(খণ্ড: ১) ফাতহুল গাফফার আল-জামি লি-আহকামি সুন্নাতি নাবিয়্যিনাল মুখতার (পৃষ্ঠা: -)
فتح الغفار الجامع لأحكام سنة نبينا المختار   (الرباعي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: فتح الغفار الجامع لأحكام سنة نبينا المختار

المؤلف: الحسن بن أحمد بن يوسف بن محمد بن أحمد الرُّباعي الصنعاني (المتوفى: 1276 هـ)

المحقق: مجموعة بإشراف الشيخ علي العمران

الناشر: دار عالم الفوائد

الطبعة: الأولى، 1427 هـ

عدد الأجزاء: 4 (متسلسلة الترقيم)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ফাতহুল গাফফার আল-জামি লি আহকামি সুন্নাতি নাবিয়্যিনাল মুখতার (আমাদের মনোনীত নবীর সুন্নাহর বিধানসমূহের পূর্ণাঙ্গ সংকলন)   (আর-রুবাই)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: ফাতহুল গাফফার আল-জামি লি আহকামি সুন্নাতি নাবিয়্যিনাল মুখতার

লেখক: আল-হাসান বিন আহমাদ বিন ইউসুফ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আর-রুবাই আস-সানআনি (মৃত্যু: ১২৭৬ হিজরি)

তাহকীক: শায়খ আলী আল-উমরানের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষজ্ঞ দল

প্রকাশক: দারু আলমিল ফাওয়াঈদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৭ হিজরি

খণ্ড সংখ্যা: ৪ (ধারাবাহিক নম্বরযুক্ত)

[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ফাতহুল গাফফার আল-জামি লি-আহকামি সুন্নাতি নাবিয়্যিনাল মুখতার (পৃষ্ঠা: -)
ـ[فتح الغفار الجامع لأحكام سنة نبينا المختار]ـ

المؤلف: الحسن بن أحمد بن يوسف بن محمد بن أحمد الرُّباعي الصنعاني (المتوفى: 1276هـ)

المحقق: مجموعة بإشراف الشيخ علي العمران

الناشر: دار عالم الفوائد

الطبعة: الأولى، 1427 هـ

عدد الأجزاء: 4 (في ترقيم مسلسل واحد)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، وهو مذيل بالحواشي]
ـ[ফাতহুল গাফফার আল-জামি' লি-আহকামি সুন্নাতি নাবিয়্যিনাল মুখতার]ـ

লেখক: আল-হাসান বিন আহমাদ বিন ইউসুফ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আর-রুবায়ি আস-সানআনি (মৃত্যু: ১২৭৬ হিজরি)

তাহকিক: শেখ আলী আল-উমরানের তত্ত্বাবধানে একটি দল

প্রকাশক: দার আলাম আল-ফাওয়াইদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৭ হিজরি

খণ্ড সংখ্যা: ৪ (একই ধারাবাহিক ক্রমিক সংখ্যায়)

[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ এবং এটি পাদটীকা সংবলিত]
(খণ্ড: ১) ফাতহুল গাফফার আল-জামি লি-আহকামি সুন্নাতি নাবিয়্যিনাল মুখতার (পৃষ্ঠা: ٣)
شارك في العمل على الكتاب

 

1- في التصحيح والمقابلة

* عبد الرحمن بن سالم الأهدل

* محمد بن قائد الصغير

* نايف بن محمد القطاع

 

2- في العزو والتخريج

* رمزي بن إسماعيل صلاح

* عبد الحكيم بن قاسم الصعفاني

* عمر بن عبد العزيز الوشلي

 

إشراف

علي بن محمد العمران
গ্রন্থটির কাজে অংশগ্রহণ করেছেন

 

১- সংশোধন ও পাঠ মিলকরণে

* আবদুর রহমান বিন সালেম আল-আহদাল

* মুহাম্মদ বিন কায়েদ আস-সাগীর

* নায়েফ বিন মুহাম্মদ আল-কাত্তা

 

২- উদ্ধৃতি প্রদান ও হাদিস বিশ্লেষণে (তাখরীজ)

* রামজি বিন ইসমাঈল সালাহ

* আবদুল হাকীম বিন কাসেম আস-সাফানি

* উমর বিন আবদুল আজিজ আল-ওয়াশালি

 

তত্ত্বাবধানে

আলী বিন মুহাম্মদ আল-উমরান
(খণ্ড: ১) ফাতহুল গাফফার আল-জামি লি-আহকামি সুন্নাতি নাবিয়্যিনাল মুখতার (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌مقدمة الناشر

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمدُ لله رب العالمين، والعاقبة للمتقين، والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد:

فيسر دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع أن تقدم للعلماء وطلاب العلم هذا الكتاب الجليل، وهو "فتح الغفار الجامع لأحكام سنة نبينا المختار" الذي جمع بين دفتيه أغلب الأحاديث التي عليها مدار الأحكام، إذ هو من أوسع الكتب المصنفة في ذلك.

وقد قام مشكورا فضيلة الشيخ علي بن محمد العمران بالإشراف على هذا العمل، ووَضْع خطة تحقيقه، والتقديم له، ثم أوكلنا العمل على الكتاب إلى مجموعة من طلاب العلم.

ونحن نسجل الشكر لكل من أسهم في إخراج الكتاب ممن قام بالمراجعة والمقابلة. ونشكر الشيخ أحمد حسان على جهوده في إخراج الكتاب، وكذا الأخ الدكتور عبد الله الجودي باقتراحه طباعة الكتاب. سائلين الله تعالى أن ينفع به، وأن يوفقنا جميعا للعلم النافع والعمل الصالح.

 

طلال بن محمد بن ملوح

مدير دار عالم الفوائد
‌‌প্রকাশকের ভূমিকা

পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:

দার আলমুল ফাওয়াইদ প্রকাশনী ও পরিবেশনী উলামায়ে কিরাম ও ইলম পিপাসুদের সামনে এই মহান কিতাবটি উপস্থাপন করতে পেরে আনন্দিত, যা হলো "ফাতহুল গাফ্ফার আল-জামি' লি-আহকামি সুন্নাতি নাবিয়্যিনাল মুখতার"। এই গ্রন্থটি এর দুই মলাটের মাঝে অধিকাংশ এমন হাদিসকে একত্রিত করেছে যার ওপর শরয়ি বিধানসমূহ আবর্তিত হয়; কেননা এটি এই বিষয়ে সংকলিত কিতাবসমূহের মধ্যে অন্যতম বিস্তারিত ও সমৃদ্ধ কিতাব।

শ্রদ্ধেয় শায়খ আলী বিন মুহাম্মদ আল-উমরান এই কাজটির তত্ত্বাবধান করেছেন, এর সম্পাদনা (তাহকীক) পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছেন এবং এর ভূমিকা লিখেছেন, যার জন্য আমরা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। অতঃপর আমরা কিতাবটির কাজ একদল ইলম পিপাসু শিক্ষার্থীর ওপর ন্যস্ত করেছি।

আমরা সেই প্রত্যেকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি যারা এই কিতাবটি প্রকাশের ক্ষেত্রে পর্যালোচনা ও মূল পাঠের সাথে যাচাই করার মাধ্যমে অবদান রেখেছেন। আমরা শায়খ আহমদ হাসসানকে কিতাবটি প্রকাশের পেছনে তাঁর প্রচেষ্টার জন্য এবং ভ্রাতা ডক্টর আব্দুল্লাহ আল-জুদিকে কিতাবটি মুদ্রণের প্রস্তাব দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে ফায়দা দান করেন এবং আমাদের সকলকে উপকারী ইলম ও সৎ আমলের তাওফীক দান করেন।

 

তালাল বিন মুহাম্মদ বিন মালওয়াহ

পরিচালক, দার আলমুল ফাওয়াইদ
(খণ্ড: ১) ফাতহুল গাফফার আল-জামি লি-আহকামি সুন্নাতি নাবিয়্যিনাল মুখতার (পৃষ্ঠা: ٧)
‌‌تقديم

بقلم علي بن محمد العمران

الحمد لله، والصلاة والسلام على عبده ورسوله محمد وعلى آله وصحبه وسلم، أما بعد:

فهذا كتاب "فتح الغفار الجامع لأحكام سنة نبينا المختار" صلى الله عليه وسلم، يخرج اليوم في حُلة قشيبة، تليق بمكانته ليأخذ مكانه بين كتب السنة المطهرة، ومصنفات أحاديث الأحكام.

ولا شك أن معرفة أحاديث الأحكام من أهم العلوم التي ينبغي تحقيقها، ومعرفة متونها وأسانيدها، إذ عليها مدار الحلال والحرام، وتفصيل ما أُجمل في القرآن، قال تعالى: (وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ) [النحل/44] .

فلذلك كثر التأليف في هذا الباب من العلم، إذ بلغت عدد المصنفات في أحاديث الأحكام أكثر من سبعين كتابا.

وكتابنا هذا من أهم الكتب الجامعة لأحاديث الأحكام، وتكمن أهميته في أنه واحد من أوسع الكتب المصنفة إذ بلغ عدد أحاديثه (6529) دون الزيادات واختلاف الألفاظ في الأحاديث. ومن مميزاته الكلام على الأحاديث صِحةَ وضعفا باختصار، وشرح الغريب.

وقد قدمنا بين يدي الكتاب ترجمة للمؤلف، ومنهج الكتاب، وطريقة العمل في العناية به وإخراجه، والحمد لله حق حمده.
উপস্থাপনা

লিখেছেন আলী বিন মুহাম্মদ আল-ইমরান

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর:

এটি হচ্ছে ‘ফাতহুল গাফফার আল-জামি লি-আহকাম সুন্নতি নাবিয়্যিনাল মুখতার’ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গ্রন্থ, যা আজ এক নতুন ও সুশোভিত রূপে প্রকাশিত হচ্ছে, যা তার মর্যাদার জন্য উপযুক্ত। এটি পবিত্র সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ এবং বিধিবিধান সংক্রান্ত হাদিসের সংকলনগুলোর মাঝে তার নিজস্ব স্থান করে নেবে।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, বিধিবিধান সংক্রান্ত হাদিসসমূহের জ্ঞান অর্জন করা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইলম যা সুচারুভাবে সম্পন্ন করা প্রয়োজন। এগুলোর মতন (মূল পাঠ) এবং সনদ (বর্ণনাসূত্র) সম্পর্কে জ্ঞান রাখা আবশ্যক; কারণ এগুলোর ওপরই হালাল ও হারামের আবর্তন এবং কুরআনে যা সংক্ষেপে বর্ণিত হয়েছে তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা নির্ভরশীল। আল্লাহ তাআলা বলেন: “আর আমি আপনার প্রতি যিকির (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের জন্য স্পষ্ট করে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে” [আন-নাহল: ৪৪]।

এ কারণে ইলমের এই শাখায় রচনার আধিক্য পরিলক্ষিত হয়; বিধিবিধান সংক্রান্ত হাদিসের সংকলনগুলোর সংখ্যা সত্তরটিরও বেশি গ্রন্থে পৌঁছেছে।

আমাদের এই গ্রন্থটি বিধিবিধান সংক্রান্ত হাদিসসমূহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সংকলন। এর গুরুত্ব নিহিত রয়েছে এতে যে, এটি সংকলিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি বৃহৎ কিতাব, যার হাদিস সংখ্যা (অতিরিক্ত অংশ এবং হাদিসের শব্দগত পার্থক্য ছাড়াই) ৬৫২৯-এ পৌঁছেছে। এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সংক্ষেপে হাদিসের শুদ্ধাশুদ্ধি (সহিহ ও জয়িফ হওয়া) নিয়ে আলোচনা এবং দুর্ভোধ্য শব্দের ব্যাখ্যা।

আমরা এই গ্রন্থের শুরুতে লেখকের জীবনী, গ্রন্থের মানহাজ (পদ্ধতি), এবং এর সম্পাদনা ও প্রকাশের ক্ষেত্রে অনুসৃত কর্মপন্থা উপস্থাপন করেছি। আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যা তাঁর যথাযোগ্য প্রাপ্য।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল গাফফার আল-জামি লি-আহকামি সুন্নাতি নাবিয়্যিনাল মুখতার (পৃষ্ঠা: ٩)
‌‌ترجمة المؤلف

هو: الحسن بن أحمد بن يوسف بن محمد بن أحمد الرُّباعي.

والرُّباعِيُّ -بضم الراء المشددة وبعدها موحدة خفيفة-: نسبة إلى جده الأعلى القاضي عبد الله بن محمد بن جابر العَوْدَري السكْسَكِي (ت 711) ، وكان من أعيان القرن السابع الهجري، وعُرِف بالرُّباعي لأن له أربع أصابع (1) .

وعائلته المترْجَم معروفة بالفضل والعلم، فكما أسلفنا عن جده القاضي عبد الله كان أولاده من بعده، فقد سكنوا مدينة جِبْلَة (2) وعكفوا على الدراسة وإحياء العلم، وقد تولى بعضهم القضاء، ثم انتقل جدُّ المؤلف القاضي يوسف بن محمد بن أحمد إلى صنعاء وسكن بها، وبقيت العائلة بصنعاء إلى عصرنا، ومن المعاصرين السفير محمد بن عبد الرحمن الرُّباعي وغيره.

ولد المؤلف تقريبًا على رأس القرن الثاني عشر (نحو 1200) بمدينة صنعاء.

وتلقَّى العلم أوَّلاً على والده العلامة أحمد بن يوسف الرُّباعي (3) (ت 1231) وقد كان مبرزًا في علوم العربية والفقه والحديث، وله في الحديث رواية واسعة، وقد أخذ المؤلف عن والده الإجازة بأغلب كتب

--------------------------------------------

(1) ذكره تلميذه الجَنَدي في "السلوك": 2/84-85.

(2) جِبْلَة -بكسر فسكون ففتح- مدينة مشهورة تقع إلى الجنوب الغربي من مدينة إب، تبعد عنها بضعة كيلومترات، معروفة بخصوبة أراضيها واعتدال هوائها. انظر: "معجم البلدان والقبائل اليمنية": 1/285، و"الموسوعة اليمنية": 2/583.

(3) ترجمته في "البدر الطالع": 1/133، و"التقصار": 360-361، و"نيل الوطر": 1/248-249.
লেখকের জীবনী

তিনি হলেন: আল-হাসান বিন আহমদ বিন ইউসুফ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আর-রুবায়ি।

আর ‘আর-রুবায়ি’ (তাসদীদযুক্ত ‘রা’ বর্ণে পেশ এবং এরপর হালকা ‘বা’ বর্ণ সহযোগে)—এটি তাঁর ঊর্ধ্বতন দাদা কাযী আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন জাবির আল-আওদায়ী আস-সাকসাকী (মৃত্যু: ৭১১ হিজরী)-এর দিকে একটি সম্বন্ধ। তিনি সপ্তম হিজরী শতকের অন্যতম গণ্যমান্য ব্যক্তি ছিলেন। তাঁকে ‘আর-রুবায়ি’ বলা হতো কারণ তাঁর চারটি আঙুল ছিল (১)।

যাঁর জীবনী বর্ণিত হচ্ছে তাঁর পরিবার ফযীলত ও ইলমের জন্য সুপরিচিত। যেমনটি আমরা তাঁর দাদা কাযী আবদুল্লাহর ক্ষেত্রে পূর্বে উল্লেখ করেছি, তাঁর পরবর্তী সন্তানগণও অনুরূপ ছিলেন। তাঁরা জিবলাহ (২) শহরে বসবাস করতেন এবং অধ্যয়ন ও ইলম পুনরুজ্জীবিত করার কাজে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। তাঁদের কেউ কেউ বিচারকের (কাযী) দায়িত্বও পালন করেছেন। এরপর লেখকের দাদা কাযী ইউসুফ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ সানআ শহরে স্থানান্তরিত হন এবং সেখানে বসবাস শুরু করেন। তাঁদের পরিবার বর্তমান সময় পর্যন্ত সানআতেই অবস্থান করছে। সমসাময়িকদের মধ্যে রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আর-রুবায়ি ও আরও অনেকে রয়েছেন।

লেখক আনুমানিক দ্বাদশ হিজরী শতকের শুরুতে (প্রায় ১২০০ হিজরী) সানআ শহরে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি সর্বপ্রথম ইলম অর্জন করেন তাঁর পিতা আল্লামা আহমদ বিন ইউসুফ আর-রুবায়ি (৩) (মৃত্যু: ১২৩১ হিজরী)-এর নিকট। তিনি আরবি ভাষা, ফিকহ ও হাদীস শাস্ত্রে অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন এবং হাদীস শাস্ত্রে তাঁর ব্যাপক বর্ণনা (রেওয়ায়াত) ছিল। লেখক তাঁর পিতার নিকট থেকে অধিকাংশ কিতাবের ইজাজত লাভ করেন

--------------------------------------------

(১) তাঁর ছাত্র আল-জানাদী ‘আস-সুলূক’ গ্রন্থে (২/৮৪-৮৫) এটি উল্লেখ করেছেন।

(২) জিবলাহ—প্রথম বর্ণে যের, দ্বিতীয়টি সাকিন ও তৃতীয়টি যবর বিশিষ্ট—একটি প্রসিদ্ধ শহর যা ইব্ব শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এটি তার উর্বর ভূমি এবং মনোরম আবহাওয়ার জন্য পরিচিত। দেখুন: ‘মুজামুল বুলদান ওয়াল কাবাইলিল ইয়ামানিয়্যাহ’: ১/২৮৫ এবং ‘আল-মাওসূআতুল ইয়ামানিয়্যাহ’: ২/৫৮৩।

(৩) তাঁর জীবনী রয়েছে ‘আল-বাদরুত তালি’: ১/১৩৩, ‘আত-তিকসার’: ৩৬০-৩৬১ এবং ‘নাইলুল ওয়াতার’: ১/২৪৮-২৪৯ গ্রন্থে।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল গাফফার আল-জামি লি-আহকামি সুন্নাতি নাবিয়্যিনাল মুখতার (পৃষ্ঠা: ١٠)
الحديث وغيرها من كتب العلم، وقد ذكر أسانيده في (ملحق فتح الغفار) -وهو ملحق بآخر الكتاب-. ووالده من تلاميذ الشوكاني، وقد وصفه الشوكاني بـ: قوة الفهم والعرفان التام والإنصاف وعدم الجمود على التقليد.

ثم قرأ على جماعةٍ من شيوخ العصر، كالعلامة محمد بن علي الشوكاني (ت 1252) وقد اختص به ولازمه، فقرأ عليه في علم المعاني والبيان، وفي علم التفسير سمع عليه (تفسير الزمخشري) ، وفي "الصحيحين" والسنن، وفي مؤلفاته خاصة (شرح المنتقى) و (الدرر) . وقد لازمه مع أبيه واستمر كذلك بعد وفاته، وحصل (نيل الأوطار) بخطه.

وأخذ أيضًا عن السيد العلامة الحسن بن يحيى الكبسي (1) (ت 1238) وقد سمع عليه الكتب الستة، والقاضي العلامة يحيى بن علي الشوكاني (2) (ت 1267) ، والقاضي العلامة محمد بن أحمد السودي الصنعاني (3) (ت 1236) ، والعلامة عبد الله بن محمد الأمير الصنعاني (4) (ت 1242) ، والقاضي حسين بن محمد العنسي (5) (ت 1235) ، والعلامة إبراهيم بن عبد القادر الكوكباني (6) (ت 1223) ، وغيرهم من مشايخ العلم بصنعاء.

قال عنه شيخه الشوكاني: واستفاد في جميع العلوم الآلية، وفي علم السنة المطهرة، وله فهم صادق، وإدراك قوي، وتصور صحيح، وإنصاف وعمل بما تقتضيه الأدلة. وهو الآن من أعيان أهل العرفان ومحاسن حَمَلَة العلم بمدينة صنعاء. اهـ.

--------------------------------------------

(1) ترجمته في البدر الطالع: 1/211-213.

(2) البدر الطالع: 2/338-339. وهو أخو الإمام الشوكاني.

(3) البدر الطالع: 2/103-105.

(4) البدر الطالع: 2/396-397.

(5) البدر الطالع: 1/228-229.

(6) البدر الطالع: 1/17-18.
হাদিস এবং অন্যান্য ইলমি কিতাবসমূহ; তিনি তাঁর সনদসমূহ 'মুলহাকু ফাতহিল গাফফার' (যা কিতাবের শেষে একটি পরিশিষ্ট) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তাঁর পিতা শাওকানির ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং শাওকানি তাঁকে প্রখর বোধশক্তি, পূর্ণ জ্ঞান, ইনসাফ এবং তাকলিদের প্রতি স্থবিরতা পরিহারের গুণের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।

অতঃপর তিনি সমসাময়িক একদল শাইখের নিকট পাঠ গ্রহণ করেন, যেমন আল্লামা মুহাম্মদ ইবনে আলী আশ-শাওকানি (মৃত্যু ১২৫২), যাঁর নিকট তিনি বিশেষ স্থান করে নিয়েছিলেন এবং তাঁর সার্বক্ষণিক সান্নিধ্যে ছিলেন। তিনি তাঁর নিকট ইলমে মাআনি ও বায়ান এবং ইলমে তাফসিরের ক্ষেত্রে 'তাফসিরে জামাখশারি' শ্রবণ করেন; এছাড়া 'সহিহাইন' ও 'সুনান' গ্রন্থসমূহ এবং শাওকানির নিজস্ব রচনা বিশেষ করে 'শারহুল মুনতাকা' ও 'আদ-দুরার' পাঠ করেন। তিনি তাঁর পিতার সাথে শাওকানির সংশ্রবে ছিলেন এবং তাঁর মৃত্যুর পর পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে। তিনি নিজ হস্তাক্ষরে লিখিত 'নাইলুল আওতার' অর্জন করেন।

তিনি আরও ইলম অর্জন করেছেন সাইয়্যেদ আল্লামা হাসান ইবনে ইয়াহইয়া আল-কিবসি (১) (মৃত্যু ১২৩৮) এর নিকট থেকে এবং তাঁর নিকট কুতুবে সিত্তা শ্রবণ করেছেন; আরও পড়েছেন কাজী আল্লামা ইয়াহইয়া ইবনে আলী আশ-শাওকানি (২) (মৃত্যু ১২৬৭), কাজী আল্লামা মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আস-সুদি আস-সানআনি (৩) (মৃত্যু ১২৩৬), আল্লামা আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-আমির আস-সানআনি (৪) (মৃত্যু ১২৪২), কাজী হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ আল-আনসি (৫) (মৃত্যু ১২৩৫), এবং আল্লামা ইবরাহিম ইবনে আবদুল কাদির আল-কাওকাবানি (৬) (মৃত্যু ১২২৩) ও সানা শহরের অন্যান্য ইলমি শাইখদের নিকট।

তাঁর শাইখ শাওকানি তাঁর সম্পর্কে বলেন: "তিনি সমস্ত সহযোগী বিদ্যা এবং পবিত্র সুন্নাহর জ্ঞানে উপকৃত হয়েছেন। তাঁর রয়েছে সত্যনিষ্ঠ বোধশক্তি, প্রখর উপলব্ধি, সঠিক অনুধাবন ক্ষমতা, ইনসাফ এবং দলিলের দাবি অনুযায়ী আমল। তিনি বর্তমানে সানা শহরের বিশিষ্ট আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব এবং ইলম বহনকারীদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণসম্পন্ন ব্যক্তি।" সমাপ্ত।

--------------------------------------------

(১) আল-বদরুত তালি গ্রন্থে তাঁর জীবনী: ১/২১১-২১৩।

(২) আল-বদরুত তালি: ২/৩৩৮-৩৩৯। তিনি ইমাম শাওকানির ভাই।

(৩) আল-বদরুত তালি: ২/১০৩-১০৫।

(৪) আল-বদরুত তালি: ২/৩৯৬-৩৯৭।

(৫) আল-বদরুত তালি: ১/২২৮-২২৯।

(৬) আল-বদরুত তালি: ১/১৭-১৮।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল গাফফার আল-জামি লি-আহকামি সুন্নাতি নাবিয়্যিনাল মুখতার (পৃষ্ঠা: ١١)
وقال أيضًا عند ذكر أبيه: وولده حسن بن أحمد من أذكياء الطلبة، وله سماع علي في المؤلفَيْن المذكورَيْن -شرح المنتقى والدرر- فهو مع حداثة سنه يسابق في فهمه. اهـ.

وقال عصْرِيُّه الشجني: القاضي العلامة المدقق، والنبيل الفهامة المحقق.

وقال محمد زبارة: صار من أكابر أعيان علماء عصره.

ويظهر لنا جليًّا من ترجمة المؤلف رحمه الله وتعليقاته على الأحاديث وعلى حواشي النسخة نزوعه إلى الاجتهاد، وترك التقليد والجمود، واهتمامه بعلم السنة والحديث رواية ودراية.

كما يظهر -أيضًا- من الملحق في آخر (فتح الغفار) الذي كتبه المؤلف في بيان إجازاته من مشايخه، وأسانيده إلى كتب السنة، أو مصنفات الأئمة = مدى عنايته بمصنفات المحققين من العلماء والأئمة المشهود لهم بالتقدم في اتباع الدليل وصفاء المشرب، كمؤلفات المجد ابن تيمية صاحب (المنتقى) ، وحفيده شيخ الإسلام ابن تيمية، وتلميذه العلامة ابن القيم، والإمام ابن الوزير اليماني، والحافظ ابن حجر العسقلاني، وتلميذه الحافظ السخاوي، وغيرهم.

 

* مؤلفاته:

أما مؤلفاته فلم نعرف منها إلَاّ عدة كتب:

- هذا الكتاب (فتح الغفار الجامع لأحكام سنة نبينا المختار صلى الله عليه وسلم) . مكث في تأليفه أكثر من ثماني سنوات، بدأ به عام 1232 وانتهى عام 1240.

- ورساله في مسألة هل الحديث يفيد العلم أو الظن؟ منها نسخة في الجامع الكبير بالمكتبة الغربية (95 مجاميع) كتبت سنة 1337.

- رسالة في حكم إسبال الإزار دون الكعبين، ذكرها المؤلف في تعليق
তিনি তাঁর পিতার বর্ণনার সময় আরও বলেন: এবং তাঁর পুত্র হাসান ইবনে আহমদ অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত, এবং উক্ত দুই কিতাবে—শারহুল মুনতাকা ও আদ-দুরার—আমার নিকট থেকে তাঁর শ্রবণের অনুমতি রয়েছে, ফলে অল্প বয়স হওয়া সত্ত্বেও সে তাঁর বোধশক্তিতে অন্যদের ছাড়িয়ে যাচ্ছে। সমাপ্ত।

তাঁর সমসাময়িক আশ-শাজানি বলেন: বিচারক, বিজ্ঞ আল্লামা, অত্যন্ত সূক্ষ্মদর্শী এবং উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন তীক্ষ্ণ মেধাসম্পন্ন গবেষক।

মুহাম্মদ জাবারাহ বলেন: তিনি তাঁর সমকালীন প্রথিতযশা শ্রেষ্ঠ আলেমদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ)-এর জীবনী এবং হাদিসসমূহের উপর তাঁর ব্যাখ্যা ও পাণ্ডুলিপির প্রান্তটীকাসমূহ থেকে আমাদের কাছে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, তাঁর ঝোঁক ছিল ইজতিহাদের দিকে, এবং তাকলিদ ও অন্ধ অনুসরণ বর্জন করা এবং ইলমে সুন্নাহ ও হাদিসের রেওয়ায়েত (বর্ণনা) ও দেরায়েত (তত্ত্ব) সংক্রান্ত ইলমের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ।

অনুরূপভাবে 'ফাতহুল গাফফার'-এর শেষে যুক্ত পরিশিষ্ট থেকেও প্রতীয়মান হয়, যা লেখক তাঁর শায়েখদের কাছ থেকে প্রাপ্ত ইজাজত এবং সুন্নাহর কিতাবসমূহ বা ইমামদের রচনার সনদের বর্ণনায় লিখেছেন; সেখানে প্রতীয়মান হয় সেই সকল মুহাক্কিক আলেম ও ইমামদের রচনার প্রতি তাঁর গভীর যত্নশীলতার মাত্রা, যারা দলীল অনুসরণ এবং বিশুদ্ধ চিন্তাধারায় অগ্রগামী হিসেবে স্বীকৃত। যেমন—মাজদ ইবনে তাইমিয়্যাহ (আল-মুনতাকা গ্রন্থের লেখক), তাঁর নাতি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, তাঁর ছাত্র আল্লামা ইবনুল কায়্যিম, ইমাম ইবনুল উজির আল-ইয়ামানি, হাফিজ ইবনে হাজার আল-আসকালানি, তাঁর ছাত্র হাফিজ সাখাভি এবং অন্যান্যদের রচনাবলী।

 

* তাঁর রচনাবলী:

তাঁর রচনাবলীর মধ্যে আমরা মাত্র কয়েকটি কিতাব সম্পর্কে জানতে পেরেছি:

- এই কিতাবটি (ফাতহুল গাফফার আল-জামি লি আহকামি সুন্নাহ নাবিইয়্যিনাল মুখতার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। এর রচনায় তিনি আট বছরেরও বেশি সময় ব্যয় করেছেন, যা ১২৩২ হিজরিতে শুরু করেন এবং ১২৪০ হিজরিতে সমাপ্ত করেন।

- এবং একটি রিসালাহ (পুস্তিকা) 'হাদিস কি অকাট্য জ্ঞান প্রদান করে নাকি কেবল প্রবল ধারণা?' এই মাসআলার বিষয়ে। এর একটি পাণ্ডুলিপি জামেউল কাবীরের মাকতাবাতুল গরবিয়্যাহ-তে (৯৫ মাজামিয়া) সংরক্ষিত আছে, যা ১৩৩৭ হিজরিতে লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল।

- টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পরার বিধান সম্পর্কিত একটি রিসালাহ, যার কথা লেখক একটি টীকায় উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল গাফফার আল-জামি লি-আহকামি সুন্নাতি নাবিয়্যিনাল মুখতার (পৃষ্ঠা: ١٢)
له على حاشية النسخة انظر 1/259. وخلص فيها إلى القول بتحريمه.

- رسالة في صلاة التسبيح، ذكرها المؤلف في تعليقٍ له على حاشية النسخة انظر 1/485. وتكلم فيها على كل حديث بما في إسناده، وخلص إلى أن كل أسانيده معلولة.

 

* وفاته:

توفي -رحمه الله تعالى- عام 1276 عن نحو ستٍ وسبعين سنة في مدينة صنعاء.

* مصادر الترجمة:

- خاتمة فتح الغفار: 4/2213-2237 للمؤلف.

- البدر الطالع: 1/133، 194-195 للشوكاني.

- التقصار في جيد زمان علامة الأقاليم والأمصار: 364-365 للشجني الذماري.

- نيل الوطر: 1/318-319 لزبارة.

- معجم البلدان والقبائل اليمنية: 1/669 للمقحفي.

- مصادر الفكر الإسلامي في اليمن: 79-80 للحبشي.

- مقدمة مطبوعة فتح الغفار: 1/أ-ب.

***
পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকায় তাঁর একটি বক্তব্য রয়েছে, দেখুন ১/২৫৯। এবং সেখানে তিনি এটি হারাম হওয়ার অভিমত ব্যক্ত করে উপসংহার টেনেছেন।

- সালাতুত তাসবীহ বিষয়ক একটি পুস্তিকা, লেখক পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকায় তাঁর একটি মন্তব্যে এটি উল্লেখ করেছেন, দেখুন ১/৪৮৫। সেখানে তিনি প্রতিটি হাদীসের সনদ নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে এর সকল সনদই ত্রুটিযুক্ত।

 

* তাঁর মৃত্যু:

তিনি —আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন— ১২৭৬ হিজরি সনে প্রায় ছিয়াত্তর বছর বয়সে সানা শহরে মৃত্যুবরণ করেন।

* জীবনীর উৎসসমূহ:

- খাতামাতু ফাতহিল গাফফার: ৪/২২১৩-২২৩৭, মূল লেখক কর্তৃক।

- আল-বাদরুত্ব ত্বালি’: ১/১৩৩, ১৯৪-১৯৫, শাওকানি কর্তৃক।

- আত-তিকসার ফি জাইদি যামানি আল্লামাতিল আকালিম ওয়াল আমসার: ৩৬৪-৩৬৫, শাজানি যামারি কর্তৃক।

- নাইলুল ওয়াতার: ১/৩১৮-৩১৯, যিবারাহ কর্তৃক।

- মু’জামুল বুলদান ওয়াল কাবাইল আল-ইয়ামানিয়্যাহ: ১/৬৬৯, মাকহাফি কর্তৃক।

- মাসাদিরুল ফিকরিল ইসলামি ফিল ইয়ামান: ৭৯-৮০, হাবাশি কর্তৃক।

- ফাতহিল গাফফারের মুদ্রিত সংস্করণের ভূমিকা: ১/আলিফ-বা।

***
(খণ্ড: ১) ফাতহুল গাফফার আল-জামি লি-আহকামি সুন্নাতি নাবিয়্যিনাল মুখতার (পৃষ্ঠা: ١٣)
‌‌التعريف بالكتاب، ومنهج العمل في الاعتناء به

 

*‌‌ اسم الكتاب

الكتاب سماه مؤلفه على غلاف نسخته التي بخطه، وفي مقدمته بـ: (فتح الغفار الجامع لأحكام سنة نبينا المختار صلى الله عليه وسلم) هذا هو الاسم الصحيح للكتاب. ويؤكده أن معاصر المؤلف الشجني في كتابه "التقصار: 365" ترجم للمؤلف وذكر كتابه هذا بعنوان: (فتح الغفار لجمع أحكام سنة المختار) فعلق على حاشية النسخة بتصحيح الاسم إلى (فتح الغفار الجامع لأحكام سنة نبينا المختار) وخُتِمَ التعليق بـ: (تمت بقلم مؤلفه) . فهل المقصود مؤلف (التقصار) أو مؤلف (فتح الغفار) ؟ أي الاحتمالين كان فهو تصحيح مُعْتَمد للاسم، وإن كنت أُرَجح الثاني لأن الرُّباعي له عدد من التعليقات على حاشية نسخة (التقصار) أثبتها المحقق في الهوامش، ولأنها لو كانت لمؤلف (التقصار) لأثبت التصحيح في متن الكتاب وليس في هامشه.

وعليه؛ فتسمية الكتاب في طبعته الأولى بـ (فتح الغفار المشتمل على أحكام سنة نبينا المختار صلى الله عليه وسلم) تصرف غير محمود من الناشر!

ووقع في (نيل الوطر) لزبارة: (..لجمع أحكام..) وهو تصرف في الاسم.

 

*‌‌ تاريخ تأليفه

انتهى المؤلف من كتابة مسودة الكتاب في ثاني عشر رمضان سنة أربعين ومئتين وألف، ثم شرع في تبييضه ونقله من المسودة، وانتهى من ذلك في يوم الثلاثاء ثاني عشر شهر ذي الحجة الحرام سنة إحدى وأربعين ومئتين وألف -كما في خاتمة النسخة التي بخطه-. ثم عاد عليه بالتصحيح والقراءة ومراجعة أصوله بحضور بعض الطلبة في صبح يوم الخميس عشرين من شهر
গ্রন্থের পরিচিতি এবং এর সম্পাদনায় অনুসৃত কর্মপন্থা

 

*‌গ্রন্থের নাম

লেখক তার নিজ হাতে লিখিত পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদে এবং এর ভূমিকায় গ্রন্থটির নাম রেখেছেন: (ফাতহুল গাফফার আল-জামি' লি-আহকামি সুন্নাতি নাবিয়্যিনাল মুখতার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। এটিই গ্রন্থের সঠিক নাম। এর সত্যতা নিশ্চিত করে যে, লেখকের সমসাময়িক আশ-শাজানি তার 'আত-তিকসার: ৩৬৫' গ্রন্থে লেখকের জীবনী আলোচনা করেছেন এবং সেখানে এই গ্রন্থটির নাম উল্লেখ করেছেন এভাবে: (ফাতহুল গাফফার লি-জাম'ই আহকামি সুন্নাতিল মুখতার)। এরপর পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকায় নামটিকে সংশোধন করে লেখা হয়েছে: (ফাতহুল গাফফার আল-জামি' লি-আহকামি সুন্নাতি নাবিয়্যিনাল মুখতার) এবং টীকাটি শেষ করা হয়েছে এই কথা দিয়ে: (লেখকের কলম দ্বারা সমাপ্ত হলো)। এখন এখানে কি 'আত-তিকসার'-এর লেখক নাকি 'ফাতহুল গাফফার'-এর লেখককে বোঝানো হয়েছে? এই দুই সম্ভাবনার যেটিই হোক না কেন, এটি নামের ক্ষেত্রে একটি নির্ভরযোগ্য সংশোধন। তবে আমি দ্বিতীয় সম্ভাবনাটিকেই প্রাধান্য দিচ্ছি, কারণ আর-রুবায়ি-এর বেশ কিছু টীকা 'আত-তিকসার'-এর পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকায় রয়েছে যা গবেষক পাদটীকায় উল্লেখ করেছেন। আর যদি এটি 'আত-তিকসার'-এর লেখকের হতো, তবে তিনি সংশোধনীটি গ্রন্থের মূল পাঠে অন্তর্ভুক্ত করতেন, পার্শ্বটীকায় নয়।

সেই অনুযায়ী, প্রথম মুদ্রণে গ্রন্থটির নাম 'ফাতহুল গাফফার আল-মুশতামিল আলা আহকামি সুন্নাতি নাবিয়্যিনাল মুখতার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম' রাখা প্রকাশকের একটি অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ!

আর জাবারাহ-এর 'নাইলুল ওয়াতার' গ্রন্থে '...লি-জাম'ই আহকাম...' এসেছে, যা নামের ক্ষেত্রে একটি পরিবর্তন।

 

*‌গ্রন্থ রচনার ইতিহাস

লেখক ১২৪০ হিজরীর ১২ই রমজান মাসে গ্রন্থের খসড়া রচনার কাজ শেষ করেন। এরপর তিনি তা খসড়া থেকে মূল পাণ্ডুলিপিতে পরিমার্জিতভাবে স্থানান্তরের কাজ শুরু করেন এবং ১২৪১ হিজরীর ১২ই জিলহজ মঙ্গলবার সেই কাজ সমাপ্ত করেন—যেমনটি তার নিজ হাতের অনুলিপির উপসংহারে বর্ণিত হয়েছে। এরপর তিনি পুনরায় কয়েকজন ছাত্রের উপস্থিতিতে কোনো এক বৃহস্পতিবার সকাল বেলা মাসের বিশ তারিখে এর সংশোধন, পাঠ এবং মূল পাণ্ডুলিপির সাথে যাচাই করার কাজে ফিরে আসেন...
(খণ্ড: ১) ফাতহুল গাফফার আল-জামি লি-আহকামি সুন্নাতি নাবিয়্যিনাল মুখতার (পৃষ্ঠা: ١٤)
ذي الحجة من العام نفسه.

وهذا الكتاب استغرق مؤلفه في جمعه وتأليفه ثماني سنوات وسبعة أشهر وعدة أيام، قال في "مقدمة الكتاب: 1/8": (وكان الشروع في تأليفه غرة شهر المحرم سنة اثنين وثلاثين ومئتين وألف بمدينة صنعاء المحمية بالله تعالى، ومَنَّ الله -وله الحمد- بالفراغ من تأليفه في ثاني عشر رمضان سنة أربعين ومئتين وألف) . وقد كان عمره حين شرع في تأليفه نحو اثنين وثلاثين عاما، وانتهى منه وعمره في الأربعين.

 

*‌‌ التعريف بالكتاب وأهم مميزاته

• قال المؤلف في المقدمة شارحًا طبيعة كتابه:

(هذا مختصر جامع لما تفرق في الدفاتر والأسفار من أحاديث الأحكام المسندة عن نبينا المختار، لم يَصْنع مثله من سبق من المؤلفين، ولا نسج على منواله أحد من متقدمي المصنفين، جمعتُ فيه أدلة الأحكام، وعكفتُ على تحريره وتهذيبه مدةً من الشهور والأعوام، رجاء أن أكون ممن شمله قول الشارع: "ألا ليبلغ الشاهد الغائب، فربَّ مبلغٍ أوعى من سامع" وقوله: "نضر الله امرءًا سمع منا حديثًا فيبلغه غيره، فرب حامل فقهٍ إلى من هو أفقه منه، وربّ حامل فقه ليس بفقيه"، وأن أكون ممن شمله حديث أبي هريرة مرفوعًا عند مسلم: "إذا مات ابن آدم انقطع عمله إلا من ثلاث: صدقة جارية، أو علم ينتفع به، أو ولد صالح يدعو له" وأن أكون ممن فاز بنيل نصيب من ميراث خاتم النبيين صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه الطاهرين) .

• ثم قال في بيان هدفه من تأليفه كتابه:

(وكنت قد سمعت من مشايخي الأعلام طرفًا من السنة صالحًا، وأشرفت في الفروع على أشياء بَعُدت منها بعدًا واضحًا، ورأيت ما وقع من الخلاف بين الأئمة الأعلام، وأخذ كل طائفةٍ بجانب من سنة خير الأنام،
একই বছরের জিলহজ মাস।

এই গ্রন্থটি সংগ্রহ ও সংকলন করতে লেখকের আট বছর, সাত মাস ও বেশ কিছু দিন সময় লেগেছিল। তিনি 'গ্রন্থের ভূমিকা: ১/৮'-এ বলেন: (এর সংকলন শুরু হয়েছিল আল্লাহর সংরক্ষিত শহর সানআতে ১২৩২ হিজরি সালের মহররম মাসের শুরুতে। আর আল্লাহ তায়ালা অনুগ্রহ করেছেন —সকল প্রশংসা তাঁরই— ১২৪০ হিজরি সালের ১২ই রমজানে এর সংকলন সমাপ্ত করার মাধ্যমে)। যখন তিনি এটি রচনা করতে শুরু করেন তখন তাঁর বয়স ছিল প্রায় বত্রিশ বছর, আর যখন শেষ করেন তখন তাঁর বয়স ছিল চল্লিশ।

 

*‌‌ গ্রন্থের পরিচিতি ও এর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ

• লেখক ভূমিকায় তাঁর গ্রন্থের স্বরূপ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন:

(এটি আমাদের মনোনীত নবী থেকে বর্ণিত বিধান সংক্রান্ত মুসনাদ হাদিসগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত ও পূর্ণাঙ্গ সংকলন, যা বিভিন্ন নথিপত্র ও বড় বড় গ্রন্থে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। পূর্ববর্তী লেখকদের কেউ এর অনুরূপ কিছু রচনা করেননি এবং পূর্ববর্তী গ্রন্থকারদের কেউ এই ধাঁচে এটি তৈরি করেননি। আমি এতে বিধানের দলিলসমূহ একত্রিত করেছি এবং দীর্ঘ মাস ও বছর ধরে এর সম্পাদনা ও পরিমার্জনে মনোনিবেশ করেছি। এই আশায় যে, আমি যেন শারে’ (বিধানদাতা)-এর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত হতে পারি: "সাবধান, উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয়, কারণ যাকে পৌঁছে দেওয়া হয় সে অনেক সময় শ্রবণকারীর চেয়ে বেশি সংরক্ষণকারী হয়ে থাকে।" এবং তাঁর এই বাণী: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সতেজ ও প্রফুল্ল রাখুন, যে আমাদের থেকে কোনো হাদিস শুনেছে এবং তা অন্যের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। কেননা অনেক ফিকহ (জ্ঞান) বহনকারী ব্যক্তি এমন একজনের কাছে তা পৌঁছে দেয় যে তার চেয়ে অধিক সমঝদার। আবার অনেক ফিকহ বহনকারী নিজে ফকিহ (বিচক্ষণ) নয়।" আর আমি যেন আবু হুরায়রা বর্ণিত মুসলিমের সেই মারফু হাদিসের অন্তর্ভুক্ত হতে পারি: "যখন আদম সন্তান মৃত্যুবরণ করে, তখন তিনটি বিষয় ছাড়া তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়: সদকায়ে জারিয়া, অথবা এমন জ্ঞান যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়, অথবা এমন নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।" এবং আমি যেন শেষ নবী —তাঁর ওপর এবং তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক— তাঁর মিরাসের অংশ লাভে ধন্য হতে পারি)।

• এরপর তিনি তাঁর গ্রন্থ রচনার উদ্দেশ্য বর্ণনা করে বলেন:

(আমি আমার প্রখ্যাত শিক্ষকদের কাছ থেকে সুন্নাহর এক উল্লেখযোগ্য অংশ শ্রবণ করেছি। আমি ফিকহী শাখা-প্রশাখায় এমন কিছু বিষয় প্রত্যক্ষ করেছি যা সুন্নাহ থেকে স্পষ্টভাবে দূরে সরে গেছে। আমি প্রথিতযশা ইমামগণের মধ্যে মতভেদ লক্ষ্য করেছি এবং দেখেছি যে প্রতিটি দলই সৃষ্টির সেরা মানুষের সুন্নাহর কোনো না কোনো দিক গ্রহণ করেছে,
(খণ্ড: ১) ফাতহুল গাফফার আল-জামি লি-আহকামি সুন্নাতি নাবিয়্যিনাল মুখতার (পৃষ্ঠা: ١٥)
وقد أرشدنا الشارع أن نرجع إليه عند الاختلاف، وإلى رسوله صلى الله عليه وسلم متجنبين سلوك طريق الاعتساف، قاصدين الاجتماع والاتفاق والائتلاف، فجمعت أحاديث الأحكام القاطعة للخلاف..) .

• وقد أوضح المصنف السببَ الداعي إلى تأليف الكتاب بقوله:

(ومما دعاني إلى تأليفه، واقتحام المشاق إلى تصنيفه أمران:

أحدهما: أني لما رحلت عن هذه الديار، وجُبْتُ الفيافي والقفار، وأقصت ببلاد لا يوجد فيها مختصرات المؤلفات فضلا عن مطولات المصنفات، وكنت كثيرا ما أحتاج في غالب الحالات إلى البحث عن حال شيء من الأحاديث، فلم أظفر بالمقصود، وكان استصحاب شيء من الكتب يحتاج إلى مشقة زائدة على المجهود = عزمتُ على صنع هذا المختصر الصغير الحجم، الكبير المقدار، أجعله نديمي في الحضر، ورفيقي في الأسفار، فياله من نديم تشتاق إليه نفوس العارفين، ورفيق لا يُملّ حديثه كل وقت وحين!

الأمر الثاني: ذهاب الكتب من هذه الديار، وتفرق أصول هذا الكتاب في الأنجاد والأمصار، فسارعت إلى جمعه، وكنت عند الشروع أرى نفسي حقيرة لمثل التصدي لهذا الخطب، ورأيت أن الترك لذلك أقرب، فرغَّبَني بعضُ مشايخي الأعلام (1) ، وقال لي: هذه طريقة مُدخرة لدار السلام، ولا زال يحثني على تمام ما وقع به الشروع..) .

• ثم قال في بيان مصادر كتابه:

(وعمدتُ إلى أجمع كتابٍ للأحكام، وأنفع تأليفٍ تداولته الأئمة الأعلام، وهو "المنتقى" فجعلته أصلا لهذا الكتاب … وزدت عليه الجمَّ

--------------------------------------------

(1) هو شيخه الحسن بن يحيى الكبسي (ت 1238) .
আর শরীয়তদাতা আমাদের পথপ্রদর্শন করেছেন যেন আমরা মতপার্থক্যের সময় তাঁর দিকে এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে ফিরে আসি, যথেচ্ছাচারের পথ পরিহার করি এবং ঐক্য, সংহতি ও মেলবন্ধনের ইচ্ছা পোষণ করি। তাই আমি আহকামের ঐসব হাদীসগুলো একত্রিত করেছি যা মতভেদের অবসান ঘটায়...) ।

• লেখক তাঁর এই গ্রন্থ রচনার পেছনের কারণ বর্ণনা করে বলেন:

(আর আমাকে এটি সংকলন করতে এবং এটি রচনার ক্ষেত্রে কষ্ট বরণ করতে যা অনুপ্রাণিত করেছে তা হলো দুটি বিষয়:

প্রথমটি: আমি যখন এই দেশ থেকে প্রস্থান করলাম এবং মরুভূমি ও প্রান্তরসমূহ অতিক্রম করলাম, আর এমন সব দূরবর্তী দেশে অবস্থান করলাম যেখানে বড় বড় কিতাব তো দূরের কথা, ছোটখাটো সারসংক্ষেপও পাওয়া যায় না। আমি অধিকাংশ ক্ষেত্রে হাদীসের অবস্থা সম্পর্কে গবেষণার প্রয়োজন বোধ করতাম, কিন্তু উদ্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারতাম না। আর সাথে করে বইপত্র বহন করা ছিল সাধ্যাতীত কষ্টের বিষয়। ফলে আমি স্বল্প আয়তনের কিন্তু বিশাল মর্যাদার এই সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপটি তৈরির সংকল্প করলাম, যেন আমি একে আবাসে আমার সহচর এবং সফরে আমার সঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করতে পারি। এটি কতই না চমৎকার এক সহচর যার প্রতি আরিফদের প্রাণ আকুল হয়, আর এমন এক সঙ্গী যার আলোচনা কোনো কালেই ক্লান্তিকর হয় না!

দ্বিতীয় বিষয়: এই অঞ্চলসমূহ থেকে বইপত্র হারিয়ে যাওয়া এবং এই গ্রন্থের মূল উৎসগুলো বিভিন্ন উচ্চভূমি ও শহরগুলোতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা। তাই আমি এটি সংকলনে দ্রুত উদ্যোগী হলাম। শুরুর দিকে আমি নিজেকে এই মহান কাজের উপযুক্ত মনে না করে তুচ্ছ ভেবেছিলাম এবং এটি ছেড়ে দেওয়াই সমীচীন মনে করেছিলাম। কিন্তু আমার জনৈক বিশিষ্ট উস্তাদ (১) আমাকে উৎসাহিত করলেন এবং বললেন: এটি জান্নাতের জন্য সঞ্চিত একটি পথ। আর তিনি আমাকে শুরু করা কাজটি সমাপ্ত করার জন্য অনবরত তাগিদ দিতে থাকলেন...) ।

• এরপর তিনি তাঁর গ্রন্থের উৎসসমূহ বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন:

(আর আমি আহকামের ক্ষেত্রে সর্বাধিক সমৃদ্ধ কিতাব এবং মহান ইমামদের মাঝে প্রচলিত অত্যন্ত উপকারী রচনা 'আল-মুনতাকা'-র শরণাপন্ন হলাম। অতঃপর আমি একে এই কিতাবের মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করলাম … এবং এতে প্রচুর পরিমাণে সংযোজন করলাম...

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন তাঁর উস্তাদ হাসান বিন ইয়াহইয়া আল-কাবসী (মৃ. ১২৩৮)।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল গাফফার আল-জামি লি-আহকামি সুন্নাতি নাবিয়্যিনাল মুখতার (পৃষ্ঠা: ١٦)
الغفير من "جامع الأصول" (1) ، و"بلوغ المرام" (2) ، و"مجمع الزوائد" (3) ، و"الترغيب والترهيب" للحافظ المنذري، ومن "الجامع الصغير وذيله"، ومن "الجامع الكبير" (4) ، ومن "البدر المنير" (5) ، و"جامع المسانيد" (6) ، و"المستدرك" للحاكم، و"تلخيص الحافظ ابن حجر"، و"فتح الباري"، و"خلاصة البدر المنير"، وغير ذلك من الكتب، وراجعت تلك الأصول، ونسبت كل حديث إلى أصله المنقول … ) وستأتي مصادره في شرح الغريب.

• ثم بين طريقة تأليفه وترتيبه ومنهجه فيه بقوله:

(ورتبته -أي "المنتقى"- أحسن ترتيب، وهذَّبته أبلغ تهذيب، وحذفت منه أشياء تكررت، وأبدلت منه تراجم صُدِّرَت، وقدمت ما يحتاج إلى التقديم، وأخرت ما تقدمَ ورُتْبَتُه التأخير، وجعلت كل حديث حيث يستحق التصدير …

وأتْبَعْتُ كل حديث ما عليه من الكلام من تصحيح وتحسين، أو تضعيف وتهوين (7) ، وعزوت كل شيء إلى قائله حسبما وجدته في هذه المصنفات، وإن لم أجد كلامًا لأحد من الأئمة على الحديث نقلت من كتب الرجال ما قيل في راويهِ من التوثيق والتضعيف، وبالغت في العناية في البحث لِمَا يحتاج إليه، وإن بَعُدَت طريق الوصول إلا بعد أيامٍ إليه … ) .

--------------------------------------------

(1) لابن الأثير الجزري.

(2) للحافظ ابن حجر العسقلاني.

(3) للحافظ الهيثمي.

(4) كلاهما للحافظ السيوطي.

(5) للحافظ ابن الملقن، وكذا خلاصته.

(6) للحافظ ابن كثير.

(7) كذا ولعلها: توهين.
'জামেউল উসুল' (১), 'বুলুগুল মারাম' (২), 'মাজমাউয যাওয়াইদ' (৩), হাফেয মুনযিরীর 'আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব', 'আল-জামেউস সাগীর' ও তার পরিশিষ্ট থেকে, এবং 'আল-জামেউল কাবীর' (৪), 'আল-বদরুল মুনীর' (৫), 'জামেউল মাসানিদ' (৬), হাকেমের 'আল-মুস্তাদরাক', হাফেয ইবনে হাজারের 'তালখীস', 'ফাতহুল বারী', 'খুলাসাতুল বদরিল মুনীর' এবং এই ধরণের আরও অনেক কিতাব থেকে আমি বিপুল পরিমাণ অংশ নিয়েছি। আমি সেই মূল উৎসগুলো পর্যালোচনা করেছি এবং প্রতিটি হাদিসকে তার উদ্ধৃত মূল উৎসের দিকে সম্পৃক্ত করেছি … ) এবং অপরিচিত শব্দাবলির ব্যাখ্যায় এর উৎসসমূহ সামনে আসবে।

• অতঃপর তিনি তাঁর সংকলন পদ্ধতি, বিন্যাস ও কর্মপন্থা বর্ণনা করে বলেন:

(আর আমি এটি—অর্থাৎ "আল-মুন্তাকা"—উত্তমরূপে বিন্যস্ত করেছি, অত্যন্ত চমৎকারভাবে পরিমার্জিত করেছি, এতে পুনরাবৃত্ত বিষয়গুলো বাদ দিয়েছি, পূর্বের শিরোনামগুলো পরিবর্তন করেছি, যে বিষয়গুলো আগে আনা প্রয়োজন ছিল তা আগে এনেছি এবং যে বিষয়গুলো আগে ছিল কিন্তু পরে আসা সংগত ছিল তা পরে দিয়েছি। আর প্রতিটি হাদিসকে এমন স্থানে রেখেছি যেখানে তা উপস্থাপিত হওয়ার যোগ্য …

আমি প্রতিটি হাদিসের সাথে তার শুদ্ধতা (সহিহ), গ্রহণযোগ্যতা (হাসান) কিংবা দুর্বলতা (যঈফ) ও ত্রুটি (৭) সংক্রান্ত আলোচনা যুক্ত করে দিয়েছি। আমি এই গ্রন্থসমূহে যা পেয়েছি তার প্রতিটি বিষয়কে তার বক্তার দিকে সম্পৃক্ত করেছি। যদি আমি হাদিসটির বিষয়ে কোনো ইমামের মন্তব্য না পেয়ে থাকি, তবে রিজালশাস্ত্রের কিতাবসমূহ থেকে সেই হাদিসের রাবী বা বর্ণনাকারীর নির্ভরযোগ্যতা ও দুর্বলতা সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা উদ্ধৃত করেছি। প্রয়োজনীয় বিষয়ে অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, যদিও তা খুঁজে পেতে দীর্ঘ সময় লেগেছে … ) ।

--------------------------------------------

(১) ইবনুল আসীর আল-জাযারীর।

(২) হাফেয ইবনে হাজার আসকালানীর।

(৩) হাফেয হাইসামীর।

(৪) উভয়টি হাফেয সুয়ূতী-র।

(৫) হাফেয ইবনুল মুলাক্কিনের, এবং অনুরূপভাবে তাঁর সংক্ষিপ্তসারটিও।

(৬) হাফেয ইবনে কাসীরের।

(৭) মূল পাঠে এভাবেই আছে, তবে সম্ভবত এটি: তাওহীন (দুর্বল করা)।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল গাফফার আল-জামি লি-আহকামি সুন্নাতি নাবিয়্যিনাল মুখতার (পৃষ্ঠা: ١٧)
ثم حضه بعضُ شيوخه أن يُتْبعَ كلَّ حديث بما يحتاج إلى تفسيره من الغريب، حتى لا يحتاج إلى شرح، وتكمل به فائدة الكتاب قال: فامتثلت أمره، وأتْبَعتُ كل بابٍ ما يحتاج إليه نقلاً من شروح الحديث، و"غريب جامع الأصول"، و"مختصر نهاية ابن الأثير"، و"المغرب" و"صحاح الجوهري"، و"القاموس"، و"مجمع البحار" (1) وغير ذلك.

ثم إني أتبعتُ هذا الكتاب كتابَ الجامع، اشتمل على عدة أبواب مهمة لا يُستغنى عنها.

وقد أكرر الحديث الواحد في مواضع من هذا الكتاب لِمَا فيه من الأحكام المتعددة.

واقتديت بأصل هذا الكتاب -أي "المنتقى"- في جعل العلامة لِمَا رواه البخاري ومسلم: أخرجاه، ولما رواه أحمد وأصحاب السنن: رواه الخمسة، ولهم جميعًا: رواه الجماعة، ولأحمد والبخاري ومسلم: متفق عليه، وما سوى ذلك أذكر من أخرجه باسمه) .

• ولأهمية الكتاب وقيمته العلمية كَتَبَ العلامة محمد بهجة البيطار

مقالاً في التعريف به وبيان مميزاته أولَ ما طُبع المجلد الأول منه عام 1390، وذلك في (مجلة المجمع العلمي العربي) بدمشق: (34/515-517)

فأهم مميزات الكتاب:

1- أنه من أجْمَع كتب أحاديث الأحكام إن لم يكن أجمعها، فقد بلغ عدد أحاديثه (6529 حديثا) عدا الزيادات والألفاظ للحديث الواحد، فبها يزيد العدد إلى الضعف.

2- أنه لتأخرِه استوعب الكتب المؤلفة في الأحكام، وضم إليها ما وجده

--------------------------------------------

(1) "مختصر النهاية" للسيوطي، و"المغرب" للمطرزي، و"القاموس" للفيروز آبادي، و"مجمع البحار" للهندي.
এরপর তাঁর জনৈক শিক্ষক তাকে উৎসাহিত করেন যেন তিনি প্রতিটি হাদিসের সাথে এর কঠিন শব্দাবলির (গারীব) প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা যুক্ত করেন, যাতে করে পৃথক কোনো ব্যাখ্যার প্রয়োজন না পড়ে এবং এর মাধ্যমে কিতাবটির উপযোগিতা পূর্ণতা পায়। তিনি বলেন: আমি তাঁর নির্দেশ পালন করেছি এবং প্রতিটি অধ্যায়ের শেষে প্রয়োজনীয় বিষয়াদি যুক্ত করেছি যা হাদিসের বিভিন্ন ব্যাখ্যাগ্রন্থ, 'গারীবু জামিউল উসুল', 'মুখতাসারু নিহায়াতি ইবনিল আসীর', 'আল-মুগরিব', 'সিহাহুল জাওহারি', 'আল-কামুস', 'মাজমাউল বিহার' (১) এবং এ জাতীয় অন্যান্য উৎস থেকে সংগৃহীত।

অতঃপর আমি এই কিতাবটির সাথে 'কিতাবুল জামে' যুক্ত করেছি, যা এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সংবলিত যেগুলি ব্যতিরেকে চলা অসম্ভব।

আর আমি কখনও একই হাদিস এই কিতাবের একাধিক স্থানে উল্লেখ করেছি তাতে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রকার বিধানের কারণে।

আমি এই কিতাবের মূল উৎস—অর্থাৎ 'আল-মুনতাকা'—এর অনুসরণে এই পরিভাষাগুলো ব্যবহার করেছি: যা বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন সেটির জন্য 'আখরাজাহু' (তাঁরা বর্ণনা করেছেন), যা আহমাদ ও সুনান গ্রন্থকারগণ বর্ণনা করেছেন সেটির জন্য 'রাওয়াহুল খামসাহ' (পাঁচজন বর্ণনা করেছেন), যা তাঁদের সকলে বর্ণনা করেছেন সেটির জন্য 'রাওয়াহুল জামাআহ' (দলগতভাবে সকলে বর্ণনা করেছেন), এবং যা আহমাদ, বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন সেটির জন্য 'মুত্তাফাকুন আলাইহি' (সর্বসম্মত); এ ছাড়া অন্যান্যদের ক্ষেত্রে আমি মূল বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করেছি।

• কিতাবটির গুরুত্ব এবং এর জ্ঞানতাত্ত্বিক মূল্যের কারণে আল্লামা মুহাম্মদ বাহজাত আল-বিতার একটি প্রবন্ধ লিখেছেন এর পরিচিতি ও বৈশিষ্ট্য বর্ণনায়, যখন ১৩৯০ হিজরিতে এর প্রথম খণ্ড প্রথমবার মুদ্রিত হয়; প্রবন্ধটি দামেস্কের 'মাজাল্লাতুল মাজমাউল ইলমি আল-আরাবি' (৩৪/৫১৫-৫১৭) এ প্রকাশিত হয়।

কিতাবটির প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:

১- এটি আহকাম বা বিধান সংক্রান্ত হাদিসের সংকলনসমূহের মধ্যে অন্যতম পূর্ণাঙ্গ কিতাব, যদি না এটিই সর্বশ্রেষ্ঠ হয়। এর হাদিস সংখ্যা ৬৫২৯টিতে পৌঁছেছে, হাদিসের বর্ধিত অংশ ও বিভিন্ন শব্দ চয়ন ব্যতিরেকে; আর সেগুলো যুক্ত করলে এই সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হবে।

২- এটি পরবর্তী সময়ে সংকলিত হওয়ার কারণে এটি আহকাম বিষয়ে ইতিপূর্বে রচিত কিতাবসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং তাতে প্রাপ্ত বিষয়সমূহকে একত্রিত করেছে

--------------------------------------------

(১) সুয়ুতির 'মুখতাসারুন নিহায়া', মুতাররিজির 'আল-মুগরিব', ফিরোজাবাদীর 'আল-কামুস' এবং হিন্দির 'মাজমাউল বিহার'।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল গাফফার আল-জামি লি-আহকামি সুন্নাতি নাবিয়্যিনাল মুখতার (পৃষ্ঠা: ١٨)
في الكتب الجامعة للأحاديث مما تقدم ذكره قريبا.

3- أنه يتبع كل حديث بما قيل فيه من تصحيح وتضعيف، وهذه ميزة كبيرة خاصة للفقيه التي ليست صناعته الحديث.

4- شرحه لغريب ألفاظ الحديث من كتب الشروح المعتمدة.

 

*‌‌ نسخ الكتاب الخطية:

للكتاب ثلاث نسخ خطية:

• أعلاها نسخة بخط المصنف كتبها سنة (1241) في شهر ذي الحجة، وكان قد انتهى من مسودة الكتاب سنة (1240) في شهر رمضان.

وهي محفوظة في المكتبة الغربية بالجامع الكبير رقم 137. ولم نستطع الحصول على صورةٍ منها بعد محاولاتٍ شتى.

• ونسخة أخرى من مقتنيات المكتبة السابقة برقم 105 كُتِبت سنة (1311) في شهر جمادى الأولى بخط أحمد بن علي الطير (1) ، ثم أعاد مقابلتها على الأم وانتهى من ذلك في شهر شعبان من السنة المذكورة، وقد نُقِلَت هذه النسخة من نسخة المؤلف السالفة الذكر، وهذه النسخة التي اعتمدناها في إثبات نص الكتاب.

عدد صفحاتها (652) ، يليها ملحق كتبه المؤلف فيه إجازاته بكتب الحديث وبكتب بعض الأئمة كابن تيمية وابن القيم وابن الوزير وابن حجر وغيرهم. في كل صفحة (35) سطرًا، وخطها نسخي واضح، وحالتها جيدة، وعلى صفحة العنوان عدد من التملكات، وقد كُتِبَت عناوين الكتب والأبواب بخط كبير، وعلى جوانبها تعليقات كثيرة، غالبها للمصنف، وهي

--------------------------------------------

(1) وهو عالم محقق في الفقه، اشتغل بالتدريس في الجامع الكبير وانتفع به الطلبة، ولد سنة (1263) وتوفي سنة (1319) . انظر: "نزهة النظر": 113، و"هجر العلم": 1/33.
হাদিসসমূহের সংকলিত গ্রন্থাবলিতে যেমনটি নিকট অতীতে উল্লেখ করা হয়েছে।

৩- তিনি প্রতিটি হাদিসের পর সেটি সহিহ নাকি জইফ সে সম্পর্কিত বর্ণনা উল্লেখ করেন, আর এটি বিশেষভাবে সেই ফকিহর জন্য একটি বড় বৈশিষ্ট্য যার প্রধান শাস্ত্র হাদিস নয়।

৪- নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলো থেকে হাদিসের দুর্বোধ্য শব্দসমূহের ব্যাখ্যা করা।

 

*‌‌ গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিসমূহ:

গ্রন্থটির তিনটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে:

• তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো লেখকের স্বহস্তে লিখিত কপি, যা তিনি ১২৪১ হিজরির জিলহজ মাসে লিখেছিলেন; আর তিনি ১২৪০ হিজরির রমজান মাসে এই গ্রন্থের খসড়া সম্পন্ন করেছিলেন।

এটি জামে মাসজিদের পশ্চিম লাইব্রেরিতে ১৩৭ নম্বরে সংরক্ষিত আছে। তবে বহু চেষ্টার পরেও আমরা এর কোনো অনুলিপি সংগ্রহ করতে সক্ষম হইনি।

• পূর্বোক্ত লাইব্রেরির সংগ্রহভুক্ত আরেকটি পাণ্ডুলিপি ১০৫ নম্বরভুক্ত, যা ১৩১১ হিজরির জুমাদাল উলা মাসে আহমদ বিন আলি আত-তাইয়ার (১) এর হস্তাক্ষরে লিখিত। এরপর তিনি মূল পাণ্ডুলিপির সাথে এটি পুনরায় মিলিয়ে দেখেন এবং উক্ত বছরের শাবান মাসে তা সম্পন্ন করেন। এই কপিটি লেখকের পূর্বে বর্ণিত পাণ্ডুলিপি থেকে নকল করা হয়েছে, এবং গ্রন্থের মূল পাঠ নির্ধারণে আমরা এই কপিটির ওপরই নির্ভর করেছি।

এর পৃষ্ঠা সংখ্যা (৬৫২), এরপর একটি পরিশিষ্ট রয়েছে যেখানে লেখক হাদিসের গ্রন্থসমূহ এবং ইবনে তাইমিয়্যাহ, ইবনুল কাইয়্যিম, ইবনুল ওয়াযির, ইবনে হাজারসহ অন্যান্য ইমামদের কিতাবসমূহে প্রাপ্ত তার ইজাজতসমূহ লিপিবদ্ধ করেছেন। প্রতি পৃষ্ঠায় (৩৫) টি লাইন রয়েছে, এর লিপি স্পষ্ট নাসখ পদ্ধতির এবং এটি বেশ ভালো অবস্থায় রয়েছে। শিরোনামের পৃষ্ঠায় বেশ কিছু মালিকানা স্বত্ব লিখিত রয়েছে। কিতাব এবং অধ্যায়গুলোর শিরোনাম বড় অক্ষরে লেখা হয়েছে এবং এর পার্শ্বটীকায় প্রচুর টীকা-টিপ্পনী রয়েছে, যার অধিকাংশই লেখকের নিজস্ব...

--------------------------------------------

(১) তিনি ফিকহ শাস্ত্রের একজন গবেষক আলেম, তিনি জামে মসজিদে অধ্যাপনার কাজ করতেন এবং ছাত্ররা তার দ্বারা উপকৃত হতো। তিনি ১২৬৩ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৩১৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: "নুজহাতুন নাযার": ১১৩, এবং "হিজারুল ইলম": ১/৩৩।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল গাফফার আল-জামি লি-আহকামি সুন্নাতি নাবিয়্যিনাল মুখতার (পৃষ্ঠা: ١٩)
شرح لبعض الأحاديث، أو تعريف ببعض الكتب والأعلام.

• والنسخة الثالثة فرعٌ عن التي قبلها، كتبت سنة (1390) بخط محمد بن عبد الرحمن بن أحمد بن علي الطير (1) ، وهو حفيد الناسخ السابق.

وهذه النسخة هي التي طُبع عنها الكتاب أوَّلَ مرَة كما في خاتمة الطبعة.

 

*‌‌ العمل في الكتاب:

- اعتمدنا النسخةَ الثانيةَ -التي سبق الحديث عنها- أصلا، وهي نسخة جيدة قليلة الخطأ يُعْتَمَد عليها في إخراج الكتاب؛ إذ هي منقولة من خط المصنف، وناسخها -أحمد بن علي الطير- عالمٌ معروف، اعتنى بها وقابلها مرة أخرى.

- صححنا ما وقع في النسخة من وهم أو سبق قلم -وهو قليل- خاصة إذا كان في ألفاظ الأحاديث النبوية دون إشارةِ إلى ذلك إذا كان الخطأ من قبيل التصحيف ونحوه، ومع الإشارة في أحيان أخرى خاصة فيما يقع من نقص أو سقط.

- أثبتنا ما كان على حواشي النسخة من تعليقات منسوبة إلى المؤلف رحمه الله أو لم تنسَب -وهي قليلة- إذا كانت تفيد غرض الكتاب.

- اعتنينا بتفقير الكتاب، ووضع علامات الترقيم اللازمة، وجعلنا نصوص الأحاديث بخط أثخن تمييزا له.

- رقمنا جميع الكتب الواردة فبلغت (39) كتابَا، ثم رقمْنا الأبواب داخل كل كتاب فوضعنا رقم الكتاب أولا ويليه رقم الباب هكذا [1/20] يعني: الباب رقم عشرين من الكتاب الأول وهكذا.

- ثم رقمنا الأحاديث رقمَا تسلسليا، فبلغ مجموع الأحاديث بحسب ترقيمنا (6529) . ولم نرقم ألفاظ الحديث ورواياته المختلفة وإلا لتضاعف

--------------------------------------------

(1) وهو من العلماء، ترجمته في "هجر العلم": 1/33-34.
কিছু হাদিসের ব্যাখ্যা, অথবা কিছু কিতাব ও ব্যক্তিবর্গের পরিচিতি।

• তৃতীয় পাণ্ডুলিপিটি এর পূর্ববর্তী পাণ্ডুলিপির একটি শাখা, যা (১৩৯০) হিজরিতে মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন আহমদ বিন আলী আত-তাইর (১)-এর হস্তলিপিতে লিখিত, যিনি পূর্ববর্তী লিপিকারের নাতি ছিলেন।

আর এই পাণ্ডুলিপিটি থেকেই কিতাবটি প্রথমবারের মতো মুদ্রিত হয়েছিল, যেমনটি মুদ্রণের সমাপ্তি অংশে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

*‌‌ কিতাবটিতে সম্পাদিত কর্মপদ্ধতি:

- আমরা দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিটিকে—যার আলোচনা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে—মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি। এটি একটি উৎকৃষ্ট এবং ভুলত্রুটিমুক্ত পাণ্ডুলিপি, যা কিতাবটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য; কেননা এটি স্বয়ং গ্রন্থকারের হস্তলিপি থেকে অনুলিপি করা হয়েছে এবং এর লিপিকার—আহমদ বিন আলী আত-তাইর—একজন সুপরিচিত আলেম ছিলেন। তিনি পাণ্ডুলিপিটির প্রতি বিশেষ যত্ন নিয়েছেন এবং পুনরায় তা মূলের সাথে মিলিয়ে যাচাই করেছেন।

- আমরা পাণ্ডুলিপিতে প্রাপ্ত ভ্রান্তি বা অসাবধানতাবশত ঘটে যাওয়া লেখনী ত্রুটিগুলো—যা সংখ্যায় অত্যন্ত কম—সংশোধন করেছি, বিশেষ করে যদি তা নববী হাদিসের শব্দাবলির ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। যদি ত্রুটিটি 'তাসহিফ' (অক্ষরের ভুল) বা এই জাতীয় হয়, তবে কোনো প্রকার ইঙ্গিত ছাড়াই তা সংশোধন করা হয়েছে, আর অন্যান্য ক্ষেত্রে বিশেষত কোনো শব্দ বাদ পড়ে গেলে বা বিচ্যুতি ঘটলে তা টীকায় উল্লেখ করার পাশাপাশি সংশোধন করা হয়েছে।

- আমরা পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকায় উল্লেখিত সেসব মন্তব্যগুলো বহাল রেখেছি যা লেখকের (রাহিমাহুল্লাহ) দিকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে কিংবা সম্পৃক্ত করা হয়নি—যা সংখ্যায় অল্প—যদি তা কিতাবের মূল উদ্দেশ্যের জন্য উপকারী মনে হয়েছে।

- আমরা কিতাবটির অনুচ্ছেদ বিন্যাস এবং প্রয়োজনীয় বিরামচিহ্ন স্থাপনের দিকে গুরুত্ব দিয়েছি এবং হাদিসের মূল পাঠ্যগুলোকে পৃথকভাবে চেনার জন্য স্থূল হরফে প্রদান করেছি।

- আমরা কিতাবে অন্তর্ভুক্ত সকল মূল অধ্যায়কে (কিতাব) নম্বর প্রদান করেছি যা মোট ৩৯টি অধ্যায়ে উন্নীত হয়েছে। অতঃপর প্রতিটি অধ্যায়ের অভ্যন্তরীণ অনুচ্ছেদগুলোকে (বাব) নম্বর দিয়েছি। আমরা প্রথমে অধ্যায়ের নম্বর এবং এরপর অনুচ্ছেদের নম্বর এভাবে স্থাপন করেছি [১/২০], যার অর্থ হলো: প্রথম অধ্যায়ের ২০ নম্বর অনুচ্ছেদ; এভাবে ধারাবাহিকভাবে বিন্যস্ত করা হয়েছে।

- অতঃপর আমরা হাদিসগুলোকে সাধারণ ক্রমিক নম্বর প্রদান করেছি, ফলে আমাদের নম্বর অনুযায়ী মোট হাদিস সংখ্যা দাঁড়িয়েছে (৬৫২৯) টি। তবে আমরা হাদিসের বিভিন্ন শব্দ ও ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনাগুলোকে আলাদাভাবে নম্বর দিইনি, অন্যথায় এই সংখ্যা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেত।

--------------------------------------------

(১) তিনি ওলামায়ে কেরামের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তার জীবনী 'হাজরুল ইলম': ১/৩৩-৩৪ পৃষ্ঠায় বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল গাফফার আল-জামি লি-আহকামি সুন্নাতি নাবিয়্যিনাল মুখতার (পৃষ্ঠা: ٢٠)
العدد.

- أحَلْنا على جميع الكتب الحديثية التي عزا إليها المؤلف بالجزء والصفحة أو بالرقم، وما لم نقف عليه من عزو المؤلف أو كان الكتاب المحال إليه غير مطبوع أغفلنا الإشارة إليه، ونشير هنا إلى أن بعض الكتب لم يكتمل طبعها حال عملنا على الكتاب من نحو سنتين مثل "مسند البزار"، و"المختارة" للضياء فلم تحصل الإحالة إليها.

- قد نحيل على عدد من المصادر التي لم يعزُ لها المصنف تكميلاً للفائدة.

- أما ما وجدناه من أوهام المؤلف في العزو أو غيره، فما جزمنا به علقناه في الهامش، وما كان محتملاً صنعنا له ملحقًا خاصًّا بعد المقدمة، فذكرنا ما وقع عند المصنف ثم أتبعناه بالإيراد على كلامه. وكثير من هذه المواضع يكون فيها المؤلف تابعا لغيره من المخَرجين، كصاحب "المنتقى"، أو ابن حجر في "التلخيص"، أو الشوكاني في "النيْل".

- ختمنا العمل بفهارس للأحاديث والمراجع والكتب والأبواب.

وهنا نشكر كل الإخوة الأفاضل الذين شاركوا في العمل والحمد لله الذي بنعمته تتم الصالحات.

كتبه

علي بن محمد العمران

6/شعبان/1426
সংখ্যা।

- গ্রন্থকার যেসব হাদিস গ্রন্থের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, আমরা তার সবকটির খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর অথবা নম্বরসহ উদ্ধৃতি প্রদান করেছি। গ্রন্থকারের উদ্ধৃত কোনো তথ্য যদি আমরা খুঁজে না পাই অথবা উদ্ধৃত গ্রন্থটি যদি মুদ্রিত না থাকে, তবে আমরা সেটির উল্লেখ পরিহার করেছি। আমরা এখানে আরও উল্লেখ করছি যে, প্রায় দুই বছর আগে আমরা যখন এই কিতাবটির কাজ করছিলাম তখন কিছু গ্রন্থ পূর্ণাঙ্গভাবে মুদ্রিত ছিল না—যেমন 'মুসনাদুল বাজ্জার' এবং দিয়া আল-মাকদিসির 'আল-মুখতারা'—তাই সেগুলোর উদ্ধৃতি প্রদান করা সম্ভব হয়নি।

- পাঠকদের উপকারের পূর্ণতার লক্ষ্যে আমরা এমন কিছু উৎসেরও উদ্ধৃতি প্রদান করেছি যা মূল গ্রন্থকার উল্লেখ করেননি।

- গ্রন্থকারের উদ্ধৃতি বা অন্য কোনো বিষয়ে আমরা যেসব ভুলভ্রান্তি পেয়েছি, সেগুলোর মধ্যে যে বিষয়ে আমরা নিশ্চিত হয়েছি তা টীকায় উল্লেখ করেছি। আর যেসব বিষয়ে সংশয় বা সম্ভাবনা ছিল, সেগুলোর জন্য আমরা ভূমিকার পরে একটি বিশেষ পরিশিষ্ট তৈরি করেছি; সেখানে গ্রন্থকারের বক্তব্যে যা ঘটেছে তা উল্লেখ করার পর তার ওপর আমাদের পর্যালোচনা বা আপত্তি প্রদান করেছি। এসব ক্ষেত্রে অনেক স্থানেই গ্রন্থকার অন্যান্য হাদিস বিশারদদের (তখরিজকারী) অনুসরণ করেছেন, যেমন 'আল-মুনতাকা'র লেখক, অথবা 'আত-তালখিস'-এ ইবনে হাজার, কিংবা 'আন-নাইল'-এ আশ-শাওকানি।

- আমরা হাদিস, তথ্যসূত্র, গ্রন্থ এবং অধ্যায়সমূহের সূচিপত্র প্রদানের মাধ্যমে কাজটি সমাপ্ত করেছি।

এখানে আমরা সেই সকল সম্মানিত ভাইদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যারা এই কাজে অংশগ্রহণ করেছেন। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহে সকল নেক কাজ সুসম্পন্ন হয়।

লিখছেন

আলী বিন মুহাম্মদ আল-উমরান

৬/শাবান/১৪২৬
(খণ্ড: ১) ফাতহুল গাফফার আল-জামি লি-আহকামি সুন্নাতি নাবিয়্যিনাল মুখতার (পৃষ্ঠা: ٢١)
‌‌ملحق

الملاحظات والاستدراكات على الكتاب
(*)

(46) * حديث وائل ليس بهذا اللفظ، وبهذا اللفظ عند البخاري معلق موقوفًا على ابن مسعود برقم (2129) ، وأخرجه موقوفًا على ابن مسعود الطحاوي في شرح معاني الآثار (1/108) ، وابن أبي شيبة (5/38، 75) ، والطبراني في الكبير (9/345) ، وليس في مسلم والترمذي، وأخرجه مرفوعا عن أم سلمة البيهقي (10/5) ، والطبراني في الكبير (23/326) ، وابن حبان (4/233) ، وأبو يعلى (12/402) . والذي عند مسلم سيأتي في باب النهي عن التداوي بالمحرمات لكن ليس بهذا اللفظ، وإنما بلفظ: (إنها ليست بدواء ولكنها داء) .

 

(47) * بهذا اللفظ لم يذكره أحد إلا الشوكاني في "النيل" ولعله تابعه، واللفظ هو "نهى النبي صلى الله عليه وسلم عن الدواء الخبيث" أخرجه أحمد (2/305) ، وأبو داود (4/6) ، والبيهقي (10/5) ، وابن أبي شيبة (5/32) .

 

(47) * لم نجده عند مسلم، وهو عند أحمد بزيادة "يعني السم" (2/305، 446، 478) ، وابن ماجه (2/1145) ، والترمذي (4/387) ، وقد كرره المصنف برقم (5703) ، وعزاه لمسلم أيضًا، ولم يعزه له المزي في التحفة (10/316) (14346) .

 

(66) * قال المصنف: إن البخاري قال: "إن سودة" مكان "عن سودة"، والصحيح أن الجميع ذكر هذا الحديث "عن سودة" حتى البخاري.

 

(67) * ذكر المصنف لفظ "أن ينتفع"، وهي عند الجميع "أن يستمتع"،

--------------------------------------------

(*) قال مُعِدُّ الكتاب للشاملة: وقد نسخنا كل تعليقات هذا الملحق إلى مواضعها على هامش الأحاديث لتكمل بها الفائدة
পরিশিষ্ট

গ্রন্থের ওপর পর্যবেক্ষণ ও সংশোধনসমূহ
(*)

(৪৬) * ওয়াইল বর্ণিত হাদিসটি এই শব্দে বর্ণিত হয়নি। এই শব্দে ইমাম বুখারীর নিকট ইবনে মাসউদের উক্তি হিসেবে (মাওকুফ) এবং বিচ্ছিন্ন সনদে (মুআল্লাক) ২১২৯ নম্বরে এটি বর্ণিত হয়েছে। এছাড়া ইমাম ত্বহাবী 'শরহু মাআনিল আসার' (১/১০৮), ইবনে আবি শায়বা (৫/৩৮, ৭৫) এবং তাবারানি 'আল-মু'জামুল কাবীর' (৯/৩৪৫) গ্রন্থে ইবনে মাসউদের উক্তি (মাওকুফ) হিসেবে এটি বর্ণনা করেছেন। এটি ইমাম মুসলিম ও তিরমিজীর গ্রন্থে নেই। তবে ইমাম বায়হাকী (১০/৫), তাবারানি 'আল-মু'জামুল কাবীর' (২৩/৩২৬), ইবনে হিব্বান (৪/২৩৩) এবং আবু ইয়ালা (১২/৪০২) উম্মে সালামাহ হতে রাসূলের বাণী (মারফু) হিসেবে এটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিমের নিকট যা বর্ণিত হয়েছে তা সামনে 'নিষিদ্ধ বস্তু দ্বারা চিকিৎসা করা নিষেধ' অধ্যায়ে আসবে, তবে তা এই শব্দে নয়; বরং শব্দগুলো হলো: (নিশ্চয়ই এটি কোনো ঔষধ নয় বরং এটি একটি রোগ)।

 

(৪৭) * এই শব্দে শাওকানি তার 'নাইল' গ্রন্থ ব্যতীত আর কেউ এটি উল্লেখ করেননি, সম্ভবত তিনি তাকেই অনুসরণ করেছেন। হাদিসের মূল শব্দ হলো: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপবিত্র ঔষধ থেকে নিষেধ করেছেন।" এটি আহমাদ (২/৩০৫), আবু দাউদ (৪/৬), বায়হাকী (১০/৫) এবং ইবনে আবি শায়বা (৫/৩২) বর্ণনা করেছেন।

 

(৪৭) * আমরা এটি ইমাম মুসলিমের নিকট পাইনি। ইমাম আহমাদ এটি "অর্থাৎ বিষ" এই অতিরিক্ত অংশসহ বর্ণনা করেছেন (২/৩০৫, ৪৪৬, ৪৭৮)। এছাড়া ইবনে মাজাহ (২/১১৪৫) ও তিরমিজী (৪/৩৮৭) এটি বর্ণনা করেছেন। গ্রন্থকার ৫৭০৩ নম্বর হাদিসে এটি পুনরায় উল্লেখ করেছেন এবং সেখানেও একে মুসলিমের দিকে সম্বন্ধ করেছেন। অথচ মিযযি 'আত-তুহফাহ' (১০/৩১৬) (১৪৩৪৬) গ্রন্থে একে মুসলিমের দিকে সম্বন্ধ করেননি।

 

(৬৬) * গ্রন্থকার বলেছেন: ইমাম বুখারী "সওদাহ হতে" এর স্থলে "নিশ্চয়ই সওদাহ" বলেছেন। অথচ সঠিক বিষয় হলো ইমাম বুখারীসহ সকলেই এই হাদিসটি "সওদাহ হতে" শব্দেই বর্ণনা করেছেন।

 

(৬৭) * গ্রন্থকার "উপকৃত হওয়া" শব্দটি উল্লেখ করেছেন, অথচ সবার নিকট শব্দটি হলো "উপভোগ করা"।

--------------------------------------------

(*) শামেলার জন্য গ্রন্থ প্রস্তুতকারী বলেছেন: ফায়দা পূর্ণ করার উদ্দেশ্যে আমরা এই পরিশিষ্টের সকল টীকা হাদিসগুলোর হাশিয়াতে নিজ নিজ স্থানে কপি করে দিয়েছি।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল গাফফার আল-জামি লি-আহকামি সুন্নাতি নাবিয়্যিনাল মুখতার (পৃষ্ঠা: ٢٢)
وهناك رواية لأحمد "أن ينتفع" (6/104) .

 

(69) * قال المصنف: وليس للنسائي ذكر المدة، نقول: وأيضًا ابن ماجه لم يذكر المدة (2/1194) .

 

(71) * ذكر المؤلف أن اللفظ للترمذي، ولفظ الترمذي وأبو داود واحد وهو "ما قطع من البهيمة وهي حية فهي ميتة".

 

(140) * قول الدارقطني ليس في السنن بهذا السياق، وأشار المباركفوري إلى أنه في نسخة (حديث حسن) بدلا من (حديث صحيح) وذكر الحديث الدارقطني في "العلل".

 

(175) * قال المصنف: غير أن ذِكْر "سنة" ليس لمسلم. والصحيح أنها وردت عند مسلم (4/1839) .

 

(179) ذكر المؤلف عن شداد بن أوس مرفوعًا، ولا يوجد هذا الحديث عند أحمد والبيهقي إلا من رواية أبي المليح عن أبيه مرفوعا البيهقي (8/325) ، أحمد (5/75) .

وروي هذا الحديث عن ابن عباس مرفوعًا وموقوفًا لكن من رواية عكرمة أو جابر بن زيد عن ابن عباس البيهقي (8/324) ، والطبراني في الكبير (11/233، 12/182) ولعل المقصود هنا هو رواية أبي المليح عن أبيه عن شداد بن أوس وهي موجودة عند الطبراني في الكبير (7/273، 274) .

 

(274) * رواية الحاكم لم نجدها.

 

(284) * لم أجده عند الحاكم بنفس اللفظ، ولم يعزه الأرناؤوط إليه.
এবং আহমাদ-এ একটি বর্ণনা রয়েছে: "যেন সে উপকৃত হতে পারে" (৬/১০৪)।

 

(৬৯) * গ্রন্থকার বলেছেন: নাসাঈতে মেয়াদের উল্লেখ নেই। আমরা বলি: ইবনু মাজাহও মেয়াদের উল্লেখ করেননি (২/১১৯৪)।

 

(৭১) * লেখক উল্লেখ করেছেন যে শব্দগুলো তিরমিযীর, এবং তিরমিযী ও আবু দাউদের শব্দ একই, যা হলো: "জীবিত থাকা অবস্থায় চতুষ্পদ জন্তুর শরীর থেকে যা কিছু কেটে নেওয়া হয়, তা মৃত।"

 

(১৪০) * দারা কুতনীর বক্তব্যটি সুনানে এই প্রেক্ষাপটে নেই। আল-মুবারকপুরী ইঙ্গিত করেছেন যে, একটি পাণ্ডুলিপিতে (সহীহ হাদীসের) পরিবর্তে (হাসান হাদীস) রয়েছে এবং দারা কুতনী হাদীসটি "আল-ইলাল"-এ উল্লেখ করেছেন।

 

(১৭৫) * গ্রন্থকার বলেছেন: তবে "সুন্নাহ" শব্দটির উল্লেখ মুসলিম-এ নেই। কিন্তু সঠিক কথা হলো এটি মুসলিম-এ বর্ণিত হয়েছে (৪/১৮৩৯)।

 

(১৭৯) লেখক শাদ্দাদ বিন আউস হতে মারফু' হিসেবে উল্লেখ করেছেন, অথচ আহমাদ এবং বায়হাকীতে এই হাদীসটি কেবল আবুল মালীহ তার পিতা হতে মারফু' হিসেবে যা বর্ণনা করেছেন তা ছাড়া পাওয়া যায় না—বায়হাকী (৮/৩২৫), আহমাদ (৫/৭৫)।

এবং এই হাদীসটি ইবনে আব্বাস হতে মারফু' ও মাওকুফ উভয়ভাবে বর্ণিত হয়েছে, তবে তা ইবনে আব্বাস হতে ইকরিমাহ অথবা জাবির বিন যাইদ-এর বর্ণনায় রয়েছে—বায়হাকী (৮/৩২৪), তাবারানী ফিল কাবীর (১১/২৩৩, ১২/১৮২)। সম্ভবত এখানে উদ্দেশ্য হলো আবুল মালীহ-এর বর্ণনা, যা তার পিতা হয়ে শাদ্দাদ বিন আউস হতে বর্ণিত, এবং এটি তাবারানী ফিল কাবীর-এ (৭/২৭৩, ২৭৪) বিদ্যমান রয়েছে।

 

(২৭৪) * হাকিম-এর বর্ণনাটি আমরা পাইনি।

 

(২৮৪) * আমি হাকিম-এর কাছে একই শব্দে এটি পাইনি এবং আরনাউতও এটি তাঁর দিকে সম্বন্ধ করেননি।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল গাফফার আল-জামি লি-আহকামি সুন্নাতি নাবিয়্যিনাল মুখতার (পৃষ্ঠা: ٢٣)
والذي أخرجه الحاكم وصححه (1/247، 250) هو "أن النبي صلى الله عليه وسلم توضأ مرة مرة، وجمع بين المضمضة والاستنشاق"، وفي الرواية الأخرى "ومسح بهما رأسه وأذنيه" في صفة وضوء النبي. إلا أنه لم يذكر صفة المسح.

 

(348) * قال رواه أحمد وأبو داود. وهذا اللفظ لم يخرجه إلا الترمذي، وأحمد لم يروه بنفس اللفظ وإنما رواه باللفظ الثاني، وبالنسبة لأبي داود، فلعله خطأ مطبعي واللفظ للترمذي وقال: هو أصح شيء في هذا الباب برقم (1/143) . ثم قال المصنف في الرواية الثانية، وهو عند أصحاب السنن الثلاث، ولم أجده إلا عند أبي داود والنسائي.

 

(373) * وأخرج معناه أبو داود والترمذي وابن ماجه، أما الترمذي فذكر الطريق دون اللفظ، وأما ابن ماجه وأبو داود فإن معناه مخرج من حديث البراء، وهو في تخريج الحديث قبل هذا فليحرر.

 

(374) * وهو عند أبي داود (1/16) (59) والنسائي (1/87) ، وابن ماجه (271) عن أبي المليح عن أبيه، ولم أجده من حديث ابن عمر.

 

(387) * رواية الترمذي لم أجدها، وإنما ساقه الترمذي كقول للأئمة أنهم رأو ترك الوضوء مما مسته النار (1/119) ، ولم أجده عند ابن ماجه.

 

(401) * الحديث الذي رواه الجماعة إنما أشار إليه الترمذي (1/35) بقوله: وفي الباب عن عائشة دون أن يذكر الحديث. وهو أيضًا عند الدارقطني (1/117) ، والبيهقي (1/309) .

 

(446) * رواية أحمد لم أجدها، وهي عند أبي داود (1/97، 278) ، مختصرا، والبيهقي (3/189) .
আল-হাকিম যা বর্ণনা করেছেন এবং সহিহ বলেছেন (১/২৪৭, ২৫০) তা হলো, "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার একবার করে ওজু করেছেন এবং কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়াকে একত্রে করেছেন।" অন্য বর্ণনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওজুর বর্ণনায় রয়েছে, "এবং তিনি তা দিয়ে তাঁর মাথা ও কান মাসাহ করেছেন।" তবে তিনি মাসাহ করার পদ্ধতি উল্লেখ করেননি।

 

(৩৪৮) * তিনি বলেছেন এটি আহমাদ এবং আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। এই শব্দে কেবল তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং আহমাদ একই শব্দে বর্ণনা করেননি, বরং তিনি দ্বিতীয় শব্দে বর্ণনা করেছেন। আর আবু দাউদের ক্ষেত্রে সম্ভবত এটি মুদ্রণজনিত ত্রুটি এবং শব্দগুলো তিরমিজির। তিনি বলেছেন: এটি এই অধ্যায়ে সবচেয়ে সহিহ বিষয় (১/১৪৩)। এরপর লেখক দ্বিতীয় বর্ণনার ক্ষেত্রে বলেছেন যে, এটি তিন সুনান গ্রন্থকারের নিকট রয়েছে, অথচ আমি এটি কেবল আবু দাউদ ও নাসাঈর নিকট পেয়েছি।

 

(৩৭৩) * এর অর্থ আবু দাউদ, তিরমিজি এবং ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। তিরমিজি এর সনদ উল্লেখ করেছেন কিন্তু মূল পাঠ (লফজ) উল্লেখ করেননি। আর ইবনে মাজাহ এবং আবু দাউদের ক্ষেত্রে এর অর্থ বারা (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণিত হয়েছে, যা এই হাদিসের পূর্ববর্তী তাহকীকে রয়েছে, সুতরাং এটি যাচাই করা উচিত।

 

(৩৭৪) * এটি আবু দাউদ (১/১৬) (৫৯), নাসাঈ (১/৮৭) এবং ইবনে মাজাহ (২৭১)-তে আবুল মালিহ থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত হয়েছে এবং ইবনে উমরের হাদিস থেকে আমি এটি পাইনি।

 

(৩৮৭) * তিরমিজির বর্ণনাটি আমি পাইনি, বরং তিরমিজি এটিকে ইমামগণের বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, তারা আগুন স্পর্শ করা বস্তু খাওয়ার পর ওজু ত্যাগ করাকে বিধেয় মনে করতেন (১/১১৯), আর ইবনে মাজাহর নিকট আমি এটি পাইনি।

 

(৪০১) * যে হাদিসটি একদল মুহাদ্দিস (জামাআত) বর্ণনা করেছেন, তিরমিজি (১/৩৫) কেবল সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে: "এ বিষয়ে আয়েশা (রা.) থেকে হাদিস বর্ণিত হয়েছে," কিন্তু তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেননি। এটি দারাকুতনি (১/১১৭) এবং বায়হাকি (১/৩০৯)-তেও রয়েছে।

 

(৪৪৬) * আহমাদের বর্ণনাটি আমি পাইনি, এটি আবু দাউদে (১/৯৭, ২৭৮) সংক্ষিপ্ত আকারে এবং বায়হাকি (৩/১৮৯)-তে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল গাফফার আল-জামি লি-আহকামি সুন্নাতি নাবিয়্যিনাল মুখতার (পৃষ্ঠা: ٢٤)
(462) * لم أجده عند الطبراني، وقد قال الشوكاني في "النيل": وأخرجه البيهقي بأسانيد جيدة، وهو عند البيهقي (1/179) (818) .

 

(511) * النسائي رواه موصولاً ومرسلاً، وأبو داود قال بعد أن ساق الحديث موصولاً: وذِكْر أبي سعيد في هذا الحديث غير محفوظ وهو مرسل.

 

(518) * جميع الألفاظ في الأحاديث لم تذكر كلمة "أثر" وهذه اللفظة في حديث عائشة عندما قالت للمرأة (تتبعي بها أثر الدم) . والله أعلم.

 

(532) لم أجده في "التاريخ" وعزاه في "النيل" له، وهو عند ابن جرير الطبري في التفسير (2/383) ، وعزاه في الدر المنثور (1/621) للبيهقي وعبد الرزاق والنحاس.

كتاب الصلاة

 

(557) * لم نجده عند أبي داود، وقد عزاه إليه في الدر المنثور (1/711) ، والترغيب والترهيب (1/213) .

(579) * لم أجده في مصنف عبد الرزاق وعزاه في النيل (1/439) إليه.

 

(687) * أخرجه بهذا اللفظ أحمد ومسلم كما هو مخرج، وأخرجه أحمد (5/106) وأبو داود (1/213) ، وابن ماجه (1/221) ، بلفظ "كان رسول الله يصلي إذا دحضت الشمس" وأخرجه أحمد (5/106) بلفظ "كان بلال يؤذن إذا دحضت الشمس" ولم أجده عند النسائي وهو عند البيهقي (1/385، 2/19) .
(৪৬২) * আমি এটি তাবারানির নিকট পাইনি, এবং শাওকানি 'আন-নাইল'-এ বলেছেন: বায়হাকি এটি উত্তম সনদে বর্ণনা করেছেন, এবং এটি বায়হাকির নিকট (১/১৭৯) (৮১৮) এ রয়েছে।

 

(৫১১) * নাসাঈ এটি মাউসুল এবং মুরসাল উভয়ভাবে বর্ণনা করেছেন, আর আবু দাউদ হাদিসটি মাউসুল হিসেবে বর্ণনা করার পর বলেছেন: এই হাদিসে আবু সাঈদের উল্লেখ সংরক্ষিত নয় এবং এটি মুরসাল।

 

(৫১৮) * হাদিসসমূহের সকল শব্দে 'আসার' শব্দটি উল্লেখ করা হয়নি এবং এই শব্দটি আয়েশার হাদিসে রয়েছে যখন তিনি মহিলাটিকে বলেছিলেন (এটি দিয়ে রক্তের চিহ্ন অনুসরণ করো)। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

 

(৫৩২) আমি এটি 'আত-তারিখ'-এ পাইনি এবং 'আন-নাইল'-এ এটি তাঁর দিকেই সম্বন্ধ করা হয়েছে, আর এটি ইবনে জারির তাবারির নিকট তাফসিরে (২/৩৮৩) এ রয়েছে, এবং 'আদ-দুররুল মানসুর'-এ (১/৬২১) এটি বায়হাকি, আবদুর রাজ্জাক ও নাহহাসের দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে।

সালাত অধ্যায়

 

(৫৫৭) * আমরা এটি আবু দাউদের নিকট পাইনি, তবে 'আদ-দুররুল মানসুর' (১/৭১১) এবং 'আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব' (১/২১৩)-এ এটি তাঁর দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে।

(৫৭৯) * আমি এটি মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাকে পাইনি এবং 'আন-নাইল'-এ (১/৪৩৯) এটি তাঁর দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে।

 

(৬৮৭) * আহমাদ এবং মুসলিম এই শব্দেই এটি বর্ণনা করেছেন যেভাবে তা সংকলিত হয়েছে, এবং আহমাদ (৫/১০৬), আবু দাউদ (১/২১৩) ও ইবনে মাজাহ (১/২২১) এটি এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "সূর্য ঢলে পড়লে আল্লাহর রাসুল সালাত আদায় করতেন" এবং আহমাদ (৫/১০৬) এটি এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "সূর্য ঢলে পড়লে বিলাল আজান দিতেন" আর আমি এটি নাসাঈর নিকট পাইনি, এবং এটি বায়হাকির নিকট (১/৩৮৫, ২/১৯) এ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল গাফফার আল-জামি লি-আহকামি সুন্নাতি নাবিয়্যিনাল মুখতার (পৃষ্ঠা: ٢٥)
(725) * رواية مالك لم نجدها، وقد ذكره الحافظ ابن حجر في "الفتح" (1/478) ، وقال: ووصله مالك في "الموطأ" ولم نجده هناك، وهو من طريق مالك عند أبي داود وأحمد، والله أعلم.

 

(741) * لم أجده عند أبي داود والحاكم، وقد عزاه إلى أبي داود الحافظ في الفتح (10/296) وهو موجود من رواية علي ابن أبي طالب.

 

(791) * لم أجده عند الطبراني، وهو عند ابن عدي في الكامل (4/173) ، وقد أخرج الطبراني في الأوسط (5/62) قريبًا من هذا اللفظ لعبد الرحمن بن عوف، وليس لعلي بن أبي طالب.

 

(811) * لم نجده عند ابن أبي شيبة، ولعله في مسنده.

 

(903) * قال المصنف: متفق عليه، ثم ذكر رواية لهما، ومسلم لم يخرج هذا الحديث إلا بهذه الرواية، وهذه الرواية ليست عند البخاري، وهي عند الدارمي (1/322) . وقد ذكر نحو هذا الكلام الشوكاني في النيل (1/626) .

 

(936) * لفظ الترمذي لم نجده. وقد تبع المؤلف صاحب "المنتقى" في العزو إلى الترمذي. لكنه رواه من حديث عائشة، كما تقدم.

 

(937) * قال المصنف ولفظ مسلم: (فلا يقربن المساجد) ، هذا لفظه في حديث ابن عمر وليس في حديث جابر.

 

(967، 969) * ذكر المصنف قصتين الأولى: قسمة المال في المسجد، وهي في البخاري ولم نجدها في مسلم. والثانية: قصة وفد ثقيف، وأنه أنزلهم المسجد، فهذه لم نجدها في "الصحيحين"، وهي عند
(৭২৫) * মালিকের বর্ণনাটি আমরা পাইনি, তবে হাফেজ ইবনে হাজার এটি "ফাতহুল বারী" (১/৪৭৮)-তে উল্লেখ করেছেন এবং তিনি বলেছেন: মালিক এটি "মুয়াত্তা"-তে নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু আমরা সেখানে এটি পাইনি। এটি আবু দাউদ এবং আহমাদে মালিকের সূত্র থেকে বর্ণিত হয়েছে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

 

(৭৪১) * আমি এটি আবু দাউদ এবং হাকিমের নিকট পাইনি, অথচ হাফেজ (ইবনে হাজার) ফাতহুল বারী (১০/২৯৬)-তে এটিকে আবু দাউদের দিকে সম্বন্ধ করেছেন এবং এটি আলী ইবনে আবি তালিবের বর্ণনা হিসেবে বিদ্যমান রয়েছে।

 

(৭৯১) * আমি এটি তাবারানির নিকট পাইনি। এটি ইবনে আদী "আল-কামিল" (৪/১৭৩)-এ উল্লেখ করেছেন। তাবারানি "আল-আওসাত" (৫/৬২)-এ আব্দুর রহমান ইবনে আউফের সূত্রে এই শব্দের কাছাকাছি একটি বর্ণনা উল্লেখ করেছেন, কিন্তু এটি আলী ইবনে আবি তালিবের সূত্রে নয়।

 

(৮১১) * আমরা এটি ইবনে আবি শায়বার নিকট পাইনি, সম্ভবতঃ এটি তাঁর মুসনাদে রয়েছে।

 

(৯০৩) * গ্রন্থকার বলেছেন: এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি, অতঃপর তিনি উভয়ের একটি বর্ণনা উল্লেখ করেছেন। অথচ মুসলিম এই হাদিসটি কেবল এই বর্ণনাতেই উদ্ধৃত করেছেন এবং এই বর্ণনাটি বুখারীর নিকট নেই। এটি দারিমী (১/৩২২)-তে রয়েছে। শাওকানী "নাইলুল আওতার" (১/৬২৬)-এ এই ধরণের কথা উল্লেখ করেছেন।

 

(৯৩৬) * তিরমিযীর শব্দাবলী আমরা পাইনি। লেখক তিরমিযীর দিকে সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে "আল-মুনতাকা"র লেখকের অনুসরণ করেছেন। কিন্তু এটি আয়েশার হাদিস থেকে বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

 

(৯৩৭) * গ্রন্থকার বলেছেন, মুসলিমের শব্দাবলী হলো: (সে যেন অবশ্যই মসজিদের নিকটবর্তী না হয়)। এটি ইবনে উমরের হাদিসের শব্দাবলী, জাবিরের হাদিসের নয়।

 

(৯৬৭, ৯৬৯) * গ্রন্থকার দুটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন। প্রথমটি: মসজিদে সম্পদ বণ্টন, এটি বুখারীতে আছে কিন্তু আমরা এটি মুসলিমে পাইনি। দ্বিতীয়টি: সাকীফ গোত্রের প্রতিনিধিদের ঘটনা এবং তিনি তাদের মসজিদে অবস্থান করিয়েছিলেন। এটি আমরা "সহীহাইন"-এ পাইনি, এটি রয়েছে...
(খণ্ড: ১) ফাতহুল গাফফার আল-জামি লি-আহকামি সুন্নাতি নাবিয়্যিনাল মুখতার (পৃষ্ঠা: ٢٦)
ابن ماجه (1/559) من حديث عبد الله بن ربيعة، وأبو داود (3/163) ، وأحمد (4/218) من حديث عثمان بن أبي العاص، وأبو داود (2/55) ، والنسائي (7/80) ، وابن ماجه (1/427) ، وأحمد (4/9، 343) من حديث أوس بن حذيفة.

 

(1231) * قال: "وفي إسناده رشدين بن سعد وفيه مقال"، وليس في الحديث رشدين بن سعد، وإنما الليث بن سعد، وقد تبع المؤلف صاحب "نيل الأوطار" (1/151) .

 

(1260) * قال المصنف: "وهي لأبي داود من حديث أبي سعيد وفيه … " ثم ذكر الحديث، وأبو داود روى حديث أبي سعيد بمثل معنى حديث أبي هريرة السابق، لكن هذا اللفظ الذي ذكره المصنف على أنه من حديث أبي سعيد، وهو من حديث أبي هريرة عند البخاري (5/2297، 2298) ، والترمذي (5/87) ، وأحمد.

 

(1292) * لفظ "عاتقيه" هي عند البخاري وذكرها ابن حجر في الفتح (1/561) ، وقال: وفي رواية "عاتقه"، وذكرها ابن رجب في شرح البخاري (2/151 ط ابن الجوزي) بلفظ "عاتقه".

 

(1466) * جميع من روى الحديث أخرجه بلفظ "كان النبي يجتهد في العشر الأواخر ما لا يجتهد في غيره" دون شطر الحديث الأول، وقد كرره المصنف ص520، في باب "ما جاء في فضل قيام رمضان.." ولم يذكر الشطر الأول من الحديث.

 

(1492) * الرواية الثانية لم نجدها عند مسلم، وقد عزاها إلى مسلم
ইবনে মাজাহ (১/৫৫৯) আবদুল্লাহ বিন রাবিআহ-এর হাদিস থেকে, আবু দাউদ (৩/১৬৩), এবং আহমদ (৪/২১৮) উসমান বিন আবুল আস-এর হাদিস থেকে, আবু দাউদ (২/৫৫), নাসায়ি (৭/৮০), ইবনে মাজাহ (১/৪২৭), এবং আহমদ (৪/৯, ৩৪৩) আউস বিন হুযাইফা-এর হাদিস থেকে।

 

(১২৩১) * তিনি বলেছেন: "এর সনদে রিশদিন বিন সাদ রয়েছেন এবং তার ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে", অথচ হাদিসে রিশদিন বিন সাদ নেই, বরং তিনি হলেন লাইস বিন সাদ। লেখক এ ক্ষেত্রে "নাইলুল আওতার" (১/১৫১)-এর লেখকের অনুসরণ করেছেন।

 

(১২৬০) * গ্রন্থকার বলেছেন: "এটি আবু দাউদ সংকলন করেছেন আবু সাঈদ-এর হাদিস থেকে এবং এতে … " তারপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। আবু দাউদ আবু সাঈদ-এর হাদিসটি পূর্বোক্ত আবু হুরায়রা-এর হাদিসের অনুরূপ অর্থে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু গ্রন্থকার এই শব্দটিকে আবু সাঈদ-এর হাদিস হিসেবে উল্লেখ করেছেন, অথচ এটি বুখারি (৫/২২৯৭, ২২৯৮), তিরমিজি (৫/৮৭) এবং আহমদ-এর বর্ণনায় আবু হুরায়রা-এর হাদিস হিসেবে রয়েছে।

 

(১২৯২) * "আতিকাইহি" (তার দুই কাঁধের) শব্দটি বুখারিতে রয়েছে এবং ইবনে হাজার এটি ফাতহুল বারিতে (১/৫৬১) উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: এক বর্ণনায় "আতিকিহি" (তার কাঁধের) শব্দ রয়েছে। ইবনে রাজাব বুখারির শারহ-এ (২/১৫১, ইবনুল জাওজি সংস্করণ) "আতিকিহি" শব্দে এটি উল্লেখ করেছেন।

 

(১৪৬৬) * যারা এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন তারা সবাই এটি "নবী শেষ দশকে এমন পরিশ্রম করতেন যা অন্য সময়ে করতেন না" এই শব্দে বর্ণনা করেছেন, হাদিসের প্রথম অংশটি ছাড়াই। গ্রন্থকার ৫২০ পৃষ্ঠায় "রমজানের কিয়ামের ফজিলত সম্পর্কে যা এসেছে..." অধ্যায়ে এটি পুনরায় উল্লেখ করেছেন এবং তিনি হাদিসটির প্রথম অংশটি উল্লেখ করেননি।

 

(১৪৯২) * দ্বিতীয় বর্ণনাটি আমরা মুসলিম-এ পাইনি, অথচ তিনি এটি মুসলিম-এর দিকে সম্বন্ধ করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল গাফফার আল-জামি লি-আহকামি সুন্নাতি নাবিয়্যিনাল মুখতার (পৃষ্ঠা: ٢٧)
شيخ الإسلام ابن تيمية في "الفتاوى" (22/284) وابن مفلح في "المبدع" (2/23) ، والشوكاني في "النيل" (2/280) .

 

(1816) * قول المصنف: "وزاد النسائي: فإن لم تستطع فمستلقيًا "لا يكلف الله نفسًا إلا وسعها" كذا عزاه الحافظ في "التلخيص" (1/407) ، لم نجده في "السنن الكبرى" ولا في "المجتبى" للنسائي، ولم يعز المزي الحديث بهذا اللفظ للنسائي، ينظر "تحفة الأشراف" (8/185) .

 

(2353) * لفظ الحديث "شهدنا بنتًا للنبي"، ولم يذكر أنها زينب، إلا في رواية أحمد بعد هذا الحديث على أنها رقية.

 

(2386) * قال المصنف: "ورواه الحاكم في مستدركه وصححه وإسناده ضعيف لأن في إسناده عباد بن عبد الصمد"، لكن عباد بن عبد الصمد ليس في إسناد حديث جابر المذكور معنا في الباب، وإنما هو في سند حديث أنس، وهو بمعنى حديث جابر، وهو في "المستدرك" بعد حديث جابر. وقد رواه الحاكم في "مستدركه" عن أنس وصححه.

 

(2581) * لم نجده عند البخاري، والذي عند البخاري من حديث عمر هو ما تقدم قريبًا: من أن النبي أعطاه وقال: "إذا جاءك من هذا المال شيء … ".

 

(2758) * قال المصنف: "متفق عليه إلا أن البخاري قال في بعض أسفاره ولم يقل: "في شهر رمضان". نقول: وكذلك أيضًا الإمام أحمد لم يذكر شهر رمضان، وكذلك أبو داود وابن ماجه.

 

(2774) * اللفظ للبخاري، وعند أبي داود (2404) ، والنسائي
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া "আল-ফাতাওয়া" (২২/২৮৪) গ্রন্থে, ইবনে মুফলিহ "আল-মুবদি" (২/২৩) গ্রন্থে এবং শাওকানি "আন-নাইল" (২/২৮০) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।

 

(১৮১৬) * গ্রন্থকারের বক্তব্য: "নাসায়ী আরও বৃদ্ধি করেছেন: 'যদি তুমি সক্ষম না হও তবে চিত হয়ে শুয়ে (সালাত আদায় করবে)। আল্লাহ কোনো সত্তার ওপর তার সামর্থ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেন না'।" হাফিজ 'আত-তালখিস' (১/৪০৭) গ্রন্থে এভাবেই নিসবত করেছেন; তবে আমরা এটি নাসায়ীর 'আস-সুনানুল কুবরা' বা 'আল-মুজতাবা' কোনোটিতেই পাইনি। আর আল-মিযযি এই শব্দে হাদিসটিকে নাসায়ীর দিকে নিসবত করেননি। দেখুন: 'তুহফাতুল আশরাফ' (৮/১৮৫)।

 

(২৩৫৩) * হাদিসের শব্দগুলো হলো: "আমরা নবীর এক কন্যার জানাজায় উপস্থিত ছিলাম", সেখানে তিনি যে যয়নাব ছিলেন তা উল্লেখ করা হয়নি। তবে এই হাদিসের পরে ইমাম আহমাদের একটি বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে যে তিনি ছিলেন রুকাইয়্যাহ।

 

(২৩৮৬) * গ্রন্থকার বলেছেন: "হাকেম তার মুস্তাদরাক গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং সহিহ বলেছেন, তবে এর সানাদ দুর্বল কারণ এর সূত্রে আব্বাদ বিন আব্দুস সামাদ রয়েছেন।" কিন্তু আব্বাদ বিন আব্দুস সামাদ এই অধ্যায়ে আমাদের সামনে উল্লিখিত জাবিরের হাদিসের সূত্রে নেই, বরং তিনি আনাসের হাদিসের সূত্রে রয়েছেন। আর এটি জাবিরের হাদিসের অর্থেই বর্ণিত এবং 'আল-মুস্তাদরাক' গ্রন্থে জাবিরের হাদিসের পরেই এটি রয়েছে। হাকেম তার 'মুস্তাদরাক' গ্রন্থে আনাস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং একে সহিহ বলেছেন।

 

(২৫৮১) * আমরা এটি বুখারীর কাছে পাইনি। উমরের হাদিস থেকে যা বুখারীর নিকট রয়েছে তা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে: নবী তাকে প্রদান করলেন এবং বললেন: "যখন তোমার কাছে এই সম্পদ থেকে কিছু আসবে … "।

 

(২৭৫৮) * গ্রন্থকার বলেছেন: "এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি, তবে বুখারী বলেছেন—তার কোনো এক সফরে, তিনি 'রমজান মাসে' কথাটি উল্লেখ করেননি।" আমরা বলি: অনুরূপভাবে ইমাম আহমাদও রমজান মাসের কথা উল্লেখ করেননি, এবং আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহও উল্লেখ করেননি।

 

(২৭৭৪) * শব্দগুলো বুখারীর, আর এটি আবু দাউদ (২৪০৪) এবং নাসায়ীর নিকটও রয়েছে।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল গাফফার আল-জামি লি-আহকামি সুন্নাতি নাবিয়্যিনাল মুখতার (পৃষ্ঠা: ٢٨)
(4/184) ولكن بألفاظ مختلفة، ولم يذكر في رواية النسائي وأبي داود غزوة حنين بل الفتح، وهما أقرب لحديث ابن عباس المتقدم قريبًا.

 

(2893) * حديث عائشة "إن كنت لأدخل البيت" -من فعلها- ليس عند البخاري، وقد ذكره المصنف بعد هذا الحديث وقال: "قال الحافظ والصحيح عن عائشة من فعلها أخرجه مسلم وغيره" فالحديث ليس عند البخاري.

 

(2906) * بهذا اللفظ ليس عند ابن ماجه، والذي عند ابن ماجه "من صام رمضان" فقط، وقد استثناه المجد ابن تيمية في "المنتقى"، راجع "النيل" (3/260) .

 

(3009) * حديث أنس لم نجده بهذا اللفظ عند البخاري، ولم يعزه إليه المزي في التحفة (1/208) (781) . والذي عند البخاري (2/562) (1476) من طريق أيوب عن أبي قلابة عن أنس رضي الله عنه قال: صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم ونحن معه بالمدينة الظهر أربعًا والعصر بذي الحليفة ركعتين ثم بات بها حتى أصبح ثم ركب حتى استوت به على البيداء حمد الله وسبح وكبر ثم أهل بحج وعمرة وأهل الناس بهما فلما قدمنا أمر الناس فحلوا حتى كان يوم التروية أهلوا بالحج قال: ونحر النبي صلى الله عليه وسلم بدنات بيده قيامًا وذبح رسول الله صلى الله عليه وسلم بالمدينة كبشين أملحين". وقد عزاه للصحيحين ابن القيم في "الزاد" (2/115) .

 

(3059) * الروايتان الأخيرتان لمسلم وليستا للبخاري، وهي عند البخاري (5/2216) بلفظ: "كنت أطيب النبي صلى الله عليه وسلم عند أحرامه بأطيب ما
(৪/১৮৪) তবে ভিন্ন ভিন্ন শব্দে, এবং আন-নাসাঈ ও আবু দাউদের বর্ণনায় হুনাইন যুদ্ধের কথা উল্লেখ করা হয়নি বরং মক্কা বিজয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, আর এই দুটি বর্ণনা ইবনে আব্বাসের সেই হাদিসের অধিক নিকটবর্তী যা একটু আগেই অতিবাহিত হয়েছে।

 

(২৮৯৩) * আয়িশাহ (রা.)-এর হাদিস "আমি ঘরে প্রবেশ করতাম" -এটি তাঁর নিজের কাজ হিসেবে বর্ণিত- বুখারীতে নেই। গ্রন্থকার এই হাদিসের পরে এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "হাফেয বলেছেন, সঠিক হলো এটি আয়িশাহ (রা.) হতে তাঁর নিজের কাজ হিসেবে বর্ণিত যা মুসলিম ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।" সুতরাং হাদিসটি বুখারীতে নেই।

 

(২৯০৬) * এই শব্দে ইবনে মাজাহ-তে নেই। ইবনে মাজাহ-তে যা আছে তা হলো কেবল "যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল"। মাজদ ইবনে তাইমিয়্যাহ 'আল-মুনতাকা'-তে এটিকে স্বতন্ত্রভাবে উল্লেখ করেছেন, দেখুন 'আন-নাইল' (৩/২৬০)।

 

(৩০০৯) * আনাস (রা.)-এর হাদিসটি এই শব্দে আমরা বুখারীতে পাইনি, এবং আল-মিযযী 'আত-তুহফাহ' (১/২০৮) (৭৮১)-তে এটিকে তাঁর দিকে সম্বন্ধ করেননি। বুখারীতে যা আছে (২/৫৬২) (১৪৭৬), আইয়ুব-এর সূত্রে আবু কিলাবাহ হতে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আমাদের সাথে যোহরের সালাত চার রাকাত এবং যুল-হুলাইফায় আসরের সালাত দুই রাকাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি সেখানে রাত যাপন করলেন সকাল হওয়া পর্যন্ত। তারপর তিনি সওয়ার হলেন, যখন সওয়ারি তাঁকে নিয়ে বাইদা প্রান্তরে উঠল, তখন তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন, তাসবিহ পাঠ করলেন এবং তাকবীর দিলেন। অতঃপর তিনি হজ ও ওমরার তালবিয়া পাঠ করলেন এবং লোকেরাও উভয়ের তালবিয়া পাঠ করল। যখন আমরা পৌঁছলাম, তিনি লোকেদের আদেশ দিলেন এবং তারা হালাল হয়ে গেল। অবশেষে যখন তারউয়িয়ার দিন এল, তারা হজের তালবিয়া পাঠ করল। তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তাঁর নিজের হাতে কয়েকটি উট নহর করলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় দুটি ধূসর বর্ণের মেষ জবাই করেছিলেন।" ইবনুল কাইয়িম 'আজ-যাদ' (২/১১৫)-এ এটিকে সহীহাইন-এর দিকে নিসবত করেছেন।

 

(৩০৫৯) * শেষ দুটি বর্ণনা মুসলিমের, বুখারীর নয়। এটি বুখারীতে আছে (৫/২২১৬) এই শব্দে: "আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর ইহরাম বাঁধার সময় সবচেয়ে উত্তম সুগন্ধি মাখিয়ে দিতাম যা..."
(খণ্ড: ১) ফাতহুল গাফফার আল-জামি লি-আহকামি সুন্নাতি নাবিয়্যিনাল মুখতার (পৃষ্ঠা: ٢٩)
أجد"، ونص اللفظين عند مسلم.

 

(3130، 3131) * قال المصنف: "وله من حديثه"، أي لمسلم من حديث أبي سعيد، والحديث هو لجابر بن عبد الله. ثم في الحديث الذي بعده قال: "وعنه"، والحديث أيضًا عن جابر، فينتبه لهذا.

 

(3143) * لم أجده عند النسائي، واللفظ الأول ليس عند أحمد. وقال صاحب "المنتقى": رواه ابن ماجه والترمذي وصححه، وأبو داود وقال: "ببرد له أخضر" وأحمد ولفظه "لما قدم مكة، طاف بالبيت، وهو مضطبع ببرد له حضرمي"، وهذا هو الترتيب الصحيح، وقد استثنى النسائي ابنُ حجر في "بلوغ المرام" وقال: رواه الخمسة إلا النسائي وصححه الترمذي.

 

(3153) * لم أجده بهذا المعنى من حديث أنس عند الحاكم لكن عزاه إليه الحافظ في الفتح (4/260) ، لكن أخرج الحاكم (1/456) عن أنس حديثا بلفظ: "الركن والمقام ياقوتتان من يواقيت الجنة"، وأخرج نحو حديث ابن عباس عند عبد الله بن عمرو، وأبي سعيد الخدري، وعلي بن أبي طالب رضي الله عنهم.

 

(3178) * قال المصنف: "وأخرجه البخاري أيضًا من حديث علي" ثم ذكر قول الحافظ: إنه متفق عليه من حديث أبي هريرة. وهو من حديث علي عند أحمد والحاكم والترمذي -انظر التخريج- بلفظ: "سألنا عليًّا رضي الله عنه ثم بأي شيء بعثت يعني يوم بعثه النبي صلى الله عليه وسلم مع أبي بكر رضي الله عنه في الحجة قال: بعثت بأربع لا يدخل الجنة إلا نفس مؤمنة، ولا يطوف بالبيت عريان، ومن كان بينه وبين النبي صلى الله عليه وسلم عهد فعهده إلى مدته، ولا يحج
পাইনি", এবং উভয় শব্দের পাঠ মুসলিমের নিকট রয়েছে।

 

(৩১৩০, ৩১৩১) * গ্রন্থকার বলেছেন: "তার সূত্রে মুসলিমও এটি বর্ণনা করেছেন", অর্থাৎ আবু সাঈদের হাদীস থেকে মুসলিমের নিকট বর্ণিত হয়েছে, অথচ হাদীসটি মূলত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহর। এরপর এর পরবর্তী হাদীসে তিনি বলেছেন: "এবং তার থেকে বর্ণিত", আর সেই হাদীসটিও জাবির থেকে বর্ণিত, তাই এ বিষয়টি খেয়াল রাখা উচিত।

 

(৩১৪৩) * আমি এটি নাসায়ীর নিকট পাইনি, আর প্রথম পাঠটি আহমদের নিকট নেই। 'আল-মুনতাকা' গ্রন্থের লেখক বলেছেন: এটি ইবনে মাজাহ এবং তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে সহীহ বলেছেন, আর আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং তাতে রয়েছে: "তার একটি সবুজ চাদর পরিহিত অবস্থায়" এবং আহমদ বর্ণনা করেছেন যার শব্দ হলো: "যখন তিনি মক্কায় আসলেন, তখন বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করলেন এমতাবস্থায় যে, তিনি তার একটি হাদরামি চাদর দিয়ে ইজতিবা (ডান কাঁধ খোলা রেখে চাদর পেঁচানো) করেছিলেন", আর এটিই সঠিক বিন্যাস। হাফেজ ইবনে হাজার 'বুলুগুল মারাম'-এ নাসায়ীকে এর ব্যতিক্রম ধরেছেন এবং বলেছেন: নাসায়ী ব্যতীত পাঁচজন (ইমাম) এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিযী একে সহীহ বলেছেন।

 

(৩১৫৩) * আমি হাকিমের নিকট আনাসের হাদীসে এই অর্থে এটি পাইনি, তবে হাফেজ (ইবনে হাজার) 'ফাতহুল বারী'তে (৪/২৬০) এটি তাঁর দিকে নিসবত করেছেন। কিন্তু হাকিম (১/৪৫৬) আনাস থেকে একটি হাদীস এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "রুকন (হাজরে আসওয়াদ) ও মাকাম (ইবরাহীম) জান্নাতের ইয়াকুত পাথরসমূহের মধ্য হতে দুটি ইয়াকুত", আর তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর, আবু সাঈদ খুদরী এবং আলী ইবনে আবু তালিব (রা.)-এর সূত্রে ইবনে আব্বাসের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

 

(৩১৭৮) * গ্রন্থকার বলেছেন: "বুখারীও এটি আলীর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন", এরপর তিনি হাফেজের উক্তি উল্লেখ করেছেন যে: এটি আবু হুরায়রার হাদীস থেকে মুত্তাফাকুন আলাইহি। আর এটি আহমাদ, হাকিম এবং তিরমিযীর নিকট আলীর হাদীস থেকে বর্ণিত হয়েছে -তাকরীজ (সূত্র বিশ্লেষণ) দেখুন- এই শব্দে: "আমরা আলী (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, আপনাকে কী দিয়ে পাঠানো হয়েছিল? অর্থাৎ যে দিন নবী (সা.) তাঁকে হজ্জের মৌসুমে আবু বকর (রা.)-এর সাথে পাঠিয়েছিলেন। তিনি বললেন: আমাকে চারটি বিষয় দিয়ে পাঠানো হয়েছিল: মুমিন আত্মা ছাড়া কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না, কেউ উলঙ্গ অবস্থায় বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করবে না, নবী (সা.)-এর সাথে যার কোনো চুক্তি রয়েছে তার চুক্তি তার নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত বহাল থাকবে, আর কোনো মুশরিক হজ্জ করবে না...
(খণ্ড: ১) ফাতহুল গাফফার আল-জামি লি-আহকামি সুন্নাতি নাবিয়্যিনাল মুখতার (পৃষ্ঠা: ٣٠)
المشركين والمسلمون بعد عامهم هذا".

واللفظ الذي عند أحمد (2/299) عن أبي هريرة قال: كنت مع علي بن أبي طالب أنادي بالمشركين فكان علي إذا صحل صوته أو اشتكى حلقه أو عيي مما ينادي ناديت مكانه قال: فقلت لأبي: أي شيء كنتم تقولون قال: كنا نقول: "لا يحج بعد العام مشرك فما حج بعد ذلك العام مشرك، ولا يطوف بالبيت عريان، ولا يدخل الجنة إلا مؤمن، ومن كان بينه وبين رسول الله صلى الله عليه وسلم مدة". وهو بهذا اللفظ عند ابن حبان (9/128) .

والمتفق عليه هو حديث أبي هريرة، فقط، وقد ذكر الحافظ في الفتح (1/466) أن أحمد أخرجه من حديث أبي بكر نفسه، وأخرجه أحمد (1/3) .

 

(3293، 3294) * لم أجده من حديث ابن عباس، إلا عند ابن ماجه، كما هو في التخريج، وهو من حديث ابن عمر في "الصحيحين"، وقد ذكره ابن حجر في "البلوغ" عن ابن عمر، ولم يذكر ابن عباس.

 

(3298) * لم نجده عند الحاكم، وعزاه إليه الحافظ في التلخيص (2/263) ، وقال صاحب "الهداية في تخريج أحاديث البداية" (5/415) : "ورواه البزار والبيهقي من حديث ابن عمر … وفي إسناده مسلم بن خالد الزنجي، وحديثه حسن في الشواهد والمتابعات كهذا، ولذلك حسنه الحافظ، وإن وهم في عزوه إلى الحاكم" اهـ.

 

(3319) * حديث جابر لم نجده عند الدارقطني والحاكم، وقد عزاه الشوكاني في النيل (3/445) إليهما، ولم يعزه الشيخ الألباني في الإرواء
"...মুশরিক ও মুসলিমগণ এই বছরের পর।"

আহমাদ-এর (২/২৯৯) বর্ণিত শব্দগুলো হলো আবু হুরায়রা থেকে, তিনি বলেন: আমি আলী ইবনে আবি তালিবের সাথে ছিলাম এবং মুশরিকদের মাঝে ঘোষণা দিচ্ছিলাম। যখন আলীর কণ্ঠস্বর বসে যেত অথবা তার গলায় সমস্যা হতো কিংবা ঘোষণা দিতে দিতে ক্লান্ত হয়ে পড়তেন, তখন আমি তার স্থলে ঘোষণা দিতাম। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম: আপনারা কী বলতেন? তিনি বললেন: আমরা বলতাম: "এই বছরের পর কোনো মুশরিক হজ করবে না, ফলে সেই বছরের পর আর কোনো মুশরিক হজ করেনি। কোনো উলঙ্গ ব্যক্তি বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করবে না, আর মুমিন ব্যতীত কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না। আর যার সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দিষ্ট মেয়াদের চুক্তি রয়েছে (তা বহাল থাকবে)।" ইবনে হিব্বানেও (৯/১২৮) এই শব্দগুলো রয়েছে।

মুত্তাফাকুন আলাইহি (সর্বসম্মত) হলো কেবল আবু হুরায়রার হাদিসটি। হাফেজ (ইবনে হাজার) আল-ফাতহে (১/৪৬৬) উল্লেখ করেছেন যে, আহমাদ এটি স্বয়ং আবু বকরের হাদিস থেকেও বর্ণনা করেছেন এবং আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন (১/৩)।

 

(৩২৯৩, ৩২৯৪) * আমি এটি ইবনে আব্বাসের হাদিস হিসেবে কেবল ইবনে মাজাহ-তে পেয়েছি, যেমনটি তাখরিজে (উৎস বর্ণনায়) রয়েছে। তবে এটি ইবনে উমরের হাদিস হিসেবে "সহীহাইন"-এ রয়েছে। ইবনে হাজার এটি "বুলুগ"-এ ইবনে উমরের সূত্রে উল্লেখ করেছেন এবং ইবনে আব্বাসের কথা উল্লেখ করেননি।

 

(৩২৯৮) * আমরা এটি হাকেমের কাছে পাইনি, যদিও হাফেজ আত-তালখিসে (২/২৬৩) এটি তার দিকে সম্বন্ধ করেছেন। "আল-হিদায়া ফি তাখরিজি আহাদিসিল বিদায়া" এর লেখক (৫/৪১৫) বলেছেন: "এটি বাযযার ও বায়হাকি ইবনে উমরের হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন... এবং এর সনদে মুসলিম বিন খালিদ আয-যানজি রয়েছেন। শাহেদ ও মুতাবাআত হিসেবে তার হাদিসটি হাসান, যেমনটি এখানে রয়েছে। তাই হাফেজ একে হাসান বলেছেন, যদিও হাকেমের দিকে এটি সম্বন্ধ করতে গিয়ে তিনি ভুল করেছেন।" সমাপ্ত।

 

(৩৩১৯) * জাবিরের হাদিসটি আমরা দারাকুতনি ও হাকেমের কাছে পাইনি, যদিও শাওকানী আন-নাইলে (৩/৪৪৫) এটি তাদের দিকে সম্বন্ধ করেছেন। কিন্তু শায়খ আলবানী আল-ইরওয়াতে এটি তাদের দিকে সম্বন্ধ করেননি।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল গাফফার আল-জামি লি-আহকামি সুন্নাতি নাবিয়্যিনাল মুখতার (পৃষ্ঠা: ٣١)
(4/320) إليهما وهو عندهما من حديث ابن عباس، وسيأتي قريبا.

 

(3323) * حديث ابن عباس لم نجده عند أحمد وابن ماجه، ولعل المصنف وهم في حديث ابن عباس هذا وحديث جابر المتقدم أول الباب، وجعل تخريجهما واحدا، والصحيح أن حديث جابر أخرجه ابن ماجه وأحمد، ولم يخرجه الدارقطني والحاكم، وحديث ابن عباس، أخرجه الدارقطني والحاكم، ولم يخرجه أحمد وابن ماجه، انظر الإرواء (4/320، 329) (1123، 1126) ، وكذلك "التلخيص" فإنه ذكر هذا الحديث وفصل فيه (2/268-269) رقم (1076) .

 

(3456) * لم نجده بهذا اللفظ عند أحمد والنسائي، والذي عند أحمد (5/355، 361) ، والنسائي (7/164) ، من حديث بريدة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم "عق عن الحسن والحسين".

 

(3459) * لم نجده عند الحاكم من حديث أنس، وهذه الزيادة هي من حديث عائشة بمعنى حديث أنس، وهي عند الحاكم، وابن حبان.

 

(3484) * لم نجده عند أحمد من حديث ابن عمر، والحديث أخرجه أحمد عن أبي هريرة وقد تقدم، وليس عن ابن عمر، وقد نبه على هذا الشوكاني في "النيل" (3/509) فالحديث عند ابن ماجه من حديث ابن عمر، وليس عند أحمد، كما ذكره الهيثمي في المجمع (4/32) .

 

(3628) * الحديث مكرر ما قبله، والحديث الذي عند أصحاب السنن هو عن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده، وقد كرره المصنف هنا بعد حديث عبد الله بن عمرو بن العاص على أنهما حديثان مختلفان، وذكرهما
(৪/৩২০) তাদের উভয়ের নিকট, এবং এটি তাদের নিকট ইবনে আব্বাসের হাদিস থেকে বর্ণিত, যা অচিরেই সামনে আসবে।

 

(৩৩২৩) * ইবনে আব্বাসের হাদিসটি আমরা আহমাদ ও ইবনে মাজাহর নিকট পাইনি। সম্ভবত গ্রন্থকার ইবনে আব্বাসের এই হাদিস এবং পরিচ্ছেদের শুরুতে উল্লিখিত জাবিরের হাদিসের ক্ষেত্রে বিভ্রান্ত হয়েছেন এবং উভয়ের তাখরীজকে এক করে ফেলেছেন। সঠিক হলো এই যে, জাবিরের হাদিসটি ইবনে মাজাহ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন, কিন্তু দারাকুতনী ও হাকেম এটি বর্ণনা করেননি। আর ইবনে আব্বাসের হাদিসটি দারাকুতনী ও হাকেম বর্ণনা করেছেন, কিন্তু আহমাদ ও ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেননি। দেখুন: আল-ইরওয়া (৪/৩২০, ৩২৯) (১১২৩, ১১২৬)। একইভাবে "আত-তালখিস", কারণ সেখানে তিনি এই হাদিসটি উল্লেখ করেছেন এবং বিস্তারিত আলোচনা করেছেন (২/২৬৮-২৬৯) নম্বর (১০৭৬)।

 

(৩৪৫৬) * এই শব্দে আমরা এটি আহমাদ ও নাসাঈর নিকট পাইনি। আহমাদ (৫/৩৫৫, ৩৬১) এবং নাসাঈর (৭/১৬৪) নিকট বুরাইদাহ হতে বর্ণিত হাদিসে যা রয়েছে তা হলো, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম "হাসান ও হুসাইনের পক্ষ থেকে আকীকা করেছেন।"

 

(৩৪৫৯) * আনাস বর্ণিত হাদিস থেকে এটি আমরা হাকেমের নিকট পাইনি। এই অতিরিক্ত অংশটি আনাসের হাদিসের অর্থে আয়েশা বর্ণিত হাদিস থেকে এসেছে, যা হাকেম ও ইবনে হিব্বানের নিকট রয়েছে।

 

(৩৪৮৪) * ইবনে উমরের হাদিস থেকে আমরা এটি আহমাদের নিকট পাইনি। হাদিসটি আহমাদ আবু হুরায়রা হতে বর্ণনা করেছেন যা ইতোপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, ইবনে উমর থেকে নয়। শাওকানী "আন-নাইল" (৩/৫০৯) গ্রন্থে এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। সুতরাং হাদিসটি ইবনে মাজাহর নিকট ইবনে উমর হতে বর্ণিত, আহমাদের নিকট নয়, যেমনটি হাইসামী "আল-মাজমা" (৪/৩২) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

 

(৩৬২৮) * হাদিসটি তার পূর্ববর্তী হাদিসেরই পুনরাবৃত্তি। সুনান গ্রন্থকারদের নিকট যে হাদিসটি রয়েছে তা আমর ইবনে শুআইব হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি তার দাদা হতে বর্ণনা করেছেন। গ্রন্থকার এখানে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আসের হাদিসের পর এটি পুনরায় উল্লেখ করেছেন এই মনে করে যে এ দুটি ভিন্ন হাদিস। এবং তিনি এ দুটি উল্লেখ করেছেন...
(খণ্ড: ১) ফাতহুল গাফফার আল-জামি লি-আহকামি সুন্নাতি নাবিয়্যিনাল মুখতার (পৃষ্ঠা: ٣٢)
في موضع سابق على أنهما حديثان مختلفان، وهما حديث واحد. وقد ذكره الشوكاني في "النيل" (3/554) وقال بعد ذِكْر حديث عبد الله بن عمرو: وهو عند هؤلاء كلهم من حديث عَمْرو بن شعيب عن أبيه عن جده، والله أعلم.

 

(3641) * الحديث لم نجده عند الترمذي بهذا اللفظ من حديث أبي هريرة، وهو فيه من حديث أبي هريرة بلفظ: "لا يتفرقن بيع إلا عن تراض"، وهو عند الترمذي (3/551) (1248) ، وأبي داود (3/273) (3458) ، وقال الترمذي: حديث غريب.

والحديث بلفظ قريب مما ذكره المصنف عند ابن أبي شيبة (7/289) ، والطيالسي (1/334) ، وأحمد (2/311) ، والطبراني في "الصغير" (1/279) (908) .

 

(3664) * قال المصنف: "وفي رواية للبخاري" والبخاري لم يرو الحديث أصلا ولعله خطأ، والصحيح أن هذه الرواية تابعة لرواية أبي داود السابقة وهي جزء منها، إلا أن أبا داود قال في آخره: (وقال ابن عيسى: أردت التجارة، قال أبو داود: وكان في كتابه: الحجارة) ، والله أعلم، وأخرجه أيضًا أبو عوانة (3/386) (5416) إلا أنه قال "الحجارة".

 

(3707) * المصنف عزا اللفظين لحديث ابن عمر، ولم نجد اللفظ الثاني من حديث ابن عمر، وقد خرجه الشيخ الألباني رحمه الله في الإرواء (5/222) (1385) ، لأن ابن ضويان عزاه لابن عمر، فنبه على ذلك وقال: "فإنما هو عند الدارقطني من حديث أبي سعيد" اهـ. أي بهذا اللفظ.

 

(3710، 3711) * الحديثان هما لقصة واحد، ولفظه عن عائشة
পূর্ববর্তী এক স্থানে উল্লেখ করা হয়েছে যে এই দুটি ভিন্ন হাদীস, অথচ আসলে এ দুটি একটিই হাদীস। আশ-শাওকানী 'আন-নাইল' (৩/৫৫৪) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং আবদুল্লাহ বিন আমরের হাদীসটি উল্লেখ করার পর বলেছেন: এটি তাদের সবার কাছেই আমর বিন শুআইব, তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত হাদীস থেকে উদ্ধৃত, আর আল্লাহই ভালো জানেন।

 

(৩৬৪১) * আমরা আবু হুরায়রার বর্ণিত এই শব্দে হাদীসটি তিরমিযীতে পাইনি। তিরমিযীতে এটি আবু হুরায়রা থেকে এই শব্দে আছে: "পারস্পরিক সন্তুষ্টি ছাড়া কোনো কেনাবেচা বিচ্ছিন্ন হবে না", এটি তিরমিযী (৩/৫৫১) (১২৪৮) এবং আবু দাউদ (৩/২৭৩) (৩৪৫৮) গ্রন্থে রয়েছে এবং তিরমিযী বলেছেন: হাদীসটি গরীব।

আর মুসান্নিফ (গ্রন্থকার) যা উল্লেখ করেছেন তার কাছাকাছি শব্দে হাদীসটি ইবনে আবি শায়বা (৭/২৮৯), তায়ালিসি (১/৩৩৪), আহমাদ (২/৩১১) এবং তাবারানি তার 'আস-সাগীর' (১/২৭৯) (৯০৮) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

 

(৩৬৬৪) * মুসান্নিফ বলেছেন: "বুখারীর একটি বর্ণনায়", অথচ বুখারী হাদীসটি আদতেই বর্ণনা করেননি, সম্ভবত এটি একটি ভুল। সঠিক বিষয় হলো এই বর্ণনাটি ইতিপূর্বে উল্লিখিত আবু দাউদের বর্ণনার অনুবর্তী এবং এটি তারই অংশ। তবে আবু দাউদ এর শেষে বলেছেন: (ইবনে ঈসা বলেছেন: আমি চেয়েছিলাম বাণিজ্য, আবু দাউদ বলেন: তার কিতাবে ছিল পাথর), আর আল্লাহই ভালো জানেন। আবু আওয়ানা (৩/৩৮৬) (৫৪১৬) গ্রন্থেও এটি বের করেছেন, তবে তিনি "পাথর" শব্দ উল্লেখ করেছেন।

 

(৩৭০৭) * মুসান্নিফ উভয় শব্দ ইবনে উমরের হাদীসের দিকে সম্বন্ধ করেছেন, কিন্তু আমরা ইবনে উমরের হাদীসে দ্বিতীয় শব্দটি পাইনি। শায়খ আলবানী (রহিমাহুল্লাহ) 'আল-ইরওয়া' (৫/২২২) (১৩৮৫) গ্রন্থে এটি বের করেছেন, কারণ ইবনে দুওয়ায়ান এটি ইবনে উমরের দিকে সম্বন্ধ করেছিলেন। তাই তিনি এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেছেন: "এটি কেবল দারাকুতনীতে আবু সাঈদের হাদীস হিসেবে রয়েছে।" সমাপ্ত। অর্থাৎ এই শব্দে।

 

(৩৭১০, ৩৭১১) * হাদীস দুটি একই ঘটনার প্রেক্ষাপটে এবং এর শব্দ আয়েশা থেকে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল গাফফার আল-জামি লি-আহকামি সুন্নাতি নাবিয়্যিনাল মুখতার (পৃষ্ঠা: ٣٣)
قالت: "كان على رسول الله صلى الله عليه وسلم ثوبان قطريان غليظان فكان إذا قعد فعرق ثقلا عليه، فقَدِم بزّ من الشام لفلان اليهودي فقلت: لو بعثت إليه فاشتريت منه ثوبين إلى الميسرة فأرسل إليه فقال: قد علمت ما يريد إنما يريد أن يذهب بمالي أو بدراهمي، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: كذب قد علم أني من أتقاهم لله وآداهم للأمانة" جميعهم من طريق عكرمة عن عائشة، ولفظ "اشترى من يهودي إلى ميسرة" لم أجده عند أيٍ منهم.

 

(3769) * لفظ الرواية الأولى "عن عائشة رضي الله عنها في قوله تعالى: (وَمَنْ كَانَ غَنِيًّا فَلْيَسْتَعْفِفْ وَمَنْ كَانَ فَقِيرًا فَلْيَأْكُلْ بِالْمَعْرُوفِ) قالت: أنزلت في ولي اليتيم أن يصيب من ماله إذا كان محتاجا بقدر ماله بالمعروف"، ولفظ المصنف ناقص.

 

(3814) * الحديث لم نجده عند أحمد من حديث أبي هريرة، وهو بمعنى قريب من هذا من حديث جابر (3/326) ، وحديث جابر في "الصحيحين" البخاري (3225) ، ومسلم (2050) .

 

(3873) * لم أجد هذه الرواية عند أبي داود، قال الشيخ الألباني في الإرواء (6/10-11) (1554) : "وإنما أخرجه أحمد وأبو داود من حديث سمرة فقط من رواية الحسن البصري عنه … " اهـ، ثم ذكر أن أحمد رواه، فالحديث ليس عند أبي داود من حديث جابر أصلا لا بهذا اللفظ ولا باللفظ الأول.

 

(3886) * بهذا اللفظ "الناس شركاء" لم أجده عند أحمد وأبي داود، قال الألباني في "الإرواء" (6/7) "وهو بهذا اللفظ شاذ لمخالفته للفظ
তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিধানে দুটি মোটা কাতরি (ইয়ামানি) কাপড় ছিল। যখন তিনি বসতেন এবং ঘামতেন, তখন কাপড় দুটি তাঁর কাছে ভারী মনে হতো। সিরিয়া থেকে অমুক ইহুদির কাছে কিছু কাপড় এল। আমি বললাম: আপনি যদি তার কাছে লোক পাঠিয়ে স্বচ্ছলতা আসা পর্যন্ত মেয়াদে তাঁর কাছ থেকে দুটি কাপড় ক্রয় করতেন! তিনি তার কাছে লোক পাঠালেন, তখন সে বলল: সে কী চায় তা আমি জানি; সে কেবল আমার সম্পদ বা দিরহাম নিয়ে যেতে চায়। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: সে মিথ্যা বলেছে। সে অবশ্যই জানে যে আমি তাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত যারা আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভয় করে এবং আমানত আদায়ে সবচেয়ে বেশি যত্নশীল।" তাঁরা সকলে ইকরিমা থেকে আয়েশা (রা.)-এর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। তবে "এক ইহুদির কাছ থেকে স্বচ্ছলতা আসা পর্যন্ত মেয়াদে ক্রয় করেছেন" - এই শব্দসমষ্টি আমি তাঁদের কারও কাছে পাইনি।

 

(৩৭৬৯) * প্রথম বর্ণনার শব্দ হলো আয়েশা (রা.) থেকে আল্লাহ তাআলার এই বাণী সম্পর্কে: (আর যে অভাবমুক্ত সে যেন বিরত থাকে এবং যে দরিদ্র সে যেন সঙ্গত পরিমাণে ভোগ করে) - তিনি বলেন: "এটি ইয়াতীমের অভিভাবকের বিষয়ে অবতীর্ণ হয়েছে যে, সে যদি অভাবী হয় তবে যেন সঙ্গত পরিমাণে তার সম্পদ থেকে গ্রহণ করে।" আর গ্রন্থকারের উল্লেখকৃত শব্দগুলো অসম্পূর্ণ।

 

(৩৮১৪) * হাদিসটি আমরা মুসনাদে আহমাদ-এ আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণনা থেকে পাইনি। তবে এটি জাবির (রা.)-এর হাদিসের (৩/৩২৬) কাছাকাছি অর্থবোধক। আর জাবির (রা.)-এর হাদিসটি "সহীহাইন"-এ অর্থাৎ বুখারী (৩২২৫) ও মুসলিম (২০৫০)-এ রয়েছে।

 

(৩৮৭৩) * আমি এই বর্ণনাটি আবু দাউদে পাইনি। শাইখ আলবানী 'ইরওয়াউল গালীল' গ্রন্থে (৬/১০-১১) (১৫৫৪) বলেছেন: "আহমাদ ও আবু দাউদ এটি শুধুমাত্র সামুরাহ (রা.)-এর হাদিস থেকে হাসান বসরীর সূত্রে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন..." (উদ্ধৃতি শেষ)। এরপর তিনি উল্লেখ করেছেন যে আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন। সুতরাং হাদিসটি আবু দাউদে জাবির (রা.)-এর সূত্রে এই শব্দে বা প্রথম শব্দে মোটেও নেই।

 

(৩৮৮৬) * "মানুষ অংশীদার" - এই শব্দে আমি এটি আহমাদ ও আবু দাউদে পাইনি। আলবানী 'ইরওয়া' গ্রন্থে (৬/৭) বলেছেন: "এই শব্দে এটি শায (বিচ্ছিন্ন), কারণ এটি মূল শব্দের পরিপন্থী..."