(খণ্ড: ১) সীরাতুল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল - লিইবনিহী সালিহ (পৃষ্ঠা: -)
سيرة الإمام أحمد بن حنبل - لابنه صالح   (صالح بن أحمد)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: سيرة الإمام أحمد بن حنبل

المؤلف: صالح بن الإمام أحمد بن محمد بن حنبل الشيبانيّ البغدادي، أبو الفضل (ت 265هـ)

المحقق: الدكتور فؤاد عبد المنعم أحمد

الناشر: دار الدعوة - الاسكندرية

الطبعة: الثانية، 1404هـ

عدد الصفحات: 129

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের জীবনী - তাঁর পুত্র সালিহ রচিত   (সালিহ বিন আহমাদ)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


বই: ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের জীবনী

লেখক: সালিহ বিন ইমাম আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাম্বল আশ-শায়বানি আল-বাগদাদি, আবুল ফজল (মৃত্যু ২৬৫ হিজরি)

সম্পাদক: ডক্টর ফুয়াদ আব্দুল মুনইম আহমাদ

প্রকাশক: দারুদ দাওয়াহ - আলেকজান্দ্রিয়া

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪০৪ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৯

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) সীরাতুল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল - লিইবনিহী সালিহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
- ذكر مولد أبي عبد الله أَحْمد بن حَنْبَل رحمه الله

ومبلغ سنه يَوْم توفّي

أخبرنَا الْأُسْتَاذ الإِمَام شيخ الْإِسْلَام أَبُو عُثْمَان إِسْمَاعِيل بن عبد الرَّحْمَن الصَّابُونِي النَّيْسَابُورِي رضي الله عنه

قدم علينا دمشق فِي رَجَب سنة اثْنَيْنِ وَثَلَاثِينَ وَأَرْبَعمِائَة قَالَ أخبرنَا أَبُو مُحَمَّد الْحسن بن أَحْمد الشَّيْبَانِيّ الْمَعْرُوف بالمخلدي رضي الله عنه فِي سنة سبع وَثَمَانِينَ وثلمائة قَالَ أخبرنَا أَبُو بكر عبد الله بن مُحَمَّد بن مُسلم الأسفراييني قِرَاءَة عَلَيْهِ قَالَ حَدثنَا أَبُو الْفضل صَالح بن أَحْمد بن حَنْبَل

قَالَ سَمِعت أبي يَقُول ولدت فِي سنة أَربع وَسِتِّينَ وَمِائَة فِي أَولهَا فِي ربيع الأول وَجِيء بِي حمل من مرو وَتُوفِّي أَبوهُ مُحَمَّد بن حَنْبَل
আবু আব্দুল্লাহ আহমদ বিন হাম্বল (রহিমাহুল্লাহ)-এর জন্ম এবং তাঁর ইন্তেকালের সময় তাঁর বয়সের বর্ণনা

উস্তায, ইমাম, শায়খুল ইসলাম আবু উসমান ইসমাইল বিন আব্দুর রহমান আস-সাবুনী আন-নাইসাবুরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন

তিনি চারশত বত্রিশ হিজরী সনের রজব মাসে দামেস্কে আমাদের নিকট আগমন করেন। তিনি বলেন, আবু মুহাম্মদ আল-হাসান বিন আহমদ আশ-শায়বানী—যিনি আল-মুখাল্লাদী নামে পরিচিত (রাদিয়াল্লাহু আনহু)—তিনশত সাতাশি হিজরী সনে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন মুসলিম আল-আসফরাইনী তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আবুল ফজল সালেহ বিন আহমদ বিন হাম্বল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন

তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: "আমি একশত চৌষট্টি হিজরী সনের শুরুর দিকে রবিউল আউয়াল মাসে জন্মগ্রহণ করেছি। আমাকে গর্ভস্থ অবস্থায় মার্ভ থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল।" এবং তাঁর পিতা মুহাম্মদ বিন হাম্বল ইন্তেকাল করেছেন।
(খণ্ড: ১) সীরাতুল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল - লিইবনিহী সালিহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
وَله ثَلَاثُونَ سنة فوليته أمه

قَالَ أَبُو الْفضل قَالَ أبي وَكَانَ قد ثقبت أُذُنِي أُمِّي رَحْمَة الله عَلَيْهَا تصير فِيهَا حبتا لُؤْلُؤ فَلَمَّا ترعرعت نزعتها فَكَانَت عِنْدهَا فدفعتها إِلَيّ فبعتها بِنَحْوِ ثَلَاثِينَ درهما

قَالَ أَبُو الْفضل توفّي أبي رحمه الله فِي يَوْم الْجُمُعَة لثَلَاثَة عشرَة لَيْلَة خلت من شهر ربيع الأول من سنة إِحْدَى وَأَرْبَعين وَمِائَتَيْنِ فَكَانَ سنه من يَوْم ولد إِلَى أَن توفّي سَبْعَة وَسبعين رَحْمَة الله عَلَيْهِ

ثمَّ قَالَ أَبُو الْفضل وجدت فِي بعض كتب أبي نسبه

أَحْمد بن مُحَمَّد بن حَنْبَل بن هِلَال بن أَسد بن إِدْرِيس بن عبد الله بن حَيَّان بن عبد الله بن أنس بن عَوْف بن قاسط بن مَازِن بن شَيبَان بن ذهل بن ثَعْلَبَة بن عكابة بن صَعب بن عَليّ بن بكر وَائِل بن قاسط بن وهب بن أفصي بن دعمي بن جديلة بن أَسد بن ربيعَة بن نزار بن معد بن عدنان بن أد بن أدد بن الهميسع بن النبت بن قيذار بن إِسْمَاعِيل بن إِبْرَاهِيم صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
এবং তাঁর বয়স তখন ত্রিশ বছর, তখন তাঁর মাতা তাঁর অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছিলেন।

আবুল ফজল বলেন, আমার পিতা বলেছেন: আমার মা (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) আমার কান ছিদ্র করে দিয়েছিলেন এবং তাতে দুটি মুক্তা পরিয়ে দিয়েছিলেন। যখন আমি বড় হলাম, তখন সেগুলো খুলে ফেললাম। সেগুলো তাঁর কাছেই ছিল, অতঃপর তিনি সেগুলো আমাকে দিয়ে দিলেন এবং আমি তা প্রায় ত্রিশ দিরহামে বিক্রি করলাম।

আবুল ফজল বলেন, আমার পিতা (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) ২৪১ হিজরি সালের রবিউল আউয়াল মাসের তেরো দিন অতিবাহিত হওয়ার পর জুমাবারে ইন্তেকাল করেন। তাঁর জন্মের দিন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর বয়স ছিল সাতাত্তর বছর। আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন।

অতঃপর আবুল ফজল বলেন, আমি আমার পিতার কিছু কিতাবে তাঁর বংশপরিচয় পেয়েছি:

আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল বিন হিলাল বিন আসাদ বিন ইদরিস বিন আবদুল্লাহ বিন হাইয়ান বিন আবদুল্লাহ বিন আনাস বিন আউফ বিন কাসিত বিন মাজিন বিন শায়বান বিন যুহল বিন সা’লাবা বিন উকাবা বিন সা’ব বিন আলী বিন বকর ওয়াইল বিন কাসিত বিন ওয়াহাব বিন আফসা বিন দু’মি বিন জাদিলা বিন আসাদ বিন রাবিআ বিন নিজার বিন মা’দ বিন আদনান বিন আদ বিন আদাদ বিন আল-হামায়সা’ বিন আন-নাবিত বিন কাইদার বিন ইসমাইল বিন ইব্রাহিম (তাঁদের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)।
(খণ্ড: ১) সীরাতুল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল - লিইবনিহী সালিহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
-‌‌ تَارِيخ طلب أبي عبد الله الحَدِيث

قَالَ سَمِعت صَالح يَقُول قَالَ أبي طلبت الحَدِيث وَأَنا ابْن سِتّ عشرَة سنة

قَالَ أبي وَمَات هشيم وَأَنا ابْن عشْرين سنة وَأَنا أحفظ مَا سَمِعت مِنْهُ وَلَقَد جَاءَ إِنْسَان إِلَى بَاب ابْن عَلَيْهِ وَمَعَهُ كتب هشيم فَجعل يلقيها عَليّ وَأَنا أَقُول هَذَا إِسْنَاده كَذَا فجَاء المعيطي وَكَانَ يحفظ فَلت لَهُ أجبه فِيهَا فَبَقيَ وَأعرف من حَدِيثه مَا لم أسمع

وَخرجت إِلَى الْكُوفَة - سنة مَاتَ فِيهَا هشيم - سنة ثَلَاث وَثَمَانِينَ وَمِائَة وَهِي أول سنة سَافَرت فِيهَا وَقدم عِيسَى بن يُونُس الْكُوفَة بعدِي بأيام سنة ثَلَاثَة وَثَمَانِينَ وَلم يحجّ بعْدهَا
আবু আবদুল্লাহর হাদিস অন্বেষণের ইতিহাস

তিনি বলেন, আমি সালেহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমার পিতা বলেছেন: আমি যখন ষোল বছর বয়সের তখন থেকে হাদিস অন্বেষণ শুরু করি।

আমার পিতা বললেন: হুশাইম যখন মারা যান তখন আমার বয়স বিশ বছর এবং আমি তাঁর থেকে যা কিছু শুনেছি তা আমার মুখস্থ ছিল। জনৈক ব্যক্তি ইবনে উলাইয়্যাহর দরজায় আসলেন এবং তাঁর সাথে হুশাইমের কিতাবসমূহ ছিল। তিনি সেগুলো আমাকে শোনাতে লাগলেন আর আমি বলছিলাম, "এটির সনদ এমন"। এরপর মুআইতী আসলেন এবং তিনি হাদিস মুখস্থ রাখতেন। আমি তাঁকে বললাম, "আপনি তাঁকে এসবের উত্তর দিন।" অতঃপর তিনি থেকে গেলেন। আর আমি তাঁর (হুশাইমের) সেই সব হাদিসও চিনতাম যা আমি (সরাসরি) শুনিনি।

আর আমি কুফার উদ্দেশ্যে বের হলাম—যে বছর হুশাইম মারা যান—অর্থাৎ একশত তিরাশি হিজরিতে। আর এটিই ছিল আমার প্রথম সফরের বছর। ঈসা ইবনে ইউনুস আমার কয়েকদিন পর একশত তিরাশি হিজরিতে কুফায় আসলেন এবং এরপর তিনি আর হজ করেননি।
(খণ্ড: ১) সীরাতুল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল - লিইবনিহী সালিহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
قَالَ وَأول خرجَة خرجتها إِلَى الْبَصْرَة سنة سِتّ وَثَمَانِينَ قلت لَهُ أَي سنة جرحت إِلَى سُفْيَان بن عُيَيْنَة

قَالَ فِي سنة سبع وَثَمَانِينَ قدمناها وَقد مَاتَ فُضَيْل بن عِيَاض

وَهِي أول سنة حججْت وَسنة إِحْدَى وَتِسْعين سنة حج الْوَلِيد بن مُسلم وَفِي سنة سِتّ وَتِسْعين وأقمت سنة سبع وَتِسْعين وَخرجت سنة ثَمَان وَتِسْعين وأقمت سنة تسع وَتِسْعين عِنْد عبد الرَّزَّاق وجاءنا موت سُفْيَان وَيحيى بن سعيد وَعبد الرَّحْمَن بن مهْدي سنة ثَمَان وَتِسْعين

قَالَ أبي وَلَو كَانَ عِنْدِي خَمْسُونَ درهما كنت قد خرجت إِلَى جرير
তিনি বললেন, "আমি প্রথমবার বসরার উদ্দেশ্যে ছিয়াশি সনে বের হয়েছিলাম।" আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, "আপনি কোন বছর সুফইয়ান ইবন উয়ায়নার নিকট গিয়েছিলেন?"

তিনি বললেন, "সাতাশি সনে আমরা সেখানে পৌঁছেছিলাম, আর তখন ফুদ্বাইল ইবন ইয়াদ মৃত্যুবরণ করেছিলেন।"

সেটিই ছিল আমার প্রথম হজের বছর। আর একানব্বই সনে ওয়ালিদ ইবন মুসলিম হজ করেছিলেন। আমি ছিয়ানব্বই সনে (সফরে) বের হয়েছিলাম, সাতানব্বই সনে সেখানে অবস্থান করেছিলাম, আটানব্বই সনে প্রস্থান করেছিলাম এবং নিরানব্বই সনে আমি আব্দুর রাজ্জাকের নিকট অবস্থান করেছিলাম। আর আটানব্বই সনেই আমাদের নিকট সুফইয়ান, ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ এবং আব্দুর রহমান ইবন মাহদীর মৃত্যুর সংবাদ পৌঁছেছিল।

আমার পিতা বললেন, "যদি আমার নিকট পঞ্চাশ দিরহাম থাকত, তবে আমি অবশ্যই জারীরের নিকট যেতাম।"
(খণ্ড: ১) সীরাতুল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল - লিইবনিহী সালিহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
بن عبد الحميد إِلَى الرّيّ فَخرج بعض أَصْحَابنَا وَلم يمكني الْخُرُوج لِأَنَّهُ لم يكن عِنْدِي

قَالَ أبي وَخرجت إِلَى الْكُوفَة فَكنت فِي بَيت تَحت رَأس لبنة فحممت فَرَجَعت إِلَى أُمِّي رَحمهَا الله وَلم أكن استأذنتها

وَقَالَ وَحَجَجْت خمس حجج ثَلَاثَة راجل أنفقت فِي إِحْدَى هَذِه الْحجَج ثَلَاثِينَ درهما

قَالَ وَأول سَمَاعي من هشيم سنة تسع وَسبعين وَكَانَ ابْن الْمُبَارك قدم فِي هَذِه السّنة وَهِي آخر قدمة قدمهَا وَذَهَبت إِلَى مَجْلِسه فَقَالُوا قد خرج إِلَى طرسوس وَتُوفِّي سنة أحدى وَثَمَانِينَ

قَالَ وَكنت عَن هشيم سنة تسع وَسبعين إِلَّا أَنِّي لم أعْتَمد بعض سَمَاعي ولزمناه سنة ثَمَانِينَ وَإِحْدَى وَثَمَانِينَ وثنتين وَثَلَاث
বিন আব্দুল হামিদ রায়-এর অভিমুখে যাত্রা করলেন। আমাদের কিছু সঙ্গী বের হলেন, কিন্তু আমার পক্ষে বের হওয়া সম্ভব হলো না কারণ আমার নিকট [পাথেয়] ছিল না।

আমার পিতা বললেন, আমি কুফার উদ্দেশ্যে বের হলাম। আমি সেখানে এমন এক ঘরে ছিলাম যেখানে মাথার নিচে কেবল একটি ইট ছিল। অতঃপর আমি জ্বরাক্রান্ত হলাম এবং আমার মায়ের নিকট ফিরে আসলাম—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—অথচ আমি তাঁর নিকট হতে অনুমতি গ্রহণ করিনি।

তিনি বললেন, আমি পাঁচবার হজ করেছি যার মধ্যে তিনবার ছিল পদব্রজে। এই হজগুলোর একটিতে আমি মাত্র ত্রিশ দিরহাম ব্যয় করেছি।

তিনি বললেন, হুশাইমের নিকট হতে আমার প্রথম শ্রবণ শুরু হয় একশত উনআশি হিজরি সনে। সে বছর ইবনুল মুবারক আগমন করেছিলেন এবং সেটিই ছিল তাঁর শেষ আগমন। আমি তাঁর মজলিসে গেলাম, কিন্তু তারা জানালো যে তিনি তারসুসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গেছেন। তিনি একশত একাশি হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

তিনি বললেন, আমি একশত উনআশি হিজরিতে হুশাইমের নিকট ছিলাম, তবে সে সময়ের কিছু শ্রবণের ওপর আমি নির্ভর করিনি। অতঃপর আমরা একশত আশি, একাশি, বিরাশি ও তিরাশি হিজরি সাল পর্যন্ত তাঁর সান্নিধ্যে নিরবচ্ছিন্নভাবে ছিলাম।
(খণ্ড: ১) সীরাতুল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল - লিইবনিহী সালিহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وَمَات فِي سنة ثَلَاث وَثَمَانِينَ فكتبنا عَنهُ كتاب الْحَج نَحْو من ألف حَدِيث وَبَعض التَّفْسِير وَالْقَضَاء وكتبا صغَارًا قلت يكون ثَلَاثَة آلَاف قَالَ أَكْثَرهم

سَمِعت صَالح قَالَ سَمِعت أبي يَقُول صليت خلف إِبْرَاهِيم بن سعد غير مرّة فَكَانَ يسلم وَاحِدَة ورأني يَوْمًا وَأَنا أكتب فِي الألواح فَقَالَ تكْتب

سَمِعت صَالح يَقُول قلت لأبي يكون فِي الحَدِيث قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَيَجْعَلهُ الْإِنْسَان قَالَ النَّبِي عليه السلام قَالَ أَرْجُو أَلا يكون بِهِ بَأْس

قلت الشَّيْخ يزْعم الْحَرْف يعرف انه كَذَا وَكَذَا فَلَا يفهم عَنهُ ترى أَن يرْوى ذَلِك عَنهُ قَالَ أَرْجُو أَلا يضيق هَذَا

قلت الْكتاب قد طَال على الْإِنْسَان عَهده لَا يعرف بعض حُرُوفه فيجيز بعض أَصْحَابه مَا ترى فِي ذَلِك قَالَ أَن كَانَ يعلم أَنه كَمَا فِي الْكتاب فَلَيْسَ بِهِ باس
তিনি তিরাশি হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। আমরা তাঁর নিকট থেকে হজ্জের কিতাব লিখেছি যা প্রায় এক হাজার হাদিস সম্বলিত ছিল, এছাড়াও কিছু তাফসির, বিচার বিভাগীয় মাসআলা এবং কিছু ছোট ছোট কিতাব লিখেছি। আমি বললাম, এগুলো (সব মিলিয়ে) তিন হাজার হবে। তিনি বললেন, তাদের অধিকাংশই।

আমি সালেহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: আমি ইবরাহিম ইবনে সা'দের পেছনে একাধিকবার সালাত আদায় করেছি, তিনি একটি মাত্র সালাম ফেরাতেন। একদিন তিনি আমাকে তখতির ওপর লিখতে দেখে বললেন, "তুমি কি লিখছ?"

আমি সালেহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে বললাম: হাদিসের পাঠে আছে "আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন", কিন্তু কোনো ব্যক্তি সেটাকে পরিবর্তন করে "নবী (আলাইহিস সালাম) বলেছেন" হিসেবে উল্লেখ করল। তিনি বললেন: আমি আশা করি এতে কোনো দোষ নেই।

আমি বললাম: শায়খ কোনো একটি শব্দের ব্যাপারে দাবি করেন এবং জানা যায় যে সেটি এমন এবং এমন, কিন্তু তাঁর কাছ থেকে সেটি যথাযথভাবে বোঝা যায় না; আপনি কি মনে করেন যে তা তাঁর পক্ষ থেকে বর্ণনা করা যাবে? তিনি বললেন: আমি আশা করি বিষয়টি নিয়ে কড়াকড়ি হবে না।

আমি বললাম: কোনো কিতাব কোনো ব্যক্তির কাছে দীর্ঘকাল থাকার কারণে সে তার কিছু অক্ষর চিনতে পারছে না, এমতাবস্থায় তার কোনো সাথী তা অনুমোদন করল; এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন: যদি সে নিশ্চিতভাবে জানে যে এটি কিতাবে থাকা পাঠের অনুরূপ, তবে এতে কোনো দোষ নেই।
(খণ্ড: ১) সীরাতুল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল - লিইবনিহী সালিহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
- مَا ذكر من أَخْلَاق أبي عبد الله رضي الله عنه

سَمِعت صَالح يَقُول كَانَ أبي إِذا أَرَادَ الْوضُوء للصَّلَاة لم يدع أحدا يَسْتَقِي لَهُ المَاء كَانَ هُوَ يَسْتَقِي بِيَدِهِ

وَكنت اسْمَعْهُ كثيرا يَتْلُو سُورَة الْكَهْف

وَكنت رُبمَا اعتللت فَيَأْخُذ قدحا فِيهِ مَاء فَيقْرَأ فِيهِ ثمَّ يَقُول لي اشرب مِنْهُ واغسل وَجهك ويديك

- وَكَانَ رُبمَا خرج إِلَى الْبَقَّال يَشْتَرِي الحزمه من الْحَطب وَالشَّيْء فيحمله

وَجَاء يَوْمًا ليتنور وَعِنْدِي رجل ضَرِير يقْرَأ فَأخْبرت أَنه قعد هنيهة يستمع

وَكَانَ يبيت عِنْدِي كثيرا قوم فيهم من يقْرَأ ويغير فيبلغه ذَلِك فَلَا يَقُول شَيْئا
- আবু আব্দুল্লাহর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) চরিত্র ও মাধুর্য সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে

আমি সালেহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমার পিতা যখন নামাযের ওযুর ইচ্ছা করতেন, তখন কাউকে তাঁর জন্য পানি তুলে দেওয়ার অনুমতি দিতেন না; বরং তিনি স্বহস্তে পানি তুলে নিতেন।

আমি তাঁকে প্রায়ই সূরা আল-কাহাফ তিলাওয়াত করতে শুনতাম।

আমি কখনো অসুস্থ হলে তিনি একটি পানির পাত্র নিতেন এবং তাতে (কিছু আয়াত) পাঠ করতেন, অতঃপর আমাকে বলতেন: "এ থেকে পান করো এবং তোমার মুখমণ্ডল ও হাত ধৌত করো।"

- কখনো কখনো তিনি মুদিদোকানে গিয়ে এক আঁটি জ্বালানি কাঠ বা অন্য কিছু কিনতেন এবং নিজেই তা বহন করে নিয়ে আসতেন।

একদিন তিনি নূরা (লোমনাশক দ্রব্য) ব্যবহারের উদ্দেশ্যে এলেন, তখন আমার কাছে একজন অন্ধ ব্যক্তি কুরআন তিলাওয়াত করছিলেন; আমাকে জানানো হলো যে, তিনি কিছুক্ষণ বসে তা শুনেছেন।

প্রায়ই আমার কাছে এমন সব লোক রাত যাপন করতেন যাদের মধ্যে কেউ কেউ তিলাওয়াত করতেন এবং (তাতে) পরিবর্তন ঘটাতেন; তাঁর কাছে এ সংবাদ পৌঁছালে তিনি কিছু বলতেন না।
(খণ্ড: ১) সীরাতুল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল - লিইবনিহী সালিহ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
قَالَ ورأيته يَوْم الْجُمُعَة وَالْإِمَام يخْطب وَسَائِل يسْأَل وَكَانَ إِلَى جنب أبي رجل وَكَانَ السَّائِل مِمَّا يَلِي أبي فَأَوْمأ الرجل وَفِي يَده قِطْعَة إِلَى أبي ليأخذها ويعطيها السَّائِل فَلم يَأْخُذهَا من الرجل

وَكَانَ رُبمَا ركع فِي الْمَسْجِد يَوْم الْجُمُعَة وَرُبمَا انْصَرف فَيصَلي فِي بعض الْمَسَاجِد

ومضيت مَعَه يَوْم جُمُعَة إِلَى مَسْجِد الْجَامِع فَوَافَقت النَّاس وَانْصَرفُوا

فَدخل أبي الْمَسْجِد وَكَانَ مَعنا إِبْرَاهِيم بن هاني النيسأبوري فَتقدم أبي فصلى بِنَا الظّهْر أَرْبعا

قَالَ قد فعله بن مَسْعُود بعلقمه والاسود

أخبرنَا المخلدي قَالَ أخبرنَا الاسفرايني الاسفراني قَالَ حَدثنَا صَالح
তিনি বলেন, আমি জুমার দিনে তাঁকে দেখেছি যখন ইমাম খুতবা দিচ্ছিলেন এবং এক যাচক যাচনা করছিল। আমার পিতার পাশে এক ব্যক্তি ছিলেন এবং যাচকটি ছিল আমার পিতার পার্শ্ববর্তী দিকে। সেই ব্যক্তিটি তার হাতে একটি টুকরা নিয়ে আমার পিতার দিকে ইশারা করলেন যেন তিনি তা গ্রহণ করেন এবং যাচকটিকে দিয়ে দেন। কিন্তু তিনি সেই ব্যক্তির নিকট থেকে তা গ্রহণ করলেন না।

তিনি কখনো জুমার দিনে মসজিদে নফল নামাজ আদায় করতেন, আবার কখনো ফিরে গিয়ে অন্য কোনো মসজিদে নামাজ আদায় করতেন।

এক জুমার দিনে আমি তাঁর সাথে জামে মসজিদে গেলাম, কিন্তু গিয়ে দেখলাম যে মানুষ নামাজ শেষ করে ফিরে যাচ্ছে।

অতঃপর আমার পিতা মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং আমাদের সাথে ইবরাহিম বিন হানি আন-নিসাবুরি ছিলেন। আমার পিতা সামনে এগিয়ে গেলেন এবং আমাদের নিয়ে চার রাকাত জোহরের নামাজ পড়লেন।

তিনি বললেন, ইবনে মাসউদ (রা.) আলক্বামাহ ও আসওয়াদের সাথে এরূপ করেছিলেন।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-মুখাল্লাদি, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-ইসফিরাইনি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সালিহ।
(খণ্ড: ১) সীরাতুল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল - লিইবনিহী সালিহ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
قَالَ حَدثنِي أبي قَالَ حَدثنَا عبد الرَّحْمَن بن مهدى عَن سُفْيَان عَن الْحسن بن عبيد الله قَالَ فاتتنى الْجُمُعَة وَأَنا وذر فصلينا فِي جمَاعَة قَالَ فَذكرت ذَاك لإِبْرَاهِيم فَقَالَ قد فعله ابْن مَسْعُود بعلقمة وَالْأسود يَوْم الْجُمُعَة

قَالَ المخلدي قَالَ أَبُو بكر الاسفرايني سَأَلت إِبْرَاهِيم بن هاني عَن هَذَا فَقلت فاتتكم الْجُمُعَة مَعَ احْمَد فصلى بكم أَرْبعا قَالَ نعم

واخبرنا الاسفرايني قَالَ حَدثنَا صَالح قَالَ حَدثنِي أبي قَالَ حَدثنَا عبد الرَّزَّاق قَالَ اُخْبُرْنَا سُفْيَان عَن الْحسن بن عبيد الله قَالَ صليت أَنا وذر فأمنى وفاتتنا الْجُمُعَة فَسَأَلت إِبْرَاهِيم فَقَالَ قد فعل ذَلِك عبد الله بعلقمة وَالْأسود

قَالَ سُفْيَان وانما فعلته أَنا وَالْأَعْمَش

قَالَ أبي وَقد فعله اياس بن مُعَاوِيَة وَهُوَ قَاضِي الْبَصْرَة اُخْبُرْنَا المخلدي قَالَ اُخْبُرْنَا الاسفرايني قَالَ حَدثنَا صَالح قَالَ
তিনি বলেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী আমাদের নিকট সুফিয়ান থেকে, তিনি হাসান ইবনে উবাইদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার এবং যারর-এর জুমুআ ছুটে গিয়েছিল, তাই আমরা জামাতের সাথে সালাত আদায় করলাম। তিনি বলেন: আমি ইব্রাহিমকে বিষয়টি জানালাম, তখন তিনি বললেন: ইবনে মাসউদ জুমুআর দিনে আলকামা এবং আসওয়াদের সাথে এমনটিই করেছিলেন।

আল-মুখাল্লাদী বলেন, আবু বকর আল-ইসফারাইনী বলেন: আমি ইব্রাহিম ইবনে হানিকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম এবং বললাম: আপনাদের কি আহমাদের সাথে জুমুআ ছুটে গিয়েছিল এবং তিনি আপনাদের নিয়ে চার রাকাত সালাত আদায় করেছিলেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ।

ইসফারাইনী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, সালিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আব্দুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সুফিয়ান হাসান ইবনে উবাইদুল্লাহ থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি এবং যারর সালাত আদায় করলাম এবং সে আমার ইমামতি করল যখন আমাদের জুমুআ ছুটে গিয়েছিল। এরপর আমি ইব্রাহিমকে জিজ্ঞাসা করলাম, তখন তিনি বললেন: আবদুল্লাহ আলকামা ও আসওয়াদের সাথে এমনটিই করেছিলেন।

সুফিয়ান বলেন: আমি এবং আমাশও এমনটি করেছি।

আমার পিতা বলেন: ইয়াস ইবনে মুয়াবিয়াও এমনটি করেছেন যখন তিনি বসরার বিচারক ছিলেন। আল-মুখাল্লাদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, ইসফারাইনী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, সালিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) সীরাতুল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল - লিইবনিহী সালিহ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
حَدثنِي أبي قَالَ حَدثنَا زيد بن الْحباب قَالَ اخبرني حميد بن عُبَيْدَة قَالَ جِئْت إِلَى الْمَسْجِد يَوْم الْجُمُعَة فَوجدت النَّاس قد صلوا وَجَاء اياس وَهُوَ يَوْمئِذٍ قَاضِي الْبَصْرَة قَالَ فصلى بِنَا فِي الْمَسْجِد فِي الزاوية فَتقدم فصلى بِنَا فِي جمَاعَة

وَقَالَ أبي وَصلى سُوَيْد بن غَفلَة وَقد فَاتَتْهُ الْجُمُعَة فصلى الظّهْر فِي جمَاعَة

وَقَالَ صَالح فَحَدَّثَنِيهِ بِهِ أبي قَالَ حَدثنَا عبد الرَّحْمَن بن مهْدي عَن أبي عوانه عَن بعض أَصْحَابه أَن سُوَيْد بن غَفلَة فَاتَتْهُ الْجُمُعَة فَصنعَ مثل ذَلِك

سَمِعت صَالح يَقُول وَحَضَرت مَعَ أبي عِنْد إِبْرَاهِيم بن اللَّيْث صَاحب الاشجعي وَحضر عَليّ بن الْمَدِينِيّ وعباس الْعَنْبَري وَجَمَاعَة وَكثير من أهل الحَدِيث فَنُوديَ بِصَلَاة الظّهْر فَسَمِعُوا النداء فَقَالَ لَهُ يَا أَبَا عبد الله تخرج من الْمَسْجِد أَو نصلي هَا هُنَا

فَقَالَ نَحن جمَاعَة نصلي هَا هُنَا فصلوا

وَرَأَيْت أبي وَقد توفّي عَم لَهُ يُقَال لَهُ عبد الله بن حَنْبَل فَلَمَّا حنط
আমার পিতা আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, যায়েদ ইবনুল হুবাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, হুমাইদ ইবনে উবাইদাহ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আমি জুমার দিনে মসজিদে আসলাম এবং দেখলাম যে মানুষ সালাত আদায় করে ফেলেছে। এমতাবস্থায় ইয়াস আসলেন, তিনি তখন বসরার বিচারক ছিলেন। তিনি মসজিদের এক কোণে আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। তিনি সামনে গিয়ে জামাতের সাথে আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন।

আমার পিতা আরও বলেছেন, সুওয়াইদ ইবনে গাফালার জুমার সালাত ছুটে গিয়েছিল, ফলে তিনি জামাতের সাথে জোহরের সালাত আদায় করেছিলেন।

সালিহ বলেছেন, আমার পিতা এটি আমাকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, আব্দুর রহমান ইবনে মাহদি আমাদের নিকট আবু আওয়ানাহ থেকে, তিনি তাঁর জনৈক সাথীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, সুওয়াইদ ইবনে গাফালার জুমার সালাত ছুটে গিয়েছিল, তখন তিনি অনুরূপ কাজই করেছিলেন।

আমি সালিহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি আমার পিতার সাথে আশজায়ীর সাথী ইব্রাহিম ইবনুল লাইসের নিকট উপস্থিত ছিলাম। সেখানে আলী ইবনুল মাদিনী, আব্বাস আল-আনবারী এবং একদল লোক ও বহু হাদিস বিশারদ উপস্থিত ছিলেন। এমতাবস্থায় জোহরের সালাতের আজান দেওয়া হলো। তারা আজান শুনতে পেয়ে তাকে বললেন: হে আবু আব্দুল্লাহ! আপনি কি মসজিদ থেকে বের হবেন, নাকি আমরা এখানেই সালাত আদায় করব?

তিনি বললেন: আমরা একটি জামাত, আমরা এখানেই সালাত আদায় করব। অতঃপর তারা সালাত আদায় করলেন।

আমি আমার পিতাকে দেখেছি, যখন তাঁর এক চাচা ইন্তেকাল করলেন যাকে আব্দুল্লাহ ইবনে হাম্বল বলা হতো, অতঃপর যখন তাঁকে সুগন্ধি মাখানো হলো...
(খণ্ড: ১) সীরাতুল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল - লিইবনিহী সালিহ (পৃষ্ঠা: ৩৯)
وكفن قبل جَبهته قبل أَن يغطى وَجهه وَكَانَ إِذا شهد جَنَازَة يقدم أمامها أَو يكون قَرِيبا مِنْهَا وَقَالَ يتقدمها احب الي

حَدثنَا صَالح قَالَ حَدثنِي أبي قَالَ حَدثنَا عبد الرَّزَّاق قَالَ حَدثنَا معمر عَن الزُّهْرِيّ أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَأَبا بكر وَعمر كَانُوا يَمْشُونَ بَين يَدي الْجِنَازَة

قَالَ الزُّهْرِيّ واخبرني سَالم أَن أَبَاهُ كَانَ يمشي بَين يَديهَا حَدثنَا صَالح قَالَ حَدثنَا حجاج قَالَ حَدثنَا لَيْث قَالَ حَدثنِي عقيل بن خَالِد عَن شهَاب أَن سَالم بن عبد الله اخبره أَن عبد الله بن عمر كَانَ يمشي بَين يَدي الْجِنَازَة وَأَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كَانَ يمشى بَين يَدي الْجِنَازَة وَأَبُو بكر وَعمر وَعُثْمَان رضوَان الله عَلَيْهِم

حَدثنَا صَالح قَالَ وحَدثني أبي قَالَ حَدثنَا حجاج قَالَ قَرَأت على بن جريح قَالَ اخبرني أَن أبن شهَاب حَدثهُ قَالَ حَدثنِي سَالم عَن عبد الله ابْن عمرانه كَانَ يمشي بَين يَدي الْجِنَازَة وَقد كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَأَبُو بكر وَعمر وَعُثْمَان يَمْشُونَ أمامها
এবং তাঁর মুখমণ্ডল আবৃত করার পূর্বে কপাল আবৃত করা হয়েছিল। তিনি যখন কোনো জানাজায় উপস্থিত হতেন, তখন তার সামনে অগ্রসর হতেন অথবা জানাজার নিকটবর্তী থাকতেন এবং তিনি বলতেন, জানাজার সামনে চলা আমার নিকট অধিক প্রিয়।

সালেহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবদুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মা'মার যুহরি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আবু বকর এবং উমর জানাজার সামনে দিয়ে হাঁটতেন।

যুহরি বলেন, সালেম আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁর পিতা জানাজার সামনে হাঁটতেন। সালেহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হাজ্জাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, লাইস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, উকাইল ইবনে খালিদ শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, সালেম ইবনে আব্দুল্লাহ তাঁকে অবহিত করেছেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর জানাজার সামনে হাঁটতেন এবং আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আবু বকর, উমর ও উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) জানাজার সামনে হাঁটতেন।

সালেহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হাজ্জাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি ইবনে জুরাইজের নিকট পাঠ করেছি, তিনি বলেন, ইবনে শিহাব আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, সালেম আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি জানাজার সামনে হাঁটতেন এবং নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আবু বকর, উমর ও উসমান জানাজার সামনে হাঁটতেন।
(খণ্ড: ১) সীরাতুল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল - লিইবনিহী সালিহ (পৃষ্ঠা: ৪০)
وَقَالَ أبي يرى انه مُرْسل

حَدثنَا صَالح قَالَ حَدثنِي أبي قَالَ حَدثنَا سُفْيَان عَن ابْن الْمُنْكَدر سمع ربيعَة بن عبد الله بن هدين قَالَ رَأَيْت عمر يقدم النَّاس أَمَام جَنَازَة زَيْنَب بنت جحش

قَالَ وَكَانَ أبي إِذا صلى على جَنَازَة لم يجلس حَتَّى تُوضَع السرير وَقَالَ لَا يجلس حَتَّى تُوضَع من أَعْنَاق الرِّجَال

وَكَانَ يكبر على الْجِنَازَة أَرْبعا وَيرْفَع يَدَيْهِ مَعَ كل تَكْبِيرَة وَيقْرَأ فَاتِحَة الْكتاب فِي أول تَكْبِيرَة ثمَّ يسلم تَسْلِيمَة وَاحِدَة

وَكَانَ إِذا دخل الْمقْبرَة خلع نَعْلَيْه وامسكها بِيَدِهِ

وَرُبمَا قَالَ لجارية لي مَوْلَاك فِي الْبَيْت

وَكَانَ إِذا ولد لي مَوْلُود سَمَّاهُ

وَكَانَ إِذا ولد لي ابْنة يَقُول الْأَنْبِيَاء كَانُوا أباء بَنَات
এবং আমার পিতা বললেন, তিনি মনে করেন এটি মুরসাল।

সালেহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফইয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনুল মুনকাদির থেকে, তিনি রাবীআহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হুদাইনকে বলতে শুনেছেন যে: "আমি উমর (রা.)-কে যয়নব বিনতে জাহশ-এর জানাজার সামনে লোকেদের নিয়ে অগ্রসর হতে দেখেছি।"

তিনি (সালেহ) বলেন: আমার পিতা যখন কোনো জানাজার সালাত আদায় করতেন, তখন খাটিয়া রাখা না পর্যন্ত বসতেন না। আর তিনি বলতেন: "পুরুষদের কাঁধ থেকে নামানো না হওয়া পর্যন্ত বসা যাবে না।"

তিনি জানাজায় চারটি তাকবির দিতেন এবং প্রত্যেক তাকবিরের সাথে হাত উঠাতেন। প্রথম তাকবিরের পর সূরা ফাতিহা পাঠ করতেন, এরপর একটি সালামের মাধ্যমে শেষ করতেন।

তিনি যখন কবরস্থানে প্রবেশ করতেন, তখন তাঁর জুতা জোড়া খুলে নিতেন এবং তা নিজের হাতে ধরে রাখতেন।

মাঝে মাঝে তিনি আমার এক দাসীকে বলতেন, "তোমার মালিক কি বাড়িতে আছে?"

আমার কোনো সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে তিনি তার নাম রাখতেন।

যখন আমার কোনো কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করত, তখন তিনি বলতেন: "নবীগণও কন্যাদের পিতা ছিলেন।"
(খণ্ড: ১) সীরাতুল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল - লিইবনিহী সালিহ (পৃষ্ঠা: ৪১)
وَيَقُول قد جَاءَ فِي الْبَنَات مَا قد علمت

قَالَ وَولد لي مَوْلُود فأهدى لي صديق شَيْئا ثمَّ أَتَى على ذَلِك شهر وَأَرَادَ الْخُرُوج إِلَى الْبَصْرَة فَقَالَ لي تكلم أَبَا عبد الله يكْتب لي إِلَى الْمَشَايِخ بِالْبَصْرَةِ _ فكلمته فَقَالَ لَوْلَا انه أهْدى إِلَيْك كتبت لَهُ لست اكْتُبْ لَهُ

واهدى إِلَيْهِ رجل ولد لَهُ مَوْلُود خلوان فالزوج فاهدى إِلَيْهِ سكرا بِدَرَاهِم صَالِحَة

واكل يَوْمًا فِي منزلي فاخذ لقْمَة فناولها الْخَادِم

وَكَانَ رُبمَا اخبز لَهُ فَيصير لَهُ فِي فخارة عدس وشحم

وَرُبمَا قَالَ صيروا فِيهِ ثمَّ انى شَهْرَيْن فَكَانَ إِذا أَرَادَ أَن يَأْكُل يَجِيء إِلَى الصّبيان بقضعة من ذَاك العدس فيصوت ببعضهم فيدفعه إِلَيْهِ فيضحكون وَلَا يَأْكُلُونَهُ

وَكَانَ كثيرا مَا يأتدم بالخل وَرُبمَا رايته يَأْكُل الْكسر فينفض الْغُبَار عَنْهَا ثمَّ يصيرها فِي قَصْعَة وَيصب عَلَيْهَا المَاء حَتَّى تلين ثمَّ يَأْكُلهُ بالملح وَمَا رَأَيْته قطّ اشْترى رمانا وَلَا سفرجلا وَلَا شَيْئا من الْفَاكِهَة إِلَّا أَن يَشْتَرِي بطيخة فيأكلها بالخبز أَو عنبا أَو تَمرا فَأَما غير ذَلِك فَمَا رَأَيْته وَمَا اشْتَرَاهُ

وَكُنَّا رُبمَا اشترينا الشَّيْء فنستره عَنهُ حَتَّى لَا يرَاهُ فيوبخنا على ذَلِك
তিনি বলতেন, কন্যা সন্তানদের (ফজিলত) বিষয়ে আপনি যা জানেন তা বর্ণিত হয়েছে।

তিনি বললেন, আমার একটি সন্তান ভূমিষ্ঠ হলো এবং এক বন্ধু আমাকে কিছু উপহার প্রদান করল। এরপর এক মাস অতিবাহিত হলো এবং সে বসরার উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে চাইল। সে আমাকে বলল, "আবু আব্দুল্লাহর সাথে কথা বলুন যেন তিনি বসরার মাশায়েখদের নিকট আমার জন্য (সুপারিশপত্র) লিখে দেন।" আমি তাঁর সাথে কথা বললাম। তিনি বললেন, "যদি সে আপনাকে উপহার না দিত, তবে আমি তার জন্য লিখে দিতাম; আমি তার জন্য লিখব না।"

এক ব্যক্তি যার সন্তান হয়েছিল সে তাঁকে মিষ্টান্ন উপহার দিল। অতঃপর সে তাঁকে বেশ কিছু দিরহাম মূল্যের চিনি উপহার হিসেবে প্রদান করল।

একদিন তিনি আমার বাড়িতে আহার করলেন। তিনি এক লোকমা খাবার নিলেন এবং তা খাদেমকে প্রদান করলেন।

কখনও কখনও আমি তাঁর জন্য রুটি তৈরি করতাম এবং একটি মাটির পাত্রে তাঁর জন্য ডাল ও চর্বি রাখা হতো।

কখনও তিনি বলতেন, "এর মধ্যে (চর্বি) দিন।" এভাবে দুই মাস অতিবাহিত হলো। যখনই তিনি আহার করতে চাইতেন, সেই ডালের পাত্রটি নিয়ে শিশুদের কাছে আসতেন এবং তাদের কাউকে ডেকে তা তাকে দিতেন; তারা হাসাহাসি করত কিন্তু তা আহার করত না।

তিনি প্রায়ই সিরকা দিয়ে রুটি খেতেন। আমি অনেক সময় তাঁকে দেখতাম তিনি শুকনো রুটির টুকরো নিচ্ছেন এবং তা থেকে ধুলোবালি ঝেড়ে ফেলছেন। এরপর তা একটি বড় পাত্রে রেখে তাতে পানি ঢালতেন যতক্ষণ না তা নরম হয়। অতঃপর তিনি তা লবণ দিয়ে আহার করতেন। আমি তাঁকে কখনও ডালিম, কুইন্স কিংবা অন্য কোনো ফল কিনতে দেখিনি; তবে কখনও তরমুজ কিনতেন এবং তা রুটি দিয়ে খেতেন, অথবা আঙুর কিংবা খেজুর কিনতেন। এছাড়া অন্য কিছু কিনতে আমি তাঁকে দেখিনি এবং তিনি তা কিনতেনও না।

অনেক সময় আমরা কোনো কিছু কিনতাম এবং তা তাঁর থেকে গোপন রাখতাম যেন তিনি তা দেখতে না পান, কারণ (দেখলে) তিনি আমাদের সেই বিষয়ে ভর্ৎসনা করতেন।
(খণ্ড: ১) সীরাতুল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল - লিইবনিহী সালিহ (পৃষ্ঠা: ৪২)
وَقَالَ لي إِن كَانَت والدتك فِي الغلاء تغزل غزلا رَقِيقا فتبيع الأستار بِدِرْهَمَيْنِ اقل أَو اكثر فَكَانَ ذَلِك قوتنا

وَكَانَ قَدِيما قبل أَن نَأْخُذ من السُّلْطَان يَأْكُل عندنَا وَرُبمَا وجهنا بالشَّيْء فيأكل مِنْهُ

وَدخل يَوْمًا إِلَى منزلي وَقد غَيرنَا سقفا لنا فدعاني ثمَّ أمْلى عَليّ حَدِيث الْأَحْنَف بن قيس قَالَ حَدثنَا سُلَيْمَان بن حَرْب قَالَ حَدثنَا حَمَّاد بن مسلمة عَن يُونُس عَن الْحسن قَالَ قدم الْأَحْنَف بن قيس من سفر وَقد غير أَسْقُف بَيته حمر وشقا شقّ وخضروها فَقَالُوا لَهُ أما ترى إِلَى سقف بَيْتك _ فَقَالَ معذرة إِلَيْكُم أَنِّي لم أره لَا ادخله حَتَّى تغيروه

واعتلت من عَيْني لَيْلَة فَلم يزل عِنْدِي فَقلت اللَّهُمَّ أَنِّي أَسأَلك الصَّبْر فَقَالَ سل الله الْعَافِيَة فان الصَّبْر إِنَّمَا يكون مَعَ الْبلَاء

وَكَانَ كتب إِلَى إِسْحَاق بن رَاهْوَيْةِ

فَكتب إِلَى إِسْحَاق أَن الْأَمِير عبد الله بن طَاهِر وَجه إِلَيّ

وَدخلت عَلَيْهِ وَفِي يَدي كتاب أبي عبد الله فَقَالَ مَا هَذَا الْكتاب _ فَقلت كتاب احْمَد بن حَنْبَل فَقَالَ هاته فَأَخذه فقرأه
তিনি আমাকে বললেন, যদি তোমার মা উচ্চমূল্যের সময় সূক্ষ্ম সুতা কাটতেন এবং পর্দাগুলো দুই দিরহামের কমবেশি দামে বিক্রি করতেন, তবে সেটিই ছিল আমাদের খাদ্য।

এবং আমরা সুলতানের পক্ষ থেকে কিছু গ্রহণ করার পূর্বে তিনি আমাদের নিকট আহার করতেন, আর অনেক সময় আমরা তাঁর কাছে কিছু পাঠাতাম এবং তিনি তা থেকে খেতেন।

একদিন তিনি আমার ঘরে প্রবেশ করলেন, তখন আমরা আমাদের একটি ছাদ পরিবর্তন করেছিলাম। এরপর তিনি আমাকে ডাকলেন এবং আল-আহনাফ বিন কায়সের একটি বর্ণনা আমাকে লিখিয়ে দিলেন। তিনি বলেন, সুলাইমান বিন হারব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হাম্মাদ বিন সালামাহ ইউনুস থেকে এবং তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেন যে, হাসান বলেন, আল-আহনাফ বিন কায়স এক সফর থেকে ফিরে আসলেন, তখন তাঁর ঘরের ছাদগুলো লাল, খণ্ড-খণ্ড এবং সবুজ রঙে সজ্জিত করা হয়েছিল। তারা তাঁকে বলল, আপনি কি আপনার ঘরের ছাদের দিকে তাকাচ্ছেন না? তিনি বললেন, আমি তোমাদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি যে আমি তা দেখিনি, এবং আমি এতে প্রবেশ করব না যতক্ষণ না তোমরা তা পরিবর্তন করো।

এক রাতে আমার চোখে ব্যথা হলো, তিনি সারাক্ষণ আমার কাছেই থাকলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে ধৈর্য প্রার্থনা করছি। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর কাছে সুস্থতা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করো, কারণ ধৈর্য তো বিপদের সাথেই হয়ে থাকে।

এবং তিনি ইসহাক বিন রাহওয়াইহ-এর কাছে লিখেছিলেন।

অতঃপর ইসহাক লিখলেন যে, আমির আবদুল্লাহ বিন তাহির আমার কাছে লোক পাঠিয়েছেন।

আর আমি তাঁর কাছে প্রবেশ করলাম যখন আমার হাতে আবু আবদুল্লাহর চিঠি ছিল। তিনি বললেন, এই চিঠিটি কীসের? আমি বললাম, আহমাদ বিন হাম্বলের চিঠি। তিনি বললেন, এটি দাও। এরপর তিনি এটি নিলেন এবং পাঠ করলেন।
(খণ্ড: ১) সীরাতুল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল - লিইবনিহী সালিহ (পৃষ্ঠা: ৪৩)
وَقَالَ أَنِّي لَأحبهُ واحب حَمْزَة بن هيضم اليوسنجي لانهما لَا يختلطان بِأَمْر السُّلْطَان ثمَّ قَالَ لست أمنك على هَذَا الْكتاب واخذه فَوَضعه تَحت مصلات فقرات كتاب إِسْحَاق على أبي فامسك عَن الْكتاب إِلَيْهِ

وَكَانَ يتنور فِي الْبَيْت إِلَّا انه قَالَ لي يَوْمًا وَكَانَ يَوْمًا شتويا أُرِيد ادخل الْحمام بعد الْمغرب فَقل لصَاحب الْحمام فَقلت لصَاحب الْحمام فَلَمَّا كَانَ الْمغرب فَقَالَ ابْعَثْ إِلَيْهِ أَنى قد ضربت عَن الدُّخُول وتنور فِي الْبَيْت

واردت أَن اشْترِي جَارِيَة نَصْرَانِيَّة فَقَالَ لَا تشتر نَصْرَانِيَّة

واشتريت جَارِيَة فشكت إِلَيْهِ أَهلِي فَقَالَ كنت اكره لَهُم الدُّنْيَا وَكَانَ رُبمَا بَلغنِي عنكما الشَّيْء فَقَالَت لَهُ يَا عَم وَمن يكره الدُّنْيَا غَيْرك _ فَقَالَ لَهَا فشانك إِذن
তিনি বললেন, "আমি তাকে ভালোবাসি এবং হামযা ইবনে হাইযাম আল-ইউসানজিকেও ভালোবাসি, কারণ তাঁরা সুলতানের বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হন না।" অতঃপর তিনি বললেন, "আমি এই কিতাবটির বিষয়ে তোমার ওপর আস্থা রাখতে পারছি না," এবং তিনি সেটি গ্রহণ করে তাঁর জায়নামাজের নিচে রাখলেন। এরপর আমি ইসহাকের কিতাবটি আমার পিতার সামনে পাঠ করলাম, তখন তিনি তার নিকট (প্রত্যুত্তর) পাঠাতে বিরত থাকলেন।

তিনি ঘরেই ক্ষৌরকর্ম সম্পন্ন করতেন, তবে একদিন তিনি আমাকে বললেন—আর সেটি ছিল শীতকাল—"আমি মাগরিবের পর হাম্মামে প্রবেশ করতে চাই, তুমি হাম্মাম মালিককে বলো।" আমি হাম্মাম মালিককে বললাম। এরপর যখন মাগরিবের সময় হলো, তখন তিনি বললেন, "তাকে সংবাদ পাঠিয়ে দাও যে আমি প্রবেশের সিদ্ধান্ত পরিহার করেছি," এবং তিনি ঘরেই ক্ষৌরকর্ম করলেন।

আমি একজন খ্রিষ্টান দাসী ক্রয় করতে চেয়েছিলাম, তখন তিনি বললেন, "কোনো খ্রিষ্টান দাসী ক্রয় করো না।"

অতঃপর আমি একজন দাসী ক্রয় করলাম, তখন আমার স্ত্রী তাঁর নিকট অভিযোগ করলেন। তিনি বললেন, "আমি তাদের জন্য দুনিয়াকে অপছন্দ করতাম এবং তোমাদের উভয়ের ব্যাপারে মাঝেমধ্যে আমার নিকট কিছু সংবাদ পৌঁছাতো।" তখন তিনি (আমার স্ত্রী) তাঁকে বললেন, "হে চাচা, আপনি ব্যতীত দুনিয়াকে আর কে অপছন্দ করে?" তখন তিনি তাকে বললেন, "তাহলে তোমার যা ইচ্ছা।"
(খণ্ড: ১) সীরাতুল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল - লিইবনিহী সালিহ (পৃষ্ঠা: ৪৪)
-‌‌ مَا ذكر فِي زهد أبي عبد الله رضي الله عنه

قَالَ أَبُو الْفضل دخلت يَوْمًا على أبي أَيَّام الواثق وَالله يعلم على أَي حَالَة نَحن وَقد خرج لصَلَاة الْعَصْر وَكَانَ لَهُ لبد يجلس عَلَيْهِ قد أَتَى عَلَيْهِ سِنِين كَثِيرَة حَتَّى بلَى وَإِذا تَحْتَهُ كتاب كاغد وَإِذا فِيهِ بَلغنِي يَا أَبَا عبد الله مَا أَنْت فِيهِ من الضّيق وَمَا عَلَيْك من الدّين وَقد وجهت إِلَيْك بأَرْبعَة آلَاف دِرْهَم على يَدي فلَان لِتَقضي بهَا دينك وَتوسع على عِيَالك وَمَا هِيَ من صَدَقَة وَلَا زَكَاة وانما هُوَ شَيْء ورثته من أبي فقرات الْكتاب وَوَضَعته فَلَمَّا دخل قلت لَهُ يَا أَبَت هَذَا الْكتاب _ فاحمر وَجهه وَقَالَ رفعته مِنْك ثمَّ قَالَ تذْهب بجوابه فَكتب إِلَى الرجل وصل كتابك الي وَنحن فِي عَافِيَة فَأَما الدّين فانه لرجل لَا يرهقنا واما عيالنا فهم فِي نعْمَة وَالْحَمْد لله فَذَهَبت بِالْكتاب إِلَى الرجل الَّذِي كَانَ أوصل كتاب الرجل

فَقَالَ وَيحك لَو أَن أَبَا عبد الله قبل هَذَا الشَّيْء وَرمى بِهِ مثلا فِي دجلة كَانَ مأجورا لَان هَذَا الرجل لَا يفوت لَهُ مَعْرُوف فَلَمَّا كَانَ بعد حِين ورد كتاب الرجل بِمثل ذَلِك فَرد عَلَيْهِ الْجَواب بِمثل مَا رد فَلَمَّا مَضَت
আবু আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুহদ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে

আবুল ফযল বলেন, জনৈক দিনে আমি ওয়াসিকের শাসনামলে আমার পিতার নিকট প্রবেশ করলাম; তখন আমরা কী অবস্থায় ছিলাম তা আল্লাহই ভালো জানেন। তিনি আসরের সালাতের জন্য বের হয়েছিলেন। তাঁর একটি পশমি আসন ছিল যার উপর তিনি বসতেন, যা দীর্ঘ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার ফলে জীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। হঠাৎ আমি তার নিচে একটি কাগজের পত্র দেখতে পেলাম, যাতে লেখা ছিল: "হে আবু আব্দুল্লাহ! আপনার সংকীর্ণ অবস্থা এবং ঋণের বোঝা সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। আমি অমুকের মাধ্যমে আপনার নিকট চার হাজার দিরহাম পাঠিয়েছি, যাতে আপনি আপনার ঋণ পরিশোধ করতে পারেন এবং আপনার পরিবারের সচ্ছলতা আনতে পারেন। আর এটি কোনো সদকা বা জাকাত নয়, বরং এটি এমন সম্পদ যা আমি আমার পিতার নিকট থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি।" আমি পত্রটি পড়লাম এবং তা যথাস্থানে রেখে দিলাম। অতঃপর তিনি যখন ঘরে প্রবেশ করলেন, আমি তাকে বললাম: হে পিতা, এই পত্রটি— তখন তাঁর চেহারা লাল হয়ে গেল এবং তিনি বললেন, আমি এটি তোমার থেকে লুকিয়ে রেখেছিলাম। এরপর তিনি বললেন, তুমি এর উত্তর নিয়ে যাও। অতঃপর তিনি সেই ব্যক্তির কাছে লিখলেন: "আপনার পত্র আমার নিকট পৌঁছেছে এবং আমরা কল্যাণের মধ্যেই আছি। ঋণের বিষয়টি হলো, তা এমন এক ব্যক্তির পাওনা যে আমাদের তাগাদা দেয় না। আর আমাদের পরিবার-পরিজন নেয়ামতের মাঝেই আছে, আলহামদুলিল্লাহ।" অতঃপর আমি সেই ব্যক্তির নিকট পত্রটি নিয়ে গেলাম যিনি ওই ব্যক্তির পত্রটি নিয়ে এসেছিলেন।

তিনি বললেন, "তোমার জন্য আফসোস! আবু আব্দুল্লাহ যদি এই সম্পদ গ্রহণ করতেন এবং তা দজলা নদীতে ফেলে দিতেন, তবেও তিনি সওয়াব পেতেন; কারণ এই দাতা ব্যক্তির কোনো নেক কাজই বিফলে যায় না।" কিছুক্ষণ পর সেই ব্যক্তির পক্ষ থেকে পুনরায় অনুরূপ পত্র আসল, আর তিনি এর উত্তরে আগের মতোই জবাব দিলেন। অতঃপর যখন...
(খণ্ড: ১) সীরাতুল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল - লিইবনিহী সালিহ (পৃষ্ঠা: ৪৫)
سنة اقل أَو اكثر ذَكرنَاهَا فَقَالَ لَو كُنَّا قبلناها كَانَت قد ذهبت

قَالَ وَشهِدت بن الجدري أَخُو الْحسن وَقد جَاءَهُ بعد الْمغرب فَقَالَ أَنا رجل مَشْهُور وَقد أَتَيْتُك فِي هَذَا الْوَقْت وَعِنْدِي شَيْء قد أعددته لَك فَأحب أَن تقبله وَهُوَ مِيرَاث فَلم يزل بِهِ فَلَمَّا اكثر عَلَيْهِ قَامَ وَدخل

قَالَ أَبُو الْفضل فاخترت عَن الْحسن قَالَ قَالَ لي أخي لما رَأَيْته كلما ألححت عَلَيْهِ ازْدَادَ بعدا قلت اخبروه كم هِيَ قَالَ قلت يَا أَبَا عبد الله هِيَ ثَلَاثَة آلَاف دِينَار فَقَامَ وَتَرَكَنِي

قَالَ يَوْمًا أَنا إِذا لم تكن عِنْدِي اخْرُج

فَقَالَ لَهُ أَبُو مُحَمَّد بوران عِنْدِي خف ابْعَثْ بِهِ إِلَيْك _ فَسكت فَلَمَّا عَاد إِلَيْهِ أَبُو مُحَمَّد قَالَ يَا أَبَا مُحَمَّد لَا تبْعَث بالخف فقد شغل قلبِي على

وَوجه رجل من الصين بكاغد صيني إِلَى جمَاعَة من الْمُحدثين مِنْهُم يحيى وَغَيره وَوجه بقمطر إِلَى أبي فَردهَا

وَقَالَ أبي كَانَ ابْن يحيى وَيحيى وَمَا أخرجت خُرَاسَان بعد ابْن
এক বছর, কম বা বেশি, আমরা তা উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, "যদি আমরা তা গ্রহণ করতাম, তবে তা নিঃশেষ হয়ে যেত।"

তিনি বললেন, আমি ইবনুল জাদারিকে—যিনি হাসানের ভাই—দেখলাম, তিনি মাগরিবের পর তাঁর কাছে আসলেন। তিনি বললেন, "আমি একজন সুপরিচিত ব্যক্তি, আর আমি এই সময়ে আপনার কাছে এসেছি। আমার নিকট কিছু আছে যা আমি আপনার জন্য প্রস্তুত করেছি; আমি চাই আপনি তা গ্রহণ করুন। এটি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ।" তিনি ক্রমাগত তাঁর নিকট আবেদন করতে থাকলেন। যখন তিনি খুব বেশি পীড়াপীড়ি করলেন, তখন তিনি উঠে ভেতরে চলে গেলেন।

আবু ফজল বললেন, আমি হাসান থেকে বর্ণনা করছি, তিনি বলেছেন: আমার ভাই আমাকে বললেন, "আমি যখন দেখলাম যে আমি যত বেশি জোর করছি, তিনি তত বেশি বিমুখ হচ্ছেন, তখন আমি বললাম: তাঁকে জানিয়ে দাও এর পরিমাণ কত।" তিনি (ভাই) বললেন, আমি বললাম: "হে আবু আব্দুল্লাহ, এটি তিন হাজার দিনার।" তখন তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং আমাকে ছেড়ে চলে গেলেন।

একদিন তিনি বললেন, "আমার নিকট যখন কিছু থাকে না, তখন আমি বের হয়ে যাই।"

আবু মুহাম্মদ বুরান তাঁকে বললেন, "আমার নিকট মোজা আছে, আমি কি তা আপনার নিকট পাঠিয়ে দেব?" তিনি চুপ থাকলেন। যখন আবু মুহাম্মদ পুনরায় তাঁর নিকট এলেন, তখন তিনি বললেন, "হে আবু মুহাম্মদ, মোজা পাঠাবেন না, কারণ এটি আমার অন্তরকে ব্যস্ত করে ফেলেছে।"

চীন দেশের এক ব্যক্তি একদল হাদিস বিশারদের নিকট চিনা কাগজ পাঠালেন, যাঁদের মধ্যে ইয়াহইয়া ও অন্যান্যেরা ছিলেন। তিনি আমার পিতার নিকট কিতাব রাখার একটি বাক্স পাঠালেন, কিন্তু তিনি তা ফেরত দিলেন।

আমার পিতা বললেন, "সেখানে ইবনুল ইয়াহইয়া ও ইয়াহইয়া ছিলেন, আর ইবনুল (মুবারকের) পর খুরাসান আর তেমন কাউকে বের করেনি..."
(খণ্ড: ১) সীরাতুল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল - লিইবনিহী সালিহ (পৃষ্ঠা: ৪৬)
الْمُبَارك رجلا يشبه يحيى بن يحيى - فَجَاءَنِي ابْنه فَقَالَ إِن أبي أوصى بمبطنة لَهُ لَك وَقَالَ تذكرني بهَا فَقَالَ أبي فَقلت جِيءَ بهَا فجَاء برزمة ثِيَاب فَقلت لَهُ اذْهَبْ رَحِمك الله وَقلت لأبي بَلغنِي أَن احْمَد بن الدَّوْرَقِي أعْطى ألف دِينَار فَقَالَ أَي بني ورزق رَبك خير وابقى

ذكر يَوْمًا عِنْده رجل فَقَالَ يَا بني الفائز من فَازَ غَدا وَلم يكن لَاحَدَّ عِنْده تبعة

وَذكر لَهُ ابْن أبي شيبَة وَعبد الْأَعْلَى النوسي وَمن قدم بِهِ إِلَى الْعَسْكَر من الْمُحدثين فَقَالَ إِنَّمَا كَانَت أَيَّام قَلَائِل ثمَّ تَلَاحَقُوا وَمَا بخلوا مِنْهُ بِكَثِير شَيْء

وَجئْت يَوْمًا إِلَى الْمنزل فَقيل لي قد وَجه أَبوك أمس فِي طَلَبك فَقلت وجهت فِي طلبي
আল-মুবারক ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়ার সদৃশ একজন ব্যক্তি ছিলেন। অতঃপর তাঁর পুত্র আমার নিকট এসে বলল, 'নিশ্চয়ই আমার পিতা আপনার জন্য তাঁর একটি আস্তরণযুক্ত পোশাক অসিয়ত করে গিয়েছেন এবং বলেছেন যেন আপনি এর মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করেন।' আমার পিতা বললেন, তখন আমি বললাম, 'সেটি নিয়ে এসো।' অতঃপর সে এক প্রস্থ কাপড় নিয়ে আসল। আমি তাকে বললাম, 'তুমি যাও, আল্লাহ তোমার প্রতি রহম করুন।' আমি আমার পিতাকে বললাম, 'আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, আহমাদ ইবনুদ দাওরাকিকে এক হাজার দিনার প্রদান করা হয়েছে।' তিনি বললেন, 'হে বৎস! তোমার রবের রিযিকই উত্তম ও অধিক স্থায়ী।'

একদিন তাঁর নিকট জনৈক ব্যক্তির কথা আলোচিত হলো। তখন তিনি বললেন, 'হে বৎস! সফলকাম তো সেই ব্যক্তিই যে আগামীকালের দিনে সফল হবে এবং কারো প্রতি তার কোনো দায়বদ্ধতা থাকবে না।'

তাঁর নিকট ইবনে আবি শায়বা ও আবদুল আ'লা আন-নুসী এবং মুহাদ্দিসগণের মধ্য হতে যাদেরকে সামরিক ছাউনিতে নিয়ে আসা হয়েছিল, তাদের কথা উল্লেখ করা হলো। তখন তিনি বললেন, 'সেগুলো ছিল মাত্র গুটিকয়েক দিন, অতঃপর তাঁরা একে অপরের সাথে মিলিত হয়ে গেলেন এবং তাঁরা এর কোনো কিছুতেই কার্পণ্য করেননি।'

একদিন আমি বাড়িতে আসলাম, তখন আমাকে বলা হলো, 'তোমার পিতা গতকাল তোমাকে তলব করার জন্য লোক পাঠিয়েছিলেন।' আমি বললাম, 'আমাকে তলব করার জন্য লোক পাঠিয়েছেন?'
(খণ্ড: ১) সীরাতুল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল - লিইবনিহী সালিহ (পৃষ্ঠা: ৪৭)
فَقَالَ جَاءَنِي أمس رجل كنت احب أَن ترَاهُ بَيْنَمَا أَنا قَاعد فِي نحر الظهيرة إِذا بِرَجُل يسلم بِالْبَابِ فَكَانَ قلبِي ارْتَاحَ لَهُ فَقُمْت ففتحت الْبَاب فَإِذا أَنا بِرَجُل عَلَيْهِ فَرْوَة وعَلى أم رَأسه خرقَة مَا تَحت فَرْوَة قَمِيص ولامعة ركوة وَلَا جراب وَلَا عكاز قد لوحته الشَّمْس فَقلت ادخل فَدخل للدهليز

فَقلت من أَيْن أَقبلت _

قَالَ من نَاحيَة الْمشرق أُرِيد بعض هَذِه السواحل وَلَوْلَا مَكَانك مَا دخلت هَذَا الْبَلَد إِلَّا أَنِّي نَوَيْت السَّلَام عَلَيْك قلت على هَذِه الْحَال _ قَالَ نعم ثمَّ قَالَ لي مَا الزّهْد فِي الدُّنْيَا قلت قصر الأمل قَالَ فَجعلت اعْجَبْ مِنْهُ فَقلت فِي نَفسِي وَمَا عِنْدِي ذهب وَلَا فضَّة فَدخلت الْبَيْت فَأخذت أَرْبَعَة أرغفة فَخرجت إلية فَقلت مَا عِنْدِي ذهب وَلَا فضَّة وانما هَذَا من قوتي

قَالَ أَو يَسُرك يَا أَبَا عبد الله أَن اقبل ذَلِك قَالَ قلت نعم

قَالَ فَأَخذهَا فوضعها تَحت حضنه وَقَالَ ارجوا أَن يَكْفِينِي زادا إِلَى الرقة استودعك الله

قَالَ فَلم أزل قَائِما انْظُر إِلَيْهِ إِلَى أَن خرج من الزقاق وَكَانَ يذكرهُ كثيرا

وَكنت أسمع أبي كثيرا يَقُول اللَّهُمَّ سلم سلم

حَدثنَا صَالح قَالَ فَحَدثني أبي قَالَ حَدثنَا يُونُس بن مُحَمَّد
তিনি বললেন: গতকাল আমার কাছে এমন একজন ব্যক্তি এসেছিলেন যাকে আমি চেয়েছিলাম আপনি দেখেন। যখন আমি দ্বিপ্রহরের প্রখর রোদে বসেছিলাম, তখন হঠাৎ এক ব্যক্তি দরজায় সালাম দিলেন। আমার অন্তর তার প্রতি আশ্বস্ত হলো, তাই আমি উঠে দাঁড়ালাম এবং দরজা খুললাম। দেখলাম এক ব্যক্তি, যার গায়ে একটি পশমী চাদর এবং মাথায় একটি তালি দেওয়া কাপড়। পশমী চাদরের নিচে কোনো জামা ছিল না, আর ছিল না কোনো পানির পাত্র, থলে বা লাঠি। রোদে তার শরীর তামাটে হয়ে গিয়েছিল। আমি বললাম, ভেতরে আসুন। তিনি বারান্দায় প্রবেশ করলেন।

আমি জিজ্ঞেস করলাম: আপনি কোথা থেকে এসেছেন?

তিনি বললেন: পূর্ব দিক থেকে। আমি এই উপকূলীয় অঞ্চলের কোনো এক স্থানে যেতে চাই। আপনার অবস্থানের কথা না থাকলে আমি এই শহরে প্রবেশ করতাম না, তবে আমি আপনাকে সালাম দেওয়ার নিয়ত করেছিলাম। আমি বললাম: এই অবস্থায়? তিনি বললেন: হ্যাঁ। অতঃপর তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন: দুনিয়াতে যুহদ (বিরাগ) কী? আমি বললাম: দীর্ঘ আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করা। তিনি (পিতা) বললেন: আমি তার ব্যাপারে বিস্ময় বোধ করতে লাগলাম। আমি মনে মনে বললাম, আমার কাছে তো কোনো সোনা বা রূপা নেই। আমি ঘরের ভেতরে গেলাম এবং চারটি রুটি নিলাম। তারপর তার কাছে বেরিয়ে এসে বললাম: আমার কাছে কোনো সোনা বা রূপা নেই, এটি কেবল আমার নিজের জন্য রাখা খাদ্য থেকে দেওয়া।

তিনি বললেন: হে আবু আব্দুল্লাহ, আমি এটি গ্রহণ করলে কি আপনি খুশি হবেন? তিনি (পিতা) বললেন: আমি বললাম, হ্যাঁ।

তিনি বললেন: অতঃপর তিনি সেগুলো নিলেন এবং বগলের নিচে রাখলেন। তিনি বললেন: আমি আশা করি এটি রাক্কা পর্যন্ত আমার পাথেয় হিসেবে যথেষ্ট হবে। আমি আপনাকে আল্লাহর কাছে সোপর্দ করছি।

তিনি বললেন: আমি দাঁড়িয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইলাম যতক্ষণ না তিনি গলি থেকে বেরিয়ে গেলেন। তিনি (পিতা) প্রায়ই তার কথা স্মরণ করতেন।

আমি আমার পিতাকে প্রায়ই বলতে শুনতাম: হে আল্লাহ, শান্তিতে রাখুন, শান্তিতে রাখুন।

সালেহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইউনুস ইবনে মুহাম্মদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) সীরাতুল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল - লিইবনিহী সালিহ (পৃষ্ঠা: ৪৮)
قَالَ حَدثنَا حَمَّاد بن زيد قَالَ زعم يحيى بن سعيد أَن سعيد بن الْمسيب كَانَ يَقُول اللَّهُمَّ سلم سلم _

كَانَ أبي إِذا دَعَا لَهُ رجل يَقُول لَيْسَ يحرز الْمُؤمن إِلَّا حفرته الْأَعْمَال بخواتيمها

وَكَانَ رجل يخْتَلف مَعَ خلف المجزمي إِلَى عَفَّان يُقَال لَهُ احْمَد بن الحكم الْعَطَّار فختن بعض وَلَده فَدَعَا أبي وَأَبُو خثيمَةَ وَجَمَاعَة من أَصْحَاب الحَدِيث وَطلب إِلَى أبي أَن يحضر فَمَضَوْا وَمضى أبي بعدهمْ وَأَنا مَعَه فَلَمَّا دخل اجْلِسْ فِي بَيت وَمَعَهُ جمَاعَة من أَصْحَاب الحَدِيث فَمن كَانَ يخْتَلف مَعَه إِلَى عَفَّان فَكَانَ فيهم رجل يكنى بِأبي بكر يعرف بالأحوال فَقَالَ يَا أَبَا عبد الله هَا هُنَا آنِية من فضَّة والتفت فَإِذا كرْسِي فَقَامَ وَخرج وَتَبعهُ من كَانَ فِي الْبَيْت وسال من كَانَ فِي الدَّار عَن خُرُوجه فَأخْبر واتبعته مَعَهم جمَاعَة وَاخْبَرْ الرجل فَخرج إِلَى أبي فَحلف انه مَا علم بذلك وَلَا أَمر بِهِ فَجعل يطْلب إِلَيْهِ فَأبى

وَجَاء عَفَّان فَقَالَ لَهُ الرجل يَا أَبَا عُثْمَان أطلب إِلَى أبي عبد الله أَن يرجع فَكَلمهُ عَفَّان فَأبى أَن يرجع فَنزل بِالرجلِ أَمر عَظِيم
তিনি বললেন, হাম্মাদ ইবনে যাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ উল্লেখ করেছেন যে, সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব বলতেন, "হে আল্লাহ! নিরাপত্তা দিন, নিরাপত্তা দিন।" _

আমার পিতা (ইমাম আহমাদ), যখন কোনো ব্যক্তি তাঁর জন্য দোয়া করত, তখন তিনি বলতেন: "কবরের গর্ত ব্যতীত কোনো কিছুই মুমিনকে রক্ষা করে না; আর আমলসমূহ তার শেষ অবস্থার ওপর নির্ভরশীল।"

আহমাদ ইবনুল হাকাম আল-আত্তার নামক এক ব্যক্তি খালাফ আল-মুজাজজামির সাথে আফফানের নিকট যাতায়াত করত। সে তার এক সন্তানের খতনা উপলক্ষে আমার পিতা, আবু খাইসামা এবং একদল হাদীস বিশারদকে দাওয়াত করল। সে আমার পিতাকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানালে তাঁরা চলে গেলেন। আমার পিতাও তাঁদের পরে রওয়ানা হলেন এবং আমিও তাঁর সাথে ছিলাম। যখন তিনি প্রবেশ করলেন, তাঁকে একটি প্রকোষ্ঠে বসানো হলো যেখানে একদল হাদীস বিশারদ উপস্থিত ছিলেন যারা আফফানের নিকট যাতায়াত করতেন। তাঁদের মধ্যে আবু বকর উপনামের এক ব্যক্তি ছিলেন যিনি ‘আল-আহওয়াল’ নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি বললেন, "হে আবু আব্দুল্লাহ! এখানে রৌপ্যপাত্র রয়েছে।" তখন তিনি (পিতা) দৃষ্টিপাত করলেন এবং একটি (রৌপ্যনির্মিত) আসন দেখতে পেয়ে তৎক্ষণাৎ উঠে দাঁড়ালেন এবং বেরিয়ে গেলেন। প্রকোষ্ঠে অবস্থানরত সকলে তাঁর অনুসরণ করলেন। বাড়ির লোকজন তাঁর প্রস্থান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তাঁদেরকে প্রকৃত ঘটনা জানানো হলো। আমি একদল লোকসহ তাঁর পশ্চাদ্ধাবন করলাম। সেই ব্যক্তিকে সংবাদ জানানো হলে সে আমার পিতার নিকট ছুটে এলো এবং শপথ করে বলল যে, সে এই বিষয়ে অবগত ছিল না এবং সে এর নির্দেশও দেয়নি। সে তাঁর নিকট ফিরে যাওয়ার জন্য অনুনয়-বিনয় করতে লাগল, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করলেন।

অতঃপর আফফান আসলেন এবং সেই ব্যক্তি তাঁকে বলল, "হে আবু উসমান! আপনি আবু আব্দুল্লাহকে ফিরে আসার জন্য অনুরোধ করুন।" আফফান তাঁর সাথে কথা বললেন, কিন্তু তিনি ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানালেন। ফলে সেই ব্যক্তি অত্যন্ত লজ্জিত ও মর্মাহত হলেন।
(খণ্ড: ১) সীরাতুল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল - লিইবনিহী সালিহ (পৃষ্ঠা: ৪৯)
-‌‌ مَا ذكر من وُرُود كتاب الْمَأْمُون فِي المحنة من طرسوس وبأشخاص أبي رحمه الله وَمُحَمّد بن نوح رضي الله عنهما

سَمِعت أَبَا الْفضل صَالح قَالَ سَمِعت أبي يَقُول لما أدخلنا على إِسْحَاق بن إِبْرَاهِيم للمحنة فقرئ عَلَيْهِ كتاب الَّذِي كَانَ إِلَيّ طرسوس فَكَانَ فِيمَا قرئَ علينا لَيْسَ كمثله شَيْء وَهُوَ خَالق كل شَيْء فَقَالَ أبي فَقلت {وَهُوَ السَّمِيع الْبَصِير} فَقَالَ بعض من حضر سَله مَا أَرَادَ بقوله {وَهُوَ السَّمِيع الْبَصِير}

فَقَالَ أبي فَقلت كَمَا قَالَ تبارك وتعالى

وَسمعت أَبَا الْفضل يَقُول ثمَّ أمتحن الْقَوْم فَوجه بِمن امْتنع إِلَى الْحَبْس فاجاب الْقَوْم جَمِيعًا غير أَرْبَعَة أبي رحمه الله وَمُحَمّد بن نوح وَعبيد الله بن عمر القواريري وَالْحسن بن حَمَّاد السجادة ثمَّ أجَاب عبيد الله بن عمر وَالْحسن بن حَمَّاد وَبَقِي أبي وَمُحَمّد بن نوح فِي الْحَبْس فمكثا أَيَّامًا فِي الْحَبْس ثمَّ ورد كتاب من طرسوس بحملهما فَحمل
তরসুস থেকে মিহনা (পরীক্ষা) সংক্রান্ত মামুনের পত্রের আগমন এবং আমার পিতা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) ও মুহাম্মদ ইবনে নুহ (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর সন্তুষ্ট হোন)-কে তলব করার বিবরণ

আমি আবুল ফজল সালেহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি যে, যখন আমাদের পরীক্ষার (মিহনা) জন্য ইসহাক ইবনে ইব্রাহিমের সামনে উপস্থিত করা হলো, তখন তার সামনে সেই পত্রটি পাঠ করা হলো যা তরসুস থেকে প্রেরিত হয়েছিল। আমাদের সামনে যা পাঠ করা হয়েছিল তাতে ছিল: "তাঁর সদৃশ কিছুই নেই এবং তিনি সবকিছুর স্রষ্টা।" আমার পিতা বলেন, তখন আমি বললাম, "এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।" তখন সেখানে উপস্থিত কেউ কেউ বলল, তাঁকে জিজ্ঞেস করুন যে "এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা" কথাটি দ্বারা তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন?

আমার পিতা বলেন, আমি বললাম, "ঠিক তা-ই যা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা বলেছেন।"

আমি আবুল ফজলকে বলতে শুনেছি, অতঃপর লোকদের পরীক্ষা করা হলো এবং যারা অস্বীকার করল তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হলো। ফলে আমার পিতা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন), মুহাম্মদ ইবনে নুহ, উবাইদুল্লাহ ইবনে ওমর আল-কাওয়ারিরি এবং হাসান ইবনে হাম্মাদ আস-সাজ্জাদাহ—এই চারজন ব্যতীত বাকি সবাই ইতিবাচক উত্তর দিল। পরবর্তীতে উবাইদুল্লাহ ইবনে ওমর এবং হাসান ইবনে হাম্মাদও উত্তর দিলেন। কিন্তু আমার পিতা ও মুহাম্মদ ইবনে নুহ কারাগারেই রয়ে গেলেন। তাঁরা বেশ কিছুদিন কারাগারে অবস্থান করলেন। এরপর তরসুস থেকে তাঁদের দুজনকে নিয়ে আসার নির্দেশ সম্বলিত একটি পত্র এল এবং তাঁদের নিয়ে যাওয়া হলো।
(খণ্ড: ১) সীরাতুল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল - লিইবনিহী সালিহ (পৃষ্ঠা: ৫০)
أبي وَمُحَمّد بن نوح رَحْمَة الله عَلَيْهِمَا مقيدين زميلين اخرجا من بَغْدَاد فصرنا مَعَهُمَا إِلَى الانبار

فَسَأَلَ أَبُو بكر الْأَحول أبي فَقَالَ لَهُ يَا أَبَا عبد الله إِن عرضت على السَّيْف تجيب _

فَقَالَ لَا

قَالَ أبي فَانْطَلق بِنَا حَتَّى دَخَلنَا فِي الرحبة فَلَمَّا دَخَلنَا مِنْهَا وَذَلِكَ فِي جَوف اللَّيْل وَخَرجْنَا من الرحبة عرض لنا رجل فَقَالَ

أَيّكُم احْمَد بن حَنْبَل فَقيل لَهُ هَذَا فَسلم على أبي ثمَّ قَالَ يَا هَذَا مَا عَلَيْك أَن تقتل هَاهُنَا وَتدْخل الْجنَّة هَاهُنَا ثمَّ سلم وَانْصَرف

فَقلت من هَذَا

فَقيل هَذَا رجل من ربيعَة الْعَرَب يَقُول الشّعْر فِي الْبَادِيَة يُقَال لَهُ جَابر بن عَامر

فَلَمَّا صرنا إِلَى أُذُنه ورحلنا مِنْهَا وَذَلِكَ فِي جَوف اللَّيْل فتح لنا بَابهَا لَقينَا رجل وَنحن خارجون من الْبَاب وَهُوَ دَاخل فَقَالَ الْبُشْرَى فقد مَاتَ الرجل
আমার পিতা এবং মুহাম্মদ ইবনে নুহ (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর রহমত বর্ষণ করুন) শৃঙ্খলিত অবস্থায় একে অপরের সঙ্গী হয়ে বাগদাদ থেকে বহির্গত হলেন। আমরা তাঁদের সাথে আনবার পর্যন্ত পৌঁছলাম।

অতঃপর আবু বকর আল-আহওয়াল আমার পিতাকে জিজ্ঞাসা করলেন এবং তাঁকে বললেন, "হে আবু আব্দুল্লাহ, যদি আপনার সামনে তলোয়ার পেশ করা হয়, তবে কি আপনি তাদের ডাকে সাড়া দেবেন?"

তিনি বললেন, "না।"

আমার পিতা বলেন, এরপর আমাদের নিয়ে চলা হলো যতক্ষণ না আমরা রাহবাহ-তে প্রবেশ করলাম। যখন আমরা সেখানে প্রবেশ করলাম, তখন ছিল গভীর রাত। যখন আমরা রাহবাহ থেকে বের হলাম, এক ব্যক্তি আমাদের সামনে এসে দাঁড়ালো এবং বলল:

"আপনাদের মধ্যে আহমাদ ইবনে হাম্বল কে?" তাকে বলা হলো, "এই যে তিনি।" সে আমার পিতাকে সালাম দিল এবং এরপর বলল, "হে ব্যক্তি, এখানে নিহত হওয়া এবং এখান থেকেই জান্নাতে প্রবেশ করতে আপনার কিসের পরোয়া?" এরপর সে সালাম দিয়ে প্রস্থান করল।

আমি জিজ্ঞেস করলাম, "ইনি কে?"

বলা হলো, "ইনি আরবদের রবীআহ গোত্রের এক লোক, যিনি মরুপ্রান্তরে কবিতা বলেন, তাঁকে জাবির ইবনে আমির বলা হয়।"

অতঃপর যখন আমরা উযুনাহ-তে পৌঁছলাম এবং সেখান থেকে প্রস্থান করলাম—আর তা ছিল গভীর রাত—আমাদের জন্য তার ফটক উন্মুক্ত করা হলো। আমরা যখন ফটক দিয়ে বের হচ্ছিলাম এবং এক ব্যক্তি ভেতরে প্রবেশ করছিল, তখন সে আমাদের সাথে সাক্ষাত করে বলল, "সুসংবাদ! সেই লোকটি মারা গেছে।"
(খণ্ড: ১) সীরাতুল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল - লিইবনিহী সালিহ (পৃষ্ঠা: ৫১)
قَالَ أبي وَكنت ادعوا الله أَنِّي لَا أرَاهُ

فَحَدثني أبي قَالَ حَدثنَا معمر بن سُلَيْمَان عَن مرار بن سلمَان عَن مَيْمُون بن مهْرَان قَالَ ثَلَاث لَا تبلون نَفسك بِهن لَا تدخل على السُّلْطَان وان قلت آمره بِطَاعَة الله وَلَا تدخلن على امْرَأَة وان قلت اعلمها كتاب الله وَلَا تصغين سَمعك لذِي هَوَاء فانك لَا تَدْرِي مَا يعلق قَلْبك مِنْهُ

سَمِعت أَبَا الْفضل يَقُول فَصَارَ أبي وَمُحَمّد بن نوح إِلَى طرسوس وَجَاء نعي الْمَأْمُون من البذندون فَردا فِي اقيادهما إِلَى الرقة واخرجنا من الرقة فِي سفينة مَعَ قوم محبسين فَلَمَّا صَارا بعانات توفّي مُحَمَّد بن نوح وَتقدم أبي فصلى عَلَيْهِ ثمَّ صَار إِلَى بَغْدَاد وَهُوَ مُقَيّد فَمَكثَ بالياسرية أَيَّامًا ثمَّ صير إِلَى الْحَبْس فِي دَار اكتريت عِنْد دَار عمَارَة ثمَّ نقل بعد ذَلِك إِلَى حبس الْعَامَّة فِي درب الموصلية فَمَكثَ فِي السجْن مُنْذُ اخذ وَحمل إِلَى بَغْدَاد ضرب وَدخل عَلَيْهِ ثَمَانِيَة وَعشْرين شهرا

قَالَ أبي فَكنت اصلي بهم وَأَنا مُقَيّد

فَقَالَ أبي إِذا كَانَ الْقَيْد لَا تحجزه عَن تَمام الصَّلَاة فلأباس وَكنت أرى بوران يحمل لَهُ فِي دورق مَاء بَارِد فَيذْهب بِهِ إِلَى السجْن
আমার পিতা বললেন, আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করতাম যেন আমি তাকে (মামুনকে) দেখতে না পাই।

আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে মুয়াম্মার বিন সুলাইমান মুরার বিন সালমান থেকে, তিনি মায়মুন বিন মিহরান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: তিনটি বিষয়ে তুমি নিজেকে পরীক্ষায় ফেলো না; সুলতানের (শাসকের) নিকট প্রবেশ করো না যদিও তুমি বলো যে তাকে আল্লাহর আনুগত্যের নির্দেশ দেবে, কোনো মহিলার নিকট প্রবেশ করো না যদিও তুমি বলো যে তাকে আল্লাহর কিতাব শিক্ষা দেবে, আর কোনো প্রবৃত্তিপূজারীর কথায় কান দিও না, কারণ তুমি জানো না তার কোন কথাটি তোমার অন্তরে গেঁথে যাবে।

আমি আবুল ফজলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: অতঃপর আমার পিতা এবং মুহাম্মদ বিন নূহ তারসুসের দিকে রওনা হলেন। তখন বাযানদুন থেকে মামুনের মৃত্যুর সংবাদ এলো। ফলে তাঁদের উভয়কে শিকলবদ্ধ অবস্থায় রাক্কাহ-তে ফিরিয়ে আনা হলো। আমাদের রাক্কাহ থেকে এক নৌকায় একদল বন্দীর সাথে বের করা হলো। যখন তাঁরা 'আনাত' নামক স্থানে পৌঁছালেন, তখন মুহাম্মদ বিন নূহ ইন্তেকাল করলেন। আমার পিতা সামনে এগিয়ে গিয়ে তাঁর জানাজা পড়ালেন। অতঃপর তাঁকে শিকলবদ্ধ অবস্থায় বাগদাদে নিয়ে আসা হলো। তিনি ইয়াসিরিয়াহ-তে কয়েক দিন অবস্থান করলেন। এরপর তাঁকে ইমারাহ-এর বাড়ির পাশে ভাড়া করা একটি ঘরের কারাগারে রাখা হলো। এরপর তাঁকে মাওসিলিয়াহ গলির সাধারণ কারাগারে স্থানান্তর করা হলো। তিনি গ্রেফতার হওয়া থেকে শুরু করে বাগদাদে আনা, প্রহার এবং কারাবাস মিলিয়ে সর্বমোট আঠাশ মাস অতিবাহিত করেন।

আমার পিতা বললেন, আমি শিকলবদ্ধ অবস্থায় তাঁদের নামাজে ইমামতি করতাম।

আমার পিতা বললেন: শিকল যদি পূর্ণাঙ্গ নামাজ আদায়ে বাধা সৃষ্টি না করে, তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই। আমি বুরাণকে দেখতাম সে একটি পাত্রে তাঁর জন্য ঠান্ডা পানি বহন করে কারাগারে নিয়ে যেত।
(খণ্ড: ১) সীরাতুল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল - লিইবনিহী সালিহ (পৃষ্ঠা: ৫২)
-‌‌ ذكر محنة أبي إِسْحَاق المعتصم لأبي رَحْمَة الله

سَمِعت أَبَا الْفضل يَقُول قَالَ أبي رَحْمَة الله لما كَانَ فِي شهر رَمَضَان لَيْلَة تسع عشرَة خلت مِنْهُ حولت من السجْن إِلَى دَار إِسْحَاق بن إِبْرَاهِيم وَأَنا مُقَيّد بِقَيْد وَاحِد يُوَجه إِلَيّ كل يَوْم رجلَيْنِ سماهما أبي

قَالَ أَبُو الْفضل وهما احْمَد بن رَبَاح وَأَبُو شُعَيْب الْحجام يكلماني ويناظراني فَإِذا أَرَادَا الِانْصِرَاف دعِي بِقَيْد فقيدت فَمَكثت على هَذِه الْحَال ثَلَاثَة أَيَّام وَصَارَ فِي رجْلي أَرْبَعَة أقياد

فَقَالَ لي أَحدهمَا فِي بعض الْأَيَّام فِي كَلَام دَار وَسَأَلته عَن علم الله فَقَالَ علم الله مَخْلُوق قلت يَا كَافِر كفرت فَقَالَ لي الرَّسُول الَّذِي كَانَ يحضر مَعَهم من قبل إِسْحَاق هَذَا رَسُول أَمِير الْمُؤمنِينَ قَالَ فَقلت إِن هَذَا قد كفر وَكَانَ صَاحبه الَّذِي يَجِيء مَعَه خَارج فَلَمَّا دخل قلت إِن هَذَا زعم أَن علم الله مَخْلُوق فَنظر إِلَيْهِ كالمنكر عَلَيْهِ قَالَ ثمَّ انْصَرف قَالَ أبي واسماء الله فِي الْقرَان وَالْقرَان من علم الله فَمن زعم أَن الْقرَان مَخْلُوق فَهُوَ كَافِر وَمن زعم أَن أَسمَاء الله مخلوقة فقد كفر
আবু ইসহাক আল-মুতাসিম কর্তৃক আমার পিতার (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) ওপর আনীত পরীক্ষার বর্ণনা

আমি আবুল ফজলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমার পিতা (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেছেন: যখন রমজান মাসের ঊনিশ দিন অতিবাহিত হলো, তখন আমাকে কারাগার থেকে ইসহাক বিন ইব্রাহিমের বাড়িতে স্থানান্তরিত করা হলো। আমি তখন একটি শিকল দিয়ে আবদ্ধ ছিলাম। আমার পিতার বর্ণনা অনুযায়ী প্রতিদিন দু'জন লোককে আমার নিকট পাঠানো হতো।

আবু ফজল বলেন, তারা ছিলেন আহমাদ বিন রাবাহ এবং আবু শুআইব আল-হাজ্জাম। তারা আমার সাথে কথা বলতেন ও বিতর্ক করতেন। যখন তারা প্রস্থান করতে চাইতেন, তখন আরও শিকল আনার নির্দেশ দেওয়া হতো এবং আমাকে তাতে আবদ্ধ করা হতো। এভাবে আমি তিন দিন অতিবাহিত করলাম এবং আমার পায়ে চারটি শিকল হয়ে গেল।

একদিন আলোচনার একপর্যায়ে তাদের একজন আমাকে বললেন—আর আমি তাকে আল্লাহর ইলম (জ্ঞান) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম—তিনি বললেন: আল্লাহর ইলম সৃষ্ট। আমি বললাম: হে কাফির, তুমি কুফরি করেছো। তখন ইসহাকের পক্ষ থেকে তাদের সাথে উপস্থিত থাকা দূত আমাকে বললেন, ইনি আমিরুল মুমিনীনের দূত। তিনি (পিতা) বললেন, আমি বললাম: নিশ্চয়ই এ ব্যক্তি কুফরি করেছে। তার সাথে আসা সঙ্গীটি তখন বাইরে ছিলেন। তিনি যখন প্রবেশ করলেন, তখন আমি বললাম: এ ব্যক্তি দাবি করছে যে আল্লাহর ইলম সৃষ্ট। তখন তিনি তার দিকে এমনভাবে তাকালেন যেন তিনি বিষয়টি অস্বীকার করছেন। এরপর তিনি প্রস্থান করলেন। আমার পিতা বলেন: আল্লাহর নামসমূহ কুরআনে বর্ণিত রয়েছে এবং কুরআন আল্লাহর ইলমের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে ব্যক্তি দাবি করবে যে কুরআন সৃষ্ট, সে কাফির; আর যে ব্যক্তি দাবি করবে যে আল্লাহর নামসমূহ সৃষ্ট, সে কুফরি করল।
(খণ্ড: ১) সীরাতুল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল - লিইবনিহী সালিহ (পৃষ্ঠা: ৫৩)
قَالَ أبي فَلَمَّا كَانَ لَيْلَة الرَّابِعَة بعد عشَاء الأخرة وَجه يَعْنِي المعتصم ببغا إِلَى إِسْحَاق يَأْمُرهُ بحملي فأدخلت على إِسْحَاق فَقَالَ لي يَا احْمَد أَنَّهَا وَالله نَفسك انه قد حلف أَن لَا يقتلك بِالسَّيْفِ وان يَضْرِبك ضربا بعد ضرب وان يلقيك فِي مَوضِع لَا ترى فِيهِ الشَّمْس أَلَيْسَ قَالَ الله تَعَالَى {إِنَّا جَعَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبيا} أفيكون مجعولا إِلَّا مخلوقا

قَالَ أبي فَقلت فقد قَالَ الله تَعَالَى {فجعلهم كعصف مَأْكُول} أفخلقهم قَالَ فَقَالَ اذْهَبُوا بِهِ

قَالَ أبي فأنزلت إِلَى شاطئ دجلة فاحدرت إِلَى الْموضع الْمَعْرُوف بِبَاب الْبُسْتَان وَمَعِي بغا الْكَبِير وَرَسُول من قبل إِسْحَاق

فَقَالَ بغا لمُحَمد الحارس بِالْفَارِسِيَّةِ مَا تُرِيدُونَ من هَذَا قَالَ يُرِيدُونَ مِنْهُ أَن يَقُول الْقرَان مَخْلُوق

فَقَالَ مَا اعرف شَيْئا من هَذَا إِلَّا قَول لَا إِلَه إِلَّا الله وان مُحَمَّدًا رَسُول الله وقرابة أَمِير الْمُؤمنِينَ من النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ أبي فَلَمَّا صرنا إِلَى الشط أخرجت من الزورق وحملت على دَابَّة والاقياد عَليّ وَمَا معي أحد يمسكني فَجعلت اكاد أخر على وَجْهي حَتَّى انْتهى بِي إِلَى الدَّار فأدخلت ثمَّ خرج بِي إِلَى حجرَة فصيرت فِي بَيت مِنْهَا واغلق عَليّ الْبَاب واقعد عَلَيْهِ رجل وَذَلِكَ فِي جَوف اللَّيْل وَلَيْسَ فِي الْبَيْت سراج فَاحْتَجت إِلَى الضَّوْء فمددت يَدي اطلب شَيْئا فَإِذا بِإِنَاء فِيهِ مَاء وطشت فتهيأت
আমার পিতা বললেন: যখন চতুর্থ রাতের ইশার নামাজের পরের সময় হলো, মুতাসিম বুগাকে ইসহাকের কাছে পাঠালেন এই নির্দেশ দিয়ে যেন আমাকে নিয়ে আসা হয়। আমাকে ইসহাকের সামনে নেওয়া হলো, তখন তিনি আমাকে বললেন: হে আহমদ, আল্লাহর কসম, এটি আপনার প্রাণের প্রশ্ন। তিনি শপথ করেছেন যে, তিনি আপনাকে তরবারি দিয়ে হত্যা করবেন না, বরং আপনাকে বারবার প্রহার করবেন এবং এমন এক স্থানে নিক্ষেপ করবেন যেখানে আপনি সূর্যের আলো দেখতে পাবেন না। আল্লাহ তাআলা কি বলেননি: {নিশ্চয়ই আমি ইহাকে আরবি কুরআন বানিয়েছি}? যা কিছু বানানো, তা কি সৃষ্টি ছাড়া অন্য কিছু হতে পারে?

আমার পিতা বললেন: আমি বললাম, আল্লাহ তাআলা তো এও বলেছেন: {অতঃপর তিনি তাদের ভক্ষিত তৃণের ন্যায় বানিয়ে দিলেন}। তিনি কি তাদের তখন সৃষ্টি করেছিলেন? তখন তিনি বললেন: একে নিয়ে যাও।

আমার পিতা বললেন: আমাকে দজলা নদীর তীরে নামানো হলো এবং সেখান থেকে 'বাবুল বুস্তান' নামক পরিচিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হলো। আমার সাথে বড় বুগা এবং ইসহাকের পক্ষ থেকে একজন দূত ছিল।

বুগা প্রহরী মুহাম্মদকে ফারসি ভাষায় বললেন: তোমরা এই লোকটির থেকে কী চাও? সে উত্তর দিল: তারা চায় তিনি যেন বলেন কুরআন সৃষ্টি।

বুগা বললেন: আমি তো এর কিছুই বুঝি না, কেবল 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ' এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আমিরুল মুমিনীনের আত্মীয়তার সম্পর্ক ছাড়া। আমার পিতা বললেন: যখন আমরা নদীর তীরে পৌঁছালাম, আমাকে নৌকা থেকে নামানো হলো এবং একটি পশুর পিঠে চড়ানো হলো; তখন আমি শিকলবদ্ধ ছিলাম। আমাকে ধরে রাখার মতো কেউ ছিল না, ফলে আমি প্রায় উপুড় হয়ে পড়ে যাচ্ছিলাম। অবশেষে আমাকে একটি বাড়িতে আনা হলো এবং সেখানে প্রবেশ করানো হলো। এরপর আমাকে একটি কামরায় নিয়ে যাওয়া হলো এবং সেখানে একটি ঘরে আমাকে রাখা হলো। আমার উপর দরজা বন্ধ করে দেওয়া হলো এবং দরজায় একজন পাহারাদার বসানো হলো। সেটি ছিল গভীর রাত এবং ঘরে কোনো প্রদীপ ছিল না। আমার আলোর প্রয়োজন হওয়ায় আমি হাত বাড়িয়ে কিছু একটা খুঁজছিলাম, হঠাৎ একটি পানির পাত্র ও একটি গামলা পেলাম এবং আমি প্রস্তুত হলাম।
(খণ্ড: ১) সীরাতুল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল - লিইবনিহী সালিহ (পৃষ্ঠা: ৫৪)
للصَّلَاة وَقمت اصلي فَلَمَّا أَصبَحت جَاءَنِي الرَّسُول فاخذ بيَدي فادخلني الدَّار وَإِذا هُوَ جَالس وَابْن أبي دؤاد حَاضر وَقد جمع أَصْحَابه وَالدَّار غاصة بِأَهْلِهَا فَلَمَّا دَنَوْت مِنْهُ سلمت فَقَالَ أدنه أدنه فَلم يزل يدنيني حَتَّى قربت مِنْهُ ثمَّ قَالَ لي اجْلِسْ فَجَلَست وَقد اثقلتني الاقياد فَلَمَّا مكثت هنيهة قلت تَأذن فِي الْكَلَام

قَالَ تكلم قلت إِلَى مَا دَعَا إِلَيْهِ رَسُوله

قَالَ إِلَى شَهَادَة أَن لَا اله إِلَّا الله

قَالَ ثمَّ قلت إِن جدك ابْن عَبَّاس حكى أَن وَفد عبد الْقَيْس لما قدمُوا على النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَمرهم بِالْإِيمَان بِاللَّه تَعَالَى فَقَالَ أَتَدْرُونَ مَا الْإِيمَان قَالُوا الله وَرَسُوله اعْلَم

قَالَ شَهَادَة أَن لَا اله إِلَّا الله وان مُحَمَّدًا رَسُول الله واقام الصَّلَاة وإيتاء الزَّكَاة وَصَوْم رَمَضَان وان تعطوا الْخمس من الْمغنم

حَدثنَا أَبُو الْفضل قَالَ حَدثنِي أبي قَالَ حَدثنَا يحيى بن سعيد عَن شُعْبَة قَالَ حَدثنِي أَبُو حَمْزَة قَالَ سَمِعت بن عَبَّاس رضي الله عنه قَالَ إِن وَفد عبد الْقَيْس لما قدمُوا على رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَمرهم بِالْإِيمَان فَذكر مثل ذَلِك

قَالَ أَبُو الْفضل قَالَ أبي فَقَالَ لي عِنْد ذَلِك لَوْلَا أَنِّي وَجَدْتُك فِي يَد
সালাতের জন্য এবং আমি সালাত আদায় করতে দাঁড়িয়ে গেলাম। যখন ভোর হলো, তখন দূত আমার নিকট এল এবং সে আমার হাত ধরে আমাকে ঘরের ভেতর নিয়ে গেল। তখন তিনি উপবিষ্ট ছিলেন এবং ইবন আবি দুয়াদ সেখানে উপস্থিত ছিল। সে তার সঙ্গীদের সমবেত করেছিল এবং ঘরটি মানুষে পরিপূর্ণ ছিল। যখন আমি তাঁর নিকটবর্তী হলাম, আমি সালাম দিলাম। তখন তিনি বললেন, "নিকটে এসো, নিকটে এসো।" তিনি আমাকে ক্রমাগত নিকটে আনতে থাকলেন যতক্ষণ না আমি তাঁর সন্নিকটে পৌঁছালাম। তারপর তিনি আমাকে বললেন, "বসো।" আমি বসলাম, যদিও শেকলগুলো আমাকে ভারাক্রান্ত করে ফেলেছিল। যখন আমি কিছুক্ষণ অবস্থান করলাম, আমি বললাম, "আপনি কি আমাকে কথা বলার অনুমতি দেবেন?"

তিনি বললেন, "বলো।" আমি বললাম, "তাঁর রাসূল যাঁর দিকে আহ্বান জানিয়েছেন (আমিও সেদিকেই আহ্বান জানাচ্ছি)।"

তিনি বললেন, "এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।"

তিনি বললেন: তারপর আমি বললাম, "আপনার দাদা ইবন আব্বাস বর্ণনা করেছেন যে, যখন আবদুল কায়সের প্রতিনিধি দল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন, তিনি তাঁদের মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ দিলেন। তিনি বললেন, 'তোমরা কি জানো ঈমান কী?' তাঁরা বললেন, 'আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।'"

তিনি বললেন, "সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, রমজানের রোজা রাখা এবং তোমরা যেন গনিমতের মালের এক-পঞ্চমাংশ প্রদান করো।"

আবুল ফজল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ আমাদের নিকট শু'বাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু হামজাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে শুনেছি, তিনি বলেন যে, আবদুল কায়সের প্রতিনিধি দল যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন, তিনি তাঁদের ঈমান আনার নির্দেশ দিলেন, অতঃপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করলেন।

আবুল ফজল বলেন: আমার পিতা বলেছেন: অতঃপর তিনি সে সময় আমাকে বললেন, "যদি আমি তোমাকে (কারও) হাতে না পেতাম..."
(খণ্ড: ১) সীরাতুল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল - লিইবনিহী সালিহ (পৃষ্ঠা: ৫৫)
من كَانَ قبلي مَا عرضت لَك ثمَّ الْتفت إِلَى عبد الرَّحْمَن بن إِسْحَاق فَقَالَ لَهُ يَا عبد الرَّحْمَن ألم آمُرك أَن ترفع المحنة

قَالَ أبي فَقلت فِي نَفسِي الله اكبر إِن فِي هَذَا لفرجا للْمُسلمين قَالَ ثمَّ قَالَ ناظروه وكلموه ثمَّ قَالَ يَا عبد الرَّحْمَن كَلمه فَقَالَ لي عبد الرَّحْمَن مَا تَقول فِي الْقرَان

قلت مَا تَقول فِي علم الله قَالَ فَسكت

قَالَ أبي فَجعل يكلمني هَذَا وَهَذَا فأرد على هَذَا ثمَّ أَقُول

يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ أعطوني شَيْئا من كتاب الله أَو سنة رَسُوله أَقُول بِهِ ذَلِك

فَيَقُول لي بن أبي دؤاد وَأَنت لَا تَقول إِلَّا كَمَا فِي كتاب الله أَو سنة رَسُوله

قَالَ فَقلت لَهُ تأولت تَأْوِيلا فَأَنت اعْلَم وَمَا تأولت مَا يحبس عَلَيْهِ ويقيد عَلَيْهِ

قَالَ فَقَالَ ابْن أبي دؤاد فَهُوَ وَالله يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ ضال مضل مُبْتَدع يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ وَهَؤُلَاء قضاتك وَالْفُقَهَاء فسلهم

قَالَ فَيَقُول لَهُم مَا تَقولُونَ

فَيَقُولُونَ يَا أَمِير الْمُؤْمِنُونَ هُوَ ضال مضل مُبْتَدع

قَالَ فَلَا يزالون يكلموني

وَقَالَ وَجعل صوتي يَعْلُو على أَصْوَاتهم فَقَالَ لي إِنْسَان مِنْهُم قَالَ
আমার পূর্বে যারা ছিল তারা যা আপনার নিকট পেশ করেনি (আমি তাই করছি)। অতঃপর তিনি আবদুর রহমান ইবনে ইসহাকের দিকে ফিরে তাকালেন এবং তাকে বললেন, হে আবদুর রহমান, আমি কি তোমাকে পরীক্ষা (মিহনা) তুলে নিতে নির্দেশ দেইনি?

আমার পিতা বললেন, আমি মনে মনে বললাম, আল্লাহু আকবার! নিশ্চয়ই এতে মুসলমানদের জন্য মুক্তির পথ রয়েছে। তিনি বললেন, তারপর তিনি বললেন, তোমরা তার সাথে বিতর্ক করো এবং তার সাথে কথা বলো। এরপর তিনি বললেন, হে আবদুর রহমান, তার সাথে কথা বলো। তখন আবদুর রহমান আমাকে বললেন, কুরআন সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কী?

আমি বললাম, আল্লাহর ইলম (জ্ঞান) সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কী? তিনি বললেন, এতে তিনি চুপ হয়ে গেলেন।

আমার পিতা বললেন, এরপর তারা একে একে আমার সাথে কথা বলতে শুরু করল। আমি তাদের উত্তর দিতে থাকলাম এবং বললাম—

হে আমিরুল মুমিনিন, তারা আমাকে আল্লাহর কিতাব কিংবা তাঁর রাসূলের সুন্নাহ থেকে এমন কিছু প্রদান করুক যার ভিত্তিতে আমি কথা বলব।

তখন ইবনে আবি দুয়াদ আমাকে বললেন, আপনি কি কেবল আল্লাহর কিতাব বা তাঁর রাসূলের সুন্নাহ অনুযায়ীই কথা বলবেন?

তিনি বললেন, আমি তাকে বললাম, আপনি একটি ব্যাখ্যা (তাউয়িল) করেছেন, তাই আপনিই ভালো জানেন। তবে আমি এমন কোনো ব্যাখ্যা করিনি যার কারণে কাউকে কারারুদ্ধ বা শৃঙ্খলিত করা হয়।

তিনি বললেন, তখন ইবনে আবি দুয়াদ বললেন, আল্লাহর কসম হে আমিরুল মুমিনিন, সে তো পথভ্রষ্ট, পথভ্রষ্টকারী এবং বিদয়াতি। হে আমিরুল মুমিনিন, এই যে আপনার বিচারপতি এবং ফকিহগণ, আপনি তাদের জিজ্ঞাসা করুন।

তিনি বললেন, তখন তিনি তাদের বললেন, তোমরা কী বলো?

তারা বলল, হে আমিরুল মুমিনিন, সে পথভ্রষ্ট, পথভ্রষ্টকারী এবং বিদয়াতি।

তিনি বললেন, তারা ক্রমাগত আমার সাথে কথা বলতে থাকল।

তিনি বললেন, আমার কণ্ঠস্বর তাদের কণ্ঠস্বরের উপরে উচ্চকিত হতে লাগল। তখন তাদের মধ্য থেকে একজন লোক আমাকে বললেন—
(খণ্ড: ১) সীরাতুল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল - লিইবনিহী সালিহ (পৃষ্ঠা: ৫৬)
الله تَعَالَى {مَا يَأْتِيهم من ذكر من رَبهم مُحدث} فَيكون مُحدثا إِلَّا مخلوقا

قلت لَهُ قَالَ الله تعال {ص وَالْقُرْآن ذِي الذّكر} فالذكر هُوَ الْقُرْآن وَيلك أَو لَيْسَ فِيهَا لَا ألف وَلَا لَام

قَالَ فَجعل بن سَمَّاعَة لَا يفهم مَا أَقُول

قَالَ فَجعل يَقُول لَهُم مَا يَقُول قَالَ فَقَالُوا انه يَقُول كَذَا وَكَذَا قَالَ فَقَالَ لي إِنْسَان مِنْهُم حَدِيث خباب يَا هنتاه تقرب إِلَى الله بِمَا اسْتَطَعْت فانك لن تتقرب إِلَيْهِ بِشَيْء احب إِلَيْهِ من كَلَامه

قَالَ فَقلت نعم هَكَذَا هُوَ

قَالَ فَجعل بن أبي دؤاد ينظر إِلَيْهِ ويلحظه متغيظا عَلَيْهِ

قَالَ أبي فَقَالَ بَعضهم أَلَيْسَ قَالَ خَالق كل شَيْء

قَالَ قلت قد قَالَ تدمر كل شَيْء فدمرت أَلا مَا أَرَادَ الله
আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তাদের রবের পক্ষ থেকে তাদের কাছে কোনো নতুন উপদেশ আসে না}, সুতরাং যা নতুন তা কি সৃষ্টি ছাড়া অন্য কিছু হতে পারে?

আমি তাকে বললাম, আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {সোয়াদ, উপদেশপূর্ণ কুরআনের শপথ}। এখানে 'জিকির' (উপদেশ) হলো কুরআন। তোমার দুর্ভোগ হোক! (তুমি যে আয়াতটি পেশ করলে) তাতে কি 'আলিফ' এবং 'লাম' নেই?

তিনি বলেন, এরপর ইবনে সামাআ আমি যা বলছিলাম তা বুঝতে পারছিলেন না।

তিনি বলেন, ইবনে সামাআ তখন তাদের বলতে লাগলেন, সে কী বলছে? তারা বলল যে সে এমন এমন বলছে। তিনি বলেন, তখন তাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি আমাকে খাব্বাবের বর্ণিত হাদিসটি বলল: হে অমুক! তোমার সাধ্যমতো আল্লাহর নৈকট্য লাভ করো, কেননা তাঁর কালামের (বাণীর) চেয়ে প্রিয় আর কোনো কিছুর মাধ্যমে তুমি তাঁর অধিক নিকটবর্তী হতে পারবে না।

তিনি বলেন, আমি বললাম: হ্যাঁ, বিষয়টি এমনই।

তিনি বলেন, তখন ইবনে আবি দুয়াদ সেই ব্যক্তির দিকে অত্যন্ত রাগান্বিত হয়ে তাকাতে লাগলেন।

আমার পিতা বলেন, তখন তাদের কেউ বলল, আল্লাহ কি বলেননি যে তিনি 'সর্বকিছুর স্রষ্টা'?

তিনি বলেন, আমি বললাম, আল্লাহ তো (আদ জাতির বায়ু সম্পর্কে) এ কথাও বলেছেন যে, তা 'সবকিছুকে ধ্বংস করে দেয়', অথচ তা কেবল তাই ধ্বংস করেছিল যা আল্লাহ চেয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) সীরাতুল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল - লিইবনিহী সালিহ (পৃষ্ঠা: ৫৭)
وَقَالَ فَقَالَ لي بَعضهم فِيمَا يَقُول وَذكر حَدِيث عمرَان بن حُصَيْن أَن الله تبارك وتعالى كتب الذّكر فَقَالَ إِن الله خلق الذّكر

قَالَ فَقلت هَذَا خطأ حَدثنَا غير وَاحِد كتب الذّكر

قَالَ أبي فَكَانَ إِذا انْقَطع الرجل مِنْهُم اعْترض ابْن أبي دؤاد يتَكَلَّم فَلَمَّا قَارب الزَّوَال قَالَ لَهُم قومُوا ثمَّ حبس عبد الرَّحْمَن بن إِسْحَاق فَخَلا بِي وَبِعَبْد الرَّحْمَن فَجعل يَقُول لي أما كنت تعرف صَالح الرَّشِيدِيّ كَانَ مؤدبي وَكَانَ فِي هَذَا الْموضع جَالس واشار إِلَى نَاحيَة من الدَّار قَالَ فَتكلم وَذكر الْقرَان فخالفني فَأمرت بِهِ فسحب ووطئ قَالَ أبي ثمَّ جعل يَقُول لي مَا أعرفك ألم تكن تَأْتِينَا _

فَقَالَ لَهُ عبد الرَّحْمَن يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ اعرفه مُنْذُ ثَلَاثِينَ سنة يرى طَاعَتك وَالْحج وَالْجهَاد مَعَك وَهُوَ ملازم لمنزله

قَالَ فَجعل يَقُول وَالله انه لفقيه وانه لعالم وَمِمَّا يسرني أَن يكون مثله معي يرد عني أهل الْملَل وَلَئِن أجابني إِلَى شَيْء لَهُ فِيهِ أدنى فرج لأطلقن عَنهُ بيَدي وَلَا وطأن عقبَة وَلَا ركبن إِلَيْهِ بجندي

قَالَ ثمَّ الْتفت إِلَيّ فَيَقُول وَيحك يَا احْمَد مَا مَا تَقول

قَالَ فاقول يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ أعطوني شَيْئا من كتاب الله أَو سنة وَرَسُوله فَلَمَّا طَال بِنَا الْمجْلس ضجر فَقَامَ فَرددت إِلَى الْموضع الَّذِي كنت فِيهِ ثمَّ وَجه إِلَيّ برجلَيْن سماهما وهما صَاحب الشَّافِعِي وغسان من
এবং তিনি বললেন, তাদের মধ্যে একজন আমাকে কথাচ্ছলে বলল এবং ইমরান ইবনে হুসাইনের হাদিস উল্লেখ করল যে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা জিকির (স্মরণলিপি) লিখেছেন, এরপর সে বলল যে আল্লাহ জিকির সৃষ্টি করেছেন।

তিনি বললেন, আমি বললাম: এটি ভুল। একাধিক ব্যক্তি আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (আল্লাহ) জিকির লিখেছেন।

আমার পিতা বললেন, যখন তাদের কেউ নিরুত্তর হয়ে যেত, তখন ইবনে আবি দুয়াদ কথা বলতে শুরু করত। যখন দ্বিপ্রহর ঘনিয়ে এল, তিনি তাদের বললেন, তোমরা উঠে যাও। এরপর তিনি আবদুর রহমান ইবনে ইসহাককে আটকে রাখলেন এবং আমার ও আবদুর রহমানের সাথে একান্তে বসলেন। তিনি আমাকে বলতে লাগলেন, তুমি কি সালেহ আর-রশিদীকে চিনতে না? সে আমার শিক্ষক ছিল এবং এই স্থানেই বসা ছিল—এ কথা বলে তিনি বাড়ির এক দিকের প্রতি ইশারা করলেন। তিনি বললেন, সে কথা বলল এবং কুরআনের কথা উল্লেখ করে আমার বিরোধিতা করল, ফলে আমি তাকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার এবং পদদলিত করার নির্দেশ দিলাম। আমার পিতা বললেন, এরপর তিনি আমাকে বলতে লাগলেন, আমি তোমাকে কতই না ভালো জানি! তুমি কি আমাদের কাছে আসতে না?

তখন আবদুর রহমান তাকে বললেন, হে আমিরুল মুমিনিন, আমি তাকে ত্রিশ বছর ধরে চিনি। সে আপনার আনুগত্য, আপনার সাথে হজ ও জিহাদ করাকে আবশ্যক মনে করে এবং সে নিজের ঘরেই অবস্থান করে।

তিনি (খলিফা) বলতে লাগলেন, আল্লাহর শপথ, সে অবশ্যই একজন ফকিহ এবং সে অবশ্যই একজন আলেম। আমার জন্য এটি অত্যন্ত আনন্দের বিষয় হতো যদি তার মতো কেউ আমার সাথে থাকত যে আমার পক্ষ থেকে বিজাতীয় ধর্মাবলম্বীদের জবাব দিত। যদি সে আমাকে এমন কোনো বিষয়ে সাড়া দিত যাতে তার জন্য সামান্যতম অবকাশ থাকত, তবে আমি নিজের হাতে তার বাঁধন খুলে দিতাম, তার পদপ্রান্তে উপস্থিত হতাম এবং আমার সেনাবাহিনী নিয়ে তার কাছে যেতাম।

তিনি বললেন, এরপর তিনি আমার দিকে ফিরে বললেন, আফসোস হে আহমদ! তুমি কী বলছ?

তিনি বললেন, তখন আমি বললাম, হে আমিরুল মুমিনিন, আমাকে আল্লাহর কিতাব অথবা তাঁর রাসুলের সুন্নাহ থেকে কিছু দিন। যখন মজলিস দীর্ঘ হলো, তিনি বিরক্ত হয়ে উঠে দাঁড়ালেন এবং আমাকে আগের জায়গায় ফিরিয়ে নেওয়া হলো। এরপর তিনি আমার কাছে দুজন লোককে পাঠালেন যাদের নাম তিনি উল্লেখ করেছিলেন—তারা হলেন শাফিঈর সাথী এবং গাসসান।