(খণ্ড: ১) তবাকাতুস সূফিয়্যাহ লিস-সুলামী ওয়া ইয়ালীহি জিকরুন নিসওয়াতিল মুতাআব্বিদাতিল সূফিয়্যাত (পৃষ্ঠা: -)
طبقات الصوفية للسلمي ويليه ذكر النسوة المتعبدات الصوفيات   (أبو عبد الرحمن السلمي)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: طبقات الصوفية

المؤلف: محمد بن الحسين بن محمد بن موسى بن خالد بن سالم النيسابوري، أبو عبد الرحمن السلمي (ت 412هـ)

المحقق: مصطفى عبد القادر عطا

الناشر: دار الكتب العلمية - بيروت

الطبعة: الأولى، 1419هـ 1998م

عدد الصفحات: 425

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সুলাইমির তাবাকাতুস সুফিয়্যাহ এবং এর সাথে সুফি নারী ইবাদতকারিণীদের আলোচনা   (আবু আবদুর রহমান আস-সুলাইমি)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


বই: তাবাকাতুস সুফিয়্যাহ

লেখক: মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন মুসা বিন খালিদ bin সালিম আন-নিশাপুরী, আবু আবদুর রহমান আস-সুলাইমি (মৃত্যু ৪১২ হিজরি)

সম্পাদক: মুস্তফা আবদুল কাদির আতা

প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৯ হিজরি ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪২৫

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) তবাকাতুস সূফিয়্যাহ লিস-সুলামী ওয়া ইয়ালীহি জিকরুন নিসওয়াতিল মুতাআব্বিদাতিল সূফিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ٢٠)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌[طَبَقَات الصُّوفِيَّة]

 

الْمُقدمَة

 

الْحَمد لله الَّذِي أظهر آثَار قدرته وأنوار عزته فِي كل وَقت وزمان وَحين وَأَوَان وَعمر كل عصر من الْأَعْصَار بِنَبِي مَبْعُوث يدل الْخلق ويرشدهم إِلَيْهِ إِلَى أَن ختم الْأَنْبِيَاء وَالرسل بِالنَّبِيِّ الْأَشْرَف وَالرَّسُول الْأَعْلَى مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم وعَلى جَمِيع أَنْبيَاء الله وَرُسُله

وأتبع الْأَنْبِيَاء عليهم السلام بالأولياء يخلفونهم فِي سُنَنهمْ ويحملون أمتهم على طريقتهم وسمتهم فَلم يخل وقتا من الْأَوْقَات من دَاع إِلَيْهِ بِحَق أَو دَال عَلَيْهِ بِبَيَان وبرهان

وجعلهم طَبَقَات فِي كل زمَان فالولي يخلف الْوَلِيّ بِاتِّبَاع آثاره والاقتداء بسلوكه فيتأدب بهم المريدون ويأتسي بهم الموحدون قَالَ الله تَعَالَى {وَلَوْلَا رجال مُؤمنُونَ وَنسَاء مؤمنات لم تعلموهم أَن تطؤوهم فتصيبكم مِنْهُم معرة بِغَيْر علم ليدْخل الله فِي رَحمته من يَشَاء} الْآيَة الْفَتْح 25

وَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم خير النَّاس قَرْني ثمَّ الَّذين يَلُونَهُمْ) ثمَّ الَّذين يَلُونَهُمْ الحَدِيث

وَقَالَ صلى الله عليه وسلم (مثل أمتِي مثل الْمَطَر لَا يدْرِي أَوله خير أم آخِره)
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌[সুফিগণের স্তরসমূহ]

 

ভূমিকা

 

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল সময়, কাল, মুহূর্ত ও যুগে তাঁর কুদরতের নিদর্শনাবলী এবং তাঁর মহিমার নূরসমূহকে প্রকাশ করেছেন; এবং প্রতিটি যুগকে এমন জনৈক প্রেরিত নবীর মাধ্যমে আবাদ করেছেন যিনি সৃষ্টিজগতকে তাঁর দিকে পথনির্দেশ করেন এবং পরিচালিত করেন। পরিশেষে তিনি নবী ও রাসূলগণের সিলসিলাকে সমাপ্ত করেছেন সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সুউচ্চ রাসূল মুহাম্মাদ (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক) এবং আল্লাহর সকল নবী ও রাসূলগণের মাধ্যমে।

এবং তিনি নবীগণের (তাঁদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক) অনুসারী হিসেবে ওলিগণকে মনোনীত করেছেন, যাঁরা তাঁদের সুন্নাতের ক্ষেত্রে তাঁদের স্থলাভিষিক্ত হন এবং তাঁদের উম্মতকে তাঁদের পথ ও আদর্শের ওপর পরিচালিত করেন। সুতরাং কোনো সময়ই এমন কোনো আহ্বানকারী থেকে খালি ছিল না যিনি সত্যের সাথে আল্লাহর দিকে আহ্বান করেন অথবা বর্ণনা ও প্রমাণের মাধ্যমে তাঁর দিকে পথনির্দেশ করেন।

এবং তিনি তাঁদেরকে প্রতিটি যুগে বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত করেছেন। ফলে একজন ওলি অপর ওলির স্থলাভিষিক্ত হন তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ ও তাঁর আচরণের অনুকরণের মাধ্যমে। তাঁদের মাধ্যমেই মুরিদগণ শিষ্টাচার শিক্ষা করেন এবং একত্ববাদীগণ তাঁদের অনুসরণ করেন। মহান আল্লাহ বলেছেন, {যদি এমন কিছু মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী না থাকত যাদের সম্পর্কে তোমরা জানতে না যে তোমরা তাদেরকে পদদলিত করবে, ফলে তোমাদের অজ্ঞতাবশত তাদের কারণে কোনো গ্লানি বা কষ্ট পৌঁছাবে; (তবে আল্লাহ তোমাদের যুদ্ধের অনুমতি দিতেন) যাতে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাঁর রহমতে প্রবেশ করান।} আয়াত, সূরা আল-ফাতহ: ২৫

এবং নবী (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: (সর্বোত্তম মানুষ হলো আমার যুগের লোক, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী) - হাদিস।

এবং তিনি (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: (আমার উম্মতের দৃষ্টান্ত বৃষ্টির মতো, জানা যায় না এর শুরু উত্তম নাকি এর শেষ।)
(খণ্ড: ১) তবাকাতুস সূফিয়্যাহ লিস-সুলামী ওয়া ইয়ালীহি জিকরুন নিসওয়াতিল মুতাআব্বিদাতিল সূফিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ٢١)
فَعلم صلى الله عليه وسلم أَن آخر أمته لَا يَخْلُو من أَوْلِيَاء وبدلاء يبينون للْأمة ظواهر شرائعه وبواطن حقائقه ويحملونهم على آدابها ومواجبها إِمَّا بقول أَو بِفعل

فهم فِي الْأُمَم خلفاء الْأَنْبِيَاء وَالرسل صلوَات الله عَلَيْهِم وهم أَرْبَاب حقائق التَّوْحِيد والمحدثون وَأَصْحَاب الفراسات الصادقة والآداب الجميلة والمتبعون لسنن الرُّسُل صلوَات الله عَلَيْهِم أَجْمَعِينَ إِلَى أَن تقوم السَّاعَة

وَلذَلِك روى عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ (لَا يزَال فِي أمتِي أَرْبَعُونَ على خلق إِبْرَاهِيم الْخَلِيل عليه السلام إِذا جَاءَ الْأَمر قبضوا)

وَقد ذكرت فِي كتاب الزّهْد من الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ وتابعي التَّابِعين قرنا فقرنا وطبقة فطبقة إِلَى أَن بلغت النّوبَة إِلَى أَرْبَاب الْأَحْوَال الْمُتَكَلِّمين على لِسَان التفريد وحقائق التَّوْحِيد وَاسْتِعْمَال طرق التَّجْرِيد فَأَحْبَبْت أَن أجمع فِي سير متأخري الْأَوْلِيَاء كتابا أُسَمِّيهِ طَبَقَات الصُّوفِيَّة أجعله على خمس طَبَقَات من أَئِمَّة الْقَوْم ومشايخهم وعلمائهم فأذكر فِي كل طبقَة عشْرين شَيخا من أئمتهم الَّذين كَانُوا فِي زمَان وَاحِد أَو قريب بَعضهم من بعض وأذكر لكل وَاحِد من كَلَامه وشمائله وَسيرَته مَا يدل على طَرِيقَته وحاله وَعلمه بِقدر وسعى وطاقتي

وَهَذَا بعد أَن استخرت الله تَعَالَى فِي ذَلِك وَفِي جَمِيع أموري وبرئت فِيهِ من حَولي وقوتي وَسَأَلته أَن يُعِيننِي عَلَيْهِ وعَلى كل خير ويوفقني لَهُ ويجعلني من أَهله وَصلى الله عَلَيْهِ وَسلم وعَلى آله وَأَصْحَابه وأزواجه وَسلم كثيرا
সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতেন যে, তাঁর উম্মতের শেষভাগও এমন কিছু আউলিয়া ও আবদাল থেকে শূন্য হবে না, যারা উম্মতের সামনে তাঁর শরিয়তের বাহ্যিক দিক এবং হাকিকতের অভ্যন্তরীণ রহস্যসমূহ স্পষ্ট করবেন এবং কথা বা কাজের মাধ্যমে তাদেরকে শরিয়তের শিষ্টাচার ও আবশ্যিক বিধানাবলীর ওপর পরিচালিত করবেন।

সুতরাং তারা জাতিসমূহের মধ্যে নবী ও রাসূলগণের (তাঁদের ওপর আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক) উত্তরসূরি; তাঁরা তাওহিদের হাকিকতের ধারক, ইলহামপ্রাপ্ত আধ্যাত্মিক পুরুষ, সত্য অন্তর্দৃষ্টির অধিকারী এবং সর্বোত্তম শিষ্টাচারসম্পন্ন। কিয়ামত কায়েম হওয়া পর্যন্ত তাঁরা রাসূলগণের (তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক) সুন্নাহর অনুসারী।

আর এই কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "আমার উম্মতের মধ্যে সর্বদা চল্লিশজন ব্যক্তি ইবরাহিম খলিল আলাইহিস সালামের স্বভাবের ওপর বিদ্যমান থাকবে; যখন আল্লাহর নির্দেশ আসবে (মৃত্যু নির্ধারিত হবে), তখন তাঁদের জান কবজ করা হবে।"

আমি ইতোমধ্যেই আমার 'কিতাবুয যুহদ'-এ সাহাবী, তাবিঈ এবং তাবি-তাবিঈদের কথা যুগপরম্পরায় এবং স্তর অনুযায়ী উল্লেখ করেছি, যতক্ষণ না বিষয়টি আধ্যাত্মিক অবস্থার অধিকারী সেই ব্যক্তিদের পর্যন্ত পৌঁছেছে যারা একত্ববাদ ও তাওহিদের হাকিকতের ভাষায় কথা বলেন এবং দুনিয়া বিমুখতার পথ অবলম্বন করেন। তাই আমি পরবর্তী যুগের আউলিয়াদের জীবনী সম্পর্কে একটি গ্রন্থ সংকলন করতে আগ্রহী হলাম, যার নাম রেখেছি 'তাবাকাতুস সুফিয়া'। আমি একে এই জামাতের ইমাম, মাশায়েখ এবং ওলামাদের পাঁচটি স্তরে বিন্যস্ত করেছি। প্রত্যেক স্তরে আমি বিশজন করে এমন ইমামের কথা উল্লেখ করেছি যারা একই যুগের অথবা একে অপরের সমসাময়িক ছিলেন। আমি আমার সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁদের প্রত্যেকের এমন কিছু বাণী, গুণাবলি ও জীবন চরিত বর্ণনা করেছি যা তাঁদের পথ, আধ্যাত্মিক অবস্থা ও জ্ঞানের পরিচয় দেয়।

আর এই উদ্যোগ আমি গ্রহণ করেছি এই বিষয়ে এবং আমার সমস্ত কাজে মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করার পর, এবং নিজের শক্তি ও সামর্থ্যের অহমিকা থেকে বিমুক্ত হয়ে কেবল তাঁর ওপর নির্ভর করে। আমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করেছি যেন তিনি আমাকে এই কাজে এবং সকল কল্যাণে সাহায্য করেন, এর তাওফিক দান করেন এবং আমাকে এর যোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবী ও পবিত্র সহধর্মিণীদের ওপর অজস্র সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১) তবাকাতুস সূফিয়্যাহ লিস-সুলামী ওয়া ইয়ালীহি জিকরুন নিসওয়াতিল মুতাআব্বিদাতিল সূফিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ٢٢)
‌‌الطَّبَقَة الأولى

 

1 - مِنْهُم الفضيل بن عِيَاض بن مَسْعُود بن بشر التَّمِيمِي ثمَّ الْيَرْبُوعي

خراساني من نَاحيَة مرو من قَرْيَة يُقَال لَهَا فندين كَذَلِك ذكره إِبْرَاهِيم ابْن الْأَشْعَث صَاحبه فِيمَا أخبرنَا بِهِ يحيى بن مُحَمَّد العكرمي بِالْكُوفَةِ قَالَ سَمِعت الْحُسَيْن بن مُحَمَّد بن الفرزدق بِمصْر قَالَ سَمِعت أَحْمد بن حموك قَالَ سَمِعت نصر بن الْحُسَيْن البُخَارِيّ قَالَ سَمِعت إِبْرَاهِيم بن الْأَشْعَث يذكر ذَلِك

وَذكر إِبْرَاهِيم بن شماس أَنه ولد بسمرقند وَنَشَأ بأبيورد
প্রথম স্তর

 

১ - তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হলেন ফুদ্বাইল বিন ইয়াদ বিন মাসউদ বিন বিশর আত-তামিমি, অতঃপর আল-ইয়ারবুয়ি।

তিনি খোরাসানি, মার্ভ অঞ্চলের ফানদিন নামক একটি গ্রামের অধিবাসী। তাঁর সহচর ইব্রাহিম ইবনুল আশআস তদ্রূপ উল্লেখ করেছেন, যেমনটি কুফায় ইয়াহইয়া ইবনু মুহাম্মদ আল-ইকরিমী আমাদের অবহিত করেছেন। তিনি বলেন, আমি মিসরে হুসাইন ইবনু মুহাম্মদ ইবনুল ফারাযদাককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আহমাদ ইবনু হামূককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি নাসর ইবনুল হুসাইন আল-বুখারিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি ইব্রাহিম ইবনুল আশআসকে এটি বর্ণনা করতে শুনেছি।

ইব্রাহিম বিন শাম্মাস উল্লেখ করেছেন যে, তিনি সমরকন্দে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং আবিওয়ার্দে বেড়ে উঠেছেন।
(খণ্ড: ১) তবাকাতুস সূফিয়্যাহ লিস-সুলামী ওয়া ইয়ালীহি জিকরুন নিসওয়াতিল মুতাআব্বিদাতিল সূফিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ٢٣)
كَذَلِك سَمِعت أَحْمد بن مُحَمَّد بن رُمَيْح يَقُول سَمِعت إِبْرَاهِيم بن نصر الضَّبِّيّ بسمرقند يَقُول يَقُول سَمِعت مُحَمَّدًا بن عَليّ بن الْحسن بن شَقِيق يَقُول سَمِعت إِبْرَاهِيم بن شماس قَالَ سَمِعت الفضيل بن عِيَاض يَقُول ولدت بسمرقند ونشأت بأبيورد وَرَأَيْت بسمرقند عشرَة آلَاف جوزة بدرهم

سَمِعت أَبَا مُحَمَّد السَّمرقَنْدِي يَقُول سَمِعت السراج يَقُول سَمِعت الْجَوْهَرِي يَقُول حَدثنِي أَبُو عُبَيْدَة بن الفضيل بن عِيَاض قَالَ أَبى فُضَيْل ابْن عِيَاض بن مَسْعُود بن بشر يكنى بِأبي عَليّ من بني تَمِيم من بني يَرْبُوع من أنفسهم ولد بسمرقند وَنَشَأ بأبيورد وَالْأَصْل من الْكُوفَة

وَقَالَ عبد الله بن مُحَمَّد بن الْحَارِث فُضَيْل بن عِيَاض بخاري الأَصْل وَالله أعلم

مَاتَ فِي الْمحرم سنة سبع وَثَمَانِينَ وَمِائَة وَأسْندَ الحَدِيث

أخبرنَا أَبُو جَعْفَر مُحَمَّد بن أَحْمد بن سعيد الرَّازِيّ قَالَ أخبرنَا الْحُسَيْن بن دَاوُد الْبَلْخِي قَالَ أخبرنَا فُضَيْل بن عِيَاض قَالَ أخبرنَا مَنْصُور عَن إِبْرَاهِيم عَن عَلْقَمَة عَن عبد الله بن مَسْعُود رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم (يَقُول الله تَعَالَى للدنيا يَا دنيا مري على أوليائي وَلَا تحلولي لَهُم فتفتنيهم)
তেমনিভাবে আমি আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন রুমায়হ-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি সমরকন্দে ইবরাহীম ইবন নাসর আদ-দাব্বী-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মাদ ইবন আলী ইবনুল হাসান ইবন শাকীক-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইবরাহীম ইবন শাম্মাস-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ফুযাইল ইবন আইয়ায-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি সমরকন্দে জন্মগ্রহণ করেছি এবং আবিওয়ার্দে বেড়ে উঠেছি। আর আমি সমরকন্দে এক দিরহামে দশ হাজার আখরোট দেখেছি।

আমি আবু মুহাম্মাদ আস-সামারকান্দীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আস-সাররাজকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল-জাওহারীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমার নিকট আবু উবাইদাহ ইবন ফুযাইল ইবন আইয়ায বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা ফুযাইল ইবন আইয়ায ইবন মাসঊদ ইবন বিশর, তাঁর উপনাম আবু আলী। তিনি বনু তামীম গোত্রের বনু ইয়ারবু' বংশের অন্তর্ভুক্ত। তিনি সমরকন্দে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং আবিওয়ার্দে বেড়ে উঠেছেন, আর তাঁর আদি নিবাস ছিল কুফায়।

এবং আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবনুল হারিস বলেন: ফুযাইল ইবন আইয়ায মূলত বুখারার অধিবাসী ছিলেন, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

তিনি একশত সাতাশি হিজরী সালের মহররম মাসে ইন্তেকাল করেন এবং তিনি হাদিস বর্ণনা করেছেন।

আবু জাফর মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন সাঈদ আর-রাযী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হুসাইন ইবন দাউদ আল-বালখী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ফুযাইল ইবন আইয়ায আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মানসুর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবরাহীম থেকে, তিনি আলকামা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: (আল্লাহ তাআলা দুনিয়াকে বলেন: হে দুনিয়া! তুমি আমার বন্ধুদের জন্য তিক্ত হয়ে যাও এবং তাদের কাছে মিষ্টি হয়ো না, যাতে তুমি তাদের ফিতনায় না ফেলো)।
(খণ্ড: ১) তবাকাতুস সূফিয়্যাহ লিস-সুলামী ওয়া ইয়ালীহি জিকরুন নিসওয়াতিল মুতাআব্বিদাতিল সূফিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ٢٤)
أخبرنَا أَبُو مُحَمَّد عبد الله بن مُحَمَّد بن عبد الله بن عبد الرَّحْمَن الرَّازِيّ قَالَ سَمِعت مُحَمَّدًا بن نصر بن مَنْصُور الصَّائِغ قَالَ سَمِعت مرْدَوَيْه الصَّائِغ قَالَ سَمِعت الفضيل بن عِيَاض يَقُول من يجلس مَعَ صَاحب بِدعَة لم يُعْط الْحِكْمَة

قَالَ وَسمعت الفضيل يَقُول فِي آخر الزَّمَان أَقوام يكونُونَ إخْوَان الْعَلَانِيَة أَعدَاء السريرة

وَبِه قَالَ سَمِعت الفضيل يَقُول أَحَق النَّاس بِالرِّضَا عَن الله أهل الْمعرفَة بِاللَّه عز وجل

قَالَ وَسمعت الفضيل يَقُول لَا يَنْبَغِي لحامل الْقُرْآن أَن يكون لَهُ إِلَى خلق حَاجَة لَا إِلَى الْخُلَفَاء فَمن دونهم يَنْبَغِي أَن تكون حوائج الْخلق كلهم إِلَيْهِ

قَالَ وَسمعت الفضيل يَقُول لم يدْرك عندنَا من أدْرك بِكَثْرَة صِيَام وَلَا صَلَاة وَإِنَّمَا أدْرك بسخاء الْأَنْفس وسلامة الصَّدْر والنصح للْأمة

قَالَ وَسمعت الفضيل يَقُول لم يتزين النَّاس بِشَيْء أفضل من الصدْق وَطلب الْحَلَال

قَالَ وَسمعت الفضيل يَقُول أصل الزّهْد الرِّضَا عَن الله تَعَالَى
আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান আর-রাজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবন নাসর ইবন মানসুর আস-সাইগকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মারদাওয়াইহ আস-সাইগকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ফুদাইল ইবন ইয়াজকে বলতে শুনেছি: যে ব্যক্তি কোনো বিদআতীর সাথে বসবে তাকে হিকমত (প্রজ্ঞা) দান করা হবে না।

তিনি বলেন: এবং আমি ফুদাইলকে বলতে শুনেছি: শেষ জামানায় এমন কিছু সম্প্রদায় হবে যারা প্রকাশ্যে একে অপরের ভাই কিন্তু গোপনে একে অপরের শত্রু।

এবং একই সনদে তিনি বলেন: আমি ফুদাইলকে বলতে শুনেছি: মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ সম্পর্কে যারা মারেফত (পরিচয়) রাখেন, তারাই আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট থাকার বিষয়ে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হকদার।

তিনি বলেন: এবং আমি ফুদাইলকে বলতে শুনেছি: কুরআনের বাহকের জন্য এটি শোভনীয় নয় যে মাখলুকের কাছে তার কোনো প্রয়োজন থাকবে, খলিফাদের কাছেও নয় এবং তাদের নিচস্থদের কাছেও নয়; বরং উচিত হলো সমস্ত মাখলুকের প্রয়োজন যেন তার নিকটই সোপর্দ হয়।

তিনি বলেন: এবং আমি ফুদাইলকে বলতে শুনেছি: আমাদের মাঝে যারা উচ্চ মর্যাদা লাভ করেছেন, তারা অধিক রোজা পালন বা অধিক নামাজের মাধ্যমে তা লাভ করেননি; বরং তারা তা লাভ করেছেন আত্মার উদারতা, অন্তরের পরিচ্ছন্নতা এবং উম্মাহর প্রতি শুভকামনার মাধ্যমে।

তিনি বলেন: এবং আমি ফুদাইলকে বলতে শুনেছি: মানুষ সত্যবাদিতা এবং হালাল অন্বেষণের চেয়ে উত্তম আর কোনো কিছু দ্বারা নিজেদের সজ্জিত করেনি।

তিনি বলেন: এবং আমি ফুদাইলকে বলতে শুনেছি: জুহদ বা দুনিয়াবিমুখতার মূল হলো মহান আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট থাকা।
(খণ্ড: ১) তবাকাতুস সূফিয়্যাহ লিস-সুলামী ওয়া ইয়ালীহি জিকরুন নিসওয়াতিল মুতাআব্বিদাতিল সূফিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ٢٥)
قَالَ وسمعته يَقُول من عرف النَّاس استراح

قَالَ وسمعته يَقُول إِنِّي لَا أعتقد إخاء الرجل فِي الرِّضَا وَلَكِنِّي أعتقد إخاءه فِي الْغَضَب إِذا أغضبته

سَمِعت عبيد الله بن مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن حمدَان العكبري قَالَ حَدثنَا أَبُو مُحَمَّد بن الراجيان قَالَ حَدثنَا فتح بن شخرف قَالَ حَدثنَا عبد الله بن خبيق قَالَ قَالَ الفضيل تبَاعد من الْقُرَّاء فَإِنَّهُم إِن أحبوك مدحوك بِمَا لَيْسَ فِيك وَإِن أبغضوك شهدُوا عَلَيْك وَقبل مِنْهُم

سَمِعت مُحَمَّدًا بن الْحسن بن خَالِد الْبَغْدَادِيّ بنيسابور يَقُول سَمِعت أَحْمد بن مُحَمَّد ابْن صَالح يَقُول حَدثنَا مُحَمَّد بن جَعْفَر قَالَ حَدثنَا إِسْمَاعِيل بن يزِيد حَدثنَا إِبْرَاهِيم قَالَ سَأَلت الفضيل بن عِيَاض عَن التَّوَاضُع فَقَالَ أَن تخضع للحق وتنقاد لَهُ وَتقبل الْحق من كل من تسمعه مِنْهُ

سَمِعت عبيد الله بن عُثْمَان يَقُول سَمِعت مُحَمَّدًا بن الْحُسَيْن يَقُول سَمِعت الْمروزِي يَقُول سَمِعت بشرا بن الْحَارِث يَقُول قَالَ الفضيل بن عِيَاض أشتهي مَرضا بِلَا عواد

أخبرنَا أَبُو مُحَمَّد عبد الله بن أَحْمد بن جَعْفَر الشَّيْبَانِيّ قَالَ سَمِعت زَنْجوَيْه ابْن الْحسن اللباد قَالَ حَدثنَا عَليّ بن الْحسن الْهِلَالِي قَالَ حَدثنَا إِبْرَاهِيم بن
তিনি বললেন এবং আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, "যে ব্যক্তি মানুষকে চিনেছে, সে স্বস্তি পেয়েছে।"

তিনি বললেন এবং আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, "আমি সন্তুষ্টির সময় কোনো ব্যক্তির ভ্রাতৃত্বকে প্রকৃত ভ্রাতৃত্ব হিসেবে গণ্য করি না, বরং আমি তার ভ্রাতৃত্বকে গণ্য করি রাগের সময়, যখন আমি তাকে রাগান্বিত করি।"

আমি উবায়দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন হামদান আল-উকবরীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আবু মুহাম্মদ বিন আর-রাজিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, ফাতহ বিন শুখরুফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, আব্দুল্লাহ বিন খুবাইক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, ফুযাইল বলেছেন: "তোমরা ক্বারীদের থেকে দূরে থাকো। কারণ তারা যদি তোমাকে ভালোবাসে, তবে তোমার মধ্যে যা নেই তা দিয়ে তারা তোমার প্রশংসা করবে। আর যদি তারা তোমাকে ঘৃণা করে, তবে তোমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে এবং তাদের কথা কবুল করা হবে।"

আমি নিশাপুরে মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন খালিদ আল-বাগদাদীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমি আহমদ বিন মুহাম্মদ ইবনে সালেহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, মুহাম্মদ বিন জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, ইসমাইল বিন ইয়াজিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, আমি ফুযাইল বিন ইয়াযকে বিনয় (তাওয়াদু) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন, "তা হলো সত্যের সামনে মস্তক অবনত করা, তার অনুগত হওয়া এবং যার কাছ থেকেই সত্য শুনবে তা গ্রহণ করা।"

আমি উবায়দুল্লাহ বিন উসমানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমি মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইনকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমি আল-মারওয়াযীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমি বিশর বিন আল-হারিসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, ফুযাইল বিন ইয়ায বলেছেন, "আমি এমন এক রোগ কামনা করি যাতে কোনো দর্শনার্থী (সেবাশুশ্রূষাকারী) থাকবে না।"

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন জাফর আশ-শাইবানী, তিনি বলেন, আমি যানজুয়াহ ইবনুল হাসান আল-লাব্বাদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আলী বিন আল-হাসান আল-হিলালী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইব্রাহিম বিন
(খণ্ড: ১) তবাকাতুস সূফিয়্যাহ লিস-সুলামী ওয়া ইয়ালীহি জিকরুন নিসওয়াতিল মুতাআব্বিদাতিল সূফিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ٢٦)
الْأَشْعَث قَالَ سَمِعت الفضيل بن عِيَاض يَقُول إِن فِيكُم خَصْلَتَيْنِ هما من الْجَهْل الضحك من غير عجب والتصبح من غير سهر

قَالَ وسمعته يَقُول من أظهر لِأَخِيهِ الود والصفاء بِلِسَانِهِ وأضمر لَهُ الْعَدَاوَة والبغضاء لَعنه الله فأصمه وأعمى بَصِيرَة قلبه

قَالَ وَسمعت الفضيل بن عِيَاض يَقُول فِي قَول الله تَعَالَى {إِن فِي هَذَا لبلاغا لقوم عابدين} الْآيَة {الْأَنْبِيَاء} لذين يُحَافِظُونَ على الصَّلَوَات الْخمس

قَالَ وسمعته يَقُول كَانَ يُقَال جعل الشَّرّ كُله فِي بَيت وَجعل مفتاحه الرَّغْبَة فِي الدُّنْيَا وَجعل الْخَيْر كُله فِي بَيت وَجعل مفتاحه الزّهْد فِي الدُّنْيَا

قَالَ وسمعته يَقُول من كف شَره فَمَا ضيع مَا سره

وَبِه قَالَ الفضيل ثَلَاث خِصَال تقسي الْقلب كَثْرَة الْأكل وَكَثْرَة النّوم وَكَثْرَة الْكَلَام

قَالَ وَسمعت الفضيل يَقُول خير الْعَمَل أخفاه وأمنعه من الشَّيْطَان وأبعده من الرِّيَاء

قَالَ وسمعته يَقُول إِن من شكر النِّعْمَة أَن نُحدث بهَا

وَبِه قَالَ الفضيل أَبى الله إِلَّا أَن يَجْعَل أرزاق الْمُتَّقِينَ من حَيْثُ لَا يحتسبون

وَبِه قَالَ الفضيل لَا عمل لمن لَا نِيَّة لَهُ وَلَا أجر لمن لَا حسبَة لَهُ
আশআছ বলেন, আমি ফুযাইল ইবন ইয়াযকে বলতে শুনেছি, তোমাদের মধ্যে এমন দুটি স্বভাব রয়েছে যা মূর্খতার অন্তর্ভুক্ত: বিস্ময়কর কিছু ছাড়াই হাসা এবং রাত জাগরণ ছাড়াই সকালে ঘুমানো।

তিনি বলেন, আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রতি মুখে ভালোবাসা ও আন্তরিকতা প্রকাশ করে কিন্তু অন্তরে তার প্রতি শত্রুতা ও বিদ্বেষ পোষণ করে, আল্লাহ তাকে লানত করেন, ফলে তিনি তাকে বধির করে দেন এবং তার অন্তরের অন্তর্দৃষ্টি অন্ধ করে দেন।

তিনি বলেন, আমি ফুযাইল ইবন ইয়াযকে আল্লাহ তাআলার এই বাণী সম্পর্কে বলতে শুনেছি: {নিশ্চয় এতে ইবাদতকারী সম্প্রদায়ের জন্য বার্তা রয়েছে} [সূরা আল-আম্বিয়া], (অর্থাৎ) যারা পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের নিয়মিত হিফাযত করে।

তিনি বলেন, আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, বলা হতো: সমস্ত অকল্যাণকে একটি ঘরে রাখা হয়েছে এবং দুনিয়ার প্রতি লালসাকে তার চাবিকাঠি করা হয়েছে; আর সমস্ত কল্যাণকে একটি ঘরে রাখা হয়েছে এবং দুনিয়াবিমুখতাকে তার চাবিকাঠি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি তার অনিষ্ট থেকে অন্যকে বিরত রাখে, সে তার আনন্দদায়ক বিষয়সমূহকে নষ্ট করেনি।

এই একই সূত্রে বর্ণিত, ফুযাইল বলেন: তিনটি স্বভাব অন্তরকে কঠোর করে দেয়: অতিরিক্ত আহার, অতিরিক্ত নিদ্রা এবং অতিরিক্ত কথা বলা।

তিনি বলেন, আমি ফুযাইলকে বলতে শুনেছি: সর্বোত্তম আমল হলো যা সবচেয়ে বেশি গোপন, শয়তান থেকে সবচেয়ে বেশি সুরক্ষিত এবং লোকদেখানো প্রদর্শনী থেকে সবচেয়ে বেশি দূরে।

তিনি বলেন, আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি দিক হলো তা নিয়ে আলোচনা করা।

এই একই সূত্রে বর্ণিত, ফুযাইল বলেন: আল্লাহ মুত্তাকীদের রিযিক এমন উৎস থেকে প্রদান করা অবধারিত করেছেন যা তারা কল্পনাও করতে পারে না।

এই একই সূত্রে বর্ণিত, ফুযাইল বলেন: যার নিয়ত নেই তার কোনো আমল নেই, আর যে সওয়াবের আশা করে না তার জন্য কোনো প্রতিদান নেই।
(খণ্ড: ১) তবাকাতুস সূফিয়্যাহ লিস-সুলামী ওয়া ইয়ালীহি জিকরুন নিসওয়াতিল মুতাআব্বিদাতিল সূফিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ٢٧)
وَبِه قَالَ طُوبَى لمن استوحش من النَّاس وَأنس بربه وَبكى على خطيئته

وَمِنْهُم ذُو النُّون بن إِبْرَاهِيم الْمصْرِيّ أَبُو الْفَيْض وَيُقَال ثَوْبَان ابْن إِبْرَاهِيم وَذُو النُّون لقب وَيُقَال الْفَيْض بن إِبْرَاهِيم

سَمِعت عليا بن عمر بن أَحْمد بن مهْدي الْحَافِظ بِبَغْدَاد يَقُول أَخْبرنِي الْحُسَيْن بن أَحْمد بن الماذرائي قَالَ قَرَأَ عَليّ أَبُو عمر الْكِنْدِيّ فِي كِتَابه أَعْيَان الموَالِي فَذكر فِيهِ وَمِنْهُم ذُو النُّون بن إِبْرَاهِيم الأخميمي مولى لقريش وَكَانَ أَبوهُ إِبْرَاهِيم نوبيا

توفّي سنة خمس وَأَرْبَعين وَمِائَتَيْنِ كَذَلِك أَخْبرنِي عَليّ بن عمر أَخْبرنِي الْحسن بن رَشِيق الْمصْرِيّ إجَازَة حَدثنِي جبلة بن مُحَمَّد الصَّدَفِي حَدثنَا عبد الله بن سعيد بن كثير ابْن عفير بذلك

وَقيل مَاتَ سنة ثَمَان وَأَرْبَعين
এবং তার মাধ্যমেই তিনি বলেছেন, সেই ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ যে মানুষের সঙ্গ থেকে নির্জনতা অবলম্বন করেছে, নিজের প্রতিপালকের সাথে সখ্যতা লাভ করেছে এবং নিজের অপরাধের জন্য ক্রন্দন করেছে।

তাদের মধ্যে রয়েছেন যুন্নুন বিন ইবরাহিম আল-মিসরি আবুল ফায়য; বলা হয় তাঁর নাম সাওবান বিন ইবরাহিম, আর যুন্নুন হলো তাঁর উপাধি; আবার কারো মতে তাঁর নাম ফায়য বিন ইবরাহিম।

আমি বাগদাদে হাফিজ আলী বিন উমর বিন আহমদ বিন মাহদিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমাকে হুসাইন বিন আহমদ বিন আল-মাযরাই সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু উমর আল-কিন্দি তাঁর ‘আয়ানুল মাওয়ালি’ নামক কিতাবে আমার সম্মুখে পাঠ করেছেন, তাতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন যুন্নুন বিন ইবরাহিম আল-আখমিমি, যিনি কুরাইশদের আযাদকৃত দাস ছিলেন এবং তাঁর পিতা ইবরাহিম ছিলেন একজন নুবিয়ান।

তিনি দুইশত পঁয়তাল্লিশ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। এভাবেই আলী বিন উমর আমাকে সংবাদ দিয়েছেন। হাসান বিন রশিক আল-মিসরি আমাকে ইজাজতসূত্রে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: জাবালাহ বিন মুহাম্মদ আস-সাদাফি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ বিন সাঈদ বিন কাসির ইবনে উফাইর আমাদের নিকট তা বর্ণনা করেছেন।

বলা হয় যে, তিনি দুইশত আটচল্লিশ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) তবাকাতুস সূফিয়্যাহ লিস-সুলামী ওয়া ইয়ালীহি জিকরুন নিসওয়াতিল মুতাআব্বিদাতিল সূফিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ٢٨)
وَأسْندَ الحَدِيث أخبرنَا عبد الله بن الْحُسَيْن بن إِبْرَاهِيم الصُّوفِي أخبرنَا مُحَمَّد بن حمدون بن مَالك الْبَغْدَادِيّ أخبرنَا الْحسن بن أَحْمد بن الْمُبَارك وَأخْبرنَا أَحْمد بن صليح الفيومي أخبرنَا ذُو النُّون الْمصْرِيّ عَن اللَّيْث بن سعد عَن نَافِع عَن ابْن عمر قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم (الدُّنْيَا سجن الْمُؤمن وجنة الْكَافِر)

سَمِعت مَنْصُور بن عبد الله يَقُول سَمِعت الْعَبَّاس بن عبد الله الوَاسِطِيّ قَالَ سَمِعت إِبْرَاهِيم بن يُونُس يَقُول سَمِعت ذَا النُّون يَقُول إياك تكون بالمعرفة مُدعيًا أَو تكون بالزهد محترفا أَو تكون بِالْعبَادَة مُتَعَلقا

وَبِه قَالَ سَمِعت ذَا النُّون وَسُئِلَ مَا أخْفى الْحجاب وأشده قَالَ رُؤْيَة النَّفس وتدبيرها
এবং তিনি হাদীসটি বর্ণনা করেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন আল-হুসাইন বিন ইব্রাহীম আস-সুফি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন হামদুন বিন মালিক আল-বাগদাদি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাসান বিন আহমদ বিন আল-মুবারক এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন সালিহ আল-ফাইয়ুমি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যুন্নুন আল-মিসরি, লাইস বিন সাদ থেকে, তিনি নাফি থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "দুনিয়া মুমিনের জন্য জেলখানা এবং কাফেরের জন্য জান্নাত।"

আমি মানসুর বিন আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আল-আব্বাস বিন আবদুল্লাহ আল-ওয়াসিতিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি ইব্রাহীম বিন ইউনুসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি যুন্নুনকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: সাবধান! তুমি যেন মারেফাতের দাবিদার না হও, অথবা সংসারবিরাগের ক্ষেত্রে পেশাদার না হও, অথবা কেবল ইবাদতের আনুষ্ঠানিকতায় আবদ্ধ না হয়ে পড়ো।

এবং এই সূত্রেই তিনি বলেন: আমি যুন্নুনকে বলতে শুনেছি, যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো যে, সবচেয়ে গোপন ও কঠোর অন্তরায় কোনটি? তিনি বললেন: "নিজ নফসকে দেখা এবং তার পরিকল্পনা করা।"
(খণ্ড: ১) তবাকাতুস সূফিয়্যাহ লিস-সুলামী ওয়া ইয়ালীহি জিকরুন নিসওয়াতিল মুতাআব্বিদাতিল সূফিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ٢٩)
أخبرنَا الْحسن بن رَشِيق إجَازَة قَالَ حَدثنَا عَليّ بن يَعْقُوب بن سُوَيْد الْوراق حَدثنَا مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم الْبَغْدَادِيّ حَدثنَا مُحَمَّد بن سعيد الْخَوَارِزْمِيّ قَالَ سَمِعت ذَا النُّون وَسُئِلَ عَن الْمحبَّة قَالَ أَن تحب مَا أحب الله وَتبْغض مَا أبْغض الله وَتفعل الْخَيْر كُله وترفض كل مَا يشغل عَن الله وَألا تخَاف فِي الله لومة لائم مَعَ الْعَطف للْمُؤْمِنين والغلظة على الْكَافرين وَاتِّبَاع رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي الدّين

سَمِعت أَبَا بكر مُحَمَّد بن عبد الله بن شَاذان الرَّازِيّ يَقُول سَمِعت يُوسُف ابْن الْحُسَيْن يَقُول سَمِعت ذَا النُّون يَقُول قَالَ الله تَعَالَى (من كَانَ لي مُطيعًا كنت لَهُ وليا فليثق بِي وليحكم عَليّ فَوَعِزَّتِي لَو سَأَلَني زَوَال الدُّنْيَا لأزلتها لَهُ)

أَخْبرنِي مُحَمَّد بن أَحْمد بن يَعْقُوب إجَازَة أَن عبد الله بن مُحَمَّد بن مَيْمُون حَدثهمْ قَالَ سَأَلت ذَا النُّون عَن الصُّوفِي فَقَالَ من إِذا نطق أبان نطقه عَن الْحَقَائِق وَإِن سكت نطقت عَنهُ الْجَوَارِح بِقطع العلائق

وَبِه قَالَ سَمِعت ذَا النُّون يَقُول الْأنس بِاللَّه من صفاء الْقلب مَعَ الله والتفرد بِاللَّه الِانْقِطَاع من كل شَيْء سوى الله

سَمِعت أَبَا عُثْمَان سعيد بن أَحْمد بن جَعْفَر يَقُول سَمِعت مُحَمَّد بن أَحْمد ابْن مُحَمَّد بن سهل يَقُول سَمِعت سعيد بن عُثْمَان الْخياط يَقُول سَمِعت ذَا
আল-হাসান বিন রাশিক অনুমতিসূত্রে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আলী বিন ইয়াকুব বিন সুওয়াইদ আল-ওয়াররাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আল-বাগদাদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন সাঈদ আল-খাওয়ারিজমি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি যুন-নুনকে বলতে শুনেছি, যখন তাঁকে মহব্বত (ভালোবাসা) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বলেন: “আল্লাহ যা ভালোবাসেন তা ভালোবাসা এবং আল্লাহ যা অপছন্দ করেন তা অপছন্দ করা, সকল কল্যাণকর কাজ করা এবং আল্লাহ থেকে বিমুখ করে এমন সবকিছু বর্জন করা। আল্লাহর ব্যাপারে কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় না করা, সেই সাথে মুমিনদের প্রতি কোমল হওয়া এবং কাফিরদের প্রতি কঠোর হওয়া এবং দ্বীনের ক্ষেত্রে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করা।”

আমি আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন শাযান আল-রাযীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইউসুফ ইবনুল হুসাইনকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি যুন-নুনকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহ তাআলা বলেছেন: “যে ব্যক্তি আমার অনুগত হবে, আমি তার অভিভাবক হব। সুতরাং সে যেন আমার ওপর ভরসা করে এবং আমার কাছেই প্রার্থনা করে। আমার ইজ্জতের কসম, সে যদি আমার কাছে দুনিয়ার বিনাশ চায়, তবে আমি তার জন্য দুনিয়াকে বিলুপ্ত করে দেব।”

মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন ইয়াকুব অনুমতিসূত্রে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন মাইমুন তাঁদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি যুন-নুনকে সুফি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বলেন: “সুফি সেই ব্যক্তি, যার কথা বলার সময় তার কথা হাকীকতসমূহকে (পরম সত্য) প্রকাশ করে, আর যদি সে নীরব থাকে তবে তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহ পার্থিব সম্পর্ক ছিন্ন করার মাধ্যমে কথা বলে ওঠে।”

একই সনদে তিনি বলেন: আমি যুন-নুনকে বলতে শুনেছি: “আল্লাহর সাথে অন্তরঙ্গতা (উনস) আসে আল্লাহর সাথে হৃদয়ের স্বচ্ছতা থেকে, আর আল্লাহর সাথে একাকীত্ব (তাফাররুদ) হলো আল্লাহ ব্যতীত অন্য সবকিছু থেকে বিচ্ছেদ হওয়া।”

আমি আবু উসমান সাঈদ বিন আহমাদ বিন জাফরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন সাহলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি সাঈদ বিন উসমান আল-খাইয়াতকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি যুন-নুনকে বলতে শুনেছি...
(খণ্ড: ১) তবাকাতুস সূফিয়্যাহ লিস-সুলামী ওয়া ইয়ালীহি জিকরুন নিসওয়াতিল মুতাআব্বিদাতিল সূফিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ٣٠)
النُّون يَقُول من أَرَادَ التَّوَاضُع فليوجه نَفسه إِلَى عَظمَة الله فَإِنَّهَا تذوب وتصفو وَمن نظر إِلَى سُلْطَان الله ذهب سُلْطَان نَفسه لِأَن النُّفُوس كلهَا فقيرة عِنْد هيبته

قَالَ وَسمعت سعيد بن عُثْمَان يَقُول سَمِعت ذَا النُّون يَقُول لم أر أَجْهَل من طَبِيب يداوي سَكرَان فِي وَقت سكره لن يكون لسكره دَوَاء حَتَّى يفِيق فيداوى بِالتَّوْبَةِ

وَبِه قَالَ سَمِعت ذَا النُّون يَقُول لم أر شَيْئا أبْعث لطلب الْإِخْلَاص من الْوحدَة لِأَنَّهُ إِذا خلا لم ير غير الله تَعَالَى فَإِذا لم ير غَيره لم يحركه إِلَّا حكم الله وَمن أحب الْخلْوَة فقد تعلق بعمود الْإِخْلَاص واستمسك بِرُكْن كَبِير من أَرْكَان الصدْق

وَبِه قَالَ سَمِعت ذَا النُّون يَقُول من عَلَامَات الْمحبَّة لله مُتَابعَة حبيب الله فِي أخلاقه وأفعاله وَأمره وسننه

وسمعته يَقُول إِذا صَحَّ الْيَقِين فِي الْقلب صَحَّ الْخَوْف فِيهِ

سَمِعت مَنْصُور بن عبد الله يَقُول سَمِعت الْعَبَّاس بن يُوسُف يَقُول سَمِعت سعيد بن عُثْمَان يَقُول أَنْشدني ذُو النُّون
যুন-নুন বলেন, যে ব্যক্তি বিনয় অর্জন করতে চায়, সে যেন তার নফসকে আল্লাহর মহত্ত্বের দিকে নিবদ্ধ করে; কারণ তখন তা বিগলিত ও স্বচ্ছ হয়ে যাবে। আর যে আল্লাহর কর্তৃত্বের দিকে তাকাবে, তার নিজের নফসের কর্তৃত্ব বিলুপ্ত হবে, কেননা তাঁর গাম্ভীর্যের সামনে সকল নফসই নিঃস্ব।

তিনি বলেন, আমি সাঈদ বিন উসমানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি যুন-নুনকে বলতে শুনেছি, মাতাল অবস্থায় কোনো মাতালকে চিকিৎসা করে এমন চিকিৎসকের চেয়ে মূর্খ আমি আর কাউকে দেখিনি। মাতলামির কোনো ওষুধ নেই যতক্ষণ না সে সজাগ হয়, অতঃপর তওবার মাধ্যমে তার চিকিৎসা করা হয়।

এবং একই সূত্রে তিনি বলেন, আমি যুন-নুনকে বলতে শুনেছি, ইখলাস বা একনিষ্ঠতা অন্বেষণের জন্য নির্জনতার চেয়ে বেশি প্রেরণাদায়ক আমি আর কিছু দেখিনি। কারণ সে যখন নির্জনে থাকে, তখন সে আল্লাহ তাআলা ব্যতীত আর কাউকে দেখে না। আর যখন সে অন্য কাউকে দেখে না, তখন আল্লাহর বিধান ছাড়া অন্য কিছু তাকে চালিত করে না। যে ব্যক্তি নির্জনতাকে ভালোবাসল, সে ইখলাসের স্তম্ভকে আঁকড়ে ধরল এবং সত্যবাদিতার রুকনসমূহের মধ্য থেকে এক মহান রুকনকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করল।

এবং একই সূত্রে তিনি বলেন, আমি যুন-নুনকে বলতে শুনেছি, আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার অন্যতম নিদর্শন হলো তাঁর প্রিয়তমের (রাসূলুল্লাহর) চরিত্র, কর্ম, আদেশ ও সুন্নতের অনুসরণ করা।

আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, যখন অন্তরে ইয়াকিন বা দৃঢ় বিশ্বাস সঠিক হয়, তখন তাতে আল্লাহর ভয়ও সঠিক হয়।

আমি মানসুর বিন আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আব্বাস বিন ইউসুফকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি সাঈদ বিন উসমানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, যুন-নুন আমাকে কবিতা শুনিয়েছেন:
(খণ্ড: ১) তবাকাতুস সূফিয়্যাহ লিস-সুলামী ওয়া ইয়ালীহি জিকরুন নিসওয়াতিল মুতাআব্বিদাতিল সূফিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ٣١)
(أَمُوت وَمَا مَاتَت إِلَيْك صبابتي … وَلَا قضيت من صدق حبك أوطاري)

(مناي المنى كل المنى أَنْت لي مني … وَأَنت الْغَنِيّ كل الْغنى عِنْد إقتاري)

(وَأَنت مدى سؤلي وَغَايَة رغبتي … وَمَوْضِع آمالي ومكنون إضماري)

(تحمل قلبِي فِيك مَا لَا أبثه … وَإِن طَال سقمي فِيك أَو طَال إضراري)

(وَبَين ضلوعي مِنْك مَا لَك قد بدا … وَلم يبد باديه لأهل وَلَا جَار)

(وَبِي مِنْك فِي الأحشاء دَاء مخامر … وَقد هدمني الرُّكْن وانبث إسراري)

(أَلَسْت دَلِيل الركب إِن هم تحيروا … ومنقذ من أشفى على جرف هاري)

(أنرت الْهدى للمهتدين وَلم يكن … من النُّور فِي أَيْديهم عشر معشار)

(فنلني بِعَفْو مِنْك أَحْيَا بِقُرْبِهِ … اغثني بيسر مِنْك يطرد إعساري)

قَالَ وَسمعت ذَا النُّون يَقُول لَئِن مددت يَدي إِلَيْك دَاعيا لطالما كفيتني سَاهِيا أأقطع مِنْك رجاي بِمَا عملت يداي حسبي من سُؤَالِي علمك بحالي

وَبِه قَالَ ذُو النُّون كل مُدع مَحْجُوب بِدَعْوَاهُ عَن شُهُود الْحق لِأَن الْحق شَاهد لأهل الْحق لِأَن الله هُوَ الْحق وَقَوله الْحق وَلَا يحْتَاج أَن يَدعِي إِذا كَانَ الْحق شَاهدا لَهُ فَأَما إِذا كَانَ غَائِبا فَحِينَئِذٍ يدعى وَإِنَّمَا تقع الدَّعْوَى للمحجوبين
(আমি মৃত্যুবরণ করছি অথচ তোমার প্রতি আমার অনুরাগ ফুরিয়ে যায়নি … আর তোমার প্রতি আমার অকৃত্রিম ভালোবাসার কোনো উদ্দেশ্যই আমি পূর্ণ করতে পারিনি)

(আমার আকাঙ্ক্ষা, আকাঙ্ক্ষার সমস্ত নির্যাস, তুমিই আমার একমাত্র কামনা … আর আমার রিক্ততার সময় তুমিই আমার পরম সচ্ছলতা)

(তুমিই আমার যাঞ্চার শেষ সীমা ও আমার কামনার চূড়ান্ত লক্ষ্য … আমার সকল আশার আশ্রয়স্থল এবং আমার অন্তরের গূঢ় রহস্য)

(তোমার প্রেমে আমার হৃদয় এমন কিছু বহন করছে যা আমি ব্যক্ত করতে পারি না … যদিও তোমার প্রেমে আমার অসুস্থতা দীর্ঘ হয় কিংবা আমার কষ্ট প্রলম্বিত হয়)

(আমার পাঁজরের ভেতরে তোমার পক্ষ থেকে এমন কিছু রয়েছে যা তোমার নিকট প্রকাশমান … অথচ তা কোনো আপনজন কিংবা প্রতিবেশীর নিকট প্রকাশ পায়নি)

(তোমার বিরহে আমার নাড়িভুঁড়িতে এমন এক রোগ বাসা বেঁধেছে যা আমাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে … যা আমার অস্তিত্বের ভিত্তিকে ধসিয়ে দিয়েছে এবং আমার সকল গোপন রহস্যকে ছড়িয়ে দিয়েছে)

(কাফেলা যদি পথ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে, তবে কি তুমি তাদের পথপ্রদর্শক নও? … আর যে ব্যক্তি পতনোন্মুখ ধ্বংসের কিনারে দাঁড়িয়েছে, তুমি কি তার উদ্ধারকর্তা নও?)

(তুমি হেদায়েতপ্রাপ্তদের জন্য হেদায়েতের পথ উদ্ভাসিত করেছ, অথচ তাদের কাছে থাকা সেই নূরের পরিমাণ … প্রকৃত নূরের দশ ভাগের এক ভাগও ছিল না)

(সুতরাং তোমার পক্ষ থেকে আমাকে সেই ক্ষমা দান করো যার সান্নিধ্যে আমি বেঁচে থাকব … তোমার পক্ষ থেকে এমন সহজতা দিয়ে আমাকে সাহায্য করো যা আমার সকল কঠিন অবস্থাকে দূর করে দেবে)

তিনি বলেন: আমি যুন-নুনকে বলতে শুনেছি যে, "আমি যদি দোয়াকারী হিসেবে তোমার দিকে আমার হাত বাড়িয়ে দিই, তবে তুমি তো দীর্ঘকাল আমার অসতর্ক অবস্থায় আমাকে রক্ষা করেছ। আমার দুই হাত যা অর্জন করেছে, তার কারণে কি আমি তোমার প্রতি আমার আশা ছিন্ন করব? আমার অবস্থা সম্পর্কে তোমার পরিজ্ঞাত থাকাই আমার যাঞ্চার জন্য যথেষ্ট।"

এবং এই সূত্রেই যুন-নুন বলেন: প্রত্যেক দাবিদার তার দাবির কারণে 'হক' (সত্য) প্রত্যক্ষ করা থেকে পর্দার অন্তরালে থাকে। কেননা 'হক' তো হকের অনুসারীদের জন্য নিজেই সাক্ষী। কারণ আল্লাহই হলেন 'হক' এবং তাঁর বাণী সত্য। যদি 'হক' কারো জন্য সাক্ষী হয়, তবে তার দাবির প্রয়োজন হয় না। পক্ষান্তরে যখন তা অনুপস্থিত থাকে, তখনই দাবি করার অবকাশ থাকে। মূলত দাবি কেবল তাদের পক্ষ থেকেই প্রকাশ পায় যারা সত্য থেকে অবগুণ্ঠিত।
(খণ্ড: ১) তবাকাতুস সূফিয়্যাহ লিস-সুলামী ওয়া ইয়ালীহি জিকরুন নিসওয়াতিল মুতাআব্বিদাতিল সূফিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ٣٢)
وَبِه قَالَ ذُو النُّون من أنس بالخلق فقد استمكن من بِسَاط الفراعنة وَمن غيب عَن مُلَاحظَة نَفسه فقد استمكن من الْإِخْلَاص وَمن كَانَ حَظه فِي الْأَشْيَاء هُوَ لَا يُبَالِي مَا فَاتَهُ مِمَّا هُوَ دونه

سَمِعت أَبَا الْحسن عَليّ بن مُحَمَّد الْقزْوِينِي يَقُول سَمِعت عَليّ بن أَحْمد ابْن مُحَمَّد البزناني يَقُول سَمِعت مُحَمَّد بن الْحُسَيْن يَقُول سَمِعت فَارِسًا يَقُول سَمِعت يُوسُف بن الْحُسَيْن يَقُول سَمِعت ذَا النُّون يَقُول الصدْق سيف الله فِي أرضه مَا وضع على شَيْء إِلَّا قطعه

وبإسناده قَالَ ذُو النُّون من تزين بِعَمَلِهِ كَانَت حَسَنَاته سيئات

سَمِعت أَحْمد بن عَليّ بن جَعْفَر يَقُول سَمِعت فَارِسًا يَقُول سَمِعت يُوسُف بن الْحُسَيْن يَقُول سَمِعت ذَا النُّون يَقُول بِأول قدم تطلبه تُدْرِكهُ وتجده
এবং তাঁর সূত্রে যুন-নূন বলেন, যে ব্যক্তি সৃষ্টির সাথে অন্তরঙ্গতা লাভ করল সে ফেরাউনদের গালিচায় নিজের স্থান করে নিল। আর যে ব্যক্তি নিজের নফসকে পর্যবেক্ষণ করা হতে বিমুখ হলো সে ইখলাস বা একনিষ্ঠতার ওপর সামর্থ্য লাভ করল। আর সবকিছুর মাঝে যার পরম প্রাপ্তি হলেন আল্লাহ, সে তাঁর নিম্নস্তরের যা কিছু হারিয়েছে তার পরোয়া করে না।

আমি আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ আল-কাযউইনীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আলী বিন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-বাযনানীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইনকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি ফারিসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি ইউসুফ বিন আল-হুসাইনকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি যুন-নূনকে বলতে শুনেছি: সত্যবাদিতা হলো জমিনে আল্লাহর তলোয়ার, যা কিছুর ওপরই তা রাখা হয়, তাকে সে দ্বিখণ্ডিত করে দেয়।

এবং তাঁর সনদসহ বর্ণিত যে যুন-নূন বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজের আমল দ্বারা নিজেকে সুশোভিত করল, তার পুণ্যসমূহ পাপে পরিণত হলো।

আমি আহমদ বিন আলী বিন জাফরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি ফারিসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি ইউসুফ বিন আল-হুসাইনকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি যুন-নূনকে বলতে শুনেছি: তাকে অন্বেষণ করার প্রথম পদক্ষেপেই তুমি তাকে পেয়ে যাবে এবং লাভ করবে।
(খণ্ড: ১) তবাকাতুস সূফিয়্যাহ লিস-সুলামী ওয়া ইয়ালীহি জিকরুন নিসওয়াতিল মুতাআব্বিদাতিল সূফিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ٣٣)
وبإسناده قَالَ سَمِعت ذَا النُّون يَقُول أدنى منَازِل الْأنس أَن يلقى فِي النَّار فَلَا يغيب همه عَن مأموله

سَمِعت أَبَا سعيد أَحْمد بن مُحَمَّد بن رُمَيْح الْحَافِظ يَقُول سَمِعت أَبَا يعلى ابْن خلف يَقُول سَمِعت ابْن البرقي يَقُول سَمِعت ذَا النُّون يَقُول الْأنس بِاللَّه نور سَاطِع والأنس بالخلق غم وَاقع

سَمِعت نصر بن مُحَمَّد بن أَحْمد بن يَعْقُوب الْعَطَّار يَقُول سَمِعت أَبَا مُحَمَّد البلاذري يَقُول سَمِعت يُوسُف بن الْحُسَيْن يَقُول سَمِعت ذَا النُّون يَقُول لله عباد تركُوا الذَّنب استحياء من كرمه بعد أَن تَرَكُوهُ خوفًا من عُقُوبَته وَلَو قَالَ لَك اعْمَلْ مَا شِئْت فلست آخذك بذنب كَانَ يَنْبَغِي أَن يزيدك كرمه استحياء مِنْهُ وتركا لمعصيته إِن كنت حرا كَرِيمًا عبدا شكُورًا فَكيف وَقد حذرك

وبإسناده قَالَ ذُو النُّون الْخَوْف رَقِيب الْعَمَل والرجاء شَفِيع المحن

وبإسناده قَالَ ذُو النُّون اطلب الْحَاجة بِلِسَان الْفقر لَا بِلِسَان الحكم

سَمِعت أَحْمد بن عَليّ بن جَعْفَر يَقُول سَمِعت الْحسن بن سهل بن عَاصِم يَقُول سَمِعت عَليّ بن عبد الله الكرجي يَقُول سَمِعت ذَا النُّون يَقُول مِفْتَاح الْعِبَادَة الفكرة وعلامة الْهوى مُتَابعَة الشَّهَوَات وعلامة التَّوَكُّل انْقِطَاع المطامع

سَمِعت أَحْمد بن عَليّ بن جَعْفَر يَقُول سَمِعت فَارِسًا يَقُول سَمِعت
এবং তাঁর সনদে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি যুন-নূনকে বলতে শুনেছি: "আল্লাহর সাথে ঘনিষ্ঠতার (উনস) সর্বনিম্ন স্তর হলো এই যে, তাকে যদি আগুনের মধ্যেও নিক্ষেপ করা হয়, তবুও তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য হতে তার চিন্তা বিচ্যুত হবে না।"

আমি আবু সাঈদ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে রুমাইহ আল-হাফিজকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আবু ইয়ালা ইবনে খালাফকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি ইবনুল বারকিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি যুন-নূনকে বলতে শুনেছি: "আল্লাহর সাথে ঘনিষ্ঠতা এক উজ্জ্বল নূর, আর সৃষ্টিজীবের সাথে ঘনিষ্ঠতা এক আপতিত দুঃখ।"

আমি নাসর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ইয়াকুব আল-আত্তারকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আবু মুহাম্মদ আল-বালাজুরিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি ইউসুফ ইবনুল হুসাইনকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি যুন-নূনকে বলতে শুনেছি: "আল্লাহর এমন কিছু বান্দা রয়েছেন যারা তাঁর শাস্তির ভয়ে পাপ বর্জন করার পর তাঁর মহানুভবতার প্রতি লজ্জাবোধ থেকে পাপ বর্জন করেছেন। যদি তিনি তোমাকে বলতেন, 'তুমি যা ইচ্ছা করো, আমি তোমাকে তোমার কোনো পাপের জন্য পাকড়াও করব না', তবুও তাঁর মহানুভবতার কারণে তাঁর প্রতি তোমার লজ্জাবোধ এবং তাঁর অবাধ্যতা বর্জন করা আরও বৃদ্ধি পাওয়া উচিত ছিল—যদি তুমি মুক্ত, মহৎ এবং কৃতজ্ঞ বান্দা হতে। তবে তিনি তো তোমাকে সতর্ক করেছেন!"

এবং তাঁর সনদে বর্ণিত আছে, যুন-নূন বলেন: "ভয় হলো আমলের প্রহরী, আর আশা হলো বিপদ-আপদের সুপারিশকারী।"

এবং তাঁর সনদে বর্ণিত আছে, যুন-নূন বলেন: "প্রয়োজনের আবেদন করো অভাবীর ভাষায়, কর্তৃত্বের ভাষায় নয়।"

আমি আহমদ ইবনে আলী ইবনে জাফরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি হাসান ইবনে সাহল ইবনে আসিমকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আলী ইবনে আব্দুল্লাহ আল-কারজিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি যুন-নূনকে বলতে শুনেছি: "ইবাদতের চাবিকাঠি হলো চিন্তা (ফিকর), প্রবৃত্তির অনুসারী হওয়ার চিহ্ন হলো কুপ্রবৃত্তির আনুগত্য করা, আর তাওয়াক্কুলের চিহ্ন হলো লালসা বা লোভের অবসান ঘটানো।"

আমি আহমদ ইবনে আলী ইবনে জাফরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি ফারিসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি শুনেছি...
(খণ্ড: ১) তবাকাতুস সূফিয়্যাহ লিস-সুলামী ওয়া ইয়ালীহি জিকরুন নিসওয়াতিল মুতাআব্বিদাতিল সূফিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ٣٤)
يُوسُف بن الْحُسَيْن يَقُول سَمِعت ذَا النُّون يَقُول كَانَ لي صديق فَقير فَمَاتَ فرأيته فِي النّوم فَقلت لَهُ مَا فعل الله بك قَالَ قَالَ لي قد غفرت لَك بترددك إِلَى هَؤُلَاءِ السّفل أَبنَاء الدُّنْيَا فِي رغيف قبل أَن يعطوك

سَمِعت أَبَا جَعْفَر مُحَمَّد بن أَحْمد بن سعيد الرَّازِيّ يَقُول سَمِعت أَبَا الْفضل الْعَبَّاس بن حَمْزَة قَالَ سَمِعت ذَا النُّون يَقُول كَانَ الرجل من أهل الْعلم يزْدَاد بِعِلْمِهِ بغضا للدنيا وتركا لَهَا وَالْيَوْم يزْدَاد الرجل بِعِلْمِهِ للدنيا حبا وَلها طلبا وَكَانَ الرجل مَاله على علمه وَالْيَوْم تكسب الرجل بِعِلْمِهِ مَالا وَكَانَ يرى على صَاحب الْعلم زِيَادَة فِي بَاطِنه وَظَاهره وَالْيَوْم يرى على كثير من أهل الْعلم فَسَاد الْبَاطِن وَالظَّاهِر

سَمِعت أَبَا الْحُسَيْن مُحَمَّد بن أَحْمد الْفَارِسِي يَقُول سَمِعت فَارِسًا يَقُول سَمِعت يُوسُف بن الْحُسَيْن يَقُول سَمِعت ذَا النُّون يَقُول الْعَارِف كل يَوْم أخشع لِأَنَّهُ كل سَاعَة أقرب

قَالَ وَسمعت ذَا النُّون يَقُول يَا معشر المريدين من أَرَادَ مِنْكُم الطَّرِيق فليلق الْعلمَاء بِالْجَهْلِ والزهاد بالرغبة وَأهل الْمعرفَة بِالصَّمْتِ

سَمِعت أَبَا جَعْفَر الرَّازِيّ يَقُول سَمِعت الْعَبَّاس بن حَمْزَة يَقُول سَمِعت ذَا النُّون يَقُول إِن الْعَارِف لَا يلْزم حَالَة وَاحِدَة إِنَّمَا يلْزم ربه فِي الْحَالَات كلهَا
ইউসুফ ইবনুল হুসাইন বলেন, আমি যুন্নুনকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমার এক দরিদ্র বন্ধু ছিল, অতঃপর সে মারা গেল। আমি তাকে স্বপ্নে দেখে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহ আপনার সাথে কেমন আচরণ করেছেন? সে বলল: আল্লাহ আমাকে বলেছেন, "আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছি ঐসব দুনিয়াদার নীচ লোকেদের কাছে একটি রুটির জন্য তোমার যাতায়াত করার কারণে, যা তারা তোমাকে দেওয়ার আগেই (আমি তোমাকে ক্ষমা করলাম)।"

আমি আবু জাফর মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ ইবনে সাঈদ আর-রাযীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আবুল ফজল আব্বাস ইবনে হামযাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি যুন্নুনকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: ইলমের অধিকারী ব্যক্তি আগে তার ইলমের মাধ্যমে দুনিয়ার প্রতি বিরাগ ও তা বর্জনের স্পৃহা বৃদ্ধি করত, আর আজ মানুষ তার ইলমের মাধ্যমে দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা ও তা অন্বেষণের আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি করছে। আগেকার দিনে মানুষ তার ইলমের জন্য সম্পদ ব্যয় করত, আর আজ মানুষ তার ইলমের মাধ্যমে সম্পদ উপার্জন করছে। আগে ইলমের অধিকারীর বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ অবস্থায় উন্নতি দেখা যেত, আর আজ অনেক ইলমের অধিকারীর মাঝে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ অবস্থার বিপর্যয় দেখা যায়।

আমি আবুল হুসাইন মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ আল-ফারিসীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি ফারিসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি ইউসুফ ইবনুল হুসাইনকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি যুন্নুনকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আরিফ (আল্লাহর পরিচয় লাভকারী) প্রতিদিন অধিকতর বিনয়ী হন, কারণ তিনি প্রতি মুহূর্তে আল্লাহর অধিকতর নিকটবর্তী হন।

তিনি বলেন, আমি যুন্নুনকে আরও বলতে শুনেছি: হে মুরিদ সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এই পথের ইচ্ছা পোষণ করে, সে যেন আলেমদের সাথে নিজের অজ্ঞতা নিয়ে, যাহিদদের (সংসারবিরাগী) সাথে আগ্রহ নিয়ে এবং আরিফদের সাথে নীরবতার সাথে সাক্ষাৎ করে।

আমি আবু জাফর আর-রাযীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আব্বাস ইবনে হামযাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি যুন্নুনকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: নিশ্চয়ই আরিফ ব্যক্তি কোনো একটি নির্দিষ্ট অবস্থার ওপর আবদ্ধ থাকেন না, বরং তিনি সকল অবস্থায় তাঁর রবের অনুগত থাকেন।
(খণ্ড: ১) তবাকাতুস সূফিয়্যাহ লিস-সুলামী ওয়া ইয়ালীহি জিকরুন নিসওয়াতিল মুতাআব্বিদাতিল সূফিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ٣٥)
3 - وَمِنْهُم إِبْرَاهِيم بن أدهم أَبُو إِسْحَاق

من أهل بَلخ كَانَ من أَبنَاء الْمُلُوك والمياسير خرج متصيدا فَهَتَفَ بِهِ هَاتِف أيقظه من غفلته فَترك طَرِيقَته فِي التزين بالدنيا وَرجع إِلَى طَريقَة أهل الزّهْد والورع خرج إِلَى مَكَّة وَصَحب بهَا سُفْيَان الثَّوْريّ والفضيل ابْن عِيَاض

وَدخل الشَّام فَكَانَ يعْمل فِيهِ وَيَأْكُل من عمل يَده وَبهَا مَاتَ وَأسْندَ الحَدِيث

أخبرنَا عبد الله بن مُوسَى بن الْحسن السلَامِي بمرو قَالَ حَدثنَا لَاحق
৩ - তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইবরাহীম ইবন আদহাম, আবু ইসহাক।

তিনি বলখ অধিবাসী ছিলেন। তিনি রাজপুত্র ও বিত্তবান পরিবারের সন্তান ছিলেন। তিনি শিকার করতে বের হয়েছিলেন, এমতাবস্থায় এক অদৃশ্য আহ্বানকারী তাকে উচ্চৈঃস্বরে ডেকে তার উদাসীনতা থেকে জাগ্রত করেন। ফলে তিনি পার্থিব সাজ-সজ্জার পথ ত্যাগ করেন এবং যুহদ (সংসারবিরাগ) ও খোদাভীতির পথে ফিরে আসেন। তিনি মক্কায় গমন করেন এবং সেখানে সুফিয়ান আস-সাওরী ও ফুযাইল ইবন ইয়াযের সাহচর্য গ্রহণ করেন।

তিনি শামে প্রবেশ করেন এবং সেখানে শ্রমিকের কাজ করতেন ও নিজের হাতের উপার্জিত অন্ন গ্রহণ করতেন। সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি সনদসহ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

মার্ভে আবদুল্লাহ ইবন মূসা ইবনুল হাসান আস-সালামী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: লাহিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) তবাকাতুস সূফিয়্যাহ লিস-সুলামী ওয়া ইয়ালীহি জিকরুন নিসওয়াতিল মুতাআব্বিদাতিল সূফিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ٣٦)
ابْن الْهَيْثَم اللاحقي قَالَ حَدثنَا الْحسن بن عِيسَى الدِّمَشْقِي قَالَ حَدثنَا مُحَمَّد بن فَيْرُوز الْمصْرِيّ قَالَ حَدثنَا بَقِيَّة قَالَ حَدثنَا إِبْرَاهِيم بن آدم عَن أَبِيه أدهم بن مَنْصُور عَن سعيد بن جُبَير عَن ابْن عَبَّاس أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم كَانَ يسْجد على كور الْعِمَامَة

سَمِعت أَبَا الْعَبَّاس مُحَمَّد بن الْحسن بن الخشاب قَالَ حَدثنَا أَبُو الْحسن عَليّ بن مُحَمَّد بن أَحْمد الْمصْرِيّ قَالَ حَدثنِي أَبُو سعيد أَحْمد بن عِيسَى الخراز قَالَ حَدثنَا إِبْرَاهِيم بن بشار قَالَ صَحِبت إِبْرَاهِيم بن أدهم
ইবনুল হাইসাম আল-লাহিকি বলেছেন, আল-হাসান ইবনে ঈসা আদ-দিমাশকি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে ফিরোজ আল-মিসরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, বাকিয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, ইবরাহিম ইবনে আদম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন তাঁর পিতা আদহাম ইবনে মানসুর থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পাগড়ির ভাঁজের ওপর সিজদাহ করতেন।

আমি আবুল আব্বাস মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান ইবনুল খাশশাবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ আল-মিসরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, আবু সাঈদ আহমদ ইবনে ঈসা আল-খাররাজ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, ইবরাহিম ইবনে বাশশার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, আমি ইবরাহিম ইবনে আদহামের সান্নিধ্যে ছিলাম।
(খণ্ড: ১) তবাকাতুস সূফিয়্যাহ লিস-সুলামী ওয়া ইয়ালীহি জিকরুন নিসওয়াতিল মুতাআব্বিদাতিল সূফিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ٣٧)
بِالشَّام أَنا وَأَبُو يُوسُف الغسولي وَأَبُو عبد الله السنجاري فَقلت يَا ابا إِسْحَاق خبرني عَن بَدْء أَمرك كَيفَ كَانَ قَالَ كَانَ أبي من مُلُوك خُرَاسَان وَكنت شَابًّا فركبت إِلَى الصَّيْد فَخرجت يَوْمًا على دَابَّة لي وَمَعِي كلب فأثرت أرنبا أَو ثعلبا فَبينا أَنا أطلبه إِذا هتف بِي هَاتِف لَا أرَاهُ فَقَالَ يَا إِبْرَاهِيم أَلِهَذَا خلقت أم بِهَذَا أمرت فَفَزِعت ووقفت ثمَّ عدت فركضت الثَّانِيَة فَفعل بِي مثل ذَلِك ثَلَاث مَرَّات ثمَّ هتف بِي هَاتِف من قربوس السرج وَالله مَا لهَذَا خلقت وَلَا بِهَذَا أمرت قَالَ فَنزلت فصادفت رَاعيا لأبي يرْعَى الْغنم فاخذت جبته الصُّوف فلبستها وَدفعت إِلَيْهِ الْفرس وَمَا كَانَ معي وتوجهت إِلَى مَكَّة

فَبينا أَنا فِي الْبَادِيَة إِذا أَنا بِرَجُل يسير لَيْسَ مَعَه إِنَاء وَلَا زَاد فَلَمَّا أَمْسَى وَصلى الْمغرب حرك شَفَتَيْه بِكَلَام لم أفهمهُ فَإِذا أَنا بِإِنَاء فِيهِ طَعَام وإناء فِيهِ شراب فَأكلت وشربت وَكنت مَعَه على هَذَا أَيَّامًا وَعَلمنِي اسْم الله الْأَعْظَم ثمَّ غَابَ عني وَبقيت وحدي فَبينا أَنا ذَات يَوْم مستوحش من الْوحدَة دَعَوْت الله بِهِ فَإِذا أَنا بشخص آخذ بحجزتي وَقَالَ سل تعطه فراعني قَوْله

فَقَالَ لَا روع عَلَيْك وَلَا بَأْس عَلَيْك أَنا أَخُوك الْخضر إِن أخي دَاوُد علمك اسْم الله الْأَعْظَم فَلَا تدع بِهِ على أحد بَيْنك وَبَينه شَحْنَاء فتهلكه هَلَاك الدُّنْيَا وَالْآخِرَة وَلَكِن ادْع الله أَن يشجع بِهِ جَنْبك ويقوى بِهِ ضعفك وَيُؤْنس بِهِ وحشتك ويجدد بِهِ فِي كل سَاعَة رغبتك ثمَّ انْصَرف وَتَرَكَنِي

শাম দেশে আমি, আবু ইউসুফ আল-গাসুলি এবং আবু আব্দুল্লাহ আস-সিনজারি উপস্থিত ছিলাম। তখন আমি বললাম, "হে আবু ইসহাক! আপনার শুরুর বিষয়টি কেমন ছিল, তা আমাকে জানান।" তিনি বললেন, "আমার পিতা খুরাসানের রাজাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আমি তখন যুবক। একদিন আমি শিকারে বের হলাম। আমি আমার একটি সওয়ারিতে চড়ে বের হলাম এবং আমার সাথে একটি কুকুর ছিল। আমি একটি খরগোশ বা শিয়ালকে তাড়া করছিলাম। আমি যখন তার পিছু নিচ্ছিলাম, তখন হঠাৎ এক অদৃশ্য আহ্বানকারী আমাকে ডেকে বলল, 'হে ইব্রাহিম! তুমি কি এজন্যই সৃষ্টি হয়েছ? নাকি তোমাকে এরই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে?' আমি আতঙ্কিত হলাম এবং থেমে গেলাম। এরপর পুনরায় ফিরে গিয়ে দ্বিতীয়বার সওয়ারি ছুটালাম, তখনও আমার সাথে তিনবার অনুরূপ করা হলো। অতঃপর জিনের সামনের উঁচু অংশ থেকে এক অদৃশ্য আহ্বানকারী আমাকে ডেকে বলল, 'আল্লাহর কসম, তুমি এজন্য সৃষ্টি হওনি এবং তোমাকে এর নির্দেশও দেওয়া হয়নি'।" তিনি বললেন, "অতঃপর আমি নিচে নেমে এলাম এবং আমার পিতার এক রাখালকে বকরী চরাতে দেখলাম। আমি তার পশমি জুব্বাটি নিয়ে পরিধান করলাম এবং তাকে ঘোড়া ও আমার সাথে যা ছিল সব দিয়ে দিলাম। এরপর আমি মক্কার দিকে রওনা হলাম।"

আমি যখন মরুভূমির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন হঠাৎ এক ব্যক্তিকে দেখলাম যিনি কোনো পাত্র বা পাথেয় ছাড়াই পথ চলছিলেন। যখন সন্ধ্যা হলো এবং তিনি মাগরিবের সালাত আদায় করলেন, তখন তিনি তার ওষ্ঠদ্বয় এমন কিছু শব্দে নাড়ালেন যা আমি বুঝতে পারিনি। হঠাৎ আমি একটি পাত্র দেখলাম যাতে খাবার রয়েছে এবং অন্য একটি পাত্রে পানীয় রয়েছে। আমি আহার করলাম এবং পান করলাম। আমি কয়েক দিন তার সাথেই ছিলাম এবং তিনি আমাকে আল্লাহর ইসমে আজম (সর্বশ্রেষ্ঠ নাম) শিক্ষা দিলেন। এরপর তিনি আমার থেকে অদৃশ্য হয়ে গেলেন এবং আমি একা রয়ে গেলাম। একদিন আমি নির্জনতায় একাকীত্ব অনুভব করছিলাম, তখন আমি সেই নাম ধরে আল্লাহকে ডাকলাম। হঠাৎ দেখলাম এক ব্যক্তি আমার কোমর ধরে আছেন এবং বললেন, 'চান, আপনাকে দেওয়া হবে'। তার কথা শুনে আমি চমকে উঠলাম।

তিনি বললেন, 'ভয় পাবেন না, আপনার কোনো ভয় নেই। আমি আপনার ভাই খিজির। আমার ভাই দাউদ আপনাকে আল্লাহর ইসমে আজম শিক্ষা দিয়েছেন। সুতরাং আপনার এবং অন্য কারো মধ্যে শত্রুতা থাকলে এই নাম দিয়ে তার বিরুদ্ধে দুআ করবেন না, নতুবা আপনি তাকে ইহকাল ও পরকালে ধ্বংস করে দেবেন। বরং আল্লাহর কাছে দুআ করুন যেন এর মাধ্যমে তিনি আপনার অন্তরকে সাহসী করেন, আপনার দুর্বলতাকে শক্তিশালী করেন, আপনার একাকীত্বে প্রশান্তি দান করেন এবং প্রতি মুহূর্তে আপনার আকাঙ্ক্ষাকে নবায়ন করেন।' এরপর তিনি প্রস্থান করলেন এবং আমাকে রেখে চলে গেলেন।

(খণ্ড: ১) তবাকাতুস সূফিয়্যাহ লিস-সুলামী ওয়া ইয়ালীহি জিকরুন নিসওয়াতিল মুতাআব্বিদাতিল সূফিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ٣٨)
وَسمعت مُحَمَّد بن الْحسن الْبَغْدَادِيّ يَقُول سَمِعت عَليّ بن مُحَمَّد بن أَحْمد الْمصْرِيّ يَقُول سَمِعت أَحْمد بن عِيسَى الخراز قَالَ حَدثنِي غير وَاحِد من أَصْحَابنَا مِنْهُم سعيد بن جَعْفَر الْوراق وَهَارُون الأدمِيّ وَعُثْمَان التمار قَالُوا حَدثنَا عُثْمَان بن عمَارَة قَالَ حَدثنِي إِبْرَاهِيم بن أدهم عَن رجل من أهل إسكندرية يُقَال لَهُ أسلم بن يزِيد الْجُهَنِيّ قَالَ لَقيته بالإسكندرية فَقَالَ لي من أَنْت يَا غُلَام قلت شَاب من أهل خُرَاسَان قَالَ مَا حملك على الْخُرُوج من الدُّنْيَا قلت زهدا فِيهَا ورجاء لثواب الله تَعَالَى فَقَالَ إِن العَبْد لَا يتم رجاؤه لثواب الله تَعَالَى حَتَّى يحمل نَفسه على الصَّبْر فَقَالَ رجل مِمَّن كَانَ مَعَه وَأي شَيْء الصَّبْر فَقَالَ إِن أدنى منَازِل الصَّبْر أَن يروض العَبْد نَفسه على احْتِمَال مكاره الْأَنْفس

قَالَ قلت ثمَّ مَه قَالَ إِذا كَانَ مُحْتملا للمكاره أورث الله قلبه نورا قلت وَمَا ذَلِك النُّور قَالَ سراج يكون فِي قلبه يفرق بِهِ بَين الْحق وَالْبَاطِل والناسخ والمتشابه قلت هَذِه صفة أَوْلِيَاء رب الْعَالمين قَالَ أسْتَغْفر الله صدق عِيسَى ابْن مَرْيَم عليه السلام حِين قَالَ لَا تضعوا الْحِكْمَة عِنْد غير أَهلهَا فتضيعوها وَلَا تمنعوها أَهلهَا فتظلموها

فبصبصت إِلَيْهِ وَطلبت إِلَيْهِ وَطلب معي أَصْحَابه إِلَيْهِ فَقَالَ عِنْد ذَلِك يَا غُلَام إياك إِذا صَحِبت الأخيار أَو حادثت الْأَبْرَار أَن تغضبهم عَلَيْك فَإِن الله يغْضب لغضبهم ويرضى لرضاهم وَذَلِكَ أَن الْحُكَمَاء هم الْعلمَاء وهم الراضون عَن الله عز وجل إِذا سخط النَّاس وهم جلساء الله غَدا بعد النَّبِيين وَالصديقين

يَا غُلَام احفظ عني واعقل وَاحْتمل وَلَا تعجل فَإِن التأني مَعَه الْحلم وَالْحيَاء وَإِن السَّفه مَعَه الْخرق والشؤم قَالَ فَسَأَلت عَيْني وَقلت وَالله
আমি মুহাম্মদ ইবনে হাসান আল-বাগদাদিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-মিসরিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আহমদ ইবনে ঈসা আল-খাররাজকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমাদের সাথীদের মধ্য থেকে একাধিক ব্যক্তি আমাকে বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে সাঈদ ইবনে জাফর আল-ওয়াররাক, হারুন আল-আদমি এবং উসমান আল-তাম্মার রয়েছেন; তারা বলেন, উসমান ইবনে উমারা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইব্রাহিম ইবনে আদহাম আমার নিকট আলেকজান্দ্রিয়ার জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন যাকে আসলাম ইবনে ইয়াজিদ আল-জুহানি বলা হয়। তিনি বলেন, আলেকজান্দ্রিয়ায় তার সাথে আমার দেখা হয়, তখন তিনি আমাকে বললেন: হে যুবক, তুমি কে? আমি বললাম: খোরাসানের একজন যুবক। তিনি বললেন: দুনিয়া ত্যাগ করার পেছনে তোমার প্রেরণা কী? আমি বললাম: দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি এবং মহান আল্লাহর সওয়াবের আশা। তখন তিনি বললেন: কোনো বান্দার পক্ষেই মহান আল্লাহর সওয়াবের আশা পূর্ণ হওয়া সম্ভব নয় যতক্ষণ না সে নিজেকে ধৈর্যের ওপর পরিচালিত করে। তখন তার সঙ্গীদের মধ্য থেকে একজন লোক জিজ্ঞাসা করল: ধৈর্য কী? তিনি বললেন: ধৈর্যের সর্বনিম্ন স্তর হলো বান্দা নিজেকে নফসের অপ্রীতিকর বিষয়গুলো সহ্য করার ওপর অভ্যস্ত করবে।

তিনি বললেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, তারপর কী? তিনি বললেন: যখন সে অপ্রীতিকর বিষয়গুলো সহ্যকারী হবে, তখন আল্লাহ তার অন্তরে একটি নূর বা আলো দান করবেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, সেই নূর কী? তিনি বললেন: একটি প্রদীপ যা তার অন্তরে প্রজ্জ্বলিত হবে, যার মাধ্যমে সে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে এবং রহিতকারী ও সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করতে পারবে। আমি বললাম: এটি তো রাব্বুল আলামীনের ওলিদের বৈশিষ্ট্য। তিনি বললেন: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। মারইয়াম তনয় ঈসা আলাইহিস সালাম সত্যই বলেছেন যখন তিনি বলেছিলেন— তোমরা অযোগ্যদের কাছে হিকমত বা প্রজ্ঞা পেশ করো না, অন্যথায় তোমরা তা নষ্ট করবে; আর হিকমতের যোগ্য ব্যক্তিদের তা থেকে বঞ্চিত করো না, অন্যথায় তোমরা তাদের প্রতি জুলুম করবে।

তখন আমি তার কাছে আকুল মিনতি করলাম এবং তার কাছে আরজি পেশ করলাম, আর আমার সাথে তার সাথীরাও আরজি পেশ করল। তখন তিনি বললেন: হে যুবক, সাবধান! যখন তুমি নেককারদের সাহচর্যে থাকবে কিংবা পুণ্যবানদের সাথে কথা বলবে, তখন তাদের তোমার ওপর রাগান্বিত করো না; কেননা আল্লাহ তাদের ক্রোধে রাগান্বিত হন এবং তাদের সন্তুষ্টিতে সন্তুষ্ট হন। আর এর কারণ হলো, প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিরাই প্রকৃত আলেম এবং যখন মানুষ অসন্তুষ্ট থাকে তখন তারা মহান আল্লাহর ওপর সন্তুষ্ট থাকে; আর তারা পরকালে নবী ও সিদ্দিকগণের পর আল্লাহর সান্নিধ্যে উপবেশনকারী হবেন।

হে যুবক, আমার কথা মনে রেখো, অনুধাবন করো, সহ্য করো এবং তাড়াহুড়ো করো না; কেননা ধীরস্থিরতার সাথে সহনশীলতা ও লজ্জা থাকে, আর নির্বুদ্ধিতার সাথে থাকে রূঢ়তা ও অমঙ্গল। বর্ণনাকারী বলেন: তখন আমার চোখ অশ্রুসজল হয়ে উঠল এবং আমি বললাম, আল্লাহর কসম...
(খণ্ড: ১) তবাকাতুস সূফিয়্যাহ লিস-সুলামী ওয়া ইয়ালীহি জিকরুন নিসওয়াতিল মুতাআব্বিদাতিল সূফিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ٣٩)
مَا حَملَنِي على مُفَارقَة أَبَوي وَالْخُرُوج من مَالِي إِلَّا حب الأثرة لله وَمَعَ ذَلِك الزّهْد فِي الدُّنْيَا وَالرَّغْبَة فِي جوَار الله تَعَالَى

فَقَالَ إياك وَالْبخل قلت مَا الْبُخْل فَقَالَ أما الْبُخْل عِنْد أهل الدُّنْيَا فَهُوَ أَن يكون الرجل بَخِيلًا بِمَالِه وَأما الَّذِي عِنْد أهل الْآخِرَة فَهُوَ الَّذِي يبخل بِنَفسِهِ عَن الله تَعَالَى أَلا وَإِن العَبْد إِذا جاد بِنَفسِهِ لله أورث قلبه الْهدى والتقى وَأعْطى السكينَة وَالْوَقار وَالْعلم الْكَامِل وَمَعَ ذَلِك تفتح لَهُ أَبْوَاب السَّمَاء فَهُوَ ينظر إِلَى أَبْوَابهَا بِقَلْبِه كَيفَ تفتح وَإِن كَانَ فِي طَرِيق الدُّنْيَا مطروحا

فَقَالَ لَهُ رجل من أَصْحَابه اضربه فأوجعه فَإنَّا نرَاهُ غُلَاما قد وفْق لولاية الله تَعَالَى قَالَ فتعجب الشَّيْخ من قَول أَصْحَابه قد وفْق لولاية الله تَعَالَى فَقَالَ لي يَا غُلَام أما إِنَّك ستصحب الأخيار فَكُن لَهُم أَرضًا يطأون عَلَيْك وَإِن ضربوك وشتموك وطردوك وأسمعوك الْقَبِيح فَإِذا فعلوا بك ذَلِك ففكر فِي نَفسك من أَيْن أتيت فَإنَّك إِذا فعلت ذَلِك يؤيدك الله بنصره وَيقبل بقلوبهم عَلَيْك اعْلَم أَن العَبْد إِذا قلاه الأخيار واجتنب صحبته الورعون وأبغضه الزاهدون فَإِن ذَلِك استعتاب من الله تَعَالَى لكَي يعتبه فَإِن أَعتب الله عز وجل أقبل بقلوبهم عَلَيْهِ وَإِن تمرد على الله أورث قلبه الضَّلَالَة مَعَ حرمَان الرزق وجفاء من الْأَهْل ومقت من الْمَلَائِكَة وإعراض من الرُّسُل بِوُجُوهِهِمْ ثمَّ لم يبال فِي أَي وَاد يهلكه

قَالَ قلت إِنِّي صَحِبت وَأَنا ماش بَين الْكُوفَة الْكُوفَة وَمَكَّة رجلا فرأيته إِذا أَمْسَى يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ فيهمَا تجَاوز ثمَّ يتَكَلَّم بِكَلَام خَفِي بَينه وَبَين نَفسه فَإِذا جَفْنَة من ثريد عَن يَمِينه وكوز من مَاء فَكَانَ يَأْكُل ويطعمني قَالَ فَبكى الشَّيْخ عِنْد ذَلِك وَبكى من حوله ثمَّ قَالَ يَا بني أَو يَا أخي ذَاك أخي دَاوُد ومسكنه من وَرَاء بَلخ بقرية يُقَال لَهَا الْبَارِدَة الطّيبَة وَذَلِكَ أَن الْبِقَاع تفاخرت بكينونة دَاوُد فِيهَا يَا غُلَام مَا قَالَ لَك وَمَا علمك
আমার পিতামাতার বিচ্ছেদ এবং আমার সম্পদ ত্যাগে আমাকে যা উদ্বুদ্ধ করেছে তা হলো আল্লাহর প্রতি পূর্ণ সমর্পণের ভালোবাসা এবং সেই সাথে দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি ও মহান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের আকাঙ্ক্ষা।

অতঃপর তিনি বললেন: তুমি কৃপণতা থেকে বেঁচে থাকো। আমি বললাম: কৃপণতা কী? তিনি বললেন: দুনিয়াদারদের নিকট কৃপণতা হলো মানুষের তার সম্পদে কৃপণ হওয়া, আর আখিরাতকামীদের নিকট কৃপণতা হলো সেই ব্যক্তি যে আল্লাহর জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করতে কৃপণতা করে। জেনে রেখো, বান্দা যখন আল্লাহর জন্য স্বীয় জান বিলিয়ে দেয়, তখন আল্লাহ তার অন্তরে হিদায়াত ও তাকওয়া দান করেন এবং তাকে প্রশান্তি, গাম্ভীর্য ও পূর্ণ জ্ঞান দান করেন; সেই সাথে তার জন্য আকাশের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। ফলে সে তার অন্তর দিয়ে আকাশের দরজাসমূহের দিকে তাকিয়ে দেখে যে সেগুলো কীভাবে খুলে যাচ্ছে, যদিও দুনিয়ার পথে সে লাঞ্ছিত অবস্থায় পড়ে থাকে।

তাঁর সাথীদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি তাকে বলল: তাকে প্রহার করো এবং তাকে ব্যথিত করো, কারণ আমরা তাকে এমন এক যুবক হিসেবে দেখছি যে আল্লাহর বন্ধুত্বের (বেলায়াত) তাওফিক পেয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন: শেখ তাঁর সাথীদের এই কথায় বিস্ময় প্রকাশ করলেন যে সে আল্লাহর বন্ধুত্বের তাওফিক পেয়েছে। অতঃপর তিনি আমাকে বললেন: হে যুবক! তুমি শীঘ্রই সজ্জন ব্যক্তিদের সান্নিধ্য লাভ করবে, সুতরাং তুমি তাদের জন্য এমন ভূমি হয়ে যেও যা তারা পদদলিত করবে। যদি তারা তোমাকে প্রহার করে, গালি দেয়, তাড়িয়ে দেয় এবং কটু কথা শোনায়, তবে তারা যখন তোমার সাথে এমন করবে তখন তুমি নিজের নফস সম্পর্কে চিন্তা করো যে তোমার মাঝে কোন ত্রুটির কারণে এমন হলো; কারণ তুমি যখন তা করবে, আল্লাহ তোমাকে তাঁর সাহায্য দ্বারা শক্তিশালী করবেন এবং তাদের অন্তরকে তোমার প্রতি সদয় করবেন। জেনে রেখো, বান্দাকে যখন সজ্জন ব্যক্তিরা ঘৃণা করে, পরহেজগাররা তার সাহচর্য পরিহার করে এবং দুনিয়াবিমুখ ব্যক্তিরা তাকে অপছন্দ করে, তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার প্রতি অনুযোগ ও সংশোধনের আহ্বান স্বরূপ যেন সে তাঁর কাছে ফিরে আসে। যদি সে আল্লাহর কাছে ফিরে আসে তবে তিনি তাদের অন্তরকে তার দিকে ফিরিয়ে দেবেন। আর যদি সে আল্লাহর অবাধ্য হয়, তবে তিনি তার অন্তরে গোমরাহি বা পথভ্রষ্টতা দান করবেন, সেই সাথে তাকে রিযিক থেকে বঞ্চিত করবেন, তার প্রতি পরিজনদের রূঢ়তা এবং ফেরেশতাদের ঘৃণা তৈরি করবেন এবং রাসূলগণ তাদের মুখ ফিরিয়ে নেবেন; অতঃপর আল্লাহ পরোয়া করবেন না যে সে কোন উপত্যকায় ধ্বংস হয়ে গেল।

আমি বললাম: কুফা ও মক্কার মধ্যবর্তী পথে চলার সময় আমি এক ব্যক্তির সঙ্গী হয়েছিলাম। আমি দেখলাম, সন্ধ্যা হলে তিনি সংক্ষেপে দুই রাকাত নামাজ আদায় করতেন, তারপর নিভৃতে নিজের মনে কিছু কথা বলতেন। তৎক্ষণাৎ তাঁর ডান পাশে এক পাত্র সারিদ এবং এক ঘড়া পানি উপস্থিত হতো। তিনি তা থেকে আহার করতেন এবং আমাকেও খাওয়াতেন। এতে শেখ কেঁদে ফেললেন এবং তাঁর চারপাশের লোকেরাও রোদন করল। তারপর তিনি বললেন: হে বৎস অথবা হে আমার ভাই! তিনি আমার ভাই দাউদ। তাঁর বসতি বলখ শহরের ওপারে 'আল-বারিদা আত-তাইয়িবা' নামক গ্রামে। মূলত দাউদ সেখানে অবস্থানের কারণে সেই জনপদসমূহ একে অপরের ওপর গর্ব করত। হে যুবক! তিনি তোমাকে কী বলেছিলেন এবং তোমাকে কী শিখিয়েছিলেন?
(খণ্ড: ১) তবাকাতুস সূফিয়্যাহ লিস-সুলামী ওয়া ইয়ালীহি জিকরুন নিসওয়াতিল মুতাআব্বিদাতিল সূফিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ٤٠)
قَالَ قلت عَلمنِي اسْم الله الْأَعْظَم فَسَأَلَ الشَّيْخ مَا هُوَ فَقلت إِنَّه يتعاظم عَليّ أَن أنطق بِهِ فَإِنِّي سَأَلت بِهِ مرّة فَإِذا بِرَجُل آخذ بحجزتي وَقَالَ سل تعطه فراعني فَقَالَ لَا روع عَلَيْك أَنا أَخُوك الْخضر إِن أخي دَاوُد علمك إِيَّاه فإياك أَن تَدْعُو بِهِ إِلَّا فِي بر ثمَّ قَالَ يَا غُلَام إِن الزاهدين فِي الدُّنْيَا قد اتَّخذُوا الرِّضَا عَن الله لباسا وحبه دثارا والأثرة لَهُ شعارا فتفضل الله تَعَالَى عَلَيْهِم لَيْسَ كتفضله على غَيرهم ثمَّ ذهب عني فتعجب الشَّيْخ من قولي

ثمَّ قَالَ إِن الله سيبلغ بِمن كَانَ فِي مثالك وَمن تبعك من المهتدين ثمَّ قَالَ يَا غُلَام إِنَّا قد أفدناك ومهدناك وعلمناك علما ثمَّ قَالَ بَعضهم لَا تطمع فِي السهر مَعَ الشِّبَع وَلَا تطمع فِي الْحزن مَعَ كَثْرَة النّوم وَلَا تطمع فِي الْخَوْف لله مَعَ الرَّغْبَة فِي الدُّنْيَا وَلَا تطمع فِي الْأنس بِاللَّه مَعَ الْأنس بالمخلوقين وَلَا تطمع فِي إلهام الْحِكْمَة مَعَ ترك التَّقْوَى وَلَا تطمع فِي الصِّحَّة فِي أمورك مَعَ مُوَافقَة الظلمَة وَلَا تطمع فِي حب الله مَعَ محبَّة المَال والشرف وَلَا تطمع فِي لين الْقلب مَعَ الْجفَاء للْيَتِيم والأرملة والمسكين وَلَا تطمع فِي الرقة مَعَ فضول الْكَلَام وَلَا تطمع فِي رَحْمَة الله مَعَ ترك الرَّحْمَة للمخلوقين وَلَا تطمع فِي الرشد مَعَ ترك مجالسة الْعلمَاء وَلَا تطمع فِي الْحبّ لله مَعَ حب المدحة وَلَا تطمع فِي الْوَرع مَعَ الْحِرْص فِي الدُّنْيَا وَلَا تطمع فِي الرِّضَا والقناعة مَعَ قلَّة الْوَرع ثمَّ قَالَ بَعضهم يَا إلهنا احجبه عَنَّا واحجبنا عَنهُ قَالَ إِبْرَاهِيم فَمَا أَدْرِي أَيْن ذَهَبُوا

سَمِعت أَحْمد بن عَليّ بن الْحسن الْمُقْرِئ يَقُول سَمِعت مُحَمَّد بن غَالب التمتام يَقُول كتب إِبْرَاهِيم بن أدهم إِلَى سُفْيَان الثَّوْريّ من عرف مَا
তিনি বললেন: আমি বললাম, আমাকে আল্লাহর মহানতম নাম (ইসমে আযম) শিখিয়ে দিন। তখন শায়খ জিজ্ঞাসা করলেন যে সেটি কী? আমি বললাম, সেটি উচ্চারণ করা আমার কাছে অত্যন্ত গুরুতর বিষয় বলে মনে হয়; কারণ একবার আমি তার মাধ্যমে প্রার্থনা করেছিলাম, তখন হঠাৎ এক ব্যক্তি আমার কোমরের কাপড় ধরে বললেন, ‘প্রার্থনা করো, তোমাকে প্রদান করা হবে।’ এতে আমি শঙ্কিত হলাম। তখন তিনি বললেন, ‘শঙ্কিত হয়ো না, আমি তোমার ভাই খিজির। আমার ভাই দাউদ তোমাকে এটি শিক্ষা দিয়েছেন। সুতরাং সাবধান! নেক কাজ ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে এর মাধ্যমে প্রার্থনা করো না।’ অতঃপর তিনি বললেন, ‘হে যুবক! নিশ্চয়ই যারা দুনিয়াতে বিরাগী, তারা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্টিকে পোশাক, তাঁর ভালোবাসাকে চাদর এবং তাঁর প্রতি একনিষ্ঠতাকে নিজেদের ভূষণ হিসেবে গ্রহণ করেছে। ফলে আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি এমন অনুগ্রহ করেছেন যা অন্যদের প্রতি করা অনুগ্রহের ন্যায় নয়।’ এরপর তিনি আমার নিকট থেকে চলে গেলেন এবং শায়খ আমার কথা শুনে বিস্মিত হলেন।

অতঃপর তিনি বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমার মতো ব্যক্তিদের এবং হিদায়াতপ্রাপ্তদের মধ্য থেকে যারা তোমার অনুসরণ করবে তাদের গন্তব্যে পৌঁছে দেবেন। এরপর তিনি বললেন, হে যুবক! আমরা তোমাকে উপকৃত করেছি, তোমার পথ সুগম করেছি এবং তোমাকে জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছি। অতঃপর তাদের কেউ কেউ বললেন, পেটভরা অবস্থায় রাত জাগরণের আশা করো না; অধিক নিদ্রার সাথে দুঃখের আশা করো না; দুনিয়ার প্রতি আসক্তির সাথে আল্লাহর ভয়ের আশা করো না; সৃষ্টির সাথে অন্তরঙ্গতার সাথে আল্লাহর সাথে অন্তরঙ্গতার আশা করো না; তাকওয়া বর্জন করে প্রজ্ঞার ইলহামের আশা করো না; জালিমদের সাথে সহমত পোষণ করে নিজের বিষয়াবলীতে সঠিকতা বা কল্যাণের আশা করো না; ধন-সম্পদ ও পদের মোহের সাথে আল্লাহর মহব্বতের আশা করো না; এতিম, বিধবা ও মিসকিনদের প্রতি কঠোরতা প্রদর্শন করে হৃদয়ের কোমলতার আশা করো না; অতিরিক্ত কথা বলার সাথে হৃদয়ের আর্দ্রতার আশা করো না; সৃষ্টির প্রতি দয়া বর্জন করে আল্লাহর রহমতের আশা করো না; আলেমদের মজলিস ত্যাগ করে সঠিক পথের দিশার আশা করো না; প্রশংসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষার সাথে আল্লাহর জন্য ভালোবাসার আশা করো না; দুনিয়ার প্রতি লোভ রেখে পরহেজগারির আশা করো না; এবং পরহেজগারির স্বল্পতা সত্ত্বেও সন্তুষ্টি ও অল্পে তুষ্টির আশা করো না। অতঃপর তাদের কেউ কেউ বললেন, হে আমাদের ইলাহ! তাকে আমাদের থেকে আড়াল করুন এবং আমাদেরকেও তার থেকে আড়াল করুন। ইব্রাহিম বললেন, এরপর আমি জানি না তারা কোথায় চলে গেলেন।

আমি আহমাদ বিন আলী বিন হাসান আল-মুকরিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি মুহাম্মদ বিন গালিব আল-তামতামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, ইব্রাহিম বিন আদহাম সুফিয়ান সাওরিকে লিখেছিলেন: যে ব্যক্তি জেনেছে যা...
(খণ্ড: ১) তবাকাতুস সূফিয়্যাহ লিস-সুলামী ওয়া ইয়ালীহি জিকরুন নিসওয়াতিল মুতাআব্বিদাতিল সূফিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ٤١)
يطْلب هان عَلَيْهِ مَا يبْذل وَمن أطلق بَصَره طَال أسفه وَمن أطلق أمله سَاءَ عمله وَمن أطلق لِسَانه قتل نَفسه

سَمِعت أَبَا الْعَبَّاس الْبَغْدَادِيّ يَقُول حَدثنَا عَليّ بن مُحَمَّد بن أَحْمد الْمصْرِيّ حَدثنَا يُوسُف بن مُوسَى حَدثنَا عبد الله بن خبيق حَدثنِي خلف بن تَمِيم سَمِعت أَبَا الْأَحْوَص يَقُول رَأَيْت خَمْسَة مَا رَأَيْت مثلهم قطّ إِبْرَاهِيم بن أدهم ويوسف بن أَسْبَاط وَحُذَيْفَة بن قَتَادَة وهشيم الْعجلِيّ وَأَبُو يُونُس الْقوي

أخبرنَا عَليّ بن بنْدَار قَالَ أخبرنَا مُحَمَّد بن شريك قَالَ أخبرنَا ابْن أبي الدُّنْيَا قَالَ أَخْبرنِي مُحَمَّد بن إِسْحَاق قَالَ أَخْبرنِي أبي قَالَ قلت لإِبْرَاهِيم بن أدهم أوصني فَقَالَ اتخذ الله صاحبا وذر النَّاس جانبا
যে ব্যক্তি কিছু অন্বেষণ করে, তার নিকট সেটি অর্জনের জন্য যা সে ব্যয় করে তা সহজ হয়ে যায়। যে তার দৃষ্টিকে অবাধ করে দেয়, তার আক্ষেপ দীর্ঘ হয়। যে তার আশা-আকাঙ্ক্ষাকে বল্গাহীন করে দেয়, তার কর্ম মন্দ হয়ে যায়। আর যে তার জিহ্বাকে অবারিত করে দেয়, সে নিজেকে বিনাশ করে।

আমি আবুল আব্বাস আল-বাগদাদিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-মিসরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইউসুফ ইবনে মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে খুবায়েক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, খালাফ ইবনে তামিম আমার নিকট বর্ণনা করেছেন: আমি আবুল আহওয়াসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি এমন পাঁচজন ব্যক্তিকে দেখেছি যাদের সদৃশ আমি কখনও দেখিনি— ইব্রাহিম ইবনে আদহাম, ইউসুফ ইবনে আসবাত, হুজায়ফা ইবনে কাতাদা, হুশাইম আল-ইজলি এবং আবু ইউনুস আল-কাওয়ি।

আলী ইবনে বিনদার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে শারিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনে আবিদ দুনিয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি ইব্রাহিম ইবনে আদহামকে বললাম, "আমাকে অসিয়ত করুন।" তিনি বললেন, "আল্লাহকে নিজের সঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করো এবং মানুষকে একপাশে বর্জন করো।"
(খণ্ড: ১) তবাকাতুস সূফিয়্যাহ লিস-সুলামী ওয়া ইয়ালীহি জিকরুন নিসওয়াতিল মুতাআব্বিদাতিল সূফিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ٤٢)
سَمِعت مَنْصُور بن عبد الله يَقُول سَمِعت مُحَمَّد بن حَامِد يَقُول سَمِعت أَحْمد بن خضرويه يَقُول قَالَ إِبْرَاهِيم بن أدهم لرجل فِي الطّواف اعْلَم أَنَّك لَا تنَال دَرَجَة الصَّالِحين حَتَّى تجوز سِتّ عِقَاب

أولاها أَن تغلق بَاب النِّعْمَة وتفتح بَاب الشدَّة

وَالثَّانيَِة أَن تغلق بَاب الْعِزّ وتفتح بَاب الذل

وَالثَّالِثَة أَن تغلق بَاب الرَّاحَة وتفتح بَاب الْجهد

وَالرَّابِعَة أَن تغلق بَاب النّوم وتفتح بَاب السهر

وَالْخَامِسَة أَن تغلق بَاب الْغنى وتفتح بَاب الْفقر

وَالسَّادِسَة أَن تغلق بَاب الأمل وتفتح بَاب الاستعداد للْمَوْت

4 - وَمِنْهُم بشر بن الْحَارِث بن عبد الرَّحْمَن بن عَطاء بن هِلَال بن ماهان بن عبد الله الحافي
আমি মনসুর বিন আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি মুহাম্মদ বিন হামিদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আহমদ বিন খাজরাওয়াইহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, ইব্রাহিম বিন আদহাম তাওয়াফকালে এক ব্যক্তিকে বলেছিলেন, "জেনে রেখো, তুমি ততক্ষণ পর্যন্ত নেককারদের স্তরে পৌঁছাতে পারবে না যতক্ষণ না ছয়টি কঠিন বাধা অতিক্রম করবে:

প্রথমটি হলো, তুমি নিয়ামতের দরজা বন্ধ করবে এবং কষ্টের দরজা খুলবে।

দ্বিতীয়টি হলো, তুমি সম্মানের দরজা বন্ধ করবে এবং লাঞ্ছনার দরজা খুলবে।

তৃতীয়টি হলো, তুমি আরাম-আয়েশের দরজা বন্ধ করবে এবং কঠোর পরিশ্রমের দরজা খুলবে।

চতুর্থটি হলো, তুমি ঘুমের দরজা বন্ধ করবে এবং রাত জাগরণের দরজা খুলবে।

পঞ্চমটি হলো, তুমি সচ্ছলতার দরজা বন্ধ করবে এবং দারিদ্র্যের দরজা খুলবে।

ষষ্ঠটি হলো, তুমি দীর্ঘ আশার দরজা বন্ধ করবে এবং মৃত্যুর প্রস্তুতির দরজা খুলবে।

৪ - তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হলেন বিশর বিন আল-হারিস বিন আবদুর রহমান বিন আতা বিন হিলাল বিন মাহান বিন আবদুল্লাহ আল-হাফি।
(খণ্ড: ১) তবাকাতুস সূফিয়্যাহ লিস-সুলামী ওয়া ইয়ালীহি জিকরুন নিসওয়াতিল মুতাআব্বিদাতিল সূফিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ٤٣)
كَذَلِك ذكره عبد الرَّحْمَن بن عَليّ بن خشرم فِيمَا أخبرنَا أَحْمد بن مَنْصُور النوشري عَن ابْن مخلد عَنهُ كنيته أَبُو نصر أَصله من مرو من قَرْيَة بكرد أَو مابرسام سكن بَغْدَاد وَمَات بهَا وَهُوَ ابْن عَم عَليّ بن خشرم وَصَحب الفضيل بن عِيَاض وَكَانَ عَالما ورعا

قَالَ يحيى بن أَكْثَم قَالَ لي الْمَأْمُون لم يبْق فِي هَذِه الكورة أحد
একইভাবে আব্দুর রহমান বিন আলী বিন খাশরাম এটি উল্লেখ করেছেন যা আমাদের নিকট আহমদ বিন মনসুর আন-নাওশারি ইবনে মাখলাদ থেকে তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তাঁর উপনাম ছিল আবু নাসর। তাঁর আদি নিবাস ছিল মারভ অঞ্চলের বাকার্দ অথবা মাবারসাম গ্রামে। তিনি বাগদাদে বসবাস করতেন এবং সেখানেই ইন্তেকাল করেন। তিনি ছিলেন আলী বিন খাশরামের চাচাতো ভাই। তিনি ফুযাইল বিন ইয়াজের সাহচর্য লাভ করেছিলেন এবং তিনি ছিলেন একজন বিজ্ঞ আলেম ও পরহেজগার ব্যক্তি।

ইয়াহইয়া বিন আকসাম বলেন: আল-মামুন আমাকে বললেন, "এই জনপদে আর কেউ অবশিষ্ট নেই..."
(খণ্ড: ১) তবাকাতুস সূফিয়্যাহ লিস-সুলামী ওয়া ইয়ালীহি জিকরুন নিসওয়াতিল মুতাআব্বিদাতিল সূফিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ٤٤)
يستحى مِنْهُ غير هَذَا الشَّيْخ بشر بن الْحَارِث

سَمِعت أَبَا مُحَمَّد عبد الله بن أَحْمد بن جَعْفَر يَقُول سَمِعت الْعَبَّاس بن عبد الله بن أَحْمد بن عِصَام الْبَغْدَادِيّ يَقُول سَمِعت جَعْفَر بن عبد الله بن أَحْمد البرداني يَقُول قَالَ يحيى بن أَكْثَم هَذَا مَاتَ بشر بن الْحَارِث يَوْم الْأَرْبَعَاء لعشر خلون من الْمحرم سنة سبع وَعشْرين وَمِائَتَيْنِ وَأسْندَ الحَدِيث

أخبرنَا أَبُو عَمْرو سعيد بن الْقَاسِم بن الْعَلَاء البرذعي أخبرنَا أَبُو
এই শাইখ বিশর ইবনুল হারিস ব্যতীত অন্য কারো কাছ থেকে লজ্জা পাওয়া যায় না।

আমি আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে জাফরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আব্বাস ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে ইসাম আল-বাগদাদীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি জাফর ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ আল-বারদানিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, ইয়াহইয়া ইবনে আকসাম বলেছেন: বিশর ইবনুল হারিস দুইশত সাতাশ হিজরি সনের মুহাররম মাসের দশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর বুধবার দিন মৃত্যুবরণ করেন এবং তিনি হাদিস বর্ণনা করেছেন।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর সাঈদ ইবনুল কাসিম ইবনুল আলা আল-বারদাই, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু
(খণ্ড: ১) তবাকাতুস সূফিয়্যাহ লিস-সুলামী ওয়া ইয়ালীহি জিকরুন নিসওয়াতিল মুতাআব্বিদাতিল সূফিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ٤٥)
طَلْحَة أَحْمد بن مُحَمَّد بن عبد الْكَرِيم أخبرنَا مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن أبي الْورْد العابد قَالَ سَمِعت بشر بن الْحَارِث الحافي يَقُول أخبرنَا الْمعَافى بن عمرَان عَن إِسْرَائِيل عَن مُسلم الْملَائي عَن حَبَّة العرني عَن عَليّ

তালহা আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল কারিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আবিল ওয়ারদ আল-আবিদ আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন, আমি বিশর বিন আল-হারিস আল-হাফীকে বলতে শুনেছি, আল-মুয়াফা বিন ইমরান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসরাঈল থেকে, তিনি মুসলিম আল-মালায়ী থেকে, তিনি হাব্বাহ আল-আরানি থেকে, তিনি আলী থেকে।

(খণ্ড: ১) তবাকাতুস সূফিয়্যাহ লিস-সুলামী ওয়া ইয়ালীহি জিকরুন নিসওয়াতিল মুতাআব্বিদাতিল সূফিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ٤٦)
رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم (كلوا الثوم نيئا فلولا أَن الْملك يأتيني لأكلته)

أخبرنَا عبيد الله بن عُثْمَان قَالَ حَدثنَا أَبُو عَمْرو بن السماك حَدثنَا الْحسن بن عَمْرو السبيعِي قَالَ سَمِعت بشر بن الْحَارِث يَقُول يَأْتِي على النَّاس زمَان وَلَا تقر فِيهِ عين حَكِيم وَيَأْتِي عَلَيْهِم زمَان تكون الدولة فِيهِ للحمقى على الأكياس

وبإسناده قَالَ سَمِعت بشرا يَقُول النّظر إِلَى الأحمق سخنة الْعين وَالنَّظَر إِلَى الْبَخِيل يقسي الْقلب
আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "তোমরা কাঁচা রসুন খাও; কারণ ফেরেশতা যদি আমার নিকট না আসতেন তবে আমি অবশ্যই তা আহার করতাম।"

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উবায়দুল্লাহ ইবনে উসমান, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আমর ইবনে আস-সাম্মাক, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান ইবনে আমর আস-সুবাইঈ, তিনি বলেন, আমি বিশর ইবনুল হারিসকে বলতে শুনেছি, "মানুষের নিকট এমন এক সময় আসবে যখন কোনো প্রজ্ঞাবান ব্যক্তির চক্ষু শীতল হবে না; এবং তাদের নিকট এমন এক সময় আসবে যখন বুদ্ধিমানদের ওপর নির্বোধদের কর্তৃত্ব ও প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হবে।"

এবং উক্ত বর্ণনাসূত্রে তিনি বলেন, আমি বিশরকে বলতে শুনেছি, "নির্বোধের দিকে তাকানো চোখের জন্য যন্ত্রণাদায়ক এবং কৃপণের দিকে তাকানো অন্তরকে কঠোর করে দেয়।"
(খণ্ড: ১) তবাকাতুস সূফিয়্যাহ লিস-সুলামী ওয়া ইয়ালীহি জিকরুন নিসওয়াতিল মুতাআব্বিদাতিল সূফিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ٤٧)
وَبِه قَالَ سَمِعت بشرا يَقُول اعْمَلْ فِي ترك التصنع وَلَا تعْمل فِي التصنع

وَبِه قَالَ سَمِعت بشرا يَقُول الصَّبْر الْجَمِيل هُوَ الَّذِي لَا شكوى فِيهِ إِلَى النَّاس

وَبِه قَالَ سَمِعت بشرا يَقُول لَا تكون كَامِلا حَتَّى يأمنك عَدوك وَكَيف يكون فِيك خير وَأَنت لَا يأمنك صديقك

وَبِه قَالَ سَمِعت بشرا يَقُول لَا تَجِد حلاوة الْعِبَادَة حَتَّى تجْعَل بَيْنك وَبَين الشَّهَوَات حَائِطا من حَدِيد

وبإسناده قَالَ سَمِعت بشرا يَقُول الدُّعَاء ترك الذُّنُوب

حَدثنَا أَبُو عَبَّاس مُحَمَّد بن الْحسن بن الخشاب قَالَ أخبرنَا أَحْمد بن مُحَمَّد بن صَالح قَالَ حَدثنَا مُحَمَّد بن عبدون قَالَ حَدثنَا حسن المسوحي قَالَ رَآنِي بشر بن الْحَارِث يَوْمًا بَارِدًا وَأَنا أرتعد من الْبرد
এবং তার মাধ্যমে তিনি বলেন: আমি বিশরকে বলতে শুনেছি, লৌকিকতা ত্যাগ করার জন্য কাজ করো, আর লৌকিকতা অর্জনের জন্য কাজ করো না।

এবং তার মাধ্যমে তিনি বলেন: আমি বিশরকে বলতে শুনেছি, সুন্দর ধৈর্য হলো তাই, যাতে মানুষের কাছে কোনো অভিযোগ থাকে না।

এবং তার মাধ্যমে তিনি বলেন: আমি বিশরকে বলতে শুনেছি, তুমি ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণতা লাভ করবে না যতক্ষণ না তোমার শত্রু তোমার থেকে নিরাপদ থাকে; আর তোমার মধ্যে কীভাবে কল্যাণ থাকতে পারে যখন তোমার বন্ধুও তোমার থেকে নিরাপদ নয়?

এবং তার মাধ্যমে তিনি বলেন: আমি বিশরকে বলতে শুনেছি, তুমি ইবাদতের স্বাদ পাবে না যতক্ষণ না তুমি তোমার এবং কুপ্রবৃত্তির মাঝে লোহার একটি প্রাচীর স্থাপন করো।

এবং তার সনদে তিনি বলেন: আমি বিশরকে বলতে শুনেছি, দোয়া হলো গুনাহ বর্জন করা।

আবু আব্বাস মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান ইবনুল খাশশাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সালিহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে আবদুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাসান আল-মাসুহি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এক কনকনে শীতের দিনে বিশর ইবনুল হারিস আমাকে দেখলেন যখন আমি শীতে কাঁপছিলাম।
(খণ্ড: ১) তবাকাতুস সূফিয়্যাহ লিস-সুলামী ওয়া ইয়ালীহি জিকরুন নিসওয়াতিল মুতাআব্বিদাতিল সূফিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ٤٨)
فَنظر إِلَيّ وَقَالَ

(قطع اللَّيَالِي مَعَ الْأَيَّام فِي خلق … وَالنَّوْم تَحت رواق الْهم والقلق)

(أَحْرَى وأجدر بِي من أَن يُقَال غَدا … إِنِّي التمست الْغنى من كف مختلق)

(قَالُوا رضيت بذا قلت القنوع غنى … لَيْسَ الْغنى كَثْرَة الْأَمْوَال وَالْوَرق)

(رضيت بِاللَّه فِي عسري وَفِي يسري … فلست أسلك إِلَّا وَاضح الطّرق)

وبإسناده قَالَ سَمِعت بشرا يَقُول المتقلب فِي جوعه كالمتشحط فِي دَمه فِي سَبِيل الله وثوابه الْجنَّة

وَبِه قَالَ سَمِعت بشرا يَقُول هَب أَنَّك لَا تخَاف وَيحك أَلا تشتاق

أخبرنَا عبيد الله بن عُثْمَان بن يحيى حَدثنَا أَبُو عَمْرو بن السماك حَدثنَا أَحْمد بن مُحَمَّد الْفَزارِيّ حَدثنَا عبد الله بن خبيق قَالَ قَالَ بشر أَرْبَعَة رفعهم الله بِطيب الْمطعم وهيب بن الْورْد وَإِبْرَاهِيم بن أدهم ويوسف ابْن أَسْبَاط وَسَالم الْخَواص

أخبرنَا عبيد الله بن عُثْمَان حَدثنَا أَبُو عَمْرو بن السماك حَدثنَا مُحَمَّد بن حَفْص حَدثنَا مُحَمَّد بن الْمثنى بن زِيَاد قَالَ سَمِعت بشرا يَقُول شاطر
অতঃপর তিনি আমার দিকে তাকালেন এবং বললেন

(অভাবের মধ্যে দিন ও রাত অতিবাহিত করা … এবং দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগের ছাউনির নিচে ঘুমানো)

(আগামীকাল এমনটি বলা হওয়ার চেয়ে আমার জন্য অধিকতর সমীচীন ও যোগ্য … যে আমি কোনো সৃষ্টির হাত থেকে সচ্ছলতা প্রার্থনা করেছি)

(তারা বলল: আপনি কি এতেই সন্তুষ্ট? আমি বললাম: অল্পে তুষ্টিই হলো প্রকৃত সম্পদ … সম্পদ মানে প্রচুর অর্থকড়ি ও রৌপ্যমুদ্রা নয়)

(আমি আমার কষ্টে ও স্বাচ্ছন্দ্যে আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট … তাই আমি স্পষ্ট পথ ছাড়া অন্য কোনো পথে চলি না)

এবং তাঁর বর্ণনাসূত্রে তিনি বলেন, আমি বিশরকে বলতে শুনেছি: যে ব্যক্তি ক্ষুধার্ত অবস্থায় ছটফট করে, সে আল্লাহর রাস্তায় নিজের রক্তে রঞ্জিত ব্যক্তির মতো এবং তার প্রতিদান হলো জান্নাত।

এবং উক্ত সূত্রেই তিনি বলেন, আমি বিশরকে বলতে শুনেছি: মনে করুন আপনি ভয় পান না; ধিক আপনাকে, আপনার কি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা জাগে না?

উবাইদুল্লাহ বিন উসমান বিন ইয়াহইয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আমর বিন আস-সাম্মাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ বিন মুহাম্মদ আল-ফাজারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ বিন খুবাইক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বিশর বলেছেন, চারজন ব্যক্তিকে আল্লাহ তাঁদের খাদ্যের পবিত্রতার (হালাল রুজির) কারণে উচ্চ মর্যাদা দান করেছেন: উহাইব বিন আল-ওয়ারদ, ইব্রাহিম বিন আদহাম, ইউসুফ বিন আসবাত এবং সালিম আল-খাওওয়াস।

উবাইদুল্লাহ বিন উসমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আমর বিন আস-সাম্মাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন হাফস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন আল-মুসান্না বিন জিয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি বিশরকে বলতে শুনেছি, শাতীর (অর্ধেক)...