(খণ্ড: ১)
আন-নুরুস সাফির আন আখবারিল করনিল আশির
(পৃষ্ঠা: -)
النور السافر عن أخبار القرن العاشر (العيدروس)
القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: النور السافر عن أخبار القرن العاشر
المؤلف: محي الدين عبد القادر بن شيخ بن عبد الله العَيْدَرُوس (ت 1038هـ)
الناشر: دار الكتب العلمية - بيروت
الطبعة: الأولى، 1405
عدد الصفحات: 428
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আন-নূর আস-সাফির আন আখবারিল কারনিল আশির (দশম শতাব্দীর খবরাখবর থেকে উদ্ভাসিত আলো) (আল-আইদারুস)
বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
বই: আন-নূর আস-সাফির আন আখবারিল কারনিল আশির
লেখক: মুহিউদ্দিন আবদুল কাদির বিন শাইখ বিন আবদুল্লাহ আল-আইদারুস (মৃত্যু ১০৩৮ হিজরি)
প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম، ১৪০৫
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪২৮
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আন-নুরুস সাফির আন আখবারিল করনিল আশির
(পৃষ্ঠা: ٥)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم وَبِه نستعينخطْبَة الْكتاب الْحَمد لله رب الْعَالمين وَالْعَاقبَة لِلْمُتقين وَلَا عدوان إِلَّا على الظَّالِمين وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على سيدنَا مُحَمَّد سيد الْمُرْسلين وَخَاتم النَّبِيين وعَلى آله وَصَحبه أَجْمَعِينَوَبعد هَذَا أنموذج لطيف وعنوان شرِيف ذكرت فِيهِ وفيات من ظَفرت بتاريخ وَفَاته مِمَّن مَاتَ فِي هَذَا الْقرن الَّذِي أَوله سنة إِحْدَى وَتِسْعمِائَة ختم بِالْحُسْنَى من سَائِر الْعلمَاء والصلحاء والقضاة والأدباء والملوك والأعيان مصرياً كَانَ أَو شامياً حجازياً كَانَ أَو يمنياً رومياً أَو هندياً مشرقياً أَو مغربياً وضممت إِلَى ذَلِك ذكر بعض الْحَوَادِث والماجريات والحكايات العجيبة وَالْملح الغريبة وَلَا يعْدم كل شخص من نادرة جرت لَهُ من الْأَخْبَار وَشعر نظمه من الْأَشْعَار على وَجه الِاخْتِصَار وَمَا يحصل من الِاعْتِبَار وَللَّه در من قَالَ … إِذا عرف الْإِنْسَان أَخْبَار من مضى … تخيلته قد عَاشَ حينا من الدَّهْرفقد عَاشَ كل الدَّهْر من كَانَ عَالما … كَرِيمًا حَلِيمًا فاغتنم أطول الْعُمر … هَذَا وَلم استوعب كلما وَقع فِي هَذَا الْقرن من الْحَوَادِث لعدم اطلاعي عَلَيْهَا وَإِنَّمَا ذكرت مَا انْتهى إِلَيْهِ علمي مِنْهَا وَرُبمَا أَن الَّذِي تركته يكون أَكثر مِمَّا ذكرته وَلَكِن إِذا كَانَت الغايات لَا تدْرك فاليسير مِنْهَا لَا يتْرك وَأَرْجُو أَن يكون هَذَا الْكتاب كتاب حَدِيث وَفقه وتاريخ وأدب وسميته
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে এবং তাঁরই নিকট আমরা সাহায্য প্রার্থনা করছি।গ্রন্থের ভূমিকা সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর শুভ পরিণাম কেবল মুত্তাকীদের জন্য, এবং যালিমরা ব্যতীত কারো প্রতি কোনো শত্রুতা নেই। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, যিনি রাসূলগণের সরদার ও নবীগণের সমাপ্তি দানকারী, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীদের ওপর।অতঃপর, এটি একটি মনোরম নমুনা এবং একটি মহৎ শিরোনাম, যাতে আমি সেই সকল ব্যক্তিদের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করেছি যাদের মৃত্যুর তারিখ আমি লাভ করতে পেরেছি এবং যারা এই শতাব্দীতে মৃত্যুবরণ করেছেন যার সূচনা নয়শত এক হিজরী সালে—যা কল্যাণের সাথে সমাপ্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সকল আলিম, সৎকর্মশীল ব্যক্তিবর্গ, বিচারকগণ, সাহিত্যিকগণ, রাজন্যবর্গ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ; চাই তাঁরা মিসরীয় হোন কিংবা শামী, হিজাযী হোন কিংবা ইয়ামেনী, রূমী হোন কিংবা ভারতীয়, প্রাচ্যের হোন কিংবা প্রতীচ্যের। আর আমি এর সাথে কিছু ঘটনাপ্রবাহ, ঘটনাবলি, বিস্ময়কর কাহিনী এবং অদ্ভুত কৌতূহলোদ্দীপক তথ্যাদি যুক্ত করেছি। আর প্রতিটি মানুষের জন্য সংক্ষেপে তাঁর সাথে ঘটে যাওয়া কোনো বিরল সংবাদ কিংবা তাঁর রচিত কোনো কবিতা উল্লেখ করা থেকে বাদ পড়েনি, যার মাধ্যমে শিক্ষণীয় বিষয় লাভ করা যায়। আর কতই না চমৎকার বলেছেন সেই ব্যক্তি যিনি বলেছেন … যখন মানুষ গত হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের সংবাদ জানতে পারে … তখন তোমার মনে হবে সে যেন এক দীর্ঘকাল যাবত জীবিত রয়েছে।কেননা যে ব্যক্তি আলিম, মহানুভব ও ধৈর্যশীল হয়, সে যেন সমগ্র কাল জুড়েই জীবিত থাকে … সুতরাং দীর্ঘতম আয়ুর সুযোগ গ্রহণ করো … তদুপরি, আমি এই শতাব্দীতে ঘটে যাওয়া সকল ঘটনা আয়ত্ত করতে পারিনি, কারণ সে সকল বিষয়ে আমার পূর্ণ অবগত হওয়া সম্ভব হয়নি। বরং এগুলোর মধ্য হতে আমার জ্ঞান যতটুকু পৌঁছেছে আমি কেবল তা-ই উল্লেখ করেছি। সম্ভবত আমি যা বর্জন করেছি তা আমার বর্ণিত বিষয়ের চেয়েও অধিক হতে পারে। কিন্তু যখন লক্ষ্যসমূহ পুরোপুরি অর্জন করা সম্ভব হয় না, তখন তার যৎসামান্য অংশও বর্জন করা উচিত নয়। আর আমি আশা করি যে, এই কিতাবটি হাদীস, ফিকহ, ইতিহাস ও সাহিত্যের একটি গ্রন্থ হবে এবং আমি এর নামকরণ করেছি...
(খণ্ড: ১)
আন-নুরুস সাফির আন আখবারিল করনিল আশির
(পৃষ্ঠা: ٦)
النُّور السافر عَن أَخْبَار الْقرن الْعَاشِر ولنذكر قبل الشُّرُوع فِي الْمَقْصُود نبذة شريفة من أَوْصَاف سيد الْمُرْسلين وافضل الْأَوَّلين والآخرين تيمنا بِذكرِهِ واستشعاراً لعَظيم قدره عَسى أَن أسعد بِشَفَاعَتِهِ واحشر فِي زمرته لحبي اياه والتجائي الي شرِيف علياه صلى الله عليه وسلم وَشرف وكرم ومجد وَعظمأعلم أَن الله سُبْحَانَهُ لما أَرَادَ إِيجَاد خلقه ابرز الْحَقِيقَة المحمدية من أنواره الصمدية فِي حَضرته الأحمدية ثمَّ سلخ مِنْهَا العوالم كلهَا علوها وسفلها على مَا اقْتَضَاهُ كَمَال حكمته وَسبق فِي علمه وإرادته ثمَّ أعلمهُ الله تَعَالَى بِكَمَالِهِ ونبوته وبشره بِعُمُوم دَعوته ورسالته وَبِأَنَّهُ نبى الْأَنْبِيَاء وواسطة جَمِيع الأصفياء وَأَبوهُ آدم بَين الرّوح والجسد ثمَّ انبجست مِنْهُ عُيُون الْأَرْوَاح فَظهر مُمِدًّا لَهَا فِي عالمها الْمُتَقَدّم على عَالم الأشباح وَكَانَ هُوَ الْجِنْس العالي على جَمِيع الْأَجْنَاس وَالْأَب الْأَكْبَر لجَمِيع الموجودات وَالنَّاس فَهُوَ وَإِن تَأَخّر وجود جِسْمه متميز على العوالم كلهَا برفعته وتقدمه إِذْ هُوَ خزانَة السِّرّ الصمداني ومحتد تفرد الأمداد الرحماني وَصَحَّ فِي مُسلم أَنه صلى الله عليه وسلم قَالَ {إِن الله تَعَالَى كتب مقادير الْخلق قبل أَن يخلق السَّمَوَات وَالْأَرْض بِخَمْسِينَ ألف سنة وَكَانَ عَرْشه على المَاء} وَمن جملَة مَا كتب فِي الذّكر وَهُوَ أم الْكتاب إِن مُحَمَّدًا خَاتم النَّبِيين وَصَحَّ أَيْضا أَنِّي عبد الله لخاتم النَّبِيين وَأَن آدم لَمُنْجَدِل فِي طينته أَي لطريح ملقى قبل نفخ الرّوح فِيهِ وَصَحَّ أَيْضا يَا رَسُول الله مَتى كنت نَبيا قَالَ {وآدَم بَين الرّوح والجسد ويروي كتبت من الْكِتَابَة وَخبر} كنت نَبيا وادم بَين المَاء والطينقَالَ بعض الْحفاظ لم نقف عَلَيْهِ بِهَذَا اللَّفْظ وَحسن التِّرْمِذِيّ خبر يَا رَسُول الله مَتى وَجَبت لَك النُّبُوَّة قَالَ وآدَم بَين الرّوح والجسد ومعني وجوب النُّبُوَّة وكتابتها ثُبُوتهَا وظهورها فِي الْخَارِج نَحْو كتب الله لأغلبن كتب عَلَيْكُم الصّيام وَالْمرَاد ظُهُورهَا للمليكة وروحه صلى الله عليه وسلم فِي عَالم الْأَرْوَاح أعلاماً بعظيم شوقه وتميزه على بَقِيَّة الانبياء وَخص الاظهار بِحَالَة كَون آدم بَين الرّوح والجسد لانه اوان دُخُول الْأَرْوَاح
দশম শতাব্দীর খবরাখবর সংবলিত প্রজ্জ্বলিত আলো মূল বিষয়ে প্রবেশের পূর্বে আমরা রাসূলগণের সরদার এবং পূর্বাপর সকলের শ্রেষ্ঠতম সত্তার গুণাবলির একটি মহিমান্বিত অংশ উল্লেখ করছি। এটি করছি তাঁর স্মরণে বরকত লাভ এবং তাঁর সুমহান মর্যাদার অনুভূতি অন্তরে জাগ্রত করার উদ্দেশ্যে; যেন তাঁর প্রতি আমার ভালোবাসা এবং তাঁর সুউচ্চ সম্মানের আশ্রয়ে আমি তাঁর সুপারিশের সৌভাগ্য লাভ করি এবং তাঁর দলভুক্ত হয়ে পুনরুত্থিত হতে পারি। তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত, মর্যাদা, সম্মান, মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্ব বর্ষিত হোক।জেনে রাখুন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যখন তাঁর সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করার ইচ্ছা করলেন, তখন তিনি তাঁর আহমাদী সান্নিধ্যে আপন সমদানী নূরসমূহ থেকে হাকিকতে মুহাম্মাদিয়াকে (মুহাম্মাদী প্রকৃত সত্তা) উদ্ভাসিত করলেন। অতঃপর তাঁর হিকমতের পূর্ণতা এবং তাঁর পূর্বতন জ্ঞান ও ইচ্ছার দাবি অনুযায়ী তা থেকে ঊর্ধ্ব ও নিম্ন জগতসমূহ বের করে আনলেন। এরপর আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাঁর পূর্ণতা ও নবুওয়াত সম্পর্কে অবহিত করলেন এবং তাঁর দাওয়াতের ব্যাপকতা ও রিসালাত সম্পর্কে সুসংবাদ দিলেন। আরও জানালেন যে, তিনি হলেন নবীদের নবী এবং সমস্ত পুণ্যবানদের মাধ্যম; তখন আদম রুহ ও দেহের মধ্যবর্তী অবস্থায় ছিলেন। অতঃপর তাঁর থেকে রুহসমূহের ঝরনাধারা প্রবাহিত হলো এবং সেই আদি জগতে (আলামুল আরওয়াহ) তিনি রুহগুলোর সাহায্যকারী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন, যা ছিল দেহজগত সৃষ্টির পূর্বের ঘটনা। তিনি ছিলেন সমস্ত শ্রেণীর মধ্যে উচ্চতর শ্রেণী এবং সমস্ত বিদ্যমান বস্তু ও মানুষের আদি পিতা। সুতরাং, তাঁর দৈহিক অস্তিত্ব পরে এলেও উচ্চমর্যাদা ও অগ্রগণ্যতার কারণে তিনি সমস্ত জগতের ওপর বিশিষ্ট। কারণ তিনি হলেন সমদানী রহস্যের ভাণ্ডার এবং রাহমানী সাহায্য ও দয়া লাভের উৎসস্থল। সহীহ মুসলিমে প্রমাণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আসমান ও জমিন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর আগে সৃষ্টির ভাগ্যলিপি লিখেছিলেন এবং তখন তাঁর আরশ ছিল পানির উপর।" যিকির বা উম্মুল কিতাবে (লওহে মাহফুজ) যা লেখা হয়েছিল তার অন্তর্ভুক্ত হলো—মুহাম্মাদ হলেন শেষ নবী। আরও সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে: "নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর নিকট শেষ নবী হিসেবে লিখিত ছিলাম যখন আদম তাঁর মাটিতে শায়িত ছিলেন," অর্থাৎ রুহ ফুঁকে দেওয়ার পূর্বে নিক্ষিপ্ত অবস্থায় ছিলেন। আরও সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে: "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কখন নবী ছিলেন?" তিনি বললেন: "যখন আদম রুহ ও দেহের মধ্যবর্তী অবস্থায় ছিলেন।" কোনো কোনো বর্ণনায় 'কুতিবতু' (আমি লিখিত ছিলাম) শব্দ এসেছে এবং অন্য এক খবরে এসেছে: "আমি তখনো নবী ছিলাম যখন আদম পানি ও কাদার মাঝে ছিলেন।"জনৈক হাফেজ (হাদিস বিশারদ) বলেন: এই শব্দে (পানি ও কাদার মাঝে) আমরা হাদীসটি পাইনি। তবে ইমাম তিরমিযী এই বর্ণনাটিকে হাসান বলেছেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আপনার জন্য নবুওয়াত কখন অবধারিত হয়েছিল?" তিনি বললেন: "যখন আদম রুহ ও দেহের মাঝে ছিলেন।" নবুওয়াত অবধারিত হওয়া বা তা লিখিত থাকার অর্থ হলো—বাস্তবে তার সাব্যস্ত হওয়া এবং প্রকাশ পাওয়া; যেমন আল্লাহর বাণী: "আল্লাহ লিখে দিয়েছেন যে আমি অবশ্যই বিজয়ী হব" অথবা "তোমাদের ওপর সিয়াম লিখে দেওয়া হয়েছে (বাধ্যতামূলক করা হয়েছে)"। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ফিরিশতাদের নিকট তা প্রকাশ করা। আর রুহ জগত বা আলামুল আরওয়াহ-তে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রুহ মোবারককে নবুওয়াত প্রদানের সংবাদ দেওয়া হয়েছিল তাঁর সুমহান মর্যাদা এবং অন্যান্য নবীদের ওপর তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের পরিচায়ক হিসেবে। আর এই আত্মপ্রকাশের বিষয়টি আদমের রুহ ও দেহের মধ্যবর্তী অবস্থার সাথে নির্দিষ্ট করা হয়েছে, কারণ সেটিই ছিল রুহসমূহের প্রবেশের সময়।
(খণ্ড: ১)
আন-নুরুস সাফির আন আখবারিল করনিল আশির
(পৃষ্ঠা: ٧)
إِلَى عَالم الاجساد والتمايز حِينَئِذٍ أتم واظهر فاختص صلى الله عليه وسلم بِزِيَادَة إِظْهَار شرفه حِينَئِذٍ ليتميز على غَيره تميزاً اعظم وَأتموَأجَاب الْغَزالِيّ عَن وَصفه نَفسه بِالنُّبُوَّةِ قبل وجود ذَاته وَعَن خبر {أَنا أول الْأَنْبِيَاء خلقا وَآخرهمْ بعثاً بَان المُرَاد بالخلق هُنَا التَّقْدِير لَا الإيجاد فانه قبل ان تحمل بِهِ أمه لم يكن مخلوقاً مَوْجُودا وَلَكِن الغايات والكمالات سَابِقَة فِي التَّقْدِير لاحقة فِي الْوُجُود فَقَوله كنت نَبيا أَي فِي التَّقْدِير قبل تَمام خلقَة آدم إِذْ لم ينشأ إِلَّا لينتزع من ذُريَّته مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم وتحقيقه ان للدَّار فِي ذهن المهندس وجودا ذهنياً سَببا للوجود الْخَارِجِي وسابقاً عَلَيْهِ فَالله تَعَالَى يقدر ثمَّ يُوجد على وفْق تَقْدِير بانيها انْتهى مُلَخصاوَذهب السُّبْكِيّ إِلَى مَا هُوَ أحسن وابين وَهُوَ انه جَاءَ ان الْأَرْوَاح خلقت قبل الأجساد فالاشارة ب كنت نَبيا إِلَى روحه الشَّرِيفَة أَو حَقِيقَة من حقائقه لَا يعلمهَا إِلَّا الله وَمن حباه الِاطِّلَاع عَلَيْهَا ثمَّ انه تَعَالَى يُؤْتِي كل حَقِيقَة مِنْهَا مَا شَاءَ فِي أَي وَقت شَاءَ فحقيقته صلى الله عليه وسلم قد تكون من حِين خلق آدم عليه السلام أَتَاهَا الله ذَلِك الْوَصْف بَان خلقهَا متهيئة لَهُ وافاضه عَلَيْهَا من ذَلِك الْوَقْت فَصَارَ نَبيا وَكتب اسْمه على الْعَرْش ليعلم مَلَائكَته وَغَيرهم كرامته عِنْده فحقيقته مَوْجُودَة من ذَلِك الْوَقْت وان تَأَخّر جسده الشريف المتصف بهَا فنحو ايتائه النُّبُوَّة وَالْحكمَة وَسَائِر أَوْصَاف حَقِيقَته وكمالاتها معجل لَا تَأَخّر فِيهِ وَإِنَّمَا الْمُتَأَخر تكونه وتنقله فِي الأصلاب والأرحام والطاهرة إِلَى ان ظهر صلى الله عليه وسلم وَمن فسر ذَلِك بِعلم الله بِأَنَّهُ سيصير نَبيا لم يصل لهَذَا الْمَعْنى لَان علمه تَعَالَى مُحِيط بِجَمِيعِ الْأَشْيَاء فالوصف بِالنُّبُوَّةِ فِي ذَلِك الْوَقْت يَنْبَغِي ان يفهم مِنْهُ انه أَمر ثابة لَهُ فِيهِ وَإِلَّا لم يخْتَص بِأَنَّهُ نَبِي اذ الْأَنْبِيَاء كلهم كَذَلِك بِالنِّسْبَةِ لعلمه تَعَالَىوَأخرج ابْن سعد عَن الشّعبِيّ مَتى أستنبئت يَا رَسُول الله قَالَ وآدَم بَين الرّوح والجسد حِين اخذ مني الْمِيثَاق وَهُوَ يدل على ان آدم عليه السلام لما صور طيناً استخرج مِنْهُ صلى الله عليه وسلم وَنَبِي اخذ مِنْهُ الْمِيثَاق ثمَّ أُعِيد إِلَى ظَهره ليخرج أَوَان وجوده فَهُوَ أَوَّلهمْ خلقا وَخلق آدم السَّابِق كَانَ مواتاً لَا روح فِيهِ وَهُوَ صلى الله عليه وسلم كَانَ حَيا حِين استخرج وَنَبِي
যখন স্থূল দেহের জগৎ এবং পার্থক্যের সৃষ্টি পূর্ণতা পেল ও প্রকাশিত হলো, তখন সেই সময়ে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শ্রেষ্ঠত্বের প্রকাশকে আরও বৃদ্ধি করে তাঁকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করা হলো, যাতে তিনি অন্যদের তুলনায় অধিক মহান ও পূর্ণাঙ্গরূপে স্বতন্ত্র হতে পারেন।ইমাম গাজালি তাঁর সত্তার অস্তিত্বের পূর্বেই নিজেকে নবুওয়াতের গুণে গুণান্বিত করার বিষয়ে এবং এই বর্ণনার জবাবে যে—"আমি সৃষ্টিগতভাবে প্রথম নবী এবং প্রেরণের দিক থেকে সর্বশেষ"—বলেছেন যে, এখানে সৃষ্টি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাকদির বা নির্ধারণ করা, অস্তিত্বদান নয়। কারণ তাঁর মা তাঁকে গর্ভে ধারণ করার পূর্বে তিনি সৃষ্টি হিসেবে বিদ্যমান ছিলেন না। তবে লক্ষ্য ও পূর্ণতাগুলো নির্ধারণের ক্ষেত্রে অগ্রগামী থাকে এবং বাস্তব অস্তিত্বে পশ্চাৎগামী হয়। সুতরাং তাঁর কথা "আমি নবী ছিলাম" এর অর্থ হলো—তাকদিরে আদম (আলাইহিস সালাম)-এর সৃষ্টি পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই তিনি নবী ছিলেন। কেননা আদম (আলাইহিস সালাম)-কে তো সৃষ্টিই করা হয়েছে তাঁর বংশধারা থেকে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বের করে আনার জন্য। এর তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ হলো—যেমন একজন প্রকৌশলীর মনে একটি বাড়ির মানসিক নকশা থাকে যা বাহ্যিক অস্তিত্বের কারণ এবং তার পূর্ববর্তী বিষয়। আল্লাহ তাআলাও প্রথমে নির্ধারণ করেন, অতঃপর সেই নকশা অনুযায়ী তা অস্তিত্ব দান করেন। (সংক্ষিপ্ত সার শেষ)।ইমাম সুবকি আরও উত্তম ও সুস্পষ্ট মতের দিকে গিয়েছেন, যা হলো—বর্ণিত হয়েছে যে, দেহগুলোর পূর্বে রুহসমূহ সৃষ্টি করা হয়েছে। সুতরাং "আমি নবী ছিলাম" দ্বারা তাঁর সম্মানিত রুহ অথবা তাঁর হাকিকতসমূহের এমন কোনো হাকিকতের দিকে ইশারা করা হয়েছে যা আল্লাহ এবং যাঁকে আল্লাহ এ বিষয়ে অবগত করেছেন তিনি ছাড়া আর কেউ জানে না। অতঃপর আল্লাহ তাআলা প্রতিটি হাকিকতকে যা ইচ্ছা এবং যখন ইচ্ছা তা দান করেন। সুতরাং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাকিকত হয়তো আদম (আলাইহিস সালাম)-এর সৃষ্টির সময় থেকেই বিদ্যমান ছিল এবং আল্লাহ তাকে সেই গুণের (নবুওয়াত) উপযোগী করে সৃষ্টি করার মাধ্যমে তা দান করেছেন এবং সেই সময় থেকেই তা তাঁর ওপর বর্ষণ করেছেন, ফলে তিনি নবী হয়ে গিয়েছেন। আর তাঁর নাম আরশের ওপর লিখে দেওয়া হয়েছে যাতে ফেরেশতাগণ ও অন্যরা আল্লাহর নিকট তাঁর মর্যাদা সম্পর্কে জানতে পারে। অতএব তাঁর হাকিকত সেই সময় থেকেই বিদ্যমান ছিল, যদিও সেই হাকিকত মণ্ডিত তাঁর পবিত্র দেহ পরে আবির্ভূত হয়েছে। সুতরাং তাঁকে নবুওয়াত, হিকমত এবং তাঁর হাকিকতের অন্যান্য গুণাবলী ও পূর্ণতা দান ছিল ত্বরান্বিত, তাতে কোনো বিলম্ব ছিল না। বিলম্ব তো ছিল কেবল তাঁর সৃষ্টি হওয়া এবং পবিত্র বংশপরম্পরা ও গর্ভসমূহে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে, যতক্ষণ না পর্যন্ত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আত্মপ্রকাশ করেন। আর যারা এর ব্যাখ্যা আল্লাহর এই ইলম বা জ্ঞান দ্বারা করেছেন যে—আল্লাহ জানতেন তিনি নবী হবেন—তারা এই সূক্ষ্ম অর্থে পৌঁছাতে পারেননি। কারণ আল্লাহর জ্ঞান তো সমস্ত বস্তুকে পরিবেষ্টন করে আছে। সুতরাং সেই সময়ে নবুওয়াতের গুণ দ্বারা তাঁর বর্ণনা থেকে এটাই বোঝা উচিত যে, এটি তাঁর জন্য একটি সাব্যস্ত বিষয় ছিল। অন্যথায় তিনি এককভাবে নবী হিসেবে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হতেন না, কারণ আল্লাহর জ্ঞানের বিচারে সকল নবীই তেমন ছিলেন।ইবনে সাদ ইমাম শাবি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, (জিজ্ঞেস করা হলো) হে আল্লাহর রাসুল! আপনাকে কখন নবী করা হয়েছে? তিনি বললেন: "যখন আদম রুহ ও দেহের মধ্যবর্তী অবস্থায় ছিলেন, তখন আমার থেকে অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছিল।" এটি প্রমাণ করে যে, আদম (আলাইহিস সালাম)-কে যখন কাদা দ্বারা আকৃতি দেওয়া হয়েছিল, তখন তাঁর থেকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বের করা হয়েছিল এবং নবী হিসেবে তাঁর থেকে অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছিল। অতঃপর তাঁকে পুনরায় আদমের পিঠে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল যাতে তিনি তাঁর নির্ধারিত সময়ে আত্মপ্রকাশ করতে পারেন। সুতরাং তিনি সৃষ্টির দিক থেকে তাঁদের প্রথম। আর আদমের সেই সময়কার সৃষ্টি ছিল নিষ্প্রাণ যাতে কোনো রুহ ছিল না, অথচ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বের করা হয়েছিলেন এবং নবী ছিলেন, তখন তিনি জীবিত ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আন-নুরুস সাফির আন আখবারিল করনিল আশির
(পৃষ্ঠা: ٨)
وَأخذ مِنْهُ الْمِيثَاق وَلَا يُنَافِي هَذَا ان اسْتِخْرَاج ذُرِّيَّة آدم إِنَّمَا كَانَ بعد نفخ الرّوح فِيهِ لانه صلى الله عليه وسلم خص من بَين بني آدم بذلك الاستخراج الأول وَفِي تَفْسِير الْعِمَاد بن كثير عَن عَليّ وَابْن عَبَّاس رضي الله عنهم فِي قَوْله تَعَالَى} {وَإِذ اخذ الله مِيثَاق النَّبِيين} الْآيَة ان الله لم يبْعَث نَبيا إِلَّا أَخذ عَلَيْهِ الْعَهْد فِي مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم لَئِن بعث وَهُوَ حَيّ ليُؤْمِنن بِهِ ولينصرنه وَيَأْخُذ الْعَهْد بذلك على قَوْلهواخذ السُّبْكِيّ من الْآيَة انه على تَقْدِير مَجِيئه فِي زمانهم مُرْسل إِلَيْهِم فَتكون نبوته ورسالته عَامَّة لجَمِيع الْخَلَائق من أَدَم إِلَى يَوْم الْقِيَامَة وَتَكون الْأَنْبِيَاء وأممهم كلهم من أمته فَقَوله {وَبعثت إِلَى النَّاس كَافَّة} يتَنَاوَل من قبل زَمَانه أَيْضا وَبِه يتَبَيَّن معنى كنت نَبيا وآدَم بَين الرّوح والجسد وَحكمه كَون الْأَنْبِيَاء فِي الْآخِرَة تَحت لوائه وَصلَاته بهم لَيْلَة الْإِسْرَاءوروى عبد الرَّزَّاق بِسَنَدِهِ ان النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ {إِن الله خلق نور مُحَمَّد قبل الْأَشْيَاء من نوره فَجعل ذَلِك النُّور يَدُور بِالْقُدْرَةِ حَيْثُ شَاءَ الله وَلم يكن فِي ذَلِك الْوَقْت لوح وَلَا قلم الحَدِيث بِطُولِهِوَاخْتلفُوا فِي أول الْمَخْلُوقَات بعد النُّور المحمدي فَقيل الْعَرْش لما صَحَّ من قَوْله صلى الله عليه وسلم قدر الله مقادير الْخلق قبل ان يخلق السَّمَوَات وَالْأَرْض بِخَمْسِينَ ألف سنة وَكَانَ عَرْشه على المَاءوَصَحَّ أول مَا خلق الله الْقَلَم فَقَالَ لَهُ اكْتُبْ قَالَ رَبِّي وَمَا اكْتُبْ قَالَ اكْتُبْ مقادير كل شَيْء لَكِن صَحَّ فِي حَدِيث مَرْفُوع ان المَاء خلق قبل الْعَرْش فَعلم ان أول الْأَشْيَاء على الْإِطْلَاق النُّور المحمدي ثمَّ المَاء ثمَّ الْعَرْش ثمَّ الْقَلَم لما علمت من حَدِيث أول مَا خلق الله الْقَلَم مَعَ مَا قبله الدالين على ان التَّقْدِير وَقع بعد الْعَرْش وَالتَّقْدِير وَقع عِنْد خلق الْقَلَم فَذكر الأولية فِيهِ بِالنِّسْبَةِ لما بعدهوَورد لما خلق الله آدم جعل ذَلِك النُّور فِي صلبه فَكَانَ يلمع فِي جَبينه وَلما توفّي كَانَ وَلَده شِيث وَصِيّه فوصى وَلَده بِمَا وصاه بِهِ أَبوهُ ان لَا يوضع هَذَا النُّور الا فِي المطهرات من النِّسَاء وَلم يزل الْعَمَل بِهَذِهِ
এবং তাঁর কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করা হয়েছে। এটি আদমের বংশধরদের বের করার বিষয়টি তাঁর মধ্যে রূহ ফুঁক দেওয়ার পরে হওয়ার সাথে বৈপরীত্য সৃষ্টি করে না; কারণ আদম-সন্তানদের মধ্য থেকে তাঁকে সেই আদি বের করার বিষয়ের মাধ্যমে বিশিষ্ট করা হয়েছে। ইমাদ ইবনে কাসীরের তাফসিরে আলী এবং ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে আল্লাহর এই বাণীর [আর যখন আল্লাহ নবীদের অঙ্গীকার গ্রহণ করলেন...] ব্যাখ্যায় বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহ এমন কোনো নবী পাঠাননি যার নিকট থেকে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে এই অঙ্গীকার গ্রহণ করেননি যে—যদি তিনি জীবিত থাকাবস্থায় তাঁর আবির্ভাব ঘটে তবে তিনি অবশ্যই তাঁর প্রতি ঈমান আনবেন এবং তাঁকে সাহায্য করবেন। আর তিনি তাঁর কথার ওপর ভিত্তি করে এই অঙ্গীকার গ্রহণ করেন।আল্লামা সুবকী এই আয়াত থেকে এই অর্থ গ্রহণ করেছেন যে, যদি তর্কের খাতিরে ধরে নেওয়া হয় তিনি তাদের যুগে প্রেরিত হতেন, তবে তিনি তাদের প্রতিও রাসূল হিসেবে গণ্য হতেন। ফলে তাঁর নবুওয়াত ও রিসালাত আদম থেকে শুরু করে কিয়ামত পর্যন্ত সমস্ত সৃষ্টির জন্য সর্বজনীন হতো এবং সমস্ত নবী ও তাঁদের উম্মতগণ তাঁরই উম্মতের অন্তর্ভুক্ত হতেন। সুতরাং তাঁর বাণী "আমি সমস্ত মানুষের প্রতি প্রেরিত হয়েছি"—এটি তাঁর সময়ের পূর্ববর্তী মানুষদেরও অন্তর্ভুক্ত করে। এর মাধ্যমেই এই বাণীর অর্থ স্পষ্ট হয় যে, "আমি তখনো নবী ছিলাম যখন আদম রূহ ও শরীরের মধ্যবর্তী অবস্থায় ছিলেন।" আর এর হুকুম বা প্রভাব হলো পরকালে নবীদের তাঁর পতাকার নিচে অবস্থান এবং মিরাজের রাতে তাঁদের নিয়ে তাঁর সালাত আদায় করা।আবদুর রাজ্জাক তাঁর সনদে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছুর আগে তাঁর নূর থেকে মুহাম্মদের নূর সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর সেই নূর কুদরতের সাথে আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী বিচরণ করতে থাকে। সেই সময়ে লাওহ (ফলক) কিংবা কলম কিছুই ছিল না"—সুদীর্ঘ হাদীসটি শেষ পর্যন্ত।মুহাম্মদী নূরের পর প্রথম সৃষ্টি কোনটি তা নিয়ে উলামাগণ মতভেদ করেছেন। কেউ বলেছেন তা হলো আরশ; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই সহীহ হাদীস রয়েছে যে, "আল্লাহ আসমান ও জমিন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর আগে সৃষ্টির তাকদীর নির্ধারণ করেছেন এবং তাঁর আরশ ছিল পানির উপর।"আবার এটিও সহীহভাবে প্রমাণিত যে, "আল্লাহ সর্বপ্রথম যা সৃষ্টি করেছেন তা হলো কলম। এরপর তাকে বললেন: লেখো। সে বলল: হে আমার রব, আমি কী লিখব? তিনি বললেন: প্রতিটি জিনিসের তাকদীর লেখো।" তবে একটি মারফূ হাদীসে এটিও সহীহভাবে প্রমাণিত যে, আরশের আগে পানি সৃষ্টি করা হয়েছে। ফলে এটি জানা গেল যে, নিরঙ্কুশভাবে সর্বপ্রথম সৃষ্টি হলো মুহাম্মদী নূর, অতঃপর পানি, তারপর আরশ, এরপর কলম। কারণ আপনি 'আল্লাহ সর্বপ্রথম যা সৃষ্টি করেছেন তা হলো কলম' হাদীসটি এবং এর পূর্ববর্তী হাদীসসমূহ থেকে জেনেছেন যে, তাকদীর নির্ধারণ আরশের পরে সংঘটিত হয়েছে এবং তাকদীর নির্ধারণ কলম সৃষ্টির সময়ে হয়েছে। সুতরাং কলমকে প্রথম বলা হয়েছে তার পরবর্তী সৃষ্টিসমূহের তুলনায়।আরও বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহ যখন আদমকে সৃষ্টি করলেন, তখন সেই নূর তাঁর পৃষ্ঠদেশে স্থাপন করলেন এবং তা তাঁর কপালে উজ্জ্বলতা ছড়াতো। যখন তাঁর ইন্তেকাল হলো, তাঁর পুত্র শীস তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন। আদম তাঁকে সেই নির্দেশই দিলেন যার নির্দেশ তাঁর পিতা তাঁকে দিয়েছিলেন—অর্থাৎ এই নূর যেন কেবল পবিত্র নারীদের গর্ভেই রাখা হয়। আর এভাবেই এই ধারা অব্যাহত থাকে।
(খণ্ড: ১)
আন-নুরুস সাফির আন আখবারিল করনিল আশির
(পৃষ্ঠা: ٩)
الْوَصِيَّة إِلَى ان وصل ذَلِك النُّور إِلَى عبد الله مطهراً من سفاح الْجَاهِلِيَّة كَمَا اخبر صلى الله عليه وسلم عَن ذَلِك فِي عدَّة أَحَادِيثوَكَانَت وِلَادَته عليه الصلاة والسلام يَوْم الأثنين لأثني عشرَة لَيْلَة خلت من ربيع الأول بعد الْفِيل بِسنتَيْنِ وشهرين وَقيل لَيْلَة الْجُمُعَة السَّابِع عشر من ربيع الأول فِي زمن الْملك أنو شرْوَان وَبعث إِلَى الْأسود والأحمر وَالْإِنْس وَالْجِنّ وَكَانَ لَهُ أَرْبَعُونَ سنة وَقيل وَيَوْم وَكَانَ بعد عشْرين سنة من ملك ابرويز وَأقَام بعد الْبعْثَة فِي مَكَّة ثَلَاث عشرَة سنة على الاصح وَقيل خَمْسَة عشر وَقيل عشراثمَّ هَاجر إِلَى الْمَدِينَة ودخلها ضحوة يَوْم الأثنين لِاثْنَتَيْ عشرَة لَيْلَة خلت من ربيع الأول واقام بهَا بالأجماع عشر سِنِينفَفِي السّنة الأولى من الْمحرم بنى مَسْجده وسكنه وآخى بَين الْمُهَاجِرين وَالْأَنْصَار وَشرع الْأَذَان وَفِي السّنة الثَّانِيَة مِنْهَا فِي صَلَاة الْعَصْر من نصف شعْبَان حولت الْقبْلَة من بَيت الْمُقَدّس إِلَى الْكَعْبَة فدار صلى الله عليه وسلم فِي رُكُوع الرَّكْعَة الثَّانِيَة ودارت الصُّفُوف خَلفه إِلَى الْكَعْبَة فِي مَسْجِد بني سَلمَة فَسُمي مَسْجِد الْقبْلَتَيْنِ وَفِي شعْبَان مِنْهَا فرض صَوْم رَمَضَان وفيهَا فرضت صَدَقَة الْفطر وَفِي رَمَضَان هَذَا كَانَت غَزْوَة بدر وَفِي شَوَّال مِنْهَا بنى بعائشة رضي الله عنها وفيهَا تَزْوِيج فَاطِمَة رضي الله عنهاوَفِي السّنة الثَّالِثَة مِنْهَا غَزْوَة أُحد يَوْم السبت السَّابِع من شَوَّال ثمَّ غَزْوَة بدر الصُّغْرَى فِي هِلَال ذِي الْقعدَة وفيهَا غَزْوَة بني النَّضِير وَحرمت الْخمر بعد غَزْوَة أُحدوَفِي السّنة الرَّابِعَة مِنْهَا غَزْوَة الخَنْدَق وَتسَمى الْأَحْزَاب وحاصروا الْمَدِينَة خَمْسَة عشر يَوْمًا ثمَّ هَزَمَهُمْ الله تَعَالَى وَحده وفيهَا قصرة الصَّلَاة وَنزل التَّيَمُّموَفِي السّنة الْخَامِسَة مِنْهَا غَزْوَة ذَات الرّقاع أول الْمحرم وفيهَا صلى صَلَاة الْخَوْف وفيهَا غَزْوَة دومة الجندل وغزوة بني قريضةوَفِي السّنة السَّادِسَة مِنْهَا غَزْوَة الْحُدَيْبِيَة وبيعة الرضْوَان وغزوة بني المصطلق
আল-ওয়াসিয়্যাহ (বা উপদেশ) সেই নূর আব্দুল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছানো পর্যন্ত, যা জাহেলিয়াতের ব্যভিচার থেকে পবিত্র ছিল, যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সম্পর্কে একাধিক হাদিসে সংবাদ দিয়েছেন।তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) জন্ম হয়েছিল হাতি বছরের দুই বছর দুই মাস পর ১২ই রবিউল আউয়াল সোমবার। আবার কেউ বলেছেন, বাদশাহ আনুশিরওয়ানের রাজত্বকালে ১৭ই রবিউল আউয়াল জুমার রাতে। তাঁকে কালো ও লাল (অর্থাৎ সকল বর্ণ) এবং মানুষ ও জিনের প্রতি প্রেরণ করা হয়েছিল যখন তাঁর বয়স হয়েছিল চল্লিশ বছর (কেউ বলেছেন চল্লিশ বছর একদিন)। এটি ছিল পারস্য সম্রাট পারভেজের রাজত্বের বিশ বছর পর। নবুওয়াতের পর তিনি মক্কায় সর্বাধিক বিশুদ্ধ মতানুসারে তেরো বছর অবস্থান করেন; কেউ বলেছেন পনেরো বছর, আবার কেউ বলেছেন দশ বছর।অতঃপর তিনি মদিনায় হিজরত করেন এবং ১২ই রবিউল আউয়াল সোমবার পূর্বাহ্নে সেখানে প্রবেশ করেন। সর্বসম্মতিক্রমে তিনি সেখানে দশ বছর অবস্থান করেন।হিজরী প্রথম বর্ষের মহররম মাসে তিনি তাঁর মসজিদ নির্মাণ করেন ও সেখানে বসবাস শুরু করেন, মুহাজির ও আনসারদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন এবং আযানের প্রবর্তন করেন। দ্বিতীয় হিজরী সনের শাবান মাসের মাঝামাঝি সময়ে আসরের নামাজের সময় কিবলা বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে কাবার দিকে পরিবর্তিত হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু সালামাহ মসজিদে দ্বিতীয় রাকাতের রুকু অবস্থায় থাকাকালে ঘুরে যান এবং তাঁর পেছনের কাতারগুলোও কাবার দিকে ঘুরে যায়। এ কারণে একে 'মসজিদুল কিবলাতাইন' (দুই কিবলার মসজিদ) বলা হয়। এই বছরের শাবান মাসে রমজানের রোজা ফরজ হয় এবং সদকাতুল ফিতরও ফরজ করা হয়। এই রমজানেই বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। আর এই বছরের শাওয়াল মাসে তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-র সাথে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন এবং ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-র বিবাহ সম্পন্ন হয়।তৃতীয় হিজরী সনের ৭ই শাওয়াল শনিবার উহুদ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। অতঃপর জিলকদ মাসের শুরুতে বদরে সুগরা (ছোট বদর) যুদ্ধ হয়। এই বছরই বনু নাযির যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং উহুদ যুদ্ধের পর মদ পান হারাম করা হয়।চতুর্থ হিজরী সনে খন্দকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যাকে আহযাব যুদ্ধও বলা হয়। তারা পনেরো দিন মদিনা অবরোধ করে রেখেছিল, অতঃপর মহান আল্লাহ একাই তাদের পরাজিত করেন। এই বছরই নামাজ কসর করার বিধান দেওয়া হয় এবং তায়াম্মুমের বিধান অবতীর্ণ হয়।পঞ্চম হিজরী সনের মহররম মাসের শুরুতে যাতুর রিকা যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এতে তিনি সালাতুল খওফ (ভীতির নামাজ) আদায় করেন। এই বছরই দূমাতুল জান্দাল যুদ্ধ এবং বনু কুরাইজা যুদ্ধ সংঘটিত হয়।ষষ্ঠ হিজরী সনে হুদাইবিয়ার যুদ্ধ (সন্ধি), বাইয়াতে রিদওয়ান এবং বনু মুস্তালিক যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
(খণ্ড: ১)
আন-নুরুস সাফির আন আখবারিল করনিল আশির
(পৃষ্ঠা: ١٠)
وَفِي السّنة السَّابِعَة مِنْهَا غَزْوَة خَيْبَروَفِي السّنة الثَّامِنَة مِنْهَا غَزْوَة مُؤْتَة وَذَات السلَاسِل وَفتح مَكَّة فِي رَمَضَان وغزوة حنين والطائفوَفِي السّنة التَّاسِعَة مِنْهَا غَزْوَة تَبُوك وَتَتَابَعَتْ الْوُفُود وَدخل النَّاس فِي دين الله أَفْوَاجًاوَفِي النة الْعَاشِرَة مِنْهَا حجَّة الْوَدَاع ووفاة إِبْرَاهِيم وَتُوفِّي صلى الله عليه وسلم ضحوة يَوْم الْإِثْنَيْنِ لِاثْنَتَيْ عشرَة لَيْلَة خلت من ربيع الأول سنة إِحْدَى عشرَة من الْهِجْرَة وَمُدَّة مَرضه الَّذِي توفّي مِنْهُ اثْنَا عشر يَوْمًا وَقيل أَرْبَعَة عشر يَوْمًا وَكَانَ عمره عليه الصلاة والسلام ثَلَاثًا وَسِتِّينَ سنةوَمن أعظم معجزاته صلى الله عليه وسلم الْقُرْآن كَلَام الله المتلو آنَاء اللَّيْل وَالنَّهَار وَقد اعجز الْجِنّ والأنس لَا يقدرُونَ على أَن يَأْتُوا بِسُورَة مثله بل وَلَا بِآيَة وكل معجزات الْأَنْبِيَاء عليهم السلام انْقَطَعت بموتهم إِلَّا معجزته صلى الله عليه وسلم وَانْشَقَّ الْقَمَر كَمَا نطق بِهِ الْقُرْآن وَصَحَّ من طرق وَكَلمه الضَّب كَمَا رَوَاهُ الْحَاكِم فِي صَحِيحهوَأخْبر أَن خَزَائِن كسْرَى تنفقها أمتِي فِي سَبِيل الله وان ملك كسْرَى وَالروم يفتح فَكَانَ كَذَلِك وَأَن الْمُسلمُونَ يُقَاتلُون قوما صغَار الْأَعْين عراض الْوُجُوه ذلف الأنوف أَي فطسها وان الشَّام واليمن يفتحان وَأَن أمته تفتح مصر ارْض يذكر فِيهَا القيراط وَإِن أويس الْقَرنِي يقدم فِي إمداد الْيمن وَكَانَ بِهِ برص فبرىء إِلَّا قدر دِرْهَم وهاجت ريح شَدِيدَة هَاجَتْ فَقَالَ هَذِه الرّيح لمَوْت مُنَافِققَالَ جَابر فقدمنا فَوَجَدنَا عَظِيما من الْمُنَافِقين قد مَاتَ وَأكل من شَاة لقْمَة ثمَّ قَالَ هَذِه تُخبرنِي بِأَنَّهَا أخذت بِغَيْر أذن أَهلهَا فَإِذا هُوَ كَمَا قَالَ وتحرك الْجَبَل فَقَالَ اسكن فَإِنَّمَا عَلَيْك نَبِي أَو صديق أَو شهيدان فسكن وَكَانَ هُوَ وَأَبُو بكر وَعمر وَعُثْمَان عَلَيْهِوَفِي صَحِيح مُسلم أَن الله زوى لي الأَرْض فَرَأَيْت مشارقها وَمَغَارِبهَا وسيبلغ ملك امتى مَا زوى لي مِنْهَا وَفِي البُخَارِيّ نبع المَاء من بَين أَصَابِعه بِالْحُدَيْبِية فتوضأوا وَشَرِبُوا وهم خمس عشرَة مائَة
সপ্তম হিজরি সনে খায়বারের যুদ্ধ সংঘটিত হয়।অষ্টম হিজরি সনে মুতাহর যুদ্ধ, যাতুস সালাসিলের যুদ্ধ, রমজান মাসে মক্কা বিজয় এবং হুনাইন ও তায়েফের যুদ্ধ সংঘটিত হয়।নবম হিজরি সনে তাবুকের যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং একের পর এক প্রতিনিধি দল আসতে থাকে এবং মানুষ দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করে।দশম হিজরি সনে বিদায় হজ অনুষ্ঠিত হয় এবং ইবরাহিমের ইন্তেকাল হয়। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগারো হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসের বারো তারিখ সোমবার পূর্বাহ্নে ইন্তেকাল করেন। তাঁর অসুস্থতার সময়কাল যার ফলে তিনি ইন্তেকাল করেন, তা ছিল বারো দিন; মতান্তরে চৌদ্দ দিন। তাঁর বয়স হয়েছিল তেষট্টি বছর।তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহান মুজিযাসমূহের অন্যতম হলো কুরআন, যা আল্লাহর কালাম এবং দিবা-রাত্রি পঠিত হয়। এটি জিন ও মানুষকে অক্ষম করে দিয়েছে, তারা এর মতো একটি সূরা এমনকি একটি আয়াতও রচনা করতে সক্ষম নয়। সকল নবীদের আলাইহিমুস সালাম মুজিযা তাঁদের মৃত্যুর সাথে সাথে শেষ হয়ে গেছে, কেবল তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুজিযা ব্যতীত। আর চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল যেমনটি কুরআন বর্ণনা করেছে এবং যা বিভিন্ন সূত্রে প্রমাণিত। আর গুইসাপ তাঁর সাথে কথা বলেছিল যেমনটি ইমাম হাকেম তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।তিনি সংবাদ দিয়েছিলেন যে, পারস্য সম্রাট কিসরার ধনভাণ্ডার আমার উম্মত আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করবে এবং কিসরা ও রোম সম্রাটের সাম্রাজ্য বিজিত হবে, আর বাস্তবও তাই হয়েছে। আরও বলেছিলেন যে, মুসলিমরা এমন এক জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে যাদের চোখ ছোট, মুখমণ্ডল প্রশস্ত এবং নাক চ্যাপ্টা। তিনি সিরিয়া ও ইয়ামেন বিজিত হওয়ার সুসংবাদ দিয়েছিলেন এবং তাঁর উম্মত মিসর বিজয় করবে—এমন এক ভূমি যেখানে কিরাত শব্দটির ব্যবহার প্রচলিত। তিনি সংবাদ দিয়েছিলেন যে, উওয়াইস আল-কারনি ইয়ামেন থেকে সাহায্যকারী বাহিনীর সাথে আসবে, তার শ্বেতী রোগ ছিল যা একটি দিরহাম পরিমাণ স্থান ব্যতীত বাকি সব সুস্থ হয়ে গেছে। একবার প্রবল বাতাস প্রবাহিত হলে তিনি বলেছিলেন, এই বাতাস একজন মুনাফিকের মৃত্যুর কারণে বইছে।জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এরপর আমরা ফিরে এসে দেখলাম যে একজন শীর্ষস্থানীয় মুনাফিক মারা গেছে। একবার তিনি বকরির গোশতের একটি লোকমা খেলেন, তারপর বললেন, এই বকরিটি আমাকে খবর দিচ্ছে যে একে তার মালিকের অনুমতি ছাড়াই গ্রহণ করা হয়েছে; আর বিষয়টি তেমনই ছিল। পাহাড় কেঁপে উঠলে তিনি বললেন, স্থির হও, কারণ তোমার ওপর একজন নবী, একজন সিদ্দিক এবং দুইজন শহীদ রয়েছেন; তখন পাহাড়টি স্থির হয়ে গেল। তখন তাঁর সাথে আবু বকর, উমর ও উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুম ছিলেন।সহিহ মুসলিমে বর্ণিত আছে যে, আল্লাহ তাআলা আমার জন্য পৃথিবীকে সংকুচিত করে দিয়েছিলেন, ফলে আমি এর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তসমূহ দেখেছি। অচিরেই আমার উম্মতের রাজত্ব সেই পর্যন্ত পৌঁছাবে যতটুকু আমার জন্য সংকুচিত করা হয়েছিল। সহিহ বুখারিতে বর্ণিত আছে যে, হুদায়বিয়ার দিন তাঁর আঙুলসমূহের মাঝখান থেকে পানি প্রবাহিত হয়েছিল, ফলে তাঁরা অযু করেছিলেন এবং পান করেছিলেন, অথচ তাঁদের সংখ্যা ছিল পনেরো শ।
(খণ্ড: ১)
আন-নুরুস সাফির আন আখবারিল করনিল আশির
(পৃষ্ঠা: ١١)
وَمرَّة أُخْرَى وهم ثلاثمائه وَمرَّة وهم مَا بَين السّبْعين إِلَى الثَّمَانِينَ وَحَدِيث المزادتين قَالَ عمر أَن شربنا مِنْهُمَا وَنحن نَحْو الْأَرْبَعين فَلم تنتقصا وَسبح فِي كَفه الْحَصَا وَكَذَلِكَ الطَّعَام كَانَ يسمع تسبيحه وَهُوَ يُؤْكَل وَسلم عَلَيْهِ الْحجر وَشهد الذِّئْب بنبوته وَمر فِي سَفَره بِبَعِير يستقى عَلَيْهِ المَاء فَلَمَّا رَآهُ جرجر أَي صَوت فَقَالَ انه شكى كَثْرَة الْعَمَل وَقلة الْعلف وَمر بِبَعِير آخر فِي حَائِط فَلَمَّا رَآهُ حن وذرفت عَيناهُ فَقَالَ لصَاحبه إِنَّك تجيعه وشكى لَهُ بعيران عجز صَاحبهمَا عَن شدتهما وَجَاءَت شَجَرَة تشق الأَرْض حَتَّى قَالَت عِنْده وَهُوَ نَائِم فَسلمت عَلَيْهِ وَأمر شجرتين فاجتمعتا حَتَّى قضى حَاجته خلفهمَا ثمَّ أَمرهمَا فتفرقتا ودعا عذقا فَنزل من جذعه حَتَّى سقط فِي الأَرْض فَجعل ينقز فِي الأَرْض حَتَّى أَتَاهُ ثمَّ قَالَ لَهُ أرجع فَرجع مَكَانَهُ وَأمر بنحر سِتّ بدنات فَجعلْنَ يزدلفن إِلَيْهِ بايتهن يبْدَأ وَأُصِيبَتْ عين قَتَادَة بن النُّعْمَان يَوْم أحد حَتَّى وَقعت على وجنته فَردهَا صلى الله عليه وسلم بِيَدِهِ فَكَانَت اصح عَيْنَيْهِ وَأَحَدهمَا فَكَانَت لَا ترمد إِذا رمدت الْأُخْرَى وتفل فِي عين عَليّ رضي الله عنه يَوْم خَيْبَر وَكَانَ ارمد فبرىء من سَاعَته واتاه وَهُوَ شَاك فَدَعَا لَهُ فَمَا اشْتَكَى وَجَعه ذَلِك وَكسرت رجل عبد الله ابْن عتِيك فمسحها صلى الله عليه وسلم بِيَدِهِ فبرئت من وقتهوَاخْبَرْ انه يقتل أُميَّة بن خلف فَكَانَ كَمَا قَالَ وَأخْبر بمصارع الْمُشْركين ببدر هَذَا مصرع فلَان غَدا إِن شَاءَ الله فَلم يعد وَاحِد مِنْهُم مصرعه الَّذِي سَمَّاهُ وَأَن طوائف من أمته يركبون الْبَحْر غزَاة فِي سَبِيل الله كالملوك على الأسرة وَأَن أم حرَام خَالَة أنس بن مَالك مِنْهُم فَكَانَ كَذَلِك وَأخْبر أَن عُثْمَان رضي الله عنه تصيبه بلوى فَقتل صَابِرًا وَقَالَ لِلْحسنِ رضي الله عنه إِن أبني هَذَا سيد وسيصلح الله بِهِ بَين فئتين عظيمتين من الْمُسلمين فَسلم الْأَمر لمعاوية وَأخْبر بقتل الْأسود الْعَنسِي الْكذَّاب لَيْلَة مَقْتَله وبمن قَتله وَهُوَ بِصَنْعَاء من الْيمن فجَاء كَمَا قَالَ وَأخْبر بِمثل هَذَا عَن كسْرَى فَكَانَ كَذَلِك وَقَالَ لرجل يَدعِي الْإِسْلَام وَهُوَ فِي الْقِتَال مَعَه إِنَّه من أهل النَّار فَصدق الله تَعَالَى قَوْله بِأَن نحر نَفسه وشكي إِلَيْهِ قحط الْمَطَر وَهُوَ على الْمِنْبَر فَدَعَا الله وَمَا فِي السَّمَاء
অন্য এক সময় তারা তিনশত জন ছিলেন এবং আরেক বার তারা ছিলেন সত্তর থেকে আশির মধ্যে। পানির দুই মশকের হাদীস; উমর (রা.) বলেন যে, আমরা প্রায় চল্লিশ জন তা থেকে পান করেছিলাম, তবুও তাতে কোনো কমতি হয়নি। তাঁর হাতের তালুতে পাথরকুচি তাসবীহ পাঠ করেছিল, অনুরূপভাবে খাবারের তাসবীহ পাঠও শোনা যেত যখন তা খাওয়া হচ্ছিল। পাথর তাঁকে সালাম দিয়েছিল এবং নেকড়ে তাঁর নবুওয়াতের সাক্ষ্য দিয়েছিল। এক সফরে তিনি একটি উটের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যা দিয়ে পানি টানা হতো; যখন উটটি তাঁকে দেখল, তখন সে আর্তনাদ করল। তিনি বললেন যে, এটি কাজের আধিক্য এবং খাদ্যের স্বল্পতার অভিযোগ করছে। তিনি একটি বাগানে অন্য একটি উটের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যখন সেটি তাঁকে দেখল, তখন সে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল এবং তার চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরল। তিনি তার মালিককে বললেন, "তুমি একে ক্ষুধার্ত রাখছ।" দুটি উট তাঁর কাছে অভিযোগ করেছিল যাদের কঠোরতার সামনে তাদের মালিক অক্ষম ছিল। একটি গাছ মাটি চিরে তাঁর কাছে আসল এমনকি যখন তিনি ঘুমাচ্ছিলেন তখন সেটি তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে তাঁকে সালাম দিল। তিনি দুটি গাছকে আদেশ করলেন, ফলে তারা একত্রিত হলো যাতে তিনি তাদের আড়ালে হাজত পূরণ করতে পারেন, তারপর তিনি তাদের আদেশ দিলেন এবং তারা আলাদা হয়ে গেল। তিনি একটি খেজুরের কাঁদিকে ডাকলেন, তখন সেটি কাণ্ড থেকে নেমে মাটিতে পড়ল এবং লাফাতে লাফাতে তাঁর কাছে আসল, অতঃপর তিনি সেটিকে ফিরে যেতে বললেন এবং সেটি তার জায়গায় ফিরে গেল। তিনি ছয়টি উট কুরবানি করার আদেশ দিলেন, তখন সেগুলো তাঁর দিকে এগিয়ে আসতে লাগল যে, তিনি কোনটি দিয়ে শুরু করবেন। উহুদের যুদ্ধে কাতাদাহ ইবনে নু'মান (রা.)-এর চোখ আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে তাঁর গালের ওপর ঝুলে পড়েছিল; আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজের হাত দিয়ে সেটি স্বস্থানে ফিরিয়ে দিলেন। ফলে সেটি তাঁর অপর চোখের তুলনায় অধিক সুস্থ ও প্রখর হয়ে গেল এবং অন্য চোখটি অসুস্থ হলেও এটি আর কখনও রোগাক্রান্ত হতো না। খায়বারের দিন তিনি আলী (রা.)-এর চোখে থুথু দিলেন, অথচ তখন তিনি চক্ষুরোগে আক্রান্ত ছিলেন; ফলে তিনি তৎক্ষণাৎ সুস্থ হয়ে গেলেন। জনৈক ব্যক্তি অসুস্থ অবস্থায় তাঁর কাছে আসলেন এবং তিনি তার জন্য দোয়া করলেন, ফলে সে আর কখনও সেই ব্যথায় ভোগেনি। আবদুল্লাহ ইবনে আতিক (রা.)-এর পা ভেঙে গিয়েছিল, তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর হাত দিয়ে সেটি মুছে দিলেন এবং তিনি তৎক্ষণাৎ সুস্থ হয়ে গেলেন।তিনি খবর দিয়েছিলেন যে, তিনি উমাইয়া ইবনে খালাফকে হত্যা করবেন এবং তাই ঘটেছিল যা তিনি বলেছিলেন। তিনি বদর যুদ্ধে মুশরিকদের নিহতের স্থানগুলো সম্পর্কে আগাম জানিয়েছিলেন যে, "ইনশাআল্লাহ, আগামীকাল এটি অমুকের নিহতের স্থান হবে।" তাদের কেউই তাঁর নির্দিষ্ট করে দেওয়া নিহতের স্থানের বাইরে ছিল না। তাঁর উম্মতের একদল আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করার জন্য সমুদ্রযাত্রা করবে, সিংহাসনে আসীন বাদশাহদের মতো; আনাস ইবনে মালিক (রা.)-এর খালা উম্মে হারাম (রা.) তাদের অন্তর্ভুক্ত হবেন। আর ঘটনাটি ঠিক তেমনই ঘটেছিল। তিনি সংবাদ দিয়েছিলেন যে, উসমান (রা.) বিপদের সম্মুখীন হবেন, অতঃপর তিনি ধৈর্যশীল অবস্থায় শহীদ হয়েছিলেন। তিনি হাসান (রা.) সম্পর্কে বলেছিলেন, "নিশ্চয়ই আমার এই সন্তান একজন নেতা, আর অচিরেই আল্লাহ তার মাধ্যমে মুসলিমদের দুটি বিশাল দলের মধ্যে আপোষ করিয়ে দেবেন।" ফলে তিনি মুয়াবিয়া (রা.)-এর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলেন। তিনি মিথ্যাবাদী আসওয়াদ আনাসির হত্যার রাতে তার মৃত্যু এবং হত্যাকারীর সংবাদ দিয়েছিলেন, অথচ সে ছিল ইয়েমেনের সানআয়; তিনি যেমন বলেছিলেন বিষয়টি তেমনই ঘটেছিল। তিনি কিসরা সম্পর্কেও অনুরূপ সংবাদ দিয়েছিলেন এবং তা তেমনই ঘটেছিল। তিনি এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছিলেন যে ইসলামের দাবিদার ছিল এবং তাঁর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত ছিল যে, "সে জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত।" আল্লাহ তাআলা তাঁর কথা সত্যে পরিণত করলেন এভাবে যে, সে আত্মহত্যা করল। যখন তিনি মিম্বরের ওপর ছিলেন তখন তাঁর কাছে অনাবৃষ্টির অভিযোগ করা হলো, তখন তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন এমতাবস্থায় যে আকাশে (তখন কোনো মেঘ ছিল না)।
(খণ্ড: ১)
আন-নুরুস সাফির আন আখবারিল করনিল আশির
(পৃষ্ঠা: ١٢)
فزعة أَي قِطْعَة سَحَاب فثار سَحَاب أَمْثَال الْجبَال فَمُطِرُوا إِلَى الْجُمُعَة الْأُخْرَى فشكي إِلَيْهِ كَثْرَة الْمَطَر فَدَعَا الله فرفعه فِي الْحَال وَأطْعم أهل الخَنْدَق وهم ألف من صَاع شعير واطعم جمَاعَة من تمر يسير لم يمْلَأ كفيه واطعم فِي منزل أبي طَلْحَة ثَمَانِينَ رجلا من أَقْرَاص شعير جعلهَا انس تَحت إبطه حَتَّى شَبِعُوا وَبَقِي كَمَا هُوَوامر عمر بن الْخطاب رضي الله عنه ان يزود أَرْبَعمِائَة رَاكب من تمر قَلِيل فزودهم وَبَقِي كَأَنَّهُ لم ينتقص وَأطْعم الْجَيْش من مزود أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه حَتَّى شَبِعُوا ثمَّ رد مَا بَقِي مِنْهُ وَكَانَ وَضعه فِي يَده ودعا لَهُ فَأكل مِنْهُ مُدَّة حَيَاة النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَأبي بكر وَعمر وَعُثْمَان رضي الله عنهم فَلَمَّا قتل عُثْمَان ذهب وَحمل مِنْهُ نَحْو ثَمَانِينَ وسْقا فِي سَبِيل الله وَأطْعم فِي بنائِهِ بِزَيْنَب بنت جحش رضي الله عنها من قَصْعَة أَهْدَتْهَا لَهُ أم سليم خلقا كثيرا ثمَّ رفعت وَهِي كَمَا هِيَ صلى الله عليه وسلم كلما ذكره الذاكرون وغفل عَن ذكره الغافلونولبعض فضلاء الْعَصْر قصيدة عَظِيمَة فِي مدح النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَحْبَبْت أَن آتِي بهَا هُنَا بكمالها لينقطع بهَا مَا أردناه فِي الْمُقدمَة من الْكَلَام ولتكون لهَذَا التَّارِيخ مسك الختام وَهِي … إِنِّي أرى فِي النّوم اني فِي الْكرَى … واصلته يارب حقق مَا جرالم يسر لي إِلَّا خيال خيالهم … مَاذَا على طيف الْأَحِبَّة لَو سراوَلَقَد جرى كالنهر سَائل مدمعي … أَتَرَى درى ذَاك الرَّقِيب بِمَا جراأوقفت دمع الْعين يجْرِي فِي الْهوى … أَنا لَا أسائل هَل درى أَو مَا درىيَا صَاح قُم ودع التواني واصطبح … من بنت قشر بالجواهر تشترىهِيَ قهوة بنية قشرية … فِي طيبَة تجلى وَفِي أم الْقرىفَاشْرَبْ شراب الصَّالِحين وَلَا تقل … ادر الزجاجة فالنسيم قد أنبرافالصبح قد وافت طلائع جَيْشه … والنجم قد صرف الْعَنَان عَن السرالَا عَيْش إِلَّا والشبيبة غضة … مِنْهَا يكَاد المَاء أَن يتقطرالله مَجْلِسنَا الأنيس وَقد بَدَت … فِيهِ الغزال تصيد آساد الشرىسفرت فَكَانَت والبدور طوالع … مِنْهَا وَمن شمس الظهيرة أنورا …
এক খণ্ড মেঘ, অর্থাৎ মেঘের টুকরো; এরপর পাহাড়ের ন্যায় মেঘমালা উত্থিত হলো এবং পরবর্তী জুমা পর্যন্ত তাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষিত হলো। অতঃপর তাঁর নিকট বৃষ্টির আধিক্য সম্পর্কে অভিযোগ করা হলে তিনি আল্লাহর কাছে দুআ করলেন এবং তৎক্ষণাৎ তা অপসারিত হলো। তিনি খন্দকবাসীদের আহার করালেন, যারা এক সা পরিমাণ যব থেকে এক হাজার জন ছিলেন। তিনি একদল লোককে সামান্য কিছু খেজুর আহার করালেন যা তাঁর দুই করতল পূর্ণ করেনি। তিনি আবু তালহার গৃহে আশি জন লোককে যবের রুটি খাওয়ালেন যা আনাস তাঁর বগলের নিচে রেখেছিলেন, যতক্ষণ না তারা তৃপ্ত হলেন এবং তা আগের মতই রয়ে গেল।এবং তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-কে নির্দেশ দিলেন চারশ আরোহীকে সামান্য কিছু খেজুর থেকে পাথেয় প্রদান করতে। তিনি তাদের পাথেয় দিলেন এবং তা এমনভাবে অবশিষ্ট রইল যেন কিছুই কমেনি। তিনি আবু হুরায়রা (রা.)-এর পাথেয় রাখার থলি থেকে সেনাবাহিনীকে আহার করালেন যতক্ষণ না তারা তৃপ্ত হলেন। অতঃপর যা অবশিষ্ট ছিল তা তিনি ফেরত দিলেন। তিনি (নবীজি) তা নিজ হাতে রেখেছিলেন এবং বরকতের দুআ করেছিলেন। নবী (সা.), আবু বকর, উমর ও উসমান (রা.)-এর জীবনকাল পর্যন্ত তিনি তা থেকে আহার করেছিলেন। যখন উসমান (রা.) শহীদ হলেন, তখন তা হারিয়ে গেল এবং তিনি তা থেকে আল্লাহর পথে প্রায় আশি ওয়াসাক পরিমাণ খাদ্য বহন করেছিলেন। তিনি জয়নব বিনতে জাহাশ (রা.)-এর সাথে বাসর রাতের ভোজে উম্মে সুলাইমের উপহার দেওয়া এক পাত্র খাদ্য থেকে অসংখ্য মানুষকে আহার করালেন। অতঃপর তা উঠিয়ে নেওয়া হলো এবং তা ছিল পূর্বের ন্যায়। আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর ওপর দরুদ বর্ষিত হোক যতক্ষণ স্মরণকারীরা তাঁকে স্মরণ করে এবং বিমুখরা তাঁর স্মরণ হতে গাফেল থাকে।বর্তমান সময়ের জনৈক গুণী ব্যক্তির নবী (সা.)-এর প্রশংসায় একটি মহান কাসিদা রয়েছে, আমি তা এখানে পূর্ণাঙ্গভাবে উপস্থাপন করা পছন্দ করেছি যাতে এর মাধ্যমে আমাদের ভূমিকার আলোচনা সমাপ্ত হয় এবং এটি এই ইতিহাসের জন্য একটি সুগন্ধিময় সমাপ্তি হয়। আর তা হলো: … আমি স্বপ্নে দেখি যে আমি ঘুমের ঘোরে … তাঁর সান্নিধ্য লাভ করেছি, হে প্রতিপালক! যা ঘটেছে তা সত্যে পরিণত করো।আমার কাছে কেবল তাদের কল্পনার এক ছবিই এসেছে … প্রিয়জনের সেই ছায়া যদি সত্যি আসত তবে তাতে কী ক্ষতি হতো!আর নিশ্চয়ই আমার অশ্রুধারা নদীর ন্যায় প্রবাহিত হয়েছে … তুমি কি মনে করো সেই পাহারাদার কি জানে যা ঘটেছে?আমি প্রেমের আবেগে চোখের অশ্রু প্রবাহকে উৎসর্গ করেছি … আমি জিজ্ঞাসা করি না সে জানল কি জানল না।হে বন্ধু! ওঠো এবং অলসতা ত্যাগ করো এবং প্রাতঃকালীন পানীয় পান করো … সেই খোসা-কন্যা (কফি) থেকে, যা মণি-মুক্তার বিনিময়ে ক্রয় করা হয়।তা হলো বাদামি বর্ণের খোসাযুক্ত কফি … যা তাইবা (মদিনা) ও উম্মুল কুরা (মক্কা)-তে পরিবেশিত হয়।সুতরাং নেককারদের পানীয় পান করো এবং বলো না যে … পানপাত্রটি আবর্তন করাও কারণ সুবাতাস প্রবাহিত হচ্ছে।ভোরের সেনাদলের অগ্রভাগ পৌঁছে গেছে … এবং নক্ষত্ররাজি রাতের সফর থেকে তাদের বল্গা ফিরিয়ে নিয়েছে।যৌবন সজীব না থাকলে কোনো জীবন নেই … যা থেকে সজীবতার বারিকণা যেন ঝরে পড়তে চায়।আল্লাহর জন্যই আমাদের সেই প্রীতিময় মজলিস যখন প্রকাশিত হলো … তাতে সেই হরিণী, যে বনের সিংহদের শিকার করে।সে যখন আবরণ উন্মোচন করল, তখন তা উদিত পূর্ণিমার চাঁদ … এবং দ্বিপ্রহরের সূর্য থেকেও অধিক জ্যোতির্ময় প্রতীয়মান হলো। …
(খণ্ড: ১)
আন-নুরুস সাফির আন আখবারিল করনিল আশির
(পৃষ্ঠা: ١٣)
.. خطرت فَقَامَ الْغُصْن يلثم اثرها … ورنت فظل الظبي مِنْهَا أحوراوَلَقَد نظرت إِلَى الرياض وَجههَا … فَرَأَيْت طلعتها البهية أنضراأندى على الأكباد من قطر الندى … إِن قطرت ذَاك اللمي لي قطراوعبابها أشهى إليّ من المنى … وألذ فِي الأجفان من سنة الْكرَىوَلَقَد حمت عني سلافة رِيقهَا … ظنا بِأَنِّي لَا أحب المسكرامن قَالَ إِن سلاف فِيك محرم … يَا منيتي مَا قَالَ إِلَّا مُنْكرارامت تصيد حشاشتي قلت لَهَا … فالصيد كل الصَّيْد فِي جَوف الفراشهرت سيوف لحاظها تنعي الحشا … فسعى إِلَيْهَا بالدماء مشهراصدت والوت عَن محب صَادِق … مَا كَانَ صدك لي حَدِيثا يفترىوَلَقَد سرت لي من حماها نسمَة … فنشقتها ودرى الفؤادبما درىويلاه مَا أذكى عبير ترابها … قد فاق كل الطّيب حَتَّى العنبرايَا دارها مَا أَنْت إِلَّا جنَّة … يَا رِيقهَا مَا أَنْت إِلَّا كوثرايَا لَفظهَا يَا ثغرها يَا نحرها … مَا أَنْت يَا ذَا العقد إِلَّا جوهراساومت مبسمها بَدْرًا مدامعي … ان يَشْتَرِي درا فَهَذَا الْمُشْتَرىلَكِن رَأَيْت الدَّهْر غير مساعد … وَرَأَيْت مِنْهُ مَا لعقلي ابهراصبرا لهَذَا الدَّهْر فِي تصريفه … صبرا على مَا فِي فُؤَادِي اسعرااني لأصبر والخطوب جليلة … وعَلى العظائم كلهَا لن يصبراوَإِذا عرتني فِي الْأُمُور ملمة … أَو كربَة مَالِي سوى خير الورىطه أجل الْأَنْبِيَاء امامهم … من فاق كل الْمُسلمين بِلَا مراالحامد الْمَحْمُود اكرم مُرْسل … وَهُوَ المشفع إِذْ يروم المحشراوَله الشَّفَاعَة فِي الْخَلَائق كلهم … فصل القضا واجل مِنْهُ واكبراوَله الْوَسِيلَة وَهِي أَعلَى رُتْبَة … وَلَو اللوا اعظم بذلك مفخراكل الْخَلَائق تَحت ظلّ لوائه … أكْرم بعسكره المكرم عسكراللعرض باتوا وَالْوُجُوه منيرة … كلا ترَاهُ مهللا ومكإسراان مسهم ظماء فحوض الْمُصْطَفى … يردون مِنْهُ فِي الْقِيَامَة كوثرايَا أمة الْمُخْتَار شرفتم بِهِ … وعلوتم أمما وكنتم أخيرافَالْحَمْد لله الَّذِي قد خصنا … بِنَبِيِّهِ وحبيبه خير الورىهُوَ أَحْمد وَمُحَمّد وَله لوا … الْحَمد مَحْمُود الْمقَام وَقد سرا …
তিনি যখন চলেন, তখন বৃক্ষশাখা তাঁর পদচিহ্ন চুম্বন করতে নুয়ে পড়ে … আর তিনি যখন দৃষ্টিপাত করেন, তখন হরিণ তাঁর ভয়ে চঞ্চল নয়নে চেয়ে থাকে।আমি যখন তাঁর চেহারার উদ্যানের দিকে তাকালাম … তখন আমি তাঁর সেই উজ্জ্বল রূপকে আরও সতেজ দেখতে পেলাম।সেই ওষ্ঠাধরের একবিন্দু সুধা যদি আমার জন্য ঝরে পড়ে … তবে তা হৃদয়ের জন্য শিশিরবিন্দুর চেয়েও অধিক শীতল ও তৃপ্তিদায়ক।তাঁর সেই তরঙ্গমালা আমার কাছে সব কামনার চেয়েও প্রিয় … এবং চোখের পাতায় তা ঘুমের আবেশের চেয়েও মধুর।তিনি তাঁর লালারূপী সুধা আমার কাছ থেকে আড়াল করেছেন … এই ভেবে যে আমি হয়তো নেশাদ্রব্য পছন্দ করি না।কে বলে যে আপনার মুখের লালারূপী সুধা হারাম? … হে আমার কামনার ধন, সে তো চরম আপত্তিকর কথাই বলেছে।তিনি আমার প্রাণের অবশিষ্টাংশ শিকার করতে চাইলেন, আমি তাঁকে বললাম … সব শিকারই তো সেই বন্য গাধার পেটে (অর্থাৎ আপনি তো সবই জয় করে নিয়েছেন)।তিনি তাঁর চোখের পলকের তলোয়ার উন্মুক্ত করেছেন হৃদয়ের মৃত্যুর সংবাদ দিতে … অতঃপর তিনি রক্তের বিনিময়ে প্রকাশ্যভাবে তার দিকে এগিয়ে গেলেন।তিনি বিমুখ হলেন এবং এক সত্যনিষ্ঠ প্রেমিকের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন … আপনার এই বিমুখতা আমার কাছে কোনো মিথ্যা গল্প ছিল না।তাঁর পবিত্র ভূমি থেকে এক মৃদুমন্দ বায়ু আমার কাছে প্রবাহিত হলো … আমি তা আঘ্রাণ করলাম এবং হৃদয় তা জানতে পারল যা সে জানার ছিল।হায়! তাঁর পবিত্র মাটির সুগন্ধি কতই না মনোমুগ্ধকর … তা আম্বরসহ সকল সুগন্ধিকে ছাড়িয়ে গিয়েছে।হে তাঁর গৃহ, তুমি তো জান্নাত ছাড়া আর কিছু নও … হে তাঁর লালা, তুমি তো কাউসার ছাড়া আর কিছু নও।ওগো তাঁর বাণী, ওগো তাঁর মুখগহ্বর, ওগো তাঁর কণ্ঠদেশ … হে কণ্ঠহারের অধিকারিনী, তুমি তো এক অমূল্য রত্ন ছাড়া আর কিছু নও।আমি তাঁর হাসির বিনিময়ে আমার অশ্রুর মুক্তোর দরদাম করলাম … যদি তিনি মুক্তা ক্রয় করতে চান, তবে এটাই হলো প্রকৃত খরিদ্দার।কিন্তু আমি দেখলাম সময় সহায়ক নয় … এবং আমি তার থেকে এমন কিছু দেখলাম যা আমার বুদ্ধিকে হতভম্ব করে দিল।এই মহাকালের বিবর্তনে ধৈর্য ধরো … আমার হৃদয়ে যা প্রজ্বলিত হয়েছে তার ওপর ধৈর্য ধরো।নিশ্চয়ই আমি ধৈর্য ধারণ করি যখন বিপদসমূহ অত্যন্ত কঠিন হয় … আর কোনো বড় বিপদে অন্য কেউ ধৈর্য ধরতে পারবে না।যখন কোনো সমস্যা বা বিপদ আমাকে ঘিরে ধরে … অথবা কোনো দুঃখ-কষ্ট আসে, তখন সৃষ্টির সেরা সত্তা ব্যতীত আমার আর কেউ নেই।তিনি ত্বহা, নবীদের মধ্যে মহান এবং তাঁদের ইমাম … যিনি কোনো সন্দেহাতীতভাবে সকল মুসলিমের ঊর্ধ্বে।তিনি প্রশংসাকারী ও প্রশংসিত, সর্বাধিক সম্মানিত রাসূল … এবং হাশরের ময়দানে যখন সবাই চাইবে, তিনিই হবেন সুপারিশকারী।সকল সৃষ্টির জন্য তাঁরই রয়েছে সুপারিশের অধিকার … বিচারকার্য সম্পন্ন করার জন্য তাঁর চেয়ে মহান ও বড় আর কেউ নেই।তাঁর জন্যই রয়েছে ওয়াসিলা, যা সর্বোচ্চ মর্যাদা … এবং তাঁর জন্য রয়েছে গৌরবময় পতাকা, যা কতই না মহান গৌরবের বিষয়।সকল সৃষ্টি তাঁর পতাকাতলে আশ্রয় নেবে … তাঁর সেই সম্মানিত সেনাদল কতই না মহিমান্বিত।হাশরে উপস্থিতির জন্য তারা উজ্জ্বল চেহারায় রাত কাটিয়েছে … আপনি তাদের প্রত্যেককে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার ধ্বনি দিতে দেখবেন।যদি তৃষ্ণা তাদের স্পর্শ করে, তবে মুস্তফার হাউজ রয়েছে … কিয়ামতের দিন তারা সেখান থেকে কাউসারের পানি পান করতে আসবে।হে মনোনীত নবীর উম্মত, তাঁর মাধ্যমে তোমরা সম্মানিত হয়েছ … এবং তোমরা অন্যান্য উম্মতের উপরে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছ, যদিও তোমরা সবশেষে এসেছ।সুতরাং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের বিশিষ্ট করেছেন … তাঁর নবী ও তাঁর প্রিয় সৃষ্টির সেরা সত্তার মাধ্যমে।তিনি আহমদ এবং মুহাম্মদ, আর তাঁরই জন্য রয়েছে প্রশংসার পতাকা … তিনি মাকামে মাহমুদে প্রশংসিত এবং তিনি মিরাজে ভ্রমণ করেছেন... …
(খণ্ড: ১)
আন-নুরুস সাফির আন আখবারিল করনিল আশির
(পৃষ্ঠা: ١٤)
.. نَحْو السَّمَوَات العلى لَيْلًا على … ظهر الْبراق فنال مَا لم يحصراوَلَقَد رأى رب الْعباد بِعَيْنِه … تالله مَا هَذَا حَدِيث يفترىمن حَيْثُ لَا جِهَة وَلَا ايْنَ وَقد … جَاءَ الحَدِيث بِصدق ذَلِك مخبراأوحى إِلَيْهِ الله مَا أوحى وَقد … وافا لمضجعه وَقد حمد السرىالله أكبر يَا لَهَا من رُتْبَة … مَا نالها أحد سواهُ إِذا ترىالله أكبر يَا لَهَا من مزة … قد خصها الْمولى الحبيب الأكبرافليهنأ مَا قد رأى من ربه … وليهننا من فَضله مَا قد نرىالله اكرمه بِوَحْي منزل … فاتاه جِبْرِيل الْأمين على حرافَدَعَا إِلَى سبل النجَاة مبشراً … وَعَن الغواية قد نَهَانَا منذراختمت شَرِيعَته الشَّرَائِع كلهَا … اذ كَانَ فِي أم الْكتاب مصدراكم معجزات مُحكم آياتها … كم بَيِّنَات باهرات للورىمزمل مدثر اسماؤه … أكْرم بِهِ مزملا مدثرااني إِذا مارست مدح الْمُصْطَفى … فَأَنا الْخَطِيب وَقد عَلَوْت المنبراواذا نظمت قلائداً فِي مدحه … تالله مَا نظمت إِلَّا جوهراًاَوْ مَا رَأَيْت الْمسك وَهُوَ مضرج … لما أتيت بِمَا يفوق العنبراهَا قد وجدت حلاوة فِي مطمعي … ذوقوا فمي تَجدوا حلاه سكراوكذاك فِي شمي وجدت طلاوة … عرفا تأرجه يفوق العبهراوكذاك فِي سَمْعِي وجدت لذاذة … لما سَمِعت حَدِيثه مُسْتَبْشِرًاوكذاك فِي بَصرِي رَأَيْت بَصِيرَة … لما نقاب الْحجب عني أسفراوكذاك فِي لمسي شهِدت تَفَاوتا … مذ لامست كفاي هاتيك الثرىهذي الظَّوَاهِر والبواطن مثلهَا … إِن شَاءَ رَبِّي قطّ لَا يستكثرافِي جنب مدحته وَفضل جنابه … ذَا هَين وَالله يُعْطي أكثراولسوف يُعْطي فِي الْقِيَامَة مثل مَا … أعطَاهُ فِي الدُّنْيَا وَمَا لم يحصرايَا رب الْمُخْتَار طه جد لنا … بِالْعَفو مِنْك وهب لنا خير القوىفبه توسلنا إِلَيْك وَمن يكن … طه وسيلته نفقد نَالَ الكرايَا سيد الشفعآء دينك ملتي … وَعَلِيهِ أرجوا أَن أُوَسَّد فِي الثرىوَأجِيب عَنهُ بِفضل رَبِّي ثَانِيًا … وَعَلِيهِ أَرْجُو أَن أقوم وأحشرايَا سَيِّدي فاشفع لعبد مذنب … ركب الذُّنُوب مفرطا ومقصرا …
.. উচ্চ আসমানসমূহের দিকে রাতের বেলা … বোরাকের পিঠে চড়ে, ফলে তিনি তা লাভ করলেন যা গণনা করা যায় না।এবং নিশ্চয়ই তিনি তাঁর স্বচক্ষে বান্দাদের রবকে দেখেছেন … আল্লাহর শপথ, এটি কোনো মিথ্যা বানানো গল্প নয়।এমন অবস্থায় যে কোনো দিক বা স্থান ছিল না, আর নিশ্চয়ই … হাদিস এর সত্যতার সংবাদ নিয়ে এসেছে।আল্লাহ তাঁর প্রতি যা ওহী করার তা করলেন এবং তিনি … তাঁর বিছানায় ফিরে আসলেন এবং রাতের ভ্রমণ প্রশংসিত হলো।আল্লাহ মহান! হায়, কী এক সুউচ্চ মর্যাদা … যখন দেখবে, তিনি ছাড়া আর কেউ তা লাভ করতে পারেনি।আল্লাহ মহান! হায়, কী এক বৈশিষ্ট্য … যা মহান বরকতময় প্রভু তাঁর প্রিয়তমকে বিশেষভাবে দান করেছেন।সুতরাং তিনি তাঁর রবের পক্ষ হতে যা দেখেছেন তাতে আনন্দিত হোন … আর তাঁর অনুগ্রহ হতে আমরা যা দেখতে পাচ্ছি তাতে আমাদের ধন্য হতে দিন।আল্লাহ তাঁকে অবতীর্ণ ওহীর মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন … অতঃপর হেরা গুহায় আমানতদার জিবরাঈল তাঁর নিকট আসলেন।অতঃপর তিনি সুসংবাদদাতা হয়ে নাজাতের পথের দিকে আহ্বান করলেন … এবং সতর্ককারী হিসেবে ভ্রষ্টতা থেকে আমাদের নিষেধ করলেন।তাঁর শরীয়ত সকল শরীয়তকে সমাপ্ত করেছে … যেহেতু উম্মুল কিতাবে এটিই ছিল উৎস।কতই না মুজিযা যার আয়াতসমূহ সুদৃঢ় … কতই না উজ্জ্বল প্রমাণাবলি সৃষ্টির জন্য প্রকাশিত।মুয্যাম্মিল ও মুদ্দাস্সির তাঁর নামসমূহ … কতই না সম্মানিত মুয্যাম্মিল ও মুদ্দাস্সির হিসেবে তিনি।নিশ্চয়ই যখন আমি মুস্তফার প্রশংসায় লিপ্ত হই … তখন আমি সেই বক্তা যে মিম্বরে আরোহণ করেছি।আর যখন আমি তাঁর প্রশংসায় কাব্যগাথা রচনা করি … আল্লাহর শপথ, আমি হীরা-জহরত ছাড়া অন্য কিছু গাঁথিনি।অথবা তুমি কি মেশক দেখনি যখন তা সুবাসিত হয় … যখন আমি আম্বরকে ছাড়িয়ে যায় এমন কিছু নিয়ে এসেছি।এই তো আমি আমার রসনায় মিষ্টতা খুঁজে পেয়েছি … আমার মুখ আস্বাদন করো, তোমরা এর মিষ্টতাকে চিনি পাবে।তদ্রূপ আমার ঘ্রাণশক্তিতেও আমি মাধুর্য পেয়েছি … এমন সুগন্ধ যা জুঁই ফুলের সুবাসকেও ছাড়িয়ে যায়।তদ্রূপ আমার শ্রবণেও আমি তৃপ্তি পেয়েছি … যখন আমি তাঁর কথা অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে শুনেছি।তদ্রূপ আমার দৃষ্টিতে আমি অন্তর্দৃষ্টি দেখেছি … যখন আমার উপর থেকে পর্দার আবরণ অপসারিত হয়েছে।তদ্রূপ আমার স্পর্শের ক্ষেত্রেও আমি ভিন্নতা প্রত্যক্ষ করেছি … যখন থেকে আমার দুই হাত সেই পবিত্র মাটি স্পর্শ করেছে।এগুলো বাহ্যিক বিষয় এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়সমূহও তদ্রূপ … যদি আমার রব চান তবে কোনো কিছুই অতিরিক্ত নয়।তাঁর প্রশংসা এবং তাঁর মর্যাদার মহত্ত্বের তুলনায় … এটি সামান্যই এবং আল্লাহ আরও বেশি দান করেন।অচিরেই কিয়ামতের দিন তিনি তদ্রূপ দান করবেন যেমন … তিনি তাঁকে দুনিয়াতে দান করেছেন যা গণনা করা সম্ভব নয়।হে মনোনীত ত্বহা-এর রব! আমাদের প্রতি কৃপা করুন … আপনার পক্ষ হতে ক্ষমা দ্বারা এবং আমাদের সর্বোত্তম শক্তি দান করুন।সুতরাং তাঁর মাধ্যমেই আমরা আপনার নিকট অসীলা ধরেছি, আর যার … অসীলা হবেন ত্বহা, সে তো অবশ্যই কামিয়াবি লাভ করেছে।হে সুপারিশকারীদের সরদার! আপনার দ্বীনই আমার আদর্শ … আর এর উপরেই আমি কবরে শায়িত হওয়ার আশা রাখি।এবং আমার রবের অনুগ্রহে পুনরায় তাঁর পক্ষ হতে উত্তর দেব … আর এর উপরেই আমি পুনরুত্থিত ও হাশরে উপস্থিত হওয়ার আশা রাখি।হে আমার মনিব! এই গুনাহগার বান্দার জন্য সুপারিশ করুন … যে পাপরাশিতে নিমজ্জিত, সীমা লঙ্ঘনকারী ও ত্রুটিপূর্ণ …
(খণ্ড: ১)
আন-নুরুস সাফির আন আখবারিল করনিল আশির
(পৃষ্ঠা: ١٥)
.. وَأطَال فِي ليل الْجَهَالَة ركضة … حَتَّى إِذا صبح الْحَقِيقَة أسفراأضحى وَلَا عمل لَدَيْهِ وَلَا لَهُ … امل يرجيه إِذا خطب عراالا تمسكه بحبك سَيِّدي … فَهُوَ النجَاة لَهُ إِذا فَصمت عرافَعَلَيْك صلى الله مَا ودق هما … وَعَلَيْك صلى الله مَا برق شراوَعَلَيْك سلم كلما حج الورى … أَو أمك الزوار من أم الْقرىوَكَذَلِكَ آلك وَالصَّحَابَة كلهم … مَا أمك الْعَافُونَ أَو ركب سرىأَو يمم السارون نَحْوك طلبا … سهروا وَقد وافوك يلتمسوا الْكرَىوفدوا وَقد حطوا بسوحك رحلهم … فَقبلت زورتهم وفازوا بالقرىيَا رب صل على الحبيب وَآله … والصحب مَا صبح السَّعَادَة أسفراوَكَذَا السَّلَام عَلَيْهِ ثمَّ عَلَيْهِم … كَرَّرَه مَا أحلى ثناه مكررالَا سِيمَا الصّديق ثَانِي اثْنَيْنِ من … بِالصّدقِ والتصديق قد بهر الورىوَكَذَلِكَ الْفَارُوق من أردى العدى … وَالدّين نَالَ بعزه أوج الذرىوكذاك ذُو النورين عُثْمَان الَّذِي … يتنور الْمِحْرَاب مِنْهُ إِذا قراوَكَذَا أَبُو السبطين صنوا الْمُصْطَفى … بعل البتول وَمن يُسمى حيدراوكذاك كل الْآل وَالْأَصْحَاب والأ … زواج اكرم بِالْقَرَابَةِ معشراوكذاك تَابعهمْ وتابع تَابع … بِالْخَيرِ يقفو الْأَثر حَتَّى المحشرايَا رب وَاخْتِمْ لي بِخَير انني … متوسل بالمصطفى خير الورى … ولنرجع إِلَى مَا نَحن بصدده من التَّارِيخ فَنَقُول وَبِاللَّهِ التَّوْفِيقفَفِي سنة احدى وَتِسْعمِائَة 901 هـتوفّي الشَّيْخ عبد الرَّحْمَن بن عَليّ بن صَالح أَبُو زيد المكودي نسبا الفاسي الْمَكِّيّ شَارِح الاجروميةوفيهَا عِنْد غرُوب الشَّمْس يَوْم الْأَحَد سَابِع عشر ذِي الْقعدَةتوفّي سُلْطَان الديار المصرية الْملك قايتباي الجركسي المحمودي الاشرفي ثمَّ الظَّاهِرِيّ وَصلي عَلَيْهِ يَوْم الِاثْنَيْنِ وَكَانَ لَهُ مشْهد عَظِيم وَلم يخلفه مثله فِي الجراكسة بل قيل إِنَّه لم يمْكث أحد فِي المملكة قدر مدَّته فَكَانَت قريب ثَلَاثِينَ سنة وَصلي عَلَيْهِ فِي الْمَسْجِد الثَّلَاثَة وَختم لَهُ فِيهَا بعدة ربعات أحد مُلُوك الديار المصرية وَالْحَادِي وَالْأَرْبَعُونَ من مُلُوك
...এবং সে অজ্ঞতার রজনীতে তার দৌড়কে দীর্ঘায়িত করেছিল … যতক্ষণ না সত্যের প্রভাত উদ্ভাসিত হলো।সে এমন অবস্থায় সকালে উপনীত হলো যে তার নিকট কোনো (নেক) আমল নেই এবং তার জন্য … এমন কোনো আশাও নেই যা সে পোষণ করতে পারে যখন কোনো বিপদ তাকে আচ্ছন্ন করে।কেবল আপনার ভালোবাসাকে আঁকড়ে ধরা ছাড়া, হে আমার সায়্যিদ! … আর এটাই তার জন্য মুক্তি যখন সমস্ত বন্ধন ছিন্ন হয়ে যাবে।অতএব আপনার ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক যতক্ষণ মেঘমালা থেকে বৃষ্টি ঝরে পড়ে, … এবং আপনার ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক যতক্ষণ বিদ্যুৎ চমকায়।এবং আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক যতক্ষণ সৃষ্টিজগত হজ্জ পালন করে, … অথবা উম্মুল কুরা (মক্কা) থেকে জিয়ারতকারীরা আপনার অভিমুখি হয়।এবং তদ্রূপ আপনার পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর, … যতক্ষণ ক্ষমাপ্রার্থীরা আপনার পানে আসবে অথবা কোনো কাফেলা রাতে পথ চলবে।অথবা রাতজাগা পথিকরা অন্বেষণের টানে আপনার দিকে লক্ষ্য স্থির করবে; … তারা জাগ্রত ছিল এবং যখন আপনার কাছে পৌঁছাল তখন তারা বিশ্রামের সন্ধান করল।তারা প্রতিনিধি হয়ে এল এবং আপনার আঙিনায় তাদের আসবাবপত্র রাখল; … অতঃপর তাদের জিয়ারত কবুল করা হলো এবং তারা আতিথেয়তা লাভে ধন্য হলো।হে প্রতিপালক! প্রিয় হাবীব ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, … এবং সকল সাহাবীর ওপরও, যতক্ষণ সৌভাগ্যের প্রভাত উদ্ভাসিত হয়।এবং তদ্রূপ তাঁর ওপর ও তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক; … বারবার তা হতে থাকুক, কেননা বারবার তাঁর প্রশংসা গীতি গাইতে কতই না মধুর লাগে!বিশেষ করে সিদ্দীকের ওপর, যিনি সেই দুইজনের দ্বিতীয়জন, … যিনি স্বীয় সত্যবাদিতা ও বিশ্বাসের দ্বারা সৃষ্টিজগতকে অভিভূত করেছেন।এবং তদ্রূপ ফারুকের ওপর, যিনি শত্রুদের সংহার করেছেন, … আর দ্বীন যাঁর মর্যাদার বরকতে উন্নতির শিখর স্পর্শ করেছে।এবং তদ্রূপ যুন-নুরাইন উসমানের ওপর, যাঁর থেকে … মিহরাব জ্যোতির্ময় হয়ে উঠত যখন তিনি তিলাওয়াত করতেন।এবং তদ্রূপ দুই নাতির পিতা, মুস্তাফার (সা.) পরম সুহৃদ, … বাতুলের স্বামী এবং যাঁর নাম হায়দার।এবং তদ্রূপ সকল পরিবারবর্গ, সাহাবী এবং … সহধর্মিণীগণের ওপর; নিকটাত্মীয় হিসেবে তারা কতই না সম্মানিত দল!এবং তদ্রূপ তাঁদের অনুসারী এবং অনুসারীদের অনুসারীদের ওপর, … যারা কল্যাণের সাথে তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে হাশরের ময়দান পর্যন্ত।হে প্রভু! কল্যাণের সাথে আমার সমাপ্তি দান করুন, নিশ্চয়ই আমি … সৃষ্টির সেরা মুস্তাফার উসিলা গ্রহণ করছি। … এবং আমরা ইতিহাসের যে বিষয়ে আলোচনা করছিলাম সেদিকে ফিরে যাই, সুতরাং আমরা আল্লাহর তাওফীক নিয়ে বলছি:নয়শত এক (৯০১) হিজরী সালে:শেখ আবদুর রহমান বিন আলী বিন সালিহ আবু জায়েদ আল-মাকুদী বংশীয়, আল-ফাসী আল-মক্কী, যিনি আল-আজরুমিয়ার ব্যাখ্যাকার, তিনি ইন্তেকাল করেন।আর সেই বছর যিলকদ মাসের সতেরো তারিখ রবিবার সূর্যাস্তের সময়—মিসর ভূখণ্ডের সুলতান আল-মালিক কাইতবাই আল-জারকাসি আল-মাহমুদি আল-আশরাফি অতঃপর আজ-জাহিরি ইন্তেকাল করেন। সোমবার তাঁর জানাযার নামাজ পড়া হয় এবং তাঁর জানাযার এক বিশাল সমাবেশ হয়েছিল। সার্কাসীয়দের মধ্যে তাঁর মতো কেউ তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়নি, বরং বলা হয় যে, তাঁর রাজত্বকালের মেয়াদের সমান কেউ রাজত্বে অবস্থান করেনি, যা ছিল প্রায় ত্রিশ বছর। তিনটি প্রধান মসজিদে তাঁর জানাযার নামাজ পড়া হয় এবং সেখানে তাঁর জন্য বেশ কয়েকবার পূর্ণ কুরআন তিলাওয়াত সমাপ্ত করা হয়। তিনি ছিলেন মিসর ভূখণ্ডের অন্যতম সুলতান এবং রাজাদের মধ্যে একচল্লিশতম...
(খণ্ড: ১)
আন-নুরুস সাফির আন আখবারিল করনিল আশির
(পৃষ্ঠা: ١٦)
التّرْك البهية بَقِيَّة الْمُلُوك الْعِظَام وخاتمة النظام ولد تَقْرِيبًا سنة بضع وَعشْرين وَثَمَانمِائَة وَقدم مَعَ تاجره مُحَمَّد بن رستم فِي سنة تسع وَثَلَاثِينَ فَاشْتَرَاهُ الاشرف برسباي ثمَّ صَار إِلَى الْملك الظَّاهِر فَأعْتقهُ وَلم يزل عِنْده يترقى من مرتبَة إِلَى أَن صَار الْملك وَذَلِكَ فِي سنة اثْنَتَيْنِ وَسبعين وَكَانَ بعض أَوْلِيَاء الله تَعَالَى قد اشار إِلَى ملكه قبل أَن يفضى إِلَيْهِ الْملك بِزَمَان فَقَالَ لَهُ فِي وَاقعَة قُم أَنْت أَيهَا الْملك الْأَشْرَف قايتباي وَحكي مثل ذَلِك عَن آخر بل أرسل إِلَيْهِ مَعَ بعض خاصته بالبشارة بذلك فخشي صَاحب التَّرْجَمَة أَن يَنَالهُ بِسوء من الْمُتَوَلِي إِذْ ذَاك بِسَبَب هَذَا الإبعاد واستبعد وُقُوع هَذَا الْأَمر غَايَة الاستبعادورأي بَعضهم كَأَن شَجَرَة رمان لَيْسَ بهَا سوى حَبَّة وَاحِدَة وَأَن صَاحب التَّرْجَمَة بَادر قطعهَا فتأوله الرَّأْي بِأَخْذِهِ للْملك وأعلمه بذلك فَأمره باخفاء هَذَا الْمَنَام لذَلِك أَيْضا وَلما أستقر فِي المملكة أَخذ فِي الْحل وَالْعقد والعزل والعهد وَلم يكن فِي زَمَنه مُنَازع وَلَا مدافع وطالت أَيَّام دولته السعيدة وَسَار فِي النَّاس السِّيرَة الحميدة وأجتهد فِي بِنَاء المشاعر الْعِظَام بِحَيْثُ وَقع لَهُ من ذَلِك مَا لم يتَّفق لغيره من مُلُوك الْإِسْلَام كعمارة مَسْجِد الْخيف بمنى وحفر بنمره صهريجاً ذرعه عشرُون ذِرَاعا وَعمر بركَة خليص وأجرى الْعين الطّيبَة إِلَيْهَا بل أصلح الْمَسْجِد الَّذِي هُنَاكَ بِحَيْثُ عَم الأنتفاع بكله للقاطن والسالك وَعمر عين عَرَفَة بعد أنقطاعها ازيد من قرن وَعمر سِقَايَة سيدنَا الْعَبَّاس وَأصْلح بِئْر زَمْزَم وَالْمقَام وجهز فِي سنة تسع وَسبعين لِلْمَسْجِدِ منبرا عَظِيما وَنَصه فِي ذِي الْقعدَة وَكَانَ يُرْسل للكعبة الشَّرِيفَة بكسوة فائقة جدا فِي كل سنة وَأَنْشَأَ بِجَانِب الْمَسْجِد الْحَرَام عِنْد بَاب السَّلَام مدرسة عَظِيمَة بهَا صوفية وتدريس وفقرا وخزانة للربعات وَكتب الْعلم وبجانبها رِبَاط للْفُقَرَاء والطلبة وَمَعَ أجراء الْقُوت لَهُم فِي كل يَوْم وسبيل عَظِيم للخاص وَالْعَام ومكتب للأيتام وَكَذَا أنشأ بِالْمَدِينَةِ النَّبَوِيَّة مدرسة بديعة بهية بل بنى الْمَسْجِد الشريف بعد الْحَرِيق وجدد الْمِنْبَر والحجرة والمصلى النَّبَوِيّ إِلَى غَيرهَا من الْمِحْرَاب العثماني والمنارة الرئيسية بداء على عود بل رتب لأهل السّنة من أَهلهَا والقادمين عَلَيْهَا من كَبِير وصغير وغني وفقير
সুশ্রী তুর্কি বংশোদ্ভূত, মহান রাজন্যবর্গের অবশিষ্টাংশ এবং রাষ্ট্র ব্যবস্থার পূর্ণতা দানকারী। তিনি আনুমানিক আটশত বিশের কোঠার কোনো এক বছর জন্মগ্রহণ করেন এবং ৮৩৯ হিজরি সালে তাঁর বণিক মুহাম্মদ ইবনে রুস্তমের সাথে আগমন করেন। অতঃপর আল-আশরাফ বার্সবে তাঁকে ক্রয় করেন। পরবর্তীতে তিনি সুলতান আল-মালিক আল-জাহিরের মালিকানাধীন হন এবং তিনি তাঁকে মুক্ত করে দেন। তাঁর নিকট তিনি ক্রমান্বয়ে পদোন্নতি লাভ করতে থাকেন, অবশেষে তিনি সুলতান হিসেবে অধিষ্ঠিত হন। আর এটি ছিল ৮৭২ হিজরি সালের ঘটনা। আল্লাহর কতিপয় ওলি তাঁর নিকট রাজত্ব আসার দীর্ঘকাল পূর্বেই তাঁর সুলতান হওয়ার ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। জনৈক ওলি একটি আধ্যাত্মিক অবস্থায় তাঁকে বলেছিলেন, "হে সুলতান আল-আশরাফ কাইতবে! আপনি দাঁড়ান।" অন্য একজনের পক্ষ থেকেও অনুরূপ কথা বর্ণিত হয়েছে; বরং তিনি তাঁর এক বিশেষ ব্যক্তির মাধ্যমে এই সুসংবাদ পাঠিয়েছিলেন। এতে এই জীবনীর নায়ক (কাইতবে) আশঙ্কা করেছিলেন যে, এই দূরবর্তী সম্ভাবনার কথা জানাজানি হলে তৎকালীন শাসকের পক্ষ থেকে তাঁর কোনো ক্ষতি হতে পারে এবং তিনি এই বিষয়টি ঘটাকে অত্যন্ত অসম্ভব মনে করেছিলেন।তাদের মধ্যে কেউ কেউ স্বপ্নে দেখেছিলেন যেন একটি ডালিম গাছে মাত্র একটি ফল আছে এবং এই জীবনীর নায়ক (কাইতবে) দ্রুত সেটি পেড়ে নিলেন। স্বপ্নদ্রষ্টা তাঁকে এই স্বপ্নের ব্যাখ্যায় রাজত্ব লাভের কথা জানালেন। তখন তিনি তাকে এই স্বপ্নটি গোপন রাখতে আদেশ করেছিলেন। যখন তিনি সালতানাতে সুপ্রতিষ্ঠিত হলেন, তখন তিনি রাষ্ট্রের সকল কার্যাবলি—নিয়োগ, বরখাস্ত ও শাসনতান্ত্রিক চুক্তি—দৃঢ়ভাবে গ্রহণ করলেন। তাঁর সময়ে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী বা প্রতিরোধকারী ছিল না। তাঁর সৌভাগ্যময় শাসনকাল দীর্ঘস্থায়ী হয়েছিল এবং তিনি জনগণের মাঝে প্রশংসনীয় নীতি অনুসরণ করেছিলেন। তিনি মহান পবিত্র স্থানসমূহ নির্মাণে এতটাই সচেষ্ট ছিলেন যে, ইসলামের অন্য কোনো সুলতানের ক্ষেত্রে তা সচরাচর দেখা যায়নি। যেমন মিনায় মসজিদে খাইফ পুনর্নির্মাণ, নিমরাহ্-তে বিশ হাত আয়তনের একটি জলাধার খনন, খুলাইস এর পুকুর সংস্কার এবং সেখানে মিষ্ট পানির নহর প্রবাহিত করা। এমনকি সেখানকার মসজিদটি এমনভাবে সংস্কার করেন যা স্থানীয় বাসিন্দা ও মুসাফির সকলের জন্য পরিপূর্ণভাবে কল্যাণকর হয়। তিনি প্রায় এক শতাব্দীরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আরাফার ঝরনাটি সচল করেন। তিনি আমাদের নেতা আব্বাসের পানি পান করানোর স্থান (সিকায়া) পুনর্নির্মাণ করেন এবং জমজম কূপ ও মাকামে ইবরাহিম সংস্কার করেন। তিনি ৮৭৯ হিজরিতে মসজিদের জন্য একটি বিশাল মিম্বর প্রস্তুত করেন এবং যিলকদ মাসে তা স্থাপন করেন। তিনি প্রতি বছর কাবার জন্য অত্যন্ত উৎকৃষ্ট গিলাফ পাঠাতেন। তিনি মসজিদে হারামের পাশে বাবুস সালামের নিকট একটি বিশাল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন যেখানে সুফিদের আধ্যাত্মিক চর্চা, পাঠদান, দরিদ্রদের আবাসন এবং কোরআন শরিফ ও ইলমি কিতাবসমূহের পাঠাগার ছিল। এর পাশে দরিদ্র ও শিক্ষার্থীদের জন্য একটি রিবাতি (আবাসস্থল) ছিল, যেখানে তাদের জন্য প্রতিদিনের খাদ্যের ব্যবস্থা এবং সাধারণ ও বিশেষ সকলের জন্য পানি পানের সুব্যবস্থা (সাবিল) ও এতিমখানা ছিল। অনুরূপভাবে তিনি মদিনাতুন নববীতে একটি অপূর্ব ও উজ্জ্বল মাদ্রাসা নির্মাণ করেন। অগ্নিকাণ্ডের পর তিনি মসজিদে নববী পুনর্নির্মাণ করেন এবং মিম্বর, হুজরা ও নববী সালাতের স্থান (মুসাল্লা) নবায়ন করেন। এছাড়া উসমানি মেহরাব এবং প্রধান মিনারটি নতুন করে নির্মাণ করেন। তিনি মদিনার আহলে সুন্নাতের অধিবাসী এবং সেখানে আগন্তুকদের জন্য—ছোট-বড়, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে—ভাতার ব্যবস্থা করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আন-নুরুস সাফির আন আখবারিল করনিল আশির
(পৃষ্ঠা: ١٧)
ورضيع وفطيم وخادم وخديم مَا يَكْفِيهِ من الْبر وَمن الدشيشة وَالْخبْز مَا تيَسّر وَعمل أَيْضا بِبَيْت الْمُقَدّس مدرسة كَبِيرَة بهَا شيخ وصوفية ودرسة وَغير ذَلِك مِمَّا يطول ذكرهقَالَ السخاوي وَبِالْجُمْلَةِ فَلم يجْتَمع لملك مِمَّن أدركناه مَا اجْتمع لَهُ وَلَا حوى من الحذق والذكاء والمحاسن مُجمل مَا أشتمل عَلَيْهِ وَلَا مفصله وَرُبمَا مدحه الشُّعَرَاء وَلَا يتلفت إِلَى ذَلِك وَيَقُول لَو أشتغل بالمديح النَّبَوِيّ كَانَ أعظم من هَذِه المسالك وترجمته تحْتَمل مجلداتقَالَ وَله تهجد وَتعبد وأوراد وإذكار وتعفف وبكاء من خشيَة الله تَعَالَى وميل لِذَوي الهيئات الْحَسَنَة وَالصِّفَات وتلاوة ومطالعة فِي كتب الْعلم والدقائق وسير الْخُلَفَاء والملوك بِحَيْثُ يسْأَل الْقُضَاة وَغَيرهم الأسئلة الجيدة وَرُبمَا افادهم فِي بعض الأحيان وَالِاعْتِرَاف من نَفسه بالتقصير والاعتقاد فِيمَن يثبت عِنْده صَلَاحه من الصلحاء وَالْعُلَمَاءقَالَ وتكرر وَجهه لبيت الْمُقَدّس والخليل وثغور دمياط واسكندرية ورشيد وأزال كثيرا من الظلامات الحادثات وزار من هُنَاكَ من السادات بل حج فِي طَائِفَة قَليلَة سنة أَربع وَثَمَانِينَ ووهب وَتصدق وَأظْهر من تواضعه وخشوعه فِي طَوَافه وعبادته مَا عد من حَسَنَاتهقَالَ وَبَلغنِي عَن بعض الصَّالِحين أَنه اخبر بِرُؤْيَة النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي الْمَنَام تِلْكَ الْأَيَّام وَأخْبر بِأَنَّهُ من الْفرْقَة النَّاجِية قَالَ وَقد حج قبل ترقيه فِي زمن الظَّاهِر وَذَلِكَ فِي سنة سبع وَأَرْبَعين وَكَذَا انفق أَمْوَالًا عَظِيمَة فِي غَزْوَة الْكفَّار ورباط الثغور وَحفظ الامصار رَحمَه الله تَعَالَىوفيهَا قدم إِلَى مَدِينَة زبيد بِكِتَاب فتح الْبَارِي شرح البُخَارِيّ لِلْحَافِظِ شهَاب الدّين بن حجر من الْبَلَد الْحَرَام وَهُوَ أول دُخُول الْيمن وَكَانَ السُّلْطَان عَامر أرسل إِلَى لاشترائه فَاشْتَرَاهُ بِمَال جزيل ثمَّ قدم بِهِ الرَّسُول إِلَى مَدِينَة زبيد ثمَّ توجه بِهِ إِلَى بَاب السُّلْطَان فواجهه بِهِ فِي مَدِينَة تعز وَهَذَا الْكتاب من آيَات الله الْكُبْرَىوفيهَا حصل طوفان عَظِيم من نَاحيَة بَحر الْهِنْد غرق مِنْهُ فِي بندر الديو
এবং স্তন্যপায়ী শিশু, দুধ ছাড়ানো শিশু, সেবক ও ভৃত্যদের জন্য পর্যাপ্ত গম, দই-ভাতের মণ্ড এবং যা সহজলভ্য এমন রুটির ব্যবস্থা করেছিলেন। তিনি বাইতুল মুকাদ্দাসে একটি বৃহৎ মাদরাসাও নির্মাণ করেছিলেন, যেখানে একজন শায়খ, সুফি সম্প্রদায়, শিক্ষার্থী এবং আরও অনেক কিছু ছিল যা বর্ণনা করতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন।সাখাবী বলেন, সারকথা হলো—আমরা আমাদের যুগে এমন কোনো রাজার দেখা পাইনি যার মধ্যে তাঁর মতো গুণাবলির সমাবেশ ঘটেছে। তাঁর মতো প্রজ্ঞা, মেধা এবং সামগ্রিক বা বিস্তারিত সৎগুণাবলি আর কারো মাঝে একত্রিত হয়নি। কবিরা হয়তো তাঁর প্রশংসা করতেন, কিন্তু তিনি সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করতেন না এবং বলতেন, "যদি তাঁরা নবীজির প্রশংসায় মগ্ন হতেন, তবে তা এই পথগুলোর চেয়ে অনেক বেশি শ্রেষ্ঠ হতো।" তাঁর জীবনী বর্ণনা করতে গেলে বহু খণ্ডের প্রয়োজন হবে।তিনি আরও বলেন, তাঁর তাহাজ্জুদ, ইবাদত, নিয়মিত জিকির ও আজকার, চারিত্রিক পবিত্রতা এবং আল্লাহ তায়ালার ভয়ে ক্রন্দন করার অভ্যাস ছিল। তিনি সুন্দর স্বভাব ও গুণাবলির অধিকারীদের প্রতি অনুরাগী ছিলেন। তিনি ইলমি কিতাব, সূক্ষ্ম জ্ঞান এবং খলিফা ও রাজাদের জীবনী তেলাওয়াত ও অধ্যয়ন করতেন, যার ফলে তিনি কাজী ও অন্যদের এমন চমৎকার প্রশ্ন করতেন যে মাঝে মাঝে তিনি নিজেই তাঁদের উপকৃত করতেন। তিনি নিজের ত্রুটি-বিচ্যুতির কথা স্বীকার করতেন এবং যাঁদের নেককার ও আলেম হিসেবে দৃঢ়ভাবে জানতেন, তাঁদের প্রতি অগাধ বিশ্বাস রাখতেন।তিনি বলেন, তিনি বারবার বাইতুল মুকাদ্দাস, খলিল, দিময়াত, ইস্কান্দারিয়া এবং রশিদের সীমান্ত এলাকাগুলোতে যেতেন। তিনি সেখানে ঘটে যাওয়া অনেক জুলুম-অত্যাচার দূর করেন এবং সেখানকার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এমনকি চুরাশি হিজরি সালে তিনি এক ক্ষুদ্র কাফেলার সাথে হজ পালন করেন। সেখানে তিনি অনেক দান-সদকা করেন এবং তাঁর তাওয়াফ ও ইবাদতে এমন বিনয় ও একাগ্রতা প্রদর্শন করেন যা তাঁর নেক আমল হিসেবে গণ্য হয়েছে।তিনি আরও বলেন, কোনো এক নেককার ব্যক্তির পক্ষ থেকে আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তিনি সেই দিনগুলোতে স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছেন এবং নবীজি তাঁকে নাজাতপ্রাপ্ত দলের অন্তর্ভুক্ত বলে সংবাদ দিয়েছেন। সাখাবী বলেন, তিনি ক্ষমতায় আরোহণের পূর্বে যাহেরের যুগে সাতচল্লিশ হিজরি সালে একবার হজ করেছিলেন। একইভাবে তিনি কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, সীমান্ত পাহারা এবং শহর রক্ষায় বিপুল পরিমাণ সম্পদ ব্যয় করেছিলেন। আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতি রহম করুন।এই বছরেই পবিত্র মক্কা থেকে হাফেজ শিহাব উদ্দিন ইবনে হাজারের সংকলিত বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'ফাতহুল বারী' জাবিদ শহরে এসে পৌঁছায়। এটিই ছিল ইয়েমেনে এই কিতাবের প্রথম প্রবেশ। সুলতান আমির এটি ক্রয়ের জন্য লোক পাঠিয়েছিলেন এবং বিপুল অর্থের বিনিময়ে তা ক্রয় করেছিলেন। অতঃপর দূত কিতাবটি নিয়ে জাবিদ শহরে আসেন এবং সেখান থেকে সুলতানের দরবারের দিকে রওনা হন। অবশেষে তায়িজ শহরে সুলতান এটি গ্রহণ করেন। এই কিতাবটি আল্লাহর এক মহান নিদর্শন।এই বছরেই ভারত মহাসাগরের দিক থেকে এক ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাস ঘটে, যার ফলে দিউ বন্দরে অনেক কিছু নিমজ্জিত হয়।
(খণ্ড: ১)
আন-নুরুস সাফির আন আখবারিল করনিল আশির
(পৃষ্ঠা: ١٨)
عشرَة مراكب وَفِي الباحة أَرْبَعَة مراكب وَتلف فِيهَا من الْأَمْوَال مَا لَا ينْحَصر وتغيرت أَرْبَعَة مراكب وأنكسرت أدقالهم ورموا من حملهمْ أَكثر من النّصْف وَلَا حول وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّهسنة أثنين بعد التسْعمائَة 902 هـوَفِي يَوْم الْأَحَد وَقت الْعَصْر الثَّامِن وَالْعِشْرين من شهر شعْبَان توفّي الشَّيْخ الْعَلامَة الرحلة الْحَافِظ أَبُو عبد الله شمس الدّين مُحَمَّد أبن عبد الرَّحْمَن بن مُحَمَّد بن أبي بكر بن عُثْمَان بن مُحَمَّد السخاوي الأَصْل القاهري الشَّافِعِي بِالْمَدِينَةِ الشَّرِيفَة حَال مجاورته الْأَخِيرَة بهَا وعمره إِحْدَى وَسَبْعُونَ سنة وَصلي عَلَيْهِ بعد صَلَاة الصُّبْح يَوْم الِاثْنَيْنِ ثَانِي تَارِيخه بالروضة الشَّرِيفَة ووقف بنعشه تجاه الْحُجْرَة الشَّرِيفَة وَدفن بِالبَقِيعِ بجوار مشْهد الإِمَام مَالك وَكَانَت جنَازَته حافلة وَلم يخلفه بعد مثله فِي مَجْمُوع فنونه وَكَانَت وِلَادَته فِي ربيع الأول سنة إِحْدَى وَثَلَاثِينَ وَثَمَانمِائَة وَحفظ الْقُرْآن الْعَظِيم وَهُوَ صَغِير وجوده ثمَّ حفظ الْمِنْهَاج الْأَصْلِيّ والفية ابْن مَالك والنخبة والفية الْعِرَاقِيّ وَشرح النخبة وغالب الشاطبية ومقدمة الشاوي فِي الْعرُوض وَكلما أنْتَهى حفظه لكتاب عرضه على شُيُوخ عصرهوبرع فِي الْفِقْه والعربية وَالْقِرَاءَة وَغَيرهَا وشارك فِي الْفَرَائِض والحساب والميقات وأصول الْفِقْه وَالتَّفْسِير وَغَيرهَا وَأما مقرؤاته ومسموعاته فكثيرة جدا لَا تكَاد تَنْحَصِر واخذ عَن جمَاعَة لَا يُحصونَ حَتَّى بلغت عدَّة من اخذ عَنهُ زِيَادَة على أَرْبَعمِائَة نفس وَأذن لَهُ غير وَاحِد بالإفتاء والتدريس والإملاء وَسمع الْكثير من الحَدِيث على شَيْخه إِمَام الْأَئِمَّة الشهَاب بن حجر وَأَقْبل عَلَيْهِ بكليته اقبالاً يزِيد على الْوَصْف حَتَّى حمل عَنهُ علما جماً وأختص بِهِ كثيرا بِحَيْثُ كَانَ من اكثر الآخذين عَنهُ وأعانه عَليّ ذَلِك قرب منزله مِنْهُ وَكَانَ لَا يفوتهُ مِمَّا يقْرَأ عَلَيْهِ إِلَّا النَّادِروَقَرَأَ عَلَيْهِ الِاصْطِلَاح بِتَمَامِهِ وَسمع عَلَيْهِ جلّ كتبه كالألفية وَشَرحهَا مرَارًا وعلوم الحَدِيث إِلَّا الْيَسِير من أَوَائِله لِأَبْنِ الصّلاح واكثر تصانيفه
দশটি জাহাজ এবং চত্বরে চারটি জাহাজ; তাতে অগণিত সম্পদ নষ্ট হয়েছে। চারটি জাহাজের অবস্থা পরিবর্তিত হয়েছে, সেগুলোর মাস্তুল ভেঙে গেছে এবং তারা তাদের বোঝার অর্ধেকেরও বেশি ফেলে দিয়েছে। আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি বা সামর্থ্য নেই।নয়শ দুই হিজরি সন ৯০২ হিজরিএবং রবিবার আসরের সময়, শাবান মাসের আঠাশ তারিখে, মদিনা শরিফে তাঁর সর্বশেষ অবস্থানের সময় প্রখ্যাত আলিম, পর্যটক ও হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ শামসুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর ইবনে উসমান ইবনে মুহাম্মদ আস-সাখাভি আল-কাহেরি আশ-শাফেয়ি ইন্তেকাল করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল একাত্তর বছর। তাঁর মৃত্যুর পরদিন সোমবার ফজর নামাজের পর রওজা শরিফে তাঁর জানাজা পড়ানো হয়। তাঁর কফিন রওজা শরিফের কামরার সামনে রাখা হয়েছিল এবং জান্নাতুল বাকিতে ইমাম মালেকের মাজারের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়। তাঁর জানাজায় প্রচুর মানুষের সমাগম হয়েছিল। তাঁর মতো বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শী এমন কাউকে তিনি রেখে যাননি। তাঁর জন্ম হয়েছিল আটশ একত্রিশ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে। শৈশবেই তিনি মহান কুরআন হিফজ করেন এবং তা সুন্দরভাবে পাঠ করেন। এরপর তিনি মিনহাজুল আসলি, ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহ, আন-নুখবাহ, ইরাকির আলফিয়্যাহ, শরহুন্নুখবাহ, শাতবিয়্যাহর অধিকাংশ এবং আরুজ শাস্ত্রের মুকাদ্দিমা আশ-শাভি মুখস্থ করেন। যখনই তিনি কোনো কিতাব মুখস্থ শেষ করতেন, তা সমসাময়িক শায়খদের কাছে পেশ করতেন।তিনি ফিকহ, আরবি ভাষা, কিরাত ও অন্যান্য বিষয়ে পারদর্শিতা অর্জন করেন। এছাড়াও তিনি ফারায়িজ (উত্তরাধিকার আইন), গণিত, মিফাত (সময় নির্ধারণ বিদ্যা), উসুলে ফিকহ, তাফসির ও অন্যান্য বিষয়ে অংশগ্রহণ করেন। আর তাঁর পঠিত ও শ্রুত কিতাবসমূহের সংখ্যা বিশাল, যা গণনা করা প্রায় অসম্ভব। তিনি অসংখ্য উস্তাদের নিকট জ্ঞান লাভ করেছেন, যাদের সংখ্যা চারশ’র অধিক। একাধিক ব্যক্তি তাঁকে ফতোয়া প্রদান, শিক্ষাদান ও শ্রুতিলিখনের (ইমলা) অনুমতি দিয়েছিলেন। তিনি তাঁর শায়খ, ইমামদের ইমাম শিহাব ইবনে হাজার (আসকালানি)-এর নিকট প্রচুর হাদিস শ্রবণ করেন এবং তাঁর প্রতি এমন পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ করেছিলেন যা বর্ণনাাতীত। এমনকি তিনি তাঁর থেকে বিপুল পরিমাণ জ্ঞান অর্জন করেন এবং তাঁর বিশেষ সান্নিধ্য লাভ করেন, ফলে তিনি তাঁর নিকট থেকে সর্বাধিক জ্ঞান লাভকারীদের একজন ছিলেন। তাঁর প্রতিবেশীর ঘনিষ্ঠতা তাঁকে এই বিষয়ে সহায়তা করেছিল এবং উস্তাদের নিকট যা পাঠ করা হতো, তার মধ্যে খুব কমই তাঁর বাদ পড়ত।তিনি তাঁর নিকট পূর্ণাঙ্গভাবে ইস্তিলাহ (পরিভাষা শাস্ত্র) পাঠ করেন এবং তাঁর অধিকাংশ কিতাব শ্রবণ করেন, যেমন আলফিয়্যাহ এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ কয়েকবার। এছাড়াও ইবনে সালাহর উলুমুল হাদিসের শুরুর সামান্য অংশ ব্যতীত এবং তাঁর (ইবনে হাজারের) অধিকাংশ রচনাবলীও তিনি তাঁর নিকট শ্রবণ করেন।
(খণ্ড: ১)
আন-নুরুস সাফির আন আখবারিল করনিল আশির
(পৃষ্ঠা: ١٩)
فِي الرِّجَال وَغَيرهَا كالتقريب وَثَلَاثَة أَربَاع اصله وَاللِّسَان بِتَمَامِهِ ومشتبه النِّسْبَة وَتَخْرِيج الزَّاهِر وتلخيص مُسْند الفردوس والمقدمة وأماليه الحلبية والدمشقية وغالب فتح البارى وَتَخْرِيج المصابيح وَابْن الْحَاجِب الأَصْل وَتَعْلِيق التَّعْلِيق ومقدمة الْإِصَابَة وَجُمْلَة يطول تعدادها وَفِي بعضه مَا سَمعه أَكثر من مرّة وَلم يُفَارِقهُ إِلَى أَن مَاتَ وَأذن لَهُ فِي الاقراء والإفادة والتصنيف وتدوب بِهِ فِي معرفَة العالي والنازل والكشف عَن التراجم والمتون وَسَائِر الِاصْطِلَاح وَغير ذَلِكوجاب الْبِلَاد وجال وجد فِي الرحلة وارتجل إِلَى حلب ودمشق وَبَيت الْمُقَدّس والخليل ونابلس والرملة وحماه وبعلبك وحمص بِحَيْثُ أَن الَّذِي سمع عَنْهُم يكونُونَ قريب مائَة نفر بل زَاد عدد من أَخذ عَنهُ من الاعلى والدون والمساوي على ألف وَمِائَتَيْنِ والأماكن الَّتِي تحمل فِيهَا من الْبِلَاد والقرى على الثَّمَانِينَ وأجتمع لَهُ من المرويات بِالسَّمَاعِ وَالْقِرَاءَة مَا يفوق الْوَصْف وَهِي تتنوع انواعاً تنيف على الْعشْر حَسْبَمَا ذكره مُسْتَوْفِي فِي تَرْجَمته من تَارِيخه وَأَعْلَى مَا عِنْده من الْمَرْوِيّ مَا بَينه وَبَين الرَّسُول صلى الله عليه وسلم بالسند المتماسكة فِيهِ عشرَة انفس واكثر مِنْهُ وَأَصَح مَا بَين شُيُوخه وَبَين النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِيهِ الْعدَد الْمَذْكُور واتصلت لَهُ الْكتب السِّتَّة وَكَذَا حَدِيث كل من الشَّافِعِي وَأحمد والدارمي بِثمَانِيَة وسائط وَفِي بعض الْكتب السِّتَّة كَأبي دَاوُد من طَرِيق آخر وأبواب فِي النَّسَائِيّ مَا هُوَ سَبْعَة بِتَقْدِيم الْمُهْملَة واتصل لَهُ حَدِيث مَالك وَأبي حنيفَة بِتِسْعَة بِتَقْدِيم الْمُثَنَّاةوَحج بعد وَفَاة شَيْخه ابْن حجر مَعَ وَالِديهِ وَلَقي جمَاعَة من الْعلمَاء فاخذ عَنْهُم كَأبي الْفَتْح الْأَغَر والبرهان الزمزمي والتقي بن فَهد وَأبي السعادات ابْن ظهيرة وخلائق ثمَّ زار الْمَدِينَة الشَّرِيفَة وَرجع إِلَى الْقَاهِرَة ملازماً للسماع وَالْقِرَاءَة والتخريج والإستفادة من الشُّيُوخ والأقران من غير فتور عَن ذَلِك وَلم يزل يجْتَهد فِي السماع ويرحل إِلَى الأقطار حَتَّى وصل إِلَى مَا وصل إِلَيْهِ وَخَصه بعض شُيُوخه على عقد
বর্ণনাকারী ও অন্যান্য বিষয়ে তিনি আত-তাকরিব এবং এর মূল গ্রন্থের তিন-চতুর্থাংশ, সম্পূর্ণ লিসানুল মিজান, মুশতাবিল নিসবাহ, তাখরিজুয যাহির, তালখিসু মুসনাদিল ফিরদাউস, আল-মুকাদ্দিমাহ, তাঁর হালব ও দামেস্কের আমালি বা পাঠসমূহ, ফাতহুল বারীর অধিকাংশ, তাখরিজুল মাসাবিহ, ইবনুল হাজিবের মূল গ্রন্থ, তালীকুত তালীক, আল-ইসাবাহর ভূমিকা এবং এমন এক বিশাল সমষ্টি পাঠ বা শ্রবণ করেছেন যা গণনা করা দীর্ঘসাধ্য। এর মধ্যে কিছু অংশ তিনি একাধিকবার শুনেছেন। তিনি তাঁর (শায়খের) মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করেননি। শায়খ তাঁকে পাঠদান, জ্ঞানদান ও গ্রন্থ রচনার অনুমতি প্রদান করেন। তাঁর মাধ্যমে তিনি আলী ও নাজিল সনদ চেনা, জীবনী ও মূল পাঠ উন্মোচন এবং যাবতীয় পরিভাষা ও অন্যান্য বিষয়ে পারদর্শিতা লাভ করেন।তিনি দেশ-বিদেশে পরিভ্রমণ করেছেন এবং ইলম অর্জনের সফরে সচেষ্ট ছিলেন। তিনি সফর করেছেন হালব, দামেস্ক, বায়তুল মুকাদ্দাস, খলিল, নাবলুস, রামলা, হামাহ, বালবাক ও হিমসের উদ্দেশ্যে। অবস্থা এমন ছিল যে, যাদের নিকট থেকে তিনি শুনেছেন তাঁদের সংখ্যা ছিল প্রায় একশত জন; বরং তাঁর নিকট থেকে ইলম গ্রহণকারী উচ্চপর্যায়ের, নিম্নপর্যায়ের ও সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের সংখ্যা এক হাজার দুইশ অতিক্রম করেছিল। যেসব শহর ও গ্রামে তিনি ইলম অর্জন করেছেন তার সংখ্যা আশিরও অধিক। শ্রবণ ও পাঠের মাধ্যমে তাঁর কাছে এমন বিপুল পরিমাণ বর্ণনা জমা হয়েছে যা বর্ণনাতীত। এগুলি দশের অধিক প্রকারে বিভক্ত, যেমনটি তিনি তাঁর ইতিহাসের জীবনী অংশে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বর্ণনাসমূহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের হলো সেটি, যেখানে তাঁর ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মধ্যে মজবুত সনদে দশজন বা তার অধিক ব্যক্তি রয়েছেন। তাঁর শায়খদের এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ বর্ণনায় ওই উল্লিখিত সংখ্যাই বিদ্যমান। তাঁর নিকট কুতুবে সিত্তা বা ছয়টি হাদিস গ্রন্থ এবং ইমাম শাফিয়ী, আহমাদ ও দারিমীর হাদিসসমূহ আটজন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে পৌঁছেছে। কুতুবে সিত্তার কিছু গ্রন্থে যেমন আবু দাউদে ভিন্ন সূত্রে এবং নাসায়ীর কিছু অধ্যায়ে সাতজন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে পৌঁছেছে। আর ইমাম মালিক ও আবু হানিফার হাদিসসমূহ নয়জন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে তাঁর নিকট পৌঁছেছে।তাঁর শায়খ ইবনে হাজারের মৃত্যুর পর তিনি তাঁর পিতামাতার সাথে হজ পালন করেন। সেখানে তিনি একদল ওলামার সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন, যেমন আবুল ফাতহ আল-আগার, বুরহান আল-যামযামী, তাকী বিন ফাহাদ, আবুস সা'আদাত ইবনে যুহাইরা এবং আরও অনেকে। অতঃপর তিনি মদিনা শরিফ জিয়ারত করেন এবং কায়রোতে ফিরে আসেন। সেখানে তিনি কোনো ক্লান্তি ছাড়াই নিরবচ্ছিন্নভাবে শায়খ ও সমসাময়িকদের কাছ থেকে শ্রবণ, পাঠ, তাখরিজ ও ইলম অর্জনে নিমগ্ন থাকেন। তিনি হাদিস শ্রবণ ও দেশ-বিদেশে সফরে সর্বদা সচেষ্ট ছিলেন, যতক্ষণ না তিনি উচ্চ মাকামে পৌঁছালেন। তাঁর কোনো কোনো শায়খ তাঁকে বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আন-নুরুস সাফির আন আখবারিল করনিল আশির
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
مجْلِس الْإِمْلَاء فامتثل إِشَارَته فاملا حَتَّى اكمل تِسْعَة وَخمسين مَجْلِسا ثمَّ توجه إِلَى الْحَج فِي سنة سبعين فحج وجاور وَحدث هُنَاكَ بأَشْيَاء من تصانيفه وَغَيرهَا واقرأ ألفية الحَدِيث تقسيماً وغالب شرحها لناظمها والنخبة وَشَرحهَا واملأ مجَالِس بِالْمَسْجِدِ الْحَرَاموَلما رَجَعَ إِلَى الْقَاهِرَة شرع فِي املاء تَكْمِلَة تَخْرِيج شَيْخه للأذكار ثمَّ املاء تَخْرِيج اربعي النَّوَوِيّ ثمَّ غَيرهَا بِحَيْثُ بلغت مجَالِس الاملاء ستماية مجْلِس فَأكْثر وَكَذَا حج فِي سنة خمس وَثَمَانِينَ وجاور سنة سِتّ ثمَّ سنة سبع وَأقَام مِنْهَا ثَلَاثَة أشهر بِالْمَدِينَةِ النَّبَوِيَّة ثمَّ فِي سنة اثْنَيْنِ وَتِسْعين وجاور سنة ثَلَاثَة ثمَّ سنة ارْبَعْ ثمَّ فِي سنة سِتّ وَتِسْعين وجاور إِلَى أثْنَاء سنة ثَمَان فَتوجه إِلَى الْمَدِينَة النَّبَوِيَّة فَأَقَامَ بهَا شهرا وَصَامَ رَمَضَان بهَا ثمَّ عَاد فِي شوالها إِلَى مَكَّة وَمكث بهَا مَا شَاءَ الله ثمَّ رَجَعَ إِلَى الْمَدِينَة وجاور بهَا إِلَى أَن مَاتَ وَحمل النَّاس من أهلهما والقادمين عَلَيْهِمَا عَنهُ الْكثير جدا رِوَايَة ودراية وحصلوا من تصانيفه مَعَ مُلَازمَة النَّاس فِي منزله للْقِرَاءَة دراية وَرِوَايَة فِي تصانيفه وَغَيرهَا بِحَيْثُ ختم عَلَيْهِ مَا يفوق الْوَصْف من ذَلِك وَأخذ عَنهُ من الْخَلَائق مَا لَا يُحْصى كَثْرَةوَشرع فِي التصنيف والتخريج قبيل الْخمسين وهلم جرا وتصانيفه إِلَيْهَا النِّهَايَة فِي الشَّهَادَة لَهُ لمزيد علوه وفخره وَمن تصانيفه فسح المغيث بشرح الفية الحَدِيث وَهُوَ مَعَ اختصاره فِي مُجَلد ضخم وسبك الْمَتْن فِيهِ على وَجه بديع لَا يعلم فِي هَذَا الْفَنّ اجْمَعْ مِنْهُ وَلَا أَكثر تَحْقِيقا لمن تدبره وتوضح لَهُ حَاذَى بِهِ الْمَتْن بِدُونِ الإفصاح والمقاصد الْحَسَنَة فِي بَيَان كثير من الْأَحَادِيث المشتهرة على الْأَلْسِنَة وَهُوَ كتاب جليل لم يسْبق إِلَى مثله مُفِيد فِي بَابه جدا وَالْقَوْل البديع فِي الصَّلَاة على الحبيب الشَّفِيع وَهُوَ فِي غَايَة الْحسن والضوء اللامع لأهل الْقرن التَّاسِع يكون سِتّ مجلدات وعمدة المحتج فِي حكم الشطرنج والمنهل العذب الروي فِي تَرْجَمَة قطب الْأَوْلِيَاء للنووي والجواهر والدرر فِي تَرْجَمَة شيخ الْإِسْلَام ابْن حجر فِي مُجَلد ضخم وَرُبمَا يكْتب فِي مجلدين والتاريخ الْمُحِيط وَهُوَ فِي نَحْو ثَلَاثمِائَة ورقة على حُرُوف المعجم لَا يعلم من سبقه إِلَيْهِ وتلخيص تَارِيخ الْيمن ومنتقى من تَارِيخ مَكَّة للفاسي
ইমলা মজলিস; সুতরাং তিনি তার ইঙ্গিত পালন করলেন এবং ঊনষাটটি মজলিস পূর্ণ করা পর্যন্ত ইমলা (শ্রুতিলিপি) প্রদান করলেন। অতঃপর সত্তর হিজরি সনে হজের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন, হজ পালন করলেন এবং সেখানে অবস্থান (জাওয়ার) করলেন। সেখানে তিনি নিজের রচনাবলি ও অন্যান্য উৎস থেকে হাদিস বর্ণনা করেন। তিনি আলফিয়াতুল হাদিস এবং এর মূল লেখকের করা এর অধিকাংশ ব্যাখ্যাগ্রন্থ পাঠ করেন, সেইসাথে নুখবাতুল ফিকার ও তার ব্যাখ্যা পাঠ করেন এবং মসজিদুল হারামে ইমলা মজলিস পরিচালনা করেন।যখন তিনি কায়রোতে ফিরে আসলেন, তখন তিনি তার শাইখের ‘আল-আজকার’ গ্রন্থের তাখরিজ সম্পন্ন করার ইমলা শুরু করেন। এরপর ইমাম নববীর ‘আরবাঈন’-এর তাখরিজ এবং আরও অন্যান্য গ্রন্থের ইমলা প্রদান করেন, যার ফলে ইমলা মজলিসের সংখ্যা ছয়শ বা তার অধিক হয়। একইভাবে তিনি পঁচাশি হিজরি সনে হজ করেন এবং ছিয়াশি ও সাতাশি হিজরিতে সেখানে অবস্থান করেন এবং এর মধ্যে তিন মাস মদিনা মুনাওয়ারায় অবস্থান করেন। অতঃপর বিরানব্বই হিজরিতে হজ করেন এবং তিরানব্বই ও চুরানব্বই হিজরিতে সেখানে অবস্থান করেন। এরপর ছিয়ানব্বই হিজরিতে হজ করেন এবং আটানব্বই হিজরির মধ্যভাগ পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন। অতঃপর তিনি মদিনা মুনাওয়ারার উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং সেখানে এক মাস অবস্থান করে রমজানের রোজা পালন করেন। এরপর শাওয়াল মাসে মক্কায় ফিরে আসেন এবং আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী সেখানে অবস্থান করেন। পুনরায় মদিনায় ফিরে যান এবং মৃত্যু পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান (জাওয়ার) করেন। এই দুই পবিত্র শহরের অধিবাসী এবং সেখানে আগমনকারী অসংখ্য মানুষ রেওয়ায়েত (বর্ণনা) ও দেরায়েত (উপলব্ধি) উভয় পদ্ধতিতে তার নিকট থেকে প্রচুর জ্ঞান অর্জন করেছেন। তার ঘরে মানুষ তার রচনাবলি ও অন্যান্য কিতাব দেরায়েত ও রেওয়ায়েতের সাথে পাঠ করার জন্য সর্বদা লেগে থাকত। ফলে তার নিকট এত অধিক সংখ্যক কিতাব খতম করা হয়েছে যা বর্ণনাতীত। অসংখ্য মানুষ তার নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করেছেন।তিনি পঞ্চাশ হিজরির (সাড়ে আটশ হিজরি) কিছুকাল পূর্বে গ্রন্থ রচনা ও তাখরিজের কাজ শুরু করেন এবং তা অব্যাহত থাকে। তার রচনাবলি তার সুউচ্চ মর্যাদা ও গৌরবের সাক্ষ্য দেয়। তার কিতাবসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো: ‘ফাতহুল মুগিস বি-শরহি আলফিয়াতিল হাদিস’, যা সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও এক বিশাল খণ্ডে সমাপ্ত। এতে মূল পাঠকে এমন চমৎকারভাবে বিন্যস্ত করা হয়েছে যে, এই শিল্পে এর চেয়ে অধিক সংকলিত এবং গভীর গবেষণামূলক অন্য কোনো কিতাব সম্পর্কে জানা নেই—যারা এটি গভীরভাবে চিন্তা করবেন তাদের নিকট তা স্পষ্ট হবে। তিনি এতে ‘আল-ইফসাহ’ ছাড়াই মূল পাঠের সামঞ্জস্য বজায় রেখেছেন। এছাড়া রয়েছে ‘আল-মাকাসিদুল হাসানা’, যা মানুষের মুখে প্রচলিত অনেক হাদিসের বর্ণনায় রচিত। এটি একটি অত্যন্ত মর্যাদাশীল কিতাব যার নজির পূর্বে নেই এবং স্বীয় বিষয়ে এটি অত্যন্ত উপকারী। আরও রয়েছে ‘আল-কাওলুলবাদিউ ফিস সালাতি আলাল হাবিবিল শাফিউ’, যা অত্যন্ত চমৎকার একটি কিতাব। ‘আদ-দাউউল লামি লি-আহলিল করনিত্তাসি’ (নবম শতাব্দীর ব্যক্তিদের জীবনী), যা ছয় খণ্ডে সমাপ্ত। ‘উমদাতুল মুহ্তাজ ফি হুকমিশ শতরঞ্জ’ (দাবা খেলার বিধান প্রসঙ্গে)। ‘আল-মানহালুল আজবুর্ রওয়ি ফি তরজামাতি কুতুবিল আউলিয়া নববী’ (ইমাম নববীর জীবনী)। ‘আল-জাওয়াহিরু ওয়াদ দুরার ফি তরজামাতি শাইখিল ইসলাম ইবনে হাজার’, যা এক বিশাল খণ্ডে, কখনও দুই খণ্ডেও লেখা হয়। ‘আত-তারিখুল মুহিত’, যা বর্ণানুক্রমিকভাবে প্রায় তিনশ পৃষ্ঠায় রচিত এবং তার আগে কেউ এমনটি করেছেন বলে জানা নেই। এছাড়া ‘তালখিসু তারিখিল ইয়ামান’ এবং ফাসি রচিত মক্কার ইতিহাসের সংক্ষেপিত সংস্করণ ‘মুনতাকা মিন তারিখি মাক্কাহ’।
(খণ্ড: ১)
আন-নুরুস সাফির আন আখবারিল করনিল আশির
(পৃষ্ঠা: ٢١)
والفوائد الجلية فِي الْأَسْمَاء النَّبَوِيَّة وَالْفَخْر الْعلوِي فِي المولد النَّبَوِيّ وارتقاء الغرف بحب أقرباء الرَّسُول وَذَوي الشّرف والايناس بمناقب الْعَبَّاس ورجحان الكفة فِي بَين أهل الصّفة وَالْأَصْل الْأَصِيل فِي تَحْرِيم النَّقْل من التَّوْرَاة والانجيل وَالْقَوْل المتين فِي تَحْسِين الظَّن بالمخلوقين وَغير ذَلِك وقرض أَشْيَاء من تصانيفه غير وَاحِد من أَئِمَّة الْمَذْهَب كالحافظ ابْن حجر والجلال الْمحلي وَالْعلم البُلْقِينِيّ والشرف الْمَنَاوِيّ والتقي الحصني والعيني والكافياجي وتناقلها النَّاس إِلَى كثير من الْبلدَانِ والقرى وَكتب الأكابر بَعْضهَا بخطوطهم حَتَّى قَالَ بَعضهم إِن لم تكن التصانيف هَكَذَا وَإِلَّا فَلَافائدوَكَانَ شَيْخه شيخ الأسلام ابْن حجر يُحِبهُ ويثني عَلَيْهِ وينوه بِذكرِهِ ويعترف بعلو فخره ويرجحه على سَائِر جماعته المنسوبين إِلَى الحَدِيث وصناعته وَكَانَ من دعواته لَهُ قَوْله وَالله المسؤول أَن يُعينهُ على الْوُصُول إِلَى الْحُصُول حَتَّى يتعجب السَّابِق من اللَّاحِقوَمِمَّا وَصفه بِهِ بعض الْحفاظ بعد كَلَام تقدم وَهُوَ وَالله بَقِيَّة من رَأَيْت من الْمَشَايِخ وَأَنا وَجَمِيع طلبة الحَدِيث بالبلاد الشامية والبلاد المصرية وَسَائِر بِلَاد الأسلام عِيَال عَلَيْهِ وَالله مَا أعلم فِي الْوُجُود لَهُ نظيراًوَقَالَ غَيره هُوَ الْآن من الافراد فِي علم الحَدِيث الَّذِي اشْتهر فِيهِ فَضله وَلَيْسَ بعد شيخ الْإِسْلَام ابْن حجر فِيهِ مثلهوَقَالَ غَيره وَاسِطَة عقدهَا من العقد الْإِجْمَاع على أَنه أَمْسَى كالجوهر الْفَرد وَأصْبح فِي وَجه الدَّهْر كالغرة حَتَّى صَارَت الْغرَر مَعَ جواهره كالذرة بل جواد جوده شهد لَهُ جَرَيَانه بِالسَّبقِ فِي ميدان الفرسان وَحكم لَهُ بِأَنَّهُ هُوَ الْفَرْع الَّذِي فاق أَصله البديع بالمعاني فَلَا حَاجَة للْبَيَان أَضَاء هَذَا الشَّمْس فاختفت مِنْهُ كواكب الدراري كَيفَ لَا وَقد جاده الْفَيْض بِفَتْح الْبَارِي فَهُوَ نخبة الْعَصْر والدهر وَعين القلادة فِي طبقَة الْجُود لِأَنَّهُ عين السخاء وَزِيَادَة فبدايته إِلَيْهَا النِّهَايَة ومنهاجه أوضح طرق إِلَى الْغَايَة وهوالخادم للسّنة الشَّرِيفَة وَالْحَاوِي لمحاسن
এবং 'নবীজীর নামসমূহের উজ্জ্বল উপকারিতা', 'নবীজীর জন্মবৃত্তান্তের উচ্চতর গৌরব', 'রাসূলের স্বজন ও উচ্চবংশীয়দের ভালোবাসার মাধ্যমে জান্নাতের কক্ষসমূহে আরোহণ', 'আব্বাস (রা.)-এর গুণাবলি বর্ণনার মাধ্যমে অন্তরঙ্গতা', 'আহলে সুফফাদের শ্রেষ্ঠত্বের পাল্লা ভারী হওয়া', 'তাওরাত ও ইঞ্জিল থেকে বর্ণনা স্থানান্তরের হারামী হওয়া বিষয়ে মৌলিক ভিত্তি' এবং 'সৃষ্টিজগত সম্পর্কে সুধারণা পোষণ বিষয়ে সুদৃঢ় বক্তব্য' ও অন্যান্য কিতাবসমূহ। মাযহাবের অনেক ইমাম তাঁর রচনাবলির প্রশংসা করেছেন, যেমন হাফেজ ইবনে হাজার, জালাল আল-মাহাল্লী, আলম আল-বুলকিনী, শরাফ আল-মুনাবী, তাকী আল-হিসনী, আল-আইনী এবং আল-কাফিয়াজী। এগুলি বহু দেশ ও জনপদে ছড়িয়ে পড়েছিল। শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিগণ নিজ হাতে এগুলোর প্রতিলিপি লিখেছেন, এমনকি কেউ কেউ বলেছেন: "যদি রচনাবলি এমন না হয়, তবে রচনাবলি হওয়ারই প্রয়োজন নেই।"ফায়দাতাঁর উস্তাদ শায়খুল ইসলাম ইবনে হাজার তাঁকে ভালোবাসতেন, তাঁর প্রশংসা করতেন, উচ্চমাকামে তাঁর কথা আলোচনা করতেন এবং তাঁর উচ্চ মর্যাদা স্বীকার করতেন। ইলমে হাদিস ও এর সংশ্লিষ্ট বিদ্যায় তাঁকে তাঁর সমসাময়িক সকলের ওপর অগ্রাধিকার দিতেন। তাঁর জন্য ইবনে হাজারের একটি দুআ ছিল এই: "আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাকে চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছাতে সাহায্য করেন, যেন পূর্ববর্তীরা পরবর্তীদের (অবদান) দেখে আশ্চর্যান্বিত হয়।"জনৈক হাফেজ তাঁর বর্ণনায় বলেন: "আল্লাহর কসম, তিনি আমার দেখা মাশায়েখদের মধ্যে একমাত্র অবশিষ্টাংশ। আমি এবং শাম, মিশর ও অন্যান্য মুসলিম ভূখণ্ডের সকল হাদিসের ছাত্র তাঁর মুখাপেক্ষী। আল্লাহর কসম, আমি বর্তমান পৃথিবীতে তাঁর কোনো সমতুল্য কাউকে জানি না।"অন্য একজন বলেন: "তিনি এখন ইলমে হাদিসের একক ব্যক্তিত্ব, যেখানে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব সুপ্রসিদ্ধ। শায়খুল ইসলাম ইবনে হাজারের পর তাঁর মতো আর কেউ নেই।"অন্য একজন বলেন: "ঐক্যমতের মালার তিনি হলেন মধ্যমণি, যার ফলে তিনি অনন্য রত্ন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। যমানার কপালে তিনি যেন এক উজ্জ্বল জ্যোতি, যাঁর সামনে অন্যান্য জ্যোতিরা ধূলিকণার মতো। বরং তাঁর দানশীলতার গতি সওয়ারিদের ময়দানে অগ্রগামিতার সাক্ষ্য দেয়। তাঁর সম্পর্কে ফয়সালা হলো যে, তিনি এমন এক শাখা যিনি তাঁর মূলকেও ছাড়িয়ে গেছেন। এটি অর্থের দিক থেকে এতই চমৎকার যে বর্ণনার কোনো প্রয়োজন নেই। এই সূর্য উদিত হয়েছে যার ফলে উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজি অদৃশ্য হয়ে গেছে। তা হবেই না কেন, যখন তাঁর ওপর 'ফাতহুল বারী' (সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে বিজয়)-এর রহমত বর্ষিত হয়েছে। তিনি এই যুগ ও সময়ের সারাংশ এবং দানশীলতার স্তরে কণ্ঠহারের মধ্যমণি। কারণ তিনি হলেন বদান্যতার প্রতীক এবং এর বর্ধিত রূপ। তাঁর শুরুটাই অন্যদের শেষ সীমানা এবং তাঁর পথই হলো লক্ষ্যে পৌঁছানোর স্পষ্টতম রাস্তা। তিনি হলেন সুন্নাহে শরীফার খাদেম এবং যাবতীয় সৌন্দর্যের আধার..."
(খণ্ড: ১)
আন-নুরুস সাফির আন আখবারিল করনিল আশির
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
الِاصْطِلَاح والنكت المنيفة فبهجته زهت بروضها وروضته زهت ببهجتهاوَقَالَ آخر هُوَ الَّذِي انْعَقَد على تفرده بِالْحَدِيثِ النَّبَوِيّ الاجماع وانه فِي كَثْرَة اطِّلَاعه وتحقيقه لفتوته بلغ مَا لَا يُسْتَطَاع ودونت تصانيفه واشتهرت وَثبتت سيادته فِي هَذَا الْفَنّ النفيس وتقررت وَلم يُخَالف أحد من الْعُقَلَاء فِي جلالته ووفور ثقته وديانته وأمانته بل صَرَّحُوا بأجمعهم بِأَنَّهُ هُوَ المرجوع إِلَيْهِ فِي التَّعْدِيل وَالتَّجْرِيح والتحسين والتصحيح بعد شَيْخه شيخ مَشَايِخ الْإِسْلَام ابْن حجر حَامِل راية الْعُلُوم والأثر وَقَالَ آخر لقد أَجَاد النَّقْل من كَلَامي الله وَرَسُوله الْقَدِيم والْحَدِيث وسارت بفضله الركْبَان وبالغت فِي السّير الحثيث ومدحه آخر بِهَذِهِ الأبيات وَهِي … يَا سيداً أضحى فريد زَمَانه … وَدَلِيل مَا قد قلته الاجماععِنْدِي حَدِيث مُسْند ومسلسل … نرويه بالاتقان لَا الوضاعمَا فِي الزَّمَان سواك يلقى عَالما … صحت بِذَاكَ اجازة وَسَمَاعالْخَيْر فِيك تَوَاتَرَتْ أخباره … وَهُوَ الصَّحِيح وَلَيْسَ فِيهِ نزاعيَا من إِذا مَا قد أَتَاهُ ممرض … يشكو زَوَال الضّر والأوجاع … ورئي بعد مَوته على هَيْئَة حَسَنَة فَقيل لَهُ مَا فعل الله بك قَالَ حاسبني وَغفر لي وحشرني مَعَ الْعلمَاء وترجمته فِي تَارِيخه ثَلَاثَة كراريس على الْقطع الْكَامِلقَالَ الشَّيْخ جَار الله بن فَهد رحمه الله عقب تِلْكَ التَّرْجَمَة إِن شَيخنَا صَاحب التَّرْجَمَة حقيق بِمَا ذكره لنَفسِهِ من الْأَوْصَاف الْحَسَنَة وَلَقَد وَالله الْعَظِيم لم أر فِي الْحفاظ الْمُتَأَخِّرين مثله وَيعلم ذَلِك كل من اطلع على مؤلفاته أَو شَاهده وَهُوَ عَارِف فَقِيه منصف فِي تراجمه ورحم الله جدي حَيْثُ قَالَ فِي تَرْجَمته إِنَّه انْفَرد بفنه فطار اسْمه فِي الْآفَاق وَكَثُرت مصنفاته فِيهِ وَفِي غَيره طَار صيته شرقاً وغرباً شاماً ويمناً وَلَا أعلم الْآن من يعرف عُلُوم الحَدِيث مثله وَلَا أَكثر تصنيفاً وَلَا أحسن وَلذَلِك أَخذهَا عَنهُ عُلَمَاء الْآفَاق من الْمَشَايِخ والطلبة والرفاق وَله الْيَد
পরিভাষা ও মহিমান্বিত সূক্ষ্মতত্ত্বসমূহ; এর সৌন্দর্য তার উদ্যান দ্বারা বিকশিত হয়েছে এবং তার উদ্যান এর সৌন্দর্য দ্বারা প্রস্ফুটিত হয়েছে।অন্য একজন বলেছেন, তিনিই সেই ব্যক্তি যাঁর কাছে নববী হাদীসের অনন্য পারদর্শিতার ব্যাপারে ঐক্যমত (ইজমা) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাঁর ব্যাপক অধ্যয়ন এবং তাঁর গবেষণায় তিনি এমন উচ্চতায় পৌঁছেছেন যা অর্জন করা দুঃসাধ্য। তাঁর সংকলনসমূহ লিপিবদ্ধ হয়েছে ও প্রসিদ্ধি লাভ করেছে এবং এই মূল্যবান বিদ্যায় তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব সুপ্রতিষ্ঠিত ও স্বীকৃত হয়েছে। তাঁর মর্যাদা, অঢেল বিশ্বস্ততা, ধার্মিকতা এবং আমানতদারিতার ব্যাপারে কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি দ্বিমত পোষণ করেননি। বরং তাঁরা সকলে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যে, ইলম ও আছারের (বর্ণনা) পতাকাবাহী এবং ইসলামের শায়খদের শায়খ ইবনে হাজারের পরে—যিনি তাঁর উস্তাদ ছিলেন—'জারহ ওয়া তাদীল' (সমালোচনা ও গুণকীর্তন), 'তাহসীন' (উত্তম বলা) এবং 'তাস্হীহ' (সহীহ বলা) এর ক্ষেত্রে তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করতে হবে। অন্য একজন বলেছেন, তিনি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রাচীন ও আধুনিক কালাম থেকে বর্ণনা চয়ন করতে পারদর্শিতা দেখিয়েছেন। তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের কথা কাফেলাগুলোর মাধ্যমে চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে এবং তা দ্রুতবেগে ধাবিত হয়েছে। অন্য একজন এই কবিতাগুলোর মাধ্যমে তাঁর প্রশংসা করেছেন, যা হলো: … হে এমন এক নেতা যিনি তাঁর জামানায় অনন্য হয়ে উঠেছেন … এবং আমি যা বলেছি তার প্রমাণ হলো ইজমা।আমার নিকট এমন হাদীস রয়েছে যা মুসনাদ ও মুসালসাল … যা আমরা নিপুণতার সাথে বর্ণনা করি, জালিয়াতদের মতো নয়।এই জামানায় আপনি ব্যতীত আর কাউকে এমন আলেম হিসেবে পাওয়া যায় না … যাঁর ইজাজত ও শ্রবণ বিশুদ্ধ হয়েছে।আপনার মধ্যকার কল্যাণ সম্পর্কিত সংবাদগুলো মুতাওয়াতির … এটিই সহীহ এবং এতে কোনো বিতর্ক নেই।হে সেই ব্যক্তি, যখনই কোনো পীড়িত ব্যক্তি আপনার নিকট আসে … সে তার কষ্ট ও যন্ত্রণার অবসানের ফরিয়াদ জানায় … তাঁর মৃত্যুর পর তাঁকে সুন্দর অবস্থায় দেখা গিয়েছিল। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো, "আল্লাহ আপনার সাথে কেমন আচরণ করেছেন?" তিনি বললেন, "তিনি আমার হিসাব নিয়েছেন, আমাকে ক্ষমা করেছেন এবং আমাকে ওলামায়ে কেরামের সাথে পুনরুত্থিত করেছেন।" তাঁর জীবনী তাঁর স্বরচিত ইতিহাসে পূর্ণ আকারের তিনটি পুস্তিকায় বর্ণিত হয়েছে।শায়খ জারুল্লাহ বিন ফাহদ (রহিমাহুল্লাহ) উক্ত জীবনীর শেষে বলেছেন, "যাঁর জীবনী আলোচনা করা হচ্ছে আমাদের সেই শায়খ তাঁর নিজের ব্যাপারে যেসব উত্তম গুণাবলী উল্লেখ করেছেন তিনি তার যথার্থ যোগ্য। মহান আল্লাহর কসম, আমি পরবর্তীকালের হাফেজদের মধ্যে তাঁর মতো কাউকে দেখিনি। যারা তাঁর গ্রন্থসমূহ অধ্যয়ন করেছেন বা তাঁকে প্রত্যক্ষ করেছেন তারা এটি জানেন। তিনি একজন বিজ্ঞ ফকীহ এবং স্বীয় জীবনী বর্ণনায় অত্যন্ত ইনসাফপূর্ণ ব্যক্তি। আল্লাহ আমার দাদাকে রহম করুন, যিনি তাঁর জীবনীতে বলেছেন যে, তিনি স্বীয় বিদ্যায় একক পারদর্শী ছিলেন, ফলে তাঁর নাম দিগন্ত জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। হাদীস এবং অন্যান্য বিষয়ে তাঁর সংকলনসমূহ প্রচুর ছিল। তাঁর খ্যাতি পূর্ব ও পশ্চিমে, শাম ও ইয়ামানে ছড়িয়ে পড়েছিল। বর্তমানে আমি এমন কাউকে জানি না যিনি তাঁর মতো হাদীস শাস্ত্রের ইলম রাখেন, না তাঁর চেয়ে অধিক কিতাব সংকলনে, আর না উত্তম রচনায়। এই কারণেই পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের আলেমগণ, শায়খগণ, শিক্ষার্থীগণ ও সঙ্গীরা তাঁর নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করেছেন এবং এতে তাঁর হাত (পারদর্শিতা) রয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
আন-নুরুস সাফির আন আখবারিল করনিল আশির
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
الطُّولى فِي الْمعرفَة بالعلل وَأَسْمَاء الرِّجَال وأحوال الروَاة وَالْجرْح وَالتَّعْدِيل وَإِلَيْهِ يشار فِي ذَلِك وَلِهَذَا قَالَ بعض الْعلمَاء لم يَأْتِ بعد الْحَافِظ الذَّهَبِيّ أحد سلك هَذِه المسالك وَلَقَد مَاتَ فن الحَدِيث من بعده وأسف النَّاس على فَقده وَلم يخلق بعده مثله انْتهى وَولي تدريس الحَدِيث فِي مَوَاضِع مُتعَدِّدَة وَعرض عَلَيْهِ قَضَاء مصر فَلم يقبله رَحمَه الله تَعَالَىوفيهَا فِي شهر ذِي الْقعدَة توفّي الْفَقِيه الصَّالح جمال الدّين مُحَمَّد المقبول بن أبي بكر الزَّيْلَعِيّ صَاحب قَرْيَة اللِّحْيَة نفع الله بِهِوفيهَا أَمر السُّلْطَان عَامر بن عبد الْوَهَّاب بتقييد رَئِيس الأسماعيلية سُلَيْمَان بن حسن بِمَدِينَة تعز واودعه دَار الْأَدَب وَكَانَ يتحدث بِمَا لَا يعنيه من المغيبات المستقبلات وَكَانَ عَالم الإسماعيلية وَأمر بإحضار كتبه واتلافها فأتلفت وَالْحَمْد للهسنة ثَلَاث بعد التسْعمائَة 903 هـ وَفِي ربيع الأول توفّي الْعَالم الْعَارِف بِاللَّه الْجَلِيل الرباني مُحَمَّد بن أَحْمد باجرفيل الدوعاني رحمه الله بغيل أبي وَزِير من أَعمال الشحن وجرفيل بجيم ثمَّ رَاء ثمَّ فَاء وَكَانَ مولده فِي يَوْم الِاثْنَيْنِ ثَانِي عشر ربيع الأول سنة عشْرين بعد الثَّمَانمِائَة غلب عَلَيْهِ التصوف فَخَاضَ غماره وحقق أسراره وَصَارَ من كبار مَشَايِخ الطَّرِيقَة واعلام رجال أَئِمَّة الْحَقِيقَة يقْتَدى بآثاره ويهتدى بأنوارهوَحكي عَنهُ أَنه قَالَ لم أصحب مَعَ كَثْرَة من صحبته من العارفين بِاللَّه مِثَال الشَّيْخ عَليّ بن أبي بكر فلازمته أَرْبَعَة أشهر على أَن يَقُول لي أَنْت منا أهل الْبَيْت كَمَا قَالَ ذَلِك النَّبِي صلى الله عليه وسلم لسلمان الْفَارِسِي رضي الله عنه فَلم يجبني إِلَى ذَلِك فَلَمَّا ألححت عَلَيْهِ وَتحقّق صدق ودي ومحبتي لأهل الْبَيْت فَقَالَ يَا فَقِيه إِن الدّين النَّصِيحَة لَا يجيبك إِلَى مقصودك هَذَا إِلَّا الشَّيْخ أَبُو بكر بن عبد الله فَإِنَّهُ القطب الْوَارِث للقطبية من صغره بعد موت أَبِيه الشَّيْخ عبد الله بن أبي بكر وَنحن نكتب لَك إِلَيْهِ أَن يجيبك إِلَى مرادك قَالَ وَالشَّيْخ أَبُو بكر يَوْمئِذٍ بِالْيمن فَكتب الشَّيْخ عَليّ إِلَيْهِ وكتبت أَنا أَيْضا إِلَيْهِ فَأَتَانَا مِنْهُ بِحَمْد الله الْجَواب بِالْقَصْدِ وَالْمرَاد
হাদিসের দোষ-ত্রুটি (ইলাল), বর্ণনাকারীদের নাম, তাদের অবস্থা এবং জরাহ ও তা'দীল (বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও প্রশংসা) বিদ্যায় তার সুগভীর পাণ্ডিত্য ছিল এবং এ সকল বিষয়ে তার দিকেই ইঙ্গিত করা হতো। এ কারণেই কোনো কোনো আলেম বলেছেন, হাফেজ যাহাবীর পর এই পথে বিচরণকারী আর কেউ আসেননি। তার তিরোধানের পর হাদিস শাস্ত্রের এই শিল্পই যেন প্রাণহীন হয়ে পড়ে এবং তার বিয়োগে মানুষ অত্যন্ত শোকাতুর হয়। তার পর তার সদৃশ আর কেউ সৃষ্টি হয়নি। সমাপ্ত। তিনি বিভিন্ন স্থানে হাদিস পাঠদানের দায়িত্ব পালন করেন। তার কাছে মিশরের কাজি বা বিচারপতির পদ পেশ করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি। আল্লাহ তাআলা তার ওপর রহমত বর্ষণ করুন।এই বছর যিলকদ মাসে পুণ্যবান ফকিহ জামালুদ্দীন মুহাম্মদ মাকবুল বিন আবু বকর আল-যাইলায়ী ইন্তেকাল করেন, যিনি লিহ্ইয়াহ গ্রামের অধিবাসী ছিলেন। আল্লাহ তার মাধ্যমে সকলকে উপকৃত করুন।এই বছরেই সুলতান আমির বিন আব্দুল ওয়াহহাব ইসমাইলিয়া সম্প্রদায়ের প্রধান সুলাইমান বিন হাসানকে তায়িয শহরে বন্দি করার নির্দেশ দেন এবং তাকে সংশোধন কেন্দ্রে (দারুল আদব) পাঠান। তিনি ভবিষ্যৎ অদৃশ্য বিষয়াবলী নিয়ে এমন সব অনর্থক কথা বলতেন যা তার সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল না। তিনি ছিলেন ইসমাইলিয়াদের আলেম। সুলতান তার কিতাবসমূহ উপস্থিত করে ধ্বংস করার নির্দেশ দিলে সেগুলো ধ্বংস করা হয়। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।নয়শত তিন হিজরি সন ৯০৩ হিজরি রবিউল আউয়াল মাসে মহান আলেম, আল্লাহভীরু ও রব্বানী আরেফ মুহাম্মদ বিন আহমদ বা-জারফিল আদ-দাওয়ানী (আল্লাহ তার ওপর রহমত বর্ষণ করুন) গুয়াইল আবু ওয়াজিরে ইন্তেকাল করেন, যা শাহন অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। 'জারফিল' শব্দটি জীম, এরপর রা এবং তারপর ফা দিয়ে গঠিত। তার জন্ম ছিল আটশত বিশ হিজরি সনের বারই রবিউল আউয়াল, সোমবার। তার ওপর তাসাউউফ বা সুফিবাদ প্রবল ছিল, তাই তিনি এর গভীরে অবগাহন করেন এবং এর রহস্যসমূহ উন্মোচন করেন। তিনি তরীকার বড় মাশায়েখদের অন্তর্ভুক্ত হন এবং হাকীকতের ইমামদের অন্যতম ব্যক্তিতে পরিণত হন। তার পদাঙ্ক অনুসরণ করা হয় এবং তার নূরের মাধ্যমে হেদায়েত লাভ করা হয়।তার সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে তিনি বলেন: "আমি অনেক আল্লাহর আরেফদের সান্নিধ্য লাভ করলেও শেখ আলী বিন আবু বকরের মতো কাউকে পাইনি। আমি চার মাস তার সান্নিধ্যে নিরবচ্ছিন্নভাবে ছিলাম যেন তিনি আমাকে বলেন, 'তুমি আমাদের আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত', যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালমান ফারসি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলেছিলেন। কিন্তু তিনি আমাকে তাতে সাড়া দেননি। যখন আমি নাছোড়বান্দা হয়ে ধরলাম এবং তিনি আহলে বাইতের প্রতি আমার আন্তরিক ভালোবাসা ও মমত্বের সত্যতা উপলব্ধি করলেন, তখন তিনি বললেন, 'হে ফকিহ, দ্বীন হলো নসিহত বা কল্যাণকামিতা। তোমার এই লক্ষ্য শেখ আবু বকর বিন আব্দুল্লাহ ছাড়া আর কেউ পূরণ করতে পারবে না; কারণ তিনি সেই কুতুব যিনি তার পিতা শেখ আব্দুল্লাহ বিন আবু বকরের মৃত্যুর পর শৈশব থেকেই কুতুবিয়্যাত বা আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের উত্তরাধিকারী হয়েছেন। আমরা তোমার জন্য তার কাছে পত্র লিখছি যেন তিনি তোমার ইচ্ছা পূরণ করেন।' তিনি বলেন, 'শেখ আবু বকর তখন ইয়ামেনে ছিলেন।' অতঃপর শেখ আলী তার কাছে পত্র লিখলেন এবং আমিও তার কাছে পত্র লিখলাম। আল্লাহর প্রশংসায় আমাদের কাছে তার পক্ষ থেকে কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য অনুযায়ী উত্তর এলো।
(খণ্ড: ১)
আন-নুরুস সাফির আন আখবারিল করনিল আশির
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
قَالَ الْعَلامَة بحرق وَلَقَد كنت اسْتشْكل أَشْيَاء تصدر من سيد الشَّيْخ أبي بكر العيدروسي قدس الله روحه تقصر عَنهُ عقول أمثالنا القاصرة وَلَكِنِّي كنت بِتَوْفِيق الله أعرضها على أَرْبَاب البصائر فَمَا مِنْهُم إِلَّا ويأمرني بِالتَّسْلِيمِ وَيشْهد عِنْدِي بعلو مقَام سَيِّدي وانه على هدى من ربه الْعَلِيم مِنْهَا أَنِّي عرضت على الْفَقِيه مُحَمَّد بن أَحْمد باجرفيل تَصَرُّفَات مَالِيَّة يُبَاشر سَيِّدي فِي قبضهَا وصرفها فِي ظَاهر الْأَمر فِي غير مصارفها فَقَالَ لي أَنا أشهد أَنه أَمِير الْمُؤمنِينَ الْمَالِك للتولية والعزل والحل وَالْعقد والتصرفات كلهَا وَأشْهد أَنه أفضل أهل الأَرْض ظَاهرا وَبَاطنا فَقلت لَهُ أما الْبَاطِن فبصائرنا عَنهُ قَاصِرَة وَأما الظَّاهِر فَمَا وَجهه فَقَالَ وَجهه أَن أهل الْبَيْت أفضل من سَائِر النَّاس وَآل باعلوي الْيَوْم أفضل من سَائِر أهل الْبَيْت باتبَاعهمْ السّنة وَلما اشْتهر لَهُم من الْعِبَادَة والزهادة وَالْكَرم وَحسن الْأَخْلَاق وَالشَّيْخ أَبُو بكر أفضل آل باعلوي بالِاتِّفَاقِ فَهُوَ أفضل أهل زَمَانهوفيهَا فِي يَوْم السبت خَامِس عشر شَوَّال توفّي الْفَقِيه الْمنور الْمُتَّفق على جلالة قدره علما وَعَملا وورعاً جمال الدّين مُحَمَّد بن أَحْمد بن عبد الله بن مُحَمَّد الشهير بِابْن عَليّ أَبَا فضل السَّعْدِيّ نِسْبَة إِلَى سعد الْعَشِيرَة الْحَضْرَمِيّ ثمَّ الْعَدنِي رحمه الله بعدن وحزن النَّاس عَلَيْهِ وَكثر تأسفهم على فَقده رحمه اللهوَكَانَ مولده فِي حضر موت بتريم سنة أَرْبَعِينَ وَثَمَانمِائَة ثمَّ ارتحل فِي طلب الْعلم إِلَى عدن وَأخذ عَن الامامين الفاضلين مُحَمَّد بن مَسْعُود باشكيل وَمُحَمّد بن أَحْمد باحميش وجد فِي الطّلب ودأب حَتَّى برع فِي الْعُلُوم وانتصب للتدريس وَالْفَتْوَى وَصَارَ من أَعْلَام الدّين وَالتَّقوى وَكَانَ إِمَامًا كَبِيرا عَالما عَاملا محققاً ورعاً زاهداً مُجْتَهدا عابداً مُقبلا على شانه تَارِكًا لما لَا يعنيه ذَا مقامات وأحوال وكرامات وَكَانَ حسن التَّعْلِيم لين الْجَانِب متواضعاً صبوراً مثابراً على السّنة مُعظما لأهل الْعلموَكَانَ هُوَ وَصَاحبه الْعَلامَة عفيف الدّين عبد الله بن أَحْمد بامحزمه عُمْدَة الْفَتْوَى بعدن وَكَانَ بَينهمَا من التوادد والتناصف مَا هُوَ مَشْهُور
আল্লামা বাহরাক বলেন, সাইয়্যিদ শাইখ আবু বকর আল-আইদারুসী (আল্লাহ তাঁর রূহকে পবিত্র করুন) থেকে প্রকাশ পাওয়া এমন কিছু বিষয়ে আমি সংশয়ে পড়ে যেতাম যা আমাদের মতো অপূর্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তিদের বোধগম্যতার বাইরে ছিল। কিন্তু আল্লাহর তাওফিকে আমি সেগুলো অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিকট পেশ করতাম। তাঁদের প্রত্যেকেই আমাকে বিষয়টি সমর্পণ করার আদেশ দিতেন এবং আমার কাছে সাক্ষ্য দিতেন যে, আমার সাইয়্যিদের মাকাম অত্যন্ত সুউচ্চ এবং তিনি তাঁর মহাজ্ঞানী রবের পক্ষ থেকে হিদায়াতের ওপর রয়েছেন। এগুলোর মধ্যে একটি হলো, আমি ফকিহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বাজারাফিল-এর নিকট কিছু আর্থিক লেনদেন পেশ করেছিলাম যা বাহ্যিক দৃষ্টিতে আমার সাইয়্যিদ যথাযথ ব্যয়ের খাতের বাইরে গ্রহণ ও ব্যয় করছিলেন। তখন তিনি আমাকে বললেন, "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে তিনি মুমিনদের এমন এক নেতা যিনি নিয়োগ ও বরখাস্ত, গ্রহণ ও বর্জন এবং সকল প্রকার ব্যবস্থাপনার মালিক। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে তিনি বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণভাবে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম মানুষ।" আমি তাঁকে বললাম, "অভ্যন্তরীণ বিষয় তো আমাদের অন্তর্দৃষ্টির নাগালের বাইরে, কিন্তু বাহ্যিক শ্রেষ্ঠত্বের কারণ কী?" তিনি বললেন, "এর কারণ হলো আহলে বাইত অন্যান্য সকল মানুষের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, আর বা-আলাউয়ী পরিবার বর্তমান সময়ে সুন্নাহর অনুসরণ এবং তাঁদের ইবাদত, বিরাগ, দানশীলতা ও উত্তম চরিত্রের জন্য সুপরিচিত হওয়ার কারণে সকল আহলে বাইতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আর শাইখ আবু বকর সর্বসম্মতিক্রমে বা-আলাউয়ী পরিবারের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। অতএব তিনি তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ মানুষ।"এবং এই বছরেই পনেরো শাওয়াল রোজ শনিবার সেই আলোকিত ফকিহ ইন্তেকাল করেন, যাঁর ইলম, আমল ও পরহেজগারির সুউচ্চ মর্যাদা সর্বজনস্বীকৃত; তিনি হলেন জামালুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ—যিনি ইবনে আলী আবা ফাদল আস-সা'দী নামে পরিচিত—সাদ আল-আশীরাহ বংশীয় হাযরামি ও পরবর্তীতে আদানি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)। তিনি আদানে ইন্তেকাল করেন এবং তাঁর মৃত্যুতে মানুষ অত্যন্ত শোকাহত হয় এবং তাঁর চলে যাওয়ায় অনেক আক্ষেপ প্রকাশ করে।তাঁর জন্ম হয়েছিল হাযরামাউতের তারিম শহরে ৮৪০ হিজরি সালে। এরপর তিনি ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে আদানে সফর করেন এবং দুই শ্রেষ্ঠ ইমাম মুহাম্মদ বিন মাসউদ বাশাকিল ও মুহাম্মদ বিন আহমদ বাহামিশের নিকট শিক্ষা লাভ করেন। তিনি জ্ঞান অন্বেষণে অত্যন্ত পরিশ্রম ও অধ্যবসায় করেন, যার ফলে তিনি বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শী হয়ে ওঠেন এবং শিক্ষকতা ও ফতোয়া প্রদানের আসনে আসীন হন। তিনি দ্বীন ও তাকওয়ার অন্যতম প্রতীকে পরিণত হন। তিনি ছিলেন এক মহান ইমাম, আমলকারী আলেম, গবেষক, পরহেজগার, দুনিয়াবিমুখ, মুজতাহিদ এবং ইবাদতকারী; তিনি সর্বদা নিজের কাজে মগ্ন থাকতেন এবং অনর্থক বিষয় বর্জন করতেন। তিনি বিভিন্ন আধ্যাত্মিক মাকাম, উচ্চতর অবস্থা ও কারামাতের অধিকারী ছিলেন। তিনি শিক্ষাদানে অত্যন্ত নিপুণ, কোমল স্বভাবের, বিনয়ী, ধৈর্যশীল এবং সুন্নাহর ওপর অবিচল ছিলেন; ইলম ও উলামাদের প্রতি তিনি অত্যন্ত সম্মান প্রদর্শন করতেন।তিনি এবং তাঁর সঙ্গী আল্লামা আফীফ উদ্দিন আবদুল্লাহ বিন আহমদ বামাহরামা আদানের ফতোয়া প্রদানের প্রধান স্তম্ভ ছিলেন। তাঁদের উভয়ের মাঝে যে হৃদ্যতা ও পারস্পরিক ন্যায়পরায়ণতা ছিল তা অত্যন্ত সুপরিচিত।
(খণ্ড: ১)
আন-নুরুস সাফির আন আখবারিল করনিল আশির
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
حَتَّى كَأَنَّهُمَا روحان فِي جَسَد وَكَانَ يعظم الشَّيْخ أَبَا بكر العيدروسيقَالَ الْعَلامَة بحرق كَانَ سَيِّدي الشَّيْخ أَبُو بكر قدس الله روحه إِذا قدم من بعض أَسْفَاره من الْجبَال إِلَى عدن قدم قبله قَاصِدا يعلم أكَابِر النَّاس بقدومه يَوْم كَذَا وَيَأْمُرهُمْ بِالْخرُوجِ لملاقاته فَقلت للفقيه مُحَمَّد ابْن أَحْمد بَافضل لأي شَيْء يفعل الشَّيْخ هَذَا فَقَالَ ليوصل النَّاس إِلَى رَحْمَة الله ويوصل رَحْمَة الله إِلَيْهِم بِالنّظرِ إِلَيْهِ والحضور بَين يَدَيْهِ وَلَو لَحْظَة وَاحِدَة ثمَّ يخرج يتلقاه مَعَ النَّاس وَكَانَ كثير السَّعْي فِي حوائج الْمُسلمين عِنْد الْمُلُوك وَغَيرهم وَكَانَ محبباً للنَّاس مُعْتَقدًا عِنْد الْخَاص وَالْعَام مُعظما عِنْد الْمُلُوك والأمراء لَا تكَاد ترد لَهُ شَفَاعَة وَكَانَ الشَّيْخ عَامر بن عبد الْوَهَّاب كثير التَّعْظِيم لَهُوَبِالْجُمْلَةِ فمناقبه وفضائله ومحاسنه أَكثر من أَن تحصر وَأشهر من أَن تذكر وأفرد لَهُ وَلَده الْفَقِيه عبيد الله تَرْجَمَة وَهَذِه القصيدة الْمُسَمَّاة بالوابل الصيب والنرجس الطّيب نظم سيدنَا ومولانا الشريف الْوَلِيّ الصَّالح سراج الدّين عمر بن عبد الرَّحْمَن أَبَا علوي المقبور بتعز فِي السَّيِّد الإِمَام شيخ الْإِسْلَام أوحد الْعلمَاء الْأَعْلَام جمال الدُّنْيَا وَالدّين مُحَمَّد بن أَحْمد أبي الْفضل رحمهمَا الله تَعَالَى ونفع بهما وبعلومهما وَأعَاد علينا من أسرارهما ومعارفهما آمين آمين وَهِي هَذِه القصيدة … إِلَى الله أَشْكُو حر نيران فرقة … لَهَا فِي فُؤَادِي مثل طعن الذوابلوأسأله جمعا بوصل محجب … عَن الْجَاهِلين الغافلين الأسافلعَسى بعد هَذَا الْبعد يجمع شملنا … بِهِ رَبنَا معطي منا كل آملسقا الله أوقاتاً لنا فِي ربوعهم … إِذا أخطرت بالبال هَاجَتْ بلابليوَزَاد اشتياقي للحبيب وقربه … وَأنْشد لَا أخْشَى ملام العواذلسَلام على شخص بِهِ عدن زهت … أَبَا فضل الْمَشْهُور زين الشَّمَائِلجمال لدين الله خَادِم شَرعه … دَلِيل طَرِيق الله بدر المحافلنواوي هَذَا الْوَقْت شمس زَمَانه … بهي الْمحيا جَامع للفضائلحبيب محب للْمَسَاكِين مؤنس … ومقمعة للظالمين الاراذلفَعَن مُنكر ناه وبالعرف آمُر … لكل وَلَا يخْشَى عناة الْقَبَائِلحَلِيم سليم دَائِم الْبشر وَالرِّضَا … صبور وقور عِنْد وَقع النَّوَازِل …
যেন তারা এক দেহে দুই প্রাণ। আর তিনি শায়খ আবু বকর আল-আইদারুসকে অনেক সম্মান করতেন।আল্লামা বাহরাক বলেন, আমার নেতা শায়খ আবু বকর (আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন), যখন পাহাড়ের কোনো সফর থেকে আদনের দিকে আসতেন, তখন তিনি তাঁর পৌঁছানোর আগে একজন বার্তাবাহক পাঠাতেন যাতে সে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে তাঁর অমুক দিনে আগমনের সংবাদ জানায় এবং তাঁদেরকে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য বের হওয়ার নির্দেশ দেয়। আমি ফকিহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ বা-ফাদলকে জিজ্ঞাসা করলাম, "শায়খ কেন এমন করেন?" তিনি উত্তর দিলেন, "যাতে তিনি মানুষকে আল্লাহর রহমতের সাথে জুড়ে দিতে পারেন এবং তাঁর দিকে দৃষ্টিপাত করার ও তাঁর সামনে উপস্থিত হওয়ার মাধ্যমে আল্লাহর রহমতকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন, এমনকি তা যদি মাত্র এক মুহূর্তের জন্যও হয়।" অতঃপর তিনি মানুষের সাথে তাঁর অভ্যর্থনা জানাতে বের হতেন। তিনি বাদশাহ ও অন্যদের কাছে গিয়ে মুসলমানদের প্রয়োজন পূরণে অত্যন্ত সচেষ্ট ছিলেন। তিনি মানুষের কাছে প্রিয় ছিলেন, বিশেষ ও সাধারণ সব মহলেই তাঁর প্রতি গভীর আস্থা ছিল এবং রাজা ও আমীরদের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সম্মানিত। তাঁর সুপারিশ সাধারণত প্রত্যাখ্যাত হতো না। শায়খ আমির বিন আব্দুল ওয়াহহাব তাঁকে অত্যন্ত সম্মান করতেন।সংক্ষেপে বলতে গেলে, তাঁর মাহাত্ম্য, শ্রেষ্ঠত্ব ও গুণাবলি গণনা করা অসম্ভব এবং তা উল্লেখ করার প্রয়োজন পড়ে না এমন সুপ্রসিদ্ধ। তাঁর পুত্র ফকিহ উবায়দুল্লাহ তাঁর জন্য একটি স্বতন্ত্র জীবনী রচনা করেছেন। আর "আল-ওয়াবিলুস সায়্যিব ওয়ান নারজিসুত তায়্যিব" নামক এই কসিদাটি আমাদের নেতা ও মনিব, সম্মানিত ও সৎকর্মশীল ওলী সিরাজুদ্দীন উমর ইবনে আব্দুর রহমান আবা আলাওয়ী (যিনি তাইজে সমাহিত) রচনা করেছেন। এটি তিনি লিখেছেন সাইয়্যেদ ইমাম, শায়খুল ইসলাম, শ্রেষ্ঠ আলেমদের মধ্যে অনন্য, জামালুদ দুনিয়া ওয়াদ দীন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আবিল ফাদল (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, তাঁদের মাধ্যমে এবং তাঁদের ইলমের মাধ্যমে আমাদের উপকৃত করুন এবং তাঁদের গোপন রহস্য ও মা’রিফাত থেকে আমাদের অংশ দান করুন। আমীন, আমীন) এর শানে। কসিদাটি হলো এই: ... আল্লাহর কাছে আমি বিচ্ছেদের আগুনের উত্তাপের অভিযোগ করি ... যা আমার হৃদয়ে তলোয়ারের আঘাতের মতো বিঁধছে।আর আমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করি সেই পর্দানশীন প্রিয়জনের মিলনের জন্য ... যিনি মূর্খ, গাফেল ও অধমদের থেকে গোপন।আশা করি এই দূরত্বের পর আমাদের রব, যিনি সকল আশাকারীর আশা পূর্ণকারী ... তাঁর উসিলায় আমাদের পুনরায় একত্রিত করবেন।আল্লাহ তাঁদের আঙিনায় কাটানো আমাদের সেই দিনগুলোকে সিক্ত করুন ... যেগুলোর কথা মনে পড়লে আমার হৃদয়ে হাহাকার জেগে ওঠে।প্রিয়জনের প্রতি এবং তাঁর নৈকট্যের জন্য আমার আকুলতা বেড়ে গেছে ... আর আমি আবৃত্তি করি এই কারণে যে আমি নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া করি না।সালাম জানাই সেই ব্যক্তির প্রতি যাঁর কারণে আদান নগরী ধন্য হয়েছে ... সেই প্রসিদ্ধ আবু ফাদল, যিনি সুন্দর চরিত্রের ভূষণ।তিনি আল্লাহর দ্বীনের সৌন্দর্য, তাঁর শরীয়তের খাদেম ... আল্লাহর পথের দিশারী এবং মজলিসসমূহের পূর্ণিমার চাঁদ।তিনি বর্তমান সময়ের নববী (ইমাম নববীর ন্যায়), স্বীয় যুগের সূর্য ... উজ্জ্বল চেহারার অধিকারী এবং সকল গুণের আধার।তিনি প্রিয়জন, মিসকিনদের প্রতি দয়াবান ও তাদের বন্ধু ... এবং জালিম ও অধমদের দমনকারী।তিনি অন্যায় থেকে নিষেধকারী এবং ন্যায়ের আদেশ প্রদানকারী ... সবার প্রতি, আর তিনি কোনো গোত্রপতির অবাধ্যতাকে ভয় করেন না।তিনি সহনশীল, শান্ত, সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল ও সন্তুষ্ট ... বিপদাপদ আপতিত হওয়ার সময় ধৈর্যশীল ও গাম্ভীর্যপূর্ণ। ...
(খণ্ড: ১)
আন-নুরুস সাফির আন আখবারিল করনিল আশির
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
.. لَهُ منظر بِالْقَلْبِ يعلق فهمه … وَلَو كَانَ فدما أبكماغير عَاقلوتدريسه فِي كل فن مؤسس … بتعليله يَا صَاحِبي والدلائلويرفق بالقارئ البليد كَأَنَّهُ … لَهُ أم ثدي مشفقاً بالمسائلفيهنا جرام الشوك مَسْكَنه بِهِ … وتدريسه يَا لَيْت ثمَّ منازليلأنظره فِي كل يَوْم وَلَيْلَة … وأسأله عَن كل حق وباطلفنظرته تسلي الهموم جَمِيعهَا … ولفظته غيث لمصغ بقائلحبا الله ذَاك الْوَجْه نورا وبهجة … جمالاً وعقلاً ظَاهرا غير خاملكبحر خضم فِي الْعُلُوم قد أمتلى … وفاض على الجبنات فَوق السواحلفَإِن شِئْت تَفْسِيرا لَهُ اسال فَإِنَّهُ … كمعدن تبر مَاله من معادلوَإِن شِئْت فِي علم الحَدِيث لَقيته … ككنز لَهُ خَافَ عَن السَّهْو عاطلوَإِن شِئْت فِي فقه الإِمَام بن شافعٍ … ترَاهُ كليث فِي المعارك جائلنعم أَو كبستان حوى كل طيب … وَفِيه بيُوت عاليات الْمنَازلوَإِن شِئْت فِي علم التصوف والصفا … ترَاهُ إِمَامًا عَارِفًا غير جَاهِلأديباً لبيباً قانعاً متواضعاً … عَن الذّكر للرحمن لَيْسَ بغافلوَإِن شِئْت فِي علم اللُّغَات وَنَحْوهَا … وتصريفها أَيْضا وكل الْوَسَائِلكعلم الْمعَانِي وَالْبَيَان وَغَيرهَا … ترَاهُ لَهَا أَهلا شفا كل سَائلفيا من يُرِيد الْعلم فارحل وَلَا تقف … إِلَى عَالم بِالْعلمِ لله عَاملهُوَ الشَّيْخ والأستاذ والنور وَالْهدى … وَخير مُجيب عَن جَمِيع الْمسَائِلإمامي وأستاذي وشيخي وسيدي … ومحبوب قلبِي صَادِقا غير هازلفيا لائمي خل الملام فانني … حببت وحيداً مَا لَهُ من مماثلتفكر بقلب منصف هَل ترى … لَهُ شَبِيها فَإِن لم تلقه لَا تجَادلغزير الحيا كل الحجا حَاز والصفا … مليح الحلا شيخ الشُّيُوخ الأفاضلإِذا مَا أَتَت مِنْهُ إِلَيْنَا رسائل … فَللَّه رَبِّي درها من رسائلتفرج أحزاناً وَتكشف كربَة … وتجذب أحوالاً حوالي المناهلإِمَام لَهُ خلق حميد وسيرة … سمت فاق بالأوصاف كل الأماثلزكي تَقِيّ مخلص صَادِق صفا … من الْغِشّ والبغضاء وكل الدغائلوَكم من محامد لَيْسَ تحصى قصيدتي … لَهُ يَا أخي زَادَت على قَول قائليواستغفر الله الْعَظِيم من الخطا … وَمن جمح الاهوى وكل الرذائل …
.. তাঁর এমন এক রূপ যা অন্তরে গেঁথে যায় এবং বুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করে ফেলে … যদিও দর্শক হয় স্থবির, মূক অথবা বিবেকহীন এবং তাঁর পাঠদান প্রতিটি শাস্ত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত … হে আমার বন্ধু! যুক্তি ও দলিলাদি দ্বারা তা সুশোভিত তিনি স্থূলবুদ্ধি পাঠকের প্রতি এমন কোমল যেন তিনি … মাসআলা বর্ণনায় এক মমতাময়ী স্তন্যদাত্রী মা জারামুশ শাওক-এ তাঁর অবস্থান আনন্দদায়ক … হায়! তাঁর পাঠদানের স্থানগুলোই যদি আমার আবাসস্থল হতো যাতে আমি তাঁকে দিন-রাত দেখতে পেতাম … এবং তাঁকে প্রতিটি সত্য ও মিথ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে পারতাম তাঁর দর্শন সমস্ত দুশ্চিন্তা দূর করে দেয় … আর তাঁর প্রতিটি কথা শ্রোতার জন্য এক রহমতের বৃষ্টি আল্লাহ সেই চেহারায় দান করেছেন নূর ও দীপ্তি … সৌন্দর্য এবং প্রখর বুদ্ধি যা মোটেও ম্লান নয় তিনি ইলমের এক বিশাল সমুদ্র যা কানায় কানায় পূর্ণ … এবং যা তটরেখা ছাপিয়ে কূলের উপর উপচে পড়ে যদি তুমি তাফসীর শাস্ত্র চাও তবে তাঁকে জিজ্ঞাসা করো, কারণ তিনি … খাঁটি স্বর্ণের খনির মতো যার কোনো তুলনা নেই যদি তুমি হাদীস শাস্ত্র চাও তবে তাঁকে পাবে … এমন এক ভাণ্ডার স্বরূপ যা বিস্মৃতি ও ত্রুটিমুক্ত যদি তুমি ইমাম শাফেয়ীর ফিকহ শাস্ত্র চাও … তবে তাঁকে দেখবে রণক্ষেত্রে বিচরণকারী এক সিংহের মতো হ্যাঁ, অথবা তিনি এমন এক বাগান যাতে সমস্ত সুগন্ধি রয়েছে … এবং তাতে রয়েছে সুউচ্চ মর্যাদার অট্টালিকা যদি তুমি তাসাউফ ও আত্মশুদ্ধির ইলম চাও … তবে তাঁকে দেখবে একজন বিজ্ঞ ইমাম হিসেবে, যিনি অজ্ঞ নন তিনি সুসাহিত্যিক, বুদ্ধিমান, সন্তুষ্ট ও বিনয়ী … পরম করুণাময় আল্লাহর স্মরণ থেকে তিনি মোটেও উদাসীন নন যদি তুমি ভাষাতত্ত্ব ও ব্যাকরণ শাস্ত্র চাও … এবং এর রূপান্তর ও এর যাবতীয় সকল মাধ্যম যেমন অলঙ্কারশাস্ত্র ও অন্যান্য বিষয়াদি … তবে তাঁকে এর যোগ্য ও প্রতিটি জিজ্ঞাসুর সমাধানকারী হিসেবে পাবে হে জ্ঞান অন্বেষণকারী! যাত্রা করো এবং থেমো না … এমন এক আলিমের দিকে যিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে ইলম অনুযায়ী আমল করেন তিনিই শায়খ, উস্তাদ, নূর এবং হিদায়াত … এবং সকল প্রশ্নের শ্রেষ্ঠ উত্তরদাতা তিনি আমার ইমাম, আমার উস্তাদ, আমার শায়খ এবং আমার নেতা … কৌতুক নয়, বরং সত্য হৃদয়ে তিনি আমার অন্তরের প্রিয় হে আমার নিন্দুক! নিন্দা ত্যাগ করো, কারণ আমি … এমন এক অদ্বিতীয় সত্তাকে ভালোবেসেছি যার কোনো সমকক্ষ নেই ন্যায়নিষ্ঠ হৃদয়ে চিন্তা করে দেখো, তুমি কি … তাঁর কোনো সদৃশ খুঁজে পাও? যদি না পাও তবে বিতর্ক করো না তিনি অত্যন্ত লজ্জাশীল, পূর্ণ প্রজ্ঞাবান এবং নির্মল চরিত্রের অধিকারী … মাধুর্যপূর্ণ স্বভাবের অধিকারী শ্রেষ্ঠ আলিমদেরও প্রধান যখন তাঁর পক্ষ থেকে আমাদের কাছে পত্র আসে … তখন আমার রবের কসম! কতই না চমৎকার সেই পত্রাবলি তা দুঃখ দূর করে এবং কষ্ট লাঘব করে … আর সকল অবস্থাকে কল্যাণের ঝরনার দিকে ধাবিত করে তিনি এমন এক ইমাম যার চরিত্র ও জীবন অত্যন্ত প্রশংসনীয় … যা গুণে ও বৈশিষ্ট্যে সমসাময়িক শ্রেষ্ঠদেরও ছাড়িয়ে গেছে তিনি পবিত্র, ধর্মভীরু, একনিষ্ঠ, সত্যবাদী ও স্বচ্ছ … প্রতারণা, বিদ্বেষ ও সকল গোপন কলুষতা থেকে মুক্ত তাঁর কতই না প্রশংসা যা আমার এই কবিতা গণনা করতে পারে না … হে আমার ভাই! তাঁর মহিমা বর্ণনাকারীর কথার চেয়েও অধিক আমি মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই ভুল-ভ্রান্তি থেকে … এবং কুপ্রবৃত্তির তাড়না ও সকল চারিত্রিক পঙ্কিলতা থেকে …
(খণ্ড: ১)
আন-নুরুস সাফির আন আখবারিল করনিল আশির
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
.. وتمت بِحَمْد الله رَبِّي وعونه … وَصلى آلهي فِي الضُّحَى والاصائلوَسلم تَسْلِيمًا كثيرا ودائما … على الْمُصْطَفى الْمُخْتَار لِلْحسنِ كَامِل … وَله تصانيف نافعة مِنْهَا مُخْتَصر الْأَنْوَار الْمُسَمّى نور الْأَبْصَار وَهُوَ فِي غَايَة الْحسن وكأنما عناه المتنبي بقوله … فَجَاءَت بِنَا إِنْسَان عين زَمَانه … وخلت بَيَاضًا خلفهَا واماقيا … وَشرح تراجم البُخَارِيّ وَاخْتصرَ قَوَاعِد الزَّرْكَشِيّ وَشَرحه وَكتاب الْعدة وَالسِّلَاح لمتولي عُقُود النِّكَاح وَهُوَ مَشْهُور انْتفع بِهِ النَّاس وَشرح الْمدْخل وَشرح البرماوية وَغير ذَلِك من الْكتب النافعة فِي فنون مُتعَدِّدَة وَمن شعره … إِن العيادة يَوْمًا بَين يَوْمَيْنِ … واجلس قَلِيلا كلحظ الْعين بِالْعينِلَا تبر من مَرِيضا فِي مسائلة … يَكْفِيك من ذَاك تسآل بحرفين … وفيهَا فِي لَيْلَة الِاثْنَيْنِ سلخ ذِي الْعقْدَة الْحَرَام توفّي الشريف الْفَقِيه الصُّوفِي الأديب الْحَافِظ الْمُحدث البارع فِي أشتات الْعُلُوم بدر الدّين الْحُسَيْن ابْن الصّديق بن الْحُسَيْن بن عبد الرَّحْمَن الأهدل قدس الله أَرْوَاحهم ببندر عدن وَدفن بهَا وَكَانَ مولده فِي ربيع الثَّانِي سنة خمس وَثَمَانمِائَة بِأَبْيَات حُسَيْن وَنَشَأ بهَا بنواحيها واشتغل بهَا فِي الْفِقْه على الفقيهين أبي بكر ابْن قعيص وَأبي الْقسم ابْن عمر بن مطير وَغَيرهمَا وَفِي النَّحْو على أَولهمَا وَغَيره ثمَّ انْتقل إِلَى بِلَاد المراوغة واشتغل بهَا على الْفَقِيه إِبْرَاهِيم بن أبي الْقسم جعمان وَغَيره ثمَّ دخل زبيد فِي سنة ثَمَان وَسِتِّينَ فاشتغل بهَا فِي الْفِقْه على عمر الْفَتى وَغَيره وَفِي الْأَدَب على بن الزين الشرجي ثمَّ حج سنة اثْنَتَيْنِ وَسبعين وجاور الَّتِي تَلِيهَا وَحضر مجَالِس الْبُرْهَان والمجيوى قاضيها وَأذن لَهُ الْبُرْهَان وَغَيره وزار النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَسمع بهَا من أبي الْفرج المراغي ثمَّ عَاد لبلاده وَأخذ عَن يحيى العامري وَبحث عَلَيْهِ الْمِنْهَاجذكره السخاوي فِي ضوئه قَالَ ولازمني فِي الْمُجَاورَة الثَّالِثَة بِمَكَّة فَقَرَأَ عَليّ أَشْيَاء من تصانيفي بعد أَن كتبهَا بِخَطِّهِ وَكَذَا سمع من لَفْظِي وَعلي أَشْيَاء قَالَ وَهُوَ فَاضل بارع فِي فنون ناظم مُفِيد حسن الْقِرَاءَة
.. এবং আমার প্রতিপালক আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর সাহায্যে এটি সমাপ্ত হলো … এবং আমার ইলাহ চাশত ও অপরাহ্নে দরুদ বর্ষণ করুন।এবং সর্বদা প্রচুর পরিমাণে শান্তি বর্ষিত হোক … পূর্ণ সৌন্দর্যের অধিকারী মনোনীত মুস্তফার ওপর … তাঁর বেশ কিছু উপকারী গ্রন্থ রয়েছে, তন্মধ্যে 'মুখতাসারুল আনওয়ার' অন্যতম যা 'নুরুল আবসার' নামে পরিচিত। এটি অত্যন্ত চমৎকার এবং কবি মুতানাব্বী যেন তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে এটিকেই উদ্দেশ্য করেছেন … এটি আমাদের নিকট সেই সময়ের চোখের মণি হিসেবে এসেছে … এবং এর পেছনে শুভ্রতা ও চোখের প্রান্তসমূহকে রেখে গিয়েছে … তিনি বুখারীর জীবনীসমূহের ব্যাখ্যা লিখেছেন, যারকাশির কাওয়াইদ সংক্ষেপ করেছেন ও তার ব্যাখ্যা লিখেছেন এবং বিবাহ সম্পাদনকারীর জন্য 'আল-উদ্দাহ ওয়াস-সিলাহ' নামক কিতাব রচনা করেছেন, যা অত্যন্ত প্রসিদ্ধ এবং এর মাধ্যমে মানুষ উপকৃত হয়েছে। এছাড়াও তিনি 'আল-মাদখাল'-এর ব্যাখ্যা, 'আল-বারমাউইয়্যাহ'-এর ব্যাখ্যা এবং বিভিন্ন বিদ্যায় আরও অনেক উপকারী কিতাব রচনা করেছেন। তাঁর কবিতার মধ্যে রয়েছে … নিশ্চয়ই রোগী দেখা উচিত এক দিন অন্তর এক দিন … এবং অল্প সময় সেখানে বসুন, চোখের পলক ফেলার মতো সময়।রোগীকে অধিক প্রশ্নের মাধ্যমে বিরক্ত করবেন না … আপনার জন্য মাত্র দুটি শব্দের মাধ্যমে জিজ্ঞাসা করাই যথেষ্ট … উক্ত বছরের যিলকদ মাসের শেষ রজনীতে সোমবার রাতে শরীফ, ফকীহ, সূফী, সাহিত্যিক, হাফেয, মুহাদ্দিস এবং বিবিধ বিদ্যায় পারদর্শী বদরুদ্দীন আল-হুসাইন ইবনুল সিদ্দিক বিন আল-হুসাইন বিন আব্দুর রহমান আল-আহদাল—আল্লাহ তাঁদের আত্মাকে পবিত্র করুন—আদেন বন্দরে ইন্তেকাল করেন এবং সেখানেই সমাহিত হন। তাঁর জন্ম ছিল ৮০৫ হিজরীর রবিউস সানি মাসে আবইয়াত হুসাইন নামক স্থানে এবং সেখানেই তিনি লালিত-পালিত হন। সেখানে তিনি ফকীহ আবু বকর ইবনে কুআইস এবং আবুল কাসিম ইবনে ওমর ইবনে মুতাইর ও অন্যান্যদের নিকট ফিকহ অধ্যয়ন করেন এবং প্রথমোক্ত জন ও অন্যদের নিকট নাহু (ব্যাকরণ) শিক্ষা করেন। অতঃপর তিনি আল-মারওয়াগা অঞ্চলে চলে যান এবং সেখানে ফকীহ ইব্রাহিম ইবনে আবুল কাসিম জামান ও অন্যদের নিকট শিক্ষা লাভ করেন। এরপর ৮৬৮ হিজরীতে তিনি যাবিদ শহরে প্রবেশ করেন এবং সেখানে ওমর আল-ফাতা ও অন্যদের নিকট ফিকহ এবং ইবনুন যায়ন আশ-শারজি-র নিকট সাহিত্য অধ্যয়ন করেন। এরপর ৮৭২ হিজরীতে তিনি হজ করেন এবং পরবর্তী বছর সেখানে অবস্থান করেন। তিনি বুরহান এবং সেখানকার কাজী মাজিউই-র মজলিসে উপস্থিত হন এবং বুরহান ও অন্যরা তাঁকে অনুমতি প্রদান করেন। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর রওজা জিয়ারত করেন এবং সেখানে আবুল ফারাজ আল-মারগি-র নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ করেন। তারপর তিনি নিজ দেশে ফিরে আসেন এবং ইয়াহইয়া আল-عامরি-র নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেন ও তাঁর নিকট 'মিনহাজ' কিতাবটি অধ্যয়ন করেন।সাখাভী তাঁর 'আদ-দউ' গ্রন্থে তাঁকে উল্লেখ করে বলেছেন: মক্কায় আমার তৃতীয়বার অবস্থানের সময় তিনি আমার সান্নিধ্যে ছিলেন। তিনি আমার বেশ কিছু কিতাব নিজের হাতে লিখে নেওয়ার পর আমার কাছে পাঠ করেন। অনুরূপভাবে তিনি সরাসরি আমার মুখ থেকে শুনেছেন এবং আমার উপস্থিতিতে বিভিন্ন বিষয় অধ্যয়ন করেছেন। তিনি আরও বলেন: তিনি একজন পন্ডিত ব্যক্তি, বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শী, কবি, উপকারী এবং সুন্দরভাবে পাঠকারী ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আন-নুরুস সাফির আন আখবারিল করনিল আশির
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
والضبط لطيف الْعشْرَة متودد قَانِع عفيف اقرا الطّلبَة بناحيته وَقَرَأَ الحَدِيث على الْعَامَّة سِيمَا القَوْل البديع وَنَحْوه مدحني بقصيدة انشدنيها بِحَضْرَة الْجَمَاعَة وكتبت لَهُ إجَازَة حافلة وَرَأَيْت النَّجْم بن فَهد كتب عَنهُ من نظمه كثيرا وترجمة انْتهىوَذكره الْعَلامَة بحرق فِي كِتَابه موهب القدوس فِي مَنَاقِب ابْن العيدروس وَقَالَ إِنِّي قلت مرّة لَهُ إِن أَحْوَال سَيِّدي الشَّيْخ أبي بكر اشكلت علينا فَقَالَ دعها تَحت حجابها مستورة بسحابها فَلَو أشرقت شمسه لأحرقت الْوُجُود كُله أما تَرَانَا نقف على أبوابه ونكتفي بتقبيل أعتابه قَالَ وَهَكَذَا كَانَ رحمه الله يقبل العتبة وينصرف وَرَأَيْت كَأَنَّهُ ورد عَلَيْهِ مرّة حَال فَأخذ بيَدي وَهُوَ كالذاهل فَقَالَ لي تُرِيدُ أَن أُريك القطب فَقلت نعم فَمشى حَتَّى أَتَيْنَا إِلَى سَيِّدي الشَّيْخ أبي بكر فَقَالَ هَذَا هُوَ القطب وَانْصَرف وَلم يلبث أَن امتدح سَيِّدي الشَّيْخ بقصيدته الَّتِي أَولهَا من الحسان الخرد قد صادني غرير يَرْمِي بقوس حَاجِب وأنشده اياها فَلَمَّا بلغ المنشد قَوْله يَا عيدروس الْأَوْلِيَاء يَا حايز الْكَمَال القطب أَنْت الْأَكْمَلكَانَ الشريف الْحُسَيْن ينظر اليّ ثمَّ يُشِير بِيَدِهِ إِلَى سَيِّدي الشَّيْخ وَيَقُول القطب أَنْت الْأَكْمَل القطب أَنْت الْأَكْمَل يكررها ليحقق مَا كَانَ قَالَه لي فِي الْمَنَام فِي حَالَة ذُهُوله وَمن شعره … يَا سَيِّدي يَا الهي … إِن لم تكن لي فَمن ليأَنْت الْعَلِيم بحالي … فارنم بعزك ذلي … وَمِنْه … أما لهَذَا الْهم من مُنْتَهى … اما لهَذَا الْحزن من آخرأما لهَذَا الضّيق من فارج … اما لناب الْخطب من كاشرأما لهَذَا الْعسر من دافعٍ … باليسر عَن هَذَا الشجى العاثربلَى بلَى مهلا فَكُن واثقاً … بِالْوَاحِدِ الْفَرد العلى الْقَادِر … وَمِنْه هَذِه الْوَسِيلَة الْعَظِيمَة وَهِي … يَا رَسُول الله عوناً مدد … أَنْتُم الْوَالِد وَالْعَبْد ولد …
সুসংযত, চমৎকার সাহচর্যপ্রিয়, বন্ধুবৎসল, অল্পে তুষ্ট ও পবিত্র স্বভাবের এই ব্যক্তি নিজ এলাকায় ছাত্রদের পড়াতেন এবং সাধারণ মানুষের নিকট হাদীস পাঠ করতেন, বিশেষ করে 'আল-কাওলুল বাদী' এবং অনুরূপ গ্রন্থসমূহ। তিনি একটি কাসিদার মাধ্যমে আমার প্রশংসা করেছিলেন যা তিনি একটি সমাবেশের উপস্থিতিতে আমাকে পাঠ করে শোনান। আমি তাঁর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ইজাজতনামা লিখেছিলাম। আমি দেখেছি যে, নাজম ইবনে ফাহদ তাঁর কবিতা থেকে প্রচুর সংগ্রহ করেছেন এবং তাঁর জীবনীও লিখেছেন। সমাপ্ত।আল্লামা বাহরাক তাঁর 'মাওহিবুল কুদ্দুস ফি মানাকিবি ইবনিল আইদারুস' গ্রন্থে তাঁর কথা উল্লেখ করে বলেছেন: আমি একবার তাঁকে বলেছিলাম যে, আমাদের নেতা শায়খ আবু বকরের আধ্যাত্মিক অবস্থা আমাদের নিকট অস্পষ্ট ঠেকছে। তখন তিনি বললেন, 'সেটি তার পর্দার আড়ালে মেঘাচ্ছন্নই থাকতে দাও। কারণ যদি তাঁর সূর্য উদিত হতো, তবে তা সমগ্র অস্তিত্বকে ভস্মীভূত করে দিত। তুমি কি দেখছ না যে, আমরা তাঁর দরজায় দাঁড়িয়ে থাকি এবং কেবল তাঁর চৌকাঠে চুমু খেয়েই তৃপ্ত হই?' বর্ণনাকারী বলেন: এভাবেই তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) চৌকাঠে চুমু খেতেন এবং ফিরে আসতেন। আমি দেখেছি, একবার তাঁর ওপর একটি বিশেষ আধ্যাত্মিক অবস্থা (হাল) আপতিত হলো এবং তিনি কিছুটা আচ্ছন্ন অবস্থায় আমার হাত ধরলেন। তিনি আমাকে বললেন, 'তুমি কি চাও আমি তোমাকে কুতুব দেখাই?' আমি বললাম, 'হ্যাঁ'। এরপর তিনি হাঁটতে থাকলেন যতক্ষণ না আমরা আমাদের নেতা শায়খ আবু বকরের নিকট পৌঁছালাম। তখন তিনি বললেন, 'ইনিই কুতুব' এবং চলে গেলেন। এরপর অনতিবিলম্বে তিনি শায়খের প্রশংসায় একটি কাসিদা আবৃত্তি করেন যার শুরু ছিল: 'লজ্জাবতী সুন্দরীদের মধ্য থেকে এক চঞ্চল কিশোর আমাকে শিকার করেছে, যে তার ভ্রু-ধনুক দিয়ে লক্ষ্যভেদ করে'। তিনি তাঁকে এটি শুনিয়েছিলেন। যখন আবৃত্তিকারী তাঁর এই বাণীতে পৌঁছালেন: 'হে ওলীদের আইদারুস, হে পূর্ণতার অধিকারী, আপনিই পূর্ণতম কুতুব'।শরীফ আল-হুসাইন তখন আমার দিকে তাকাচ্ছিলেন এবং হাত দিয়ে আমার নেতা শায়খের দিকে ইশারা করে বলছিলেন, 'আপনিই পূর্ণতম কুতুব, আপনিই পূর্ণতম কুতুব'। তিনি এর পুনরাবৃত্তি করছিলেন যাতে তিনি তাঁর আচ্ছন্ন অবস্থায় স্বপ্নে আমাকে যা বলেছিলেন তা সুনিশ্চিত হয়। তাঁর কবিতার মধ্য থেকে একটি হলো: … হে আমার নেতা, হে আমার ইলাহ … আপনি যদি আমার সহায় না হন, তবে আমার আর কে আছে?আপনি আমার অবস্থা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত … অতএব আপনার মর্যাদার অসিলায় আমার হীনতার প্রতি অনুগ্রহ করুন … তাঁর আরও কবিতা: … এই দুশ্চিন্তার কি কোনো সমাপ্তি নেই? … এই শোকের কি কোনো শেষ নেই?এই সংকটের কি কোনো মোচনকারী নেই? … এই বিপদের কি কোনো বিনাশকারী নেই?এই কাঠিন্য দূর করার কি কোনো উপায় নেই … যা সহজতার মাধ্যমে এই পদস্খলিত দুঃখকে বিদায় করবে?হ্যাঁ, অবশ্যই! ধৈর্য ধরুন এবং আস্থা রাখুন … সেই এক, অদ্বিতীয়, সুউচ্চ ও সর্বশক্তিমানের ওপর। … তাঁর থেকে বর্ণিত এই মহান অসিলাটি হলো: … হে আল্লাহর রাসূল, সাহায্য ও মদদ প্রার্থনা করছি … আপনি হলেন পিতার ন্যায় আর এই বান্দা আপনার সন্তানের সমতুল্য …
(খণ্ড: ১)
আন-নুরুস সাফির আন আখবারিল করনিল আশির
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
.. يَا رَسُول الله فِي جاهك مَا … يبلغ القاصد أقْصَى مَا قصديَا رَسُول الله مَا لي عتد … غير حبك وَيَا نعم العتديَا رَسُول الله قوم أودى … فلكم قومت بِالدّينِ أوديَا رَسُول الله هَل من نظرة … تصلح الْقلب سَرِيعا والجسديَا رَسُول الله هَل من جذبة … تجذب العَبْد إِلَى النهج الجدديَا رَسُول الله هَل من عطفة … تعطف العَبْد إِلَى طرق الرشديَا رَسُول الله هَل من نفحة … مِنْك تَأتي وَمن الْفَرد الصَّمديَا رَسُول الله كن لي شافعاً … أَنْت وَالله شَفِيع لَا ترديَا رَسُول الله هَل تسمعني … أَي وربي تسمع القَوْل مقدأَنا بِاللَّه وبالوجه الَّذِي … قَالَ ذُو الْعَرْش لَهُ أَسجد فَسجدَسيد الرُّسُل ختام الْأَنْبِيَاء … صَاحب السَّجْدَة وَالْقَوْل الْأسدأصل مبدأ الْكَوْن بل غَايَته … حجَّة الله على كل أحدرَحْمَة الله الَّتِي عَم بهَا … كل مَخْلُوق على بر الْأَبَدصفوة الله من الْخلق مَعًا … فَهُوَ الْجَوْهَر والخلق زبدالَّذِي قد خصّه الله بِمَا … يعجز الْعد فَلَا يُحْصى عددكلما فِي الْأَنْبِيَاء من شرف … ضم فِيهِ بعد أَن كَانَ بددوَلَقَد زيد عَلَيْهِم شرفاً … واختصاصات بمعناها انْفَردمن ليَوْم الْجمع إِلَّا أَحْمد … يَوْم لَا وَالِد يُغني عَن ولدينقذ النَّاس بسجدات لَهُ … من هموم وكروب وشدديَا مجلي الكرب السود أغث … مَا رآك الكرب إِلَّا وشرديَا مليح الْوَجْه يَا خير الورى … أَنْت بعد الله نعم الْمُعْتَمديَا عَظِيم الجاه وَالْفضل وَيَا … أكْرم الْخلق إِلَيْك الْمُسْتَندمدحتي نَحْوك قد أَهْدَيْتهَا … فاجرني بِقبُول ومددواسأل الرَّحْمَن لي من فَضله … الْعَفو والغفران والرزق الرغدرب جنبنا بجاه الْمُصْطَفى … كل كد وبلاء ونكدوأقض حاجاتي واصلح عَمَلي … وَاخْتِمْ الْعُمر بِخَير إِن نفدوكذاك الْآل وَالْأَصْحَاب من … قد دنا مِنْهُم إِلَيْنَا وابتعدوَصَلَاة الله مَعَ تَسْلِيمه … لرَسُول الله من غير أمدوكذاك الْآل وَالْأَصْحَاب من … قَامَ للدّين بنصر واجتهد …
.. হে আল্লাহর রাসূল, আপনার সম্মানের বদৌলতে … অন্বেষণকারী তার চরম লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।হে আল্লাহর রাসূল, আপনার ভালোবাসা ব্যতীত আমার আর কোনো সম্বল নেই … আর তা কতই না উত্তম সম্বল!হে আল্লাহর রাসূল, পথভ্রষ্ট জাতিকে সঠিক পথে আনুন … কেননা আপনি দ্বীনের মাধ্যমে কতই না বক্রতাকে সোজা করেছেন।হে আল্লাহর রাসূল, এমন এক দৃষ্টি কি হবে … যা দ্রুত অন্তর ও দেহকে সংশোধন করে দেবে?হে আল্লাহর রাসূল, এমন কোনো আকর্ষণ কি হবে … যা বান্দাকে নতুন ও সুস্পষ্ঠ পথের দিকে টেনে নেবে?হে আল্লাহর রাসূল, এমন কোনো করুণা কি হবে … যা বান্দাকে হেদায়েতের পথের দিকে ধাবিত করবে?হে আল্লাহর রাসূল, এমন কোনো অনুগ্রহের সুবাতাস কি হবে … যা আপনার পক্ষ থেকে এবং একক অমুখাপেক্ষী সত্তার পক্ষ থেকে আসবে?হে আল্লাহর রাসূল, আমার জন্য সুপারিশকারী হোন … আল্লাহর কসম, আপনি এমন এক সুপারিশকারী যাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কি আমার কথা শুনছেন? … হ্যাঁ, আমার রবের কসম, আপনি স্পষ্টভাবে কথা শুনতে পান।আমি আল্লাহর উসিলা ধরছি এবং সেই চেহারার উসিলা ধরছি যার সম্পর্কে … আরশের অধিপতি বলেছিলেন 'সেজদা করো', অতঃপর তিনি সেজদা করেছিলেন।রাসূলগণের সরদার, নবীগণের সমাপ্তিকারী … সেজদা ও সুদৃঢ় বাণীর অধিকারী।মহাবিশ্ব সৃষ্টির মূল ভিত্তি বরং এর পরম লক্ষ্য … প্রত্যেকের ওপর আল্লাহর অকাট্য দলিল।আল্লাহর সেই রহমত যা ব্যাপক হয়েছে … অনন্তকাল ধরে প্রতিটি সৃষ্টির ওপর।সমগ্র সৃষ্টির মধ্য হতে আল্লাহর মনোনীত সারসত্তা … তিনিই মূল মণি আর সৃষ্টিজগত হলো উপরিভাগের ফেনা।যাকে আল্লাহ এমন বিশেষত্ব দান করেছেন যা … গণনা করতে অক্ষমতা প্রকাশ পায়, আর তা সংখ্যায় সীমাবদ্ধ করা যায় না।নবীগণের মাঝে যে শ্রেষ্ঠত্ব ছিল … তা বিক্ষিপ্ত থাকার পর তাঁর মাঝে একত্রিত করা হয়েছে।আর তাঁদের ওপর তাঁকে মর্যাদায় বৃদ্ধি করা হয়েছে … এবং এমন সব বিশেষত্বে যাতে তিনি অনন্য।হাশরের ময়দানে আহমদ ছাড়া আর কে আছে? … যেদিন কোনো পিতাই সন্তানের উপকারে আসবে না।তিনি নিজ সেজদাসমূহের মাধ্যমে মানুষকে রক্ষা করবেন … দুশ্চিন্তা, দুঃখ-কষ্ট ও কঠিন বিপদ থেকে।হে অন্ধকারাচ্ছন্ন বিপদ দূরকারী, সাহায্য করুন … বিপদ আপনাকে দেখলেই পালিয়ে যায়।হে সুন্দর চেহারার অধিকারী, হে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ … আল্লাহর পরে আপনিই সর্বোত্তম আশ্রয়।হে মহান মর্যাদা ও অনুগ্রহের অধিকারী, হে … সৃষ্টির সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি, আপনার দিকেই সকল নির্ভরতা।আপনার প্রতি আমার এই প্রশংসা-গীতি আমি উপহার হিসেবে পাঠালাম … সুতরাং কবুলিয়ত ও সাহায্যের মাধ্যমে আমাকে ধন্য করুন।আর দয়াময় আল্লাহর কাছে আমার জন্য তাঁর অনুগ্রহ হতে প্রার্থনা করুন … ক্ষমা, মার্জনা ও প্রশস্ত রিজিকের।হে প্রতিপালক, মুস্তফার মর্যাদার উসিলায় আমাদের দূরে রাখুন … যাবতীয় ক্লান্তি, বালা-মুসিবত ও দুর্দশা থেকে।আমার হাজতসমূহ পূরণ করুন, আমার আমল সংশোধন করুন … আর আয়ু শেষ হলে জীবনকে কল্যাণের সাথে সমাপ্ত করুন।অনুরূপভাবে তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর … যাঁরা তাঁদের মধ্য হতে আমাদের নিকটবর্তী কিংবা দূরবর্তী।আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক … আল্লাহর রাসূলের ওপর কোনো সময়সীমা ছাড়াই।অনুরূপভাবে সেই পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপরও, যাঁরা … দ্বীনকে বিজয়ী করতে প্রচেষ্টা ও সাধনা করেছেন। …
(খণ্ড: ১)
আন-নুরুস সাফির আন আখবারিল করনিল আশির
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
.. بِبَقَاء الله تبقى وعَلى الآ … ل والصحب فهم آل الرشدبِبَقَاء الله تبقى دَائِما … وعَلى الْآل فهم آل الرشد … قلت وَلَعَلَّه يُشِير بقوله … يَا رَسُول الله هَل تسمعني … أَي وربي تسمع القَوْل وَقد … إِلَى أَنه صلى الله عليه وسلم تبلغه صَلَاة الْمُصَلِّين عَلَيْهِ ومدح المادحين لجنابه الْعلي للأحاديث الصَّحِيحَة كَقَوْلِه صلى الله عليه وسلم {مَا من أحد يسلم عَليّ إِلَّا رد الله عَليّ روحي حَتَّى أرد عليه السلام} وَكَقَوْلِه صلى الله عليه وسلم {إِن الله وكل بقبري ملكا أعطَاهُ اسماء الْخَلَائق فَلَا يُصَلِّي على أحد إِلَى يَوْم الْقِيَامَة إِلَّا بَلغنِي باسمه وَاسم أَبِيه هَذَا فلَان بن فلَان قد صلى عَلَيْكوَقد يتشرف بعض الْأَوْلِيَاء فَيسمع الْجَواب من النَّبِي صلى الله عليه وسلم كَمَا وَقع للناظم رحمه الله من أَنه لما زار النَّبِي صلى الله عليه وسلم ووقف على الْقَبْر الشريف وَأنْشد قصيدة يَقُول فِيهَا … إِن قيل زرتم بِمَا رجعتم … يَا سيد الرُّسُل مَا نقُول … فَسمع الْجَواب من الْحُجْرَة الشَّرِيفَة … قُولُوا رَجعْنَا بِكُل فضل … وَاجْتمعَ الْفَرْع وَالْأُصُول … وفيهَا فِي يَوْم السبت حادي عشْرين الْمحرم توفّي الإِمَام الْعَلامَة مفتي مَدِينَة عدن ومدرسها وخاتمة الْعلمَاء بهَا صَاحب الْفَتَاوَى المفيدة والتصانيف العديدة الْفَقِيه عبد الله بن أَحْمد بن عَليّ بن أَحْمد بن إِبْرَاهِيم أَبَا محزمه الْحِمْيَرِي الشَّيْبَانِيّ الهجراني الْحَضْرَمِيّ الْعَدنِي الشَّافِعِي بعدن وَدفن قَرِيبا من قبر شَيْخه أبي شكيل دَاخل قبَّة الشَّيْخ جَوْهَر فِي الْقَبْر الَّذِي دفن فِيهِ شيخ مَشَايِخ الْإِسْلَام مفتي الْيمن القَاضِي جمال الدّين مُحَمَّد ابْن سعيد ابْن الطَّبَرِيّ وَكَانَ مولده لَيْلَة الْأَرْبَعَاء ثَانِي عشر رَجَب سنة ثَلَاثَة وَثَلَاثِينَ وَثَمَانمِائَة بالهجرين وَحفظ الْقُرْآن بهَا ثمَّ ارتحل لطلب الْعلم إِلَى عدن وتفقه بالإمامين مُحَمَّد بن مَسْعُود أَبَا شكيل وَمُحَمّد بن أَحْمد أَبَا حميش وأجتهد فِي الطّلب ودأب وواكب على الِاشْتِغَال لَيْلًا وَنَهَارًا
.. আল্লাহর স্থায়িত্বের মাধ্যমে তা স্থায়ী হয় এবং পরিবার … ও সাহাবাগণের ওপর, কারণ তাঁরাই হলেন সঠিক পথের অনুসারী পরিবার।আল্লাহর স্থায়িত্বের মাধ্যমে তা সর্বদা স্থায়ী হয় … আর পরিবারের ওপর, কারণ তাঁরাই হলেন সঠিক পথের অনুসারী পরিবার … আমি বলি, সম্ভবত তিনি তাঁর বাণীর মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন … হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আমাকে শুনছেন? … হ্যাঁ, আমার রবের শপথ! আপনি কথা শুনছেন এবং অবশ্যই … যেহেতু সহীহ হাদীসসমূহের আলোকে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি সালাত পাঠকারীদের দরুদ এবং তাঁর সুউচ্চ মর্যাদার প্রশংসাকারীদের প্রশংসা তাঁর নিকট পৌঁছে থাকে। যেমন নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর বাণী: {এমন কেউ নেই যে আমাকে সালাম দেয়, কিন্তু আল্লাহ আমার রূহ ফিরিয়ে দেন যাতে আমি তার সালামের উত্তর দিতে পারি।} এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার কবরের কাছে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত করেছেন যাকে তিনি সৃষ্টির সমস্ত নাম দান করেছেন। কিয়ামত পর্যন্ত কেউ আমার ওপর দরুদ পাঠ করলে সে তা আমার নিকট তার নাম এবং তার পিতার নামসহ পৌঁছে দেয় যে, অমুকের পুত্র অমুক আপনার ওপর দরুদ পাঠ করেছে।}কখনো কখনো কোনো কোনো ওলী এ সম্মানে ভূষিত হন যে, তাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে উত্তর শুনতে পান; যেমনটি এই কবিতার রচয়িতা (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ক্ষেত্রে ঘটেছে। যখন তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে যিয়ারত করেন এবং পবিত্র কবরের পাশে দাঁড়িয়ে একটি কাসিদা আবৃত্তি করেন যাতে তিনি বলছিলেন … যদি বলা হয় যে তোমরা যিয়ারত করেছ, তবে কী নিয়ে ফিরেছ? … হে রাসূলদের সরদার, আমরা কী বলব? … অতঃপর তিনি পবিত্র হুজরা থেকে উত্তর শুনতে পেলেন … বলো যে আমরা সকল অনুগ্রহ নিয়ে ফিরেছি … এবং শাখা ও মূল একত্রিত হয়েছে … সেই বছরেই, একুশে মহররম রোজ শনিবার, এডেন নগরীর প্রখ্যাত ইমাম, আল্লামা ও মুফতি এবং সেখানকার শিক্ষক ও আলেমদের শেষ প্রতিনিধি, বহু উপকারী ফাতাওয়া ও কিতাব রচয়িতা, ফকীহ আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন আলী বিন আহমদ বিন ইবরাহীম আবা মাহজামা আল-হিমইয়ারী আশ-শায়বানী আল-হাজরানী আল-হাদরামী আল-আদানী আশ-শাফিয়ী এডেনে ইন্তেকাল করেন। তাঁকে তাঁর শায়খ আবু শাকীলের কবরের কাছে শায়খ জওহরের গম্বুজের ভেতরে দাফন করা হয়; সেই একই কবরে যেখানে শায়খুল মাশায়েখিল ইসলাম, ইয়ামেনের মুফতি কাযী জামালুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ ইবনে আত-তাবারীকে দাফন করা হয়েছিল। তাঁর জন্ম হয়েছিল ৮৩৩ হিজরীর ১২ই রজব বুধবার দিবাগত রাতে হাজরাইন নামক স্থানে এবং সেখানেই তিনি কুরআন হিফজ করেন। এরপর তিনি ইলম অর্জনের জন্য এডেন ভ্রমণ করেন এবং দুই ইমাম মুহাম্মদ বিন মাসউদ আবা শাকীল ও মুহাম্মদ বিন আহমদ আবা হাইমশ-এর নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। তিনি জ্ঞান অন্বেষণে কঠোর পরিশ্রম ও নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়েছেন এবং দিন-রাত এতেই মগ্ন থাকতেন।
(খণ্ড: ১)
আন-নুরুস সাফির আন আখবারিল করনিল আশির
(পৃষ্ঠা: ٣١)
وَكَانَ فَقِيرا لَا يملك شَيْئا وقاسى فِي أَيَّام طلبه من الْجُوع والمكابدة مَا هُوَ مَشْهُور عَنهُ وبرع فِي سَائِر الْعُلُوم وحقق الْفُنُون وساد الاقران وسارت بفضله الركْبَان وَوَقع على تقدمه الاجماع وابتهجت بِذكرِهِ النواظر والأسماع وَصَارَ عُمْدَة يرجع إِلَى قَوْله وفتواه فِي زمَان مشايخه فَلَمَّا رأى شَيْخه أَبُو شكيل مَا آل إِلَيْهِ أمره اغتبط بِهِ وأحبه وخطبه لنكاح أبنته وزوجه اياها ورزق مِنْهَا أَوْلَادًا فضلاء نجباء سَيَأْتِي ذكر بَعضهموَكَانَ عَالما بالفقه والأصلين والفرائض والحساب وَالتَّفْسِير والْحَدِيث والنحو والتصريف واللغة وَعلم الْمعَانِي وَالْبَيَان والهيئة والفلك وَغَيرهَا من الْعُلُوم الْمَشْهُورَة والفنون الْمَذْكُورَة وَكَانَ من الْعُلُوم بِحَيْثُ يقْضى لَهُ فِي كل فن بِالْجَمِيعِ وَكَانَ مهاباً حَتَّى أَن الْعَلامَة الصَّالح عفيف الدّين عبد الله بن عبسين كَانَ يَقُول اني لَا أَخَاف وَلَا أهاب أحدا من الْعلمَاء إِلَّا الْفَقِيه عبد الله أَبَا محزمه فَأَنِّي أكاد أرعد من هيبته وَكَانَ الْمُلُوك فِي زَمَانه يخضعون لَهُ ويخافونه وَكَانَ آمراً بِالْمَعْرُوفِ ناهياً عَن الْمُنكر لَا يُرَاعِي أحدا فِي دين الله وَلَا يخَاف فِي الله لومة لائموَكَانَ صَاحبه الإِمَام الْوَلِيّ جمال الدّين مُحَمَّد بن أَحْمد أَبَا فضل كثير التعضيم لَهُ وَبَلغنِي أَن الْفَقِيه رحمه الله سُئِلَ أَي أعلم أَنْت أم الْفَقِيه مُحَمَّد فَقَالَ أَنا أعلم مِنْهُ وَهُوَ أورع مني أَو قَالَ ادين منيوَكَانَ الشَّيْخ عَليّ بن طَاهِر أول مُلُوك الْيمن من بني طَاهِر كثير التَّعْظِيم لَهُ والاغتباط بِهِ والامتثال لأَمره والانقياد لَهُ والتأدب مَعَه وَلم يزل بِهِ حَتَّى ولاه الْقَضَاء بعد على كره مِنْهُ بعد أَن شَرط عَلَيْهِ شُرُوطًا وفى لَهُ بهَا فباشر الْوَظِيفَة بنزاهة تَامَّة وصدع بِالْحَقِّ وَإِقَامَة الْعدْل واجتهاد فِي إِيصَال الْحُقُوق واغلاظ للظلمة من الْأُمَرَاء والوزراء وَغَيرهم وقمعهم عَن الظُّلم وتحكيم الشَّرْع فيهم فَمَكثَ على ذَلِك نَحْو سنتَيْن أَو سنة وَنصف ثمَّ هرب من الْبَلَد على حِين غَفلَة من أَهلهَا وَركب الْبَحْر إِلَى الشحر ثمَّ إِلَى بَلَده الهجرين فِرَارًا من الْقَضَاء وحذراً من فتنته فعفاه السُّلْطَان مِنْهُ وعول عَلَيْهِ فِي الرُّجُوع مكرماً من غير قَضَاء فَرجع
তিনি অত্যন্ত দরিদ্র ছিলেন, তাঁর মালিকানায় কিছুই ছিল না। জ্ঞানার্জনের দিনগুলোতে তিনি ক্ষুধা ও কষ্টের যে কঠোরতা সহ্য করেছেন, তা তাঁর সম্পর্কে সুবিদিত। তিনি সকল ইলমে পারদর্শিতা অর্জন করেন, বিভিন্ন বিদ্যায় ব্যুৎপত্তি লাভ করেন এবং সমসাময়িকদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন। তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার কথা দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়ে এবং তাঁর অগ্রগণ্য হওয়ার বিষয়ে সকলের ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়। তাঁর আলোচনায় মানুষের চক্ষু ও কর্ণ আনন্দিত হতো। তিনি এমন এক মডেলে পরিণত হন যে, তাঁর উস্তাদদের জীবদ্দশাতেই তাঁর কথা ও ফতোয়ার ওপর নির্ভর করা হতো। যখন তাঁর উস্তাদ আবু শাকিল তাঁর এই উন্নতি প্রত্যক্ষ করলেন, তখন তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হলেন এবং তাঁকে ভালোবেসে ফেললেন। তিনি নিজ কন্যার বিবাহের জন্য তাঁর কাছে প্রস্তাব দেন এবং তাঁর সাথে বিবাহ সম্পন্ন করেন। তাঁর গর্ভে তিনি অনেক পুণ্যবান ও মহৎ সন্তান লাভ করেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের কথা সামনে আসবে।তিনি ফিকহ, উভয় উসুল (উসুলুদ দীন ও উসুলুল ফিকহ), ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন), গণিত, তাফসির, হাদিস, নাহু (ব্যাকরণ), সরফ (রূপতত্ত্ব), লুগাত (ভাষা), ইলমুল মাআনি ও বায়ান (অলংকারশাস্ত্র), জ্যোতির্বিদ্যা এবং অন্যান্য প্রসিদ্ধ ইলম ও বিদ্যায় বিজ্ঞ আলেম ছিলেন। সকল ইলমের ওপর তাঁর এমন দখল ছিল যে, প্রতিটি বিষয়েই তিনি চূড়ান্ত রায় দেওয়ার যোগ্যতা রাখতেন। তিনি অত্যন্ত প্রভাবশালী ও গাম্ভীর্যপূর্ণ ছিলেন, এমনকি নেককার আল্লামা আফিফুদ্দীন আব্দুল্লাহ বিন আবসিন বলতেন: "আমি ফকিহ আব্দুল্লাহ আবু মাখরামা ব্যতীত অন্য কোনো আলেমকে ভয় বা সমীহ করি না; তাঁর গাম্ভীর্যের কারণে আমি প্রায় কাঁপতে থাকি।" তাঁর সমসাময়িক রাজন্যবর্গ তাঁর কাছে নতি স্বীকার করত এবং তাঁকে ভয় পেত। তিনি সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধকারী ছিলেন। আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে তিনি কারো তোয়াক্কা করতেন না এবং কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় পেতেন না।তাঁর সঙ্গী ইমাম ওয়ালি জামালুদ্দীন মুহাম্মদ বিন আহমদ আবু ফজল তাঁকে অত্যন্ত সম্মান করতেন। আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, ফকিহ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল— "আপনি বেশি জ্ঞানী নাকি ফকিহ মুহাম্মদ?" তিনি উত্তর দিলেন: "আমি তাঁর চেয়ে বেশি জ্ঞানী, আর তিনি আমার চেয়ে বেশি মুত্তাকি (অথবা বলেছেন বেশি দ্বীনদার)।"বনী তাহির বংশের ইয়েমেনের প্রথম রাজা শেখ আলী বিন তাহির তাঁকে অত্যন্ত সম্মান ও শ্রদ্ধা করতেন এবং তাঁর আদেশ ও আনুগত্য মেনে চলতেন। তিনি অনবরত অনুরোধ করার পর তাঁকে অনিচ্ছা সত্ত্বেও বিচারপতির (কাজী) পদে নিযুক্ত করেন। তবে তিনি কিছু শর্তারোপ করেছিলেন যা রাজা পূরণ করেছিলেন। তিনি অত্যন্ত সততার সাথে তাঁর দায়িত্ব পালন করেন, সত্য প্রকাশ করেন, ন্যায়বিচার কায়েম করেন এবং হকদারদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেন। তিনি জালেম আমির ও উজিরদের প্রতি কঠোর ছিলেন এবং তাদের জুলুম দমন করে তাদের ওপর শরিয়তের বিধান জারি করতেন। তিনি প্রায় দুই বছর বা দেড় বছর এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, তারপর শহরের মানুষের অজান্তেই তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান। বিচারপতির পদ ও এর ফেতনা থেকে বাঁচতে তিনি সমুদ্রপথে প্রথমে শিহর এবং পরে নিজের শহর হাজারায়নে চলে যান। অতঃপর সুলতান তাঁকে এ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন এবং বিচারপতির পদ ছাড়াই সসম্মানে ফিরে আসার অনুরোধ করেন, ফলে তিনি ফিরে আসেন।
(খণ্ড: ১)
আন-নুরুস সাফির আন আখবারিল করনিল আশির
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
ذكره السخاوي فِي تَارِيخه قَالَ وَكَانَ برع فِي الْفِقْه وأصوله والعربية والْحَدِيث وَالتَّفْسِير وَكَانَ من شُيُوخه فِي الْفِقْه أَبَا حميش وَفِي غَيره أَبَا شكيل مُحَمَّد بن مَسْعُود قَاضِي عدن وَغَيرهم كابي هُرْمُز الْحَضْرَمِيّ وَهُوَ من أصلح شُيُوخه قلت وَلبس مِنْهُ خرقَة التصوف قَالَ ودرس وَأفْتى وكلفه عَليّ بن ظَاهر قَضَاء عدن فدام قريب أَرْبَعَة أشهر ثمَّ ترك وَتوجه لنفع الطّلبَة خَاصَّة مَعَ علو همة وَشرف نفس وَعمل على جَامع المختصرات نكتاً فِي مجلدة وَكَذَا على الفية النَّحْو فِي كراريس مفيدة وَشرح الملحة للحريري شرحاً حسنا ولخص شرح ابْن الهايم على هايميته إِلَى غير ذَلِك مثل الرسائل فِي علم الهندسة وَغَيرهَا وفتاواه مجيدة وَعبارَته محكمَة انْتهى كَلَام السخاويوَله كتاب الفتاوي وَهُوَ كتاب جليل عَظِيم الْفَائِدَة وَمِمَّنْ تخرج بِهِ من الْأَئِمَّة الْأَعْيَان الْفَقِيه الْعَلامَة الصَّالح عفيف الدّين عبد الله بن عبد الرَّحْمَن فضل الْمَعْرُوف بِابْن الْحَاج وَالْإِمَام الْعَلامَة جمال الدّين مُحَمَّد بن عمر أَبَا قضام والفقيه الْعَلامَة عُثْمَان بن مُحَمَّد العمودي وَالْقَاضِي الإِمَام البارع مُحَمَّد بن عمر بحرقوَرَأَيْت بِخَط الْفَقِيه عبد الله بن الْحَاج فضل رحمه الله فِي آخر جَوَاب لَهُ على مَسْأَلَة اخْتلف فِيهَا فُقَهَاء عصره مَا لَفظه وَقد افتى بذلك سيدنَا وَشَيخنَا الْفَقِيه الْعَلامَة عبد الله بن أَحْمد محزمه رحمه الله وَأَخذه من مُقْتَضى كَلَام الْأَصْحَاب وَهُوَ أَحَق من أَن يُقَلّد انْتهىبِالْجُمْلَةِ فَإِنَّهُ كَانَ بَقِيَّة الْعلمَاء العاملين لَيْسَ لَهُ نَظِير فِي زَمَانه وَلم يخلفه بعده مثله رَحمَه الله تَعَالَى وَكَانَ بعض الْأَوْلِيَاء يَقُول فِي حَقه إِنَّه من الْأَرْبَعَة الْأَوْتَاد الَّذين يحفظ الله بهم الْبِلَاد والعباد ويغيث بهم الْحَاضِر والباد وَكَانَ رحمه الله يَقُول عمري سَبْعُونَ سنة فَكَانَ كَذَلِك وَمن أَوْلَاده الْفَقِيه الصُّوفِي عمر وَكَانَ تصوف بعد أَن برع فِي الْعلم وَكَانَ شَيْخه فِي التصوف الشَّيْخ عبد الرَّحْمَن أَبَا هُرْمُز وَله مَعَه حِكَايَة طَوِيلَة وَمن شعره … اعط الْمَعِيَّة حَقّهَا … واحفظ لَهُ حسن الْأَدَب …
আস-সাখাভী তাঁর ইতিহাসে তাঁকে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তিনি ফিকহ, উসুলুল ফিকহ, আরবি ভাষা, হাদিস ও তাফসিরে ব্যুৎপত্তি লাভ করেছিলেন। ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন আবু হুমায়েশ এবং অন্যান্য বিষয়ে ছিলেন আদনের কাজী আবু শাকিল মুহাম্মদ ইবনে মাসুদ ও আবু হুরমুজ আল-হাদরামি প্রমুখ। তিনি (আবু হুরমুজ) ছিলেন তাঁর সর্বোত্তম শিক্ষকদের অন্যতম। আমি (সাখাভী) বলছি, তিনি তাঁর কাছ থেকেই তাসাউউফের খিরকা (পোশাক) পরিধান করেছিলেন। তিনি আরও বলেন: তিনি পাঠদান করেছেন, ফতোয়া দিয়েছেন এবং আলী ইবনে জাহির তাঁকে আদনের কাজী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। তিনি প্রায় চার মাস সেই পদে বহাল ছিলেন, এরপর তা ত্যাগ করে উচ্চ হিম্মত ও মহানুভবতার সাথে বিশেষভাবে শিক্ষার্থীদের উপকারে মনোনিবেশ করেন। তিনি 'জামি আল-মুখতাসারাত'-এর ওপর এক খণ্ডে কিছু টীকা তৈরি করেন এবং একইভাবে নাহুর 'আলফিয়াহ'-এর ওপরও কিছু উপকারী পুস্তিকা লেখেন। এছাড়া তিনি হারিরীর 'আল-মুলহাহ'-এর একটি সুন্দর ব্যাখ্যাগ্রন্থ লেখেন এবং ইবনুল হাইয়ামের 'হাইমিয়াহ'-এর ওপর লেখা ব্যাখ্যার সারসংক্ষেপ তৈরি করেন। এর বাইরে জ্যামিতি বিজ্ঞানসহ অন্যান্য বিষয়েও তাঁর বিভিন্ন রিসালা (পুস্তিকা) রয়েছে। তাঁর ফতোয়াগুলো অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এবং তাঁর প্রকাশভঙ্গি সুসংহত। সাখাভীর বক্তব্য এখানেই সমাপ্ত।তাঁর ফতোয়া বিষয়ক একটি গ্রন্থ রয়েছে যা এক মহান এবং অত্যন্ত উপকারী কিতাব। তাঁর নিকট থেকে যেসকল বরেণ্য ইমাম শিক্ষা লাভ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন ফকিহ আল্লামা সালেহ আফিফ উদ্দিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান ফাদল (যিনি ইবনুল হাজ নামে পরিচিত), ইমাম আল্লামা জামাল উদ্দিন মুহাম্মদ বিন উমর আবা কদাম, ফকিহ আল্লামা উসমান বিন মুহাম্মদ আল-আমূদী এবং দক্ষ ইমাম ও কাজী মুহাম্মদ বিন উমর বাহরাক।আমি ফকিহ আব্দুল্লাহ বিন আল-হাজ ফাদল (রহিমাহুল্লাহ)-এর স্বহস্তে লিখিত একটি লেখার শেষে দেখেছি—যা তাঁর সমসাময়িক ফকিহদের মাঝে মতবিরোধপূর্ণ একটি মাসআলার উত্তরে ছিল—তাঁর বক্তব্য ছিল এমন: "আমাদের সাইয়্যেদ ও শায়খ ফকিহ আল্লামা আব্দুল্লাহ বিন আহমদ মাখরামা (রহিমাহুল্লাহ) এই ফতোয়া দিয়েছেন এবং তিনি এটি মাযহাবের ইমামগণের বক্তব্যের মর্মার্থ থেকে গ্রহণ করেছেন; আর তিনিই অনুসৃত হওয়ার অধিক যোগ্য।" সমাপ্ত।মোদ্দাকথা, তিনি ছিলেন আমলকারী আলেমদের অবশিষ্ট উত্তরসূরি, তাঁর সময়ে তাঁর কোনো সমকক্ষ ছিল না এবং তাঁর পরে তাঁর মতো আর কেউ আসেনি। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন। জনৈক ওলি তাঁর সম্পর্কে বলতেন যে, তিনি সেই চারজন 'আওতাদ' (স্তম্ভ)-এর একজন যাদের মাধ্যমে আল্লাহ দেশ ও বান্দাদের রক্ষা করেন এবং যাদের মাধ্যমে নগরবাসী ও মরুবাসীকে সাহায্য করেন। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলতেন: "আমার বয়স সত্তর বছর হবে" এবং বাস্তবে তাই হয়েছিল। তাঁর সন্তানদের মধ্যে ছিলেন ফকিহ সুফি উমর, যিনি জ্ঞানে ব্যুৎপত্তি অর্জনের পর তাসাউউফ গ্রহণ করেন। তাসাউউফে তাঁর শায়খ ছিলেন শায়খ আব্দুর রহমান আবা হুরমুজ এবং তাঁর সাথে একটি দীর্ঘ ঘটনা রয়েছে। তাঁর কবিতার অংশবিশেষ হলো: … সহচর্যের যথাযথ হক আদায় করো … এবং তাঁর প্রতি উত্তম শিষ্টাচার বজায় রাখো …
(খণ্ড: ১)
আন-নুরুস সাফির আন আখবারিল করনিল আশির
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
.. وَاعْلَم بأنك عَبده … فِي كل حَال وَهُوَ رب … ونظمه كثير جدا فَهُوَ مُشْتَمل على كثير من اشارات الصُّوفِيَّة واصطلاحاتهم ومسائلهم الدقيقة وَعَلِيهِ حلاوة وَفِيه طلاوة ولاجل هَذَا يحفظه أهل تِلْكَ الْجِهَة كثيرا ويتمثلون بِهِ ويستعملونه غَالِبا فِي مغانيهم ويعتنون بِهِ أَشد الْعِنَايَة حَتَّى الْعَوام وَهُوَ سَلس الْأَلْفَاظ قريب الْمعَانِي يفهمهُ كل أحد بِحَسب حَاله فِي الْمحبَّة المجازية وَنَحْو ذَلِك وَهُوَ مَعَ ذَلِك مُشْتَمل على كثير من الْأَمْثَال المتداولة بَينهم وَمِنْه هَذِه الْوَسِيلَة الْعَظِيمَة الَّتِي اشْتَمَلت على ذكر كثير من اولياء الله رضي الله عنهم وَهِي … يارب بالشيخ الْجُنَيْد وخاله … وشقيق والشبلي وشهرة حَالهوحبِيب العجمي وَدَاوُد فَتى … طي وبصري وَطيب وصالهوبتستري الدَّار سهل وَمَا سرى … بسراه فِي الاسرار من سلسالهوبزهد ابراهيم صفوة ادهم … وفضيل الضافي على افضالهوَبشَارَة كرمان وبابن خفيفهم … متحمل الأثقال من أثقالهوببشر بشر طيب الِاسْم الَّذِي … بحفاه لم يحْتَج لخصف نعالهوالواسطي جمال أَرْبَاب الصَّفَا … جالي صفا أسرارهم بصقالهوجليل جيلان الَّذِي قد توجت … تيجان فَخر من عَظِيم جَلَالهمولَايَ عبد االقادر المنعوت فِي … الملكوت بالبازي لبعد حَلَالهوالشاذلي الْمَدْعُو أَبُو الْحسن الَّذِي … خَفَقت قبُول الْقرب من اقبالهوسفيره المرسي عَيْبَة سره … ومنيل من وَالَاهُ خير نوالهوائمة الْإِسْلَام اعلام الْهدى … وحماة علم الشَّرْع كَاف كَمَالهسفيانها الثَّوْريّ وَابْن عُيَيْنَة … وَأَبُو حنيفَة من جلا بجمالهظلم الْجَهَالَة والمملك مَالك … وَالشَّافِعِيّ وَحزبه وَرِجَالهوبأحمد الْمَحْمُود صفوة حَنْبَل … إِذْ ذَاك لم ينسج على منوالهوبفخر شيراز أبي اسحاقها … وصلاحه المصيون عَن اخلالهوبسره المسرور فَفِي تنبيهه … وبهاء مهذبه وزهو جمالهوبحجة الْإِسْلَام مرشد أَهله … سبل الصَّوَاب بصائبات مقالهببسيطه ووسيطه ووجيزه … وَبِمَا حكى الْأَحْيَاء من أَحْوَاله …
.. এবং জেনে রাখুন যে আপনি তাঁর বান্দা … প্রতিটি অবস্থায়, আর তিনি প্রতিপালক … তাঁর কাব্যরচনাসমূহ অত্যন্ত বিস্তৃত। এটি সূফিদের বহু ইঙ্গিত, তাঁদের পরিভাষা এবং সূক্ষ্ম মাসআলাসমূহে পরিপূর্ণ। এর মধ্যে এক প্রকার মিষ্টতা ও লাবণ্য রয়েছে। এই কারণেই সেই অঞ্চলের অধিবাসীরা এটি প্রচুর মুখস্থ করে, এর মাধ্যমে উপমা প্রদান করে এবং সাধারণত তাদের সংগীতে এটি ব্যবহার করে থাকে। এমনকি সাধারণ মানুষও এর প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল। এর শব্দাবলী সাবলীল এবং অর্থ সহজবোধ্য, যা রূপক প্রেম ও এই জাতীয় বিষয়ে প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থা অনুযায়ী বুঝতে পারে। তদুপরি, এটি তাদের মধ্যে প্রচলিত বহু প্রবাদেরও ধারক। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো এই মহান উসিলা (মাধ্যম), যা আল্লাহর বহু ওলী (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর স্মরণে সমৃদ্ধ। আর তা হলো … হে রব! শায়খ জুনাইদ ও তাঁর মামার উসিলায় … এবং শাকীক ও শিবলী এবং তাঁর আধ্যাত্মিক অবস্থার প্রসিদ্ধির উসিলায়।এবং হাবীব আজমী ও যুবক দাউদ … আত-তায়ী ও বসরী (হাসান বসরী) এবং তাঁর মিলনের পবিত্রতার উসিলায়।এবং তুস্তারী নিবাসী সহলের উসিলায়, আর তাঁর গোপন রহস্যের ধারায় … যা প্রবাহিত হয়েছে তাঁর সেই রহস্যের স্রোতে।এবং ইব্রাহীম ইবনে আদহামের নির্লোভতা ও তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের উসিলায় … এবং ফুযাইলের উসিলায় যাঁর অনুগ্রহসমূহ অত্যন্ত ব্যাপক।এবং কিরমানের বাশারাহ ও ইবনে খফীফের উসিলায় … যিনি তাঁর ভারসমূহের বোঝা বহনকারী।এবং বিশর আল-হাফীর পবিত্র নামের কল্যাণে, যাঁর নাম অত্যন্ত বরকতময় … যিনি খালি পায়ে চলার কারণে জুতো মেরামতের প্রয়োজন বোধ করেননি।এবং ওয়াসিতী যিনি নির্মলচিত্তদের সৌন্দর্য … তিনি তাঁর মার্জিত জ্ঞানের মাধ্যমে তাদের রহস্যের শুভ্রতা ফুটিয়ে তুলেছেন।এবং জিলানের সেই মহান (বড়পীর) যাঁর মহান মর্যাদার কারণে … গৌরবের মুকুটসমূহ সুশোভিত হয়েছে।আমার মাওলা আব্দুল কাদির, যিনি মালেকুত … (ফেরেশতাদের জগত) জগতে 'বাজ' (বাজপাখি) হিসেবে অভিহিত, তাঁর উচ্চ মকামের কারণে।এবং শাযিলী যাঁকে আবু আল-হাসান নামে ডাকা হয় … যাঁর অগ্রসর হওয়ার মাধ্যমে নৈকট্যের কবুলিয়াত স্পন্দিত হয়েছে।এবং তাঁর প্রতিনিধি আল-মুরসী, যিনি তাঁর রহস্যের ভাণ্ডার … এবং যিনি তাঁর অনুসারীদের সর্বোত্তম দান প্রদানকারী।এবং ইসলামের ইমামগণ যাঁরা হেদায়েতের নিদর্শন … এবং শরীয়তের ইলমের রক্ষক এবং এর পূর্ণতার জন্য যথেষ্ট।সুফিয়ান আস-সাওরী এবং ইবনে উয়াইনা … এবং আবু হানিফা যিনি তাঁর সৌন্দর্যের দ্বারা বিদূরিত করেছেন—মূর্খতার অন্ধকার; এবং সার্বভৌমত্বের অধিকারী ইমাম মালেক … এবং শাফেয়ী ও তাঁর অনুসারী ও ব্যক্তিবর্গ।এবং প্রশংসিত আহমদ ইবনে হাম্বলের উসিলায় … সেই সময় তাঁর মতো আর কেউ ছিল না।এবং শিরাযের গৌরব আবু ইসহাকের উসিলায় … এবং তাঁর সেই নেক আমল যা ত্রুটি থেকে সুরক্ষিত।এবং তাঁর আনন্দদায়ক রহস্যের উসিলায়, যা তাঁর 'তানবীহ' কিতাবে রয়েছে … এবং তাঁর 'মুহাযযাব' কিতাবের শোভা ও সৌন্দর্যের জৌলুস।এবং হুজ্জাতুল ইসলাম (ইমাম গাজালী)-এর উসিলায়, যিনি তাঁর অনুসারীদের পথপ্রদর্শক … স্বীয় নির্ভুল বাক্যের মাধ্যমে সঠিক পথের দিকে।তাঁর 'বাসীত', 'ওয়াসীত' ও 'ওয়াজীষ' গ্রন্থের উসিলায় … এবং 'ইহইয়া' গ্রন্থে বর্ণিত তাঁর আধ্যাত্মিক অবস্থার উসিলায় …