(খণ্ড: ১) সীরাতু উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: -)
سيرة عمر بن عبد العزيز   (ابن عبد الحكم الفقيه)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: سيرة عمر بن عبد العزيز على ما رواه الإمام مالك بن أنس وأصحابه

المؤلف: عبد الله بن عبد الحكم بن أعين بن ليث بن رافع، أبو محمد المصري (ت 214 هـ)

المحقق: أحمد عبيد [ت 1409 هـ]

الناشر: عالم الكتب - بيروت - لبنان

الطبعة: السادسة، 1404 هـ - 1984 م

عدد الصفحات: 151

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

উমর বিন আব্দুল আজিজের জীবনী   (ইবনে আব্দুল হাকাম আল-ফকিহ)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: ইমাম মালিক বিন আনাস ও তাঁর সঙ্গীদের বর্ণনা অনুযায়ী উমর বিন আব্দুল আজিজের জীবনী

লেখক: আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল হাকাম বিন আ’ইয়ান বিন লাইস বিন রাফে’, আবু মুহাম্মদ আল-মিসরি (মৃত্যু ২১৪ হিজরি)

গবেষক: আহমদ ওবায়েদ [মৃত্যু ১৪০৯ হিজরি]

প্রকাশক: আলামুল কুতুব - বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: ষষ্ঠ, ১৪০৪ হিজরি - ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫১

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) সীরাতু উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم وَبِه نستعين اللَّهُمَّ صل على مُحَمَّد وَآله

 

‌‌سَنَد الْمُؤلف

 

قَالَ أَبُو عبد الله مُحَمَّد بن عبد الله بن عبد الحكم حَدثنِي أبي عبد الله بن عبد الحكم قَالَ حَدثنِي مَالك بن أنس وَاللَّيْث بن سعد وسُفْيَان بن عُيَيْنَة وَعبد الله بن لَهِيعَة وَبكر بن مُضر وَسليمَان بن يزِيد الكعبي وَعبد الله بن وهب وَعبد الرَّحْمَن بن الْقَاسِم ومُوسَى بن صَالح وَغَيرهم من أهل الْعلم مِمَّن لم أسم بِجَمِيعِ مَا فِي هَذَا الْكتاب من أَمر عمر بن عبد الْعَزِيز على مَا سميت ورسمت وفسرت وكل وَاحِد مِنْهُم قد أَخْبرنِي بطَائفَة فَجمعت ذَلِك كُله

‌‌حِكَايَة عمر بن الْخطاب مَعَ الْهِلَالِيَّة وتزويج ابْنه اياها

 

فَكَانَ مِمَّا ذكر من ذَلِك أَن عمر بن الْخطاب رضي الله عنه نهى فِي خِلَافَته عَن مذق اللَّبن بِالْمَاءِ فَخرج ذَات لَيْلَة فِي حَوَاشِي الْمَدِينَة فَإِذا بإمرأة تَقول لإبنة لَهَا أَلا تمذقين لبنك فقد أَصبَحت فَقَالَت الْجَارِيَة كَيفَ أمذق وَقد نهى أَمِير الْمُؤمنِينَ عَن المذق فَقَالَت قد مذق النَّاس فامذقي فَمَا يدْرِي أَمِير الْمُؤمنِينَ فَقَالَت إِن كَانَ عمر لَا يعلم فإله عمر يعلم مَا كنت لأفعله وَقد نهى عَنهُ فَوَقَعت مقالتها من عمر فَلَمَّا أصبح دَعَا عَاصِمًا ابْنه فَقَالَ يَا بني اذْهَبْ إِلَى مَوضِع كَذَا وَكَذَا فاسأل عَن الْجَارِيَة ووصفها لَهُ فَذهب عَاصِم فَإِذا هِيَ جَارِيَة من بني هِلَال فَقَالَ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি এবং তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ, আপনি মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারের ওপর দরুদ বর্ষণ করুন।

 

‌লেখকের সনদ

 

আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আব্দুল হাকাম বলেন, আমার পিতা আবদুল্লাহ ইবনে আব্দুল হাকাম আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক ইবনে আনাস, আল-লাইস ইবনে সাদ, সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ, আবদুল্লাহ ইবনে লাহিয়া, বাকর ইবনে মুদার, সুলায়মান ইবনে ইয়াজিদ আল-কাবি, আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব, আব্দুর রহমান ইবনুল কাসিম, মুসা ইবনে সালিহ এবং ইলম অন্বেষণকারী অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ যাদের নাম আমি উল্লেখ করিনি, তারা সকলেই ওমর ইবনে আব্দুল আজিজের ঘটনাবলি সম্পর্কে এই কিতাবে যা কিছু আমি বর্ণনা, সংকলন ও ব্যাখ্যা করেছি, সে সম্পর্কে আমাকে অবহিত করেছেন। তাদের প্রত্যেকেই আমাকে কিছু অংশ করে জানিয়েছেন এবং আমি সেই সব তথ্য একত্রিত করেছি।

‌বনু হিলাল গোত্রের এক নারীর সাথে ওমর ইবনুল খাত্তাবের ঘটনা এবং তাঁর পুত্রের সাথে সেই নারীর বিবাহের উপাখ্যান

 

এ প্রসঙ্গে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা হলো, ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) তাঁর খিলাফতকালে দুধে পানি মেশাতে নিষেধ করেছিলেন। এক রাতে তিনি মদিনার উপকণ্ঠে বের হলেন, তখন তিনি এক নারীকে তার কন্যাকে বলতে শুনলেন, "তুমি কি দুধে পানি মেশাবে না? ভোর হয়ে গিয়েছে।" মেয়েটি বলল, "আমি কীভাবে মেশাব, অথচ আমিরুল মুমিনীন তো দুধে পানি মেশাতে নিষেধ করেছেন?" মা বলল, "অন্যান্য মানুষ তো মিশিয়েছে, তুমিও মেশাও; আমিরুল মুমিনীন তো আর দেখছেন না।" মেয়েটি উত্তর দিল, "ওমর যদি নাও জানেন, ওমরের ইলাহ তো দেখছেন। তিনি যা নিষেধ করেছেন, আমি তা করতে পারি না।" তার এই কথা ওমরের মনে গভীর রেখাপাত করল। সকাল হলে তিনি তাঁর পুত্র আসিমকে ডাকলেন এবং বললেন, "হে বৎস! অমুক স্থানে যাও এবং সেই মেয়েটি সম্পর্কে খোঁজ নাও।" তিনি তাকে মেয়েটির বর্ণনা দিলেন। আসিম সেখানে গিয়ে দেখলেন যে, সে বনু হিলাল গোত্রের এক কন্যা। এরপর তিনি বললেন...
(খণ্ড: ১) সীরাতু উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ২৪)
لَهُ عمر اذْهَبْ يَا بني فَتَزَوجهَا فَمَا أحراها أَن تَأتي بِفَارِس يسود الْعَرَب فَتَزَوجهَا عَاصِم بن عمر فَولدت لَهُ أم عَاصِم بنت عَاصِم بن عمر بن الْخطاب فَتَزَوجهَا عبد الْعَزِيز بن مَرْوَان بن الحكم فَأَتَت بعمر بن عبد الْعَزِيز

وَأَخْبرنِي اللَّيْث بن سعد أَنه كَانَ يُقَال الفراسة فراسة الْعَزِيز فِي يُوسُف النَّبِي عليه السلام حِين قَالَ {ائْتُونِي بِهِ أستخلصه لنَفْسي فَلَمَّا كَلمه قَالَ إِنَّك الْيَوْم لدينا مكين أَمِين} وفراسة عمر بن الْخطاب فِي الْهِلَالِيَّة حِين قَالَ لوَلَده تزَوجهَا وَالله ليوشكن أَن تَأتي بِفَارِس يسود الْعَرَب فَأَتَت بعمر بن عبد الْعَزِيز وَأَخْبرنِي من أرْضى عَن اللَّيْث أَنه قَالَ وفراسة سُلَيْمَان بن عبد الْملك فِي عمر بن عبد العزيزحيث قَالَ وَالله لأعقدن عقدا لَيْسَ للشَّيْطَان فِيهِ نصيب فعقد لعمر بن عبد الْعَزِيز

واستيقظ عمرمن نَومه فَمسح النّوم عَن وَجهه وفرك عَيْنَيْهِ وَهُوَ يَقُول من هَذَا الَّذِي من ولد عمر يُسمى عمر يسير بسيرة عمر يُرَدِّدهَا مَرَّات

‌‌خُلَاصَة سيرة عمر بن عبد الْعَزِيز قبل الْخلَافَة

 

وَولد عمر بن عبد الْعَزِيز بِالْمَدِينَةِ فَلَمَّا شب وعقل وَهُوَ غُلَام بعد صَغِير كَانَ يَأْتِي عبد الله بن عمر كثيرا لمَكَان أمه مِنْهُ ثمَّ يرجع إِلَى أمه فَيَقُول يَا أمه أَنا أحب
উমর তাকে বললেন, "হে আমার বৎস! যাও এবং তাকে বিবাহ করো। সে কতই না যোগ্য যে এমন এক বীরকে জন্ম দেবে যে আরবদের নেতৃত্ব দেবে।" অতঃপর আসিম বিন উমর তাকে বিবাহ করলেন। তাঁর গর্ভে আসিম বিন উমর বিন আল-খাত্তাবের কন্যা উম্মে আসিম জন্মগ্রহণ করেন। এরপর আব্দুল আজিজ বিন মারওয়ান বিন আল-হাকাম তাকে বিবাহ করেন এবং তাঁর গর্ভেই উমর বিন আব্দুল আজিজ জন্মগ্রহণ করেন।

লাইস বিন সাদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, বলা হতো: দূরদর্শিতা হলো ইউসুফ নবী আলাইহিস সালামের ক্ষেত্রে আজিজ (মিসরের অধিপতি)-এর দূরদর্শিতা, যখন সে বলেছিল, {তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো, আমি তাকে আমার নিজের জন্য একান্ত করে নেব। এরপর যখন সে তাঁর সাথে কথা বলল, তখন সে বলল, নিশ্চয়ই আজ আপনি আমাদের কাছে সুপ্রতিষ্ঠিত ও বিশ্বস্ত।} এবং হিলালিয়া মহিলার ব্যাপারে উমর বিন আল-খাত্তাবের দূরদর্শিতা, যখন তিনি তাঁর পুত্রকে বলেছিলেন, "তাকে বিবাহ করো। আল্লাহর কসম! আশা করা যায় যে সে এমন এক বীরকে জন্ম দেবে যে আরবদের নেতৃত্ব দেবে।" অতঃপর তিনি উমর বিন আব্দুল আজিজকে প্রসব করেন। আমার কাছে নির্ভরযোগ্য এক ব্যক্তি লাইস থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: এবং উমর বিন আব্দুল আজিজের ব্যাপারে সুলাইমান বিন আব্দুল মালিকের দূরদর্শিতা, যখন তিনি বলেছিলেন, "আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই এমন এক অঙ্গীকার করব যাতে শয়তানের কোনো অংশ থাকবে না।" অতঃপর তিনি উমর বিন আব্দুল আজিজের জন্য অঙ্গীকার (উত্তরাধিকার মনোনীত) করেন।

উমর তাঁর ঘুম থেকে জেগে উঠলেন, তাঁর মুখমণ্ডল থেকে ঘুমের ঘোর মুছলেন এবং চোখ রগড়াতে রগড়াতে বলছিলেন, "উমরের বংশধরদের মধ্য থেকে এই ব্যক্তিটি কে, যার নাম উমর এবং সে উমরের আদর্শে চলে?" তিনি বারবার এই কথাটি বলছিলেন।

‌‌খিলাফতপূর্ব উমর বিন আব্দুল আজিজের জীবনীর সারসংক্ষেপ

 

উমর বিন আব্দুল আজিজ মদিনায় জন্মগ্রহণ করেন। যখন তিনি বড় হলেন এবং তাঁর বুঝ-জ্ঞান হলো, তখন কিশোর অবস্থায় তিনি প্রায়ই আব্দুল্লাহ বিন উমরের কাছে যেতেন, তাঁর সাথে তাঁর মায়ের আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে। এরপর তিনি তাঁর মায়ের কাছে ফিরে আসতেন এবং বলতেন, "হে আম্মাজান! আমি ভালোবাসি..."
(খণ্ড: ১) সীরাতু উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ২৫)
أَن أكون مثل خَالِي يُرِيد عبد الله بن عمر فتؤفف بِهِ ثمَّ تَقول لَهُ اغرب أَنْت تكون مثل خَالك تكَرر عَلَيْهِ ذَلِك غير مرّة فَلَمَّا كبر سَار أَبوهُ عبد الْعَزِيز بن مَرْوَان إِلَى مصر أَمِيرا عَلَيْهَا ثمَّ كتب إِلَى زَوجته أم عَاصِم أَن تقدم عَلَيْهِ وَتقدم بِوَلَدِهَا فَأَتَت عَمها عبد الله بن عمر فأعلمته بِكِتَاب زَوجهَا عبد الْعَزِيز إِلَيْهَا فَقَالَ لَهَا يَا ابْنة أخي هُوَ زَوجك فالحقي بِهِ فَلَمَّا أَرَادَت الْخُرُوج قَالَ لَهَا خَلْفي هَذَا الْغُلَام عندنَا يُرِيد عمر فَإِنَّهُ أشبهكم بِنَا أهل الْبَيْت فخلفته عِنْده وَلم تخَالفه فَلَمَّا قدمت على عبد الْعَزِيز اعْترض وَلَده فَإِذا هُوَ لَا يرى عمر قَالَ لَهَا وَأَيْنَ عمر فَأَخْبَرته خبر عبد الله وَمَا سَأَلَهَا من تخليفه عِنْده لشبهه بهم فسر بذلك عبد الْعَزِيز وَكتب إِلَى أَخِيه عبد الْملك بن مَرْوَان يُخبرهُ بذلك فَكتب عبد الْملك أَن يجْرِي عَلَيْهِ ألف دِينَار فِي كل شهر ثمَّ قدم عمر على أَبِيه بعد ذَلِك مُسلما عَلَيْهِ فَأَقَامَ عِنْده مَا شَاءَ الله ثمَّ إِنَّه ركب ذَات يَوْم حمارا فَسقط عَنهُ فشج فَبلغ ذَلِك الْأَصْبَغ بن عبد الْعَزِيز وَكَانَ غُلَاما فَضَحِك لسقوطه فَبلغ سُقُوطه وَضحك الْأَصْبَغ مِنْهُ عبد الْعَزِيز فاغتاظ على الْأَصْبَغ وَقَالَ لَهُ يسْقط أَخُوك فيشج فتضحك سُرُورًا مِنْك بماأصابه قَالَ لَيْسَ ذَلِك كَذَلِك أَيهَا الْأَمِير لم يضحكني شماتة بِهِ وَلَا سرُور بسقوطه وَلَكِنِّي كنت أرى العلامات من أشج بني أُميَّة مجتمعة فِيهِ إِلَّا الشَّجَّة فَلَمَّا سقط وشج سرني ذَلِك لتكامل العلامات فِيهِ فأضحكني وَهُوَ وَالله أشج بني أُميَّة فَسكت عَنهُ عبد الْعَزِيز وَقَالَ مَا يَنْبَغِي لمن كَانَ يُرْجَى لما يُرْجَى أَن يكون تأديبه إِلَّا بِالْمَدِينَةِ فَبَعثه إِلَى الْمَدِينَة

قَالَ ثمَّ ولي عمر على الْمَدِينَة فَسَار بِأَحْسَن سيرة وَكَانَ مَعَ ذَلِك يعصف رِيحه ويرخي شعره ويسبل إزَاره ويتبختر فِي مشيته وَهُوَ مَعَ ذَلِك لَا يغمص عَلَيْهِ فِي بطن وَلَا فرج وَلَا حكم

আমি যেন আমার মামার মতো হই—এ কথা দ্বারা তিনি আবদুল্লাহ ইবনে ওমরকে বুঝাতেন। তখন তার মা বিরক্ত হয়ে তাকে বলতেন, "দূর হও! তুমি কি তোমার মামার মতো হতে পারবে?" তিনি বারবার তাকে এ কথা বলতেন। অতঃপর যখন তিনি বড় হলেন, তখন তার পিতা আবদুল আজিজ ইবনে মারওয়ান মিসরের আমির হয়ে সেখানে গমন করলেন। এরপর তিনি তার স্ত্রী উম্মু আসিমের কাছে পত্র লিখলেন যেন তিনি তার সন্তানদের নিয়ে তার নিকট উপস্থিত হন। তখন উম্মু আসিম তার চাচা আবদুল্লাহ ইবনে ওমরের কাছে আসলেন এবং তাকে তার স্বামী আবদুল আজিজের পত্রের কথা জানালেন। তিনি তাকে বললেন, "হে আমার ভ্রাতুষ্পুত্রী! সে তোমার স্বামী, সুতরাং তুমি তার সাথে গিয়ে মিলিত হও।" যখন তিনি রওনা হতে চাইলেন, তখন ইবনে ওমর তাকে বললেন, "এই বালকটিকে—অর্থাৎ ওমরকে—আমাদের কাছে রেখে যাও; কেননা সে তোমাদের মধ্যে আমাদের অর্থাৎ আহলে বাইতের সাথে সর্বাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ।" ফলে তিনি তাকে তার কাছে রেখে গেলেন এবং তার কথার অবাধ্য হলেন না। যখন তিনি আবদুল আজিজের কাছে পৌঁছালেন, তখন আবদুল আজিজ সন্তানদের পর্যবেক্ষণ করলেন এবং দেখলেন যে ওমর নেই। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, "ওমর কোথায়?" তখন তিনি আবদুল্লাহর সংবাদ এবং তার সাথে সাদৃশ্যের কারণে তাকে রেখে আসার অনুরোধের কথা জানালেন। এতে আবদুল আজিজ আনন্দিত হলেন এবং তার ভাই আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ানকে পত্র লিখে বিষয়টি জানালেন। তখন আবদুল মালিক লিখে পাঠালেন যেন প্রতি মাসে তার (ওমরের) জন্য এক হাজার দিনার বরাদ্দ করা হয়। অতঃপর ওমর এর কিছুদিন পর তার পিতার সাথে সাক্ষাৎ করতে আসলেন এবং আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী সেখানে অবস্থান করলেন। একদিন তিনি একটি গাধার পিঠে আরোহণ করলেন এবং সেখান থেকে পড়ে গিয়ে তার মাথা ফেটে গেল। বিষয়টি আল-আসবাহ ইবনে আবদুল আজিজের কাছে পৌঁছাল, তিনি তখন কিশোর ছিলেন। তিনি ওমরের পড়ে যাওয়া দেখে হাসলেন। ওমরের পড়ে যাওয়া এবং আল-আসবাহর হাসির সংবাদ আবদুল আজিজের কাছে পৌঁছালে তিনি আল-আসবাহর ওপর রাগান্বিত হলেন এবং তাকে বললেন, "তোমার ভাই পড়ে গিয়ে আহত হয়েছে, আর তুমি তার এই বিপদে আনন্দিত হয়ে হাসছ!" তিনি বললেন, "হে আমির! বিষয়টি তেমন নয়। আমি তাকে বিদ্রূপ করে বা তার পড়ে যাওয়ায় আনন্দিত হয়ে হাসিনি। বরং আমি বনু উমাইয়ার 'আশাজ' (ললাটে ক্ষতচিহ্নধারী)-এর সমস্ত আলামত তার মধ্যে পুঞ্জীভূত দেখছিলাম, শুধু এই ক্ষতচিহ্নটিই বাকি ছিল। যখন তিনি পড়ে গিয়ে আহত হলেন, তখন তার মধ্যে আলামতগুলো পূর্ণতা পাওয়ায় আমি আনন্দিত হয়েছি এবং এটিই আমাকে হাসিয়েছে। আল্লাহর কসম! তিনিই হলেন বনু উমাইয়ার সেই 'আশাজ'।" তখন আবদুল আজিজ নীরব হয়ে গেলেন এবং বললেন, "যাকে নিয়ে এমন মহৎ প্রত্যাশা করা হয়, তার শিষ্টাচার শিক্ষা মদিনা ছাড়া অন্য কোথাও হওয়া সমীচীন নয়।" অতঃপর তিনি তাকে মদিনায় পাঠিয়ে দিলেন।

বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর ওমর মদিনার গভর্নর নিযুক্ত হলেন এবং সর্বোত্তম আদর্শে শাসনকার্য পরিচালনা করলেন। তবে সেই সময়ও তার সুগন্ধি ছড়িয়ে পড়ত, তিনি চুল লম্বা রাখতেন, পরিধেয় বস্ত্র ঝুলিয়ে পরতেন এবং আভিজাত্যের সাথে পথ চলতেন; তা সত্ত্বেও উদর (হারাম ভক্ষণ), লজ্জাস্থান (পাপচার) কিংবা বিচারের ক্ষেত্রে তার চরিত্রে কোনো ত্রুটি খুঁজে পাওয়া যেত না।

(খণ্ড: ১) সীরাতু উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌قدوم رجل على عمر بن عبد الْعَزِيز لتعزيته ونصحه

 

قَالَ وأتى رجل إِلَى عمر بن عبد الْعَزِيز حِين هلك سُلَيْمَان فَقَالَ لَهُ ارْض بِقَضَاء الله وَسلم لأَمره وارج مَا عِنْده فَإِن عِنْد الله الْخَيْر الدَّائِم والعوض من المصائب انْظُر إِلَى الَّذِي كنت تخشاه على سُلَيْمَان فاخشه على نَفسك ثمَّ قَامَ الرجل فَقَالَ عمر عَليّ بِهِ فَلَمَّا جَاءَهُ قَالَ لَهُ عمر لأي شَيْء قلت لي هَذَا قَالَ الرجل إِن أمنتني حدثتك قَالَ أَنْت آمن قَالَ رَأَيْتُك بِالْمَدِينَةِ تذيل إزارك وترخي شعرك وتعصف رِيحك فَكنت أعجب كَيفَ يدعك الله فِي سكان أرضه فَلَمَّا جَاءَت حالتك هَذِه رَأَيْت عَليّ من الْحق تعزيتك وَأَدَاء حَقك فَقَالَ لَهُ عمر يَا أخي إِن كنت مُقيما مَعنا بأرضنا فتعاهدنا وَإِن خرجت فَفِي حفظ الله

‌‌المشية العمرية وإفراط عمر قبل الْخلَافَة فِي النَّعيم

 

قَالَ وَكَانَ عمر بن عبد الْعَزِيز من أعظم أموي ترفها وتملكا غذي بِالْملكِ وَنَشَأ فِيهِ لَا يعرف إِلَّا وَهُوَ تعصف رِيحه فتوجد رَائِحَته فِي الْمَكَان الَّذِي يمر فِيهِ وَيَمْشي مشْيَة تسمى العمرية فَكَانَ الْجَوَارِي يتعلمنها من حسنها وتبختره فِيهَا وَإنَّهُ ترك كل شَيْء كَانَ فِيهِ لما اسْتخْلف غير مشيته فَإِنَّهُ لم يسْتَطع تَركهَا فَرُبمَا قَالَ لمزاحم ذَكرنِي إِذا رَأَيْتنِي أَمْشِي فيذكره فيخلطها ثمَّ لَا يَسْتَطِيع إِلَّا إِيَّاهَا فَيرجع إِلَيْهَا وَكَانَ يسبل إزَاره حَتَّى رُبمَا دخلت نَعله فِيهِ فيتحامل عَلَيْهِ فيشقه وَلَا يخلعها وَيسْقط أحد شقي رِدَائه عَن مَنْكِبه فَلَا يرفعهُ وتنقطع نَعله فَلَا يعرج
‌‌উমর ইবনে আব্দুল আজিজের নিকট এক ব্যক্তির আগমন তাঁকে সমবেদনা জানাতে ও উপদেশ দিতে

 

তিনি বলেন: সুলাইমানের মৃত্যুর পর উমর ইবনে আব্দুল আজিজের নিকট এক ব্যক্তি আগমন করলেন এবং তাঁকে বললেন, "আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকুন, তাঁর নির্দেশের কাছে আত্মসমর্পণ করুন এবং তাঁর কাছে যা রয়েছে তার আশা করুন। কেননা আল্লাহর নিকটই রয়েছে চিরস্থায়ী কল্যাণ এবং বিপদের উত্তম বিনিময়। আপনি সুলাইমানের ব্যাপারে যে বিষয়ে আশঙ্কা করতেন, তা এখন নিজের জন্য আশঙ্কা করুন।" এরপর লোকটি দাঁড়িয়ে গেলেন। তখন উমর বললেন, "তাঁকে আমার কাছে নিয়ে এসো।" যখন তাঁকে নিয়ে আসা হলো, উমর তাঁকে বললেন, "আপনি আমাকে এ কথা কেন বললেন?" লোকটি বললেন, "যদি আপনি আমাকে নিরাপত্তা দেন, তবে আমি আপনাকে বলব।" তিনি বললেন, "আপনি নিরাপদ।" লোকটি বললেন, "আমি আপনাকে মদিনায় দেখেছিলাম, তখন আপনি আপনার পোশাকের প্রান্ত ঝুলিয়ে রাখতেন, চুল লম্বা রাখতেন এবং আপনার সুগন্ধি চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ত। আমি অবাক হতাম যে, আল্লাহ কীভাবে আপনাকে তাঁর যমিনের বাসিন্দাদের মধ্যে (এমন বিলাসিতায়) ছেড়ে রেখেছেন! অতঃপর যখন আপনার এই বর্তমান অবস্থা এলো, তখন আমি আপনার প্রতি সমবেদনা জানানো এবং আপনার হক আদায় করা আমার জন্য কর্তব্য মনে করলাম।" তখন উমর তাঁকে বললেন, "হে আমার ভাই, যদি আপনি আমাদের এই ভূখণ্ডে আমাদের সাথে অবস্থান করেন, তবে আমাদের দেখাশোনা করবেন (উপদেশ দেবেন)। আর যদি চলে যান, তবে আল্লাহর হিফাজতে থাকুন।"

‌‌উমরী হাঁটার ধরন এবং খিলাফতের পূর্বে উমরের অতিমাত্রায় বিলাসিতা

 

তিনি বলেন: উমর ইবনে আব্দুল আজিজ উমাইয়াদের মধ্যে অত্যন্ত বিলাসী ও রাজকীয় জীবন যাপনকারী ছিলেন। তিনি রাজকীয় পরিবেশে লালিত-পালিত ও বেড়ে উঠেছেন। তাঁর অবস্থা এমন ছিল যে, তাঁর সুগন্ধি ছড়িয়ে পড়ত এবং তিনি যে পথে চলতেন সেখানে তাঁর সুগন্ধ পাওয়া যেত। তিনি এক বিশেষ ভঙ্গিতে হাঁটতেন যাকে 'উমরী' হাঁটা বলা হতো। তাঁর সেই হাঁটার সৌন্দর্য ও গাম্ভীর্যের কারণে দাসীরা পর্যন্ত তা অনুকরণ করতে শিখত। খলীফা হওয়ার পর তিনি তাঁর পূর্বের সব বিলাসিতা ত্যাগ করেছিলেন, কেবল তাঁর হাঁটার ধরনটি ছাড়া; কারণ তিনি তা ত্যাগ করতে পারছিলেন না। মাঝে মাঝে তিনি মুজাহিমকে বলতেন, "আমি যখন ওভাবে হাঁটব, তখন তুমি আমাকে মনে করিয়ে দিও।" তখন মুজাহিম তাঁকে মনে করিয়ে দিলে তিনি পদক্ষেপে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করতেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি পূর্বের ভঙ্গিতেই ফিরে যেতেন। (পূর্বে) তিনি তাঁর পোশাক এতটাই ঝুলিয়ে রাখতেন যে, কখনো কখনো তা তাঁর জুতার নিচে ঢুকে যেত এবং তিনি তার ওপর ভর দিয়ে হাঁটতেন ফলে তা ছিঁড়ে যেত, তবুও তিনি তা পরিবর্তন করতেন না। তাঁর চাদরের এক পাশ কাঁধ থেকে পড়ে গেলেও তিনি তা টেনে তুলতেন না এবং জুতা ছিঁড়ে গেলেও তিনি থামতেন না।
(খণ্ড: ১) সীরাতু উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ২৭)
عَلَيْهَا وَرُبمَا لحقه بهَا الْمَمْلُوك فيعنفه ويطبع بِخَاتمِهِ فتتسخ الطينة من العنبر فَلم يزل على ذَلِك حَتَّى ولي الْخلَافَة فزهد فِي الدُّنْيَا ورفضها

‌‌اعتذار عمر الى سعيد بن الْمسيب

 

قَالَ وَأرْسل عمر بن عبد الْعَزِيز فِي ولَايَته على الْمَدِينَة رَسُولا إِلَى سعيد بن الْمسيب يسْأَله عَن مَسْأَلَة وَكَانَ سعيد لَا يَأْتِي أَمِيرا وَلَا خَليفَة فَأَخْطَأَ الرَّسُول فَقَالَ هَل الْأَمِير يَدْعُوك فَأخذ نَعْلَيْه وَقَامَ إِلَيْهِ (من وقته) فَلَمَّا رَآهُ قَالَ لَهُ عزمت عَلَيْك يَا أَبَا مُحَمَّد إِلَّا رجعت إِلَى مجلسك حَتَّى يَسْأَلك رَسُولنَا عَن حاجتنا فَإنَّا لم نزسله ليدعوك وَلكنه أَخطَأ إِنَّمَا أرسلناه ليسألك وَلم ير سعيد أَنه يَسعهُ التَّخَلُّف عَنهُ

‌‌تنحي عمر فِي الْمَسْجِد مرضاة لِابْنِ الْمسيب

قَالَ وَخرج عمر بن عبد الْعَزِيز ذَات لَيْلَة إِلَى الْمَسْجِد فَقَامَ ليُصَلِّي وَكَانَ حسن الصَّوْت فصلى قَرِيبا من سعيد بن الْمسيب فَقَالَ سعيد لغلامه برد يَا برد نح عَن هَذَا القارىء فقد آذَانا بِصَوْتِهِ وَتَمَادَى عمر فِي صلَاته فَعَاد سعيد لبرد فَقَالَ يَا برد وَيحك ألم أقل لَك نح هَذَا القارىء عَنَّا فَقَالَ برد لَيْسَ الْمَسْجِد لنا فَسمع ذَلِك عمر فَأخذ نَعْلَيْه وَتَنَحَّى إِلَى نَاحيَة من الْمَسْجِد

‌‌خُرُوج عمر مَعَ سُلَيْمَان بن عبد الْملك

 

قَالَ وَخرج عمر بن عبد الْعَزِيز مَعَ سُلَيْمَان بن عبد الْملك إِلَى مخرج من مخارجه لم يكن عمر قدم فِيهِ ثقلا فَبلغ الْمنزل وَصَارَ كل رجل إِلَى مضربه الَّذِي قدمه وَصَارَ سُلَيْمَان إِلَى حجرَة ثمَّ فقد عمر فَقَالَ اطلبوه فَمَا أرَاهُ قدم شَيْئا فَطلب فَوجدَ تَحت شَجَرَة باكيا فَأخْبر بذلك سُلَيْمَان فَدَعَاهُ فَقَالَ مَا يبكيك يَا أَبَا
তার ওপর (সুবাসিত করার কাজ চলত), অনেক সময় গোলাম এসে তাঁকে থামিয়ে দিত এবং তার মোহর দিয়ে সিল মারত, ফলে আম্বরের কারণে কাদা ময়লা হয়ে যেত। তিনি এই অবস্থাতেই ছিলেন যতক্ষণ না খিলাফতের দায়িত্ব লাভ করেন, এরপর তিনি দুনিয়াবিমুখ হলেন এবং একে বর্জন করলেন।

‌‌সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবের কাছে উমরের ক্ষমা প্রার্থনা

 

তিনি বলেন, উমর ইবনে আবদুল আজিজ মদিনার গভর্নর থাকাকালীন সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবের নিকট একটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার জন্য একজন বার্তাবাহক পাঠালেন। সাঈদ কোনো আমির বা খলিফার কাছে যেতেন না। বার্তাবাহক ভুলবশত বলল, 'আমির কি আপনাকে ডাকছেন?' তখন তিনি তাঁর জুতো জোড়া নিলেন এবং তৎক্ষণাৎ তাঁর দিকে রওনা হলেন। যখন তিনি (উমর) তাঁকে দেখলেন, তখন বললেন, 'হে আবু মুহাম্মদ, আমি আপনাকে অনুরোধ করছি আপনি আপনার মজলিসে ফিরে যান, আমাদের বার্তাবাহক আমাদের প্রয়োজনে আপনাকে জিজ্ঞাসা করবে। আমরা তাঁকে আপনাকে ডাকার জন্য পাঠাইনি, বরং সে ভুল করেছে; আমরা তাঁকে পাঠিয়েছি আপনাকে জিজ্ঞাসা করার জন্য।' সাঈদ মনে করলেন না যে তাঁর পক্ষে (গভর্নরের ডাক থেকে) পেছনে থাকা সম্ভব হবে।

‌‌ইবনুল মুসায়্যিবের সন্তুষ্টির জন্য মসজিদে উমরের দূরে সরে যাওয়া

তিনি বলেন, এক রাতে উমর ইবনে আবদুল আজিজ মসজিদের দিকে বের হলেন এবং সালাত আদায়ের জন্য দাঁড়ালেন। তাঁর কণ্ঠস্বর ছিল অত্যন্ত সুন্দর। তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবের কাছাকাছি সালাত আদায় করছিলেন। সাঈদ তাঁর গোলাম বারদকে বললেন, 'হে বারদ! এই ক্বারী সাহেবকে আমাদের কাছ থেকে সরিয়ে দাও, তাঁর আওয়াজ আমাদের কষ্ট দিচ্ছে।' উমর তাঁর সালাত চালিয়ে গেলেন। সাঈদ পুনরায় বারদকে বললেন, 'হে বারদ, তোমার জন্য আফসোস! আমি কি তোমাকে বলিনি এই ক্বারীকে আমাদের কাছ থেকে সরিয়ে দিতে?' বারদ বলল, 'মসজিদ তো আমাদের নয়।' উমর এটি শুনতে পেলেন, তাই তিনি তাঁর জুতো নিলেন এবং মসজিদের এক কোণায় সরে গেলেন।

‌‌সুলাইমান ইবনে আবদুল মালিকের সাথে উমরের বহির্গমন

 

তিনি বলেন, উমর ইবনে আবদুল আজিজ সুলাইমান ইবনে আবদুল মালিকের সাথে তাঁর সফরের একটি গন্তব্যে বের হলেন। উমর সেখানে অগ্রিম কোনো সরঞ্জাম বা মালপত্র পাঠাননি। তাঁরা গন্তব্যে পৌঁছালে প্রত্যেক ব্যক্তি যার যার জন্য নির্ধারিত তাবুতে চলে গেল যা আগে পাঠানো হয়েছিল। সুলাইমান একটি কক্ষে গেলেন। তারপর উমরকে পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন সুলাইমান বললেন, 'তাঁকে খোঁজ করো, আমার মনে হয় না তিনি আগে কিছু পাঠিয়েছেন।' খোঁজ করার পর তাঁকে একটি গাছের নিচে ক্রন্দনরত অবস্থায় পাওয়া গেল। সুলাইমানকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি তাঁকে ডাকলেন এবং বললেন, 'হে আবু... আপনাকে কিসে কাঁদাচ্ছে?'
(খণ্ড: ১) সীরাতু উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ২৮)
حَفْص قَالَ أبكاني يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ أَنِّي ذكرت يَوْم الْقِيَامَة من قدم شَيْئا وجده وَلم أقدم شَيْئا فَلم أجد شَيْئا

‌‌تبرؤ عمر من الْكَذِب وتجهزه لفراق سُلَيْمَان

 

قَالَ وَخرج عمر بن عبد الْعَزِيز مَعَ سُلَيْمَان يُرِيد الصائفة فَالتقى غلمانه وغلمان سُلَيْمَان على المَاء فَاقْتَتلُوا فَضرب غلْمَان عمر غلْمَان سُلَيْمَان فشكوا ذَلِك إِلَى سُلَيْمَان فَأرْسل إِلَى عمر فَقَالَ لَهُ ضرب غلمانك غلماني قَالَ مَا علمت فَقَالَ لَهُ سُلَيْمَان كذبت قَالَ مَا كذبت مذ شددت عَليّ إزَارِي وَعلمت أَن الْكَذِب يضر أَهله وَإِن فِي الأَرْض عَن مجلسك هَذَا لسعة فتجهز يُرِيد مصر فَبلغ ذَلِك سُلَيْمَان فشق عَلَيْهِ فَدخلت فِيمَا بَينهمَا عمَّة لَهما فَقَالَ لَهَا سُلَيْمَان قولي لَهُ يدْخل عَليّ وَلَا يعاتبني فَدخل عَلَيْهِ عمر فَاعْتَذر إِلَيْهِ سُلَيْمَان وَقَالَ لَهُ يَا أَبَا حَفْص مَا اغتممت بِأَمْر وَلَا أكربني أَمر إِلَّا خطرت فِيهِ على بالي فَأَقَامَ

‌‌تخلص عمر من تَعْزِيَة الْوَلِيد بالحجاج

 

قَالَ وَلما أَتَى نعي الْحجَّاج بن يُوسُف وَدخل النَّاس على الْوَلِيد يعزونه وَلم يعزه عمر فَوجدَ الْوَلِيد من ذَلِك وَقَالَ مَا مَنعك يَا عمر أَن تعزيني بالحجاج كَمَا عزاني النَّاس فَقَالَ يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ إِنَّمَا الْحجَّاج منا أهل الْبَيْت فَنحْن نعزى بِهِ وَلَا نعزي قَالَ صدقت

وَكَانَ عمر يَقُول مَا أحب أَن لي بلوذان الْكَلَام كَذَا وَكَذَا
হাফস বলেন, হে আমীরুল মুমিনীন, আপনি আমাকে কাঁদিয়েছেন; কারণ আমি কিয়ামত দিবসের কথা স্মরণ করেছি যে, যে ব্যক্তি যা অগ্রিম পাঠাবে সে তা পাবে, আর আমি কিছুই অগ্রিম পাঠাইনি, তাই আমি কিছুই পাব না।

‌মিথ্যা থেকে ওমরের দায়মুক্তি এবং সুলায়মানের নিকট থেকে পৃথক হওয়ার প্রস্তুতি

 

বর্ণনাকারী বলেন, ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ সুলায়মানের সাথে গ্রীষ্মকালীন অভিযানের উদ্দেশ্যে বের হলেন। পথিমধ্যে পানির স্থলে ওমরের গোলামগণ এবং সুলায়মানের গোলামগণ মুখোমুখি হলো এবং তারা বিবাদে লিপ্ত হলো। ওমরের গোলামরা সুলায়মানের গোলামদের প্রহার করল। তারা সুলায়মানের কাছে এই অভিযোগ নিয়ে গেল। তখন সুলায়মান ওমরের কাছে লোক পাঠিয়ে বললেন, তোমার গোলামরা আমার গোলামদের মেরেছে। তিনি (ওমর) বললেন, আমি এ বিষয়ে অবগত ছিলাম না। সুলায়মান তাঁকে বললেন, আপনি মিথ্যা বলছেন। তিনি (ওমর) বললেন, যখন থেকে আমি আমার পরিধেয় বস্ত্র মজবুত করে পরা শিখেছি এবং জেনেছি যে মিথ্যা বলা তার প্রবক্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তখন থেকে আমি কখনো মিথ্যা বলিনি। আর আল্লাহর জমিন আপনার এই মজলিস ছাড়াও অনেক প্রশস্ত। অতঃপর তিনি মিসরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিলেন। সুলায়মানের কাছে এই সংবাদ পৌঁছালে তিনি অত্যন্ত ব্যথিত হলেন। তখন তাঁদের উভয়ের এক ফুফু তাঁদের মাঝে মধ্যস্থতা করতে এলেন। সুলায়মান তাঁকে বললেন, আপনি তাঁকে বলুন আমার কাছে আসতে এবং আমি তাঁকে আর তিরস্কার করব না। অতঃপর ওমর তাঁর নিকট উপস্থিত হলেন এবং সুলায়মান তাঁর নিকট ওজিলত পেশ করলেন (দুঃখ প্রকাশ করলেন)। সুলায়মান তাঁকে বললেন, হে আবু হাফস, আমি কোনো বিষয়ে চিন্তিত হলে বা কোনো বিপদে পড়লে আপনার কথাই আমার অন্তরে সর্বাগ্রে উদিত হয়। অতঃপর তিনি সেখানেই অবস্থান করলেন।

‌হাজ্জাজের মৃত্যুর জন্য ওয়ালীদকে শোক জ্ঞাপন করা থেকে ওমরের নিষ্কৃতি লাভ

 

বর্ণনাকারী বলেন, যখন হাজ্জাজ বিন ইউসুফের মৃত্যুর সংবাদ এল এবং লোকজন ওয়ালীদের কাছে গিয়ে সমবেদনা জানাতে শুরু করল, তখন ওমর তাঁকে সমবেদনা জানালেন না। ওয়ালীদ এতে মনঃক্ষুণ্ণ হলেন এবং বললেন, হে ওমর, অন্যান্য লোকেদের ন্যায় তুমি কেন আমাকে হাজ্জাজের জন্য সমবেদনা জানালে না? তিনি (ওমর) বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন, হাজ্জাজ তো আমাদেরই পরিবারভুক্ত সদস্য, তাই আমাদেরকেই সমবেদনা জানানো উচিত (অর্থাৎ আমরাই শোকাতুর), আমাদের অন্য কেউ সমবেদনা জানাবে। তিনি বললেন, আপনি সত্য বলেছেন।

ওমর বলতেন, লুযানের বাচনিক অলংকারের পরিবর্তে আমার নিকট অমুক অমুক কথা অধিক পছন্দনীয়।
(খণ্ড: ১) সীরাতু উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌قَول عمر عِنْد موت الْحجَّاج

 

قَالَ وَلما بلغ عمر وَفَاة الْحجَّاج قَالَ رغم أنفي لله أَن قطع مُدَّة الْحجَّاج

‌‌استعفاؤه الْخَلِيفَة من ممر الْحجَّاج عَلَيْهِ

 

قَالَ وَكَانَ الْحجَّاج قد ولي الْمَوْسِم فَكتب عمر إِلَى الْخَلِيفَة يستعفيه أَن يمر عَلَيْهِ بِالْمَدِينَةِ فَكتب إِلَى الْحجَّاج إِن عمر بن عبد الْعَزِيز كتب إِلَيّ يستعفيني من ممرك عَلَيْهِ فَلَا عَلَيْك أَن لَا تمر بِمن كرهك فَتنحّى عَن الْمَدِينَة

‌‌إعظامه مَسْجِد الرَّسُول

 

قَالَ وَكَانَ عمر بن عبد الْعَزِيز إِذْ كَانَ واليا على الْمَدِينَة إِذا بَات على ظهر الْمَسْجِد مَسْجِد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لم تقربه امْرَأَة إعظاما لمَسْجِد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم

‌‌فَتْوَى عمر فِيمَن سبّ الْخُلَفَاء

 

قَالَ وَقَالَ عمر بن عبد الْعَزِيز أرسل إِلَيّ الْوَلِيد بن عبد الْملك فِي الظهيرة فِي سَاعَة لم يكن يُرْسل إِلَيّ فِي مثلهَا فَوَجَدته فِي قيطون صَغِير لَهُ بَابَانِ بَاب يدْخل مِنْهُ وَبَاب خلف ظَهره ينحرف مِنْهُ إِلَى أَهله قَالَ فَدخلت عَلَيْهِ فَإِذا هُوَ قاطب بَين عَيْنَيْهِ فَقَالَ لي اجْلِسْ هَا هُنَا فأجلسني بَين يَدَيْهِ مجْلِس الْخصم وَلَيْسَ عِنْده إِلَّا خَالِد بن الريان قَائِما بِسَيْفِهِ فَقَالَ كَيفَ ترى فِيمَن سبّ الْخُلَفَاء أَتَرَى أَن يقتل قَالَ فَسكت فَانْتَهرنِي وَقَالَ مَالك لَا تَتَكَلَّم فَسكت فَعَاد لمثلهَا فَقلت أفتك يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ قَالَ لَا وَلكنه سبّ الْخُلَفَاء قلت فَإِنِّي أرى أَن ينكل بِهِ بِمَا انتهك من حُرْمَة الْخُلَفَاء قَالَ فَرفع الْوَلِيد رَأسه الى ابْن الريان وَقَالَ مَا أَظُنهُ
হাজ্জাজের মৃত্যুকালে উমরের উক্তি

 

তিনি বলেন, যখন উমর ইবনে আব্দুল আজিজের নিকট হাজ্জাজের মৃত্যুর সংবাদ পৌঁছাল, তখন তিনি বললেন, আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যে তিনি হাজ্জাজের আয়ুষ্কাল (বা আধিপত্য) ছিন্ন করেছেন।

‌হাজ্জাজের তাঁর পাশ দিয়ে অতিক্রম করা থেকে অব্যাহতি চেয়ে খলিফার নিকট তাঁর আবেদন

 

তিনি বলেন, হাজ্জাজ হজের মৌসুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। তখন উমর খলিফার নিকট এই মর্মে পত্র লিখলেন যেন সে (হাজ্জাজ) মদিনায় তাঁর পাশ দিয়ে অতিক্রম না করে। তখন খলিফা হাজ্জাজের নিকট লিখলেন, "উমর ইবনে আব্দুল আজিজ আমার নিকট তোমার যাতায়াত থেকে অব্যাহতির আবেদন করেছেন; সুতরাং যে তোমাকে অপছন্দ করে তার পাশ দিয়ে তোমার যাওয়ার প্রয়োজন নেই।" ফলে সে মদিনা এড়িয়ে চলল।

‌রাসূলুল্লাহর মসজিদের প্রতি তাঁর সম্মান প্রদর্শন

 

তিনি বলেন, উমর ইবনে আব্দুল আজিজ যখন মদিনার গভর্নর ছিলেন, তখন তিনি যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদের ছাদে রাত যাপন করতেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদের প্রতি বিশেষ সম্মান প্রদর্শনস্বরূপ কোনো স্ত্রীলোক তাঁর নিকটবর্তী হতো না।

‌খলিফাদের গালি প্রদানকারীর ব্যাপারে উমরের ফতোয়া

 

তিনি বলেন, উমর ইবনে আব্দুল আজিজ বলেছেন: ওয়ালিদ ইবনে আব্দুল মালিক আমাকে দুপুর বেলা এমন এক সময়ে ডেকে পাঠালেন, যে সময়ে তিনি সাধারণত আমাকে ডাকতেন না। আমি তাঁকে একটি ছোট কামরায় পেলাম যার দুটি দরজা ছিল; একটি প্রবেশের জন্য এবং অন্যটি তাঁর পেছনে যা দিয়ে তিনি তাঁর পরিবারের কাছে যেতেন। তিনি বলেন, আমি তাঁর নিকট প্রবেশ করলাম, তখন তিনি ভ্রুকুটি করে ছিলেন (কপালে ভাঁজ ছিল)। তিনি আমাকে বললেন, "এখানে বসো।" তিনি আমাকে তাঁর সামনে বিবাদীর আসনে বসালেন; সেখানে খালেদ ইবনে রাইয়ান তলোয়ার হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি বললেন, "যে ব্যক্তি খলিফাদের গালি দেয়, তার ব্যাপারে তোমার মতামত কী? তুমি কি মনে করো তাকে হত্যা করা উচিত?" তিনি বলেন, আমি চুপ থাকলাম। তখন তিনি আমাকে ধমক দিয়ে বললেন, "তোমার কী হয়েছে যে কথা বলছ না?" আমি তবুও চুপ থাকলাম। তিনি আবার একই প্রশ্ন করলেন। তখন আমি বললাম, "সে কি আপনাকে হত্যা করতে চেয়েছিল, হে আমিরুল মুমিনীন?" তিনি বললেন, "না, বরং সে খলিফাদের গালি দিয়েছে।" আমি বললাম, "তবে আমি মনে করি, খলিফাদের সম্মান ক্ষুণ্ণ করার কারণে তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা উচিত।" তিনি বলেন, তখন ওয়ালিদ ইবনে রাইয়ানের দিকে মাথা তুললেন এবং বললেন, "আমি মনে করি না যে..."

(খণ্ড: ১) সীরাতু উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৩০)
إِلَّا أَن يَقُول لَهُ اضْرِب عُنُقه فَقَالَ إِنَّه فيهم لتائه ثمَّ حول وركيه فَدخل على أَهله فَقَالَ لي ابْن الريان بِيَدِهِ انْصَرف وَكَانَ ابْن الريان لعمر حَافِظًا قَالَ فَانْصَرَفت وَمَا تهب ريح من ورائي إِلَّا وَأَنا أَظن أَنه رَسُول يردني إِلَيْهِ

‌‌عزل ابْن الريان وَدُعَاء عمر عَلَيْهِ

 

فَلَمَّا ولي عمر بن عبد الْعَزِيز الْخلَافَة عزل خَالِد بن الريان عَن مَوْضِعه الَّذِي كَانَ يكون عَلَيْهِ وَكَانَ حرسيا مَعَ الْوَلِيد بن عبد الْملك وَقَالَ إِنِّي أذكر بأوه وتيهه ثمَّ قَالَ اللَّهُمَّ إِنِّي قد وَضعته لَك فَلَا ترفعه فَمَا رُؤِيَ شرِيف قد خمد ذكره حَتَّى لَا يذكر مَا خمد ذكر خَالِد بن الريان حَتَّى إِن كَانَ الرجل ليقول لَيْت شعري مَا فعل خَالِد أَحَي هُوَ أم ميت وَإنَّهُ لفي قَرْيَة صَغِيرَة مَا يدرى أَحَي هُوَ أم ميت

‌‌قَول عمر لِسُلَيْمَان فِي الرَّعْد والبرق

 

قَالَ وَخرج سُلَيْمَان بن عبد الْملك وَمَعَهُ عمر بن عبد الْعَزِيز إِلَى الْحَج فَأَصَابَهُمْ مطر شَدِيد ورعد وبرق فَقَالَ سُلَيْمَان هَل رَأَيْت مثل هَذَا يَا أَبَا حَفْص فَقَالَ يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ هَذَا فِي حِين رَحمته فَكيف بِهِ فِي حِين غَضَبه

‌‌استنقاذ عمر المحذومين وَقد أَمر سُلَيْمَان بتحريقهم

 

قَالَ وَحج سُلَيْمَان وَمَعَهُ عمر فَبَيْنَمَا هُوَ يسير ذَات لَيْلَة على رَاحِلَته قرب مَكَّة وَقد نعس إِذْ صَاح بِهِ المجذمون وضربوا بأجراسهم فَاسْتَيْقَظَ سُلَيْمَان فَزعًا وَقد بشع بهم وأفزعوه فَأمر بتحريقهم بالنَّار فَرجع الْمَأْمُور مَا يدْرِي مَا يصنع
...তবে তিনি যেন তাকে বলেন তার শিরচ্ছেদ করতে। তিনি বললেন যে, সে তাদের মধ্যে বিভ্রান্ত হয়ে আছে। তারপর তিনি তার দেহ ঘুরিয়ে তার পরিবারের কাছে চলে গেলেন। ইবনে আল-রাইয়ান তার হাত দিয়ে ইশারা করে আমাকে বললেন, "প্রস্থান করো"। ইবনে আল-রাইয়ান ওমরের দেহরক্ষী ছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আমি চলে গেলাম। আমার পেছন থেকে যখনই বাতাস বয়ে যেত, তখনই আমি মনে করতাম যে এটি হয়তো কোনো দূত যা আমাকে পুনরায় তার কাছে ফিরিয়ে নেবে।

‌‌ইবনে আল-রাইয়ানের পদচ্যুতি এবং তার বিরুদ্ধে ওমরের প্রার্থনা

 

ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ যখন খেলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, তখন তিনি খালিদ ইবনে আল-রাইয়ানকে তার পূর্ববর্তী পদ থেকে অপসারণ করলেন। তিনি ওয়ালিদ ইবনে আব্দুল মালিকের দেহরক্ষী ছিলেন। ওমর বললেন, "আমি তার দম্ভ ও অহংকার স্মরণ করছি"। তারপর তিনি প্রার্থনা করলেন, "হে আল্লাহ, আমি আপনার সন্তুষ্টির জন্য তাকে নিচু করেছি, সুতরাং আপনি তাকে আর উপরে তুলবেন না।" এরপর এমন কোনো উচ্চমর্যাদাবান ব্যক্তির নাম ও আলোচনা বিলীন হতে দেখা যায়নি, যেভাবে খালিদ ইবনে আল-রাইয়ানের নাম বিলীন হয়েছিল। এমনকি মানুষ বলত, "হায়! খালিদ কী করল? সে কি জীবিত না মৃত?" অথচ সে একটি ছোট গ্রামেই ছিল, কিন্তু কেউ জানত না সে জীবিত না মৃত।

‌‌বজ্র ও বিদ্যুৎ সম্পর্কে সুলাইমানের প্রতি ওমরের উক্তি

 

বর্ণনাকারী বলেন, সুলাইমান ইবনে আব্দুল মালিক হজ পালন করতে বের হলেন এবং তার সাথে ওমর ইবনে আব্দুল আজিজও ছিলেন। পথিমধ্যে তারা প্রবল বৃষ্টি, বজ্রপাত ও বিদ্যুৎ চমকানোর সম্মুখীন হলেন। সুলাইমান বললেন, "হে আবু হাফস! আপনি কি কখনো এমন কিছু দেখেছেন?" তখন ওমর বললেন, "হে আমিরুল মুমিনীন! এটি তাঁর রহমতের সময়ের অবস্থা, তবে তাঁর ক্রোধের সময় কেমন হবে?"

‌‌কুষ্ঠরোগীদের ওমরের মাধ্যমে উদ্ধার, যখন সুলাইমান তাদের পুড়িয়ে মারার আদেশ দিয়েছিলেন

 

বর্ণনাকারী বলেন, সুলাইমান হজ করলেন এবং তার সাথে ওমরও ছিলেন। এক রাতে মক্কার কাছাকাছি তিনি যখন তাঁর বাহনের পিঠে চড়ে যাচ্ছিলেন এবং তন্দ্রাচ্ছন্ন ছিলেন, তখন কুষ্ঠরোগীরা চিৎকার করে উঠল এবং তাদের ঘণ্টাগুলো বাজাল। সুলাইমান আতঙ্কিত হয়ে জেগে উঠলেন। তিনি তাদের দেখে অত্যন্ত বিরক্ত হলেন এবং তারা তাকে ভীত করে তুলল। ফলে তিনি তাদের আগুনে পুড়িয়ে মারার আদেশ দিলেন। যাকে এই আদেশ দেওয়া হয়েছিল, সে ফিরে এল এবং কী করবে তা বুঝতে পারছিল না।
(খণ্ড: ১) সীরাতু উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৩১)
بهم حَتَّى لَقِي عمر بن عبد العزبز فَقَالَ يَا أَبَا حَفْص حدث أَمر عَظِيم من أَمِير الْمُؤمنِينَ وَذَلِكَ أَنه مر بهؤلاءالجذمى وَهُوَ نَائِم على رَاحِلَته فراعه من نَومه صِيَاحهمْ وَضرب أجراسهم فَغَضب وَأمر بتحريقهم فَقَالَ لَهُ عمر لَا تعجل حَتَّى ألحقهُ فَلحقه فحادثه سَاعَة ثمَّ قَالَ يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ هَل رَأَيْت مثل هَؤُلَاءِ المبتلين فنسأل الله الْعَافِيَة فَلَو أمرت بإخراجهم قَالَ لَهُ أصبت فَأمر بإخراجهم فَرجع عمر وَرَاءه فَقَالَ للْمَأْمُور قد أَمر أَمِير الْمُؤمنِينَ بإخراجهم

‌‌طلب عمر مِيرَاث بعض أخواته وَمَا كَانَ بَينه وَبَين أَيُّوب بن سُلَيْمَان

 

قَالَ وكلم عمر بن عبد الْعَزِيز سُلَيْمَان بن عبد الْملك فِي مِيرَاث بعض بَنَات عبد الْعَزِيز من بني عبد الْملك فَقَالَ لَهُ سُلَيْمَان بن عبد الْملك إِن عبد الْملك كتب فِي ذَلِك كتابا مَنعهنَّ ذَلِك فَتَركه يَسِيرا ثمَّ رَاجعه فَظن سُلَيْمَان أَنه اتهمه فِيمَا ذكر من رَأْي عبد الْملك فِي ذَلِك الْأَمر فَقَالَ سُلَيْمَان لغلامه ائْتِنِي بِكِتَاب عبد الْملك فَقَالَ لَهُ عمر أَبَا الْمُصحف دَعَوْت يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ فَقَالَ أَيُّوب بن سُلَيْمَان ليوشكن أحدكُم أَن يتَكَلَّم الْكَلَام تضرب فِيهِ عُنُقه فَقَالَ لَهُ عمر إِذا أفْضى الْأَمر اليك فَالَّذِي دخل على الْمُسلمين أعظم مِمَّا تذكر فزجر سُلَيْمَان أَيُّوب فَقَالَ عمر إِن كَانَ جهل فَمَا حلمنا عَنهُ

‌‌قَول عمر حِين خرج من الْمَدِينَة

 

قَالَ وَلما خرج عمر بن عبد الْعَزِيز من الْمَدِينَة الْتفت إِلَيْهَا وَبكى وَقَالَ يَا
তাদের সাথে যতক্ষণ না তিনি উমর ইবন আব্দুল আজিজের সাক্ষাৎ পেলেন। এরপর বললেন: "হে আবু হাফস, আমীরুল মুমিনীনের পক্ষ থেকে এক গুরুতর বিষয় ঘটেছে। তা হলো এই যে, তিনি যখন তাঁর সওয়ারিতে ঘুমন্ত অবস্থায় এই কুষ্ঠরোগীদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তাদের চিৎকার ও ঘণ্টা বাজার শব্দে তিনি ঘুম থেকে চমকে ওঠেন। এতে তিনি রাগান্বিত হয়ে তাদের পুড়িয়ে ফেলার আদেশ দেন।" উমর তাঁকে বললেন: "তাড়াহুড়ো করবেন না, যতক্ষণ না আমি তাঁর সাথে দেখা করি।" অতঃপর তিনি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং কিছুক্ষণ কথা বললেন। তারপর বললেন: "হে আমীরুল মুমিনীন, আপনি কি এই বিপদগ্রস্তদের মতো কাউকে দেখেছেন? আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চাই। আপনি যদি তাদের বের করে দেওয়ার নির্দেশ দিতেন (তবে ভালো হতো)।" তিনি তাকে বললেন: "তুমি সঠিক বলেছ।" অতঃপর তিনি তাদের বের করে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। উমর পেছনে ফিরে গিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে বললেন: "আমীরুল মুমিনীন তাদের বের করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।"

‌‌উমর কর্তৃক তাঁর জনৈক বোনের উত্তরাধিকার দাবি করা এবং তাঁর ও আইয়ুব ইবনে সুলাইমানের মধ্যে যা ঘটেছিল

 

তিনি বলেন: উমর ইবনে আব্দুল আজিজ বনু আব্দুল মালিকের অন্তর্ভুক্ত আব্দুল আজিজের জনৈক কন্যার উত্তরাধিকার বিষয়ে সুলাইমান ইবনে আব্দুল মালিকের সাথে কথা বললেন। তখন সুলাইমান ইবনে আব্দুল মালিক তাঁকে বললেন: "নিশ্চয়ই আব্দুল মালিক এ বিষয়ে একটি পত্র লিখেছিলেন যাতে তিনি তাদের তা থেকে বঞ্চিত করেছেন।" উমর কিছুক্ষণ চুপ থাকলেন, তারপর পুনরায় এ বিষয়ে আলোচনা করলেন। তখন সুলাইমান ধারণা করলেন যে, উমর আব্দুল মালিকের সিদ্ধান্তের বর্ণনায় তাঁকে অভিযুক্ত করছেন। সুলাইমান তাঁর গোলামকে বললেন: "আব্দুল মালিকের পত্রটি আমার কাছে নিয়ে এসো।" তখন উমর তাঁকে বললেন: "হে আমীরুল মুমিনীন, আপনি কি তবে কুরআন তলব করেছেন?" আইয়ুব ইবনে সুলাইমান তখন বলে উঠলেন: "শীঘ্রই তোমাদের কেউ এমন কথা বলবে যার ফলে তার গর্দান উড়িয়ে দেওয়া হবে।" উমর তাকে বললেন: "শাসনভার যদি তোমার হাতে আসে, তবে মুসলিমদের ওপর যা আপতিত হবে তা তুমি যা বলছ তার চেয়েও গুরুতর হবে।" তখন সুলাইমান আইয়ুবকে ধমক দিলেন। এরপর উমর বললেন: "যদি সে অজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকে, তবে আমাদের ধৈর্য তার চেয়ে কম নয়।"

‌‌মদিনা থেকে বের হওয়ার সময় উমরের উক্তি

 

তিনি বলেন: উমর ইবনে আব্দুল আজিজ যখন মদিনা থেকে বের হলেন, তখন তিনি সেদিকে তাকালেন এবং কাঁদলেন ও বললেন: "হে..."

(খণ্ড: ১) সীরাতু উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৩২)
مُزَاحم أنخشى أَن نَكُون مِمَّن نفت الْمَدِينَة

‌‌مَا قَالَه عمر لمزاحم حِين تطير

 

قَالَ وَلما خرج عمر بن عبد الْعَزِيز من الْمَدِينَة نظرت فَإِذا الْقَمَر فِي الدبران فَكرِهت أَن أَقُول ذَلِك لَهُ فَقلت أَلا تنظر إِلَى الْقَمَر مَا أحسن استواءه فِي هَذِه اللَّيْلَة فَنظر عمر فَإِذا هُوَ بالدبران فَقَالَ كَأَنَّك أردْت أَن تعلمني أَن الْقَمَر بالدبران يَا مُزَاحم إِنَّا لَا نخرج بشمس وَلَا بقمر وَلَكنَّا نخرج بِاللَّه الْوَاحِد القهار

‌‌بِشَارَة الْخضر لعمر بالخلافة

 

قَالَ وَخرج ذَات لَيْلَة على مركب لَهُ يسير وَحده وَتَبعهُ مُزَاحم فَتقدم عمر وَتَأَخر مُزَاحم فَنظر مُزَاحم فَإِذا هُوَ بِرَجُل يُسَايِر عمر وَعَهده بِهِ وَحده وَقد وضع الرجل يَده على عاتق عمر قَالَ مُزَاحم فَقلت فِي نَفسِي من هَذَا إِن هَذَا لذُو دَالَّة عَلَيْهِ فحركت للحوق بِهِ فَأَدْرَكته فَإِذا هُوَ وَحده لَا أرى مَعَه أحدا غَيره فَقلت لَهُ رَأَيْت مَعَك رجلا آنِفا قد وضع يَده على عاتقك وَهُوَ يسايرك فَقلت فِي نَفسِي من هَذَا إِن هَذَا لذُو دَالَّة عَلَيْهِ فلحقتكما فَلم أر أحدا غَيْرك فَقَالَ عمر أوقد رَأَيْته يَا مُزَاحم قَالَ نعم قَالَ إِنِّي لأحسبك رجلا صَالحا ذَلِك يَا مُزَاحم الْخضر أعلمني أَنِّي سألي هَذَا الْأَمر وأعان عَلَيْهِ
মুযাহিম, আমরা কি এই আশঙ্কা করছি যে আমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত হব যাদেরকে মদীনা বহিষ্কার করেছে?

‌‌মুযাহিম যখন কুলক্ষণ দেখেছিল তখন উমর তাকে যা বলেছিলেন

 

তিনি বললেন, উমর বিন আব্দুল আজিজ যখন মদীনা থেকে বের হলেন, তখন আমি তাকালাম এবং দেখলাম যে চাঁদ দাবারান নক্ষত্রে রয়েছে। আমি তাকে এটি বলতে অপছন্দ করলাম, তাই বললাম: আপনি কি চাঁদের দিকে তাকিয়ে দেখছেন না যে আজ রাতে তার উঠা কতই না সুন্দর! তখন উমর তাকালেন এবং দেখলেন যে তা দাবারান নক্ষত্রে রয়েছে। তিনি বললেন: হে মুযাহিম, তুমি সম্ভবত আমাকে এটি জানাতে চেয়েছিলে যে চাঁদ দাবারান নক্ষত্রে রয়েছে। নিশ্চয়ই আমরা সূর্য বা চাঁদের কারণে বের হই না, বরং আমরা এক ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নামেই বের হই।

‌‌উমরের খিলাফত লাভ সম্পর্কে খিজিরের সুসংবাদ

 

তিনি বললেন, এক রাতে তিনি তার বাহনে চড়ে একা বের হলেন এবং মুযাহিম তার পিছু নিল। উমর সামনে এগিয়ে গেলেন এবং মুযাহিম পেছনে রয়ে গেল। অতঃপর মুযাহিম তাকিয়ে দেখল যে এক ব্যক্তি উমরের পাশে হাঁটছে, অথচ সে তাকে একাই দেখেছে। লোকটি উমরের কাঁধে হাত রেখেছিল। মুযাহিম বলল, আমি মনে মনে বললাম, ইনি কে? ইনি তো তার প্রতি বেশ প্রভাব বিস্তারকারী বলে মনে হচ্ছে। তখন আমি তাদের সাথে যোগ দেওয়ার জন্য দ্রুত চললাম এবং তাকে ধরে ফেললাম, কিন্তু দেখলাম যে তিনি একা, আমি তার সাথে অন্য কাউকে দেখতে পেলাম না। আমি তাকে বললাম, আমি মাত্র আপনার সাথে এক ব্যক্তিকে দেখলাম যে আপনার কাঁধে হাত রেখে আপনার পাশে হাঁটছিল। আমি মনে মনে বললাম, ইনি কে? ইনি তো তার প্রতি বেশ প্রভাব বিস্তারকারী বলে মনে হচ্ছে। অতঃপর আমি আপনাদের কাছে পৌঁছালাম কিন্তু আপনার সাথে কাউকে দেখতে পেলাম না। তখন উমর বললেন, হে মুযাহিম, তুমি কি তাকে দেখেছ? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, হে মুযাহিম, আমি তোমাকে একজন নেককার ব্যক্তি বলেই মনে করি। হে মুযাহিম, তিনি ছিলেন খিজির; তিনি আমাকে জানিয়েছেন যে আমি শীঘ্রই এই দায়িত্বে আসব এবং এ ব্যাপারে আমাকে সাহায্য করা হবে।
(খণ্ড: ১) সীরাতু উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌مُوَافقَة صَلَاة عمر صَلَاة النَّبِي

 

قَالَ وَلما قدم أنس بن مَالك خَادِم النَّبِي صلى الله عليه وسلم من الْعرَاق إِلَى الْمَدِينَة كَانَت تعجبه صَلَاة عمر بن عبد الْعَزِيز وَكَانَ عمر أميرها فصلى أنس خَلفه فَقَالَ مَا صليت خلف إِمَام بعد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أشبه صَلَاة بِصَلَاة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من إمامكم هَذَا وَكَانَ عمر بن عبد الْعَزِيز رضي الله عنه يتم الرُّكُوع وَالسُّجُود ويخفف الْقعُود وَالْقِيَام

‌‌اسْتِخْلَاف عمر وكراهيته ذَلِك وحيلة رَجَاء فِي إبرام الْبيعَة

 

وَكَانَ لِسُلَيْمَان بن عبد الْملك ابْن يُقَال لَهُ أَيُّوب بن سُلَيْمَان فعقد لَهُ ولَايَة الْعَهْد من بعده ثمَّ إِن أَيُّوب توفّي قبل سُلَيْمَان وَلم يبْق لِسُلَيْمَان ولد إِلَّا صَغِير فَلَمَّا حَضرته الْوَفَاة أَرَادَ أَن يسْتَخْلف فحضره عمر بن عبد الْعَزِيز ورجاء بن حَيْوَة فَقَالَ لرجاء اعْرِض عَليّ وَلَدي فِي القمص والأردية فعرضهم عَلَيْهِ فَإِذا هم صغَار لَا يحْتَملُونَ مَا لبسوا من القمص والأردية يسحبونها سحبا فَنظر إِلَيْهِم وَقَالَ يَا رَجَاء

(إِن بني صبية صغَار … أَفْلح من كَانَ لَهُ كبار)

فَقَالَ لَهُ عمر بن عبد الْعَزِيز ياأمير الْمُؤمنِينَ يَقُول الله تبارك وتعالى {قد أَفْلح من تزكّى وَذكر اسْم ربه فصلى} ثمَّ قَالَ يَا رَجَاء اعْرِض عَليّ بني فِي السيوف فقلدهم السيوف ثمَّ عرضهمْ عَلَيْهِ فَإِذا هم صغَار لَا يحملونها يجرونها جرا فَنظر إِلَيْهِم وَقَالَ

(إِن بني صبية صيفيون … أَفْلح من كَانَ لَهُ ربعيون)
‌‌উমরের সালাত এবং নবীর সালাতের সাদৃশ্য

 

তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খাদেম আনাস ইবনে মালিক ইরাক থেকে মদিনায় আসলেন, তখন উমর ইবনে আবদুল আজিজের সালাত তাকে মুগ্ধ করল; উমর তখন সেখানকার আমির ছিলেন। আনাস তার পিছনে সালাত আদায় করলেন এবং বললেন, "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর আপনাদের এই ইমামের চেয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাতের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ সালাত আমি আর অন্য কোনো ইমামের পেছনে আদায় করিনি।" উমর ইবনে আবদুল আজিজ রাদিয়াল্লাহু আনহু রুকু এবং সিজদা পূর্ণাঙ্গভাবে আদায় করতেন এবং বসা ও দাঁড়ানোকে সংক্ষিপ্ত করতেন।

‌‌উমরের স্থলাভিষিক্ত হওয়া, এতে তার অনীহা এবং বাইয়াত নিশ্চিতকরণে রাজার কৌশল

 

সুলাইমান ইবনে আবদুল মালিকের আইয়ুব ইবনে সুলাইমান নামে এক পুত্র ছিল এবং তিনি তাকে তার পরবর্তী উত্তরাধিকারী মনোনীত করেছিলেন। অতঃপর আইয়ুব সুলাইমানের পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেন এবং সুলাইমানের ছোট সন্তান ছাড়া আর কেউ অবশিষ্ট ছিল না। যখন তার মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো, তখন তিনি কাউকে স্থলাভিষিক্ত করতে চাইলেন। তখন উমর ইবনে আবদুল আজিজ এবং রাজা ইবনে হাইওয়াহ তার নিকট উপস্থিত ছিলেন। তিনি রাজাকে বললেন, "আমার সন্তানদের কামিজ ও চাদর পরিহিত অবস্থায় আমার সামনে পেশ করো।" তিনি তাদের পেশ করলেন, দেখা গেল তারা এতই ছোট যে তাদের পরিহিত কামিজ ও চাদরের ভার সইতে পারছিল না এবং সেগুলো মাটিতে টেনে হিঁচড়ে নিচ্ছিল। তিনি তাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, "হে রাজা!"

(আমার সন্তানেরা ছোট ছোট শিশু … সেই সফল যার সন্তানরা বয়স্ক)

অতঃপর উমর ইবনে আবদুল আজিজ তাকে বললেন, "হে আমিরুল মুমিনীন! আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা বলেন: {নিশ্চয়ই সফল হয়েছে সেই যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করেছে, এবং তার রবের নাম স্মরণ করেছে ও সালাত আদায় করেছে}।" তারপর তিনি বললেন, "হে রাজা! আমার সন্তানদের তলোয়ারসহ আমার সামনে পেশ করো।" রাজা তাদের তলোয়ার পরিয়ে দিলেন এবং তার সামনে পেশ করলেন। দেখা গেল তারা এতই ছোট যে তলোয়ার বহন করতে পারছিল না, বরং তা টেনে হিঁচড়ে নিচ্ছিল। তিনি তাদের দিকে তাকিয়ে বললেন:

(আমার সন্তানেরা গ্রীষ্মকালীন দুর্বল শিশু … সেই সফল যার বসন্তকালীন সবল সন্তান রয়েছে)
(খণ্ড: ১) সীরাতু উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৩৪)
فَقَالَ لَهُ عمر بن عبد الْعَزِيز يَقُول الله تبارك وتعالى {قد أَفْلح من تزكّى وَذكر اسْم ربه فصلى} فَلَمَّا لم ير فِي وَلَده مَا يُرِيد حدث نَفسه بِولَايَة عمر بن عبد الْعَزِيز لما كَانَ يعرف من حَاله فَشَاور رَجَاء فِيمَن يعْقد لَهُ فَأَشَارَ عَلَيْهِ رَجَاء بعمر وسدد لَهُ رَأْيه فِيهِ فَوَافَقَ ذَلِك رَأْي سُلَيْمَان وَقَالَ لأعقدن عقدا لَا يكون للشَّيْطَان فِيهِ نصيب فَلَمَّا اشْتَدَّ بِهِ وَجَعه عهد عهدا لم يطلع عَلَيْهِ أحدا إِلَّا رَجَاء بن حَيْوَة الْكِنْدِيّ اسْتخْلف فِيهِ عمر بن عبد الْعَزِيز وَيزِيد بن عبد الْملك من بعد عمر فَدخل سعيد ابْن خَالِد مَعَ عمر بن عبد الْعَزِيز وَبَعض أهل بَيته يعودون سُلَيْمَان فَرَأَوْا بِهِ الْمَوْت فَمشى عمر بن عبد الْعَزِيز وَسَعِيد بن خَالِد ورجاء بن حَيْوَة وتخلف عمر كَأَنَّهُ يعالج نَعْلَيْه حَتَّى أدْركهُ رَجَاء فَقَالَ لَهُ يَا رَجَاء إِنِّي أرى أَمِير الْمُؤمنِينَ فِي الْمَوْت وَلَا أَحْسبهُ إِلَّا سيعهد وَأَنا أناشدك الله إِن ذَكرنِي بِشَيْء من ذَلِك إِلَّا صددته عني وَإِن لم يذكرنِي أَن لَا تذكرني لَهُ فِي شَيْء من ذَلِك فَقَالَ رَجَاء لعمر لقد ذهب ظَنك مذهبا مَا كنت أحسبك تذهبه أتظن بني عبد الْملك يدخلونك فِي أُمُورهم وَقد كَانَ سُلَيْمَان فرغ من ذَلِك وَلكنه أَرَادَ إخفاءه عَن عمر فَلَمَّا ولي هِشَام بن عبد الْملك ذكر لَهُ فعل رَجَاء بن حَيْوَة فَقَالَ أوليس بِصَاحِب عمر بن عبد الْعَزِيز يَوْم وَافقه ثمَّ أصبح وَقد اسْتخْلف فَذكر لرجاء فَقَالَ رَجَاء أَولا أخْبركُم عَن ذَلِك الْموقف إِن عمر نشدني الله أَن لَا أذكرهُ فِي شَيْء من أَمر الْخلَافَة وَإِن كَانَ سُلَيْمَان ذكره أَن أصده

উমর ইবন আব্দুল আযীয তাকে বললেন, মহান ও বরকতময় আল্লাহ বলেন, "সফলকাম হয়েছে সেই ব্যক্তি যে পবিত্র হয়েছে, এবং তার রবের নাম স্মরণ করেছে ও সালাত আদায় করেছে।" অতঃপর তিনি যখন তাঁর সন্তানদের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত গুণাবলি দেখতে পেলেন না, তখন উমর ইবন আব্দুল আযীযের অবস্থা সম্পর্কে অবগত থাকায় তাঁর প্রতি খিলাফতের দায়িত্ব অর্পণ করার কথা মনে মনে ভাবলেন। এরপর তিনি কার জন্য বায়আত গ্রহণ করবেন সে বিষয়ে রাজার সাথে পরামর্শ করলেন। রাজা তাঁকে উমরের ব্যাপারে পরামর্শ দিলেন এবং তাঁর সিদ্ধান্তকে সুদৃঢ় করলেন। এটি সুলায়মানের মতের অনুকূল হলো এবং তিনি বললেন, "আমি এমন এক অঙ্গীকারনামা প্রস্তুত করব যাতে শয়তানের কোনো অংশ থাকবে না।" অতঃপর যখন তাঁর রোগ যাতনা তীব্র হলো, তিনি এমন এক অসিয়তনামা লিখলেন যা রাজা ইবন হাইওয়াহ আল-কিন্দি ব্যতীত কাউকেও অবগত করলেন না। তাতে তিনি উমর ইবন আব্দুল আযীযকে স্থলাভিষিক্ত করলেন এবং উমরের পরবর্তী উত্তরাধিকারী হিসেবে ইয়াযীদ ইবন আব্দুল মালিককে নির্ধারণ করলেন। এরপর সাঈদ ইবন খালিদ এবং উমর ইবন আব্দুল আযীয তাদের পরিবারের আরও কিছু সদস্যসহ সুলায়মানকে দেখতে গেলেন। তাঁরা তাঁর মাঝে মৃত্যুর আলামত প্রত্যক্ষ করলেন। অতঃপর উমর ইবন আব্দুল আযীয, সাঈদ ইবন খালিদ এবং রাজা ইবন হাইওয়াহ সেখান থেকে বেরিয়ে আসলেন। কিন্তু উমর এমনভাবে পিছিয়ে পড়লেন যেন তিনি তাঁর জুতো ঠিক করছেন, যতক্ষণ না রাজা তাঁর নিকট পৌঁছালেন। উমর তাঁকে বললেন, "হে রাজা! আমি আমীরুল মু'মিনীনকে মৃত্যুশয্যায় দেখছি এবং আমার ধারণা তিনি অচিরেই কাউকে উত্তরাধিকারী মনোনীত করবেন। আমি আপনাকে আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলছি, যদি তিনি আমার কথা উল্লেখ করেন তবে আপনি তাঁকে আমার দিক থেকে নিবৃত্ত রাখবেন, আর যদি তিনি আমার কথা উল্লেখ না করেন তবে আপনিও আমার ব্যাপারে তাঁর নিকট কিছু বলবেন না।" রাজা উমরকে বললেন, "আপনার ধারণা এমন এক পথে গেছে যা আমি কল্পনাও করিনি। আপনি কি মনে করেন যে বনু আব্দুল মালিক তাদের রাষ্ট্রীয় বিষয়ে আপনাকে অন্তর্ভুক্ত করবে?" অথচ সুলায়মান ইতিপূর্বেই বিষয়টি চূড়ান্ত করেছিলেন, কিন্তু তিনি তা উমরের নিকট গোপন রাখতে চেয়েছিলেন। অতঃপর যখন হিশাম ইবন আব্দুল মালিক শাসনভার গ্রহণ করলেন, তখন তাঁর নিকট রাজা ইবন হাইওয়াহর ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হলো। তিনি বললেন, "তিনি কি উমর ইবন আব্দুল আযীযের সেই সঙ্গী নন যিনি সেদিন তাঁর সাথে একমত হয়েছিলেন এবং পরদিন ভোরে তিনি খলীফা হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন?" বিষয়টি রাজার নিকট ব্যক্ত করা হলে তিনি বললেন, "আমি কি আপনাদের সেই ঘটনা সম্পর্কে জানাব না? উমর আমাকে আল্লাহর কসম দিয়েছিলেন যেন আমি খিলাফতের কোনো বিষয়ে তাঁর নাম উল্লেখ না করি, আর সুলায়মান যদি তাঁর নাম উল্লেখ করেন তবে যেন আমি তাঁকে বাধা দেই।"

(খণ্ড: ১) সীরাতু উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৩৫)
عَنهُ فَعجب هِشَام من قَول رَجَاء وَقَالَ وَمَا أَحسب عمر خطا خطْوَة قطّ إِلَّا وَله فِيهَا نِيَّة

فَلَمَّا حضر سُلَيْمَان وَاشْتَدَّ مَا بِهِ أَمر بالبيعة لمن كَانَ فِي كِتَابه مِمَّن عهد إِلَيْهِ فَبَايع النَّاس وَلَا يعلمُونَ من فِي كِتَابه ثمَّ قضى الله على سُلَيْمَان بِالْمَوْتِ فَلَمَّا مَاتَ كتمه رَجَاء بن حَيْوَة ثمَّ خرج إِلَى النَّاس فَقَالَ إِن أَمِير الْمُؤمنِينَ يَأْمُركُمْ بتجديد الْبيعَة لمن كَانَ عهد إِلَيْهِ وَقد أصبح بِحَمْد الله صَالحا فَقَالُوا أوصلنا إِلَى أَمِير الْمُؤمنِينَ لنَنْظُر إِلَيْهِ وننفذ لأَمره فَدخل فَأمر بِهِ فأسند بالوسائد وَأقَام عِنْده خَادِمًا وَأمر بِالنَّاسِ فأدخلوا عَلَيْهِ فيقفون عِنْد الْبَاب فيسلمون من بعيد يرَوْنَ شخصه فَيرد الْخَادِم عَنهُ رد الْمَرِيض وهم ينظرُونَ إِلَيْهِ ثمَّ قَالَ يَأْمُركُمْ أَمِير الْمُؤمنِينَ أَن تبايعوا لمن عهد إِلَيْهِ وتسمعوا لَهُ وتطيعوا فَخَرجُوا إِلَى الْمَسْجِد وَالنَّاس مجتمعون وُجُوه بني مَرْوَان وَبني أُميَّة وأشراف النَّاس فَبَايعُوا حَتَّى إِذا رَضِي رَجَاء من ذَلِك نظر فَإِذا هُوَ لَا يرى عمر فَخرج يلتمسه فِي الْمَسْجِد حَتَّى رَآهُ قاصيا فَوقف عَلَيْهِ وَقَالَ السَّلَام عَلَيْك يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ وَرَحْمَة الله وَبَرَكَاته قُم إِلَى الْمِنْبَر فَقَالَ أنْشدك الله يَا رَجَاء فَقَالَ رَجَاء أناشدك الله أَن يضطرب بِالنَّاسِ حَبل فقد لَقِي سُلَيْمَان ربه وَقضى الله عَلَيْهِ الْمَوْت فَقَامَ عمر حَتَّى جلس على الْمِنْبَر فنعى للنَّاس سُلَيْمَان وَفتح الْكتاب فَإِذا فِيهِ اسْتِخْلَاف عمر وَيزِيد بن عبد الْملك من بعد عمر فَلَمَّا قَرَأَ ذكر عمر جثا هِشَام بن عبد الْملك على رُكْبَتَيْهِ وَقَالَ هاه فسل رجل من أهل الشَّام سَيْفه وَقَالَ تَقول لأمر قد قَضَاهُ أَمِير الْمُؤمنِينَ هاه فَلَمَّا قَرَأَ ثمَّ يزِيد بن عبد الْملك من بعد عمر قَالَ هِشَام سمعنَا وأطعنا فَسمع النَّاس وأطاعوا وَقَامُوا فَبَايعُوا لعمر
এতে হিশাম রাজা ইবনে হাইওয়ার কথায় বিস্ময় প্রকাশ করলেন এবং বললেন, "আমি মনে করি না যে উমর (ইবনে আব্দুল আজিজ) কখনো কোনো পদক্ষেপ নিয়েছেন যার পেছনে তাঁর কোনো বিশেষ নিয়ত ছিল না।"

অতঃপর যখন সুলাইমানের মৃত্যু উপস্থিত হলো এবং তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন হলো, তখন তিনি তাঁর অছিয়তনামায় যাকে মনোনীত করেছেন তাঁর জন্য বায়াত গ্রহণের নির্দেশ দিলেন। ফলে মানুষ বায়াত গ্রহণ করল, অথচ তারা জানত না যে সেই অছিয়তনামায় কার নাম রয়েছে। এরপর আল্লাহ সুলাইমানের মৃত্যু নির্ধারণ করলেন। যখন তিনি মৃত্যুবরণ করলেন, রাজা ইবনে হাইওয়া বিষয়টি গোপন রাখলেন। এরপর তিনি মানুষের সামনে গিয়ে বললেন, "আমীরুল মুমিনীন আপনাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যেন আপনারা যাকে তিনি মনোনীত করেছেন তাঁর অনুকূলে বায়াত নবায়ন করেন। আল্লাহর প্রশংসায় তিনি এখন সুস্থ আছেন।" তারা বলল, "আমাদের আমীরুল মুমিনীনের কাছে যেতে দিন যেন আমরা তাঁকে দেখতে পাই এবং তাঁর নির্দেশ পালন করতে পারি।" তখন রাজা ভেতরে ঢুকলেন এবং সুলাইমানের দেহকে বালিশের ওপর ঠেস দিয়ে রাখা হলো। তাঁর পাশে একজন খাদেম দাঁড়িয়ে থাকল। এরপর মানুষকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলো। তারা দরজার কাছে দাঁড়িয়ে দূর থেকে তাঁকে সালাম দিচ্ছিল এবং তাঁর অবয়ব দেখছিল। খাদেম তাঁর পক্ষ থেকে অসুস্থ ব্যক্তির মতো উত্তর দিচ্ছিল, আর তারা তাঁর দিকে তাকিয়ে ছিল। এরপর রাজা বললেন, "আমীরুল মুমিনীন আপনাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যেন আপনারা তাঁর মনোনীত ব্যক্তির হাতে বায়াত গ্রহণ করেন এবং তাঁর কথা শোনেন ও আনুগত্য করেন।" অতঃপর তারা মসজিদের দিকে বের হয়ে এলেন, যেখানে বনু মারওয়ান, বনু উমাইয়া এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সমবেত ছিলেন। সবাই বায়াত গ্রহণ করলেন। যখন রাজা এই বায়াতে সন্তুষ্ট হলেন, তখন তিনি লক্ষ্য করলেন যে উমর সেখানে নেই। তিনি মসজিদে তাঁকে খুঁজতে লাগলেন এবং শেষ পর্যন্ত তাঁকে এক কোণে দেখতে পেলেন। তিনি তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে বললেন, "আপনার ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক হে আমীরুল মুমিনীন! আপনি মিম্বরের দিকে এগিয়ে চলুন।" উমর বললেন, "হে রাজা, আমি তোমাকে আল্লাহর কসম দিচ্ছি (এমন বলো না)।" রাজা বললেন, "আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিচ্ছি যেন মানুষের ঐক্য নষ্ট না হয়। সুলাইমান তাঁর রবের সাথে মিলিত হয়েছেন এবং আল্লাহ তাঁর মৃত্যু নির্ধারণ করেছেন।" তখন উমর উঠে মিম্বরে বসলেন। তিনি মানুষের কাছে সুলাইমানের মৃত্যুর সংবাদ ঘোষণা করলেন এবং অছিয়তনামাটি খুললেন। তাতে দেখা গেল উমরকে খলিফা এবং উমরের পর ইয়াজিদ ইবনে আব্দুল মালিককে মনোনীত করা হয়েছে। যখন তিনি উমরের নাম পাঠ করলেন, হিশাম ইবনে আব্দুল মালিক হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন এবং বিস্ময়ে বলে উঠলেন, "হায়!" তখন সিরীয়দের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি তলোয়ার বের করে বলল, "আমীরুল মুমিনীন যে বিষয়ে ফয়সালা দিয়েছেন, তার বিপরীতে তুমি বলছ 'হায়'?" এরপর যখন উমর পাঠ করলেন যে উমরের পর ইয়াজিদ ইবনে আব্দুল মালিক খলিফা হবেন, তখন হিশাম বললেন, "আমরা শুনলাম এবং আনুগত্য করলাম।" মানুষও তা শুনল ও আনুগত্য করল এবং তারা দাঁড়িয়ে উমরের হাতে বায়াত গ্রহণ করল।
(খণ্ড: ১) সীরাতু উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৩৬)
‌‌بِشَارَة الرُّؤْيَا بخلافة عمر

 

وَكَانَ رجل قد رأى فِي مَنَامه كَأَن قَائِلا من السَّمَاء ينظر إِلَيْهِ يَقُول أَتَاكُم الْعدْل واللين وَإِظْهَار الْعَمَل الصَّالح فِي الْمُصَلِّين فَقَالَ لَهُ الرجل من هُوَ يَرْحَمك الله فَنزل إِلَى الأَرْض وَكتب بِيَدِهِ عمر فاستخلف عمر فِي يَوْم تِلْكَ اللَّيْلَة

‌‌أول مَا بَدَأَ بِهِ عمر حِين ولي الْخلَافَة

 

ثمَّ أَخذ فِي جهاز سُلَيْمَان فَخرج بِهِ فحانت الْمغرب قبل أَن يصلى عَلَيْهِ فصلى عمر الْمغرب ثمَّ صلى عَلَيْهِ ثمَّ حمل سُلَيْمَان من قصره إِلَى قَبره فَلَمَّا دفن سُلَيْمَان دَعَا عمر بِدَوَاةٍ وَقِرْطَاس فَكتب ثَلَاثَة كتب لم يَسعهُ فِيمَا بَينه وَبَين الله عز وجل أَن يؤخرها فأمضاها من فوره فَأخذ النَّاس فِي كِتَابه إِيَّاهَا هُنَالك فِي همزه يَقُولُونَ مَا هَذِه العجلة أما كَانَ يصبر إِلَى أَن يرجع إِلَى منزله هَذَا حب السُّلْطَان هَذَا الَّذِي يكره مَا دخل فِيهِ وَلم يكن بعمر عجلة وَلَا محبَّة لما صَار إِلَيْهِ وَلكنه حاسب نَفسه وَرَأى أَن تَأْخِير ذَلِك لَا يَسعهُ

‌‌أمره مسلمة بالقفول من الْقُسْطَنْطِينِيَّة

 

كتب بقفل مسلمة بن عبد الْملك من الْقُسْطَنْطِينِيَّة وَقد كَانَ سُلَيْمَان أغزاه إِيَّاهَا برا وبحرا وأشفى على فتحهَا ثمَّ خدع عَنْهَا حَتَّى أحرزوا طعامهم وحوائجهم ثمَّ أغلقوها دونه بعد الإشفاء عَلَيْهَا فَبلغ ذَلِك سُلَيْمَان فَغَضب مِمَّا فعل بِهِ فَحلف أَن لَا
উমরের খিলাফত সম্পর্কে স্বপ্নের সুসংবাদ

 

এক ব্যক্তি স্বপ্নে দেখেছিলেন যেন আকাশ থেকে এক আহ্বানকারী তার দিকে তাকিয়ে বলছেন, "তোমাদের কাছে এসেছে ন্যায়বিচার, কোমলতা এবং নামাজীদের মাঝে সৎকর্মের প্রকাশ।" তখন সেই ব্যক্তি তাকে বললেন, "আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন, তিনি কে?" তখন তিনি পৃথিবীতে নেমে আসলেন এবং নিজের হাত দিয়ে লিখলেন 'উমর'। সেই রাতের দিনেই উমর খলিফা নিযুক্ত হলেন।

‌খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের পর উমর যা দিয়ে শুরু করেছিলেন

 

অতঃপর তিনি সুলায়মানের দাফন-কাফনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করলেন এবং তাকে নিয়ে বের হলেন। তার জানাজা পড়ার আগেই মাগরিবের সময় হয়ে গেল। উমর মাগরিবের সালাত আদায় করলেন, এরপর তার জানাজা পড়লেন। অতঃপর সুলায়মানকে তার রাজপ্রাসাদ থেকে কবরের দিকে বহন করে নিয়ে যাওয়া হলো। যখন সুলায়মানকে দাফন করা হলো, তখন উমর দোয়াতি ও কাগজ চাইলেন এবং তিনটি চিঠি লিখলেন। মহান আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার নিকট তার যে জবাবদিহিতা রয়েছে, তার প্রেক্ষিতে এগুলো বিলম্বিত করা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাই তিনি তৎক্ষণাৎ তা কার্যকর করলেন। মানুষ তার এই লেখালেখি দেখে কানাঘুষা করতে লাগল এবং বলতে লাগল, "এত তাড়াহুড়ো কিসের? তিনি কি তার বাড়ি ফিরে যাওয়া পর্যন্ত ধৈর্য ধরতে পারতেন না? এটাই হচ্ছে ক্ষমতার মোহ। ইনিই তো সেই ব্যক্তি যিনি যা পেয়েছেন তা অপছন্দ করতেন।" অথচ উমরের মাঝে কোনো তাড়াহুড়ো ছিল না এবং যা তিনি লাভ করেছেন তার প্রতি কোনো মোহও ছিল না। বরং তিনি নিজের নফসের হিসাব নিলেন এবং দেখলেন যে, এ বিষয়গুলো বিলম্বিত করার কোনো অবকাশ তার নেই।

‌মাসলামাহকে কনস্টানটিনোপল থেকে ফিরে আসার নির্দেশ

 

তিনি মাসলামাহ বিন আব্দুল মালিককে কনস্টানটিনোপল থেকে ফিরে আসার নির্দেশ দিয়ে লিখলেন। সুলায়মান তাকে স্থলপথ ও জলপথে সেখানে যুদ্ধে পাঠিয়েছিলেন এবং সেটি বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তাকে প্রতারিত করা হয়, এমনকি তারা তাদের খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সুরক্ষিত করে ফেলে এবং বিজয়ের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তার সামনে দরজা বন্ধ করে দেয়। সুলায়মান যখন এই সংবাদ পেলেন, তখন তার সাথে যা করা হয়েছে তাতে তিনি রাগান্বিত হলেন এবং শপথ করলেন যে...

(খণ্ড: ১) সীরাতু উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৩৭)
يقفله مِنْهَا مَا دَامَ حَيا فَاشْتَدَّ عَلَيْهِم الْمقَام وجاعوا حَتَّى أكلُوا الدَّوَابّ من الْجهد والجوع حَتَّى يتَنَحَّى الرجل عَن دَابَّته فتقطع بِالسُّيُوفِ فَبلغ رَأس الدَّابَّة كَذَا وَكَذَا درهما ولج سُلَيْمَان فِي أَمرهم فَكَانَ ذَلِك يغم عمر فَلَمَّا ولي رأى أَنه لَا يَسعهُ فِيمَا بَينه وَبَين الله عز وجل أَن يَلِي شَيْئا من أُمُور الْمُسلمين ثمَّ يُؤَخر قفلهم سَاعَة فَذَلِك الَّذِي حمله على تَعْجِيل الْكتاب

‌‌عَزله أُسَامَة عَن مصر وحبسه إِيَّاه

 

وَكتب بعزل أُسَامَة بن زيد التنوخي وَكَانَ على خراج مصر وَأمر بِهِ أَن يحبس فِي كل جند سنة ويقيد وَيحل عَن الْقَيْد عِنْد كل صَلَاة ثمَّ يرد فِي الْقَيْد وَكَانَ غاشما ظلوما معتديا فِي الْعُقُوبَات بِغَيْر مَا أنزل الله عز وجل يقطع الْأَيْدِي فِي خلاف مَا يُؤمر بِهِ ويشق أَجْوَاف الدَّوَابّ فَيدْخل فِيهَا القطاع ويطرحهم للتماسيح فحبس بِمصْر سنة ثمَّ نقل إِلَى أَرض فلسطين فحبس بهَا سنة ثمَّ مَاتَ عمر رحمه الله وَولي يزِيد بن عبد الْملك فَرد أُسَامَة على مصر

‌‌عَزله يزِيد بن أبي مُسلم عَن إفريقية

 

وَكتب بعزل يزِيد بن أبي مُسلم عَن إفريقية وَكَانَ عَامل سوء يظْهر التأله والنفاذ لكل مَا أَمر بِهِ السُّلْطَان مِمَّا جلّ أَو صغر من السِّيرَة بالجور والمخالفة للحق وَكَانَ فِي هَذَا يكثر الذّكر وَالتَّسْبِيح وَيَأْمُر بالقوم فيكونون بَين يَدَيْهِ يُعَذبُونَ وَهُوَ يَقُول سُبْحَانَ الله وَالْحَمْد لله شدّ يَا غُلَام مَوضِع كذاوكذا لبَعض مَوَاضِع الْعَذَاب وَهُوَ يَقُول لَا إِلَه إِلَّا الله وَالله أكبر شدّ يَا غُلَام مَوضِع كذاوكذا فَكَانَت حَالَته تِلْكَ شَرّ الْحَالَات فَكتب بعزله فَهَذَا سَبَب الثَّلَاثَة الَّتِي عجل بهَا

‌‌انصراف عمر عَن مظَاهر الْخلَافَة وإقباله على إحْيَاء الْكتاب وَالسّنة

 

قَالَ وَلما دفن سُلَيْمَان وَقَامَ عمر بن عبد الْعَزِيز فقربت إِلَيْهِ المراكب فَقَالَ مَا هَذِه فَقَالُوا مراكب لم تركب قطّ يركبهَا الْخَلِيفَة أول مَا يَلِي فَتَركهَا وَخرج يلْتَمس بغلته وَقَالَ يَا مُزَاحم ضم هَذَا إِلَى بَيت مَال الْمُسلمين ونصبت لَهُ سرادقات وَحجر لم يجلس فِيهَا أحد قطّ كَانَت تضرب للخلفاء أول مَا يلون فَقَالَ مَا هَذِه فَقَالُوا سرادقات وَحجر لم يجلس فِيهَا أحد قطّ يجلس فِيهَا الْخَلِيفَة أول مَا يَلِي قَالَ يَا مُزَاحم ضم هَذِه إِلَى أَمْوَال الْمُسلمين ثمَّ ركب بغلته وَانْصَرف إِلَى الْفرش والوطاء الَّذِي لم يجلس عَلَيْهِ أحد يفرش للخلفاء أول مَا يلون فَجعل يدْفع ذَلِك بِرجلِهِ حَتَّى يُفْضِي إِلَى الْحَصِير ثمَّ قَالَ يَا مُزَاحم ضم هَذَا لأموال الْمُسلمين

وَبَات عِيَال سُلَيْمَان يفرغون الدهان وَالطّيب من هَذِه القارورة إِلَى هَذِه القارورة وَيلبسُونَ مَا لم يلبس من الثِّيَاب حَتَّى تتكسر وَكَانَ الخليقة إِذا مَاتَ فَمَا لبس من الثِّيَاب أَو مس من الطّيب كَانَ لوَلَده وَمَا لم يلبس من الثِّيَاب وَمَا لم يمس من الطّيب فَهُوَ للخليفة بعده فَلَمَّا أصبح عمر قَالَ لَهُ أهل سُلَيْمَان هَذَا لَك وَهَذَا لنا قَالَ وَمَا هَذَا وَمَا هَذَا قَالُوا هَذَا مِمَّا لبس الْخَلِيفَة من الثِّيَاب وَمَسّ من الطّيب فَهُوَ لوَلَده وَمَا لم يمس وَلم يلبس فَهُوَ للخليفة بعده وَهُوَ لَك قَالَ عمر مَا هَذَا لي وَلَا لِسُلَيْمَان وَلَا لكم وَلَكِن يَا مُزَاحم ضم هَذَا كُله إِلَى بَيت مَال الْمُسلمين فَفعل فتوامر الوزراء فِيمَا بَينهم فَقَالُوا أما المراكب والسرادقات وَالْحجر والشوار والوطاء فَلَيْسَ فِيهِ رَجَاء بعد أَن كَانَ مِنْهُ فِيهِ مَا قد علمْتُم وَبقيت خصْلَة
তিনি জীবিত থাকা পর্যন্ত তাদের সেখান থেকে ফেরত পাঠাতেন না। ফলে তাদের অবস্থান দীর্ঘস্থায়ী হয়ে পড়ল এবং তারা এত ক্ষুধার্ত হয়ে পড়ল যে কষ্টের চোটে তারা পশুদের পর্যন্ত খেয়ে ফেলল। এমনকি কোনো লোক তার বাহন থেকে সরে দাঁড়ালে তা তলোয়ার দিয়ে কেটে ফেলা হতো। একটি পশুর মাথার দাম অমুক অমুক দিরহাম পর্যন্ত পৌঁছে গেল। সুলাইমান তাদের বিষয়ে কঠোর হয়ে রইলেন, যা উমরকে অত্যন্ত ব্যথিত করত। যখন তিনি (উমর) দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেন, তখন তিনি দেখলেন যে, মহান আল্লাহর নিকট তার জন্য এটা বৈধ নয় যে তিনি মুসলিমদের কোনো বিষয়ের দায়িত্বে থাকবেন আর তাদের ফেরত পাঠাতে এক মুহূর্তও বিলম্ব করবেন। একারণেই তিনি সেই চিঠি দ্রুত পাঠানোর পদক্ষেপ নিলেন।

‌‌উসামাকে মিশরের দায়িত্ব থেকে অপসারণ এবং তাকে বন্দি করা

 

এবং তিনি উসামা ইবনে যায়েদ আত-তানুখীকে বরখাস্ত করার নির্দেশ লিখে পাঠালেন, যিনি মিশরের খাজনা আদায়ের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি তাকে প্রতিটি সেনাবাস এলাকায় এক বছর করে বন্দি রাখার নির্দেশ দিলেন, তাকে শৃঙ্খলিত রাখার এবং প্রত্যেক সালাতের সময় শৃঙ্খলমুক্ত করে পুনরায় শৃঙ্খলিত করার নির্দেশ দিলেন। তিনি ছিলেন একজন যালেম ও সীমালঙ্ঘনকারী, যিনি মহান আল্লাহর নাযিলকৃত বিধানের বাইরে শাস্তির ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করতেন। তিনি নির্দেশের বিপরীতে হাত কেটে ফেলতেন এবং পশুর পেট চিরে তার ভেতরে লোকদের ঢুকিয়ে দিতেন এবং তাদের কুমিরের সামনে ছুড়ে দিতেন। তাকে মিশরে এক বছর বন্দি রাখা হলো, এরপর ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে স্থানান্তরিত করে সেখানে এক বছর বন্দি রাখা হলো। এরপর উমর (রাহিমাহুল্লাহ) মৃত্যুবরণ করেন এবং ইয়াজিদ ইবনে আব্দুল মালিক দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন তিনি উসামাকে পুনরায় মিশরের দায়িত্বে ফিরিয়ে আনেন।

‌‌ইয়াজিদ ইবনে আবি মুসলিমকে আফ্রিকা থেকে অপসারণ

 

এবং তিনি আফ্রিকা থেকে ইয়াজিদ ইবনে আবি মুসলিমকে বরখাস্ত করার জন্য লিখলেন। তিনি ছিলেন একজন মন্দ প্রশাসক, যিনি ধার্মিকতা প্রদর্শন করতেন কিন্তু সুলতান কর্তৃক আদেশপ্রাপ্ত ছোট-বড় প্রতিটি অন্যায় ও হকের বিপরীত কাজ বাস্তবায়ন করতেন। তিনি এই অবস্থায় প্রচুর যিকির ও তাসবীহ পাঠ করতেন। তার সামনে লোকেদের এনে শাস্তি দেওয়া হতো, আর তিনি বলতেন, 'সুবহানাল্লাহ' ও 'আলহামদুলিল্লাহ', হে গোলাম, অমুক অমুক জায়গা শক্ত করে বাঁধো (শাস্তির স্থান নির্দেশ করে)। তিনি বলতেন, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' ও 'আল্লাহু আকবার', হে গোলাম অমুক অমুক জায়গা শক্ত করে বাঁধো। তার এই অবস্থা ছিল জঘন্যতম অবস্থা। তাই তাকে বরখাস্ত করার জন্য চিঠি লেখা হলো। এই ছিল সেই তিনটি বিষয় যা তিনি দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করেছিলেন।

‌‌খিলাফতের বাহ্যিক জৌলুস বর্জন এবং কিতাব ও সুন্নাহর পুনরুজ্জীবনে উমরের মনোযোগ

 

বর্ণনাকারী বলেন, যখন সুলাইমানকে দাফন করা হলো এবং উমর ইবনে আব্দুল আজিজ খলীফা হিসেবে দাঁড়ালেন, তখন তার নিকট রাজকীয় সওয়ারি আনা হলো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, 'এগুলো কী?' তারা বলল, 'এগুলো এমন সওয়ারি যাতে ইতিপূর্বে কেউ আরোহণ করেনি, খলীফারা দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই এতে আরোহণ করেন।' তিনি সেগুলো ত্যাগ করলেন এবং নিজের খচ্চরটি খুঁজতে বের হলেন। তিনি বললেন, 'হে মুযাহিম! এগুলো মুসলিমদের বায়তুল মালে অন্তর্ভুক্ত করো।' তার জন্য রাজকীয় তাঁবু ও কক্ষ প্রস্তুত করা হলো যাতে আগে কেউ বসেনি, যা খলীফাদের জন্য তারা প্রথম দায়িত্ব নেওয়ার সময় খাটানো হতো। তিনি বললেন, 'এগুলো কী?' তারা বলল, 'এগুলো রাজকীয় তাঁবু ও কক্ষ যাতে আগে কেউ বসেনি, খলীফারা দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতে এতে বসেন।' তিনি বললেন, 'হে মুযাহিম! এগুলো মুসলিমদের সম্পদের সাথে যুক্ত করো।' এরপর তিনি নিজের খচ্চরে চড়ে সেই গালিচা ও শয্যার দিকে গেলেন যাতে আগে কেউ বসেনি এবং যা খলীফাদের দায়িত্ব গ্রহণের প্রারম্ভে বিছানো হতো। তিনি তা নিজের পা দিয়ে ঠেলে সরাতে থাকলেন যতক্ষণ না সাধারণ চাটাই পর্যন্ত পৌঁছালেন। এরপর বললেন, 'হে মুযাহিম! এগুলো মুসলিমদের সম্পদের অন্তর্ভুক্ত করো।'

সুলাইমানের পরিবার রাত কাটাত এক পাত্র থেকে অন্য পাত্রে তেল ও সুগন্ধি ঢেলে এবং তারা এমন সব পোশাক পরত যা ইতিপূর্বে পরা হয়নি, এমনকি সেগুলো কুঁচকে যেত। নিয়ম ছিল যে, খলীফা যখন মারা যেতেন, তখন তার ব্যবহৃত পোশাক ও সুগন্ধি তার সন্তানদের জন্য হতো, আর যা ব্যবহৃত হয়নি তা পরবর্তী খলীফার জন্য বরাদ্দ থাকত। যখন সকাল হলো, উমরকে সুলাইমানের পরিবার বলল, 'এটি আপনার জন্য এবং এটি আমাদের জন্য।' তিনি বললেন, 'এটি কী এবং ওটি কী?' তারা বলল, 'এটি খলীফার ব্যবহৃত পোশাক ও সুগন্ধি যা তার সন্তানদের প্রাপ্য, আর যা ব্যবহৃত হয়নি তা পরবর্তী খলীফার জন্য, যা এখন আপনার প্রাপ্য।' উমর বললেন, 'এটি আমার নয়, সুলাইমানেরও নয় এবং তোমাদেরও নয়। বরং হে মুযাহিম, এগুলোর সবকিছুই মুসলিমদের বায়তুল মালে অন্তর্ভুক্ত করো।' মুযাহিম তাই করলেন। তখন উজিররা নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে বলল, 'সওয়ারি, তাঁবু, কক্ষ, আসবাবপত্র ও শয্যার ব্যাপারে তো আর কোনো আশা রইল না, কারণ তার পক্ষ থেকে সে বিষয়ে যা করার তা তো তোমরা দেখেই নিলে। এখন কেবল একটি বিষয় বাকি রইল।'
(খণ্ড: ১) সীরাতু উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৩৮)
‌‌انصراف عمر عَن مظَاهر الْخلَافَة وإقباله على إحْيَاء الْكتاب وَالسّنة

 

قَالَ وَلما دفن سُلَيْمَان وَقَامَ عمر بن عبد الْعَزِيز فقربت إِلَيْهِ المراكب فَقَالَ مَا هَذِه فَقَالُوا مراكب لم تركب قطّ يركبهَا الْخَلِيفَة أول مَا يَلِي فَتَركهَا وَخرج يلْتَمس بغلته وَقَالَ يَا مُزَاحم ضم هَذَا إِلَى بَيت مَال الْمُسلمين ونصبت لَهُ سرادقات وَحجر لم يجلس فِيهَا أحد قطّ كَانَت تضرب للخلفاء أول مَا يلون فَقَالَ مَا هَذِه فَقَالُوا سرادقات وَحجر لم يجلس فِيهَا أحد قطّ يجلس فِيهَا الْخَلِيفَة أول مَا يَلِي قَالَ يَا مُزَاحم ضم هَذِه إِلَى أَمْوَال الْمُسلمين ثمَّ ركب بغلته وَانْصَرف إِلَى الْفرش والوطاء الَّذِي لم يجلس عَلَيْهِ أحد قطّ يفرش للخلفاء أول مَا يلون فَجعل يدْفع ذَلِك بِرجلِهِ حَتَّى يُفْضِي إِلَى الْحَصِير ثمَّ قَالَ يَا مُزَاحم ضم هَذَا لأموال الْمُسلمين

وَبَات عِيَال سُلَيْمَان يفرغون الأدهان وَالطّيب من هَذِه القارورة إِلَى هَذِه القارورة وَيلبسُونَ مَا لم يلبس من الثِّيَاب حَتَّى تتكسر وَكَانَ الْخَلِيفَة إِذا مَاتَ فَمَا لبس من الثِّيَاب أَو مس من الطّيب كَانَ لوَلَده وَمَا لم يلبس من الثِّيَاب وَمَا لم يمس من الطّيب فَهُوَ للخليفة بعده فَلَمَّا أصبح عمر قَالَ لَهُ أهل سُلَيْمَان هَذَا لَك وَهَذَا لنا قَالَ وَمَا هَذَا وَمَا هَذَا قَالُوا هَذَا مِمَّا لبس الْخَلِيفَة من الثِّيَاب وَمَسّ من الطّيب فَهُوَ لوَلَده وَمَا لم يمس وَلم يلبس فَهُوَ للخليفة بعده وَهُوَ لَك قَالَ عمر مَا هَذَا لي وَلَا لِسُلَيْمَان وَلَا لكم وَلَكِن يَا مُزَاحم ضم هَذَا كُله إِلَى بَيت مَال الْمُسلمين فَفعل فتوامر الوزراء فِيمَا بَينهم فَقَالُوا أما المراكب والسرادقات وَالْحجر والشوار والوطاء فَلَيْسَ فِيهِ رَجَاء بعد أَن كَانَ مِنْهُ فِيهِ مَا قد علمْتُم وَبقيت خصْلَة
খিলাফতের বাহ্যিক চাকচিক্য বর্জন এবং কিতাব ও সুন্নাহর পুনর্জীবনে উমরের মনোনিবেশ

 

তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, যখন সুলাইমানকে দাফন করা হলো এবং উমর বিন আব্দুল আজিজ দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, তখন তাঁর সামনে রাজকীয় সওয়ারিগুলো আনা হলো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “এগুলো কী?” তারা বললো, “এগুলো এমন সব সওয়ারি যা ইতিপূর্বে কখনও কেউ ব্যবহার করেনি; খলিফা যখন প্রথম দায়িত্বভার গ্রহণ করেন, তখন তিনি এতে আরোহণ করেন।” তিনি সেগুলো বর্জন করলেন এবং তাঁর নিজের খচ্চরটি তালাশ করতে বের হলেন। তিনি বললেন, “হে মুজাহিম! এগুলো মুসলিমদের বায়তুল মালে অন্তর্ভুক্ত করে দাও।” তাঁর জন্য শামিয়ানা এবং কক্ষ সজ্জিত করা হয়েছিল যাতে ইতিপূর্বে কেউ বসেনি; খলিফাগণ যখন প্রথম দায়িত্বভার গ্রহণ করতেন তখন এগুলো তাঁদের জন্য প্রস্তুত করা হতো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “এগুলো কী?” তারা বললো, “এগুলো শামিয়ানা এবং কক্ষ যাতে ইতিপূর্বে কেউ বসেনি; খলিফা দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতে এখানে বসেন।” তিনি বললেন, “হে মুজাহিম! এগুলো মুসলিমদের সম্পদের সাথে যুক্ত করে দাও।” অতঃপর তিনি তাঁর খচ্চরে আরোহণ করলেন এবং সেই বিছানা ও গালিচার দিকে ফিরে গেলেন যাতে কখনও কেউ বসেনি এবং যা কেবল খলিফাদের ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম দিকে বিছানো হতো। তিনি তাঁর পা দিয়ে সেগুলো সরাতে লাগলেন যতক্ষণ না তিনি সাধারণ পাটির কাছে পৌঁছালেন। অতঃপর বললেন, “হে মুজাহিম! এটিও মুসলিমদের সম্পদের অন্তর্ভুক্ত করো।”

সুলাইমানের পরিবার রাতভর এক পাত্র থেকে অন্য পাত্রে তেল ও সুগন্ধি ঢালতে থাকলো এবং এমন সব পোশাক পরিধান করতে থাকলো যা আগে কখনও পরিধান করা হয়নি—যতক্ষণ না সেগুলো ভাঁজ হয়ে যাচ্ছিল। নিয়ম ছিল যে, খলিফা যখন মৃত্যুবরণ করতেন, তখন তাঁর ব্যবহৃত পোশাক ও সুগন্ধি তাঁর সন্তানদের প্রাপ্য হতো, আর যা অব্যবহৃত থাকতো তা পরবর্তী খলিফার জন্য নির্ধারিত হতো। যখন ভোর হলো, সুলাইমানের পরিবার উমরকে বললো, “এটি আপনার জন্য এবং এটি আমাদের জন্য।” তিনি বললেন, “এগুলো কী?” তারা বললো, “এগুলো খলিফার ব্যবহৃত পোশাক ও সুগন্ধি যা তাঁর সন্তানদের জন্য, আর যা অব্যবহৃত তা পরবর্তী খলিফার জন্য, অর্থাৎ আপনার জন্য।” উমর বললেন, “এগুলো আমারও নয়, সুলাইমানেরও নয় এবং তোমাদেরও নয়। বরং হে মুজাহিম! এই সব কিছু মুসলিমদের বায়তুল মালে অন্তর্ভুক্ত করো।” তিনি তা-ই করলেন। তখন মন্ত্রীরা নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে বলতে লাগলো, “সওয়ারি, শামিয়ানা, কক্ষ, আসবাবপত্র ও গালিচার ব্যাপারে তো আর কোনো আশা অবশিষ্ট রইল না—যা তাঁর পক্ষ থেকে হতে পারতো যেমনটা তোমরা দেখলে। এখন কেবল একটি বিষয়ই অবশিষ্ট আছে।”
(খণ্ড: ১) সীরাতু উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৩৯)
هِيَ الْجَوَارِي نعرضهن عَلَيْهِ فَعَسَى أَن يكون مَا تُرِيدُونَ فِيهِنَّ فَإِن كَانَ وَإِلَّا فَلَا طمع لكم عِنْده فَأتي بالجواري فعرضن عَلَيْهِ كأمثال الدمى فَلَمَّا نظر إلَيْهِنَّ جعل يسألهن وَاحِدَة وَاحِدَة من أَنْت وَلمن كنت وَمن بعث بك فتخبره الْجَارِيَة بأصلها وَلمن كَانَت وَكَيف أخذت فيأمر بردهن إِلَى أهليهن ويحملن إِلَى بلادهن حَتَّى فرغ مِنْهُنَّ فَلَمَّا رَأَوْا ذَلِك أيسوا مِنْهُ وَعَلمُوا أَنه سيحمل النَّاس على الْحق

واحتجب عَن النَّاس ثَلَاثًا لَا يدْخل عَلَيْهِ أحد ووجوه بني مَرْوَان وَبني أُميَّة وأشراف الْجنُود وَالْعرب والقواد بِبَابِهِ ينظرُونَ مَا يخرج عَلَيْهِم مِنْهُ فَجَلَسَ للنَّاس بعد ثَلَاث وَحَملهمْ على شَرِيعَة من الْحق فعرفوها فَرد الْمَظَالِم وَأَحْيَا الْكتاب وَالسّنة وَسَار بِالْعَدْلِ ورفض الدُّنْيَا وزهد فِيهَا وتجرد لإحياء أَمر الله عزوجل فَلم يزل على ذَلِك حَتَّى قَبضه الله عزوجل فرحمه الله

‌‌نَهْيه عَن الْقيام لَهُ وَمَا شَرطه فِي صحبته

 

قَالَ وَلما ولي عمر بن عبد الْعَزِيز قَامَ النَّاس بَين يَدَيْهِ فَقَالَ يَا معشر النَّاس إِن تقوموا نقم وَإِن تقعدوا نقعد فَإِنَّمَا يقوم النَّاس لرب الْعَالمين إِن الله فرض فَرَائض وَسن سننا من أَخذ بهَا لحق وَمن تَركهَا محق وَمن أَرَادَ أَن يصحبنا فليصحبنا بِخمْس يُوصل إِلَيْنَا حَاجَة من لَا تصل إِلَيْنَا حَاجته ويدلنا من الْعدْل إِلَى مَا لَا نهتدي إِلَيْهِ وَيكون عونا لنا على الْحق وَيُؤَدِّي الْأَمَانَة إِلَيْنَا وَإِلَى النَّاس وَلَا يغتب عندنَا أحدا وَمن لم يفعل فَهُوَ فِي حرج من صحبتنا وَالدُّخُول علينا
তারা হচ্ছে ক্রীতদাসী, আমরা তাদের তাঁর সামনে পেশ করি, হতে পারে তোমাদের যা চাওয়া তা তাদের মাঝে পাওয়া যাবে। যদি তা হয় তো ভালো, অন্যথায় তাঁর নিকট তোমাদের কোনো আশা নেই। অতঃপর ক্রীতদাসীদের আনা হলো এবং পুতুলের মতো তাঁর সামনে পেশ করা হলো। যখন তিনি তাদের দিকে তাকালেন, তখন তিনি তাদের একে একে জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন: "তুমি কে? কার মালিকানায় ছিলে? এবং কে তোমাকে পাঠিয়েছে?" তখন প্রত্যেক দাসী তার মূল পরিচয়, কার নিকট ছিল এবং কীভাবে তাকে আনা হয়েছে তা বলতে লাগল। তিনি তাদের নিজ নিজ পরিবারের নিকট ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন এবং তাদের নিজ দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হলো যতক্ষণ না তিনি তাদের থেকে অবসর হলেন। যখন তারা এই বিষয়টি দেখল, তখন তারা তাঁর প্রতি নিরাশ হলো এবং বুঝতে পারল যে তিনি অবশ্যই মানুষকে হকের পথে পরিচালিত করবেন।

তিনি তিন দিন মানুষের থেকে নিজেকে আড়ালে রাখলেন, কেউ তাঁর নিকট প্রবেশ করতে পারত না। বনু মারওয়ান ও বনু উমাইয়ার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সেনাবাহিনীর অভিজাতবর্গ, আরব ও সেনাপতিরা তাঁর দরজায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন যে তাঁর পক্ষ থেকে তাদের জন্য কী নির্দেশ আসে। তিন দিন পর তিনি মানুষের উদ্দেশ্যে বসলেন এবং তাদের হকের বিধান অনুযায়ী পরিচালিত করলেন এবং তারা তা চিনতে পারল। তিনি অন্যায়ভাবে ছিনিয়ে নেওয়া সম্পদগুলো ফিরিয়ে দিলেন, কিতাব ও সুন্নাহকে পুনরুজ্জীবিত করলেন, ন্যায়ের সাথে পথ চললেন এবং দুনিয়াকে প্রত্যাখ্যান করে তাতে বৈরাগ্য অবলম্বন করলেন। আল্লাহ তাআলার দ্বীনকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করলেন এবং আল্লাহ তাআলা তাঁর মৃত্যু না দেওয়া পর্যন্ত তিনি এভাবেই অবিচল ছিলেন। আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।

‌‌তাঁর সম্মানে দাঁড়াতে নিষেধ করা এবং তাঁর সাহচর্যের ক্ষেত্রে তিনি যে শর্তসমূহ আরোপ করেছেন

 

তিনি বলেন: ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ যখন খেলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, তখন মানুষ তাঁর সামনে উঠে দাঁড়াল। তিনি বললেন, "হে লোকসকল! তোমরা যদি দাঁড়াও তবে আমরাও দাঁড়াব, আর যদি তোমরা বসো তবে আমরাও বসব। কারণ মানুষ কেবলমাত্র বিশ্বজগতের রবের জন্যই দাঁড়ায়। নিশ্চয়ই আল্লাহ কিছু ফরজ বিধান নির্ধারণ করেছেন এবং কিছু সুন্নাত প্রতিষ্ঠিত করেছেন। যে ব্যক্তি তা আঁকড়ে ধরবে সে হকের দেখা পাবে, আর যে তা বর্জন করবে সে ধ্বংস হবে। আর যে ব্যক্তি আমাদের সান্নিধ্যে থাকতে চায়, সে যেন পাঁচটি শর্তে আমাদের সাথী হয়: যে ব্যক্তির প্রয়োজন আমাদের পর্যন্ত পৌঁছায় না তার প্রয়োজন আমাদের কাছে পৌঁছে দেবে, আমাদের এমন ইনসাফের পথ দেখাবে যা আমরা খুঁজে পাচ্ছি না, হকের পথে আমাদের সাহায্যকারী হবে, আমাদের কাছে এবং সাধারণ মানুষের কাছে আমানত আদায় করবে এবং আমাদের নিকট কারও গিবত করবে না। যে ব্যক্তি এমনটি করবে না, তার জন্য আমাদের সান্নিধ্যে থাকা বা আমাদের নিকট প্রবেশ করা নিষিদ্ধ।"
(খণ্ড: ১) সীরাতু উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৪০)
‌‌ابتداؤه بِالسَّلَامِ

 

قَالَ وَكَانَ عمر بن عبد الْعَزِيز يتَقَدَّم إِلَى الحرس إِذا خرج عَلَيْهِم أَن لَا يقومُوا إِلَيْهِ وَيَقُول لَهُم لَا تبتدئوني بِالسَّلَامِ إِنَّمَا السَّلَام علينا وَلكم

‌‌عزم عمر فِي الإعتصام بِالْكتاب وَالسّنة

 

وَقَالَ عمر بن عبد الْعَزِيز سنّ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وولاة الْأَمر من بعده سننا الْأَخْذ بهَا اعتصام بِكِتَاب الله وَقُوَّة على دين الله وَلَيْسَ لأحد تبديلها وَلَا تغييرها وَلَا النّظر فِي أَمر خالفها من اهْتَدَى بهَا فَهُوَ مهتد وَمن استنصر بهَا فَهُوَ مَنْصُور وَمن تَركهَا وَاتبع غير سَبِيل الْمُؤمنِينَ ولاه الله مَا تولى وأصلاه جَهَنَّم وَسَاءَتْ مصيرا

قَالَ عبد الله بن عبد الحكم فَسمِعت مَالِكًا يَقُول وأعجبني عزم عمر فِي ذَلِك

‌‌خطْبَة عمر فِي أَنه منفذ لله

 

قَالَ وخطب عمر بن عبد الْعَزِيز النَّاس فَقَالَ أَيهَا النَّاس إِنَّه لَيْسَ بعد نَبِيكُم نَبِي وَلَيْسَ بعد الْكتاب الَّذِي أنزل عَلَيْكُم كتاب فَمَا أحل الله على لِسَان نبيه فَهُوَ حَلَال إِلَى يَوْم الْقِيَامَة وَمَا حرم الله على لِسَان نبيه فَهُوَ حرَام إِلَى يَوْم الْقِيَامَة أَلا إِنِّي لست بقاض وَإِنَّمَا أَنا منفذ لله وَلست بِمُبْتَدعٍ وَلَكِنِّي مُتبع أَلا إِنَّه لَيْسَ لأحد أَن يطاع فِي مَعْصِيّة الله عز وجل لست بِخَيْرِكُمْ وَإِنَّمَا أَنا رجل مِنْكُم أَلا وَإِنِّي أثقلكم حملا يَا أَيهَا النَّاس إِن أفضل الْعِبَادَة أَدَاء الْفَرَائِض وَاجْتنَاب الْمَحَارِم أَقُول قولي هَذَا وَأَسْتَغْفِر الله الْعَظِيم لي وَلكم
সালাম প্রদানের মাধ্যমে তাঁর শুরু করা

 

তিনি বলেন, ওমর ইবনে আবদুল আজিজ যখন রক্ষীবাহিনীর নিকট বের হতেন, তখন তিনি তাদের প্রতি এই নির্দেশ দিতেন যেন তারা তাঁর সম্মানে দাঁড়িয়ে না যায়। তিনি তাদের বলতেন, "তোমরা আমাকে সালাম দিয়ে শুরু করো না, বরং সালাম আমাদের এবং তোমাদের উভয়ের ওপর।"

‌কিতাব ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার ব্যাপারে ওমরের দৃঢ় সংকল্প

 

ওমর ইবনে আবদুল আজিজ বলেন, "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর পরবর্তী কর্তৃত্বশীলগণ এমন কিছু সুন্নাত (রীতি) প্রবর্তন করেছেন যা গ্রহণ করা আল্লাহর কিতাবকে আঁকড়ে ধরা এবং আল্লাহর দ্বীনের ওপর শক্তিশালী হওয়া স্বরূপ। এগুলো পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করার এবং এর বিপরীত কোনো বিষয়ে দৃষ্টি দেওয়ার অধিকার কারো নেই। যে ব্যক্তি এর মাধ্যমে হেদায়েত কামনা করবে, সে হেদায়েতপ্রাপ্ত হবে; আর যে ব্যক্তি এর মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করবে, সে সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। আর যে ব্যক্তি এগুলো পরিত্যাগ করবে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করবে, আল্লাহ তাকে সেদিকেই ফিরিয়ে দেবেন যেদিকে সে ফিরেছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন, আর তা কতই না নিকৃষ্ট গন্তব্য।"

আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল হাকাম বলেন, আমি মালিককে বলতে শুনেছি যে, "এই বিষয়ে ওমরের দৃঢ় সংকল্প আমাকে মুগ্ধ করেছে।"

‌আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নকারী হিসেবে ওমরের ভাষণ

 

তিনি বলেন, ওমর ইবনে আবদুল আজিজ মানুষের সামনে ভাষণ দিলেন এবং বললেন, "হে লোকসকল! তোমাদের নবীর পর আর কোনো নবী নেই এবং তোমাদের ওপর যে কিতাব নাজিল করা হয়েছে তার পর আর কোনো কিতাব নেই। সুতরাং আল্লাহ তাঁর নবীর মুখে যা হালাল করেছেন, তা কিয়ামত পর্যন্ত হালাল; আর যা আল্লাহ তাঁর নবীর মুখে হারাম করেছেন, তা কিয়ামত পর্যন্ত হারাম। জেনে রেখো, আমি কোনো নিজস্ব বিচারক নই, বরং আমি আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নকারী মাত্র; আমি কোনো নতুন উদ্ভাবক নই, বরং আমি অনুসরণকারী। জেনে রেখো, আল্লাহর নাফরমানি করে কারো আনুগত্য করা যাবে না। আমি তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি নই, বরং আমি তোমাদেরই মতো একজন সাধারণ মানুষ; তবে জেনে রেখো, আমি তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে ভারী বোঝার অধিকারী। হে লোকসকল! নিশ্চয়ই সর্বোত্তম ইবাদত হলো ফরজসমূহ আদায় করা এবং হারামসমূহ বর্জন করা। আমি আমার এই কথা বলছি এবং আল্লাহর মহান দরবারে আমার ও তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি।"
(খণ্ড: ১) সীরাতু উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৪১)
‌‌خطبَته فِي التَّقْوَى

 

قَالَ وخطب عمر بن عبد الْعَزِيز النَّاس فَقَالَ يَا أَيهَا النَّاس عَلَيْكُم بتقوى الله فَإِن تقوى الله خلف من كل شَيْء وَلَا خلف من التَّقْوَى أَيهَا النَّاس إِنَّه قد كَانَ قبلي وُلَاة تجترون مَوَدَّتهمْ بِأَن تدفعوا بذلك ظلمهم عَنْكُم يَا أَيهَا النَّاس إِنِّي لست بخازن وَلَكِنِّي إِنَّمَا أَضَع حَيْثُ أمرت أَلا وَلَا طَاعَة لمخلوق فِي مَعْصِيّة الْخَالِق أَقُول قولي هَذَا وَأَسْتَغْفِر الله الْعَظِيم لي وَلكم

‌‌خطبَته فِي الْبَعْث

 

وَقَالَ وخطب عمر بن عبد الْعَزِيز النَّاس بعد أَن جمعهم فَقَالَ إِنِّي لم أجمعكم لأمر أحدثته وَلَكِنِّي نظرت فِي أَمر معادكم وَمَا أَنْتُم إِلَيْهِ صائرون فَوجدت الْمُصدق بِهِ أَحمَق والمكذب بِهِ هَالكا ثمَّ نزل

‌‌خطبَته فِي إِبَاحَة دُخُول المظلومين عَلَيْهِ بِغَيْر إِذن

قَالَ وخطب عمر بن عبد الْعَزِيز الغرباء فَقَالَ يَا أَيهَا النَّاس الحقوا ببلادكم فَإِنِّي أنساكم عِنْدِي وأذكركم ببلادكم أَلا وَإِنِّي قد اسْتعْملت عَلَيْكُم رجَالًا لَا أَقُول هم خياركم وَلَكنهُمْ خير مِمَّن هُوَ شَرّ مِنْهُم أَلا فَمن ظلمه إِمَامه مظْلمَة فَلَا إِذن لَهُ عَليّ وَمن لَا فَلَا أرينه أَلا وَإِنِّي منعت نَفسِي وَأهل بَيْتِي هَذَا المَال
তাকওয়া বিষয়ে তাঁর ভাষণ

 

তিনি বলেন, ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ মানুষের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেন: "হে লোকসকল! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো। কেননা প্রতিটি বিষয়ের পরিবর্তে তাকওয়া হতে পারে, কিন্তু তাকওয়ার পরিবর্তে অন্য কিছু হতে পারে না। হে লোকসকল! আমার পূর্বে এমন সব শাসক ছিলেন যাদের ভালোবাসা তোমরা অর্জন করতে চাইতে যাতে তোমরা তাদের জুলুম থেকে রেহাই পাও। হে লোকসকল! আমি কোনো ভাণ্ডারী নই, বরং আমি কেবল সেখানেই (সম্পদ) রাখি যেখানে আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেনে রেখো, স্রষ্টার অবাধ্য হয়ে কোনো সৃষ্টির আনুগত্য করা বৈধ নয়। আমি আমার এই কথা বলছি এবং নিজের জন্য ও তোমাদের জন্য মহান আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি।"

পুনরুত্থান বিষয়ে তাঁর ভাষণ

 

তিনি বলেন, ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ মানুষকে একত্রিত করার পর তাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেন: "আমি তোমাদেরকে কোনো নতুন বিষয়ের জন্য একত্রিত করিনি। বরং আমি তোমাদের পরকাল এবং তোমাদের চূড়ান্ত গন্তব্য সম্পর্কে চিন্তা করেছি। আমি দেখেছি যে, যে ব্যক্তি একে (পরকালকে) সত্য বলে বিশ্বাস করে (অথচ প্রস্তুতি নেয় না) সে নির্বোধ, আর যে একে অস্বীকার করে সে ধ্বংসপ্রাপ্ত।" এরপর তিনি মিম্বর থেকে নেমে আসলেন।

মজলুমদের জন্য বিনা অনুমতিতে তাঁর নিকট প্রবেশের অনুমতি প্রদান প্রসঙ্গে ভাষণ

তিনি বলেন, ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ বহিরাগতদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেন: "হে লোকসকল! তোমরা তোমাদের নিজ নিজ জনপদে ফিরে যাও। কেননা আমার নিকট তোমরা বিস্মৃত হতে পারো, কিন্তু নিজ জনপদে থাকলে আমি তোমাদের স্মরণে রাখব। শোনো, আমি তোমাদের ওপর এমন কিছু লোক নিযুক্ত করেছি যাদেরকে আমি তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ বলছি না, তবে তারা তাদের চেয়ে উত্তম যারা তাদের চেয়েও নিকৃষ্ট। শোনো, যার ওপর তার শাসক কোনো জুলুম করে, আমার নিকট আসার জন্য তার কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই। আর যার ওপর কোনো জুলুম হয়নি, সে যেন আমার নিকট উপস্থিত না হয়। জেনে রেখো, আমি আমাকে এবং আমার পরিবারের সদস্যদেরকে এই সম্পদ থেকে বিরত রেখেছি।"
(খণ্ড: ১) সীরাতু উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৪২)
فَإِن ضننت بِهِ عَنْكُم إِنِّي إِذن لضنين وَالله لَوْلَا أَن أنعش سنة أَو أَسِير بِحَق مَا أَحْبَبْت أَن أعيش فواقا

‌‌خطبَته فِي الْوَعْظ وتسميته الإِمَام الظَّالِم عَاصِيا

 

قَالَ وخطب عمر بن عبد الْعَزِيز النَّاس فَقَالَ أما بعد أَيهَا النَّاس فَلَا يطولن عَلَيْكُم الأمد وَلَا يبعدن عَلَيْكُم يَوْم الْقِيَامَة فَإِن من زافت بِهِ منيته فقد قَامَت قِيَامَته لَا يستعتب من سيئ وَلَا يزِيد فِي حسن ألالا سَلامَة لامرئ فِي خلاف السّنة ولاطاعة لمخلوق فِي مَعْصِيّة الله أَلا وَإِنَّكُمْ تَعدونَ الهارب من ظلم إِمَامه عَاصِيا أَلا وَإِن أولاهما بالمعصية الإِمَام الظَّالِم أَلا وَإِنِّي أعالج امرا لَا يعين عَلَيْهِ إِلَّا الله قد فني عَلَيْهِ الْكَبِير وَكبر عَلَيْهِ الصَّغِير وفصح عَلَيْهِ الأعجمي وَهَاجَر عَلَيْهِ الْأَعرَابِي حَتَّى حسبوه دينا لَا يرَوْنَ الْحق غَيره ثمَّ قَالَ إِنَّه لحبيب إِلَيّ أَن أوفر أَمْوَالكُم وَأَعْرَاضكُمْ إِلَّا بِحَقِّهَا وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه

‌‌خطبَته فِي التَّذْكِير بِالْمَوْتِ وحرصه على كِفَايَة رَعيته

 

قَالَ وخطب عمر بن عبد الْعَزِيز النَّاس بخناصرة فَقَالَ أَيهَا النَّاس إِنَّكُم لم تخلقوا عَبَثا وَلم تتركوا سدى وَإِنَّكُمْ لكم معاد ينزل الله تبارك وتعالى للْحكم فِيهِ والفصل بَيْنكُم فخاب وخسر من خرج من رَحْمَة الله الَّتِي وسعت كل شَيْء وَحرم الْجنَّة الَّتِي عرضهَا السَّمَوَات وَالْأَرْض أَلا ترَوْنَ أَنكُمْ فِي أسلاب الهالكين وسيخلفها
যদি আমি তা তোমাদের থেকে কৃপণতা করে আটকে রাখি, তবে আমি অবশ্যই কৃপণ। আল্লাহর কসম! যদি কোনো সুন্নাতকে পুনরুজ্জীবিত করার বা ন্যায়ের পথে চলার ব্যাপার না থাকত, তবে আমি এক মুহূর্তকালও বেঁচে থাকতে পছন্দ করতাম না।

‌‌উপদেশ প্রদান এবং জালেম ইমামকে নাফরমান হিসেবে অভিহিতকরণ বিষয়ে তাঁর ভাষণ

 

তিনি বলেন, উমর ইবনে আব্দুল আজিজ মানুষের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে বললেন: "অতঃপর হে লোকসকল! তোমাদের জন্য সময় যেন দীর্ঘ না হয় এবং কিয়ামত যেন তোমাদের নিকট দূরবর্তী মনে না হয়। কেননা, যার মৃত্যু উপস্থিত হয়েছে, তার কিয়ামত কায়েম হয়ে গেছে। মন্দের জন্য আর ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ নেই এবং ভালোর মাঝে আর বৃদ্ধির অবকাশ নেই। সাবধান! সুন্নাহর বিরোধিতা করে কোনো ব্যক্তির মুক্তি নেই এবং আল্লাহর অবাধ্য হয়ে কোনো সৃষ্টির আনুগত্য নেই। সাবধান! তোমরা তোমাদের ইমামের জুলুম থেকে পলায়নকারীকে নাফরমান বা অবাধ্য মনে করো। জেনে রেখো, তাদের উভয়ের মধ্যে নাফরমান হিসেবে অভিহিত হওয়ার অধিক যোগ্য হলো জালেম ইমাম। সাবধান! আমি এমন এক বিষয়ের প্রতিকার করছি যাতে আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ সাহায্য করতে পারে না। যার ওপর বৃদ্ধরা নিঃশেষ হয়ে গেছে, শিশুরা বড় হয়েছে, অনারবরা ভাষা আয়ত্ত করেছে এবং মরুবাসীরা হিজরত করেছে—এমনকি তারা একেই দ্বীন মনে করে নিয়েছে এবং এর বাইরে কোনো হক তারা দেখতে পায় না।" অতঃপর তিনি বললেন: "তোমাদের সম্পদ এবং ইজ্জত রক্ষা করা আমার নিকট অত্যন্ত প্রিয়, তবে তা কেবল এর হকের ভিত্তিতে হবে। আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি নেই।"

‌‌মৃত্যুকে স্মরণ করা এবং প্রজাসাধারণের প্রয়োজন পূরণে তাঁর আগ্রহ বিষয়ক ভাষণ

 

তিনি বলেন, উমর ইবনে আব্দুল আজিজ খানাসিরা নামক স্থানে মানুষের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে বললেন: "হে লোকসকল! তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করা হয়নি এবং উদ্দেশ্যহীনভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়নি। নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য একটি প্রত্যাবর্তনস্থল রয়েছে, যেখানে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বিচারকার্য পরিচালনা ও তোমাদের মধ্যে ফয়সালা করার জন্য নেমে আসবেন। অতএব সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হলো, যে আল্লাহর রহমত থেকে বিচ্যুত হলো যা প্রতিটি বস্তুকে পরিবেষ্টন করে আছে; এবং সে জান্নাত থেকে বঞ্চিত হলো যার প্রশস্ততা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সমান। তোমরা কি দেখতে পাচ্ছ না যে, তোমরা ধ্বংসপ্রাপ্তদের পরিত্যক্ত সম্পদের মধ্যে রয়েছ এবং অচিরেই তা স্থলাভিষিক্ত হবে..."
(খণ্ড: ১) সীরাতু উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৪৩)
بعدكم الْبَاقُونَ حَتَّى ترد إِلَى خير الْوَارِثين فِي كل يَوْم تشيعون غاديا إِلَى الله ورائحا قد قضى نحبه وانقضى أَجله ثمَّ تغيبونه فِي صدع من الأَرْض غير موسد وَلَا ممهد قد فَارق الأحباب وخلع الأسلاب وواجه الْحساب وَسكن التُّرَاب مرتهنا بِعَمَلِهِ غَنِيا عَمَّا ترك فَقِيرا إِلَى مَا قدم ثمَّ قَالَ وَايْم الله إِنِّي لأقول لكم هَذِه الْمقَالة وَمَا أعلم عِنْد أحد مِنْكُم من الذُّنُوب أَكثر مِمَّا أعلم عِنْدِي فأستغفر الله وَأَتُوب إِلَيْهِ وَمَا أحد مِنْكُم تبلغني حَاجته إِلَّا حرصت أَن أَسد من حَاجته مَا قدرت عَلَيْهِ وَمَا أحد لَا يَسعهُ مَا عِنْدِي إِلَّا وددت أَنه بُدِئَ بِي وبلحمتي الَّذين يلونني حَتَّى يَسْتَوِي عيشنا وعيشكم وَايْم الله لَو أردْت غير هَذَا من رخاء أَو غضارة عَيْش لَكَانَ اللِّسَان بِهِ مني ذلولا وَلكنه مضى من الله كتاب نَاطِق أَمرنِي فِيهِ بِطَاعَتِهِ ونهاني فِيهِ عَن مَعْصِيَته ثمَّ رفع طرف ثَوْبه وَوَضعه على وَجهه فَبكى وَبكى من كَانَ حوله ثمَّ قَالَ نسْأَل الله التَّوْفِيق وَالْهدى وَالْعَمَل بِمَا يحب ويرضى

‌‌زهد عمر وَطَعَامه

 

قَالَ وَلما ولي عمر بن عبد الْعَزِيز زهد فِي الدُّنْيَا ورفض مَا كَانَ فِيهِ وَترك أَن يخْدم وَترك ألوان الطَّعَام فَكَانَ إِذا صنع لَهُ طَعَامه هيئ على شَيْء وغطي حَتَّى إِذا دخل اجتذبه فَأكل

‌‌تَعْجِيل عمر فِي قَضَاء الْحُقُوق

 

قَالَ وَجَاءَت إِلَى عمر بن عبد الْعَزِيز امْرَأَة من أهل الْكُوفَة فَقَالَت يَا أَمِير
তোমাদের পর যারা অবশিষ্ট থাকবে, শেষ পর্যন্ত তারা শ্রেষ্ঠ উত্তরাধিকারীর কাছেই ফিরে যাবে। প্রতিদিন তোমরা সকাল ও সন্ধ্যায় আল্লাহর পথে গমনকারী কাউকে বিদায় জানাচ্ছ, যে তার জীবনের নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত করেছে এবং যার আয়ুষ্কাল ফুরিয়ে গেছে। অতঃপর তোমরা তাকে মাটির একটি গর্তে সমাহিত করো, যেখানে কোনো বালিশ নেই এবং কোনো বিছানাও নেই। সে তার প্রিয়জনদের ছেড়েছে, সমস্ত সরঞ্জাম বর্জন করেছে, হিসাবের মুখোমুখি হয়েছে এবং মাটিতে বসবাস করছে; সে তার আমলের কাছে দায়বদ্ধ, যা কিছু সে রেখে এসেছে তা থেকে সে অমুখাপেক্ষী এবং যা আগে পাঠিয়েছে তার চরম মুখাপেক্ষী। অতঃপর তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদের উদ্দেশ্যে এই কথাগুলো বলছি অথচ তোমাদের কারো মাঝে নিজের চেয়ে অধিক পাপ আছে বলে আমি জানি না। তাই আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর কাছে তওবা করছি। তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার প্রয়োজনের কথা আমার কাছে পৌঁছেছে অথচ আমি আমার সাধ্যমতো তার সেই অভাব পূরণে সচেষ্ট হইনি। আমার কাছে যা আছে তাতে যদি কারো সংকুলান না হয়, তবে আমি চেয়েছি যেন তা আমার এবং আমার নিকটাত্মীয়দের থেকে শুরু করা হয়, যাতে আমাদের ও তোমাদের জীবনযাত্রা সমান হয়। আল্লাহর শপথ! আমি যদি সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বা বিলাসী জীবন যাপন করতে চাইতাম, তবে আমার জিহ্বা এ বিষয়ে অত্যন্ত পারদর্শী ছিল। কিন্তু আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি সুস্পষ্ট কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে, যাতে তিনি আমাকে তাঁর আনুগত্যের আদেশ দিয়েছেন এবং তাঁর অবাধ্যতা হতে নিষেধ করেছেন। অতঃপর তিনি তাঁর কাপড়ের এক প্রান্ত তুলে তা মুখের ওপর রাখলেন এবং কাঁদতে লাগলেন, আর তাঁর চারপাশের লোকজনও কাঁদতে লাগল। তারপর তিনি বললেন, আমরা আল্লাহর কাছে তাওফিক, হিদায়াত এবং সেই আমল করার সামর্থ্য প্রার্থনা করছি যা তিনি পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন।

‌‌উমরের যুহদ ও তাঁর আহার

 

বর্ণনাকারী বলেন, যখন উমর ইবনে আব্দুল আজিজ দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন, তখন তিনি দুনিয়ার প্রতি বিমুখ হলেন এবং তাঁর পূর্বের জৌলুস বর্জন করলেন। তিনি অন্যের সেবা গ্রহণ ত্যাগ করলেন এবং বিভিন্ন পদের খাবার পরিহার করলেন। যখন তাঁর জন্য খাবার প্রস্তুত করা হতো, তখন তা কোনো কিছুর ওপর রেখে ঢেকে দেওয়া হতো; অতঃপর তিনি প্রবেশ করে তা টেনে নিয়ে আহার করতেন।

‌‌হকসমূহ আদায়ে উমরের দ্রুততা

 

তিনি বলেন, কুফাবাসী এক মহিলা উমর ইবনে আব্দুল আজিজের কাছে এসে বলল, হে আমির...
(খণ্ড: ১) সীরাতু উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৪৪)
الْمُؤمنِينَ مَا أصبت أَنا وَلَا بَنَاتِي مِمَّا قسم أَمِير الْمُؤمنِينَ قَلِيلا وَلَا كثيرا قَالَ وَمن بك قَالَت العرفاء والمناكب قَالَ ارجعي إِلَيّ حَتَّى العشية فأكتب لَك ثمَّ قَالَ مَه فلعلي لَا أبلغ العشاءادخلي على فَاطِمَة بنت عبد الْملك يَعْنِي زَوجته فَبينا هِيَ عِنْد فَاطِمَة إِذْ قَامَ عمر فسكب وضُوءًا لنَفسِهِ فَقَالَت الْمَرْأَة لفاطمة بنت عبد الْملك أَلا تأخذين عَلَيْك ثِيَابك من هَذَا الرجل يرى رَأسك مكشوفا قَالَت لَهَا أما تعرفين هَذَا هَذَا أَمِير الْمُؤمنِينَ يسْكب لنَفسِهِ وضُوءًا

قَالَت الْمَرْأَة ثمَّ دَعَاني وَكتب لي كتابا

‌‌تواضع عمر وإصلاحه السراج

 

قَالَ وَكَانَ عِنْده قوم ذَات لَيْلَة فِي بعض مَا يحْتَاج إِلَيْهِ فَغشيَ سراجه فَقَامَ إِلَيْهِ فأصلحه فَقيل لَهُ يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ أَلا نكفيك قَالَ وَمَا ضرني قُمْت وَأَنا عمر بن عبد الْعَزِيز وَرجعت وَأَنا عمر بن عبد الْعَزِيز

‌‌تقتير عمر على نَفسه وتوسيعه على الْعمَّال

 

وَكَانَ عمر قد طلق نَفسه عَن الْفَيْء فَلم يرْزق مِنْهُ شَيْئا إِلَّا عطاءه مَعَ الْمُسلمين فَدخل عَلَيْهِ ابْن أبي زَكَرِيَّا فَقَالَ يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ إِنِّي أُرِيد أَن أُكَلِّمك بِشَيْء قَالَ قل قَالَ قد بَلغنِي أَنَّك ترزق الْعَامِل من عمالك ثَلَاث مائَة دِينَار قَالَ
মুমিনগণের আমীর যা বণ্টন করেছেন, তা থেকে আমি কিংবা আমার কন্যারা সামান্য বা অধিক কিছুই পাইনি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তোমার দায়িত্বে কে ছিল?" সে বলল, "আরিফ ও মানাকিবগণ (তদারককারীগণ)।" তিনি বললেন, "তুমি সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করো, আমি তোমার জন্য (বরাদ্দ) লিখে দেবো।" অতঃপর তিনি বললেন, "থামো, সম্ভবত আমি সন্ধ্যা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারব না। তুমি ফাতিমা বিনতে আব্দুল মালিকের—অর্থাৎ তাঁর স্ত্রীর—নিকট প্রবেশ করো।" সে যখন ফাতিমার নিকট অবস্থান করছিল, তখন উমর উঠে দাঁড়ালেন এবং নিজের ওযুর জন্য পানি ঢাললেন। তখন মহিলাটি ফাতিমা বিনতে আব্দুল মালিককে বলল, "আপনি কি এই লোকটির সামনে আপনার কাপড় ঠিক করবেন না (পর্দা করবেন না)? সে তো আপনার মাথা অনাবৃত দেখছে।" ফাতিমা তাকে বললেন, "তুমি কি একে চেনো না? ইনিই মুমিনগণের আমীর, তিনি নিজের ওযুর জন্য নিজেই পানি ঢালছেন।"

মহিলাটি বলল, "অতঃপর তিনি আমাকে ডাকলেন এবং আমার জন্য একটি নির্দেশনামা লিখে দিলেন।"

উমরের বিনয় এবং প্রদীপ মেরামত করা

 

বর্ণনাকারী বলেন, এক রাতে কোনো এক প্রয়োজনে একদল লোক তাঁর নিকট উপস্থিত ছিল। তখন তাঁর প্রদীপটি স্তিমিত হয়ে পড়ল। তিনি প্রদীপের দিকে উঠে গিয়ে সেটি ঠিক করলেন। তাঁকে বলা হলো, "হে মুমিনগণের আমীর! আমরা কি আপনার পক্ষ থেকে এটি করার জন্য যথেষ্ট ছিলাম না?" তিনি বললেন, "এতে আমার কী ক্ষতি হলো? আমি যখন উঠেছিলাম তখনও আমি উমর ইবনে আব্দুল আযীয ছিলাম, আর যখন ফিরে এলাম তখনও আমি উমর ইবনে আব্দুল আযীয।"

নিজের প্রতি উমরের কঠোরতা এবং কর্মকর্তাদের প্রতি তাঁর উদারতা

 

উমর নিজেকে রাষ্ট্রীয় সম্পদ (ফায়) থেকে বিযুক্ত রেখেছিলেন। সাধারণ মুসলিমদের জন্য নির্ধারিত ভাতার বাইরে তিনি সেখান থেকে কিছুই গ্রহণ করতেন না। ইবনে আবি জাকারিয়া তাঁর নিকট প্রবেশ করে বললেন, "হে মুমিনগণের আমীর! আমি আপনার সাথে একটি বিষয়ে কথা বলতে চাই।" তিনি বললেন, "বলো।" তিনি বললেন, "আমি সংবাদ পেয়েছি যে, আপনি আপনার কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে কোনো কর্মকর্তাকে তিনশ দিনার করে পারিশ্রমিক প্রদান করেন।" তিনি বললেন...
(খণ্ড: ১) সীরাতু উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৪৫)
نعم قَالَ وَلم ذَلِك قَالَ أردْت أَن أغنيهم عَن الْخِيَانَة قَالَ فَأَنت يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ أولى بذلك قَالَ فَأخْرج ذراعه وَقَالَ يَا ابْن أبي زَكَرِيَّا إِن هَذَا نبت من الْفَيْء وَلست معيدا إِلَيْهِ مِنْهُ شَيْئا أبدا

‌‌ورعه عَن شم مسك الْفَيْء

 

قَالَ وَأتي عمر بن عبد الْعَزِيز من الْفَيْء ذَات يَوْم بعنبرة وَعِنْده لَيْث بن أبي رقية كَاتبه فَأَخذهَا بِيَدِهِ فمسحها ثمَّ أَمر بهَا فَرفعت حَتَّى تبَاع قَالَ ثمَّ إِنَّه أَمر يَده على أَنفه فَوجدَ رِيحهَا فَدَعَا بِوضُوء فَتَوَضَّأ قَالَ فَقلت لَهُ مَا هَذَا الَّذِي أصبت مِنْهَا حَتَّى تتوضأ قَالَ عجبا لَك يَا لَيْث وَهل ينْتَفع مِنْهَا إِلَّا بِالَّذِي وجدت أتؤكل أَو تشرب قَالَ وَأتي عمر بن عبد الْعَزِيز يَوْمًا بمسك من الْفَيْء فَوضع بَين يَدَيْهِ فَوجدَ رِيحه فَوضع يَده على أَنفه وَقَالَ أخروه حَتَّى لم يجد لَهُ ريحًا

‌‌ورعه عَن تسخين المَاء على مطبخ الْعَامَّة وتعويضه مِنْهُ

 

قَالَ وَكَانَ لَهُ غُلَام يَأْتِيهِ بقمقم من مَاء مسخن يتوضأمنه فَقَالَ للغلام يَوْمًا أتذهب بِهَذَا القمقم إِلَى مطبخ الْمُسلمين فتجعله عِنْده حَتَّى يسخن ثمَّ تَأتي بِهِ قَالَ نعم أصلحك الله قَالَ أفسدته علينا قَالَ فَأمر مزاحما أَن يغلي ذَلِك القمقم ثمَّ ينظر مَا يدْخل فِيهِ من الْحَطب ثمَّ يحْسب تِلْكَ الْأَيَّام الَّتِي كَانَ يغليه فِيهَا فَيَجْعَلهُ حطبا فِي المطبخ قَالَ وأصابته جَنَابَة فِي لَيْلَة بَارِدَة فأسخن لَهُ مَاء فَأتي بِهِ فَقَالَ أَيْن سخنته قَالَ على مطبخ الْعَامَّة قَالَ فنحه قَالَ فناداه رجل وَخَافَ عَلَيْهِ إِن اغْتسل بِالْمَاءِ الْبَارِد فِي تِلْكَ اللَّيْلَة أنْشدك الله يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ فِي نَفسك فَإِن كَانَ لَا بُد فَعوضهُ قيمَة ثمَّ أدخلهُ بَيت مَال الْمُسلمين فَفعل ذَلِك عمر رضي الله عنه

‌‌خُرُوج عمر من مَاله ورده من مَال الْمُسلمين

 

قَالَ وَقَالَ عمر بن عبد الْعَزِيز مَا من شَيْء إلاوقد رَددته فِي مَال الْمُسلمين
হ্যাঁ, তিনি বললেন, কেন এমন? তিনি বললেন, আমি তাদের খিয়ানত থেকে অভাবমুক্ত করতে চেয়েছিলাম। তিনি বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন, আপনিই তো এর জন্য সবচেয়ে বেশি হকদার। তিনি তাঁর বাহু বের করলেন এবং বললেন, হে ইবনে আবি জাকারিয়া, নিশ্চয়ই এটি ফায় (রাষ্ট্রীয় সম্পদ) থেকে পুষ্ট হয়েছে, আর আমি এতে এর কোনো অংশ আর কখনও ফেরত দেব না।

‌‌ফায়ের কস্তুরীর ঘ্রাণ নেওয়া থেকে তাঁর পরহেজগারি

 

বর্ণিত আছে যে, একদিন উমর ইবনে আবদুল আজিজের কাছে ফায়ের সম্পদ থেকে একটি আম্বরের টুকরো আনা হলো। তখন তাঁর কাছে তাঁর লেখক লাইস ইবনে আবি রুকাইয়া উপস্থিত ছিলেন। তিনি সেটি নিজের হাতে নিলেন এবং স্পর্শ করলেন, এরপর তা সরিয়ে রাখার নির্দেশ দিলেন যাতে তা বিক্রি করা যায়। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি তাঁর হাত নাকের ওপর বুলিয়ে এর ঘ্রাণ পেলেন। ফলে তিনি অজুর পানি চাইলেন এবং অজু করলেন। লাইস বলেন, আমি তাঁকে বললাম, আপনি এটি থেকে কী এমন পেলেন যে আপনাকে অজু করতে হলো? তিনি বললেন, হে লাইস, তোমার জন্য বিস্ময়! ঘ্রাণ নেওয়া ছাড়া এটি থেকে আর কী উপকার পাওয়া যায়? এটি কি খাওয়া যায় বা পান করা যায়? আরও বর্ণিত আছে যে, একদিন উমর ইবনে আবদুল আজিজের সামনে ফায়ের কিছু কস্তুরী আনা হলো। তিনি এর ঘ্রাণ পেলেন, অমনি তিনি নিজের নাকের ওপর হাত রাখলেন এবং বললেন, এটি সরিয়ে নাও যাতে তিনি এর ঘ্রাণ আর না পান।

‌‌সাধারণ রান্নাঘরে পানি গরম করা থেকে তাঁর পরহেজগারি এবং এর ক্ষতিপূরণ প্রদান

 

বর্ণিত আছে যে, তাঁর একটি গোলাম ছিল যে তাঁর অজুর জন্য একটি পাত্রে গরম পানি নিয়ে আসত। তিনি একদিন গোলামকে বললেন, তুমি কি এই পাত্রটি মুসলমানদের সাধারণ রান্নাঘরে নিয়ে যাও এবং গরম হওয়া পর্যন্ত সেখানে রেখে দাও, তারপর সেটি নিয়ে আসো? সে বলল, হ্যাঁ, আল্লাহ আপনার কল্যাণ করুন। তিনি বললেন, তুমি তো এটি আমাদের জন্য নষ্ট করে দিলে। এরপর তিনি মুজাহিমকে নির্দেশ দিলেন সেই পাত্রটি গরম করতে এবং দেখতে যে তাতে কতটুকু কাঠ লাগে, তারপর যে দিনগুলোতে সে পানি গরম করেছিল তার হিসাব করে সমপরিমাণ কাঠ সাধারণ রান্নাঘরে পৌঁছে দিতে বললেন। আরও বর্ণিত আছে যে, এক শীতের রাতে তাঁর জানাবাত (গোসল ফরজ) হলো, তখন তাঁর জন্য পানি গরম করা হলো। যখন পানি আনা হলো তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি এটি কোথায় গরম করেছ? সে বলল, জনগণের সাধারণ রান্নাঘরে। তিনি বললেন, এটি সরিয়ে নাও। তখন এক ব্যক্তি তাঁকে সম্বোধন করল এবং সেই রাতে ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে তাঁর ক্ষতি হতে পারে এই আশঙ্কায় বলল, হে আমীরুল মুমিনীন, আমি আপনাকে আপনার প্রাণের খাতিরে আল্লাহর দোহাই দিচ্ছি; যদি একান্তই প্রয়োজন হয় তবে এর মূল্য বাবদ ক্ষতিপূরণ দিন এবং তা মুসলমানদের বায়তুল মালে জমা করুন। উমর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) তাই করলেন।

‌‌উমরের নিজের সম্পদ ত্যাগ এবং তা মুসলমানদের সম্পদে ফিরিয়ে দেওয়া

 

উমর ইবনে আবদুল আজিজ বলেন, এমন কোনো কিছুই নেই যা আমি মুসলমানদের সম্পদে (বায়তুল মালে) ফিরিয়ে দিইনি।
(খণ্ড: ১) সীরাতু উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৪৬)
إلاالعين الَّتِي بالسويداء فَإِنِّي عَمَدت إِلَى أَرض براح لَيْسَ فِيهَا لأحد من الْمُسلمين ضَرْبَة سَوط فعملتها من صلب عطائي الَّذِي يجمع لي مَعَ جمَاعَة الْمُسلمين فَجَاءَتْهُ غَلَّتهَا مِائَتَا دِينَار وجراب فِيهِ تمر صيحاني وتمر عَجْوَة فَقَالَ هَات اصبب للْقَوْم من هَذِه الْعَجْوَة فَهِيَ أبرد وَأَصَح قَالَ وَسمع النِّسَاء بِمَال قد قدم عَلَيْهِ فأرسلن إِلَيْهِ بِابْن لَهُ غُلَام ليعطيه من ذَلِك المَال فَلَمَّا جَاءَ الْغُلَام قَالَ احفنوا لَهُ من ذَلِك التَّمْر فحفنوا لَهُ من ذَلِك فَخرج الْغُلَام فَرحا حت لما انْتهى إِلَى النِّسَاء فرأين التَّمْر ضربن الْغُلَام ثمَّ قُلْنَ لَهُ اذْهَبْ فانثره بَين يَدَيْهِ فَأقبل الْغُلَام فنثره بَين يَدَيْهِ وأهوى بيدَيْهِ إِلَى الذَّهَب فَقَالَ عمر للوليد بن هِشَام من آل أبي معيط أمسك يَدَيْهِ يَا وليد فَأمْسك يَدَيْهِ الْوَلِيد ودعا عمر بِدُعَاء لَهُ كثير وَكَانَ من دُعَائِهِ اللَّهُمَّ فاطر السَّمَوَات وَالْأَرْض عَالم الْغَيْب وَالشَّهَادَة أَنْت تحكم بَين عِبَادك فِيمَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ بغض إِلَى هَذَا الْغُلَام هَذَا الذَّهَب كَمَا حببتها إِلَى فلَان ابْن فلَان أرسل يَدَيْهِ يَا وليد فارتعشت يَدَاهُ فَمَا مس مِنْهَا دِينَارا وَانْصَرف فَقَالَ لَهُ رجل لقد اسْتُجِيبَ لَك يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ ثمَّ قَالَ عمر أخرجُوا زَكَاة هَذِه المائتي دِينَار فَقَالَ الرَّسُول يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ لقد أَخذ خرص هَذَا الْحَائِط قَالَ يَا بني لَيْسَ هَذَا من عَمَلك قَالَ فأخرجوا خَمْسَة دَنَانِير ثمَّ قَالَ دلوني على رجل أعمى لَيْسَ لَهُ قَائِد قَالَ بَيْنَمَا الْقَوْم يتذاكرون إِذْ قَالَ عمر لقد وَقعت عَلَيْهِ وَقد ذكرته وَهُوَ الشَّيْخ الْجَزرِي الْأَعْمَى يَأْتِي فِي اللَّيْلَة الْمظْلمَة الماطرة يتكمه لَيْسَ لَهُ قَائِد أخرجُوا لَهُ ثمن قَائِد لَا كَبِير يَقْهَرهُ وَلَا صَغِير يضعف عَنهُ قَالَ فأخرجوا لَهُ مِنْهَا خَمْسَة وَثَلَاثِينَ دِينَارا قَالَ ثمَّ دَعَا عمر بِالَّذِي يقوم على نَفَقَة أَهله فَقَالَ لَهُ خُذ هَذِه الذَّهَب فأنفقها على عيالنا إِلَى أَن يخرج لي عطائي مَعَ

তবে সুওয়াইদার সেই ঝরনাটি ব্যতীত; কারণ আমি একটি উন্মুক্ত ভূমির সংকল্প করেছিলাম যেখানে মুসলিমদের কারো চাবুকের আঘাতের সমানও (মালিকানা) ছিল না। আমি আমার সেই উপার্জনের মূল অংশ থেকে এটি তৈরি করেছি যা মুসলিম জামাআতের সাথে আমার জন্য একত্রিত হয়। অতঃপর এর উৎপাদন হিসেবে দুইশত দিনার এবং একটি থলে আসল যাতে সিহানি খেজুর ও আজওয়া খেজুর ছিল। তিনি বললেন, নিয়ে এসো, লোকদের জন্য এই আজওয়া থেকে পরিবেশন করো, কারণ এটি অধিক শীতল ও স্বাস্থ্যকর। বর্ণনাকারী বলেন, মহিলারা তাঁর কাছে আসা সম্পদের সংবাদ শুনতে পেল, তখন তারা তাদের এক বালককে তাঁর নিকট পাঠালো যেন তিনি তাকে সেই সম্পদ থেকে কিছু দান করেন। বালকটি যখন আসলো, তিনি বললেন: তাকে এই খেজুর থেকে এক মুষ্টি দাও। তখন তারা তাকে তা থেকে এক মুষ্টি প্রদান করল। বালকটি আনন্দিত হয়ে বেরিয়ে গেল, কিন্তু যখন সে মহিলাদের কাছে পৌঁছালো এবং তারা খেজুরগুলো দেখল, তখন তারা বালকটিকে প্রহার করল। এরপর তারা তাকে বলল: যাও এবং এগুলো তাঁর সামনেই ছড়িয়ে দিয়ে এসো। বালকটি ফিরে এল এবং তাঁর সামনে খেজুরগুলো ছড়িয়ে দিল এবং তার দুই হাত দিয়ে স্বর্ণের দিকে হাত বাড়াল। তখন উমর ওয়ালিদ ইবনে হিশামকে (যিনি আবু মুয়াইত বংশের ছিলেন) বললেন: হে ওয়ালিদ, ওর দুই হাত ধরে রাখো। ওয়ালিদ তার দুই হাত ধরে রাখল এবং উমর তার জন্য অনেক দোয়া করলেন। তাঁর দোয়ার মধ্যে ছিল: হে আল্লাহ! আসমান ও যমীনের স্রষ্টা, অদৃশ্য ও দৃশ্যমান সম্পর্কে পরিজ্ঞাত, তোমার বান্দারা যে বিষয়ে মতভেদ করত তুমি তাদের মাঝে ফয়সালা করে দেবে। অমুক ইবনে অমুকের কাছে সম্পদ যেমন প্রিয় করা হয়েছে, এই বালকের কাছে এই স্বর্ণকে তেমনি অপ্রিয় করে দাও। (অতঃপর বললেন) হে ওয়ালিদ, ওর হাত ছেড়ে দাও। তখন তার দুই হাত কাঁপতে লাগল এবং সে সেখান থেকে একটি দিনারও স্পর্শ করল না এবং চলে গেল। তখন এক ব্যক্তি তাঁকে বলল: হে আমিরুল মুমিনীন, আপনার দোয়া কবুল হয়েছে। অতঃপর উমর বললেন: এই দুইশত দিনারের যাকাত বের করো। তখন কর্মচারীটি বলল: হে আমিরুল মুমিনীন, এই বাগানের ফসলের আনুমানিক পরিমাণ (কর) তো পূর্বেই গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বললেন: হে বৎস, এটি তোমার কাজ নয়। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তারা পাঁচ দিনার বের করল। এরপর তিনি বললেন: আমাকে এমন একজন অন্ধ ব্যক্তির সন্ধান দাও যার কোনো পথপ্রদর্শক নেই। বর্ণনাকারী বলেন, লোকেরা যখন আলোচনা করছিল, তখন উমর বললেন: আমি তাকে পেয়েছি এবং আমার স্মরণে এসেছে; তিনি হলেন জাযারি অন্ধ বৃদ্ধ। তিনি অন্ধকার বৃষ্টিময় রাতে পথ হাতড়ে চলেন, তাঁর কোনো পথপ্রদর্শক নেই। তাঁর জন্য একজন পথপ্রদর্শকের পারিশ্রমিক বের করো, যে খুব বড় হবে না যে তাকে দমন করবে, আবার খুব ছোটও হবে না যে তার ভার সইতে পারবে না। বর্ণনাকারী বলেন, তারা তার জন্য সেখান থেকে পঁয়ত্রিশ দিনার বের করল। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর উমর তাঁর পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিকে ডাকলেন এবং তাকে বললেন: এই স্বর্ণ গ্রহণ করো এবং আমাদের পরিবারের জন্য ব্যয় করো যতক্ষণ না মুসলিমদের সাথে আমার প্রাপ্য ভাতা নির্গত হয়।

(খণ্ড: ১) সীরাতু উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৪৭)
الْمُسلمين أَو يقْضِي الله قبل ذَلِك

‌‌عمر وَغُلَامه

 

قَالَ وَكَانَ لَهُ غُلَام وبرذون يغل عَلَيْهِ فَسَأَلَ الْغُلَام عَن حَاله فَقَالَ النَّاس كلهم بِخَير إِلَّا أَنا وَأَنت وَهَذَا البرذون قَالَ اذْهَبْ فَأَنت حر

‌‌خَوفه من الله

 

وسئلت فَاطِمَة بنت عبد الْملك زَوْجَة عمر بن عبد الْعَزِيز عَن عبَادَة عمر فَقَالَت وَالله مَا كَانَ بِأَكْثَرَ النَّاس صَلَاة وَلَا أَكْثَرهم صياما وَلَكِن وَالله مَا رَأَيْت أحدا أخوف لله من عمر لقد كَانَ يذكر الله فِي فرَاشه فينتفض انتفاض العصفور من شدَّة الْخَوْف حَتَّى نقُول ليصبحن النَّاس وَلَا خَليفَة لَهُم

‌‌خَوفه من النَّار

 

قَالَ وَقَرَأَ عمر بن عبد الْعَزِيز بِالنَّاسِ ذَات لَيْلَة {وَاللَّيْل إِذا يغشى} فَلَمَّا بلغ {فأنذرتكم نَارا تلظى} خنقته الْعبْرَة فَلم يسْتَطع أَن ينفذها فَرجع حَتَّى إِذا بلغَهَا خنقته الْعبْرَة فَلم يسْتَطع أَن ينفذها فَتَركهَا وقرأسورة غَيرهَا

‌‌تذكير عمر زَوجته ليَالِي النَّعيم بدابق

 

قَالَ وَمر عمر بن عبد الْعَزِيز ذَات يَوْم بفاطمة زَوجته فَضرب على كتفها وَقَالَ يَا فَاطِمَة لنَحْنُ ليَالِي دابق أنعم منا الْيَوْم فَقَالَت وَالله مَا كنت على ذَلِك أقدر مِنْك
মুসলিমদের অথবা আল্লাহ তার আগে ফয়সালা করবেন।

‌‌উমর ও তাঁর দাস

 

বর্ণনাকারী বলেন: তাঁর একটি দাস ও একটি ভারবাহী ঘোড়া ছিল যা থেকে তিনি আয় করতেন। তিনি দাসটিকে তার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। সে বলল, "আমি, আপনি এবং এই ঘোড়াটি ছাড়া বাকি সব মানুষই সুখে আছে।" তিনি বললেন, "যাও, তুমি আজ থেকে মুক্ত।"

‌‌আল্লাহর প্রতি তাঁর ভয়

 

উমর ইবনে আবদুল আজিজের স্ত্রী ফাতিমা বিনত আবদুল মালিককে উমরের ইবাদত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, "আল্লাহর কসম, তিনি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সালাত আদায়কারী বা সবচেয়ে বেশি সিয়াম পালনকারী ছিলেন না। কিন্তু আল্লাহর কসম, আমি উমরের চেয়ে আল্লাহকে বেশি ভয় করতে আর কাউকে দেখিনি। তিনি যখন তাঁর বিছানায় শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করতেন, তখন প্রচণ্ড ভয়ে চড়ুই পাখির মতো এমনভাবে কাঁপতেন যে আমরা মনে করতাম সকালে হয়তো মানুষের আর কোনো খলিফা থাকবে না।"

‌‌জাহান্নামের আগুন থেকে তাঁর ভয়

 

বর্ণনাকারী বলেন: এক রাতে উমর ইবনে আবদুল আজিজ লোকদের নিয়ে সালাত আদায়ের সময় সূরা 'আল-লাইল' পাঠ করছিলেন। যখন তিনি "আমি তোমাদেরকে লেলিহান অগ্নি সম্পর্কে সতর্ক করেছি" আয়াতে পৌঁছালেন, তখন কান্নায় তাঁর কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে গেল এবং তিনি আর তিলাওয়াত চালিয়ে যেতে পারলেন না। তিনি পুনরায় শুরু করলেন, কিন্তু যখনই সেই আয়াতে পৌঁছালেন, পুনরায় কান্নায় তাঁর কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে গেল এবং তিনি তা সম্পন্ন করতে পারলেন না। অতঃপর তিনি সেই সূরাটি ছেড়ে দিয়ে অন্য একটি সূরা পাঠ করলেন।

‌‌দাবিকের সুখের রাতগুলো সম্পর্কে উমরের তাঁর স্ত্রীকে স্মরণ করিয়ে দেয়া

 

বর্ণনাকারী বলেন: একদিন উমর ইবনে আবদুল আজিজ তাঁর স্ত্রী ফাতিমার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর কাঁধে হাত রেখে বললেন, "হে ফাতিমা! দাবিকের রাতগুলোতে আমরা আজকের চেয়ে অনেক বেশি সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যে ছিলাম।" ফাতিমা উত্তর দিলেন, "আল্লাহর কসম, সেই সচ্ছলতার ওপর আমার কর্তৃত্ব আপনার চেয়ে বেশি ছিল না।"
(খণ্ড: ১) সীরাতু উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৪৮)
الْيَوْم فَأَدْبَرَ عَنْهَا وَله حنين وَهُوَ يَقُول يَا فَاطِمَة إِنِّي أَخَاف النَّار يَا فَاطِمَة {إِنِّي أَخَاف إِن عصيت رَبِّي عَذَاب يَوْم عَظِيم}

‌‌لِبَاس عمر قبل الْخلَافَة وَبعدهَا

 

قَالَ وَأَتَاهُ رجل فَأمره أَن يَشْتَرِي لَهُ كسَاء بِثمَانِيَة دَرَاهِم فَاشْتَرَاهُ لَهُ فَأَتَاهُ بِهِ فَوضع يَده عَلَيْهِ وَقَالَ ماألينه وَأَعْجَبهُ فَضَحِك الرجل الَّذِي اشْتَرَاهُ فَقَالَ لَهُ عمر إِنِّي لأحسبك أَحمَق أتضحك من غير شَيْء قَالَ مَا ذَاك بِي وَلَكِنَّك أَمرتنِي قبل ولايتك أَن أَشْتَرِي لَك مطرف خَز فاشتريت لَك مطرفا بثمان مائَة دِرْهَم فَوضعت يدك عَلَيْهِ فَقلت مَا أخشنه وَأَنت الْيَوْم تستلين كسَاء بِثمَانِيَة دَرَاهِم فعجبت من ذَلِك وأضحكني فَقَالَ عمر مَا أَحسب رجلا يبْتَاع كسَاء بثمانمائة دِرْهَم يخَاف الله عزوجل

‌‌عري عمر إِذا غسل قَمِيصه

 

قَالَ وَأَبْطَأ عمر يَوْمًا عَن الْجُمُعَة قَلِيلا فعوتب فِي ذَلِك فَقَالَ إِنَّمَا انتظرت قَمِيصِي غسلته أَن يجِف

قَالَ وَدخل مسلمة بن عبد الْملك على عمر بن عبد الْعَزِيز فِي مَرضه وَعَلِيهِ قَمِيص وسخ فَقَالَ لفاطمة زَوْجَة عمر وَهِي أُخْت مسلمة بن عبد الْملك أَلا تغسلون قَمِيصه قَالَت وَالله مَا لَهُ غَيره وَإِن غسلناه بَقِي لَا قَمِيص لَهُ

‌‌مَا يَقُوله عمر اذا اراد انْصَرف من بِحَضْرَتِهِ

 

وَكَانَ عمر بن عبد الْعَزِيز إِذا أَرَادَ أَن يُقيم النَّاس الَّذين عِنْده فِي الدَّار وبدت لَهُ حَاجَة يَخْلُو بهَا قَالَ نعم إِذا شِئْتُم رحمكم الله وَلَيْسَ يَأْمر أحدا يُقيم النَّاس
আজ তিনি তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং বিলাপ করতে লাগলেন। তিনি বলছিলেন, "হে ফাতিমা! আমি জাহান্নামের আগুনকে ভয় করি। হে ফাতিমা! {নিশ্চয় আমি যদি আমার রবের অবাধ্য হই, তবে এক মহাদিবসের আজাবকে ভয় করি।}"

‌‌খিলাফতের পূর্বে ও পরে উমরের পোশাক

 

বর্ণনাকারী বলেন, তার কাছে এক ব্যক্তি আসল এবং তিনি তাকে নির্দেশ দিলেন যেন তার জন্য আট দিরহাম দিয়ে একটি চাদর কেনে। সে তা কিনে তার কাছে নিয়ে এল। তিনি তাতে হাত রাখলেন এবং বললেন, "এটি কতই না নরম!" তিনি এটি পছন্দ করলেন। যে ব্যক্তি এটি কিনে এনেছিল সে হেসে ফেলল। উমর তাকে বললেন, "আমি তোমাকে নির্বোধ মনে করছি। তুমি অকারণে হাসছ কেন?" সে বলল, "আমি অকারণে হাসছি না। তবে আপনার খিলাফত লাভের আগে আপনি আমাকে আপনার জন্য রেশমি কাপড়ের একটি চাদর কিনতে আদেশ করেছিলেন। আমি আপনার জন্য আটশ দিরহাম দিয়ে একটি রেশমি চাদর কিনেছিলাম। তখন আপনি সেটির ওপর হাত রেখে বলেছিলেন, 'এটি কতই না খসখসে!' আর আজ আপনি আট দিরহামের একটি চাদরকে নরম বলছেন। আমি এতেই আশ্চর্য হলাম এবং এটিই আমাকে হাসাল।" উমর বললেন, "যে ব্যক্তি আটশ দিরহাম দিয়ে চাদর কেনে, আমার মনে হয় না সে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লাকে ভয় করে।"

‌‌উমরের জামা ধোয়ার সময় তার পোশাকহীন থাকা

 

বর্ণনাকারী বলেন, একদিন উমর জুমার নামাজে আসতে সামান্য বিলম্ব করলেন। এ ব্যাপারে তাকে তিরস্কার করা হলে তিনি বললেন, "আমি শুধু আমার জামাটি শুকানোর অপেক্ষায় ছিলাম, যা আমি ধুয়েছিলাম।"

বর্ণনাকারী বলেন, মাসলামা বিন আব্দুল মালিক অসুস্থ অবস্থায় উমর বিন আব্দুল আজিজের কাছে প্রবেশ করলেন। তখন তার গায়ে একটি ময়লা জামা ছিল। মাসলামা উমরের স্ত্রী ফাতিমাকে—যিনি মাসলামার বোন ছিলেন—বললেন, "তোমরা কেন তার জামাটি ধুয়ে দিচ্ছ না?" তিনি বললেন, "আল্লাহর কসম! এটি ছাড়া তার আর কোনো জামা নেই। যদি আমরা এটি ধুতে দিই, তবে তার গায়ে দেয়ার মতো কোনো জামা থাকবে না।"

‌‌উমর তার মজলিস থেকে লোকদের বিদায় দিতে চাইলে যা বলতেন

 

উমর বিন আব্দুল আজিজ যখন বাড়িতে তার কাছে অবস্থানরত লোকেদের বিদায় দিতে চাইতেন এবং তার একান্তে কোনো কাজের প্রয়োজন হতো, তখন তিনি বলতেন, "হ্যাঁ, যদি আপনারা চান (তবে যেতে পারেন), আল্লাহ আপনাদের ওপর রহম করুন।" তিনি অন্য কাউকে দিয়ে লোকদের উঠে যেতে আদেশ করতেন না।
(খণ্ড: ১) সীরাতু উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৪৯)
‌‌دَعوته مسلمة الى الطَّعَام وتلطفه بعظته

 

وَكَانَ مسلمة بن عبد الْملك من أشرف أموي وأعظمه تملكا وأسرفه فِي الطَّعَام فَبلغ عمر بن عبد الْعَزِيز سرفه فِي طَعَامه فَأمره أَن يبكر عَلَيْهِ وَأمر عمر بن عبد الْعَزِيز بطبيخ ثريد عدس وبألوان من لحم فَلَمَّا غَدا عَلَيْهِ مسلمة أَقَامَ عِنْده حَتَّى تَعَالَى النَّهَار وَوجد الْجُوع فَقَامَ ليذْهب فحسبه عمر وَقَالَ لَهُ اجْلِسْ ثمَّ أَقَامَ حَتَّى انتصف النَّهَار ثمَّ قَامَ فَقَالَ لَهُ عمر اجْلِسْ حَتَّى إِذا بلغ من مسلمة الْجُوع فِيمَا يرى عمر دَعَا بطعامه فقربت ثريدة العدس فَأقبل عَلَيْهَا مسلمة فَأكل أكل مجهود قد بلغ مِنْهُ الْجُوع فَلم يأل حَتَّى تملأ فَأمر عمر أَن يرفع ودعا لَهُ بِطَعَام طيب فَقَالَ كل قَالَ قد شبعت مَا فِي فضل قَالَ لَهُ فَكيف بالسرف فِي الطَّعَام والتقحم فِي النَّار وَهَذَا يَجْزِي عَنهُ وَأَرَادَ عمر رحمه الله عظته وتأديبه فقصر بعد ذَلِك مسلمة عَمَّا كَانَ يكون عَلَيْهِ

‌‌اكْتِفَاء عمر بِمَا كَانَ عِنْده

 

قَالَ وَلم يحدث عمر بن عبد الْعَزِيز مُنْذُ ولي دَابَّة وَلَا امْرَأَة وَلَا جَارِيَة حَتَّى لحق بِاللَّه

‌‌تَركه الضحك

 

قَالَ وَلم ير عمر مفترا ضَاحِكا مُنْذُ ولي الْخلَافَة حَتَّى لَقِي الله
মাসলামাহকে খাবারের দাওয়াত এবং তাঁর সদয় নসিহত

 

মাসলামাহ ইবনে আব্দুল মালিক উমাইয়া বংশের অন্যতম মর্যাদাবান ও প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন এবং তিনি খাবারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত অপব্যয়ী ছিলেন। তাঁর খাবারের অপব্যয়ের সংবাদ উমর ইবনে আব্দুল আজিজের নিকট পৌঁছালে তিনি তাঁকে সকাল সকাল তাঁর নিকট আসার নির্দেশ দেন। উমর ইবনে আব্দুল আজিজ ডালের সুরুয়া এবং কয়েক প্রকার গোশত রান্নার নির্দেশ দিলেন। পরদিন সকালে যখন মাসলামাহ তাঁর নিকট আসলেন, তখন তিনি তাঁর নিকট দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করলেন। এমনকি দিনের অনেকটা সময় অতিবাহিত হলে তিনি প্রচণ্ড ক্ষুধা অনুভব করলেন এবং চলে যাওয়ার জন্য দাঁড়ালেন। তখন উমর তাঁকে বাধা দিয়ে বললেন, "বসুন"। এরপর তিনি দুপুর পর্যন্ত অবস্থান করলেন এবং পুনরায় উঠে দাঁড়ালে উমর তাঁকে বললেন, "বসুন"। যখন উমর দেখলেন যে মাসলামাহ ক্ষুধার তীব্রতায় কাতর হয়ে পড়েছেন, তখন তিনি খাবার আনতে বললেন। ডালের সুরুয়া পেশ করা হলো এবং মাসলামাহ অত্যন্ত ক্ষুধার্ত ব্যক্তির ন্যায় তা খেতে শুরু করলেন। তিনি পেট ভরে না খাওয়া পর্যন্ত থামলেন না। এরপর উমর তা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিলেন এবং তাঁর জন্য উত্তম ও সুস্বাদু খাবার আনতে বললেন। উমর বললেন, "খান"। মাসলামাহ বললেন, "আমি তৃপ্ত হয়ে গেছি, আর কোনো জায়গা অবশিষ্ট নেই।" উমর তাঁকে বললেন, "তবে খাবারের ক্ষেত্রে অপব্যয় এবং (এর কারণে) জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হওয়ার কী প্রয়োজন, যখন এই খাবারই যথেষ্ট হয়?" উমর (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এর মাধ্যমে তাঁকে নসিহত ও আদব শিক্ষা দিতে চেয়েছিলেন। এরপর থেকে মাসলামাহ তাঁর পূর্বের জাঁকজমকপূর্ণ স্বভাব কমিয়ে দিলেন।

নিজের কাছে যা ছিল তাতেই উমরের তুষ্টি

 

বর্ণিত আছে যে, উমর ইবনে আব্দুল আজিজ খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আল্লাহর সাথে মিলিত হওয়া পর্যন্ত নতুন কোনো সওয়ারি পশু, স্ত্রী বা দাসী গ্রহণ করেননি।

তাঁর হাসি ত্যাগ করা

 

বর্ণিত আছে যে, খিলাফতের দায়িত্ব লাভের পর থেকে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করা পর্যন্ত উমরকে কখনো মুখ খুলে হাসতে দেখা যায়নি।
(খণ্ড: ১) সীরাতু উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৫০)
‌‌اعتزاله النِّسَاء

 

قَالَ وَقَالَت فَاطِمَة زَوجته مَا اغْتسل من جَنَابَة مُنْذُ ولي حَتَّى لَقِي الله غير ثَلَاث مَرَّات وَيُقَال مَا اغْتسل من جَنَابَة حَتَّى مَاتَ

‌‌جَوَاب عمر حِين سُئِلَ عَن حَاله

 

قَالَ وَقَالَ رجل لعمر بن عبد الْعَزِيز كَيفَ أَصبَحت يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ قَالَ أَصبَحت بطينا بطيئا متلوثا فِي الْخَطَايَا أَتَمَنَّى على الله الاماني

‌‌ندمه على إِعْطَاء بني أُميَّة

 

قَالَ وَاجْتمعت بَنو أُميَّة فَكَلَّمُوا رجلا أَن يكلمهُ فِي صلَة أرحامهم والعطف عَلَيْهِم وَكَانَ قد أَمر لَهُم بِعشْرَة آلَاف دِينَار فَلم تقع مِنْهُم فَدخل عَلَيْهِ الرجل فَكَلمهُ وأعلمه بمقالتهم فَقَالَ أجل وَالله لقد قسمتهَا فيهم وَقد نَدِمت عَلَيْهَا أَن لَا أكون منعتهم إِيَّاهَا وقسمتها فَكَانَت كَافِيَة أَرْبَعَة آلَاف بَيت من الْمُسلمين فَخرج إِلَيْهِم الرجل وأعلمهم بمقالته وَقَالَ لَا تلوموا إِلَّا أَنفسكُم يَا معشر بني أُميَّة عمدتم إِلَى صَاحبكُم فزوجتموه بنت ابْن عمر فجاءتكم بعمر ملفوفا فِي ثِيَابه فَلَا تلوموا إِلَّا أَنفسكُم

‌‌أعوان عمر

 

قَالَ وَكَانَ الله قد أَعَانَهُ من أَهله بسهل أَخِيه وَعبد الْملك ابْنه ومزاحم مَوْلَاهُ فَكَانُوا أعوانا لَهُ على الْحق وَقُوَّة لَهُ على مَا هُوَ فِيهِ فَاجْتمع نفر من بني أُميَّة إِلَى عبد الْملك بن عمر بن عبد الْعَزِيز فَقَالُوا لَهُ إِن أَبَاك قطع أرحامنا وانتزع مَا فِي أَيْدِينَا
নারীদের থেকে তাঁর দূরত্ব অবলম্বন

 

তিনি বলেন, তাঁর স্ত্রী ফাতিমা বলেছেন, তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর থেকে আল্লাহর সাথে মিলিত হওয়া পর্যন্ত মাত্র তিনবার ছাড়া অপবিত্রতার কারণে গোসল করেননি। আর বলা হয়, তিনি মৃত্যু পর্যন্ত অপবিত্রতার কারণে গোসল করেননি।

তাঁর অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হওয়ার পর উমরের উত্তর

 

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি উমর ইবনে আব্দুল আজিজকে জিজ্ঞেস করল, হে আমিরুল মুমিনিন! আপনি কেমন আছেন? তিনি বললেন, আমি অতিভোজী, মন্থর এবং পাপে কলুষিত অবস্থায় সকাল অতিবাহিত করছি, আল্লাহর কাছে কেবল বৃথা আকাঙ্ক্ষাই পোষণ করছি।

বনু উমাইয়াদের প্রদানের ওপর তাঁর অনুশোচনা

 

তিনি বলেন, বনু উমাইয়ারা একত্রিত হয়ে এক ব্যক্তিকে অনুরোধ করল যেন সে তাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা এবং তাদের প্রতি সদয় হওয়ার বিষয়ে তাঁর সাথে কথা বলে। তিনি ইতিপূর্বে তাদের জন্য দশ হাজার দিনার প্রদানের নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা তাদের নিকট যথেষ্ট মনে হয়নি। সেই ব্যক্তি তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে তাদের বক্তব্য তাঁকে অবহিত করল। তিনি বললেন, হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! আমি তা তাদের মাঝে বন্টন করেছি এবং আমি এ জন্য অনুতপ্ত যে, কেন আমি তাদের তা প্রদান থেকে বিরত থাকলাম না এবং অন্য কোথাও বন্টন করলাম না; অথচ তা চার হাজার মুসলিম পরিবারের জন্য যথেষ্ট হতো। এরপর সেই ব্যক্তি তাদের নিকট ফিরে গিয়ে তাঁর বক্তব্য জানাল এবং বলল, হে বনু উমাইয়া সম্প্রদায়! তোমরা নিজেদের ছাড়া অন্য কাউকে দোষারোপ করো না। তোমরা তোমাদের সঙ্গীর নিকট গিয়েছিলে এবং তাঁর সাথে ইবনে উমরের কন্যার বিবাহ দিয়েছিলে। ফলে তিনি তোমাদের কাছে উমরকে তাঁর কাপড়ে জড়িয়ে নিয়ে এসেছেন। সুতরাং তোমরা নিজেদের ছাড়া অন্য কাউকে দোষারোপ করো না।

উমরের সহযোগীবৃন্দ

 

তিনি বলেন, আল্লাহ তাঁর পরিবারের মধ্য থেকে তাঁর ভাই সাহল, তাঁর পুত্র আব্দুল মালিক এবং তাঁর মুক্ত দাস মুজাহিমের মাধ্যমে তাঁকে সাহায্য করেছিলেন। তারা সত্যের পথে তাঁর সহযোগী এবং তাঁর বর্তমান কর্মপন্থায় শক্তির উৎস ছিলেন। অতঃপর বনু উমাইয়াদের একটি দল উমর ইবনে আব্দুল আজিজের পুত্র আব্দুল মালিকের নিকট একত্রিত হয়ে বলল, তোমার পিতা আমাদের আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করেছেন এবং আমাদের অধিকারে যা ছিল তা কেড়ে নিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) সীরাতু উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৫১)
وَعَابَ على سلفنا وَإِنَّا وَالله لَا نصبر لَهُ على ذَلِك فَقل لَهُ يكف عَمَّا نكره فَفعل ذَلِك عبد الْملك وَدخل عَلَيْهِ فَأخْبرهُ بذلك فَكَأَن عمر وجد فِي نَفسه مِمَّا قَالَ فَقَالَ لَهُ عبد الْملك يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ امْضِ لما تُرِيدُ فوَاللَّه لَوَدِدْت أَنه قد غلت بِي وَبِك الْقُدُور فِي الله فَقَالَ لَهُ جَزَاك الله خيرا من ولد ثمَّ قَالَ الْحَمد لله الَّذِي شدّ ظَهْري بسهل أخي وَعبد الْملك ومزاحم

‌‌قدوم مولى ابْن عَيَّاش وَأَصْحَابه على عمر واباحته لَهُم بَيت المَال

 

قَالَ وَقدم عَلَيْهِ زِيَاد مولى ابْن عَيَّاش وَأَصْحَاب لَهُ فَأتى الْبَاب وَبِه جمَاعَة من النَّاس فَأذن لَهُ دونهم فَدخل عَلَيْهِ فنسي أَن يسلم عَلَيْهِ بالخلافة ثمَّ ذكر فَقَالَ السَّلَام عَلَيْك يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ فَقَالَ لَهُ عمر وَالْأولَى لم تضرني ثمَّ نزل عمر عَن مَوضِع كَانَ عَلَيْهِ إِلَى الأَرْض وَقَالَ إِنِّي أعظم أَن أكون فِي مَوضِع أعلو فِيهِ على زِيَاد فَلَمَّا قضى زِيَاد مَا يُرِيد خرج فَأمر عمر خَازِن بَيت المَال أَن يَفْتَحهُ لزياد وَمن مَعَه يَأْخُذُونَ مِنْهُ حَاجتهم فَنظر إِلَيْهِ خَازِن بَيت المَال فاقتحمته عينه عَن أَن يكون يفتح لمثله بَيت المَال ويسلط عَلَيْهِ وَهُوَ بِهِ غير عَارِف فَفعل الخازن مَا أَمر بِهِ فَدخل زِيَاد فَأخذ لنَفسِهِ ولأصحابه بضعا وَثَمَانِينَ درهما أَو بضعا وَتِسْعين درهما فَلَمَّا رأى ذَلِك الخازن قَالَ أَمِير الْمُؤمنِينَ أعلم بِمن يُسَلط على بَيت المَال

‌‌جَوَاب عمر من ناداه يَا خَليفَة الله فِي الأَرْض

 

قَالَ وناداه رجل فَقَالَ يَا خَليفَة الله فِي الأَرْض فَقَالَ لَهُ عمر مَه إِنِّي لما
এবং তিনি আমাদের পূর্বসূরিদের দোষারোপ করেছেন। আল্লাহর কসম, আমরা তাঁর এই আচরণ সহ্য করব না। তাই তাঁকে বলুন তিনি যেন এমন কাজ থেকে বিরত থাকেন যা আমরা অপছন্দ করি। আব্দুল মালিক তাই করলেন এবং তাঁর নিকট প্রবেশ করে তাঁকে বিষয়টি জানালেন। এতে উমর যেন মনে কিছুটা কষ্ট পেলেন। তখন আব্দুল মালিক তাঁকে বললেন, হে আমিরুল মুমিনিন, আপনি যা করতে চান তাতে অবিচল থাকুন। আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই চাই যে আল্লাহর পথে আপনাকে ও আমাকে নিয়ে ডেকচিগুলো টগবগ করে ফুটুক। তখন তিনি তাকে বললেন, আল্লাহ তোমাকে সন্তান হিসেবে উত্তম প্রতিদান দান করুন। অতঃপর তিনি বললেন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমার ভাই সাহল, আব্দুল মালিক এবং মুযাহিমকে দিয়ে আমার শক্তি বৃদ্ধি করেছেন।

‌‌ইবনে আইয়াশের মুক্তদাস ও তাঁর সঙ্গীদের উমরের নিকট আগমন এবং তাঁদের জন্য বায়তুল মাল উন্মুক্ত করে দেওয়া

 

তিনি বলেন, ইবনে আইয়াশের মুক্তদাস যিয়াদ এবং তাঁর কিছু সঙ্গী তাঁর নিকট আসলেন। যিয়াদ দরজায় এসে দেখলেন সেখানে একদল লোক সমবেত হয়ে আছে। তাঁকে অন্যদের বাদ দিয়ে আগে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলো। তিনি ভেতরে প্রবেশ করলেন, কিন্তু খিলাফতের সম্ভাষণসহ সালাম দিতে ভুলে গেলেন। পরবর্তীতে স্মরণ হওয়ার পর তিনি বললেন, আস-সালামু আলাইকা ইয়া আমিরুল মুমিনিন। তখন উমর তাঁকে বললেন, প্রথম সালামটিও আমার কোনো ক্ষতি করেনি। এরপর উমর যেখানে অবস্থান করছিলেন সেখান থেকে নিচে মাটিতে নেমে এলেন এবং বললেন, আমি যিয়াদের চেয়ে উঁচু কোনো স্থানে থাকাকে গুরুতর অপরাধ (বা অহংকার) মনে করি। যিয়াদ তাঁর প্রয়োজন শেষ করে যখন বের হলেন, তখন উমর বায়তুল মালের কোষাধ্যক্ষকে নির্দেশ দিলেন যিয়াদ ও তাঁর সঙ্গীদের জন্য বায়তুল মাল খুলে দিতে যাতে তারা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেখান থেকে গ্রহণ করতে পারে। বায়তুল মালের কোষাধ্যক্ষ তাঁর দিকে তাকিয়ে তাঁকে অবজ্ঞার চোখে দেখলেন যে, এমন ব্যক্তির জন্য বায়তুল মাল উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে এবং তাকে সেখানে অধিকার দেওয়া হবে যাকে তিনি চেনেনই না। তবে কোষাধ্যক্ষ তাঁর আদেশ পালন করলেন। যিয়াদ প্রবেশ করলেন এবং নিজের ও তাঁর সঙ্গীদের জন্য আশি বা নব্বইয়ের কিছু বেশি দিরহাম গ্রহণ করলেন। কোষাধ্যক্ষ যখন এটি দেখলেন, তখন তিনি বললেন, আমিরুল মুমিনিনই অধিক অবগত যে বায়তুল মালের ওপর কাকে কর্তৃত্ব প্রদান করা উচিত।

‌‌উমরকে যারা 'জমিনে আল্লাহর খলিফা' বলে সম্বোধন করত তাদের প্রতি তাঁর উত্তর

 

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি তাঁকে ডেকে বলল, হে জমিনে আল্লাহর খলিফা! তখন উমর তাকে বললেন, থামো! আমি তো...