(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দুল ওয়াফির
(পৃষ্ঠা: -)
الرد الوافر القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: الرد الوافر
المؤلف: محمد بن عبد الله (أبي بكر) بن محمد ابن أحمد بن مجاهد القيسي الدمشقي الشافعي، شمس الدين، الشهير بابن ناصر الدين (ت 842 هـ)
المحقق: زهير الشاويش [ت 1434 هـ]
الناشر: المكتب الإسلامي - بيروت
الطبعة: الأولى، 1393
عدد الصفحات: 138
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আর-রাদ্দুুল ওয়াফির বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
কিতাব: আর-রাদ্দুুল ওয়াফির
লেখক: মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ (আবু বকর) ইবন মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন মুজাহিদ আল-কায়সী আদ-দিমাশকী আশ-শাফেয়ী, শামসুদ্দীন, ইবনে নাসিরুদ্দীন নামে পরিচিত (মৃত্যু ৮৪২ হি.)
সম্পাদক: যুহায়ের আল-শাভিশ [মৃত্যু ১৪৩৪ হি.]
প্রকাশক: আল-মাকতাব আল-ইসলামী - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম, ১৩৯৩
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩৮
[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ করা হয়েছে]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দুল ওয়াফির
(পৃষ্ঠা: ٣)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم رب يسر وأعن
الْحَمد لله الَّذِي رَضِي الْإِسْلَام لمن أحب دينا وغرس الْإِيمَان فِي قُلُوبهم فأثمرت بإخلاص طَاعَته فنونا وَأَعَانَهُمْ على عِبَادَته عناية مِنْهُ فأعظم بِهِ معينا وَحمى أعراضهم من الْفُسَّاق الَّذين توعدهم بقوله تَعَالَى يَقِينا {وَالَّذين يُؤْذونَ الْمُؤمنِينَ وَالْمُؤْمِنَات بِغَيْر مَا اكتسبوا فقد احتملوا بهتانا وإثما مُبينًا}
فنحمد الله على جزيل نعمه بالاسلام ونشكره على جميل كرمه وَجَمِيع الإنعام ونسأله أَن يَقِينا شَرّ ذَوي الْهوى وَيَكْفِينَا أَذَى الجهلة الطغام
ونشهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ شَهَادَة خَالِصَة لَا ريب فِيهَا وعقيدة سَالِمَة لَا تَشْبِيه يُفْسِدهَا وَلَا تَعْطِيل يعتريها ونقر بِأَن الله سُبْحَانَهُ {لَيْسَ كمثله شَيْء وَهُوَ السَّمِيع الْبَصِير} تمجيدا لَهُ وتنزيها
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। হে আমার প্রতিপালক, সহজ করে দিন এবং সাহায্য করুন।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর পছন্দনীয় ব্যক্তিদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে মনোনীত করেছেন এবং তাদের অন্তরে ঈমান রোপণ করেছেন, ফলে তাঁর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্যের মাধ্যমে তা বিভিন্ন শাখায় ফলবান হয়েছে। আর তিনি তাঁর বিশেষ অনুগ্রহে তাদের তাঁর ইবাদতের ওপর সাহায্য করেছেন; তিনি কতই না মহান সাহায্যকারী। এবং তিনি তাদের ইজ্জত-আবরুকে সেই পাপাচারীদের থেকে রক্ষা করেছেন, যাদেরকে তিনি তাঁর সুনিশ্চিত বাণীর মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে সতর্ক করেছেন: {আর যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে তাদের কৃত কোনো অন্যায় ছাড়াই কষ্ট দেয়, তারা অবশ্যই অপবাদ ও স্পষ্ট পাপের বোঝা বহন করল।}
সুতরাং আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ইসলামের মতো তাঁর বিশাল নেয়ামতের জন্য, এবং তাঁর সুন্দর অনুগ্রহ ও সকল নেয়ামতের জন্য শুকরিয়া আদায় করি। আমরা তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কুপ্রবৃত্তির অনুসারীদের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেন এবং মূর্খ ইতর শ্রেণির মানুষের কষ্টদায়ক আচরণ থেকে আমাদের জন্য যথেষ্ট হন।
আর আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; এমন একনিষ্ঠ সাক্ষ্য যাতে কোনো সন্দেহ নেই, এবং এমন এক বিশুদ্ধ আকিদা যাকে কোনো সাদৃশ্য প্রদান (তাশবিহ) কলুষিত করে না এবং কোনো অস্বীকার (তাতিল) স্পর্শ করে না। এবং আমরা স্বীকার করি যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা {তাঁর সদৃশ কিছুই নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা}—এটি তাঁরই মহিমা ও পবিত্রতা ঘোষণার উদ্দেশ্যে।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দুল ওয়াফির
(পৃষ্ঠা: ٤)
ونشهد أَن سيدنَا مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله الَّذِي أرْسلهُ رَحْمَة مهداة وابتعثه نعْمَة لمن اتبع هداه وَجعله نقمة على من ابتدع بهواه فلطريقته النَّبَوِيَّة يقتفي الأخيار وبشريعته المحمدية يَقْتَدِي الْأَبْرَار وعَلى سنته المرضية يحافظ حفاظ الْآثَار صلى الله عَلَيْهِ أفضل صلواته وأشرف وحياه بأزكى تحياته وأطرف وَأكْرم وأنعم وأتحف وَعرف وَرَضي الله عَن آله سراة الْأَئِمَّة وَأَصْحَابه هداة الْأمة مَا أذهبت أنوار الْحق ظلمات الْبَاطِل المدلهمة وَسلم تَسْلِيمًا
أما بعد فَإِن الله عز وجل وَله الْمِنَّة الْعُظْمَى أكمل هَذَا الدّين تممه حكما وَأَشَارَ إِلَى ذَلِك فِي كِتَابه الْمنزل على خير مُرْسل حتما بَقينَا {الْيَوْم أكملت لكم دينكُمْ وَأَتْمَمْت عَلَيْكُم نعمتي ورضيت لكم الْإِسْلَام دينا} فَلم يبْق بعد الْكَمَال غَايَة ترَاد وَلَا حكم يُوجب وَلَا فَرِيضَة تزاد وَالدّين الْمشَار إِلَيْهِ مَا شَرعه سيدنَا رَسُول الله صلوَات الله وَسَلَامه عَلَيْهِ وَإِنَّمَا شَرعه بِأَمْر الله ووحيه وكشف بِإِذْنِهِ عَن حَقِيقَة أوامره وَنَهْيه يعلم ذَلِك مُبينًا مشروحا من قَوْله تَعَالَى {وَمَا ينْطق عَن الْهوى إِن هُوَ إِلَّا وَحي يُوحى}
وَخرج الإِمَام الزَّاهِد الْكَبِير أَبُو الْفَتْح نصر بن إِبْرَاهِيم الْمَقْدِسِي الشَّافِعِي فِي كِتَابه الْحجَّة على تَارِك المحجة من حَدِيث سُرَيج بن يُونُس عَن المعاوفي
আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যাকে তিনি উপহারস্বরূপ রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছেন এবং যারা তাঁর হিদায়াত অনুসরণ করে তাদের জন্য তাকে নেয়ামত হিসেবে পাঠিয়েছেন। আর যারা নিজেদের খেয়ালখুশি মতো বিদআত উদ্ভাবন করে, তাদের জন্য তাকে আজাবস্বরূপ করেছেন। সুতরাং সৎকর্মশীল ব্যক্তিগণ তাঁর নববী পথেরই অনুসরণ করেন এবং পুণ্যবানগণ তাঁর মুহাম্মদী শরীয়তেরই ইত্তিবা করেন, আর হাদীসের হাফেজগণ তাঁর সন্তোষজনক সুন্নাহকে অত্যন্ত যত্নসহকারে সংরক্ষণ করেন। আল্লাহ তাঁর ওপর তাঁর সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ দরুদ বর্ষণ করুন এবং তাঁর পবিত্রতম ও চমৎকার সালামের মাধ্যমে তাঁকে সিক্ত করুন, আর তাঁকে সম্মানিত করুন, অনুগ্রহ দান করুন, উপঢৌকন প্রদান করুন এবং তাঁর উচ্চ মর্যাদাকে সুপরিচিত করুন। আল্লাহ তাঁর পরিবার-পরিজন তথা মহান ইমামগণ এবং তাঁর সাহাবীগণ তথা উম্মতের পথপ্রদর্শকগণের ওপর সন্তুষ্ট হোন, যতক্ষণ না হকের আলো বাতিলের ঘোর অন্ধকারকে দূরীভূত করতে থাকে; আর তিনি তাঁদের ওপর অধিকহারে শান্তি বর্ষণ করুন।
অতঃপর: নিশ্চয়ই মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ—এবং সকল মহান অনুগ্রহ তাঁরই—এই দ্বীনকে পূর্ণতা দান করেছেন এবং বিধানগতভাবে একে সম্পূর্ণ করেছেন। তিনি সর্বোত্তম রাসূলের প্রতি অবতীর্ণ তাঁর অকাট্য কিতাবে সেই বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম, তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।" সুতরাং এই পূর্ণতা প্রাপ্তির পর নতুন করে কোনো লক্ষ্য অবশিষ্ট নেই, নতুন করে আবশ্যিক করার মতো কোনো বিধান নেই এবং অতিরিক্ত কোনো ফরজও নেই। এখানে নির্দেশিত দ্বীন হলো সেটিই, যা আমাদের নেতা রাসূলুল্লাহ (তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) বিধিবদ্ধ করেছেন। তিনি কেবল আল্লাহর নির্দেশ ও ওহীর মাধ্যমেই তা বিধিবদ্ধ করেছেন এবং আল্লাহর অনুমতিতেই তাঁর আদেশ ও নিষেধের হাকিকতসমূহ উন্মোচন করেছেন। মহান আল্লাহর এই বাণী থেকে তা স্পষ্টভাবে এবং ব্যাখ্যাসহ জানা যায়: "আর তিনি নিজ প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না। এতো কেবল এক ওহী যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়।"
বিখ্যাত জাহিদ ইমাম আবুল ফাতহ নসর ইবনে ইবরাহীম আল-মাকদিসী আশ-শাফিঈ তাঁর 'আল-হুজ্জাহ আলা তারিক আল-মাহাজ্জাহ' গ্রন্থে সুরাইজ ইবনে ইউনুস থেকে, তিনি আল-মুআফি থেকে বর্ণিত হাদীস উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দুল ওয়াফির
(পৃষ্ঠা: ٥)
ابْن عمرَان عَن الْأَوْزَاعِيّ عَن أبي عبيد يَعْنِي حَاجِب سُلَيْمَان بن عبد الْملك عَن الْقَاسِم بن مخيمرة عَن ابْن نضيلة قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَا يسألني الله عز وجل عَن سنة أحدثتها فِيكُم لم يَأْمُرنِي الله عز وجل بهَا وَرَوَاهُ أَبُو بكر ابْن أبي عَليّ فَقَالَ أَنا القَاضِي أَبُو أَحْمد مُحَمَّد بن أَحْمد ابْن إِبْرَاهِيم ثَنَا أَحْمد بن هَارُون ثَنَا سُلَيْمَان بن سيف ثَنَا أَيُّوب بن خَالِد ثَنَا الْأَوْزَاعِيّ حَدثنِي أَبُو عبيد حَاجِب سُلَيْمَان بن عبد الْملك حَدثنِي الْقَاسِم بن مخيمرة حَدثنِي طَلْحَة بن نضيلة قَالَ قبل لرَسُول الله صلى الله عليه وسلم سعر لنا يَا رَسُول الله فَقَالَ لَا يسألني الله عز وجل عَن سنة أحدثتها فِيكُم لم يَأْمُرنِي بهَا وَلَكِن سلوا الله من فَضله
تابعهما أَبُو يُوسُف مُحَمَّد بن كثير المصِّيصِي وَأَبُو الْمُغيرَة عبد القدوس ابْن الْحجَّاج الْخَولَانِيّ وَعِيسَى بن يُونُس عَن الْأَوْزَاعِيّ بِنَحْوِهِ
وَأَبُو عبيد مولى سُلَيْمَان بن عبد الْملك من ثِقَات تَابِعِيّ أهل الشَّام اخْتلف فِي اسْمه فَقيل حييّ سَمَّاهُ مُسلم بن الْحجَّاج فِي كِتَابه الكنى
ইবনে ইমরান থেকে বর্ণিত, তিনি আওজাঈ থেকে, তিনি আবু উবাইদ থেকে—অর্থাৎ সুলায়মান বিন আব্দুল মালিকের দ্বাররক্ষী—তিনি কাসিম বিন মুখাইমিরাহ থেকে, তিনি ইবনে নাদilah থেকে বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "মহান আল্লাহ আমাকে এমন কোনো রীতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন না যা আমি তোমাদের মধ্যে প্রবর্তন করেছি অথচ মহান আল্লাহ আমাকে তা করার নির্দেশ দেননি।" আবু বকর ইবনে আবি আলী এটি বর্ণনা করে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাজী আবু আহমদ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন ইব্রাহিম, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আহমদ বিন হারুন, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সুলায়মান বিন সাইফ, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আইয়ুব বিন খালিদ, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আওজাঈ, তিনি বলেন আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন আবু উবাইদ—সুলায়মান বিন আব্দুল মালিকের দ্বাররক্ষী—তিনি বলেন আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন কাসিম বিন মুখাইমিরাহ, তিনি বলেন আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন তালহা বিন নাদilah, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের জন্য মূল্য নির্ধারণ করে দিন। তিনি বললেন: "মহান আল্লাহ আমাকে এমন কোনো রীতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন না যা আমি তোমাদের মধ্যে প্রবর্তন করেছি অথচ তিনি আমাকে সেটির নির্দেশ দেননি। বরং তোমরা আল্লাহর কাছে তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা করো।"
আবু ইউসুফ মুহাম্মদ বিন কাসীর আল-মাসসীসি, আবু মুগীরাহ আব্দুল কুদ্দুস ইবনুল হাজ্জাজ আল-খাওলানি এবং ঈসা বিন ইউনুস আওজাঈ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করে তাঁদের অনুসরণ করেছেন।
সুলায়মান বিন আব্দুল মালিকের মুক্তদাস আবু উবাইদ শামের নির্ভরযোগ্য তাবেঈদের অন্তর্ভুক্ত। তাঁর নাম নিয়ে মতভেদ রয়েছে; বলা হয় তাঁর নাম ‘হাইয়ি’, যা মুসলিম বিন হাজ্জাজ তাঁর ‘আল-কুনা’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দুল ওয়াফির
(পৃষ্ঠা: ٦)
وَصدر بِهِ البُخَارِيّ كَلَامه فِي التَّارِيخ الْكَبِير وَقَالَ سَمَّاهُ هَكَذَا عبد الله ابْن أبي الْأسود ثمَّ قَالَ قَالَ عبد الحميد بن جَعْفَر حوي انْتهى
وَابْن نضيلة مُخْتَلف فِي صحبته فالجمهور أَنه تَابِعِيّ كنيته أَبُو مُعَاوِيَة كُوفِي وَقَالَ أَبُو بكر ابْن أبي دَاوُد السجسْتانِي ثَنَا عَليّ بن خشرم وَعبد الله ابْن سعيد قَالَا ثَنَا عِيسَى بن يُونُس عَن الْأَوْزَاعِيّ عَن حسان بن عَطِيَّة قَالَ كَانَ جِبْرِيل عليه السلام ينزل على النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِالسنةِ كَمَا ينزل بِالْقُرْآنِ يُعلمهُ إِيَّاهَا كَمَا يُعلمهُ الْقُرْآن
تابعهما نعيم بن حَمَّاد عَن عِيسَى وَرَوَاهُ روح بن عبَادَة وَأَبُو إِسْحَاق الْفَزارِيّ وَمُحَمّد بن كثير المصِّيصِي عَن الْأَوْزَاعِيّ نَحوه
ইমাম বুখারি তাঁর ‘আত-তারিখুল কাবির’ গ্রন্থে এটি দিয়ে তাঁর আলোচনা শুরু করেছেন এবং বলেছেন: আবদুল্লাহ ইবনে আবিল আসওয়াদ তাঁকে এভাবেই নামকরণ করেছেন, এরপর তিনি বলেন: আবদুল হামিদ ইবনে জাফর বলেছেন... (সমাপ্ত)।
আর ইবনে নাযিলাহ-এর সাহাবিত্ব নিয়ে মতভেদ রয়েছে; অধিকাংশের মতে তিনি একজন তাবিঈ, তাঁর উপনাম হলো আবু মুয়াবিয়া এবং তিনি কুফার অধিবাসী ছিলেন। এবং আবু বকর ইবনে আবি দাউদ আস-সিজিস্তানি বলেছেন: আমাদের নিকট আলি ইবনে খাশরাম এবং আবদুল্লাহ ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট ঈসা ইবনে ইউনুস আওযায়ি থেকে, তিনি হাসসান ইবনে আতিয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট সুন্নাহ নিয়ে অবতীর্ণ হতেন যেমনটি তিনি কুরআন নিয়ে অবতীর্ণ হতেন এবং তিনি তাঁকে সুন্নাহ শিক্ষা দিতেন যেভাবে তাঁকে কুরআন শিক্ষা দিতেন।
ঈসা থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে নুয়াইম ইবনে হাম্মাদ তাঁদের অনুসরণ করেছেন এবং রাওহ ইবনে উবাদাহ, আবু ইসহাক আল-ফাযারি ও মুহাম্মদ ইবনে কাসির আল-মাসসিসি আওযায়ি থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দুল ওয়াফির
(পৃষ্ঠা: ٧)
وجوب اتِّبَاع السّنة
فَالْوَاجِب على كل مُسلم اتِّبَاع السّنة المحمدية واقتفاء الْآثَار النَّبَوِيَّة الأحمدية الَّتِي مِنْهَا التَّمَسُّك بِسنة الْخُلَفَاء الرَّاشِدين والتبرك بآثار الْأَئِمَّة المهديين وَلَقَد اقام النَّاس على ذَلِك بعد عصر النُّبُوَّة زَمَانا تابعين للشريعة النَّبَوِيَّة احتسابا وإيمانا كَمَا أَشَارَ إِلَيْهِ الإِمَام أَبُو الفنح نصر بن إِبْرَاهِيم الْمَقْدِسِي فِي كتاب الْحجَّة فَقَالَ
وَقد كَانَ النَّاس على ذَلِك زَمَانا بعده إِذْ كَانَ فيهم الْعلمَاء وَأهل الْمعرفَة بِاللَّه من الفهماء من أَرَادَ تَغْيِير الْحق منعُوهُ وَمن ابتدع بِدعَة زجروه وَإِن زاغ عَن الْوَاجِب قوموه وبينوا لَهُ رشده وفهموه فَلَمَّا ذهب الْعلمَاء من الْحُكَمَاء ركب كل وَاحِد هَوَاهُ فابتدع مَا أحب وارتضاه وناظر أهل الْحق عَلَيْهِ ودعاهم بجهله إِلَيْهِ وزخرف لَهُم القَوْل بِالْبَاطِلِ فتزين بِهِ وَصَارَ ذَلِك عِنْدهم دينا يكفر من خَالفه ويلعن من باينه وساعده على ذَلِك من لَا علم لَهُ من الْعَوام ويوقع بِهِ الظنة وَالْإِيهَام وَوجد على ذَلِك الْجُهَّال أعوانا وَمن أَعدَاء الْعلم أخدانا أَتبَاع كل ناعق ومجيب كل زاعق لَا يرجعُونَ فِيهِ إِلَى دين وَلَا يعتمدون
সুন্নাহ অনুসরণের আবশ্যকতা
সুতরাং প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ওয়াজিব বা আবশ্যক হলো মুহাম্মাদী সুন্নাহর অনুসরণ করা এবং আহমাদী নববী নিদর্শনসমূহের পদাঙ্ক অনুসরণ করা, যার অন্তর্ভুক্ত হলো খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত ইমামগণের নিদর্শনাবলি থেকে বরকত গ্রহণ করা। আর নবুওয়াতের যুগের পর দীর্ঘকাল মানুষ সাওয়াবের আশায় এবং ঈমানের সাথে নববী শরীয়তের অনুসারী হয়ে এর ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল, যেমনটি ইমাম আবুল ফাতহ নাসর ইবনে ইবরাহিম আল-মাকদিসী তাঁর 'কিতাবুল হুজ্জাহ' গ্রন্থে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেন:
এবং তাঁর (রাসূলের) পরে দীর্ঘকাল মানুষ এর ওপর অটল ছিল, কেননা তখন তাদের মধ্যে আলেম সমাজ এবং আল্লাহর পরিচয় লাভকারী সমঝদার প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিগণ বিদ্যমান ছিলেন। যে ব্যক্তি সত্যকে পরিবর্তন করতে চাইত, তারা তাকে বাধা দিতেন; যে বিদআত উদ্ভাবন করত, তারা তাকে ধমক দিতেন; আর কেউ যদি আবশ্যকীয় পথ থেকে বিচ্যুত হতো, তবে তারা তাকে সোজা করে দিতেন এবং তার কাছে সঠিক পথ স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিতেন। কিন্তু যখন প্রজ্ঞাবান আলেমগণ বিদায় নিলেন, তখন প্রত্যেকে নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ শুরু করল। ফলে সে যা পছন্দ করল ও সন্তুষ্ট হলো, তা-ই উদ্ভাবন করল এবং সে বিষয়ে সত্যপন্থীদের সাথে বিতর্ক করল ও নিজ মূর্খতাবশত তাদের সেদিকে আহ্বান জানাল। সে তাদের জন্য বাতিল কথাকে সুসজ্জিত করল, ফলে তা চাকচিক্যময় হয়ে উঠল। আর তাদের কাছে এটাই দ্বীন হয়ে দাঁড়াল; যে এর বিরোধিতা করত তাকে তারা কাফির সাব্যস্ত করত এবং যে এর থেকে পৃথক থাকত তাকে লানত দিত। এ কাজে সাধারণ মানুষের মধ্য থেকে জ্ঞানহীনরা তাকে সহায়তা করল এবং এর মাধ্যমে সে তাদের মনে সংশয় ও বিভ্রান্তি তৈরি করল। আর এ কাজে সে মূর্খদের মধ্য থেকে সাহায্যকারী এবং ইলমের শত্রুদের মধ্য থেকে বন্ধু খুঁজে পেল; যারা প্রত্যেক উচ্চবাচ্যকারীর অনুসারী এবং প্রত্যেক চিৎকারকারীর ডাকে সাড়া দানকারী। তারা এ ক্ষেত্রে কোনো দ্বীনের দিকে ফিরে আসে না এবং কোনো কিছুর ওপর নির্ভরও করে না।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দুল ওয়াফির
(পৃষ্ঠা: ٨)
على يَقِين قد تمكنت لَهُم بِهِ الرِّئَاسَة فَزَادَهُم ذَلِك فِي الْبَاطِل نفاسة تزينوا بِهِ للعامة ونسوا شَدَائِد يَوْم الطامة
ثمَّ روى الشَّيْخ نصر بِإِسْنَادِهِ إِلَى مُحَمَّد بن عبد الله ابْن أبي الثَّلج قَالَ حَدثنَا الْهَيْثَم بن خَارِجَة ثَنَا هَيْثَم بن عمرَان الْعَبْسِي سَمِعت إِسْمَاعِيل ابْن عبيد الله المَخْزُومِي يَقُول يَنْبَغِي لنا أَن نتحفظ مَا جَاءَنَا عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَإِن الله عز وجل قَالَ {وَمَا آتَاكُم الرَّسُول فَخُذُوهُ وَمَا نهاكم عَنهُ فَانْتَهوا} فَهُوَ بِمَنْزِلَة الْقُرْآن
তারা এক নিশ্চিত বিষয়ের ওপর ছিল যার মাধ্যমে তাদের নেতৃত্ব সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যা তাদের বাতিলের প্রতি আরও বেশি আসক্ত করে তুলেছিল। তারা এর দ্বারা সাধারণ মানুষের নিকট নিজেদের সুসজ্জিত করেছিল এবং মহা বিপদের দিনের ভয়াবহতার কথা বিস্মৃত হয়েছিল।
অতঃপর শায়খ নসর তাঁর সনদের মাধ্যমে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবি আস-সালজ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাইসাম ইবনে খারিজাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাইসাম ইবনে ইমরান আল-আবসি বর্ণনা করেছেন, আমি ইসমাইল ইবনে উবায়দুল্লাহ আল-মাখজুমিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: আমাদের জন্য সমীচীন হলো আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে যা কিছু আমাদের নিকট এসেছে তা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা। কেননা মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ বলেছেন, {রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো}। সুতরাং এটি মর্যাদার দিক থেকে কুরআনের সমপর্যায়ের।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দুল ওয়াফির
(পৃষ্ঠা: ٩)
لَا يقطع بالنَّار لأحد من أهل التَّوْحِيد
ثمَّ ذكر فِي مَعْنَاهُ عدَّة أَحَادِيث وآثار مروية فِي وجوب اقتفاء السّنة النَّبَوِيَّة الَّتِي مِنْهَا حكم مَسْأَلَة الْوَعيد وَالْقطع بالنَّار لأحد من أهل التَّوْحِيد هَذِه أول مَسْأَلَة فِيمَا قيل وَقع فِيهَا النزاع الطَّوِيل وبسببها وَحدثت بِدعَة الاعتزال وارتكس أَهلهَا فِي دركة الضلال فَفِي زمن التَّابِعين كالحسن الْبَصْرِيّ وَابْن سِيرِين اخْتلفت طَائِفَة جلة فِي حكم الْفَاسِق من أهل الْملَّة فَذهب أهل السّنة وَالْجَمَاعَة أَنه لَا يخرج من مِلَّة الاسلام بفسوقه عَن الطَّاعَة وَطَائِفَة حكمت بِأَنَّهُ لَا مُؤمن وَلَا كَافِر لكنه يخلد فِي النَّار بِمَا ارْتكب من الْكَبَائِر وَكَانَ هَؤُلَاءِ فِيمَا خلا من الزَّمن يَجْلِسُونَ لأخذ الْعلم فِي حَلقَة الْحسن فاعتزلوا الْحلقَة لمخالفتهم أَهلهَا بِمَا تقدم فلقبوا بذلك معتزلة لَكِن عَن الْخَيْر إِلَى المأثم ثمَّ أطلق الاعتزال على مَذْهَبهم شهرة وَكَانَ ذَلِك على رَأس الْمِائَة الثَّانِيَة من الْهِجْرَة ثمَّ اتَّسع عَلَيْهِم مجَال الاعتزال مَعَ ضيقه فتاهوا عَن الْحق وَضَلُّوا عَن طَرِيقه
وَذَهَبت الْخَوَارِج إِلَى أَن الْمُسلم صَاحب الذُّنُوب الْكِبَار كَافِر عِنْدهم مخلد فِي النَّار وَهَذَا مَذْهَب بَاطِل أحدثه أهل المروق بتكفير من كَانَ من أهل الْقبْلَة بالفسوق
وَالْحق الَّذِي لَا ريب فِيهِ وَلَا خلل يَعْتَرِيه أَن الحكم على مُسلم معِين بِدُخُول النَّار غير جَائِز على مَا جزم بِهِ جُمْهُور أهل الْعلم وحمال الْآثَار
তাওহীদপন্থীদের কারো ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে জাহান্নামের ফয়সালা করা যাবে না।
অতঃপর তিনি এ প্রসঙ্গে সুন্নাতে নববীর অনুসরণের আবশ্যকতা সম্পর্কে বর্ণিত বেশ কিছু হাদীস ও আছার উল্লেখ করেছেন, যার অন্তর্ভুক্ত হলো শাস্তির বিষয়ের বিধান এবং তাওহীদপন্থীদের কারো ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে জাহান্নামী হওয়ার ফয়সালা করা। এটিই প্রথম মাসআলা যাতে সুদীর্ঘ বিবাদ সংঘটিত হয়েছে বলে বর্ণিত আছে। আর এই মাসআলার কারণেই ই’তিযাল বা মুতাজিলা মতবাদের বিদআতের উদ্ভব ঘটেছে এবং এর অনুসারীরা গোমরাহীর অতল গহ্বরে নিমজ্জিত হয়েছে। তাবিঈদের যুগে যেমন হাসান বসরী ও ইবনে সীরীনের সময়ে, মিল্লাত বা উম্মতের অন্তর্ভুক্ত ফাসিকের বিধান নিয়ে একদল নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি মতভেদ করেন। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত এই মত পোষণ করেছেন যে, আনুগত্য থেকে বের হয়ে ফাসিকিতে লিপ্ত হওয়ার কারণে কেউ ইসলামের মিল্লাত থেকে বের হয়ে যায় না। কিন্তু অন্য একদল এই সিদ্ধান্ত দেয় যে, সে মুমিনও নয় আবার কাফিরও নয়, তবে কবিরা গুনাহ করার কারণে সে চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামে থাকবে। অতীত সময়ে তারা হাসান বসরীর ইলমের হালকায় বসার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করত। অতঃপর উল্লিখিত বিষয়ে হালকার লোকদের সাথে দ্বিমত পোষণ করে তারা সেই হালকা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে তাদের 'মুতাজিলা' উপাধিতে ভূষিত করা হয়, তবে তারা কল্যাণ থেকে বিচ্যুত হয়ে পাপের দিকে ধাবিত হয়েছিল। পরবর্তীতে তাদের এই মাযহাবের পরিচিতি হিসেবে 'ইতিযাল' শব্দটি প্রসিদ্ধি লাভ করে। এটি ছিল হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর শুরুর দিকের ঘটনা। এরপর তাদের সংকীর্ণ চিন্তাধারার সাথে এই ইতিযালের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়, ফলে তারা সত্য থেকে বিচ্যুত হয় এবং সঠিক পথ হারিয়ে ফেলে।
আর খারেজীরা এই মত গ্রহণ করেছে যে, কবিরা গুনাহকারী মুসলিম তাদের নিকট কাফির এবং সে চিরকাল জাহান্নামে থাকবে। এটি একটি বাতিল মতবাদ যা ধর্মত্যাগী লোকেরা ফাসিকির কারণে আহলে কিবলাদের কাফির বলার মাধ্যমে উদ্ভাবন করেছে।
আর সত্য বিষয় যাতে কোনো সন্দেহ নেই এবং যার মধ্যে কোনো ত্রুটি প্রবেশ করতে পারে না তা হলো—নির্দিষ্ট কোনো মুসলিমের ওপর জাহান্নামে যাওয়ার ফয়সালা দেওয়া জায়েয নয়। এটিই জমহুর উলামায়ে কেরাম এবং হাদীসের ধারক-বাহকগণ সুনিশ্চিতভাবে ব্যক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দুল ওয়াফির
(পৃষ্ঠা: ١٠)
لانْتِفَاء حكم الْوَعيد عَنهُ وَخُرُوجه سالما مِنْهُ إِمَّا بتوبة خَالِصَة أَو حَسَنَة ماحية أَو مُصِيبَة مكفرة أَو شَفَاعَة مَقْبُولَة مَاضِيَة
قَالَ الامام أَبُو عبد الله أَحْمد بن حَنْبَل رَحْمَة الله عَلَيْهِ فِي كتاب السّنة الَّذِي رَوَاهُ أَبُو الْعَبَّاس أَحْمد بن جَعْفَر بن يَعْقُوب بن عبد الله الْفَارِسِي الاصطخري عَن الإِمَام أَحْمد قَالَ هَذِه مَذَاهِب أهل الْعلم وَأَصْحَاب الْآثَار وَأهل السّنة المتمسكين بعروتها المعروفين بهَا المقتدى بهم فِيهَا من لدن أَصْحَاب النَّبِي صلى الله عليه وسلم الى يَوْمنَا هَذَا وَأدْركت من أدْركْت من عُلَمَاء أهل الْحجاز وَالشَّام وَغَيرهم عَلَيْهَا فَذكر السّنة وَمِنْهَا
قَالَ والكف عَن أهل الْقبْلَة وَلَا نكفر أحدا مِنْهُم بذنب وَلَا نخرجهُ من الْإِسْلَام بِعَمَل إِلَّا أَن يكون فِي ذَلِك حَدِيث فيروى الحَدِيث وكما جَاءَ وكما رُوِيَ ونصدقه ونقبله ونعلم أَنه كَمَا رُوِيَ نَحْو ترك الصَّلَاة شرب الْخمر وَمَا أشبه ذَلِك أَو يبتدع بِدعَة بِنسَب صَاحبهَا إِلَى الْكفْر وَالْخُرُوج من الاسلام فَاتبع الْأَثر فِي ذَلِك وَلَا تجاوزه وَذكر بَقِيَّة شرح السّنة
وَمعنى هَذَا الِاسْتِثْنَاء الْمَذْكُور يرْوى عَن الزُّهْرِيّ وَغَيره من أَئِمَّة الْمَأْثُور من أَن حَدِيث لَا يَزْنِي الزَّانِي حِين يَزْنِي وَهُوَ مُؤمن وَنَحْوه من الْأَحَادِيث يُؤمن بهَا وتمر على مَا جَاءَت كَمَا أمرهَا من كَانَ قبلنَا وَلَا يخاض فِي مَعْنَاهَا
وَالَّذِي عَلَيْهِ إِجْمَاع أهل الْحق على أَن الزَّانِي وَنَحْوه من أَصْحَاب الْكَبَائِر غير الشّرك لَا يكفرون بذلك بل هم مُؤمنُونَ ناقصو الْإِيمَان إِن تَابُوا سَقَطت عقوبتهم وَإِن مَاتُوا مصرين على الْكَبَائِر كَانُوا فِي مَشِيئَة الله إِن شَاءَ عَفا عَنْهُم وأدخلهم الْجنَّة وَإِن شَاءَ عذبهم ثمَّ أدخلهم الْجنَّة
তার ওপর থেকে শাস্তির বিধান দূরীভূত হওয়া এবং তা থেকে নিরাপদে বেরিয়ে আসার কারণে; হয় বিশুদ্ধ তওবার মাধ্যমে, নতুবা পাপ মোচনকারী নেক আমলের মাধ্যমে, অথবা গুনাহের কাফফারা স্বরূপ বিপদের মাধ্যমে, কিংবা গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর সুপারিশের মাধ্যমে।
ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবনে হাম্বল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) ‘কিতাবুস সুন্নাহ’-এ বলেছেন, যা আবু আব্বাস আহমাদ ইবনে জাফর ইবনে ইয়াকুব ইবনে আব্দুল্লাহ আল-ফারিসি আল-ইসতাখরি ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: এগুলো হলো ইলমের অধিকারী, আছার বা হাদীসের অনুসারী এবং সুন্নাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা সেই আহলে সুন্নাহর মাযহাব, যারা এর মাধ্যমেই পরিচিত এবং যাদেরকে এ বিষয়ে অনুসরণ করা হয়—আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণের যুগ থেকে শুরু করে আমাদের এই দিন পর্যন্ত। হিজাজ, শাম ও অন্যান্য অঞ্চলের যেসব আলেমদের আমি পেয়েছি, তাদের সবাইকে এই মতের ওপরই পেয়েছি। অতঃপর তিনি সুন্নাহর বিষয়গুলো উল্লেখ করেন এবং তার মধ্যে রয়েছে:
তিনি বলেন: কিবলার অনুসারী বা মুসলিমদের বিষয়ে সংযত থাকা এবং তাদের কাউকেই কোনো পাপের কারণে কাফের ঘোষণা না করা এবং কোনো আমলের কারণে ইসলাম থেকে বের করে না দেওয়া; তবে যদি এ বিষয়ে কোনো হাদীস বর্ণিত থাকে। সেক্ষেত্রে হাদীস যেভাবে এসেছে এবং যেভাবে বর্ণিত হয়েছে, সেভাবেই তা বর্ণনা করা হবে। আমরা তা সত্য বলে বিশ্বাস করি, গ্রহণ করি এবং জানি যে তা ঠিক সেভাবেই যেমনটি বর্ণিত হয়েছে। যেমন—নামায ত্যাগ করা, মদ পান করা এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো, অথবা এমন কোনো বিদআত উদ্ভাবন করা যার কারণে এর হোতাকে কুফর এবং ইসলাম থেকে বের হয়ে যাওয়ার সাথে সম্পৃক্ত করা হয়। সুতরাং এক্ষেত্রে হাদীসের অনুসরণ করো এবং তা অতিক্রম করো না। অতঃপর তিনি সুন্নাহর ব্যাখ্যার অবশিষ্টাংশ উল্লেখ করেন।
বর্ণিত এই ব্যতিক্রমের অর্থ যুহরী এবং অন্যান্য হাদীস বিশারদ ইমামগণের নিকট থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, ‘ব্যভিচারী যখন ব্যভিচার করে তখন সে মুমিন থাকে না’—এই জাতীয় হাদীসগুলোর প্রতি ঈমান আনতে হবে এবং এগুলো যেভাবে এসেছে সেভাবেই রেখে দিতে হবে, যেমনটি আমাদের পূর্বসূরিগণ এগুলোকে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই অতিবাহিত করে গেছেন এবং এর মর্মার্থ নিয়ে কোনো বিতর্কে লিপ্ত হননি।
হকপন্থীগণের ইজমা বা ঐক্যমত যে বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত তা হলো—ব্যভিচারী এবং শিরক ব্যতীত অন্যান্য কবিরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তিরা এর কারণে কাফের হয়ে যায় না। বরং তারা ত্রুটিপূর্ণ ঈমানের অধিকারী মুমিন। যদি তারা তওবা করে তবে তাদের শাস্তি রহিত হয়ে যায়। আর যদি তারা কবিরা গুনাহের ওপর অটল থেকে মৃত্যুবরণ করে, তবে তারা আল্লাহর ইচ্ছাধীন থাকবে; তিনি চাইলে তাদের ক্ষমা করে দেবেন এবং জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, আর চাইলে তাদের শাস্তি দেবেন এবং পরবর্তীতে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দুল ওয়াফির
(পৃষ্ঠা: ١١)
عدم جَوَاز اللَّعْن
وَقَالَ الْعَلامَة شيخ الْإِسْلَام مُحي الدّين أَبُو زَكَرِيَّا النَّوَوِيّ رَحْمَة الله عَلَيْهِ وَاتفقَ الْعلمَاء على تَحْرِيم اللَّعْن فَإِنَّهُ فِي اللُّغَة الابعاد والطرد وَفِي الشَّرْع الإبعاد من رَحْمَة الله فَلَا يجوز أَن يبعد من رَحْمَة الله من لَا يعرف حَاله وخاتمة أمره معرفَة قَطْعِيَّة فَلهَذَا قَالُوا لَا يجوز لعن أحد بِعَيْنِه مُسلما كَانَ أَو كَافِرًا أَو دَابَّة إِلَّا من علمنَا بِنَصّ شَرْعِي أَنه مَاتَ على الْكفْر أَو يَمُوت عَلَيْهِ كَأبي جهل وإبليس
وَأما اللَّعْن بِالْوَصْفِ فَلَيْسَ بِحرَام كلعن الْوَاصِلَة وَالْمسْتَوْصِلَة والواشمة والمستوشمة وآكل الرِّبَا وموكله والمصورين والظالمين والفاسقين والكافرين وَلعن الله من غير منار الآرض وَمن تولى غير موَالِيه وَمن انتسب إِلَى غير أَبِيه وَمن أحدث فِي الْإِسْلَام حَدثا أَو آوى مُحدثا وَغير ذَلِك مِمَّا جَاءَت النُّصُوص الشَّرْعِيَّة بإطلاقة على الْأَوْصَاف لَا على الْأَعْيَان وَالله أعلم قَالَه فِي شرح صَحِيح مُسلم
فلعن الْمُسلم الْمعِين حرَام وَأَشد مِنْهُ رميه بالْكفْر وَخُرُوجه من الْإِسْلَام وَفِي ذَلِك أُمُور غير مرضية
অভিশাপ দেওয়া বা লানত করা অবৈধ হওয়া
আল্লামা শায়খুল ইসলাম মুহিউদ্দীন আবু জাকারিয়া আন-নববী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: উলামায়ে কেরাম লানত বা অভিশাপ দেওয়া হারাম হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। কেননা আভিধানিক অর্থে লানত হলো দূরে সরিয়ে দেওয়া এবং বিতাড়িত করা, আর শরীয়তের পরিভাষায় এর অর্থ হলো আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া। সুতরাং যার অবস্থা এবং শেষ পরিণতি সম্পর্কে অকাট্যভাবে জানা নেই, তাকে আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া (অর্থাৎ লানত করা) জায়েজ নয়। এই কারণেই উলামায়ে কেরাম বলেছেন যে, নির্দিষ্ট করে কাউকে লানত করা জায়েজ নয়—সে মুসলিম হোক বা কাফের হোক কিংবা কোনো পশু হোক; তবে যার ব্যাপারে শরয়ী দলীল দ্বারা আমরা নিশ্চিতভাবে জেনেছি যে সে কুফরির ওপর মারা গেছে অথবা কুফরির ওপর মারা যাবে, তার কথা ভিন্ন; যেমন—আবু জাহেল ও ইবলিস।
তবে বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে লানত করা হারাম নয়। যেমন—পরচুলা সংযোগকারিণী ও সংযোগ গ্রহণকারিণী, উল্কি অঙ্কনকারিণী ও অঙ্কন গ্রহণকারিণী, সুদখোর ও সুদে সহায়তাকারী, চিত্রশিল্পী, যালিম, ফাসেক এবং কাফেরদের ওপর লানত করা। এছাড়া ঐ ব্যক্তির ওপর আল্লাহর লানত যে জমির সীমানা পরিবর্তন করে, যে ব্যক্তি নিজের অভিভাবক ব্যতীত অন্যকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে, যে ব্যক্তি নিজের পিতা ব্যতীত অন্যকে পিতা বলে পরিচয় দেয় এবং যে ব্যক্তি ইসলামে নতুন কোনো গর্হিত বিষয় (বিদআত) উদ্ভাবন করে অথবা কোনো বিদআতীকে আশ্রয় দেয়। এছাড়া অন্যান্য বিষয় যার ব্যাপারে শরয়ী দলীলসমূহে নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর নয় বরং গুণের ওপর ভিত্তি করে সাধারণভাবে লানতের কথা এসেছে। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন। তিনি (ইমাম নববী) এটি শরহে সহীহ মুসলিমে বলেছেন।
সুতরাং নির্দিষ্ট কোনো মুসলিমকে লানত করা হারাম, আর এর চেয়েও গুরুতর হলো তাকে কুফরির অপবাদ দেওয়া এবং ইসলাম থেকে বহিষ্কার করা; আর এ বিষয়গুলোর মধ্যে অনেক গর্হিত বিষয় রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দুল ওয়াফির
(পৃষ্ঠা: ١٢)
مِنْهَا إشمات الْأَعْدَاء بِأَهْل هَذِه الْملَّة الزكية وتمكينهم بذلك من الْقدح فِي الْمُسلمين واشتضعافهم لشرائع هَذَا الدّين
وَمِنْهَا أَنه رُبمَا يقْتَدى بالرامي فِيمَا رمى فيتضاعف وزره بِعَدَد من تبعه مأثما وَقل أَن يسلم من رمى بِكفْر مُسلما فقد خرج أَبُو حَاتِم مُحَمَّد بن حبَان فِي صَحِيحه عَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مَا أكفر رجل رجلا إِلَّا بَاء بِأَحَدِهِمَا بهَا فَإِن كَانَ كَافِرًا وَإِلَّا كفر بتكفيره وَله شَاهد فِي الصَّحِيحَيْنِ من حَدِيث أبي ذَر وَابْن عمر رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُم وَفِي صَحِيح البُخَارِيّ لَهُ شَاهد أَيْضا من حَدِيث أبي هُرَيْرَة رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ وَصَحَّ عَن ثَابت ابْن الضَّحَّاك رضي الله عنه أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ وَمن رمى مُؤمنا بِكفْر فَهُوَ كقتله وَخرج أَبُو بكر الْبَزَّار فِي مُسْنده عَن عمرَان بن حُصَيْن رضي الله عنهما قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِذا قَالَ الرجل لِأَخِيهِ يَا كَافِر فَهُوَ كقتله
وروينا من حَدِيث الثَّوْريّ عَن يزِيد ابْن أبي زِيَاد عَن عَمْرو بن سَلمَة قَالَ سَمِعت عبد الله بن مَسْعُود رضي الله عنه يَقُول مَا من مُسلمين إِلَّا وَبَينهمَا ستر من الله عز وجل فَإِن قَالَ أَحدهمَا لِأَخِيهِ كلمة هجر خرق ستر الله الَّذِي بَينهمَا وَلَا قَالَ أَحدهمَا أَنْت كَافِر إِلَّا كفر أَحدهمَا تَابعه مُحَمَّد بن فُضَيْل وَأَبُو إِسْحَاق الْفَزارِيّ عَن يزِيد
এগুলোর মধ্যে রয়েছে এই পবিত্র মিল্লাতের অনুসারীদের দুর্দশায় শত্রুদের হাসি-ঠাট্টার সুযোগ করে দেওয়া এবং এর মাধ্যমে তাদের মুসলিমদের নিন্দা করা ও এই দীনের শরীয়তসমূহকে তুচ্ছজ্ঞান করার সুযোগ করে দেওয়া।
এগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে যে, অনেক সময় অপবাদ প্রদানকারীর অপবাদের অনুসরণ করা হয়, ফলে যতজন গোনাহের কাজে তার অনুসরণ করে, সেই সংখ্যা অনুযায়ী তার পাপ বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। আর যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমকে কুফরির অপবাদ দেয়, তার (নিজে কুফরি থেকে) নিরাপদ থাকা দুষ্কর। নিশ্চয়ই আবু হাতিম মুহাম্মদ ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবু সাঈদ খুদরী রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তিকে ততক্ষণ পর্যন্ত কাফির বলে না, যতক্ষণ না তাদের একজনের ওপর তা আপতিত হয়; যদি সে কাফির হয় (তবে তো হলোই), অন্যথায় তাকে কাফির বলার কারণে সে (বক্তা) নিজেই কাফির হয়ে যায়।" আর সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ আবু যার ও ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহুমের হাদীস থেকে এর সমর্থনে বর্ণনা রয়েছে। সহীহ বুখারীতে আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসেও এর সমর্থনে বর্ণনা রয়েছে। সাবিত ইবনে যাহহাক রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো মুমিনকে কুফরির অপবাদ দিল, সে যেন তাকে হত্যা করল।" আবু বকর আল-বাযযার তাঁর মুসনাদে ইমরান ইবনে হুসাইন রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "যখন কোনো ব্যক্তি তার ভাইকে বলে 'হে কাফির', তখন তা তাকে হত্যা করার মতোই।"
আর আমরা সাওরী থেকে, তিনি ইয়াযীদ ইবনে আবি যিয়াদ থেকে এবং তিনি আমর ইবনে সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছি, তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি: "এমন কোনো দুইজন মুসলিম নেই যাদের মাঝে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি পর্দা বিদ্যমান নেই। যখন তাদের একজন তার ভাইকে কোনো কটু কথা বলে, তখন সে তাদের মাঝে বিদ্যমান আল্লাহর পর্দাটি ছিন্ন করে ফেলে। আর তাদের কেউ যখন বলে 'তুমি কাফির', তখন তাদের একজন অবশ্যই কাফির হয়ে যায়।" মুহাম্মদ ইবনে ফুযাইল এবং আবু ইসহাক আল-ফাযারী ইয়াযীদ থেকে এ কথার সমর্থনমূলক বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দুল ওয়াফির
(পৃষ্ঠা: ١٣)
فَهَل بعد هَذَا الْوَعيد من مزِيد فِي التهديد وَلَعَلَّ الشَّيْطَان يزين لمن اتبع هَوَاهُ وَرمى بالْكفْر وَالْخُرُوج من الْإِسْلَام أَخَاهُ أَنه تكلم فِيهِ بِحَق ورماه وَأَنه من بَاب الْجرْح وَالتَّعْدِيل لَا يَسعهُ السُّكُوت عَن الْقَلِيل من ذَلِك فَكيف بالجليل
هَيْهَات هَيْهَات إِن فِي مجَال الْكَلَام فِي الرِّجَال عقبات مرتقيها على خطر ومرتقبها هوى لَا منجى لَهُ من الأثم وَلَا وزر فَلَو حاسب نَفسه الرَّامِي أَخَاهُ مَا السَّبَب الَّذِي هاج ذَلِك لتحَقّق أَنه الْهوى الَّذِي صَاحبه هَالك
এই সতর্কবাণীর পর হুমকির আর কিইবা অবশিষ্ট আছে? সম্ভবত শয়তান সেই ব্যক্তিকে সুশোভিত করে দেখায়, যে নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং আপন ভাইকে কুফর ও ইসলাম থেকে বহিষ্কারের অভিযোগে অভিযুক্ত করে, যেন সে মনে করে সে তার ব্যাপারে সত্য বলেছে এবং তাকে সঠিক আক্রমণ করেছে; এবং এটি ‘জারহ ও তাদীল’ (বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও মূল্যায়ন) এর অন্তর্ভুক্ত, যেখানে সামান্য বিষয়েও নীরব থাকা তার পক্ষে সম্ভব নয়, তাহলে বড় বিষয়ে কীভাবে নীরব থাকবে?
হায় আফসোস! হায় আফসোস! নিশ্চয়ই ব্যক্তিদের সমালোচনা করার ক্ষেত্রে এমন সব দুর্গম প্রতিবন্ধকতা রয়েছে যার আরোহী মহাবিপদে থাকে, আর যার লক্ষ্য কেবল প্রবৃত্তি, তার জন্য গুনাহ ও বোঝা থেকে নিষ্কৃতির কোনো পথ নেই। আপন ভাইকে অভিযুক্তকারী ব্যক্তি যদি নিজের নফসকে হিসাব নিতেন যে, কিসে তাকে এই কাজে উস্কানি দিয়েছে, তবে তিনি অবশ্যই নিশ্চিত হতেন যে, এটি ছিল প্রবৃত্তি—যার অনুসারী ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দুল ওয়াফির
(পৃষ্ঠা: ١٤)
طَبَقَات النقاد
وَالْكَلَام فِي الرِّجَال ونقدهم يَسْتَدْعِي أمورا فِي تعديلهم وردهم مِنْهَا أَن يكون الْمُتَكَلّم عَارِفًا بمراتب الرِّجَال وأحوالهم فِي الانحراف والاعتدال ومراتبهم من الْأَقْوَال وَالْأَفْعَال وَأَن يكون من أهل الْوَرع وَالتَّقوى مجانبا للعصبية والهوى خَالِيا من التساهل عَارِيا عَن غَرَض النَّفس بالتحامل مَعَ الْعَدَالَة فِي نَفسه والاتقان والمعرفة بالأسباب الَّتِي يجرح بِمِثْلِهَا الانسان وَإِلَّا لم يقبل قَوْله فِيمَن تكلم وَكَانَ مِمَّن اغتاب وفاه بِمحرم
وَإِذا نَظرنَا فِي طَبَقَات النقاد من كل جيل الَّذين قبل قَوْلهم فِي الْجرْح وَالتَّعْدِيل رأيناهم أَئِمَّة بِمَا ذكر موصوفين وعَلى سَبِيل نصيحة الْأمة متكلمين كمن كَانَ فِي الْمِائَة وَسِتِّينَ من الْهِجْرَة وَمَا قاربها من السنين فِي طبقَة النقاد المهرة مثل شُعْبَة بن الْحجَّاج وَالْأَوْزَاعِيّ وَالثَّوْري سُفْيَان وَمَالك وَاللَّيْث والحمادين وَمُحَمّد بن مطرف أبي غَسَّان
ثمَّ طبقَة من كَانَ قبيل الْمِائَة الثَّانِيَة من الائمة الَّذين أَقْوَالهم مَاضِيَة كَعبد الله بن الْمُبَارك وَجَرِير بن عبد الحميد وهشيم بن بشير وسُفْيَان ابْن عُيَيْنَة وَإِسْمَاعِيل ابْن علية وَأبي مُعَاوِيَة الضَّرِير وَيحيى بن سعيد الْقطَّان وَهُوَ أول من انتدب للنقد فِي هَذَا الشَّأْن
সমালোচকগণের স্তরসমূহ
বর্ণনাকারীদের বিষয়ে আলোচনা এবং তাদের সমালোচনা করার ক্ষেত্রে তাদের নির্ভরযোগ্যতা প্রদান বা প্রত্যাখ্যানের জন্য কিছু বিষয়ের প্রয়োজন হয়; যার মধ্যে অন্যতম হলো আলোচককে বর্ণনাকারীদের স্তরসমূহ, সত্য বিচ্যুতি ও অবিচলতার ক্ষেত্রে তাদের অবস্থা এবং তাদের কথা ও কাজের মান সম্পর্কে অবগত হতে হবে। এছাড়া তাকে অবশ্যই পরহেজগার ও মুত্তাকী হতে হবে, পক্ষপাতিত্ব ও প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে দূরে থাকতে হবে, শিথিলতা বর্জিত হতে হবে এবং ব্যক্তিগত বিদ্বেষপ্রসূত উদ্দেশ্য থেকে মুক্ত থাকতে হবে। এর পাশাপাশি তার নিজের মধ্যে ন্যায়পরায়ণতা, সূক্ষ্মতা এবং যেসব কারণে কোনো ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা যায় সে সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকতে হবে। অন্যথায় যার সম্পর্কে তিনি কথা বলবেন তার ব্যাপারে তার উক্তি গ্রহণ করা হবে না, বরং তিনি গীবতকারী হিসেবে গণ্য হবেন এবং হারামে লিপ্ত হবেন।
যখন আমরা প্রত্যেক প্রজন্মের সেই সমালোচকগণের স্তরের দিকে দৃষ্টিপাত করি যাদের বক্তব্য ‘জরহ ও তাদীল’ (সমালোচনা ও গুণাগুণ বিশ্লেষণ)-এর ক্ষেত্রে গৃহীত হয়েছে, তখন আমরা তাদের উল্লিখিত গুণাবলীতে ভূষিত ইমাম হিসেবে দেখতে পাই এবং তারা উম্মাহর প্রতি কল্যাণ কামনার উদ্দেশ্যেই কথা বলতেন। যেমন হিজরি ১৬০ সাল এবং তার কাছাকাছি সময়ের দক্ষ সমালোচকগণের স্তর; যথা: শু’বা ইবনুল হাজ্জাজ, আওজায়ী, সুফিয়ান সাওরী, মালিক, লাইস, দুই হাম্মাদ এবং মুহাম্মদ বিন মুতাররিফ আবু গাসসান।
অতঃপর দ্বিতীয় শতাব্দীর (দুইশত হিজরির) পূর্ববর্তী সময়ের সেই ইমামগণের স্তর যাদের বক্তব্য প্রামাণ্য হিসেবে স্বীকৃত; যথা: আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক, জারীর বিন আব্দুল হামিদ, হুশাইম বিন বাশীর, সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা, ইসমাইল ইবনে উলইয়াহ, আবু মুয়াবিয়া আদ-দারীর এবং ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান। আর ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তানই প্রথম ব্যক্তি যিনি এই শাস্ত্রে সমালোচনার কার্যে আত্মনিয়োগ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দুল ওয়াফির
(পৃষ্ঠা: ١٥)
وَبعده عبد الرَّحْمَن بن مهْدي وطبقته إِلَى حُدُود الْمِائَتَيْنِ وَثَلَاثِينَ كَأبي دَاوُد سُلَيْمَان بن دَاوُد الطَّيَالِسِيّ والامام أبي عبد الله مُحَمَّد بن إِدْرِيس الشَّافِعِي وَآخَرين
ثمَّ تلاهم بعد ذَلِك يحيى بن معِين فِي نقد الرِّجَال وَلَا يضر اخْتِلَاف الرِّوَايَة فِي وَاحِد بأقوال وَكَذَلِكَ الامام أَحْمد بن حَنْبَل وَخلق من هَذِه الطَّبَقَة يحكم بنقدهم وَيعْمل مثل مُحَمَّد بن عبد الله بن نمير وَمُحَمّد بن عبد الله بن عمار وَعَمْرو بن عَليّ الفلاس وقتيبة وَمُحَمّد بن بشار بنْدَار
وبعدهم طبقَة البُخَارِيّ مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل
وقبيل الثلاثمائة بِقَلِيل كمحمد بن يحيى الذهلي وَعبد الله الدَّارمِيّ وَأحمد بن الْفُرَات وَأبي زرْعَة عبيد الله بن عبد الْكَرِيم وَابْن خَالَته أبي حَاتِم الرازيين وَخلق من الْأَثْبَات
ثمَّ طبقَة مَا بَين الْمِائَتَيْنِ وَسبعين إِلَى بعيد الثلاثمائة من السنين كَأبي عِيسَى مُحَمَّد بن عِيسَى التِّرْمِذِيّ وَأبي عبد الرَّحْمَن أَحْمد بن شُعَيْب النَّسَائِيّ وَمُحَمّد ابْن مَاجَه وَآخَرين مِنْهُم أَبُو يعلى الْموصِلِي وَأحمد بن نصر الْخفاف وَعبد الله بن أَحْمد بن حَنْبَل وَإِبْرَاهِيم بن معقل النَّسَفِيّ وَأسلم بن سهل بحشل
وَمن بعد عصرهم بِقَلِيل كالمصنف النَّبِيل إِمَام الْأَئِمَّة مُحَمَّد بن إِسْحَاق ابْن خُزَيْمَة وَعبد الله ابْن أبي دَاوُد وَأبي بكر مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم بن الْمُنْذر الامام وَمُحَمّد بن جرير وَيحيى بن صاعد وَغَيرهم من الاعلام
ثمَّ طبقَة بعد الْعشْرين وثلاثمائة عَام إِلَى بعد الْأَرْبَعين من الأعوام كَأبي حَامِد أَحْمد بن الشَّرْقِي وَأبي جَعْفَر أَحْمد بن مُحَمَّد الطَّحَاوِيّ الامام
এরপর রয়েছেন আব্দুর রহমান বিন মাহদী এবং তাঁর সমসাময়িক প্রজন্ম, যা দুইশ ত্রিশ হিজরি পর্যন্ত বিস্তৃত; যেমন আবু দাউদ সুলাইমান বিন দাউদ আত-তায়ালিসি এবং ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইদ্রিস আশ-শাফিঈ ও অন্যান্যরা।
অতঃপর বর্ণনাকারী পর্যালোচনায় তাঁদের অনুগামী হয়েছেন ইয়াহইয়া বিন মাইন; আর একজন ব্যক্তির বিষয়ে বিভিন্ন উক্তির মাধ্যমে বর্ণনার ভিন্নতা কোনো ক্ষতি করে না। অনুরূপভাবে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল এবং এই স্তরের বিশাল এক জনগোষ্ঠী, যাঁদের সমালোচনাকে মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করা হয় এবং তদানুযায়ী আমল করা হয়; যেমন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন নুমাইর, মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আম্মার, আমর বিন আলী আল-ফাল্লাস, কুতাইবাহ এবং মুহাম্মাদ বিন বাশার বুন্দার।
তাঁদের পরে রয়েছেন বুখারী মুহাম্মাদ বিন ইসমাইলের সমসাময়িক স্তর।
আর তিনশ হিজরির ঠিক আগমুহূর্তের ব্যক্তিবর্গ, যেমন মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আজ-জুহলি, আব্দুল্লাহ আদ-দারিমি, আহমাদ বিন আল-ফুরাত, আবু জুরআ উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুল কারিম ও তাঁর খালাতো ভাই আবু হাতিম আর-রাজিদ্বয় এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের এক বিশাল দল।
অতঃপর দুইশ সত্তর থেকে তিনশ হিজরির কিছু পরবর্তী সময় পর্যন্ত বিস্তৃত একটি প্রজন্ম; যেমন আবু ঈসা মুহাম্মাদ বিন ঈসা আত-তিরমিজি, আবু আব্দুর রহমান আহমাদ বিন শুআইব আন-নাসায়ি, মুহাম্মাদ ইবনে মাজাহ এবং অন্যান্যরা, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি, আহমাদ বিন নাসর আল-খাফফাফ, আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল, ইব্রাহিম বিন মাকিল আন-নাসাফি এবং আসলাম বিন সাহল বাহশাল।
আর তাঁদের যুগের সামান্য পরবর্তী ব্যক্তিবর্গ; যেমন মর্যাদাবান গ্রন্থকার, ইমামদের ইমাম মুহাম্মাদ বিন ইসহাক ইবনে খুজাইমাহ, আব্দুল্লাহ ইবনে আবু দাউদ, ইমাম আবু বকর মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম বিন আল-মুনজির, মুহাম্মাদ বিন জারির, ইয়াহইয়া বিন সাইদ এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
অতঃপর তিনশ বিশ হিজরি থেকে তিনশ চল্লিশ হিজরি পরবর্তী সময় পর্যন্ত বিস্তৃত প্রজন্ম; যেমন আবু হামিদ আহমাদ বিন আশ-শারকি এবং ইমাম আবু জাফর আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আত-তাহাবি।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দুল ওয়াফির
(পৃষ্ঠা: ١٦)
وَعبد الرَّحْمَن بن أبي حَاتِم وَأبي جَعْفَر الْعقيلِيّ مُحَمَّد بن عَمْرو وَالْحُسَيْن ابْن إِسْمَاعِيل الْمحَامِلِي وَغَيرهم من نقاد هَذَا الْأَمر
ثمَّ طبقَة من كَانَ من الناقدين إِلَى بعيد الثلاثمائة وَسبعين كَأبي الْحُسَيْن عبد الْبَاقِي بن قَانِع وَأبي أَحْمد مُحَمَّد بن أَحْمد الْعَسَّال وَأبي حَاتِم مُحَمَّد ابْن حبَان وَالطَّبَرَانِيّ وَأبي أَحْمد عبد الله بن عدي وعدة من الرِّجَال
ثمَّ طبقَة من كَانَ بعدهمْ من الْأَعْلَام إِلَى حُدُود أَرْبَعمِائَة عَام وفيهَا قل الاعتناء بالآثار لما ظهر من الْبدع وثار لاستيلاء آل بويه على الْعرَاق وَبني عبيد الباطنية على مصر وَغَيرهَا من الْآفَاق وَكَانَ فِي هَذِه الطَّبَقَة عدَّة من أَئِمَّة السّنة النبل كَأبي الْحسن عَليّ بن عمر الدَّارَقُطْنِيّ وَبِه ختم معرفَة الْعِلَل وَأبي عبد الله مُحَمَّد بن إِسْحَاق بن مَنْدَه الْعَبْدي وَالْحَاكِم أبي عبد الله مُحَمَّد بن عبد الله الضَّبِّيّ
ثمَّ من بعدهمْ إِلَى بعيد الأربعمائة وَثَلَاثِينَ عدَّة من نقاد الْمُحدثين كَعبد الْغَنِيّ بن سعيد وَأحمد بن عَليّ السُّلَيْمَانِي وَأبي بكر أَحْمد بن مرْدَوَيْه وَمُحَمّد ابْن أبي الفوارس وَأبي نعيم أَحْمد بن عبد الله الْأَصْفَهَانِي
ثمَّ من كَانَ من الْأَعْلَام إِلَى حُدُود الْخمسين وَأَرْبَعمِائَة عَام كَأبي عبد الله مُحَمَّد بن عَليّ الصُّورِي وَالْحسن بن مُحَمَّد الْخلال والخليل بن عبد الله الخليلي وعدة من الرِّجَال
ثمَّ من كَانَ بعد الْخمسين إِلَى حُدُود أَرْبَعمِائَة وَثَمَانِينَ كَأبي بكر الْبَيْهَقِيّ الامام وَعبد الله بن مُحَمَّد الانصاري شيخ الاسلام وَأبي بكر أَحْمد بن عَليّ خطيب بَغْدَاد وَأبي عمر بن عبد الْبر وَأبي الْوَلِيد الْبَاجِيّ وعدة من النقاد
ثمَّ من كَانَ بعدهمْ إِلَى بعد الْخَمْسمِائَةِ بِقَلِيل كَأبي نصر عَليّ بن مَاكُولَا وَالشَّيْخ نصر الْمَقْدِسِي النَّبِيل وَأبي عَليّ الْحُسَيْن بن مُحَمَّد الغساني وَأبي عَليّ
এবং আব্দুর রহমান ইবনে আবি হাতিম, আবু জাফর আল-উকায়লি মুহাম্মদ ইবনে আমর, আল-হুসাইন ইবনে ইসমাঈল আল-মাহামিলি এবং এই বিষয়ের অন্যান্য বিশেষজ্ঞ সমালোচকগণ।
অতঃপর ৩৭০ হিজরীর কিছু পরবর্তী সময় পর্যন্ত সমালোচকগণের স্তর, যেমন—আবু আল-হুসাইন আব্দুল বাকি ইবনে কানি’, আবু আহমদ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-আসসাল, আবু হাতিম মুহাম্মদ ইবনে হিব্বান, তাবারানি, আবু আহমদ আব্দুল্লাহ ইবনে আদি এবং আরও অনেক বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিত্ব।
অতঃপর তাঁদের পরবর্তী প্রথিতযশা ইমামগণের স্তর ৪০০ হিজরী পর্যন্ত। এই সময়ে আসার বা হাদিসের বর্ণনার প্রতি মনোযোগ কমে যায়, কারণ বিদআত প্রকাশ পায় এবং ইরাকের ওপর বুয়াইহী বংশ ও মিশরের ওপর বাতেনী বনু উবাইদ এবং অন্যান্য দিগন্তের ওপর তাদের আধিপত্য বিস্তারের ফলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এই স্তরে সুন্নাহর বেশ কয়েকজন শ্রেষ্ঠ ইমাম বিদ্যমান ছিলেন, যেমন—আবু আল-হাসান আলী ইবনে উমর আদ-দারা কুতনি, যাঁর মাধ্যমে হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইলল) বিষয়ক জ্ঞানের সমাপ্তি ঘটে, এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে মানদাহ আল-আবদি ও আল-হাকিম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আদ-দাব্বি।
অতঃপর তাঁদের পরবর্তী ৪৩০ হিজরীর কিছু পর পর্যন্ত মুহাদ্দিসগণের একদল সমালোচক, যেমন—আব্দুল গনি ইবনে সাঈদ, আহমদ ইবনে আলী আস-সুলাইমানি, আবু বকর আহমদ ইবনে মারদুওয়াইহ, মুহাম্মদ ইবনে আবিল ফাওয়ারিস এবং আবু নুআইম আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আসফাহানি।
অতঃপর ৪৫০ হিজরী পর্যন্ত প্রথিতযশা ইমামগণ, যেমন—আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আলী আস-সুরি, হাসান ইবনে মুহাম্মদ আল-খাল্লাল, খলীল ইবনে আব্দুল্লাহ আল-খলীলি এবং আরও অনেক ব্যক্তি।
অতঃপর ৪৫০ হিজরীর পর থেকে ৪৮০ হিজরী পর্যন্ত সময়কাল, যেমন—ইমাম আবু বকর আল-বায়হাকি, শাইখুল ইসলাম আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-আনসারি, আবু বকর আহমদ ইবনে আলী খতিব আল-বাগদাদি, আবু উমর ইবনে আব্দুল বারর, আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজি এবং একদল সমালোচক।
অতঃপর তাঁদের পরবর্তী ৫০০ হিজরীর কিছু পর পর্যন্ত বিদ্যমান ব্যক্তিবর্গ, যেমন—আবু নাসর আলী ইবনে মাকুলা, মহান শাইখ নাসর আল-মাকদিসি, আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ আল-গাসসানি এবং আবু আলী...
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দুল ওয়াফির
(পৃষ্ঠা: ١٧)
أَحْمد بن مُحَمَّد البرداني
ثمَّ من كَانَ بعد الْخَمْسمِائَةِ بِنَحْوِ أَرْبَعِينَ سنة مقدرَة كمحيي السّنة الْحُسَيْن بن مُحَمَّد الْبَغَوِيّ وَالْقَاضِي أبي عَليّ الْحُسَيْن بن سكرة
ثمَّ من كَانَ من نقاد الْمُحدثين بعد الْخَمْسمِائَةِ وَأَرْبَعين كَأبي الْفضل مُحَمَّد بن نَاصِر والسلفي أَحْمد بن مُحَمَّد بن أبي طَاهِر وَالْقَاضِي عِيَاض ويوسف بن الدّباغ أبي الْوَلِيد وَأبي بكر مُحَمَّد بن عبد الله بن الْعَرَبِيّ الْمُفِيد وَأبي الْعَلَاء الْحسن بن أَحْمد شيخ همذان وَأبي مُوسَى مُحَمَّد ابْن أبي بكر الْمَدِينِيّ مُحدث أصفهان وَأبي الْقَاسِم عَليّ ابْن عَسَاكِر حَافظ الشَّام وَأبي سعد عبد الْكَرِيم بن مُحَمَّد بن السَّمْعَانِيّ الامام
ثمَّ من كَانَ الى حُدُود الستمائة وبعيدها من نقاد الرِّجَال كَعبد الْحق الاشبيلي وَأبي الْقَاسِم خلف ابْن بشكوال وَأبي بكر مُحَمَّد بن مُوسَى الْحَازِمِي وَعبد الرَّحْمَن ابْن الْجَوْزِيّ الْعَالم الْجواد وَأبي المحاسن عمر بن عَليّ الدِّمَشْقِي وعدة من النقاد كَعبد الْغَنِيّ الْمَقْدِسِي وَعبد الْقَادِر الرهاوي وَعبد الْعَزِيز بن الْأَخْضَر بِبَغْدَاد وَعلي بن الْمفضل الاسكندراني وَأبي نزار ربيعَة بن الْحسن الْيَمَانِيّ
ثمَّ كَانَ فِي الْمِائَة السَّابِعَة طَائِفَة لمن تقدم تَابِعَة كَأبي الْحسن عَليّ بن الْقطَّان النَّبِيل واسماعيل ابْن الانماطي ويوسف بن خَلِيل والضياء مُحَمَّد ابْن عبد الْوَاحِد وَأبي الرّبيع سُلَيْمَان بن مُوسَى النَّاقِد
ثمَّ من بعدهمْ جمَاعَة من الاعلام كَأبي عَمْرو عُثْمَان ابْن الصّلاح الامام والزكي عبد الْعَظِيم الْمُنْذِرِيّ وَأحمد بن مَحْمُود الْجَوْهَرِي
ثمَّ طبقَة النواوي شيخ الاسلام وَأبي مُحَمَّد عبد الْمُؤمن الدمياطي
আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-বারদানি
এরপর যারা পাঁচশ হিজরির প্রায় চল্লিশ বছর পর বিদ্যমান ছিলেন, যেমন মুহিউস সুন্নাহ আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ আল-বাগাভি এবং আল-কাদি আবু আলি আল-হুসাইন বিন সাকরাহ
অতঃপর পাঁচশ চল্লিশ হিজরির পরবর্তী সেই সকল মুহাদ্দিস সমালোচকগণ, যেমন আবুল ফজল মুহাম্মদ বিন নাসির, আস-সালাফি আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আবু তাহের, আল-কাদি ইয়াদ, ইউসুফ বিন আদ-দাব্বাগ আবুল ওয়ালিদ, মুফিদ আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-আরাবি, হামাদানের শায়খ আবুল আলা আল-হাসান বিন আহমদ, আসফাহানের মুহাদ্দিস আবু মুসা মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর আল-মাদিনি, শামের হাফিজ আবুল কাসিম আলি ইবনে আসাকির এবং ইমাম আবু সা’দ আব্দুল কারিম বিন মুহাম্মদ বিন আস-সামআনি
এরপর ছয়শ হিজরি এবং তার নিকটবর্তী সময় পর্যন্ত বিদ্যমান রিজাল শাস্ত্রের সমালোচকগণ, যেমন আব্দুল হক আল-ইশবিলি, আবুল কাসিম খালাফ ইবনে বাশকুয়াল, আবু বকর মুহাম্মদ বিন মুসা আল-হাজিমি, বিজ্ঞ ও দানশীল আলিম আব্দুর রহমান ইবনুল জাওজি, আবুল মাহাসিন উমর বিন আলি আদ-দিমাশকি এবং একদল সমালোচক যেমন আব্দুল গনি আল-মাকদিসি, আব্দুল কাদির আল-রুহাভি, বাগদাদের আব্দুল আজিজ বিন আল-আখদার, আলি বিন আল-মুফাদ্দাল আল-ইসকান্দারানি এবং আবু নিজার রাবিআ বিন আল-হাসান আল-ইয়ামানি
অতঃপর সপ্তম শতাব্দীতে একদল লোক ছিলেন যারা পূর্ববর্তীদের অনুসারী ছিলেন, যেমন আবুল হাসান আলি বিন আল-কাত্তান আন-নাবিল, ইসমাইল ইবনুল আনমাতি, ইউসুফ বিন খলিল, আদ-দিয়া মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ এবং সমালোচক আবু রাবি সুলায়মান বিন মুসা
এরপর তাঁদের পরবর্তী একদল প্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব, যেমন ইমাম আবু আমর উসমান ইবনুস সালাহ, আজ-জাকি আব্দুল আজিম আল-মুনজিরি এবং আহমদ বিন মাহমুদ আল-জাওহারি
অতঃপর শায়খুল ইসলাম আন-নববি এবং আবু মুহাম্মদ আব্দুল মুমিন আদ-দামিয়াতির স্তর।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দুল ওয়াফির
(পৃষ্ঠা: ١٨)
الامام والمحب أَحْمد بن عبد الله الطَّبَرِيّ مُصَنف الْأَحْكَام والعلامة أبي الْفَتْح مُحَمَّد ابْن دَقِيق الْعِيد وَأحمد بن فَرح الاشبيلي الْمُفِيد
ثمَّ من بعدهمْ طبقَة أبي الْحجَّاج الْمزي حَامِل راية هَذَا الشان يُوسُف ابْن الزكي عبد الرَّحْمَن وَأبي الْعَبَّاس أَحْمد ابْن تَيْمِية علم الْأَعْيَان وَالقَاسِم ابْن البرزالي ناقد الرِّجَال وَأبي عبد الله مُحَمَّد ابْن الذَّهَبِيّ صَاحب ميزَان الِاعْتِدَال وَمُحَمّد بن عبد الرَّحْمَن بن سامة ومحمود ابْن أبي بكر الفرضي الْعَلامَة وَعبد الْكَرِيم الْحلَبِي قطب الدّين وَمُحَمّد بن مُحَمَّد بن مُحَمَّد ابْن سيد النَّاس فِي آخَرين
ثمَّ طبقَة مُحَمَّد بن عبد الْهَادِي الْمُفِيد والمؤرخ الدهلي سعيد وَأحمد ابْن مظفر أحد الأيقاظ وخليل العلائي فَقِيه الْحفاظ والعلامة إِسْمَاعِيل ابْن كثير صَاحب التَّارِيخ وَالتَّفْسِير وَالسَّيِّد الْحُسَيْنِي مُحَمَّد بن عَليّ بن الْحسن الشَّامي وَأبي الْمَعَالِي مُحَمَّد بن رَافع السلَامِي وَطَائِفَة ناقدة محررة كشيخنا أبي بكر مُحَمَّد بن الْمُحب صَاحب كتاب التَّذْكِرَة
ইমাম ও মুহিব্ব আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আত-তাবারী, যিনি আল-আহকাম গ্রন্থের রচয়িতা; এবং আল্লামা আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে দাকীক আল-ঈদ; এবং আহমদ বিন ফারাহ আল-ইশবীলী আল-মুফীদ।
এরপর তাঁদের পরবর্তী স্তর হলো আবুল হাজ্জাজ আল-মিযযীর স্তর, যিনি এই শাস্ত্রের পতাকাবাহী ইউসুফ ইবনে আয-যাকী আব্দুর রহমান; এবং আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে তাইমিয়্যাহ, যিনি বিশিষ্টজনদের শিরোমণি; এবং কাসিম ইবনুল বারযালী, যিনি বর্ণনাকারীদের সমালোচক; এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আয-যাহাবী, যিনি মীযানুল ইতিদাল গ্রন্থের রচয়িতা; এবং মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন সামাহ; এবং আল্লামা মাহমুদ ইবনে আবু বকর আল-ফারযী; এবং কুতুবুদ্দীন আব্দুল করীম আল-হালাবী; এবং মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ ইবনে সাইয়্যিদুন নাসসহ আরও অনেকে।
অতঃপর মুহাম্মদ বিন আব্দুল হাদী আল-মুফীদের স্তর; এবং ঐতিহাসিক আদ-দেহলী সাঈদ; এবং আহমদ ইবনে মুযাফফর, যিনি সচেতন ব্যক্তিদের অন্যতম; এবং খলীল আল-আলাঈ, যিনি হাফেযগণের মধ্যে ফকীহ; এবং আল্লামা ইসমাইল ইবনে কাসীর, যিনি ইতিহাস ও তাফসীর গ্রন্থের রচয়িতা; এবং আস-সাইয়্যিদ আল-হুসাইনী মুহাম্মদ বিন আলী বিন আল-হাসান আশ-শামী; এবং আবুল মাআলী মুহাম্মদ বিন রাফে আস-সালামী; এবং একদল সূক্ষ্মদর্শী গবেষক, যেমন আমাদের শায়খ আবু বকর মুহাম্মদ বিন আল-মুহিব্ব, যিনি কিতাবুত তাযকিরাহ এর রচয়িতা।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দুল ওয়াফির
(পৃষ্ঠা: ١٩)
الطعْن بِسَبَب الْمَذْهَب
فَإِذا نَظرنَا فِي كَلَام من ذكر وأشير إِلَيْهِ رَأينَا كلا مِنْهُم يعْتَمد فِي الْجرْح وَالتَّعْدِيل عَلَيْهِ وَلم نر أحدا مِنْهُم عمد إِلَى إِمَام جليل ثِقَة نبيل رَمَاه عَن الْإِسْلَام بالتحويل وَلَا أفْصح بِكُفْرِهِ تَصْرِيحًا وَلَا حكم عَلَيْهِ بعد مَوته بالْكفْر تجريحا حاشا أَئِمَّة هَذِه السّنة من الْميل عَن سنَن الْهدى أَو الانحراف إِلَى قلَّة الانصاف بِاتِّبَاع الْهوى لَكِن بعض الْأَعْيَان تكلم فِي بعض الأقران مثل كَلَام أبي نعيم فِي ابْن مَنْدَه وَابْن مَنْدَه فِيهِ فَلَا نتَّخذ كَلَامهمَا فِي ذَلِك عُمْدَة بل وَلَا نحكيه لِأَن النَّاقِد إِذا بحث عَن سَبَب الْكَلَام فِي مثل ذَلِك وانتقد رَآهُ إِمَّا لعداوة أَو لمَذْهَب أَو لحسد وَقل أَن يسلم عصر بعد تِلْكَ الْقُرُون الثَّلَاثَة من هَذِه المهالك وَمن نظر فِي التَّارِيخ الاسلامي فضلا عَن غَيره حقق ذَلِك وَمَا وَقع مِنْهُ فِي الْأَغْلَب كَانَ سَببه الْمَذْهَب
وَلَقَد قَالَ إِمَام الْجرْح وَالتَّعْدِيل وَالْمُعْتَمد عَلَيْهِ فِي الْمَدْح والقدح أَبُو عبد الله مُحَمَّد ابْن الذَّهَبِيّ فِيمَا وجدته بِخَطِّهِ
মাযহাবগত কারণে কুৎসা রটনা
যাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং যাঁদের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে তাঁদের বক্তব্যসমূহ পর্যালোচনা করলে আমরা দেখতে পাই যে, তাঁদের প্রত্যেকেই জারহ ও তাদিলের (সমালোচনা ও সত্যায়ন) ক্ষেত্রে এর ওপর নির্ভর করেন। আমরা তাঁদের কাউকেই এমন দেখিনি যিনি কোনো মহান, নির্ভরযোগ্য ও মহৎ ইমামকে ইসলাম থেকে বিচ্যুত হওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন, কিংবা স্পষ্টভাবে তাঁর কুফরির কথা প্রকাশ করেছেন, অথবা তাঁর মৃত্যুর পর কুফরির হুকুম দিয়ে তাঁর মর্যাদাহানি করেছেন। হেদায়াতের পথ থেকে বিচ্যুত হওয়া কিংবা প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে ইনসাফ পরিহার করার মতো ত্রুটি থেকে এই সুন্নাহর ইমামগণ অনেক ঊর্ধ্বে। তবে কোনো কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তি তাঁদের সমসাময়িক ব্যক্তিদের সম্পর্কে কিছু কথা বলেছেন, যেমন ইবনে মানদাহর ব্যাপারে আবু নুআইমের উক্তি এবং আবু নুআইমের ব্যাপারে ইবনে মানদাহর উক্তি। এমতাবস্থায় আমরা তাঁদের সেই বক্তব্যসমূহকে ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করি না, এমনকি তা বর্ণনাও করিও না। কারণ একজন সমালোচক যখন এই ধরণের বক্তব্যের কারণ অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণ করেন, তখন তিনি দেখতে পান যে তা হয় শত্রুতা, না হয় মাযহাবগত সংকীর্ণতা অথবা হিংসার বশবর্তী হয়ে করা হয়েছে। প্রথম তিন শতাব্দীর পরের খুব কম যুগই এই ধ্বংসাত্মক ব্যাধি থেকে মুক্ত থাকতে পেরেছে। অন্য ইতিহাসের কথা বাদ দিয়ে কেউ যদি কেবল ইসলামি ইতিহাস পাঠ করেন তবে তিনি এটি নিশ্চিতভাবে বুঝতে পারবেন; আর এই ধরণের ঘটনার অধিকাংশেরই মূল কারণ ছিল মাযহাবগত রেষারেষি।
জারহ ও তাদিলের ইমাম এবং প্রশংসা ও নিন্দার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য আলেম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে জাহাবি তাঁর স্বহস্তে লিখিত পাণ্ডুলিপিতে যা বলেছেন (আমি তাঁর হস্তলিপিতে যা পেয়েছি):
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দুল ওয়াফির
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
وَلَا ريب أَن بعض عُلَمَاء النّظر بالغوا فِي النَّفْي وَالرَّدّ والتحريف والتنزيه بزعمهم حَتَّى وَقَعُوا فِي بِدعَة أَو نعت الْبَارِي بنعوت الْمَعْدُوم
كَمَا أَن جمَاعَة من عُلَمَاء الْأَثر بالغوا فِي الاثبات وَقبُول الضَّعِيف وَالْمُنكر ولهجوا بِالسنةِ والاتباع فَحصل الشغب وَوَقعت الْبغضَاء وبدع هَذَا هَذَا وَكفر هَذَا هَذَا
ونعوذ بِاللَّه من الْهوى والمراء فِي الدّين وَأَن نكفر مُسلما موحدا بِلَازِم قَوْله وَهُوَ يفر من ذَلِك اللَّازِم وينزه ويعظم الرب انْتهى قَول الذَّهَبِيّ
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কিছু যুক্তিবাদী আলেম তাদের ধারণামতে (আল্লাহর গুণাবলি) অস্বীকার, প্রত্যাখ্যান, বিকৃতি এবং পবিত্রতা বর্ণনার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন করেছেন, এমনকি তারা বিদআতে নিপতিত হয়েছেন অথবা স্রষ্টাকে অস্তিত্বহীনের গুণাবলিতে বিশেষিত করেছেন।
ঠিক তেমনিভাবে হাদিসপন্থী আলেমদের একটি দল (আল্লাহর গুণাবলি) সাব্যস্ত করা এবং দুর্বল ও বর্জনীয় বর্ণনা কবুল করার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন করেছেন। তারা সুন্নাহ ও অনুসরণের বুলি আওড়াতেন; ফলে হাঙ্গামা সৃষ্টি হয়েছে এবং বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়েছে। এ পক্ষ তাকে বিদআতি আখ্যা দিয়েছে এবং ও পক্ষ একে কাফির বলেছে।
আমরা প্রবৃত্তির অনুসরণ এবং দ্বীন নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ করা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি। আর কোনো একত্ববাদী মুসলিমকে তার বক্তব্যের অনিবার্য পরিণতির ভিত্তিতে কাফির ঘোষণা করা থেকেও আশ্রয় চাই—অথচ সে ব্যক্তি স্বয়ং সেই পরিণতি থেকে পলায়ন করে এবং রবের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। — যাহাবীর বক্তব্যের সমাপ্তি।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দুল ওয়াফির
(পৃষ্ঠা: ٢١)
أَقسَام الْجرْح وَالتَّعْدِيل وَسبب تأليف الْكتاب
وَجُمْهُور النقاد وأئمة أهل الاسناد كَلَامهم منقسم فِي الْجرْح وَالتَّعْدِيل إِلَى قوي ومتوسط وَكَلَام فِيهِ تسهيل وَفِي عصرنا هَذَا الَّذِي قل فِيهِ من يدْرِي هَذَا الْفَنّ أَو يرويهِ أَو يُحَقّق تراجم من رأى من أهل مصره فضلا عَمَّن لم يره أَو مَاتَ قبل عصره قد نطق فِيهِ من لَا خبْرَة لَهُ بتراجم الرِّجَال وَلَا عِبْرَة لَهُ فِيمَا تقلده من سوء الْمقَال وَلَا فكرة لَهُ فِيمَا تطرق بِهِ إِلَى تَكْفِير خلق من الاعلام بِأَن قَالَ من سمى ابْن تَيْمِية شيخ الاسلام كَانَ كَافِرًا لَا تصح الصَّلَاة وَرَاءه وَهَذَا القَوْل الشنيع الَّذِي نرجو من الله الْعَظِيم أَن يعجل لقائله جزاه قد ابان قدر قَائِله فِي الْفَهم وأفصح عَن مبلغه من الْعلم وكشف عَن مَحَله من الْهوى وَوصف كَيفَ اتِّبَاعه لسبيل الْهدى وَلَا يرد بِأَكْثَرَ من رِوَايَته عَنهُ ونسبته إِلَيْهِ فَكَلَام الانسان عنوان عقله يدل عَلَيْهِ أما علم هَذَا الْقَائِل أَن لَفْظَة شيخ الاسلام تحْتَمل وُجُوهًا من مَعَاني الْكَلَام
জারহ ও তাদীলের প্রকারভেদ এবং গ্রন্থটি রচনার কারণ
অধিকাংশ সমালোচক এবং ইসনাদ শাস্ত্রের ইমামগণের বক্তব্য জারহ ও তাদীলের ক্ষেত্রে শক্তিশালী, মধ্যম এবং শিথিলতাপূর্ণ—এই তিন ভাগে বিভক্ত। আমাদের এই যুগে, যেখানে এই শিল্প সম্পর্কে অবগত অথবা এটি বর্ণনা করেন কিংবা নিজের শহরের সমসাময়িকদের জীবনচরিত বিশ্লেষণ করেন এমন ব্যক্তির সংখ্যা কমে গেছে—পূর্ববর্তীদের বা তাঁর যুগের পূর্বে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁদের কথা তো দূরে থাক—সেখানে এমন ব্যক্তিরা কথা বলছেন যাদের বর্ণনাকারীদের জীবনবৃত্তান্ত (রিজাল শাস্ত্র) সম্পর্কে কোনো অভিজ্ঞতা নেই এবং যারা কুরুচিপূর্ণ কথা গ্রহণে কোনো পরোয়া করেন না। এমনকি বরেণ্য ইমামদের কাফির ঘোষণা করার মতো বিষয়েও তারা কোনো চিন্তা-ভাবনা করেন না। যেমন তারা বলেছে: 'যে ব্যক্তি ইবনে তায়মিয়াকে শায়খুল ইসলাম উপাধিতে ভূষিত করবে সে কাফির এবং তার পেছনে সালাত আদায় করা বৈধ নয়।' এই জঘন্য উক্তি—যার জন্য আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর প্রবক্তাকে দ্রুত প্রতিফল দান করেন—তা প্রবক্তার বুঝের দৌড়কে প্রকাশ করে দিয়েছে, তাঁর ইলমের সীমা স্পষ্ট করে দিয়েছে এবং তাঁর কুপ্রবৃত্তির স্থান উন্মোচন করে দিয়েছে। এটি আরও ফুটিয়ে তুলেছে যে, হিদায়াতের পথে তাঁর অনুসরণ আসলে কেমন। তাঁর এই বক্তব্যের প্রতিবাদে একে কেবল তাঁর পক্ষ থেকে বর্ণনা করা এবং তাঁর প্রতি সম্বন্ধ করাই যথেষ্ট। কারণ মানুষের কথা তার আকল বা বুদ্ধিমত্তার পরিচয় বহন করে। এই বক্তা কি জানেন না যে, 'শায়খুল ইসলাম' শব্দটির মধ্যে বক্তব্যের বিভিন্ন অর্থের সম্ভাবনা রয়েছে?
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দুল ওয়াফির
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
معنى شيخ الاسلام
مِنْهَا أَنه شيخ فِي الاسلام قد شَاب وَانْفَرَدَ بذلك عَمَّن مضى من الأتراب وَحصل على الْوَعْد المبشر بالسلامة أَنه من شَاب شيبَة فِي الاسلام فَهِيَ لَهُ نور يَوْم الْقِيَامَة
وَمِنْهَا مَا هُوَ فِي عرف الْعَوام أَنه الْعدة ومفزعهم إِلَيْهِ فِي كل شدَّة
وَمِنْهَا أَنه شيخ الاسلام بسلوكه طَريقَة أَهله قد سلم من شَرّ الشَّبَاب وجهله فَهُوَ على أَلْسِنَة فِي فَرْضه ونفله
وَمِنْهَا شيخ الاسلام بِالنِّسْبَةِ إِلَى دَرَجَة الْولَايَة وتبرك النَّاس بحياته فوجوده فيهم الْغَايَة
وَمِنْهَا أَن مَعْنَاهُ الْمَعْرُوف عِنْد الجهابذة النقاد الْمَعْلُوم عِنْد أَئِمَّة الاسناد أَن مَشَايِخ الاسلام وَالْأَئِمَّة الاعلام هم المتبعون لكتاب الله عز وجل المقتفون لسنة النَّبِي صلى الله عليه وسلم الَّذين تقدمُوا بِمَعْرِِفَة أَحْكَام الْقُرْآن ووجوه قراآته وَأَسْبَاب نُزُوله وناسخه ومنسوخه وَالْأَخْذ بِالْآيَاتِ المحكمات والايمان بالمتشابهات قد أحكموا من لُغَة الْعَرَب مَا أعانهم على علم مَا تقدم وَعَلمُوا السّنة نقلا وإسنادا وَعَملا بِمَا يجب الْعَمَل بِهِ اعْتِمَادًا وإيمانا بِمَا يلْزم من ذَلِك اعتقادا واستنباطا لِلْأُصُولِ وَالْفُرُوع من الْكتاب وَالسّنة قَائِمين بِمَا فرض الله عَلَيْهِم مُتَمَسِّكِينَ بِمَا سَاقه الله من ذَلِك إِلَيْهِم متواضعين لله الْعَظِيم الشان خَائِفين من عَثْرَة اللِّسَان لَا يدعونَ الْعِصْمَة وَلَا يفرحون بالتبجيل
শাইখুল ইসলামের অর্থ
এর একটি অর্থ হলো, তিনি ইসলামের একজন প্রবীণ ব্যক্তি যিনি বার্ধক্যে উপনীত হয়েছেন এবং সমসাময়িকদের মধ্যে এ ক্ষেত্রে একক বৈশিষ্ট্য লাভ করেছেন। তিনি সেই নিরাপত্তা দানকারী প্রতিশ্রুতির অধিকারী হয়েছেন যাতে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে যে, যে ব্যক্তি ইসলামে থাকা অবস্থায় বৃদ্ধ হয়েছে (চুল পেকেছে), তা কিয়ামতের দিন তার জন্য নূর হবে।
আরেকটি অর্থ যা সাধারণ মানুষের পরিভাষায় প্রচলিত, তা হলো তিনি হলেন পাথেয় এবং প্রতিটি বিপদে তাদের আশ্রয়স্থল।
আরেকটি অর্থ হলো, তিনি ইসলামের যোগ্য ব্যক্তিদের পথ অনুসরণের মাধ্যমে ইসলামের শাইখ, যিনি যৌবনের অনিষ্ট ও মূর্খতা থেকে নিরাপদ ছিলেন; ফলে ফরয ও নফল সকল ক্ষেত্রেই মানুষের মুখে তাঁর প্রশংসা উচ্চারিত হয়।
আরেকটি অর্থ হলো বিলায়াত বা আল্লাহর বন্ধুত্বের স্তরের নিরিখে শাইখুল ইসলাম হওয়া, যাঁর জীবন থেকে মানুষ বরকত লাভ করে এবং তাঁদের মধ্যে তাঁর উপস্থিতিই হলো পরম লক্ষ্য।
আরেকটি অর্থ যা সূক্ষ্মদর্শী সমালোচক ও ইসনাদ শাস্ত্রের ইমামদের নিকট সুপরিচিত ও সুবিদিত, তা হলো—শাইখুল ইসলাম ও প্রখ্যাত ইমামগণ হলেন তাঁরাই যারা মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহর কিতাবের অনুসারী এবং নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর সুন্নাতের একনিষ্ঠ অনুগামী; যারা কুরআনের বিধানসমূহ, এর পাঠরীতিসমূহ, নাযিলের প্রেক্ষাপট এবং রহিতকারী ও রহিতকৃত বিষয়সমূহ সম্পর্কে গভীর জ্ঞান লাভের মাধ্যমে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁরা সুস্পষ্ট আয়াতসমূহকে গ্রহণ করেন এবং অস্পষ্ট আয়াতসমূহের ওপর ঈমান আনেন। তাঁরা আরবি ভাষায় এমন বুতপত্তি অর্জন করেছেন যা তাঁদের পূর্বোক্ত বিষয়সমূহ অনুধাবনে সহায়তা করেছে। তাঁরা সুন্নাহকে বর্ণনা, সনদ এবং আমলের মাধ্যমে জেনেছেন, যা বিশ্বাসের সাথে নির্ভর করে আমল করা আবশ্যক এবং আকিদা হিসেবে যা জরুরি তার ওপর ঈমান রেখেছেন। তাঁরা কুরআন ও সুন্নাহ থেকে মৌলিক ও শাখা-প্রশাখাগত মাসয়ালাসমূহ উদ্ভাবন করেছেন। মহান আল্লাহ তাঁদের ওপর যা ফরয করেছেন তা পালনে তাঁরা সদাতৎপর এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁদের কাছে যা পৌঁছেছে তা সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে আছেন। তাঁরা মহান সুমহান আল্লাহর প্রতি বিনয়াবনত, জিহ্বার স্খলন সম্পর্কে অত্যন্ত ভীত, তাঁরা নিজেদের নিষ্পাপ দাবি করেন না এবং অতিশয় প্রশংসায় উল্লসিত হন না।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দুল ওয়াফির
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
عَالمين أَن الَّذِي أُوتُوا من الْعلم قَلِيل فَمن كَانَ بِهَذِهِ الْمنزلَة حكم بِأَنَّهُ إِمَام وَاسْتحق أَن يُقَال لَهُ شيخ الاسلام
وَإِذا نَظرنَا فِي مَشَايِخ الاسلام بعد طبقَة الصَّحَابَة وجدنَا مِنْهُم خلقا بِهَذِهِ المثابة رَأينَا أَن نذْكر الْآن مِنْهُم عِصَابَة
فبالمدينة كسعيد بن الْمسيب المَخْزُومِي وَبَقِيَّة الْفُقَهَاء السَّبْعَة وَغَيرهم وبمكة مثل عَطاء بن أبي رَبَاح وطاووس وَمُجاهد وبالعراق كالحسن الْبَصْرِيّ وَابْن سِيرِين وعامر الشّعبِيّ وبالشأم نَحْو جُنَادَة ابْن أبي أُميَّة وَحسان بن عَطِيَّة وَآخَرين من الطَّبَقَة الأولى من التَّابِعين وَمن بعدهمْ كمالك ابْن أنس وَابْن أبي ذِئْب بِالْمَدِينَةِ وَابْن جريج وسُفْيَان بن عُيَيْنَة بِمَكَّة وَالْأَوْزَاعِيّ وَسَعِيد بن عبد الْعَزِيز بِالشَّام وَاللَّيْث بن سعد وَعَمْرو بن الْحَارِث بِمصْر وسُفْيَان الثَّوْريّ وَحَمَّاد بن زيد بالعراق وَعبد الله بن الْمُبَارك بخراسان وهلم جرا فِي كل عصر وَأَوَان وطبقة من الاعلام الْأَعْيَان لَكِن كل طبقَة دون الَّتِي قبلهَا فِيمَا نعلم وَالْفضل للسابق الَّذِي سلف وَتقدم فَكل مقَام لَهُ مقَال وكل زمَان لَهُ أَئِمَّة وَرِجَال أَيْن طبقَة شيخ الاسلام أبي زَكَرِيَّا النواوي من طبقَة من أَخذ عَنهُ بل أَيْن طبقَة شيخ الاسلام
তারা অবগত ছিলেন যে, তাদের যে জ্ঞান প্রদান করা হয়েছে তা যৎসামান্য। সুতরাং যিনি এই মর্যাদার অধিকারী হতেন, তাকে ইমাম হিসেবে গণ্য করা হতো এবং তিনি ‘শাইখুল ইসলাম’ উপাধিতে ভূষিত হওয়ার যোগ্য বিবেচিত হতেন।
সাহাবায়ে কিরামের স্তরের পরবর্তী শাইখুল ইসলামদের দিকে তাকালে আমরা তাদের মাঝে এই পর্যায়ের বহু ব্যক্তিত্বকে দেখতে পাই। আমরা বর্তমানে তাদের একটি দলের কথা উল্লেখ করা সমীচীন মনে করছি।
মদিনায় যেমন সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব আল-মাখযুমি এবং অবশিষ্ট সাত ফকিহ ও অন্যান্যরা। মক্কায় আতা বিন আবি রাবাহ, তাউস ও মুজাহিদ। ইরাকে হাসান আল-বাসরি, ইবনে সিরিন ও আমির আশ-শাবি। শামে জুনাদাহ ইবনে আবি উমাইয়্যাহ, হাসসান বিন আতিয়্যাহ এবং তাবেয়িদের প্রথম স্তরের অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ। আর তাদের পরবর্তীগণ, যেমন মদিনায় মালিক ইবনে আনাস ও ইবনে আবি যিব; মক্কায় ইবনে জুরাইজ ও সুফিয়ান বিন উয়াইনা; শামে আওযায়ি ও সাঈদ বিন আব্দুল আযীয; মিশরে লাইস বিন সাদ ও আমর ইবনুল হারিস; ইরাকে সুফিয়ান আস-সাওরি ও হাম্মাদ বিন যায়েদ; খোরাসানে আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক এবং এভাবেই প্রতিটি যুগে, সময়ে ও বিশিষ্ট বরেণ্য মনিষীদের প্রতিটি স্তরে এর ধারাবাহিকতা বিদ্যমান। তবে আমাদের জানামতে প্রতিটি স্তর তার পূর্ববর্তী স্তরের চেয়ে নিম্নতর এবং শ্রেষ্ঠত্ব মূলত অগ্রবর্তীদের জন্যই যারা আগে অতিবাহিত হয়েছেন। কারণ প্রতিটি পরিস্থিতির জন্য উপযুক্ত বক্তব্য থাকে এবং প্রতিটি সময়ের জন্য স্বতন্ত্র ইমাম ও ব্যক্তিবর্গ থাকেন। শাইখুল ইসলাম আবু জাকারিয়া আন-নববীর স্তরের সাথে তার নিকট থেকে যারা শিক্ষা গ্রহণ করেছেন তাদের স্তরের কি কোনো তুলনা হতে পারে? বরং শাইখুল ইসলামের স্তর কোথায় আর...
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দুল ওয়াফির
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
أبي مُحَمَّد عبد الرَّحِيم بن الْحسن الاسنوي من طبقَة أهل عصرنا حفظ الله خيارهم بِمَا حفظ بِهِ الْأَبْرَار وَأصْلح شرارهم من ارْتِكَاب الْهوى الَّذِي يهوي بِصَاحِبِهِ فِي النَّار
نعم جمَاعَة من الشَّافِعِيَّة والحنابلة فِي طبقَة شُيُوخ شُيُوخنَا وَمن فَوْقهم بِقَلِيل أطلق على كل وَاحِد مِنْهُم شيخ الاسلام طَائِفَة من أَئِمَّة الْجرْح وَالتَّعْدِيل كَأبي مُحَمَّد عبد الرَّحْمَن بن ابراهيم الْفَزارِيّ وَأبي الْفَتْح مُحَمَّد بن عَليّ الْقشيرِي وَأبي مُحَمَّد عبد الله بن مَرْوَان الفارقي الشافعيين وَأبي الْفرج عبد الرَّحْمَن ابْن أبي عمر الْمَقْدِسِي أول قُضَاة الْحَنَابِلَة بِدِمَشْق وَأبي مُحَمَّد مَسْعُود بن أَحْمد الْحَارِثِيّ وَأبي الْعَبَّاس أَحْمد ابْن تَيْمِية الحنبليين فَهَؤُلَاءِ بعض من سمي بشيخ الاسلام من هَذِه الطَّبَقَة وتسميتهم بذلك مَشْهُورَة مُحَققَة
وَمَعَ احْتِمَال وُجُوه مَعَاني لَفْظَة شيخ الاسلام كَيفَ يكفر من سمي بهَا ابْن تَيْمِية الامام كَمَا زَعمه بعض من لَا يدْرِي أَو يدْرِي لَكِن هَوَاهُ يصده عَن الْحق أَن يعْتَمد عَلَيْهِ وَلَقَد صدق الْعَلامَة الامام قَاضِي قُضَاة الاسلام بهاء الدّين ابو الْبَقَاء مُحَمَّد بن عبد الْبر بن يحيى السُّبْكِيّ الشَّافِعِي رحمه الله حَيْثُ يَقُول لبَعض من ذكر لَهُ الْكَلَام فِي ابْن تَيْمِية فَقَالَ وَالله يَا فلَان مَا يبغض ابْن تَيْمِية إِلَّا جَاهِل أَو صَاحب هوى فالجاهل لَا يدْرِي مَا يَقُول وَصَاحب الْهوى يصده هَوَاهُ عَن الْحق بعد مَعْرفَته بِهِ انْتهى
مَعَ أَن جمَاعَة من الْأَئِمَّة فيهم كَثْرَة ترجموه بذلك وشهروا بإمامته ومرتبته وَقدره أَترَاهُم بِهَذَا من الْكفَّار الَّذين استوجبوا خُلُود النَّار لَا وَالَّذِي يَقُول للشَّيْء كن فَيكون {إِنَّا لله وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُون}
আবু মুহাম্মাদ আবদুর রহিম বিন আল-হাসান আল-ইসনাবি আমাদের যুগের সমসাময়িকদের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তাদের মধ্যে যারা উত্তম তাদের হেফজত করুন যেভাবে তিনি পুণ্যবানদের হেফজত করেন এবং তাদের মধ্যকার মন্দদের কুপ্রবৃত্তি চরিতার্থ করা থেকে সংশোধন করুন, যা তার অনুসারীকে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত করে।
হ্যাঁ, শাফেয়ি ও হাম্বলিদের একটি দল যারা আমাদের শায়খদের শায়খদের পর্যায়ের অথবা তাদের চেয়ে কিছুটা আগের, তাদের প্রত্যেককে জারহ ও তাদিল (বর্ণনাকারীদের যাচাই-বাছাইকারী) ইমামদের এক বিশাল দল 'শাইখুল ইসলাম' উপাধিতে ভূষিত করেছেন। যেমন- আবু মুহাম্মাদ আবদুর রহমান বিন ইব্রাহিম আল-ফাজারি, আবু আল-ফাতহ মুহাম্মাদ বিন আলী আল-কুশাইরি এবং আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ বিন মারওয়ান আল-ফারিকি (শাফেয়ি); এবং আবু আল-ফারাজ আবদুর রহমান ইবনে আবি উমর আল-মাকদিসি (দামেস্কের হাম্বলিদের প্রথম কাজি), আবু মুহাম্মাদ মাসউদ বিন আহমদ আল-হারিছি এবং আবু আল-আব্বাস আহমদ ইবনে তাইমিয়্যাহ (হাম্বলি)। এনারা হলেন এই স্তরের কিছু ব্যক্তি যাদের শাইখুল ইসলাম নামে অভিহিত করা হয়েছে এবং তাদের এই নামকরণটি প্রসিদ্ধ ও প্রমাণিত।
'শাইখুল ইসলাম' শব্দটির অর্থের বিভিন্ন সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও, কীভাবে তাকে কাফের বলা যেতে পারে যে ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহকে এই উপাধিতে ভূষিত করেছে? যেমনটি এমন কেউ দাবি করে যে জানে না, অথবা জানে কিন্তু তার কুপ্রবৃত্তি তাকে সত্য গ্রহণ থেকে বিরত রাখে। আল্লামা ইমাম, ইসলামের কাজিউল কুজাত (প্রধান বিচারপতি) বাহাউদ্দিন আবু আল-বাকা মুহাম্মাদ বিন আবদিল বার বিন ইয়াহইয়া আস-সুবকি আশ-শাফেয়ি (আল্লাহ তাকে রহম করুন) সত্যই বলেছেন যখন তাকে ইবনে তাইমিয়্যাহ সম্পর্কে কারো মন্তব্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন: "আল্লাহর কসম হে অমুক! ইবনে তাইমিয়্যাহকে কেবল জাহেল (মূর্খ) অথবা প্রবৃত্তি-পূজারী ছাড়া কেউ ঘৃণা করে না। জাহেল জানে না সে কী বলছে, আর প্রবৃত্তি-পূজারীর প্রবৃত্তি তাকে সত্য জানার পরও সত্য থেকে বিমুখ রাখে।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।
অথচ একদল ইমাম—যাদের সংখ্যা অনেক—তারা তাকে এই উপাধিতে জীবনচরিত লিখেছেন এবং তার ইমামত, মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রসিদ্ধ করেছেন। আপনি কি মনে করেন যে এর কারণে তারা সেই কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছেন যারা চিরস্থায়ী জাহান্নামের উপযুক্ত? না, সেই সত্তার কসম যিনি কোনো কিছুকে বলেন 'হও' আর তা হয়ে যায়। আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দুল ওয়াফির
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
مَنْهَج الْكتاب
وَهَا أَنا بعون الله الْعلي الْكَبِير ذَاكر من أثنى عَلَيْهِ بذلك وَبِغَيْرِهِ من الجم الْغَفِير مِمَّن حضرني ذكره وَظهر لي بل لزمني إشاعته ونشره ليعلم من حكينا عَنهُ التَّكْفِير بذلك مَا وَقع فِيهِ من المآثم والمهالك وَلَقَد كَانَ الْعَلامَة الإِمَام قَاضِي قُضَاة مصر وَالشَّام أَبُو عبد الله مُحَمَّد ابْن الصفي عُثْمَان ابْن الحريري الانصاري الْحَنَفِيّ كَانَ يَقُول إِن لم يكن ابْن تَيْمِية شيخ الاسلام فَمن
وَسَيَأْتِي إِن شَاءَ الله تَعَالَى ذَلِك فِي تَرْجَمته لِأَنِّي رتبت اسماء من شهد لِابْنِ تَيْمِية من الْأَعْلَام بإمامته وَأَنه شيخ الاسلام على حُرُوف المعجم المألوفة اتبَاعا للطريقة الْمَعْرُوفَة
وابتدأت من ذَلِك بالمحمدين تبركا باسم سيد الْمُرْسلين صلوَات الله وَسَلَامه عَلَيْهِم أَجْمَعِينَ واقتداء بِأول من رتب الْأَسْمَاء على الْحُرُوف من الْمُحدثين وَهُوَ أَبُو عبد الله البُخَارِيّ شيخ الاسلام وَالْمُسْلِمين
গ্রন্থের কর্মপদ্ধতি
অতঃপর আমি সুউচ্চ ও সুমহান আল্লাহর সাহায্যে সেই বিশাল জনসমষ্টির মধ্য থেকে যারা তাঁকে উক্ত উপাধিতে বা অন্য উপাধিতে ভূষিত করে তাঁর প্রশংসা করেছেন, তাদের কথা উল্লেখ করছি—যাদের কথা আমার স্মরণে এসেছে এবং যাদের পরিচয় আমার নিকট স্পষ্ট হয়েছে, বরং তাদের কথা প্রচার ও প্রসার করা আমার জন্য আবশ্যক হয়ে পড়েছে। যাতে করে ওই ব্যক্তি, যার পক্ষ থেকে আমরা এ কারণে তাকফিরের (কাফির সাব্যস্ত করার) কথা বর্ণনা করেছি, সে বুঝতে পারে যে সে কী ধরনের পাপ ও ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতির মধ্যে নিপতিত হয়েছে। আল্লামা, ইমাম, মিসর ও শামের প্রধান বিচারপতি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনুল সাফি উসমান ইবনুল হারীরী আল-আনসারী আল-হানাফী বলতেন: “যদি ইবনে তায়মিয়াহ শাইখুল ইসলাম না হন, তবে শাইখুল ইসলাম আর কে?”
ইনশাআল্লাহ তাআলা তাঁর জীবনী আলোচনায় এ বিষয়টি সামনে আসবে। কারণ আমি সেই সকল বরেণ্য ব্যক্তিদের নাম, যারা ইবনে তায়মিয়াহর ইমামত এবং তিনি যে শাইখুল ইসলাম—তার সাক্ষ্য দিয়েছেন, প্রচলিত বর্ণানুক্রমিক পদ্ধতিতে সাজিয়েছি।
রাসূলগণের সরদারের নামের বরকত গ্রহণের উদ্দেশ্যে আমি ‘মুহাম্মাদ’ নামধারীদের দিয়ে শুরু করেছি—আল্লাহর দরুদ ও সালাম তাঁদের সকলের ওপর বর্ষিত হোক। আর এটি মুহাদ্দিসদের মধ্যে সর্বপ্রথম যিনি বর্ণানুক্রমে নাম বিন্যস্ত করেছেন তাঁর অনুসরণে করেছি; তিনি হলেন ইসলাম ও মুসলিমদের শাইখ আবু আব্দুল্লাহ আল-বুখারী।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দুল ওয়াফির
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
1 -
ابْن سيد الْمُرْسلين فَمنهمْ الشَّيْخ الامام الْحَافِظ الفقية الْعَالم الأديب البارع فتح الدّين أَبُو الْفَتْح مُحَمَّد ابْن الْحَافِظ أبي عمر مُحَمَّد ابْن الْحَافِظ الْعَلامَة الْخَطِيب أبي بكر مُحَمَّد ابْن أَحْمد بن عبد الله بن مُحَمَّد ابْن يحيى بن أبي الْقَاسِم ابْن سيد النَّاس الْيَعْمرِي الاندلسي الاشبيلي ثمَّ الْمصْرِيّ الشَّافِعِي مولده بِالْقَاهِرَةِ فِي الْعشْر الاول من ذِي الْحجَّة سنة إِحْدَى وَسبعين وسِتمِائَة وَتُوفِّي يَوْم السبت حادي عشر شعْبَان سنة أَربع وَثَلَاثِينَ وَسَبْعمائة بِالْقَاهِرَةِ وَصلي عَلَيْهِ من الْغَد وَدفن عِنْد ابْن أبي حَمْزَة وَكَانَت جنَازَته مَشْهُودَة وَله مصنفات مفيدة ومؤلفات حميدة مِنْهَا كتاب النفح الشذي فِي شرح كتاب التِّرْمِذِيّ
قَالَ الْحَافِظ أَبُو عبد الله مُحَمَّد بن أَحْمد بن عبد الْهَادِي قَالَ الْحَافِظ فتح الدّين أَبُو الْفَتْح ابْن سيد النَّاس الْيَعْمرِي الْمصْرِيّ بعد أَن ذكر تَرْجَمَة شَيخنَا الْحَافِظ الْمزي
وَهُوَ الَّذِي حداني على رُؤْيَة الشَّيْخ الامام شيخ الاسلام تَقِيّ الدّين أبي الْعَبَّاس أَحْمد بن عبد الْحَلِيم بن عبد السَّلَام ابْن تَيْمِية فَأَلْفَيْته مِمَّن أدْرك من الْعُلُوم حظا وَكَاد أَن يستوعب السّنَن والْآثَار حفظا إِن تكلم فِي التَّفْسِير فَهُوَ حَامِل رايته أَو أفتى فِي الْفِقْه فَهُوَ مدرك غَايَته أَو ذَاكر فِي الحَدِيث فَهُوَ صَاحب علمه وَذُو رِوَايَته أَو حَاضر بالملل والنحل لم ير أوسع من نحلته فِي ذَلِك وَلَا أرفع من درايته برز فِي كل فن على أَبنَاء جنسه وَلم تَرَ عين من رَآهُ مثله وَلَا رَأَتْ عينه مثل نَفسه كَانَ يتَكَلَّم فِي التَّفْسِير فيحضر مَجْلِسه الجم الْغَفِير ويردون من بحره العذب
১ -
ইবন সাইয়্যিদিন মুরসালিন তাদের মধ্যে রয়েছেন শাইখ, ইমাম, হাফিজ, ফকিহ, আলিম, সুসাহিত্যিক ও বিজ্ঞ ফাতহ উদ্দিন আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবন হাফিজ আবু উমর মুহাম্মদ ইবন হাফিজ আল্লামা খতিব আবু বকর মুহাম্মদ ইবন আহমাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন আবিল কাসিম ইবন সাইয়্যিদিন নাস আল-ইয়া’মুরি আল-আন্দালুসি আল-ইশবিলি অতঃপর আল-মিসরি আশ-শাফিয়ি। তাঁর জন্ম কায়রোতে ৬৭১ হিজরির যিলহজ মাসের প্রথম দশকে এবং তিনি ৭৩৪ হিজরির ১১ই শাবান শনিবার কায়রোতে ইন্তেকাল করেন। পরদিন তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং ইবন আবি হামযার পাশে তাঁকে দাফন করা হয়। তাঁর জানাজায় মানুষের ভিড় ছিল লক্ষ্যণীয়। তাঁর বহু উপকারী ও প্রশংসিত রচনা রয়েছে, তন্মধ্যে একটি হলো ‘আন-নাফহুশ শাযি ফি শারহি কিতাবিত তিরমিজি’।
হাফিজ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন আহমাদ ইবন আবদিল হাদি বলেন, হাফিজ ফাতহ উদ্দিন আবুল ফাতহ ইবন সাইয়্যিদিন নাস আল-ইয়া’মুরি আল-মিসরি আমাদের শাইখ হাফিজ আল-মিযযির জীবনী উল্লেখ করার পর বলেন:
তিনিই (আল-মিযযি) আমাকে শাইখ, ইমাম, শাইখুল ইসলাম তাকিউদ্দিন আবুল আব্বাস আহমাদ ইবন আবদিল হালিম ইবন আবদিস সালাম ইবন তাইমিয়্যাহর সাক্ষাত লাভের প্রেরণা দিয়েছিলেন। আমি তাঁকে এমন এক ব্যক্তি হিসেবে পেয়েছি যিনি বিভিন্ন বিদ্যায় এক বিশাল অংশের অধিকারী হয়েছেন এবং স্মৃতিশক্তিতে সুনান ও আসারসমূহকে (হাদিস ও বর্ণনা) প্রায় সম্পূর্ণ আয়ত্ত করেছেন। তিনি যদি তাফসির বিষয়ে আলোচনা করতেন তবে মনে হতো তিনিই এর পতাকাবাহী; যদি ফিকহ বিষয়ে ফতোয়া দিতেন তবে তিনি এর চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জন করতেন; যদি হাদিস বিষয়ে আলোচনা করতেন তবে তিনি এর প্রগাঢ় জ্ঞান ও বর্ণনার অধিকারী হিসেবে প্রতীয়মান হতেন; আর যদি বিভিন্ন ধর্ম ও মতবাদ নিয়ে উপস্থিত হতেন তবে এই ক্ষেত্রে তাঁর চেয়ে ব্যাপক ও উচ্চতর পাণ্ডিত্যের অধিকারী আর কাউকে দেখা যেত না। তিনি প্রতিটি শাস্ত্রে নিজ যুগের সমসাময়িকদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছিলেন। কোনো চক্ষু তাঁর সদৃশ কাউকে দেখেনি এবং তাঁর নিজ চক্ষুও নিজের মতো কাউকে দেখেনি। তিনি যখন তাফসির বিষয়ে কথা বলতেন তখন বিশাল জনসমাগম তাঁর মজলিসে উপস্থিত হতো এবং তারা তাঁর জ্ঞানের সুমিষ্ট সমুদ্র থেকে তৃপ্ত হয়ে ফিরত।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দুল ওয়াফির
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
النمير ويرتعون من ربيع فَضله فِي رَوْضَة وغدير إِلَى أَن دب إِلَيْهِ من أهل بَلَده دَاء الْحَسَد وأكب أهل النّظر مِنْهُم على مَا ينْتَقد عَلَيْهِ من أُمُور المعتقد فحفظوا عَنهُ فِي ذَلِك كلَاما أوسعوه بِسَبَبِهِ ملاما وفوقوا لتبديعه سهاما وَزَعَمُوا أَنه خَالف طريقهم وَفرق فريقهم فنازعم ونازعوه وقاطع بَعضهم وقاطعوه ثمَّ نَازع طَائِفَة أُخْرَى ينسبون من الْفقر إِلَى طَريقَة ويزعمون أَنهم على أدق بَاطِن مِنْهَا وَأجلى حَقِيقَة فكشف تِلْكَ الطرائق وَذكر لَهَا على مَا زعم بوائق فآضت إِلَى الطَّائِفَة الأولى من منازعيه واستعانت بذوي الضغن عَلَيْهِ من مقاطعيه فوصلوا بالأمراء أمره وأعمل كل مِنْهُم فِي كفره فكره فرتبوا محَاضِر وألبوا الرويبضة للسعي بهَا بَين الأكابر وَسعوا فِي نَقله إِلَى حَاضِرَة المملكة بالديار المصرية فَنقل وأودع السجْن سَاعَة حُضُوره واعتقل وعقدوا لاراقة دَمه مجَالِس وحشدوا لذَلِك قوما من عمار الزوايا وسكان الْمدَارِس من مجامل فِي الْمُنَازعَة مخاتل بالمخادعة وَمن مجاهر بالتكفير مبارز بالمقاطعة يسومونه ريب الْمنون {وَرَبك يعلم مَا تكن صُدُورهمْ وَمَا يعلنون} وَلَيْسَ المجاهر بِكُفْرِهِ بِأَسْوَأ حَالا من المخاتل وَقد دبت إِلَيْهِ عقارب مكره فَرد الله كيد كل فِي نَحره ونجاه على يَد من اصطفاه {وَالله غَالب على أمره} ثمَّ لم يخل بعد ذَلِك من فتْنَة بعد فتْنَة وَلم ينْقل طول عمره من محنة إِلَّا إِلَى محنة إِلَى أَن فوض أمره إِلَى بعض الْقُضَاة فتقلد مَا تقلد من اعتقاله وَلم يزل بمحبسه ذَلِك
নির্মল বারি এবং তারা তাঁর অনুগ্রহের বসন্তে বাগান ও জলাশয়ে বিচরণ করছিলেন, যতক্ষণ না তাঁর নিজ দেশের একদল লোকের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি হিংসার ব্যাধি সঞ্চারিত হলো। তাদের মধ্য থেকে তাত্ত্বিক ও যুক্তিবাদীরা তাঁর আকিদাগত বিষয়ের যে সকল দিক সমালোচিত হওয়ার যোগ্য ছিল, তাতে মনোনিবেশ করল। তারা এ বিষয়ে তাঁর কাছ থেকে এমন কিছু বক্তব্য সংগ্রহ করল যার কারণে তারা তাঁকে প্রচুর তিরস্কার করল এবং তাঁকে বিদআতী ঘোষণার জন্য তীরের ন্যায় লক্ষ্যভেদ করতে লাগল। তারা দাবি করল যে, তিনি তাদের পথের বিরোধিতা করেছেন এবং তাদের দলকে বিভক্ত করেছেন। ফলে তিনি তাদের সাথে বিবাদে জড়ালেন এবং তারাও তাঁর সাথে বিবাদে লিপ্ত হলো; তিনি তাদের কাউকে বর্জন করলেন এবং তারাও তাঁকে বর্জন করল। এরপর তিনি অন্য এক সম্প্রদায়ের সাথে বিবাদে জড়ালেন যারা দারিদ্র্য বা ফকিরি বেশে কোনো তরিকতের অনুসারী বলে নিজেদের পরিচয় দিত এবং দাবি করত যে তারা এর অধিকতর সূক্ষ্ম বাতেনি রহস্য ও স্পষ্টতর হাকিকতের ওপর প্রতিষ্ঠিত। ফলে তিনি সেই সকল তরিকার স্বরূপ উন্মোচন করলেন এবং তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী সেগুলোর অনিষ্টসমূহ উল্লেখ করলেন। ফলে এই দলটি তাঁর প্রথম পক্ষের বিরোধীদের সাথে একীভূত হলো এবং তাঁর সাথে সম্পর্ক ছিন্নকারীদের মধ্যে যারা তাঁর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করত তাদের সাহায্য প্রার্থনা করল। তারা শাসকদের কাছে তাঁর বিষয়টি পৌঁছে দিল এবং তাদের প্রত্যেকেই তাঁকে কাফের সাব্যস্ত করার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করল। তারা সভার কার্যবিবরণী তৈরি করল এবং উচ্চপদস্থদের কাছে সেগুলো নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করার জন্য অযোগ্য ও নগণ্য ব্যক্তিদের প্ররোচিত করল। তারা তাঁকে মিশরীয় ভূখণ্ডের রাজধানীতে স্থানান্তর করার চেষ্টা করল। ফলে তাঁকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হলো এবং পৌঁছানো মাত্রই তাঁকে কারাগারে নিক্ষেপ ও বন্দী করা হলো। তারা তাঁর রক্তপাতের জন্য সভার আয়োজন করল এবং এর জন্য খানকাহসমূহের বাসিন্দা ও মাদরাসাসমূহের অধিবাসী এমন একদল লোককে সমবেত করল যারা বিবাদে বাহ্যিক শিষ্টাচার দেখালেও ষড়যন্ত্রে ছিল অত্যন্ত ধূর্ত, আর কেউ কেউ প্রকাশ্যে কাফের সাব্যস্ত করে বয়কট করার মাধ্যমে তাঁর বিরোধিতা করছিল। তারা তাঁকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে চাইল; আর আপনার প্রতিপালক জানেন যা তাদের অন্তরসমূহ গোপন করে এবং যা তারা প্রকাশ করে। যে ব্যক্তি প্রকাশ্যে তাঁকে কাফের বলে, তার অবস্থা সেই ধূর্ত প্রতারকের চেয়ে মোটেও ভালো নয়। মূলত তার ষড়যন্ত্রের বিষাক্ত বৃশ্চিকসমূহ তাঁর দিকে ধাবিত হয়েছিল, কিন্তু আল্লাহ প্রত্যেকের ষড়যন্ত্রকে তাদের নিজেদের দিকেই ফিরিয়ে দিলেন এবং তাঁর মনোনীত ব্যক্তির মাধ্যমে তাঁকে মুক্তি দিলেন; আর আল্লাহ তাঁর কার্যে প্রবল। এরপর তিনি একের পর এক ফিতনা থেকে মুক্ত হতে পারেননি এবং সারাজীবন এক পরীক্ষা থেকে অন্য পরীক্ষায় স্থানান্তরিত হওয়া ছাড়া তাঁর গত্যন্তর ছিল না। শেষ পর্যন্ত তাঁর বিষয়টি জনৈক বিচারকের ওপর ন্যস্ত করা হলো, যিনি তাঁর বন্দিত্বের দায়ভার গ্রহণ করলেন এবং তিনি সেই কারাগারেই অবস্থান করতে থাকলেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দুল ওয়াফির
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
إِلَى حِين ذَهَابه إِلَى رَحْمَة الله تَعَالَى وانتقاله {وَإِلَى الله ترجع الْأُمُور} وَهُوَ المطلع على خَائِنَة الْأَعْين وَمَا تخفي الصُّدُور
وَكَانَ يَوْمه مشهودا ضَاقَتْ بجنازته الطَّرِيق وانتابها الْمُسلمُونَ من كل فج عميق يتبركون بمشهده يَوْم تقوم الأشهاد ويتمسكون بشرجعه حَتَّى كسروا تِلْكَ الأعواد وَذَلِكَ فِي لَيْلَة الْعشْرين من ذِي الْقعدَة سنة ثَمَان وَعشْرين وَسَبْعمائة بقلعة دمشق المحروسة وَكَانَ مولده بحران فِي عَاشر ربيع الأول سنة إِحْدَى وَسِتِّينَ وسِتمِائَة رحمه الله وإيانا
ثمَّ رُوِيَ عَنهُ ابْن سيد النَّاس حَدِيثا فَقَالَ وقرأت على الشَّيْخ الامام حَامِل راية الْعُلُوم ومدرك غَايَة الْمَفْهُوم تَقِيّ الدّين أبي الْعَبَّاس أَحْمد بن عبد الْحَلِيم بن عبد السَّلَام ابْن تَيْمِية الْحَرَّانِي رحمه الله بِالْقَاهِرَةِ قدم علينا قلت لَهُ أخْبركُم الشَّيْخ الامام زين الدّين أَبُو الْعَبَّاس أَحْمد بن عبد الدايم ابْن نعْمَة الْمَقْدِسِي ثمَّ ذكر سَنَده إِلَى الْحسن بن عَرَفَة فروى من جزئه حَدِيثا
2 -
ابْن عبد الدَّائِم وَمِنْهُم الشَّيْخ الْعَالم الْفَاضِل الْمُحدث البارع الْأَصِيل شمس الدّين أَبُو عبد الله مُحَمَّد ابْن الشَّيْخ الْمسند أبي عبد الله مُحَمَّد ابْن الشَّيْخ الْمسند الْكَبِير أبي بكر ابْن الامام الْعَالم أبي الْعَبَّاس أَحْمد بن عبد الدَّائِم بن نعْمَة بن أَحْمد بن مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم بن أَحْمد بن بكير الْمَقْدِسِي الصَّالِحِي ولد سنة ثَلَاث عشرَة وَسَبْعمائة وَسمع من أَبِيه وجده أبي بكر وَآخَرين وَطلب بِنَفسِهِ وعني بالمسائل فتفقه وحرر الاسامي وتنبه وَتُوفِّي سنة خمس وَسبعين وَسَبْعمائة وَذكره الذَّهَبِيّ فِي مُعْجَمه الْمُخْتَص بالمحدثين وجدت بِخَطِّهِ فِي طبقَة سَماع صَحِيح مُسلم
মহান আল্লাহর রহমতের দিকে তাঁর চলে যাওয়া এবং স্থানান্তরিত হওয়া পর্যন্ত, {আর আল্লাহর নিকটই সকল বিষয় প্রত্যাবর্তিত হয়}। এবং তিনি চক্ষুর খেয়ানত এবং অন্তর যা গোপন করে সে বিষয়ে সম্যক অবগত।
তাঁর (মৃত্যুর) দিনটি ছিল এক বিশাল উপস্থিতির দিন; তাঁর জানাজায় রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে পড়েছিল এবং মুসলিমরা দূর-দূরান্ত থেকে সেখানে সমবেত হয়েছিল। তারা সাক্ষীদের দণ্ডায়মান হওয়ার দিনে (কিয়ামতে) তাঁর উপস্থিতির মাধ্যমে বরকত কামনা করছিল এবং তাঁর খাটিয়া আঁকড়ে ধরছিল, এমনকি তারা সেই কাঠগুলো ভেঙে ফেলেছিল। আর এটি ছিল সাতশ আটাশ হিজরি সনের জিলকদ মাসের বিশ তারিখ রাতে সুরক্ষিত দামেস্ক দুর্গে। তাঁর জন্ম হয়েছিল হিররানে ছয়শ একষট্টি হিজরি সনের দশই রবিউল আউয়াল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং আমাদের ওপর রহম করুন।
অতঃপর ইবন সাইয়্যিদুন নাস তাঁর থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: আমি শায়খ, ইমাম, ইলমের পতাকাবাহী এবং উপলব্ধির চরম শিখরে উপনীত ব্যক্তি তাকীউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল হালিম বিন আব্দুল সালাম ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর নিকট কায়রোতে পড়েছি যখন তিনি আমাদের নিকট এসেছিলেন। আমি তাঁকে বলেছিলাম: শায়খ ইমাম যাইনুদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল দায়িম বিন নিমাহ আল-মাকদিসি কি আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন? এরপর তিনি হাসান বিন আরাফাহ পর্যন্ত তাঁর সনদ উল্লেখ করেন এবং তাঁর সংকলন (জুয) থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করেন।
২ -
ইবন আব্দুল দায়িম তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শায়খ, আলিম, ফাজিল, দক্ষ মুহাদ্দিস ও উচ্চবংশীয় শামসুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন শায়খুল মুসনিদ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন শায়খুল মুসনিদ আল-কাবীর আবু বকর বিন ইমামুল আলিম আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল দায়িম বিন নিমাহ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম বিন আহমাদ বিন বুকাইর আল-মাকদিসি আস-সালিহি। তিনি সাতশ তেরো হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তাঁর পিতা ও দাদা আবু বকর এবং অন্যদের থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি নিজে ইলম অন্বেষণ করেছেন এবং মাসয়ালাসমূহের প্রতি গুরুত্ব প্রদান করেছেন, ফলে তিনি ফিকহ অর্জন করেছেন, নামসমূহ বিন্যস্ত করেছেন এবং প্রজ্ঞাবান হয়েছেন। তিনি সাতশ পঁচাত্তর হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। যাহাবি তাঁর 'মু'জামুল মুখতাস বিল মুহাদ্দিসিন' গ্রন্থে তাঁর উল্লেখ করেছেন। আমি সহিহ মুসলিমের একটি সামা' (শ্রবণ) কপিতে তাঁর হস্তলিপি পেয়েছি।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দুল ওয়াফির
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
على أَبِيه مُحَمَّد ابْن أبي بكر وَآخَرين مَا صورته وعَلى الاخوين شيخ الاسلام تَقِيّ الدّين ابْن تَيْمِية وأخيه زين الدّين عبد الرَّحْمَن جَمِيع الميعاد الْخَامِس سوى من أَوله إِلَى قَوْله حَدثنَا زُهَيْر بن حَرْب حَدثنَا الْوَلِيد بن مُسلم حَدثنِي الاوزاعي حَدثنَا حسان بن عَطِيَّة حَدثنِي مُحَمَّد ابْن أبي عَائِشَة أَنه سمع أَبَا هُرَيْرَة رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِذا فرغ أحدكُم من التَّشَهُّد الْأَخير فليتعوذ بِاللَّه من أَربع الحَدِيث وَذكر بَقِيَّة طبقَة السماع الْمشَار إِلَيْهَا وَهِي نقل بِخَط الْمَذْكُور مُعْتَمد عَلَيْهَا
3 -
ابْن عبد الْهَادِي وَمِنْهُم الشَّيْخ الامام الْعَلامَة الْحَافِظ النَّاقِد ذُو الْفُنُون عُمْدَة الْمُحدثين متقن المحررين شمس الدّين أَبُو عبد الله مُحَمَّد ابْن الشَّيْخ عماد الدّين أبي الْعَبَّاس حمد بن عبد الْهَادِي بن عبد الحميد بن عبد الْهَادِي بن يُوسُف بن مُحَمَّد بن قدامَة بن مِقْدَام بن نصر الْمَقْدِسِي الصَّالِحِي الْحَنْبَلِيّ ولد فِي شهر رَجَب سنة أَربع وَقيل سنة خمس وَقيل سنة سِتّ وَسَبْعمائة قَرَأَ الْقُرْآن الْعَظِيم بالروايات وَسمع مَا لَا يُحْصى من المرويات من القَاضِي سُلَيْمَان بن حَمْزَة وَأبي بكر بن عبد الدَّائِم وَآخَرين ورافق الْحفاظ والمحدثين وعني بِالْحَدِيثِ وأنواعه وَمَعْرِفَة رِجَاله وَعلله وتفقه وَأفْتى ودرس وَجمع وَألف وَكتب الْكثير وصنف وتصدى للافادة والاشتغال فِي فنون من الْعُلُوم وَمن مصنفاته تَنْقِيح التَّحْقِيق فِي أَحَادِيث التَّعْلِيق لِابْنِ الْجَوْزِيّ مجلدان وَالْمُحَرر فِي الْأَحْكَام مُخْتَصر مُفِيد وَالْكَلَام على مُخْتَصر ابْن الْحَاجِب مؤلفان مطول ومختصر وجزء فِي الرَّد
তাঁর পিতা মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর এবং অন্যদের ওপর যা প্রতিলিপি করা হয়েছে, এবং দুই ভাই শাইখুল ইসলাম তাকীউদ্দীন ইবনে তাইমিয়্যাহ ও তাঁর ভাই জাইনউদ্দীন আব্দুল রহমানের ওপর পঞ্চম মজলিসের সমস্ত শ্রবণ-বিবরণ সাব্যস্ত হয়েছে, কেবলমাত্র মজলিসের শুরু থেকে তাঁর এই কথা পর্যন্ত ব্যতিরেকে: ‘আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জুহাইর বিন হারব, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওলীদ বিন মুসলিম, তিনি বলেন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আওজাঈ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসসান বিন আতিয়্যাহ, তিনি বলেন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আবি আইশা, তিনি আবু হুরায়রা (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) থেকে শুনেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: যখন তোমাদের কেউ শেষ তাশাহহুদ সমাপ্ত করবে, সে যেন আল্লাহর নিকট চারটি বিষয় থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে...’ হাদীসের শেষ পর্যন্ত। এবং নির্দেশিত শ্রবণ-সনদের অবশিষ্টাংশ উল্লেখ করা হয়েছে, যা উক্ত ব্যক্তির হস্তাক্ষরে অনুলিপিত একটি নির্ভরযোগ্য দলিল।
৩ -
ইবনে আব্দুল হাদী তাদের মধ্যে রয়েছেন শাইখ, ইমাম, আল্লামা, হাফিজ, সমালোচক, বহুবিদ্যায় পারদর্শী, মুহাদ্দিসগণের প্রধান অবলম্বন, দক্ষ গবেষক শামসুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে শাইখ ইমাদুদ্দীন আবু আব্বাস আহমাদ ইবনে আব্দুল হাদী ইবনে আব্দুল হামিদ ইবনে আব্দুল হাদী ইবনে ইউসুফ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে কুদামাহ ইবনে মিকদাম ইবনে নাসর আল-মাকদিসী আস-সালিহী আল-হাম্বলী। তিনি সাতশত চার হিজরীর রজব মাসে জন্মগ্রহণ করেন, মতান্তরে সাতশত পাঁচ বা সাতশত ছয় হিজরীতে। তিনি বিভিন্ন কিরাত অনুযায়ী মহান কুরআন পাঠ করেছেন এবং বিচারক সুলাইমান বিন হামজা, আবু بকর বিন আব্দুল দায়িম ও অন্যান্যদের নিকট থেকে অগণিত বর্ণনা শ্রবণ করেছেন। তিনি হাফিজ ও মুহাদ্দিসগণের সহচর ছিলেন এবং হাদীস ও এর প্রকারভেদ, বর্ণনাকারীদের পরিচিতি ও ত্রুটিসমূহ সম্পর্কে গভীর মনোনিবেশ করেন। তিনি ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছেন, ফতোয়া প্রদান করেছেন, পাঠদান করেছেন, সংগ্রহ ও সংকলন করেছেন এবং প্রচুর গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি জ্ঞান অন্বেষণ ও বিভিন্ন শাস্ত্রের প্রসারে নিজেকে নিয়োজিত করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে ইবনুল জাওযীর 'আহাদীসুত তালীক' এর পরিমার্জিত রূপ 'তানকীহুত তাহকীক', যা দুই খণ্ডে রচিত; 'আল-মুহাররার ফিল আহকাম' যা একটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ; এবং ইবনুল হাজিবের 'মুখতাসার' এর ওপর বিস্তারিত ও সংক্ষিপ্ত দুটি ব্যাখ্যামূলক রচনা এবং খণ্ডনমূলক একটি পুস্তিকা।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দুল ওয়াফির
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
على أبي حَيَّان فِيمَا رده على ابْن مَالك وَجمع التَّفْسِير الْمسند لكنه مَاتَ قبل إِتْمَامه وَكَانَ إِمَامًا فِي عُلُوم كالتفسير والقراءات والْحَدِيث وَالْأُصُول وَالْفِقْه واللغة والعربية وَذكره الذَّهَبِيّ فِي مُعْجَمه الْمُخْتَص بالمحدثين وَفِي طَبَقَات الْحفاظ وَأثْنى عَلَيْهِ فبهما ثَنَاء حميدا وروى عَن الْمزي عَن السرُوجِي عَن ابْن عبد الْهَادِي وَقَالَ الذَّهَبِيّ وَالله مَا اجْتمعت بِهِ قطّ إِلَّا واستفدت مِنْهُ انْتهى
توفّي رحمه الله فِي عَاشر جُمَادَى الأولى سنة أَربع وَأَرْبَعين وَسَبْعمائة وَدفن بسفح قاسيون وَكَانَت جنَازَته حافلة ورؤيت لَهُ منامات حَسَنَة وَمن مصنفاته تَرْجَمَة الشَّيْخ تَقِيّ الدّين ابْن تَيْمِية فِي مُجَلد قَالَ فِيهِ
هُوَ الشَّيْخ الرباني إِمَام الْأَئِمَّة ومفتي الْأمة وبحر الْعُلُوم سيد الْحفاظ وَفَارِس الْمعَانِي والألفاظ فريد الْعَصْر وحيد الدَّهْر شيخ الاسلام بركَة الانام عَلامَة الزَّمَان وترجمان الْقُرْآن علم الزهاد وأوحد الْعباد قامع المبتدعين وَآخر الْمُجْتَهدين تَقِيّ الدّين أَبُو الْعَبَّاس أَحْمد ابْن الشَّيْخ الامام الْعَلامَة شهَاب الدّين أبي المحاسن عبد الْحَلِيم ابْن الشَّيْخ الامام الْعَلامَة شيخ الاسلام مجد الدّين أبي البركات عبد السَّلَام ابْن أبي مُحَمَّد عبد الله ابْن أبي الْقَاسِم الْخضر بن مُحَمَّد بن الْخضر بن عَليّ بن عبد الله ابْن تَيْمِية الْحَرَّانِي نزيل دمشق وَصَاحب التصانيف الَّتِي لم يسْبق إِلَى مثلهَا وَلَا يلْحق فِي شكلها توحيدا أَو تَفْسِيرا وإخلاصا وفقها وحديثا ولغة ونحوا وبجميع الْعُلُوم كتبه طافحة بذلك وَلَقَد تَرْجمهُ ابْن عبد الْهَادِي بشيخ الاسلام مرَارًا كَثِيرَة وَذكر من مناقبه فِي تَرْجَمته أَشْيَاء خطيرة وعد كثرا من مصنفاته وَنَصّ على نفائس من مؤلفاته وَذكره فِي كِتَابه طَبَقَات الْحفاظ بترجمة مختصرة
আবু হাইয়্যানের ওপর ইবনে মালিকের খণ্ডনমূলক লেখায় তিনি মন্তব্য করেছেন এবং আল-তাফসীর আল-মুসনাদ সংকলন করেছিলেন, কিন্তু এটি পূর্ণ করার পূর্বেই তিনি ইন্তেকাল করেন। তিনি তাফসীর, কিরাআত, হাদীস, উসূল, ফিকহ, লুগাত এবং আরবী ব্যাকরণ শাস্ত্রে ইমাম ছিলেন। ইমাম আয-যাহাবী তাঁর 'মুজাম আল-মুহদ্দিসীন' এবং 'তাবাকাত আল-হুফফায' গ্রন্থে তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন এবং উভয় গ্রন্থে তাঁর চমৎকার প্রশংসা করেছেন। আল-মিযযী থেকে আল-সুরুজী এবং তাঁর থেকে ইবনে আব্দুল হাদী বর্ণনা করেছেন। আয-যাহাবী বলেছেন: "আল্লাহর কসম, আমি যখনই তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছি, তখনই তাঁর থেকে উপকৃত হয়েছি।" (সমাপ্ত)
আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, তিনি সাতশত চুয়াল্লিশ হিজরীর দশই জুমাদাল উলাতে ইন্তেকাল করেন এবং কাসিউন পাহাড়ের পাদদেশে তাঁকে দাফন করা হয়। তাঁর জানাজায় প্রচুর মানুষের সমাগম হয়েছিল এবং তাঁর ব্যাপারে অনেক উত্তম স্বপ্ন দেখা গিয়েছিল। তাঁর রচনাবলীর মধ্যে শায়খ তাকীউদ্দীন ইবনে তাইমিয়্যাহর এক খণ্ডের একটি জীবনীগ্রন্থ রয়েছে, যাতে তিনি বলেছেন:
তিনি হলেন রব্বানী শায়খ, ইমামদের ইমাম, উম্মাহর মুফতি, ইলমের সমুদ্র, হাফেজদের সরদার, অর্থ ও শব্দের নিপুণ অশ্বারোহী, যুগের অনন্য ও অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব, শায়খুল ইসলাম, সৃষ্টির বরকত, সময়ের শ্রেষ্ঠ আলেম, কুরআনের সার্থক ভাষ্যকার, যাহেদদের শিরোমণি, ইবাদতকারীদের মধ্যে অনন্য, বিদআতপন্থীদের দমনকারী এবং মুজতাহিদদের শেষ উত্তরসূরী—তকীউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন শায়খ ইমাম আল্লামা শিহাবুদ্দীন আবু মাহাসিন আব্দুল হালীম বিন শায়খ ইমাম আল্লামা শায়খুল ইসলাম মাজদুদ্দীন আবু বারাকাত আব্দুস সালাম বিন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন আবুল কাসিম আল-খিদর বিন মুহাম্মদ বিন আল-খিদর বিন আলী বিন আব্দুল্লাহ ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী, যিনি দামেস্কে বসবাস করতেন। তিনি এমন সব কিতাব রচনা করেছেন যার কোনো নজির পূর্বে ছিল না এবং যা গুণে ও মানে অতুলনীয়; হোক তা তাওহীদ, তাফসীর, ইখলাস, ফিকহ, হাদীস, ভাষা বা ব্যাকরণ বিষয়ক—তাঁর কিতাবসমূহ সকল বিদ্যায় পরিপূর্ণ। ইবনে আব্দুল হাদী তাঁকে অনেকবার 'শায়খুল ইসলাম' হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং তাঁর জীবনীতে তাঁর অনেক মহান বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন। তিনি তাঁর অসংখ্য রচনার কথা গণনা করেছেন এবং তাঁর মূল্যবান গ্রন্থসমূহের কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। এছাড়া তিনি তাঁর 'তাবাকাত আল-হুফফায' কিতাবেও তাঁর একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী আলোচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দুল ওয়াফির
(পৃষ্ঠা: ٣١)
صلى الله عَلَيْهِ وَسلم ونعوت جَامِعَة محررة من وصف الْأَئِمَّة للشَّيْخ تَقِيّ الدّين
وَمِنْهَا مَا يَأْتِي إِن شَاءَ الله تَعَالَى فِي تَرْجَمَة ابْن الزملكاني كَمَال الزين
4 -
الذَّهَبِيّ وَمِنْهُم الشَّيْخ الامام الْحَافِظ الْهمام مُفِيد الشَّام ومؤرخ الاسلام ناقد الْمُحدثين وَإِمَام المعدلين والمجرحين شمس الدّين أَبُو عبد الله مُحَمَّد بن أَحْمد ابْن عُثْمَان بن قايماز بن عبد الله التركماني الفارقي الأَصْل الدِّمَشْقِي ابْن الذَّهَبِيّ الشَّافِعِي مولده فِيمَا وجدته بِخَطِّهِ فِي سنة ثَلَاث وَسبعين وسِتمِائَة وَتُوفِّي لَيْلَة الِاثْنَيْنِ ثَالِث ذِي الْقعدَة سنة ثَمَان وَأَرْبَعين وَسَبْعمائة وَدفن من الْغَد بمقبرة الْبَاب الصَّغِير من دمشق رَحمَه الله تَعَالَى ومشيخته بِالسَّمَاعِ والاجازة نَحْو ألف شيخ وثلاثمائة شيخ يجمعهُمْ مُعْجَمه الْكَبِير وَكَانَ آيَة فِي نقد الرِّجَال عُمْدَة فِي الْجرْح وَالتَّعْدِيل عَالما بالتفريع والتأصيل إِمَامًا فِي الْقرَاءَات فَقِيها فِي النظريات لَهُ دربة بمذاهب الْأَئِمَّة وأربابا المقالات قَائِما بَين الْخلف بنشر السّنة وَمذهب السّلف انشدونا عَنهُ لنَفسِهِ
… الْفِقْه قَالَ الله قَالَ رَسُوله
… إِن صَحَّ والاجماع فاجهد فِيهِ
وحذار من نصب الْخلاف جَهَالَة
… بَين النَّبِي وَبَين رَأْي فَقِيه
…وَله المؤلفات المفيدة والمختصرات الْحَسَنَة والمصنفات السديدة مِنْهَا تَارِيخ الاسلام فِي عشْرين مجلدا وسير النبلاء فِي عشْرين مجلدا وميزان الِاعْتِدَال فِي نقد الرِّجَال وَغير ذَلِك
وَهُوَ الَّذِي قَالَ فِيهِ الامام الْعَلامَة الأوحد أَبُو عبد الله مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن عبد الْكَرِيم ابْن الْموصِلِي الاطرابلسي الشَّافِعِي لما قدم دمشق مُتَوَجها إِلَى
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং শায়খ তাকিউদ্দীন কর্তৃক ইমামগণের গুণাবলি থেকে সংকলিত এক পূর্ণাঙ্গ ও পরিমার্জিত বিবরণ।
তার মধ্যে কিছু বর্ণনা সামনে ইনশাআল্লাহ তাআলা ইবনুল জামলাকানি কামালুজ্জিনের জীবনীতে আসবে।
৪ -
আয-যাহাবি তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন শায়খ, ইমাম, হাফিজ, মহাপ্রাণ, শাম দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যান এবং ইসলামের ইতিহাসবিদ, মুহাদ্দিসগণের সমালোচক এবং জারহ ও তা'দীল (বর্ণনাকারীদের যাচাই-বাছাই) কারীদের ইমাম শামসুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন উসমান বিন কাইমাজ বিন আব্দুল্লাহ আল-তুর্কমানি আল-ফারিকি (মূল নিবাস), আদ-দিমাশকি, ইবনুল যাহাবি আশ-শাফিয়ি। তাঁর জন্ম—আমি তাঁর স্বহস্তে লেখা পাণ্ডুলিপিতে যা পেয়েছি সেই অনুযায়ী—৬৭৩ হিজরিতে। তিনি ৭৪৮ হিজরির ৩রা জিলকদ সোমবার রাতে ইন্তেকাল করেন এবং পরের দিন দামেস্কের 'বাবুস সাগির' কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন। শ্রবণ ও ইজাজতের মাধ্যমে তাঁর উস্তাদগণের সংখ্যা ছিল প্রায় এক হাজার তিনশ শায়খ, যাদেরকে তাঁর রচিত 'আল-মু'জাম আল-কাবীর'-এ সংকলন করা হয়েছে। তিনি বর্ণনাকারীদের যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এক বিস্ময়কর নিদর্শন, জারহ ও তা'দীলের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ, শাখাগত মাসআলা ও মূলনীতি সম্পর্কে অভিজ্ঞ আলেম, কিরাআতের ইমাম এবং তাত্ত্বিক বিষয়ে ফকীহ ছিলেন। ইমামগণের মাযহাব ও বিভিন্ন মতবাদ সম্পর্কে তাঁর গভীর দক্ষতা ছিল এবং তিনি পরবর্তী প্রজন্মের মাঝে সুন্নাহ ও সালাফদের মাযহাব প্রসারে একনিষ্ঠ ছিলেন। আমাদের কাছে তাঁর স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করা হয়েছে:
… ফিকহ হলো— আল্লাহ বলেছেন, তাঁর রাসূল বলেছেন
… যদি তা সহীহ হয় এবং ইজমা থাকে, তবে তাতে প্রচেষ্টা ব্যয় করো।
আর অজ্ঞতাবশত নবী এবং কোনো ফকীহর রায়ের মাঝে বিরোধ তৈরি করা থেকে সতর্ক থেকো
…তাঁর অনেক উপকারী গ্রন্থ, চমৎকার সংক্ষেপিত সংস্করণ এবং সঠিক তালিফাত রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো: বিশ খণ্ডে 'তারিখুল ইসলাম', বিশ খণ্ডে 'সিয়ারু আ'লামিন নুবালা', বর্ণনাকারীদের সমালোচনায় 'মিযানুল ইতিদাল ফী নাকদির রিজাল' এবং অন্যান্য গ্রন্থ।
তিনিই সেই ব্যক্তি যাঁর সম্পর্কে ইমাম, আল্লামা, অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল কারীম ইবনুল মাওসিলি আল-আরাবলুসি আশ-শাফিয়ি বলেছেন, যখন তিনি দামেস্কে আগমন করেছিলেন এবং গন্তব্য ছিল...