(খণ্ড: ১) আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ (পৃষ্ঠা: -)
أحكام الاختلاف في رؤية هلال ذي الحجة   (ابن رجب الحنبلي)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: أحكام الاختلاف في رؤية هلال ذي الحجة

المؤلف: زين الدين عبد الرحمن بن أحمد بن رجب بن الحسن، السَلامي، البغدادي، ثم الدمشقي، الحنبلي (ت 795هـ)

دراسة وتحقيق: أ. د. عبد الله بن عبد العزيز الجبرين

الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع، مكة المكرمة

الطبعة: الأولى، 1422 هـ

عدد الصفحات: 67

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে মতভেদের বিধানসমূহ   (ইবনে রজব আল-হাম্বলি)

বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ


বই: জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে মতভেদের বিধানসমূহ

লেখক: জয়নুদ্দিন আবদুর রহমান ইবনে আহমদ ইবনে রজব ইবনে আল-হাসান, আস-সালামি, আল-বাগদাদি, অত:পর আদ-দিমাশকি, আল-হাম্বলি (মৃত্যু ৭৯৫ হিজরি)

গবেষণা ও সম্পাদনা: প্রফেসর ডক্টর আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ আল-জাবরিন

প্রকাশক: দার আলম আল-ফাওয়ায়িদ পাবলিকেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, মক্কা মুকাররামা

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৭

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ (পৃষ্ঠা: -)
أحكام الاختلاف

في رؤية هلال ذي الحجة

[قاعدة: غم هلال ذي الحجة]

 

تأليف

الحَافِظِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ رَجَبٍ الحَنبَلِيّ

736 هـ ـ 795 هـ

 

تحقيق ودراسة

د. عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ العَزِيْزِ الجِبْرِيْن

الأستاذ المشارك بكلية المعلمين بالرّياض

 

قام بتنسيق الرِّسالة ونشرها:

سَلمَانُ بْنُ عَبْدِ القَادِرِ أبُوْ زَيْدٍ

غَفَرَ اللَّهُ لَهُ، ولِوَالدَيْهِ، ولِمَشَايخِهِ، ولجَمِيْعِ المُسْلِمِيْنَ.
মতভেদ সংক্রান্ত বিধানসমূহ

জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা প্রসঙ্গে

[মূলনীতি (قاعدة): জিলহজ মাসের চাঁদ মেঘাচ্ছন্ন থাকা]

 

রচনায়

হাফেজ (الحافظ) আবদুর রহমান ইবনে আহমদ ইবনে রজব আল-হাম্বলি

৭৩৬ হিজরি — ৭৯৫ হিজরি

 

তাহকিক (تحقيق) ও গবেষণা

ড. আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল আজিজ আল-জিবরিন

রিয়াদের টিচার্স কলেজের সহযোগী অধ্যাপক

 

পুস্তিকাটি বিন্যাস ও প্রকাশ করেছেন:

সালমান ইবনে আবদুল কাদির আবু যায়েদ

আল্লাহ তাকে, তার পিতা-মাতাকে, তার উস্তাদদের এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌«مُقَدِّمَةُ التَّحْقِيقِ» :

 

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونستهديه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله صلى الله عليه وآله وسلم أما بعد:

 

فهذه رسالة كتبها الإمام الحافظ الفقيه أبو الفرج عبد الرحمن بن رجب الحنبلي رحمه الله، وهي تتعلق بمسألة هامة، هي: الاختلاف في رؤية هلال ذي الحجة.

 

وقد وجدت لهذه الرسالة ثلاث نسخ خطية هي:

 

الأولى: نسخة بالمكتبة السعودية بالرياض، تحت رقم (527 / 86) ضمن مجموعة، عليه تمليك للشيخ محمد بن عبد اللطيف (1) رحمه الله، وعدد صفحاتها عشر

--------------------------------------------

(1) هو الشيخ محمد بن عبد اللطيف بن عبد الرحمن بن حسن بن الشيخ محمد بن عبد الوهاب، ولد في الرياض، ونشأ في بيت علم وصلاح، فحفظ القرآن، ثم شرع في طلب العلم بهمة عالية ونشاط مستمر، فقرأ على علماء بلده، حتى نبغ في كثير من العلوم الشرعية، حتى عُدَّ من كبار علماء وقته، وقد عيَّنه الملك عبد العزيز رحمه الله في أول عهده قاضيا لمنطقة القويعية، ثم نقله قاضيا لمنطقة الوشم، ثم بعثه إلى عسير والحجاز داعية ومرشدًا، ثم عيَّنه قاضيا في الرياض، وكان إلى جانب عمله في القضاء يقوم بالتدريس والإفتاء، وكانت وفاته رحمه الله في الرياض عام 1367 هـ. ينظر في ترجمته علماء نجد 3 / 849، 850، روضة الناظرين 2 / 267- 273، مشاهير علماء نجد وغيرهم ص 146، 147، مجلة العرب، السنة 16، ص 2، 3
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

 

‌‌«সম্পাদনার (تحقيق) ভূমিকা» :

 

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই, তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট হেদায়েত কামনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম। অতঃপর:

 

এটি একটি পুস্তিকা যা ইমাম, হাফিজ (الحافظ), ফকিহ (الفقيه) আবু আল-ফারাজ আবদুর রহমান ইবনে রজব আল-হাম্বলী (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) রচনা করেছেন। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট, আর তা হলো: জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা নিয়ে মতভেদ।

 

আমি এই পুস্তিকাটির তিনটি পাণ্ডুলিপি (نسخة خطية) পেয়েছি, সেগুলো হলো:

 

প্রথমটি: রিয়াদের সৌদি লাইব্রেরিতে রক্ষিত পাণ্ডুলিপি (نسخة خطية), যার নম্বর (৫২৭ / ৮৬), এটি একটি সংগ্রহের অন্তর্ভুক্ত। এতে শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল লতিফ (১) (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর মালিকানা স্বত্ব (تمليك) রয়েছে এবং এর পৃষ্ঠা সংখ্যা দশ।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল লতিফ বিন আব্দুল রহমান বিন হাসান বিন শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব। তিনি রিয়াদে জন্মগ্রহণ করেন এবং ইলম ও নেক আমলের পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। তিনি কুরআন হিফজ করেন, এরপর উচ্চ মনোবল ও নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার সাথে ইলম অর্জন শুরু করেন। তিনি নিজ শহরের আলেমদের নিকট পাঠ গ্রহণ করেন, এমনকি অনেক শরয়ি বিজ্ঞানে পারদর্শিতা অর্জন করেন এবং তাঁর সময়ের বড় আলেমদের মধ্যে গণ্য হন। বাদশাহ আব্দুল আজিজ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) তাঁর শাসনামলের শুরুতে তাঁকে আল-কুওয়াইয়্যাহ অঞ্চলের বিচারক (قاضي) হিসেবে নিযুক্ত করেন, এরপর তাঁকে আল-ওয়াশম অঞ্চলের বিচারক (قاضي) হিসেবে স্থানান্তরিত করেন। এরপর তাঁকে আসির ও হিজাজে দাওয়াত দানকারী (داعية) ও পথপ্রদর্শক হিসেবে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে তাঁকে রিয়াদের বিচারক (قاضي) হিসেবে নিযুক্ত করেন। বিচারিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি শিক্ষাদান ও ফতোয়া (فتوى) প্রদানের কাজও করতেন। ১৩৬৭ হিজরিতে রিয়াদে তাঁর মৃত্যু হয় (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)। তাঁর জীবনী দেখুন: 'উলামায়ে নজদ' ৩/৮৪৯, ৮৫০; 'রওদাতুন নাজিরিন' ২/২৬৭-২৭৩; 'মাশাহিরু উলামায়ে নজদ ওয়া গাইরুহুম' পৃষ্ঠা ১৪৬, ১৪৭; 'মাজাল্লাতুল আরব', ১৬তম বর্ষ, পৃষ্ঠা ২, ৩।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
صفحات ونصف صفحة، في كل صفحة تسعة عشر سطرا، وقد كتبت بخط واضح، ولم يذكر اسم ناسخها، وقد رمزت لهذه النسخة بالحرف "م ".

الثانية: نسخة بمكتبة جامعة الملك سعود بالرياض، تحت رقم (1817 / 3 م) ، ضمن مجموعة كتب الشيخ عبد المحسن بن عبيد (1) رحمه الله، وقد ذكر رحمه الله في آخر هذه الرسالة أنه نقلها عام 1361 هـ من قلم من حمى

--------------------------------------------

(1) هو الشيخ عبد المحسن بن عبيد بن عبد المحسن بن عبيد، ولد في مدينة بريدة عاصمة القصيم عام 1319 هـ، ونشأ بها، وطلب العلم على يد علمائها، له مؤلفات أشهرها كتاب (الهداية والإرشاد إلى طريق الهدى والرشاد) . وقد اشتُهر رحمه الله بالزهد والورع، وكان ذا خط حسن، وقد خط بيده كتبا كثيرة. توفي رحمه الله سنة 1364 هـ. ينظر في ترجمته الترجمة التي كتبها ابن أخيه عبد المحسن بن فهد العبيد في أول كتابه (الهداية والإرشاد) ، وكتاب (تذكرة أولي النهي والعرفان) لأخي المترجم له إبراهيم بن عبيد 4 / 212- 218
সাড়ে তিন পৃষ্ঠা, প্রতি পৃষ্ঠায় উনিশটি করে লাইন রয়েছে। এটি স্পষ্ট হস্তাক্ষরে লিখিত এবং এর অনুলিপিকারীর (ناسخ) নাম উল্লেখ করা হয়নি। আমি এই পাণ্ডুলিপিটিকে (نسخة) 'মীম' (م) বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

দ্বিতীয়টি: রিয়াদের কিং সউদ বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত একটি পাণ্ডুলিপি (نسخة), যার নম্বর (১৮১৭ / ৩ ম)। এটি শেখ আব্দুল মুহসিন বিন উবাইদ (১) (রহ.)-এর কিতাব সংগ্রহের অন্তর্ভুক্ত। তিনি (রহ.) এই রিসালাহর শেষে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এটি ১৩৬১ হিজরি সালে যিনি এটি সংরক্ষণ করেছিলেন তাঁর লেখনী থেকে অনুলিপি করেছেন।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন শেখ আব্দুল মুহসিন বিন উবাইদ বিন আব্দুল মুহসিন বিন উবাইদ। তিনি কাসিমের রাজধানী বুরাইদাহ শহরে ১৩১৯ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। তিনি সেখানকার আলেমদের (علماء) কাছে জ্ঞান (علم) অর্জন করেন। তাঁর বেশ কিছু রচনা রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো আল-হিদায়া ওয়াল ইরশাদ ইলা তরিকিল হুদা ওয়ার রাশাদ। তিনি (রহ.) দুনিয়াবিমুখতা (زهد) ও পরহেজগারির (ورع) জন্য সুপরিচিত ছিলেন। তাঁর হস্তাক্ষর অত্যন্ত সুন্দর ছিল এবং তিনি নিজ হাতে অনেক কিতাব অনুলিপি করেছিলেন। তিনি ১৩৬৪ হিজরি সালে ইন্তেকাল করেন। তাঁর জীবনবৃত্তান্ত (ترجمة) জানার জন্য তাঁর ভাতিজা আব্দুল মুহসিন বিন ফাহাদ আল-উবাইদ কর্তৃক আল-হিদায়া ওয়াল ইরশাদ কিতাবের শুরুতে লিখিত জীবনী এবং যাঁর জীবনী আলোচনা করা হয়েছে (المترجم له) তাঁর ভাই ইব্রাহিম বিন উবাইদ রচিত তাযকিরাতু উলিন নুহা ওয়াল ইরফান ৪/ ২১২- ২১৮ দেখা যেতে পারে।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
نفسه: فراج بن منصور بن سابق النجدي (1) الذي كتبها سنة 1228 هـ (2) . وعدد صفحاتها ثمان صفحات وثمانية أسطر، في كل صفحة سبعة وعشرون سطرا، وهي مقابلة على نسخة أخرى، وقد رمزت لها بالحرف "ع ".

 

الثالثة: نسخة بمكتبة الشيخ سعد بن عبد الرحمن بن قاسم (3) ، والذي يعمل مدرسا بمعهد الرياض العلمي، وهي بخط والده الشيخ: عبد الرحمن بن محمد بن قاسم، وعدد صفحاتها أربع صفحات، في كل صفحة ثلاثون سطرا، وقد رمزت لها بالحرف " ق".

--------------------------------------------

(1) الحنبلي، المتوفى سنة 1246 هـ تقريبا. انظر السحب الوابلة ص 331.

(2) انظر ص (37) تعليق، (4) من هذه الرسالة.

(3) هو الشيخ عبد الرحمن بن محمد بن قاسم العاصمي القحطاني النجدي الحنبلي، صاحب المؤلفات النافعة والتي من أشهرها: (حاشية كتاب التوحيد) ، (والإحكام شرح أصول الأحكام) (وحاشية الروض المربع) . ومن أعماله الجليلة جمع وترتيب فتاوى شيخ الإسلام ابن تيمية. توفي رحمه الله سنة 1392 هـ. ينظر في ترجمته: علماء نجد خلال ستة قرون 2 / 414- 416، الترجمة التي كتبها الشيخ عبد الله بن عبد الرحمن بن جبرين في أول الجزء الأول من حاشية الروض المربع للمترجم له، الأعلام 3 / 336، مجلة العرب، السنة 16، س8، 9، مشاهير علماء نجد ص 432-434
নিজেই: ফাররাজ ইবনে মানসুর ইবনে সাবিক আল-নাজদি (১) যিনি এটি ১২২৮ হিজরিতে (২) লিপিবদ্ধ করেছেন। এর পৃষ্ঠা সংখ্যা আটটি পৃষ্ঠা এবং আটটি লাইন, প্রতি পৃষ্ঠায় সাতাশটি লাইন রয়েছে। এটি অন্য একটি পাণ্ডুলিপির (نسخة) সাথে মুকাবিলা (مقابلة) করা হয়েছে এবং আমি একে 'আইন' (ع) অক্ষর দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

 

তৃতীয়টি: শেখ সাদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে কাসিমের (৩) লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত একটি পাণ্ডুলিপি (نسخة), যিনি রিয়াদ ইলমি ইনস্টিটিউটে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। এটি তাঁর পিতা শেখ আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে কাসিমের হস্তাক্ষরে লিখিত। এর পৃষ্ঠা সংখ্যা চারটি, প্রতি পৃষ্ঠায় ত্রিশটি লাইন রয়েছে। আমি একে 'ক্বাফ' (ق) অক্ষর দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

--------------------------------------------

(১) আল-হাম্বলি, আনুমানিক ১২৪৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: আল-সুহুবুল ওয়াবিলাহ, পৃষ্ঠা ৩৩১।

(২) এই রিসালার (رسالة) ৩৭ পৃষ্ঠার ৪ নম্বর টীকা দেখুন।

(৩) তিনি হলেন শেখ আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে কাসিম আল-আসিমী আল-কাহতানি আল-নাজদি আল-হাম্বলি। তিনি বহু উপকারী গ্রন্থের রচয়িতা, যার মধ্যে সুপ্রসিদ্ধ হলো: (হাশিয়াতু কিতাবিত তাওহিদ), (আল-ইহকাম শারহু উসুলিল আহকাম) এবং (হাশিয়াতুর রওদিল মুরবি)। তাঁর মহান কর্মসমূহের অন্যতম হলো শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার ফতোয়াসমূহ সংগ্রহ ও বিন্যাস করা। তিনি ১৩৯২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (রাহিমাহুল্লাহ)। তাঁর জীবনী (ترجمة) সম্পর্কে দেখুন: উলামাউ নাজদি খিলালা সিত্তাতি কুরুন ২/৪১৪-৪১৬; শায়খ আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে জিবরিন কর্তৃক এই ব্যক্তির জীবনী (ترجمة) যা হাশিয়াতুর রওদিল মুরবি-এর প্রথম খণ্ডের শুরুতে লিখিত হয়েছে; আল-আ’লাম ৩/৩৩৬; মাজাল্লাতুল আরব, ১৬তম বর্ষ, সংখ্যা ৮, ৯; মাশাহিরু উলামাউ নাজদ, পৃষ্ঠা ৪৩২-৪৩৪।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وتتضح أهمية تحقيق هذه الرسالة في النقاط التالية:

 

1 - أن الموضوع الذي ألفت من أجله موضوع هام يحتاج الناس في كل وقت إلى معرفة الأحكام المتعلقة به، لتعلقه بركن من أركان الإسلام وهو الحج، بل يتعلق بأهم أركانه وهو الوقوف بعرفة.

2 - أن موضوع الرسالة ومواضيع أخرى هامة تعرضت لها كالاختلاف في هلال رمضان، والاختلاف في هلال شوال وغيرها تمس الحاجة إلى معرفة القول الصحيح فيها، لكثرة وقوع الاختلاف في كل مسألة من هذه المسائل.

 

3 - أن هذه الرسالة تبرز وتتعرض لحكم شرعي يدل على يسر هذا الدين وسماحته، وهو الحكم بصحة عبادات المسلمين عند خطئهم في وقت دخول شهر ذي الحجة، أو وقت دخوله شهر رمضان أو خروجه.

 

4 - أن القول الذي مال إليه المؤلف في هده المسألة الهامة فيه جمع لكلمة المسلمين، ومنع للاختلاف والفرقة وتشتيت الكلمة، وفيه قطع لكثرة القيل والقال.
এই অভিসন্দর্ভটির সম্পাদনার (تحقيق) গুরুত্ব নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়:

 

১ - যে বিষয়টি কেন্দ্র করে এটি রচনা করা হয়েছে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানাবলি জানার প্রয়োজনীয়তা মানুষের সব সময়ই থাকে। কারণ এটি ইসলামের অন্যতম রুকন হজের সাথে সম্পৃক্ত, বরং এটি হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুকন আরাফায় অবস্থানের সাথে সংশ্লিষ্ট।

২ - এই অভিসন্দর্ভের মূল প্রতিপাদ্য এবং এর অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ—যেমন রমজানের চাঁদ দেখা নিয়ে মতভেদ, শাওয়ালের চাঁদ দেখা নিয়ে মতভেদ ইত্যাদি ক্ষেত্রে সঠিক (صحيح) মতটি জানার তীব্র প্রয়োজন রয়েছে। কেননা এই বিষয়গুলোর প্রত্যেকটিতে প্রচুর মতভেদ পরিলক্ষিত হয়।

 

৩ - এই অভিসন্দর্ভটি এমন একটি শরয়ি বিধানকে ফুটিয়ে তোলে যা এই দ্বীনের সহজতা ও উদারতার প্রমাণ দেয়; আর তা হলো—জিলহজ মাস শুরু হওয়া অথবা রমজান মাস শুরু বা শেষ হওয়ার সময় নির্ধারণে ভুল হলেও মুসলিমদের ইবাদত সঠিক (صحة) হওয়ার বিধান।

 

৪ - এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে লেখক যে মতটির দিকে ঝুঁকেছেন, তাতে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য নিহিত রয়েছে এবং এটি মতভেদ, অনৈক্য ও বিভক্তি রোধ করে। পাশাপাশি এটি অনর্থক কথা ও বিতর্কের অবসান ঘটায়।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
وقد انحصر عملي في هذه الرسالة في الأمور الآتية:

 

1 - تصحيح النص، وقد اعتمدت النص الصحيح وأشير إلى غيره في الحاشية.

 

2 - دراسة جميع الموضوعات التي تعرض لها المؤلف بذكر أدلتها باختصار، إن لم يكن المؤلف تعرض لها، وإن كان في المسألة خلاف لم يتعرض له المؤلف ذكرته مع دليله بشيء من الاختصار، ثم ذكرت القول الراجح وسبب الترجيح.

 

3 - تخريج جميع الأحاديث والآثار التي ساقها المؤلف وذكر طرقها وشواهدها والحكم على إسناد كل رواية من حيث القوة والضعف.

ولم يذكر المؤلف لهذه الرسالة عنوانا، وقد ذكرها ابن عبد الهادي ضمن مؤلفات ابن رجب، وأسماها: " قاعدة: غم هلال ذي الحجة " (1) ولعله أخذ هذا العنوان من قول المؤلف في مقدمة هذه الرسالة: " فقد وقع في هذا العام وهو عام أربعة وثمانين وسبعمائة حادثة وهو أنه غم هلال ذي الحجة فأكمل الناس هلال ذي القعدة. . . "

--------------------------------------------

(1) الجوهر المنضد ص 51.
এই পুস্তিকায় আমার কাজ নিম্নোক্ত বিষয়সমূহে সীমাবদ্ধ ছিল:

 

১ - মূল পাঠ সংশোধন; আমি সঠিক পাঠের ওপর নির্ভর করেছি এবং অন্য সংস্করণগুলোর কথা টীকায় উল্লেখ করেছি।

 

২ - লেখক যে সকল বিষয় আলোচনা করেছেন সেগুলো সংক্ষেপে দলীলসহ পর্যালোচনা করা, যদি লেখক তা উল্লেখ না করে থাকেন। আর যদি কোনো বিষয়ে মতভেদ থাকে যা লেখক আলোচনা করেননি, তবে আমি তা সংক্ষেপে দলীলসহ উল্লেখ করেছি; অতঃপর অধিকতর গ্রহণযোগ্য মত (القول الراجح) এবং অগ্রাধিকার প্রদানের (الترجيح) কারণ বর্ণনা করেছি।

 

৩ - লেখক উপস্থাপিত সকল হাদিস এবং আসার (الآثار) এর উৎস নির্দেশ (تخريج) করা এবং সেগুলোর বর্ণনাপথ (طرق) ও সমর্থক বর্ণনা (شواهد) উল্লেখ করা; সেই সাথে প্রতিটি বর্ণনার সনদ (إسناد) শক্তিশালী (القوة) হওয়া বা দুর্বল (الضعف) হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত (الحكم) প্রদান করা।

লেখক এই পুস্তিকার কোনো শিরোনাম উল্লেখ করেননি। ইবনে আব্দুল হাদি একে ইবনে রজবের রচনাবলির অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং এর নামকরণ করেছেন: "কায়েদাহ: গাম্মু হিলালি জিলহাজ্জাহ" (১)। সম্ভবত তিনি এই শিরোনামটি পুস্তিকার ভূমিকায় লেখকের এই বক্তব্য থেকে গ্রহণ করেছেন: "নিশ্চয়ই এই বছর অর্থাৎ ৭৮৪ হিজরিতে একটি ঘটনা ঘটেছে, তা হলো যিলহজ মাসের চাঁদ মেঘাচ্ছন্ন ছিল, ফলে মানুষ যিলকদ মাস পূর্ণ গণনা করেছিল..."

--------------------------------------------

(১) আল-জাওহারুল মুনাসসাদ, পৃষ্ঠা ৫১।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
وقد اخترت لها عنوانا يعبر عن مضمونها ومحتواها، وهو: " أحكام الاختلاف في رؤية هلال ذي الحجة ".

‌‌«ترجمة المؤلف (1) » :

 

هو الإمام الحافظ الفقيه الواعظ الزاهد أبو الفرج زين الدين عبد الرحمن بن أحمد بن رجب الحسن بن محمد بن أبي البركات السلامي، البغدادي ثم الدمشقي.

 

ولد في بغداد سنة 736 هـ، وكان والده وجده من أهل العلم والصلاح (2) ، وقد عني والده بتعليمه عناية كبيرة، فكان يحضره إلى مجالس العلم وهو صغير قبل

--------------------------------------------

(1) ينظر في ترجمته: المقصد الأرشد 12 / 81، 82، الجوهر المنضد ص 46-53، لحظ الألحاظ ص 180- 182، الرد الوافر ص 106، 107، أنباء الغمر 3 / 175، 176، الدرر الكامنة 2 / 428، 429، الدارس 2 / 76، ذيل تذكرة الحفاظ للسيوطي 5 / 367، طبقات الحافظ ص 540، شذرات الذهب 6 / 339، 340، البدر الطالع 1 / 328، السحب الوابلة ص 197، 198، مختصر طبقات الحنابلة ص 71، 72، هدية العارفين 10 / 527، فهرس الفهارس 2 / 636، 637، الرسالة المستطرفة ص 111، معجم المؤلفين 5 / 118، الأعلام 3 / 295، مقدمة تحقيق كتاب شرح العلل للمؤلف التي كتبها الدكتور همام عبد الرحيم.

(2) الدارس 2 / 76، المقصد الأرشد 2 / 81، شذرات الذهب 6 / 339.
আমি এর জন্য এমন একটি শিরোনাম নির্বাচন করেছি যা এর বিষয়বস্তু ও অন্তর্নিহিত তাৎপর্যকে প্রকাশ করে, আর তা হলো: "জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা সংক্রান্ত মতপার্থক্যের বিধানসমূহ"।

‌‌«লেখকের জীবনী (১) » :

 

তিনি হলেন ইমাম (الإمام), হাফিজ (الحافظ), ফকিহ (الفقيه), ওয়ায়েজ (الواعظ) ও জাহিদ (الزاهد) আবু আল-ফারাজ যাইন উদ্দিন আবদুর রহমান ইবনে আহমদ ইবনে রজব আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবিল বারাকাত আস-সালামি, আল-বাগদাদি অতঃপর আদ-দিমাশকি।

 

তিনি ৭৩৬ হিজরি সনে বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ও দাদা ইলম ও নেক আমলের অধিকারী ছিলেন (২)। তাঁর পিতা তাঁর শিক্ষার ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন। তিনি তাঁকে শৈশবেই ইলমি মজলিসসমূহে উপস্থিত করাতেন...

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনীর জন্য দেখুন: আল-মাকসাদুল আরশাদ ১২/৮১, ৮২; আল-জাওহারুল মুনাদ্দাদ পৃ. ৪৬-৫৩; লাহজুল আলহাজ পৃ. ১৮০-১৮২; আর-রাদ্দুল ওয়াফির পৃ. ১০৬, ১০৭; আনবাউল গুমর ৩/১৭৫, ১৭৬; আদ-দুরারুল কামিনাহ ২/৪২৮, ৪২৯; আদ-দারিস ২/৭৬; সুয়ুতির যাইলো তাযকিরাতিল হুফফাজ ৫/৩৬৭; তাবাকাতুল হাফিজ পৃ. ৫৪০; শাযারাতুয যাহাব ৬/৩৩৯, ৩৪০; আল-বাদরুত্তালি ১/৩২৮; আস-সুহুবুল ওয়াবিলাহ পৃ. ১৯৭, ১৯৮; মুখতাসারু তাবাকাতিল হানাবিলাহ পৃ. ৭১, ৭২; হাদিয়াতুল আরিফিন ১০/৫২৭; ফিহরিসুল ফাহারিস ২/৬৩৬, ৬৩৭; আর-রিসালাতুল মুসতাতরাফাহ পৃ. ১১১; মুজামুল মুআল্লিফিন ৫/১১৮; আল-আলাম ৩/২৯৫; ড. হাম্মাম আবদুর রহিম কর্তৃক লিখিত লেখকের শারহুল ইলাল গ্রন্থের তাহকিকের ভূমিকা।

(২) আদ-দারিস ২/৭৬; আল-মাকসাদুল আরশাদ ২/৮১; শাযারাতুয যাহাব ৬/৩৩৯।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
التمييز في السنة الثالثة والرابعة والخامسة والسادسة من عمره (1) ، ثم رحل به والده إلى دمشق ونابلس والقدس فسمع من علماء هذه البلاد وهو صغير (2) ، ثم رجع إلى بغداد فسمع الحديث بها من بعض علمائها (3) ، ثم حج مع والده سنة 749 هـ فسمع الحديث بمكة (4) ، ثم رجع معه إلى دمشق، وبها لازم الإمام ابن القيم أكثر من سنة حتى توفي سنة 751 هـ، وسمع عليه قصيدته النونية في العقيدة وأشياء من تصانيفه وغيرها (5) ، ثم رحل مع والده إلى مصر، فسمع من بعض علمائها (6) .

 

وقد أكثر الحافظ ابن رجب من سماع الحديث، وقرأ القران بالروايات (7) ، ودرس الفقه على كثير من شيوخه،

--------------------------------------------

(1) ذيل طبقات الحنابلة للمؤلف 1 / 67، و 2 / 176، 213، 214، 436.

(2) ذيل طبقات الحنابلة 2 / 109، 365، شذرات الذهب 6 / 339، الدرر الكامنة 2 / 429.

(3) ذيل طبقات الحنابلة 1 / 289.

(4) المرجع السابق 2 / 444.

(5) ذيل طبقات الحنابلة 2 / 444، السحب الوابلة ص 197.

(6) أنباء الغمر 3 / 175، الدارس 2 / 77، المقصد الأرشد 8232، وينظر الذيل على طبقات الحنابلة 2 / 41، 82.

(7) الدرر الكامنة 2 / 429.
তিনি তাঁর জীবনের তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ বর্ষে অনুধাবন ক্ষমতা (التمييز) অর্জন করেন (১), অতঃপর তাঁর পিতা তাঁকে নিয়ে দামেস্ক, নাবলুস ও জেরুজালেম সফর করেন এবং তিনি শৈশবকালেই এসব অঞ্চলের আলেমদের নিকট থেকে শ্রবণ (سمع) করেন (২)। এরপর তিনি বাগদাদে ফিরে আসেন এবং সেখানকার কিছু আলেমের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন (৩)। পরবর্তীতে ৭৪৯ হিজরি সনে তিনি তাঁর পিতার সাথে হজ পালন করেন এবং মক্কায় হাদিস শ্রবণ করেন (৪)। এরপর তিনি পুনরায় তাঁর সাথে দামেস্কে ফিরে আসেন এবং সেখানে ইমাম ইবনুল কাইয়্যিমের সান্নিধ্যে এক বছরেরও বেশি সময় অতিবাহিত করেন, এমনকি তিনি (ইবনুল কাইয়্যিম) ৭৫১ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। তিনি তাঁর নিকট আকিদা (العقيدة) বিষয়ক তাঁর কাসিদায়ে নুনিয়্যাহ এবং তাঁর রচিত গ্রন্থাবলিসহ অন্যান্য বিষয় শ্রবণ (سمع) করেন (৫)। এরপর তিনি তাঁর পিতার সাথে মিশরে সফর করেন এবং সেখানকার কিছু আলেমের নিকট থেকে শ্রবণ করেন (৬)।

 

হাফিজ (الحافظ) ইবনে রজব প্রচুর পরিমাণে হাদিস শ্রবণ (سماع) করেছেন এবং বিভিন্ন বর্ণনাশৈলী (الروايات) অনুযায়ী কুরআন পাঠ করেছেন (৭)। এছাড়া তিনি তাঁর অনেক শিক্ষকের নিকট ফিকহ (الفقه) অধ্যয়ন করেছেন।

--------------------------------------------

(১) লেখকের সংকলিত যাইলু তাবাকাতিল হানাবিলা ১/৬৭ এবং ২/১৭৬, ২১৩, ২১৪, ৪৩৬।

(২) যাইলু তাবাকাতিল হানাবিলা ২/১০৯, ৩৬৫, শাযারাতুয যাহাব ৬/৩৩৯, আদ-দুরারুল কামিনাহ ২/৪২৯।

(৩) যাইলু তাবাকাতিল হানাবিলা ১/২৮৯।

(৪) পূর্বোক্ত সূত্র ২/৪৪৪।

(৫) যাইলু তাবাকাতিল হানাবিলা ২/৪৪৪, আস-সুহুবুল ওয়াবিলাহ পৃষ্ঠা ১৯৭।

(৬) ইনবাউল গুমর ৩/১৭৫, আদ-দারিস ২/৭৭, আল-মাকসাদুল আরশাদ ৮২৩২ এবং দ্রষ্টব্য যাইলু আলা তাবাকাতিল হানাবিলা ২/৪১, ৮২।

(৭) আদ-দুরারুল কামিনাহ ২/৪২৯।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
وحفظ بعض المتون الفقهية في الفقه الحنبلي (1) .

وقد استقر رحمه الله بعد تلك الرحلات الكثيرة في دمشق، وتفرغ للتعليم والتأليف والوعظ، فأقبل الطلاب على دروسه، وتتلمذوا على يديه، وأخذوا عنه الفقه، واستفادوا من علمه (2) .

 

وقد برز الحافظ ابن رجب في فنون كثيرة من علوم الشريعة، فقد برز في علوم الحديث، وكان ذا معرفة واسعة بالرجال وبطرق الأحاديث وعللها ومعانيها، وبرز أيضا في الفقه، وكانت له مجالس تذكير ووعظ نافعة.

 

وكان صاحب عقيدة صافية نقية، وقد ألف رسالة في تفضيل علم السلف على علم الخلف (3) .

وقد أثنى عليه غير واحد من أهل العلم:

 

قال ابن ناصر الدين: " الشيخ الإمام العلامة الزاهد القدوة، البركة الحافظ العمدة الثقة الحجة، واعظ المسلمين،

--------------------------------------------

(1) ذيل طبقات الحنابلة 2 / 432.

(2) الجوهر المنضد ص 52، الشذرات 6 / 339، 340، المقصد الأرشد 2 / 237، 265، الضوء اللامع 2 / 234، و 4 / 82، 137، و 6 / 34.

(3) ينظر مؤلفاته في هذه المقدمة ص (10) .
এবং তিনি হাম্বলি ফিকহের কিছু ফিকহশাস্ত্রীয় মূলপাঠ (متون) মুখস্থ করেছিলেন (১)।

আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, সেই দীর্ঘ সফরের পর তিনি দামেস্কে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং শিক্ষাদান, গ্রন্থ রচনা ও উপদেশের কাজে মনোনিবেশ করেন। ফলে শিক্ষার্থীরা তাঁর পাঠের প্রতি ধাবিত হয় এবং তাঁর নিকট ছাত্রত্ব গ্রহণ করে। তারা তাঁর নিকট থেকে ফিকহ অর্জন করে এবং তাঁর জ্ঞান থেকে উপকৃত হয় (২)।

 

হাফিজ ইবনে রজব শরিয়তের বহু বিদ্যায় পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন। তিনি হাদিসশাস্ত্রে প্রসিদ্ধি লাভ করেন এবং বর্ণনাকারী (رجال), হাদিসের সূত্রসমূহ (طرق), সেগুলোর সূক্ষ্ম ত্রুটি (علل) ও মর্মার্থ সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। এছাড়া তিনি ফিকহ শাস্ত্রেও পারদর্শিতা লাভ করেন এবং তাঁর অত্যন্ত ফলপ্রসূ নসিহত ও উপদেশের মজলিস ছিল।

 

তিনি স্বচ্ছ ও বিশুদ্ধ আকিদার অধিকারী ছিলেন। তিনি 'পরবর্তীদের জ্ঞানের ওপর পূর্ববর্তীদের জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব' (৩) শিরোনামে একটি পুস্তিকা রচনা করেছিলেন।

একাধিক আলেম তাঁর প্রশংসা করেছেন:

 

ইবন নাসিরুদ্দিন বলেন: "তিনি ছিলেন শায়খ, ইমাম, আল্লামা, দুনিয়াবিমুখ, আদর্শ ব্যক্তিত্ব, বরকতস্বরূপ, হাফিজ, নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ, নির্ভরযোগ্য (ثقة), অকাট্য প্রমাণ (حجة), মুসলিমদের উপদেশদাতা,

--------------------------------------------

(১) যাইলে তাবাকাতিল হানাবিলা ২ / ৪৩২।

(২) আল-জাওহারুল মুনাসসাদ পৃষ্ঠা ৫২, আশ-শাযারাত ৬ / ৩৩৯, ৩৪০, আল-মাকসাদুল আরশাদ ২ / ২৩৭, ২৬৫, আদ-দাওউল লামি ২ / ২৩৪, এবং ৪ / ৮২, ১৩৭, এবং ৬ / ৩৪।

(৩) এই ভূমিকার ১০ পৃষ্ঠায় তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ দ্রষ্টব্য।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
مفيد المحدثين،. . أحد الأئمة الزهاد والعلماء العباد " (1) .

 

وقال ابن فهد: " الإمام الحافظ الحجة، والفقيه العمدة، أحد العلماء الزهاد الأئمة العباد، مفيد المحدثين، واعظ المسلمين،. . كان رحمه الله إماما ورعا زاهدا مالت القلوب بالمحبة إليه، وأجمعت الفرق عليه، كانت مجالس تذكيره للقلوب وللناس عامة نافعة وللقلوب صادعة " (2) .

وقال ابن العماد الحنبلي: " الشيخ الإمام العالم العلامة، الزاهد القدوة البركة، الحافظ العمدة الثقة الحجة وكانت مجالس تذكيره للقلوب وللناس عامة مباركة نافعة، اجتمعت الفرق عليه، ومالت القلوب بالمحبة إليه، وله مصنفات مفيدة ومؤلفات عديدة. . وكان لا يعرف شيئا من أمور الناس ولا يتردد إلى أحد من ذوي الولايات " (3) .

 

وقال ابن المبرد: " الشيخ الإمام، أوحد الأنام، قدوة الحفاظ، جامع الشتات والفضائل،. . الفقيه الزاهد البارع

--------------------------------------------

(1) الرد الوافر ص 106.

(2) لحظ الألحاظ 5 / 180، 181.

(3) شذرات الذهب 6 / 339.
মুহাদ্দিসগণের উপকারকারী, .. অন্যতম জাহিদ ইমাম এবং ইবাদতগুজার আলেম" (১) ।

 

এবং ইবনে ফাহদ বলেন: "ইমাম, হাফেজ (الحافظ), হুজ্জাহ (الحجة), নির্ভরযোগ্য ফকিহ, জাহিদ আলেম ও ইবাদতগুজার ইমামগণের অন্যতম, মুহাদ্দিসগণের উপকারকারী, মুসলিমদের নসিহতকারী। .. আল্লাহ তাঁকে রহম করুন, তিনি ছিলেন একজন পরহেজগার ও জাহিদ ইমাম; মানুষের অন্তরসমূহ ভালোবাসায় তাঁর দিকে ঝুঁকে পড়ত এবং সকল দল তাঁর ওপর ঐকমত্য পোষণ করত। তাঁর নসিহতের মজলিসগুলো মানুষের জন্য সাধারণভাবে উপকারী এবং অন্তর বিদীর্ণকারী ছিল" (২) ।

এবং ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলী বলেন: "শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম, জাহিদ, আদর্শবান ও বরকতময় ব্যক্তিত্ব, হাফেজ (الحافظ), নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ, নির্ভরযোগ্য (الثقة) ও হুজ্জাহ (الحجة)। তাঁর নসিহতের মজলিসগুলো মানুষের জন্য সাধারণভাবে বরকতময় ও উপকারী ছিল, সকল দল তাঁর ওপর ঐকমত্য পোষণ করত এবং অন্তরসমূহ ভালোবাসায় তাঁর প্রতি ধাবিত হতো। তাঁর বহু উপকারী গ্রন্থ ও অসংখ্য সংকলন রয়েছে। .. তিনি পার্থিব মানুষের কাজকর্ম সম্পর্কে কিছুই জানতেন না এবং কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে যাতায়াত করতেন না" (৩) ।

 

এবং ইবনুল মুবাররাদ বলেন: "শায়খ, ইমাম, সৃষ্টির মাঝে অনন্য ব্যক্তিত্ব, হাফেজগণের (الحفاظ) আদর্শ, বহুবিধ ফযিলত ও জ্ঞানের আধার, .. দক্ষ ফকিহ ও জাহিদ

--------------------------------------------

(১) আল-রাদ্দ আল-ওয়াফির, পৃ. ১০৬।

(২) লাহজুল আলহাজ ৫ / ১৮০, ১৮১।

(৩) শাজারাতুজ জাহাব ৬ / ৩৩৯।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
الأصولي المفيد المحدث " (1) .

 

وقال السيوطي: " الإمام الحافظ المحدث الفقيه الواعظ " (2) .

 

وقال أبو اليمن العليمي: " هو الشيخ الإمام والحبر البحر الهمام العلم العامل البدر الكامل القدوة الورع الزاهد الحافظ الحجة الثقة، شيخ الإسلام والمسلمين، وزين الملة والدين، واعظ المسلمين مفيد المحدثين، جمال المصنفين. . وكان أحد الأئمة الكبار والحفاظ والعلماء والزهاد والأخيار، وكانت مجالس تذكيره للقلوب صادعة وللناس عامة مباركة نافعة، اجتمعت الفرق عليه، ومالت القلوب بالمحبة إليه، وزهده وورعه فائق الحد، وكان رحمه الله لا يعرف شيئا من أمور الناس، ولا يتردد إلى ذوي الولايات " (3) .

 

وقال تلميذه ابن اللحام: " سيدنا وشيخنا الإمام العالم العلامة الأوحد الحافظ، شيخ الإسلام مجلي المشكلات وموضح المبهمات " (4) ،

وقال أيضا: " الإمام العالم الحافظ،

--------------------------------------------

(1) الجوهر المنضد ص46، 47.

(2) طبقات الحفاظ ص 540، ذيل تذكرة الحافظ 5 / 367.

(3) السحب الوابلة ص 197، 198، مختصر طبقات الحنابلة ص 72.

(4) الجوهر المنضد ص 47.
উপকারী মূলনীতিবিদ (الأصولي) ও হাদিস বিশারদ (المحدث)" (১)।

 

এবং সুয়ূতী বলেন: "তিনি ইমাম, হাফেজ (الحافظ), হাদিস বিশারদ (المحدث), ফকিহ (الفقيه) ও উপদেশদাতা (الواعظ)" (২)।

 

এবং আবু ইয়েমেন আল-উলাইমি বলেন: "তিনি হলেন শায়খ, ইমাম, সুগভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী ও মহানুভব নেতা, আমলকারী আলেম, পূর্ণাঙ্গ আদর্শ স্বরূপ, আল্লাহভীরু (الورع), দুনিয়াবিমুখ (الزاهد), হাফেজ (الحافظ), সুদৃঢ় দলিল (الحجة), নির্ভরযোগ্য (الثقة), ইসলাম ও মুসলিমদের শায়খ, মিল্লাত ও দ্বীনের অলঙ্কার, মুসলিমদের উপদেশদাতা, হাদিস বিশারদদের (المحدثين) জন্য উপকারী এবং গ্রন্থকারদের সৌন্দর্য। তিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠ ইমাম, হাফেজ (الحفاظ), আলেম, দুনিয়াবিমুখ (الزهاد) এবং নেককারদের অন্যতম। তাঁর নসিহতের মজলিসগুলো ছিল হৃদয়ের জন্য প্রকম্পন সৃষ্টিকারী এবং সাধারণ মানুষের জন্য সামগ্রিকভাবে বরকতময় ও উপকারী। সকল দল-উপদল তাঁর ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছিল এবং সবার অন্তর ভালোবাসার সাথে তাঁর প্রতি ঝুঁকে ছিল। তাঁর দুনিয়াবিমুখতা (الزهد) এবং আল্লাহভীতি (الورع) ছিল সীমার ঊর্ধ্বে। আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, তিনি পার্থিব জগতের বিষয়াদি সম্পর্কে তেমন কিছুই জানতেন না এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাশালীদের দ্বারে যাতায়াত করতেন না" (৩)।

 

এবং তাঁর ছাত্র ইবনে আল-লাহহাম বলেন: "আমাদের সর্দার ও শায়খ, ইমাম, আলেম, অনন্য আল্লামা, হাফেজ (الحافظ), শায়খুল ইসলাম, জটিল সমস্যার সমাধানকারী এবং অস্পষ্ট বিষয়ের ব্যাখ্যাকারী" (৪) ,

তিনি আরও বলেন: "ইমাম, আলেম, হাফেজ (الحافظ),

--------------------------------------------

(১) আল-জাওহারুল মুনাসসাদ, পৃ. ৪৬, ৪৭।

(২) তাবাকাতুল হাফফাজ, পৃ. ৫৪০, জাইল তাজকিরাতুল হাফফাজ ৫ / ৩৬৭।

(৩) আস-সুহুবুল ওয়াবিলাহ, পৃ. ১৯৭, ১৯৮, মুখতাসার তাবাকাতুল হানাবিলাহ, পৃ. ৭২।

(৪) আল-জাওহারুল মুনাসসাদ, পৃ. ৪৭।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
بقية السلف الكرام، وحيد عصره، وفريد دهره، شيخ الإسلام " (1) .

 

وقال ابن قاضي شهبة: " الشيخ الإمام العلامة الحافظ الزاهد الورع، شيخ الحنابلة وفاضلهم، أوحد المحدثين " (2) . وقال أيضا: " كتب وقرأ وأتقن الفن، واشتغل في المذهب حتى أتقنه، وأكب على الاشتغال بمعرفة متون الحديث وعلله ومعانيه. . وكان منجمعا عن الناس لا يخالط ولا يتردد إلى أحد من ذوي الولايات " (3) .

 

وقال ابن حجي: " أتقن الفن- أي فن الحديث- وصار أعرف أهل عصره بالعلل وتتبع الطرق، وكان لا يخالط الناس ولا يتردد إلى أحد. . . تخرج له غالب أصحابنا الحنابلة بدمشق " (4) .

 

وقال الحافظ ابن حجر: " مهر في فنون الحديث أسماء ورجالا وعللا وطرقا، واطلاعا على معانيه، وكان

--------------------------------------------

(1) المرجع السابق.

(2) المرجع السابق ص 48.

(3) ينظر مقدمة تحقيق شرح علل الترمذي للدكتور همام عبد الرحيم ص 249، والجوهر المنضد ص 48.

(4) شذرات الذهب 6 / 339، 340، أنباء الغمر 3 / 176.
সম্মানিত পূর্বসূরিদের (সালাফ) অবশিষ্টাংশ, স্বীয় যুগের অনন্য ব্যক্তিত্ব এবং স্বীয় সময়ের অদ্বিতীয়, শায়খুল ইসলাম।" (১)।

 

ইবনে কাজি শুহবা বলেন: "তিনি শায়খ, ইমাম, আল্লামা, হাফেজ (الحافظ), দুনিয়াত্যাগী (زاهد), পরহেজগার (ورع), হাম্বলিদের শায়খ ও তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং মুহাদ্দিসদের (محدثين) মধ্যে অনন্য।" (২)। তিনি আরও বলেন: "তিনি লিখেছেন, পাঠ করেছেন এবং এই শিল্পে (বিদ্যায়) ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছেন। তিনি মাযহাবের চর্চায় নিমগ্ন ছিলেন যতক্ষণ না তাতে পারদর্শিতা অর্জন করেছেন। তিনি হাদিসের মূল পাঠ (متون), এর সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহ (علل) এবং এর অর্থসমূহ উপলব্ধির জন্য নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন। তিনি লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকতেন, মানুষের সাথে মেলামেশা করতেন না এবং কোনো পদমর্যাদাধারী বা সরকারি কর্মকর্তাদের নিকট যাতায়াত করতেন না।" (৩)।

 

ইবনে হাজ্জি বলেন: "তিনি এই শিল্পে—অর্থাৎ হাদিস শাস্ত্রে—ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছিলেন এবং স্বীয় যুগে হাদিসের ত্রুটিসমূহ (علل) এবং বর্ণনাপথসমূহ (طرق) অনুসন্ধানে সবচেয়ে বিজ্ঞ ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। তিনি মানুষের সাথে মেলামেশা করতেন না এবং কারো নিকট যাতায়াত করতেন না... দামেস্কে আমাদের হাম্বলি সাথীদের অধিকাংশ তাঁর মাধ্যমেই শিক্ষা সমাপন করেছেন।" (৪)।

 

হাফেজ (الحافظ) ইবনে হাজার বলেন: "তিনি হাদিস শাস্ত্রের বিভিন্ন শাখা যেমন: নামসমূহ, রাবিগণের জীবনী (رجال), ত্রুটিসমূহ (علل), বর্ণনাপথসমূহ (طرق) এবং হাদিসের অর্থ অনুধাবনে পারদর্শিতা লাভ করেছিলেন এবং তিনি ছিলেন..."

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস।

(২) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৪৮।

(৩) দেখুন: ড. হুম্মাম আবদুর রহিম সম্পাদিত 'শারহু ইলালিত তিরমিজি'-এর ভূমিকা, পৃষ্ঠা ২৪৯; এবং আল-জাওহারুল মুনাসসাদ, পৃষ্ঠা ৪৮।

(৪) শাজারাতুজ জাহাব ৬/৩৩৯, ৩৪০; আনবাউল গুমর ৩/১৭৬।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
صاحب عبادة وتهجد " (1) .

 

وقال النعمي: " الشيخ العلامة، الحافظ الزاهد، شيخ الحنابلة، وكان لا يعرف شيئا من أمور الناس، ولا يتردد إلى أحد من ذوي الولايات " (2) .

وللحافظ ابن رجب مؤلفات كثيرة نافعة في فنون عديدة، ومن هذه المؤلفات:

 

1 - فضل علم السلف على الخلف (3) .

 

2 - شرح سنن الترمذي (4) ، عشرون مجلدا، وقد فقد أكثره (5) .

 

3 - شرح صحيح البخاري. ولم يتمه، وصل فيه إلى كتاب الجنائز (6) ، وقد أسماه: فتح الباري في شرح البخاري (7) .

--------------------------------------------

(1) أنباء الغمر 3 / 176.

(2) الدارس 2 / 76، 77.

(3) الجوهر المنضد ص 50.

(4) الدرر الكامنة 2 / 429، لحظ الألحاظ 5 / 181، طبقات الحافظ ص 540، البدر الطالع 1 / 328.

(5) الجوهر. المنضد ص 49، أنباء الغمر 5 / 176.

(6) ذيل تذكرة الحافظ للسيوطي 5 / 367، لحظ الألحاظ 5 / 181، الرد الوافر ص 106.

(7) المقصد الأرشد 2 / 83 شذرات الذهب 6 / 339، الدارس 2 / 77.
তিনি ইবাদত ও তাহাজ্জুদ গুজার (صاحب عبادة وتهجد) ছিলেন" (১) ।

 

এবং আন-নুআমি বলেন: "তিনি ছিলেন প্রখ্যাত শায়খ (الشيخ العلامة), হাফিজ (الحافظ), দুনিয়াবিমুখ (الزاهد), হাম্বলিদের শায়খ (شيخ الحنابلة); তিনি মানুষের পার্থিব বিষয়াদি সম্পর্কে খুব একটা জানতেন না এবং ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের কারও কাছে যাতায়াত করতেন না" (২) ।

হাফিজ (الحافظ) ইবনে রজবের বিভিন্ন শাস্ত্রে অনেক উপকারী গ্রন্থ রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

 

১ - ফযলু ইলমিস সালাফ আলাল খালাফ (৩) ।

 

২ - শারহু সুনান তিরমিজি (৪), এটি বিশ খণ্ডের একটি বিশাল গ্রন্থ, তবে এর অধিকাংশ অংশই হারিয়ে গিয়েছে (৫) ।

 

৩ - শারহু সহিহ বুখারি। তিনি এটি সম্পন্ন করতে পারেননি, কিতাবুল জানাইয পর্যন্ত লিখেছিলেন (৬); তিনি এর নামকরণ করেছিলেন: ফাতহুল বারি ফি শারহিল বুখারি (৭) ।

--------------------------------------------

(১) আনবাউল গুমর ৩ / ১৭৬।

(২) আদ-দারিস ২ / ৭৬, ৭৭।

(৩) আল-জাওহারুল মুনাসসাদ, পৃষ্ঠা ৫০।

(৪) আদ-দুরাহ আল-কামিনাহ ২ / ৪২৯, লাহযুল আলহায ৫ / ১৮১, তাবাকাতুল হাফিজ পৃষ্ঠা ৫৪০, আল-বদরুত তালি ১ / ৩২৮।

(৫) আল-জাওহারুল মুনাসসাদ পৃষ্ঠা ৪৯, আনবাউল গুমর ৫ / ১৭৬।

(৬) সুয়ুতির জাইলু তাযকিরাতিল হাফিজ ৫ / ৩৬৭, লাহযুল আলহায ৫ / ১৮১, আর-রাদ্দুল ওয়াফির পৃষ্ঠা ১০৬।

(৭) আল-মাকসাদুল আরশাদ ২ / ৮৩, শাযারাতুয যাহাব ৬ / ৩৩৯, আদ-দারিস ২ / ৭৭।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
4 - القواعد الفقهية (1) .

قال ابن المبرد: " وهو كتاب نافع من عجائب الدهر" (2) .

 

5 - جامع العلوم والحكم (3) .

 

6 - ذيل طبقات الحنابلة (4) .

 

7 - الاستغناء بالقرآن (5) .

8 - الرد على من اتبع غير المذاهب الأربعة (6) .

 

9 - لطائف المعارف (7) .

--------------------------------------------

(1) الدر الكامنة 2 / 429، شذرات الذهب 6 / 339، الدارس 2 / 77، الدر المنضد ص 48.

(2) الجوهر المنضد ص 49.

(3) المقصد الأرشد 2 / 82، كشف الظنون 1 / 59، ذيل كشف الظنون 3 / 335.

(4) الدرر الكامنة 2 / 429، الرد الوافر ص 106، لحظ الألحاظ 5 / 181، البدر الطالع 1 / 328.

(5) الجوهر المنضد ص 51، هدية العارفين 1 / 527.

(6) الجوهر المنضد ص 50، 51.

(7) الدرر الكامنة 2 / 429، شذرات الذهب 6 / 339، الدارس 2 / 77، أنباء الغمر 3 / 176.
৪ - আল-কাওয়ায়িদ আল-ফিকহিয়্যাহ (১)।

ইবনুল মুবাররাদ বলেন: "এটি একটি উপকারী গ্রন্থ এবং কালের বিস্ময়সমূহের অন্যতম" (২)।

 

৫ - জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম (৩)।

 

৬ - জাইলু তাবাকাতিল হানাবিলাহ (৪)।

 

৭ - আল-ইস্তিগনা বিল কুরআন (৫)।

৮ - আর-রাদ্দু আলা মান ইত্তাবা'আ গইরাল মাজাহিবিল আরবা'আহ (৬)।

 

৯ - লাতাইফুল মাআরিফ (৭)।

--------------------------------------------

(১) আদ-দুরারুল কামিনাহ ২ / ৪২৯, শাজারাতুজ জাহাব ৬ / ৩৩৯, আদ-দারিস ২ / ৭৭, আদ-দুররুল মানদাদ পৃষ্ঠা ৪৮।

(২) আল-জাওহারুল মানদাদ পৃষ্ঠা ৪৯।

(৩) আল-মাকসাদুল আরশাদ ২ / ৮২, কাশফুয যুনুন ১ / ৫৯, জাইলু কাশফিয যুনুন ৩ / ৩৩৫।

(৪) আদ-দুরারুল কামিনাহ ২ / ৪২৯, আর-রাদ্দুল ওয়াফির পৃষ্ঠা ১০৬, লাহযুল আলহায ৫ / ১৮১, আল-বদরুত তালি ১ / ৩২৮।

(৫) আল-জাওহারুল মানদাদ পৃষ্ঠা ৫১, হাদিয়াতুল আরিফীন ১ / ৫২৭।

(৬) আল-জাওহারুল মানদাদ পৃষ্ঠা ৫০, ৫১।

(৭) আদ-দুরারুল কামিনাহ ২ / ৪২৯, শাজারাতুজ জাহাব ৬ / ৩৩৯, আদ-দারিস ২ / ৭৭, ইনবাউল গুমর ৩ / ১৭৬।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
وغيرها كثير، وقد ذكر ابن المبرد منها ستة وأربعين مؤلفا بين كتاب ورسالة، ثم قال: "وغير ذلك من الكتاب النافعة المفيدة، التي لم نر مثلها" (1) ، وقد طبعت أكثر مؤلفاته، وكانت وفاته رحمه الله، في دمشق سنة 795 هـ (2) .

--------------------------------------------

(1) الجوهر المنضد ص49- 51، وانظر السحب الوابلة ص 197، 198، هدية العارفين 1 / 527.

(2) الرد الوافر ص107، الدرر الكامنة 2 / 429، المقصد الأرشد 2 / 82 وغيرها.
এবং এ রূপ আরও অনেক রয়েছে। ইবনে আল-মুবরদ এগুলোর মধ্য থেকে গ্রন্থ ও পুস্তিকা মিলিয়ে ৪৬টি রচনার কথা উল্লেখ করেছেন; অতঃপর তিনি বলেন: "এবং এ ছাড়াও অনেক উপকারী ও ফলপ্রসূ গ্রন্থ রয়েছে, যার কোনো সমতুল্য আমরা দেখিনি" (১)। তাঁর অধিকাংশ রচনা মুদ্রিত হয়েছে এবং তাঁর মৃত্যু—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—৭৯৫ হিজরি সনে দামেস্কে হয়েছিল (২)।

--------------------------------------------

(১) আল-জাওহার আল-মুনাসসাদ, পৃষ্ঠা ৪৯-৫১; এবং দেখুন: আস-সুহুবুল ওয়াবিলাহ, পৃষ্ঠা ১৯৭, ১৯৮; হাদিয়াতুল আরিফিন, ১/৫২৭।

(২) আর-রাদ্দুল ওয়াফির, পৃষ্ঠা ১০৭; আদ-দুরারুল কামিনাহ, ২/৪২৯; আল-মাকসাদুল আরশাদ, ২/৮২ এবং অন্যান্য।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌«النّصّ المحقّق» :

 

بسم الله الرحمن الرحيم

 

رب يسر وأعن ووفق للخير يا كريم (1)

 

قال الشيخ الإمام العالم العلامة الأوحد الفهامة (2) وحيد عصره، وفريد دهره: أبو الفرج (3) عبد الرحمن بن الشيخ الإمام شهاب الدين أحمد بن رجب الحنبلي رحمه الله تعالى (4) .

 

الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل (5) فلا هادي له.

 

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم

--------------------------------------------

(1) جملة '' رب يسر وأعن ووفق للخير يا كريم '' غير موجودة في '' ع '' و '' ق ''.

(2) في '' ع '': '' الإمام الأوحد العلامة والحبر الهمام الفهامة ''.

(3) في '' ع '': '' الحافظ أبو الفرج زين الدين ''.

(4) في ''ع '': ''رحمة الله علينا وعليه آمين ''.

(5) لفظة: ''ومن يضلل '' مكررة في ''ق ''.
‌«সম্পাদিত পাঠ (النص المحقق)» :

 

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

হে আমার প্রতিপালক! আপনি সহজ করে দিন, সাহায্য করুন এবং কল্যাণের তাওফিক দান করুন, হে দয়াময় (১)।

 

শাইখ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম, আল্লামা, অনন্য প্রজ্ঞাবান (২), নিজ সময়ের অদ্বিতীয় এবং যুগের প্রথিতযশা ব্যক্তিত্ব: আবুল ফরাজ (৩) আব্দুর রহমান বিন শাইখ ইমাম শিহাবুদ্দিন আহমদ বিন রজব আল-হাম্বলী (রহিমাহুল্লাহ তাআলা) (৪) বলেছেন:

 

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন (৫) তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই।

 

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

--------------------------------------------

(১) ''হে আমার প্রতিপালক! সহজ করে দিন, সাহায্য করুন এবং কল্যাণের তাওফিক দিন, হে দয়াময়''—এই বাক্যটি 'আইন' ও 'কাফ' পাণ্ডুলিপিতে নেই।

(২) 'আইন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: ''অনন্য ইমাম, আল্লামা, বিজ্ঞ পণ্ডিত ও প্রথিতযশা প্রজ্ঞাবান''।

(৩) 'আইন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: ''হাফিজ (الحافظ) আবুল ফরাজ যাইনুদ্দিন''।

(৪) 'আইন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: ''আমাদের ওপর এবং তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক, আমিন''।

(৫) ''আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন'' শব্দগুচ্ছটি 'কাফ' পাণ্ডুলিপিতে পুনরাবৃত্তি হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌أما بعد:

 

فقد وقع في هذا العام وهو عام أربعة وثمانين وسبعمائة حادثة، وهو أنه غم هلال ذي الحجة (1) فأكمل الناس هلال ذي القعدة، ثم تحدث الناس برؤية هلال ذي الحجة، وشهد به أناس (2) لم يسمع الحاكم شهادتهم، واستمر الحال على إكمال عدة (3) شهر ذي القعدة،

فتوقف بعض الناس عن (4) صيام التاسع (5) الذي هو يوم عرفة في هذا العام. وقالوا هو يوم النحر على ما أخبر به أولئك الشهود الذين لم تقبل شهادتهم، وقيل: إن بعضهم ضحى في ذلك اليوم، وحصل للناس بسبب ذلك اضطراب.

--------------------------------------------

(1) أي حال دون رؤيته غيم أو ضباب أو غيرهما، من غممت الشيء إذا غطيته. انظر غريب الحديث لابن الجوزي 2 / 164، النهاية في غريب الحديث 3 / 388، المصباح المنير ص454.

(2) في ''م'' و''ق'': ''ناس''.

(3) في '' ع '': '' عدد ''، ووضع عليها علامة نسخة، وفي هامشها: '' عدة '' ووضع علما علامة نسخة أخرى.

(4) في '' ع '': '' في '' ووضع عليه علامة نسخة، وفي هامشها: '' عن '' ووضع عليه علامة نسخة أخرى.

(5) في '' ع '': '' اليوم التاسع ''.
অতঃপর:

 

সাতশ চুরাশি হিজরি সালে একটি ঘটনা সংঘটিত হয়। তা হলো, জিলহজ মাসের নতুন চাঁদ মেঘে ঢাকা পড়েছিল (غم) (১), ফলে লোকেরা জিলকদ মাসের দিনসংখ্যা পূর্ণ করে। অতঃপর লোকেরা জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা করতে থাকে এবং এমন কিছু লোক (২) এর সাক্ষ্য প্রদান করে যাদের সাক্ষ্য বিচারক গ্রহণ করেননি। এমতাবস্থায় জিলকদ মাসের দিনসংখ্যা (৩) পূর্ণ করার সিদ্ধান্তই বহাল থাকে।

ফলে এই বছরে আরাফার দিন অর্থাৎ নয় তারিখের (৫) রোজা রাখা থেকে (৪) কিছু মানুষ বিরত থাকে। তারা বলেছিল যে, যাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়নি তাদের সংবাদ অনুযায়ী আজই কোরবানির দিন। বলা হয়ে থাকে যে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ সেই দিনেই কোরবানি করেছিলেন এবং এর ফলে মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছিল।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ মেঘ, কুয়াশা বা অন্য কিছুর কারণে চাঁদ দেখা বাধাগ্রস্ত হওয়া। এটি কোনো কিছুকে আবৃত করা বা ঢেকে দেওয়া অর্থবোধক শব্দ থেকে উদ্ভূত। দেখুন: ইবনুল জাওজি রচিত গারিবুল হাদিস ২/১৬৪, আন-নিহায়াহ ফি গারিবিল হাদিস ৩/৩৮৮, আল-মিসবাহুল মুনির পৃ. ৪৫৪।

(২) 'মীম' এবং 'কাফ' পাণ্ডুলিপিতে 'নাস' শব্দ রয়েছে।

(৩) 'আইন' পাণ্ডুলিপিতে 'আদাদ' শব্দ রয়েছে এবং তার ওপর পাঠান্তর চিহ্ন দেওয়া হয়েছে; আর এর পার্শ্বটীকায় 'ইদ্দাহ' লিখে অন্য একটি পাঠান্তর চিহ্ন দেওয়া হয়েছে।

(৪) 'আইন' পাণ্ডুলিপিতে 'ফী' (মধ্যে) রয়েছে এবং তার ওপর পাঠান্তর চিহ্ন দেওয়া হয়েছে; আর এর পার্শ্বটীকায় 'আন' (থেকে/বিষয়ে) লিখে অন্য একটি পাঠান্তর চিহ্ন দেওয়া হয়েছে।

(৫) 'আইন' পাণ্ডুলিপিতে 'আল-ইয়াওমুত তাসি' (নবম দিন) শব্দ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
فأحببت أن أكتب في ذلك ما يسره الله تعالى. وبه (1) المستعان وعليه التكلان ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم.

 

فنقول: هذه المسألة لها صورتان:

 

إحداهما:

 

أن يكون الشك مستندا إلى قرائن مجردة (2) ، أو إلى شهادة من لا تقبل شهادته (3) إما لانفراده بالرؤية أو لكونه ممن لا يجوز قبول قوله ونحو ذلك.

 

فهذه المسألة قد اختلف الناس فيها (4) على قولين.

أحدهما: أنه لا يصام في هذه الحالة (5) . قال النخعي (6) في صوم يوم عرفة في الحضر:

إذا كان فيه اختلاف فلا تصومن (7)

--------------------------------------------

(1) في '' ع '': '' وبالله ''.

(2) في '' ع '': '' محررة '' وعليها علامة نسخة، وفي هامشها: '' مجردة '' ووضع عليها علامة نسخة أخرى وعلامة تصحيح.

(3) في '' ع '': '' شهادتهم ''.

(4) في '' ع '': '' قد اختلف فيها السلف ''، وعليها علامة نسخة، وفي هامشها: '' الناس '' وعليها علامة نسخة أخرى.

(5) في هامش ''ع '': ''الحال '' ووضع عليها علامة نسخة أخرى.

(6) هو الإمام الحافظ فقيه العراق إبراهيم بن يزيد النخعي، من صغار التابعين، توفي سنة 96 هـ. انظر ترجمته في سير أعلام النبلاء 4 / 520 - 529، البداية والنهاية 9 / 146.

(7) رواه ابن أبي شيبة في مصنفه- كما قال المؤلف- في كتاب الصيام: ما قالوا في صوم يوم عرفة بغير عرفة 3 / 97: حدثنا إسحاق الأزرق عن أبي العلاء عن أبي هاشم عن إبراهيم، وإسناده حسن، إن شاء الله - رجاله ثقات رجال الصحيحين، عدا أبي العلاء، وهو أيوب بن أبي مسكين التميمي القصاب، فهو صدوق له أوهام كما في التقريب ص119.
আমি এই বিষয়ে আল্লাহ তাআলা যা সহজ করেছেন তা লিখতে চেয়েছি। তাঁর কাছেই (১) সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর ওপরই ভরসা করি। মহান ও সুউচ্চ আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো ক্ষমতা বা শক্তি নেই।

 

আমরা বলছি: এই মাসআলাটির দুটি অবস্থা রয়েছে:

 

তার একটি হলো:

 

সংশয়টি কেবল কিছু পারিপার্শ্বিক প্রমাণের (২) ওপর ভিত্তি করে হওয়া, অথবা এমন ব্যক্তির সাক্ষ্যের (৩) ওপর ভিত্তি করে হওয়া যার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়; চাই তা চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে সে একা হওয়ার কারণে হোক অথবা সে এমন ব্যক্তি হওয়ার কারণে হোক যার কথা গ্রহণ করা বৈধ নয় এবং অনুরূপ কারণে।

 

এই মাসআলাটি নিয়ে মানুষের মধ্যে (৪) দুটি মতভেদ রয়েছে।

তার একটি হলো: এই অবস্থায় (৫) রোজা রাখা হবে না। নাখায়ি (৬) জনপদে থাকা অবস্থায় আরাফার দিনের রোজা সম্পর্কে বলেছেন:

যদি তাতে মতভেদ থাকে তবে তুমি অবশ্যই রোজা রেখো না। (৭)

--------------------------------------------

(১) পাণ্ডুলিপি 'ع'-এ রয়েছে: 'আল্লাহর মাধ্যমে'।

(২) পাণ্ডুলিপি 'ع'-এ রয়েছে: 'মুহাররারাহ' এবং তার ওপর সংস্করণ (نسخة) চিহ্ন রয়েছে; আর এর হাশিয়ায় রয়েছে: 'মুজাররাদাহ' এবং তার ওপর অন্য একটি সংস্করণ (نسخة) চিহ্ন ও সংশোধন (تصحيح) চিহ্ন রয়েছে।

(৩) পাণ্ডুলিপি 'ع'-এ রয়েছে: 'তাদের সাক্ষ্য'।

(৪) পাণ্ডুলিপি 'ع'-এ রয়েছে: 'সালাফগণ এতে মতভেদ করেছেন' এবং তার ওপর সংস্করণ (نسخة) চিহ্ন রয়েছে; আর এর হাশিয়ায় রয়েছে: 'মানুষ' এবং তার ওপর অন্য একটি সংস্করণ (نسخة) চিহ্ন রয়েছে।

(৫) পাণ্ডুলিপি 'ع'-এর হাশিয়ায় রয়েছে: 'অবস্থা' এবং তার ওপর অন্য একটি সংস্করণ (نسخة) চিহ্ন রয়েছে।

(৬) তিনি হলেন ইমাম, হাফিজ (حافظ), ইরাকের ফকিহ (فقيه) ইবরাহিম ইবনে ইয়াজিদ আল-নাখায়ি। তিনি ছোট তাবিঈদের (صغار التابعين) অন্তর্ভুক্ত। তিনি ৯৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন তার জীবনী: সিয়ারু আলামিন নুবালা ৪/৫২০-৫২৯, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৯/১৪৬।

(৭) ইবনে আবি শায়বা তার মুসান্নাফ-এ এটি বর্ণনা করেছেন—যেমনটি লেখক বলেছেন—রোজার অধ্যায়ে: 'আরাফা ব্যতীত অন্য স্থানে আরাফার দিনের রোজা সম্পর্কে তারা যা বলেছেন' ৩/৯৭: ইসহাক আল-আজরাক আমাদের কাছে আবু আল-আলা থেকে, তিনি আবু হাশিম থেকে, তিনি ইবরাহিম থেকে বর্ণনা করেছেন। এর সনদ (إسناد) হাসান (حسن), ইনশাআল্লাহ—এর বর্ণনাকারীরা (رجال) বুখারি ও মুসলিমের নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারী, কেবল আবু আল-আলা ব্যতীত। তিনি হলেন আইয়ুব ইবনে আবি মিসকিন আত-তামিমি আল-কাসসাব; তিনি সত্যবাদী তবে কিছুটা ভ্রমপ্রবণ (صدوق له أوهام) যেমনটি তাকরিব-এর ১১৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
وعنه قال: كانوا لا يرون بصوم يوم عرفة بأسا إلا أن يتخوفوا أن يكون يوم الذبح (1) . خرجهما ابن أبي شيبة في كتابه، وسنذكر عن مسروق (2) وغيره من التابعين مثل ذلك فيما بعد إن شاء الله تعالى (3) .

 

وكلام هؤلاء قد يقال- والله أعلم- إنه محمول (4) على الكراهة دون التحريم. وقد ذكر شيخ الإسلام تقي

--------------------------------------------

(1) رواه ابن أبي شيبة - كما قال المؤلف- في الموضع السابق: حدثنا يزيد بن هارون قال: نا ابن عون عن إبراهيم. وإسناده صحيح، رجاله رجال الصحيحين.

ويوم الذبح هو يوم عيد الأضحى، ويسمى أيضا يوم النحر، لأنه تنحر وتذبح فيه الأضاحي. وقد ثبت نهيه صلى الله عليه وسلم عن صيام يومي العيدين من حديث عدة من أصحابه صلى الله عليه وسلم، فقد رواه البخاري برقم (1990) ، ومسلم برقم (1137) من حديث عمر بن الخطاب رضي الله عنه. ورواه البخاري برقم (1995) ، ومسلم برقم (827) من حديث أبي سعيد رضي الله عنه، ورواه مسلم برقم (1140) من حديث أم المؤمنين عائشة رضي الله عنها، ورواه مسلم أيضا برقم (1138) من حديث أبي هريرة رضي الله عنه، وروى البخاري برقم (1994) ، ومسلم برقم (1139) عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما أنه جاء إليه رجل فقال: إني نذرت أن أصوم يوما، فوافق يوم أضحى أو فطر، فقال ابن عمر: أمر الله بوفاء النذر، ونهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن صيام هذا اليوم.

(2) هو الإمام مسروق بن الأجدع بن مالك الهمداني الكوفي، من كبار التابعين. توفي سنة 62 هـ وقيل سنة 63. انظر سير أعلام النبلاء 4؛ 63- 69، الأنساب 5 / 650، 651.

(3) وذلك أنهم لم يصوموا يوم عرفة حينما حصل شك في أنه يوم النحر، كما سيأتي ص (19- 21) عن مسروق وأبي عطية حينما دخلا على عائشة يوم عرفة وهما مفطران من أجل الشك في كونه يوم النحر.

(4) في '' ع '': '' قد يقال إنه محمول والله أعلم ''.
এবং তাঁর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: তারা আরাফার দিনে রোজা রাখার মধ্যে কোনো অসুবিধা দেখতেন না, যদি না তারা আশঙ্কা করতেন যে এটি জবাইয়ের দিন (১) হতে পারে। ইবনে আবি শাইবা তাঁর গ্রন্থে এ দুটি বর্ণনা করেছেন, এবং আমরা অচিরেই মাসরুক (২) ও অন্যান্য তাবেয়ি (تابعين)-দের থেকে অনুরূপ বর্ণনা সামনে উল্লেখ করব ইনশাআল্লাহ তায়ালা (৩)।

 

এবং এদের বক্তব্য সম্পর্কে বলা যেতে পারে—আল্লাহ-ই ভালো জানেন—যে এটি অপছন্দনীয় (كراهة) হওয়ার ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে, নিষিদ্ধ (تحريم) হওয়ার ওপর নয়। আর শাইখুল ইসলাম তাকি...

--------------------------------------------

(১) এটি ইবনে আবি শাইবা বর্ণনা করেছেন—যেমনটি লেখক বলেছেন—পূর্বোক্ত স্থানে: ইয়াজিদ ইবনুন হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে আওন আমাদের নিকট ইব্রাহিম থেকে বর্ণনা করেছেন। আর এর বর্ণনাসূত্র (إسناد) সহিহ (صحيح), এর বর্ণনাকারীগণ (رجال) বুখারি ও মুসলিমের বর্ণনাকারী (رجال)।

জবাইয়ের দিন হলো ঈদুল আজহার দিন, একে নহরের দিনও বলা হয়, কারণ এতে কুরবানির পশু নহর ও জবাই করা হয়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বেশ কয়েকজন সাহাবির হাদিস থেকে দুই ঈদের দিনে রোজা রাখার নিষেধাজ্ঞা প্রমাণিত হয়েছে। বুখারি (১৯৯০) এবং মুসলিম (১১৩৭) উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। বুখারি (১৯৯৫) এবং মুসলিম (৮২৭) আবু সাঈদ (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। মুসলিম (১১৪০) উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। মুসলিম (১১৩৮) আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিস থেকেও এটি বর্ণনা করেছেন। আর বুখারি (১৯৯৪) ও মুসলিম (১১৩৯) আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বলল: আমি একদিন রোজা রাখার মানত করেছি, যা ঈদুল আজহা বা ঈদুল ফিতরের দিনের সাথে মিলে গেছে। তখন ইবনে উমর বললেন: আল্লাহ মানত পূর্ণ করার নির্দেশ দিয়েছেন, আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই দিনে রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন।

(২) তিনি হলেন ইমাম মাসরুক ইবনুল আজদা ইবনে মালিক আল-হামদানি আল-কুফি, প্রবীণ তাবেয়ি (تابعين)-দের অন্তর্ভুক্ত। তিনি হিজরি ৬২ সনে মৃত্যুবরণ করেন, মতান্তরে ৬৩ সনে। দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ৪/৬৩-৬৯, আল-আনসাব ৫/৬৫০, ৬৫১।

(৩) আর তা এই কারণে যে, তারা আরাফার দিনে রোজা রাখেননি যখন সেটি নহরের দিন কি না তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল, যেমনটি সামনে ১৯-২১ পৃষ্ঠায় মাসরুক ও আবু আতিয়্যাহ থেকে আসবে, যখন তারা আরাফার দিনে আয়েশা (রা.)-এর নিকট গিয়েছিলেন এবং তারা দিনটি নহরের দিন হওয়ার সন্দেহের কারণে রোজা বিহীন ছিলেন।

(৪) 'আইন' (ع) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "বলা যেতে পারে যে এটি প্রয়োগযোগ্য (محمول), আর আল্লাহ-ই ভালো জানেন।"
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
الدين بن تيمية رحمه الله تعالى في صوم هذا اليوم في هذه الحالة (1) أنه جائز بلا نزاع بين العلماء. قال: لأن الأصل عدم العاشر كما أنهم لو شكوا ليلة الثلاثين من رمضان هل طلع الهلال أم (2) لم يطلع؟ فإنهم يصومون ذلك اليوم باتفاق الأئمة وإنما (3) يوم الشك الذي رويت فيه الكراهة الشك (4) في أول رمضان (5) ، لأن الأصل بقاء شعبان. انتهى (6) .

--------------------------------------------

(1) في '' ع '': ''في هذا الحال ''.

(2) في '' ع '': ''أو''.

(3) في '' ع '': '' فإنما ''. وفي هامشها: '' وإنما '' وعليها علامة نسخة أخرى وعلامة تصحيح.

(4) لفظة: ''الشك '': ليست في ''م '' والصحيح إثباتها، كما في مجموع فتاوى ابن تيمية 25 / 204.

(5) سيأتي ذكر أقوال أهل العلم في حكم صوم هذا اليوم ص (15- 16) .

(6) جاء في مجموع فتاوى شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله ج 25 ص 202-204 ما نصه: '' وسئل شيخ الإسلام رحمه الله عن أهل مدينة رأى بعضهم هلال ذي الحجة، ولم يثبت عند حاكم المدينة، فهل لهم أن يصوموا اليوم الذي في الظاهر التاسع وإن كان في الباطن العاشر؟ فأجاب: نعم يصومون التاسع في الظاهر المعروف عند الجماعة، وإن كان في نفس الأمر يكون عاشرا، ولو قدر ثبوت تلك الرؤية، فإن في السنن عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: '' صومكم يوم تصومون، وفطركم يوم تفطرون، وأضحاكم يوم تضحون '' أخرجه أبو داود وابن ماجه والترمذي وصححه. وعن عائشة رضي الله عنها أنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: '' الفطر يوم يفطر الناس، والأضحى يوم يضحي الناس '' رواه الترمذي. وعلى هذا العمل عند أئمة المسلمين كلهم.

فإن الناس لو وقفوا بعرفة في اليوم العاشر خطأ أجزأهم الوقوف بالاتفاق، وكان ذلك اليوم يوم عرفة في حقهم، ولو وقفوا الثامن خطأ ففي الإجزاء نزاع، والأظهر صحة الوقوف أيضا، وهو أحد القولين في مذهب مالك ومذهب أحمد وغيره.

 

قالت عائشة رضي الله عنها: ''إنما عرفة اليوم الذي يعرفه الناس '' وأصل ذلك أن الله سبحانه وتعالى علق الحكم بالهلال والشهر، فقال تعالى: يسألونك عن الأهلة قل هي مواقيت للناس والحج. والهلال: اسم لما يستهل به: أي يعلن به ويجهر به، فإذا طلع في السماء ولم يعرفه الناس ويستهلوا لم يكن هلالا.

 

وكذا الشهر مأخوذ من الشهرة، فإن لم يشهر بين الناس لم يكن الشهر قد دخل، وإنما يغلط كثير من الناس في هذه المسألة، لظنهم أنه إذا طلع في السماء كانت تلك الليلة أول الشهر، سواء ظهر ذلك للناس واستهلوا به أو لا، وليس كذلك، بل ظهوره للناس واستهلالهم به لا بد منه، ولهذا قال النبي صلى الله عليه وسلم: '' صومكم يوم تصومون، وفطركم يوم تفطرون، وأضحاكم يوم تضحون ''. أي هذا اليوم الذي تعلمون أنه وقت الصوم والفطر والأضحى، فإذا لم تعلموه لم يترتب عليه حكم. وصوم اليوم الذي يشك فيه: هل هو تاسع ذي الحجة؟ أو عاشر ذي الحجة؟ جائز بلا نزاع بين العلماء، لأن الأصل عدم العاشر، كما أنهم لو شكوا ليلة الثلاثين من رمضان هل طلع الهلال أم لم يطلع؟ فإنهم يصومون ذلك اليوم المشكوك فيه باتفاق الأئمة، وإنما يوم الشك الذي رويت فيه الكراهة هو الشك في أول رمضان، لأن الأصل بقاء شعبان. ا. هـ.
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) এই অবস্থায় এই দিনে রোজা রাখার বিষয়ে বলেছেন (১) যে, এটি আলেমদের মধ্যে কোনো বিরোধ ছাড়াই বৈধ। তিনি বলেন: কারণ মূল নীতি হলো দশম তারিখ না থাকা, ঠিক যেমন তারা যদি রমজানের ত্রিশতম রাতে সংশয় পোষণ করে যে চাঁদ উঠেছে নাকি (২) উঠেনি? তবে তারা ইমামগণের ঐক্যমত (اتفاق) অনুযায়ী সেই দিন রোজা রাখবে। আর কেবল (৩) সংশয়ের দিন (يوم الشك) যেটির ক্ষেত্রে অপছন্দনীয়তা (كراهة) বর্ণিত হয়েছে তা হলো রমজানের শুরুতে (৪) সংশয় (৫), কারণ মূল নীতি হলো শাবান মাস বাকি থাকা। সমাপ্ত (৬)।

--------------------------------------------

(১) 'আইন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: ''এই অবস্থায়''।

(২) 'আইন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: ''অথবা''।

(৩) 'আইন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: ''নিশ্চয়ই''। আর এর পার্শ্বটীকায় রয়েছে: ''কেবল'' এবং এর উপর অন্য একটি পাণ্ডুলিপির চিহ্ন ও সংশোধনী চিহ্ন রয়েছে।

(৪) ''সংশয়'' শব্দটি 'মীম' পাণ্ডুলিপিতে নেই; তবে সঠিক হলো এটি বহাল রাখা, যেমনটি মাজমুউল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ ২৫/২০৪-এ রয়েছে।

(৫) এই দিনে রোজা রাখার বিধান সম্পর্কে আহলে ইলমদের অভিমত সামনে ১৫-১৬ পৃষ্ঠায় আসবে।

(৬) শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর মাজমুউল ফাতাওয়া, খণ্ড ২৫, পৃষ্ঠা ২০২-২০৪-এ যা এসেছে তার মূল পাঠ হলো: ''শাইখুল ইসলামকে এমন এক শহরের অধিবাসীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যাদের মধ্যে কেউ কেউ জিলহজ মাসের চাঁদ দেখেছে, কিন্তু শহরের বিচারকের কাছে তা প্রমাণিত হয়নি। এমতাবস্থায় তাদের জন্য কি সেই দিন রোজা রাখা বৈধ যা বাহ্যিকভাবে নবম তারিখ, যদিও তা অভ্যন্তরীণভাবে দশম তারিখ হতে পারে? তিনি উত্তর দিলেন: হ্যাঁ, তারা বাহ্যিকভাবে নবম তারিখেই রোজা রাখবে যা সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত, যদিও বাস্তবিকভাবে সেটি দশম তারিখ হয়ে থাকে। এমনকি যদি সেই চাঁদ দেখা প্রমাণিত বলেও ধরে নেওয়া হয়, তবুও সুনান গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ''তোমাদের রোজা সেই দিন যেদিন তোমরা সবাই রোজা রাখো, তোমাদের ঈদুল ফিতর সেই দিন যেদিন তোমরা সবাই ইফতার করো (ঈদ পালন করো), আর তোমাদের ঈদুল আজহা সেই দিন যেদিন তোমরা সবাই কুরবানি করো।'' এটি আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে সঠিক (صحيح) বলেছেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ''ফিতর সেই দিন যেদিন মানুষ ইফতার করে এবং আজহা সেই দিন যেদিন মানুষ কুরবানি করে।'' এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন। আর এর ওপরই মুসলিম উম্মাহর সকল ইমামগণের আমল রয়েছে।

যদি মানুষ ভুলবশত দশম তারিখে আরাফাতে অবস্থান করে, তবে ঐক্যমত (اتفاق) অনুযায়ী তাদের সেই অবস্থান যথেষ্ট হবে এবং সেই দিনটিই তাদের জন্য আরাফাতের দিন হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি তারা ভুলবশত অষ্টম তারিখে অবস্থান করে, তবে তা যথেষ্ট হওয়ার বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। অধিকতর স্পষ্ট অভিমত হলো সেই অবস্থানও সহিহ হবে এবং এটি মালিকি ও আহমাদসহ অন্যান্য মাজহাবের দুটি মতের একটি।

 

আয়েশা (রা.) বলেছেন: ''আরাফাহ তো সেই দিনই যেদিন মানুষ তাকে আরাফাহ হিসেবে জানে।'' আর এর মূল ভিত্তি হলো এই যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বিধানকে নতুন চাঁদ এবং মাসের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন: 'তারা আপনাকে নতুন চাঁদসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে; বলুন, এগুলো মানুষের জন্য এবং হজের জন্য সময়ের পরিমাপ।' আর হিলাল (নতুন চাঁদ) হলো এমন বিষয় যা উচ্চস্বরে ঘোষণা করা হয়; অর্থাৎ যা প্রকাশ করা হয় এবং প্রচার করা হয়। সুতরাং যদি আকাশে চাঁদ উদিত হয় কিন্তু মানুষ তা না জানে এবং ঘোষণা না করে, তবে তা হিলাল হিসেবে গণ্য হবে না।

 

অনুরূপভাবে 'শাহর' (মাস) শব্দটি 'শুহরাহ' (প্রসিদ্ধি) থেকে নেওয়া হয়েছে। সুতরাং যদি মানুষের মধ্যে তা প্রসিদ্ধ না হয়, তবে মাস শুরু হয়েছে বলে গণ্য হবে না। এই মাসআলায় অনেক মানুষ ভুল করে থাকে এই ধারণার কারণে যে, যখন আকাশে চাঁদ উদিত হয় তখনই সেই রাতটি মাসের প্রথম রাত হিসেবে গণ্য হয়—মানুষের কাছে তা প্রকাশিত হোক বা না হোক। বিষয়টি আসলে তেমন নয়, বরং মানুষের কাছে এর প্রকাশ পাওয়া এবং তাদের ঘোষণা করা অপরিহার্য। এই কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ''তোমাদের রোজা সেই দিন যেদিন তোমরা রোজা রাখো, তোমাদের ফিতর সেই দিন যেদিন তোমরা ফিতর পালন করো এবং তোমাদের আজহা সেই দিন যেদিন তোমরা কুরবানি করো।'' অর্থাৎ এই দিনটিই যা তোমরা জানো যে এটি রোজা, ফিতর ও কুরবানির সময়। সুতরাং তোমরা যখন তা জানবে না, তখন তার উপর কোনো হুকুম বা বিধান বর্তাবে না। আর যে দিনটিতে সংশয় হয় যে এটি কি জিলহজের নবম তারিখ নাকি দশম তারিখ—সেদিন রোজা রাখা আলেমদের মধ্যে কোনো বিরোধ ছাড়াই বৈধ। কারণ মূল নীতি হলো দশম তারিখ না থাকা, ঠিক যেমন তারা যদি রমজানের ত্রিশতম রাতে সংশয় পোষণ করে যে চাঁদ উঠেছে নাকি উঠেনি? তবে ইমামগণের ঐক্যমত (اتفاق) অনুযায়ী তারা সেই সংশয়পূর্ণ দিনে রোজা রাখবে। আর কেবল সেই সংশয়ের দিন (يوم الشك) যেটির ব্যাপারে অপছন্দনীয়তা (كراهة) বর্ণিত হয়েছে তা হলো রমজানের শুরুর সংশয়, কারণ মূল নীতি হলো শাবান মাস বাকি থাকা। সমাপ্ত।''
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
فإما أن يكون اطلع على كلام النخعي وحمله على الكراهة. فلذلك (1) نفى النزاع في جوازه، وإما أن يكون لم يطلع عليه، ومراده: أن يستصحب الأصل في كلا الموضعين، لأن الأصل بقاء الشهر المتيقن وجوده وعدم دخول الشهر المشكوك في دخوله (2) ، فكذلك هنا إذا شك في دخول ذي الحجة (3) بنى (4) الأمر على إكمال ذي القعدة، لأنه الأصل، ويصام يوم عرفة على هذا الحساب، وهو تكميل شهر ذي القعدة.

 

ولكن من السلف من كان يصوم يوم الشك في أول رمضان احتياطيا (5)

وفرق طائفة منهم بين أن تكون السماء

--------------------------------------------

(1) في ''م '': ''فذلك ''.

(2) انظر كلام شيخ الإسلام ابن تيمية الذي سبق نقله في التعليق السابق.

(3) في ''ع '': '' شهر ذي الحجة''.

(4) في ''م '': و''ق '': ''مبنى''.

(5) روى الوليد بن مسلم عن ابن ثوبان عن أبيه عن مكحول أن عمر كان يصوم إذا كانت الشمس في تلك الليلة مغيمة، ويقول: '' ليس هذا بالتقدم، ولكنه التحري ''. انظر زاد المعاد 2 / 43، وقد سقط منه لفظة: ''بن ''، قال شيخنا عبد العزيز بن باز في بعض دروسه: '' لا يعرف ثوبان عن أبيه '' ومال إلى أن صوابه: '' ابن ثوبان عن أبيه ''. وهذا هو الصحيح، كما في كتب الرجال وهذا الإسناد ضعيف، فيه علتان: الأولى: ابن ثوبان- وهو عبد الرحمن بن ثابت بن ثوبان- فقد اختلف في توثيقه، قال الإمام أحمد: ''أحاديثه مناكير''، وقال صالح بن محمد: '' صدوق، وأنكروا عليه أحاديث يرويها عن أبيه عن مكحول ''، وقال أبو حاتم: ''ثقة، تغير عقله في آخر حياته وهو مستقيم الحديث ''. ينظر تهذيب التهذيب 6 / 150، 151. والثانية: مكحول لم يدرك عمر، فهو منقطع، وقد أعله به العراقي في طرح التثريب 4 / 110

وروى الشافعي في الأم 2 / 94، ومن طريقه الدارقطني 2 / 170، والبيهقي 4 / 212 عن الدراوردي عن محمد بن عبد الله بن عمرو بن عثمان عن فاطمة بنت حسين أن رجلا شهد عند علي رضي الله عنه على رؤيته الهلال، فصام، وأحسبه أمر الناس أن يصوموا، وقال: '' أصوم يوما من شعبان أحب من أن أفطر يوما من رمضان ''. وإسناده ضعيف، الدراوردي في روايته ضعف، وفاطمة بنت حسين لم تدرك جدها عليا رضي الله عنه، فهي من صغار التابعين. انظر الثقات 5 / 300، 301، تهذيب الكمال لوحة 1692. وقال في المجموع 6 / 403: ''قال العبدري: ولا يصح عنه ''، وقال في التخليص: 2 / 211: '' فيه انقطاع ''. وقال العراقي في طرح التثريب 4 / 110: '' وهو منقطع ثم إنه إنما قاله عند شهادة واحد على رؤية الهلال لا في الغيم ''. وانظر نيل الأوطار 4 / 266، 267.

 

وروى أبو داود 2 / 298، رقم (1329) ، ومن طريقه البيهقي في الكبرى 4 / 210، 211 عن المغيرة بن فروة عن معاوية رضي الله عنه قال: إنا قد رأينا الهلال يوم كذا وكذا، وإني متقدم بالصيام، فمن أحب أن يفعله فليفعل. وإسناده ضعيف. '' المغيرة بن فروة '' لم يوثقه غير ابن حبان. انظر الثقات 5 / 410، وتهذيب التهذيب 10 / 268. والحديث في ضعيف سنن أبي داود.

 

وروى الإمام أحمد-كما في زاد المعاد 2 / 44- عن المغيرة حدثنا سعيد بن عبد العزيز قال: حدثني مكحول ويونس بن ميسرة بن حلبس أن معاوية بن أبي سفيان كان يقول: '' لأن أصوم يوما من شعبان أحب إلي من أن أفطر يوما من رمضان ''. وإسناده ضعيف، سعيد بن عبد العزيز- وهو التنوخي- اختلط بآخره. انظر الكواكب النيرات ص 213- 220، والمغيرة لم يتبين لي من هو، ومكحول لم يدرك معاوية، أما يونس بن ميسرة فقد اختلف في سماعه منه، والأقرب أنه سمع منه، فقد قتل سنة 132 هـ، وعمره 120 سنة، فيكون عمره وقت وفاة معاوية 58 سنة وهو دمشقي. وقد جزم يحيى بن معين بسماعه منه. انظر تهذيب الكمال لوحة 1571.

 

ورواه ابن الجوزي في العلل المتناهية 2 / 38 من طريق مكحول به بنحو الرواية الأولى. وهو منقطع، مكحول لم يدرك معاوية.

 

وروى الإمام أحمد أيضا- كما في زاد المعاد 2 / 44- عن زيد بن الحباب أخبرنا ابن لهيعة عن عبد الله بن هبيرة عن عمرو بن العاص أنه كان يصوم اليوم الذي يشك فيه من رمضان وابن لهيعة مختلف فيه، وعبد الله بن هبيرة لم يذكر له سماع من عمرو، وكان عمره وقت وفاته يقرب من عشر سنين أو يزيد عليها قليلا، وهو مصري. انظر تهذيب التهذيب 6 / 61، 62.

 

وروى الإمام أحمد- كما في زاد المعاد 2 / 44- عن عبد الرحمن بن مهدي حدثنا معاوية بن صالح عن أبي مريم مولى أبي هريرة قال: سمعت أبا هريرة يقول: لأن أتعجل في صوم رمضان بيوم أحب إلي من أن أتأخر، لأني إذا تعجلت لم يفتني، وإذا تأخرت فاتني. وإسناده حسن، رجاله ثقات، عدا معاوية بن صالح- وهو الحضرمي- فهو صدوق له أوهام، كما في التقريب ص 538، وقال الخطيب- كما في المجموع 6 / 632: '' وأما ما رويناه عن معاوية بن صالح عن أبي مريم- فذكره- ثم قال: فرواية ضعيفة لا تحفظ إلا من هذا الوجه، وأبو مريم مجهول، فلا يعارض بروايته ما نقله الحافظ من أصحاب أبي هريرة عنه '' ا. هـ. وما ذكره من جهالة أبي مريم غير مسلم، فقد وثقه العجلي، ونقل الإمام أحمد عن أهل حمص أنه معروف عندهم، وأنهم أحسنوا الثناء عليه. انظر تاريخ الثقات ص 510، وتهذيب التهذيب 12 / 231، 232.

 

وقد روى البيهقي هذا الأثر في سننه الكبرى 4 / 211 من طريق زيد بن حبان عن معاوية بن صالح به بنحوه، وروى الإمام أحمد كما في زاد المعاد 2 / 43، 44 عن إسماعيل بن إبراهيم حدثنا يحيى بن أبي إسحاق قال: رأيت الهلال إما الظهر وإما قريبا منه، فأفطر ناس من الناس فأتينا أنس بن مالك، فأخبرناه برؤية الهلال وبإفطار من أفطر، فقال: إني صائم غدا فكرهت الخلاف عليه، فصمت، وأنا متمم يومي هذا إلى الليل. وإسناده حسن، رجاله ثقات، عدا يحيى بن أبي إسحاق- وهو الحضرمي- فهو صدوق ربما أخطأ كما في التقريب ص 587. وقال الخطيب بعد ذكره لهذا الأثر: '' قال المخالف: ولا يتقدم أنس على صوم الجماعة إلا بصوم يوم الشك. فيقال له: قد قال أنس إنه لم يصمه معتقدا وجوبه، وإنما تابع الحكم بن أيوب- وكان هو الأمير- على الإمساك فيه، ولعل الأمير عزم عليه في ذلك فكره مخالفته، والمحفوظ عن أنس أنه أفطر يوم الشك، كذا روى عنه محمد بن سيرين وحسبك به فهما وعقلا وصدقا وفضلا'' انظر المجموع 6 / 432، 433.

 

وقد روى عبد الرازق في مصنفه 4 / 159، رقم (7317) ، وابن أبي شيبة 3 / 71 من طريق محمد بن سيرين عن أنس رواية تدل على أنه أفطر يوم الشك. وإسناده صحيح رجاله رجال الشيخين.

وروى الطبراني نحوه من طريق محمد بن كعب القرظي. وصحح إسناده الهيثمي في مجمع البحرين 3 / 103.

وروى البيهقي في سننه 4 / 209 نحوه من طريق همام عن قتادة.

وروى الإمام أحمد عن روح بن عبادة عن حماد بن سلمة عن هشام بن عروة عن فاطمة عن أسماء أنها كانت تصوم اليوم الذي يشك فيه من رمضان. انظر زاد المعاد 2 / 45. وقد تصحف فيه ''روح بن عبادة'' إلى ''روح بن عباد'' وقد صوبه شيخنا عبد العزيز بن باز في بعض دروسه. إسناد هذه الرواية متصل، ورجاله ثقات، إلا أن حماد بن سلمة تغير حفظه بآخره.

 

وقد تابع حماد يحيى بن ضريس عند البيهقي في الكبرى 4 / 211 فتتقوى رواية حماد بهذه المتابعة.

 

وروى سعيد بن منصور كما في زاد المعاد 2 / 45 عن يعقوب بن عبد الرحمن عن هشام بن عروة عن فاطمة بنت المنذر قالت: ما غم هلال رمضان إلا كانت أسماء متقدمة بيوم، وتأمر بتقدمه. وإسناده صحيح، رجاله رجال الصحيحين.

وقد حكي صيام يوم الشك أو القول بصيامه عن سالم بن عبد الله وعمر بن عبد العزيز ومجاهد وطاوس وأبي عثمان النهدي ومطرف بن الشخير وميمون بن مهران وبكر بن عبد الله المزني، وابن أبي مريم. انظر المغني 4 / 330، والمجموع 6 / 408، وزاد المعاد 2/ 42، وطرح التثريب 4 / 110، والمنح الشافيات 1 / 281. وانظر التعليق الآتي.
হয়তো তিনি নাখয়ি-এর বক্তব্য সম্পর্কে অবগত হয়েছিলেন এবং একে মাকরূহ হিসেবে গণ্য করেছিলেন। তাই (১) তিনি এর বৈধতা নিয়ে মতবিরোধ অস্বীকার করেছেন। অথবা হতে পারে তিনি তা জানতে পারেননি, এবং তার উদ্দেশ্য হলো: উভয় ক্ষেত্রেই মূল অবস্থার ওপর (ইস্তিশহাব) নির্ভর করা। কারণ নীতি হলো যে মাসটির অস্তিত্ব নিশ্চিত তা বিদ্যমান থাকা এবং যে মাসটি প্রবেশের ব্যাপারে সন্দেহ রয়েছে তা প্রবেশ না করা (২)। ঠিক একইভাবে এখানে যখন জিলহজ মাস (৩) প্রবেশের ব্যাপারে সন্দেহ হবে, তখন জিলকদ মাস পূর্ণ করার ওপর ভিত্তি (৪) করতে হবে; কারণ এটাই হলো মূল অবস্থা। আর এই হিসাব অনুযায়ী আরাফাহর দিনে রোজা রাখা হবে, যা জিলকদ মাস পূর্ণ করার অন্তর্ভুক্ত।

 

তবে সালাফদের মধ্যে কেউ কেউ সতর্কতাস্বরূপ রমজানের শুরুতে সন্দেহের দিনে (ইয়াওমুশ শাক) রোজা রাখতেন (৫)।

তাদের একটি দল আকাশ মেঘলা থাকা এবং না থাকার মধ্যে পার্থক্য করতেন...

--------------------------------------------

(১) 'ম' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: 'ফাযালিকা' (فذلك)।

(২) শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর বক্তব্য দেখুন যা পূর্ববর্তী টিকায় উদ্ধৃত হয়েছে।

(৩) 'আইন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: 'জিলহজ মাস' (شهر ذي الحجة)।

(৪) 'ম' ও 'কফ' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: 'মাবনা' (مبنى)।

(৫) ওয়ালিদ বিন মুসলিম ইবনে সাওবান থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি মাকহুল থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর (রা.) সেই রাতে আকাশ মেঘলা থাকলে রোজা রাখতেন এবং বলতেন: "এটি আগাম রোজা রাখা নয়, বরং এটি হলো অনুসন্ধান (তহাররি)।" দেখুন: যাদ আল-মাআদ ২/৪৩। সেখানে 'ইবনে' (بن) শব্দটি বাদ পড়েছে। আমাদের শাইখ আব্দুল আজিজ বিন বাজ তার কিছু পাঠে বলেছেন: "সাওবান তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন বলে জানা যায় না", এবং তিনি এই মতের দিকে ঝুঁকেছেন যে এর সঠিক পাঠ হলো: "ইবনে সাওবান তার পিতা থেকে"। জীবনীগ্রন্থসমূহের (কুতুবুর রিজাল) বর্ণনা অনুযায়ী এটিই সঠিক। তবে এই সনদটি দুর্বল (ضعيف); এতে দুটি ত্রুটি রয়েছে। প্রথমত: ইবনে সাওবান—যিনি হলেন আব্দুর রহমান বিন সাবিত বিন সাওবান—তার নির্ভরযোগ্যতা (توثيقه) নিয়ে মতভেদ রয়েছে। ইমাম আহমদ বলেছেন: "তার বর্ণিত হাদিসসমূহ মুনকার (مناكير)"। সালিহ বিন মুহাম্মদ বলেছেন: "তিনি সত্যবাদী (صدوق), তবে তারা তার সেই হাদিসগুলো প্রত্যাখ্যান করেছেন যা তিনি তার পিতা থেকে এবং তার পিতা মাকহুল থেকে বর্ণনা করেছেন"। আবু হাতিম বলেছেন: "তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), তবে জীবনের শেষভাগে তার মানসিক অবস্থার পরিবর্তন (تغير عقله) ঘটেছিল, যদিও তার হাদিস সঠিক (مستقيم الحديث)"। দেখুন: তাহযিব আত-তাহযিব ৬/১৫০, ১৫১। দ্বিতীয় ত্রুটি: মাকহুল উমর (রা.)-কে পাননি, তাই এটি বিচ্ছিন্ন (منقطع)। ইরাকি 'তরহ আত-তছরিব' (৪/১১০) গ্রন্থে একে ত্রুটিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ইমাম শাফেয়ী 'আল-উম্ম' (২/৯৪) গ্রন্থে এবং তার সূত্রে দারাকুতনি (২/১৭০) ও বায়হাকি (৪/২১২) আদ-দারওয়ার্দি থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন উসমান থেকে, তিনি ফাতেমা বিনতে হুসাইন থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি আলী (রা.)-এর নিকট চাঁদ দেখার সাক্ষ্য দিলেন, ফলে তিনি রোজা রাখলেন এবং আমার ধারণা তিনি মানুষকেও রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি বলতেন: "শাবান মাসের একটি দিন রোজা রাখা আমার নিকট রমজানের একটি দিন রোজা না রাখার চেয়ে অধিক প্রিয়।" এর সনদটি দুর্বল (ضعيف); আদ-দারওয়ার্দীর বর্ণনায় দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে এবং ফাতেমা বিনতে হুসাইন তার দাদা আলী (রা.)-কে পাননি, তিনি ছোট তাবেয়ি (صغار التابعين) পর্যায়ের। দেখুন: আস-সিকাত ৫/৩০০, ৩০১; তাহযিব আল-কামাল, পৃষ্ঠা ১৬৯২। আল-আবদারি 'আল-মাজমু' (৬/৪০৩) গ্রন্থে বলেছেন: "এটি তার থেকে সহিহ (يصح) নয়।" 'আত-তাখলিস' (২/২১১) গ্রন্থে বলা হয়েছে: "এতে বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) রয়েছে।" ইরাকি 'তরহ আত-তছরিব' (৪/১১০) গ্রন্থে বলেছেন: "এটি বিচ্ছিন্ন (منقطع), তাছাড়া তিনি এটি কেবল একজনের চাঁদ দেখার সাক্ষ্য দেওয়ার সময় বলেছিলেন, মেঘলা আকাশের ক্ষেত্রে নয়।" দেখুন: নাইল আল-আওতার ৪/২৬৬, ২৬৭।

 

আবু দাউদ (২/২৯৮, হাদিস নং ১৩২৯) এবং তার সূত্রে বায়হাকি 'আল-কুবরা' (৪/২১০, ২১১) গ্রন্থে মুগিরা বিন ফারওয়া থেকে, তিনি মুয়াবিয়া (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "আমরা অমুক অমুক দিনে চাঁদ দেখেছি, আমি আগাম রোজা রাখছি, যে এটি করতে চায় সে যেন তা করে।" এর সনদটি দুর্বল (ضعيف)। মুগিরা বিন ফারওয়াকে ইবনে হিব্বান ছাড়া অন্য কেউ নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেননি। দেখুন: আস-সিকাত ৫/৪১০ এবং তাহযিব আত-তাহযিব ১০/২৬৮। হাদিসটি 'যঈফ সুনান আবু দাউদ'-এ রয়েছে।

 

ইমাম আহমদ—যাদ আল-মাআদ ২/৪৪-এ যেমনটি রয়েছে—মুগিরা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন সাঈদ বিন আব্দুল আজিজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মাকহুল এবং ইউনুস বিন মায়সারা বিন হালবাস আমাকে জানিয়েছেন যে, মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান বলতেন: "শাবান মাসের একটি দিন রোজা রাখা আমার নিকট রমজানের একটি দিন রোজা না রাখার চেয়ে অধিক প্রিয়।" এর সনদটি দুর্বল (ضعيف); সাঈদ বিন আব্দুল আজিজ—যিনি আত-তানুখি—শেষ জীবনে স্মৃতিবিভ্রমে (اختلط) আক্রান্ত হয়েছিলেন। দেখুন: আল-কাওয়াকিব আন-নিইয়ারাত, পৃষ্ঠা ২১৩-২২০। আর মুগিরা কে তা আমার কাছে স্পষ্ট নয় এবং মাকহুল মুয়াবিয়াকে পাননি। তবে ইউনুস বিন মায়সারা তার থেকে শ্রবণ (سماعه) করেছেন কি না তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে; অধিকতর সঠিক হলো তিনি তার থেকে শুনেছেন, কারণ তিনি ১৩২ হিজরিতে ১২০ বছর বয়সে নিহত হন, সে হিসেবে মুয়াবিয়ার ইন্তেকালের সময় তার বয়স ছিল ৫৮ বছর এবং তিনি দামেস্কের অধিবাসী ছিলেন। ইয়াহইয়া বিন মাইন তার থেকে শ্রবণ (سماعه) করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দেখুন: তাহযিব আল-কামাল, পৃষ্ঠা ১৫৭১।

 

ইবনুল জাওযি এটি 'আল-ইলাল আল-মুতানাহিয়াহ' (২/৩৮) গ্রন্থে মাকহুলের সূত্রে প্রথম বর্ণনার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এটি বিচ্ছিন্ন (منقطع); মাকহুল মুয়াবিয়াকে পাননি।

 

ইমাম আহমদ আরও বর্ণনা করেছেন—যেমনটি 'যাদ আল-মাআদ' (২/৪৪)-এ রয়েছে—যাইদ বিন হুবাব থেকে, তিনি ইবনে লাহিয়া থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন হুবাইরা থেকে, তিনি আমর বিন আল-আস থেকে যে, তিনি রমজানের সন্দেহের দিনে রোজা রাখতেন। ইবনে লাহিয়া বিতর্কিত (مختلف فيه) এবং আব্দুল্লাহ বিন হুবাইরা আমর (রা.) থেকে কোনো কিছু শ্রবণ (سماع) করেছেন বলে উল্লেখ নেই; তার ইন্তেকালের সময় আব্দুল্লাহর বয়স প্রায় দশ বছর বা তার কিছু বেশি ছিল এবং তিনি মিশরীয় ছিলেন। দেখুন: তাহযিব আত-তাহযিব ৬/৬১, ৬২।

 

ইমাম আহমদ—যেমনটি 'যাদ আল-মাআদ' (২/৪৪)-এ রয়েছে—আব্দুর রহমান বিন মাহদি থেকে, তিনি মুয়াবিয়া বিন সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.)-এর মুক্তদাস আবু মারইয়াম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছি: "রমজানের রোজা একদিন আগে শুরু করা আমার কাছে একদিন দেরিতে শুরু করার চেয়ে অধিক প্রিয়; কারণ আমি আগে শুরু করলে তা আমার থেকে ছুটে যায় না, কিন্তু দেরি করলে তা ছুটে যায়।" এর সনদটি হাসান (حسن), এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات), কেবল মুয়াবিয়া বিন সালিহ আল-হাদরামি ব্যতীত; তিনি সত্যবাদী তবে ভ্রম প্রবণ (صدوق له أوهাম), যেমনটি 'আত-তাকরিব' (পৃষ্ঠা ৫৩৮)-এ রয়েছে। আল-খাতিব—যেমনটি 'আল-মাজমু' (৬/৬৩২)-এ রয়েছে—বলেছেন: "মুয়াবিয়া বিন সালিহ থেকে আবু মারইয়ামের সূত্রে যা বর্ণিত হয়েছে... এটি একটি দুর্বল (ضعيفة) বর্ণনা যা কেবল এই সূত্রেই সংরক্ষিত হয়েছে এবং আবু মারইয়াম অপরিচিত (مجهول); সুতরাং তার বর্ণনা দিয়ে আবু হুরায়রার হাফিজ ছাত্রদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা খণ্ডন করা যাবে না।" তবে আবু মারইয়ামের অপরিচিত (জাহালাত) হওয়ার যে কথা তিনি উল্লেখ করেছেন তা গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ আল-আজলি তাকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন এবং ইমাম আহমদ হিমসবাসীদের থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাদের নিকট পরিচিত ছিলেন এবং তারা তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। দেখুন: তারিখ আস-সিকাত ৫১০ এবং তাহযিব আত-তাহযিব ১২/২৩১, ২৩২।

 

বায়হাকি এই আসারটি তার 'সুনান আল-কুবরা' (৪/২১১) গ্রন্থে যাইদ বিন হিব্বান থেকে মুয়াবিয়া বিন সালিহ-এর সূত্রে অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমদ—যেমনটি 'যাদ আল-মাআদ' (২/৪৩, ৪৪)-এ রয়েছে—ইসমাইল বিন ইব্রাহিম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইয়াহইয়া বিন আবি ইসহাক থেকে, তিনি বলেন: আমি যোহরের সময় বা তার কাছাকাছি সময়ে চাঁদ দেখলাম, ফলে কিছু লোক রোজা ভেঙে ফেলল। এরপর আমরা আনাস বিন মালিকের নিকট আসলাম এবং তাকে চাঁদ দেখা ও রোজা ভাঙার খবর জানালাম। তিনি বললেন: "আমি কাল রোজা রাখব।" আমি তার বিরোধিতা করা অপছন্দ করলাম, তাই আমি রোজা রাখলাম এবং আমি আজকের এই দিনটি রাত পর্যন্ত পূর্ণ করলাম। এর সনদটি হাসান (حسن), এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات), কেবল ইয়াহইয়া বিন আবি ইসহাক আল-হাদরামি ব্যতীত; তিনি সত্যবাদী তবে কখনো ভুল করেন (صدوق ربما أخطأ), যেমনটি 'আত-তাকরিব' (পৃষ্ঠা ৫৮৭)-এ রয়েছে। আল-খাতিব এই আসারটি উল্লেখ করার পর বলেছেন: "প্রতিপক্ষ বলতে পারেন: আনাস জামাতের আগে রোজা শুরু করেননি কেবল সন্দেহের দিনের রোজা ছাড়া। এর উত্তরে বলা হবে: আনাস বলেছেন যে তিনি এটি ওয়াজিব মনে করে পালন করেননি, বরং তিনি হাকাম বিন আইয়ুব—যিনি আমির ছিলেন—তার অনুসরণে পানাহার থেকে বিরত ছিলেন। হতে পারে আমির তাকে এ ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছিলেন বিধায় তিনি তার বিরোধিতা করা অপছন্দ করেছিলেন। আর আনাস (রা.) থেকে যা সংরক্ষিত (মাহফুজ) আছে তা হলো তিনি সন্দেহের দিনে রোজা ভাঙতেন; মুহাম্মদ বিন সিরিন তার থেকে এমনটিই বর্ণনা করেছেন, আর তার বুঝ, বুদ্ধি, সততা ও মর্যাদা সম্পর্কে তো কথাই নেই।" দেখুন: আল-মাজমু ৬/৪৩২, ৪৩৩।

 

আব্দুর রাজ্জাক তার 'মুসান্নাফ' (৪/১৫৯, হাদিস নং ৭৩১৭) এবং ইবনে আবি শায়বা (৩/৭১) মুহাম্মদ বিন সিরিনের সূত্রে আনাস (রা.) থেকে এমন বর্ণনা করেছেন যা প্রমাণ করে যে তিনি সন্দেহের দিনে রোজা ভেঙেছিলেন। এর সনদটি সহিহ (صحيহ), এর বর্ণনাকারীগণ বুখারি ও মুসলিমের বর্ণনাকারী।

তাবারানি মুহাম্মদ বিন কাব আল-কুরাযি-এর সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আল-হাইসামি 'মাজমা আল-বাহরাইন' (৩/১০৩) গ্রন্থে এর সনদকে সহিহ বলেছেন।

বায়হাকি তার 'সুনান' (৪/২০৯) গ্রন্থে হাম্মাম থেকে, তিনি কাতাদা থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

ইমাম আহমদ রাউহ বিন উবাদাহ থেকে, তিনি হাম্মাদ বিন সালামাহ থেকে, তিনি হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, তিনি ফাতেমা থেকে, তিনি আসমা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রমজানের সন্দেহের দিনে রোজা রাখতেন। দেখুন: যাদ আল-মাআদ ২/৪৫। সেখানে 'রাউহ বিন উবাদাহ' শব্দটি ভুলক্রমে 'রাউহ বিন উবাদ' মুদ্রিত হয়েছে, যা আমাদের শাইখ আব্দুল আজিজ বিন বাজ তার কিছু পাঠে সংশোধন করে দিয়েছেন। এই বর্ণনার সনদটি সংযুক্ত (متصل) এবং বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات), তবে হাম্মাদ বিন সালামাহর স্মৃতিশক্তি শেষ বয়সে কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছিল।

 

বায়হাকি 'আল-কুবরা' (৪/২১১) গ্রন্থে ইয়াহইয়া বিন দুরয়াইস হাম্মাদকে সমর্থন (মুতাবায়াত) করেছেন, ফলে হাম্মাদের বর্ণনাটি এই অনুসরণ (মুতাবায়াত) (متابعة)-এর মাধ্যমে শক্তিশালী হয়েছে।

 

সাঈদ বিন মনসুর—যেমনটি 'যাদ আল-মাআদ' (২/৪৫)-এ রয়েছে—ইয়াকুব বিন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, তিনি ফাতেমা বিনতে মুনযির থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "রমজানের চাঁদ যখনই মেঘাচ্ছন্ন হতো, আসমা (রা.) একদিন আগে রোজা রাখতেন এবং আগাম রোজা রাখার নির্দেশ দিতেন।" এর সনদটি সহিহ (صحيহ) এবং এর বর্ণনাকারীগণ বুখারি ও মুসলিমের বর্ণনাকারী।

সন্দেহের দিনে রোজা রাখা বা তা রাখার পক্ষের মতটি সালিম বিন আব্দুল্লাহ, উমর বিন আব্দুল আজিজ, মুজাহিদ, তাউস, আবু উসমান আন-নাহদি, মুতাররিফ বিন আশ-শিখখির, মায়মুন বিন মিহরান, বকর বিন আব্দুল্লাহ আল-মুযানি এবং ইবনে আবি মারইয়াম থেকে বর্ণিত হয়েছে। দেখুন: আল-মুগনি ৪/৩৩০, আল-মাজমু ৬/৪০৮, যাদ আল-মাআদ ২/৪২, তরহ আত-তছরিব ৪/১১০ এবং আল-মিনাহ আশ-শাফিয়াত ১/২৮১। পরবর্তী টীকাটিও দেখুন।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
مصحية أو مغيمة (1) .

--------------------------------------------

(1) روى عبد الرزاق في مصنفه 4 / 161، رقم (7324) عن معمر عن ابن طاوس عن أبيه عن ابن عمر رضي الله عنهما أنه كان إذا كان سحاب أصبح صائما، وإذا لم يكن سحاب أصبح مفطرا. وإسناده صحيح. رجاله رجال الصحيحين.

وروى هذا الأثر أيضا عبد الرازق في الموضع السابق، رقم (7323) ، وأحمد 2 / 5، وأبو داود 2 / 297، رقم (2320) ، والدارقطني 2 / 161، والبيهقي في سننه الكبرى 4 / 204، وفي معرفة السنن 6 / 233، 234، وابن عبد البر في التمهيد 14 / 348، 349 من طرق عن أيوب عن نافع عن ابن عمر. وإسناده صحيح، رجاله رجال الصحيحين. وقد سقط من مصنف عبد الرازق المطبوع قوله: '' عن نافع ''. انظر التمهيد 14 / 348، ومجموع فتاوى ابن تيمية 25 / 149. وقد صحح هذا الإسناد النووي في المجموع 6 / 405، وابن القيم في زاد المعاد 2 / 43، وأحمد شاكر في تعليقه على المسند 6 / 226، ومحمد ناصر الدين في الإرواء 4 / 9، وشعيب الأرنؤوط في تعليقه على شرح السنة 6 / 233.

 

وهذا وقد روى ابن أبي شيبة 3 /71، وحنبل في المسائل كما في زاد المعاد 2 / 48 بإسناد حسن عن ابن عمر رضي الله عنهما أنه قال: '' لو صمت السنة كلها لأفطرت اليوم الذي يشك فيه ''.

 

وروي عنه أيضا النهي عن التقدم على الإمام والجماعة. وقال الخطيب البغدادي: ''وهذا هو الأشبه بابن عمر، لأنه لا يجوز الظن به أنه خالف النبي صلى الله عليه وسلم وترك قوله الذي رواه هو وغيره من العمل بالرؤية أو إكمال العدة، فيجب أن يحمل ما روي عن ابن عمر من صوم يوم الشك على أنه كان يصبح ممسكا حتى يتبين بعد ارتفاع النهار هل تقوم بينة بالرؤية، فظن الراوي أنه كان صائما، ويدل عليه أنه لا يحتسب به ولا يفطر إلا مع الناس، ويدل عليه أيضا قوله: '' لا أتقدم قبل الإمام ''، وقوله: '' لو صمت السنة لأفطرته ''- يعني يوم الشك- وهذا تصريح منه بأنه كان لا يعتقد الصيام في ذلك، وإنما كان ممسكا. اهـ. انظر المجموع 6 / 442، وانظر طرح التثريب 4 / 111، وانظر ما يأتي ص () تعليق () .

 

وروى الإمام أحمد في المسند 6 / 152، 126، والبيهقي في الكبرى 4 / 211 من طريقين عن شعبة قال: سمعت يزيد بن خمير عن عبد الله بن أبي موسى أنه سأل عائشة عن اليوم الذي يشك فيه الناس، فقالت: لأن أصوم يوما من شعبان أحب إلي من أن أفطر يوما من رمضان. وإسناده حسن، رجاله ثقات، عدا يزيد بن خمير، فهو صدوق كما في التقريب ص 600، وقد صححه الشيخ محمد ناصر الدين في الإرواء 4 / 11، وقال الهيثمي في المجمع 3 / 148: '' رجاله رجال الصحيح ''.

 

ورواه البيهقي أيضا في الموضع السابق، وفي معرفة السنن 6 / 234 من طريق يزيد بن هارون عن شعبة به ولفظه: أنه سأل عائشة عن الشهر إذا غم. فقالت.. فذكره. ثم قال البيهقي: ''ورواية يزيد بن هارون تدل على أن مذهب عائشة رضى الله عنها في ذلك كمذهب ابن عمر في الصوم إذا غم الشهر دون أن يكون صحوا ''. وإسناد هذه الرواية حسن كسابقه وقال الخطيب: '' أرادت عائشة رضى الله عنها صوم الشك إذا شهد برؤية الهلال عدل، فيجب صومه ولو كان قد شهد بباطل في نفس الأمر، وأرادت بقولها مخالفة من شرط لصوم رمضان شاهدين، والدليل على هذا أن مسروقا روى عنها النهي عن صوم يوم الشك ''. ا. هـ. انظر المجموع 6 / 433.
আকাশ পরিষ্কার হোক বা মেঘাচ্ছন্ন (১)।

--------------------------------------------

(১) আবদুর রাজ্জাক তার মুসান্নাফে (৪/১৬১, নং ৭৩২৪) মা'মার থেকে, তিনি ইবনে তাউস থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যখন মেঘ থাকত তখন তিনি সিয়াম পালনরত অবস্থায় ভোর করতেন, আর যখন মেঘ থাকত না তখন তিনি সিয়ামহীন অবস্থায় ভোর করতেন। এর সনদটি (إسناد) সহিহ (صحيح)। এর বর্ণনাকারীগণ বুখারি ও মুসলিমের (সহিহাইন) বর্ণনাকারী।

এই আসারটিও (الأثر) আবদুর রাজ্জাক পূর্বোক্ত স্থানে (নং ৭৩২৩), আহমাদ (২/৫), আবু দাউদ (২/২৯৭, নং ২৩২০), দারা কুতনি (২/১৬১), বায়হাকি তার সুনানে কুবরা (৪/২০৪) ও মা'রিফাতুস সুনানে (৬/২৩৩, ২৩৪) এবং ইবনে আবদিল বার আত-তামহিদে (১৪/৩৪৮, ৩৪৯) আইয়ুব থেকে, তিনি নাফি' থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে—এই সূত্রে বিভিন্ন পথে বর্ণনা করেছেন। এর সনদটি (إسناد) সহিহ (صحيح), এর বর্ণনাকারীগণ বুখারি ও মুসলিমের (সহিহাইন) বর্ণনাকারী। আবদুর রাজ্জাকের মুদ্রিত মুসান্নাফ থেকে 'নাফি' থেকে' কথাটি বাদ পড়েছে। দেখুন: আত-তামহিদ (১৪/৩৪৮) এবং মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ (২৫/১৪৯)। নববী মাজমুউ গ্রন্থে (৬/৪০৫), ইবনুল কায়্যিম যাদুল মাআদ-এ (২/৪৩), আহমাদ শাকের মুসনাদের টিকায় (৬/২২৬), মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন ইরওয়া গ্রন্থে (৪/৯) এবং শুআইব আরনাউত শারহুস সুন্নাহ-এর টিকায় (৬/২৩৩) এই সনদটিকে (إسناد) সহিহ (صحح) বলেছেন।

 

ইবনে আবি শায়বা (৩/৭১) এবং হাম্বল আল-মাসায়িল গ্রন্থে (যেমনটি যাদুল মাআদ ২/৪৮-এ বর্ণিত) হাসান (حسن) সনদে (إسناد) ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: 'যদি আমি সারা বছরও সিয়াম পালন করতাম, তবুও সন্দেহের দিনটিতে সিয়াম ভঙ্গ করতাম।'

 

তাঁর থেকে ইমাম ও জামাতের আগে সিয়াম পালন করার ব্যাপারে নিষেধও বর্ণিত হয়েছে। খতিব বাগদাদি বলেন: 'এটিই ইবনে উমরের (অবস্থার সাথে) অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ; কারণ তাঁর ব্যাপারে এমন ধারণা করা সমীচীন নয় যে তিনি নবী (সা.)-এর বিরোধিতা করবেন এবং তাঁর সেই বাণীটি ত্যাগ করবেন যা তিনি নিজে এবং অন্যরা চাঁদ দেখার ওপর আমল করা বা গণনা পূর্ণ করার ব্যাপারে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং ইবনে উমর থেকে সন্দেহের দিনে সিয়াম পালন সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, তা এ অর্থে গ্রহণ করতে হবে যে, তিনি এই অবস্থায় ভোর করতেন যেন বেলা বাড়ার পর পরিষ্কার হয় যে চাঁদ দেখার কোনো সাক্ষ্য পাওয়া গেছে কি না; ফলে বর্ণনাকারী ধারণা করেছেন যে তিনি সিয়াম পালন করছেন। এর প্রমাণ হলো, তিনি একে সিয়াম হিসেবে গণ্য করতেন না এবং মানুষজনের সাথে না হওয়া পর্যন্ত সিয়াম ভঙ্গ করতেন না। এর আরও প্রমাণ হলো তাঁর এই কথা: 'আমি ইমামের আগে অগ্রবর্তী হব না' এবং তাঁর বক্তব্য: 'যদি আমি সারা বছর সিয়াম পালন করতাম তবে অবশ্যই এই দিনে তা ভঙ্গ করতাম'—অর্থাৎ সন্দেহের দিন। এটি তাঁর পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট ঘোষণা যে তিনি এই দিনে সিয়াম পালনের বিশ্বাস রাখতেন না, বরং তিনি কেবল পানাহার থেকে বিরত থাকতেন। সমাপ্ত। দেখুন: মাজমুউ (৬/৪৪২), তারহুত্তাসরিব (৪/১১১), এবং সামনে দেখুন পৃ. () টিকা ()।

 

ইমাম আহমাদ মুসনাদে (৬/১৫২, ১২৬) এবং বায়হাকি কুবরা গ্রন্থে (৪/২১১) শু'বা থেকে দুটি সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইয়াজিদ বিন খুমাইরকে বলতে শুনেছি, তিনি আবদুল্লাহ বিন আবি মুসা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আয়েশা (রা.)-কে সন্দেহের দিনটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন: 'রমজানের একদিন (সন্দেহের কারণে) ভঙ্গ করার চেয়ে শাবানের একদিন সিয়াম পালন করা আমার কাছে অধিক প্রিয়।' এর সনদটি (إسناد) হাসান (حسن), এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات), কেবল ইয়াজিদ বিন খুমাইর ব্যতীত; তিনি সত্যবাদী (صدوق) যেমনটি তাকরিব (পৃ. ৬০০)-এ বর্ণিত হয়েছে। শেখ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন ইরওয়া গ্রন্থে (৪/১১) একে সহিহ (صححه) বলেছেন এবং হাইসামি মাজমাউ গ্রন্থে (৩/১৪৮) বলেছেন: 'এর বর্ণনাকারীগণ সহিহ (الصحيح)-এর বর্ণনাকারী।'

 

বায়হাকি এটিও পূর্বোক্ত স্থানে এবং মা'রিফাতুস সুনানে (৬/২৩৪) ইয়াজিদ বিন হারুন থেকে শু'বার সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং এর শব্দমালা হলো: তিনি আয়েশা (রা.)-কে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তখন তিনি বললেন... (পুরোটা উল্লেখ করেছেন)। এরপর বায়হাকি বলেন: 'ইয়াজিদ বিন হারুনের বর্ণনাটি প্রমাণ করে যে, আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে সিয়াম পালনের ক্ষেত্রে আয়েশা (রা.)-এর মাযহাব ছিল ইবনে উমরের মাযহাবের মতো, আকাশ পরিষ্কার থাকার ক্ষেত্রে নয়।' এই বর্ণনার সনদটি (إسناد) পূর্বের মতো হাসান (حسن)। খতিব বলেন: 'আয়েশা (রা.) সন্দেহের দিনের সিয়াম দ্বারা ঐ অবস্থাকে বুঝিয়েছেন যখন কোনো ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তি চাঁদ দেখার সাক্ষ্য দেয়; তখন সিয়াম পালন ওয়াজিব হয়ে যায়, যদিও বাস্তবে সে ভুল সাক্ষ্য দিয়ে থাকুক না কেন। এর মাধ্যমে তিনি ঐ ব্যক্তির বিরোধিতা করতে চেয়েছেন যে রমজানের সিয়ামের জন্য দুজন সাক্ষীর শর্তারোপ করে। এর প্রমাণ হলো, মাসরুক তাঁর থেকে সন্দেহের দিনে সিয়াম পালন করতে নিষেধ করার কথা বর্ণনা করেছেন।' সমাপ্ত। দেখুন: মাজমুউ (৬/৪৩৩)।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
كما هو المشهور عن الإمام أحمد (1) .

والاحتياط هنا: إنما يؤثر (2) في استحباب صيام الثامن والتاسع من ذي الحجة مع الشك احتياطا. كما قال ابن سيرين وغيره أنه مع اشتباه الأشهر في (3) شهر المحرم يصام منه ثلاثة أيام احتياطا ليحصل بذلك صيام يوم التاسع والعاشر، ووافقه (4) الإمام أحمد رحمه الله على ذلك (5) .

وقد روي عن ابن عباس رضي الله عنهما أنه كان يعلل (6) صيام التاسع مع العاشر بالاحتياط (7) أيضا خشية فوات صوم يوم عاشوراء (8) .

 

وأما أن الاحتياط ينهض (9) إلى تحريم صيام يوم التاسع من ذي الحجة لمجرد (10) الشك فكلا، لأن الأصل

--------------------------------------------

(1) روى هذا القول عن أحمد ابنه عبد الله في المسائل ص 194، وابنه صالح في المسائل 3 / 202، وأبو داود في المسائل ص 88.

والصحيح في هذه المسألة أنه لا يشرع صيام هذا اليوم، ولا يجزي لو صامه ثم تبين أنه من رمضان، سواء حال دون رؤيته غيم أو غيره أم لا، وهذا هو قول جمهور أهل العلم من الصحابة فمن بعدهم، لما روى البخاري 4 / 119، رقم (1909) ، ومسلم 7 / 193 عن أبي هريرة مرفوعا: '' صوموا لرؤيته وأفطروا لرؤيته فإن غبي عليكم فأكملوا عدة شعبان ثلاثين ''. وله شواهد كثيرة من أحاديث عدة من الصحابة يطول الكلام بذكرها. انظر جامع الأصول 6 / 268- 271، 350، 351، ونصب الراية 2 / 437- 443، وزاد المعاد 2 / 39- 49، وترتيب صحيح الجامع 1 / 390- 392، وانظر شرح السنة 6 / 227- 235، والتمهيد 14 / 337- 354، وشرح الزركشي 2 / 550- 561، وطرح التثريب 4 / 105- 114، والمجموع 6 / 203- 235، وفتح الباري 4 / 221، 222، ونيل الأوطار 4 / 262- 267.

 

وقد ألف بعض علماء الحنابلة رسائل في إيجاب صوم يوم الشك، وقابلهم آخرون فصنفوا في كراهة صومه وتحريمه، منهم محمد بن عبد الهادي الحنبلي. انظر حاشية الروض المربع للشيخ عبد الرحمن بن قاسم 3 / 351.

 

وقد ذكر النووي في المجموع 6 / 408- 435 ملخص رسالة ألفها القاضي أبو يعلى الحنبلي في إيجاب صوم يوم الشك وقت الغيم، ثم ذكر ملخص رسالة ألفها الخطيب البغدادي في الرد على رسالة أبي يعلى.

(2) في ''ع '' و ''م '': ''يعتبر''.

(3) في ''ع '': ''وفي ''.

(4) في '' ع '': '' ووافق '' وعليها علامة نسخة، وفي هامشها: '' ووافقه '' وعليها علامة نسخة أخرى.

(5) قال في المغني 4 / 441: '' قال أحمد: فإن اشتبه عليه أول الشهر صام ثلاثة أيام، وإنما يفعل ذلك ليتيقن صوم التاسع والعاشر ''. وانظر شرح الزركشي 2 / 640، والشرح الكبير لابن قدامة 2 / 5، والمبدع 3 / 52. ولم أقف على من روى هذا القول عن ابن سيرين.

(6) في ''ع '': '' يصل '' ووضع عليها علامة نسخة، وفي هامشها: '' يعلل '' ووضع عليها علامة نسخة أخرى.

(7) في '' م '': '' الاحتياط ''.

(8) روى ابن أبي شيبة في مصنفه في كتاب الصيام: في يوم عاشوراء أي يوم هو؟ 3 / 59، والطبري في تهذيب الآثار القسم الأول من مسند عمر ص 217، رقم (2431، 2432) ، والبيهقي في معرفة السنن كتاب الصيام: صيام يوم التاسع من المحرم مع العاشر 6 / 351، رقم (8972) من طرق عن ابن أبي ذئب عن شعبة مولى ابن عباس عن ابن عباس أنه كان يصوم في السفر يوم عاشوراء ويوالي بين اليومين خوفا أن يفوته. وإسناده ضعيف، لسوء حفظ شعبة. انظر التقريب ص 226. وقد أشار المؤلف إلى ضعفه، حيث صدره بصيغة التمريض.

(9) في '' ع '': '' نهض '' وعليها علامة نسخة. وفي هامشها: '' ينهض '' ووضع عليها علامة نسخة أخرى وعلامة تصحيح.

(10) في '' ع '': '' بمجرد '' ووضع عيها علامة نسخة، وفي هامشها: '' لمجرد '' ووضع عليها علامة نسخة أخرى.
যেমনটি ইমাম আহমদ থেকে প্রসিদ্ধ (مشهور) (১)।

আর এখানে সতর্কতা অবলম্বন: কেবল সন্দেহ থাকা অবস্থায় সতর্কতাস্বরূপ জিলহজ মাসের অষ্টম ও নবম তারিখে রোজা রাখা মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। যেমনটি ইবনে সিরিন এবং অন্যরা বলেছেন যে, মহররম মাসে মাসের শুরু অস্পষ্ট (৩) হয়ে পড়লে সতর্কতাস্বরূপ তিন দিন রোজা রাখতে হবে যাতে এর মাধ্যমে নবম ও দশম তারিখের রোজা নিশ্চিতভাবে পালন করা যায়। ইমাম আহমদ (রহ.) এ বিষয়ে তার (৪) সাথে একমত হয়েছেন (৫)।

আর ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি আশুরার রোজা ছুটে যাওয়ার ভয়ে সতর্কতাস্বরূপ (৭) দশম তারিখের সাথে নবম তারিখে রোজা রাখার কারণ বর্ণনা (৬) করতেন (৮)।

 

আর স্রেফ (১০) সন্দেহের কারণে জিলহজ মাসের নবম তারিখের রোজা হারাম হওয়ার পর্যায়ে সতর্কতা উন্নীত (৯) হয় না; কারণ মূল নীতি হলো...

--------------------------------------------

(১) আহমদের এই উক্তিটি তার পুত্র আবদুল্লাহ আল-মাসায়িল-এর ১৯৪ পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন, তার পুত্র সালেহ আল-মাসায়িল-এর ৩/২০২ পৃষ্ঠায় এবং আবু দাউদ আল-মাসায়িল-এর ৮৮ পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন।

আর এই মাসআলায় সঠিক (صحيح) মত হলো যে, এই দিনে রোজা রাখা শরয়িভাবে বৈধ নয়। যদি কেউ রোজা রাখে এবং পরবর্তীতে তা রমজানের অংশ বলে প্রমাণিত হয়, তবে তা যথেষ্ট হবে না; চাই মেঘ বা অন্য কিছুর কারণে চাঁদ দেখা বাধাগ্রস্ত হোক বা না হোক। সাহাবি ও পরবর্তী যুগের অধিকাংশ আলেমদের মত এটাই। কারণ বুখারি ৪/১১৯, নং (১৯০৯) এবং মুসলিম ৭/১৯৩-এ আবু হুরায়রা থেকে মারফু (مرفوع) সূত্রে বর্ণনা করা হয়েছে: "তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং চাঁদ দেখে রোজা ভাঙো। যদি আকাশ মেঘলা থাকে, তবে শাবান মাস ত্রিশ দিন পূর্ণ করো।" সাহাবিদের বর্ণিত বিভিন্ন হাদিসে এর অনেক শাহেদ (شواهد) রয়েছে যার আলোচনা দীর্ঘ হবে। দেখুন জামেউল উসুল ৬/২৬৮-২৭১, ৩৫০, ৩৫১; নাসবুর রায়াহ ২/৪৩৭-৪৪৩; যাদুল মাআদ ২/৩৯-৪৯; তারতিব সহিহ আল-জামে ১/৩৯০-৩৯২ এবং দেখুন শারহুস সুন্নাহ ৬/২২৭-২৩৫; আত-তামহিদ ১৪/৩৩৭-৩৫৪; শারহুয যারকাশি ২/৫৫০-৫৬১; ত্বারহুত তাসরিব ৪/১০৫-১১৪; আল-মাজমু ৬/২০৩-২৩৫; ফাতহুল বারী ৪/২২১, ২২২; নাইলুল আওতার ৪/২৬২-২৬৭।

 

কিছু হাম্বলি আলেম সন্দেহের দিনে রোজা রাখা ওয়াজিব হওয়া সম্পর্কে পুস্তিকা রচনা করেছেন, আবার অন্যরা এর বিপরীতে এই দিনের রোজা রাখা মাকরূহ ও হারাম হওয়ার বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন, যাদের মধ্যে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল হাদি আল-হাম্বলি অন্যতম। দেখুন শায়খ আব্দুর রহমান ইবনে কাসিমের হাশিয়া আর-রওদুল মুরবি ৩/৩৫১।

 

নববী আল-মাজমু ৬/৪০৮-৪৩৫-এ মেঘলা আবহাওয়ায় সন্দেহের দিনে রোজা রাখা ওয়াজিব হওয়া সম্পর্কে কাজি আবু ইয়ালা আল-হাম্বলির রচিত একটি পুস্তিকার সারসংক্ষেপ উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি আবু ইয়ালার পুস্তিকার খণ্ডন করে খতিব আল-বাগদাদির রচিত একটি পুস্তিকার সারসংক্ষেপ উল্লেখ করেছেন।

(২) 'আ' এবং 'মা' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "গণ্য করা হয়"।

(৩) 'আ' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "এবং ম মাসে"।

(৪) 'আ' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "এবং তিনি একমত হয়েছেন" এবং সেখানে নুসখার চিহ্ন রয়েছে, আর এর মার্জিনে রয়েছে: "এবং তিনি তার সাথে একমত হয়েছেন" এবং সেখানে অন্য একটি নুসখার চিহ্ন রয়েছে।

(৫) আল-মুগনি ৪/৪৪১-এ বলা হয়েছে: "আহমদ বলেছেন: যদি কারো নিকট মাসের শুরু অস্পষ্ট হয় তবে সে তিন দিন রোজা রাখবে। তিনি কেবল নবম ও দশম তারিখের রোজা নিশ্চিত করার জন্য এমনটি করেন।" দেখুন শারহুয যারকাশি ২/৬৪০, ইবনে কুদামার আশ-শারহুল কাবীর ২/৫ এবং আল-মুবদি ৩/৫২। আমি এমন কাউকে পাইনি যিনি ইবনে সিরিন থেকে এই উক্তিটি বর্ণনা করেছেন।

(৬) 'আ' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "পৌঁছায়" এবং সেখানে নুসখার চিহ্ন রয়েছে; এর মার্জিনে রয়েছে: "কারণ বর্ণনা করেন" এবং সেখানে অন্য নুসখার চিহ্ন রয়েছে।

(৭) 'মা' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "সতর্কতা"।

(৮) ইবনে আবি শাইবা তার মুসান্নাফের রোজা অধ্যায়ে: "আশুরার দিনটি কোন দিন?" পরিচ্ছেদে (৩/৫৯); তাবারি তাহযিবুল আসার-এর প্রথম খণ্ড উমর (রা.)-এর মুসনাদ অংশে (পৃষ্ঠা ২১৭, নং ২৪৩১, ২৪৩২); বায়হাকি মা'রিফাতুস সুনান-এর রোজা অধ্যায়ে: "মহররমের দশম তারিখের সাথে নবম তারিখে রোজা রাখা" পরিচ্ছেদে (৬/৩৫১, নং ৮৯৭২) ইবনে আবি যি'ব থেকে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস শু'বাহ থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি সফরে আশুরার রোজা রাখতেন এবং রোজা ছুটে যাওয়ার ভয়ে দুই দিন একনাগাড়ে রোজা রাখতেন। আর এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف), শু'বাহর মুখস্থশক্তির দুর্বলতার কারণে। দেখুন আত-তাকরিব পৃষ্ঠা ২২৬। লেখক এর দুর্বলতার (ضعف) দিকে ইঙ্গিত করেছেন, কারণ তিনি এটি দুর্বলতা নির্দেশক শব্দ (صيغة التمريض) দিয়ে শুরু করেছেন।

(৯) 'আ' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "উঠেছিল" এবং সেখানে নুসখার চিহ্ন রয়েছে। এর মার্জিনে রয়েছে: "উঠে" এবং সেখানে অন্য একটি নুসখার চিহ্ন ও সংশোধনী চিহ্ন রয়েছে।

(১০) 'আ' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "স্রেফ" এবং সেখানে নুসখার চিহ্ন রয়েছে, আর এর মার্জিনে রয়েছে: "স্রেফ" এবং সেখানে অন্য একটি নুসখার চিহ্ন রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
بقاء ذي القعدة وعدم استهلاك ذي الحجة، فلا (1) يحرم صوم يوم (2) التاسع منه بمجرد الشك، كما يجب صوم الثلاثين (3) من رمضان مع الشك في استهلاك شوال، لأن الأصل عدمه وبقاء رمضان.

 

القول الثاني: أنه يصام ولا يلتفت إلى الشك، وهو مروي عن عائشة رضي الله عنها من وجوه. قال عبد الرزاق في كتابه: أخبرنا (4) معمر عن جعفر بن برقان عن الحكم أو غيره (5) عن مسروق أنه دخل هو ورجل معه (6) على عائشة يوم عرفة فقالت عائشة: يا جارية خوضي لهما سويقا وحليه، فلولا أني صائمة لذقته، قالا: أتصومين (7) يا أم

--------------------------------------------

(1) في ''ع'': ''ولا''.

(2) لفظة '' يوم '' غير موجودة في '' ع ''.

(3) في '' ع '': '' صوم يوم الثلاثين ''.

(4) في هامش '' ع '': ''أنبأنا '' ووضع عليها علامة نسخة، وفي ''م'' و'' ق '': ''أنبأ''.

(5) هكذا في '' ع '' وهو الصواب كما في المصنف، وفي '' م '' و'' ق '' وهامش '' ع '': '' وغيره '' ووضع عليها في هامش ''ع '' علامة نسخة أخرى.

(6) لفظة: '' معه '' غير موجودة في ''م ''.

(7) في '' ع '': '' تصومين '' ووضع عليها علامة نسخة، وفي هامشها: '' أتصومين '' ووضع عليها علامة نسخة أخرى.
যিলকদ মাস অবশিষ্ট থাকা এবং যিলহজ মাস শুরু না হওয়া প্রসঙ্গে; কেবল সন্দেহের বশবর্তী হয়ে যিলহজ মাসের নবম (৯) তারিখের (২) রোজা রাখা নিষিদ্ধ (১) হবে না, যেমনটি শাওয়াল মাস শুরু হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ থাকা সত্ত্বেও রমজানের ত্রিশ (৩০) তারিখের রোজা (৩) রাখা ওয়াজিব, কারণ মূল বিধান হলো নতুন মাস শুরু না হওয়া এবং রমজান মাস অবশিষ্ট থাকা।

 

দ্বিতীয় অভিমত: এই দিনে রোজা রাখা হবে এবং সন্দেহের প্রতি ভ্রূক্ষেপ করা হবে না। এটি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত (مروي) হয়েছে। আব্দুর রাজ্জাক তাঁর কিতাবে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (৪) (أخبرنا) মা’মার, তিনি জাফর ইবনে বুরকান থেকে, তিনি হাকাম অথবা অন্য কারো (৫) থেকে, তিনি মাসরুক থেকে বর্ণনা করেন যে, আরাফার দিনে তিনি এবং তাঁর সাথে থাকা এক ব্যক্তি (৬) আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর নিকট প্রবেশ করলেন। তখন আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বললেন: হে দাসী, তাদের জন্য ছাতু গুলিয়ে দাও এবং তাতে মিষ্টি মেশাও; আমি যদি রোজাদার না হতাম, তবে আমি নিজেই তা চেখে দেখতাম। তাঁরা দুজনে বললেন: আপনি কি রোজা রাখছেন (৭) হে উম্মুল...

--------------------------------------------

(১) 'আইন' পান্ডুলিপিতে রয়েছে: 'এবং না'।

(২) 'দিন' শব্দটি 'আইন' পান্ডুলিপিতে নেই।

(৩) 'আইন' পান্ডুলিপিতে রয়েছে: 'ত্রিশতম দিনের রোজা'।

(৪) 'আইন' পান্ডুলিপির হাশিয়ায় রয়েছে: 'আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا)' এবং সেখানে একটি পাঠভেদ চিহ্ন দেওয়া হয়েছে; আর 'মীম' ও 'কাফ' পান্ডুলিপিতে রয়েছে: 'সংবাদ দিয়েছেন (أنبأ)'।

(৫) 'আইন' পান্ডুলিপিতে এভাবেই আছে এবং এটিই সঠিক যেমনটি মুসান্নাফ গ্রন্থে রয়েছে; আর 'মীম', 'কাফ' এবং 'আইন' পান্ডুলিপির হাশিয়ায় রয়েছে: 'এবং অন্য কেউ' এবং 'আইন' পান্ডুলিপির হাশিয়ায় এর ওপর অন্য একটি পাঠভেদ চিহ্ন দেওয়া হয়েছে।

(৬) 'তাঁর সাথে' শব্দটি 'মীম' পান্ডুলিপিতে নেই।

(৭) 'আইন' পান্ডুলিপিতে রয়েছে: 'রোজা রাখছেন' এবং এর ওপর একটি পাঠভেদ চিহ্ন রয়েছে; আর এর হাশিয়ায় রয়েছে: 'আপনি কি রোজা রাখছেন?' এবং সেখানে অন্য একটি পাঠভেদ চিহ্ন দেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
المؤمنين ولا

تدرين لعله يوم النحر؟ فقالت: إنما يوم النحر إذا نحر الإمام وعظم (1) الناس، والفطر إذا أفطر الإمام وعظم (2) الناس (3) . وروي من وجه آخر (4) . رواه أبو إسحاق السبيعي عن مسروق

قال: دخلت على عائشة أنا وصديق لي (5) يوم عرفة فدعت لنا بشراب، فقالت: لولا أني صائمة لذقته. فقلنا لها: أتصومين (6) والناس يزعمون أن اليوم يوم النحر (7) ؟ قالت: " الأضحى يوم يضحي الناس، والفطر يوم يفطر الناس ": رواه الإمام

--------------------------------------------

(1) في '' ع '': '' ومعظم '' في الموضعين، ووضع عليهما علامة نسخة. وفي هامشها '' وعظم '' في الموضعين، ووضع عليهما علامة نسخة أخرى. واللفظتان معناهما واحد.

(2) في '' ع '': '' ومعظم '' في الموضعين، ووضع عليهما علامة نسخة. وفي هامشها '' وعظم '' في الموضعين، ووضع عليهما علامة نسخة أخرى. والفظتان معناهما واحد.

(3) انظر مصنف عبد الرازق كتاب الصيام باب الصيام 4 / 157، رقم (7310) . وإسناد هذه الرواية ضعيف، لعدم الجزم بمن روى عنه جعفر بن برقان، أهو الحكم أو غيره، والحكم هو الحكم بن عبد الله النصري، وهو مقبول كما في التقريب ص 174.

(4) في '' ع '': '' من وجه آخر ''، ووضع عليها علامة نسخة، وفي هامشها: '' وجوه '' ووضع عليها علامة نسخة أخرى.

(5) في '' ع'': ''دخلت أنا وصاحب لي على عائشة''.

(6) في '' ع '': '' تصومين '' ووضع عليها علامة نسخة، وفي هامشها: '' أتصومين '' ووضع عليها علامة نسخة أخرى.

(7) في '' ع '': '' يزعمون اليوم النحر '' ووضع عليها علامة نسخة، وفي هامشها: ''أن اليوم يوم '' ووضع عليها علامة نسخة أخرى.
মুমিনগণের জননী, আপনি কি জানেন না যে সম্ভবত আজই কোরবানির দিন?

তিনি বললেন: "কোরবানির দিন (ইয়াওমুন নাহর) তখনই হয় যখন ইমাম কোরবানি করেন এবং সাধারণ (عظم) মানুষ (১) কোরবানি করে। আর ঈদুল ফিতর তখনই হয় যখন ইমাম রোজা ভঙ্গ করেন এবং সাধারণ (عظم) মানুষ (২) রোজা ভঙ্গ করে (৩)।" এটি অন্য একটি সূত্র (من وجه آخر) থেকেও বর্ণিত হয়েছে (৪)। আবু ইসহাক আস-সাবিঈ মাসরুক থেকে বর্ণনা করেছেন,

তিনি বলেন: আমি এবং আমার এক বন্ধু (৫) আরাফাতের দিনে আয়েশা (রা.)-এর নিকট প্রবেশ করলাম। তিনি আমাদের জন্য পানীয় আনালেন এবং বললেন: "আমি যদি রোজা না থাকতাম তবে তা আস্বাদন করতাম।" আমরা তাঁকে বললাম: আপনি কি রোজা রাখছেন (৬) অথচ মানুষ ধারণা করছে যে আজ কোরবানির দিন (৭)? তিনি বললেন: "ঈদুল আযহা হলো সেই দিন যেদিন মানুষ কোরবানি করে এবং ঈদুল ফিতর হলো সেই দিন যেদিন মানুষ রোজা ভঙ্গ করে।" এটি ইমাম বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) 'ع' পাণ্ডুলিপিতে উভয় স্থানে 'ومعظم' রয়েছে এবং তার ওপর পাঠান্তরের চিহ্ন দেওয়া হয়েছে। আর এর হাশিয়ায় উভয় স্থানে 'وعظم' রয়েছে এবং তার ওপর অন্য একটি পাঠান্তরের চিহ্ন দেওয়া হয়েছে। উভয় শব্দের অর্থ একই।

(২) 'ع' পাণ্ডুলিপিতে উভয় স্থানে 'ومعظم' রয়েছে এবং তার ওপর পাঠান্তরের চিহ্ন দেওয়া হয়েছে। আর এর হাশিয়ায় উভয় স্থানে 'وعظم' রয়েছে এবং তার ওপর অন্য একটি পাঠান্তরের চিহ্ন দেওয়া হয়েছে। উভয় শব্দের অর্থ একই।

(৩) দেখুন: মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, কিতাবুস সিয়াম, বাবুস সিয়াম, ৪/১৫৭, নং (৭৩১০)। এই বর্ণনার সনদ (إسناد) হলো দুর্বল (ضعيف), কারণ জাফর ইবনে বুরকান কার থেকে বর্ণনা করেছেন সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি; তিনি কি হাকাম নাকি অন্য কেউ? আর এই হাকাম হলেন আল-হাকাম ইবনে আব্দুল্লাহ আন-নাসরি, যিনি নির্ভরযোগ্যতা হিসেবে গ্রহণযোগ্য (مقبول), যেমনটি তাকরিব-এর ১৭৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে।

(৪) 'ع' পাণ্ডুলিপিতে 'من وجه آخر' (অন্য সূত্র থেকে) রয়েছে এবং তার ওপর পাঠান্তরের চিহ্ন দেওয়া হয়েছে। আর এর হাশিয়ায় 'وجوه' রয়েছে এবং তার ওপর অন্য একটি পাঠান্তরের চিহ্ন দেওয়া হয়েছে।

(৫) 'ع' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "আমি এবং আমার এক সাথী আয়েশার নিকট প্রবেশ করলাম।"

(৬) 'ع' পাণ্ডুলিপিতে 'تصومين' রয়েছে এবং তার ওপর পাঠান্তরের চিহ্ন দেওয়া হয়েছে। আর এর হাশিয়ায় 'أتصومين' রয়েছে এবং তার ওপর অন্য একটি পাঠান্তরের চিহ্ন দেওয়া হয়েছে।

(৭) 'ع' পাণ্ডুলিপিতে 'يزعمون اليوم النحر' রয়েছে এবং তার ওপর পাঠান্তরের চিহ্ন দেওয়া হয়েছে। আর এর হাশিয়ায় 'أن اليوم يوم' রয়েছে এবং তার ওপর অন্য একটি পাঠান্তরের চিহ্ন দেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
أحمد عن ابن نمير (1) وابن فضيل كلاهما عن الأعمش عن أبي إسحاق به (2) . خرجه عنه ابنه عبد الله في كتاب المسائل (3) .

 

وخرجه (4) أيضا عبد الله عن أبيه عن ابن مهدي عن سفيان عن أبي إسحاق عن أبي عطية ومسروق قالا (5) : دخلنا على عائشة في اليوم الذي يشك فيه الأضحى (6) ، فقالت: خوضي

لابني سويقا وحليه، فلولا أني صائمة لذقته. فقيل لها: يا أم المؤمنين: إن الناس يرون أن اليوم يوم الأضحى، فقالت: " إنما يوم (7) الأضحى يوم يضحي

--------------------------------------------

(1) لفظة: ''ابن نمير'' مكتوبة في ''م '' بخط مغاير للخط الذي كتبت به المخطوطة، وكتب بإزائها في الهامش: '' بياض الأصل ''.

(2) إسناده ضعيف، أبو إسحاق السبيعي مدلس، وقد رواه معنعنا. انظر تعريف أهل التقديس بمراتب الموصوفين بالتدليس ص 101، أما ما ذكر من اختلاطه بأخرة فقد أنكره الإمام الذهبي، وذكر أنه لما كبر تغير حفظه قليلا تغير السن ولم يختلط. انظر سير أعلام النبلاء 5 / 394، والميزان 3 / 270، وأيضا فقد روى مسلم في صحيحه من طريق الأعمش عنه. انظر الكواكب النيرات ص 354، وكذلك الأعمش وهو سليمان بن مهران الأسدي كان يدلس، وقد عنعنه، لكن ذكره الحافظ في تعريف أهل التقديس بمراتب الموصوفين بالتدليس ص 67 فيمن احتمل الأئمة تدليسهم.

(3) لم أقف على هذه الرواية في مسائل عبد الله المطبوع.

(4) في '' ع '': '' وخرج ''، ووضع عليها علامة نسخة، وفي هامشها: '' وخرجه '' ووضع عليها علامة نسخة أخرى.

(5) في '' ق '': '' وقال ''.

(6) في ''ق '': ''للأضحى''.

(7) لفظة: '' يوم '' غير موجودة في '' ع ''.
আহমদ ইবনে নুমায়র (১) ও ইবনে ফুযাইল থেকে—তাঁরা উভয়ে আল-আমাশ থেকে—তিনি আবু ইসহাক থেকে এই সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন (২)। তাঁর থেকে তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ 'কিতাবুল মাসাইল'-এ (৩) এটি বর্ণনা করেছেন।

 

আবদুল্লাহ আরও বর্ণনা করেছেন (৪) তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে মাহদী থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবু আতিয়্যাহ ও মাসরুক থেকে; তাঁরা উভয়ে বলেন (৫): আমরা আয়িশা (রা.)-এর নিকট এমন একদিন প্রবেশ করলাম যে দিনটি ঈদুল আযহা হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ ছিল (৬)। তিনি বললেন: "আমার পুত্রের জন্য ছাতু গুলে দাও এবং তাতে মিষ্টি মেলাও; আমি যদি রোযাদার না হতাম, তবে অবশ্যই তা আস্বাদন করতাম।" তাঁকে বলা হলো: হে উম্মুল মুমিনীন! মানুষ মনে করছে যে আজই ঈদুল আযহার দিন। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আযহার দিন (৭) তো সেই দিন যেদিন মানুষ কুরবানি করে।"

--------------------------------------------

(১) "ইবনে নুমায়র" শব্দগুচ্ছটি 'মীম' পাণ্ডুলিপিতে মূল পাণ্ডুলিপির হাতের লেখা থেকে ভিন্ন লিখনশৈলীতে লেখা হয়েছে এবং এর পার্শ্বটীকায় লেখা আছে: "মূল পাণ্ডুলিপিতে শূন্যস্থান ছিল"।

(২) এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف); আবু ইসহাক আস-সাবীয়ী একজন তাদলীসকারী (مدلس) এবং তিনি এটি আন-আনা (معنعنا) পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন। দেখুন: 'তারিফু আহলিত তাকদিস বি মারাতিবিল মাউসুফিনা বিত তাদলীস', পৃষ্ঠা ১০১। আর শেষ বয়সে তাঁর স্মৃতিবিভ্রম (اختلاط) ঘটার যে কথা উল্লেখ করা হয়েছে, ইমাম যাহাবী তা অস্বীকার করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, যখন তিনি বার্ধক্যে উপনীত হন তখন তাঁর স্মৃতিশক্তি বার্ধক্যজনিত কারণে সামান্য পরিবর্তিত হয়েছিল, তবে তাঁর স্মৃতিবিভ্রম (اختلاط) ঘটেনি। দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ৫/৩৯৪ এবং আল-মিজান ৩/২৭০। তাছাড়া ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে আল-আমাশ-এর সূত্রে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। দেখুন: আল-কাওয়াকিবুন্ নিয্যিরাত পৃষ্ঠা ৩৫৪। অনুরূপভাবে আল-আমাশ—যিনি সুলায়মান ইবনে মিহরান আল-আসাদী—তিনিও তাদলীস (تدليس) করতেন এবং তিনি এখানে আন-আনা (عنعنه) করেছেন। তবে হাফিজ (ইবনে হাজার) তাঁকে 'তারিফু আহলিত তাকদিস বি মারাতিবিল মাউসুফিনা বিত তাদলীস'-এর ৬৭ পৃষ্ঠায় তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যাঁদের তাদলীস (تدليس) ইমামগণ গ্রহণ করেছেন।

(৩) আবদুল্লাহর মুদ্রিত 'মাসাইল'-এ আমি এই বর্ণনাটি খুঁজে পাইনি।

(৪) 'আইন' পাণ্ডুলিপিতে আছে: 'ওয়া খারাজা' (এবং তিনি বর্ণনা করেছেন) এবং তার ওপর পাঠভেদের চিহ্ন দেওয়া আছে। আর তার পার্শ্বটীকায় আছে: 'ওয়া খাররাজাহু' (এবং তিনি সেটি বর্ণনা করেছেন) এবং তার ওপর অন্য একটি পাঠভেদের চিহ্ন দেওয়া আছে।

(৫) 'কাফ' পাণ্ডুলিপিতে আছে: 'ওয়া কলা' (এবং তিনি বললেন)।

(৬) 'কাফ' পাণ্ডুলিপিতে আছে: 'লিল আযহা'।

(৭) 'ইয়াওম' (দিন) শব্দটি 'আইন' পাণ্ডুলিপিতে নেই।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
الإمام وجماعة الناس " (1) .

 

وكذا رواه شعبة عن أبي إسحاق عن أبي عطية ومسروق عن عائشة بنحوه (2) .

ورواه دلهم (3) بن صالح عن أبي إسحاق عن أبي عطية (4) ومسروق عن عائشة (5) . واختلف عليه في رفع آخر الحديث، وهو: "إنما (6) الأضحى يوم يضحي الإمام "، فمن أصحابه من رفعه عنه وجعله من قول النبي صلى الله عليه وسلم، ومنهم من وقفه على عائشة، وهو الصحيح (7) .

 

ورواه أيضا مجالد (8) عن الشعبي عن مسروق عن

--------------------------------------------

(1) إسناد هذه الرواية ضعيف، أبو إسحاق مدلس، وقد رواه معنعنا، وسفيان لم يتبين لي أي السفيانين هو، فإن كلا من الثوري وابن عيينة يروي عن أبي إسحاق، وكانت رواية الثوري عنه قبل ما ذكر من اختلاطه، ورواية ابن عيينة بعده. انظر الكواكب النيرات ص 349، 350، وانظر التعليق رقم (9) ص (20) . ولم أقف على هذه الرواية في مسائل عبد الله المطبوع.

(2) في '' م '' و'' ق '' زيادة: '' عنهم ''. وقد سبق الكلام على ما ذكره من اختلاط أبي إسحاق ص (20) تعليق (9) ، وأيضا فقد أخرج البخاري ومسلم في صحيحيهما من رواية شعبة عنه. انظر صحيح البخاري مع الفتح 8 / 28، حديث (4316) ، وصحيح مسلم 1 / 405، حديث (576) .

(3) في '' م '' و'' ق '': '' ورواه لهم ''. وفي '' ع '': '' وروى دلهم ''.

(4) لفظة: ''أبي عطية'' غير موجودة في ''ع ''.

(5) رواه الطبراني في الأوسط من طريق أبي داود سليمان بن موسى الكوفي عن دلهم به. ينظر مجمع البحرين 3 / 142، 143، وقال الهيثمي في مجمع الزوائد 3 / 190: '' رواه الطبراني في الأوسط، وفي إسناده دلهم بن صالح ضعفه ابن معين وابن حبان ''.

(6) في ''ق '': ''إن ''.

(7) قال الحافظ في التلخيص 2 / 256: ''وصوب الدارقطني وقفه في العلل ''.

(8) في ''ع '': ''أيضا عن مجالد'' ووضع عليه علامة نسخة، وفي هامشها: ''أيضا مجلد'' ووضع عليه علامة نسخة أخرى.
ইমাম এবং সাধারণ মানুষ" (১) ।

 

অনুরূপভাবে শু'বাহ এটি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবু আতিয়্যাহ ও মাসরুক থেকে এবং তারা আয়েশা (রা.) থেকে অনুরূপ শব্দে বর্ণনা করেছেন (২)।

আর এটি দালহাম (৩) ইবনে সালিহ আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবু আতিয়্যাহ (৪) ও মাসরুক থেকে এবং তারা আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন (৫)। হাদিসের শেষাংশকে মারফু (رفع) করার ক্ষেত্রে তাঁর ওপর মতভেদ করা হয়েছে, আর সেটি হলো: "নিশ্চয়ই (৬) কুরবানি হলো সেই দিন যেদিন ইমাম কুরবানি করেন"; সুতরাং তাঁর শিষ্যদের মধ্যে কেউ কেউ এটিকে মারফু (رفعه) করেছেন এবং এটিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী হিসেবে গণ্য করেছেন, আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ এটিকে আয়েশা (রা.)-এর ওপর মাওকুফ (وقفه) করেছেন, আর এটিই সঠিক (الصحيح) (৭)।

 

আর এটি মুজালিদও (৮) শাবি থেকে, তিনি মাসরুক থেকে বর্ণনা করেছেন...

--------------------------------------------

(১) এই বর্ণনার সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف); আবু ইসহাক একজন মুদাল্লিস (مدلس), এবং তিনি এটি আন-আনা (معنعنا) পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন। আর সুফিয়ান বলতে কোন সুফিয়ান তা আমার কাছে স্পষ্ট হয়নি, কারণ সাওরি এবং ইবনে উইয়াইনাহ উভয়ই আবু ইসহাক থেকে বর্ণনা করেন। সাওরির বর্ণনা ছিল তাঁর স্মৃতিভ্রম বা ইখতিলাত (اختلاطه) ঘটার আগে, আর ইবনে উইয়াইনাহর বর্ণনা ছিল তার পরে। দেখুন: আল-কাওয়াকিবুন নাইয়্যিরাত, পৃষ্ঠা ৩৪৯, ৩৫০; এবং ২০ পৃষ্ঠার ৯ নং টীকা দেখুন। আর মুদ্রিত মাসায়িলু আবদুল্লাহ গ্রন্থে আমি এই বর্ণনাটি খুঁজে পাইনি।

(২) 'ম' এবং 'ক' পাণ্ডুলিপিতে "তাদের থেকে" শব্দটির অতিরিক্ত উল্লেখ রয়েছে। আবু ইসহাকের স্মৃতিভ্রম বা ইখতিলাত (اختلاط) সম্পর্কে লেখক যা উল্লেখ করেছেন তা ২০ পৃষ্ঠার ৯ নং টীকায় অতিক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া বুখারি ও মুসলিম তাদের সহিহ গ্রন্থদ্বয়ে শু'বাহর সূত্রে তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। দেখুন: সহিহ বুখারি মা’আল ফাতহ ৮/২৮, হাদিস (৪৩১৬), এবং সহিহ মুসলিম ১/৪০৫, হাদিস (৫৭৬)।

(৩) 'ম' এবং 'ক' পাণ্ডুলিপিতে: "আর তাদের জন্য বর্ণনা করেছেন"। 'আইন' পাণ্ডুলিপিতে: "আর দালহাম বর্ণনা করেছেন"।

(৪) "আবু আতিয়্যাহ" শব্দ দুটি 'আইন' পাণ্ডুলিপিতে নেই।

(৫) তাবারানি এটি আল-আওসাত গ্রন্থে আবু দাউদ সুলাইমান ইবনে মুসা আল-কুফির সূত্রে দালহাম থেকে বর্ণনা করেছেন। দেখুন: মাজমাউল বাহরাইন ৩/১৪২, ১৪৩। হাইসামি মাজমাউয যাওয়াইদ ৩/১৯০ গ্রন্থে বলেছেন: "তাবারানি এটি আল-আওসাত গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, এর সনদ (إسناد)-এ দালহাম ইবনে সালিহ রয়েছেন, যাকে ইবনে মাঈন এবং ইবনে হিব্বান দুর্বল (ضعفه) সাব্যস্ত করেছেন।"

(৬) 'ক' পাণ্ডুলিপিতে: "নিশ্চয়ই"।

(৭) হাফিজ আত-তালখিস ২/২৫৬ গ্রন্থে বলেছেন: "দারাকুতনি আল-ইলাল গ্রন্থে এটিকে মাওকুফ (وقفه) হওয়াকেই সঠিক বলেছেন।"

(৮) 'আইন' পাণ্ডুলিপিতে: "আবার মুজালিদ থেকে" এবং এর ওপর পাণ্ডুলিপির সংকেত রয়েছে, আর এর পার্শ্বটীকায় রয়েছে: "আবার মুজালিদ" এবং এর ওপর অন্য একটি পাণ্ডুলিপির সংকেত দেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
عائشة بنحوه موقوفا أيضا (1) .

 

فهذا الأثر (2) صحيح عن عائشة رضي الله عنها (3) ، إسناده في غاية الصحة،

ولا يعرف لعائشة (4) مخالف من الصحابة (5) . ووجه قولها: إن الأصل في هذا اليوم أن يكون يوم عرفة، لأن اليوم المشكوك فيه، هل هو من ذي

--------------------------------------------

(1) إسناده ضعيف، مجالد- وهو ابن سعيد الهمداني- ليس بالقوي، وقد تغير في آخر عمره كما في التقريب ص 520.

(2) في '' ع '': '' فهذا أثر ''.

(3) للأثر طريق أخرى لم يذكرها المؤلف، تتقوى بها الطرق السابقة. فقد رواه أبو يوسف في كتاب الآثار في الصيام ص 179، رقم (818) ، والبيهقي في سننه في كتاب الصيام باب (القوم يخطئون الهلال) 4 / 252 عن الإمام أبي حنيفة عن علي بن الأقمر عن مسروق فذكره، وزاد فيه: فقلت: ''ما منعني من الصوم إلا أنني ظننت أنه يوم النحر''.

وهذا الإسناد فيه ضعف يسير، لأن الإمام أبا حنيفة في روايته للحديث ضعف من جهة حفظه. انظر تاريخ بغداد 13/ 323- 454، ميزان الاعتدال 4 / 265.

 

فهذه الطريق شاهد للطرق السابقة، فالأثر صحيح بمجموع طرقه. والله أعلم.

(4) في '' ع '': زيادة: '' في ذلك ''.

(5) قال ابن قدامة في المغني 4 / 421 عند كلامه على مسألة: من رأى هلال شوال وحده، بعد ذكره لهذا الأثر وأثر عمر رضي الله عنه حين أنكر على الرجل الذي أفطر لما رأى هلال شوال هو وصاحبه، قال: '' ولم يعرف لهما مخالف في عصرهما، فكان إجماعا ''. وانظر الشرح الكبير لشمس الدين ابن قدامة 2
আয়েশা (রা.) থেকেও অনুরূপভাবে মাওকুফ (موقوفا) বর্ণিত হয়েছে (১)।

 

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত এই আসার (أثر) (২) টি সহিহ (صحيح) (৩), এর ইসনাদ (إسناد) অত্যন্ত বিশুদ্ধ পর্যায়ের।

আয়েশার (রা.) কোনো বিরোধিতাকারী সাহাবী (৫) সম্পর্কে জানা যায় না (৪)। তাঁর বক্তব্যের কারণ হলো: এই দিনের মূল ভিত্তি হলো এটি আরাফাতের দিন হওয়া, কারণ যে দিনটি নিয়ে সংশয় রয়েছে যে সেটি কি জিলহজ মাসের...

--------------------------------------------

(১) এর ইসনাদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف); মুজালিদ—যিনি ইবনে সাঈদ আল-হামদানি—তিনি শক্তিশালী (القوي) নন এবং তাকরিব-এর ৫২০ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে যে, জীবনের শেষভাগে তাঁর স্মৃতিশক্তির পরিবর্তন ঘটেছিল।

(২) 'আইন' (ع) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "এটি একটি আসার (أثر)"।

(৩) এই আসারের (أثر) অন্য একটি সূত্র (طريق) রয়েছে যা লেখক উল্লেখ করেননি, যা পূর্ববর্তী সূত্রগুলোকে শক্তিশালী করে। ইমাম আবু ইউসুফ কিতাবুল আসার-এর সিয়াম অধ্যায়ের ১৭৯ পৃষ্ঠায়, নম্বর (৮১৮) এবং ইমাম বায়হাকি তাঁর সুনান-এর সিয়াম অধ্যায়ের 'লোকদের চাঁদ দেখতে ভুল করা' পরিচ্ছেদে ৪ / ২৫২-তে ইমাম আবু হানিফার সূত্রে আলি ইবনে আকমার থেকে, তিনি মাসরুক থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাতে বর্ধিত অংশ রয়েছে: আমি বললাম: "কুরবানির দিন হওয়ার আশঙ্কাই আমাকে রোজা রাখা থেকে বিরত রেখেছিল।"

এই ইসনাদ (إسناد) টিতে সামান্য দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে, কারণ হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে ইমাম আবু হানিফার হেফজ বা মুখস্থ শক্তির দিক থেকে দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে। দেখুন তারিখ বাগদাদ ১৩/ ৩২৩- ৪৫৪, মিজানুল ইতিদাল ৪ / ২৬৫।

 

এই সূত্রটি (طريق) পূর্ববর্তী সূত্রগুলোর জন্য শাহেদ (شاهد) বা সাক্ষ্যস্বরূপ, ফলে আসার (أثر) টি এর সকল সূত্রের সমষ্টিগত বিচারে সহিহ (صحيح)। আল্লাহই ভালো জানেন।

(৪) 'আইন' (ع) পাণ্ডুলিপিতে "এ বিষয়ে" শব্দটি অতিরিক্ত রয়েছে।

(৫) ইবনে কুদামা আল-মুগনি-তে ৪ / ৪২১ পৃষ্ঠায় সেই ব্যক্তির মাসআলা বর্ণনার সময়—যিনি একাকী শাওয়ালের চাঁদ দেখেছেন—এই আসার (أثر) এবং ওমর (রা.)-এর আসার (أثر) উল্লেখ করার পর বলেছেন (যখন তিনি সেই ব্যক্তির প্রতিবাদ করেছিলেন যে ব্যক্তি নিজে ও তার সাথী শাওয়ালের চাঁদ দেখার পর ইফতার করেছিল): "তাঁদের যুগে তাঁদের কোনো বিরোধিতাকারীর কথা জানা যায়নি, সুতরাং এটি ইজমা (إجماعا) হিসেবে গণ্য।" আরও দেখুন শামসুদ্দিন ইবনে কুদামার আশ-শারহুল কাবীর ২য় খণ্ড।
(খণ্ড: ১) আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
الحجة أو من ذي القعدة؟ الأصل فيه: أنه من ذي القعدة فيعمل بذلك استصحابا للأصل.

 

ومأخذ آخر: وهو (1) الذي أشارت إليه عائشة رضي الله عنها: أن يوم عرفة هو يوم مجتمع الناس (2) مع الإمام على التعريف فيه، ويوم النحر هو الذي يجتمع الناس مع الإمام على التضحية فيه، وما ليس كذلك فليس بيوم عرفة، ولا يوم أضحى، وإن كان بالنسبة إلى عدد أيام الشهر هو التاسع، أو العاشر.

 

وقد روي ذلك عن النبي صلى الله عليه وسلم (3) من وجوه متعددة. خرجه الترمذي من طريق المقبري عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «الصوم يوم يصوم الناس، والفطر يوم يفطرون، والأضحى يوم يضحون» وقال (4) : حسن غريب (5) .

--------------------------------------------

(1) في '' ع '': '' هو''، ووضع عليه علامة نسخة، وفي هامشها: ''وهو '' ووضع عليه علامة نسخة أخرى.

(2) في '' ع '': '' تجتمع فيه الناس'' ووضع عليه علامة نسخة، وفي هامشها: '' مجتمع '' ووضع عليه علامة نسخة أخرى.

(3) في '' ع '': زيادة: '' مرفوعا ''.

(4) في ''م '' و ''ق '': ''قال ''.

(5) رواه الترمذي- قال المؤلف- في كتاب الصوم باب ما جاء في: الصوم يوم تصومون … 3 / 71، رقم (297) ، ومن طريقه البغوي في شرح السنة كتاب الصيام باب إذا أخطأ القوم الهلال 6 / 347، 348، رقم (726) من طريق إسحاق بن جعفر بن محمد: حدثني عبد الله بن جعفر- وهو المخرمي-، فقد قال في التقريب ص 298: '' ليس به بأس '' وهو من رجال مسلم، وعدا عثمان بن محمد- وهو الأخنسي- فهو صدوق له أوهام كما في التقريب ص 386، وقد صحح هذا الإسناد الشيخ أحمد شاكر رحمه الله في رسالة: أوائل الشهور العربية هل يجوز شرعا إثباتها بالحساب الفلكي ص 22، وحسنه الشيخ محمد ناصر الدين في الإرواء رقم (905) .

وقد تابع إسحاق بن جعفر أبو سعيد مولى بني هاشم، فقد رواه البيهقي في سننه الكبرى في كتاب الصيام باب القوم يخطئون الهلال 4 / 252 من طريق أبي سعيد مولى بنى هاشم: ثنا عبد الله بن جعفر المخرمي به. وأبو سعيد- وهو عبد الرحمن بن عبد الله البصري- صدوق ربما أخطأ، وهو من رجال البخاري كما في التقريب ص 344، وليس في هذه الرواية جملة '' والفطر يوم تفطرون ''.

 

ورواه الدارقطني 2 / 164، ومن طريقه ابن العربي في شرح الترمذي 4 / 222 بإسنادين فيهما الواقدي، وهو متروك كما في التقريب ص498. وقال الدراقطني '' الواقدي ضعيف '' وخالفه ابن العربي فوثق الواقدي، وصحح روايته، وتبعه في ذلك أحمد شاكر في رسالته: أوائل الشهور العربية هل يجوز شرعا إثباتها بالحساب الفلكي ص22- 24.
জিলহজ নাকি জিলকদ মাসের? এ বিষয়ে মূলনীতি (الأصل) হলো: এটি জিলকদ মাসের অন্তর্ভুক্ত, তাই মূল অবস্থার ওপর বহাল থাকার (استصحابا للأصل) নীতি অনুযায়ী আমল করা হবে।

 

অন্য একটি উৎস (مأخذ): যা আয়েশা (রা.) ইঙ্গিত করেছেন যে, আরাফার দিন হলো সেই দিন যেদিন মানুষ ইমামের সাথে আরাফায় উকুফ করার জন্য সমবেত হয়, আর নহরের দিন (কুরবানির দিন) হলো সেই দিন যেদিন মানুষ ইমামের সাথে কুরবানি করার জন্য সমবেত হয়। আর যা এমন নয় তা আরাফার দিন নয় এবং ঈদুল আজহার দিনও নয়, যদিও মাসের দিনের গণনায় তা নবম বা দশম দিন হয়ে থাকে।

 

এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। তিরমিজি এটি মাকবুরির সূত্রে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «রোজা হলো সেই দিন যেদিন মানুষ রোজা রাখে, ঈদুল ফিতর হলো সেই দিন যেদিন মানুষ ইফতার (ঈদ) করে এবং ঈদুল আজহা হলো সেই দিন যেদিন মানুষ কুরবানি দেয়»। তিনি বলেছেন: হাদিসটি হাসান (حسن) ও গরিব (غريب)।

--------------------------------------------

(১) 'আ' (ع) পান্ডুলিপিতে: 'هو' (তিনি/এটি) রয়েছে এবং এর ওপর একটি পাঠান্তরের চিহ্ন দেওয়া হয়েছে, আর এর হাশিয়ায় (পার্শ্বটীকা) 'وهو' লিখে অন্য একটি পাঠান্তরের চিহ্ন দেওয়া হয়েছে।

(২) 'আ' (ع) পান্ডুলিপিতে: 'تجتمع فيه الناس' রয়েছে এবং এর ওপর একটি পাঠান্তরের চিহ্ন দেওয়া হয়েছে, আর এর হাশিয়ায় 'مجتمع' লিখে অন্য একটি পাঠান্তরের চিহ্ন দেওয়া হয়েছে।

(৩) 'আ' (ع) পান্ডুলিপিতে 'মারফু (مرفوعا)' শব্দটি অতিরিক্ত রয়েছে।

(৪) 'মিম' (م) ও 'কাফ' (ق) পান্ডুলিপিতে 'قال' রয়েছে।

(৫) তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন—লেখক বলেন—কিতাবুস সাওম, 'রোজা ওই দিন যেদিন তোমরা রোজা রাখো...' অধ্যায়, ৩/৭১, নম্বর (২৯৭)। তাঁর সূত্র ধরে বাগাভি শারহুস সুন্নাহ, কিতাবুস সিয়াম, 'যদি কওম চাঁদ দেখতে ভুল করে' অধ্যায়, ৬/৩৪৭, ৩৪৮, নম্বর (৭২৬)-এ ইসহাক ইবনে জাফর ইবনে মুহাম্মদ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন: আবদুল্লাহ ইবনে জাফর—যিনি আল-মাখরামি—আমাকে বর্ণনা করেছেন। আল-তাকরিব-এ (পৃ. ২৯৮) তাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছে: 'তাতে কোনো সমস্যা নেই' (ليس به بأس) এবং তিনি মুসলিম-এর বর্ণনাকারীদের একজন। এছাড়া উসমান ইবনে মুহাম্মদ—যিনি আল-আখনাসি—তিনি সত্যবাদী তবে তার কিছু বিভ্রান্তি রয়েছে (صدوق له أوهام), যেমনটি আল-তাকরিব-এর ৩৮৬ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে। শেখ আহমদ শাকির (র.) তাঁর 'আওয়াইলুশ শুহুরিল আরাবিয়্যাহ' রিসালায় (পৃ. ২২) এই সনদটিকে (إسناد) বিশুদ্ধ (صحح) বলেছেন এবং শেখ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-ইরওয়া গ্রন্থে (নম্বর ৯০৫) এটিকে হাসান (حسن) বলেছেন।

বনি হাশেমের মুক্তদাস আবু সাঈদ, ইসহাক ইবনে জাফর-এর অনুসরণ (متابعة) করেছেন। বায়হাকি তাঁর সুনানে কুবরা-তে কিতাবুস সিয়াম, 'কওম চাঁদ দেখতে ভুল করলে' অধ্যায় ৪/২৫২-এ আবু সাঈদ মাওলা বনি হাশেম-এর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন: আমাদের কাছে আবদুল্লাহ ইবনে জাফর আল-মাখরামি বর্ণনা করেছেন। আবু সাঈদ—যিনি আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ আল-বাসরি—সত্যবাদী তবে কখনো কখনো ভুল করেন (صدوق ربما أخطأ), এবং তিনি বুখারি-র বর্ণনাকারীদের একজন যেমনটি আল-তাকরিব-এর ৩৪৪ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে। তবে এই বর্ণনায় «এবং ফিতর ওই দিন যেদিন তোমরা ফিতর (ঈদ) করো» অংশটি নেই।

 

দারাকুতনি (২/১৬৪) এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর সূত্র ধরে ইবনুল আরাবি শারহুত তিরমিজি-তে (৪/২২২) দুটি সনদে এটি বর্ণনা করেছেন যাতে ওয়াকিদি রয়েছেন। আর তিনি পরিত্যজ্য (متروك), যেমনটি আল-তাকরিব-এর ৪৯৮ পৃষ্ঠায় রয়েছে। দারাকুতনি বলেছেন: 'ওয়াকিদি দুর্বল (ضعيف)'। ইবনুল আরাবি তাঁর বিরোধিতা করে ওয়াকিদিকে নির্ভরযোগ্য (وثق) বলেছেন এবং তাঁর বর্ণনাকে বিশুদ্ধ (صحح) আখ্যা দিয়েছেন। আহমদ শাকির তাঁর রিসালায় (পৃ. ২২-২৪) এক্ষেত্রে তাকে অনুসরণ করেছেন।