(খণ্ড: ১)
আশ-শাহাদাতুয যাকিয়্যাহ ফী সানাউল আইম্মাহ আলা ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الشهادة الزكية في ثناء الأئمة على ابن تيمية القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: الشهادة الزكية في ثناء الأئمة على ابن تيمية
المؤلف: مرعي بن يوسف بن أبى بكر بن أحمد الكرمى المقدسي الحنبلى (ت 1033هـ)
المحقق: نجم عبد الرحمن خلف
الناشر: دار الفرقان , مؤسسة الرسالة - بيروت
الطبعة: الأولى، 1404
عدد الصفحات: 98
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনে তাইমিয়্যার প্রশংসায় ইমামগণের পবিত্র সাক্ষ্য বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
গ্রন্থ: ইবনে তাইমিয়্যার প্রশংসায় ইমামগণের পবিত্র সাক্ষ্য
লেখক: মারঈ বিন ইউসুফ বিন আবি বকর বিন আহমাদ আল-কারমি আল-মাকদিসি আল-হাম্বলি (মৃ. ১০৩৩ হি.)
সম্পাদক: নাজমু আবদুর রহমান খালাফ
প্রকাশক: দারুল ফুরকান, মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম، ১৪০৪
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৮
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আশ-শাহাদাতুয যাকিয়্যাহ ফী সানাউল আইম্মাহ আলা ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيمقَالَ العَبْد الْفَقِير إِلَى الله تَعَالَى مرعي بن يُوسُف الْحَنْبَلِيّ الْمَقْدِسِي لطف الله تَعَالَى بِهِ آمين
الْحَمد لله رَافع مقَام الْعلمَاء العاملين وقامع أهل الزيغ المائلين
وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على أفضل الْخلق أَجْمَعِينَ وعَلى آله وَأَصْحَابه الطيبين الطاهرين وعَلى التَّابِعين وتابع التَّابِعين لَهُم بِإِحْسَان إِلَى يَوْم الدّين
وَبعد فَهَذِهِ كَلِمَات منيرة وعبارات مستنيرة فِي ثَنَاء الْأَئِمَّة الْأَعْلَام على شيخ الْإِسْلَام بَحر الْعُلُوم ترجمان الْقُرْآن مفتي الْفرق أوحد الْمُجْتَهدين أبي الْعَبَّاس أَحْمد تَقِيّ الدّين ابْن الشَّيْخ الإِمَام شيخ الْإِسْلَام مجد الدّين عبد السَّلَام بن عبد الله بن الْخضر بن مُحَمَّد بن الْخضر بن عَليّ بن عبد الله بن تَيْمِية
وَاخْتلف لم قيل ابْن تَيْمِية
فَقيل إِن جده مُحَمَّد بن الْخضر حج على درب تيما فَرَأى
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।আল্লাহ তাআলার মুখাপেক্ষী বান্দা মারঈ ইবনে ইউসুফ আল-হাম্বালি আল-মাকদিসি—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি অনুগ্রহ করুন, আমিন—বলেন:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমলকারী আলেমগণের মর্যাদা সমুন্নত করেছেন এবং বিচ্যুত ও বিভ্রান্ত লোকদের দমন করেছেন।
এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সকল সৃষ্টির সেরা মানবের ওপর এবং তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর, আর কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী হয়েছেন এবং তাঁদের অনুসারীদের অনুসারী হয়েছেন তাদের ওপর।
অতঃপর, এগুলো হলো কিছু উজ্জ্বল বাণী এবং আলোকিত অভিব্যক্তি, যা বরেণ্য ইমামগণ কর্তৃক শাইখুল ইসলাম, ইলমের সমুদ্র, কুরআনের ভাষ্যকার, দলসমূহের মুফতি, অদ্বিতীয় মুজতাহিদ আবুল আব্বাস আহমদ তাকিউদ্দীন—যিনি ইমাম শাইখুল ইসলাম মাজদুদ্দীন আবদুস সালাম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আল-খিজির ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-খিজির ইবনে আলী ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে তাইমিয়্যাহর পুত্র—তাঁর প্রশংসায় বর্ণিত হয়েছে।
কেন তাঁকে 'ইবনে তাইমিয়্যাহ' বলা হয়, সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে।
বলা হয়ে থাকে যে, তাঁর দাদা মুহাম্মদ ইবনে আল-খিজির 'তাইমা'র পথ দিয়ে হজ করতে গিয়েছিলেন, অতঃপর তিনি দেখলেন...
(খণ্ড: ১)
আশ-শাহাদাতুয যাকিয়্যাহ ফী সানাউল আইম্মাহ আলা ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
هُنَاكَ طفلة فَلَمَّا رَجَعَ وجد امْرَأَته قد ولدت بِنْتا فَقَالَ يَا تَيْمِية يَا تَيْمِية فلقب بذلك
وَقيل إِن جده مُحَمَّدًا كَانَت أمه تسمى تَيْمِية وَكَانَت واعظة فنسب إِلَيْهَا وَعرف بهَا
ولد رحمه الله يَوْم الْإِثْنَيْنِ عَاشر أَو ثَانِي عشر ربيع الأول سنة إِحْدَى وَسِتِّينَ وسِتمِائَة
وَتُوفِّي سحر لَيْلَة الْإِثْنَيْنِ فِي الْعشْرين من ذِي الْقعدَة سنة ثَمَان وَعشْرين وَسَبْعمائة عَن سبع وَسِتِّينَ سنة
وَقد أثنى الْأَئِمَّة الْأَعْلَام على هَذَا الإِمَام ولقبوه بشيخ الْإِسْلَام وأفردوا مناقبه بالتصانيف وتحلت بِذكرِهِ التواريخ والتآليف
وَلم يتنقص إِلَّا من جهل مِقْدَاره وخطره وَمن جهل شَيْئا أنكرهُ
وَلَقَد أنصف الْعَلامَة الإِمَام قَاضِي قُضَاة الْإِسْلَام بهاء الدّين بن السُّبْكِيّ حَيْثُ يَقُول لبَعض من ذكر لَهُ الْكَلَام فِي ابْن تَيْمِية فَقَالَ
وَالله يَا فلَان مَا يبغض ابْن تَيْمِية إِلَّا جَاهِل أَو صَاحب هوى فالجاهل لَا يدْرِي مَا يَقُول وَصَاحب الْهوى يصده هَوَاهُ عَن الْحق بعد مَعْرفَته بِهِ
وَلَقَد أنصف أَيْضا الشَّيْخ الإِمَام والحبر الْهمام مَحْمُود بن أَحْمد الْعَيْنِيّ إِمَام الْحَنَفِيَّة فِي زَمَنه حَيْثُ قَالَ فِي أثْنَاء كَلَام طَوِيل فِي مدحه ابْن تَيْمِية وذم من يعِيبهُ
সেখানে একটি শিশু ছিল, যখন তিনি ফিরে আসলেন দেখলেন তাঁর স্ত্রী একটি কন্যা সন্তান জন্ম দিয়েছেন, তখন তিনি বললেন, হে তায়মিয়াহ, হে তায়মিয়াহ! এরপর থেকেই তিনি এই উপাধিতে ভূষিত হন।
আর বলা হয়েছে যে, তাঁর দাদা মুহাম্মদের মায়ের নাম ছিল তায়মিয়াহ এবং তিনি একজন উপদেশদাত্রী ছিলেন, তাই তাঁর দিকেই তাঁকে সম্বন্ধ করা হয় এবং এর মাধ্যমেই তিনি পরিচিতি লাভ করেন।
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) ৬৬১ হিজরী সনের ১০ই অথবা ১২ই রবিউল আউয়াল সোমবার জন্মগ্রহণ করেন।
আর তিনি ৭২৮ হিজরী সনের ২০শে জিলকদ সোমবার রাতের শেষ প্রহরে ৬৭ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
মহান ইমামগণ এই ইমামের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং তাঁকে শাইখুল ইসলাম উপাধিতে ভূষিত করেছেন। তাঁরা তাঁর গুণাবলী বর্ণনায় স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং ইতিহাস ও সংকলনসমূহ তাঁর আলোচনায় সুশোভিত হয়েছে।
কেবল সেই ব্যক্তিই তাঁর অবমাননা করেছে যে তাঁর মর্যাদা ও গুরুত্ব সম্পর্কে অজ্ঞ; আর মানুষ যখন কোনো কিছু সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে, তখন সে তা অস্বীকার করে।
আল্লামা ইমাম, ইসলামের প্রধান বিচারপতি বাহাউদ্দীন ইবনুস সুবকী যথার্থই ইনসাফ করেছেন, যখন তাঁর কাছে কেউ ইবনে তায়মিয়াহ সম্পর্কে আলোচনা উত্থাপন করল তখন তিনি বললেন:
আল্লাহর কসম হে অমুক! জাহেল অথবা প্রবৃত্তির অনুসারী ছাড়া কেউ ইবনে তায়মিয়াহর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে না। কেননা জাহেল তো জানেই না সে কী বলছে, আর প্রবৃত্তির অনুসারীকে তার প্রবৃত্তি সত্য জানার পর সত্য গ্রহণ থেকে বাধা প্রদান করে।
তদ্রূপ শাইখ, ইমাম এবং মহান পণ্ডিত, তাঁর সময়ের হানাফী মাযহাবের ইমাম মাহমুদ ইবনে আহমদ আল-আইনীও ইনসাফ করেছেন, যখন তিনি ইবনে তায়মিয়াহর প্রশংসা এবং তাঁর সমালোচনাকারীদের নিন্দায় দীর্ঘ আলোচনার মাঝে বলেছিলেন:
(খণ্ড: ১)
আশ-শাহাদাতুয যাকিয়্যাহ ফী সানাউল আইম্মাহ আলা ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وَلَيْسَ هُوَ إِلَّا كالجعل باشتمام الْورْد يَمُوت حتف أَنفه أَو كالخفاش يتَأَذَّى ببهور سنا الضَّوْء لسوء بَصَره وَضَعفه وَلَيْسَ لَهُم سجية نقادة وَلَا روية وقادة وَمَا هم إِلَّا صلقع بلقع سلقع صلمعه من قلمعه وهيان إِن بَيَان وَهِي بن بِي وصل بن ضل وضلال بن التلال
وَمن الشَّائِع المستفيض أَن الشَّيْخ الإِمَام الْعَالم الْعَلامَة تَقِيّ الدّين ابْن تَيْمِية من شم العرانين الأفاضل وَمن جم براهين الأماثل وَأطَال الْعَيْنِيّ الْكَلَام فِي مدحه كَمَا سَيَأْتِي
وَاعْلَم أيدك الله أَن كثيرا من الْأَئِمَّة الأماثل وَالْعُلَمَاء الأفاضل قد أفردوا مَنَاقِب الشَّيْخ تَقِيّ الدّين ابْن تَيْمِية فِي تصانيف مَشْهُورَة وتراجم فِي التواريخ مَذْكُورَة
وَقد ذكر غَالب الْعلمَاء الَّذين أثنوا عَلَيْهِ صَاحب كتاب الرَّد الوافر تأليف الإِمَام الْعَالم الأوحد الْقدْوَة الْحَافِظ أبي عبد الله مُحَمَّد بن أبي بكر بن عبد الله بن مُحَمَّد بن أَحْمد بن نَاصِر الدّين الشَّافِعِي
সে তো কেবল ওই গোবরে পোকার মতো যা গোলাপের ঘ্রাণ নিলেই মারা যায়, অথবা ওই বাদুড়ের মতো যা দৃষ্টিশক্তির স্বল্পতা ও দুর্বলতার কারণে আলোর তীব্রতায় কষ্ট পায়। তাদের কোনো সূক্ষ্ম বিচারবুদ্ধি নেই এবং কোনো প্রখর চিন্তাশক্তিও নেই। তারা তো কেবল নিঃস্ব, রিক্ত ও বিভ্রান্ত; তারা অসারতা ও লক্ষ্যহীনতারই মূর্ত প্রতীক।
আর এটি সর্বজনবিদিত ও সুপ্রসিদ্ধ যে, শাইখ, ইমাম, বিজ্ঞ পণ্ডিত, আল্লামা তাকীউদ্দীন ইবনে তাইমিয়্যাহ ছিলেন উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন শ্রেষ্ঠ গুণীজনদের অন্তর্ভুক্ত এবং অগ্রগণ্য মহান ব্যক্তিদের জন্য এক শক্তিশালী প্রমাণস্বরূপ। আল্লামা আইনী তাঁর প্রশংসায় দীর্ঘ আলোচনা করেছেন, যা সামনে আসবে।
জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনাকে সাহায্য করুন—বহু শ্রেষ্ঠ ইমাম এবং বিদগ্ধ উলামায়ে কেরাম শাইখ তাকীউদ্দীন ইবনে তাইমিয়্যাহর গুণাবলী বর্ণনায় স্বতন্ত্র প্রসিদ্ধ গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং ইতিহাসের কিতাবসমূহে তাঁর জীবনী উল্লেখ করেছেন।
যারা তাঁর প্রশংসা করেছেন এমন অধিকাংশ আলিমের কথা ‘আর-রাদ্দুল ওয়াফির’ গ্রন্থের লেখক উল্লেখ করেছেন; যা ইমাম, অনন্য বিদ্যান, অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব, হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবু বকর বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন নাসিরুদ্দীন আশ-শাফিয়ী কর্তৃক রচিত।
(খণ্ড: ১)
আশ-শাহাদাতুয যাকিয়্যাহ ফী সানাউল আইম্মাহ আলা ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وَقد أَحْبَبْت أَن أذكر هُنَا بعض ذَلِك على سَبِيل التَّلْخِيص مَعَ زَوَائِد لَطِيفَة رَجَاء أَن أَدخل فِي سلك أُولَئِكَ الْأَئِمَّة وَمن كَانُوا بَين أظهر النَّاس رَحْمَة
1 - فَمنهمْ ابْن سيد النَّاس
وَهُوَ الإِمَام الْحَافِظ الْفَقِيه الْعَالم الأديب البارع فتح الدّين أَبُو الْفَتْح مُحَمَّد بن الْحَافِظ أبي عَمْرو مُحَمَّد بن الْحَافِظ الْعَلامَة الْخَطِيب أبي بكر مُحَمَّد بن أَحْمد بن عبد الله بن مُحَمَّد بن يحيى بن أبي الْقَاسِم بن سيد النَّاس الْيَعْمرِي الأندلسي الإشبيلي ثمَّ الْمصْرِيّ الشَّافِعِي
ولد بِالْقَاهِرَةِ سنة إِحْدَى وَسبعين وسِتمِائَة وَتُوفِّي فِي شعْبَان سنة أَربع وَثَلَاثِينَ وَسَبْعمائة بِالْقَاهِرَةِ وَدفن بالقرافة عِنْد ابْن أبي جَمْرَة وَكَانَت جنَازَته مَشْهُودَة وَله مصنفات مفيدة ومؤلفات حميدة
قَالَ رحمه الله فِي تَرْجَمته لِابْنِ تَيْمِية بعد أَن ذكر تَرْجَمَة الْحَافِظ الْمزي
وَهُوَ الَّذِي حداني على رُؤْيَة الشَّيْخ الإِمَام شيخ الْإِسْلَام تَقِيّ الدّين أبي الْعَبَّاس أَحْمد بن عبد الْحَلِيم بن عبد السَّلَام بن تَيْمِية
فَأَلْفَيْته مِمَّن أدْرك من الْعُلُوم حظا وَكَاد أَن يستوعب السّنَن والْآثَار حفظا
إِن تكلم فِي التَّفْسِير فَهُوَ حَامِل رايته أَو أفتى فِي الْفِقْه فَهُوَ مدرك
আমি এখানে সেই সবের কিছু অংশ সংক্ষিপ্তাকারে উল্লেখ করা পছন্দ করেছি, সাথে কিছু সূক্ষ্ম সংযোজনও রয়েছে, এই আশায় যে আমিও যেন সেই সকল ইমামদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারি এবং তাদের কাতারে শামিল হতে পারি যারা মানুষের মাঝে রহমত স্বরূপ বিদ্যমান ছিলেন।
১ - তাদের মধ্যে একজন হলেন ইবনু সাইয়্যিদুন নাস।
তিনি হলেন ইমাম, হাফিজ, ফকিহ, আলিম এবং সুদক্ষ সাহিত্যিক ফাতহুদ দ্বীন আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবনু হাফিজ আবু আমর মুহাম্মদ ইবনু হাফিজ আল্লামা খতিব আবু বকর মুহাম্মদ ইবনু আহমাদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু আবিল কাসিম ইবনু সাইয়্যিদুন নাস আল-ইয়াহমুরি আল-আন্দালুসি আল-ইশবিলি, অতঃপর আল-মিসরি আশ-শাফিঈ।
তিনি ৬৭১ হিজরিতে কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭৩৪ হিজরির শাবান মাসে কায়রোতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে ইবনু আবি জামরার কবরের নিকট কারাফায় দাফন করা হয়। তাঁর জানাজায় বিশাল জনসমাগম হয়েছিল এবং তাঁর অনেক উপকারী ও প্রশংসনীয় রচনা রয়েছে।
হাফিজ আল-মিজ্জির জীবনী আলোচনার পর ইবনু তাইমিয়্যাহর জীবনীতে তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) বলেন:
আর তিনিই আমাকে শাইখ, ইমাম, শাইখুল ইসলাম তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনু আব্দুল হালিম ইবনু আব্দুস সালাম ইবনু তাইমিয়্যাহর সাথে সাক্ষাৎ করতে উৎসাহিত করেছিলেন।
অতঃপর আমি তাঁকে এমন একজন হিসেবে পেলাম যিনি ইলম বা জ্ঞানের ক্ষেত্রে এক বিশাল অংশ লাভ করেছেন এবং মুখস্থের মাধ্যমে প্রায় সমস্ত সুন্নাহ ও আসারকে আয়ত্ত করে ফেলেছেন।
তিনি যখন তাফসির বিষয়ে কথা বলেন, তখন তিনি যেন তার ঝাণ্ডাবাহী; আর যখন ফিকহ বিষয়ে ফতোয়া প্রদান করেন, তখন তিনি তার নিগূঢ় রহস্য অনুধাবনকারী।
(খণ্ড: ১)
আশ-শাহাদাতুয যাকিয়্যাহ ফী সানাউল আইম্মাহ আলা ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
غَايَته أَو ذَاكر فِي الحَدِيث فَهُوَ صَاحب علمه وَذُو رِوَايَته أَو حَاضر بالملل والنحل لم ير أوسع من نحلته فِي ذَلِك وَلَا أرفع من درايته
برز فِي كل فن على أَبنَاء جنسه وَلم تَرَ عين من رَآهُ مثله وَلَا رَأَتْ عينه مثل نَفسه
كَانَ يتَكَلَّم فِي التَّفْسِير فيحضر مَجْلِسه الجم الْغَفِير ويردون من بحره العذب النمير ويرتعون من ربيع فَضله فِي روضه وغديره الى ان دب الى اهل بَلَده دَاء 0 الْحَسَد واكب اهل النّظر مِنْهُم على مَا ينْتَقد عَلَيْهِ من أُمُور المعتقد فحفظو عَنهُ فِي ذَلِك كلَاما أوسعوه بِسَبَبِهِ ملاما وفوقو لتبديله سهاما وَزَعَمُوا انه خَالف طريقهم وَفرق فريقهم فنازعهم ونازعوه وقاطع بَعضهم وقاطعوه
ثمَّ نَازع طَائِفَة أُخْرَى ينتسبون من الْفقر الى طَريقَة ويزعمون أَنهم على ادق بَاطِن مِنْهَا واجلى حَقِيقَة فكشف تِلْكَ الطرائق وَذكر لَهَا على مَا زعم بوائق فآضت الى الطَّائِفَة الأولى من منازعته واستعانت بذوي الضعن عَلَيْهِ من مقاطعته فوصلوا بالأمراء أمره وأعمل كل مِنْهُم فِي أمره فكره فرتبوا محَاضِر وألبو للسعي بهَا بَين الاكابر وَسعوا فِي نَقله الى المملكة بالديار المصريه فَنقل وأودع السجْن سَاعَة حُضُوره واعتقل وعقدوا لاراقة دَمه مجَالِس وحشدوا لذَلِك قوما من عمار الزوايا وسكان الْمدَارِس من مجامل فِي الْمُنَازعَة مخاتل بالمخادعة وَمن مجاهر بالتكفير مبارز بالمقاطعة يسومونه ريب المنونون {وَرَبك يعلم مَا تكن صُدُورهمْ وَمَا يعلنون} الْقَصَص 69
فَرد الله كيد كل فِي نَحره ونجاه على يَد من اصطفاه {وَالله غَالب على أمره} يُوسُف 21
...তাঁর লক্ষ্য, অথবা হাদীস বর্ণনাকারী হিসেবে তিনি ছিলেন এর জ্ঞানের অধিকারী এবং এর বর্ণনার বাহক। অথবা তিনি বিভিন্ন ধর্মাদর্শ ও মতবাদসমূহ প্রত্যক্ষ করে সেগুলোর মধ্যে নিজের মতবাদের চেয়ে ব্যাপকতর কিছু দেখেননি এবং নিজের প্রজ্ঞার চেয়ে উচ্চতর কিছু খুঁজে পাননি।
তিনি প্রতিটি বিদ্যায় তাঁর সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। যে তাঁকে দেখেছে, তার চক্ষু তাঁর সমতুল্য কাউকে দেখেনি এবং তাঁর নিজের চোখও নিজের অনুরূপ কাউকে দেখেনি।
তিনি যখন তাফসীর বিষয়ে আলোচনা করতেন, তখন তাঁর মজলিসে বিশাল জনসমাগম উপস্থিত হতো। তারা তাঁর সুমিষ্ট ও স্বচ্ছ সমুদ্র হতে জ্ঞান আহরণ করত এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের বসন্তকালীন উদ্যান ও জলাশয়ে বিচরণ করত। একপর্যায়ে তাঁর দেশবাসীর মধ্যে হিংসার ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ল। তাদের মধ্যকার তাত্ত্বিক জ্ঞানের অধিকারীরা তাঁর আকিদাগত বিষয়ে সমালোচনার জন্য উঠেপড়ে লাগল। তারা এ বিষয়ে তাঁর থেকে এমন কিছু বক্তব্য সংরক্ষণ করল যার কারণে তারা তাঁর প্রতি চরম তিরস্কার বর্ষণ করল এবং তা পরিবর্তনের লক্ষ্যে নানামুখী তৎপরতা চালাল। তারা দাবি করল যে, তিনি তাদের পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছেন এবং তাদের ঐক্যবদ্ধ দলকে বিভক্ত করেছেন। ফলে তিনি তাদের সাথে বিবাদে লিপ্ত হলেন এবং তারাও তাঁর সাথে বিবাদে লিপ্ত হলো; তারা একে অপরকে বর্জন করল।
অতঃপর তিনি অন্য এক দলের সাথে বিবাদে জড়ালেন যারা দারিদ্র্য তথা ফকিরির পথের দিকে নিজেদের সম্পৃক্ত করত এবং দাবি করত যে তারা এর সূক্ষ্মতম বাতেন ও সুস্পষ্টতম হাকীকত সম্পর্কে অবগত। তিনি সেই পথগুলোর রহস্য উন্মোচন করলেন এবং তাঁর দৃষ্টিতে সেগুলোর অনিষ্টসমূহ বর্ণনা করলেন। ফলে তাঁর সাথে বিবাদের কারণে তারা প্রথম দলের সাথে মিলে গেল এবং তাঁর প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীদের মাধ্যমে তাঁকে বর্জন করার জন্য সাহায্য প্রার্থনা করল। তারা তাঁর বিষয়টি শাসনকর্তাদের নিকট পৌঁছাল এবং প্রত্যেকেই তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলো। তারা নানা অভিযোগপত্র প্রস্তুত করল এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে সেগুলো প্রচার করে তাঁকে ঘায়েল করার চেষ্টা করল। তারা তাঁকে মিশরীয় রাজ্যের ভূখণ্ডে স্থানান্তরের জন্য সচেষ্ট হলো। ফলে তাঁকে স্থানান্তরিত করা হলো এবং সেখানে পৌঁছামাত্রই তাঁকে কারাগারে নিক্ষেপ ও বন্দি করা হলো। এমনকি তারা তাঁর রক্তপাতের উদ্দেশ্যে সভার আয়োজন করল এবং এর জন্য খানকাহ ও মাদ্রাসাবাসীদের মধ্য থেকে একদল লোককে একত্রিত করল। তাদের মধ্যে কেউ বিবাদের ছলে প্রতারণা ও ছলনা করল, আবার কেউ প্রকাশ্যে তাকফীরের ঘোষণা দিয়ে চরম বর্জনের পথ অবলম্বন করল। তারা তাঁকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ার উপক্রম করল; অথচ আপনার প্রতিপালক জানেন যা তাদের অন্তরসমূহ গোপন করে এবং যা তারা প্রকাশ করে (আল-কাসাস: ৬৯)।
অতঃপর আল্লাহ প্রত্যেকের ষড়যন্ত্র তাদের নিজেদের বিরুদ্ধেই ফিরিয়ে দিলেন এবং তাঁর মনোনীত ব্যক্তির মাধ্যমে তাঁকে মুক্তি দিলেন। আর আল্লাহ তাঁর নিজ কাজে বিজয়ী (ইউসুফ: ২১)।
(খণ্ড: ১)
আশ-শাহাদাতুয যাকিয়্যাহ ফী সানাউল আইম্মাহ আলা ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ثمَّ لم يخل بعد ذَلِك من فتنه بعد فتْنَة وَلم ينْتَقل طو ل عمره من محنة الا الى محنة الى أَن فوض أمره الى بعض الْقُضَاة فتقلد مَا تقلد من اعتقاله وَلم يزل بمحبسه ذَلِك الى حِين ذَهَابه الى رَحْمَة الله وانتقاله والى الله ترجع الامور وَهُوَ المطلع على خَائِنَة الاعين وَمَا تخفي الصُّدُور
وَكَانَ يَوْمه مشهودا وَضَاقَتْ بجنازته الطَّرِيق وانتابها الْمُسلمُونَ من كل فج عميق يتبركون بمشهده ليَوْم تقوم الاشهاد ويتمسكون بسريره حَتَّى كسروا تِلْكَ الاعواد
ثمَّ روى عَنهُ ابْن سيد النَّاس حَدِيثا فَقَالَ قَرَأت على الشَّيْخ الامام حَامِل راية الْعُلُوم ومدرك غَايَة الفهوم تَقِيّ الدّين ابي الْعَبَّاس احْمَد بن عبد الْحَلِيم بن عبد السَّلَام ابْن تيميه الْحَرَّانِي بِالْقَاهِرَةِ ثمَّ ذكر سَنَده الى الْحسن بن عَرَفَة فروى من جزئه حَدِيثا
وَمِنْهُم ابْن دَقِيق الْعِيد وَهُوَ الشَّيْخ الْعَلامَة الامام اُحْدُ شُيُوخ الاسلام قَاضِي قُضَاة الْمُسلمين عُمْدَة الْفُقَهَاء والمحدثين تَقِيّ الدّين ابو الْفَتْح مُحَمَّد بن عَليّ بن وهب بن مُطِيع المنفلوطي الْمَالِكِي الشَّافِعِي مَاتَ عَام اثْنَيْنِ وَسَبْعمائة
كَانَ اماما حَافِظًا فَقِيها ذَا تَحْرِير مالكيا شافعيا لَيْسَ لَهُ نَظِير وَكَانَ يُفْتِي بالمذهبين ويدرس فيهمَا بمدرسة الْفَاضِل على الشَّرْطَيْنِ وَله الْيَد الطُّولى فِي معرفَة الاصلين
وَلما قدم التتار الى اطراف الْبِلَاد الشامية سنة سَبْعمِائة ركب ابْن
এরপর তিনি একের পর এক ফিতনা থেকে মুক্ত ছিলেন না এবং তাঁর সমগ্র জীবনকাল এক মুসিবত থেকে অন্য মুসিবতেই অতিবাহিত হয়েছে, যতক্ষণ না তাঁর বিষয়টি কিছু বিচারকের নিকট অর্পণ করা হলো। তখন তাঁর কারাবাস সংক্রান্ত যা ঘটার তা-ই ঘটল এবং ইন্তেকাল ও আল্লাহর রহমতের দিকে যাত্রা করার পূর্ব পর্যন্ত তিনি সেই কারাগারেই অবস্থান করেন। আর আল্লাহর কাছেই সকল বিষয় প্রত্যাবর্তিত হবে; তিনি চক্ষুর খেয়ানত এবং অন্তরের গোপন বিষয়সমূহ সম্পর্কে সম্যক অবগত।
তাঁর জানাজার দিনটি ছিল এক বিশাল জনসমাগমের দিন। জানাজার ভিড়ে রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল এবং দূর-দূরান্তের প্রতিটি গভীর পথ দিয়ে মুসলিমরা দলে দলে সমবেত হয়েছিল। সাক্ষীরা দণ্ডায়মান হওয়ার দিনের (কিয়ামত) উদ্দেশ্যে তারা তাঁর জানাজায় উপস্থিত হয়ে বরকত হাসিল করছিল এবং তাঁর খাটিয়া এমনভাবে আঁকড়ে ধরেছিল যে, তারা সেই কাঠগুলোও ভেঙে ফেলেছিল।
এরপর ইবনু সাইয়্যিদুন নাস তাঁর থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি কায়রোতে শায়খ, ইমাম, ইলমের পতাকাবাহী এবং প্রজ্ঞার চরম শিখরে আরোহী তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল হালিম বিন আব্দুল সালাম ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানি-এর নিকট পাঠ করেছি। এরপর তিনি হাসান বিন আরাফাহ পর্যন্ত তাঁর সনদ উল্লেখ করেন এবং তাঁর ‘জুয’ থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করেন।
তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হলেন ইবনু দাকীক আল-ঈদ; যিনি শায়খ, আল্লামা, ইমাম, শায়খুল ইসলামগণের অন্যতম, মুসলিমদের প্রধান বিচারপতি, ফকিহ ও মুহাদ্দিসগণের নির্ভরযোগ্য আশ্রয়, তাকিউদ্দীন আবুল ফাতহ মুহাম্মদ বিন আলী বিন ওয়াহাব বিন মুতী আল-মানফালুতী আল-মালিকী আল-শাফিঈ। তিনি ৭০২ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।
তিনি ছিলেন ইমাম, হাফেজ, সুনিপুণ ফকিহ, মালিকী ও শাফিঈ মাযহাবের অনুসারী এবং তাঁর কোনো সমকক্ষ ছিল না। তিনি উভয় মাযহাব অনুযায়ী ফতোয়া প্রদান করতেন এবং মাদরাসাতুল ফাদিল-এ উভয় মাযহাবের শর্তানুসারে পাঠদান করতেন। উসুলদ্বয় (উসূলে ফিকহ ও উসূলে দ্বীন) শাস্ত্রের জ্ঞানে তাঁর অগাধ পারদর্শিতা ছিল।
যখন সাতশত হিজরিতে তাতাররা সিরিয়া ভূখণ্ডের সীমান্ত অভিমুখে আগমন করল, তখন ইবনু রূব...
(খণ্ড: ১)
আশ-শাহাদাতুয যাকিয়্যাহ ফী সানাউল আইম্মাহ আলা ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
تَيْمِية على الْبَرِيد من دمشق الى مصر فَدَخلَهَا فى ثامن يَوْم وحث السُّلْطَان والعساكر على قتال التتار وَاجْتمعَ بِهِ اعيان الْبَلَد وَمِنْهُم ابْن دَقِيق الْعِيد فَسمع كَلَام ابْن تَيْمِية وَقَالَ لَهُ بعد سَماع كَلَامه مَا كنت اظن ان الله تَعَالَى بَقِي بِخلق مثلك
وَسُئِلَ ابْن دَقِيق الْعِيد بعد انْقِضَاء ذَلِك الْمجْلس عَن ابْن تَيْمِية فَقَالَ هُوَ رجل حفظَة فَقيل لَهُ هلا تَكَلَّمت مَعَه فَقَالَ هُوَ رجل يحب الْكَلَام وانا احب السُّكُوت
وَقَالَ ابْن دَقِيق الْعِيد ايضا لما اجْتمعت بِابْن تَيْمِية رايت رجلا الْعُلُوم كلهَا بَين عَيْنَيْهِ ياخذ مِنْهَا مَا يُرِيد ويدع مَا يُرِيد
3 - وَمِنْهُم ابْن الوردي زين الدّين عمر كَانَ عَلامَة متفننا فِي الْعُلُوم ماهرا فِي المنثور والمنظوم وَله الْأَشْعَار الرائقة والمقاطيع الفائقة وَكَانَ باهرا فِي الْعَرَبيَّة درس واعاد وافتى وَله مؤلفات مفيدة مِنْهَا الْبَهْجَة نظم الْحَاوِي
ইবনে তাইমিয়্যাহ দামেস্ক থেকে ডাকযোগে মিসরে যাত্রা করলেন এবং অষ্টম দিনে সেখানে প্রবেশ করলেন। তিনি সুলতান ও সৈন্যদের তাতারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য উৎসাহিত করলেন। শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করলেন, যাঁদের মধ্যে ইবনু দাকীকুল ঈদও ছিলেন। তিনি ইবনে তাইমিয়য়াহর বক্তব্য শুনলেন এবং তাঁর কথা শোনার পর তাঁকে বললেন, "আমি ধারণা করিনি যে আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টির মধ্যে আপনার মতো কাউকে অবশিষ্ট রেখেছেন।"
সেই মজলিস শেষ হওয়ার পর ইবনু দাকীকুল ঈদকে ইবনে তাইমিয়্যাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো। তিনি বললেন, "তিনি প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন একজন ব্যক্তি।" তাঁকে বলা হলো, "আপনি তাঁর সাথে কথা বললেন না কেন?" তিনি বললেন, "তিনি এমন একজন মানুষ যিনি কথা বলতে পছন্দ করেন, আর আমি নীরবতা পছন্দ করি।"
ইবনু দাকীকুল ঈদ আরও বলেন, "যখন আমি ইবনে তাইমিয়্যাহর সাথে সাক্ষাৎ করলাম, আমি এমন একজন ব্যক্তিকে দেখলাম যাঁর দু’চোখের সামনে সমস্ত জ্ঞান বিদ্যমান; তিনি তা থেকে যা ইচ্ছা গ্রহণ করেন এবং যা ইচ্ছা বর্জন করেন।"
৩ - তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইবনুল ওয়ারদী জয়নুদ্দীন উমর। তিনি বিভিন্ন শাস্ত্রে সুপণ্ডিত ছিলেন এবং গদ্য ও পদ্য উভয় ক্ষেত্রে পারদর্শী ছিলেন। তাঁর চমৎকার কবিতা ও উৎকৃষ্ট কাব্যখণ্ড রয়েছে। তিনি আরবি ভাষায় অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন; তিনি পাঠদান করেছেন, পুনরাবৃত্তি করেছেন এবং ফতোয়া প্রদান করেছেন। তাঁর বহু উপকারী গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে 'আল-বাহজাহ' অন্যতম, যা 'আল-হাবী'-এর কাব্যরূপ।
(খণ্ড: ১)
আশ-শাহাদাতুয যাকিয়্যাহ ফী সানাউল আইম্মাহ আলা ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الصَّغِير توفّي بحلب سنة تسع واربعين وَسَبْعمائة
قَالَ فِي رحلته لما ذكر عُلَمَاء دمشق وَتركت التعصب وَالْحمية وَحَضَرت مجَالِس ابْن تَيْمِية فاذا هُوَ بَيت القصيدة واول الخريدة عُلَمَاء زَمَانه فلك هُوَ قطبه وجسم هُوَ قلبه يزِيد عَلَيْهِم زِيَادَة الشَّمْس على الْبَدْر وَالْبَحْر على الْقطر
بحثت بَين يَدَيْهِ يَوْمًا فاصبت الْمَعْنى فكناني وَقبل بَين عَيْني الْيُمْنَى فَقلت
… ان ابْن تَيْمِية
… فِي كل الْعُلُوم وَاحِد
احييت دين احْمَد
… وشرعه يَا احْمَد
…
ورثاه بعد مَوته بقصيدة يَقُول فِيهَا … قُلُوب النَّاس قاسية سلاط وَلَيْسَ لَهَا الى الْعليا نشاط … اينشط بعد وَفَاة حبر لنا من نثر جوهره الْتِقَاط … تَقِيّ الدّين ذُو ورع وَعلم خروق المعضلات بِهِ تخاط … قضى نحبا وَلَيْسَ لَهُ قرين وَلَا لنظيره لف القماط … فَتى فِي علمه أضحى فريدا … وَحل المشكلات بِهِ يناط
…
আস-সাগীর ৭৪৯ হিজরি সনে হালাবে ইন্তেকাল করেন।
তিনি তাঁর সফরনামায় যখন দামেস্কের আলেমদের কথা উল্লেখ করেন, তখন বলেন: "আমি গোঁড়ামি ও পক্ষপাতিত্ব ত্যাগ করলাম এবং ইবনে তাইমিয়ার মজলিসে উপস্থিত হলাম। সেখানে গিয়ে দেখলাম, তিনি হলেন কবিতার শ্রেষ্ঠ পঙ্ক্তি এবং অমূল্য রত্নের সূচনালগ্ন। তাঁর সমসাময়িক আলেমদের মাঝে তিনি যেন একটি কক্ষপথ যার কেন্দ্র তিনি নিজে, এবং একটি দেহ যার হৃৎপিণ্ড তিনি। তাঁদের ওপর তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব পূর্ণিমার চাঁদের ওপর সূর্যের এবং বৃষ্টিবিন্দুর ওপর সমুদ্রের শ্রেষ্ঠত্বের মতো।"
একদিন আমি তাঁর সামনে কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করলাম এবং সঠিক মর্ম অনুধাবন করতে পারলাম, তখন তিনি আমাকে একটি উপনাম দিলেন এবং আমার ডান চোখের মধ্যখানে চুম্বন করলেন। তখন আমি বললাম
… নিশ্চয়ই ইবনে তাইমিয়া
… সকল বিজ্ঞানে একক ও অনন্য।
আপনি আহমদের দীনকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন
… এবং তাঁর শরীয়তকে, হে আহমদ
…
এবং তাঁর মৃত্যুর পর তিনি এক শোকগাথা রচনার মাধ্যমে তাঁর স্মৃতিচারণ করেন, যেখানে তিনি বলেন … মানুষের অন্তরগুলো কঠোর ও রূঢ় হয়ে গেছে এবং উচ্চমর্যাদার দিকে তাদের কোনো আগ্রহ নেই … আমাদের সেই মহান পন্ডিতের মৃত্যুর পর কি কারো উৎসাহ থাকতে পারে, যাঁর জ্ঞানের মুক্তোসমূহ কুড়িয়ে নেওয়া হতো? … তিনি তাকিউদ্দিন, পরহেজগারী ও ইলমের অধিকারী, যাঁর মাধ্যমে কঠিন সমস্যার ফাটলগুলো জোড়া দেওয়া হতো … তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন অথচ তাঁর কোনো সমকক্ষ নেই, এমনকি দোলনাতেও তাঁর সদৃশ কাউকে কখনো জড়ানো হয়নি … এমন এক মহান ব্যক্তি যিনি তাঁর ইলমের ক্ষেত্রে অদ্বিতীয় হয়ে উঠেছেন … এবং জটিল সমস্যার সমাধান যাঁর ওপর নির্ভর করত …
(খণ্ড: ১)
আশ-শাহাদাতুয যাকিয়্যাহ ফী সানাউল আইম্মাহ আলা ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وَهِي طَوِيلَة وَقد ذكرتها كلهَا مَعَ مراثي عديدة فِي كتاب المناقب فيراجع
4 - وَمِنْهُم أَبُو حَيَّان النَّحْوِيّ
وَهُوَ الشَّيْخ الإِمَام الْعَلامَة علم الْقُرَّاء أستاذ النُّحَاة والأدباء جمال الْمُفَسّرين أثير الدّين أَبُو حَيَّان مُحَمَّد بن يُوسُف بن عَليّ بن يُوسُف بن حَيَّان الأندلسي الجياني الغرناطي ثمَّ الْمصْرِيّ الظَّاهِرِيّ
ولد بأعمال غرناطة قَاعِدَة بِلَاد الأندلس فِي شَوَّال سنة أَربع وَخمسين وسِتمِائَة
وَتُوفِّي فِي صفر سنة خمس وَأَرْبَعين وَسَبْعمائة بعد أَن أضرّ فِي آخر عمره
قَالَ القَاضِي الْفَاضِل ابْن فضل الله الْعمريّ وَلما سَافر ابْن تَيْمِية على الْبَرِيد سنة سَبْعمِائة وحض أهل مصر على الْجِهَاد فِي سَبِيل الله وَأَغْلظ فِي القَوْل للسُّلْطَان والأمراء ثمَّ رتب لَهُ فِي مُدَّة مقَامه بِالْقَاهِرَةِ فِي كل يَوْم دِينَار وتحفة وجاءته بقجة قماش فَلم يقبل من ذَلِك شَيْئا قَالَ وَحضر عِنْده شَيخنَا أَبُو حَيَّان وَكَانَ عَلامَة وقته فِي النَّحْو فَقَالَ مَا رَأَتْ عَيْنَايَ مثل ابْن تَيْمِية ثمَّ مدحه أَبُو حَيَّان على البديهة فِي الْمجْلس
সেটি দীর্ঘ, এবং আমি তা অসংখ্য শোকগাথার সাথে 'কিতাবুল মানাকিব'-এ বিস্তারিত উল্লেখ করেছি, সুতরাং সেখানে দেখা যেতে পারে।
৪ - তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আবু হাইয়ান আন-নাহবি।
তিনি হলেন শায়খ, ইমাম, আল্লামা, ক্বারিদের শিরোমণি, নাহুবিদ ও সাহিত্যিকদের শিক্ষক, মুফাসসিরদের সৌন্দর্য, আসিরুদ্দিন আবু হাইয়ান মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে আলি ইবনে ইউসুফ ইবনে হাইয়ান আল-আন্দালুসি আল-জাইয়ানি আল-গারনাতি, অতঃপর আল-মিসরি আজ-জহিরি।
তিনি আন্দালুস ভূখণ্ডের রাজধানী গ্রানাডার উপকণ্ঠে ৬৫৪ হিজরির শাওয়াল মাসে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি ৭৪৫ হিজরির সফর মাসে মৃত্যুবরণ করেন, জীবনের শেষভাগে তিনি অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন।
বিশিষ্ট বিচারক ইবনে ফাদলুল্লাহ আল-উমারি বলেন: যখন ইবনে তাইমিয়া ৭০০ হিজরিতে ডাকযোগে সফর করেন এবং মিশরের জনগণকে আল্লাহর পথে জিহাদে উৎসাহিত করেন এবং সুলতান ও আমিরদের কঠোর ভাষায় কথা বলেন, তখন কায়রোতে অবস্থানকালে তার জন্য প্রতিদিন একটি দিনার ও উপঢৌকন বরাদ্দ করা হয়েছিল এবং এক গাঁটরি কাপড় পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু তিনি এর কিছুই গ্রহণ করেননি। তিনি বলেন: আমাদের শায়খ আবু হাইয়ান তার নিকট উপস্থিত হলেন—যিনি তার সময়ের শ্রেষ্ঠ নাহুবিদ ছিলেন—এবং বললেন: আমার দুই চোখ ইবনে তাইমিয়ার মতো কাউকে দেখেনি। অতঃপর আবু হাইয়ান মজলিসে উপস্থিত বুদ্ধিমত্তার সাথে তৎক্ষণাৎ তার প্রশংসা করে কবিতা আবৃত্তি করেন।
(খণ্ড: ১)
আশ-শাহাদাতুয যাকিয়্যাহ ফী সানাউল আইম্মাহ আলা ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
فَقَالَ
… لما أَتَيْنَا تَقِيّ الدّين لَاحَ لنا
… دَاع إِلَى الله فَرد مَال لَهُ وزر
… على محياه من سِيمَا الأولى صحبوا
… خير الْبَريَّة نور دونه الْقَمَر
حبر تسربل مِنْهُ دهره حبرًا
… بَحر تقاذف من أمواجه الدُّرَر
قَامَ ابْن تَيْمِية فِي نصر شرعتنا
… مقَام سيد تيم إِذْ عَصَتْ مُضر
فأظهر الْحق إِذْ أثاره درست
… وأخمد الشَّرّ إِذْ طارت لَهُ الشرر
كُنَّا نُحدث عَن حبر يَجِيء فها
… أَنْت الإِمَام الَّذِي قد كَانَ ينْتَظر
…قَالَ ثمَّ دَار بَينهمَا كَلَام فِيهِ ذكر سِيبَوَيْهٍ فَقَالَ ابْن تَيْمِية فِيهِ كلَاما نافره عَلَيْهِ أَبُو حَيَّان وقطعه بِسَبَبِهِ ثمَّ عَاد من أَكثر النَّاس ذما لَهُ واتخذه لَهُ ذَنبا لَا يغْفر
وَقَالَ الشَّيْخ زين الدّين ابْن رَجَب فِي كِتَابه الطَّبَقَات عَن هَذِه الأبيات وَيُقَال إِن أَبَا حَيَّان لم يقل أبياتا خيرا مِنْهَا وَلَا أفحل انْتهى
وَهَذِه الْقِصَّة ذكرهَا الْحَافِظ الْعَلامَة ابْن كثير فِي تَارِيخه وَهِي أَن أَبَا حَيَّان تكلم مَعَ الشَّيْخ تَقِيّ الدّين ابْن تَيْمِية فِي مَسْأَلَة فِي النَّحْو فَقَطعه ابْن تَيْمِية فِيهَا وأكزمه الْحجَّة فَذكر أَبُو حَيَّان كَلَام سِيبَوَيْهٍ فَقَالَ ابْن تَيْمِية يفشر سِيبَوَيْهٍ أسيبويه نَبِي النَّحْو أرْسلهُ الله بِهِ حَتَّى يكون مَعْصُوما سِيبَوَيْهٍ أَخطَأ فِي الْقُرْآن فِي ثَمَانِينَ موضعا لَا تفهمها أَنْت وَلَا هُوَ
তিনি বললেন
… যখন আমরা তকিউদ্দীনের নিকট আসলাম, তখন আমাদের সম্মুখে উদ্ভাসিত হলেন
… আল্লাহর দিকে এক অদ্বিতীয় আহ্বানকারী, যাঁর কোনো গোনাহের বোঝা নেই
… তাঁর চেহারায় সেই অগ্রবর্তীদের আলামত ছিল যারা সাহচর্য লাভ করেছিলেন
… সৃষ্টির সেরার (রাসূলের), এমন এক নূর যার সামনে চাঁদও ম্লান।
এমন এক পণ্ডিত যার পাণ্ডিত্যে তাঁর কাল অলংকৃত হয়েছে
… এমন এক সমুদ্র যার ঢেউ থেকে মুক্তা নিক্ষিপ্ত হয়।
ইবনে তাইমিয়া আমাদের শরীয়ত রক্ষায় দণ্ডায়মান হলেন
… তায়ম গোত্রের নেতার (আবু বকর সিদ্দীক) ন্যায়, যখন মুযার গোত্র অবাধ্য হয়েছিল।
তিনি সত্যকে প্রকাশ করলেন যখন তার চিহ্নগুলো মিটে গিয়েছিল
… এবং অনিষ্টকে নিভিয়ে দিলেন যখন তার স্ফুলিঙ্গগুলো উড়ছিল।
আমাদের নিকট এমন এক পণ্ডিতের আগমনের কথা বলা হতো, আর এই তো
… আপনিই সেই ইমাম যাঁর প্রতীক্ষা করা হচ্ছিল
…তিনি বলেন, অতঃপর তাঁদের উভয়ের মধ্যে এমন এক আলোচনা চলল যাতে সিবওয়াইহ-এর কথা আসলো। তখন ইবনে তাইমিয়া তাঁর (সিবওয়াইহ) ব্যাপারে এমন কথা বললেন যাতে আবু হাইয়ান তাঁর প্রতি বিরক্ত হলেন এবং সে কারণে তাঁর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন। এরপর তিনি তাঁর কঠোরতম সমালোচকে পরিণত হলেন এবং বিষয়টিকে এমন এক অপরাধ হিসেবে গণ্য করলেন যা ক্ষমা করা যায় না।
শায়খ যাইনুদ্দীন ইবনে রজব তাঁর 'তাবাকাত' গ্রন্থে এই কবিতাগুলো সম্পর্কে বলেছেন: বলা হয়ে থাকে যে, আবু হাইয়ান এর চেয়ে উত্তম ও শক্তিশালী আর কোনো কবিতা বলেননি। সমাপ্ত।
এই ঘটনাটি হাফেজ আল্লামা ইবনে কাসীর তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। সেটি হলো, আবু হাইয়ান শায়খ তকিউদ্দীন ইবনে তাইমিয়ার সাথে ব্যাকরণের একটি মাসআলা নিয়ে কথা বলছিলেন, তখন ইবনে তাইমিয়া তাঁকে তাতে পরাস্ত করলেন এবং অকাট্য দলীলে লাজবাব করে দিলেন। আবু হাইয়ান সিবওয়াইহ-এর বক্তব্য পেশ করলে ইবনে তাইমিয়া বললেন, "সিবওয়াইহ অসার কথা বলছে! সিবওয়াইহ কি ব্যাকরণের কোনো নবী যে আল্লাহ তাকে পাঠিয়েছেন যাতে সে নির্ভুল হবে? সিবওয়াইহ কুরআনের আশিটি স্থানে ভুল করেছেন, যা না আপনি বোঝেন, না সে বুঝেছে।"
(খণ্ড: ১)
আশ-শাহাদাতুয যাকিয়্যাহ ফী সানাউল আইম্মাহ আলা ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
قَالَ وَكَانَ ابْن تَيْمِية لَا تَأْخُذهُ فِي الْحق لومة لائم وَلَيْسَ عِنْده مداهنة وَكَانَ مادحه وذامه فِي الْحق عِنْده سَوَاء
وَمِنْهُم ابْن الْقيم وَهُوَ الْعَلامَة شمس الدّين الْحَنْبَلِيّ اُحْدُ الْمُحَقِّقين علم المصنفين نادرة الْمُفَسّرين ابو عبد الله مُحَمَّد بن أبي بكر بن أَيُّوب بن سعد بن حريز الزرعي ألاصل ثمَّ الدِّمَشْقِي ابْن قيم الجوزية وتلميذ ابْن تَيْمِية لَهُ التصانيف الانيقة والتلآليف الَّتِى فِي عُلُوم الشَّرِيعَة والحقيقة
ولد سنة احدى وَتِسْعين وسِتمِائَة وَمَات فِي رَجَب سنة احدى وَخمسين وَسَبْعمائة بِدِمَشْق
وَكَانَ قد لَازم أبن تَيْمِية واخذ عَنهُ علما جما فَكَانَ ذَا فنون من الْعُلُوم صَاحب ادراك لسرائر الْمَنْطُوق وَالْمَفْهُوم وبرع فِي علم الحَدِيث بِحَيْثُ انْتَهَت اليه فِيهِ الرِّئَاسَة
قَالَ الْحَافِظ ابو بكر مُحَمَّد بن الْمُحب قلت لشَيْخِنَا الْحَافِظ الْمزي ابْن الْقيم فِي دَرَجَة ابْن خُزَيْمَة فَقَالَ هُوَ فِي هَذَا الزَّمَان كَابْن خُزَيْمَة فِي زَمَانه
وَمن مصنفاته زَاد الْمعَاد فِي هدي خير الْعباد فِي اربعة
তিনি বলেন, ইবনে তাইমিয়্যাহ সত্যের ব্যাপারে কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করতেন না এবং তাঁর মধ্যে কোনো তোষামোদ ছিল না। তাঁর কাছে সত্যের ক্ষেত্রে প্রশংসাকারী ও নিন্দাকারী উভয়ই সমান ছিল।
তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইবনুল কাইয়্যিম, তিনি আল্লামা শামসুদ্দীন আল-হাম্বলী, অন্যতম মুহাক্কিক (গবেষক), লেখকগণের আদর্শ, বিরল প্রতিভাধর মুফাসসির, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবি বকর বিন আইয়ুব বিন সাদ বিন হারীজ আল-যুরয়ী আল-আসল, অতঃপর আদ-দিমাশকি, ইবনু কাইয়্যিমিল জাওযিয়্যাহ এবং ইবনে তাইমিয়্যাহর ছাত্র। শরীয়ত ও হাকীকতের ইলমে তাঁর চমৎকার সব রচনা ও সংকলন রয়েছে।
তিনি ছয়শত একানব্বই হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং সাতশত একান্ন হিজরি সনের রজব মাসে দামেস্কে ইন্তেকাল করেন।
তিনি ইবনে তাইমিয়্যাহর সংশ্রবে থাকতেন এবং তাঁর নিকট থেকে বিপুল জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। তিনি বিভিন্ন শাস্ত্রের অধিকারী এবং শব্দের প্রকাশ্য ও রহস্যপূর্ণ অর্থ অনুধাবনে দক্ষ ছিলেন। হাদীস শাস্ত্রে তিনি এমন পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন যে, এই বিদ্যায় নেতৃত্ব তাঁর ওপর এসে পৌঁছেছিল।
হাফেজ আবু বকর মুহাম্মদ বিন আল-মুহিব্ব বলেন, আমি আমাদের শায়খ হাফেজ আল-মিযযীকে বললাম: ইবনুল কাইয়্যিম তো ইবনে খুজাইমাহর সমপর্যায়ের। তখন তিনি বললেন: তিনি এই জামানায় তেমন, যেমন ইবনে খুজাইমাহ তাঁর জামানায় ছিলেন।
তাঁর কিতাবসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো চার খণ্ডে সমাপ্ত 'যাদুল মাআদ ফি হাদয়ি খায়রিল ইবাদ'।
(খণ্ড: ১)
আশ-শাহাদাতুয যাকিয়্যাহ ফী সানাউল আইম্মাহ আলা ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
مجلدات وَكتاب سفر الهجرتين وَبَاب السعادتين
قَالَ رحمه الله فِي تَرْجَمته لِابْنِ تَيْمِية شيخ الاسلام وَالْمُسْلِمين الْقَائِم بِبَيَان الْحق ونصرة الدّين الدَّاعِي الى الله وَرَسُوله الْمُجَاهِد فِي سَبيله الَّذِي اضحك الله بِهِ من الدّين مَا كَانَ عَابِسا وأحيى من السّنة لل مَا كَانَ دارسا والنور الَّذِي اطلعه الله فِي ليل الشُّبُهَات فكشف بِهِ غياهب الظُّلُمَات وَفتح بِهِ من الْقُلُوب مقفلها وازاح بِهِ عَن النُّفُوس عللها فقمع بِهِ زيغ الزائغين وَشك الشاكين وانتحال المبطلين وصدقت بِهِ بِشَارَة رَسُول رب الْعَالمين يَقُول ان الله يبْعَث لهَذِهِ الامة على رَأس كل مائَة سنة من يجدد لَهَا دينهَا وَبِقَوْلِهِ يحمل هَذَا الْعلم من كل خلف عدوله ينفون عَنهُ تَحْرِيف الغالين وانتحال المبطلين
وَهُوَ الشَّيْخ الْعَلامَة الزَّاهِد العابد الخاشع الناسك الْحَافِظ المتبع تَقِيّ الدّين أَبُو الْعَبَّاس احْمَد بن الشَّيْخ الامام الْعَلامَة شيخ الاسلام ابي المحاسن عبد الْحَلِيم بن الشَّيْخ الْإِسْلَام ومفتى الْفرق عَلامَة الدُّنْيَا مجد الين عبد السَّلَام ابْن الشَّيْخ الامام الْعَلامَة الْكَبِير شيخ الاسلام فَخر الدّين عبد الله بن ابي الْقَاسِم بن مُحَمَّد بن تَيْمِية الْحَرَّانِي قدس الله روحه وَنور ضريحه
قَالَ ابْن الْقيم وَسمعت شيخ الاسلام ابْن تَيْمِية يَقُول ان فِي الدُّنْيَا جنَّة من لم يدْخل جنَّة الاخرة
খণ্ডসমূহ এবং 'সিফরুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুস সা'আদাতাইন' গ্রন্থ
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) শায়খুল ইসলাম ও মুসলিমদের শায়খ ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর জীবনী বর্ণনায় বলেছেন—যিনি সত্যের বর্ণনা ও দ্বীনের সাহায্যে সদাতৎপর ছিলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে আহ্বানকারী এবং তাঁর পথে জিহাদকারী; যাঁর মাধ্যমে আল্লাহ দ্বীনের সেই অংশকে হাস্যোজ্জ্বল করেছেন যা ম্লান হয়ে গিয়েছিল এবং সুন্নাহর সেই বিষয়সমূহকে পুনর্জীবিত করেছেন যা বিলুপ্ত হতে চলেছিল। তিনি এমন এক জ্যোতি যাকে আল্লাহ সংশয়ের অন্ধকারে উদিত করেছেন, যার দ্বারা তিনি অন্ধকারের ঘনঘটা দূর করেছেন, হৃদয়ের রুদ্ধ দ্বারসমূহ উন্মুক্ত করেছেন এবং নফস থেকে তার ব্যাধিসমূহ দূর করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি পথভ্রষ্টদের বিচ্যুতি, সংশয়বাদীদের সন্দেহ এবং বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচার দমন করেছেন। তাঁর মাধ্যমে রব্বুল আলামীনের রাসূলের সেই সুসংবাদ সত্য প্রমাণিত হয়েছে, যেখানে তিনি বলেন: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ এই উম্মতের জন্য প্রতি শতাব্দীর শিরোভাগে এমন একজনকে প্রেরণ করবেন যিনি তাদের দ্বীনকে সংস্কার করবেন।’ এবং তাঁর সেই বাণীর মাধ্যমে যে: ‘প্রত্যেক প্রজন্মের ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তিগণ এই ইলমকে বহন করবেন, যারা তা থেকে সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি এবং বাতিলপন্থীদের মিথ্যারোপ দূর করবেন।’
তিনি হলেন শায়খ, আল্লামা, যাহিদ, ইবাদতগুজার, বিনয়ী, উপাসক, হাফেজ এবং সুন্নাহর একনিষ্ঠ অনুসারী তাকীউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে শায়খ ইমাম আল্লামা শায়খুল ইসলাম আবু আল-মাহাসিন আব্দুল হালীম ইবনে শায়খুল ইসলাম ও বিভিন্ন ফিরকার মুফতী, বিশ্ববরেণ্য আল্লামা মাজদুদ্দীন আব্দুস সালাম ইবনে শায়খ ইমাম আল্লামা কবীর শায়খুল ইসলাম ফখরুদ্দীন আব্দুল্লাহ ইবনে আবুল কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী। আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন এবং তাঁর কবরকে আলোকিত করুন।
ইবনুল কাইয়্যিম বলেন, আমি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহকে বলতে শুনেছি: ‘নিশ্চয়ই দুনিয়াতে একটি জান্নাত রয়েছে; যে ব্যক্তি তাতে প্রবেশ করল না, সে পরকালের জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’
(খণ্ড: ১)
আশ-শাহাদাতুয যাকিয়্যাহ ফী সানাউল আইম্মাহ আলা ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
وَكَانَ يَقُول بِالصبرِ وَالْيَقِين تنَال المامة فِي الدّين
وَكَانَ يَقُول لَا بُد للسالك الى الله عز وجل بَين مُشَاهدَة الْمِنَّة ومطالعة عيب النَّفس وَكَانَ يتَمَثَّل كثيرا
… عوى الذِّئْب فاستأنست بالذئب إِذْ عوى
… وَصَوت إِنْسَان فكدت أطير
…وَكَانَ يتَمَثَّل أَيْضا
… وَأخرج من بَين الْبيُوت لعلني أحدث عَنْك النَّفس فِي السِّرّ خَالِيا
… 6 وَمِنْهُم ابْن الزملكاني
وَهُوَ الشَّيْخ الإِمَام الْعَلامَة قَاضِي الْقُضَاة جمال المناظرين كَمَال الدّين أَبُو الْمَعَالِي مُحَمَّد بن أبي الْحسن عَليّ بن عبد الْوَاحِد بن خطيب زملكاه الْأنْصَارِيّ الشَّافِعِي
أَخذ النَّحْو عَن ابْن مَالك وَالْفِقْه عَنهُ الشَّيْخ تَاج الدّين بن عبد الرَّحْمَن وَالْأُصُول عَن قَاضِي الْقُضَاة بهاء الدّين بن الزكي
তিনি বলতেন, ধৈর্য ও দৃঢ় বিশ্বাসের মাধ্যমেই দ্বীনের নেতৃত্ব লাভ করা যায়।
তিনি আরও বলতেন, মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর পথের পথিককে অবশ্যই আল্লাহর অনুগ্রহ অবলোকন এবং নিজের নফসের দোষত্রুটি পর্যবেক্ষণের মাঝে অবস্থান করতে হবে। তিনি প্রায়ই এই কাব্যটি আবৃত্তি করতেন
… নেকড়ে ডেকে উঠল, আর যখন নেকড়ে ডাকল আমি তার সাথে সখ্যতা অনুভব করলাম
… কিন্তু মানুষের কণ্ঠস্বর শুনে আমি আতঙ্কে প্রায় উড়ে যাওয়ার উপক্রম হলাম
…তিনি এই কাব্যটিও আবৃত্তি করতেন
… আমি লোকালয় ছেড়ে বেরিয়ে যাই, সম্ভবত নির্জনে গোপনে নিজের সাথে তোমার কথা বলতে পারব
… ৬. তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইবনুল জামলাকানি।
তিনি হলেন শাইখ, ইমাম, আল্লামা, কাযিল কুযাত, জামালুল মুনাজিরিন, কামালুদ্দীন আবুল মা’আলী মুহাম্মাদ ইবনে আবিল হাসান আলী ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে খাতিব জামলাকাহ আল-আনসারী আল-শাফিঈ।
তিনি ইবনে মালিকের নিকট নাহু, শাইখ তাজউদ্দীন ইবনে আব্দুর রহমানের নিকট ফিকহ এবং কাযিল কুযাত বাহাউদ্দীন ইবনুল জাকীর নিকট উসুল শিক্ষা লাভ করেন।
(খণ্ড: ১)
আশ-শাহাদাতুয যাকিয়্যাহ ফী সানাউল আইম্মাহ আলা ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
وَكَانَ كثير الْفضل سريع الْإِدْرَاك يتوقد ذكاء وفطنة وَأجْمع النَّاس على فَضله وانتهت إِلَيْهِ رئاسة الْمَذْهَب فِي عصره وَتَوَلَّى قَضَاء حلب وَأقَام بهَا إِلَى أَن طلب إِلَى مصر ليتولى قَضَاء دمشق فَمَاتَ بِمَدِينَة بلبيس فِي رَمَضَان سنة سبع وَعشْرين وَسَبْعمائة وَحمل إِلَى القرافة وَدفن بجوار قبه الإِمَام الشَّافِعِي وَكَانَ مولده فِي شَوَّال سنة سِتّ أَو سبع وَسِتِّينَ وسِتمِائَة
تولى مناظرة شيخ الْإِسْلَام ابْن تَيْمِية غير مَا مرّة وَمَعَ ذَلِك كَانَ يعْتَرف بإمامته وَلَا يُنكر فَضله
قَالَ مرّة عَن الشَّيْخ تَقِيّ الدّين كَانَ إِذا سُئِلَ عَن فن من الْعلم ظن الرَّائِي وَالسَّامِع أَنه لَا يعرف غير ذَلِك الْفَنّ وَحكم أَن أحدا لَا يعرف مثله
وَقَالَ الْحَافِظ ابْن رَجَب فِي طبقاته وَبَلغنِي من طَرِيق صَحِيح عَن ابْن الزملكاني أَنه سُئِلَ عَن الشَّيْخ يَعْنِي ابْن تَيْمِية فَقَالَ لم ير من خَمْسمِائَة سنة أَو قَالَ أَرْبَعمِائَة سنة الشَّك من النَّاقِل وغالب ظَنّه أَنه قَالَ من خَمْسمِائَة سنة أحفظ مِنْهُ انْتهى
وَقَالَ ابْن الزملكاني أَيْضا لقد أعطي ابْن تَيْمِية الْيَد الطُّولى فِي حسن التصنيف وجودة الْعبارَة وَالتَّرْتِيب والتقسيم والتبيين وَقد الْآن الله لَهُ الْعُلُوم كَمَا ألان الْحَدِيد لداود كَانَ إِذا سُئِلَ عَن فن من الْعلم ظن الرَّائِي وَالسَّامِع أَنه لَا يعرف غير ذَلِك الْفَنّ وَحكم أَن أحدا لَا يعرف
তিনি ছিলেন প্রভূত ফযীলতের অধিকারী, দ্রুত বোধশক্তিসম্পন্ন এবং প্রখর মেধা ও বিচক্ষণতায় ভাস্বর। তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়ে সর্বস্তরের মানুষ ঐকমত্য পোষণ করেছিলেন এবং তাঁর যুগে মাযহাবের প্রধান নেতৃত্ব তাঁর ওপরই শেষ হয়েছিল। তিনি হালাবের (আলেপ্পো) কাযী বা বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং সেখানে অবস্থান করেন, যতক্ষণ না তাঁকে দামেস্কের বিচারপতির দায়িত্ব পালনের জন্য মিশরে তলব করা হয়। অতঃপর তিনি সাতশ সাতাশ হিজরী সনের রমযান মাসে বিলবাইস শহরে ইন্তেকাল করেন। তাঁকে কারাফায় নিয়ে আসা হয় এবং ইমাম শাফেয়ীর গম্বুজের পাশে দাফন করা হয়। তাঁর জন্ম ছিল ছয়শ সাতষট্টি বা ছিষট্টি হিজরী সনের শাওয়াল মাসে।
তিনি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার সাথে একাধিকবার মুনাযারা বা বিতর্কে লিপ্ত হয়েছিলেন, তবে তা সত্ত্বেও তিনি তাঁর ইমামত (নেতৃত্ব) স্বীকার করতেন এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব অস্বীকার করতেন না।
তিনি একবার শায়খ তাকিউদ্দীন সম্পর্কে বলেছিলেন, "তাঁকে যখন কোনো একটি শাস্ত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো, তখন দর্শক ও শ্রোতা মনে করতেন যে তিনি ওই শাস্ত্র ছাড়া আর কিছুই জানেন না এবং তারা ফয়সালা দিতেন যে ওই শাস্ত্রের ব্যাপারে তাঁর মতো আর কেউ জানে না।"
হাফেয ইবনে রজব তাঁর 'তাবাকাত' গ্রন্থে বলেছেন, "ইবনে জামলাকানী থেকে সহীহ সূত্রে আমার কাছে পৌঁছেছে যে, তাঁকে শায়খ অর্থাৎ ইবনে তাইমিয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন—পাঁচশ বছর ধরে, অথবা তিনি বলেছিলেন চারশ বছর ধরে (সন্দেহটি বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে, তবে তাঁর প্রবল ধারণা যে তিনি পাঁচশ বছরই বলেছিলেন)—তাঁর চেয়ে বড় হাফেয (স্মরণশক্তিসম্পন্ন) আর দেখা যায়নি।" সমাপ্ত।
ইবনে জামলাকানী আরও বলেছেন, "ইবনে তাইমিয়াকে গ্রন্থরচনা, উন্নত প্রকাশভঙ্গি, বিন্যাস, শ্রেণিবিন্যাস ও ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে এক বিশেষ পারদর্শিতা প্রদান করা হয়েছিল। আল্লাহ তাঁর জন্য জ্ঞানসমূহকে তেমনি সহজ করে দিয়েছিলেন যেমন তিনি দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর জন্য লোহাকে নরম করে দিয়েছিলেন। তাঁকে যখন কোনো শাস্ত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো, তখন দর্শক ও শ্রোতা মনে করতেন যে তিনি ওই শাস্ত্র ছাড়া আর কিছুই জানেন না এবং তারা ফয়সালা দিতেন যে এ বিষয়ে তাঁর তুল্য কেউ জানে না।"
(খণ্ড: ১)
আশ-শাহাদাতুয যাকিয়্যাহ ফী সানাউল আইম্মাহ আলা ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
مثله وَكَانَ الْفُقَهَاء من سَائِر الطوائف إِذا جَلَسُوا مَعَه استفادوا فِي مَذْهَبهم مِنْهُ مَا لم يَكُونُوا عرفوه قبل ذَلِك وَلَا يعرف أَنه نَاظر أحدا فَانْقَطع مَعَه وَلَا تكلم فِي علم من الْعُلُوم سَوَاء كَانَ من عُلُوم الشَّرْع أم من غَيرهَا إِلَّا فاق فِيهِ أهل والمنتسبين إِلَيْهِ
وَقد رُوِيَ واشتهر وَذكر وانتشر مَا كتبه الشَّيْخ كَمَال الدّين ابْن الزملكاني على كتاب بَيَان الدَّلِيل على بطلَان التَّحْلِيل تأليف ابْن تَيْمِية هُوَ مَا نَصه من مصنفات سيدنَا وَشَيخنَا وقدوتنا الشَّيْخ الإِمَام الْعَالم الْعَلامَة الأوحد البارع الْحَافِظ الزَّاهِد الْوَرع الْقدْوَة الْكَامِل الْعَارِف تَقِيّ الدّين شيخ الْإِسْلَام سيد الْعلمَاء قدوة الْأَئِمَّة الْفُضَلَاء نَاصِر السّنة وقامع الْبِدْعَة حجَّة الله على الْعباد راد أهل الزيغ والعناد أوحد الْعلمَاء العاملين آخر الْمُجْتَهدين أبي الْعَبَّاس أَحْمد بن عبد الْحَلِيم بن عبد السَّلَام ابْن عبد الله بن أبي الْقَاسِم بن مُحَمَّد بن تَيْمِية الْحَرَّانِي حفظ الله على الْمُسلمين طول حَيَاته وَأعَاد عَلَيْهِم من بركاته إِنَّه على كل شَيْء قدير
وَكتب ابْن الزملكاني أَيْضا بِخَطِّهِ على كتاب رفع الملام عَن الْأَئِمَّة الْأَعْلَام مَا نَصه تأليف الشَّيْخ الإِمَام الْعَلامَة الأوحد الْحَافِظ الْمُجْتَهد الزَّاهِد العابد الْقدْوَة إِمَام الْأَئِمَّة قدوة الْأمة عَلامَة الْعلمَاء وَارِث الْأَنْبِيَاء آخر الْمُجْتَهدين أوحد عُلَمَاء الدّين بركَة الْإِسْلَام حجَّة الْأَعْلَام برهَان الْمُتَكَلِّمين قامع المبتدعين محيي السّنة وَمن عظمت بنفعه علينا الْمِنَّة وَقَامَت بِهِ على أعدائه الْحجَّة واستبانت ببركته وهديه المحجة تَقِيّ الدّين
তাঁর মতো। আর সকল দলের ফকীহগণ যখন তাঁর সাথে বসতেন, তখন তাঁরা তাঁদের নিজ নিজ মাযহাবের এমন সব বিষয়ে তাঁর থেকে ইলম অর্জন করতেন যা তাঁরা ইতিপূর্বে জানতেন না। এমনটি কখনো জানা যায়নি যে, তিনি কারো সাথে বিতর্ক করেছেন আর সেই ব্যক্তি তর্কে হেরে যায়নি। শরীয়তের জ্ঞান হোক কিংবা অন্য কোনো শাস্ত্র, তিনি এমন কোনো বিষয়ে আলোচনা করেননি যেখানে তিনি সেই শাস্ত্রের পণ্ডিত ও পারদর্শীদের ছাড়িয়ে যাননি।
শেখ কামালুদ্দীন ইবনুল জামলাকানী, ইবনে তায়মিয়াহ-এর রচিত ‘বায়ানুদ দালীল আলা বুতলানিত তাহলীল’ গ্রন্থের ওপর যা লিখেছেন তা বর্ণিত, প্রসিদ্ধ ও প্রচারিত হয়েছে। তার মূল পাঠ হলো: “আমাদের নেতা, আমাদের শায়খ এবং আমাদের আদর্শ; শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ আলিম, মহান পণ্ডিত, অনন্য, সুদক্ষ, হাফিজ, দুনিয়াবিমুখ, পরহেজগার, পূর্ণাঙ্গ পথপ্রদর্শক, আরিফ, তাকীউদ্দীন, শায়খুল ইসলাম, উলামায়ে কিরামের সরদার, ফযীলতধারী ইমামগণের আদর্শ, সুন্নাহর সাহায্যকারী এবং বিদআতের বিনাশকারী, বান্দাদের ওপর আল্লাহর হুজ্জাত, সত্যবিচ্যুত ও হঠকারীদের প্রতিরোধকারী, আমলকারী আলিমদের মধ্যে অদ্বিতীয়, মুজতাহিদগণের শেষ উত্তরসূরি, আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে আব্দুল হালীম ইবনে আব্দুস সালাম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবিল কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে তায়মিয়াহ আল-হাররানী। আল্লাহ তাআলা তাঁর দীর্ঘ জীবনের মাধ্যমে মুসলিমদের হিফাযত করুন এবং তাঁর বরকতসমূহ তাঁদের ওপর ফিরিয়ে দিন। নিশ্চয়ই তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।”
ইবনুল জামলাকানী ‘রাফউল মালাম আনিল আইম্মাতিল আলাম’ গ্রন্থের ওপরও নিজ হাতে লিখেছেন: “গ্রন্থটি শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ পণ্ডিত, অনন্য, হাফিজ, মুজতাহিদ, যাহেদ, আবেদ, অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব, ইমামদের ইমাম, উম্মতের আদর্শ, উলামাদের শিরোমণি, নবীদের ওয়ারিস, সর্বশেষ মুজতাহিদ, দ্বীনি আলিমদের মধ্যে অদ্বিতীয়, ইসলামের বরকত, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হুজ্জাত, মুতাকাল্লিমদের প্রমাণ, বিদআতপন্থীদের দমনকারী, সুন্নাহর পুনর্জীবিতকারী—যাঁর উপকারের মাধ্যমে আমাদের ওপর অনুগ্রহ মহান হয়েছে, যাঁর মাধ্যমে শত্রুদের ওপর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং যাঁর বরকত ও হিদায়াতের মাধ্যমে সত্যপথ সুপ্রকাশিত হয়েছে—সেই তাকীউদ্দীন (কর্তৃক রচিত)।”
(খণ্ড: ১)
আশ-শাহাদাতুয যাকিয়্যাহ ফী সানাউল আইম্মাহ আলা ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
أبي الْعَبَّاس أَحْمد بن عبد الْحَلِيم بن عبد السَّلَام ابْن تَيْمِية أَعلَى الله مناره وشيد من الدّين أَرْكَانه ثمَّ قَالَ
… مَاذَا يَقُول الواصفون لَهُ
… وَصِفَاته جلت عَن الْحصْر
هُوَ حجَّة الله قاهرة
… هُوَ بَيْننَا أعجوبة الدَّهْر
هُوَ آيَة فِي الْخلق ظَاهِرَة
… أنوارها أربت على الْفجْر
…7 - وَمِنْهُم الْحَافِظ الذَّهَبِيّ
وَهُوَ الشَّيْخ الإِمَام الْحَافِظ الْهمام مُفِيد الشَّام ومؤرخ الْإِسْلَام ناقد الْمُحدثين وَإِمَام المعدلين والمجرحين إِمَام أهل التَّعْدِيل وَالْجرْح وَالْمُعْتَمد عَلَيْهِ فِي الْمَدْح والقدح شمس الدّين أَبُو عبد الله مُحَمَّد بن أَحْمد بن عُثْمَان التركماني الفارقي الأَصْل ثمَّ الدِّمَشْقِي
ولد سنة ثَلَاث وَسبعين وسِتمِائَة وَمَات بِدِمَشْق سنة ثَمَان وَأَرْبَعين وَسَبْعمائة
ومشيخته بِالسَّمَاعِ وَالْإِجَازَة نَحْو ألف شيخ وثلاثمائة يجمعهُمْ مُعْجَمه الْكَبِير
وَكَانَ آيَة فِي نقد الرِّجَال عُمْدَة فِي الْجرْح وَالتَّعْدِيل عَالما بالتفريع
আবুল আব্বাস আহমাদ ইবন আব্দুল হালীম ইবন আব্দুস সালাম ইবন তাইমিয়া—আল্লাহ তাঁর সুখ্যাতিকে সমুন্নত করুন এবং দ্বীনের স্তম্ভসমূহকে তাঁর মাধ্যমে সুদৃঢ় করুন। এরপর তিনি বললেন
… প্রশংসাকারীরা তাঁর সম্পর্কে কী-ই বা বলতে পারে
… তাঁর গুণাবলি গণনার ঊর্ধ্বে।
তিনি আল্লাহর এক অপরাজেয় প্রমাণ
… তিনি আমাদের মাঝে মহাকালের এক বিস্ময়।
তিনি সৃষ্টির মাঝে এক প্রকাশ্য নিদর্শন
… যার আলোকচ্ছটা সুবহে সাদিকের আলোকেও ছাড়িয়ে গেছে
…৭ - তাঁদের মধ্যে রয়েছেন হাফেজ যাহাবী।
তিনি হলেন শাইখ, ইমাম, তেজস্বী হাফেজ, শাম দেশের শিক্ষক এবং ইসলামের ইতিহাসবিদ, মুহাদ্দিসদের সমালোচক এবং জারহ ও তাদীল (বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই) কারীদের ইমাম, জারহ ও তাদীল শাস্ত্রের পণ্ডিতদের ইমাম এবং প্রশংসা ও সমালোচনার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্ব; শামসুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন উসমান আত-তুর্কুমানি আল-ফারিকি আল-আসল, অতঃপর আদ-দিমাশকি।
তিনি ৬৭৩ হিজরি সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭৪৮ হিজরি সালে দামেস্কে ইন্তেকাল করেন।
সরাসরি শ্রবণ এবং ইজাযত সূত্রে তাঁর উস্তাদগণের সংখ্যা প্রায় এক হাজার তিনশ জন, যাঁদের বিবরণ তাঁর 'মু'জামুল কাবীর' গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।
তিনি বর্ণনাকারীদের সমালোচনায় এক বিস্ময়কর নিদর্শন ছিলেন, জারহ ও তাদীল শাস্ত্রে প্রধান অবলম্বন এবং ফিকহী শাখা-প্রশাখার জ্ঞানে সুপণ্ডিত ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আশ-শাহাদাতুয যাকিয়্যাহ ফী সানাউল আইম্মাহ আলা ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
والتأصيل إِمَامًا فِي الْقرَاءَات فَقِيها فِي النظريات لَهُ دربة بمذاهب الْأَئِمَّة وأرباب المقالات قَائِما بَين الْخلف بنشر السّنة وَمذهب السّلف
وَمن كَلَامه رحمه الله
… الْفِقْه قَالَ الله قَالَ رَسُوله
… إِن صَحَّ وَالْإِجْمَاع فاجهد فِيهِ
وحذار من نصب الْخلاف جَهَالَة بَين النَّبِي وَبَين رَأْي فَقِيه
…وَله المؤلفات المفيدة والمصنفات السديدة مِنْهَا تَارِيخ الْإِسْلَام فِي عشْرين مجلدا وسير النبلاء فِي عشْرين مجلدا وميزان الإعتدال فِي نقد الرِّجَال وَغير ذَلِك
وَهُوَ الَّذِي قَالَ فِيهِ بعض الْعلمَاء الْأَعْلَام عِنْد اجتماعه بِهِ بِدِمَشْق وَالشَّام
… مَا زلت بِالسَّمْعِ أهواكم وَمَا ذكرت
… أخباركم قطّ إِلَّا ملت من طرب
وَلَيْسَ من عجب أَن ملت نحوكم
… فَالنَّاس بالطبع قد مالوا إِلَى الذَّهَب
…وَقد ترْجم الذَّهَبِيّ هَذَا ابْن تَيْمِية فِي عدَّة مَوَاضِع وَأثْنى عَلَيْهِ ثَنَاء
এবং মূলনীতি নির্ধারণে পারদর্শী, কিরাত শাস্ত্রে ইমাম ও তাত্ত্বিক মাসয়ালায় ফকিহ; ইমামগণের মাযহাব এবং বিভিন্ন মতবাদের প্রবক্তাদের বিষয়ে তাঁর গভীর পাণ্ডিত্য ছিল। তিনি পরবর্তী প্রজন্মের মাঝে সুন্নাহর প্রসার এবং সালাফদের মাযহাব প্রতিষ্ঠায় একনিষ্ঠভাবে দণ্ডায়মান ছিলেন।
তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) বাণীর অন্তর্ভুক্ত হলো:
… ফিকহ হলো 'আল্লাহ বলেছেন' এবং 'তাঁর রাসূল বলেছেন'
… যদি তা সহীহ হয় এবং ইজমা সাব্যস্ত হয়, তবে তা অর্জনে প্রচেষ্টা ব্যয় করো।
আর অজ্ঞতাবশত নবী এবং কোনো ফকিহর মতামতের মাঝে বিরোধ দাঁড় করানো থেকে সাবধান থেকো
…তাঁর রয়েছে বহু উপকারী গ্রন্থ এবং সঠিক রচনাবলী; যার মধ্যে রয়েছে বিশ খণ্ডে 'তারিখুল ইসলাম', বিশ খণ্ডে 'সিয়ারু আলামিন নুবালা', বর্ণনাকারীদের সমালোচনায় 'মিযানুল ইতিদাল' এবং আরও অন্যান্য গ্রন্থ।
তিনি সেই ব্যক্তি, যাঁর সম্পর্কে দামেস্ক ও শামে তাঁর সাথে সাক্ষাতের সময় জনৈক প্রথিতযশা আলেম বলেছিলেন:
… আমি সর্বদা শ্রুতির মাধ্যমেই আপনাদের প্রতি অনুরক্ত ছিলাম, আর যখনই আপনাদের সংবাদ আলোচিত হয়েছে, আমি আনন্দে উদ্বেলিত হয়েছি।
আর আমি যে আপনাদের দিকে ঝুঁকেছি তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই
… কেননা মানুষ স্বভাবগতভাবেই স্বর্ণের (যাহাবি-র) দিকে ঝুঁকে থাকে
…আর এই যাহাবি ইবনে তাইমিয়্যাহর জীবনী একাধিক স্থানে সংকলন করেছেন এবং তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আশ-শাহাদাতুয যাকিয়্যাহ ফী সানাউল আইম্মাহ আলা ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪০)
حسنا فَقَالَ فِي كِتَابَة طبقَة سَماع كتاب رفع الملام عَن الائمة الْأَعْلَام سمع هَذَا الْكتاب على مُؤَلفه شَيخنَا الامام الْعَالم الْعَلامَة الاوحد شيخ الاسلام مفتي الْفرق قدوة الامة اعجوبة الزَّمَان بَحر الْعُلُوم حبر الْقُرْآن تَقِيّ الدّين سيد الْعباد ابي الْعَبَّاس احْمَد بن عبد الْحَلِيم بن عبد السَّلَام ابْن تَيْمِية رضي الله عنه وَذكر بَقِيَّة الطَّبَقَة
وَكتب الذَّهَبِيّ ايضا تَحت خطّ الشَّيْخ تَقِيّ الدّين ابْن تَيْمِية هَذَا خطّ شَيخنَا الامام شيخ الاسلام فَرد الزَّمَان بَحر الْعُلُوم تَقِيّ الدّين قَرَأَ الْقُرْآن وَالْفِقْه وناظر وَاسْتدلَّ وَهُوَ دون الْبلُوغ
برع فِي الْعلم وَالتَّفْسِير وافتى ودرس وَله نَحْو الْعشْرين وصنف التصانيف وَصَارَ من اكابرالعلماء فِي حَيَاة شُيُوخه وَله المصنفات الْكِبَار الَّتِي سَارَتْ بهَا الركْبَان وَلَعَلَّ تصانيفه فِي هَذَا الْوَقْت تكون أَرْبَعَة آلَاف كراس وَأكْثر وَفسّر كتاب الله تَعَالَى مُدَّة سِنِين من صَدره فِي أَيَّام الْجمع وَكَانَ يتوقد ذكاء وسماعاته من الحَدِيث كَثِيره وشيوخه أَكثر من مِائَتي شيخ ومعرفته بالتفسير اليها الْمُنْتَهى وَحفظه للْحَدِيث وَرِجَاله وَصِحَّته وسقمه فَمَا يلْحق فِيهِ وَأما نَقله للفقه ومذاهب الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ فضلا عَن الْمذَاهب الاربعة فَلَيْسَ لَهُ فِيهِ نَظِير واما مَعْرفَته بالملل والنحل والاصول وَالْكَلَام فَلَا اعْلَم لَهُ فِيهِ نظيرا ويدري جملَة صَالِحَة من اللُّغَة وعربيته قَوِيَّة جدا ومعرفته بالتاريخ وَالسير فَعجب عَجِيب وَأما شجاعته وجهاده واقدامه فَأمر يتَجَاوَز الْوَصْف ويفوق النَّعْت وَهُوَ اُحْدُ الاجواد الاسخياء الَّذين يضْرب بهم الْمثل وَفِيه زهد وقناعة باليسير فِي المأكل وَالْمشْرَب انْتهى
বেশ, তিনি 'রাফউল মালাম আনিল আইম্মাতিল আলাম' গ্রন্থের শ্রবণলিপি বা সামা'র রেকর্ডে বলেছেন: এই গ্রন্থটি এর রচয়িতা আমাদের শাইখ, ইমাম, আলেম, মহাপণ্ডিত, অপ্রতিদ্বন্দ্বী, শাইখুল ইসলাম, বিভিন্ন ফিরকার মুফতি, উম্মাহর আদর্শ, যুগের বিস্ময়, ইলমের সমুদ্র, কুরআনের প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্ব তাকীউদ্দীন ইবাদতকারীদের সরদার আবু আব্বাস আহমাদ ইবনে আব্দুল হালীম ইবনে আব্দুস সালাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর নিকট শ্রবণ করা হয়েছে। অতঃপর তিনি সেই স্তরের বাকি অংশ উল্লেখ করেছেন।
যাহাবী আরও লিখেছেন শাইখ তাকীউদ্দীন ইবনে তাইমিয়্যাহর হস্তাক্ষরের নিচে: এটি আমাদের শাইখ, ইমাম, শাইখুল ইসলাম, যুগের অনন্য ব্যক্তিত্ব, ইলমের সমুদ্র তাকীউদ্দীনের হস্তাক্ষর। তিনি কুরআন ও ফিকহ পাঠ করেছেন এবং বিতর্ক ও দলিল উপস্থাপন করেছেন যখন তিনি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পূর্বেই ছিলেন।
তিনি ইলম ও তাফসীরে পারদর্শিতা অর্জন করেন এবং ফতোয়া প্রদান ও পাঠদান করেন যখন তাঁর বয়স প্রায় বিশ বছর। তিনি বিভিন্ন গ্রন্থ রচনা করেন এবং তাঁর শিক্ষকদের জীবদ্দশাতেই বড় আলেমদের অন্তর্ভুক্ত হন। তাঁর এমন বড় বড় রচনা রয়েছে যা দেশ-দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। সম্ভবত এই সময়ে তাঁর রচনা চার হাজার খাতা বা তারও বেশি হবে। তিনি জুমার দিনগুলোতে দীর্ঘ বছর ধরে তাঁর স্মৃতি থেকে মহান আল্লাহর কিতাবের তাফসীর করেছেন। তিনি অত্যন্ত প্রখর মেধার অধিকারী ছিলেন এবং তাঁর হাদিস শ্রবণ ছিল প্রচুর। তাঁর শিক্ষকের সংখ্যা দুইশ’রও বেশি। তাফসীর বিষয়ে তাঁর জ্ঞান ছিল চূড়ান্ত পর্যায়ের। হাদিস মুখস্থ রাখা, হাদিসের বর্ণনাকারী এবং এর বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা বিচারে কেউ তাঁর সমকক্ষ হতে পারেনি। আর ফিকহ এবং সাহাবী ও তাবিঈদের মাযহাব বর্ণনার ক্ষেত্রে, এমনকি চার মাযহাবের ক্ষেত্রেও তাঁর কোনো নজির নেই। বিভিন্ন ধর্মমত, ফেরকা, মূলনীতি (উসুল) এবং ইলমুল কালাম সম্পর্কে তাঁর যে জ্ঞান, তাতে আমি তাঁর কোনো সমকক্ষ জানি না। তিনি ভাষার একটি বড় অংশ জানতেন এবং তাঁর আরবি ভাষা ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। ইতিহাস ও সীরাত সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান ছিল বিস্ময়কর। আর তাঁর সাহসিকতা, জিহাদ ও বীরত্ব এমন এক বিষয় যা বর্ণনাতীত এবং প্রশংসার ঊর্ধ্বে। তিনি ছিলেন সেই দানশীল ও উদার ব্যক্তিদের একজন যাদের উদাহরণ দেওয়া হয়। তাঁর মধ্যে ছিল দুনিয়াবিমুখতা এবং পানাহারে অল্পে তুষ্টি। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
আশ-শাহাদাতুয যাকিয়্যাহ ফী সানাউল আইম্মাহ আলা ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪১)
وَقَالَ الذَّهَبِيّ أَيْضا فِي تَرْجَمَة ابْن تَيْمِية وَله بَاعَ طَوِيل فِي معرفَة مَذَاهِب الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ وَقل أَن يتَكَلَّم فِي مَسْأَلَة إِلَّا وَيذكر فِيهَا مَذَاهِب الْأَرْبَعَة وَقد خَالف الْأَرْبَعَة فِي مسَائِل مَعْرُوفَة وصنف فِيهَا وَاحْتج لَهَا بِالْكتاب وَالسّنة وَلما كَانَ معتقلا بالإسكندرية التمس مِنْهُ صَاحب سبتة أَن يُجِيز لَهُ مروياته وينص على أَسمَاء جملَة مِنْهَا فَكتب فِي عشر وَرَقَات جملَة من ذَلِك بأسانيدها من حفظه بِحَيْثُ يعجز أَن يعْمل بعضه أكبر مُحدث يكون وَله خبْرَة تَامَّة بِالرِّجَالِ وجرحهم وتعديلهم وطبقاتهم وَمَعْرِفَة بفنون الحَدِيث وبالعالي والنازل وبالصحيح والسقيم مَعَ حفظه لمتونه فَلَا يبلغ أحد فِي الْعَصْر رتبته وَلَا يُقَارِبه وَهُوَ عجب فِي استحضار واستخراج الْحجَج مِنْهُ وَإِلَيْهِ الْمُنْتَهى فِي عزوه إِلَى الْكتب السِّتَّة والمسند بِحَيْثُ يصدق عَلَيْهِ أَن يُقَال كل حَدِيث لَا يعرفهُ ابْن تَيْمِية فَلَيْسَ بِحَدِيث وَلَكِن الْإِحَاطَة لله غير أَنه يغترف من بَحر وَغَيره من الْأَئِمَّة يَغْتَرِفُونَ من السواقي وَله الْآن عدَّة سِنِين لَا يُفْتِي بِمذهب معِين بل بِمَا قَامَ الديل عَلَيْهِ عِنْده وَلَقَد نصر السّنة الْمَحْضَة والطريقة السلفية وَاحْتج لَهَا ببراهين ومقدمات وَأُمُور لم يسْبق إِلَيْهَا وَأطلق عِبَارَات أحجم عَنْهَا الْأَولونَ وَالْآخرُونَ وهابوا وجسر عَلَيْهَا حَتَّى قَامَ عَلَيْهِ خلق من عُلَمَاء مصر وَالشَّام قيَاما لَا مزِيد عَلَيْهِ وبدعوه وناظروه وكاتبوه وَهُوَ ثَابت لَا يداهن وَلَا يحابي بل يَقُول الْحق المر الَّذِي أَدَّاهُ إِلَيْهِ إجتهاده وحدة ذهنه وسعة دائرته فِي السّنَن والأقوال مَعَ مَا اشْتهر مِنْهُ من الْوَرع وَكَمَال الْفِكر وسعة الْإِدْرَاك وَالْخَوْف من الله الْعَظِيم والتعظيم لحرمات الله فَجرى بَينه وَبينهمْ حملات حربية ووقعات شامية ومصرية وَكم من نوبَة قد رَمَوْهُ عَن قَوس وَاحِد فينجيه الله تَعَالَى فَإِنَّهُ دَائِم الابتهال كثير الاستغاثة قوي التَّوَكُّل
আয-যাহাবী ইবনে তাইমিয়্যাহর জীবনীতে আরও বলেন: সাহাবী ও তাবিঈগণের মাযহাব বা মতবাদসমূহ সম্পর্কে তাঁর অগাধ জ্ঞান ও সুদীর্ঘ পদচারণা ছিল। খুব কমই এমন হয়েছে যে, তিনি কোনো বিষয়ে কথা বলেছেন অথচ সেখানে চার মাযহাবের মতামত উল্লেখ করেননি। তিনি কিছু সুপরিচিত মাসআলায় চার মাযহাবের বিরোধিতা করেছেন এবং সেগুলোর সপক্ষে কিতাব ও সুন্নাহ থেকে দলিল পেশ করে গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি যখন আলেকজান্দ্রিয়ায় বন্দি ছিলেন, তখন সেউতার অধিপতি তাঁর কাছে তাঁর বর্ণিত হাদিসসমূহের ইজাযত প্রার্থনা করেন এবং সেগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা লিখে দিতে অনুরোধ করেন। তখন তিনি নিজের স্মৃতিশক্তি থেকে দশ পৃষ্ঠায় সেগুলোর একটি তালিকা সনদসহ লিখে দেন, যা তৈরি করতে সমসাময়িক বড় কোনো মুহাদ্দিসও অক্ষম হতেন। রাবী বা বর্ণনাকারীদের পরিচিতি, তাঁদের জারাহ-তা’দীল (সমালোচনা ও গুণগান) এবং তাঁদের স্তর বিন্যাসে তাঁর পূর্ণ দক্ষতা ছিল। এছাড়া হাদিসের বিভিন্ন শাখা, আলী ও নাযিল সনদ, সহীহ ও সাকীম হাদিস এবং হাদিসের মতন (মূল পাঠ) মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রেও তাঁর গভীর জ্ঞান ছিল। এই যুগে কেউ তাঁর মর্যাদায় পৌঁছাতে পারেনি এবং তাঁর সমকক্ষও হতে পারেনি। হাদিস থেকে দলিল উপস্থাপন ও আহরণে তিনি ছিলেন এক বিস্ময়। কুতুবে সিত্তাহ এবং মুসনাদ গ্রন্থের দিকে কোনো হাদিসকে সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন চূড়ান্ত পর্যায়ের দক্ষ, এমনকি তাঁর ব্যাপারে এই কথাটি সত্য বলে মনে হয় যে: “যে হাদিস ইবনে তাইমিয়্যাহ জানেন না, সেটি কোনো হাদিসই নয়।” তবে পূর্ণ পরিবেষ্টনকারী জ্ঞান কেবল আল্লাহরই রয়েছে। বিষয়টি এমন যে, তিনি যেন এক সমুদ্র থেকে জ্ঞান আহরণ করছেন, আর অন্যান্য ইমামগণ যেন ছোট ছোট নালা বা প্রস্রবণ থেকে আহরণ করছেন। এখন বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি নির্দিষ্ট কোনো মাযহাব অনুযায়ী ফতোয়া দেন না, বরং তাঁর নিকট যেটির দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়, সে অনুযায়ী ফতোয়া দেন। তিনি বিশুদ্ধ সুন্নাহ ও সালাফী মানহাজকে শক্তিশালী করেছেন এবং এর সপক্ষে এমন সব প্রমাণ ও ভূমিকা উপস্থাপন করেছেন যা ইতিপূর্বে কেউ করেনি। তিনি এমন সব অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেছেন যা থেকে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অনেকেই বিরত থেকেছেন এবং ভয় পেয়েছেন, কিন্তু তিনি সে ব্যাপারে সাহস দেখিয়েছেন। এমনকি মিসর ও শামের একদল আলেম তাঁর বিরুদ্ধে চূড়ান্তভাবে সোচ্চার হন; তাঁরা তাঁকে বিদআতী আখ্যা দেন, তাঁর সাথে বিতর্ক করেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে লেখালেখি করেন। কিন্তু তিনি ছিলেন অবিচল; তিনি কোনো প্রকার তোষামোদ বা পক্ষপাতিত্ব করেননি। বরং তিনি সেই তিক্ত সত্যই বলতেন, যা তাঁর ইজতিহাদ, প্রখর মেধা এবং সুন্নাহ ও পূর্ববর্তীদের উক্তি সম্পর্কে তাঁর ব্যাপক পাণ্ডিত্য তাঁকে প্রদর্শন করত। এর সাথে সাথে তাঁর তাকওয়া, চিন্তার পূর্ণতা, গভীর উপলব্ধি, মহান আল্লাহর ভয় এবং আল্লাহর বিধানের প্রতি তাঁর সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টি ছিল সুবিদিত। ফলে তাঁর ও তাঁদের মধ্যে এক যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতি এবং শাম ও মিসরে অনেক সংঘাতময় ঘটনা অতিবাহিত হয়। কতবারই না তাঁরা একযোগে তাঁকে আক্রমণ করেছেন, কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাঁকে রক্ষা করেছেন; কারণ তিনি ছিলেন সর্বদা আল্লাহর দরবারে রোনাজারি ও সাহায্য প্রার্থনাকারী এবং আল্লাহর ওপর সুদৃঢ় ভরসাকারী।
(খণ্ড: ১)
আশ-শাহাদাতুয যাকিয়্যাহ ফী সানাউল আইম্মাহ আলা ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪২)
ثَابت الجأش لَهُ أوراد وأذكار يدمنها بكيفية وجمعية وَله من الطّرف الآخر محبون من الْعلمَاء والصلحاء وَمن الْجند والأمراء وَمن التُّجَّار والكبراء وَسَائِر الْعَامَّة تحبه لِأَنَّهُ منتصب لنفعهم لَيْلًا وَنَهَارًا بِلِسَانِهِ وقلمه
وَأما شجاعته فِيهَا تضرب الْأَمْثَال وببعضها يتشبه أكَابِر الْأَبْطَال فَلَقَد أَقَامَهُ الله فِي نوبَة غازان والتقى أعباء الْأَمر بِنَفسِهِ وَقَامَ وَقعد وطلع وَخرج وَاجْتمعَ بِالْملكِ مرَّتَيْنِ وبخطلو شاه وببولاي وَكَانَ قبجق يتعجب من إقدامه وجرأته على المغول
وَله حِدة قَوِيَّة تعتريه فِي الْبَحْث حَتَّى كَأَنَّهُ لَيْث حَرْب وَهُوَ أكبر من أَن يُنَبه مثلي على نعوته فَلَو حَلَفت بَين الرُّكْن وَالْمقَام لحلفت أَنِّي مَا رَأَيْت بعيني مثله وَلَا رأى هُوَ مثل نَفسه فِي الْعلم
وَقَالَ الذَّهَبِيّ أَيْضا وَكَانَ يَعْنِي ابْن تَيْمِية آيَة من الذكاء وَسُرْعَة الْإِدْرَاك رَأْسا فِي معرفَة الْكتاب وَالسّنة وَالِاخْتِلَاف بحرا فِي النقليات هُوَ فِي زَمَانه فريد عصره علما وزهدا وشجاعة وسخاء وأمرا بِالْمَعْرُوفِ ونهيا عَن الْمُنكر وَكَثْرَة تصانيف وَقَرَأَ وَحصل وبدع فِي الحَدِيث وَالْفِقْه وتأهل للتدريس وَالْفَتْوَى وَهُوَ ابْن سبع عشرَة وَتقدم فِي علم التَّفْسِير وَالْأُصُول وَجَمِيع عُلُوم الْإِسْلَام أُصُولهَا وفروعها ودقها وجلها فَإِن ذكر التَّفْسِير فَهُوَ حَامِل لوائه وَإِن عد الْفُقَهَاء فَهُوَ مجتهدهم الْمُطلق وَإِن حضر الحفاط نطق وخرسوا وسرد وأبلسوا وَاسْتغْنى وأفلسوا وَإِن سمي المتكلمون فَهُوَ فردهم وَإِلَيْهِ مرجعهم وَإِن لَاحَ ابْن سينا يقدم
তিনি ছিলেন অবিচল হৃদয়ের অধিকারী। তাঁর নিয়মিত অজিফা ও জিকির ছিল যা তিনি একাগ্রতা ও নিষ্ঠার সাথে নিয়মিত পালন করতেন। অন্যদিকে, আলেম ও নেককারদের মাঝে, সেনাবাহিনী ও আমীরদের মাঝে, ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাঝে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে তাঁর অনেক অনুরাগী ছিল। তারা তাঁকে ভালোবাসত কারণ তিনি দিন-রাত তাঁর কথা ও কলম দ্বারা তাদের উপকারে নিয়োজিত থাকতেন।
আর তাঁর সাহসিকতার ক্ষেত্রে প্রবাদ দেওয়া হয় এবং বড় বড় বীররা তাঁর সাহসিকতার অনুকরণ করে। আল্লাহ তাঁকে গাজান (মঙ্গোল শাসক) এর ফিতনার সময় প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন; তিনি নিজেই পরিস্থিতির গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তিনি পরিস্থিতি মোকাবিলায় উঠে-পড়ে লেগেছিলেন, সম্মুখে অগ্রসর হয়েছিলেন এবং বাইরে বের হয়েছিলেন। তিনি রাজার সাথে দুইবার এবং খুতলু শাহ ও বুলায়-এর সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন। কুবজাক মঙ্গোলদের বিরুদ্ধে তাঁর তৎপরতা ও বীরত্ব দেখে আশ্চর্যান্বিত হতেন।
ইলমি বাহাসের সময় তাঁর মাঝে এক প্রবল তেজ কাজ করত, যেন তিনি যুদ্ধের ময়দানের এক সিংহ। তাঁর গুণাবলি বর্ণনা করার ক্ষেত্রে আমার মতো কেউ অক্ষম। আমি যদি রুকন এবং মাকামে ইবরাহিমের মাঝে দাঁড়িয়ে কসম খাই, তবে অবশ্যই কসম খেয়ে বলব যে, আমি নিজের চোখে তাঁর মতো কাউকে দেখিনি এবং তিনিও ইলমের ক্ষেত্রে নিজের মতো কাউকে দেখেননি।
আয-যাহাবী আরও বলেছেন যে, তিনি অর্থাৎ ইবনে তাইমিয়্যাহ ছিলেন প্রখর বুদ্ধিমত্তা ও দ্রুত অনুধাবন ক্ষমতার এক নিদর্শন। কুরআন, সুন্নাহ এবং ইখতিলাফ (মতভেদ) সম্পর্কে জ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন শীর্ষস্থানীয়। বর্ণনাভিত্তিক ইলমের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন এক সমুদ্র। তিনি তাঁর সময়ে ইলম, যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা), সাহসিকতা, দানশীলতা, সৎকাজের আদেশ, অসৎকাজের নিষেধ এবং প্রচুর গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে ছিলেন অনন্য। তিনি ইলম অর্জন করেছেন এবং হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। মাত্র সতেরো বছর বয়সেই তিনি শিক্ষকতা ও ফতোয়া প্রদানের যোগ্য হয়ে ওঠেন। তিনি তাফসির, উসুল এবং ইসলামের যাবতীয় মৌলিক ও শাখাগত, সূক্ষ্ম ও স্থূল সকল জ্ঞানে অগ্রগামী ছিলেন। যদি তাফসিরের আলোচনা করা হয়, তবে তিনি তার ঝাণ্ডাবাহী; যদি ফকিহদের গণনা করা হয়, তবে তিনি তাদের মাঝে মুজতাহিদে মুতলাক (স্বাধীন মুজতাহিদ); যদি হাফেজরা উপস্থিত হন, তবে তিনি কথা বলেন আর তারা নীরব হয়ে যান, তিনি অবলীলায় বর্ণনা করেন আর তারা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন, তিনি ইলমে সমৃদ্ধ থাকেন আর তারা রিক্ত হয়ে পড়েন। যদি কালামশাস্ত্রবিদদের নাম নেওয়া হয়, তবে তিনি তাদের মাঝে অদ্বিতীয় এবং তাদের প্রধান আশ্রয়স্থল। আর যদি ইবনে সিনা দৃশ্যমান হন, তবে তিনি তাঁরও অগ্রবর্তী।
(খণ্ড: ১)
আশ-শাহাদাতুয যাকিয়্যাহ ফী সানাউল আইম্মাহ আলা ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
الفلاسفة فَلهم وهتك استارهم وكشف عوارهم وَله يَد طولى فِي معرفَة الْعَرَبيَّة وَالصرْف واللغة وَهُوَ اعظم من ان تصفه كلمي وينبه على شأوه قلمي فان سيرته وعلومه ومعارفه ومحنه وتنقلاته يحْتَمل ان تُوضَع فِي مجلدين فَالله تَعَالَى يغْفر لَهُ ويسكنه اعلى جنته فانه كَانَ رباني الامة وفريد الزَّمَان وحامل لِوَاء الشَّرِيعَة وَصَاحب معضلات الْمُسلمين راسا فِي الْعلم يُبَالغ فِي أَمر قِيَامه بِالْحَقِّ وَالْجهَاد وَالْأَمر بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْي عَن الْمُنكر مُبَالغَة مَا رَأَيْتهَا وَلَا شاهدتها من اُحْدُ وَلَا لحظتها من فَقِيه
وَقَالَ الذَّهَبِيّ ايضا جمعت مصنفات شيخ الاسلام تَقِيّ الدّين ابْن تيميه فَوجدت الف مُصَنف ثمَّ رَأَيْت لَهُ ايضا مصنفات اخر
وتراجم الذَّهَبِيّ لِابْنِ تيميه اشهر من أَن تذكر وَأكْثر من تحصر رَحْمَة الله تَعَالَى
ورثاه الذَّهَبِيّ بعد مَوته بقوله
… يَا موت خُذ من اردت أوفدع
… محوت رسم الْعُلُوم والورع
اخذت شيخ الاسلام وانفصمت
… عرى التقى واشتفى ألوا الْبدع
غيبت بحرا مُفَسرًا جبلا
… حبرًا تقيا مُجَانب الشِّبَع
فان تحدث فَمُسلم ثِقَة وان يناطر فَصَاحب اللمع
…
দার্শনিকগণকে তিনি পর্যুদস্ত করেছেন, তাদের গোপন বিষয়সমূহ ফাঁস করেছেন এবং তাদের দোষ-ত্রুটিসমূহ উন্মোচন করেছেন। আরবি ভাষা, সরফ (রূপতত্ত্ব) এবং অভিধান শাস্ত্রে তার অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল। তিনি এতোটাই মহান যে আমার শব্দাবলি তাকে বর্ণনা করতে এবং আমার কলম তার সুউচ্চ মর্যাদা তুলে ধরতে সক্ষম নয়। কেননা তার জীবনচরিত, জ্ঞান-বিজ্ঞান, মা’রিফাত, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিভিন্ন স্থান ভ্রমণ দুই খণ্ডে স্থান পাওয়ার যোগ্য। আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করুন এবং তার জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তরে স্থান দান করুন। কেননা তিনি ছিলেন এই উম্মতের রব্বানী আলেম, যুগের অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব, শরীয়তের পতাকাবাহী এবং মুসলমানদের জটিল সমস্যার সমাধানকারী; জ্ঞানের ময়দানে একজন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব। সত্যের ওপর সুদৃঢ় থাকা, জিহাদ এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের ব্যাপারে তিনি এমন কঠোর প্রচেষ্টা চালাতেন যা আমি অন্য কারো মধ্যে দেখিনি বা প্রত্যক্ষ করিনি এবং কোনো ফকিহের মাঝেও তা লক্ষ্য করিনি।
আয-যাহাবি আরও বলেছেন: আমি শায়খুল ইসলাম তাকিউদ্দীন ইবনে তাইমিয়্যাহর রচনাবলি একত্রিত করেছি এবং এক হাজার গ্রন্থ পেয়েছি, এরপর আমি তার আরও অন্যান্য রচনাও দেখেছি।
ইবনে তাইমিয়্যাহ সম্পর্কে আয-যাহাবির রচিত জীবনীসমূহ বর্ণনা করার চেয়েও অধিক প্রসিদ্ধ এবং গণনা করার চেয়েও অনেক বেশি। মহান আল্লাহ তার ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
তার মৃত্যুর পর আয-যাহাবি শোক প্রকাশ করে বলেছেন:
… হে মৃত্যু! তুমি যাকে ইচ্ছা নিয়ে যাও কিংবা ছেড়ে দাও
… তুমি জ্ঞান ও তাকওয়ার নিদর্শনসমূহ মুছে দিয়েছ।
তুমি শায়খুল ইসলামকে ছিনিয়ে নিয়েছ এবং ছিন্ন হয়ে গেছে
… খোদাভীতির রশিগুলো, আর এতে বিদআতিরা শান্তি পেয়েছে।
তুমি এক জ্ঞানসমুদ্র, মুফাসসির এবং পাহাড়সম ব্যক্তিত্বকে আড়াল করেছ
… যিনি ছিলেন মহাজ্ঞানী, মুত্তাকি ও অতিভোজন পরিহারকারী।
যদি তিনি কথা বলতেন তবে তিনি ছিলেন একজন নির্ভরযোগ্য মুসলিম, আর যদি বিতর্ক করতেন তবে তিনি ছিলেন প্রখর যুক্তিসম্পন্ন প্রতিভার অধিকারী
…
(খণ্ড: ১)
আশ-শাহাদাতুয যাকিয়্যাহ ফী সানাউল আইম্মাহ আলা ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
.. وَإِن يخض نَحْو سِيبَوَيْهٍ يفه
… بِكُل معنى من الْفَنّ مخترع
وَصَارَ عالي الْإِسْنَاد حافظه
… كشعبة أَو سعيد الضبعِي
وَالْفِقْه فِيهِ فَكَانَ مُجْتَهدا
… وَذَا جِهَاد عَار من الْجزع
وجوده الْحَاتِمِي مشتهر
… وزهده القادري فِي الطمع
أسْكنهُ الله فِي الْجنان وَلَا
… زَالَ عليا فِي أجمل الْخلْع
مَعَ مَالك وَالْإِمَام أَحْمد والنعمان وَالشَّافِعِيّ والخلعي
مضى ابْن تيمة وموعده
… مَعَ خَصمه يَوْم نفخة الْفَزع
…8 - وَمِنْهُم الْحَافِظ الْمزي
وَهُوَ الشَّيْخ الإِمَام حَافظ الْإِسْلَام مُحدث الْأَعْلَام الحبر النَّبِيل أستاذ أَئِمَّة الْجرْح وَالتَّعْدِيل شيخ الْمُحدثين جمال الدّين أَبُو الْحجَّاج يُوسُف الْقُضَاعِي ثمَّ الْكَلْبِيّ الْحلَبِي الدِّمَشْقِي ثمَّ الْمزي الشَّافِعِي
ولد بِظَاهِر حلب سنة أَربع وَخمسين وسِتمِائَة وَنَشَأ بالمزة وَسمع الْكثير من الْكتب الطوَال والقصار والأجزاء الْكِبَار وَغير الْكِبَار ورحل إِلَى
...যদি তিনি সিবাওয়াইহ-এর মতো নাহু (ব্যাকরণ) চর্চা করেন, তবে তিনি
… শিল্পের প্রতিটি উদ্ভাবিত অর্থ অনুধাবন করেন।
এবং উচ্চ ইসনাদধারী হাফিজ হিসেবে তিনি
… শু'বাহ অথবা সাঈদ আদ-দুবায়ীর ন্যায় হয়েছেন।
এবং ফিকহ শাস্ত্রে তিনি ছিলেন একজন মুজতাহিদ
… এবং বিচলিতহীন এক জিহাদের অধিকারী।
তাঁর হাতেমি দানশীলতা সুবিখ্যাত
… এবং লালসার ক্ষেত্রে তাঁর যুহদ (বিরাগ) ছিল কাদেরী পর্যায়ের।
আল্লাহ তাঁকে জান্নাতে বসবাস দান করুন এবং
… সর্বদা সুন্দরতম পোশাকে উচ্চ মর্যাদায় আসীন রাখুন।
মালিক, ইমাম আহমাদ, নু'মান, শাফিয়ী এবং খাল'য়ীর সাথে।
ইবনে তাইমিয়্যাহ গত হয়েছেন এবং তাঁর
… প্রতিপক্ষের সাথে তাঁর সাক্ষাতের নির্ধারিত সময় হলো কিয়ামতের ভয়াবহ ফুৎকারের দিন।
…৮ - তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হলেন হাফিজ আল-মিযযী।
তিনি হলেন শায়খ, ইমাম, ইসলামের হাফিজ, প্রখ্যাত মুহাদ্দিস, মহৎ পণ্ডিত, জারহ ও তা'দীলের ইমামদের উস্তাদ, মুহাদ্দিসগণের শায়খ জামালুদ্দীন আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ আল-কুযায়ী, অতঃপর আল-কালবী আল-হালাবী আদ-দিমাশকী, অতঃপর আল-মিযযী আশ-শাফিয়ী।
তিনি ৬৫৪ হিজরী সালে আলেপ্পোর শহরতলী এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন এবং মিযযাহ-তে বেড়ে ওঠেন। তিনি দীর্ঘ ও সংক্ষিপ্ত অনেক কিতাব এবং বৃহৎ ও ক্ষুদ্র অনেক খণ্ড (জুজ) শ্রবণ করেছেন এবং তিনি সফর করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আশ-শাহাদাতুয যাকিয়্যাহ ফী সানাউল আইম্মাহ আলা ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
عدَّة من الْأَمْصَار وصنف كتاب التَّهْذِيب وَكتاب الْأَطْرَاف وَخرج لغير وَاحِد التخاريج المطولة واللطاف
وَكَانَ غزير الْعلم ثِقَة حجَّة حسن الْأَخْلَاق صَادِق اللهجة ترافق هُوَ وَابْن تَيْمِية شيخ الْإِسْلَام فِي السماع وَالنَّظَر فِي عُلُوم مَعَ عدَّة من الْأَعْلَام
مَاتَ فِي عَام اثْنَيْنِ وَأَرْبَعين وَسَبْعمائة بِدِمَشْق وَدفن بجوار ابْن تَيْمِية وَكَانَت جنَازَته مَشْهُودَة وَهُوَ الَّذِي قَالَ فِيهِ بعض الْعلمَاء الأفاضل
… مَا زلت أسمع عَن إحسانكم خَبرا
… الْفضل يسْندهُ عَنْكُم وَيَرْفَعهُ
حَتَّى الْتَقَيْنَا فشاهدت الَّذِي سَمِعت
… أُذُنِي وأضعف مَا كنت أسمعهُ
…حدث غير وَاحِد من الشُّيُوخ عَن الْمزي أَنه قَالَ عَن ابْن تَيْمِية مَا رَأَيْت مثله وَلَا رأى هُوَ مثل نَفسه وَمَا رَأَيْت أحدا أعلم بِكِتَاب الله وَسنة رَسُول الله وَلَا أتبع لَهما مِنْهُ
وَقَالَ الْمزي أَيْضا عَن ابْن تَيْمِية ابْن تَيْمِية لم ير مثله مُنْذُ أَرْبَعمِائَة سنة
وَكتب الْمزي على كتاب تَرْجَمَة الشَّيْخ تَقِيّ الدّين ابْن تَيْمِية
বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন এবং ‘আত-তাহজীব’ ও ‘আল-আতরাফ’ গ্রন্থদ্বয় সংকলন করেছেন এবং অনেক বিদ্বানের জন্য দীর্ঘ ও সংক্ষিপ্ত ‘তাখরীজ’ (হাদিসের উৎস নির্ণয়) প্রস্তুত করেছেন।
তিনি ছিলেন অগাধ ইলমের অধিকারী, নির্ভরযোগ্য, হুজ্জাত (প্রমাণস্বরূপ), সদাচারী ও সত্যবাদী। তিনি এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ইলম শ্রবণ ও বিভিন্ন শাস্ত্রীয় গবেষণায় অন্যান্য বহু প্রথিতযশা মনীষীদের সাথে সহচর ছিলেন।
তিনি সাতশ বিয়াল্লিশ হিজরীতে দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন এবং ইবনে তাইমিয়্যার পাশে সমাহিত হন। তাঁর জানাজায় মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। তাঁর সম্পর্কে কোনো এক মর্যাদাবান আলেম বলেছিলেন
… আমি সর্বদা আপনার ইহসান ও শ্রেষ্ঠত্বের খবর শুনে আসছিলাম
… মর্যাদা আপনার মাধ্যমেই বর্ণিত ও উচ্চকিত হয়।
পরিশেষে যখন আমাদের সাক্ষাৎ হলো, তখন আমার কান যা শুনেছিল তা প্রত্যক্ষ করলাম
… বরং আমি যা শুনেছিলাম তার চেয়েও আপনাকে বহুগুণ ঊর্ধ্বে পেলাম
…একাধিক শাইখ আল-মিযযী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ইবনে তাইমিয়্যাহ সম্পর্কে বলেছেন: "আমি তাঁর মতো কাউকে দেখিনি এবং তিনিও নিজের মতো কাউকে দেখেননি। আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ সম্পর্কে তাঁর চেয়ে অধিক জ্ঞানী এবং এই দুইয়ের অধিক অনুসারী আমি আর কাউকে দেখিনি।"
আল-মিযযী ইবনে তাইমিয়্যাহ সম্পর্কে আরও বলেন: "গত চারশ বছরে ইবনে তাইমিয়্যার মতো আর কাউকে দেখা যায়নি।"
আর আল-মিযযী শাইখ তাকিউদ্দীন ইবনে তাইমিয়্যার জীবনীগ্রন্থের উপর লিখেছিলেন:
(খণ্ড: ১)
আশ-শাহাদাতুয যাকিয়্যাহ ফী সানাউল আইম্মাহ আলা ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
تصنيف ابْن عبد الهادي مَا صورته كتاب مُخْتَصر فِي ذكر حَال الشَّيْخ الإِمَام شيخ الْإِسْلَام تَقِيّ الدّين أبي الْعَبَّاس احْمَد بن عبد الْحَلِيم بن تَيْمِية وَذكر بعض مصنفاته ومناقبه جمع الشَّيْخ الإِمَام الْحَافِظ شمس الدّين أبي عبد الله مُحَمَّد بن أَحْمد بن عبد الْهَادِي الْمَقْدِسِي
وَكتب الْمزي أَيْضا بِخَطِّهِ طبقَة سَماع على الْجُزْء الثَّانِي من حَدِيث الْحسن بن عَليّ الْجَوْهَرِي مَا صورته سمع هَذَا الْجُزْء على الْمَشَايِخ الثَّلَاثَة الإِمَام الْعَلامَة شيخ الْإِسْلَام تَقِيّ الدّين أبي الْعَبَّاس أَحْمد بن تَيْمِية وَالْإِمَام علم الدّين البرزالي بقرأته من لَفظه وَكَاتب السماع يُوسُف ابْن الركي
وَقد قَالَ قَاضِي الْقُضَاة صَالح بن عمر البُلْقِينِيّ الشَّافِعِي لقد افتخر قَاضِي الْقُضَاة تَاج الدّين السُّبْكِيّ فِي تَرْجَمَة أَبِيه الشَّيْخ تَقِيّ الدّين السُّبْكِيّ فِي ثَنَاء الْأَئِمَّة عَلَيْهِ بِأَن الْحَافِظ الْمزي لم يكْتب بِخَطِّهِ لَفْظَة شيخ الْإِسْلَام إِلَّا لِأَبِيهِ وللشيخ تَقِيّ الدّين ابْن تَيْمِية وللشيخ شمس الدّين بن أبي عمر الْحَنْبَلِيّ
ইবনে আব্দুল হাদীর একটি রচনা, যার পাঠ নিম্নরূপ: শায়খ, ইমাম, শায়খুল ইসলাম তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আব্দুল হালিম ইবনে তাইমিয়ার জীবনবৃত্তান্ত এবং তাঁর কিছু গ্রন্থ ও গুণাবলি বর্ণনায় একটি সংক্ষিপ্ত কিতাব। এটি সংকলন করেছেন শায়খ, ইমাম, হাফেজ শামসুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল হাদী আল-মাকদিসি।
আল-মিযযীও হাসান ইবনে আলী আল-জাওহারীর হাদীস গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ডের ওপর নিজ হাতে একটি শ্রবণ-সনদ লিখেছিলেন, যার পাঠ নিম্নরূপ: এই খণ্ডটি তিনজন শায়খের নিকট শ্রবণ করা হয়েছে; তাঁরা হলেন—ইমাম, আল্লামা, শায়খুল ইসলাম তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে তাইমিয়া এবং ইমাম আলামুদ্দীন আল-বিরজালী—যিনি নিজেই পাঠ করেছেন—এবং শ্রবণের লেখক হলেন ইউসুফ ইবনুর যাকি।
কাযিউল কুযাত সালিহ ইবনে উমর আল-বুলকিনী আশ-শাফিঈ বলেছেন: কাযিউল কুযাত তাজউদ্দীন আস-সুবকী তাঁর পিতা শায়খ তাকিউদ্দীন আস-সুবকীর জীবনীতে ইমামগণের প্রশংসার বর্ণনায় এই বলে গর্ববোধ করেছেন যে, হাফেজ আল-মিযযী তাঁর নিজ হাতে 'শায়খুল ইসলাম' পদবিটি কেবল তাঁর পিতা, শায়খ তাকিউদ্দীন ইবনে তাইমিয়া এবং শায়খ শামসুদ্দীন ইবনে আবু উমর আল-হাম্বলী ব্যতীত আর কারও জন্য লেখেননি।
(খণ্ড: ১)
আশ-শাহাদাতুয যাকিয়্যাহ ফী সানাউল আইম্মাহ আলা ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
9 - وَمِنْهُم الْحَافِظ البرزالي
وَهُوَ الشَّيْخ الإِمَام الْحَافِظ الثِّقَة الْحجَّة مؤرخ الشَّام وَأحد محدثي الْإِسْلَام مُفِيد الْمُحدثين علم الدّين أَبُو مُحَمَّد الْقَاسِم بن مُحَمَّد بن يُوسُف البرزالي الإشبيلي الأَصْل الدِّمَشْقِي صَاحب التَّارِيخ الخطير والمعجم الْكَبِير
كَانَ بأسماء الرِّجَال بَصيرًا وناقلا لأحوالهم نحريرا
ولد سنة خمس وَسِتِّينَ وسِتمِائَة بِدِمَشْق وَمَات بخليص محرما فِي ثَالِث ذِي الْحجَّة سنة ثَمَان وَثَلَاثِينَ وَسَبْعمائة
وَلَقَد حكى بعض مَشَايِخنَا عَنهُ أَنه كَانَ إِذا قَرَأَ الحَدِيث وَمر بِهِ حَدِيث ابْن عَبَّاس فِي قصَّة الرجل الَّذِي كَانَ مَعَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم فوقصته نَاقَته وَهُوَ محرم فَمَاتَ الحَدِيث وَفِيه فَإِنَّهُ يبْعَث يَوْم الْقِيَامَة ملبيا فَكَانَ إِذا قَرَأَهُ البرزالي يبكي ويرق قلبه فَمَاتَ بخليص محرما
وَفِيه يَقُول الذَّهَبِيّ
… إِن رمت تفتيش الخزائن كلهَا
… وَظُهُور أَجزَاء حوت وعوالي
ونعوت أَشْيَاخ الْوُجُود وَمَا رووا
… طالع أَو أسمع مُعْجم البرزالي
…وَفِيه يَقُول الشَّيْخ الإِمَام ابْن الْموصِلِي الطرابلسي
… مَا زلت أسمع عَنْك كل عارفة
… لمثلهَا أَو إِلَيْهَا يَنْتَهِي الْكَرم
وَكنت بِالسَّمْعِ أهواكم فَكيف وَقد
… رأيتكم وبدا لي فِي الْهوى علم
…
৯ - তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন হাফেজ আল-বিরজালী।
তিনি হলেন শায়খ, ইমাম, হাফেজ, নির্ভরযোগ্য, হুজ্জাত (দলিল), শাম দেশের ইতিহাসবিদ এবং ইসলামের অন্যতম মুহাদ্দিস, মুহাদ্দিসদের পথপ্রদর্শক ইলমুদ্দীন আবু মুহাম্মদ আল-কাসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-বিরজালী। তার আদি নিবাস ইশবিলিয়া, তবে তিনি দামেস্কি ছিলেন। তিনি সুবিখ্যাত ইতিহাসগ্রন্থ 'আত-তারীখ আল-খতীর' এবং 'আল-মু'জাম আল-কাবীর'-এর রচয়িতা।
তিনি বর্ণনাকারীদের নামের ব্যাপারে বিশেষ পারদর্শী এবং তাদের জীবনবৃত্তান্ত বর্ণনায় অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন।
তিনি ৬৬৫ হিজরী সনে দামেস্কে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭৩৮ হিজরী সনের ৩রা জিলহজ এহরাম অবস্থায় 'খুলাইস' নামক স্থানে মৃত্যুবরণ করেন।
আমাদের কিছু উস্তাদ তার সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি যখন হাদীস পাঠ করতেন এবং ইবনে আব্বাসের সেই হাদীসটি আসত—যেখানে সেই ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে যিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে থাকা অবস্থায় এহরাম পরা ছিলেন এবং তার উট তাকে ফেলে দিলে তিনি মারা যান; সেই হাদীসে বর্ণিত হয়েছে: "নিশ্চয়ই তাকে কিয়ামতের দিন তালবিয়াহ পাঠরত অবস্থায় পুনরুত্থিত করা হবে"—তখন আল-বিরজালী কাঁদতেন এবং তার হৃদয় বিগলিত হতো। পরিশেষে তিনিও এহরাম অবস্থায় 'খুলাইস' নামক স্থানে মৃত্যুবরণ করেন।
তার সম্পর্কে আয-যাহাবী বলেন
... যদি তুমি সকল জ্ঞানভাণ্ডার তল্লাশি করতে চাও
... এবং উচ্চ সনদ সংবলিত পাণ্ডুলিপিগুলোর সন্ধান পেতে চাও;
আর এই জমানার শ্রেষ্ঠ শায়খদের গুণাবলি ও তারা যা বর্ণনা করেছেন তা জানতে চাও
... তবে আল-বিরজালী রচিত মু'জামটি পাঠ করো অথবা শ্রবণ করো।
...তার সম্পর্কে শায়খ ইমাম ইবনে আল-মাওসিলী আত-তরাবুলুসী বলেন
... আমি সর্বদা আপনার প্রতিটি মহৎ গুণের কথা শুনতাম
... যার সদৃশ গুণের কাছে বা যে গুণের শিখরে পৌঁছে বদান্যতা সমাপ্ত হয়।
আমি কেবল শ্রবণের মাধ্যমেই আপনাদের ভালোবেসেছিলাম, তাহলে এখন কেমন অনুভূতি হবে যখন
... আমি আপনাদের দেখেছি এবং আমার হৃদয়ে ভালোবাসার নিশান স্পষ্ট হয়েছে।
...
(খণ্ড: ১)
আশ-শাহাদাতুয যাকিয়্যাহ ফী সানাউল আইম্মাহ আলা ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
كتب البرزالي بِخَطِّهِ سَماع طبقَة على جُزْء فِيهِ أَحَادِيث منتقاة من جُزْء الْحسن بن عَرَفَة وَهِي قَرَأَ هَذِه الْأَحَادِيث الثَّمَانِية شَيخنَا وَسَيِّدنَا الإِمَام الْعَالم الْعَلامَة الأوحد الْقدْوَة الزَّاهِد العابد الْوَرع الْحَافِظ تَقِيّ الدّين شيخ الْإِسْلَام وَالْمُسْلِمين سيد الْعلمَاء فِي الْعَالمين حبر الْأمة مقتدي الْأَئِمَّة حجَّة الْمذَاهب مفتي الْفرق أَبُو الْعَبَّاس أَحْمد بن عبد الْحَلِيم بن عبد السَّلَام ابْن تَيْمِية أدام الله بركته وَرفع دَرَجَته
وَقد ذكر البرزالي فِي مُعْجم شُيُوخه الشَّيْخ تَقِيّ الدّين فَقَالَ أَحْمد بن عبد الْحَلِيم ابْن عبد السَّلَام بن عبد الله بن أبي الْقَاسِم بن مُحَمَّد بن تَيْمِية الْحَرَّانِي الشَّيْخ تَقِيّ الدّين أَبُو الْعَبَّاس الإِمَام الْمجمع على فَضله ونبله وَدينه قَرَأَ الْقُرْآن وبرع فِيهِ والعربية وَالْأُصُول وَمهر فِي علمي التَّفْسِير والْحَدِيث وَكَانَ إِمَامًا لَا يلْحق غباره فِي كل شَيْء وَبلغ رُتْبَة الِاجْتِهَاد وَاجْتمعت فِيهِ شُرُوط الْمُجْتَهدين وَكَانَ إِذا ذكر التَّفْسِير أبهت النَّاس من كَثْرَة مَحْفُوظَة وَحسن إِيرَاده وإعطائه كل قَول مَا يسْتَحقّهُ من التَّرْجِيح والتضعيف والإبطال وخوضه فِي كل علم كَانَ الْحَاضِرُونَ يقضون مِنْهُ الْعجب هَذَا مَعَ انْقِطَاعه إِلَى الزّهْد وَالْعِبَادَة والاشتغال بِاللَّه تَعَالَى والتجرد من أَسبَاب الدُّنْيَا وَدُعَاء الْخلق إِلَى الله تَعَالَى
وَكَانَ يجلس فِي صَبِيحَة كل جُمُعَة يقْرَأ على النَّاس تَفْسِير الْقُرْآن الْعَظِيم فَانْتَفع بمجلسه وبركة دُعَائِهِ وطهارة أنفاسه وَصدق نِيَّته وصفاء ظَاهره وباطنه وموافقة قَوْله لعمله وأناب إِلَى الله تَعَالَى خلق كثير وَجرى على طَريقَة وَاحِدَة من اخْتِيَار الْفقر والتقلل من الدُّنْيَا ورد مَا يفتح بِهِ عَلَيْهِ
وَقَالَ البرذالي فِي تَارِيخه بعد أَن ذكر وَفَاة ابْن تَيْمِية وَوصف دَفنه
আল-বারজালি স্বহস্তে একটি পাণ্ডুলিপিতে (জুজ) শ্রুতি-লিপিবদ্ধ করেছেন, যাতে আল-হাসান ইবনে আরাফাহর সংকলন থেকে নির্বাচিত হাদীসসমূহ রয়েছে। তা হলো: এই আটটি হাদীস পাঠ করেছেন আমাদের শায়খ ও সাইয়্যেদ, ইমাম, প্রাজ্ঞ আলেম, অদ্বিতীয় জ্ঞানতাপস, আদর্শ ব্যক্তিত্ব, দুনিয়াবিমুখ যাহিদ, ইবাদতকারী, পরহেজগার, হাফিজ, তাকিউদ্দীন, ইসলাম ও মুসলিমদের শায়খ, জগদ্বাসীদের মাঝে আলেমদের সরদার, উম্মাহর বিজ্ঞ পন্ডিত, ইমামদের অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব, মাযহাবসমূহের প্রমাণ, বিভিন্ন দলের ফতোয়া প্রদানকারী, আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আব্দুল হালীম ইবনে আব্দুস সালাম ইবনে তাইমিয়্যাহ—আল্লাহ তাঁর বরকত জারি রাখুন এবং তাঁর মর্যাদা সমুন্নত করুন।
আল-বারজালি তাঁর 'মু'জামু শুয়ুখ' গ্রন্থে শায়খ তাকিউদ্দীন সম্পর্কে উল্লেখ করতে গিয়ে বলেছেন: আহমদ ইবনে আব্দুল হালীম ইবনে আব্দুস সালাম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবিল কাসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানি, শায়খ তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস; তিনি এমন একজন ইমাম যার শ্রেষ্ঠত্ব, আভিজাত্য এবং দ্বীনদারির বিষয়ে সকলে একমত। তিনি কুরআন পাঠ করেছেন এবং তাতে গভীর জ্ঞান অর্জন করেছেন। তিনি আরবি ভাষা এবং উসুল শাস্ত্রে পারদর্শিতা লাভ করেছিলেন। তিনি তাফসীর ও হাদীস শাস্ত্রে এমন দক্ষতা অর্জন করেছিলেন যে, তিনি ছিলেন একজন ইমাম যার সমকক্ষ হওয়া কারও পক্ষে সম্ভব ছিল না। তিনি ইজতিহাদের স্তরে উন্নীত হয়েছিলেন এবং তাঁর মাঝে মুজতাহিদদের যাবতীয় শর্তাবলী বিদ্যমান ছিল। যখন তিনি তাফসীর বর্ণনা করতেন, তখন তাঁর মুখস্থ বিদ্যার প্রাচুর্য, চমৎকার উপস্থাপনা এবং প্রতিটি মতের যোগ্যতা অনুযায়ী তারজিহ (প্রাধান্য দান), তাদঈফ (দুর্বল সাব্যস্ত করা) ও বাতিলের মাধ্যমে উপস্থিতদের বিস্মিত করে দিতেন। প্রতিটি শাস্ত্রে তাঁর প্রজ্ঞা দেখে উপস্থিতরা অবাক হয়ে যেতেন। এর সাথে তিনি ছিলেন দুনিয়াবিমুখ, ইবাদতকারী, সর্বদা আল্লাহ তাআলার স্মরণে মগ্ন, পার্থিব উপায়-উপকরণ থেকে মুক্ত এবং সৃষ্টিজগতকে আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী।
তিনি প্রতি শুক্রবার সকালে বসতেন এবং মানুষের নিকট মহান কুরআনের তাফসীর পাঠ করতেন। ফলে তাঁর মজলিস, তাঁর দোয়ার বরকত, তাঁর আত্মার পবিত্রতা, তাঁর নিয়তের সততা, তাঁর বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা এবং তাঁর কথার সাথে কাজের মিল থেকে বহু মানুষ উপকৃত হয়েছেন। অগণিত মানুষ আল্লাহ তাআলার দিকে প্রত্যাবর্তন করেছে। তিনি দারিদ্র্য ও স্বল্পতুষ্টির এক অটল পথ অনুসরণ করতেন এবং যা কিছু তাঁর সামনে দুনিয়াবী সম্পদ হিসেবে পেশ করা হতো তা তিনি প্রত্যাখ্যান করতেন।
আল-বারজালি তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে ইবনে তাইমিয়্যাহর ইন্তেকাল এবং তাঁর দাফনের বিবরণ দেওয়ার পর বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
আশ-শাহাদাতুয যাকিয়্যাহ ফী সানাউল আইম্মাহ আলা ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
وَشدَّة الزحام عَلَيْهِ ثمَّ قَالَ وَخلق كثير سمع مِنْهُم الحَدِيث وَقَرَأَ بِنَفسِهِ الْكثير وَطلب الحَدِيث وَكتب الطباق وَالْإِثْبَات ولازم السماع بِنَفسِهِ مُدَّة سِنِين وَقل أَن يسمع شَيْئا إِلَّا حفظه ثمَّ اشْتغل بالعلوم وَكَانَ ذكيا كثير الْمَحْفُوظ فَصَارَ إِمَامًا فِي التَّفْسِير وَمَا يتَعَلَّق بِهِ عَارِفًا بالفقه فَيُقَال إِنَّه كَانَ أعرف بِفقه الْمذَاهب من أَهلهَا الَّذين كَانُوا فِي زَمَانه وَغَيره وَكَانَ عَالما باخْتلَاف الْعلمَاء عَالما بالأصول وَالْفُرُوع والنحو واللغة وَغير ذَلِك من الْعُلُوم النقلية والعقلية وَمَا قطع فِي مجْلِس مناظرة وَلَا تكلم مَعَه فَاضل فِي فن من فنون الْعلم إِلَّا ظن أَن ذَلِك الْفَنّ فنه وَرَآهُ عَارِفًا بِهِ متقنا لَهُ
وَأما الحَدِيث فَكَانَ حَامِل رايته حَافِظًا لَهُ مُمَيّزا بَين صَحِيحه وسقيمه عَارِفًا بِرِجَالِهِ متضلعا من ذَلِك
وَله تصانيف كَثِيرَة وتعاليق مفيدة فِي الْأُصُول وَالْفُرُوع وَأثْنى عَلَيْهِ وعَلى فضائله وعلومه جمَاعَة من عُلَمَاء عصره مثل ابْن دَقِيق الْعِيد وَابْن النّحاس وَالْقَاضِي الْحَنَفِيّ قَاضِي قُضَاة مصر ابْن الحريري وَابْن الزملكاني وَغَيرهم
10 - وَمِنْهُم الْحَافِظ بن رَجَب
وَهُوَ الشَّيْخ الإِمَام الْعَلامَة الزَّاهِد الْقدْوَة الْبركَة الْحَافِظ
এবং তাঁর চারধারে মানুষের প্রবল ভিড়। অতঃপর তিনি বললেন: অসংখ্য মানুষ তাঁর থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি নিজে প্রচুর পাঠ করেছেন এবং হাদিস অন্বেষণ করেছেন। তিনি হাদিস শ্রবণের অনুমতিপত্র ও প্রমাণাদি লিপিবদ্ধ করেছেন এবং দীর্ঘ বছর যাবৎ নিজে শ্রবণের মজলিসে লেগে ছিলেন। খুব কমই এমন হতো যে তিনি কিছু শুনেছেন অথচ তা মুখস্থ করেননি। অতঃপর তিনি বিভিন্ন জ্ঞানে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি অত্যন্ত মেধাবী ও প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী ছিলেন। ফলে তিনি তাফসির ও এর সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলীতে ইমামে পরিণত হন। তিনি ফিকহ শাস্ত্রে এতই বিজ্ঞ ছিলেন যে বলা হতো, তিনি তাঁর সমসাময়িক ও অন্যান্য সময়ের মাযহাবপন্থীদের চেয়েও তাঁদের মাযহাবি ফিকহ সম্পর্কে অধিক অবগত ছিলেন। তিনি আলেমদের মতভেদ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত ছিলেন; উসুল (মূলনীতি), ফুরু (শাখাগত মাসয়ালা), নাহু (ব্যাকরণ), লুগাত (ভাষা) এবং অন্যান্য সকল নকলি (বর্ণনাভিত্তিক) ও আকলি (যুক্তিভিত্তিক) শাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন। কোনো বিতর্ক সভায় তাঁকে কেউ পরাস্ত করতে পারেনি। কোনো শাস্ত্রের কোনো পণ্ডিত ব্যক্তি যখনই তাঁর সঙ্গে কথা বলতেন, তখনই তিনি মনে করতেন যে এটিই বুঝি তাঁর (ইমামের) নিজস্ব শাস্ত্র এবং তিনি তাঁকে সেই বিষয়ে অত্যন্ত বিজ্ঞ ও দক্ষ দেখতে পেতেন।
আর হাদিসের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন এর ঝাণ্ডাবাহী ও হাফেজ। তিনি সহিহ ও জয়িফের (বিশুদ্ধ ও দুর্বল) মধ্যে পার্থক্যকারী, হাদিসের বর্ণনাকারীদের বিষয়ে অভিজ্ঞ এবং এই শাস্ত্রে পূর্ণ ব্যুৎপত্তিসম্পন্ন ছিলেন।
উসুল ও ফুরু শাস্ত্রের ওপর তাঁর বহু গ্রন্থ ও উপকারী টীকা রয়েছে। তাঁর যুগের একদল আলেম তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও ইলমের প্রশংসা করেছেন, যেমন ইবন দাকীক আল-ঈদ, ইবনুন নাহহাস, মিশরের প্রধান হানাফী বিচারক ইবনুল হারীরী, ইবনুয যামলকানী এবং আরও অনেকে।
১০ - তাঁদের মধ্য হতে হাফেজ ইবনে রজব।
তিনি হলেন শায়খ, ইমাম, আল্লামা, যাহিদ (দুনিয়াবিমুখ), আদর্শ ব্যক্তিত্ব, বরকতময় এবং হাফেজ।
(খণ্ড: ১)
আশ-শাহাদাতুয যাকিয়্যাহ ফী সানাউল আইম্মাহ আলা ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫০)
الْعُمْدَة الثِّقَة الْحجَّة واعظ الْمُسلمين مُفِيد الْمُحدثين زين الدّين أَبُو الْفرج عبد الرَّحْمَن بن الشَّيْخ الإِمَام المقرىء الْمُحدث أَحْمد بن رَجَب الْبَغْدَادِيّ الدِّمَشْقِي الْحَنْبَلِيّ
أحد الْأَئِمَّة الزهاد وَالْعُلَمَاء الْعباد توفّي سنة خمس وَتِسْعين وَسَبْعمائة بِدِمَشْق
وَقد حدث من حفر لحد ابْن رَجَب إِن الشَّيْخ ابْن رَجَب جَاءَ قبل أَن يَمُوت بأيام قَالَ فَقَالَ لي احْفِرْ لي هُنَا لحدا وَأَشَارَ إِلَى الْبقْعَة الَّتِي دفن فِيهَا قَالَ فحفرت لَهُ فَلَمَّا فرغ نزل فِي الْقَبْر واضطجع فِيهِ فأعجبه وَقَالَ هَذَا جيد ثمَّ خرج قَالَ فوَاللَّه مَا شَعرت بعد أَيَّام إِلَّا وَقد أُوتِيَ بِهِ مَيتا مَحْمُولا فِي نعشه فَوَضَعته فِي ذَلِك اللَّحْد وواريته فِيهِ
لَهُ مصنفات مفيدة ومؤلفات عديدة مِنْهَا شرح جَامع التِّرْمِذِيّ وَشرح من أول صَحِيح البُخَارِيّ إِلَى الْجَنَائِز شرحا نفيسا وَله كتاب طَبَقَات أَصْحَاب مذْهبه جعله ذيلا على من بَدَأَ بِهِ وَهُوَ القَاضِي أَبُو يعلى بن الْفراء
قَالَ فِيهِ أَحْمد بن عبد الْحَلِيم بن عبد السَّلَام بن عبد الله بن أبي
নির্ভরযোগ্য অবলম্বন, বিশ্বস্ত ব্যক্তিত্ব, অকাট্য প্রমাণ, মুসলিমদের উপদেশদাতা, মুহাদ্দিসগণের কল্যাণকামী যাইনুদ্দীন আবু আল-ফারাজ আব্দুর রহমান বিন শায়খ ইমাম আল-মুকরি আল-মুহাদ্দিস আহমাদ বিন রাজাব আল-বাগদাদী আদ-দিমাশকি আল-হাম্বলী।
তিনি অন্যতম জাহিদ ইমাম ও ইবাদতগুজার আলেমদের একজন ছিলেন। তিনি সাতশত পঁচানব্বই হিজরি সনে দামেস্কে ইন্তেকাল করেন।
যিনি ইবনে রাজাবের কবরের লাহাদ খনন করেছিলেন তিনি বর্ণনা করেছেন যে, শায়খ ইবনে রাজাব তাঁর মৃত্যুর কয়েক দিন আগে এসে আমাকে বললেন, "আমার জন্য এখানে একটি লাহাদ খনন করো" এবং তিনি সেই স্থানের দিকে ইশারা করলেন যেখানে তাঁকে দাফন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এরপর আমি তাঁর জন্য সেটি খনন করলাম। যখন খনন শেষ হলো, তিনি কবরের ভেতরে নামলেন এবং সেখানে শুয়ে পড়লেন। সেটি তাঁর পছন্দ হলো এবং তিনি বললেন, "এটি চমৎকার।" এরপর তিনি বের হয়ে আসলেন। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ, কয়েক দিন যেতে না যেতেই আমি দেখলাম তাঁকে মৃত অবস্থায় জানাজার খাটিয়ায় বহন করে আনা হয়েছে। অতঃপর আমি তাঁকে সেই লাহাদেই রাখলাম এবং সেখানেই তাঁকে সমাহিত করলাম।
তাঁর বহু উপকারী ও অসংখ্য গ্রন্থ রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে জামে তিরমিযীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং সহীহ বুখারীর শুরু থেকে জানাজা অধ্যায় পর্যন্ত একটি অত্যন্ত মূল্যবান ব্যাখ্যাগ্রন্থ। এছাড়াও তাঁর মাযহাবের অনুসারীদের স্তরের (তাবাকাত) ওপর একটি গ্রন্থ রয়েছে, যা তিনি কাজী আবু ইয়ালা বিন আল-ফাররা কর্তৃক সূচিত গ্রন্থের পরিশিষ্ট হিসেবে রচনা করেছেন।
তাঁর সম্পর্কে আহমাদ বিন আব্দুল হালীম বিন আব্দুল সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবী... বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
আশ-শাহাদাতুয যাকিয়্যাহ ফী সানাউল আইম্মাহ আলা ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫১)
الْقَاسِم الْخضر بن مُحَمَّد بن تَيْمِية الْحَرَّانِي ثمَّ الدِّمَشْقِي الإِمَام الْفَقِيه الْمُجْتَهد الْمُحدث الْحَافِظ الْمُفَسّر الأصولي الزَّاهِد تَقِيّ الدّين أَبُو الْعَبَّاس شيخ الْإِسْلَام وَعلم الْأَعْلَام وشهرته تغني عَن الإطناب فِي ذكره والإسهاب فِي أمره
ثمَّ ذكر ابْن رَجَب تَرْجَمَة ابْن تَيْمِية وفيهَا ذكر مَوته وَدَفنه ثمَّ قَالَ وَصلى عَلَيْهِ صَلَاة الغائبة فِي غَالب بِلَاد الْإِسْلَام الْقَرِيبَة والبعيدة حَتَّى فِي بِلَاد الْيمن والصين وَأخْبر المسافرون أَنه نُودي بأقصى الصين للصَّلَاة عَلَيْهِ يَوْم الْجُمُعَة الصَّلَاة على ترجمان الْقُرْآن
11 - وَمِنْهُم الْحَافِظ ابْن عبد الْهَادِي
وَهُوَ الشَّيْخ الإِمَام الْعَلامَة الْحَافِظ النَّاقِد ذُو الْفُنُون عُمْدَة الْمُحدثين متقن المحررين شمس الدّين مُحَمَّد بن أَحْمد بن عبد الْهَادِي بن عبد الحميد بن عبد الْهَادِي بن قدامَة بن مِقْدَام بن نصر الْمَقْدِسِي الصَّالِحِي الْحَنْبَلِيّ
ولد سنة أَربع أَو خمس وسِتمِائَة وَقَرَأَ الْقُرْآن بالروايات وَسمع مَا لَا يُحْصى من المرويات وعني بِالْحَدِيثِ وأنواعه وَمَعْرِفَة رِجَاله وَعلله وتفقه وَأفْتى ودرس وَجمع وَألف وَكتب الْكثير وصنف وتصدى للإفادة
وَمن مصنفاته تَنْقِيح التَّحْقِيق فِي أَحَادِيث التَّعْلِيق مجلدان وَالْمُحَرر فِي الْأَحْكَام وَالْكَلَام على أَحَادِيث مُخْتَصر ابْن الْحَاجِب مؤلفان
আল-কাসিম আল-খিদর বিন মুহাম্মাদ বিন তাইমিয়্যাহ আল-হাররানি অতঃপর আদ-দিমাশকি; তিনি ইমাম, ফকিহ, মুজতাহিদ, মুহাদ্দিস, হাফিয, মুফাসসির, উসুলি, যাহেদ, তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস, শাইখুল ইসলাম এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের প্রতীক। তাঁর খ্যাতি তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা ও দীর্ঘ বর্ণনার প্রয়োজনীয়তা দূর করে দেয়।
অতঃপর ইবনু রাজাব ইবনু তাইমিয়্যাহর জীবনী উল্লেখ করেছেন এবং তাতে তাঁর মৃত্যু ও দাফনের কথা আলোচনা করেছেন। এরপর তিনি বলেন: নিকটবর্তী ও দূরবর্তী অধিকাংশ ইসলামি জনপদে তাঁর গায়েবানা জানাজা পড়া হয়েছে, এমনকি ইয়ামান ও চীন দেশেও। মুসাফিররা সংবাদ দিয়েছেন যে, সুদূর চীনেও জুমার দিনে তাঁর জানাজার জন্য এই বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল— "কুরআনের ব্যাখ্যাকারীর জানাজার জন্য উপস্থিত হও।"
১১ - তাঁদের মধ্যে রয়েছেন হাফিয ইবনু আব্দুল হাদি।
তিনি হলেন শাইখ, ইমাম, আল্লামা, হাফিয, সূক্ষ্ম সমালোচক, বহু বিদ্যায় পারদর্শী, মুহাদ্দিসদের নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ, নির্ভুল গ্রন্থপ্রণেতাদের অগ্রগণ্য, শামসুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আব্দুল হাদি বিন আব্দুল হামিদ বিন আব্দুল হাদি বিন কুদামা বিন মিকদাম বিন নাসর আল-মাকদিসি আস-সালিহি আল-হাম্বলি।
তিনি ৬০৪ অথবা ৬০৫ হিজরি সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বিভিন্ন কিরাতে কুরআন পাঠ করেছেন এবং অগণিত হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি হাদিসশাস্ত্র, এর প্রকারভেদ এবং রাবিদের পরিচয় ও হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহ (ইল্লাত) সম্পর্কে গভীর মনোনিবেশ করেছিলেন। তিনি ফিকহ অর্জন করেছেন, ফতোয়া দিয়েছেন, পাঠদান করেছেন, সংকলন ও গ্রন্থ রচনা করেছেন, প্রচুর লিখেছেন এবং জ্ঞান বিতরণে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন।
তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে দুই খণ্ডের 'তানকিহুত তাহকিক ফি আহাদিসিত তায়লিক' এবং 'আল-মুহাররার ফিল আহকাম' ও 'আল-কালামু আলা আহাদিসি মুখতাসার ইবনিল হাজিব' নামক গ্রন্থদ্বয়।