(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হানীফা ওয়া আসহাবিহী - ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: -)
أخبار أبي حنيفة وأصحابه - ط عالم الكتب   (الصيمري)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: أخبار أبي حنيفة وأصحابه

المؤلف: أبو عبد الله، حسين بن علي الصَّيْمَري (ت 436 هـ)

الناشر: عالم الكتب - بيروت

الطبعة: الثانية، 1405 هـ - 1985 م

عدد الصفحات: 173

تنبيه: هذه الطبعة إعادة إخراج لتحقيق أبي الوفاء الأفغاني، بحرف جديد وتوزيع صفحات مختلف؛ ونتج عن ذلك جملة من التصحيفات؛ فلْيُتنبّه لذلك

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আবু হানিফা ও তাঁর সাথীদের সংবাদ - আলমুল কুতুব সংস্করণ   (আস-সাইমারী)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরবিন্যাস


বই: আবু হানিফা ও তাঁর সাথীদের সংবাদ

লেখক: আবু আব্দুল্লাহ، হুসাইন বিন আলী আস-সাইমারী (মৃত্যু ৪৩৬ হি.)

প্রকাশক: আলমুল কুতুব - বৈরুত

সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪০৫ হি. - ১৯৮৫ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৩

সতর্কবার্তা: এই সংস্করণটি আবু ওয়াফা আল-আফগানির তাহকিকের একটি নতুন উপস্থাপনা، যা নতুন ফন্ট এবং ভিন্ন পৃষ্ঠা বিন্যাসে করা হয়েছে; এর ফলে এতে বেশ কিছু মুদ্রণ প্রমাদ বা শব্দগত ভুল সৃষ্টি হয়েছে; তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন

[বইটির নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হানীফা ওয়া আসহাবিহী - ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ১৫)
نحمده وَنُصَلِّي على رَسُوله الْكَرِيم

‌‌نسب أبي حنيفَة رضي الله عنه

 

أخبرنَا القَاضِي ابو عبد الرَّحْمَن مُحَمَّد بن الْحُسَيْن بن عبد الرَّحْمَن الطَّالقَانِي قَالَ حَدثنَا القَاضِي ابوعبد الله الْحُسَيْن بن عَليّ بن مُحَمَّد الصَّيْمَرِيّ بِبَغْدَاد فِي مَسْجِد درب الزرادين وَذَلِكَ فِي شهر رَمَضَان من سنة أَربع وَأَرْبَعمِائَة قَالَ أخبرنَا أَبُو عبيد الله مُحَمَّد بن عمرَان بن مُوسَى المرزباني قَالَ أخبرنَا مُحَمَّد بن أَحْمد الْكَاتِب قَالَ حَدثنَا أَحْمد بن أبي خَيْثَمَة قَالَ سَمِعت مُحَمَّد بن يزِيد يَقُول ابو حنيفَة مولى لبني تيم الله بن ثَعْلَبَة

أخبرنَا ابو عبد الله أَحْمد بن مُحَمَّد الصَّيْرَفِي قَالَ حَدثنَا أَبُو بكر أَحْمد بن مُحَمَّد المسكي قَالَ حَدثنَا عَليّ بن مُحَمَّد بن كأس النَّخعِيّ قَالَ حَدثنَا مُحَمَّد بن عَليّ بن عَفَّان العامري قَالَ حَدثنَا مُحَمَّد بن اسحاق البكائي عَن عمر بن حَمَّاد بن أبي حنيفَة قَالَ أَبُو حنيفَة النُّعْمَان بن ثَابت بن زوطي فَأَما زوطي فَإِنَّهُ من أهل كابل ولد ثَابت على الاسلام وَكَانَ زوطي مَمْلُوكا لنَبِيّ تيم الله بن ثَعْلَبَة فَأعتق فولاؤه لنَبِيّ تيم الله بن ثَعْلَبَة ثمَّ لنَبِيّ قفل وَكَانَ أَبُو حنيفَة خزازا ودكانه مَعْرُوف فِي دَار عَمْرو بن حُرَيْث بِالْكُوفَةِ
আমরা তাঁর প্রশংসা করছি এবং তাঁর সম্মানিত রাসূলের ওপর দরুদ পাঠ করছি।

‌‌আবু হানিফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বংশপরিচয়

 

আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন বিচারক আবু আবদুর রহমান মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন আবদুর রহমান আল-তালিকানি, তিনি বলেন, আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন বিচারক আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আলী বিন মুহাম্মদ আল-সাইমারি বাগদাদে ‘দারব আল-জাররাদিন’ মসজিদে, আর তা ছিল চারশত চার হিজরি সনের রমজান মাসে। তিনি বলেন, আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন আবু উবাইদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইমরান বিন মুসা আল-মারজুবানি, তিনি বলেন, আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-কাতিব, তিনি বলেন, আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন আবু খাইসামা, তিনি বলেন, আমি মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদকে বলতে শুনেছি: আবু হানিফা ছিলেন বনু তাইমুল্লাহ বিন সা’লাবাহ গোত্রের একজন মুক্তদাস (মাওলা)।

আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-সাইরাফি, তিনি বলেন, আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-মিসকি, তিনি বলেন, আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন আলী বিন মুহাম্মদ বিন কা’স আল-নাখয়ি, তিনি বলেন, আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আফফান আল-আমিরি, তিনি বলেন, আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন ইসহাক আল-বুকায়ি, উমর বিন হাম্মাদ বিন আবু হানিফা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আবু হানিফা হলেন নুমান বিন সাবিত বিন জুতী। জুতী ছিলেন কাবুলের অধিবাসী। সাবিত ইসলামের ওপর জন্মগ্রহণ করেন। জুতী বনু তাইমুল্লাহ বিন সা’লাবাহর দাস ছিলেন, অতঃপর তিনি তাকে মুক্ত করে দেন। ফলে তার আনুগত্য (ওয়ালা) ছিল বনু তাইমুল্লাহ বিন সা’লাবাহর সাথে, অতঃপর বনু কুফলের সাথে। আবু হানিফা ছিলেন রেশম ব্যবসায়ী এবং কুফায় আমর বিন হুরাইসের বাড়িতে তার দোকান সুপরিচিত ছিল।
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হানীফা ওয়া আসহাবিহী - ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ১৬)
أخبرنَا أَحْمد بن مُحَمَّد قَالَ حَدثنَا عَليّ بن عَمْرو قَالَ ثَنَا أَحْمد بن إِسْحَاق بن البهلول عَن أَبِيه عَن جده قَالَ ثَابت وَالِد أبي حنيفَة رحمه الله من أهل الأنبار وروى ان أصل أبي حنيفَة من ترمذ وروى ان أَصله من نسا

أخبرنَا أَبُو حَفْص عمر بن إِبْرَاهِيم المقرىء قَالَ أَنا مكرم بن أَحْمد قَالَ ثَنَا أَحْمد ابْن عبيد الله بن شَاذان الْمروزِي قَالَ حَدثنَا أبي عَن جدي قَالَ سَمِعت إِسْمَاعِيل ابْن حَمَّاد بن أبي حنيفَة يَقُول أَنا إِسْمَاعِيل بن حَمَّاد بن النُّعْمَان بن ثَابت بن النُّعْمَان ابْن الْمَرْزُبَان من أَبنَاء فَارس الْأَحْرَار وَالله مَا وَقع علينا رق قطّ ولد جدي فِي سنة ثَمَانِينَ وَذهب ثَابت إِلَى عَليّ بن أبي طَالب رضي الله عنه وَهُوَ صَغِير ودعا لَهُ بِالْبركَةِ فِيهِ وَفِي ذُريَّته وَنحن نرجو من الله ان يكون قد اسْتَجَابَ الله ذَلِك لعَلي بن أبي طَالب رضي الله عنه فِينَا قَالَ والنعمان بن الْمَرْزُبَان أَبُو ثَابت هُوَ الَّذِي أهْدى إِلَى عَليّ بن أبي طَالب رضي الله عنه الفالوذج فِي يَوْم النيروز فَقَالَ نوروزنا كل يَوْم

وَقيل كَانَ ذَلِك فِي المهرجان فَقَالَ مهرجونا كل يَوْم

‌‌هَيْئَة أبي حنيفَة وَصفته وَحسن زيه

 

أخبرنَا عمر بن إِبْرَاهِيم قَالَ حَدثنَا مكرم بن أَحْمد قَالَ ثَنَا عبد الْوَهَّاب بن مُحَمَّد المرزوي قَالَ حَدثنِي احْمَد بن الْقَاسِم قَالَ ثَنَا البرتي القَاضِي قَالَ سَمِعت أَبَا نعيم يَقُول كَانَ أَبُو حنيفَة جميلا حسن الْوَجْه حسن اللِّحْيَة حسن الثَّوْب

اُخْبُرْنَا عمر قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا أَحْمد بن عَطِيَّة قَالَ سَمِعت أَبَا نعيم يَقُول كَانَ أَبُو حنيفَة رحمه الله حسن الْوَجْه وَالثَّوْب والنعل وَالْبر والمؤاساة لكل من أطاف بِهِ وَكَانَ اول من كتب كتبه أَسد بن عَمْرو البَجلِيّ وَكَانَ يكنى أَبَا عَمْرو
আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আলী বিন আমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ বিন ইসহাক বিন আল-বাহলুল তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ)-এর পিতা সাবিত আনবার এলাকার অধিবাসী ছিলেন। বর্ণিত আছে যে, আবু হানিফার মূল উৎস ছিল তিরমিয থেকে এবং আরও বর্ণিত আছে যে, তাঁর মূল উৎস ছিল নাসা থেকে।

আবু হাফস উমর বিন ইবরাহিম আল-মুকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুকরাম বিন আহমাদ আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমাদ বিন উবায়দুল্লাহ বিন শাযান আল-মারওয়াযি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইসমাইল বিন হাম্মাদ বিন আবু হানিফাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইসমাইল বিন হাম্মাদ বিন আন-নুমান বিন সাবিত বিন আন-নুমান বিন আল-মারযুবান, পারস্যের স্বাধীন সন্তানদের বংশধর। আল্লাহর শপথ, আমাদের ওপর কখনো দাসত্ব আপতিত হয়নি। আমার দাদা আশি হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। সাবিত ছোট থাকাবস্থায় আলী বিন আবু তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট গিয়েছিলেন। তিনি (আলী) তাঁর জন্য এবং তাঁর বংশধরের জন্য বরকতের দোয়া করেছিলেন। আমরা আল্লাহর নিকট আশা করি যে, আল্লাহ আমাদের ব্যাপারে আলী বিন আবু তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সেই দোয়া কবুল করেছেন। তিনি বলেন: আর সাবিতের পিতা নুমান বিন আল-মারযুবান সেই ব্যক্তি, যিনি নওরোজের দিনে আলী বিন আবু তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে ফালূদাজ (একটি মিষ্টি খাবার) উপহার দিয়েছিলেন। তখন তিনি (আলী) বলেছিলেন: আমাদের নওরোজ তো প্রতিদিন।

আরও বলা হয়েছে যে, তা মেহেরজান উৎসবের দিনে ছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: আমাদের মেহেরজান তো প্রতিদিন।

‌‌আবু হানিফার অবয়ব, তাঁর শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও চমৎকার পোশাক-পরিচ্ছদ

 

উমর বিন ইবরাহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুকরাম বিন আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল ওয়াহহাব বিন মুহাম্মাদ আল-মারওয়াযি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ বিন আল-কাসিম আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-বারতি আল-কাযি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু নুয়াইমকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আবু হানিফা ছিলেন সুন্দর, সুশ্রী চেহারাবিশিষ্ট, চমৎকার দাড়িসম্পন্ন এবং সুন্দর পোশাক পরিধানকারী।

উমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুকরাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ বিন আতিয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু নুয়াইমকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ) সুশ্রী চেহারাবিশিষ্ট, সুন্দর পোশাক ও জুতা পরিধানকারী ছিলেন এবং তাঁর সান্নিধ্যে আসা সকলের প্রতি তিনি অত্যন্ত দয়ালু ও সহানুভূতিশীল ছিলেন। তাঁর কিতাবসমূহ সর্বপ্রথম যিনি লিপিবদ্ধ করেছেন তিনি হলেন আসাদ বিন আমর আল-বাজালি, আর তাঁর উপনাম ছিল আবু আমর।
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হানীফা ওয়া আসহাবিহী - ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ১৭)
أخبرنَا عمر قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا احْمَد بن مُحَمَّد بن مُفلس قَالَ ثَنَا الْحمانِي قَالَ سَمِعت ابْن الْمُبَارك يَقُول مَا كَانَ أوقر مجْلِس أبي حنيفَة كَانَ يتشبه الْفُقَهَاء بِهِ وَكَانَ حسن السمت حسن الْوَجْه حسن الثَّوْب وَلَقَد كُنَّا يَوْمًا فِي الْمَسْجِد الْجَامِع فَوَقَعت حَيَّة فَسَقَطت فِي حجر أبي حنيفَة فهرب النَّاس غَيره مَا رَأَيْته زَاد على أَن نفض الْحَيَّة وَجلسَ مَكَانَهُ

أخبرنَا احْمَد بن مُحَمَّد الصَّيْرَفِي رَحْمَة الله عَلَيْهِ قَالَ ثَنَا عَليّ بن عَمْرو الحريري قَالَ ثَنَا عَليّ بن مُحَمَّد النَّخعِيّ قَالَ ثَنَا مُحَمَّد بن عَليّ بن عَفَّان قَالَ سَمِعت نمر بن جِدَار يَقُول سَمِعت أَبَا يُوسُف يَقُول كَانَ أَبُو حنيفَة رحمه الله ربعَة من الرِّجَال لَيْسَ بالقصير وَلَا بالطويل وَكَانَ أحسن النَّاس منطقا وأحلاهم نَغمَة وأبينهم عَمَّا يُرِيد

أخبرنَا أَحْمد بن مُحَمَّد قَالَ ثَنَا عَليّ بن عَمْرو قَالَ ثَنَا عَليّ بن مُحَمَّد النَّخعِيّ قَالَ ثَنَا مُحَمَّد بن جَعْفَر بن إِسْحَاق بن عمر بن حَمَّاد بن أبي حنيفَة أَن أَبَا حنيفَة كَانَ طَويلا تعلوه سَمُرَة وَكَانَ لباسا حسن الْهَيْئَة كثير التعطر يعرف برِيح الطّيب إِذا أقبل وَإِذا خرج من منزله قبل أَن ترَاهُ

‌‌مولد أبي حنيفَة رضي الله عنه

 

أخبرنَا عمر بن إِبْرَاهِيم المقرىء وَعبد الله بن مُحَمَّد الشَّاهِد قَالَا حَدثنَا مكرم بن احْمَد قَالَ ثَنَا عبد الْوَهَّاب قَالَ حَدثنِي أَحْمد بن الْقَاسِم قَالَ ثَنَا البرتي القَاضِي قَالَ سَمِعت أَبَا نعيم يَقُول ولد ابو حنيفَة سنة ثَمَانِينَ

أخبرنَا احْمَد بن مُحَمَّد الصَّيْرَفِي قَالَ ثَنَا عَليّ بن عَمْرو الحريري قَالَ ثَنَا عَليّ بن مُحَمَّد النَّخعِيّ قَالَ ثَنَا الْحَارِث بن أبي اسامة قَالَ ثَنَا مُحَمَّد بن سعد قَالَ سَمِعت الْوَاقِدِيّ يَقُول حَدثنِي حَمَّاد بن أبي حنيفَة قَالَ ولد أَبُو حنيفَة سنة ثَمَانِينَ
ওমর আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন, মাকরাম আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন মুফলিস আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হিম্মানি আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি ইবনুল মুবারককে বলতে শুনেছি: আবু হানিফার মজলিস কতই না গাম্ভীর্যপূর্ণ ছিল! ফকিহগণ তাঁর সাদৃশ্য অবলম্বন করতেন। তিনি সুন্দর স্বভাব, সুন্দর চেহারা এবং সুন্দর পোশাকের অধিকারী ছিলেন। একদিন আমরা জামে মসজিদে ছিলাম, তখন একটি সাপ পড়ল এবং তা আবু হানিফার কোলে গিয়ে পড়ল। তিনি ছাড়া উপস্থিত সকল মানুষ পালিয়ে গেল, কিন্তু আমি তাঁকে সাপটি ঝেড়ে ফেলা এবং নিজ স্থানে স্থির হয়ে বসে থাকা ছাড়া আর অতিরিক্ত কিছু করতে দেখিনি।

আহমদ বিন মুহাম্মদ আস-সাইরাফি (রহমতুল্লাহি আলাইহি) আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন, আলী বিন আমর আল-হারিরি আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আলী বিন মুহাম্মদ আন-নাখায়ি আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ বিন আলী বিন আফফান আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি নিমির বিন জিদারকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আবু ইউসুফকে বলতে শুনেছি: আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ) মাঝারি গড়নের মানুষ ছিলেন, খাটোও ছিলেন না আবার দীর্ঘকায়ও ছিলেন না। তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে বাকপটুতায় শ্রেষ্ঠ, কন্ঠস্বরে সবচেয়ে মধুর এবং যা তিনি বলতে চাইতেন তা প্রকাশে সবচেয়ে স্পষ্ট।

আহমদ বিন মুহাম্মদ আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন, আলী বিন আমর আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আলী বিন মুহাম্মদ আন-নাখায়ি আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ বিন জাফর বিন ইসহাক বিন ওমর বিন হাম্মাদ বিন আবু হানিফা বর্ণনা করেছেন যে, আবু হানিফা দীর্ঘদেহী ছিলেন এবং তাঁর গায়ের রঙ ছিল শ্যামলা। তিনি উত্তম পোশাক পরিধান করতেন, তাঁর অবয়ব ছিল সুন্দর, তিনি প্রচুর সুগন্ধি ব্যবহার করতেন। যখন তিনি আসতেন অথবা যখন তিনি তাঁর ঘর থেকে বের হতেন, তখন তাঁকে দেখার আগেই তাঁর সুগন্ধির ঘ্রাণে তাঁকে চেনা যেত।

‌‌আবু হানিফা (রাজিয়াল্লাহু আনহু)-এর জন্ম

 

ওমর বিন ইব্রাহিম আল-মুকরি এবং আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আশ-শাহিদ আমাদের জানিয়েছেন, তাঁরা বলেন, মাকরাম বিন আহমদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আব্দুল ওয়াহহাব আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমদ বিন কাসিম আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল-বারতি আল-কাজি আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি আবু নুআইমকে বলতে শুনেছি: আবু হানিফা আশি সালে জন্মগ্রহণ করেন।

আহমদ বিন মুহাম্মদ আস-সাইরাফি আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন, আলী বিন আমর আল-হারিরি আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আলী বিন মুহাম্মদ আন-নাখায়ি আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল-হারিস বিন আবু উসামা আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ বিন সাদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি আল-ওয়াকিদিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, হাম্মাদ বিন আবু হানিফা আমাদের বর্ণনা করেছেন: আবু হানিফা আশি সালে জন্মগ্রহণ করেন।
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হানীফা ওয়া আসহাবিহী - ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌من لَقِي أَبُو حنيفَة من الصَّحَابَة رضي الله عنهم وَمَا رَوَاهُ عَنْهُم

 

حَدثنَا أَبُو بكر هِلَال بن مُحَمَّد ابْن اخي هِلَال الرَّأْي قَالَ ثَنَا أبي أَبُو عبيد الله مُحَمَّد بن مُحَمَّد قَالَ ثَنَا مُحَمَّد بن حمدَان الطَّيَالِسِيّ قَالَ ثَنَا أَحْمد بن الصَّلْت قَالَ ثَنَا مُحَمَّد بن سَمَّاعَة عَن أبي يُوسُف عَن أبي حنيفَة انه قَالَ حججْت مَعَ أبي سنة سِتّ وَتِسْعين ولي سِتّ عشرَة سنة فَإِذا أَنا بشيخ قد اجْتمع النَّاس عَلَيْهِ فَقلت لأبي من هَذَا الرجل فَقَالَ هَذَا رجل قد صحب مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم يُقَال لَهُ عبد الله ابْن الْحَارِث بن جُزْء فَقلت لأبي أَي شَيْء عِنْده قَالَ أَحَادِيث سَمعهَا من النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَقلت قدمني إِلَيْهِ حَتَّى أسمع مِنْهُ فَتقدم بَين يَدي فَجعل يفرج عني النَّاس حَتَّى دَنَوْت مِنْهُ فَسَمعته يَقُول سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول من تفقه فِي دين الله كَفاهُ الله همه ورزقه من حَيْثُ لَا يحْتَسب

حَدثنَا هِلَال قَالَ ثَنَا أبي أَبُو عبيد الله قَالَ ثَنَا مُحَمَّد بن حمدَان قَالَ ثَنَا أَحْمد بن الصَّلْت عَن بشر بن الْوَلِيد عَن أبي يُوسُف عَن أبي حنيفَة قَالَ سَمِعت أنس بن مَالك رضي الله عنه يَقُول سَمِعت النَّبِي صلى الله عليه وسلم يَقُول الدَّال على الْخَيْر كفاعله وَالله يحب إغاثة اللهفان

قَالَ لنا أَبُو بكر هِلَال وَقد أدْرك أَبُو حنيفَة من الصَّحَابَة أَيْضا عبد الله بن أبي أوفى وَأَبا الطُّفَيْل عَامر بن وثلة وهما صحابيان

أخبرنَا ابو الْقَاسِم عبد الله بن مُحَمَّد الْحلْوانِي قَالَ ثَنَا أَبُو بكر مكرم بن احْمَد قَالَ ثَنَا احْمَد بن مُحَمَّد قَالَ سَمِعت أَبَا نعيم يَقُول ولد أَبُو حنيفَة سنة ثَمَانِينَ وَتوفى سنة خمسين وَمِائَة وَرَأى انس بن مَالك سنة خمس وَتِسْعين وَسمع مِنْهُ
সাহাবীদের মধ্য থেকে ইমাম আবু হানিফা যাদের সাক্ষাৎ লাভ করেছেন এবং তাদের থেকে যা বর্ণনা করেছেন

 

আমাদের নিকট আবু বকর হিলাল ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আখি হিলাল আর-রায় বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আবু উবাইদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবনে হামদান আত-তায়ালিসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমদ ইবনে সালত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবনে সামাআহ আবু ইউসুফ থেকে, তিনি আবু হানিফা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমি ছিয়ানব্বই হিজরি সনে আমার পিতার সাথে হজ সম্পন্ন করি, তখন আমার বয়স ছিল ষোল বছর। এমতাবস্থায় আমি একজন বৃদ্ধ ব্যক্তিকে দেখতে পেলাম যার চারপাশ ঘিরে মানুষ সমবেত হয়েছিল। আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম, 'এই ব্যক্তিটি কে?' তিনি বললেন, 'ইনি এমন একজন ব্যক্তি যিনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য লাভ করেছেন, তাকে আব্দুল্লাহ ইবনুল হারিস ইবনে জায বলা হয়।' আমি আমার পিতাকে বললাম, 'তার নিকট কী আছে?' তিনি বললেন, 'হাদিসসমূহ, যা তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে শুনেছেন।' আমি বললাম, 'আমাকে তার নিকট নিয়ে চলুন যাতে আমি তার নিকট থেকে শুনতে পারি।' তখন তিনি আমার সামনে এগিয়ে গেলেন এবং মানুষের ভিড় সরিয়ে দিতে থাকলেন যতক্ষণ না আমি তার নিকটবর্তী হলাম। আমি তাকে বলতে শুনলাম, 'আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: যে ব্যক্তি আল্লাহর দ্বীনের সঠিক সমঝ (ফিকহ) অর্জন করে, আল্লাহ তার সকল উদ্বেগের জন্য যথেষ্ট হন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দান করেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না।'

হিলাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আবু উবাইদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবনে হামদান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমদ ইবনে সালত বিশর ইবনুল ওয়ালিদ থেকে, তিনি আবু ইউসুফ থেকে, তিনি আবু হানিফা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আনাস ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: কল্যাণের পথপ্রদর্শক ব্যক্তি উক্ত কল্যাণ সম্পাদনকারীর ন্যায় নেকি পায় এবং আল্লাহ আর্তমানবতার সাহায্য করাকে পছন্দ করেন।

আবু বকর হিলাল আমাদের নিকট বলেছেন, আবু হানিফা সাহাবীদের মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি আওফা এবং আবু তুফায়েল আমির ইবনে ওয়াসিলাকেও পেয়েছেন, এবং তারা উভয়েই সাহাবী ছিলেন।

আবু আল-কাসিম আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-হালওয়ানি আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু বকর মুকরাম ইবনে আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি আবু নুআইমকে বলতে শুনেছি: আবু হানিফা আশি হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং দেড়শ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি পঁচানব্বই হিজরি সনে আনাস ইবনে মালেককে দেখেছিলেন এবং তার থেকে শুনেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হানীফা ওয়া আসহাবিহী - ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ১৯)
أخبرنَا أَبُو حَفْص عمر بن إِبْرَاهِيم المقرىء قَالَ ثَنَا مكرم بن أَحْمد قَالَ ثَنَا أَحْمد ابْن مُحَمَّد ثَنَا ابْن سَمَّاعَة وَبشر بن الْوَلِيد عَن أبي يُوسُف عَن أبي حنيفَة قَالَ كَانَ عُلَمَاؤُنَا كلهم يَقُولُونَ فِي سَجْدَتي السَّهْو انهما بعد السَّلَام ويتشهد فيهمَا وَيسلم قَالَ حَمَّاد بن أبي سُلَيْمَان هَكَذَا يُفْتِي أنس بن مَالك قَالَ أَبُو حنيفَة وَسَأَلت أنس ابْن مَالك فَقَالَ هَكَذَا هُوَ

أخبرنَا عمر بن إِبْرَاهِيم قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا أَحْمد بن مُحَمَّد قَالَ ثَنَا الْعَبَّاس بن بكار قَالَ ثَنَا أَسد بن عَمْرو عَن أبي حنيفَة عَن أنس بن مَالك قَالَ كَأَنِّي انْظُر الى لحية أبي قُحَافَة كَأَنَّهَا ضرام عرفج

‌‌ابْتِدَاء نظر أبي حنيفَة فِي الْفِقْه وَالسَّبَب فِيهِ

 

أخبرنَا عبد الله بن مُحَمَّد الشَّاهِد قَالَ ثَنَا مكرم بن أَحْمد قَالَ ثَنَا أَحْمد بن مُحَمَّد ابْن مغلس قَالَ ثَنَا مُحَمَّد بن سَمَّاعَة قَالَ سَمِعت أَبَا يُوسُف يَقُول سَمِعت أَبَا حنيفَة يَقُول لما أردْت طلب الْعلم جعلت أتخير وأشاور فَقلت أتحفظ الْقُرْآن فَأَكُون فِي مَوضِع يأتيني الْخلق لقرَاءَته وَأعلم النَّاس الْقُرْآن فَقلت يكون احداث يَحْفَظُونَهُ كَمَا أحفظه ثمَّ شاورت فَقيل لي النَّحْو فَقلت إِذا بلغت فِيهِ الْغَايَة جَلَست مَعَ صبي أؤدبه لبَعض الْمُلُوك ثمَّ شاورت فَقيل لي الْغَرِيب وَالشعر فَقلت إِذا بلغت فِيهِ الْغَايَة صرت أمدح وأذم وأتصدق بِهِ فَقلت الْكَلَام ثمَّ قلت إِذا بلغت فِيهِ الْغَايَة قَالُوا زنديق ثمَّ قلت الحَدِيث فَقلت إِذا بلغت فِيهِ الْغَايَة أردْت ان أداري فِيهِ الصّبيان وَإِن اجْتمع عَليّ جمَاعَة أَو قصدوني فأخرجت طرائف مَا جمعت قَالُوا كَذَّاب فَصَارَ شَيْئا عَليّ إِلَى يَوْم الْقِيَامَة قلت فالفقه فطلبت فِيهِ عَيْبا فَلم أجد فِيهِ قلت أول مَا آخذ فِيهِ أصير جَلِيسا للْعُلَمَاء والأشياخ وَإِن جرت مَسْأَلَة فِي
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাফস উমর বিন ইবরাহিম আল-মুকরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুকররাম বিন আহমদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে সামাআহ এবং বিশর বিন আল-ওয়ালিদ, তারা আবু ইউসুফ থেকে, তিনি আবু হানিফা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আমাদের সকল আলিম সাহু সিজদাহ সম্পর্কে বলতেন যে, তা সালামের পরে আদায় করতে হবে এবং সে দুটিতে তাশাহহুদ পড়তে হবে ও সালাম ফিরাতে হবে। হাম্মাদ বিন আবু সুলাইমান বলেন: আনাস বিন মালিক এভাবেই ফতোয়া দিতেন। আবু হানিফা বলেন: আমি আনাস বিন মালিককে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি, তিনি বলেছেন: বিষয়টি এমনই।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উমর বিন ইবরাহিম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুকররাম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্বাস বিন বাক্কার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসাদ বিন আমর, আবু হানিফা থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আমি যেন আবু কুহাফার দাড়ির দিকে তাকাচ্ছি, যা দেখতে আরফাজ উদ্ভিদের প্রজ্বলিত আগুনের মতো ছিল।

‌‌ফিকহ শাস্ত্রে আবু হানিফার পর্যালোচনার সূচনা এবং এর কারণ

 

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আশ-শাহিদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুকররাম বিন আহমদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন মুগাল্লিস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন সামাআহ, তিনি বলেন: আমি আবু ইউসুফকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু হানিফাকে বলতে শুনেছি: যখন আমি ইলম অর্জনের ইচ্ছা করলাম, তখন আমি বিষয় নির্বাচন করতে এবং পরামর্শ করতে শুরু করলাম। আমি মনে মনে বললাম, আমি কি কুরআন হিফজ করব? তবে আমি এমন এক অবস্থানে থাকব যেখানে মানুষ আমার কাছে কিরাত শিখতে আসবে এবং আমি মানুষকে কুরআন শেখাব। তখন ভাবলাম, অনেক শিশুও তো আমার মতো এটি হিফজ করে ফেলে। এরপর আমি পরামর্শ করলাম, তখন আমাকে ব্যাকরণ শাস্ত্র সম্পর্কে বলা হলো। আমি বললাম, আমি যদি এতে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছি, তবে আমি কেবল শিশুদের আদব শেখানোর জন্য কোনো বাদশাহর দরবারে বসে থাকব। তারপর পরামর্শ করলাম, আমাকে দুর্লভ শব্দাবলি ও কবিতা সম্পর্কে বলা হলো। আমি বললাম, আমি যদি এতে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছি, তবে আমি কেবল মানুষের প্রশংসা বা নিন্দা করব এবং এর মাধ্যমে জীবিকা অন্বেষণ করব। এরপর আমি কালাম শাস্ত্রের কথা ভাবলাম। তখন বললাম, আমি যদি এতে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছি, তবে মানুষ আমাকে জিন্দিক বলবে। তারপর আমি হাদিস শাস্ত্রের কথা ভাবলাম। তখন মনে হলো, আমি যদি এতে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছি এবং ছোটদের সামলাতে চাই, আর যদি আমার কাছে কোনো জামাত সমবেত হয় বা আমার কাছে আসতে চায় এবং আমি আমার সংগৃহীত দুর্লভ বিষয়গুলো প্রকাশ করি, তবে তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলবে। আর এটি কিয়ামত পর্যন্ত আমার জন্য একটি গ্লানি হয়ে থাকবে। তখন আমি বললাম ফিকহ শাস্ত্রের কথা। আমি এতে কোনো ত্রুটি খোঁজার চেষ্টা করলাম কিন্তু কোনো ত্রুটি পেলাম না। আমি বললাম, এটি গ্রহণ করলে আমি আলিম ও মাশায়েখদের মজলিসে বসার সুযোগ পাব এবং যদি কোনো মাসআলা আলোচিত হয়...
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হানীফা ওয়া আসহাবিহী - ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ২০)
الْقَرَابَة أَو الْجِيرَان اَوْ فَرِيضَة سَأَلُونِي عَنْهَا فان كَانَت عِنْدِي معرفَة وَإِلَّا قَالُوا يجب ان تسْأَل الَّذين تجالسهم فأسأل عَنْهَا ويتوقعون جوابي عَنْهَا فآتيهم بنبل وَعلم ووقار فَمن اراد ان يطْلب بِهِ دينا بلغ امرا حسنا جسيما وَصَارَ إِلَى رفْعَة وَمن أَرَادَ الْعِبَادَة وَالْخَيْر لم يسْتَطع اُحْدُ ان يَقُول تعبد بِلَا علم وَلَا عقل وَقبل علم وَعمل بِعِلْمِهِ

أخبرنَا أَبُو حَفْص عمر بن إِبْرَاهِيم قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا أَحْمد بن عَطِيَّة قَالَ حَدثنَا منْجَاب قَالَ حَدثنَا شريك عَن حُصَيْن قَالَ جَاءَت امْرَأَة إِلَى حَلقَة أبي حنيفَة وَكَانَ يطْلب الْكَلَام فَسَأَلته عَن مَسْأَلَة فَلم يحسنوا فِيهَا شَيْئا من الْجَواب فَانْصَرَفت إِلَى حَمَّاد بن أبي سُلَيْمَان فَسَأَلته فأجابها فَرَجَعت إِلَيْهِ فَقَالَت غررتموني سَمِعت كلامكم وَلم تحسنوا شَيْئا فَقَامَ أَبُو حنيفَة فَأتى حمادا فَقَالَ لَهُ مَا جَاءَ بك قَالَ أطلب الْفِقْه قَالَ تعلم كل يَوْم ثَلَاث مسَائِل وَلَا تزد عَلَيْهَا شَيْئا حَتَّى ينتفق لَك شَيْء من الْعلم فَفعل وَلزِمَ الْحلقَة حَتَّى فقه فَكَانَ النَّاس يشيرون إِلَيْهِ بالأصابع

أخبرنَا عمر بن إِبْرَاهِيم قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا ابْن مغلس قَالَ ثَنَا هناد بن السّري قَالَ سَمِعت يُونُس بن بكير يَقُول سَمِعت إِسْمَاعِيل بن حَمَّاد بن أبي سُلَيْمَان يَقُول غَابَ أبي غيبَة فِي سفر لَهُ ثمَّ قدم فَقلت لَهُ يَا أبه الى اي النَّاس كنت اشوق قَالَ وانا ارى انه يَقُول إِلَى ابْني فَقَالَ إِلَى أبي حنيفَة لَو امكنني ان لَا أرفع طرفِي عَنهُ فعلت

أخبرنَا عبد الله بن مُحَمَّد الْحلْوانِي قَالَ حَدثنَا مكرم قَالَ حَدثنِي عبد الصَّمد بن
আত্নীয়স্বজন বা প্রতিবেশীগণ অথবা কোনো ফরয বিধান সম্পর্কে তারা আমাকে জিজ্ঞাসা করত। যদি আমার জানা থাকত (তবে বলতাম), নতুবা তারা বলত যে তোমার উচিত তোমার সাথীদের জিজ্ঞাসা করা। ফলে আমি সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতাম এবং তারা আমার উত্তরের প্রতীক্ষায় থাকত। এরপর আমি তাদের কাছে আভিজাত্য, জ্ঞান ও গাম্ভীর্য নিয়ে উপস্থিত হতাম। সুতরাং যে ব্যক্তি এর মাধ্যমে দ্বীন অন্বেষণ করতে চায়, সে একটি মহান ও উত্তম বিষয়ে উপনীত হয় এবং উচ্চমর্যাদা লাভ করে। আর যে ব্যক্তি ইবাদত ও কল্যাণ চায়, কেউ এ কথা বলতে পারবে না যে সে জ্ঞান ও বুদ্ধি ব্যতিরেকে ইবাদত করছে; বরং সে জ্ঞান অন্বেষণ করেছে এবং নিজ ইলম অনুযায়ী আমল করেছে।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাফস ওমর ইবনে ইবরাহিম, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুকরাম, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে আতিয়্যাহ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুনজাব, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শারীক, তিনি হুসাইন থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: জনৈক নারী আবু হানিফার মজলিসে আসলেন—সে সময় তিনি ইলমে কালাম চর্চা করতেন—অতঃপর তিনি তাদের একটি মাসআলা জিজ্ঞাসা করলেন। তারা সে বিষয়ে কোনো জওয়াব দিতে পারলেন না। এরপর নারীটি হাম্মাদ ইবনে আবু সুলাইমানের নিকট গিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি তাকে উত্তর দিলেন। এরপর নারীটি পুনরায় তাঁর (আবু হানিফা) নিকট ফিরে এসে বললেন: "আপনারা আমাকে ধোঁকায় ফেলেছেন; আমি আপনাদের কথাবার্তা শুনলাম অথচ আপনারা কিছুই জানতেন না।" তখন আবু হানিফা উঠে দাঁড়িয়ে হাম্মাদের নিকট গেলেন। হাম্মাদ তাঁকে বললেন: "তোমার আসার কারণ কী?" তিনি বললেন: "আমি ফিকহ অন্বেষণ করছি।" তিনি (হাম্মাদ) বললেন: "প্রতিদিন মাত্র তিনটি মাসআলা শিখবে এবং এর বেশি কিছু করবে না, যতক্ষণ না তোমার মাঝে ইলমের ভিত্তি স্থাপিত হয়।" তিনি তাই করলেন এবং মজলিসে নিয়মিত উপস্থিত থাকলেন যতক্ষণ না তিনি ফকীহ হলেন; তখন মানুষ তাঁর দিকে আঙুল দিয়ে ইশারা করত।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ওমর ইবনে ইবরাহিম, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুকরাম, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে মুগাল্লাস, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হান্নাদ ইবনে সারী, তিনি বলেন, আমি ইউনুস ইবনে বুকাইরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি ইসমাইল ইবনে হাম্মাদ ইবনে আবু সুলাইমানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমার পিতা তাঁর এক সফরে বাইরে ছিলেন, অতঃপর ফিরে আসলেন। আমি তাঁকে বললাম: "হে আব্বা! মানুষের মধ্যে কার জন্য আপনি সবচাইতে বেশি ব্যাকুল ছিলেন?" বর্ণনাকারী বলেন—আমি ভাবছিলাম তিনি বলবেন "আমার ছেলের জন্য"—কিন্তু তিনি বললেন: "আবু হানিফার জন্য; যদি আমার পক্ষে সম্ভব হতো যে তাঁর থেকে পলকের জন্যও দৃষ্টি সরাব না, তবে আমি তাই করতাম।"

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-হালওয়ানি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুকরাম, তিনি বলেন, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুস সামাদ ইবনে...
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হানীফা ওয়া আসহাবিহী - ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ২১)
عبد الله عَن الْقَاسِم بن عبد الله بن عَامر قَالَ ثَنَا عُمَيْر بن عمار الْهَمدَانِي قَالَ أَنا مُحَمَّد بن أبان الْقرشِي قَالَ قَالَ لي أَبُو حنيفَة إِنِّي لأدعو الله لحماد فأبدأ بِهِ قبل أَبَوي

‌‌ابْتِدَاء جُلُوسه للفتيا وَالسَّبَب فِي ذَلِك

 

أخبرنَا أَبُو حَفْص عمر بن إِبْرَاهِيم المقرىء قَالَ ثَنَا مكرم بن احْمَد قَالَ ثَنَا ابْن مغلس قَالَ ثَنَا ابْن عَابس قَالَ سَمِعت حَمَّاد بن سَلمَة يَقُول كَانَ مفتي الْكُوفَة والمنظور إِلَيْهِ فِي الْفِقْه بعد موت إِبْرَاهِيم النَّخعِيّ حَمَّاد بن أبي سُلَيْمَان فَكَانَ النَّاس بِهِ أَغْنِيَاء فَلَمَّا مَاتَ احتاجوا إِلَى من يجلس لَهُم وَخَافَ أَصْحَابه ان يَمُوت ذكره ويندرس الْعلم وَكَانَ لحماد ابْن حسن الْمعرفَة فَأَجْمعُوا عَلَيْهِ فَجَاءَهُ أَصْحَاب أَبِيه ابو بكر النَّهْشَلِي وَأَبُو بردة الْعُتْبِي وَمُحَمّد بن جَابر الْحَنَفِيّ وَغَيرهم فَاخْتَلَفُوا إِلَيْهِ فَكَانَ الْغَالِب عَلَيْهِ النَّحْو وَكَلَام الْعَرَب فَلم يصبر لَهُم على الْقعُود فأجمع رَأْيهمْ على أبي بكر النَّهْشَلِي فَسَأَلُوهُ فَأبى فسألوا ابا بردة فَأبى فَقَالُوا لأبي حنيفَة فَقَالَ مَا أحب أَن يَمُوت الْعلم فساعدهم وَجلسَ لَهُم فَاخْتَلَفُوا إِلَيْهِ ثمَّ اخْتلف إِلَيْهِ بعدهمْ ابو يُوسُف وَأسد بن عَمْرو وَالقَاسِم بن معن وَزفر بن الْهُذيْل والوليد وَرِجَال من أهل الْكُوفَة فَكَانَ أبوحنيفة يفقههم فِي الدّين وَكَانَ شَدِيد الْبر بهم والتعاهد وَكَانَ ابْن ابي ليلى وَابْن شبْرمَة وَشريك وسُفْيَان يخالفونه وَيطْلبُونَ شينه فَلم يزل كَذَلِك حَتَّى استحكم امْرَهْ وَاحْتَاجَ إِلَيْهِ الْأُمَرَاء وَذكره الْخُلَفَاء
আবদুল্লাহ কাসিম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, উমাইর ইবনে আম্মার আল-হামদানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবনে আবান আল-কুরাশি আমাকে বলেছেন, তিনি বলেন, আবু হানিফা আমাকে বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি হাম্মাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করি এবং আমি আমার পিতামাতার আগে তার নাম দিয়ে শুরু করি।"

‌‌ফতোয়া প্রদানের জন্য তাঁর বসার সূচনা এবং এর কারণ

 

আবু হাফস উমর ইবনে ইব্রাহিম আল-মুকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুকরাম ইবনে আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইবনুল মুগাল্লিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইবনে আবিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি হাম্মাদ ইবনে সালামাহকে বলতে শুনেছি: ইব্রাহিম আন-নাখায়ীর মৃত্যুর পর কুফার মুফতি এবং ফিকহ শাস্ত্রে সবার দৃষ্টির কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন হাম্মাদ ইবনে আবি সুলাইমান। মানুষ তাঁর মাধ্যমে অভাবমুক্ত ছিল। অতঃপর যখন তিনি মৃত্যুবরণ করলেন, তখন মানুষের এমন একজনের প্রয়োজন হলো যিনি তাদের জন্য শিক্ষাদানের আসনে বসবেন। তাঁর সঙ্গীরা ভয় পেলেন যে পাছে তাঁর স্মৃতি মুছে যায় এবং ইলম বিলুপ্ত হয়ে যায়। হাম্মাদের এক পুত্র ছিল যার ইলম সম্পর্কে ভালো জানাশোনা ছিল। তাই সকলে তাঁর ব্যাপারে একমত হলেন। তাঁর পিতার সাথী আবু বকর আন-নাহশালি, আবু বুর্দাহ আল-উতবি, মুহাম্মদ ইবনে জাবির আল-হানাফি এবং অন্যান্যরা তাঁর কাছে আসলেন এবং তাঁর কাছে যাতায়াত শুরু করলেন। কিন্তু তাঁর ওপর নাহু এবং আরবী ভাষাতত্ত্বের প্রাধান্য বেশি ছিল, ফলে তিনি তাদের জন্য নিয়মিত পাঠদানে ধৈর্য ধারণ করতে পারলেন না। অতঃপর তাদের সিদ্ধান্ত আবু বকর আন-নাহশালির ওপর স্থির হলো। তাঁরা তাঁকে অনুরোধ করলেন কিন্তু তিনি অস্বীকার করলেন। তাঁরা আবু বুর্দাহকে অনুরোধ করলেন কিন্তু তিনিও অস্বীকার করলেন। তখন তাঁরা আবু হানিফাকে অনুরোধ করলেন। তিনি বললেন: "আমি চাই না যে ইলম বিলুপ্ত হয়ে যাক।" অতঃপর তিনি তাঁদের ডাকে সাড়া দিলেন এবং তাঁদের জন্য পাঠদানে বসলেন। তখন লোকেরা তাঁর নিকট আসতে শুরু করল। এরপর তাঁদের পরে তাঁর নিকট আসা-যাওয়া শুরু করলেন আবু ইউসুফ, আসাদ ইবনে আমর, কাসিম ইবনে মা'ন, জুফার ইবনুল হুযাইল, ওয়ালিদ এবং কুফার একদল লোক। আবু হানিফা তাঁদের দ্বীনের ফিকহ শিক্ষা দিতেন এবং তিনি তাঁদের প্রতি অত্যন্ত সদাচারী ও যত্নশীল ছিলেন। ইবনে আবি লায়লা, ইবনে শুবরুমাহ, শারিক এবং সুফিয়ান তাঁর বিরোধিতা করতেন এবং তাঁর ত্রুটি অন্বেষণ করতেন। বিষয়টি এভাবেই চলতে থাকে যতক্ষণ না তাঁর অবস্থান সুদৃঢ় হয় এবং আমীরগণ তাঁর মুখাপেক্ষী হন ও খলিফাগণ তাঁর কথা আলোচনা করেন।
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হানীফা ওয়া আসহাবিহী - ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ২২)
أخبرنَا أَبُو الْقَاسِم عبد الله بن مُحَمَّد الْحلْوانِي قَالَ ثَنَا مكرم بن أَحْمد قَالَ ثَنَا أَحْمد ابْن عَطِيَّة قَالَ ثَنَا الْحسن بن الرّبيع قَالَ ثَنَا ابْن الْمُبَارك قَالَ سَمِعت دَاوُد الطَّائِي يَقُول كَانَ مفتي النَّاس بِالْكُوفَةِ حَمَّاد بن أبي سُلَيْمَان وَكَانَ لحماد ابْن يُقَال لَهُ اسماعيل ابْن حَمَّاد بن أبي سُلَيْمَان فَلَمَّا جَاءَ موت حَمَّاد أَجمعُوا ان يكون إِسْمَاعِيل يجلس لَهُم ويصبر عَلَيْهِم فنظروا فَإِذا الْغَالِب عَلَيْهِ الشّعْر والسمر وَأَيَّام النَّاس فَقَالَ ابو بكر النَّهْشَلِي وَكَانَ من أَصْحَاب حَمَّاد وَأَبُو بردة وَمُحَمّد بن جَابر الْحَنَفِيّ وَجَمَاعَة من أَصْحَاب حَمَّاد فَقَالَ ابو حُصَيْن وحبِيب بن أبي ثَابت إِن هَذَا الخزاز حسن الْمعرفَة وَإِن كَانَ حَدثا فَأَجْلَسُوهُ فَفَعَلُوا وَكَانَ رجلا مُوسِرًا سخيا ذكيا فَجَلَسَ وصبر نَفسه عَلَيْهِم وَأحسن مؤاساتهم وحباهم وأكرمه الْحُكَّام والأمراء وارتفع شَأْنه فَاخْتلف إِلَيْهِ الطَّبَقَة الْعليا ثمَّ جَاءَ بعدهمْ ابو يُوسُف وَأسد بن عَمْرو وَالقَاسِم بن معن وَأَبُو بكر الْهُذلِيّ والوليد بن أبان وَكَانَ الَّذين يناصبونه ويتكلمون فِيهِ ابْن أبي ليلى وَابْن شبْرمَة وَالثَّوْري وَشريك وَجَمَاعَة يخالفونه وَيطْلبُونَ لَهُ الشين وَجعل امْرَهْ يزْدَاد علوا وَكثر اصحابه حَتَّى كَانَت حلقته أعظم حَلقَة فِي الْمَسْجِد وأوسعهم فِي الْجَواب فَصَبر عَلَيْهِم واتسع على كل ضَعِيف مِنْهُم وَأهْدى إِلَى كل مُوسر فَانْصَرَفت وُجُوه النَّاس إِلَيْهِ حَتَّى أكْرمه الْأُمَرَاء والحكام والأشراف وَقَامَ بالنوائب وحمده الْكل وَعمل أَشْيَاء أعجزت الْعَرَب وقوى على ذَلِك بِالْعلمِ الْوَاسِع وأسعدته الْمَقَادِير فَكثر حساده قَالَ وَكَانَ يَقُول القَاضِي مثل السابح فِي الْبَحْر كم يسبح وَمن يرضى وَإِن كَانَ عَالما

أخبرنَا عبد الله بن مُحَمَّد قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا أَبُو الْعَبَّاس ابْن اخي جبارَة قَالَ ثَنَا مليح بن وَكِيع قَالَ سَمِعت أبي يَقُول سَمِعت رجلا يسْأَل أَبَا حنيفَة بِمَ يستعان على الْفِقْه حَتَّى يحفظ قَالَ يجمع الْهم قَالَ قلت وَبِمَ يستعان على جمع الْهم قَالَ بِحَذْف العلائق قَالَ قلت وَبِمَ يستعان على حذف العلائق قَالَ تَأْخُذ الشَّيْء عِنْد الْحَاجة وَلَا تزد

আবুল কাসেম আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-হুলওয়ানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুকরম ইবনে আহমদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমদ ইবনে আতিয়্যাহ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হাসান ইবনুর রাবী আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইবনুল মুবারক আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি দাউদ আত-তায়ীকে বলতে শুনেছি: কুফায় মানুষের মুফতি ছিলেন হাম্মাদ ইবনে আবু সুলাইমান। হাম্মাদের ইসমাইল নামে এক পুত্র ছিল, যাকে ইসমাইল ইবনে হাম্মাদ ইবনে আবু সুলাইমান বলা হতো। যখন হাম্মাদের মৃত্যু ঘনিয়ে এল, তখন লোকেরা ইসমাইলকে তাদের (পাঠদানের) জন্য বসাতে এবং তাদের সাথে ধৈর্য ধারণ করার ব্যাপারে একমত হলো। কিন্তু তারা লক্ষ্য করে দেখল যে, তার ওপর কবিতা, গল্পগুজব এবং মানুষের ইতিহাস চর্চার প্রভাবই প্রবল। তখন হাম্মাদের সাথীদের মধ্যে আবু বকর আন-নাহশালি, আবু বুরদাহ, মুহাম্মদ ইবনে জাবির আল-হানাফি এবং হাম্মাদের একদল সাথী আলোচনা করলেন। অতঃপর আবু হুসাইন এবং হাবিব ইবনে আবু সাবিত বললেন, "নিশ্চয়ই এই রেশম ব্যবসায়ী (ইমাম আবু হানিফা) প্রখর জ্ঞানের অধিকারী, যদিও তিনি বয়সে তরুণ। সুতরাং আপনারা তাকেই (হাম্মাদের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে) বসান।" তারা তাই করলেন। তিনি (আবু হানিফা) ছিলেন একজন স্বচ্ছল, দানশীল ও মেধাবী ব্যক্তি। তিনি বসলেন এবং তাদের পাঠদানে নিজেকে ধৈর্যশীল রাখলেন। তিনি তাদের সাথে উত্তম সহমর্মিতা প্রদর্শন করলেন এবং তাদের প্রতি দাক্ষিণ্য দেখাতেন। শাসক ও আমিরগণ তাকে সম্মান করতে শুরু করলেন এবং তার মর্যাদা অনেক বৃদ্ধি পেল। ফলে উচ্চবিত্ত ও বিশিষ্ট শ্রেণির লোকেরা তার কাছে আসা-যাওয়া শুরু করল। এরপর তাদের পরে আবু ইউসুফ, আসাদ ইবনে আমর, কাসিম ইবনে মা’ন, আবু বকর আল-হুযালি এবং ওয়ালিদ ইবনে আবান (তার মজলিসে) আগমন করলেন। আর যারা তার বিরোধিতা ও সমালোচনা করত তারা ছিলেন ইবনে আবু লাইলা, ইবনে শুবরুমাহ, সুফিয়ান আস-সাওরি, শারিক এবং একদল লোক যারা তার ভিন্ন মত পোষণ করত এবং তার খুঁত অন্বেষণ করত। কিন্তু তার বিষয়টি ক্রমশ উচ্চতর হতে লাগল এবং তার অনুসারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেল, এমনকি মসজিদে তার মজলিসটিই সবচেয়ে বড় মজলিসে পরিণত হলো এবং মাসআলার উত্তর প্রদানে তিনি ছিলেন সবচেয়ে প্রশস্ত। তিনি তাদের প্রতি ধৈর্য ধারণ করলেন এবং তাদের মধ্যে যারা দুর্বল ছিল তাদের প্রতি উদারতা দেখালেন, আর বিত্তবানদের উপহার পাঠাতেন। ফলে মানুষের মনোযোগ তার দিকে নিবদ্ধ হলো, এমনকি আমির, বিচারক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তাকে সম্মান করতে লাগলেন। তিনি মানুষের বিপদ-আপদে এগিয়ে আসতেন এবং সকলে তার প্রশংসা করত। তিনি এমন সব কাজ সম্পন্ন করেছিলেন যা আরবদেরও বিস্মিত করে দিয়েছিল। তিনি তার বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার দ্বারা এ কাজে সামর্থ্য লাভ করেছিলেন এবং ভাগ্য অনুকূলে থাকায় তার প্রতি ঈর্ষাকাতর লোকের সংখ্যাও বেড়ে গেল। তিনি (দাউদ আত-তায়ী) বলেন, তিনি (আবু হানিফা) বলতেন: "বিচারকের দৃষ্টান্ত হলো সাগরে সাঁতারু ব্যক্তির মতো; সে কতক্ষণই বা সাঁতার কাটবে এবং কাকে সে সন্তুষ্ট করবে, যদিও সে বিজ্ঞ আলেম হয়?"

আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুকরম আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, জাবারাহ-র ভ্রাতুষ্পুত্র আবুল আব্বাস আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মালিহ ইবনে ওয়াকি’ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমি এক ব্যক্তিকে আবু হানিফাকে জিজ্ঞাসা করতে শুনেছি—কীসের সাহায্যে ফেকহ মুখস্থ রাখায় সহযোগিতা পাওয়া যায়? তিনি বললেন: "একাগ্রতা অর্জনের মাধ্যমে।" সে বলল, একাগ্রতা অর্জনের জন্য কীসের সাহায্য নেওয়া উচিত? তিনি বললেন: "পার্থিব ব্যস্ততা ও সম্পর্ক ছিন্ন করার মাধ্যমে।" সে বলল, সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য কীসের সাহায্য নেওয়া উচিত? তিনি বললেন: "প্রয়োজনের সময় যতটুকু আবশ্যক ততটুকু গ্রহণ করবে এবং তার অতিরিক্ত কিছু নেবে না।"

(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হানীফা ওয়া আসহাবিহী - ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ২৩)
أخبرنَا عمر بن إِبْرَاهِيم المقرىء قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا احْمَد بن مُحَمَّد بن مغلس قَالَ ثَنَا نصر بن عَليّ قَالَ سَمِعت خَالِد بن الْحَارِث يَقُول سَمِعت شُعْبَة يَقُول سَمِعت حَمَّاد بن أبي سُلَيْمَان يَقُول كَانَ ابو حنيفَة رحمه الله يجالسنا بالسمت وَالْوَقار والورع وَكُنَّا نغذوه بِالْعلمِ حَتَّى دقق السُّؤَال فَخفت عَلَيْهِ من ذَلِك وَكَانَ وَالله حسن الْفَهم جيد الْحِفْظ حَتَّى شنعوا عَلَيْهِ بِمَا هُوَ وَالله أعلم بِهِ مِنْهُم فيلقون عدا الله وانا أعلم أَن الْعلم جليس النُّعْمَان كَمَا أعلم ان النَّهَار لَهُ ضوء يجلو ظلمَة اللَّيْل

أخبرنَا عمر بن إِبْرَاهِيم قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا أَحْمد قَالَ ثَنَا أَبُو غَسَّان قَالَ سَمِعت أسرائيل يَقُول نعم الرجل النُّعْمَان مَا كَانَ أحفظه لكل حَدِيث فِيهِ فقه وَأَشد فحصه عَنهُ وأعلمه بِمَا فِيهِ من الْفِقْه وَكَانَ قد ضبط عَن حَمَّاد فَأحْسن الضَّبْط عَنهُ فَأكْرمه الْخُلَفَاء والأمراء والوزراء وَكَانَ إِذا ناظره رجل فِي شَيْء من الْفِقْه همته نَفسه وَلَقَد كَانَ مسعر يَقُول من جعل أَبَا حنيفَة إِمَامًا فِيمَا بَينه وَبَين الله رَجَوْت ان لَا يخَاف وَلَا يكون فرط فِي الِاحْتِيَاط لنَفسِهِ

أخبرنَا احْمَد بن مُحَمَّد الصَّيْرَفِي قَالَ ثَنَا عَليّ بن عَمْرو الحريري قَالَ حَدثنَا عَليّ ابْن مُحَمَّد النَّخعِيّ القَاضِي قَالَ ثَنَا سُلَيْمَان بن الرّبيع الْحداد قَالَ ثَنَا مُحَمَّد بن حَفْص عَن الْحسن بن سُلَيْمَان انه قَالَ فِي تَفْسِير الحَدِيث الَّذِي جَاءَ لَا تقوم السَّاعَة حَتَّى يظْهر الْعلم قَالَ هُوَ علم أبي حنيفَة وَتَفْسِيره الْآثَار

أخبرنَا احْمَد بن مُحَمَّد قَالَ ثَنَا أَبُو بكر المسكي قَالَ ثَنَا القَاضِي النَّخعِيّ قَالَ ثَنَا يحيى بن ابي طَالب قَالَ سَمِعت عَليّ بن عَاصِم يَقُول لَو وزن علم أبي حنيفَة بِعلم اهل زَمَانه لرجح عَلَيْهِم

أخبرنَا عبد الله بن مُحَمَّد الشَّاهِد قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا احْمَد بن عَطِيَّة قَالَ ثَنَا
ওমর ইবনে ইবরাহিম আল-মুকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুকরাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুগাল্লিস আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, নাসর ইবনে আলি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি খালিদ ইবনুল হারিসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি শু'বাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি হাম্মাদ ইবনে আবু সুলাইমানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আবু হানিফা (আল্লাহ তার ওপর রহম করুন) আমাদের সাথে অত্যন্ত গাম্ভীর্য, মর্যাদা ও পরহেজগারির সাথে বসতেন। আমরা তাকে ইলম দ্বারা সিক্ত করতাম, এমনকি তিনি সূক্ষ্ম প্রশ্ন করতে শুরু করলেন এবং আমি এ বিষয়ে তার ব্যাপারে শঙ্কিত হলাম। আল্লাহর কসম, তিনি অত্যন্ত প্রখর বোধশক্তিসম্পন্ন ও উত্তম স্মৃতিশক্তির অধিকারী ছিলেন। এমনকি তারা তার সম্পর্কে এমন সব অপবাদ রটিয়েছে যা সম্পর্কে আল্লাহ তাদের চেয়েও ভালো জানেন। তারা আল্লাহর শত্রুদের সাথে সাক্ষাৎ করবে। আর আমি জানি যে, ইলম হলো নুমানের সঙ্গী, যেমন আমি জানি যে দিনের আলো রাতের অন্ধকারকে দূরীভূত করে।

ওমর ইবনে ইবরাহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুকরাম আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমাদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু গাসসান আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি ইসরাঈলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, নুমান কতই না উত্তম ব্যক্তি! ফিকহ সংবলিত প্রতিটি হাদিসের ক্ষেত্রে তিনি কতই না প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী ছিলেন এবং সে সম্পর্কে কতই না নিবিড় অনুসন্ধানকারী ছিলেন এবং তাতে বিদ্যমান ফিকহ সম্পর্কে তিনি সর্বাধিক অবগত ছিলেন। তিনি হাম্মাদের নিকট থেকে যথাযথভাবে ইলম আয়ত্ত করেছিলেন। ফলে খলিফা, আমির ও উজিরগণ তাকে সম্মান করতেন। যখন কোনো ব্যক্তি ফিকহের কোনো বিষয়ে তার সাথে বিতর্ক করত, তিনি তার সমস্ত মনোযোগ সেদিকে নিবদ্ধ করতেন। মিসআর বলতেন, যে ব্যক্তি আবু হানিফাকে তার এবং আল্লাহর মাঝে ইমাম হিসেবে গ্রহণ করবে, আমি আশা করি সে ভীত হবে না এবং সে নিজের জন্য সতর্কতা অবলম্বনে কোনো ত্রুটি করেনি।

আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আস-সাইরাফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আলি ইবনে আমর আল-হারিরি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, কাজি আলি ইবনে মুহাম্মাদ আন-নাখায়ি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সুলাইমান ইবনুর রবি আল-হাদ্দাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনে হাফস হাসান ইবনে সুলাইমান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি "ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না ইলম প্রকাশ পাবে" এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, এটি হলো আবু হানিফার ইলম এবং আসার সমূহের ব্যাখ্যা।

আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু বকর আল-মিসকি আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, কাজি আন-নাখায়ি আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইয়াহইয়া ইবনে আবু তালিব আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি আলি ইবনে আসিমকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, যদি আবু হানিফার ইলমকে তার সমসাময়িক যুগের লোকদের ইলমের সাথে ওজন করা হতো, তবে তার ইলম তাদের ওপর ভারী হতো।

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আশ-শাহিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুকরাম আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমাদ ইবনে আতিয়্যাহ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন...
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হানীফা ওয়া আসহাবিহী - ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ২৪)
مُحَمَّد بن سَمَّاعَة قَالَ ثَنَا أَبُو يُوسُف قَالَ قَالَ أَبُو حنيفَة مَا يعرف الْفِقْه وَقدره وَقدر أَهله من كَانَ ثقيل المجالسة وَكَانَ يَقُول

(عدمنا ثقال النَّاس فِي كل بَلْدَة … فيا رب لَا تغْفر لكل ثقيل)

‌‌مَا رُوِيَ عَن أبي حنيفَة فِي الْأُصُول الَّتِي بنى عَلَيْهَا مذْهبه

 

حَدثنَا أَبُو الْحسن عَليّ بن الْحسن الرَّازِيّ قَالَ ثَنَا أَبُو عبد الله الزَّعْفَرَانِي قَالَ ثَنَا أَحْمد بن أبي خَيْثَمَة قَالَ سَمِعت يحيى بن معِين يَقُول حَدثنِي عبيد بن أبي قُرَّة قَالَ سَمِعت يحيى بن الضريس قَالَ شهِدت سُفْيَان الثَّوْريّ وَأَتَاهُ رجل لَهُ مِقْدَار فِي الْعلم وَالْعِبَادَة فَقَالَ لَهُ يَا ابا عبد الله مَا تنقم على أبي حنيفَة قَالَ وَمَا لَهُ قَالَ سمعته يَقُول قولا فِيهِ إنصاف وَحجَّة أَنى آخذ بِكِتَاب الله إِذا وجدته فَلَمَّا لم اجده فِيهِ اخذت بِسنة رَسُول الله والْآثَار الصِّحَاح عَنهُ الَّتِي فَشَتْ فِي أَيدي الثِّقَات عَن الثِّقَات فَإِذا لم اجد فِي كتاب الله وَلَا سنة رَسُول الله أخذت بقول أَصْحَابه من شِئْت وأدع قَول من شِئْت ثمَّ لَا أخرج عَن قَوْلهم إِلَى قَول غَيرهم فَإِذا انْتهى الْأَمر إِلَى ابراهيم وَالشعْبِيّ وَالْحسن وَابْن سِيرِين وَسَعِيد بن الْمسيب وَعدد رجَالًا قد اجتهدوا فلي أَن أجتهد كَمَا اجتهدوا قَالَ فَسكت سُفْيَان طَويلا ثمَّ قَالَ كَلِمَات بِرَأْيهِ مَا بَقِي فِي الْمجْلس أحد إِلَّا كتبهَا نسْمع الشَّديد من الحَدِيث فنخافه ونسمع اللين فنرجوه وَلَا نحاسب الْأَحْيَاء وَلَا نقضي على الْأَمْوَات نسلم مَا سمعنَا وَنكل مَا لَا نطلع على علمه إِلَى عالمه ونتهم رَأينَا لرأيهم

اُخْبُرْنَا أَبُو الْقَاسِم عبد الله بن مُحَمَّد الْبَزَّاز قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا أَحْمد بن عَطِيَّة قَالَ ثَنَا ابْن سَمَّاعَة عَن أبي يُوسُف قَالَ سَمِعت أَبَا حنيفَة يَقُول إِذا جَاءَ الحَدِيث عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم عَن الثِّقَات أَخذنَا بِهِ فَإِذا جَاءَ عَن أَصْحَابه لم نخرج عَن أقاويلهم فَإِذا جَاءَ عَن التَّابِعين زاحمتهم
মুহাম্মদ বিন সামাআহ বলেন, আমাদের কাছে আবু ইউসুফ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু হানিফা বলেছেন, যে ব্যক্তির সান্নিধ্য দুঃসহ (ভারী), সে ফিকহ, এর মর্যাদা এবং ফিকহবিদদের মর্যাদা সম্পর্কে জানে না। তিনি বলতেন:

(আমরা প্রতিটি জনপদে দুঃসহ ব্যক্তিদের অনুপস্থিতি কামনা করি … হে প্রতিপালক, আপনি কোনো দুঃসহ ব্যক্তিকে ক্ষমা করবেন না)

‌‌আবু হানিফা থেকে তাঁর মাযহাবের ভিত্তিস্বরূপ মূলনীতিসমূহ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে

 

আবু হাসান আলী বিন হাসান আল-রাজি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে আবু আব্দুল্লাহ আল-জাফরানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে আহমদ বিন আবি খায়সামাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমি ইয়াহইয়া বিন মাঈনকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন উবাইদ বিন আবি কুররাহ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমি ইয়াহইয়া বিন আল-দুরিসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন আমি সুফিয়ান আল-সাওরির মজলিসে উপস্থিত ছিলাম। তখন তাঁর কাছে এমন এক ব্যক্তি এলেন ইলম ও ইবাদতের ক্ষেত্রে যার বিশেষ মর্যাদা ছিল। তিনি তাঁকে বললেন, "হে আবু আব্দুল্লাহ, আবু হানিফার প্রতি আপনার কী অভিযোগ?" তিনি বললেন, "তাঁর কী হয়েছে?" ওই ব্যক্তি বললেন, "আমি তাঁকে একটি কথা বলতে শুনেছি যাতে ইনসাফ ও দলিল রয়েছে। (তিনি বলেছেন:) আমি যখন আল্লাহর কিতাবে কোনো বিধান পাই, তখন তা গ্রহণ করি। যখন সেখানে পাই না, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ এবং তাঁর থেকে বর্ণিত ওই সকল সহীহ আসার (বর্ণনা) গ্রহণ করি যা নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে নির্ভরযোগ্যদের থেকে প্রসিদ্ধ হয়েছে। আর যখন আল্লাহর কিতাব ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহতে পাই না, তখন তাঁর সাহাবীগণের মধ্য থেকে যার কথা ইচ্ছা গ্রহণ করি এবং যার কথা ইচ্ছা বর্জন করি, তবে তাঁদের কথা ছেড়ে অন্য কারো কথার দিকে যাই না। এরপর বিষয়টি যখন ইবরাহিম নাখয়ি, শাবী, হাসান বসরী, ইবনে সিরিন এবং সাঈদ বিন আল-মুসাইয়িব—এবং তিনি এমন আরও কতিপয় লোকের নাম উল্লেখ করলেন যারা ইজতিহাদ করেছেন—পর্যন্ত পৌঁছে, তখন তাঁরা যেমন ইজতিহাদ করেছেন, আমারও ইজতিহাদ করার অধিকার রয়েছে।" বর্ণনাকারী বলেন, সুফিয়ান দীর্ঘক্ষণ চুপ থাকলেন, এরপর নিজের রায় অনুযায়ী কিছু কথা বললেন যা মজলিসে উপস্থিত প্রত্যেকেই লিখে নিলেন: "আমরা (শাস্তি ও সতর্কবাণী সম্বলিত) কঠোর হাদীসগুলো শুনে সেগুলোকে ভয় করি এবং সহজ ও আশাব্যঞ্জক হাদীসগুলো শুনে আশা পোষণ করি। আমরা জীবিতদের হিসাব গ্রহণ করি না এবং মৃতদের ব্যাপারে চূড়ান্ত ফয়সালা দেই না। আমরা যা শুনেছি তা মেনে নেই, আর যার নিগূঢ় রহস্য আমরা জানি না তা তার মহাজ্ঞানীর (আল্লাহর) কাছে সোপর্দ করি এবং তাঁদের রায়ের বিপরীতে আমাদের নিজেদের রায়কে ত্রুটিপূর্ণ মনে করি।"

আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-বাযযার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে মুকরাম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে আহমদ বিন আতিয়্যাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে ইবনে সামাআহ আবু ইউসুফ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমি আবু হানিফাকে বলতে শুনেছি: "যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে নির্ভরযোগ্যদের সূত্রে কোনো হাদীস আসে, আমরা তা গ্রহণ করি। যখন তাঁর সাহাবীদের থেকে (বর্ণনা) আসে, আমরা তাঁদের মতের বাইরে যাই না। আর যখন তাবিঈদের থেকে (বর্ণনা) আসে, তখন আমরাও ইজতিহাদে তাঁদের সাথে শামিল হই।"
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হানীফা ওয়া আসহাবিহী - ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ২৫)
أخبرنَا عبد الله بن مُحَمَّد قَالَ حَدثنَا مكرم قَالَ ثَنَا احْمَد قَالَ ثَنَا احْمَد بن عبد الله ابْن يُونُس قَالَ ثَنَا الْحسن بن صَالح قَالَ كَانَ ابو حنيفَة شَدِيد الفحص عَن النَّاسِخ من الحَدِيث والمنسوخ فَيعْمل بِالْحَدِيثِ إِذا ثَبت عِنْده عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَعَن أَصْحَابه وَكَانَ عَارِفًا بِحَدِيث أهل الْكُوفَة وَفقه أهل الْكُوفَة شَدِيد الِاتِّبَاع لما كَانَ عَلَيْهِ النَّاس بِبَلَدِهِ وَقَالَ كَانَ يَقُول إِن لكتاب الله نَاسِخا ومنسوخا وَإِن للْحَدِيث نَاسِخا ومنسوخا وَكَانَ حَافِظًا لفعل رَسُول الله صلى الله عليه وسلم الْأَخير الَّذِي قبض عَلَيْهِ مِمَّا وصل إِلَى أهل بَلَده

أخبرنَا عمر بن إِبْرَاهِيم قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا أَحْمد قَالَ ثَنَا عَليّ بن الْمَدِينِيّ قَالَ سَمِعت عبد الرَّزَّاق يَقُول كنت عِنْد معمر فَأَتَاهُ ابْن الْمُبَارك فسمعنا معمرا يَقُول مَا أعرف رجلا يتَكَلَّم فِي الْفِقْه ويسعه ان يقيس ويستخرج فِي الْفِقْه أحسن معرفَة من أبي حنيفَة رحمه الله وَلَا اشفق على نَفسه من أَن يدْخل فِي دين الله بِشَيْء من الشَّك من أبي حنيفَة رحمه الله

أخبرنَا عمر قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا أَحْمد قَالَ سَمِعت مُحَمَّد بن سَمَّاعَة يَقُول سَمِعت أَبَا يُوسُف يَقُول مَا خَالَفت ابا حنيفَة فِي شَيْء قطّ فتدبرته إِلَّا مذْهبه الَّذِي ذهب إِلَيْهِ أنجي فِي الْآخِرَة وَكنت رُبمَا ملت إِلَى الحَدِيث وَكَانَ هُوَ أبْصر بِالْحَدِيثِ الصَّحِيح مني

أخبرنَا عبد الله بن مُحَمَّد قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ حَدثنَا احْمَد بن عَطِيَّة قَالَ حَدثنَا مُوسَى بن سُلَيْمَان وَمُحَمّد بن سَمَّاعَة وَبشر بن الْوَلِيد رَحْمَة الله عَلَيْهِم قَالُوا حَدثنَا مُحَمَّد بن الْحسن رحمه الله قَالَ كَانَ أَبُو حنيفَة رَحْمَة الله عَلَيْهِ يناظر أَصْحَابه فِي المقاييس فينتصفون مِنْهُ فيعارضونه حَتَّى إِذا قَالَ اسْتحْسنَ لم يلْحقهُ اُحْدُ مِنْهُم لِكَثْرَة مَا يُورد فِي الِاسْتِحْسَان من الْمسَائِل فَيدعونَ جَمِيعًا ويسلمون لَهُ
আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মাকরাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল-হাসান ইবনে সালিহ বলেছেন: আবু হানিফা হাদিসের নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসুখ (রহিত) বিষয়সমূহ অনুসন্ধানে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। যখন তাঁর নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীদের থেকে কোনো হাদিস সাব্যস্ত হতো, তখন তিনি সে অনুযায়ী আমল করতেন। তিনি কুফাবাসীদের হাদিস ও কুফাবাসীদের ফিকহ সম্পর্কে অভিজ্ঞ ছিলেন এবং তাঁর শহরের মানুষ যে রীতির ওপর ছিল, তার কঠোর অনুসারী ছিলেন। তিনি বলতেন, আল্লাহর কিতাবের নাসিখ ও মানসুখ রয়েছে এবং হাদিসেরও নাসিখ ও মানসুখ রয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ওফাত পর্যন্ত সর্বশেষ যে আমলটির ওপর ছিলেন এবং যা তাঁর শহরের মানুষের কাছে পৌঁছেছিল, তিনি তা বিশেষভাবে সংরক্ষণ করতেন।

উমর ইবনে ইব্রাহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মাকরাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আলী ইবনুল মাদিনী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি আবদুর রাজ্জাককে বলতে শুনেছি: আমি মা’মারের নিকট ছিলাম, এমতাবস্থায় ইবনুল মুবারক তাঁর নিকট আসলেন। তখন আমরা মা’মারকে বলতে শুনলাম, আমি এমন কোনো ব্যক্তিকে চিনি না যিনি ফিকহ নিয়ে আলোচনা করেন এবং কিয়াস ও ফিকহ থেকে মাসআলা উদ্ভাবন করার ক্ষেত্রে আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ)-এর চেয়ে অধিক প্রজ্ঞাবান। আর আল্লাহর দ্বীনের বিষয়ে কোনো প্রকার সন্দেহে লিপ্ত হওয়ার ব্যাপারে আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ)-এর চেয়ে নিজের নফসের ওপর অধিক সতর্ক ব্যক্তি আমি আর কাউকে দেখিনি।

উমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মাকরাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি মুহাম্মাদ ইবনে সামা’আকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আবু ইউসুফকে বলতে শুনেছি: আমি আবু হানিফার সাথে কোনো বিষয়েই দ্বিমত পোষণ করে তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করিনি, তবে শেষ পর্যন্ত তাঁর মতটিই পরকালে অধিক মুক্তিদায়ক হিসেবে পেয়েছি। কখনো কখনো আমি হাদিসের দিকে ঝুঁকে পড়তাম, কিন্তু তিনি সহিহ হাদিস সম্পর্কে আমার চেয়েও অধিক দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ছিলেন।

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মাকরাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমাদ ইবনে আতিয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুসা ইবনে সুলাইমান, মুহাম্মাদ ইবনে সামা’আ ও বিশর ইবনুল ওয়ালিদ (রহিমাহুমুল্লাহ) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন, মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান (রহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন: আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ) বিভিন্ন কিয়াসের বিষয়ে তাঁর সঙ্গীদের সাথে বিতর্ক করতেন এবং তাঁরা তাঁর বিরোধিতা করতেন। কিন্তু যখনই তিনি ইস্তিহসানের (উত্তম মনে করা) কথা বলতেন, তখন তাঁদের কেউ আর তাঁর নাগাল পেত না; কারণ ইস্তিহসানের ক্ষেত্রে তিনি এত অধিক মাসআলা উপস্থাপন করতেন যে তাঁরা সকলে পূর্বের দাবি ছেড়ে দিতেন এবং তাঁর সিদ্ধান্ত মেনে নিতেন।
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হানীফা ওয়া আসহাবিহী - ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ২৬)
أخبرنَا عبد الله بن مُحَمَّد قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا أَحْمد قَالَ ثَنَا مُحَمَّد بن مقَاتل قَالَ سَمِعت ابْن الْمُبَارك وَسُئِلَ مَتى يسع الرجل ان يُفْتِي أَو أَن يَلِي الْقَضَاء اَوْ الحكم قَالَ إِذا كَانَ عَالما بِالْحَدِيثِ بَصيرًا بِالرَّأْيِ عَالما بقول ابي حنيفَة حَافِظًا لَهُ

اُخْبُرْنَا عمر بن ابراهيم قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا أَحْمد قَالَ سَمِعت الْمُزنِيّ يَقُول سَمِعت الشَّافِعِي يَقُول النَّاس عِيَال على أبي حنيفَة فِي الْقيَاس وَالِاسْتِحْسَان

أخبرنَا عمر قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا احْمَد قَالَ ثَنَا مُحَمَّد بن مقَاتل قَالَ سَمِعت ابْن الْمُبَارك يَقُول قدم مُحَمَّد بن وَاسع إِلَى خُرَاسَان فَقَالَ قبيصَة قد قدم عَلَيْكُم صَاحب الدعْوَة قَالَ فَاجْتمع عَلَيْهِ قوم فَسَأَلُوهُ عَن أَشْيَاء من الْفِقْه فَقَالَ إِن الْفِقْه صناعَة لشاب بِالْكُوفَةِ يكنى أَبَا حنيفَة فَقَالُوا لَهُ إِنَّه لَيْسَ يعرف الحَدِيث فَقَالَ ابْن الْمُبَارك كَيفَ تَقولُونَ لَهُ لَا يعرف لقد سُئِلَ عَن الرطب بِالتَّمْرِ قَالَ لَا بَأْس بِهِ فَقَالُوا حَدِيث سعد فَقَالَ ذَاك حَدِيث شَاذ لَا يُؤْخَذ بِرِوَايَة زيد ابي عَيَّاش فَمن تكلم بِهَذَا لم يكن يعرف الحَدِيث

أخبرنَا عمر بن إِبْرَاهِيم قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا أَحْمد قَالَ ثَنَا منْجَاب قَالَ ثَنَا شريك قَالَ كُنَّا عِنْد الاعمش ومعنا يَعْقُوب فَقَالَ الْأَعْمَش يَا يَعْقُوب لم ترك صَاحبك ابو حنيفَة قَول ابْن مَسْعُود عتق الْأمة طَلاقهَا قَالَ تَركه لحَدِيث حدثتناه عَن إِبْرَاهِيم عَن الْأسود أَن بَرِيرَة حِين اعتقت خيرت قَالَ الْأَعْمَش إِن أَبَا حنيفَة لحسن الْمعرفَة بمواضع الْعلم فطن لَهَا واعجبه مَا أَخذ بِهِ أَبُو حنيفَة من الْعلم وَبَيَان مَا أَتَى بِهِ

أخبرنَا عبد الله بن مُحَمَّد قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا أَحْمد بن عَطِيَّة قَالَ ثَنَا عَليّ بن معبد قَالَ ثَنَا عبيد الله بن عمر قَالَ كُنَّا عِنْد الْأَعْمَش وَهُوَ يسْأَل أَبَا حنيفَة عَن مسَائِل ويجيبه ابو حنيفَة فَيَقُول لَهُ الْأَعْمَش من أَيْن لَك هَذَا فَيَقُول انت حَدَّثتنَا
عبدুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুকরম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি ইবনুল মুবারককে বলতে শুনেছি—তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: কখন একজন ব্যক্তির জন্য ফতোয়া প্রদান করা অথবা বিচারকের দায়িত্ব বা শাসনভার গ্রহণ করা বৈধ হবে? তিনি বললেন: যখন সে হাদিস সম্পর্কে জ্ঞানী হবে, রায় (গবেষণা ও রায় প্রদান) বিষয়ে দূরদর্শী হবে এবং আবু হানিফার বক্তব্য সম্পর্কে জানবে ও তা মুখস্থ রাখবে।

উমর ইবনে ইব্রাহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুকরম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি মুযানীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি শাফেয়ীকে বলতে শুনেছি যে, মানুষ কিয়াস (যৌক্তিক তুলনা) এবং ইসতিহসান (উত্তম সমাধান গ্রহণ) এর ক্ষেত্রে আবু হানিফার মুখাপেক্ষী।

উমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুকরম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি ইবনুল মুবারককে বলতে শুনেছি—মুহাম্মদ ইবনে ওয়াসি' খুরাসানে আগমন করলে কুবায়সাহ বললেন, তোমাদের নিকট একজন দুআ কবুল হওয়া ব্যক্তি এসেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর একদল লোক তার কাছে একত্রিত হলেন এবং ফিকহী মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, ফিকহ হলো কুফার একজন যুবকের শিল্প যার কুনিয়া বা উপনাম আবু হানিফা। তখন তারা তাকে বলল যে, সে তো হাদিস জানে না। ইবনুল মুবারক বললেন, তোমরা কীভাবে বলছ যে তিনি জানেন না? তাকে তাজা খেজুরের বিনিময়ে শুকনো খেজুর বিক্রি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তিনি বলেছিলেন এতে কোনো সমস্যা নেই। তারা সা'দ-এর হাদিসের কথা উল্লেখ করলে তিনি বললেন, সেটি একটি 'শায' (বিচ্ছিন্ন) হাদিস যা জায়েদ আবু আইয়াশের বর্ণনার কারণে গ্রহণ করা হয় না। সুতরাং যে ব্যক্তি এই ধরনের কথা বলে, সে নিজেই হাদিস সম্পর্কে জানে না।

উমর ইবনে ইব্রাহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুকরম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মিনজাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, শারীক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন—আমরা আমাশের নিকট ছিলাম এবং আমাদের সাথে ইয়াকুব (আবু ইউসুফ) ছিলেন। আমাশ বললেন, হে ইয়াকুব! তোমার সাথী আবু হানিফা কেন ইবনে মাসউদের এই বক্তব্য পরিত্যাগ করেছেন যে, ‘দাসী মুক্ত হওয়াই তার তালাক’? তিনি বললেন, তিনি এটি পরিত্যাগ করেছেন এমন একটি হাদিসের কারণে যা আপনিই আমাদের কাছে ইব্রাহিম থেকে, তিনি আসওয়াদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, বারীরা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) যখন মুক্ত হয়েছিলেন, তখন তাকে (বিবাহ বহাল রাখার ব্যাপারে) ইখতিয়ার বা পছন্দ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। আমাশ বললেন, নিশ্চয়ই আবু হানিফা ইলমের উৎসগুলো সম্পর্কে অত্যন্ত গভীর জ্ঞানের অধিকারী এবং তিনি অত্যন্ত বিচক্ষণ। আবু হানিফা ইলমের যা কিছু গ্রহণ করেছেন এবং তিনি যে ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন তা তাকে (আমাশকে) অভিভূত করল।

عبدুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুকরম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমদ ইবনে আতিয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আলী ইবনে মাবাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন—আমরা আমাশের নিকট ছিলাম, এমতাবস্থায় তিনি আবু হানিফাকে বিভিন্ন মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছিলেন এবং আবু হানিফা সেগুলোর উত্তর দিচ্ছিলেন। তখন আমাশ তাকে বলছিলেন, আপনি এগুলো কোথা থেকে পেলেন? তিনি বলতেন, আপনিই তো আমাদের নিকট এগুলো বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হানীফা ওয়া আসহাবিহী - ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ২৭)
عَن إِبْرَاهِيم بِكَذَا وحدثتنا عَن الشّعبِيّ بِكَذَا قَالَ فَكَانَ الْأَعْمَش عِنْد ذَلِك يَقُول يَا معشر الْفُقَهَاء أَنْتُم الْأَطِبَّاء وَنحن الصيادلة

أخبرنَا أَبُو عبيد الله المرزباني قَالَ ثَنَا مُحَمَّد بن أَحْمد الْكَاتِب قَالَ ثَنَا ابْن أبي خَيْثَمَة قَالَ ثَنَا عبد الرَّحْمَن بن صَالح قَالَ ثَنَا وَكِيع قَالَ سَمِعت أَبَا حنيفَة يَقُول الْبَوْل فِي الْمَسْجِد احسن من بعض الْقيَاس

اُخْبُرْنَا عمر قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا عبد الصَّمد بن عبيد الله عَن مُعَاوِيَة بن عبد الله بن ميسرَة قَالَ سَمِعت أَبَا حنيفَة يَقُول من رغب عَن سيرة عَليّ رضي الله عنه فِي أهل الْقبْلَة فقد خَابَ وخسر

‌‌ذكر الْمسَائِل المستحسنة من اسْتِخْرَاج ابي حنيفَة الَّتِي عجز عَن الْجَواب فِيهَا عُلَمَاء الْكُوفَة

 

أخبرنَا أَبُو حَفْص عمر بن ابراهيم المقرىء قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا احْمَد بن مُحَمَّد بن مغلس قَالَ ثَنَا ابْن سَمَّاعَة قَالَ سَمِعت ابا يُوسُف يَقُول حج ابو حنيفَة فَوَقَعت بِالْكُوفَةِ مَسْأَلَة الدّور فَسئلَ ابْن شبْرمَة وَابْن أبي ليلى وَالثَّوْري وَالنَّاس بِالْكُوفَةِ فَلم يكن عِنْدهم فِيهَا شَيْء فَسئلَ أَصْحَاب ابي حنيفَة فَلم يكن عِنْدهم فِيهَا جَوَاب فَقَالُوا لَيْسَ لَهَا إِلَّا ابو حنيفَة فاشرأبت نفوسنا إِلَى قدومه حَتَّى خفنا عَلَيْهِ وعَلى أَنْفُسنَا وخفنا ان يعجز عَن الْجَواب فَيذْهب قدره وقدرنا مَعَه حَتَّى تمنى بَعْضنَا مَوته فَلَمَّا قرب أَبُو حنيفَة من الْكُوفَة استقبلته وَقلت اخبره بِالْمَسْأَلَة لَعَلَّه ان يعْمل فكره فِيهَا قبل ان يسْأَل عَنْهَا فَلَمَّا لَقيته قَالَ يَعْقُوب فَحَمَلَنِي مَعَه ثمَّ جَاءَ النَّاس وكثروا يَسْتَقْبِلُونَهُ فَلم أقدر أَن أَقُول لَهُ فِيهَا شَيْئا ثمَّ دَعَا بِدَابَّة فَركب وحملني على دَابَّة مَعَه وَحمل سَائِر النَّاس حولنا حَتَّى ضَاقَتْ الطرقات فَلَمَّا قدم وأتى الْمَسْجِد صلى فِيهِ رَكْعَتَيْنِ وَاجْتمعَ النَّاس فَكَانَ اول شَيْء سُئِلَ عَنهُ الْمَسْأَلَة الَّتِي القيت من الدّور قَالَ فَلَمَّا القيت عَلَيْهِ نكس رَأسه قَالَ فَلَمَّا رَأَيْته نكس رَأسه علمت
ইব্রাহীম থেকে এইভাবে এবং আমাদের কাছে শাবি থেকে এইভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, সেই সময় আমাশ বলতেন: হে ফকীহ সম্প্রদায়, আপনারা হলেন চিকিৎসক আর আমরা হলাম ওষুধ বিক্রেতা।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু উবাইদুল্লাহ আল-মারজুবানি, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-কাতিব, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি খাইসামা, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান বিন সালিহ, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ওকি', তিনি বলেন, আমি আবু হানিফাকে বলতে শুনেছি: মসজিদে পেশাব করা কিছু কিয়াসের (যৌক্তিক অনুমান) চেয়েও উত্তম।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উমর, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মাকরাম, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুস সামাদ বিন উবাইদুল্লাহ, মুয়াবিয়া বিন আবদুল্লাহ বিন মাইসারা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু হানিফাকে বলতে শুনেছি: যে ব্যক্তি আহলে কিবলার ব্যাপারে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর অনুসৃত নীতি থেকে বিমুখ হলো, সে নিশ্চয়ই ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হলো।

আবু হানিফার উদ্ভাবিত সেই সকল উত্তম মাসআলাসমূহের আলোচনা যেগুলোর উত্তর দিতে কুফার আলেমগণ অক্ষম হয়েছিলেন

 

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাফস উমর বিন ইব্রাহিম আল-মুকরি, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মাকরাম, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন মুগাল্লিস, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইবনে সামাআ, তিনি বলেন, আমি আবু ইউসুফকে বলতে শুনেছি: আবু হানিফা হজ করতে গিয়েছিলেন, তখন কুফায় 'দাওর' (আবর্তন) সংক্রান্ত একটি মাসআলা উদ্ভূত হলো। ইবনে শুবরুমা, ইবনে আবি লায়লা, সাওরি এবং কুফার অন্যান্য আলেমদের এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলো, কিন্তু তাদের কাছে কোনো সমাধান ছিল না। আবু হানিফার ছাত্রদেরও জিজ্ঞাসা করা হলো, তাদের কাছেও কোনো জবাব ছিল না। তখন তারা বললেন, আবু হানিফা ছাড়া এর কোনো সমাধান নেই। আমরা অত্যন্ত ব্যাকুলভাবে তাঁর আগমনের প্রতীক্ষা করতে লাগলাম, এমনকি আমরা তাঁর ব্যাপারে এবং নিজেদের ব্যাপারেও শঙ্কিত হয়ে পড়লাম; আমাদের ভয় হচ্ছিল যে তিনি যদি এর উত্তর দিতে অক্ষম হন তবে তাঁর এবং আমাদের উভয়ের সম্মান নষ্ট হয়ে যাবে। এমনকি আমাদের কেউ কেউ তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত কামনা করেছিল। যখন আবু হানিফা কুফার কাছাকাছি পৌঁছালেন, আমি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং ভাবলাম তাঁকে মাসআলাটি সম্পর্কে অবহিত করি যাতে তিনি এ নিয়ে চিন্তা করার সুযোগ পান তাঁকে জিজ্ঞাসা করার আগেই। ইয়াকুব বলেন, যখন তাঁর সাথে আমার দেখা হলো, তিনি আমাকে তাঁর সাথে তুলে নিলেন। এরপর তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে মানুষের ভিড় বাড়তে লাগল, ফলে আমি তাঁকে এ বিষয়ে কিছু বলার সুযোগ পেলাম না। এরপর তিনি একটি বাহন চাইলেন এবং তাতে আরোহণ করলেন, আমাকেও একটি বাহনে তাঁর সাথে নিলেন। অন্যান্য মানুষও আমাদের চারপাশ দিয়ে চলতে লাগল, এমনকি রাস্তাগুলোও সঙ্কীর্ণ হয়ে পড়ল। যখন তিনি পৌঁছালেন এবং মসজিদে প্রবেশ করে দুই রাকাত নামাজ আদায় করলেন, তখন মানুষ সমবেত হলো। তাঁকে সর্বপ্রথম যে বিষয়টি জিজ্ঞাসা করা হলো তা ছিল সেই 'দাওর' সংক্রান্ত মাসআলাটি। বর্ণনাকারী বলেন, যখন প্রশ্নটি তাঁর সামনে উপস্থাপন করা হলো, তিনি তাঁর মাথা নিচু করে ফেললেন। বর্ণনাকারী বলেন, যখন আমি দেখলাম তিনি মাথা নিচু করেছেন, তখন আমি বুঝতে পারলাম...
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হানীফা ওয়া আসহাবিহী - ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ২৮)
انها ستخرج ثمَّ رفع رَأسه فَقَالَ الْجَواب فِيهَا كَذَا وَكَذَا قَالَ فَسُرِرْنَا وسر النَّاس قَالَ فَلَمَّا مَاتَ ابو حنيفَة كنت يَوْمًا فِي دَار الخيفة إِذْ مر بِنَا رجل جلّ فَقَالُوا هَذَا الحاسب وَجعل أَصْحَاب الْخَلِيفَة يعظمونه فدعوته وَقلت بَاب من الْفِقْه وَكَانَت الْمَسْأَلَة قد اضْطربَ عَليّ مِنْهَا شَيْء مِمَّا قَالَه أَبُو حنيفَة فَقلت إِنَّا قد احتجنا فِيهِ إِلَى الْحساب قَالَ فَأَخْبَرته قَالَ اعمله من بَاب كَذَا وَكَذَا فعملته فَلم يخرج فَقَالَ بَاب كَذَا فعملته فَلم يخرج فَلم يزل يلقِي عَليّ الْأَبْوَاب فَلم يخرج فَقَالَ لم يبْق إِلَّا بَاب وَاحِد فَإِن خرج وإلافليس لَهُ بَاب يخرج مِنْهُ أصلا فَذكر قَول ابي حنيفَة فَعمِلت بِهِ فَخرج فَقلت لَيست يخرج وَخفت ان يذهب فَيعْمل عَلَيْهِ تِلْكَ الْمَسْأَلَة قَالَ فَانْصَرَفت فَعمِلت الْبَاب وعملت الْمسَائِل عَلَيْهِ وَجعلت إِذا لَقيته فَسَأَلَنِي اعمي عَلَيْهِ الْجَواب مَخَافَة ان يفْطن لَهُ وَكَانَ مفتنا حاسبا

أخبرنَا عبد الله بن مُحَمَّد الشَّاهِد قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا ابْن مغلس قَالَ ثَنَا بشر ابْن الْوَلِيد قَالَ سَمِعت أَبَا يُوسُف يَقُول سَمِعت دَاوُد الطَّائِي يَقُول لما نزل ابو الْعَبَّاس الْكُوفَة وَجه إِلَى الْعلمَاء فَجَمعهُمْ فَقَالَ إِن هَذَا الْأَمر قد أفْضى الى أهل بَيت نَبِيكُم وَجَاءَكُم الله بِالْفَضْلِ وَإِقَامَة الْحق وَأَنْتُم يَا معشر الْعلمَاء احق من أعَان عَلَيْهِ وَلكم الحباء والكرامة والضيافة من مَال الله مَا أَحْبَبْتُم فَبَايعُوا بيعَة تكون لكم عِنْد إمامكم حجَّة عَلَيْكُم وأمانا فِي معادكم لَا تلقونَ الله بِلَا إِمَام فتكونوا مِمَّن لَا حجَّة لَهُ وَلَا تَقولُوا أَمِير الْمُؤمنِينَ نهابه ان نقُول الْحق فَنظر الْقَوْم إِلَى ابي حنيفَة فَقَالَ إِن أَحْبَبْتُم ان اتكلم عني وعنكم فأمسكوا قَالُوا قد أحببنا ذَلِك فَقَالَ الْحَمد لله الَّذِي بلغ الْحق من قرَابَة من نبيه صلى الله عليه وسلم وأماط عَنَّا جور الظلمَة وَبسط السنتنا بِالْحَقِّ وَقد بايعناك على امْر الله وَالْوَفَاء لَك بِعَهْد الله إِلَى قيام السَّاعَة فَلَا أخلى الله هَذَا الْأَمر مِمَّن قربه من نبيه فَأَجَابَهُ أبوالعباس بِجَوَاب جميل
সেটি সমাধান হয়ে আসবে। তারপর তিনি তাঁর মাথা তুললেন এবং বললেন, এর উত্তর হলো এই এই। বর্ণনাকারী বলেন, এতে আমরা আনন্দিত হলাম এবং লোকেরাও আনন্দিত হলো। তিনি বলেন, যখন আবু হানিফা ইন্তেকাল করলেন, একদিন আমি খলিফার প্রাসাদে ছিলাম, তখন আমাদের পাশ দিয়ে এক মহান ব্যক্তি যাচ্ছিলেন। লোকেরা বলল, ইনি একজন গণিতবিদ। খলিফার সঙ্গীরা তাঁকে খুব সম্মান করছিল। আমি তাঁকে ডাকলাম এবং ফিকহের একটি অধ্যায় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। আবু হানিফা যা বলেছিলেন, সে বিষয়ে একটি মাসয়ালায় আমি কিছুটা বিভ্রান্ত ছিলাম। আমি বললাম, আমাদের এই বিষয়ে গণিতের হিসাব প্রয়োজন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাঁকে বিষয়টি জানালাম। তিনি বললেন, এটি এই এই নিয়ম অনুযায়ী সমাধান করো। আমি তা করলাম, কিন্তু সমাধান মিলল না। তিনি বললেন, ওই নিয়ম অনুযায়ী করো। আমি তাও করলাম, কিন্তু উত্তর বের হলো না। তিনি একের পর এক নিয়ম বলে যাচ্ছিলেন কিন্তু সমাধান আসছিল না। অবশেষে তিনি বললেন, কেবল একটি নিয়মই বাকি আছে, যদি এটি দিয়ে সমাধান হয় তো হলো, অন্যথায় এটি সমাধান করার আর কোনো পথই নেই। এরপর তিনি আবু হানিফার সেই কথাটি উল্লেখ করলেন। আমি তা দিয়ে সমাধান করলাম এবং উত্তর বেরিয়ে এল। আমি (তাকে দেখানোর জন্য) বললাম, এটি সমাধান হচ্ছে না; আমি ভয় পাচ্ছিলাম যে তিনি চলে যাবেন এবং ওই মাসয়ালাটি নিজে আয়ত্ত করে নেবেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আমি ফিরে গেলাম এবং সেই নিয়ম অনুযায়ী মাসয়ালাগুলো সমাধান করলাম। এরপর যখনই তাঁর সাথে আমার দেখা হতো এবং তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করতেন, আমি উত্তরটি তাঁর কাছে অস্পষ্ট রাখতাম এই ভয়ে যে তিনি পাছে তা বুঝে ফেলেন; অথচ তিনি ছিলেন এক অত্যন্ত দক্ষ গণিতবিদ।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আশ-শাহিদ, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুকরিম, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইবনে মুগাল্লিস, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন বিশর ইবনুল ওয়ালিদ, তিনি বলেন, আমি আবু ইউসুফকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি দাউদ আত-তাঈকে বলতে শুনেছি যে, যখন আবুল আব্বাস কুফায় অবতরণ করলেন, তখন তিনি আলেমদের কাছে দূত পাঠিয়ে তাঁদের একত্রিত করলেন। তিনি বললেন, নিশ্চয়ই এই শাসনভার তোমাদের নবীর আহলে বাইতের কাছে পৌঁছেছে এবং আল্লাহ তোমাদের কাছে অনুগ্রহ ও সত্য প্রতিষ্ঠার পথ নিয়ে এসেছেন। হে আলেম সমাজ, আপনারা এই কাজে সহযোগিতা করার সবচেয়ে বেশি হকদার। আল্লাহর সম্পদ থেকে আপনারা যা পছন্দ করবেন, তা-ই হাদিয়া, সম্মাননা ও আতিথেয়তা হিসেবে আপনাদের জন্য রয়েছে। সুতরাং এমনভাবে আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করুন যা আপনাদের ইমামের কাছে আপনাদের জন্য দলিল হবে এবং পরকালে আপনাদের মুক্তির উপায় হবে। আল্লাহর সাথে ইমামবিহীন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবেন না, যাতে আপনারা এমনদের অন্তর্ভুক্ত না হন যাদের কোনো দলিল নেই। আর আপনারা এমনটা বলবেন না যে, আমরা আমীরুল মুমিনীনকে ভয় পেয়ে সত্য কথা বলতে পারছি না। তখন উপস্থিত লোকেরা আবু হানিফার দিকে তাকাল। তিনি বললেন, আপনারা যদি চান যে আমি আমার এবং আপনাদের পক্ষ থেকে কথা বলি, তবে আপনারা চুপ থাকুন। তাঁরা বললেন, আমরা অবশ্যই তা চাই। অতঃপর তিনি বললেন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিকটাত্মীয়দের মাধ্যমে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং আমাদের থেকে জালিমদের অন্যায় দূর করেছেন এবং সত্যের সাথে আমাদের জবান খুলে দিয়েছেন। আমরা আল্লাহর নির্দেশের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত আপনার সাথে আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ করার ওপর আপনার আনুগত্যের শপথ করছি। আল্লাহ যেন তাঁর নবীর নিকটাত্মীয়দের থেকে এই শাসনভার কক্ষনো বিচ্ছিন্ন না করেন। এরপর আবুল আব্বাস তাঁকে অত্যন্ত চমৎকার উত্তর প্রদান করলেন।
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হানীফা ওয়া আসহাবিহী - ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ২৯)
وَقَالَ مثلك من خطب عَن الْعلمَاء لقد احسنوا اختيارك واحسنت فِي الْبَلَاغ فَلَمَّا خَرجُوا قَالُوا لَهُ مَا أردْت بِقَوْلِك إِلَى قيام السَّاعَة وَقد انْقَضتْ السَّاعَة قَالَ إِن احتلتم عَليّ احتلت لنَفْسي وأسلمتكم للبلاء فَسكت الْقَوْم وَعَلمُوا أَن الْحق مَا صنع

اُخْبُرْنَا عمر بن إِبْرَاهِيم المقرىء قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا أَحْمد بن مُحَمَّد قَالَ ثَنَا الْفضل بن غَانِم قَالَ كَانَ أَبُو يُوسُف مَرِيضا شَدِيد الْمَرَض فعاده أَبُو حنيفَة مرَارًا فَصَارَ إِلَيْهِ آخر مرّة فَرَآهُ ثقيلا فَاسْتَرْجع ثمَّ قَالَ لقد كنت أؤملك بعدِي للْمُسلمين وَلَئِن اصيب النَّاس بك ليموتن مَعَك علم كثير ثمَّ رزق الْعَافِيَة وَخرج من الْعلَّة فَأخْبر ابو يُوسُف بقول أبي حنيفَة فِيهِ فارتفعت نَفسه وانصرفت وُجُوه النَّاس إِلَيْهِ فعقد لنَفسِهِ مَجْلِسا فِي الْفِقْه وَقصر عَن لُزُوم مجْلِس ابي حنيفَة فَسَأَلَ عَنهُ فَأخْبر انه قد عقد لنَفسِهِ مَجْلِسا وانه بلغه كلامك فِيهِ فَدَعَا رجلا كَانَ لَهُ عِنْده قدر فَقَالَ سر إِلَى مجْلِس يَعْقُوب فَقل لَهُ مَا تَقول فِي رجل دفع إِلَى قصار ثوبا ليقصره بدرهم فَسَار إِلَيْهِ بعد أَيَّام فِي طلب الثَّوْب فَقَالَ لَهُ الْقصار مَا لَك عِنْدِي شَيْء وَأنْكرهُ ثمَّ إِن رب الثَّوْب رَجَعَ إِلَيْهِ فَدفع إِلَيْهِ الثَّوْب مَقْصُورا أَله أُجْرَة فان قَالَ لَهُ أُجْرَة فَقل أَخْطَأت وان قَالَ لَا أُجْرَة لَهُ فَقل اخطأت فَسَار إِلَيْهِ فَسَأَلَهُ فَقَالَ ابو يُوسُف لَهُ الاجرة فَقَالَ لَهُ أَخْطَأت فَنظر سَاعَة ثمَّ قَالَ لَا أُجْرَة لَهُ فَقَالَ لَهُ أَخْطَأت فَقَامَ أَبُو يُوسُف من سَاعَته فَأتى أَبَا حنيفَة فَقَالَ لَهُ مَا جَاءَ بك إِلَّا مَسْأَلَة الْقصار قَالَ أجل فَقَالَ سُبْحَانَ الله من قعد يُفْتِي النَّاس وَعقد مَجْلِسا يتَكَلَّم فِي دين الله وَهَذَا قدره لَا يحسن ان يُجيب فِي مَسْأَلَة من الْإِجَارَات فَقَالَ يَا ابا حنيفَة عَلمنِي فَقَالَ إِن كَانَ قصره بَعْدَمَا غصبه فَلَا أُجْرَة لَهُ لِأَنَّهُ إِنَّمَا قصره لنَفسِهِ وَإِن كَانَ قصره قبل ان يغصبه فَلهُ الْأُجْرَة لِأَنَّهُ قصره لصَاحبه ثمَّ قَالَ من ظن أَنه يَسْتَغْنِي عَن التَّعَلُّم فليبك على نَفسه
এবং তিনি বললেন, "তোমার মতো ব্যক্তিই আলেমদের পক্ষ থেকে ভাষণ দেওয়ার যোগ্য। তারা তোমাকে নির্বাচন করে উত্তম কাজ করেছেন এবং তুমিও তা সুন্দরভাবে পৌঁছে দিয়েছ।" যখন তারা বেরিয়ে গেল, তারা তাকে বলল, "কিয়ামত পর্যন্ত'—এই কথা দ্বারা তুমি কী বুঝাতে চেয়েছ, যখন কিয়ামত (ঘটনাটি) শেষ হয়ে গেছে?" তিনি বললেন, "যদি তোমরা আমার বিরুদ্ধে কৌশল অবলম্বন কর, তবে আমিও নিজের জন্য কৌশল অবলম্বন করব এবং তোমাদেরকে বিপদের মুখে ছেড়ে দেব।" তখন লোকেরা চুপ হয়ে গেল এবং তারা বুঝতে পারল যে তিনি যা করেছেন তাই সঠিক।

ওমর ইবনে ইব্রাহিম আল-মুকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুকরাম আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ফজল ইবনে গানিম আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু ইউসুফ অত্যন্ত কঠিন অসুস্থ ছিলেন। আবু হানিফা তাকে বেশ কয়েকবার দেখতে গেলেন। শেষবার যখন তার কাছে গেলেন, তাকে খুব মুমূর্ষু অবস্থায় দেখলেন। তখন তিনি ইন্না লিল্লাহ পড়লেন এবং বললেন, "আমি আশা করেছিলাম যে আমার পরে তুমি মুসলমানদের কাজে আসবে। যদি মানুষ তোমাকে হারায়, তবে তোমার সাথে অনেক ইলম মৃত্যুবরণ করবে।" অতঃপর তিনি সুস্থতা লাভ করলেন এবং রোগ থেকে মুক্ত হলেন। আবু ইউসুফকে তার সম্পর্কে আবু হানিফার উক্তিটি জানানো হলো। এতে তার আত্মমর্যাদাবোধ বৃদ্ধি পেল এবং মানুষের মনোযোগও তার দিকে ধাবিত হলো। ফলে তিনি ফিকহ শাস্ত্রের জন্য নিজের একটি আলাদা মজলিস কায়েম করলেন এবং আবু হানিফার মজলিসে নিয়মিত আসা কমিয়ে দিলেন। আবু হানিফা তার সম্পর্কে খোঁজ নিলেন। তাকে জানানো হলো যে, তিনি নিজের জন্য আলাদা মজলিস করেছেন এবং আপনার উক্তি তার কাছে পৌঁছেছে। তখন আবু হানিফা তার কাছে বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন এক ব্যক্তিকে ডাকলেন এবং বললেন, "তুমি ইয়াকুবের মজলিসে যাও এবং তাকে জিজ্ঞাসা কর: এক ব্যক্তি জনৈক ধোপার কাছে এক দিরহামের বিনিময়ে একটি কাপড় ধৌত করার জন্য দিল। কয়েক দিন পর সে কাপড়টি চাইতে গেলে ধোপা বলল, 'আমার কাছে তোমার কিছুই নেই' এবং সে তা অস্বীকার করল। এরপর কাপড়ের মালিক পুনরায় তার কাছে গেল এবং ধোপা তাকে কাপড়টি ধৌত করা অবস্থায় ফেরত দিল। এমতাবস্থায় সে কি পারিশ্রমিক পাবে? যদি সে বলে, 'পারিশ্রমিক পাবে', তবে তাকে বলবে, 'আপনার ভুল হয়েছে'। আর যদি সে বলে, 'পারিশ্রমিক পাবে না', তবে তাকে বলবে, 'আপনার ভুল হয়েছে'।" অতঃপর লোকটি তার কাছে গেল এবং প্রশ্নটি করল। আবু ইউসুফ বললেন, "সে পারিশ্রমিক পাবে।" লোকটি বলল, "আপনার ভুল হয়েছে।" তিনি কিছুক্ষণ চিন্তা করলেন, তারপর বললেন, "সে পারিশ্রমিক পাবে না।" লোকটি বলল, "আপনার ভুল হয়েছে।" তখন আবু ইউসুফ তৎক্ষণাৎ উঠে দাঁড়ালেন এবং আবু হানিফার কাছে আসলেন। আবু হানিফা তাকে দেখে বললেন, "ধোপার মাসআলা ছাড়া অন্য কিছু তোমাকে এখানে আনেনি।" তিনি বললেন, "জি হ্যাঁ।" তিনি বললেন, "সুবহানাল্লাহ! যে ব্যক্তি মানুষকে ফতোয়া দেওয়ার জন্য বসে যায় এবং আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে কথা বলার জন্য মজলিস কায়েম করে, অথচ তার অবস্থা এই যে সে ইজারা (মজুরি) সংক্রান্ত একটি মাসআলার সঠিক উত্তর দিতে পারে না!" আবু ইউসুফ বললেন, "হে আবু হানিফা, আমাকে শিখিয়ে দিন।" তিনি বললেন, "যদি সে কাপড়টি আত্মসাৎ করার পর ধৌত করে থাকে, তবে সে কোনো পারিশ্রমিক পাবে না; কারণ সে তখন নিজের জন্যই তা ধৌত করেছিল। আর যদি সে আত্মসাৎ করার আগেই ধৌত করে থাকে, তবে সে পারিশ্রমিক পাবে; কারণ তখন সে মালিকের জন্যই তা ধৌত করেছিল।" এরপর তিনি বললেন, "যে ব্যক্তি মনে করে যে তার আর শেখার প্রয়োজন নেই, তার উচিত নিজের জন্য বিলাপ করা।"
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হানীফা ওয়া আসহাবিহী - ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ৩০)
أخبرنَا عبد الله بن مُحَمَّد الْحلْوانِي قَالَ ثَنَا مكرم ثَنَا أَحْمد قَالَ ثَنَا احْمَد بن يُونُس قَالَ سَمِعت وكيعا يَقُول رَأَيْت أَبَا حنيفَة وسُفْيَان ومسعرا وَمَالك بن مغول وجعفر ابْن زِيَاد الْأَحْمَر وَالْحسن بن صَالح اجْتَمعُوا فِي وَلِيمَة كَانَت بِالْكُوفَةِ جمع فِيهَا الْأَشْرَاف والموالي وَقد زوج رجل ابْنَتَيْهِ من ابْني رجل فَلَمَّا اجْتمع النَّاس فِي ذَلِك خرج عَلَيْهِم الْوَلِيّ فَقَالَ أصبْنَا بمصيبة عَظِيمَة قيل وَمَا هِيَ قَالَ نحب ان نكتمها فَقَالَ أَبُو حنيفَة مَا هِيَ قَالَ غلط علينا فزفت إِلَى كل وَاحِد غير امْرَأَته فَقَالَ أصاباهما قَالَ نعم قَالَ سُفْيَان وَمَا بَأْس من هَذِه قد حكم فِيهَا أَمِير الْمُؤمنِينَ عَليّ بن أبي طَالب بِعَينهَا كَانَ مُعَاوِيَة وَجه إِلَيْهِ فِيهَا فَقَالَ عَليّ رضي الله عنه للَّذي سَأَلَهُ أَرَسُول مُعَاوِيَة أَنْت إِن هَذَا لم يكن ببلدنا أرى أَن على كل وَاحِد من الرجلَيْن الْعقر بِمَا أصَاب من الْمَرْأَة وَترجع كل وَاحِدَة من الْمَرْأَتَيْنِ إِلَى زَوجهَا وَلَا شَيْء عَلَيْهِم فِي ذَلِك وَالنَّاس سكُوت يسمعُونَ من سُفْيَان ويستحسنون قَوْله وَأَبُو حنيفَة فِي الْقَوْم وَهُوَ سَاكِت فَالْتَفت مسعر إِلَيْهِ فَقَالَ لَهُ قل فِيهَا يَا أَبَا حنيفَة قَالَ سُفْيَان وَمَا عَسى ان يَقُول غير هَذَا فَقَالَ ابو حنيفَة عَليّ بالغلامين فأحضرا فَقَالَ لكل وَاحِد مِنْهُمَا أَتُحِبُّ أَن تكون عنْدك امْرَأَتك الَّتِي زفت إِلَيْك قَالَ نعم قَالَ مَا اسْم امْرَأَتك الَّتِي هِيَ عِنْد اخيك قَالَ فُلَانَة بنت فلَان قَالَ قل هِيَ طَالِق مني ثمَّ إِن أَبَا حنيفَة خطب خطْبَة النِّكَاح وَزوج كل وَاحِد مِنْهُمَا الْمَرْأَة الَّتِي كَانَ مَسهَا ثمَّ قَالَ أَبُو حنيفَة جددوا لنا عرسا آخر فَعجب النَّاس من فتيا أبي حنيفَة وَفِي ذَلِك الْيَوْم قَامَ مسعر فَقبل فَم أبي حنيفَة وَقَالَ تلوموني على حبه وسُفْيَان سَاكِت لَا يَقُول شَيْئا

أخبرنَا ابو حَفْص عمر بن إِبْرَاهِيم المقرىء قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا أَحْمد بن مُحَمَّد ابْن مغلس قَالَ ثَنَا ضرار بن صرد قَالَ ثَنَا شريك قَالَ كُنَّا فِي جَنَازَة ومعنا سُفْيَان
আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-হালওয়ানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুকরাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ বিন ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি ওয়াকি'কে বলতে শুনেছি: আমি আবু হানিফা, সুফিয়ান, মিসআর, মালিক বিন মিগওয়াল, জাফর ইবনে যিয়াদ আল-আহমার এবং হাসান বিন সালিহকে কুফার একটি বিবাহ ভোজের অনুষ্ঠানে একত্রিত হতে দেখেছি। সেখানে অভিজাত এবং সাধারণ মানুষ সমবেত হয়েছিল। এক ব্যক্তি তার দুই মেয়েকে অন্য এক ব্যক্তির দুই ছেলের সাথে বিয়ে দিয়েছিল। যখন লোকজন সেখানে একত্রিত হলো, তখন তাদের অভিভাবক বেরিয়ে এসে বললেন, আমরা এক মহা বিপদে পড়েছি। জিজ্ঞেস করা হলো, সেটি কী? তিনি বললেন, আমরা এটি গোপন রাখতে চাই। আবু হানিফা বললেন, সেটি কী? তিনি বললেন, আমাদের সাথে ভুল হয়ে গেছে; প্রত্যেককে তার নিজের স্ত্রী ছাড়া অন্য একজনের সাথে বাসরঘরে পাঠানো হয়েছে। তিনি (আবু হানিফা) বললেন, তারা কি তাদের সাথে সহবাস করেছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। সুফিয়ান বললেন, এতে কোনো অসুবিধা নেই, আমিরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিব এই হুবহু বিষয়ে ফয়সালা দিয়েছেন। মুআবিয়া এই বিষয়ে তাঁর কাছে (লোক) পাঠিয়েছিলেন। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) প্রশ্নকারীকে বলেছিলেন, তুমি কি মুআবিয়ার দূত? এটি আমাদের শহরে ঘটেনি। আমি মনে করি, ওই দুই ব্যক্তির প্রত্যেকের ওপর মোহরানা (উক্বর) ওয়াজিব হবে যেহেতু তারা নারীর সাথে সহবাস করেছে, এবং প্রত্যেক নারী তার (আসল) স্বামীর কাছে ফিরে যাবে, এতে তাদের কোনো গুনাহ হবে না। লোকজন সুফিয়ানের কথা শুনছিল এবং তাঁর কথার প্রশংসা করছিল, আর আবু হানিফা সেই মজলিসে উপস্থিত থেকে নীরব ছিলেন। তখন মিসআর তাঁর দিকে ফিরে বললেন, হে আবু হানিফা! আপনি এই বিষয়ে কিছু বলুন। সুফিয়ান বললেন, তিনি এর বাইরে আর কী-ই বা বলতে পারেন? অতঃপর আবু হানিফা বললেন, যুবক দুজনকে আমার কাছে নিয়ে এসো। তাদের হাজির করা হলো। তিনি তাদের প্রত্যেককে বললেন, তোমার কাছে যাকে পাঠানো হয়েছে সেই নারীকে কি তোমার কাছে রাখতে তুমি পছন্দ করো? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তোমার যে স্ত্রী তোমার ভাইয়ের কাছে আছে তার নাম কী? সে বলল, অমুকের কন্যা অমুক। তিনি বললেন, বলো: "সে আমার পক্ষ থেকে তালাক"। এরপর আবু হানিফা বিবাহের খুতবা পাঠ করলেন এবং তাদের প্রত্যেককে সেই নারীর সাথে বিয়ে দিলেন যার সাথে সে সহবাস করেছিল। এরপর আবু হানিফা বললেন, আমাদের জন্য নতুন করে আরেকটি বিয়ের উৎসবের আয়োজন করো। আবু হানিফার ফতোয়া দেখে মানুষ বিস্ময় প্রকাশ করল। সেই দিন মিসআর উঠে দাঁড়িয়ে আবু হানিফার মুখে চুম্বন করলেন এবং বললেন, তোমরা কি আমাকে তাকে ভালোবাসার জন্য তিরস্কার করো? আর সুফিয়ান চুপ ছিলেন, কোনো কথা বলেননি।

আবু হাফস উমর বিন ইব্রাহিম আল-মুকারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুকরাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ বিন মুহাম্মদ ইবনে মুগাল্লিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, দ্বিরার বিন সুরাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শারিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমরা একটি জানাজায় ছিলাম এবং আমাদের সাথে সুফিয়ান ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হানীফা ওয়া আসহাবিহী - ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ৩১)
الثَّوْريّ وَابْن شبْرمَة وَابْن أبي ليلى وَأَبُو حنيفَة وَأَبُو الْأَحْوَص ومندل وحبان وَكَانَت الْجِنَازَة لكهل سيد من كهول بني هَاشم توفّي ابْن لَهُ فَخرج فِي جنَازَته وُجُوه أهل الْكُوفَة يَمْشُونَ حَتَّى وقفت الْجِنَازَة فَسَأَلَ النَّاس عَنْهَا فَقَالُوا خرجت امهِ ولهى وَأَلْقَتْ ثوبها عَلَيْهِ وبرزت وكشفت رَأسهَا وَكَانَت هاشمية شريفة فصاح أَبوهُ بهَا فَأمرهَا ان ترجع فَأَبت فَحلف بِالطَّلَاق لترجعن وَحلفت بعتاق كل مَمْلُوك لَهَا ان لَا ترجع حَتَّى يصلى عَلَيْهِ فَمشى النَّاس بَعضهم إِلَى بعض ووقفوا وسألوا فَلم يتَكَلَّم فِيهَا أحد وَأجَاب مِنْهُم أحد بِجَوَاب فَهَتَفَ أَبوهُ بِأبي حنيفَة وَقَالَ يَا نعْمَان اغثنا فجَاء أَبُو حنيفَة فَقَالَ كَيفَ حَلَفت فأعادت عَلَيْهِ وَقَالَ للكهل كَيفَ حَلَفت فَأَعَادَ عَلَيْهِ فَقَالَ ضَعُوا السرير فَوضع فَقَالَ للاب تقدم فصل على ابْنك فَتقدم فصلى عَلَيْهِ وَالنَّاس خَلفه وَنَادَوْا فِيمَن تقدم حَتَّى لَحِقُوا بِالنَّاسِ ثمَّ قَالَ احملوه إِلَى قَبره وارجعي إِلَى مَنْزِلك فقد بررت وَقَالَ لِأَبِيهِ ارْجع فقد بررت فَقَالَ ابْن شبْرمَة يَوْمئِذٍ عجزت النِّسَاء ان يلدن مثلك سَرِيعا مَا عَلَيْك فِي الْعلم كلفة

أخبرنَا أَبُو حَفْص قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا أَحْمد قَالَ ثَنَا الْحمانِي قَالَ سَمِعت ابْن الْمُبَارك يَقُول سَأَلَ رجل أَبَا حنيفَة عَن خوخة اراد ان يفتحها فِي حَائِط لَهُ فِي دَاره فَقَالَ افْتَحْ مَا شِئْت وَلَا تطلع على جَارك فَأتى بِهِ جَاره إِلَى ابْن أبي ليلى فَمَنعه مِنْهُ فَشَكا إِلَى أبي حنيفَة قَالَ فافتح فِيهِ بَابا فجَاء ليفتح الْبَاب فَأتى بِهِ إِلَى ابْن أبي ليلى فَمَنعه فَقَالَ كم قيمَة حائطك قَالَ ثَلَاثَة دَنَانِير قَالَ هِيَ لَك عَليّ واذهب فاهدم الْحَائِط من أَوله إِلَى آخِره فَجَاءَهُ يهدمه فَمَنعه فَأتى بِهِ إِلَى ابْن ابي ليلى فَقَالَ يهدم حَائِطه وتسألني أَن أمْنَعهُ من ذَلِك اذْهَبْ فاهدمه واصنع مَا شِئْت قَالَ فَلم عنيتني ومنعتني من فتح خوخة وَكَانَ ذَلِك أَهْون عَليّ قَالَ إِذا كَانَ يذهب إِلَى من يدله على خطأي فَكيف أصنع إِذا تبين الْخَطَأ

اُخْبُرْنَا أَبُو الْقَاسِم عبد الله بن مُحَمَّد الْمعدل قَالَ ثَنَا القَاضِي مكرم قَالَ ثَنَا أَحْمد
সাওরি, ইবন শুবরুমা, ইবন আবি লায়লা, আবু হানিফা, আবু আহওয়াস, মানদাল এবং হিব্বান উপস্থিত ছিলেন। জানাজাটি ছিল বনু হাশিমের প্রবীণদের মধ্য হতে এক নেতার। তার এক পুত্র মারা গেলে কুফার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তার জানাজায় অংশ নিতে বের হলেন এবং তারা হাঁটছিলেন। এক পর্যায়ে জানাজাটি থেমে গেল, তখন লোকজন সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তারা বলল যে, মৃত ব্যক্তির মা শোকাতুর অবস্থায় বেরিয়ে এসেছেন এবং তার ওপর কাপড় ছুড়ে দিয়েছেন। তিনি বাইরে বেরিয়ে এসেছেন এবং নিজের মাথা উন্মোচন করেছেন; তিনি ছিলেন একজন হাশেমি সম্ভ্রান্ত নারী। তখন তার স্বামী (মৃতের পিতা) তাকে উচ্চস্বরে ডাকলেন এবং ফিরে যাওয়ার আদেশ দিলেন, কিন্তু তিনি অস্বীকার করলেন। তখন তিনি তালাকের শপথ করলেন যে, তাকে অবশ্যই ফিরে যেতে হবে। আর মহিলা তার মালিকানাধীন সকল গোলাম আজাদ করার শপথ করলেন যে, যতক্ষণ না তার ওপর জানাজা পড়া হয়, ততক্ষণ তিনি ফিরবেন না। তখন লোকজন একে অপরের কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল এবং অপেক্ষা করতে লাগল, কিন্তু এ বিষয়ে কেউ কোনো কথা বলতে পারল না এবং কেউ কোনো সমাধান দিতে পারল না। তখন পিতা আবু হানিফাকে উদ্দেশ্য করে ডেকে বললেন, হে নুমান! আমাদের সাহায্য করুন। আবু হানিফা এগিয়ে এলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কীভাবে শপথ করেছেন? তিনি তা পুনরায় ব্যক্ত করলেন। এরপর তিনি সেই প্রবীণ ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কীভাবে শপথ করেছেন? তিনিও তা বর্ণনা করলেন। তখন আবু হানিফা বললেন, খাটিয়াটি নিচে নামিয়ে রাখো। সেটি রাখা হলো। এরপর তিনি পিতাকে বললেন, সামনে অগ্রসর হোন এবং আপনার পুত্রের জানাজা পড়ান। তিনি সামনে অগ্রসর হয়ে জানাজা পড়ালেন এবং লোকজন তার পেছনে দাঁড়াল। যারা আগে চলে গিয়েছিল তারা পুনরায় লোকজনের সাথে মিলিত হওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করল। এরপর তিনি বললেন, তাকে তার কবরে নিয়ে যান, আর হে নারী! আপনি আপনার ঘরে ফিরে যান, কারণ আপনার শপথ পূর্ণ হয়েছে। তিনি পিতাকেও বললেন, আপনিও ফিরে যান, আপনার শপথও পূর্ণ হয়েছে। সেদিন ইবন শুবরুমা বলেছিলেন, আপনার মতো মানুষ জন্ম দিতে নারীরা অক্ষম; ইলমের ক্ষেত্রে আপনার কোনো কষ্টই নেই (অর্থাৎ আপনি অতি দ্রুত সমাধানে পৌঁছাতে পারেন)।

আমাদের জানিয়েছেন আবু হাফস, তিনি বলেন আমাদের বর্ণনা করেছেন মাকরাম, তিনি বলেন আমাদের বর্ণনা করেছেন আহমদ, তিনি বলেন আমাদের বর্ণনা করেছেন আল-হিমানি, তিনি বলেন আমি ইবনুল মুবারককে বলতে শুনেছি যে, এক ব্যক্তি আবু হানিফাকে তার বাড়ির একটি দেয়ালে একটি ছোট জানালা খোলার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, আপনি যা চান তা খুলুন, তবে আপনার প্রতিবেশীর গোপনীয়তা নষ্ট করবেন না। তখন তার প্রতিবেশী তাকে ইবন আবি লায়লার কাছে নিয়ে গেলে তিনি তাকে তা করতে নিষেধ করলেন। এরপর তিনি আবু হানিফার কাছে অভিযোগ করলেন। আবু হানিফা বললেন, তবে সেখানে একটি দরজা খুলুন। যখন তিনি দরজা খুলতে গেলেন, তখন তাকে ইবন আবি লায়লার কাছে নিয়ে আসা হলো এবং তিনি তাকে বাধা দিলেন। তখন আবু হানিফা বললেন, আপনার দেয়ালের দাম কত? তিনি বললেন, তিন দিনার। আবু হানিফা বললেন, এই অর্থ আমার জিম্মায় থাকল, আপনি যান এবং দেয়ালটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভেঙে ফেলুন। যখন তিনি সেটি ভাঙতে শুরু করলেন, তখন প্রতিবেশী তাকে বাধা দিল এবং তাকে ইবন আবি লায়লার কাছে নিয়ে আসা হলো। তখন ইবন আবি লায়লা বললেন, সে তো তার নিজের দেয়াল ভাঙছে, আপনি আমাকে কেন বলছেন তাকে বাধা দিতে? আপনি যান এবং তা ভেঙে ফেলুন, যা ইচ্ছা তা-ই করুন। তখন প্রতিবেশী বলল, তবে কেন আপনি আমাকে আগে একটি ছোট জানালা খুলতে বাধা দিয়ে কষ্ট দিলেন, অথচ সেটি তো আমার জন্য সহজ ছিল? ইবন আবি লায়লা বললেন, যখন সে এমন একজনের কাছে যায় যে তাকে আমার ভুল ধরিয়ে দেয়, তখন ভুল স্পষ্ট হয়ে পড়লে আমি আর কী করতে পারি?

আমাদের জানিয়েছেন আবুল কাসিম আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ আল-মুয়াদ্দাল, তিনি বলেন আমাদের বর্ণনা করেছেন কাজী মাকরাম, তিনি বলেন আমাদের বর্ণনা করেছেন আহমদ।
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হানীফা ওয়া আসহাবিহী - ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ৩২)
قَالَ ثَنَا أَبُو عبيد قَالَ ثَنَا ابْن الْمُبَارك قَالَ سَأَلت ابا حنيفَة عَن دِرْهَم لرجل ودرهمين لآخر اخْتلطت ثمَّ ضَاعَ دِرْهَمَانِ من الثَّلَاثَة لَا يعلم من أَيهمَا فَقَالَ أَبُو حنيفَة الدِّرْهَم الْبَاقِي بَينهمَا على ثَلَاثَة قَالَ فَلَقِيت ابْن شبْرمَة فَسَأَلته عَنْهَا فَقَالَ سَأَلت عَنْهَا أحدا فَقلت نعم سَأَلت أَبَا حنيفَة قَالَ قَالَ لَك الدِّرْهَم الْبَاقِي بَينهمَا أَثلَاثًا قلت نعم قَالَ أَخطَأ العَبْد وَلَكِن دِرْهَم من الدرهمين الضائعين يُحِيط الْعلم انه من الدرهمين وَالدِّرْهَم الآخر هُوَ مِنْهُمَا جَمِيعًا فالدرهم الَّذِي بَقِي هُوَ بَينهمَا نِصْفَيْنِ قَالَ فاستحسنت ذَلِك جدا فَلَقِيت أَبَا حنيفَة وَلَو وزن عقله بعقل نصف أهل الارض فِي الْفِقْه لرجحهم إِن شَاءَ الله فَقَالَ لي لقِيت ابْن شبْرمَة فَقَالَ لَك قد أحَاط الْعلم ان اُحْدُ الدرهمين الضائعين من الدرهمين وَبَقِي الدِّرْهَم الْبَاقِي فَهُوَ بَينهمَا نِصْفَانِ قلت نعم قَالَ ان الثَّلَاثَة حَيْثُ اخْتلطت وَجَبت الشّركَة بَينهمَا فَصَارَ لصَاحب الدِّرْهَم ثلث كل دِرْهَم وَلِصَاحِب الدرهمين ثلثا من كل دِرْهَم فَأَي دِرْهَم ذهب ذهب بحصتهما

أخبرنَا عبد الله بن مُحَمَّد قَالَ حَدثنَا مكرم قَالَ حَدثنَا احْمَد بن عَطِيَّة قَالَ ثَنَا الجماني قَالَ ثَنَا ابْن الْمُبَارك قَالَ رَأَيْت أَبَا حنيفَة فِي طَرِيق مَكَّة وشوى لَهُم فصيل سمين فاشتهوا ان يأكلوه بخل فَلم يَجدوا شَيْئا يصبون فِيهِ الْخلّ فتحيروا فَرَأَيْت أَبَا حنيفَة وَقد حفر فِي الرمل حُفْرَة وَبسط عَلَيْهَا السفرة وسكب الْخلّ على ذَلِك الْموضع فَأَكَلُوا الشواء بالخل فَقَالُوا لَهُ تحسن كل شَيْء قَالَ عَلَيْكُم بالشكر فان هَذَا شَيْء ألهمته لكم فضلا من الله عَلَيْكُم

أخبرنَا عمر بن إِبْرَاهِيم قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا احْمَد قَالَ ثَنَا مُوسَى وَابْن سَمَّاعَة قَالَا حَدثنَا مُحَمَّد قَالَ حَدثنِي ابو حنيفَة عَن حَمَّاد انه كَانَ يَقُول إِذا سُئِلت عَن معضلة فاقبلها سؤالا على سَائِلك عَنْهَا حَتَّى تخلص من مَسْأَلته لَك فَدس إِلَى رجل فَقعدَ لي على الْبَاب وَأَنا عِنْد ابْن هُبَيْرَة وَقد امْر بِي إِلَى السجْن فسعى الرجل إِلَى
তিনি বলেন, আবু উবাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইবনুল মুবারক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু হানিফাকে জনৈক ব্যক্তির এক দিরহাম এবং অপর ব্যক্তির দুই দিরহাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যা মিশে গিয়েছিল। অতঃপর তিন দিরহামের মধ্য থেকে দুই দিরহাম হারিয়ে গেল এবং জানা গেল না যে সেগুলো কাদের। তখন আবু হানিফা বললেন: অবশিষ্ট দিরহামটি তাদের উভয়ের মাঝে তিন ভাগে বিভক্ত হবে। তিনি (ইবনুল মুবারক) বলেন: এরপর আমি ইবনে শুবরুমার সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: আপনি কি এ বিষয়ে অন্য কাউকে জিজ্ঞাসা করেছেন? আমি বললাম: হ্যাঁ, আমি আবু হানিফাকে জিজ্ঞাসা করেছি। তিনি বললেন: তিনি কি আপনাকে বলেছেন যে অবশিষ্ট দিরহামটি তাদের উভয়ের মাঝে তিন ভাগে বিভক্ত হবে? আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: ওই বান্দা ভুল করেছেন। বরং হারানো দুটি দিরহামের মধ্যে একটি দিরহাম নিশ্চিতভাবেই ওই ব্যক্তির যার দুই দিরহাম ছিল, আর অন্য হারানো দিরহামটি উভয়ের মধ্য থেকে। সুতরাং যে দিরহামটি অবশিষ্ট আছে, তা তাদের উভয়ের মাঝে অর্ধেক অর্ধেক হবে। তিনি (ইবনুল মুবারক) বলেন: আমি বিষয়টি খুব পছন্দ করলাম। এরপর আমি পুনরায় আবু হানিফার সাথে সাক্ষাৎ করলাম—আর যদি ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর বুদ্ধিকে পৃথিবীর অর্ধেক মানুষের বুদ্ধির সাথে ওজন করা হতো, তবে ইনশাআল্লাহ তাঁর পাল্লাই ভারী হতো—তখন তিনি আমাকে বললেন: আপনি ইবনে শুবরুমার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তিনি কি আপনাকে বলেছেন যে, নিশ্চিতভাবে হারানো দুটি দিরহামের একটি ওই ব্যক্তির যার দুটি ছিল এবং অবশিষ্ট দিরহামটি তাদের মাঝে অর্ধেক অর্ধেক হবে? আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: যখন তিনটি দিরহাম মিশে গিয়েছিল, তখন তাদের মাঝে অংশীদারিত্ব (শিরকাত) অবধারিত হয়ে গিয়েছিল। ফলে এক দিরহামের মালিকের জন্য প্রতিটি দিরহামের এক-তৃতীয়াংশ এবং দুই দিরহামের মালিকের জন্য প্রতিটি দিরহামের দুই-তৃতীয়াংশ সাব্যস্ত হলো। সুতরাং যে দিরহামই হারিয়ে যাক না কেন, তা তাদের নিজ নিজ অংশসহই হারিয়েছে।

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুকরাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমাদ ইবনে আতিয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল-জুমানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইবনুল মুবারক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মক্কার পথে আবু হানিফাকে দেখলাম। তাদের জন্য একটি হৃষ্টপুষ্ট বাছুর ভুনা করা হয়েছিল। তারা সেটি সিরকা দিয়ে খাওয়ার ইচ্ছা করলেন, কিন্তু সিরকা ঢালার মতো কোনো পাত্র পেলেন না। এতে তারা দ্বিধায় পড়ে গেলেন। তখন আমি দেখলাম আবু হানিফা বালুর মধ্যে একটি গর্ত খুঁড়লেন এবং তার ওপর দস্তরখান বিছিয়ে দিলেন। এরপর সেই স্থানে সিরকা ঢাললেন। ফলে তারা সিরকা দিয়ে ভুনা মাংস খেলেন। তারা তাঁকে বললেন: আপনি তো সব বিষয়েই পারদর্শী। তিনি বললেন: তোমরা শোকর আদায় করো, কারণ এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ হিসেবে আমাকে ইলহাম করা হয়েছে।

উমর ইবনে ইব্রাহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুকরাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুসা ও ইবনে সাম্মাআ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন, মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু হানিফা হাম্মাদ থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলতেন: যখন তোমাকে কোনো জটিল সমস্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, তখন তুমি তা প্রশ্নকারীর দিকেই প্রশ্ন হিসেবে ফিরিয়ে দাও, যতক্ষণ না তুমি তার প্রশ্ন থেকে মুক্তি পাও। অতঃপর জনৈক ব্যক্তিকে গোপনে পাঠানো হলো এবং সে আমার জন্য দরজায় বসে রইল, যখন আমি ইবনে হুবায়রার নিকট ছিলাম এবং তিনি আমাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন, তখন লোকটি দৌড়ে গেল...
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হানীফা ওয়া আসহাবিহী - ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ৩৩)
السجْن فَقَالَ يَا أَبَا حنيفَة يحل للرجل إِذا أمره السُّلْطَان الْأَعْظَم ان يقتل رجلا ان يقْتله قَالَ قلت لَهُ وَكَانَ الرجل مِمَّن وَجب عَلَيْهِ الْقَتْل قَالَ نعم قلت فاقتله قَالَ فَإِن لم يكن مِمَّن وَجب عَلَيْهِ الْقَتْل قَالَ قلت إِن السُّلْطَان الْأَعْظَم لَا يَأْمر بقتل من لَا يسْتَحق الْقَتْل

أخبرنَا عمر قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ حَدثنِي عَليّ بن صَالح الْبَغَوِيّ قَالَ ثَنَا أَحْمد بن مُحَمَّد الْهَرَوِيّ قَالَ ثَنَا أَبُو عبد الله احْمَد بن مُؤَمل قَالَ أَنبأَنَا بشر بن الْوَلِيد قَالَ كَانَ فِي جوَار أبي حنيفَة فَتى يغشى مجْلِس أبي حنيفَة وَيكثر عِنْده فَقَالَ يَوْمًا لأبي حنيفَة إِنِّي أُرِيد التَّزْوِيج إِلَى آل فلَان من أهل الْكُوفَة وَقد خطبت إِلَيْهِم وَقد طلبُوا مني من الْمهْر فَوق وسعي وطاقتي وَقد تعلّقت نَفسِي بِالتَّزْوِيجِ فَقَالَ أَبُو حنيفَة فاستخر الله وأعطهم مَا يطلبونه مِنْك فَلَعَلَّ زَوجتك ان تسمح لَك إِذا دخلت بهَا بِمَا يبْقى من الصَدَاق عَلَيْك فأجابهم إِلَى مَا طلبوه فَلَمَّا عقدوا النِّكَاح بَينهم وَبَينه جَاءَ إِلَى أبي حنيفَة فَقَالَ لَهُ إِنِّي قد سَأَلتهمْ أَن يَأْخُذُوا مني الْبَعْض وَلَيْسَ فِي وسعي الْكل وَقد أَبَوا ان يحملوها إِلَيّ إِلَّا بعد وَفَاء الْمهْر كُله فَمَاذَا ترى قَالَ احتل واقترض حَتَّى تدخل بأهلك فَإِن الْأَمر يكون اسهل عَلَيْك من تشدد هَؤُلَاءِ الْقَوْم فَفعل ذَلِك وأقرضه ابو حنيفَة فِيمَن أقْرضهُ فَلَمَّا دخل بأَهْله وحملت إِلَيْهِ قَالَ لَهُ أَبُو حنيفَة مَا عَلَيْك ان تظهر انك تُرِيدُ الْخُرُوج من هَذَا الْبَلَد إِلَى مَوضِع بعيد وَأَنَّك تُرِيدُ ان تُسَافِر بأهلك مَعَك فاكترى الرجل جملين وَجَاء بهما وَأظْهر انه يُرِيد الْخُرُوج الى خُرَاسَان فِي طلب المعاش وَأَنه يُرِيد حمله أَهله مَعَه فَاشْتَدَّ ذَلِك على أهل الْمَرْأَة وجاؤوا إِلَى أبي حنيفَة يشكونه ويستفتونه فِي ذَلِك فَقَالَ لَهُم أَبُو حنيفَة فأرضوه بِأَن تردوا عَلَيْهِ مَا أخذتموه مِنْهُ فَأَجَابُوا إِلَى ذَلِك فَقَالَ أَبُو حنيفَة للفتى أَن الْقَوْم قد سمحوا أجابوا ان يردوا عَلَيْك مَا أَخَذُوهُ مِنْك من الْمهْر ويبرؤك مِنْهُ فَقَالَ لَهُ الْفَتى فَأَنا أُرِيد مِنْهُم شَيْئا آخر فَوق ذَلِك فَقَالَ لَهُ أَبُو حنيفَة أَيّمَا أحب إِلَيْك ان ترْضى بِهَذَا الَّذِي بذلوه لَك وَإِلَّا أقرَّت الْمَرْأَة لرجل بدين فَلَا
কারাগার; তিনি বললেন, হে আবু হানিফা! কোনো ব্যক্তির জন্য কি এটি বৈধ হবে যদি মহান সুলতান তাকে কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করার আদেশ দেন যে সে তাকে হত্যা করবে? তিনি (আবু হানিফা) বললেন, আমি তাকে বললাম: ঐ ব্যক্তি কি এমন কেউ যার ওপর মৃত্যুদণ্ড ওয়াজিব হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম: তবে তাকে হত্যা করো। তিনি বললেন: আর যদি সে এমন কেউ না হয় যার ওপর মৃত্যুদণ্ড ওয়াজিব হয়েছে? আমি বললাম: নিশ্চয়ই মহান সুলতান এমন কাউকে হত্যার আদেশ দেবেন না যে হত্যার যোগ্য নয়।

ওমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুকররাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আলী ইবনে সালিহ আল-বাগাওয়ী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ আল-হারাবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবনে মুআম্মাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, বিশর ইবনুল ওয়ালীদ আমাদের অবহিত করেছেন যে, আবু হানিফার প্রতিবেশী এক যুবক ছিল যে আবু হানিফার মজলিসে যাতায়াত করত এবং সেখানে প্রায়ই উপস্থিত থাকত। একদিন সে আবু হানিফাকে বলল: আমি কুফাবাসীদের অমুক পরিবারে বিবাহ করতে চাই। আমি তাদের নিকট বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছি, কিন্তু তারা আমার কাছে এমন মোহর দাবি করেছে যা আমার সাধ্য ও সামর্থ্যের বাইরে, অথচ আমার মন এই বিবাহের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছে। তখন আবু হানিফা বললেন: তবে আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করো এবং তারা তোমার কাছে যা চায় তা-ই তাদের দিয়ে দাও। সম্ভবত তোমার স্ত্রী যখন তার কাছে তোমার বাসর হবে, তখন মোহরের যে অংশটুকু তোমার নিকট বাকি থাকবে তা তোমাকে ক্ষমা করে দেবে। তখন যুবকটি তাদের দাবিকৃত বিষয়ে সম্মত হলো। অতঃপর যখন তারা তার সাথে নিকাহ সম্পন্ন করল, তখন সে আবু হানিফার কাছে এসে বলল: আমি তাদের কাছে অনুরোধ করেছি যেন তারা আমার কাছ থেকে আংশিক গ্রহণ করে, কারণ পুরোটা দেওয়ার সামর্থ্য আমার নেই। কিন্তু তারা পুরো মোহর পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাকে (স্ত্রীকে) আমার কাছে পাঠাতে অস্বীকার করেছে। এখন আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন: কোনো কৌশল অবলম্বন করো এবং ঋণ নাও যতক্ষণ না তুমি তোমার স্ত্রীর সাথে বাসর করো; কেননা তখন বিষয়টি তোমার জন্য এই লোকদের কঠোরতার চেয়ে সহজ হবে। যুবকটি তা-ই করল এবং আবু হানিফাও তাকে ঋণদাতাদের মধ্যে একজন হয়ে ঋণ দিলেন। যখন সে তার স্ত্রীর সাথে বাসর করল এবং তাকে তার নিকট পাঠিয়ে দেওয়া হলো, তখন আবু হানিফা তাকে বললেন: তোমার কি এমন করতে কোনো বাধা আছে যে, তুমি প্রকাশ করবে যে তুমি এই শহর ছেড়ে কোনো দূরবর্তী স্থানে চলে যেতে চাও এবং তুমি তোমার স্ত্রীকে সাথে নিয়ে সফর করতে চাও? তখন লোকটি দুটি উট ভাড়া করল এবং সেগুলো নিয়ে এল। সে প্রকাশ করল যে সে জীবিকার সন্ধানে খোরাসানে যেতে চায় এবং তার স্ত্রীকে সাথে নিয়ে যেতে চায়। বিষয়টি মহিলার পরিবারের লোকদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়াল এবং তারা অভিযোগ নিয়ে আবু হানিফার কাছে এল এবং এ বিষয়ে তাঁর ফতোয়া চাইল। তখন আবু হানিফা তাদের বললেন: তবে তোমরা তাকে সন্তুষ্ট করো এভাবে যে, তোমরা তার কাছ থেকে যা নিয়েছ তা তাকে ফেরত দিয়ে দাও। তারা তাতে সম্মত হলো। তখন আবু হানিফা যুবকটিকে বললেন: এই লোকেরা উদারতা দেখিয়েছে এবং তারা তোমার কাছ থেকে মোহর বাবদ যা নিয়েছে তা ফেরত দিতে এবং তোমাকে তা থেকে দায়মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। যুবকটি তাকে বলল: আমি তাদের কাছ থেকে এর চেয়েও বেশি কিছু চাই। আবু হানিফা তাকে বললেন: তোমার কাছে কোনটি অধিক প্রিয়—তারা তোমাকে যা দিতে চেয়েছে তাতেই সন্তুষ্ট হওয়া, নাকি স্ত্রী অন্য কোনো ব্যক্তির ঋণের কথা স্বীকার করবে, ফলে আর কিছুই পাওয়া যাবে না।
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হানীফা ওয়া আসহাবিহী - ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ৩৪)
يمكنك ان تحملهَا وَلَا تُسَافِر بهَا حَتَّى تقضي مَا عَلَيْهَا من الدّين قَالَ فَقَالَ الرجل الله الله لَا يسمعوا بِهَذَا فَلَا آخذ مِنْهُم شَيْئا فَأجَاب إِلَى الْجُلُوس وَأخذ مَا بذلوه من الْمهْر

أخبرنَا عبد الله بن مُحَمَّد الْبَزَّاز قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا أَحْمد قَالَ ثَنَا مليح وسُفْيَان ابْنا وَكِيع عَن وَكِيع قَالَ كُنَّا عِنْد أبي حنيفَة وأتته امْرَأَة فَقَالَت مَاتَ أخي وَخلف سِتّمائَة دِينَار فأعطوني مِنْهَا دِينَارا وَاحِدًا قَالَ وَمن قسم فريضتكم قَالَت دَاوُد الطَّائِي قَالَ هُوَ حَقك أَلَيْسَ خلف أَخُوك بنتين قَالَت بلَى قَالَ وَأما قَالَت بلَى قَالَ وَزَوْجَة قَالَت بلَى قَالَ واثني عشر أَخا وأختا وَاحِدَة قَالَت بلَى قَالَ فان للبنات الثُّلثَيْنِ أَرْبَعمِائَة وَللْأُمّ السُّدس مائَة وللمرأة خَمْسَة وَسَبْعُونَ وَيبقى خمس وَعِشْرُونَ للإخوة أَرْبَعَة وَعِشْرُونَ لكل أَخ دِينَارَانِ فلك دِينَار

أخبرنَا أَبُو حَفْص عمر بن إِبْرَاهِيم المقرىء قَالَ ثَنَا أَبُو بكر مكرم بن أَحْمد القَاضِي قَالَ ثَنَا عَليّ بن صَالح قَالَ ثَنَا أَبُو عبد الله احْمَد بن مُحَمَّد الْهَرَوِيّ قَالَ ثَنَا مُحَمَّد بن شُجَاع قَالَ أنبأ الْحسن بن أبي مَالك قَالَ دخل أَبُو حنيفَة إِلَى ابْن أبي ليلى وَمَعَهُ أَبُو يُوسُف ليقضي حَقه فَلَمَّا جلس أَبُو حنيفَة عِنْده قَالَ ابْن أبي ليلى لحاجبه إئذن لمن حضر من الْخُصُوم فِي التَّقَدُّم كَأَنَّهُ اراد ان يرى أَبَا حنيفَة إمضاءه فِي الْقَضَاء وَالْحكم فَدخل الْخُصُوم وَتقدم إِلَيْهِ جمَاعَة فَحكم بَينهم ثمَّ تقدم إِلَيْهِ رجلَانِ فَقَالَ أَحدهمَا أعزّك الله إِن هَذَا الرجل قذف أُمِّي بِالزِّنَا وَشَتَمَنِي وَقَالَ يَا ابْن الزَّانِيَة وَأَنا أسأَل القَاضِي ان يَأْخُذ لي بحقي فَقَالَ ابْن أبي ليلى للْمُدَّعى عَلَيْهِ مَا تَقول فَقَالَ لَهُ أَبُو حنيفَة رضي الله عنه لم تسأله عَن دَعْوَاهُ وَلَيْسَ هُوَ لَهُ بخصم إِنَّه إِنَّمَا يذكر أَنه رمى بِالزِّنَا أمه فَهَل ثبتَتْ وكَالَته عَن امهِ عنْدك قَالَ لَا قَالَ فَأقبل على صَاحبك فَاسْأَلْهُ أحية أمه أم ميتَة فَإِن كَانَت حَيَّة فَلَا وَجه لدعواه إِلَّا بوكالة مِنْهَا فِي الْمُطَالبَة بِحَقِّهَا وَإِن كَانَت ميتَة كَانَ قولا آخر
আপনি তাকে নিয়ে যেতে পারেন এবং তার ওপর থাকা ঋণ পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাকে নিয়ে সফর করবেন না। তিনি বলেন: তখন লোকটি বলল, আল্লাহর দোহাই! তারা যেন এটি শুনতে না পায়, ফলে আমি তাদের থেকে কিছুই নেব না। এরপর তিনি বসতে সম্মত হলেন এবং মোহরানা হিসেবে তারা যা প্রদান করেছিল তা গ্রহণ করলেন।

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-বাযযায আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুকরম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, আহমাদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, মালীহ ও সুফিয়ান—ওকী-এর দুই পুত্র—আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ওকী থেকে; তিনি বলেন: আমরা আবু হানীফার নিকট উপস্থিত ছিলাম, এমতাবস্থায় এক মহিলা তাঁর কাছে এসে বলল, আমার ভাই মারা গেছে এবং সে ছয়শত দিনার রেখে গেছে, কিন্তু তারা আমাকে তা থেকে মাত্র এক দিনার দিয়েছে। তিনি (আবু হানীফা) জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের উত্তরাধিকার কে বন্টন করেছে? সে বলল, দাউদ আত-তাঈ। তিনি বললেন, এটিই তোমার প্রাপ্য হক। তোমার ভাই কি দুই মেয়ে রেখে যায়নি? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আর এক মা? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আর এক স্ত্রী? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আর বারোজন ভাই ও একজন বোন (তুমি)? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাহলে মেয়েদের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ চারশত দিনার, মায়ের জন্য এক-ষষ্ঠাংশ একশত দিনার, স্ত্রীর জন্য পঁচাত্তর দিনার, আর অবশিষ্ট থাকে পঁচিশ দিনার যা ভাইদের জন্য চব্বিশ দিনার—প্রত্যেক ভাইয়ের জন্য দুই দিনার করে—আর তোমার জন্য এক দিনার।

আবু হাফস উমর ইবনে ইব্রাহীম আল-মুকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু বকর মুকরম ইবনে আহমাদ আল-কাজী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, আলী ইবনে সালেহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু আবদুল্লাহ আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ আল-হারাবী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবনে শুজা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, হাসান ইবনে আবু মালিক আমাদের জানিয়েছেন: আবু হানীফা ইবনে আবি লায়লার নিকট প্রবেশ করলেন, তাঁর সাথে আবু ইউসুফও ছিলেন তাঁর হক আদায়ের উদ্দেশ্যে। যখন আবু হানীফা তাঁর নিকট বসলেন, তখন ইবনে আবি লায়লা তাঁর দারোয়ানকে বললেন, বিবাদীদের মধ্যে যারা উপস্থিত আছে তাদের সামনে আসার অনুমতি দাও। যেন তিনি আবু হানীফাকে বিচার ও ফয়সালা কার্যে তাঁর দক্ষতা দেখাতে চেয়েছিলেন। অতঃপর বিবাদীরা প্রবেশ করল এবং একদল লোক তাঁর সামনে এগিয়ে এল, তিনি তাদের মাঝে ফয়সালা করলেন। এরপর দুইজন লোক তাঁর সামনে এল, তাদের একজন বলল, আল্লাহ আপনাকে সম্মানিত করুন, এই ব্যক্তি আমার মায়ের ওপর যিনার অপবাদ দিয়েছে এবং আমাকে গালি দিয়ে বলেছে, "হে যিনাকারীর সন্তান"। আমি বিচারকের নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাকে আমার হক আদায় করে দেন। তখন ইবনে আবি লায়লা বিবাদীকে বললেন, তুমি কী বল? আবু হানীফা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) তাঁকে বললেন, আপনি কেন তাকে তার দাবির ব্যাপারে জিজ্ঞেস করছেন অথচ সে তো এই বিষয়ে (মায়ের পক্ষে) বিবাদী নয়? সে তো শুধু এটিই উল্লেখ করছে যে, ওই ব্যক্তি তার মায়ের ওপর যিনার অপবাদ দিয়েছে; আপনার নিকট কি তার মায়ের পক্ষ থেকে তার ওকালতনামা প্রমাণিত আছে? তিনি বললেন, না। আবু হানীফা বললেন, তাহলে আপনার নিকট আবেদনকারীর দিকে মনোনিবেশ করুন এবং তাকে জিজ্ঞেস করুন তার মা কি জীবিত না মৃত? যদি সে জীবিত থাকে, তবে তার হকের দাবিতে তার পক্ষ থেকে ওকালতনামা ছাড়া এই ব্যক্তির দাবির কোনো সুযোগ নেই। আর যদি সে মৃত হয়, তবে তা ভিন্ন কথা হবে।
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হানীফা ওয়া আসহাবিহী - ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ৩৫)
قَالَ فَرجع ابْن أبي ليلى على الْمُدعى فَقَالَ لَهُ أمك أحية أم ميتَة قَالَ بل ميتَة قَالَ لَهُ أقِم عِنْدِي الْبَيِّنَة بوفاتها حَتَّى أعلم ذَلِك قَالَ فَأَقَامَ عِنْده الْبَيِّنَة بوفاتها فَذهب ابْن أبي ليلى ليسأل الْمُدعى عَلَيْهِ عَمَّا يَقُول الْمُدَّعِي فَقَالَ لَهُ ابو حنيفَة أقبل على صَاحبك فسله هَل لأمه وَارِث غَيره فان كَانَ لَهُ إخْوَة كَانَت الْمُطَالبَة لَهُ وَلَهُم وَأَن كَانَ هُوَ الْوَارِث وَحده كَانَ قولا آخر فَقَالَ ابْن ابي ليلى للْمُدَّعِي هَل لأمك وَارِث غَيْرك قَالَ لَا قَالَ فأقم عِنْدِي الْبَيِّنَة بذلك فَأَقَامَ الْبَيِّنَة أَنه وَارِث امهِ لَا وَارِث لَهَا غَيره قَالَ فَذهب ابْن أبي ليلى ليسأل الْمُدعى عَلَيْهِ عَن دَعْوَى الْمُدَّعِي فَقَالَ أَبُو حنيفَة رضي الله عنه أقبل على صَاحبك واسأله عَن أمه أحرة هِيَ أم أمة فَقَالَ ابْن أبي ليلى للرجل أمك حرَّة أَو أمة قَالَ بل حرَّة قَالَ فأقم عِنْدِي بذلك بَيِّنَة فَأَقَامَ الْبَيِّنَة بذلك فَذهب ليسأل الْمُدعى عَلَيْهِ فَقَالَ أَبُو حنيفَة رضي الله عنه ارْجع أَيْضا إِلَى صَاحبك وأسأله أَمُسْلِمَة هِيَ أم معاهدة قَالَ حرَّة مسلمة من بَنَات آل فلَان قوم سراة بِالْكُوفَةِ قَالَ فأقم الْبَيِّنَة عِنْدِي بِأَنَّهَا مسلمة فَأَقَامَ الْبَيِّنَة عِنْده بِأَنَّهَا مسلمة فَقَالَ أَبُو حنيفَة رضي الله عنه شَأْنك الْآن فاسأل الرجل عَمَّا ادَّعَاهُ الْمُدَّعِي فَسَأَلَهُ فَأنْكر فَقَالَ للْمُدَّعِي أَلَك بَيِّنَة قَالَ نعم جمَاعَة من وُجُوه أهل الْكُوفَة قَالَ فأحضرهم مَعَ خصمك حَتَّى أسمع شَهَادَتهم عَلَيْهِ قَالَ فأحضرهم ونهض أَبُو حنيفَة فَقَالَ لَهُ ابْن أبي ليلى تجْلِس حَتَّى تحضر الْبَيِّنَة قَالَ لَا وَانْصَرف من وقته

أخبرنَا عبد الله بن مُحَمَّد الْبَزَّاز قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا أَحْمد بن مُحَمَّد بن مغلس قَالَ ثَنَا الْعَبَّاس بن بكار قَالَ ثَنَا أَسد بن عَمْرو قَالَ دخل قَتَادَة الْكُوفَة فَنزل دَار أبي بردة فَخرج فَقَالَ لَا يسألني أحد عَن مَسْأَلَة من الْحَلَال وَالْحرَام إِلَّا أَجَبْته فَقَالَ لَهُ أَبُو حنيفَة يَا أَبَا الْخطاب مَا تَقول فِي رجل غَابَ عَن أَهله أعواما ونعى إِلَيْهَا وظنت أمْرَأَته أَنه ميت فَتزوّجت ثمَّ قدم زَوجهَا الأول وَقد ولدت ولدا فنفاه الأول وادعاه الثَّانِي أكل وَاحِد مِنْهُمَا قَذفهَا أم الَّذِي أنكر الْوَلَد مَا الْجَواب
তিনি (রাবী) বললেন, অতঃপর ইবন আবি লায়লা বাদীর দিকে ফিরে তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার মা কি জীবিত নাকি মৃত? সে বলল, বরং তিনি মৃত। তিনি বললেন, আমার নিকট তাঁর মৃত্যুর প্রমাণ উপস্থিত করো যেন আমি তা নিশ্চিত হতে পারি। বর্ণনাকারী বলেন, সে তাঁর নিকট তাঁর মৃত্যুর প্রমাণ পেশ করল। অতঃপর ইবন আবি লায়লা বিবাদীকে বাদীর দাবি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে চাইলেন। তখন আবু হানিফা তাকে বললেন, আপনার এই সাথীর (বাদী) দিকে লক্ষ্য করুন এবং তাকে জিজ্ঞেস করুন যে, তার মায়ের কি সে ছাড়া আর কোনো উত্তরাধিকারী আছে? কেননা যদি তার কোনো ভাই থাকে, তবে দাবি করার অধিকার তার এবং তাদের সবার হবে। আর যদি সে একাই উত্তরাধিকারী হয়, তবে বিষয়টি ভিন্ন হবে। ইবন আবি লায়লা বাদীকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার মায়ের কি তুমি ছাড়া আর কোনো উত্তরাধিকারী আছে? সে বলল, না। তিনি বললেন, আমার কাছে এর সপক্ষে প্রমাণ উপস্থিত করো। তখন সে প্রমাণ পেশ করল যে সে-ই তার মায়ের উত্তরাধিকারী এবং সে ছাড়া তাঁর আর কোনো উত্তরাধিকারী নেই। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর ইবন আবি লায়লা বাদীর দাবি সম্পর্কে বিবাদীকে জিজ্ঞেস করতে উদ্যত হলেন। তখন আবু হানিফা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বললেন, আপনার সাথীর দিকে মনোনিবেশ করুন এবং তাকে জিজ্ঞেস করুন তার মা কি স্বাধীন নারী ছিলেন নাকি দাসী? ইবন আবি লায়লা লোকটিকে বললেন, তোমার মা কি স্বাধীন ছিলেন নাকি দাসী? সে বলল, বরং তিনি স্বাধীন ছিলেন। তিনি বললেন, তবে আমার নিকট এর সপক্ষে প্রমাণ উপস্থিত করো। সে এর সপক্ষে প্রমাণ পেশ করল। অতঃপর তিনি বিবাদীকে জিজ্ঞেস করতে চাইলেন, তখন আবু হানিফা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বললেন, আবারও আপনার সাথীর দিকে ফিরে যান এবং তাকে জিজ্ঞেস করুন যে তিনি কি মুসলিম ছিলেন নাকি মুয়াহিদা (চুক্তিভুক্ত অমুসলিম)? সে বলল, তিনি কুফার এক সম্ভ্রান্ত বংশের স্বাধীন মুসলিম নারী ছিলেন। তিনি বললেন, তবে তিনি যে মুসলিম ছিলেন তার প্রমাণ আমার কাছে উপস্থিত করো। তখন সে তাঁর নিকট তিনি মুসলিম হওয়ার প্রমাণ পেশ করল। তখন আবু হানিফা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বললেন, এখন আপনি আপনার কাজ করতে পারেন, সুতরাং বিবাদীকে বাদীর দাবিকৃত বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করুন। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলে সে অস্বীকার করল। তখন তিনি বাদীকে বললেন, তোমার কাছে কি কোনো প্রমাণ আছে? সে বলল, হ্যাঁ, কুফার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের একটি দল রয়েছে। তিনি বললেন, তবে তোমার প্রতিপক্ষের উপস্থিতিতে তাদের নিয়ে এসো যাতে আমি তার বিরুদ্ধে তাদের সাক্ষ্য শুনতে পারি। বর্ণনাকারী বলেন, সে তাদের নিয়ে এল এবং আবু হানিফা উঠে দাঁড়ালেন। ইবন আবি লায়লা তাঁকে বললেন, আপনি কি প্রমাণ উপস্থিত হওয়া পর্যন্ত বসবেন না? তিনি বললেন, না; এবং তিনি তৎক্ষণাৎ প্রস্থান করলেন।

আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ আল-বাজ্জায আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুকরাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন মুগাল্লিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আব্বাস ইবন বাক্কার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আসাদ ইবন আমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, কাতাদা কুফায় প্রবেশ করে আবু বুরদার ঘরে অবস্থান করলেন। অতঃপর তিনি বের হয়ে ঘোষণা দিলেন, হালাল ও হারাম সম্পর্কিত কোনো বিষয়ে আমাকে কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে আমি অবশ্যই তার উত্তর দেব। তখন আবু হানিফা তাঁকে বললেন, হে আবু আল-খাত্তাব! আপনার অভিমত কী এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে যে বহু বছর তার পরিবার থেকে অনুপস্থিত ছিল এবং তার মৃত্যুর সংবাদ দেওয়া হয়েছে? ফলে তার স্ত্রী ধারণা করেছে যে সে মৃত এবং সে অন্যকে বিবাহ করেছে। অতঃপর তার প্রথম স্বামী ফিরে এল এমতাবস্থায় যে স্ত্রী একটি সন্তান জন্ম দিয়েছে। এমতাবস্থায় প্রথম স্বামী সন্তানটিকে অস্বীকার করল এবং দ্বিতীয় স্বামী সেটি নিজের সন্তান বলে দাবি করল। তাদের প্রত্যেকের কেউ কি স্ত্রীকে অপবাদ দেওয়ার দায়ে অভিযুক্ত হবে, নাকি কেবল সেই ব্যক্তি যে সন্তানকে অস্বীকার করেছে? এর উত্তর কী?
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হানীফা ওয়া আসহাবিহী - ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ৩৬)
فِيهَا فَقَالَ أَبُو حنيفَة إِن قَالَ فِيهَا بِرَأْيهِ ليخطئن وَإِن قَالَ فِيهَا حَدثنَا ليكذبن قَالَ قَتَادَة أوقعت هَذِه الْمَسْأَلَة قَالُوا لَا قَالَ فَلم تَسْأَلُونِي عَمَّا لم يكن فَقَالَ لَهُ أَبُو حنيفَة إِن الْعلمَاء يستعدون للبلاء ويتحرزون مِنْهُ قبل نُزُوله فَإِذا نزل عرفوه وَعرفُوا الدُّخُول فِيهِ وَالْخُرُوج مِنْهُ فَقَالَ قَتَادَة دعوا هَذَا وسلوني عَن التَّفْسِير فَقَالَ أَبُو حنيفَة مَا نقُول فِي قَول الله {قَالَ الَّذِي عِنْده علم من الْكتاب أَنا آتِيك بِهِ قبل أَن يرْتَد إِلَيْك طرفك} قَالَ نعم كَانَ هَذَا آصف بن برخيا كَاتب سُلَيْمَان وَكَانَ يعرف اسْم الله الْأَعْظَم قَالَ فَهَل كَانَ سُلَيْمَان عليه السلام يعرف هَذَا الِاسْم قَالَ لَا قَالَ أفيجوز ان يكون فِي زمن بني من هُوَ أعلم من النَّبِي قَالَ لَا وَالله لَا أحدثكُم بِشَيْء من التَّفْسِير سلوني عَمَّا اخْتلف فِيهِ الْعلمَاء فَقَالَ أَبُو حنيفَة أمؤمن أَنْت قَالَ أَرْجُو قَالَ وَلم قَالَ لقَوْله تَعَالَى {وَالَّذِي أطمع أَن يغْفر لي خطيئتي يَوْم الدّين} قَالَ أَبُو حنيفَة فَهَلا قلت كَمَا قَالَ إِبْرَاهِيم عليه السلام لما قَالَ لَهُ {أَو لم تؤمن قَالَ بلَى وَلَكِن لِيَطمَئِن قلبِي} قَالَ فَقَامَ قَتَادَة فَدخل الدَّار مغضبا وَحلف ان لَا يُحَدِّثهُمْ قَالَ ابو حنيفَة ثمَّ قدم الْكُوفَة بعد سِنِين وَكَانَ ضريرا فناديته يَا أَبَا الْخطاب مَا تَقول فِي قَوْله {وليشهد عذابهما طَائِفَة من الْمُؤمنِينَ} قَالَ رجل فَمَا فَوْقه يَا أَبَا حنيفَة وعرفني بالنغمة وَكَانَ يسمع النَّاس يكنوني

أخبرنَا أَبُو الْقَاسِم عبد الله بن مُحَمَّد الشَّاهِد قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا أَحْمد بن عَطِيَّة قَالَ ثَنَا الترجماني قَالَ ثَنَا حسان بن إِبْرَاهِيم عَن إِبْرَاهِيم الصَّائِغ قَالَ كنت عِنْد عَطاء بن ابي رَبَاح وَعِنْده أَبُو حنيفَة فَسئلَ عَن قَول الله {وَآتَيْنَاهُ أَهله وَمثلهمْ مَعَهم} فَقَالَ عَطاء رد الله على أَيُّوب عليه السلام أَهله وَمثل أَهله وَولده فَقَالَ
এ বিষয়ে আবু হানিফা বললেন, যদি সে এতে নিজের রায় (বিবেচনা) প্রয়োগ করে কথা বলে তবে সে অবশ্যই ভুল করবে, আর যদি সে বলে "আমাদের নিকট বর্ণনা করা হয়েছে" (হাদিস), তবে সে অবশ্যই মিথ্যা বলবে। কাতাদা বললেন, এই মাসআলাটি কি বাস্তবে ঘটেছে? তারা বলল, না। তিনি বললেন, তবে তোমরা আমাকে এমন বিষয় সম্পর্কে কেন জিজ্ঞেস করছ যা এখনো ঘটেনি? আবু হানিফা তাকে বললেন, নিশ্চয়ই আলেমগণ বিপদের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেন এবং তা আসার পূর্বেই তা থেকে সতর্কতা অবলম্বন করেন। ফলে যখন তা আপতিত হয়, তখন তারা তা চিনতে পারেন এবং তারা জানেন কীভাবে তাতে প্রবেশ করতে হয় এবং কীভাবে তা থেকে বেরিয়ে আসতে হয়। অত:পর কাতাদা বললেন, এটি বাদ দিন এবং আমাকে তাফসির সম্পর্কে জিজ্ঞেস করুন। আবু হানিফা বললেন, আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে আপনি কী বলেন— "যাঁর নিকট কিতাবের জ্ঞান ছিল সে বলল, আপনার চোখের পলক ফিরে আসার পূর্বেই আমি তা আপনার কাছে নিয়ে আসব"? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তিনি ছিলেন আসিফ বিন বারখিয়া, সুলাইমানের লেখক, এবং তিনি আল্লাহর ইসমে আজম (সর্বশ্রেষ্ঠ নাম) জানতেন। তিনি (আবু হানিফা) বললেন, সুলাইমান আলাইহিস সালাম কি এই নাম জানতেন না? তিনি বললেন, না। তিনি (আবু হানিফা) বললেন, কোনো নবীর যুগে কি এমন কেউ থাকা সম্ভব যে সেই নবীর চেয়েও অধিক জ্ঞানী? তিনি (কাতাদা) বললেন, না। আল্লাহর কসম, আমি আপনাদের নিকট তাফসিরের কোনো কিছু আর বর্ণনা করব না। আলেমগণ যে বিষয়ে মতভেদ করেছেন সে সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞেস করুন। তখন আবু হানিফা বললেন, আপনি কি মুমিন? তিনি বললেন, আমি আশা করি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কেন? তিনি বললেন, আল্লাহ তাআলার এই বাণীর কারণে— "আর যাঁর নিকট আমি আশা করি যে, তিনি বিচার দিবসে আমার অপরাধ ক্ষমা করে দেবেন"। আবু হানিফা বললেন, আপনি কেন তেমনটি বললেন না যেমনটি ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম বলেছিলেন যখন তাঁকে বলা হয়েছিল, "তুমি কি ঈমান আনোনি?" তিনি বলেছিলেন, "অবশ্যই এনেছি, কিন্তু তা কেবল আমার হৃদয়ের প্রশান্তির জন্য"। তিনি (বর্ণনাকারী) বললেন, অত:পর কাতাদা রাগান্বিত হয়ে উঠে দাঁড়ালেন এবং ঘরে প্রবেশ করলেন এবং শপথ করলেন যে তিনি তাদের নিকট আর কোনো হাদিস বর্ণনা করবেন না। আবু হানিফা বললেন, কয়েক বছর পর তিনি যখন কুফায় আসলেন, তখন তিনি দৃষ্টিহীন ছিলেন। আমি তাঁকে ডাক দিয়ে বললাম, হে আবুল খাত্তাব, আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে আপনার অভিমত কী— "এবং মুমিনদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে"? তিনি বললেন, একজন ব্যক্তি বা তার বেশি, হে আবু হানিফা। তিনি কণ্ঠস্বর শুনে আমাকে চিনে ফেললেন, কারণ তিনি শুনছিলেন যে লোকেরা আমাকে এই উপনামে (কুনিয়াত) ডাকছে।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আশ-শাহিদ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মাকরাম, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন আতিয়্যাহ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আত-তারজুমানি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন হাসসান বিন ইব্রাহিম, ইব্রাহিম আস-সাইগ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আতা বিন আবি রাবাহ-এর নিকট ছিলাম এবং তাঁর নিকট আবু হানিফাও উপস্থিত ছিলেন। তখন তাঁকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো— "আর আমি তাকে তার পরিবারবর্গ দান করলাম এবং তাদের সাথে তাদের সমপরিমাণ আরও দান করলাম"। আতা বললেন, আল্লাহ আইয়ুব আলাইহিস সালামের নিকট তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাদের সমপরিমাণ ও তাঁর সন্তানদের ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তখন...
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হানীফা ওয়া আসহাবিহী - ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ৩৭)
أَبُو حنيفَة اَوْ يرد الله على نَبِي ولدا لَيْسُوا لَهُ من صلبه يَا أَبَا مُحَمَّد فَقَالَ مَا سَمِعت فِيهَا عافاك الله فَقَالَ رد الله على أَيُّوب أَهله وَولده من صلبه وَمثل أجور وَلَده فَقَالَ هَذَا حسن

أخبرنَا عمر بن إِبْرَاهِيم قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا أَحْمد بن مُحَمَّد بن مغلس قَالَ ثَنَا ابْن سَمَّاعَة قَالَ ثَنَا أَبُو يُوسُف قَالَ قَالَ رجل لأبي حنيفَة إِنِّي حَلَفت أَن لَا اكلم امْرَأَتي اَوْ تكلمني وَحلفت بِصَدقَة مَا تملك ان لَا تكلمني اَوْ اكلمها قَالَ سَأَلت عَنْهَا أحدا قَالَ نعم سُفْيَان الثَّوْريّ فَقَالَ من كلم صَاحبه حنث فَقَالَ كلمها وَلَا حنث عَلَيْكُمَا فَذهب الى سُفْيَان وَكَانَ قرَابَة لَهُ فَأخْبرهُ قَالَ فَجَاءَنِي سُفْيَان مغضبا وَقَالَ تبيح الْفروج قَالَ وَمَا ذَاك ثمَّ قَالَ أعيدوا على أبي عبد الله السُّؤَال فأعادوه فَأَعَادَ ابو حنيفَة بِمثل مَا أفتى فَقَالَ لَهُ من أَيْن قلت قَالَ لما شافهته بِالْيَمِينِ بَعْدَمَا حلف كَانَت مكلمة لَهُ وَسَقَطت يَمِينه فَإِن كلمها فَلَا حنث عَلَيْهِ وَلَا عَلَيْهَا لِأَنَّهَا قد كَلمته بعد الْيَمين فَسَقَطت الْيَمين عَنْهُمَا فَقَالَ سُفْيَان إِنَّه ليكشف لَك من الْعلم عَن شَيْء كلنا عَنهُ غافل

وجدت فِي كتاب أبي جَعْفَر الطَّحَاوِيّ الَّذِي جمع فِيهِ أَخْبَار أَصْحَابنَا الَّذِي أخبرنَا بِهِ عبد الله بن مُحَمَّد الْأَسدي القَاضِي إجَازَة ان ابا بكر الدَّامغَانِي الْفَقِيه أخْبرهُم قَالَ ثَنَا أَبُو جَعْفَر قَالَ سَمِعت ابا خازم القَاضِي يَقُول ثَنَا سُوَيْد بن سعد الحدثاني عَن عَليّ بن مسْهر قَالَ كُنَّا عِنْد أبي حنيفَة رضي الله عنه فَأَتَاهُ عبد الله بن الْمُبَارك فَقَالَ لَهُ مَا تَقول فِي رجل كَانَ يطْبخ قدرا لَهُ فَوَقع فِيهَا طَائِر فَمَاتَ فَقَالَ أَبُو حنيفَة لأَصْحَابه مَا ترَوْنَ فِيهَا فرووا لَهُ عَن ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما أَنه يهراق المرق وَيغسل اللَّحْم ويؤكل فَقَالَ أَبُو حنيفَة هَكَذَا نقُول إِلَّا ان فِي ذَلِك شريطة إِن كَانَ وَقع فِي حَال غليانها ألقِي اللَّحْم وَأُهْرِيقَ المرق وَإِن كَانَ وَقع
আবু হানিফা বললেন, "হে আবু মুহাম্মদ, অথবা আল্লাহ কি কোনো নবীকে এমন সন্তান ফিরিয়ে দেন যারা তাঁর ঔরসজাত নয়?" তিনি বললেন, "আল্লাহ আপনাকে সুস্থ রাখুন, এ বিষয়ে আমি কিছু শুনিনি।" তিনি বললেন, "আল্লাহ আইয়ুব (আ.)-কে তাঁর পরিবার এবং তাঁর ঔরসজাত সন্তানদের ফিরিয়ে দিয়েছিলেন এবং তাঁর সন্তানদের সওয়াবের অনুরূপ দিয়েছিলেন।" তিনি বললেন, "এটি চমৎকার।"

ওমর ইবনে ইবরাহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুকরম আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুগাল্লাস আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইবনে সামাআ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু ইউসুফ বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি আবু হানিফাকে বললেন, "আমি শপথ করেছি যে আমি আমার স্ত্রীর সাথে কথা বলব না যতক্ষণ না সে কথা বলে, আর সে তার সমস্ত সম্পদ সদকা করার শপথ করেছে যে সে আমার সাথে কথা বলবে না যতক্ষণ না আমি কথা বলি।" তিনি (আবু হানিফা) বললেন, "তুমি কি এ বিষয়ে কাউকে জিজ্ঞাসা করেছ?" সে বলল, "হ্যাঁ, সুফিয়ান সাওরীকে। তিনি বলেছেন, যে আগে কথা বলবে সেই শপথ ভঙ্গকারী হবে।" তিনি (আবু হানিফা) বললেন, "তুমি তার সাথে কথা বলো, তোমাদের কারোরই শপথ ভঙ্গ হবে না।" সে সুফিয়ানের কাছে গেল, যিনি তার আত্মীয় ছিলেন এবং তাকে বিষয়টি জানাল। আবু ইউসুফ বলেন, এরপর সুফিয়ান রাগান্বিত অবস্থায় আমার কাছে আসলেন এবং বললেন, "আপনি কি লজ্জাস্থানকে হালাল করছেন?" তিনি (আবু হানিফা) বললেন, "সেটা কী?" এরপর তিনি বললেন, "আবু আবদুল্লাহর (সুফিয়ান) সামনে প্রশ্নটি পুনরায় করো।" তারা তা করল এবং আবু হানিফা তাঁর পূর্বের ফতোয়াটি পুনরায় দিলেন। সুফিয়ান তাঁকে বললেন, "আপনি কিসের ভিত্তিতে এটি বললেন?" তিনি বললেন, "সে যখন শপথ করার পর তাকে সরাসরি শপথের কথা বলল, তখন সে তার সাথে কথা বলে ফেলেছে, ফলে তার শপথ রহিত হয়ে গেছে। এখন যদি সে তার সাথে কথা বলে তবে তার ওপর বা ওই মহিলার ওপর কোনো শপথ ভঙ্গের দায় থাকবে না, কারণ সে শপথের পরপরই তার সাথে কথা বলেছে এবং তাদের দুজনের শপথই রহিত হয়ে গেছে।" তখন সুফিয়ান বললেন, "নিশ্চয়ই আপনার জন্য ইলমের এমন কিছু উন্মোচিত হয় যা থেকে আমরা সবাই গাফেল।"

আমি আবু জাফর তহাবীর কিতাবে পেয়েছি, যেখানে তিনি আমাদের সাথীদের সংবাদ সংগ্রহ করেছেন, যা কাজী আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-আসাদী আমাদের ইজাজতসূত্রে জানিয়েছেন যে, ফকিহ আবু বকর আদ-দামাগানী তাঁদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু জাফর আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি কাজী আবু খাযিমকে বলতে শুনেছি, সুওয়াইদ ইবনে সাদ আল-হাদাসানী আলী ইবনে মুশহির থেকে আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমরা আবু হানিফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট ছিলাম, তখন আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক তাঁর কাছে এসে বললেন, "আপনি সেই ব্যক্তি সম্পর্কে কী বলেন যে তার হাঁড়িতে রান্না করছিল, এমতাবস্থায় একটি পাখি তাতে পড়ে মারা গেল?" আবু হানিফা তাঁর সাথীদের বললেন, "তোমরা এ বিষয়ে কী মনে করো?" তারা ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করল যে, ঝোল ফেলে দিতে হবে এবং গোশত ধুয়ে খেতে হবে। আবু হানিফা বললেন, "আমরাও এমনটিই বলি, তবে এতে একটি শর্ত রয়েছে; যদি সেটি ফুটন্ত অবস্থায় পড়ে থাকে তবে গোশত ফেলে দিতে হবে এবং ঝোলও ফেলে দিতে হবে, আর যদি সেটি পড়ে থাকে..."
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হানীফা ওয়া আসহাবিহী - ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ৩৮)
فِيهَا فِي حَال سكونها غسل اللَّحْم وَأُهْرِيقَ المرق قَالَ لَهُ ابْن الْمُبَارك من أَيْن قلت هَذَا فَقَالَ لِأَنَّهُ إِذا وَقع فِيهَا فِي حَال غليانها فقد وصل من اللَّحْم إِلَى حَيْثُ يصل مِنْهُ الْخلّ والتوابل وَإِذا وَقع فِيهَا فِي حَال سكونها فَإِنَّمَا لطخ اللَّحْم وَلم يداخله فَقَالَ ابْن الْمُبَارك هَذَا رزين يَعْنِي الْمَذْهَب بِالْفَارِسِيَّةِ وَعقد بِيَدِهِ ثَلَاثِينَ

أخبرنَا أَبُو حَفْص عمر بن إِبْرَاهِيم المقرىء قَالَ ثَنَا أَحْمد قَالَ ثَنَا أَحْمد بن يُونُس قَالَ ثَنَا زَائِدَة قَالَ قَالَ رجل لأبي حنيفَة مَا تَقول فِي رجل قَالَ لَا أَرْجُو الْجنَّة وَلَا أَخَاف النَّار وآكل الْميتَة وَأشْهد بِمَا لم أر وَلَا أَخَاف الله وأصلي بِلَا رُكُوع ولاسجود وَأبْغض الْحق وَأحب الْفِتْنَة فَقَالَ لَهُ أَبُو حنيفَة وَكَانَ يعرفهُ شَدِيد البغض لَهُ يَا أَبَا فلَان سَأَلتنِي عَن هَذِه وَلَك بهَا علم فَقَالَ لَهُ الرجل لَا وَلَكِن لم أجد شَيْئا هُوَ أشنع من هَذَا فسألتك عَنهُ فَقَالَ ابو حنيفَة لأَصْحَابه مَا تَقولُونَ فِي هَذَا الرجل قَالُوا شَرّ رجل مُتَّهم هَذِه صفة كَافِر فَتَبَسَّمَ أَبُو حنيفَة وَقَالَ لأَصْحَابه هُوَ وَالله من أَوْلِيَاء الله حَقًا ثمَّ قَالَ للرجل إِن أَنا أَخْبَرتك انه من أَوْلِيَاء الله تكف عني شَرّ لسَانك وَلَا تملي عَليّ الْحفظَة مَا يَضرك قَالَ نعم فَقَالَ أَبُو حنيفَة أما قَوْلك لَا يَرْجُو الْجنَّة وَلَا يخَاف النَّار فَإِن يَرْجُو رب الْجنَّة وَيخَاف رب النَّار وقولك لَا يخَاف الله فَإِنَّهُ لَا يخَاف ظلمه وَلَا جوره فَقَالَ الله تَعَالَى {وَمَا رَبك بظلام للعبيد} وقولك يَأْكُل الْميتَة فَهُوَ أكل السّمك وَقَوله يُصَلِّي بِلَا رُكُوع وَلَا سُجُود فقد جعل أَكثر عمله الصَّلَاة على النَّبِي عليه السلام وَقد لزم مَوضِع الْجَنَائِز فَهُوَ يُصَلِّي عَلَيْهَا وقولك يشْهد بِمَا لم ير فَهَذِهِ شَهَادَة الْحق يشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَأَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله وقولك يبغض الْحق فَهُوَ يحب الْبَقَاء حَتَّى يُطِيع الله أبدا وَيبغض الْمَوْت وَهُوَ الْحق قَالَ تَعَالَى {وَجَاءَت سكرة الْمَوْت بِالْحَقِّ} واما الْفِتْنَة فالقلوب مجبولة على حب المَال وَالْولد وَذَلِكَ من الْفِتْنَة الْعَظِيمَة على قُلُوب الْمُؤمنِينَ
তাতে (পাত্রে) স্থির অবস্থায় পড়ার ক্ষেত্রে মাংস ধুয়ে ফেলা হবে এবং ঝোল ঢেলে ফেলে দেওয়া হবে। ইবনুল মুবারক তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি এটি কীসের ভিত্তিতে বললেন? তিনি বললেন, কারণ ফুটন্ত অবস্থায় যখন তাতে কিছু পড়ে, তখন তা মাংসের ভেতরে তেমনভাবেই পৌঁছে যায় যেমনভাবে সিরকা ও মশলা পৌঁছায়। আর যখন স্থির অবস্থায় পড়ে, তখন তা কেবল মাংসের উপরিভাগকে রঞ্জিত করে, ভেতরে প্রবেশ করে না। ইবনুল মুবারক বললেন, এটি ‘রযীন’ (সুদৃঢ়)—ফারসি ভাষায় যার অর্থ হলো মাযহাব বা সুসংহত মত—এবং তিনি তার হাত দিয়ে ত্রিশের (সংখ্যার একটি চিহ্ন) সংকেত দিলেন।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাফস উমর ইবন ইবরাহীম আল-মুকরী, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবন ইউনুস, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যায়িদা। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আবু হানিফাকে বলল: আপনি এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে কী বলেন যে বলে—আমি জান্নাতের আশা করি না এবং জাহান্নামের ভয় পাই না, আমি মৃত প্রাণী ভক্ষণ করি, আমি যা দেখিনি তার সাক্ষ্য দেই, আমি আল্লাহকে ভয় পাই না, আমি রুকু ও সিজদাহ ব্যতীত সালাত আদায় করি, আমি সত্যকে ঘৃণা করি এবং ফিতনাকে ভালোবাসি? আবু হানিফা লোকটিকে চিনতেন যে সে তাঁর প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ করে। তিনি তাকে বললেন, হে অমুকের পিতা! তুমি আমাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছ অথচ এ সম্পর্কে তোমার জ্ঞান আছে? লোকটি বলল, না, তবে আমি এর চেয়ে জঘন্য আর কিছু পাইনি, তাই আপনাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছি। আবু হানিফা তাঁর সঙ্গীদের বললেন, এই ব্যক্তি সম্পর্কে তোমাদের অভিমত কী? তাঁরা বললেন, সে অত্যন্ত মন্দ লোক এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি, এটি তো কাফিরের বৈশিষ্ট্য। আবু হানিফা মুচকি হাসলেন এবং তাঁর সঙ্গীদের বললেন, আল্লাহর কসম, সে তো প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর বন্ধুদের একজন। এরপর তিনি লোকটিকে বললেন, আমি যদি তোমাকে জানাই যে সে আল্লাহর বন্ধুদের একজন, তবে কি তুমি আমার প্রতি তোমার জিহ্বার অনিষ্টতা থেকে বিরত থাকবে এবং সংরক্ষণকারী ফেরেশতারা তোমার আমলনামায় এমন কিছু লিখবে না যা তোমার ক্ষতি করবে? সে বলল, হ্যাঁ। তখন আবু হানিফা বললেন, তোমার কথা—‘সে জান্নাতের আশা করে না এবং জাহান্নামের ভয় পায় না’—এর অর্থ হলো সে জান্নাতের রবের আশা করে এবং জাহান্নামের রবের ভয় পায়। তোমার কথা—‘সে আল্লাহকে ভয় পায় না’—এর অর্থ হলো সে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো জুলুম বা অবিচারের ভয় পায় না; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: “আর আপনার রব বান্দাদের প্রতি মোটেও অবিচারকারী নন।” তোমার কথা—‘সে মৃত প্রাণী ভক্ষণ করে’—এর অর্থ হলো সে মাছ খায়। তোমার কথা—‘সে রুকু ও সিজদাহ ব্যতীত সালাত আদায় করে’—এর অর্থ হলো সে তার অধিকাংশ আমল নবী (আলাইহিস সালাম)-এর ওপর দুরুদ পাঠের মাধ্যমে করে এবং সে জানাজার স্থানে উপস্থিত থাকে ও তার ওপর সালাত (জানাজা) আদায় করে। তোমার কথা—‘সে যা দেখেনি তার সাক্ষ্য দেয়’—এটি হলো সত্য সাক্ষ্য; সে সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। তোমার কথা—‘সে সত্যকে ঘৃণা করে’—এর অর্থ হলো সে বেঁচে থাকাকে পছন্দ করে যেন সর্বদা আল্লাহর আনুগত্য করতে পারে এবং সে মৃত্যুকে ঘৃণা করে, অথচ মৃত্যুই হলো ধ্রুব সত্য। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: “আর মৃত্যুর আচ্ছন্নতা সত্যসহ উপস্থিত হবে।” আর ফিতনার বিষয়টি হলো, অন্তরসমূহকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততির প্রতি ভালোবাসার ওপর সৃষ্টি করা হয়েছে, আর এটি মুমিনদের অন্তরের জন্য এক মহান ফিতনা (পরীক্ষা)।
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হানীফা ওয়া আসহাবিহী - ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ৩৯)
أخبرنَا أَبُو الْقَاسِم عبد الله بن مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا ابْن مغلس قَالَ ثَنَا بشر بن الْوَلِيد قَالَ ثَنَا ابو يُوسُف قَالَ قَالَ رجل لأبي حنيفَة إِنِّي قد دفنت شَيْئا وَلَا أَدْرِي ايْنَ دَفَنته من الْبَيْت قَالَ وَأَنا أَحْرَى أَن لَا أَدْرِي بِهِ قَالَ فَبكى الرجل فَقَالَ أَبُو حنيفَة قومُوا بِنَا فَقَامَ وَمَعَهُ نفر من أَصْحَابه فَأتى بهم الرجل إِلَى منزله فَقَالَ أَيْن يكون من الدَّار وَأَيْنَ مَوضِع قماشك فأدخلهم إِلَى بَيت فِي الدَّار فَقَالَ لأَصْحَابه لَو كَانَ هَذَا الْبَيْت لكم وَمَعَكُمْ شَيْء تُرِيدُونَ ان تدفنوه كَيفَ كُنْتُم تَصْنَعُونَ فَقَالَ هَذَا كنت أدفنه هَا هُنَا وَقَالَ الآخر موضعا آخر حَتَّى قَالُوا خَمْسَة أقاويل فحفر مِنْهَا موضِعين ووجده فِي الثَّالِث وَقَالَ لَهُ اشكر الله الَّذِي رده عَلَيْك

أخبرنَا أَبُو عبد الله احْمَد بن مُحَمَّد الصَّيْرَفِي قَالَ ثَنَا عَليّ بن عَمْرو الحريري قَالَ ثَنَا أَبُو الْقَاسِم بن كأس النَّخعِيّ قَالَ ثَنَا أَسْبَاط بن مُحَمَّد قَالَ ثَنَا نمر بن جِدَار عَن الْحسن بن زِيَاد قَالَ دفن رجل مَاله فِي مَوضِع ثمَّ نسي أَي مَوضِع دَفنه فَطَلَبه فَلم يَقع عَلَيْهِ فجَاء إِلَى أبي حنيفَة فَشَكا إِلَيْهِ فَقَالَ لَهُ أَبُو حنيفَة لَيْسَ هَذَا بِفقه فأحتال لَك وَلَكِن اذْهَبْ فصل اللَّيْلَة إِلَى الْغَد فَإنَّك ستذكر أَي مَوضِع دَفَنته فِيهِ فَفعل الرجل فَلم يقم إِلَّا أقل من ربع اللَّيْل حَتَّى ذكر أَي مَوضِع فجَاء إِلَى أبي حنيفَة فَأخْبرهُ فَقَالَ قد علمت ان الشَّيْطَان لَا يدعك تصلي ليلتك حَتَّى يذكرك وَيحك فَهَلا أتممت ليلتك شكرا لله تَعَالَى

أخبرنَا أَحْمد بن مُحَمَّد قَالَ ثَنَا أَبُو بكر احْمَد بن مُحَمَّد المسكي قَالَ ثَنَا عَليّ بن مُحَمَّد النَّخعِيّ قَالَ ثَنَا إِبْرَاهِيم بن مخلد قَالَ ثَنَا مُحَمَّد بن سهل قَالَ حَدثنِي عَليّ بن أبي عَليّ قَالَ كنت عِنْد الْحسن بن عَليّ قَاضِي مرو فَذكر أَبَا حنيفَة وفطنته فَقَالَ استودع رجل من الْحَاج رجلا بِالْكُوفَةِ وَدِيعَة وَحج ثمَّ رَجَعَ فَطلب وديعته فَأنْكر الْمُسْتَوْدع

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুকরাম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনুল মুগাল্লিস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিশর বিন আল-ওয়ালিদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইউসুফ, তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি আবু হানিফাকে বললেন, "আমি একটি জিনিস দাফন করেছি, কিন্তু ঘরের কোথায় তা দাফন করেছি তা আমি জানি না।" তিনি বললেন, "আমি তো সেটি না জানারই বেশি উপযুক্ত।" তখন লোকটি কাঁদতে শুরু করল। আবু হানিফা বললেন, "আমাদের সাথে চলুন।" অতঃপর তিনি তাঁর কয়েকজন সঙ্গীকে সাথে নিয়ে উঠে দাঁড়ালেন এবং সেই ব্যক্তির বাড়িতে উপস্থিত হলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "বাড়ির কোন স্থানে এবং তোমার আসবাবপত্র রাখার জায়গাটি কোথায়?" এরপর তিনি তাঁদেরকে বাড়ির একটি কামরায় নিয়ে গেলেন। তিনি তাঁর সঙ্গীদের বললেন, "যদি এই ঘরটি আপনাদের হতো এবং আপনাদের কাছে এমন কিছু থাকত যা আপনারা দাফন করতে চাইতেন, তবে আপনারা কী করতেন?" তখন একজন বললেন, "আমি এখানে দাফন করতাম।" অন্যজন অন্য একটি স্থানের কথা বললেন। এভাবে তাঁরা পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন কথা বললেন। অতঃপর তিনি সেসব স্থানের মধ্যে দুটি খনন করলেন এবং তৃতীয়টিতে তা খুঁজে পেলেন। এরপর তিনি তাকে বললেন, "আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করো, যিনি এটি তোমাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন।"

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আস-সায়রাফি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলি বিন আমর আল-হারিরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল কাসিম বিন কাস আন-নাখায়ি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসবাত বিন মুহাম্মাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন নামার বিন জিদার, হাসান বিন যিয়াদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি তার সম্পদ এক স্থানে দাফন করেছিল, এরপর সে কোথায় দাফন করেছে তা ভুলে গেল। সে তা খুঁজল কিন্তু পেল না। অতঃপর সে আবু হানিফার কাছে এসে অভিযোগ করল। আবু হানিফা তাকে বললেন, "এটি কোনো ফিকহী মাসআলা নয় যে আমি তোমার জন্য কোনো কৌশল বের করব। তবে তুমি যাও এবং আজ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত নামাজ পড়ো, তাহলে নিশ্চয়ই তুমি মনে করতে পারবে যে কোথায় তা দাফন করেছ।" লোকটি তাই করল। রাতের এক-চতুর্থাংশ পার হওয়ার আগেই তার মনে পড়ে গেল যে কোথায় সে দাফন করেছে। সে আবু হানিফার কাছে এসে তা জানাল। তিনি বললেন, "আমি জানতাম যে শয়তান তোমাকে সারা রাত নামাজ পড়তে দেবে না, যতক্ষণ না সে তোমাকে কথাটি মনে করিয়ে দেয়। তোমার আফসোস! তুমি কেন আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া হিসেবে তোমার রাতটি পূর্ণ করলে না?"

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-মিসকি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলি বিন মুহাম্মাদ আন-নাখায়ি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম বিন মাখলাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন সাহল, তিনি বলেন: আলি বিন আবি আলি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মার্ভের বিচারক হাসান বিন আলির কাছে ছিলাম। তিনি আবু হানিফা ও তাঁর বুদ্ধিমত্তার কথা উল্লেখ করে বললেন, হাজীদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি কুফার এক ব্যক্তির কাছে একটি আমানত রাখল এবং হজ পালন করল। এরপর ফিরে এসে সে তার আমানত চাইল, কিন্তু আমানত রক্ষাকারী ব্যক্তি তা অস্বীকার করল।

(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হানীফা ওয়া আসহাবিহী - ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ৪০)
الْوَدِيعَة وَجعل يحلف لَهُ فَانْطَلق الرجل إِلَى أبي حنيفَة وشاوره فَقَالَ لَا تعلم بجحوده أحدا وَكَانَ الْمُسْتَوْدع يُجَالس أَبَا حنيفَة فَخَلا بِهِ فَقَالَ إِن هَؤُلَاءِ قد بعثوا يستشيرون فِي رجل يصلح للْقَضَاء فَهَل تنشط فتمانع الرجل قَلِيلا وَأَقْبل أَبُو حنيفَة يرغبه وَهُوَ يمْتَنع ثمَّ جَاءَ صَاحب الْوَدِيعَة فَقَالَ لَهُ أَبُو حنيفَة اذْهَبْ فَقل لَهُ أحسبك نسيت أودعتك فِي وَقت كَذَا والعلامة كَذَا قَالَ فَذهب الرجل فَقَالَ لَهُ ذَلِك فذفع إِلَيْهِ الْوَدِيعَة فَلَمَّا رَجَعَ الْمُسْتَوْدع قَالَ لَهُ أَبُو حنيفَة إِنِّي نظرت فِي أَمرك فَرَأَيْت ان ارْفَعْ من قدرك وَلَا اسميك حَتَّى يحضر مَا هُوَ أجل من هَذَا

أخبرنَا احْمَد بن مُحَمَّد الصراف قَالَ ثَنَا عَليّ بن عَمْرو قَالَ ثَنَا عَليّ بن مُحَمَّد النَّخعِيّ القَاضِي قَالَ ثَنَا أَحْمد بن مُحَمَّد بن عِيسَى قَالَ ثَنَا أَبُو سُلَيْمَان عَن مُحَمَّد بن الْحسن قَالَ دخل اللُّصُوص على رجل فَأخذُوا مَتَاعه واستحلفوه بِالطَّلَاق ثَلَاثًا أَن لَا يعلم أحدا وَأصْبح الرجل وَهُوَ يرى اللُّصُوص يبيعون مَتَاعه وَلَيْسَ يقدر يتَكَلَّم من أجل يَمِينه فجَاء الرجل يشاور أَبَا حنيفَة فَقَالَ لَهُ أَبُو حنيفَة احضرني أَمَام حيك والمؤذن والمستورين مِنْهُم فأحضرهم إِيَّاه فَقَالَ لَهُم ابو حنيفَة هَل تحبون ان يرد الله على هَذَا مَتَاعه قَالُوا نعم قَالَ فَأَجْمعُوا كل داعر وكل مُتَّهم فأدخلوهم فِي دَار أَو فِي مَسْجِد ثمَّ أخرجوهم وَاحِدًا وَاحِدًا فَقولُوا لَهُ هَذَا لصك فَإِن كَانَ لَيْسَ بلصه قَالَ لَا وَإِن كَانَ لصه فليسكت فَإِذا سكت فَاقْتَصُّوا عَلَيْهِ فَفَعَلُوا مَا أَمرهم بِهِ أَبُو حنيفَة فَرد الله عَلَيْهِ جَمِيع مَا سرق مِنْهُ

أخبرنَا أَبُو حَفْص عمر بن إِبْرَاهِيم قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا مُحَمَّد بن عبد السَّلَام عَن إِبْرَاهِيم بن مُحَمَّد الذِّرَاع قَالَ ثَنَا يُوسُف بن خَالِد قَالَ سَمِعت أَبَا حنيفَة قَالَ قدم علينا ربيعَة الرَّأْي وَيحيى بن سعيد قَاضِي الْكُوفَة فَقَالَ يحيى لِرَبِيعَة أَلا تعجب من أهل هَذَا الْمصر أَجمعُوا على رَأْي رجل وَاحِد قَالَ أَبُو حنيفَة فبلغني ذَلِك فَأرْسلت إِلَيْهِ يَعْقُوب وَزفر وعدة من أَصْحَابنَا فَقلت قايسوه وناظروه فَقَالَ لَهُ يَعْقُوب مَا تَقول فِي عبد بَين اثْنَيْنِ اعتقه احدهما قَالَ لَا يجوز عتقه قَالَ لم قَالَ لِأَن هَذَا ضَرَر
আমানতকৃত বস্তু এবং সে তার কাছে শপথ করতে লাগল। তখন লোকটি আবু হানিফার নিকট গিয়ে পরামর্শ চাইল। তিনি বললেন, “সে যে অস্বীকার করছে, তা কাউকে জানিও না।” সেই আমানত গ্রহণকারী ব্যক্তি আবু হানিফার মজলিসে বসত। তিনি তার সাথে নির্জনে বসলেন এবং বললেন, “বিচারক পদের জন্য উপযুক্ত কোনো ব্যক্তির ব্যাপারে পরামর্শ চেয়ে এই লোকগুলো লোক পাঠিয়েছে। আপনার কি এতে আগ্রহ আছে?” লোকটি কিছুটা অনীহা প্রকাশ করল। আবু হানিফা তাকে উৎসাহ দিতে লাগলেন আর সে অসম্মতি জানাতে লাগল। এরপর আমানতের মালিক এল। তখন আবু হানিফা তাকে বললেন, “যাও এবং তাকে বলো—আমার মনে হয় আপনি ভুলে গেছেন যে আমি অমুক সময়ে অমুক চিহ্নসহ আপনার নিকট আমানত রেখেছিলাম।” বর্ণনাকারী বলেন, লোকটি গিয়ে তাকে তা-ই বলল। তখন সে তাকে আমানত ফিরিয়ে দিল। আমানত গ্রহণকারী যখন ফিরে এল, তখন আবু হানিফা তাকে বললেন, “আমি আপনার বিষয়টি নিয়ে ভেবে দেখলাম এবং আপনার মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে এর চেয়েও বড় কোনো সুযোগ না আসা পর্যন্ত আমি আপনার নাম প্রস্তাব করব না।”

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন মুহাম্মদ আস-সাররাফ, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আলী বিন আমর, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন বিচারক আলী বিন মুহাম্মদ আন-নাখায়ি, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ঈসা, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু সুলাইমান, মুহাম্মদ বিন হাসান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদল চোর এক ব্যক্তির ঘরে প্রবেশ করে তার মালপত্র নিয়ে গেল এবং তাকে তিন তালাকের শপথ করাল যে, সে কাউকে জানাবে না। পরদিন সকালে লোকটি দেখল চোরেরা তার মালপত্র বিক্রি করছে, কিন্তু নিজের শপথের কারণে সে কথা বলতে পারছিল না। তখন লোকটি আবু হানিফার নিকট এসে পরামর্শ চাইল। আবু হানিফা তাকে বললেন, “তোমার মহল্লার ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের আমার নিকট নিয়ে এসো।” সে তাদের নিয়ে এল। আবু হানিফা তাদের বললেন, “আল্লাহ এই লোকটির মালপত্র ফিরিয়ে দিন—এটা কি তোমরা চাও?” তারা বলল, “হ্যাঁ।” তিনি বললেন, “তাহলে তোমরা সকল পাপাচারী ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের একত্রিত করো এবং তাদের কোনো ঘরে বা মসজিদে প্রবেশ করাও। এরপর তাদের একে একে বের করে আনো এবং এই লোকটিকে জিজ্ঞেস করো—এটা কি তোমার চোর? যদি সে তার চোর না হয়, তবে সে বলবে ‘না’। আর যদি সে-ই চোর হয়, তবে সে চুপ থাকবে। যখন সে চুপ থাকবে, তখন তোমরা তাকে পাকড়াও করবে।” তারা আবু হানিফার নির্দেশমতো কাজ করল এবং আল্লাহ তার চুরি হওয়া সমস্ত মালপত্র ফিরিয়ে দিলেন।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাফস ওমর বিন ইব্রাহিম, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুকরিম, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আব্দুস সালাম, ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ আজ-জিরা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইউসুফ বিন খালিদ, তিনি বলেন, আমি আবু হানিফাকে বলতে শুনেছি: রবিআহ আর-রায় এবং কুফার বিচারক ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আমাদের নিকট আসলেন। ইয়াহইয়া রবিআহকে বললেন, “আপনি কি এই শহরের অধিবাসীদের দেখে আশ্চর্যান্বিত হন না যে, তারা সবাই এক ব্যক্তির মতের ওপর ঐক্যবদ্ধ হয়েছে?” আবু হানিফা বলেন, বিষয়টি আমার নিকট পৌঁছাল। তখন আমি ইয়াকুব, জুফার এবং আমাদের আরও কয়েকজন সঙ্গীকে তার নিকট পাঠালাম এবং বললাম, “তোমরা তার সাথে কিয়াস ও মুনাাজারা করো।” ইয়াকুব তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “সেই দাস সম্পর্কে আপনার অভিমত কী, যে দুজনের মালিকানাধীন এবং তাদের একজন তাকে মুক্ত করে দিয়েছে?” তিনি বললেন, “তার মুক্তি বৈধ হবে না।” তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “কেন?” তিনি বললেন, “কারণ এতে ক্ষতি রয়েছে।”
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হানীফা ওয়া আসহাবিহী - ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ৪১)
وَقد جَاءَ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم لَا ضَرَر وَلَا ضرار قَالَ فَإِن أعْتقهُ الآخر قَالَ جَازَ عتقه قَالَ تركت قَوْلك إِن كَانَ الْكَلَام الأول لم يعْمل شَيْئا وَلم يَقع بِهِ عتق فقد أعْتقهُ الثَّانِي وَهُوَ عبد فَسكت

‌‌مَا رُوِيَ فِي وقار أبي حنيفَة وعقله

 

أخبرنَا أَبُو حَفْص عمر بن إِبْرَاهِيم المقرىء قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثناأحمد بن عَطِيَّة قَالَ ثَنَا بشر بن الْوَلِيد عَن أبي يُوسُف قَالَ مَا صَحِبت أحدا من النَّاس فَيقدر ان يَقُول إِنَّه رأى أكمل عقلا وَلَا أتم مُرُوءَة من أبي حنيفَة

أخبرنَا عمر قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا أَحْمد بن عَطِيَّة الْكُوفِي قَالَ سَمِعت يحيى بن معِين يَقُول كَانَ أَبُو حنيفَة أَعقل من أَن يكذب مَا سَمِعت احدا يصفه ويذكره بِمثل مَا كَانَ ابْن الْمُبَارك يصفه ويذكره بِهِ من الْخَيْر

أخبرنَا عبد الله بن مُحَمَّد الْبَزَّاز قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا ابْن مغلس قَالَ ثَنَا مُحَمَّد ابْن تَوْبَة قَالَ حَدثنِي حموية بن حَاتِم قَالَ سَمِعت تَوْبَة يَقُول قَالَ لي أَبُو حنيفَة لَا تَسْأَلنِي عَن أَمر الدّين وَأَنا ماش وَلَا تَسْأَلنِي وَأَنا أحدث النَّاس وَلَا تَسْأَلنِي وَأَنا قَائِم وَلَا تَسْأَلنِي وَأَنا متكىء فَإِن هَذِه أَمَاكِن لَا يجْتَمع فِيهَا عقل الرجل قَالَ فَخرج يَوْمًا فِي حَاجَة وتبعته فَجعلت من حرصي أسائله وَمَعِي دفتر وَهُوَ يمشي فِي الطَّرِيق فَكلما خلوت علقت مَا يَقُول فَلَمَّا كَانَ من الْغَد وَاجْتمعَ إِلَيْهِ أَصْحَابه ساءلته عَن تِلْكَ الْمسَائِل فَغير الْجَواب فأعلمته ذَلِك فَقَالَ ألم أَنْهَك عَن السُّؤَال وَعَن الشَّهَادَات فِي دين الله إِلَّا فِي وَقت اجْتِمَاع الْعُقُول

أخبرنَا احْمَد بن مُحَمَّد الصَّيْرَفِي قَالَ ثَنَا عَليّ بن عَمْرو الحريري قَالَ ثَنَا عَليّ بن مُحَمَّد القَاضِي قَالَ ثَنَا مُحَمَّد بن عَليّ بن عَفَّان قَالَ ثَنَا مُحَمَّد بن عبد الْملك الدقيقي قَالَ سَمِعت يزِيد بن هَارُون يَقُول أدْركْت النَّاس فَمَا رَأَيْت أحدا أَعقل وَلَا
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, "ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া যাবে না।" তিনি বললেন, তবে যদি দ্বিতীয় ব্যক্তি তাকে মুক্ত করে দেয়? তিনি বললেন, তার মুক্তি বৈধ হবে। তিনি (প্রশ্নকারী) বললেন, আপনি তো আপনার পূর্বের কথা ত্যাগ করলেন। যদি প্রথম কথাটি কোনো কাজ না করে থাকে এবং তার মাধ্যমে মুক্তি কার্যকর না হয়, তবে তো দ্বিতীয় ব্যক্তি তাকে মুক্ত করল যখন সে দাসই ছিল। তখন তিনি চুপ হয়ে গেলেন।

‌‌আবু হানিফার গাম্ভীর্য ও বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে

 

আবু হাফস ওমর ইবনে ইব্রাহিম আল-মুকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুকররাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমাদ ইবনে আতিয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, বিশর ইবনুল ওয়ালিদ আবু ইউসুফ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি মানুষের মধ্যে এমন কারো সাহচর্য লাভ করিনি যে বলতে পারে যে সে আবু হানিফার চেয়ে পরিপূর্ণ বুদ্ধিমান এবং অধিকতর মার্জিত ব্যক্তিত্বসম্পন্ন কাউকে দেখেছে।

ওমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুকররাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমাদ ইবনে আতিয়্যাহ আল-কুফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি ইয়াহইয়া ইবনে মায়ীনের নিকট শুনেছি, তিনি বলেন, আবু হানিফা মিথ্যা বলার চেয়েও অনেক বেশি বুদ্ধিমান ছিলেন। ইবনুল মুবারক তাঁর সম্পর্কে যেরূপ প্রশংসা ও উত্তম গুণাবলি বর্ণনা করতেন, আমি অন্য কাউকে তাঁর সম্পর্কে সেরূপ বর্ণনা করতে শুনিনি।

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আল-বাযযায আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুকররাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইবনে মুগাল্লিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনে তওবা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হামুয়্যাহ ইবনে হাতিম আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি তওবাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আবু হানিফা আমাকে বলেছেন, "আমি হাঁটা অবস্থায় থাকাকালীন দ্বীনের কোনো বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করো না; আমি যখন মানুষের সাথে কথা বলতে থাকি তখন আমাকে প্রশ্ন করো না; আমি দাঁড়ানো অবস্থায় থাকাকালীন আমাকে প্রশ্ন করো না এবং আমি হেলান দিয়ে থাকা অবস্থায়ও আমাকে প্রশ্ন করো না। কারণ, এগুলো এমন অবস্থা যেখানে মানুষের বুদ্ধি স্থির থাকে না।" তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, একদিন তিনি কোনো এক প্রয়োজনে বের হলেন এবং আমিও তাঁর পেছনে চললাম। আগ্রহবশত আমি তাঁকে প্রশ্ন করতে শুরু করলাম এবং আমার সাথে একটি খাতা ছিল। তিনি পথে হাঁটছিলেন এবং যখনই আমি সুযোগ পাচ্ছিলাম, তিনি যা বলছিলেন তা লিখে নিচ্ছিলাম। পরদিন যখন তাঁর সাথীরা তাঁর কাছে একত্রিত হলো, আমি তাঁকে সেই বিষয়গুলো সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। তিনি উত্তর পরিবর্তন করে দিলেন। আমি তাঁকে বিষয়টি জানালে তিনি বললেন, "আমি কি তোমাকে আল্লাহর দ্বীনের বিষয়ে প্রশ্ন করতে এবং সাক্ষ্য দিতে নিষেধ করিনি, যতক্ষণ না তা বুদ্ধি স্থির হওয়ার সময়ে হয়?"

আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আস-সাইরাফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আলী ইবনে আমর আল-হারিরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আলী ইবনে মুহাম্মাদ আল-কাদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে আফফান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল মালিক আদ-দাকিকি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি ইয়াযিদ ইবনে হারুনকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি সমসাময়িক লোকদের পেয়েছি, কিন্তু আমি এমন কাউকে দেখিনি যে অধিক বুদ্ধিমান এবং...
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হানীফা ওয়া আসহাবিহী - ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ৪২)
أفضل وَلَا أورع من أبي حنيفَة

أخبرنَا أَحْمد بن مُحَمَّد قَالَ ثَنَا عَليّ بن عَمْرو قَالَ ثَنَا عَليّ بن مُحَمَّد القَاضِي قَالَ ثَنَا مُحَمَّد بن مَحْمُود الصيدلاني قَالَ ثَنَا مُحَمَّد بن شُجَاع قَالَ سَمِعت عَليّ بن عَاصِم يَقُول لَو وزن عقل أبي حنيفَة بِنصْف عقل أهل الأَرْض لرجح بهم وَمَا كَانَ عِنْده أكبر من أبي حنيفَة

حَدثنَا عَليّ بن الْحسن الرَّازِيّ قَالَ ثَنَا الزَّعْفَرَانِي الوَاسِطِيّ قَالَ ثَنَا ابْن أبي خَيْثَمَة قَالَ ثَنَا سُلَيْمَان بن مَنْصُور قَالَ حَدثنِي حجر بن عبد الْجَبَّار قَالَ مَا رأى النَّاس أكْرم مجالسة من أبي حنيفَة وَلَا أَشد إِكْرَاما لأَصْحَابه قَالَ حجر كَانَ يُقَال إِن ذَوي الشّرف أتم عقولا من غَيرهم

أخبرنَا أَبُو الْقَاسِم عبد الله بن مُحَمَّد الشَّاهِد قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا احْمَد بن مُحَمَّد ابْن مغلس قَالَ ثَنَا مليح بن وَكِيع قَالَ ثَنَا أبي عَن زفر عَن أبي حنيفَة قَالَ من طلب الرِّئَاسَة قبل وَقتهَا عَاشَ فِي ذل

أخبرنَا عبد الله بن مُحَمَّد قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا أَحْمد بن عَطِيَّة قَالَ ثَنَا الْحمانِي قَالَ سَمِعت ابْن الْمُبَارك يَقُول قلت لِسُفْيَان الثَّوْريّ يَا أَبَا عبد الله مَا أبعد أَبَا حنيفَة من الْغَيْبَة مَا سمعته يغتاب عدوا لَهُ قطّ فَقَالَ هُوَ وَالله أَعقل من ان يُسَلط على حَسَنَاته مَا يذهب بهَا

أخبرنَا عمر بن إِبْرَاهِيم قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا أَحْمد بن عَطِيَّة قَالَ سَمِعت مُحَمَّد ابْن سَمَّاعَة يَقُول سَمِعت أَبَا يُوسُف يَقُول كَانَ أَبُو حنيفَة إِذا أَرَادَ الْخُرُوج نظر إِلَى شسع نَعله فان كَانَ يحْتَاج ان يصلحه أصلحه وَكَانَ كثيرا مَا يلبس الْخُف فَمَا رَأَيْته مُنْقَطع الشسع وَكَانَ أَبُو عبد الله يفعل ذَلِك
আবু হানিফার চেয়ে উত্তম বা অধিক পরহেযগার আর কেউ নেই।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আলী বিন আমর, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আলী বিন মুহাম্মাদ আল-কাযী, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন মাহমুদ আস-সাইদালানি, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন শুজা, তিনি বলেন, আমি আলী বিন আসিমকে বলতে শুনেছি যে, যদি আবু হানিফার বুদ্ধিমত্তাকে পৃথিবীর অর্ধেক মানুষের বুদ্ধিমত্তার সাথে ওজন করা হতো, তবে তাঁর বুদ্ধিমত্তাই ভারী হতো; আর তাঁর নিকট আবু হানিফার চেয়ে বড় আর কেউ ছিল না।

আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আলী বিন আল-হাসান আল-রাযী, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আয-জাফরানী আল-ওয়াসিতি, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইবনে আবি খাইসামা, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সুলাইমান বিন মানসুর, তিনি বলেন, আমাকে বর্ণনা করেছেন হুজর বিন আব্দুল জাব্বার, তিনি বলেন, মানুষ আবু হানিফার চেয়ে অধিক মার্জিত মজলিসী এবং নিজের সাথীদের প্রতি অধিক সম্মান প্রদর্শনকারী আর কাউকে দেখেনি। হুজর বলেন, বলা হতো যে, মর্যাদাশালী ব্যক্তিরা অন্যদের তুলনায় পূর্ণতর বুদ্ধিমত্তার অধিকারী হয়ে থাকেন।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আশ-শাহিদ, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুকরাম, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ ইবনে মুগাল্লিস, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মালিহ বিন ওয়াকী, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আমার পিতা, তিনি বর্ণনা করেছেন যুফার থেকে, তিনি আবু হানিফা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি সময়ের পূর্বে নেতৃত্ব অন্বেষণ করে, সে লাঞ্ছনার মধ্যে জীবন অতিবাহিত করে।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুকরাম, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আহমাদ বিন আতিয়্যাহ, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আল-হিম্মানী, তিনি বলেন, আমি ইবনুল মুবারককে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেন: আমি সুফিয়ান আস-সাওরীকে বললাম, হে আবু আব্দুল্লাহ! আবু হানিফা গীবত (পরনিন্দা) থেকে কতই না দূরে! আমি তাঁকে কখনো তাঁর কোনো শত্রুর গীবত করতে শুনিনি। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর কসম, তিনি নিজের নেক আমলগুলোর ওপর এমন কিছুকে কর্তৃত্ব প্রদান করার চেয়ে অনেক বেশি বুদ্ধিমান যা তাঁর নেক আমলগুলো নিয়ে যাবে।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উমর বিন ইব্রাহিম, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুকরাম, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আহমাদ বিন আতিয়্যাহ, তিনি বলেন, আমি মুহাম্মাদ ইবনে সামায়াহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু ইউসুফকে বলতে শুনেছি যে, আবু হানিফা যখন বাইরে বের হওয়ার ইচ্ছা করতেন, তখন তিনি তাঁর জুতোর ফিতার দিকে তাকাতেন; যদি তা মেরামতের প্রয়োজন হতো তবে তিনি তা মেরামত করতেন। তিনি প্রায়শই চামড়ার মোজা (খুফ) পরিধান করতেন, আর আমি তাঁকে কখনো ছেঁড়া ফিতার জুতো পরিহিত অবস্থায় দেখিনি। আবু আব্দুল্লাহও এরূপ করতেন।
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হানীফা ওয়া আসহাবিহী - ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ৪৩)
‌‌ذكر الرِّوَايَات فِي ورع أبي حنيفَة رضي الله عنه

 

أخبرنَا أَبُو حَفْص عمر بن إِبْرَاهِيم قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا أَحْمد بن مُحَمَّد بن مغلس قَالَ ثَنَا إِبْرَاهِيم بن سعيد الْجَوْهَرِي قَالَ كنت عِنْد أَمِير الْمُؤمنِينَ الرشيد إِذْ دخل ابو يُوسُف فَقَالَ لَهُ الرشيد يَا أَبَا يُوسُف صف لي أَخْلَاق أبي حنيفَة رضي الله عنه فَقَالَ إِن الله تَعَالَى يَقُول {مَا يلفظ من قَول إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيب عتيد} وَهُوَ عِنْد لِسَان كل قَائِل كَانَ علمي بِأبي حنيفَة انه كَانَ شَدِيد الذب عَن محارم الله ان تُؤْتى شَدِيد الْوَرع ان ينْطق فِي دين الله بِمَا لَا يعلم يحب أَن يطاع الله وَلَا يعْصى مجانبا لأهل الدُّنْيَا فِي زمانهم لَا ينافس فِي عزها طَوِيل الصمت دَائِم الْفِكر على عمل وَاسع لم يكن مهذارا وَلَا ثرثارا إِن سُئِلَ عَن مَسْأَلَة كَانَ عِنْده فِيهَا علم نطق بِهِ وَأجَاب فِيهَا بِمَا سمع وَإِن كَانَ غير ذَلِك قَاس على الْحق وَاتبعهُ صائنا نَفسه وَدينه بذولا للْعلم وَالْمَال مستغنيا بِنَفسِهِ عَن جَمِيع النَّاس لَا يمِيل إِلَى طمع بَعيدا عَن الْغَيْبَة لَا يذكر أحدا إِلَّا بِخَير فَقَالَ لَهُ الرشيد هَذِه أَخْلَاق الصَّالِحين ثمَّ قَالَ لِلْكَاتِبِ اكْتُبْ هَذِه الصّفة وادفعها إِلَى ابْني ينظر فِيهَا ثمَّ قَالَ لَهُ احفظها يَا بني حَتَّى أَسأَلك عَنْهَا إِن شَاءَ الله

أخبرنَا ابو الْقَاسِم عبد الله بن مُحَمَّد الْحلْوانِي قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا أَحْمد بن عَطِيَّة قَالَ سَمِعت أَبَا عبيد الْقَاسِم بن سَلام يَقُول سَمِعت مُحَمَّد بن الْحسن يَقُول كَانَ أَبُو حنيفَة وَاحِد زَمَانه وَلَو انشقت عَنهُ الأَرْض لانشقت عَن جبل من الْجبَال فِي الْعلم وَالْكَرم والمؤاساة والورع والإيثار لله مَعَ الْفِقْه وَالْعلم

أخبرنَا عبد الله بن مُحَمَّد قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا أَحْمد بن عَطِيَّة قَالَ ثَنَا مليح قَالَ سَمِعت أبي يَقُول كُنَّا عِنْد زفر فَذكر عِنْده سُفْيَان وَأَبُو حنيفَة فَقَالَ زفر كَانَ أَبُو حنيفَة إِذا تكلم فِي الْحَلَال وَالْحرَام هَمت سُفْيَان نَفسه وَمن كَانَ أنبل من أبي
ইমাম আবু হানিফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর পরহেজগারি (তাকওয়া) সম্পর্কিত বর্ণনাসমূহের আলোচনা

 

আবু হাফস উমর ইবনে ইব্রাহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুকরাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুগাল্লিস আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইব্রাহিম ইবনে সাঈদ আল-জাওহারি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমিরুল মুমিনীন হারুনুর রশিদের নিকট ছিলাম, এমন সময় আবু ইউসুফ প্রবেশ করলেন। রশিদ তাঁকে বললেন, "হে আবু ইউসুফ! আমার কাছে আবু হানিফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর চরিত্রের বর্ণনা দিন।" তিনি বললেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা বলেন: {মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করুক না কেন, তার কাছে একজন সদাপ্রস্তুত পাহারাদার থাকে}। আর তিনি (আল্লাহ) প্রত্যেক বক্তার জিহ্বার নিকট বিদ্যমান। আবু হানিফা সম্পর্কে আমার জ্ঞান এই যে, আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়গুলো যাতে লঙ্ঘিত না হয় সে ব্যাপারে তিনি ছিলেন কঠোর পাহারাদার। আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে না জেনে কথা বলার ব্যাপারে তিনি ছিলেন অত্যন্ত পরহেজগার। তিনি পছন্দ করতেন যে আল্লাহর আনুগত্য করা হোক এবং তাঁর অবাধ্যতা না করা হোক। তিনি নিজ সময়ের দুনিয়াদারদের থেকে বিমুখ ছিলেন; দুনিয়ার সম্মানের জন্য তিনি প্রতিযোগিতা করতেন না। তিনি দীর্ঘ সময় নীরব থাকতেন, সর্বদা চিন্তাশীল ও ব্যাপক আমলকারী ছিলেন। তিনি অনর্থক কথা বলতেন না এবং বাচাল ছিলেন না। যদি তাঁকে কোনো মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো এবং সে বিষয়ে তাঁর জ্ঞান থাকত, তবে তিনি তা ব্যক্ত করতেন এবং যা শুনেছেন সে অনুযায়ী উত্তর দিতেন। আর যদি তা না হতো, তবে তিনি হকের ওপর কিয়াস করতেন এবং হকের অনুসরণ করতেন। তিনি নিজের নফস ও দ্বীনকে রক্ষা করতেন। ইলম ও সম্পদ অকাতরে দান করতেন। সমস্ত মানুষ থেকে নিজেকে অমুখাপেক্ষী রাখতেন। তিনি লোভের দিকে ঝোঁকতেন না এবং গিবত (পরনিন্দা) থেকে দূরে থাকতেন। তিনি কাউকে কল্যাণের বিষয় ছাড়া স্মরণ করতেন না।" তখন রশিদ তাঁকে বললেন, "এগুলো নেককার লোকদের চরিত্র।" এরপর তিনি লেখককে বললেন, "এই গুণাবলি লিখে নাও এবং আমার পুত্রের কাছে দাও যাতে সে এটি অধ্যয়ন করে।" এরপর তিনি তাঁকে বললেন, "হে পুত্র! এটি মুখস্থ করো, ইনশাআল্লাহ আমি তোমাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করব।"

আবু আল-কাসিম আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-হালওয়ানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুকরাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমদ ইবনে আতিয়্যাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবনে সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনুল হাসানকে বলতে শুনেছি যে, আবু হানিফা ছিলেন তাঁর সময়ের অনন্য ব্যক্তিত্ব। যদি যমীন ফেটে তাঁর বহিঃপ্রকাশ ঘটত, তবে ইলম, দানশীলতা, সহমর্মিতা, পরহেজগারি এবং আল্লাহর জন্য আত্মত্যাগ, সেইসাথে ফিকহ ও জ্ঞানের দিক থেকে তিনি পাহাড়ের মতো সুউচ্চ এক ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রকাশিত হতেন।

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুকরাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমদ ইবনে আতিয়্যাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মালিহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, আমরা যুফারের নিকট ছিলাম। সেখানে সুফিয়ান (আস-সাওরি) এবং আবু হানিফার কথা আলোচনা করা হলো। তখন যুফার বললেন, "আবু হানিফা যখন হালাল ও হারাম বিষয়ে কথা বলতেন, তখন সুফিয়ানের প্রাণ ওষ্ঠাগত হতো (অর্থাৎ তিনি অভিভূত হতেন); আর কে আছে যে আবু (হানিফা)-র চেয়ে অধিক মর্যাদাবান ছিল?"