القسم: النحو والصرف
الكتاب: أخبار أبي القاسم الزجاجي
المؤلف: عبد الرحمن بن إسحاق البغدادي النهاوندي الزجاجي، أبو القاسم (ت 337هـ)
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 73
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বিভাগ: নাহু ও সরফ (ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব)
গ্রন্থ: আখবারু আবি আল-কাসিম আল-জাজ্জাজি
লেখক: আবদুর রহমান বিন ইসহাক আল-বাগদাদি আন-নাহাওয়ান্দি আল-জাজ্জাজি, আবু আল-কাসিম (মৃত্যু ৩৩৭ হিজরি)
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নম্বরযুক্ত করা হয়েছে যা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৩
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
এতে পেশ, জবর ও সুকুন—এই তিন রূপই বৈধ। সুকুন হওয়ার প্রেক্ষিত হলো 'يهلك ربيع الناس' বাক্যাংশের ওপর সংযোজন করা। পেশ হওয়াটি হলো পূর্ববর্তী বাক্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে নতুন বাক্য শুরুর কারণে এবং জবর হওয়াটি মূলত 'إن' উহ্য রেখে রূপান্তরের কারণে। অনুরূপভাবে, শর্তের উত্তরের পরে প্রতিটি ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ার ক্ষেত্রে এই তিন প্রকারের নিয়ম প্রযোজ্য। এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: (যদি তোমরা তোমাদের মনের কথা প্রকাশ করো কিংবা গোপন করো, তবে আল্লাহ তোমাদের নিকট থেকে এর হিসাব গ্রহণ করবেন; অতঃপর তিনি যাকে ইচ্ছে ক্ষমা করবেন এবং যাকে ইচ্ছে শাস্তি দেবেন)। এখানে 'يعذب' শব্দটিতে সেই তিনটি রূপই বৈধ যা আমরা 'অজাব্বিয জাহরি' অর্থাৎ যার পিঠ কাটা—এর ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছি। এটি মূলত একটি উদাহরণ ও উপমা। সবগুলোতে জের দিয়ে 'অজাব্বিয জাহরি' রূপে এটি বর্ণিত হয়েছে, যেখানে 'অজাব্বি' শব্দটি 'জাহর'-এর দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে। আবার 'অজাব্বা' শব্দে জবর এবং 'জাহরা' শব্দে জবর দিয়ে 'অজাব্বা জাহরা' রূপেও বর্ণিত হয়েছে; এখানে 'অজাব্বা' শব্দটি জবরযুক্ত হওয়ার কারণ হলো এটি মূলত সম্বন্ধের স্থানে থাকলেও অব্যয়হীন হওয়ার কারণে অপরিবর্তনীয়। আর 'জাহরা' শব্দটি কর্মের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ার কারণে জবরযুক্ত হয়েছে এবং 'অজাব্বা' এর মধ্যে কর্তা উহ্য রয়েছে। এটি অনেকটা তোমার এই উক্তির মতো— 'আমি সুন্দর চেহারার, অধিক সম্পদের এবং স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপনকারী এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম'।
ইবনুল আনবারি আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: ইদরিস ইবনে আব্দুল কারিম আবুল হাসান আল-মু'রি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আবু আল-আহওয়াস মুহাম্মদ ইবনে হাইয়ান আল-বাগাওয়ি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا), তিনি বলেন: যামাখি ইবনে খালিদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا), তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: (তোমরা কি প্রতিটি উঁচু স্থানে অনর্থক একটি করে নিদর্শন বা সৌধ নির্মাণ করছ?) তিনি বলেন: এর অর্থ হলো উঁচু স্থান।
আয-যাজ্জাজ এবং ইবনুল খাইয়াত আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا) আল-হাসান ইবনে আল-তাইয়ান থেকে, তিনি ইবনে আস-সিক্কিত থেকে বর্ণনা করেন। মুহাম্মদ ইবনে আকিল ও বিলাল ইবনে জারির বলেন: 'রাবউ' মানে হলো পাহাড়। ভাষাবিদগণের মধ্যে অন্য অনেকে বলেন: 'রাবউ' হলো ভূমির উঁচু অংশ।
ইবনুল আনবারি বলেন, আমার পিতা নসর ইবনে দাউদ থেকে এবং তিনি আবু উবায়েদ আল-কাসিম ইবনে সাল্লাম থেকে আমাকে অবহিত করেছেন (أخبرني)। তিনি বলেন: উষ্ট্রী যখন বিকলাঙ্গ বা অপূর্ণাঙ্গ বাচ্চা প্রসব করে তখন তাকে 'আখদাজাত' বলা হয়। যদি গর্ভাবস্থার সময় পূর্ণ হওয়ার পর এমনটি ঘটে, তবে উষ্ট্রীকে 'মুখদিজ' এবং বাচ্চাকে 'মুখদাজ' বলা হয়। আর উষ্ট্রী যদি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পূর্ণ হওয়ার আগেই বাচ্চা প্রসব করে, যদিও তা গঠনগতভাবে পূর্ণ দেখা যায়, তবে তাকে 'খাদাজাত' বলা হয়; এক্ষেত্রে উষ্ট্রীকে 'খাদিজ' এবং বাচ্চাকে 'খাদিজ' বা 'মাখদুজ' বলা হয়।
আবু আল-আনবারি বলেন, সা'লাব সালামাহ থেকে এবং তিনি আল-ফাররা থেকে আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا)। তিনি বলেন: 'আখদাজা' এবং 'খাদাজা' একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। আল-কিসায়ি একাই দাল বর্ণে জের যোগে 'খাদিজা' শব্দটির কথা উল্লেখ করেছেন। আবু আল-কাসিম বলেন: 'খিদাজ'-এর মূল অর্থ হলো গঠনগত বা সংখ্যার দিক থেকে কোনো ঘাটতি বা অপূর্ণতা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীটি সেখান থেকেই এসেছে— "যে সালাতে কিরাত নেই, তা ত্রুটিপূর্ণ (خداج)"। অর্থাৎ সেটি ঘাটতিপূর্ণ। অনুরূপভাবে যুল-সুদাইয়াহ সম্পর্কে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর উক্তি— "সে ছিল বিকলাঙ্গ (مخدج) হাত বিশিষ্ট"। আলেমরা 'সুদাই' শব্দটিকে পুংলিঙ্গ হিসেবে ব্যবহার করেন। আর 'যুল সুদাইয়াহ' শব্দে 'হা' যোগ করা হয়েছে কারণ এর দ্বারা গোশতের টুকরো বা অতিরিক্ত অংশকে বোঝানো হয়েছে। কেউ কেউ একে 'যুল ইয়াদাইয়াহ' বলেন, যা 'ইয়াদ' (হাত) শব্দের ক্ষুদ্রতাবাচক রূপ।
আল-আখফাশ সা'লাব থেকে এবং তিনি উমর ইবনে শাব্বাহ থেকে আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا), তিনি মাখারেক আবু আল-মুহান্না থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আমি আবুল আতাহিয়া-র মৃত্যুশয্যায় তাঁর কাছে প্রবেশ করলাম। তিনি আমাকে দেখে আনন্দিত হলেন এবং বললেন: "আমার কাছে এসো, আমার বাবা-মা তোমার জন্য উৎসর্গ হোন।" আমি তাঁর কাছে গেলাম এবং বললাম: "আপনি কী পছন্দ করেন?" তিনি বললেন: "আমি তোমার কণ্ঠে খাফিফ ছন্দের এই কবিতাটি শুনতে চাই:"
আহমদ আমাকে বললেন অথচ তিনি জানেন না আমার কী হয়েছে … তুমি কি সত্যিই আজ সকালে উতবাকে ভালোবাসো?
আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম, হ্যাঁ সেই ভালোবাসা … যা প্রতিটি শিরা-উপশিরায় মিশে গেছে।
আমার হৃদয়ে যা লুকিয়ে আছে তা যদি তুমি বুঝতে পারতে … তবে দেখতে পেতে আমার হৃদয় ক্ষতবিক্ষত হয়ে ফেটে যাচ্ছে।
হায়! যদি আমি মরে যেতাম তবে এই প্রেম থেকে মুক্তি পেতাম … কারণ আমি যতদিন বেঁচে থাকব এর জালে আটকা থাকব।
বর্ণনাকারী বলেন: আমি তাঁকে এটি গেয়ে শোনালাম। তখন তিনি বললেন: "মনে হচ্ছে আমি পুনরায় জীবন ফিরে পেয়েছি।" তিনি কয়েকবার এটি গাইতে বললেন এবং আমি বারবার তা গেয়ে শোনালাম। এরপর তিনি বললেন: "এখন তুমি শান্তিতে ফিরে যাও এবং আগামীকাল আমার কাছে এসো; যদি আগামীকাল আমাকে না দেখো তবে বুঝবে আমি মারা গেছি।" চতুর্থ দিন পর্যন্ত তাঁর এই অবস্থা চলতে থাকল। এরপর আমি কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম এবং সেই দিনেই তিনি ইন্তেকাল করলেন।
আল-আখফাশ আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا), তিনি বলেন আল-মুবরদ আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, আবু নুওয়াস, আবু আল-আতাহিয়া, আবু আল-শিস এবং আল-হুসাইন আল-খালি' এক মজলিসে একত্রিত হলেন। আবু নুওয়াস তাঁদের বললেন: "হে আমার ভ্রাতৃগণ, এই মজলিসটি পরবর্তী সময়ে স্মরণ করা হবে, তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত তার শ্রেষ্ঠ কবিতাটি আবৃত্তি করা।" তাঁরা রাজি হলেন এবং জ্যেষ্ঠতার খাতিরে আবুল আতাহিয়া-কে প্রথমে সুযোগ দিলেন। তখন তিনি দ্রুত লয়ে (সারী' ছন্দে) বলতে শুরু করলেন:
হে আমার ভ্রাতৃগণ, এই প্রেমই আমার হন্তারক, তাই দ্রুত কাফনের ব্যবস্থা করো।
প্রেমের পথে চলার জন্য আমাকে তিরস্কার করো না … কারণ আমি এক মহাসংকটে নিমজ্জিত।
আমার হৃদয় এক কৃশাঙ্গী সুন্দরীর কাছে বন্দী … যার কোমরের অলঙ্কার দুলছে চঞ্চলভাবে।
সে তার সৌন্দর্যের কারণে যেন এক উজ্জ্বল মুক্তা … সমুদ্র যাকে উপকূলে এনে ফেলেছে।
তার ভালোবাসা আমার অস্তিত্বের কিছুই অবশিষ্ট রাখেনি … এক শীর্ণ দেহে সামান্য প্রাণস্পন্দন ছাড়া।
মানুষ আমাকে সুস্থ মনে করে অথচ তারা জানে না … আমার অন্তরে কী গভীর যন্ত্রণা লুকিয়ে আছে।