(খণ্ড: ১) আখবারু আবিল কাসিম আয-যুজ্জাজি (পৃষ্ঠা: -)
أخبار أبي القاسم الزجاجي   (أبو القاسم الزجاجي)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: أخبار أبي القاسم الزجاجي

المؤلف: عبد الرحمن بن إسحاق البغدادي النهاوندي الزجاجي، أبو القاسم (ت 337هـ)

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 73

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আখবারু আবি আল-কাসিম আল-জাজ্জাজি   (আবু আল-কাসিম আল-জাজ্জাজি)

বিভাগ: নাহু ও সরফ (ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব)


গ্রন্থ: আখবারু আবি আল-কাসিম আল-জাজ্জাজি

লেখক: আবদুর রহমান বিন ইসহাক আল-বাগদাদি আন-নাহাওয়ান্দি আল-জাজ্জাজি, আবু আল-কাসিম (মৃত্যু ৩৩৭ হিজরি)

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নম্বরযুক্ত করা হয়েছে যা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৩

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আখবারু আবিল কাসিম আয-যুজ্জাজি (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌بسم الله الرحمن الرحيم

أخبرنا ابن دريد قال أخبرنا الحسن بن خضر عن أبيه قال: قال سفيان: دخل إلي جعفر بن محمد بن علي بن الحسين بن علي بن أبي طالب صلوات الله عليهم، فقال: يا سفيان أعلمت أني فكرت في المعروف فرأيت أنه لا يتم إلا بثلاث فقلت: ما هّن بأبي أنت وأمي؟ قال: - تعجيله، وستره، وتصغيره، فإنك إذا عجلته هنأته، وإذا سترته أتممته، وإذا صغرته عظمته. وإذا أنت مطلته وسوفته وكدرته نقصته وأفسدته. ثم أنشأ يقول متمثلا: منسرح

يرّب معروفه ويحفظه … وإنما العرف بالربابات

فقلت: هذه والله الغنيمة الباردة من غير تكلف ارتحال، ولا مشقة تسيار.

أنشدنا الأخفش في معنى قول سفيان: المنسرح الخافض المقيم وما شَدَّ بعيِسٍ رَحْلا ولاقَتَبَا.

وغيره يقول: الشَّوْكَل: الميمنة والميسرة من العسكر، والشّاكل: البياض ما بين الآن والصُّدْغ، وفي الحديث: " تفَقَّدُوا في الطهُّوُر الشّاكل والمَغْفَلَةَ والمَنْشَلةَ فإنَّ كثيراً من الناسَ يتواَنَوَنَ عنها ": ما تحت الخاتم من الإصبع.

اخبرنا الأخفش قال: حدثنا المبرد عن المازني عن الأصمعي قال: لما حرم خالد بن عبد الله القسري الغناء دخل عليه ذات يوم حنين بن بلوع مشتملا على عوده. فلما تقوضى المجلس ولم يبق فيه من يحتشم قال له: أصلح الله الأمير أني شيخ كبير السن ولي صناعة كنت أعود بها على عيالي، وقد حرمتها. قال: وما صناعتك؟ فكشف عن عوده وضرب به وأنشأ يقول: الخفيف

أيّها الشّامِتُ المُعَيِّرُ بالشَّيْبِ أقَلِنَّ بالشباب افتخارا

قد لَبِسْنا الشبابَ غَضّا جديدا فوجدتُ الشباب شيبا معُارا

فبكى خالد حتى علا نحيبه، ثم قال له: قد أذنت لك ما لم تأت معربدا ولا سفيها. فكان حنين بعد ذلك إذا دعي يقف على باب الدار ويقول: أفيكم سفيه؟ أفيكم معربد؟ فإذا قالوا: لا، دخل.

أنشدنا أبو عبد الله اليزيدي سريع

لا تَكُ في كل غوى مٌنْهَمِكْ … ولا تكونن لَجوجا محكْ

واقتْدَ بأهلِ الفضلِ في فَضْلِهِيْم … ولا تَدَعْ جَهْداً ولا تتّرِكْ

فبعض أخلاق الفتى خُبثه … وبعضها كالذهب المنسبكْ

فاصنعْ إلى الناس كمثل الذي … تُحَبُ أن تصنعَهُ الناس بك

من قرّ عيناً بِغِنَي بُلْغَةٍ … يوماَ بيوم عاش عيشَ المَلِكْ

أخذ معنى البيت الأخير من قول النبي صلى الله عليه وسلم: " من أصبح أمينا في سربه معافى في جسمه عنده قوت يومه فكأنما ملك الدنيا بحذافيرها ".

السَّرب: بالفتح الطريق، والسَّرب: الإبل أيضا، والسَّرب بالكسر: جماعة من النساء والظباء والبقر، فإذا قيل: فلان آمن في سربه بالفتح، معناه هو آمن في ماله وطريقه. وإذا قيل: هو آمن في سِربه بالكسر فمعناه آمن في نفسه ونسائه وحرمه.

أخبرنا ابن دريد قال حدثنا عبد الرحمن عن الأصمعي قال سمعت أعرابيا يقول: الحسد ما حق للحسنات، والزهو جالب لمقت الله ومقت الصالحين، والعجب مانع من الازهاد في العلم داع إلى التخبط في الجهل، والبخل أسوأ الأدواء، وأجلبها لسوء الإحدوثة، والهزء فكاهة وصناعة الجهلاء، والعقوق يدعو إلى القلة، ويورث الذلة.

أخبرنا اليزيدي عن عمه أبي الشيخ يرفعه إلى أبي محمد يحيى بن المبارك اليزيدي قال: كان يجيئني رجل فيسألني عن آيات من كتاب الله مشكلات، وكنت أتبين العنت في سؤاله، وكنت إذا أجبته أرى لونه يَربَد ويسودُ، فقال لي يوما: أيجوز في كلام العرب أن نقول: " أدخلت القوم الدار ثم أخرجتهم رجلا "؟ فقلت: لا يجوز ذلك حتى تقول: أخرجتهم رجلا رجلا، تقوله في تفصيل الجنس. قال: فكيف قال الله تعالى (ثم يخرجكم طفلا) . فقلت: ليس هذا من ذاك لأن الطفل مصدر في الأصل فهو يقع على الواحد والاثنين والجمع بلفظ واحد فتقول: " هذا طفل، وهذان طفل، وهؤلاء طفل ". كما قال تعالى (والطفل الذين لم يظهروا على عورات النساء ". فطفل في الآية موضع أطفال فكأنه قال ثم يخرجكم أطفالا.

قال: فأخبرني عن قوله (يومئذ يود الذين كفروا وعصوا الرسول لو تسوى بهم الأرض) . من أين لهم هذه الأرض هناك؟ فقلت له: وهمت، أما سمعت قوله تعالى (يوم تبدل الأرض غير الأرض) فودوا أن تلك الأرض تسوى. فسكت.
‌‌পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا) ইবনে দুরেদ, তিনি বলেন, আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا) হাসান বিন খিজর তাঁর পিতা থেকে, তিনি বলেন: সুফিয়ান বলেছেন: জাফর বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আল-হুসাইন বিন আলী বিন আবি তালিব (তাঁদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) আমার নিকট আসলেন এবং বললেন: হে সুফিয়ান! তুমি কি জানো যে আমি 'মা'রুফ' বা সৎকাজ নিয়ে ভেবেছি এবং দেখেছি যে তিনটি বিষয় ছাড়া এটি পূর্ণ হয় না? আমি বললাম: আমার পিতামাতা আপনার প্রতি উৎসর্গিত হোক, সেই বিষয়গুলো কী? তিনি বললেন: — দ্রুত সম্পাদন করা, এটি গোপন রাখা এবং একে তুচ্ছ জ্ঞান করা। কারণ তুমি যখন এটি দ্রুত সম্পন্ন করবে, তখন একে আনন্দদায়ক করবে; যখন গোপন রাখবে, তখন একে পূর্ণাঙ্গ করবে; আর যখন একে তুচ্ছ জ্ঞান করবে, তখন একে মহান করবে। আর তুমি যদি এতে গড়িমসি করো, বিলম্ব করো এবং বিষাদময় করে তোলো, তবে তুমি একে ত্রুটিযুক্ত ও নষ্ট করে দিলে। এরপর তিনি দৃষ্টান্ত হিসেবে মুনসারিহ ছন্দে আবৃত্তি করলেন:

সে তার সৎকাজকে লালন করে এবং তা রক্ষা করে … আর সৎকাজ তো বারবার লালন ও অভ্যাসের মাধ্যমেই পূর্ণতা পায়।

আমি বললাম: আল্লাহর কসম, এটি তো কোনো সফরের কষ্ট বা ভ্রমণের ক্লান্তি ছাড়াই এক সহজলভ্য গনীমত।

আল-আখফাশ আমাদের নিকট সুফিয়ানের কথার মর্মার্থ সম্পর্কে মুনসারিহ ছন্দে আবৃত্তি করেছেন: সে এক প্রশান্ত ও নিজস্থানে অবস্থানকারী ব্যক্তি, যে তার সাদা উটের পিঠে কোনো গদি বা হাওদা বাঁধেনি।

অন্যান্য বিশেষজ্ঞগণ বলেন: 'শাওকাল' (الشوكال) হলো সামরিক বাহিনীর ডানে ও বামের অংশ। আর 'শাকিল' (الشّاكل) হলো কপাল ও কানের মধ্যবর্তী শুভ্র অংশ। আর হাদিসে এসেছে: "তোমরা পবিত্রতা অর্জনের সময় কান ও কপালের মধ্যবর্তী স্থান (الشّاكل), থুঁতনির নিচের পশমহীন অংশ (المَغْفَلَةَ) এবং আংটির নিচের অংশ (المَنْشَلةَ) ভালো করে লক্ষ্য করো; কারণ অনেক মানুষ এগুলোর ব্যাপারে উদাসীনতা প্রদর্শন করে।" এখানে 'মুনশালাহ' (المَنْشَلةَ) বলতে আংটির নিচে আঙুলের অংশকে বোঝানো হয়েছে।

আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا) আল-আখফাশ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আল-মুবররাদ আল-মাজিনী থেকে, তিনি আল-আসমায়ী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: খালিদ বিন আবদুল্লাহ আল-কাসরী যখন গান হারাম করলেন, তখন একদিন হুনাইন বিন বালু' তাঁর বাদ্যযন্ত্র (উদ) কাপড়ে ঢেকে তাঁর কাছে প্রবেশ করলেন। যখন মজলিস শেষ হলো এবং সেখানে সংকোচ করার মতো কেউ অবশিষ্ট রইল না, তখন তিনি তাকে বললেন: আল্লাহ আমীরের কল্যাণ করুন, আমি একজন বয়োবৃদ্ধ লোক এবং আমার একটি পেশা ছিল যার মাধ্যমে আমি আমার পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণ করতাম, অথচ আপনি তা হারাম করে দিয়েছেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তোমার পেশা কী? তখন তিনি তাঁর বাদ্যযন্ত্রটি বের করলেন এবং তাতে আঘাত করে খাফিফ ছন্দে আবৃত্তি করতে লাগলেন:

হে শুভ্র কেশের কারণে বিদ্রূপকারী ও দোষারোপকারী! যৌবন নিয়ে গর্ব করা কমিয়ে দাও।

আমরাও একসময় সতেজ ও নতুন যৌবনের পোশাক পরিধান করেছিলাম, কিন্তু আমি সেই যৌবনকে কেবল বার্ধক্যের জন্য ধার করা বস্তু হিসেবেই পেয়েছি।

তা শুনে খালিদ এত কাঁদলেন যে তাঁর রোদনের শব্দ উচ্চ হয়ে উঠল। এরপর তিনি তাকে বললেন: আমি তোমাকে অনুমতি দিলাম যতক্ষণ না তুমি মাতাল বা নির্বোধের মতো আচরণ করবে। এরপর থেকে হুনাইনকে যখন কোথাও ডাকা হতো, তিনি দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বলতেন: তোমাদের মধ্যে কি কোনো নির্বোধ বা মাতাল আছে? তারা যদি বলত 'না', তবেই তিনি প্রবেশ করতেন।

আবু আবদুল্লাহ আল-ইয়াজিদী আমাদের নিকট সারী' ছন্দে আবৃত্তি করেছেন:

তুমি কোনো ভ্রষ্টতা বা পাপে নিমগ্ন থেকো না … আর কখনও জেদি ও ঝগড়াটে হয়ো না।

মর্যাদাবান ব্যক্তিদের শ্রেষ্ঠত্ব অনুসরণে সচেষ্ট হও … প্রচেষ্টায় কোনো কমতি করো না এবং হাল ছেড়ো না।

যুবকের কোনো কোনো স্বভাব হলো মন্দ ও অপবিত্র … আর কোনোটি গলানো স্বর্ণের মতো খাঁটি।

তাই মানুষের সাথে তেমন আচরণই করো … যেমনটি তুমি প্রত্যাশা করো যে মানুষ তোমার সাথে করুক।

যে ব্যক্তি দিন যাপনের মতো ন্যূনতম উপার্জনেই সন্তুষ্ট থাকে … সে যেন প্রতিদিন একজন বাদশাহর মতোই জীবন অতিবাহিত করে।

শেষ পঙ্‌ক্তির মর্মার্থটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী থেকে নেওয়া হয়েছে: "যে ব্যক্তি তার জনপদে নিরাপদ অবস্থায় সকাল করল, শারীরিকভাবে সুস্থ থাকল এবং তার নিকট সেই দিনের খাদ্য মজুদ থাকল, সে যেন সমগ্র পৃথিবীটাই তার করায়ত্ত করল।"

'সারব' (السَّرب): 'সীন' বর্ণে ফাতহা যোগে এর অর্থ হলো পথ; আবার 'সারব' অর্থ উটও হয়। আর 'সিরব' (السِّرب): 'সীন' বর্ণে কাসরা যোগে এর অর্থ হলো নারী, হরিণ বা গরুর পাল। সুতরাং যখন বলা হয়: 'ফুলানুন আমিনুন ফি সারবিহি' (ফাতহা যোগে), এর অর্থ হলো সে তার সম্পদ ও পথে নিরাপদ। আর যখন বলা হয়: 'আমিনুন ফি সিরবিহি' (কাসরা যোগে), তবে এর অর্থ হলো সে নিজের জান, পরিবার ও সম্মানের ব্যাপারে নিরাপদ।

আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا) ইবনে দুরেদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবদুর রহমান আল-আসমায়ী থেকে, তিনি বলেন: আমি এক বেদুইনকে বলতে শুনেছি: হিংসা হলো পুণ্যসমূহ বিনাশকারী, অহংকার হলো আল্লাহর ক্রোধ ও নেককারদের ঘৃণার কারণ, আত্মতৃপ্তি হলো ইলম অর্জনে বিরাগ সৃষ্টি করে মূর্খতার বিভ্রান্তির দিকে আহ্বানকারী, কৃপণতা হলো নিকৃষ্টতম ব্যাধি যা দুর্নাম বয়ে আনে, বিদ্রূপ হলো মূর্খদের রসিকতা ও অভ্যাস, আর পিতামাতার অবাধ্যতা অভাবকে ডেকে আনে এবং লাঞ্ছনার উত্তরাধিকার দিয়ে যায়।

আল-ইয়াজিদী তাঁর চাচা আবু শেখ থেকে আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا), তিনি একে মারফু সনদে বর্ণনা করেছেন (يرفعه) আবু মুহাম্মদ ইয়াহইয়া বিন আল-মুবারক আল-ইয়াজিদীর নিকট; তিনি বলেন: এক ব্যক্তি আমার কাছে আসত এবং আল্লাহর কিতাবের কিছু জটিল আয়াত সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞেস করত। আমি তার প্রশ্নের মধ্যে কূটতর্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্য লক্ষ্য করতাম। আমি যখনই তাকে উত্তর দিতাম, আমি দেখতাম তার চেহারা বিবর্ণ ও কালো হয়ে যাচ্ছে। একদিন সে আমাকে বলল: আরবদের কথাবার্তায় কি এটা বলা বৈধ যে: "আমি লোকগুলোকে ঘরে প্রবেশ করালাম, এরপর তাদের বের করলাম একজন করে (رجلا)"? আমি বললাম: এটা বৈধ নয় যতক্ষণ না তুমি বলবে: 'আমি তাদের বের করলাম একজন একজন করে' (رجلا رجلا), যা কোনো শ্রেণির বিস্তারিত বর্ণনায় ব্যবহৃত হয়। সে বলল: তাহলে মহান আল্লাহ কীভাবে বললেন— (অতঃপর তিনি তোমাদের শিশু হিসেবে (طفلا) বের করেন)? আমি বললাম: এটি ওই উদাহরণের মতো নয়; কারণ 'তিফল' শব্দটি মূলত একটি ক্রিয়ামূল (مصدر), তাই এটি একবচন, দ্বিবচন ও বহুবচনের ক্ষেত্রে একই শব্দে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং তুমি বলতে পারো: 'ইহা শিশু', 'ইহারা দুইজন শিশু' এবং 'ইহারা সবাই শিশু'। যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন— (এবং সেই সব শিশু (والطفل) যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অবগত নয়)। সুতরাং আয়াতে 'তিফল' শব্দটি 'আতফাল' (শিশুরা) এর স্থলে ব্যবহৃত হয়েছে, যেন তিনি বলেছেন 'অতঃপর তিনি তোমাদের শিশুদের রূপে বের করেন'।

সে বলল: তবে আমাকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বলুন— (সেদিন কাফের ও রাসূলের অবাধ্যরা কামনা করবে যে, যদি তাদের নিয়ে জমিন সমান করে দেওয়া হতো)। সেখানে তাদের জন্য এই জমিন কোথায় থাকবে? আমি তাকে বললাম: তুমি বিভ্রান্তিতে আছো। তুমি কি আল্লাহর এই বাণী শোনোনি— (যেদিন এই জমিন অন্য জমিনে পরিবর্তিত হবে)? সুতরাং তারা কামনা করবে যেন সেই পরিবর্তিত জমিনটিই তাদের সাথে সমান করে দেওয়া হয়। তখন সে চুপ হয়ে গেল।
(খণ্ড: ১) আখবারু আবিল কাসিম আয-যুজ্জাজি (পৃষ্ঠা: ২)
أخبرنا الأخفش عن ثعلب عن ابن الأعرابي قال: يقال للطريق إذا كان واضحا طريق مَهْيَع، وواضح، وبيَّن، وحَنّان، وجادة، ونَهّام، إذا كان بينا واسعا أو ضيقا. والوجب الرجل الأحمق، والوجب جمع وجبة وهي الأكلة الواحدة في اليوم والليلة، والوجب: السبق في الرمي يقال: وجبت فلانا: إذا أخذت وجبة في الرمي. والواجب: السافط، والوجيب: اضطراب القلب من الفزع، والحصن بضم الحاء وإسكان الصاد مصدر الحصان من النساء، وأنشد لجارية من الأعراب خرجت فتعرض لها رجل: السريع

يا أمتّا أبصرني راكب … يسير في مُسْحَنْفَرِ لاحب

ما زلت أحثى التربَ في وجهِهِ … حَثْياَ وأحَمْي حَوْزَةَ الغائِبِ

فأجابتها أمها: السريع

الحصن إذ قالواَ تَأيَّيْتِهِ … من حَثْيِكِ التربَ على الراكِبِ

يقال: حثا فلان التراب يحثو حثوا، وحثى يحثي حثيا بالمد قصدت وتعمدت، وتأييت بالقصر والتشديد: إذا توقفت وتحبست، وينشد: مجزوء الكامل

قف بالديار وقوف زائر … وتأىَّ إنك غير صاغر

اخبرنا الأخفش قال أخبرنا ثعلب عن أبي شبة. قال: كتب يحيى ابن سليمان بن معاذ إلى عبد الله بن طاهر كتابا صدره: جعلني الله فداك وأمتع بك، فكتب إليه عبد الله بن طاهر: المنسرح

أنلت ملكا فتهت في كتبك … أم حكت ما عهدت من أدبك

أم قد ترى في مناصفة الاخ … وان نقصا عليك في حسبك

إن حفاء كتاب ذي ثقة … يكون في صدره " وأمتع بك "

أتعبت كفيك في مكاتبتي … حسبك ما يزيد في تعبك

فأجابه يحيى: المنسرح

أنت تجني الذنوب في كتبك … على أخ يقشعر من غضبك

أنّى توهمت ذا علي ولما … اجن ذنبا وذاك من عجبك

وهل يجوز الدعاء في كتب … بين الأخلاء غير " أمتع بك "

أنشدنا الأخفش لعبيد الله بن عبد الله بن طاهر: الطويل

ترى كل ذي جهل إذا زل زلّة … تتايعَ في أمثالها وسما لها

فكن إذا كانت لذي العلم هفوة … تحفظ منها جاهدا واستقالها

قوله تتابع، يقول تهافت فيها وتساقط غير محترز منها، ومنه قول النبي صلى الله عليه وسلم: " تتايعون في الكذب كما يتتايع الفراش في النار " وأنشدنا له ايضا: الطويل

لكل أبي بنت يُرجّى صلاحها … ثلاثة أصهار إذا حُمد الصَّهْرُ

فَبَعْلٌ يوافيها وخِدْر يصونها … وقبرٌ يوافيها وخيرُهُمُ القبر

أخبرنا أبو جعفر أحمد بن محمد بن رستم الطبري. قال حدثنا المازني قال: قرأ محمد بن سليمان الهاشمي وهو أمير البصرة على المنبر " إن الله وملائكته يصلون على النبي " بالرفع فعلم انه قد لحن فبعث إلى النحويين وقال لهم: خرجوا لها وجها، فقالوا نعطف بها على موضع ان لأنها داخلة على المبتدأ والخبر فأجازهم وأحسن صلتهم، ولم يرجع عنها لئلا يقال لحن. اخبرنا الزجاج قال أخبرنا المبرد عن المازني قال حدثني الأخفش قال: كان أمير البصرة قرأ على المنبر " أن الله وملائكته يصلون على النبي " بالرفع فصرت إليه ناصحا له ومنبها فتهددني وأوعدني وقال: تلحنون أمراءكم. ثم عزل وتقلد محمد بن سليمان الهاشمي فكأنه تلقنها من المعزول. فقلت هذا هاشمي ونصيحته واجبة فجبنت وخشيت أن يتلقاني بمثل ما تلقاني به الأول. ثم حملت على نفسي فأتيته فإذا هو في غرفة وعنده أخوه والغلمان على رأسه فقلت له: أصلح الله الأمير جئت لنصيحة.

قال: قل فقلت: هذا، وأومات إلى أخيه فنهض أخوه وتفرق الغلمان: فقلت: أصلح الله الأمير، أنت أهل بيت النبوة ومعدن الرسالة والفصاحة وتقرأ " أن الله وملائكته " بالرفع وهو لحن لا وجه له. فقال: جزاك الله خيرا، فقد نبهت ونصحت فانصرف مشكورا. فلما صرت في نصف الدرجة إذا قائل يقول لي: قف مكانك فوقفت وهمتني نفسي وخفت أن يكون أخوه أغراه بي. فإذا بغلة سفواء وغلام وتخت ثياب، وبدرة، وقائل يقول: هذا لك، وقد أمر به الأمير، فانصرفت مغتبطا.

‌‌شرح المسألة
আল-আখফাশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সা'লাব থেকে, তিনি ইবনুল আরাবি থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: রাস্তা যখন স্পষ্ট হয় তখন তাকে ‘মাহয়া’ (مَهْيَع), ‘ওয়াদিহ’ (واضح), ‘বাইয়িন’ (بيَّن), ‘হান্নান’ (حَنّان), ‘জাদ্দাহ’ (جادة) এবং ‘নাহহাম’ (نَهّام) বলা হয়, তা প্রশস্ত হোক বা সংকীর্ণ। ‘ওয়াজাব’ (الوجب) মানে হলো নির্বোধ ব্যক্তি; আবার ‘ওয়াজাব’ শব্দটি ‘ওয়াজবাহ’ (وجبة) এর বহুবচন, যার অর্থ দিন-রাতের মধ্যে একবার আহার করা। ‘ওয়াজাব’ অর্থ তীরের নিশানায় অগ্রগামী হওয়াও বোঝায়; বলা হয়: ‘ওয়াজাবতু ফুলানান’ (وجبت فلانا), অর্থাৎ আমি তীর নিক্ষেপে তাকে ছাড়িয়ে গেছি। ‘ওয়াজিব’ (الواجب) মানে হলো যা পড়ে যায় (সাকিত); ‘ওয়াজিব’ (الوجيب) অর্থ হলো ভীতি বা শঙ্কার কারণে হৃদপিণ্ডের স্পন্দন। ‘হুসন’ (الحصن) শব্দটি হা (ح) বর্ণে পেশ এবং সোয়াদ (ص) বর্ণে জজমসহ ‘হিসান’ (حصان) শব্দের মাসদার বা মূল ধাতু, যা নারীদের সতীত্বের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। তিনি জনৈক বেদুঈন কিশোরীর উদ্দেশ্যে কবিতাটি পাঠ করেন, যে বাইরে বের হওয়ার পর এক ব্যক্তি তার পিছু নিয়েছিল: আস-সারি ছন্দ

হে মা! আমাকে একজন আরোহী দেখেছে … যে দ্রুতগামী প্রশস্ত পথে চলছিল

আমি তার মুখে ধুলো ছিটিয়ে দিচ্ছিলাম … অনবরত ধুলো ছুড়ে আমি অনুপস্থিত ব্যক্তির মর্যাদা রক্ষা করছিলাম

তার মা জবাবে বললেন: আস-সারি ছন্দ

তোমার সতীত্বই তোমাকে রক্ষা করেছে যখন তারা বলল যে তুমি ধীরস্থির ছিলে … আরোহীর ওপর তোমার ধুলো ছিটানোর মাধ্যমে

বলা হয়: ‘হাসা ফুলানুনাত তুরাবা ইয়াহসু হাসওয়ান’ (حثا فلان التراب يحثو حثوا) এবং ‘হাসা ইয়াহসি হাসইয়ান’ (حثى يحثي حثيا), দীর্ঘ স্বরে এর অর্থ হলো সংকল্প করা এবং উদ্দেশ্য করা। আর ‘তআইয়াইতা’ (تأييت) হ্রস্ব স্বরে এবং তাশদীদসহ এর অর্থ হলো: বিরতি নেওয়া এবং থেমে যাওয়া। এ প্রসঙ্গে পাঠ করা হয়: মাজযুউল কামিল ছন্দ

গৃহদ্বারে দাঁড়িয়ে যাও একজন পরিদর্শকের মতো … এবং থেমে যাও, নিশ্চয়ই তুমি হীন নও

আল-আখফাশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন সা'লাব আবু শাব্বাহ থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইমান ইবনে মুয়ায আব্দুল্লাহ ইবনে তাহিরের কাছে একটি পত্র লিখলেন, যার শুরুতে ছিল: ‘আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন এবং আপনার মাধ্যমে আমাদের উপকৃত করুন’। আব্দুল্লাহ ইবনে তাহির তাকে জবাবে লিখলেন: আল-মানসারিহ ছন্দ

তুমি কি কোনো রাজত্ব পেয়েছ যে তোমার পত্রে অহংকার প্রকাশ পাচ্ছ? … নাকি এটি তোমার চিরচেনা স্বভাবেরই প্রতিফলন?

নাকি তুমি একজন ভাইয়ের সমমর্যাদার মধ্যে … তোমার বংশীয় মর্যাদার কোনো ঘাটতি দেখতে পাচ্ছ?

নিশ্চয়ই একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তির পত্রের সংক্ষিপ্ততা … যার শুরুতে থাকে "আপনার দ্বারা উপকৃত করুন"

তুমি আমার কাছে পত্র লিখতে গিয়ে তোমার হাত দুটিকে ক্লান্ত করেছ … তোমার এই ক্লান্তিবর্ধক কাজটুকুই তোমার জন্য যথেষ্ট

ইয়াহইয়া তাকে জবাবে বললেন: আল-মানসারিহ ছন্দ

আপনি আপনার পত্রের মাধ্যমে এমন এক ভাইয়ের ওপর অপরাধের বোঝা চাপাচ্ছেন … যে আপনার ক্রোধের ভয়ে শিউরে ওঠে

কীভাবে আপনি আমার সম্পর্কে এমন ধারণা করলেন যখন আমি … কোনো অপরাধই করিনি? এটি আপনার এক বিস্ময়কর আচরণ

বন্ধুদের মধ্যকার চিঠিপত্রে "আপনার দ্বারা উপকৃত করুন" ছাড়া … অন্য কোনো দোয়া করা কি জায়েজ নয়?

আল-আখফাশ আমাদের কাছে উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে তাহিরের এই কবিতাটি পাঠ করেছেন: আত-তউইল ছন্দ

তুমি দেখবে প্রত্যেক মূর্খ ব্যক্তি যখন কোনো ভুল করে … সে তার মতো আরও ভুলের দিকে ধাবিত হয় এবং তার জন্য লালায়িত থাকে

তাই কোনো জ্ঞানীর যদি পদস্খলন ঘটে … তবে তুমি সাধ্যমতো তা থেকে বেঁচে থাকো এবং তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো

তাঁর কথা 'তাতায়াউ' (تتايع), এর অর্থ কোনো কিছুতে সতর্কতা অবলম্বন না করে হুমড়ি খেয়ে পড়া বা নিপতিত হওয়া। এরই প্রেক্ষিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "তোমরা মিথ্যার ওপর এমনভাবে হুমড়ি খেয়ে পড় যেমনটি পতঙ্গ আগুনের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ে।" তিনি আমাদের জন্য আরও পাঠ করেছেন: আত-তউইল ছন্দ

প্রত্যেক সেই পিতার জন্য যার কন্যার কল্যাণের আশা করা হয় … প্রশংসিত তিন প্রকারের জামাতা রয়েছে

এক স্বামী যে তাকে সঙ্গ দেয়, এক গৃহকোণ যা তাকে রক্ষা করে … এবং একটি কবর যা তাকে ধারণ করে, আর তাদের মধ্যে কবরই সর্বোত্তম জামাতা

আবু জাফর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে রুস্তম আত-তবারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আল-মাযিনী আমাদের বলেছেন যে: বসরার আমির থাকাকালীন মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমান আল-হাশিমী মিম্বরে দাঁড়িয়ে ‘ইন্নাল্লাহা ওয়া মালাইকাতাহু ইউসাল্লুনা আলান নবী’ (إن الله وملائكته يصلون على النبي) আয়াতটি ‘মালাইকাতুহু’ শব্দটিকে রফ’ (পেশ) দিয়ে পাঠ করলেন। এরপর তিনি বুঝতে পারলেন যে তিনি ব্যাকরণগত ভুল করেছেন। তখন তিনি ব্যাকরণবিদদের কাছে লোক পাঠালেন এবং তাদের বললেন: এর একটি সঠিক ব্যাকরণিক ব্যাখ্যা বের করো। তারা বলল, আমরা এটিকে ‘ইন্না’ (إن)-এর মূল অবস্থানের (মুবতাদা) ওপর ভিত্তি করে সংযোজন (আত্বফ) করব, কারণ ‘ইন্না’ মুবতাদা ও খবরের ওপর প্রবেশ করে। তিনি তাদের এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করলেন এবং তাদের উত্তম উপঢৌকন দিলেন। তিনি নিজের পাঠ সংশোধন করলেন না যাতে লোকে বলতে না পারে যে তিনি ভুল করেছিলেন। আল-যাজ্জাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আল-মুবররাদ থেকে, তিনি আল-মাযিনী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: আল-আখফাশ আমাকে বলেছেন: বসরার আমির মিম্বরে ‘ইন্নাল্লাহা ওয়া মালাইকাতুহু’ (পেশ দিয়ে) পাঠ করেছিলেন। আমি হিতাকাঙ্ক্ষী ও সতর্ককারী হিসেবে তার কাছে গেলাম, কিন্তু তিনি আমাকে হুমকি ও ধমক দিলেন এবং বললেন: তোমরা তোমাদের আমিরদের ভুল ধরো! এরপর তাকে বরখাস্ত করা হয় এবং মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমান আল-হাশিমী স্থলাভিষিক্ত হন। মনে হচ্ছিল তিনি পূর্ববর্তী আমিরের কাছ থেকেই এই ভুল পাঠটি শিখেছিলেন। আমি মনে মনে ভাবলাম, তিনি হাশিমী বংশের লোক এবং তাকে নসিহত করা আমার কর্তব্য, কিন্তু আমি ভয় পাচ্ছিলাম যে তিনিও আগের আমিরের মতো আচরণ করেন কি না। এরপর আমি সাহস সঞ্চয় করে তার কাছে গেলাম। দেখলাম তিনি একটি কক্ষে আছেন, তার সাথে তার ভাই এবং শিয়রে ভৃত্যরা দাঁড়িয়ে আছে। আমি বললাম: আল্লাহ আমিরকে সংশোধন করুন, আমি একটি নসিহত নিয়ে এসেছি।

তিনি বললেন: বলো। আমি তার ভাইয়ের দিকে ইশারা করলে তার ভাই উঠে গেলেন এবং ভৃত্যরা সরে গেল। আমি বললাম: আল্লাহ আমিরকে সংশোধন করুন, আপনারা হলেন নবুওয়তের ঘরানার লোক, রিসালাত ও প্রাঞ্জল ভাষার খনি; অথচ আপনি ‘ইন্নাল্লাহা ওয়া মালাইকাতুহু’ রফ’ বা পেশ দিয়ে পাঠ করছেন, যা একটি ব্যাকরণগত ভুল এবং এর কোনো সঠিক ভিত্তি নেই। তিনি বললেন: আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন, আপনি আমাকে সতর্ক করেছেন এবং সঠিক পরামর্শ দিয়েছেন। আপনি কৃতজ্ঞতার সাথে বিদায় নিন। আমি যখন সিঁড়ির অর্ধেক পথ অতিক্রম করেছি, তখন কেউ একজন আমাকে বলল: আপনার জায়গায় দাঁড়িয়ে যান। আমি দাঁড়িয়ে গেলাম এবং মনে মনে শঙ্কিত হলাম যে হয়তো তার ভাই তাকে আমার বিরুদ্ধে প্ররোচিত করেছে। হঠাৎ দেখলাম একটি দ্রুতগামী খচ্চর, একজন ভৃত্য, এক সিন্দুক কাপড় এবং মুদ্রার একটি তোড়া নিয়ে আসা হয়েছে। লোকটা বলল: এগুলো আপনার জন্য, আমির এগুলো আপনাকে দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন। আমি অত্যন্ত আনন্দিত চিত্তে ফিরে এলাম।

‌‌মাসআলার ব্যাখ্যা
(খণ্ড: ১) আখবারু আবিল কাসিম আয-যুজ্জাজি (পৃষ্ঠা: ৩)
اعلم أنك إذا قلت: " إن زيدا قائم وعمرو " كان لك في المعطوف وجهان النصب عطفا على اسم إن كقولك أن زيدا قائم وعمرا. ويرفع من ثلاثة أوجه، أحدها عطفاً على المضمر في الخبر، والآخر تعطفه على موضع إن، والعطف حملا على المعنى جائز بعد إتمام الكلام، والثالث أن ترفعه بالابتداء وتضمر له مثل الخبر المقدم. فهذا متفق عليه لا خلاف فيه وعلى ذلك قريء " إن الله بريء من المشركين ورسوله " بالرفع والنصب. ونظير النصب قول الشاعر: الرجز

إن الربيع الجودَ والخريفا … يدا أبي العباس والصُّيوفا

فعطف الصيوف على الربيع بعد الخبر، فإذا عطفت على اسم إن قبل الخبر لم يكن إلا النصب كقولك: إن زيدا وعمرا قائمان، ولو عطفت على موضع إن فقلت: إن زيدا وعمرو قائمان لم يجز لأن الحمل على المعنى إنما يكون بعد تمام الكلام. فهذا نظير قوله " إن الله وملائكته " بالرفع. وقد أجازه بعض الكوفيبن، والسبب فيه الخبر الذي تقدم ذكره ولكن يجوز أن يؤخر الخبر وينصب المعطوف عليه وترفعه على أن تنوي التأخير فتقول: إن زيدا وعمرا قائم، والتقدير إن زيد، قائم وعمرا، ثم قدمت على هذا التأويل. وإن شئت قلت: إن زيدا قائم، والتقدير: إن زيدا قائم، ثم قدمت. فعلى ذلك ينشد: الطويل

فَمَنْ يكْ أمسى بالمدينة رحلة … فانّي وقياراً بهاراً لَغَريبُ

برفع قيار ونصبه، وقيار اسم جحله.

أخبرنا ابن دريد قال أخبرنا أبو حاتم عن أبي عبيدة قال: كانت امرأة من العرب ذات مال وجمال ولسن، فآلت على نفسها إن لا تزوج نفسها إلا ممن يحاجها فقطعت حماقة فتحاماها الناس حتى انتدب لها رجل فجاء فوقف ببابها فقالت له: ممن أنت؟ قال: بشر ولد صغيرا، ونشأ كبيرا. قالت: فأين بلدك؟ قال: على بساط شاسع في بلد واسع قريب بعيد وبعيد قريب. قالت: فما اسمك، قال: من أراد اتخذ اسما ولم يكن ذلك عليه رجما. قالت: كأنه لا حاجة لك؟ قال: لو لم تكن لي حاجة لم أقف ببابك، واتصل بأسبابك، وأتعرض لخطابك. قالت: أسر حاجتك أم جهر؟ قال: سر ومستعلن. قالت كأنك خاطب؟ قال: هو ذاك. قالت حاجتك؟ قال: قولي؟ قالت: عجبت، قال: عجبت من السبخة لا يجف ثراها ولا ينبت مرعاها، قالت: عجبت؟ قال: عجبت من الحجارة لا يهرم كبارها ولا يكبر صغارها، قالت: عجبت، قال: عجبت من طالب العلم لا يبلغ منتهاه ولا يقضي مناه قال: عجبت لجوباء بين رجليك لا يمل حفرها ولا يبلغ قعرها، قالت: قضيت حاجتك. قال: شكرت.

أخبرنا نفطويه قال أخبرنا محمد بن الحسن الحنيني قال حدثنا أحمد ابن المفضل عن أسباط عن السدّى فهي قوله تعالى " أتدعون بَعْلا " قال ربا. وهكذا جاء في هذا الخبر. قال الشيخ: والمعروف عند أهل اللغة إن البَعْل: الصنم فجاز لأنهم كانوا يعبدونه كما يعبدون الرب عز وجل، والبعل: الزوج والبعال: النكاح، والبعل أيضا: النخل الذي يشرب بعروقه ويستغني عن السقاء وإياه عنى الشاعر بقوله الطويل

من الواردات الماء بالقاع تستقي … بأذنابها قبل استقاء الحناجر

والبعل أيضا: الرجل الذي يكون كّلا على أهله، فأما البَعَل بفتح الباء والعين فالتحيّر، يقال بعل بأمره يبعل بعلا: إذا تحير.

أخبرنا نفطويه قال حدثني الحنيني قال حدثني احمد بن المفضل عن أسباط عن السدى في قوله تعالى (وأنّا لنحن الصافون) قال: يعني الصلاة، وذكر السني عن عبد الله قال: ما في السماء موضع شبر إلا وعليه جبهة ملك أو قدماه ساجدا أو راكعا أو قائما، وتلا عبد الله " وأنّا لنحن الصافون) (وأنا لنحن المسبّحون) .

أخبرنا ابن دريد قال أخبرنا أبو حاتم عن أبي عبيدة قال: كتب معاوية إلى عبادة بن الصامت: إن أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم قد اجتمعوا علي فاكتب إلي ببيعتك وزوج يزيد ابنتك، فكتبت إليه عبادة: لو اجتمعت أمة محمد صلى الله عليه وسلم على عبد حبشي لسمعت وأطعت وقد كتبت إليك ببيعتي، فأما تزويج يزيد ابنتي فقد كتبت إليك بيتين فاسمعهما وهما: الطويل

ولو أن نفسي طاوعتني لأصبحت … لها حَفدٌ ممّا يعدّ كثير

ولكنها نفسي علي كريمة … عيوف لأصهار اللئام قدور
জেনে রাখুন যে, আপনি যখন বলবেন: "ইন্না যায়দান কায়িমুন ওয়া আমরু" (নিশ্চয়ই যায়েদ দণ্ডায়মান এবং আমরও), তখন আতফ (সংযোজন)-এর ক্ষেত্রে আপনার জন্য দুটি দিক রয়েছে। প্রথমটি হলো ‘ইন্না’-এর ইসিমের ওপর আতফ করে নসব (জবর) প্রদান করা, যেমন আপনার উক্তি: "ইন্না যায়দান কায়িমুন ওয়া আমরান"। আর তিনটি কারণে এটি রাফা (পেশ) প্রাপ্ত হতে পারে; তার একটি হলো খবরের মধ্যে থাকা উহ্য সর্বনামের ওপর আতফ করা। দ্বিতীয়টি হলো, আপনি একে ‘ইন্না’-এর আদি স্থানের (মুবতাদা) ওপর আতফ করবেন; আর বাক্য পূর্ণ হওয়ার পর অর্থের ওপর ভিত্তি করে আতফ করা বৈধ। তৃতীয়টি হলো, আপনি একে ইবতিদা (শুরু) হিসেবে রাফা প্রদান করবেন এবং এর জন্য পূর্ববর্তী খবরের ন্যায় একটি খবর উহ্য রাখবেন। এটি একটি সর্বসম্মত বিষয় এবং এতে কোনো মতভেদ নেই। আর এর ওপর ভিত্তি করেই "ইন্না আল্লাহা বারীউম মিনাল মুশরিকীনা ওয়া রাসুলুহু" আয়াতটিতে রাফা ও নসব উভয় কিরাআত পাঠ করা হয়েছে। নসবের অনুরূপ হলো কবির উক্তি: (রজজ ছন্দ)

নিশ্চয়ই দানশীল বসন্ত ও শরৎকাল … আবুল আব্বাসের দুহাত ও গ্রীষ্মকাল

এখানে খবরের পরে ‘সুয়ূফ’ (গ্রীষ্মকাল) শব্দটিকে ‘রবী’ (বসন্ত) শব্দের ওপর আতফ করা হয়েছে। কিন্তু আপনি যদি খবরের পূর্বে ‘ইন্না’-এর ইসিমের ওপর আতফ করেন, তবে নসব ছাড়া অন্য কিছু হবে না, যেমন আপনার উক্তি: "ইন্না যায়দান ওয়া আমরান কায়িমানি"। আর আপনি যদি ‘ইন্না’-এর আদি স্থানের ওপর আতফ করে বলেন: "ইন্না যায়দান ওয়া আমরু কায়িমানি", তবে তা জায়িয হবে না; কারণ অর্থের ওপর ভিত্তি করে পরিবর্তন কেবল বাক্য পূর্ণ হওয়ার পরেই সম্ভব হয়। এটি "ইন্না আল্লাহা ওয়া মালাইকাতাহু" বাক্যে রাফা পড়ার অনুরূপ। কোনো কোনো কুফিবাসী ব্যাকরণবিদ এটিকে বৈধ বলেছেন এবং এর কারণ হিসেবে পূর্বে উল্লেখিত খবরের কথা বলেছেন। তবে খবরকে বিলম্বে আনা এবং যার ওপর আতফ করা হয়েছে তাকে নসব প্রদান করা বৈধ, আর আপনি তাকে রাফা প্রদান করবেন এই নিয়তে যে তাকে পরে আনা হবে; তখন আপনি বলবেন: "ইন্না যায়দান ওয়া আমরান কায়িমুন", আর এর বিশ্লেষণ হবে "ইন্না যায়দুন কায়িমুন ওয়া আমরান", অর্থাৎ এই ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে শব্দটিকে আগে আনা হয়েছে। আপনি চাইলে বলতে পারেন: "ইন্না যায়দান কায়িমুন", আর এর বিশ্লেষণ হবে: "ইন্না যায়দান কায়িমুন", এরপর তাকে আগে আনা হয়েছে। সেই নিয়মেই আবৃত্তি করা হয়: (তবীল ছন্দ)

যার সফরের প্রস্তুতি মদিনায় সম্পন্ন হয়েছে … আমি এবং কাইয়ার সেখানে অবশ্যই আগন্তুক

এখানে ‘কাইয়ারা’ শব্দটিকে রাফা ও নসব উভয়ভাবেই পড়া হয়েছে, আর কাইয়ারা হলো তার ঘোড়ার নাম।

ইবনে দুরাইদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আবু হাতেম আমাদের আবু উবাইদাহর সূত্রে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আরবদের মধ্যে এক নারী ছিলেন যিনি ধন-সম্পদ, সৌন্দর্য ও বাগ্মিতার অধিকারিণী ছিলেন। তিনি নিজের ওপর এই কসম করেছিলেন যে, যে ব্যক্তি তার সাথে তর্কে জয়ী হতে পারবে কেবল তাকেই তিনি বিবাহ করবেন, নতুবা তিনি একাকী থাকবেন। তার এই কঠোরতার কারণে মানুষ তাকে এড়িয়ে চলত। শেষ পর্যন্ত এক ব্যক্তি তার আহবানে সাড়া দিলেন এবং তার দরজায় এসে দাঁড়ালেন। নারী তাকে জিজ্ঞেস করলেন: আপনি কে? তিনি বললেন: একজন মানুষ যে ছোট হয়ে জন্মেছে এবং বড় হয়ে বেড়ে উঠেছে। নারী জিজ্ঞেস করলেন: আপনার দেশ কোথায়? তিনি বললেন: একটি বিশাল গালিচার ওপর, যা এক প্রশস্ত দেশে অবস্থিত, যা কাছে হয়েও দূরে এবং দূরে হয়েও কাছে। নারী জিজ্ঞেস করলেন: আপনার নাম কী? তিনি বললেন: যে চায় সে একটি নাম গ্রহণ করে নেয়, আর নাম রাখা তো কোনো পাথর নিক্ষেপ নয়। নারী বললেন: মনে হচ্ছে আপনার কোনো প্রয়োজন নেই? তিনি বললেন: যদি আমার প্রয়োজন না থাকত তবে আমি আপনার দরজায় দাঁড়াতাম না, আপনার উসিলায় যুক্ত হতাম না এবং আপনার কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিতাম না। নারী জিজ্ঞেস করলেন: আপনার প্রয়োজন কি গোপন না প্রকাশ্য? তিনি বললেন: গোপন এবং প্রকাশ্য উভয়ই। নারী বললেন: আপনি কি তবে পাণিপ্রার্থী? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তাই। নারী বললেন: আপনার প্রশ্নগুলো করুন? তিনি বললেন: আমি অবাক হয়েছি। নারী বললেন: কীসে? তিনি বললেন: আমি সেই লোনা জমি দেখে অবাক হয়েছি যার আর্দ্রতা শুকায় না এবং যার চারণভূমিতে ঘাস জন্মে না। নারী বললেন: আমি অবাক হয়েছি? তিনি বললেন: আমি পাথর দেখে অবাক হয়েছি যার বড়গুলো বৃদ্ধ হয় না এবং ছোটগুলো বড় হয় না। নারী বললেন: আমি অবাক হয়েছি? তিনি বললেন: আমি জ্ঞান অন্বেষণকারীকে দেখে অবাক হয়েছি যে এর শেষ সীমায় পৌঁছাতে পারে না এবং নিজের আকাঙ্ক্ষাও পূর্ণ করতে পারে না। তিনি আরও বললেন: আমি আপনার দুই পায়ের মাঝখানের গর্ত দেখে অবাক হয়েছি যা খনন করে ক্লান্ত হওয়া যায় না এবং যার তলায় পৌঁছানো যায় না। নারী বললেন: আপনার প্রয়োজন পূর্ণ হয়েছে (অর্থাৎ আমি রাজি)। তিনি বললেন: আমি কৃতজ্ঞ হলাম।

নাফতাওয়াইহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আল-হুনাইনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আহমদ ইবনুল মুফাদ্দাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আসবাত থেকে, তিনি সুদ্দী থেকে আল্লাহ তাআলার বাণী "তোমরা কি বালের উপাসনা করো?" সম্পর্কে বর্ণনা করেন যে, তিনি (সুদ্দী) বলেছেন: ‘বাল’ অর্থ হলো প্রতিপালক। এই সংবাদ (خبر)-টিতে এভাবেই এসেছে। শায়খ বলেন: ভাষা বিশেষজ্ঞদের নিকট প্রসিদ্ধ এই যে, ‘বাল’ অর্থ হলো প্রতিমা; এটি এ কারণে হতে পারে যে তারা প্রতিমার ইবাদত করত যেভাবে মহান প্রতিপালক আজ্জা ওয়া জাল্লা-র ইবাদত করা হয়। আবার ‘বাল’ অর্থ হলো স্বামী, আর ‘বিআল’ অর্থ হলো সহবাস। ‘বাল’ সেই খেজুর গাছকেও বলা হয় যা তার শিকড় দিয়ে পানি পান করে এবং সেচ দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। এ অর্থেই কবি তার উক্তিতে বলেছেন: (তবীল ছন্দ)

ঐ সমস্ত উট যারা সমতলের জলাধারে পানি পান করতে আসে … যারা কণ্ঠনালী দিয়ে পানি পান করার আগেই লেজ দিয়ে সিঞ্চন করে

আর ‘বাল’ সেই ব্যক্তিকেও বলা হয় যে তার পরিবারের ওপর বোঝা হয়ে থাকে। আর যদি বা (ب) এবং আইন (ع) বর্ণে ফাতহা (জবর) দিয়ে ‘বা’আল’ (بَعَل) বলা হয়, তবে তার অর্থ হলো বিভ্রান্ত হওয়া। বলা হয়: ‘বা’আলা বি-আমরিহি ইয়াব’আলু বা’আলান’, অর্থাৎ যখন সে তার কাজে বিভ্রান্ত হয়।

নাফতাওয়াইহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আল-হুনাইনি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন: আহমদ ইবনুল মুফাদ্দাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني) আসবাত থেকে, তিনি সুদ্দী থেকে আল্লাহ তাআলার বাণী "আর নিশ্চয়ই আমরা কাতারবদ্ধ হয়ে দণ্ডায়মান" সম্পর্কে বলেছেন যে, এর অর্থ হলো নামাজ। আস-সুন্নি আব্দুল্লাহর সূত্রে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আসমানে এক বিঘত পরিমাণ জায়গাও নেই যেখানে কোনো ফেরেশতার কপাল অথবা তার দুই পা সিজদাবনত, রুকুকারীবস্থায় অথবা দণ্ডায়মান অবস্থায় নেই। অতঃপর আব্দুল্লাহ তিলাওয়াত করলেন: "আর নিশ্চয়ই আমরা কাতারবদ্ধ হয়ে দণ্ডায়মান" এবং "আর নিশ্চয়ই আমরা পবিত্রতা ঘোষণা করি"।

ইবনে দুরাইদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আবু হাতেম আবু উবাইদাহর সূত্রে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: মুয়াবিয়া উবাদাহ বিন সামিতের কাছে লিখলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ আমার বিষয়ে একমত হয়েছেন, সুতরাং আপনি আপনার বাইআত লিখে পাঠান এবং আপনার কন্যাকে ইয়াজিদের সাথে বিবাহ দিন। উবাদাহ তাকে লিখে পাঠালেন: যদি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মত কোনো হাবশি দাসের ওপরও একমত হয়, তবে আমি অবশ্যই শুনব ও আনুগত্য করব। আমি আপনার কাছে আমার বাইআত লিখে পাঠিয়েছি। আর ইয়াজিদের সাথে আমার কন্যার বিবাহের বিষয়ে আমি আপনার কাছে দুটি কাব্য চরণ লিখছি, আপনি সেগুলো শুনুন: (তবীল ছন্দ)

যদি আমার প্রবৃত্তি আমার অনুগত হতো, তবে দেখা যেত … তার অনেক অনুসারী রয়েছে যাদের সংখ্যা গণনা করা যায় না

কিন্তু আমার আত্মা আমার কাছে অত্যন্ত সম্মানিত … যা নিচ লোকেদের সাথে আত্মীয়তা করতে বিমুখ ও বিরত।
(খণ্ড: ১) আখবারু আবিল কাসিম আয-যুজ্জাজি (পৃষ্ঠা: ৪)
أخبرنا ابن دريد قال حدثنا أبو عثمان الأشنانداني قال اخبرنا عمارة ابن عقيل بن بلال بن جرير قال: كانت أسماء بنت مطرف بن أبان من بني أبي بكر بن كلاب لسنة لذاعة اللسان فنزلت برجل من بني نصر بن معاوية ثم من بي كلفة فلم يقرها فقالت فيه: الطويل

سرت بي فتلا الذراعين حرة … إلى ضوء نار بيبن فردة والجزر

سرت ما سرت من ليلها ثم عرّست … على كلفيّ لا يصليّ ولا يقري

فكن حجرا لا تطعم الدهر قطرة … إذا كنت ضيفا نازلا في بني نصر

وقالت فيه أيضا: الطويل

سرينا وإعفاء من الرمل دوننا … إلى ناره وهنا من الليل تلمح

فبات ابن شماخ يفسخ عجوة … ولم يسقنا غير السّمار المضيّح

قال: السمار: اللبن، والمضيح: الكثير المزج ومنه قول الآخر: الرجز

حتى إذا جنّ الظلام المختلط … جاءوا بضيح هل رأيت الذئب قط

يقول: جاعوا بلبن قد اكثر مزجه بالماء حتى اغبر لونه فصار كلون الذئب. وقولها: " فكن حجرا لا تطعم الدهر قطرة "، فإنه يقال طعمت في الطعام والشراب والنوم، وقال الله تعالى: ومن لم يطعمه فإنه مني. وقال تعالى: (لا يذوقون فيها بردا ولا شرابا) . قال العلماء: البرد: النوم الكثير. ومن كلام العرب: منعني البرد البرد أي منعني البرد من النوم.

اخبرنا الأخفش عن ثعلب عن ابن الأعرابي قال: نقول العرب نظرت بعيني، ونظرت بمعنى انتظرت.

فنظرت: رحمت، ونظرت، تفكرت، وأنظرت الرجل: أخرته، وأنظرت الرجل: جعلته ينتظرني.

قال: والتراب جمع واحدة ترابة والنسب إليه ترابي، وينشد: الطويل

وقالوا ترابي فقلت: صدقتم … أبي من تراب خَلقْهٌ الله آدما

أراد خلقه فأسكن اللام. وفي نصب آدم وجهان، أحدهما إن يكون بدلا من الهاء في خلقه للإيضاح والتبيين، والآخر أن نصبه بإضمار أعني. أنشدنا الأخفش قال أنشدنا ثعلب قال: قرأت بخط إسحاق بن إبراهيم الموصلي لعجير السلولي: الطويل

أجارى ما أزداد إلا صبابة … إليك وما تزداد إلا تنائيا

أجارى لو نفس فدت نفس ميت … فديتك مسرورا بأهلي وماليا

وقد كنت أرجو أن أملاك حقبة … فحال قضاء الله دون رجائيا

ألا ليمت من شاء بعدك إنما … عليك من الأيام كان حداديا

أخذ معنى البيت الأخير أبو نواس فقال يرثي الأمين: الطويل

طوى الموت ما بيني وبين محمد … وليس لما تطوى المنية ناشر

لئن عمّرت دور بمن لا أحبه … فقد عمّرت ممن أحب المقابر

وكنت عليه أخذر الموت وحده … فلم يبق لي شيء عليه أحاذر

وقال أيضا: مجزوء الكامل

كنت السواد لمقلة … فعليك يبكي الناطر

من شاء بعدك فليمت … فعليك كنت أحاذر

أنشدنا الأخفش للنابغة: الوافر

فإني لا ألومك في وصول … ولكن ما وراءك يا عصام

ألم أقسم عليك لتخبرني … أمحمول على النعش الهمام

فإن يهلك أبو قابوس يهلك … ربيع الناس والشهر الحرام

ونأخذ بعده بذناب عيش … أجب الظهر ليس له سنام

أما عصام فحاجب النعمان. يقول: لا ألومك إن منعتني الوصول إليه ولكن عرفني خبره. وكان الملك إذا مرض يجعل في سرير ويحمل على أعناق الرجل يعلل بذلك ويقولون هو أرفه له.

وأما قوله:

ونأخذ بعده بذناب عيش
ইবনে দুরাইদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আবু উসমান আল-উশনানদানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: উমারা ইবনে আকীল ইবনে বিলাল ইবনে জারির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেছেন: বনু আবি বকর ইবনে কিলাব গোত্রের আসমা বিনতে মুতাররিফ ইবনে আবান ছিলেন অত্যন্ত ক্ষুরধার রসনা সম্পন্ন নারী। তিনি বনু নাসর ইবনে মুয়াবিয়া গোত্রের জনৈক ব্যক্তির নিকট, অতঃপর বনু কুলফাহ গোত্রের একজনের নিকট অতিথি হিসেবে আসলেন, কিন্তু সে তাকে আতিথেয়তা প্রদান করল না। তখন তিনি তার সম্পর্কে আত-তাবিল ছন্দে বললেন:

এক সুঠাম বাহুবিশিষ্ট স্বাধীন নারী আমাকে নিয়ে রাতের আঁধারে পথ চলল … ফারদাহ ও আল-জাযরের মধ্যবর্তী অগ্নির আভার দিকে।

সে তার রাতের যতটুকু পথ চলার চলল, অতঃপর বিশ্রাম নিল … এক কুলফি ব্যক্তির নিকট যে সালাত আদায় করে না এবং মেহমানদারিও করে না।

অতঃপর তুমি এমন এক পাথর হয়ে যাও যা যুগে যুগে এক ফোঁটাও আস্বাদন করে না … যখন তুমি বনু নাসর গোত্রে অতিথি হিসেবে অবতরণ করবে।

তিনি তার সম্পর্কে আরও বললেন:

আমরা পথ চললাম যখন আমাদের সামনে বালুকাময় মরুভূমির ক্লান্তি ছিল … রাতের গভীরে তার আগুনের দিকে যা দূর হতে দেখা যাচ্ছিল।

ইবনে শামমাখ সারা রাত আঝওয়া খেজুর পিষে কাটাল … আর আমাদের অত্যন্ত পাতলা দুধ ব্যতীত কিছুই পান করাল না।

তিনি বলেন: আস-সাম্মার (السمار) অর্থ হলো দুধ, আর আল-মুদাইয়্যিহ (المضيح) হলো অধিক পানি মিশ্রিত পানীয়। এ প্রসঙ্গে অন্য কবির আর-রাজায ছন্দের উক্তিটি প্রণিধানযোগ্য:

অবশেষে যখন ঘনীভূত অন্ধকার ছেয়ে গেল … তারা এক পাতলা পানীয় নিয়ে এলো; তুমি কি কখনো নেকড়ে দেখেছ?

কবি বলতে চেয়েছেন: তারা এমন দুধ নিয়ে এলো যাতে এত অধিক পানি মেশানো হয়েছে যে তার বর্ণ ধূসর হয়ে গেছে, ফলে তা দেখতে নেকড়ের বর্ণের মতো হয়ে গেছে। আর কবির উক্তি: "অতঃপর তুমি এমন এক পাথর হয়ে যাও যা যুগে যুগে এক ফোঁটাও আস্বাদন করে না", এ প্রসঙ্গে বলা হয় যে, আহার (ত্বআম), পানীয় এবং নিদ্রার ক্ষেত্রে 'ত্ব'আমতু' (طعمت) শব্দটি ব্যবহৃত হয়। মহান আল্লাহ বলেন: "আর যে তা আস্বাদন (لم يطعمه) করবে না, সে আমার দলভুক্ত।" আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "সেখানে তারা কোনো শীতলতা (برد) কিংবা পানীয় আস্বাদন করবে না।" উলামায়ে কিরাম (বিদ্বানগণ) বলেন: আল-বারদ (البرد) অর্থ হলো অধিক নিদ্রা। আরবদের কথায় আছে: 'মানানি আল-বারদু আল-বারদা' অর্থাৎ শৈত্য আমাকে নিদ্রা হতে বিরত রেখেছে।

আল-আখফাশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ছা'লাব থেকে, তিনি ইবনুল আরাবি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: আরবরা বলে 'নজারতু বি-আইনি' (আমি স্বচক্ষে দেখেছি), আবার 'নজারতু' (نظرت) শব্দটি 'ইনতাজারতু' (আমি অপেক্ষা করেছি) অর্থেও ব্যবহৃত হয়।

আবার 'ফানা-জারতু' (فنظرت) অর্থ হলো: আমি দয়া করলাম; 'নজারতু' (نظرت) অর্থ: আমি চিন্তা করলাম। আর 'আনজারতু আর-রাজুলা' (أنظرت الرجل) অর্থ হলো: আমি লোকটিকে অবকাশ বা বিলম্ব প্রদান করলাম; এবং 'আনজারতু আর-রাজুলা' অর্থ: আমি তাকে আমার জন্য অপেক্ষা করতে বাধ্য করলাম।

তিনি বলেন: 'আত-তুরাব' (التراب - মাটি) হলো বহুবচন, এর একবচন হলো 'তুরাবাহ' (ترابة), আর এর বিশেষণ হলো 'তুরাবি' (ترابي)। কবি ছন্দবদ্ধভাবে বলেন:

তারা বলল সে তুরাবি (মাটির তৈরি), আমি বললাম: তোমরা সত্য বলেছ … আমার পিতা মাটি থেকেই, যাকে আল্লাহ আদম হিসেবে সৃষ্টি করেছেন।

তিনি 'খালাকাহু' (خلقه) বুঝিয়েছেন, কিন্তু ছন্দের প্রয়োজনে 'লাম' (ل) অক্ষরটিকে সাকিন করে পড়েছেন। 'আদম' (آدم) শব্দটিকে নসব (জবর) প্রদানের ক্ষেত্রে দুটি দিক রয়েছে: একটি হলো এটি 'খালাকাহু' শব্দের 'হু' (ه) সর্বনাম থেকে বদল (بدل) বা স্থলাভিষিক্ত হয়েছে বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য; অন্যটি হলো এটি 'আ’নি' (অর্থাৎ আমি বুঝিয়েছি) শব্দটিকে ঊহ্য রাখার কারণে মানসুব হয়েছে। আল-আখফাশ আমাদের শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ছা'লাব আমাদের শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আল-মাওসিলির হস্তাক্ষরে উজাইর আস-সালুলির এই কবিতাটি পড়েছি:

হে আমার প্রতিবেশী! তোমার প্রতি আমার অনুরাগ কেবল বৃদ্ধিই পাচ্ছে … আর তুমি কেবল দূরেই সরে যাচ্ছ।

হে প্রতিবেশী! যদি কোনো প্রাণ কোনো মৃত প্রাণের বিনিময়ে উৎসর্গ করা যেত … তবে আমি আমার পরিবার ও সম্পদসহ সানন্দে তোমার জন্য উৎসর্গ হতাম।

আমি আশা করেছিলাম যে দীর্ঘকাল তোমার সাথে জীবন কাটাব … কিন্তু আল্লাহর ফয়সালা আমার আশার মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াল।

জেনে রেখো, তোমার পরে যার ইচ্ছা সে মৃত্যুবরণ করুক, কেবল তোমার বিয়োগেই … আমার দিনগুলো শোকাতুর হয়ে থাকবে।

শেষোক্ত বাইত বা চরণের অর্থটি আবু নুওয়াস গ্রহণ করেছেন এবং আমিনের শোকগাথায় তিনি বলেছেন:

মৃত্যু আমার এবং মুহাম্মদের মাঝখানের সম্পর্ককে গুটিয়ে নিয়েছে … আর মৃত্যু যা গুটিয়ে নেয়, তা উন্মোচন করার কেউ নেই।

যাদের আমি ভালোবাসি না, তাদের দ্বারা যদি ঘরগুলো আবাদ থাকে … তবে যাদের আমি ভালোবাসি, তাদের দ্বারা তো কবরস্থান আবাদ হয়ে গেছে।

আমি তার জন্য কেবল মৃত্যুর ভয়ই পেতাম … এখন তার জন্য আমার আর কোনো ভয় অবশিষ্ট নেই।

তিনি আরও বলেছেন:

তুমি ছিলে চোখের মণির কৃষ্ণ অংশ … তাই আজ তোমার জন্য দর্শক কাঁদছে।

তোমার পরে যার ইচ্ছা সে মরুক … আমি কেবল তোমার জন্যই ভীত ছিলাম।

আল-আখফাশ আমাদের নিকট আন-নাবিগাহর কবিতা পাঠ করেছেন:

আমি তোমার কাছে পৌঁছাতে পারি না বলে তোমাকে দোষ দিই না … কিন্তু তোমার পেছনে সংবাদ কী হে ইসাম?

আমি কি তোমাকে শপথ দিয়ে বলিনি আমাকে খবর দেওয়ার জন্য … সেই মহান নেতা কি তবে লাশের খাটিয়ায় শায়িত?

যদি আবু কাবুস ধ্বংস হয়ে যায়, তবে মানুষের বসন্তকাল … এবং পবিত্র মাসও যেন বিলুপ্ত হয়ে গেল।

আমরা তার পরে জীবনের এমন এক লেজের অগ্রভাগ আঁকড়ে ধরব … যার পিঠ খর্বাকৃতি এবং কোনো কুঁজ নেই।

ইসাম (عصام) ছিলেন নু'মানের দ্বাররক্ষী। কবি বলছেন: তোমার নিকট পৌঁছাতে পারছি না বলে আমি তোমাকে দোষ দিচ্ছি না, বরং তার খবর আমাকে জানাও। নিয়ম ছিল যে, রাজা যখন অসুস্থ হতেন, তাকে খাটিয়ায় শোয়ানো হতো এবং লোকেরা তাকে কাঁধে করে বহন করত যাতে তিনি আরাম বোধ করেন।

আর কবির উক্তি:

আমরা তার পরে জীবনের এমন এক লেজের অগ্রভাগ আঁকড়ে ধরব...
(খণ্ড: ১) আখবারু আবিল কাসিম আয-যুজ্জাজি (পৃষ্ঠা: ৫)
فيجوز فيه الرفع والنصب والجزم، وأما الجزم فعلى العطف على قوله: يهلك ربيع الناس، والرفع على القطع والابتداء، والنصب بالصرف على إضمار إن، وكذلك كل معطوف بعد جواب الجزاء من الأفعال المستقبلة يجوز فيه هذه الثلاثة الأوجه، ومثله قوله (إن تبدوا ما في أنفسكم ألو تخفوه يحاسبكم به الله فيغفر لمن يشاء ويعذب من يشاء) . يجوز في " يعذب " الأوجه الثلاثة التي ذكرناها في قوله " أجَبِّ الظهر " يعني مقطوع الظهر. وهذا تمثيل وتشبيه. ويروى " أجَبَّ الظهرَ " بخفضها جميعا على إضافة أجب إلى الظهر، ويروى " اجَبَّ الظهرَ " بفتح أجب ونصب الظهر على إن يكون موضع أجب خفضا، ولكنه لا ينصرف. وينصب الظهر على التشبيه بالمفعول به ويضمر في أجب الفاعل كأنه قال أجب الظهر بالتنوين ثم منعه من التنوين لأنه لا يصرف، وهو في تقدير قولك " مررت برجل حسن الوجه، وكثير المال، وطيب العيش ".

ويروى " أجَبِّ الظهرُ " بفتح أجب على أنه في موضع خفض فرفع الظهر به كأنه قال " أجب ظهره " فأهل الكوفة يجعلون الألف واللام عقيب الإضافة، وأهل البصرة يضمرون ما يعلق الذكر بالأول، وتقديره عندهم: أجب الظهر منه.

أخبرنا ابن الأنباري قال حدثنا إدريس بن عبد الكريم أبو الحسن المعري قال حدثنا أبو الأحوص محمد بن حيان البغوي قال حدثنا الزمخي بن خالد عن ابن جريح عن قول الله عز وجل (أتبنون بكل ربع آية تعبثون) . قال: بزوجا.

أخبرنا الزجاج وابن الخياط عن الحسن بن الطيان عن ابن السكيت قال محمد بن عقيل وبلال بن جرير الربع: الجبل. وقال غيره من أصحاب اللغة: الربع: ما ارتفع من الأرض.

قال ابن الأنباري أخبرني أبي عن نصر بن داود عن أبي عبيد القاسم بن سلام قال يقال: أخدجت الناقة: إذا ألقت ولدها ناقص الخلق، وإن كان لتمام وقت الحمل فهي مخدج: والولد مخدج. وخدجت الناقة: إذا ألقت ولدها قبل تمام وقت الخلق وان كان تام الخلق فهي خادج والولد خديج ومخدوج.

قال أبو الانباري وأخبرنا ثعلب عن سلمة عن الفراء قال، يقال: اخدجت وخدجت بعنى واحد: وحكى الكسائي وحده خدجت بكسر الدال، قال أبو القاسم: أصل الخداج: النقصان في الخلق كان أو في العدة ولكن فرق بينهما لاختلاف الموضعين، ومنه قول النبي صلى الله عليه وسلم " كل صلاة لا قراءة فيها فهي خداج) . أي ذات خداج، والخداج: النقصان، ومنه قول علي رضى الله عنه في ذي الثدية " أنه مُخْدج اليد والعلماء يقولون: الثدي مذكرا، وإنما قيل ذو الثديه بالهاء لأنه ذهب إلى معنى اللحمة والزيادة. وبعضهم يقول: ذو اليدية بالياء يجعلها تصغير اليد.

أخبرنا الأخفش عن ثعلب عن عمر بن شبة عن مخارق أبي المهنا، قال: دخلت على أبي العتاهية في مرضته التي مات فيها، فلما رآني هش لي وقال: ادن مني بأبي أنت وأمي فدنوت منه وقلت له: ما تحب؟ قال: احب إن اسمع منك: الخفيف.

احمد قال لي ولم يدر ما بي … أتحب الغداة عتبة حقا

فتنفست ثم قلت نعم حبا … جرى في العروق عرقا فعرقا

لو تبينت ما يجن فؤادي … لرأيت الفؤاد قرحا تفقا

ليتني مت فاسترحت من الح … ب فإني ما عشت منه ملقى

قال: فغنيته، فقال: أراني كأني قد حييت، واستعاده دفعات فأعدته عليه. فقال: انصرف راشدا واتني في غد فان لم أرك مت. فلم يزل ذلك دأبه إلى اليوم الرابع فشغلت عنه فمات في ذلك اليوم.

أخبرنا الأخفش قال أخبرنا المبرد قال حدثت من غير وجه أنه اجتمع أبو نوأس وأبو العتاهية وأبو الشيص والحسين الخليع في مجلس فقال لهم أبو نواس: يا اخوتي إن لهذا المجلس ما بعده وسيذكر اجتماعنا فلينشد كل واحد منا احسن ما قال. قالوا: افعلوا ولا تمنوا على تقديم أبي العتاهية لسنه فأنشأ يقول: السريع يا إخوتي إن الهوى قاتلي فيسروا الأكفان من عاجل

ولا تلوموا في اتباع الهوى … فإنني في شغل شاغل

أمسي فؤادي عند خمصانة … ذات وشاح قلق جائل

كأنها من حسنها درة … أخرجها البحر إلى الساحل

لم يبق مني حبها ماخلا … حشاشة في بدن ناحل

يحسبني الناس صحيحا ولا … يدرون بالمستبطن الداخل

এতে পেশ, জবর ও সুকুন—এই তিন রূপই বৈধ। সুকুন হওয়ার প্রেক্ষিত হলো 'يهلك ربيع الناس' বাক্যাংশের ওপর সংযোজন করা। পেশ হওয়াটি হলো পূর্ববর্তী বাক্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে নতুন বাক্য শুরুর কারণে এবং জবর হওয়াটি মূলত 'إن' উহ্য রেখে রূপান্তরের কারণে। অনুরূপভাবে, শর্তের উত্তরের পরে প্রতিটি ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ার ক্ষেত্রে এই তিন প্রকারের নিয়ম প্রযোজ্য। এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: (যদি তোমরা তোমাদের মনের কথা প্রকাশ করো কিংবা গোপন করো, তবে আল্লাহ তোমাদের নিকট থেকে এর হিসাব গ্রহণ করবেন; অতঃপর তিনি যাকে ইচ্ছে ক্ষমা করবেন এবং যাকে ইচ্ছে শাস্তি দেবেন)। এখানে 'يعذب' শব্দটিতে সেই তিনটি রূপই বৈধ যা আমরা 'অজাব্বিয জাহরি' অর্থাৎ যার পিঠ কাটা—এর ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছি। এটি মূলত একটি উদাহরণ ও উপমা। সবগুলোতে জের দিয়ে 'অজাব্বিয জাহরি' রূপে এটি বর্ণিত হয়েছে, যেখানে 'অজাব্বি' শব্দটি 'জাহর'-এর দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে। আবার 'অজাব্বা' শব্দে জবর এবং 'জাহরা' শব্দে জবর দিয়ে 'অজাব্বা জাহরা' রূপেও বর্ণিত হয়েছে; এখানে 'অজাব্বা' শব্দটি জবরযুক্ত হওয়ার কারণ হলো এটি মূলত সম্বন্ধের স্থানে থাকলেও অব্যয়হীন হওয়ার কারণে অপরিবর্তনীয়। আর 'জাহরা' শব্দটি কর্মের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ার কারণে জবরযুক্ত হয়েছে এবং 'অজাব্বা' এর মধ্যে কর্তা উহ্য রয়েছে। এটি অনেকটা তোমার এই উক্তির মতো— 'আমি সুন্দর চেহারার, অধিক সম্পদের এবং স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপনকারী এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম'।

ইবনুল আনবারি আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: ইদরিস ইবনে আব্দুল কারিম আবুল হাসান আল-মু'রি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আবু আল-আহওয়াস মুহাম্মদ ইবনে হাইয়ান আল-বাগাওয়ি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا), তিনি বলেন: যামাখি ইবনে খালিদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا), তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: (তোমরা কি প্রতিটি উঁচু স্থানে অনর্থক একটি করে নিদর্শন বা সৌধ নির্মাণ করছ?) তিনি বলেন: এর অর্থ হলো উঁচু স্থান।

আয-যাজ্জাজ এবং ইবনুল খাইয়াত আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا) আল-হাসান ইবনে আল-তাইয়ান থেকে, তিনি ইবনে আস-সিক্কিত থেকে বর্ণনা করেন। মুহাম্মদ ইবনে আকিল ও বিলাল ইবনে জারির বলেন: 'রাবউ' মানে হলো পাহাড়। ভাষাবিদগণের মধ্যে অন্য অনেকে বলেন: 'রাবউ' হলো ভূমির উঁচু অংশ।

ইবনুল আনবারি বলেন, আমার পিতা নসর ইবনে দাউদ থেকে এবং তিনি আবু উবায়েদ আল-কাসিম ইবনে সাল্লাম থেকে আমাকে অবহিত করেছেন (أخبرني)। তিনি বলেন: উষ্ট্রী যখন বিকলাঙ্গ বা অপূর্ণাঙ্গ বাচ্চা প্রসব করে তখন তাকে 'আখদাজাত' বলা হয়। যদি গর্ভাবস্থার সময় পূর্ণ হওয়ার পর এমনটি ঘটে, তবে উষ্ট্রীকে 'মুখদিজ' এবং বাচ্চাকে 'মুখদাজ' বলা হয়। আর উষ্ট্রী যদি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পূর্ণ হওয়ার আগেই বাচ্চা প্রসব করে, যদিও তা গঠনগতভাবে পূর্ণ দেখা যায়, তবে তাকে 'খাদাজাত' বলা হয়; এক্ষেত্রে উষ্ট্রীকে 'খাদিজ' এবং বাচ্চাকে 'খাদিজ' বা 'মাখদুজ' বলা হয়।

আবু আল-আনবারি বলেন, সা'লাব সালামাহ থেকে এবং তিনি আল-ফাররা থেকে আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا)। তিনি বলেন: 'আখদাজা' এবং 'খাদাজা' একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। আল-কিসায়ি একাই দাল বর্ণে জের যোগে 'খাদিজা' শব্দটির কথা উল্লেখ করেছেন। আবু আল-কাসিম বলেন: 'খিদাজ'-এর মূল অর্থ হলো গঠনগত বা সংখ্যার দিক থেকে কোনো ঘাটতি বা অপূর্ণতা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীটি সেখান থেকেই এসেছে— "যে সালাতে কিরাত নেই, তা ত্রুটিপূর্ণ (خداج)"। অর্থাৎ সেটি ঘাটতিপূর্ণ। অনুরূপভাবে যুল-সুদাইয়াহ সম্পর্কে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর উক্তি— "সে ছিল বিকলাঙ্গ (مخدج) হাত বিশিষ্ট"। আলেমরা 'সুদাই' শব্দটিকে পুংলিঙ্গ হিসেবে ব্যবহার করেন। আর 'যুল সুদাইয়াহ' শব্দে 'হা' যোগ করা হয়েছে কারণ এর দ্বারা গোশতের টুকরো বা অতিরিক্ত অংশকে বোঝানো হয়েছে। কেউ কেউ একে 'যুল ইয়াদাইয়াহ' বলেন, যা 'ইয়াদ' (হাত) শব্দের ক্ষুদ্রতাবাচক রূপ।

আল-আখফাশ সা'লাব থেকে এবং তিনি উমর ইবনে শাব্বাহ থেকে আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا), তিনি মাখারেক আবু আল-মুহান্না থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আমি আবুল আতাহিয়া-র মৃত্যুশয্যায় তাঁর কাছে প্রবেশ করলাম। তিনি আমাকে দেখে আনন্দিত হলেন এবং বললেন: "আমার কাছে এসো, আমার বাবা-মা তোমার জন্য উৎসর্গ হোন।" আমি তাঁর কাছে গেলাম এবং বললাম: "আপনি কী পছন্দ করেন?" তিনি বললেন: "আমি তোমার কণ্ঠে খাফিফ ছন্দের এই কবিতাটি শুনতে চাই:"

আহমদ আমাকে বললেন অথচ তিনি জানেন না আমার কী হয়েছে … তুমি কি সত্যিই আজ সকালে উতবাকে ভালোবাসো?

আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম, হ্যাঁ সেই ভালোবাসা … যা প্রতিটি শিরা-উপশিরায় মিশে গেছে।

আমার হৃদয়ে যা লুকিয়ে আছে তা যদি তুমি বুঝতে পারতে … তবে দেখতে পেতে আমার হৃদয় ক্ষতবিক্ষত হয়ে ফেটে যাচ্ছে।

হায়! যদি আমি মরে যেতাম তবে এই প্রেম থেকে মুক্তি পেতাম … কারণ আমি যতদিন বেঁচে থাকব এর জালে আটকা থাকব।

বর্ণনাকারী বলেন: আমি তাঁকে এটি গেয়ে শোনালাম। তখন তিনি বললেন: "মনে হচ্ছে আমি পুনরায় জীবন ফিরে পেয়েছি।" তিনি কয়েকবার এটি গাইতে বললেন এবং আমি বারবার তা গেয়ে শোনালাম। এরপর তিনি বললেন: "এখন তুমি শান্তিতে ফিরে যাও এবং আগামীকাল আমার কাছে এসো; যদি আগামীকাল আমাকে না দেখো তবে বুঝবে আমি মারা গেছি।" চতুর্থ দিন পর্যন্ত তাঁর এই অবস্থা চলতে থাকল। এরপর আমি কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম এবং সেই দিনেই তিনি ইন্তেকাল করলেন।

আল-আখফাশ আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا), তিনি বলেন আল-মুবরদ আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, আবু নুওয়াস, আবু আল-আতাহিয়া, আবু আল-শিস এবং আল-হুসাইন আল-খালি' এক মজলিসে একত্রিত হলেন। আবু নুওয়াস তাঁদের বললেন: "হে আমার ভ্রাতৃগণ, এই মজলিসটি পরবর্তী সময়ে স্মরণ করা হবে, তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত তার শ্রেষ্ঠ কবিতাটি আবৃত্তি করা।" তাঁরা রাজি হলেন এবং জ্যেষ্ঠতার খাতিরে আবুল আতাহিয়া-কে প্রথমে সুযোগ দিলেন। তখন তিনি দ্রুত লয়ে (সারী' ছন্দে) বলতে শুরু করলেন:

হে আমার ভ্রাতৃগণ, এই প্রেমই আমার হন্তারক, তাই দ্রুত কাফনের ব্যবস্থা করো।

প্রেমের পথে চলার জন্য আমাকে তিরস্কার করো না … কারণ আমি এক মহাসংকটে নিমজ্জিত।

আমার হৃদয় এক কৃশাঙ্গী সুন্দরীর কাছে বন্দী … যার কোমরের অলঙ্কার দুলছে চঞ্চলভাবে।

সে তার সৌন্দর্যের কারণে যেন এক উজ্জ্বল মুক্তা … সমুদ্র যাকে উপকূলে এনে ফেলেছে।

তার ভালোবাসা আমার অস্তিত্বের কিছুই অবশিষ্ট রাখেনি … এক শীর্ণ দেহে সামান্য প্রাণস্পন্দন ছাড়া।

মানুষ আমাকে সুস্থ মনে করে অথচ তারা জানে না … আমার অন্তরে কী গভীর যন্ত্রণা লুকিয়ে আছে।

(খণ্ড: ১) আখবারু আবিল কাসিম আয-যুজ্জাজি (পৃষ্ঠা: ৬)
أخال في فيها وفي طرفها … سواحر أقبلن من بابل

عيني على عتبة منهلة … بدمعها المنسكب الهامل

يا من رأى قبلي قتيلا بكى … من شدة الوجد على القاتل

بسطت كفي نحوكم سائلا … ماذا تردون على السائل

إن كنتم العام على عسرة … ويلي فمنوني إلى قابل

وأنشدهم أبو الشيص: الكامل

وقف الهوى بي حيث أنت فليس لي … متأخر عنه ولا متقدم

أجد الملامة في هواك لذيذة … حبا لذكرك فليلمني اللوم

أشبهت أعدائي فصرت أحبهم … إذ كان حظي منك حظي منهم

وأهنتني فأهنت نفسي جاهدا … ما من يهون عليك ممن اكرم

وأنشد الحسين الخليع الطويل

كأني وحيد لا يسر بمؤنس … من الناس حتى تنقضي الأشهر الحرم

ألام على شغلي بمن أنا شغلهُ … إذا طاف أو أصغى إلى الركن فاسْتَلَمْ

سنرعى بظهر الغيب ما كان بيننا … ونرعى لعهدينا على رغم من رغم

ثم قالوا لأبي نواس: هات أنشدنا فقال البسيط

لا تبك ليلى ولا تطرب إلى هند … واشرب على الورد من حمراء كالورد

كأسا إذا انحدرت في حلق شاربها … أجدته حمرتها في العين والخّدَ

والكأس لؤلؤة والخمر ياقوتة … من كف جارية ممشوقة القدَ

نسقيك من عينها خمرا ومن يدها … خمرا فما لك من سكرين من بد

لي نشوتان وللندمان واحدة … شيء خصصت به من بينهم وحدي

فلما استتمها قاموا فسجدوا له، فقال: أفعلتموها كسروية، والله لا كلمتكم ثلاثا ولا ثلاثا ولا ثلاثا. فلما كان من الغد كتب إليهم أخوتي إن أيام العمر اقصر من إن تحتمل فاجعلوا راحتكم اليوم عندي.

أخبرنا ابن شقي النحوي قال أخبرنا احمد بن عبيد قال: روى إن أبا الدرداء قيل له: لم لا تقول الشعر وقد قاله غيرك؟ قال وأنا أيضا قلت. قالوا: ما قلت؟ قال: قلت: الوافر

يريد المرء إن يعطى مناه … ويأبى الله إلا ما أرادا

يقول المرء فائدتي ومالي … وتقوى الله أفضل ما استفادا

أنشدنا الأخفش للعطوي: البسيط

لا تبك أثر مول عنك منصرف … تحت السماء وفوق الأرض أبدال

الناس اكثر من إن لا ترى خلفا … ممن زوى وجهه عن وجهك المال

ما أقبح الود يدنيه ويبعده … بين الخليلين إكثار وإقلال

وأنشدنا لإسحاق بن إبراهيم الموصلي: الطويل

كفى حزنا إن لا صديق ولا أخ … ينال غني إلا تداخله كبر

وإلا التوى أو ظن أنك دونه … وتلك التي جلت فما عندها صبر

أخبرنا ابن دريد قال حدثنا أبو حاتم عن الأصمعي قال: المهجة: خالص النفس ومنه قيل للبن الخالص اهميجان وماهج. والرداح: المرأة الثقيلة السير في مشيها. والسرباح: الجراد، والتمساح: الرجل الكذاب. والسحيف: نصل السهم العريض. والعَدِيّ: أول من يحمل في الحرب الرجالة، وينشد: الطويل

هُنَا وفضَة فيها ثلاثونَ سَيْحَفاً … إذا آنسَتْ أُولَى العَديِ أقْشَعَرَّتِ

أنشدنا ابن الأنباري قال انشدني أبي: البسيط

لا يبعد الله قوما إن سألتهم … أعطوا سراعا وان قلت انصروا نصروا

وإن أصابتهم نَعْماءُ سابغةٌ … لم يبطروها وان فاتتهم صبروا

الكاسرين عظاما لا جبور لها … والجابرين فأعيا الناس ما جبروا

اخبرنا نفطويه قال اخبرنا ثعلب عن عمر بن شبة عمن خبره من شيوخه قال: صعد حسان بن ثابت يوما من أكمة فصاح يا للرجال يا للرجال، فأجتمع الناس إليه فقالوا: ما شأنك؟ فقال: اسمعوا، وأنشأ يقول: الخفيف منع النوم بالعشاء الهموم وخيال إذا تغور النجوم

من حبيب أصاب قلبك منه … سقم فهو داخل مكتوم

يا لقومي هل يقتل المرء مثلي … واهن البطش والعظام شؤوم

غادة طفلة بعيدة مها بين الوشاحين فيهما تهضيم
আমি তার মুখে ও চোখের কোণে প্রত্যক্ষ করি … যেন বাবেল থেকে আগত জাদুকরীরা এগিয়ে আসছে

আতাবার ওপর আমার চোখ অশ্রুসিক্ত … অবিরত ঝরে পড়া অশ্রুধারায়

হে ব্যক্তি, যে আমার আগে এমন নিহত ব্যক্তিকে দেখেছে যে কাঁদছে … হত্যাকারীর প্রতি প্রবল অনুরাগের আতিশয্যে

আমি তোমাদের দিকে যাঞ্চাকারী হয়ে হাত বাড়িয়েছি … যাঞ্চাকারীকে তোমরা কী উত্তর দেবে?

যদি তোমরা এ বছর সংকটে থাকো … তবে হায়! আগামী বছর পর্যন্ত আমাকে প্রতিশ্রুতি দাও

আবুশ শীস আল-কামিল ছন্দে তাদের নিকট আবৃত্তি করলেন:

ভালোবাসা আমাকে সেখানে থামিয়ে দিয়েছে যেখানে তুমি রয়েছ, তাই আমার … পিছিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই, নেই সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ

তোমার ভালোবাসায় আমি তিরস্কারকেও সুস্বাদু মনে করি … তোমার স্মৃতির প্রতি অনুরাগে, তাই নিন্দুকেরা আমাকে নিন্দা করুক

তুমি আমার শত্রুদের সদৃশ হয়েছ, তাই আমি তাদেরও ভালোবাসতে শুরু করেছি … যেহেতু তোমার থেকে আমার ভাগ্য আর তাদের থেকে আমার ভাগ্য একই হয়েছে

তুমি আমাকে লাঞ্ছিত করেছ, তাই আমি আপ্রাণ চেষ্টায় নিজেকেই নিজে লাঞ্ছিত করেছি … যে তোমার কাছে তুচ্ছ হয়, তাকে সম্মান করার কেউ নেই

আল-হুসাইন আল-খালী আত-তাবীল ছন্দে আবৃত্তি করলেন:

আমি যেন একাকী এক জনমানবহীন প্রান্তরে, যাকে কোনো সঙ্গী আনন্দ দিতে পারে না … যতক্ষণ না পবিত্র মাসগুলো অতিবাহিত হয়

আমি যার ধ্যানে মগ্ন, তার বিষয়ে আমাকে তিরস্কার করা হয় … যখন সে তাওয়াফ করে কিংবা রুকনে ইয়ামানি স্পর্শ করে চুম্বন করে

আমাদের মাঝে যা ছিল, তা আমরা অগোচরে রক্ষা করব … এবং নিন্দুকের অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমাদের অঙ্গীকার বজায় রাখব

অতঃপর তারা আবু নাওয়াসকে বললেন: "আসুন, আমাদের কিছু আবৃত্তি করে শোনান।" তিনি আল-বাসিত ছন্দে বললেন:

লাইলার জন্য কেঁদো না আর হিন্দের প্রতি অনুরাগী হয়ো না … বরং গোলাপের ন্যায় রক্তিম সুরা গোলাপের ওপর ঢেলে পান করো

এমন এক পেয়ালা, যখন তা পানকারীর কণ্ঠনালী দিয়ে নেমে যায় … তখন তার রক্তিম আভা চোখ ও কপালে ফুটে ওঠে

পেয়ালাটি মুক্তার মতো আর সুরাটি যেন ইয়াকুত পাথর … যা পরিবেশন করছে এক সুঠাম দেহের অধিকারিণী কিশোরী

আমরা তোমাকে তার চোখ থেকে সুরা পান করাব এবং তার হাত থেকেও … সুতরাং দুই নেশার কবলে পড়া ছাড়া তোমার আর উপায় নেই

আমার জন্য রয়েছে দুই নেশা আর মদ্যপ সঙ্গীদের জন্য এক … এটি এমন এক বিশেষত্ব যা তাদের মাঝে কেবল আমিই লাভ করেছি

যখন তিনি আবৃত্তি শেষ করলেন, তখন তারা উঠে তাকে সেজদা করল। তিনি বললেন: "তোমরা কি কিসরাদের (পারস্য সম্রাটদের) মতো আচরণ করছ? আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের সাথে তিন দিন, তিন দিন এবং তিন দিন কথা বলব না।" পরদিন তিনি তাদের কাছে লিখে পাঠালেন: "হে আমার ভ্রাতৃবৃন্দ, জীবনের দিনগুলো এতই সংক্ষিপ্ত যে তা রাগ পুষে রাখার ভার সইতে পারে না; সুতরাং আজ তোমাদের প্রশান্তির সময়টুকু আমার কাছেই কাটাও।"

ইবনে শাক্কী আন-নাহবী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন, আহমাদ বিন উবাইদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: এটি বর্ণিত হয়েছে (روي) যে আবু দারদা (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "আপনি কেন কবিতা বলেন না, অথচ অন্যরা বলছে?" তিনি বললেন: "আমিও বলেছি।" তারা বলল: "আপনি কী বলেছেন?" তিনি আল-ওয়াফির ছন্দে বললেন:

মানুষ চায় তার মনের আশা পূর্ণ হোক … কিন্তু আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত কিছুই হয় না

মানুষ বলে, "আমার প্রাপ্তি ও আমার সম্পদ" … অথচ আল্লাহর তাকওয়াই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন

আল-আখফাশ আল-আতওয়ীর এই কবিতাটি আমাদের নিকট আবৃত্তি করলেন, যা আল-বাসিত ছন্দে রচিত:

যে বন্ধু তোমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে তার জন্য কেঁদো না … কারণ আকাশের নিচে আর জমিনের ওপরে বিকল্প অনেক আছে

মানুষের সংখ্যা এত বেশি যে তুমি এমন বিকল্পের অভাব পাবে না … যে ব্যক্তি সম্পদের কারণে তোমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে তার পরিবর্তে

সেই ভালোবাসা কতই না জঘন্য, যা দুই বন্ধুর মাঝে … প্রাচুর্য বা অভাবের কারণে ঘনিষ্ঠতা বা দূরত্ব তৈরি করে

ইসহাক বিন ইব্রাহিম আল-মাওসিলীর এই কবিতাটি আমাদের নিকট আবৃত্তি করলেন, যা আত-তাবীল ছন্দে রচিত:

এটি দুঃখের জন্য যথেষ্ট যে এমন কোনো বন্ধু বা ভাই নেই … যে সচ্ছলতা লাভ করলে তার মাঝে অহংকার প্রবেশ করে না

অন্যথায় সে এড়িয়ে চলে অথবা মনে করে তুমি তার চেয়ে নিচু … এটি এমন এক পরিস্থিতি যা অত্যন্ত কঠিন এবং এতে ধৈর্য ধরা দায়

ইবনে দুরাইদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন, আবু হাতেম আল-আসমায়ী থেকে আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: 'আল-মুহজাহ' হলো প্রাণের নির্যাস। এ থেকেই খাঁটি দুধকে 'ইহমিজান' ও 'মাহিজ' বলা হয়। 'আর-রাদাহ' হলো সেই নারী যে হাঁটার সময় ধীরগতিতে চলে। 'আস-সিরবাহ' হলো পঙ্গপাল। 'আত-তিমসাহ' হলো চরম মিথ্যাবাদী (كذاب) ব্যক্তি। 'আস-সাহীফ' হলো তীরের চওড়া ফলা। 'আল-আদিয়্য' হলো সেই পদাতিক বাহিনী যারা যুদ্ধে সবার আগে আক্রমণ করে। তিনি আত-তাবীল ছন্দে আবৃত্তি করেন:

এখানে একটি তূণীর রয়েছে যাতে ত্রিশটি চওড়া ফলাযুক্ত তীর আছে … যখন পদাতিক বাহিনীর অগ্রভাগ তা অনুভব করে, তখন তারা শিহরিত হয়ে ওঠে।

ইবনে আল-আনবারী আমাদের আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার নিকট আল-বাসিত ছন্দে আবৃত্তি করেছেন:

আল্লাহ এমন জাতিকে দূরে না রাখুন যাদের কাছে তুমি কিছু চাইলে … তারা দ্রুত দান করে, আর যদি তুমি সাহায্য চাও তবে তারা সাহায্য করে

যদি তারা অঢেল নেয়ামত লাভ করে … তবে তারা অহংকার করে না, আর যদি তা হারিয়ে যায় তবে তারা ধৈর্য ধারণ করে

তারা এমন হাড় ভেঙে দেয় যার কোনো জোড়া নেই … আবার তারাই এমনভাবে জোড়া দেয় যে মানুষ তা দেখে হতবাক হয়ে যায়

নাফতাওয়াইহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন, ছালাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) উমর বিন শাব্বাহ থেকে, তিনি তার এক উস্তাদ থেকে, যিনি তাকে সংবাদ দিয়েছেন, বর্ণনা করেছেন: হাসসান বিন সাবিত (রা.) একদিন এক টিলার ওপর আরোহণ করে চিৎকার করে বললেন, "হে লোক সকল! হে লোক সকল!" মানুষ তার কাছে সমবেত হয়ে জিজ্ঞেস করল, "আপনার কী হয়েছে?" তিনি বললেন, "শোনো।" অতঃপর তিনি আল-খাফীফ ছন্দে বলতে শুরু করলেন: সন্ধ্যার সময়কার দুশ্চিন্তা ও কল্পনার আসা-যাওয়া ঘুম কেড়ে নিয়েছে, যখন তারকারাজি অস্তমিত হয়।

এমন এক প্রিয়ার পক্ষ থেকে যার কারণে তোমার হৃদয়ে … এক গোপন অসুখ বাসা বেঁধেছে।

হে আমার কওম! আমার মতো ব্যক্তিকে কি কেউ হত্যা করতে পারে … যার শক্তি ক্ষীণ এবং হাড়গুলো জীর্ণ?

এক সুকোমল তরুণী, যার কটিদেশ ও অলঙ্কারের মধ্যবর্তী স্থানটি ক্ষীণ ও লাবণ্যময়।
(খণ্ড: ১) আখবারু আবিল কাসিম আয-যুজ্জাজি (পৃষ্ঠা: ৭)
لو يدب الحولي من ولد للذر عليها لأندبتها الكلوم

شأنها المسك والفراش ويعلوها لجين ولؤلؤ منظوم

لم تفقها شمس النهار بشيء … غير أن الشباب ليس يدوم

رب حلم أضاعه عدم الما … ل وجهل غطى طيه النعيم

فقالوا له: ألهذا جمعتنا؟ فقال: لو بقي هذا في جوفي لقتلني.

أخبرنا نفطويه قال حدثنا الحنيني قال حدثنا احمد بن المفضل عن أسباط عن السدى في قوله تعالى (اليوم أكملت لكم دينكم..) . قال: هذا نزل يوم عرفة، ولم ينزل بعده حلال ولا حرام. ورجع النبي صلى الله عليه وسلم فمات. قالت أسماء بنت عميس: كنت حججت مع النبي صلى الله عليه وسلم تلك الحجة فبينما نحن نسير تجلى جبريل للنبي صلى الله عليه - وسلم فمال على الراحلة فلم تطق الراحلة لثقل ما عليها فسحبت عليه ثوبا كان عليه، ثم ذكر الميتة وما معها فأحلها في الاضطرار فقال: فمن اضطر في مخمصة - أي في مجاعة - غير متجانف لإثم - أي يبتغي نهوة ولا يتعدى إلى كلمة.

قال أبو القاسم: يقال حج الإنسان حَجْةً بالكسر ولا يجوز غيره، والمعنى أنه قصد به عمل سُنّة، وأما الحَجَّة بالفتح فالمرة الواحدة من العمل نحو الركبة والضربة وليس يراد بالحجة ذلك إنما يراد بها جميع الأعمال في سننها. وأصل الحج: القصد، تقول حَجِجْتُ فلانا حَجّةً أي قصدته. فان أردت المرة الواحدة قلت حججته حجة كما تقول قصدته قصدة واحدة. ويقال هو حج البيت وحج البيت لغتان فصيحتان. والحج أيضا بالكسر الحجاج أنفسهم.

انشد ابن دريد عن أبي حاتم عن الأصمعي: الرجز

كأنما أصواتها بالوادي … أصوات حج من عُمان غادي

اخبرنا الأخفش قال اخبرنا ثعلب عن ابن شبة قال حدثنا الباهلي عن ابن الكلبي قال حدثني الحسن بن عقبة المرادي قال: خاطرت بنو أسد مرادا في شاعر لهم يقال له محكان وفي شاعر لمراد يقال له النواح خمسين ناقة في خمسين ناقة أيهما أشعر. فأتت مراد مبرك النواح فلم يجدوه ووجدوا ابنة له صغيره فسألوها عنه. فقالت: هو غائب يرعى سوامه، فقالوا لها إنا نراه قد كبر وضعف شعره فقالت إي والله لقد كبر وانه لأشعر من مضى ومن بقي. قالوا: فإنا أضيافك فابعثي إليه. فبعثت إليه وكان يرعى على النجف فأقبل إليهم وهو يقول: الرجز

يا إبلي روحي إلى الأضياف … إن لم يكن فيك غبوق طاف

فأبشري بالقدر والأثافي … وغارف في مغرف جراف

فقالوا له: إنا قد خاطرنا عنك وعن محكان بني أسد في خمسين ناقة فقال: والله لقد ضعفت وان ابنتي هذه لأشعر مني فقالت: كذب والله ما ندانيه ثم قالت له: قبحك الله من شاعر يراجم بك قومك فتخيم عنهم. فأجابهم إلى ما التمسوا منه وأنشأ: الرجز

يا أيها السائل بالنواح … أخي مراد غير ذي انتزاح

ها آنذا بالمنزل القرواح … محدد النابين للنطاح

يا عجبا إن ذهبت لقاحي … ولم أجالح أيما اجتلاح

دقا على الرماح بالرماح في يوم هيج ودم سفاح ثم سار معهم فلما التقى هو ومحكان الأسدي أنشد النواح يقول: الرجز

هذا جميلي باركا بالأبطح … عليه عدلا جمل لم يفتح

فقال محكان: لا والله لا أكون أول من فتحها أعطوه خطره.

اخبرنا ابن دريد قال حدثني عبد الرحمن عن عمه: إن قول أبي نواس: الكامل

فكان سلمى إذ تودعنا … وقد أشرَأبَّ الدمعُ أن يكِفَا

رَشَأ تواصَيْنَ القيانُ بَهِ حتى عَقَدْنَ بأذنِهِ شنَفَا مأخوذ من قول عدى بن زيد: الرمل

لغزال مرشق ذي بهجهة … أتلع الجيد ربيب للجواري

ألبس الجيد نظاما محكما … وجمانا زانه نظم عذارى

قال: كانت جواري الأعراب يأخذن أوجد الغزلان فتلبسها الشنف والخرز ويزينها. فهذا المعنى أراد.

اخبرنا الأخفش قال اخبرنا ثعلب عن ابن الأعرابي قال: المرآة، والسجنجل، والزلفة، والزلقة، والحمامة، والعرناس، والبذيذ، بمعنى واحد. ويقال: أمر الشيء وهو ممر إذا صار مرا وهي اللغة العالية، ويقال أيضا: مرَ يمرَ مرارة، وهو مر، ويقال من اللغة الأولى في الأمر أمر يا يوم، ومن اللغة الثانية مر يا يوم بفتح الميم. وأنشد: الطويل
যদি এক বছর বয়সী কোনো ক্ষুদ্র পিঁপড়াও তার ওপর দিয়ে বিচরণ করত, তবে তার পদভারে সেখানে ক্ষতচিহ্ন ফুটে উঠত।

কস্তুরী ও সুকোমল শয্যাই তার ভূষণ, আর সুবিন্যস্ত রৌপ্য ও মুক্তো তাকে আবৃত করে রাখে।

দিনের সূর্যও কোনো দিক থেকে তাকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি … তবে যৌবন তো চিরস্থায়ী নয়।

কতই না সহনশীলতা সম্পদের অভাবে বিলীন হয়েছে, … আর কতই না অজ্ঞতা সচ্ছলতার আবরণে ঢাকা পড়েছে।

তারা তাকে বলল: আপনি কি একারণেই আমাদের একত্র করেছেন? তিনি বললেন: যদি এটি আমার অন্তরে অবশিষ্ট থাকত, তবে তা আমাকে মেরে ফেলত।

নিফতাওয়াইহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন, হুনাইনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন, আহমদ ইবনে মুফাদদাল আসবাত থেকে এবং তিনি সুদ্দি থেকে মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম..."। তিনি বলেন: এটি আরাফাতের দিনে অবতীর্ণ হয়েছে এবং এরপর আর কোনো হালাল বা হারাম অবতীর্ণ হয়নি। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফিরে আসেন এবং ইন্তেকাল করেন। আসমা বিনতে উমাইস বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে সেই হজে অংশগ্রহণ করেছিলাম। আমরা যখন পথ চলছিলাম, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট জিবরাঈল আবির্ভূত হলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সওয়ারির ওপর ঝুঁকে পড়লেন, ফলে সওয়ারিটি তার ওপর অর্পিত ওহীর ভার সহ্য করতে পারছিল না। তখন আমি তাঁর ওপর একটি কাপড় টেনে দিলাম যা তাঁর গায়ে ছিল। এরপর তিনি মৃত প্রাণী ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি উল্লেখ করে নিরুপায় অবস্থায় তা বৈধ ঘোষণা করেন। তিনি বললেন: "তবে যে ব্যক্তি তীব্র ক্ষুধায়—অর্থাৎ দুর্ভিক্ষে—লিপ্ত হয়ে পড়ে, কোনো পাপের দিকে ঝুঁকে না থেকে (غير متجانف لإثم)—অর্থাৎ কোনো নিষিদ্ধ জিনিসের আকাঙ্ক্ষা না করে এবং কোনো অন্যায়ের দিকে সীমালঙ্ঘন না করে।"

আবু আল-কাসিম বলেন: বলা হয়ে থাকে মানুষ 'হিজজাহ' (حِجَّة) করেছে—জের বা কাসরা সহযোগে, এবং এটি ছাড়া অন্য কিছু জায়েজ নেই। এর অর্থ হলো, সে সুন্নাহ (سنة) অনুযায়ী আমল করার সংকল্প করেছে। আর জবর বা ফাতহা সহযোগে 'হাজজাহ' (حَجَّة) বলতে কোনো কাজের একবার সম্পাদন করা বোঝায়, যেমন একবার বসা বা একবার আঘাত করা। এখানে হজ দ্বারা তা বোঝানো হয়নি, বরং এর দ্বারা সুন্নাহর (سنة) অন্তর্ভুক্ত যাবতীয় আমলকে বোঝানো হয়েছে। হজের মূল অর্থ হলো: সংকল্প বা ইচ্ছা করা (القصد)। আপনি যখন বলবেন, 'আমি অমুক ব্যক্তির নিকট হজ করেছি' (حَجِجْتُ فلانا), তার অর্থ হলো আপনি তার কাছে যাওয়ার সংকল্প করেছেন। আর যদি আপনি একবার যাওয়া বোঝাতে চান, তবে বলবেন 'আমি তার কাছে একবার যাওয়ার ইচ্ছা করেছি' (حججته حجة), যেমন আপনি বলেন 'আমি তার কাছে একবার সংকল্প করে গিয়েছি' (قصدته قصدة واحدة)। আরও বলা হয়, 'হিজ্জুল বাইত' এবং 'হাজ্জুল বাইত'—উভয়টিই অত্যন্ত সাবলীল ও বিশুদ্ধ ভাষা। আর কাসরা যোগে 'হিজ' বলতে হাজীদের দলকেও বোঝানো হয়।

ইবনে দুরাইদ আবু হাতিম থেকে এবং তিনি আসমায়ি থেকে আবৃত্তি করেছেন: (রজজ ছন্দ)

মনে হচ্ছিল উপত্যকায় তাদের শব্দ যেন … ওমান থেকে আগত প্রাতঃকালীন হাজীদের কণ্ঠস্বর।

আখফাশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন, ছালাব ইবনে শাব্বাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, বাহিলি ইবনে কালবি থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন, হাসান ইবনে উকবা আল-মুরাদি আমাকে বলেছেন: বনু আসাদ গোত্র মুরাদ গোত্রের সাথে তাদের একজন কবি যার নাম মুহকান এবং মুরাদ গোত্রের একজন কবি যার নাম নওয়াহ-এর কাব্য প্রতিভা নিয়ে বাজি ধরল। বাজির পণ ছিল পঞ্চাশটি উট। কে বেশি বড় কবি তা প্রমাণের জন্য তারা নওয়াহ-এর উটের আস্তানায় এল, কিন্তু তাকে পেল না। সেখানে তারা তার ছোট মেয়েকে পেল এবং তার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। মেয়েটি বলল: তিনি অনুপস্থিত, তিনি তার গবাদি পশু চরাচ্ছেন। তারা তাকে বলল: আমরা দেখছি তিনি বৃদ্ধ হয়ে গেছেন এবং তার কাব্যশক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। মেয়েটি বলল: হ্যাঁ, আল্লাহর কসম, তিনি বৃদ্ধ হয়েছেন বটে, তবে তিনি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সবার চেয়ে বড় কবি। তারা বলল: আমরা তোমাদের মেহমান, তাকে ডেকে পাঠাও। সে তাকে খবর পাঠাল। তিনি নাজাফে পশু চরাচ্ছিলেন, এরপর তিনি তাদের দিকে এগিয়ে এলেন এবং বলছিলেন: (রজজ ছন্দ)

হে আমার উটগুলো, মেহমানদের কাছে ফিরে চল, … যদি তোমাদের মধ্যে রাতের পানের ব্যবস্থা না-ও থাকে।

তবে তোমরা বড় ডেগ ও চুল্লির সুসংবাদ নাও, … আর বড় হাতলের চামচে ভর্তি খাবারের সংবাদ নাও।

তারা তাকে বলল: আমরা আপনার এবং বনু আসাদের মুহকানের পক্ষে পঞ্চাশটি উটের বাজি ধরেছি। তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, আমি দুর্বল হয়ে পড়েছি, আর আমার এই মেয়েটি আমার চেয়ে বড় কবি। মেয়েটি বলল: আল্লাহর কসম, তিনি মিথ্যা বলছেন, আমরা তাঁর ধারের কাছেও নেই। এরপর সে তাকে বলল: আল্লাহ আপনাকে কবিরূপে লাঞ্ছিত করুন, আপনার কওম আপনাকে নিয়ে বাজি ধরছে আর আপনি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। তখন তিনি তাদের দাবি গ্রহণ করলেন এবং আবৃত্তি করলেন: (রজজ ছন্দ)

হে নওয়াহ সম্পর্কে প্রশ্নকারী, … মুরাদের ভাই যে মোটেই দূরবর্তী নয়।

শোনো, আমি এই প্রশস্ত ময়দানে উপস্থিত, … যে লড়াইয়ের জন্য তার দাঁত ধারালো করেছে।

অবাক হওয়ার বিষয় যদি আমার উটগুলো চলে যায়, … আর আমি বিন্দুমাত্র লড়াই না করি।

যুদ্ধের দিনে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বর্শায় বর্শায় আঘাত লাগবে। এরপর তিনি তাদের সাথে রওনা হলেন। যখন তিনি এবং মুহকান আল-আসাদি মুখোমুখি হলেন, তখন নওয়াহ আবৃত্তি করলেন: (রজজ ছন্দ)

এটি আমার উট যা উপত্যকায় হাঁটু গেড়ে বসেছে, … যার ওপর এমন এক বোঝা রয়েছে যা খোলা হয়নি।

মুহকান বলল: না, আল্লাহর কসম, আমি প্রথম ব্যক্তি হব না যে এটি খুলবে। তোমরা তাকে তার বাজি দিয়ে দাও।

ইবনে দুরাইদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন, আবদুর রহমান তার চাচা থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثني): আবু নুওয়াসের এই উক্তি: (কামিল ছন্দ)

যখন সালমা আমাদের বিদায় জানাচ্ছিল, … আর চোখের পানি ঝরে পড়ার উপক্রম হয়েছিল।

সে যেন এমন এক হরিণশাবক যার যত্ন নেওয়ার জন্য গায়িকারা একে অন্যকে অসিয়ত করত, যতক্ষণ না তারা তার কানে দুল পরিয়ে দিল—এই উক্তিটি আদি ইবনে যায়দ-এর এই কথা থেকে গৃহীত: (রামাল ছন্দ)

এমন এক উজ্জ্বল হরিণের জন্য যার গর্দান লম্বা, … এবং যে দাসীদের দ্বারা লালিত-পালিত।

সে তার গর্দানে নিপুণভাবে তৈরি মালার বিন্যাস পরিধান করেছে … যা কুমারীদের শৃঙ্খল দিয়ে সুশোভিত।

তিনি বলেন: আরবের দাসীরা সুন্দর হরিণ ধরত এবং তাদের কানের দুল ও পুঁতি পরিয়ে সাজাত। তিনি এই অর্থই বোঝাতে চেয়েছেন।

আখফাশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন, ছালাব ইবনে আল-আরাবি থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (خبرنا): মিরআত (المرآة), সিজানজাল (السجنجل), যুলফাহ (الزلفة), যালকাহ (الزلقة), হামামাহ (الحمامة), ইরনাস (العرناس) এবং বাযীয (البذيذ)—সবগুলো একই অর্থবোধক। আর বলা হয়: 'আমুররা আশ-শাইউ' (أمر الشيء) এবং তা 'মুমিররুন' (ممر) যখন তা তিক্ত হয়ে যায়; আর এটিই উচ্চমানের ভাষা (اللغة العالية)। আরও বলা হয়, 'মারা ইয়ামারু মারারাতান' (مر يمر مرارة) এবং সে ক্ষেত্রে তা হলো 'মুররুন' (مر)। প্রথম ভাষা অনুযায়ী আদেশের ক্ষেত্রে বলা হয় 'আমির ইয়া ইয়াওমু' (أمر يا يوم), আর দ্বিতীয় ভাষা অনুযায়ী মিম-এ ফাতহা দিয়ে বলা হয় 'মাররা ইয়া ইয়াওমু' (مر يا يوم)। তিনি আবৃত্তি করেছেন: (তওয়িল ছন্দ)
(খণ্ড: ১) আখবারু আবিল কাসিম আয-যুজ্জাজি (পৃষ্ঠা: ৮)
لئن مر في كرمان يومي لطالما … حلا بين جنبي حلية فالمضيح

والمر مصدر مررت مرا ومرورا، والمر جمع مرة، والمر: الجبل، وأنشد: الرجز

زوجك يا ذات الثنايا الغرّ … والرتلات والجبين الحر

أعيا فنطناه مناط الجرّ … ثم شددنا فوقه ممرّ

والجر: الزبيل، والجر في غير هذا أصل الجبل.

أنشدنا الأخفش قال أنشدنا ثعلب مما رآه بخط الموصلي: الكامل

الدهر لا دام بين فرقتنا … وكذاك فرق بيننا الدهر

وكذاك يفعل في تصرفه … والدهر ليس يناله وتر

كنت الضنين بمن فجعت به … فسلوت حين تقادم الأمر

ولخير حظك في المصيبة أن … يلقاك عند حلولها الصبر

أنشدنا الزجاج قال أنشدنا المبرد لعلي بن أبي طالب عليه السلام يرثي رسول الله صلى الله عليه وسلم: الطويل

ألا بكر الناعي بليل فراعني … وأرقني لما استقل مناديا

فقلت له لما رأيت الذي أتى … أغير رسول الله إن كنت ناعيا

فحقق ما أملت منه ولم أخل … وكان خليلي عزتي وجماليا

فو الله ما أنساك احمد ما مشت … بي العيس في أرض وجاوزت واديا

وكنت متى أهبط من للأرض تلعة … أجد أثرا منه جديدا وباليا

اخبرنا المعنوي قال اخبرنا مسيح بن حاتم عن أبي الفضل الرياشي قال حدثني أبو سلمة القماوي قال حدثني ابن أذينه قال: وقف ابن هرمة علي أبي وعنده نصيب فقال له: يا أبا عامر إني قد عملت أبياتا وقد غدوت بها إليك واحب أن يسمعها هذان الشيخان. قال: هاتهما فأنشأ: الكامل

طرقت علية صحبتي وركابي … أهلا بطيف علية المنتاب

حتى أتى على قوله:

هلا سألت إذا الكواكب أمحلت … وعفت مطية طالب الأسباب

وغدا الرعاة معطلي أقداحهم … لثعالب يشوونها وذئاب

هل ذم من أحد أراد خليعتي … أم هل تعدد ساحتي وجنابي

إذا تنور طارق متنور … نبحت فدلته عليه كلابي

وعوين فاستعجلته فلقينه … يضربنه بشراشر الأذناب

وتكاد من عرفان ما عودت من … ذاك أن يفصحن بالترحاب

فقال له كثير: يا ابن هرمة شعرك هذا يدل على غير البيت الذي انتسب إليه، يعني إن شعر قريش ضعيف وهذا شعر فحل جيد. قال المعنوي: حمل حسد الصناعة على أن قدح في نسبه حين لم يجد له في شعره مغمزا. قال: ويستجاد لابن هرمة قوله: المتقارب

فإني وَتَركي نَدَى الأكرمينَ … وقَدْحِي بكفِّيَ زَنْدا شَحاحا0

كتاركةٍ بيضَها بالعَراء … ومُلْبِسةٍ بيضَ أخرى جَناحا

قال أبو عبد الله الكرماني: بعني النعامة لأنها توصف بالحمق وذلك إنها تمر ببيض غيرها فتحضنه إشفاقا عليه وتترك بيضها فيفسد ويتلف. وقال ابن دريد: الموصوف بالحمق الحباري ومنه المثل: الرجز وكل شيء قد يحب ولده حتى الحباري ويطرن عنده قال لحمقها تعلم ولدها الطيران فتعتد به عن الاستواء عنه يمنة ويسرة وترى إن ذلك بر به وإنما ذلك عسف له.

اخبرنا نفطويه قال أخبرنا الحنيني قال حدثنا احمد بن المفضل عن أسباط عن السدى عن ابن عباس في قوله عز وجل (أو يأخذهم على تخوف) قال: على تنقص.

اخبرنا ابن الأنباري قال حدثنا الختلي عن أبي يعلى عن الأصمعي قال حدثنا سفيان عن طاووس قال: من تكلم واتقى الله خير ممن صمت واتقى الله.

اخبرنا ابن الأنباري عن الختلي عن أبي يعلى عن الأصمعي قال: قال المفضل بن عياض: إذا قيل لك أتخاف الله؟ فاسكت فانك إن قلت: لا، أتيت بأمر عظيم قان قلت لم لا، فالخائف لا يفعل فعلك.

اخبرنا ابن شقير النحوي قال حدثنا احمد بن عبيد قال حدثت عن هشام عن عروة عن أبيه عن النعمان بن بشير قال: بعثني عثمان أو معاوية على صدقات بني عذرة فصدقتهم وارتحلت عنهم فلما ظننت أني قد قطعت بلادهم رفع لي بيت فقصدته فإذا بفنائه شاب مستلق على قفاه لم يبق منه إلا عظم على جلد، فلما أحس بي ترنم بصوت ضعيف وأنشأ يقول: الطويل جعلت لعراف اليمامة حُكْمَهُ وعرّاف حَجْرٍ إنْ هُما شَفيَانِي
যদি কিরমানে আমার দিন অতিবাহিত হয়, তবে তা দীর্ঘ হবে … আমার দুই পার্শ্বের মাঝে হিলয়াহ এবং মুদইহ-এর স্থানটি দীর্ঘকাল মধুর ছিল।

‘আল-মারর’ (المر) শব্দটি ‘মারারতু’ (مررت) এর মাসদার (ক্রিয়ামূল), যার অর্থ অতিবাহিত হওয়া ও অতিক্রম করা; ‘আল-মুরর’ (المر) শব্দটি ‘মাররাহ’ (مرة) এর বহুবচন; আর ‘আল-মুরর’ (المر) অর্থ: পাহাড়। তিনি রাজায ছন্দে আবৃত্তি করেছেন:

হে উজ্জ্বল ও সুবিন্যস্ত সম্মুখ দন্ত এবং প্রশস্ত ললাটের অধিকারিণী, তোমার স্বামী … ক্লান্ত হয়ে পড়ল, তখন আমরা তাকে বোঝার মতো ঝুলিয়ে দিলাম

অতঃপর তার উপর রশি দিয়ে মজবুত করে বাঁধলাম … আর ‘আল-জার’ (الجر) অর্থ: ঝুড়ি

আর অন্য ক্ষেত্রে ‘আল-জার’ হলো পাহাড়ের পাদদেশ।

আল-আখফাশ আমাদের কবিতা শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, ছালাব আমাদের সেই কবিতা শুনিয়েছেন যা তিনি আল-মাওসিলির হস্তাক্ষরে দেখেছিলেন (কামিল ছন্দে):

মহাকাল যেন আমাদের বিচ্ছেদের স্থায়িত্ব না দেয় … এভাবেই মহাকাল আমাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে থাকে

মহাকাল তার বিবর্তনে এভাবেই কাজ করে … এবং মহাকালের কাছে কোনো প্রতিশোধ নেওয়া যায় না

আমি তার জন্য অত্যন্ত মমতাশীল ছিলাম যার শোকে আমি ব্যথিত হয়েছি … অতঃপর সময় অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে আমি সান্ত্বনা লাভ করেছি

বিপদের সময় তোমার ভাগ্যের শ্রেষ্ঠ অংশ হলো … যখন বিপদ আপতিত হয় তখন ধৈর্য তোমাকে আলিঙ্গন করে

আজ-জুজ্জাজ আমাদের শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, আল-মুবররাদ আমাদের আলী ইবনে আবি তালিব (আলাইহিস সালাম)-এর রচিত কবিতা শুনিয়েছেন, যাতে তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শোকগাথা বর্ণনা করেছেন (তওয়িল ছন্দে):

দেখ, শোক সংবাদবাহক রাতে আগমন করল এবং আমাকে আতঙ্কিত করে তুলল … সে যখন উচ্চস্বরে আহ্বান করল, তখন তা আমাকে বিনিদ্র করে দিল

আমি তাকে বললাম যখন দেখলাম সে যা নিয়ে এসেছে … তুমি যদি শোক সংবাদবাহকই হও, তবে রাসূলুল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো সংবাদ কি বয়ে এনেছ?

অতঃপর সে যা আমার কাছে আশা করেছিল তা সত্য প্রমাণিত হলো, অথচ আমি ধারণা করিনি … তিনি ছিলেন আমার প্রিয়তম বন্ধু, আমার সম্মান ও আমার সৌন্দর্য

আল্লাহর কসম! আমি আপনাকে (আহমদ) কখনো ভুলব না যতক্ষণ না শুভ্র উটগুলো … আমাকে নিয়ে কোনো জমিনে বিচরণ করবে এবং কোনো উপত্যকা অতিক্রম করবে

আমি যখনই জমিনের কোনো টিলা থেকে অবতরণ করতাম … তখনই তাঁর নতুন অথবা পুরাতন কোনো স্মৃতি খুঁজে পেতাম

আল-মানাউয়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মাসিহ বিন হাতিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফজল আল-রিয়াশি থেকে, তিনি বলেন, আবু সালামাহ আল-কামাউয়ি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইবনে উযাইনাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে হারমাহ আমার পিতার নিকট আসলেন, তখন তাঁর কাছে নাসিব উপস্থিত ছিলেন। তিনি তাকে বললেন: হে আবু আমির! আমি কিছু কবিতা রচনা করেছি এবং সকালে তা নিয়ে আপনার কাছে এসেছি। আমি চাই যে এই দুই শায়খ তা শ্রবণ করুক। তিনি বললেন: তা পেশ করো। অতঃপর তিনি কামিল ছন্দে আবৃত্তি করলেন:

আলিয়াহ আমার সঙ্গী ও বাহনদের কাছে রাতে আগমন করল … আলিয়াহর সেই আগন্তুক ছায়াকে স্বাগত

যতক্ষণ না তিনি তাঁর এই বাণীতে পৌঁছালেন:

তুমি কেন জিজ্ঞাসা করলে না যখন নক্ষত্রগুলো বৃষ্টিহীন হয়ে পড়ে … এবং উপায় অন্বেষণকারীর বাহনগুলো অবহেলিত ও দুর্বল হয়ে পড়ে

এবং রাখালরা সকালে তাদের পেয়ালাগুলো শূন্য অবস্থায় রেখে দেয় … শৃগাল ও নেকড়েদের জন্য যা তারা পুড়িয়ে খায়

আমার উদারতা নিয়ে কি কেউ নিন্দা করেছে … অথবা আমার আঙিনা ও আমার সাহচর্য কি তুচ্ছ করা হয়েছে?

যখন কোনো রাত্রীকালীন আগন্তুক আগুনের সন্ধান করে … তখন আমার কুকুরগুলো ঘেউ ঘেউ করে তাকে পথ দেখায়

তারা আর্তনাদ করে, আমি তাদের ত্বরান্বিত করি, অতঃপর তারা তার সাথে সাক্ষাৎ করে … তাদের লেজ নাড়িয়ে তাকে অভিবাদন জানায়

তাদের অভ্যস্ত আচরণের কারণে তারা প্রায় … স্পষ্টভাবে স্বাগত জানাতে উদ্যত হয়

তখন কুসাইয়ির তাকে বললেন: হে ইবনে হারমাহ! তোমার এই কবিতা সেই বংশের পরিচয় দেয় না যার সাথে তুমি সম্পর্কিত, অর্থাৎ কুরাইশদের কবিতা দুর্বল (ضعيف), আর এটি একজন শক্তিশালী ও দক্ষ কবির কবিতা। আল-মানাউয়ি বলেন: পেশাগত ঈর্ষা তাকে তার বংশমর্যাদায় অপবাদ দিতে উদ্বুদ্ধ করেছিল যখন সে তার কবিতায় কোনো ত্রুটি খুঁজে পায়নি। তিনি বলেন: ইবনে হারমাহর এই কথাটিও চমৎকার বলে গণ্য করা হয় (মুতাখারিব ছন্দে):

সম্মানীদের দান বর্জন করা এবং নিজ হাতে কৃপণ আগুনের কাঠি জ্বালানো আমার জন্য এমন … ০

যেমন কোনো পাখি তার নিজের ডিমগুলো খোলা প্রান্তরে ফেলে রেখে … অন্য পাখির ডিমে ডানা মেলে তা দেয়

আবু আব্দুল্লাহ আল-কিরমানি বলেন: এর দ্বারা উটপাখিকে বোঝানো হয়েছে, কারণ তাকে নির্বুদ্ধিতার গুণে বিশেষায়িত করা হয়। আর তা হলো এই যে, সে অন্য পাখির ডিমের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মমতাবশত তাতে তা দেয়, অথচ নিজের ডিমগুলো ফেলে রাখে ফলে সেগুলো নষ্ট ও ধ্বংস হয়ে যায়। ইবনে দুরিদ বলেন: নির্বুদ্ধিতার জন্য হুবরি (এক প্রকার পাখি) কে বিশেষায়িত করা হয়, সেখান থেকেই প্রবাদ এসেছে: রাজায ছন্দ - প্রত্যেক জিনিসই তার সন্তানকে ভালোবাসে, এমনকি হুবরি পাখিও, এবং তারা তার কাছে ওড়ে। তিনি বলেন, তার নির্বুদ্ধিতার কারণে সে তার সন্তানকে উড়তে শেখায়, ফলে সে ভারসাম্যহীনভাবে ডানে-বামে ঝুঁকে পড়ে এবং সে মনে করে এটি তার প্রতি অনুগ্রহ, অথচ এটি মূলত তার প্রতি অবিচার।

নাফতাওয়াইহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আল-হুনাইনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আহমাদ ইবনে আল-মুফাদদাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসবাত থেকে, তিনি আস-সুদ্দি থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে মহান আল্লাহর বাণী (অথবা তিনি তাদের পাকড়াও করবেন ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায়) সম্পর্কে বলেন: এর অর্থ হলো ক্রমহ্রাসমান অবস্থায়।

ইবনে আল-আনবারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আল-খুতালি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইয়ালা থেকে, তিনি আল-আসমাঈ থেকে, তিনি বলেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন তাউস থেকে, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি কথা বলে এবং আল্লাহকে ভয় করে, সে ওই ব্যক্তির চেয়ে উত্তম যে নীরব থাকে এবং আল্লাহকে ভয় করে।

ইবনে আল-আনবারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-খুতালি থেকে, তিনি আবু ইয়ালা থেকে, তিনি আল-আসমাঈ থেকে, তিনি বলেন: আল-মুফাদদাল ইবনে ইয়াদ বলেছেন: যখন তোমাকে বলা হয়, "তুমি কি আল্লাহকে ভয় করো?" তখন চুপ থাকো। কারণ তুমি যদি বলো "না", তবে তুমি এক ভয়াবহ বিষয় নিয়ে আসলে। আর যদি বলো "হ্যাঁ", তবে প্রকৃত আল্লাহভীরু ব্যক্তি তো তোমার মতো কাজ করে না।

ইবন শুকুয়াইর আন-নাহবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আহমাদ ইবনে উবাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হিশাম থেকে আমার নিকট বর্ণিত হয়েছে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি নুমান ইবনে বাশির থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উসমান অথবা মুয়াবিয়া আমাকে বনু উজরাহ গোত্রের সাদাকা সংগ্রহের জন্য পাঠিয়েছিলেন। আমি তাদের সাদাকা আদায় করলাম এবং তাদের এলাকা থেকে প্রস্থান করলাম। যখন আমার মনে হলো যে আমি তাদের এলাকা অতিক্রম করে ফেলেছি, তখন আমার সামনে একটি ঘর দৃশ্যমান হলো। আমি সেদিকে অগ্রসর হলাম, সেখানে দেখলাম প্রাঙ্গণে এক যুবক চিত হয়ে শুয়ে আছে, তার চামড়া ও হাড় ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। সে যখন আমার উপস্থিতি অনুভব করল, তখন এক ক্ষীণ কণ্ঠে গুঞ্জন করল এবং এই কবিতা আবৃত্তি করল: তওয়িল ছন্দে - আমি ইয়ামামার কবিরাজ এবং হাজর-এর কবিরাজকে ফয়সালার ভার দিয়েছি, যদি তারা দুজন আমাকে সুস্থ করতে পারে।
(খণ্ড: ১) আখবারু আবিল কাসিম আয-যুজ্জাজি (পৃষ্ঠা: ৯)
فقالا: نعم نشفي من الداء كلّه … وقاما مع العواد يبتدران

فما تركا من رُقْيَة يعلمانها … ولا سلوة إلا وقد سقياني

فقالا: شفاك الله والله مالنا … بما ضُمِّنَتْ منك الضلوعُ يدان

ثم خفق، فنظرت فإذا في كسر البيت جوز فقلت لها: يا هذه اخرجي إلي هذا الفتى فإني أظنه قد مات. قالت: وأنا أظن ذاك والله ما سمعت منه أنة منذ سنة إلا اليوم فانه قال في أوله: البسيط من كان من أمهاتي باكيا شجني فاليوم إني أراني اليوم مقبوضا

يسمعننيه فاني غير سامعه … إذا علوت رقاب القوم معروضا

تم خرجت إليه فإذا هو ميت، فغسلته وكفنته ودفنته وصليت عليه ثم قلت للعجوز من هذا؟ قالت: هذا قتيل الحب عروة بن حزام.

اخبرنا الزجاج قال اخبرنا المبرد قال قال رجل من بني مخزوم للأحوص ابن محمد بن عبد الله بن عاصم بن ثابت الأنصاري: أتعرف الذي يقول: الكامل

الناس كنوه أبا حكم … والله كنّاه أبا جهل

أبقت رياسته لأسرته … لؤم الفروع ورقة الأصل

قال: وهذا الشعر لحسان بن ثابت الأنصاري والبيت الذي القاه المخزومي للأخطل، وذلك أن معاوية عتب على قوم من الأنصار فأمر كعب بن جعيل التغلبي بهجائهم فقال: أأهجو الأنصار؟ أرادني في الكفر بعد الإسلام ولكني أدلك على غلام من الحي نصراني كأن لسانه لسان الثور يعني الأخطل، فلما قال الأخطل هذا البيت دخل النعمان بن بشير على معاوية فأخذ عمامته من رأسه وقال: يا معاوية أترى لؤما؟ قال: ما أرى إلا كرما. فأنشأ يقول: الطويل

معاوي إلا تعطنا النصف نغترف … لحى الأزد مشدود عليها العمائم

أيشتمنا عبد الأراقم صغرا … فماذا الذي تجدي عليه الأراقم

فما لي ثأر دون قطع لسانه … فدونك من ترضيه عنه الدراهم

اخبرنا الأخفش قال حدثنا ثعلب عن ابن الأعرابي قال: يقال غصصت أبو بكر بن عياش وكان رجل من قريش يرمى بشرب الخمر فقال له أبو بكر بن عياش: زعموا أن نبيا يحل الخمر. فقال له القرشي: إذن لا تؤمن به حتى يبرئ الأكمه والأبرص.

اخبرنا الأخفش قال حدثنا ثعلب عن ابن الأعرابي قال: يقال غصصت بالطعام والشراب والريق والكلام وهو الغصص والجأز والحروة بمعنى واحد. وكذلك التحتحة. قال الأخفش: وكان المبرد يحكي عن البصريين هذا بعينه قال: فإذا فصل قيل غصصت بالطعام، وشرقت بالشراب وجرضت بالريق، ومنه المثل السائر " حال الجريض دون القريضى ". قال الأخفش: يروى عن الخيل انه قال: كان رجل له ابن نبغ يقول الشعر فنهاه عن ذلك فجاش صدره بالشر ومرض فقال لأبيه إن منعتني من قول الشعر تلفت. فلم يأذن له في ذلك حتى ثقل ويئس منه. فما رآه كذلك قال له: ابني قل ما شئت من الشعر، فقال هيهات حال الجريض دون القريض، وأنشد يقول: الوافر

أيأمرني وقد فنيت حياتي … لأبيات ترجيهن مني

فأقسم لو بقيت لقلت قولا … أذيل به قوافي كل جني

اخبرنا الأخفش قال حدثنا ثعلب عن الزبير بن بكار قال دخلت ليلى الأخيلية على عبد الملك ابن مروان فقال لها: أقسمت عليك هل كان بينك وبين توبة شيء؟ قالت: لا والذي قبض روحه وهو على روحي قادر ما كان بيننا شيء أنه قدم من بعض أسفاره فأتيته فسلمت عليه فغمز يدي فظننت أن قد خضع لبعض الأمر، فأنشأت أقول: الطويل

وذي حاجة قلنا له لا تبح بها … وليس إليها ما حييت سبيل

لنا صاحب لا ينبغي أن نخونه … وأنت لأخرى صاحب وحليل

قال أبو القاسم: ويروى خليل بالخاء المعجمة وهو الصديق، يقال: خالك الرجل مخاللة وخلالا من المودة ومنه قول أمرئ القيس: الطويل

ولست بمقلي الخلال ولا قال

الخليل أيضا: الرجل المحتل الحال، ومنه قول زهير: البسيط وإن أتاه خليل يوم مسألة يقول: لا غائب مالي ولا حرم والخليل: الزوج.
তারা দুজনে বলল: হ্যাঁ, আমরা সকল ব্যাধি থেকে আরোগ্য দান করি … এবং তারা দর্শনার্থীদের সাথে দ্রুত এগিয়ে এল।

তারা জানত এমন কোনো মন্ত্র (رقية) বাকি রাখেনি … এবং এমন কোনো সান্ত্বনার পানীয় নেই যা তারা আমাকে পান করায়নি।

তারা বলল: আল্লাহ তোমাকে আরোগ্য দান করুন, আল্লাহর কসম, তোমার পাঁজরের ভেতর যা দমিত আছে … সে বিষয়ে আমাদের কোনো হাত নেই।

এরপর সে জ্ঞান হারাল। আমি তাকালাম এবং ঘরের এক কোণে এক বৃদ্ধাকে দেখতে পেলাম। আমি তাকে বললাম: ওহে নারী, এই যুবকের কাছে এসো, আমার মনে হয় সে মারা গেছে। সে বলল: আল্লাহর কসম, আমারও তাই মনে হচ্ছে। আজ ছাড়া এক বছর যাবৎ আমি তার কাছ থেকে কোনো কোঁকানি শব্দ শুনিনি। আজ সে শুরুতে বাসিত ছন্দে বলেছিল: আমার মায়েদের মধ্যে যারা আমার শোকে ক্রন্দনরত, তারা যেন আজ আমাকে মৃত হিসেবে দেখে।

তারা আমাকে তা শোনাবে অথচ আমি তা শুনতে পাব না … যখন আমাকে মানুষের কাঁধে বহন করে তুলে ধরা হবে।

এরপর আমি তার কাছে গেলাম এবং দেখলাম সে মৃত। আমি তাকে গোসল করালাম, কাফন পরালাম, দাফন করলাম এবং তার জানাজা পড়লাম। তারপর বৃদ্ধাকে জিজ্ঞেস করলাম, এ কে? সে বলল: এ হলো প্রেমের হাতে নিহত উরওয়াহ ইবনে হিযাম।

আয-যাজ্জাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন, আল-মুবররাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرনা), তিনি বলেন, বনু মাখজুম গোত্রের এক ব্যক্তি আহওয়াস ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আসিম ইবনে সাবিত আল-আনসারিকে বলল: আপনি কি তাকে চেনেন যে কামিল ছন্দে বলে:

মানুষ তার উপনাম রেখেছিল 'আবু হাকাম' … অথচ আল্লাহ তার উপনাম রেখেছেন 'আবু জেহেল'।

তার নেতৃত্ব তার পরিবারের জন্য উত্তরসূরিদের হীনতা … এবং বংশের দুর্বলতা ছাড়া আর কিছু অবশিষ্ট রাখেনি।

তিনি বললেন: এই কবিতাটি হাসসান ইবনে সাবিত আল-আনসারির, আর মাখজুমি ব্যক্তি যে পংক্তিটি পেশ করেছে তা আল-আখতালের। ঘটনা হলো, মুআবিয়াহ আনসারদের এক গোত্রের ওপর অসন্তুষ্ট হয়ে কাব ইবনে জুআইল আত-তাগলবিকে তাদের নিন্দা করার নির্দেশ দেন। সে বলল: আমি কি আনসারদের নিন্দা করব? আপনি কি ইসলামের পর আমাকে কুফরিতে লিপ্ত করতে চান? তবে আমি আপনাকে গোত্রের এক খ্রিস্টান বালকের সন্ধান দিচ্ছি যার জিহ্বা যেন ষাঁড়ের জিহ্বা—অর্থাৎ আল-আখতাল। যখন আল-আখতাল এই পংক্তিটি বলল, তখন নুমান ইবনে বশির মুআবিয়াহর কাছে প্রবেশ করলেন এবং নিজের মাথা থেকে পাগড়ি খুলে ফেলে বললেন: হে মুআবিয়াহ, আপনি কি কোনো হীনতা দেখছেন? তিনি বললেন: আমি কেবল সম্মানই দেখছি। তখন তিনি তাবিল ছন্দে আবৃত্তি করলেন:

হে মুআবিয়াহ, আপনি যদি আমাদের ইনসাফ না দেন, তবে আমরা আজদ গোত্রের সেই দাড়িগুলোকে আঁকড়ে ধরব … যাদের ওপর পাগড়ি শক্ত করে বাঁধা আছে।

বনু আরকামদের এক দাস কি আমাদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে গালি দেবে? … অথচ বনু আরকামরা তার জন্য কী উপকার করতে পারে?

তার জিহ্বা কর্তন করা ছাড়া আমার কোনো প্রতিশোধ নেই … সুতরাং আপনি তাকেই গ্রহণ করুন যাকে দিরহাম দিয়ে সন্তুষ্ট করা যায়।

আল-আখফাশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন, সালাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ইবনুল আরাবি থেকে, তিনি বলেন: আবু বকর ইবনে আয়্যাশকে এক ব্যক্তি সম্পর্কে বলা হয়েছিল। কুরাইশ বংশের সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মদ্যপানের অভিযোগ ছিল। আবু বকর ইবনে আয়্যাশ তাকে বললেন: তারা ধারণা করে যে জনৈক নবী মদকে হালাল করেছেন। কুরাইশ ব্যক্তি তাকে বলল: তবে তো কেউ তার ওপর ঈমান আনবে না যতক্ষণ না সে জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে আরোগ্য করে।

আল-আখফাশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন, সালাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ইবনুল আরাবি থেকে, তিনি বলেন: খাদ্য, পানীয়, লালা এবং কথার ক্ষেত্রে গলায় আটকে যাওয়া অর্থে 'গাসিসতু' বলা হয়। 'গাসাস', 'জায়য' এবং 'হারওয়াহ' একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। তেমনি 'তাহতাহাহ'-ও। আল-আখফাশ বলেন: আল-মুবররাদ বসরাবাসীদের কাছ থেকে হুবহু এটিই বর্ণনা করতেন। তিনি বলেন: যখন আলাদাভাবে বলা হয়, তখন খাদ্যের ক্ষেত্রে 'গাসিসতু' (গলায় খাদ্য আটকে যাওয়া), পানীয়র ক্ষেত্রে 'শারিকতু' (পানীয় গলায় আটকে যাওয়া) এবং লালার ক্ষেত্রে 'জারিততু' (লালা আটকে যাওয়া) বলা হয়। এখান থেকেই প্রচলিত প্রবাদটি এসেছে: "লালা আটকে যাওয়া কবিতার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে"। আল-আখফাশ বলেন: আল-খাইল থেকে বর্ণিত (يروى) আছে যে, তিনি বলেছেন: এক ব্যক্তির এক পুত্র ছিল যে কবিতা বলা শুরু করেছিল। পিতা তাকে তা করতে নিষেধ করলেন। এতে তার মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হলো এবং সে অসুস্থ হয়ে পড়ল। সে তার পিতাকে বলল: আপনি যদি আমাকে কবিতা বলা থেকে বিরত রাখেন তবে আমি ধ্বংস হয়ে যাব। পিতা তাকে অনুমতি দিলেন না যতক্ষণ না সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার উপক্রম হলো এবং পিতা তার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে পড়লেন। যখন তিনি তাকে এই অবস্থায় দেখলেন, তখন বললেন: হে বৎস, তুমি যা খুশি কবিতা বলো। সে বলল: হায়, অনেক দেরি হয়ে গেছে! লালা আজ কবিতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারপর সে ওয়াফির ছন্দে আবৃত্তি করল:

আমার জীবন যখন শেষ হয়ে এসেছে, তখন কি তিনি আমাকে সেই কবিতাগুলোর নির্দেশ দিচ্ছেন … যা তিনি আমার কাছে প্রত্যাশা করেন?

আমি শপথ করে বলছি, আমি যদি বেঁচে থাকতাম তবে এমন কথা বলতাম … যা প্রতিটি জিনের কবিতার ছন্দকেও ম্লান করে দিত।

আল-আখফাশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন, সালাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) যুবায়ের ইবনে বাক্কার থেকে, তিনি বলেন: লায়লা আল-আখইলিইয়াহ আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের দরবারে প্রবেশ করলেন। তিনি তাকে বললেন: আমি তোমাকে শপথ দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, তোমার এবং তাওবার মাঝে কি বিশেষ কিছু ছিল? সে বলল: না, সেই সত্তার কসম যিনি তার প্রাণ হরণ করেছেন এবং যিনি আমার প্রাণের ওপর ক্ষমতাবান, আমাদের মাঝে তেমন কিছু ছিল না। তবে সে তার কোনো এক সফর থেকে ফিরে আসার পর আমি তার কাছে গেলাম এবং তাকে সালাম দিলাম। তখন সে আমার হাত চাপ দিল। আমি ভাবলাম সে হয়তো কোনো মন্দ কাজের ইচ্ছা পোষণ করছে, তখন আমি তাবিল ছন্দে আবৃত্তি করলাম:

হে কামনাকারী ব্যক্তি, আমি তাকে বলেছি এটি প্রকাশ করো না … কারণ আমি যতদিন বেঁচে আছি এর কোনো পথ নেই।

আমাদের এমন এক সঙ্গী আছেন যার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা উচিত নয় … আর তুমিও তো অন্য একজনের সঙ্গী ও স্বামী।

আবু কাসিম বলেন: এটি 'খলিল' শব্দেও বর্ণিত (يروى), যা বন্ধুর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। বলা হয়: 'খালাকাল রাজুলু মুখালালাতান' অর্থাৎ বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা। ইমরুল কায়েসের উক্তিতে এর ব্যবহার পাওয়া যায়:

আমি বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে ঘৃণিত নই এবং অপছন্দনীয়ও নই।

'খলিল' অর্থ অভাবী ব্যক্তিও হয়। যেমন জুহাইরের উক্তিতে বাসিত ছন্দে পাওয়া যায়: যদি কোনো অভাবী ব্যক্তি প্রার্থনার দিনে তার কাছে আসে, তবে সে বলে: আমার সম্পদ গায়েব হয়ে যায়নি এবং তা নিষিদ্ধও নয়। আর 'খলিল' অর্থ স্বামী।
(খণ্ড: ১) আখবারু আবিল কাসিম আয-যুজ্জাজি (পৃষ্ঠা: ১০)
اخبرنا أبو سعيد الحسن بن علي بن بكر العدوى قال حدثنا عثمان ابن طالوت قال حدثنا الأصمعي قال: دخلت البادية فرأيت جارية من احسن الناس وجها تحت اقبح الناس وبها فقلت لها: يا هذه كيف رضيت مع جمالك إن تكوني تحت اقبح الناس وجها؟ فقالت: يا هذا بئس ما قلت فلعله احسن فيما بينه وبين ربه فجعلني ثوابه. أو أنا أذنبت فيما بيني وبين ربي فعاقبني به. أفلا أرضى لما رضي الله لي؟ قال فأسكتتني.

اخبرنا الأخفش قال اخبرنا المبرد عن المازني عن الجرمي قال: المحل: الكذب، يقال رجل محال أي كذاب، والمحل: السعاية، يقال أمحل فلان بفلان محلا إذا سعى به إلى السلطان، والمحل: الجدب يقال: أمحل البلد إذا أجدب، والاسم المحل كما يقال: أخصب إخصابا والاسم الخصب بالكسر لا غير. والمحل والمحال: المكر والكيد ومنه قوله تعالى شديد المحال ويروى إن عبد المطلب لما بلغه قرب أصحاب الفيل من مكة حلا على الحرم وخرج عنه، وقال: إن له إلاها يمنع منه، وأنشأ يقول: مجزوء الكامل

لا هُمَّ إنَّ المرء … يمنعُ رحلهُ فامنع رحالَكْ

لا يَغْلِبَنَّ صليبُهُم ومحِالُهم عَدواً مِحالَكْ

اخبرنا اليزيدي عن عمه أبي القاسم قال: عوتب دعبل بانصرافه عن النساء فتزوج امرأة فأقامت عنده ليلة ثم خلاها، فقي له في ذلك وانشأ يقول: المتقارب

رأيت عجوزا وقد أقبلت … فأبدت لعيني عن مبصقه

قصيرة الخلق دحداحة … تدحرج في المشي كالبندقية

تخطط حاجبها بالمداد … وتربط في عجزها مرفقه

وثديان ثدي كبلوطة … وآخر كالقربة المفقة

اخبرنا الأخفش قال: كتب العطوي إلى المعتضد وقد أقام بسنجار: الكامل

يا من أقام على قرى سنجار … واختارها دارا بخير قرار

أتركت بغداد التي لنسيمها … أرج من الأنوار والأشجار

هي جنة الدنيا فكيف تركتها … وسكنت دارا غير ذات قرار

أو ليس فيها ألف ألف مثوم … في صحف غرته سنا الأقمار

وكذاك فيها ألف ألف خريدة … في وجهها متنزه الأبصار

انظر بقلبك لا يعينك هل ترى … كرجالها في سائر للأمصار

من ذا تصاحبه هناك وعنده … نتف من الأخبار والأشعار

ممزوجة بخلائق أدبية … في رقة الماء الزلال الجاري

ولئن أقمت وبعتنا وجوارنا … بقريب عهد أو حديث مزار

فأنا أقول بفرط حرٍ في الحشا … وسعير نار غير ذات شرار

لم تستحل دمي وتعلم أنه … من يستحل دم امرئ في النار

اخبرنا الأخفش عن ثعلب عن ابن الأعرابي قال: الحال: لحم المتنين، والحال: الحمأة، والحال: الكارة التي يحملها الحمال، والحال: اللواء يعقد للأمراء وفيه ثلاث لغات: الخال وهي أعرقها والحال والجال، والحال: لحم باطن فخذ حمار الوحش، والحال: حال الإنسان، يقال: حال وحالة بمعنى واحد، والحال: الثقل، يقال: خفف عني حالي أي ثقلي والحال: امرأة الرجل، والحال: العجلة التي يعلم عليها الصبي المشي، وأنشد: السريع

وما زال ينمي جده صاعدا … مذ لد أن فارقه الحال

يقول: ما زال يعلو أمره وينمي مذ فطم، وقال ابن الأعرابي: وأنشدني بعض الفصحاء في ضد هذا: الرجز

وما زال مذ فرى عنه جلبه … له من اللؤم كلاء يجذبه

قال: جُلَبَة بمعنى جَلبَة وهي الغشاوة التي يكون فيها الولد فتنشق فيخرج منها، يعني مذ ولد. والطلاء: الحبل. يقول: ما زال له من اللؤم حبل يجذ به إليه. والطلا: الخمر، والطلاء: القطران، والطلا بالضم والتشديد والمد: قال: تركته يتضرب في طلائه.

اخبرنا أبو محمد بن السري السراج قال أخبرني وكيع قال حدثني بعض أصحابنا أن أبا نواس رآه بعض أصدقائه في النوم بعد موته فقال له: ما فعل الله بك؟ قال: غفر لي، قال: بماذا؟ قال، بأبيات قلتها، قال: ما هي؟ قال: هي فر رقعة في مخدة كانت تحت رأسي، فصار الرجل إلى منزله فسأل عن المخدة ففتقها فإذا فيها رقعة مكتوب فيها: الكامل

يا رب إن عظمت ذنوبي كثرة … فلقد علمت بأن عفوك أعظم
আবু সাঈদ আল-হাসান ইবনে আলী ইবনে বকর আল-আদাবী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন, উসমান ইবনে তালুত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন, আল-আসমাঈ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আমি মরুভূমিতে প্রবেশ করে একজন অত্যন্ত রূপবতী তরুণীকে দেখলাম, যার স্বামী ছিল কুৎসিততম মানুষদের একজন। আমি তাকে বললাম: হে নারী! তোমার এই রূপ-লাবণ্য সত্ত্বেও এমন কুৎসিত একজন ব্যক্তির স্ত্রী হিসেবে থাকতে তুমি কীভাবে সন্তুষ্ট হলে? সে বলল: হে ব্যক্তি! তুমি যা বললে তা কতই না মন্দ! হতে পারে সে তার এবং তার রবের মাঝে উত্তম কোনো কাজ করেছে, ফলে তিনি আমাকে তার পুরস্কারস্বরূপ দান করেছেন। অথবা আমি আমার এবং আমার রবের মাঝে কোনো গুনাহ করেছি, ফলে তিনি একে আমার শাস্তি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। আল্লাহ আমার জন্য যা পছন্দ করেছেন তাতে কি আমি সন্তুষ্ট হব না? আসমাঈ বলেন, তার এই কথা আমাকে নির্বাক করে দিল।

আল-আখফাশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন, আল-মুবররাদ আল-মাজিনী থেকে এবং তিনি আল-জারমী থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেছেন: 'আল-মাহল' অর্থ মিথ্যা; বলা হয় জনৈক ব্যক্তি 'মুহাল' অর্থাৎ মিথ্যাবাদী (كذاب)। 'আল-মাহল' অর্থ চোগলখুরি বা পরনিন্দাও হয়; বলা হয় অমুক ব্যক্তি সুলতানের নিকট অমুক ব্যক্তির বিরুদ্ধে 'আমহালা' করেছে যখন সে তার বিরুদ্ধে চোগলখুরি করে। 'আল-মাহল' অর্থ দুর্ভিক্ষও হয়; বলা হয় শহরটি 'আমহালা' অর্থাৎ দুর্ভিক্ষকবলিত হয়েছে। এর বিশেষ্য হলো 'আল-মাহল', যেমন বলা হয় 'আখসাবা ইখসাবান' এবং এর বিশেষ্য হলো 'আল-খসব' (খ-বর্ণে কাসরা বা জেরসহ)। 'আল-মাহল' এবং 'আল-মুহাল' অর্থ ষড়যন্ত্র ও কৌশল; এ থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: 'তিনি কৌশলে অত্যন্ত শক্তিশালী'। বর্ণিত আছে (يروى) যে, আব্দুল মুত্তালিব যখন মক্কার নিকটবর্তী হস্তীবাহিনীর আগমনের খবর পেলেন, তখন তিনি হারামের পবিত্রতা রক্ষার ভার আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে গেলেন এবং বললেন: নিশ্চয়ই এর একজন ইলাহ বা রব আছেন যিনি একে রক্ষা করবেন। অতঃপর তিনি আবৃত্তি করলেন:

হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই এক ব্যক্তি … তার বাহন রক্ষা করে, অতএব আপনিও আপনার ঘরকে রক্ষা করুন।

তাদের ক্রুশ এবং তাদের চক্রান্ত যেন আপনার কৌশলের … ওপর শত্রুরূপে জয়ী হতে না পারে।

আল-ইয়াজিদী তার চাচা আবুল কাসিম থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: দি'বিলকে নারীদের থেকে বিমুখ হওয়ার কারণে তিরস্কার করা হলো। ফলে তিনি একজন নারীকে বিবাহ করলেন এবং এক রাত তার কাছে থাকলেন, তারপর তাকে ছেড়ে দিলেন। এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি আবৃত্তি করলেন:

আমি এক বৃদ্ধাকে আসতে দেখলাম … সে আমার চোখের সামনে তার মুখগহ্বর উন্মোচিত করল।

সে খর্বাকৃতি ও বেঁটে … চলার সময় কামানের গোলার মতো গড়িয়ে চলে।

সে তার ভ্রু কালি দিয়ে অঙ্কন করে … এবং তার নিতম্বে কাপড়ের পট্টি বাঁধে।

তার স্তনদ্বয়—একটি ওক ফলের মতো … এবং অন্যটি ফুটো হয়ে যাওয়া চামড়ার মশকের মতো।

আল-আখফাশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আল-আতাওয়ী আল-মুতাদিদ-এর নিকট একটি চিঠি লিখলেন যখন তিনি সিনজারে অবস্থান করছিলেন:

হে সিনজারের জনপদসমূহে অবস্থানকারী … এবং একে সর্বোত্তম আবাস হিসেবে পছন্দকারী!

আপনি কি বাগদাদকে ছেড়ে দিলেন যার সুগন্ধিতে … ফুল ও বৃক্ষরাজি সুবাসিত হয়?

তা হলো দুনিয়ার জান্নাত, তবে আপনি কেন তা ছেড়ে দিলেন … এবং এক অস্থিতিশীল আবাসে বসতি স্থাপন করলেন?

সেখানে কি হাজার হাজার গণ্যমান্য ব্যক্তি নেই … যাদের ললাটে চাঁদের আভা ফুটে ওঠে?

তেমনি সেখানে কি হাজার হাজার পর্দানশীন নারী নেই … যাদের মুখমণ্ডল দর্শনার্থীদের জন্য ভ্রমণের স্থান?

নিজের অন্তর দিয়ে দেখুন, চোখ দিয়ে নয়, আপনি কি দেখেন … অন্য কোনো জনপদে বাগদাদের পুরুষদের মতো কাউকে?

সেখানে আপনি কার সাহচর্য পাবেন যার কাছে … সংবাদ এবং কবিতার অংশবিশেষ রয়েছে?

যা চারিত্রিক মাধুর্যমণ্ডিত … এবং প্রবহমান নির্মল পানির মতো স্বচ্ছ।

যদি আপনি আমাদের এবং আমাদের সান্নিধ্যকে … স্বল্প সময়ের বা নিকটবর্তী সাক্ষাতের বিনিময়ে বিক্রি করে অবস্থান করেন,

তবে আমি হৃদয়ের প্রচণ্ড দহন … এবং শিখাহীন অগ্নিকুণ্ড নিয়ে বলছি:

কেন আপনি আমার রক্ত হালাল করে নিলেন? অথচ আপনি জানেন যে … যে ব্যক্তি কোনো মানুষের রক্ত হালাল করে সে জাহান্নামী।

আল-আখফাশ সা'লাব থেকে এবং তিনি ইবনুল আরাবী থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: 'আল-হাল' হলো পিঠের দুই পাশের মাংস। 'আল-হাল' হলো কালো কাদা। 'আল-হাল' হলো সেই বড় বোঝা যা কুলি বহন করে। 'আল-হাল' হলো সেই পতাকা যা আমিরদের জন্য প্রদান করা হয়, এতে তিনটি শব্দ প্রচলিত আছে: 'আল-খাল' যা সবচেয়ে মূলগত, এবং 'আল-হাল' ও 'আল-জাল'। 'আল-হাল' হলো বন্য গাধার উরুর ভেতরের মাংস। 'আল-হাল' অর্থ মানুষের অবস্থা; 'হাল' এবং 'হালাহ' একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। 'আল-হাল' অর্থ ভার বা বোঝা; বলা হয়: 'আমার হাল অর্থাৎ বোঝা কমিয়ে দাও'। 'আল-হাল' অর্থ পুরুষের স্ত্রী। 'আল-হাল' হলো সেই চাকা যা দিয়ে শিশুকে হাঁটানো শেখানো হয়। কবি আবৃত্তি করেছেন:

তার ভাগ্য সর্বদা উন্নতির দিকেই ছিল … যবে থেকে সে হাঁটা শেখার চাকা ছেড়ে আলাদা হয়েছে।

তিনি বলেন: অর্থাৎ যখন থেকে তার দুধ ছাড়ানো হয়েছে, তখন থেকে তার মর্যাদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইবনুল আরাবী বলেন: জনৈক বিশুদ্ধভাষী ব্যক্তি এর বিপরীতে আমাকে আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন:

যবে থেকে তার গর্ভ আবরণ ছিন্ন হয়েছে … হীনতা তাকে দড়ির মতো নিজের দিকে টেনে নিচ্ছে।

তিনি বলেন: 'জুলবাহ' বলতে সেই পর্দাকে বোঝায় যাতে সন্তান আবৃত থাকে এবং তা ফেটে সে বেরিয়ে আসে, অর্থাৎ জন্মের সময় থেকে। 'আত-তিলা' হলো রশি। কবি বলছেন: জন্মলগ্ন থেকেই হীনতার রশি তাকে নিজের দিকে টেনে নিচ্ছে। 'আত-তলা' অর্থ মদ এবং 'আত-তিলা' অর্থ আলকাতরা। পেশ (যম্মাহ), তাশদীদ এবং দীর্ঘস্বরসহ 'আত-তুল্লা' সম্পর্কে তিনি বলেন: আমি তাকে তার ঘাড়ের ওপর পড়ে ধড়ফড় করতে রেখে এসেছি।

আবু মুহাম্মদ ইবনুল সারী আস-সাররাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন, ওয়াকী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني), তিনি বলেন, আমাদের এক সাথী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) যে, আবু নুয়াসের জনৈক বন্ধু তাকে মৃত্যুর পর স্বপ্নে দেখলেন এবং তাকে জিজ্ঞেস করলেন: আল্লাহ আপনার সাথে কী আচরণ করেছেন? তিনি বললেন: তিনি আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। বন্ধুটি জিজ্ঞেস করলেন: কিসের বিনিময়ে? তিনি বললেন: আমি কিছু পঙক্তি লিখেছিলাম তার কারণে। বন্ধুটি বললেন: সেগুলো কী? তিনি বললেন: সেগুলো একটি চিরকুটে লিখে আমার বালিশের নিচে রাখা আছে। অতঃপর লোকটি তার বাড়িতে গিয়ে বালিশটি খুঁজলেন এবং সেটি ছিঁড়ে একটি চিরকুট পেলেন যাতে লেখা ছিল:

হে আমার রব! যদিও আমার পাপরাশি অনেক বড় এবং অসংখ্য … তবুও আমি জানি যে আপনার ক্ষমা তার চেয়েও অধিকতর মহান।
(খণ্ড: ১) আখবারু আবিল কাসিম আয-যুজ্জাজি (পৃষ্ঠা: ১১)
إن كان لا يرجوك إلا محسن … فمن الذي يدعو ويرجو المجرم

أدعوك رب كما أمرت تضرّعا فإذا رددت يدي فمن ذا يرحم

مالي إليك وسيلة إلا التقى … وجميل ظني ثم إني مسلم

أنشدنا الأخفش قال أنشدنا ثعلب أنشدنا الرياشي قال أنشدنا المؤرج لنفسه: الطويل

وفارَقْتُ حتى لا أبالي من النوى … وإذ بانَ جيرانٌ علي كِرامُ

فقد جَعِلْتْ نفسي على النَّأيِ تَنْطَوِى … وعَيني على فَقْدِ الحَبيبِ تَنامُ

اخبرنا ابن دريد قال اخبرنا أبو حاتم السجستاني قال اخبرنا أبو عبيدة معمر المثنى قال: لما مات همام بن عامر البكري قال اخوته لابنيه ربيعة وكريب أيكما يأخذ سلاحه وجعبته وفرسه وقناته على أن يقضي حق همام في قومه، وأيكما يأخذ إبله على أن يقضي حق الضيف؟ فقال ربيعه أنا آخذ مكرمة أبي فأخذ جعبته وسلاحه وفرسه وقناته على أن يقضي حق قومه فيما ينوبهم. وأخذ كريب الإبل. فقيل لربيعة غبنك كريب بأخذ المال، وقيل لكريب غبنك ربيعة بأخذه مكرمة أبيه فأنشأ كريب يقول: الطويل

لعمرك ما أخذت المال إلا … لا بذله وذاك له سبيل

أثمّره وأعلم أن فيه … حقوقا تركها عار طويل

وخير المهال ما أعطيت منه … وشر المال ما أبقى البخيل

ولست بقائل أبدا لشيء … نعمم إلا وفيت بما أقول

فمهما يرج عند فتى أناس … فإني للتي يرجى مخيل

وقد علمت عكابة بعد إني … إذا ما نابها خطب جليل

بأن أخي إذا ما هاج هيج … سنان الرمح والسيف الصقيل

واجرد كالهراوة مشمخر … شديد الأسر حق له الثميل

فيحمدني المضاف إذا دعاني … خلال النقع والمرء الذليل

وقال ربيعة: لوافر

ألم ترني تركت الإبل عمدا … لعلمي أنها خير قليل

وقلت خذ الهجان وراعبيها … وحسبي السيف والرمح الطويل

وسلهبة يزل اللبد عنها … وغامضة القتير لها ذبول

وقدر للعفاة وجفنتاها … ونار لا يحل بها جهوله

أمور كان لوالدنا اقتناها … وليس إلى خلاف أبي سبيل

وقالوا قد غبنت فقلت لا بل … غبنت فلا أقال ولا أقيل

أآخذ بالعلا نابا ضروسا … مذممة لها ضرع حفيل

أبيت الليل أكلوها بعين … مؤرقة لها طرف ثقيل

وأترك مجد همام وجدي … جميل والذين بهم أصول

إذا ما المرء لم يخلف أباه … تعالته من الأيام غول

ستبلي إبل صاحبك الليالي … ويبقى بعدها الذكر الجميل

قال أبو القاسم: يقال رجل مخيل للخير إذا كان خليقا له، والعكابة من العكوب اشتقاقها وهو الغبار، والأجرد الفرس القصير الشعر وهو من الصفات المحمودة، والهراوة العصا، والمشمخر: الطويل، والثميل: بقية الطعام والعلف في الجوف، والسلهبة: الفرس الطويلة، والقتير: حلق الدرع، وهو في غير هذا الموضع الشيب، والناب: المسنة من الإبل، والحفيل: المملوءة لبنا ومنه قيل احتفل المجلس بأهله إذا امتلاء، والغول: ما أهلك الإنسان، والعرب تزعم إنها أنثى الشياطين، وينشد لامرئ القيس: الطويل

أيقتلني والمشرفي مضاجعي … ومسنونة زرق كأنياب أغوال

اخبرنا ابن السراج قال أخبرني وكيع قال: أرسل المتوكل إلى الحسن بن وهب أن قل شعرا في غد هذا اليوم، فقال: كيف يقول محبوس؟ فقال له بعض مات معه: قل فلعل ذلك أن يكون سببا للفرج؟ فقال: مخلع البسيط قد أسفر الصبح للقيامه واصطفقت رنة للأذان

ليلة لهو يسر صبحا … تناجه يوم ومهرجان

فاسقياني وغنياني … كل أسير وكل عان

يخلص الله كل شمل … شتته حادث الزمان

أما ترى البارق اليماني … حقا يقينا لقد شجاني

ذكرني عارضي بنات … تلك التي سادت الواني
যদি কেবল সৎকর্মশীলরাই আপনার কাছে প্রত্যাশা রাখে … তবে অপরাধী কার কাছে দোয়া করবে এবং কার কাছে প্রত্যাশা রাখবে?

হে প্রভু, আমি আপনাকে ডাকছি যেভাবে আপনি বিনীতভাবে ডাকার আদেশ দিয়েছেন; যদি আপনি আমার হাত ফিরিয়ে দেন, তবে কে দয়া করবেন?

আপনার নিকট পৌঁছানোর জন্য তাকওয়া ব্যতীত আমার কোনো উপায় নেই … এবং আপনার প্রতি আমার উত্তম ধারণা, আর আমি একজন মুসলিম।

আল-আখফাশ আমাদের নিকট কবিতা আবৃত্তি করেছেন (أنشدنا), তিনি বলেন: ছালাব আমাদের নিকট কবিতা আবৃত্তি করেছেন, আর-রাইয়াশি আমাদের নিকট কবিতা আবৃত্তি করেছেন, তিনি বলেন: আল-মুআররিজ স্বরচিত কবিতা আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন: (তবিল ছন্দ)

আমি বিচ্ছেদ সহ্য করেছি এমনকি এখন আর দূরত্বের পরোয়া করি না … যখন আমার সম্মানিত প্রতিবেশীরা আমা হতে পৃথক হয়ে গেল।

আমার প্রাণ এই বিচ্ছেদে ধৈর্য ধারণ করতে অভ্যস্ত হয়েছে … এবং প্রিয়জনকে হারানোর বেদনায় আমার চোখ এখন ঘুমিয়ে পড়ে।

ইবনে দুরাইদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আবু হাতিম আস-সিজিস্তানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আবু উবায়দাহ মা’মার আল-মুসান্না আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا): যখন হাম্মাম বিন আমির আল-বাকরি মৃত্যুবরণ করেন, তখন তার ভাইয়েরা তার দুই পুত্র রাবিয়াহ ও কুরাইবকে বলল, ‘তোমাদের মধ্যে কে তার অস্ত্রশস্ত্র, তূণ, ঘোড়া এবং বর্শা গ্রহণ করবে এই শর্তে যে সে তার কওমের মধ্যে হাম্মামের হক আদায় করবে? আর তোমাদের মধ্যে কে তার উটগুলো গ্রহণ করবে এই শর্তে যে সে অতিথিদের হক আদায় করবে?’ রাবিয়াহ বলল, ‘আমি আমার পিতার আভিজাত্য গ্রহণ করব।’ অতঃপর সে তূণ, অস্ত্রশস্ত্র, ঘোড়া ও বর্শা গ্রহণ করল এই শর্তে যে, তার কওমের উপর যখনই কোনো বিপদ আসবে সে তাদের দায়িত্ব পালন করবে। আর কুরাইব উটগুলো গ্রহণ করল। রাবিয়াহকে বলা হলো, ‘কুরাইব সম্পদ নিয়ে তোমাকে ঠকিয়ে দিয়েছে’; আবার কুরাইবকে বলা হলো, ‘রাবিয়াহ তার পিতার আভিজাত্য গ্রহণ করে তোমাকে ঠকিয়ে দিয়েছে।’ তখন কুরাইব এই কবিতা আবৃত্তি করল: (তবিল ছন্দ)

তোমার জীবনের শপথ, আমি সম্পদ কেবল এজন্যই গ্রহণ করেছি … যেন তা ব্যয় করতে পারি, আর ব্যয় করার পথ উন্মুক্ত।

আমি তা বৃদ্ধি করি এবং জানি যে এতে এমন সব অধিকার রয়েছে … যা বর্জন করা দীর্ঘস্থায়ী অপমানের কারণ।

শ্রেষ্ঠ সম্পদ হলো যা থেকে তুমি দান করো … আর নিকৃষ্ট সম্পদ হলো যা কৃপণ ব্যক্তি জমা রেখে যায়।

আমি কোনো কিছুর জন্য কখনো ‘হ্যাঁ’ বলে … সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী নই।

যখনই মানুষ কোনো যুবকের কাছে প্রত্যাশা করে … তখন আমি সেই প্রত্যাশা পূরণের যোগ্য ব্যক্তি।

উকাবা গোত্র ইতিমধ্যেই জেনে গেছে যে … যখনই তাদের উপর কোনো কঠিন বিপদ আপতিত হয়,

তখন আমার ভাই যুদ্ধের উদ্দীপনায় জেগে ওঠে … তার বর্শার ফলক এবং ধারালো তরবারি নিয়ে।

সে যেন এক মসৃণ লাঠি, দীর্ঘকায় ও তেজোদীপ্ত … যার শারীরিক গঠন অত্যন্ত সুদৃঢ়।

বিপদের সময় যখন আর্তনাদকারী আমাকে আহ্বান করে … ধূলিঝড় আর অপমানের মাঝে, তখন সে আমার প্রশংসা করে।

আর রাবিয়াহ বলল: (ওয়াফির ছন্দ)

তুমি কি দেখলে না আমি জেনেশুনে উটগুলো ত্যাগ করেছি … কারণ আমি জানি এগুলো সামান্যই সম্পদ।

আমি বললাম, শ্রেষ্ঠ উট ও তার রাখালদের নিয়ে নাও … আমার জন্য এই তরবারি আর দীর্ঘ বর্শাই যথেষ্ট।

আর রয়েছে সেই দীর্ঘকায় তেজি ঘোড়া এবং … অতি সূক্ষ্ম বুননের বর্ম।

দরিদ্রদের জন্য পাত্রভর্তি খাবার প্রস্তুত থাকে … আর প্রজ্জ্বলিত অগ্নি, যেখানে কোনো মূর্খতা প্রশ্রয় পায় না।

এসব গুনাগুণ আমার পিতা অর্জন করেছিলেন … আর পিতার বিরুদ্ধাচরণ করার কোনো পথ নেই।

তারা বলল, ‘তুমি ঠকে গেছ’, আমি বললাম, ‘না, বরং … আমি জিতেছি, আমি আমার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করব না।’

আমি কি শ্রেষ্ঠত্বের বিনিময়ে সেই বুড়ো উট গ্রহণ করব … যার ওলান দুধে পূর্ণ কিন্তু তা নিন্দিত?

আমি কি বিনিদ্র চোখে রাত জেগে উট পাহারা দেব … যার ক্লান্তি চোখে লেগে থাকে?

আর আমি কি হাম্মামের মর্যাদা এবং আমার পূর্বপুরুষদের সম্মান ত্যাগ করব … যাদের উসিলায় আমি বীরত্ব প্রদর্শন করি?

মানুষ যদি তার পিতার যোগ্য উত্তরসূরি হতে না পারে … তবে কালের বিপদ তাকে গ্রাস করবে।

তোমার সঙ্গীর উটগুলো হয়তো সময়ের আবর্তে ধ্বংস হয়ে যাবে … কিন্তু উত্তম স্মৃতি চিরকাল বেঁচে থাকবে।

আবু কাসিম বলেন: কোনো ব্যক্তিকে ‘মখীল’ (مخيل) বলা হয় যখন সে কল্যাণের যোগ্য হয়। ‘উকাবা’ (عكابة) শব্দটি ‘উকব’ (عكوب) থেকে এসেছে যার অর্থ ধূলি। ‘আজরাদ’ (الأجرد) হলো ছোট লোমের ঘোড়া, যা প্রশংসনীয় একটি গুণ। ‘হিরাওয়া’ (الهراوة) মানে লাঠি। ‘মশমখির’ (المشمخر) অর্থ দীর্ঘ। ‘সামিল’ (الثميل) হলো পেটের ভেতর খাদ্য ও ঘাসের অবশিষ্টাংশ। ‘সালহাবা’ (السلهبة) অর্থ দীর্ঘকায় ঘোটকী। ‘কাতীর’ (القتير) মানে বর্মের কড়া, তবে অন্য স্থানে এর অর্থ বার্ধক্যের শুভ্রতা। ‘নাব’ (الناب) হলো বয়স্ক উট। ‘হাফীল’ (الحفيل) হলো দুধে পূর্ণ ওলান; এখান থেকেই বলা হয় ‘এহতাফালাল মজলিস’ (احتفل المجلس), অর্থাৎ মজলিস মানুষে পূর্ণ হয়ে গেছে। ‘গুল’ (الغول) হলো যা মানুষকে ধ্বংস করে; আরবরা ধারণা করত এটি শয়তানের নারী রূপ। ইমরুল কায়েসের কবিতায় রয়েছে: (তবিল ছন্দ)

সে কি আমাকে হত্যা করবে অথচ ‘মাশরাফি’ তরবারি আমার শয্যাসঙ্গী … এবং নীল বর্ণের ধারালো বর্শাফলক, যা যেন রাক্ষসীর দাঁত।

ইবনে সাররাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: ওয়াকি’ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني): খলিফা মুতাওয়াক্কিল হাসান বিন ওয়াহবের কাছে সংবাদ পাঠালেন যে, আগামীকাল যেন তিনি একটি কবিতা বলেন। হাসান বললেন, ‘একজন বন্দী কীভাবে কবিতা বলবে?’ তার সাথে বন্দী একজন বললেন, ‘কবিতা বলুন, হতে পারে এটিই আপনার মুক্তির উসিলা হবে।’ তখন তিনি বললেন: (মুখাল্লাউল বাসিত ছন্দ)

ভোর হয়েছে জেগে ওঠার জন্য, আর আজানের ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।

আনন্দের রাত যা ভোরের অপেক্ষায় ব্যাকুল … উৎসবের দিন তাকে হাতছানি দিচ্ছে।

আমাকে পান করাও এবং গান শোনাও … প্রত্যেক বন্দী ও আর্তের জন্য।

আল্লাহ যেন সেই প্রতিটি মিলনকে পুনর্জীবিত করেন … যা কালের আবর্তে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

তুমি কি ইয়েমেনি বিজলি দেখতে পাচ্ছ না? … ধ্রুব সত্য এই যে, তা আমাকে ব্যথিত করেছে।

তা আমাকে সেই কন্যাদের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে … যারা আমার দুর্বল সত্তার উপর আধিপত্য বিস্তার করেছিল।
(খণ্ড: ১) আখবারু আবিল কাসিম আয-যুজ্জাজি (পৃষ্ঠা: ১২)
حبيبة لي حجبت عنها … فما أراها ولا تراني

أخبرنا نفطوية عن ثعلب عن أبي نجدة عن الأصمعي قال: سمعت أعرابية تصف شبابها وهي تقول: كنت والله أحسن من السماء وأشهى من الماء. أنشدنا نفطويه عن ثعلب عن ابن الأعرابي: الطويل

ألم ترني أزمعت صرما وهجرة … لليلى فما أستطيع صرما ولا هجرا

وما مر يوم مذ لدن إن هجرتها … ولا ساعة ألا اجهد لها ذكرا

فيا عجبا من وصلي الحبل كي ترى … جديدا وقد أمست علائقه بترا

فإن تصبحي بعد التجاور والهوىصددت فقد أصبحت في أذني وقرا اخبرنا ابن شقير قال: حضرت المبرد وقد سأله رجل عن معنى قول

الشاعر: الطولي

فلو إن قومي أنطقتني رماحهم … نطقت ولكن الرماح أجَرَّتِ

فقال: هذا كقول الآخر: الطويل

وقافية قيلت فلم استطع لها … دفاعا إذا لم تضربوا بالمناصل

فأدفع عن حق بحق ولم يكن … ليدفع عنكم قالة الحق باطل

قال أبو القاسم: معنى هذا إن الفصيل إذا لج بالرضاع جعلوا في انفه خلالة محدودة، فإذا جاء يرضع أمه نخستها تلك الخلالة فتمنعه من الرضاع. فان كف عن رضاعها وإلا أجرِّوه، والإجرار إن يشق لسان الفصيل إن يقطع طرفه فيمتنع حينئذ من الرضاع ضرورة. فقال قائل البيت الأول: إن قومي لم يقاتلوا فأنا مجر عن مدحهم لأني ممنوع، كأن رماحهم حين قصروا عن القتال بها أجرتني عن مدحهم كما تجر الفصيل عن الرضاع. ففسره أبو العباس بالبيتين اللذين مضيا.

وللإجرار موضع أخر، وهو إن يطعن الفارس الفارس فيمكن الرمح فيه ثم يتركه منهزما يجر الرمح فذلك قاتل لا محالة، ومنه قول الشاعر: الوافر

وآخر منهم أجررت رمحي … وفي البَجَلِيّ مِعْبلة وقيع

وقول الآخر: الكامل

ونقي بأفضلِ مالنا أحسابَنا … ونَجُر في الهَيجا الرماحَ ونَدَّعِي

اخبرنا اليزيدي عن عمه أبي القاسم عن أبي محمد يحيي بن المبارك اليزيدي قال: روى عن الشعبي انه قال قال عبد الله بن مسعود في قول الله تعالى إن إبراهيم كان أمة قانتا لله حنيفا. قال: الأمة: الرجل المعلم للخير، والقانت: المطيع، والحنيف: التارك الشرك، اجتباه يقول: اصطفاه وهداد إلى صراط مستقيم يعني يستقيم به إلى الجنة. وآتيناه في الدنيا حسنة. قال: الذكر الطيب والثناء الجميل ما من أمة ولا أهل دين إلا وهم يتولونه ويرضون به. قال أبو القاسم: القنوت في اللغة طول القيام، ومنه قيل للداعي قانت، والمصلي قانت. والحنف: الميل، وقيل للمسلم حنيف لعدوله عن الشرك إلى الإسلام وميله لا رجوع معه. ومنه الحنف في الرجلين وهو إقبال كل واحدة من الإبهامين على صاحبتها وميلها عن سائر الأصابع. وكان الحنيف في الجاهلية من كان يحج البيت ويغتسل من الجنابة ويغسل موتاه ويختتن. فلما جاء الإسلام صار الحنيف المسلم.

أخبرنا الأخفش عن ثعلب عن المبرد عن ابن الأعرابي عن المفضل الضبي قال قال لي أمير المؤمنين المنصور: صف لي الجواد من الخيل، فقلت: يا أمير المؤمنين إذا كان الفرس طويل ثلاث، قصير ثلاث رحب ثلاث، صافي ثلاث فذلك الجواد الذي لا يجارى. قال فسرها، فقلت: أما الثلاث الطوال، فالأذنان والهادي والفخذ، وأما القصار فالظهر والعسيب والساق، والرحاب: المنخر والجبهة واللبان والصافية: للأديم والحافر والعين.

أنشدنا المعنوي قال أنشدنا الفضل بن الحباب قال أنشدني أبو محمد التوزي عن أبي عبيدة لأنيف بن جبلة الضبي فارس الشيط: الكامل

ولقد حلبت الدهر اشطره … فعرفت ما آتي وما أجتنّب

ولقد شهدت الخيل تحمل شكّتي … عتد كسرحان القصيمة ينهب

أما إذا استقبلته فكأنه … للعين جذع من أوال مشذّب

وإذا اعترضت به استوت أقطاره … وكأنه مستدبرا متصوّب

قال أبو غانم معنى هذه الأبيات مأخوذة من معنى قول أبي أقيصر في وصف فرس. إذا استقبلته أقعى وإذا أستدبرته جبنى وإذا اعترضته استوى.
আমার এক প্রিয়তমা, যাঁর থেকে আমাকে আড়াল করা হয়েছে … তাই আমি তাঁকে দেখি না এবং তিনিও আমাকে দেখেন না।

নাফতাওয়াইহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) সা'লাব থেকে, তিনি আবু নাজদাহ থেকে, তিনি আসমায়ি থেকে; তিনি (আসমায়ি) বলেন: আমি এক বেদুইন নারীকে তাঁর যৌবনের বর্ণনা দিতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: আল্লাহর কসম! আমি আকাশের চেয়েও সুন্দর এবং পানির চেয়েও অধিক আকাঙ্ক্ষিত ছিলাম। নাফতাওয়াইহ আমাদের আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন সা'লাব থেকে, তিনি ইবনুল আরাবি থেকে: (তবিল ছন্দ)

তুমি কি দেখনি যে আমি লায়লার সাথে সম্পর্কচ্ছেদ ও বিচ্ছেদের দৃঢ় সংকল্প করেছি … অথচ আমি না পারছি সম্পর্কচ্ছেদ করতে, না পারছি বিচ্ছেদ সহ্য করতে।

যেদিন থেকে আমি তাঁকে ছেড়েছি, এমন কোনো দিন অতিবাহিত হয়নি … আর এমন কোনো মুহূর্তও যায়নি, যখন আমি একান্ত আগ্রহে তাঁকে স্মরণ করিনি।

হায় বিস্ময়! আমি মিলনের রশিকে জোড়া দিচ্ছি যাতে তা নতুন দেখায় … অথচ তার বন্ধনগুলো ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

যদি তুমি সাহচর্য ও ভালোবাসার পর বিমুখ হয়ে যাও, তবে তা আমার কানে এক ভারী বোঝা (বধিরতা) হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইবনু শুকাইর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আমি মুবাররাদের নিকট উপস্থিত ছিলাম যখন এক ব্যক্তি তাঁকে কবির এই পংক্তির অর্থ জিজ্ঞাসা করছিলেন:

কবি বলেছেন: (তবিল ছন্দ)

যদি আমার কওমের বর্শাগুলো আমাকে কথা বলার সুযোগ করে দিত … তবে আমি কথা বলতাম; কিন্তু বর্শাগুলো আমাকে বাকরুদ্ধ (أجَرَّتِ) করে দিয়েছে।

তখন তিনি (মুবাররাদ) বললেন: এটি অন্য এক কবির বাণীর মতো: (তবিল ছন্দ)

এমন এক পংক্তি বলা হয়েছে যার কোনো জবাব দেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই … যতক্ষণ না তোমরা তলোয়ার দিয়ে আঘাত হানবে।

আমি সত্যের মাধ্যমে সত্যকে রক্ষা করি, আর তোমাদের পক্ষ থেকে … সত্যের কথাকে বাতিল দিয়ে প্রতিহত করা সম্ভব নয়।

আবু আল-কাসিম বলেন: এর অর্থ হলো, উটের বাচ্চা যখন দুধ পানের জন্য অতিমাত্রায় পীড়াপীড়ি করে, তখন তারা তার নাকে একটি ধারালো কাঠি বিদ্ধ করে দেয়। যখন সে তার মায়ের দুধ পান করতে আসে, তখন সেই কাঠিটি মাদি উটকে আঘাত করে, ফলে সে তাকে দুধ পানে বাধা দেয়। যদি সে এতেও বিরত না হয়, তবে তারা তার জিহ্বা চিরে দেয় (أجرُّوه)। আর 'ইজরার' (الإجرار) হলো উটের বাচ্চার জিহ্বা চিরে দেওয়া বা তার অগ্রভাগ কেটে ফেলা, ফলে সে নিরুপায় হয়ে দুধ পান থেকে বিরত থাকে। প্রথম পংক্তির বক্তা বলতে চেয়েছেন: আমার কওম যুদ্ধে লড়েনি, তাই আমি তাদের প্রশংসা করতে পারছি না কারণ আমি বাধাগ্রস্ত। তাদের বর্শাগুলো যখন যুদ্ধে অংশ নিতে ব্যর্থ হলো, তখন তা আমাকে তাদের প্রশংসা করা থেকে বিরত (أجرتني) করে দিল, ঠিক যেমন উটের বাচ্চাকে দুধ পান থেকে বিরত রাখা হয়। অতঃপর আবু আল-আব্বাস পূর্বোক্ত দুটি পংক্তির মাধ্যমে এর ব্যাখ্যা প্রদান করেন।

'ইজরার' (الإجرار) শব্দের আরেকটি প্রয়োগ রয়েছে; তা হলো যখন কোনো অশ্বারোহী অন্য কোনো অশ্বারোহীকে বর্শা বিদ্ধ করে এবং বর্শাটি তার শরীরে বিঁধিয়ে রেখেই তাকে পলায়ন করতে দেয় আর সে বর্শাটি টেনে নিয়ে যায় (يجر الرمح)। এটি নিশ্চিতভাবে প্রাণঘাতী। এ প্রসঙ্গে কবির উক্তি: (ওয়াফির ছন্দ)

তাদের মধ্য থেকে অন্য একজনকে আমি বর্শা বিদ্ধ করেছি যে তা টেনে নিয়ে যাচ্ছিল … আর বাজালি গোত্রের ব্যক্তির দেহে বিঁধে ছিল সুতীক্ষ্ণ ও মসৃণ চওড়া তীরের ফলক।

অন্য কবির উক্তি: (কামিল ছন্দ)

আমরা আমাদের সর্বোত্তম সম্পদ দিয়ে আমাদের সম্মান রক্ষা করি … আর যুদ্ধের ময়দানে আমরা বর্শা টেনে নিয়ে চলি এবং বীরত্বের দাবি করি।

আল-ইয়াজিদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) তাঁর চাচা আবু আল-কাসিম থেকে, তিনি আবু মুহাম্মদ ইয়াহইয়া ইবনুল মুবারক আল-ইয়াজিদি থেকে; তিনি বলেন: আশ-শা'বি থেকে বর্ণিত (روى) হয়েছে যে, তিনি বলেছেন, মহান আল্লাহর বাণী—"নিশ্চয়ই ইব্রাহিম ছিলেন একনিষ্ঠ অনুগত (قانتا), সত্যনিষ্ঠ (حنيفا) এবং এক উম্মত (أمة)"—প্রসঙ্গে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেছেন: 'উম্মত' (الأمة) হলেন সেই ব্যক্তি যিনি মানুষকে কল্যাণ শিক্ষা দেন; 'কানিত' (القانت) হলেন অনুগত; আর 'হানিফ' (الحنيف) হলেন শিরক বর্জনকারী। 'তাকে মনোনীত করেছেন' (اجتباه) এর অর্থ তিনি তাঁকে চয়ন করেছেন (اصطفاه) এবং তাঁকে সরল পথের (صراط مستقيم) দিকে পরিচালিত করেছেন, অর্থাৎ যা জান্নাতের দিকে নিয়ে যায়। "আর আমি তাকে দুনিয়াতে কল্যাণ (حسنة) দান করেছি।" তিনি বলেন: এটি হলো উত্তম আলোচনা ও সুন্দর প্রশংসা; এমন কোনো জাতি বা ধর্মাবলম্বী নেই যারা তাঁকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে না এবং তাঁর ওপর সন্তুষ্ট নয়। আবু আল-কাসিম বলেন: অভিধানে 'কুনুত' (القنوت) অর্থ দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা, এ কারণেই দোয়াকারীকে 'কানিত' এবং নামাজিকে 'কানিত' বলা হয়। আর 'হানফ' (الحنف) অর্থ হলো বিচ্যুতি বা এক দিকে ঝুঁকে পড়া। মুসলিম ব্যক্তিকে 'হানিফ' (حنيف) বলা হয় কারণ সে শিরক থেকে বিচ্যুত হয়ে ইসলামের দিকে ঝুঁকে পড়েছে এবং এমনভাবে নিবিষ্ট হয়েছে যেখান থেকে আর ফেরার নেই। এ থেকেই পায়ের 'হানফ' (الحنف) শব্দটি এসেছে, যার অর্থ হলো দুই পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলি একে অপরের দিকে ঝুঁকে থাকা এবং অন্য আঙ্গুলগুলো থেকে সরে থাকা। জাহেলি যুগে 'হানিফ' বলা হতো তাকে যে বায়তুল্লাহর হজ করত, জানাবাত থেকে গোসল করত, মৃতকে গোসল দিত এবং খতনা করত। অতঃপর যখন ইসলাম এল, তখন 'হানিফ' অর্থ হলো মুসলিম।

আল-আখফাশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) সা'লাব থেকে, তিনি মুবাররাদ থেকে, তিনি ইবনুল আরাবি থেকে, তিনি মুফাদ্দাল আদ-দাব্বি থেকে; তিনি বলেন: আমিরুল মুমিনীন আল-মানসুর আমাকে বললেন: আমার কাছে শ্রেষ্ঠ ঘোড়ার (الجواد) বর্ণনা দিন। আমি বললাম: হে আমিরুল মুমিনীন! যদি ঘোড়ার তিনটি অঙ্গ লম্বা হয়, তিনটি ছোট হয়, তিনটি প্রশস্ত হয় এবং তিনটি স্বচ্ছ হয়—তবে সেটিই সেই শ্রেষ্ঠ ঘোড়া যাকে অতিক্রম করা যায় না। তিনি বললেন: এর ব্যাখ্যা দিন। আমি বললাম: দীর্ঘ তিনটি হলো—কান, ঘাড় এবং উরু। খাটো তিনটি হলো—পিঠ, লেজের গোড়া এবং পায়ের নলা। প্রশস্ত তিনটি হলো—নাসারন্ধ্র, কপাল এবং বুক। আর স্বচ্ছ তিনটি হলো—চামড়া, খুর এবং চোখ।

আল-মানুয়ি আমাদের আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আল-ফাদল ইবনুল হুবাব আমাদের আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আবু মুহাম্মদ আত-তাউজি আমাকে আনাইফ ইবনে জাবালাহ আদ-দাব্বির কবিতা আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন: (কামিল ছন্দ)

আমি মহাকালের চড়াই-উতরাই নিংড়ে দেখেছি … তাই আমি জানি কী গ্রহণ করতে হবে আর কী বর্জন করতে হবে।

আমি এমন সব ঘোড়ার মাঝে উপস্থিত হয়েছি যারা আমার যুদ্ধাস্ত্র বহন করছিল … যারা ছিল বনের নেকড়ের মতো ক্ষিপ্র ও শিকারি।

যখন তুমি তার সামনের দিকে তাকাবে, তখন চোখের সামনে তাকে মনে হবে … যেন আওয়াল দ্বীপের ডালপালা ছাঁটা একটি খেজুর কাণ্ড।

যখন তুমি তার পাশ থেকে দেখবে, তার সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সুঠাম ও সমান … আর পেছন থেকে দেখলে মনে হবে সে যেন পাহাড় থেকে নিচের দিকে ধাবমান।

আবু গানিম বলেন: এই পংক্তিগুলোর অর্থ আবু আকাইসারের একটি ঘোড়ার বর্ণনার ভাব থেকে নেওয়া হয়েছে। যখন তুমি তার সামনের দিকে তাকাবে তখন সে কুঁকড়ে আছে বলে মনে হবে, যখন পেছন থেকে দেখবে তখন মনে হবে সে গুটিয়ে আছে, আর যখন পাশ থেকে দেখবে তখন সে সুঠাম ও সমান দেখাবে।
(খণ্ড: ১) আখবারু আবিল কাসিম আয-যুজ্জাজি (পৃষ্ঠা: ১৩)
اخبرنا عبد الله بن مالك قال اخبرنا الرياشي قال اخبرني محمد بن أبي رجاء عن رجل من بني مخزوم عن أبيه أو عمه قال: لقيت ابن هرمة منصرفة من المدينة فقال لي: قد خرج هذا الرجل يعني محمد بن عبد الله ابن حسن وقد قلت أبياتا فاعرفها واحفظها: الطويل

أرى الناس في أمر سحيل فلا تزلعلى حذر حتى ترى الأمر مبرما فإنك لا تستطيع رد الذي مضىإذا القول عن زلاته فارق الفما

فكائن ترى من وافر العرض صامتا … وآخر أردى نفسه إن تكلما

اخبرنا ابن دريد قال اخبرني عمي عن ابن الكلبي قال اخبرني أبو حاتم عن أبي عبيدة قالا: خرج سامة ابن لؤي بن غالب من مكة حتى نزل بعمان فأنشأ: الخفيف

بَلّغا عامرا وكعباً رسولا … إن نفسي إليهما مشتاقه

إن تكن في عمان داري فإني … ماجد ما خربت من غير فاقه

ثم خرج يسير حتى نزل على رجل من الأزد فقراه وبات عنده. فلمام أصبح قعد يستن، فنظرت إليه امرأة الأزدي فأعجبها. فلما رمى قصمة سواكه أخذتها فمصتها، فنظر إليها زوجها فحلب ناقتة إلى وضع في حلابها سماً وقدمه إلى سامة، فغمزته المرأة فهراق اللبن وخرج يسير. فبينما هو في موضع يقال له جوف الخميلة هوت ناقته إلى عرفجة فانتشلتها وفيها أفعى ففتحتها فرمت بها على ساق سامة، فنهشته فمات. فقالت الأزدية تبكيه حين بلغها أمره: الخفيف

عين بكي لسامة بن لؤي … علقت ساق سامة العلاقه

لا أرى مثل سامة بن لؤي … حملت حتفه إليه الناقه

رب كأس هرقتها ابن لؤي … حذر الموت لم تكن مهراقه

وحدوس السرى تركت رديا … بعد هجر وجرأة ورشاقه

وتعاطيت مفرقا بحسام … وتجنبت قالة العوّاقه

اخبرنا أبو عبد الله إبراهيم بن محمد بن عرفه قال حدثننا الحنيني عن احمد بن المفضل عن أسباط عن السدى قال: روى عن ابن عباس قوله تعالى (أم حسبت إن أصحاب الكهف والرقيم … الآية) قال: أن الفتية لما هربوا من أهلهم خوفا على دينهم فقدوهم، فخبروا الملك خبرهم، فأمر بلوح من رصاص فكتب فيه أسماءهم وألقاه خزانته، وقال: انه سيكون لهم شأن. فذلك اللوح هو الرقيم.

قال أبو القاسم: في الرقيم خمسة أقوال؛ أحدها انه هذا الذي روى عن ابن عباس انه لوح كتب فيه أسماؤهم. والآخر إن الرقيم هو الدواة يروى ذلك عن مجاهد وقال: هو بلغة الروم والثالث إن الرقيم القرية وهو يروى عن كعب. والرابع إن الرقيم الوادي. والخامس ما روى عن الضحاك وقتادة قالا: الرقيم: الكتاب، والى هذا يذهب أهل اللغة ويقولون: هو فعيل ويقولون: هو فعيل بتأويل مفعول، يقال: رقمت الكتاب فهو رقيم ومرقوم كما قال تعالى كتاب مرقوم.

اخبرنا ابن دريد قال اخبرنا السجستاني عن أبي عبيدة عن العتبي عن أبيه عن جده قال: ولي معاوية بن أبي سفيان روح بن زنباع عملا فبلغته عنه خيانة فصرفه وأمره بالقدوم عليه، ففعل فأمر بضربه، فلما أخذته السياط قال: نشدتك الله يا أمير المؤمنين إن تهدم مني ركنا أفت بنيته أو نضع خسيسة أنت رفعتها أو تشمت بي عدو أنت وقمته وبالله إلا أتى حلمك، كل جهلي وعفوك على إفساد صنائعك. فقال معاوية: الطويل

إذا الله سنّى عقد تيّسرا

خلو عنه.

اخبرنا الأخفش قال اخبرنا ثعلب عن عمر بن شبة قال: تزوج الحسن بي علي خولة بنت منظور بن زبان فأقامت عنده حولا لا تكتحل ولا تتزين حتى ولدت له ابنا فدخل عليها يوما وقد تزينت فقال: ما هذا؟ فقالت: خفت إن اتزين وأتصنع فيقول النساء تجملت له فلم تر عنده شيئا، فأما وقد جاء هذا فلا أبالي.

فلما مات الحسن جزعت عليه جزعا شديدا فقال منظور أبوها الكامل

نُبِّئْتُ خولة أمسِ قد جزعتْ … من إن تنوبَ نوائبُ الدهرِ

لا تجزعي يا خول واصطبري … إن الكرامُ بنوا على الصبر
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবদুল্লাহ বিন মালিক, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আর-রিয়াশি, তিনি বলেন, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني) মুহাম্মদ বিন আবি রাজা জনৈক বনু মাখযুমের ব্যক্তির সূত্রে, তিনি তার পিতা অথবা চাচার থেকে বর্ণনা করেন (روى عن), তিনি বলেন: আমি ইবনে হারমার সাথে মদিনা থেকে ফিরে আসার সময় সাক্ষাৎ করলাম। তিনি আমাকে বললেন: এই ব্যক্তি অর্থাৎ মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন হাসান বিদ্রোহ করেছেন এবং আমি কিছু পঙক্তি বলেছি, সেগুলো চিনে রাখো এবং মুখস্থ করো (তবিল ছন্দ):

আমি মানুষকে এক শিথিল বিষয়ে দেখছি, তাই ততক্ষণ পর্যন্ত সতর্ক থেকো না যতক্ষণ না বিষয়টি সুদৃঢ় হয়। কেননা যা গত হয়ে গেছে তা তুমি ফিরিয়ে আনতে পারবে না, যখন কথা তার পদস্খলনসহ মুখ থেকে বিচ্যুত হয়।

তুমি কতই না সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিকে দেখবে যে নীরব থাকে … আর অন্যজন কথা বললে নিজেকে ধ্বংস করে ফেলে।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) ইবনে দুরেয়িদ, তিনি বলেন, আমাকে আমার চাচা ইবনুল কালবির সূত্রে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني), তিনি বলেন, আমাকে আবু হাতিম আবু উবায়দার সূত্রে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني), তারা উভয়ে বলেন: সামা বিন লুআই বিন গালিব মক্কা থেকে বের হয়ে ওমানে অবতরণ করেন এবং তিনি এই পঙক্তিটি রচনা করেন (খাফিফ ছন্দ):

আমের ও কাবের নিকট এই বার্তা পৌঁছে দিও … যে আমার প্রাণ তাদের দেখার জন্য ব্যাকুল।

যদি ওমানে আমার ঘর হয় তবে আমি … একজন অভিজাত ব্যক্তি, কোনো অভাব ছাড়াই আমি ঘরবাড়ি ত্যাগ করেছি।

অতঃপর তিনি যাত্রা শুরু করলেন এবং আযদ গোত্রের এক ব্যক্তির নিকট অবতরণ করলেন। সে তাকে মেহমানদারি করল এবং তিনি তার কাছে রাত যাপন করলেন। যখন সকাল হলো, তিনি মিসওয়াক করতে বসলেন। তখন আযদি ব্যক্তির স্ত্রী তার দিকে তাকাল এবং তাকে তার পছন্দ হলো। যখন তিনি তার মিসওয়াকের একটি টুকরো ফেলে দিলেন, তখন মহিলাটি সেটি নিয়ে চুষতে লাগল। তার স্বামী এটি দেখে ফেলল এবং সে তার উটনীর দুধ দোহন করে দুগ্ধপাত্রে বিষ মিশিয়ে সামার নিকট পেশ করল। তখন মহিলাটি তাকে ইঙ্গিত করল, ফলে তিনি দুধ ঢেলে দিলেন এবং যাত্রা শুরু করলেন। পথিমধ্যে 'জাওফুল খামিলা' নামক স্থানে তার উটনী একটি ঝোপের দিকে ঝুঁকে পড়ল এবং সেখান থেকে একটি সাপ তুলে নিল। সাপটি নিজেকে মুক্ত করে সামার পায়ের গোড়ালিতে কামড় দিল এবং তিনি মৃত্যুবরণ করলেন। তখন আযদি মহিলাটি তার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে বিলাপ করে বলল (খাফিফ ছন্দ):

হে চক্ষু! সামা বিন লুআইয়ের জন্য ক্রন্দন করো … সামার পায়ে আপদ জড়িয়ে পড়েছে।

আমি সামা বিন লুআইয়ের মতো কাউকে দেখিনি … যার জন্য উটনী তার মৃত্যু বহন করে এনেছে।

হে ইবনে লুআই! কত পেয়ালাই না তুমি ঢেলে দিয়েছ … মৃত্যুর ভয়ে, যা আগে কখনো ঢালা হয়নি।

কত দীর্ঘ নৈশভ্রমণ তুমি অবসন্ন অবস্থায় ত্যাগ করেছ … হিজরত, বীরত্ব ও ক্ষিপ্রতার পর।

তুমি তলোয়ার দিয়ে শত্রুকে আঘাত করেছ … এবং নিন্দুকের কথা পরিহার করেছ।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু আবদুল্লাহ ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন আরাফা, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আল-হুনাইনি, আহমাদ বিন আল-মুফাদদাল থেকে, তিনি আসবাত থেকে, তিনি সুদ্দী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইবনে আব্বাস থেকে আল্লাহ তাআলার এই বাণী সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে (روي عن) (তুমি কি ধারণা করো যে, গুহা ও রকিমের অধিবাসীরা … আয়াত): তিনি বলেন: যুবকরা যখন তাদের দ্বীনের ব্যাপারে আশঙ্কায় নিজ পরিবার থেকে পালিয়ে গেল, তখন পরিবারের লোকেরা তাদের খুঁজে পেল না। তারা বাদশাহকে তাদের সংবাদ দিল। বাদশাহ একটি সীসার ফলক তৈরির আদেশ দিলেন এবং তাতে তাদের নাম লিখে তার ভাণ্ডারে রেখে দিলেন। তিনি বললেন: তাদের একটি বিশেষ মর্যাদা থাকবে। সেই ফলকটিই হলো 'রকিম' (الرقيم)।

আবু কাসিম বলেন: 'রকিম' (الرقيم) সম্পর্কে পাঁচটি অভিমত রয়েছে; প্রথমটি হলো যা ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে (روي عن) যে, এটি একটি ফলক যাতে তাদের নাম লেখা ছিল। দ্বিতীয়টি হলো 'রকিম' অর্থ দোয়াত, এটি মুজাহিদ থেকে বর্ণিত হয়েছে (يروى ذلك عن) এবং তিনি বলেন: এটি রোমীয় ভাষার শব্দ। তৃতীয়টি হলো 'রকিম' হলো একটি গ্রাম, এটি কাব থেকে বর্ণিত হয়েছে (يروى عن)। চতুর্থটি হলো 'রকিম' একটি উপত্যকা। পঞ্চমটি হলো যা দাহহাক ও কাতাদা থেকে বর্ণিত হয়েছে (روي عن), তারা উভয়ে বলেন: 'রকিম' (الرقيم) অর্থ কিতাব বা লিখিত গ্রন্থ; ভাষা বিশেষজ্ঞগণ এই মতের দিকেই গিয়েছেন এবং তারা বলেন: এটি 'ফাঈল' (فعيل) ছাঁচের শব্দ এবং তারা বলেন: এটি 'ফাঈল' (فعيل) যা 'মাফউল' (مفعুল) এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। বলা হয়: 'রাকামতুল কিতাবা' (رقمت الكتاب) অর্থাৎ আমি বইটি লিখেছি, তাই তা 'রকিম' (رقيم) এবং 'মারকুম' (مرقوم); যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন 'কিতাবুম মারকুম' (এক লিখিত কিতাব)।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) ইবনে দুরেয়িদ, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আস-সিজিস্তানি, আবু উবায়দার সূত্রে, তিনি আল-উতবি থেকে, তিনি তার পিতার সূত্রে, তিনি তার দাদার থেকে বর্ণনা করেন (روى عن), তিনি বলেন: মুআবিয়া বিন আবি সুফিয়ান রাউহ বিন যানবা-কে একটি কার্যের দায়িত্ব প্রদান করেন। পরবর্তীতে তার পক্ষ থেকে খিয়ানত বা বিশ্বাসঘাতকতার সংবাদ পৌঁছালে তিনি তাকে বরখাস্ত করেন এবং তার দরবারে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি উপস্থিত হলে তাকে প্রহারের নির্দেশ দেন। যখন চাবুক তাকে স্পর্শ করল, তখন তিনি বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন! আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আপনি কি আমার কোনো স্তম্ভ ভেঙে দেবেন যা আপনিই নির্মাণ করেছেন? নাকি আমাকে তুচ্ছ করবেন যাকে আপনিই উচ্চ মর্যাদায় আসীন করেছেন? নাকি আমাকে দেখে শত্রুকে হাসাবেন যাকে আপনিই দমন করেছিলেন? আল্লাহর কসম! আমার মূর্খতার মোকাবিলায় আপনার সহনশীলতা এবং আপনার অনুগ্রহের কার্যাবলি নষ্ট হওয়ার বিপরীতে আপনার ক্ষমা যেন প্রকাশ পায়। তখন মুআবিয়া বললেন (তবিল ছন্দ):

যখন আল্লাহ কোনো গিঁট সহজ করতে চান, তখন তা সহজ হয়ে যায়।

তাকে ছেড়ে দাও।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আল-আখফাশ, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) সালাব উমর বিন শাব্বার সূত্রে, তিনি বলেন: হাসান বিন আলী খাওলা বিনতে মানযুর বিন যাবানকে বিবাহ করেন। তিনি তার কাছে এক বছর অবস্থান করেন, কিন্তু এই সময়ে তিনি চোখে সুরমা লাগাননি বা সাজসজ্জা করেননি যতক্ষণ না তার একটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করল। একদিন হাসান তার নিকট প্রবেশ করে তাকে সুসজ্জিত অবস্থায় দেখতে পেলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: এটি কী? তিনি বললেন: আমি ভয় পাচ্ছিলাম যে যদি আমি সাজসজ্জা ও রূপচর্চা করি তবে মহিলারা বলবে যে সে তার জন্য সেজেছে অথচ তার কাছে কোনো সন্তান নেই; কিন্তু এখন যেহেতু সে এসেছে, তাই আমি আর পরোয়া করি না।

যখন হাসান মৃত্যুবরণ করলেন, তিনি তার জন্য অত্যন্ত শোকাতুর হলেন। তখন তার পিতা মানযুর বললেন (কামিল ছন্দ):

গতদিন আমাকে সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে খাওলা অত্যন্ত শোকাতুর হয়েছে … কালের বিপর্যয় আপতিত হওয়ার কারণে।

হে খাওলা! তুমি বিলাপ করো না এবং ধৈর্য ধারণ করো … নিশ্চয়ই মহৎ ব্যক্তিরা ধৈর্যের ওপর ভিত্তি করেই প্রতিষ্ঠিত।
(খণ্ড: ১) আখবারু আবিল কাসিম আয-যুজ্জাজি (পৃষ্ঠা: ১৪)
اخبرنا عبد الله بن مالك قال اخبرنا الزبير عن عمه قال: مات لعبد الله بن علي ابن " فجزع عليه جزعا شديدا وامتنع من الطعام والشراب ثلاثا وجب الناس عنه، فلما كان في اليوم الرابع خرج كاتبه إلى الحاجب فقال: انه قد منعني من ذلك. فقال له: ائذن فدخلوا إليه وقعد الكاتب في طريقهم فقال: عزوا الأمير وسلوه. ففعلوا فلم يسله شيء من قولهم حتى دخل عليه عمر بن حفص فقال: أصلح الله الأمير، عليكم نزل الكتاب، فأنتم أعرف بتأويله، ومنكم رسول الله، فأنتم أعلم بسنته، ولسنا نعلمك شيئا نراك تجله، ولكنا نذكرك. وهذه أبيات قالها بعض من أصابه مثل ما أصابك: الطويل

لعمري لئن اتبعت عينيك ما مضىمن الدهر أو ساق الحمام إلى القبر لتستنفذن ماء الشئون بأسرهاولو كنت تمريهن من ثبج البحر

فقلت لعبد الله إذ حن باكيا … تعز وماء العين منهمر يجرى

تبين فإن كان البكا رد هالكا … على أحد فاجهد بكاك على عمرو

ولا تبك ميتا بعد ميت أجنة … علي وعباس وآل أبي بكر

وأعزيك ببيت قلته وهو: الطويل

وأهون ما ألقى من الوجد أنني … أجاوره في داره اليوم أو غدا

فدعا بالطعام فطعم هو وأصحابه.

اخبرنا نفطويه عن احمد بن يحيى عن ابن الأعرابي قال: الصبر: مصدر صبرت، والصبر: لغة في الصبر لهذا المر. والصبر: الحبس، يقال: صبرت فلانا كذا وكذا أي حبسته عليه. وفي الحديث إن رجلا امسك رجلا فقتله آخر فقيل: " اقتلوا القاتل واصبروا الصابر " أي احبسوه والصبر: الاجتراء على الشيء، ومنه قوله تعالى (فما أصبرهم على النار) أي ما أجرأهم عليها. وقال المبرد: تأويله ما دعاهم إلى الصبر عليها. وأنشد ابن الأعرابي: الطويل

سقيناهم كأسا سقونا بمثلها … ولكننا كنا على الموت أصبرا

أي كانوا أجرأ منا على الموت فاقتحموا الحرب فقتلناهم.

اخبرنا الزجاجي. قال اخبرنا المبرد عن المازني عن الأصمعي قال: يقال: أربت الناقة بالفحل، والمّت به، وعشقته: إذا لم تبرح منه وألفته. ومنه سمي المحب عاشقا.

اخبرنا الأخفش عن ثعلب عن ابن الأعرابي قال: العشقة: شجرة يقال لها اللبلابة، تخضر ثم تدق ثم تصفر، ومن ذلك اشتقاق العاشق. قال ويقال: غازل الكلب الظبي: إذا عدا في أثره فلحقه وظفر به. ثم خلا عنه، ومنه مغازلة النساء كأن الرجل يلاعبها فتطمعه في نفسها، فإذا رام تقبيلها انصرفت عنه.

قال الزجاج: وأصل المغازلة من الإدارة والفتل لأنه إدارة عن أمر، ومنه سمي المغزل لاستدارته وسرعة دورانه، وسمي الغزال غزالا لسرعته، ونسيت الشمس الغزالة لسرعتها واستدارتها، وأنشد: الرجز

قالت له وارتفقت: ألا فتى … يسوق بالقوم غزالات الضحى0

اخبرنا عبد الله بن مالك قال اخبرنا الزبير عن عمه قال قال عبد الله بن مسلم بن جندب: طرقني ليلة بعد ما نمت عيسى بن عمر بن طلحة ابن عبد الله بن معمر فخرجت إليه فقلت: ما جاء بك في هذا الوقت؟ فقال: انه غنتني الساعة جارية ابن حمران قولك: الطويل

تعالوا أعينوني على الليل انه … على كل عين لا تنام طويل

فقلت له: قضى الله عنك الحقوق يا ابن أخي أبطأت الإجابة حتى أتى الله بالفرج.

اخبرنا ابن دريد قال اخبرني عبد الرحمن عن عمه قال: مر الحسن البصري بباب عمر بن هبيرة وعليه القراء، فسلم ثم قال: مالكم جلوسا قد أحفيتم شواربكم وحلقتم رؤوسكم، وقصرتم أكمامكم وفلطحتم نعالكم أما والله لو زهدتم فيما عند الملوك لرغبوا فيما عندكم. فضحتم القراء فضحكم الله.

قال عبد الرحمن: قلت لعمي: ما المفلطح في قال: هو الشيء الذي يعرض أعلاه ويدق أسفله. ومنه قيل: رأس مفلطح والعامة تقول مفرطح.
আবদুল্লাহ বিন মালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: যুবায়র তার চাচা থেকে আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বিন আলীর এক পুত্র মারা গেল। তিনি তার জন্য অত্যন্ত শোকাতুর (جزع) হলেন এবং তিন দিন যাবত পানাহার ত্যাগ করলেন। মানুষজন তার থেকে দূরে সরে থাকল। যখন চতুর্থ দিন এল, তখন তার লেখক (কাতিব) দ্বাররক্ষীর নিকট গিয়ে বললেন: এটি আমাকে এই কাজ থেকে বিরত রেখেছে। তখন দ্বাররক্ষী তাকে বললেন: অনুমতি দিন। তারা তার নিকট প্রবেশ করলেন এবং লেখক তাদের যাতায়াতের পথে বসলেন। তিনি বললেন: আমিরকে সমবেদনা জানান এবং তাকে সান্ত্বনা দিন। তারা তাই করলেন, কিন্তু তাদের কোনো কথাতেই তিনি সান্ত্বনা পেলেন না। পরিশেষে উমর বিন হাফস তার নিকট প্রবেশ করে বললেন: আল্লাহ আমিরের কল্যাণ করুন, আপনাদের ওপরই কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে, তাই আপনারাই এর ব্যাখ্যা (تأويل) সম্পর্কে অধিক অবগত। আপনাদের মাঝ থেকেই রাসূলুল্লাহ এসেছেন, তাই আপনারা তাঁর সুন্নাহ (سنة) সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী। আমরা আপনাকে এমন কিছু শেখাব না যা আপনি ইতোমধ্যেই গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে আমরা মনে করি, বরং আমরা আপনাকে কেবল স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। আপনার বিপদের মতো বিপদে আক্রান্ত জনৈক ব্যক্তি এই কবিতাগুলো আবৃত্তি করেছেন:

আমার জীবনের শপথ! যদি তুমি তোমার চক্ষুকে অতীতের দিকে নিবন্ধ করো, অথবা কালপ্রবাহ যদি জানাযাকে কবরের দিকে নিয়ে যায়; তবে তুমি অশ্রুগ্রন্থির সমস্ত পানি নিঃশেষ করে ফেলবে, যদিও তুমি সমুদ্রের মাঝখান থেকে তা টেনে আনো।

আমি আবদুল্লাহকে বললাম যখন তিনি ক্রন্দনরত অবস্থায় বিলাপ করছিলেন … ধৈর্য ধরুন, অথচ চোখের পানি তখন প্রবল ধারায় প্রবাহিত হচ্ছে।

ভেবে দেখো, যদি কান্না কোনো মৃত ব্যক্তিকে ফিরিয়ে আনতে পারত … তবে তুমি আমরের জন্য তোমার কান্নার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে।

এক মৃতের পর আর কোনো মৃতের জন্য কেঁদো না, কারণ মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে … আলী, আব্বাস এবং আবু বকরের পরিবারকেও।

আমি আপনাকে আমার নিজের বলা একটি পংক্তি দিয়ে সান্ত্বনা দিচ্ছি, সেটি হলো:

বিরহ-বেদনায় আমার জন্য সবচেয়ে সহজ বিষয় হলো এই যে … আমি আজ অথবা আগামীকাল তারই ঘরে (কবরে) তার প্রতিবেশী হবো।

অতঃপর তিনি খাবার আনালেন এবং তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা খাবার খেলেন।

নাফতাওয়াহ আহমদ বিন ইয়াহইয়া থেকে এবং তিনি ইবনুল আরাবি থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: 'সবর' (ধৈর্য) হলো 'সবরতু' ক্রিয়ার মূল ধাতু (مصدر)। আর 'সবর' শব্দটি এই তিক্ত ফলের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। সবর এর অর্থ হলো আবদ্ধ করা; বলা হয়: 'আমি অমুককে অমুক অবস্থায় সবর করেছি' অর্থাৎ তাকে সেখানে আটকে রেখেছি। হাদিসে এসেছে যে, এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে ধরে রাখল এবং অপর এক ব্যক্তি তাকে হত্যা করল। তখন বলা হলো: "হত্যাকারীকে হত্যা করো এবং আটকে রাখা ব্যক্তিকে আটকে রাখো (اصبروا الصابر)" অর্থাৎ তাকেও বন্দী করো। সবর এর অর্থ কোনো বিষয়ের ওপর দুঃসাহস দেখানোও হয়, আর এ থেকেই আল্লাহর বাণী: "আগুনের ওপর তারা কতই না ধৈর্যশীল (أصبرهم)!" অর্থাৎ আগুনের ওপর তারা কতই না দুঃসাহসী। মুবাররাদ বলেন: এর ব্যাখ্যা (تأويل) হলো, কী তাদের সেখানে ধৈর্য ধরতে বা দুঃসাহস দেখাতে উদ্বুদ্ধ করল। ইবনুল আরাবি কবিতা আবৃত্তি করেছেন:

আমরা তাদের এমন পাত্রে পান করিয়েছি যা তারা আমাদের পান করিয়েছিল … কিন্তু আমরা মৃত্যুর ওপর অধিক ধৈর্যশীল বা দুঃসাহসী (أصبرا) ছিলাম।

অর্থাৎ তারা আমাদের চেয়েও মৃত্যুর প্রতি অধিক দুঃসাহসী ছিল, তাই তারা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং আমরা তাদের হত্যা করলাম।

যাজ্জাজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: মুবাররাদ আমাদের নিকট আল-মাজিনি থেকে এবং তিনি আসমায়ি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: বলা হয়ে থাকে, উট প্রজননের জন্য ব্যাকুল হয়েছে, তার সাথে মিশে গেছে এবং আসক্ত হয়েছে; অর্থাৎ যখন সে তাকে ছেড়ে যায় না এবং তার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে থাকে। আর এ থেকেই প্রেমিকের নাম 'আশিক' (عاشق) রাখা হয়েছে।

আখফাশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ছালাব থেকে এবং তিনি ইবনুল আরাবি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: 'আল-ইশকাহ' (العشقة) হলো লবলবাহ নামক একটি গাছ, যা প্রথমে সবুজ থাকে, পরে শুকিয়ে যায় এবং হলুদ হয়ে যায়। এ থেকেই 'আশিক' (العاشق) শব্দটির উৎপত্তি। তিনি আরও বলেন: বলা হয়, শিকারি কুকুর হরিণকে ধাওয়া করেছে (গাজালা-غازل) যখন সে তার পিছু নেয় এবং তাকে পাকড়াও করে জয়ী হয়; এরপর তাকে ছেড়ে দেয়। নারীদের সাথে প্রেম নিবেদনকেও 'মুগাজালাহ' (مغازلة) বলা হয়, যেন পুরুষ তার সাথে ক্রীড়া-কৌতুক করছে এবং নারী তাকে নিজের প্রতি প্রলুব্ধ করছে, কিন্তু যখন সে তাকে চুমু খেতে চায়, নারী তার থেকে বিমুখ হয়ে যায়।

যাজ্জাজ বলেন: 'মুগাজালাহ' (المغازلة) এর মূল উৎস হলো কোনো কিছু ঘোরানো বা পাকানো। কারণ এটি কোনো বিষয় থেকে কৌশলে ফিরিয়ে আনাকে বোঝায়। এ থেকেই টাকুকে 'মিগজাল' (المغزل) বলা হয় তার ঘূর্ণন এবং দ্রুতগতির কারণে। হরিণকে 'গাজাল' (غزال) বলা হয় তার দ্রুতগতির জন্য। আর সূর্যকেও তার দ্রুতগতি এবং বৃত্তাকার হওয়ার কারণে 'গাজালাহ' (الغزالة) বলা হয়। তিনি আবৃত্তি করেছেন:

সে (নারী) তার দিকে হেলান দিয়ে বলল: এমন কি কোনো যুবক নেই … যে এই কাফেলার জন্য সকালের রোদকে দ্রুত চালিয়ে নিয়ে যাবে?

আবদুল্লাহ বিন মালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: যুবায়র তার চাচা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বিন মুসলিম বিন জুনদাব বলেছেন: এক রাতে আমি ঘুমিয়ে পড়ার পর ঈসা বিন উমর বিন তালহা বিন আবদুল্লাহ বিন মামার আমার দরজায় কড়া নাড়লেন। আমি তার কাছে বেরিয়ে এসে বললাম: এই সময়ে আপনার আগমনের কারণ কী? তিনি বললেন: ইবনে হামরানের এক দাসী এইমাত্র তোমার এই কবিতাটি গেয়ে শুনিয়েছে:

এসো, আমাকে এই রজনীর বিপরীতে সাহায্য করো, কারণ এটি … অনিদ্রাকাতর প্রতিটি চোখের জন্য অত্যন্ত দীর্ঘ।

আমি তাকে বললাম: হে ভাতিজা, আল্লাহ আপনার পাওনা মিটিয়ে দিন। জবাব দিতে বিলম্ব হয়ে গিয়েছিল, পরিশেষে আল্লাহ স্বস্তি দান করেছেন।

ইবনে দুরেদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আবদুর রহমান তার চাচা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: হাসান বসরী উমর বিন হুবাইরার দরজার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, সেখানে কিছু ক্বারি (القراء) বসা ছিল। তিনি তাদের সালাম দিয়ে বললেন: তোমাদের কী হয়েছে যে এখানে বসে আছো? তোমরা তোমাদের গোঁফ অত্যন্ত ছেঁটে ফেলেছ, মাথা মুণ্ডন করেছ, জামার হাতা ছোট করেছ এবং জুতাকে প্রশস্ত করেছ। আল্লাহর শপথ! তোমরা যদি বাদশাহদের নিকট যা আছে সে বিষয়ে বিমুখ হতে, তবে তারা তোমাদের নিকট যা (জ্ঞান) আছে সে বিষয়ে লালায়িত হতো। তোমরা ক্বারিদের লজ্জিত করেছ, আল্লাহ তোমাদের লজ্জিত করুন।

আবদুর রহমান বলেন: আমি আমার চাচাকে জিজ্ঞেস করলাম, 'মুফালতাহ' (المفلطح) অর্থ কী? তিনি বললেন: এটি এমন বস্তু যার উপরের দিক প্রশস্ত এবং নিচের দিক সরু। এ থেকেই বলা হয় প্রশস্ত মাথা (رأس مفلطح)। সাধারণ মানুষ একে 'মুফারতাহ' বলে থাকে।
(খণ্ড: ১) আখবারু আবিল কাসিম আয-যুজ্জাজি (পৃষ্ঠা: ১৫)
اخبرنا أبو محمد عبد الله بن مالك قال اخبرنا الزبير بن بكار قال حدثني مسلمة بن إبراهيم المخزومي عن أيوب بن مسلمة قال: كان عمر ابن عبد الله بن أبي ربيعه مستهاما مغرما بالثريا بنت عبد الله بن علي بن الحارث بن أمية الأصغر بن عبد شمس بن عبد مناف وكانت عرضة ذلك، جمالا وكمالا، وكانت تصيف بالطائف: وكان عمر مدة مقامها بالطائف يبكر فيقوم على فرسه فيسأل الركبان الذين يجيئون بالفاكهة من الطائف عن الأخبار ليسكن إلى ما يسمعه من خبرها، فسألهم ذات يوم عن مغر بات أخبارهم. فقالوا: ما عندنا خبر إلا أنا سمعنا عند رحيلنا صياحا عاليا على امرأة من قريش اسمها على اسم نجم في السماء قد ذهب عنا. فقال لهم عمر: الثريا؟ فقالوا: نعم. فسار عمر على وجه يُعْدِي فَرَسَه مِلء فروجِه نحو الطائف واخذ على كَدَاء. وهي أحزن الطريقين وأخصرهما، حتى وفلى الطائف فوجدها سليمة قد خرجت تتشوفه، ومعها أختاها رضيا وأم عثمان، فأخبرها الخبر، فقالت: أنا والله أمرتهم بذلك لأعلم مالي عندك. وقال عمر في وجهه ذلك: الطويل

تَشَكَّى الكُميتُ الجبريَ لمّا جَهَدْتُهُ … وبيّن لو يَستطِيعُ أن يَتَكَّلما

فقلت لهه: إنْ ألقَ للعينِ قُرَّةً … فهان عليّ أن تكلّ وتَسْأَمَا

عدمت إذن وفري وفارقت مهجتي … لئن لم أقَلْ قَرناً أن الله سلمّا

لذلك أدِني دُونَ خَيلي رباطَةُ … وأوُصي به أن لا يُهان ويُكرما

قال أبو القاسم: يقال عدا الفرس إذا حمله على العدو، وكل الرجل: إذا ضعف يكل كلا وكلالة، ومنه الكلالة في النسب إنما هو من الضعف لأنه ما عدا الوالد والولد. وبعض العلماء جعل الكلالة في قوله " يورث كلالة: المتوفى وبعضهم يجعله المال. وأكثرهم على ما بدأنا به. والكَللُّ: الضعيف، والكَلُّ: الثقيل على أهله، والكَلُّ: الصنم.

اخبرنا نفطويه عن ثعلب عن الرياشي قال قال سمرة بن جندب: مات محمد بن الحجاج بن يوسف، فلما انصرفنا من جنازته اجتزت بشيخ من بني عقيل، فقال لي: من أين؟ فقلت: من جنازة محمد ابن الحجاج بن يوسف. فأنشأ الشيخ يقول: الطويل

فذوقوا كما ذقنا غداة محجر … من الغيظ في أكبادنا والتحوب

قال: وكان الحجاج قتل ابنا للشيخ.

اخبرنا الأخفش قال حدثنا المبرد عن المازني عن الأصمعي عن أبي عمرو بن العلاء قال: قيل لرجل من بكر بن وائل قد عاش ثلاثين ومائتي سنة: كيف رأيت الدنيا؟ قال: عشت مائة سنة لم أصدع فيها، ثم أصابني في الثلاثين والمائة ما يصيب الناس.

أنشدنا الأخفش عن ثعلب: المنسرح

إنَّ مُعاذَ بَن مسلمٍ رجلٌ … قد ضَجَّ من طولِ عمرِهِ الأبَدَ

قد شاب رأس الزمان واكَتَهلَ الدهرُ وأثوابُ عُمره جُدُدُ

يا نسرَ لقمانَ كم تعيشُ وكم … تسحُب ذيلَ الحياةِ يا لُبَدُ

قد أصبحت دار آدمٍ خَرِبَتْ … وأنت فيها كأنك الوَتِدْ

تسأل غربانها إذا حجلَتْ … كيف يكون الصداع والرَّمَدُ

اخبرنا الأخفش قال اخبرنا احمد بن يحيى عن أبي الفضل الرياشي عن الأصمعي قال: سمعت شيخا من بني العُجَيف يقول: تمنيت دارا فبقيت أربعة اشهر مفكرا في الدرجة كيف تقع. وقيل لرجل من الضباب: تمن. فتمنى خباء خلقا وقوسا في جلة في ليلة مطيرة وان يجيء الكلب فيدخل معه الخباء.

قال أبو القاسم: القوس: بقية التمر في الجلة، والآس: بقية العسل في وعائه، أو الموضع الذي يشتار منه. والكعب: بقية السمن في النحي، والهلال: بقية الماء في الحوض. والشفا مقصور: بقية كله شيء. ويقال: العسل هو العسل، واللوص، والأرى، والضّحك، والسعابيب، والطّرم، والطريم. ويقال تمنى الرجل: إذا حدث نفسه وتفكر، وتمنى: إذا سأل ربه، وتمنى: إذا كذب. واجتاز بعض العرب بابن دأب وهو يحدث قوما فقال: هذا شيء رويته أم تمنيته؟.

ويقال: تمنى الرجل: إذا تلا القرآن، ومنه قوله تعالى: (لا يعلمون الكتاب إلا أماني. وينشد الطويل

تَمَنّى كتابَ الله أوَّلَ لَيلِهِ … وآخِرَهُ لاقَى حِمامَ المَقَادِرِ
আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে মালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন, যুবাইর ইবনে বাক্কার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন, মাসলামাহ ইবনে ইব্রাহিম আল-মাখজুমি আইয়ুব ইবনে মাসলামাহ থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন: উমর ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবি রাবিয়াহ থুরাইয়া বিনতে আবদুল্লাহ ইবনে আলী ইবনুল হারিস ইবনে উমাইয়াহ আল-আসগার ইবনে আবদ শামস ইবনে আবদ মানাফের প্রতি অত্যন্ত আসক্ত ও প্রেমমুগ্ধ ছিলেন। থুরাইয়া ছিলেন সৌন্দর্য ও পূর্ণতার এক মূর্ত প্রতীক। তিনি গ্রীষ্মকাল তায়েফে অতিবাহিত করতেন। উমর তার তায়েফে অবস্থানকালীন সময়ে খুব ভোরে উঠে নিজের ঘোড়ায় চড়ে বসতেন এবং তায়েফ থেকে ফল নিয়ে আসা আরোহীদের কাছে খবরাখবর জিজ্ঞাসা করতেন, যাতে তার সম্পর্কে যা শোনেন তা দিয়ে মনকে শান্ত করতে পারেন। একদিন তিনি তাদের কাছে বিশেষ কোনো খবরের কথা জিজ্ঞাসা করলেন। তারা বলল: আমাদের কাছে তেমন কোনো খবর নেই, তবে আমরা যখন রওনা হচ্ছিলাম তখন কুরাইশ বংশীয় এক নারীর মৃত্যুতে উচ্চস্বরে কান্নার শব্দ শুনেছি, যার নাম আকাশের একটি নক্ষত্রের নামে, সে আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। উমর তাদের বললেন: থুরাইয়া? তারা বলল: হ্যাঁ। তখন উমর তার ঘোড়াকে পূর্ণ বেগে ছুটিয়ে তায়েফের দিকে রওনা হলেন এবং কাদা’ (کداء) নামক পথ অবলম্বন করলেন। এটি ছিল দুটি রাস্তার মধ্যে অধিকতর বন্ধুর কিন্তু সংক্ষিপ্ততম পথ। অবশেষে তিনি যখন তায়েফ পৌঁছালেন, তখন তাকে সুস্থ ও নিরাপদ পেলেন। তিনি তাকে দেখার অপেক্ষায় বেরিয়েছিলেন, সাথে ছিল তার দুই বোন রদিয়া ও উম্মু উসমান। উমর তাকে বিষয়টি জানালেন। তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, তোমার হৃদয়ে আমার প্রতি কেমন টান তা জানার জন্যই আমি তাদের এমনটা করতে নির্দেশ দিয়েছিলাম। সেই যাত্রায় উমর (নিম্নোক্ত কবিতাটি) আবৃত্তি করেছিলেন: (তবিল ছন্দ)

আমার পরিশ্রমের কারণে লাল রঙের জাবরি ঘোড়াটি অভিযোগ করছে … যদি সে কথা বলতে পারত তবে সব ব্যক্ত করত।

আমি তাকে বললাম: যদি আমি আমার চোখের শীতলতা (প্রিয়াকে) খুঁজে পাই … তবে তোমার ক্লান্ত ও পরিশ্রান্ত হওয়া আমার কাছে তুচ্ছ।

তবে আমার সম্পদ ধ্বংস হোক এবং আমার প্রাণ বিয়োগ হোক … যদি আমি এক মুহূর্তের জন্যও না বলি যে আল্লাহ তাকে শান্তিতে রেখেছেন।

তাই আমার অন্যান্য ঘোড়ার চেয়ে তাকেই আমি কাছে রাখি … এবং আমি তাকে অবজ্ঞা না করে সম্মান করার অসিয়ত করি।

আবু আল-কাসিম বলেন: ঘোড়াকে দৌড়ানোর জন্য উৎসাহিত করলে তাকে ‘আদা’ (عدا) বলা হয়। আর মানুষ যখন দুর্বল (ضعيف) হয়ে পড়ে তখন তাকে ‘কাল্লা’ (كل) বলা হয়। এ থেকেই বংশপরম্পরার ক্ষেত্রে ‘কালালাহ’ (كلالة) শব্দের উৎপত্তি হয়েছে, যা মূলত দুর্বলতা (الضعف) থেকেই এসেছে; কারণ এটি পিতা ও সন্তানকে বাদ দিয়ে অন্যদের নির্দেশ করে। কোনো কোনো আলেম (علماء) আল্লাহর বাণী "ইউরাসু কালালাতান" (يورث كلالة) এর ক্ষেত্রে ‘কালালাহ’ বলতে মৃত ব্যক্তিকে বুঝিয়েছেন, আবার কেউ কেউ একে সম্পদ হিসেবে গণ্য করেছেন। তবে অধিকাংশের মত আমরা যা প্রথমে উল্লেখ করেছি তার ওপরই প্রতিষ্ঠিত। ‘আল-কালিল’ (الكلل) মানে হলো দুর্বল (ضعيف), ‘আল-কাল্লু’ (الكل) মানে পরিবারের ওপর বোঝা বা নির্ভরশীল ব্যক্তি, আবার ‘আল-কাল্লু’ (الكل) মানে মূর্তিও হয়।

নাফতাওয়াইহ ছালাব থেকে, তিনি রিয়াশি থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন, সামুরা ইবনে জুনদাব বলেছেন: হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের পুত্র মুহাম্মদ মারা গেল। যখন আমরা তার জানাজা থেকে ফিরছিলাম, তখন বনু আকিল গোত্রের এক বৃদ্ধের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। তিনি আমাকে বললেন: আপনি কোথা থেকে আসছেন? আমি বললাম: মুহাম্মদ ইবনে হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের জানাজা থেকে। তখন সেই বৃদ্ধ এই কবিতাটি পাঠ করলেন: (তবিল ছন্দ)

তোমরাও আজ সেই স্বাদ আস্বাদন করো যেমনটি আমরা ‘মুহাজ্জার’ এর সকালে আস্বাদন করেছিলাম … আমাদের কলিজার ভেতরের ক্রোধ ও দুঃখের যাতনা থেকে।

বর্ণনাকারী বলেন: হাজ্জাজ সেই বৃদ্ধের এক পুত্রকে হত্যা করেছিল।

আল-আখফাশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন, আল-মুবররাদ আল-মাজিনি থেকে, তিনি আসমায়ি থেকে, তিনি আবু আমর ইবনুল আলা থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: বকর ইবনে ওয়ায়িল গোত্রের এক ব্যক্তিকে বলা হলো—যিনি ২৩০ বছর জীবিত ছিলেন—আপনি দুনিয়াকে কেমন দেখলেন? তিনি বললেন: আমি একশ বছর বেঁচেছিলাম যাতে কখনও মাথাব্যথা অনুভব করিনি, তারপর ১৩০ বছর বয়সে আমাকে তা গ্রাস করল যা অন্য মানুষকে আক্রান্ত করে।

আল-আখফাশ ছালাব থেকে আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন (أنشدنا): (মুনসারিহ ছন্দ)

নিশ্চয়ই মুয়াজ ইবনে মুসলিম এমন এক ব্যক্তি … যে তার সুদীর্ঘ জীবনের স্থায়িত্বে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।

সময়ের মস্তক শুভ্র হয়ে গেছে এবং কাল বার্ধক্যে পৌঁছেছে, অথচ তার জীবনের পোশাকগুলো সর্বদা নতুন।

হে লুকমানের ঈগল! তুমি আর কতকাল বাঁচবে এবং … কতকাল জীবনের আঁচল টেনে নিয়ে বেড়াবে হে লুবাদ? (লুবাদ ছিল লুকমানের শেষ ঈগলের নাম)

আদম (আ.)-এর গৃহ তো জীর্ণ ও ধ্বংস হয়ে গেছে … অথচ তুমি সেখানে খুঁটির মতো অটল হয়ে আছ।

তুমি কাকদের জিজ্ঞাসা করো যখন তারা লাফিয়ে চলে … যে মাথাব্যথা ও চোখের পীড়া কেমন হয়।

আল-আখফাশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرনা), তিনি বলেন, আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া আবু আল-ফজল আল-রিয়াশি থেকে, তিনি আসমায়ি থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আমি বনু উজাইফ গোত্রের এক বৃদ্ধকে বলতে শুনেছি: আমি একটি ঘরের আকাঙ্ক্ষা করেছিলাম, তারপর চার মাস ধরে শুধু এটাই ভেবেছি যে সিঁড়িটি কোথায় স্থাপন করা যায়। আর জিবাব গোত্রের এক লোককে বলা হলো: কিছু আকাঙ্ক্ষা করো। তখন সে একটি জীর্ণ তাবু, এক ঝুড়ি খেজুরের মধ্যে একটি ধনুক (ধনুকের মতো বাঁকা খেজুরের থোকা), একটি বৃষ্টিমুখর রাত এবং একটি কুকুরের আকাঙ্ক্ষা করল যে তার সাথে তাবুতে প্রবেশ করবে।

আবু আল-কাসিম বলেন: ‘কাওস’ (القوس) হলো ঝুড়িতে অবশিষ্ট থাকা খেজুর, ‘আস’ (الآس) হলো পাত্রে অবশিষ্ট মধু অথবা যেখান থেকে মধু সংগ্রহ করা হয়। ‘কাব’ (الكعب) হলো চামড়ার পাত্রে লেগে থাকা অবশিষ্ট ঘি, আর ‘হিলাল’ (الهلال) হলো হাউজে বা জলাধারে অবশিষ্ট পানি। ‘শাফা’ (الشفا) শব্দটি মাকসুর (সংক্ষিপ্ত আলিফযুক্ত), যার অর্থ হলো যেকোনো জিনিসের অবশিষ্টাংশ। বলা হয়ে থাকে: মধুকে আসাল (العسل), লুস (اللوص), আরা (الأرى), দাহাক (الضحك), সা’বিব (السعابيب), তারাম (الطرم) এবং তারিম (الطريم) বলা হয়। আরও বলা হয়, মানুষ যখন নিজের মনে কথা বলে এবং চিন্তা করে তখন তাকে ‘তামান্না’ (تمنى) বলা হয়; আবার যখন সে তার রবের কাছে কিছু চায় তখনও ‘তামান্না’ বলা হয়; আর যখন সে মিথ্যা বলে তখনও ‘তামান্না’ বলা হয়। জনৈক আরব ব্যক্তি ইবনে দাব-এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন তিনি একদল লোকের সাথে কথা বলছিলেন, তখন তিনি বললেন: এটি কি আপনি বর্ণনা (رويته) করছেন নাকি আপনার নিজের কল্পনা বা মিথ্যা (تمنيته)?

আরও বলা হয়: মানুষ যখন কুরআন তিলাওয়াত করে তখন তাকে ‘তামান্না’ বলা হয়; মহান আল্লাহর এই বাণীটি সে অর্থেই এসেছে: "তারা কিতাব সম্পর্কে কোনো জ্ঞান রাখে না অলীক আকাঙ্ক্ষা (أماني) ব্যতীত"। আর কবি এভাবে পাঠ করেছেন: (তবিল ছন্দ)

সে রাতের প্রথমাংশে আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত (تمنى) করল … আর শেষাংশে সে তাকদিরের নির্ধারিত মৃত্যুর মুখোমুখি হলো।
(খণ্ড: ১) আখবারু আবিল কাসিম আয-যুজ্জাজি (পৃষ্ঠা: ১৬)
اخبرنا ابن دريد قال حدثنا أبو حاتم عن الأصمعي قال: أربعة لم يلحنوا في جد ولا هزل: الشعبي وعبد الملك بن مروان، والحجاج بن يوسف، وابن القرية. والحجاج أفصحهم، قال يوما لطباخه: اطبخ لنا مخللة، وأكثر عليها من الفيجن، واعمل لنا مزعزعا. فلم يفهم عنه الطباخ ما قال. فسأل بعض ندمائه، فقال: اطبخ لنا سكباجا، وأكثر عليها من السذاب، واعمل لنا فالوذا سلسا. قال: وقدم إليه مرة أخرى سمكة مشوية، فقات: خذها ويلك فسمنها وارددها. فلم يفم عنه، فقال له نديمه: يقول لي بردها فإنها حارة.

قال الأصمعي: يقال: هو الفالوذ، والسِّرِ طْراط، والمُزَعْزَعُ، واللوُّاص، واللمَّصُ. فأما الفالوذج فهو أعجمي، والفالُوذَق مولدةٌ.

أنشد أبو غانم: الطويل

ألا من لقلب مونق بالنوائب … رمته خطوب الدهر من كل جانب

تبين يوم البين أن اعتزامه … على الصبر من إحدى الظنون الكواذب

أنشدنا نفطويه: قال أنشدنا ثعلب عن ابن الأعرابي: الوافر

بأكناف الحجاز هوى دفين … يورقني إذا هدت العيون

أحن إلى الحجاز وساكنيه … حنين الإلف فارقه القرين

أنشدنا أبو الفضل زبيد قال: أنشدني محمد بن داود الأصبهاني لنفسه: الطويل

أخوك الذي أمسى بحبك مغرما … يتوب إليك اليوم مما تقدما

فإن لم تصله رغبة في إخائه … ولم تك مشتاقا فصله تكرما

فقد والذي عافاك مما ابتلي به … تندم لو يرضيك إن يتندّما

وبالله ما كان الصدود الذي مضى … دلالا ولا كان الجفاء تبرّما

ولا تجزه بالهجر إن صد مكرها … وأظهر أعراضا وأبدى تجهّما

ولم يلهه عنك السلو وإنما … تأخر لما لم يجد متقدّما

وأنشدني له أيضا: الطويل

له مقلة ترمي القلوب بأسهم … أشد من الضرب المدارك بالسيف

يقول خليلي: كيف صبرك بعدنا … فقلت: وهل صبر فيسأل عن كيف

اخبرنا أبو بكر محمد بن احمد بن منصور المعروف بابن الخياط النحوي قال: اخبرنا أبو الحسن بن الطيان عن أبي يوسف يعقوب بن إسحاق السكيت عن الأصمعي وأبي زيد وغيرهما، بما يذكر من أسماء الشجاج في هذا الفصل دخل كلام بعضهم في بعض، قالوا: الشج في الوجه والرأس خاصة دون سائر الجسد، وأول الشجاج الحارصة، وهي التي تشق الجلد خفيفا ولما يسل منها دم، ومنه حرص القصار الثوب: إذا شقه شقا خفيفا. ثم الدامية: وهي التي يظهر دمها ولم يسل. ثم الدامعة: وهي التي قطر دمها كما تدمع العين. ثم الباضعة: وهي التي جاوزت الجلد إلى اللحم فقطعته. ثم المتلاحمة: وهي التي أخذت في الحم. ثم السمحاق: وهي التي جاوزت اللحم في الجلدة الرقيقة، وهي التي بين اللحم والعظم. وتلك الجلدة يقال لها السمحاق فسميت الشجة بها. ويقال للسمحاق: الملطاء أيضا، تمد وتقصر. ومنه الحديث الملطاء بدمها أي يحكم فيها لوقتها ولا ينظر إلى ما يؤول أمرها. ثم الموضحة: وهي التي خرقت السمحاق فأوضحت عن العظم أي أظهرته. في المقرشة إقراشا بالقاف: وهي التي صدعت العظم ولم تهشمه. ثم الهاشمة: وهي التي هشمت العظم. ثم المنقلة: وهي التي يخرج منها عظام. ثم الأمة: ويقال لها المأموم، والأميم أيضا وهي التي بلغت أم الرأس، وهو مجتمع الدماغ، وصاحبها يصعق لصوت الرعد ورغاء الإبل، ولا يمكنه البروز للشمس. ثم الدامغة: وهي التي تخسف العظم، ولا بقاء لصاحبها.

اخبرنا الزجاج والأخفش قال اخبرنا المبرد قال: حدثت من غير وجه إن النبي صلى الله عليه وسلم خطب ذات يوم فحمد الله وأثنى عليه - وهو أهله - وصلى على نبيه صلى الله عليه وسلم. ثم أقبل على الناس فقال: يا أيها الناس، إن لكم معالم فانتهوا إلى معالمكم، وإن لكم نهاية فانتهوا إلى نهايتكم. فان العبد ببين مخافتين، أجل قد مضى ما يدرى ما الله فاعل فيه، وأجل قد بقى لا يدرى ما الله قاض فيه. فليأخذ العبد من نفسه لنفسه، ومن دنياه لآخرته، ومن الشبيبة قبل الكبر، ومن الحياة قبل الممات، فو الذي نفس محمد بيده ما بعد الموت من مستعتب، وما بعد الدنيا من دار، إلا الجنة أو النار.
ইবনে দুরেয়দ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু হাতিম আল-আসমাঈ থেকে আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: চারজন ব্যক্তি গুরুত্বের সাথে কথা বলুক বা কৌতুক করে, কখনোই ব্যাকরণগত ভুল (لحن) করেননি: আল-শা’বী, আবদুল মালিক বিন মারওয়ান, আল-হাজ্জাজ বিন ইউসুফ এবং ইবনুল কুররিয়্যাহ। আল-হাজ্জাজ ছিলেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাগ্মী। একদিন তিনি তার রাঁধুনিকে বললেন: আমাদের জন্য ‘মুখাল্লালাহ’ (সিরকাযুক্ত খাবার) রান্না করো, তাতে প্রচুর ‘ফায়জান’ (সুদাব গাছ) দিও এবং আমাদের জন্য ‘মুযা’যা’ (এক প্রকার মিষ্টান্ন) তৈরি করো। রাঁধুনি তার কথা বুঝতে পারল না। সে হাজ্জাজের এক সঙ্গীকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: আমাদের জন্য ‘সিকবাজ’ রান্না করো, তাতে প্রচুর ‘সুদাব’ দিও এবং আমাদের জন্য সুস্বাদু ‘ফালুদা’ তৈরি করো। আসমাঈ বলেন: একবার তার সামনে একটি ভাজা মাছ পেশ করা হলো, তিনি বললেন: এটি নিয়ে যাও, ধিক তোমাকে! এটিকে তৈলাক্ত করো এবং পুনরায় নিয়ে এসো। রাঁধুনি বুঝতে পারল না, তখন তার সঙ্গী তাকে বললেন: তিনি বলছেন, এটাকে ঠান্ডা করো, কারণ এটি গরম।

আসমাঈ বলেন: একে ফালুজ, সিরিতরাত, মুযা’যা’, লুওয়াস এবং লাম্মাসও বলা হয়। ‘ফালুজাহ’ শব্দটি অনারব এবং ‘ফালুজাক’ শব্দটি পরবর্তীকালে আরবীকৃত শব্দ।

আবু গানিম আবৃত্তি করেছেন: তবিল ছন্দ

হায় সেই হৃদয়ের জন্য যা বিপদে আপ্লুত … যামানার দুর্যোগ যাকে চতুর্দিক থেকে বিদ্ধ করেছে।

বিচ্ছেদের দিনে স্পষ্ট হলো যে, তার ধৈর্যের সংকল্প … ছিল এক মিথ্যা ধারণামাত্র।

নাফতাওয়াইহ আমাদের আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, সা’লাব ইবনুল আ’রাবি থেকে আমাদের আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন: ওয়াফির ছন্দ

হিজাজের প্রান্তরে এক সুপ্ত ভালোবাসা বিদ্যমান … যা আমাকে নির্ঘুম রাখে যখন চোখগুলো ঘুমিয়ে পড়ে।

আমি হিজাজ ও তার অধিবাসীদের জন্য আকুল হই … যেমন কোনো বন্ধু তার সঙ্গীর বিচ্ছেদে আকুল হয়।

আবু ফজল জুবাইদ আমাদের আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ বিন দাউদ আল-ইসফাহানি নিজের রচিত কবিতা আমাকে শুনিয়েছেন: তবিল ছন্দ

তোমার সেই ভাই যে তোমার ভালোবাসায় মগ্ন হয়েছে … সে আজ তোমার কাছে অতীতের ভুল থেকে তওবা করছে।

যদি ভ্রাতৃত্বের টানে তার সাথে সুসম্পর্ক না-ও রাখো … এবং তার জন্য ব্যাকুল না-ও হও, তবে অনুগ্রহবশত তার সাথে সুসম্পর্ক রেখো।

যিনি তোমাকে সেই বিপদ থেকে মুক্ত রেখেছেন যাতে সে লিপ্ত হয়েছে, সেই সত্তার কসম … সে অনুতপ্ত হয়েছে, যদি তার অনুতপ্ত হওয়া তোমাকে সন্তুষ্ট করে।

আল্লাহর কসম, অতীতে যে বিমুখতা ছিল তা কোনো টালবাহানা ছিল না … আর যে উদাসীনতা ছিল তা বিরক্তির কারণে ছিল না।

সে যদি বাধ্য হয়ে বিমুখতা দেখায় তবে তাকে বিচ্ছেদ দিয়ে শাস্তি দিও না … যদিও সে অবজ্ঞা করেছে এবং রুক্ষতা দেখিয়েছে।

বিস্মৃতি তাকে তোমার থেকে উদাসীন করেনি, বরং … সে পিছিয়ে গেছে যখন অগ্রসর হওয়ার কোনো পথ পায়নি।

তিনি তার আরও একটি কবিতা আমাকে শুনিয়েছেন: তবিল ছন্দ

তার এমন এক আঁখি আছে যা হৃদয়ে তীর নিক্ষেপ করে … যা তলোয়ারের উপর্যুপরি আঘাতের চেয়েও তীব্র।

আমার বন্ধু বলে: আমাদের পরে তোমার ধৈর্য কেমন? … আমি বললাম: যেখানে ‘কেমন’ বলে কোনো প্রশ্নই নেই, সেখানে ধৈর্য কি আর থাকতে পারে?

আবু বকর মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মনসুর, যিনি ইবনুল খাইয়াত আল-নাহবি নামে পরিচিত, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু হাসান বিন আল-তাইয়ান আবু ইউসুফ ইয়াকুব বিন ইসহাক আল-সিক্কিত থেকে, তিনি আসমাঈ, আবু জায়েদ ও অন্যদের থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। এই পরিচ্ছেদে মাথার ক্ষতের নামসমূহ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, তাতে একে অপরের বক্তব্য মিশে গেছে। তারা বলেছেন: ‘শাজ্জ’ (شج) বলা হয় বিশেষ করে মুখমণ্ডল ও মাথার ক্ষতকে, শরীরের অন্য অংশের ক্ষতকে নয়। এই ক্ষতগুলোর প্রথমটি হলো ‘হারিসাহ’ (حارصة), যা চামড়াকে সামান্য চিরে ফেলে কিন্তু তা থেকে রক্ত প্রবাহিত হয় না; যেমন ধোপা কাপড়কে সামান্য ছিঁড়ে ফেললে তাকে ‘হারাসা’ বলা হয়। এরপর ‘দামিয়াহ’ (دامية): যার রক্ত দেখা যায় কিন্তু প্রবাহিত হয় না। এরপর ‘দামি’য়াহ’ (دامعة): যার রক্ত চোখের পানির মতো ফোঁটায় ফোঁটায় ঝরে। এরপর ‘বাদি’য়াহ’ (باضعة): যা চামড়া ভেদ করে মাংসে গিয়ে পৌঁছে এবং তা কেটে ফেলে। এরপর ‘মুতালাহিমাহ’ (متلاحمة): যা মাংসের গভীরে প্রবেশ করে। এরপর ‘সিমহাক’ (سمحاق): যা মাংস অতিক্রম করে হাড়ের উপরের পাতলা পর্দা পর্যন্ত পৌঁছায়। এই পর্দাটিই হলো মাংস ও হাড়ের মধ্যবর্তী স্তর। সেই পর্দাটিকে ‘সিমহাক’ বলা হয় বলে ক্ষতটিরও এই নামকরণ করা হয়েছে। সিমহাককে ‘মালতা’ (ملطاء) ও বলা হয়। হাদিসেও এসেছে: ‘মালতা’র বিচার হবে তার রক্তক্ষরণকালীন অবস্থায়’, অর্থাৎ তার তাৎক্ষণিক অবস্থার ভিত্তিতে ফয়সালা করা হবে, পরিণতির দিকে তাকানো হবে না। এরপর ‘মুউদিহাহ’ (موضحة): যা সিমহাক বা পর্দাটি ছিঁড়ে হাড়কে প্রকাশ করে দেয় অর্থাৎ হাড় দৃশ্যমান করে তোলে। এরপর ‘মুকাররিশাহ’ (مقرشة): যা হাড়ে ফাটল ধরায় কিন্তু তা চূর্ণ করে না। এরপর ‘হাশিমাহ’ (هاشمة): যা হাড় চূর্ণ করে ফেলে। এরপর ‘মুনাক্কিলাহ’ (منقلة): যা থেকে হাড়ের টুকরো বের হয়ে আসে। এরপর ‘আম্মাহ’ (أمة), একে ‘মামুমাহ’ ও ‘আমীম’ও বলা হয়; এটি মস্তিষ্কের ঝিল্লি পর্যন্ত পৌঁছে যায়, যা মগজের মিলনস্থল। এই ক্ষতে আক্রান্ত ব্যক্তি বজ্রের শব্দ বা উটের ডাক শুনে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে এবং তার পক্ষে রোদে বের হওয়া সম্ভব হয় না। এরপর ‘দামিঘাহ’ (دامغة): যা মস্তিষ্ককে বিদীর্ণ করে ফেলে, এতে আক্রান্ত ব্যক্তি আর বেঁচে থাকে না।

আল-যাজ্জাজ ও আল-আখফাশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তারা বলেন, আল-মুবররিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: বিভিন্ন সূত্রে আমার কাছে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন খুতবা প্রদান করলেন। তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন—যেভাবে প্রশংসা লাভের তিনি যোগ্য—এবং তাঁর নবীর ওপর দরুদ পাঠ করলেন। এরপর মানুষের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন: হে লোক সকল, তোমাদের জন্য কিছু দিকনির্দেশনা (معالم) রয়েছে, সুতরাং তোমরা তোমাদের দিকনির্দেশনার দিকে ফিরে আসো। আর তোমাদের জন্য একটি সমাপ্তি (نهاية) রয়েছে, সুতরাং তোমরা তোমাদের সমাপ্তির দিকে অগ্রসর হও। নিশ্চয়ই একজন বান্দা দুটি ভয়ের মধ্যে অবস্থান করে: একটি অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়া আয়ু, যা সম্পর্কে সে জানে না আল্লাহ তার ব্যাপারে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন; আর অবশিষ্ট আয়ু, যা সম্পর্কে সে জানে না আল্লাহ কী ফয়সালা করবেন। সুতরাং বান্দার উচিত নিজের জন্য নিজের থেকে পাথেয় গ্রহণ করা; তার দুনিয়া থেকে আখিরাতের জন্য, বার্ধক্যের আগে যৌবন থেকে এবং মৃত্যুর আগে জীবন থেকে। আল্লাহর কসম, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, মৃত্যুর পর আর কোনো ওজর পেশ করার সুযোগ নেই, আর দুনিয়ার পর জান্নাত বা জাহান্নাম ছাড়া আর কোনো আবাস নেই।
(খণ্ড: ১) আখবারু আবিল কাসিম আয-যুজ্জাজি (পৃষ্ঠা: ১৭)
اخبرنا الأخفش قال اخبرنا ثعلب قال اخبرنا ابن الأعرابي قال: روى عن أبي عبد الله الجدلي قال: دخلت على أمير المؤمنين رضي الله عنه فرأيت بين يديه ذهبا مصبوبا، فقلت: ما هذا يا أمير المؤمنين؟ فقال: هذا يعسوب المنافقين. فقلت: وما معنى يعسوب المنافقين يا أمير المؤمنين؟ قال: هذا يلوذ به المنافقون كمها يلوذ المؤمنون بي، فأنا يعسوب المؤمنين، وهو يعسوب المنافقين.

قال ثعلب قال ابن الأعرابي: اليعسوب من الناس: السيد، واليعسوب: رئيس النحل إذا طار طارت معه، وإذا حط حطت. ويقال: هي النحل، والثّول، والدّبر، والخشرم، والخرشرم، والرسح، والدخا بتخفيف الخاء والقصر، واليعاسيب والنوب بمعنى واحد، وينشد: الطويل

إذا لَسَعَتْهُ النَّحلُ لم يَرجُ لَسْعها … وخالفها في بيت نُوبٍ عَواملِ

الرجاء ها هنا: المخافة، ولذلك قال المفسرون في قوله تعالى: (ما لكم لا ترجون لله وقارا) أي لا تخافون له عظمة.

اخبرنا أبو محمد عبد الله بن مالك الضرير قال اخبرنا الزبير قال: حدثني سليمان بن عياش السعدي من سعد العشيرة قال حدثتني جمال بنت عون بن مسلم عن أبيها عن جدها قال: خرجت ذات يوم فرأيت رجلا أسود كالليل معه امرأة بيضاء كاللبن، فدنوت منه ففغمتني رائحة المسك، فقلت: من أنت؟ فقال: أنا الذي أقول: الطويل ألا ليت شعري ما الذي تحدثن لنا غدا غربة النأي المفرق والبعد

لدى أم بكر حين تقترن النوى … بنا ثم يخلو الكاشحون بها بعدى

أتصرمني عند الذين هم العدى … فشمتهم بي آم تدوم على العهد

فصاحت به المرأة: لا والله بل ندوم على العهد. فسألت عنه فقيل: هذا نصيب، وهذه أم بكر.

اخبرنا أبو القاسم الصائغ قال: حدثننا عبد الله بن مسلم بن قتيبة قال: اخبرني السجستاني عن أبي عبيدة قال: لما احتضر قيس بن عاصم المنقري جمع بنيه فقال: يا بني احفظوا عني، فلا أحد أنصح لكم مني. إذا أنا مت فسودوا كباركم، ولا تسودوا صغاركم فيحقر الناس كباركم فتهونوا جميعا عليهم. وعليكم بحفظ المال ففيه منبهة للكريم، ومغناة عن اللئيم، وإياكم ومسألة الناس فإنها آخر كسب الرجل.

اخبرنا ابن مجاهد عن محمد بن الجهم قال: بلغني أن رجلا من خثعم قال: الكامل

لو كنت اصعدُ في المكارم والعلا … مثلَ التَهَبُّطِ كنتُ سيدَ خثعمِ

فال: فساد قومه بعد مدة، فقيل له في ذلك، فأنشأ يقول: الكامل

خلت الديار فسدت غير مسود … ومن العناء تفردي بالسؤدد

اخبرنا الأخفش قال: كنت يوما بحضرة ثعلب فأسرعت القيام قبل انقضاء المجلس، فقال لي: إلى أين؟ ما أراك تصبر عن مجلس الخلدي؟ فقلت: لي حاجة. فقال: إني أراه يقدم البحتري على أبي تمام فإذا أنيته فقل له: ما معنى قول أبي تمام: الوافر

أآلفة النحيب كم افتراق … أظل فكان داعية اجتماع

قال: فلمها صرت إلى المبرد سألته عنه فقال: معنى هذا إن المتحابين والعاشقين قد يتصارمان ويتهاجران إدلالا لا عزما على القطيعة، فإذا حان الرحيل وأحسا بالفراق تراجعا إلى الود وتلاقيا خوف الفراق، وأن يطول العهد بالالتقاء بعده فيكون الفراق حينئذ سببا للاجتماع كما قال الآخر: الخفيف

متعا بالفراق يوم الفراق … مستجيرين بالبكا والعناق

كم أسرا هواهما حذر النا … س وكم كاتما غليل اشتياق

فأضل الفراق فيه فراق أتاهما باتفاق

كيف أدعو على الفاق بحيف … وغداة الفراق كان التلاقي

قال: فلما عدوت إلى ثعلب في المجلس الآخر سألني عنه فأعدت عليه الجواب والأبيات فقال: ما أشد تمويه!، ما صنع شيئا إنما معنى البيت: إن الإنسان قد يفارق محبوبه رجاء أن يغنم في سفره فيعود إلى محبوبه مستغنيا عن التصرف فيطول اجتماعه معه. ألا تراه يقول في البيت الثاني: الوافر

وليست فرحة الأوبات إلا … لموقوف على ترح الوداع

وهذا نظير قول الآخر بل منه أخذ أبو تمام: الطويل

سأطلب بعد الدار عنكم لتقربوا … وتسكب عيناي الدموع فتجمدا

هذا هو ذلك بعينه.

اخبرنا الأخفش قال حدثنا ثعلب عن ابن الأعرابي قال: دخلت على سعيد بن سلم وعنده الأصمعي ينشده قصيدة للعجاج حتى انتهى إلى قوله: الرجز
আল-আখফাশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: সা'লাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: ইবনুল আরাবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ আল-জাদালি থেকে বর্ণিত (روى), তিনি বলেন: আমি আমিরুল মুমিনীনের (রা.) নিকট প্রবেশ করলাম এবং দেখলাম তাঁর সামনে ঢালাই করা স্বর্ণ রাখা আছে। আমি বললাম: হে আমিরুল মুমিনীন, এগুলো কী? তিনি বললেন: এটি মুনাফিকদের ইয়াসুব (নেতা)। আমি বললাম: হে আমিরুল মুমিনীন, মুনাফিকদের ইয়াসুব-এর অর্থ কী? তিনি বললেন: মুনাফিকরা এর কাছে আশ্রয় গ্রহণ করে ঠিক যেমন মুমিনরা আমার কাছে আশ্রয় গ্রহণ করে; সুতরাং আমি মুমিনদের ইয়াসুব, আর এটি মুনাফিকদের ইয়াসুব।

সা'লাব ও ইবনুল আরাবি বলেন: মানুষের ক্ষেত্রে ‘আল-ইয়াসুব’ হলো সর্দার। আর ‘আল-ইয়াসুব’ হলো মৌমাছির নেতা, যখন সে উড়ে তখন মৌমাছিরা তার সাথে উড়ে আর যখন সে অবতরণ করে তখন তারাও অবতরণ করে। আরও বলা হয়: এটি হলো মৌমাছি (النحل), মৌমাছির ঝাঁক (الثول), বড় মৌমাছি (الدبر), মৌমাছির দল (الخشرم), এক প্রকার মৌমাছি (الخرشرم), দ্রুতগামী মৌমাছি (الرسح), এবং হালকা ‘খা’ ও হ্রস্ব স্বর বিশিষ্ট ‘আদ-দাখা’ (الدخا)। আর ‘আল-ইয়াসিব’ এবং ‘আন-নউব’ একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। কবি আল-তাবিল ছন্দে আবৃত্তি করেছেন:

যখন মৌমাছি তাকে হুল ফোটায় তখন সে তার যন্ত্রণার ভয় করে না... এবং সে মৌমাছির বাসায় কর্মঠ মৌমাছিদের বিরুদ্ধাচরণ করে।

এখানে ‘আর-রাযা’ (الرجاء) মানে হলো ভয় পাওয়া। এজন্যই মুফাসসিরগণ (المفسرون) মহান আল্লাহর বাণী: “তোমাদের কী হলো যে তোমরা আল্লাহর গাম্ভীর্যের আশা (ভয়) করছো না?” এর ব্যাখ্যায় বলেন: অর্থাৎ তোমরা তাঁর মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বকে ভয় পাচ্ছো না।

আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন মালিক আদ-দারির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আয-যুবায়ের আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: সা'দ আল-আশিরা গোত্রের সুলাইমান বিন আয়্যাশ আস-সা'দি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন: জিমাল বিনতে আউন বিন মুসলিম তাঁর পিতা থেকে (عن) এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে (عن) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: একদিন আমি বের হলাম এবং রাতের মতো কালো এক ব্যক্তিকে দেখলাম যার সাথে দুধের মতো ফর্সা এক নারী ছিল। আমি তাঁর নিকটবর্তী হলাম এবং কস্তুরীর সুঘ্রাণ আমাকে আচ্ছন্ন করল। আমি বললাম: আপনি কে? তিনি বললেন: আমি সেই যে বলে (আল-তাবিল ছন্দে): হায়! যদি আমি জানতাম আগামীকাল আমাদের জন্য কী সংবাদ নিয়ে আসবে; বিচ্ছেদের পরদেশী নিঃসঙ্গতা নাকি চিরস্থায়ী দূরত্ব।

উম্মে বকরের সান্নিধ্যে যখন বিচ্ছেদের সময় ঘনিয়ে আসে... এরপর আমার অগোচরে পরনিন্দাকারীরা তার সাথে একান্তে মিলিত হয়।

তুমি কি আমাকে তাদের সামনেই বর্জন করবে যারা আমার শত্রু... যাতে তারা আমার অবস্থা দেখে উপহাস করতে পারে? নাকি তুমি অঙ্গীকারে অটল থাকবে?

তখন নারীটি চিৎকার করে বলে উঠল: না, আল্লাহর শপথ! বরং আমরা অঙ্গীকারেই অটল থাকব। আমি তাঁর পরিচয় জানতে চাইলে বলা হলো: ইনি হলেন নাসিব এবং ওই নারী উম্মে বকর।

আবু আল-কাসিম আস-সাইয়িগ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ বিন মুসলিম বিন কুতাইবাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আস-সিজিস্তানি আবু উবাইদাহ থেকে (عن) আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني), তিনি বলেন: কাইস বিন আসিম আল-মিনকারি যখন মৃত্যুশয্যায় শায়িত ছিলেন, তখন তিনি তাঁর সন্তানদের একত্রিত করে বললেন: হে আমার সন্তানেরা! আমার উপদেশ মনে রেখো, তোমাদের জন্য আমার চেয়ে বড় হিতাকাঙ্ক্ষী আর কেউ নেই। আমি যখন মারা যাব, তখন তোমরা তোমাদের বড়দের সর্দার বানিও; ছোটদের সর্দার বানিও না। কারণ এতে মানুষ তোমাদের বড়দের তুচ্ছজ্ঞান করবে আর তোমরা সবাই মিলে লাঞ্ছিত হবে। আর সম্পদ সংরক্ষণে সচেষ্ট থেকো, কারণ এতে সম্মানীদের মান-মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং কৃপণদের থেকে অমুখাপেক্ষী হওয়া যায়। আর মানুষের কাছে যাচ্ঞা করা থেকে বিরত থেকো, কারণ এটি হলো মানুষের উপার্জনের সর্বশেষ ও নিকৃষ্টতম পর্যায়।

ইবনে মুজাহিদ মুহাম্মদ বিন জাহম থেকে (عন) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, খাস'আম গোত্রের এক ব্যক্তি বলেছেন (আল-কামিল ছন্দে):

যদি আমি উচ্চ মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের শিখরে সেভাবে আরোহণ করতে পারতাম... যেভাবে নিম্নগামী হয়েছি, তবে আমি খাস'আম গোত্রের সর্দার হতাম।

বর্ণনাকারী বলেন: কিছুকাল পর তাঁর সম্প্রদায়ের মধ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দিল। এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি আবৃত্তি করলেন:

জনপদ শূন্য হয়ে পড়েছে, তাই আজ আমি সর্দার না হয়েও সর্দার হয়েছি... আর শ্রেষ্ঠত্বে একাকী হওয়াটাও এক প্রকার কষ্ট।

আল-আখফাশ বলেন: একদিন আমি সা'লাবের মজলিসে উপস্থিত ছিলাম, মজলিস শেষ হওয়ার আগেই আমি উঠে যাওয়ার জন্য দ্রুততা দেখালাম। তিনি আমাকে বললেন: কোথায় যাচ্ছ? আমি তো দেখছি তুমি আল-খালদির মজলিস ছাড়া ধৈর্য ধরতে পারো না। আমি বললাম: আমার একটি বিশেষ প্রয়োজন আছে। তিনি বললেন: আমি লক্ষ্য করেছি সে (আল-খালদি) আবু তামমামের চেয়ে আল-বুহতারিকে বেশি প্রাধান্য দেয়। যখন তুমি তাঁর কাছে যাবে তখন তাকে জিজ্ঞেস করো, আবু তামমামের এই কথার অর্থ কী (আল-ওয়াফির ছন্দে):

ওহে রোদনের সাথী! কত বিচ্ছেদই না রয়েছে... যা আসন্ন ছিল কিন্তু পরবর্তীতে মিলনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি (আখফাশ) বলেন: এরপর যখন আমি আল-মুবররিদের কাছে গেলাম, আমি তাকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: এর অর্থ হলো, প্রেমিক-প্রেমিকারা অনেক সময় মান-অভিমানের বশে একে অপরকে বর্জন করে, কিন্তু তা বিচ্ছেদের চূড়ান্ত ইচ্ছায় নয়। যখন যাত্রার সময় ঘনিয়ে আসে এবং তারা বিচ্ছেদ অনুভব করে, তখন তারা পুনরায় ভালোবাসার দিকে ফিরে আসে এবং বিচ্ছেদের ভয়ে মিলিত হয়। তারা এই ভেবে আতঙ্কিত হয় যে হয়তো এরপর সাক্ষাতের সময় দীর্ঘ হয়ে যাবে, ফলে সেই বিচ্ছেদের আশঙ্কাই তখন মিলনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যেমন অন্য এক কবি বলেছেন (আল-খাফিফ ছন্দে):

বিচ্ছেদের দিনটিতে তারা বিচ্ছেদ দিয়েই আনন্দ খুঁজে নিয়েছে... ক্রন্দন ও আলিঙ্গনের মাধ্যমে আশ্রয় খুঁজেছে।

মানুষের ভয়ে তারা কতই না তাদের ভালোবাসা গোপন করেছে... এবং কতই না তারা অন্তরের তৃষ্ণা লুকিয়ে রেখেছে।

কিন্তু বিচ্ছেদের সেই আশঙ্কা তাদের মাঝে এক আকস্মিক মিলন নিয়ে এল।

বিচ্ছেদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমি কীভাবে অভিযোগ করব... যেখানে সেই বিচ্ছেদের প্রভাতেই আমাদের মিলন সংঘটিত হলো।

বর্ণনাকারী বলেন: পরবর্তী মজলিসে যখন আমি সা'লাবের কাছে ফিরে এলাম, তিনি আমাকে সেই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন এবং আমি তাকে উত্তর ও কবিতাগুলো পুনরায় শোনালাম। তিনি বললেন: এটি কতই না বড় প্রবঞ্চনা! সে আসলে কিছুই বলেনি। বরং এই পঙক্তির প্রকৃত অর্থ হলো: মানুষ তার প্রিয়জনকে ছেড়ে এই আশায় বিচ্ছেদে যায় যে সে তার সফরে লাভবান হবে এবং সচ্ছল হয়ে ফিরে আসবে, যাতে পরবর্তীতে প্রিয়জনের সাথে তার অবস্থান দীর্ঘ হয়। তুমি কি দ্বিতীয় পঙক্তিতে তাকে বলতে দেখছ না (আল-ওয়াফির ছন্দে):

প্রত্যাবর্তনের আনন্দ তো কেবল তার জন্যই সম্ভব... যে বিদায়ের কষ্টের মুহূর্তে থমকে দাঁড়িয়েছিল।

এটি অন্য এক কবির কথার সদৃশ, বরং আবু তামমাম এটি তাঁর থেকেই গ্রহণ করেছেন (আত-তাবিল ছন্দে):

আমি তোমাদের থেকে দূরবর্তী কোনো স্থানে ঘর খুঁজব যাতে তোমরা নিকটবর্তী হও... এবং আমার চোখ অশ্রু বিসর্জন দেবে যাতে পরবর্তীতে অশ্রু স্থির (নয়ন জুড়ানো) হতে পারে।

এটি ঠিক হুবহু সেই অর্থই।

আল-আখফাশ বলেন: সা'লাব ইবনুল আরাবি থেকে (عن) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আমি সাঈদ বিন সালামের নিকট প্রবেশ করলাম, তখন তাঁর কাছে আল-আসমাঈ উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি আল-আজ্জাজের একটি কাসিদা আবৃত্তি করছিলেন যতক্ষণ না তিনি এই পঙক্তিতে পৌঁছালেন (আর-রাজায ছন্দে):
(খণ্ড: ১) আখবারু আবিল কাসিম আয-যুজ্জাজি (পৃষ্ঠা: ১৮)
فإن تبدلت بآدي آدا … لم يك يناد فأمسي انآدا

فقد رآني أصل القعادا

فقلت له: ما معنى القعاد؟ فقال: النساء. فقلت: هذا خطأ إنهما يقال في جمع النساء: القواعد كما قال الله تعالى: (والقواعد من النساء) . ويقال في جمع الرجال: القعاد كما يقال: راكب وركاب، وضارب وضراب فانقطع. وكان سبيله أن يحتج علي فيقول: قد يحمل بعض الجموع على بعض، فيحمل جمع المؤنث على المذكر، والمذكر على المؤنث عند الحاجة إلى ذلك كما قالوا في المذكر " هالك في الهوالك، وفارس وفوارس " فجمع كما يجمع المؤنث، وكما قال القطامي في المؤنث: البسيط

أبصارُهُنَّ إلى الشبّان مائلة … وقد أراهنّ عنّي غير صداد

اخبرنا اليزيدي قال اخبرنا عمي الفضل بن محمد عن أبي محمد ابن المبارك اليزيدي قال: كنا ليلة ببلد مع المهدى في شهر رمضان قبل أن يستخلف بأربعة أشهر فتذكروا ليلة عنده النحو والعربية، وكنت متصلا بخالد ابن يزيد بن منصور، والكسائي مع ولد الحسن الحاجب، فبعث إلي والي الكسائي فصرت إلى الدار فإذا الكسائي بالباب قد سبقني فقال لي: أعوذ بالله من شرك يا أبا محمد، فقلت له: لا تؤتي من قبلي أو أوتي من قبلك. فلما دخلنا على المهدى أقبل علي فقال: كيف نسبوا إلى البحرين فقالوا بحراني، وإلى الحصنين فقالوا حصني، هلا قالوا حصناني كما قالوا بحراني؟ فقلت: أيها الأمير، لو قالوا في النسب إلى البحرين بحري لالتبس فلم يدر النسبة إلى البحرين وقعت أم إلى البحر؟ فزادوا ألفا للفرق بينهما، كما قالوا في النسب إلى الروح روحاني، ولم يكن لحصنين شيء يلتبس به فقالوا حصني على القياس. فسمعت الكسائي يقول لعمر بن نوح: لو سألني الأمير عنها لأجبته بأحسن من هذه العلة. فقلت: أصلح الله الأمير أن هذا يزعم أنك لو سألته لأجاب بأحسن مني. قال: فقد سألته فقال: أصلح الله الأمير كرهوا أن يقولوا حصاني فيجمعوا بين نونين ولم يكن في البحرين إلا نون واحدة، فقالوا بحراني لذلك. قلت: كيف تنسب إلى رجل من بني جنان إن لزممت قياسك؟ قلت: جني فجمعت بينه وبين المنسوب إلى الجن، وان قلت جناني رجعت عن نهيك وجمعت بين ثلاث نونات.

ثم تفاوضنا الكلام إلى أن قلت له: كيف تقول: إن من خير القوم وأفضلهم أو خيرهم بتة زيد؟ فأطرق مفكرا وأطال الفكر، فقلت: أصلح الله الأمير لأن يجيب فيخطئ فيتعلم أحسمن من هذه المقالة. فقال: إن من خير القوم وأفضلهم أو خيرهم بتة زيدا. فقلت أخطأ أيها الأمير. قال: وكيف ترفعه قبل أن تأتي باسم أن ونصبه بعد الرفع وهو لا يجيزه أحد؟ فقات شيبة بن الوليد متعصبا له: لعله أراد بأو بل. فقلت: هذا لعمري معنى. فلقنه الكسائي فقال: ما أردت غيره. فقلت له: أخطأتما جميعا لأنه غير جائز أن من خير القوم وأفضلهم بل خيرهم زيدا. فقال المهدي يا كسائي ما مر بك مثل اليوم، قال: فكيف الصواب عندك؟ فقلت: أن من خير القوم وأفضلهم أو خيرهم بتة زيد، على معنى تكرير أن. فقال المهدي: قد اختلفتما وأنتما عدلان فمن يفصل بينكما؟ قلت: فصحاء الأعراب المطبوعون. فبعث إلى أبي المطوق فعملت أبياتا إلى أن يجيء. وكان المهدى يميل إلى أخواله من اليمن فقلت: المنسرح

يا أيها السائلي لأخبره … عمن بصنعاء من ذوى الحسب

حمير ساداتها تقر بها … أفضل طرا جماهر العرب

فإن من خيرهم وأفضلهم … أو خيرهم بتة أبو كرب

فلما جاء أبو المطوق أنشدته الأبيات وسألته عن المسألة فوافقني: الخفيف

عش بجد ولا يضرك نوك … إنما عيش من ترى بالجدود

عش بجد وكن هبنقة القيسي … جهلا أو شيبة بن الوليد

شيب يا شيب يا هني بني القعقاع ما أنت بالحليم الرشيد

لا ولا فيك خصلة من خصال … الخير أحرزتها بحلم وجود

غير ما أنك المجيد لتحبير … غناء بضرب دف وعود

فعلى ذا وذاك تحتمل الدهر … مجيدا به وغير مجيد
যদি আমার অবস্থা আদী আদা-এর পর পরিবর্তিত হয়ে থাকে … তবে এমন নয় যে আমাকে ডাকা হতো, বরং আমি নতজানু হয়ে সন্ধ্যা অতিবাহিত করতাম।

তিনি আমাকে উপবিষ্টদের (القعاد) মূল হিসেবে দেখেছিলেন।

আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম: 'কু'আদ' (القعাদ) এর অর্থ কী? তিনি উত্তর দিলেন: 'নারীগণ'। আমি বললাম: এটি ভুল। নারীবাচক শব্দের বহুবচনের ক্ষেত্রে 'কাওয়ায়িদ' (القواعد) বলা হয়, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (এবং বৃদ্ধা নারীগণ)। আর পুরুষদের বহুবচনের ক্ষেত্রে 'কু'আদ' (القعاد) বলা হয়, যেমন বলা হয়: 'রাকিব' ও 'রুকাব', এবং 'দারিব' ও 'দিরাব'। তখন তিনি নিরুত্তর হয়ে গেলেন। তার উচিত ছিল আমার বিপক্ষে যুক্তি দেওয়া এবং বলা: কখনও কখনও এক প্রকার বহুবচনকে অন্যটির ওপর প্রয়োগ করা হয়; যেমন প্রয়োজনে স্ত্রীবাচক বহুবচনকে পুরুষবাচকের ওপর এবং পুরুষবাচক বহুবচনকে স্ত্রীবাচকের ওপর প্রয়োগ করা হয়। যেমন তারা পুরুষবাচকের ক্ষেত্রে বলে থাকে "হাওয়ালিক", এবং 'ফারিস' ও 'ফাওয়ারিস'। এখানে স্ত্রীবাচকের মতো বহুবচন করা হয়েছে। যেমন কুতামী স্ত্রীবাচকের ক্ষেত্রে বলেছেন: (বাসিত ছন্দ)

তাদের দৃষ্টি যুবকদের প্রতি ঝুঁকে থাকে … আর আমি তাদের দেখেছি যে তারা আমার থেকে বিমুখ নয়।

আল-ইয়াজিদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন, আমার চাচা ফাদল ইবনে মুহাম্মদ আবু মুহাম্মদ ইবনুল মুবারক আল-ইয়াজিদী থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আমরা এক রাতে মাহদীর সাথে এক শহরে ছিলাম, তখন রমজান মাস ছিল এবং তাঁর খলিফা হওয়ার চার মাস পূর্বের ঘটনা। সেই রাতে তাঁর কাছে নাহু এবং আরবি ভাষা নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। আমি খালিদ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে মনসুরের সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম এবং কিসায়ী ছিলেন হাজিব হাসান এর সন্তানদের সাথে। তখন খলিফা কিসায়ীকে এবং আমাকে ডেকে পাঠালেন। আমি প্রাসাদে উপস্থিত হয়ে দেখলাম কিসায়ী আমার পূর্বেই দরজায় পৌঁছে গেছেন। তিনি আমাকে বললেন: হে আবু মুহাম্মদ! আমি আপনার অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি তাকে বললাম: আমার দিক থেকে আপনার কোনো অনিষ্ট হবে না, যতক্ষণ না আপনার পক্ষ থেকে আমার প্রতি কোনো আচরণ প্রকাশ পায়। যখন আমরা মাহদীর কাছে প্রবেশ করলাম, তিনি আমার দিকে এগিয়ে এসে বললেন: বাহরাইনের ক্ষেত্রে তারা কীভাবে সম্বন্ধ (নিসবত) করে 'বাহরানী' বলে, আর হিসনায়ন-এর ক্ষেত্রে কেন 'হিসনী' বলে? তারা কেন বাহরানীর মতো 'হিসনানী' বলল না? আমি বললাম: হে আমির! যদি তারা বাহরাইনের নিসবতের ক্ষেত্রে 'বাহরী' বলত, তবে সন্দেহ তৈরি হতো এবং বোঝা যেত না যে এই নিসবতটি বাহরাইনের দিকে নাকি সমুদ্রের দিকে করা হয়েছে? তাই এই দুইয়ের মাঝে পার্থক্যের জন্য তারা একটি আলিফ বৃদ্ধি করেছে। যেমন তারা 'রূহ' এর নিসবতের ক্ষেত্রে 'রূহানী' বলে থাকে। কিন্তু 'হিসনায়ন' এর ক্ষেত্রে বিভ্রান্ত হওয়ার মতো কিছু ছিল না, তাই তারা নিয়ম অনুযায়ী 'হিসনী' বলেছে। তখন আমি কিসায়ীকে উমর ইবনে নূহের কাছে বলতে শুনলাম: যদি আমির আমাকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতেন, তবে আমি এই কারণের চেয়েও উত্তম উত্তর দিতাম। তখন আমি বললাম: আল্লাহ আমিরকে সংশোধন করুন! এই ব্যক্তি ধারণা করছে যে, আপনি যদি তাকে প্রশ্ন করতেন তবে তিনি আমার চেয়েও উত্তম উত্তর দিতেন। তিনি বললেন: আমি তো তাকে জিজ্ঞাসা করেছি। তখন কিসায়ী বললেন: আল্লাহ আমিরকে সংশোধন করুন! তারা 'হিসনানী' বলতে অপছন্দ করেছে কারণ এতে দুটি 'নুন' একত্রিত হয়ে যায়, অথচ বাহরাইনের ক্ষেত্রে কেবল একটি 'নুন' ছিল। একারণেই তারা বাহরানী বলেছে। আমি বললাম: যদি আপনি আপনার নিয়ম আঁকড়ে ধরেন, তবে বনু জিনান গোত্রের কোনো ব্যক্তির নিসবত কীভাবে করবেন? আপনি যদি বলেন 'জিন্নী', তবে জিনদের সাথে নিসবতকারীর মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি হবে। আর যদি 'জিনানী' বলেন, তবে আপনি আপনার নিষেধাজ্ঞা থেকে ফিরে আসলেন এবং তিনটি 'নুন' একত্রিত করলেন।

অতঃপর আমাদের মধ্যে আলাপচারিতা চলতে চলতে আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম: আপনি এই বাক্যটি কীভাবে বলবেন: "নিশ্চয়ই কওমের উত্তম ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি, অথবা প্রকৃতপক্ষে তাদের সেরা ব্যক্তি জায়েদ?" তিনি চিন্তিত হয়ে মাথা নিচু করলেন এবং দীর্ঘক্ষণ চিন্তা করলেন। আমি বললাম: আল্লাহ আমিরকে সংশোধন করুন! ভুল উত্তর দিয়ে শিক্ষা গ্রহণ করা এই নীরবতার চেয়ে উত্তম। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই কওমের উত্তম ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি, অথবা প্রকৃতপক্ষে তাদের সেরা ব্যক্তি জায়েদকে (যাইদান)।" আমি বললাম: হে আমির! তিনি ভুল করেছেন। তিনি বললেন: 'ইন্না'-এর ইসিম আসার আগে আপনি কীভাবে এটিকে রফ (পেশ) দিলেন এবং রফ-এর পর নসব (জবর) দিলেন? অথচ এটি কেউ বৈধ মনে করে না। শায়বাহ ইবনে ওয়ালিদ কিসায়ীর পক্ষ নিয়ে গোঁড়ামি করে বললেন: সম্ভবত তিনি 'আও' দ্বারা 'বাল' (বরং) উদ্দেশ্য নিয়েছেন। আমি বললাম: এটি আমার জীবনের কসম, একটি অর্থ হতে পারে। কিসায়ী এটি লুফে নিলেন এবং বললেন: আমি এটি ছাড়া অন্য কিছু উদ্দেশ্য নেইনি। আমি তাকে বললাম: আপনারা উভয়ই ভুল করেছেন, কারণ "নিশ্চয়ই কওমের উত্তম ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি, বরং তাদের সেরা ব্যক্তি জায়েদকে" এটি ব্যাকরণগতভাবে বৈধ নয়। তখন মাহদী বললেন: হে কিসায়ী! আজকের মতো দিন তোমার ওপর দিয়ে আর কখনও আসেনি। তিনি বললেন: তবে আপনার মতে সঠিক কোনটি? আমি বললাম: "নিশ্চয়ই কওমের উত্তম ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি অথবা প্রকৃতপক্ষে তাদের সেরা ব্যক্তি হলেন জায়েদ (যাইদুন)", কারণ এখানে 'ইন্না' শব্দটিকে উহ্য রেখে পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। মাহদী বললেন: তোমরা দুজনেই মতভেদ করেছ অথচ তোমরা উভয়েই ন্যায়পরায়ণ (عدلان), এখন তোমাদের মধ্যে কে ফয়সালা করবে? আমি বললাম: বিশুদ্ধ স্বভাবজাত আরবের বেদুঈনরা। তখন তিনি আবু আল-মুতাউওয়াকের কাছে লোক পাঠালেন। তার আসা পর্যন্ত আমি কয়েকটি কবিতা রচনা করলাম। মাহদী তার মামার বংশ অর্থাৎ ইয়ামেনীদের প্রতি ঝুঁকে ছিলেন, তাই আমি বললাম: (মুনসারিহ ছন্দ)

হে প্রশ্নকারী! আমি যেন তাকে অবহিত করি … সানআ-র মর্যাদাশীল বংশধরদের সম্পর্কে।

হিমইয়ার গোত্রের সরদাররা এর স্বীকৃতি দেয় … যারা সমগ্র আরবের শ্রেষ্ঠ গোষ্ঠী।

নিশ্চয়ই তাদের মধ্যে উত্তম ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি … অথবা প্রকৃতপক্ষে তাদের সেরা হলেন আবু কারিব।

যখন আবু আল-মুতাউওয়াক আসলেন, আমি তাকে কবিতাগুলো শোনালাম এবং বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি আমার সাথে একমত হলেন: (খাফিফ ছন্দ)

সৌভাগ্যের সাথে বেঁচে থাকো, নির্বুদ্ধিতা তোমার কোনো ক্ষতি করবে না … মানুষের জীবন তো সৌভাগ্যের ওপরই নির্ভরশীল।

সৌভাগ্যের সাথে বেঁচে থাকো এবং কায়েসী হাবাননাকা-র মতো হও … মূর্খতায় অথবা শায়বাহ ইবনে ওয়ালিদের মতো।

হে শায়ব! হে কাকা-র সন্তানদের নিকৃষ্ট ব্যক্তি! তুমি তো ধৈর্যশীল বা বুদ্ধিমান নও।

না তোমার মধ্যে কল্যাণের কোনো গুণ আছে … যা তুমি ধৈর্য ও মহানুভবতা দিয়ে অর্জন করেছ।

বরং তুমি তো কেবল দফ ও উদ বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে … সংগীত পরিবেশনে পারদর্শী।

এর ওপর ভিত্তি করেই তুমি জামানাকে সহ্য করো … কখনও দক্ষ হিসেবে আবার কখনও অদক্ষ হিসেবে।
(খণ্ড: ১) আখবারু আবিল কাসিম আয-যুজ্জাজি (পৃষ্ঠা: ১৯)
قال أبو القاسم: المسألة مبنية على الفساد للمغالطة. فأما جواب الكسائي فغير مرضي عند أحد، وجواب اليزيدي غير جائز عندنا لأنه اضمر أن وأعلمهما، وليس من قوتها أن تضمر فتعمل. فأما تكريرها فجائز، قد جاء في القرآن قال الله تعالى (إن الذين آمنوا والذين هادوا والصابئين والنصارى والمجوس والذين أشركوا أن الله يفصل له بينهم) . فجعل أن الثانية مع اسمها وخبرها خبرا عن الأولى. وقال الشاعر: البسيط

إن الخليفة إن الله سربله … سربال ملك به ترجى الخواتيم

والصواب عندنا في المسألة أن يقال: أن من خير القوم وأفضلهم أو أو خيرهم البتة زيد، فيضمر اسم أن فيها ويستأنف ما بعدها. وذكر سيبويه: البتة مصدر لم تستعمله العرب إلا بالألف واللام وإن حذفهما منه خطأ.

اخبرنا الزجاج قال اخبرنا المبرد قال حد ث المدائني عن العجلاني عن إسماعيل بن يسار قال: مات ابن لأرطاة بن سهية المرى فلزم قبره حولا يأتيه بالغداة فيقف عليه فيقول: أي عمرو هل أنت رائح معي أن أقمت عندك إلى العشي، ثم يأتيه بالمساء فيقول مثل ذلك، فلما كان بعد الحول أنشأ يقول: الطويل

إلى إلحول ثم اسم السلام عليكما … ومن يبك حولا كاملا فقد اعتذر

ثم أنصرف عن قبره وأنشأ يقول: الطويل

وقفت على قبر ليلى فلم يكن … وقوفي عليه غير مبكي وجزع

هل أنت ابن ليلى إن نظرتك رائج … مع الركب أوغاد غدا تئذ معي

فلو كان لبي حاضري ما أصابني … سهو على قبر بأكناف أجرع

فما كنت إلا والها بعد فقدها … على فقدها إثر الحنين المرجع

إذا لم تجده تنصرف لطياتها … من الأرض أو تأتي لألف فترتعي

على الدهر فاعتب انه غير معتبوفي غير من قد وارت الأرض فاطمع اخبرنا الأخفش قال أخبرنا المبرد عن المازني عن الأصمعي قال:

كان خلف إذا آوى إلى فراشه لا يضطجع حتى ينشد: البسيط

لا يبرح المرء يستقرى مضاجعه … حتى يبيت بأقصاهن مضطجعا

وليس ينفك يستصفي مشاربه … حتى يجرع من رنق البلا جرعا

فامنع جفونك طول الليل رقدتها … واقرع حشاك لذيذ الري والشبعا

واستشعر البر والتقوى تعد بها … حتى تنال بهن الفوز والرفعا

اخبرنا ابن الأنباري قال أخبرني الختلي عن الأصمعي قال الخليل: نظرت في علم النجوم فهجمت منه على ما لزمني تركه. وأنشأ يقول: الخفيف

بلغا عني المنجم أني … كافر بالذي قضته الكواكب

عالم أن ما يكون وما كا … ن قضاء من المهيمن واجب

قال أبو القاسم: المهيمن: الأمين، ويقول أهل اللغة إن الهاء فيه بدل من الهمزة، وينشد للعباس بن عبد المطلب بمدح النبي صلى الله عليه وسلم: المنسرح

من قبلها طبت في الظلال وفي … مستودع حيث يخصف الورق

ثم هبطت البلاد لا بشر … أنت ولا مضغة ولا علق

بل نطفة تركب السفين وقد … ألجم نسرا وأهله الغرق

تنقل من صالب إلى رحم … إذا مضى عالم بدا طبق

حتى احتوى بيتك المهيمن من … خندف علياء تحتها النطف

وأنت لما ولدت أشرقت الأر … ض وضاءت بنورك الأفق

ونحن في ذلك الضياء وفي … سبل الهدى والرشاد نخترق

أنشدنا الأخفش عن ثعلب: الكامل

وعلى قدام حملت شكة حازم … في الروع ليس فؤاده بمثقل

أما إذا استقبلتها فتخالها … كالجذع شذ به نقي المنجل

أما إذا استعرضتها فمطارة … تنفي سنابكها رصيص الجندل

ما إذا استدبرتها فنبيلة … نهد مكان حزامها والمركل

وإذا وصفت وصفت جوز جرادة … وإذا ملكت عنانها لم تفشل

وكان حيري المزاد مؤكرا … يعلى به كفل شديد الموصل

فاعتامهها بصري لعلمي أنها … عدوا ستقبل في الرعيل الأول
আবু আল-কাসিম বলেছেন: এই মাসআলা বা বিষয়টি বিভ্রান্তিকর ও ত্রুটিপূর্ণ ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত। আল-কিসায়ীর উত্তর কারো নিকট গ্রহণযোগ্য নয় এবং আল-ইয়াজিদির উত্তর আমাদের নিকট বৈধ নয়; কেননা তিনি ‘আন্না’ (أن) এবং ‘আ’লামাহুমা’ (أعلمهما) কে উহ্য রেখেছেন, অথচ উহ্য থেকে আমল করার মতো শক্তি এর নেই। তবে এর পুনরাবৃত্তি করা বৈধ, যা কুরআনে এসেছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং যারা ইয়াহুদী হয়েছে, আর সাবেয়ী, নাসারা, মাজুসী এবং যারা শিরক করেছে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেবেন)। এখানে তিনি দ্বিতীয় ‘আন্না’ (أن) কে তার ইসম ও খবরসহ প্রথমটির খবর হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। কবি বলেছেন: (বাসিত ছন্দ)

নিশ্চয়ই খলিফা, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে পরিহিত করেছেন … রাজকীয় পোশাক, যার দ্বারা শুভ পরিণতির আশা করা হয়।

আমাদের মতে এই মাসআলায় সঠিক বক্তব্য হলো: আন্না (أن) সম্প্রদায়ের সর্বোত্তম বা একান্তই জায়েদ; এখানে ‘আন্না’-এর ইসম উহ্য থাকবে এবং পরবর্তী অংশ নতুনভাবে শুরু হবে। সিবওয়াইহ উল্লেখ করেছেন যে: ‘আল-বাত্তাহ’ একটি ক্রিয়ামূল যা আরবরা কেবল ‘আলিফ-লাম’ সহকারে ব্যবহার করে এবং তা বাদ দেওয়া ভুল।

আয-যাজ্জাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন আল-মুবরারিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন আল-মাদায়িনী আল-আজলানি থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدث), তিনি ইসমাইল বিন ইয়াসার সূত্রে (عن) বর্ণনা করেন: আর্তাহ বিন সাহিয়া আল-মুররির এক পুত্র মারা গেল, তখন তিনি এক বছর তার কবরের সাথে অবস্থান করলেন। তিনি সকালে কবরের পাশে আসতেন এবং দাঁড়াতেন, তারপর বলতেন: হে আমর! তুমি কি আমার সাথে যাবে নাকি আমি সন্ধ্যা পর্যন্ত তোমার কাছে অবস্থান করব? এরপর তিনি সন্ধ্যায় আসতেন এবং অনুরূপ বলতেন। এক বছর পূর্ণ হওয়ার পর তিনি আবৃত্তি করতে শুরু করলেন: (তওয়ীল ছন্দ)

এক বছর পর্যন্ত, অতঃপর তোমাদের প্রতি শান্তির সম্ভাষণ... যে ব্যক্তি পূর্ণ এক বছর কান্নাকাটি করে সে দায়মুক্ত হয়।

অতঃপর তিনি তার কবরের পাশ থেকে ফিরে গেলেন এবং আবৃত্তি করতে লাগলেন: (তওয়ীল ছন্দ)

আমি লায়লার কবরের পাশে দাঁড়ালাম, কিন্তু আমার দাঁড়ানো … কান্না ও বিলাপ ছাড়া আর কিছু বয়ে আনেনি।

হে লায়লার পুত্র! আমি যদি তোমার অপেক্ষা করি, তবে কি তুমি কাফেলার সাথে ফিরবে … নাকি কাল সকালে আমার সাথেই ফিরে যাবে?

যদি আমার বুদ্ধি স্থির থাকত, তবে কবরের পাশে … বালুকাময় প্রান্তরে আমার এমন বিস্মৃতি ঘটত না।

তাকে হারানোর পর আমি ব্যাকুলতা ছাড়া আর কিছুই ছিলাম না … তাকে হারানোর ব্যথায় বারবার হাহাকার ধ্বনিত হচ্ছিল।

যখন তুমি তাকে খুঁজে পাবে না, তখন সে তার গন্তব্যের দিকে ফিরে যাবে … অথবা তার প্রিয়জনের কাছে আসবে এবং বিচরণ করবে।

যামানার ওপর সন্তুষ্ট থাকো কারণ এটি পরিবর্তনশীল নয়, আর যে মাটির নিচে চলে গেছে তাকে ছাড়া অন্য কারো মাঝে আশা পোষণ করো। আল-আখফাশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন আল-মুবরারিদ আল-মাযিনী থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি আল-আসমাঈ সূত্রে (عن) বর্ণনা করেন:

খালাফ যখন বিছানায় যেতেন, তখন তিনি এই কবিতাটি আবৃত্তি না করে শুতেন না: (বাসিত ছন্দ)

মানুষ অনবরত তার শয়নস্থলগুলো পরীক্ষা করতে থাকে … যতক্ষণ না সে তার জীবনের শেষ শয়নস্থলে রাত কাটায়।

সে সর্বদা তার পানীয়গুলো স্বচ্ছ করতে সচেষ্ট থাকে … যতক্ষণ না তাকে ধ্বংসের আবিলতার এক ঢোক পান করানো হয়।

সুতরাং সারা রাত তোমার চোখের পাতাগুলোকে নিদ্রা হতে বিরত রাখো … এবং তোমার অন্তরকে তৃপ্তিদায়ক পানাহার ও উদরপূর্তি থেকে দূরে রাখো।

সততা ও তাকওয়াকে নিজের ভূষণ করো, যার মাধ্যমে তুমি ফিরে আসবে … যেন তুমি এর দ্বারা সফলতা ও উচ্চ মর্যাদা লাভ করতে পারো।

ইবনুল আনবারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন আল-খাতালি আল-আসমাঈ সূত্রে (عن) আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আল-খলীল বলেছেন: আমি জ্যোতির্বিদ্যা নিয়ে গবেষণা করলাম এবং এমন পর্যায়ে পৌঁছালাম যা বর্জন করা আমার জন্য অনিবার্য হয়ে পড়ল। অতঃপর তিনি আবৃত্তি করলেন: (খাফীফ ছন্দ)

জ্যোতিষীকে আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও যে, আমি … নক্ষত্ররাজি যা নির্ধারণ করে তার প্রতি অবিশ্বাসী।

আমি জানি যা কিছু হয় এবং যা কিছু হয়েছে … তা মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর পক্ষ থেকে অবধারিত ফয়সালা।

আবু আল-কাসিম বলেন: 'আল-মুহাইমিন' (المهيمن) অর্থ হলো আমানতদার বা রক্ষক। ভাষাবিদগণ বলেন যে, এর বর্ণ ‘হা’ (هاء) মূলত ‘হামযা’ (همزة) এর স্থলাভিষিক্ত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশংসায় আল-আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিবের কবিতাটি আবৃত্তি করা হয়: (মুনসারিহ ছন্দ)

এর আগে আপনি জান্নাতের ছায়াতলে এবং … সেই নিরাপদ স্থানে পবিত্র ছিলেন যেখানে বৃক্ষপত্র দিয়ে আবৃত করা হয়েছিল।

অতঃপর আপনি পৃথিবীতে অবতরণ করলেন, তখন আপনি মানুষ ছিলেন না … আর না ছিলেন মাংসপিণ্ড কিংবা রক্তপিণ্ড।

বরং আপনি ছিলেন এক নূরের বিন্দু (নুতফাহ) যা নৌকায় আরোহণ করেছিল … যখন প্লাবন ‘নাসর’ মূর্তিকে এবং তার অনুসারীদের নিমজ্জিত করেছিল।

আপনি এক পৃষ্ঠদেশ থেকে অন্য জরায়ুতে স্থানান্তরিত হয়েছেন … যখনই এক কাল গত হয়েছে, তখনই নতুন এক স্তরের আবির্ভাব ঘটেছে।

অবশেষে আপনার মহিমান্বিত বংশধারা খিন্দিফ গোত্রের … সেই উচ্চ শিখরকে শামিল করল যার নিচে অন্য সকল শাখা বিদ্যমান।

আপনার জন্মের সময় পৃথিবী আলোকিত হয়েছিল এবং … দিগন্ত আপনার নূরে উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছিল।

আর আমরা সেই আলোতে এবং হিদায়াত ও … সঠিক পথের মাঝে বিচরণ করছি।

আল-আখফাশ সা’লাব সূত্রে (عن) আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন: (কামিল ছন্দ)

যুদ্ধক্ষেত্রে আমি এক দৃঢ়চিত্ত ব্যক্তির অস্ত্র বহন করেছি … যার হৃদয় ভীতিতে ভারাক্রান্ত নয়।

যখন তুমি এর সম্মুখভাগ দেখবে, তখন মনে হবে … যেন এটি কোনো বৃক্ষকাণ্ড যা তীক্ষ্ণ দা দিয়ে মসৃণ করা হয়েছে।

যখন তুমি এর পার্শ্বদেশ দেখবে, তখন দেখবে এটি এমন এক দ্রুতগামী অশ্ব … যার খুরের আঘাতে শক্ত পাথরও দূরে নিক্ষিপ্ত হয়।

যখন তুমি এর পশ্চাদ্দেশ দেখবে, তখন দেখবে এটি সুঠাম দেহী … এর কটিদেশ এবং পা রাখার স্থানগুলো মজবুত।

আমি যখন এর বর্ণনা দিই, তখন ফড়িঙের পিঠের ন্যায় এর ক্ষিপ্রতার বর্ণনা দিই … যখন তুমি এর লাগাম ধরবে, তখন তুমি ব্যর্থ হবে না।

এর পিঠের চামড়া ছিল শক্ত এবং মজবুত … যা সুদৃঢ় সংযোগ বিশিষ্ট নিতম্বের ওপর বিস্তৃত।

আমি এটি বেছে নিয়েছি কারণ আমি জানি যে … এটি সম্মুখপানে ধাবমান শ্রেষ্ঠ বাহিনীর কাতারে থাকবে।
(খণ্ড: ১) আখবারু আবিল কাসিম আয-যুজ্জাজি (পৃষ্ঠা: ২০)
أخبرنا ابن دريد قال حدثنا السجستاني عن الأصمعي عن أبي عمرو بان العلاء قال: قيل لرجل من بني بكر بن وائل قد كبر حتى ذهب منه لذة المأكل والمشرب والنكاح: أتحب أن تموت؟ قال: لا، قيل: فما بقي من لذاتك في الدنيا؟ شال: اسمع العجائب، وأنشأ يقول: الطويل

وهلك الفتى أن لا يراح إلى الندى … وأن لا يرى شيئا عجيبا فيعجبا

معنى يراح: يرتاح، ومعنى الكلام: وأن لا يعجب إذا رأى العجب.

اخبرنا ابن دريد قال: حدثنا أبو حاتم عن الأصمعي قال قال رؤبة في نعت خيل وأخطأ، قال في وصف القوائم: الرجز

بأربع لا يعتلقن العفقا … يهوين مثنى ويقعن وفقها

فقال له سلم: هذا خطأ، هذا يضير أتجعله يضرج برجله ويسبح بيده كما قال أبو النجم: الرجز

يضرج أخراه ويقفو أوله

فقال: أي بني أنت أعلم مني بالخيل، ولكن أدنني من ذنب هذا البعير. قال الأصمعي: فأدني منه فلم يصنع شيئا.

اخبرنا الأخفش عن ثعلب عن ابن شبة قال: روي عن هشام بن عروة أن عبد الرحمن بن أبي بكر الصديق دخل دمشق في الجاهلية فرأى جارية كأنها مهرة عربية حولها جوار يفدينها ويحلفن برأسها ويقلن: لا وحق ابنة الجودى. فوقعت بقلبه، فانصرف عنها وأنشأ: الطويل

تذكر ليلى والسماوة دونها … وما لابنة الجودي ليلى وماليا

وكيف تعني قلبه حارثيه … تدمن بصري أو تحل الجوابيا

وكيف يلاقيها، بلى ولعلها … إن الناس وافوا موسما أن توافيا

قال: فما زال يشبب بها، فلما كان في خلافة عمر وأرسل إلى الشام قال لهم: أن اقتحمتم دمشق فانفوا ابنة الجودي إلى ابن أبي بكر، فأعطيها فآثرها على نسائه حتى شكونه إلى عائشة رضي الله عنها فعاتبته على ذلك وقالت له: إن لنسائك عليك حقا. فقال: كأنما اترشف برضابها حبة رمان.

حدثنا محمد بن القاسم الأنباري قال: حدثنا أبي عن احمد بن الحارث عن المدائني قال: كان عمر بن عبد العزيز يقول: إذا كان يوم القيامة ووافينا الروم بقياصرتها والفرس بأكاسرتها جئنا بالحجاج فكان عدلا لهم. اخبرنا ابن شقير احمد بن الحسين قال اخبرنا ثعلب عن ابن الأعرابي قال: يقال لقع فلان فلانا بعينه، وزلقه، وأزلقه، وشقذه، وشوهه: كل ذلك إذا أصابه بعينه. ويقول الرجل لصاحبه إذا أجاد في عمل: لا تشوه علي: أي لا تقل لي أجدت فتصيبني بعينك. ويقال: رجل ومعيون: إذا كان به عين. ويقال: رجل شائه وشاه، ومشوه، وشقذ، وشقذان: إذا كان شديد الإصابة بالعين. قال: وكان معاوية وابن الزبير يتسايران فأبصرا راكبا من بعيد فقال معاوية: هو فلان، وقال ابن الزبير: هو فلان، فلما تبيناه كان الذي قاله ابن الزبير، فقال معاوية: يا أبا بكر ما أحسن هذه الحدة مع الكبر؟ فقال: برك يا أمير المؤمنين. فقال: برّ ك يا أمير المؤمنين. فقال: برك يا أمير المؤمنين. فسكت فقال الثالثة، فسكتُ وضحك، فقال ابن الزبير: ما أحسن هذه الثنايا وأظرف هذا الوجه مع طول العمر وكثرة الهموم. ثم افترقا فاشتكى ابن الزبير عينيه حتى اشرف على ذهابهما، وسقطت ثنايا معاوية، فالتقيا في الحول الثاني فقال له: يا أبا بكر أنا أشوى منك: أي اكبر حظا منك في الإصابة بالعين. وأنا أقل ضررا منك. قال ثعلب: هو من قولهم رماه: إذا لم يصب مقتله.

اخبرنا ابن اللأنباري عن أبيه عن بعض شيوخه عن محمد بن حازم وكان شاعرا ظريفا قال: دعانا بشار بن برد وكان عنده جاريتان تغنيان، وكان في المجلس منا يعبث بهما ويمد يده إليهما، فأنفت له من ذلك فكتبت إليه من الغد: الخفيف

اتق الله أنت شاعر قيس … لا تكن وصمة على الشعراء

إن إخوانك المقيمين بالأمس أتوا للزناء لا للغناء

أنت أعمى وللزناة هنات … منكرات تخفى على البصراء

هبك تستبهر الحديث فما علمك فيه بالغمز والإيماء

والإشارات بالعيون وبالأيدي وأخذ الميعاد للالتقاء

قطعوا أمرهم وأنت حمار … موقر من بلادة وغباء

قال: فأدخلهما السوق فباعها.

ة شال: اخبرنا أبو عيسى محمد بن احمد بن قطن السمسار العجلي قال اخبرنا أبو جعفر بن أبي شيبة قال: رأيت ابن أبي العتاهية في المقابر قائما وهو يقول: الكامل
ইবনে দুরেদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন, সাজিস্তানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আসমায়ি থেকে, তিনি আবু আমর ইবনুল আলা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: বনু বকর ইবনে ওয়ায়েল গোত্রের এক ব্যক্তিকে বলা হলো, যিনি এতোটাই বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন যে তার আহার, পানীয় ও দাম্পত্য জীবনের স্বাদ ফুরিয়ে গিয়েছিল: "আপনি কি মৃত্যুবরণ করতে ভালোবাসেন?" তিনি বললেন: "না।" জিজ্ঞেস করা হলো: "তাহলে দুনিয়াতে আপনার আর কীসের স্বাদ অবশিষ্ট আছে?" তিনি বললেন: "বিস্ময়কর সব কথা শোনা।" এরপর তিনি তবিল ছন্দে এই কবিতা আবৃত্তি করলেন:

যুবকের ধ্বংস এতেই যে সে দানশীলতার দিকে ফিরে স্বস্তি পাবে না … আর সে বিস্ময়কর কিছু দেখে বিস্মিত হবে না।

'ইউরাহ' (يراح) শব্দের অর্থ হলো: স্বস্তি পাওয়া (يرتاح)। আর কথাটির মর্মার্থ হলো: বিস্ময়কর কিছু দেখে বিস্মিত না হওয়া।

ইবনে দুরেদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আবু হাতিম আসমায়ি থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) যে, রুবা ঘোড়ার বর্ণনায় কিছু কবিতা বলেছিলেন এবং সেখানে ভুল করেছিলেন। ঘোড়ার পায়ের বর্ণনায় তিনি রাজায ছন্দে বলেছিলেন:

চারটি পা নিয়ে যা ধুলোবালি স্পর্শ করে না … জোড়ায় জোড়ায় তারা ধাবিত হয় এবং সমান্তরালে মাটিতে পড়ে।

তখন সাল্লাম তাকে বললেন: "এটি ভুল। এটি ঘোড়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। আপনি কি একে এমন বানাচ্ছেন যে সে তার পেছনের পা দিয়ে আঘাত করবে এবং সামনের পা দিয়ে সাঁতার কাটবে যেমনটা আবু নাজমু বলেছিলেন?":

সে তার পেছনের পা দিয়ে আঘাত করে এবং সামনের পা দিয়ে অনুসরণ করে।

তখন তিনি বললেন: "হে বৎস, তুমি ঘোড়া সম্পর্কে আমার চেয়ে বেশি জানো। তবে আমাকে এই উটের লেজের কাছে নিয়ে যাও।" আসমায়ি বলেন: তাকে সেখানে নেয়া হলো কিন্তু তিনি কিছুই করতে পারলেন না।

আখফাশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) সালাব থেকে, তিনি ইবনে শাব্বাহ থেকে। তিনি বলেন: হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে বর্ণিত (روي) যে, আবদুর রহমান ইবনে আবি বকর সিদ্দীক জাহেলিয়াতের যুগে দামেস্কে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি এক যুবতীকে দেখলেন যেন সে একটি আরবি ঘোটকী; তাকে ঘিরে থাকা দাসীরা তাকে রক্ষা করছিল এবং তার মাথার কসম খেয়ে বলছিল: "না, ইবনাতুল জুদির হকের কসম।" মেয়েটি তার অন্তরে গেঁথে গেল। তিনি সেখান থেকে ফিরে আসার সময় তবিল ছন্দে আবৃত্তি করলেন:

সে লায়লাকে স্মরণ করছে অথচ তার সামনে সামাওয়াহ মরুভূমি … আর ইবনাতুল জুদি লায়লার সাথে আমার কী বা সম্পর্ক!

কীভাবে হারেসা বংশীয় এক নারী তার হৃদয়কে ব্যাকুল করে … যে বুসরাতে বসবাস করে অথবা জাওয়াবিয়াতে অবস্থান করে।

কীভাবে তার সাথে দেখা হবে? তবে হ্যাঁ, সম্ভবত … মানুষেরা যখন হজের মৌসুমে একত্রিত হবে, তখন সেও আসতে পারে।

বর্ণনাকারী বলেন: তিনি তাকে নিয়ে কাব্যচর্চা করতেই থাকলেন। যখন উমরের খেলাফতের সময় এলো এবং তিনি সিরিয়ায় সৈন্য পাঠালেন, তখন তিনি তাদের বললেন: "তোমরা যদি দামেস্ক জয় করো, তবে ইবনাতুল জুদিকে ইবনে আবি বকরের কাছে পাঠিয়ে দিও।" তাকে তা প্রদান করা হলো। তিনি তাকে তার অন্য স্ত্রীদের ওপর এতোটাই প্রাধান্য দিলেন যে তারা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার কাছে অভিযোগ করলেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা তাকে এ বিষয়ে তিরস্কার করলেন এবং বললেন: "তোমার স্ত্রীদের তোমার ওপর অধিকার আছে।" তিনি বললেন: "তার ওষ্ঠাধরের লালা পান করা যেন ডালিমের দানা চোষার মতো।"

মুহাম্মদ ইবনুল কাসিম আল-আনবারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আমার পিতা আহমাদ ইবনুল হারিস থেকে এবং তিনি মাদায়িনি থেকে বর্ণনা করেছেন (حدثنا)। তিনি বলেন: উমর ইবনে আব্দুল আজিজ বলতেন: "কিয়ামতের দিন যখন আমরা রোমানদের কায়সার এবং পারস্যের কিসরাদের নিয়ে আসব, তখন আমরা হাজ্জাজকে নিয়ে আসব এবং সে একাই তাদের সবার সমতুল্য (পাপী) হবে।" ইবনে শুকাইর আহমাদ ইবনুল হুসাইন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: সালাব ইবনুল আরাবি থেকে আমাদের জানিয়েছেন (أخبرনা)। তিনি বলেন: নজর লাগার ক্ষেত্রে বিভিন্ন শব্দ ব্যবহৃত হয়, যেমন 'লাকাআ' (لقع), 'যালাকাহু' (زلقه), 'আযলাকাহু' (أزلقه), 'শাকাহাহু' (شقذه), 'শাওয়াহাহু' (شوهه); এই সবগুলোর অর্থ হলো কাউকে নজর লাগানো। কোনো ব্যক্তি তার সঙ্গীর কাজ ভালো দেখলে বলে: 'লা তুশাওয়িহ আলাইয়্যা' (لا تشوه علي), অর্থাৎ "বলো না যে আমি ভালো করেছি, পাছে তোমার নজর লেগে যায়।" নজর লাগা ব্যক্তিকে বলা হয় 'মা’ইউন' (معيون)। আর যার নজর খুব তীব্রভাবে লাগে তাকে বলা হয় 'শাহিহ' (شائه), 'শাহ' (شاه), 'মুশাওয়িহ' (مشوه), 'শাকীয' (شقذ), 'শাকীযান' (شقذان)। তিনি বলেন: মুয়াবিয়া এবং ইবনুল জুবাইর একসাথে পথ চলছিলেন। তারা দূর থেকে একজন আরোহীকে দেখতে পেলেন। মুয়াবিয়া বললেন: "সে অমুক।" ইবনুল জুবাইর বললেন: "সে অমুক।" যখন তারা আরোহীকে স্পষ্টভাবে চিনতে পারলেন, দেখা গেল ইবনুল জুবাইরের কথাই ঠিক। মুয়াবিয়া বললেন: "হে আবু বকর, এই প্রবীণ বয়সেও আপনার দৃষ্টির কী চমৎকার প্রখরতা!" ইবনুল জুবাইর বললেন: "হে আমিরুল মুমিনীন, বরকত দিন (বারাকাল্লাহু ফিক বলুন)।" তিনি চুপ থাকলেন। ইবনুল জুবাইর দ্বিতীয়বার বললেন। তিনি চুপ থাকলেন। তৃতীয়বার বললেন, তবুও তিনি চুপ থেকে হাসলেন। তখন ইবনুল জুবাইর বললেন: "আপনার এই সামনের দাঁতগুলো কী সুন্দর এবং এতো দীর্ঘ জীবন ও চিন্তার প্রাচুর্যের মাঝেও আপনার চেহারা কী লাবণ্যময়!" এরপর তারা আলাদা হয়ে গেলেন। ইবনুল জুবাইর চোখের ব্যথায় আক্রান্ত হলেন এমনকি তার দৃষ্টিশক্তি হারানোর উপক্রম হলো, আর মুয়াবিয়ার সামনের দাঁতগুলো পড়ে গেল। পরের বছর যখন তাদের দেখা হলো, মুয়াবিয়া তাকে বললেন: "হে আবু বকর, আমি আপনার চেয়ে বেশি লক্ষ্যভেদী (أشوى) হয়েছি; অর্থাৎ নজর লাগানোর ক্ষেত্রে আমি আপনার চেয়ে বেশি সফল হয়েছি এবং আমার ক্ষতি আপনার চেয়ে কম হয়েছে।" সালাব বলেন: এটি মূলত আরবদের এই কথা থেকে এসেছে যে—সে তাকে লক্ষ্য করে তীর ছুড়েছে কিন্তু তার প্রাণঘাতী জায়গায় (مقتله) আঘাত করেনি (أشوى)।

ইবনুল আনবারি তার পিতা থেকে, তিনি তার জনৈক উস্তাদ থেকে এবং তিনি মুহাম্মদ ইবনে হাযেম থেকে বর্ণনা করেছেন—যিনি একজন রসিক কবি ছিলেন। তিনি বলেন: বাশার ইবনে বুরদ আমাদের দাওয়াত দিয়েছিলেন। তার নিকট দুজন গায়িকা দাসী ছিল। মজলিসে আমাদের মধ্যে একজন তাদের সাথে অশালীন আচরণ করছিল এবং তাদের দিকে হাত বাড়াচ্ছিল। আমি বাশারের সম্মানে এটা মেনে নিতে পারলাম না, তাই পরদিন তাকে লিখে পাঠালাম:

আল্লাহকে ভয় করুন, আপনি কায়স গোত্রের কবি … কবিদের জন্য কলঙ্ক হবেন না।

গতকাল আপনার সাথে অবস্থানকারী আপনার ভাইয়েরা গান শুনতে নয়, বরং ব্যভিচারের উদ্দেশ্যে এসেছিল।

আপনি অন্ধ, আর ব্যভিচারীদের এমন কিছু জঘন্য কাজ রয়েছে … যা দৃষ্টিমানদের কাছেও গোপন থাকে।

মনে করুন আপনি কথা শুনে সব বুঝে ফেলেন, কিন্তু চোখের ইশারা আর অঙ্গভঙ্গির আপনি কী জানেন?

চোখের ও হাতের ইশারা এবং সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করা।

তারা তাদের কাজ সেরে ফেলেছে আর আপনি যেন এক গাধা … যে নির্বুদ্ধিতা ও জড়তার ভার বয়ে বেড়াচ্ছে।

বর্ণনাকারী বলেন: এরপর বাশার দাসী দুজনকে বাজারে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে দিলেন।

আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে কুতান আস-সিমসার আল-ইজলি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আবু জাফর ইবনে আবি শাইবাহ আমাদের জানিয়েছেন (أخبرنا)। তিনি বলেন: আমি ইবনে আবিল আতাহিয়াহকে কবরস্থানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি এবং তিনি কামিল ছন্দে বলছিলেন:
(খণ্ড: ১) আখবারু আবিল কাসিম আয-যুজ্জাজি (পৃষ্ঠা: ২১)
أهل القبور أتيتكم أتجسس … فإذا جماعتكم أصم أخرس

إن امرءا ذكر المعاد مخافة … لأحظ ممن لم يخفه وأكيس

يا أيها الرجل الحريص أما ترى … أعلام عمرك كل يوم تدرس

بك لا أبالك مذ خلقت موكلا … ملك يعد عليك ما تتنفس

فإذا انقضى الأجل الذي أجلته … ومضى فمالك بعد ذلك محبس

قال أبو عيسى: سمعت شيوخنا يقولون: إن ابن آدم يتنفس في كل يوم وليلة أربعة وعشرين ألف نفس في كل ساعة ألف نفس فيكون خروج روحه مع آخر نفس قدر له.

اخبرنا نفطويه قال حدثنا إسحاق بن الحسين بن ميمون أبو يعقوب الحربي قال حدثنا الحسين بن محمد عن شيبان عن قتادة في قوله تعالى: (أم نجعل الذين آمنوا وعملوا الصالحات..... الآية) قال: افترق القوم في أديانهم عند الممات وعند المصير. وقال قتادة: (أو يأخذهم على تخوف) قال: على تنقص.

قال أبو القاسم: وأصحابنا يقولون: إن الأخفش سعيد بن مسعدة كان ينشد لهذا الحرف: البسيط

تَخَوَّفَ السيرُ منها تامكاً فًرٍدا … كما تَخَوَّفَ عودَ النبعةِ السَّفَنُ

وعلى هذا التأويل أهل اللغة والمفسرون إلا ما روى عن الضحاك فإنه كان يقول: تأويله أنه يبلي قومها فيخوف بهم آخرين.

اخبرنا ابن شقير النحوي والأخفش قالا اخبرنا ثعلب قال: اجتمع الكسائي الأصمعي بحضرة الرشيد وكانا ملازمين له يقيمان بإقامته ويظعنان بظعنه، فأنشد الكسائي: البسيط

أنى جزوا عامرا سوأى بفعلهم … أم كيف يجزونني السوأى من الحسن

أم كيفَ ينفعُ ما تُعطي العَلوقُ بِهِ … رِئْمانَ أنْفٍ إذا ما ضُنَّ باللَّبَنِ

فقال الأصمعي: إنما هو رئمان بالنصب، فقال له الكسائي: اسكت ما أنت وهذا يجوز رئمانُ ورئمانَ ورئمانِ أنفه بالرفع والنصب والخفض. أما الرفع فعلى الرد على ما لأنها في موضع رفع بينفع فيصير التقدير: أم كيف ينفع رئمان انف. والنصب بتعطي، والخفض على الرد على الهاء التي في به. قال: فسكت الأصمعي ولم يكن له علم بالعربية وإنما كان صاحب لغة. ومعنى هذا البيت: انه مثل يضرب لمن يعدك بلسانه كل جميل ولا يفعل منه شيئا لأن قلبه منطو على ضده. كأنه قيل له: كيف ينفعني قولك الجميل إذا كنت لا تفي به. وأصله أن العلوق هي الناقة التي تفقد ولدها بنحر أو بموت فيسلخ جلده ويحشى تبنا أو حشيشا ويقدم إليها لترأمه أفي تعطف عليه ويدر لبنها فينتفع بها، فهي تنتش بأنفها وينكره قلبها، فتعطف عليه ولا ترسل اللبن. شبن هذا بذاك.

اخبرنا ابن دريد عن العكلي عن أبي عبيدة قال: أجتاز الاسكندر بمدينة قد ملكها سبعة أملاك بادوا كلهم ونسلهم فسأل: هل بقي من نسلهم أحد؟ قالوا: رجل واحد يأوى إلى المقابر، فأحضره فقال: ما حملك على ملازمة القبور؟ قال: أردت إن أعزل عظام الملوك عن عظام عبيدهم فوجدتها سواء. قال: هل لك إن تتبعني فأحيي بك شرف أيامك إن كانت لك همة؟ قال: إن همتي لكبيرة إن كان عندك بغيتي؟ قال: وما بغيتك؟ قال: حياة لا موت معها، وشباب لا هرم معه، وسرور بني بغير مكروه ولا يخاف معه فقر. قال: ما ذاك إلي. قال: فامض لشأنك ودعني أطلبه. فقال الاسكندر: هذا أحكم من رأيت.

اخبرنا ابن رستم الطبري قال: حضرت مجلس المازني وقد قيل له:
হে কবরের অধিবাসীগণ, আমি তোমাদের কাছে এসেছি সংবাদ নিতে … অথচ তোমাদের এই জনসমষ্টিকে দেখছি বধির ও মূক।

নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি পরকালকে ভয়ের সাথে স্মরণ করে … সে ঐ ব্যক্তির তুলনায় অধিক ভাগ্যবান ও বুদ্ধিমান যে পরকালকে ভয় করে না।

হে লোভী মানুষ! তুমি কি দেখছো না … তোমার আয়ুর চিহ্নগুলো প্রতিদিন মুছে যাচ্ছে।

তোমার জন্য আক্ষেপ! তোমার সৃষ্টির পর থেকেই একজন ফেরেশতাকে তোমার জন্য নিযুক্ত করা হয়েছে … যে তোমার প্রতিটি শ্বাস গণনা করছে।

যখন তোমার জন্য নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাবে … এবং তা অতিবাহিত হবে, তখন তোমার আর কোনো আশ্রয় বা অপেক্ষা করার স্থান থাকবে না।

আবু ঈসা বলেন: আমি আমাদের শায়খদের (شيوخ) বলতে শুনেছি: আদম সন্তান প্রতি দিন ও রাতে চব্বিশ হাজার বার শ্বাস গ্রহণ করে, প্রতি ঘণ্টায় এক হাজার বার। অতঃপর তার প্রাণ হরণ করা হবে তার জন্য নির্ধারিত শেষ নিঃশ্বাসের সাথে।

নাফতাওয়াইহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (اخبرنا), তিনি বলেন, ইসহাক ইবনুল হুসাইন ইবনে মাইমুন আবু ইয়াকুব আল-হারবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন, হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) শাইবান থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে: (নাকি আমি মুমিন ও সৎকর্মশীলদের করব... আয়াতের শেষ পর্যন্ত) তিনি বলেন: এই জাতি তাদের দ্বীনের ভিত্তিতে মৃত্যুর সময় এবং শেষ পরিণতির সময় পৃথক হয়ে যাবে। কাতাদাহ (আল্লাহর বাণী): "অথবা তিনি তাদের পাকড়াও করবেন ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায়" সম্পর্কে বলেন: এর অর্থ হলো ক্রমহ্রাস বা ক্ষতির (تنقص) মাধ্যমে।

আবু আল-কাসিম বলেন: আমাদের সাথীগণ বলেন: আখফাশ সাঈদ ইবনে মাসআদাহ এই শব্দের জন্য 'বাসিত' ছন্দের এই কবিতাটি আবৃত্তি করতেন:

দীর্ঘ ভ্রমণ তার (উষ্ট্রী) উঁচু ও একাকী কুঁজকে ক্ষয় (تخوف) করে দিয়েছে … যেমন বাটালি তুত গাছের কাঠকে চেছে ক্ষয় (تخوف) করে দেয়।

ভাষাবিদ ও মুফাসসিরগণ এই ব্যাখ্যার (تأويل) ওপরই একমত, কেবল যাহহাক থেকে যা বর্ণিত (روى) হয়েছে তা ব্যতীত। কেননা তিনি বলতেন: এর ব্যাখ্যা (تأويل) হলো তিনি এক কওমকে ধ্বংস করবেন এবং তাদের মাধ্যমে অন্যদের ভীত করবেন।

ইবনে শুকাইর আন-নাহবি এবং আখফাশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (اخبرنا), তারা বলেন, ছা'লাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (اخبرنا): আল-কিসায়ি এবং আল-আসমাঈ খলিফা হারুনুর রশিদের দরবারে একত্রিত হয়েছিলেন। তারা উভয়ে সর্বদা খলিফার সাথে থাকতেন, খলিফা যেখানে অবস্থান করতেন তারাও সেখানে অবস্থান করতেন এবং খলিফা যেখানে সফর করতেন তারাও সেখানে সফর করতেন। আল-কিসায়ি আবৃত্তি করলেন:

তারা কেন আমিরের কাজের মন্দ প্রতিদান দিল … অথবা তারা কেন আমার সুকৃতির বিনিময়ে আমাকে মন্দ প্রতিদান দিচ্ছে?

অথবা সেই উষ্ট্রীর বাহ্যিক মমতা কী উপকারে আসবে … যে কেবল নাক দিয়ে ঘ্রাণ নেয় (رئمان أنف), অথচ দুধ দিতে কার্পণ্য করে?

তখন আল-আসমাঈ বললেন: এটি তো নসব (نصب) বা জবর যোগে 'রিমানান' (رئمانَ) হবে। আল-কিসায়ি তাকে বললেন: চুপ থাকো, তোমার সাথে এর কী সম্পর্ক? এটি 'রিমুনুন' (رئمانُ), 'রিমানান' (رئمانَ) এবং 'রিমানিন' (رئمانِ) অর্থাৎ রফ (رفع), নসব (نصب) এবং খফদ (خفض) বা যের—সবভাবেই পাঠ করা বৈধ (يجوز)। রফ (رفع) হবে 'মা' (ما)-এর ওপর ভিত্তি করে যা 'ইয়ানফাউ' (ينفع) এর সাথে রফ-এর স্থানে আছে, ফলে অর্থ দাঁড়াবে: "নাকের ঘ্রাণ নেওয়া কীভাবে উপকারে আসবে"। নসব (نصب) হবে 'তু'তি' (تعطي) ক্রিয়ার কারণে। আর খফদ (خفض) হবে 'বিহি' (به) শব্দের 'হা' সর্বনামের অনুগামী হিসেবে। বর্ণনাকারী বলেন: আল-আসমাঈ তখন চুপ হয়ে গেলেন, কারণ আরবি ব্যাকরণ (عربية) শাস্ত্রে তার গভীর জ্ঞান ছিল না, তিনি ছিলেন মূলত ভাষাতত্ত্বের (لغة) পণ্ডিত। এই কবিতার মর্মার্থ হলো: এটি এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রবাদ হিসেবে ব্যবহৃত হয় যে মুখে অনেক সুন্দর সুন্দর প্রতিশ্রুতি দেয় কিন্তু কাজে কিছুই করে না, কারণ তার অন্তরে এর বিপরীত বিষয় লুক্কায়িত থাকে। যেন তাকে বলা হচ্ছে: তোমার সুন্দর কথা আমার কী উপকারে আসবে যদি তুমি তা পূর্ণ না করো। এর মূল উৎস হলো, 'আলুক' হলো সেই উষ্ট্রী যে জবেহ বা মৃত্যুর কারণে তার সন্তান হারায়, অতঃপর তার সন্তানের চামড়া ছাড়িয়ে খড় বা ঘাস দিয়ে পূর্ণ করে তার সামনে রাখা হয় যাতে সে তার প্রতি মমতা দেখায় এবং তার ওলান থেকে দুধ সংগৃহীত হয় ও মানুষ উপকৃত হতে পারে। তখন সে নাক দিয়ে তার ঘ্রাণ নেয় কিন্তু তার অন্তর একে অস্বীকার করে, ফলে সে ওপর দিয়ে মমতা দেখালেও দুধ দেয় না। এই বিষয়টিকে ওই বিষয়ের সাথে তুলনা করা হয়েছে।

ইবনে দুরাইদ আল-উকিলী থেকে, তিনি আবু উবাইদাহ থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (اخبرنا), তিনি বলেন: সিকান্দার এমন এক শহরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যা ইতিপূর্বে সাতজন সম্রাট শাসন করেছিলেন। তারা এবং তাদের বংশধর সকলেই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তাদের বংশের কেউ কি অবশিষ্ট আছে? তারা বলল: কেবল একজন ব্যক্তি কবরের কাছে অবস্থান করে। তাকে উপস্থিত করা হলে তিনি বললেন: কবরে পড়ে থাকার কারণ কী? সে বলল: আমি সম্রাটদের হাড়গুলো তাদের দাসদের হাড় থেকে আলাদা করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমি সেগুলোকে সব সমান পেয়েছি। সিকান্দার বললেন: তুমি কি আমার অনুসরণ করবে? আমি তোমার হারানো সম্মান ফিরিয়ে দেব যদি তোমার মাঝে উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকে। সে বলল: আমার উচ্চাকাঙ্ক্ষা তো অনেক বড়, যদি আপনার কাছে আমার কাঙ্ক্ষিত বস্তু থাকে। তিনি বললেন: তোমার কাঙ্ক্ষিত বস্তু কী? সে বলল: এমন জীবন যার পরে মৃত্যু নেই, এমন যৌবন যার পরে বার্ধক্য নেই এবং এমন আনন্দ যা কোনো অপ্রীতিকর বিষয় ছাড়াই অর্জিত হয় এবং যার সাথে অভাবের ভয় নেই। তিনি বললেন: এগুলো তো আমার আয়ত্তে নেই। সে বলল: তবে আপনি আপনার পথে চলুন আর আমাকে আমার কাঙ্ক্ষিত বস্তু খুঁজতে দিন। সিকান্দার বললেন: এটিই আমার দেখা সবচেয়ে প্রজ্ঞাপূর্ণ ব্যক্তি।

ইবনে রুস্তম আল-তাবারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (اخبرنا), তিনি বলেন: আমি আল-মাযিনীর মজলিসে উপস্থিত ছিলাম যখন তাকে বলা হলো:
(খণ্ড: ১) আখবারু আবিল কাসিম আয-যুজ্জাজি (পৃষ্ঠা: ২২)
لم قلت روايتك عن الأصمعي؟ قال: رميت عنده بالقدر والميل إلى مذاهب أهل الاعتزال فجئته يوما وهو في مجلسه فقال: ما تقول في قول الله عز وجل (انا كل شيء خلقناه بقدر) فقلت: سيبويه يذهب إلى إن الرفع فيه أقوى من النصب في العربية لاشتغال الفعل بالمضمر وانه ليس ههنا شيء هو بالفعل أولى، ولكن أبت عامة القراء إلا النصب فنحن نقروها لذلك اتباعا لان القراءة سنة. فقال لي: فما الفرق بين الرفع والنصب في المعنى؟ فعلمت مراده فخشيت إن يغرى بي النامة فقلت: الرفع الابتداء والنحب بإضمار فعل، وتعاميت عليه فقال: حدثني أصحابنا إن الفرزدق خال يوما لأصحابه: قوموا بنا إلى مجلس الحسن البصري فإني أريد إن أطلق النوار واشهده على نفسي. فقالوا: لا تفعل فلعل نفسك تتبعها وتندم. قال: لابد من ذلك، فمضوا معه فلما وقف على الحسن قال: يا أبا سعيد تعلمن إن النوار طالق ثلاثا. قال قد سمعت، فتبعتها نفسه بعد ذلك وندم وأنشأ يقول: الوافر

ندمت ندامة الكسعي لما … غدت مني مطلقة نوار

وكانت جنتي فخرجت منها … كآدم حين أخرجه الضرار

ولو إني ملكت يدي ونفسي … لكان علي للقدر الخيار

ثم قال: والعرب تقول: لو خيرت لاخترت تحتمل على القدر وينشدون: الرجز

هي المقادير فلمني أو فذر … إن كنت أخطأت فلم يخط القدر

ثم طبق نعليه وقات: انتم القناع للقدري، فأقللت غشيانه.

أنشدنا الأخفش قال أنشدنا ثعلب: الرمل

وكما أشياء نشريها بمال … فإن نفقت فأكسد ما تكون

قال: يعني الخيل، ونشريها: نبتاعها، ونفقت: ماتت.

اخبرنا اليزيدي قال أنشدنا عبد الرحمن بن أخي الأصمعي عن عمه: الكامل

قالوا تعز فسست فلست نائلها … حتى تمر حلاوة التمر

لسنا من المتأزمين إذا … فرخ اللموس بثابت الفقر

يقول: لست تنالها حتى يكون ما لا يكون. يقال: أمر الشيء يمر فهو ممر، ومر مرارة فهو مر. والمتأزمون: المتذللون لصعوبة السنة. واللموس إذا لمس نسبه وجد فيه ضعف فهو يفرح بصعوبة الزمان يرغب فينكح إلى من هو أشرف منه فيقول: لسنا ممن يفعل هذا ويتصنع بشدة الزمان.

أنشدنا الزجاج قال أنشدنا المبرد العباس بن الأحنف: الكامل

يا من يكاتبني فغير قلبه … سأكف نفسي قبل أن يتبرما

سأصد عنك وفي يدي بقية … من حبل وصلك قبل أن يتصرما

يا للرجاء كعاشقين توافقا … فتخاطبنا من غير أن يتكلما

حتى إذا خافا العيون وأشفقا … جعلا الإشارة بالأنامل سلما

أخبرنا ابن دريد قال اخبرنا أبو حاتم قال اخبرنا أبو عبيدة عن يونس ابن حبيب قال: قتل مصعب بن الزبير نابئ بن ظبيان أحد بني عايش ابن مالك بن قيس بن ثعلبة، وكان أخوه عبيد الله فاتكأ شريرا فنذر ليقتلن به مائة من قريش، فقتل ثمانين ثم قتل مصعبا فأتى برأسه عبد الملك، فلما نظر إليه عبد الملك سجد فهم أن يفتك به ثم أرتد عنه وأنشأ: الطويل

هممت ولم أفعل وكدت وليتني … تركت على مروان تبكي حلائله

وقال أيضا: الطويل

يرى مصعب إني تناسيت ما بيا … وليس لعمر الله ما ظن مصعب

فو الله لا أنساه ما مر طارق … وما لاح في داج الليل كوكب

وثبت عليه ظالما فقتلته … فقطرك مني يوم شر عصبصب

قتلت به من حي فهر بن مالك … ثمانين منهم ناشبون وأشهب

وكفي لهم رهن بعشرين أو يرى … علي مع الأصباح نوح مسلب

أأرفع رأسي وسط بكر بن وائل … ولم أرو سيفي من دم يتصبب

ثم ضاقت به البصرة فهرب إلى عمان فاستجار بسليمان بن سعيد بن الصمر بن سعيد بن الجُلنُدي فلما اخبر بفتكه خشية وتذمم إن يقتله علانية فبعث إليه بنصف بطيخة قد سمها وكان يعجبه البطيخ فقال له: هذا أول شيء رأيناه من البطيخ، وقد أكلت نصفها، وأهديت إليك بنصفها. فلما أكله أحس بالموت، ثم دخل عليه سليمان يعوده فقال: أيها الأمير ادن مني أسر إليك قولا، فقال له: قل ما بدا لك. قال: عليك لعمان أذن واعية، ويروى راعية، فمات بها.
আপনি কেন আসমায়ীর বরাতে আপনার বর্ণনা (رواية) ত্যাগ করলেন? তিনি বললেন: তাঁর বিরুদ্ধে তকদীর অস্বীকারকারী (قدري) হওয়ার এবং মুতাজিলা মতবাদের (اعتزال) দিকে ঝুঁকে পড়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল। একদিন আমি তাঁর মজলিসে গেলাম, তখন তিনি বললেন: আল্লাহ তাআলার এই বাণী সম্পর্কে তোমার অভিমত কী— ‘নিশ্চয়ই আমি প্রতিটি বস্তু সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত পরিমাপে (بقدر)’? আমি বললাম: সিবওয়াইহ-এর মতে আরবী ব্যাকরণ অনুযায়ী এখানে ‘রাফ’ (পেশ) হওয়া ‘নাসব’ (জবর) হওয়ার চেয়ে অধিক শক্তিশালী; কারণ ক্রিয়াটি এখানে উহ্য সর্বনামের (مضمر) সাথে সম্পৃক্ত এবং এখানে এমন কিছু নেই যা ক্রিয়া হিসেবে অগ্রগণ্য। কিন্তু সাধারণ ক্বারীগণ (القراء) ‘নাসব’ ব্যতীত অন্য কিছু গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, তাই আমরা কিরাত (قراءة) অনুসরণ করে সেভাবেই পাঠ করি; কেননা কিরাত (قراءة) হলো একটি অনুসৃত সুন্নাহ (سنة)। তখন তিনি আমাকে বললেন: অর্থগত দিক থেকে ‘রাফ’ ও ‘নাসব’-এর মধ্যে পার্থক্য কী? আমি তাঁর উদ্দেশ্য বুঝতে পারলাম এবং ভয় পেলাম যে তিনি নিন্দুকদের প্ররোচিত করবেন, তাই আমি বললাম: ‘রাফ’ হলো প্রারম্ভিকতা (ابتداء) আর ‘নাসব’ হলো উহ্য ক্রিয়ার (إضمار فعل) কারণে। আমি বিষয়টি তাঁর কাছে অস্পষ্ট রাখলাম। তখন তিনি বললেন: আমাদের সাথীগণ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, কবি ফারাজদাক একদিন তাঁর সঙ্গীদের বললেন: চলো আমরা হাসান বসরীর মজলিসে যাই, কারণ আমি নাওয়ারকে তালাক দিতে চাই এবং তাকে (হাসান বসরীকে) নিজের ওপর সাক্ষী রাখতে চাই। তারা বলল: এমন করো না, হয়তো তোমার মন পরে তার প্রতি আসক্ত হবে এবং তুমি অনুতপ্ত হবে। তিনি বললেন: এটি করতেই হবে। তারা তাঁর সাথে চলল। যখন তিনি হাসান বসরীর সামনে দাঁড়ালেন, তখন বললেন: হে আবু সাঈদ, জেনে রাখুন যে নাওয়ার তিন তালাক। হাসান বললেন: আমি শুনলাম। এরপর তাঁর মন নাওয়ারের প্রতি ব্যাকুল হলো এবং তিনি অনুতপ্ত হয়ে এই কবিতা আবৃত্তি করলেন: (ওয়াফির ছন্দ)

আমি কুসাই-এর মতো অনুতপ্ত হলাম যখন … নাওয়ার আমার থেকে তালাকপ্রাপ্তা হয়ে গেল।

সে ছিল আমার জান্নাত স্বরূপ, আর আমি তা থেকে বের হলাম … আদমের মতো, যাকে বিপদ জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছিল।

যদি আমার হাত ও নফস আমার নিয়ন্ত্রণে থাকতো … তবে তকদীরের (القدر) ফয়সালায় আমার ইখতিয়ার থাকতো।

এরপর তিনি বললেন: আরবরা বলে— ‘যদি আমাকে সুযোগ দেওয়া হতো, তবে আমি বেছে নিতাম’, এটি তকদীরের (القدر) ওপর নির্ভরশীল। তারা পাঠ করে: (রাজায ছন্দ)

এসবই হলো তকদীর (المقادير), তাই আমাকে তিরস্কার করো বা ছেড়ে দাও … যদি আমি ভুল করে থাকি, তবে তকদীর (القدر) ভুল করেনি।

এরপর তিনি তাঁর জুতো জোড়া একত্রিত করলেন এবং বললেন: তোমরাই তকদীর অস্বীকারকারীদের (القدري) জন্য পর্দা স্বরূপ। এরপর আমি তাঁর কাছে যাওয়া কমিয়ে দিলাম।

আখফাশ আমাদের কাছে কবিতা আবৃত্তি করেছেন, তিনি বলেছেন যে সালাব আমাদের শুনিয়েছেন: (রামাল ছন্দ)

কত জিনিসই তো আমরা অর্থ দিয়ে ক্রয় করি … যদি সেগুলো মারা যায়, তবে তা সবচেয়ে অচল বস্তুতে পরিণত হয়।

তিনি বললেন: এখানে ঘোড়া বুঝানো হয়েছে। ‘নাশরীহা’ মানে আমরা ক্রয় করি, আর ‘নাফাক্বাত’ মানে মারা যাওয়া।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াজিদি, তিনি বলেন যে আসমায়ীর ভ্রাতুষ্পুত্র আবদুর রহমান তাঁর চাচার বরাতে শুনিয়েছেন: (কামিল ছন্দ)

তারা বলল, ধৈর্য ধরো; আমি বললাম, ধৈর্য ধরেছি কিন্তু আমি তাকে পাব না … যতক্ষণ না খেজুরের তিক্ততা দূর হয়।

আমরা সেই সব হীনবল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত নই যারা … কঠিন অভাবে অস্থির হয়ে পড়ে।

তিনি বলছেন: তুমি তাকে ততক্ষণ পাবে না যতক্ষণ না অসম্ভব কিছু ঘটে। বলা হয়, কোনো কিছু তিক্ত হলে তাকে ‘মুমির’ বলা হয়। আর ‘মুতাআযযিমুন’ হলো তারা যারা কঠিন সময়ের কারণে লাঞ্ছিত হয়। ‘লামুস’ হলো এমন ব্যক্তি যার বংশমর্যাদা পরীক্ষা করলে দুর্বলতা পাওয়া যায়; সে কঠিন সময়ে আনন্দিত হয় এবং নিজের চেয়ে উচ্চবংশীয় কাউকে বিয়ে করতে চায়। কবি বলছেন: আমরা তাদের মতো নই যারা সময়ের কঠোরতায় এমন কৃত্রিম আচরণ করে।

যাজ্জাজ আমাদের শুনিয়েছেন, তিনি বলেন যে মুবাররাদ আমাদের কাছে আব্বাস ইবনুল আহনাফের কবিতা আবৃত্তি করেছেন: (কামিল ছন্দ)

হে সেই ব্যক্তি, যে আমাকে পত্র লেখে কিন্তু তার অন্তর বদলে গেছে … সে বিরক্ত হওয়ার আগেই আমি নিজেকে সরিয়ে নেব।

আমি তোমার থেকে বিমুখ হব যখন আমার হাতে অবশিষ্ট থাকবে … তোমার সাথে মিলনের সম্পর্কের কিছু অংশ, তা ছিন্ন হওয়ার আগেই।

হায় প্রত্যাশা! যেন দুই প্রেমিক যারা একমত হয়েছে … কথা বলা ছাড়াই একে অপরের সাথে সংলাপে রত।

এমনকি যখন তারা লোকচক্ষুকে ভয় পায় এবং শংকিত হয় … তখন তারা আঙুলের ইশারাকে মিলনের সিঁড়ি বানিয়ে নেয়।

ইবনে দুরেয়িদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন যে আবু হাতিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন যে আবু উবাইদাহ ইউনুস ইবনে হাবিবের বরাতে আমাদের জানিয়েছেন: মুসাব ইবনে জুবায়ের আয়েশ ইবনে মালিক গোত্রের নাবি ইবনে জাবিয়ানকে হত্যা করেছিলেন। তার ভাই উবাইদুল্লাহ একটি খাটিয়ার ওপর হেলান দিয়ে শপথ নিলেন যে, এর বদলে তিনি কুরাইশ বংশের একশ জনকে হত্যা করবেন। তিনি আশি জনকে হত্যা করার পর মুসাবকে হত্যা করেন এবং তাঁর মস্তক আব্দুল মালিকের কাছে নিয়ে আসেন। আব্দুল মালিক যখন তা দেখলেন, তখন তিনি সিজদাহ করলেন। এরপর তিনি উবাইদুল্লাহকে আক্রমণ করার কথা ভাবলেন, কিন্তু পরে বিরত থাকলেন এবং আবৃত্তি করলেন: (তাওয়ীল ছন্দ)

আমি সংকল্প করেছিলাম কিন্তু করিনি, আমি উদ্যত হয়েছিলাম এবং হায় যদি … মারওয়ানের জন্য তাঁর স্ত্রীরা বিলাপ করত (তবে আমি তাঁকে ছেড়ে দিতাম)।

তিনি আরও বললেন: (তাওয়ীল ছন্দ)

মুসাব মনে করে যে আমি আমার কষ্ট ভুলে গেছি … আল্লাহর কসম, মুসাব যা ভেবেছে তা নয়।

আল্লাহর কসম, রাত বিরেতে পথচারী যাতায়াত করা পর্যন্ত আমি তাকে ভুলব না … এবং যতক্ষণ অন্ধকার রাতে নক্ষত্র উজ্জ্বল থাকবে।

আমি অবিচারকারীর ন্যায় তাঁর ওপর চড়াও হলাম এবং তাঁকে হত্যা করলাম … এক চরম দুর্যোগের দিনে তুমি আমার লক্ষ্যবস্তু হলে।

তাঁর বদলে আমি ফিহর ইবনে মালিক গোত্রের … আশি জনকে হত্যা করেছি যারা ছিল শক্তিশালী ও বীর।

বাকি কুড়িজনের জন্য আমার হাত দায়বদ্ধ, অথবা … ভোরে আমার ওপর স্বজনহারাদের বিলাপ ধ্বনিত হবে।

বকর ইবনে ওয়াইল গোত্রের মাঝে আমি কি মাথা উঁচু করে দাঁড়াব … যদি না আমি আমার তরবারিকে প্রবাহিত রক্তে রঞ্জিত করি?

এরপর বসরা তাঁর জন্য সংকীর্ণ হয়ে পড়লে তিনি ওমানে পালিয়ে যান এবং সুলাইমান ইবনে সাঈদ ইবনে সামার ইবনে সাঈদ আল-জুলান্দির আশ্রয় প্রার্থনা করেন। সুলাইমান যখন তাঁর বীরত্ব ও সাহসিকতার কথা জানতে পারলেন, তখন তিনি তাঁকে ভয় পেলেন এবং প্রকাশ্যে হত্যা করাকে নিন্দনীয় মনে করলেন। তাই তিনি তাঁর কাছে বিষ মেশানো অর্ধেক তরমুজ পাঠালেন, আর উবাইদুল্লাহ তরমুজ পছন্দ করতেন। সুলাইমান তাঁকে বললেন: এটিই মৌসুমের প্রথম তরমুজ যা আমরা দেখেছি, আমি এর অর্ধেক খেয়েছি এবং বাকি অর্ধেক আপনার জন্য উপহার পাঠালাম। উবাইদুল্লাহ যখন তা খেলেন, তখন তিনি মৃত্যু অনুভব করলেন। এরপর সুলাইমান তাঁকে দেখতে এলে তিনি বললেন: হে আমীর, আমার কাছে আসুন, আমি আপনাকে গোপনে একটি কথা বলব। সুলাইমান বললেন: আপনার যা মনে চায় বলুন। তিনি বললেন: ওমানের জন্য একটি সতর্ক কান (অথবা বর্ণিত আছে—একটি রক্ষণশীল কান) প্রয়োজন। এরপর তিনি সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) আখবারু আবিল কাসিম আয-যুজ্জাজি (পৃষ্ঠা: ২৩)
اخبرنا أبو القاسم الزجاجي النوح جمع نائحة وهو مصدر ينيح للواحد والاثنين والجمع والمذكر والمؤنث بلفظ واحد كما يقال: قوم رضي وعدل وصوم، ونسوة رضي وصوم وعدل، والسلب: اللائي لبسن السلابة وهو السواد، فأخرج فعله على التوكيد حملا على لفظ نوح، قال الشاعر: الكامل

هل تخمشن ابلي علي وجوهها … أم تعصبن رؤوسها بسلاب

اخبرنا الأخفش ضال اخبرنا ثعلب عن ابن الأعرابي قال: يقال: لعبت ولعبت لغتان، ويقال عبثت أعبث مات العبث مثل علمت اعلم، وعبثت أعبث من العبيثة وهو ضرب من الأقط يعني اللبن. قال: ويقال: شرط الحجام يشرط، وأشرط، وفي غيره يشرط لا غير. قال: والقد: القطع طولا، والقط: القطع عرضا، ويروى عن علي رضي الله عنه إنه كان إذا علا رجلا قدره وإذا اعترضه قطه اخبرنا، الأخفش عن ثعلب عن الرياشي عن الأصمعي قال: أغربة العرب ثلاثة، خفاف بن ندبة السلمي، وندبة أمه وكانت أمه سودا حبشية من بني الحارث بن كعب وأبوه عمير بن الحارث بن عمرو بن الشريد، وسُليَك بن السُّلَكَة أمه، وأبوه يثربي بن سيار، وعنترة بن معاويه العبسي. قال: ولم أرو شعرا أرق من قول خفاف: الطويل

فما طرقت أسماء من غير مطرق … وإنى إذا حلت بنجران نلتقي

ببوح وما بالي ببوح وبالها … ومن يلق يوما حيرة الحب يخفق

حدثنا الحسين بن إسماعيل المحاملي قال حدثنا أبو هاشم زياد بن أيوب الطوسي قال حدثنا سعيد بن محمد الوراق عن بسام بن عكرمة عن ابن عباس قال: نهى النبي صلى الله عليه وسلم عن لبن الجلالة وعن مهر البغي وعن ثمن الكلب.

قال أبو القاسم: الجلالة: الإبل التي تأكل العذرة، " وأصل الجلالة البعر، يقال: خرج الإماء يجتللن، البغاء: الفاجرة، والبغاء: الزنا، قال الله تعالى: (ولا تكرهوا فتياتكم على البغاء) والبغي في غير هذه الآية الأمة، والبغية: الربيئة وهو الطليعة للقوم. وأنشد الأصمعي: الطويل

وكان وراء القوم منهم بغية … فأوفى يفاعا من بعيد فبشرا

حدثنا إسماعيل الوراق قال حدثنا الحسين بن محمد قال حدثنا شامة بن سوار قال حدثنا فرأت بن السائب عن ميمون بن مهران عن ابن عمر قال: كان أول من دخل على عمر حين أصيب علي وابن عباس رضي الله عنهما، فلما نظر إليه ابن عباس بكى وقال: أبشر بالجنة يا أمير المؤمنين، قال أشاهد لي بذلك؟ فكأنه كع فضرب علي وقال: أجل أشهد له وأنا على ذلك من الشاهدين. فقال عمر: كيف؟ فقال ابن عباس: كان إسلامك عزا، وولايتك عدلا، وميتتك شهادة. فقال: لا والله لا تعزني من ربي وديني - أو قال ديني، شك الزعفراني ثكلت عمر أمه أن لم يغفر له ربه.

يقال: كع عن الأمر فهو كاع: إذا تلكأ عنه جبنا وفرقا، وأما العكّ فشدة الحر. يقال: يوم عك وعكيك، وأك وأكيك: إذا كان شديد الحر. والعكوّك من الرجال: القصير المقتدر الخلق. والعكنكع: ذكر السعالي، وانشد الخليل: مشطور الرجز

غُولٌ تُنازي شَرِشاً عَكَنْكَعَا

اخبرنا نفطويه عن ثعلب عن ابن الأعرابي قال: يقال للعمامة: هي العمامة، والمشوذ، والسب، والمقطعة، والعصابة، والعصاب، والتاج، والاقتعاظ وهو أن يتعمم الرجل ولا يتحنك. وفي الحديث نهى عن الاقتعاظ وأمر بالتلحي وذكر أيضا أنه قال: جاء الرجل متختما أي متعمما، وما أحسن تخمنه أي تعممه. وهذا حرف لم يحكه غير ابن الأعرابي.

أنشدنا الأخفش قال أنشدنا المبرد: مجزوء الكامل

المرءُ يأملُ إن يعيشَ وطولُ عيشٍ ما يضرهُ

تَفنى بَشاشَتُه ويَبقَى بعدَ حَلوِ العيشُُ مرَّهْ

وتخونُهُ الأيامُ حتى لا يَرى شيئا يَسُرّه

كم شامتٍ بي إن هلكت وقائلٍ لله دَره

اخبرنا الأخفش قال اخبرنا ثعلب قال أخبرنا الرياشي قال اخبرنا عبد القاهر بن السري قال: أصاب قتيبة بن مسلم قميصا منسوجا باللؤلؤ فبعث به إلى الحجاج فبعث به إلى الوليد، ثم تتبعته نفس الحجاج فكتب إلى قتيبة: أما بعد فإنا كنا أنفذنا ما أنفذته إلينا إلى الوليد وما أحسبك إلا وقد احتبست قبلك منه لنسائك وبناتك فآثرنا بما قبلك منه فكتب إليه " لأن آكل الميتة والدم ولحم الخنزير وما أهل لغير الله به أحب إلي من إن أدخر عنك علقا " فكتب إليه: ذاك الظن بك.
আবু আল-কাসিম আল-যাজ্জাজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: 'নুহ' (বিলাপ) হলো 'নাইহাহ' (বিলাপকারিনী)-এর বহুবচন; এটি একটি ক্রিয়ামূল যা একবচন, দ্বিবচন, বহুবচন এবং পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গের জন্য একই শব্দে ব্যবহৃত হয়, যেমনটি বলা হয়ে থাকে: সন্তুষ্ট ও ন্যায়পরায়ণ সম্প্রদায়, এবং সন্তুষ্ট ও ন্যায়পরায়ণ নারীগণ। 'আল-সুলাব' হলো সেই সকল নারী যারা শোকের পোশাক বা কালো কাপড় পরিধান করেছে। এখানে ক্রিয়াটি 'নুহ' শব্দের ওপর ভিত্তি করে তাকিদ বা গুরুত্ব প্রদানের জন্য আনা হয়েছে। কবি বলেছেন: (কামিল ছন্দ)

আমার উটগুলো কি শোক প্রকাশে তাদের মুখে আঁচড় কাটবে … নাকি তাদের মাথা শোকের কাপড়ে বাঁধবে?

আল-আখফাশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: সা’লাব ইবনুল আরাবি থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: বলা হয়ে থাকে ‘লা’ইবাতু’ এবং ‘লা’আবতু’—উভয়টিই শুদ্ধ ভাষা। আরও বলা হয় ‘আবাসতু আ’বাসু’, এর ক্রিয়ামূল হলো ‘আবাস’, যেমন ‘আলিমতু আ’লামু’। আর ‘আবাসতু আ’বাসু’ শব্দটি ‘আবিসাহ’ থেকে এসেছে, যা এক প্রকার ‘আকিত’ বা দুগ্ধজাত খাদ্য বিশেষ। তিনি আরও বলেন: ক্ষৌরকার বা রক্তমোক্ষণকারীর ক্ষেত্রে বলা হয় ‘ইয়াশরুতু’ এবং ‘আশরাতা’, কিন্তু অন্য ক্ষেত্রে শুধু ‘ইয়াশরুতু’ ব্যবহৃত হয়। তিনি বলেন: ‘আল-কাদ্দ’ অর্থ দৈর্ঘ্য বরাবর কাটা এবং ‘আল-কাত্ত’ অর্থ প্রস্থ বরাবর কাটা। আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি যখন কোনো ব্যক্তির ওপর চড়াও হতেন তখন তাকে দৈর্ঘ্য বরাবর দ্বিখণ্ডিত করতেন, আর যখন তাকে আড়াআড়িভাবে আক্রমণ করতেন তখন তাকে প্রস্থ বরাবর কেটে ফেলতেন। আল-আখফাশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি সা’লাব থেকে, তিনি আল-রিয়াশি থেকে এবং তিনি আল-আসমাঈ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আরবদের ‘আগেরিবাহ’ (কালো বর্ণের বীর) হলেন তিনজন—খুফাফ বিন নাদবাহ আস-সুলামি (নাদবাহ তার মা, যিনি বনু হারিস বিন কাব গোত্রের একজন কৃষ্ণাঙ্গ হাবশি দাসী ছিলেন এবং তার পিতা ছিলেন উমাইর বিন হারিস বিন আমর বিন আল-শারীদ), সুলাইক বিন আস-সুলাকাহ (সুলাকাহ তার মা এবং তার পিতা ইয়াশরিবি বিন সাইয়ার) এবং আনতারা বিন মুয়াবিয়া আল-আবসি। তিনি বলেন: আমি খুফাফের এই কবিতার চেয়ে অধিক কোমল কোনো কবিতা বর্ণনা করিনি: (তওয়ীল ছন্দ)

আসমা রাতে হঠাৎ আসেনি কোনো কারণ ছাড়া … আর আমি যখন নাজরানে অবস্থান করি তখন আমাদের সাক্ষাৎ হয়।

প্রকাশ্যভাবে; অথচ আমার আর তার এই প্রকাশের কী প্রয়োজন ছিল? … আর যে ব্যক্তি একদিন প্রেমের বিভ্রান্তিতে পড়ে, সে ব্যর্থ হয়।

আল-হুসাইন বিন ইসমাইল আল-মাহামিলি আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু হাশিম যিয়াদ বিন আইয়ুব আত-তুসি আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ বিন মুহাম্মদ আল-ওয়াররাক বাসসাম বিন ইকরিমা থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মলমূত্র ভক্ষণকারী প্রাণীর (الجلالة) দুধ, ব্যভিচারিণীর পারিশ্রমিক এবং কুকুরের মূল্য গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন।

আবু আল-কাসিম বলেন: ‘জাল্লালাহ’ হলো সেই উট যা বিষ্ঠা ভক্ষণ করে। ‘জাল্লালাহ’ শব্দের মূল হলো ‘আল-বা’র’ বা গোবর। বলা হয়, দাসীরা গোবর কুড়াতে বের হয়েছে। ‘আল-বিগা’ অর্থ ব্যভিচারিণী এবং ব্যভিচার। আল্লাহ তাআলা বলেন: (তোমরা তোমাদের দাসীদের ব্যভিচারে বাধ্য করো না)। এই আয়াত ব্যতীত অন্য স্থানে ‘বাগি’ বলতে দাসী বোঝানো হয়। আর ‘বাগিয়াহ’ হলো সেই ব্যক্তি যে কাফেলার অগ্রগামী হিসেবে সংবাদ সংগ্রহ করে। আল-আসমাঈ আবৃত্তি করেছেন: (তওয়ীল ছন্দ)

লোকদের পেছনে তাদের একজন অগ্রগামী সংবাদদাতার অপেক্ষা ছিল … সে দূর থেকে এক উঁচু স্থানে আরোহণ করে সুসংবাদ দিল।

ইসমাইল আল-ওয়াররাক আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শামাহ বিন সাওয়ার আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ফুরাত বিন আল-সাইব মাইমুন বিন মিহরান থেকে এবং তিনি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যখন আহত হলেন, তখন তার কাছে সর্বপ্রথম যারা প্রবেশ করেছিলেন তারা হলেন আলী ও ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)। ইবনে আব্বাস তাকে দেখে কেঁদে ফেললেন এবং বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন, জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ করুন। তিনি বললেন: তুমি কি আমার জন্য সে সাক্ষ্য দেবে? তখন তিনি যেন ইতস্ততবোধ করলেন। আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাকে মৃদু আঘাত করে বললেন: হ্যাঁ, আমি তার জন্য সাক্ষ্য দিচ্ছি এবং আমিও এ বিষয়ে অন্যতম সাক্ষী। তখন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জিজ্ঞেস করলেন: কীভাবে? ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: আপনার ইসলাম গ্রহণ ছিল ইসলামের জন্য এক সম্মান, আপনার শাসনকাল ছিল ইনসাফপূর্ণ এবং আপনার মৃত্যু হলো শাহাদাত। তখন তিনি বললেন: না, আল্লাহর কসম, আমার রব ও আমার দ্বীনের ব্যাপারে আমাকে বিভ্রান্ত করো না—যাফরানি সন্দেহ পোষণ করেছেন যে তিনি ‘আমার দ্বীন’ বলেছিলেন কিনা—উমরের মা তার জন্য শোকাতুর হোক যদি তার রব তাকে ক্ষমা না করেন।

বলা হয়: ‘কা’আ আনিল আমর’, অর্থাৎ সে ভয়ে বা কাপুরুষতার কারণে কোনো কাজ থেকে পিছিয়ে গেল। আর ‘আল-আক্ক’ অর্থ প্রচণ্ড গরম। বলা হয়: ‘ইয়াওমুন আক্কুন’ বা ‘আকীকুন’, অর্থাৎ অত্যন্ত গরমের দিন। ‘আল-আকাওয়াক’ বলা হয় সেই ব্যক্তিকে যে খাটো এবং সুঠাম দেহের অধিকারী। আর ‘আল-আকানকা’ হলো পুরুষ দানব। আল-খলিল আবৃত্তি করেছেন: (রাজায ছন্দ)

এক দানবী যে এক কর্কশ পুরুষ দানবের সাথে লড়াই করছে।

নিফতাওয়াইহি সা’লাব থেকে এবং তিনি ইবনুল আরাবি থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: পাগড়ির বিভিন্ন নাম রয়েছে যেমন—আল-ইমামাহ, আল-মাশওয়ায, আল-সুব্ব, আল-মুকাত্তা’আহ, আল-ইসাবাহ, আল-ইসাব এবং আল-তাজ। ‘আল-ইকতি’আয’ হলো থুতনির নিচ দিয়ে কাপড় না পেঁচিয়ে মাথায় পাগড়ি বাঁধা। হাদিসে ‘ইকতি’আয’ করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং ‘তালহি’ (থুতনির নিচ দিয়ে কাপড় পেঁচানো) করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আরও উল্লেখ আছে যে তিনি বলেছেন: এক ব্যক্তি ‘মুতাখাত্তিমান’ অর্থাৎ পাগড়ি পরিহিত অবস্থায় এল। আর তার পাগড়ি বাঁধার ভঙ্গি কতই না সুন্দর! এটি এমন এক শব্দ যা ইবনুল আরাবি ছাড়া অন্য কেউ বর্ণনা করেননি।

আল-আখফাশ আমাদের শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-মুবররাদ আমাদের শুনিয়েছেন: (কামিল ছন্দ)

মানুষ বেঁচে থাকার আশা করে, অথচ দীর্ঘ জীবন তার জন্য ক্ষতিকর।

জীবনের প্রফুল্লতা ফুরিয়ে যায় এবং মাধুর্যের পরে কেবল তিক্ততাই অবশিষ্ট থাকে।

দিনগুলো তার সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করে, এমনকি সে এমন কিছুই দেখে না যা তাকে আনন্দ দেয়।

আমি মারা গেলে কত মানুষই না আনন্দিত হবে, আবার কেউ বলবে ‘আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন’।

আল-আখফাশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: সা’লাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-রিয়াশি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল কাহির বিন আল-সাররি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: কুতাইবাহ বিন মুসলিম মুক্তাখচিত একটি বুনা চাদর বা জামা পেয়েছিলেন। তিনি সেটি আল-হাজ্জাজের কাছে পাঠিয়ে দেন এবং হাজ্জাজ সেটি আল-ওয়ালিদের কাছে পাঠান। পরবর্তীকালে হাজ্জাজের মনে সেটি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা জাগলে তিনি কুতাইবাহকে লিখলেন: যা আমাদের কাছে পাঠিয়েছিলে তা আমরা আল-ওয়ালিদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। আমার মনে হয় তুমি তোমার স্ত্রী ও কন্যাদের জন্য অনুরূপ কিছু রেখে দিয়েছ; সুতরাং তোমার কাছে যা আছে তা থেকে আমাদের কিছু প্রদান করো। কুতাইবাহ তাকে উত্তরে লিখলেন: "মৃত প্রাণী, রক্ত, শুকরের মাংস এবং যা আল্লাহর নাম ব্যতীত অন্যের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে তা ভক্ষণ করা আমার কাছে আপনার থেকে কোনো মূল্যবান বস্তু গোপন করার চেয়েও অধিক প্রিয়।" তখন হাজ্জাজ তাকে লিখে পাঠালেন: "তোমার সম্পর্কে আমার এমন ধারণাই ছিল।"
(খণ্ড: ১) আখবারু আবিল কাসিম আয-যুজ্জাজি (পৃষ্ঠা: ২৪)
اخبرنا نفطويه قال حدثنا إسحاق بن محمد قال حدثنا الحسن بن محمد عن شيبان عن قتادة في قول الله عز وجل وما أصابكم من مصيبة فبما كسبت أيدكم ويعفو عن كثير قال: ذكر لنا إن نبي الله صلى الله عليه وسلم قال: وما يصيب ابن آدم خدش من عود، ولا عثرة رجل، ولا اختلاج عرق، إلا بذنب، وما يعفو الله عنه أكثر.

وبإسناده عن قتادة (ولا تكونوا كالتي نقضت غزلها … الآية) قال: هذا مثل ضربه الله لمن نكث عهده. يقول: لو سمعتم بامرأة نقضت غزلها من بعد إبرامه أما كنتم تقولون: ما أحمق هذه؟. والذي يذهب إليه غير قتادة أنهم نهوا عن الكفر بعد الإسلام لئلا يكونوا كالتي نقضت غزلها من بعد إبرامه. وواحد الإنكاث نكث: وهو ما نقض من الأخبية والأكسية ليغزل ثانية ويعاد مع الجديد.

اخبرنا نفطويه قال حدثنا إسحاق بن محمد عن الحسن عن محمد عن شيبان قال عن قتادة في قول الله تعالى (لعلك باخعٌ نَفْسَكَ) قال: قاتل نفسك. قال نفطويه قال ثعلب: يقال: بخع فلان فلانا: إذا قتله، ويخع به: إذا بالغ في ذمه، ويخع فلان وجثع: إذا ذل واستخذى وينشد لذي الرمة: الطويل

ألا ايّهذا الباخِعُ الوَجْدَ نَفسَه … لشيء نَحتْهُ عن يَدَيْهِ المَقَادِرُ

أخبرنا أبو محمد عبد الله بن مالط النحوي الضرير قال أخبرني ثعلب عن عمر بن شبة قال: كان لمعاوية بن أبي سفيان عين ببلاد الروم، قال:

فكتب إليه: إن هذا الطاغية قال في مجلسه إن هذا أوان استأصل فيه العرب لأنها قد اختلفت. فكتب إليه معاوية كتابا يحلف له فيه ويقول: لئن عزمت على ما أظهرته في مجلسك لأصالحن صاحبي ولأصيرن مقدمته إليك فانزل قسطنطينية الجرامقة ولأردنك أرلسيا كما كنت ترعى الخنانيص..فكتب إليه ملك الروم يحلف له فيه بالبراءة من المعمودية والدخول في الحنيفية ما هم بهذا ولا تكلم، وأهدى إليه هدايا كثيرة أكثرها اليُزبون. بضم الياء، وكسرها خطأ.

وحكى عن ثعلب انه قال: الارلس: الاكادر، أنا احسبها غير عربية ولعلها بلغة القوم. والخنانيص: أولاد الخنازير واحدها خنوص.

اخبرنا الأخفش قال اخبرنا المبرد عن المازني عن الأصمعي قال: كانت بثينه تكنى أم عبد الملك كان شهرة جميل بها وصبابتها به وتفاقم أمرهم تواعده أهلها وتهددوه وحلفوا إنهم إن ظفروا به قتلوه فقال في ذلك الرجز

يا أم عبد الملك اصرميني … فبيني صرمي أوصلني

إن بني عمك أوعدوني … أن يقتلوني ثم لا يدوني

أما ورب البيت لو لقوني … شفعا ووترا لتواكاوني

قد علم الأعداء أن دوني … ضربا كإيزاع المخاض الجون

ثم خرج إلى مصر وبها مات، فلما حضرته الوفاة أنشأ يقول: الكامل

بكر النعي وما كنى بجميل … وثوى بمصر ثواء غير قفول

قومي بثينة فاندبي بعويل … وابكي خليلك دون كل خليل

ولقد اجر البرد في وادي القرى … نشوان بين مزارع ونخيل

فلما بلغت هذه الأبيات بثينة قالت بيتين ولم تكن قالت قبلهما قط ولا بعدهما شعرا غيرهما، وهما: الطويل

سواء علينا يا جميل بن معمر … إذا مت بأساء الحياة ولينها

وان سكوتي عن جميل لساعة … من الدهر ما جاءت ولا حان حينها

أنشدنا الأخفش عن ثعلب عن ابن الأعرابي: الوافر

أباكية رزئت إن أتاها … نعي أم يكون لها اصطبار

إذا ما أهل ود ودعوني … وراحوا والأكف بها غبار

دعوه واعظمي في لحد قبر … تعاوره الجنائب والقطار

تهب الريح حول محط قبرى … ويرعى حوله اللهق النوار

أزال النأي لا الهجران حولا … وحولا ثم تجتمع الديار

اللهق النوار: الوحشي الأبيض، يقال للشيء الأبيض: هي لهق ولهواق ولهاق. قال: فإذا اشتد بياض الإنسان حتى كأنه ابرص قيل: هو أمقه وامهق. وأنشدنا نفطويه لذي الرقة: الوافر

إذا خفقت بأمهق صحصحان … رؤوس القوم والتزموا الرحيلا

قال: والأمقه: الأرض البيضاء الشديدة البياض لا نبات بها.
নাফতাওয়াইহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন যে ইসহাক ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি হাসান ইবনে মুহাম্মাদ থেকে, তিনি শায়বান থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে বর্ণনা করেছেন: “তোমাদের ওপর যে বিপদ আপতিত হয় তা তোমাদের কৃতকর্মেরই ফল এবং তিনি অনেক কিছুই ক্ষমা করে দেন।” তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আদম সন্তানের যে কোনো কাঠের আঁচড়, পায়ের হোঁচট বা শিরার কম্পন যা কিছু ঘটে, তা কেবল পাপের কারণেই ঘটে, আর আল্লাহ যা ক্ষমা করেন তা এর চেয়েও অনেক বেশি।”

এবং তাঁরই সূত্র (إسناد) পরম্পরায় কাতাদাহ থেকে (আল্লাহর এই বাণীর ব্যাখ্যায়): “তোমরা সেই নারীর মতো হয়ো না যে তার সূতা মজবুত করে পাকানোর পর তা ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলে … আয়াতের শেষ পর্যন্ত”। তিনি বলেন: এটি একটি দৃষ্টান্ত যা আল্লাহ সেই ব্যক্তির জন্য পেশ করেছেন যে তার অঙ্গীকার ভঙ্গ করে। তিনি বলেন: তোমরা যদি এমন কোনো নারীর কথা শুনতে যে তার সূতা মজবুত করার পর তা ছিঁড়ে ফেলেছে, তবে কি তোমরা বলতে না যে—এই নারীটি কতই না নির্বোধ? কাতাদাহ ছাড়া অন্যান্যের অভিমত হলো, মুমিনদের ইসলাম গ্রহণের পর কুফরি করতে নিষেধ করা হয়েছে, যাতে তারা সেই নারীর মতো না হয় যে পাকানো সূতা ছিঁড়ে ফেলেছিল। ‘ইনকাছ’ শব্দের একবচন হলো ‘নিকছ’: এর অর্থ হলো তাবু বা চাদরের সেই অংশ যা পুনরায় বোনার জন্য বা নতুন সূতার সাথে মিশিয়ে ব্যবহারের জন্য ছিঁড়ে ফেলা হয়।

নাফতাওয়াইহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন যে ইসহাক ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের হাসান থেকে, তিনি মুহাম্মাদ থেকে, তিনি শায়বান থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا): “(হে নবী!) তারা মুমিন হচ্ছে না বলে আপনি কি আপনার প্রাণ বিসর্জন দেবেন (বাখিউন)?” তিনি বলেন: “আপনি কি নিজেকে মেরে ফেলবেন?” নাফতাওয়াইহ বলেন, ছা’লাব বলেছেন: বলা হয়ে থাকে, অমুক ব্যক্তি অমুককে ‘বাখা’আ’ করেছে—অর্থাৎ যখন সে তাকে হত্যা করে। আর ‘ইয়াখাউ বিহি’ বলা হয় যখন কেউ কারোর নিন্দায় বাড়াবাড়ি করে। আর বলা হয় ‘ইয়াখাউ ফুলানুন ওয়া জাছা’আ’ যখন কেউ অপমানিত ও হীনবল হয়। যির-রুম্মাহ তয়িল ছন্দে আবৃত্তি করেছেন:

ওহে তুমি যে শোকে নিজেকে তিলে তিলে শেষ করছ (বাখিউন) … এমন এক বস্তুর জন্য যা তকদির তার হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে।

আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবনে মালিত আন-নাহবী আদ-দারীর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন ছা’লাব উমর ইবনে শাব্বাহ থেকে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني), তিনি বলেন: রোম সাম্রাজ্যে মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের একজন গুপ্তচর ছিল, সে বলল:

অতঃপর সে তাকে লিখে পাঠালো: এই স্বৈরাচারী শাসক তার মজলিশে বলেছে যে, আরবদের সমূলে উৎপাটন করার এটাই উপযুক্ত সময় যেহেতু তারা পারস্পরিক মতভেদে লিপ্ত। তখন মুয়াবিয়া তাকে একটি চিঠি লিখলেন যাতে তিনি শপথ করে বললেন: “তুমি তোমার মজলিশে যা প্রকাশ করেছ তা যদি কার্যকর করার সংকল্প করো, তবে আমি অবশ্যই আমার প্রতিপক্ষের সাথে সন্ধি করব এবং আমি তার অগ্রবর্তী বাহিনী হয়ে তোমার দিকে অগ্রসর হব। আমি তোমাকে কনস্টান্টিনোপলের ‘জারামিকাহ’ থেকে বিতাড়িত করব এবং তোমাকে ‘আরলাস’ নামক স্থানে ফিরিয়ে দেব যেখানে তুমি শুকরের বাচ্চা চরাবে।” রোম সম্রাট তখন তাকে লিখে পাঠালো এবং খ্রিস্টধর্মের দিক্ষা ত্যাগ ও ইসলাম ধর্মে প্রবেশের শপথ করে জানালো যে, সে এমন কোনো ইচ্ছা পোষণ করেনি এবং এ বিষয়ে কোনো কথাও বলেনি। সে মুয়াবিয়ার কাছে অনেক উপহার পাঠালো যার অধিকাংশ ছিল ‘ইউজবুন’ (اليُزبون)। এটি ইয়া-তে পেশ দিয়ে পড়তে হয়, যের দিয়ে পড়া ভুল।

ছা’লাব থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: ‘আরলাস’ অর্থ ‘আকাদির’, আমি মনে করি এটি আরবি শব্দ নয় বরং সম্ভবত তাদেরই কোনো ভাষা। আর ‘খানানিস’ হলো শুকরের বাচ্চা, এর একবচন হলো ‘খুনুস’।

আখফাশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন মুবাররাদ আমাদের আল-মাযিনী থেকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি আসমাঈ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: বুসাইনার উপনাম ছিল উম্মে আব্দুল মালিক। জামিলের সাথে তার প্রেম ও আসক্তি ছিল অত্যন্ত প্রসিদ্ধ এবং তাদের বিষয়টি চরম আকার ধারণ করেছিল। বুসাইনার পরিবারের লোকজন তাকে হুমকি ও ভয় দেখালো এবং শপথ করল যে তারা তাকে পেলে হত্যা করবে। তখন সে এই রাজায ছন্দে বলল:

হে উম্মে আব্দুল মালিক! হয় তুমি আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করো … অথবা স্পষ্টভাবে আমার বিচ্ছেদ বা মিলনের ফয়সালা করো।

নিশ্চয়ই তোমার চাচাতো ভাইয়েরা আমাকে হুমকি দিয়েছে … যে তারা আমাকে হত্যা করবে কিন্তু আমার রক্তপণ পরিশোধ করবে না।

আল্লাহর শপথ! তারা যদি আমার মুখোমুখি হয় … জোড়ায় বা একাকী, তবে তারা অবশ্যই কাপুরুষতা দেখাবে।

শত্রুরা জানে যে আমার কাছে আছে … তলোয়ারের এমন তীব্র আঘাত যেমন সাদা-কালো গর্ভবতী উটনীর দ্রুত চলন।

অতঃপর সে মিসরে চলে গেল এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করল। যখন তার মৃত্যু নিকটবর্তী হলো, তখন সে কামিল ছন্দে এই কবিতাটি রচনা করল:

মৃত্যুর সংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল এবং জামিলকে আড়াল করল না … আর সে মিসরে এমনভাবে অবস্থান করল যেখান থেকে আর ফেরার নেই।

হে বুসাইনা! দাঁড়াও এবং আর্তনাদ করে শোক প্রকাশ করো … আর তোমার সেই বন্ধুর জন্য কাঁদো যে সব বন্ধুর চেয়ে শ্রেষ্ঠ ছিল।

আমি ‘ওয়াদিল কুরা’ উপত্যকায় নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আমার চাদর টেনে হেঁটেছি … শস্যক্ষেত্র ও খেজুর বাগানের মাঝখানে।

যখন এই কবিতাগুলো বুসাইনার কাছে পৌঁছাল, তখন সে দুটি পঙক্তি আবৃত্তি করল। এর আগে বা পরে সে আর কোনো কবিতা বলেনি। পঙক্তি দুটি হলো:

হে জামিল ইবনে মা’মার! আমাদের কাছে সমান … তুমি মারা যাওয়ার পর জীবনের কষ্ট ও স্বাচ্ছন্দ্য।

জামিলের বিচ্ছেদে আমার নীরবতা সময়ের একটি মুহূর্তের জন্যও … আসেনি এবং আসার সময়ও হয়নি।

আখফাশ ছা’লাব থেকে এবং তিনি ইবনুল আরাবি থেকে আমাদের এই কবিতাটি শুনিয়েছেন:

সে কি শোকাতুর হয়ে কাঁদবে যদি তার কাছে … মৃত্যুর সংবাদ পৌঁছায়, নাকি সে ধৈর্য ধরবে?

যখন প্রিয়জনরা আমাকে বিদায় জানাবে … এবং ফিরে যাবে এমন অবস্থায় যখন তাদের হাতের তালুতে কবরের ধুলো লেগে থাকবে।

তাকে ছেড়ে দাও এবং আমার হাড়গুলোকে কবরের গর্তে রেখে দাও … যেখানে দক্ষিণ বায়ু এবং বৃষ্টির ধারা বিচরণ করে।

আমার কবরের চারদিকে বাতাস বইছে … আর তার আশেপাশে সাদা বন্য হরিণরা বিচরণ করছে।

বিচ্ছেদ নয় বরং দূরত্বের কারণেই এক বছর অতিবাহিত হয়েছে … এরপর আরও এক বছর, তারপর পুনরায় মিলন ঘটবে।

‘লাহাকুন নাওয়ার’ অর্থ হলো সাদা বন্য প্রাণী। কোনো সাদা বস্তুকে ‘লাহাক’, ‘লাহাওয়াক’ বা ‘লাহাক’ বলা হয়। তিনি বলেন: যখন মানুষের শুভ্রতা অত্যন্ত তীব্র হয় এমনকি তাকে ধবল রোগীর মতো মনে হয়, তখন তাকে ‘আমকাহ’ বা ‘আমহাক’ বলা হয়। নাফতাওয়াইহ যুর-রিক্কাহ থেকে আমাদের শুনিয়েছেন:

যখন শুভ্র প্রান্তরগুলোতে (আমহাক) … মানুষের মাথাগুলো নুয়ে পড়ে এবং তারা যাত্রার জন্য প্রস্তুতি নেয়।

তিনি বলেন: ‘আমকাহ’ হলো অত্যন্ত শুভ্র ভূমি যেখানে কোনো উদ্ভিদ নেই।
(খণ্ড: ১) আখবারু আবিল কাসিম আয-যুজ্জাজি (পৃষ্ঠা: ২৫)
اخبرنا الأخفش عن ثعلب قال اخبرنا الرياشي قال. اخبرنا أبو عمرو الرازي عن أبي سهل عن محمد بن سالم قال: أتي بيحيى بن يعمر يوسف في قيوده إلى الحجاج فقال له: أأنت الذي تزعم أن الحسن والحسين ابنا رسول الله صلى الله عليه وسلم لتأتينيّ بها من كتاب الله أو لأقطعن يديك ورجليك. فقال: لآتينك بها من كناب الله تعالى. ثم قرأ (ومن ذريته داود وسليمان وأيوب ويوسف وموسى وهارون وكذلك نجزى المحسنين. وزكريا ويحيى وعيسى) . فجعل عيسى من ذريته ولا أب له. أنشدنا عبد العزيز بن علي بن المنتصر قال أنشدني عبد الله بن المعتز لنفسه: الكامل

قلبي يتيه بحسن صورته … حيث السقام بلحظ مقلته

وكأن عقرب صدغه وقفت … لما دنت من نار وجنته

اخبرنا ابن دريد قال اخبرنا أبو حاتم وعبد الرحمن بن أخي الأصمعي جميعا عن الأصمعي قال: كنت في سفر فوقف علينا في بعض المنازل غلام فقال: أيكم رجل من أهل البصرة؟ قلنا له: ما تريد منه؟ فقال: إن مولاي لما به وهو يريد أن يوصي اليه، فقمت معه فإذا بالعباس بن الأحف. يجود بنفسه وقد ألقى بنفسه على طين مبلول فجلست عند رأسه فرفع طرفه إليّ فلما تبيّنني أنشأ يقول: المديد

يا بعيد الدار عن وطنه … مفردا يبكي على شجنه

كلّما جدّ النجاء به جدت الأسقام في بدنه ثم أغمي عليه فما أفاق إلا بصوت قمرية على غصن شجرة بالقرب منه فأنشد يقول: المديد

ولقد زاد الفؤاد شجي … صوت قمريّ على فننه

شّفه ما شفّني فبكا … كلنا يبكي على سكنه

ثم قضي فتوليتّ جهازه.

أنشدنا الزجاج عن المبرد: الطويل

فبتنا فويق الحي لا نحن منهم … ولم نحن بالأعداء مختلطان

وبتنا يقينا ساقط الطل والندى … من الليل بردا عينه قطران

نفدى بذكر الله في ذات بيته … إذا كأن قلبا تائها بجنان

ونصدر عن زي العفاف وربما … نقعنا غليل الشوق بالرشفان

قال أبو العباس: اخذ معاني هذه الأبيات من قول أمرىء القيس.

بعثت إليها والنجوم ضواجع … حذارا عليها أن تقوم فتسمعا

فجاءت قطوف المشي هائبة السّرى … يدافع ركناها كواعب أربعا

يزجّينها مشي النزيف وقد جرى … صباب الكرى في مخهّا فتقطعا

تقول وشد جرّدتها من ثيابها … كتما رعت مكحول المدامع أتلعا

وجدّك لو شيء أتانا رسوله … سواك ولكن لم نجد لك مدفعا

أذن لرددناه ولو طال مكثه … لدينا ولكّنا بحبّك ولّعا

فبتناّ نصدّ الوحش عناّ كأننا … قتيلان لم يعلم لنا الناس مصرعا

إذا أخذتها هزّة الرّوع أمسكت … بمنكب مقدام على الهول أروعا

اخبرنا أبو عبد الله اليزيدي قال: اخبرنا اليزيدي عن الأصمعي عن عبد الله بن رؤبة بن العجاج عن أبيه عن جده قال: أنشدت أبا هريرة قصيدتي التي أولها: الرجز

الحمد لله الذي استقلت … بإذنه السماء واطمأنت

بإذنه الأرض فما تعنت … ومدّها بالراسيات الثبّت

وحي لها الفرار فاستقرت

حتى أتيت على أخرها فقال: أشهد أنك لمؤمن.

اخبرنا أبو عبد الله الأخفش واليزيدي قالا: حدثنا ثعلب عن الرياشي عن الأصمعي قال: حدثني نافع بن أبي نعيم قال قال الحجاج بن يوسف لنافع بن جبير: اضرب عنق هذا لرجل كأن بين يديه. فقال:، أن يدي طبقة. قال: فاخرج عنا، فخرج فاتبعه رسول بمائتي دينار فقال: يقول لك الأمير استعن بهذا في سفرك. قال الأصمعي يقال: يد طَبقِةٌ وطبقه: إذا كانت لاصقة بالجيب لا تبطش.

اخبرنا ابن دريد قال حدثنا ابن معاذ خلف بن احمر عن دماذ بن رفيع عن أبي عبيدة معمر بن المثنى قال: ورد يزيد بن الحكم الثقفي من الطائف على الحجاج بالعراق وكان شريفا شاعرا فولاّ هـ فارس، فلما جاء لأخذ عهده قال له: يا يزيد أنشدنا من شعرك فأنشأ يقول: الوافر

ومن يك سائلا عني فأني … أنا ابن الصيد من سلفي ثقيف

وفي وسط البطاح محل بيتي … محل الليث من وسط الغريف
আল-আখফাশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) ছালাব থেকে, তিনি বলেন, আর-রিয়াশি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আবু আমর আর-রাজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু সাহল থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন সালিম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন ইয়ামুরকে শিকলবদ্ধ অবস্থায় ইউসুফ বিন হাজ্জাজের কাছে নিয়ে আসা হলো। হাজ্জাজ তাকে বলল: "তুমিই কি সেই ব্যক্তি যে দাবি করো যে হাসান এবং হুসাইন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুই সন্তান? তোমাকে অবশ্যই আল্লাহর কিতাব থেকে এর প্রমাণ দিতে হবে, নতুবা আমি তোমার হাত ও পা কেটে ফেলব।" তখন তিনি বললেন: "আমি অবশ্যই মহান আল্লাহর কিতাব থেকে আপনার কাছে এর প্রমাণ পেশ করব।" এরপর তিনি পাঠ করলেন: "আর তাঁর বংশধরদের মধ্য থেকে দাউদ, সুলাইমান, আইয়ুব, ইউসুফ, মুসা ও হারুনকে; আর এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করি। এবং জাকারিয়া, ইয়াহইয়া ও ঈসাকে।" এখানে আল্লাহ তাআলা ঈসাকে তাঁর বংশধরদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন অথচ তাঁর কোনো পিতা ছিল না। আব্দুল আজিজ বিন আলী বিন আল-মুনতাসির আমাদের কবিতা শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ বিন আল-মুতায নিজের রচিত কবিতা আমাকে শুনিয়েছেন: আল-কামিল

আমার হৃদয় তার রূপের সৌন্দর্যে বিভোর … যেখানে তার চোখের পলকে রয়েছে অসুস্থতা।

তার কপালে যেন এক বিচ্ছু স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে … যখন তা তার গালের আগুনের নিকটবর্তী হয়েছে।

ইবনে দুরেদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন, আবু হাতিম এবং আসমাঈর ভ্রাতুষ্পুত্র আব্দুর রহমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তারা উভয়ই আসমাঈ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি এক সফরে ছিলাম। একটি মঞ্জিলে অবস্থানকালে এক যুবক আমাদের সামনে এসে দাঁড়াল এবং বলল: "আপনাদের মধ্যে বসরা নিবাসী কে আছেন?" আমরা তাকে বললাম: "তুমি তার কাছে কী চাও?" সে বলল: "আমার মনিবের অবস্থা আশঙ্কাজনক, তিনি কাউকে অসিয়ত করতে চাচ্ছেন।" আমি তার সাথে গেলাম এবং দেখলাম আব্বাস বিন আল-আহনাফ মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছেন; তিনি নিজেকে সিক্ত কর্দমাক্ত মাটির ওপর এলিয়ে দিয়েছেন। আমি তাঁর মাথার কাছে বসলাম। তিনি আমার দিকে চোখ তুলে তাকালেন এবং আমাকে চিনতে পেরে এই কবিতা বলতে শুরু করলেন: আল-মাদিদ

হে স্বদেশ থেকে দূরবর্তী নিবাসী … যে একাকী নিজ দুঃখের জন্য কাঁদছে।

যখনই তার মুক্তির পথ ত্বরান্বিত হয় … তখনই তার শরীরে রোগ-ব্যাধি বেড়ে যায়। তারপর তিনি মূর্ছা গেলেন। নিকটস্থ গাছের ডালে একটি ঘুঘুর ডাকেই কেবল তার জ্ঞান ফিরল। তখন তিনি এই কবিতা আবৃত্তি করলেন: আল-মাদিদ

গাছের ডালে ঘুঘুর ডাক … আমার হৃদয়ের হাহাকার বাড়িয়ে দিয়েছে।

সে আমায় ব্যথিত করেছে যা আমাকেও ব্যথিত করেছে, তাই সে কাঁদছে … আমরা প্রত্যেকেই নিজ প্রিয়জনের বিরহে কাঁদছি।

এরপর তাঁর মৃত্যু হলো এবং আমি তাঁর কাফন-দাফনের ব্যবস্থা করলাম।

আয-যাজ্জাজ আল-মুবররাদ থেকে আমাদের শুনিয়েছেন: আত-তওয়িল

আমরা লোকালয়ের সামান্য উপরে রাত কাটালাম, আমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না … আবার আমরা শত্রুদের সাথেও মিশে থাকিনি।

আমরা রাত কাটালাম এই নিশ্চিত অবস্থায় যে শিশির কণা ঝরছে … রাতের শীতলতা থেকে যার প্রতিটি বিন্দু ছিল ঝরনাধারার মতো।

আমরা তাঁর পবিত্র ঘরে আল্লাহর যিকিরের মাধ্যমে মুক্তি খুঁজি … যখন কোনো বিভ্রান্ত হৃদয় জান্নাতে নিমগ্ন হয়।

আমরা পবিত্রতার ভূষণ নিয়ে ফিরে আসি, আর কখনো কখনো … আমরা চুম্বনের মাধ্যমে তৃষ্ণার্ত আকাঙ্ক্ষার দহন নিবারণ করি।

আবু আব্বাস বলেন: এই কবিতাগুলোর ভাবধারা ইমরাউল কায়েসের উক্তি থেকে নেওয়া হয়েছে।

আমি তার কাছে (দূত) পাঠিয়েছিলাম যখন নক্ষত্ররাজি হেলে পড়েছিল … এই ভয়ে যে সে যদি জেগে ওঠে এবং শুনে ফেলে।

সে ধীরপদে সশঙ্কচিত্তে এল রাতের আঁধারে পথ চলে … চারজন সমবয়সী রূপসী নারী তাকে সাহায্য করছিল।

তারা তাকে মাতালের মতো হাঁটতে সাহায্য করছিল, আর তার মস্তকে … তন্দ্রার আবেশ ছড়িয়ে পড়েছিল এবং সে অবসন্ন হয়ে পড়েছিল।

সে তখন বলছিল, যখন আমি তাকে তার পোশাক থেকে মুক্ত করেছিলাম … যেমন কোনো হরিণী তার কাজল কালো চোখ আর দীর্ঘ গ্রীবা নিয়ে তাকিয়ে থাকে।

তোমার পিতামহের কসম, যদি অন্য কেউ আমাদের কাছে দূত পাঠাত … তবে তোমাকে ছাড়া অন্য কাউকেই আমরা গ্রহণ করতাম না।

তবে আমরা তাকে ফিরিয়ে দিতাম যদিও সে দীর্ঘকাল অবস্থান করত … আমাদের কাছে, কিন্তু তোমার ভালোবাসায় আমরা আসক্ত।

আমরা বন্যপশুদের আমাদের থেকে তাড়িয়ে রাত কাটালাম, যেন আমরা … এমন দুই নিহত ব্যক্তি যাদের হত্যার সংবাদ মানুষ জানতে পারেনি।

যখন কোনো ভয়ের কম্পন তাকে স্পর্শ করত, সে আঁকড়ে ধরত … এমন এক সাহসী ব্যক্তির কাঁধ যে ভীতিপ্রদ অবস্থায় অবিচল থাকে।

আবু আব্দুল্লাহ আল-ইয়াযিদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আল-ইয়াযিদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আসমাঈ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন রু’বাহ বিন আল-আজ্জাজ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রা (রা.)-কে আমার এই কাসিদাটি শুনিয়েছিলাম যার প্রারম্ভ হলো: আর-রাজায

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যাঁর আদেশে আসমান … সমুন্নত রয়েছে এবং সুস্থিত হয়েছে।

যাঁরি আদেশে যমিন স্থির হয়েছে এবং সে অবাধ্য হয়নি … আর তিনি একে সুদৃঢ় পর্বতমালা দিয়ে বিস্তৃত করেছেন।

এবং তিনি এর জন্য স্থিতিশীল হওয়ার ওহি পাঠালেন ফলে তা স্থির হলো।

আমি যখন এটি শেষ করলাম, তখন তিনি বললেন: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে তুমি একজন মুমিন।"

আবু আব্দুল্লাহ আল-আখফাশ এবং আল-ইয়াযিদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তাঁরা বলেন: ছালাব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আর-রিয়াশি থেকে, তিনি আসমাঈ থেকে, তিনি বলেন: নাফি বিন আবি নুআইম আমার কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন, হাজ্জাজ বিন ইউসুফ নাফি বিন জুবায়েরকে তার সামনে থাকা এক ব্যক্তির সম্পর্কে বললেন: "এর গর্দান উড়িয়ে দাও।" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আমার হাত অবশ (طبقِةٌ)।" হাজ্জাজ বললেন: "তবে আমাদের কাছ থেকে বেরিয়ে যাও।" তিনি বেরিয়ে গেলেন এবং জনৈক দূত দুইশ দিনার নিয়ে তাঁর পিছু নিল এবং বলল: "আমির বলছেন, আপনার সফরে এটি দিয়ে সাহায্য নিন।" আসমাঈ বলেন: বলা হয় হাত 'তাবাক্বাহ' (طبقِةٌ), এর অর্থ যখন হাতটি শরীরের সাথে এমনভাবে লেগে থাকে যে তা দিয়ে কোনো কিছু ধরা বা আঘাত করা যায় না।

ইবনে দুরেদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন, ইবনে মুয়ায খালাফ বিন আহমার আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثنا) দুমায বিন রাফি থেকে, তিনি আবু উবাইদাহ মুয়াম্মার বিন আল-মুসান্না থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইয়াজিদ বিন আল-হাকাম আস-সাকাফি তায়েফ থেকে ইরাকে হাজ্জাজের কাছে আসলেন। তিনি ছিলেন একজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি ও কবি। হাজ্জাজ তাঁকে ফারস অঞ্চলের শাসনকর্তা নিযুক্ত করলেন। যখন তিনি তাঁর নিয়োগপত্র নিতে আসলেন, হাজ্জাজ তাঁকে বললেন: "হে ইয়াজিদ, তোমার কবিতা থেকে আমাদের কিছু শোনাও।" তখন তিনি বলতে শুরু করলেন: আল-ওয়াফির

আর যে ব্যক্তি আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসু, তবে আমি … সাকাফের পূর্বপুরুষদের মধ্য থেকে এক বীরের সন্তান।

মরুভূমির মধ্যস্থলে আমার ঘর অবস্থিত … গহীন অরণ্যের মাঝে সিংহের অবস্থানের ন্যায়।
(খণ্ড: ১) আখবারু আবিল কাসিম আয-যুজ্জাজি (পৃষ্ঠা: ২৬)
وفي كعب ومن كالحي كعب … حللت ذؤابة المجد المنيف

هويت فخارها غورا ونجدا … وذلك منتهى شرف الشريف

نماني كل أصيد لا ضعيف … لحمل المعضلات ولا عنيف

فوجم الحجاج وأطرق ساعة ثم رفع رأسه فقال: الحمد لله احمده واشكره إذ لم يأت زمان الاوفينا أشعر العرب، ثم قال: أنشدنا يا يزيد، فأنشأ يقول: الكامل

وأبي الذي فتح البلاد بسيفه … فأذلهّا لبني الزمان الغابرة

وأبي الذي سلب ابن كسرى راية … في الملك تخفق كالعقاب الطائر

وإذا فخرت فخرت غير مكذب … فخرا أدقّ يه فخار الفاخر

فقام الحجاج مغضبا ودخل القصر وأنصرف يزيد والعهد في يده فقال الحجاج لخادمه: اتبعه وقل له: اردد علينا عهدنا فإذا أخذته فقل له: أورثك أبوك مثل هذا؟ ففعل الخادم وأبلغه الرسالة، فردّ عليه العهد وقال: قل للحجاج: أورثني أبي مجده وفعالة، وأورثك أبوك اعنزا بالطائف ترعاها. ثم سمار تحت الليل فلحق بسليمان وهو وليّ العهد فضمهّ إليه وجعله في خاصته فقال يمدح سليمان: البسيط

أن تمش عني الغواني وهي معرضة … فقد تراهن صورا نحونا صيدا

وأن تكن قد ذهلنا عن مواعدها … فقد يكون لنا ميعادها عيدا

قد نلتقي كلنا لاه بصاحبه … ولا نخاف من العذّال تفنيدا

قل للشباب إذا ما الشيب اطرده … لا تبعدّن طريد الشيب مطرودا

من صاحب الشيب قالاه وجرّ له … للأيد صفعا وللرجلين تقييدا

يا أرفض الناس للدنيا ولذتها … أشدهم زهدا فيها وتزهيدا

فأن يك الناس أمسوا كاسدين فقد … أضحى لديك التقى والبر موجودا

أن يحسدوك فكم من صالح حسدوا … هذا نبي الهدى قد كأن محسودا

عض الأخابث من عاداك من كلبوالصخر والصلب الصم الصياحيدا سمّيت اسم امرئ أشبهت شيمتهعدلا وفضلا سليمان بن داودا

احمد به كأن في الماضين من ملك … وأنت أصبحت في الباقين محمودا

قال أبو القاسم: الغريف: الأجمة وكذلك الغابة، والخيس والقبيل والغراف: شجر يدبغ به، والمعضلات: جمع معضلة وهي شدائد الأمور. ومنه عضلت المرأة: إذا نشب ولدها عند الولادة ولم يخرج، وعضل الرجل ابنته: إذا منعها من التزويج، والعضال: الداء الشديد المعدوم الدواء. والمنيف: المشرف، والعنيف: خلاف الرقيق، وقوله: تراهن صورا نحونا: هو جمع أصور وصورا: أي عواطف خونا من قولك صرفت الشيء: إذا عطفته وأملته. والصيد: جمع أصيد وصيداء وهما المائلان عنقيهما كبرا وأصله من الصيد: وهو داء في عنق البعير يميله إلى جانب. والأخاشب: جمع أخشب وهو الحبل الغليظ والصلب: حجارة المسن.

أنشدنا الأخفش لابن المعتز: الخفيف

ساحر المقلتين أظهر صدّا … صاغه الله في الملاحة فردا

حببن نادى بكسر جفنيه قلبي … لم تجدّ من فراقه النفس بدّا

رحم الله من بكى مستهاما … ليس يقضي لقلبه أن يردّا

يقطع الليل النحيب على من … أنبت الحسن فوق خديه وردا

وأنشدنا ابن الأنباري لابن المعتز: البسيط

لا أرّق الله من أهدى لي الأرقا … وأودع القلب نار الحب فاحترقا

بدر تعرض لي عمدا ليقتلني … تذب أنواره عن وجهه الغسقا

تتفاوت فيه من فرق إلى قدم … محاسن بدع تستوقف الحدقا

فكم تحيرّ من عقل ومن نظر … فيه وكم تاه من قلب وكم خفقا

يا مورث السقم جسمي بعد صحته … عجل سراحي وإلا فالحق الرمقا

لم يترك الشوق مذ غيبتّ عن بصري … تخلقا لي في صبر ولا خلقا

ومحق الخلق وعدا كنت آمله … وسد يأسي على آمالي الطرقا

ما كنت أول عبد رافع يده … مسترزق عطف مولاه فما رزقا

أني لأحسد كأسا حين يلثمها … حتى يبيت سخين السيف معتنقا
এবং কাবের মধ্যে এবং কাব গোত্রের মতো আরও যারা আছে … আমি উচ্চ ও হিরণ্ময় আভিজাত্যের শিখরে আরোহণ করেছি।

আমি এর গৌরবের উচ্চ ও নিম্নভূমি জয় করেছি … আর এটিই হলো একজন উচ্চমর্যাদাশীল ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্বের শেষ সীমা।

আমাকে এমন সব তেজস্বী পূর্বপুরুষ গড়ে তুলেছেন যারা কঠিন বোঝা বহনে দুর্বল (ضعيف) নন … এবং রূঢ়ও নন।

অতঃপর হাজ্জাজ স্তব্ধ হয়ে গেলেন এবং কিছুক্ষণ মাথা নিচু করে রইলেন, তারপর মাথা তুলে বললেন: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমি তাঁর প্রশংসা ও শোকর করছি যে, এমন কোনো যুগ আসেনি যাতে আমাদের মধ্যে আরবের শ্রেষ্ঠ কবি বিদ্যমান ছিল না। এরপর তিনি বললেন: হে ইয়াজিদ, আমাদের কবিতা শোনাও। তখন তিনি বলতে শুরু করলেন: (কামিল ছন্দ)

আমার পিতা সেই ব্যক্তি যিনি স্বীয় তলোয়ার দিয়ে দেশ জয় করেছেন … এবং উত্তরসূরিদের জন্য তা অনুগত করেছেন।

আমার পিতা সেই ব্যক্তি যিনি কিসরার পুত্রের কাছ থেকে সেই পতাকা ছিনিয়ে নিয়েছিলেন … যা রাজত্বে উড়ন্ত ঈগলের মতো পতপত করে উড়ছিল।

আর যখন আমি গৌরব করি, তখন কোনো মিথ্যা ব্যতিরেকেই গৌরব করি … এমন এক গৌরব যা গর্বকারীর দম্ভকে চূর্ণ করে দেয়।

অতঃপর হাজ্জাজ ক্রুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে প্রাসাদে প্রবেশ করলেন এবং ইয়াজিদ তার হাতে নিয়োগপত্র নিয়ে প্রস্থান করলেন। তখন হাজ্জাজ তার খাদেমকে বললেন: তাকে অনুসরণ করো এবং তাকে বলো: আমাদের নিয়োগপত্র আমাদের কাছে ফিরিয়ে দাও। যখন তুমি তা নিয়ে নেবে তখন তাকে বলবে: তোমার পিতা কি তোমাকে এর মতো কিছু উত্তরাধিকার সূত্রে দিয়ে গেছেন? খাদেম তাই করল এবং তাকে বার্তাটি পৌঁছে দিল। তখন ইয়াজিদ নিয়োগপত্রটি তাকে ফিরিয়ে দিলেন এবং বললেন: হাজ্জাজকে গিয়ে বলো: আমার পিতা আমাকে তাঁর মর্যাদা ও কৃতিত্ব উত্তরাধিকার হিসেবে দিয়েছেন, আর তোমার পিতা তোমাকে তায়েফে ছাগল চড়ানোর কাজ উত্তরাধিকার হিসেবে দিয়েছিলেন। এরপর তিনি রাতের আঁধারে যাত্রা করে সুলাইমানের সাথে মিলিত হলেন, যিনি তখন যুবরাজ ছিলেন। সুলাইমান তাকে নিজের কাছে টেনে নিলেন এবং তাকে তার ঘনিষ্ঠদের অন্তর্ভুক্ত করলেন। এরপর তিনি সুলাইমানের প্রশংসায় বললেন: (বাসিত ছন্দ)

সুন্দরী রমণীরা যদি বিমুখ হয়ে আমার কাছ থেকে চলে যায় … তবে তুমি তাদের দেখবে যে তারা আমাদের দিকে অনুরাগী হয়ে ঘাড় বাঁকিয়ে তাকাচ্ছে।

যদি আমরা তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো ভুলে গিয়ে থাকি … তবে তাদের সাক্ষাতের সময়টি আমাদের জন্য ঈদের দিন হতে পারে।

হয়তো আমাদের সকলের এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ হবে যে প্রত্যেকেই তার সঙ্গীর প্রতি মগ্ন … এবং আমরা সমালোচকদের ভর্ৎসনার ভয় করব না।

যৌবনকে বলো যখন বার্ধক্য তাকে তাড়িয়ে দেয় … বার্ধক্য যাকে তাড়িয়েছে তাকে যেন আর দূরে সরিয়ে না দেওয়া হয়।

যে বার্ধক্যের সঙ্গী হয়, মানুষ তাকে ত্যাগ করে এবং তা তার হাতের শক্তি কেড়ে নেয় … এবং পা দুটিকে শৃঙ্খলিত করে ফেলে।

হে দুনিয়া ও এর লালসাকে সবচেয়ে বেশি বর্জনকারী ব্যক্তি … দুনিয়াবিমুখতা ও ত্যাগের ক্ষেত্রে আপনি তাদের মধ্যে সবচেয়ে কঠোর।

মানুষ যদি আজ মন্দার মধ্যে নিপতিত হয় … তবে আপনার কাছেই তাকওয়া ও নেক আমল বিদ্যমান রয়েছে।

যদি তারা আপনাকে হিংসা করে, তবে তারা ইতিপূর্বে কত নেককার মানুষকে হিংসা করেছে … এই যে হিদায়াতের নবী, তিনিও তো হিংসার পাত্র হয়েছিলেন।

আপনার শত্রুদের মধ্য থেকে যারা নিকৃষ্ট কুকুর সদৃশ, তারা যেন কঠিন ও মজবুত পাথরে কামড় দিয়ে কষ্ট পায়। আপনি এমন এক ব্যক্তির নাম ধারণ করেছেন যার চরিত্রের সাথে আপনার মিল রয়েছে—ইনসাফ ও ফযিলতের ক্ষেত্রে আপনি সুলাইমান ইবনে দাউদ।

তাঁর মাধ্যমে প্রশংসা করুন যেমনটি অতীত রাজাদের মধ্যে করা হতো … আর আপনি বর্তমানে অবশিষ্টদের মাঝে প্রশংসিত হয়েছেন।

আবু আল-কাসিম বলেন: 'আল-গারীফ' অর্থ ঘন বন, তেমনি 'আল-গাবাহ', 'আল-খাইস', 'আল-কাবিল' এবং 'আল-গারাফ' হলো এমন গাছ যা দিয়ে চামড়া পাকা করা হয়। 'আল-মু'দিলাত' হলো 'মু'দিলাহ'-এর বহুবচন, যার অর্থ অত্যন্ত কঠিন বিষয়াবলি। এ থেকেই বলা হয় 'আদালাতিল মারআহ', যখন প্রসবের সময় সন্তান আটকে যায় এবং বের হতে পারে না। আর 'আদালা আর-রাজুলু ইবনাতাহু' তখন বলা হয় যখন কোনো ব্যক্তি তার কন্যাকে বিয়ে দেওয়া থেকে বিরত রাখে। 'আল-উদ্বাল' হলো এমন কঠিন রোগ যার কোনো প্রতিষেধক নেই। 'আল-মুনিফ' অর্থ উচ্চ। 'আল-আনিফ' হলো নম্রতার বিপরীত। কবির উক্তি: 'তরাহুন্না সুরান নাহওয়ানা', এটি 'আসওয়ার' ও 'সাওরা'-এর বহুবচন; অর্থাৎ আমাদের প্রতি অনুরাগী। এটি 'সরাফতুশ শাইআ' থেকে এসেছে, যখন তুমি কোনো কিছুকে ঘোরাও বা বাঁকা করো। 'আস-সাইদ' হলো 'আসইয়াদ' ও 'সাইদা'-এর বহুবচন, যারা অহংকারে ঘাড় বাঁকা করে চলে। এর মূল হলো 'আস-সাইদ', যা উটের ঘাড়ের একটি রোগ যা ঘাড়কে একপাশে হেলে দেয়। 'আল-আখাশিব' হলো 'আখশাব'-এর বহুবচন যার অর্থ মোটা দড়ি এবং 'আস-সুলব' হলো শান দেওয়ার পাথর।

আখফাশ আমাদের কাছে ইবনুল মু'তায-এর কবিতা আবৃত্তি করেছেন: (খাফিফ ছন্দ)

মায়াবী দুই চোখের অধিকারী ব্যক্তি বিমুখতা প্রকাশ করেছে … আল্লাহ তাকে লাবণ্যের অনন্য রূপ দিয়ে সৃষ্টি করেছেন।

প্রিয়তমের চোখের পলক বন্ধ করার আহ্বানে আমার অন্তর সাড়া দিয়েছে … তার বিচ্ছেদ থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো উপায় আত্মা খুঁজে পায়নি।

আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর রহম করুন যে প্রেমে ব্যাকুল হয়ে অশ্রু বিসর্জন দেয় … যার অন্তরের আশা পূরণ হওয়া নির্ধারিত হয়নি।

সে বিলাপ করে রাত কাটিয়ে দেয় তার বিরহে … সৌন্দর্য যার গাল দুটিতে গোলাপ ফুটিয়েছে।

ইবনুল আনবারি আমাদের কাছে ইবনুল মু'তায-এর কবিতা আবৃত্তি করেছেন: (বাসিত ছন্দ)

আল্লাহ তাকে বিনিদ্র না করুন যে আমাকে নির্ঘুম রজনী উপহার দিয়েছে … এবং আমার অন্তরে প্রেমের আগুন ঢেলে দিয়েছে যার ফলে তা পুড়ে ভস্ম হয়েছে।

এক পূর্ণিমা চাঁদ আমাকে হত্যা করার সংকল্প নিয়ে আমার সামনে এল … তার রূপের আলো তার চেহারা থেকে অন্ধকারকে হটিয়ে দিচ্ছিল।

মাথা থেকে পা পর্যন্ত তার মাঝে ভিন্ন ভিন্ন রূপের সমাহার … এমন অভিনব সৌন্দর্য যা দৃষ্টিকে স্থির করে দেয়।

তার মাঝে কত বুদ্ধি আর কত দৃষ্টি যে বিভ্রান্ত হয়েছে … কত অন্তর যে দিশেহারা হয়েছে আর কত যে স্পন্দিত হয়েছে।

হে আমার সুস্থ শরীরকে অসুস্থতার উত্তরাধিকার প্রদানকারী … আমাকে দ্রুত মুক্তি দিন, নতুবা আমার শেষ নিঃশ্বাসের সাথে মিলিত হোন।

আপনি আমার দৃষ্টির আড়াল হওয়ার পর থেকে এই প্রবল আকাঙ্ক্ষা … আমার ধৈর্যের মাঝে কোনো লেশমাত্র রাখেনি।

যেই প্রতিশ্রুতির আশা আমি করছিলাম তা বিলীন হয়ে গেছে … আর আমার নিরাশা আমার সকল আশার পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে।

আমিই প্রথম গোলাম নই যে তার হাত তুলেছে … তার মনিবের করুণা ভিক্ষা করেছে কিন্তু তা পায়নি।

আমি সেই পেয়ালাকে হিংসা করি যখন সে তার ওষ্ঠ স্পর্শ করে … এমনকি তলোয়ারের উষ্ণতা আলিঙ্গন করে রাত অতিবাহিত করে।
(খণ্ড: ১) আখবারু আবিল কাসিম আয-যুজ্জাজি (পৃষ্ঠা: ২৭)
مزججا كمه في مشية عبثا … لا يتقي في دمه غيظا ولا حنقا

أدار في خده صدغا يزرفنه … وقد كسبا جيبه من شعره حلقا

‌‌مسألة في القرآن

قوله عز وجل: (ثم لننزعّن من كل شيعة أيهم أشد على الرحمن عتيّا) فيها ستة أقوال، ثلاثة للبصربين وثلاثة للكوفيين، قال سيبويه: أيهم ههنا بتأويل، الذي وهو في موضع نصب بوقوع النزع عليه ولكنه بني على الضم لأنه وصل باسم واحد، ولو وصل بجملة لأعرب، وأشد خبر ابتداء مضمر تقديره هو أشد، وعتيا منصوب على التمييز ولو أظهر المبتدأ لنصب أي فقيل: لننزعن من كل شيعة أيهّم هو أشد. وقال الخليل: هذا على الحكاية كأنه قيل لهم لننزعن من كل شيعة الذي يقال أنهم أشد فقال سيبويه هذا غلط وألزمه أن يجيز لأظربن الفاسق الخبيث بالرفع على تقدير لأضربن الذي يقال له هو الخبيث. وقال يونس: الفعل ملغى وأي مرفوع بالابتداء وأشد خبره كما يقال عملت أيهم عندك. قال سيبويه: وهذا أيضا غلط لأنه لا يجوز أن يلغى إلا أفعال الشك واليقين نحو ظننت وعلمت وبابهما. وهو كما قال. وقال الفراء: ثم لننزعن من كل شيعة أيهم أشد. أي لننزعن بالنداء فينادي بهم إليهم أشد، وله قول في هذا وهو أنه قال: يجوز أن يكون القول واقعا على موضع من أشد. وله فيه قول ثالث، قال: يجوز أن يكون معناه ثم لننزعن من اللذين تشايعوا فتنضروا بالتشايع أيهم أشد، فتكون أي في صلة التشايع. قال أبو القاسم: وأجود هذه الأقوال في هذا قول سيبويه، والقول الآخر من قول الفراء الذي ختمنا به المسألة.

‌‌مسألة من الصلات

اعلم أن الذي، ومن، وما، وأيا، والألف واللام أسماء ناقصة في الخبر لا تتم إلا بصلة وعائد وعلى غير معرفة إلا أيا وحدها فإنها معربة، وإنما لم تعرب هذه الأسماء لأنها ناقصة لا تكمل إلا بصلة وعائد فصارت كبعض حروف الاسم، وأبعاض الحروف لا تستحق الأعراب وإنما يستحق الاسم الأعراب بكامله، وأيضا فلما صارت مبهمات ضارعت بإبهامها حروف. المعاني الدالّة على ما وضعت لدلالة مشاعة فلما ضارعت هذا الأسماء الحروف لم تعرب لمضارعتها ما لا يعرب مثله، فإذا ثنيّت الذي وحدها أعربتها فقلت: اللذان في الدار أخواك، ومررت باللذين عندك، وإنما أعربت في التثنية لأنها فارقت حروف المعاني لأن حروف المعاني لا تثنى ولا تجمع ولذلك صارت الأسماء المبنيات كلها ما جاز منها فيه التثنية معربة إذا ثنيت، فإذا جمعت الذي في القرب من يوقعه بلفظ الواحد على الجميع ولا يعربه فيقول: الذي في الدار الزيدون، قال الله تعالى: (والذي جاء بالصدق وصدق به أولئك هم المتقون) وقال: (مثلهم كمثل الذي استوقد نارا فلما أضاءت ما حوله ذهب الله بنورهم) . ومنهم من جعله بلفظ الجميع ولا يعربه فيقول: رأيت الذي عندك، وجاءني الذي عندك، ويقول هو جمع على حد التثنية فصار كأنه اسم واحد واقع على الجميع فلذلك لم يعرب. ومنهم من يعربه ويجعله جمعا سالما فيقول: جاءني الذون عندك، ومررت بالذين عندك، ورأيت الذي عندك، قال الشاعر في هذه اللغة: الكامل

وبنو نويجية الذين كأنهم … معط مخرّمة من الخزّان

فأن قيل: لم أعربت؟ أي في الخبر وهي اسم ناقص يحتاج إلى صلة وعائد كما تحتاج إليه الذي واخواتها ولم تعرب الذي وأخواتها؟ فالجواب في ذلك: إن أيا اسم تمكن بالإضافة فأعرب لأنه لا يعقل معناه إلا بما يضاف إليه فما أضيف إليه أخرجته الإضافة إلى التمكن فأعرب، ألا ترى أّن أمس مبنية على الكسر فإذا أضفنها أعربتها فقلت: مضى أمسك بما فيه، وقد كان أمسنا أطيب من يومنا، وكذلك أيّ لما أضيفت وتمكنت فأعربت ثم أفردت فحمل أفرادها على ذلك فأعرب لأن الأعراب قد ثبت فيه قبل أفراده. فأن قال: فلم لم تضف الذي ومن وما وسائر ذلك من الأسماء النواقص؟ فالجواب فيه: أن الذي معرف بالألف واللام، ولا تجتمع الإضافة معها. ومن وما أشدّ إبهاما من الذي لأنهما يكونان استفهاما فيضارعان ألف الاستفهام ويكونان جزءا فيضارعان الجزاء فصارتا كهو إبهاما من أيّ فلم جز أضافتهما، ولذلك لم يثنّيا ولم يجمعا ولم يؤنثا كما فعل ذلك بالذي. فاعرف ذلك.
বৃথা পদচারণায় গর্বভরে আস্তিন গুটিয়ে নিয়েছে … সে তার রক্তের কোনো ক্রোধ বা রোষকে ভয় পায় না।

গণ্ডদেশে সে এমন অলকগুচ্ছ দুলিয়েছে যা তাকে শোভিত করছে … আর তার চুলের কারণে কলারে রিংয়ের মতো কুণ্ডলী তৈরি হয়েছে।

‌‌কুরআন সংক্রান্ত একটি মাসআলা

মহান আল্লাহর বাণী: (অতঃপর আমি প্রত্যেক দল থেকে তাদেরকেই টেনে বের করব যারা পরম করুণাময়ের প্রতি বিদ্রোহে সবচেয়ে বেশি উদ্ধত ছিল) - এতে ছয়টি মত রয়েছে, যার তিনটি বসরীয়দের এবং তিনটি কূফীয়দের। সিবওয়াইহ বলেন: এখানে ‘আইয়ুহুম’ শব্দটি ‘যিনি/যারা’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। ‘টেনে বের করা’ ক্রিয়াটি এর ওপর আপতিত হওয়ার কারণে এটি নসব-এর অবস্থানে রয়েছে, কিন্তু এটি পেশের ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয়, কারণ এটি একটি একক বিশেষ্যের সাথে যুক্ত হয়েছে। যদি এটি কোনো বাক্যের সাথে যুক্ত হতো, তবে তা রূপান্তরশীল বা পরিবর্তনীয় হতো। আর ‘সবচেয়ে বেশি উদ্ধত’ শব্দটি একটি উহ্য উদ্দেশ্যের বিধেয়, যার মূল রূপ হলো ‘সে সবচেয়ে বেশি উদ্ধত’। আর ‘উদ্ধত’ শব্দটি এখানে বিশেষায়িতকরণ হিসেবে নসব অবস্থায় আছে। যদি উদ্দেশ্যটি প্রকাশ করা হতো তবে ‘আই’ শব্দটি নসব হতো এবং বলা হতো: ‘আমি প্রত্যেক দল থেকে তাদেরকেই টেনে বের করব যারা সবচেয়ে বেশি উদ্ধত’। খলীল বলেন: এটি বর্ণনামূলক ভঙ্গি, যেন বলা হয়েছে ‘আমি প্রত্যেক দল থেকে তাদের টেনে বের করব যাদের সম্পর্কে বলা হয় যে তারা সবচেয়ে বেশি উদ্ধত’। সিবওয়াইহ বলেন এটি ভুল এবং তিনি একে খণ্ডন করে বলেন যে, তাহলে তো ‘আমি অবশ্যই পাপাচারী খবিসকে প্রহার করব’ বাক্যটিতে ‘খবিস’ শব্দটিকে পেশ দিয়ে পড়া বৈধ হয়ে যাবে, এই ধারণায় যে ‘যাকে খবিস বলা হয় তাকে আমি প্রহার করব’। ইউনুস বলেন: এখানে ক্রিয়াটি অকার্যকর এবং ‘আই’ শব্দটি উদ্দেশ্য হিসেবে পেশ যুক্ত, আর ‘সবচেয়ে বেশি উদ্ধত’ তার বিধেয়, যেমন বলা হয় ‘আমি জেনেছি তোমার কাছে কে আছে’। সিবওয়াইহ বলেন: এটিও ভুল, কারণ কেবল সন্দেহ বা নিশ্চয়তার ক্রিয়া যেমন ‘আমি মনে করেছি’ ও ‘আমি জেনেছি’ এবং এই জাতীয় শব্দ ছাড়া অন্য ক্রিয়াকে অকার্যকর করা বৈধ নয়। বিষয়টি তেমনই যেমনটি তিনি (সিবওয়াইহ) বলেছেন। ফাররা বলেন: ‘অতঃপর আমি প্রত্যেক দল থেকে তাদেরকেই টেনে বের করব যারা সবচেয়ে বেশি উদ্ধত’—অর্থাৎ আহ্বানের মাধ্যমে তাদের টেনে বের করা হবে। তার আরেকটি মত হলো, ‘সবচেয়ে বেশি উদ্ধত’ এর অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে ‘আই’ শব্দটি ব্যবহৃত হতে পারে। তার তৃতীয় একটি মত হলো: এর অর্থ হতে পারে—অতঃপর আমি তাদের মধ্য থেকে টেনে বের করব যারা দলাদলি করত এবং দলাদলির কারণে দাম্ভিক হয়ে উঠেছিল যে তাদের মধ্যে কে বেশি উদ্ধত, এমতাবস্থায় ‘আই’ শব্দটি সেই দলাদলির অনুষঙ্গ হিসেবে থাকবে। আবু কাসিম বলেন: এই বিষয়ে সিবওয়াইহ-এর মতটিই সবচেয়ে উৎকৃষ্ট, আর ফাররার শেষোক্ত মতটি যা দিয়ে আমরা এই মাসআলাটি শেষ করেছি।

‌‌সম্বন্ধীয় পদ সংক্রান্ত একটি মাসআলা

জেনে রাখুন যে, ‘যিনি/যারা’, ‘যে/কে’, ‘যা/কি’, ‘কোনটি/যেটি’ এবং ‘আলিফ-লাম’—এগুলো খবরের ক্ষেত্রে অসম্পূর্ণ বিশেষ্য, যা সম্বন্ধীয় বাক্য এবং পুনরাবর্তনকারী সর্বনাম ছাড়া পূর্ণ হয় না। এগুলো ‘আই’ ব্যতীত অপরিবর্তনীয়। এই বিশেষ্যগুলো অপরিবর্তনীয় হওয়ার কারণ হলো এগুলো অসম্পূর্ণ এবং সম্বন্ধীয় বাক্য ও সর্বনাম ছাড়া পূর্ণতা পায় না, ফলে এগুলো বিশেষ্যের খণ্ডাংশের মতো হয়ে গেছে। আর অক্ষরের খণ্ডাংশ রূপান্তর বা ই’রাব পাওয়ার যোগ্য নয়, বরং পূর্ণ বিশেষ্যই রূপান্তর বা ই’রাব পাওয়ার যোগ্য। অধিকন্তু, যখন এগুলো অস্পষ্ট হয়ে গেল, তখন তাদের অস্পষ্টতার কারণে সেগুলো অর্থবোধক অব্যয়ের সাদৃশ্যপূর্ণ হলো। যখন এই বিশেষ্যগুলো অব্যয়ের সাদৃশ্য ধারণ করল, তখন অব্যয় যেমন রূপান্তরহীন থাকে, এগুলোও তেমনি অপরিবর্তনীয় হয়ে গেল। তবে যখন আপনি শুধুমাত্র ‘যিনি/যারা’ শব্দটিকে দ্বিবচন করবেন, তখন আপনি তাকে রূপান্তরশীল হিসেবে ব্যবহার করবেন। আপনি বলবেন: ‘বাড়িতে যারা (দ্বিবচন) আছে তারা তোমার দুই ভাই’, এবং ‘তোমার কাছে থাকা দুই ব্যক্তির পাশ দিয়ে আমি অতিক্রম করলাম’। দ্বিবচনের ক্ষেত্রে একে রূপান্তরশীল করা হয়েছে কারণ এটি তখন অর্থবোধক অব্যয় থেকে আলাদা হয়ে গেছে, কারণ অব্যয়ের দ্বিবচন বা বহুবচন হয় না। এই কারণেই অপরিবর্তনীয় বিশেষ্যগুলোর মধ্যে যেগুলোর দ্বিবচন করা সম্ভব, দ্বিবচন করা হলে সেগুলো রূপান্তরশীল হয়ে যায়। এরপর যখন ‘যিনি/যারা’ শব্দটি বহুবচন হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন কেউ কেউ একে একবচনের শব্দেই বহুবচনের অর্থে ব্যবহার করেন এবং একে রূপান্তরশীল করেন না। তারা বলেন: ‘বাড়িতে যারা আছে তারা যায়েদগণ’। আল্লাহ তা’আলা বলেন: (এবং যিনি সত্য নিয়ে এসেছেন এবং তা সত্য বলে গ্রহণ করেছেন, তারাই তো মুত্তাকী) এবং তিনি বলেছেন: (তাদের উদাহরণ সেই ব্যক্তির মতো যে আগুন জ্বালাল, অতঃপর যখন তা তার চারপাশ আলোকিত করল, তখন আল্লাহ তাদের জ্যোতি কেড়ে নিলেন)। তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে বহুবচনের শব্দে ব্যবহার করেন কিন্তু রূপান্তরশীল করেন না, যেমন তারা বলেন: ‘আমি তাকে দেখেছি যে তোমার কাছে আছে’ এবং ‘আমার কাছে সে এসেছে যে তোমার কাছে আছে’। তিনি বলেন এটি দ্বিবচনের ওজনে বহুবচন, ফলে এটি একটি একক বিশেষ্যের মতো হয়ে গেছে যা সবার জন্য প্রযোজ্য, তাই এটি অপরিবর্তনীয় রয়ে গেছে। আবার কেউ কেউ একে রূপান্তরশীল করেন এবং একে সুস্থ বহুবচন হিসেবে গণ্য করেন। তারা বলেন: ‘তোমার কাছে যারা আছে তারা এসেছে’, ‘তোমার কাছে যারা আছে তাদের পাশ দিয়ে আমি গেলাম’ এবং ‘তোমার কাছে যারা আছে তাদের আমি দেখলাম’। কবি এই ভাষায় (কামিল ছন্দে) বলেছেন:

আর নুয়াইজিইয়াহ-এর বংশধরগণ তারাই যারা যেন … কোষাগার থেকে কর্তিত রেশমি বস্ত্র দানকারী।

যদি প্রশ্ন করা হয়: খবরের ক্ষেত্রে ‘আই’ কেন রূপান্তরশীল হলো, অথচ এটিও একটি অসম্পূর্ণ বিশেষ্য যার সম্বন্ধীয় বাক্য ও সর্বনাম প্রয়োজন হয়—যেমনটি ‘যিনি/যারা’ এবং তার সমজাতীয় শব্দগুলোর প্রয়োজন হয়, কিন্তু ‘যিনি/যারা’ ও তার সমজাতীয়গুলো তো রূপান্তরশীল হয়নি? এর উত্তর হলো: ‘আই’ এমন একটি বিশেষ্য যা সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার কারণে শক্তি অর্জন করেছে, তাই এটি রূপান্তরশীল হয়েছে। কারণ এর অর্থ তার পরবর্তী সম্বন্ধযুক্ত পদ ছাড়া বোঝা সম্ভব নয়। যার সাথে এটি সম্বন্ধযুক্ত হয়, সেই সম্বন্ধ তাকে রূপান্তরশীল করে তোলে। আপনি কি দেখেন না যে ‘গতকাল’ শব্দটি জের-এর ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয়, কিন্তু যখন আমরা একে সম্বন্ধযুক্ত করি তখন আপনি একে রূপান্তরশীল করেন এবং বলেন: ‘তোমার গতকাল তাতে যা ছিল তা নিয়ে অতিবাহিত হয়েছে’, এবং ‘আমাদের গতকাল আমাদের আজকের দিনের চেয়ে উত্তম ছিল’। একইভাবে ‘আই’ যখন সম্বন্ধযুক্ত হলো তখন তা শক্তিশালী হলো এবং রূপান্তরশীল হলো। এরপর যখন একে এককভাবে ব্যবহার করা হলো, তখন সেই সম্বন্ধযুক্ত অবস্থার ওপর ভিত্তি করেই একে রূপান্তরশীল রাখা হলো, কারণ একক ব্যবহারের পূর্বেই এতে রূপান্তরশীলতা সাব্যস্ত হয়ে গিয়েছিল। যদি প্রশ্ন করা হয়: তবে কেন ‘যিনি/যারা’, ‘যে/কে’, ‘যা/কি’ এবং অন্যান্য অসম্পূর্ণ বিশেষ্যগুলোকে সম্বন্ধযুক্ত করা হলো না? উত্তর হলো: ‘যিনি/যারা’ শব্দটি আলিফ-লাম দ্বারা নির্দিষ্ট, আর আলিফ-লাম ও সম্বন্ধ বা ইদাফাত একত্রে যুক্ত হয় না। আর ‘যে/কে’ ও ‘যা/কি’ শব্দ দুটি ‘যিনি/যারা’-এর চেয়েও বেশি অস্পষ্ট, কারণ এগুলো প্রশ্নবোধক হিসেবেও ব্যবহৃত হয় ফলে প্রশ্নবোধক হামযার সাদৃশ্য রাখে, আবার এগুলো শর্তের অর্থ প্রদান করে ফলে শর্তের অব্যয়ের সাদৃশ্য রাখে। ফলে অস্পষ্টতার দিক থেকে এগুলো ‘আই’-এর চেয়ে ‘সে’ সর্বনামের মতো হয়ে গেছে, তাই এগুলোর সম্বন্ধযুক্ত হওয়া বৈধ হয়নি। এই কারণেই এগুলোকে দ্বিবচন, বহুবচন বা স্ত্রীলিঙ্গ করা হয় না, যা ‘যিনি/যারা’-এর ক্ষেত্রে করা হয়। এটি জেনে রাখুন।
(খণ্ড: ১) আখবারু আবিল কাসিম আয-যুজ্জাজি (পৃষ্ঠা: ২৮)
اخبرنا ابن الأنباري قال اخبرنا الختلّي قال حدثنا أبو يعلي الساجي قال حدثنا الأصمعي قال حدثنا سفيان بن عيينة قال قال علي بن أبي طالب رضي الله عنه: (لا يقيم أمر الله إلاّ من لا يصأنع ولا يضارع ولا يتبع المطامع. قوله يضارع: من الضراعة وهو الضعف، يقال: ضرع الرجل يضرع ضرعا وضراعة: إذا ضعف، ورجل ضرع وقوم ضرع ونوة كذلك. والضرع: الضمير أيضا، والمضارعة في غير هذا: المشابهة، قال الزجاج: اشتقاقها من الضرع يقال تضارع الفصيلان: إذا شربا من ضرع واحد وهو الخلف وهذا مستعار.

اخبرنا ابن الأنباري قال اخبرنا الختلي عن أبي يعلى عن الأصمعي قال حدثنا سفيان بن عيينة قال علي صلوات الله عليه: إذا تعلمتم العلم فاكظموا عليه ولا تخلطوه بلعب ولا هزل فتمجه القلوب.

اخبرنا ابن دريد قال اخبرنا عمي الحسي بن دريد عن أبيه قال حدثنا هشام بن محمد الكلبي عن أبيه الكلبي وعن أبي مسكين وعن عبد الرحمن بن المعرا أبي حسين زهير الدوسي قال: كأن حممة بن رافع بن الحارث الدوسي من أجمل العرب وكان له جمة يقال لها الرطبة، وكأن يغسلها بالماء ثم تمتصها فيحتقن فيها الماء فإذا مضى لها يومان حلها ثم نقضها فتملأ حلساء ماء فحج على فرس له ذنوب فنظرت إليه الحمامة الكنانية وهي خناس وكانت من أجمل النساء فوقع بقلبها وكانت تحت رجل من كنانة يقال له ابن الحمارس الكناني فقالت لحممة: من أنت فو الله ما أدري أوجهك أحسن أم شعرك أم فرسك، ما أنت بالنجدى المثلب ولا التهامي القر، وقد وقعت في نفسي فاصدقني؟ فقال: أنا رجل من الأزد ثم من الدوس ومنزلي بثروق قالت: فأنت أحب الناس إليّ فاحملني معك. فارتدفها خلفه ومضى بها إلى أهله. فلما أقدمها أرضه قال لهما: قد علمت كيف كان قربك معي ووالله لا قربت إلى رجل بعدي، فقطع عرقوبها فأقامت عنده فولدت عمرو بن حممة، وكأن سيدا كريما، وولد عمرو ذا النور الذي وفد على رسول الله صلى الله عليه وسلم، وسأله آية تكون له ليرجع إلى قومه ويدعوهم إلى الأيمان فأعطي نورا بين عينيه كأنه قنديل يزهر، فقال: اللهم في غير وجهي. لئلا يظن قومي أنه مثلة لمفارقتي دينهم، فجعل ذلك النور في طرف سوطه في حديث طويل، فسمي ذا النور بذلك.

وخرج ابن الحمارس في طلب امرأته خناس فلم يقدر عليها وأنشأ يقول: الوافر

ألا حيّ الخناس على قلاها … وأن شحطت وأن بعدت نواها

تبدلت البطيخ وأرض دوس … بجملة فارس حمّ ذراها

وقد نبئتها جاعت وذلّت … وأن الحر من طود سواها

وقد نبئتها نخلت ركيبا … وأنوارا معرقة شواها

وقد نبئتها ولدت غلاما … فلا ثبت الغلام ولا هنأها

فلما أنشد عمر بن الخطاب هذا الشعر قال: قد والله ثبت الغلام وهنأها. أنشدنا الأخفش قال أنشدنا ثعلب قال أنشدنا ابن الأعرابي: البسيط

مثل البرام غدا في أصدة خلق … لم يستعن وحوامي الموت تغشاه

فرحت عنه بصرعينا لأرملة … وبائس جاء معناه كمعناه

قال ابن الأعرابي يصف سائلا فقال: هو مثل البرام يعني القراد، شبهه به لنحافته وضؤولته. ويقال: هو القراد والبرام والطماح والعل والقرشام والحجن والحمنة والحمنانة والحشدل. واللام زائدة، قال: ومنه الحسد كأن الحسد يلصق بقلب الإنسان كما يلصق القراد بجلد البعير فيمصه. قال وأما قوله: غدا في أصدة خلق فان الأصدة: الصدرة، يقال: هي الصّدرة والأصرة والمجول والبقير والخيعها، والفدعة والعلقة والاتب، كله بمعنى واحد. وقوله: لم يستعن: لم يحلق عانته، وحوامي الموت: أسبابه وأصله حوايم فقلب. بصرعينا: ابل كثيرة مختلفة المشي لكثرتها والمشي جمع مشية.

أنشدنا نفطويه: الطويل

إذا جاءني منها الرسول نعيتها … خلوت بنفسي حيث كنت من الأرض

فابكي لنفسي رحمة من بكائهاويبكي من الهجران بعضي على بعضي وأني لأهواها على سوء فعلهاواقضي على نفسي بها بالذي أقضي

فحتى متى روح الهوى لا ينالني … وحتى متى أيام سخطك لا تمضي
ইবনে আল-আনবারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আল-খুতাল্লি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আবু ইয়ালা আল-সাজি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আল-আসমাঈ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا), তিনি বলেন: সুফিয়ান ইবনে উয়ায়না আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আলী ইবনে আবু তালিব (রা.) বলেছেন: "আল্লাহর দ্বীন কেবল সেই ব্যক্তিই প্রতিষ্ঠিত করতে পারে যে তোষামোদ করে না, দুর্বলতা (يضارع) প্রদর্শন করে না এবং লালসার অনুসরণ করে না।" তাঁর উক্তি 'যুদারিউ' (يضارع): এটি 'আদ-দ্বারাআ' থেকে উদ্ভূত যার অর্থ হলো দুর্বলতা (الضعফ)। বলা হয়: যখন কোনো ব্যক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে তখন 'দ্বারাআ আর-রাজুল' ব্যবহৃত হয়। 'দারু' ব্যক্তি এবং 'দারু' সম্প্রদায়—উভয় ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য। আর 'আদ-দারু' (الضرع) বলতে অন্তঃকরণও বোঝায়। এছাড়া অন্য ক্ষেত্রে 'আল-মুদারাআহ' (المضارعة) বলতে সাদৃশ্য (المشابهة) বোঝানো হয়। আল-জাজ্জাজ বলেন: এর ব্যুৎপত্তি ওলান (الضرع) থেকে। বলা হয়: উটের দুটি বাচ্চা 'তাদারাআ' করেছে অর্থাৎ তারা একই ওলান থেকে দুধ পান করেছে। আর এটি একটি রূপক ব্যবহার।

ইবনে আল-আনবারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আল-খুতাল্লি আমাদের আবু ইয়ালা থেকে এবং তিনি আল-আসমাঈ থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান ইবনে উয়ায়না আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আলী (আ.) বলেছেন: "যখন তোমরা জ্ঞান অর্জন করবে, তখন তা সংবরণ করে রাখো এবং একে খেলাধুলা বা তামাশার সাথে মিশ্রিত করো না, অন্যথায় অন্তরসমূহ তা প্রত্যাখ্যান করবে।"

ইবনে দুরেয়দ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আমার চাচা আল-হুসাইন ইবনে দুরেয়দ তাঁর পিতা থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: হিশাম ইবনে মুহাম্মদ আল-কালবি তাঁর পিতা আল-কালবি থেকে, এবং আবু মিসকিন থেকে, এবং আবদুর রহমান ইবনে আল-মুয়ারা আবু হুসাইন জুহায়র আদ-দাওসি থেকে আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا), তিনি বলেন: হুমামাহ ইবনে রাফি ইবনে আল-হারিস আদ-দাওসি ছিলেন আরবদের মধ্যে অন্যতম সুদর্শন ব্যক্তি। তাঁর মাথায় একগুচ্ছ চুল ছিল যাকে 'আর-রাতবাহ' বলা হতো। তিনি তা পানি দিয়ে ধৌত করতেন এবং তা পানি শুষে নিত। দুই দিন অতিবাহিত হলে তিনি তা খুলতেন এবং ঝাড়তেন, তখন তা থেকে প্রচুর পানি ঝরত। তিনি তাঁর দীর্ঘ লেজওয়ালা ঘোড়ায় চড়ে হজ করতে যান। তখন কিনানা গোত্রের আল-খুনাস নামক এক নারী তাঁর দিকে তাকাল, যে ছিল অত্যন্ত সুন্দরী। তার হৃদয়ে হুমামাহর প্রতি অনুরাগ সৃষ্টি হলো। সে ইবনুল হিমারাস আল-কিনানি নামক এক ব্যক্তির স্ত্রী ছিল। সে হুমামাহকে বলল: "তুমি কে? আল্লাহর কসম, আমি জানি না তোমার চেহারা বেশি সুন্দর নাকি তোমার চুল নাকি তোমার ঘোড়া। তুমি নিন্দিত নজদি নও, আবার শীতল আবহাওয়ার তিহামি নও। তুমি আমার হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছ, তাই আমাকে সত্য বলো।" তিনি বললেন: "আমি আজদ গোত্রের দাওস শাখার লোক এবং আমার বাড়ি ‘সারুক’ নামক স্থানে।" সে বলল: "তুমিই আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় মানুষ, আমাকে তোমার সাথে নিয়ে চলো।" তিনি তাকে নিজের পেছনে বসালেন এবং নিজ পরিবারের কাছে নিয়ে গেলেন। যখন তিনি তাকে নিজ দেশে নিয়ে এলেন, তখন তিনি তাকে বললেন: "তুমি জানো আমার সাথে তোমার সম্পর্ক কেমন ছিল, আল্লাহর কসম, আমার পরে কোনো পুরুষ তোমার কাছে আসবে না।" এরপর তিনি তার পায়ের রগ কেটে দিলেন। সে তাঁর কাছে থেকে গেল এবং আমর ইবনে হুমামাহকে জন্ম দিল। আমর ছিলেন একজন সম্মানিত নেতা। আমরের ঘরে ‘জুন-নূর’ (আলোর অধিকারী) জন্মগ্রহণ করেন, যিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে প্রতিনিধি হয়ে এসেছিলেন। তিনি একটি নিদর্শনের প্রার্থনা করেছিলেন যাতে তিনি তাঁর কওমের কাছে ফিরে গিয়ে তাদের ঈমানের দাওয়াত দিতে পারেন। তখন তাঁর দুই চোখের মাঝখানে প্রদীপের মতো উজ্জ্বল আলো দান করা হলো। তিনি বললেন: "হে আল্লাহ, এটি আমার চেহারা ছাড়া অন্য কোথাও দিন।" যাতে তাঁর কওম মনে না করে যে এটি তাদের ধর্ম ত্যাগ করার কারণে কোনো শাস্তি বা বিকৃতি (مثلة)। তখন সেই নূর বা আলো তাঁর চাবুকের অগ্রভাগে স্থানান্তরিত হলো—এটি একটি দীর্ঘ হাদিস। এ কারণেই তাঁকে ‘জুন-নূর’ বলা হয়।

ইবনুল হিমারাস তার স্ত্রী খুনাসের খোঁজে বের হলেন কিন্তু তাকে পেলেন না। তখন তিনি ‘ওয়াফির’ ছন্দে এই কবিতা আবৃত্তি করলেন:

ওহে, খুনাসকে অভিবাদন জানাও তার প্রতি ঘৃণা থাকা সত্ত্বেও … যদিও সে দূরে চলে গেছে এবং তার গন্তব্য এখন অনেক দূর।

সে তরমুজ এবং দাওসের ভূমিতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে … পারস্যের ঘোড়ার আরোহণের পরিবর্তে।

আমাকে জানানো হয়েছে যে সে ক্ষুধার্ত ও লাঞ্ছিত হয়েছে … অথচ স্বাধীন মানুষ উচ্চ মর্যাদা লাভ করে।

আমাকে জানানো হয়েছে যে সে শস্য ঝাড়াই করছে … এবং আগুনের তাপে তার হাত-পা দগ্ধ হয়েছে।

আমাকে জানানো হয়েছে সে এক পুত্র সন্তান জন্ম দিয়েছে … সেই পুত্র যেন বেঁচে না থাকে এবং সে যেন তাকে নিয়ে সুখী না হয়।

যখন উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) এই কবিতা শুনলেন, তিনি বললেন: "আল্লাহর কসম, সেই পুত্র বেঁচে আছে এবং সে তাকে আনন্দিত করেছে।" আল-আখফাশ আমাদের কবিতা শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: সা'লাব আমাদের কবিতা শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনুল আরাবি আমাদের ‘বাসিত’ ছন্দে শুনিয়েছেন:

সে যেন সেই কীটের মতো যা জরাজীর্ণ পোশাকে সকাল অতিবাহিত করে … সে কোনো সাহায্য চায় না অথচ মৃত্যুর কালো মেঘ তাকে ঘিরে ধরেছে।

আমি তাকে ছেড়ে চলে এলাম এক বিধবা নারীর দুটি পাল নিয়ে … আর এক দুর্ভাগা ব্যক্তি যার অবস্থা আমার মতোই ছিল।

ইবনুল আরাবি একজন যাচকের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন: সে ‘আল-বারাম’ এর মতো অর্থাৎ এঁটেল পোকা। তিনি তার কৃশতা ও ক্ষুদ্রতার কারণে তাকে এর সাথে তুলনা করেছেন। বলা হয়: ‘আল-কিরাদ’, ‘আল-বারাম’, ‘আত-তাম্মাহ’, ‘আল-ইল’, ‘আল-কিরশাম’, ‘আল-হাজান’, ‘আল-হামানাহ’, ‘আল-হামনানা’ এবং ‘আল-হাশদাল’—সবই একই অর্থ। এখানে ‘লাম’ অক্ষরটি অতিরিক্ত। তিনি আরও বলেন: ‘আল-হাসাদ’ (হিংসা) শব্দটিও এখান থেকে এসেছে, যেন হিংসা মানুষের অন্তরের সাথে এমনভাবে লেগে থাকে যেমনটি এঁটেল পোকা উটের চামড়ার সাথে লেগে থাকে এবং রক্ত চুষে নেয়। আর ‘সিদরাহ’ সম্পর্কে তাঁর উক্তি ‘একটি জরাজীর্ণ পোশাকে সকাল অতিবাহিত করল’—এর অর্থ বক্ষাবরণী। একে ‘আসিরাহ’, ‘মিজওয়াল’, ‘বাকির’, ‘খাইআ’আ’, ‘ফাদআহ’, ‘আলাকাহ’ এবং ‘ইতব’ও বলা হয়; সবগুলোর অর্থ একই। ‘লাম ইয়াস্তাইন’ (لم يستعن) অর্থ সে তার নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করেনি। আর ‘হাওয়ামিল মাউত’ (حوامي الموت) অর্থ মৃত্যুর কারণসমূহ। ‘বি-সরআইনা’ (بصرعينا) অর্থ অনেক উট যা সংখ্যার আধিক্যের কারণে বিভিন্ন ভঙ্গিতে চলে।

নাফতাওয়াহ আমাদের ‘তাবিল’ ছন্দে শুনিয়েছেন:

যখন তার পক্ষ থেকে কোনো বার্তাবাহক আমার কাছে তার মৃত্যুসংবাদ নিয়ে আসে … তখন আমি একাকী নির্জনে চলে যাই।

আমি নিজের জন্য কাঁদি সেই কান্নার করুণায় এবং বিচ্ছেদের যন্ত্রণায় আমার দেহের এক অংশ অন্য অংশের জন্য কাঁদে। মন্দ আচরণ সত্ত্বেও আমি তাকে ভালোবাসি এবং নিজের বিরুদ্ধে আমি তাই ফয়সালা করি যা করার ছিল।

আর কতকাল প্রেমের প্রশান্তি আমার কাছে পৌঁছাবে না? … আর কতদিন তোমার ক্রোধের দিনগুলো শেষ হবে না?
(খণ্ড: ১) আখবারু আবিল কাসিম আয-যুজ্জাজি (পৃষ্ঠা: ২৯)
اخبرنا الزجاج قال اخبرنا المبرد عن المازني قال حدثني رجل عن الأصمعي ولم اسمعه أنا منه، قال حدثنا خلف الأحمر قال كثير بن هراسة وهو رجل من بني كلاب كأن يبالغ في كلامه: أن من الناس ناسا تهون عليهم إذا عظمتهم وينتقصونك إذا زدتهم، ليس لرضاهم موضع تعرفه، ولا لسخطهم موقع تحذره، فإذا عرفت أولمك فابذل لهم موضع المودّة وامنعهم موضع الخاصة يكن ما بذلت لهم من المودة حائلا دون شرهم، وما منعتهم من الخاصة قاطعاً لحرمتهم.

أنشدنا أبو عبد الله اليزيدي لعمه المنسرح

لا تهن للصديق تكرمه عرضك حتى تعد من خوله

يحمل أثقاله عليك كما … يحمل أثقاله على جمله

اخبرنا الأخفش قال اخبرنا المبرد قال: كتب إسحاق الموصلي إلى عريب المأمونية: الطويل

تقي الله فيمن قد تبلت فؤاده … وغيّبته حتى كأن به سحرا

رعى النجد لا اسمع بيومك إنما … سألتك شيئا ليس يعرى لكم ظهرا

قال: فوقعت في الرقعة: صدقت جعلت فداك ليس يعرى لنا ظهرا ولكنه يملأ مناّ بطنا.

أنشدنا ابن دريد لنفسه يهجو بعض الأغنياء: الرجز

يا عالما مقاله مجهول … لكن ما يقوله محمول

أن فاتك التأويل والتنزيل … ما فاتك التشبيه والتمثيل

مسألة أغفلها الخليل … يرفع فيها الفاعل المفعول

ويبصر المخفوض يستطيل … ويضمر الوافر والطويل

عروضها مفتعل تقول

أنت لها مصطلح معمول

أنشدنا اليزيدي قال أنشدنا الرياشي: الطويل

ولما قضينا من منى كل منسك … ومسح بالأركان من هو ماسح

أخذنا بأطراف الأحاديث بيننا … وسألت بأعناق المطي الأباطح

أخبرنا نفطوية قال اخبرنا الحسين بن إسحاق بن إسحاق بن الحسن قال حدثنا الحسين ابن محمد عن شيبان عن قتادة في قوله تعالى: (وعندهم قاصرات الطرف) أي ما نعات الطرف من النظر إلى غير أزواجهن، والقصر أيضا: العشى وهو القصر ثم القصر وبعده الطفل، طفلت الشمس: إذا دنت للغروب وبعده الجنوح وهو حين تجنح في أفق المغرب أي تميل يقال: قصرك أن تفعل كذا وقصارك وقصراك وقصاراك.

اخبرنا نفطويه قال حدثنا إسحاق بن الحسن عن الحسين بن محمد عن ثسيبان عن قتادة في قوله تعالى: (وتلك نعمة تمنهّا عليّ أن عبدّت بني إسرائيل) قال: قال موسى عليه السلام لفرعون حين عدد عليه تربيته وكونه معه أتمنن عليّ بأن اتخذت بني إسرائيل عبيدا وكانوا أحرارا. يقال: عبّدت الرجل بتشديد الباء وأعبدته: إذا اتخذته عبدا وأنزلته منزلة العبيد، قال الشاعر: البسيط

علام تعبدني قومي وقد كثرت … فيهم أباعر ما شاءوا وعبدان

والنعمة بكسر النون: اليد، والنعّم بفتح الأول التنعمّ، ويقال: مّن فلأن على فلان: إذ اتخذ عنده يدا وأحسن إليه، ومنّ فلأن على فلأن: إذ امتنّ عليه بمعروفه وإحسانه وقرّعه بذلك ومنه يقال آفة الإحسان المن يراد به الامتنان، وقالوا في قوله تعالى ولا تمنن تستكثر أي لا تعط لتأخذ اكثر مما تعطي وليكن عطاؤك لله عز وجل.

اخبرنا الأخفش قال اخبرنا ثعلب عن الرياشي قال حدثنا أبو سلمة الغفاري قال قال لي محمد بن عبد الله بن عثمان بن عفان: جمعتنا أمنا فاطمة بنت الحسين بن علي فقالت: يا بني أنه والله ما قال أهل السنة شيئا في لذاتهم بالسنة إلا وقد قال أهل المرؤات مثله أو اكثر منه بمرؤاتهم فاستتروا بستر الله.

اخبرنا اليزبدي عن عمه أبي القاسم عبيد الله بن محمد قال: دخل سلم الخاسر على الفضل بن الربيع فلما مثل بين يديه أنشأ يقول: المجتث

ينام من ليس يسهر … فليت ذا الصبح أسفر

أليس هذا عجيبا … أموت طورا وأنشر

قيامة كل يوم … على فتى ليس يحشر

الله حسبي وفضل … فما أخاف وأحذر

للفضل عندي أياد … ونعمة ليس تكفر

أن كان مدحي كثيرا … فنائل الفضل أكثر

قال: سل حاجتك؟ قال: توصلني إلى أمير المؤمنين الرشيد. قال: أفعل، وأمر له بخمسمائة دينار وكان على الركوب إلى الدار فحمل معه، فلما دخل على الخليفة وأخذ الناس مجلسهم قال لبعض الغلمان:
আয-যাজ্জাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আল-মুবররাদ আল-মাযিনী থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি আল-আসমাঈ থেকে আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন (حدثني), তবে আমি নিজে তাঁর নিকট থেকে এটি শ্রবণ করিনি। তিনি বলেন: খালাফ আল-আহমার আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন (حدثنا), কাসীর ইবনে হারাসাহ—যিনি বনী কিলাব গোত্রের একজন লোক ছিলেন এবং নিজ কথায় অতিশয়োক্তি করতেন—বলেছেন: মানুষের মাঝে এমন কিছু লোক আছে যাদেরকে আপনি সম্মান করলে আপনি তাদের নিকট তুচ্ছ হয়ে যান এবং আপনি তাদের প্রতি অতিরিক্ত সৌজন্য দেখালে তারা আপনার মর্যাদাহানি করে। তাদের সন্তুষ্টির এমন কোনো সুনির্দিষ্ট স্থান নেই যা আপনি চিনবেন, আর তাদের অসন্তুষ্টির এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যা থেকে আপনি সতর্ক থাকবেন। সুতরাং আপনি যখন তাদের প্রকৃতি চিনতে পারবেন, তখন তাদের প্রতি সাধারণ বন্ধুত্বের দ্বার উন্মুক্ত রাখুন কিন্তু বিশেষ অন্তরঙ্গতার স্থানটি রুদ্ধ রাখুন; তাহলে আপনার পক্ষ থেকে প্রদর্শিত এই বন্ধুত্ব তাদের অনিষ্টের পথে অন্তরায় হবে এবং বিশেষ অন্তরঙ্গতা থেকে তাদের বঞ্চিত রাখা আপনার সম্মান রক্ষাকারী হবে।

আবু আব্দুল্লাহ আল-ইয়াযিদী তাঁর চাচার সূত্রে আল-মানসারীহ ছন্দে আমাদের শুনিয়েছেন:

বন্ধুর প্রতি এমনভাবে নমনীয় হবেন না যাতে নিজের সম্মান বিসর্জন দিয়ে তার দাসে পরিণত হন।

সে তার বোঝা আপনার ওপর চাপিয়ে দেয় যেমন … উট তার পিঠে বোঝা বহন করে।

আল-আখফাশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আল-মুবররাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرনা), তিনি বলেন: ইসহাক আল-মাওসিলী আরীব আল-মামুনিয়্যাহর নিকট আত-তাবীল ছন্দে লিখেছেন:

সেই সত্তার ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করুন যার হৃদয় আপনি জয় করেছেন … এবং তাকে এমনভাবে আড়াল করেছেন যেন তার ওপর জাদু করা হয়েছে।

উচ্চভূমি চারণ করা শেষ হয়েছে, আমি যেন আপনার বিপদের সংবাদ না শুনি; আমি কেবল আপনার কাছে এমন কিছু চেয়েছি যা আপনার কোনো ক্ষতি করবে না।

তিনি বলেন: সেই পত্রের জবাবে তিনি লিখেছেন: আপনি সত্য বলেছেন, আমি আপনার জন্য উৎসর্গিত হই। এটি আমাদের কোনো ক্ষতি করবে না, বরং এটি আমাদের উদর পূর্ণ করবে।

ইবনে দুরাইদ জনৈক ধনবানের নিন্দা করে আমাদের স্বরচিত আর-রাজায ছন্দে শুনিয়েছেন:

হে এমন এক আলিম যার বক্তব্য অজ্ঞাত (مجهول) … কিন্তু তিনি যা বলেন তা অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়।

যদিও আপনার নিকট আয়াতসমূহের ব্যাখ্যা ও অবতীর্ণ হওয়ার জ্ঞান নেই … তবে আপনার মাঝে উপমা ও দৃষ্টান্তের কোনো অভাব নেই।

এমন এক মাসয়ালা যা খলীল ইবনে আহমাদও উপেক্ষা করেছেন … যেখানে ফায়েল (কর্তা) মাফউলকে (কর্ম) রফ’ প্রদান করে।

এবং তিনি মাখফুদ (জের বিশিষ্ট পদ) দীর্ঘ হতে দেখেন … এবং আল-ওয়াফির ও আত-তাবীল ছন্দকে গোপন রাখেন।

এর আরূয (ছন্দ-রূপ) হলো 'মুফতা'ইলুন' … আপনি এর জন্য এক প্রচলিত পরিভাষা।

আল-ইয়াযিদী আমাদের শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আর-রিয়াশী আমাদের শুনিয়েছেন আত-তাবীল ছন্দে:

যখন আমরা মিনার সকল ইবাদত (منسك) সম্পন্ন করলাম … এবং হাজরে আসওয়াদ ও রুকনসমূহ স্পর্শকারীরা তা স্পর্শ করল।

আমরা নিজেদের মাঝে কথোপকথন শুরু করলাম … আর আমাদের বাহনগুলো দ্রুতগতিতে উপত্যকা অতিক্রম করতে লাগল।

নাফতাওয়াইহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আল-হুসাইন ইবনে ইসহাক ইবনে আল-হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ শায়বান থেকে এবং তিনি কাতাদাহ থেকে মহান আল্লাহর বাণী—(এবং তাদের নিকট থাকবে আনত-নয়নাগণ)—প্রসঙ্গে বলেছেন: অর্থাৎ যারা তাদের স্বামী ব্যতীত অন্যের দিকে দৃষ্টিপাত করা থেকে নিজেদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে। 'আল-কাসর' অর্থ সায়াহ্ন বা বিকেল বেলা, যা হলো 'আল-কাসর'। এরপর হলো 'আত-তিফল'; যখন সূর্য অস্ত যাওয়ার নিকটবর্তী হয় তখন বলা হয় 'তিফলাতিশ শামস'। এরপর হলো 'আল-জুনুহ', যা পশ্চিম দিগন্তে সূর্যের হেলে পড়ার সময়। বলা হয়ে থাকে: তোমার শেষ সীমা হলো এটি করা বা তোমার চূড়ান্ত সামর্থ্য হলো এটি।

নাফতাওয়াইহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: ইসহাক ইবনে আল-হাসান আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি শায়বান থেকে এবং তিনি কাতাদাহ থেকে মহান আল্লাহর বাণী—(আর এটাই কি সেই অনুগ্রহ যার খোঁটা তুমি আমাকে দিচ্ছ যে, তুমি বনী ইসরাঈলকে দাসে পরিণত করেছ?)—প্রসঙ্গে বলেছেন: মূসা (আলাইহিস সালাম) ফেরাউনকে বলেছিলেন যখন ফেরাউন তাঁকে লালন-পালন ও সাথে রাখার খোঁটা দিচ্ছিল: তুমি কি আমাকে এই অনুগ্রহের খোঁটা দিচ্ছ যে তুমি বনী ইসরাঈলকে দাসে পরিণত করেছ অথচ তারা ছিল স্বাধীন? আরবিতে 'আববাদতু' (عبّدت) শব্দটি 'বা' বর্ণে তাশদীদসহ এবং 'আ’বাদতু' বলা হয় যখন কাউকে দাসে পরিণত করা হয় এবং দাসের স্তরে নামিয়ে আনা হয়। জনৈক কবি আল-বাসীত ছন্দে বলেছেন:

কেন আমার কওম আমাকে দাসে পরিণত (تعبدني) করছে অথচ তাদের মাঝে … প্রচুর উট এবং দাস রয়েছে?

'আন-নি’মাহ' (النعمة) নুন বর্ণে কাসরা (জের) সহ এর অর্থ হলো অনুগ্রহ। আর 'আন-না’ম' (النعّم) প্রথম বর্ণে ফাতহা (যবর) সহ এর অর্থ হলো বিলাসিতা। বলা হয়ে থাকে: অমুক ব্যক্তি অমুকের ওপর অনুগ্রহ করেছে, যখন সে তার প্রতি দয়া বা ইহসান করে। আবার 'মান্না' (منّ) বলা হয় যখন কেউ তার অনুগ্রহ বা ইহসানের খোঁটা দেয় এবং তাকে লজ্জিত করে। এখান থেকেই বলা হয়: ইহসানের আপদ হলো খোঁটা দেওয়া (المن), যার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অনুগ্রহ জাহির করা। মহান আল্লাহর বাণী—(অধিক পাওয়ার আশায় দান করো না)—প্রসঙ্গে বলা হয়েছে: তুমি যা দান করেছ তার চেয়ে বেশি পাওয়ার জন্য দান করো না, বরং তোমার দান যেন মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হয়।

আল-আখফাশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: ছা’লাব আর-রিয়াশী থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আবু সালামা আল-গিফারী আমাদের বলেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উসমান ইবনে আফফান আমাকে বলেছেন: আমাদের মাতা ফাতিমা বিনতে আল-হুসাইন ইবনে আলী আমাদের একত্রিত করে বললেন: হে আমার সন্তানেরা, আল্লাহর কসম! আহলুস সুন্নাহ তাদের সুন্নাহর স্বাদ সম্পর্কে এমন কিছু বলেনি যা মহানুভব ব্যক্তিগণ তাদের মহানুভবতার মাধ্যমে অনুরূপ বা তার চেয়েও বেশি বলেননি। অতএব তোমরা আল্লাহর পর্দায় নিজেদের আবৃত রাখো।

আল-ইয়াযিদী তাঁর চাচা আবু আল-কাসিম উবাইদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ থেকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: সাল্লাম আল-খাসির ফাদল ইবনে রাবী’র নিকট প্রবেশ করলেন। যখন তিনি তাঁর সামনে দাঁড়ালেন, তখন তিনি আল-মুজতাস ছন্দে কবিতা আবৃত্তি করতে লাগলেন:

যে বিনিদ্র রজনী কাটায় না সে ঘুমিয়ে থাকে … হায়! যদি এই প্রভাত উদিত হতো।

এটি কি আশ্চর্যজনক নয়? … আমি কখনো মৃত্যুবরণ করি আবার কখনো পুনর্জীবিত হই।

প্রতিদিনের কিয়ামত … এমন এক যুবকের ওপর যাকে হাশরে সমবেত করা হবে না।

আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট এবং ফাদলের ফযিলতও … সুতরাং আমি আর কিসের ভয় বা শঙ্কা করব?

ফাদলের বহু অনুগ্রহ আমার ওপর রয়েছে … এবং এমন নেয়ামত যা অস্বীকার করা যায় না।

যদি আমার প্রশংসা অধিক হয় … তবে ফাদলের দান তার চেয়েও অনেক বেশি।

তিনি বললেন: তোমার প্রয়োজনের কথা বলো। তিনি বললেন: আমাকে আমীরুল মুমিনীন হারুনুর রশীদের নিকট পৌঁছে দিন। তিনি বললেন: আমি তাই করব। এরপর তিনি তাকে পাঁচশত দীনার প্রদানের নির্দেশ দিলেন। তিনি প্রাসাদে যাওয়ার জন্য সওয়ারিতে চড়লেন এবং তাকেও সাথে নিলেন। যখন তিনি খলীফার দরবারে প্রবেশ করলেন এবং লোকজন নিজ নিজ আসনে বসল, তখন তিনি জনৈক গোলামকে বললেন: