(খণ্ড: ১)
মানহাজুন নাকদ ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: -)
منهج النقد في علوم الحديث القسم: علوم الحديث
الكتاب: منهج النقد في علوم الحديث
المؤلف: الدكتور نور الدين عتر
الناشر: دار الفكر، دمشق - سورية
الطبعة: الثالثة، 1401 هـ -1981 م
عدد الصفحات: 539
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
হাদিস শাস্ত্রের সমালোচনা পদ্ধতি বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র
গ্রন্থ: হাদিস শাস্ত্রের সমালোচনা পদ্ধতি
লেখক: ডক্টর নূরুদ্দীন ইতর
প্রকাশক: দারুল ফিকর، দামেস্ক - সিরিয়া
সংস্করণ: তৃতীয়، ১৪০১ হিজরি -১৯৮১ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৩৯
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন নাকদ ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৭)
المقدمات
التقريظ:كلمة جامعة لفضيلة الأستاذ الجليل العلامة الدكتور الشيخ محمد محمد أبو شهبة، أستاذ التفسير والحديث في الدراسات العليا في جامعة الأزهر سابقا، وفي كلية الشريعة بمكة المكرمة حاليا، وعميد ومؤسس كلية أصول الدين في أسيوط، وصاحب المؤلفات العلمية القيمة في الحديث، وعلومه، ورجاله، نثبت نص كلمته فيما يلي (1):
"الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيدنا رسول الله وعلى آله وصحبه ومن والاه. أما بعد:
فإن كتاب: "منهج النقد في علوم الحديث" لمؤلفه العلامة الأستاذ الدكتور نور الدين عتر كتاب قيم جليل تميز على المؤلفات في هذا الفن بمزايا كثيرة تجعله في مقدمة المؤلفات الحديثة في هذا الفن الجليل.
ومن هذه المزايا:
أ- حسن التقسيم والتفصيل: فإن المؤلف الفاضل قد ابتكر في
--------------------------------------------
উপক্রমণিকা
প্রশংসাবাণী:আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা বিভাগের তাফসির ও হাদিসের সাবেক অধ্যাপক, বর্তমানে মক্কার কুল্লিয়াতুশ শারিয়াহর অধ্যাপক, আসিউতের কুল্লিয়াতু উসুলুদ্দিনের প্রতিষ্ঠাতা ও ডিন এবং হাদিস, উলুমুল হাদিস (علوم الحديث) ও রিজাল (الرجال) শাস্ত্রের মূল্যবান জ্ঞানগর্ভ গ্রন্থাবলির রচয়িতা, শ্রদ্ধেয় উস্তাদ আল্লামা ডক্টর শায়খ মুহাম্মদ মুহাম্মদ আবু শাহবাহ-র একটি সারগর্ভ বক্তব্য নিম্নে তুলে ধরা হলো (১):
"সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা রাসূলুল্লাহর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবী ও তাঁর অনুসারীদের ওপর। অতঃপর:
নিশ্চয়ই আল্লামা উস্তাদ ডক্টর নুর উদ্দিন ইতর রচিত 'মানহাজুন নাকদ ফি উলুমিল হাদিস' গ্রন্থটি একটি অত্যন্ত মূল্যবান ও মহৎ গ্রন্থ। এটি এই শিল্পের অন্যান্য রচনার তুলনায় বহু বৈশিষ্ট্যে অনন্য, যা একে এই মহান বিষয়ের আধুনিক রচনাগুলোর অগ্রভাগে স্থান দিয়েছে।
এসব বৈশিষ্ট্যের কয়েকটি হলো:
ক- চমৎকার বিন্যাস ও বিস্তারিত বিশ্লেষণ: গুণী লেখক এতে উদ্ভাবন করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন নাকদ ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৮)
تقسيم وتنويع "علوم الحديث" أو "أصول الحديث" فصاغه صياغة جديدة، في نظرية علمية كاملة تبرز كمال هذا العلم ودقته، وتجعل الأنواع المتعلقة بكل جانب من الحديث مجتمعة في باب خاص، فجعل ما يتعلق بالمتن من أنواع علوم الحديث أو قواعد الحديث على حدة، وما يتعلق بالأسانيد على حدة، وما يجمع بين الأسانيد والمتون على حدة، بالإضافة إلى الدراسة التاريخية المبتكرة لأدوار هذا العلم، وكيف كان الحديث يحاط في كل عصر بما يكفل حفظه من الدس أو الخلط.
كل هذا مع المحافظة على جوهر هذا العلم وعرضه في حلة جديدة، فكان الكتاب بذلك وثيقة علمية هامة وفريدة في طريقتها يثبت حفظ هذه الأمة لحديث نبيها صلى الله عليه وسلم وصيانتها إياه، ويبطل ما قد يقع في بعض الأوهام من شك أو تردد.
وما أشد حاجة طلاب العلم في الجامعات الإسلامية وغيرها إلى هذه التآليف المبسطة والمقدمة في أسلوب سهل، والتي تعالج ما ثار من شبهات حول هذا الفن. وقد قام المؤلف بذلك خير قيام.
ب- الاعتناء بضرب الأمثلة لأنواع علوم الحديث، وعدم الاقتصار على الأمثلة التي ذكرها الأئمة القدامى، كما نجده في المؤلفات الأخرى، مع الاعتناء بشرح الأمثلة اعتناء جيدا. وقد سهل له هذا اطلاعه على كتب الحديث ورواياته المشهورة، وهذا أمر يلمسه من يقرأ هذا الكتاب بتمعن. وبذلك زاد في العلم زيادات أثرت هذا العلم وجعلته صالحا للتجديد.
جـ- العناية الفائقة بتخريج الأحاديث التي مثل بها لأنواع علوم الحديث، ومنهاج النقد عند المحدثين، وعزوها إلى مخرجيها الذين رووها في كتبهم، وبيان الراجح في الحكم على الأحاديث التي اختلف في بيان درجتها علماء الحديث والجرح والتعديل، فلم يكن مجرد ناقل، وإنما
হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث) বা হাদিসের মূলনীতি (أصول الحديث)-কে তিনি নতুনভাবে বিন্যস্ত ও শ্রেণীবদ্ধ করেছেন। তিনি একে একটি পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক তত্ত্বে রূপ দিয়েছেন যা এই শাস্ত্রের পূর্ণতা ও সূক্ষ্মতাকে ফুটিয়ে তোলে। তিনি হাদিসের প্রতিটি বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রকারগুলোকে নির্দিষ্ট অধ্যায়ে একত্রিত করেছেন। ফলে মূলপাঠ (المتن) সংক্রান্ত বিষয়াদি, সনদসমূহ (الأسانيد) সংক্রান্ত বিষয়াদি এবং সনদ ও মূলপাঠের সাথে যৌথভাবে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে পৃথক পৃথকভাবে বিন্যস্ত করেছেন। এর পাশাপাশি তিনি এই শাস্ত্রের ক্রমবিকাশের স্তরসমূহের ওপর একটি উদ্ভাবনী ঐতিহাসিক গবেষণা উপস্থাপন করেছেন এবং দেখিয়েছেন যে, কীভাবে প্রতিটি যুগে হাদিসকে এমনভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে যা এতে কোনো কিছু অনুপ্রবেশ (الدس) বা সংমিশ্রণ (الخلط) থেকে সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেয়।
এই সবকিছুই তিনি এই শাস্ত্রের মূল চেতনা অক্ষুণ্ণ রেখে নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপনের মাধ্যমে সম্পন্ন করেছেন। এর ফলে বইটি একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং অনন্য বৈজ্ঞানিক দলিলে পরিণত হয়েছে, যা আপন নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাদিস সংরক্ষণে এই উম্মাহর অবদান ও সজাগ দৃষ্টিকে প্রমাণ করে এবং কোনো কোনো মনে উদিত হওয়া সন্দেহ বা দ্বিধাকে বাতিল করে দেয়।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য এ ধরনের সহজবোধ্য রচনা ও সাবলীল উপস্থাপনার অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল, যা এই শিল্প নিয়ে উত্থাপিত সংশয়গুলোর (الشبهات) নিরসন করে। লেখক অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এই দায়িত্ব পালন করেছেন।
খ- হাদিস শাস্ত্রের প্রকারভেদের ক্ষেত্রে উদাহরণ প্রদানের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া এবং অন্যান্য কিতাবের মতো কেবল প্রাচীন ইমামদের বর্ণিত উদাহরণগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকা। সাথে সাথে উদাহরণগুলোর চমৎকার ব্যাখ্যা প্রদান করা। হাদিসের কিতাবসমূহ এবং এর প্রসিদ্ধ বর্ণনাগুলো সম্পর্কে লেখকের ব্যাপক জানাশোনা এই কাজটিকে সহজ করে দিয়েছে, যা এই কিতাবটি গভীরভাবে পাঠ করলে যে কেউ অনুভব করতে পারবেন। এর মাধ্যমে তিনি এই শাস্ত্রে এমন কিছু সংযোজন করেছেন যা একে সমৃদ্ধ করেছে এবং আধুনিকায়নের উপযোগী করে তুলেছে।
গ- হাদিস শাস্ত্রের প্রকারভেদের উদাহরণ হিসেবে পেশকৃত হাদিসগুলোর উৎস নির্ণয় (تخريج) এবং মুহাদ্দিসগণের সমালোচনা পদ্ধতির (منهاج النقد) প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করা। হাদিসগুলোকে সেগুলোর মূল সংকলকদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা যারা তাদের কিতাবে এগুলো বর্ণনা (رووها) করেছেন। এছাড়া যেসব হাদিসের মান বা স্তর (الدرجة) নির্ধারণে হাদিস বিশারদ এবং জারহ ও তা'দীল (الجرح والتعديل) বিশেষজ্ঞগণ মতভেদ করেছেন, সেগুলোর ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য (الراجح) সিদ্ধান্ত বয়ান করা। তিনি কেবল একজন সাধারণ বর্ণনাকারী ছিলেন না, বরং...
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন নাকদ ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৯)
جمع إلى ذكر أقوال العلماء الترجيح، وبذلك ظهرت شخصيته العلمية واضحة في هذا الكتاب.
د- العناية بالتعريف بالأعلام الذي ذكروا في هذا الكتاب بتواريخ وفيات العلماء: وهذا من الأمور المهمة التي ينبغي أن يعنى بها المؤلفون في أي فن، وبذلك يضع أمام القارئ صورة صادقة للتطور العلمي، والتدرج في التأليف في هذا الفن وغيره من العلوم وزبدة تاريخ كل علم، دون ما بحث أو جهد من القراء، وقد بدا ذلك واضحا في الكتاب.
هـ- سعة الاطلاع على كتب هذا الفن التي تكون في مجموعها مكتبة مستقلة بذاتها، وإن القارئ ليلمس أن المؤلف الفاضل غاص في أعماقها من مخطوط ومطبوع، واستخرج درر فوائدها، ثم نظمها نظما بديعا في هذا الكتاب.
وومن محاسن هذا الكتاب دقة التحرير للأقوال والآراء التي كثرت فيها الخلافات، والتوفيق بين الآراء التي ظاهرها التعارض، وبيان أن الاختلاف بين العلماء في العبارات، إنما يرجع إلى الاختلاف في الأنظار والاعتبارات، وبذلك رفع عن أئمة الحديث ما عسى أن يأخذه عليهم من لم يتبحر في هذا الفن، ولم يقف على اجتهاداتهم فيه، فيرميهم بالتناقض وإنهم يخالف بعضهم بعضا، وذلك مثل ما فعل في بحث المنقطع، وبحث المرسل، وبحث الشاذ، والمنكر، وغيرها.
ز- الرد على بعض المؤلفين الذين ألفوا في هذا الفن، فلم يوافقوا الصواب، بعبارة عفة مهذبة، وبذلك سار على نهج أئمة الحديث في النقد من أمثال الإمام أحمد والبخاري ومسلم وغيرهم. وهذا من أحسن المناهج في النقد الموضوعي، وليس أدل على ذلك مثل ما ذكره في هامش ص 383
আলেমগণের মতামতের বর্ণনার সাথে তিনি অগ্রাধিকার প্রদানের (الترجيح) বিষয়টি যুক্ত করেছেন, যার ফলে এই গ্রন্থে তাঁর পাণ্ডিত্যপূর্ণ ব্যক্তিত্ব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
ঘ- এই গ্রন্থে উল্লিখিত বরেণ্য ব্যক্তিত্বদের (الأعلام) পরিচয়ের ক্ষেত্রে আলেমদের মৃত্যু তারিখের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যার প্রতি যে কোনো শাস্ত্রের লেখকদের যত্নশীল হওয়া বাঞ্ছনীয়। এর মাধ্যমে লেখক পাঠকের সামনে শাস্ত্রীয় বিবর্তন এবং এই বিদ্যাসহ অন্যান্য বিজ্ঞানের রচনার ক্রমধারার একটি নির্ভুল চিত্র এবং প্রতিটি শাস্ত্রের ইতিহাসের নির্যাস উপস্থাপন করেছেন, যাতে পাঠকদের কোনো অতিরিক্ত গবেষণা বা পরিশ্রমের প্রয়োজন না হয়। এই গ্রন্থে বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়েছে।
ঙ- এই শাস্ত্রের গ্রন্থাবলির ওপর লেখকের বিস্তৃত অধ্যয়ন, যা সামগ্রিকভাবে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থাগারের সমতুল্য। পাঠক এটি অনুভব করতে পারবেন যে, বিদগ্ধ লেখক পাণ্ডুলিপি (مخطوط) ও মুদ্রিত (مطبوع) উভয় প্রকার কিতাবের গভীরে অবগাহন করেছেন এবং সেখান থেকে মণিমুক্তাসম উপকারিতাগুলো আহরণ করেছেন, অতঃপর সেগুলোকে এই গ্রন্থে চমৎকার সুশৃঙ্খল বিন্যাসে সাজিয়েছেন।
চ- এই কিতাবের অন্যতম বিশেষত্ব হলো সেই সব উক্তি ও মতামতের সুক্ষ্ম বিশ্লেষণ করা যেগুলোতে প্রচুর মতপার্থক্য বিদ্যমান। পাশাপাশি আপাতবিরোধী প্রতীয়মান হওয়া মতগুলোর মধ্যে সমন্বয় (التوفيق) সাধন এবং এটি স্পষ্ট করা যে, পরিভাষা ব্যবহারে আলেমদের মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্য মূলত দৃষ্টিভঙ্গি ও বিবেচনার ভিন্নতার কারণে। এর মাধ্যমে তিনি হাদিসের ইমামগণের প্রতি সেই সব অভিযোগের নিরসন করেছেন, যা হয়তো এই শাস্ত্রে অগাধ পাণ্ডিত্য নেই এবং তাঁদের ইজতিহাদ (اجتهادات) সম্পর্কে সম্যক ধারণা নেই এমন ব্যক্তিরা করতে পারতেন; যেমন তাঁদের ওপর পরস্পরবিরোধী হওয়া বা একে অপরের বিরোধিতা করার অপবাদ দেওয়া। তিনি বিচ্ছিন্ন (المنقطع), মুরসাল (المرسل), শায (الشاذ), মুনকার (المنكر) এবং অন্যান্য বিষয়ের গবেষণায় এমনটিই করেছেন।
ছ- এই শাস্ত্রে গ্রন্থ রচনা করেছেন এমন কিছু লেখকের ভ্রান্তি নিরসনে অত্যন্ত মার্জিত ও শিষ্ট ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি ইমাম আহমদ, বুখারি, মুসলিম এবং অন্যান্য হাদিসের ইমামগণের অনুসৃত সমালোচনা (النقد) পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। এটি বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনার (النقد الموضوعي) অন্যতম শ্রেষ্ঠ পদ্ধতি। ৩৮৩ পৃষ্ঠার টীকায় তিনি যা উল্লেখ করেছেন, তা এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন নাকদ ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১০)
وهامش ص" (403) " (1).
ح- عناية المؤلف بالرد على بعض الآراء الاستشراقية التي لم تقم على أساس علمي سليم، وإنما هي أفكار صليبية، ظهرت واستعلنت على ألسنة هؤلاء المستشرقين الذين تجنوا على السنن والأحاديث تجنيا مذموما كي يشككوا المسلمين في الأصل الثاني من أصول التشريع، ذلك كما صنع في مواضع أثناء الكتابة، ثم في (390) وما بعدها إلى آخره (2). وقد ناقش المستشرقين مناقشة جادة منصفة، تتسم بالنقد الموضوعي.
ط- حرصه في بحوثه على بيان أن مناهج المحدثين في النقد سواء كان ذلك في النقد الداخلي: نقد المتون. أم في النقد الخارجي: نقد السند هي آصل المناهج في النقد وأدقها.
ويظهر ذلك جليا في الخاتمة تحت عنوان: مناقشات ونتائج. ص (432) وما بعدها (3). وهذه الخاتمة بما لخصه فيها من نتائج تعتبر قيمة جدا، وهكذا فلتكن البحوث الجادة الهادفة.
ي- إبرازه دقة تطبيق المسلمين لهذا المنهج النقدي الدقيق الكامل الشامل كل جوانب النقد، ودحضه مزاعم المستشرقين الذين تقوَّلوا الأقاويل الباطلة في هذا الموضوع، ودعم ذلك بالحجج القاطعة والبراهين الساطعة.
وبعد هذا المطاف في هذا المؤلف القيم "منهج النقد في علوم الحديث" فإنا نؤكد الإشادة بمزاياه، وجمعه بين أصالة القديم وجدة الحديث، وحسن العرض للمعلومات الحديثية الدقيقة، وبيان تحقق إنجاز الوعد الإلهي:
--------------------------------------------
এবং পৃষ্ঠা (৪০৩) এর পাদটীকা (১)।
হ- প্রাচ্যতাত্ত্বিকদের (ওরিয়েন্টালিস্ট) এমন কিছু মতামতের খণ্ডনে লেখকের বিশেষ গুরুত্বারোপ যা সঠিক বৈজ্ঞানিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়; বরং সেগুলো ক্রুসেডীয় চিন্তা-চেতনা মাত্র। সেই সকল প্রাচ্যতাত্ত্বিকদের মুখ দিয়ে এগুলো প্রকাশিত হয়েছে যারা অত্যন্ত নিন্দনীয়ভাবে সুন্নাহ এবং হাদিসের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে, যাতে তারা শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস সম্পর্কে মুসলিমদের মনে সংশয় তৈরি করতে পারে। লেখক তাঁর রচনার বিভিন্ন স্থানে এবং ৩৯০ পৃষ্ঠা ও তার পরবর্তী অংশগুলোতে এটি করেছেন (২)। তিনি প্রাচ্যতাত্ত্বিকদের সাথে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে ও ন্যায়নিষ্ঠভাবে আলোচনা করেছেন, যা বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনা (نقد موضوعي) দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।
ত- তাঁর গবেষণায় এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরার আপ্রাণ চেষ্টা যে, যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের (محدثين) অনুসৃত পদ্ধতি—তা অভ্যন্তরীণ সমালোচনা তথা মতন বা মূল পাঠের সমালোচনা (نقد المتون) হোক কিংবা বাহ্যিক সমালোচনা তথা সনদ বা সূত্রের সমালোচনা (نقد السند) হোক—তা সমালোচনা-পদ্ধতিসমূহের মধ্যে সবচেয়ে মৌলিক এবং নিখুঁত।
বিষয়টি 'আলোচনা ও ফলাফল' শীর্ষক উপসংহারে ৪৩২ পৃষ্ঠা ও তার পরবর্তী অংশে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে (৩)। এই উপসংহারে তিনি যেসব ফলাফলের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেছেন তা অত্যন্ত মূল্যবান; আর গভীর ও উদ্দেশ্যমূলক গবেষণাকর্ম এমনই হওয়া উচিত।
য- সমালোচনার সকল দিককে অন্তর্ভুক্তকারী এই নিখুঁত, পূর্ণাঙ্গ ও ব্যাপক সমালোচনা-পদ্ধতি প্রয়োগের ক্ষেত্রে মুসলিমদের সূক্ষ্মতা তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন। সেই সাথে এই বিষয়ে প্রাচ্যতাত্ত্বিকদের মিথ্যা দাবিগুলোকে তিনি অসার প্রমাণ করেছেন এবং অকাট্য দলিল ও উজ্জ্বল প্রমাণের মাধ্যমে তা সমর্থন করেছেন।
"মানহাজুন নাকদ ফি উলুমিল হাদিস" নামক এই মূল্যবান গ্রন্থটি পর্যালোচনার পর আমরা এর বৈশিষ্ট্যের প্রশংসা করছি। এটি প্রাচীন ঐতিহ্যের মৌলিকতা ও আধুনিকতার নতুনত্বের এক অপূর্ব সমন্বয় এবং হাদিস বিষয়ক সূক্ষ্ম তথ্যাবলীর উত্তম উপস্থাপনা। সেই সাথে এতে ঐশী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়টিও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন নাকদ ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১১)
{إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ}.
بما وفق الله المسلمين إليه من صيانة الأحاديث النبوية، وذلك كله في أسلوب سهل قريب، ونشيد به ونقرظه لما فيه من الإثراء لهذا العلم الإسلامي العظيم: علم السنن والأحاديث. فقد أفاد المؤلف هذا العلم إفادة ظاهرة واضحة، وخدمه خدمة جليلة.
وإن من يبتكر هذا النظام البديع لعلوم الحديث ويقارع المستشرقين وأضرابهم بهذه الحجج الباهرة، وبهذا البيان الساطع والفكر النير ينبغي أن يعطى حقه ويعرف فضله، وينتفع به.
ونسأل الله لنا وله التوفيق والسداد، وأن ينفع بعلمه طلاب هذا اللون من الثقافة الإسلامية الأصيلة. إنه نعم المولى ونعم النصير، ونعم المكافئ والمجازي للعلماء العاملين.
في 20/ 11/ 98 هـ
خادم القرآن والسنة
الدكتور محمد بن محمد أبو شهبة
{নিশ্চয় আমিই যিকর নাজিল করেছি এবং আমিই তার সংরক্ষণকারী।}
আল্লাহ মুসলিমদেরকে নবিজির হাদিসসমূহ সংরক্ষণের যে তাওফিক দান করেছেন তার মাধ্যমে; আর এই সব কিছুই অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল পদ্ধতিতে উপস্থাপিত হয়েছে। এই মহান ইসলামি জ্ঞান তথা সুনান ও হাদিস বিজ্ঞানকে সমৃদ্ধ করার কারণে আমরা এর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করছি। লেখক এই ইলম বা জ্ঞানের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট অবদান রেখেছেন এবং এর এক মহান খিদমত আঞ্জাম দিয়েছেন।
যিনি হাদিস বিজ্ঞানের (علوم الحديث) এই চমৎকার পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন এবং প্রাচ্যবিদ ও তাদের সমমনাদের এই সকল প্রদীপ্ত দলিল, সুষ্পষ্ট বর্ণনা ও উজ্জ্বল চিন্তাধারার মাধ্যমে মোকাবিলা করেছেন, তাকে তার যথাযথ মর্যাদা প্রদান করা উচিত, তার শ্রেষ্ঠত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত এবং তার দ্বারা উপকৃত হওয়া উচিত।
আমরা আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য এবং তাঁর জন্য সঠিক পথ ও তাওফিক কামনা করছি, আর প্রার্থনা করছি যে তিনি যেন এই মৌলিক ইসলামি সংস্কৃতির শিক্ষার্থীদের তাঁর ইলমের দ্বারা উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি উত্তম অভিভাবক ও শ্রেষ্ঠ সাহায্যকারী এবং আমলকারী আলেমদের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ প্রতিদানকারী ও বিনিময়দাতা।
২০/ ১১/ ৯৮ হিজরি
কুরআন ও সুন্নাহর খাদেম
ডক্টর মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আবু শাহবাহ
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন নাকদ ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
تصدير الطبعة الثالثة:الحمد لله حمدا يوافي نعمه ويكافئ مزيده، وأفضل الصلاة وأتم التسليم على خاتم الأنبياء والمرسلين، والذي جاء بهذا الدين الحكيم، المحفوظ من كل تغيير وتبديل، بحفظ رب العالمين إلى يوم الدين، وعلى آله وصحبه، ومن سلك سبيلهم وتمسك بحبل السنة المتين.
أما بعد:
فهذه الطبعة الثالثة لكتابنا "منهج النقد في علوم الحديث"، نقدمها لمحبي علم السنن والآثار، بل لكل باحث ناقد، يتوجه إلى الحقيقة بعقل علمي ممحص، ولكل مثقف يريد أن يقف على أصول هذا الدين، ليستيقن بنقل هذه الأمة حديث نبيها صلى الله عليه وسلم بأمانة وثقة، وتواتر، وكيف أنها ابتكرت لتحقيق ذلك أقوم وأدق سبيل نقدي على مدى الأزمان: وتشبثت بتطبيق ذلك غاية التشبث عبر التاريخ، منذ أول عهدها بالرواية إلى يوم الناس هذا، وتحقق بذلك إنجاز الوعد الإلهي: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ}.
ولعله من التحدث بنعمة الله تعالى أن نذكر هنا ما لقيه هذا الكتاب من القبول لدى الجهات العلمية الإسلامية والأجنبية، لما اختص به من منهج
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
তৃতীয় সংস্করণের ভূমিকা:সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এমন প্রশংসা যা তাঁর নিআমতের উপযুক্ত এবং তাঁর অনুগ্রহ বৃদ্ধির সমকক্ষ। আর সর্বোত্তম দরুদ ও পূর্ণাঙ্গ সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ নবী ও রাসূলের ওপর, যিনি এই প্রজ্ঞাপূর্ণ দ্বীন নিয়ে এসেছেন, যা কিয়ামত পর্যন্ত রাব্বুল আলামীনের সংরক্ষণে সকল পরিবর্তন ও বিকৃতি থেকে সুরক্ষিত। আরও (সালাম বর্ষিত হোক) তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা তাদের পথ অনুসরণ করেছেন ও সুন্নাহর মজবুত রজ্জুকে আঁকড়ে ধরেছেন তাদের ওপর।
অতঃপর:
আমাদের রচিত গ্রন্থ "মানহাজুন নাকদ ফি উলুমিল হাদিস"-এর এই তৃতীয় সংস্করণটি আমরা সুনান ও আসার প্রেমীদের নিকট পেশ করছি; বরং সেই প্রত্যেক গবেষক ও সমালোচকের নিকট, যারা একটি যাচাইকৃত বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে সত্যের অন্বেষণ করেন। এছাড়া সেই প্রত্যেক সচেতন ব্যক্তির জন্য যারা এই দ্বীনের মূলনীতিসমূহ সম্পর্কে অবহিত হতে চান, যাতে তারা এই উম্মত কর্তৃক তাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস আমানতদারি, নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) ও নিরবচ্ছিন্নতার (تواتر) সাথে সংরক্ষণের বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেন। এবং (যাতে জানতে পারেন) কীভাবে এই উম্মত এই লক্ষ্য অর্জনে যুগ যুগ ধরে সর্বাধিক সুসংহত ও সূক্ষ্ম সমালোচনা পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে এবং ইতিহাসের পরিক্রমায় বর্ণনার (رواية) সূচনালগ্ন থেকে আজ অবধি এর প্রয়োগে চূড়ান্ত দৃঢ়তা প্রদর্শন করেছে। আর এর মাধ্যমেই মহান আল্লাহর সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ঘটেছে: "নিশ্চয় আমি এই যিকির (উপদেশ) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী।"
সম্ভবত আল্লাহর নিআমতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশস্বরূপ এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, এই গ্রন্থটি বিভিন্ন ইসলামিক ও বিদেশি বৈজ্ঞানিক মহলে যে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে, তা এর বিশেষ পদ্ধতির কারণেই।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন নাকদ ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৪)
جديد، صاغ علم مصطلح الحديث، في نظرية نقدية مبتكرة متكاملة، ولمناقشته آراء الذين تصدوا لنقد المحدثين، وإزالته اللبس الذي وقع فيه بعض الكاتبين.
كما أننا نعلن في هذه المناسبة عن ضرورة تزويد طلاب الجامعات في أقسام التاريخ، والدراسات الاجتماعية بدراسات عن هذا العلم، تربط بين علوم الحديث عند المسلمين وبين النقد التاريخي الأجنبي، الذي هو مدين لنا ولعلمنا هذا، كما نرى ضرورة إدخال دراسة موجزة ولو بضع صفحات عن الرواية والإسناد في الدراسة الإعدادية والثانوية.
وهذه أمانة أضعها في عنق كل قارئ وكل مسلم أن يجهد من أجلها في مكانه وميدانه، بغاية وسعه وطاقته. فإن لذلك أثره الكبير في وقاية الشباب الجامعي والمثقف من التشكك أو ضعف الثقة في تراثه العظيم.
وإنا لنرجو أن يكون لكتابنا هذا أثره في هذا الميدان، وأن يكون وافيا بجوانب العلم، ملاحظا حاجة الثقافة، وحاجة الدعوة معا.
أسأل الله تعالى أن يتقبله ويعمم النفع به، في نشر هذا اللون من الثقافة، وإحياء علم السنن والآثار، هو مولانا ونعم النصير.
كتبه: نور الدين عتر، خادم القرآن وعلومه، والحديث وعلومه.
এটি একটি নতুন কাজ, যা হাদিস পরিভাষা শাস্ত্র (علم مصطلح الحديث)-কে একটি উদ্ভাবনী ও সুসংহত সমালোচনামূলক (نقدية) তত্ত্বে রূপদান করেছে। এতে সেই সব ব্যক্তিদের মতামত নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে যারা হাদিস বিশারদগণের (المحدثين) সমালোচনা করতে উদ্যত হয়েছিলেন এবং এর মাধ্যমে কিছু লেখকের মধ্যে সৃষ্টি হওয়া সংশয় নিরসন করা হয়েছে।
এই উপলক্ষে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের ইতিহাস ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের এই শাস্ত্র সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পাঠদানের গুরুত্ব ঘোষণা করছি, যা মুসলিমদের হাদিস শাস্ত্রসমূহ (علوم الحديث) এবং পশ্চিমা ঐতিহাসিক সমালোচনা (النقد التاريخي)-এর মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করবে—যে সমালোচনা পদ্ধতি মূলত আমাদের এবং আমাদের এই শাস্ত্রের কাছে ঋণী। পাশাপাশি আমরা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যক্রমে বর্ণনা (الرواية) ও সনদ পরম্পরা (الإسناد) বিষয়ে অন্তত কয়েক পৃষ্ঠার একটি সংক্ষিপ্ত পাঠ অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি।
এটি একটি আমানত যা আমি প্রত্যেক পাঠক ও প্রত্যেক মুসলিমের কাঁধে অর্পণ করছি, যেন তারা নিজ নিজ অবস্থান ও ক্ষেত্র থেকে তাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য অনুযায়ী এর জন্য প্রচেষ্টা চালায়। কেননা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ সমাজ ও শিক্ষিত শ্রেণিকে তাদের মহান ঐতিহ্য সম্পর্কে সংশয় বা আস্থার সংকট থেকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে এর বিশাল প্রভাব রয়েছে।
আমরা আশা করি যে, আমাদের এই গ্রন্থটি এই ময়দানে বিশেষ প্রভাব ফেলবে এবং শাস্ত্রের সকল দিক যথাযথভাবে ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও দাওয়াতি উভয় প্রয়োজন পূরণে সক্ষম হবে।
আমি আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এটি কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে জনকল্যাণ সাধিত করেন, যাতে এই ধরনের সংস্কৃতির প্রসার ঘটে এবং সুন্নাহ ও আছার (السنن والآثار) শাস্ত্র পুনরুজ্জীবিত হয়। তিনিই আমাদের অভিভাবক এবং কতই না উত্তম সাহায্যকারী।
এটি লিখেছেন: নূরুদ্দীন ইতর, কুরআন ও এর শাস্ত্রসমূহের সেবক এবং হাদিস ও এর শাস্ত্রসমূহের সেবক।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন নাকদ ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الطبعة الأولى:الحمد لله الذي أبدع كل شيء فأحسنه، وأرسل رسوله محمدا صلى الله عليه وسلم بهذا الدين فبلغه وبينه، واختار له من الأصحاب والأتباع من نهضوا بنقله وتلقينه، وحفظه وتدوينه، حتى بَلَّغَ الخلف كما تلقاه السلف، غضا طريا مدى العصور.
أما بعد:
فهذا كتاب في علوم الحديث، نرجو أن يكون لبنة متواضعة في صرح هذا العلم العظيم، الذي اختص الله تعالى به هذه الأمة، وأكرمها به من دون سائر الأمم، يبرز بجلاء وفاء قواعد هذا العلم بالغرض العظيم الذي وضع من أجله، ألا وهو الذب عن حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، وتمييز صحيحه من منحوله، ومقبوله من مدخوله.
إنه كتاب ينقل مسائل هذا العلم من التفرق إلى التكامل، ويأخذ بالقارئ من الجزئيات إلى النظرية الكاملة المتناسقة، التي تتآلف فيها أنواع علوم الحديث كافة، لتبدو في مجموعها منطلقة بتسديد وإحكام نحو الغاية المنشودة.
إنه بهذا يواجه مناهج البحث العصرية العربية والأجنبية التي تزهو بالمنهجية وصياغة النظريات، ويبين -بما لا يدع مجالا للشك- عمق نظرة المحدثين، وشمولها جوانب البحث النقدي في الأحاديث.
বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম
প্রথম সংস্করণের ভূমিকা:সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি প্রতিটি বস্তু সৃষ্টি করেছেন এবং তা অতি উত্তম করেছেন। তিনি তাঁর রাসূল মুহাম্মদ (সা.)-কে এই দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, অতঃপর তিনি তা যথাযথভাবে পৌঁছে দিয়েছেন ও ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি তাঁর রাসূলের জন্য এমন সব সাহাবী ও অনুসারী নির্বাচন করেছেন, যারা একে স্থানান্তর ও শিক্ষাদান এবং সংরক্ষণ ও সংকলনের কাজে আত্মনিয়োগ করেছেন; যার ফলে উত্তরসূরিগণ তা পূর্বসূরিদের নিকট থেকে প্রাপ্ত ঠিক সেই সতেজ ও অবিকল অবস্থায় যুগ যুগ ধরে পৌঁছে দিয়েছেন।
অতঃপর:
এটি হাদিস শাস্ত্রের ওপর লিখিত একটি গ্রন্থ। আমরা আশা করি এটি এই মহান ইলমের সুউচ্চ প্রাসাদে একটি বিনম্র সংযোজন হবে, যে ইলমের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা এই উম্মতকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন এবং অন্যান্য সকল উম্মতের ওপর তাদের সম্মানিত করেছেন। এই গ্রন্থটি স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলবে যে, এই শাস্ত্রের মূলনীতিসমূহ যে মহান উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়েছে তা পূরণে কতটা সক্ষম; আর সেই উদ্দেশ্যটি হলো—রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসকে হেফাযত করা এবং এর বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসকে জালকৃত (منحول) থেকে এবং গ্রহণযোগ্য (مقبول) হাদিসকে অনুপ্রবেশকৃত (مدخول) থেকে পৃথক করা।
এই গ্রন্থটি এই শাস্ত্রের মাসআলাগুলোকে বিক্ষিপ্ত অবস্থা থেকে পূর্ণাঙ্গ রূপের দিকে নিয়ে যায়। এটি পাঠককে খণ্ড খণ্ড অংশ থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও সুসংহত তত্ত্বের দিকে ধাবিত করে, যেখানে হাদিস শাস্ত্রের সকল প্রকার শাখা-প্রশাখা সুশৃঙ্খলভাবে সমন্বিত হয়েছে; যাতে এর সামগ্রিক রূপটি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে সুসংহত ও নিখুঁতভাবে পরিচালিত হয়।
এভাবে এটি সেই সকল আধুনিক আরবি ও বিদেশি গবেষণা পদ্ধতির মোকাবিলা করে, যেগুলো তাদের নিজস্ব নিয়মতান্ত্রিকতা ও তত্ত্ব গঠনের জন্য গর্ব প্রকাশ করে। এটি কোনো প্রকার সন্দেহের অবকাশ না রেখেই মুহাদ্দিসগণের দৃষ্টিভঙ্গির গভীরতা এবং হাদিসসমূহের সমালোচনামূলক পর্যালোচনার ক্ষেত্রে এর ব্যাপকতা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন নাকদ ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৬)
لقد تتبع الكتاب بالسبر والاختبار كل احتمالات القوة أو الضعف التي قد تطرأ على السند أو المتن أو عليهما معا، ونظر فيما يتبع كل واحد منها من أنواع الحديث.
ثم قسم الأنواع على أبواب رئيسية يختص كل منها بركن من أركان البحث في الحديث، فتوصل بذلك إلى نتيجة هامة سيحس بها القارئ في متابعة أبحاث الكتاب، ألا وهي شمول هذه الأنواع لجميع الاحتمالات التي أشرنا إليها جزئيا وكليا، من البحث في رواة الحديث واحدا واحدا، إلى التحليل الشامل لمقومات الحديث في السند والمتن جمعيها، وبذلك يصدر الحكم على الحديث معتمدا على أصول نقدية دقيقة، لوحظ فيها المعنى مع المبنى، والمتن مع السند، مع الاستناد في ذلك إلى مقتضيات العقل والحس.
وهكذا مهد كتابنا للدارس السبيل من أجل تكوين فكرة شاملة أو نظرية منتظمة لقواعد هذا العلم العظيم، تتبع فيها الفروع أصولها، وتتضح الوجهة في كل قاعد من قواعده، وفي كل مسألة من مسائله.
وقد عنيت في أبحاثي بضبط التعاريف وتحليلها، وبيان الآراء المختلفة في الأمور الهامة ودراستها، مع نقد الضعيف منها، ونبهت على الذي أعرض له هل هو اختلاف اصطلاح، أو اختلاف اجتهاد في الحكم، فإن كثيرا من الخلافات يرجع إلى اختيار كل فريق من العلماء اصطلاحا يستعمله لمعنى يغير المعنى الذي يستعمله فيه الفريق الآخر، مثل الخلاف في "المنكر"، وقد وقع كثيرون في اللبس بسبب عدم التنبه إلى الاختلافات الاصطلاحية في هذا الفن.
وضربت الأمثلة لإيضاح التعاريف والقواعد، وأوردت بعضا منها بنصه كاملا من كتب السنة، ليكون بمثابة تدريب على النظر في الأحاديث
এই গ্রন্থটি গভীর অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে সনদ (سند), মতন (متن) অথবা উভয়ের ওপর আপতিত হতে পারে এমন শক্তি বা দুর্বলতার (ضعف) সকল সম্ভাবনাকে অনুসরণ করেছে এবং এর প্রত্যেকটির অধীনে হাদিসের যে প্রকারভেদগুলো আসে সেগুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত করেছে।
অতঃপর তিনি প্রকারগুলোকে এমন কতগুলো প্রধান অধ্যায়ে বিভক্ত করেছেন, যার প্রতিটি হাদিস গবেষণার এক একটি স্তম্ভের সাথে সুনির্দিষ্ট। এর মাধ্যমে তিনি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যা পাঠক এই গ্রন্থের গবেষণাসমূহ অনুসরণ করার সময় অনুভব করবেন; আর তা হলো, এই প্রকারগুলো সেই সমস্ত আংশিক ও সামগ্রিক সম্ভাবনাকে অন্তর্ভুক্ত করে যেগুলোর দিকে আমরা ইঙ্গিত করেছি—হাদিসের বর্ণনাকারীদের (رواة الحديث) একে একে অনুসন্ধান করা থেকে শুরু করে সনদ (سند) ও মতন (متن) উভয়ের উপাদানের সামগ্রিক বিশ্লেষণ পর্যন্ত। এর ফলে হাদিসের ওপর হুকুম প্রদান করা হয় এমন সুক্ষ্ম সমালোচনামূলক মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে, যেখানে শব্দের বিন্যাসের সাথে অর্থ এবং সনদের (سند) সাথে মতনের (متن) প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়েছে, আর এতে বিবেক ও ইন্দ্রিয়ানুভূতির দাবির ওপর নির্ভর করা হয়েছে।
এভাবেই আমাদের এই গ্রন্থটি শিক্ষার্থীর জন্য এই মহান ইলমের মূলনীতিসমূহ সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা বা সুশৃঙ্খল তত্ত্ব গঠনের পথ সুগম করে দিয়েছে, যেখানে শাখা-প্রশাখাগুলো তাদের মূলকে অনুসরণ করে এবং এর প্রতিটি মূলনীতি ও মাসআলার গতিপথ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আমি আমার গবেষণায় সংজ্ঞাসমূহ (تعاريف) যথাযথভাবে নির্ধারণ ও বিশ্লেষণ করতে এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে বিভিন্ন মতামত বর্ণনা ও পর্যালোচনার সাথে সাথে সেগুলোর মধ্যে যা দুর্বল (ضعيف) তা সমালোচনা করতে সচেষ্ট হয়েছি। আমি সেই বিষয়টির দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি যা আমি উপস্থাপন করি—তা কি পারিভাষিক মতভেদ (اختلاف اصطلاح), নাকি হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে ইজতিহাদগত মতভেদ (اختلاف اجتهاد)। কেননা অনেক মতভেদই আলেমদের প্রতিটি দলের এমন পরিভাষা (اصطلاح) নির্বাচনের দিকে ফিরে যায়, যা তারা এমন অর্থে ব্যবহার করেন যা অন্য দল কর্তৃক ব্যবহৃত অর্থ থেকে ভিন্ন; যেমন: মুনকার (منكر) সংক্রান্ত মতভেদ। এই বিদ্যার পারিভাষিক পার্থক্যগুলোর প্রতি লক্ষ্য না করার কারণে অনেকেই বিভ্রান্তিতে পড়েছেন।
আমি সংজ্ঞা ও মূলনীতিসমূহ স্পষ্ট করার জন্য উদাহরণ পেশ করেছি এবং এর কিছু অংশ সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ থেকে হুবহু মূল পাঠসহ উদ্ধৃত করেছি, যাতে তা হাদিসসমূহ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে একটি অনুশীলনী হিসেবে গণ্য হয়।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন নাকদ ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৭)
والبحث فيها، ثم ربطت كل نوع من أنواع علوم الحديث بالباب الذي أوردته فيه وبإطار العلم العام، أعني غاية العلم الأولى وهي "معرفة المقبول من المردود". وبذلك يظل الدارس على صلة بمعالم النظرية الأساسية، ويفيد في وضع كل قاعدة موضعها المناسب في مجال تطبيقها.
ومن هنا فقد اختصرت الفروع والمسائل التي لا تتصل صلة وثيقة بالغاية التي ذكرناها آنفا.
وحاصل النظرية التي بنينا عليها نظام الكتاب وترتيبه يقوم على قضية واحدة مسلمة، هي أنه لا بد لكي يكون الحديث مقبولا أن نعلم أن رواية قد أداه كما سمعه، وهذا لا يتحقق إلا إذا استوفى الراوي الشروط الكافية لذلك، فكان لا بد أولا من بحث العلوم المتعلقة بالرواة.
ثم إن أخذ الراوي عن أساتذته له أحوال وأحكام، وكذلك تبليغه العلم يعتوره أحكام أيضا، فكانت دراسة علم الرواية مكملة لما سبق ومتممة له.
ولما أن الأحاديث قد وصلت إلينا بنقل رجال السند واحدا عن الآخر حتى يبلغوا قائلها، فإن من الواجب أن ندرس شروط القبول في السند والمتن، وذلك في تعريف الصحيح والحسن ونبين كفايتها لإثبات سلامة الحديث وأدائه كما سمع، كما نبين أن اختلال شيء منها يجعل الحديث ضعيفا لما فيه من فقد المعيار الذي يثبت سلامة الحديث.
ومن ثم فإننا ننتقل على ضوء ما سبق إلى السبر والدرس لكل جوانب الحديث، ونوضح احتمالات الضعف والقوة فيها، مع بيان حكم كل منها.
ونبدأ بدراسة أحوال المتن فإنه المقصود من بحث الأسانيد، ثم يأتي بعد ذلك البحث في تسلسل الإسناد وما يعرض له من اتصال أو انقطاع،
এবং এতে গবেষণা করেছি। অতঃপর আমি হাদিস বিজ্ঞানের (علوم الحديث) প্রতিটি প্রকারকে সেই অধ্যায়ের সাথে এবং এই বিজ্ঞানের সাধারণ কাঠামোর সাথে সম্পৃক্ত করেছি যেটির অধীনে আমি তা উল্লেখ করেছি; আর তা হলো এই বিজ্ঞানের প্রধান লক্ষ্য—অর্থাৎ "গ্রহণযোগ্য (مقبول) ও বর্জনীয় (مردود) নির্ধারণ করা"। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী এই শাস্ত্রের মৌলিক তত্ত্বের প্রধান দিকগুলোর সাথে সম্পৃক্ত থাকতে পারবে এবং প্রতিটি মূলনীতিকে তার প্রয়োগের ক্ষেত্রে সঠিক স্থানে স্থাপন করতে সক্ষম হবে।
এই কারণে আমি এমন সব শাখা-প্রশাখা ও মাসআলাগুলোকে সংক্ষিপ্ত করেছি যেগুলোর সাথে ইতিপূর্বে উল্লিখিত মূল লক্ষ্যের নিবিড় সম্পর্ক নেই।
এই গ্রন্থের বিন্যাস ও পদ্ধতি আমরা যে তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করেছি তার সারকথা একটি স্বীকৃত বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত; আর তা হলো—একটি হাদিস গ্রহণযোগ্য (مقبول) হওয়ার জন্য এটি জানা আবশ্যক যে, বর্ণনাকারী (راوي) তা ঠিক সেভাবেই বর্ণনা করেছেন যেভাবে তিনি শুনেছেন। আর এটি ততক্ষণ পর্যন্ত অর্জিত হয় না যতক্ষণ না বর্ণনাকারী (راوي) এর জন্য প্রয়োজনীয় শর্তাবলি পূর্ণ করেন। তাই সর্বপ্রথম বর্ণনাকারীদের (رواة) সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা অপরিহার্য ছিল।
এরপর, একজন বর্ণনাকারীর (راوي) তার উস্তাদদের নিকট থেকে হাদিস গ্রহণ করার বিভিন্ন অবস্থা ও বিধান রয়েছে, অনুরূপভাবে তাঁর ইলম প্রচার করার ক্ষেত্রেও নানাবিধ বিধান প্রযোজ্য হয়। সুতরাং বর্ণনা শাস্ত্র (علم الرواية) সংক্রান্ত অধ্যয়ন পূর্ববর্তী আলোচনার সম্পূরক ও পূর্ণতাদানকারী হিসেবে গণ্য হয়েছে।
যেহেতু হাদিসগুলো আমাদের নিকট সূত্রের (سند) বর্ণনাকারীদের একজনের থেকে অন্যজনের মাধ্যমে পৌঁছেছে যতক্ষণ না তা মূল বক্তা পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাই সনদ (سند) ও মতন (متن) এর গ্রহণযোগ্যতার শর্তাবলি অধ্যয়ন করা আমাদের জন্য কর্তব্য। আর তা হলো সহিহ (صحيح) ও হাসান (حسن) এর সংজ্ঞার আওতায়; আমরা হাদিসের বিশুদ্ধতা এবং তা শোনার অনুরূপ বর্ণিত হওয়ার বিষয়টি প্রমাণের জন্য এই শর্তাবলির পর্যাপ্ততা স্পষ্ট করব। এর পাশাপাশি আমরা বর্ণনা করব যে, এই শর্তাবলির কোনো একটির অভাব হাদিসকে দুর্বল (ضعيف) করে দেয়, কারণ এতে হাদিসের বিশুদ্ধতা প্রমাণের মানদণ্ড অনুপস্থিত থাকে।
অতঃপর আমরা পূর্বোক্ত আলোচনার আলোকে হাদিসের সকল দিক পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা ও পর্যালোচনার দিকে অগ্রসর হব এবং এর দুর্বলতা (ضعف) ও সবলতার সম্ভাবনাগুলো স্পষ্ট করার পাশাপাশি এগুলোর প্রত্যেকটির বিধান বর্ণনা করব।
আমরা মতন (متن) বা মূল পাঠের অবস্থাসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমে শুরু করব, কারণ সনদ (أسانيد) পর্যালোচনার উদ্দেশ্যই হলো এটি। এরপর ধারাবাহিক সূত্রের (إسناد) নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال) অথবা বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা আসবে।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন নাকদ ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ومن تعدد سند أو غير ذلك، ثم نتبعه بالأنواع المشتركة بين السند والمتن، كالشاذ والمضطرب والمعلل.
وإذا انتهى البحث الجزئي في كل جوانب الحديث جاء دور النظرة الشاملة، وهي نظرة إجمالية توضح دقة نهج المحدثين وإنهم شملوا بالدرس والبحث كل احتمالات القوة والضعف والعوامل المؤثرة فيهما سندا ومتنا، وأعطوا كل حال حكمه المناسب له، فجاء عملهم موفيا بالغرض المطلوب، وهو تمييز المقبول من المردود على غاية من الدقة المنهجية.
وهكذا قسمت أبحاث الكتاب على الأبواب الآتية:
الباب الأول: في التعريف العام بمصطلح الحديث:
وفيه تعريف يبين المراد من "علوم الحديث"، وهو "مصطلح الحديث"، ثم بحث أدوار هذا العلم التاريخية، وأشهر المؤلفين والكتب المصنفة في كل دور. وفيه تحقيق هام عن حفظ الصحابة للحديث وعن كتابتهم إياه.
الباب الثاني: في علوم رواة الحديث:
ويقع في فصلين:
الفصل الأول: العلوم المعرفة بحال الراوي من القبول أو الرد.
الفصل الثاني: في علوم الرواة التي تبين شخص الراوي.
ويقع في مبحثين:
المبحث الأول: في علوم الرواة التاريخية.
المبحث الثاني: في علوم أسماء الرواة.
الباب الثالث: في علوم رواية الحديث: تحمله وأدائه وكتابه. وآداب ذلك، ومصطلحات كتاب الحديث.
এবং সনদের (سند) আধিক্য বা অনুরূপ বিষয়সমূহ; অতঃপর আমরা সনদ (سند) ও মতনের (متن) মধ্যকার সাধারণ প্রকারগুলো আলোচনা করব, যেমন: ব্যতিক্রমী (شاذ), অসংগতিপূর্ণ (مضطرب) এবং ত্রুটিযুক্ত (معلل)।
যখন হাদিসের প্রতিটি দিকের আংশিক গবেষণা সমাপ্ত হয়, তখন সামগ্রিক পর্যালোচনার সময় আসে। এটি এমন একটি সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি যা মুহাদ্দিসগণের কর্মপদ্ধতির সূক্ষ্মতাকে স্পষ্ট করে। তাঁরা তাঁদের পাঠ ও গবেষণার মাধ্যমে সনদ (سند) ও মতন (متن) উভয় ক্ষেত্রে দৃঢ়তা (قوة) ও দুর্বলতার (ضعف) সকল সম্ভাবনা এবং এগুলোর ওপর প্রভাব বিস্তারকারী উপাদানসমূহ অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং প্রতিটি অবস্থাকে তার উপযুক্ত বিধান প্রদান করেছেন। ফলে তাঁদের এই কাজ অভীষ্ট লক্ষ্য পূরণ করেছে, আর তা হলো অত্যন্ত সূক্ষ্ম পদ্ধতিগত নির্ভুলতার সাথে গ্রহণযোগ্য (مقبول) ও বর্জিত (مردود) বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য করা।
এভাবেই কিতাবটির গবেষণা নিম্নোক্ত অধ্যায়গুলোতে বিন্যস্ত করা হয়েছে:
প্রথম অধ্যায়: হাদিস পরিভাষার (مصطلح الحديث) সাধারণ পরিচয় প্রসঙ্গে:
এতে 'উলূমুল হাদিস' তথা 'হাদিস পরিভাষা' (مصطلح الحديث) দ্বারা যা বোঝানো হয় তার সংজ্ঞা রয়েছে। এরপর এই শাস্ত্রের ঐতিহাসিক পর্যায়সমূহ এবং প্রতিটি যুগে প্রসিদ্ধ লেখক ও সংকলিত কিতাবসমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এতে সাহাবিগণের হাদিস মুখস্থ রাখা এবং তাঁদের হাদিস লিখে রাখার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা রয়েছে।
দ্বিতীয় অধ্যায়: হাদিস বর্ণনাকারীদের (راوي) শাস্ত্র প্রসঙ্গে:
এটি দুটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: বর্ণনাকারীর (راوي) গ্রহণযোগ্যতা (قبول) বা প্রত্যাখ্যান (رد) সংক্রান্ত অবস্থা জানার শাস্ত্রসমূহ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বর্ণনাকারীদের (راوي) পরিচয় স্পষ্টকারী শাস্ত্রসমূহ প্রসঙ্গে।
এটি দুটি অনুচ্ছেদে বিভক্ত:
প্রথম অনুচ্ছেদ: বর্ণনাকারীদের (راوي) ইতিহাস সংক্রান্ত শাস্ত্র।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: বর্ণনাকারীদের (راوي) নাম সংক্রান্ত শাস্ত্র।
তৃতীয় অধ্যায়: হাদিস বর্ণনার শাস্ত্রসমূহ: হাদিস গ্রহণ (تحمل), প্রদান (أداء) এবং লিপিবদ্ধকরণ প্রসঙ্গে। এগুলোর আদব বা শিষ্টাচার এবং হাদিস বিষয়ক কিতাবের পরিভাষাসমূহ।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন নাকদ ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الباب الرابع: في علوم الحديث من حيث القبول أو الرد:
ويقع في فصلين:
الفصل الأول: في أنواع الحديث المقبول.
الفصل الثاني: في أنوا الحديث المردود.
وهو الضعيف، وينقسم أقساما كثيرة تتعرض لبيان تفرعها وفقا لضابط دقيق سوف نفيد منه في سبر أحوال المتن والسند في الأبحاث الآتية.
الباب الخامس: في علوم المتن:
وندرس فيه هذين الفصلين:
الفصل الأول: في علوم المتن من حيث قائله.
الفصل الثاني: في علوم المتن من حيث درايته.
الباب السادس: في علوم السند:
ويقع في فصلين:
الفصل الأول: في علوم السند من حيث الاتصال.
الفصل الثاني: في علوم السند من حيث الانقطاع.
الباب السابع: في علوم الحديث المشتركة بين السند والمتن:
ويقع في ثلاثة فصول:
الفصل الأول: في تفرد الحديث.
الفصل الثاني: في تعدد رواية الحديث مع اتفاقها.
الفصل الثالث: في اختلاف رواية الحديث.
خاتمة الكتاب: مناقشات ونتائج عامة.
وقد عولت في أبحاثي على المصادر الأصلية، ورجعت إلى
চতুর্থ অধ্যায়: গ্রহণযোগ্যতা (قبول) অথবা বর্জনযোগ্যতার (رد) বিচারে হাদিস শাস্ত্র সম্পর্কে:
এটি দুটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: গ্রহণীয় (مقبول) হাদিসের প্রকারভেদ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বর্জনীয় (مردود) হাদিসের প্রকারভেদ।
আর তা হলো দুর্বল (ضعيف), যা অনেকগুলো প্রকারে বিভক্ত। একটি সুনির্দিষ্ট নিয়মের ভিত্তিতে এগুলোর শাখা-প্রশাখা বর্ণনার প্রয়াস চালানো হয়েছে, যা পরবর্তী গবেষণাগুলোতে মতন (متن) ও সনদের (سند) অবস্থা পর্যালোচনায় সহায়ক হবে।
পঞ্চম অধ্যায়: মতন (متن) সংক্রান্ত জ্ঞান প্রসঙ্গে:
এতে আমরা এই দুটি পরিচ্ছেদ অধ্যয়ন করব:
প্রথম পরিচ্ছেদ: বক্তার বিচারে মতন (متن) সংক্রান্ত জ্ঞান।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বোধগম্যতা বা দিরায়াত (دراية) এর বিচারে মতন (متن) সংক্রান্ত জ্ঞান।
ষষ্ঠ অধ্যায়: সনদ (سند) সংক্রান্ত জ্ঞান প্রসঙ্গে:
এটি দুটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: সংযুক্ততার (اتصال) বিচারে সনদ (سند) সংক্রান্ত জ্ঞান।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বিচ্ছিন্নতার (انقطاع) বিচারে সনদ (سند) সংক্রান্ত জ্ঞান।
সপ্তম অধ্যায়: সনদ (سند) ও মতন (متن)-এর উভয় ক্ষেত্রে সাধারণ (مشتركة) হাদিস শাস্ত্র প্রসঙ্গে:
এটি তিনটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: হাদিসের একক বর্ণনা বা তাফাররুদ (تفرد) প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ঐকমত্যসহ হাদিসের একাধিক বর্ণনা বা রিওয়ায়াত (رواية) প্রসঙ্গে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: হাদিসের বর্ণনার বা রিওয়ায়াত (رواية)-এর ভিন্নতা প্রসঙ্গে।
গ্রন্থের উপসংহার: আলোচনা ও সাধারণ ফলাফল।
আমি আমার গবেষণায় মূল উৎসসমূহের ওপর নির্ভর করেছি এবং ফিরে গিয়েছি...
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন নাকদ ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২০)
المصنفات الحديثية الخاصة بكل نوع من علوم الحديث، وفق خطة علمية تاريخية تلاحظ الابتداء من الأقدم فالذي يليه، وكثير من هذه المصنفات مخطوط أو في حكم المخطوط لندرته.
ونبهت على بعض ما وقع من كبوات الكاتبين الأفاضل في هذا العصر، مع تقديري لهم ولما بذلوا من جهد أجزل الله مثوبتهم.
ونرجو أن نكون قد أعطينا البحث حقه في الاستناد إلى المراجع، كما نرجو أن نكون قد وفقنا في عرض الآراء ودراستها والإدلاء بالنتائج الصحيحة في أبحاثنا.
والله تبارك وتعالى نسأل، وإليه نتوسل أن يجعله عنده في حرز القبول، إنه أكرم مسئول، وجوده خير مأمول، وهو تقدست ذاته أرحم الراحمين، ذو الفضل العظيم.
غرة رمضان المبارك سنة 1392
8 تشرين الأول سنة 1972
وكتب: نور الدين عتر
হাদিস বিজ্ঞানের (علوم الحديث) প্রতিটি প্রকারের জন্য বিশেষায়িত হাদিস বিষয়ক গ্রন্থসমূহ, একটি ঐতিহাসিক বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনার আলোকে যা প্রাচীনতম থেকে শুরু করে ক্রমানুসারে সাজানো হয়েছে; এবং এই গ্রন্থগুলোর অনেকগুলোই পাণ্ডুলিপি (مخطوط) অথবা তাদের দুষ্প্রাপ্যতার কারণে পাণ্ডুলিপির পর্যায়ভুক্ত।
বর্তমান সময়ের প্রথিতযশা লেখকদের গবেষণায় অসাবধানতাবশত ঘটে যাওয়া কিছু বিচ্যুতি সম্পর্কে আমি সচেতন করেছি, তবে তাদের প্রতি এবং তাদের ব্যয়িত শ্রমের প্রতি আমার যথাযথ শ্রদ্ধা বজায় রয়েছে—আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।
আমরা আশা করি যে, তথ্যসূত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে গবেষণার যে দাবি তা আমরা পূরণ করতে পেরেছি। তদ্রূপ আমাদের গবেষণায় বিভিন্ন মতামত উপস্থাপন, পর্যালোচনা এবং সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার ক্ষেত্রেও সফল হয়েছি বলে আশা রাখি।
আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি এবং তাঁরই ওসিলা গ্রহণ করি যেন তিনি একে তাঁর দরবারে কবুলিয়াতের (القبول) মর্যাদায় আসীন করেন। নিশ্চয়ই তিনি প্রার্থিত সত্তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং তাঁর বদান্যতাই সর্বোত্তম প্রত্যাশা। তাঁর পবিত্র সত্তা পরম দয়ালু ও সুমহান অনুগ্রহের অধিকারী।
১লা রমজানুল মুবারক, ১৩৯২ হিজরি
৮ অক্টোবর, ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দ
লিখেছেন: নূরুদ্দীন আত্র
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন নাকদ ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২১)
الباب الأول: في التعريف العام بمصطلح الحديث
الفصل الأول: تمهيد في منشأ مصطلح الحديث:أنزل الله سبحانه كتابه الحكيم هداية مبينة تضيء للناس سبل السعادة والسلام في دنياهم وآخرتهم، وجعله معجزة لرسوله محمد صلى الله عليه وسلم باهرة باقية إلى يوم الدين، تنادي العالم إلى الهدى الحق. ثم أعطاه السنة مفصلة للكتاب وشارحة له، كما قال تعالى:
{وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} (1)، وقال: {وَمَا أَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ إِلَّا لِتُبَيِّنَ لَهُمُ الَّذِي اخْتَلَفُوا فِيهِ وَهُدىً وَرَحْمَةً لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ} (2).
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়: হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা (مصطلح الحديث) সংক্রান্ত সাধারণ পরিচিতিপ্রথম পরিচ্ছেদ: হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষার (مصطلح الحديث) উৎপত্তির প্রেক্ষাপট:আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর প্রজ্ঞাপূর্ণ কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এক সুস্পষ্ট হিদায়াত হিসেবে, যা মানুষের দুনিয়া ও আখিরাতের সুখ ও শান্তির পথকে আলোকিত করে। তিনি একে তাঁর রাসুল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য এক প্রদীপ্ত ও কিয়ামত পর্যন্ত চিরস্থায়ী অলৌকিক নিদর্শন (معجزة) হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যা বিশ্ববাসীকে সত্য ও সঠিক পথের দিকে আহ্বান জানায়। অতঃপর তিনি তাঁকে কিতাবের বিশদ বর্ণনাকারী ও ব্যাখ্যাকারী হিসেবে সুন্নাহ (السنة) দান করেছেন, যেমনটি আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন:
{আর আমি আপনার প্রতি যিকর অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের সামনে তা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে} (১), এবং তিনি আরও বলেছেন: {আর আমি আপনার প্রতি এই কিতাব কেবল এজন্যই অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি তাদের জন্য ওই বিষয়টি স্পষ্ট করে দেন যে বিষয়ে তারা মতবিরোধ করছে এবং এটি মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য হিদায়াত ও রহমত স্বরূপ} (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন নাকদ ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২২)
فبين القرآن لنا في هاتين الآيتين وفي آيات كثيرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم وظيفته البيان لكتاب الله، أو بعبارة أخرى أن موقع الحديث النبوي من القرآن هو موقع المبين من المبين، وهذا البيان ليس قاصرا على مجرد التفسير، بل له أوجه عديدة تجعل العمل بالقرآن في أركان أبنيته العظيمة مفتقرا إلى السنة لا يستغني عنها (1).
أخرج الخطيب (2) أن عمران بن حصين رضي الله عنه كان جالسا ومعه أصحابه، فقال رجل من القوم: لا تحدثونا إلا بالقرآن، قال: فقال له: "أدنه" فدنا، فقال: "أرأيت لو وكلت أنت وأصحابك إلى القرآن أكنت تجد فيه صلاة الظهر أربعا وصلاة العصر أربعا والمغرب ثلاثا تقرأ في اثنتين؟ ! أرأيت لو وكلت أنت وأصحابك إلى القرآن أكنت تجد الطواف بالبيت سبعا، والطواف بالصفا والمروة؟ ! ثم قال: "أي قوم خذو عنا، فإنكم والله إن لم تفعلوا لتضلن".
وقد جاءت الآيات الكثيرة جدا صريحة قاطعة في وجوب العمل بالحديث النبوي، كقوله تعالى: {وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَاحْذَرُوا} (3).
وقال عز وجل: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلالًا مُبِينًا} (4).
فقد نزلت هذه الآية في أهل بيت خطب النبي صلى الله عليه وسلم
--------------------------------------------
সুতরাং কুরআন আমাদের নিকট এই দুটি আয়াতে এবং আরও অনেক আয়াতে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দায়িত্ব হলো আল্লাহর কিতাবের বর্ণনা (البيان) প্রদান করা। অন্য কথায়, কুরআনের সাথে নবুওয়াতের হাদিসের সম্পর্ক হলো ব্যাখ্যাকারীর (المبين) সাথে ব্যাখ্যাপ্রাপ্তের (المبين) ন্যায়। আর এই বর্ণনা কেবল সাধারণ তাফসিরের (تفسير) মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর এমন অনেক দিক রয়েছে যা কুরআনের মহান স্তম্ভগুলোর ওপর আমল করাকে সুন্নাহর মুখাপেক্ষী করে তোলে, যা সুন্নাহ ছাড়া সম্ভব নয় (১)।
আল-খতিব বর্ণনা করেছেন (أخرج) (২) যে, ইমরান বিন হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু বসা ছিলেন এবং তাঁর সাথে তাঁর সাথীরাও ছিলেন। তখন লোকদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বলল: আপনারা আমাদের কাছে কুরআন ছাড়া অন্য কিছু বর্ণনা করবেন না। ইমরান তাকে বললেন: "আমার কাছে এসো।" সে কাছে এল। তিনি বললেন: "তোমার কী অভিমত, যদি তোমাকে এবং তোমার সাথীদের কেবল কুরআনের ওপর ছেড়ে দেয়া হতো, তবে কি তুমি সেখানে জোহরের সালাত চার রাকাত, আসরের সালাত চার রাকাত এবং মাগরিবের সালাত তিন রাকাত পেতে যেখানে প্রথম দুই রাকাতে কিরাত পড়া হয়? তোমার কী অভিমত, যদি তোমাকে এবং তোমার সাথীদের কেবল কুরআনের ওপর ছেড়ে দেয়া হতো, তবে কি তুমি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ সাতবার এবং সাফা ও মারওয়ার তাওয়াফ খুঁজে পেতে? অতপর তিনি বললেন: "হে কওম! আমাদের থেকে গ্রহণ করো, কারণ আল্লাহর কসম, তোমরা যদি তা না করো তবে অবশ্যই পথভ্রষ্ট হবে।"
এবং কুরআনের বহু আয়াত নবুওয়াতের হাদিসের ওপর আমল করা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট ও অকাট্য দলিল হিসেবে এসেছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো এবং সতর্ক থাকো} (৩)।
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা দিলে কোনো মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর সেই বিষয়ে নিজেদের কোনো ইখতিয়ার থাকে না। আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করে, সে তো সুস্পষ্টভাবে পথভ্রষ্ট হলো} (৪)।
এই আয়াতটি এমন এক পরিবার সম্পর্কে নাজিল হয়েছে যাদের কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন নাকদ ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৩)
إليهم فتاتهم إلى صحابي، فلم يرتضوه، فنزلت الآية بسبب ذلك (1)، وعاتبتهم عتابا شديدا، مع أنه خاص من أمورهم خولته لهم الشريعة، لكنه لما عارض أمر النبي صلى الله عليه وسلم اعتبر مخالفة وعصيانا، فما بالك بوجوب طاعته واتباعه صلى الله عليه وسلم في سائر الأمور.
ولقد تواترت الأحاديث عنه صلى الله عليه وسلم في وجوب الأخذ بهديه في كل شيء من الأمور، صغيرها وكبيرها، جليلها وحقيرها، على منشط النفس ورضاها، أو على كراهيتها وإبائها ومخالفة هواها.
ومن ذلك قوله صلى الله عليه وسلم: "عليكم بسنتي وسنة الخلفاء المهديين الراشدين، تمسكوا بها وعضوا عليها بالنواجذ، وإياكم ومحدثات الأمور فإن كل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة" (2).
وقال: "إن خير الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد، وشر الأمور محدثاتها" (3).
بل إن النبي صلى الله عليه وسلم يؤكد الأخذ بحديثه الشريف على الرغم من التيارات الفاسدة والأعراف الاجتماعية المنحرفة، ويحض على اتباع سنته لما فيها إذ ذاك من مضاعفة الأجر:
قال صلى الله عليه وسلم: "من أحيا سنة من سنتي قد أميتت
--------------------------------------------
তাদের কাছে তাদের কন্যার বিবাহের প্রস্তাব একজন সাহাবীর (صحابي) জন্য পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু তারা তাতে সন্তুষ্ট হননি। ফলে এ কারণেই আয়াতটি অবতীর্ণ হয় (১), এবং এটি তাদেরকে কঠোরভাবে তিরস্কার করে। যদিও এটি ছিল তাদের ব্যক্তিগত বিষয় যা শরীয়াহ তাদের প্রদান করেছিল, কিন্তু যখন এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশের পরিপন্থী হলো, তখন একে বিরোধিতা ও অবাধ্যতা হিসেবে গণ্য করা হলো। তাহলে অন্য সব বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্য ও অনুসরণের আবশ্যকতা কতখানি তা সহজেই অনুমেয়।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিসসমূহ মুতাওয়াতির (تواترت) পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ছোট-বড়, গুরুত্বপূর্ণ-তুচ্ছ সকল বিষয়ে তাঁর আদর্শ গ্রহণ করা ওয়াজিব; চাই তা মনের আগ্রহ ও সন্তুষ্টির সাথে হোক, কিংবা মনের অপছন্দ, অনীহা ও খেয়াল-খুশির পরিপন্থী হোক।
এরই অন্তর্ভুক্ত হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী: "তোমরা আমার সুন্নাত এবং হিদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরো। একে দৃঢ়ভাবে ধারণ করো এবং দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকো। আর দ্বীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকো, কারণ প্রতিটি নতুন বিষয়ই বিদআত (بدعة) এবং প্রতিটি বিদআত (بدعة) হলো গোমরাহি।" (২)।
তিনি আরও বলেছেন: "নিশ্চয়ই সর্বোত্তম কথা হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম আদর্শ হলো মুহাম্মাদ-এর আদর্শ। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো দ্বীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ।" (৩)।
বরং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন ফাসাদ সৃষ্টিকারী প্রবাহ এবং বিচ্যুত সামাজিক প্রথা সত্ত্বেও তাঁর সম্মানিত হাদিস অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি তাঁর সুন্নাত অনুসরণে উৎসাহিত করেছেন, কারণ সে সময়ে সুন্নাত পালনে রয়েছে বহুগুণ সওয়াব:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার সুন্নাতসমূহের মধ্য থেকে এমন কোনো সুন্নাতকে জিন্দা করবে যা মৃত হয়ে গিয়েছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন নাকদ ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৪)
بعدي كان له من الأجر مثل من عمل بها من غير أن ينقص من أجورهم شيئا". أخرجه الترمذي وقال حديث حسن (1).
وعنه صلى الله عليه وسلم: "المتسمك بسنتي عند فساد أمتي له أجر مائة شهيد" أخرجه الطبراني في الأوسط والبيهقي في الزهد (2).
لذلك عنيت الأمة الإسلامية بالحديث النبوي، فأوعته حوافظها الفذة، وبذلت من أجله أعظم الجهد، وحاز حديث النبي صلى الله عليه وسلم من الوقاية والمحافظة ما لم يكن قط الحديث نبي من الأنبياء. فقد نقل لنا الرواة أقوال الرسول في الشؤون كلها العظيمة واليسيرة، بل في الجزئيات التي قد يتوهم أنها ليست موضع اهتمام، فنقلوا تفاصيل أحواله صلى الله عليه وسلم في طعامه وشرابه ويقظته ومنامه وقيامه وقعوده، حتى ليدرك من يتتبع كتب السنة أنها ما تركت شيئا صدر عنه صلى الله عليه وسلم إلا روته ونقلته.
وكان من حرصهم على الحديث وتلهفهم له أن يجتهدوا في التوفيق بين مطالب حياتهم اليومية وبين التفرغ للعلم:
عن عمر رضي الله عنه قال: "كنت أنا وجار لي من الأنصار في بني أمية بن زيد، وهي من عوالي المدينة، وكنا نتناوب النزول على رسول الله صلى الله عليه وسلم ينزل يوما وأنزل يوما، فإذا نزلت جئته بخبر ذلك اليوم من الوحي وغيره، وإذا نزل فعل مثل ذلك" متفق عليه (3).
--------------------------------------------
...আমার পরে, তবে তার জন্য ঐ ব্যক্তির অনুরূপ সওয়াব রয়েছে যে ব্যক্তি সে অনুযায়ী আমল করবে, তাদের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস না করেই।" এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান (حسن) হাদিস বলেছেন (১)।
তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে: "আমার উম্মতের ফিতনা-ফাসাদের সময় যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরবে, তার জন্য একশত শহীদের সওয়াব রয়েছে।" এটি তাবরানি আল-আওসাত-এ এবং বায়হাকি আল-জুহদ-এ বর্ণনা করেছেন (২)।
এ কারণেই মুসলিম উম্মাহ নববী হাদিসের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। ফলে তাদের অসাধারণ মেধাশক্তি একে সংরক্ষণ করেছে এবং এর জন্য তারা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস এমন সুরক্ষা ও সংরক্ষণ লাভ করেছে যা অন্য কোনো নবীর হাদিস কখনো লাভ করেনি। বর্ণনাকারীগণ আমাদের নিকট রাসূলের সকল কার্যাবলি—তা মহান হোক বা সামান্য—সবই বর্ণনা করেছেন। এমনকি এমন সব খুঁটিনাটি বিষয়ও বর্ণনা করেছেন যা হয়তো কারো কাছে গুরুত্বহীন মনে হতে পারে। তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খাওয়া-দাওয়া, পানীয়, জাগ্রত ও নিদ্রা অবস্থা এবং ওঠা-বসার বিস্তারিত অবস্থা বর্ণনা করেছেন। এমনকি সুন্নাহর কিতাবসমূহ যারা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন তারা এটা অনুভব করতে পারেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রকাশিত হয়েছে এমন কোনো কিছুই বাদ পড়েনি যা বর্ণনা ও সংকলন করা হয়নি।
হাদিসের প্রতি তাঁদের প্রবল আগ্রহ ও আকাঙ্ক্ষার পরিচয় এই যে, তাঁরা তাঁদের দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজন এবং দ্বীনি ইলম অর্জনের জন্য নিবেদিত হওয়ার মাঝে সমন্বয় সাধনে কঠোর সাধনা করতেন:
ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি এবং আমার জনৈক আনসারী প্রতিবেশী মদিনার উচ্চভূমি অঞ্চলে বনু উমাইয়া ইবনে জায়েদ গোত্রে বসবাস করতাম। আমরা পালাক্রমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে উপস্থিত হতাম। সে একদিন যেত আর আমি একদিন যেতাম। আমি যখন যেতাম, তখন ঐ দিনের ওহি এবং অন্যান্য সংবাদ নিয়ে আসতাম, আর সে যখন যেত তখন সে-ও অনুরূপ করত।" মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه) (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন নাকদ ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ولما اتسعت البلاد الإسلامية في عهد الخلفاء الراشدين ودخل الناس في البلاد المفتوحة أفواجا في دين الله، حبا لهذا الدين ويقينا به تعطشت نفوسهم لتعلم أحكام الشريعة والتهذب بأخلاقها وآدابها، والصدع بمواعظها وأحكامها.
ولقد علم الصحابة بقيادة الخلفاء أنهم خرجوا هداة لا جباة، وساروا في الأرض معلمين مرشدين لا مستعبدين ولا ظالمين، لذلك كانت عنايتهم بالعلم ومحو الجهل والجاهلية بالغة أقصاها، فأقام الكثير من الصحابة الفاتحين في أصقاع متفرقة ينشرون العلم ويبلغون الحديث، وبعث الخلفاء إلى الناس من كبار الصحابة من يعلمهم أمور دينهم، ولقد كان إقبال الناس على ارتشاف معارف الإسلام عظيما جدا، حتى إنا لنجد الخلفاء يبذلون لهم من مواهب الرجال ما يعز عليهم، وهذا عمر يقول لأهل الكوفة حين أرسل إليهم عبد الله بن مسعود: "وقد آثرتكم بعبد الله على نفسي" (1).
ونجد هذا الحرص، يسري من الصحابة إلى التابعين فمن بعدهم، فقد كان التابعون لا يكتفون بما سمعوا من الصحابة في بلادهم، بل يرحلون إلى عاصمة العلم: "المدينة المنورة" يسائلون أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم بل إن الصحابة أنفسهم كانوا يرحلون للقاء بعضهم واستماع الحديث من الراوي الأصل الذي شافهه النبي صلى الله عليه وسلم بالخبر.
ومن هنا تقرر للناظر حقيقة لها أهميتها، وهي أن الصحابة رضوان الله عليهم أجمعين يرجع إليهم الفضل في بدء علم الرواية للحديث، ذلك لأن الحديث النبوي في حياة المصطفى كان علما
--------------------------------------------
খোলাফায়ে রাশেদিনের যুগে যখন ইসলামি ভূখণ্ড বিস্তৃত হলো এবং বিজিত অঞ্চলের মানুষ আল্লাহর দ্বীনের প্রতি ভালোবাসা ও দৃঢ় বিশ্বাসের কারণে দলে দলে এতে প্রবেশ করতে লাগল, তখন তাদের অন্তর শরিয়তের বিধানাবলি শিখতে, এর আদর্শ ও শিষ্টাচার দ্বারা সুশোভিত হতে এবং এর উপদেশ ও বিধানসমূহ প্রচার করতে তৃষ্ণার্ত হয়ে উঠল।
সাহাবিগণ খলিফাদের নেতৃত্বে জানতেন যে, তারা পথপ্রদর্শক হিসেবে বের হয়েছেন, কর সংগ্রাহক হিসেবে নয়। তারা পৃথিবীতে শিক্ষক ও পথপ্রদর্শক হিসেবে বিচরণ করেছেন, দাসত্ব আরোপকারী বা জালিম হিসেবে নয়। এই কারণে ইলমের প্রতি তাদের মনোযোগ এবং মূর্খতা ও জাহেলিয়াত নির্মূল করার প্রচেষ্টা ছিল সর্বোচ্চ। ফলে বিজয়ী সাহাবিদের অনেকে বিভিন্ন প্রান্তরে বসতি স্থাপন করেন, সেখানে তারা ইলম প্রচার করেন এবং হাদিস পৌঁছে দিতে থাকেন। খলিফাগণ মানুষের নিকট জ্যেষ্ঠ সাহাবিদের পাঠাতেন যারা তাদের দ্বীনি বিষয়াদি শিক্ষা দিতেন। ইসলামের জ্ঞান আহরণে মানুষের আগ্রহ ছিল অত্যন্ত প্রবল, এমনকি আমরা দেখি খলিফাগণ তাদের জন্য এমন সব প্রতিভাবান ব্যক্তিদের উৎসর্গ করতেন যাদের সাহচর্য খলিফাদের নিজেদের জন্যই ছিল দুষ্প্রাপ্য। এই তো ওমর (রা.) যখন আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-কে কুফাবাসীদের নিকট পাঠালেন, তখন তাদের বললেন: "আমি আবদুল্লাহর ব্যাপারে তোমাদেরকে নিজের ওপর অগ্রাধিকার দিলাম।" (১)।
আমরা দেখি এই একাগ্রতা সাহাবিদের থেকে তাবেয়িদের এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে সঞ্চারিত হয়েছিল। তাবেয়িগণ নিজ দেশে সাহাবিদের থেকে যা শুনেছেন কেবল তাতেই সন্তুষ্ট থাকতেন না, বরং তারা ইলমের রাজধানী "মদিনা মুনাওয়ারা" অভিমুখে সফর করতেন এবং নবি (সা.)-এর সাহাবিদের নিকট জিজ্ঞাসা করতেন। এমনকি সাহাবিগণও একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ করতে এবং মূল বর্ণনাকারী (الراوي الأصل), যিনি সরাসরি নবি (সা.)-এর নিকট থেকে সংবাদটি শ্রবণ করেছেন, তার কাছ থেকে হাদিস শুনতে সফর করতেন।
এখান থেকেই একজন পর্যবেক্ষকের নিকট একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য স্পষ্ট হয়, আর তা হলো—হাদিস বর্ণনা শাস্ত্র (علم الرواية) শুরুর কৃতিত্ব সাহাবি (রা.)-গণের। কারণ মুস্তফা (সা.)-এর জীবদ্দশায় নবিজির হাদিস ছিল একটি ইলম...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন নাকদ ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৬)
يسمع ويتلقف منه صلى الله عليه وسلم، فلما لحق صلى الله عليه وسلم بالرفيق الأعلى حدث عنه الصحابة بما وعته صدورهم الحافظة ورووه للناس بغاية الحرص والعناية، فصار الحديث علما يروى وينقل، ووجد بذلك علم الحديث رواية.
ثم وضع الصحابة للرواية قوانين تحقق ضبط العدل للحديث، وتكلموا في الرجال كما سنفصل، وذلك ليتميز المقبول فيعمل به، من غير المقبول. ومن هنا نشأ مصطلح الحديث.
(সাহাবীগণ) তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিকট থেকে শ্রবণ করতেন এবং গ্রহণ করতেন। অতঃপর যখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মহান বন্ধুর সান্নিধ্যে চলে গেলেন, তখন সাহাবীগণ তাঁদের সংরক্ষণকারী হৃদয়ে যা সঞ্চিত ছিল তা থেকে তাঁর পক্ষ হতে বর্ণনা (رواية) করতে লাগলেন এবং অত্যন্ত সতর্কতা ও যত্নের সাথে তা মানুষের নিকট পৌঁছে দিলেন। ফলে হাদিস এমন এক বিদ্যায় পরিণত হলো যা বর্ণনা (رواية) ও স্থানান্তর করা হয় এবং এর মাধ্যমেই বর্ণনা সংক্রান্ত হাদিস শাস্ত্রের (علم الحديث رواية) উদ্ভব ঘটে।
অতঃপর সাহাবীগণ বর্ণনার (رواية) জন্য এমন কিছু নীতিমালা প্রণয়ন করেন যা হাদিসের বর্ণনাকারীর নির্ভুলতা (ضبط) ও ন্যায়পরায়ণতা (عدل) নিশ্চিত করে। তাঁরা বর্ণনাকারীদের (رجال) বিষয়েও আলোচনা করেছেন—যেমনটি আমরা বিস্তারিত বর্ণনা করব—যাতে অগ্রহণযোগ্য বর্ণনা থেকে গ্রহণযোগ্য (مقبول) বর্ণনাকে পৃথক করা যায় এবং সে অনুযায়ী আমল করা যায়। আর এভাবেই হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা (مصطلح الحديث)-এর উৎপত্তি হয়।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন নাকদ ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الرواية والدراية في علم الحديث:فلنعرف "علم الحديث"، ثم نفصل أدوار مصطلح الحديث التاريخية.
ونبدأ أولا بتعريف كلمتي "العلم" و"الحديث".
العلم لغة: هو الإدراك. والفرق بينه وبين المعرفة أن العلم يطلق لإدراك الكليات عن دليل، والمعرفة لإدراك الجزئيات.
والحديث لغة: ضد القديم، ويستعمل في اللغة أيضا حقيقة في الخبر، قال في القاموس: "الحديث: الجديد، والخبر".
وفي اصطلاح علماء الإسلام: "ما أضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو تقرير أو وصف خِلْقِيٍّ أو خُلُقِيٍّ".
وعلى هذا التعريف لا يدخل في التعريفِ الحديثُ الموقوفُ، وهو
হাদিস বিজ্ঞানে বর্ণনা (الرواية) এবং অনুধাবন (الدراية):আসুন আমরা প্রথমে "হাদিস বিজ্ঞান" সম্পর্কে জানি, অতঃপর হাদিসের পরিভাষার ঐতিহাসিক পর্যায়গুলো বিস্তারিত আলোচনা করি।
আমরা প্রথমে "ইলম" (জ্ঞান) এবং "হাদিস" শব্দ দুটির সংজ্ঞা দিয়ে শুরু করছি।
আভিধানিক অর্থে ইলম: হলো উপলব্ধি। ইলম এবং মারিফাতের (জ্ঞান) মধ্যে পার্থক্য হলো, ইলম কোনো দলিলের ভিত্তিতে সামগ্রিক বিষয়াবলি উপলব্ধির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, আর মারিফাত ব্যবহৃত হয় আংশিক বা বিশেষ বিষয়াবলি উপলব্ধির ক্ষেত্রে।
আভিধানিক অর্থে হাদিস: হলো পুরাতনের বিপরীত, এবং ভাষায় এটি সংবাদ (خبر) এর প্রকৃত অর্থ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। কামুস গ্রন্থে বলা হয়েছে: "হাদিস: হলো নতুন এবং সংবাদ (خبر)"।
ইসলামী বিশেষজ্ঞদের পরিভাষায়: "মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত উক্তি, কর্ম, মৌনসম্মতি (تقرير) অথবা তাঁর শারীরিক বা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যকে হাদিস বলা হয়।"
এই সংজ্ঞা অনুযায়ী, স্থগিত (موقوف) হাদিস এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হয় না, যা হলো
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন নাকদ ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ما أضيف أي نسب إلى الصحابي، ولا المقطوعُ، أي ما أضيف للتابعي.
وهو مذهب الكرماني والطيبي ومن وافقهما (1).
لكن الجمهور ذهبوا إلى أنهما من الحديث، وسوَّوْا في الدلالة بين الحديث والخبر أيضا، قال الحافظ أحمد بن علي بن حجر في نزهة النظر: "الخبر عند علماء الفن مرادف للحديث". فلا فرق إذن عند الجمهور بين الحديث والخبر (2).
فالتعريف المختار للحديث هو: "ما أضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو تقرير أو وصف خِلْقِيٍّ أو خُلُقِيٍّ أو أضيف إلى الصحابي أو التابعي".
وأما السنة: فهي لغة السيرة والطريقة المعتادة حسنة كانت أو قبيحة (3).
ومن ذلك قوله صلى الله عليه وسلم: "من سن في الإسلام سنة حسنة فله أجرها وأجر من عمل بها بعده من غير أن ينقص من أجورهم شيء، ومن سن في الإسلام سنة سيئة فعليه وزرها ووزر من عمل بها .. " (4). وتطلق في العرف الإسلامي على طريقة الإسلام، ومنه قولهم: فلان على السنة، وقولهم: سنة وبدعة.
--------------------------------------------
যা সাহাবির (صحابي) প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে, আর 'মাকতু' (مقطوع) নয়, যা তাবেয়ির (تابعي) প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে।
আর এটি হলো কিরমানি, তিবি এবং তাদের সাথে একমত পোষণকারীদের মাযহাব বা মত (১)।
কিন্তু জুমহুর (جمهور) বা সংখ্যাধিক্য আলেমগণ এই মত পোষণ করেছেন যে, এ দু'টিও হাদিসের অন্তর্ভুক্ত। তারা অর্থগত নির্দেশের ক্ষেত্রে হাদিস ও খবরের (خبر) মধ্যে সমতা বিধান করেছেন। হাফিজ আহমদ বিন আলী বিন হাজার 'নুজহাতুন নজর' গ্রন্থে বলেন: "এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট খবর (خبر) হাদিসের সমার্থক।" সুতরাং জুমহুর (جمهور) ওলামাদের নিকট হাদিস ও খবরের (خبر) মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই (২)।
হাদিসের মনোনীত সংজ্ঞা হলো: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা, কাজ, অনুমোদন (تقرير) অথবা তাঁর শারীরিক কিংবা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য যা তাঁর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে অথবা যা সাহাবি (صحابي) বা তাবেয়ির (تابعي) প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে।"
আর সুন্নাহ: আভিধানিক অর্থে তা হলো জীবনচরিত এবং অনুসৃত পথ, তা ভালো হোক কিংবা মন্দ (৩)।
এর উদাহরণ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো উত্তম পদ্ধতির সূচনা করল, সে তার প্রতিদান পাবে এবং তার পরে যারা সেই অনুযায়ী আমল করবে তাদেরও প্রতিদান পাবে, এতে তাদের কারো সওয়াব থেকে সামান্যও হ্রাস করা হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো মন্দ পদ্ধতির সূচনা করল, তার ওপর সেই মন্দ কাজের গুনাহ বর্তাবে এবং যারা সেই অনুযায়ী আমল করবে তাদেরও গুনাহ..." (৪)। ইসলামি পরিভাষায় এটি ইসলামের পদ্ধতির ওপর প্রয়োগ করা হয়। যেমন তাদের উক্তি: 'অমুক ব্যক্তি সুন্নাহর ওপর রয়েছে', এবং তাদের কথা: 'সুন্নাহ ও বিদআত (بدعة)'।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন নাকদ ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وتطلق عند الفقهاء على ما يثاب فاعله، ولا يعاقب تاركه.
وفي اصطلاح المحدثين: تطلق السنة على ما أضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم خاصة عند بعضهم، والأكثر أنها تشمل ما أضيف إلى الصحابي أو التابعي (1).
لكننا نلاحظ نتيجة الممارسة والتتبع أن لفظ السنة أكثر ما يستعمل عند علماء أصول الفقه، ويعرفونها بأنها: "ما أضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو تقرير" (2). فيجعلونها خاصة بالنبي صلى الله عليه وسلم، ولا يذكرون فيها "الوصف". وذلك لأنهم يبحثون فيها كمصدر للتشريع، والتشريع يثبت بالقول أو الفعل أو التقرير منه صلى الله عليه وسلم.
أما علماء الآثار فأكثر ما يستعلمون كلمة "الحديث".
وأما الأثر: فقد خصه فقهاء خراسان بالموقوف اصطلاحا. ومنهم جماعة خصوا المرفوع بالخبر.
لكن المعتمد الذي عليه المحدثون أن يسمى كل هذا أثرا، لأنه مأخوذ من أثرت الحديث أي رويته (3).
ويؤيد ذلك إطلاق الحافظ العراقي على نفسه لقب "الأثري" بمعنى المحدث حيث قال في أول ألفيته:
يقول راجي ربه المقتدر
… عبد الرحيم بن الحسين الأثري
--------------------------------------------
ফকিহগণের (فقهاء) নিকট এটি এমন বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যার পালনকারী সওয়াব লাভ করেন, কিন্তু বর্জনকারী শাস্তির সম্মুখীন হন না।
মুহাদ্দিসগণের (محدثين) পরিভাষায়: সুন্নাহ (السنة) শব্দটি কারো কারো মতে বিশেষভাবে কেবল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, তবে অধিকাংশের মতে এটি সাহাবি (صحابي) বা তাবিঈর (تابعي) দিকে সম্বন্ধযুক্ত বিষয়কেও অন্তর্ভুক্ত করে (১)।
কিন্তু আমরা চর্চা ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে লক্ষ্য করি যে, সুন্নাহ (السنة) শব্দটির ব্যবহার উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه) শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট অধিক দেখা যায়। তারা একে সংজ্ঞায়িত করেন এভাবে: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত কোনো কথা (قول), কাজ (فعل) বা মৌনসম্মতি (تقرير)" (২)। তারা একে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে নির্দিষ্ট করেন এবং এতে গুণাবলি (الوصف) উল্লেখ করেন না। এর কারণ হলো, তারা একে শরিয়ত বিধানের (تشريع) উৎস হিসেবে আলোচনা করেন, আর শরিয়ত বিধান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা, কাজ বা মৌনসম্মতির মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়।
আর আসার (الآثار) শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ 'হাদিস' শব্দটিই অধিক ব্যবহার করেন।
আর আসার (الأثر) সম্পর্কে কথা হলো: খোরাসানের ফকিহগণ (فقهاء) পরিভাষা হিসেবে একে মওকুফ (موقوف) বর্ণনার জন্য নির্দিষ্ট করেছেন। তাদের মধ্যে একদল মরফু (مرفوع) বর্ণনাকে খবর (خبر) হিসেবে নির্দিষ্ট করেছেন।
কিন্তু মুহাদ্দিসগণের (محدثون) নিকট নির্ভরযোগ্য (معتمد) মত হলো, এই সবগুলোকে আসার (أثر) বলা হবে; কেননা এটি 'আসারতু আল-হাদিস' থেকে গৃহীত, যার অর্থ—আমি হাদিসটি বর্ণনা করেছি (৩)।
এর স্বপক্ষে প্রমাণ হলো হাফেজ ইরাকি কর্তৃক নিজের নামের সাথে আসারি (الأثري) লকব ব্যবহার করা—যা মুহাদ্দিস (محدث) অর্থেই ব্যবহৃত—যেখানে তিনি তার আলফিয়্যাহ গ্রন্থের শুরুতে বলেছেন:
সর্বশক্তিমান পালনকর্তার অনুগ্রহপ্রার্থী আবদুর রহিম ইবনে আল-হুসাইন আল-আসারি (الأثري) বলেন
…--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন নাকদ ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وسمى الحافظ ابن حجر كتابه في المصطلح: "نخبة الفكر في مصطلح أهل الأثر" وغير ذلك كثير يشهد لما قلناه.
والحاصل: أن هذه العبارات الثلاثة: "الحديث، الخبر، الأثر، تطلق عند المحدثين بمعنى واحد هو: "ما أضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم قولا أو فعلا أو تقريرا أو صفة خلقية أو خلقية أو أضيف إلى الصحابي أو التابعي".
أم السنة: فالمحدثون يشملون بها الصفة، لكن الأصوليين لا يجعلون الصفة داخلة في مدلول السنة.
مثال القول: حديث: "إنما الأعمال بالنيات" (1).
ومثال الفعل: قول عائشة في صيامه صلى الله عليه وسلم للتطوع: "كان يصوم حتى نقول: لا يفطر، ويفطر حتى نقول: لا يصوم" (2).
ومثال التقرير: حديث ابن عمر قال النبي صلى الله عليه وسلم لنا لما رجع من الأحزاب: "لا يصلين أحد العصر إلا في بني قريظة" فأدرك بعضهم العصر في الطريق فقال بعضهم: لا نصلي حتى نأتيها، وقال بعضهم بل نصلي، لم يُرِدْ منا ذلك، فذكر للنبي صلى الله عليه وسلم فلم يعنف واحدا منهم (3). فهذا هو التقرير أو الإقرار. يعني: أن يُخْبَرَ النبي صلى الله عليه وسلم بشيء أو يحدث أمامه، فلا ينكره صلى الله عليه وسلم.
--------------------------------------------
হাফিজ ইবনে হাজার পরিভাষা (مصطلح) শাস্ত্রের ওপর তাঁর কিতাবের নাম রেখেছেন: "নুখবাতুল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আসার" এবং এ জাতীয় আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে যা আমাদের বক্তব্যের সপক্ষে সাক্ষ্য দেয়।
সারকথা হলো: এই তিনটি শব্দ: "হাদিস, সংবাদ (الخبر), নিদর্শন (الأثر)", মুহাদ্দিসগণের (المحدثين) নিকট একই অর্থে ব্যবহৃত হয়, আর তা হলো: "যা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে—চাই তা কথা (قولا), কাজ (فعلا), মৌন সম্মতি (تقريرا), শারীরিক বৈশিষ্ট্য (صفة خلقية) অথবা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য (صفة خلقية) হোক অথবা যা সাহাবি (الصحابي) বা তাবিয়ির (التابعي) দিকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে"।
আর সুন্নাহ প্রসঙ্গে কথা হলো: মুহাদ্দিসগণ (المحدثون) এর অন্তর্ভুক্ত বৈশিষ্ট্যকেও (الصفة) ধরেন, কিন্তু উসুলবিদগণ (الأصوليون) সুন্নাহর সংজ্ঞায় বৈশিষ্ট্যকে অন্তর্ভুক্ত করেন না।
মৌখিক বাণীর (القول) উদাহরণ: হাদিস: "নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" (১)।
কর্মের (الفعل) উদাহরণ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নফল রোজা রাখা সম্পর্কে আয়েশা (রা.)-এর উক্তি: "তিনি রোজা রাখতেন এমনকি আমরা বলতাম যে, তিনি আর রোজা ভাঙবেন না; আবার তিনি রোজা ভাঙতেন এমনকি আমরা বলতাম যে, তিনি আর রোজা রাখবেন না" (২)।
মৌন সম্মতির (التقرير) উদাহরণ: ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আহজাব যুদ্ধ থেকে ফিরে আমাদের বললেন: "তোমাদের কেউ যেন বনু কুরাইজা ছাড়া আসরের নামাজ না পড়ে।" এরপর পথিমধ্যে অনেকের আসরের নামাজের সময় হয়ে গেল। তখন তাদের কেউ কেউ বলল: সেখানে না পৌঁছানো পর্যন্ত আমরা নামাজ পড়ব না। আবার কেউ কেউ বলল: বরং আমরা নামাজ পড়ব, কারণ তিনি আমাদের নামাজ না পড়ার উদ্দেশ্য করেননি। বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট উল্লেখ করা হলে তিনি তাদের কাউকেই তিরস্কার করেননি (৩)। এটাই হলো মৌন সম্মতি (التقرير) বা অনুমোদন (الإقرار)। অর্থাৎ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কোনো বিষয়ে জানানো হলো অথবা তাঁর সামনে কোনো কাজ সংঘটিত হলো, অথচ তিনি তা অস্বীকার করেননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন নাকদ ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ومثال الوصف الخلقي حديث: "كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أجود الناس وكان أجود ما يكون في رمضان .... " (1).
ومثال الوصف الخِلْقِيِّ: "كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أحسن وجها، وأحسنه خَلْقًا، ليس بالطويل البائن، ولا بالقصير" (2).
ومعنى "علم الحديث" كتعبير لغوي إدراك الحديث. لكنه استعمل عند العلماء كاصطلاح يطلقونه باطلاقين:
أحدهما: علم الحديث رواية أو علم رواية الحديث.
والثاني: علم الحديث دراية، أو علم دراية الحديث.
تعريف علم الحديث رواية:
وردت عند العلماء تعاريف كثيرة لعلم رواية الحديث من أشهرها تعريف ابن الأكفاني حيث قال: "علم الحديث الخاص بالرواية: علم يشتمل على أقوال النبي صلى الله عليه وسلم وأفعاله وروايتها وضبطها وتحرير ألفاظها" (3).
لكن اعترض على التعريف بأنه غير جامع أي أنه لا يشمل كل المعرف، لأنه لم يذكر تقريراته وصفاته، كما أنه لم يراع مذهب القائلين بأن الحديث يشمل ما أضيف للصحابي أو التابعي.
--------------------------------------------
চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের (الوصف الخلقي) উদাহরণ হলো এই হাদিস: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল ছিলেন এবং রমজান মাসে তিনি সবচেয়ে বেশি দানশীল হতেন..." (১)।
শারীরিক গঠনের (الوصف الخِلْقِيِّ) উদাহরণ হলো: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চেহারায় ছিলেন সবচেয়ে সুন্দর এবং শারীরিক অবয়বেও ছিলেন অতি উত্তম। তিনি অত্যধিক দীর্ঘও ছিলেন না, আবার খর্বকায়ও ছিলেন না" (২)।
শাব্দিক প্রকাশভঙ্গি হিসেবে "ইলমুল হাদিস"-এর অর্থ হলো হাদিস অনুধাবন করা। তবে আলেমদের নিকট এটি পারিভাষিক শব্দ (اصطلاح) হিসেবে দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়:
প্রথমটি: ইলমুল হাদিস রিওয়ায়াত (علم الحديث رواية) বা হাদিসের বর্ণনা সংক্রান্ত জ্ঞান।
দ্বিতীয়টি: ইলমুল হাদিস দিরায়াত (علم الحديث دراية) বা হাদিসের তত্ত্ব ও বিশ্লেষণ সংক্রান্ত জ্ঞান।
ইলমুল হাদিস রিওয়ায়াতের (علم الحديث رواية) সংজ্ঞা:
আলেমদের নিকট হাদিসের বর্ণনা সংক্রান্ত জ্ঞানের অনেকগুলো সংজ্ঞা বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে ইবনুল আকফানির সংজ্ঞাটি অন্যতম প্রসিদ্ধ। তিনি বলেন: "বর্ণনা সংক্রান্ত বিশেষ হাদিস বিজ্ঞান হলো এমন এক জ্ঞান, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী (أقوال), কাজ (أفعال), সেগুলোর বর্ণনা, যথাযথভাবে সংরক্ষণ (ضبط) এবং শব্দসমূহ সুবিন্যস্তকরণকে অন্তর্ভুক্ত করে" (৩)।
তবে এই সংজ্ঞার ওপর এই বলে আপত্তি করা হয়েছে যে, এটি ব্যাপক বা পূর্ণাঙ্গ (جامع) নয়, অর্থাৎ এটি সংজ্ঞায়িত বিষয়ের সমস্ত দিককে অন্তর্ভুক্ত করে না। কারণ এতে তাঁর মৌনসম্মতি (تقريرات) ও বৈশিষ্ট্যসমূহ (صفات) উল্লেখ করা হয়নি। পাশাপাশি, এটি সেই সকল বিশেষজ্ঞের মতকেও গ্রাহ্য করেনি যারা মনে করেন যে, সাহাবী (صحابي) বা তাবিঈর (تابعي) দিকে যা সম্বন্ধযুক্ত করা হয় তাও হাদিসের অন্তর্ভুক্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন নাকদ ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩১)
فالمختار أن نقول في تعريف علم الحديث رواية: "هو علم يشتمل على أقوال النبي صلى الله عليه وسلم وأفعاله وتقريراته وصفاته وروايتها وضبطها وتحرير ألفاظها".
ونزيد في التعريف أو الصحابي أو التابعي": إن أريد مراعاة المذهب المشار إليه الذي عليه الأكثر.
موضوعه: موضوع كل علم هو ما يدور البحث عن عوارضه في ذلك العلم. وهذا العلم موضوعه هو ما أضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم أو الصحابي أو التابعي، فإنه يبحث في هذا العلم عن روايتها وضبطها ودراسة أسانيدها ومعرفة حال كل حديث أنه صحيح أو حسن أو ضعيف، كما أنهم يبحثون في هذا العلم عن معنى الحديث وما يستنبط منه من الفوائد.
فعلم الحديث يحقق بذلك غاية عظيمة جدا تقوم على "الصون عن الخلل في نقل الحديث" (1).
وذلك بالمحافظة عليه كما ورد ونقله. ثم إنه يحقق بما بذل في شروحه من الجهود معرفة هذ الحديث الذي نريده أنه مقبول فنعمل به أو مردود فلا يعمل به، ويبين لنا معناه، وما يستنبط منه من الفوائد. فهو علم عظيم القدر والشأن يدني إلينا علم فيوضات النبوة (2).
--------------------------------------------
মনোনীত মত হলো রেওয়ায়েত (رواية) ভিত্তিক হাদিস শাস্ত্রের সংজ্ঞায় আমরা বলব: "এটি এমন একটি বিদ্যা যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী, কর্ম, মৌনসম্মতি ও গুণাবলি এবং সেগুলোর বর্ণনা, নিখুঁত সংরক্ষণ (ضبط) ও শব্দাবলির সূক্ষ্ম বিন্যাস (تحرير ألفاظ) সম্পর্কে আলোচনা করে।"
আর যদি অধিকাংশের অনুসৃত সেই মাজহাব বা মতের প্রতি লক্ষ্য রাখা উদ্দেশ্য হয়, তবে আমরা সংজ্ঞায় "অথবা সাহাবি বা তাবেয়ি" কথাটি বৃদ্ধি করব।
এর আলোচ্য বিষয় (موضوع): প্রতিটি শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় (موضوع) হলো সেই সব বিষয় যা নিয়ে উক্ত শাস্ত্রে তার আনুষঙ্গিক অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। আর এই শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় (موضوع) হলো যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বা সাহাবি কিংবা তাবেয়ির দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়। কেননা এই শাস্ত্রে সেগুলো বর্ণনা করা, নিখুঁত সংরক্ষণ (ضبط) করা, সনদসমূহ (أسانيد) পর্যালোচনা করা এবং প্রতিটি হাদিসের অবস্থা সম্পর্কে জানা যে সেটি সহিহ (صحيح) নাকি হাসান (حسن) নাকি দুর্বল (ضعيف) - সে সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। যেমন তারা এই শাস্ত্রে হাদিসের মর্ম এবং তা থেকে যে সকল শিক্ষা বা মাসআলা উদ্ভাবন (استنباط) করা যায় সে সম্পর্কেও আলোচনা করেন।
এভাবে হাদিস শাস্ত্র অত্যন্ত মহান এক লক্ষ্য সাধন করে যা "হাদিস বর্ণনায় ভুলভ্রান্তি থেকে সুরক্ষার" (১) ওপর প্রতিষ্ঠিত।
আর তা অর্জিত হয় হাদিস যেভাবে বর্ণিত হয়েছে সেভাবেই তা সংরক্ষণ ও বর্ণনার মাধ্যমে। তাছাড়া এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহে যে প্রচেষ্টা ব্যয় করা হয়েছে তার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত হাদিসটি গ্রহণযোগ্য (مقبول) কি না তা জানা যায়—যাতে আমরা তার ওপর আমল করতে পারি—অথবা সেটি বর্জনীয় (مردود) কি না তা চেনা যায়—যাতে তার ওপর আমল করা না হয়। এটি আমাদের নিকট এর মর্মার্থ এবং তা থেকে সংগৃহীত শিক্ষাসমূহ স্পষ্ট করে দেয়। সুতরাং এটি অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদা ও শানের অধিকারী একটি বিদ্যা যা নবুওয়াতের অনুগ্রহের জ্ঞানকে আমাদের নিকটবর্তী করে দেয় (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন নাকদ ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩২)
تعريف علم الحديث دراية:
ويطلق عليه "مصطلح الحديث" أو "علوم الحديث" أو "أصول الحديث" ويطلق عليه أيضًا "علم الحديث"، كما وقع في مصطلح ألفية العراقي (1).
وأحسن تعريف لهذا العلم هو تعريف الإمام عز الدين بن جماعة حيث قال: "علم بقوانين يعرف بها أحوال السند والمتن" (2).
فقوله: علم: معنى العلم الادراك المطابق للواقع عن دليل، وهذا جنس في التعريف يصدق على العلوم الأخرى كالفقه وأصوله والتفسير (3).
لكن قوله: "يعرف بها .. " قيد أو فصل أدخل علم المصطلح في التعريف، وأخرج ما عداه.
--------------------------------------------
ইলমে হাদিস দিরাইয়াহ-এর সংজ্ঞা:
একে "হাদিসের পরিভাষা (مصطلح الحديث)", "হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)" অথবা "হাদিসের মূলনীতি (أصول الحديث)" বলা হয়। একে "ইলমে হাদিস (علم الحديث)"-ও বলা হয়, যেমনটি আলফিয়্যাতুল ইরাকি-এর পরিভাষায় (১) ব্যবহৃত হয়েছে।
এই শাস্ত্রের সর্বাপেক্ষা উত্তম সংজ্ঞা হলো ইমাম ইজ্জুদ্দীন ইবন জামাআহ-এর সংজ্ঞা। তিনি বলেছেন: "এমন কিছু নিয়মনীতির (قوانين) জ্ঞান, যার মাধ্যমে সনদ (السند) ও মতনের (المتن) অবস্থা জানা যায়" (২)।
তাঁর উক্তি "জ্ঞান (علم)": এখানে জ্ঞান বলতে বুঝানো হয়েছে দলিল (دليل)-এর ভিত্তিতে বাস্তবতার সাথে সংগতিপূর্ণ উপলব্ধি। এটি সংজ্ঞার ক্ষেত্রে একটি সাধারণ শ্রেণি (جنس), যা ফিকহ (الفقه), উসুল (أصول) এবং তাফসির (التفسير)-এর মতো অন্যান্য শাস্ত্রের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয় (৩)।
তবে তাঁর উক্তি "যার মাধ্যমে জানা যায়..." একটি শর্ত (قيد) বা ব্যবচ্ছেদকারী (فصل), যা সংজ্ঞার ভেতরে পরিভাষা শাস্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং এর বাইরের বিষয়গুলোকে বাদ দিয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন নাকদ ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
أما السند: فالمراد به عند المحدثين حكاية رجال الحديث الذين رووه واحدا عن واحد إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم.
وأما الإسناد فهو إضافة الحديث إلى قائله، أي نسبته إليه. وقد يطلق أحدهما على الآخر، كما أنهما قد يطلقان على رجال سند الحديث، ويعرف المراد بالقرائن.
وأحوال السند: هي ما يطرأ عليه من اتصال، أو انقطاع، أو تدليس، أو تساهل بعض رجاله في السماع، أو سوء حفظه، أو اتهامه بالفسق أو الكذب أو غير ذلك (1).
وأم المتن: فهو ما ينتهي إليه السند من الكلام (2).
وأحوال المتن، هي ما يطرأ عليه من رفع، أو وقف، أو شذوذ، أو صحة، أو غير ذلك.
وموضوع هذا العلم الذي يبحثه هو السند والمتن من حيث التوصل إلى معرفة المقبول من المردود.
وهذا قد يستشكل بأنه سبق أن ذكرناه في موضوع علم الحديث رواية، فما الفرق؟
--------------------------------------------
সনদ (سند): মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় এর অর্থ হলো—হাদিসের বর্ণনাকারীদের সেই ধারাবাহিক বিবরণ পেশ করা, যা একজনের থেকে অন্যজনের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছেছে।
আর ইসনাদ (إسناد) হলো হাদিসকে তার মূল বক্তার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা অর্থাৎ তার দিকে নিসবত করা। কখনো একটির পরিবর্তে অন্যটি ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো উভয় শব্দ হাদিসের সনদের বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়; তবে প্রসঙ্গের (قرائن) মাধ্যমে প্রকৃত উদ্দেশ্য নিরূপণ করা হয়।
সনদের অবস্থা (أحوال السند): এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো—সনদের মধ্যে পরিলক্ষিত হওয়া অবিচ্ছিন্নতা (اتصال), বিচ্ছিন্নতা (انقطاع), তাদলীস (تدليس), কোনো কোনো বর্ণনাকারীর শ্রবণে (سماع) শিথিলতা (تساهل), মুখস্থ শক্তির দুর্বলতা (سوء حفظ), পাপাচারের (فسق) অভিযোগ অথবা মিথ্যাচারের (كذب) অভিযোগ কিংবা এ জাতীয় অন্য কিছু (১)।
আর মতন (متن): সনদের ধারাবাহিকতা যেখানে গিয়ে শেষ হয়, সেই মূল বক্তব্যকেই মতন (متن) বলা হয় (২)।
মতনের অবস্থা (أحوال المتن): এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো—মতনের মারফু (رفع) হওয়া, মাওকুফ (وقف) হওয়া, ব্যতিক্রমধর্মিতা (شذوذ), বিশুদ্ধতা (صحة) কিংবা এ জাতীয় বিষয়াদি।
এই শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় হলো সনদ (سند) ও মতন (متن), যার লক্ষ্য হলো গ্রহণযোগ্য (مقبول) ও বর্জনীয় (مردود) বর্ণনার পার্থক্য নিরূপণ করা।
এখানে একটি প্রশ্ন জাগতে পারে যে, আমরা ইতোপূর্বে 'ইলমে হাদিস রওয়ায়াত'-এর আলোচ্য বিষয় হিসেবে এটি উল্লেখ করেছি, তাহলে এই দুইয়ের মাঝে পার্থক্য কী?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন নাকদ ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
الجواب أن علم الحديث دراية يوصل إلى معرفة المقبول من المردود بشكل عام أي بوضع قواعد عامة. فأما علم رواية الحديث فإنه يبحث في هذا الحديث المعين الذي تريده، فيبين بتطبيق تلك القواعد أنه مقبول أو مردود، ويضبط روايته وشرحه، فهو إذن يبحث بحثا جزئيا تطبيقيا، فالفرق بينهما كالفرق بين النحو وبين الإعراب وكالفرق بين أصول الفقه وبين الفقه.
غاية علم المصطلح:
وقد أقيم بنيان هذا العلم لغاية عظيمة جليلة هي حفظ الحديث النبوي من الخلط فيه أو الدس والافتراء عليه، وتلك الوظيفة هي غاية في الأهمية تشتمل على فوائد لها خطرها الكبير، منها:
1 - أنه تم بذلك حفظ الدين الإسلامي من التحريف والتبديل فقد نقلت الأمة الحديث النبوي بالأسانيد، وميزت به الصحيح عن السقيم، ولولا هذا العلم لالتبس الحديث الصحيح بالضعيف والموضوع، ولاختلط كلام الرسول بكلام غيره.
2 - أن قواعد هذا العلم تجنب العالم خطر الوعيد العظيم الذي يقع على من يتساهل في رواية الحديث وذلك بقوله صلى الله عليه وسلم في الحديث الصحيح المستفيض عنه: "من حدث عني بحديث يرى أنه كذب فهو أحد الكاذبين" (1). وقوله صلى الله عليه وسلم في الحديث المتواتر: "من كذب علي فليتبوأ مقعده من النار".
3 - أن هذا العلم قد أجدى فائدة عظيمة في تنقية الأذهان من
--------------------------------------------
উত্তর হলো, ইলমুল হাদিস দিরাইয়াহ (علم الحديث دراية) সাধারণত সাধারণ নিয়মাবলি নির্ধারণের মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য (المقبول) ও বর্জনীয় (المردود) হাদিস চেনার ক্ষেত্রে পৌঁছে দেয়। পক্ষান্তরে ইলমুল হাদিস রিওয়ায়াহ (علم رواية الحديث) আপনার কাঙ্ক্ষিত নির্দিষ্ট হাদিসটি নিয়ে আলোচনা করে; ফলে ঐ নিয়মগুলো প্রয়োগের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট করে যে তা গ্রহণযোগ্য (مقبول) নাকি বর্জনীয় (مردود), এবং এর বর্ণনা ও ব্যাখ্যাকে সুসংহত করে। সুতরাং, এই দুটির মধ্যকার পার্থক্য হলো নাহু (ব্যাকরণ) ও ইরাব (বাক্য বিশ্লেষণ)-এর পার্থক্যের মতো এবং উসুলুল ফিকহ ও ফিকহ-এর পার্থক্যের মতো।
পরিভাষা শাস্ত্রের (علم المصطلح) উদ্দেশ্য:
এই শাস্ত্রের ভিত্তি একটি মহৎ ও মহান উদ্দেশ্যে স্থাপন করা হয়েছে, আর তা হলো—নবীজির হাদিসকে সংমিশ্রণ, অনুপ্রবেশ কিংবা এর ওপর মিথ্যারোপ থেকে রক্ষা করা। এই মহান দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যা বিরাট কল্যাণকে অন্তর্ভুক্ত করে, যার মধ্যে রয়েছে:
১ - এর মাধ্যমে ইসলামি দ্বীনকে বিকৃতি ও পরিবর্তন থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। কেননা এই উম্মত সনদসমূহের (الأسانيد) মাধ্যমে নবীজির হাদিস বর্ণনা করেছে এবং এর মাধ্যমে বিশুদ্ধ (الصحيح) হাদিসকে ত্রুটিযুক্ত (السقيم) হাদিস থেকে পৃথক করেছে। যদি এই শাস্ত্র না থাকত, তবে বিশুদ্ধ (الصحيح) হাদিস দুর্বল (الضعيف) ও জাল (الموضوع) হাদিসের সাথে মিলেমিশে যেত এবং রাসুলের বাণী অন্যের বাণীর সাথে মিশ্রিত হয়ে পড়ত।
২ - এই শাস্ত্রের নিয়মাবলি আলেমগণকে সেই মহা-সতর্কবার্তার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে, যা হাদিস বর্ণনায় শিথিলতা প্রদর্শনকারীর ওপর আপতিত হয়। যা তাঁর (সা.) থেকে বর্ণিত সহিহ (الصحيح) ও মুস্তাফিদ (المستفيض) হাদিসে এসেছে: "যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করে যার সম্পর্কে সে ধারণা করে যে তা মিথ্যা, তবে সে মিথ্যাবাদীদের একজন।" (১)। এবং মুতাওয়াতির (المتواتر) হাদিসে তাঁর (সা.) বাণী: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যারোপ করল, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।"
৩ - এই শাস্ত্র মানুষের চিন্তা-চেতনাকে কলুষতামুক্ত করার ক্ষেত্রে বিরাট উপকার সাধন করেছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন নাকদ ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
الخرافات. وذلك أن الإسرائيليين وغيرهم حاولوا نشر مالديهم من الأقاصيص والخرافات الكاذبة والأباطيل، وهذه الأمور داء وبيل يفت في عضد الشعوب ويمزق الأمم، إذ تجعلها أوزاعا متفرقة هائمة على وجه البسيطة لا تميز الحق من الباطل ولا تفرق بين الصواب والخطأ فيسهل مقادها ويسلس لكل ناعق يدعو إلى الهلاك والردى.
فالعالم الإسلامي حين يقوم بذب الكذب عن الحديث يقوم بعمل ذي صبغة إنسانية وأخلاقية، فضلا عن أداء الواجب الديني، لأنه يربي بذلك عقولا صحيحة تعقل وتفكر في الحياة بمنهج علمي وعقلي صحيح.
مصطلح الحديث خصيصة للمسلمين:
ومن قبل لم تعن الأمم السابقة في النقل والرواية بالإسناد والتحري في معرفة رجاله ودرجاتهم من العدالة والضبط
… فكانت الحوادث التاريخية تروى على علاتها، والأديان والمذاهب يعول فيها على التلقي من أفواه النقلة وكتاباتهم، دون سؤال عن الإسناد فضلا عن دراسته وبحثه.
لكن الله تعالى لما جعل هذا الدين خاتمة الرسالات والأديان وتعهد بحفظه وصونه، اختص هذه الأمة بأن وفقها لحفظ كتاب ربها وصيانة حديث نبيها فإذا بها تبتكر لحفظ الحديث قواعد المصطلح على أدق منهج علمي يمكن أن يوجد للاستثبات من النصوص المروية وتمحيصها. "منذ أول عهدها بالحياة ومجابهتها لمشاكلها" (1).
قال الإمام أبو محمد بن حزم (2).
--------------------------------------------
উপকথাসমূহ। মূলত ইসরায়েলি এবং অন্যান্যরা তাদের কাছে থাকা মিথ্যা কিচ্ছা-কাহিনী, বানোয়াট উপকথা ও অসারতা প্রচারের চেষ্টা করেছিল। এই বিষয়গুলো একটি মারাত্মক ব্যাধি যা জাতিসত্তার শক্তিকে চূর্ণ করে দেয় এবং উম্মাহকে ছিন্নভিন্ন করে ফেলে। কারণ এটি তাদেরকে পৃথিবীতে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ানো বিক্ষিপ্ত দলে পরিণত করে, যারা সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না এবং সঠিক ও ভুলের মাঝে বিভেদ করতে জানে না। ফলে তাদেরকে বশীভূত করা সহজ হয়ে যায় এবং ধ্বংস ও বিনাশের দিকে আহ্বানকারী প্রতিটি ব্যক্তির অনুগামী হওয়া তাদের জন্য সহজতর হয়।
সুতরাং মুসলিম বিশ্ব যখন হাদিস থেকে মিথ্যা দূর করার কাজ সম্পন্ন করে, তখন ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এটি একটি মানবিক ও নৈতিক রূপ লাভ করে। কারণ এর মাধ্যমে এমন সুস্থ মেধা তৈরি হয় যা একটি সঠিক বৈজ্ঞানিক ও যৌক্তিক পদ্ধতিতে জীবন সম্পর্কে চিন্তা ও অনুধাবন করতে পারে।
হাদিস পরিভাষা (مصطلح الحديث) মুসলিমদের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য:
ইতিপূর্বে পূর্ববর্তী জাতিসমূহ তথ্য স্থানান্তর ও বর্ণনা (رواية) করার ক্ষেত্রে সনদ (إسناد) এবং বর্ণনাকারীদের (رجال) পরিচয় ও তাদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) ও নির্ভুলতা (ضبط) যাচাই করার বিষয়ে ভ্রুক্ষেপ করেনি... ফলে ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো তার ত্রুটি-বিচ্যুতিসহই বর্ণিত হতো। ধর্ম ও মতাদর্শের ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীদের মুখের কথা ও তাদের লেখার ওপর নির্ভর করা হতো, যেখানে সনদ (إسناد) সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন করা হতো না, বরং এর বিশ্লেষণ ও গবেষণার তো প্রশ্নই আসে না।
কিন্তু মহান আল্লাহ যখন এই দ্বীনকে সর্বশেষ রিসালাত ও ধর্ম হিসেবে সাব্যস্ত করলেন এবং এটি সংরক্ষণের দায়িত্ব নিলেন, তখন তিনি এই উম্মতকে তার রবের কিতাব এবং নবীর হাদিস সংরক্ষণের তাওফিক দিয়ে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করলেন। ফলে এই উম্মত হাদিস সংরক্ষণের জন্য পরিভাষার (مصطلح) এমন সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক নীতিমালা উদ্ভাবন করেছে, যা বর্ণিত পাঠ্যসমূহ (نصوص) নিশ্চিত করতে এবং সেগুলো যাচাই-বাছাই করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান থাকা সম্ভব। "তাদের জীবনের সূচনা লগ্ন এবং সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার সময় থেকেই" (১)।
ইমাম আবু মুহাম্মদ বিন হাজম (২) বলেছেন।
--------------------------------------------