القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: أخبار أبي حنيفة وأصحابه
المؤلف: أبو عبد الله، حسين بن علي الصَّيْمَري (ت 436 هـ)
الناشر: عالم الكتب - بيروت
الطبعة: الثانية، 1405 هـ - 1985 م
عدد الصفحات: 173
تنبيه: هذه الطبعة إعادة إخراج لتحقيق أبي الوفاء الأفغاني، بحرف جديد وتوزيع صفحات مختلف؛ ونتج عن ذلك جملة من التصحيفات؛ فلْيُتنبّه لذلك
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বিভাগ: জীবনী ও স্তরবিন্যাস
বই: আবু হানিফা ও তাঁর সাথীদের সংবাদ
লেখক: আবু আব্দুল্লাহ، হুসাইন বিন আলী আস-সাইমারী (মৃত্যু ৪৩৬ হি.)
প্রকাশক: আলমুল কুতুব - বৈরুত
সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪০৫ হি. - ১৯৮৫ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৩
সতর্কবার্তা: এই সংস্করণটি আবু ওয়াফা আল-আফগানির তাহকিকের একটি নতুন উপস্থাপনা، যা নতুন ফন্ট এবং ভিন্ন পৃষ্ঠা বিন্যাসে করা হয়েছে; এর ফলে এতে বেশ কিছু মুদ্রণ প্রমাদ বা শব্দগত ভুল সৃষ্টি হয়েছে; তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন
[বইটির নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
আবুল কাসেম আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-হুলওয়ানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুকরম ইবনে আহমদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমদ ইবনে আতিয়্যাহ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হাসান ইবনুর রাবী আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইবনুল মুবারক আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি দাউদ আত-তায়ীকে বলতে শুনেছি: কুফায় মানুষের মুফতি ছিলেন হাম্মাদ ইবনে আবু সুলাইমান। হাম্মাদের ইসমাইল নামে এক পুত্র ছিল, যাকে ইসমাইল ইবনে হাম্মাদ ইবনে আবু সুলাইমান বলা হতো। যখন হাম্মাদের মৃত্যু ঘনিয়ে এল, তখন লোকেরা ইসমাইলকে তাদের (পাঠদানের) জন্য বসাতে এবং তাদের সাথে ধৈর্য ধারণ করার ব্যাপারে একমত হলো। কিন্তু তারা লক্ষ্য করে দেখল যে, তার ওপর কবিতা, গল্পগুজব এবং মানুষের ইতিহাস চর্চার প্রভাবই প্রবল। তখন হাম্মাদের সাথীদের মধ্যে আবু বকর আন-নাহশালি, আবু বুরদাহ, মুহাম্মদ ইবনে জাবির আল-হানাফি এবং হাম্মাদের একদল সাথী আলোচনা করলেন। অতঃপর আবু হুসাইন এবং হাবিব ইবনে আবু সাবিত বললেন, "নিশ্চয়ই এই রেশম ব্যবসায়ী (ইমাম আবু হানিফা) প্রখর জ্ঞানের অধিকারী, যদিও তিনি বয়সে তরুণ। সুতরাং আপনারা তাকেই (হাম্মাদের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে) বসান।" তারা তাই করলেন। তিনি (আবু হানিফা) ছিলেন একজন স্বচ্ছল, দানশীল ও মেধাবী ব্যক্তি। তিনি বসলেন এবং তাদের পাঠদানে নিজেকে ধৈর্যশীল রাখলেন। তিনি তাদের সাথে উত্তম সহমর্মিতা প্রদর্শন করলেন এবং তাদের প্রতি দাক্ষিণ্য দেখাতেন। শাসক ও আমিরগণ তাকে সম্মান করতে শুরু করলেন এবং তার মর্যাদা অনেক বৃদ্ধি পেল। ফলে উচ্চবিত্ত ও বিশিষ্ট শ্রেণির লোকেরা তার কাছে আসা-যাওয়া শুরু করল। এরপর তাদের পরে আবু ইউসুফ, আসাদ ইবনে আমর, কাসিম ইবনে মা’ন, আবু বকর আল-হুযালি এবং ওয়ালিদ ইবনে আবান (তার মজলিসে) আগমন করলেন। আর যারা তার বিরোধিতা ও সমালোচনা করত তারা ছিলেন ইবনে আবু লাইলা, ইবনে শুবরুমাহ, সুফিয়ান আস-সাওরি, শারিক এবং একদল লোক যারা তার ভিন্ন মত পোষণ করত এবং তার খুঁত অন্বেষণ করত। কিন্তু তার বিষয়টি ক্রমশ উচ্চতর হতে লাগল এবং তার অনুসারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেল, এমনকি মসজিদে তার মজলিসটিই সবচেয়ে বড় মজলিসে পরিণত হলো এবং মাসআলার উত্তর প্রদানে তিনি ছিলেন সবচেয়ে প্রশস্ত। তিনি তাদের প্রতি ধৈর্য ধারণ করলেন এবং তাদের মধ্যে যারা দুর্বল ছিল তাদের প্রতি উদারতা দেখালেন, আর বিত্তবানদের উপহার পাঠাতেন। ফলে মানুষের মনোযোগ তার দিকে নিবদ্ধ হলো, এমনকি আমির, বিচারক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তাকে সম্মান করতে লাগলেন। তিনি মানুষের বিপদ-আপদে এগিয়ে আসতেন এবং সকলে তার প্রশংসা করত। তিনি এমন সব কাজ সম্পন্ন করেছিলেন যা আরবদেরও বিস্মিত করে দিয়েছিল। তিনি তার বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার দ্বারা এ কাজে সামর্থ্য লাভ করেছিলেন এবং ভাগ্য অনুকূলে থাকায় তার প্রতি ঈর্ষাকাতর লোকের সংখ্যাও বেড়ে গেল। তিনি (দাউদ আত-তায়ী) বলেন, তিনি (আবু হানিফা) বলতেন: "বিচারকের দৃষ্টান্ত হলো সাগরে সাঁতারু ব্যক্তির মতো; সে কতক্ষণই বা সাঁতার কাটবে এবং কাকে সে সন্তুষ্ট করবে, যদিও সে বিজ্ঞ আলেম হয়?"
আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুকরম আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, জাবারাহ-র ভ্রাতুষ্পুত্র আবুল আব্বাস আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মালিহ ইবনে ওয়াকি’ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমি এক ব্যক্তিকে আবু হানিফাকে জিজ্ঞাসা করতে শুনেছি—কীসের সাহায্যে ফেকহ মুখস্থ রাখায় সহযোগিতা পাওয়া যায়? তিনি বললেন: "একাগ্রতা অর্জনের মাধ্যমে।" সে বলল, একাগ্রতা অর্জনের জন্য কীসের সাহায্য নেওয়া উচিত? তিনি বললেন: "পার্থিব ব্যস্ততা ও সম্পর্ক ছিন্ন করার মাধ্যমে।" সে বলল, সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য কীসের সাহায্য নেওয়া উচিত? তিনি বললেন: "প্রয়োজনের সময় যতটুকু আবশ্যক ততটুকু গ্রহণ করবে এবং তার অতিরিক্ত কিছু নেবে না।"
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুকরাম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনুল মুগাল্লিস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিশর বিন আল-ওয়ালিদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইউসুফ, তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি আবু হানিফাকে বললেন, "আমি একটি জিনিস দাফন করেছি, কিন্তু ঘরের কোথায় তা দাফন করেছি তা আমি জানি না।" তিনি বললেন, "আমি তো সেটি না জানারই বেশি উপযুক্ত।" তখন লোকটি কাঁদতে শুরু করল। আবু হানিফা বললেন, "আমাদের সাথে চলুন।" অতঃপর তিনি তাঁর কয়েকজন সঙ্গীকে সাথে নিয়ে উঠে দাঁড়ালেন এবং সেই ব্যক্তির বাড়িতে উপস্থিত হলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "বাড়ির কোন স্থানে এবং তোমার আসবাবপত্র রাখার জায়গাটি কোথায়?" এরপর তিনি তাঁদেরকে বাড়ির একটি কামরায় নিয়ে গেলেন। তিনি তাঁর সঙ্গীদের বললেন, "যদি এই ঘরটি আপনাদের হতো এবং আপনাদের কাছে এমন কিছু থাকত যা আপনারা দাফন করতে চাইতেন, তবে আপনারা কী করতেন?" তখন একজন বললেন, "আমি এখানে দাফন করতাম।" অন্যজন অন্য একটি স্থানের কথা বললেন। এভাবে তাঁরা পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন কথা বললেন। অতঃপর তিনি সেসব স্থানের মধ্যে দুটি খনন করলেন এবং তৃতীয়টিতে তা খুঁজে পেলেন। এরপর তিনি তাকে বললেন, "আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করো, যিনি এটি তোমাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন।"
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আস-সায়রাফি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলি বিন আমর আল-হারিরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল কাসিম বিন কাস আন-নাখায়ি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসবাত বিন মুহাম্মাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন নামার বিন জিদার, হাসান বিন যিয়াদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি তার সম্পদ এক স্থানে দাফন করেছিল, এরপর সে কোথায় দাফন করেছে তা ভুলে গেল। সে তা খুঁজল কিন্তু পেল না। অতঃপর সে আবু হানিফার কাছে এসে অভিযোগ করল। আবু হানিফা তাকে বললেন, "এটি কোনো ফিকহী মাসআলা নয় যে আমি তোমার জন্য কোনো কৌশল বের করব। তবে তুমি যাও এবং আজ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত নামাজ পড়ো, তাহলে নিশ্চয়ই তুমি মনে করতে পারবে যে কোথায় তা দাফন করেছ।" লোকটি তাই করল। রাতের এক-চতুর্থাংশ পার হওয়ার আগেই তার মনে পড়ে গেল যে কোথায় সে দাফন করেছে। সে আবু হানিফার কাছে এসে তা জানাল। তিনি বললেন, "আমি জানতাম যে শয়তান তোমাকে সারা রাত নামাজ পড়তে দেবে না, যতক্ষণ না সে তোমাকে কথাটি মনে করিয়ে দেয়। তোমার আফসোস! তুমি কেন আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া হিসেবে তোমার রাতটি পূর্ণ করলে না?"
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-মিসকি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলি বিন মুহাম্মাদ আন-নাখায়ি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম বিন মাখলাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন সাহল, তিনি বলেন: আলি বিন আবি আলি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মার্ভের বিচারক হাসান বিন আলির কাছে ছিলাম। তিনি আবু হানিফা ও তাঁর বুদ্ধিমত্তার কথা উল্লেখ করে বললেন, হাজীদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি কুফার এক ব্যক্তির কাছে একটি আমানত রাখল এবং হজ পালন করল। এরপর ফিরে এসে সে তার আমানত চাইল, কিন্তু আমানত রক্ষাকারী ব্যক্তি তা অস্বীকার করল।