(খণ্ড: ১) আল-আলামুল আলিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: -)
الأعلام العلية في مناقب ابن تيمية - ط المكتب الإسلامي   (أبو حفص البزار)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: الأعلام العلية في مناقب ابن تيمية

المؤلف: عمرُ بنُ عليِّ بنِ موسى بنِ خليلٍ البغداديُّ الأزجيُّ البزَّارُ، سراجُ الدينِ أبو حفصٍ (ت 749 هـ)

المحقق: زهير الشاويش [ت 1434 هـ]

الناشر: المكتب الإسلامي - بيروت

الطبعة: الثالثة، 1400

عدد الصفحات: 87

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-আ'লাম আল-আলিয়্যাহ ফি মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - আল-মাকতাব আল-ইসলামী সংস্করণ   (আবু হাফস আল-বাযযার)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: আল-আ'লাম আল-আলিয়্যাহ ফি মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ

লেখক: উমর ইবনে আলী ইবনে মুসা ইবনে খলিল আল-বাগদাদী আল-আযজী আল-বাযযার, সিরাজুদ্দীন আবু হাফস (মৃত্যু ৭৪৯ হিজরি)

সম্পাদক: যুহাইর আশ-শাভিশ [মৃত্যু ১৪৩৪ হিজরি]

প্রকাশক: আল-মাকতাব আল-ইসলামী - বৈরুত

সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪০০

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৭

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল-হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-আলামুল আলিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌الْفَصْل الأول

فِي ذكر منشأه وعمره وَمُدَّة عمره رضى الله عَنهُ وأرضاه

أما مولده فَكَانَ كَمَا اخبرني بِهِ غير وَاحِد من الْحفاظ انه ولد فِي حران فِي عَاشر ربيع الأول سنة إِحْدَى وَسِتِّينَ وست مئة وَبَقِي بهَا إِلَى أَن بلغ سبع سِنِين ثمَّ انْتقل بِهِ وَالِده رحمه الله إِلَى دمشق المحروسة فَنَشَأَ بهَا أتم إنْشَاء وازكاه وأنبته الله احسن النَّبَات واوفاه وَكَانَت مخايل النجابة عَلَيْهِ فِي صغره لائحة وَدَلَائِل الْعِنَايَة فِيهِ وَاضِحَة اخبرني من أَثِق بِهِ عَن من حَدثهُ
প্রথম পরিচ্ছেদ

তাঁর জন্মস্থান এবং জীবনকাল সম্পর্কে (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করুন)

তাঁর জন্মের ব্যাপারে যেমনটি আমাকে একাধিক হাফেজ অবহিত করেছেন যে, তিনি ৬৬১ হিজরি সালের ১০ই রবিউল আউয়াল হাররানে জন্মগ্রহণ করেন। সেখানে তিনি সাত বছর বয়স পর্যন্ত অবস্থান করেন। অতঃপর তাঁর পিতা (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) তাঁকে সংরক্ষিত শহর দামেস্কে নিয়ে যান। সেখানে তিনি অত্যন্ত সুচারু ও পবিত্রভাবে বেড়ে ওঠেন এবং আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম ও পূর্ণাঙ্গভাবে বিকশিত করেন। শৈশবেই তাঁর মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের লক্ষণসমূহ দেদীপ্যমান ছিল এবং তাঁর মধ্যে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের নিদর্শনাবলি সুস্পষ্ট ছিল। আমাকে এমন এক ব্যক্তি সংবাদ দিয়েছেন যাঁকে আমি নির্ভরযোগ্য মনে করি, তিনি এমন এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন যিনি তাঁকে এই সংবাদ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আলামুল আলিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৭)
أَن الشَّيْخ رضي الله عنه فِي حَال صغره كَانَ إِذا أَرَادَ الْمُضِيّ إِلَى الْمكتب يَعْتَرِضهُ يَهُودِيّ كَانَ منزله بطريقه بمسائل يسْأَله عَنْهَا لما كَانَ يلوح عَلَيْهِ من الذكاء والفطنة وَكَانَ يجِيبه عَنْهَا سَرِيعا حَتَّى تعجب مِنْهُ ثمَّ انه صَار كلما اجتاز بِهِ يُخبرهُ بأَشْيَاء مِمَّا يدل على بطلَان مَا هُوَ عَلَيْهِ فَلم يلبث أَن اسْلَمْ وَحسن إِسْلَامه وَكَانَ ذَلِك ببركة الشَّيْخ على صغر سنه

وَلم يزل مُنْذُ أبان صغره مُسْتَغْرق الْأَوْقَات فِي الْجهد وَالِاجْتِهَاد وَختم الْقرَان صَغِيرا ثمَّ اشْتغل بِحِفْظ الحَدِيث وَالْفِقْه والعربية حَتَّى برع فِي ذَلِك مَعَ مُلَازمَة مجَالِس الذّكر وَسَمَاع الْأَحَادِيث
নিশ্চয়ই শাইখ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) তাঁর শৈশবকালে যখন মক্তবে যাওয়ার ইচ্ছা করতেন, তখন জনৈক ইহুদি—যার বাড়ি তাঁর পথেই ছিল—তাঁকে বিভিন্ন প্রশ্নের মাধ্যমে বাধা প্রদান করত; কারণ তাঁর অবয়বে বুদ্ধিদীপ্ততা ও বিচক্ষণতা ফুটে উঠত। তিনি তাকে অত্যন্ত দ্রুত উত্তর প্রদান করতেন, এমনকি সে তাঁর এই ক্ষমতায় বিস্মিত হয়ে যেত। এরপর তিনি যখনই তার পাশ দিয়ে যেতেন, তাকে এমন সব বিষয় অবহিত করতেন যা তার বর্তমান ধর্মবিশ্বাসের অসারতা প্রমাণ করত। ফলে অনতিবিলম্বেই সে ইসলাম গ্রহণ করল এবং তার ইসলাম সুন্দর হলো। আর এটি ছিল শৈশবকালেই শাইখের বরকতস্বরূপ।

শৈশবের উন্মেষলগ্ন থেকেই তিনি সর্বদা কঠোর সাধনা ও প্রচেষ্টায় নিমগ্ন থাকতেন। তিনি অল্প বয়সেই কুরআন সম্পন্ন করেন, অতঃপর হাদিস হিফজ, ফিকহ এবং আরবি ভাষা চর্চায় আত্মনিয়োগ করেন; এমনকি তিনি এসবে পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। এর পাশাপাশি তিনি নিয়মিত জিকিরের মজলিসসমূহে উপস্থিত থাকতেন এবং হাদিস শ্রবণ করতেন।
(খণ্ড: ১) আল-আলামুল আলিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৮)
والْآثَار وَلَقَد سمع غير كتاب على غير شيخ من ذَوي الرِّوَايَات الصَّحِيحَة الْعَالِيَة أما دواوين الْإِسْلَام الْكِبَار ك مُسْند احْمَد وصحيح البُخَارِيّ وَمُسلم وجامع التِّرْمِذِيّ وَسنَن أبي دَاوُود السجسْتانِي وَالنَّسَائِيّ وَابْن ماجة وَالدَّارَقُطْنِيّ فَإِنَّهُ رحمه الله وَرَضي عَنْهُم وَعنهُ فَإِنَّهُ سمع كل وَاحِد مِنْهَا عدَّة مَرَّات وَأول كتاب حفظه فِي الحَدِيث الْجمع بَين الصَّحِيحَيْنِ للْإِمَام الْحميدِي وَقل كتاب من فنون الْعلم إِلَّا وقف عَلَيْهِ وَكَانَ الله قد خصّه بِسُرْعَة الْحِفْظ وإبطاء النسْيَان لم يكن يقف على شَيْء أَو يستمع لشَيْء غَالِبا الا وَيبقى على خاطره أما بِلَفْظِهِ أَو مَعْنَاهُ وَكَانَ الْعلم كَأَنَّهُ قد اخْتَلَط بِلَحْمِهِ وَدَمه وسائره فَإِنَّهُ لم يكن لَهُ مستعارا بل كَانَ لَهُ شعارا ودثارا لم يزل آباؤه أهل الدِّرَايَة التَّامَّة والنقد والقدم الراسخة فِي الْفضل لَكِن جمع الله لَهُ مَا خرق بِمثلِهِ الْعَادة ووفقه فِي جَمِيع أمره لإعلام السَّعَادَة وَجعل مآثره لإمامته من اكبر شَهَادَة حَتَّى اتّفق كل ذِي عقل سليم انه
এবং আসার (নবী-রাসূল ও সাহাবীদের বাণী)। তিনি নির্ভরযোগ্য উচ্চ সনদধারী বহু শায়খের নিকট অসংখ্য কিতাব শ্রবণ করেছেন। ইসলামের প্রধান কিতাবসমূহ যেমন: মুসনাদে আহমাদ, সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, জামি' আত-তিরমিযী, সুনানে আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ এবং দারা কুতনী; তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন এবং তাঁদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এগুলোর প্রতিটি কিতাব বহুবার শ্রবণ করেছেন। হাদিস শাস্ত্রে তাঁর মুখস্থ করা প্রথম কিতাব ছিল ইমাম হুমায়দী রচিত ‘আল-জামউ বাইনাস সাহীহাঈন’। আর ইলমের এমন কোনো শাখা ছিল না, যার কিতাব সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না। আল্লাহ তাআলা তাঁকে দ্রুত মুখস্থ করার এবং বিলম্বে ভুলে যাওয়ার বিশেষ যোগ্যতা দান করেছিলেন। সাধারণত কোনো কিছুর ওপর তাঁর দৃষ্টি পড়ত কিংবা তিনি কোনো কিছু শুনতেন, তবে তার শব্দ বা অর্থ তাঁর স্মৃতিতে গেঁথে যেত। জ্ঞান যেন তাঁর গোশত, রক্ত এবং সর্বাঙ্গের সাথে মিশে গিয়েছিল। এটা তাঁর জন্য কোনো সাময়িক বিষয় ছিল না, বরং তা ছিল তাঁর ভূষণ ও অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর পূর্বপুরুষগণ সর্বদা পূর্ণ প্রজ্ঞা, সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ এবং মর্যাদার সুদৃঢ় অবস্থানের অধিকারী ছিলেন; তবে আল্লাহ তাআলা তাঁর মাঝে এমন সব গুণাবলি একত্রিত করেছিলেন যা ছিল নজিরবিহীন। তিনি তাঁর যাবতীয় কর্মে তাঁকে পরম সৌভাগ্যের নিশান হিসেবে কবুল করেছিলেন এবং তাঁর গৌরবগাথাকে তাঁর ইমামতের সর্বশ্রেষ্ঠ সাক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন। এমনকি সুস্থ বিবেকের অধিকারী প্রতিটি মানুষ এ বিষয়ে একমত হয়েছে যে তিনি...
(খণ্ড: ১) আল-আলামুল আলিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৯)
مِمَّن عني نَبينَا صلى الله عليه وسلم بقوله أَن الله يبْعَث على رَأس كل مئة سنة من يجدد لهَذِهِ الْأمة أَمر دينهَا فَلَقَد احيا الله بِهِ مَا كَانَ قد درس من شرائع الدّين وَجعله حجَّة على أهل عصره أَجْمَعِينَ وَالْحَمْد لله رب الْعَالمين
তিনি তাঁদের অন্যতম যাঁদের ব্যাপারে আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে উদ্দেশ্য করেছেন যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রতি শতাব্দীর শুরুতে এমন ব্যক্তিকে প্রেরণ করবেন যিনি এই উম্মতের জন্য তাদের দীনের বিষয়াদি সংস্কার করবেন। আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে দীনের ঐসব শরীয়তকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন যা বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল এবং তাঁকে তাঁর সমসাময়িক সকল মানুষের ওপর হুজ্জাত বা প্রমাণ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) আল-আলামুল আলিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌الْفَصْل الثَّانِي

فِي غزارة علومه ومؤلفاته ومصنفاته

 

وسعة نَقله فِي فَتَاوِيهِ ودروسه البديهية ومنصوصاته

 

أما غزارة علومه فَمِنْهَا ذكر مَعْرفَته بعلوم الْقُرْآن الْمجِيد واستنباطه لدقائقه وَنَقله لأقوال الْعلمَاء فِي تَفْسِيره واستشهاده بدلائله وَمَا أودعهُ الله تَعَالَى فِيهِ من عجائبه وفنون حكمه وغرائب نوادره وباهر فَصَاحَته وَظَاهر ملاحته فَإِنَّهُ فِيهِ من الْغَايَة الَّتِي ينتهى اليها وَالنِّهَايَة الَّتِي يعول عَلَيْهَا

وَلَقَد كَانَ إِذا قريء فِي مَجْلِسه آيَات من الْقُرْآن الْعَظِيم يشرع فِي تَفْسِيرهَا فينقضي الْمجْلس بجملته والدرس برمتِهِ وَهُوَ فِي تَفْسِير بعض آيَة مِنْهَا وَكَانَ مَجْلِسه فِي وَقت مُقَدّر بِقدر ربع النَّهَار يفعل ذَلِك بديهة من غير أَن يكون لَهُ قَارِئ معِين يقْرَأ لَهُ شَيْئا معينا يبيته ليستعد لتفسيره بل كَانَ من حضر يقْرَأ مَا تيَسّر
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

তাঁর ইলমের প্রাচুর্য, তাঁর রচনাবলী ও গ্রন্থসমূহ প্রসঙ্গে

 

এবং তাঁর ফতোয়া, তাৎক্ষণিক দরস ও বর্ণিত বক্তব্যসমূহে উদ্ধৃতির প্রশস্ততা

 

তাঁর ইলমের প্রাচুর্যের অন্যতম দিক হলো মহিমান্বিত কুরআনের জ্ঞানসমূহে তাঁর পাণ্ডিত্য, এর সূক্ষ্মতত্ত্ব উদঘাটন, এর তাফসীরে আলিমগণের মতামত উদ্ধৃত করা, এর দলিলসমূহ দ্বারা প্রমাণ পেশ করা এবং আল্লাহ তাআলা এতে যেসব বিস্ময়কর বিষয়, হিকমতের প্রকারভেদ, দুর্লভ তথ্যাবলি, চমৎকার বাগ্মিতা ও সুস্পষ্ট মাধুর্য নিহিত রেখেছেন তা বর্ণনা করা। নিশ্চয়ই এ বিষয়ে তিনি এমন এক চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছেছিলেন যা শেষ সীমা এবং এমন এক সমাপ্তিতে যা নির্ভরযোগ্য।

তাঁর মজলিসে যখন মহান কুরআনের কোনো আয়াত পাঠ করা হতো, তখন তিনি সেটির তাফসীর শুরু করতেন; অতঃপর পুরো মজলিস এবং সম্পূর্ণ দরস শেষ হয়ে যেত অথচ তিনি তখনো ওই আয়াতের কিয়দংশের তাফসীরেই রত থাকতেন। তাঁর মজলিস দিনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ সময়ের জন্য নির্ধারিত ছিল। তিনি এটি সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে (তাৎক্ষণিকভাবে) সম্পাদন করতেন। তাঁর কোনো নির্দিষ্ট কারী ছিল না যিনি নির্দিষ্ট কোনো অংশ পড়ে শোনাতেন যা তিনি আগে থেকে নির্ধারণ করে তাফসীরের প্রস্তুতি নিতেন; বরং উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে যে কেউ যা সহজ হতো তাই পাঠ করতেন।
(খণ্ড: ১) আল-আলামুল আলিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২১)
وَيَأْخُذ هُوَ فِي القَوْل على تَفْسِيره وَكَانَ غَالِبا لَا يقطع إِلَّا وَيفهم السامعون أَنه لَوْلَا مُضِيّ الزَّمن الْمُعْتَاد لاورد أَشْيَاء أخر فِي معنى مَا هُوَ فِيهِ من التَّفْسِير لَكِن يقطع نظرا فِي مصَالح الْحَاضِرين

وَلَقَد أمْلى فِي تَفْسِير {قل هُوَ الله أحد} مجلدا كَبِيرا

وَقَوله تَعَالَى {الرَّحْمَن على الْعَرْش اسْتَوَى} نَحْو خمس وَثَلَاثِينَ كراسة

وَلَقَد بَلغنِي انه شرع فِي جمع تَفْسِير لَو أتمه لبلغ خمسين مجلدا

أما مَعْرفَته وبصره بِسنة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وأقواله وأفعاله وقضاياه وَوَقَائعه وغزواته وسراياه وبعوثه وَمَا خصّه الله تَعَالَى من كراماته ومعجزاته ومعرفته بِصَحِيح الْمَنْقُول عَنهُ وسقيمه وَبَقِيَّة الْمَنْقُول عَن الصَّحَابَة رضي الله عنهم فِي أَقْوَالهم وأفعالهم وقضاياهم وفتاويهم واحوالهم وأحوال مجاهداتهم فِي دين الله وَمَا خصوا بِهِ من بَين الامة فَإِنَّهُ كَانَ رضي الله عنه من أضبط النَّاس لذَلِك وأعرفهم فِيهِ وأسرعهم استحضارا لما يُريدهُ مِنْهُ فَإِنَّهُ قل أَن ذكر حَدِيثا فِي مُصَنف أَو فَتْوَى أَو اسْتشْهد بِهِ أَو اسْتدلَّ بِهِ إِلَّا وَعَزاهُ فِي أَي دواوين الْإِسْلَام هُوَ وَمن أَي قسم
তিনি তাঁর তাফসির বা ব্যাখ্যার কথা বলা শুরু করতেন। তিনি সাধারণত থামতেন না যতক্ষণ না শ্রোতারা বুঝতে পারত যে, যদি নির্ধারিত সময় অতিবাহিত না হতো, তবে তিনি যে তাফসির আলোচনা করছিলেন তার অর্থ সম্পর্কে আরও অনেক বিষয় উপস্থাপন করতেন। কিন্তু উপস্থিতদের কল্যাণের কথা বিবেচনা করে তিনি আলোচনা শেষ করতেন।

তিনি 'বলুন, তিনিই আল্লাহ এক'-এর তাফসিরের ওপর এক বিশাল খণ্ড শ্রুতলিখন করিয়েছেন।

আর মহান আল্লাহর বাণী 'দয়াময় আরশের উপর উঠেছেন' এর বিষয়ে প্রায় পঁয়ত্রিশটি পুস্তিকা লিখেছেন।

আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তিনি এমন এক তাফসির সংকলন শুরু করেছিলেন যা তিনি সম্পন্ন করলে পঞ্চাশ খণ্ডে পৌঁছাত।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ, তাঁর বাণী, কাজ, বিচারিক রায়, ঘটনাবলি, তাঁর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ যুদ্ধাভিযানসমূহ ও প্রেরিত বাহিনীসমূহ এবং আল্লাহ তাআলা তাঁকে যেসব বিশেষ মর্যাদা ও অলৌকিকতা দান করেছেন সে সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা এবং তাঁর থেকে বর্ণিত সহিহ ও দুর্বল বর্ণনাগুলো সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান, আর সাহাবায়ে কেরাম রাযিয়াল্লাহু আনহুমদের বাণী, কাজ, বিচারিক রায়, ফতোয়া, অবস্থা এবং আল্লাহর দ্বীনের পথে তাঁদের জিহাদ ও সংগ্রামের ঘটনাবলি এবং উম্মতের মধ্যে তাঁদের যে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন ও পারদর্শী এবং প্রয়োজনীয় বিষয় দ্রুত স্মরণে আনতে সক্ষম। তিনি তাঁর কোনো গ্রন্থ বা ফতোয়ায় কোনো হাদিস উল্লেখ করলে অথবা কোনো দলিল বা প্রমাণ হিসেবে তা পেশ করলে, খুব কমই এমন হতো যে তিনি সেটি ইসলামের কোন মূল কিতাব এবং কোন অধ্যায়ে রয়েছে তা উদ্ধৃত করতেন না।
(খণ্ড: ১) আল-আলামুল আলিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২২)
من الصَّحِيح أَو الْحسن أَو غَيرهمَا وَذكر اسْم رِوَايَة من الصَّحَابَة وَقل أَن يسْأَل عَن اثر إِلَّا وَبَين فِي الْحَال حَاله وَحَال أمره وذاكره

وَمن أعجب الْأَشْيَاء فِي ذَلِك أَنه فِي محنته الأولى بِمصْر لما أَخذ وسجن وحيل بَينه وَبَين كتبه صنف عدَّة كتب صغَارًا وكبارا وَذكر فِيهَا مَا احْتَاجَ إِلَى ذكره من الْأَحَادِيث والْآثَار وأقوال الْعلمَاء وَأَسْمَاء الْمُحدثين والمؤلفين ومؤلفاتهم وَعزا كل شئ من ذَلِك إِلَى ناقليه وقائليه بِأَسْمَائِهِمْ وَذكر أَسمَاء الْكتب الَّتِي ذكر فِيهَا وَأي مَوضِع هُوَ مِنْهَا كل ذَلِك بديهة من حفظه لِأَنَّهُ لم يكن عِنْده حِينَئِذٍ كتاب يطالعه ونقبت واختبرت واعتبرت فَلم يُوجد فِيهَا بِحَمْد الله خلل وَلَا تغير وَمن جُمْلَتهَا كتاب الصارم المسلول على شاتم الرَّسُول

وَهَذَا من الْفضل الَّذِي خصّه الله تَعَالَى بِهِ

وَمِنْهَا مَا منحه الله تَعَالَى من معرفَة اخْتِلَاف الْعلمَاء ونصوصهم وَكَثْرَة أَقْوَالهم واجتهادهم فِي الْمسَائِل وَمَا رُوِيَ عَن كل مِنْهُم
সহিহ, হাসান বা অন্য কোনো পর্যায়ের (হাদিস হোক), তিনি সাহাবীদের থেকে বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করতেন। খুব কমই এমন হয়েছে যে তাকে কোনো আসার (বর্ণনা) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে আর তিনি তৎক্ষণাৎ সেটির অবস্থা, তার হুকুম এবং এর বর্ণনাকারীর অবস্থা বর্ণনা করেননি।

এ বিষয়ে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়গুলোর একটি হলো, মিশরে তার প্রথম পরীক্ষার সময় যখন তাকে বন্দি করা হয়েছিল এবং তার ও তার বইপত্রের মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছিল, তখন তিনি ছোট-বড় বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। সেখানে তিনি প্রয়োজনীয় হাদিস, আসার, আলেমদের উক্তি, মুহাদ্দিস ও লেখকদের নাম এবং তাদের রচনাবলি উল্লেখ করেছিলেন। তিনি এর প্রতিটি বিষয়কে তাদের বর্ণনাকারী ও প্রবক্তাদের নামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন এবং সেগুলোর কিতাবের নাম ও কিতাবের কোন স্থানে তা রয়েছে তাও উল্লেখ করেছেন। এই সব কিছুই তিনি তার স্মৃতিশক্তি থেকে তাৎক্ষণিকভাবে করেছিলেন, কারণ তখন তার কাছে পড়ার মতো কোনো বই ছিল না। পরবর্তীতে এগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান, পরীক্ষা ও বিবেচনা করে দেখা হয়েছে, কিন্তু আল্লাহর প্রশংসায় তাতে কোনো ত্রুটি বা পরিবর্তন পাওয়া যায়নি। আর এগুলোর মধ্যে 'আস-সারিমুল মাসলুল আলা শাতিমির রাসুল' গ্রন্থটিও অন্তর্ভুক্ত।

আর এটি ছিল মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত সেই অনুগ্রহের অংশ যা তিনি তাকে বিশেষভাবে দান করেছিলেন।

এগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে আলেমদের মতভেদ, তাদের সুনির্দিষ্ট বক্তব্য, প্রচুর পরিমাণ উক্তি এবং বিভিন্ন মাসয়ালায় তাদের ইজতিহাদ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা তাকে যে জ্ঞান দান করেছিলেন এবং তাদের প্রত্যেকের পক্ষ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা।
(খণ্ড: ১) আল-আলামুল আলিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২৩)
من رَاجِح ومرجوح ومقبول ومردود فِي كل زمَان وَمَكَان وبصره الصَّحِيح الثاقب الصائب للحق مِمَّا قَالُوهُ ونقلوه وَعَزوه ذَلِك إِلَى الْأَمَاكِن الَّتِي بهَا أودعوه حَتَّى كَانَ إِذا سُئِلَ عَن شئ من ذَلِك كَأَن جَمِيع الْمَنْقُول عَن الرَّسُول صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابه وَالْعُلَمَاء فِيهِ من الاولين والآخرين مُتَصَوّر مسطور بإزائه يَقُول مِنْهُ مَا شَاءَ الله ويذر مَا يَشَاء وَهَذَا قد اتّفق عَلَيْهِ كل من رَآهُ أَو وقف على شئ من علمه مِمَّن لَا يُغطي عقله الْجَهْل والهوى

وَأما مؤلفاته ومصنفاته فَإِنَّهَا اكثر من أَن أقدر على إحصائها أَو يحضرني جملَة أسمائها بل هَذَا لَا يقدر عَلَيْهِ غَالِبا أحد لِأَنَّهَا كَثِيرَة جدا كبارًا وصغارا وَهِي منشورة فِي الْبلدَانِ فَقل بلد نزلته إِلَّا وَرَأَيْت فِيهِ من تصانيفه

فَمِنْهَا مَا يبلغ إثني عشر مجلدا ك تَلْخِيص التلبيس على أساس التَّقْدِيس وَغَيره

وَمِنْهَا مَا يبلغ سبع مجلدات ك الْجمع بَين الْعقل وَالنَّقْل
সব যুগের এবং সব স্থানের অগ্রগণ্য ও অনগ্রগণ্য, গ্রহণযোগ্য ও বর্জনীয় বিষয়াবলি এবং সত্য অনুধাবনে তাঁর সঠিক, তীক্ষ্ণ ও নির্ভুল অন্তর্দৃষ্টির কারণে তাঁরা যা কিছু বলেছেন, বর্ণনা করেছেন এবং যে সকল স্থানে সেসব সংরক্ষিত করেছেন—তা এমন পর্যায়ে ছিল যে, যখনই তাঁকে এসবের কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হতো, তখন যেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), তাঁর সাহাবীগণ এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমদের বর্ণিত সকল তথ্য তাঁর সামনে চিত্রিত ও লিপিবদ্ধ অবস্থায় থাকত। তিনি সেখান থেকে যা ইচ্ছা বলতেন এবং যা ইচ্ছা বর্জন করতেন। যে ব্যক্তিই তাঁকে দেখেছেন কিংবা তাঁর ইলম বা জ্ঞানের কিছু অংশ সম্পর্কে অবগত হয়েছেন, এবং যার বিবেককে মূর্খতা ও খেয়াল-খুশি আচ্ছন্ন করেনি, তাঁদের সকলেই এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

আর তাঁর রচনা ও গ্রন্থাবলির কথা যদি বলি, তবে তা এতোই বেশি যে আমার পক্ষে তা গণনা করা বা সবগুলোর নাম স্মরণ করা সম্ভব নয়। বরং সাধারণত কেউ এ সক্ষমতা রাখে না, কারণ তাঁর রচনাবলি অনেক বেশি—বৃহৎ ও ক্ষুদ্র উভয় আকারেই। এগুলো বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে আছে; এমন শহর খুব কমই আছে যেখানে আমি গিয়েছি অথচ সেখানে তাঁর কোনো রচনা দেখিনি।

সেগুলোর মধ্যে কোনোটি বারো খণ্ড পর্যন্ত বিস্তৃত, যেমন: 'তালখিস আত-তালবিস আলা আসাসিত তাকদিস' এবং অন্যান্য।

আবার কোনোটি রয়েছে যা সাত খণ্ড পর্যন্ত বিস্তৃত, যেমন: 'আল-জামউ বাইনাল আক্লি ওয়ান নাকলি' (বিবেক ও শ্রুতির সমন্বয়)।
(খণ্ড: ১) আল-আলামুল আলিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২৪)
وَمِنْهَا مَا يبلغ خمس مجلدات وَمِنْهَا منهاج الاسْتقَامَة والاعتدال وَنَحْوه

وَمِنْهَا مَا يبلغ ثَلَاث مجلدات ك الرَّد على النَّصَارَى وَشبهه

وَمِنْهَا مجلدان ك نِكَاح الْمُحَلّل وَإِبْطَال الْحِيَل وَشرح العقيدة الأصبهانية

وَمِنْهَا مُجَلد وَدون ذَلِك وَهَذَانِ القسمان من مؤلفاته فَهِيَ كَثِيرَة جدا لَا يمكنني استقصاؤها لَكِن اذكر بَعْضهَا إستئناسا

كتاب تَفْسِير سُورَة الاخلاص مُجَلد

كتاب الْكَلَام على قَوْله عز وجل الرَّحْمَن على الْعَرْش اسْتَوَى

كتاب الصارم المسلول على شاتم الرَّسُول مُجَلد

كتاب الْفرْقَان الْمُبين بَين الطَّلَاق وَالْيَمِين

كتاب الْفرق بَين أَوْلِيَاء الرَّحْمَن وأولياء الشَّيْطَان
এর মধ্যে কোনটি পাঁচ খণ্ড পর্যন্ত বিস্তৃত, যেমন 'মিনহাজুল ইস্তিকামা ওয়াল ই'তিদাল' এবং এই জাতীয়।

এর মধ্যে কোনটি তিন খণ্ড পর্যন্ত বিস্তৃত, যেমন 'নাসারাদের খণ্ডন' এবং এর অনুরূপ।

এর মধ্যে কোনটি দুই খণ্ড বিশিষ্ট, যেমন 'নিকাহুল মুহাল্লিল', 'কৌশল বাতিলকরণ' এবং 'আসফাহানি আকিদার ব্যাখ্যা'।

এর মধ্যে কোনটি এক খণ্ড বা তার চেয়ে কম। তাঁর রচনার এই দুই প্রকার অত্যন্ত বেশি, যা আমার পক্ষে সবিস্তারে বর্ণনা করা সম্ভব নয়; তবে আলোচনার সুবিধার্থে আমি এর কিছু উল্লেখ করছি।

সূরা ইখলাসের তাফসীর গ্রন্থ, এক খণ্ড।

মহান আল্লাহর বাণী 'পরম দয়াময় আরশের উপর উঠেছেন' সংক্রান্ত আলোচনা গ্রন্থ।

রাসূলের অবমাননাকারীর বিরুদ্ধে উন্মুক্ত কৃপাণ, এক খণ্ড।

তালাক ও শপথের মধ্যবর্তী সুস্পষ্ট পার্থক্যকারী গ্রন্থ।

রাহমানের বন্ধু ও শয়তানের বন্ধুদের মাঝে পার্থক্য নির্ণয়কারী গ্রন্থ।
(খণ্ড: ১) আল-আলামুল আলিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২৫)
كتاب اقْتِضَاء الصِّرَاط الْمُسْتَقيم مُخَالفَة أَصْحَاب الْجَحِيم

كتاب الْكَلم الطّيب

كتاب إِثْبَات الْكَمَال

كتاب الرَّد على تأسيس التَّقْدِيس

كتاب الْجمع بَين الْعقل وَالنَّقْل

كتاب نقض أَقْوَال المبتدعين

كتاب الرَّد على النَّصَارَى

كتاب منهاج الاسْتقَامَة

كتاب إبِْطَال الْحِيَل وَنِكَاح الْمُحَلّل

كتاب شرح العقيدة الاصبهانية

كتاب الفتاوي

كتاب الدّرّ الْمُلْتَقط

كتاب أَحْكَام الطَّلَاق

كتاب الرسَالَة

كتاب اعْتِقَاد الْفرْقَة النَّاجِية
সিরাতাল মুস্তাকিমের দাবি ও জাহান্নামবাসীদের বিরোধিতা গ্রন্থ

পবিত্র বাণীসমূহ গ্রন্থ

পূর্ণতা সাব্যস্তকরণ গ্রন্থ

তা’সিসুত তাকদিস-এর খণ্ডন গ্রন্থ

আকল ও নকলের মধ্যে সমন্বয় গ্রন্থ

বিদআতিদের বক্তব্য খণ্ডন গ্রন্থ

খ্রিষ্টানদের খণ্ডন গ্রন্থ

অবিচলতার পথ গ্রন্থ

কৌশল বাতিলকরণ এবং মুাহাল্লিল (হিলা) বিবাহ গ্রন্থ

আল-আকিদাহ আল-আসবাহানিয়্যাহ-এর ব্যাখ্যা গ্রন্থ

ফতোয়া গ্রন্থ

সংগৃহীত মুক্তা গ্রন্থ

তালাকের বিধানাবলি গ্রন্থ

রিসালাহ গ্রন্থ

মুক্তিপ্রাপ্ত দলের আকিদা গ্রন্থ
(খণ্ড: ১) আল-আলামুল আলিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২৬)
كتاب رفع الملام عَن الْأَئِمَّة الْأَعْلَام

كتاب تَقْرِير مسَائِل التَّوْحِيد

كتاب الاستغاثة والتوسل

كتاب الْمسَائِل الحموية

كتاب الْمسَائِل الجزرية

كتاب الْمسَائِل المفردة

وَلَا يَلِيق هَذَا الْمُخْتَصر بِأَكْثَرَ من هَذَا الْقدر من مؤلفاته وَإِلَّا فَيمكن تعداد مَا ينيف على المأتين لَكِن لم نر الإطالة بِذكرِهِ

وَأما فَتَاوِيهِ ونصوصه وأجوبته على الْمسَائِل فَهِيَ اكثر من أَن اقدر على إحصائها لَكِن دون بِمصْر مِنْهَا على أَبْوَاب الْفِقْه سَبْعَة عشر مجلدا وَهَذَا ظَاهر مَشْهُور وَجمع أَصْحَابه اكثر من أَرْبَعِينَ ألف مَسْأَلَة وَقل أَن وَقعت وَاقعَة وَسُئِلَ عَنْهَا إِلَّا وَأجَاب فِيهَا بديهة بِمَا بهر واشتهر وَصَارَ ذَلِك الْجَواب كالمصنف الَّذِي يحْتَاج فِيهِ غَيره إِلَى زمن طَوِيل ومطالعة كتب وَقد لَا يقدر مَعَ ذَلِك على إبراز مثله

أَخْبرنِي الشَّيْخ الصَّالح تَاج الدّين مُحَمَّد الْمَعْرُوف بِابْن الدوري انه حضر مجْلِس الشَّيْخ رضى الله عَنهُ وَقد سَأَلَهُ
বরেণ্য ইমামগণের ওপর থেকে অভিযোগ অপনোদনের কিতাব

তাওহীদের মাসআলাসমূহের আলোচনার কিতাব

সাহায্য প্রার্থনা ও অসীলা অন্বেষণের কিতাব

হামাবাসীর মাসআলা সংক্রান্ত কিতাব

জাযারিয়া মাসআলা সংক্রান্ত কিতাব

একক মাসআলা সংক্রান্ত কিতাব

এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থে তাঁর রচনাবলির মধ্য থেকে এই পরিমাণের অধিক উল্লেখ করা সমীচীন হবে না; অন্যথায় দুইশোরও বেশি গ্রন্থ গণনা করা সম্ভব ছিল, কিন্তু আমরা তা উল্লেখ করে দীর্ঘায়িত করা পছন্দ করিনি।

আর তাঁর ফাতাওয়া, বক্তব্য এবং বিভিন্ন মাসআলার উত্তরসমূহ এতই অধিক যে তা গণনা করা আমার সাধ্যাতীত; তবে মিশরে ফিকহী অধ্যায় অনুসারে এর সতেরোটি খণ্ড সংকলিত হয়েছে এবং এটি সুস্পষ্ট ও প্রসিদ্ধ। তাঁর সহচরগণ চল্লিশ হাজারেরও বেশি মাসআলা সংকলন করেছেন। খুব কমই এমন ঘটনা ঘটেছে যা সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে আর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিস্ময়কর ও প্রসিদ্ধ উত্তর প্রদান করেননি। তাঁর সেই উত্তরটি একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থের ন্যায় হয়ে যেত যার জন্য অন্য কারোর দীর্ঘ সময় এবং কিতাবাদি অধ্যয়নের প্রয়োজন হতো, তবুও হয়তো সে এর অনুরূপ কিছু উপস্থাপন করতে সক্ষম হতো না।

আমাকে নেককার শাইখ তাজউদ্দীন মুহাম্মদ, যিনি ইবনুদ দাউরী নামে পরিচিত, তিনি অবহিত করেছেন যে, তিনি শাইখের (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) মজলিসে উপস্থিত ছিলেন যখন জনৈক ব্যক্তি তাঁকে প্রশ্ন করেছিল...
(খণ্ড: ১) আল-আলামুল আলিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২৭)
يَهُودِيّ عَن مسأله فِي الْقدر قد نظمها شعرًا فِي ثَمَانِيَة أَبْيَات

فَلَمَّا وقف عَلَيْهَا فكر لَحْظَة يسيرَة وانشأ يكْتب جوابها وَجعل يكْتب وَنحن نظن انه يكْتب نثرا فَلَمَّا فرغ تَأمله من حضر من أَصْحَابه وَإِذا هُوَ نظم فِي بَحر أَبْيَات السُّؤَال وقافيتها تقرب من مائَة وَأَرْبَعَة وَثَمَانِينَ بَيْتا وَقد ابرز فِيهَا من الْعُلُوم مَا لَو شرح بشرح لجاء شَرحه مجلدين كبيرين هَذَا من جملَة بواهره وَكم من جَوَاب فَتْوَى لم يسْبق إِلَى مثله

وَأما ذكر دروسه فقد كنت فِي حَال إقامتي بِدِمَشْق لَا أفوتها وَكَانَ لَا يهييء شَيْئا من الْعلم ليلقيه ويورده بل يجلس بعد أَن يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ فيحمد الله ويثني عَلَيْهِ وَيُصلي على رَسُوله صلى الله عليه وسلم على صفة مستحسنة مستعذبة لم اسمعها من غَيره ثمَّ يشرع فَيفتح الله عَلَيْهِ إِيرَاد عُلُوم وغوامض ولطائف ودقائق
একজন ইয়াহুদি তাকদীরের একটি মাসয়ালা সম্পর্কে আটটি পংক্তির একটি কবিতা রচনা করেছিল।

যখন তিনি (ইবনে তাইমিয়্যাহ) এটি দেখলেন, তখন সামান্য সময়ের জন্য চিন্তা করলেন এবং এর উত্তর লিখতে শুরু করলেন। তিনি লিখে যাচ্ছিলেন আর আমরা ভাবছিলাম যে তিনি গদ্যে লিখছেন। যখন তিনি লেখা শেষ করলেন, উপস্থিত সঙ্গীরা তা পর্যবেক্ষণ করলেন এবং দেখলেন যে এটি প্রশ্নের ছন্দে এবং অন্ত্যমিলে রচিত প্রায় একশ চুরাশিটি পংক্তির একটি কবিতা। তিনি এতে এমন সব জ্ঞান ফুটিয়ে তুলেছেন যা যদি ব্যাখ্যা করা হতো, তবে তার ব্যাখ্যা দুই বিশাল খণ্ডে সমাপ্ত হতো। এটি তাঁর বিস্ময়কর কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত; এবং ফতোয়ার এমন কত উত্তর তিনি দিয়েছেন যার দৃষ্টান্ত আগে কখনও দেখা যায়নি।

আর তাঁর পাঠদানের বর্ণনার ক্ষেত্রে বলতে হয় যে, দামেস্কে অবস্থানকালে আমি তাঁর কোনো পাঠ হাতছাড়া করতাম না। তিনি পাঠ প্রদানের জন্য আগে থেকে কোনো জ্ঞানগত প্রস্তুতি নিতেন না; বরং দুই রাকাত সালাত আদায় করার পর বসতেন এবং আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করতেন এবং তাঁর রাসুলের (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) প্রতি এমন এক চমৎকার ও সুমিষ্ট ভঙ্গিতে দরুদ পাঠ করতেন যা আমি অন্য কারো থেকে শুনিনি। এরপর তিনি শুরু করতেন এবং আল্লাহ তাঁর ওপর বিভিন্ন জ্ঞান, জটিল বিষয়াবলি, সূক্ষ্ম তত্ত্ব ও নিগূঢ় রহস্যের দ্বার উন্মোচন করে দিতেন।
(খণ্ড: ১) আল-আলামুল আলিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২৮)
وفنون ونقول واستدلالات بآيَات وَأَحَادِيث وأقوال الْعلمَاء وَنصر بَعْضهَا وَتبين صِحَّته أَو تزييف بَعْضهَا وإيضاح حجَّته واستشهاد بأشعار الْعَرَب وَرُبمَا ذكر اسْم ناظمها وَهُوَ مَعَ ذَلِك يجْرِي كَمَا يجْرِي السَّيْل وَيفِيض كَمَا يفِيض الْبَحْر وَيصير مُنْذُ يتَكَلَّم إِلَى أَن يفرغ كالغائب عَن الْحَاضِرين مغمضا عَيْنَيْهِ وَذَلِكَ كُله مَعَ عدم فكر فِيهِ أَو روية من غير تعجرف وَلَا توقف وَلَا لحن بل فيض الهي حَتَّى يبهر كل سامع وناظر فَلَا يزَال كَذَلِك إِلَى أَن يصمت وَكنت اراه حِينَئِذٍ كَأَنَّهُ قد صَار بِحَضْرَة من يشْغلهُ عَن غَيره وَيَقَع عَلَيْهِ إِذْ ذَاك من المهابة مَا يرعد الْقُلُوب ويحير الْأَبْصَار والعقول

وَكَانَ لَا يذكر رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قطّ الا وَيُصلي وَيسلم عَلَيْهِ وَلَا وَالله مَا رَأَيْت أحدا اشد تَعْظِيمًا لرَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَلَا احرص على أَتْبَاعه وَنصر مَا جَاءَ بِهِ مِنْهُ حَتَّى إِذا كَانَ ورد شَيْئا من حَدِيثه فِي مَسْأَلَة وَيرى انه لم ينسخه شَيْء
এবং তিনি বিভিন্ন জ্ঞান-শাখা, উদ্ধৃতি, কুরআনের আয়াত, হাদিস ও আলেমগণের বাণীর মাধ্যমে প্রমাণাদি উপস্থাপন করতেন; তিনি এগুলোর মধ্য হতে কোনোটিকে সমর্থন ও তার বিশুদ্ধতা স্পষ্ট করতেন অথবা কোনোটিকে অসার প্রমাণ করতেন এবং তার দলীলসমূহ ব্যাখ্যা করতেন। সেইসাথে তিনি আরবদের কবিতা দিয়েও উদ্ধৃতি দিতেন এবং কখনও কখনও কবির নামও উল্লেখ করতেন। তা সত্ত্বেও তাঁর বক্তব্য পাহাড়ি ঢলের ন্যায় বয়ে যেত এবং সমুদ্রের ন্যায় উথলে উঠত। তিনি কথা বলা শুরু করা থেকে শেষ করা পর্যন্ত উপস্থিতদের নিকট থেকে অনুপস্থিত ব্যক্তির ন্যায় চক্ষু বন্ধ করে থাকতেন। আর এসকল কিছু কোনো পূর্বচিন্তা বা দীর্ঘ ভাবনা ছাড়াই ঘটত—কোনো কৃত্রিমতা, জড়তা কিংবা ভাষাগত ত্রুটি ছাড়াই; বরং তা ছিল এক ঐশী দান, যা প্রত্যেক শ্রোতা ও দর্শককে বিমুগ্ধ করে তুলত। নীরব হওয়া পর্যন্ত তিনি এভাবেই থাকতেন। আমি সে সময় তাঁকে এমন দেখতাম যেন তিনি এমন কারো সান্নিধ্যে রয়েছেন, যিনি তাঁকে অন্য সবকিছু থেকে বিমুখ করে রেখেছেন। তখন তাঁর উপর এমন গাম্ভীর্য ও প্রভাব পরিলক্ষিত হতো যা হৃদয়গুলোকে প্রকম্পিত করে দিত এবং দৃষ্টি ও বুদ্ধিকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে দিত।

এবং তিনি যখনই আল্লাহর রাসূল (তাঁর উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর নাম উল্লেখ করতেন, তখনই তাঁর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ করতেন। আল্লাহর কসম, আমি আল্লাহর রাসূল (তাঁর উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর প্রতি তাঁর অপেক্ষা অধিক সম্মান প্রদর্শনকারী এবং তাঁর অনুসরণে ও তাঁর আনীত দ্বীনকে সাহায্য করার ব্যাপারে তাঁর চেয়ে অধিক সংকল্পবদ্ধ আর কাউকে দেখিনি। এমনকি কোনো মাসআলায় যখন তাঁর কোনো হাদিস আসত এবং তিনি দেখতেন যে তা কোনো কিছু দ্বারা রহিত হয়নি...
(খণ্ড: ১) আল-আলামুল আলিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২৯)
غَيره من حَدِيثه يعْمل بِهِ وَيَقْضِي ويفتي بِمُقْتَضَاهُ وَلَا يلْتَفت الى قَول غَيره من المخلوقين كَائِنا من كَانَ وَقَالَ رضي الله عنه كل قَائِل إِنَّمَا يحْتَج لقَوْله لَا بِهِ أَلا الله وَرَسُوله

وَكَانَ إِذا فرغ من درسه يفتح عَيْنَيْهِ وَيقبل على النَّاس بِوَجْه طلق بشيش وَخلق دمث كَأَنَّهُ قد لَقِيَهُمْ حِينَئِذٍ وَرُبمَا اعتذر إِلَى بَعضهم من التَّقْصِير فِي الْمقَال مَعَ ذَلِك الْحَال وَلَقَد كَانَ درسه الَّذِي يُورِدهُ حِينَئِذٍ قدر عدَّة كراريس وَهَذَا الَّذِي ذكرته من أَحْوَال درسه أَمر مَشْهُور يوافقني عَلَيْهِ كل حَاضر بهَا وهم بِحَمْد الله خلق كثير لم يحصر عَددهمْ عُلَمَاء ورؤساء وفضلاء من الْقُرَّاء والمحدثين وَالْفُقَهَاء والأدباء وَغَيرهم من عوام الْمُسلمين
তিনি তাঁর (রাসূলের) হাদিস অনুযায়ী আমল করতেন, ফয়সালা দিতেন এবং সে অনুযায়ী ফতোয়া প্রদান করতেন; আর তিনি অন্য কোনো সৃষ্টির কথার দিকে ভ্রুক্ষেপ করতেন না, সে যেই হোক না কেন। তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলতেন: "আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল ব্যতীত প্রত্যেক বক্তার বক্তব্যের সপক্ষেই দলিল পেশ করতে হয়, তার বক্তব্য নিজে কোনো দলিল নয়।"

যখন তিনি তাঁর পাঠদান শেষ করতেন, তখন তিনি তাঁর চোখ খুলতেন এবং হাস্যোজ্জ্বল, প্রফুল্ল চেহারায় ও নম্র মেজাজে মানুষের দিকে মনোনিবেশ করতেন, যেন তিনি এইমাত্র তাঁদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। সেই অবস্থায়ও তিনি অনেক সময় আলোচনায় কোনো ত্রুটি হয়ে থাকলে তাঁদের কারও কারও কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। সেই সময় তিনি যে পাঠদান করতেন তা ছিল কয়েক খাতা পরিমাণ। তাঁর পাঠদানের অবস্থা সম্পর্কে আমি যা উল্লেখ করেছি তা এক প্রসিদ্ধ বিষয়, সেখানে উপস্থিত থাকা সকলেই এ ব্যাপারে আমার সাথে একমত পোষণ করবেন। আল্লাহর প্রশংসায় তারা ছিল এক বিশাল জনসমষ্টি যাদের সংখ্যা গণনা করা সম্ভব নয়—আলেম, নেতা, ক্বারী, মুহাদ্দিস, ফকীহ, সাহিত্যিক এবং সাধারণ মুসলিমদের মধ্য থেকে অন্যান্য গুণীজন।
(খণ্ড: ১) আল-আলামুল আলিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌الْفَصْل الثَّالِث

فِي ذكر مَعْرفَته بأنواع أَجنَاس الْمَذْكُور وَالْمقول وَالْمَنْقُول والمتصور وَالْمَفْهُوم والمعقول

 

أما مَعْرفَته بِصَحِيح الْمَنْقُول وسقيمه فَإِنَّهُ فِي ذَلِك من الْجبَال الَّتِي لَا ترتقي ذروتها وَلَا ينَال سنامها قل أَن ذكر لَهُ قَول الا وَقد احاط علمه بمبتكره وذاكره وناقله واثره أَو راو الا وَقد عرف حَاله من جرح وتعديل بإجمال وتفصيل

حكى من يوثق بنقله انه كَانَ يَوْمًا بِمَجْلِس ومحدث يقْرَأ عَلَيْهِ بعض الْكتب الحديثية وَكَانَ سريع الْقِرَاءَة فعارضه الشَّيْخ فِي اسْم رجل فِي سَنَد الحَدِيث قد ذكره القاريء بِسُرْعَة فَذكر الشَّيْخ ان اسْمه فلَان بِخِلَاف مَا قَرَأَ فاعتبروه فوجدوه كَمَا قَالَ الشَّيْخ

فَانْظُر الى هَذَا الادراك السَّرِيع والتنبيه الدَّقِيق العجيب وَلَا يقدر على مثله الا من اشتدت مَعْرفَته وَقَوي ضَبطه

وَأما مَا وهبه الله تَعَالَى ومنحه بِهِ من استنباط الْمعَانِي من الالفاظ النَّبَوِيَّة والاخبار المروية وابراز الدَّلَائِل مِنْهَا على الْمسَائِل وَتبين مَفْهُوم اللَّفْظ ومنطوقه وايضاح الْمُخَصّص للعام والمقيد للمطلق
তৃতীয় পরিচ্ছেদ

উল্লিখিত, উক্ত, বর্ণিত, কল্পিত, অনুধাবনকৃত এবং যুক্তিগ্রাহ্য বিষয়ের বিভিন্ন প্রকার সম্পর্কে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্যের বর্ণনায়।

 

বিশুদ্ধ এবং দুর্বল বর্ণিত রেওয়ায়ত সম্পর্কে তাঁর জ্ঞানের কথা বলতে গেলে বলতে হয় যে, তিনি এ ক্ষেত্রে এমন সব সুউচ্চ পাহাড়ের ন্যায় ছিলেন যার চূড়ায় আরোহণ করা যায় না এবং যার শিখর স্পর্শ করা সম্ভব নয়। তাঁর সামনে কোনো বক্তব্য উল্লেখ করা হলে খুব কমই এমন হতো যে, তিনি সেই বক্তব্যের উদ্ভাবক, প্রবক্তা, বর্ণনাকারী এবং এর উৎস সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান রাখতেন না। অথবা এমন কোনো বর্ণনাকারী ছিল না যার সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিত অবস্থা—জারহ (সমালোচনা) ও তা'দীল (নির্ভরযোগ্যতা নির্ধারণ)—সম্পর্কে তিনি অবহিত ছিলেন না।

যার বর্ণনা নির্ভরযোগ্য এমন এক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যে, একদিন তিনি এক মজলিসে উপস্থিত ছিলেন এবং একজন মুহাদ্দিস তাঁর সামনে হাদীসের কিছু কিতাব পাঠ করছিলেন। সেই পাঠক খুব দ্রুত পাঠ করছিলেন। পাঠক দ্রুততার সাথে হাদীসের সনদে একজন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করলে শায়খ তাকে বাধা দেন। শায়খ উল্লেখ করেন যে, লোকটির নাম হবে অমুক, যা পাঠক যা পড়েছেন তার বিপরীত ছিল। পরে যখন তারা বিষয়টি যাচাই করলেন, তখন শায়খ যা বলেছিলেন ঠিক তেমনই পেলেন।

সুতরাং এই দ্রুত উপলব্ধি এবং সূক্ষ্ম ও বিস্ময়কর সতর্কতার দিকে লক্ষ্য করুন। যার জ্ঞান অত্যন্ত গভীর এবং শব্দ ও অর্থের ওপর নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত মজবুত, তিনি ছাড়া আর কেউ এমন কাজ করতে সক্ষম নন।

আর মহান আল্লাহ তাঁকে নববী শব্দাবলী এবং বর্ণিত হাদীসসমূহ থেকে অর্থ উদ্ভাবন করা, সেগুলো থেকে বিভিন্ন মাসআলার দলীল বের করা, শব্দের মাফহূম (ব্যঞ্জিত অর্থ) ও মানতূক (উচ্চারিত অর্থ) স্পষ্ট করা এবং সাধারণ (আম) শব্দের জন্য বিশেষক (খাস) এবং নিঃশর্ত (মুতলাক) শব্দের জন্য শর্তযুক্তকারী (মুকাইয়্যাদ) বিষয়সমূহ সুস্পষ্ট করার যে তৌফিক ও দান দান করেছেন তা অতুলনীয়।
(খণ্ড: ১) আল-আলামুল আলিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৩১)
والناسخ للمنسوخ وتبيين ضوابطها ولوازمها وملزوماتها وَمَا يَتَرَتَّب عَلَيْهَا وَمَا يحْتَاج فِيهِ اليها

حَتَّى كَانَ اذا ذكر آيَة اَوْ حَدِيثا وَبَين مَعَانِيه وَمَا اريد بِهِ اعْجَبْ الْعَالم الفطن من حسن استنباطه ويدهشه مَا سَمعه اَوْ وقف عَلَيْهِ مِنْهُ

وَلَقَد سُئِلَ يَوْمًا عَن الحَدِيث لعن الله الْمُحَلّل والمحلل لَهُ فَلم يزل يُورد فِيهِ وَعَلِيهِ حَتَّى بلغ كَلَامه فِيهِ مجلدا كَبِيرا

وَقل ان كَانَ يذكر لَهُ حَدِيث اَوْ حكم فيشاء ان يتَكَلَّم عَلَيْهِ يَوْمه اجْمَعْ الا فعل اَوْ يقْرَأ بِحَضْرَتِهِ اية من كتاب الله تَعَالَى ويشرع فِي تَفْسِيرهَا الا وَقطع الْمجْلس كُله فِيهَا

واما مَا خصة الله تَعَالَى بِهِ من مُعَارضَة اهل الْبدع فِي بدعتهم واهل الاهواء فِي اهوائهم وَمَا الفه فِي ذَلِك من دحض اقوالهم وتزييف امثالهم واشكالهم واظهار عوارهم وانتحالهم وتبديد شملهم وَقطع اوصالهم واجوبته عَن شبههم الشيطانية ومعارضتهم النفسانية للشريعة الحنيفية المحمدية بِمَا منحه الله تَعَالَى بِهِ
রহিতকারী ও রহিত বিধানের বিবরণ এবং এর নীতিমালা, প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গসমূহ, এর ফলাফল এবং এ বিষয়ে যা কিছু প্রয়োজন তা সুস্পষ্ট করার ক্ষেত্রে (তিনি ছিলেন অনন্য)।

অবস্থা এমন ছিল যে, তিনি যখন কোনো আয়াত বা হাদিস উল্লেখ করতেন এবং এর অর্থ ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতেন, তখন কোনো তীক্ষ্ণধী বিজ্ঞ আলিমও তাঁর চমৎকার বিধান আহরণ পদ্ধতি দেখে মুগ্ধ হতেন এবং তাঁর থেকে যা শুনতেন বা যা তিনি লিখেছেন তা দেখে বিস্মিত হতেন।

একদিন তাঁকে এই হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: 'আল্লাহ অভিশাপ দিয়েছেন হালালাকারীকে এবং যার জন্য হালালা করা হয় তাকে।' তিনি এই বিষয়ে আলোচনা ও দলিলাদি উপস্থাপন করতেই থাকলেন, এমনকি এই বিষয়ে তাঁর বক্তব্য একটি বিশাল গ্রন্থে রূপ নিল।

খুব কমই এমন হতো যে, তাঁর কাছে কোনো হাদিস বা মাসআলা উল্লেখ করা হয়েছে আর তিনি চাইলে সারাদিন সেটি নিয়ে আলোচনা করতে পারতেন না। অথবা তাঁর উপস্থিতিতে মহান আল্লাহর কিতাব থেকে কোনো আয়াত পাঠ করা হলে তিনি তার তাফসির শুরু করতেন এবং পুরো মজলিসই সেই একটি আয়াতের তাফসিরে শেষ হয়ে যেত।

আর বিদআতিদের বিদআত এবং প্রবৃত্তিপূজারীদের খেয়ালখুশির মোকাবিলায় মহান আল্লাহ তাঁকে যে বিশেষ বৈশিষ্ট্য দান করেছিলেন—তাদের বক্তব্য খণ্ডন, তাদের ভ্রান্ত উপমা ও সংশয়সমূহ বাতিল করা, তাদের ত্রুটি ও জালিয়াতি প্রকাশ করা, তাদের সংহতি বিনষ্ট এবং তাদের শক্তি চূর্ণ করার লক্ষ্যে তিনি যা কিছু রচনা করেছেন; এছাড়া আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত তৌফিকের মাধ্যমে সুপ্রতিষ্ঠিত মুহাম্মাদী শরীয়তের বিরুদ্ধে তাদের শয়তানি সংশয় ও কুপ্রবৃত্তিপ্রসূত আপত্তির যে জবাব তিনি দিয়েছেন (তা অতুলনীয়)।
(খণ্ড: ১) আল-আলামুল আলিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৩২)
من البصائر الرحمانية والدلائل النقلية والتوضيحات الْعَقْلِيَّة حَتَّى ينْكَشف قناع الْحق وَبَان بِمَا جمعه فِي ذَلِك والفه الْكَذِب من الصدْق حَتَّى لَو ان اصحابها احياء ووفقوا لغير الشَّقَاء لاذعنوا لَهُ بالتصديق ودخلوا فِي الدّين الْعَتِيق

وَلَقَد وَجب على كل من وقف عَلَيْهَا وَفهم مَا لَدَيْهَا ان يحمد الله تَعَالَى على حسن توفيقه هَذَا الامام لنصر الْحق بالبراهين الْوَاضِحَة الْعِظَام

حَدثنِي غير وَاحِد من الْعلمَاء الْفُضَلَاء النبلاء الممعنين بالخوض فِي اقاويل الْمُتَكَلِّمين لاصابة الثَّوَاب وتمييز القشر من اللّبَاب

ان كلا مِنْهُم لم يزل حائرا فِي تجاذب اقوال الاصوليين ومعقولاتهم وانه لم يسْتَقرّ فِي قلبه مِنْهَا قَول وَلم يبن لَهُ من مضمونها حق بل رَآهَا كلهَا موقعة فِي الْحيرَة والتضليل وجلها ممعن بتكلف الادلة وَالتَّعْلِيل وانه كَانَ خَائفًا على نَفسه من الْوُقُوع بِسَبَبِهَا فِي التشكيك والتعطيل حَتَّى من الله تَعَالَى عَلَيْهِ بمطالعته مؤلفات هَذَا الامام احْمَد ابْن تَيْمِية شيخ الاسلام وَمَا اورده من النقليات والعقليات فِي هَذَا النظام فَمَا هُوَ الا ان وقف عَلَيْهَا وفهمها فرآها مُوَافقَة لِلْعَقْلِ السَّلِيم وَعلمهَا حَتَّى انجلى مَا كَانَ قد غشيه من اقوال الْمُتَكَلِّمين من الظلام وَزَالَ عَنهُ مَا خَافَ ان
ঐশী অন্তর্দৃষ্টি, বর্ণনামূলক প্রমাণ এবং যৌক্তিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে সত্যের আবরণ উন্মোচিত হয়েছে এবং তিনি এতে যা কিছু সংগ্রহ ও সংকলন করেছেন, তার মাধ্যমে সত্য থেকে মিথ্যা পৃথক হয়ে গেছে। এমনকি যদি ওই মতবাদগুলোর প্রবক্তারা জীবিত থাকতেন এবং দুর্ভাগ্যের পরিবর্তে সত্য গ্রহণের তাওফিক পেতেন, তবে তারাও সত্যের নিকট নতি স্বীকার করতেন এবং প্রাচীন দ্বীনে প্রবেশ করতেন।

যিনিই এই বিষয়গুলো পাঠ করেছেন এবং এর সারমর্ম উপলব্ধি করেছেন, তাঁর ওপর কর্তব্য হলো মহান আল্লাহর প্রশংসা করা যে, তিনি এই ইমামকে সুস্পষ্ট ও মহান প্রমাণের মাধ্যমে সত্যকে সাহায্য করার উত্তম তাওফিক দান করেছেন।

অনেক গুণী ও শ্রেষ্ঠ আলেম, যারা সওয়াবের আশায় এবং অসার অংশ থেকে সারবস্তুকে পৃথক করার জন্য মুতাকাল্লিমদের বক্তব্যের গভীরে নিমজ্জিত হয়েছিলেন, তারা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে—

তাদের প্রত্যেকেই উসুলবিদদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ও যুক্তিতর্কের গোলকধাঁধায় বিভ্রান্ত ছিলেন। তাদের হৃদয়ে এগুলোর কোনোটিই স্থির হতে পারছিল না এবং সত্য তাদের নিকট স্পষ্ট হচ্ছিল না। বরং তারা সেগুলোকে বিভ্রান্তিকর এবং পথভ্রষ্টকারী হিসেবে দেখতে পাচ্ছিলেন। সেগুলোর অধিকাংশ ছিল কৃত্রিম প্রমাণ ও ব্যাখ্যার বেড়াজালে আবদ্ধ। তারা নিজেদের ব্যাপারে আশঙ্কা করছিলেন যে, এগুলোর কারণে হয়তো তারা সন্দেহ ও আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করার (তা'তিল) গর্তে নিপতিত হবেন। অবশেষে মহান আল্লাহ শাইখুল ইসলাম ইমাম আহমাদ ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর গ্রন্থসমূহ এবং এই জ্ঞানকাণ্ডে তাঁর উপস্থাপিত দলিল ও যুক্তিসমূহ অধ্যয়নের মাধ্যমে তাদের ওপর অনুগ্রহ করলেন। এরপর তারা যখনই এগুলো পাঠ ও উপলব্ধি করলেন, সেগুলোকে সুস্থ বিবেকের সাথে সংগতিপূর্ণ দেখতে পেলেন। তারা এগুলো জানতে পারলেন এবং মুতাকাল্লিমদের বক্তব্য থেকে আসা অন্ধকার তাদের নিকট থেকে বিদায় নিল। তাদের সেই আশঙ্কাও দূর হয়ে গেল যা—
(খণ্ড: ১) আল-আলামুল আলিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
يَقع فِيهِ من الشَّك وظفر بالمرام

وَمن اراد اختبار صِحَة مَا قلته فليقف بِعَين الانصاف الْعرية عَن الْحَسَد والانحراف ان شَاءَ على مختصراته فِي هَذَا الشَّأْن ك شرح الاصبهانية وَنَحْوهَا وان شَاءَ على مطولاته ك تَخْلِيص التلبيس من تأسيس التَّقْدِيس والموافقة بَين الْعقل وَالنَّقْل ومنهاج الاسْتقَامَة والاعتدال فَإِنَّهُ وَالله يظفر بِالْحَقِّ وَالْبَيَان ويستمسك بأوضح برهَان ويزن حِينَئِذٍ فِي ذَلِك بأصح ميزَان

وَلَقَد اكثر رضي الله عنه التصنيف فِي الاصول فضلا عَن غَيره من بَقِيَّة الْعُلُوم فَسَأَلته عَن سَبَب ذَلِك والتمست مِنْهُ تأليف نَص فِي الْفِقْه يجمع اختياراته وترجيحاته ليَكُون عُمْدَة فِي الافتاء فَقَالَ لي مَا مَعْنَاهُ الْفُرُوع امرها قريب وَمن قلد الْمُسلم فِيهَا اُحْدُ الْعلمَاء المقلدين جَازَ لَهُ الْعَمَل بقوله مَا لم يتَيَقَّن خطأه واما الاصول فَإِنِّي رايت اهل الْبدع والضلالات والاهواء كالمتفلسفة والباطنية والملاحدة والقائلين بوحدة الْوُجُود والدهرية والقدرية والنصيرية والجهمية والحلولية والمعطلة والمجسمة والمشبهة والراوندية والكلابية والسليمية وَغَيرهم من اهل الْبدع

قد تجاذبوا فِيهَا بأزمة الضلال وَبَان لي ان كثيرا مِنْهُم انما قصد ابطال الشَّرِيعَة المقدسة المحمدية الظَّاهِرَة الْعلية على كل دين وان جمهورهم اوقع النَّاس فِي التشكيك فِي اصول دينهم وَلِهَذَا
যাতে সন্দেহ পতিত হয় এবং অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জিত হয়।

আর যে ব্যক্তি আমার কথার সত্যতা যাচাই করতে চায়, সে যেন হিংসা ও বক্রতামুক্ত ইনসাফের দৃষ্টিতে নজর দেয়; সে চাইলে এই বিষয়ে তাঁর সংক্ষিপ্ত রচনাবলি যেমন ‘শারহুল আসবাহানিয়্যাহ’ ও এর সমজাতীয় গ্রন্থগুলো দেখতে পারে, আর চাইলে তাঁর দীর্ঘ রচনাবলি যেমন ‘তাখলিসুত তালবিস মিন তাসিসিত তাকদিস’, ‘আল-মুয়াফাকাহ বাইনাল আকলি ওয়ান নাকল’ এবং ‘মিনহাজুল ইস্তিকামাহ ওয়াল ই’তিদাল’ দেখতে পারে। কেননা সে আল্লাহর কসম—সত্য ও সুস্পষ্ট বর্ণনার দেখা পাবে, সবচেয়ে স্পষ্ট দলীলকে মজবুতভাবে ধারণ করতে পারবে এবং তখন সে বিষয়টিকে সঠিক মানদণ্ডে পরিমাপ করতে পারবে।

আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন—তিনি অন্যান্য ইলম ছাড়াও উসুল বা মূলনীতি শাস্ত্রে প্রচুর কিতাব রচনা করেছেন। আমি তাঁকে এর কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম এবং তাঁর কাছে ফিকহ শাস্ত্রের ওপর এমন একটি গ্রন্থ রচনার অনুরোধ করেছিলাম যা তাঁর পছন্দ ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়গুলোকে একত্রিত করবে, যেন তা ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে একটি প্রধান অবলম্বন হতে পারে। তখন তিনি আমাকে যার মর্মার্থ এই—এমনটি বললেন: "ফুরু বা শাখা-প্রশাখার বিষয়টি সহজ। মুসলমানদের মধ্যে যে কেউ এই বিষয়ে অনুসরণযোগ্য আলেমদের কাউকে অনুসরণ করলে তার জন্য তাঁর কথা অনুযায়ী আমল করা বৈধ, যতক্ষণ না সে তাঁর ভুল সম্পর্কে নিশ্চিত হয়। কিন্তু উসুলের (আকিদার মূলনীতি) ব্যাপারে আমি দেখেছি যে বিদআতি, পথভ্রষ্ট ও প্রবৃত্তিপূজারী গোষ্ঠীগুলো—যেমন দার্শনিক, বাতিনিয়াহ, নাস্তিক, ওয়াহদাতুল ওজুদপন্থী, দাহরিয়াহ, কাদারিয়াহ, নুসাইরিয়াহ, জাহমিয়াহ, হুলুলিয়াহ, মুয়াত্তিলাহ, মুজাস্সিমাহ, মুশাব্বিহাহ, রাওয়ান্দিয়াহ, কুল্লাবিয়াহ, সালিমিয়াহ এবং অন্যান্য বিদআতি গোষ্ঠী—

তারা এতে পথভ্রষ্টতার লাগাম নিয়ে টানাটানি করছে। আমার কাছে এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, তাদের অনেকের উদ্দেশ্যই হলো পবিত্র মুহাম্মাদী শরীয়তকে বাতিল করা, যা সকল দ্বীনের ওপর প্রকাশ্য ও সমুন্নত। তাদের অধিকাংশ মানুষকে তাদের দ্বীনের মূলনীতিসমূহের ব্যাপারে সন্দেহের মধ্যে নিপতিত করেছে। আর এই কারণেই—
(খণ্ড: ১) আল-আলামুল আলিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
قل ان سَمِعت اَوْ رَأَيْت معرضًا عَن الْكتاب وَالسّنة مُقبلا على مقالاتهم الا وَقد تزندق اَوْ صَار على غير يَقِين فِي دينه واعتقاده

فَلَمَّا رَأَيْت الامر على ذَلِك بَان لي انه يجب على كل من يقدر على دفع شبههم واباطيلهم وَقطع حجتهم واضاليلهم ان يبْذل جهده ليكشف رذائلهم ويزيف دلائلهم ذبا عَن المللة الحنيفية وَالسّنة الصَّحِيحَة الجلية

وَلَا وَالله مَا رَأَيْت فيهم احدا مِمَّن صنف فِي هَذَا الشَّأْن وَادّعى عُلُوم الْمقَام الا وَقد ساعد بمضمون كَلَامه فِي هدم قَوَاعِد دين الاسلام

وَسبب ذَلِك اعراضه عَن الْحق الْوَاضِح الْمُبين وَعَن مَا جَاءَت بِهِ الرُّسُل الْكِرَام عَن رب الْعَالمين واتباعه طرق الفلسفة فِي الاصطلاحات الَّتِي سَموهَا بزعمهم حكميات وعقليات وانما هِيَ جهالات وضلالات وَكَونه التزمها معرضًا عَن غَيرهَا اصلا ورأسا فَغلبَتْ عَلَيْهِ حَتَّى غطت على عقله السَّلِيم فتخبط حَتَّى خبط فِيهَا عشوا وَلم يفرق بَين الْحق وَالْبَاطِل والا فَالله اعظم لطفا بعباده ان لَا يَجْعَل لَهُم عقلا يقبل الْحق ويثبته وَيبْطل الْبَاطِل وينفيه لَكِن عدم التَّوْفِيق وَغَلَبَة الْهوى اوقع من اوقع فِي الضلال وَقد جعل الله تَعَالَى الْعقل السَّلِيم من الشوائب ميزانا يزن بِهِ العَبْد الواردات فَيُفَرق بِهِ بَين مَا هُوَ من قبيل الْحق
বলুন, আপনি যদি কাউকে দেখেন বা শোনেন যে সে কিতাব ও সুন্নাহ থেকে বিমুখ হয়ে তাদের বক্তব্যের দিকে ঝুঁকেছে, তবে জেনে রাখুন যে সে হয় যিনদীক হয়ে গেছে অথবা তার দ্বীন ও আকিদার ব্যাপারে সংশয়ে নিপতিত হয়েছে।

যখন আমি বিষয়টি এমন দেখলাম, তখন আমার কাছে স্পষ্ট হলো যে, তাদের সংশয় ও অসারতা খণ্ডন করার এবং তাদের দলিল ও বিভ্রান্তি ছিন্ন করার ক্ষমতা যার আছে, তার জন্য আবশ্যিক হলো নিজের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করা; যাতে তাদের নিকৃষ্টতা উন্মোচিত হয় এবং তাদের দলিলগুলোর অসারতা প্রমাণিত হয়। এটি হবে একনিষ্ঠ আদর্শ ও সুস্পষ্ট সঠিক সুন্নাহর প্রতিরক্ষাস্বরূপ।

আল্লাহর কসম! আমি তাদের মধ্যে এমন কাউকে দেখিনি যারা এই বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং আধ্যাত্মিক স্তরের জ্ঞানের দাবি করেছেন, অথচ তারা তাদের বক্তব্যের বিষয়বস্তুর মাধ্যমে ইসলাম ধর্মের মূলভিত্তিগুলো ধ্বংস করতে সহায়তা করেননি।

এর কারণ হলো সুস্পষ্ট ও প্রকাশ্য সত্য থেকে এবং জগতসমূহের রবের পক্ষ থেকে সম্মানিত রাসূলগণ যা নিয়ে এসেছেন তা থেকে তাদের বিমুখতা; এবং দর্শনের সেই পরিভাষাগুলোর অনুসরণ যেগুলোকে তারা তাদের ধারণা অনুযায়ী যৌক্তিক ও হিকমতপূর্ণ বিষয় বলে নামকরণ করেছে, অথচ সেগুলো মূলত মূর্খতা ও গোমরাহি ছাড়া আর কিছুই নয়। সে এগুলোর প্রতি এমনভাবে আসক্ত হয়েছে যে অন্য সবকিছু থেকে পুরোপুরি বিমুখ হয়ে পড়েছে। ফলে এটি তার ওপর এমনভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে যে তার সুস্থ বিবেককে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে। এর ফলে সে লক্ষ্যহীনভাবে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং সত্য ও মিথ্যার মাঝে পার্থক্য করতে পারে না। নতুবা আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি অনেক বেশি দয়ালু যে তিনি তাদের এমন বিবেক দেবেন না যা সত্যকে গ্রহণ ও সাব্যস্ত করবে এবং মিথ্যাকে বাতিল ও প্রত্যাখ্যান করবে। কিন্তু তাওফীকের অভাব এবং প্রবৃত্তির তাড়না বিভ্রান্তদের বিভ্রান্তিতে নিপতিত করেছে। অথচ আল্লাহ তাআলা কলুষতামুক্ত সুস্থ বিবেককে একটি মানদণ্ড হিসেবে সৃষ্টি করেছেন, যার মাধ্যমে বান্দা তার নিকট আগত বিষয়গুলো পরিমাপ করে এবং এর দ্বারা সত্যের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোকে পৃথক করতে পারে।
(খণ্ড: ১) আল-আলামুল আলিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৩৫)
وَمَا هُوَ من قبيل الْبَاطِل وَلم يبْعَث الله الرُّسُل الا الى ذَوي الْعقل وَلم يَقع التَّكْلِيف الا مَعَ وجوده فَكيف يُقَال انه مُخَالف لبَعض مَا جَاءَت بِهِ الرُّسُل الْكِرَام عَن الله تَعَالَى هَذَا بَاطِل قطعا يشْهد لَهُ كل عقل سليم لَكِن {وَمن لم يَجْعَل الله لَهُ نورا فَمَا لَهُ من نور}

قَالَ الشَّيْخ الامام قدس الله روحه فَهَذَا وَنَحْوه هُوَ الَّذِي اوجب اني صرفت جلّ همي الى الاصول والزمني ان اوردت مقالاتهم واجبت عَنْهَا بِمَا انْعمْ الله تَعَالَى بِهِ من الاجوبة النقلية والعقلية

قلت وَقد ابان بِحَمْد الله تَعَالَى فِيمَا الف فِيهَا لكل بَصِير الْحق من الْبَاطِل واعانة بتوفيقه حَتَّى رد عَلَيْهِم بدعهم وآراءهم وخدعهم واهواءهم مَعَ الدَّلَائِل النقلية بالطريقة الْعَقْلِيَّة حَتَّى يُجيب عَن كل شُبْهَة من شبههم بعدة اجوبة جلية وَاضِحَة يَعْقِلهَا كل ذِي عقل صَحِيح وَيشْهد لصحتها كل عَاقل رجيح

فَالْحَمْد لله الَّذِي من علينا بِرُؤْيَتِهِ وصحبته فَلَقَد جعله الله حجَّة على اهل هَذَا الْعَصْر المعرض غَالب اهله عَن قَلِيله وَكَثِيره لاشتغالهم بفاني الدُّنْيَا عَمَّا يحصل بِهِ بَاقِي الاخرة فَلَا حول وَلَا قُوَّة الا بِاللَّه

لَكِن الله ذُو الْقُوَّة المتين ضمن حفظ هَذَا الدّين الى يَوْم الدّين واظهره على كل دين فَالْحَمْد لله رب الْعَالمين
আর এটি বাতিলের অন্তর্ভুক্ত নয়। আল্লাহ তাআলা কেবল বিবেচনাশক্তি সম্পন্নদের নিকটই রাসুলদের পাঠিয়েছেন এবং বুদ্ধির অস্তিত্ব ছাড়া কোনো শরয়ি বিধানের বাধ্যবাধকতা (তাকলিফ) কার্যকর হয় না। সুতরাং কীভাবে বলা যায় যে, এটি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সম্মানিত রাসুলগণ যা নিয়ে এসেছেন তার কোনো অংশের বিরোধী? এটি নিশ্চিতভাবে বাতিল বা অসার একটি কথা, যা প্রত্যেক সুস্থ বিবেক সাক্ষ্য দেয়। কিন্তু "আল্লাহ যাকে আলো দান করেন না, তার জন্য কোনো আলো নেই।"

শায়খুল ইমাম (আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন) বলেছেন: এই এবং এই জাতীয় বিষয়গুলোই আমাকে আমার প্রধান মনোযোগ উসূল বা মূলনীতির দিকে নিবদ্ধ করতে বাধ্য করেছে এবং আমাকে তাদের বক্তব্যগুলো তুলে ধরতে ও আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে প্রাপ্ত নিয়ামতস্বরূপ বর্ণনাগত (নকলি) এবং যৌক্তিক (আকলি) জবাবের মাধ্যমে সেগুলোর উত্তর দিতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

আমি বলছি, তিনি আল্লাহ তাআলার প্রশংসায় যা কিছু রচনা করেছেন তাতে প্রত্যেক অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তির কাছে সত্য ও মিথ্যাকে সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন। আল্লাহ স্বীয় তাওফিক দ্বারা তাকে সাহায্য করেছেন, এমনকি তিনি তাদের বিদআত, মনগড়া মতবাদ, প্রতারণা ও কুপ্রবৃত্তিকে যৌক্তিক পদ্ধতিতে বর্ণনাগত দলিলের মাধ্যমে খণ্ডন করেছেন। এমনকি তিনি তাদের প্রতিটি সংশয়ের বিপরীতে এমন একাধিক সুষ্পষ্ট ও প্রাঞ্জল জবাব দিয়েছেন যা প্রত্যেক সুস্থ বিবেক সম্পন্ন ব্যক্তি অনুধাবন করতে পারে এবং প্রত্যেক শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিমান তার সঠিকতার সাক্ষ্য প্রদান করে।

সুতরাং সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি তাঁকে দেখা এবং তাঁর সান্নিধ্য লাভের মাধ্যমে আমাদের ধন্য করেছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁকে এই যুগের মানুষের জন্য হুজ্জাত বা প্রমাণ হিসেবে নিযুক্ত করেছেন, যে যুগের অধিকাংশ মানুষ পার্থিব নশ্বর কাজে লিপ্ত হয়ে আখিরাতের অবিনশ্বর পাথেয় অর্জন থেকে বিমুখ হয়ে পড়েছে। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো ক্ষমতা বা শক্তি নেই।

কিন্তু প্রবল শক্তিশালী ও সুদৃঢ় আল্লাহ কিয়ামত পর্যন্ত এই দ্বীন সংরক্ষণের জিম্মাদারি নিয়েছেন এবং একে সমস্ত দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেছেন। সুতরাং সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) আল-আলামুল আলিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৩৬)
‌‌الْفَصْل الرَّابِع

فِي ذكر تعبده

 

اما تعبده رضي الله عنه فَإِنَّهُ قل ان سمع بِمثلِهِ لانه كَانَ قد قطع جلّ وقته وزمانه فِيهِ حَتَّى انه لم يَجْعَل لنَفسِهِ شاغلة تشغله عَن الله تَعَالَى مَا يُرَاد لَهُ لَا من اهل وَلَا من مَال

وَكَانَ فِي لَيْلَة متفردا عَن النَّاس كلهم خَالِيا بربه عز وجل ضارعا مواظبا على تِلَاوَة الْقُرْآن الْعَظِيم مكررا لانواع التعبدات الليلية والنهارية وَكَانَ اذا ذهب اللَّيْل وَحضر مَعَ النَّاس بَدَأَ بِصَلَاة الْفجْر يَأْتِي بسنتها قبل اتيانه اليهم وَكَانَ اذا احرم بِالصَّلَاةِ تكَاد تتخلع الْقُلُوب لهيبة اتيانه بتكبيرة الاحرام فَإِذا دخل فِي الصَّلَاة ترتعد اعضاؤه حَتَّى يميله يمنة ويسرة وَكَانَ اذا قَرَأَ يمد قِرَاءَته مدا كَمَا صَحَّ فِي قِرَاءَة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَكَانَ رُكُوعه
চতুর্থ পরিচ্ছেদ

তাঁর ইবাদত-বন্দেগির বর্ণনায়

 

তাঁর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) ইবাদত-বন্দেগির ব্যাপারে বলা যায় যে, এর অনুরূপ দৃষ্টান্ত খুব কমই শোনা গেছে। কেননা তিনি তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় ও কাল এর মধ্যেই অতিবাহিত করেছিলেন; এমনকি তিনি নিজের জন্য এমন কোনো বিষয়কে ব্যস্ততা হিসেবে গ্রহণ করেননি যা তাঁকে মহান আল্লাহ এবং তাঁর সন্তুষ্টির পথ থেকে বিমুখ করতে পারে, তা পরিবার হোক কিংবা ধন-সম্পদ।

তিনি রাতে সকল মানুষ হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে তাঁর মহান ও পরাক্রমশালী রবের সাথে নির্জনে সময় কাটাতেন; অত্যন্ত বিনয়াবনত হয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে মহান কুরআন তিলাওয়াতে রত থাকতেন এবং দিন ও রাতের বিভিন্ন প্রকার ইবাদত বারবার সম্পাদন করতেন। যখন রাত শেষ হতো এবং তিনি লোকসমক্ষে উপস্থিত হতেন, তখন ফজরের সালাত দিয়ে শুরু করতেন এবং মানুষের নিকট আসার পূর্বেই এর সুন্নাত আদায় করে নিতেন। তিনি যখন সালাতের জন্য তাকবীরে তাহরীমা বলতেন, তখন তাঁর তাকবীরের গাম্ভীর্যের কারণে অন্তরসমূহ যেন বিদীর্ণ হওয়ার উপক্রম হতো। অতঃপর যখন তিনি সালাতে নিমগ্ন হতেন, তখন তাঁর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এমনভাবে প্রকম্পিত হতো যে তা তাঁকে ডানে ও বামে হেলিয়ে দিত। তিনি যখন কিরাত পাঠ করতেন, তখন দীর্ঘ করে পাঠ করতেন, যেমনটি রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর কিরাত সম্পর্কে সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে। আর তাঁর রুকু ছিল
(খণ্ড: ১) আল-আলামুল আলিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৩৭)
وَسُجُوده وانتصابه عَنْهُمَا من اكمل مَا ورد فِي صَلَاة الْفَرْض وَكَانَ يُخَفف جُلُوسه للتَّشَهُّد الاول خفَّة شَدِيدَة ويجهر بالتسليمة الاولي حَتَّى يسمع كل من حضر

فَإِذا فرغ من الصَّلَاة اثنى على الله عز وجل هُوَ وَمن حضر بِمَا ورد من قَوْله اللَّهُمَّ انت السَّلَام ومنك السَّلَام تَبَارَكت يَا ذَا الْجلَال والاكرام ثمَّ يقبل على الْجَمَاعَة ثمَّ يَأْتِي بالتهليلات الواردات حِينَئِذٍ ثمَّ يسبح الله وَيَحْمَدهُ ويكبره ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ وَيخْتم الْمِائَة بالتهليل كَمَا ورد وَكَذَا الْجَمَاعَة ثمَّ يَدْعُو الله تَعَالَى لَهُ وَلَهُم وللمسلمين اجناس مَا ورد

وَكَانَ غَالب دُعَائِهِ

اللَّهُمَّ انصرنا وَلَا تنصر علينا وامكر لنا وَلَا تَمْكُر علينا واهدنا وَيسر الْهدى لنا اللَّهُمَّ اجْعَلْنَا لَك شاكرين لَك ذاكرين لَك اواهين لَك مخبتين اليك راغبين اليك راهبين لَك مطاويع رَبنَا تقبل توباتنا واغسل حوباتنا وَثَبت حجَجنَا
তাঁর সিজদাহ এবং উভয় সিজদাহ থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানো ছিল ফরয সালাত সম্পর্কে বর্ণিত সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত। তিনি প্রথম তাশাহহুদের বৈঠক অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত করতেন এবং প্রথম সালামটি উচ্চস্বরে প্রদান করতেন যাতে উপস্থিত সকলেই তা শুনতে পায়।

সালাত শেষ করার পর তিনি এবং উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ বর্ণিত শব্দাবলির মাধ্যমে মহান আল্লাহর প্রশংসা করতেন: হে আল্লাহ! আপনিই শান্তি, আপনার পক্ষ থেকেই শান্তি আসে, আপনি বরকতময়, হে মহিমা ও সম্মানের অধিকারী। এরপর তিনি উপস্থিত মুসল্লিদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসতেন এবং তখন বর্ণিত তাহলীলসমূহ পাঠ করতেন। এরপর তিনি আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করতেন, তাঁর প্রশংসা করতেন এবং তাঁর মহিমা বর্ণনা করতেন তেত্রিশ বার করে এবং বর্ণনা অনুযায়ী তাহলীলের মাধ্যমে একশত পূর্ণ করতেন। জামাতের লোকেরাও অনুরূপ করত। এরপর তিনি নিজের জন্য, তাদের জন্য এবং মুসলিমদের জন্য বিভিন্ন ধরণের বর্ণিত দোয়া করতেন।

তাঁর অধিকাংশ দোয়া ছিল নিম্নরূপ:

হে আল্লাহ! আমাদের সাহায্য করুন এবং আমাদের বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্য করবেন না, আমাদের পক্ষে কৌশল অবলম্বন করুন এবং আমাদের বিরুদ্ধে কৌশল করবেন না, আমাদের হিদায়াত দান করুন এবং আমাদের জন্য হিদায়াতকে সহজ করে দিন। হে আল্লাহ! আমাদের আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ, আপনার যিকিরকারী, আপনার সমীপে রোনাজারিকারী, আপনার প্রতি বিনয়ী, আপনার প্রতি অনুরাগী, আপনার প্রতি ভীতি পোষণকারী এবং আপনার অনুগত হিসেবে গড়ে দিন। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের তওবা কবুল করুন, আমাদের পাপসমূহ ধুয়ে দিন এবং আমাদের প্রমাণসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত রাখুন।
(খণ্ড: ১) আল-আলামুল আলিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৩৮)
واهد قُلُوبنَا اسلل سخيمة صدورنا

يفتتحه ويختمه بِالصَّلَاةِ على النَّبِي صلى الله عليه وسلم ثمَّ يشرع فِي الذّكر

وَكَانَ قد عرفت عَادَته لَا يكلمهُ اُحْدُ بِغَيْر ضَرُورَة بعد صَلَاة الْفجْر فَلَا يزَال فِي الذّكر يسمع نَفسه وَرُبمَا يسمع ذكره من الى جَانِبه مَعَ كَونه فِي خلال ذَلِك يكثر من تقليب بَصَره نَحْو السَّمَاء هَكَذَا دأبه حَتَّى ترْتَفع الشَّمْس وَيَزُول وَقت النَّهْي عَن الصَّلَاة

وَكنت مُدَّة اقامتي بِدِمَشْق ملازمه جلّ النَّهَار وَكَثِيرًا من اللَّيْل وَكَانَ يدنيني مِنْهُ حَتَّى يجلسني الى جَانِبه وَكنت اسْمَع مَا يَتْلُو وَمَا يذكر حِينَئِذٍ فرأيته يقْرَأ الْفَاتِحَة ويكررها وَيقطع ذَلِك الْوَقْت كُله اعني من الْفجْر الى ارْتِفَاع الشَّمْس فِي تَكْرِير تلاوتها

ففكرت فِي ذَلِك لم قد لزم هَذِه السُّورَة دون غَيرهَا فَبَان لي وَالله اعْلَم ان قَصده بذلك ان يجمع بتلاوتها حِينَئِذٍ بَين مَا ورد فِي الاحاديث وَمَا ذكره الْعلمَاء هَل يسْتَحبّ حِينَئِذٍ تَقْدِيم الاذكار الْوَارِدَة على تِلَاوَة الْقُرْآن اَوْ الْعَكْس فراى رضي الله عنه ان فِي الْفَاتِحَة وتكرارها حِينَئِذٍ جمعا بَين الْقَوْلَيْنِ وتحصيلا للفضيلتين وَهَذَا من قُوَّة فطنته وثاقب بصيرته
এবং আমাদের অন্তরসমূহকে হেদায়েত দান করুন এবং আমাদের বক্ষসমূহের কলুষতা দূর করে দিন।

তিনি তা শুরু করতেন এবং শেষ করতেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পাঠের মাধ্যমে, অতঃপর তিনি জিকিরে লিপ্ত হতেন।

তাঁর অভ্যাস সম্পর্কে জানা ছিল যে, ফজর নামাজের পর বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউ তাঁর সাথে কথা বলত না। তিনি একনাগাড়ে জিকির করে যেতেন যা তিনি নিজে শুনতে পেতেন এবং কখনও কখনও তাঁর পার্শ্ববর্তী ব্যক্তিও তাঁর জিকির শুনতে পেত। এর মধ্যে তিনি বারবার আকাশের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করতেন। সূর্য উপরে ওঠা এবং নামাজের নিষিদ্ধ সময় শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর এই রীতিই চলত।

দামেস্কে অবস্থানকালে আমি দিনের অধিকাংশ সময় এবং রাতের অনেক সময় তাঁর সাথে থাকতাম। তিনি আমাকে নিজের কাছে টেনে নিতেন, এমনকি তাঁর পাশে বসাতেন। তখন তিনি যা তিলাওয়াত ও জিকির করতেন আমি তা শুনতাম। আমি তাঁকে সূরা ফাতিহা পড়তে এবং তা বারবার পুনরাবৃত্তি করতে দেখতাম। তিনি পুরো সময়টি—অর্থাৎ ফজর থেকে সূর্য ওঠা পর্যন্ত—এর তিলাওয়াত পুনরাবৃত্তি করার মাধ্যমেই অতিবাহিত করতেন।

আমি এ বিষয়ে চিন্তা করলাম যে, কেন তিনি অন্য সূরার পরিবর্তে এই সূরাটিকেই বেছে নিলেন? তখন আমার কাছে স্পষ্ট হলো—আর আল্লাহই ভালো জানেন—যে এর মাধ্যমে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল হাদিসে বর্ণিত এবং আলেমদের আলোচিত বিষয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা; অর্থাৎ সেই সময়ে বর্ণিত জিকিরসমূহ কুরআন তিলাওয়াতের আগে করা মুস্তাহাব নাকি পরে? তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মনে করতেন যে, সূরা ফাতিহা পাঠ এবং এর পুনরাবৃত্তির মধ্যে উভয় মতের সমন্বয় এবং উভয় ফজিলত অর্জিত হয়। এটি তাঁর প্রখর বুদ্ধিমত্তা ও তীক্ষ্ণ অন্তর্দৃষ্টির পরিচায়ক।
(খণ্ড: ১) আল-আলামুল আলিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৩৯)
ثمَّ انه كَانَ يرْكَع فَإِذا اراد سَماع حَدِيث فِي مَكَان اخر سارع اليه من فوره مَعَ من يَصْحَبهُ

فَقل ان يرَاهُ اُحْدُ مِمَّن لَهُ بَصِيرَة الا وانكب على يَدَيْهِ يقبلهما حَتَّى انه كَانَ اذا رَاه ارباب المعايش يتخطون من حوانيتهم للسلام عَلَيْهِ والتبرك بِهِ وَهُوَ مَعَ هَذَا يُعْطي كلا مِنْهُم نَصِيبا وافرا من السَّلَام وَغَيره

واذا رأى مُنْكرا فِي طَرِيقه ازاله اَوْ سمع بِجنَازَة سارع الى الصَّلَاة عَلَيْهَا اَوْ تأسف على فَوَاتهَا وَرُبمَا ذهب الى قبر صَاحبهَا بعد فَرَاغه من سَماع الحَدِيث فَصلي عَلَيْهِ

ثمَّ يعود الى مَسْجده فَلَا يزَال تَارَة فِي افتاء النَّاس وَتارَة فِي قَضَاء حوائجهم حَتَّى يُصَلِّي الظّهْر مَعَ الْجَمَاعَة ثمَّ كَذَلِك بَقِيَّة يَوْمه
এরপর তিনি রুকু করতেন, অতঃপর যখন তিনি অন্য কোনো স্থানে হাদিস শোনার ইচ্ছা করতেন, তখন তার সঙ্গীদের নিয়ে তৎক্ষণাৎ সেদিকে দ্রুত অগ্রসর হতেন।

আর অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন ব্যক্তিদের মধ্যে এমন কাউকে খুব কমই দেখা যেত যে তাকে দেখে তার দুই হাতের ওপর লুটিয়ে পড়ে তা চুম্বন করত না; এমনকি অবস্থা এমন ছিল যে, যখন কর্মজীবী মানুষেরা তাকে দেখতেন, তখন তারা তাকে সালাম দিতে এবং তার মাধ্যমে বরকত হাসিল করতে তাদের দোকান ছেড়ে বেরিয়ে আসতেন। আর তিনি এ সত্ত্বেও তাদের প্রত্যেককে সালাম ও অন্যান্য বিষয়ে তাদের প্রাপ্য পূর্ণ অংশ প্রদান করতেন।

আর যখন তিনি পথে কোনো গর্হিত কাজ দেখতেন, তখন তা দূর করতেন অথবা যদি কোনো জানাজার সংবাদ শুনতেন, তবে দ্রুত তার সালাত আদায়ের জন্য ছুটে যেতেন অথবা তা সময়মতো না পেলে আক্ষেপ করতেন। কখনো কখনো হাদিস শ্রবণ থেকে অবসর হওয়ার পর তিনি মৃত ব্যক্তির কবরে যেতেন এবং তার জানাজার সালাত আদায় করতেন।

এরপর তিনি পুনরায় তার মসজিদে ফিরে আসতেন; অতঃপর কখনো মানুষকে ফতোয়া প্রদানে এবং কখনো তাদের প্রয়োজন মিটাতে ব্যস্ত থাকতেন, যতক্ষণ না জামাতের সাথে যোহরের সালাত আদায় করতেন। এরপর তার দিনের অবশিষ্ট অংশও একইভাবে অতিবাহিত হতো।
(খণ্ড: ১) আল-আলামুল আলিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৪০)
وَكَانَ مَجْلِسه عَاما للكبير وَالصَّغِير والجليل والحقير وَالْحر وَالْعَبْد وَالذكر والانثى قد وسع على كل من يرد عَلَيْهِ من النَّاس يرى كل مِنْهُم فِي نَفسه ان لم يكرم احدا بِقَدرِهِ

ثمَّ يُصَلِّي الْمغرب ثمَّ يتَطَوَّع بِمَا يسره الله ثمَّ اقْرَأ عَلَيْهِ من مؤلفاته اَوْ غَيْرِي فيفيدنا بالطرائف ويمدنا باللطائف حَتَّى يُصَلِّي الْعشَاء ثمَّ بعْدهَا كَمَا كُنَّا وَكَانَ من الاقبال على الْعُلُوم الى ان يذهب هوي من اللَّيْل طَوِيل وَهُوَ فِي خلال ذَلِك كُله فِي النَّهَار وَاللَّيْل لَا يزَال يذكر الله تَعَالَى ويوحده ويستغفره

وَكَانَ رضي الله عنه كثيرا مَا يرفع طرفه الى السَّمَاء لَا يكَاد يفتر من ذَلِك كَأَنَّهُ يرى شَيْئا يُثبتهُ بنظره فَكَانَ هَذَا دَابَّة مُدَّة إقامتي بِحَضْرَتِهِ
তাঁর মজলিস বড়-ছোট, উচ্চ-নীচ, স্বাধীন-দাস এবং নারী-পুরুষ সকলের জন্য উন্মুক্ত ছিল। তাঁর কাছে আগত সকল মানুষের জন্য তিনি প্রশস্ত ছিলেন; তাদের প্রত্যেকেই মনে করত যে, তিনি কাউকে তার মতো সম্মান করেননি।

অতঃপর তিনি মাগরিবের সালাত আদায় করতেন এবং আল্লাহ তাঁর জন্য যা সহজ করতেন সে অনুযায়ী নফল ইবাদত করতেন। এরপর আমি অথবা অন্য কেউ তাঁর সামনে তাঁরই রচিত কিতাবসমূহ পাঠ করতাম, তখন তিনি আমাদের বিরল ও চমৎকার তথ্যসমূহ দান করতেন এবং সূক্ষ্ম তত্ত্ব দ্বারা আমাদের সমৃদ্ধ করতেন। এভাবে এশার সালাত পর্যন্ত চলত এবং এরপরও আমরা পূর্বের ন্যায় থাকতাম। জ্ঞানের প্রতি এই গভীর মনোনিবেশ রাতের একটি দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হওয়া পর্যন্ত স্থায়ী হতো। আর এই সমস্ত সময়ের মধ্যে দিন ও রাতে তিনি সর্বদা মহান আল্লাহর জিকির করতেন, তাঁর একত্ববাদ বর্ণনা করতেন এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন।

আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন, তিনি প্রায়ই আকাশের দিকে তাঁর দৃষ্টি উত্তোলন করতেন এবং এতে তিনি ক্লান্ত হতেন না, যেন তিনি এমন কিছু দেখছেন যা তাঁর দৃষ্টি দিয়ে স্থির করছেন। তাঁর সান্নিধ্যে অবস্থানকালীন পুরো সময় জুড়ে এটিই ছিল তাঁর নিয়মিত অভ্যাস।
(খণ্ড: ১) আল-আলামুল আলিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৪১)
فسبحان الله مَا اقصر مَا كَانَت يَا ليتها كَانَت طَالَتْ وَلَا وَالله مَا مر على عمري الى الان زمَان كَانَ احب الي من ذَلِك الْحِين وَلَا رَأَيْتنِي فِي وَقت احسن حَالا مني حِينَئِذٍ وَمَا كَانَ الا ببركة الشَّيْخ رضي الله عنه

وَكَانَ فِي كل اسبوع يعود المرضى خُصُوصا الَّذين بالبمارستان

واخبرني غير وَاحِد مِمَّن لَا يشك فِي عَدَالَته ان جَمِيع زمن الشَّيْخ يَنْقَضِي على مَا رَأَيْته فَأَي عبَادَة وَجِهَاد افضل من ذَلِك فسبحان الْمُوفق من يَشَاء لما يَشَاء
আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করছি! সেই সময় কতই না সংক্ষিপ্ত ছিল! হায়, যদি তা দীর্ঘ হতো! আল্লাহর কসম, আমার জীবনে এখন পর্যন্ত এমন কোনো সময় অতিবাহিত হয়নি যা আমার নিকট সেই সময়ের চেয়ে অধিক প্রিয় ছিল; আর আমি নিজেকে কখনো তৎকালীন অবস্থার চেয়ে উত্তম অবস্থায় দেখিনি। আর এটি ছিল কেবল শায়খের—আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন—বরকতের কারণে।

তিনি প্রতি সপ্তাহে অসুস্থদের দেখতে যেতেন, বিশেষ করে যারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

একাধিক ব্যক্তি—যাঁদের ন্যায়পরায়ণতার বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই—আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, শায়খের সমস্ত সময় সেভাবেই অতিবাহিত হতো যেমনটি আমি দেখেছি। অতএব, এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ ইবাদত ও জিহাদ আর কী হতে পারে? সুতরাং সেই তাওফিক দাতা (আল্লাহ) অতীব পবিত্র, যিনি যাকে ইচ্ছা যা ইচ্ছা করার তাওফিক দান করেন।
(খণ্ড: ১) আল-আলামুল আলিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৪২)
‌‌الْفَصْل الْخَامِس

فِي ذكر بعض ورعه

 

كَانَ رضي الله عنه فِي الْغَايَة الَّتِي يَنْتَهِي اليها فِي الْوَرع لَان الله تَعَالَى اجراه مُدَّة عمره كلهَا عَلَيْهِ فَإِنَّهُ مَا خالط النَّاس فِي بيع وَلَا شِرَاء وَلَا مُعَاملَة وَلَا تِجَارَة وَلَا مُشَاركَة وَلَا زراعة وَلَا عمَارَة وَلَا كَانَ نَاظرا مباشرا لمَال وقف وَلم يكن يقبل جراية وَلَا صلَة لنَفسِهِ من سُلْطَان وَلَا امير وَلَا تَاجر وَلَا كَانَ مدخرا دِينَارا وَلَا درهما وَلَا مَتَاعا وَلَا طَعَاما وَإِنَّمَا كَانَت بضاعته مُدَّة حَيَاته وميراثه بعد وَفَاته رضى الله عَنهُ الْعلم اقْتِدَاء بِسَيِّد الْمُرْسلين وَخَاتم النَّبِيين مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم وعَلى آله وَصَحبه أَجْمَعِينَ فَإِنَّهُ قَالَ إِن الْعلمَاء وَرَثَة الانبياء وَإِن الانبياء لم يورثوا دِينَارا وَلَا درهما إِنَّمَا ورثوا الْعلم فَمن أَخذ بِهِ فقد اخذ بحظ وافر
‌পঞ্চম অধ্যায়

তাঁর পরহেজগারির (ওয়ারা‘) কিছু বিবরণের বর্ণনায়

 

তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) পরহেজগারির এমন এক চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত ছিলেন যেখানে সাধারণত পৌঁছানো সম্ভব; কেননা মহান আল্লাহ তাঁর গোটা জীবনকাল তাঁকে এর ওপরই পরিচালিত করেছেন। তিনি মানুষের সাথে ক্রয়-বিক্রয়, লেনদেন, ব্যবসা-বাণিজ্য, অংশীদারিত্ব, কৃষি কিংবা নির্মাণ সংক্রান্ত কোনো বিষয়েই মেলামেশা করেননি। তিনি কোনো ওয়াকফকৃত সম্পদের তত্ত্বাবধায়ক বা প্রত্যক্ষ পরিচালক ছিলেন না এবং কোনো সুলতান, আমির কিংবা ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নিজের জন্য কোনো নিয়মিত ভাতা বা উপঢৌকন গ্রহণ করতেন না। তিনি কোনো দিনার, দিরহাম, আসবাবপত্র কিংবা খাদ্যদ্রব্য সঞ্চয় করে রাখতেন না। বরং রাসূলগণের সর্দার এবং নবীগণের সমাপ্তকারী মুহাম্মদ (আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)-এর অনুসরণকল্পে তাঁর সারাজীবনের একমাত্র পুঁজি এবং ইন্তেকালের পরবর্তী উত্তরাধিকার ছিল কেবল জ্ঞান। কেননা তিনি (রাসূলুল্লাহ) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আলেমগণ নবীদের উত্তরাধিকারী। আর নবীরা কোনো দিনার বা দিরহাম উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যাননি, বরং তাঁরা উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে গেছেন জ্ঞান। সুতরাং যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করল, সে এক পরিপূর্ণ অংশ লাভ করল।"
(খণ্ড: ১) আল-আলামুল আলিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৪৩)
وَكَانَ يُنَبه الْعَاقِل بِحسن الملاطفة ودقيق المخاطبة ليختار لنَفسِهِ طريقتهم ويسلك سبيلهم وَإِن كَانَ دونهَا من الطَّرِيق من اتِّخَاذ الْمُبَاحَات جَائِز لَكِن الْعَاقِل يدله عقله على طلب الاعلى

فَأنْظر بِعَين الانصاف إِلَى مَا وفْق لَهُ هَذَا الإِمَام واجرى عَلَيْهِ مَا أقعد عَنهُ غَيره وخذل عَن طلبه لَكِن لكل شئ سَبَب وعلامة عدم التَّوْفِيق سلب الاسباب وَمن أعظم الاسباب لترك فضول الدُّنْيَا التخلي عَن غير الضَّرُورِيّ مِنْهَا

فَلَمَّا وفْق الله هَذَا الامام لرفض غير الضَّرُورِيّ مِنْهَا انصبت عَلَيْهِ العواطف الالهية فَحصل بهَا كل فَضِيلَة جليلة بِخِلَاف غَيره من عُلَمَاء الدُّنْيَا مختاريها وطالبيها والساعين لتحصيلها فانهم لما اخْتَارُوا ملاذها وَزينتهَا ورئاستها انسدت عَلَيْهِم غَالِبا طرق الرشاد فوقعوا فِي شركها يخبطون خبط عشواء ويحطبونها كحاطب ليل لَا يبالون مَا يَأْكُلُون وَلَا مَا يلبسُونَ وَلَا مَا يتأولون مَا يحصل لَهُم أغراضهم الدنيئة ومقاصدهم الخبيثة الخسيسة فهم متعاضدون على طلبَهَا يتحاسدون بِسَبَبِهَا اجسامهم مليئة وَقُلُوبهمْ من غَيرهَا فارغة وظواهرهم مزخرفة معمورة وَقُلُوبهمْ خربة مأسورة
তিনি বুদ্ধিমান ব্যক্তিকে অতিশয় হৃদ্যতা ও সূক্ষ্ম সম্বোধনের মাধ্যমে সচেতন করতেন, যাতে সে নিজের জন্য তাঁদের পদ্ধতি বেছে নেয় এবং তাঁদের পথে চলে; যদিও এর নিম্নের পথ অর্থাৎ বৈধ বিষয়াবলি গ্রহণ করা জায়েজ ছিল, তবে বুদ্ধিমান ব্যক্তিকে তার বুদ্ধি সর্বোত্তমটি অন্বেষণ করার দিকেই পথপ্রদর্শন করে।

অতএব, এই ইমামকে যে বিষয়ে তাওফিক দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর ওপর যা জারি করা হয়েছে, তার প্রতি ইনসাফের দৃষ্টিতে তাকান; অথচ অন্যকে তা থেকে বিরত রাখা হয়েছে এবং তা অন্বেষণ করা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তবে প্রতিটি বিষয়েরই একটি কারণ রয়েছে, আর তাওফিক না পাওয়ার লক্ষণ হলো উপকরণসমূহ ছিনিয়ে নেওয়া। দুনিয়ার অতিরিক্ত বিষয় ত্যাগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপায় হলো এর অপ্রয়োজনীয় বিষয়গুলো বর্জন করা।

যখন আল্লাহ এই ইমামকে দুনিয়ার অপ্রয়োজনীয় বিষয় বর্জনের তাওফিক দান করলেন, তখন তাঁর ওপর ঐশী অনুকম্পা বর্ষিত হলো, যার ফলে তিনি প্রতিটি মহান মর্যাদা অর্জন করলেন। এটি দুনিয়াদার আলেমদের বিপরীত—যারা দুনিয়াকে বেছে নিয়েছে, এর অন্বেষণকারী এবং তা হাসিলের জন্য সচেষ্ট। কেননা তারা যখন দুনিয়ার স্বাদ-আহ্লাদ, এর অলঙ্কার ও নেতৃত্বকে বেছে নিল, তখন অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের ওপর হেদায়েতের পথ রুদ্ধ হয়ে গেল। ফলে তারা এর ফাঁদে নিপতিত হলো এবং লক্ষ্যহীনভাবে হাতড়াতে লাগল ও রাতের আঁধারে কাঠ সংগ্রহকারীর মতো হয়ে গেল। তারা কী ভক্ষণ করছে, কী পরিধান করছে অথবা তাদের হীন উদ্দেশ্য ও অপবিত্র নীচ লক্ষ্য হাসিলের জন্য তারা কিসের অপব্যাখ্যা দিচ্ছে, সে ব্যাপারে তাদের কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই। তারা দুনিয়া অন্বেষণে একে অপরকে সহযোগিতা করে এবং এর কারণেই পরস্পরের প্রতি হিংসা পোষণ করে। তাদের শরীর হৃষ্টপুষ্ট কিন্তু তাদের অন্তর অন্য সবকিছু থেকে শূন্য; তাদের বাহ্যিক রূপ সুশোভিত ও চাকচিক্যময় হলেও তাদের অন্তর বিধ্বস্ত ও বন্দি।
(খণ্ড: ১) আল-আলামুল আলিয়্যাহ ফী মানাকিবি ইবনি তাইমিয়্যাহ - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৪৪)
وَلم يَكفهمْ مَا هم عَلَيْهِ حَتَّى اصبحوا قالين رافضها معادين باغضها

وَلما رَأَوْا هَذَا الإِمَام عَالم الْآخِرَة تَارِكًا لما هم عَلَيْهِ من تَحْصِيل الحطام من الشّبَه الْحَرَام رافضا الْفضل الْمُبَاح فضلا عَن الْحَرَام تحققوا ان احواله تفضح احوالهم وتوضح خفى أفعالهم وأخذتهم الْغيرَة النفسانية على صفاتهم الشيطانية المباينة لصفاته الروحانية

فحرصوا على الفتك بِهِ أَيْن مَا وجدوه وأنسوا انهم ثعالب وَهُوَ أَسد فحماه الله تَعَالَى مِنْهُم بحراسته وصنع لَهُ غير مرّة كَمَا صنع لخاصته وَحفظه مُدَّة حياتة وحماه وَنشر لَهُ عِنْد وَفَاته علما فِي الاقطار بِمَا وَالَاهُ
এবং তারা যে অবস্থায় ছিল তাতেই তারা সন্তুষ্ট থাকেনি, যতক্ষণ না তারা একে ঘৃণা ও বর্জনকারী এবং এর প্রতি শত্রুতা ও বিদ্বেষ পোষণকারীতে পরিণত হলো।

যখন তারা এই ইমামকে পরকালের আলেম হিসেবে দেখলেন—যিনি সন্দেহযুক্ত হারাম সম্পদ উপার্জনের ন্যায় তাদের পথ বর্জনকারী এবং হারামের তো প্রশ্নই ওঠে না বরং মুবাহ অতিরিক্ত বিষয়াদিও ত্যাগকারী—তখন তারা নিশ্চিত হলো যে, তাঁর অবস্থা তাদের অবস্থাকে উন্মোচিত করে দিচ্ছে এবং তাদের গোপন কর্মকাণ্ডকে স্পষ্ট করে দিচ্ছে। ফলে তাঁর আধ্যাত্মিক গুণাবলির বিপরীত তাদের শয়তানি স্বভাবের কারণে তাদের মধ্যে কুপ্রবৃত্তির হিংসা জেগে উঠল।

তাই তারা তাঁকে যেখানেই পেল সেখানেই তাঁকে ধ্বংস করার লালসা পোষণ করল। তারা ভুলে গেল যে তারা হলো শেয়াল আর তিনি হলেন সিংহ। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাঁর বিশেষ রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে তাদের থেকে তাঁকে রক্ষা করলেন এবং তাঁর জন্য একাধিকবার তেমনটিই করলেন যেমনটি তিনি তাঁর খাস বান্দাদের জন্য করে থাকেন। তিনি তাঁকে জীবনভর হিফাজত ও সুরক্ষা প্রদান করলেন এবং তাঁর মৃত্যুর সময় তাঁর প্রতি তাঁর বিশেষ অনুগ্রহের নিদর্শন স্বরূপ চতুর্দিকে তাঁর সুখ্যাতি ছড়িয়ে দিলেন।