসমানি বা জমিনি বিপর্যয়ের কারণে—যেমন মহামারি, দুর্ভিক্ষ, বিধ্বংসী যুদ্ধ, বিজয়ী রাজন্যবর্গের অত্যাচার কিংবা জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে—তা বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

সুতরাং যখন কোনো এক জাতির মধ্যে এটি বিলুপ্ত হয়ে অন্য জাতির মধ্যে নতুন করে জন্ম নেয় এবং দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়, তখন পূর্ববর্তী ইতিহাস বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যায়। ফলে এই বিদ্যাটি প্রথম জাতির পরিবর্তে দ্বিতীয় জাতির দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয় এবং কেবল তাদের নিরিখেই এর সূচনা কাল গণনা করা হয়। তখন বলা হয়, 'এটি অমুক সময় থেকে আত্মপ্রকাশ করেছে', অথচ বাস্তবে এর অর্থ হলো এটি বিশেষ করে 'এই জাতির মধ্যে' তখন থেকে প্রকাশ পেয়েছে। আর এটি কোনো অসম্ভব বিষয় নয়।

কারণ বিভিন্ন বর্ণনা থেকে এবং বিশেষ করে গ্যালেন ও অন্যদের বর্ণনা থেকে এটি জনশ্রুতি হিসেবে প্রচলিত আছে যে, হিপোক্রেটিস যখন দেখলেন চিকিৎসাবিদ্যা প্রায় বিলুপ্ত হতে চলেছে এবং এসক্লেপিয়াস বংশের—যাদের বংশে হিপোক্রেটিসের পিতার জন্ম—কাছ থেকে এর চিহ্নসমূহ মুছে যাচ্ছে, তখন তিনি একে রক্ষা করেন। তিনি এই বিদ্যাকে বহিরাগতদের মধ্যে প্রকাশ ও প্রচার করেন এবং বই আকারে লিপিবদ্ধ করার মাধ্যমে একে শক্তিশালী, প্রসারিত ও প্রসিদ্ধ করে তোলেন।

এই কারণেই অনেক মানুষের মতানুসারে বলা হয় যে, হিপোক্রেটিসই চিকিৎসাবিদ্যার প্রথম প্রতিষ্ঠাতা এবং তিনিই প্রথম এটি সংকলন করেন। কিন্তু বর্ণিত তথ্যানুযায়ী প্রকৃত সত্য এই যে, তিনি এসক্লেপিয়াস বংশীয়দের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি ছিলেন যিনি মানবজাতির মধ্যে যারা এই বিদ্যা শেখার যোগ্য তাদের সবার জন্য এটি সংকলন করেছিলেন। পরবর্তী চিকিৎসকরাও তাঁর এই পথ অনুসরণ করেছেন এবং তা আজ অবধি অব্যাহত রয়েছে।

আর প্রথম এসক্লেপিয়াস ছিলেন চিকিৎসাবিষয়ক আলোচনা উত্থাপনকারী সর্বপ্রথম ব্যক্তি, যার বর্ণনা সামনে আসবে।
(খণ্ড: ১) উয়ুনুল আনবা ফী তবাকাতিল আতিব্বা (পৃষ্ঠা: ٢٩)
الْبَاب الثَّانِي

 

‌‌طَبَقَات الْأَطِبَّاء الَّذين ظَهرت لَهُم أَجزَاء من صناعَة الطِّبّ وَكَانُوا المبتدئين بهَا

 

‌‌أسقليبيوس

 

قد اتّفق كثير من قدماء الفلاسفة والمتطببين على أَن أسقليبيوس كَمَا أَشَرنَا إِلَيْهِ أَولا هُوَ أول من ذكر من الْأَطِبَّاء وَأول من تكلم فِي شَيْء من الطِّبّ على طَرِيق التجربة

وَكَانَ يونانيا واليونان منسوبون إِلَى يونان وَهِي جَزِيرَة كَانَت الْحُكَمَاء من الرّوم ينزلونها

وَقَالَ أَبُو معشر فِي الْمقَالة الثَّانِيَة من كتاب الألوف أَن بَلْدَة من الْمغرب كَانَت تسمى فِي قديم الدَّهْر أرغس وَكَانَ أَهلهَا يسمون أرغيوا وَسميت الْمَدِينَة بعد ذَلِك أيونيا وَسموا أَهلهَا يونانيين باسم بلدهم وَكَانَ ملكهَا أحد مُلُوك الطوائف

وَيُقَال أَن أول من اجْتمع لَهُ ملك مَدِينَة أيونيا من مُلُوك اليونانيين كَانَ اسْمه أيوليوس وَكَانَ لقبه دقطاطر ملكهم ثَمَانِي عشرَة سنة وَوضع لليونانيين سننا كَثِيرَة مستعملة عِنْدهم

وَقَالَ الشَّيْخ الْجَلِيل أَبُو سُلَيْمَان مُحَمَّد بن طَاهِر بن بهْرَام السجسْتانِي المنطقي فِي تعاليقه أَن
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

 

‌‌সেইসব চিকিৎসকদের স্তরসমূহ যাঁদের নিকট চিকিৎসা শিল্পের বিভিন্ন শাখা প্রকাশিত হয়েছিল এবং যাঁরা এর প্রবর্তক ছিলেন

 

‌‌আস্ক্লিপিয়াস

 

প্রাচীন দার্শনিক ও চিকিৎসকদের অনেকেই এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, আস্ক্লিপিয়াস—যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি—চিকিৎসকদের মধ্যে সর্বপ্রথম উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি এবং তিনিই প্রথম পরীক্ষামূলক পদ্ধতির ভিত্তিতে চিকিৎসার কোনো বিষয়ে কথা বলেন।

তিনি গ্রিক ছিলেন। গ্রিকরা ইউনানের সাথে সম্বন্ধযুক্ত, আর এটি ছিল একটি দ্বীপ যেখানে রোমীয় প্রাজ্ঞ ব্যক্তিগণ বসবাস করতেন।

আবু মা'শার তাঁর 'কিতাবুল উলুফ' গ্রন্থের দ্বিতীয় প্রবন্ধে বলেছেন যে, প্রাচীনকালে মাগরিবের একটি শহরের নাম ছিল 'আরগাস' এবং এর অধিবাসীদের 'আরগিও' বলা হতো। পরবর্তীকালে শহরটির নাম হয় 'আইয়োনিয়া' এবং এর অধিবাসীদের তাদের শহরের নামানুসারে 'ইউনানী' বলা হতে থাকে। এর রাজা ছিলেন 'মুলুকুত তাওয়াইফ' (আঞ্চলিক রাজন্যবর্গ)-এর একজন রাজা।

বলা হয়ে থাকে যে, গ্রিক রাজাদের মধ্যে যাঁর অধীনে আইয়োনিয়া শহরের রাজত্ব প্রথম সংহত হয়েছিল তাঁর নাম ছিল আইয়ুলিউস এবং তাঁর উপাধি ছিল 'ডিক্টেটর'। তিনি আঠারো বছর রাজত্ব করেন এবং গ্রিকদের জন্য বহু নিয়ম-নীতি প্রণয়ন করেন যা তাদের মধ্যে প্রচলিত ছিল।

বিজ্ঞ শায়খ আবু সুলাইমান মুহাম্মদ ইবনে তাহির ইবনে বাহরাম আস-সিজিস্তানি আল-মানতিকি তাঁর টীকাগ্রন্থে বলেছেন যে,
(খণ্ড: ১) উয়ুনুল আনবা ফী তবাকাতিল আতিব্বা (পৃষ্ঠা: ٣٠)
أسقليبيوس بن زيوس قَالُوا مولده روحاني وَهُوَ إِمَام الطِّبّ وَأَبُو أَكثر الفلاسفة قَالَ وأقليدس ينْسب إِلَيْهِ وأفلاطون وأرسطوطاليس وبقراط وَأكْثر اليونانية قَالَ وبقراط كَانَ السَّادِس عشر من أَوْلَاده يَعْنِي الْبَطن السَّادِس عشر من أَوْلَاده وَقَالَ سولون أَخُو أسقليبيوس وَهُوَ أَبُو وَاضع النواميس

أَقُول وترجمة أسقليبيوس بالعربي منع اليبس وَقيل إِن أصل هَذَا الِاسْم فِي لِسَان اليونانيين مُشْتَقّ من الْبَهَاء والنور

وَكَانَ أسقليبيوس على مَا وجد فِي أَخْبَار الْجَبَابِرَة بالسُّرْيَانيَّة ذكي الطَّبْع قوي الْفَهم حَرِيصًا مُجْتَهدا فِي علم صناعَة الطِّبّ

واتفقت لَهُ اتفاقات حميدة مُعينَة على التمهر فِي هَذِه الصِّنَاعَة وانكشفت لَهُ أُمُور عَجِيبَة من أَحْوَال العلاج بإلهام من الله عز وجل

وَحكي إِنَّه وجد علم الطِّبّ فِي هيكل كَانَ لَهُم برومية يعرف بهيكل أبلن وَهُوَ للشمس وَيُقَال أَن أسقليبيوس هُوَ الَّذِي أوضع هَذَا الهيكل وَيعرف بهيكل أسقليبيوس

وَمِمَّا يُحَقّق ذَلِك أَن جالينوس قَالَ فِي كِتَابه فِي فينكس إِن الله عز اسْمه لما خلصني من دبيلة قتالة كَانَت عرضت لي حججْت إِلَى بَيته الْمُسَمّى بهيكل أسقليبيوس

وَقَالَ جالينوس فِي كِتَابه حِيلَة الْبُرْء فِي صدر الْكتاب مِمَّا يجب أَن يُحَقّق الطِّبّ عِنْد الْعَامَّة مَا يرونه من الطِّبّ الإلهي فِي هيكل أسقليبيوس على مَا حَكَاهُ هروسيس صَاحب الْقَصَص بَيت كَانَ بِمَدِينَة رُومِية كَانَت فِيهِ صُورَة تكلمهم عِنْدَمَا يسألونها وَكَانَ المستنبط لَهَا فِي الْقَدِيم أسقليبيوس

وَزعم مجوس رُومِية أَن تِلْكَ الصُّورَة كَانَت مَنْصُوبَة على حركات نجومية وَإنَّهُ كَانَ فِيهَا روحانية كَوْكَب من الْكَوَاكِب السَّبْعَة

وَكَانَ دين النَّصْرَانِيَّة فِي رُومِية قبل عبَادَة النُّجُوم كَذَا حكى هروسيس

وَذكر جالينوس أَيْضا فِي مَوَاضِع كَثِيرَة أَن طب أسقليبيوس كَانَ طِبًّا إلهيا

وَقَالَ إِن قِيَاس الطِّبّ الإلهي إِلَى طبنا قِيَاس طبنا إِلَى طب الطرقات

وَذكر أَيْضا فِي حق أسقليبيوس فِي كِتَابه الَّذِي أَلفه فِي الْحَث على تعلم صناعَة الطِّبّ أَن الله تَعَالَى أوحى إِلَى أسقليبيوس إِنِّي إِلَى أَن أسميك ملكا أقرب مِنْك إِلَى أَن أسميك إنْسَانا

وَقَالَ أبقراط إِن الله تَعَالَى رَفعه إِلَيْهِ فِي الْهَوَاء فِي عَمُود من نور

وَقَالَ غَيره أَن أسقليبيوس كَانَ مُعظما عِنْد اليونانيين وَكَانُوا يستشفون بقبره

وَيُقَال إِنَّه كَانَ يسرج على قَبره كل لَيْلَة ألف قنديل

وَكَانَ الْمُلُوك من نَسْله تَدعِي لَهُ النُّبُوَّة
জিউস-পুত্র আসক্লিপিয়াস। তারা বলেন যে তার জন্ম ছিল আধ্যাত্মিক এবং তিনি ছিলেন চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইমাম ও অধিকাংশ দার্শনিকদের আদিপিতা। বলা হয়েছে যে ইউক্লিড, প্লেটো, এরিস্টটল, হিপোক্রেটিস এবং অধিকাংশ গ্রীক ব্যক্তিত্ব তার সাথে সম্পর্কিত। আরও বলা হয়েছে যে, হিপোক্রেটিস ছিলেন তার ষোড়শ প্রজন্মের বংশধর। আসক্লিপিয়াসের ভাই সোলন ছিলেন আইন প্রবর্তকের পিতা।

আমি বলি, আসক্লিপিয়াস নামের আরবি অনুবাদ হলো 'শুষ্কতা নিবারণকারী'। কথিত আছে যে গ্রীক ভাষায় এই নামের মূল অর্থ সৌন্দর্য ও জ্যোতি থেকে উদ্ভূত।

সিরীয় ভাষায় প্রতাপশালী শাসকদের ইতিহাস থেকে যা জানা যায়, সে অনুযায়ী আসক্লিপিয়াস ছিলেন তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী, প্রখর বোধসম্পন্ন এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের জ্ঞানে অত্যন্ত নিষ্ঠাবান ও পরিশ্রমী।

এই বিদ্যায় পারদর্শিতা অর্জনের ক্ষেত্রে তার জন্য কিছু প্রশংসনীয় ও সহায়ক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত ইলহামের মাধ্যমে চিকিৎসার বহু বিস্ময়কর বিষয় তার নিকট উন্মোচিত হয়েছিল।

বর্ণিত আছে যে, তিনি চিকিৎসা বিজ্ঞানের জ্ঞান রোমে অবস্থিত একটি উপাসনালয়ে লাভ করেছিলেন, যা 'অ্যাপোলোর উপাসনালয়' নামে পরিচিত ছিল এবং তা সূর্যের প্রতি নিবেদিত ছিল। বলা হয় যে আসক্লিপিয়াস নিজেই এই উপাসনালয়টি নির্মাণ করেছিলেন এবং এটি আসক্লিপিয়াসের উপাসনালয় নামেই পরিচিত।

এর সত্যতা গ্যালেনের সেই উক্তি দ্বারাও প্রমাণিত হয় যা তিনি তার 'ফিনিক্স' গ্রন্থে লিখেছেন: "মহান আল্লাহ যখন আমাকে একটি প্রাণঘাতী বিষফোঁড়া থেকে মুক্তি দিলেন, তখন আমি তাঁর ঘর 'আসক্লিপিয়াসের উপাসনালয়' নামক স্থানে হজ্জ (দর্শন) করতে গিয়েছিলাম।"

গ্যালেন তাঁর 'হিলাতুল বুর' (আরোগ্য কৌশল) গ্রন্থের প্রারম্ভে লিখেছেন: "চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও সত্যতা প্রমাণের একটি বড় নিদর্শন হলো আসক্লিপিয়াসের উপাসনালয়ে প্রদর্শিত ঐশ্বরিক চিকিৎসা। ঐতিহাসিক হেরোসিসের বর্ণনা অনুযায়ী, রোম শহরে এমন একটি ঘর ছিল যেখানে একটি প্রতিকৃতি ছিল যা মানুষের প্রশ্নের উত্তর দিত; প্রাচীনকালে আসক্লিপিয়াসই এটি উদ্ভাবন করেছিলেন।"

রোমের অগ্নিউপাসকদের দাবি ছিল যে, সেই প্রতিকৃতিটি নক্ষত্রমণ্ডলীর গতির ওপর ভিত্তি করে স্থাপন করা হয়েছিল এবং সাতটি গ্রহের কোনো একটির আধ্যাত্মিক শক্তি তাতে নিহিত ছিল।

হেরোসিস উল্লেখ করেছেন যে, নক্ষত্র পূজার আগে রোমে খ্রিস্টধর্ম বিদ্যমান ছিল।

গ্যালেন বহু স্থানে এ কথাও উল্লেখ করেছেন যে, আসক্লিপিয়াসের চিকিৎসা ছিল মূলত একটি ঐশ্বরিক চিকিৎসা।

তিনি আরও বলেছেন: "আমাদের চিকিৎসার তুলনায় ঐশ্বরিক চিকিৎসার মান তেমন, যেমন সাধারণ হাতুড়ে চিকিৎসার তুলনায় আমাদের চিকিৎসা।"

তিনি চিকিৎসা বিদ্যা শেখার উৎসাহ প্রদানমূলক গ্রন্থে আসক্লিপিয়াস সম্পর্কে আরও উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা আসক্লিপিয়াসের প্রতি ওহী অবতীর্ণ করেছিলেন: "তোমাকে একজন মানুষ হিসেবে ডাকার চেয়ে একজন ফেরেশতা হিসেবে সম্বোধন করাই আমার কাছে অধিক সমীচীন।"

হিপোক্রেটিস বলেছেন যে, মহান আল্লাহ তাকে নূরের একটি স্তম্ভের মাধ্যমে শূন্যে নিজের দিকে উঠিয়ে নিয়েছেন।

অন্যান্যরা বলেন যে, আসক্লিপিয়াস গ্রীকদের নিকট অত্যন্ত সম্মানিত ছিলেন এবং তারা তার কবরের মাধ্যমে আরোগ্য প্রার্থনা করতেন।

বলা হয় যে, প্রতি রাতে তার কবরের ওপর এক হাজার প্রদীপ জ্বালানো হতো।

তার বংশের রাজন্যবর্গ তার নবুওয়াতের দাবি করতেন।
(খণ্ড: ১) উয়ুনুল আনবা ফী তবাকাতিল আতিব্বা (পৃষ্ঠা: ٣١)
وَذكر أفلاطون فِي كِتَابه الْمَعْرُوف بالنواميس عَن أسقليبيوس أَشْيَاء عدَّة من أخباره بمغيبات وحكايات عَجِيبَة ظَهرت عَنهُ بتأييد إلهي وشاهدها النَّاس كَمَا قَالَه وَأخْبر بِهِ

وَقَالَ فِي الْمقَالة الثَّالِثَة من كتاب السياسة إِن أسقليبيوس كَانَ هُوَ وَأَوْلَاده عَالمين بالسياسة

وَكَانَ أَوْلَاده جندا فرهة وَكَانُوا عَالمين بالطب

وَقَالَ إِن أسقليبيوس كَانَ يرى أَن من كَانَ بِهِ مرض يبرأ مِنْهُ عالجه وَمن كَانَ مَرضه قَاتلا لم يطلّ حَيَاته الَّتِي لَا تَنْفَعهُ وَلَا تَنْفَع غَيره أَي يتْرك علاجه لَهُ

وَقَالَ الْأَمِير أَبُو الْوَفَاء المبشر بن فاتك فِي كتاب مُخْتَار الحكم ومحاسن الْكَلم إِن أسقليبيوس هَذَا كَانَ تلميذ هرمس وَكَانَ يُسَافر مَعَه

فَلَمَّا خرجا من بِلَاد الْهِنْد وجاءا إِلَى فَارس خَلفه بِبَابِل ليضبط الشَّرْع فيهم

قَالَ وَأما هرمس هَذَا فَهُوَ هرمس الأول وَلَفظه أرمس وَهُوَ اسْم عُطَارِد

وَيُسمى عِنْد اليونانيين أطرسمين وَعند الْعَرَب إِدْرِيس وَعند العبرانيين أَخْنُوخ وَهُوَ ابْن يارد بن مهلائيل بن قينان بن أنوش بن شِيث بن آدم عليهم السلام

ومولده بِمصْر فِي مَدِينَة منف مِنْهَا

قَالَ وَكَانَت مدَّته على الأَرْض اثْنَتَيْنِ وَثَمَانِينَ سنة وَقَالَ غَيره ثَلَاثمِائَة وخمسا وَسِتِّينَ سنة قَالَ المبشر ابْن فاتك وَكَانَ عليه السلام رجلا آدم اللَّوْن تَامّ الْقَامَة أجلح حسن الْوَجْه كث اللِّحْيَة مليح التخاطيط تَامّ الباع عريض الْمَنْكِبَيْنِ ضخم الْعِظَام قَلِيل اللَّحْم براق الْعين أكحل متأنيا فِي كَلَامه كثير الصمت سَاكن الْأَعْضَاء إِذا مَشى أَكثر نظره إِلَى الأَرْض كثير الفكرة بِهِ حِدة وعبسة يُحَرك إِذا تكلم سبابته

وَقَالَ غَيره إِن أسقليبيوس كَانَ قبل الطوفان الْكَبِير وَهُوَ تلميذ أغاثوذيمون الْمصْرِيّ وَكَانَ أغاثوذيمون أحد أَنْبيَاء اليونانيين والمصرين وَتَفْسِير أغاثوذيمون السعيد الْجد

وَكَانَ أسقليبيوس هَذَا هُوَ البادئ بصناعة الطِّبّ فِي اليونانيين علمهَا بنيه وحذر عَلَيْهِم أَن يعلموها الغرباء

وَأما أَبُو معشر الْبَلْخِي المنجم فَإِنَّهُ ذكر فِي كتاب الألوف إِن أسقليبيوس هَذَا لم يكن بالمتأله الأول فِي صناعَة الطِّبّ وَلَا بالمبتدئ بهَا بل أَنه عَن غَيره أَخذ وعَلى نهج من سبقه سلك

وَذكر أَنه كَانَ تلميذ هرمس الْمصْرِيّ

وَقَالَ إِن الهرامسة كَانُوا ثَلَاثَة

أما هرمس الأول وَهُوَ المثلث بِالنعَم فَإِنَّهُ كَانَ قبل الطوفان وَمعنى هرمس لقب كَمَا يُقَال قَيْصر وكسرى

وتسميه الْفرس فِي سَيرهَا اللهجد وَتَفْسِيره ذُو عدل

وَهُوَ الَّذِي تذكر الحرانية
প্লেটো তাঁর 'আল-নাওয়ামিস' (আইনসমূহ) নামক গ্রন্থে আসক্লেপিয়াস সম্পর্কে বেশ কিছু সংবাদ উল্লেখ করেছেন, যাতে তাঁর অদৃশ্য বিষয়সমূহ সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী এবং ঐশী সহায়তায় প্রকাশিত বিস্ময়কর ঘটনাবলি রয়েছে, যা মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে যেমনটি তিনি বর্ণনা করেছেন এবং সংবাদ দিয়েছেন।

তিনি 'কিতাবুস সিয়াসা' (রাষ্ট্রনীতি) এর তৃতীয় প্রবন্ধে বলেছেন যে, আসক্লেপিয়াস এবং তাঁর সন্তানগণ রাষ্ট্রনীতিতে পারদর্শী ছিলেন।

তাঁর সন্তানগণ ছিলেন দক্ষ সৈন্য এবং তাঁরা চিকিৎসাবিজ্ঞানেও পারদর্শী ছিলেন।

তিনি আরও বলেছেন যে, আসক্লেপিয়াসের মত ছিল যে, যার এমন ব্যাধি হয়েছে যা থেকে আরোগ্য সম্ভব, তাকে তিনি চিকিৎসা করতেন; কিন্তু যার ব্যাধি ছিল প্রাণঘাতী, তার জীবনকালকে তিনি দীর্ঘায়িত করতেন না যা তার নিজের বা অন্যের কোনো উপকারে আসে না; অর্থাৎ তিনি তাঁর চিকিৎসা করা ছেড়ে দিতেন।

আমির আবু ওয়াফা আল-মুবাশশির বিন ফাতিক তাঁর 'মুখতারুল হিকাম ওয়া মাহাসিনুল কালিম' গ্রন্থে বলেছেন যে, এই আসক্লেপিয়াস ছিলেন হার্মিসের শিষ্য এবং তিনি তাঁর সাথে সফর করতেন।

যখন তাঁরা ভারতবর্ষ থেকে বের হয়ে পারস্যে আসলেন, তখন হার্মিস তাঁকে ব্যাবিলনে রেখে যান যাতে তিনি তাদের মধ্যে শরিয়ত বা জীবনবিধান সুসংহত করেন।

তিনি বলেন, এই হার্মিস হলেন 'প্রথম হার্মিস', যাঁর নামের উচ্চারণ 'আরমাস', আর এটি বুধ গ্রহের নাম।

গ্রিকদের কাছে তিনি 'আত্রাসমিন', আরবদের কাছে 'ইদ্রিস' এবং হিব্রুদের কাছে 'আখনুখ' নামে পরিচিত। তিনি হলেন ইয়ারিদ ইবনে মাহলাইল ইবনে কাইনান ইবনে আনুশ ইবনে শিথ ইবনে আদম (আলাইহিমুস সালাম)।

তাঁর জন্ম মিশরের মানফ শহরে।

তিনি বলেন, পৃথিবীতে তাঁর অবস্থানকাল ছিল বিরাশি বছর; তবে অন্য কেউ বলেছেন তিনশত পঁয়ষট্টি বছর। মুবাশশির ইবনে ফাতিক বলেন, তিনি (আলাইহিস সালাম) ছিলেন বাদামী বর্ণের, দীর্ঘকায়, প্রশস্ত ললাট ও কেশহীন মস্তকবিশিষ্ট, সুন্দর চেহারাসম্পন্ন, ঘন দাড়িওয়ালা, সুশ্রী অবয়বের, দীর্ঘ বাহুবিশিষ্ট, চওড়া কাঁধের, স্থূল হাড়ের কিন্তু মেদহীন শরীরসম্পন্ন, উজ্জ্বল ও সুরমা মাখা চোখের অধিকারী। তিনি কথা বলতেন অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে, অধিক নীরব থাকতেন, তাঁর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ছিল শান্ত। হাঁটার সময় তিনি অধিকাংশ সময় মাটির দিকে তাকিয়ে থাকতেন, সর্বদা চিন্তামগ্ন থাকতেন, তাঁর স্বভাবে কিছুটা তেজস্বিতা ও গাম্ভীর্য ছিল এবং কথা বলার সময় নিজের শাহাদাত আঙুল নাড়তেন।

অন্যরা বলেছেন যে, আসক্লেপিয়াস মহাপ্লাবনের পূর্বে ছিলেন এবং তিনি মিশরের আগাথোদাইমন এর শিষ্য ছিলেন। আগাথোদাইমন ছিলেন গ্রিক ও মিশরীয়দের একজন নবী, আর আগাথোদাইমন শব্দের অর্থ হলো 'সৌভাগ্যবান'।

এই আসক্লেপিয়াসই গ্রিকদের মধ্যে চিকিৎসাবিদ্যার সূচনা করেছিলেন; তিনি তাঁর সন্তানদের এই বিদ্যা শিখিয়েছিলেন এবং তাদের সতর্ক করেছিলেন যেন তারা বহিরাগতদের এটি না শেখায়।

জ্যোতির্বিজ্ঞানী আবু মা'শার আল-বালখি তাঁর 'কিতাবুল উলুফ'-এ উল্লেখ করেছেন যে, এই আসক্লেপিয়াস চিকিৎসাবিদ্যার প্রথম প্রবর্তক বা পরম বিশারদ ছিলেন না; বরং তিনি অন্যের কাছ থেকে এটি গ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর পূর্বসূরীদের পথ অনুসরণ করেছিলেন।

তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি (আসক্লেপিয়াস) মিশরীয় হার্মিসের শিষ্য ছিলেন।

তিনি আরও বলেছেন যে, 'হার্মিস' ছিলেন তিনজন।

প্রথম হার্মিস—যিনি ত্রি-নিয়ামতপ্রাপ্ত (Trismegistus) হিসেবে পরিচিত—তিনি মহাপ্লাবনের পূর্ববর্তী ছিলেন। হার্মিস শব্দটি মূলত একটি উপাধি, যেমনটি বলা হয় কায়সার ও কিসরা।

পারস্যবাসীরা তাদের ইতিহাসগ্রন্থে তাঁকে 'হুহজাদ' বলে অভিহিত করে, যার অর্থ হলো 'ন্যায়পরায়ণ'।

তিনিই সেই ব্যক্তি যাঁকে হাররানিরা উল্লেখ করে থাকে।
(খণ্ড: ১) উয়ুনুল আনবা ফী তবাকাতিল আতিব্বা (পৃষ্ঠা: ٣٢)
نبوته وتذكر الْفرس أَن جده كيومرث وَهُوَ آدم

وَيذكر العبرانيون أَنه أَخْنُوخ وَهُوَ بِالْعَرَبِيَّةِ إِدْرِيس

قَالَ أَبُو معشر هُوَ أول من تكلم فِي الْأَشْيَاء العلوية من الحركات النجومية وَأَن جده كيومرث وَهُوَ آدم علمه سَاعَات اللَّيْل وَالنَّهَار وَهُوَ أول من بنى الهياكل ومجد الله فِيهَا وَأول من نظر فِي الطِّبّ وَتكلم فِيهِ

وَأَنه ألف لأهل زَمَانه كتبا كَثِيرَة بأشعار موزونة وقواف مَعْلُومَة بلغَة أهل زَمَانه فِي معرفَة الْأَشْيَاء الأرضية والعلوية

وَهُوَ أول من أنذر بالطوفان وَرَأى أَن آفَة سَمَاوِيَّة تلْحق الأَرْض من المَاء وَالنَّار وَكَانَ مَسْكَنه صَعِيد مصر تخير ذَلِك فَبنى هُنَاكَ الأهرام وَمَدَائِن التُّرَاب وَخَافَ ذهَاب الْعلم بالطوفان فَبنى البرابي وَهُوَ الْجَبَل الْمَعْرُوف بالبرابر بأخميم وصور فِيهَا جَمِيع الصناعات وصناعها نقشا وصور جَمِيع آلَات الصناع وَأَشَارَ إِلَى صِفَات الْعُلُوم لمن بعده برسوم حرصا مِنْهُ على تخليد الْعُلُوم لمن بعده وخيفة أَن يذهب رسم ذَلِك من الْعَالم

وَثَبت فِي الْأَثر الْمَرْوِيّ عَن السّلف أَن إِدْرِيس أول من درس الْكتب وَنظر فِي الْعُلُوم وَأنزل الله عَلَيْهِ ثَلَاثِينَ صحيفَة وَهُوَ أول من خاط الثِّيَاب ولبسها وَرَفعه الله مَكَانا عليا

وَأما هرمس الثَّانِي فَإِنَّهُ من أهل بابل سكن مَدِينَة الكلدانيين وَهِي بابل وَكَانَ بعد الطوفان فِي زمن نزيربال الَّذِي هُوَ أول من بنى مَدِينَة بابل بعد نمْرُود بن كوش

وَكَانَ بارعا فِي علم الطِّبّ والفلسفة وعارفا بطبائع الْأَعْدَاد وَكَانَ تِلْمِيذه فيثاغورس الأرتماطيقي

وهرمس هَذَا جدد من علم الطِّبّ والفلسفة وَعلم الْعدَد مَا كَانَ قد درس بالطوفان بِبَابِل ومدينة الكلدانيين هَذِه مَدِينَة الفلاسفة من أهل الْمشرق وفلاسفتهم أول من حدد الْحُدُود ورتب القوانين

وَأما هرمس الثَّالِث فَإِنَّهُ سكن مَدِينَة مصر وَكَانَ بعد الطوفان وَهُوَ صَاحب كتاب الْحَيَوَانَات ذَوَات السمُوم وَكَانَ طَبِيبا فيلسوفا وعالما بطبائع الْأَدْوِيَة القتالة والحيوانات المؤذية وَكَانَ جوالا فِي الْبِلَاد طَوافا بهَا عَالما بنصبة الْمَدَائِن وطبائعها وطبائع أَهلهَا

وَله كَلَام حسن فِي صناعَة الكيمياء نَفِيس يتَعَلَّق مِنْهُ إِلَى صناعات كَثِيرَة كالزجاج والخرز والغضار وَمَا أشبه ذَلِك

وَكَانَ لَهُ
তাঁর নবুওয়াত; পারসিকরা উল্লেখ করে যে তাঁর পিতামহ ছিলেন কিউমারস, যিনি হলেন আদম।

হিব্রুরা উল্লেখ করে যে তিনি ছিলেন আখনুখ, যাকে আরবিতে ইদরিস বলা হয়।

আবু মাশার বলেন, তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি নক্ষত্রের গতিবিধির মতো আসমানি বিষয়সমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাঁর পিতামহ কিউমারস তথা আদম তাঁকে দিন ও রাতের সময়সমূহ শিক্ষা দিয়েছিলেন। তিনিই সর্বপ্রথম উপাসনালয় নির্মাণ করেন এবং সেখানে আল্লাহর মহিমা কীর্তন করেন, এবং তিনিই প্রথম চিকিৎসা শাস্ত্র নিয়ে গবেষণা ও আলোচনা করেন।

তিনি তাঁর সমসাময়িকদের জন্য তাদের ভাষায় ছন্দোবদ্ধ কবিতা ও সুনির্দিষ্ট অন্ত্যমিলের মাধ্যমে পার্থিব ও আসমানি বিষয়াদি সম্পর্কে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।

তিনিই প্রথম মহাপ্লাবন সম্পর্কে সতর্ক করেন এবং বুঝতে পারেন যে পানি ও আগুনের মাধ্যমে পৃথিবী একটি আসমানি দুর্যোগের কবলে পড়বে। তাঁর আবাসস্থল ছিল উচ্চ মিশর, তিনি এটি নির্বাচন করে সেখানে পিরামিড ও মাটির শহরসমূহ নির্মাণ করেন। মহাপ্লাবনে জ্ঞান হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে তিনি 'বারাবি' (প্রাচীন নিদর্শন) নির্মাণ করেন—যা আখমিমের 'বারাবির' পাহাড় হিসেবে পরিচিত—এবং সেখানে সমস্ত শিল্পকর্ম ও কারিগরদের চিত্র খোদাই করেন। তিনি শিল্পের সকল যন্ত্রপাতির চিত্র অঙ্কন করেন এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য বিভিন্ন চিহ্নের মাধ্যমে বিজ্ঞানের বৈশিষ্ট্যসমূহ নির্দেশ করেন। এটি তিনি করেছিলেন পরবর্তী প্রজন্মের জন্য জ্ঞানকে অমর করে রাখার প্রবল আকাঙ্ক্ষা থেকে এবং পৃথিবী থেকে সেই জ্ঞানের চিহ্ন মুছে যাওয়ার ভয়ে।

পূর্বসূরিদের (সালাফ) থেকে বর্ণিত রেওয়ায়েতে প্রমাণিত যে, ইদরিস ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি কিতাবসমূহ অধ্যয়ন করেন এবং বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করেন। আল্লাহ তাঁর ওপর ত্রিশটি সহিফা অবতীর্ণ করেন। তিনিই প্রথম কাপড় সেলাই করেন ও পরিধান করেন, এবং আল্লাহ তাঁকে এক সুউচ্চ স্থানে উন্নীত করেছেন।

আর দ্বিতীয় হারমেস ছিলেন ব্যাবিলন অধিবাসী। তিনি ক্যালডীয়দের শহর তথা ব্যাবিলনে বাস করতেন। তিনি ছিলেন মহাপ্লাবনের পরবর্তী সময়ের লোক, কুশ-পুত্র নমরুদের পর যিনি প্রথম ব্যাবিলন শহর নির্মাণ করেছিলেন সেই নাজিরবালের যুগে।

তিনি চিকিৎসা শাস্ত্র ও দর্শনে অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন এবং সংখ্যার প্রকৃতি সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলেন। পাটিগণিতবিদ পিথাগোরাস ছিলেন তাঁর ছাত্র।

এই হারমেস চিকিৎসা শাস্ত্র, দর্শন ও সংখ্যাতত্ত্বের সেই সব অংশ পুনর্জীবিত করেন যা ব্যাবিলনে মহাপ্লাবনের ফলে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। ক্যালডীয়দের এই শহরটি ছিল প্রাচ্যের দার্শনিকদের শহর, এবং তাদের দার্শনিকরাই সর্বপ্রথম সীমানা নির্ধারণ করেন ও নিয়ম-কানুন বিন্যস্ত করেন।

আর তৃতীয় হারমেস মিশরে বাস করতেন এবং তিনি ছিলেন মহাপ্লাবন পরবর্তী সময়ের লোক। তিনি বিষধর প্রাণীদের বিষয়ক গ্রন্থের রচয়িতা। তিনি ছিলেন একাধারে চিকিৎসক ও দার্শনিক এবং প্রাণঘাতী ঔষধ ও ক্ষতিকারক প্রাণীদের প্রকৃতি সম্পর্কে অভিজ্ঞ। তিনি দেশ-বিদেশে ব্যাপকভাবে ভ্রমণ করতেন এবং বিভিন্ন শহরের বিন্যাস, তাদের প্রকৃতি ও সেখানের অধিবাসীদের স্বভাব সম্পর্কে জ্ঞান রাখতেন।

রসায়ন শিল্প সম্পর্কে তাঁর অত্যন্ত চমৎকার ও মূল্যবান বক্তব্য রয়েছে, যা কাঁচ, পুঁতি, মাটির পাত্র এবং এই জাতীয় আরও অনেক শিল্পের সাথে সম্পর্কিত।

এবং তাঁর ছিল
(খণ্ড: ১) উয়ুনুল আনবা ফী তবাকাতিল আতিব্বা (পৃষ্ঠা: ٣٣)
تلميذ يعرف بأسقليبيوس وَكَانَ مَسْكَنه بِأَرْض الشَّام

‌‌رَجَعَ الْكَلَام إِلَى ذكر أسقليبيوس

 

وَبلغ من أَمر أسقليبيوس أَن أَبْرَأ المرضى الَّذين يئس النَّاس من برئهم

وَلما شَاهده النَّاس من أَفعاله ظن الْعَامَّة أَنه يحيي الْمَوْتَى

وَأنْشد فِيهِ شعراء اليونانيين الْأَشْعَار العجيبة وضمنوها أَنه يحيي الْمَوْتَى وَيرد كل من مَاتَ إِلَى الدُّنْيَا

وَزَعَمُوا أَن الله تَعَالَى رَفعه إِلَيْهِ تكرمة لَهُ وإجلالا وصيره فِي عديد الْمَلَائِكَة وَيُقَال أَنه إِدْرِيس عليه السلام

وَقَالَ يحيى النَّحْوِيّ إِن أسقليبيوس عَاشَ تسعين سنة مِنْهَا صبي وَقبل أَن تفتتح لَهُ الْقُوَّة الإلهية خمسين سنة وعالم معلم أَرْبَعِينَ سنة وَخلف ابْنَيْنِ ماهرين فِي صناعَة الطِّبّ وعهد إِلَيْهِمَا أَن لَا يعلمَا الطِّبّ إِلَّا لأولادهما وَأهل بَيته وَأَن لَا يدخلا فِي صناعَة الطِّبّ غَرِيبا وعهد إِلَى من يَأْتِي بعده كَذَلِك وَأمرهمْ بأمرين أَحدهمَا أَن يسكنوا وسط الْمَعْمُور من أَرض اليونانيين وَذَلِكَ فِي ثَلَاث جزائر مِنْهَا قو جَزِيرَة أبقراط

وَالثَّانِي أَن لَا تخرج صناعَة الطِّبّ إِلَى الغرباء بل يعلمهَا الْآبَاء الْأَبْنَاء

وَكَانَ ابْنا أسقليبيوس مَعَ أغاممنون لما سَار لفتح طرياس وَكَانَ يكرمهما غَايَة الْكَرَامَة ويشرفهما لعلو مَحلهمَا فِي الْعلم

وَمن خطّ ثَابت بن قُرَّة الْحَرَّانِي لما ذكر البقارطة قَالَ وَيُقَال إِنَّه كَانَ فِي جَمِيع أقاليم الأَرْض لأسقليبيوس اثْنَا عشر ألف تلميذ وَإنَّهُ كَانَ يعلم الطِّبّ مشافهة

وَكَانَ آل أسقليبيوس يتوارثون صناعَة الطِّبّ إِلَى أَن تضعضع الْأَمر فِي صناعَة الطِّبّ على زمن بقراط وَرَأى أَن أهل بَيته وشيعته قد قلوا وَلم يَأْمَن أَن تنقرض الصِّنَاعَة فابتدأ فِي تأليف الْكتب على جِهَة الإيجاز

وَقد ذكر جالينوس فِي تَفْسِيره لكتاب إِيمَان أبقراط وَعَهده من أَمر أسقليبيوس مَا هَذَا نَصه

قَالَ الَّذِي تناهى إِلَيْنَا من قصَّة أسقليبيوس قَولَانِ أَحدهمَا لغز وَالْآخر طبيعي

أما اللغز فَيذْهب فِيهِ إِلَى أَنه قُوَّة من قوى الله تبارك وتعالى واشتق لَهَا هَذَا الِاسْم من فعلهَا وَهُوَ
আস্কলিপিয়াস নামে পরিচিত একজন ছাত্র এবং তাঁর বাসস্থান ছিল শাম দেশে।

‌‌আস্কলিপিয়াসের আলোচনার দিকে প্রত্যাবর্তন

 

আস্কলিপিয়াসের অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, তিনি সেইসব রোগীদের সুস্থ করে তুলতেন যাদের সুস্থতার ব্যাপারে মানুষ নিরাশ হয়ে পড়েছিল।

যখন সাধারণ মানুষ তাঁর কার্যাবলি প্রত্যক্ষ করল, তখন তারা ধারণা করল যে তিনি মৃতকে জীবিত করেন।

গ্রীক কবিগণ তাঁর সম্পর্কে বিস্ময়কর কবিতা আবৃত্তি করেছেন এবং তাতে তাঁরা অন্তর্ভুক্ত করেছেন যে তিনি মৃতকে জীবিত করেন এবং যে মৃত্যুবরণ করেছে তাকে দুনিয়ায় ফিরিয়ে আনেন।

তারা দাবি করে যে, আল্লাহ তাআলা তাঁকে সম্মান ও মর্যাদাস্বরূপ তাঁর নিজের দিকে উঠিয়ে নিয়েছেন এবং তাঁকে ফেরেশতাদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন; আর বলা হয় যে তিনি হলেন ইদ্রিস (আলাইহিস সালাম)।

ইয়াহইয়া আন-নাহবী বলেন যে, আস্কলিপিয়াস নব্বই বছর জীবিত ছিলেন; যার মধ্যে শৈশব এবং তাঁর নিকট ঐশী শক্তি উন্মোচিত হওয়ার পূর্বের সময় ছিল পঞ্চাশ বছর, আর চল্লিশ বছর ছিলেন একজন শিক্ষক আলিম হিসেবে। তিনি চিকিৎসা বিদ্যায় দক্ষ দুই পুত্র রেখে যান এবং তাঁদের প্রতি এই মর্মে অঙ্গীকার করেন যে, তাঁরা যেন তাঁদের সন্তান এবং পরিবারের সদস্য ব্যতীত অন্য কাউকে চিকিৎসা বিদ্যা শিক্ষা না দেন এবং এই বিদ্যায় যেন কোনো বহিরাগতকে প্রবেশ করতে না দেন। তিনি তাঁর পরবর্তী বংশধরদের প্রতিও অনুরূপ অঙ্গীকার করেন এবং তাঁদেরকে দুটি আদেশ দেন; যার একটি হলো তারা যেন গ্রীক ভূখণ্ডের জনবসতির মধ্যস্থলে বসবাস করে, যা তিনটি দ্বীপের অন্তর্ভুক্ত, যার একটি হলো 'কু' দ্বীপ—যা বকরাতের দ্বীপ।

দ্বিতীয়টি হলো, চিকিৎসা বিদ্যা যেন বহিরাগতদের হস্তগত না হয়, বরং পিতারা যেন পুত্রদের তা শিক্ষা দান করেন।

আস্কলিপিয়াসের দুই পুত্র আগামেমননের সাথে ছিলেন যখন তিনি ট্রয় বিজয়ে যাত্রা করেছিলেন। আগামেমনন তাঁদেরকে অত্যন্ত সম্মান করতেন এবং তাঁদের জ্ঞানের উচ্চ অবস্থানের কারণে তাঁদেরকে বিশেষ মর্যাদা দান করতেন।

সাবিত বিন কুররা আল-হাররানির পাণ্ডুলিপি থেকে জানা যায়, যখন তিনি বকরাতীদের উল্লেখ করেন তখন বলেন: বলা হয়ে থাকে যে পৃথিবীর সমস্ত অঞ্চলে আস্কলিপিয়াসের বারো হাজার ছাত্র ছিল এবং তিনি মৌখিকভাবে চিকিৎসা বিদ্যা শিক্ষা দিতেন।

আস্কলিপিয়াসের বংশধরেরা উত্তরাধিকার সূত্রে চিকিৎসা বিদ্যা লাভ করতে থাকেন, যতক্ষণ না বকরাতের সময়ে চিকিৎসা বিদ্যার বিষয়টি দুর্বল হয়ে পড়ে। তিনি দেখলেন যে তাঁর পরিবারের সদস্য ও অনুসারীদের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে এবং তিনি এই বিদ্যা বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করলেন; ফলে তিনি সংক্ষিপ্ত আকারে কিতাব রচনার কাজ শুরু করেন।

জালিনুস বকরাতের শপথনামা ও তাঁর অঙ্গীকারের কিতাবের ব্যাখ্যায় আস্কলিপিয়াসের ঘটনা থেকে যা উল্লেখ করেছেন তা হলো নিম্নরূপ:

তিনি বলেন: আস্কলিপিয়াসের কাহিনী সম্পর্কে আমাদের নিকট যা পৌঁছেছে তা দুটি মত; একটি গূঢ় রহস্যময় এবং অন্যটি প্রাকৃতিক।

গূঢ় রহস্যময় মতটির ক্ষেত্রে ধারণা করা হয় যে, তিনি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার শক্তিগুলোর মধ্য হতে একটি শক্তি, আর তাঁর এই নামটি তাঁর কর্ম থেকেই গৃহীত হয়েছে, আর তা হলো—
(খণ্ড: ১) উয়ুনুল আনবা ফী তবাকাতিল আতিব্বা (পৃষ্ঠা: ٣٤)
منع اليبس

قَالَ حنين لما كَانَ الْمَوْت إِنَّمَا يعرض عِنْد غَلَبَة اليبس وَالْبرد وَكَانَ هَذَانِ جَمِيعًا يخفقان الْبدن الْمَيِّت سميت بِهَذَا السَّبَب المهنة الَّتِي تحفظ على الْأَبدَان الْقَائِمَة حَرَارَتهَا ورطوبتها كَيْمَا تلبث على الْحَيَاة باسم يدل على عدمان اليبس

وَقَالَ جالينوس فَيَقُولُونَ أَنه ابْن أفوللن وَابْن فلاغواس وقورونس مهديته وَأَنه مركب من مائت وَغير قَابل للْمَوْت

فيدلون بِهَذَا القَوْل على أَن عنايته بِالنَّاسِ لِأَنَّهُ من جنسه وَأَن لَهُ طبيعة لَا تَمُوت أفضل من طبيعة الْإِنْسَان

وَإِنَّمَا اشتق لَهُ الشَّاعِر هَذَا الِاسْم أَعنِي أسقليبيوس من أَعمال الطِّبّ وَأما قَوْلهم أَنه ابْن فلاغواس فَلِأَن هَذَا الِاسْم مُشْتَقّ من اسْم اللهيب أَعنِي ابْن الْقُوَّة الملهبة الحيوانية

قَالَ حنين إِنَّمَا سمي بِهَذَا الِاسْم لِأَن الْحَيَاة تكون بِحِفْظ الْحَرَارَة الغريزية الَّتِي فِي الْقلب والكبد اشتق لَهَا اسْم من اللهيب لِأَنَّهَا من جنس النَّار

قَالَ جالينوس وَأما قَوْلهم أَنه ابْن قورونس فَلِأَن هَذَا الِاسْم مُشْتَقّ من الشِّبَع واستفادة الصِّحَّة

قَالَ حنين إِنَّمَا سمي بِهَذَا الِاسْم ليدل على أَن الشِّبَع من الطَّعَام وَالشرَاب إِنَّمَا يتم للْإنْسَان بصناعة الطِّبّ إِذا انهضم طَعَامه لِأَن حفظ الصِّحَّة إِنَّمَا يكون بِهَذِهِ المهنة وَكَذَلِكَ أَيْضا ردهَا إِذا زَالَت

قَالَ جالينوس وَأما قَوْلهم أَنه ابْن أفوللن فَلِأَن الطَّبِيب يحْتَاج أَن يكون مَعَه شَيْء من التهكن لِأَنَّهُ لَيْسَ من الْوَاجِب أَن يَخْلُو الطَّبِيب الْفَاضِل من معرفَة الْأَشْيَاء الْحَادِثَة فِيمَا بعد

قَالَ حنين يَعْنِي تقدمة الْمعرفَة الطبية

قَالَ جالينوس وَقد آن لنا أَيْضا أَن نتكلم فِي صُورَة أسقليبيوس وثيابه وتمكنه

وَذَلِكَ أَن الْأَقَاوِيل الَّتِي نجدها مَكْتُوبَة فِي تألهه إِنَّمَا تلِيق بالخرافات لَا بِالْحَقِّ

وَمن الْمَشْهُور من أمره أَنه رفع إِلَى الْمَلَائِكَة فِي عَمُود من نَار كَمَا يُقَال فِي ديونوسس وأيرقليس وَسَائِر من أشبههما مِمَّن عني بنفع النَّاس واجتهد فِي ذَلِك

وَبِالْجُمْلَةِ يُقَال أَن الله تبارك وتعالى فعل بأسقليبيوس وَسَائِر من أشبهه هَذَا الْفِعْل كَيْمَا يفني الْجُزْء الْمَيِّت الأرضي مِنْهُ بالنَّار ثمَّ يجتذب بعد ذَلِك جزءه الَّذِي لَا يقبل الْمَوْت وَيرْفَع نَفسه إِلَى السَّمَاء

قَالَ حنين جالينوس فِي هَذَا الْموضع يبين كَيفَ يكون تشبه الْإِنْسَان بِاللَّه تبارك وتعالى

وَذَلِكَ أَنه يَقُول إِن الْإِنْسَان إِذا أباد شهواته الجسمانية بِنَار الصَّبْر والإمساك عَنْهَا وَهِي الَّتِي يُرِيد بهَا جزءه الْمَيِّت الأرضي وزين نَفسه الناطقة بعد النَّفْي من هَذِه الشَّهَوَات بالفضائل وَهِي الَّتِي يُرِيد بهَا الِارْتفَاع إِلَى السَّمَاء كَانَ شَبِيها بِاللَّه تبارك وتعالى

قَالَ جالينوس وَأما صورته فصورة رجل ملتح متزين بجمة ذَات ذوائب

وَمِمَّا يبْحَث من
শুষ্কতা নিবারণ

হুনাইন বলেন, যেহেতু মৃত্যু কেবল শুষ্কতা ও শৈত্যের আধিক্যের মাধ্যমেই ঘটে এবং এই দুটি বিষয়ই মৃতদেহকে জরাজীর্ণ করে ফেলে, তাই সেই পেশাকে যা জীবিত দেহের উষ্ণতা ও আর্দ্রতা রক্ষা করে—যাতে তা জীবনের অস্তিত্ব বজায় রাখতে পারে—এমন এক নামে অভিহিত করা হয়েছে যা শুষ্কতার অভাব বা অনুপস্থিতি নির্দেশ করে।

জালিনুস বলেন, তারা বলে যে সে অ্যাপোলোর পুত্র এবং ফ্লাগিয়াসের পুত্র, আর কোরোনাস তার ধাত্রী; এবং সে মরণশীল ও অমর উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত।

এই বক্তব্যের মাধ্যমে তারা ইঙ্গিত দেয় যে, মানুষের প্রতি তার মমতা ও যত্ন রয়েছে কারণ সে তাদেরই স্বজাতীয়, এবং তার এমন এক অবিনশ্বর প্রকৃতি রয়েছে যা মানুষের প্রকৃতির চেয়ে শ্রেষ্ঠ।

কবি এই নাম—অর্থাৎ আসক্লিপিয়াস—চিকিৎসা শাস্ত্রের কার্যাবলি থেকেই গ্রহণ করেছেন। আর তাদের এই কথা যে সে ফ্লাগিয়াসের পুত্র, তার কারণ হলো এই নামটি 'লাহিব' (অগ্নিশিখা) শব্দ থেকে উৎপন্ন, যা দ্বারা প্রাণীর উত্তাপদায়ক শক্তির পুত্রকে বোঝানো হয়েছে।

হুনাইন বলেন, এই নামে নামকরণ করার কারণ হলো জীবন মূলত হৃদপিণ্ড ও কলিজায় বিদ্যমান সহজাত উষ্ণতা সংরক্ষণের মাধ্যমে টিকে থাকে; আর এর জন্য শিখা বা অগ্নিশিখা থেকে নাম গ্রহণ করা হয়েছে কারণ তা আগুনের সমগোত্রীয়।

জালিনুস বলেন, তাদের এই উক্তি যে সে কোরোনাসের পুত্র, তার কারণ হলো এই নামটি তৃপ্তি লাভ এবং সুস্বাস্থ্য অর্জন থেকে উদ্ভূত।

হুনাইন বলেন, এই নামে অভিহিত করার উদ্দেশ্য হলো এটি নির্দেশ করা যে, পানাহার থেকে তৃপ্তি অর্জন কেবল চিকিৎসা শাস্ত্রের সাহায্যেই মানুষের জন্য পূর্ণতা পায় যখন তার খাদ্য পরিপাক হয়। কেননা স্বাস্থ্য রক্ষা এবং স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব এই শাস্ত্রেরই অন্তর্ভুক্ত।

জালিনুস বলেন, তাদের এই দাবি যে সে অ্যাপোলোর পুত্র, তার কারণ চিকিৎসকের জন্য কিছুটা পূর্বাভাস বা অন্তর্দৃষ্টির অধিকারী হওয়া প্রয়োজন। কেননা একজন শ্রেষ্ঠ চিকিৎসকের পক্ষে ভবিষ্যতে সংঘটিতব্য বিষয়াদি সম্পর্কে জ্ঞানশূন্য থাকা সমীচীন নয়।

হুনাইন বলেন, এর দ্বারা চিকিৎসা সংক্রান্ত পূর্বাভাসকে বোঝানো হয়েছে।

জালিনুস বলেন, এখন আমাদের আসক্লিপিয়াসের অবয়ব, পোশাক এবং তার অবস্থান সম্পর্কে আলোচনা করার সময় হয়েছে।

তার দেবত্ব সম্পর্কে লিখিত যে সকল বক্তব্য আমরা পাই, সেগুলো রূপকথারই উপযোগী, সত্যের জন্য নয়।

তার সম্পর্কে এটি প্রসিদ্ধ যে, তাকে আগুনের স্তম্ভের মাধ্যমে ফেরেশতাদের নিকট তুলে নেওয়া হয়েছিল, যেমনটি ডায়োনিসাস, হারকিউলিস এবং তাদের মতো অন্যদের ক্ষেত্রে বলা হয় যারা মানুষের উপকারের ব্রত গ্রহণ করেছিলেন এবং তাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিলেন।

সারকথা এই যে, বলা হয়ে থাকে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা আসক্লিপিয়াস এবং তার সদৃশ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এমনটি করেছেন যাতে তিনি তাদের পার্থিব মরণশীল অংশটুকু আগুনের মাধ্যমে নিঃশেষ করে দেন এবং এরপর তাদের অমর অংশটুকুকে গ্রহণ করেন ও তাদের আত্মাকে আসমানে তুলে নেন।

হুনাইন বলেন, জালিনুস এই স্থানে বর্ণনা করছেন যে, কীভাবে মানুষের আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার গুণাবলিতে গুণান্বিত হওয়া বা সাদৃশ্য লাভ করা সম্ভব।

তিনি বলেন, মানুষ যখন ধৈর্য ও সংযমের আগুনের মাধ্যমে তার শারীরিক প্রবৃত্তিগুলোকে ধ্বংস করে দেয়—যা মূলত তার পার্থিব মরণশীল অংশ—এবং এই প্রবৃত্তিগুলো বর্জনের পর স্বীয় বাকশক্তি সম্পন্ন আত্মাকে সদ্গুণাবলি দ্বারা সজ্জিত করে—যা মূলত আসমানে উন্নীত হওয়ার সোপান—তখন সে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার গুণাবলির সাদৃশ্যপ্রাপ্ত হয়।

জালিনুস বলেন, তার অবয়ব হলো দাড়িবিশিষ্ট এক ব্যক্তির রূপ, যিনি সুবিন্যস্ত বাবরি চুলে সুসজ্জিত।

আর যা নিয়ে অনুসন্ধান করা হয়...
(খণ্ড: ১) উয়ুনুল আনবা ফী তবাকাতিল আতিব্বা (পৃষ্ঠা: ٣٥)
أَمر السَّبَب فِي تَصْوِيره ملتحيا وَتصير أَبِيه أَمْرَد فبعض النَّاس يَقُول إِنَّه صور وصيغ بِهَذِهِ الْحَال لِأَنَّهُ فِي وَقت مَا أصعده الله إِلَيْهِ كَانَ كَذَلِك

وَالْبَعْض قَالَ إِن السَّبَب فِي ذَلِك أَن صناعته تحْتَاج إِلَى الْعِفَّة والشيخوخة

وَبَعض النَّاس قَالَ إِن السَّبَب فِي تجاوزه فِي الحذق بصناعة الطِّبّ أَبَاهُ

وَإِذا تأملته وجدته قَائِما متشمرا مَجْمُوع الثِّيَاب فَيدل بِهَذَا الشكل على أَنه يَنْبَغِي للأطباء أَن يتفلسفوا فِي جَمِيع الْأَوْقَات

وَترى الْأَعْضَاء مِنْهُ الَّتِي يستحى من تكشفها مستورة والأعضاء الَّتِي يحْتَاج إِلَى اسْتِعْمَال الصِّنَاعَة بهَا معراة مكشوفة

ويصور آخِذا بِيَدِهِ عَصا معوجة ذَات شعب من شَجَرَة الخطمي فَيدل بذلك على أَنه يُمكن فِي صناعَة الطِّبّ أَن يبلغ بِمن استعملها من السن أَن يحْتَاج إِلَى عَصا يتكئ عَلَيْهَا أَو لِأَن من أعطَاهُ الله تبارك وتعالى بعض العطايا يؤهل لإعطاء عَصا بِمَنْزِلَة مَا وهب لإيفاسطس وزوس وهرمس وبهذه الْعَصَا نجد زوس يقر أعين من يحب من النَّاس فينبه بهَا أَيْضا النيام

وَأما تصويرهم تِلْكَ الْعَصَا من شَجَرَة الخطمي فَلِأَنَّهُ يطرد وينفي كل مرض

قَالَ حنين نَبَات الخطمي لما كَانَ دَوَاء يسخن إسخانا معتدلا تهَيَّأ فِيهِ أَن يكون علاجا كثير الْمَنَافِع إِذا اسْتعْمل مُفردا وَحده وَإِذا خلط بمواد أخر مَا أسخن مِنْهُ أَو مَا أبرد كَمَا بَين ذَلِك ديسقوريدس وَسَائِر من تكلم فِيهِ

وَلِهَذَا السَّبَب نجد اسْمه فِي اللِّسَان اليوناني مشتقا من اسْم العلاجات وَذَلِكَ أَنهم يدلون بِهَذَا الِاسْم على أَن الخطمي فِيهِ مَنَافِع كَثِيرَة

وَقَالَ جالينوس وَأما إعوجاجها وَكَثْرَة شعبها فتدل على كَثْرَة الْأَصْنَاف والتفنن الْمَوْجُود فِي صناعَة الطِّبّ

وَلنْ نجدهم أَيْضا تركُوا تِلْكَ الْعَصَا بِغَيْر زِينَة وَلَا تهيئة لكِنهمْ صوروا عَلَيْهَا صُورَة حَيَوَان طَوِيل الْعُمر ملتف عَلَيْهَا وَهُوَ التنين وَيقرب هَذَا الْحَيَوَان من أسقليبيوس لأسباب كَثِيرَة أَحدهَا أَنه حَيَوَان حاد النّظر كثير السهر لَا ينَام فِي وَقت من الْأَوْقَات

وَقد يَنْبَغِي لمن قصد تعلم صناعَة الطِّبّ أَن لَا يتشاغل عَنْهَا بِالنَّوْمِ وَيكون فِي غَايَة الذكاء ليمكنه أَن يتَقَدَّم فينذر بِمَا هُوَ حَاضر وَبِمَا من شَأْنه أَن يحدث

وَذَلِكَ أَنَّك تَجِد أبقراط يُشِير بِهَذَا الْفِعْل فِي قَوْله إِنِّي أرى أَنه من أفضل الْأُمُور أَن يسْتَعْمل الطَّبِيب سَابق النّظر وَذَلِكَ أَنه إِذا سبق فَعلم وَتقدم فَأَنْذر المرضى بالشَّيْء الْحَاضِر مِمَّا بهم وَمَا مضى وَمَا يسْتَأْنف

وَقد يُقَال أَيْضا فِي تَصْوِير التنين على الْعَصَا الماسك لَهَا أسقليبيوس قَول آخر وَهُوَ هَذَا قَالُوا هَذَا الْحَيَوَان أَعنِي التنين طَوِيل الْعُمر جدا حَتَّى إِن حَيَاته يُقَال أَنَّهَا الدَّهْر كُله وَقد يُمكن فِي المستعملين لصناعة الطِّبّ أَن تطول أعمارهم

من ذَلِك أَنا نجد ديموقريطس وأيرودوطس عِنْدَمَا استعملوا الْوَصَايَا الَّتِي تَأمر بهَا صناعَة الطِّبّ طَالَتْ حياتهم جدا

فَكَمَا أَن هَذَا الْحَيَوَان أَعنِي التنين
তাকে দাড়িওয়ালা এবং তার পিতাকে দাড়িহীন (যুবক) হিসেবে চিত্রিত করার কারণ সম্পর্কে কিছু লোক বলে যে, তাকে এই অবস্থায় চিত্রিত ও গঠন করা হয়েছে কারণ যে সময়ে আল্লাহ তাকে নিজের দিকে উঠিয়ে নিয়েছিলেন, তিনি এই অবস্থায় ছিলেন।

অন্য কেউ বলেছেন যে, এর কারণ হলো তার পেশার জন্য সংযম এবং প্রবীণতা প্রয়োজন।

আবার কেউ কেউ বলেছেন যে, কারণটি হলো চিকিৎসা বিদ্যায় পারদর্শিতার ক্ষেত্রে তার পিতাকে ছাড়িয়ে যাওয়া।

এবং আপনি যদি তাকে মনোযোগ দিয়ে দেখেন, তবে তাকে দাঁড়ানো অবস্থায়, কর্মতৎপর (কাপড় গুটিয়ে রাখা) এবং সুবিন্যস্ত পোশাকে পাবেন; যা এই রূপের মাধ্যমে নির্দেশ করে যে, চিকিৎসকদের সর্বদাই দর্শন চর্চা করা উচিত।

আর আপনি তার শরীরের সেই অঙ্গগুলো আবৃত দেখবেন যা প্রকাশ করা লজ্জাজনক এবং সেই অঙ্গগুলো অনাবৃত ও উন্মুক্ত দেখবেন যা এই পেশার কাজে ব্যবহারের প্রয়োজন হয়।

তাকে হাতে একটি বাঁকা এবং ডালপালা বিশিষ্ট খতমি গাছের লাঠি ধরা অবস্থায় চিত্রিত করা হয়; এটি নির্দেশ করে যে, চিকিৎসা বিদ্যায় লিপ্ত ব্যক্তি এমন বয়সে পৌঁছাতে পারেন যখন তার একটি লাঠির উপর ভর দেওয়ার প্রয়োজন হয়। অথবা এর কারণ হলো, যাকে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা কিছু বিশেষ দান প্রদান করেন, তিনি লাঠি পাওয়ার যোগ্য হন—যেমনটি ইফাস্তুস, জুস এবং হার্মিসকে দান করা হয়েছিল। আর এই লাঠির মাধ্যমেই আমরা দেখতে পাই যে জুস তার প্রিয়জনদের সন্তুষ্ট করতেন এবং এর মাধ্যমেই নিদ্রিতদের জাগ্রত করতেন।

আর সেই লাঠিটি খতমি গাছের চিত্রিত করার কারণ হলো এটি সকল রোগকে দূরীভূত ও নির্মূল করে।

হুনাইন বলেছেন, খতমি উদ্ভিদ যেহেতু এমন একটি ঔষধ যা পরিমিতভাবে উষ্ণতা প্রদান করে, তাই এটি বহুবিধ উপকারী চিকিৎসায় পরিণত হওয়ার উপযোগী হয়—চাই তা এককভাবে ব্যবহৃত হোক বা এর চেয়ে অধিক উষ্ণ কিংবা শীতল অন্য কোনো উপাদানের সাথে মিশ্রিত করে ব্যবহৃত হোক; যেমনটি ডায়োস্কোরাইডস এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞগণ বর্ণনা করেছেন।

এই কারণেই আমরা গ্রিক ভাষায় এর নামটি চিকিৎসা সংক্রান্ত শব্দ থেকে উদ্ভূত দেখি; কারণ তারা এই নামের মাধ্যমে নির্দেশ করে যে খতমি গাছের মধ্যে প্রচুর উপকারিতা রয়েছে।

গ্যালেন বলেছেন, এর বক্রতা এবং বহু ডালপালা থাকার বিষয়টি চিকিৎসা বিদ্যার বিভিন্ন প্রকারভেদ এবং শিল্পনৈপুণ্যের আধিক্যকে নির্দেশ করে।

আমরা তাদের সেই লাঠিটিকে কোনো অলঙ্করণ বা বিন্যাস ছাড়াই ফেলে রাখতে দেখি না, বরং তারা সেটির গায়ে একটি দীর্ঘজীবী প্রাণীর চিত্র অঙ্কন করেছে যা তার চারপাশে পেঁচিয়ে থাকে, আর তা হলো ড্রাগন। অনেক কারণে এই প্রাণীটিকে আসক্লিপিয়াসের নিকটবর্তী মনে করা হয়; যার একটি কারণ হলো এটি প্রখর দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন এবং অত্যন্ত সজাগ প্রাণী, যা কখনোই ঘুমায় না।

সুতরাং যার লক্ষ্য চিকিৎসা বিদ্যা শেখা, তার উচিত ঘুমের মাধ্যমে অলস সময় না কাটানো এবং অত্যন্ত মেধাবী হওয়া, যাতে সে অগ্রগামী হয়ে বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যতে কী ঘটতে পারে সে সম্পর্কে সতর্ক করতে পারে।

এ কারণেই আপনি হিপোক্রেটিসকে তার বাণীতে এই কার্যের প্রতি ইঙ্গিত করতে দেখবেন যে, ‘আমি মনে করি চিকিৎসকের জন্য দূরদর্শিতা প্রয়োগ করাই সর্বোত্তম কাজ। কারণ যখন সে পূর্বেই অবগত হয় এবং আগেভাগেই রোগীদের তাদের বর্তমান কষ্ট, অতীত এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সতর্ক করতে পারে...’

আসক্লিপিয়াসের হাতে ধরা লাঠিতে ড্রাগনের চিত্রায়নের বিষয়ে আরও একটি মত আছে, আর তা হলো: তারা বলে যে, এই প্রাণীটি অর্থাৎ ড্রাগন অত্যন্ত দীর্ঘজীবী, এমনকি বলা হয় যে তার জীবনকাল পুরো যুগব্যাপী। আর যারা চিকিৎসা বিদ্যা চর্চা করেন তাদের জীবনও দীর্ঘ হওয়া সম্ভব।

এর প্রমাণস্বরূপ আমরা দেখি যে ডেমোক্রিটাস এবং হেরোডোটাস যখন চিকিৎসা বিদ্যার নির্দেশিত উপদেশগুলো মেনে চলেছিলেন, তখন তাদের জীবনকাল অত্যন্ত দীর্ঘ হয়েছিল।

সুতরাং যেভাবে এই প্রাণীটি অর্থাৎ ড্রাগন—
(খণ্ড: ১) উয়ুনুল আনবা ফী তবাকাতিল আতিব্বা (পৃষ্ঠা: ٣٦)
يسلخ عَنهُ لِبَاسه الَّذِي يُسَمِّيه اليونانيون الشيخوخة كَذَلِك أَيْضا قد يُمكن النَّاس بِاسْتِعْمَال صناعَة الطِّبّ إِذا سلخوا عَنْهُم الشيخوخة الَّتِي تفيدهم إِيَّاهَا الْأَمْرَاض أَن يستفيدوا الصِّحَّة

وَإِذا صوروا أسقليبيوس جعل على رَأسه إكليل متخذ من شجر الْغَار لِأَن هَذِه الشَّجَرَة تذْهب بالحزن وَلِهَذَا نجد هرمس إِذْ سمي المهيب كلل بِمثل هَذَا الإكليل فَإِن الْأَطِبَّاء يَنْبَغِي لَهُم أَن يصرفوا عَنْهُم الأحزان

كَذَلِك كلل اسقليبوس بإكليل يذهب بالحزن أَو لِأَن الإكليل كَانَ يعم صناعَة الطِّبّ وَالْكهَانَة رَأَوْا أَنه يَنْبَغِي أَن يكون الإكليل الَّذِي يتكلل بِهِ الْأَطِبَّاء والمتكهنون إكليلا وَاحِدًا بِعَيْنِه أَو لِأَن هَذِه الشَّجَرَة أَيْضا فِيهَا قُوَّة تشفي الْأَمْرَاض

من ذَلِك إِنَّك تجدها إِذا ألقيت فِي بعض الْمَوَاضِع هربت من ذَلِك الْموضع الْهَوَام ذَوَات السمُوم وَكَذَلِكَ أَيْضا النبت الْمُسَمّى قونورا وَثَمَرَة هَذِه الشَّجَرَة أَيْضا وَهِي الَّتِي تسمى حب الْغَار إِذا مرخ بهَا الْبدن فعلت فِيهِ شَبِيها بِفعل الْجند بيدستر

وَإِذا صوروا ذَلِك التنين جعلُوا بِيَدِهِ بيضه يومون بذلك إِلَى أَن هَذَا الْعَالم كُله يحْتَاج إِلَى الطِّبّ وَمِثَال الْكل مِثَال الْبَيْضَة

وَقد يَنْبَغِي لنا أَن نتكلم أَيْضا فِي الذَّبَائِح الَّتِي تذبح باسم أسقليبيوس تقربا إِلَى الله تبارك وتعالى فَنَقُول أَنه لم يُوجد أحد قرب لله قربانا باسم أسقليبيوس فِي وَقت من الْأَوْقَات شَيْئا من الماعز وَذَلِكَ لِأَن شعر هَذَا الْحَيَوَان لَا يسهل غزله بِمَنْزِلَة الصُّوف

وَمن أَكثر من لَحْمه سهل وُقُوعه فِي أمراض الصرع لِأَن الْغذَاء الْمُتَوَلد عَنهُ رَدِيء الكيموس مجفف غليظ حريف يمِيل إِلَى الدَّم السوداوي

قَالَ جالينوس بل إِنَّمَا نجد النَّاس يقربون إِلَى الله تبارك وتعالى باسم أسقليبيوس ديكة ويروون أَيْضا أَن سقراط قرب لَهُ هَذِه الذَّبِيحَة فبهذه الْحَال علم هَذَا الرجل الإلهي النَّاس صناعَة الطِّبّ قنية ثَابِتَة أفضل كثيرا من الْأَشْيَاء الَّتِي استخرجها ديونوسس وديميطر

قَالَ حنين يَعْنِي باستخراج ديونوسس الْخمر وَذَلِكَ أَن اليونانيين يرَوْنَ أَن أول من استخرج الْخمر ديونوسس ويومي الشُّعَرَاء بِهَذَا الِاسْم إِلَى الْقُوَّة الَّتِي إِذا غيرت المَاء فِي الكرمة أعدته ليَكُون الْخمْرَة وَالسُّرُور الْمُتَوَلد عَنْهَا فِي شرابها وَأما اسْتِخْرَاج ديميطر فالخبز وَسَائِر الْحُبُوب الَّتِي يتَّخذ مِنْهَا وَلِهَذَا نجدهم يسمون هَذِه الْحُبُوب بِهَذَا الِاسْم

وَقد تسمي الشُّعَرَاء بِهَذَا الِاسْم أَيْضا الأَرْض المخرجة للحبوب

وَأما اسْتِخْرَاج أسقليبيوس فيعني بِهِ الصِّحَّة وَهِي الَّتِي لَا يُمكن دونهَا أَن يفتني شَيْء من الْأَشْيَاء الَّتِي ينْتَفع بهَا أَو يلتذ

قَالَ جالينوس وَذَلِكَ أَن مَا استخرجه هَذَانِ لَا ينْتَفع بِهِ مَا لم يكن اسْتِخْرَاج أسقليبيوس مَوْجُودا

وَأما صُورَة الْكُرْسِيّ الَّذِي يقْعد عَلَيْهِ أسقليبيوس فصورة الْقُوَّة الَّتِي تستفاد بهَا الصِّحَّة وَهِي أشرف
গ্রিকরা যাকে বার্ধক্য বলে অভিহিত করে, তা যেন তার শরীর থেকে পোশাকের মতো খুলে ফেলা হয়। অনুরূপভাবে, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষ বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা দূর করে স্বাস্থ্য লাভ করতে সক্ষম হতে পারে।

যখন তারা আস্কলিপিউসের প্রতিকৃতি তৈরি করে, তখন তার মাথায় তেজপাতা গাছের তৈরি একটি মুকুট স্থাপন করে; কারণ এই গাছ দুঃখ-বেদনা দূর করে। এই কারণেই আমরা দেখতে পাই যে, যখন হার্মিসকে 'শ্রদ্ধেয়' নামে অভিহিত করা হয়, তখন তাকেও অনুরূপ মুকুট পরানো হয়। কেননা চিকিৎসকদের উচিত নিজেদের থেকে দুঃখ-বেদনা দূর করা।

একইভাবে, আস্কলিপিউসকে দুঃখ-বেদনা দূরকারী মুকুট পরানো হয়েছিল। অথবা এই কারণে যে, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও গণৎবিদ্যার মধ্যে এই মুকুট সাধারণ ছিল। তারা মনে করত যে, চিকিৎসক ও গণকদের পরিহিত মুকুট অভিন্ন হওয়া উচিত। অথবা এই কারণেও হতে পারে যে, এই গাছের রোগ নিরাময়কারী শক্তি রয়েছে।

এর প্রমাণ হলো, আপনি দেখবেন যে যদি এই গাছ কোনো স্থানে রাখা হয়, তবে সেই স্থান থেকে বিষাক্ত কীটপতঙ্গ পালিয়ে যায়। 'কোনোরা' নামক উদ্ভিদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। এই গাছের ফল, যাকে তেজপাতার বীজ বলা হয়, তা যদি শরীরে মালিশ করা হয়, তবে তা 'জুনদাবেদস্তর'-এর মতো কাজ করে।

যখন তারা সেই ড্রাগনের প্রতিকৃতি তৈরি করে, তখন তার হাতে একটি ডিম স্থাপন করে। এর মাধ্যমে তারা ইঙ্গিত করে যে, এই সমগ্র জগৎ চিকিৎসাবিজ্ঞানের মুখাপেক্ষী এবং জগতের দৃষ্টান্ত ডিমের মতো।

আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে আস্কলিপিউসের নামে যে পশু কোরবানি করা হয়, সে সম্পর্কেও আমাদের আলোচনা করা উচিত। আমরা বলি যে, কোনো সময়ই কেউ আস্কলিপিউসের নামে আল্লাহর উদ্দেশ্যে ছাগল কোরবানি করেনি। কারণ এই প্রাণীর লোম পশমের মতো সহজে সুতা কাটার উপযোগী নয়।

আর যে ব্যক্তি এর মাংস বেশি খায়, সে সহজেই মৃগীরোগে আক্রান্ত হতে পারে। কারণ এর থেকে উৎপন্ন পুষ্টি অত্যন্ত মন্দ, শুষ্ক, ঘন এবং কটু, যা কৃষ্ণপিত্তের দিকে ঝুঁকে থাকে।

জালিনুস বলেন, বরং আমরা দেখতে পাই যে মানুষ আস্কলিপিউসের নামে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার উদ্দেশ্যে মোরগ উৎসর্গ করে। তারা আরও বর্ণনা করে যে, সুকরাত তাঁর জন্য এই উৎসর্গ করেছিলেন। এই মহৎ ঐশী পুরুষ এভাবেই মানুষকে চিকিৎসাবিদ্যাকে একটি স্থায়ী সম্পদ হিসেবে শিক্ষা দিয়েছেন, যা দিওনিসাস ও দিমেতেরের আবিষ্কৃত বস্তুগুলোর চেয়ে অনেক বেশি শ্রেষ্ঠ।

হুনাইন বলেন, দিওনিসাসের আবিষ্কার বলতে মদকে বোঝানো হয়েছে। কারণ গ্রিকরা মনে করে যে, দিওনিসাসই প্রথম মদ তৈরি করেছিলেন। কবিরা এই নামের মাধ্যমে সেই শক্তিকে ইঙ্গিত করেন যা আঙুর লতার পানিকে মদে রূপান্তরিত করে এবং তার পানে আনন্দ সৃষ্টি করে। আর দিমেতেরের আবিষ্কার বলতে রুটি ও অন্যান্য শস্যদানা বোঝায় যা থেকে খাদ্য তৈরি হয়। এই কারণেই আমরা তাদের দেখি যে তারা এই শস্যগুলোকে এই নামেই অভিহিত করে।

কবিরা কখনো কখনো শস্য উৎপাদনকারী ভূমিকেও এই নামে অভিহিত করেন।

আর আস্কলিপিউসের আবিষ্কার বলতে স্বাস্থ্যকে বোঝানো হয়েছে। স্বাস্থ্য ছাড়া কোনো উপকারী বা আনন্দদায়ক বস্তু অর্জন করা সম্ভব নয়।

জালিনুস বলেন, এর কারণ হলো, আস্কলিপিউসের আবিষ্কার বিদ্যমান না থাকলে ওই দুজনের আবিষ্কৃত বস্তু থেকে কোনো উপকার পাওয়া যায় না।

আর যে আসনের উপর আস্কলিপিউস বসেন, তার প্রতিকৃতি হলো সেই শক্তির প্রতীক যার মাধ্যমে স্বাস্থ্য অর্জিত হয় এবং তা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ।
(খণ্ড: ১) উয়ুনুল আনবা ফী তবাকাতিল আতিব্বা (পৃষ্ঠা: ٣٧)
القوى كَمَا قَالَ بعض الشُّعَرَاء وَذَلِكَ إِنَّا نجد الشُّعَرَاء بأجمعهم يمدحون هَذِه الْقُوَّة ويمجدونها أما أحدهم فَفِي قَوْله إِنَّهَا الْمُتَقَدّمَة فِي الشّرف على جَمِيع الْأَبْرَار فِي خيرك أكون بَاقِي حَياتِي

وَأما شَاعِر آخر فَقَالَ إِنَّهَا الْمُتَقَدّمَة فِي الشّرف على جَمِيع الْأَبْرَار إياك أسأَل أَن أؤهل قبل جَمِيع الْخيرَات

وَبِالْجُمْلَةِ فَقَوْل الْقَائِل أَي الْخيرَات من الْيَسَار أَو الْأَبْنَاء أَو الْملك يتساوى فِي الْقُوَّة عِنْد سَائِر النَّاس أَلَيْسَ كُله شَيْئا إِنَّمَا يكون ناصرا ملتذا لِلْخَيْرَاتِ بِسَبَب الصِّحَّة إِنَّهَا الْبرة المؤهلة لهَذَا الِاسْم

وَإِنَّمَا ذَلِك لِأَن الصِّحَّة خير فِي غَايَة التَّمام لَا متوسط فِيهَا بَين الْخَيْر وَالشَّر

وَلَا فِي الدرجَة الثَّانِيَة من الْخَيْر كَمَا ظن قوم من الفلاسفة وهم المعروفون بالمشائين وبأصحاب المظلة

وَذَلِكَ أَن شرف سَائِر الْفَضَائِل الَّتِي يعْنى بهَا النَّاس عناية بَالِغَة فِي جَمِيع أَيَّام حياتهم إِنَّمَا هِيَ بِسَبَب الصِّحَّة

من ذَلِك إِنَّا نجد من رام أَن يبين شجاعة وَشدَّة ومحاربة للأعداء ودفعهم عَن الْأَوْلِيَاء جهادا دونهم إِنَّمَا يفعل ذَلِك بِاسْتِعْمَالِهِ قُوَّة الْبدن

وَاسْتِعْمَال الْإِنْسَان الْعدْل بِأَن يُعْطي كل ذِي حق حَقه وَيفْعل كل مَا يحب أَن يفعل ويحفظ النواميس ويصحح فِي كل مَا يرَاهُ ويفعله لَا يُمكن أَن يتم خلوا من الصِّحَّة

وَسبب الْخَلَاص أَيْضا إِنَّمَا يرى أَن تَمَامه إِنَّمَا يكون بِالصِّحَّةِ وَذَلِكَ أَنه بِمَنْزِلَة الْمَوْلُود عَنْهَا

وَبِالْجُمْلَةِ فَأَي النَّاس رام أَن يَقُول بِسَبَب اعْتِقَاد رَأْي من الآراء وإقناع بَاطِل مموه أَن قَصده لَيْسَ هُوَ اقتناء الصِّحَّة فَإِنَّمَا ذَلِك القَوْل مِنْهُ بِلِسَانِهِ فَقَط فَإِذا أقرّ بِالْحَقِّ قَالَ إِن الصِّحَّة بِالْحَقِيقَةِ هِيَ الْخَيْر الَّذِي فِي غَايَة التَّمام

فَهَذِهِ الْقُوَّة أَولهَا النَّاس أَن تكون كرسيا للْإنْسَان الْمُدبر لصناعة الطِّبّ وَاسم هَذِه الْقُوَّة أَيْضا مُشْتَقّ على الْحَقِيقَة وَذَلِكَ أَن اسْمهَا فِي اللِّسَان اليوناني مُشْتَقّ من اسْم الرُّطُوبَة لِأَن الصِّحَّة إِنَّمَا تتمّ لنا بالرطوبة كَمَا دلّ على ذَلِك فِي بعض الْمَوَاضِع أحد الشُّعَرَاء فِي قَوْله الْإِنْسَان الرطب

وَإِذا تَأَمَّلت صُورَة أسقليبيوس وجدته قَاعِدا مُتكئا على رجال مصورين حوله وَذَلِكَ وَاجِب لِأَنَّهُ يَنْبَغِي أَن يكون ثَابتا لَا يَزُول من بَين النَّاس ويصور عَلَيْهِ تنين ملتف حوله وَقد خبرت سَبَب ذَلِك فِيمَا تقدم

‌‌وَمن الْآدَاب وَالْحكم الَّتِي لأسقليبيوس

 

مِمَّا ذكره الْأَمِير أَبُو الْوَفَاء المبشر بن فاتك فِي كتاب مُخْتَار الحكم ومحاسن الْكَلم قَالَ أسقليبيوس

من عرف الْأَيَّام لم يغْفل الاستعداد

وَقَالَ
শক্তি, যেমনটি কোনো কোনো কবি বলেছেন। আমরা দেখি যে সমস্ত কবিই এই শক্তির প্রশংসা করেন এবং এর মহিমা বর্ণনা করেন। তাদের মধ্যে একজন তাঁর কবিতায় বলেছেন যে, এটি সমস্ত পুণ্যবান ব্যক্তির চেয়ে সম্মানে অগ্রগামী; তোমার কল্যাণে আমি আমার অবশিষ্ট জীবন অতিবাহিত করতে চাই।

অন্য একজন কবি বলেছেন যে, এটি সমস্ত পুণ্যবানদের চেয়ে সম্মানে অগ্রগামী; আমি কেবল তোমার কাছেই প্রার্থনা করি যেন সমস্ত কল্যাণের পূর্বে আমাকে এর যোগ্য করা হয়।

সারসংক্ষেপে, কোনো বক্তার এই কথা যে—প্রাচুর্য, সন্তানসন্ততি বা রাজত্বের মতো কল্যাণগুলোর মধ্যে কোনটি মানুষের কাছে শক্তির দিক দিয়ে সমান? এ সবই কি এমন কিছু নয় যা কেবল সুস্বাস্থ্যের মাধ্যমেই কল্যাণের সহায়ক ও আনন্দদায়ক হয়? মূলত সুস্বাস্থ্যই হলো সেই পুণ্য যা এই নামের (প্রকৃত কল্যাণের) যোগ্য।

আর এটি এই কারণে যে, সুস্বাস্থ্য হলো চূড়ান্ত পর্যায়ের এক কল্যাণ, যাতে কল্যাণ ও অকল্যাণের মাঝে কোনো মধ্যবর্তী অবস্থা নেই।

এটি কল্যাণের দ্বিতীয় স্তরেরও বিষয় নয়, যেমনটি একদল দার্শনিক মনে করতেন—যাঁরা 'মাশশায়ী' (পেরিপেটেটিক) এবং 'আসহাবে মুজাল্লাহ' (ছায়াতলে অবস্থানকারী) নামে পরিচিত।

কারণ, মানুষ তাদের সারা জীবনে যে সমস্ত শ্রেষ্ঠত্বের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করে, সেগুলোর গৌরব মূলত সুস্বাস্থ্যের কারণেই নিহিত।

এর উদাহরণ হলো, আমরা দেখি যে ব্যক্তি বীরত্ব, বিক্রম, শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং বন্ধুদের রক্ষায় তাদের পক্ষ হয়ে লড়াই করার ইচ্ছা পোষণ করে, সে কেবল শারীরিক শক্তি ব্যবহারের মাধ্যমেই তা সম্পন্ন করতে পারে।

মানুষের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা—অর্থাৎ প্রত্যেক হকদারকে তার হক বুঝিয়ে দেওয়া, পছন্দনীয় কাজ করা, নিয়মকানুন রক্ষা করা এবং নিজের দেখা ও কর্মের সংশোধন করা—সুস্বাস্থ্য ব্যতিরেকে পূর্ণ হওয়া সম্ভব নয়।

এমনকি মুক্তির উপায়ও সুস্বাস্থ্যের মাধ্যমেই পূর্ণতা পায় বলে মনে করা হয়; কেননা এটি যেন সুস্বাস্থ্য থেকেই উদ্ভূত।

মোটকথা, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো মতাদর্শের বিশ্বাসে অথবা কোনো অলীক মিথ্যা প্ররোচনায় প্রলুব্ধ হয়ে এমনটি বলতে চায় যে, তার উদ্দেশ্য সুস্বাস্থ্য অর্জন করা নয়—তবে তা হবে কেবলই মুখের কথা। যখন সে সত্যকে স্বীকার করবে, তখন সে বলবে যে সুস্বাস্থ্যই হলো প্রকৃতপক্ষে সেই কল্যাণ যা পূর্ণতার চূড়ান্ত শিখরে রয়েছে।

মানুষেরা এই শক্তিকেই চিকিৎসাশাস্ত্র পরিচালনাকারীর জন্য একটি সিংহাসন হিসেবে নির্ধারণ করেছে। প্রকৃতপক্ষে এই শক্তির নামকরণও তাৎপর্যপূর্ণ; কেননা গ্রীক ভাষায় এর নামটি 'আর্দ্রতা' শব্দ থেকে উদ্ভূত। এর কারণ হলো, আর্দ্রতার মাধ্যমেই আমাদের সুস্বাস্থ্য পূর্ণতা লাভ করে, যেমনটি জনৈক কবি কোনো এক স্থানে 'আর্দ্র মানুষ' কথাটি বলে নির্দেশ করেছেন।

যদি আপনি আসক্লিপিউসের মূর্তির দিকে লক্ষ্য করেন, তবে তাকে তাঁর চারপাশে অঙ্কিত একদল মানুষের ওপর ভর দিয়ে উপবিষ্ট অবস্থায় পাবেন। আর এটিই হওয়া উচিত; কেননা তাঁর এমনভাবে স্থির থাকা প্রয়োজন যাতে তিনি মানুষের মাঝ থেকে অপসৃত না হন। তাঁর চারদিকে একটি ড্রাগন বা অজগর সাপ পেঁচিয়ে থাকা অবস্থায় চিত্রিত করা হয়, যার কারণ আমি ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি।

আসক্লিপিউসের কিছু শিষ্টাচার ও প্রজ্ঞা

 

আমির আবু আল-ওয়াফা আল-মুবাসশির ইবনে ফাতিক তাঁর 'মুখতারুল হিকাম ওয়া মাহাসিনুল কালিম' গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন; আসক্লিপিউস বলেছেন:

যে ব্যক্তি সময় সম্পর্কে অবগত থাকে, সে প্রস্তুতি গ্রহণে উদাসীন হয় না।

তিনি আরও বলেছেন:
(খণ্ড: ১) উয়ুনুল আনবা ফী তবাকাতিল আতিব্বা (পৃষ্ঠা: ٣٨)
أَن أحدكُم بَين نعْمَة من بارئه وَبَين ذَنْب عمله وَمَا يصلح هَاتين الْحَالَتَيْنِ إِلَّا الْحَمد للمنعم وَالِاسْتِغْفَار من الذَّنب

وَقَالَ كم من دهر ذممتموه فَلَمَّا صرتم إِلَى غَيره حمدتموه وَكم من أَمر أبغضت أَوَائِله وبكي عِنْد أواخره عَلَيْهِ

وَقَالَ المتعبد بِغَيْر معرفَة كحمار الطاحون يَدُور وَلَا يبرح وَلَا يدْرِي مَا هُوَ فَاعل

وَقَالَ فَوت الْحَاجة خير من طلبَهَا إِلَى غير أَهلهَا

وَقَالَ إِعْطَاء الْفَاجِر تَقْوِيَة لَهُ على فجوره والصنيعة عِنْد الكفور إِضَاعَة للنعمة وَتَعْلِيم الْجَاهِل ازدياد فِي الْجَهْل وَمَسْأَلَة اللَّئِيم إهانة للعرض

وَقَالَ إِنِّي لأعجب مِمَّن يحتمي من المآكل الرَّديئَة مَخَافَة الضَّرَر وَلَا يدع الذُّنُوب مَخَافَة الْآخِرَة

وَقَالَ اكثروا من الصمت فَإِنَّهُ سَلامَة من المقت واستعملوا الصدْق فَإِنَّهُ زين النُّطْق

وَقيل لَهُ صف لنا الدُّنْيَا فَقَالَ أمس أجل وَالْيَوْم عمل وَغدا أمل

وَقَالَ المشفق عَلَيْكُم يسيء الظَّن بكم والزاري عَلَيْكُم كثير العتب لكم وَذُو الْبغضَاء لكم قَلِيل النصحية لكم

وَقَالَ سَبِيل من لَهُ دين ومروءة أَن يبْذل لصديقه نَفسه وَمَاله وَلمن يعرفهُ طلاقة وَجهه وَحسن محضره ولعدوه الْعدْل وَأَن يتصاون عَن كل حَال يعيب

‌‌أيلق

 

وَيُقَال لَهُ أَيْلَة

قَالَ سُلَيْمَان بن حسان الْمَعْرُوف بِابْن جلجل إِن هَذَا أول حَكِيم تكلم فِي الطِّبّ بِبَلَد الرّوم وَالْفرس وَهُوَ أول من استنبط كتاب الإغريقي لهيامس الْملك وَتكلم فِي الطِّبّ وقاسه وَعمل بِهِ

وَكَانَ بعد مُوسَى عليه الصلاة والسلام فِي زمَان بذاق الْحَاكِم وَله أثار عَظِيمَة وأخبار شنيعة وَهُوَ يعد فِي كَثْرَة الْعَجَائِب كأسقليبيوس
তোমাদের প্রত্যেকে তার স্রষ্টার পক্ষ থেকে প্রাপ্ত নিয়ামত এবং তার কৃত গুনাহের মাঝে রয়েছে। আর এই দুই অবস্থাকে নিয়ামতদাতার প্রশংসা এবং গুনাহ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা ব্যতীত আর কিছুই সংশোধন করতে পারে না।

তিনি বলেন: কত কালকে তোমরা নিন্দা করেছ, অথচ যখন তোমরা অন্য কালে উপনীত হয়েছ তখন আগেরটিরই প্রশংসা করেছ। কত কাজ এমন রয়েছে যার শুরুকে তোমরা ঘৃণা করেছ, কিন্তু তার শেষ পর্যায়ে পৌঁছে তার জন্য কেঁদেছ।

তিনি বলেন: জ্ঞানহীন ইবাদতকারী যাতার ঘানি টানা গাধার ন্যায়, যে ঘুরতে থাকে কিন্তু নিজ স্থান ত্যাগ করতে পারে না এবং সে কী করছে তাও জানে না।

তিনি বলেন: অযোগ্য ব্যক্তির কাছে প্রয়োজন পূরণের আবেদন করার চেয়ে প্রয়োজন পূরণ না হওয়া উত্তম।

তিনি বলেন: পাপাচারীকে দান করা তাকে পাপাচারের ওপর শক্তিশালী করা। অকৃতজ্ঞের প্রতি অনুগ্রহ করা নিয়ামতের অপচয়। মূর্খকে শিক্ষা দেওয়া মূর্খতা বৃদ্ধির নামান্তর এবং নীচ ব্যক্তির কাছে কিছু চাওয়া সম্মানের অবমাননা।

তিনি বলেন: আমি ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে বিস্ময় বোধ করি যে ক্ষতির ভয়ে মন্দ খাদ্য থেকে বেঁচে থাকে, অথচ পরকালের ভয়ে গুনাহ বর্জন করে না।

তিনি বলেন: অধিক পরিমাণে নীরবতা অবলম্বন করো, কেননা তা ঘৃণা থেকে সুরক্ষা দান করে। আর সত্যবাদিতা গ্রহণ করো, কারণ তা বাচনভঙ্গির সৌন্দর্য।

তাকে বলা হলো: আমাদের কাছে দুনিয়ার বিবরণ দিন। তিনি বললেন: গতকাল হলো শেষ সময় (মরণ), আজ হলো আমল (কাজ) এবং আগামীকাল হলো আশা।

তিনি বলেন: তোমাদের প্রতি সহমর্মী ব্যক্তি তোমাদের ব্যাপারে কুধারণা পোষণ করে (আশঙ্কাবোধ থেকে), তোমাদের প্রতি অবজ্ঞাকারী তোমাদের বেশি ভর্ৎসনা করে এবং তোমাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী তোমাদের খুব কমই নসিহত করে।

তিনি বলেন: দীনদার ও পৌরুষদীপ্ত ব্যক্তির পথ হলো এই যে, সে তার বন্ধুর জন্য নিজের জান ও মাল উৎসর্গ করবে; পরিচিতদের সাথে প্রফুল্ল চিত্তে ও উত্তম আচরণে সাক্ষাৎ করবে; শত্রুর প্রতি ইনসাফ করবে এবং লজ্জাজনক সকল অবস্থা থেকে নিজেকে রক্ষা করবে।

আইলাক

 

তাকে আইলা-ও বলা হয়।

ইবনে জুলজুল নামে পরিচিত সুলাইমান ইবন হাসসান বলেন: ইনিই প্রথম হেকিম যিনি রোম ও পারস্য দেশে চিকিৎসা শাস্ত্র নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি ইগরিকীয় রাজা হায়ামাসের কিতাব প্রথম উদ্ভাবন করেন এবং চিকিৎসা শাস্ত্র নিয়ে আলোচনা করেন, তার মানদণ্ড নির্ধারণ করেন ও তদনুযায়ী কাজ করেন।

তিনি মূসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর পরবর্তী সময়ে শাসক বাজাকের যুগে ছিলেন। তার অনেক মহান কীর্তি এবং বিস্ময়কর সংবাদ রয়েছে। আশ্চর্যের প্রাচুর্যে তাকে আসকালিবিউস-এর সমতুল্য গণ্য করা হয়।
(খণ্ড: ১) উয়ুনুল আনবা ফী তবাকাতিল আতিব্বা (পৃষ্ঠা: ٣٩)
الْبَاب الثَّالِث

 

‌‌طَبَقَات الْأَطِبَّاء اليونانيين الَّذِي هم من نسل أسقليبيوس

 

وَذَلِكَ أَن أسقليبيوس كَمَا ذكرنَا أَولا لما حصلت لَهُ معرفَة صناعَة الطِّبّ بالتجربة وَبقيت عِنْده أُمُور مِنْهَا وَشرع فِي تعليمها لأولاده وأقاربه عهد إِلَيْهِم أَلا يعلمُوا هَذِه الصِّنَاعَة لأحد إِلَّا لأولادهم وَلمن هُوَ من نسل أسقليبيوس لَا غير وَكَانَ الَّذِي خَلفه أسقليبيوس من التلاميذ من ولد وقرابة سِتَّة وهم ماغينس وسقراطون وخروسيس الطَّبِيب ومهراريس المكذوب عَلَيْهِ المزور نسبه فِي الْكتب الأولى وَأَنه لحق سُلَيْمَان بن دَاوُد وَهَذَا حَدِيث خرافة لِأَن بَينهمَا أُلُوف من السنين وموريدس وميساوس

وَكَانَ كل وَاحِد من هَؤُلَاءِ ينتحل رَأْي أستاذه أسقليبيوس وَهُوَ رَأْي التجربة

إِذا كَانَ الطِّبّ إِنَّمَا خرج لَهُ بالتجربة وَلم يزل الطِّبّ ينْتَقل من هَؤُلَاءِ التلاميذ إِلَى من علموه من الْأَهْل إِلَى أَن ظهر

‌‌غورس

 

غورس هُوَ الثَّانِي من الْأَطِبَّاء الحذاق الْمَشْهُورين الَّذين أسقليبيوس أَوَّلهمْ على مَا ذكره يحيى النَّحْوِيّ وَذَلِكَ أَنه قَالَ

الْأَطِبَّاء المشهورون الَّذين كَانَ يقْتَدى بهم فِي صناعَة الطِّبّ من اليونانيين على مَا تناهى إِلَيْنَا ثَمَانِيَة
তৃতীয় পরিচ্ছেদ

 

‌‌গ্রিক চিকিৎসকদের স্তরসমূহ যারা আসক্লিপিউসের বংশধর

 

বিষয়টি হলো এই যে, আসক্লিপিউস—যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি—যখন অভিজ্ঞতার মাধ্যমে চিকিৎসাবিদ্যার জ্ঞান অর্জন করলেন এবং তাঁর কাছে এর মূলনীতিসমূহ অর্জিত হলো, তখন তিনি তা তাঁর সন্তান ও নিকটাত্মীয়দের শিক্ষা দিতে শুরু করেন। তিনি তাদের নিকট এই অঙ্গীকার গ্রহণ করেন যে, তারা এই শিল্প (চিকিৎসাবিদ্যা) কেবল তাদের সন্তান ও আসক্লিপিউসের বংশধরদের ছাড়া অন্য কাউকে শেখাবে না। আসক্লিপিউসের স্থলাভিষিক্ত হওয়া ছাত্ররা—যারা তাঁর সন্তান ও আত্মীয়দের অন্তর্ভুক্ত ছিল—তারা ছিলেন ছয়জন। তাঁরা হলেন: মাগনেস, সোক্রাতুন, চিকিৎসক ক্রুসিস, মেহরারিস—যার প্রতি মিথ্যাচার করা হয়েছে এবং পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে যার বংশপরিচয় জাল করা হয়েছে যে তিনি সুলায়মান ইবনে দাউদের সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন; অথচ এটি একটি অলীক কাহিনী, কেননা তাঁদের উভয়ের মাঝে হাজার বছরের ব্যবধান রয়েছে—মৌরিদেস এবং মিসাউস।

তাঁদের প্রত্যেকেই তাঁদের শিক্ষক আসক্লিপিউসের মতাদর্শ অনুসরণ করতেন, আর তা ছিল অভিজ্ঞতালব্ধ পর্যবেক্ষণ।

যেহেতু চিকিৎসাবিদ্যা তাঁর নিকট অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই প্রকাশিত হয়েছিল, তাই এই চিকিৎসাবিদ্যা ক্রমাগত এই ছাত্রদের নিকট থেকে তাঁদের পরিবারের মাঝে হস্তান্তরিত হতে থাকে যাদেরকে তাঁরা শিক্ষা দিয়েছিলেন, যতক্ষণ না আবির্ভূত হলেন—

‌‌ঘৌরাস

 

ইয়াহইয়া আন-নাহবীর বর্ণনা অনুযায়ী, প্রসিদ্ধ ও দক্ষ চিকিৎসকদের মধ্যে ঘৌরাস হলেন দ্বিতীয়, যাদের মধ্যে প্রথম ছিলেন আসক্লিপিউস। তিনি বলেন:

গ্রিক চিকিৎসকদের মধ্যে সেই প্রসিদ্ধ ব্যক্তিবর্গ যাঁদেরকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে আদর্শ হিসেবে অনুসরণ করা হতো, আমাদের নিকট প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী তাঁরা সংখ্যায় আটজন।
(খণ্ড: ১) উয়ুনুল আনবা ফী তবাকাতিল আতিব্বা (পৃষ্ঠা: ٤٠)
وهم أسقليبيوس الأول وغورس وميتس و‌‌برمانيدس وأفلاطن الطَّبِيب وأسقليبيوس الثَّانِي وأبقراط وجالينوس

وَكَانَت مُدَّة حَيَاة غورس سبعا وَأَرْبَعين سنة مِنْهَا صبي ومتعلم سبع عشرَة سنة وعالم معلم ثَلَاثِينَ سنة

وَكَانَ مُنْذُ وَقت وَفَاة أسقليبيوس الأول إِلَى وَقت ظُهُور غورس ثَمَانمِائَة وَخمسين سنة

وَكَانَ فِي هَذِه الفترة بَين أسقليبيوس وَبَين غورس من الْأَطِبَّاء الْمَذْكُورين سورندوس ومانيوس وساوثاوس ومسيساندس وسقوريدس الأول وسيقلوس وسيمرياس وأنطيماخس وقلغيموس وأغانيس وأيرقلس وأسطورس الطَّبِيب

وَلما ظهر غورس نظر فِي رَأْي التجربة وَقواهُ وَخلف من التلاميذ من بَين ولد وَقَرِيب سَبْعَة وهم مرقس وجورجيس ومالسطس وفولس وماهالس وأراسطواطس الأول وسقيروس

وَكَانَ كل وَاحِد من هَؤُلَاءِ ينتحل رَأْي أستاذه وَهُوَ رَأْي التجربة

وَلم يزل الطِّبّ ينْتَقل من هَؤُلَاءِ إِلَى من علموه من ولد وَقَرِيب إِلَى أَن ظهر

‌‌مينس

 

ومينس هُوَ الثَّالِث من الْأَطِبَّاء الْمَشْهُورين الثَّمَانِية الَّذين تقدم ذكرهم وَكَانَت مُدَّة حَيَاته أَرْبعا وَثَمَانِينَ سنة مِنْهَا صبي ومتعلم أَرْبعا وَسِتِّينَ سنة وعالم معلم عشْرين سنة

وَكَانَ مُنْذُ وَقت وَفَاة غورس إِلَى ظُهُور مينس خَمْسمِائَة وَسِتِّينَ سنة

وَكَانَ فِي هَذِه الفترة الَّتِي بَين غورس ومينس من الْأَطِبَّاء الْمَذْكُورين أبيقورس وسقوريدوس الثَّانِي وأخطيفون وأسقوريس وراوس واسفقلس وموطيمس وأفلاطن الأول الطَّبِيب وأبقراط الأول ابْن غنوسيديقوس

وَلما ظهر مينس نظر فِي مقالات من تقدم فَإِذا التجربة خطأ عِنْده فضم إِلَيْهَا الْقيَاس وَقَالَ لَا يجب أَن تكون تجربة بِلَا قِيَاس لِأَنَّهَا تكون خطرا وَلما توفّي خلف من التلاميذ أَرْبَعَة وهم قطرطس وأمينس وسورانس ومثيناوس الْقَدِيم

ورأي هَؤُلَاءِ الْقيَاس والتجربة

وَلم يزل الطِّبّ ينْتَقل من هَؤُلَاءِ التلاميذ إِلَى من علموه وخلفوه إِلَى أَن ظهر

برمانيدس

 

وبرمانيدس هُوَ الرَّابِع من الْأَطِبَّاء الْمَشْهُورين الثَّمَانِية الَّذين تقدم ذكرهم وَكَانَت مُدَّة حَيَاته
তারা হলেন প্রথম আসক্লিপিয়াস, গরাস, মিতাস এবং বারমানিদাস, চিকিৎসক প্লেটো, দ্বিতীয় আসক্লিপিয়াস, হিপোক্রেটিস এবং গ্যালেন।

গরাসের জীবনকাল ছিল সাতচল্লিশ বছর; এর মধ্যে সতেরো বছর তিনি বালক ও শিক্ষার্থী হিসেবে এবং ত্রিশ বছর আলেম ও শিক্ষক হিসেবে অতিবাহিত করেন।

প্রথম আসক্লিপিয়াসের মৃত্যু থেকে গরাসের আবির্ভাব পর্যন্ত সময়কাল ছিল আটশত পঞ্চাশ বছর।

আসক্লিপিয়াস ও গরাসের মধ্যবর্তী এই সময়ে উল্লিখিত চিকিৎসকদের মধ্যে ছিলেন সোরান্দুস, মানিউস, সাউথাউস, মাসিসান্দাস, প্রথম সোকোরিদাস, সিকলস, সিমরিয়াস, আন্তিমাখাস, কালগিমুস, আগানিস, আইরাকলিস এবং চিকিৎসক আস্তোরাস।

যখন গরাস আবির্ভূত হলেন, তিনি অভিজ্ঞতামূলক মতবাদ পর্যালোচনা করলেন এবং একে শক্তিশালী করলেন। তিনি নিজের সন্তান ও নিকটাত্মীয়দের মধ্য থেকে সাতজন ছাত্র রেখে যান, তারা হলেন: মার্কাস, জর্জিস, মালস্তুস, পাউলাস, মাহালুস, প্রথম অ্যারিস্টোটলস এবং সোকাইরাস।

এদের প্রত্যেকেই তাদের শিক্ষকের মতবাদ তথা অভিজ্ঞতামূলক মতবাদ অনুসরণ করতেন।

চিকিৎসা শাস্ত্র নিরবচ্ছিন্নভাবে এদের কাছ থেকে তাদের শেখানো সন্তান ও নিকটাত্মীয়দের নিকট স্থানান্তরিত হতে থাকে, যতক্ষণ না আবির্ভূত হন

মিনস

 

মিনস হলেন ইতিপূর্বে উল্লিখিত আটজন প্রখ্যাত চিকিৎসকের মধ্যে তৃতীয়। তাঁর জীবনকাল ছিল চুরাশি বছর; এর মধ্যে চৌষট্টি বছর ছিল বালক ও শিক্ষার্থী হিসেবে এবং বিশ বছর ছিল আলেম ও শিক্ষক হিসেবে।

গরাসের মৃত্যু থেকে মিনসের আবির্ভাব পর্যন্ত সময়কাল ছিল পাঁচশত ষাট বছর।

গরাস ও মিনসের মধ্যবর্তী এই সময়ে উল্লিখিত চিকিৎসকদের মধ্যে ছিলেন এপিকিউরাস, দ্বিতীয় সোকোরিদাস, আখতিফুন, আসকোরিস, রাউস, আসফাকলস, মুতিমাস, প্রথম চিকিৎসক প্লেটো এবং গনোসিডিকাসের পুত্র প্রথম হিপোক্রেটিস।

যখন মিনস আবির্ভূত হলেন, তিনি পূর্বসূরিদের বক্তব্যসমূহ পর্যালোচনা করলেন এবং তাঁর নিকট কেবল অভিজ্ঞতামূলক পদ্ধতিটি ত্রুটিপূর্ণ প্রতীয়মান হলো। ফলে তিনি এর সাথে অনুমান বা যুক্তি পদ্ধতিকে যুক্ত করলেন। তিনি বললেন, অনুমান ব্যতিরেকে কেবল অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়, কারণ তা বিপদসঙ্কুল হতে পারে। যখন তিনি মৃত্যুবরণ করেন, তিনি চারজন ছাত্র রেখে যান, তারা হলেন: কাতারতুস, আমিনুস, সোরানুস এবং প্রাচীন মিথিনাউস।

আর এদের মতবাদ ছিল যুক্তি ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়।

চিকিৎসা শাস্ত্র নিরবচ্ছিন্নভাবে এই ছাত্রদের কাছ থেকে তাদের শেখানো এবং স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তিদের নিকট স্থানান্তরিত হতে থাকে, যতক্ষণ না আবির্ভূত হন

বারমানিদাস

 

বারমানিদাস হলেন ইতিপূর্বে উল্লিখিত আটজন প্রখ্যাত চিকিৎসকের মধ্যে চতুর্থ, আর তাঁর জীবনকাল ছিল