(খণ্ড: ১) আত-তামহীদ ওয়াল বায়ান ফী মাকতালিশ শাহীদ উসমান (পৃষ্ঠা: -)
التمهيد والبيان في مقتل الشهيد عثمان   (المالقي، أبو عبد الله)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: التمهيد والبيان في مقتل الشهيد عثمان

المؤلف: أبو عبد الله محمد بن يحيى بن محمد بن يحيى بن أحمد بن محمد بن بكر الأشعري المالقي الأندلسي (ت 741هـ)

المحقق: د. محمود يوسف زايد

الناشر: دار الثقافة - الدوحة - قطر

الطبعة: الأولى، 1405

عدد الصفحات: 240

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

শহিদ উসমানের হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে ভূমিকা ও বর্ণনা   (আল-মালাকি, আবু আব্দুল্লাহ)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরবিন্যাস


বই: শহিদ উসমানের হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে ভূমিকা ও বর্ণনা

লেখক: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন বকর আল-আশআরি আল-মালাকি আল-আন্দালুসি (মৃত্যু ৭৪১ হিজরি)

সম্পাদক: ড. মাহমুদ ইউসুফ যায়েদ

প্রকাশক: দারুস সাকাফাহ - দোহা - কাতার

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৫

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪০

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আত-তামহীদ ওয়াল বায়ান ফী মাকতালিশ শাহীদ উসমান (পৃষ্ঠা: ١٧)
مُقَدّمَة الْمُؤلف

رب يسر بعونك. الْحَمد لله رب الْعَالمين، وَصلى الله على مُحَمَّد خَاتم النَّبِيين، وعَلى آله الطيبين الطاهرين، وعَلى أَصْحَابه المنتخبين، وأزواجه الطاهرات أُمَّهَات الْمُؤمنِينَ، وَسلم تَسْلِيمًا كثيرا.

أما بعد فَهَذَا كتاب أذكر فِيهِ مصرع الإِمَام الشَّهِيد ذِي النورين عُثْمَان بن عَفَّان وأحواله وَبَعض سيرته متوخيا الْعدْل فِي ذَلِك من غير ميل وتعصب، بل اذكر مَا نَقله الْأَئِمَّة الْعلمَاء فِي كتبهمْ وتواريخهم مثل طَبَقَات أبي عبد الله مُحَمَّد بن سعد، وَكتاب الْفتُوح لسيف بن عمر التَّمِيمِي، وَكتاب الشَّرِيعَة لأبي بكر مُحَمَّد بن الْحُسَيْن الْآجُرِيّ، وَكتاب المقتل لعمر بن شبة النميري، وَكتاب التَّارِيخ للشَّيْخ [عز الدّين عَليّ بن مُحَمَّد بن] عبد الْكَرِيم الْمَعْرُوف بِابْن الْأَثِير الْجَزرِي، وَغَيرهم من أَصْحَاب الْكتب الْمَشْهُورَة الموثوق بِصِحَّتِهَا. وَمن الله تَعَالَى، أَسْتَمدّ المعونة فِيمَا أقصده، فَهُوَ حسبي وَنعم الْوَكِيل.

وَقد جعلته اثْنَي عشر بَابا:

الْبَاب الأول: فِي ذكر نسبه وَأَوْلَاده وأزواجه.
লেখকের ভূমিকা

হে প্রতিপালক, আপনার সাহায্যে সহজ করে দিন। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আল্লাহর রহমত ও অফুরন্ত শান্তি বর্ষিত হোক সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পরিবারবর্গ, তাঁর মনোনীত সাহাবীগণ এবং মুমিনদের জননী তাঁর পবিত্র স্ত্রীগণের ওপর।

অতঃপর, এটি এমন একটি গ্রন্থ যাতে আমি শহীদ ইমাম যুন-নুরাইন উসমান ইবনে আফফানের শাহাদাত বরণ, তাঁর অবস্থা এবং তাঁর জীবনীর কিছু অংশ উল্লেখ করব। এই বর্ণনায় আমি কোনো বিচ্যুতি বা গোঁড়ামি পরিহার করে ইনসাফ বজায় রাখার চেষ্টা করেছি; বরং আইম্মায়ে কিরাম ও ওলামায়ে কিরাম তাঁদের কিতাব ও ইতিহাস গ্রন্থে যা বর্ণনা করেছেন আমি কেবল তাই উল্লেখ করেছি। যেমন—আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে সা’দের ‘তাবাকাত’, সাইফ ইবনে উমর আত-তামিমির ‘কিতাবুল ফুতুহ’, আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন আল-আজুররির ‘কিতাবশ শারিয়াহ’, উমর ইবনে শাব্বাহ আন-নুমায়রির ‘কিতাবুল মাকতাল’ এবং শায়খ [ইজ্জুদ্দীন আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে] আব্দুল কারীম—যিনি ইবনুল আসীর আল-জাযারি নামে পরিচিত—তাঁর ‘কিতাবুত তারিখ’ ও অন্যান্য নির্ভরযোগ্য ও প্রসিদ্ধ গ্রন্থকারদের কিতাবসমূহ। আমি আমার উদ্দিষ্ট বিষয়ে মহান আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি, তিনি আমার জন্য যথেষ্ট এবং কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক!

আমি একে বারোটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি:

প্রথম অধ্যায়: তাঁর বংশপরিচয়, সন্তানাদি এবং স্ত্রীদের বর্ণনায়।
(খণ্ড: ১) আত-তামহীদ ওয়াল বায়ান ফী মাকতালিশ শাহীদ উসমান (পৃষ্ঠা: ١٨)
الْبَاب الثَّانِي: فِي ذكر إِسْلَامه وهجرته.

الْبَاب الثَّالِث: فِي ذكر بيعَته وقصة الشورى.

الْبَاب الرَّابِع: فِي ذكر الْخَوْض فِي أمره وَمَا نقموه عَلَيْهِ. من الْأُمُور الَّتِي حدثت فِي خِلَافَته.

الْبَاب الْخَامِس: فِي ذكر من سَار إِلَيْهِ وحصره.

الْبَاب السَّادِس: فِي ذكر مَا قيل لَهُ فِي الْخلْع وَمَا قَالَ لَهُم.

الْبَاب السَّابِع: فِي ذكر قَتله وَمَوْضِع قَبره.

الْبَاب الثَّامِن: فِي مبلغ سنة وخلافته.

الْبَاب التَّاسِع: فِي ذكر صفته ولباسه.

الْبَاب الْعَاشِر /: فِي ذكر سيرته وفضائله.

الْبَاب الْحَادِي عشر: فِي ذكر مَا رثي بِهِ من الْأَشْعَار.

الْبَاب الثَّانِي عشر: فِي ذكر الْأَخْذ بثأره. وَالله الْمُوفق للصَّوَاب.
দ্বিতীয় অধ্যায়: তাঁর ইসলাম গ্রহণ ও হিজরতের বর্ণনায়।

তৃতীয় অধ্যায়: তাঁর বাইয়াত ও শুরার ঘটনার বর্ণনায়।

চতুর্থ অধ্যায়: তাঁর বিষয়াবলী নিয়ে আলোচনা এবং তাঁর খিলাফতকালে সংঘটিত যেসব বিষয়ে তারা তাঁর সমালোচনা করেছিল, সেগুলোর বর্ণনায়।

পঞ্চম অধ্যায়: যারা তাঁর দিকে অগ্রসর হয়েছিল এবং তাঁকে অবরুদ্ধ করেছিল, তাদের বর্ণনায়।

ষষ্ঠ অধ্যায়: পদত্যাগ সম্পর্কে তাঁকে যা বলা হয়েছিল এবং তিনি তাদের যা বলেছিলেন, তার বর্ণনায়।

সপ্তম অধ্যায়: তাঁর শাহাদাত ও কবরের স্থানের বর্ণনায়।

অষ্টম অধ্যায়: তাঁর বয়স ও খিলাফতের সময়কাল প্রসঙ্গে।

নবম অধ্যায়: তাঁর শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও পোশাক-পরিচ্ছদের বর্ণনায়।

দশম অধ্যায়: তাঁর জীবনী ও গুণাবলীর বর্ণনায়।

একাদশ অধ্যায়: তাঁর শোকগাথা হিসেবে রচিত কবিতাগুলোর বর্ণনায়।

দ্বাদশ অধ্যায়: তাঁর হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণ প্রসঙ্গে। আর আল্লাহই সঠিক পথের তাওফীকদাতা।
(খণ্ড: ১) আত-তামহীদ ওয়াল বায়ান ফী মাকতালিশ শাহীদ উসমান (পৃষ্ঠা: ١)
= التَّمْهِيد وَالْبَيَان فِي مقتل الشَّهِيد عُثْمَان
শহীদ উসমানের শাহাদাত প্রসঙ্গে ভূমিকা ও সুস্পষ্ট বর্ণনা
(খণ্ড: ১) আত-তামহীদ ওয়াল বায়ান ফী মাকতালিশ শাহীদ উসমান (পৃষ্ঠা: ١٩)
‌‌الْبَاب الأول

فِي ذكر نسبه وَأَوْلَاده وأزواجه هُوَ عُثْمَان بن عَفَّان بن أبي الْعَاصِ بن أُميَّة بن عبد شمس بن عبد منَاف بن قصي ويلتقي نسبه بِنسَب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي عبد منَاف وَأمه أروى بنت كريز بن ربيعَة بن حبيب بن عبد شمس بن عبد منَاف بن قصي وَكَانَ يكنى فِي الْجَاهِلِيَّة أَبَا عَمْرو فَلَمَّا ولد لَهُ من رقية بنت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم غُلَام سَمَّاهُ عبد الله وإكتنى بِهِ فكناه الْمُسلمُونَ أَبَا عبد الله فَبلغ عبد الله سِتّ سِنِين فنقره ديك على عينه فَمَرض فَمَاتَ فِي جُمَادَى الأولى سنة أَربع من الْهِجْرَة فصلى عَلَيْهِ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم

وَكَانَ لعُثْمَان رضي الله عنه من غير رقية عبد الله الْأَصْغَر درج وَأمه فاخته بنت غَزوَان وَعمر وخَالِد وَأَبَان وَعمر وَمَرْيَم وأمهم أم عَمْرو بنت جُنْدُب بن عَمْرو والوليد بن عُثْمَان وَسَعِيد وَأم سعيد وأمهم فَاطِمَة بنت الْوَلِيد بن عبد شمس وَعبد الْملك بن عُثْمَان درج وَأمه أم الْبَنِينَ بنت عُيَيْنَة بن حصن وَعَائِشَة بنت عُثْمَان وَأم أبان وَأم عَمْرو وأمهن رَملَة بنت
প্রথম পরিচ্ছেদ

তাঁর বংশপরিচয়, তাঁর সন্তানসন্ততি এবং তাঁর স্ত্রীদের বর্ণনায়। তিনি হলেন উসমান ইবনে আফফান ইবনে আবিল আস ইবনে উমাইয়া ইবনে আবদু শামস ইবনে আবদু মানাফ ইবনে কুসাই। আবদু মানাফের স্তরে তাঁর বংশলতিকা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশলতিকার সাথে মিলিত হয়েছে। তাঁর মাতা ছিলেন আরওয়া বিনতে কুরাইয ইবনে রাবিআ ইবনে হাবিব ইবনে আবদু শামস ইবনে আবদু মানাফ ইবনে কুসাই। জাহেলি যুগে তাঁর ডাকনাম (কুনিয়াত) ছিল আবু আমর। অতঃপর যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা রুকাইয়াহ-এর গর্ভে তাঁর এক পুত্রসন্তান জন্মাল, তিনি তার নাম রাখলেন আবদুল্লাহ এবং তার নামানুসারেই নিজের ডাকনাম গ্রহণ করলেন। ফলে মুসলিমগণ তাঁকে আবু আবদুল্লাহ বলে ডাকতেন। আবদুল্লাহর বয়স যখন ছয় বছর হলো, তখন একটি মোরগ তাঁর চোখে ঠোকর দেয়, ফলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং হিজরি চতুর্থ সনের জুমাদাল উলা মাসে ইন্তেকাল করেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জানাজার নামাজ পড়ান।

রুকাইয়াহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) ছাড়াও উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ‘আবদুল্লাহ আল-আসগর’ (ছোট আবদুল্লাহ) নামে এক পুত্র ছিল যে অল্প বয়সেই মারা যায়; তার মাতা ছিলেন ফাখতাহ বিনতে গাজওয়ান। আরও ছিলেন আমর, খালিদ, আবান, উমর এবং মারিয়াম; তাঁদের মাতা ছিলেন উম্মু আমর বিনতে জুনদুব ইবনে আমর। আরও ছিলেন ওয়ালিদ ইবনে উসমান, সাঈদ এবং উম্মু সাঈদ; তাঁদের মাতা ছিলেন ফাতিমা বিনতে ওয়ালিদ ইবনে আবদু শামস। আরও ছিলেন আবদুল মালিক ইবনে উসমান, সে-ও অল্প বয়সেই মারা যায়; তার মাতা ছিলেন উম্মু আল-বানীন বিনতে উয়াইনাহ ইবনে হিসন। এবং আয়েশা বিনতে উসমান, উম্মু আবান ও উম্মু আমর; তাঁদের মাতা ছিলেন রামলা বিনতে...
(খণ্ড: ১) আত-তামহীদ ওয়াল বায়ান ফী মাকতালিশ শাহীদ উসমান (পৃষ্ঠা: ٢٠)
شيبَة وَمَرْيَم بنت عُثْمَان وَأمّهَا نائلة بنت الفرافضة بن الْأَحْوَص وَأم الْبَنِينَ بنت عُثْمَان وَأمّهَا أم ولد وَهِي الَّتِي كَانَت عِنْد عبد الله بن يزِيد بن أبي سُفْيَان

وَتزَوج رقية بنت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَكَانَ قد تزَوجهَا عتبَة بن أبي لَهب قبل النُّبُوَّة فَلَمَّا بعث رسولالله صلى الله عليه وسلم وَأنزل الله تَعَالَى {تبت يدا أبي لَهب} قَالَ لَهُ أَبوهُ أَبُو لَهب رَأْسِي من رَأسك حرَام إِن لم تطلق إبنته ففارقها وَلم يكن دخل بهَا وَأسْلمت حِين أسلمت أمهَا خَدِيجَة وبايعت هِيَ وَأَخَوَاتهَا فَتَزَوجهَا عُثْمَان رض = وَهَاجَرت مَعَه إِلَى أَرض الْحَبَشَة

وَلما توفيت رقية تزوج عُثْمَان أُخْتهَا أم كُلْثُوم وَكَانَ تزَوجهَا عتيبة بن أبي لَهب قبل النُّبُوَّة وفارقها وَلم يدْخل بهَا وَلم تزل مَعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَأسْلمت مَعَ أمهَا خَدِيجَة وبايعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَتَزَوجهَا عُثْمَان رض = وَهِي بكر وَدخل بهَا فِي جُمَادَى الْآخِرَة من سنة ثَلَاث من الْهِجْرَة فَلم تزل عِنْده إِلَى أَن توفيت فِي شعْبَان من سنة سبع من الْهِجْرَة وَلم تَلد لَهُ شَيْئا وَكَانَ صَدَاقهَا خَمْسمِائَة دِرْهَم وَكَذَلِكَ صدَاق جَمِيع بَنَات النَّبِي صلى الله عليه وسلم قيل أَنه لم يجمع أحد بَين بِنْتي نَبِي من لدن ادم إِلَى يَوْم الْقِيَامَة غير عُثْمَان رض = وروى أَبُو بكر الْآجُرِيّ فِي = كتاب الشَّرِيعَة بِإِسْنَادِهِ عَن أبي عبد الرحمان الْكُوفِي قَالَ قَالَ لي حسن بن عَليّ الْجعْفِيّ يَا أَبَا عبد الرحمان لم سمي عُثْمَان بن عَفَّان ذَا النورين قلت وَالله لَا أَدْرِي قَالَ لم يجمع بَين ابْنَتي نَبِي إِلَّا عُثْمَان رض = ولهذه فَضِيلَة اكرمه الله بهَا مَعَ الكرامات الْكَثِيرَة والمناقب الْحَسَنَة الجميلة وَبشَارَة النَّبِي صلى الله عليه وسلم لَهُ بِشَهَادَة وانه يقتل مَظْلُوما وَأمره لَهُ بِالصبرِ فَصَبر رض = حَتَّى قتل وحقن دماءالمسلمين
শায়বা এবং উসমানের কন্যা মারইয়াম, যার মা ছিলেন নায়েলা বিনতে আল-ফুরাফিসা ইবন আল-আহওয়াস। এবং উসমানের কন্যা উম্মুল বানিন, যার মা ছিলেন উম্মে ওয়ালাদ (দাসী-মা), এবং তিনি সেই নারী যিনি আবদুল্লাহ ইবন ইয়াযিদ ইবন আবি সুফিয়ানের স্ত্রী ছিলেন।

তিনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কন্যা রুকাইয়াকে বিবাহ করেন। নবুওয়াতের পূর্বে আবু লাহাবের পুত্র উতবা তাকে বিবাহ করেছিল। অতঃপর যখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রেরিত হলেন এবং আল্লাহ তাআলা "আবু লাহাবের হস্তদ্বয় ধ্বংস হোক" অবতীর্ণ করলেন, তখন তার পিতা আবু লাহাব তাকে বলল: "যদি তুমি তার কন্যাকে তালাক না দাও, তবে তোমার সাথে আমার সম্পর্ক ছিন্ন হবে।" ফলে সে তাকে ত্যাগ করল এবং তাদের মাঝে বাসর সম্পন্ন হয়নি। তিনি (রুকাইয়া) তার মা খাদিজার ইসলাম গ্রহণের সময় ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তিনি ও তার বোনেরা বাইয়াত গ্রহণ করেন। এরপর উসমান (রা.) তাকে বিবাহ করেন এবং তিনি তার সাথে হাবাশা (আবিসিনিয়া) অভিমুখে হিজরত করেন।

যখন রুকাইয়া ইন্তেকাল করলেন, তখন উসমান তার বোন উম্মে কুলসুমকে বিবাহ করেন। নবুওয়াতের পূর্বে আবু লাহাবের পুত্র উতাইবা তাকে বিবাহ করেছিল এবং সে তাকে ত্যাগ করেছিল, তাদের মাঝেও বাসর সম্পন্ন হয়নি। তিনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথেই ছিলেন এবং তার মা খাদিজার সাথে ইসলাম গ্রহণ করেন ও আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে বাইয়াত হন। অতঃপর উসমান (রা.) তাকে কুমারী অবস্থায় বিবাহ করেন এবং হিজরি তৃতীয় সনের জমাদিউল আখিরা মাসে তাদের বাসর সম্পন্ন হয়। তিনি হিজরি সপ্তম সনের শাবান মাসে ইন্তেকাল করা পর্যন্ত তার স্ত্রী হিসেবেই ছিলেন। তিনি কোনো সন্তান জন্ম দেননি। তার মোহরানা ছিল পাঁচশত দিরহাম, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সকল কন্যার মোহরানা ছিল। বলা হয়ে থাকে যে, আদম থেকে কিয়ামত পর্যন্ত উসমান (রা.) ব্যতীত আর কেউ কোনো নবীর দুই কন্যাকে (বিবাহে) একত্র করার সৌভাগ্য লাভ করেননি। আবু বকর আল-আজুররি তার 'কিতাবুশ শারিয়াহ' গ্রন্থে স্বীয় সনদে আবু আবদুর রহমান আল-কুফি থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: হাসান ইবন আলি আল-জুফি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, "হে আবু আবদুর রহমান! কেন উসমান ইবন আফফানকে 'যুন নুরাইন' (দুই জ্যোতির অধিকারী) বলা হয়?" আমি বললাম, "আল্লাহর কসম, আমি জানি না।" তিনি বললেন, "উসমান (রা.) ব্যতীত আর কেউ কোনো নবীর দুই কন্যাকে (বিবাহে) একত্র করেননি। এটি একটি বিশেষ মর্যাদা যার মাধ্যমে আল্লাহ তাকে সম্মানিত করেছেন, সাথে রয়েছে তার অসংখ্য কারামত এবং সুন্দর ও চমৎকার গুণাবলি। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে শাহাদাতের সুসংবাদ দিয়েছিলেন এবং জানিয়েছিলেন যে তিনি মজলুম হিসেবে নিহত হবেন, আর তাকে ধৈর্য ধারণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। ফলে তিনি (রা.) ধৈর্য ধারণ করেন এবং মুসলিমদের রক্ত রক্ষা করার তরে শহীদ হন।"
(খণ্ড: ১) আত-তামহীদ ওয়াল বায়ান ফী মাকতালিশ শাহীদ উসমান (পৃষ্ঠা: ٢١)
‌‌الْبَاب الثَّانِي

فِي ذكرإسلامه وهجرته رض =

قَالَ ابْن سعد أخبرنَا مُحَمَّد بن عمر قَالَ حَدثنِي مُحَمَّد بن صَالح عَن يزِيد بن رُومَان قَالَ خرج عُثْمَان بن عَفَّان وَطَلْحَة بن عبيد الله على أثر الزبير بن الْعَوام رضي الله عنهم فدخلا على رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَعرض عَلَيْهِمَا الْإِسْلَام وَقَرَأَ عَلَيْهِمَا الْقُرْآن وأنبأهما بِحُقُوق الْإِسْلَام ووعدهما الْكَرَامَة من الله فَآمَنا وصدقا فَقَالَ عُثْمَان رض = يَا رَسُول الله إِنِّي قدمت حَدِيثا من الشَّام فَلَمَّا كُنَّا بَين معَان والزرقاء فَنحْن كالنيام إِذا مُنَاد ينادينا أَيهَا النيام هبوا فَأن أَحْمد قد خرج بِمَكَّة فقدمنا فسمعنا بك وَكَانَ إِسْلَام عُثْمَان رض = قَدِيما قبل دُخُول رَسُول الله صلى الله عليه وسلم دَار الأرقم

قَالَ واخبرنا مُحَمَّد بن عمر قَالَ حَدثنِي مُوسَى بن مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم بن حَارِث التَّمِيمِي عَن أَبِيه قَالَ لما أسلم عُثْمَان بن عَفَّان رض = أَخذ عَمه الحكم بن أبي الْعَاصِ بن أُميَّة فأوثقه رِبَاطًا وَقَالَ أترغب عَن مِلَّة آبَائِك إِلَى دين مُحدث وَالله لأحلك أبدا حَتَّى تدع مَا أَنْت عَلَيْهِ من هَذَا الدّين فَقَالَ عُثْمَان رض = وَالله لَا أَدَعهُ أبدا وَلَا أفارقه فَلَمَّا رأى الحكم
দ্বিতীয় অধ্যায়

তাঁর ইসলাম গ্রহণ ও হিজরতের বর্ণনা প্রসঙ্গে (রাদিয়াল্লাহু আনহু)

ইবনে সাদ বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন উমর। তিনি বলেন, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন সালিহ, ইয়াজিদ বিন রুমান থেকে। তিনি বলেন, উসমান বিন আফফান ও তালহা বিন উবায়দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) যুবাইর বিন আওয়াম (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর পদাঙ্ক অনুসরণ করে বের হলেন। অতঃপর তাঁরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হলেন। তিনি তাঁদের নিকট ইসলাম পেশ করলেন, তাঁদের সামনে কুরআন তিলাওয়াত করলেন, তাঁদের ইসলামের হকসমূহ সম্পর্কে অবহিত করলেন এবং তাঁদের আল্লাহর পক্ষ থেকে মর্যাদার প্রতিশ্রুতি দিলেন। ফলে তাঁরা ঈমান আনলেন এবং সত্য বলে সাক্ষ্য দিলেন। উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আমি সম্প্রতি শাম থেকে আসছিলাম। যখন আমরা মাআন ও যারকার মধ্যবর্তী স্থানে ছিলাম এবং আমরা তন্দ্রাচ্ছন্ন ছিলাম, তখন হঠাৎ এক ঘোষক আমাদের ডাক দিয়ে বললেন: হে ঘুমন্ত ব্যক্তিরা, জেগে ওঠো! কেননা মক্কায় আহমাদ আত্মপ্রকাশ করেছেন। এরপর আমরা পৌঁছালাম এবং আপনার সম্পর্কে শুনতে পেলাম।" আর উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ইসলাম গ্রহণ ছিল অত্যন্ত প্রাচীন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দারুল আরকামে প্রবেশের পূর্বেই।

তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন উমর। তিনি বলেন, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন মুসা বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন হারিস আত-তামিমি, তাঁর পিতা থেকে। তিনি বলেন, যখন উসমান বিন আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ইসলাম গ্রহণ করলেন, তখন তাঁর চাচা হাকাম বিন আবিল আস বিন উমাইয়্যা তাঁকে পাকড়াও করলেন এবং শক্ত করে বাঁধলেন। তিনি বললেন, "তুমি কি তোমার বাপ-দাদার ধর্ম ত্যাগ করে এক নতুন ধর্মের প্রতি আসক্ত হয়েছ? আল্লাহর কসম! আমি তোমাকে কখনই মুক্ত করব না যতক্ষণ না তুমি তোমার এই বর্তমান ধর্ম ত্যাগ করো।" উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, "আল্লাহর কসম! আমি কখনই তা ত্যাগ করব না এবং তা থেকে বিচ্যুত হব না।" যখন হাকাম দেখলেন
(খণ্ড: ১) আত-তামহীদ ওয়াল বায়ান ফী মাকতালিশ শাহীদ উসমান (পৃষ্ঠা: ٢٢)
صلابته فِي دينه تَركه

قَالُوا وَكَانَ عُثْمَان رض = الله عَنهُ مِمَّن هَاجر من مَكَّة إِلَى أَرض الْحَبَشَة الْهِجْرَة الأولى والهج الثَّانِيَة وَمَعَهُ فيهمَا جَمِيعًا امْرَأَته رقية بنت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم انهما لأوّل من هَاجر إِلَى الله بعد لوط عليه السلام

وَلما قدم عُثْمَان الْمَدِينَة نزل على أَوْس بنت ثَابت أخي حسان بن ثَابت من بني النجار وَلما اقْطَعْ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم الدّور بِالْمَدِينَةِ خطّ لعُثْمَان بن عَفَّان رض = الله عَلَيْهِ دارة وَلما آخى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بَين الصَّحَابَة آخى بَين عُثْمَان بن عَفا وَبَين عبد الرحمان بن عَوْف رضي الله عنهما وآخى أَيْضا بَين عُثْمَان وَبَين أَوْس بن ثَابت رضي الله عنهما وَيُقَال بَين أبي عبَادَة سعد بن عُثْمَان الزرقي وَالله أعلم 0
দ্বীনের ওপর তাঁর অটলতা এবং তাঁর ত্যাগ।

বর্ণনাকারীগণ বলেন যে, উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা মক্কা থেকে হাবাশা অভিমুখে প্রথম ও দ্বিতীয় হিজরত সম্পন্ন করেছিলেন। এই উভয় হিজরতেই তাঁর সাথে তাঁর স্ত্রী এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কন্যা রুকাইয়্যাহ ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “লুত (আলাইহিস সালাম)-এর পর আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হিজরতকারী প্রথম দম্পতি হলেন তাঁরা।”

উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যখন মদীনায় আগমন করলেন, তখন তিনি বনী নাজ্জার গোত্রের হাসসান বিন সাবিতের ভাই আওস বিন সাবিতের নিকট অবস্থান করেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন মদীনায় ঘরবাড়ি বণ্টন করেন, তখন তিনি উসমান বিন আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর জন্য একটি ঘরের সীমানা নির্ধারণ করে দেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন সাহাবীগণের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করেন, তখন তিনি উসমান বিন আফফান ও আব্দুর রহমান বিন আউফ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন তৈরি করেন। এও বলা হয়ে থাকে যে, এই ভ্রাতৃত্ব উসমান ও আওস বিন সাবিত (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মধ্যে ছিল, অথবা আবু উবাদাহ সা’দ বিন উসমান আল-জুরকী-এর সাথে ছিল। আর আল্লাহই সর্বাধিক পরিজ্ঞাত।
(খণ্ড: ১) আত-তামহীদ ওয়াল বায়ান ফী মাকতালিশ শাহীদ উসমান (পৃষ্ঠা: ٢٣)
‌‌الْبَاب الثَّالِث

فِي كَيْفيَّة بيعَته وقصة الشورى

قَالَ ابْن سعد أخبرنَا مُحَمَّد بن عمر قَالَ حَدثنِي شُرَحْبِيل بن أبي عون عَن أَبِيه عَن الْمسور بن مخرمَة قَالَ إِن عمر بن الْخطاب رض = هُوَ صَحِيح يسْأَل أَن يسْتَخْلف فيأبى فَصَعدَ يَوْمًا الْمِنْبَر فَتكلم بِكَلِمَات وَقَالَ إِن مت فأمركم إِلَى هَؤُلَاءِ السِّتَّة الَّذين فارقوا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَهُوَ عَنْهُم رَاض عَليّ بن أبي طَالب وَنَظِيره الزبير بن الْعَوام وَعبد الرحمان بن عَوْف وَنَظِيره عُثْمَان بن عَفَّان وَطَلْحَة بن عبيد الله وَنَظِيره سعد بن مَالك الا واني أوصيكم بتقوى الله فِي الحكم وَالْعدْل فِي الْقسم

1 -‌‌ ذكر مقتل عمر رض = وَحَدِيث الشورى

عَن عَمْرو بن مَيْمُون قَالَ اني لقائم فِي الْمَسْجِد مَا بيني وَبَين عمر بن الْخطاب رض = إِلَّا عبد الله بن عَبَّاس رضي الله عنهما غَدَاة أُصِيب وَكَانَ إِذا مر بَين الصفين قَالَ اسْتَووا حَتَّى إِذا لم ير فيهم خللا تقدم وَكبر وَرُبمَا قَرَأَ سُورَة يُوسُف أَو النَّحْل أَو نَحْو ذَلِك فِي الرَّكْعَة الأولى حَتَّى يجْتَمع النَّاس
তৃতীয় পরিচ্ছেদ

তাঁর বায়আত গ্রহণের পদ্ধতি এবং পরামর্শ সভার (শুরা) ঘটনা প্রসঙ্গে

ইবনে সাদ বলেন, মুহাম্মদ বিন উমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, শুরাহবিল বিন আবি আউন তাঁর পিতা থেকে, তিনি মিসওয়ার বিন মাখরামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সুস্থ থাকা অবস্থায় তাঁর কাছে উত্তরসূরি মনোনীত করার আবেদন জানানো হলে তিনি তা অস্বীকার করেন। অতঃপর একদিন তিনি মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং কিছু কথা বললেন। তিনি বললেন, "যদি আমি মারা যাই, তবে তোমাদের বিষয়টি (নেতৃত্ব) এই ছয় ব্যক্তির ওপর ন্যস্ত থাকবে, যাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পৃথিবী ত্যাগ করেছেন। তাঁরা হলেন: আলী বিন আবি তালিব ও তাঁর সমমর্যাদাবান জুবায়ের বিন আওয়াম, আবদুর রহমান বিন আউফ ও তাঁর সমমর্যাদাবান উসমান বিন আফফান এবং তালহা বিন উবায়দুল্লাহ ও তাঁর সমমর্যাদাবান সাদ বিন মালিক। জেনে রেখো, আমি তোমাদেরকে বিচারের ক্ষেত্রে আল্লাহকে ভয় করার এবং বণ্টনের ক্ষেত্রে ইনসাফ করার অসিয়ত করছি।"

১ -‌‌উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর শাহাদাত এবং পরামর্শ সভা (শুরা) সংক্রান্ত বর্ণনা

আমর বিন মাইমুন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যেদিন আক্রান্ত হলেন, সেদিন সকালে আমি মসজিদে দণ্ডায়মান ছিলাম এবং আমার ও তাঁর মাঝখানে কেবল আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) ছিলেন। তিনি যখন কাতারসমূহের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করতেন, তখন বলতেন, 'আপনারা সোজা হয়ে দাঁড়ান।' যখন তিনি কাতারসমূহের মধ্যে কোনো ফাঁক দেখতে পেতেন না, তখন সামনে অগ্রসর হতেন এবং তাকবির বলতেন। তিনি কখনো কখনো প্রথম রাকাতে সূরা ইউসুফ বা সূরা নাহল অথবা অনুরূপ সূরা তিলাওয়াত করতেন যাতে মানুষ জামাতে একত্রিত হতে পারে।"
(খণ্ড: ১) আত-তামহীদ ওয়াল বায়ান ফী মাকতালিশ শাহীদ উসমান (পৃষ্ঠা: ٢٤)
فَمَا هُوَ الا ان كبر فَسَمعته يَقُول قتلني أَو أكلني الْكَلْب حِين طعنه فَسَار العلج بسكين ذَات طرفين مَا يمر بِرَجُل يَمِينا وَلَا شمالا إِلَّا طعنه حَتَّى طعن ثَلَاثَة عشر رجلا مَاتَ مِنْهُم سَبْعَة قَالَ فَلَمَّا رأى ذَلِك رجل من الْمُسلمين طرح عَلَيْهِ برنسا فَلَمَّا ظن العلج أَنه مَأْخُوذ نحور نَفسه وَتَنَاول عمر يَد عبد الرَّحْمَن بن عَوْف فقدمه فَمن يَلِي عمر فقد رأى الَّذِي أرى وَأما نواحي الْمَسْجِد فَإِنَّهُم لَا يَدْرُونَ غير أَنهم فقدوا صَوت عمر وهم يَقُولُونَ سُبْحَانَ الله سُبْحَانَ ألله فصلى بهم عبد الرحمان بن عَوْف صَلَاة خَفِيفَة فَلَمَّا انصرفوا قَالَ يَا ابْن عَبَّاس انْظُر من قتلني فجال سَاعَة ثمَّ جَاءَ فَقَالَ غُلَام الْمُغيرَة قَالَ الصنع قَالَ نعم قَالَ قَاتله الله وَالله لقد أمرت بِهِ مَعْرُوفا الْحَد لله الَّذِي لم يَجْعَل ميتتي بيد رجل يَدعِي الْإِسْلَام ثمَّ قَالَ لإبن عَبَّاس وَقد كنت أَنْت وَأَبُوك تحبان أَن تكْثر العلوج بِالْمَدِينَةِ وَكَانَ عَبَّاس أَكْثَرهم رَقِيقا فَقَالَ ان شِئْت فعلت أَي ان شِئْت قتلنَا قَالَ كذبت بعد مَا تكلمُوا وصلوا قبلتكم وحجوا حَجكُمْ فَاحْتمل إِلَى بَيته فَانْطَلَقْنَا مَعَه وَكَأن النَّاس لم تصبهم مُصِيبَة قبل يَوْمئِذٍ فَقَائِل يَقُول لَا بَأْس وَقَائِل يَقُول أَخَاف عَلَيْهِ فَدَعَا بنبيذ فشربه فَخرج من جَوْفه ثمَّ دَعَا بِلَبن فشربه فَخرج من جرحه فَعَلمُوا أَنه ميت فَدَخَلْنَا عَلَيْهِ وَجَاء النَّاس يثنون عَلَيْهِ وَجَاء رجل شَاب فَقَالَ أبشر يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ ببشرى الله لَك من صُحْبَة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَقدم فِي الْإِسْلَام مَا قد علمت ثمَّ وليت فعدلت ثمَّ شَهَادَة قَالَ وددت أَن ذَلِك كفاف لَا عَليّ وَلَا لي فَلَمَّا أدبر إِذا إزَاره يمس الأَرْض قَالَ ردوا عَليّ الْغُلَام قَالَ ابْن آخى ارْفَعْ ثَوْبك فَإِنَّهُ أبقى لثوبك وَأتقى لِرَبِّك يَا عبد الله بن عمر انْظُر مَا عَليّ من الدّين فحسبوه فوجدوه سِتَّة وَثَمَانِينَ ألفا أَو نَحوه قَالَ إِن وفى لَهُ مَال آل عمر

তিনি তাকবির বলার পরপরই আমি তাঁকে বলতে শুনলাম, ‘কুকুরটি আমাকে হত্যা করেছে’ বা ‘আমাকে খেয়ে ফেলেছে’, যখন সে তাঁকে আঘাত করল। এরপর সেই অমুসলিম যুবকটি একটি দু-ধারী ছুরি নিয়ে ডানে ও বামে যার পাশ দিয়েই যাচ্ছিল তাকেই আঘাত করতে লাগল। এভাবে সে তেরোজন লোককে আঘাত করল, যাদের মধ্যে সাতজন মৃত্যুবরণ করেন। বর্ণনাকারী বলেন, যখন মুসলমানদের মধ্য থেকে একজন লোক এটি দেখলেন, তিনি তার ওপর একটি বড় চাদর ছুড়ে দিলেন। যখন সেই অমুসলিম যুবকটি বুঝতে পারল যে সে ধরা পড়ে যাচ্ছে, তখন সে নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যা করল। উমর (রা.) আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.)-এর হাত ধরলেন এবং তাঁকে (নামাজ পড়ানোর জন্য) সামনে এগিয়ে দিলেন। যারা উমরের কাছাকাছি ছিল তারা সেটি দেখতে পেল যা আমি দেখেছিলাম, কিন্তু মসজিদের অন্য প্রান্তের লোকেরা কিছুই বুঝতে পারছিল না; তারা কেবল উমরের কণ্ঠস্বর শুনতে না পেয়ে ‘সুবহানাল্লাহ, সুবহানাল্লাহ’ বলছিল। অতঃপর আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) তাঁদের নিয়ে সংক্ষেপে নামাজ পড়ালেন। নামাজ শেষ হলে উমর (রা.) বললেন, হে ইবনে আব্বাস! দেখো তো কে আমাকে আঘাত করেছে। তিনি কিছুক্ষণ খোঁজ নিয়ে এসে বললেন, মুগিরার গোলাম। উমর (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, সেই কারিগর যুবকটি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। উমর (রা.) বললেন, আল্লাহ তাকে ধ্বংস করুন, আল্লাহর কসম আমি তো তার প্রতি সদয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলাম। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমার মৃত্যু এমন কোনো ব্যক্তির হাতে নির্ধারণ করেননি যে নিজেকে মুসলিম বলে দাবি করে। এরপর তিনি ইবনে আব্বাসকে বললেন, তুমি এবং তোমার পিতা মদিনায় অমুসলিম গোলামদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া পছন্দ করতে। আর আব্বাসের কাছেই সবচেয়ে বেশি গোলাম ছিল। ইবনে আব্বাস বললেন, আপনি চাইলে আমরা তাদের হত্যা করব। উমর (রা.) বললেন, তুমি ভুল বলছ, বিশেষ করে যখন তারা তোমাদের ভাষায় কথা বলছে, তোমাদের কিবলার দিকে মুখ করে নামাজ পড়ছে এবং তোমাদের মতোই হজ পালন করছে। অতঃপর তাঁকে বহন করে তাঁর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হলো এবং আমরাও তাঁর সঙ্গে চললাম। মানুষের অবস্থা এমন ছিল যেন এর আগে তাদের ওপর আর কোনো বিপদ আসেনি। কেউ বলছিল, ভয়ের কিছু নেই, আবার কেউ বলছিল, আমি তাঁর ব্যাপারে অত্যন্ত আশঙ্কা করছি। এরপর তিনি নাবিয চাইলেন এবং তা পান করলেন, কিন্তু তা তাঁর পেট দিয়ে বেরিয়ে এল। এরপর তিনি দুধ চাইলেন এবং তা পান করলেন, সেটিও তাঁর ক্ষতস্থান দিয়ে বেরিয়ে এল। তখন উপস্থিত সকলে নিশ্চিত হলেন যে তিনি মৃত্যুবরণ করবেন। আমরা তাঁর কাছে প্রবেশ করলাম এবং লোকেরা এসে তাঁর প্রশংসা করতে লাগল। এক যুবক এসে বলল, হে আমিরুল মুমিনীন! আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনার জন্য সুসংবাদ গ্রহণ করুন; আপনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহচর্য লাভ করেছেন এবং ইসলামে আপনার যে সুমহান মর্যাদা তা তো আপনি জানেনই। এরপর আপনি শাসনভার গ্রহণ করে ন্যায়বিচার করেছেন এবং পরিশেষে শাহাদাত লাভ করছেন। উমর (রা.) বললেন, আমি কামনা করি যে এসব যদি সমান সমান হতো—আমার কোনো পাওনাও থাকত না আবার কোনো দায়ও থাকত না। যুবকটি যখন ফিরে যাচ্ছিল, দেখা গেল তার কাপড় মাটি স্পর্শ করছে। উমর (রা.) বললেন, যুবকটিকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনো। তিনি বললেন, হে ভাতিজা! তোমার কাপড় উপরে তোলো, কারণ এটি তোমার কাপড়ের জন্য অধিক স্থায়িত্বশীল এবং তোমার রবের প্রতি অধিক তাকওয়াপূর্ণ। হে আবদুল্লাহ ইবনে উমর! দেখো আমার ওপর কত ঋণ রয়েছে। তারা হিসাব করে দেখল যে তা ছিয়াশি হাজার বা এর কাছাকাছি। তিনি বললেন, যদি উমরের পরিবারের সম্পদ দিয়ে তা পরিশোধ করা সম্ভব হয় (তবে তা করো)।

(খণ্ড: ১) আত-তামহীদ ওয়াল বায়ান ফী মাকতালিশ শাহীদ উসমান (পৃষ্ঠা: ٢٥)
فأده من أَمْوَالهم وَإِلَّا فسل فِي بني عدي بن كَعْب فَإِن لم تفي أَمْوَالهم فسل فِي قُرَيْش وَلَا تعدهم إِلَى غَيرهم فأد عني هَذَا المَال انْطلق إِلَى عَائِشَة أم الْمُؤمنِينَ فَقل يقْرَأ عَلَيْك عمر السَّلَام وَلَا تقل أَمِير الْمُؤمنِينَ فَإِنِّي لست الْيَوْم للْمُؤْمِنين أَمِيرا وَقل يسْتَأْذن عمر بن الْخطاب ان يدْفن مَعَ صَاحِبيهِ فَسلم وَاسْتَأْذَنَ ثمَّ دخل عَلَيْهَا فَوَجَدَهَا قَاعِدَة تبْكي فَقَالَ يقْرَأ عَلَيْك عمر بن الْخطاب السَّلَام ويستأذن ان يدْفن مَعَ صَاحِبيهِ فَقَالَت كنت أريده لنَفْسي ولأوثرن بِهِ الْيَوْم على نَفسِي فَلَمَّا أقبل قيل هَذَا عبد الله بن عمر قد جَاءَ قَالَ ارفعوني فأسنده رجل إِلَيْهِ فَقَالَ مَا لديك قَالَ الَّذِي تحب يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ أَذِنت قَالَ الْحَمد لله مَا كَانَ من شَيْء أهم إِلَيّ من ذَلِك فَإِذا أَنا قضيت فاحملوني ثمَّ سلم فَقل يسْتَأْذن عمر بن الْخطاب فَإِن أَذِنت لي فأدخلوني وَإِن ردتني ردوني إِلَى مَقَابِر الْمُسلمين وَجَاءَت أم الْمُؤمنِينَ حَفْصَة وَالنِّسَاء تسير مَعهَا فَلَمَّا رأيناها قمنا فولجت عَلَيْهِ فَبَكَتْ عِنْده سَاعَة وَاسْتَأْذَنَ الرِّجَال فولجت دَاخِلا لَهُم فسمعنا بكاءها من الدَّاخِل فَقَالُوا أوص يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ اسْتخْلف قَالَ مَا أجد أَحَق بِهَذَا الْأَمر من هَؤُلَاءِ النَّفر أَو الرَّهْط الَّذين توفّي رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَهُوَ عَنْهُم رَاض فَسمى عليا وَعُثْمَان وَالزُّبَيْر وَطَلْحَة وسعدا وَعبد الرَّحْمَن وَقَالَ يشهدكم عبد الله بن عمر وَلَيْسَ لَهُ من الْأَمر شَيْء كَهَيئَةِ التَّعْزِيَة لَهُ فَإِن أَصَابَت الإمرة سَعْدا فَهُوَ ذَاك وَإِلَّا فليستعن بِهِ أَيّكُم مَا أَمر فَإِنِّي لم أعزله عَن عجز وَلَا خِيَانَة ثمَّ قَالَ أوصِي الْخَلِيفَة من بعدِي بالمهاجرين الْأَوَّلين ان يعرف لَهُم حَقهم ويحفظ لَهُم حرمتهم وأوصيه بالأنصار خيرا الَّذين تبوؤا الدَّار وَالْإِيمَان من قبلهم ان يقبل من محسنهم وان يعفوا عَن مسيئهم وأوصيه بِأَهْل الْأَمْصَار خيرا فَإِنَّهُم ردء الْإِسْلَام وجباة المَال وغيظ الْعَدو والا يُؤْخَذ مِنْهُم إِلَّا فَضلهمْ عَن رضاهم وأوصيه بالأعراب خيرا فَإِنَّهُم أصل الْعَرَب ومادة الْإِسْلَام ان يُؤْخَذ من حَوَاشِي أَمْوَالهم وَيرد على فقرائهم وأوصيه بِذِمَّة الله وَذمَّة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَن يُوفي لَهُم بعدهمْ وَأَن يُقَاتل من ورائهم وَألا يكلفوا إِلَّا طاقتهم فَلَمَّا قبض خرجنَا بِهِ فَانْطَلَقْنَا نمشي فَسلم

তাহলে তাদের (পরিবারের) সম্পদ থেকে তা পরিশোধ করো। যদি তাতে সংকুলান না হয়, তবে বনু আদি বিন কাব গোত্রের কাছে সাহায্য চাও। যদি তাদের সম্পদও পর্যাপ্ত না হয়, তবে কুরাইশদের কাছে চাও এবং তাদের বাইরে অন্য কারো কাছে যেয়ো না। আমার পক্ষ থেকে এই ঋণ পরিশোধ করে দিও। এরপর উম্মুল মুমিনীন আয়েশার কাছে যাও এবং বলো যে, উমর আপনাকে সালাম জানিয়েছেন। তবে ‘আমীরুল মুমিনীন’ বলবে না, কারণ আজ আমি মুমিনদের আমীর নই। আর বলো যে, উমর বিন খাত্তাব তাঁর দুই সঙ্গীর পাশে সমাহিত হওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করছেন। অতঃপর সে (আবদুল্লাহ বিন উমর) সালাম দিয়ে অনুমতি প্রার্থনা করল এবং তাঁর কাছে প্রবেশ করল। সে তাঁকে উপবিষ্ট অবস্থায় রন্দনরত দেখতে পেল। সে বলল: উমর বিন খাত্তাব আপনাকে সালাম জানিয়েছেন এবং তাঁর দুই সঙ্গীর সাথে সমাহিত হওয়ার অনুমতি চেয়েছেন। আয়েশা (রা.) বললেন: আমি স্থানটি নিজের জন্য চেয়েছিলাম, তবে আজ আমি নিজের ওপর তাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছি। যখন সে ফিরে এল, তখন বলা হলো— এই যে আবদুল্লাহ বিন উমর এসেছেন। উমর (রা.) বললেন: আমাকে একটু তুলে ধরো। তখন এক ব্যক্তি তাকে নিজের সাথে ঠেস দিয়ে ধরলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তোমার খবর কী? সে বলল: হে আমীরুল মুমিনীন! যা আপনি পছন্দ করেন (অর্থাৎ অনুমতি পাওয়া গেছে)। তিনি বললেন: আলহামদুলিল্লাহ, এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমার কাছে আর কিছুই ছিল না। যখন আমার মৃত্যু হবে, তখন তোমরা আমাকে বহন করে নিয়ে যেয়ো এবং পুনরায় সালাম দিয়ে বোলো— উমর বিন খাত্তাব অনুমতি প্রার্থনা করছেন। যদি তিনি আমাকে অনুমতি দেন, তবে আমাকে সেখানে দাফন করো; আর যদি তিনি আমাকে ফিরিয়ে দেন, তবে আমাকে সাধারণ মুসলিমদের কবরস্থানে ফিরিয়ে নিয়ে যেয়ো। এমতাবস্থায় উম্মুল মুমিনীন হাফসা এবং তাঁর সাথে অন্য মহিলারা এগিয়ে এলেন। যখন আমরা তাঁদের দেখলাম, তখন আমরা দাঁড়িয়ে গেলাম। তিনি উমরের কাছে প্রবেশ করলেন এবং কিছুক্ষণ সেখানে কাঁদলেন। এরপর পুরুষরা ভেতরে আসার অনুমতি চাইলে তিনি ভেতরের কামরায় চলে গেলেন। আমরা ভেতর থেকে তাঁর কান্নার শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। লোকজন বলল: হে আমীরুল মুমিনীন! ওসিয়ত করুন এবং কাউকে স্থলাভিষিক্ত করুন। তিনি বললেন: আমি এই খিলাফতের বিষয়ের জন্য ওই ব্যক্তিদের চেয়ে অধিক হকদার আর কাউকে দেখছি না, যাদের ওপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্তুষ্ট থাকা অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। এরপর তিনি আলী, উসমান, যুবাইর, তালহা, সা’দ এবং আব্দুর রহমানের নাম নিলেন। আর বললেন: আবদুল্লাহ বিন উমর তোমাদের সাথে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত থাকবে, তবে খিলাফতের বিষয়ে তার কোনো অংশ থাকবে না— এটি কেবল তার প্রতি সান্ত্বনাস্বরূপ। যদি নেতৃত্বের দায়িত্ব সা’দ পায়, তবে তো ভালো; অন্যথায় তোমাদের মধ্য থেকে যে-ই আমীর নিযুক্ত হোক না কেন, সে যেন তাঁর (সা’দ) সাহায্য গ্রহণ করে। কেননা আমি তাঁকে কোনো অক্ষমতা বা খিয়ানতের কারণে অপসারণ করিনি। এরপর তিনি বললেন: আমি আমার পরবর্তী খলিফাকে প্রথম যুগের মুহাজিরদের ব্যাপারে ওসিয়ত করছি যেন তিনি তাদের অধিকার রক্ষা করেন এবং তাদের মর্যাদা বজায় রাখেন। আর আমি তাকে আনসারদের ব্যাপারে কল্যাণের ওসিয়ত করছি— যারা এই জনপদে আগে থেকেই বসবাস করেছে এবং ঈমান এনেছে; তিনি যেন তাদের সৎকর্মশীলদের মূল্যায়ন করেন এবং তাদের ত্রুটিবিচ্যুতি ক্ষমা করে দেন। আমি তাকে বিভিন্ন অঞ্চলের অধিবাসীদের ব্যাপারে কল্যাণের ওসিয়ত করছি, কারণ তারা ইসলামের শক্তি, সম্পদের সংগ্রাহক এবং শত্রুর জন্য ক্ষোভের কারণ; তাদের সন্তুষ্টি ছাড়া তাদের থেকে যেন অতিরিক্ত কিছু গ্রহণ করা না হয়। আর আমি তাকে মরুবাসী আরবদের ব্যাপারেও মঙ্গলের ওসিয়ত করছি, কেননা তারা আরবদের মূল ভিত্তি এবং ইসলামের রসদ; তাদের উদ্বৃত্ত সম্পদ থেকে যেন (যাকাত) গ্রহণ করা হয় এবং তা তাদেরই অভাবীদের মাঝে বণ্টন করা হয়। আমি তাকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সালল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জিম্মায় থাকা অমুসলিমদের (জিম্মি) ব্যাপারে ওসিয়ত করছি, যেন তাদের সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করা হয়, তাদের নিরাপত্তার জন্য লড়াই করা হয় এবং তাদের ক্ষমতার অতীত কোনো কাজের ভার যেন তাদের ওপর চাপানো না হয়। অতঃপর যখন তাঁর মৃত্যু হলো, তখন আমরা তাঁকে নিয়ে বের হলাম এবং পায়ে হেঁটে চলতে থাকলাম এবং সালাম জানালাম।

(খণ্ড: ১) আত-তামহীদ ওয়াল বায়ান ফী মাকতালিশ শাহীদ উসমান (পৃষ্ঠা: ٢٦)
عبد الله بن عمر قَالَ يسْتَأْذن عمر بن الْخطاب قَالَت أدخلوه فَادْخُلْ فَوضع هُنَالك مَعَ صَاحِبيهِ فَلَمَّا فرغ من دَفنه أجتمع هَؤُلَاءِ الرَّهْط فَقَالَ عبد الرَّحْمَن أجعلوا أَمركُم إِلَى ثَلَاثَة مِنْكُم فَقَالَ الزبير قد جعلت أَمْرِي إِلَى عَليّ فَقَالَ طَلْحَة قد جعلت آمري إِلَى عُثْمَان وَقَالَ سعد قد جعلت آمري إِلَى عبد الرَّحْمَن بن عَوْف فَقَالَ عبد الرَّحْمَن آيكما تَبرأ من هَذَا الْأَمر فنجعله إِلَيْهِ وَالله عَلَيْهِ وَالْإِسْلَام لينظرن أفضلهم فِي نَفسه فأسكت الشَّيْخَانِ فَقَالَ عبد الرَّحْمَن أفتجعلونه إِلَيّ وَللَّه عَليّ أَلا آلو عَن أفضلكم قَالَا نعم فَأخذ بيد أَحدهمَا فَقَالَ لَك قرَابَة من رَسُول الله صلى الله عليه وسلم والقدم فِي الْإِسْلَام مَا قد علمت فَالله عَلَيْك لَئِن أَمرتك لتعدلن وَلَئِن امرت عُثْمَان لتسمعن ولتطيعن ثمَّ خلا بِالْآخرِ فَقَالَ لَهُ مثل ذَلِك فَلَمَّا أَخذ الْمِيثَاق قَالَ ارْفَعْ يدك يَا عُثْمَان فَبَايعهُ وَبَايع لَهُ عَليّ وولج أهل الدَّار فَبَايعُوهُ قَالَ ابْن سعد أخبرنَا مُحَمَّد بن عمر قَالَ حَدثنِي الضَّحَّاك بن عُثْمَان بن عبد الْملك بن عبيد عَن عبد الرحمان بن سعد بن يَرْبُوع أَن عمر حِين طعن قَالَ ليصل لكم صُهَيْب ثَلَاثًا وَتَشَاوَرُوا فِي أَمركُم وَالْأَمر إِلَى هَؤُلَاءِ السِّتَّة فَمن بعل أَمركُم فاضربوا عُنُقه يَعْنِي من خالفكم قَالَ أخبرنَا مُحَمَّد بن عمر حَدثنِي مُوسَى عَن إِسْحَاق بن عبد الله بن أبي طَلْحَة عَن أنس بن مَالك قَالَ أرسل عمر بن الْخطاب إِلَى أبي طَلْحَة قبل أَن يَمُوت بساعة فَقَالَ يَا أَبَا طَلْحَة كن فِي خمسين من قَوْمك من الْأَنْصَار مَعَ هَؤُلَاءِ النَّفر أَصْحَاب الشورى فَلَا تتركهم يمْضِي الْيَوْم الثَّالِث حَتَّى يؤمروا أحدهم اللَّهُمَّ أَنْت خليفتي عَلَيْهِم قَالَ حَدثنِي إِسْحَاق بن عبد الله بن أبي طَلْحَة قَالَ أوفى أَبُو طَلْحَة فِي أَصْحَابه سَاعَة قبر عمر فَلَزِمَ أَصْحَاب الشورى فَلَمَّا جعلُوا أَمرهم إِلَى عبد الرحمان بن عَوْف يخْتَار لَهُم مِنْهُم لزم أَبُو طَلْحَة بَاب عبد الرحمان بن

আবদুল্লাহ ইবনে ওমর বললেন, ওমর ইবনুল খাত্তাব অনুমতি চাইলেন। তিনি (আয়েশা) বললেন, তাঁকে প্রবেশ করাও। অতঃপর তাঁকে প্রবেশ করানো হলো এবং সেখানে তাঁর দুই সঙ্গীর সাথে রাখা হলো। যখন তাঁর দাফন কার্য সম্পন্ন হলো, তখন এই দলটি সমবেত হলো। আবদুর রহমান বললেন, ‘আপনারা আপনাদের বিষয়টি আপনাদের মধ্য থেকে তিনজনের ওপর ন্যস্ত করুন।’ জুবাইর বললেন, ‘আমি আমার বিষয়টি আলীর ওপর ন্যস্ত করলাম।’ তালহা বললেন, ‘আমি আমার বিষয়টি উসমানের ওপর ন্যস্ত করলাম।’ আর সাদ বললেন, ‘আমি আমার বিষয়টি আবদুর রহমান ইবনে আউফের ওপর ন্যস্ত করলাম।’ তখন আবদুর রহমান বললেন, ‘আপনাদের দুজনের মধ্যে কে এই দায়িত্ব থেকে দায়মুক্ত হতে চান, যাতে আমরা বিষয়টি তাঁর ওপর ন্যস্ত করতে পারি? আল্লাহ এবং ইসলাম তাঁর ওপর সাক্ষী যে, তিনি অবশ্যই তাঁদের মধ্যে যিনি সর্বোত্তম তাঁর প্রতি লক্ষ্য রাখবেন।’ তখন দুই প্রবীণ ব্যক্তি চুপ থাকলেন। আবদুর রহমান বললেন, ‘তবে কি আপনারা বিষয়টি আমার ওপর ন্যস্ত করছেন? আল্লাহর শপথ, আমি আপনাদের মধ্যে যিনি সর্বোত্তম তাঁকে মনোনীত করতে কোনো ত্রুটি করব না।’ তাঁরা উভয়ে বললেন, ‘হ্যাঁ।’ এরপর তিনি তাঁদের একজনের হাত ধরলেন এবং বললেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আপনার আত্মীয়তা এবং ইসলামের প্রতি আপনার যে অগ্রগামিতা ও মর্যাদা রয়েছে তা তো আপনি জানেনই। সুতরাং আল্লাহর কসম, আমি যদি আপনাকে আমির নিযুক্ত করি তবে আপনি অবশ্যই ইনসাফ করবেন, আর যদি উসমানকে আমির নিযুক্ত করি তবে আপনি অবশ্যই শুনবেন ও আনুগত্য করবেন।’ এরপর তিনি অন্যজনের সাথে একান্তে বসলেন এবং তাঁকে অনুরূপ কথা বললেন। যখন তিনি প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করলেন, তখন বললেন, ‘হে উসমান, আপনার হাত তুলুন।’ অতঃপর তিনি তাঁর নিকট বায়আত গ্রহণ করলেন এবং আলীও তাঁর নিকট বায়আত করলেন। ঘরের লোকজন প্রবেশ করল এবং তাঁরাও তাঁর নিকট বায়আত গ্রহণ করল। ইবনে সাদ বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন ওমর, তিনি বলেন, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন দাহহাক বিন উসমান বিন আব্দুল মালিক বিন উবাইদ, তিনি আবদুর রহমান বিন সাদ বিন ইয়ারবু থেকে বর্ণনা করেন যে, ওমর যখন আঘাতপ্রাপ্ত হলেন, তখন তিনি বললেন, ‘সুহাইব যেন তিন দিন তোমাদের সালাত পরিচালনা করেন। আর তোমরা তোমাদের বিষয়টি নিয়ে পরামর্শ করো। আর দায়িত্ব অর্পিত হলো এই ছয়জনের ওপর। তোমাদের সিদ্ধান্তের পর যে ব্যক্তি অবাধ্য হবে তার গর্দান উড়িয়ে দিয়ো’, অর্থাৎ যে তোমাদের বিরোধিতা করবে। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন ওমর, তিনি বলেন, মুসা আমার কাছে ইসহাক বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি তালহা থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ওমর ইবনুল খাত্তাব তাঁর ইন্তেকালের এক ঘণ্টা আগে আবু তালহার নিকট লোক পাঠালেন এবং বললেন, ‘হে আবু তালহা, আপনি আপনার আনসার সম্প্রদায়ের পঞ্চাশজন লোক নিয়ে এই শুরা সদস্যদের সাথে থাকুন। তৃতীয় দিন অতিবাহিত হওয়ার আগেই তারা যেন তাদের একজনকে আমির নিযুক্ত করে, তার আগে তাদের ছেড়ে দেবেন না। হে আল্লাহ, আপনিই তাদের ওপর আমার উত্তরসূরি।’ ইসহাক বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি তালহা বলেন, ওমরের দাফনের সময় আবু তালহা তাঁর সাথীদের নিয়ে দায়িত্ব পালন করলেন এবং শুরা সদস্যদের সাথেই থাকলেন। যখন তারা তাদের বিষয়টি আবদুর রহমান বিন আউফের ওপর ন্যস্ত করলেন যাতে তিনি তাদের মধ্য থেকে একজনকে নির্বাচন করে দেন, তখন আবু তালহা আবদুর রহমান ইবনে আউফের দরজায় অবস্থান নিলেন...

(খণ্ড: ১) আত-তামহীদ ওয়াল বায়ান ফী মাকতালিশ শাহীদ উসমান (পৃষ্ঠা: ٢٧)
عَوْف بِأَصْحَابِهِ حَتَّى بَايع عُثْمَان قَالَ أخبرنَا مُحَمَّد بن عمر قَالَ حَدثنِي سعيد المكتي عَن سَلمَة بن أبي سَلمَة بن عبد الرحمان عَن أَبِيه قَالَ أول من بَايع لعُثْمَان عبد الرحمان ثمَّ عَليّ بن أبي طَالب قَالَ أخبرنَا مُحَمَّد بن عمر قَالَ حَدثنِي عمر بن عميرَة بن هني مولى عمر بن الْخطاب عَن أَبِيه عَن جده قَالَ أَنا رَأَيْت عليا بَايع عُثْمَان أول النَّاس ثمَّ تتَابع النَّاس فَبَايعُوا قَالَ أخبرنَا مُحَمَّد بن عمر قَالَ حَدثنِي إِسْمَاعِيل بن إِبْرَاهِيم بن عبد الرحمان بن عبد الله بن أبي ربيعَة المَخْزُومِي عَن أَبِيه أَن عُثْمَان لما بُويِعَ خرج إِلَى النَّاس فخطبهم فَحَمدَ الله وَأثْنى عَلَيْهِ ثمَّ قَالَ أَيهَا النَّاس أَن أول مركب صَعب وان بعد الْيَوْم أَيَّامًا وان أعش تأتكم الْخطْبَة على وَجههَا وَمَا كُنَّا خطباء وسيعلمنا الله

قَالُوا بُويِعَ عُثْمَان بن عَفَّان رضي الله عنه يَوْم الأثنين لليلة بقيت من ذِي الْحجَّة سنة ثَلَاث وَعشْرين فَاسْتقْبل بخلافته الْمحرم سنة ارْبَعْ وَعشْرين وَوجه عُثْمَان رض = على الْحَج تِلْكَ السّنة عبد الرحمان بن عَوْف رض = فحج بِالنَّاسِ سنة أَربع وَعشْرين ثمَّ حج عُثْمَان رض = فِي خِلَافَته كلهَا بِالنَّاسِ عشر سِنِين مُتَوَالِيَة إِلَّا السّنة الَّتِي حوصر فِيهَا فَوجه عبد الله بن عَبَّاس رض = على الْحَج فَخرج فحج بِالنَّاسِ

وَعَن أبي وَائِل أَن عبد الله بن مَسْعُود رضي الله عنه سَار من الْمَدِينَة إِلَى الْكُوفَة ثمانيا حِين اسْتخْلف عُثْمَان بن عَفَّان رضي الله عنه فَصَعدَ الْمِنْبَر فَحَمدَ الله وَأثْنى عَلَيْهِ ثمَّ قَالَ أما بعد فَإِن أَمِير الْمُؤمنِينَ عمر بن الْخطاب مَاتَ فَلم نر يَوْمًا أَكثر نشيجا من يَوْمئِذٍ وَأَنا اجْتَمَعنَا أَصْحَاب مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم فَلم نأل عَن خيرنا ذَا فَوق فَبَايعْنَا أَمِير الْمُؤمنِينَ عُثْمَان فَبَايعُوهُ
আউফ তার সাথীদের সাথে ছিলেন যতক্ষণ না তিনি উসমানের হাতে বায়আত গ্রহণ করলেন। তিনি বলেন, মুহাম্মদ বিন উমর আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন, সাঈদ আল-মাক্কি আমার কাছে সালামা বিন আবি সালামা বিন আব্দুল রহমান থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উসমানের হাতে সর্বপ্রথম বায়আত গ্রহণকারী ছিলেন আব্দুল রহমান, এরপর আলী বিন আবি তালিব। তিনি বলেন, মুহাম্মদ বিন উমর আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন, উমর বিন উমায়রা বিন হুনি—যিনি উমর বিন আল-খাত্তাবের মুক্ত দাস ছিলেন—তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আলীকে মানুষের মধ্যে সর্বপ্রথম উসমানের হাতে বায়আত নিতে দেখেছি, এরপর মানুষ পর্যায়ক্রমে বায়আত গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, মুহাম্মদ বিন উমর আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন, ইসমাইল বিন ইব্রাহিম বিন আব্দুল রহমান বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি রাবিয়া আল-মাখজুমি তার পিতা থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, উসমান যখন বায়আতপ্রাপ্ত হলেন, তখন তিনি মানুষের নিকট বের হয়ে তাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করলেন, এরপর বললেন: হে লোকসকল! প্রথম আরোহণ বা পদক্ষেপ কঠিন হয়, আর আজকের দিনের পর আরও বহু দিন রয়েছে। আমি যদি বেঁচে থাকি তবে তোমাদের কাছে যথাযথভাবে ভাষণ নিয়ে আসব। আমরা বাগ্মী ছিলাম না, তবে আল্লাহ আমাদের শিখিয়ে দেবেন।

তারা বলেন: উসমান বিন আফফান (আল্লাহ তার ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর বায়আত সম্পন্ন হয় ২৩ হিজরি সনের জিলহজ মাসের একদিন বাকি থাকতে সোমবার। এরপর ২৪ হিজরি সনের মহররম মাসে তার খিলাফত শুরু হয়। উসমান (আল্লাহ তার ওপর সন্তুষ্ট হোন) সেই বছর হজের জন্য আব্দুল রহমান বিন আউফকে (আল্লাহ তার ওপর সন্তুষ্ট হোন) নিয়োজিত করেন। ফলে তিনি ২৪ হিজরি সনে মানুষের হজের নেতৃত্ব দেন। এরপর উসমান (আল্লাহ তার ওপর সন্তুষ্ট হোন) তার খিলাফতের পুরো সময় জুড়ে একটানা দশ বছর মানুষের হজের ইমামতি করেন, কেবল সেই বছর ব্যতীত যে বছর তাকে অবরুদ্ধ করা হয়েছিল। সে বছর তিনি আব্দুল্লাহ বিন আব্বাসকে (আল্লাহ তার ওপর সন্তুষ্ট হোন) হজের জন্য প্রেরণ করেন, আর তিনি গিয়ে মানুষের হজের নেতৃত্ব দেন।

আবু ওয়ায়েল থেকে বর্ণিত যে, যখন উসমান বিন আফফান (আল্লাহ তার ওপর সন্তুষ্ট হোন) খলিফা নিযুক্ত হন, তখন আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (আল্লাহ তার ওপর সন্তুষ্ট হোন) মদিনা থেকে আট দিনে কুফায় পৌঁছান। তিনি মিম্বরে আরোহণ করে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন, এরপর বললেন: অতপর, নিশ্চয়ই আমিরুল মুমিনীন উমর বিন আল-খাত্তাব ইন্তেকাল করেছেন; সেই দিনের চেয়ে বেশি কান্নার আওয়াজ আমরা আর কখনো দেখিনি। আমরা মুহাম্মদ (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তার ওপর বর্ষিত হোক)-এর সাহাবীগণ সমবেত হয়ে আমাদের মধ্যে যিনি শ্রেষ্ঠ তাকে নির্বাচন করতে কোনো ত্রুটি করিনি। অতএব আমরা আমিরুল মুমিনীন উসমানের হাতে বায়আত নিয়েছি, সুতরাং আপনারাও তার আনুগত্যের শপথ নিন।
(খণ্ড: ১) আত-তামহীদ ওয়াল বায়ান ফী মাকতালিশ শাহীদ উসমান (পৃষ্ঠা: ٢٨)
وَعَن الزُّهْرِيّ قَالَ لما ولي عُثْمَان رضي الله عنه عَاشَ اثْنَتَيْ عشرَة سنة أَمِيرا يعْمل سِتّ سِنِين لَا ينقم النَّاس عَلَيْهِ شَيْئا وَأَنه لأحب إِلَى قُرَيْش من عمر رضي الله عنه لِأَنَّهُ كَانَ شَدِيدا عَلَيْهِم فَلَمَّا وليهم عُثْمَان رضي الله عنه لِأَن لَهُم ووصلهم ثمَّ توانى فِي أَمرهم وَاسْتعْمل أقرباءه وَأهل بَيته فِي السِّت الْأَوَاخِر وَكتب لمروان بِخمْس أفريقية وَأعْطى أقرباءه المَال وَتَأَول فِي ذَلِك الصِّلَة الَّتِي أَمر الله بهَا وَاتخذ الْأَمْوَال واستسلف من بَيت المَال وَقَالَ أَن أَبَا بكر وَعمر رضي الله عنهما تركا من ذَلِك مَا هُوَ لَهما وَأَنِّي أَخَذته فقسمته فِي أقربائي فَأنْكر النَّاس ذَلِك عَلَيْهِ

وروى سيف بن عمر رضي الله عنه عَن عبد الْملك بن جريح عَن نَافِع عَن بن عمر رضي الله عنهما قَالَ قلت لعمر اسْتخْلف مَا تَقول لِرَبِّك إِذا قدمت عَلَيْهِ وَقد تركت أمة مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم لَا راعي لَهَا فَقَالَ إِن أستخلف فقد اسْتخْلف من هُوَ خير مني وَأَن أترك فقد ترك من هُوَ خير مني فَقلت أَرَأَيْت لَو أَن راعيك أَتَاك وَترك غنمك مَا كنت قَائِلا لَهُ فَعِنْدَ ذَلِك جعلهَا شُورَى وَعند ذَلِك قَالَ إِنِّي لأعْلم أَنهم لَا يعدلُونَ بِهَذَيْنِ الرجلَيْن

وروى أَيْضا عَن مُبشر عَن جَابر قَالَ لما طعن عمر رض = عَنهُ شكوا أأصاب أقتابه شَيْء أم لَا فدعى لَهُ بنبيذ فَشرب فَلم يشفهم من علم جراحه حَتَّى دعى لَهُ بِلَبن فَخرج ببياضه مَعَ الدَّم فأوصى فِي خاصته وَجمع الْعَامَّة وَقَالَ يَا أَيهَا النَّاس أَن الْأَمر الْيَوْم فِي أمة مُحَمَّد عليه الصلاة والسلام أَمركُم أَنْتُم شُهُود الْأمة وَأهل الشورى فَمن رَضِيتُمْ بِهِ فقد رَضوا بِهِ وَمن اجْتَمَعْتُمْ عَلَيْهِ فقد أَجمعُوا عَلَيْهِ وَأَن هَذَا الْأَمر لَا يزَال فِيكُم مَا طلبتم بِهِ وَجه الله وَالدَّار الْآخِرَة فَإِذا طلبتم بِهِ الدُّنْيَا وتنازعتم سلبكموه الله وَنَقله عَنْكُم ثمَّ لَا يردهُ عَلَيْكُم أبدا وأنكم أَن تؤمروا فِي حَيَاة مني أَجْدَر أَلا تختلفوا بعدِي هَل
যুহরী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) শাসনভার গ্রহণ করেন, তখন তিনি বারো বছর আমির হিসেবে অতিবাহিত করেন। প্রথম ছয় বছর তিনি এমনভাবে কাজ করেন যে মানুষ তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেনি। তিনি কুরাইশদের নিকট উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর চেয়েও বেশি প্রিয় ছিলেন, কারণ উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাদের প্রতি কঠোর ছিলেন। কিন্তু উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যখন শাসনভার গ্রহণ করেন, তখন তিনি তাদের প্রতি কোমল হন এবং তাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখেন। এরপর শেষ ছয় বছরে তিনি তাদের বিষয়ে কিছুটা শিথিলতা প্রদর্শন করেন এবং তাঁর আত্মীয়-স্বজন ও পরিবারের লোকদের শাসনকাজে নিযুক্ত করেন। তিনি মারওয়ানের জন্য আফ্রিকার গনিমতের পঞ্চমাংশ বরাদ্দ করেন এবং তাঁর আত্মীয়দের সম্পদ দান করেন। তিনি এর ব্যাখ্যায় বলতেন যে, এটি সেই আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা যার নির্দেশ আল্লাহ দিয়েছেন। তিনি সম্পদ গ্রহণ করেন এবং বায়তুল মাল থেকে ঋণ নেন। তিনি বলতেন, আবু বকর ও উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) নিজেদের প্রাপ্য অংশ ছেড়ে দিয়েছিলেন, আর আমি তা গ্রহণ করে আমার আত্মীয়দের মধ্যে বণ্টন করেছি। ফলে মানুষ তাঁর এই কাজের সমালোচনা করে।

সাইফ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আব্দুল মালিক ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি নাফে থেকে এবং তিনি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমি উমরকে বললাম, আপনি কাউকে স্থলাভিষিক্ত করে যান। যখন আপনি আপনার রবের নিকট উপস্থিত হবেন, তখন তাঁকে কী জবাব দেবেন যে, আপনি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উম্মতকে কোনো অভিভাবকহীন অবস্থায় রেখে এসেছেন? তখন তিনি বললেন, যদি আমি কাউকে স্থলাভিষিক্ত করি, তবে আমার চেয়ে উত্তম ব্যক্তি (আবু বকর) স্থলাভিষিক্ত করে গেছেন। আর যদি আমি কাউকে নিযুক্ত না করে যাই, তবে আমার চেয়ে উত্তম ব্যক্তি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্থলাভিষিক্ত করে যাননি। আমি বললাম, আপনি কি ভেবে দেখেছেন, যদি আপনার মেষপালক আপনার নিকট আসে এবং আপনার মেষগুলোকে একাকী ফেলে রেখে আসে, তবে আপনি তাকে কী বলতেন? তখন তিনি বিষয়টি পরামর্শসভার (শুরা) ওপর ছেড়ে দিলেন এবং বললেন, আমি জানি যে তারা এই দুই ব্যক্তিকে (আবু বকর ও উমর) অন্য কারো সাথে সমান মনে করবে না।

মুবাশশির জাবির থেকে আরও বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: যখন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ছুরিকাহত হলেন, তখন তারা সংশয়ে ছিলেন যে তাঁর নাড়িভুঁড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না। তাঁর জন্য নাবীজ আনা হলো এবং তিনি তা পান করলেন। কিন্তু জখমের গভীরতা সম্পর্কে কিছু নিশ্চিত হওয়া গেল না যতক্ষণ না তাঁর জন্য দুধ আনা হলো। সেটি রক্তের সাথে সাদা বর্ণেই বেরিয়ে এলো। তখন তিনি তাঁর ঘনিষ্ঠদের অসিয়ত করলেন এবং সাধারণ মানুষকে সমবেত করে বললেন: হে লোকসকল! আজ মুহাম্মাদ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর উম্মতের শাসনভার তোমাদের হাতে। তোমরাই উম্মতের সাক্ষী এবং পরামর্শসভার সদস্য। তোমরা যার প্রতি সন্তুষ্ট হবে, উম্মতও তার প্রতি সন্তুষ্ট হবে। আর তোমরা যার ওপর ঐক্যবদ্ধ হবে, উম্মতও তার ওপর ঐক্যবদ্ধ হবে। এই শাসনভার ততক্ষণ তোমাদের মাঝেই থাকবে যতক্ষণ তোমরা এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং পরকাল অন্বেষণ করবে। কিন্তু যখন তোমরা এর মাধ্যমে দুনিয়া অন্বেষণ করবে এবং বিবাদে লিপ্ত হবে, তখন আল্লাহ তা তোমাদের থেকে ছিনিয়ে নেবেন এবং তা সরিয়ে দেবেন, এরপর তা আর কখনো তোমাদের নিকট ফিরিয়ে দেবেন না। আর আমার জীবদ্দশায় কাউকে আমির মনোনীত করা তোমাদের জন্য অধিক শ্রেয় যাতে আমার পরে তোমরা মতভেদে লিপ্ত না হও।
(খণ্ড: ১) আত-তামহীদ ওয়াল বায়ান ফী মাকতালিশ শাহীদ উসমান (পৃষ্ঠা: ٢٩)
تعلمُونَ أحدا أَحَق بِهَذَا الْأَمر من هَؤُلَاءِ السِّتَّة النَّفر الَّذين مَاتَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَهُوَ عَنْهُم رَاض قَالُوا لَا قَالَ فَإِنِّي أرى من الرَّأْي ان باعتموني أَن نجْعَل ذَلِك بهم فيؤمروا بَعضهم قَالُوا فقد رَأينَا ذَلِك وجعلناه اليهم فَقَالَ عمر رض = ليصل بكم صُهَيْب ثَلَاثًا وأربعوا على طَلْحَة وَكَانَ بِالشَّام فان جَاءَ جَاءَ وآلا فَلَا تنتظروا بهَا أَكثر من ذَلِك فَإِن إختلفوا فكونوا مَعَ الْأَكْثَر ووكل بهم الْمِقْدَاد بن عَمْرو وَقَالَ إِن لم يجىء طَلْحَة فَابْن عمر مَكَانَهُ وَلَيْسَ لَهُ أَمر فانتظروا بعد عمر رض = ثَلَاثًا فَلَمَّا كَانَ الْيَوْم الثَّالِث جمعهم الْمِقْدَاد إِلَى بَيت عَائِشَة رض = فَقَالَ انْظُرُوا غلى هَذِه الأقبر ثمَّ انْظُرُوا فِي أَمركُم فَقَالَ عبد الرحمان بن عَوْف فَأَيكُمْ يكفينا النّظر وَيخرج نَفسه فَلم يجب أحد فَقَالَ عبد الرحمان أَنا أخرج نَفسِي وإبن عمي سعد بن أبي وَقاص وَأنْظر لكم فَقَالُوا جَمِيعًا نعم فأكفنا ذَلِك فوَاللَّه مَا حملنَا على السكت الضن وَلَكِن الضّيق بهَا فَخرج عبد الرَّحْمَن بن عَوْف رض = فَلم يدع بِالْمَدِينَةِ أحدا من السَّابِقين من الْمُهَاجِرين وَالْأَنْصَار الا وطرقه واستشاره واستكتمه فكلهم قَالَ لَهُ عُثْمَان

ثمَّ رَجَعَ إِلَى الْبَيْت من الْغَد وَلم يبت ليلته تِلْكَ حَتَّى أصبح فَأَتَاهُم فَاسْتَيْقَظَ نَائِما حَتَّى الظّهْر فأري فِي الْمَنَام أَن قُم فَانْظُر فِي هَذَا الْأَمر فَقَالَ وَكَيف نَنْظُر إِلَيْهِ قَالَ أَمر أقرأهم فان اسْتَووا فأفقههم فَإِن اسْتَووا فأسنهم فانتبه وَقد ذكر حَدِيث رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقضى بِهِ فيهم وَحَدِيث رَسُول الله {يؤم الْقَوْم أقرؤهم فَإِن اسْتَووا فأفقههم} إِلَى آخر الحَدِيث فبدر عبد الرَّحْمَن فَخَلا بهم رجلا رجلا فَقَالَ أَرَأَيْت إِن أَنا بَايَعْتُك فخلف بك من لَهَا بعْدك فَيَقُول عُثْمَان حَتَّى قَالَهَا لعُثْمَان فَقَالَ
আপনারা কি এই বিষয়ের (নেতৃত্বের) জন্য এই ছয়জন ব্যক্তির চেয়ে অধিকতর যোগ্য কাউকে চেনেন যাদের প্রতি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকালকালে সন্তুষ্ট ছিলেন? তারা বললেন, ‘না’। তিনি বললেন, ‘আমি মনে করি, আপনারা যদি আমার অভিমত গ্রহণ করেন, তবে আমি এই দায়িত্বটি তাদের ওপর অর্পণ করব যাতে তারা নিজেদের মধ্য থেকে একজনকে আমির নিযুক্ত করেন।’ তারা বললেন, ‘আমরাও তা-ই সমীচীন মনে করছি এবং বিষয়টি তাদের ওপরই ন্যস্ত করলাম।’ তখন উমর (রা.) বললেন, ‘সুহাইব আপনাদের নিয়ে তিন দিন সালাত আদায় করবেন। আপনারা তালহার জন্য অপেক্ষা করবেন, তিনি তখন শামে ছিলেন। যদি তিনি আসেন তো ভালো, অন্যথায় তার জন্য এর চেয়ে বেশি অপেক্ষা করবেন না। যদি তারা মতভেদ করেন, তবে আপনারা সংখ্যাগুরুদের সাথে থাকবেন।’ তিনি মিকদাদ বিন আমরকে তাদের সাথে নিযুক্ত করলেন এবং বললেন, ‘যদি তালহা না আসেন তবে ইবনে উমর তার স্থলাভিষিক্ত হবেন, কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার কোনো অধিকার থাকবে না।’ উমর (রা.)-এর ইন্তেকালের পর তারা তিন দিন অপেক্ষা করলেন। যখন তৃতীয় দিন উপস্থিত হলো, মিকদাদ তাদেরকে আয়েশা (রা.)-এর ঘরে একত্রিত করলেন এবং বললেন, ‘এই কবরগুলোর দিকে তাকান, তারপর আপনাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিন।’ তখন আব্দুর রহমান বিন আউফ বললেন, ‘আপনাদের মধ্যে কে আছেন যিনি আমাদের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্বটি নিজ কাঁধে নেবেন এবং নিজেকে (প্রার্থিতা থেকে) সরিয়ে নেবেন?’ কেউ কোনো উত্তর দিলেন না। তখন আব্দুর রহমান বললেন, ‘আমি নিজেকে এবং আমার চাচাতো ভাই সাদ বিন আবি ওয়াক্কাসকে সরিয়ে নিচ্ছি এবং আমি আপনাদের বিষয়টি পর্যালোচনা করব।’ তারা সবাই বললেন, ‘হ্যাঁ, আপনি আমাদের হয়ে এই দায়িত্ব পালন করুন। আল্লাহর কসম, কোনো কৃপণতা নয় বরং দায়িত্বের ভারের কারণেই আমরা নীরব ছিলাম।’ এরপর আব্দুর রহমান বিন আউফ (রা.) বের হলেন এবং মদিনার অগ্রগামী মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে এমন কাউকে বাকি রাখলেন না যার কাছে তিনি যাননি, পরামর্শ নেননি এবং বিষয়টি গোপন রাখতে বলেননি। তাদের সবাই তাকে উসমানের কথা বললেন।

অতঃপর তিনি পরদিন ঘরে ফিরলেন এবং সেই রাতে ভোর না হওয়া পর্যন্ত তিনি ঘুমাননি। জোহরের সময় তাকে জাগ্রত করা হলো। স্বপ্নে তাকে দেখানো হয়েছিল যে, ‘উঠুন এবং এই বিষয়টি পর্যালোচনা করুন।’ তিনি বললেন, ‘আমি কীভাবে তা করব?’ বলা হলো, ‘যিনি তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কুরআন পাঠকারী তাকে দায়িত্ব দিন। যদি তারা সমান হন, তবে তাদের মধ্যে যিনি সবচেয়ে বেশি ফকীহ তাকে দেখুন। যদি তারা সমান হন, তবে তাদের মধ্যে যিনি বয়োজ্যেষ্ঠ তাকে দেখুন।’ তিনি জাগ্রত হলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসটি স্মরণ করলেন এবং সেই অনুযায়ী তাদের বিষয়ে ফয়সালা করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসটি হলো: {লোকদের ইমামতি করবে সে ব্যক্তি যে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কুরআন পাঠকারী। যদি তারা সমান হয় তবে যে সবচেয়ে বেশি ফকীহ...} হাদিসের শেষ পর্যন্ত। এরপর আব্দুর রহমান দ্রুত এগিয়ে গেলেন এবং তাদের প্রত্যেকের সাথে একান্তে বসলেন। তিনি বললেন, ‘আমি যদি আপনার হাতে বায়আত গ্রহণ করি, তবে আপনার পরে আর কে এই পদের যোগ্য হবে?’ এমনকি তিনি উসমানকেও এ কথা বললেন। তখন তিনি বললেন...
(খণ্ড: ১) আত-তামহীদ ওয়াল বায়ান ফী মাকতালিশ শাহীদ উসমান (পৃষ্ঠা: ٣٠)
عَليّ وافتتح عبد الرَّحْمَن الْكَلَام فَقَالَ أنْشدكُمْ الله هَل تعلمُونَ أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ ليؤمكم أقرؤكم فَإِن كَانُوا فِي الْقِرَاءَة سَوَاء فأفقههم فَإِن كَانُوا سَوَاء فأسنهم قَالُوا نعم قَالَ هَل تعلمُونَ هَذَا اجْتمع فِي أحد مِنْكُم غير عُثْمَان فَبَايعُوهُ وأقروا واعترفوا وَخَرجُوا وَمَا مِنْهُم أحد الا وَهُوَ أسر من عُثْمَان رضي الله عنهم فصلى بِالنَّاسِ الْعَصْر

وَعَن عَمْرو بن مُحَمَّد عَن الشّعبِيّ عَن مَسْرُوق قَالَ قَالَ ابْن مَسْعُود غَدَاة أَتَتْهُ إِمَارَة عُثْمَان وَالله مَا آلوا عَن أَعلَى ذِي فَوق لقد جمع أَنه أقرؤهم لِلْقُرْآنِ وأسنهم مَعَ فقه فِي الدّين وَعَن إِبْنِ جريج عَن نَافِع عَن عبد الله بن عمر رض = قَالَ قَالَ عمر رض = أَنِّي لأعْلم أَن النَّاس لَا يعدلُونَ بِهَذَيْنِ الرجلَيْن اللَّذين كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يكون نجيا بَينهمَا وَبَين جِبْرِيل يتلَقَّى عَنهُ ويميل عَلَيْهِمَا وَعَن مُبشر عَن سَالم قَالَ كَانَ أَبُو طَلْحَة الْقيم بذلك مَعَ الْمِقْدَاد فِي خمسين رجلا وَقَالَ عمر رض = أَن صَارُوا ثَلَاثَة وَثَلَاثَة فَعَلَيْكُم بِالثَّلَاثَةِ الَّذين فيهم عبد الرحمان بن عَوْف فَإِن رجح أحد الْفَرِيقَيْنِ على الْأُخَر فَعَلَيْكُم بالأرجح وَفِي صَلَاة صُهَيْب بِالنَّاسِ والشورى يُقَال … صلى صهبب ثَلَاثًا ثمَّ أسلمها … إِلَى ابْن عَفَّان ملكا غير مقهور

وَصِيَّة من أبي حَفْص لستتهم … كَانُوا أخلاء مهْدي وَمَنْصُور

مُهَاجِرين رَأَوْا عُثْمَان إقربهم … إِذْ بَايعُوهُ لَهَا وَالْبَيْت وَالطور …

‌‌وَعَن إِسْمَاعِيل بن أبي خَالِد عَن قيس بن أبي حَازِم قَالَ قَالَ عمر رض = أَيّكُم يحدثنا عَن الْفِتْنَة فَسَكَتُوا فَقَالَ حُذَيْفَة أَنا فَقَالَ
আলী; আব্দুর রহমান কথা শুরু করলেন এবং বললেন, "আমি আল্লাহর কসম দিয়ে তোমাদের জিজ্ঞেস করছি, তোমরা কি জানো যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'তোমাদের মধ্যে যে কুরআনের অধিক তিলাওয়াতকারী সে যেন তোমাদের ইমামতি করে। যদি তারা তিলাওয়াতে সমান হয়, তবে তাদের মধ্যে যে অধিক ফকিহ (বিজ্ঞ)। যদি তারা তাতেও সমান হয়, তবে তাদের মধ্যে যে বয়সে বড়'?" তাঁরা বললেন, "হ্যাঁ।" তিনি বললেন, "তোমরা কি জানো উসমান ব্যতীত তোমাদের আর কারো মাঝে কি এই গুণগুলো একত্রিত হয়েছে?" অতঃপর তারা তাঁর নিকট বায়আত গ্রহণ করলেন, স্বীকৃতি দিলেন ও তা মেনে নিলেন এবং বের হয়ে আসলেন। তাদের প্রত্যেকেই উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর ব্যাপারে অত্যন্ত আনন্দিত ছিলেন। এরপর তিনি মানুষকে নিয়ে আসরের সালাত আদায় করলেন।

আমর ইবনে মুহাম্মাদ থেকে বর্ণিত, তিনি শাবি থেকে, তিনি মাসরুক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উসমান (রা.)-এর নিকট খিলাফত অর্পিত হওয়ার সকালে ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছিলেন, "আল্লাহর কসম, তারা শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তিকে বেছে নিতে কোনো ত্রুটি করেনি। তিনি তাদের মধ্যে কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ তিলাওয়াতকারী, বয়োজ্যেষ্ঠ এবং দ্বীনি প্রজ্ঞার অধিকারী ছিলেন।" ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণিত, তিনি নাফে থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর (রা.) বলেছেন: "আমি অবশ্যই জানি যে, মানুষ এই দুই ব্যক্তির সমকক্ষ কাউকে মনে করে না, যাঁদের মাঝে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবস্থান করতেন যখন তিনি জিবরীল (আ.)-এর সাথে একান্তে কথা বলতেন, তাঁর থেকে ওহী গ্রহণ করতেন এবং তাঁদের উভয়ের দিকে ঝুঁকে থাকতেন।" মুবাশশির থেকে বর্ণিত, তিনি সালেম থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু তালহা এবং মিকদাদ পঞ্চাশজন লোকের সাথে এই বিষয়টি তত্ত্বাবধান করছিলেন। উমর (রা.) বলেছিলেন: "যদি তারা তিন তিন জনে বিভক্ত হয়ে যায়, তবে তোমরা সেই তিনজনকে গ্রহণ করবে যাদের মাঝে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রয়েছেন। আর যদি এক পক্ষ অন্য পক্ষের ওপর প্রধান্য লাভ করে, তবে তোমরা সেই প্রধান্য লাভকারী পক্ষকেই গ্রহণ করবে।" আর সুহাইব (রা.)-এর ইমামতি ও শুরা সম্পর্কে বলা হয় … সুহাইব তিন দিন সালাত আদায় করালেন, এরপর তা সোপর্দ করলেন … ইবনে আফফানের নিকট এক অপরাজেয় রাজত্ব হিসেবে।

আবু হাফসের (উমর রা.) পক্ষ থেকে সেই ছয়জনের প্রতি অসিয়ত … তাঁরা ছিলেন হিদায়াতপ্রাপ্ত ও সাহায্যপ্রাপ্তের ঘনিষ্ঠ বন্ধু।

মুহাজিরগণ উসমানকে তাঁদের সবচেয়ে নিকটবর্তী মনে করেছিলেন … যখন তাঁরা কাবাগৃহ ও তূর পাহাড়ের শপথ করে তাঁর নিকট বায়আত গ্রহণ করেছিলেন …

ইসমাঈল ইবনে আবি খালিদ থেকে বর্ণিত, তিনি কায়স ইবনে আবি হাযিম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উমর (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, "তোমাদের মধ্যে কে আমাদের ফিতনা সম্পর্কে বলবে?" তখন সবাই চুপ থাকলেন। অতঃপর হুযায়ফা (রা.) বললেন, "আমি।" তখন তিনি বললেন,
(খণ্ড: ১) আত-তামহীদ ওয়াল বায়ান ফী মাকতালিশ শাহীদ উসমান (পৃষ্ঠা: ٣١)
هَات فوَاللَّه أَنَّك مَا علمت لجريء قَالَ فتْنَة الرجل فِي نَفسه وَمَاله وَأَهله يكفرهَا الطّهُور وَالصَّلَاة فَقَالَ عر رض = لَا الَّتِي تموج موج الْبَحْر فَقَالَ يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ بَيْنك وَبَينهَا بَاب مغلق قَالَ يفتح الْبَاب فتحا أَو يكسر كسرا قَالَ لَا بل يكسر كسرا قَالَ أَنى يكون هَذَا وَأَنا فِي جَزِيرَة الْعَرَب

2 -‌‌ ذكر فَضَائِل عمر بن الْخطاب رض = عَن جَابر بن عبد الله رض = قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم {دخلت الْجنَّة فَرَأَيْت قصرا أَبيض بفنائه جَارِيَة فَقلت لمن هَذَا الْقصر قَالَت لعمر فَأَرَدْت أَن أدخلهُ فَأنْظر إِلَيْهِ فَذكرت غيرتك يَا عمر فَبكى عمر وَقَالَ بِأبي أَنْت وَأمي يَا رَسُول الله أَو عَلَيْك أغار هَذَا حَدِيث مُتَّفق على صِحَّته أخرجه البُخَارِيّ وَمُسلم فِي الصَّحِيحَيْنِ وَعَن أبي هُرَيْرَة أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ} كَانَ فِيمَا خلا قبلكُمْ من الْأُمَم نَاس محدثون فَإِن يكن فِي أمتِي أحد فعمر بن الْخطاب مُتَّفق عَلَيْهِ أَيْضا

وَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم إِن الله وضع الْحق على لِسَان عمر يَقُول بِهِ {وَقَالَ عَليّ رض = مَا كُنَّا نبعد أَن السكينَة تنطق على لِسَان عمر وَقَالَ ابْن عمر رض = مَا نزل بِالنَّاسِ أَمر قطّ فَقَالُوا فِيهِ وَقَالَ فِيهِ عمر إِلَّا نزل الْقُرْآن على نَحْو مَا قَالَ عمر رض = وَقَالَ ابْن مَسْعُود مَا رَأَيْت عمر قطّ آلا وَكَأن بَين عَيْنَيْهِ ملكا يسدده وَقَالَ أَيْضا أَن عمر بن الْخطاب كَانَ
বলো, আল্লাহর কসম! আমি যা জানি তাতে তুমি অবশ্যই সাহসী। তিনি বললেন, 'ব্যক্তির নিজের মাঝে, তার ধন-সম্পদ ও তার পরিবারে যে ফিতনা বা পরীক্ষা তৈরি হয়, পবিত্রতা ও সালাত তা মিটিয়ে দেয়।' উমর (রা.) বললেন, 'না, আমি সেই ফিতনার কথা বলছি না, বরং যা সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো উত্তাল হবে।' তিনি (হুযাইফা) বললেন, 'হে আমিরুল মুমিনিন, আপনার ও সেই ফিতনার মাঝে একটি বন্ধ দরজা রয়েছে।' তিনি বললেন, 'দরজাটি কি খোলা হবে নাকি ভেঙে ফেলা হবে?' তিনি বললেন, 'না, বরং তা ভেঙে ফেলা হবে।' তিনি বললেন, 'এটি কীভাবে সম্ভব যখন আমি আরব উপদ্বীপে রয়েছি?'

২ -‌‌ উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর মর্যাদার বর্ণনা: জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, {আমি জান্নাতে প্রবেশ করলাম এবং একটি শ্বেত প্রাসাদ দেখতে পেলাম যার আঙিনায় একজন তরুণী ছিল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এই প্রাসাদটি কার? সে বলল, উমরের জন্য। তখন আমি তাতে প্রবেশ করে তা দেখতে চাইলাম, কিন্তু হে উমর! তোমার আত্মমর্যাদাবোধের কথা আমার মনে পড়ে গেল। তখন উমর (রা.) কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক, আমি কি আপনার ওপর আত্মমর্যাদা দেখাব?} এই হাদিসটির বিশুদ্ধতার ওপর ঐকমত্য রয়েছে এবং বুখারি ও মুসলিম তাদের সহিহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতগণের মধ্যে এমন কিছু লোক ছিল যারা (নবী না হওয়া সত্ত্বেও) ইলহাম বা বিশেষ প্রজ্ঞা প্রাপ্ত হতো। আমার উম্মতের মধ্যে যদি এমন কেউ থাকে, তবে সে হলো উমর ইবনুল খাত্তাব।" এটিও মুত্তাফাকুন আলাইহি (সর্বসম্মত)।

এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ উমরের জিহ্বায় সত্যকে স্থাপন করেছেন, যার মাধ্যমে সে কথা বলে।" আলী (রা.) বলেন, "আমরা এটিকে অসম্ভব মনে করতাম না যে, উমরের জিহ্বায় প্রশান্তি কথা বলে।" ইবনে উমর (রা.) বলেন, "মানুষের ওপর যখনই কোনো বিষয় আপতিত হয়েছে এবং সে বিষয়ে তারা কিছু বলেছে আর উমরও কিছু বলেছেন, তখনই কুরআন উমরের কথার অনুরূপ নাজিল হয়েছে।" ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, "আমি যখনই উমরকে দেখেছি, মনে হয়েছে যেন তার দুই চোখের মাঝে একজন ফেরেশতা তাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করছে।" তিনি আরও বলেন, "নিশ্চয়ই উমর ইবনুল খাত্তাব ছিলেন..."
(খণ্ড: ১) আত-তামহীদ ওয়াল বায়ান ফী মাকতালিশ শাহীদ উসমান (পৃষ্ঠা: ٣٢)
حصنا حصينا لِلْإِسْلَامِ يدْخل فِيهِ وَلَا يخرج مِنْهُ فَلَمَّا مَاتَ عمر رض = انثلم من الْحصن ثلمة فَهُوَ يخرج مِنْهُ وَلَا يدْخل فِيهِ وَكَانَ إِذا سلك بِنَا طَرِيقا وَجَدْنَاهُ سهلا وَذَا ذكر الصالحون فَحَيَّهَلا بعمر كَانَ فصل مَا بَين الزِّيَادَة وَالنُّقْصَان وَالله إِنِّي لَوَدِدْت أَن أخدم مثله

وَعَن ابْن عَبَّاس رض = قَالَ إِنِّي لواقف فِي قوم قد دعوا الله لعمر ابْن الْخطاب رض = وَقد وضع على سَرِيره إِذا رجل من خَلْفي وَقد وضع مرفقه على مَنْكِبي يَقُول يَرْحَمك الله إِنِّي كنت لأرجو أَن يجعلك الله مَعَ صاحبيك لِأَنِّي كنت كثيرا مَا كنت أسمع رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول كنت وَأَبُو بكر وَعمر وَانْطَلَقت وَأَبُو بكر وَعمر وَإِنِّي كنت لأرجوا أَن يجعلك الله مَعَهُمَا فَالْتَفت فَإِذا عَليّ بن أبي طَالب رض = أخرجه البُخَارِيّ وَمُسلم

وَعَن انس رض = قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَعمر سيدا كهول أهل الْجنَّة وَفِي رِوَايَة سيدا كهول الْجنَّة من الْأَوَّلين والآخرين آلا النَّبِيين وَالْمُرْسلِينَ قَالَ التِّرْمِذِيّ هَذَا حَيْثُ غَرِيب من هَذَا الْوَجْه رَوَاهُ عون ابْن أبي جُحَيْفَة عَن أَبِيه وَعَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ أَن الرجل من أهل عليين ليشرف على أهل الْجنَّة فتضيء الْجنَّة لوجهه كَأَنَّهَا كَوْكَب ردي وَإِن أَبَا بكر وَعمر مِنْهُم وأنعما وَعَن حُذَيْفَة رض = قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم} اقتدوا بالذين من بعدِي أبي بكر وَعمر رَوَاهُمَا الْحَافِظ عبد الرَّزَّاق الرَّسْعَنِي فِي مَقْتَله وروى أَيْضا بِإِسْنَادِهِ عَن شَقِيق عَن عبد الله رض = عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي قَوْله تَعَالَى {فَإِن الله هُوَ مَوْلَاهُ وَجِبْرِيل وَصَالح الْمُؤمنِينَ}

ইসলামের জন্য একটি সুদৃঢ় দুর্গ ছিল যাতে মানুষ প্রবেশ করত এবং তা থেকে বের হত না। অতঃপর যখন উমর (রা.) মৃত্যুবরণ করলেন, তখন সেই দুর্গে একটি ফাটল তৈরি হলো, ফলে এখন মানুষ তা থেকে বের হয়ে যায় কিন্তু তাতে প্রবেশ করে না। তিনি যখন আমাদের নিয়ে কোনো পথে চলতেন, আমরা তাকে সহজ পেতাম। যখন নেককারদের আলোচনা করা হয়, তখন উমরের প্রতি স্বাগতম; তিনি ছিলেন বৃদ্ধি ও হ্রাসের মধ্যকার পার্থক্যকারী। আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই তার মতো কারো সেবা করতে পছন্দ করতাম।

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদল লোকের মাঝে দাঁড়িয়ে ছিলাম যারা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করছিল, আর তখন তাকে তার খাটিয়ায় রাখা হয়েছিল। হঠাৎ আমার পেছন থেকে এক ব্যক্তি তার কনুই আমার কাঁধের ওপর রাখলেন এবং বলতে লাগলেন: আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন, আমি আশা করতাম যে আল্লাহ আপনাকে আপনার দুই সঙ্গীর সাথেই রাখবেন। কারণ আমি প্রায়ই আল্লাহর রাসূল (সা.)-কে বলতে শুনতাম, 'আমি, আবু বকর এবং উমর ছিলাম', 'আমি, আবু বকর এবং উমর গিয়েছি'। তাই আমি আশা করতাম আল্লাহ আপনাকে তাদের দুজনের সাথেই রাখবেন। আমি তাকিয়ে দেখলাম তিনি আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)। এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন: আবু বকর ও উমর জান্নাতের প্রৌঢ়দের সরদার। অন্য এক বর্ণনায় আছে, পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল জান্নাতবাসীর প্রৌঢ়দের সরদার, তবে নবী ও রাসূলগণ ব্যতীত। ইমাম তিরমিজি বলেন, এই সূত্রে এই হাদিসটি গরিব। এটি আউন ইবনে আবি জুহাইফা তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: ইল্লিয়্যিন অধিবাসীদের কোনো ব্যক্তি যখন জান্নাতবাসীদের দিকে উঁকি দেবেন, তখন তার চেহারার জ্যোতিতে জান্নাত এমনভাবে আলোকিত হয়ে উঠবে যেন তা একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র; আর আবু বকর ও উমর তাদের অন্তর্ভুক্ত এবং তারা কতই না উত্তম! হুজাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন: তোমরা আমার পরবর্তী দুজনের অনুসরণ করো—আবু বকর ও উমর। হাফেজ আব্দুর রাজ্জাক আল-রাসাআনি তার 'মাকতাল' গ্রন্থে এই দুটি বর্ণনা করেছেন। তিনি শাকিক সূত্রে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে এবং তিনি নবী (সা.) থেকে মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কেও বর্ণনা করেছেন: "তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তার বন্ধু এবং জিবরাইল ও মুমিনদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ণ।"

(খণ্ড: ১) আত-তামহীদ ওয়াল বায়ান ফী মাকতালিশ শাহীদ উসমান (পৃষ্ঠা: ٣٣)
التَّحْرِيم قَالَ من صالحى الْمُؤمنِينَ أَبُو بكر وَعمر رض =

وروى أَيْضا بِإِسْنَادِهِ عَن أبي هُرَيْرَة رض = قَالَ خرج النَّبِي صلى الله عليه وسلم مُتكئا على عَليّ بن أبي طَالب رض = فَاسْتَقْبلهُ أَبُو بكر وَعمر رض = فَقَالَ يَا عَليّ أَتُحِبُّ هذَيْن الشَّيْخَيْنِ قَالَ نعم قَالَ بحبهما تدخل الْجنَّة وَرُوِيَ أَيْضا بِإِسْنَادِهِ عَن أبي هُرَيْرَة سَلمَة عَن أبي هُرَيْرَة الدوسي قَالَ كنت جَالِسا مَعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِذْ طلع أَبُو بك فَقَالَ الْحَمد لله الَّذِي أيدني بكما

وروى أَبُو بكر مُحَمَّد بن الْحُسَيْن الْآجُرِيّ فِي = كتاب الشَّرِيعَة بِإِسْنَادِهِ عَن ابْن عمر رض = قَالَ دخل النَّبِي صلى الله عليه وسلم الْمَسْجِد وَأَبُو بكر عَن يَمِينه وَعمر عَن يسَاره فَقَالَ هَكَذَا نبعث يَوْم الْقِيَامَة

وروى أَيْضا بِإِسْنَادِهِ عَن عبد الله بن عَمْرو بن الْعَاصِ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم {لقد هَمَمْت أَن أبْعث رجَالًا من أَصْحَابِي إِلَى مُلُوك الأَرْض يَدعُونَهُمْ إِلَى الْإِسْلَام كَمَا بعث عِيسَى إِبْنِ مَرْيَم الحواريين قَالُوا يارسول الله أَلا تبْعَث أَبَا بكر وَعمر فهما أبلغ قَالَ إِنَّه لَا غنى بِي عَنْهُمَا إِنَّمَا منزلتهما من الدّين بِمَنْزِلَة السّمع وَالْبَصَر من الْجَسَد

وروى أَيْضا بِإِسْنَادِهِ عَن أبي سعيد قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
সূরা আত-তাহরীম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মুমিনদের নেককার ব্যক্তিদের’ অন্তর্ভুক্ত হলেন আবু বকর ও উমর (রা.)।

এবং তিনি তাঁর সনদে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে আরও বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: নবী (সা.) আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)-এর ওপর ভর দিয়ে বের হলেন। এমতাবস্থায় আবু বকর ও উমর (রা.) তাঁর সম্মুখে আসলেন। তখন তিনি বললেন: হে আলী! তুমি কি এই দুই শায়খকে ভালোবাসো? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তাঁদের প্রতি ভালোবাসার কারণেই তুমি জান্নাতে প্রবেশ করবে। এবং তাঁর সনদে সালামাহ-এর সূত্রে আবু হুরায়রা আদ-দাওসী (রা.) থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে উপবিষ্ট ছিলাম, এমন সময় আবু বকর ও উমর উপস্থিত হলেন। তখন তিনি বললেন: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তোমাদের দুজনকে দিয়ে আমাকে শক্তিশালী করেছেন।

এবং আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আল-আজুররী তাঁর ‘কিতাবুশ শারীআহ’ গ্রন্থে তাঁর সনদে ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সা.) মসজিদে প্রবেশ করলেন এমতাবস্থায় যে আবু বকর তাঁর ডান দিকে এবং উমর তাঁর বাম দিকে ছিলেন। তখন তিনি বললেন: কিয়ামতের দিন আমরা এভাবেই পুনরুত্থিত হব।

এবং তিনি তাঁর সনদে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে আরও বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "আমি আমার সাহাবীদের মধ্য থেকে কিছু ব্যক্তিকে পৃথিবীর রাজাদের নিকট পাঠানোর সংকল্প করেছি যেন তারা তাঁদেরকে ইসলামের দিকে দাওয়াত দেন, যেভাবে ঈসা ইবনে মারিয়াম তাঁর হাওয়ারীদের পাঠিয়েছিলেন।" তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আবু বকর ও উমরকে পাঠাবেন না? কেননা তাঁরা অধিক বাগ্মী। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই তাঁদের ব্যতীত আমার চলে না। দ্বীনের মধ্যে তাঁদের মর্যাদা হলো শরীরের মধ্যে কান ও চোখের মর্যাদার মতো।"

এবং তিনি তাঁর সনদে আবু সাঈদ (রা.) থেকে আরও বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
(খণ্ড: ১) আত-তামহীদ ওয়াল বায়ান ফী মাকতালিশ শাহীদ উসমান (পৃষ্ঠা: ٣٤)
{مَا من نَبِي إِلَّا وَله وزيران من أهل السَّمَاء ووزيران من أهل الأَرْض فَأَما وزيراي من أهل السَّمَاء فجبريل وَمِيكَائِيل عليهما السلام وَأما وزيراي من أهل الأَرْض فَأَبُو بكر وَعمر رض =

وروى أَيْضا بِإِسْنَادِهِ عَن أبي أُمَامَة قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم} رَأَيْتنِي أدخلت الْجنَّة فجزت من إِحْدَى أَبْوَابهَا الثَّمَانِية فَأتيت بكفة ميزَان فَوضعت فِيهَا وَجِيء بأمتي فَوضعت فِي الكفة الْأُخْرَى فرجحت بأمتي وَجِيء بِأبي بكر فَوضع فِي كفة ثمَّ جِيءَ بأمتي فَوضعت فِي الكفة الْأُخْرَى فرجح بهَا ثمَّ جِيءَ بعمر فَوضع فِي كفة الْمِيزَان وَجِيء بأمتي فَوضعت فِي الكفة الْأُخْرَى فرجح بهَا ثمَّ رفع الْمِيزَان إِلَى السَّمَاء وَأَنا أنظرهُ

وروى بِإِسْنَادِهِ عَن أبي سعد الْخُدْرِيّ رض = قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم {ان أهل الدَّرَجَات الْعلَا يراهم من تَحْتهم كَمَا يرى الْكَوْكَب الدُّرِّي الطالع من الْأُفق من أَفَاق السَّمَاء وَأَبُو بكر وَعمر وَمِنْهُم وأنعما}

وروى أَيْضا بِإِسْنَادِهِ عَن ابْن عمر رضي الله عنهما قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم {الْهم أعز الْإِسْلَام بِأحب هذَيْن الرجلَيْن إِلَيْك بعمر بن الْخطاب أَو بِأبي جهل بن هِشَام فَكَانَ أحبهما إِلَى الله عز وجل عمر رضي الله عنه فَأصْبح فَأسلم} وروى أَيْضا بِإِسْنَادِهِ عَن ابْن مَسْعُود رضي الله عنه قَالَ مَا زلنا أعزة مُنْذُ أسلم عمر بن الْخطاب رضي الله عنه

وروى الْآجُرِيّ أَيْضا بِإِسْنَادِهِ عَن أنس بن مَالك رضي الله عنه قَالَ قَالَ عمر بن الْخطاب رضي الله عنه وَافَقت رَبِّي فِي ثَلَاث قلت يَا رَسُول
এমন কোনো নবী নেই যার জন্য আসমানবাসীদের থেকে দুইজন মন্ত্রী এবং জমিনবাসীদের থেকে দুইজন মন্ত্রী নেই। আসমানবাসীদের মধ্য থেকে আমার দুই মন্ত্রী হলেন জিবরাঈল ও মিকাইল (তাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক), আর জমিনবাসীদের মধ্য থেকে আমার দুই মন্ত্রী হলেন আবু বকর ও উমর (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)।

এবং তিনি তার সনদে আবু উমামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: আমি দেখলাম আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে, অতঃপর আমি তার আটটি দরজার একটি দিয়ে অতিক্রম করলাম। এরপর একটি দাঁড়িপাল্লা আনা হলো এবং আমাকে এক পাল্লায় রাখা হলো, আর আমার উম্মতকে আনা হলো এবং অন্য পাল্লায় রাখা হলো। তখন আমি আমার উম্মতের তুলনায় ভারী হলাম। এরপর আবু বকরকে আনা হলো এবং এক পাল্লায় রাখা হলো, অতঃপর আমার উম্মতকে আনা হলো এবং অন্য পাল্লায় রাখা হলো। তখন তিনিও তাদের তুলনায় ভারী হলেন। এরপর উমরকে আনা হলো এবং দাঁড়িপাল্লার এক পাল্লায় রাখা হলো, আর আমার উম্মতকে আনা হলো এবং অন্য পাল্লায় রাখা হলো। তখন তিনিও তাদের তুলনায় ভারী হলেন। এরপর দাঁড়িপাল্লাটি আসমানের দিকে উঠিয়ে নেওয়া হলো এবং আমি তা দেখছিলাম।

এবং তিনি তার সনদে আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: নিশ্চয়ই উচ্চ মাকামের অধিকারীদের তাদের নিচের স্তরের লোকেরা এমনভাবে দেখবে, যেভাবে আসমানের দিগন্ত থেকে উদিত উজ্জ্বল নক্ষত্র দেখা যায়। আর আবু বকর ও উমর তাদের অন্তর্ভুক্ত এবং তারা কতই না উত্তম।

এবং তিনি আরও তার সনদে ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: হে আল্লাহ! এই দুই ব্যক্তির মধ্যে যে আপনার কাছে অধিক প্রিয়, তার মাধ্যমে ইসলামকে শক্তিশালী করুন—উমর ইবনুল খাত্তাব অথবা আবু জাহেল ইবনে হিশাম। অতঃপর তাদের মধ্যে মহান আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় ছিলেন উমর (রা.), ফলে তিনি ভোরে ইসলাম কবুল করলেন। এবং তিনি আরও তার সনদে ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) ইসলাম কবুল করার পর থেকে আমরা সবসময় শক্তিশালী ছিলাম।

এবং আজুররিও তার সনদে আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেছেন: আমি আমার রবের সাথে তিনটি বিষয়ে একমত হয়েছিলাম। আমি বলেছিলাম: হে আল্লাহর রাসূল!
(খণ্ড: ১) আত-তামহীদ ওয়াল বায়ান ফী মাকতালিশ শাহীদ উসমান (পৃষ্ঠা: ٣٥)
الله لَو أتخذت من مقَام إِبْرَاهِيم مصلى فَنزلت {وَاتَّخذُوا من مقَام إِبْرَاهِيم مصلى} قَالَ وَقلت يَا رَسُول الله إِن نِسَاءَك يدْخل عَلَيْهِنَّ الْبر والفاجر فَلَو أمرتهن أَن يحتجبن فَنزلت أَيَّة الْحجاب قَالَ وَاجْتمعَ على رَسُول الله صلى الله عليه وسلم نساؤه فِي الْغيرَة فَقلت لَهُنَّ {عَسى ربه إِن طَلَّقَكُن أَن يُبدلهُ أَزْوَاجًا خيرا مِنْكُن} التَّحْرِيم 5 قَالَ فَنزلت كَذَلِك وَفِي رِوَايَة وَافَقت رَبِّي فِي أَربع وَزَاد قَالَ وَأنزل الله عز وجل {وَلَقَد خلقنَا الْإِنْسَان من سلالة من طين} الْمُؤْمِنُونَ 12 حَتَّى بلغ الأية فَقلت أَنا {فَتَبَارَكَ الله أحسن الْخَالِقِينَ} فَنزلت {فَتَبَارَكَ الله أحسن الْخَالِقِينَ} الْمُؤْمِنُونَ 14

فِي حَدِيث أخر عَن إِبْنِ عمر رض = وَافَقت رَبِّي فِي ثَلَاث فِي الْحجاب وَفِي أُسَارَى بدر وَفِي مقَام إِبْرَاهِيم وروى أَيْضا بِإِسْنَادِهِ عَن عقبَة ابْن عَامر قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم {لَو كَانَ بعدِي نَبِي لَكَانَ عمر بن الْخطاب} وروى أَيْضا بِإِسْنَادِهِ عَن عبد الله بن عمر قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول بَينا أَنا أتيت بقدح من لبن فَشَرِبت مِنْهُ حَتَّى إِنِّي لأرى الرّيّ يجْرِي فِي أظفاري ثمَّ أَعْطَيْت فضلي عمر ببن الْخطاب قَالُوا فَمَا أولته يَا رَسُول الله قَالَ الْعلم وَعَن ابْن عمر رض = عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم عمر بن الْخطاب سراج أهل الْجنَّة

3 -‌‌ ذكر بِشَارَة كَعْب الْأَحْبَار عمر رض = بِالشَّهَادَةِ

روى أَبُو بكر الْآجُرِيّ فِي كتاب الشَّرِيعَة بِإِسْنَادِهِ عَن الْمسور بن مخرمَة عَن أمه عَاتِكَة بنت عَوْف قَالَت خرج عمر بن الْخطاب رض = يَوْمًا
[হে আল্লাহর রাসূল!] আপনি যদি মাকামে ইবরাহীমকে সালাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ করতেন। তখন এই আয়াত নাজিল হলো: {তোমরা মাকামে ইবরাহীমকে সালাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো}। তিনি বলেন, আমি বলেছিলাম: হে আল্লাহর রাসূল, আপনার স্ত্রীদের নিকট নেককার ও বদকার উভয় ধরনের মানুষই প্রবেশ করে। আপনি যদি তাঁদেরকে পর্দার আদেশ করতেন। তখন পর্দার আয়াত নাজিল হলো। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীগণ ঈর্ষাবশত তাঁর বিরুদ্ধে একত্রিত হলেন, তখন আমি তাঁদেরকে বললাম: {যদি তিনি তোমাদের তালাক দেন, তবে সম্ভবত তাঁর প্রতিপালক তাঁকে তোমাদের পরিবর্তে তোমাদের চেয়ে উত্তম স্ত্রী দান করবেন} (আত-তাহরীম ৫)। তিনি বলেন, তখন এভাবেই আয়াত নাজিল হলো। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, আমি চারটি বিষয়ে আমার প্রতিপালকের অনুকূলে ছিলাম এবং তাতে অতিরিক্ত হিসেবে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা নাজিল করলেন: {নিশ্চয়ই আমি মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি করেছি} (আল-মুমিনুন ১২) আয়াতটি যখন (একটি পর্যায়) পর্যন্ত পৌঁছাল, তখন আমি বললাম: {অতএব মহিমান্বিত আল্লাহ, যিনি সর্বোত্তম স্রষ্টা}। তখন নাজিল হলো: {অতএব মহিমান্বিত আল্লাহ, যিনি সর্বোত্তম স্রষ্টা} (আল-মুমিনুন ১৪)।

ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত অন্য এক হাদীসে আছে: আমি তিন বিষয়ে আমার প্রতিপালকের অনুকূলে ছিলাম; পর্দার বিষয়ে, বদরের বন্দীদের বিষয়ে এবং মাকামে ইবরাহীমের বিষয়ে। আরও বর্ণিত হয়েছে তাঁরই সনদে উকবা ইবনে আমির থেকে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: {যদি আমার পর কোনো নবী হতো, তবে সে হতো উমর ইবনুল খাত্তাব}। আরও বর্ণিত হয়েছে তাঁরই সনদে আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "একদা আমাকে এক পেয়ালা দুধ দেওয়া হলো, আমি তা থেকে পান করলাম, এমনকি আমি দেখতে পাচ্ছিলাম যে পরিতৃপ্তি আমার নখ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তারপর আমি আমার অবশিষ্টাংশ উমর ইবনুল খাত্তাবকে প্রদান করলাম।" তারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি এর কী ব্যাখ্যা করেছেন? তিনি বললেন: "ইলম (জ্ঞান)"। ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: উমর ইবনুল খাত্তাব জান্নাতবাসীদের প্রদীপ।

৩ -‌‌ উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাহাদাত বরণ সম্পর্কে কাব আল-আহবারের সুসংবাদ প্রদানের বর্ণনা

আবু বকর আল-আজুরী তাঁর 'আশ-শারীআহ' গ্রন্থে নিজ সনদে মিসওয়ার ইবনে মাখরামাহ থেকে, তিনি তাঁর মা আতিকা বিনতে আউফ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: একদিন উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বের হলেন।
(খণ্ড: ১) আত-তামহীদ ওয়াল বায়ান ফী মাকতালিশ শাহীদ উসমান (পৃষ্ঠা: ٣٦)
يطوف فِي السُّوق فَلَقِيَهُ أَبُو لؤلؤة غُلَام الْمُغيرَة بن شُعْبَة وَكَانَ نَصْرَانِيّا فَقَالَ يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ أعدني على الْمُغيرَة بن شُعْبَة فَإِن عَليّ خراجا كثيرا قَالَ فكم خراجك قَالَ دِرْهَمَانِ فِي كل يَوْم قَالَ وَأي شَيْء صناعتك قَالَ نجار نقاش حداد قَالَ مَا أرى خارجك بِكَثِير على مَا تصنع من الْأَعْمَال ثمَّ قَالَ لقد بَلغنِي أَنَّك تَقول لَو أردْت أَن أعمل رحى تطحن بِالرِّيحِ فعلت قَالَ نعم قَالَ فاعمل لي رحى قَالَ لَئِن سلمت لأعملن لَك رحى يتحدث بهَا من بالمشرق وَالْمغْرب قَالَ ثمَّ أنصرف عمر رض = إِلَى منزله فَلَمَّا كَانَ من الْغَد جَاءَ كَعْب الْأَحْبَار فَقَالَ يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ إعهد فَإنَّك ميت فِي ثَلَاثَة أَيَّام قَالَ وَمَا يدْريك قَالَ أَجِدهُ فِي = كتاب الله التَّوْرَاة قَالَ عمر رض = إِنَّك تَجِد عمر بن الْخطاب فِي التَّوْرَاة قَالَ اللَّهُمَّ لَا وَلَكِن أجد صِفَتك وحليتك وَإنَّهُ فني أَجلك قَالَ وَعمر لَا يجد وجعا وَلَا ألما قَالَ فَلَمَّا كَانَ الْغَد جَاءَهُ كَعْب فَقَالَ يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ ذهب يَوْم وَبَقِي يَوْمَانِ قَالَ ثمَّ جَاءَهُ من الْغَد فَقَالَ يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ ذهب يَوْمَانِ وَبَقِي يَوْم وَلَيْلَة وَهِي لَك إِلَى صبيحتها قَالَ فَلَمَّا كَانَ الصُّبْح خرج عمر بن الْخطاب إِلَى الصَّلَاة وَكَانَ يُوكل بالصفوف رجَالًا فَإِذا اسْتَووا دخل هُوَ فَكبر قَالَ وَدخل أَبُو لؤلؤة فِي النَّاس وَفِي يَده خنجر لَهُ رأسان نصابه فِي وَسطه فَضرب عمر سِتّ ضربات إِحْدَاهُنَّ تَحت سرته فَهِيَ الَّتِي قتلته فَلَمَّا وجد عمر رض = حر السِّلَاح سقط وَأمر عبد الرَّحْمَن بن عَوْف فصلى بِالنَّاسِ وَعمر مطروح قَالَ ثمَّ أحتمل فَأدْخل إِلَى دَاره وَذكر الحَدِيث بِطُولِهِ ثمَّ قَالَ يَا عبد الله بن عمر ائْذَنْ للنَّاس فَجعل يدْخل عَلَيْهِ الْمُهَاجِرين وَالْأَنْصَار يسلمُونَ عَلَيْهِ وَيَقُول لَهُم أعن مَلأ مِنْكُم كَانَ هَذَا فَيَقُولُونَ معَاذ الله قَالَ وَدخل فِي النَّاس كَعْب الْأَحْبَار فَلَمَّا نظر إِلَيْهِ عمر رض = أنشأ يَقُول … وواعدني كَعْب ثَلَاثًا أعدهَا … وَلَا شكّ أَن القَوْل مَا قَالَه كَعْب …
তিনি বাজারে ঘুরছিলেন, তখন মুগিরা ইবনে শুবার গোলাম আবু লুলুআহ তার সঙ্গে দেখা করল, সে ছিল একজন খ্রিস্টান। সে বলল, "হে আমিরুল মুমিনীন, মুগিরা ইবনে শুবার বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করুন, কারণ আমার ওপর অত্যধিক কর ধার্য করা হয়েছে।" তিনি (উমর) বললেন, "তোমার কর কত?" সে বলল, "প্রতিদিন দুই দিরহাম।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তোমার পেশা কী?" সে বলল, "ছুতোর, নকশাকার ও কামার।" তিনি বললেন, "তোমার কাজের দক্ষতা অনুযায়ী এই কর তো খুব বেশি বলে মনে হয় না।" তারপর তিনি বললেন, "আমি জানতে পেরেছি যে তুমি বলো—যদি আমি চাই তবে বাতাসের সাহায্যে চলে এমন এক যাঁতাকল তৈরি করতে পারি।" সে বলল, "হ্যাঁ।" তিনি বললেন, "তবে আমার জন্য একটি যাঁতাকল তৈরি করো।" সে বলল, "আমি যদি বেঁচে থাকি, তবে আপনার জন্য এমন এক যাঁতাকল তৈরি করব যা নিয়ে পূর্ব ও পশ্চিমের মানুষ আলোচনা করবে।" বর্ণনাকারী বলেন, তারপর উমর (রা.) তাঁর বাড়িতে ফিরে গেলেন। পরের দিন কাব আল-আহবার এলেন এবং বললেন, "হে আমিরুল মুমিনীন, আপনি আপনার ওসিয়ত বা শেষ নির্দেশ দিয়ে দিন, কেননা আপনি তিন দিনের মধ্যে মারা যাবেন।" তিনি বললেন, "তুমি তা কীভাবে জানলে?" তিনি বললেন, "আল্লাহর কিতাব তাওরাতে আমি তা পাচ্ছি।" উমর (রা.) বললেন, "তুমি কি তাওরাতে উমর ইবনুল খাত্তাবকে পাচ্ছ?" তিনি বললেন, "আল্লাহর কসম, না; তবে আমি আপনার গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্য পাচ্ছি এবং এটিও যে আপনার সময় ঘনিয়ে এসেছে।" বর্ণনাকারী বলেন, অথচ উমর তখন কোনো রোগ বা ব্যথা অনুভব করছিলেন না। তিনি বলেন, যখন পরের দিন হলো, কাব তাঁর কাছে এসে বললেন, "হে আমিরুল মুমিনীন, এক দিন অতিবাহিত হয়েছে আর দুই দিন বাকি আছে।" বর্ণনাকারী বলেন, তারপর পরের দিন তিনি পুনরায় এলেন এবং বললেন, "হে আমিরুল মুমিনীন, দুই দিন পার হয়েছে, এখন এক দিন ও এক রাত বাকি আছে, আর তা আগামীকাল সকাল পর্যন্ত আপনার সময়।" তিনি বলেন, যখন সকাল হলো, উমর ইবনুল খাত্তাব নামাজের জন্য বের হলেন। তিনি কাতার সোজা করার জন্য কিছু লোক নিযুক্ত রাখতেন; যখন তারা সোজা হয়ে যেত, তখন তিনি প্রবেশ করতেন এবং তাকবির বলতেন। তিনি বলেন, আবু লুলুআহ মানুষের ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়ল, তার হাতে ছিল দুই মাথাওয়ালা একটি খঞ্জর যার হাতল ছিল মাঝখানে। সে উমরকে ছয়টি আঘাত করল, যার একটি ছিল তাঁর নাভির নিচে, আর সেটিই ছিল তাঁর মৃত্যুর কারণ। উমর (রা.) যখন অস্ত্রের আঘাত অনুভব করলেন, তখন পড়ে গেলেন। তিনি আবদুর রহমান ইবনে আউফকে নির্দেশ দিলেন, ফলে তিনি লোকজনকে নিয়ে নামাজ পড়ালেন এবং উমর পড়ে রইলেন। তিনি বলেন, তারপর তাঁকে ধরাধরি করে তাঁর ঘরে নিয়ে যাওয়া হলো। বর্ণনাকারী দীর্ঘ হাদিসটি বর্ণনা করেন, এরপর তিনি (উমর) বললেন, "হে আবদুল্লাহ ইবনে উমর, মানুষকে ভেতরে আসার অনুমতি দাও।" ফলে মুহাজির ও আনসারগণ তাঁর কাছে প্রবেশ করতে লাগলেন, তাঁরা তাঁকে সালাম দিচ্ছিলেন। তিনি তাঁদের বলছিলেন, "তোমাদের নেতৃবৃন্দের সম্মতিতে কি এটি হয়েছে?" তাঁরা বলছিলেন, "আল্লাহর পানাহ!" তিনি বলেন, মানুষের সাথে কাব আল-আহবারও প্রবেশ করলেন। উমর (রা.) যখন তাঁর দিকে তাকালেন, তখন এই কবিতাটি আবৃত্তি করতে লাগলেন ... "কাব আমাকে তিন দিনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যা আমি গণনা করছি ... আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কাব যা বলেছিলেন তা-ই সঠিক হয়েছে ..."
(খণ্ড: ১) আত-তামহীদ ওয়াল বায়ান ফী মাকতালিশ শাহীদ উসমান (পৃষ্ঠা: ٣٧)
.. وَمَا بِي حذار الْمَوْت إِنِّي لمَيت … وَلَكِن حذار الذَّنب يتبعهُ الذَّنب …

‌‌فَقيل لَهُ يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ لودعوت طَبِيبا فدعي طَبِيب من بني الْحَارِث ابْن كَعْب فَسَقَاهُ نبيذا فَخرج مَعَ الدَّم فسقوه لَبَنًا فَخرج أَبيض فَقيل لَهُ يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ اعهد قَالَ قد فرغت ثمَّ توفّي لَيْلَة الْأَرْبَعَاء لثلاث لَيَال بَقينَ من ذِي الْحجَّة سنة ثَلَاث وَعشْرين قَالَ فَخَرجُوا بِهِ بكرَة الْأَرْبَعَاء فَدفن فِي بَيت عَائِشَة رض = مَعَ صَاحِبيهِ وَكَانَت ولَايَته عشر سِنِين وَخَمْسَة أشهر وَإِحْدَى وَعشْرين لَيْلَة وَهُوَ إِبْنِ ثَلَاث وَسِتِّينَ سنة

4 - ذكر نوح الْجِنّ على عمر رض = قَالَ مُحَمَّد بن الْحُسَيْن الْآجُرِيّ حَدثنَا أَبُو الْعَبَّاس سهل بن أبي سهل الوَاسِطِيّ قَالَ حَدثنَا يحيى بن حبيب بن عَرَبِيّ قَالَ حَدثنَا حَمَّاد بن زيد قَالَ حَدثنَا أَيُّوب عَن عبد الله بن أبي مليكَة قَالَ ناحت الْجِنّ على عمر بن الْخطاب رضي الله عنه فوصف ذَلِك فَقَالَ … عَلَيْك سَلام من أَمِير وباركت … يَد الله فِي ذَاك الْأَدِيم الممزق

قضيت أمورا ثمَّ غادرت بعْدهَا … بوائج فِي أكمامها لم تفتق

فَمن يسع أَو يركب جناحي نعَامَة … ليدرك مَا قدمت بالْأَمْس يسْبق

أبعد قَتِيل بِالْمَدِينَةِ أظلمت … لَهُ الأَرْض يَهْتَز الْعضَاة بأسوق …

 

وَفِي رِوَايَة عَن حَمَّاد بن زيد قَالَ حَدثنَا عَاصِم بن بَهْدَلَة بِأَصْلِهِ وَزَاد فِيهِ
.. আমার মাঝে মৃত্যুর ভয় নেই, কারণ আমি অবশ্যই মৃতব্যক্তি হতে যাচ্ছি … কিন্তু ভয় তো সেই গুনাহের, যার পেছনে আরও গুনাহ আসে …

‌‌অতঃপর তাকে বলা হলো, "হে আমিরুল মুমিনিন, আপনি যদি একজন চিকিৎসক ডাকতেন!" তখন বনী হারিস ইবনে কাব গোত্রের একজন চিকিৎসককে ডাকা হলো। তিনি তাকে পানীয় পান করালেন, যা রক্তের সাথে বেরিয়ে এলো। এরপর তারা তাকে দুধ পান করালেন, যা সাদা অবস্থায় বেরিয়ে এলো। তখন তাকে বলা হলো, "হে আমিরুল মুমিনিন, আপনি অসিয়ত করুন।" তিনি বললেন, "আমি তা সেরে ফেলেছি।" এরপর তিনি তেইশ হিজরির জিলহজ মাসের তিন দিন বাকি থাকতে বুধবার রাতে ইন্তেকাল করেন। বর্ণনাকারী বলেন, বুধবার ভোরে তারা তাকে (দাফনের উদ্দেশ্যে) নিয়ে বের হলেন। অতঃপর তাকে তার দুই সাথীর সাথে আয়েশা (রা.)-এর ঘরে দাফন করা হলো। তাঁর খিলাফতকাল ছিল দশ বছর পাঁচ মাস একুশ দিন এবং তখন তাঁর বয়স হয়েছিল তেষট্টি বছর।

৪ - উমর (রা.)-এর ওপর জিনদের বিলাপের বর্ণনা। মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আল-আজুররি বলেন, আমাদের নিকট আবুল আব্বাস সাহল ইবনে আবি সাহল আল-ওয়াসিতি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে হাবিব ইবনে আরাবি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাম্মাদ ইবনে যাইদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আইয়ুব বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আবি মুলাইকা থেকে, তিনি বলেন, জিনেরা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর জন্য বিলাপ করেছিল। বর্ণনাকারী তা বর্ণনা করে বলেন … হে আমির, আপনার ওপর সালাম হোক এবং আপনার ওপর বরকত নাজিল হোক … আল্লাহর হাত রয়েছে সেই ছিন্নভিন্ন চামড়ার ওপর।

আপনি অনেক বিষয়ের ফয়সালা করেছেন এবং এরপর রেখে গেছেন … এমন সব বিপর্যয় যা তার আবরণের মধ্যেই ছিল, যা এখনো প্রকাশিত হয়নি।

অতএব কেউ যদি প্রচেষ্টায় রত হয় অথবা উটপাখির ডানায় সওয়ার হয়েও … আপনার অতীত কর্মকাণ্ডগুলোকে ধরতে চায়, তবে সে পিছিয়েই পড়বে।

মদিনায় নিহত সেই ব্যক্তির পর কি পৃথিবী অন্ধকার হয়ে যায়নি? … যার শোকে কাঁটাযুক্ত বৃক্ষসমূহ তাদের কাণ্ডের ওপর কাঁপছে …

 

এবং হাম্মাদ ইবনে যাইদ থেকে বর্ণিত অন্য একটি রেওয়ায়েতে আছে, তিনি বলেন, আসিম ইবনে বাহদালা আমাদের নিকট এর মূল বর্ণনাটি করেছেন এবং তাতে আরও বর্ধিত অংশ যোগ করেছেন:
(খণ্ড: ১) আত-তামহীদ ওয়াল বায়ান ফী মাকতালিশ শাহীদ উসমান (পৃষ্ঠা: ٣٨)
.. وَمَا كنت أخْشَى أَن تكون وَفَاته … بكفي سبنتي أَزْرَق الْعين مطرق …

 

وَفِي رِوَايَة عَن زيد الْعمي قَالَ لما مَاتَ عمر بن الْخطاب رض = سمعُوا نوح الْجِنّ عَلَيْهِ وهم يَقُولُونَ … جزى خيرا من أَمِير وباركت … يَد الله فِي ذَاك الْأَدِيم الممزق …

‌‌وَزَاد فِي أخر هَذِه الأبيات … فلقاك رَبِّي فِي الْجنان تَحِيَّة … وَمن كسْوَة الفردوس لَا تتمزق …

 

5 -‌‌ ذكر قتل الهرمزان

روى سيف بن عمر التَّمِيمِي عَن سهل بن يُوسُف عَن الْقَاسِم بن مُحَمَّد قَالَ لما مَاتَ عمر رض = قَامَ على النَّاس صُهَيْب فَلَمَّا جهز عمر رض = صلى عَلَيْهِ صُهَيْب وَدفن فِي بَيت عَائِشَة رض = مَعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَأبي بكر رض = وَقيل لِعبيد الله بن عمر رض = بَعْدَمَا فرغ من دفن عمر رض = قد رَأينَا أَبَا لؤلؤة والهرمزان نجيا والهرمزان يقلب هَذَا الخنجر بِيَدِهِ ومعهما جفينة وَهُوَ رجل من الْعباد جَاءَ بِهِ سعد بن أبي وَقاص رض = يعلم الْكتاب بِالْمَدِينَةِ وَابْن فَيْرُوز وَابْنَته وَكلهمْ مُشْرك إِلَّا الهرمزان فَعدا عَلَيْهِم عبيد الله بن عمر بِسيف فَقتل الهرمزان وجفينة فَنَهَاهُ النَّاس فَلم ينْتَه فَقَالُوا وَقَالَ وَالله لأقتلن من يصير هَؤُلَاءِ من جنبه فانصرفوا إِلَى صُهَيْب وَأَخْبرُوهُ فَبعث إِلَيْهِ صُهَيْب عَمْرو بن الْعَاصِ فَلم يزل بِهِ حَتَّى أعطَاهُ السَّيْف ووثب عَلَيْهِ سعد بن أبي وَقاص فتناصيا وَقَالَ قتلت جاري وأخفرتني وأتى بِهِ صهيبا فحبسه على الشورى حَتَّى دَفعه إِلَى عُثْمَان
.. আমি আশঙ্কা করিনি যে তাঁর মৃত্যু হবে … এক নীল চক্ষু বিশিষ্ট নিস্পলক হিংস্র চিতার হাতে …

 

যায়িদ আল-আম্মী থেকে বর্ণিত এক বর্ণনায় তিনি বলেন, যখন উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) ইনতিকাল করলেন, তখন তারা তাঁর শোকে জিনদের বিলাপ করতে শুনল, তারা বলছিল: … "আমির হিসেবে তিনি উত্তম প্রতিদান লাভ করুন এবং বরকত দান করুন … আল্লাহর হাত সেই ছিন্নবিচ্ছিন্ন চামড়ার (শরীরের) ওপর।" …

‌‌এবং এই কবিতাগুলোর শেষে আরও বর্ধিত করা হয়েছে: … "অতঃপর আমার রব জান্নাতে অভিবাদনের মাধ্যমে আপনার সাথে সাক্ষাৎ করুন … এবং জান্নাতুল ফিরদাউসের এমন পোশাক দান করুন যা কখনও ছিঁড়বে না।" …

 

৫ -‌‌ হরমুযানের হত্যার আলোচনা

সাইফ ইবনে উমর আত-তামিমী সাহল ইবনে ইউসুফ থেকে, তিনি কাসিম ইবনে মুহাম্মদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন উমর (রা.) ইনতিকাল করলেন, তখন সুহাইব মানুষের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। অতঃপর যখন উমর (রা.)-এর কাফন-দাফনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হলো, তখন সুহাইব তাঁর জানাযার সালাত পড়ালেন এবং তাঁকে আয়েশা (রা.)-এর ঘরে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও আবু বকর (রা.)-এর সাথে দাফন করা হলো। উমর (রা.)-এর দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)-কে বলা হলো: "আমরা আবু লুলু ও হরমুযানকে একান্তে কথা বলতে দেখেছি, আর হরমুযান তার হাতে এই খঞ্জরটি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখছিল। তাদের সাথে জুফাইনাও ছিল, সে ইবাদ অঞ্চলের এক ব্যক্তি ছিল যাকে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) মদিনায় লেখালেখি শেখানোর জন্য নিয়ে এসেছিলেন। আরও ছিল ইবনে ফিরোজ এবং তার কন্যা। হরমুযান ব্যতীত তারা সবাই ছিল মুশরিক।" এরপর উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর তলোয়ার নিয়ে তাদের দিকে আক্রমণ করেন এবং হরমুযান ও জুফাইনাকে হত্যা করেন। মানুষ তাঁকে বাধা দিলেও তিনি থামেননি। তারা তাঁকে কথা বললে তিনি বললেন, "আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই তাদেরকে হত্যা করব যারা এদের সাথে জড়িত ছিল।" তখন তারা সুহাইবের কাছে গিয়ে তাঁকে সংবাদ দিলেন। সুহাইব তাঁর কাছে আমর ইবনুল আসকে পাঠালেন। আমর ইবনুল আস তাঁর সাথে কথা বলতে থাকলেন যতক্ষণ না তিনি তলোয়ারটি অর্পণ করলেন। সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস তাঁর দিকে লাফিয়ে পড়লেন এবং তারা একে অপরের চুল টেনে ধরলেন। সাদ বললেন, "তুমি আমার প্রতিবেশীকে হত্যা করেছ এবং আমার নিরাপত্তা ভঙ্গ করেছ।" এরপর তাঁকে সুহাইবের কাছে আনা হলো এবং তিনি তাঁকে শূরার সদস্যদের সিদ্ধান্ত পর্যন্ত আটকে রাখলেন, পরিশেষে উসমানের নিকট তাঁকে সোপর্দ করলেন।
(খণ্ড: ১) আত-তামহীদ ওয়াল বায়ান ফী মাকতালিশ শাহীদ উসমান (পৃষ্ঠা: ٣٩)
يَوْم اسْتخْلف فأقاده

وروى أَيْضا عَن يحيى بن سعيد عَن سعيد بن الْمسيب أَن عبد الرَّحْمَن بن أبي بكر رض = غَدَاة طعن عمر رض = قَالَ مَرَرْت على أبي لؤلؤة لَعنه الله تَعَالَى عصر أمس وَمَعَهُ جفينة والهرمزان وهم نجي فَلَمَّا رهقتهم ثَارُوا وَسقط مِنْهُم خنجر لَهُ رأسان نصابه فِي وَسطه فانظروا بِأَيّ شَيْء قتل وَقد تخَلّل أهل الْمَسْجِد وَخرج رجل من بني تَمِيم فَرجع إِلَيْهِم التَّمِيمِي وَقد كَانَ ألظ بِأبي لؤلؤة مُنْصَرفه عَن عمر رض = حَتَّى أَخذه فَقتله وَجَاء بالخنجر الَّذِي وصف عبد الرَّحْمَن بن أبي بكر رض = فَسمع بذلك عبيد الله فَأمْسك حَتَّى مَاتَ عمر ثمَّ أشتمل على السَّيْف فَأتى الهرمزان فَضَربهُ فَقتله فَلَمَّا عضه السَّيْف قَالَ لَا إِلَه إِلَّا الله ثمَّ مضى حَتَّى أَتَى جفينة وَكَانَ نصارنيا من أهل الْحيرَة ظِئْرًا لسعد بن مَالك أقدمه الْمَدِينَة للملح الَّذِي بَينه وَبَينه ليعلم بِالْمَدِينَةِ الْكِتَابَة فَلَمَّا علاهُ بِالسَّيْفِ صلب بَين عَيْنَيْهِ وَبلغ ذَلِك صهيبا فَبعث إِلَيْهِ عَمْرو بن الْعَاصِ فَلم يزل بِهِ وَيَقُول لَهُ السَّيْف بِأبي أُمِّي حَتَّى نَاوَلَهُ إِيَّاه وثاوره سعد فَأخذ بِشعرِهِ وجاؤوا إِلَى صُهَيْب

وَعَن أبي الشَّهِيد الحَجبي عَن ابْن سابط قَالَ لما بُويِعَ عُثْمَان رض = دَعَا الْمُهَاجِرين وَالْأَنْصَار فَبَدَأَ بالسابقين الْأَوَّلين فَخَطب لَهُم فَحَمدَ الله وَأثْنى عَلَيْهِ وَقَالَ إِنَّمَا أعتبر النَّاس بكم حَتَّى لَا أجد مِنْكُم أحدا فَإِن كُنْتُم على الْأَمر عرفت أَن الله فِي خلنقه نظرة وَإِن حلتم عَن الْأَمر عرفت أَن قد دُلي
যেদিন তাকে খলিফা নিযুক্ত করা হলো এবং তিনি কিসাস গ্রহণ করলেন।

ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে এবং তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে আরও বর্ণিত যে, উমর (রা.)-এর আহত হওয়ার ভোরে আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর (রা.) বললেন: আমি গতকাল বিকেলে আবু লুলুআহ (আল্লাহ তাআলা তাকে লানত করুন)-এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন তার সাথে জুফাইনা ও হরমুজান ছিল। তারা গোপনে পরামর্শ করছিল। আমি যখন তাদের সন্নিকটে গেলাম, তারা বিক্ষিপ্ত হয়ে গেল এবং তাদের মধ্য থেকে একটি দ্বি-মুখী খঞ্জর পড়ে গেল যার হাতল ছিল মাঝখানে। সুতরাং তোমরা লক্ষ্য করো যে, তাকে কী দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মসজিদের লোকদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দিল এবং বনু তামিমের এক ব্যক্তি বেরিয়ে গেলেন। এরপর সেই তামিমি ব্যক্তিটি ফিরে এলেন; তিনি উমর (রা.)-এর কাছ থেকে আবু লুলুআহ প্রস্থান করার সময় তাকে জাপটে ধরেছিলেন এবং অবশেষে তাকে হত্যা করেছিলেন। তিনি সেই খঞ্জরটিও নিয়ে আসলেন যা আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর (রা.) বর্ণনা করেছিলেন। উবায়দুল্লাহ এ খবর শুনতে পেয়ে উমর (রা.)-এর মৃত্যু পর্যন্ত ধৈর্য ধরলেন। এরপর তিনি তলোয়ার ধারণ করলেন এবং হরমুজানের কাছে গিয়ে তাকে আঘাত করে হত্যা করলেন। যখন তলোয়ারটি তাকে গ্রাস করল, তখন সে বলল ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’। এরপর তিনি অগ্রসর হলেন এবং জুফাইনার নিকট আসলেন। সে ছিল হিরাবাসীদের একজন খ্রিস্টান এবং সাদ ইবনে মালিকের সন্তানদের গৃহশিক্ষক। তিনি তাদের মধ্যকার সুসম্পর্কের কারণে তাকে মদিনায় নিয়ে এসেছিলেন যাতে সে সেখানে লেখালেখি শিক্ষা দিতে পারে। যখন তিনি তাকে তলোয়ার দ্বারা আঘাত করলেন, তখন সে তার দুই চোখের মাঝখানে ক্রুশ চিহ্ন অঙ্কন করল। সুহাইব (রা.)-এর নিকট এ সংবাদ পৌঁছালে তিনি আমর ইবনুল আস (রা.)-কে পাঠালেন। আমর তার কাছে অবিরাম এই বলে তলোয়ারটি চাচ্ছিলেন যে, ‘আমার মা-বাবা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক, তলোয়ারটি দিন’, যতক্ষণ না তিনি তা প্রদান করলেন। এরপর সাদ তার সাথে ধস্তাধস্তি করলেন এবং তার চুল ধরে টেনে সুহাইবের নিকট নিয়ে আসলেন।

আবুশ শাহীদ আল-হাজাবি থেকে এবং ইবনে সাবিত থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন উসমান (রা.)-এর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করা হলো, তখন তিনি মুহাজির ও আনসারদের আহ্বান করলেন। তিনি অগ্রবর্তী প্রথম পর্যায়ের সাহাবীদের দিয়ে শুরু করলেন এবং তাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান কীর্তন করলেন এবং বললেন: আমি তোমাদের মাধ্যমেই মানুষের অবস্থা বিবেচনা করব যতক্ষণ না আমি তোমাদের কাউকেও খুঁজে না পাই। যদি তোমরা এই বিষয়ের ওপর অবিচল থাকো, তবে আমি জানব যে আল্লাহর তাঁর সৃষ্টির ওপর বিশেষ অনুগ্রহ রয়েছে। আর যদি তোমরা তা থেকে বিচ্যুত হও, তবে আমি জানব যে বিপদ ঘনিয়ে এসেছে।
(খণ্ড: ১) আত-তামহীদ ওয়াল বায়ান ফী মাকতালিশ শাহীদ উসমান (পৃষ্ঠা: ٤٠)
بكم النَّاس وَعلمت كَيفَ أصنع وبمنزلتكم صالحي أهل زمَان وحكمائهم فَقولُوا فِيمَا أحدث عبيد الله بن عمر فَقَالُوا الْقود الْقود ونادى جُمْهُور النَّاس وهم من وَرَاء ذَلِك لَعَلَّكُمْ تُرِيدُونَ أَن تتبعوا عمر أبنه الله الله أبعد الله الهرمزان وجفينة فَقَالَ عُثْمَان رض = متمثلا وَلم يقل لهَؤُلَاء وَلَا لهَؤُلَاء شَيْئا

… من ذَا يندد عني النَّاس معذرة … أَن رد جَار أبي وَهُوَ مقتول

يُنَازع اللَّيْل بالبطحاء طعمته … يُقَال من جَار هَذَا غاله غول …

‌‌فَتفرق النَّاس وهم موقنون بِأَن سيقيده

وَعَن سعيد بن عبد الله عَن عبد الله بن أبي مليكَة قَالَ لما ولي عُثْمَان رض = قَالَ لَهُ صُهَيْب مَا تَقول فِي عبيد الله بن عمر فتمثل بِهَذَيْنِ الْبَيْتَيْنِ ثمَّ حمد الله وَأثْنى عَلَيْهِ وَقَالَ أَيهَا النَّاس كتاب الله بَيْنكُم فِيهِ حَلَاله وَحَرَامه فَمن أَتَى حدا من حُدُود الله فِيهِ وَالله فَتفرق النَّاس وهم على الْيَقِين من قَتله فأقاده

وَالصَّحِيح أَن عبيد الله بن عمر لم يقد مِنْهُ وَأَنه قتل يَوْم صفّين مَعَ مُعَاوِيَة كَذَا ذكره مُحَمَّد بن سعد فِي كتاب الطَّبَقَات

وَذكر أَيْضا سيف بن عمر فِي = كتاب الْفتُوح بِإِسْنَادِهِ عَن أبي مَنْصُور قَالَ سَمِعت القماذيات بن الهرمزان يحدث عَن قتل أَبِيه قَالَ قد كَانَت الْعَجم بِالْمَدِينَةِ يستروح بَعْضهَا إِلَى بعض فَمر فَيْرُوز بِأبي وَمَعَهُ خنجر لَهُ رأسان فتناوله مِنْهُ وَقَالَ مَا تصنع بِهَذَا فِي هَذِه الْبِلَاد فَقَالَ آنس بِهِ فَرَآهُ رجل فَلَمَّا أُصِيب عمر رض = قَالَ قد رَأَيْته يَعْنِي الخنجر وَهُوَ مَعَ
মানুষ তোমাদের সাথেই রয়েছে এবং আমি জানি আমার কী করা উচিত। আর তোমাদের অবস্থান হলো এ সময়ের নেককার ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের মতো। সুতরাং উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর যা ঘটিয়েছে সে বিষয়ে তোমরা তোমাদের অভিমত ব্যক্ত করো। তারা বললেন, ‘প্রতিশোধ, কিصاص!’ আর সাধারণ মানুষ এর বাইরে থেকে উচ্চস্বরে বলতে লাগল, ‘আপনারা কি উমরকে হত্যার পর তার পুত্রকেও হত্যা করতে চান? আল্লাহর কসম! আল্লাহর কসম! আল্লাহ হুরমুযান ও জুফাইনাকে দূর করে দিয়েছেন।’ তখন উসমান (রা.) একটি পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করলেন এবং এদের বা ওদের কাউকেই কিছু বললেন না।

… কে আমার পক্ষ থেকে মানুষের নিকট কৈফিয়ত পেশ করবে … যে আমার পিতার আশ্রয়প্রার্থীকে ফিরিয়ে দিয়েছে এমতাবস্থায় যে সে নিহত।

সে মক্কার উন্মুক্ত প্রান্তরে রাতের আঁধারে তার খাদ্যের জন্য লড়াই করে … বলা হয় যার প্রতিবেশী এ ব্যক্তি, তাকে কোনো বিপদ গ্রাস করেছে …

‌‌অতঃপর মানুষ এ বিশ্বাস নিয়ে চলে গেল যে, তিনি অবশ্যই তার থেকে কিصاص গ্রহণ করবেন।

সাঈদ ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আবি মুলাইকা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন উসমান (রা.) খলিফা নিযুক্ত হলেন, সুহাইব তাকে বললেন, উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তখন তিনি এই দুই পঙ্ক্তি কবিতা আবৃত্তি করলেন। এরপর তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান বর্ণনা করলেন এবং বললেন: হে লোকসকল! তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব বিদ্যমান, যাতে তাঁর হালাল ও হারাম বর্ণিত আছে। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর নির্ধারিত বিধানসমূহের কোনো সীমা লঙ্ঘন করবে, আল্লাহর কসম... অতঃপর মানুষ এই নিশ্চিত বিশ্বাস নিয়ে প্রস্থান করল যে, তিনি তাকে হত্যা করবেন এবং কিصاص গ্রহণ করবেন।

আর সঠিক মত হলো এই যে, উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে কিصاص গ্রহণ করা হয়নি এবং তিনি সিফফীনের যুদ্ধে মুয়াবিয়ার পক্ষে লড়াই করতে গিয়ে নিহত হন। মুহাম্মদ ইবনে সাদ তার 'কিতাবুত তাবাকাত'-এ এভাবেই উল্লেখ করেছেন।

সাইফ ইবনে উমরও তার 'কিতাবুল ফুতুহ'-এ স্বীয় সনদে আবু মানসুর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি হুরমুযানের পুত্র কুমাজিয়াতকে তার পিতার হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বর্ণনা করতে শুনেছি। তিনি বলেন: মদিনায় অনারব আজমীরা একে অপরের সাথে মেলামেশা করত। একদা ফিরোজ আমার পিতার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তার হাতে দুই মাথাবিশিষ্ট একটি খঞ্জর ছিল। আমার পিতা সেটি তার কাছ থেকে হাতে নিয়ে বললেন, 'এই শহরে তুমি এটা দিয়ে কী করবে?' সে বলল, 'আমি এটা সাথে রেখে স্বস্তি পাই।' এক ব্যক্তি তখন তাকে দেখেছিল। এরপর যখন উমর (রা.) আক্রান্ত হলেন, তখন সেই ব্যক্তি বলল, 'আমি সেই খঞ্জরটি দেখেছি এবং সেটি তখন ছিল...'
(খণ্ড: ১) আত-তামহীদ ওয়াল বায়ান ফী মাকতালিশ শাহীদ উসমান (পৃষ্ঠা: ٤١)
الهرمزان دَفعه إِلَى فَيْرُوز فَأقبل عبيد الله فَقتله فَلَمَّا ولي عُثْمَان رض = دَعَاني فأمكنني مِنْهُ ثمَّ قَالَ يَا بني هَذَا قَاتل أَبِيك وَأَنت أولى بِهِ منا فَاذْهَبْ بِهِ فأقلته قَالَ فخرجته بِهِ وَمَا فِي الأَرْض أحد إِلَّا معي إِلَّا أَنهم يطْلبُونَ إِلَى فِيهِ الْعَفو فَقلت لَهُم أَلِي قَتله قَالُوا نعم وَسبوا عبيد الله وَقلت أفلكم أَن تمنعوه قَالُوا لَا وَسبوا عبيد الله فتركته الله عز وجل وَلَهُم فاحتملوني فوَاللَّه مَا بلغت الْمنزل إلاعلى رُؤُوس الرِّجَال وأكفهم فَقَالَ النَّضر بن الْحَارِث السَّهْمِي … آلا يَا عبيد الله مَالك ملْجأ … وَلَا مهرب إِلَّا ابْن أروى وَلَا خفر

أصبت دَمًا وَالله فِي غير كنهه … حَرَامًا وَقتل الهرمزان لَهُ خطر

عدوت عَلَيْهِ ظَالِما فَقتلته … بأبيض مصقول صفاصقه ذكر على غير شَيْء غير أَن قَالَ قَائِل … أتتهمون الهرمزان على عمر فَقَالَ سَفِيه والحوادث جمة … نعم نتهمه قد أَشَارَ وَقد أَمر

وَكَانَ سلَاح الْمَرْء فِي جَوف بَيته … يقلبها وَالْأَمر بِالْأَمر يعْتَبر …

 

وَقَالَ زِيَاد بن لبيد البياضي … أَبَا عَمْرو عبيد الله رهن … فَلَا تشكك بقتل الهرمزان

فَإنَّك إِن حكمت بِغَيْر حق … فَمَا لَك بِالَّذِي حدثت يدان

كَذَلِك إِن فعلت وَذَاكَ يجْرِي … وَأَسْبَاب الخطا فرسا رهان …

 

وَعَن عبد الله بن سعيد بن ثَابت قَالَ بلغ عُثْمَان خوض النَّاس فِي
আল-হুরমুজানকে ফিরোজের নিকট সোপর্দ করা হলো, অতঃপর উবায়দুল্লাহ এগিয়ে এসে তাকে হত্যা করলেন। যখন উসমান (রা.) খলিফা হলেন, তিনি আমাকে ডাকলেন এবং তার (উবায়দুল্লাহর) ওপর আমাকে ক্ষমতা দিলেন। তারপর তিনি বললেন: "হে বৎস, এই ব্যক্তি তোমার পিতার হত্যাকারী এবং আমাদের চেয়ে তুমিই তার ব্যাপারে অধিক হকের অধিকারী। সুতরাং তাকে নিয়ে যাও এবং তার থেকে কিসাস গ্রহণ করো।" বর্ণনাকারী বলেন: আমি তাকে নিয়ে বের হলাম। জমিনে এমন কেউ ছিল না যে আমার সাথে ছিল না, তবে তারা কেবল তার ব্যাপারে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছিল। আমি তাদের বললাম: "তাকে হত্যা করার অধিকার কি আমার আছে?" তারা বলল: "হ্যাঁ।" এবং তারা উবায়দুল্লাহকে গালমন্দ করল। আমি বললাম: "তাকে বাধা দেওয়ার অধিকার কি আপনাদের আছে?" তারা বলল: "না।" এবং তারা উবায়দুল্লাহকে গালমন্দ করল। অতঃপর আমি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং তাদের খাতিরে তাকে ছেড়ে দিলাম। তখন তারা আমাকে তুলে নিল; আল্লাহর কসম, আমি আমার গন্তব্যে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত মানুষের মাথার ওপর এবং হাতের ওপর (বাহিত হয়ে) ছিলাম। অতঃপর নযর ইবনুল হারিস আস-সাহমি বললেন … ওহে উবায়দুল্লাহ! ইবনে আরওয়া ছাড়া তোমার কোনো আশ্রয় নেই … আর কোনো পলায়নের পথ নেই এবং কোনো রক্ষাকারী নেই।

আল্লাহর কসম, তুমি অন্যায়ভাবে রক্তপাত করেছ যা প্রকৃত কারণ ছাড়াই ছিল … যা ছিল হারাম, আর হুরমুজানকে হত্যা করা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।

তুমি জুলুম করে তার ওপর চড়াও হয়ে তাকে হত্যা করেছ … একটি ঝকঝকে ধারালো ও উজ্জ্বল তলোয়ার দিয়ে। কোনো কারণ ছাড়াই, কেবল কোনো একজনের বলা কথার ভিত্তিতে যে … তোমরা কি ওমরের হত্যার ব্যাপারে হুরমুজানকে অভিযুক্ত করছ? তখন এক নির্বোধ বলল—আর ঘটনাপ্রবাহ তো অনেকই ঘটে— … হ্যাঁ, আমরা তাকে অভিযুক্ত করি, সে ইঙ্গিত করেছে এবং সে আদেশ দিয়েছে।

আর লোকটির অস্ত্র তার ঘরের ভেতরেই ছিল … সে তা নাড়াচাড়া করছিল, অথচ এক বিষয়ের সাথে অন্য বিষয়কে তুলনা করা হয় …

 

জিয়াদ ইবনে লাবীদ আল-বায়াদী বললেন … হে আবু আমর! উবায়দুল্লাহ তো (রক্তের বিনিময়ে) দায়বদ্ধ হয়ে আছে … সুতরাং হুরমুজানকে হত্যার ব্যাপারে কোনো সংশয় করো না।

কেননা তুমি যদি সত্য ব্যতীত অন্য কোনো ফয়সালা করো … তবে যা ঘটবে তা প্রতিহত করার সাধ্য তোমার নেই।

অনুরূপভাবে যদি তুমি তাই করো এবং সেটি কার্যকর হয় … তবে ভুলের কারণসমূহ যেন পাল্লা দেওয়া দুটি ঘোড়া। …

 

আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ ইবনে সাবিত থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উসমান (রা.)-এর কাছে মানুষের জল্পনা-কল্পনার খবর পৌঁছাল যে...
(খণ্ড: ১) আত-তামহীদ ওয়াল বায়ান ফী মাকতালিশ শাহীদ উসমান (পৃষ্ঠা: ٤٢)
الهرمزان قبل أَن يُقيد عبيد الله فَقَامَ فَقَالَ أَيهَا النَّاس الْقَتْل على وَجْهَيْن وَالْإِمَام ولي قتل الْبَاغِي والعادي والمفسد دون الْآبَاء وَالْأَبْنَاء وَسَائِر الْإِخْوَة والأوليا وُلَاة مَا كَانَ فِي النائرة إِن شاؤوا تركُوا وَإِن شاؤوا باعوا وَإِن شاؤوا قتلوا لَيْسَ للْإِمَام إِلَّا المعونة وَحبس الْجَانِي ثمَّ دفع عبيد الله إِلَى ابْن الهرمزان

6 - ذكر مَا صنع عُثْمَان حِين اسْتخْلف وى صَاحب الْفتُوح عَن خُلَيْد بن زفر ومجالد قَالَا اسْتحْلف عُثْمَان رض = لثلاث مضين من الْمحرم سنة أَربع وَعشْرين بَين الصَّلَاتَيْنِ وَزَاد النَّاس مائَة مائَة وَهُوَ أول من زَاد النَّاس ووفد أهل الْأَمْصَار وَهُوَ أول من وفدهم وصنع فيهم الْمَعْرُوف وَعَن عَاصِم بن سُلَيْمَان عَن الشّعبِيّ قَالَ اسْتخْلف عُثْمَان رض = لثلاث مضين من الْمحرم سنة أَربع وَعشْرين فَخرج فصلى بِالنَّاسِ الْعَصْر وَزَاد ووفد فاستن بِهِ وَعَن عمر وَعَن الشّعبِيّ قَالَ اجْتمع أهل الشورى على عُثْمَان رض = لثلاث مضين من الْمحرم وَقد دخل وَقت الْعَصْر وَقد أذن مُؤذن صُهَيْب واجتمعوا بَين الْأَذَان وَالْإِقَامَة فَخرج فصلى بِالنَّاسِ وَزَاد النَّاس مائَة ووفد أهل الْأَمْصَار وصنع ذَلِك فيهم وَهُوَ أول من صنع ذَلِك

وَعَن الْفَيْض بن مُحَمَّد بن عون بن عبد الله بن عتبَة قَالَ خطب عُثْمَان رض = النَّاس بعد مَا بُويِعَ فَقَالَ أمابعد فَإِنِّي قد كلفت وَقد قبلت أَلا وَإِنِّي مُتبع وَلست بِمُبْتَدعٍ أَلا وَإِن لكم عَليّ بعد كتاب الله وَسنة نبيه وكرم ثَلَاثًا اتِّبَاع من كَانَ قبلي فِيمَا اجْتَمَعْتُمْ عَلَيْهِ وسننتم وَسن أهل الْخَيْر فِيمَا لم تسنوا عَن مَلأ والكف عَنْكُم إِلَّا فِيمَا استوجبتم الْعقُوبَة وَإِن الدُّنْيَا خضرَة وَقد شهيت إِلَى النَّاس وَمَال إِلَيْهَا كثير مِنْهُم فَلَا تركنوا إِلَى الدُّنْيَا وَلَا تثقوا بهَا فَإِنَّهَا لَيست بِثِقَة وَاعْلَمُوا أَنَّهَا غير تاركة إِلَّا من تَركهَا
হরমুযানের পুত্র, উবাইদুল্লাহকে বন্দি করার আগে দাঁড়িয়ে বললেন, "হে লোকসকল! হত্যাকাণ্ড দুই প্রকার। ইমাম (রাষ্ট্রপ্রধান) বিদ্রোহী, সীমালঙ্ঘনকারী এবং বিপর্যয় সৃষ্টিকারীর হত্যার ক্ষেত্রে অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ, যা পিতা, পুত্র বা ভাইদের বিষয় নয়। আর ব্যক্তিগত বা গোত্রীয় বিবাদে অভিভাবকরাই ফয়সালাকারী; তারা চাইলে মাফ করে দিতে পারেন, চাইলে বিনিময় গ্রহণ করতে পারেন, আবার চাইলে হত্যাও করতে পারেন। ইমামের কাজ কেবল সহযোগিতা করা এবং অপরাধীকে বন্দি রাখা।" এরপর তিনি উবাইদুল্লাহকে হরমুযানের পুত্রের কাছে সোপর্দ করলেন।

৬ - উসমান (রা.) খলিফা হওয়ার পর যা করেছিলেন তার বর্ণনা। 'সাহিবুল ফুতুহ' খুলাইদ বিন যুফার এবং মুজালিদ থেকে বর্ণনা করেন, তারা বলেন: উসমান (রা.) হিজরি চব্বিশ সালের মহররম মাসের তিন দিন অতিবাহিত হওয়ার পর দুই নামাজের মধ্যবর্তী সময়ে খলিফা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি জনগণের ভাতা একশ একশ করে বৃদ্ধি করেছিলেন; তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি মানুষের ভাতা বৃদ্ধি করেন। তিনি বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানান এবং তিনিই সর্বপ্রথম এই প্রথা চালু করেন এবং তাদের সাথে সদাচরণ করেন। আসিম বিন সুলাইমান থেকে বর্ণিত, তিনি শাবী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: চব্বিশ হিজরি সনের মহররম মাসের তিন দিন অতিবাহিত হওয়ার পর উসমান (রা.) খলিফা নিযুক্ত হন। এরপর তিনি বের হয়ে মানুষকে নিয়ে আসরের নামাজ আদায় করেন। তিনি ভাতা বৃদ্ধি করেন এবং প্রতিনিধিদল নিয়োগ করেন, যা পরবর্তীতে একটি আদর্শ বা নিয়মে পরিণত হয়। উমর এবং শাবী থেকে বর্ণিত, তারা বলেন: শূরা কমিটির সদস্যরা মহররম মাসের তিন দিন অতিবাহিত হওয়ার পর উসমান (রা.)-এর ব্যাপারে একমত হন। তখন আসরের ওয়াক্ত হয়ে গিয়েছিল এবং সুহাইবের মুয়াজ্জিন আজান দিয়েছিলেন। তারা আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে সমবেত হয়েছিলেন। অতঃপর তিনি (উসমান) বের হয়ে লোকদের নিয়ে নামাজ আদায় করেন এবং জনগণের ভাতা একশ করে বৃদ্ধি করেন। তিনি বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিনিধিদের আগমনের ব্যবস্থা করেন এবং তাদের সাথে সুব্যবহার করেন; তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি এ কাজ করেছিলেন।

ফায়জ বিন মুহাম্মদ বিন আউন বিন আব্দুল্লাহ বিন উতবা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: বায়আত গ্রহণের পর উসমান (রা.) জনগণের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। তিনি বলেন: "অতঃপর, আমাকে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে এবং আমি তা গ্রহণ করেছি। জেনে রেখো, আমি (পূর্বসূরিদের) অনুসারী, নতুন কিছুর উদ্ভাবক (বিদআতি) নই। আল্লাহ্‌র কিতাব এবং তাঁর নবীর সুন্নাহর পর তোমাদের প্রতি আমার তিনটি প্রতিশ্রুতি রয়েছে: তোমরা যে বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছ এবং নিয়ম নির্ধারণ করেছ তাতে আমার পূর্ববর্তীদের অনুসরণ করা; যে বিষয়ে তোমরা সামষ্টিকভাবে কোনো নিয়ম ঠিক করোনি সে বিষয়ে নেককার ব্যক্তিদের কর্মপন্থা অনুসরণ করা; এবং তোমাদের ওপর হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকা, যদি না তোমরা দণ্ড পাওয়ার মতো কোনো কাজ করো। নিশ্চয়ই দুনিয়া চাকচিক্যময় এবং মানুষের কাছে একে প্রিয় করা হয়েছে, ফলে তাদের অনেকেই এর দিকে ঝুঁকে পড়েছে। সুতরাং তোমরা দুনিয়ার প্রতি ঝুঁকে পড়ো না এবং এর ওপর ভরসা কোরো না, কারণ এটি নির্ভরযোগ্য নয়। জেনে রেখো, দুনিয়া তাকেই ত্যাগ করে না যে দুনিয়াকে ত্যাগ করে না।"
(খণ্ড: ১) আত-তামহীদ ওয়াল বায়ান ফী মাকতালিশ শাহীদ উসমান (পৃষ্ঠা: ٤٣)
7 -‌‌ ذكر ولَايَة سعد بن أبي وَقاص رض = الْكُوفَة

عَن مجاليد عَن الشّعبِيّ قَالَ كَانَ عمر رض = قَالَ أوصِي الْخَلِيفَة من بعدِي أَن يسْتَعْمل سَعْدا فَإِنِّي لم أعزله عَن سوء وَقد خشيت أَن يلْحقهُ من ذَلِك فَكَانَ أول عَامل بَعثه عُثْمَان رض = سعد بن أبي وَقاص رض = على الْكُوفَة وعزل الْمُغيرَة بن شُعْبَة والمغيرة يَوْمئِذٍ بِالْمَدِينَةِ فَعمل عَلَيْهَا سعد سنة وَبَعض أُخْرَى وَأقر أَبَا مُوسَى سنوات وَعَن مبشرين سَالم قَالَ كَانَ أول عَامل أستعمله عُثْمَان سعد بن أبي وَقاص رض = عَن وَصِيَّة عمر رض = فأقرهم على أَعْمَالهم وَتقدم إِلَيْهِم وحذرهم ثمَّ ان عُمَيْر بن سعد طعن فَصَارَت طعنته ترى فِيهِ فأضني مِنْهَا فاستعفى عُثْمَان رض = واستأذنه فِي الرُّجُوع إِلَى أَهله فَأذن لَهُ وَضم حمص وقنسرين إِلَى مُعَاوِيَة رض = وَعَن أبي حَارِثَة وَأبي عُثْمَان عَن خَالِد بن معدان قَالَ لما ولي عُثْمَان رض = أقرّ عُمَّال عمر رض = على الشَّام فَلَمَّا مَاتَ عبد الرَّحْمَن ابْن عَلْقَمَة الْكِنَانِي وَكَانَ على فلسطين ضم عمله إِلَى مُعَاوِيَة وَمرض عُمَيْر بن سعد فِي إِمَارَة عُثْمَان رض = مَرضا فطال بِهِ فاستعفا وأستأذنه فَأذن لَهُ وَضم عمله إِلَى مُعَاوِيَة فَاجْتمع الشَّام على مُعَاوِيَة لِسنتَيْنِ من أَمارَة عُثْمَان رض = وَكَانَ عَمْرو بن الْعَاصِ على مصر زمَان عمر رض = مجتمعة لَهُ فأقره عُثْمَان رض = صدر إمارته

8 -‌‌ ذكر وُلَاة خُرَاسَان وَمَا وَرَاء النَّهر

عَن مُحَمَّد وَطَلْحَة بإسنادهما قَالَا لما ولي عُثْمَان رض = عزل الْمُغيرَة عَن الْكُوفَة وَأمر سعد بن أبي وَقاص رض = وَأقر أَبَا مُوسَى وَبعث
৭ -‌‌কুফায় সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)-এর শাসনভারের আলোচনা

মুজালিদ সূত্রে আশ-শা'বী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর (রা.) বলেছিলেন: "আমি আমার পরবর্তী খলিফাকে অসিয়ত করছি যেন তিনি সা'দকে নিয়োগ দেন। কেননা আমি তাকে কোনো মন্দ আচরণের কারণে বরখাস্ত করিনি, বরং আমি আশঙ্কা করেছিলাম যে বিষয়টি তাকে ব্যথিত করতে পারে।" উসমান (রা.) সর্বপ্রথম যে প্রশাসককে প্রেরণ করেছিলেন তিনি হলেন কুফার দায়িত্বে নিয়োজিত সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)। তিনি মুগীরা ইবনে শু'বাকে বরখাস্ত করেন, মুগীরা তখন মদিনায় অবস্থান করছিলেন। সা'দ সেখানে এক বছর ও কয়েক মাস দায়িত্ব পালন করেন এবং তিনি আবু মুসাকে কয়েক বছর নিজ পদে বহাল রাখেন। মুবাশশিরিন সালিম হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: উমর (রা.)-এর অসিয়ত অনুযায়ী উসমান (রা.) সর্বপ্রথম যে প্রশাসককে নিয়োগ দিয়েছিলেন তিনি হলেন সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)। তিনি তাঁদেরকে নিজ নিজ কর্মস্থলে বহাল রাখেন, তাঁদের নিকট প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পেশ করেন এবং তাঁদের সতর্ক করেন। অতঃপর উমায়ের ইবনে সা'দ জখমপ্রাপ্ত হন এবং সেই জখম তাঁর দেহে প্রকাশ পেতে থাকে, ফলে তিনি এতে দুর্বল হয়ে পড়েন। তিনি উসমান (রা.)-এর নিকট অব্যাহতি প্রার্থনা করেন এবং নিজ পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার অনুমতি চান। তিনি তাঁকে অনুমতি প্রদান করেন এবং হিমস ও কিন্নাসরিন অঞ্চলকে মুয়াবিয়া (রা.)-এর প্রশাসনের অন্তর্ভুক্ত করে দেন। আবু হারিসাহ ও আবু উসমান সূত্রে খালিদ ইবনে মা'দান হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: উসমান (রা.) যখন দায়িত্বভার গ্রহণ করেন, তখন তিনি শামের ভূখণ্ডে উমর (রা.)-এর নিযুক্ত প্রশাসকদের বহাল রাখেন। অতঃপর যখন ফিলিস্তিনের দায়িত্বে নিয়োজিত আব্দুর রহমান ইবনে আলকামা আল-কিনানি মৃত্যুবরণ করেন, তখন উসমান (রা.) তাঁর শাসনাধীন এলাকা মুয়াবিয়া (রা.)-এর সাথে যুক্ত করে দেন। উসমান (রা.)-এর খিলাফতকালে উমায়ের ইবনে সা'দ দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতায় আক্রান্ত হন, ফলে তিনি অব্যাহতি ও বিদায়ের অনুমতি প্রার্থনা করলে উসমান (রা.) তাঁকে অনুমতি দেন এবং তাঁর শাসনাধীন অঞ্চল মুয়াবিয়ার সাথে যুক্ত করে দেন। এভাবে উসমান (রা.)-এর খিলাফতের দ্বিতীয় বছরে সমগ্র শাম অঞ্চল মুয়াবিয়া (রা.)-এর অধীনে ঐক্যবদ্ধ হয়। আর আমর ইবনে আস (রা.) উমর (রা.)-এর যমানায় সমগ্র মিশরের দায়িত্বে ছিলেন, উসমান (রা.) তাঁর খিলাফতের শুরুর দিকে তাঁকে উক্ত পদে বহাল রাখেন।

৮ -‌‌খুরাসান ও মাওয়ারাননাহার অঞ্চলের প্রশাসকদের আলোচনা

মুহাম্মদ ও তালহা তাঁদের সনদসহ বর্ণনা করেন, তাঁরা বলেন: উসমান (রা.) যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন তিনি কুফা হতে মুগীরাকে বরখাস্ত করেন এবং সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)-কে দায়িত্ব প্রদানের আদেশ দেন। তিনি আবু মুসাকে বহাল রাখেন এবং প্রেরণ করেন...
(খণ্ড: ১) আত-তামহীদ ওয়াল বায়ান ফী মাকতালিশ শাহীদ উসমান (পৃষ্ঠা: ٤٤)
على خُرَاسَان عمر بن عُثْمَان بن سعد فَلم يدع كورة دون النَّهر إِلَّا ونالها بعد الْأَحْنَف وَصَالح من لم يجب الْأَحْنَف وَأمر النَّاس بعبور النَّهر فَصَالحه من وَرَاء النَّهر وَكَانَ صلحهم مِمَّا جرى على يَد عُثْمَان رض = وَبعث عبد الله ابْن عَامر إِلَى كَابر وَهِي عمالة سجستان فَبلغ كابل حَتَّى استفرعها وَكَانَت عمالة سجستان أعظم من خُرَاسَان حَتَّى مَاتَ مُعَاوِيَة

9 -‌‌ كتب عُثْمَان فِي أول خِلَافَته

وَكَانَ أول = كتاب كتبه عُثْمَان رض = إِلَى عماله أما بعد فَإِن الله أَمر الْأَئِمَّة أَن يَكُونُوا رُعَاة وَلم يتَقَدَّم إِلَيْهِم فِي أَن يَكُونُوا جباة وَإِن صدر هَذِه الْأمة خلقُوا رُعَاة وَلم يخلقوا جباة وليوشكن أئمتكم أَن يصيروا جباة فَلَا يَكُونُوا رُعَاة فَإِذا أعادوا كَذَلِك أتقطع الْحيَاء وَالْأَمَانَة وَالْوَفَاء أَلا وَإِن أعدل السِّيرَة أَن تنظروا فِي أُمُور الْمُسلمين وَفِيمَا عَلَيْهِم فتعطفوهم مَالهم وتأخذوهم بماعليهم ثمَّ تثنوا بِأَهْل الذِّمَّة فتعطوهم الَّذِي لَهُم وتأخذوهم بِالَّذِي عَلَيْهِم الْعَدو الَّذِي تنتابون فاستفتحوا عَلَيْهِم بِالْوَفَاءِ

وَكَانَ أول كتاب كتبه إِلَى أُمَرَاء الْجنُود فِي الْفروج أما بعد فَإِنَّكُم حماة الْمُسلمين وذادتهم وَقد وضع لكم عمر رض = مالم يغب عَنَّا بل كَانَ عَن مَلأ منا وَلَا يبلغنِي عَن أحد مِنْكُم تَغْيِير وَلَا تَبْدِيل فيغير الله مَا بكم ويستبدل بكم غَيْركُمْ فانظروا كَيفَ تَكُونُونَ فَإِنِّي أنظر فِيمَا الزمني الله النّظر فِيهِ وَالْقِيَام عَلَيْهِ
খোরাসানের দায়িত্বে ছিলেন উমর বিন উসমান বিন সাদ। তিনি আহনাফের পর নদীর এপার পর্যন্ত এমন কোনো জনপদ বাকি রাখেননি যা তিনি জয় করেননি। যারা আহনাফের আহ্বানে সাড়া দেয়নি তিনি তাদের সাথে সন্ধি করলেন এবং লোকজনকে নদী পার হওয়ার নির্দেশ দিলেন। ফলে নদীর ওপার থেকেও লোকজন এসে তাঁর সাথে সন্ধি করল। তাঁদের এই সন্ধি উসমান (রা.)-এর শাসনামলে তাঁর মাধ্যমেই সম্পাদিত হয়েছিল। তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমিরকে কাবুলে পাঠান, যা ছিল সিজিস্তান প্রদেশের প্রশাসনিক অঞ্চল। তিনি কাবুল পর্যন্ত পৌঁছে তা জয় করেন। মুয়াবিয়া (রা.)-এর ইন্তেকাল পর্যন্ত সিজিস্তান প্রদেশ খোরাসানের চেয়েও বিশাল ছিল।

৯ -‌‌ খিলাফতের শুরুতে উসমান (রা.)-এর পত্রসমূহ

উসমান (রা.) তাঁর গভর্নরদের কাছে সর্বপ্রথম যে পত্রটি লিখেছিলেন তা হলো: "পর সমাচার, আল্লাহ তাআলা শাসকদের তদারককারী হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, তিনি তাঁদের কেবল কর আদায়কারী হওয়ার নির্দেশ দেননি। এ উম্মতের প্রথম যুগের ব্যক্তিবর্গ তদারককারী হিসেবেই সৃষ্টি হয়েছিলেন, কর আদায়কারী হিসেবে নয়। অচিরেই তোমাদের শাসকরা তদারককারীর পরিবর্তে কর আদায়কারীতে পরিণত হবে। তারা যখন এমনটা করবে, তখন লজ্জা, আমানতদারি ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা বিলুপ্ত হয়ে যাবে। জেনে রেখো, সর্বোত্তম নীতি হলো তোমরা মুসলমানদের বিষয়াদি এবং তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বসমূহ পর্যবেক্ষণ করবে; তাদের যা প্রাপ্য তা তাদের প্রদান করবে এবং তাদের থেকে যা পাওনা তা গ্রহণ করবে। অতঃপর জিম্মিদের প্রতি মনোযোগী হবে; তাদের যা প্রাপ্য তা তাদের দেবে এবং তাদের থেকে যা পাওনা তা গ্রহণ করবে। আর যে শত্রুর সাথে তোমরা যুদ্ধে লিপ্ত হও, তাদের ওপর প্রতিশ্রুতি রক্ষার মাধ্যমে বিজয় অন্বেষণ করো।"

সীমান্ত প্রহরায় নিয়োজিত সেনাপতিদের প্রতি তাঁর লেখা প্রথম পত্রটি ছিল: "পর সমাচার, তোমরা হলে মুসলমানদের রক্ষক ও প্রতিরক্ষা বাহিনী। উমর (রা.) তোমাদের জন্য যা নির্ধারণ করে গেছেন তা আমাদের কাছে অস্পষ্ট নয়, বরং তা আমাদের উপস্থিতিতেই হয়েছিল। তোমাদের কারো পক্ষ থেকে যেন কোনো পরিবর্তন বা পরিমার্জনের সংবাদ আমার নিকট না পৌঁছে; অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের অবস্থা পরিবর্তন করে দেবেন এবং তোমাদের পরিবর্তে অন্য জাতিকে নিয়ে আসবেন। সুতরাং তোমরা লক্ষ্য রেখো তোমরা কেমন কাজ করছ, কারণ আল্লাহ আমার ওপর যা তদারকি ও পালন করার আবশ্যিক দায়িত্ব দিয়েছেন, আমি সে বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখছি।"