(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হাফস উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: -)
أخبار أبي حفص عمر بن عبد العزيز   (الآجري)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: أخبار أبي حفص عمر بن عبد العزيز رحمه الله وسيرته

المؤلف: أبو بكر محمد بن الحسين بن عبد الله الآجُرِّيُّ البغدادي (ت 360هـ)

المحقق: د عبد الله عبد الرحيم عيلان

الناشر: مؤسسة الرسالة - بيروت / سورية

الطبعة: الثانية، 1980م - 1400هـ

عدد الصفحات: 87

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আবু হাফস উমর ইবনে আব্দুল আজিজের সংবাদ   (আল-আজুররি)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


বই: আবু হাফস উমর ইবনে আব্দুল আজিজ রাহিমাহুল্লাহ-এর সংবাদ ও তাঁর জীবনী

লেখক: আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আজুররি আল-বাগদাদি (মৃত্যু ৩৬০ হিজরি)

গবেষক ও সম্পাদক: ড. আব্দুল্লাহ আব্দুল রহিম আয়লান

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ - বৈরুত / সিরিয়া

সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দ - ১৪০০ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৭

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হাফস উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৪৭)
‌‌ذكر أَخْبَار عمر بن عبد العزيز رحمه الله وَسيرَته فِي الْمُسلمين حتي توفّي رحمه الله

أخبرنَا الرئيس أَبُو الْقَاسِم عَليّ بن أَحْمد بن مُحَمَّد بن بَيَان الرزاز قَالَ أَنا أَبُو الْقَاسِم عبد الْملك بن مُحَمَّد بن عبد الله بن بَشرَان قِرَاءَة
উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সংবাদসমূহের বিবরণ এবং মুসলিমদের মাঝে তাঁর জীবনচরিত, তাঁর ইন্তেকাল (রাহিমাহুল্লাহ) পর্যন্ত

আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন রয়িস আবুল কাসিম আলী ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বায়ান আর-রাজ্জায, তিনি বলেন: আমাদের নিকট পাঠের মাধ্যমে সংবাদ প্রদান করেছেন আবুল কাসিম আব্দুল মালিক ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বিশরান।
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হাফস উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৪৮)
عَلَيْهِ فِي الْيَوْم الثَّانِي من جُمَادَى الاخرة سنة سبع وَعشْرين وَأَرْبَعمِائَة قَالَ أخبرنَا أَبُو بكر مُحَمَّد بن الْحُسَيْن بن عبد الله الْآجُرِيّ قِرَاءَة عَلَيْهِ فِي الْمَسْجِد الْحَرَام سنة ثَلَاث وَخمسين وثلاثمائة قِرَاءَة عَلَيْهِ قا ل أَنا أَبُو سعيد الْحسن بن عَليّ الْجَصَّاص قَالَ حَدثنَا مُحَمَّد بن عبد الله بن عبد الحكم بن أعين قَالَ أَخْبرنِي أبي قَالَ حَدثنَا عبد الله بن زيد بن أسلم عَن أَبِيه عَن جده أسلم قَالَ بَيْنَمَا أَنا مَعَ عمر بن الْخطاب رضي الله عنه وَهُوَ يعس بِالْمَدِينَةِ إِذْ أعيا فاتكأ على جَانب جِدَار فِي جَوف اللَّيْل فَإِذا امْرَأَة تَقول لابنتها يَا بنتاه قومِي إِلَى ذَلِك اللَّبن فامذقيه بِالْمَاءِ فَقَالَت لَهَا يَا أمتاه أَو مَا علمت مَا كَانَ من عَزمَة أَمِير الْمُؤمنِينَ الْيَوْم قَالَت وَمَا كَانَ من عزمته يَا بنية قَالَت إِنَّه أَمر مناديا فَنَادَى أَن لَا يشاب اللَّبن بِالْمَاءِ فَقَالَت لَهَا يَا بنتاه قومِي الى اللَّبن فامذقيه بِالْمَاءِ فَإنَّك بِموضع لَا يراك عمر وَلَا مُنَادِي عمر فَقَالَت الصبية لأمها يَا أمتاه وَالله مَا كنت لأطيعه فِي الملا وأعصيه فِي الخلا وَعمر يسمع كل ذَلِك فَقَالَ يَا أسلم علم الْبَاب

তাঁর নিকট ৪২৭ হিজরী সালের জুমাদাল আখিরা মাসের দ্বিতীয় দিনে পঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আজুররী ৩ ৫৩ হিজরী সালে মসজিদে হারামে তাঁর নিকট পঠনকালে। তিনি বলেন, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ আল-হাসান ইবনে আলী আল-জাসসাস। তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল হাকাম ইবনে আইয়ুন। তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদ ইবনে আসলাম তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা আসলাম থেকে। তিনি (আসলাম) বলেন: একদা আমি উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে ছিলাম যখন তিনি মদীনা নগরীতে রাত্রিকালীন টহল দিচ্ছিলেন। এমতাবস্থায় তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়লেন এবং গভীর রাতে একটি দেয়ালের পাশে হেলান দিয়ে বসলেন। তখন এক নারী তার কন্যাকে বলতে লাগলেন, 'হে বৎসা, ওঠো এবং ঐ দুধের সাথে পানি মিশিয়ে দাও।' কন্যাটি তাকে বলল, 'হে জননী, আমীরুল মুমিনীন আজ যে কঠোর নির্দেশ জারি করেছেন তা কি আপনি জানেন না?' মাতা বলল, 'হে বৎসা, তাঁর নির্দেশটি কী ছিল?' সে বলল, 'তিনি একজন ঘোষককে নির্দেশ দিয়েছেন, আর সে ঘোষণা করেছে যে, দুধের সাথে যেন পানি মেশানো না হয়।' মাতা তাকে বলল, 'হে বৎসা, তুমি ওঠো এবং দুধের সাথে পানি মিশিয়ে দাও, কারণ তুমি এমন এক স্থানে আছো যেখানে উমর তোমাকে দেখছেন না এবং উমরের ঘোষকও তোমাকে দেখছে না।' তখন কিশোরীটি তার মাতাকে বলল, 'হে জননী, আল্লাহর কসম! আমি এমন নই যে জনসমক্ষে তাঁর আনুগত্য করব আর নির্জনে তাঁর অবাধ্যতা করব।' উমর এর সবকিছুই শুনছিলেন। অতঃপর তিনি বললেন, 'হে আসলাম, এই দরজাটি চিনে রাখো।'

(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হাফস উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৪৯)
واعرف الْموضع ثمَّ مضى فِي عسسه فَلَمَّا أصبح قَالَ يَا أسلم امْضِ إِلَى الْموضع فَانْظُر من القائلة وَمن الْمَقُول لَهَا وَهل لَهُم من بعل فَأتيت الْموضع فَنَظَرت فَإِذا الْجَارِيَة أيم لَا بعل لَهَا وَإِذا تيك أمهَا وَإِذا لَيْسَ لَهَا رجل فَأتيت عمر بن الْخطاب فَأَخْبَرته فَدَعَا عمر وَلَده فَجَمعهُمْ فَقَالَ هَل فِيكُم من يحْتَاج الى امْرَأَة أزَوجهُ وَلَو كَانَ بأبيكم حَرَكَة إِلَى النِّسَاء مَا سبقه مِنْكُم أحد إِلَى هَذِه الْجَارِيَة فَقَالَ عبد الله لي زَوْجَة وَقَالَ عبد الرحمن لي زَوْجَة وَقَالَ عَاصِم يَا أبتاه لَا زَوْجَة لي فَزَوجنِي فَبعث إِلَى الْجَارِيَة فَزَوجهَا من عَاصِم فَولدت لعاصم بِنْتا وَولدت الْبِنْت ابْنة وَولدت الِابْنَة عمر بن عبد العزيز رَحمَه الله

তিনি স্থানটি চিনে নিলেন এবং এরপর তাঁর নৈশ টহলে এগিয়ে চললেন। অতঃপর যখন সকাল হলো, তিনি বললেন, "হে আসলাম! তুমি সেই স্থানে যাও এবং দেখ যে কথা বলছিল সে কে এবং যাকে বলা হচ্ছিল সে কে; আর তাদের কি কোনো স্বামী আছে?" সুতরাং আমি সেই স্থানে গেলাম এবং দেখলাম যে, তরুণীটি অবিবাহিতা, তার কোনো স্বামী নেই এবং অন্যজন ছিলেন তার মা, আর তাদের কোনো পুরুষ অভিভাবক ছিল না। এরপর আমি উমর ইবনুল খাত্তাবের নিকট ফিরে এসে তাঁকে অবহিত করলাম। তখন উমর তাঁর সন্তানদের ডাকলেন এবং তাদের একত্রিত করলেন। তিনি বললেন, "তোমাদের মধ্যে এমন কেউ কি আছে যার স্ত্রীর প্রয়োজন, যাতে আমি তাকে বিয়ে দিতে পারি? যদি তোমাদের পিতার নারীদের প্রতি কোনো আগ্রহ থাকত, তবে তোমাদের কেউই এই তরুণীর ব্যাপারে তাঁর অগ্রগামী হতে পারতে না।" আব্দুল্লাহ বললেন, "আমার স্ত্রী আছে।" আব্দুর রহমান বললেন, "আমারও স্ত্রী আছে।" আসিম বললেন, "হে আব্বাজান! আমার কোনো স্ত্রী নেই, আপনি আমাকে বিয়ে দিন।" অতঃপর তিনি সেই তরুণীর নিকট লোক পাঠালেন এবং আসিমের সাথে তার বিয়ে দিলেন। সেই তরুণী আসিমের ঔরসে একটি কন্যা সন্তান প্রসব করলেন। সেই কন্যা আবার এক কন্যা সন্তান প্রসব করলেন এবং সেই কন্যা উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে জন্ম দিলেন।

(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হাফস উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৫০)
أخبرنَا مُحَمَّد قَالَ حَدثنَا أَبُو بكر عبد الله بن مُحَمَّد بن عبد الحميد الوَاسِطِيّ قَالَ حَدثنَا هَارُون بن عبد الله الْحمال قَالَ حَدثنَا سيار بن حَاتِم قَالَ حَدثنَا جَعْفَر بن سُلَيْمَان قَالَ حَدثنَا مَالك بن دِينَار قَالَ لما ولي عمر بن عبد العزيز رحمه الله قَالَت رُعَاة الشَّاة فِي رُؤُوس الْجبَال من هَذَا الْخَلِيفَة الصَّالح الَّذِي قد قَامَ على النَّاس قَالَ فَقيل لَهُم وَمَا أعلمكُم بذلك قَالُوا إِنَّه إِذا قَامَ خَليفَة صَالح كفت الذئاب والاسد عَن شائنا

أخبرنَا مُحَمَّد قَالَ حَدثنَا أَبُو حَفْص عمر بن أَيُّوب السَّقطِي
মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল হামিদ আল-ওয়াসিতি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হারুন ইবনে আবদুল্লাহ আল-হাম্মাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সাইয়ার ইবনে হাতিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, জাফর ইবনে সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মালিক ইবনে দিনার বর্ণনা করেছেন যে, যখন উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রাহিমাহুল্লাহ) শাসনভার গ্রহণ করলেন, তখন পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থানরত মেষপালকরা বলল, "এই নেককার খলিফা কে, যিনি মানুষের উপর (শাসক হিসেবে) দাঁড়িয়েছেন?" তিনি বলেন, তাদের জিজ্ঞেস করা হলো, "তোমরা এ বিষয়ে কীভাবে জানলে?" তারা বলল, "নিশ্চয়ই যখন কোনো নেককার খলিফা (ক্ষমতায়) দাঁড়ান, তখন নেকড়ে এবং সিংহ আমাদের মেষদের ওপর আক্রমণ করা থেকে বিরত থাকে।"

মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু হাফস উমর ইবনে আইয়ুব আস-সাকতি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হাফস উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৫১)
قَالَ حَدثنَا أَبُو همام الْوَلِيد بن شُجَاع قَالَ حَدثنَا عَليّ بن الْحسن قَالَ أَخْبرنِي خَارِجَة بن مُصعب عَن ابْن عون عَن مُجَاهِد قَالَ المهادي سَبْعَة مضى خَمْسَة وَبَقِي اثْنَان قَالَ خَارِجَة أَبُو بكر وَعمر وَعُثْمَان وَعلي وَعمر بن عبد العزيز رحمه الله

أخبرنَا مُحَمَّد قَالَ نَا أَبُو عبد الله مُحَمَّد بن مخلد الْعَطَّار قَالَ حَدثنَا أَحْمد بن زُهَيْر بن حَرْب قَالَ حَدثنَا هَارُون بن مَعْرُوف قَالَ حَدثنَا ضَمرَة يَعْنِي ابْن ربيعَة عَن السّري بن يحيى عَن ريَاح بن عُبَيْدَة قَالَ رَأَيْت عمر بن عبد الْعَزِيز وَهُوَ أَمِير على الْمَدِينَة
আবু হাম্মাম আল-ওয়ালিদ ইবনে শুজা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আলী ইবনুল হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, খারিজাহ ইবনে মুসআব আমাকে ইবনে আউন থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: "পথপ্রদর্শকগণ (মাহদিগণ) হলেন সাতজন; পাঁচজন অতিবাহিত হয়েছেন এবং দুইজন অবশিষ্ট আছেন।" খারিজাহ বলেন: "আবু বকর, উমর, উসমান, আলী এবং উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)।"

মুহাম্মাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে মাখলাদ আল-আত্তার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমাদ ইবনে জুহাইর ইবনে হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হারুন ইবনে মারুফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, দামরাহ (অর্থাৎ ইবনে রাবিয়াহ) আস-সারী ইবনে ইয়াহইয়া থেকে, তিনি রিয়াহ ইবনে উবাইদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি উমর ইবনে আব্দুল আজিজকে মদীনার আমির থাকাকালীন অবস্থায় দেখেছি।"
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হাফস উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৫২)
وَشَيخ متوكىء على يَده قَالَ فَقلت فِي نَفسِي إِن ذَا الشَّيْخ جَاف حَيْثُ يتَوَكَّأ عَليّ يَد الْأَمِير فَلَمَّا صلى وَدخل تَبعته فَقلت أصلح الله الْأَمِير من الشَّيْخ الَّذِي كَانَ يتَوَكَّأ على يدك قَالَ فرأيته يَا ريَاح قَالَ قلت نعم قَالَ ذَلِك أخي الْخضر عليه السلام أَتَانِي فَأَعْلمنِي أَنِّي سألي الْأَمر وَأَنِّي سأعدل فِيهِ

أخبرنَا مُحَمَّد قَالَ وَحدثنَا ابْن مخلد أَيْضا قَالَ حَدثنَا عَليّ بن دَاوُد الْقَنْطَرِي قَالَ حَدثنَا مُحَمَّد بن عبد العزيز الرَّمْلِيّ قَالَ حَدثنَا ضَمرَة عَن السّري بن يحيى

عَن ريَاح بن عُبَيْدَة قَالَ رَأَيْت رجلا يماشي عمر بن عبد العزيز مُعْتَمدًا عَليّ يَده فَقلت فِي نَفسِي إِن هَذَا الرجل جَاف فَلَمَّا صلى قلت يَا أَبَا حَفْص من الرجل الَّذِي كَانَ مَعَك مُعْتَمدًا على يدك آنِفا قَالَ وَقد رَأَيْته يَا ريَاح قلت نعم قَالَ إِنِّي لأرَاك رجلا صَالحا ذَلِك أخي الْخضر بشرني أَنِّي سألي وَأَعْدل
...এবং একজন বৃদ্ধ ব্যক্তি তাঁর হাতের ওপর ভর দিয়ে ছিলেন। তিনি বললেন, আমি মনে মনে বললাম, এই বৃদ্ধ লোকটি তো অত্যন্ত অভদ্র যে সে আমীরের হাতের ওপর ভর দিয়ে আছে। অতঃপর যখন তিনি সালাত আদায় করলেন এবং ভেতরে প্রবেশ করলেন, আমি তাঁর অনুসরণ করলাম এবং বললাম, আল্লাহ আমীরের কল্যাণ করুন, ঐ বৃদ্ধ ব্যক্তিটি কে ছিলেন যিনি আপনার হাতের ওপর ভর দিয়ে ছিলেন? তিনি বললেন, হে রিয়াহ, তুমি কি তাকে দেখেছ? তিনি বললেন, আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তিনি আমার ভাই খিজির (আলাইহিস সালাম)। তিনি আমার কাছে এসেছিলেন এবং আমাকে অবগত করেছিলেন যে, আমি অচিরেই রাষ্ট্রক্ষমতার অধিকারী হব এবং আমি তাতে ন্যায়বিচার করব।

আমাদেরকে মুহাম্মদ সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন যে ইবনে মাখলাদও আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন যে আলী ইবন দাউদ আল-কানতারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন যে মুহাম্মদ ইবন আব্দুল আজিজ আর-রামলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন যে দামরা আমাদের নিকট সাররি ইবন ইয়াহইয়া থেকে বর্ণনা করেছেন

রিয়াহ ইবন উবাইদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এক ব্যক্তিকে দেখলাম যিনি উমর ইবন আব্দুল আজিজের সাথে হাঁটছিলেন এবং তাঁর হাতের ওপর ভর দিয়ে ছিলেন। আমি মনে মনে বললাম, এই লোকটি বড়ই অভদ্র। অতঃপর যখন তিনি সালাত আদায় করলেন, আমি বললাম, হে আবু হাফস, এইমাত্র আপনার সাথে যে লোকটি আপনার হাতের ওপর ভর দিয়ে ছিল সে কে? তিনি বললেন, হে রিয়াহ, তুমি কি তাকে দেখেছ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আমি তোমাকে একজন নেককার মানুষ হিসেবেই দেখি; তিনি আমার ভাই খিজির, তিনি আমাকে সুসংবাদ দিয়েছেন যে, অচিরেই আমি দায়িত্বভার গ্রহণ করব এবং ন্যায়বিচার করব।
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হাফস উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৫৩)
أخبرنَا مُحَمَّد قَالَ حَدثنَا أَبُو بكر بن أبي دَاوُد قَالَ حَدثنَا مُحَمَّد بن مُسلم الرَّازِيّ حَدثنَا سَلمَة بن شبيب قَالَ حَدثنَا ضَمرَة بن ربيعَة عَن السّري بن يحيى عَن ريَاح بن عُبَيْدَة قَالَ أتيت عمر بن عبد الْعَزِيز رحمه الله وَهُوَ أَمِير على الْمَدِينَة قبل أَن يسْتَخْلف فَلم أَجِدهُ فِي منزله فاذا هُوَ مقبل وَرجل قد اتكأ عَلَيْهِ قَالَ فَقلت فِي نَفسِي مَا أجفى هَذَا الشَّيْخ أَو هَذَا الرجل يتكىء على الْأَمِير قَالَ ثمَّ افتقدته فَقلت أصلح الله الْأَمِير من الَّذِي كَانَ يتَوَكَّأ عَلَيْك قَالَ ورأيته يَا ريَاح قلت نعم قَالَ اني لأرَاك رجلا صَالحا يَا ريَاح ذَاك أخي الْخضر أَتَانِي فبشرني وَقَالَ إِنَّك ستلي هَذَا الْأَمر فتعدل فِيهِ

حَدثنَا مُحَمَّد قَالَ حَدثنَا ابْن أبي دَاوُد قَالَ حَدثنَا مُحَمَّد بن مُسلم الرَّازِيّ قَالَ حَدثنِي عبد الرحمن بن الحكم بن بشير بن سلمَان عَن أَبِيه عَن عَمْرو بن قيس الْملَائي قَالَ لما ولي عمر بن عبد العزيز سمعُوا صَوتا

(الْيَوْم حلت واستقرت قَرَارهَا … على عمر الْمهْدي قَامَ عمودها)
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু বকর ইবন আবি দাউদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবন মুসলিম আর-রাজি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সালামাহ ইবন শাবিব বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট দামরাহ ইবন রাবিআহ বর্ণনা করেছেন সাররি ইবন ইয়াহইয়া থেকে, তিনি রিয়াহ ইবন উবাইদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি উমর ইবন আব্দুল আজিজ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট আসলাম যখন তিনি মদিনার আমির ছিলেন, তাঁর খলিফা হওয়ার পূর্বে। আমি তাঁকে তাঁর বাড়িতে পেলাম না। হঠাৎ দেখলাম তিনি আসছিলেন এবং একজন লোক তাঁর ওপর ভর দিয়ে ছিল। তিনি বলেন: আমি মনে মনে বললাম, এই বৃদ্ধ বা এই লোকটি কতই না রূঢ় যে সে আমিরের ওপর ভর দিয়ে আছে! তিনি বলেন: এরপর আমি লোকটিকে আর দেখতে পেলাম না। আমি বললাম: আল্লাহ আমিরের কল্যাণ করুন, আপনার ওপর ভর দিয়ে থাকা ঐ ব্যক্তিটি কে ছিল? তিনি বললেন: হে রিয়াহ, তুমি কি তাকে দেখেছ? আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: হে রিয়াহ, নিশ্চয়ই আমি তোমাকে একজন নেককার লোক হিসেবে মনে করি; তিনি ছিলেন আমার ভাই খিজির, তিনি আমার নিকট এসেছিলেন এবং আমাকে সুসংবাদ দিয়েছেন ও বলেছেন যে, অচিরেই তুমি এই বিষয়ের (খিলাফতের) দায়িত্বভার গ্রহণ করবে এবং তাতে ন্যায়বিচার করবে।

আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইবন আবি দাউদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবন মুসলিম আর-রাজি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমার নিকট আব্দুর রহমান ইবনুল হাকাম ইবন বাশির ইবন সালমান তাঁর পিতা থেকে, তিনি আমর ইবন কাইস আল-মুলাইয়ি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন উমর ইবন আব্দুল আজিজ দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, তখন তারা একটি আওয়ায শুনতে পেল

(আজ এটি অবতরণ করেছে এবং তার অবস্থানে স্থির হয়েছে … হেদায়েতপ্রাপ্ত উমরের ওপর এর স্তম্ভ দণ্ডায়মান হয়েছে)
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হাফস উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৫৪)
قَالَ أَبُو بكر الْآجُرِيّ وَبَلغنِي أَنه لما دفن عمر بن عبد العزيز رحمه الله أنشأ الفرزدق فَقَالَ

(كم من شَرِيعَة حق قد شرعت لَهُم … كَانَت أميتت وَأُخْرَى مِنْك تنْتَظر)

(يَا لهف نَفسِي ولهف اللاهفين معي … على الْعُدُول الَّتِي تغتالها الْحفر)

أخبرنَا مُحَمَّد قَالَ حَدثنَا ابو بكر مُحَمَّد بن هِلَال الشطوي إملاء قَالَ حَدثنَا مُحَمَّد بن عَمْرو الْبَاهِلِيّ قَالَ حَدثنَا الحكم بن سِنَان قَالَ حَدثنَا ريَاح بن عُبَيْدَة قَالَ كَانَ عمر بن عبد العزيز يعحبه أَن يتأدم بالعسل فَطلب من أَهله يَوْمًا عسلا فَلم يكن عِنْده فَأتوهُ بعد ذَلِك بِعَسَل فَأكل مِنْهُ فأعجبه فَقَالَ لأَهله من أَيْن لكم هَذَا قَالَت امْرَأَته بعثت مولَايَ بدينارين على بغل الْبَرِيد فَاشْتَرَاهُ لي فَقَالَ أَقْسَمت عَلَيْك لما أتيتني بِهِ فَأَتَتْهُ بعكة فِيهَا عسل فَبَاعَهَا بِثمن يزِيد ورد عَلَيْهَا رَأس مَالهَا وَألقى بَقِيَّته فِي بَيت مَال الْمُسلمين وَقَالَ أنصبت دَوَاب الْمُسلمين فِي شَهْوَة عمر
আবু বকর আল-আজিুরী বলেন: আমার কাছে এই মর্মে সংবাদ পৌঁছেছে যে, যখন উমর ইবন আব্দুল আজিজ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে দাফন করা হলো, তখন আল-ফারাযদাক এই কবিতাটি আবৃত্তি করলেন:

(কত সত্যের বিধান আপনি তাদের জন্য প্রবর্তন করেছেন … যা ইতিপূর্বে মৃতপ্রায় ছিল, আর আপনার পক্ষ থেকে এমন অন্য বিধানের অপেক্ষায় ছিল)

(হায় আফসোস আমার প্রাণের জন্য এবং আমার সাথে যারা পরিতাপ করছে তাদের জন্য … সেই ইনসাফ ও ন্যায়ের ওপর, যাকে কবরের গর্তগুলো গ্রাস করে নিচ্ছে)

মুহাম্মাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর মুহাম্মাদ ইবন হিলাল আশ-শাতুয়ী আমাদের কাছে শ্রুতিলিপি দিয়ে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবন আমর আল-বাহিলী আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-হাকাম ইবন সিনান আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রিয়াহ ইবন উবায়দাহ আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর ইবন আব্দুল আজিজ মধুর ঝোল দিয়ে আহার করতে পছন্দ করতেন। একদিন তিনি তাঁর পরিবারের কাছে মধু চাইলেন, কিন্তু তাঁদের কাছে তা ছিল না। এর কিছুকাল পরে তাঁরা মধু নিয়ে আসলে তিনি তা থেকে আহার করলেন এবং তা তাঁর পছন্দ হলো। তখন তিনি তাঁর পরিবারকে জিজ্ঞেস করলেন, "তোমরা এটি কোথা থেকে পেয়েছ?" তাঁর স্ত্রী বললেন, "আমি আমার ক্রীতদাসকে দুই দিনার দিয়ে ডাক বিভাগের খচ্চরে চড়িয়ে পাঠিয়েছিলাম, সে আমার জন্য এটি কিনে এনেছে।" তখন তিনি বললেন, "আমি তোমাকে কসম দিচ্ছি, তুমি এটি অবশ্যই আমার কাছে নিয়ে আসবে।" এরপর তাঁর স্ত্রী মধুর পাত্রটি নিয়ে আসলেন। উমর (রাহিমাহুল্লাহ) সেই মধু বাড়তি মূল্যে বিক্রি করে দিলেন এবং তাঁর স্ত্রীকে তাঁর মূলধন ফেরত দিলেন। আর বাকি অংশটুকু তিনি মুসলিমদের বায়তুল মালে জমা করে দিলেন এবং বললেন, "উমরের খাহেশ মেটাতে আমি মুসলিমদের পশুদের ক্লান্ত করেছি!"
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হাফস উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৫৫)
أخبرنَا مُحَمَّد قَالَ حَدثنَا ابو مُحَمَّد يحيى بن مُحَمَّد بن صاعد قَالَ حَدثنَا الْحُسَيْن بن الْحسن الْمروزِي قَالَ أخبرنَا عبد الله بن الْمُبَارك قَالَ أخبرنَا أَبُو الصَّباح قَالَ حَدثنَا سهل بن صَدَقَة مولى عمر بن عبد العزيز بن مَرْوَان قَالَ حَدثنِي بعض خَاصَّة عمر بن عبد العزيز أَنه حِين أفضت إِلَيْهِ الْخلَافَة سمعُوا فِي منزله بكاء عَالِيا فَسئلَ عَن الْبكاء فَقيل إِن عمر بن عبد العزيز خير جواريه فَقَالَ إِنَّه قد نزل بِي أَمر قد شغلني عنكن فَمن أحب أَن أعْتقهُ وَمن أَرَادَ أَن أمْسكهُ أمسكته لم يكن مني إِلَيْهَا شَيْء بكين يأسا مِنْهُ رحمه الله

أخبرنَا مُحَمَّد قَالَ حَدثنَا أَبُو عبد الله مُحَمَّد بن مخلد الْعَطَّار قَالَ حَدثنِي سهل بن عِيسَى الْمروزِي قَالَ حَدثنِي الْقَاسِم بن مُحَمَّد بن الْحَارِث الْمروزِي قَالَ حَدثنَا سهل بن يحيى بن مُحَمَّد الْمروزِي قَالَ أَخْبرنِي أبي عَن عبد العزيز سُلَيْمَان بن عمر بن عبد العزيز قَالَ لما دفن عَمْرو بن عبد العزيز سُلَيْمَان بن عبد الملك وَخرج من قَبره سمع للْأَرْض هدة أَو رجة فَقَالَ مَا هَذِه فَقيل هَذِه مواكب الْخلَافَة يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ قربت اليه بغلته فركبها فَجَاءَهُ صَاحب الشَّرْط يسير بن يَدَيْهِ بالحربة فَقَالَ تَنَح عني مَالِي وَلَك انما أَنا رجل من
মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু মুহাম্মদ ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল-হুসাইন ইবনুল হাসান আল-মারওয়াযী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবুস সাব্বাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, উমর ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে মারওয়ানের মুক্তদাস সাহল ইবনে সাদাকাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, উমর ইবনে আব্দুল আজিজের জনৈক ঘনিষ্ঠ সহচর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, যখন খেলাফতের দায়িত্ব তার নিকট অর্পিত হলো, তখন তার গৃহে উচ্চস্বরে কান্নার শব্দ শোনা গেল। কান্না সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে বলা হলো যে, উমর ইবনে আব্দুল আজিজ তার দাসীদের এখতিয়ার দিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, "নিশ্চয়ই আমার ওপর এমন এক বিষয় আপতিত হয়েছে যা আমাকে তোমাদের থেকে বিমুখ করে দিয়েছে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে চায় আমি তাকে মুক্ত করে দেই, আর যে চায় আমি তাকে রেখে দেই, তবে আমি তাকে রেখে দেব বটে কিন্তু তার প্রতি আমার কোনো আসক্তি থাকবে না।" তারা তার থেকে নিরাশ হয়ে কাঁদতে লাগল, আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন।

মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মাখলাদ আল-আত্তার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সাহল ইবনে ঈসা আল-মারওয়াযী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল-কাসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-হারিস আল-মারওয়াযী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সাহল ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ আল-মারওয়াযী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে আব্দুল আজিজ সুলাইমান ইবনে উমর ইবনে আব্দুল আজিজ থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: যখন উমর ইবনে আব্দুল আজিজ সুলাইমান ইবনে আব্দুল মালিককে দাফন করলেন এবং কবর থেকে প্রস্থান করলেন, তখন তিনি জমিনের একটি প্রকম্পন বা গুরুগম্ভীর আওয়াজ শুনতে পেলেন। তিনি বললেন, "এটি কী?" বলা হলো, "হে আমিরুল মুমিনিন, এটি খেলাফতের রাজকীয় শোভাযাত্রা।" তার খচ্চরটি তার নিকট আনা হলো এবং তিনি তাতে আরোহণ করলেন। এমতাবস্থায় পুলিশ প্রধান বর্শা হাতে তার সামনে দিয়ে পথ চলতে অগ্রসর হলেন। তিনি বললেন, "আমার থেকে দূরে সরে যাও; আমার সাথে তোমার কী কাজ? আমি তো কেবল একজন সাধারণ মানুষ..."
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হাফস উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৫৬)
الْمُسلمين فَسَار وَسَار مَعَه النَّاس حَتَّى دخل الْمَسْجِد فَصَعدَ الْمِنْبَر وَاجْتمعَ النَّاس اليه فَقَالَ

أَيهَا النَّاس اني قد ابْتليت بِهَذَا الْأَمر عَن غير رَأْي كَانَ مني فِيهِ وَلَا طلبة لَهُ وَلَا مشورة من الْمُسلمين وَإِنِّي قد خلعت مَا فِي أَعْنَاقكُم من بيعتي فَاخْتَارُوا لأنفسكم فصاح النَّاس صَيْحَة وَاحِدَة قد اخترناك يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ ورضيناك فل أمرنَا بِالْيمن والبركه فَلَمَّا رأىء الاصوات قد هدأت وَرَضي النَّاس بِهِ جَمِيعًا حمد الله وَأثْنى عَلَيْهِ وَصلى على النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أوصيكم بتقوى الله فَإِن تقَوِّي الله خلف من كل شَيْء وَلَيْسَ من تقوى الله عزوجل خلف فاعملوا لآخرتكم فَإِنَّهُ من عمل لآخرته كَفاهُ الله تبارك وتعالى أَمر دُنْيَاهُ وَأَصْلحُوا سرائركم يصلح الله الْكَرِيم علانيتكم واكثروا ذكر الْمَوْت وأحسنوا الاستعداد قبل أَن ينزل
মুসলমানদের, অতঃপর তিনি চললেন এবং তাঁর সাথে লোকেরাও চলল, যতক্ষণ না তিনি মসজিদে প্রবেশ করলেন। তারপর তিনি মিম্বারে আরোহণ করলেন এবং লোকেরা তাঁর নিকট সমবেত হলো। তখন তিনি বললেন

হে লোকসকল! আমার কোনো পূর্ব পরিকল্পনা, ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা কিংবা মুসলমানদের পরামর্শ ছাড়াই আমাকে এই বিষয়ের (খিলাফতের) মাধ্যমে পরীক্ষায় ফেলা হয়েছে। আমি তোমাদের ঘাড় থেকে আমার বায়আতের (আনুগত্যের শপথের) বাধ্যবাধকতা তুলে নিলাম; সুতরাং তোমরা নিজেদের জন্য কাউকে নির্বাচন করে নাও। তখন উপস্থিত জনতা সমস্বরে চিৎকার করে উঠল, "হে আমিরুল মুমিনীন! আমরা আপনাকেই নির্বাচন করেছি এবং আপনার প্রতি আমরা সন্তুষ্ট। সুতরাং বরকত ও কল্যাণের সাথে আমাদের পরিচালনা করুন।" যখন তিনি দেখলেন যে শোরগোল থেমে গেছে এবং সকল মানুষ তাঁর বিষয়ে একমত হয়েছে, তখন তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ করলেন। অতঃপর তিনি বললেন, "আমি তোমাদের আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বনের উপদেশ দিচ্ছি। কেননা আল্লাহর তাকওয়া সবকিছুরই বিকল্প, কিন্তু মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহর তাকওয়ার কোনো বিকল্প নেই। তোমরা তোমাদের আখেরাতের জন্য আমল করো; কারণ যে ব্যক্তি তার আখেরাতের জন্য আমল করে, বরকতময় ও সুউচ্চ আল্লাহ তার দুনিয়াবি বিষয়ের জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। তোমরা তোমাদের গোপন অবস্থাকে সংশোধন করো, তবে দয়াময় আল্লাহ তোমাদের প্রকাশ্য অবস্থাকে সংশোধন করে দেবেন। আর তোমরা মৃত্যুকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো এবং তা আসার পূর্বেই উত্তম প্রস্তুতি গ্রহণ করো।"
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হাফস উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৫৭)
بكم فَإِنَّهُ هَادِم اللَّذَّات وَإِن من لايذكر من آبَائِهِ - فِيمَا بَينه وَبَين آدم عليه السلام أَبَا حَيا لمعرق لَهُ فِي الْمَوْت وَإِن هَذِه الامة لم تخْتَلف فِي رَبهَا عز وجل وَلَا فِي نبيها صلى الله عليه وسلم وَلَا فِي كتابها وَإِنَّمَا اخْتلفُوا فِي الدِّينَار وَالدِّرْهَم واني وَالله لَا أعطي أحدا بَاطِلا وَلَا أمنع أحدا حَقًا ثمَّ رفع صَوته حَتَّى أسمع النَّاس فَقَالَ يَا أَيهَا النَّاس من أطَاع الله فقد وَجَبت طَاعَته وَمن عصى الله فَلَا طَاعَة لَهُ أَطِيعُونِي مَا أَطَعْت الله عز وجل فَإِذا عصيت الله فَلَا طَاعَة لي عَلَيْكُم

ثمَّ نزل فَدخل فَأمر بالستور فهتكت وَالثيَاب الَّتِي كَانَت تبسط للخلفاء فَحملت وَأمر بِبَيْعِهَا وَإِدْخَال أثمانها فِي بَيت مَال الْمُسلمين ثمَّ ذهب يتبوأ مقيلا فَأَتَاهُ ابْنه عبد الملك بن عمر فَقَالَ يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ مَاذَا تُرِيدُ أَن تصنع قَالَ أَي بني أقيل قَالَ نقِيل وَلَا ترد الْمَظَالِم فَقَالَ أَي بني قد سهرت البارحة فِي أَمر عمك سُلَيْمَان فَإِذا صليت الظّهْر رددت الْمَظَالِم قَالَ يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ من لَك أَن تعيش الى الظّهْر قَالَ ادن مني أَي بني فَدَنَا مِنْهُ فَالْتَزمهُ وَقبل بَين عَيْنَيْهِ وَقَالَ الْحَمد لله الَّذِي أخرج من صلبي من يُعِيننِي على ديني فَخرج وَلم يقل وَأمر مناديه أَن يُنَادي أَلا من كَانَت
...নিশ্চয়ই এটি (মৃত্যু) স্বাদ ধ্বংসকারী। আর যার পিতৃপুরুষদের মধ্যে আদম আলাইহিস সালাম পর্যন্ত কেউ বর্তমানে জীবিত নেই, তার জন্য মৃত্যু সুনিশ্চিত। নিশ্চয়ই এই উম্মত তাদের মহান রব, তাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাদের কিতাবের ব্যাপারে মতভেদ করেনি; তারা কেবল দিনার ও দিরহাম নিয়ে মতভেদ করেছে। আল্লাহর কসম, আমি কাউকে অন্যায়ভাবে কোনো কিছু প্রদান করব না এবং কারো প্রাপ্য অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করব না। অতঃপর তিনি উচ্চস্বরে বললেন যাতে লোকেরা শুনতে পায়: হে লোকসকল, যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্য করবে তার আনুগত্য করা ওয়াজিব, আর যে আল্লাহর অবাধ্য হবে তার প্রতি কোনো আনুগত্য নেই। তোমরা আমার আনুগত্য করো যতক্ষণ আমি মহান আল্লাহর আনুগত্য করি, আর আমি যদি আল্লাহর অবাধ্য হই তবে আমার প্রতি তোমাদের কোনো আনুগত্যের বাধ্যবাধকতা নেই।

অতঃপর তিনি মিম্বর থেকে নেমে ঘরে প্রবেশ করলেন এবং রাজকীয় পর্দাগুলো ছিঁড়ে ফেলার আদেশ দিলেন। খলিফাদের জন্য যে মূল্যবান বস্ত্রসমূহ বিছানো হতো তা সরিয়ে নেওয়া হলো এবং তিনি সেগুলো বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ মুসলিমদের বায়তুল মালে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি দুপুরের বিশ্রামের উদ্দেশ্যে গেলে তাঁর পুত্র আব্দুল মালিক ইবনে ওমর এসে বললেন: হে আমিরুল মুমিনিন, আপনি কী করতে চাচ্ছেন? তিনি বললেন: হে বৎস, আমি একটু বিশ্রাম নেব। পুত্র বললেন: আপনি কি মানুষের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া অধিকারসমূহ (মাজালিম) ফিরিয়ে না দিয়েই বিশ্রাম নেবেন? তিনি বললেন: হে বৎস, গত রাতে তোমার চাচা সুলাইমানের দাফনকার্যের বিষয়ে আমি বিনিদ্র ছিলাম; জোহরের সালাত আদায় করে আমি মানুষের অধিকারসমূহ ফিরিয়ে দেব। পুত্র বললেন: হে আমিরুল মুমিনিন, আপনি জোহর পর্যন্ত বেঁচে থাকবেন—সেই নিশ্চয়তা আপনাকে কে দেবে? তিনি বললেন: হে বৎস, আমার কাছে এসো। পুত্র কাছে এলে তিনি তাকে আলিঙ্গন করলেন এবং তার দুই চোখের মাঝে কপালে চুম্বন করলেন। এরপর বললেন: সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি আমার ঔরস থেকে এমন সন্তান বের করেছেন যে আমার দ্বীনের কাজে আমাকে সাহায্য করে। অতঃপর তিনি বিশ্রাম না নিয়েই বেরিয়ে পড়লেন এবং তাঁর ঘোষণাকারীকে নির্দেশ দিলেন ঘোষণা করতে যে, শোনো! যার কোনো...
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হাফস উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৫৮)
لَهُ مظْلمَة فليرفعها فَقَامَ اليه رجل ذمِّي من أهل حمص أَبيض الرَّأْس واللحية فَقَالَ يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ أَسأَلك كتاب الله عز وجل قَالَ وَمَا ذَاك قَالَ الْعَبَّاس بن الْوَلِيد بن عبد الملك اتغصبني أرضي - وَالْعَبَّاس جَالس - فَقَالَ لَهُ يَا عَبَّاس مَا تَقول قَالَ أقطعنيها يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ الوليدبن عبد الملك وَكتب لي بهَا سجلا فَقَالَ عمر مَا تَقول يَا ذمِّي قَالَ يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ أَسأَلك كتاب الله عز وجل فَقَالَ عمر كتاب الله أَحَق أَن يتبع من كتاب الْوَلِيد بن عبد الملك فاردد عَلَيْهِ يَا عَبَّاس ضيعته فَرد عَلَيْهِ فَجعل لَا يدع شَيْئا مِمَّا كَانَ فِي يَدَيْهِ وَفِي يَدي أهل بَيته من الْمَظَالِم الا ردهَا مظْلمَة مظْلمَة فَبلغ ذَلِك عمر بن الْوَلِيد بن عبد الملك فَكتب اليه ((إِنَّك أزريت على من كَانَ قبلك من
কারো কোনো অভিযোগ থাকলে সে যেন তা পেশ করে। তখন হিমস নিবাসী এক জিম্মি ব্যক্তি দাঁড়িয়ে গেলেন, যার মাথা ও দাড়ি সাদা ছিল। তিনি বললেন, “হে আমিরুল মুমিনিন, আমি আপনার কাছে মহান আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফয়সালা প্রার্থনা করছি।” তিনি বললেন, “বিষয়টি কী?” তিনি বললেন, “আব্বাস ইবনে আল-ওয়ালিদ ইবনে আব্দুল মালিক আমার জমি জবরদখল করেছেন”—আর আব্বাস তখন সেখানে উপবিষ্ট ছিলেন। ওমর তাকে বললেন, “হে আব্বাস, তুমি কী বলো?” তিনি বললেন, “হে আমিরুল মুমিনিন, ওয়ালিদ ইবনে আব্দুল মালিক আমাকে এটি জায়গির হিসেবে দিয়েছিলেন এবং এর সপক্ষে আমাকে একটি দলিল লিখে দিয়েছিলেন।” ওমর বললেন, “হে জিম্মি, তুমি কী বলো?” তিনি বললেন, “হে আমিরুল মুমিনিন, আমি আপনার কাছে মহান আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফয়সালা প্রার্থনা করছি।” ওমর বললেন, “ওয়ালিদ ইবনে আব্দুল মালিকের দলিলের চেয়ে আল্লাহর কিতাব অনুসরণ করা অধিকতর সমীচীন। সুতরাং হে আব্বাস, তার জমি তাকে ফেরত দাও।” অতঃপর তিনি তা তাকে ফেরত দিলেন। এরপর তিনি তাঁর নিজের হাতে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের হাতে থাকা প্রতিটি অন্যায়ভাবে দখলকৃত সম্পদ একে একে ফেরত দিতে থাকলেন। এই সংবাদ ওমর ইবনে আল-ওয়ালিদ ইবনে আব্দুল মালিকের কাছে পৌঁছালে তিনি তাঁকে লিখে পাঠালেন: “নিশ্চয়ই আপনি আপনার পূর্ববর্তীদের দোষারোপ করেছেন যারা আপনার পূর্বে ছিলেন...”
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হাফস উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৫৯)
الْخُلَفَاء وعبت عَلَيْهِم وسرت بِغَيْر سيرتهم بغضا لَهُم وشنآنا لمن بعدهمْ من أَوْلَادهم قطعت مَا أَمر الله بِهِ أَن يُوصل إِذْ عَمَدت إِلَى أَمْوَال قُرَيْش ومواريثهم فأدخلتها بَيت المَال جورا وعدوانا فَاتق الله يَا ابْن عبد العزيز وراقبه ان شططت لم تطمئِن على منبرك حَتَّى خصصت أول قرابتك بالظلم والجوار فو الَّذِي خص مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم بِمَا خصّه بِهِ لقد ازددت من الله عز وجل بعدا فِي ولايتك هَذِه اذ زعمت أَنَّهَا عَلَيْك بلَاء فاقصر بعض ميلك وَاعْلَم أَنَّك بِعَين جَبَّار وَفِي قَبضته وَلنْ تتْرك على هَذَا اللَّهُمَّ فسل سُلَيْمَان بن عبد الملك عَمَّا صنع بِأُمِّهِ مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم

فَلَمَّا قَرَأَ عمر بن عبد العزيز رحمه الله كِتَابه كتب إِلَيْهِ

‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم
খলিফাগণ, অথচ আপনি তাদের দোষারোপ করেছেন এবং তাদের প্রতি ঘৃণা ও তাদের পরবর্তী বংশধরদের প্রতি বিদ্বেষবশত তাদের আদর্শ ত্যাগ করে ভিন্ন পথে চলেছেন। আপনি সেই সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন যা আল্লাহ জুড়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যখন আপনি কুরাইশদের সম্পদ ও তাদের উত্তরাধিকারের প্রতি হস্তক্ষেপ করেছেন এবং জুলুম ও শত্রুতা বশত তা বায়তুল মালে প্রবেশ করিয়েছেন। সুতরাং হে ইবনে আবদুল আজিজ, আল্লাহকে ভয় করুন এবং তাঁর নজরদারির কথা স্মরণে রাখুন; আপনি যদি সত্য বিচ্যুত হন তবে আপনি আপনার মিম্বরে শান্তিতে থাকতে পারবেন না, যতক্ষণ না আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের জুলুম ও অন্যায়ের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছেন। সেই সত্তার কসম, যিনি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন, নিশ্চয়ই আপনি আপনার এই শাসনামলে আল্লাহ (আযযা ওয়া জাল্লা) থেকে আরও দূরে সরে গেছেন, যেহেতু আপনি দাবি করেছেন যে এই ক্ষমতা আপনার জন্য একটি বিপদ। সুতরাং আপনার বিচ্যুতি সংবরণ করুন এবং জেনে রাখুন যে, আপনি এক মহাপরাক্রমশালী সত্তার (জাব্বার) চোখের সামনে এবং তাঁর কবজায় রয়েছেন, এবং আপনাকে এমনি ছেড়ে দেওয়া হবে না। হে আল্লাহ, সুলায়মান ইবনে আবদুল মালিককে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উম্মতের সাথে তিনি যা করেছেন সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করুন।

অতঃপর যখন উমর ইবনে আবদুল আজিজ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর পত্রটি পাঠ করলেন, তখন তিনি তাঁর নিকট লিখলেন:

‌‌পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হাফস উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৬১)
من عبد الله عمر أَمِير الْمُؤمنِينَ إِلَى عمر بن الْوَلِيد السَّلَام على الْمُرْسلين وَالْحَمْد لله رب الْعَالمين أما بعد فقد بَلغنِي كتابك وسأجيبك بِنَحْوِ مِنْهُ أما أول شَأْنك يَا ابْن الْوَلِيد كَمَا زعم فأمك بنانة أمة السّكُون كَانَت تَطوف فِي سوق حمص وَتدْخل فِي حوانيتها ثمَّ الله أعلم بهَا اشْتَرَاهَا ذبيان بن ذبيان من فئ الْمُسلمين فأهداها لأَبِيك فَحملت بك فبئس الْمَحْمُول وَبئسَ الْمَوْلُود ثمَّ نشأت فَكنت جبارا عنيدا تزْعم أَنِّي من الظَّالِمين إِذْ حرمتك وَأهل بَيْتك فَيْء الله عز وجل الَّذِي فِيهِ حق الْقَرَابَة وَالْمَسَاكِين والأرامل وان أظلم مني وأترك لعهد الله من استعملك صَبيا سَفِيها على جند الْمُسلمين تحكم بَينهم بِرَأْيِك وَلم تكن لَهُ فِي ذَلِك نِيَّة الا حب الْوَالِد لوَلَده فويل لَك وويل لأَبِيك مَا أَكثر خصماءكما يَوْم الْقِيَامَة وَكَيف ينجو

আল্লাহর বান্দা ওমর, আমীরুল মুমিনীনের পক্ষ থেকে ওমর ইবনুল ওয়ালিদের প্রতি। রাসূলগণের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক এবং সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। অতঃপর, তোমার পত্র আমার নিকট পৌঁছেছে এবং আমি তার অনুরূপ উত্তর দিচ্ছি। ওহে ইবনুল ওয়ালিদ, তোমার আদি পরিচয় সম্পর্কে যা বলা হয়: তোমার মা বানানা ছিল সুকুন গোত্রের একজন দাসী। সে হিমসের বাজারে ঘুরে বেড়াত এবং দোকানপাটে প্রবেশ করত। এরপর তার ব্যাপারে আল্লাহই ভালো জানেন; তাকে মুসলমানদের ফাই (অর্জিত সম্পদ) থেকে জুবিয়ান ইবনে জুবিয়ান ক্রয় করে এবং তোমার পিতার নিকট উপহার দেয়। অতঃপর সে তোমাকে গর্ভে ধারণ করে; কতই না মন্দ সেই গর্ভস্থ বোঝা এবং কতই না মন্দ সেই নবজাতক। এরপর তুমি বেড়ে উঠলে এবং একজন উদ্ধত স্বৈরাচারী হলে। তুমি দাবি করছ যে, আমি জালেমদের অন্তর্ভুক্ত, যেহেতু আমি তোমাকে এবং তোমার পরিবারকে মহান আল্লাহর সেই 'ফাই' সম্পদ থেকে বঞ্চিত করেছি যাতে নিকটাত্মীয়, অভাবী এবং বিধবাদের অধিকার রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে আমার চেয়ে বড় জালেম এবং আল্লাহর অঙ্গীকার অধিক বর্জনকারী তো সেই ব্যক্তি, যে তোমার মতো এক নির্বোধ কিশোরকে মুসলিম বাহিনীর ওপর শাসক নিযুক্ত করেছে, যাতে তুমি তাদের মধ্যে নিজের খেয়ালখুশিমতো ফয়সালা করো। এ কাজে সন্তানের প্রতি পিতার মমতা ছাড়া তার অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। সুতরাং তোমার জন্য দুর্ভোগ এবং তোমার পিতার জন্য দুর্ভোগ! কিয়ামতের দিন তোমাদের কতই না প্রতিপক্ষ (দাবিপত্র নিয়ে) উপস্থিত হবে, আর সে কীভাবে সেদিন মুক্তি পাবে?

(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হাফস উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৬২)
أَبوك من خصمائه وَإِن أظلم مني وأترك لعهد الله من اسْتعْمل الْحجَّاج بن يُوسُف على خمس الْعَرَب يسفك الدَّم الْحَرَام وَيَأْخُذ المَال الْحَرَام وان أظلم مني وأترك لعهد الله من اسْتعْمل قُرَّة بن شريك أَعْرَابِيًا جَافيا على مصر وَأذن لَهُ فِي المعازف وَاللَّهْو وَالشرب وَإِن أظلم مني وأترك لعهد الله من جعل لعالية البربرية سَهْما فِي خمس الْعَرَب فرويدا يَا ابْن بنانة فَلَو الْتَقت حلقتا البطان ورد الْفَيْء الى أَهله لتفرغت لَك وَلأَهل بَيْتك فوضعتكم على المحجة الْبَيْضَاء فطالما تركْتُم الْحق وأخذتم فِي بنيات الطَّرِيق وَمَا وَرَاء هَذَا من الْفضل مَا أَرْجُو أَن أكون رَأَيْته بيع رقبتك وَقسم ثمنك بَين الْيَتَامَى وَالْمَسَاكِين والأرامل وان لكل فِيك حَقًا وَالسَّلَام علينا وَلَا ينَال سَلام الله الظَّالِمين فَلَمَّا بلغت الْخَوَارِج سيرة عمر وَمَا رد من

তোমার পিতা তাঁর প্রতিপক্ষদের অন্তর্ভুক্ত। আর আমার চেয়েও অধিক জালেম এবং আল্লাহর অঙ্গীকারের অধিক বর্জনকারী সেই ব্যক্তি, যে হাজ্জাজ বিন ইউসুফকে আরবদের পঞ্চমাংশের ওপর নিয়োগ দিয়েছে; সে নিষিদ্ধ রক্ত প্রবাহিত করে এবং হারাম সম্পদ গ্রহণ করে। আর আমার চেয়েও অধিক জালেম এবং আল্লাহর অঙ্গীকারের অধিক বর্জনকারী সেই ব্যক্তি, যে ক্বুররাহ বিন শারিক নামক এক রূঢ় মরুবাসীকে মিশরের ওপর নিয়োগ দিয়েছে এবং তাকে বাদ্যযন্ত্র, আমোদ-প্রমোদ ও মদ্যপানের অনুমতি দিয়েছে। আর আমার চেয়েও অধিক জালেম এবং আল্লাহর অঙ্গীকারের অধিক বর্জনকারী সেই ব্যক্তি, যে আলিয়া আল-বার্বারিয়্যাহকে আরবদের পঞ্চমাংশে একটি অংশ প্রদান করেছে। সুতরাং একটু থামো হে ইবনে বানানা! যদি পরিস্থিতি অনুকূলে আসত এবং ফায়-এর সম্পদ তার হকদারদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হতো, তবে আমি তোমার ও তোমার পরিবারের জন্য মনোনিবেশ করতাম এবং তোমাদেরকে এক উজ্জ্বল ও পরিষ্কার পথে পরিচালিত করতাম। কারণ তোমরা দীর্ঘকাল সত্য বর্জন করেছ এবং ভুল পথে চলেছ। আর এর বাইরে আমি যে কল্যাণের আশা করি তা হলো তোমার গর্দান (দাস হিসেবে) বিক্রি করে দেওয়া এবং তোমার মূল্য এতিম, মিসকিন ও বিধবাদের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া। কেননা তোমার ওপর প্রত্যেকেরই অধিকার রয়েছে। আমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক; আল্লাহর শান্তি জালিমদের স্পর্শ করে না। অতঃপর যখন খারেজিদের কাছে উমরের জীবনচরিত এবং তিনি যা কিছু ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তার সংবাদ পৌঁছাল...

(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হাফস উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৬৩)
الْمَظَالِم اجْتَمعُوا فَقَالُوا مَا يَنْبَغِي لنا أَن نُقَاتِل هَذَا الرجل

أخبرنَا مُحَمَّد قَالَ حَدثنَا عمر بن أَيُّوب السَّقطِي قَالَ ثَنَا أَبُو همام الْوَلِيد بن شُجَاع قَالَ حَدثنَا يزِيد بن هَارُون قَالَ أخبرنَا عبد الله بن يُونُس الثَّقَفِيّ عَن سيار أبي الحكم قَالَ كَانَ أول مَا علم من عمر بن الْعَزِيز أَنه لما دفن سُلَيْمَان بن عبد الملك أُتِي بِدَابَّة سُلَيْمَان الَّتِي كَانَ يركب فَلم يركب وَركب دَابَّته الَّتِي جَاءَ عَلَيْهَا فَدخل الْقصر وَقد مهدت لَهُ فرش سُلَيْمَان الَّتِي كَانَ يجلس عَلَيْهَا فَلم يجلس عَلَيْهَا ثمَّ خرج الى الْمَسْجِد فَصَعدَ الْمِنْبَر فَحَمدَ الله وَأثْنى عَلَيْهِ ثمَّ قَالَ

أما بعد فَإِنَّهُ لَيْسَ بعد نَبِيكُم صلى الله عليه وسلم نَبِي وَلَا بعد الْكتاب الَّذِي أنزل عَلَيْهِ كتاب أَلا مَا أحل الله عز وجل حَلَالا إِلَى يَوْم الْقِيَامَة وَمَا حرم الله حرَام الى يَوْم الْقِيَامَة أَلا لست بقاض وَلَكِنِّي منفذ أَلا وَإِنِّي لست بِمُبْتَدعٍ وَلَكِنِّي مُتبع أَلا انه لَيْسَ لأحد أَن يطاع فِي مَعْصِيّة الله عز وجل أَلا اني لست بِخَيْرِكُمْ وَلَكِنِّي رجل مِنْكُم غير أَن الله جعلني أثقلكم حملا ثمَّ ذكر حَاجته
অন্যায়-অবিচারের শিকার ব্যক্তিরা একত্রিত হয়ে বলল, "আমাদের জন্য এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা সমীচীন নয়।"

মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, উমর বিন আইয়ুব আস-সাকতি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু হাম্মাম আল-ওয়ালিদ বিন শুজা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইয়াজিদ বিন হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ বিন ইউনুস আস-সাকাফি আমাদের নিকট সাইয়ার আবু আল-হাকাম থেকে সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, উমর বিন আব্দুল আজিজ সম্পর্কে প্রথম যা জানা যায় তা হলো, যখন সুলাইমান বিন আব্দুল মালিককে দাফন করা হলো, তখন সুলাইমানের সেই সওয়ারি পশুটি আনা হলো যাতে তিনি আরোহণ করতেন। কিন্তু তিনি তাতে আরোহণ করলেন না, বরং নিজের সওয়ারিতেই আরোহণ করলেন যেটিতে চড়ে তিনি এসেছিলেন। অতঃপর তিনি প্রাসাদে প্রবেশ করলেন এবং সেখানে সুলাইমানের বসার আসনগুলো বিছানো ছিল, কিন্তু তিনি সেগুলোর ওপর বসলেন না। এরপর তিনি মসজিদের দিকে বের হয়ে গেলেন এবং মিম্বরে উঠলেন। সেখানে তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন এবং বললেন:

অতঃপর, তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর আর কোনো নবী নেই এবং তাঁর ওপর যে কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে তার পর আর কোনো কিতাব নেই। জেনে রেখো, মহান আল্লাহ যা হালাল করেছেন তা কিয়ামত পর্যন্ত হালাল এবং আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা কিয়ামত পর্যন্ত হারাম। সাবধান, আমি কোনো বিচারক নই, বরং আমি কেবল বাস্তবায়নকারী। জেনে রেখো, আমি কোনো নতুন প্রথার উদ্ভাবক নই, বরং আমি কেবল একজন অনুসারী। সাবধান, মহান আল্লাহর অবাধ্য হয়ে কারো আনুগত্য করা বৈধ নয়। শোনো, আমি তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি নই, বরং আমি তোমাদেরই মতো একজন মানুষ; তবে আল্লাহ আমাকে তোমাদের সবার চেয়ে ভারী বোঝা (দায়িত্ব) বহনকারী করেছেন। এরপর তিনি তাঁর প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করলেন।
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হাফস উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৬৪)
أخبرنَا مُحَمَّد قَالَ حَدثنَا الْفرْيَابِيّ قَالَ ثَنَا عَمْرو بن عَليّ قَالَ حَدثنَا سُفْيَان بن خليدالضبي عَن سَالم بن نوح الْعَطَّار عَن بشر بن السّري قَالَ عَمْرو ثمَّ لقِيت سَالم بن نوح فَحَدثني بِهِ عَن بشر بن السّري ثمَّ حججْت فَقيل لي بِمَكَّة ان بشر بن السّري بِمَكَّة فاتيته فَسَأَلته فَحَدثني بشر بن السّري قَالَ حَدثنَا ابْن سليم الْهُذلِيّ قَالَ خطب عمر بن عبد العزيز فَقَالَ

أما بعد فَإِن الله عز وجل لم يخلقكم عَبَثا وَلم يدع شَيْئا من أَمركُم سدى وَإِن لكم معادا ينزل الله عز وجل فِيهِ فِي الحكم وَالْقَضَاء بَيْنكُم فخاب وخسر من خرج من رَحْمَة الله وَحرم الْجنَّة الَّتِي عرضهَا السَّمَاوَات والارض فاشتري قَلِيلا بِكَثِير وفانيا بباق وخوفا بِأَمَان أَلا ترَوْنَ أَنكُمْ فِي أسلاب الهالكين وسيخلفها بعدكم الْبَاقُونَ كَذَلِك حَتَّى ترد الى خيرة الْوَارِثين فِي كل يَوْم وَلَيْلَة تشيعون غاديا ورائحا الى الله عز وجل قد قضى نحبه وانقضى أَجله حَتَّى تغيبوه فِي صدع ثمَّ تَدعُوهُ غير ممههد وَلَا موسد قد خلع الْأَسْبَاب وَفَارق الأحباب وَسكن التُّرَاب وواجه الْحساب مرتهنا بِعَمَلِهِ فَقِيرا إِلَى مَا قدم غَنِيا عَمَّا ترك فَاتَّقُوا الله قبل نزُول الْمَوْت وَايْم
মুহাম্মাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আল-ফরিয়াবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমর ইবন আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সুফিয়ান ইবন খুল্যাইদ আদ-দাব্বি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সালিম ইবন নূহ আল-আত্তার থেকে, তিনি বিশর ইবন আস-সাররি থেকে। আমর বলেন, এরপর আমি সালিম ইবন নূহের সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি আমার নিকট বিশর ইবন আস-সাররি থেকে এটি বর্ণনা করেন। অতঃপর আমি হজ পালন করলাম, তখন মক্কায় আমাকে বলা হলো যে বিশর ইবন আস-সাররি মক্কায় আছেন। সুতরাং আমি তাঁর নিকট আসলাম এবং তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম। বিশর ইবন আস-সাররি আমার নিকট বর্ণনা করলেন, তিনি বলেন, ইবন সুলাইম আল-হুজালি আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন, উমর ইবন আব্দুল আজিজ ভাষণ দিলেন এবং বললেন:

অতঃপর, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তোমাদের অনর্থক সৃষ্টি করেননি এবং তোমাদের কোনো বিষয়ই উদ্দেশ্যহীনভাবে ছেড়ে দেননি। নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য একটি প্রত্যাবর্তনস্থল রয়েছে, যেখানে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তোমাদের মধ্যে বিচার ও ফয়সালার জন্য অবতরণ করবেন। অতএব সেই ব্যক্তিই ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হলো যে আল্লাহর রহমত থেকে বিচ্যুত হলো এবং সেই জান্নাত থেকে বঞ্চিত হলো যার প্রশস্ততা আসমান ও জমিন সমান। সে অধিকের বিনিময়ে অল্পকে, অবিনশ্বরের বিনিময়ে নশ্বরকে এবং নিরাপত্তার বিনিময়ে ভয়কে ক্রয় করেছে। তোমরা কি দেখছ না যে তোমরা ধ্বংসপ্রাপ্তদের অবশিষ্টাংশের মধ্যে আছো? আর তোমাদের পরে যারা অবশিষ্ট থাকবে তারা এর স্থলাভিষিক্ত হবে। এভাবেই চলতে থাকবে যতক্ষণ না তা সর্বশ্রেষ্ঠ উত্তরাধিকারীর নিকট ফিরে যায়। প্রতিটি দিন ও রাতে তোমরা আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার দিকে প্রস্থানকারী এমন প্রত্যেক ব্যক্তিকে বিদায় জানাচ্ছ যে তার আয়ু পূর্ণ করেছে এবং যার নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত তোমরা তাকে মাটির গর্তে লুকিয়ে ফেলো, এরপর তাকে কোনো শয্যা বা বালিশ ছাড়াই পরিত্যাগ করো। সে সমস্ত উপায়-উপকরণ ছিন্ন করেছে, প্রিয়জনদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে, মাটিতে বসতি স্থাপন করেছে এবং হিসাবের মুখোমুখি হয়েছে। সে নিজের আমলের নিকট দায়বদ্ধ, যা সে আগে পাঠিয়েছে তার মুখাপেক্ষী এবং যা সে পিছনে ছেড়ে এসেছে তা থেকে অমুখাপেক্ষী। সুতরাং মৃত্যু আসার আগেই তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আল্লাহর শপথ...
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হাফস উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৬৫)
الله اني لأقول لكم هَذِه الْمقَالة وَمَا أعلم عِنْد أحد مِنْكُم من الذُّنُوب مَا أعلم عِنْدِي وَمَا يبلغنِي عَن أحد مِنْكُم حَاجَة الا أَحْبَبْت أَن أَسد من حَاجته مَا قدرت عَلَيْهِ وَمَا يبلغنِي أَن أحدا مِنْكُم لَا يَسعهُ مَا عِنْدِي إِلَّا وددت أَنه يمكنني تَغْيِيره حَتَّى يَسْتَوِي عيشنا وعيشه وَايْم الله لَو أردْت غير ذَلِك من الغضارة والعيش لَكَانَ اللِّسَان مني بِهِ ذلولا عَالما بأسبابه وَلَكِن سبق من الله عز وجل كتاب نَاطِق وَسنة عادلة دلّ فِيهَا على طَاعَته وَنهى فِيهَا عَن مَعْصِيَته ثمَّ وضع طرف رِدَائه على وَجهه فَبكى وشهق وَبكى النَّاس فَكَانَت اخر خطْبَة خطبهَا أخبرنَا مُحَمَّد قَالَ حَدثنَا عمر بن أَيُّوب السَّقطِي قَالَ حَدثنَا أبوهمام الْوَلِيد بن شُجَاع قَالَ حَدثنَا عَليّ بن الْحسن قَالَ أَخْبرنِي أَبُو حَمْزَة قَالَ حَدثنِي صَالح بن حسان قَالَ أرسل عمر بن عبد العزيز الى مُحَمَّد بن كَعْب الْقرظِيّ فَقَالَ بخ سَأَلت عَن أَمر حسن كن لصغير الْمُسلمين أَبَا ولكبيرهم ابْنا وللمثل مِنْهُم أَخا وعاقب النَّاس بِقدر ذنوبهم على قدر اجسامهم لَا تضربن لغضبك سَوْطًا وَاحِدًا فتتعدى فَتكون عِنْد الله عز وجل من العادين

আল্লাহর কসম, আমি তোমাদের সামনে এই কথা বলছি অথচ আমি নিজের সম্পর্কে এমন সব পাপ জানি যা তোমাদের কারো সম্পর্কে জানি না। তোমাদের কারো কোনো প্রয়োজনের কথা আমার কাছে পৌঁছালে আমি সাধ্যমতো তা পূরণ করা পছন্দ করি। আর যখন আমার কাছে সংবাদ পৌঁছে যে আমার কাছে যা আছে তা তোমাদের কারো জন্য পর্যাপ্ত নয়, তখন আমি কামনা করি যে যদি আমি তা পরিবর্তন করতে পারতাম, যাতে করে আমাদের এবং তার জীবনযাত্রা সমান হয়ে যায়। আল্লাহর কসম, আমি যদি বিলাসিতা ও আয়েশি জীবন চাইতাম, তবে আমার জিহ্বা এ বিষয়ে অত্যন্ত সাবলীল হতো এবং আমি এর উপায়সমূহ সম্পর্কেও সম্যক অবগত থাকতাম। কিন্তু মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি সুস্পষ্ট কিতাব এবং ন্যায়নিষ্ঠ সুন্নাহ পূর্বেই অবতীর্ণ হয়েছে, যাতে তাঁর আনুগত্যের দিকে পথনির্দেশ করা হয়েছে এবং তাঁর অবাধ্যতা হতে নিষেধ করা হয়েছে। অতঃপর তিনি তাঁর চাদরের এক প্রান্ত নিজের চেহারার ওপর রাখলেন এবং ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলেন, আর লোকেরাও কাঁদতে লাগল। এটিই ছিল তাঁর দেওয়া সর্বশেষ ভাষণ। মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, উমর বিন আইয়ুব আস-সাকতি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু হাম্মাম আল-ওয়ালিদ বিন শুজা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, আলী বিন হাসান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু হামজা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, সালিহ বিন হাসসান আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, উমর বিন আব্দুল আজিজ মুহাম্মদ বিন কাব আল-কুরাযীর নিকট লোক পাঠালেন। অতঃপর তিনি বললেন: চমৎকার! আপনি এক উত্তম বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন। তুমি মুসলমানদের ছোটদের জন্য পিতা স্বরূপ হও, বড়দের জন্য সন্তান স্বরূপ হও এবং সমবয়সীদের জন্য ভাই স্বরূপ হও। মানুষের অপরাধ অনুযায়ী এবং তাদের শারীরিক সক্ষমতা বিবেচনা করে তাদের শাস্তি প্রদান করো। তোমার রাগের বশবর্তী হয়ে কাউকে একটি বেত্রাঘাতও করবে না, অন্যথায় তুমি সীমা লঙ্ঘন করবে এবং মহান আল্লাহর নিকট সীমা লঙ্ঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।

(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হাফস উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৬৬)
أخبرنَا مُحَمَّد قَالَ حَدثنَا عمر بن أَيُّوب قَالَ حَدثنَا أَبُو همام قَالَ ثَنَا مُحَمَّد بن حَمْزَة قَالَ حَدثنَا الثِّقَة أَن عمر بن عبد العزيز كتب إِلَى أبي بكر بن مُحَمَّد بن عَمْرو بن حزم

أما بعد فَإنَّك كتبت إِلَى سُلَيْمَان كتبا لم ينظر فِيهَا حَتَّى قبض رحمه الله وَقد بليت بجوابك فاسمع كتبت الى سُلَيْمَان تذكر أَنه يقطع لعمال الْمَدِينَة من بَيت مَال الْمُسلمين لثمن شمع كَانُوا يستضيئون بِهِ حِين يخرجُون الى صَلَاة الْعشَاء الاخرة وَصَلَاة الْفجْر وتذكر أَنه قد نفد الَّذِي كَانَ يستضاء بِهِ وتسأل أَن يقطع لَك من ثمنه بِمثل مَا كَانَ يقطع بِهِ للعمال وَقد عهدتك وَأَنت تخرج من بَيْتك فِي اللَّيْلَة الْمظْلمَة الماطرة الوحلة بِغَيْر سراج ولعمري لأَنْت يَوْمئِذٍ خير مِنْك الْيَوْم وَالسَّلَام

أخبرنَا مُحَمَّد قَالَ عَن أبي اسحاق الْفَزارِيّ عَن الاوزاعي قَالَ كَانَ عمر بن عبد العزيز جعل فِي كل يَوْم درهما من خَاصَّة مَاله فِي طَعَام الْعَامَّة ثمَّ يَأْكُل مَعَهم قَالَ الاوزاعي وَلم يكن عمر يرتزق دون الْمُسلمين

أخبرنَا مُحَمَّد قَالَ ثَنَا عمر بن أَيُّوب قَالَ حَدثنَا أَبُو همام
মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, ওমর ইবনে আইয়ুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু হাম্মাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবনে হামজা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, ওমর ইবনে আবদুল আজিজ আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে হাজমের নিকট লিখেছিলেন:

অতঃপর, আপনি সুলাইমানের নিকট এমন কিছু চিঠি লিখেছিলেন যা তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তিনি দেখে যেতে পারেননি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)। আর এখন আপনার চিঠির উত্তর দেওয়ার দায়িত্ব আমার ওপর বর্তেছে, সুতরাং শুনুন। আপনি সুলাইমানের নিকট লিখেছিলেন যে, তিনি মদিনার কর্মকর্তাদের জন্য মুসলিমদের বায়তুল মাল থেকে মোমবাতির মূল্য বাবদ বরাদ্দ দিতেন, যা দ্বারা তারা এশা ও ফজরের নামাজের জন্য বের হওয়ার সময় আলো জ্বালাতেন। আপনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, সেই আলোর উপকরণ শেষ হয়ে গেছে এবং আপনি আবেদন করেছেন যেন আপনাকেও কর্মকর্তাদের ন্যায় সমপরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। অথচ আমি আপনাকে চিনি যে, আপনি অন্ধকার, বৃষ্টিবহুল ও কর্দমাক্ত রাতে কোনো চেরাগ ছাড়াই ঘর থেকে বের হতেন। আমার জীবনের কসম! নিশ্চয়ই আপনি সে সময় বর্তমান সময়ের চেয়ে অধিক উত্তম ছিলেন। ওয়াসসালাম।

মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবু ইসহাক আল-ফাজারি থেকে, তিনি আওজায়ি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ওমর ইবনে আবদুল আজিজ প্রতিদিন তাঁর নিজস্ব সম্পদ থেকে এক দিরহাম সাধারণ মানুষের খাবারের জন্য নির্ধারণ করতেন, এরপর তিনি তাঁদের সাথেই আহার করতেন। আওজায়ি বলেন: ওমর মুসলিমদের বাদ দিয়ে একা কোনো ভোগ-বিলাস করতেন না।

মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, ওমর ইবনে আইয়ুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু হাম্মাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হাফস উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৬৭)
قَالَ حَدثنَا عَليّ بن الْحسن قَالَ أَخْبرنِي خَارِجَة بن مُصعب عَن ابْن عون عَن مُجَاهِد قَالَ المهادي سَبْعَة مضى خَمْسَة وَبَقِي اثْنَان قَالَ خَارِجَة أَبُو بكر وَعمر عُثْمَان وَعلي وَعمر بن عبد العزيز رضوَان الله عَلَيْهِم

أخبرنَا مُحَمَّد قَالَ حَدثنَا أَبُو سعيد احْمَد بن مُحَمَّد الاعرابي قَالَ ثَنَا أَبُو عُبَيْدَة السّري بن يحيى بن أخي هناد بن السّري قَالَ سَمِعت قبيصَة بن عقبَة يَقُول سُفْيَان الثَّوْريّ يَقُول الْخُلَفَاء خَمْسَة أَبُو بكر وَعُثْمَان وَعلي وَعمر بن عبد العزيز رضي الله عنهم

أخبرنَا مُحَمَّد بن الْحُسَيْن قَالَ ثَنَا أَبُو بكر عبد الله بن مُحَمَّد بن عبد الحميد الوَاسِطِيّ قَالَ حَدثنَا مُحَمَّد بن فُضَيْل عَن أَبِيه عَن الْعَبَّاس بن أبي رَاشد قَالَ نزل بِنَا عمر بن عبد العزيز فَلَمَّا رَحل قَالَ لي مولَايَ اخْرُج مَعَه فشيعه قَالَ فَخرجت مَعَه فمررنا بواد فَإِذا نَحن بحية ميتَة على الطَّرِيق قَالَ فَنزل عمر فنحاها وواراها ثمَّ ركب وسرنا فَإِذا نَحن بهاتف يَهْتِف وَهُوَ يَقُول يَا
আলী ইবনুল হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, খারিজাহ ইবনে মুসআব আমাকে ইবনে আউন থেকে এবং তিনি মুজাহিদ থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: সুপথপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ সাতজন; তাঁদের মধ্যে পাঁচজন অতিবাহিত হয়েছেন এবং দুইজন বাকি রয়েছেন। খারিজাহ বলেন: (তাঁরা হলেন) আবু বকর, উমর, উসমান, আলী এবং উমর ইবনে আবদুল আজিজ (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)।

মুহাম্মাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু সাঈদ আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-আরাবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হান্নাদ ইবনে সারীর ভ্রাতুষ্পুত্র আবু উবাইদাহ আস-সারী ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি কাবিদাহ ইবনে উকবাহকে বলতে শুনেছি, সুফিয়ান আস-সাওরী বলতেন: খলীফাগণ পাঁচজন; আবু বকর, উসমান, আলী এবং উমর ইবনে আবদুল আজিজ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)।

মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু বকর আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল হামিদ আল-ওয়াসিতি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনে ফুদাইল তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আব্বাস ইবনে আবি রাশিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনে আবদুল আজিজ আমাদের নিকট অবস্থান করলেন। অতঃপর যখন তিনি প্রস্থান করলেন, তখন আমার মনিব আমাকে বললেন, ‘তুমি তাঁর সাথে বের হও এবং তাঁকে বিদায় জানিয়ে এসো।’ তিনি বলেন, অতঃপর আমি তাঁর সাথে বের হলাম এবং আমরা একটি উপত্যকা অতিক্রম করছিলাম। এমতাবস্থায় আমরা রাস্তার ওপর একটি মৃত সাপ দেখতে পেলাম। তিনি বলেন, অতঃপর উমর বাহন থেকে নামলেন এবং সেটিকে সরিয়ে দিলেন ও মাটিচাপা দিলেন। এরপর তিনি পুনরায় আরোহণ করলেন এবং আমরা চলতে লাগলাম। হঠাৎ আমরা এক অদৃশ্য আহবানকারীর কণ্ঠ শুনতে পেলাম, সে বলছিল, ‘হে...’
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হাফস উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৬৮)
خرقاء يَا خرقاء قَالَ فالتفتنا يَمِينا وَشمَالًا فَلم نر أحدا فَقَالَ عمر أَسأَلك بِاللَّه أَيهَا الْهَاتِف ان كنت مِمَّن يظْهر الا ظَهرت والا أخبرتنا مَا الخرقاء فَقَالَ الْحَيَّة الَّتِي دفنتم بمَكَان كَذَا وَكَذَا فَإِنِّي سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول لَهَا يَوْمًا يَا خرقاء تموتين بفلاة من الارض يدفنك خير مُؤمن من أهل الارض يَوْمئِذٍ فَقَالَ لَهُ عمر من أَنْت يَرْحَمك الله فَقَالَ أَنا من التِّسْعَة الَّذين بَايعُوا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا الْوَادي قَالَ فَقَالَ لَهُ عمر الله لانت سَمِعت هَذَا من رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ الله اني سَمِعت هَذَا من رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ فَدَمَعَتْ عينا عمر وانصرفنا

أخبرنَا مُحَمَّد قَالَ حَدثنَا عمر بن أَيُّوب السَّقطِي قَالَ حَدثنَا أَبُو همام قَالَ حَدثنَا يزِيد بن هَارُون قَالَ أخبرنَا جرير بن حَازِم قَالَ حَدثنَا زِيَاد بن أبي زِيَاد الْمَدِينِيّ قَالَ أَرْسلنِي مولَايَ ابْن عَيَّاش بن أبي ربيعَة الى عمر بن عبد العزيز فِي حوائج لَهُ قَالَ فَدخلت عَلَيْهِ وَعِنْده كَاتب لَهُ يكْتب فَقلت السَّلَام عَلَيْكُم فَقَالَ وَعَلَيْك السَّلَام ثمَّ انْتَهَيْت فَقلت السَّلَام عَلَيْك يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ وَرَحْمَة الله فَقَالَ يَا بن أبي زِيَاد انا لسنا ننكر الاول الَّذِي قلت فَقَالَ لي اجْلِسْ وَالْكَاتِب يقْرَأ عَلَيْهِ مظالم جَاءَت من
"হে খারকা, হে খারকা!" বর্ণনাকারী বলেন, তখন আমরা ডানে ও বামে তাকালাম কিন্তু কাউকে দেখতে পেলাম না। উমর বললেন, "হে অদৃশ্য আহ্বানকারী, আমি তোমাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, তুমি যদি আত্মপ্রকাশ করার মতো হও তবে আমাদের সামনে প্রকাশিত হও, নতুবা আমাদের বলো খারকা কী?" সে বলল, "এটি সেই সাপ যাকে আপনারা অমুক অমুক স্থানে দাফন করেছেন। কেননা আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একদিন তাকে বলতে শুনেছি: হে খারকা, তুমি জমিনের এক জনশূন্য প্রান্তরে মৃত্যুবরণ করবে এবং সেদিন পৃথিবীর অধিবাসীদের মধ্যে সর্বোত্তম মুমিন ব্যক্তি তোমাকে দাফন করবে।" উমর তাকে বললেন, "আল্লাহ তোমার ওপর রহম করুন, তুমি কে?" সে বলল, "আমি সেই নয়জনের একজন যারা এই উপত্যকায় আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে বায়াত গ্রহণ করেছিল।" উমর তাকে বললেন, "আল্লাহর কসম, আপনি কি সত্যিই এটি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে শুনেছেন?" সে বলল, "আল্লাহর কসম, আমি এটি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে শুনেছি।" বর্ণনাকারী বলেন, তখন উমরের দুই চোখ অশ্রুসিক্ত হলো এবং আমরা ফিরে এলাম।

মুহাম্মাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনে আইয়ুব আস-সাকতি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু হাম্মাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াজিদ ইবনে হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জারীর ইবনে হাযিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: যিয়াদ ইবনে আবি যিয়াদ আল-মাদিনী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার মনিব ইবনে আইয়াশ ইবনে আবি রাবিয়াহ আমাকে উমর ইবনে আব্দুল আজিজের কাছে তাঁর কিছু প্রয়োজনে পাঠালেন। তিনি বলেন: আমি তাঁর নিকট প্রবেশ করলাম, তখন তাঁর নিকট একজন লেখক ছিল যে লিখছিল। আমি বললাম, "আসসালামু আলাইকুম।" তিনি বললেন, "ওয়া আলাইকাস সালাম।" তারপর আমি অগ্রসর হয়ে বললাম, "আসসালামু আলাইকা ইয়া আমিরুল মুমিনীন ওয়া রহমাতুল্লাহ।" তিনি বললেন, "হে ইবনে আবি যিয়াদ, তুমি প্রথমে যা বলেছিলে আমরা তা অস্বীকার করিনি।" এরপর তিনি আমাকে বললেন, "বসো।" এমতাবস্থায় লেখক তাঁর সামনে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা জুলুমের অভিযোগসমূহ পড়ছিল যা...
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হাফস উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৬৯)
الْبَصْرَة فَقَالَ لي اجْلِسْ فَجَلَست على أُسْكُفَّة الْبَاب هُوَ يقْرَأ عَلَيْهِ وَعمر يتنفس صعداء فَلَمَّا فرغ أخرج من كَانَ فِي الْبَيْت حَتَّى وصيفا كَانَ فِيهِ ثمَّ قَامَ يمشي الي حَتَّى جلس بَين يَدي وَوضع يَدَيْهِ على ركبتي ثمَّ قَالَ يَا بن أبي زِيَاد استدفأت من مدرعتك وَعلي مدرعة من صوف واسترحت مِمَّا نَحن فِيهِ قَالَ فَسَأَلَنِي عَن صلحاء أهل الْمَدِينَة ورجالهم وَنِسَائِهِمْ قَالَ فَمَا ترك مِنْهُم أحدا الا سَأَلَني عَنهُ وسألني عَن أُمُور كَانَ أَمر بهَا بِالْمَدِينَةِ فاخبرته ثمَّ قَالَ لي يَا بن أبي زِيَاد أَلا ترى مَا وَقعت فِيهِ قَالَ قلت يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ اني لارجو لَك خيرا قَالَ هَيْهَات هَيْهَات قَالَ ثمَّ بَكَى حَتَّى جعلت أرثي لَهُ قَالَ قلت يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ بعض مَا تصنع فَانِي أَرْجُو لَك خيرا قَالَ هَيْهَات هَيْهَات أشتم وَلَا أشتم أضْرب وَلَا أضْرب وأوذي وَلَا أوذى قَالَ ثمَّ بَكَى حَتَّى جعلت أرثي لَهُ قَالَ وأقمت حَتَّى قضى حوائجي وَكتب الى مولَايَ يسْأَله أَن يبيعني مِنْهُ ثمَّ أخرج من تَحت فرَاشه عشْرين دِينَارا فَقَالَ اسْتَعِنْ بِهَذِهِ فانه لَو كَانَ لَك فِي الْفَيْء حق أعطيناك حَقك وَلَكِنَّك عبد قَالَ فأبيت أَن اخذها فَقَالَ انما هِيَ من نفقتي لم يزل بِي حَتَّى أَخَذتهَا وَكتب الى مولَايَ يبيعني مِنْهُ فَأبى وأعتقني

বাসরা থেকে; তিনি আমাকে বললেন, "বস।" তখন আমি দরজার চৌকাঠের ওপর বসলাম। তাঁর নিকট কেউ পাঠ করছিল এবং উমর দীর্ঘশ্বাস ফেলছিলেন। যখন তিনি পাঠ শেষ করলেন, ঘরে যারা ছিল তাদের বের করে দিলেন, এমনকি সেখানে থাকা এক কিশোর ভৃত্যকেও। তারপর তিনি উঠে আমার দিকে হেঁটে আসলেন এবং আমার সামনে বসলেন। তিনি তাঁর দুই হাত আমার দুই হাঁটুর ওপর রাখলেন। এরপর বললেন, "হে ইবনে আবি যিয়াদ, তুমি তোমার জুব্বার মাধ্যমে উষ্ণতা লাভ করেছ —আর আমার পরনে ছিল পশমের জুব্বা— এবং আমরা যে পরিস্থিতির মধ্যে আছি তা থেকে তুমি শান্তিতে আছ।"

বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি আমাকে মদীনার সৎকর্মশীল ব্যক্তিবর্গ এবং সেখানকার পুরুষ ও নারীদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি তাদের কাউকেও বাদ দিলেন না যাদের সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞেস করেননি। মদীনায় তিনি যে সমস্ত কাজের আদেশ দিয়েছিলেন সে সম্পর্কেও আমাকে জিজ্ঞেস করলেন এবং আমি তাঁকে অবহিত করলাম। এরপর তিনি আমাকে বললেন, "হে ইবনে আবি যিয়াদ, আমি যে পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছি তা কি তুমি দেখছ না?" আমি বললাম, "হে আমীরুল মুমিনীন, আমি আপনার জন্য মঙ্গলের আশা করি।" তিনি বললেন, "অসম্ভব, অসম্ভব!"

বর্ণনাকারী বলেন, তারপর তিনি এতোটা কাঁদলেন যে আমি তাঁর প্রতি দয়ার্দ্র হয়ে পড়লাম। আমি বললাম, "হে আমীরুল মুমিনীন, আপনি যা করছেন তা কিছুটা লাঘব করুন (অর্থাৎ কান্না কমান), কারণ আমি আপনার জন্য কল্যাণের আশা করি।" তিনি বললেন, "অসম্ভব, অসম্ভব! আমাকে গালি দেওয়া হয় কিন্তু আমি গালি দেই না; আমাকে প্রহার করা হয় কিন্তু আমি প্রহার করি না; এবং আমাকে কষ্ট দেওয়া হয় কিন্তু আমি কষ্ট দেই না।"

তিনি আরও বলেন, আমি সেখানে অবস্থান করলাম যতক্ষণ না তিনি আমার প্রয়োজনগুলো পূরণ করলেন এবং আমার মনিবের কাছে এই মর্মে পত্র লিখলেন যাতে তিনি আমাকে তাঁর নিকট বিক্রি করে দেন। এরপর তিনি তাঁর বিছানার নিচ থেকে বিশটি দীনার বের করলেন এবং বললেন, "এর দ্বারা সাহায্য গ্রহণ করো। কেননা রাষ্ট্রীয় সম্পদে যদি তোমার কোনো অধিকার থাকত, তবে আমরা তোমাকে তোমার প্রাপ্য দান করতাম; কিন্তু তুমি তো একজন দাস।"

বর্ণনাকারী বলেন, আমি তা নিতে অস্বীকার করলাম। তখন তিনি বললেন, "এটি তো আমার ব্যক্তিগত ব্যয় থেকে।" তিনি ক্রমাগত পীড়াপীড়ি করতে থাকলেন যতক্ষণ না আমি তা গ্রহণ করলাম। তিনি আমার মনিবের নিকট আমাকে বিক্রি করার জন্য লিখেছিলেন, কিন্তু তিনি (মনিব) তাতে অসম্মতি জানালেন এবং আমাকে মুক্ত করে দিলেন।

(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হাফস উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৭০)
أخبرنَا مُحَمَّد قَالَ حَدثنَا عمر بن أَيُّوب قَالَ ثَنَا أَبُو همام قَالَ حَدثنَا عمر بن صَالح الازدي قَالَ سَمِعت شَيخا من أهل الشَّام قَالَ لما مَاتَ عمر بن عبد العزيز رحمه الله كَانَ استودع مولى لَهُ سفطا يكون عِنْده فجاؤوه فَقَالُوا السفط الَّذِي كَانَ استودعك عمر فَقَالَ مَا لكم فِيهِ خير فَأَبَوا حَتَّى رفعوا ذَلِك الى يزِيد بن عبد الملك فَدَعَا بالسفط ودعا بني أُميَّة فَقَالَ حبركم هَذَا قد وجدنَا لَهُ سفطا وَدِيعَة قد استودعها فدعابه فجاؤوا بِهِ ففتحوه فاذا فِيهِ مقطعات من مسوح كَانَ يلبسهَا بِاللَّيْلِ

أخبرنَا مُحَمَّد قَالَ حَدثنَا عمر بن أَيُّوب قَالَ حَدثنَا أَبُو همام قَالَ حَدثنِي مُحَمَّد بن حَمْزَة قَالَ ثَنَا الثقه يُونُس بن جَعْفَر الرقي أَن عمر بن عبد العزيز رضي الله عنه كتب الى سَالم بن عبد الله بن عمر بن الْخطاب أما بعد فَإِن الله تبَارك اسْمه وَتَعَالَى جده ابتلاني بِمَا ابتلاني بِهِ من أَمر عباده وبلاده أَن يحسن عوني وعاقبتي وعاقبة من ولاني أمره وَقد رَأَيْت أَن أَسِير فِي النَّاس بسيرة عمر بن الْخطاب رضي الله عنه ان قضى الله ذَلِك واستطعت اليه سَبِيلا فَابْعَثْ الي بكتب عمر وقضائه فِي أهل الْقبْلَة وَأهل الْعَهْد فَانِي فتبع أَثَره وَسَائِر بسيرته ان شَاءَ الله وأسأل الله التَّوْفِيق لما يحب ويرضى
মুহাম্মদ আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন ওমর ইবনে আইয়ুব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আবু হাম্মাম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন ওমর ইবনে সালিহ আল-আযদি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আমি শাম দেশের একজন শায়খকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: যখন ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রহিমাহুল্লাহ) ইন্তেকাল করলেন, তখন তিনি তাঁর একজন আজাদকৃত দাসের কাছে একটি ছোট বাক্স গচ্ছিত রেখেছিলেন। লোকেরা তার কাছে এসে বলল, ‘ওমর তোমার কাছে যে বাক্সটি আমানত রেখেছিলেন তা দাও’। সে বলল, ‘তাতে তোমাদের জন্য ভালো কিছু নেই’। কিন্তু তারা তা অস্বীকার করল এবং বিষয়টি ইয়াজিদ ইবনে আব্দুল মালিকের নিকট উত্থাপন করল। তখন তিনি বাক্সটি আনার আদেশ দিলেন এবং বনু উমাইয়াদের ডেকে বললেন, ‘তোমাদের এই বিজ্ঞ ব্যক্তির একটি আমানত রাখা বাক্স আমরা পেয়েছি’। এরপর সেটি আনা হলো এবং তারা তা খুলল। দেখা গেল তাতে পশমের তৈরি মোটা কাপড়ের কিছু জীর্ণ টুকরো রয়েছে যা তিনি রাতে পরিধান করতেন।

মুহাম্মদ আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন ওমর ইবনে আইয়ুব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আবু হাম্মাম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন মুহাম্মদ ইবনে হামজা আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী ইউনুস ইবনে জাফর আর-রাক্কি আমাদের জানিয়েছেন যে, ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সালেম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর ইবনুল খাত্তাবের নিকট লিখেছিলেন: আম্মা বাদ, নিশ্চয়ই আল্লাহ—যাঁর নাম বরকতময় এবং মর্যাদা সুউচ্চ—তাঁর বান্দাদের এবং তাঁর ভূখণ্ডের যে দায়িত্ব দিয়ে আমাকে পরীক্ষায় ফেলেছেন, তাতে তিনি যেন আমাকে উত্তম সাহায্য দান করেন এবং আমার ও যাদের দায়িত্ব তিনি আমাকে দিয়েছেন তাদের শেষ পরিণাম কল্যাণকর করেন। আমি মনস্থ করেছি যে, যদি আল্লাহ তা ফয়সালা করেন এবং আমি তার সামর্থ্য রাখি, তবে আমি জনগণের মাঝে ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর আদর্শ ও কর্মপন্থা অনুযায়ী চলব। অতএব আপনি ওমরের লিখিত নির্দেশনাবলী এবং আহলে কিবলা ও চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমদের ব্যাপারে তাঁর ফয়সালাসমূহ আমার নিকট পাঠিয়ে দিন। কেননা ইনশাআল্লাহ আমি তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করব এবং তাঁর আদর্শ অনুযায়ী পরিচালিত হব। আমি আল্লাহর নিকট সেই তাওফিক প্রার্থনা করছি যা তিনি পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন।
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হাফস উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৭১)
وباسناده أَن سالما أَجَابَهُ

أما بعد فَإِن الله عز وجل خلق الدُّنْيَا لما أَرَادَ أَن يخلقها لَهُ فَجعل لَهَا مُدَّة قَصِيرَة كَأَن مَا بَين أَولهَا واخرها سَاعَة من نَهَار ثمَّ قضى عَلَيْهَا وعَلى أَهلهَا الفناء فَقَالَ {كل شَيْء هَالك إِلَّا وَجهه لَهُ الحكم وَإِلَيْهِ ترجعون} لَا يقدر أَهلهَا مِنْهَا يَا عمر على شَيْء حَتَّى تفارقهم ويفارقونها بعث بذلك رَسُوله وَأنزل كِتَابه ضرب فِي ذَلِك الامثال وَضرب فِيهِ الْوَعيد وَوصل بِهِ القَوْل وَشرع فِيهِ دينه وَأحل الْحَلَال وَحرم الْحَرَام وقص فَأحْسن الْقَصَص وَجعل دينه فِي الاولين والاخرين دينا وَاحِدًا فَلم يفرق بَين كتبه وَلم يخْتَلف رسله وَلم يُبدل قَوْله ثمَّ انك يَا عمر لست تعدو أَن تكون رجلا من بني ادم يَكْفِيك مَا يَكْفِي رجلا مِنْهُم فِي الطَّعَام وَالشرَاب فَاجْعَلْ فضل ذَلِك فِيمَا بَيْنك وَبَين الرب الَّذِي توجه اليه شكر النعم فانك قد وليت أمرا عَظِيما لَيْسَ عَلَيْك أحد دون الله عز وجل قد أفْضى فِيمَا بَيْنك وَبَين الْخَلَائق ان اسْتَطَعْت أَن تغنم نَفسك وَأهْلك وَألا تخسر نَفسك وَأهْلك يَوْم الْقِيَامَة فافعل فانه قد كَانَ قبلك رجال عمِلُوا مَا
এবং তাঁর সনদ সহকারে বর্ণিত যে, সালেম তাঁকে উত্তর দিয়েছিলেন

অতঃপর, নিশ্চয়ই আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী যখন দুনিয়া সৃষ্টি করার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন তখন তা নিজের জন্য সৃষ্টি করেছিলেন। অতঃপর তিনি এর জন্য একটি সংক্ষিপ্ত মেয়াদ নির্ধারণ করেছেন, যেন এর শুরু এবং শেষের মধ্যবর্তী সময়টুকু দিনের মাত্র এক মুহূর্ত। এরপর তিনি এর ওপর এবং এর অধিবাসীদের ওপর ধ্বংসের ফয়সালা করলেন। অতঃপর তিনি বললেন: {আল্লাহর চেহারা ব্যতীত প্রতিটি বস্তুই ধ্বংসশীল, বিচারকার্য কেবল তাঁরই এবং তাঁর কাছেই তোমরা ফিরে যাবে}। হে উমর! এর অধিবাসীরা এর কোনো কিছুর ওপর সামর্থ্য রাখে না যতক্ষণ না তারা তা ত্যাগ করে এবং তা তাদের ত্যাগ করে। তিনি এই লক্ষ্যেই তাঁর রাসূলকে পাঠিয়েছেন এবং তাঁর কিতাব নাযিল করেছেন। তিনি এতে উদাহরণসমূহ পেশ করেছেন, ভীতি প্রদর্শন করেছেন, তাঁর বাণীকে পৌঁছে দিয়েছেন এবং এতে তাঁর দ্বীন প্রবর্তন করেছেন। তিনি হালালকে বৈধ করেছেন এবং হারামকে নিষিদ্ধ করেছেন এবং সর্বোত্তম কিসসা বর্ণনা করেছেন। তিনি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের জন্য তাঁর দ্বীনকে এক ও অভিন্ন দ্বীন হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। সুতরাং তিনি তাঁর কিতাবসমূহের মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি, তাঁর রাসূলগণও মতবিরোধ করেননি এবং তাঁর বাণী পরিবর্তিত হয়নি। অতঃপর হে উমর! তুমি আদম সন্তানদের মধ্য হতে একজন মানুষ বৈ কিছু নও। তাদের একজন মানুষের আহার ও পানীয়ের জন্য যা যথেষ্ট, তোমার জন্যও তাই যথেষ্ট। সুতরাং তোমার এবং সেই রবের মধ্যকার বিষয়ে এই অতিরিক্ত নিয়ামতের শোকরগুজারি করো যাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়। নিশ্চয়ই তুমি এক মহান বিষয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছ, আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী ব্যতীত তোমার উপরে কেউ নেই। তোমার এবং সৃষ্টিজগতের মধ্যকার বিষয়গুলো এখন সরাসরি তোমার কাছেই ন্যস্ত হয়েছে। কিয়ামত দিবসে তুমি যদি নিজেকে ও তোমার পরিবারকে সফল করতে পারো এবং নিজেকে ও তোমার পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে বাঁচাতে পারো, তবে তা-ই করো। কেননা তোমার পূর্বে এমন অনেক ব্যক্তি ছিলেন যারা এমন সব কাজ করেছিলেন যা...
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হাফস উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৭২)
عمِلُوا وأحيوا وأماتو مَا أماتوا حَتَّى ولد فِي ذَلِك رجال ونشؤوا فِيهِ وظنوا أَنَّهَا السّنة فسدوا على النَّاس أَبْوَاب الرخَاء فَلم يسدوا مِنْهَا بَابا إِلَّا فتح الله عَلَيْهِم فِيهِ بَاب بلَاء فان اسْتَطَعْت وَلَا قُوَّة الا بِاللَّه أَن تفتح على النَّاس أَبْوَاب الرخَاء فافعل فانك لن تفتح مِنْهَا بَابا إِلَّا سد الله الْكَرِيم عَنْك بَاب بلَاء وَلَا يمنعك من نزع عَامل أَن تَقول لَا أجد من يَكْفِينِي عمله فانك اذا كنت تفزع لله وتستعمل لله أتاح الله لَك أعوانا فأتاك بهم وانما قدر عون الله إياك بِقدر نيتك فَإِن تمت نيتك تمّ عون الله الْكَرِيم إياك وَإِن قصرت نيتك قصر من الله العون بِحَسب ذَلِك وَاعْلَم انه كَانَ قبلك رجال عاينوا هول المطلع وعالجوا نزع الْمَوْت الَّذِي مِنْهُ كَانُوا يفرون فانشقت بطونهم الَّتِي كَانُوا لَا يشبعون بهَا وانفقأت أَعينهم الَّتِي كَانَت لَا تَنْقَطِع لذتها واندقت رقابهم غير موسدين بَعْدَمَا نعلم من تظاهر الْفرش والمرافق والسرر والخدم فصاروا جيفا فِي بطُون الاراضي تَحت مهادها وَالله لَو كَانُوا الى جَانب مِسْكين لتأذى بريحهم بعد انفاق مَا لَا يُحْصى عَلَيْهِم وعَلى خواصهم من الطّيب كل ذَلِك اسرافا وبدارا عَن حق الله فانا لله وانا اليه رَاجِعُون مَا أعظم الَّذِي ابْتليت بِهِ وأفظع الَّذِي سيق اليك أهل الْعرَاق أهل الْعرَاق أبرهم مِنْك منزلَة من لَا فقر بك اليه وَلَا غنى بك عَنهُ فَمن

তারা কাজ করেছে, তারা পুনরুজ্জীবিত করেছে এবং তারা যা মিটিয়ে দিয়েছে তা মিটিয়ে দিয়েছে; এমনকি এর মধ্যেই একদল লোক জন্ম নিয়েছে এবং তারা এতেই বেড়ে উঠেছে এবং তারা ধারণা করেছে যে এটিই হলো সুন্নাহ। অতঃপর তারা মানুষের ওপর স্বাচ্ছন্দ্যের দ্বারসমূহ রুদ্ধ করে দিয়েছে। ফলে তারা যখনই এর কোনো একটি দ্বার রুদ্ধ করেছে, তখনই আল্লাহ তাদের ওপর বিপদের একটি দ্বার উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। সুতরাং আপনি যদি সক্ষম হন—আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি নেই—তবে মানুষের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যের দ্বারসমূহ উন্মুক্ত করে দিন। কারণ আপনি যখনই এর কোনো একটি দ্বার উন্মুক্ত করবেন, আল্লাহ দয়াময় আপনার জন্য বিপদের একটি দ্বার বন্ধ করে দেবেন। কোনো কর্মচারীকে বরখাস্ত করার ক্ষেত্রে আপনার এই কথা যেন বাধা না দেয় যে, "আমি এমন কাউকে পাচ্ছি না যে তার কাজ আঞ্জাম দিতে যথেষ্ট হবে।" কেননা আপনি যখন আল্লাহর শরণাপন্ন হবেন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করবেন, আল্লাহ আপনার জন্য সাহায্যকারী সহজলভ্য করে দেবেন এবং তাদের আপনার কাছে পৌঁছে দেবেন। আপনার প্রতি আল্লাহর সাহায্যের মাত্রা হবে আপনার নিয়তের গভীরতা অনুযায়ী। সুতরাং আপনার নিয়ত যদি পূর্ণাঙ্গ হয়, তবে আপনার প্রতি আল্লাহ দয়াময়ের সাহায্যও পূর্ণাঙ্গ হবে। আর আপনার নিয়ত যদি ত্রুটিপূর্ণ হয়, তবে আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্যও সেই অনুপাতে হ্রাস পাবে। জেনে রাখুন, আপনার পূর্বে এমন বহু লোক ছিল যারা মৃত্যুপরবর্তী ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করেছে এবং মৃত্যুর সেই যন্ত্রণার মোকাবিলা করেছে যা থেকে তারা পলায়ন করতে চাইত। অতঃপর তাদের সেই পেট ফেটে গিয়েছে যা দ্বারা তারা কখনো তৃপ্ত হতো না এবং তাদের সেই চোখগুলো গলে গিয়েছে যাদের স্বাদ গ্রহণ কখনো শেষ হতো না। তাদের ঘাড়গুলো চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে বালিশবিহীন অবস্থায়; অথচ আমরা জানি যে একসময় তাদের জন্য কত বিছানা, আরামদায়ক উপাধান, পালঙ্ক এবং খাদেমদের সমারোহ ছিল। অতঃপর তারা মাটির নিচে কবরের গর্ভে দুর্গন্ধযুক্ত মৃতদেহে পরিণত হয়েছে। আল্লাহর কসম! তারা যদি কোনো দরিদ্র ব্যক্তির পাশে থাকত, তবে সে তাদের দুর্গন্ধে কষ্ট পেত; অথচ ইতিপূর্বে তাদের নিজেদের ওপর এবং তাদের পারিষদবর্গের ওপর অগণিত সুগন্ধি ব্যয় করা হয়েছিল। এর সবকিছুই ছিল আল্লাহর হকের ব্যাপারে অপচয় এবং সীমা লঙ্ঘনের ফল। নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই নিকট প্রত্যাবর্তনকারী। আপনার ওপর যে পরীক্ষা আপতিত হয়েছে তা কতই না বিশাল এবং আপনার প্রতি যা ঠেলে দেওয়া হয়েছে তা কতই না ভয়াবহ। ইরাকবাসী, ওহে ইরাকবাসী! তাদের মধ্যে মর্যাদার দিক থেকে আপনার কাছে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ সেই ব্যক্তি, যার কাছে আপনার কোনো ব্যক্তিগত প্রয়োজন নেই এবং যাকে ছাড়া আপনি অমুখাপেক্ষীও নন। সুতরাং যে...

(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হাফস উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৭৩)
بعثت من عمالك الى الْعرَاق فانهه نهيا شَدِيدا شَبِيها بالعقوبة عَن أَخذ الاموال وَسَفك الدِّمَاء الا بِحَقِّهَا المَال المَال يَا عمر وَالدَّم فانه لَا نجاة لَك من هول جَهَنَّم من عَامل بلغك ظلمه ثمَّ لم تغيره وانه من بعثت من عمالك أَن يعملوا بِمَعْصِيَة الله وَأَن يحكموا بِشُبْهَة وَأَن يحتكروا على الْمُسلمين بيعا فانك ان اجترأت على ذَلِك أَتَى بك يَوْم الْقِيَامَة ذليلا صَغِيرا وان تجنبت عَنهُ عرفت رَاحَته فِي سَمعك وبصرك وقلبك كتبت تَسْأَلنِي أَن أبْعث اليك بكتب عمر وبقضائه فِي أهل الْقبْلَة وَفِي أهل الْعَهْد وان عمر رضي الله عنه عمل فِي غير زَمَانك وَعمل بِغَيْر رجالك وانك ان عملت فِي زَمَانك على النَّحْو الَّذِي عمل فِيهِ عمر بن الْخطاب فِي زَمَانه بعد الَّذِي قد رَأَيْت وبلوت رَجَوْت ان تكون أفضل عِنْد الله منزله من عمر بن الْخطاب فَقل كَمَا قَالَ العَبْد الصَّالح (وَمَا توفيقي الا بِاللَّه عَلَيْهِ توكلت واليه أنيب)

أخبرنَا مُحَمَّد قَالَ حَدثنَا أَبُو الْقَاسِم عبد الله بن مُحَمَّد بن عبد الْعَزِيز الْبَغَوِيّ قَالَ حَدثنَا عبيد الله بن مُحَمَّد العيشي قَالَ حَدثنَا ابو الْمِقْدَام هِشَام بن زِيَاد قَالَ حَدثنَا مُحَمَّد بن كَعْب الْقرظِيّ قَالَ عهِدت عمر بن عبد الْعَزِيز وَهُوَ أَمِير علينا بِالْمَدِينَةِ للوليد بن عبد الملك
আপনি আপনার কর্মচারীদের মধ্যে যাদের ইরাকে পাঠিয়েছেন, তাদেরকে সম্পদ গ্রহণ এবং রক্তপাত থেকে কঠোরভাবে—যা শাস্তির সমরূপ—নিষেধ করুন, তবে তা যদি যথাযথ হকের ভিত্তিতে হয় (তা স্বতন্ত্র)। হে ওমর! সম্পদ ও রক্তের ব্যাপারে সাবধান! কেননা, কোনো কর্মচারীর জুলুমের সংবাদ আপনার কাছে পৌঁছানোর পর আপনি যদি তা পরিবর্তন না করেন, তবে জাহান্নামের ভয়াবহতা থেকে আপনার নিস্তার নেই। আর আপনার পক্ষ থেকে প্রেরিত কর্মচারীরা যেন আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত না হয়, সন্দেহের বশবর্তী হয়ে বিচার না করে এবং মুসলিমদের কেনা-বেচায় মজুতদারি বা একচেটিয়া কারবার না করে। আপনি যদি এসবে ধৃষ্টতা দেখান, তবে কিয়ামতের দিন আপনাকে লাঞ্ছিত ও তুচ্ছ অবস্থায় উপস্থিত করা হবে। আর যদি আপনি এসব থেকে বেঁচে থাকেন, তবে তার প্রশান্তি আপনি আপনার শ্রবণ, দৃষ্টি ও অন্তরে অনুভব করবেন। আপনি আমাকে লিখেছিলেন যেন আমি আপনার কাছে ওমরের (ইবনুল খাত্তাব) চিঠিপত্র এবং কিবলার অনুসারী ও চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমদের বিষয়ে তাঁর দেওয়া বিচারিক সিদ্ধান্তসমূহ পাঠাই। অথচ ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আপনার সময় থেকে ভিন্ন এক সময়ে কাজ করেছেন এবং আপনার লোকদের থেকে ভিন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করেছেন। আপনি যা দেখেছেন ও অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন তার পর, আপনি যদি আপনার সময়ে ঠিক সেই পদ্ধতিতে আমল করেন যেভাবে ওমর ইবনুল খাত্তাব তাঁর সময়ে করেছিলেন, তবে আমি আশা করি আল্লাহর নিকট আপনার মর্যাদা ওমর ইবনুল খাত্তাবের চেয়েও উচ্চতর হবে। অতএব আপনি তা-ই বলুন যা নেককার বান্দা বলেছিলেন: "আমার তাওফিক কেবল আল্লাহর সাহায্যেই; আমি তাঁরই ওপর ভরসা করেছি এবং তাঁরই দিকে আমি প্রত্যাবর্তন করি।"

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবুল কাসিম আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল আজীজ আল-বাগাবী, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন উবায়দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-আইশি, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবুল মিকদাম হিশাম ইবনে জিয়াদ, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে কাব আল-কুরাজি। তিনি বলেন, আমি ওমর ইবনে আবদুল আজীজকে দেখেছি যখন তিনি ওয়ালিদ ইবনে আবদুল মালিকের পক্ষ থেকে আমাদের মদিনার আমির ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হাফস উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৭৪)
وَهُوَ شَاب غليظ ممتلىء الْجِسْم فَلَمَّا اسْتخْلف أَتَيْته بخناصرة فَدخلت عَلَيْهِ وَقد قاسى مَا قاسى فاذا هُوَ قد تَغَيَّرت حَاله عَمَّا كَانَ فَجعلت أنظر اليه نظرا لَا أكاد أصرف بَصرِي عَنهُ فَقَالَ انك لتنظر الي نظرا مَا كنت تنظره الي من قبل يَا ابْن كَعْب قلت تعجبني يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ قَالَ وَمَا عجبك قلت لما حَال من لونك وَنفى من شعرك وَنحل من جسمك قَالَ فَكيف لَو رَأَيْتنِي يَا ابْن كَعْب فِي قَبْرِي بعد ثالثه حِين تقع حدقتي على وجنتي ويسيل منخري وفمي صديدا ودودا كنت لي أَشد نكرَة ثمَّ قَالَ أعد عَليّ حَدِيثا حدثتنيه عَن ابْن عَبَّاس قلت نعم حَدثنَا ابْن عَبَّاس أَن أشرف الْمجَالِس مَا اسْتقْبل بِهِ الْقبْلَة وانما تجالسون بالأمانة وَلَا

তিনি ছিলেন একজন স্থূলকায় ও সুঠাম দেহের যুবক। অতঃপর যখন তিনি খলিফা নিযুক্ত হলেন, আমি খুনাছিরায় তাঁর নিকট আসলাম। আমি তাঁর নিকট প্রবেশ করলাম এবং তিনি যা সহ্য করার তা সহ্য করছিলেন। তখন দেখা গেল যে, তাঁর অবস্থা পূর্বের তুলনায় সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়ে গেছে। আমি তাঁর দিকে এমনভাবে তাকাতে লাগলাম যে, আমি প্রায় আমার দৃষ্টি তাঁর থেকে সরাতেই পারছিলাম না। তিনি বললেন, "হে ইবনে কাব! তুমি আমার দিকে এমনভাবে তাকাচ্ছ যেভাবে আগে কখনো তাকাতে না।" আমি বললাম, "হে আমিরুল মুমিনিন! আপনার অবস্থা আমাকে বিস্মিত করছে।" তিনি বললেন, "তোমার বিস্ময়ের কারণ কী?" আমি বললাম, "আপনার গায়ের রঙের পরিবর্তন, চুলের ঝরে পড়া এবং শরীরের শীর্ণতা দেখে।" তিনি বললেন, "হে ইবনে কাব! তখন তোমার কেমন লাগবে যদি তুমি আমাকে আমার কবরে তিন দিন পর দেখতে পেতে? যখন আমার চোখের মণি দুটি গালের উপর খসে পড়বে এবং আমার নাক ও মুখ দিয়ে পুঁজ ও পোকা বের হতে থাকবে; তখন তুমি আমাকে এর চেয়েও বেশি অপছন্দ করতে।" তারপর তিনি বললেন, "তুমি ইবনে আব্বাস থেকে আমার কাছে যে হাদিসটি বর্ণনা করেছিলে, তা পুনরায় শোনাও।" আমি বললাম, "হ্যাঁ, ইবনে আব্বাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, মজলিসসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম হলো সেটি যা কেবলার দিকে মুখ করে বসা হয়। আর তোমরা আমানতের শর্তেই একে অপরের সাথে বসো, আর..."

(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হাফস উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৭৫)
تصلوا خلف النَّائِم والمحدث واقتلوا الْحَيَّة وَالْعَقْرَب وان كُنْتُم فِي صَلَاتكُمْ وَلَا تستروا الْجِدَار بالثياب وَمن نظر فِي كتاب أَخِيه بِغَيْر اذنه فانما ينظر فِي النَّار وَمن أحب أَن يكون أكْرم النَّاس فليتق الله وَمن أحب أَن يكون أغنيا لناس فَلْيَكُن بِمَا فِي يَد الله عز وجل أوثق مِنْهُ بِمَا فِي يَده

أخبرنَا مُحَمَّد قَالَ حَدثنَا عمر بن أَيُّوب السَّقطِي قَالَ ثَنَا أَبُو همام قَالَ حَدثنَا عبد الله بن بكر قَالَ حَدثنِي شيخ من بني سليم أَن عمر بن عبد العزيز كَانَ عِنْده هِشَام بن مصاد قَالَ عبد الله بن بكر أَحْسبهُ كَانَا يتحدثان فَذكر عمر شَيْئا فَبكى فَأَتَاهُ مَوْلَاهُ مُزَاحم فَقَالَ ان مُحَمَّد بن كَعْب الْقرظِيّ بِالْبَابِ فَقَالَ أدخلهُ فَدخل وَعمر يمسح عَيْنَيْهِ من الدُّمُوع فَقَالَ لَهُ مُحَمَّد بن كَعْب مَا أبكاك يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ فَقَالَ هِشَام بن مصاد أبكاه كَذَا وَكَذَا فَقَالَ مُحَمَّد يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ انما الدُّنْيَا سوق من الاسواق مِنْهَا خرج النَّاس بِمَا يَنْفَعهُمْ وَمِنْهَا خَرجُوا بِمَا ضرهم وَكم من قوم قد غرهم مِنْهَا مثل الَّذِي أَصْبَحْنَا حَتَّى أَتَاهُم الْمَوْت فاستوعبهم فَخَرجُوا مِنْهَا ملومين لم يَأْخُذُوا لما أَحبُّوا من الاخرة عدَّة وَلَا لما كَرهُوا جنَّة واقتسم مَا جمعُوا
তোমরা ঘুমন্ত ব্যক্তি ও অপবিত্র ব্যক্তির পিছনে সালাত আদায় করো না। তোমরা সাপ ও বিচ্ছু হত্যা করো, যদিও তোমরা সালাতের মধ্যে থাকো। তোমরা দেয়ালকে কাপড় দিয়ে আবৃত করো না। যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের অনুমতি ছাড়া তার কিতাবের দিকে তাকালো, সে মূলত আগুনের দিকেই তাকালো। যে ব্যক্তি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত হতে চায়, সে যেন আল্লাহকে ভয় করে। আর যে ব্যক্তি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে ধনী হতে চায়, সে যেন তার নিজের হাতে যা আছে তার চেয়ে আল্লাহর হাতে যা আছে তার ওপর অধিক আস্থাশীল হয়।

মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, উমর ইবনে আইয়ুব আস-সাকতি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু হাম্মাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে বকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, বনু সুলাইম গোত্রের একজন শায়খ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, উমর ইবনে আবদুল আজিজের নিকট হিশাম ইবনে মুসাদ উপস্থিত ছিলেন। আবদুল্লাহ ইবনে বকর বলেন: আমার ধারণা তারা কথা বলছিলেন, অতঃপর উমর কোনো একটি বিষয় উল্লেখ করে কেঁদে ফেললেন। তখন তাঁর মুক্তদাস মুজাহিম এসে বললেন: মুহাম্মদ ইবনে কাব আল-কুরাজি দরজায় উপস্থিত। তিনি বললেন: তাকে ভেতরে আসতে দাও। তিনি প্রবেশ করলেন এমতাবস্থায় যে, উমর তাঁর চোখ থেকে অশ্রু মুছছিলেন। মুহাম্মদ ইবনে কাব তাঁকে বললেন: হে আমিরুল মুমিনিন! কিসে আপনাকে কাঁদালো? হিশাম ইবনে মুসাদ বললেন: অমুক অমুক বিষয় তাঁকে কাঁদিয়েছে। তখন মুহাম্মদ বললেন: হে আমিরুল মুমিনিন! এই দুনিয়া তো বাজারগুলোর মধ্যে একটি বাজার মাত্র; এখান থেকে মানুষ তা নিয়ে বের হয় যা তাদের উপকারে আসে এবং এখান থেকে তারা তা নিয়ে বের হয় যা তাদের ক্ষতি করে। কত সম্প্রদায় এই দুনিয়া দ্বারা সেভাবেই প্রতারিত হয়েছে যেমন অবস্থায় আমরা আজ সকালে উপনীত হয়েছি, শেষ পর্যন্ত মৃত্যু তাদের নিকট এসে তাদের সকলকে গ্রাস করে নিয়েছে। ফলে তারা দুনিয়া থেকে নিন্দিত অবস্থায় প্রস্থান করেছে; তারা পরকালের যা ভালোবাসত তার জন্য কোনো পাথেয় সংগ্রহ করেনি এবং যা তারা অপছন্দ করত তার বিরুদ্ধে কোনো ঢাল গ্রহণ করেনি, আর তারা যা জমা করেছিল তা বণ্টিত হয়ে গেল।
(খণ্ড: ১) আখবারু আবী হাফস উমর বিন আব্দুল আযীয (পৃষ্ঠা: ৭৬)
من لم يحمدهم وصاروا الى من لايعذرهم فَنحْن محقوقون يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ أَن تنظر الى تِلْكَ الاعمال الَّتِي تغبطهم بهَا فتخلفهم فِيهَا وَتنظر الى تِلْكَ الاعمال الَّتِي لَا تغبطهم بهَا فتخلفهم فِيهَا وَتنظر الى تِلْكَ الاعمال الَّتِي تتخوف عَلَيْهِم مِنْهَا فتكف عَنْهَا فَاتق الله يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ وَافْتَحْ الابواب وَسَهل الْحجاب وانصر الْمَظْلُوم ورد الظَّالِم ثمَّ قَالَ ثَلَاث من كن فِيهِ اسْتكْمل بِهن الايمان بِاللَّه عز وجل من اذا رَضِي لم يدْخلهُ رِضَاهُ فِي الْبَاطِل واذا غضب لم يُخرجهُ غَضَبه من الْحق واذا قدر لم يتَنَاوَل مَا لَيْسَ لَهُ

أخبرنَا مُحَمَّد قَالَ حَدثنَا ابو عبيد مُحَمَّد بن مخلد الْعَطَّار قَالَ حَدثنَا أَحْمد بن زُهَيْر بن حَرْب النَّسَائِيّ قَالَ حَدثنَا يحيى بن معِين قَالَ حَدثنَا خَالِد بن حَيَّان عَن جَعْفَر - يَعْنِي ابْن برْقَان وقرأت من سلمَان - عَن مَيْمُون بن مهْرَان قَالَ ان الله عز وجل كَانَ يتَعَاهَد النَّاس بِنَبِي بعد نَبِي وان الله عز وجل تعاهد النَّاس بعمر بن عبد العزيز
যারা তাদের প্রশংসা করেনি এবং তারা এমন একজনের নিকট চলে গেছেন যিনি তাদের অজুহাত গ্রহণ করবেন না। হে আমিরুল মুমিনীন! আমাদের এই অধিকার রয়েছে যে, আপনি সেই সব কার্যাবলীর দিকে লক্ষ্য করবেন যেগুলোর কারণে আপনি তাদের ঈর্ষা করেন, ফলে আপনি সেগুলোতে তাদের স্থলাভিষিক্ত হবেন; এবং আপনি সেই সব আমলের দিকে লক্ষ্য করবেন যেগুলোর কারণে আপনি তাদের ঈর্ষা করেন না, ফলে আপনি সেগুলোতে তাদের অনুসরণ বর্জন করবেন; আর আপনি সেই সব আমলের দিকে লক্ষ্য করবেন যেগুলোর কারণে আপনি তাদের ব্যাপারে আশঙ্কা বোধ করেন, ফলে আপনি তা থেকে বিরত থাকবেন। সুতরাং হে আমিরুল মুমিনীন! আপনি আল্লাহকে ভয় করুন, দ্বারসমূহ উন্মুক্ত করে দিন, অন্তরায়গুলো সহজতর করুন, মজলুমকে সাহায্য করুন এবং জালেমকে প্রতিহত করুন। এরপর তিনি বললেন: তিনটি গুণ যার মাঝে বিদ্যমান থাকবে, তার মাধ্যমে মহান আল্লাহর প্রতি তার ঈমান পূর্ণতা লাভ করবে: যে ব্যক্তি সন্তুষ্ট হলে তার সন্তুষ্টি তাকে মিথ্যায় প্রবিষ্ট করায় না, যখন সে রাগান্বিত হয় তখন তার ক্রোধ তাকে সত্য থেকে বের করে দেয় না, আর যখন সে ক্ষমতাবান হয় তখন সে এমন কিছু গ্রহণ করে না যা তার (অধিকারভুক্ত) নয়।

মুহাম্মাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু উবাইদ মুহাম্মাদ ইবনে মাখলাদ আল-আত্তার আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে জুহাইর ইবনে হারব আন-নাসায়ী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: খালিদ ইবনে হাইয়ান জাফর থেকে—অর্থাৎ ইবনে বারকান, আর আমি সালমানের নিকট থেকে পাঠ করেছি—তিনি মায়মুন ইবনে মিহরান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ একের পর এক নবী প্রেরণের মাধ্যমে মানুষের দেখাশোনা করতেন, আর নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ উমর ইবনে আব্দুল আজিজের মাধ্যমে মানুষের দেখাশোনা করেছেন।