(খণ্ড: ১)
আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: -)
أحكام الاختلاف في رؤية هلال ذي الحجة القسم: مسائل فقهية
الكتاب: أحكام الاختلاف في رؤية هلال ذي الحجة
المؤلف: زين الدين عبد الرحمن بن أحمد بن رجب بن الحسن، السَلامي، البغدادي، ثم الدمشقي، الحنبلي (ت 795هـ)
دراسة وتحقيق: أ. د. عبد الله بن عبد العزيز الجبرين
الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع، مكة المكرمة
الطبعة: الأولى، 1422 هـ
عدد الصفحات: 67
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে মতভেদের বিধানসমূহ বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ
বই: জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে মতভেদের বিধানসমূহ
লেখক: জয়নুদ্দিন আবদুর রহমান ইবনে আহমদ ইবনে রজব ইবনে আল-হাসান, আস-সালামি, আল-বাগদাদি, অত:পর আদ-দিমাশকি, আল-হাম্বলি (মৃত্যু ৭৯৫ হিজরি)
গবেষণা ও সম্পাদনা: প্রফেসর ডক্টর আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ আল-জাবরিন
প্রকাশক: দার আলম আল-ফাওয়ায়িদ পাবলিকেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, মক্কা মুকাররামা
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৭
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: -)
أحكام الاختلاف
في رؤية هلال ذي الحجة
[قاعدة: غم هلال ذي الحجة]
تأليف
الحَافِظِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ رَجَبٍ الحَنبَلِيّ
736 هـ ـ 795 هـ
تحقيق ودراسة
د. عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ العَزِيْزِ الجِبْرِيْن
الأستاذ المشارك بكلية المعلمين بالرّياض
قام بتنسيق الرِّسالة ونشرها:
سَلمَانُ بْنُ عَبْدِ القَادِرِ أبُوْ زَيْدٍ
غَفَرَ اللَّهُ لَهُ، ولِوَالدَيْهِ، ولِمَشَايخِهِ، ولجَمِيْعِ المُسْلِمِيْنَ.
মতভেদ সংক্রান্ত বিধানসমূহ
জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা প্রসঙ্গে
[মূলনীতি (قاعدة): জিলহজ মাসের চাঁদ মেঘাচ্ছন্ন থাকা]
রচনায়
হাফেজ (الحافظ) আবদুর রহমান ইবনে আহমদ ইবনে রজব আল-হাম্বলি
৭৩৬ হিজরি — ৭৯৫ হিজরি
তাহকিক (تحقيق) ও গবেষণা
ড. আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল আজিজ আল-জিবরিন
রিয়াদের টিচার্স কলেজের সহযোগী অধ্যাপক
পুস্তিকাটি বিন্যাস ও প্রকাশ করেছেন:
সালমান ইবনে আবদুল কাদির আবু যায়েদ
আল্লাহ তাকে, তার পিতা-মাতাকে, তার উস্তাদদের এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
«مُقَدِّمَةُ التَّحْقِيقِ» : إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونستهديه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله صلى الله عليه وآله وسلم أما بعد:
فهذه رسالة كتبها الإمام الحافظ الفقيه أبو الفرج عبد الرحمن بن رجب الحنبلي رحمه الله، وهي تتعلق بمسألة هامة، هي: الاختلاف في رؤية هلال ذي الحجة.
وقد وجدت لهذه الرسالة ثلاث نسخ خطية هي:
الأولى: نسخة بالمكتبة السعودية بالرياض، تحت رقم (527 / 86) ضمن مجموعة، عليه تمليك للشيخ محمد بن عبد اللطيف (1) رحمه الله، وعدد صفحاتها عشر
--------------------------------------------
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
«সম্পাদনার (تحقيق) ভূমিকা» : নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই, তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট হেদায়েত কামনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম। অতঃপর:
এটি একটি পুস্তিকা যা ইমাম, হাফিজ (الحافظ), ফকিহ (الفقيه) আবু আল-ফারাজ আবদুর রহমান ইবনে রজব আল-হাম্বলী (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) রচনা করেছেন। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট, আর তা হলো: জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা নিয়ে মতভেদ।
আমি এই পুস্তিকাটির তিনটি পাণ্ডুলিপি (نسخة خطية) পেয়েছি, সেগুলো হলো:
প্রথমটি: রিয়াদের সৌদি লাইব্রেরিতে রক্ষিত পাণ্ডুলিপি (نسخة خطية), যার নম্বর (৫২৭ / ৮৬), এটি একটি সংগ্রহের অন্তর্ভুক্ত। এতে শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল লতিফ (১) (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর মালিকানা স্বত্ব (تمليك) রয়েছে এবং এর পৃষ্ঠা সংখ্যা দশ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
صفحات ونصف صفحة، في كل صفحة تسعة عشر سطرا، وقد كتبت بخط واضح، ولم يذكر اسم ناسخها، وقد رمزت لهذه النسخة بالحرف "م ".
الثانية: نسخة بمكتبة جامعة الملك سعود بالرياض، تحت رقم (1817 / 3 م) ، ضمن مجموعة كتب الشيخ عبد المحسن بن عبيد (1) رحمه الله، وقد ذكر رحمه الله في آخر هذه الرسالة أنه نقلها عام 1361 هـ من قلم من حمى
--------------------------------------------
সাড়ে তিন পৃষ্ঠা, প্রতি পৃষ্ঠায় উনিশটি করে লাইন রয়েছে। এটি স্পষ্ট হস্তাক্ষরে লিখিত এবং এর অনুলিপিকারীর (ناسخ) নাম উল্লেখ করা হয়নি। আমি এই পাণ্ডুলিপিটিকে (نسخة) 'মীম' (م) বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
দ্বিতীয়টি: রিয়াদের কিং সউদ বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত একটি পাণ্ডুলিপি (نسخة), যার নম্বর (১৮১৭ / ৩ ম)। এটি শেখ আব্দুল মুহসিন বিন উবাইদ (১) (রহ.)-এর কিতাব সংগ্রহের অন্তর্ভুক্ত। তিনি (রহ.) এই রিসালাহর শেষে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এটি ১৩৬১ হিজরি সালে যিনি এটি সংরক্ষণ করেছিলেন তাঁর লেখনী থেকে অনুলিপি করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
نفسه: فراج بن منصور بن سابق النجدي (1) الذي كتبها سنة 1228 هـ (2) . وعدد صفحاتها ثمان صفحات وثمانية أسطر، في كل صفحة سبعة وعشرون سطرا، وهي مقابلة على نسخة أخرى، وقد رمزت لها بالحرف "ع ".
الثالثة: نسخة بمكتبة الشيخ سعد بن عبد الرحمن بن قاسم (3) ، والذي يعمل مدرسا بمعهد الرياض العلمي، وهي بخط والده الشيخ: عبد الرحمن بن محمد بن قاسم، وعدد صفحاتها أربع صفحات، في كل صفحة ثلاثون سطرا، وقد رمزت لها بالحرف " ق".
--------------------------------------------
নিজেই: ফাররাজ ইবনে মানসুর ইবনে সাবিক আল-নাজদি (১) যিনি এটি ১২২৮ হিজরিতে (২) লিপিবদ্ধ করেছেন। এর পৃষ্ঠা সংখ্যা আটটি পৃষ্ঠা এবং আটটি লাইন, প্রতি পৃষ্ঠায় সাতাশটি লাইন রয়েছে। এটি অন্য একটি পাণ্ডুলিপির (نسخة) সাথে মুকাবিলা (مقابلة) করা হয়েছে এবং আমি একে 'আইন' (ع) অক্ষর দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
তৃতীয়টি: শেখ সাদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে কাসিমের (৩) লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত একটি পাণ্ডুলিপি (نسخة), যিনি রিয়াদ ইলমি ইনস্টিটিউটে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। এটি তাঁর পিতা শেখ আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে কাসিমের হস্তাক্ষরে লিখিত। এর পৃষ্ঠা সংখ্যা চারটি, প্রতি পৃষ্ঠায় ত্রিশটি লাইন রয়েছে। আমি একে 'ক্বাফ' (ق) অক্ষর দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
وتتضح أهمية تحقيق هذه الرسالة في النقاط التالية:
1 - أن الموضوع الذي ألفت من أجله موضوع هام يحتاج الناس في كل وقت إلى معرفة الأحكام المتعلقة به، لتعلقه بركن من أركان الإسلام وهو الحج، بل يتعلق بأهم أركانه وهو الوقوف بعرفة.
2 - أن موضوع الرسالة ومواضيع أخرى هامة تعرضت لها كالاختلاف في هلال رمضان، والاختلاف في هلال شوال وغيرها تمس الحاجة إلى معرفة القول الصحيح فيها، لكثرة وقوع الاختلاف في كل مسألة من هذه المسائل.
3 - أن هذه الرسالة تبرز وتتعرض لحكم شرعي يدل على يسر هذا الدين وسماحته، وهو الحكم بصحة عبادات المسلمين عند خطئهم في وقت دخول شهر ذي الحجة، أو وقت دخوله شهر رمضان أو خروجه.
4 - أن القول الذي مال إليه المؤلف في هده المسألة الهامة فيه جمع لكلمة المسلمين، ومنع للاختلاف والفرقة وتشتيت الكلمة، وفيه قطع لكثرة القيل والقال.
এই অভিসন্দর্ভটির সম্পাদনার (تحقيق) গুরুত্ব নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়:
১ - যে বিষয়টি কেন্দ্র করে এটি রচনা করা হয়েছে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানাবলি জানার প্রয়োজনীয়তা মানুষের সব সময়ই থাকে। কারণ এটি ইসলামের অন্যতম রুকন হজের সাথে সম্পৃক্ত, বরং এটি হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুকন আরাফায় অবস্থানের সাথে সংশ্লিষ্ট।
২ - এই অভিসন্দর্ভের মূল প্রতিপাদ্য এবং এর অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ—যেমন রমজানের চাঁদ দেখা নিয়ে মতভেদ, শাওয়ালের চাঁদ দেখা নিয়ে মতভেদ ইত্যাদি ক্ষেত্রে সঠিক (صحيح) মতটি জানার তীব্র প্রয়োজন রয়েছে। কেননা এই বিষয়গুলোর প্রত্যেকটিতে প্রচুর মতভেদ পরিলক্ষিত হয়।
৩ - এই অভিসন্দর্ভটি এমন একটি শরয়ি বিধানকে ফুটিয়ে তোলে যা এই দ্বীনের সহজতা ও উদারতার প্রমাণ দেয়; আর তা হলো—জিলহজ মাস শুরু হওয়া অথবা রমজান মাস শুরু বা শেষ হওয়ার সময় নির্ধারণে ভুল হলেও মুসলিমদের ইবাদত সঠিক (صحة) হওয়ার বিধান।
৪ - এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে লেখক যে মতটির দিকে ঝুঁকেছেন, তাতে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য নিহিত রয়েছে এবং এটি মতভেদ, অনৈক্য ও বিভক্তি রোধ করে। পাশাপাশি এটি অনর্থক কথা ও বিতর্কের অবসান ঘটায়।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
وقد انحصر عملي في هذه الرسالة في الأمور الآتية:
1 - تصحيح النص، وقد اعتمدت النص الصحيح وأشير إلى غيره في الحاشية.
2 - دراسة جميع الموضوعات التي تعرض لها المؤلف بذكر أدلتها باختصار، إن لم يكن المؤلف تعرض لها، وإن كان في المسألة خلاف لم يتعرض له المؤلف ذكرته مع دليله بشيء من الاختصار، ثم ذكرت القول الراجح وسبب الترجيح.
3 - تخريج جميع الأحاديث والآثار التي ساقها المؤلف وذكر طرقها وشواهدها والحكم على إسناد كل رواية من حيث القوة والضعف.
ولم يذكر المؤلف لهذه الرسالة عنوانا، وقد ذكرها ابن عبد الهادي ضمن مؤلفات ابن رجب، وأسماها: " قاعدة: غم هلال ذي الحجة " (1) ولعله أخذ هذا العنوان من قول المؤلف في مقدمة هذه الرسالة: " فقد وقع في هذا العام وهو عام أربعة وثمانين وسبعمائة حادثة وهو أنه غم هلال ذي الحجة فأكمل الناس هلال ذي القعدة. . . "
--------------------------------------------
এই পুস্তিকায় আমার কাজ নিম্নোক্ত বিষয়সমূহে সীমাবদ্ধ ছিল:
১ - মূল পাঠ সংশোধন; আমি সঠিক পাঠের ওপর নির্ভর করেছি এবং অন্য সংস্করণগুলোর কথা টীকায় উল্লেখ করেছি।
২ - লেখক যে সকল বিষয় আলোচনা করেছেন সেগুলো সংক্ষেপে দলীলসহ পর্যালোচনা করা, যদি লেখক তা উল্লেখ না করে থাকেন। আর যদি কোনো বিষয়ে মতভেদ থাকে যা লেখক আলোচনা করেননি, তবে আমি তা সংক্ষেপে দলীলসহ উল্লেখ করেছি; অতঃপর অধিকতর গ্রহণযোগ্য মত (القول الراجح) এবং অগ্রাধিকার প্রদানের (الترجيح) কারণ বর্ণনা করেছি।
৩ - লেখক উপস্থাপিত সকল হাদিস এবং আসার (الآثار) এর উৎস নির্দেশ (تخريج) করা এবং সেগুলোর বর্ণনাপথ (طرق) ও সমর্থক বর্ণনা (شواهد) উল্লেখ করা; সেই সাথে প্রতিটি বর্ণনার সনদ (إسناد) শক্তিশালী (القوة) হওয়া বা দুর্বল (الضعف) হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত (الحكم) প্রদান করা।
লেখক এই পুস্তিকার কোনো শিরোনাম উল্লেখ করেননি। ইবনে আব্দুল হাদি একে ইবনে রজবের রচনাবলির অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং এর নামকরণ করেছেন: "কায়েদাহ: গাম্মু হিলালি জিলহাজ্জাহ" (১)। সম্ভবত তিনি এই শিরোনামটি পুস্তিকার ভূমিকায় লেখকের এই বক্তব্য থেকে গ্রহণ করেছেন: "নিশ্চয়ই এই বছর অর্থাৎ ৭৮৪ হিজরিতে একটি ঘটনা ঘটেছে, তা হলো যিলহজ মাসের চাঁদ মেঘাচ্ছন্ন ছিল, ফলে মানুষ যিলকদ মাস পূর্ণ গণনা করেছিল..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
وقد اخترت لها عنوانا يعبر عن مضمونها ومحتواها، وهو: " أحكام الاختلاف في رؤية هلال ذي الحجة ".
«ترجمة المؤلف (1) » :
هو الإمام الحافظ الفقيه الواعظ الزاهد أبو الفرج زين الدين عبد الرحمن بن أحمد بن رجب الحسن بن محمد بن أبي البركات السلامي، البغدادي ثم الدمشقي.
ولد في بغداد سنة 736 هـ، وكان والده وجده من أهل العلم والصلاح (2) ، وقد عني والده بتعليمه عناية كبيرة، فكان يحضره إلى مجالس العلم وهو صغير قبل
--------------------------------------------
আমি এর জন্য এমন একটি শিরোনাম নির্বাচন করেছি যা এর বিষয়বস্তু ও অন্তর্নিহিত তাৎপর্যকে প্রকাশ করে, আর তা হলো: "জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা সংক্রান্ত মতপার্থক্যের বিধানসমূহ"।
«লেখকের জীবনী (১) » :
তিনি হলেন ইমাম (الإمام), হাফিজ (الحافظ), ফকিহ (الفقيه), ওয়ায়েজ (الواعظ) ও জাহিদ (الزاهد) আবু আল-ফারাজ যাইন উদ্দিন আবদুর রহমান ইবনে আহমদ ইবনে রজব আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবিল বারাকাত আস-সালামি, আল-বাগদাদি অতঃপর আদ-দিমাশকি।
তিনি ৭৩৬ হিজরি সনে বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ও দাদা ইলম ও নেক আমলের অধিকারী ছিলেন (২)। তাঁর পিতা তাঁর শিক্ষার ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন। তিনি তাঁকে শৈশবেই ইলমি মজলিসসমূহে উপস্থিত করাতেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
التمييز في السنة الثالثة والرابعة والخامسة والسادسة من عمره (1) ، ثم رحل به والده إلى دمشق ونابلس والقدس فسمع من علماء هذه البلاد وهو صغير (2) ، ثم رجع إلى بغداد فسمع الحديث بها من بعض علمائها (3) ، ثم حج مع والده سنة 749 هـ فسمع الحديث بمكة (4) ، ثم رجع معه إلى دمشق، وبها لازم الإمام ابن القيم أكثر من سنة حتى توفي سنة 751 هـ، وسمع عليه قصيدته النونية في العقيدة وأشياء من تصانيفه وغيرها (5) ، ثم رحل مع والده إلى مصر، فسمع من بعض علمائها (6) .
وقد أكثر الحافظ ابن رجب من سماع الحديث، وقرأ القران بالروايات (7) ، ودرس الفقه على كثير من شيوخه،
--------------------------------------------
তিনি তাঁর জীবনের তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ বর্ষে অনুধাবন ক্ষমতা (التمييز) অর্জন করেন (১), অতঃপর তাঁর পিতা তাঁকে নিয়ে দামেস্ক, নাবলুস ও জেরুজালেম সফর করেন এবং তিনি শৈশবকালেই এসব অঞ্চলের আলেমদের নিকট থেকে শ্রবণ (سمع) করেন (২)। এরপর তিনি বাগদাদে ফিরে আসেন এবং সেখানকার কিছু আলেমের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন (৩)। পরবর্তীতে ৭৪৯ হিজরি সনে তিনি তাঁর পিতার সাথে হজ পালন করেন এবং মক্কায় হাদিস শ্রবণ করেন (৪)। এরপর তিনি পুনরায় তাঁর সাথে দামেস্কে ফিরে আসেন এবং সেখানে ইমাম ইবনুল কাইয়্যিমের সান্নিধ্যে এক বছরেরও বেশি সময় অতিবাহিত করেন, এমনকি তিনি (ইবনুল কাইয়্যিম) ৭৫১ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। তিনি তাঁর নিকট আকিদা (العقيدة) বিষয়ক তাঁর কাসিদায়ে নুনিয়্যাহ এবং তাঁর রচিত গ্রন্থাবলিসহ অন্যান্য বিষয় শ্রবণ (سمع) করেন (৫)। এরপর তিনি তাঁর পিতার সাথে মিশরে সফর করেন এবং সেখানকার কিছু আলেমের নিকট থেকে শ্রবণ করেন (৬)।
হাফিজ (الحافظ) ইবনে রজব প্রচুর পরিমাণে হাদিস শ্রবণ (سماع) করেছেন এবং বিভিন্ন বর্ণনাশৈলী (الروايات) অনুযায়ী কুরআন পাঠ করেছেন (৭)। এছাড়া তিনি তাঁর অনেক শিক্ষকের নিকট ফিকহ (الفقه) অধ্যয়ন করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
وحفظ بعض المتون الفقهية في الفقه الحنبلي (1) .
وقد استقر رحمه الله بعد تلك الرحلات الكثيرة في دمشق، وتفرغ للتعليم والتأليف والوعظ، فأقبل الطلاب على دروسه، وتتلمذوا على يديه، وأخذوا عنه الفقه، واستفادوا من علمه (2) .
وقد برز الحافظ ابن رجب في فنون كثيرة من علوم الشريعة، فقد برز في علوم الحديث، وكان ذا معرفة واسعة بالرجال وبطرق الأحاديث وعللها ومعانيها، وبرز أيضا في الفقه، وكانت له مجالس تذكير ووعظ نافعة.
وكان صاحب عقيدة صافية نقية، وقد ألف رسالة في تفضيل علم السلف على علم الخلف (3) .
وقد أثنى عليه غير واحد من أهل العلم:
قال ابن ناصر الدين: " الشيخ الإمام العلامة الزاهد القدوة، البركة الحافظ العمدة الثقة الحجة، واعظ المسلمين،
--------------------------------------------
এবং তিনি হাম্বলি ফিকহের কিছু ফিকহশাস্ত্রীয় মূলপাঠ (متون) মুখস্থ করেছিলেন (১)।
আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, সেই দীর্ঘ সফরের পর তিনি দামেস্কে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং শিক্ষাদান, গ্রন্থ রচনা ও উপদেশের কাজে মনোনিবেশ করেন। ফলে শিক্ষার্থীরা তাঁর পাঠের প্রতি ধাবিত হয় এবং তাঁর নিকট ছাত্রত্ব গ্রহণ করে। তারা তাঁর নিকট থেকে ফিকহ অর্জন করে এবং তাঁর জ্ঞান থেকে উপকৃত হয় (২)।
হাফিজ ইবনে রজব শরিয়তের বহু বিদ্যায় পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন। তিনি হাদিসশাস্ত্রে প্রসিদ্ধি লাভ করেন এবং বর্ণনাকারী (رجال), হাদিসের সূত্রসমূহ (طرق), সেগুলোর সূক্ষ্ম ত্রুটি (علل) ও মর্মার্থ সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। এছাড়া তিনি ফিকহ শাস্ত্রেও পারদর্শিতা লাভ করেন এবং তাঁর অত্যন্ত ফলপ্রসূ নসিহত ও উপদেশের মজলিস ছিল।
তিনি স্বচ্ছ ও বিশুদ্ধ আকিদার অধিকারী ছিলেন। তিনি 'পরবর্তীদের জ্ঞানের ওপর পূর্ববর্তীদের জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব' (৩) শিরোনামে একটি পুস্তিকা রচনা করেছিলেন।
একাধিক আলেম তাঁর প্রশংসা করেছেন:
ইবন নাসিরুদ্দিন বলেন: "তিনি ছিলেন শায়খ, ইমাম, আল্লামা, দুনিয়াবিমুখ, আদর্শ ব্যক্তিত্ব, বরকতস্বরূপ, হাফিজ, নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ, নির্ভরযোগ্য (ثقة), অকাট্য প্রমাণ (حجة), মুসলিমদের উপদেশদাতা,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
مفيد المحدثين،. . أحد الأئمة الزهاد والعلماء العباد " (1) .
وقال ابن فهد: " الإمام الحافظ الحجة، والفقيه العمدة، أحد العلماء الزهاد الأئمة العباد، مفيد المحدثين، واعظ المسلمين،. . كان رحمه الله إماما ورعا زاهدا مالت القلوب بالمحبة إليه، وأجمعت الفرق عليه، كانت مجالس تذكيره للقلوب وللناس عامة نافعة وللقلوب صادعة " (2) .
وقال ابن العماد الحنبلي: " الشيخ الإمام العالم العلامة، الزاهد القدوة البركة، الحافظ العمدة الثقة الحجة وكانت مجالس تذكيره للقلوب وللناس عامة مباركة نافعة، اجتمعت الفرق عليه، ومالت القلوب بالمحبة إليه، وله مصنفات مفيدة ومؤلفات عديدة. . وكان لا يعرف شيئا من أمور الناس ولا يتردد إلى أحد من ذوي الولايات " (3) .
وقال ابن المبرد: " الشيخ الإمام، أوحد الأنام، قدوة الحفاظ، جامع الشتات والفضائل،. . الفقيه الزاهد البارع
--------------------------------------------
মুহাদ্দিসগণের উপকারকারী, .. অন্যতম জাহিদ ইমাম এবং ইবাদতগুজার আলেম" (১) ।
এবং ইবনে ফাহদ বলেন: "ইমাম, হাফেজ (الحافظ), হুজ্জাহ (الحجة), নির্ভরযোগ্য ফকিহ, জাহিদ আলেম ও ইবাদতগুজার ইমামগণের অন্যতম, মুহাদ্দিসগণের উপকারকারী, মুসলিমদের নসিহতকারী। .. আল্লাহ তাঁকে রহম করুন, তিনি ছিলেন একজন পরহেজগার ও জাহিদ ইমাম; মানুষের অন্তরসমূহ ভালোবাসায় তাঁর দিকে ঝুঁকে পড়ত এবং সকল দল তাঁর ওপর ঐকমত্য পোষণ করত। তাঁর নসিহতের মজলিসগুলো মানুষের জন্য সাধারণভাবে উপকারী এবং অন্তর বিদীর্ণকারী ছিল" (২) ।
এবং ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলী বলেন: "শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম, জাহিদ, আদর্শবান ও বরকতময় ব্যক্তিত্ব, হাফেজ (الحافظ), নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ, নির্ভরযোগ্য (الثقة) ও হুজ্জাহ (الحجة)। তাঁর নসিহতের মজলিসগুলো মানুষের জন্য সাধারণভাবে বরকতময় ও উপকারী ছিল, সকল দল তাঁর ওপর ঐকমত্য পোষণ করত এবং অন্তরসমূহ ভালোবাসায় তাঁর প্রতি ধাবিত হতো। তাঁর বহু উপকারী গ্রন্থ ও অসংখ্য সংকলন রয়েছে। .. তিনি পার্থিব মানুষের কাজকর্ম সম্পর্কে কিছুই জানতেন না এবং কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে যাতায়াত করতেন না" (৩) ।
এবং ইবনুল মুবাররাদ বলেন: "শায়খ, ইমাম, সৃষ্টির মাঝে অনন্য ব্যক্তিত্ব, হাফেজগণের (الحفاظ) আদর্শ, বহুবিধ ফযিলত ও জ্ঞানের আধার, .. দক্ষ ফকিহ ও জাহিদ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
الأصولي المفيد المحدث " (1) .
وقال السيوطي: " الإمام الحافظ المحدث الفقيه الواعظ " (2) .
وقال أبو اليمن العليمي: " هو الشيخ الإمام والحبر البحر الهمام العلم العامل البدر الكامل القدوة الورع الزاهد الحافظ الحجة الثقة، شيخ الإسلام والمسلمين، وزين الملة والدين، واعظ المسلمين مفيد المحدثين، جمال المصنفين. . وكان أحد الأئمة الكبار والحفاظ والعلماء والزهاد والأخيار، وكانت مجالس تذكيره للقلوب صادعة وللناس عامة مباركة نافعة، اجتمعت الفرق عليه، ومالت القلوب بالمحبة إليه، وزهده وورعه فائق الحد، وكان رحمه الله لا يعرف شيئا من أمور الناس، ولا يتردد إلى ذوي الولايات " (3) .
وقال تلميذه ابن اللحام: " سيدنا وشيخنا الإمام العالم العلامة الأوحد الحافظ، شيخ الإسلام مجلي المشكلات وموضح المبهمات " (4) ،
وقال أيضا: " الإمام العالم الحافظ،
--------------------------------------------
উপকারী মূলনীতিবিদ (الأصولي) ও হাদিস বিশারদ (المحدث)" (১)।
এবং সুয়ূতী বলেন: "তিনি ইমাম, হাফেজ (الحافظ), হাদিস বিশারদ (المحدث), ফকিহ (الفقيه) ও উপদেশদাতা (الواعظ)" (২)।
এবং আবু ইয়েমেন আল-উলাইমি বলেন: "তিনি হলেন শায়খ, ইমাম, সুগভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী ও মহানুভব নেতা, আমলকারী আলেম, পূর্ণাঙ্গ আদর্শ স্বরূপ, আল্লাহভীরু (الورع), দুনিয়াবিমুখ (الزاهد), হাফেজ (الحافظ), সুদৃঢ় দলিল (الحجة), নির্ভরযোগ্য (الثقة), ইসলাম ও মুসলিমদের শায়খ, মিল্লাত ও দ্বীনের অলঙ্কার, মুসলিমদের উপদেশদাতা, হাদিস বিশারদদের (المحدثين) জন্য উপকারী এবং গ্রন্থকারদের সৌন্দর্য। তিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠ ইমাম, হাফেজ (الحفاظ), আলেম, দুনিয়াবিমুখ (الزهاد) এবং নেককারদের অন্যতম। তাঁর নসিহতের মজলিসগুলো ছিল হৃদয়ের জন্য প্রকম্পন সৃষ্টিকারী এবং সাধারণ মানুষের জন্য সামগ্রিকভাবে বরকতময় ও উপকারী। সকল দল-উপদল তাঁর ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছিল এবং সবার অন্তর ভালোবাসার সাথে তাঁর প্রতি ঝুঁকে ছিল। তাঁর দুনিয়াবিমুখতা (الزهد) এবং আল্লাহভীতি (الورع) ছিল সীমার ঊর্ধ্বে। আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, তিনি পার্থিব জগতের বিষয়াদি সম্পর্কে তেমন কিছুই জানতেন না এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাশালীদের দ্বারে যাতায়াত করতেন না" (৩)।
এবং তাঁর ছাত্র ইবনে আল-লাহহাম বলেন: "আমাদের সর্দার ও শায়খ, ইমাম, আলেম, অনন্য আল্লামা, হাফেজ (الحافظ), শায়খুল ইসলাম, জটিল সমস্যার সমাধানকারী এবং অস্পষ্ট বিষয়ের ব্যাখ্যাকারী" (৪) ,
তিনি আরও বলেন: "ইমাম, আলেম, হাফেজ (الحافظ),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
بقية السلف الكرام، وحيد عصره، وفريد دهره، شيخ الإسلام " (1) .
وقال ابن قاضي شهبة: " الشيخ الإمام العلامة الحافظ الزاهد الورع، شيخ الحنابلة وفاضلهم، أوحد المحدثين " (2) . وقال أيضا: " كتب وقرأ وأتقن الفن، واشتغل في المذهب حتى أتقنه، وأكب على الاشتغال بمعرفة متون الحديث وعلله ومعانيه. . وكان منجمعا عن الناس لا يخالط ولا يتردد إلى أحد من ذوي الولايات " (3) .
وقال ابن حجي: " أتقن الفن- أي فن الحديث- وصار أعرف أهل عصره بالعلل وتتبع الطرق، وكان لا يخالط الناس ولا يتردد إلى أحد. . . تخرج له غالب أصحابنا الحنابلة بدمشق " (4) .
وقال الحافظ ابن حجر: " مهر في فنون الحديث أسماء ورجالا وعللا وطرقا، واطلاعا على معانيه، وكان
--------------------------------------------
সম্মানিত পূর্বসূরিদের (সালাফ) অবশিষ্টাংশ, স্বীয় যুগের অনন্য ব্যক্তিত্ব এবং স্বীয় সময়ের অদ্বিতীয়, শায়খুল ইসলাম।" (১)।
ইবনে কাজি শুহবা বলেন: "তিনি শায়খ, ইমাম, আল্লামা, হাফেজ (الحافظ), দুনিয়াত্যাগী (زاهد), পরহেজগার (ورع), হাম্বলিদের শায়খ ও তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং মুহাদ্দিসদের (محدثين) মধ্যে অনন্য।" (২)। তিনি আরও বলেন: "তিনি লিখেছেন, পাঠ করেছেন এবং এই শিল্পে (বিদ্যায়) ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছেন। তিনি মাযহাবের চর্চায় নিমগ্ন ছিলেন যতক্ষণ না তাতে পারদর্শিতা অর্জন করেছেন। তিনি হাদিসের মূল পাঠ (متون), এর সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহ (علل) এবং এর অর্থসমূহ উপলব্ধির জন্য নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন। তিনি লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকতেন, মানুষের সাথে মেলামেশা করতেন না এবং কোনো পদমর্যাদাধারী বা সরকারি কর্মকর্তাদের নিকট যাতায়াত করতেন না।" (৩)।
ইবনে হাজ্জি বলেন: "তিনি এই শিল্পে—অর্থাৎ হাদিস শাস্ত্রে—ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছিলেন এবং স্বীয় যুগে হাদিসের ত্রুটিসমূহ (علل) এবং বর্ণনাপথসমূহ (طرق) অনুসন্ধানে সবচেয়ে বিজ্ঞ ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। তিনি মানুষের সাথে মেলামেশা করতেন না এবং কারো নিকট যাতায়াত করতেন না... দামেস্কে আমাদের হাম্বলি সাথীদের অধিকাংশ তাঁর মাধ্যমেই শিক্ষা সমাপন করেছেন।" (৪)।
হাফেজ (الحافظ) ইবনে হাজার বলেন: "তিনি হাদিস শাস্ত্রের বিভিন্ন শাখা যেমন: নামসমূহ, রাবিগণের জীবনী (رجال), ত্রুটিসমূহ (علل), বর্ণনাপথসমূহ (طرق) এবং হাদিসের অর্থ অনুধাবনে পারদর্শিতা লাভ করেছিলেন এবং তিনি ছিলেন..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
صاحب عبادة وتهجد " (1) .
وقال النعمي: " الشيخ العلامة، الحافظ الزاهد، شيخ الحنابلة، وكان لا يعرف شيئا من أمور الناس، ولا يتردد إلى أحد من ذوي الولايات " (2) .
وللحافظ ابن رجب مؤلفات كثيرة نافعة في فنون عديدة، ومن هذه المؤلفات:
1 - فضل علم السلف على الخلف (3) .
2 - شرح سنن الترمذي (4) ، عشرون مجلدا، وقد فقد أكثره (5) .
3 - شرح صحيح البخاري. ولم يتمه، وصل فيه إلى كتاب الجنائز (6) ، وقد أسماه: فتح الباري في شرح البخاري (7) .
--------------------------------------------
তিনি ইবাদত ও তাহাজ্জুদ গুজার (صاحب عبادة وتهجد) ছিলেন" (১) ।
এবং আন-নুআমি বলেন: "তিনি ছিলেন প্রখ্যাত শায়খ (الشيخ العلامة), হাফিজ (الحافظ), দুনিয়াবিমুখ (الزاهد), হাম্বলিদের শায়খ (شيخ الحنابلة); তিনি মানুষের পার্থিব বিষয়াদি সম্পর্কে খুব একটা জানতেন না এবং ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের কারও কাছে যাতায়াত করতেন না" (২) ।
হাফিজ (الحافظ) ইবনে রজবের বিভিন্ন শাস্ত্রে অনেক উপকারী গ্রন্থ রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১ - ফযলু ইলমিস সালাফ আলাল খালাফ (৩) ।
২ - শারহু সুনান তিরমিজি (৪), এটি বিশ খণ্ডের একটি বিশাল গ্রন্থ, তবে এর অধিকাংশ অংশই হারিয়ে গিয়েছে (৫) ।
৩ - শারহু সহিহ বুখারি। তিনি এটি সম্পন্ন করতে পারেননি, কিতাবুল জানাইয পর্যন্ত লিখেছিলেন (৬); তিনি এর নামকরণ করেছিলেন: ফাতহুল বারি ফি শারহিল বুখারি (৭) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
4 - القواعد الفقهية (1) .
قال ابن المبرد: " وهو كتاب نافع من عجائب الدهر" (2) .
5 - جامع العلوم والحكم (3) .
6 - ذيل طبقات الحنابلة (4) .
7 - الاستغناء بالقرآن (5) .
8 - الرد على من اتبع غير المذاهب الأربعة (6) .
9 - لطائف المعارف (7) .
--------------------------------------------
৪ - আল-কাওয়ায়িদ আল-ফিকহিয়্যাহ (১)।
ইবনুল মুবাররাদ বলেন: "এটি একটি উপকারী গ্রন্থ এবং কালের বিস্ময়সমূহের অন্যতম" (২)।
৫ - জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম (৩)।
৬ - জাইলু তাবাকাতিল হানাবিলাহ (৪)।
৭ - আল-ইস্তিগনা বিল কুরআন (৫)।
৮ - আর-রাদ্দু আলা মান ইত্তাবা'আ গইরাল মাজাহিবিল আরবা'আহ (৬)।
৯ - লাতাইফুল মাআরিফ (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وغيرها كثير، وقد ذكر ابن المبرد منها ستة وأربعين مؤلفا بين كتاب ورسالة، ثم قال: "وغير ذلك من الكتاب النافعة المفيدة، التي لم نر مثلها" (1) ، وقد طبعت أكثر مؤلفاته، وكانت وفاته رحمه الله، في دمشق سنة 795 هـ (2) .
--------------------------------------------
এবং এ রূপ আরও অনেক রয়েছে। ইবনে আল-মুবরদ এগুলোর মধ্য থেকে গ্রন্থ ও পুস্তিকা মিলিয়ে ৪৬টি রচনার কথা উল্লেখ করেছেন; অতঃপর তিনি বলেন: "এবং এ ছাড়াও অনেক উপকারী ও ফলপ্রসূ গ্রন্থ রয়েছে, যার কোনো সমতুল্য আমরা দেখিনি" (১)। তাঁর অধিকাংশ রচনা মুদ্রিত হয়েছে এবং তাঁর মৃত্যু—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—৭৯৫ হিজরি সনে দামেস্কে হয়েছিল (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
«النّصّ المحقّق» : بسم الله الرحمن الرحيم
رب يسر وأعن ووفق للخير يا كريم (1)
قال الشيخ الإمام العالم العلامة الأوحد الفهامة (2) وحيد عصره، وفريد دهره: أبو الفرج (3) عبد الرحمن بن الشيخ الإمام شهاب الدين أحمد بن رجب الحنبلي رحمه الله تعالى (4) .
الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل (5) فلا هادي له.
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم
--------------------------------------------
«সম্পাদিত পাঠ (النص المحقق)» : পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
হে আমার প্রতিপালক! আপনি সহজ করে দিন, সাহায্য করুন এবং কল্যাণের তাওফিক দান করুন, হে দয়াময় (১)।
শাইখ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম, আল্লামা, অনন্য প্রজ্ঞাবান (২), নিজ সময়ের অদ্বিতীয় এবং যুগের প্রথিতযশা ব্যক্তিত্ব: আবুল ফরাজ (৩) আব্দুর রহমান বিন শাইখ ইমাম শিহাবুদ্দিন আহমদ বিন রজব আল-হাম্বলী (রহিমাহুল্লাহ তাআলা) (৪) বলেছেন:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন (৫) তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
أما بعد: فقد وقع في هذا العام وهو عام أربعة وثمانين وسبعمائة حادثة، وهو أنه غم هلال ذي الحجة (1) فأكمل الناس هلال ذي القعدة، ثم تحدث الناس برؤية هلال ذي الحجة، وشهد به أناس (2) لم يسمع الحاكم شهادتهم، واستمر الحال على إكمال عدة (3) شهر ذي القعدة،
فتوقف بعض الناس عن (4) صيام التاسع (5) الذي هو يوم عرفة في هذا العام. وقالوا هو يوم النحر على ما أخبر به أولئك الشهود الذين لم تقبل شهادتهم، وقيل: إن بعضهم ضحى في ذلك اليوم، وحصل للناس بسبب ذلك اضطراب.
--------------------------------------------
অতঃপর: সাতশ চুরাশি হিজরি সালে একটি ঘটনা সংঘটিত হয়। তা হলো, জিলহজ মাসের নতুন চাঁদ মেঘে ঢাকা পড়েছিল (غم) (১), ফলে লোকেরা জিলকদ মাসের দিনসংখ্যা পূর্ণ করে। অতঃপর লোকেরা জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা করতে থাকে এবং এমন কিছু লোক (২) এর সাক্ষ্য প্রদান করে যাদের সাক্ষ্য বিচারক গ্রহণ করেননি। এমতাবস্থায় জিলকদ মাসের দিনসংখ্যা (৩) পূর্ণ করার সিদ্ধান্তই বহাল থাকে।
ফলে এই বছরে আরাফার দিন অর্থাৎ নয় তারিখের (৫) রোজা রাখা থেকে (৪) কিছু মানুষ বিরত থাকে। তারা বলেছিল যে, যাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়নি তাদের সংবাদ অনুযায়ী আজই কোরবানির দিন। বলা হয়ে থাকে যে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ সেই দিনেই কোরবানি করেছিলেন এবং এর ফলে মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فأحببت أن أكتب في ذلك ما يسره الله تعالى. وبه (1) المستعان وعليه التكلان ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم.
فنقول: هذه المسألة لها صورتان:
إحداهما:
أن يكون الشك مستندا إلى قرائن مجردة (2) ، أو إلى شهادة من لا تقبل شهادته (3) إما لانفراده بالرؤية أو لكونه ممن لا يجوز قبول قوله ونحو ذلك.
فهذه المسألة قد اختلف الناس فيها (4) على قولين.
أحدهما: أنه لا يصام في هذه الحالة (5) . قال النخعي (6) في صوم يوم عرفة في الحضر:
إذا كان فيه اختلاف فلا تصومن (7)
--------------------------------------------
আমি এই বিষয়ে আল্লাহ তাআলা যা সহজ করেছেন তা লিখতে চেয়েছি। তাঁর কাছেই (১) সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর ওপরই ভরসা করি। মহান ও সুউচ্চ আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো ক্ষমতা বা শক্তি নেই।
আমরা বলছি: এই মাসআলাটির দুটি অবস্থা রয়েছে:
তার একটি হলো:
সংশয়টি কেবল কিছু পারিপার্শ্বিক প্রমাণের (২) ওপর ভিত্তি করে হওয়া, অথবা এমন ব্যক্তির সাক্ষ্যের (৩) ওপর ভিত্তি করে হওয়া যার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়; চাই তা চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে সে একা হওয়ার কারণে হোক অথবা সে এমন ব্যক্তি হওয়ার কারণে হোক যার কথা গ্রহণ করা বৈধ নয় এবং অনুরূপ কারণে।
এই মাসআলাটি নিয়ে মানুষের মধ্যে (৪) দুটি মতভেদ রয়েছে।
তার একটি হলো: এই অবস্থায় (৫) রোজা রাখা হবে না। নাখায়ি (৬) জনপদে থাকা অবস্থায় আরাফার দিনের রোজা সম্পর্কে বলেছেন:
যদি তাতে মতভেদ থাকে তবে তুমি অবশ্যই রোজা রেখো না। (৭)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
وعنه قال: كانوا لا يرون بصوم يوم عرفة بأسا إلا أن يتخوفوا أن يكون يوم الذبح (1) . خرجهما ابن أبي شيبة في كتابه، وسنذكر عن مسروق (2) وغيره من التابعين مثل ذلك فيما بعد إن شاء الله تعالى (3) .
وكلام هؤلاء قد يقال- والله أعلم- إنه محمول (4) على الكراهة دون التحريم. وقد ذكر شيخ الإسلام تقي
--------------------------------------------
এবং তাঁর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: তারা আরাফার দিনে রোজা রাখার মধ্যে কোনো অসুবিধা দেখতেন না, যদি না তারা আশঙ্কা করতেন যে এটি জবাইয়ের দিন (১) হতে পারে। ইবনে আবি শাইবা তাঁর গ্রন্থে এ দুটি বর্ণনা করেছেন, এবং আমরা অচিরেই মাসরুক (২) ও অন্যান্য তাবেয়ি (تابعين)-দের থেকে অনুরূপ বর্ণনা সামনে উল্লেখ করব ইনশাআল্লাহ তায়ালা (৩)।
এবং এদের বক্তব্য সম্পর্কে বলা যেতে পারে—আল্লাহ-ই ভালো জানেন—যে এটি অপছন্দনীয় (كراهة) হওয়ার ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে, নিষিদ্ধ (تحريم) হওয়ার ওপর নয়। আর শাইখুল ইসলাম তাকি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
الدين بن تيمية رحمه الله تعالى في صوم هذا اليوم في هذه الحالة (1) أنه جائز بلا نزاع بين العلماء. قال: لأن الأصل عدم العاشر كما أنهم لو شكوا ليلة الثلاثين من رمضان هل طلع الهلال أم (2) لم يطلع؟ فإنهم يصومون ذلك اليوم باتفاق الأئمة وإنما (3) يوم الشك الذي رويت فيه الكراهة الشك (4) في أول رمضان (5) ، لأن الأصل بقاء شعبان. انتهى (6) .
--------------------------------------------
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) এই অবস্থায় এই দিনে রোজা রাখার বিষয়ে বলেছেন (১) যে, এটি আলেমদের মধ্যে কোনো বিরোধ ছাড়াই বৈধ। তিনি বলেন: কারণ মূল নীতি হলো দশম তারিখ না থাকা, ঠিক যেমন তারা যদি রমজানের ত্রিশতম রাতে সংশয় পোষণ করে যে চাঁদ উঠেছে নাকি (২) উঠেনি? তবে তারা ইমামগণের ঐক্যমত (اتفاق) অনুযায়ী সেই দিন রোজা রাখবে। আর কেবল (৩) সংশয়ের দিন (يوم الشك) যেটির ক্ষেত্রে অপছন্দনীয়তা (كراهة) বর্ণিত হয়েছে তা হলো রমজানের শুরুতে (৪) সংশয় (৫), কারণ মূল নীতি হলো শাবান মাস বাকি থাকা। সমাপ্ত (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فإما أن يكون اطلع على كلام النخعي وحمله على الكراهة. فلذلك (1) نفى النزاع في جوازه، وإما أن يكون لم يطلع عليه، ومراده: أن يستصحب الأصل في كلا الموضعين، لأن الأصل بقاء الشهر المتيقن وجوده وعدم دخول الشهر المشكوك في دخوله (2) ، فكذلك هنا إذا شك في دخول ذي الحجة (3) بنى (4) الأمر على إكمال ذي القعدة، لأنه الأصل، ويصام يوم عرفة على هذا الحساب، وهو تكميل شهر ذي القعدة.
ولكن من السلف من كان يصوم يوم الشك في أول رمضان احتياطيا (5)
وفرق طائفة منهم بين أن تكون السماء
--------------------------------------------
হয়তো তিনি নাখয়ি-এর বক্তব্য সম্পর্কে অবগত হয়েছিলেন এবং একে মাকরূহ হিসেবে গণ্য করেছিলেন। তাই (১) তিনি এর বৈধতা নিয়ে মতবিরোধ অস্বীকার করেছেন। অথবা হতে পারে তিনি তা জানতে পারেননি, এবং তার উদ্দেশ্য হলো: উভয় ক্ষেত্রেই মূল অবস্থার ওপর (ইস্তিশহাব) নির্ভর করা। কারণ নীতি হলো যে মাসটির অস্তিত্ব নিশ্চিত তা বিদ্যমান থাকা এবং যে মাসটি প্রবেশের ব্যাপারে সন্দেহ রয়েছে তা প্রবেশ না করা (২)। ঠিক একইভাবে এখানে যখন জিলহজ মাস (৩) প্রবেশের ব্যাপারে সন্দেহ হবে, তখন জিলকদ মাস পূর্ণ করার ওপর ভিত্তি (৪) করতে হবে; কারণ এটাই হলো মূল অবস্থা। আর এই হিসাব অনুযায়ী আরাফাহর দিনে রোজা রাখা হবে, যা জিলকদ মাস পূর্ণ করার অন্তর্ভুক্ত।
তবে সালাফদের মধ্যে কেউ কেউ সতর্কতাস্বরূপ রমজানের শুরুতে সন্দেহের দিনে (ইয়াওমুশ শাক) রোজা রাখতেন (৫)।
তাদের একটি দল আকাশ মেঘলা থাকা এবং না থাকার মধ্যে পার্থক্য করতেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
مصحية أو مغيمة (1) .
--------------------------------------------
আকাশ পরিষ্কার হোক বা মেঘাচ্ছন্ন (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
كما هو المشهور عن الإمام أحمد (1) .
والاحتياط هنا: إنما يؤثر (2) في استحباب صيام الثامن والتاسع من ذي الحجة مع الشك احتياطا. كما قال ابن سيرين وغيره أنه مع اشتباه الأشهر في (3) شهر المحرم يصام منه ثلاثة أيام احتياطا ليحصل بذلك صيام يوم التاسع والعاشر، ووافقه (4) الإمام أحمد رحمه الله على ذلك (5) .
وقد روي عن ابن عباس رضي الله عنهما أنه كان يعلل (6) صيام التاسع مع العاشر بالاحتياط (7) أيضا خشية فوات صوم يوم عاشوراء (8) .
وأما أن الاحتياط ينهض (9) إلى تحريم صيام يوم التاسع من ذي الحجة لمجرد (10) الشك فكلا، لأن الأصل
--------------------------------------------
যেমনটি ইমাম আহমদ থেকে প্রসিদ্ধ (مشهور) (১)।
আর এখানে সতর্কতা অবলম্বন: কেবল সন্দেহ থাকা অবস্থায় সতর্কতাস্বরূপ জিলহজ মাসের অষ্টম ও নবম তারিখে রোজা রাখা মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। যেমনটি ইবনে সিরিন এবং অন্যরা বলেছেন যে, মহররম মাসে মাসের শুরু অস্পষ্ট (৩) হয়ে পড়লে সতর্কতাস্বরূপ তিন দিন রোজা রাখতে হবে যাতে এর মাধ্যমে নবম ও দশম তারিখের রোজা নিশ্চিতভাবে পালন করা যায়। ইমাম আহমদ (রহ.) এ বিষয়ে তার (৪) সাথে একমত হয়েছেন (৫)।
আর ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি আশুরার রোজা ছুটে যাওয়ার ভয়ে সতর্কতাস্বরূপ (৭) দশম তারিখের সাথে নবম তারিখে রোজা রাখার কারণ বর্ণনা (৬) করতেন (৮)।
আর স্রেফ (১০) সন্দেহের কারণে জিলহজ মাসের নবম তারিখের রোজা হারাম হওয়ার পর্যায়ে সতর্কতা উন্নীত (৯) হয় না; কারণ মূল নীতি হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
بقاء ذي القعدة وعدم استهلاك ذي الحجة، فلا (1) يحرم صوم يوم (2) التاسع منه بمجرد الشك، كما يجب صوم الثلاثين (3) من رمضان مع الشك في استهلاك شوال، لأن الأصل عدمه وبقاء رمضان.
القول الثاني: أنه يصام ولا يلتفت إلى الشك، وهو مروي عن عائشة رضي الله عنها من وجوه. قال عبد الرزاق في كتابه: أخبرنا (4) معمر عن جعفر بن برقان عن الحكم أو غيره (5) عن مسروق أنه دخل هو ورجل معه (6) على عائشة يوم عرفة فقالت عائشة: يا جارية خوضي لهما سويقا وحليه، فلولا أني صائمة لذقته، قالا: أتصومين (7) يا أم
--------------------------------------------
যিলকদ মাস অবশিষ্ট থাকা এবং যিলহজ মাস শুরু না হওয়া প্রসঙ্গে; কেবল সন্দেহের বশবর্তী হয়ে যিলহজ মাসের নবম (৯) তারিখের (২) রোজা রাখা নিষিদ্ধ (১) হবে না, যেমনটি শাওয়াল মাস শুরু হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ থাকা সত্ত্বেও রমজানের ত্রিশ (৩০) তারিখের রোজা (৩) রাখা ওয়াজিব, কারণ মূল বিধান হলো নতুন মাস শুরু না হওয়া এবং রমজান মাস অবশিষ্ট থাকা।
দ্বিতীয় অভিমত: এই দিনে রোজা রাখা হবে এবং সন্দেহের প্রতি ভ্রূক্ষেপ করা হবে না। এটি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত (مروي) হয়েছে। আব্দুর রাজ্জাক তাঁর কিতাবে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (৪) (أخبرنا) মা’মার, তিনি জাফর ইবনে বুরকান থেকে, তিনি হাকাম অথবা অন্য কারো (৫) থেকে, তিনি মাসরুক থেকে বর্ণনা করেন যে, আরাফার দিনে তিনি এবং তাঁর সাথে থাকা এক ব্যক্তি (৬) আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর নিকট প্রবেশ করলেন। তখন আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বললেন: হে দাসী, তাদের জন্য ছাতু গুলিয়ে দাও এবং তাতে মিষ্টি মেশাও; আমি যদি রোজাদার না হতাম, তবে আমি নিজেই তা চেখে দেখতাম। তাঁরা দুজনে বললেন: আপনি কি রোজা রাখছেন (৭) হে উম্মুল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
المؤمنين ولا
تدرين لعله يوم النحر؟ فقالت: إنما يوم النحر إذا نحر الإمام وعظم (1) الناس، والفطر إذا أفطر الإمام وعظم (2) الناس (3) . وروي من وجه آخر (4) . رواه أبو إسحاق السبيعي عن مسروق
قال: دخلت على عائشة أنا وصديق لي (5) يوم عرفة فدعت لنا بشراب، فقالت: لولا أني صائمة لذقته. فقلنا لها: أتصومين (6) والناس يزعمون أن اليوم يوم النحر (7) ؟ قالت: " الأضحى يوم يضحي الناس، والفطر يوم يفطر الناس ": رواه الإمام
--------------------------------------------
মুমিনগণের জননী, আপনি কি জানেন না যে সম্ভবত আজই কোরবানির দিন?
তিনি বললেন: "কোরবানির দিন (ইয়াওমুন নাহর) তখনই হয় যখন ইমাম কোরবানি করেন এবং সাধারণ (عظم) মানুষ (১) কোরবানি করে। আর ঈদুল ফিতর তখনই হয় যখন ইমাম রোজা ভঙ্গ করেন এবং সাধারণ (عظم) মানুষ (২) রোজা ভঙ্গ করে (৩)।" এটি অন্য একটি সূত্র (من وجه آخر) থেকেও বর্ণিত হয়েছে (৪)। আবু ইসহাক আস-সাবিঈ মাসরুক থেকে বর্ণনা করেছেন,
তিনি বলেন: আমি এবং আমার এক বন্ধু (৫) আরাফাতের দিনে আয়েশা (রা.)-এর নিকট প্রবেশ করলাম। তিনি আমাদের জন্য পানীয় আনালেন এবং বললেন: "আমি যদি রোজা না থাকতাম তবে তা আস্বাদন করতাম।" আমরা তাঁকে বললাম: আপনি কি রোজা রাখছেন (৬) অথচ মানুষ ধারণা করছে যে আজ কোরবানির দিন (৭)? তিনি বললেন: "ঈদুল আযহা হলো সেই দিন যেদিন মানুষ কোরবানি করে এবং ঈদুল ফিতর হলো সেই দিন যেদিন মানুষ রোজা ভঙ্গ করে।" এটি ইমাম বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
أحمد عن ابن نمير (1) وابن فضيل كلاهما عن الأعمش عن أبي إسحاق به (2) . خرجه عنه ابنه عبد الله في كتاب المسائل (3) .
وخرجه (4) أيضا عبد الله عن أبيه عن ابن مهدي عن سفيان عن أبي إسحاق عن أبي عطية ومسروق قالا (5) : دخلنا على عائشة في اليوم الذي يشك فيه الأضحى (6) ، فقالت: خوضي
لابني سويقا وحليه، فلولا أني صائمة لذقته. فقيل لها: يا أم المؤمنين: إن الناس يرون أن اليوم يوم الأضحى، فقالت: " إنما يوم (7) الأضحى يوم يضحي
--------------------------------------------
আহমদ ইবনে নুমায়র (১) ও ইবনে ফুযাইল থেকে—তাঁরা উভয়ে আল-আমাশ থেকে—তিনি আবু ইসহাক থেকে এই সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন (২)। তাঁর থেকে তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ 'কিতাবুল মাসাইল'-এ (৩) এটি বর্ণনা করেছেন।
আবদুল্লাহ আরও বর্ণনা করেছেন (৪) তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে মাহদী থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবু আতিয়্যাহ ও মাসরুক থেকে; তাঁরা উভয়ে বলেন (৫): আমরা আয়িশা (রা.)-এর নিকট এমন একদিন প্রবেশ করলাম যে দিনটি ঈদুল আযহা হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ ছিল (৬)। তিনি বললেন: "আমার পুত্রের জন্য ছাতু গুলে দাও এবং তাতে মিষ্টি মেলাও; আমি যদি রোযাদার না হতাম, তবে অবশ্যই তা আস্বাদন করতাম।" তাঁকে বলা হলো: হে উম্মুল মুমিনীন! মানুষ মনে করছে যে আজই ঈদুল আযহার দিন। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আযহার দিন (৭) তো সেই দিন যেদিন মানুষ কুরবানি করে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
الإمام وجماعة الناس " (1) .
وكذا رواه شعبة عن أبي إسحاق عن أبي عطية ومسروق عن عائشة بنحوه (2) .
ورواه دلهم (3) بن صالح عن أبي إسحاق عن أبي عطية (4) ومسروق عن عائشة (5) . واختلف عليه في رفع آخر الحديث، وهو: "إنما (6) الأضحى يوم يضحي الإمام "، فمن أصحابه من رفعه عنه وجعله من قول النبي صلى الله عليه وسلم، ومنهم من وقفه على عائشة، وهو الصحيح (7) .
ورواه أيضا مجالد (8) عن الشعبي عن مسروق عن
--------------------------------------------
ইমাম এবং সাধারণ মানুষ" (১) ।
অনুরূপভাবে শু'বাহ এটি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবু আতিয়্যাহ ও মাসরুক থেকে এবং তারা আয়েশা (রা.) থেকে অনুরূপ শব্দে বর্ণনা করেছেন (২)।
আর এটি দালহাম (৩) ইবনে সালিহ আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবু আতিয়্যাহ (৪) ও মাসরুক থেকে এবং তারা আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন (৫)। হাদিসের শেষাংশকে মারফু (رفع) করার ক্ষেত্রে তাঁর ওপর মতভেদ করা হয়েছে, আর সেটি হলো: "নিশ্চয়ই (৬) কুরবানি হলো সেই দিন যেদিন ইমাম কুরবানি করেন"; সুতরাং তাঁর শিষ্যদের মধ্যে কেউ কেউ এটিকে মারফু (رفعه) করেছেন এবং এটিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী হিসেবে গণ্য করেছেন, আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ এটিকে আয়েশা (রা.)-এর ওপর মাওকুফ (وقفه) করেছেন, আর এটিই সঠিক (الصحيح) (৭)।
আর এটি মুজালিদও (৮) শাবি থেকে, তিনি মাসরুক থেকে বর্ণনা করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
عائشة بنحوه موقوفا أيضا (1) .
فهذا الأثر (2) صحيح عن عائشة رضي الله عنها (3) ، إسناده في غاية الصحة،
ولا يعرف لعائشة (4) مخالف من الصحابة (5) . ووجه قولها: إن الأصل في هذا اليوم أن يكون يوم عرفة، لأن اليوم المشكوك فيه، هل هو من ذي
--------------------------------------------
আয়েশা (রা.) থেকেও অনুরূপভাবে মাওকুফ (موقوفا) বর্ণিত হয়েছে (১)।
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত এই আসার (أثر) (২) টি সহিহ (صحيح) (৩), এর ইসনাদ (إسناد) অত্যন্ত বিশুদ্ধ পর্যায়ের।
আয়েশার (রা.) কোনো বিরোধিতাকারী সাহাবী (৫) সম্পর্কে জানা যায় না (৪)। তাঁর বক্তব্যের কারণ হলো: এই দিনের মূল ভিত্তি হলো এটি আরাফাতের দিন হওয়া, কারণ যে দিনটি নিয়ে সংশয় রয়েছে যে সেটি কি জিলহজ মাসের...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ইখতিলাফ ফী রুয়াতি হিলালি জিল হিজ্জাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
الحجة أو من ذي القعدة؟ الأصل فيه: أنه من ذي القعدة فيعمل بذلك استصحابا للأصل.
ومأخذ آخر: وهو (1) الذي أشارت إليه عائشة رضي الله عنها: أن يوم عرفة هو يوم مجتمع الناس (2) مع الإمام على التعريف فيه، ويوم النحر هو الذي يجتمع الناس مع الإمام على التضحية فيه، وما ليس كذلك فليس بيوم عرفة، ولا يوم أضحى، وإن كان بالنسبة إلى عدد أيام الشهر هو التاسع، أو العاشر.
وقد روي ذلك عن النبي صلى الله عليه وسلم (3) من وجوه متعددة. خرجه الترمذي من طريق المقبري عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «الصوم يوم يصوم الناس، والفطر يوم يفطرون، والأضحى يوم يضحون» وقال (4) : حسن غريب (5) .
--------------------------------------------
জিলহজ নাকি জিলকদ মাসের? এ বিষয়ে মূলনীতি (الأصل) হলো: এটি জিলকদ মাসের অন্তর্ভুক্ত, তাই মূল অবস্থার ওপর বহাল থাকার (استصحابا للأصل) নীতি অনুযায়ী আমল করা হবে।
অন্য একটি উৎস (مأخذ): যা আয়েশা (রা.) ইঙ্গিত করেছেন যে, আরাফার দিন হলো সেই দিন যেদিন মানুষ ইমামের সাথে আরাফায় উকুফ করার জন্য সমবেত হয়, আর নহরের দিন (কুরবানির দিন) হলো সেই দিন যেদিন মানুষ ইমামের সাথে কুরবানি করার জন্য সমবেত হয়। আর যা এমন নয় তা আরাফার দিন নয় এবং ঈদুল আজহার দিনও নয়, যদিও মাসের দিনের গণনায় তা নবম বা দশম দিন হয়ে থাকে।
এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। তিরমিজি এটি মাকবুরির সূত্রে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «রোজা হলো সেই দিন যেদিন মানুষ রোজা রাখে, ঈদুল ফিতর হলো সেই দিন যেদিন মানুষ ইফতার (ঈদ) করে এবং ঈদুল আজহা হলো সেই দিন যেদিন মানুষ কুরবানি দেয়»। তিনি বলেছেন: হাদিসটি হাসান (حسن) ও গরিব (غريب)।
--------------------------------------------