(খণ্ড: ১)
আল-উকু দুদ দুররিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-ফিকী
(পৃষ্ঠা: -)
العقود الدرية في مناقب ابن تيمية - ت الفقي القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: العقود الدرية من مناقب شيخ الإسلام أحمد بن تيمية
المؤلف: شمس الدين محمد بن أحمد بن عبد الهادي بن يوسف الدمشقي الحنبلي (ت 744 هـ)
المحقق: محمد حامد الفقي [ت 1378 هـ]
الناشر: دار الكاتب العربي - بيروت
عدد الصفحات: 533
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-উকূদ আদ-দুররিয়্যাহ ফি মানাকিবি ইবনু তাইমিয়্যাহ - তাহকীক: আল-ফিকী বিভাগ: জীবনী ও স্তরবিন্যাস
বই: আল-উকূদ আদ-দুররিয়্যাহ মিন মানাকিবি শায়খিল ইসলাম আহমাদ ইবনু তাইমিয়্যাহ
লেখক: শামসুদ্দীন মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ ইবনু আবদিল হাদী ইবনু ইউসুফ আদ-দিমাশকী আল-হাম্বালী (মৃত্যু ৭৪৪ হি.)
গবেষক: মুহাম্মাদ হামিদ আল-ফিকী [মৃত্যু ১৩৭৮ হি.]
প্রকাশক: দারুল কাতিব আল-আরাবী - বৈরুত
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৩৩
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-উকু দুদ দুররিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-ফিকী
(পৃষ্ঠা: ١٧)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم
حسبي الله وَنعم الْوَكِيل قَالَ الشَّيْخ الإِمَام الْحَافِظ الْمُحَقق أَبُو عبد الله مُحَمَّد بن احْمَد بن عبد الهادي الْمَقْدِسِي رحمه الله وَرَضي عَنهُ وأثابه الْجنَّة بفضله وَرَحمته وإيانا وَسَائِر الْمُسلمين
الْحَمد لله نحمده ونستعينه ونستهديه وَنَسْتَغْفِرهُ ونعوذ بِاللَّه من شرور أَنْفُسنَا وَمن سيئات أَعمالنَا من يهده الله فَلَا مضل لَهُ وَمن يضلل فَلَا هادي لَهُ وَأشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ وَأشْهد أَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله صلى الله عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم تَسْلِيمًا كثيرا
أما بعد فَهَذِهِ نبذة يسيرَة مختصرة فِي ذكر حَال سيدنَا وَشَيخنَا شيخ الْإِسْلَام تَقِيّ الدّين أبي الْعَبَّاس احْمَد بن تَيْمِية رحمه الله وَرَضي عَنهُ وأثابه الْجنَّة برحمته وَذكر بعض مناقبه وَبَعض مصنفاته
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে। আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। শায়খ, ইমাম, হাফেজ, মুহাক্কিক আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আব্দুল হাদি আল-মাকদিসি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁর অনুগ্রহ ও করুণায় তাঁকে, আমাদের এবং সকল মুসলিমকে জান্নাত দান করুন) বলেছেন:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য চাই, তাঁরই কাছে হেদায়েত প্রার্থনা করি এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে হেদায়েত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
অতঃপর, এটি আমাদের নেতা ও শায়খ, শাইখুল ইসলাম তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ বিন তাইমিয়্যাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁর করুণায় তাঁকে জান্নাত দান করুন)-এর অবস্থা বর্ণনায় একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ; এবং এতে তাঁর কিছু গুণাবলি ও কিছু রচনার আলোচনা রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-উকু দুদ দুররিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-ফিকী
(পৃষ্ঠা: ١٨)
هُوَ الشَّيْخ الإِمَام الربابي إِمَام الْأَئِمَّة ومفتي الْأمة وبحر الْعُلُوم سيد الْحفاظ وَفَارِس الْمعَانِي والألفاظ فريد الْعَصْر وقريع الدَّهْر شيخ الْإِسْلَام بركَة الْأَنَام وعلامة الزَّمَان وترجمان الْقُرْآن علم الزهاد وأوحد الْعباد قامع المبتدعين وَآخر الْمُجْتَهدين تَقِيّ الدّين أَبُو الْعَبَّاس احْمَد بن الشَّيْخ الإِمَام الْعَلامَة شهَاب الدّين أبي المحاسن عبد الحليم ابْن الشَّيْخ الإِمَام الْعَلامَة شيخ الْإِسْلَام مجد الدّين أبي البركات عبد السلام بن أبي مُحَمَّد عبد الله بن أبي الْقَاسِم الْخضر بن مُحَمَّد بن الْخضر بن عَليّ بن عبد الله ابْن تَيْمِية الْحَرَّانِي نزيل دمشق وَصَاحب التصانيف الَّتِي لم يسْبق إِلَى مثلهَا
قيل إِن جده مُحَمَّد بن الْخضر حج على درب تيماء فَرَأى هُنَاكَ طفلة فَلَمَّا رَجَعَ وجد امْرَأَته قد ولدت لَهُ بِنْتا فَقَالَ يَا تَيْمِية يَا تَيْمِية فلقب بذلك
قَالَ ابْن النجار ذكر لنا أَن جده مُحَمَّدًا كَانَت أمه تسمى تَيْمِية وَكَانَت واعظة فنسب إِلَيْهَا وَعرف بهَا
ولد شَيخنَا أَبُو الْعَبَّاس بحران يَوْم الْإِثْنَيْنِ عَاشر وَقيل ثَانِي عشر [شهر] ربيع الأول سنة 661 هـ احدى وَسِتِّينَ وسِتمِائَة وسافر والداه بِهِ وبإخوته إِلَى الشأم عِنْد جور التتار فَسَارُوا بِاللَّيْلِ وَمَعَهُمْ الْكتب على عجلة لعدم الدَّوَابّ فكاد الْعَدو يلحقهم ووقفت العجلة فابتهلوا إِلَى الله واستغاثوا بِهِ فنجوا وسلموا
তিনি হলেন শাইখ, রব্বানী ইমাম, ইমামগণের ইমাম, উম্মতের মুফতি, ইলমের সমুদ্র, হাফেজদের সরদার, অর্থ ও শব্দের নিপুণ কারিগর, তাঁর যুগের অনন্য ব্যক্তিত্ব এবং সময়ের শ্রেষ্ঠ আলেম, শাইখুল ইসলাম, সৃষ্টির জন্য বরকতস্বরূপ, জামানার মহাজ্ঞানী, কুরআনের ভাষ্যকার, যাহিদদের শিরোমণি, ইবাদতকারীদের মধ্যে অনন্য, বিদআতপন্থীদের দমনকারী এবং মুজতাহিদদের শেষ উত্তরসূরি, তাকীউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে শাইখ ইমাম আল্লামা শিহাবুদ্দীন আবুল মাহাসিন আব্দুল হালীম ইবনে শাইখ ইমাম আল্লামা শাইখুল ইসলাম মাজদুদ্দীন আবুল বারাকাত আব্দুস সালাম ইবনে আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে আবুল কাসিম আল-খিদর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-খিদর ইবনে আলী ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী, যিনি দামেস্কে বসবাস করতেন এবং এমন সব গ্রন্থের রচয়িতা যার সমতুল্য ইতিপূর্বে কেউ করতে পারেনি।
বলা হয়ে থাকে যে, তাঁর দাদা মুহাম্মদ ইবনে আল-খিদর 'তাইমা'র পথে হজ করতে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি একটি ছোট মেয়ে শিশুকে দেখেছিলেন। যখন তিনি ফিরে এলেন, দেখলেন তাঁর স্ত্রীর একটি কন্যা সন্তান হয়েছে। তখন তিনি বলে উঠলেন— 'হে তাইমিয়্যাহ! হে তাইমিয়্যাহ!' আর এভাবেই তিনি এই উপাধি লাভ করেন।
ইবনুন নাজ্জার বলেন, আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁর দাদা মুহাম্মদের মায়ের নাম ছিল তাইমিয়্যাহ। তিনি একজন ওয়ায়েজা (উপদেশদাত্রী) ছিলেন। ফলে তাঁর দিকেই সম্বন্ধ করা হয়েছে এবং তিনি তাঁর নামেই পরিচিতি লাভ করেছেন।
আমাদের শাইখ আবুল আব্বাস ৬৬১ হিজরীর ১০ই অথবা মতান্তরে ১২ই রবিউল আউয়াল সোমবার হাররান শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাতারীদের অত্যাচারের সময় তাঁর পিতা-মাতা তাঁকে এবং তাঁর ভাইদের নিয়ে শামের উদ্দেশ্যে হিজরত করেন। তাঁরা রাতের বেলা সফর করছিলেন এবং বাহন পশুর অভাব থাকায় একটি ঠেলাগাড়িতে তাঁদের কিতাবসমূহ সাথে নিয়েছিলেন। এক পর্যায়ে শত্রুরা প্রায় তাঁদের ধরে ফেলেছিল এবং গাড়িটি আটকে গিয়েছিল। তখন তাঁরা আল্লাহর নিকট রোনাজারি করলেন এবং তাঁর কাছে সাহায্য চাইলেন। ফলে তাঁরা নাজাত পেলেন এবং নিরাপদে পৌঁছালেন।
(খণ্ড: ১)
আল-উকু দুদ দুররিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-ফিকী
(পৃষ্ঠা: ١٩)
وَقدمُوا دمشق فِي أثْنَاء سنة سبع وَسِتِّينَ وسِتمِائَة فَسَمِعُوا من الشَّيْخ زين الدّين احْمَد بن عبد الدَّائِم بن نعْمَة الْمَقْدِسِي جُزْء ابْن عَرَفَة كُله ثمَّ سمع شَيخنَا الْكثير من ابْن أبي الْيُسْر والكمال ابْن عبد وَالْمجد بن عَسَاكِر وَأَصْحَاب الخشوعي وَمن الْجمال يحيى بن الصيرفى وَأحمد بن أبي الْخَيْر وَالقَاسِم الأربلي وَالشَّيْخ فَخر الدّين بن البُخَارِيّ والكمال عبد الرحيم وَأبي الْقَاسِم بن عَلان وَاحْمَدْ بن شَيبَان وَخلق كثير
وشيوخه الَّذين سمع مِنْهُم أَكثر من مِائَتي شيخ
وَسمع مُسْند الإِمَام أَحْمد بن حَنْبَل مَرَّات وَسمع الْكتب السِّتَّة الْكِبَار والأجزاء وَمن مسموعاته مُعْجم الطبرابي الْكَبِير وعني بِالْحَدِيثِ وَقَرَأَ وَنسخ وَتعلم الْخط والحساب فِي الْمكتب وَحفظ الْقُرْآن وَأَقْبل على الْفِقْه وَقَرَأَ الْعَرَبيَّة على ابْن عبد القوى ثمَّ فهمها وَأخذ يتَأَمَّل كتاب سِيبَوَيْهٍ حَتَّى فهم فِي النَّحْو وَأَقْبل على التَّفْسِير إقبالا كليا حَتَّى حَاز فِيهِ قصب السَّبق وَأحكم اصول الْفِقْه وَغير ذَلِك
هَذَا كُله وَهُوَ بعد ابْن بضع عشرَة سنة فانبهر أهل دمشق من فرط ذكائه وسيلان ذهنه وَقُوَّة حافظته وَسُرْعَة إِدْرَاكه
তারা ৬৬৭ হিজরি সালের মাঝামাঝি সময়ে দামেস্কে আগমন করেন। এরপর তারা শাইখ জাইনউদ্দীন আহমদ বিন আব্দুল দায়িম বিন নি’মাহ আল-মাকদিসি-এর নিকট থেকে সম্পূর্ণ ‘জুজউ ইবনে আরাফাহ’ শ্রবণ করেন। অতঃপর আমাদের শাইখ ইবনে আবিল ইউসর, আল-কামাল বিন আব্দ, আল-মাজদ বিন আসাকির, আল-খশুয়ি-এর শিষ্যবৃন্দ, আল-জামাল ইয়াহইয়া বিন আস-সাইরাফি, আহমদ বিন আবিল খাইর, আল-কাসিম আল-আরবালি, শাইখ ফখরউদ্দীন বিন আল-বুখারি, আল-কামাল আব্দুর রহিম, আবুল কাসিম বিন আল্লান, আহমদ বিন শাইবান এবং আরও অসংখ্য ব্যক্তির নিকট থেকে প্রচুর হাদিস শ্রবণ করেন।
তার শাইখ বা শিক্ষক যাদের নিকট থেকে তিনি শ্রবণ করেছেন, তাদের সংখ্যা দুই শতাধিক।
তিনি ইমাম আহমদ বিন হাম্বলের ‘মুসনাদ’ কয়েকবার শ্রবণ করেন। এছাড়াও তিনি ছয়টি বড় কিতাব এবং বিভিন্ন পুস্তিকা শ্রবণ করেন। তার শ্রবণকৃত গ্রন্থাবলির মধ্যে তাবারানির ‘আল-মু’জাম আল-কাবির’ অন্তর্ভুক্ত। তিনি হাদিস শাস্ত্রের প্রতি বিশেষ মনোনিবেশ করেন এবং মক্তবে পাঠ গ্রহণ, পাণ্ডুলিপি অনুলিখন, ক্যালিগ্রাফি ও গণিত শিক্ষা করেন। তিনি কুরআন হিফজ করেন এবং ফিকহ শাস্ত্রের দিকে অগ্রসর হন। তিনি ইবনে আব্দুল কাওয়ি-এর নিকট আরবি ভাষা অধ্যয়ন করেন এবং তা গভীরভাবে আয়ত্ত করেন। এরপর তিনি সিবওয়াইহ-এর কিতাব নিয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণা শুরু করেন এবং নাহু শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। তিনি তাফসিরের প্রতি পরিপূর্ণরূপে মনোনিবেশ করেন এবং তাতে অনন্য শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন। এছাড়া তিনি উসুলুল ফিকহ ও অন্যান্য শাস্ত্র সুসংহত করেন।
এসব কিছুই সম্পন্ন হয়েছিল যখন তার বয়স মাত্র দশের কোঠায়। তার প্রবল মেধা, তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা, প্রখর স্মৃতিশক্তি এবং দ্রুত অনুধাবন ক্ষমতা দেখে দামেস্কবাসী বিস্ময়াভিভূত হয়ে পড়েছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-উকু দুদ দুররিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-ফিকী
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
وَاتفقَ أَن بعض مَشَايِخ الْعلمَاء بحلب قدم إِلَى دمشق وَقَالَ سَمِعت فِي الْبِلَاد بصبي يُقَال لَهُ احْمَد بن تَيْمِية وَأَنه سريع الْحِفْظ وَقد جِئْت قَاصِدا لعَلي أرَاهُ فَقَالَ لَهُ خياط هَذِه طَرِيق كِتَابه وَهُوَ إِلَى الْآن مَا جَاءَ فَاقْعُدْ عندنَا السَّاعَة يَجِيء يعبر علينا ذَاهِبًا إِلَى الْكتاب فَجَلَسَ الشَّيْخ الْحلَبِي قَلِيلا فَمر صبيان فَقَالَ الْخياط للحلبي هذاك الصَّبِي الَّذِي مَعَه اللَّوْح الْكَبِير هُوَ احْمَد بن تَيْمِية فناداه الشَّيْخ فجَاء إِلَيْهِ فَتَنَاول الشَّيْخ اللَّوْح فَنظر فِيهِ ثمَّ قَالَ يَا وَلَدي امسح هَذَا حَتَّى أملي عَلَيْك شَيْئا تكتبه فَفعل فأملى عَلَيْهِ من متون الْأَحَادِيث أحد عشر أَو ثَلَاثَة عشر حَدِيثا وَقَالَ لَهُ اقْرَأ هَذَا فَلم يزدْ على أَن تَأمله مرّة بعد كِتَابَته إِيَّاه ثمَّ دَفعه إِلَيْهِ وَقَالَ اسْمَعْهُ عَليّ فقرأه عَلَيْهِ عرضا كأحسن مَا أَنْت سامع فَقَالَ لَهُ يَا وَلَدي امسح هَذَا فَفعل فأملى عَلَيْهِ عدَّة أَسَانِيد انتخبها ثمَّ قَالَ اقْرَأ هَذَا فَنظر فِيهِ كَمَا فعل أول مرّة فَقَامَ الشَّيْخ وَهُوَ يَقُول إِن عَاشَ هَذَا الصَّبِي لَيَكُونن لَهُ شَأْن عَظِيم فَإِن هَذَا لم ير مثله أَو كَمَا قَالَ
وَقَالَ الْحَافِظ أَبُو عبد الله الذَّهَبِيّ نَشأ يَعْنِي الشَّيْخ تَقِيّ الدّين رحمه الله فِي تصون تَامّ وعفاف وتأله وَتعبد واقتصاد فِي الملبس والمأكل وَكَانَ يحضر الْمدَارِس والمحافل فِي صغره ويناظر ويفحم الْكِبَار وَيَأْتِي بِمَا يتحير مِنْهُ أَعْيَان الْبَلَد فِي الْعلم فَأفْتى وَله تسع عشرَة سنة بل أقل وَشرع فِي الْجمع والتأليف من ذَلِك الْوَقْت وأكب على الِاشْتِغَال وَمَات
আর এমনটি ঘটল যে, আলেপ্পোর (হালাব) জনৈক প্রবীণ আলেম দামেস্কে আসলেন এবং বললেন, "আমি লোকমুখে আহমদ ইবনে তাইমিয়াহ নামক এক বালক সম্পর্কে শুনেছি যে সে প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী। আমি তাকে দেখার উদ্দেশ্যেই এসেছি।" তখন এক দর্জি তাকে বলল, "এটিই তার মক্তবে যাওয়ার পথ। সে এখনও আসেনি, আপনি কিছুক্ষণ আমাদের কাছে বসুন, সে এখনই মক্তবে যাওয়ার পথে এখান দিয়ে অতিক্রম করবে।" সেই হালবি শাইখ কিছুক্ষণ বসলেন, তারপর কিছু বালক সেখান দিয়ে যাচ্ছিল। তখন দর্জি সেই হালবি আলেমকে বললেন, "ঐ যে বড় তখতি হাতে বালকটি দেখছেন, সেই হলো আহমদ ইবনে তাইমিয়াহ।" তখন শাইখ তাকে ডাকলেন এবং সে তার কাছে আসলো। শাইখ তার তখতিটি হাতে নিলেন এবং তাতে দৃষ্টিপাত করলেন। এরপর তিনি বললেন, "হে বৎস, এটি মুছে ফেলো যাতে আমি তোমাকে কিছু লিখে দিতে পারি।" সে তা-ই করল। অতঃপর তিনি হাদিসের মূল পাঠ (মতন) থেকে এগারোটি বা তেরোটি হাদিস তাকে লিখে দিলেন এবং বললেন, "এটি পড়ো।" সে হাদিসগুলো লেখার পর একবার দেখার চেয়ে বেশি কিছু করল না, অতঃপর তখতিটি তাকে ফিরিয়ে দিল এবং বলল, "আমার কাছ থেকে এটি শুনুন।" সে অত্যন্ত চমৎকারভাবে তার সামনে তা পাঠ করে শোনাল। এরপর তিনি তাকে বললেন, "হে বৎস, এটি মুছে ফেলো।" সে তা করল। তিনি তাকে বেশ কিছু নির্বাচিত হাদিসের বর্ণনাসূত্র (সনদ) লিখে দিলেন এবং বললেন, "এটি পড়ো।" সে আগের বারের মতোই একবার তাতে দৃষ্টিপাত করল। অতঃপর শাইখ দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বলতে লাগলেন, "যদি এই বালক বেঁচে থাকে তবে নিশ্চয়ই তার এক মহান মর্যাদা হবে, কেননা এর আগে এমন মেধার কাউকে দেখা যায়নি।" অথবা তিনি যেমনটি বলেছিলেন।
হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ আয-যাহাবি বলেছেন, অর্থাৎ শাইখ তাকিউদ্দীন (রাহিমাহুল্লাহ) পূর্ণ আত্মসংযম, পবিত্রতা, আধ্যাত্মিকতা, ইবাদত এবং পোশাক ও খাদ্যে পরিমিতিবোধের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছেন। শৈশবে তিনি মাদ্রাসা ও বিভিন্ন মজলিসে উপস্থিত হতেন, বিতর্ক করতেন এবং বড় বড় আলেমদের নিরুত্তর করে দিতেন। তিনি জ্ঞানের এমন সব বিষয় উপস্থাপন করতেন যা দেখে শহরের বিশিষ্ট আলেমগণও বিষ্মিত হতেন। তিনি ঊনিশ বছর বয়সে, বরং তারও আগে ফতোয়া প্রদান শুরু করেন। সেই সময় থেকেই তিনি সংকলন ও রচনার কাজ শুরু করেন এবং জ্ঞানচর্চায় নিরলসভাবে নিমগ্ন থাকেন, আর এভাবেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-উকু দুদ দুররিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-ফিকী
(পৃষ্ঠা: ٢١)
وَالِده وَكَانَ من كبار الْحَنَابِلَة وأئمتهم فدرس بعده بوظائفه وَله إِحْدَى وَعِشْرُونَ سنة واشتهر أمره وَبعد صيته فِي الْعَالم وَأخذ فِي تَفْسِير الْكتاب الْعَزِيز فِي الْجمع على كرْسِي من حفظه فَكَانَ يُورد الْمجْلس وَلَا يتعلثم وَكَذَا كَانَ الدَّرْس بتؤدة وَصَوت جَهورِي فصيح
وَقَالَ بعض قدماء أَصْحَاب شَيخنَا وَقد ذكر نبذة من سيرته أما مبدأ أمره ونشأته فقد نَشأ من حِين نَشأ فِي حجور الْعلمَاء راشفا كؤوس الْفَهم راتعا فِي رياض التفقه ودوحات الْكتب الجامعة لكل فن من الْفُنُون لَا يلوي إِلَى غير المطالعة والاشتغال وَالْأَخْذ بمعالي الْأُمُور خُصُوصا علم الْكتاب الْعَزِيز وَالسّنة النَّبَوِيَّة ولوازمها وَلم يزل على ذَلِك خلفا صَالحا سلفيا متألها عَن الدُّنْيَا صينا تقيا برا بِأُمِّهِ ورعا عفيفا عابدا ناسكا صواما قواما ذَاكِرًا لله تَعَالَى فِي كل أَمر وعَلى كل حَال رجاعا إِلَى الله تَعَالَى فِي سَائِر الْأَحْوَال والقضايا وقافا عِنْد حُدُود الله تَعَالَى وأوامره ونواهيه آمرا بِالْمَعْرُوفِ ناهيا عَن الْمُنكر بِالْمَعْرُوفِ لَا تكَاد نَفسه تشبع من الْعلم فَلَا تروى من المطالعة وَلَا تمل من الأشتغال وَلَا تكل من الْبَحْث وَقل أَن يدْخل فِي علم من الْعُلُوم من بَاب من أبوابه إِلَّا وَيفتح لَهُ من ذَلِك الْبَاب أَبْوَاب ويستدرك مستدركات فِي ذَلِك الْعلم على حذاق اهله مَقْصُوده الْكتاب وَالسّنة وَلَقَد سمعته فِي مبادىء أمره يَقُول إِنَّه ليقف خاطري فِي الْمَسْأَلَة وَالشَّيْء
তাঁর পিতা ছিলেন হাম্বলী মাযহাবের শীর্ষস্থানীয় আলিম ও ইমামগণের অন্যতম। অতঃপর তাঁর ইন্তেকালের পর তিনি তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে পাঠদান শুরু করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র একুশ বছর। তাঁর যশ-খ্যাতি চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বজুড়ে তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেন। তিনি সমবেত জনগণের মজলিসে উচ্চাসনে বসে মুখস্থ থেকে মহাগ্রন্থের তাফসীর পেশ করতে শুরু করেন। মজলিসে তাঁর উপস্থাপনা ছিল সাবলীল ও জড়তাহীন। তদ্রূপ তাঁর পাঠদানের ভঙ্গি ছিল ধীরস্থির এবং কণ্ঠস্বর ছিল উচ্চ ও প্রাঞ্জল।
আমাদের শাইখের প্রাচীন অনুসারীদের কেউ কেউ তাঁর জীবনীর কিয়দাংশ উল্লেখ করে বলেছেন: তাঁর প্রারম্ভিক জীবন ও বেড়ে ওঠার কথা বলতে গেলে, তিনি শৈশব থেকেই আলিমদের ক্রোড়ে লালিত-পালিত হয়েছেন; প্রজ্ঞার সুধা পান করেছেন এবং ফিকহশাস্ত্রের উদ্যান ও বিবিধ জ্ঞান-বিজ্ঞানের আধার সম্বলিত কিতাবসমূহের সুশীতল ছায়ায় বিচরণ করেছেন। জ্ঞানার্জন, অধ্যয়ন এবং মহৎ লক্ষ্যসমূহ অর্জন ব্যতীত অন্য কোনো দিকে তিনি ভ্রুক্ষেপ করতেন না; বিশেষ করে মহাগ্রন্থের জ্ঞান, সুন্নাহ ও এর আনুষঙ্গিক বিষয়াবলীর প্রতি। তিনি সর্বদা একজন সৎ উত্তরসূরি, সালাফী, দুনিয়াত্যাগী, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন, মুত্তাকী, মাতৃভক্ত, পরহেযগার, পবিত্র চরিত্রের অধিকারী, ইবাদতগুজার, একনিষ্ঠ সাধক এবং অতিমাত্রায় সিয়াম পালনকারী ও দীর্ঘ সময় সালাতে দণ্ডায়মানকারী ছিলেন। তিনি প্রতিটি কাজে ও সর্বাবস্থায় আল্লাহ তাআলার যিকিরকারী ছিলেন, সকল পরিস্থিতিতে ও সমস্যায় আল্লাহ তাআলার অভিমুখী ছিলেন এবং আল্লাহ তাআলার নির্ধারিত সীমারেখা ও তাঁর আদেশ-নিষেধ পালনে অটল ছিলেন। তিনি যথাযথভাবে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করতেন। জ্ঞান অর্জনে তাঁর তৃষ্ণা কখনো মিটত না; অধ্যয়নে তিনি পরিতৃপ্ত হতেন না, জ্ঞানচর্চায় তিনি ক্লান্ত হতেন না এবং গবেষণায় তিনি কখনো শ্রান্তি বোধ করতেন না। খুব কমই এমনটি হয়েছে যে, তিনি কোনো একটি শাস্ত্রের কোনো একটি দিক নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন অথচ তাঁর সামনে সেই শাস্ত্রের বহু দ্বার উন্মোচিত হয়নি; এমনকি তিনি সেই শাস্ত্রের বিশারদদের ভুলভ্রান্তিও চিহ্নিত করে দিতেন। তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল কুরআন ও সুন্নাহ। আমি তাঁর প্রারম্ভিক জীবনে তাঁকে বলতে শুনেছি যে, কোনো মাসআলা বা বিষয়ে যখন আমার চিন্তা থমকে যায়—
(খণ্ড: ১)
আল-উকু দুদ দুররিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-ফিকী
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
أَو الْحَالة الَّتِي تشكل على فأستغفر الله تَعَالَى ألف مرّة أوأكثر أَو أقل حَتَّى ينشرح الصَّدْر وينحل إِشْكَال مَا أشكل قَالَ وأكون اذ ذَاك فِي السُّوق أَو الْمَسْجِد أَو الدَّرْب أَو الْمدرسَة لَا يَمْنعنِي ذَلِك من الذّكر وَالِاسْتِغْفَار إِلَى أَن أنال مطلوبي
قَالَ هَذَا الصاحب وَلَقَد كنت فِي تِلْكَ الْمدَّة وَأول النشأة إِذا اجْتمعت بِهِ فِي ختم أَو مجْلِس ذكر خَاص مَعَ أحد الْمَشَايِخ الْمَذْكُورين وتذاكروا وَتكلم مَعَ حَدَاثَة سنه أجد لكَلَامه صولة على الْقُلُوب وتأثيرا فِي النُّفُوس وهيبة مَقْبُولَة ونفعا يظْهر أَثَره وتنفعل لَهُ النُّفُوس الَّتِي سمعته أَيَّامًا كَثِيرَة بعقبه حَتَّى كَانَ مقاله بِلِسَان حَاله وحاله ظَاهر لَهُ فِي مقاله شهِدت ذَلِك مِنْهُ غير مرّة
قلت ثمَّ لم يبرح شَيخنَا رحمه الله فِي ازدياد من الْعُلُوم وملازمة الِاشْتِغَال والاشغال وَبث الْعلم ونشره وَالِاجْتِهَاد فِي سبل الْخَيْر حَتَّى انْتَهَت إِلَيْهِ الامامة فِي الْعلم وَالْعَمَل والزهد والورع والشجاعة وَالْكَرم والتواضع والحلم والإنابة وَالْجَلالَة والمهابة وَالْأَمر بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْي عَن الْمُنكر وَسَائِر أَنْوَاع الْجِهَاد مَعَ الصدْق والعفة والصيانة وَحسن الْقَصْد وَالْإِخْلَاص والابتهال إِلَى الله وَكَثْرَة الْخَوْف مِنْهُ وَكَثْرَة المراقبة لَهُ وَشدَّة التَّمَسُّك بالأثر وَالدُّعَاء إِلَى الله وَحسن الْأَخْلَاق
...কিংবা এমন কোনো অবস্থা যা আমার কাছে অস্পষ্ট হয়ে যায়, তখন আমি মহান আল্লাহর নিকট এক হাজার বার বা তার কমবেশি ক্ষমা প্রার্থনা (ইস্তিগফার) করি, যতক্ষণ না বক্ষ প্রশস্ত হয় এবং যা অস্পষ্ট ছিল তার জট খুলে যায়। তিনি বলেন: সেই সময় আমি বাজারে, মসজিদে, রাস্তায় কিংবা মাদরাসায় অবস্থান করি; আমার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়গুলো আমাকে জিকির ও ইস্তিগফার থেকে বিরত রাখতে পারে না।
এই সঙ্গী বলেন: সেই সময়ে এবং তাঁর প্রারম্ভিক বয়সে যখনই তাঁর সাথে কোনো খতমের অনুষ্ঠানে কিংবা উল্লিখিত মাশায়েখদের কারো সাথে জিকিরের কোনো বিশেষ মজলিসে আমার সাক্ষাৎ হতো এবং তাঁরা আলোচনা করতেন, তখন তাঁর অল্প বয়স হওয়া সত্ত্বেও আমি তাঁর কথার মধ্যে অন্তরের ওপর এক বিশেষ প্রভাব, আত্মার ওপর প্রতিক্রিয়া, গ্রহণযোগ্য গাম্ভীর্য এবং এমন এক উপকারিতা খুঁজে পেতাম যার প্রভাব সুস্পষ্ট হয়ে উঠত। যারা তাঁর কথা শুনত, তাদের আত্মা দীর্ঘ দিন তার দ্বারা প্রভাবিত থাকত। এমনকি তাঁর কথা তাঁর অবস্থার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠত এবং তাঁর অবস্থা তাঁর কথার মাঝে ফুটে উঠত। আমি একাধিকবার তাঁর মাঝে এটি প্রত্যক্ষ করেছি।
আমি বলি: এরপর আমাদের শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) ইলম অন্বেষণ, নিরন্তর জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষা দান, ইলম প্রচার ও প্রসার এবং কল্যাণের পথে প্রচেষ্টার মাধ্যমে উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ হতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত ইলম ও আমল, জুহদ (দুনিয়া বিমুখতা), পরহেজগারি, সাহসিকতা, দানশীলতা, বিনয়, ধৈর্য, আল্লাহভিমুখিতা, মহিমা, গাম্ভীর্য, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ এবং জিহাদের যাবতীয় প্রকারে ইমামত (নেতৃত্ব) তাঁর ওপর এসে সমাপ্ত হয়। এর সাথে যুক্ত ছিল সত্যবাদিতা, পবিত্রতা, আত্মরক্ষা, উত্তম সংকল্প, ইখলাস, আল্লাহর নিকট আকুতি, তাঁকে অধিক ভয় করা, সর্বদা তাঁর পর্যবেক্ষণে (মুরাকাবা) থাকা, আছারের (পূর্বসূরিদের বর্ণনা) প্রতি দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে থাকা, আল্লাহর দিকে আহ্বান এবং উত্তম চরিত্র।
(খণ্ড: ১)
আল-উকু দুদ দুররিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-ফিকী
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
ونفع الْخلق وَالْإِحْسَان إِلَيْهِم وَالصَّبْر على من آذاه والصفح عَنهُ وَالدُّعَاء لَهُ وَسَائِر أَنْوَاع الْخَيْر
وَكَانَ رحمه الله سَيْفا مسلولا على الْمُخَالفين وشجى فِي حلوق أهل الْأَهْوَاء المبتدعين وإماما قَائِما بِبَيَان الْحق ونصرة الدّين وَكَانَ بحرا لَا تكدره الدلاء وحبرا يَقْتَدِي بِهِ الأخيار الألباء طَنَّتْ بِذكرِهِ الْأَمْصَار وضنت بِمثلِهِ الْأَعْصَار
قَالَ شَيخنَا الْحَافِظ أَبُو الْحجَّاج مَا رَأَيْت مثله وَلَا رأى هُوَ مثل نَفسه وَمَا رَأَيْت أحدا أعلم بِكِتَاب الله وَسنة رَسُوله وَلَا أتبع لَهما مِنْهُ
وَقَالَ الْعَلامَة كَمَال الدّين بن الزملكاني كَانَ إِذا سُئِلَ عَن فن من الْعلم ظن الرَّائِي وَالسَّامِع أَنه لَا يعرف غير ذَلِك الْفَنّ وَحكم أَن أحدا لَا يعرفهُ مثله وَكَانَ الْفُقَهَاء من سَائِر الطوائف إِذا جَلَسُوا مَعَه استفادوا فِي مذاهبهم مِنْهُ مَا لم يَكُونُوا عرفوه قبل ذَلِك وَلَا يعرف أَنه نَاظر أحدا فَانْقَطع مَعَه وَلَا تكلم فِي علم من الْعُلُوم سَوَاء أَكَانَ من عُلُوم الشَّرْع أم غَيرهَا إِلَّا فاق فِيهِ أَهله والمنسوبين إِلَيْهِ وَكَانَت لَهُ الْيَد الطُّولى فِي حسن
সৃষ্টির কল্যাণ সাধন, তাদের প্রতি সদাচরণ, কষ্টদানকারীর ওপর ধৈর্য ধারণ, তাকে ক্ষমা করা, তার জন্য দোয়া করা এবং অন্যান্য সকল প্রকার কল্যাণ।
তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বিরোধীদের বিরুদ্ধে এক উন্মুক্ত তলোয়ার এবং বিদআতি প্রবৃত্তিপূজারীদের গলার কাঁটা সদৃশ ছিলেন। তিনি ছিলেন সত্যের বর্ণনা এবং দ্বীনের সহযোগিতায় দণ্ডায়মান এক ইমাম। তিনি ছিলেন এমন এক সমুদ্র যাকে বালতি দ্বারা ঘোলাটে করা যায় না, এবং এমন এক পণ্ডিত যাঁকে শ্রেষ্ঠ ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিরা অনুসরণ করেন। তাঁর প্রশংসায় জনপদগুলো মুখরিত ছিল এবং মহাকাল তাঁর মতো মনীষী উপহার দিতে কার্পণ্য করেছে।
আমাদের শায়খ হাফিজ আবুল হাজ্জাজ বলেন: আমি তাঁর মতো কাউকে দেখিনি এবং তিনিও নিজের মতো কাউকে দেখেননি। আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ সম্পর্কে আমি তাঁর চেয়ে অধিক জ্ঞানী এবং এই দুটির প্রতি তাঁর চেয়ে বেশি অনুগত আর কাউকে দেখিনি।
আল্লামা কামালুদ্দীন ইবনুল জামলাকানি বলেন: যখন তাঁকে জ্ঞানের কোনো শাখা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হতো, তখন দর্শক ও শ্রোতা মনে করতেন যে তিনি হয়তো এই শাখাটি ছাড়া আর কিছুই জানেন না, এবং তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতেন যে তাঁর মতো এটি আর কেউ জানে না। বিভিন্ন মাযহাবের ফকিহগণ যখন তাঁর সাথে বসতেন, তখন তাঁরা নিজেদের মাযহাব সম্পর্কেও তাঁর নিকট থেকে এমন সব বিষয় অর্জন করতেন যা তাঁরা আগে জানতেন না। এমনটি জানা নেই যে তিনি কারো সাথে বিতর্ক করেছেন আর সেখানে তিনি পরাস্ত হয়েছেন। শরয়ি জ্ঞান হোক বা অন্য কিছু—যেকোনো জ্ঞান নিয়ে যখনই তিনি কথা বলতেন, তখনই তিনি সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞ ও পণ্ডিতদের ছাড়িয়ে যেতেন। সুচারুভাবে কোনো কিছু সম্পাদনায় তাঁর ছিল সুদীর্ঘ হাত।
(খণ্ড: ১)
আল-উকু দুদ দুররিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-ফিকী
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
التصنيف وجودة الْعبارَة وَالتَّرْتِيب والتقسيم والتبيين
وَوَقعت مَسْأَلَة فرعية فِي قسْمَة جرى فِيهَا اخْتِلَاف بَين الْمُفْتِينَ فِي الْعَصْر فَكتب فِيهَا مجلدة كَبِيرَة وَكَذَلِكَ وَقعت مَسْأَلَة فِي حد من الْحُدُود فَكتب فِيهَا مجلدة كَبِيرَة وَلم يخرج فِي كل وَاحِدَة عَن الْمَسْأَلَة وَلَا طول بتخليط الْكَلَام وَالدُّخُول فِي شَيْء وَالْخُرُوج من شَيْء وأتى فِي كل وَاحِدَة بِمَا لم يكن يجْرِي فِي الأوهام والخواطر وَاجْتمعت فِيهِ شُرُوط الِاجْتِهَاد على وَجههَا
وقرأت بِخَط الشَّيْخ كَمَال الدّين أَيْضا على كتاب بَيَان الدَّلِيل على إبِْطَال التَّحْلِيل لشَيْخِنَا وَقد ذكر تَرْجَمته فَقَالَ من مصنفات سيدنَا وَشَيخنَا وقدوتنا الشَّيْخ السَّيِّد الإِمَام الْعَلامَة الأوحد البارع الْحَافِظ الزَّاهِد الْوَرع الْقدْوَة الْكَامِل الْعَارِف تَقِيّ الدّين شيخ الْإِسْلَام ومفتي الْأَنَام سيد الْعلمَاء قدوة الْأَئِمَّة الْفُضَلَاء نَاصِر السّنة قامع الْبِدْعَة حجَّة الله على الْعباد راد أهل الزيغ والعناد أوحد الْعلمَاء العاملين آخر الْمُجْتَهدين أبي الْعَبَّاس أَحْمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي الْقَاسِم ابْن مُحَمَّد بن تَيْمِية الْحَرَّانِي حفظ الله على الْمُسلمين طول حَيَاته وَأعَاد عَلَيْهِم من بركاته إِنَّه على كل شَيْء قدير
وقرأت أَيْضا بِخَطِّهِ على كتاب رفع الملام عَن الْأَئِمَّة الْأَعْلَام
সংকলন, সাবলীল প্রকাশভঙ্গি, বিন্যাস, বিন্যস্তকরণ এবং বিশদীকরণ।
সে যুগে মিরাস বা অংশবণ্টনের একটি ফিকহি মাসআলা নিয়ে মুফতিদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছিল। তিনি সেই মাসআলার ওপর একটি বিশাল খণ্ড রচনা করেন। একইভাবে একটি দণ্ডবিধির (হুদুদ) মাসআলা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিলে তিনি তাতেও একটি বিশাল খণ্ড রচনা করেন। তিনি এই উভয় মাসআলার কোনোটিতেই মূল বিষয় থেকে বিচ্যুত হননি এবং অহেতুক কথা মিশিয়ে দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি করেননি কিংবা এক প্রসঙ্গে ঢুকে অন্য প্রসঙ্গ দিয়ে বের হননি। বরং তিনি উভয় ক্ষেত্রেই এমন সব তথ্য উপস্থাপন করেছেন যা কারো কল্পনা বা চিন্তাতেও ছিল না। আর তাঁর মধ্যে ইজতিহাদের সকল শর্ত যথাযথভাবে বিদ্যমান ছিল।
আমি শেখ কামালুদ্দিনের হাতে লেখা আমাদের শায়খের কিতাব 'বায়ানুদ দালীল আলা ইবতালিত তাহলীল'-এর ওপর তাঁর জীবনীসংক্রান্ত বর্ণনা পড়তে পেয়েছি। তিনি সেখানে বলেছেন: এটি আমাদের সায়্যিদ, শায়খ ও আদর্শ—শায়খ, সায়্যিদ, ইমাম, অনন্য আল্লামা, দক্ষ পারদর্শী, হাফিজ, দুনিয়াবিমুখ, পরহেজগার, পূর্ণাঙ্গ অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব ও আরিফ তাকিউদ্দিনের রচনা। তিনি শায়খুল ইসলাম, মানবজাতির মুফতি, আলেমদের নেতা, শ্রেষ্ঠ ইমামদের আদর্শ, সুন্নাহর সাহায্যকারী, বিদআতের উৎপাটনকারী, বান্দাদের ওপর আল্লাহর হুজ্জাত, বিভ্রান্ত ও হঠকারিদের প্রত্যাখ্যানকারী, আমলকারী আলেমদের মধ্যে অনন্য এবং মুজতাহিদদের শেষ উত্তরসূরী—আবুল আব্বাস আহমদ বিন আব্দুল হালিম বিন আব্দুল সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবিল কাসিম ইবনে মুহাম্মদ বিন তাইমিয়্যাহ আল-হাররানি। আল্লাহ মুসলমানদের জন্য তাঁর হায়াতকে দীর্ঘায়িত করুন এবং তাঁর বরকতসমূহ তাদের ওপর ফিরিয়ে দিন; নিশ্চয়ই তিনি সব বিষয়ে ক্ষমতাবান।
আমি তাঁর হাতে লেখা 'রাফউল মালাম আনিল আইম্মাতিল আ'লাম' কিতাবটির ওপরেও অনুরূপ লেখা পড়তে পেয়েছি।
(খণ্ড: ১)
আল-উকু দুদ দুররিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-ফিকী
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
تأليف الشَّيْخ الإِمَام الْعَالم الْعَلامَة الأوحد الْحَافِظ الْمُجْتَهد الزَّاهِد العابد الْقدْوَة إِمَام الْأَئِمَّة قدوة الْأمة عَلامَة الْعلمَاء وَارِث الْأَنْبِيَاء آخر الْمُجْتَهدين أوحد عُلَمَاء الدّين بركَة الْإِسْلَام حجَّة الْأَعْلَام برهَان الْمُتَكَلِّمين قامع المبتدعين محيي السّنة وَمن عظمت بِهِ لله علينا الْمِنَّة وَقَامَت بِهِ على أعدائه الْحجَّة واستبانت ببركته وهديه المحجة تَقِيّ الدّين أبي الْعَبَّاس أَحْمد بن عبد الْحَلِيم بن عبد السلام بن تَيْمِية الْحَرَّانِي أَعلَى الله مناره وشيد بِهِ من الدّين أَرْكَانه
… مَاذَا يَقُول الواصفون لَهُ
… وَصِفَاته جلت عَن الْحصْر
هُوَ حجَّة لله قاهرة
… هُوَ بَيْننَا أعجوبة الدَّهْر
هُوَ آيَة لِلْخلقِ ظَاهِرَة
… أنوارها أربت على الْفجْر
… وقرأت على آخر هَذَا الْكتاب طبقَة بِخَط الذَّهَبِيّ يَقُول فِيهَا سمع جَمِيع هَذَا الْكتاب على مُؤَلفه شَيخنَا الإِمَام الْعَالم الْعَلامَة الأوحد شيخ الْإِسْلَام مفتي الْفرق قدوة الْأمة أعجوبة الزَّمَان بَحر الْعُلُوم حبر الْقُرْآن تَقِيّ الدّين سيد الْعباد احْمَد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن تَيْمِية الْحَرَّانِي رضي الله عنه
وَقَالَ الشَّيْخ الْحَافِظ فتح الدّين أَبُو الْفَتْح بن سيد النَّاس الْيَعْمرِي
রচনা করেছেন শাইখ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম, অদ্বিতীয় আল্লামা, হাফেজ, মুজতাহিদ, দুনিয়াবিমুখ যাহিদ, ইবাদতকারী, আদর্শ ব্যক্তিত্ব, ইমামদের ইমাম, উম্মতের আদর্শ, ওলামাদের শিরোমণি, নবীদের ওয়ারিশ, সর্বশেষ মুজতাহিদ, দ্বীনি আলেমদের মধ্যে অনন্য, ইসলামের বরকত, বিশিষ্টজনদের জন্য অকাট্য দলিল, তাত্ত্বিকদের প্রমাণ, বিদআত দমনকারী, সুন্নাহর পুনর্জীবনদানকারী, এবং যার মাধ্যমে আমাদের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ মহান হয়েছে, যার মাধ্যমে শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং যার বরকত ও হিদায়াতের মাধ্যমে সরল পথ স্পষ্ট হয়েছে; তিনি হলেন তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ ইবন আব্দুল হালীম ইবন আব্দুস সালাম ইবন তাইমিয়া আল-হাররানি। আল্লাহ তাঁর মর্যাদাকে সমুন্নত করুন এবং তাঁর মাধ্যমে দ্বীনের স্তম্ভগুলোকে সুদৃঢ় করুন
… বর্ণনাকারীরা তাঁর সম্পর্কে কী-ই বা বলবে
… তাঁর গুণাবলি তো গণনার ঊর্ধ্বে।
তিনি আল্লাহর এক অকাট্য প্রমাণ
… তিনি আমাদের মাঝে মহাকালের এক বিস্ময়।
তিনি সৃষ্টির জন্য এক সুস্পষ্ট নিদর্শন
… যার নূর সুবহে সাদেকের আলোকচ্ছটাকে ছাড়িয়ে গেছে
… আমি এই কিতাবের শেষে যাহাবীর হস্তাক্ষরে একটি টীকা পড়েছি, যাতে তিনি বলছেন: এই কিতাবটি সম্পূর্ণ পাঠ করে শোনানো হয়েছে এর রচয়িতা আমাদের শাইখ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম, অদ্বিতীয় আল্লামা, শাইখুল ইসলাম, সকল ফিরকার মুফতি, উম্মতের আদর্শ, যুগের বিস্ময়, ইলমের সমুদ্র, কুরআনের পন্ডিত, তাকিউদ্দীন, ইবাদতকারীদের সরদার আহমাদ ইবন আব্দুল হালীম ইবন আব্দুস সালাম ইবন তাইমিয়া আল-হাররানির নিকট, আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন।
এবং হাফেজ শাইখ ফাতহুদ্দীন আবুল ফাতহ ইবন সাইয়্যিদুন নাস আল-ইয়ামারি বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
আল-উকু দুদ দুররিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-ফিকী
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
الْمصْرِيّ بعد أَن ذكر تَرْجَمَة شَيخنَا الْحَافِظ جمال الدّين أبي الْحجَّاج الْمزي وَهُوَ الَّذِي حداني على رُؤْيَة الشَّيْخ الإِمَام شيخ الْإِسْلَام تَقِيّ الدّين أبي الْعَبَّاس أَحْمد بن الْحَلِيم بن عبد السلام بن تَيْمِية فَأَلْفَيْته مِمَّن أدْرك من الْعُلُوم حظا وَكَاد يستوعب السّنَن والْآثَار حفظا إِن تكلم فِي التَّفْسِير فَهُوَ حَامِل رايته أَو أفتى فِي الْفِقْه فَهُوَ مدرك غَايَته أَو ذَاكر بِالْحَدِيثِ فَهُوَ صَاحب علمه وَذُو رِوَايَته أَو حَاضر بالنحل والملل لم ير أوسع من نحلته فِي ذَلِك وَلَا أرفع من درايته برز فِي كل فن على أَبنَاء جنسه وَلم تَرَ عين من رَآهُ مثله وَلَا رَأَتْ عينه مثل نَفسه كَانَ يتَكَلَّم فِي التَّفْسِير فيحضر مَجْلِسه الجم الْغَفِير ويردون من بَحر علمه العذب النمير ويرتعون من ربيع فَضله فِي رَوْضَة وغدير إِلَى أَن دب إِلَيْهِ من أهل بَلَده دَاء الْحَسَد وألب أهل النّظر مِنْهُم على مَا ينْتَقد عَلَيْهِ [فِي] حنبليته من أُمُور المعتقد فحفظوا عَنهُ فِي ذَلِك كلَاما أَو سعوه بِسَبَبِهِ ملاما وفوفوا لتبديعه سهاما وَزَعَمُوا أَنه خَالف طريقهم وَفرق فريقهم فنازعهم ونازعوه وقاطع بَعضهم وقاطعوه ثمَّ نَازع طَائِفَة أُخْرَى ينتسبون من الْفقر إِلَى طَريقَة ويزعمون أَنهم على أدق بَاطِن مِنْهَا وَأجلى حَقِيقَة فكشف تِلْكَ الطرائق وَذكر لَهَا
আল-মিসরি, আমাদের শায়খ হাফেজ জামালুদ্দিন আবুল হাজ্জাজ আল-মিজ্জির জীবনী উল্লেখ করার পর বলেন—আর তিনিই আমাকে শায়খ, ইমাম, শায়খুল ইসলাম তাকিউদ্দিন আবুল আব্বাস আহমদ ইবন আব্দুল হালিম ইবন আব্দুস সালাম ইবন তাইমিয়্যাহর সাথে দেখা করতে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন—তখন আমি তাকে এমন একজন হিসেবে পেলাম যিনি ইলমসমূহের একটি বিশাল অংশ লাভ করেছেন এবং মুখস্থের দিক থেকে সুন্নাহ ও আসারসমূহকে প্রায় পূর্ণাঙ্গরূপে আয়ত্ত করেছেন। তিনি যখন তাফসির বিষয়ে কথা বলেন, তখন তিনিই তার পতাকাবাহী; আর যখন ফিকহ বিষয়ে ফতোয়া দেন, তখন তিনি তার চূড়ান্ত লক্ষ্য পর্যন্ত পৌঁছে যান। কিংবা যখন হাদিস নিয়ে আলোচনা করেন, তখন তিনি এর ইলমের অধিকারী ও এর বর্ণনার ধারক। অথবা যখন বিভিন্ন মতাদর্শ ও ধর্ম নিয়ে আলোচনায় উপস্থিত হন, তখন এ বিষয়ে তার জ্ঞানের পরিধির চেয়ে প্রশস্ত এবং তার প্রজ্ঞার চেয়ে উচ্চতর আর কিছু দেখা যায় না। তিনি প্রতিটি শাস্ত্রে তার সমসাময়িকদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। তাকে যারা দেখেছে তাদের চোখ তার মতো আর কাউকে দেখেনি, আর তার নিজের চোখও নিজের মতো কাউকে দেখেনি। তিনি যখন তাফসির বিষয়ে আলোচনা করতেন তখন তার মজলিসে বিশাল জনসমাগম হতো। তারা তার মিষ্ট ও সুপেয় ইলমের সমুদ্র থেকে জ্ঞান আহরণ করত এবং তার অনুগ্রহের বসন্তকালীন উদ্যান ও সরোবরে বিচরণ করত। শেষ পর্যন্ত তার নিজের দেশের একদল লোকের মাঝে হিংসার ব্যাধি বিস্তার লাভ করল। তারা আক্বিদার বিষয়াবলীতে তার হাম্বলি মতাদর্শের ওপর যা কিছু সমালোচনা করা যায়, তা নিয়ে তত্ত্বজ্ঞানীদের উত্তেজিত করে তুলল। তারা এ বিষয়ে তার পক্ষ থেকে বিভিন্ন বক্তব্য সংরক্ষণ করল অথবা এর কারণে তাকে কঠোরভাবে তিরস্কার করল এবং তাকে বিদআতি সাব্যস্ত করার জন্য তীরের ঝাপটা ছুড়ল। তারা দাবি করল যে, তিনি তাদের পথের বিরোধিতা করেছেন এবং তাদের দলকে বিভক্ত করেছেন। ফলে তিনি তাদের সাথে বিতর্কে জড়ালেন এবং তারাও তার সাথে বিবাদে লিপ্ত হলো; তিনি তাদের কাউকে বর্জন করলেন এবং তিনিও তাদের বর্জন করলেন। এরপর তিনি অন্য এক সম্প্রদায়ের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হলেন, যারা আধ্যাত্মিকতার দাবি নিয়ে কোনো তরীকার সাথে সম্পৃক্ত হতো এবং মনে করত যে তারা এর অতি সূক্ষ্ম বাতেন (অভ্যন্তরীণ রহস্য) ও অতি স্পষ্ট হাকিকতের ওপর রয়েছে। তিনি সেই তরীকাগুলোর স্বরূপ উন্মোচন করে দিলেন এবং সেগুলোর বাস্তবতা উল্লেখ করলেন...
(খণ্ড: ১)
আল-উকু দুদ দুররিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-ফিকী
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
على مَا زعم بوائق فآضت إِلَى الطَّائِفَة الأولى من منازعيه واستعانت بذوي الضغن عَلَيْهِ من مقاطعيه فوصلوا بالأمراء أمره وأعمل كل مِنْهُم فِي كفره فكره فَكَتَبُوا محَاضِر وألبوا الرويبضة للسعي بهَا بَين الأكابر وَسعوا فِي نَقله إِلَى حَضْرَة المملكة بالديار المصرية فَنقل وأودع السجْن سَاعَة حُضُوره واعتقل وعقدوا لإراقة دَمه مجَالِس وحشدوا لذَلِك قوما من عمار الزوايا وسكان الْمدَارِس من محامل فِي الْمُنَازعَة مخاتل بالمخادعة وَمن مجاهر بالتكفير مبارز بالمقاطعة يسومونه ريب الْمنون {وَرَبك يعلم مَا تكن صُدُورهمْ وَمَا يعلنون} وَلَيْسَ المجاهر بِكُفْرِهِ بِأَسْوَأ حَالا من المخاتل وَقد دبت إِلَيْهِ عقارب مكره فَرد الله كيد كل فِي نَحره فَنَجَّاهُ على يَد من اصطفاه وَالله غَالب على أمره ثمَّ لم يخل بعد ذَلِك من فتْنَة بعد فتْنَة وَلم ينْتَقل طول عمره من محنة إِلَّا إِلَى محنة إِلَى أَن فوض أمره لبَعض الْقُضَاة فقلد مَا تقلد من اعتقاله وَلم يزل بمحبسه ذَلِك إِلَى حِين ذَهَابه إِلَى رَحْمَة الله تَعَالَى وانتقاله وَإِلَى الله ترجع الْأُمُور وَهُوَ المطلع على خَائِنَة الْأَعْين وَمَا تخفي الصُّدُور وَكَانَ يَوْمه مشهودا ضَاقَتْ بجنازته الطَّرِيق وانتابها الْمُسلمُونَ من كل فج عميق يتبركون بمشهده يَوْم يقوم الأشهاد ويتمسكون بشرجعه حَتَّى كسروا تِلْكَ الأعواد وَذَلِكَ فِي لَيْلَة الْعشْرين من ذِي الْقعدَة
বিপর্যয়সমূহের দাবির প্রেক্ষিতে বিষয়টি তার বিরোধীদের প্রথম পক্ষের নিকট ফিরে গেল এবং তারা তার বিরুদ্ধে বিদ্বেষ পোষণকারী ও সম্পর্ক ছিন্নকারীদের সাহায্য নিল। তারা আমীরদের নিকট তার বিষয়টি উত্থাপন করল এবং তাদের প্রত্যেকেই তাকে কাফির সাব্যস্ত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলো, যা ছিল অত্যন্ত ঘৃণ্য। তারা অভিযোগপত্র প্রস্তুত করল এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে তা পৌঁছানোর জন্য অযোগ্য ও নীচ ব্যক্তিদের প্ররোচিত করল। তারা তাকে মিশরের রাজদরবারে স্থানান্তরের চেষ্টা চালাল, ফলে তাকে স্থানান্তর করা হলো এবং উপস্থিত হবামাত্রই কারাগারে বন্দী করা হলো। তারা তার রক্ত প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে সভার আয়োজন করল এবং এর জন্য খানকাহ ও মাদ্রাসার একদল বাসিন্দাকে একত্রিত করল, যারা বিতর্কের ছদ্মবেশে ছিল প্রবঞ্চক এবং যারা প্রকাশ্যে কুফরির ফতোয়া দানকারী ও বয়কটের মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে উদ্যত। তারা তাকে মৃত্যুর বিপদে নিক্ষেপ করতে চাইছিল; {আর আপনার পালনকর্তা জানেন যা তাদের অন্তরসমূহ গোপন করে এবং যা তারা প্রকাশ করে}। যে ব্যক্তি প্রকাশ্যে কুফরের অপবাদ দেয় তার অবস্থা সেই প্রবঞ্চকের চেয়ে খারাপ নয় যার ষড়যন্ত্রের বিচ্ছুরা তার দিকে ধাবিত হয়েছিল। অতঃপর আল্লাহ প্রত্যেকের ষড়যন্ত্র তাদের নিজেদেরই গলার কাঁটা করে দিলেন এবং তার মনোনীত ব্যক্তিদের মাধ্যমে তাকে রক্ষা করলেন। আল্লাহ নিজ কাজে বিজয়ী। এরপর সারা জীবন তিনি একের পর এক ফিতনার সম্মুখীন হয়েছেন। তার পুরো জীবন এক পরীক্ষা থেকে অন্য পরীক্ষার মাধ্যমেই অতিবাহিত হয়েছে। পরিশেষে তার বিষয়টি জনৈক বিচারকের নিকট ন্যস্ত করা হলো এবং তার কারাবাস অব্যাহত থাকল। তিনি সেই বন্দিদশাতেই ছিলেন যতক্ষণ না মহান আল্লাহর রহমতের দিকে তার প্রয়াণ ও স্থানান্তর ঘটে। সকল বিষয় আল্লাহর দিকেই প্রত্যাবর্তনশীল এবং তিনি চোখের খিয়ানত ও অন্তরের গোপনীয়তা সম্পর্কে পূর্ণ অবগত। তার জানাজার দিনটি ছিল এক অভূতপূর্ব দৃশ্য, মানুষের ভিড়ে রাস্তা সরু হয়ে গিয়েছিল এবং দূর-দূরান্ত থেকে মুসলিমরা তাতে শরীক হতে দলে দলে এসেছিল। হাশরের ময়দানে সাক্ষ্য প্রদানের দিনে তারা তার সান্নিধ্যের মাধ্যমে বরকত হাসিল করছিল এবং তারা তার খাটিয়া এমনভাবে আঁকড়ে ধরেছিল যে শেষ পর্যন্ত কাঠগুলো ভেঙে গিয়েছিল। আর এটি ছিল জিলকদ মাসের বিশ তারিখের রাত।
(খণ্ড: ১)
আল-উকু দুদ দুররিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-ফিকী
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
سنة 728 ثَمَان وَعشْرين وَسَبْعمائة بقلعة دمشق المحروسة وَكَانَ مولده بحران فِي عَاشر شهر ربيع الأول من سنة 661 إِحْدَى وَسِتِّينَ وستماية رحمه الله وإيانا
ثمَّ قَالَ قَرَأت على الشَّيْخ الإِمَام حَامِل راية الْعُلُوم ومدرك غَايَة الفهوم تَقِيّ الدّين أبي الْعَبَّاس احْمَد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن تَيْمِية رحمه الله بِالْقَاهِرَةِ قدم علينا قلت لَهُ أخْبركُم الشَّيْخ الإِمَام زين الدّين أَبُو الْعَبَّاس احْمَد بن عبد الدَّائِم بن نعْمَة الْمَقْدِسِي ثمَّ ذكر حَدِيثا من جُزْء ابْن عَرَفَة
وَقَالَ الشَّيْخ علم الدّين البرزالي فِي مُعْجم شُيُوخه
احْمَد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي الْقَاسِم بن مُحَمَّد بن تَيْمِية الْحَرَّانِي الشَّيْخ تَقِيّ الدّين أَبُو الْعَبَّاس الإِمَام الْمجمع على فَضله ونبله وَدينه قَرَأَ الْفِقْه وبرع فِيهِ والعربية وَالْأُصُول وَمهر فِي علمي التَّفْسِير والْحَدِيث وَكَانَ إِمَامًا لَا يلْحق غباره فِي كل شَيْء وَبلغ رُتْبَة الِاجْتِهَاد وَاجْتمعت فِيهِ شُرُوط الْمُجْتَهدين وَكَانَ إِذا ذكر التَّفْسِير بهت النَّاس من كَثْرَة محفوظه وَحسن إِيرَاده وإعطائه كل قَول
৭২৮ হিজরী সনে সুরক্ষিত দামেস্ক দুর্গে (তিনি ইন্তেকাল করেন)। তাঁর জন্ম হয়েছিল ৬৬১ হিজরী সনের ১০ই রবিউল আউয়াল হাররানে। আল্লাহ তাঁর প্রতি এবং আমাদের প্রতি রহম করুন।
অতঃপর তিনি বললেন: আমি শায়খ, ইমাম, ইলমের ঝাণ্ডাবাহী এবং প্রজ্ঞার চরম শিখরে উপনীত তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে আব্দুল হালীম ইবনে আব্দুস সালাম ইবনে তাইমিয়্যাহ—আল্লাহ তাঁকে রহম করুন—এর নিকট কায়রোতে পাঠ করেছি যখন তিনি আমাদের নিকট এসেছিলেন। আমি তাঁকে বললাম, শায়খ ইমাম যাইনুদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে আব্দুল দায়েম ইবনে নি'মাহ আল-মাকদিসী কি আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন? এরপর তিনি ইবনে আরাফাহর পুস্তিকা থেকে একটি হাদিস উল্লেখ করলেন।
শায়খ আলমউদ্দীন আল-বিরযালী তাঁর 'মু'জামু শুয়ুখ' গ্রন্থে বলেন:
আহমাদ ইবনে আব্দুল হালীম ইবনে আব্দুস সালাম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবুল কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী; শায়খ তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস, এমন একজন ইমাম যাঁর শ্রেষ্ঠত্ব, মাহাত্ম্য এবং দ্বীনদারির বিষয়ে সকলে একমত। তিনি ফিকহ অধ্যয়ন করেছেন এবং তাতে পারদর্শিতা লাভ করেছেন। তিনি আরবি ভাষা ও উসুল (মূলনীতি) পড়েছেন এবং তাফসির ও হাদিস উভয় শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছেন। তিনি এমন এক ইমাম ছিলেন যার নাগাল পাওয়া কারো পক্ষে সম্ভব ছিল না এবং তিনি ইজতিহাদের স্তরে পৌঁছেছিলেন; একজন মুজতাহিদের সমস্ত শর্তাবলি তাঁর মধ্যে বিদ্যমান ছিল। তিনি যখন তাফসির আলোচনা করতেন, তখন তাঁর মুখস্থ বিদ্যার প্রাচুর্য, চমৎকার উপস্থাপনা এবং প্রতিটি মতের সুচারু বিশ্লেষণের কারণে মানুষ স্তম্ভিত হয়ে যেত।
(খণ্ড: ১)
আল-উকু দুদ দুররিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-ফিকী
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
مَا يسْتَحقّهُ من التَّرْجِيح والتضعيف والإبطال وخوضه فِي كل علم كَانَ الْحَاضِرُونَ يقضون مِنْهُ الْعجب هَذَا مَعَ انْقِطَاعه إِلَى الزّهْد وَالْعِبَادَة والاشتغال بِاللَّه تَعَالَى والتجرد من أَسبَاب الدُّنْيَا وَدُعَاء الْخلق إِلَى الله تَعَالَى وَكَانَ يجلس فِي صَبِيحَة كل جُمُعَة على النَّاس يُفَسر الْقُرْآن الْعَظِيم فَانْتَفع بمجلسه وبركة دُعَائِهِ وطهارة أنفاسه وَصدق نِيَّته وصفاء ظَاهره وباطنه وموافقة قَوْله لعمله وأناب إِلَى الله خلق كثير وَجرى على طَريقَة وَاحِدَة من اخْتِيَار الْفقر والتقلل من الدُّنْيَا رَحمَه الله تَعَالَى ورد مَا يفتح بِهِ عَلَيْهِ
وَقَالَ فِي مَوضِع آخر كَانَ قد نظم شَيْئا يَسِيرا فِي صغره وكتبت عَنهُ إِذْ ذَاك ثمَّ إِنَّه ترك ذَلِك وَأعْرض عَنهُ وَسُئِلَ عَن مَسْأَلَة الْقدر بنظم فَأجَاب فِيهَا بنظم وَقد قرىء عَلَيْهِ وَسمع مِنْهُ وَحل لغز الرشيد الفارقي بِأَبْيَات تشْتَمل على نَحْو مائَة بَيت على وزن اللغز وَذَلِكَ فِي حَيَاة وَالِده رَحمَه الله تَعَالَى وَله نَحْو الْعشْرين من الْعُمر وَكَانَ حلّه فِي أسْرع وَقت
قلت هَذَا اللغز الَّذِي أَشَارَ إِلَيْهِ الشَّيْخ علم الدّين نظمه الشَّيْخ الإِمَام الْعَلامَة رشيد الدّين أَبُو حَفْص عمر بن اسماعيل بن مَسْعُود الفارقي فِي اسْم ألغزه بِوَصْف أبرزه فِي لفظ أوجزه لفهم أعجزه
… مَا اسْم ثلاثي الْحُرُوف فثلثه
… مثل لَهُ وَالثلث ضعف جَمِيعه
…
কোনটি তর্জীহ (প্রাধান্য), তাযঈফ (দুর্বল সাব্যস্ত করা) ও ইবতাল (বাতিলকরণ) পাওয়ার যোগ্য তা নির্ধারণে তাঁর পারঙ্গমতা এবং প্রতিটি বিদ্যায় তাঁর গভীর অবগাহন দেখে উপস্থিত সকলে বিস্ময়াভিভূত হতেন। এর সাথে ছিল যুহদ (সংসারবিরাগ), ইবাদত ও আল্লাহ তাআলার স্মরণে লিপ্ত থাকা, জাগতিক উপায়-উপকরণ হতে বিমুখতা এবং সৃষ্টিজগতকে আল্লাহ তাআলার দিকে আহ্বান করা। তিনি প্রতি জুমার সকালে মানুষের উদ্দেশ্যে মজলিসে বসতেন এবং মহান কুরআনের তাফসীর করতেন। ফলে মানুষ তাঁর মজলিস, তাঁর দোয়ার বরকত, তাঁর সান্নিধ্যের পবিত্রতা, নিয়তের সততা, তাঁর প্রকাশ্য ও গোপন অবস্থার শুভ্রতা এবং তাঁর কর্মের সাথে বাণীর সামঞ্জস্যের মাধ্যমে উপকৃত হতো। তাঁর দাওয়াতে বহু মানুষ আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করে। তিনি দারিদ্র্য বরণ ও দুনিয়া বিমুখতার এক অভিন্ন পথে পরিচালিত হতেন—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন—এবং তাঁর নিকট যা কিছু (জাগতিক সম্পদ) আসত তিনি তা ফিরিয়ে দিতেন।
তিনি অন্য এক স্থানে বলেছেন, তিনি তাঁর শৈশবে সামান্য কিছু কাব্য রচনা করেছিলেন এবং আমি তখন তাঁর নিকট থেকে তা লিখে নিয়েছিলাম। অতঃপর তিনি তা ত্যাগ করেন এবং তা থেকে বিমুখ হন। তকদীরের মাসআলা সম্পর্কে তাঁকে কাব্যের মাধ্যমে প্রশ্ন করা হলে তিনি কাব্যের মাধ্যমেই তার উত্তর প্রদান করেন। তাঁর সামনে তা পঠিত হয়েছে এবং তাঁর থেকে শ্রবণ করা হয়েছে। তিনি রশীদ আল-ফারিকীর ধাঁধা প্রায় একশত পঙক্তির মাধ্যমে সেই ধাঁধার ছন্দেই সমাধান করেন। এটি তাঁর পিতার—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—জীবদ্দশায় সম্পন্ন হয়েছিল যখন তাঁর বয়স ছিল বিশের কাছাকাছি, এবং তিনি অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে তা সমাধান করেছিলেন।
আমি বলছি: এটি সেই ধাঁধা যার প্রতি শায়খ আলম আদ-দীন ইঙ্গিত করেছেন। এটি রচনা করেছেন শায়খ ইমাম আল্লামা রশীদ আদ-দীন আবু হাফস উমর বিন ইসমাইল বিন মাসউদ আল-ফারিকী এমন এক নাম প্রসঙ্গে যা তিনি ধাঁধায় রূপ দিয়েছেন, এবং সংক্ষেপে এমনভাবে বর্ণনা করেছেন যা বোধশক্তিকে অক্ষম করে দেয়
… তিন অক্ষর বিশিষ্ট সেই নামটি কী যার এক-তৃতীয়াংশ
… তাঁর জন্য উদাহরণ স্বরূপ, আর এক-তৃতীয়াংশ হচ্ছে সম্পূর্ণের দ্বিগুণ
…
(খণ্ড: ১)
আল-উকু দুদ দুররিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-ফিকী
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
.. وَالثلث الآخر جَوْهَر حلت بِهِ ال
… أَعْرَاض جمعا فَأُعْجِبُوا لبديعه
وَهُوَ المثلث جذره مثل لَهُ
… وَإِذا يربع بَان فِي تربيعه
جُزْء من الْفلك الْعلي وَإِنَّمَا
… بَاقِيه خوف أَو أَمَان مروعه
حَيّ جماد سَاكن متحرك
… إِن كنت ذَا نظر إِلَى تنويعه
وتراه مَعَ خمسيه عِلّة كَونه
… معلوله سرا بِغَيْر مذيعه
وَبِغير خمسيه جَمِيع النَّحْو مو
… جود ومحمول على مَوْضُوعه
وبحاله فعل مضى مُسْتَقْبلا
… حمدت صناعته لحمد صَنِيعه
قيد لمطلقه خُصُوص عُمُومه
… زيد لمفرده على مَجْمُوعه
شَيْء مُقيم فِي الرحيل وممكن
… كالمستحيل بطيئه كسريعه
وأهم مَا فِي الشَّرْع وَالدّين اسْمه
… ومضافه بأصوله وفروعه
ودقيق مَعْنَاهُ الْجَلِيل مُنَاسِب
… علم الْخَلِيل وَلَيْسَ من تقطيعه
وَإِذا عروضي تطلب حلّه
… ألفاه فِي المفروق أَو مَجْمُوعه
وَإِذا ترصعه بدر فريده
… عقدا يزين الدّرّ فِي ترصيعه
للمنطقي وللحكيم نتاجه
… وعلاجه بذهابه ورجوعه
وَله شعار أشعري واعتقا
… دحنبلي فاعجبوا لوُقُوعه
وَتَمَامه فِي قَول شَاعِر كِنْدَة
… مَا حَافظ للْعهد مثل مضيعه
يرويك فِي ظمأ ندى بوروده
… ويريك فِي ظلم هدى بطلوعه
…
.. আর শেষ তৃতীয়াংশ হলো একটি সত্তা যাতে সমস্ত
… গুণাবলী একত্রিত হয়েছে, ফলে তারা এর চমৎকারিত্বে অভিভূত হয়েছে।
আর এটি ত্রিমাত্রিক যার মূল এর মতো
… আর যখন একে বর্গ করা হয়, তখন এর বর্গ হওয়া প্রকাশ পায়।
এটি সুউচ্চ আসমানের একটি অংশ এবং মূলত
… এর অবশিষ্টাংশ হলো ভয় অথবা ভীত ব্যক্তির নিরাপত্তা।
এটি জীবন্ত, জড়, স্থির এবং গতিশীল
… যদি তুমি এর বৈচিত্র্য অবলোকন করার মতো দৃষ্টির অধিকারী হও।
তুমি একে এর দুই-পঞ্চমাংশের সাথে এর অস্তিত্বের কারণ হিসেবে দেখবে
… আর এর কার্যকরণটি গোপন রাখা হয়েছে প্রকাশ করা ছাড়াই।
আর এর দুই-পঞ্চমাংশ ব্যতীত সমস্ত ব্যাকরণ
… বিদ্যমান এবং এর বিষয়ের ওপর আরোপিত।
আর এর অবস্থায় অতীত ও ভবিষ্যৎ ক্রিয়া
… এর কর্মের প্রশংসার কারণে এর কারুশৈলী প্রশংসিত হয়েছে।
এর অসীমের জন্য সীমাবদ্ধতা, এর সাধারণের জন্য বিশেষত্ব
… এর সমষ্টির ওপর এর একবচনের আধিক্য।
প্রস্থানের সময় অবস্থানরত একটি বস্তু এবং সম্ভব
… অসম্ভবের মতো, এর ধীরগতি এর দ্রুতগতির মতো।
আর শরীয়ত ও দ্বীনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এর নাম
… এবং এর মূলনীতি ও শাখাপ্রশাখাসহ এর অন্বয়।
আর এর মহান সূক্ষ্ম অর্থ খলীল ইবনে আহমাদ আল-ফারাহিদীর
… ইলমের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তবে তা ছন্দবিশ্লেষণ থেকে নয়।
আর যদি কোনো ছন্দবিশারদ এর সমাধান খুঁজে
… তবে সে তা ‘মাফরুক’ অথবা ‘মাজমু’ (ছন্দশৈলী) এর মধ্যে খুঁজে পাবে।
আর যখন সে একে অনন্য মুক্তো দিয়ে খচিত করে
… তখন তা একটি নেকলেস হয়ে মুক্তোরাজিকে এর অলঙ্করণে সুশোভিত করে।
যুক্তিবিদ ও প্রাজ্ঞের জন্য এর ফলাফল
… এবং এর প্রতিকার রয়েছে এর গমনাগমন ও প্রত্যাবর্তনের মাঝে।
এর একটি আশআরী শ্লোগান এবং হাম্বলী
… আকিদাহ রয়েছে, সুতরাং এর সংঘটন দেখে তোমরা আশ্চর্যান্বিত হও।
আর কিন্দাহ গোত্রের কবির উক্তিতে এর পূর্ণতা রয়েছে
… "প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারী তার মতো নয় যে তা ভঙ্গ করে।"
এটি তৃষ্ণার্ত অবস্থায় এর আবির্ভাবে তোমাকে শিশিরসিক্ত করে
… এবং অন্ধকারের মাঝে এর উদিত হওয়ার মাধ্যমে হেদায়াতের পথ দেখায়
…
(খণ্ড: ১)
আল-উকু দুদ দুররিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-ফিকী
(পৃষ্ঠা: ٣١)
.. وَلَقَد حللت اللغز إِجْمَالا وَفِي
… تَفْصِيله تَفْصِيل روض رَبِيعه
فاستجل بكرا من ولي بالحلى
… تهدى لكفء الْفضل بَين ربوعه
… فَأجَاب العَبْد الْفَقِير لي ربه أَحْمد بن عبد الحليم بن عبد السلام ابْن تَيْمِية حلا لمعضله وفصلا لمجمله وفتحا لمقفله وشرحا لمشكله
… يَا عَالما قد فاق أهل زَمَانه
… بفنونه وبياته وبديعه
وَغدا لأعلام الْعُلُوم منارهم
… يهدي الهداة إِلَى مُنِير ربوعه
وأجاد نظما عقد جيد عقيلة
… من در بَحر الْعلم فِي ترصيعه
وجلا المعارف فِي عوارف لَفظه
… أخذا لعرف الْعلم من ينبوعه
وَأَبَان عَمَّا قد حوى من كل فذ
… ن قد أحَاط بِأَصْلِهِ وفروعه
ببيانه السحر الْحَلَال وَلَفظه
… العذب الزلَال وَلَفظ حسن صَنِيعه
بغزير علم وافتنان وَاسع
… ألغزت علما فِي فنون وسيعه
حليته بدقيق وصف صنته
… بجليل لفظ ناء عَن مَوْضُوعه
ووصفته بحلى الْعُلُوم وَأَهْلهَا
… ونعته بضروبه وضروعه
وجمعت فِي أَوْصَافه الأضدا
… د حَتَّى استيأس الطلاب من تتبيعه
وَالْعَبْد لما أَن تَأمل نظمكم
… بنظامه ألْقى لَهُ فِي روعه
أَن الَّذِي ألغزتم علم وَلم
… ايجعل المظنون من مقطوعه
لكنه أَمْسَى يحليه بِمَا
… حليته ويغوص فِي توقيعه
حَتَّى تجلى الْحق من ظلمائه
… فِي لَيْلَة من قبل وَقت هجوعه
…
.. আর আমি এই ধাঁধার সমাধান সংক্ষেপে করেছি এবং এর
… বিস্তারিত বর্ণনায় রয়েছে বসন্তকালীন বাগানের মতো পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ।
সুতরাং অলংকারে সজ্জিত অভিভাবকের নিকট হতে এক অনন্যাকে উন্মোচিত করুন
… যা তাঁর আঙ্গিনায় গুণের যোগ্য পাত্রের নিকট উপঢৌকন হিসেবে পেশ করা হয়েছে
… অতঃপর তাঁর রবের মুখাপেক্ষী বান্দা আহমদ বিন আব্দুল হালীম বিন আব্দুল সালাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এর উত্তর প্রদান করেছেন—জটিলতার সমাধান হিসেবে, সংক্ষিপ্তের বিস্তারিত হিসেবে, রুদ্ধ দ্বারের উন্মোচন হিসেবে এবং সমস্যার ব্যাখ্যা হিসেবে
… হে এমন এক আলিম, যিনি তাঁর সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে গিয়েছেন
… আপন জ্ঞানশৈলী, প্রাঞ্জলতা এবং অলংকারশাস্ত্রে।
আর তিনি ইলমের দিকপালদের জন্য আলোকবর্তিকা হয়ে উঠেছেন
… যা পথপ্রদর্শকদের তাঁর প্রাঙ্গণের উজ্জ্বল আলোর দিকে পথ দেখায়।
তিনি ছন্দ গাঁথুনিতে এমন নিপুণতা দেখিয়েছেন যেন তা এক মহীয়সী নারীর কণ্ঠের হার
… যা ইলমের সমুদ্রের মুক্তো দিয়ে খচিত।
আর তিনি তাঁর শব্দের মহিমায় মারেফাতকে সুস্পষ্ট করেছেন
… জ্ঞানের সুবাস আহরণ করেছেন তার মূল উৎস থেকে।
এবং তিনি এর অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি অনন্য বিষয়কে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছেন
… যা এর মূলনীতি ও শাখাসমূহকে পরিবেষ্টন করে আছে।
তাঁর জাদুকরী বর্ণনাভঙ্গি এবং সুমিষ্ট
… নির্মল শব্দাবলি ও তাঁর সুন্দর রচনার শৈলীর মাধ্যমে।
অগাধ ইলম এবং ব্যাপক পাণ্ডিত্যের সাথে
… আপনি জ্ঞানের নানাবিধ শাখায় এক ধাঁধার অবতারণা করেছেন।
আপনি একে সূক্ষ্ম গুণাবলি দিয়ে অলঙ্কৃত করেছেন এবং তা রক্ষা করেছেন
… এমন গাম্ভীর্যপূর্ণ শব্দাবলি দ্বারা যা এর মূল বিষয়বস্তু থেকে আবৃত।
আপনি একে জ্ঞান ও জ্ঞানীদের অলঙ্কারে ভূষিত করেছেন
… এবং একে এর নানাবিধ প্রকার ও শ্রেণিতে বিশেষায়িত করেছেন।
আর আপনি এর গুণাবলিতে বিপরীতধর্মী বিষয়ের সমন্বয় ঘটিয়েছেন
… এমনকি জ্ঞানান্বেষীরা এর অনুসরণ করতে গিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছে।
আর এই বান্দা যখন আপনার এই ছন্দোবদ্ধ রচনার প্রতি
… গভীরভাবে মনোনিবেশ করল, তখন তার হৃদয়ে এক ভাবনার উদয় হলো।
নিশ্চয়ই আপনি যা ধাঁধা হিসেবে পেশ করেছেন তা হলো ইলম, আর যেন
… সংশয়পূর্ণ বিষয়কে নিশ্চিত বিষয়ের সমতুল্য করা না হয়।
বরং তিনি একে সেই সব দিয়েই সাজাতে শুরু করেছেন যা দিয়ে
… আপনি একে সাজিয়েছিলেন এবং এর গূঢ় রহস্যের গভীরে অবগাহন করেছেন।
অবশেষে অন্ধকার ফুঁড়ে সত্য প্রকাশিত হলো
… এক রাতে, তাঁর নিদ্রার সময়ের পূর্বেই
…
(খণ্ড: ১)
আল-উকু দুদ দুররিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-ফিকী
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
.. فَإِذا الَّذِي قد عَن أول مرّة
… حق تبلج فجره بطلوعه
وَرَأَيْت فِيهِ الْوَصْف إِمَّا باديا
… أَو خافيا مَعْنَاهُ فِي مسموعه
لدقيق مغزاه ولطف إِشَارَة
… وَبعد حلاه عَن مَوْضُوعه
فَغَدَوْت أكشف عَنهُ كشفا موجزا
… باشارة تهدي لشطر بقيعه
فاسمع لحل حلاه فِي تَفْصِيله
… واشهد بقلب مقبل بهطوعه
الْعلم لفظ ذُو ثَلَاثَة أحرف
… وهجاء كل مثل مَا مَجْمُوعه
فَإِذا يكون مركبا من تِسْعَة
… جذرا لَهَا فَانْظُر إِلَى تربيعه
ومربعا ساواه جذر حسابه
… ومثلثا بِحُدُودِهِ وضلوعه
وَيكون أَثلَاثًا فثلث مثله
… هُوَ لامه إِن خضت فِي توزيعه
وَالْمِيم فِي الْجمل الْكَبِير حسابه
… هُوَ أَرْبَعُونَ بقول أهل رَبِيعه
وَالْمِيم فِي الْجمل الصَّغِير حسابه
… عشرُون هَذَا الثُّلُث ضعف جَمِيعه
وَالثلث عين عين كل ذَاته
… هُوَ جَوْهَر وَالْوَصْف فِي مَوْضُوعه
إِذْ كَانَت الْأَعْيَان قَائِمَة بهاال
… أَعْرَاض جمعا فافطنوا لجموعه
حكم يخص الْعين حرفا وَاحِدًا
… من بَين جنس الْحَرْف فِي تنويعه
هُوَ تِسْعَة فِي أَصله والعالم العل
… وي مِنْهُ تِسْعَة برقيه
الْعَرْش والكرسي والسبع السم
… وات الطباق فالاسم جُزْء رفيعه
…
.. অতঃপর যা প্রথমবার থেকে অপসৃত হয়েছিল
… সত্য তার উদয়ে তার প্রভাত প্রস্ফুটিত হয়েছে।
এবং আমি তাতে বৈশিষ্ট্য দেখেছি হয় প্রকাশ্য
… অথবা যা শ্রবণযোগ্য তার মাঝে তার অর্থ প্রচ্ছন্ন।
এর সূক্ষ্ম মর্মার্থ ও নিগূঢ় ইশারার কারণে
… এবং এর বিষয়বস্তু থেকে এর অলংকারের দূরত্বের কারণে।
অতঃপর আমি তা সংক্ষেপে উন্মোচন করতে শুরু করলাম
… এমন ইশারার মাধ্যমে যা তার প্রান্তরের অর্ধাংশের দিকে পথ দেখায়।
সুতরাং বিস্তারিত বিবরণে তার জট খোলার কথা শ্রবণ করো
… এবং বিনীত ও মনোযোগী হৃদয়ে তা প্রত্যক্ষ করো।
জ্ঞান (ইলম) হলো তিন অক্ষরের একটি শব্দ
… এবং প্রত্যেকটি অক্ষরের বানান তার সমষ্টির অনুরূপ।
সুতরাং যখন তা নয় (৯) এর সমন্বয়ে গঠিত হয়
… তবে তার মূল হিসেবে তার বর্গের দিকে তাকাও।
এবং এমন এক বর্গ যা তার হিসাবের মূলের সমান
… এবং তার সীমা ও বাহুসহ একটি ত্রিভুজ।
এবং তা তিন ভাগে বিভক্ত, সুতরাং এর সমরূপ এক-তৃতীয়াংশ
… হলো এর 'লাম', যদি তুমি এর বিন্যাসে প্রবেশ করো।
আর জুমাল আল-কাবীর গণনায় 'মিম'-এর মান
… তার বসন্তের অধিপতিদের মতে চল্লিশ।
আর জুমাল আস-সাগীর গণনায় 'মিম'-এর মান
… বিশ, এই এক-তৃতীয়াংশ তার সম্পূর্ণের দ্বিগুণ।
আর এক-তৃতীয়াংশ হলো 'আইন', যা তার সম্পূর্ণ সত্তার নির্যাস
… তা হলো জাওহার (মৌলিক সত্তা) এবং বৈশিষ্ট্যটি তার আধারে বিদ্যমান।
যেহেতু সকল সত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়
… সমষ্টিগতভাবে আপতিক গুণাবলীর (আরায) মাধ্যমে, সুতরাং তাদের সমষ্টির ব্যাপারে সচেতন হও।
একটি বিধান যা কেবল 'আইন' বর্ণের জন্য সুনির্দিষ্ট
… বর্ণের বৈচিত্র্যের মাঝে তার স্বজাতীয় বর্ণসমূহের মধ্য থেকে।
তার মূলে সে নয়, এবং ঊর্ধ্বজগত
… তার উন্নতির সোপানে নয়টি স্তর নিয়ে গঠিত।
আরশ, কুরসি এবং সাত আস
… মান যা স্তরে স্তরে বিন্যস্ত, সুতরাং নাম হলো তার উচ্চ মর্যাদার অংশ
…
(খণ্ড: ১)
আল-উকু দুদ দুররিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-ফিকী
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
.. من عَالم الملكوت أَعنِي الْغَيْب إِذْ
… عَنهُ كنى لعلو شَأْن صَنِيعه
لم يبْق إِلَّا جنَّة أَو جاحم
… فِيهِ المخافة أَو أَمَان مروعه
بِالْعلمِ يحيى الله قلبا مَيتا
… يسري كنور ضاء حِين سطوعه
فُلَانُهُ يحيى اسْمه حَيّ إذال
… أَحيَاء فرع حَيَاة رب صَنِيعه
وَلِأَنَّهُ يسري اسْمه متحرك
… لوحا تنقله بذهن قريعه
ذَا الْوَصْف عَقْلِي وَفِي حسيه
… هُوَ جامد هُوَ سَاكن بربوعه
إِذْ كَانَ نوع الْعلم معنى جنسه
… عرض يقوم بمستوى مَوْضُوعه
والحي والمتحرك الوصفان يخ
… تصان شخصا جوهرا ببقيعه
إِذْ كَانَ فِي المحسوس لَيْسَ بقائم
… عرض بآخر مثله وتبيعه
أما إِذا مَا جرد الْمَعْقُول فال
… وصفان فِي المعني لَهُ بربيعه
ثُلُثَاهُ حرفا الْعين وَالْمِيم هما
… فِي اللَّفْظ من عدم وَفِي تنويعه
لَو إِذْ جمعت حسابه فِي أَكثر
… وأضفت خمسيه إِلَى مَجْمُوعه
فمربعا يضحى ويضحى جذره
… مَعَ أَربع عشرا لذِي تربيعه
فالجذر علته ومعلول لَهُ
… من حَيْثُ مَا هُوَ عِلّة لوُقُوعه
فالجذر مَعْلُول لجذر كَائِن
… معلوله فَافْهَم مدَار رجيعه
فلكونه مَعْلُول مَعْلُول لَهُ
… قد صَار معلولا لَهُ بِرُجُوعِهِ
…
.. মালাকুত জগত থেকে অর্থাৎ গায়িব (অদৃশ্য) হতে, যেহেতু
… তাঁর সৃষ্টির মাহাত্ম্যের কারণে তা রূপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।
জান্নাত বা জাহান্নাম ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই
… তাতে রয়েছে ভীতি অথবা কোনো ভয়ংকর বিষয় থেকে নিরাপত্তা।
ইলম (জ্ঞান) দ্বারা আল্লাহ একটি মৃত অন্তরকে জীবিত করেন
… যা বিচ্ছুরিত আলোর মতো প্রবাহিত হয়।
অমুকের নাম ইয়াহিয়া (জীবিত), সে জীবিত যখন
… তার স্রষ্টা রবের জীবনের একটি শাখা হিসেবে তারা জীবিত।
যেহেতু তার নাম গতিশীল ও প্রবহমান
… এটি এমন এক ফলক যা তীক্ষ্ণ বুদ্ধি দ্বারা স্থানান্তরিত হয়।
এই বৈশিষ্ট্যটি বুদ্ধিভিত্তিক, কিন্তু ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিচারে
… এটি জড় এবং নিজ স্থানে স্থির।
যেহেতু জ্ঞানের ধরন তার স্বজাতির অর্থ বহন করে
… এটি একটি আপতিত গুণ যা তার বিষয়ের সমতলে বিদ্যমান।
"জীবন্ত" এবং "গতিশীল" - এই দুটি বৈশিষ্ট্য নির্দিষ্ট
… নিজ স্থানে থাকা কোনো ব্যক্তি বা সত্তার সাথে।
কারণ ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য জগতে কোনো আপতিত গুণ
… তার অনুরূপ অন্য কোনো গুণের ওপর ভর করে দাঁড়াতে পারে না।
কিন্তু যখন বুদ্ধিগ্রাহ্য বিষয়কে বিমূর্ত করা হয়, তখন
… অর্থের দিক থেকে এই দুটি গুণই তার জন্য সাব্যস্ত হয়।
এর দুই-তৃতীয়াংশ হলো 'আইন' ও 'মীম' অক্ষর দুটি
… অনস্তিত্ব এবং এর বৈচিত্র্যের শব্দের মধ্যে।
যদি তুমি এর সংখ্যাতাত্ত্বিক হিসাব অনেক গুণে বৃদ্ধি করো
… এবং এর দুই-পঞ্চমাংশ মোট যোগফলের সাথে যোগ করো।
তবে তা একটি বর্গক্ষেত্রে পরিণত হবে এবং এর বর্গমূল হবে
… যার বর্গ করার জন্য চৌদ্দ প্রয়োজন।
অতএব বর্গমূল হলো তার কারণ এবং তার জন্য কার্য
… যেহেতু তা তার সংঘটিত হওয়ার কারণ।
সুতরাং বর্গমূল হলো বিদ্যমান কোনো বর্গমূলের কার্য
… তার কার্য সম্পর্কে বুঝো, এটাই এর প্রত্যাবর্তনের কেন্দ্র।
যেহেতু সে তার কার্যের কার্য
… তাই তার প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে সে তার নিজেরই কার্যে পরিণত হয়েছে
…
(খণ্ড: ১)
আল-উকু দুদ দুররিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-ফিকী
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
.. وَيَقُول إِن الْعلم مِنْهُ النَّحْو هَذَا إِن ترد حملا على مَوْضُوعه
فَإِذا يكون الضَّم عِلّة كَون هَذَا الْجمع عِلّة نَفسه وجميعه
وَبِغير خمسيه يعود لأصله
… علما وَعلم النَّحْو بعض فروعه
وَإِذا اعْتبرت حُرُوفه ألفيته
… فعلا مضى لُغَة وَفِي مَوْضُوعه
حكم على المستقبلات وَغَيرهَا
… لعمومه مُتَعَلقا وذيوعه
إِذْ من خَصَائِصه تعلقه بِكُل مُحَقّق مَعَ سبقه لوُقُوعه
أكْرم بِهِ أمرا عَظِيما نَفعه
… حمدت صناعته بِحَمْد صَنِيعه
وَالْفِعْل فِيهِ مصدر وزمانه
… وضعا وملزوم لرب صَنِيعه
فلذاك كَانَ مُقَيّدا ومخصصا
… لعُمُوم جنس الْعلم فِي تنويعه
هُوَ مُفردا نوع حوى أشخاصه
… فَإِذا تركب خص فِي تجميعه
فَيصح حِينَئِذٍ مقَالَة قَائِل
… قد زَاد مفرده على مَجْمُوعه
هُوَ ثَابت فِي كل حَال مُمكن
… ذُو عزة صَعب على مسطيعه
حَتَّى ينَال فيحمد الْقَوْم السرى
… وَإِذا يُقَال بطيئه كسريعه
فالبطء والإسراع لَيْسَ بِنَفسِهِ
… بل فِي الطَّرِيق وَفِي اقتناص منيعه
وَالْعلم بالرحمن أول صَاحب
… وأهم فرض الله فِي مشروعه
وأخو الدّيانَة طَالب لمزيده
… أبدا وَلما يَنْهَهُ بقطوعه
والمرء فاقته إِلَيْهِ أَشد من
… فقر الْغذَاء لعلم حكم صَنِيعه
…
.. এবং তিনি বলেন যে, এই ইলম বা জ্ঞান থেকেই নাহু শাস্ত্র উদ্ভূত হয়েছে, যদি আপনি একে এর বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করতে চান।
তখন একত্রিত করাই এই সমষ্টির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যা তার নিজের এবং তার সমগ্রের কারণ।
আর এর পঞ্চমাংশ ব্যতীত এটি তার মূলে ইলম হিসেবেই ফিরে যায়
… আর নাহু শাস্ত্র হলো এর অন্যতম শাখা।
আর যদি আপনি এর বর্ণগুলো বিবেচনা করেন, তবে একে ভাষাগতভাবে এবং এর বিষয়ের দিক থেকে
… একটি অতীতকালীন ক্রিয়া হিসেবে পাবেন।
এটি ভবিষ্যৎ এবং অন্যান্য বিষয়ের ওপর হুকুম প্রদান করে
… কারণ এর সংশ্লিষ্টতা এবং প্রচার অত্যন্ত ব্যাপক।
কেননা এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো প্রতিটি সুনিশ্চিত বিষয়ের সাথে এর সংশ্লিষ্টতা, অথচ এটি তা ঘটার পূর্বেই বিদ্যমান।
কতই না মহান এই বিষয়টি এবং এর উপকারিতা
… এর নিপুণ কার্যের প্রশংসার মাধ্যমে এর শিল্পও প্রশংসিত হয়েছে।
আর এতে ক্রিয়াটি মৌলিক উৎস এবং কাল হিসেবে নির্ধারিত
… যা এর মহান স্রষ্টার জন্য অপরিহার্য।
এই কারণেই ইলমের সাধারণ প্রকারভেদের মধ্যে এটি সীমাবদ্ধ এবং বিশেষায়িত হয়েছে
… একে বিভিন্ন প্রকারে বিভক্ত করার ক্ষেত্রে।
এটি একক অবস্থায় এমন এক প্রকার যা তার সকল ব্যক্তি বা সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করে
… কিন্তু যখন এটি যৌগিক হয়, তখন তার সমষ্টির ক্ষেত্রে তা নির্দিষ্ট হয়ে যায়।
তখন কোনো বক্তার এই উক্তি সঠিক হয়
… যে এর একবচনটি তার সমষ্টির ওপর বৃদ্ধি পেয়েছে।
এটি প্রতিটি সম্ভাব্য অবস্থায় সুপ্রতিষ্ঠিত
… এটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এবং একে আয়ত্ত করা কষ্টসাধ্য।
অবশেষে যখন তা অর্জিত হয়, তখন পথিক দল তাদের রাতের ভ্রমণের প্রশংসা করে
… আর তখন বলা হয় যে, এর ধীরগতি সম্পন্ন ব্যক্তিও দ্রুতগামী ব্যক্তির মতো।
বস্তুত ধীরগতি বা দ্রুতগতি তার নিজের সত্তায় নয়
… বরং তা পথে এবং তার দুর্লভ অংশ অর্জনের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে।
আর পরম করুণাময় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করাই হলো প্রথম সহচর
… এবং আল্লাহর বিধানে এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ।
আর ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি সর্বদা এর বৃদ্ধির অন্বেষণকারী
… এবং কোনো বিচ্ছিন্নতা তাকে তা থেকে বিরত রাখে না।
আর মানুষের এর প্রতি মুখাপেক্ষিতা খাদ্যের প্রয়োজনের চেয়েও অধিক তীব্র
… কারণ এর সৃষ্টির নিপুণ কৌশলগত জ্ঞান অর্জনের জন্য এটি অপরিহার্য
…
(খণ্ড: ১)
আল-উকু দুদ দুররিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-ফিকী
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
.. فِي كل وَقت وَالطَّعَام فَإِنَّمَا
… يَحْتَاجهُ فِي وَقت شدَّة جوعه
وَهُوَ السَّبِيل إِلَى المحاسن كلهَا
… والصالحات فسوأة لمضيعه
وَإِلَيْهِ يسند كل فن نَافِع
… بل فارع بأصوله وفروعه
لجلالة الْمَعْلُوم واللطف الَّذِي
… للْعلم كَانَ مناسبا لبديعه
فالعلم ميزَان الْحَقَائِق والعرو
… ض كَذَاك ميزَان لَدَى تقطيعه
وَالِاسْم بِالتَّحْرِيكِ من مفروقه
… وَالْفِعْل بالتسكين من مَجْمُوعه
هُوَ وَاسِط عقد الْفَضَائِل كلهَا
… وَبِه يزان الْحلِيّ فِي ترصيعه
وعلاجه بالجد فِي تَحْصِيله
… بمقدمات نتاجه وينوعه
وَلكُل قوم مِنْهُ حَظّ وافر
… وحقائق التَّحْقِيق فِي مشروعه
بشعائر لمشاعر وقواعد
… لعقائد الْمَعْقُول فِي مسموعه
وجميعه متفرق فِي قَوْله
… مَا حَافظ للْعهد مثل مضيعه
فلعينه وللامه ولميمه
… من ذَا الْكَلَام الْحَظ فِي تبضيعه
يرْوى بِمَاء حَيَاته فِي ورده
… ظمآن تَحْقِيق إِلَى ينبوعه
وَيرى بِنور هداه فِي تبيينه
… حيران تدقيق طُلُوع سطيعه
بطلوعه لما أبان بنوره
… قصد السَّبِيل لحل عقد بديعه
جلى المجلي بعد بعد بدوه
… مَعَ قرب مقفله وَقرب مسوعه
…
.. প্রতিটি সময়ে, আর খাদ্য তো কেবল
… তার তীব্র ক্ষুধার সময়ে প্রয়োজন হয়।
আর তা সকল সুন্দরের পথ
… এবং সৎকর্মসমূহের, সুতরাং ধিক্কার তাকে যে তা বিনাশ করে।
এবং এর দিকেই প্রতিটি উপকারী বিষয়কে সম্পৃক্ত করা হয়
… বরং এটি তার মূল ও শাখা-প্রশাখায় সুউচ্চ।
জ্ঞাত বিষয়ের মাহাত্ম্য এবং সেই সূক্ষ্মতার কারণে যা
… জ্ঞানের জন্য তার অভিনবত্বের সাথে মানানসই ছিল।
সুতরাং জ্ঞান হলো সত্যের মানদণ্ড এবং ছন্দশাস্ত্রও
… তেমনই তার মাত্রা বিন্যাসের সময় একটি মানদণ্ড।
আর নাম (ইসম) তার পৃথক অংশ হতে হরকতযুক্ত হওয়ার মাধ্যমে
… এবং ক্রিয়া (ফেল) তার সমষ্টি হতে সাকিন হওয়ার মাধ্যমে।
এটি সকল শ্রেষ্ঠত্বের কণ্ঠহারের মধ্যমণি
… এবং এর মাধ্যমেই অলঙ্কারকে তার বিন্যাসে সজ্জিত করা হয়।
আর এর চিকিৎসা হলো তা অর্জনে কঠোর সাধনা করা
… এর ফলাফলের ভূমিকা ও তার পরিপক্কতার মাধ্যমে।
এবং প্রত্যেক জাতির জন্য এতে রয়েছে প্রচুর অংশ
… এবং তার বিধানে রয়েছে সূক্ষ্ম অনুসন্ধানের প্রকৃত তত্ত্বসমূহ।
অনুভূতির নিদর্শনাবলী এবং মূলনীতিমালার মাধ্যমে
… শ্রুত বিষয়ের মধ্যে যুক্তিসিদ্ধ বিশ্বাসের জন্য।
এবং এর সবকিছুই তার বাণীর মধ্যে ছড়িয়ে আছে
… অঙ্গীকার রক্ষাকারী তার বিনষ্টকারীর মতো নয়।
সুতরাং এর ‘আইন’, ‘লাম’ এবং ‘মীম’-এর জন্য
… এই কথা থেকে রয়েছে এর বণ্টনের অংশ।
এর আগমনে এর জীবন-সুধা দ্বারা তৃষ্ণা নিবারণ করে
… সেই সত্যানুসন্ধানী পিপাসার্ত ব্যক্তি তার ঝরনার ধারে।
এবং এর সুস্পষ্ট বর্ণনায় তার হেদায়াতের আলোতে দেখতে পায়
… সূক্ষ্ম তত্ত্বে বিভ্রান্ত ব্যক্তি এর উজ্জ্বল উদয়কে।
এর উদয়ের মাধ্যমে যখন তা আপন আলোয় প্রকাশ করল
… এর বিস্ময়কর গ্রন্থি উন্মোচনের সঠিক পথটি।
উদ্ভাসনকারী একে উদ্ভাসিত করেছেন তার প্রকাশ দূরবর্তী হওয়ার পর
… যদিও তার তালাবদ্ধ অবস্থা এবং শ্রুতিগোচরতা ছিল অতি নিকটবর্তী
…
(খণ্ড: ১)
আল-উকু দুদ দুররিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-ফিকী
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
.. وَأَبَان مجمله وَفصل عقده
… ولروضة الْأنف ارتعى برتوعه
وحلى جمال الْبكر فِي الحلى
… قافتضها كُفْء ثوت بربوعه
فَخذ الْجَواب مخلصا فِيهِ اللبا
… ب مُلَخصا فِي نظمه لسميعه
مَعَ ان نظم الشّعْر غير مُحَصل
… لكَمَال مغزاه وَشرح جَمِيعه
من خاطر مستعجل مستوفز
… لم يمعن التفكير فِي مرجوعه
لم يَجْعَل التَّحْلِيل من مصنوعه
… كلا وَلَا الفضلات من مصنوعه
إِذْ كَانَ مخلوقا لأكبر غَايَة
… دَار الْقَرار جميله وقطيعه
وَعَلِيهِ من أَمر الْإِلَه وَنَهْيه
… مَا يلفت الْمَعْقُول عَن تضييعه
لكنه لَا بُد للمصدور من
… نفث يرِيح فُؤَاده بنخوعه
مَعَ أَنه مزجى البضاعة نظمه
… غر بِحكم اللَّفْظ فِي تسجيعه
عبد ذليل عَاجز متضعف
… فِي حَال مبداه وَحَال رُجُوعه
لكنه لما اسْتَعَانَ بربه
… ثمَّ استكان لَهُ بذل خضوعه
فأعانه يسر الْجَواب فَإِن يكن
… حَقًا بِرِفْق الْوَصْف فِي توقيعه
فَالْحَمْد وَالْفضل الْعَظِيم لربنا
… شكرا على مَحْمُود حسن صَنِيعه
إِذْ مَا بِنَا من نعْمَة فبمنه
… وَالْخَيْر مِنْهُ جَمِيعه بهموعه
أَو إِن يكن خطأ فمني حَيْثُ أَن
… لم أستطع متناولا لرفيعه
فالنقص للْإنْسَان وصف لَازم
… إِن كَانَ يعرف نَفسه بنخوعه
…
.. এবং তিনি এর অস্পষ্টতাকে স্পষ্ট করেছেন এবং এর জটগুলো খুলে দিয়েছেন
… আর রওযুল উনুফ (নামক গ্রন্থ) এর উদ্যানে তিনি বিচরণ করেছেন।
তিনি অলংকারের মাধ্যমে কুমারীর সৌন্দর্যকে সুশোভিত করেছেন
… অতঃপর এক উপযুক্ত ব্যক্তি তাকে জয় করে তার চত্বরে স্থান দিয়েছে।
অতএব এই উত্তরটি গ্রহণ করুন যাতে সারনির্যাস একনিষ্ঠভাবে বিদ্যমান
… যা এর শ্রোতার জন্য কাব্য আকারে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।
যদিও কাব্য রচনা এর পূর্ণাঙ্গ উদ্দেশ্য
… এবং এর সামগ্রিক ব্যাখ্যা অর্জনে পুরোপুরি সমর্থ নয়।
এটি এক ত্বরান্বিত ও সদা প্রস্তুত অন্তরের চিন্তাপ্রসূত
… যে তার পরিণাম নিয়ে গভীর চিন্তা করেনি।
তিনি পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণকে তার রচনার অন্তর্ভুক্ত করেননি
… না, এমনকি অনাবশ্যক বিষয়গুলোকেও তিনি তার রচনার অন্তর্ভুক্ত করেননি।
যেহেতু তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে এক মহান উদ্দেশ্যে
… যা হলো চিরস্থায়ী নিবাস, তার সৌন্দর্য ও স্থায়িত্ব সহকারে।
আর তার ওপর আল্লাহর আদেশ ও নিষেধ অর্পিত রয়েছে
… যা বিবেককে তা বিনষ্ট করা থেকে ফিরিয়ে রাখে।
কিন্তু যার বক্ষ রুদ্ধ হয়ে আছে, তার জন্য আবশ্যিক হলো
… এমন দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করা যা তার হৃদয়ের অন্তঃস্থলকে স্বস্তি দেয়।
যদিও তার এই কাব্যের পুঁজি অতি সামান্য
… এবং এর অন্ত্যমিল বিন্যাসের শব্দশৈলীতে সে অনভিজ্ঞ।
সে এক হীন, অক্ষম ও দুর্বল বান্দা
… তার সূচনালগ্নে এবং তার প্রত্যাবর্তনের অবস্থায়।
কিন্তু সে যখন তার রবের সাহায্য প্রার্থনা করল
… অতঃপর তাঁর কাছে বিনীত হয়ে আত্মসমর্পণ করল।
তখন তিনি তাকে সাহায্য করলেন এবং উত্তর দেওয়া সহজ করে দিলেন; সুতরাং যদি তা
… সত্য হয়, তবে তা তাঁর সুন্দর বর্ণনারই লিখন।
অতএব সমস্ত প্রশংসা ও সুমহান অনুগ্রহ আমাদের রবের জন্য
… তাঁর প্রশংসনীয় ও উত্তম কার্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরূপ।
আমাদের মাঝে যে নেয়ামত রয়েছে তা তাঁরই দানে
… এবং সকল কল্যাণ তাঁর পক্ষ থেকেই অঝোর ধারায় বর্ষিত হয়।
আর যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে তবে তা আমার পক্ষ থেকে, কারণ আমি
… এর সুউচ্চ শিখরে পৌঁছাতে সক্ষম হইনি।
কেননা অপূর্ণতা মানুষের এক অপরিহার্য গুণ
… যদি সে নিজের সত্তার প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অবগত থাকে
…
(খণ্ড: ১)
আল-উকু দুদ দুররিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-ফিকী
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
.. وَالْحَمْد لله الرَّحِيم بخلقه الْبر الْوَدُود بِعَبْدِهِ ومطيعه
وميسر الْخطب العسير بِلُطْفِهِ
… من بعد منعته وَبعد منيعه
ثمَّ الصَّلَاة على النَّبِي وَآله
… والمصطفين من الْأَنَام جَمِيعه
وَعَلَيْهِم التَّسْلِيم منا دَائِما
… مَا اهتز وَجه الأَرْض بعد خشوعه
… فَلَمَّا وقف الشَّيْخ رشيد على هَذَا الْجَواب كتب إِلَى منشئه الشَّيْخ تَقِيّ الدّين بن تَيْمِية رضي الله عنه
… أحسن فِي حل الْمُسَمّى وَمَا
… سمى وَلَكِن جَاءَ بِالْمثلِ
وَجَاوَزَ الجوزاء بالنطق والشعرى بِشعر رائق جزل
جلت مَعَانِيه فشكرا لَهُ
… مصحف والحل كالحل
أَحْمد وزن الْفِعْل فِيهِ وَفِي التقى وزن القَوْل وَالْفِعْل
كأنماأحرفه مثلت تملى عَلَيْهِ وَهُوَ يستملي
وَحقّ بالفخر فَتى جده الْمجد وَقد بورك فِي النَّسْل
فسهل الله لمن فِي اسْمه الْعدْل مكافآت على الْفضل
… فَنظر وَالِد الشَّيْخ تَقِيّ الدّين بن تَيْمِية بعد ذَلِك فِي اللغز وحله فِي لَفْظَة أُخْرَى ونظم فِي ذَلِك قصيدة
فَكتب إِلَيْهِ الشَّيْخ رشيد الدّين جَوَابا لَهَا
.. এবং সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর সৃষ্টির প্রতি অতি দয়ালু, তাঁর বান্দা ও অনুগতদের প্রতি পরম হিতৈষী ও প্রেমময়
এবং যিনি তাঁর অনুগ্রহে কঠিন বিষয়কে সহজ করে দেন
... তা দুষ্পাপ্য ও দুর্ভেদ্য হওয়ার পর।
অতঃপর সালাত বর্ষিত হোক নবী ও তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর
... এবং সমগ্র সৃষ্টির মধ্য হতে মনোনীত ব্যক্তিদের ওপর।
এবং তাঁদের ওপর আমাদের পক্ষ থেকে সর্বদা সালাম বর্ষিত হোক
... যতদিন পৃথিবীর পৃষ্ঠ নিথর থাকার পর আন্দোলিত হবে।
... অতঃপর যখন শায়খ রশিদ এই উত্তরের বিষয়ে অবগত হলেন, তখন তিনি এর রচয়িতা শায়খ তাকিউদ্দীন ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট লিখলেন
... তিনি নামযুক্ত বিষয়ের সমাধান ও নামকরণে চমৎকার করেছেন
... তবে তিনি এর অনুরূপ দৃষ্টান্ত নিয়ে এসেছেন।
তিনি তাঁর বাগ্মীতা ও প্রাঞ্জল কবিতার মাধ্যমে জাওযা ও শায়রা নক্ষত্র সদৃশ উচ্চতাকে অতিক্রম করে গেছেন।
এর অর্থসমূহ অতি মহিমান্বিত, তাই তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা;
... এটি যেন একটি বিশুদ্ধ পাণ্ডুলিপি এবং এর সমাধানটি যথার্থ সমাধানের ন্যায়।
আহমাদ নামটিতে ব্যাকরণগত ক্রিয়ার ওজন বিদ্যমান, আর তাঁর তাকওয়ার মাঝে কথা ও কাজের ভারসাম্যপূর্ণ ওজন রয়েছে।
তাঁর অক্ষরগুলো যেন এমনভাবে উপস্থাপিত হয়েছে যে, মনে হয় তা তাঁর নিকট পাঠ করা হচ্ছে আর তিনি তা লিপিবদ্ধ করছেন।
সেই যুবকই গৌরবের যোগ্য যার পূর্বপুরুষ ছিল মর্যাদাবান এবং যার বংশধারা বরকতময়।
আল্লাহ যেন সেই ব্যক্তির জন্য শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিদান সহজ করে দেন
... যাঁর নামের মাঝে ন্যায়পরায়ণতা নিহিত রয়েছে।
এরপর শায়খ তাকিউদ্দীন ইবনে তাইমিয়্যাহর পিতা এই ধাঁধার প্রতি লক্ষ করলেন এবং অন্য শব্দের মাধ্যমে এর সমাধান করে এ বিষয়ে একটি কবিতা রচনা করলেন।
অতঃপর শায়খ রশিদ উদ্দিন এর উত্তরে একটি জবাব লিখলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-উকু দুদ দুররিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-ফিকী
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
.. مَا مثل لغزي وَلم يسم بِهِ
… من لم يماثل فِي الْفضل وَالْأَدب
بخاطر حَاضر يضيء وَلَا
… يُنكر ضوءا لوَاحِد الشهب
شيخ شُيُوخ الْإِسْلَام قاطبة
… مفتي الْفَرِيقَيْنِ حجَّة الْعَرَب
شنف سَمْعِي بالدر من كلم
… تروى فتروي بالدر من سحب
وَكَانَ لغزي من فضَّة فعلا
… شعرًا وشعرا وَصَارَ من ذهب
فالفخر للمجد بالشهاب وللشهاب بالمجد ذرْوَة النّسَب
ذرْوَة والعنان يحسبها
… ذُرِّيَّة للشروق فِي السحب
وَإِن تقفت رسوم بلدته
… وَهِي خِيَار الْبِلَاد والترب
فبلدة الْأُفق حلهَا عوضا
… عَنْهَا بِفضل يسمو على الترب
وَإِن قلبِي أضحى لَهُ وطنا
… وَفِيه أنس لَك مغترب
هَذَا ثنائي مَعَ الخمول وَإِن
… نبه حظي أربى على الأرب
وعش طَويلا مكملا أدبا
… بسيط فضل ناء ومقترب
…وَقَالَ الشَّيْخ علم الدّين رَأَيْت فِي إجَازَة لِابْنِ الشَّهْر زورى الْموصِلِي خطّ الشَّيْخ تَقِيّ الدّين بن تَيْمِية وَقد كتب تَحْتَهُ الشَّيْخ شمس الدّين الذَّهَبِيّ
هَذَا خطّ شَيخنَا الإِمَام شيخ الْإِسْلَام فَرد الزَّمَان بَحر الْعُلُوم تَقِيّ الدّين مولده عَاشر ربيع الأول سنة إِحْدَى وَسِتِّينَ وسِتمِائَة وَقَرَأَ الْقُرْآن وَالْفِقْه وناظر وَاسْتدلَّ وَهُوَ دون الْبلُوغ وبرع فِي الْعلم
.. আমার এই ধাঁধার কোনো তুলনা নেই এবং এর কোনো নামকরণ করা হয়নি
… এমন কারো দ্বারা যার শ্রেষ্ঠত্ব ও শিষ্টাচারে কোনো সমকক্ষ নেই।
এক উপস্থিত প্রজ্ঞার দ্বারা যা জ্যোতি ছড়ায় এবং তা
… নক্ষত্ররাজির কোনো একটির আলোকেও অস্বীকার করে না।
সমগ্র ইসলামের শাইখদের শাইখ
… দুই দলের মুফতি, আরবদের প্রামাণ্য পুরুষ।
তিনি বাণীর মুক্তা দ্বারা আমার কর্ণকুহরকে সুশোভিত করেছেন
… যা বর্ণিত হয়ে মেঘমালার বারিবিন্দুর ন্যায় তৃষ্ণা নিবারণ করে।
আমার ধাঁধাটি প্রকৃতপক্ষে রূপার ছিল
… অনুভবে ও কাব্যে, অতঃপর তা স্বর্ণে পরিণত হয়েছে।
সুতরাং গৌরব হলো শিহাবের মাধ্যমে মর্যাদার জন্য, আর শিহাবের জন্য মর্যাদার মাধ্যমে যা বংশমর্যাদার শিখর।
এমন এক শিখর যা মেঘমালা মনে করে
… মেঘের মাঝে সূর্যোদয়ের এক বংশধর।
যদি তার শহরের চিহ্নসমূহ অনুসরণ করা হয়
… যা সর্বোত্তম ভূখণ্ড ও মাটি।
তবে দিগন্তের শহরটি এর বিনিময়ে তিনি গ্রহণ করেছেন
… এমন এক শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমে যা মাটির ঊর্ধ্বে আরোহণ করে।
আর আমার হৃদয় তার জন্য এক স্বদেশ হয়ে উঠেছে
… এবং এতে তোমার মতো প্রবাসীদের জন্য রয়েছে হৃদ্যতা।
নিভৃতচারী হওয়া সত্ত্বেও এটিই আমার প্রশংসা, আর যদি
… আমার ভাগ্য সুপ্রসন্ন হতো তবে তা সকল আকাঙ্ক্ষাকে ছাড়িয়ে যেত।
দীর্ঘজীবী হোন শিষ্টাচারে পূর্ণ হয়ে
… এক বিস্তৃত শ্রেষ্ঠত্ব যা নিকট ও দূর সর্বত্র পরিব্যপ্ত
…শাইখ আলম আদ-দীন বলেন: আমি ইবনে শাহরাজুরি আল-মাওসিলির একটি ইজাজতনামায় শাইখ তাকি আদ-দীন ইবনে তাইমিয়্যাহর হাতের লেখা দেখেছি, আর শাইখ শামস আদ-দীন আদ-দাহাবি তার নিচে লিখেছেন—
এটি আমাদের শাইখ, ইমাম, শাইখুল ইসলাম, সমকালীন অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব, জ্ঞানসমুদ্র তাকি আদ-দীনের হাতের লেখা। তাঁর জন্ম ৬৬১ হিজরির ১০ই রবিউল আউয়াল। তিনি বালেগ হওয়ার পূর্বেই কুরআন ও ফিকহ পাঠ করেছেন এবং বিতর্ক ও দলিল পেশ করেছেন এবং ইলমের ক্ষেত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-উকু দুদ দুররিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-ফিকী
(পৃষ্ঠা: ٣٩)
وَالتَّفْسِير وَأفْتى ودرس وَله نَحْو الْعشْرين سنة وصنف التصانيف وَصَارَ من كبار الْعلمَاء فِي حَيَاة شُيُوخه وَله من المصنفات الْكِبَار الَّتِي سَارَتْ بهَا الركْبَان وَلَعَلَّ تصانيفه فِي هَذَا الْوَقْت تكون أَرْبَعَة آلَاف كراس وَأكْثر وَفسّر كتاب الله تَعَالَى مُدَّة سنتَيْن من صَدره أَيَّام الْجمع وَكَانَ يتوقد ذكاء وسماعاته من الحَدِيث كَثِيرَة وشيوخه أَكثر من مِائَتي شيخ ومعرفته بالتفسير إِلَيْهَا الْمُنْتَهى وَحفظه للْحَدِيث وَرِجَاله وَصِحَّته وسقمه فَمَا يلْحق فِيهِ وَأما نَقله للفقه ومذاهب الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ فضلا عَن الْمذَاهب الْأَرْبَعَة فَلَيْسَ لَهُ فِيهِ نَظِير وَأما مَعْرفَته بالملل والنحل وَالْأُصُول وَالْكَلَام فَلَا أعلم لَهُ فِيهِ نظيرا ويدري جملَة صَالِحَة من اللُّغَة وعربيته قَوِيَّة جدا ومعرفته بالتاريخ وَالسير فَعجب عَجِيب وَأما شجاعته وجهاده وإقدامه فَأمر يتَجَاوَز الْوَصْف ويفوق النَّعْت وَهُوَ أحد الأجواد الأسخياء الَّذين يضْرب بهم الْمثل وَفِيه زهد وقناعة باليسير فِي المأكل والملبس
وَقَالَ الذَّهَبِيّ فِي مَوضِع آخر وَقد ذكر الشَّيْخ رحمه الله كَانَ آيَة فِي الذكاء وَسُرْعَة الْإِدْرَاك رَأْسا فِي معرفَة الْكتاب وَالسّنة وَالِاخْتِلَاف بحرا فِي النقليات هُوَ فِي زَمَانه فريد عصره علما وزهدا وشجاعة وسخاء وأمرا بِالْمَعْرُوفِ ونهيا عَن الْمُنكر وَكَثْرَة تصانيف
তিনি তাফসীর, ফতোয়া প্রদান এবং পাঠদান শুরু করেন যখন তাঁর বয়স ছিল প্রায় বিশ বছর। তিনি গ্রন্থসমূহ রচনা করেন এবং তাঁর শিক্ষকদের জীবদ্দশাতেই বড় আলেমদের অন্তর্ভুক্ত হন। তাঁর এমন সব বৃহৎ গ্রন্থ রয়েছে যা দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। সম্ভবত এই সময়ে তাঁর রচিত পাণ্ডুলিপির সংখ্যা চার হাজার কুরাস (পুস্তিকা) বা তার চেয়েও বেশি হবে। তিনি জুমার দিনগুলোতে দীর্ঘ দুই বছর পর্যন্ত নিজের স্মৃতি থেকে মহান আল্লাহর কিতাবের তাফসীর করেন। তিনি অত্যন্ত প্রখর মেধার অধিকারী ছিলেন। হাদীস শাস্ত্রে তাঁর শ্রবণ ছিল প্রচুর এবং তাঁর উস্তাদ বা শাইখের সংখ্যা দুই শতাধিক। তাফসীর শাস্ত্রে তাঁর জ্ঞান ছিল চূড়ান্ত পর্যায়ের। হাদীস মুখস্থ রাখা, বর্ণনাকারীগণের পরিচয় এবং হাদীসের বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা বিচারে তাঁর সমকক্ষ কেউ ছিল না। আর ফিকহ এবং সাহাবী ও তাবেঈগণের মাযহাব বর্ণনার ক্ষেত্রে—চার মাযহাবের কথা তো বলাই বাহুল্য—তাঁর কোনো নজির ছিল না। বিভিন্ন ধর্ম, উপদল, উসুল এবং ইলমুল কালাম বিষয়ে তাঁর জ্ঞানের ক্ষেত্রে আমি তাঁর কোনো সমতুল্য কাউকে জানি না। তিনি ভাষাতত্ত্বের একটি বড় অংশ জানতেন এবং তাঁর আরবী ভাষা ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। ইতিহাস ও সীরাত বিষয়ে তাঁর জ্ঞান ছিল এক বিস্ময়কর ব্যাপার। আর তাঁর সাহসিকতা, জিহাদ ও বীরত্ব এমন এক বিষয় যা বর্ণনাতীত এবং সকল প্রশংসার ঊর্ধ্বে। তিনি ছিলেন এমন এক দানশীল ও দাতা ব্যক্তি যাঁর উদাহরণ দেওয়া হয়। তাঁর মধ্যে ছিল যুহদ এবং খাদ্য ও পোশাকের ক্ষেত্রে সামান্য জিনিসেই তুষ্টির গুণ।
ইমাম যাহাবী অন্য এক স্থানে শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন: তিনি মেধা ও দ্রুত অনুধাবনের ক্ষেত্রে ছিলেন এক বিস্ময়কর নিদর্শন। কুরআন, সুন্নাহ এবং ইখতিলাফ বিষয়ক জ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অনন্য শীর্ষব্যক্তি। বর্ণনাভিত্তিক জ্ঞানসমূহের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন এক সমুদ্র। ইলম, যুহদ, সাহসিকতা, দানশীলতা, সৎকাজের আদেশ, অসৎকাজে নিষেধ এবং অধিক গ্রন্থ রচনার দিক থেকে তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের অপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্যক্তিত্ব।
(খণ্ড: ১)
আল-উকু দুদ দুররিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-ফিকী
(পৃষ্ঠা: ٤٠)
وَقَرَأَ وَحصل وبرع فِي الحَدِيث وَالْفِقْه وتأهل للتدريس وَالْفَتْوَى وَهُوَ ابْن سبع عشرَة سنة وَتقدم فِي علم التَّفْسِير وَالْأُصُول وَجَمِيع عُلُوم الْإِسْلَام أُصُولهَا وفروعها ودقها وجلها سوى علم الْقرَاءَات فَإِن ذكر التَّفْسِير فَهُوَ حَامِل لوائه وَإِن عد الْفُقَهَاء فَهُوَ مجتهدهم الْمُطلق وَإِن حضر الْحفاظ نطق وخرسوا وسرد وأبلسوا وَاسْتغْنى وأفلسوا وَإِن سمي المتكلمون فَهُوَ فردهم وَإِلَيْهِ مرجعهم وَإِن لَاحَ ابْن سينا يقدم الفلاسفة فَلهم وتيسهم وهتك أستارهم وكشف عوارهم وَله يَد طولى فِي معرفَة الْعَرَبيَّة وَالصرْف واللغة وَهُوَ أعظم من أَن يصفه كلمي أَو يُنَبه على شأوه قلمي فَإِن سيرته وعلومه ومعارفه ومحنه وتنقلاته تحْتَمل أَن ترصع فِي مجلدتين وَهُوَ بشر من الْبشر لَهُ ذنُوب فَالله تَعَالَى يغْفر لَهُ ويسكنه أَعلَى جنته فَإِنَّهُ كَانَ رباني الْأمة وفريد الزَّمَان وحامل لِوَاء الشَّرِيعَة وَصَاحب معضلات الْمُسلمين وَكَانَ رَأْسا فِي الْعلم يُبَالغ فِي إطراء قِيَامه فِي الْحق وَالْجهَاد وَالْأَمر بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْي عَن الْمُنكر مُبَالغَة مَا رَأَيْتهَا وَلَا شاهدتها من أحد وَلَا لحظتها من فَقِيه
وَقَالَ فِي مَكَان آخر ذكر فِيهِ تَرْجَمَة طَوِيلَة للشَّيْخ قبل وَفَاة الشَّيْخ بدهر طَوِيل
قلت وَله خبْرَة تَامَّة بِالرِّجَالِ وجرحهم وتعديلهم وطبقاتهم وَمَعْرِفَة
তিনি হাদিস ও ফিকহ পাঠ করেন, জ্ঞান অর্জন করেন এবং তাতে পারদর্শী হয়ে ওঠেন। মাত্র সতেরো বছর বয়সেই তিনি অধ্যাপনা ও ফতোয়া প্রদানের যোগ্যতা লাভ করেন। তিনি তাফসির শাস্ত্র, উসুল এবং ইসলামের যাবতীয় জ্ঞান—এর মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখা, সূক্ষ্ম ও স্থূল বিষয়াদিতে পাণ্ডিত্য অর্জন করেন, তবে কিরাআত শাস্ত্র ব্যতীত। যদি তাফসিরের আলোচনা করা হয়, তবে তিনি এর পতাকাবাহী; আর যদি ফকিহদের গণনা করা হয়, তবে তিনি তাঁদের মধ্যে মুজতাহিদ-ই-মুতলাক (নিরঙ্কুশ গবেষণাকারী)। যখন হাফেজগণ উপস্থিত হন, তিনি কথা বলেন আর তারা নিশ্চুপ হয়ে যান; তিনি গড়গড় করে বর্ণনা করে যান আর তারা হতবুদ্ধি হয়ে পড়েন; তিনি জ্ঞানসমৃদ্ধ থাকেন আর তারা রিক্ত হয়ে যান। যদি ইলমে কালামের পণ্ডিতদের নাম নেওয়া হয়, তবে তিনি তাঁদের মধ্যে অনন্য এবং তাঁদের শেষ আশ্রয়স্থল। যদি ইবনে সিনা দার্শনিকদের নিয়ে উপস্থিত হন, তবে তিনি তাদের অসারতা প্রমাণকারী; তিনি তাদের রহস্য উন্মোচন করেছেন এবং তাদের ত্রুটিসমূহ ফাঁস করে দিয়েছেন। আরবি ভাষা, সরফ (শব্দতত্ত্ব) ও অভিধান শাস্ত্রে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য রয়েছে। তিনি আমার শব্দের বর্ণনার চেয়েও মহান অথবা আমার কলম তাঁর সুউচ্চ মর্যাদার নাগাল পাওয়া থেকে অনেক উর্ধ্বে। কারণ তাঁর জীবনী, ইলম, মা’রিফাত, পরীক্ষা ও সফরসমূহ দুই বিশাল খণ্ডে লিপিবদ্ধ করার যোগ্য। তিনি তো মানুষের মধ্যেই একজন মানুষ, তাঁরও ভুলভ্রান্তি রয়েছে; আল্লাহ তাআলা তাঁকে ক্ষমা করুন এবং তাঁর জান্নাতের সুউচ্চ মাকামে স্থান দান করুন। কেননা তিনি ছিলেন এই উম্মতের রব্বানী আলেম, সমকালীন অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব, শরীয়তের পতাকাবাহী এবং মুসলমানদের জটিল সমস্যাবলির সমাধানকারী। তিনি ছিলেন ইলমের প্রধান কেন্দ্র। সত্যের ওপর অটল থাকা, জিহাদ এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের ক্ষেত্রে তাঁর দৃঢ়তার প্রশংসা এমন অতিরঞ্জিতভাবে করা হতো যা আমি অন্য কারো মধ্যে দেখিনি, কারো পক্ষ থেকে প্রত্যক্ষ করিনি এবং কোনো ফকিহের মাঝেও লক্ষ্য করিনি।
তিনি অন্য এক স্থানে শাইখের মৃত্যুর দীর্ঘকাল পূর্বে তাঁর একটি দীর্ঘ জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন—
আমি বলছি, রাবিদের (বর্ণনাকারী) অবস্থা, তাদের জারহ ও তা’দীল (সমালোচনা ও গুণগান), তাদের স্তরবিন্যাস এবং পরিচিতি সম্পর্কে তাঁর পূর্ণ অভিজ্ঞতা ছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-উকু দুদ দুররিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-ফিকী
(পৃষ্ঠা: ٤١)
بفنون الحَدِيث وبالعالي والنازل وبالصحيح والسقيم مَعَ حفظه لمتونه الَّذِي انْفَرد بِهِ فَلَا يبلغ أحد فِي الْعَصْر رتبته وَلَا يُقَارِبه وَهُوَ عجب فِي استحضاره واستخراج الْحجَج مِنْهُ وَإِلَيْهِ الْمُنْتَهى فِي عزوه إِلَى الْكتب السِّتَّة والمسند بِحَيْثُ يصدق عَلَيْهِ أَن يُقَال كل حَدِيث لَا يعرفهُ ابْن تَيْمِية فَلَيْسَ بِحَدِيث وَلَكِن الْإِحَاطَة لله غير أَنه يغترف من بَحر وَغَيره من الْأَئِمَّة يَغْتَرِفُونَ من السواقي وَأما التَّفْسِير فَمُسلم إِلَيْهِ وَله فِي استحضار الْآيَات من الْقُرْآن وَقت إِقَامَة الدَّلِيل بهَا على الْمَسْأَلَة قُوَّة عَجِيبَة وَإِذا رَآهُ المقرىء تحير فِيهِ ولفرط إِمَامَته فِي التَّفْسِير وعظمة اطِّلَاعه يبين خطأ كثير من أَقْوَال الْمُفَسّرين ويوهى أقوالا عديدة وينصر قولا وَاحِدًا مُوَافقا لما دلّ عَلَيْهِ الْقُرْآن والْحَدِيث وَيكْتب فِي الْيَوْم وَاللَّيْل من التَّفْسِير أَو من الْفِقْه اَوْ من الأصولين أَو من الرَّد على الفلاسفة والأوائل نَحوا من أَرْبَعَة كراريس أَو أَزِيد وَمَا أبعد ان تصانيفه إِلَى الْآن تبلغ خَمْسمِائَة مجلدة وَله فِي غير الْمَسْأَلَة مُصَنف مُفْرد فِي مُجَلد ثمَّ ذكر بعض تصانيفه وَقَالَ وَمِنْهَا كتاب فِي الْمُوَافقَة بَين الْمَعْقُول وَالْمَنْقُول فِي مجلدين
قلت هَذَا الْكتاب وَهُوَ كتاب دَرْء تعَارض الْعقل وَالنَّقْل فِي أَربع مجلدات كبار وَبَعض النّسخ بِهِ فِي اكثر من أَربع مجلدات وَهُوَ
হাদিসের বিভিন্ন শাখা, উচ্চ ও নিম্ন সনদ এবং সহিহ ও দুর্বল হাদিস বর্ণনায় পারদর্শিতার পাশাপাশি হাদিসের মতন (মূল পাঠ) মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অনন্য, যে স্তরে এ যুগে আর কেউ পৌঁছাতে পারেনি এবং তাঁর সমকক্ষও হতে পারেনি। হাদিস উপস্থিত করা এবং তা থেকে দলিল উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে তিনি এক বিস্ময়। কুতুবে সিত্তা এবং মুসনাদ গ্রন্থসমূহের দিকে হাদিসকে সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে তিনি এমন এক চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিলেন যে, তাঁর সম্পর্কে এ কথা বলা যথার্থ যে—"যে হাদিস ইবনে তাইমিয়্যাহ জানেন না, সেটি হাদিসই নয়।" তবে সবকিছুর পূর্ণ জ্ঞান কেবল আল্লাহর জন্যই; তবে অন্যান্য ইমামগণ যেখানে ছোট ছোট নালা থেকে পানি সংগ্রহ করেন, তিনি সেখানে এক বিশাল সমুদ্র থেকে জ্ঞান আহরণ করেন। আর তাফসিরের ক্ষেত্রে তো তিনি ছিলেন একচ্ছত্র প্রামাণ্য ব্যক্তিত্ব। কোনো মাসআলায় দলিল পেশ করার সময় কুরআন থেকে আয়াত উপস্থিত করার ক্ষেত্রে তাঁর ছিল অদ্ভুত ক্ষমতা। কোনো বিজ্ঞ ক্বারি যখন তাঁকে দেখতেন, তখন তিনি বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে যেতেন। তাফসির শাস্ত্রে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও গভীর অধ্যয়নের কারণে তিনি মুফাসসিরদের অনেক মতের ভুল ধরিয়ে দিতেন, অসংখ্য মতকে দুর্বল প্রমাণিত করতেন এবং কুরআন ও হাদিসের দলিলাদির সাথে সংগতিপূর্ণ একটি মতকেই জোরালোভাবে সমর্থন করতেন। তিনি দিন ও রাতে তাফসির, ফিকহ, উভয় উসুল (ধর্মতত্ত্ব ও ফিকহের মূলনীতি) কিংবা দার্শনিক ও প্রাচীনদের খণ্ডন বিষয়ে প্রায় চারটি বা তার অধিক খাতা লিখে ফেলতেন। এটি অসম্ভব নয় যে, বর্তমানে তাঁর রচনাবলি পাঁচশ খণ্ডে উন্নীত হয়েছে। এমনকি কোনো বিশেষ একটি মাসআলার ওপরই তাঁর এক খণ্ডের স্বতন্ত্র কিতাব রয়েছে। এরপর তিনি তাঁর কিছু রচনার কথা উল্লেখ করে বলেন: "এর মধ্যে বিবেক ও শ্রুতির সামঞ্জস্য বিধান নিয়ে দুই খণ্ডের একটি কিতাব রয়েছে।"
আমি বলছি, এটিই হলো 'দারউ তাআরিযিল আকলি ওয়ান নাকলি' নামক কিতাব, যা বড় চার খণ্ডে এবং কোনো কোনো কপিতে চার খণ্ডেরও বেশি পরিমাণে রয়েছে। আর এটি...
(খণ্ড: ১)
আল-উকু দুদ দুররিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-ফিকী
(পৃষ্ঠা: ٤٢)
كتاب حافل عَظِيم الْمِقْدَار رد الشَّيْخ فِيهِ على الفلاسفة والمتكلمين
وَله كتاب فِي نَحْو مُجَلد أجَاب فِيهِ عَمَّا أوردهُ كَمَال الدّين بن الشريسى على هَذَا الْكتاب
وللشيخ رحمه الله من المصنفات والفتاوى وَالْقَوَاعِد والأجوبة والرسائل وَغير ذَلِك من الْفَوَائِد مَالا يَنْضَبِط وَلَا أعلم أحدا من مُتَقَدِّمي الْأمة وَلَا متأخريها جمع مثل مَا جمع وَلَا صنف نَحْو مَا صنف وَلَا قَرِيبا من ذَلِك مَعَ أَن أَكثر تصانيفه إِنَّمَا أملاها من حفظه وَكثير مِنْهَا صنفه فِي الْحَبْس وَلَيْسَ عِنْده مَا يحْتَاج إِلَيْهِ من الْكتب
مصنفات الشَّيْخ رحمه الله وَهَا أَنا أذكر بعض مصنفاته ليقف عَلَيْهَا من أحب مَعْرفَتهَا
فَمن ذَلِك مَا جمعه فِي تَفْسِير الْقُرْآن الْعَظِيم وَمَا جمعه من أَقْوَال مفسري السّلف الَّذين يذكرُونَ الْأَسَانِيد فِي كتبهمْ وَذَلِكَ فِي أَكثر من ثَلَاثِينَ مجلدا وَقد بيض أَصْحَابه بعض ذَلِك وَكَثِيرًا مِنْهُ لم يكتبوه بعد وَكَانَ رحمه الله يَقُول رُبمَا طالعت على الْآيَة الْوَاحِدَة نَحْو مائَة تَفْسِير ثمَّ أسأَل الله الْفَهم وَأَقُول يَا معلم آدم وَإِبْرَاهِيم عَلمنِي وَكنت أذهب إِلَى الْمَسَاجِد المهجورة وَنَحْوهَا وأمرغ وَجْهي فِي التُّرَاب وأسأل الله تَعَالَى وَأَقُول يَا معلم إِبْرَاهِيم فهمني وَيذكر قصَّة معَاذ بن جبل
এটি একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও উচ্চমানের গ্রন্থ, যেখানে শাইখ দার্শনিক এবং কালামশাস্ত্রবিদদের মতবাদ খণ্ডন করেছেন।
এবং তাঁর প্রায় এক খণ্ডের একটি গ্রন্থ রয়েছে, যেখানে তিনি এই কিতাবটির ওপর কামালুদ্দিন ইবনুল শারিসি-এর উত্থাপিত আপত্তিসমূহের উত্তর দিয়েছেন।
শাইখ (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)-এর রচিত গ্রন্থসমূহ, ফতোয়া, উসুল বা মূলনীতি, প্রশ্নোত্তর, পত্রাবলী এবং অন্যান্য জ্ঞানগর্ভ রচনার সংখ্যা অপরিসীম। আমি এই উম্মতের পূর্ববর্তী বা পরবর্তী এমন কাউকে চিনি না যিনি তাঁর মতো এত জ্ঞান একত্রিত করেছেন বা তাঁর মতো কিতাব রচনা করেছেন, এমনকি এর কাছাকাছিও কেউ নেই। অথচ তাঁর অধিকাংশ রচনাবলী তিনি তাঁর স্মৃতি থেকে শ্রুতিলিপি হিসেবে দিয়েছেন এবং এর মধ্যে অনেকগুলোই তিনি কারাবন্দী অবস্থায় রচনা করেছেন, যখন তাঁর কাছে প্রয়োজনীয় কোনো কিতাবও ছিল না।
শাইখ (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)-এর রচনাবলী এবং এখন আমি তাঁর কিছু রচনাবলীর উল্লেখ করছি, যাতে যারা তা জানতে আগ্রহী তারা তা অবগত হতে পারেন।
তন্মধ্যে একটি হলো মহান কুরআনের তাফসির সংক্রান্ত তাঁর সংগ্রহ এবং সালাফ মুফাসসিরগণের বক্তব্যসমূহ যা তিনি সংকলন করেছেন—যারা তাঁদের কিতাবসমূহে সনদ উল্লেখ করতেন—আর তা ত্রিশ খণ্ডেরও বেশি। তাঁর সাথীবৃন্দ এর কিছু অংশ পাণ্ডুলিপি থেকে পরিচ্ছন্নভাবে লিখে শেষ করেছেন এবং এর অনেক অংশই তারা এখনও লিখে উঠতে পারেননি। তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) বলতেন: "মাঝে মাঝে আমি একটি আয়াতের ওপর প্রায় একশটি তাফসির অধ্যয়ন করতাম, এরপর আল্লাহর কাছে সঠিক বুঝ প্রার্থনা করতাম এবং বলতাম—'হে আদম ও ইব্রাহিমের শিক্ষক! আমাকে শিক্ষা দিন'। আমি পরিত্যক্ত মসজিদসমূহে বা এই জাতীয় নির্জন স্থানে যেতাম এবং ধূলিময় মাটিতে নিজের চেহারা লেপে দিতাম আর মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে বলতাম—'হে ইব্রাহিমের শিক্ষক! আমাকে সঠিক বুঝ দান করুন'।" এবং তিনি মুয়াজ ইবনে জাবাল-এর ঘটনা উল্লেখ করতেন।
(খণ্ড: ১)
আল-উকু দুদ দুররিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-ফিকী
(পৃষ্ঠা: ٤٣)
وَقَوله لمَالِك بن يخَامر لما بَكَى عِنْد مَوته وَقَالَ إِنِّي لَا أبْكِي على دنيا كنت أصيبها مِنْك وَلَكِن أبْكِي على الْعلم وَالْإِيمَان الَّذين كنت أتعلمهما مِنْك فَقَالَ إِن الْعلم وَالْإِيمَان مكانهما من ابتغاهما وجدهما فاطلب الْعلم عِنْد أَرْبَعَة فَإِن أعياك الْعلم عِنْد هَؤُلَاءِ فَلَيْسَ هُوَ فِي الأَرْض فاطلبه من معلم ابراهيم
قَالَ الشَّيْخ أَبُو عبد الله بن رَشِيق وَكَانَ من أخص أَصْحَاب شَيخنَا وَأَكْثَرهم كِتَابَة لكَلَامه وحرصا على جمعه كتب الشَّيْخ رحمه الله نقُول السّلف مُجَرّدَة عَن الِاسْتِدْلَال على جَمِيع الْقُرْآن وَكتب فِي أَوله قِطْعَة كَبِيرَة بالاستدلال وَرَأَيْت لَهُ سورا وآيات يُفَسِّرهَا وَيَقُول فِي بَعْضهَا كتبته للتذكر وَنَحْو ذَلِك ثمَّ لما حبس فِي آخر عمره كتبت لَهُ أَن يكْتب على جَمِيع الْقُرْآن تَفْسِيرا مُرَتبا على السُّور فَكتب يَقُول إِن الْقُرْآن فِيهِ مَا هُوَ بَين بِنَفسِهِ وَفِيه مَا قد بَينه الْمُفَسِّرُونَ فِي غير كتاب وَلَكِن بعض الْآيَات أشكل تَفْسِيرهَا على جمَاعَة من الْعلمَاء فَرُبمَا يطالع الْإِنْسَان عَلَيْهَا عدَّة كتب وَلَا يتَبَيَّن لَهُ تَفْسِيرهَا وَرُبمَا كتب المُصَنّف الْوَاحِد فِي آيَة تَفْسِيرا ويفسر غَيرهَا بنظيره فقصدت تَفْسِير تِلْكَ الْآيَات بِالدَّلِيلِ لِأَنَّهُ أهم من غَيره
এবং মালিক বিন ইউখামিরের প্রতি তাঁর উক্তি, যখন তিনি তাঁর মৃত্যুর সময় কাঁদছিলেন এবং বলছিলেন: "আমি আপনার নিকট থেকে প্রাপ্ত পার্থিব কোনো বিষয়ের জন্য কাঁদছি না, বরং আমি কাঁদছি সেই জ্ঞান ও ঈমানের জন্য যা আমি আপনার নিকট থেকে শিক্ষা করতাম।" তখন তিনি বললেন: "জ্ঞান ও ঈমান তাদের নিজ স্থানেই বিদ্যমান, যে ব্যক্তি এ দুটি অন্বেষণ করবে সে তা খুঁজে পাবে। অতএব তুমি চারজন ব্যক্তির নিকট জ্ঞান অন্বেষণ করো। যদি তাদের নিকট জ্ঞান লাভে তুমি ব্যর্থ হও, তবে তা জমিনে আর কোথাও নেই। এমতাবস্থায় তুমি ইবরাহীমের শিক্ষাদাতার নিকট তা অন্বেষণ করো।"
শায়খ আবু আব্দুল্লাহ বিন রাশীক—যিনি আমাদের শায়খের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সাথী এবং তাঁর বক্তব্য লিপিবদ্ধকরণ ও তা সংকলনের বিষয়ে সর্বাধিক যত্নশীল ছিলেন—তিনি বলেন: "শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) পুরো কুরআনের ওপর দলিল-প্রমাণ ছাড়াই স্রেফ সালাফদের উদ্ধৃতিগুলো লিখেছিলেন। তবে এর শুরুতে তিনি দলিল-প্রমাণসহ একটি বড় অংশ লিখেছিলেন। আমি তাঁর এমন কিছু সূরা ও আয়াতের ব্যাখ্যা দেখেছি যেগুলোর কয়েকটির ক্ষেত্রে তিনি বলতেন: 'আমি এটি স্মারক হিসেবে লিখেছি' বা এই জাতীয় কিছু। অতঃপর তাঁর জীবনের শেষভাগে যখন তিনি কারারুদ্ধ হলেন, তখন আমি তাঁকে পূর্ণ কুরআনের ওপর সূরা অনুযায়ী ধারাবাহিক একটি তাফসীর লেখার জন্য পত্র লিখলাম। উত্তরে তিনি লিখেছিলেন: 'কুরআনের মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা নিজেই সুষ্পষ্ট, আবার এমন কিছু রয়েছে যা মুফাসসিরগণ বিভিন্ন কিতাবে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু কিছু আয়াতের তাফসীর একদল আলেমের নিকট জটিল হয়ে পড়েছে; মানুষ হয়তো সে বিষয়ে অনেকগুলো কিতাব অধ্যয়ন করে, তবুও তার কাছে এর তাফসীর পরিষ্কার হয় না। অনেক সময় একজন লেখক একটি আয়াতের এক রকম তাফসীর করেন আবার অন্য আয়াতের তাফসীর তার সদৃশ বিষয়ের আলোকে করেন। তাই আমি দলিলসহ সেই আয়াতগুলোর তাফসীর করার সংকল্প করেছি, কারণ এটি অন্য বিষয়ের চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ'।"
(খণ্ড: ১)
আল-উকু দুদ দুররিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-ফিকী
(পৃষ্ঠা: ٤٤)
وَإِذا تبين معنى آيَة تبين مَعَاني نظائرها وَقَالَ قد فتح الله عَليّ فِي هَذِه الْمرة من مَعَاني الْقُرْآن وَمن أصُول الْعلم بأَشْيَاء كَانَ كثير من الْعلمَاء يتمنونها وندمت على تَضْييع أَكثر أوقاتي فِي غير مَعَاني الْقُرْآن أَو نَحْو هَذَا وَأرْسل إِلَيْنَا شَيْئا يَسِيرا مِمَّا كتبه فِي هَذَا الْحَبْس وَبَقِي شَيْء كثير فِي مَسْأَلَة الحكم عِنْد الْحُكَّام لما أخرجُوا كتبه من عِنْده وَتُوفِّي وَهِي عِنْدهم إِلَى هَذَا الْوَقْت نَحْو أَربع عشرَة رزمة ثمَّ ذكر الشَّيْخ أَبُو عبد الله مَا رَآهُ ووقف عَلَيْهِ من تَفْسِير الشَّيْخ
قلت وَمن مصنفاته تَفْسِير سُورَة الصَّمد وَجَوَاب سُؤال عَن كَلَام الله تَعَالَى هَل يتفاضل وَمن مصنفاته كتاب بَيَان تلبيس الْجَهْمِية فِي تأسيس بدعهم الكلامية فِي سِتّ مجلات وَبَعض النّسخ مِنْهُ فِي أَكثر من ذَلِك وَهُوَ كتاب جليل الْمِقْدَار مَعْدُوم النظير كشف الشَّيْخ فِيهِ أسرار الْجَهْمِية وهتك أستارهم وَلَو رَحل طَالب الْعلم لأجل تَحْصِيله إِلَى الصين مَا ضَاعَت رحلته وَمِنْهَا كتاب منهاج السّنة النَّبَوِيَّة فِي نقض كَلَام الشِّيعَة الْقَدَرِيَّة فِي ثَلَاث مجلدات وَبَعض النّسخ فِي أَربع مجلدات رد فِيهِ على ابْن المطهر الرافضي وَبَين جهل الرافضة وضلالتهم وكذبهم وافتراءهم وَمِنْهَا كتاب
যখন কোনো আয়াতের অর্থ স্পষ্ট হয়ে যায়, তখন তার অনুরূপ অন্যান্য আয়াতের অর্থও স্পষ্ট হয়ে যায়। এবং তিনি বলেন, আল্লাহ এবার আমার জন্য কুরআনের এমন সব অর্থ এবং ইলমের এমন সব মূলনীতি উন্মোচন করেছেন যা অনেক আলেম কামনা করতেন। এবং আমি কুরআনের অর্থ ব্যতীত অন্য বিষয়ে আমার অধিকাংশ সময় নষ্ট করার জন্য অনুতপ্ত হয়েছি - অথবা এই জাতীয় কিছু। এই কারাবন্দী অবস্থায় তিনি যা লিখেছিলেন তার থেকে সামান্য কিছু অংশ আমাদের কাছে পাঠিয়েছিলেন। আর শাসকদের নিকট বিচারের মাসআলা সংক্রান্ত অনেক কিছু রয়ে গিয়েছিল যখন তারা তার কাছ থেকে তার কিতাবসমূহ বের করে নিয়ে যায়। তিনি ইন্তেকাল করেন এবং এই সময় পর্যন্ত প্রায় চৌদ্দটি স্তূপ তাদের কাছেই ছিল। অতঃপর শায়খ আবু আব্দুল্লাহ শায়খের তাফসীরের যে অংশটি দেখেছিলেন এবং অবগত হয়েছিলেন তা উল্লেখ করেছেন।
আমি বলি, তার রচনাবলির মধ্যে রয়েছে সূরা আস-সামাদের তাফসীর এবং আল্লাহর কালামের শ্রেষ্ঠত্ব কমবেশি হয় কি না - সে সম্পর্কিত একটি প্রশ্নের উত্তর। তার রচনাবলির মধ্যে আরও রয়েছে ছয় খণ্ডে সমাপ্ত ‘বায়ানু তালবিসিল জাহমিয়্যাহ ফী তাসীসি বিদা’ইহিমুল কালামিয়্যাহ’ নামক কিতাবটি। কোনো কোনো নুসখায় এটি এর চেয়েও বেশি খণ্ডে রয়েছে। এটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এবং অতুলনীয় একটি কিতাব। এতে শায়খ জাহমিয়্যাহদের গোপন রহস্য উন্মোচন করেছেন এবং তাদের পর্দা ফাঁস করে দিয়েছেন। যদি কোনো ইলম অন্বেষণকারী এটি সংগ্রহের জন্য চীন পর্যন্ত সফর করে, তবে তার সেই সফর বৃথা যাবে না। তার মধ্যে আরও রয়েছে তিন খণ্ডে সমাপ্ত ‘মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ফী নাকদি কালামিশ শিয়াতিল কাদারিয়্যাহ’ নামক কিতাবটি। কোনো কোনো নুসখায় এটি চার খণ্ডে রয়েছে। এতে তিনি ইবনুল মুতাহহির আর-রাফিযীর দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছেন এবং রাফেযীদের মূর্খতা, পথভ্রষ্টতা, মিথ্যাচার ও অপবাদগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছেন। আর তার মধ্যে আরও রয়েছে একটি কিতাব...
(খণ্ড: ১)
আল-উকু দুদ দুররিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-ফিকী
(পৃষ্ঠা: ٤٥)
جَوَاب الاعتراضات المصرية على الْفتيا الحموية فِي أَربع مجلدات وَبَعض النّسخ مِنْهُ فِي أقل وَهُوَ كتاب عَزِيز الْفَوَائِد سهل التَّنَاوُل وَمِنْهَا كتاب الرَّد على النَّصَارَى سَمَّاهُ الْجَواب الصَّحِيح لمن بدل دين الْمَسِيح فِي مجلدين وَبَعض النّسخ مِنْهُ فِي ثَلَاث مجلدات وَبَعضهَا فِي أَكثر وَكَذَلِكَ كثير من كتبه الْكِبَار تخْتَلف النّسخ بهَا
وَهَذَا الْكتاب من أجل الْكتب وأكثرها فَوَائِد ويشتمل على تثبيت النبوات وتقريرها بالبراهين النيرة الْوَاضِحَة وعَلى تَفْسِير آي كثير من الْقُرْآن وعَلى غير ذَلِك من الْمُهِمَّات
وَمِنْهَا كتاب الْإِيمَان فِي مُجَلد وَهُوَ كتاب عَظِيم لم يسْبق إِلَى مثله وَمِنْهَا كتاب الاسْتقَامَة فِي مجلدين وَهُوَ من أجل الْكتب وأكثرها نفعا وَمِنْهَا كتاب تَنْبِيه الرجل الْعَاقِل على تمويه الجدل الْبَاطِل فِي مُجَلد وَهُوَ من أحسن الْكتب وأكثرها فَوَائِد قَالَ فِي خطبَته
الْحَمد لله الْعَلِيم الْقَدِير الْخَالِق اللَّطِيف الْخَبِير الرَّزَّاق السَّمِيع الْبَصِير الْحَلِيم الصَّادِق الْعلي الْكَبِير الْفَائِق الرَّائِق الَّذِي يسن المناهج والشرائع وَيبين الطرائق وَينصب الْأَعْلَام الطوالع لكشف الْحَقَائِق وَينزل الْآيَات والدلائل لبَيَان الْجَوَامِع والفوارق ويقذف بِالْحَقِّ على الْبَاطِل فيدمغه فَإِذا هُوَ زاهق أَحْمَده ثَنَاء عَلَيْهِ بأسمائه الْحسنى وَصِفَاته العلى وشكرا لَهُ على نعمه
‘আল-ফুতওয়া আল-হামাউইয়্যাহ’-এর ওপর মিশরীয় আপত্তিসমূহের জবাব চার খণ্ডে সমাপ্ত, তবে কিছু পাণ্ডুলিপিতে এর চেয়েও কম; এটি অত্যন্ত মূল্যবান উপকারিতাসমৃদ্ধ এবং সহজবোধ্য একটি গ্রন্থ। তাঁর গ্রন্থসমূহের মধ্যে নাসারাদের (খ্রিস্টানদের) খণ্ডনে একটি কিতাব রয়েছে, যার নাম তিনি দিয়েছেন ‘মাসীহ-এর দ্বীন পরিবর্তনকারীদের জন্য সঠিক জবাব’; এটি দুই খণ্ডে রচিত, কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে তিন খণ্ডে এবং কিছু পাণ্ডুলিপিতে এর চেয়েও বেশি। একইভাবে তাঁর বড় বড় কিতাবগুলোর অধিকাংশের ক্ষেত্রেই পাণ্ডুলিপিভেদে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।
আর এই কিতাবটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এবং সর্বাধিক ফায়দাজনক গ্রন্থগুলোর অন্যতম। এটি উজ্জ্বল ও সুস্পষ্ট দলীল-প্রমাণের মাধ্যমে নবুওয়াতকে সাব্যস্ত ও সুপ্রতিষ্ঠিত করার বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করে। সেই সাথে এতে কুরআনের অনেক আয়াতের তাফসীর এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি বিদ্যমান রয়েছে।
তাঁর কিতাবসমূহের মধ্যে রয়েছে এক খণ্ডের ‘ঈমানের কিতাব’; এটি এমন এক মহান গ্রন্থ যার কোনো নজির ইতিপূর্বে দেখা যায়নি। তাঁর গ্রন্থসমূহের মধ্যে আরও রয়েছে দুই খণ্ডের ‘অবিচলতার কিতাব’; এটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এবং অত্যন্ত উপকারী কিতাবগুলোর একটি। তাঁর গ্রন্থরাজির মধ্যে আরও রয়েছে এক খণ্ডের ‘বাতিল বিতর্কের বিভ্রান্তির বিষয়ে বুদ্ধিমান ব্যক্তিকে সতর্কীকরণ’; এটি অন্যতম উত্তম এবং অত্যন্ত ফায়দাজনক কিতাব। তিনি এর খুতবায় (ভূমিকায়) বলেছেন:
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান, স্রষ্টা, সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক অবহিত, রিযিকদাতা, সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা, সহনশীল, সত্যবাদী, সুউচ্চ, মহান এবং শ্রেষ্ঠ ও অতুলনীয়; যিনি জীবনপদ্ধতি ও শরীয়তসমূহ প্রণয়ন করেন, পথসমূহ স্পষ্ট করেন, সত্য উন্মোচনের জন্য উদীয়মান নিদর্শনসমূহ স্থাপন করেন, সাধারণ ও বিশেষ পার্থক্যের বর্ণনার জন্য আয়াত ও প্রমাণাদি অবতীর্ণ করেন এবং মিথ্যার ওপর সত্য নিক্ষেপ করেন যা মিথ্যাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়, ফলে তৎক্ষণাৎ মিথ্যা বিলুপ্ত হয়। আমি তাঁর সুন্দর নামসমূহ এবং সুউচ্চ গুণাবলীর মাধ্যমে তাঁর প্রশংসা ও গুণগান করছি এবং তাঁর নিআমতসমূহের জন্য তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।