(খণ্ড: ১) মাবলাগুল আরাব ফী ফখরিল আরব (পৃষ্ঠা: -)
مبلغ الأرب في فخر العرب   (ابن حجر الهيتمي)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: مبلغ الأرب في فخر العرب

المؤلف: شهاب الدين أحمد بن محمد، ابن حجر الهيتمي (ت 974هـ)

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 14

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মুবলাগিল আরাব ফি ফাখরিল আরব   (ইবনে হাজার আল-হাইতামি)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: মুবলাগিল আরাব ফি ফাখরিল আরব

লেখক: শিহাব আল-দীন আহমদ বিন মুহাম্মদ، ইবনে হাজার আল-হাইতামি (মৃত্যু ৯৭৪ হিজরি)

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মাবলাগুল আরাব ফী ফখরিল আরব (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله اختص العرب من بين سائر الأمم بمزايا لا تحصى، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، واشهد أن محمدا عبده ورسوله الذي شرف الله به العرب عمن سواهم بفضائل لا تستقصى صلى الله عليه وسلم وعلى آله وأصحابه، وتابعيهم بإحسان صلاة وسلاما دائمين بدوام الكريم المنان، الرحيم الرحمن.

وبعد..

فإن كثيرين من الفرق الأعجمية، والطوائف العنادية جبلوا على بغض العرب، فوقعوا في مهاوى العطب جهلا بما اختصهم الله به من المزايا التي لا يؤتوها غيرهم، والعطايا المحققة لعلوا قدرهم، وعظيم خيرهم، حتى بلغنا عن بعض أولياء الله أنه قال: (جاهدت نفسي ستين سنة حتى خرج منها بغض العرب) .

قد كثر من جمع جم، لا خلاف لهم إلا الوقيعة فيهم، والإستئثار بحقوقهم، فقصدت أن أتحفهم برسالة مختصرة جدا لتكون إن شاء الله تعالى كافة لمن اطلع عليها، أن يخوض فيهم بأدنى كلمة، وإلا حقت عليه الكلمة، فإن الجاهل قد يعذر بخلاف غيره، فإنه ربما عاجله ما يخاف، ويحذر.

ولما عزمت على هذا المقصد النافع إن شاء الله تعالى رأيت لشيخ الإسلام والحفاظ أبي الحسين عبد الرحمن العراقي تأليفا في ذلك حافلا، لكنه طوله بالأسانيد الكثيرة، والطرق المستفيضة الشهيرة، قصدت اختصاره في دون عشرة فصول، بحيث لا أفوت شيءا من مقاصده، وفوائده، مستعينا بالله تعالى، ومتوكلا عليه، ومستندا في سائر أموري إليه، إنه أكرم كريم، وأرحم رحيم.

وسميته (مبلغ الأرب في فخر العرب) ، ورتبته على مقدمة وفصول وخاتمة.

‌‌مقدمة العرب صفوة خلق الله

صح عمن لا ينطق عن الهوى أن الله تعالى تخير العرب من خلقه، فقد روى الحاكم وصححه وتابعوه عن ابن عمر - رضي الله تعالى عنهما - قال: قال رسول الله صلى الله تعالى عليه وصحبه وسلم: (لما خلق الله الخلق اختار العرب، ثم اختار من العرب قريشا، ثم اختار من قريش بني هاشم، ثم اختارني من بني هاشم، فأنا خيرة من خيرة) .

وفي ثنايا حديث سنده لا بأس به، وإن تكلم الجمهور في غير واحد من روانه: (وخلق الخلق فاختار من الخلق بني آدم، واختار من بني آدم العرب، واختار من العرب مضر، واختار من مضر قريشا، واختار من قريش بني هاشم، واختارني من بني هاشم، فأنا خيار إلى خيار، فمن أحب العرب فبحبي أحبهم، ومن أبغض العرب فببغضي أبغضهم) .

وفي حديث سنده حسن: (إن الله حين خلق الخلق بعث جبريل، فقسم الناس قسمين، فقسم العرب قسما، وقسم العجم قسما، وكانت خيرة الله في العرب، ثم قسم العرب قسمين، فقسم اليمن قسما، وقسم مضر قسما، وقسم قريشا قسما، وكانت خيرة الله في قريش، ثم أخرجني من خير ما أنا منه) .

وروى مسلم: (إن الله اصطفى بني كنانة من بني اسماعيل، واصطفى من بني كنانة قريشا، واصطفى من قريش بن هاشم، واصطفاني من بني هاشم) .

وفي رواية لأحمد والترمذي وقال: حسن صحيح غريب: (إن الله اصطفى من بني كنانة قريشا، واصطفى من قريش بن هاشم، واصطفاني من بني هاشم) .

‌‌الباب الأول

‌‌فصل في أب العرب

جاء في حديث الترمذي وغيره وسنده حسن عن سمرة عن النبي صلى الله تعالى عليه وعلى آله وسلم قال: (سام أبو العرب، وحام أبو الحبش، ويافث أبو الروم) .

ولا يعارضه خبر البزار: (ولد نوح سام، وحام، ويافث، فولد سام العرب، وفارس، والروم، والخير فيهم، وولد يافث يأجوج ومأجوج، والترك، والصقالبة، ولا خير فيهم، وولد حام القبط والبربر والسودان) . وذلك لأنه ضعيف من سائر طرقه.

‌‌فصل حب العرب من محبة النبي

صلى الله عليه وآله وسلم مر عنه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم في المقدمة: (فمن أحب العرب فبحبي أحبهم، ومن أبغض العرب فببغضي أبغضهم) .

وفي الحديث: (حب قريش إيمان، وبغضهم كفر، وحب العرب إيمان، وبغضهم كفر، من أحب العرب فقد أحبني، ومن أبغض العرب فقد أبغضني) سنده ضعيف، وتصحيح الحاكم له مردود.

‌‌فصل ينبغي محبة العرب لثلاث

لقوله صلى الله تعالى عليه وعلى آله وسلم: لقوله صلى الله تعالى عليه وعلى آله وسلم: (أحبوا العرب لثلاث) وفي رواية:
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম (পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে)

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি অন্যান্য সকল উম্মতের মাঝে আরবদের অসংখ্য বৈশিষ্ট্যে ভূষিত করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল, যার মাধ্যমে আল্লাহ আরবদের এমন সব ফজিলাত দিয়ে সম্মানিত করেছেন যা গণনা করে শেষ করা যায় না। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর এবং যারা ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন, তাঁদের সকলের ওপর বর্ষিত হোক চিরস্থায়ী দরুদ ও সালাম, যতক্ষণ পর্যন্ত মহান দাতা ও দয়াময় আল্লাহর অস্তিত্ব বিদ্যমান।

অতঃপর...

অনারবদের অনেক দল এবং একগুঁয়ে গোষ্ঠী আরবদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। তারা আরবদের সেই বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে ধ্বংসের গহ্বরে নিপতিত হয়েছে, যা আল্লাহ অন্য কাউকে দান করেননি। আল্লাহ তাদের যে উচ্চ মর্যাদা এবং মহান কল্যাণ নিশ্চিত করেছেন তা থেকে তারা বিমুখ। এমনকি আল্লাহর কোনো এক ওলির পক্ষ থেকে আমাদের কাছে পৌঁছেছে যে তিনি বলেছেন: (আমি ষাট বছর ধরে আমার নফসের সাথে জিহাদ করেছি যেন তা থেকে আরবদের প্রতি বিদ্বেষ দূর হয়)।

এক বিশাল জনগষ্ঠী এমন আছে যাদের কাজই হলো আরবদের সমালোচনা করা এবং তাদের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া। তাই আমি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত একটি রিসালা (পুস্তিকা) তাদের উপহার দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছি, যাতে ইনশাআল্লাহ তা পাঠকারীর জন্য যথেষ্ট হয় এবং সে যেন সামান্য কথা দিয়েও তাদের সমালোচনা না করে। অন্যথায় তার ওপর শাস্তির বাণী অবধারিত হবে। কেননা জাহিল বা অজ্ঞ ব্যক্তি হয়তো ক্ষমা পেতে পারে, কিন্তু অন্যদের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। কারণ তার ক্ষেত্রে এমন বিপদ ত্বরান্বিত হতে পারে যা নিয়ে সে ভয় ও শঙ্কা বোধ করে।

যখন আমি ইনশাআল্লাহ তাআলা এই উপকারী উদ্দেশ্যটি বাস্তবায়নের সংকল্প করলাম, তখন আমি শায়খুল ইসলাম এবং হাফিজ (الحفاظ) আবু আল-হুসাইন আবদুর রহমান আল-ইরাকির এ বিষয়ে একটি ব্যাপক গ্রন্থ দেখতে পেলাম। কিন্তু তিনি একে দীর্ঘ সনদ (أسانيد) এবং প্রসিদ্ধ ও বিস্তারিত সূত্রের (طرق) মাধ্যমে দীর্ঘায়িত করেছেন। আমি একে দশটি পরিচ্ছেদেরও কমে সংক্ষিপ্ত করার সংকল্প করেছি, যাতে তার উদ্দেশ্য এবং উপকারিতাগুলোর কিছুই বাদ না পড়ে। আমি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি, তাঁর ওপর ভরসা করছি এবং আমার সমস্ত বিষয়ে তাঁরই ওপর নির্ভর করছি। নিশ্চয়ই তিনি মহান দাতা এবং পরম দয়ালু।

আমি এর নাম রেখেছি 'মুবলাগ আল-আরাব ফি ফখর আল-আরব'। আমি একে একটি ভূমিকা, কয়েকটি পরিচ্ছেদ এবং একটি উপসংহার দিয়ে সাজিয়েছি।

ভূমিকা: আরব জাতি আল্লাহর সৃষ্টির নির্যাস

যিনি নিজের প্রবৃত্তি থেকে কোনো কথা বলেন না, তাঁর পক্ষ থেকে বিশুদ্ধভাবে (صح) বর্ণিত হয়েছে যে, মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে আরবদের মনোনীত করেছেন। আল-হাকিম এটি বর্ণনা করেছেন এবং একে সহিহ (صححه) হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন এবং অন্যান্যরা তাঁর অনুকরণ করেছেন। ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: (যখন আল্লাহ সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করলেন, তখন তিনি আরবদের পছন্দ করলেন। এরপর আরবদের মধ্য থেকে কুরাইশদের পছন্দ করলেন। এরপর কুরাইশদের মধ্য থেকে বনু হাশিমকে পছন্দ করলেন। এরপর বনু হাশিমের মধ্য থেকে আমাকে পছন্দ করলেন। সুতরাং আমি সেরাদের মধ্য থেকে সেরা)।

একটি হাদিসের মধ্যভাগে যার সনদ (سند) সন্তোষজনক (لا بأس به), যদিও জুমহুর বা অধিকাংশ আলেম এর একাধিক বর্ণনাকারীর (رواة) ব্যাপারে সমালোচনা করেছেন: (আর তিনি মাখলুকাত বা সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করলেন, এরপর সৃষ্টিজগত থেকে বনী আদমকে পছন্দ করলেন। বনী আদমের মধ্য থেকে আরবদের পছন্দ করলেন এবং আরবদের মধ্য থেকে মুযার গোত্রকে পছন্দ করলেন। মুযার থেকে কুরাইশদের পছন্দ করলেন এবং কুরাইশ থেকে বনু হাশিমকে পছন্দ করলেন। আর বনু হাশিম থেকে আমাকে পছন্দ করলেন। সুতরাং আমি উত্তমের ঘরে উত্তম। তাই যে ব্যক্তি আরবদের ভালোবাসল, সে আমার প্রতি ভালোবাসার কারণেই তাদের ভালোবাসল। আর যে ব্যক্তি আরবদের ঘৃণা করল, সে আমার প্রতি ঘৃণার কারণেই তাদের ঘৃণা করল)।

এবং একটি হাদিসে যার সনদ (سند) হাসান (حسن): (নিশ্চয়ই আল্লাহ যখন সৃষ্টিজগত তৈরি করলেন, তখন জিবরাঈলকে পাঠালেন। তিনি মানুষকে দুই ভাগে ভাগ করলেন। আরবদের একভাগে এবং অনারবদের অন্য ভাগে রাখলেন। আল্লাহর পছন্দ ছিল আরবদের মধ্যে। এরপর তিনি আরবদের দুই ভাগে ভাগ করলেন। ইয়ামানিদের এক ভাগে এবং মুযারদের অন্য ভাগে। এরপর কুরাইশদের এক ভাগে রাখলেন। আল্লাহর পছন্দ ছিল কুরাইশদের মধ্যে। এরপর তিনি আমাকে আমার বংশের সর্বোত্তম শাখা থেকে বের করে আনলেন)।

মুসলিম বর্ণনা করেছেন: (নিশ্চয়ই আল্লাহ ইসমাইলের বংশধর থেকে বনু কিনানাকে মনোনীত করেছেন এবং বনু কিনানা থেকে কুরাইশদের মনোনীত করেছেন। কুরাইশ থেকে বনু হাশিমকে মনোনীত করেছেন এবং বনু হাশিম থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন)।

আহমদ এবং তিরমিজির একটি বর্ণনায় রয়েছে এবং তিনি (তিরমিজি) বলেছেন: এটি হাসান সহিহ গরিব (حسن صحيح غريب): (নিশ্চয়ই আল্লাহ বনু কিনানা থেকে কুরাইশদের মনোনীত করেছেন, কুরাইশ থেকে বনু হাশিমকে মনোনীত করেছেন এবং বনু হাশিম থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন)।

প্রথম অধ্যায়

আরবদের আদি পিতা বিষয়ক পরিচ্ছেদ

তিরমিজি ও অন্যান্যদের একটি হাদিসে এসেছে এবং এর সনদ (سند) হাসান (حسن), যা সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: (সাম হলো আরবদের আদি পিতা, হাম হলো হাবশীদের (ইথিওপিয়ান) আদি পিতা এবং ইয়াফিস হলো রোমকদের আদি পিতা)।

আল-বজজারের এই খবর বা বর্ণনাটি এর সাথে সাংঘর্ষিক নয়: (নুহ আলাইহিস সালামের সন্তান ছিল সাম, হাম এবং ইয়াফিস। সামের বংশধর হলো আরব, পারস্য এবং রোমক—আর তাদের মধ্যে কল্যাণ রয়েছে। ইয়াফিসের বংশধর হলো ইয়াজুজ-মাজুজ, তুর্কি ও সাকালিবা—তাদের মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই। আর হামের বংশধর হলো কিবতি, বারবার এবং সুদান)। কারণ এই বর্ণনাটি এর সমস্ত সূত্রেই (طرق) দুর্বল (ضعيف)।

পরিচ্ছেদ: আরবদের ভালোবাসা নবীর প্রতি ভালোবাসার অংশ

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম। ভূমিকার অংশে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে অতিবাহিত হয়েছে: (যে ব্যক্তি আরবদের ভালোবাসল, সে আমার প্রতি ভালোবাসার কারণেই তাদের ভালোবাসল। আর যে ব্যক্তি আরবদের ঘৃণা করল, সে আমার প্রতি ঘৃণার কারণেই তাদের ঘৃণা করল)।

অন্য একটি হাদিসে এসেছে: (কুরাইশদের ভালোবাসা ঈমান এবং তাদের ঘৃণা করা কুফর। আরবদের ভালোবাসা ঈমান এবং তাদের ঘৃণা করা কুফর। যে আরবদের ভালোবাসল সে আমাকেই ভালোবাসল এবং যে আরবদের ঘৃণা করল সে আমাকেই ঘৃণা করল)। এর সনদ (سند) দুর্বল (ضعيف), এবং আল-হাকিম কর্তৃক এর সহিহায়ন (تصحيح) প্রত্যাখ্যানযোগ্য (مردود)।

পরিচ্ছেদ: তিনটি কারণে আরবদের ভালোবাসা উচিত

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের বাণীর কারণে: (তোমরা তিনটি কারণে আরবদের ভালোবাসো)। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে:
(খণ্ড: ১) মাবলাগুল আরাব ফী ফখরিল আরব (পৃষ্ঠা: ২)
(أحفظوني في العرب لثلاث لأني عربي، والقرآن عربي، وكلام أهل الجنة عربي) سنده ضعيف، وتصحيح الحاكم له مردود أيضا. وأصح منه على ضعفه أيضا قوله صلى الله تعالى عليه وعلى آله وسلم: (أنا عربي، والقرآن عربي، وكلام أهل الجنة عربي) .

‌‌فصل يقال العرب نور في الإسلام

لقوله صلى الله تعالى عليه وعلى آله وسلم: (أحبوا العرب وبقاءهم، فإن بقاءهم نور في الإسلام، الحديث في سنده متكلم فيه.

‌‌فصل ذل العرب ذل الإسلام

لقوله صلى الله تعالى عليه وعلى آله وسلم: (إذا ذلت العرب ذل الإسلام) وفي سنده ذلك المتكلم فيه.

‌‌فصل بغض العرب مفارقة للدين

لقوله صلى الله تعالى عليه وآله وسلم لسلمان الفارسي: (يا سلمان لا تبغضني يفارقك دينك) .

فقال: يا رسول الله كيف أبغضك، وبك هداني الله؟ قال: (تبغض العرب) أخرجه الترمذي وقال: حديث حسن غريب، ورواه أحمد أيضا، ولا انقطاع في طريقه خلافا لما قد يتوهم.

‌‌فصل حب العرب إيمان وبغضهم نفاق

لقوله صلى الله تعالى عليه وعلى آله وسلم: (حب العرب إيمان وبغضهم نفاق) وقال الدارقطني حديث غريب.

ومرت رواية حب العرب إيمان وبغضهم كفر وفي رواية عبد الله بن أحمد: (لا يبغض العرب إلا منافق) .

وفي أخرى ما في سندها متكلم فيه: (لا يبغض العرب مؤمن، ولا يحب ثقيفا إلا مؤمن) .

وعن على قال: أسندت النبي صلى الله تعالى عليه وعلى آله وسلم إلى صدري فقال: (يا على أوصيك بالعرب خيرا) .

وفي وصية عمر - رضي الله تعالى عنه - للخليفة بعده لما طعن، بعد توصيته بالمهاجرين، ثم الأنصار، ثم أهل الأمصار.

(وأوصيه بالأعراب خيرا، فإنهم أصل العرب، ومادة الإسلام، أن يؤخذ من حواشى أموالهم، فيرد على فقرائهم) .

‌‌فصل من غش العرب لم تنله شفاعته

صلى الله تعالى عليه وعلى آله وسلم لقوله صلى الله تعالى عليه وعلى آله وسلم: (من غش العرب لم يدخل في شفاعتي، ولم تنله مودني) أخرجه الترمذي، وفيه ضعف وغرابة.

‌‌فصل هلاك العرب من أشراط الساعة

لقوله صلى الله تعالى عليه وعلى آله وسلم: (من اقتراب الساعة هلاك العرب) أخرجه الترمذي في جامعة وقال: غريب.

‌‌فصل العرب عند خروج الدجال قليلون

لقوله صلى الله تعالى عليه وعلى آله وسلم: (ليفرن الناس من الدجال في الجبال) قالت أم شريك يا رسول الله فأين العرب؟ قال: (هم قليل) رواه مسلم، ولا ينافيه قول الترمذي إنه حسن صحيح غريب، لأن غرابته لعلها بالنسبة إلى خصوص طريق الترمذي.

‌‌الباب الثاني

‌‌دعاؤه صلى الله تعالى عليه وعلى آله وسلم

‌‌بدعاء عظيم عموما ثم خصوصا لقبائل شتى

أخرج الطبراني أنه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم قال: (إني دعوت للعرب، فقلت: (اللهم من لقيك منهم معترفا بك، فاغفر له أيام حياته، وهي دعوة إبراهيم وإسماعيل عليهما السلام، وإن لواء الحمد يوم القيامة بيدي، وإن أقرب الخلق من لوائي يومئذ العرب) أخرجه البزار والطبراني في الكبير، وسنده جيد.

وفي رواية: (اللهم من لقبك منهم مصدقا موقنا فاغفر له) .

وفي الحديث الصحيح المتفق عليه: (غفار غفر الله لها، وأسلم سالمها الله) .

وفي رواية صحيحة: (والله ما أناقلته، ولكن الله قاله) .

وفي أخرى عند مسلم أنه صلى الله تعالى وأله وسلم قال في صلاة الفجرة: (اللهم العن بني لحيان ورعلا وذكوان، وعصية عصت الله ورسوله، غفار غفر الله لها، وأسلم سالمها الله) .

وصح عنه صلى الله تعالى عليه وعلى آله وسلم أنه قال: (اللهم اغفر للأنصار، ولأبناء الأنصار) .

زاد الطبراني: (ولأبناء أبناء الأنصار، ولأزواجهم، ولذرياتهم) .

وفي أخرى صحيحة: (اللهم اغفر للأنصار، ولذرارى ذراريهم) .

وقال صلى الله تعالى عليه وعلى آله وسلم: (لا تسبوا قريشا، فإن عالمها يملأ طباق الأرض علما، اللهم كما أذقتهم عذابا، فأذقهم نوالا، دعا به ثلاث مرات) رواه جماعة.

وزعم بعض الحنفية وضعه غلط، أو حسد، فإن أحمد وأضرابه حملوه على الشافعي - رضي الله تعالى عنه - لأنه لم ينتشر العلم لقرشي في البلاد، ومن الاتباع ما انتشر للشافعي كما هو مشاهد ومعلوم من زمنهم إلى الآن.

وفي رواية عند البزار لكنه أشار إلى أن فيها غرابة:
(তিনটি কারণে তোমরা আরবের প্রতি লক্ষ্য রেখো: কেননা আমি একজন আরব, কুরআন আরবি ভাষায় এবং জান্নাতবাসীদের ভাষা আরবি) এর সনদ দুর্বল (ضعيف), এবং আল-হাকিমের একে সহিহ (تصحيح) বলাটাও প্রত্যাখ্যাত (مردود)। এর চেয়ে বিশুদ্ধতর (أصح) বর্ণনা হলো—দুর্বল (ضعيف) হওয়া সত্ত্বেও—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের এই বাণী: (আমি একজন আরব, কুরআন আরবি এবং জান্নাতবাসীদের ভাষা আরবি)।

‌‌পরিচ্ছেদ: বলা হয় আরবরা ইসলামের নূর

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের এই বাণীর কারণে: (তোমরা আরবদের ভালোবাসো এবং তাদের অস্তিত্ব কামনা করো, কেননা তাদের স্থায়িত্ব হলো ইসলামের নূর)। এই হাদিসটির সনদে এমন রাবি রয়েছে যার সমালোচনা করা হয়েছে (متكلم فيه)।

‌‌পরিচ্ছেদ: আরবদের লাঞ্ছনা ইসলামেরই লাঞ্ছনা

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের এই বাণীর কারণে: (যখন আরবরা লাঞ্ছিত হবে, তখন ইসলাম লাঞ্ছিত হবে)। এর সনদেও সেই রাবি রয়েছেন যার সমালোচনা করা হয়েছে (متكلم فيه)।

‌‌পরিচ্ছেদ: আরবদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা দ্বীন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া

সালমান ফারসি (রা.)-এর প্রতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের এই বাণীর কারণে: (হে সালমান! তুমি আমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করো না, অন্যথায় তোমার দ্বীন তোমার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে)।

তিনি আরজ করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কীভাবে আপনার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করতে পারি, অথচ আপনার মাধ্যমেই আল্লাহ আমাকে হেদায়েত দান করেছেন? তিনি বললেন: (তুমি আরবদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে [ফলে তা আমার প্রতি বিদ্বেষে রূপ নেবে])। তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি হাসান (حسن) গরিব (غريب) হাদিস। ইমাম আহমদও এটি বর্ণনা করেছেন। এর সূত্রে কোনো বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) নেই, যা কেউ কেউ ধারণা করে থাকেন তার বিপরীতে।

‌‌পরিচ্ছেদ: আরবদের ভালোবাসা ঈমান এবং তাদের প্রতি বিদ্বেষ নিফাক

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের এই বাণীর কারণে: (আরবদের ভালোবাসা ঈমান এবং তাদের প্রতি বিদ্বেষ নিফাক (نفاق))। দারা কুতনি বলেছেন, এটি একটি গরিব (غريب) হাদিস।

ইতোপূর্বেও একটি বর্ণনা অতিবাহিত হয়েছে যে, আরবদের ভালোবাসা ঈমান এবং তাদের প্রতি বিদ্বেষ কুফর (كفر)। আবদুল্লাহ ইবনে আহমদের বর্ণনায় এসেছে: (মুনাফিক (منافق) ছাড়া অন্য কেউ আরবদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে না)।

অন্য একটি বর্ণনায়—যার সনদে এমন রাবি রয়েছে যার সমালোচনা করা হয়েছে (متكلم فيه)—বলা হয়েছে: (কোনো মুমিন (مؤمن) আরবদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে না এবং কোনো মুমিন (مؤمن) ছাড়া অন্য কেউ সাকিফ গোত্রকে ভালোবাসে না)।

আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে আমার বুকের সাথে ঠেস দিয়ে ধরেছিলাম, তখন তিনি বললেন: (হে আলী! আমি তোমাকে আরবদের সাথে কল্যাণকর আচরণের অসিয়ত করছি)।

ওমর (রা.) যখন আহত হলেন, তখন তাঁর পরবর্তী খলিফার প্রতি অসিয়ত করার সময় মুহাজির, আনসার এবং বিজিত অঞ্চলের অধিবাসীদের ব্যাপারে অসিয়ত করার পর বললেন—

(আর আমি তাকে মরুবাসী আরবদের (الأعراب) ব্যাপারেও কল্যাণের অসিয়ত করছি। কেননা তারা আরবদের মূল ভিত্তি এবং ইসলামের শক্তি। তাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ থেকে যেন সদকা গ্রহণ করা হয় এবং তাদের দরিদ্রদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া হয়)।

‌‌পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি আরবদের সাথে প্রতারণা করবে সে তাঁর শাফায়াত লাভ করবে না

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের এই বাণীর কারণে: (যে ব্যক্তি আরবদের সাথে প্রতারণা করবে, সে আমার শাফায়াতের (شفاعة) অন্তর্ভুক্ত হবে না এবং আমার ভালোবাসা লাভ করবে না)। তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং এতে দুর্বলতা (ضعف) ও অস্বাভাবিকতা (غرابة) রয়েছে।

‌‌পরিচ্ছেদ: আরবদের ধ্বংস হওয়া কিয়ামতের আলামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের এই বাণীর কারণে: (কিয়ামত ঘনিয়ে আসার একটি লক্ষণ হলো আরবদের ধ্বংস হওয়া)। তিরমিজি তাঁর জামে গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি গরিব (غريب)।

‌‌পরিচ্ছেদ: দাজ্জালের আত্মপ্রকাশের সময় আরবরা সংখ্যায় অল্প হবে

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের এই বাণীর কারণে: (মানুষ দাজ্জালের ভয়ে পাহাড়ে পলায়ন করবে)। উম্মে শারিক (রা.) জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! তখন আরবরা কোথায় থাকবে? তিনি বললেন: (তখন তারা সংখ্যায় অল্প হবে)। মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিজির এই উক্তি—যে এটি হাসান (حسن) সহিহ (صحيح) গরিব (غريب)—তার সাথে এর কোনো বৈপরীত্য নেই। কারণ এর অস্বাভাবিকতা (غرابة) সম্ভবত তিরমিজির বিশেষ সূত্রের বিবেচনায়।

‌‌দ্বিতীয় অধ্যায়

‌‌রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের দোয়া

‌‌সাধারণভাবে এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন গোত্রের জন্য বিশেষভাবে সুমহান দোয়া

তাবারানি বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: (নিশ্চয়ই আমি আরবদের জন্য দোয়া করেছি। আমি বলেছি: হে আল্লাহ! তাদের মধ্য থেকে যারা আপনার প্রতি বিশ্বাসী হয়ে আপনার সাথে সাক্ষাৎ করবে, আপনি তাদের জীবনের গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন। এটি ইব্রাহিম ও ইসমাইল আলাইহিমাস সালামের দোয়া। আর কিয়ামত দিবসে প্রশংসার ঝাণ্ডা আমার হাতে থাকবে এবং সেদিন আমার ঝাণ্ডার সবচেয়ে নিকটবর্তী সৃষ্টি হবে আরবরা)। আল-বাযযার এবং তাবারানি আল-কাবীর গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ উত্তম (جيد)।

অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: (হে আল্লাহ! তাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি আপনার প্রতি বিশ্বাস ও দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে আপনার সাথে সাক্ষাৎ করবে, আপনি তাকে ক্ষমা করে দিন)।

মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه) সহিহ (صحيح) হাদিসে রয়েছে: (গিফার গোত্রকে আল্লাহ ক্ষমা করুন এবং আসলাম গোত্রকে আল্লাহ শান্তিতে রাখুন)।

একটি সহিহ (صحيحة) বর্ণনায় এসেছে: (আল্লাহর কসম, আমি এটি বলিনি, বরং আল্লাহ এটি বলেছেন)।

মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফজরের সালাতে বলেছিলেন: (হে আল্লাহ! বনী লিহয়ান, রিল, জাকওয়ান এবং উসাইয়্যাহ গোত্রের ওপর লানত দিন যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যতা করেছে। গিফার গোত্রকে আল্লাহ ক্ষমা করুন এবং আসলাম গোত্রকে আল্লাহ শান্তিতে রাখুন)।

তাঁর থেকে সহিহ (صح) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: (হে আল্লাহ! আপনি আনসারদের এবং আনসারদের সন্তানদের ক্ষমা করুন)।

তাবারানি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন: (এবং আনসারদের সন্তানদের সন্তানদের, তাদের স্ত্রীদের এবং তাদের বংশধরদেরও ক্ষমা করুন)।

অন্য একটি সহিহ (صحيحة) বর্ণনায় রয়েছে: (হে আল্লাহ! আনসারদের এবং তাদের সন্তানদের সন্তানদের ক্ষমা করুন)।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: (তোমরা কুরাইশদের গালি দিও না, কারণ তাদের মধ্যকার কোনো আলেম সারা পৃথিবীকে ইলম দিয়ে পূর্ণ করে দেবেন। হে আল্লাহ! আপনি তাদের যেভাবে আজাবের স্বাদ আস্বাদন করিয়েছেন, সেভাবে কল্যাণের স্বাদও আস্বাদন করান। তিনি তিনবার এই দোয়া করেন)। একদল বর্ণনাকারী এটি বর্ণনা করেছেন।

কোনো কোনো হানাফি আলিমের এই দাবি—যে এই হাদিসটি জাল (وضع)—তা একটি ভুল অথবা হিংসাপ্রসূত। কেননা ইমাম আহমদ ও তাঁর সমপর্যায়ের ব্যক্তিগণ এটি ইমাম শাফেয়ি (রা.)-এর ওপর প্রয়োগ করেছেন। কারণ কুরাইশ বংশীয় কোনো ব্যক্তির ইলম এবং তাঁর অনুসারী সারা বিশ্বে সেভাবে ছড়িয়ে পড়েনি যেভাবে ইমাম শাফেয়ির ক্ষেত্রে হয়েছে, যা তাঁদের সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত প্রত্যক্ষ ও সুবিদিত।

আল-বাযযারের নিকট অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, তবে তিনি এর মধ্যে অস্বাভাবিকতা (غرابة) থাকার দিকে ইঙ্গিত করেছেন:
(খণ্ড: ১) মাবলাগুল আরাব ফী ফখরিল আরব (পৃষ্ঠা: ৩)
(اللهم فقه قريشا في الدين، وأذقهم من يومى هذا إلى آخر الدهر نوالا، فقد أذقنهم أنكالا) .

وقال صلى الله تعالى عليه وعلى آله وسلم في بكر بن وائل: (اللهم اجبر كسيرهم، وآو طريدهم، ولا ترد منهم عائلا) وفي رواية سائلا، رواه الطبراني، وأشار إلى غرابة فيه.

وأخرج عبد الله بن أحمد عن عبد الله قال: شهدت رسول الله صلى الله تعالى عليه وعلى آله وسلم يدعو لهذا الحي من النخع، أو قال: يثني عليهم حتى تمنيت أني رجل منهم.

وقال صلى الله تعالى عليه وعلى آله وسلم: (اللهم اغفر لعبد القيس ثلاثا) أخرجه الطبراني.

وفي الصحيحين من حديث جرير البجلى في قصة ذي الخلصة قال: فدعا لنا ولأحمس.

وفي رواية: (فبرك على خيل أحمس ورجالها خمس مرات) .

ودخل عليه صلى الله تعالى عليه وعلى آله وسلم وفد عنزة، فقال: (بخ بخ بخ بخ نعم الحي عنزة، مبغى عليهم، منصورون، مرحبا بقوم شعيب، وأختان موسى) ثم لما أرادوا الإنصراف قال: (اللهم ارزق عنزة كفافا لا فوتا، ولا إسرافا) أخرجه الطبراني.

وصح خير: (اللهم أهد دوسا وائت بهم) .

وخير: (اللهم اهد ثقيفا) .

‌‌الباب الثالث

‌‌فصل قبائل لها فضائل

‌‌الأولى قريش

في الصحيحين: (الناس تبع لقريش في هذا الشأن مسلمهم تبع لمسلمهم، وكافرهم تبع لكافرهم، والناس معادن، خيارهم في الجاهلية خيارهم في الإسلام إذا فقهوا) .

وخبر: (لا يزال هذا الأمر في قرش ما بقى منهم اثنان) .

وخبر: (قريش والأنصار، وجهينة ومزينة وأسلم وغفار وأشجع موالى ليس لهم مولى من دون الله ورسوله) .

وفي البخارى خبر: (إن هذا الأمر في قريش لا يعاديهم أحد إلا كبه الله على وجهه ما أقاموا الدين) .

وفي مسلم خبر: (الناس تبع لقريش في الخير والشر) .

وخبر: (لا يزال أمر الناس ماضيا ما وليهم أثنا عشر رجلا كلهم من قريش) .

وخبر: (لا يزال الإسلام عزيزا إلى اثنى عشر خليفة كلهم من قريش) .

وخبر: (لا يزال هذا الدين منيعا إلى إثنى عشر خليفة كلهم من قريش) .

وخبر: سمعت رسول الله صلى الله تعالى عليه وعلى آله وسلم يوم جمعة عشية رجم الأسلمى، فقال: (لا يزال الدين قائما حتى تقوم الساعة، ويكون عليكم اثنا عشر خليفة) .

قال الزين العراقي: وليس المراد بالإثنى عشر خليفة على الولاء، بل المراد من اجتمعت عليهم الكلمة من قريش، وكانوا أهل عدل، والظاهر أن آخرهم المهدى، فإنه بملك جميع الأرض، وبعده يقع الهرج، ويدلل لذلك خبر أبى داود (وكلهم تجتمع عليه الأمة) .

إذ قرينته أن من لم تجتمع عليه ليس منهم كيزيد بن معاوية، بخلاف عمر ابن عبد العزيز، بل عد من الخلفاء الراشدين.

وخبر أيضا: (لا يزال هذا الدين عزيزا إلى اثنى عشر خليفة كلهم من قريش) فكبر الناس وضجوا، فلما رجع إلى منزله أتته قريش، فقالوا: ثم يكون ماذا؟ قال: (ثم يكون الهرج) .

فإذا تبين أن الخلفاء الإثنى عشر ليسوا على الولاء، وأن آخرهم المهدى، ففيه بشارة لهذا الأمة أن الدين في هذه الأزمان عزيز، قائم ولله الحمد في بلاد الإسلام العامرة، وقد كان شيخ شيوخنا الإمام العلامة القونوى يقول: إن مصر والشام مسجد الأرض، وقد كان آخر القرن السبع، ورأى ما حدث في تلك البلاد من التغير والمنكرات، وهي تدل أنهم ليسوا على الولاء، والخبر الصحيح: (تكون النبوة فيكم ما شاء الله أن تكون، ثم يرفعها الله إذا شاء أن يرفعها إذا شاء أن يرفعها، ثم تكون ملكا عاضا فيكون ما شاء الله أن تكون، ثم يرفعها إذا شاء أن يرفعها، ثم تكون ملكا جبريا فتكون ما شاء الله أن تكون، ثم يرفعها إذا شاء أن يرفعها، ثم تكون خلافة على منهاج النبوة، ثم سكت) .

ومما يدل على تخلل أمراء الجور بين أمراء العدل الحديث الحسن: (لا يلبث الجور بعدى إلا قليلا حتى يطلع، فكلما طلع من الجور شيء، ذهب من العدل مثله، حتى يولد في الجور من لا يعرف غيره، ثم يأتي الله تبارك وتعالى بالعدل، فكلما جاء من العدل شيء ذهب من الجور مثله) .

ولا ينافي ذلك الحسن أيضا: (خلافة النبوة ثلاثون سنة ثم يكون ملكا) .
(হে আল্লাহ, কুরাইশদের দ্বীনের সম্যক জ্ঞান দান করুন এবং আজকের এই দিন থেকে মহাকালের শেষ অবধি তাদের অনুগ্রহ আস্বাদন করান, কেননা আপনি তাদের কঠোর শাস্তি আস্বাদন করিয়েছেন)।

এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বকর বিন ওয়াইল সম্পর্কে বলেছেন: (হে আল্লাহ, তাদের ভগ্নদশা পূরণ করে দিন, তাদের বিতাড়িতদের আশ্রয় দান করুন এবং তাদের কোনো অভাবী ব্যক্তিকে ফিরিয়ে দেবেন না)। অন্য এক বর্ণনায় 'সাহায্যপ্রার্থী' শব্দ এসেছে; তবারানি এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর মধ্যে বিরলতা (غرابة) থাকার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।

আবদুল্লাহ বিন আহমাদ আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নাখ গোত্রের এই লোকগুলোর জন্য দুআ করতে দেখেছি, অথবা তিনি বলেছেন: তিনি তাদের এমন প্রশংসা করছিলেন যে আমি আকাঙ্ক্ষা করছিলাম যদি আমি তাদের একজন হতাম।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: (হে আল্লাহ, আবদ আল-কায়সকে ক্ষমা করুন), তিনি এটি তিনবার বলেছেন; তবারানি এটি বর্ণনা করেছেন।

সহিহাইন-এ জাবির আল-বাজালির হাদিস থেকে 'যু-খালাসা' এর ঘটনায় বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি (রাসূলুল্লাহ) আমাদের জন্য এবং আহামাস গোত্রের জন্য দুআ করেছেন।

অন্য এক বর্ণনায় এসেছে: (তিনি আহামাস গোত্রের ঘোড়া এবং তাদের সওয়ারীদের জন্য পাঁচবার বরকতের দুআ করেছেন)।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আনাযা গোত্রের এক প্রতিনিধি দল উপস্থিত হলে তিনি বললেন: (চমৎকার, চমৎকার, চমৎকার, চমৎকার! আনাযা কতই না উত্তম গোত্র; তারা মজলুম হওয়া সত্ত্বেও সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। শুয়াইবের কওম এবং মূসার আত্মীয়দের স্বাগতম)। অতঃপর তারা যখন বিদায় নিতে চাইলেন, তখন তিনি বললেন: (হে আল্লাহ, আনাযা গোত্রকে এমন পরিমাণ রিজিক দান করুন যা তাদের জন্য যথেষ্ট হয়; যাতে কোনো কমতি না থাকে এবং অপচয়ও না হয়)। তবারানি এটি বর্ণনা করেছেন।

একটি বিশুদ্ধ (صحيح) বর্ণনা রয়েছে যে: (হে আল্লাহ, দাউস গোত্রকে হেদায়েত দান করুন এবং তাদের নিয়ে আসুন)।

অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে: (হে আল্লাহ, সাকীফ গোত্রকে হেদায়েত দান করুন)।

‌‌তৃতীয় অধ্যায়

‌‌পরিচ্ছেদ: যেসব গোত্রের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে

‌‌প্রথম: কুরাইশ

সহিহাইন-এ বর্ণিত হয়েছে: (এই শাসন ক্ষমতায় মানুষ কুরাইশদের অনুসারী; তাদের মুসলিমরা কুরাইশদের মুসলিমদের অনুসারী এবং তাদের কাফিররা কুরাইশদের কাফিরদের অনুসারী। আর মানুষ হলো খনিজ সদৃশ; তাদের মধ্যে যারা জাহেলিয়াত যুগে উত্তম ছিল, তারা ইসলামেও উত্তম যদি তারা দ্বীনের সম্যক জ্ঞান অর্জন করে)।

একটি বর্ণনায় রয়েছে: (এই শাসন ক্ষমতা কুরাইশদের মধ্যেই থাকবে যতক্ষণ তাদের মধ্য থেকে দুইজন লোকও অবশিষ্ট থাকবে)।

আরও একটি বর্ণনায় রয়েছে: (কুরাইশ, আনসার, জুহাইনা, মুযাইনা, আসলাম, গিফার এবং আশজা—এরা সবাই এমন মিত্র যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ছাড়া তাদের আর কোনো অভিভাবক নেই)।

সহিহ বুখারি-তে একটি বর্ণনা রয়েছে: (নিশ্চয়ই এই শাসন ক্ষমতা কুরাইশদের মধ্যে থাকবে; যে কেউ তাদের সাথে শত্রুতা করবে আল্লাহ তাকে অধঃমুখে নিপতিত করবেন, যতক্ষণ তারা দ্বীন প্রতিষ্ঠা করবে)।

সহিহ মুসলিম-এ একটি বর্ণনা রয়েছে: (কল্যাণ ও অকল্যাণ উভয় ক্ষেত্রেই মানুষ কুরাইশদের অনুসারী)।

আরও একটি বর্ণনা রয়েছে: (মানুষের এই বিষয় অর্থাৎ খেলাফত অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ বারোজন ব্যক্তি তাদের শাসন করবে, যাদের সবাই হবে কুরাইশ বংশীয়)।

আরও একটি বর্ণনায় রয়েছে: (ইসলাম শক্তিশালী থাকবে বারোজন খলিফা পর্যন্ত, যাদের সবাই হবে কুরাইশ বংশীয়)।

আরও একটি বর্ণনায় রয়েছে: (এই দ্বীন সুরক্ষিত থাকবে বারোজন খলিফা পর্যন্ত, যাদের সবাই হবে কুরাইশ বংশীয়)।

আরও একটি বর্ণনায় এসেছে: জনৈক বর্ণনাকারী বলেন, আমি জুমার দিন বিকেলে আসলামি গোত্রের এক ব্যক্তিকে পাথর নিক্ষেপ (রজম) করার সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: (কিয়ামত কায়েম হওয়া পর্যন্ত এই দ্বীন প্রতিষ্ঠিত থাকবে এবং তোমাদের ওপর বারোজন খলিফা অতিবাহিত হবে)।

জাইন আল-ইরাকি বলেছেন: এই বারোজন খলিফা দ্বারা উদ্দেশ্য তারা পর্যায়ক্রমিকভাবে আসা নয়, বরং উদ্দেশ্য হলো কুরাইশদের মধ্য থেকে এমন শাসক যাদের ওপর উম্মত ঐক্যবদ্ধ হবে এবং তারা ন্যায়পরায়ণ হবেন। বাহ্যত তাদের সর্বশেষ ব্যক্তি হবেন মাহদী; কেননা তিনি সমগ্র পৃথিবীর রাজত্ব লাভ করবেন এবং তাঁর পরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। আবু দাউদ-এর এই বর্ণনাটি এর প্রমাণ দেয় যে— (যাদের প্রত্যেকের ওপর উম্মত ঐক্যবদ্ধ হবে)।

যেহেতু বর্ণনার প্রেক্ষাপট ইঙ্গিত দেয় যে, যাদের ওপর উম্মত ঐক্যবদ্ধ হয়নি তারা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, যেমন ইয়াজিদ বিন মুয়াবিয়া। তবে উমর ইবনে আবদুল আজিজ এর ব্যতিক্রম, বরং তাঁকে খুলাফায়ে রাশেদীনের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয়।

আরও একটি বর্ণনায় রয়েছে: (এই দ্বীন বারোজন খলিফা পর্যন্ত শক্তিশালী থাকবে, যাদের সবাই কুরাইশ বংশীয়)। তখন মানুষ তাকবির ধ্বনি দিল এবং হট্টগোল শুরু করল। বর্ণনাকারী যখন নিজগৃহে ফিরলেন, তখন কুরাইশরা তাঁর কাছে এসে জিজ্ঞেস করল: তারপর কী হবে? তিনি বললেন: (তারপর হারাজ বা বিশৃঙ্খলা-হত্যাযজ্ঞ হবে)।

যখন এটি স্পষ্ট হলো যে, বারোজন খলিফা পর্যায়ক্রমিক নন এবং তাদের শেষ জন হলেন মাহদী, তখন এই উম্মতের জন্য সুসংবাদ হলো যে, এই সময়েও দ্বীন শক্তিশালী ও প্রতিষ্ঠিত রয়েছে—আলহামদুলিল্লাহ, ইসলামের জনপদসমূহে এটি দৃশ্যমান। আমাদের শায়খদের শায়খ ইমাম আল্লামা আল-কুনওয়ী বলতেন: মিশর ও শাম হলো পৃথিবীর মসজিদ। তিনি সপ্তম শতাব্দীর শেষের দিকে ছিলেন এবং সেই দেশগুলোতে যেসব পরিবর্তন ও অপকর্ম দেখেছিলেন, তা প্রমাণ করে যে শাসকরা পর্যায়ক্রমিক নন। আর বিশুদ্ধ (صحيح) বর্ণনাটি হলো: (তোমাদের মাঝে নবুওয়াত থাকবে যতক্ষণ আল্লাহ চাইবেন, তারপর তিনি যখন চাইবেন তা উঠিয়ে নেবেন। এরপর আসবে দংশনকারী রাজতন্ত্র এবং তা আল্লাহ যতক্ষণ চাইবেন থাকবে, তারপর তিনি যখন চাইবেন তা উঠিয়ে নেবেন। এরপর আসবে জবরদস্তিমূলক রাজতন্ত্র এবং তা আল্লাহ যতক্ষণ চাইবেন থাকবে, তারপর তিনি যখন চাইবেন তা উঠিয়ে নেবেন। এরপর পুনরায় নবুওয়াতের আদলে খেলাফত প্রতিষ্ঠিত হবে; অতঃপর তিনি নীরব হলেন)।

ন্যায়পরায়ণ শাসকদের মাঝে জালেম শাসকদের অনুপ্রবেশের প্রমাণ দেয় এই হাসান (حسن) হাদিসটি: (আমার পরে শীঘ্রই জুলুমের আবির্ভাব ঘটবে। যখনই জুলুমের কোনো অংশ প্রকাশ পাবে, সমপরিমাণ ন্যায়বিচার বিলুপ্ত হবে। এমনকি জুলুমের মধ্যেই এমন প্রজন্ম জন্ম নেবে যারা জুলুম ছাড়া আর কিছু চিনবে না। অতঃপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা ন্যায়বিচার নিয়ে আসবেন এবং যখনই ন্যায়বিচারের কোনো অংশ আসবে, সমপরিমাণ জুলুম বিলুপ্ত হবে)।

আর এটি এই হাসান (حسن) বর্ণনার বিরোধী নয় যে: (নবুওয়াতের আদলে খেলাফত থাকবে ত্রিশ বছর, তারপর রাজতন্ত্র শুরু হবে)।
(খণ্ড: ১) মাবলাগুল আরাব ফী ফখরিল আরব (পৃষ্ঠা: ৪)
لأن المراد خلافة النبوة الأولى جمعا بين الحديثين على أن الأولى أصح، والمراد بخلافة النبوة الأولى، ومدة الخلفاء الأربعة، فإنها ثلاثون سنة لإنقضائها سنة أربعين من الهجرة، وقد عين بعض الأثنى عشر في حديث: (يكون بعدى أثنا عشر خليفة منهم أبو بكر الصديق، لا يلبث بعدى إلا قليلا، وصاحب رحا دارة العرب، يعيش حميدا، ويموت شهيدا) .

قالوا: ومن هو؟ قال: (عمر بن الخطاب، ثم التفت إلى عثمان فقال: إن ألبسك الله ميصا، فأرادك الناس على خلعه فلا تخلعه) رواه الطبراني، وأشار إلى غرابة فيه، والذهبي وقال: العجب من يحيى بن معين مع جلالته ونقده كيف يروى مثل هذا الباطل، ويسكت عنه، واحتج بأن في أحد روانه صاحب منا كير وعجائب، ورد بأن كثيرين وثقوه.

وروى عبد الله بن أحمد في زوائد المسند عن علي - كرم الله وجهه - قال: سمعت أذناى، ووعى قلبى من رسول الله صلى الله تعالى عليه وآله وسلم: (الناس تبع لقريش صالحهم تبع لصالحهم، وشرارهم تبع لشرارهم) .

وصح أنه صلى الله تعالى عليه وعلى آله وسلم قام على باب بيت فيه نفر من قريش، وأخذ بعضادني الباب فقال: (هل في البيت إلا قرشي؟) .

فقيل: يا رسول الله غير فلان ابن أختنا.

فقال: (ابن أخت القوم منهم، ثم قال: إن هذا الأمر في قريش، ماإذا استرحموا رحموا، وإذا أقسموا قسطوا) . الحديث.

وصح أيضا خير: (الأمراء من قريش ما فعلوا ثلاثا: ما حكموا فعدلوا واسترحموا فرحموا، وعاهدوا فوفوا) الحديث.

وخبر: (الأئمة من قريش إن لهم عليكم حقا، ولكم عليهم حقا مثل ذلك، ما إذا استرحموا رحموا، وإن عاهدوا فوفوا، وإن حكموا عدلوا) الحديث.

وفي خبر، في سنده غرابة: (الأئمة من قريشن أبرارها أمراء أبرازها، وفجارها أمراء افجارها، ولكل حق، فآتوا كل ذي حق حقه، وإن أمر عليكم عبد حبشي فاسمعوا له وأطيعوا، ما لم يخير أحدكم بين إسلامه وضرب عنقه، فإذا خبر بين إسلامه وضرب عنقه، فليمدد عنقه ثكلته أمه، فلا دنيا له، ولا آخرة بعد ذهاب دينه) .

وصح: الخلافة، وفي رواية: (الملك في قريش والحكم في الأنصار) .

وفي رواية: (القضاء في الأنصار والدعوة في الحبشة) .

وفي رواية: (الأذان في الحبشة) الحديث.

وفي رواية: (والشرعة في اليمن، والأمانة في الأزد) .

وفي خبر حسن: (الناس تبع لقريش في الخير والشر) .

وفي آخر حسن: (إن خيار أئمة قريش خيار أئمة الناس) .

وروى الطبراني خبر: (أمان لأهل الأرض من الغرق القوس، وأمان لأهل الأرض) .

وفي رواية: (أمتى من الإختلاف الموالاة لقريش، قريش أهل الله) .

وفي رواية أنه قال هذا ثلاث مرات: (فإذا خالفتها قبيلة من العرب صاروا حزب إبليس) في سنده مختلف فيه.

قال الزين العراقي: وأحسن ما قيل قول أبي حاتم الرازي: صالح ليس بالمتين.

وفي خبر حسن: (من يرد هوان قريش أهانة الله) .

وفي رواية سندها حسن أيضا عن عمرو بن عثمان رضي الله عنهما أن أباه قال له: يا بني إن وليت من أمر الناس شيئا فأكرم قريشا، فإني سمعت رسول الله صلى الله تعالى عليه وآله وسلم يقول: (من أهان قريشا أهانة الله) .

وفي رواية: (أهانه الله قبل موته) .

وصح خبر جمع رسول الله صلى الله تعالى عليه وآله وسلم قريشا فقال: (هل فيكم من غيركم؟) قالوا: لا، إلا ابن أختنا وحليفنا ومولانا. فقال: (ابن أختكم منكم، وحليفكم منكم، ومولاكم منكم، إن قريشا أهل أمانة وصدق، فمن بغى لها العواثر كبه الله في النار لوجهه) .

وصح أيضا أن صلى الله تعالى عليه وآله وسلم قال لعمر: (اجمع لي قومك) فجمعهم عمر عند بيت رسول الله صلى الله تعالى عليه وآله وسلم، ثم قال: (ألا تسمعون إن أوليائي منكم المتقون، فإن كنتم أولئك فذلك، وإلا فأبصروا، ثم أبصروا يأتين الناس بالأعمال يوم القيامة، وتأتون بالأثقال، فيعرض عنكم، ثم رفع يديه فقال: يا أيها الناس إن قريشا أهل أمانة فمن بغى لهم العواثر كبه الله لمنخريه، قالها ثلاث مرات) .

وصح خبر: (لولا تبطر قريش لأخبرتها بما لها عند الله) .

وصح أن رجلا نال منهم فقال صلى الله تعالى عليه وآله وسلم (لا تسين قريشا فإنه لعلك أن ترى منهم رجالا تزدرى عملك مع أعمالهم، وفعلك مع أفعالهم، وتغبطهم إذا رأيتم، لولا أن تطغى قريش لأخبرتهم بالذي لهم عند الله تعالى) .

কারণ এখানে দুটি হাদিসের মধ্যে সমন্বয় সাধনের উদ্দেশ্যে খিলাফতে নবুওয়াতের প্রথম সময়কালকে বুঝানো হয়েছে, যদিও প্রথম হাদিসটি অধিক সহিহ (أصح)। খিলাফতে নবুওয়াতের প্রথম সময়কাল দ্বারা চার খলিফার শাসনকালকে বুঝানো হয়েছে, যা ছিল তিরিশ বছর; কেননা এটি হিজরি ৪০ সনে সমাপ্ত হওয়ার মাধ্যমে পূর্ণ হয়েছিল। একটি হাদিসে বারোজন খলিফার কয়েকজনকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে: (আমার পরে বারোজন খলিফা হবে, তাদের মধ্যে আবু বকর সিদ্দিক; তিনি আমার পরে সামান্য সময় অতিবাহিত করবেন, আর আরবের ঘূর্ণায়মান যাঁতাকলের সাথী, যিনি প্রশংসিত অবস্থায় জীবন অতিবাহিত করবেন এবং শহীদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করবেন)।

তারা জিজ্ঞেস করলেন: তিনি কে? তিনি বললেন: (উমর ইবনুল খাত্তাব। অতঃপর তিনি উসমানের দিকে ফিরে তাকালেন এবং বললেন: আল্লাহ যদি তোমাকে একটি জামা পরিধান করান, আর মানুষ যদি তা খুলে ফেলতে চায়, তবে তুমি তা খুলবে না)। তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন এবং এতে বিচিত্রতা (غرابة) রয়েছে বলে ইঙ্গিত করেছেন। আর আল-জাহাবি বলেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের মতো সুমহান মর্যাদা ও সূক্ষ্ম সমালোচনার অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও এটি আশ্চর্যের বিষয় যে, তিনি কীভাবে এ জাতীয় বাতিল (باطل) হাদিস বর্ণনা করেন এবং তা নিয়ে নীরব থাকেন। তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে, এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে এমন একজন আছেন যিনি অস্বীকৃত (منكر) এবং অদ্ভুত বর্ণনাসমূহের অধিকারী। তবে এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, অনেকে তাকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) বলেছেন।

আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ মুসনাদ-এর অতিরিক্ত অংশ বা জাওয়ায়েদুল মুসনাদ-এ আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার দুই কান শ্রবণ করেছে এবং আমার অন্তর রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে মুখস্থ রেখেছে যে: (মানুষ কুরাইশদের অনুসারী; তাদের সৎ লোকেরা কুরাইশদের সৎ লোকদের অনুসারী এবং তাদের মন্দ লোকেরা কুরাইশদের মন্দ লোকদের অনুসারী)।

এটি বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত (صحيح) যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন একটি ঘরের দরজায় দাঁড়ালেন যেখানে কুরাইশদের একদল লোক ছিল। তিনি দরজার দুই বাজু ধরে বললেন: (এই ঘরে কুরাইশ ছাড়া কি আর কেউ আছে?)

বলা হলো: হে আল্লাহর রাসুল, আমাদের ভাগ্নে অমুক ছাড়া আর কেউ নেই।

তিনি বললেন: (কোনো সম্প্রদায়ের ভাগ্নে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। অতঃপর তিনি বললেন: নিশ্চয়ই এই শাসন কর্তৃত্ব কুরাইশদের হাতে থাকবে; যতক্ষণ তারা দয়া প্রার্থনা করা হলে দয়া করবে এবং ইনসাফের সাথে বিচার ফয়সালা করবে)। (হাদিসের শেষ পর্যন্ত)।

আরও একটি বর্ণনা বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত (صحيح): (আমিরগণ কুরাইশ থেকে হবে যতক্ষণ তারা তিনটি কাজ করবে: যখন বিচার করবে তখন ন্যায়বিচার করবে, যখন দয়া প্রার্থনা করা হবে তখন দয়া করবে এবং যখন অঙ্গীকার করবে তখন তা পূর্ণ করবে)। (হাদিসের শেষ পর্যন্ত)।

এবং এই সংবাদটি: (ইমামগণ কুরাইশ থেকে হবে। তোমাদের ওপর তাদের যেমন অধিকার রয়েছে, তোমাদেরও তাদের ওপর অনুরূপ অধিকার রয়েছে; যতক্ষণ তারা দয়া প্রার্থনা করা হলে দয়া করবে, অঙ্গীকার করলে তা পূর্ণ করবে এবং বিচার করলে ন্যায়বিচার করবে)। (হাদিসের শেষ পর্যন্ত)।

আরেকটি বর্ণনায়, যার সনদে বিচিত্রতা (غرابة) রয়েছে: (ইমামগণ কুরাইশ থেকে হবে; তাদের সৎ ব্যক্তিরা সৎ লোকদের আমির এবং তাদের পাপাচারীরা পাপাচারীদের আমির। প্রত্যেকের জন্য অধিকার রয়েছে, সুতরাং প্রত্যেক অধিকারীকে তার অধিকার প্রদান করো। যদি তোমাদের ওপর কোনো হাবশি ক্রীতদাসকেও আমির নিযুক্ত করা হয়, তবে তার কথা শোনো ও আনুগত্য করো, যতক্ষণ না তোমাদের কাউকে তার ইসলাম এবং গর্দান উড়িয়ে দেওয়ার মধ্যে কোনো একটি বেছে নিতে বাধ্য করা হয়। যদি কাউকে তার ইসলাম এবং গর্দান উড়িয়ে দেওয়ার মধ্যে কোনো একটি বেছে নিতে বলা হয়, তবে সে যেন তার গর্দান পেতে দেয়, তার মা তাকে হারাক; কেননা তার দ্বীন চলে যাওয়ার পর তার জন্য দুনিয়া বা আখেরাত বলতে কিছু থাকবে না)।

বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত (صحيح): খিলাফত; এবং অন্য বর্ণনায়: (রাজত্ব কুরাইশদের মধ্যে এবং শাসন আনসারদের মধ্যে)।

অন্য বর্ণনায়: (বিচার ফয়সালা আনসারদের মধ্যে এবং দাওয়াত আবিসিনীয়দের মধ্যে)।

অন্য বর্ণনায়: (আজান আবিসিনীয়দের মধ্যে)। (হাদিসের শেষ পর্যন্ত)।

অন্য বর্ণনায়: (আর শরিয়ত ইয়ামেনে এবং আমানতদারি আজদ গোত্রে)।

একটি গ্রহণযোগ্য (حسن) বর্ণনায় রয়েছে: (মানুষ কল্যাণ ও অকল্যাণে কুরাইশদের অনুসারী)।

অন্য একটি গ্রহণযোগ্য (حسن) বর্ণনায় রয়েছে: (নিশ্চয়ই কুরাইশদের শ্রেষ্ঠ ইমামগণ সকল মানুষের শ্রেষ্ঠ ইমাম)।

তাবারানি এই সংবাদটি বর্ণনা করেছেন: (রামধনু হলো জমিনবাসীর জন্য নিমজ্জিত হওয়া থেকে নিরাপত্তা, আর... জমিনবাসীর জন্য নিরাপত্তা)।

অন্য বর্ণনায়: (আমার উম্মতের জন্য মতভেদ থেকে নিরাপত্তা হলো কুরাইশদের আনুগত্য করা; কুরাইশগণ আল্লাহর পরিজন)।

অন্য বর্ণনায় রয়েছে যে, তিনি এটি তিনবার বললেন: (সুতরাং যদি আরবের কোনো গোত্র তাদের বিরোধিতা করে, তবে তারা ইবলিসের দলভুক্ত হবে)। এর সনদে মতভেদপূর্ণ (مختلف فيه) বর্ণনাকারী রয়েছে।

যাইনুল ইরাকি বলেন: এই বিষয়ে সবচেয়ে চমৎকার উক্তি হলো আবু হাতিম আর-রাজির বক্তব্য, তিনি বলেছেন: সে সৎ (صالح), কিন্তু সুদৃঢ় (متين) নয়।

একটি গ্রহণযোগ্য (حسن) বর্ণনায় রয়েছে: (যে কুরাইশদের লাঞ্ছিত করতে চায়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন)।

অন্য এক বর্ণনায়, যার সনদও গ্রহণযোগ্য (حسن) আমর ইবনে উসমান (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তার পিতা তাকে বলেছিলেন: হে বৎস! যদি তুমি মানুষের কোনো বিষয়ের দায়িত্বশীল হও, তবে কুরাইশদের সম্মান করো। কেননা আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: (যে কুরাইশদের অপমান করল, আল্লাহ তাকে অপমানিত করবেন)।

অন্য বর্ণনায় রয়েছে: (আল্লাহ তাকে তার মৃত্যুর পূর্বেই অপমানিত করবেন)।

একটি হাদিস বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত (صحيح) যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) কুরাইশদের একত্রিত করে বললেন: (তোমাদের মধ্যে কি বহিরাগত কেউ আছে?) তারা বললেন: না, আমাদের ভাগ্নে, আমাদের চুক্তিবদ্ধ মিত্র এবং আমাদের মুক্ত দাসের বাইরে আর কেউ নেই। তিনি বললেন: (তোমাদের ভাগ্নে তোমাদেরই অন্তর্ভুক্ত, তোমাদের মিত্র তোমাদেরই অন্তর্ভুক্ত এবং তোমাদের মুক্ত দাসও তোমাদেরই অন্তর্ভুক্ত। নিশ্চয়ই কুরাইশগণ আমানত ও সত্যনিষ্ঠার প্রতীক। সুতরাং যে ব্যক্তি তাদের অকল্যাণ কামনা করবে, আল্লাহ তাকে অধোমুখে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন)।

আরও বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত (صحيح) যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) উমরকে বললেন: (আমার জন্য তোমার কওমকে একত্রিত করো)। অতঃপর উমর তাদেরকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ঘরের সামনে একত্রিত করলেন। এরপর তিনি বললেন: (তোমরা কি শুনছো? তোমাদের মধ্যে মুত্তাকিরাই কেবল আমার প্রকৃত বন্ধু। তোমরা যদি এমন হও তবে তো ভালো, অন্যথায় লক্ষ্য করো; কিয়ামতের দিন মানুষ আমল নিয়ে আসবে আর তোমরা বোঝা নিয়ে আসবে, ফলে তোমাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া হবে। অতঃপর তিনি স্বীয় হস্তদ্বয় উত্তোলন করে বললেন: হে লোকসকল! নিশ্চয়ই কুরাইশগণ আমানতের অধিকারী; সুতরাং যে ব্যক্তি তাদের অকল্যাণ কামনা করবে, আল্লাহ তাকে তার নাসারন্ধ্রে ভর দিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। তিনি এ কথাটি তিনবার বললেন)।

এই সংবাদটি বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত (صحيح): (কুরাইশরা যদি দম্ভ না করত, তবে আল্লাহর কাছে তাদের জন্য যা রয়েছে আমি তা তাদের জানিয়ে দিতাম)।

বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত (صحيح) যে, এক ব্যক্তি কুরাইশদের সমালোচনা করলে রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন: (কুরাইশদের গালি দিও না, কেননা অচিরেই তোমরা তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তিদের দেখবে যাদের আমল ও কাজের তুলনায় তোমরা তোমাদের আমল ও কাজকে তুচ্ছ জ্ঞান করবে। এবং যখন তোমরা তাদের দেখবে তখন তাদের অবস্থা দেখে ঈর্ষা করবে। কুরাইশরা যদি সীমা লঙ্ঘন না করত, তবে আল্লাহর কাছে তাদের জন্য যা রয়েছে তা আমি তাদের জানিয়ে দিতাম)।

(খণ্ড: ১) মাবলাগুল আরাব ফী ফখরিল আরব (পৃষ্ঠা: ৫)
وفي خبر سنده مرسل جيد أن أبا قتادة الأنصاري قال لخالد بن الوليد يوم فتح مكة: (هذا يوم يذل الله فيه قريشا) فقيل يا رسول الله ألا تسمع ما يقول أبو قتادة، فقال صلى الله تعالى عليه وآله وسلم: (مهلا يا أبا قتادة إنك لوزنت حلمك مع حلومهم، لحقرت حلمك مع حلومهم ولوزنت رأيك مع آرائهم لحقرت رأيك مع آرائهم، ولوزنت فعلك مع أفعالهم لحقرت فعلك مع أفعالهم، لا تعلموا قريشا، وتعلموا منهم، فلولا أن تبطر قريش لأخبرتهم بما لهم عند رب العالمين) .

وصح خبر: (إن الرجل من قريش قوة رجلين من غير قريش) أي من حيث الرأي، قاله الزهرى.

وفي حديث حسن: (أيها الناس لا تقدموا قريشا فتهلكوا، ولا تتخلفوا عنها فتضلوا، ولا تعلموها، وتعلموا منها فإنهم أعلم منكم، لولا أن تبطر قريش لأخبرتها بما لها عند الله) .

وفي آخر حسن أيضا: (التمسوا الأمانة في قريش، فإن أمين قريش له فضل على أمين من سواهم، وإن قوى قريش له فضل على قوي من سواهم) .

وفي خبر في سنده مقال: (قدموا قريشا، ولا تقدموها، وتعلموا من قريش ولا تعلموها، لولا أن تبطر قريش لأخبرتها بما لخيارها عند الله) .

وفي خبر حسن: (العلم في قريش، والأمانة في الأنصار) .

وخبر: (الأمانة في الأزد، والحياء في قريش) في سنده مجاهيل. وأخرج الطبراني عن عدى بن حاتم قال: كنت قاعدا عند النبي صلى الله تعالى عليه وآله وسلم حين جاء من بدر، فقال رجل من الأنصار: وهل لقينا إلا عجائز كالجزر المعلقة فنحرناها، فتغير وجه رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم حتى رأيته كأنه تفقا فيه حب الرمان، ثم قال: (يا ابن أخي لا تقل ذلك، أولئك الملأ الأكبر من قريش، أما لو رأيتهم في مجالسهم بمكة لهبتم، فوالله لأتيت مكة فرأيتهم قعودا في المسجد في مجالسهم فما قدرت أن أسلم عليهم من هيبتهم، فذكرت قول رسول الله صلى الله تعالى عليه وآله وسلم: (لو رأيتهم في مجالسهم لهبتم) .

قال عدى بن حاتم فقال رسول الله صلى الله تعالى عليه وآله وسلم: (يا معشر الناس أحبوا قريشا، فإن من أحب قريشا فقد أحبني، ومن أبغض قريشا، فقد أبغضني، إن الله حبب إلى قومي، فلا أتعجل لهم نعمة، ولا استكثر لهم نعمة، اللهم إنك أذقت أول قريش نكالا، فأذق آخرها نوالا، ألا إن الله تعالى علم ما في قلبي من حبي لقومي فسرني فيهم، قال الله عز وجل: (وَإِنَّهُ لَذِكرٌ لَكَ وَلِقَومِكَ وَسَوفَ تُسئَلون) .

فجعل الذكر والشرف لقومي في كتابه: (وَأَنذِر عَشيرَتَكَ الأَقرَبين، وَاِخفِض جَناحَكَ بِمَن اِتَّبَعَكَ مِنَ المُؤمِنين) ، يعني قومه، والحمد لله الذي جعل الصديق من قومي، والشهيد من قومي، والأئمة من قومي، إن الله تعالى قلب العباد ظهرا وبطنا فكان خير العرب قريش، وهي الشجرة المباركة التي قال الله تعالى: (مَثَلاً كَلِمَةٍ طَيِّبَىٍ كَشَجَرَةٍ طَيِّبَةٍ) قريش (أَصلُها ثابِتٌ) يقول: أصلها كريم، (وَفَرعُها في السَّماءِ) يقول الذي أشرف شرفهم الله بالإسلام الذي هداهم له، وجعلهم أهله، ثم أنزل فيهم سورة محكمة في كتابه: (لإِيلافِ قُرَيشٍ. إِيلافَهِم رِحلَةَ الشِّتاءَ وَالصَيفِ فَليَعبُدوا رَبَّ هذا البَيتِ الَّذي أَطعَمَهُم مِن جوعٍ، وَآمَنَهُم مِن خَوف) .

قال عدى: ما رأيت رسول الله صلى الله تعالى عليه وآله وسلم ذكرت عنده قريش بخير قط إلا سر، حتى يبين السرور في وجهه، وكان يتلو هذه الآية ب (وَإِنَّهُ لَذِكرٌ لَكَ وَلِقَومِكَ وَسَوفَ تُسئَلون) .

أعل هذا الحديث بأن فيه وهما من بعض رواته، فإن إسلام عدى بن حاتم تم متأخرا، ولم يقدم على النبي صلى الله تعالى عليه وآله وسلم حين جاء من بدر كما وقع في هذا الحديث، وإنما جاء إلى النبي صلى الله تعالى عليه وآله وسلم في شعبان سنة تسع من الهجرة، ولأن في سنده من لا يعرف.

أخرج الطبراني في خبر: (أحبوا قريشا، فإن من أحبهم أحب الله عز وجل . وفيه عبد المهيمن منكر الحديث.

ومر حديث (حب قريش إيمان، وبغضهم كفر) .

وفي خبر حسن: (بغض بني هاشم والأنصار كفر، وبغض العرب نفاق) .

وفي خبر: قيل للنبي صلى الله تعالى عليه وآله وسلم إن فلانا الثقفي قتل، وقد أسلم، فقال: (أبعده الله إنه كان يبغض قريشا) .
একটি বর্ণনায় যার সনদ (سند) বিচ্ছিন্ন (مرسل) এবং উত্তম (جيد), উল্লেখ আছে যে, আবু কাতাদা আল-আনসারী মক্কা বিজয়ের দিন খালিদ বিন ওয়ালিদকে বলেছিলেন: "আজ সেই দিন যেদিন আল্লাহ কুরাইশদের লাঞ্ছিত করবেন।" তখন বলা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! আবু কাতাদা যা বলছেন আপনি কি তা শুনছেন না? তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "হে আবু কাতাদা, থামো! যদি তুমি তোমার ধৈর্যকে তাদের ধৈর্যের সাথে তুলনা করো, তবে তাদের ধৈর্যের তুলনায় তোমার ধৈর্যকে তুচ্ছ মনে হবে। যদি তুমি তোমার প্রজ্ঞাকে তাদের প্রজ্ঞার সাথে তুলনা করো, তবে তাদের প্রজ্ঞার তুলনায় তোমার প্রজ্ঞাকে অতি সামান্য মনে হবে। আর যদি তুমি তোমার কর্মকে তাদের কর্মের সাথে তুলনা করো, তবে তাদের কর্মের তুলনায় তোমার কর্মকে নগণ্য মনে হবে। তোমরা কুরাইশদের শেখাতে যেও না, বরং তাদের থেকে শেখো। যদি কুরাইশদের অহংকারী হয়ে যাওয়ার ভয় না থাকত, তবে রব্বুল আলামীনের কাছে তাদের জন্য কী মর্যাদা রয়েছে তা আমি তাদের জানিয়ে দিতাম।"

এবং একটি বর্ণনা সহিহ (صح) হয়েছে: "নিশ্চয়ই কুরাইশ বংশের একজন ব্যক্তি অন্য গোত্রের দুইজন ব্যক্তির সমতুল্য শক্তিশালী।" অর্থাৎ প্রজ্ঞার দিক থেকে; এটি ইমাম যুহরি বলেছেন।

একটি হাসান (حسن) হাদিসে এসেছে: "হে লোকসকল! তোমরা কুরাইশদের অগ্রবর্তী হয়ো না, তাহলে তোমরা ধ্বংস হয়ে যাবে। আর তাদের থেকে পিছিয়েও থেকো না, তাহলে তোমরা পথভ্রষ্ট হবে। তাদের শেখাতে যেও না, বরং তাদের থেকে শেখো; কারণ তারা তোমাদের চেয়ে অধিক জ্ঞানী। যদি কুরাইশদের অহংকারী হয়ে যাওয়ার ভয় না থাকত, তবে আল্লাহর কাছে তাদের জন্য কী মর্যাদা রয়েছে তা আমি তাদের জানিয়ে দিতাম।"

অপর একটি হাসান (حسن) বর্ণনায় এসেছে: "তোমরা কুরাইশদের মধ্যে বিশ্বস্ততা তালাশ করো। কেননা কুরাইশদের একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তির মর্যাদা অন্যদের বিশ্বস্ত ব্যক্তির ওপর অনস্বীকার্য। আর কুরাইশদের একজন শক্তিশালী ব্যক্তির মর্যাদা অন্যদের শক্তিশালী ব্যক্তির ওপর অনস্বীকার্য।"

একটি বর্ণনায় যার সনদে (سند) সমালোচনা (مقال) রয়েছে: "তোমরা কুরাইশদের অগ্রাধিকার দাও এবং তাদের ওপর অগ্রগণ্য হয়ো না। কুরাইশদের থেকে শিক্ষা গ্রহণ করো এবং তাদের শেখাতে যেও না। যদি কুরাইশদের অহংকারী হয়ে যাওয়ার ভয় না থাকত, তবে তাদের মধ্যে যারা উত্তম তাদের জন্য আল্লাহর কাছে কী রয়েছে তা আমি তাদের জানিয়ে দিতাম।"

একটি হাসান (حسن) বর্ণনায় এসেছে: "জ্ঞান কুরাইশদের মধ্যে এবং বিশ্বস্ততা আনসারদের মধ্যে।"

এবং বর্ণনা: "বিশ্বস্ততা আজদ গোত্রে এবং লজ্জা কুরাইশদের মধ্যে" - এর সনদে (سند) অজ্ঞাত বর্ণনাকারীগণ (مجاهيل) রয়েছেন। তাবারানি আদি বিন হাতিম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের নিকট বসে ছিলাম যখন তিনি বদর থেকে ফিরে এলেন। তখন আনসারদের একজন লোক বললেন: "ঝুলিয়ে রাখা জবাই করা উটের মতো কিছু বৃদ্ধ ছাড়া আমাদের সাথে কি আর কারো মোকাবিলা হয়েছে যাদের আমরা সংহার করেছি?" এতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের চেহারা মুবারক বিবর্ণ হয়ে গেল, এমনকি আমি দেখলাম তাঁর চেহারা যেন ডালিমের দানার মতো লাল হয়ে ফেটে পড়ছে। অতঃপর তিনি বললেন: "হে আমার ভ্রাতুষ্পুত্র! এমন কথা বলো না। তারা ছিল কুরাইশদের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। তুমি যদি মক্কার মজলিসগুলোতে তাদের দেখতে পেতে, তবে অবশ্যই তাদের গাম্ভীর্যে ভীত হতে।" (আদি বলেন) আল্লাহর কসম! এরপর আমি মক্কায় গেলাম এবং তাদের মসজিদে মজলিস করে বসে থাকতে দেখলাম। তাদের গাম্ভীর্যের কারণে আমি তাদের সালাম দেওয়ারও সাহস পাইনি। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সেই কথা আমার স্মরণে এল: "যদি তুমি তাদের মজলিসগুলোতে দেখতে পেতে, তবে অবশ্যই তাদের গাম্ভীর্যে ভীত হতে।"

আদি বিন হাতিম বলেন, অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "হে মানবজাতি! তোমরা কুরাইশদের ভালোবাসো। কেননা যে কুরাইশদের ভালোবাসলো সে আমাকেই ভালোবাসলো, আর যে কুরাইশদের ঘৃণা করলো সে আমাকেই ঘৃণা করলো। নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার কওমকে আমার কাছে প্রিয় করে দিয়েছেন। তাই আমি তাদের জন্য প্রাপ্ত কোনো নেয়ামতে তাড়াহুড়ো করি না এবং তাদের কোনো নেয়ামতকে অধিক মনে করি না। হে আল্লাহ! আপনি কুরাইশদের প্রথম অংশকে যেমন শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করিয়েছেন, তেমনি তাদের শেষ অংশকে পুরস্কারের স্বাদ আস্বাদন করান। জেনে রেখো, আল্লাহ তাআলা আমার কওমের প্রতি আমার অন্তরের ভালোবাসা সম্পর্কে অবগত আছেন এবং তিনি তাদের বিষয়ে আমাকে আনন্দিত করেছেন। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেছেন: 'নিশ্চয়ই এটি আপনার জন্য এবং আপনার কওমের জন্য এক মহাসম্মান, আর শীঘ্রই তোমাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে'।"

অতঃপর তিনি আমার কওমের জন্য তাঁর কিতাবে সম্মান ও মর্যাদা নির্ধারণ করেছেন: "আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন, এবং মুমিনদের মধ্যে যারা আপনার অনুসরণ করে তাদের প্রতি বিনয়ী হোন", অর্থাৎ তাঁর কওম। আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমার কওমের মধ্য থেকে 'সিদ্দিক' (সত্যনিষ্ঠ), 'শহীদ' এবং 'ইমাম' (নেতৃবৃন্দ) তৈরি করেছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে যাচাই করেছেন এবং আরবদের মধ্যে কুরাইশদের সর্বোত্তম পেয়েছেন। আর এটিই সেই বরকতময় বৃক্ষ যার সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "একটি উত্তম বাক্যের উদাহরণ হলো একটি উত্তম বৃক্ষ", সেটি হলো কুরাইশ। "যার মূল সুদৃঢ়", অর্থাৎ এর বংশীয় মূল অত্যন্ত সম্মানিত। "এবং যার শাখা আকাশে বিস্তৃত", অর্থাৎ যাদের সম্মানকে আল্লাহ ইসলামের মাধ্যমে সুউচ্চ করেছেন, যার দিকে তিনি তাদের হেদায়েত দিয়েছেন এবং তাদের এর যোগ্য করেছেন। অতঃপর তিনি তাদের সম্পর্কে তাঁর কিতাবে একটি সুস্পষ্ট সূরা নাজিল করেছেন: "কুরাইশদের আসক্তির কারণে। শীত ও গ্রীষ্মকালীন সফরের আসক্তির কারণে। অতএব তারা যেন এই গৃহের রবের ইবাদত করে। যিনি তাদের ক্ষুধা থেকে অন্ন দিয়েছেন এবং ভয় থেকে নিরাপত্তা দান করেছেন।"

আদি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের নিকট যখনই কুরাইশদের কোনো কল্যাণের কথা উল্লেখ করতে দেখেছি, তখনই তিনি আনন্দিত হয়েছেন, এমনকি তাঁর চেহারায় খুশির আভা ফুটে উঠত। তিনি এই আয়াতটি তেলাওয়াত করতেন: "নিশ্চয়ই এটি আপনার জন্য এবং আপনার কওমের জন্য এক মহাসম্মান, আর শীঘ্রই তোমাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।"

এই হাদিসটিকে ত্রুটিযুক্ত (أعل) বলা হয়েছে এই কারণে যে, এর কোনো কোনো বর্ণনাকারীর মধ্যে ভ্রম (وهم) রয়েছে। কারণ আদি বিন হাতিম অনেক পরে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের নিকট তখন আসেননি যখন তিনি বদর থেকে ফিরেছিলেন, যেমনটি এই হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। বরং তিনি নবম হিজরির শাবান মাসে নবী সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসেছিলেন। এছাড়া এর সনদে (سند) এমন বর্ণনাকারী রয়েছেন যিনি পরিচিত নন (لا يعرف)।

তাবারানি একটি বর্ণনায় উদ্ধৃত করেছেন: "তোমরা কুরাইশদের ভালোবাসো, কেননা যে তাদের ভালোবাসলো সে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লাকে ভালোবাসলো।" এই বর্ণনায় আব্দুল মুহাইমিন রয়েছেন যিনি প্রত্যাখ্যানযোগ্য হাদিস বর্ণনাকারী (منكر الحديث)।

এবং একটি হাদিস পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, "কুরাইশদের ভালোবাসা ঈমান এবং তাদের ঘৃণা করা কুফর।"

একটি হাসান (حسن) বর্ণনায় এসেছে: "বনী হাশিম ও আনসারদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা কুফর, আর আরবদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা নিফাক।"

একটি বর্ণনায় এসেছে: নবী সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে বলা হলো যে, সাকিফ গোত্রের অমুক ব্যক্তি নিহত হয়েছে অথচ সে ইসলাম গ্রহণ করেছিল। তখন তিনি বললেন: "আল্লাহ তাকে রহমত থেকে দূর করুন, কারণ সে কুরাইশদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করত।"
(খণ্ড: ১) মাবলাগুল আরাব ফী ফখরিল আরব (পৃষ্ঠা: ৬)
وفي مرسل صحيح ذكر للنبي صلى الله تعالى عليه وآله وسلم رجل من ثقيف مات يوم حنين، وهو كافر، فقال: (أبعده الله، فإنه كان يبغض قريشا) .

لا منافاة بين هذا، وما قبله لاحتمال أنهما رجلان مسلم وكافر، وأنه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم دعا على كل منهما.

وفي حديث آخر في سنده مقال: وقف صلى الله تعالى عليه وآله وسلم على رجل من ثقيف مقتول فقال: (أبعدك الله، فإن كنت تبغض قريشا بسبع خصال لم يعطها أحد بعدهم، فضل الله قريشا: بأنى منهم، وأن النبوة فيهم، وأن الحجابة فيهم، وأن السقاية فيهم، ونصرهم على الفيل، وعبدوا الله عشرين سنة، لا يعبده غيرهم) .

أي باعتبار الغالب، فلا يرد مثل أبي ذر ممن أسلم قديما وليس منهم، (وأنزل فيهم سورة من القرآن لم تنزل في أحد غيرهم) .

وصح أن صحابيا قال عند عمرو بن العاص سمعت رسول الله صلى الله تعالى عليه وآله وسلم - قال: لئن قلت ذلك إن فيهم - أي قريش - خصالا أربعة إنهم لأحلم الناس عند فتنة، وأسرعهم إفاقة بعد مصيبة، وأوشكهم كرة بعد فرة، وخيركم لمسكين ويتيم وضعيف، وخامسة حسنة جميلة، وأمنعهم من ظلم الملوك) .

وورد نحو هذا مرفوعا إلى النبي صلى الله تعالى عليه وآله وسلم، وجاء عن عمرو موقوفا عليه أيضا: (قريش خالصة لله من نصب لها حربا، أو حاربا سلب، ومن أرادها بسوء خزى في الدنيا والآخرة) .

ومر خبر (واختار من مضر قريشا (.

وخبر (واصطفى من بني كنانة قريشا) .

وخبر (وكانت خيرة الله في قريش) .

وخبر (الدعاء لهم بالنوال والهداية والتفقه في الدين) .

‌‌الثانية الأنصار

‌‌الأوس والخزرج

صح عن أنس أنه قيل له: أرأيتم اسم الأنصار كنتم تسمون به أم سماكم الله؟.

فقال: بل سمانا الله عز وجل.

وأخرج الطبراني أنه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم قال: (إن الله أيدني بأشد العرب ألسنا وأذرعا يا بني قيلة الأوس والخزرج) .

وأخرج بسند ضعيف أيضا عن أبي واقد الليثي قال: كنت جالسا عند رسول الله صلى الله تعالى عليه وآله وسلم فأتاه آت فالتقم أذنه، فتغير وجه رسول الله صلى الله تعالى عليه وآله وسلم، وأثار الدماء في أساريره، وقال: (هذا رسول عامر بن الطفيل يتهددني، ويتهدد من بأزائي، فكفانيه الله بالنبين من ولد إسماعيل بابنى قيلة) يعنى الأنصار.

وصح في البخاري أنه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم رأى نساءهم وصبيانهم مقبلين من عرس فقام، وقال: (اللهم أنتم من أحب الناس إلي) .

وفيه وفي مسلم جاءت امرأة من الأنصار إلى رسول الله صلى الله تعالى عليه وآله وسلم ومعها صبي لها فكلمته، فقال: (والذي نفسي بيده، إنكم لأحب الناس إلى مرتين) .

وصح أنه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم مر ببعض المدينة فإذا الجوارى يضربن بدفهن، ويقلن نحن جوار من بنى النجار يا حبذا محمد من جار.

فقال صلى الله تعالى عليه وآله وسلم: (اللهم بارك فيهن) .

وأخرج الشيخان وغيرهما أنه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم قال: (الأنصار لا يحبهم إلا مؤمن، ولا يبغضهم إلا منافق، فمن أحبهم أحبه الله، ومن أبغضهم أبغضه الله) .

وأنه قال: (آية الإيمان حب الأنصار، وآية النفاق بغض الأنصار) .

وصح خبر: (إن هذا الحي من الأنصار حبهم إيمان، وبغضهم نفاق) .

وخبر: (حب الأنصار إيمان، وبغضهم نفاق) .

وخبر: (لا يبغض الأنصار رجل يؤمن بالله ورسوله) .

وفي رواية للبزار: (من أحبني أحب الأنصار، ومن أبغضني، فقد أبغض الأنصار، لا يحبهم منافق، ولا يبغضهم مؤمن، من أحبهم أحبه الله، ومن أبغضهم أبغضه الله، الناس دثار، والأنصار شعار ولو سلك الناس شعبا، والأنصار شعبا لسلكت شعب الأنصار) .

وفي خبر حسن: (لا صلاة لمن لا وضوء له، ولا وضوء لمن لم يذكر اسم الله تعالى عليه، ولا يؤمن بي من لا يحب الأنصار) .

وفي رواية للطبراني وغيره، فيها غرابة: صعد النبي صلى الله تعالى عليه وآله وسلم المنبر فحمد الله، وأثنى عليه، ثم قال: (أيها الناس لا صلاة بلا وضوء، ولا وضوء لمن لم يذكر اسم الله عليه، ولم يؤمن بالله من لم يؤمن بي، ولا يؤمن بي من لا يحب الأنصار) .

وصح خبر: (من أحب الأنصار أحبه الله، ومن أبغض الأنصار أبغضه الله) .
একটি সহিহ (صحيح) বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনায় (خبر) উল্লেখ করা হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট সাকিফ গোত্রের এক ব্যক্তির কথা বলা হলো, যে হুনাইনের যুদ্ধে কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছিল। অতঃপর তিনি বললেন: (আল্লাহ তাকে তাঁর রহমত থেকে দূর করুন, কেননা সে কুরাইশদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করত)।

এই বর্ণনা এবং এর পূর্ববর্তী বর্ণনার মধ্যে কোনো বিরোধ নেই; কারণ সম্ভাবনা রয়েছে যে, তারা দুইজন পৃথক ব্যক্তি ছিলেন—একজন মুসলিম এবং অন্যজন কাফের। আর নবী (সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) তাদের প্রত্যেকের ওপরই (ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে) বদদোয়া করেছেন।

অন্য একটি হাদিসে—যার সনদে (سند) আপত্তি (مقال) রয়েছে—বর্ণিত হয়েছে যে: নবী (সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) সাকিফ গোত্রের এক নিহত ব্যক্তির লাশের পাশে দাঁড়ালেন এবং বললেন: (আল্লাহ তোমাকে তাঁর রহমত থেকে দূর করুন, কেননা তুমি কুরাইশদের প্রতি এমন সাতটি বৈশিষ্ট্যের কারণে বিদ্বেষ পোষণ করতে যা তাদের পর আর কাউকে দেওয়া হয়নি। আল্লাহ কুরাইশদের শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এই কারণে যে: আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত, নবুওয়াত তাদের মধ্যে, কাবার চাবি রক্ষা (الحجابة) তাদের মধ্যে, হাজিদের পানি পান করানোর দায়িত্ব (السقاية) তাদের মধ্যে, হস্তিবাহিনীর বিরুদ্ধে তাদের সাহায্য করা হয়েছে এবং তারা বিশ বছর আল্লাহর ইবাদত করেছে যখন তারা ব্যতীত অন্য কেউ তাঁর ইবাদত করত না)।

অর্থাৎ এটি অধিকাংশের বিবেচনায় বলা হয়েছে; সুতরাং আবু জার (রা.)-এর মতো যারা আদি যুগে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন অথচ কুরাইশ বংশীয় ছিলেন না, তাদের বিষয়টি এখানে ব্যতিক্রম বা আপত্তিকর নয়। (এবং তাদের শানে কুরআনের এমন একটি সূরা অবতীর্ণ হয়েছে যা অন্য কারো ক্ষেত্রে অবতীর্ণ হয়নি)।

এটি সহিহ (صحيح) হিসেবে বর্ণিত যে, জনৈক সাহাবী আমর ইবনুল আস (রা.)-এর উপস্থিতিতে বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি—তিনি বলেন: তুমি যদি তা বলে থাকো (তবে জেনে রেখো), তাদের মধ্যে—অর্থাৎ কুরাইশদের মধ্যে—চারটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে: ফিতনার সময় তারা মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ধৈর্যশীল, বিপদের পর তারা অতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে ওঠে, যুদ্ধের ময়দান থেকে সাময়িকভাবে সরে যাওয়ার পর পুনরায় আক্রমণে তারা অত্যন্ত তৎপর এবং মিসকিন, এতিম ও দুর্বলদের প্রতি তারা তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। আর পঞ্চম একটি সুন্দর ও চমৎকার গুণ হলো—তারা রাজাদের জুলুম প্রতিহত করতে সবচেয়ে বেশি সক্ষম।

এই মর্মেই একটি বর্ণনা নবী (সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত উদ্ধৃত (مرفوع) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। আবার এটি আমরের বর্ণনায় মাকুফ (موقوف) হিসেবেও এসেছে: (কুরাইশরা আল্লাহর জন্য নিবেদিত; যে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেবে বা লড়াই করবে, সে নিঃস্ব হবে। আর যে তাদের অমঙ্গল কামনা করবে, আল্লাহ তাকে দুনিয়া ও আখেরাতে লাঞ্ছিত করবেন)।

পূর্বে এই বর্ণনা (خبر) অতিক্রান্ত হয়েছে যে: (তিনি মুদার বংশ থেকে কুরাইশদের পছন্দ করেছেন)।

এবং এই বর্ণনা (خبر) যে: (তিনি বনু কিনানাহ থেকে কুরাইশদের মনোনীত করেছেন)।

এবং এই বর্ণনা (خبر) যে: (কুরাইশদের মধ্যেই আল্লাহর পক্ষ থেকে কল্যাণ নিহিত ছিল)।

এবং এই বর্ণনা (خبر) যে: (তাদের প্রতি দান লাভ, হেদায়াত এবং দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জনের জন্য দোয়া করা হয়েছে)।

‌‌দ্বিতীয়: আনসার

‌‌আউস ও খাজরাজ

আনাস (রা.) থেকে সহিহ (صحيح) সূত্রে বর্ণিত যে, তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: আপনারা কি আনসার নামটির কথা ভেবেছিলেন যা দিয়ে আপনাদের ডাকা হতো, নাকি আল্লাহ আপনাদের এই নাম দিয়েছেন?

তিনি বললেন: বরং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লাই আমাদের এই নামকরণ করেছেন।

তাবারানি বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে আরবদের মধ্যে বাক্যশৈলী ও বীরত্বে সবচেয়ে শক্তিশালী কায়লা গোত্রের দুই সন্তান অর্থাৎ আউস ও খাজরাজ গোত্র দ্বারা সাহায্য করেছেন)।

এছাড়াও আবু ওয়াকিদ আল-লাইসি থেকে একটি দুর্বল (ضعيف) সনদে (سند) বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি এসে তাঁর কানে কানে কিছু বলল। এতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল এবং তাঁর কপালে রাগের চিহ্ন প্রকাশ পেল। তিনি বললেন: (এ হলো আমের ইবনুত তুফাইলের দূত। সে আমাকে এবং আমার সাথে যারা আছে তাদের হুমকি দিচ্ছে। কিন্তু আল্লাহ ইসমাইল (আ.)-এর বংশধরদের মধ্যকার দুই সন্তান অর্থাৎ কায়লার দুই বংশধর (আনসার)-এর মাধ্যমে আমার জন্য যথেষ্ট হয়েছেন)।

সহিহ বুখারিতে এটি সহিহ (صحيح) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) আনসারদের নারী ও শিশুদের কোনো এক বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে আসতে দেখে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বললেন: (হে আল্লাহ! আপনারা আমার নিকট মানুষের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয়)।

সেখানে এবং মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে যে, জনৈক আনসারি নারী তাঁর এক শিশু সন্তানসহ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এলেন এবং তাঁর সাথে কথা বললেন। তখন তিনি বললেন: (সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, নিশ্চয়ই আপনারা আমার নিকট মানুষের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয়—এ কথাটি তিনি দুইবার বললেন)।

এটি সহিহ (صحيح) হিসেবে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) মদিনার কোনো এক প্রান্ত দিয়ে যাচ্ছিলেন। এমতাবস্থায় দেখলেন কিছু বালিকা দফ বাজাচ্ছে এবং বলছে: আমরা বনু নাজ্জারের বালিকা, প্রতিবেশী হিসেবে মুহাম্মদ কতই না চমৎকার!

তখন নবী (সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: (হে আল্লাহ! তাদের ওপর বরকত দান করুন)।

শাইখাইন এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (মুমিন ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ আনসারদের ভালোবাসবে না এবং মুনাফিক ছাড়া অন্য কেউ তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে না। সুতরাং যে তাদের ভালোবাসবে, আল্লাহ তাকে ভালোবাসবেন; আর যে তাদের প্রতি বিদ্বেষ রাখবে, আল্লাহ তার প্রতি ঘৃণা পোষণ করবেন)।

এবং তিনি বলেছেন: (ঈমানের লক্ষণ হলো আনসারদের ভালোবাসা, আর নেফাকের লক্ষণ হলো আনসারদের প্রতি বিদ্বেষ)।

একটি সহিহ (صحيح) বর্ণনা (خبر) হলো: (নিশ্চয়ই আনসারদের এই গোত্রের প্রতি ভালোবাসা ঈমান এবং তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা নেফাক)।

আরেকটি বর্ণনা (خبر): (আনসারদের ভালোবাসা ঈমান এবং তাদের প্রতি বিদ্বেষ নেফাক)।

এবং এই বর্ণনা (خبر): (যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান রাখে, সে আনসারদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করতে পারে না)।

বাজার-এর একটি বর্ণনায় এসেছে: (যে আমাকে ভালোবাসল সে আনসারদের ভালোবাসল, আর যে আমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করল সে আনসারদের প্রতিও বিদ্বেষ পোষণ করল। কোনো মুনাফিক তাদের ভালোবাসবে না এবং কোনো মুমিন তাদের প্রতি বিদ্বেষ রাখবে না। যে তাদের ভালোবাসবে আল্লাহ তাকে ভালোবাসবেন, আর যে তাদের সাথে শত্রুতা করবে আল্লাহ তার ওপর অসন্তুষ্ট হবেন। সাধারণ মানুষ হলো ওপরের পোশাক (দিতার) স্বরূপ আর আনসাররা হলো শরীরের সাথে লেগে থাকা ভেতরের পোশাক (শিআর) স্বরূপ। মানুষ যদি কোনো পাহাড়ের উপত্যকা দিয়ে চলে আর আনসাররা অন্য উপত্যকা দিয়ে চলে, তবে আমি আনসারদের উপত্যকা দিয়েই চলব)।

একটি হাসান (حسن) বর্ণনায় (خبر) এসেছে: (যার অজু নেই তার সালাত নেই, যে আল্লাহর নাম নেয়নি তার অজু নেই এবং যে আনসারদের ভালোবাসে না সে আমার প্রতি পূর্ণ ঈমান আনেনি)।

তাবারানি ও অন্যান্যদের এক বর্ণনায়—যাতে গারাবাত (غرابة) রয়েছে—এসেছে: নবী (সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং আল্লাহর প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা করলেন। অতঃপর বললেন: (হে লোকসকল! অজু ব্যতীত সালাত হয় না, আল্লাহর নাম নেওয়া ব্যতীত অজু হয় না; যে আমার ওপর ঈমান আনেনি সে আল্লাহর ওপর ঈমান আনেনি এবং যে আনসারদের ভালোবাসে না সে আমার ওপর ঈমান আনেনি)।

এই বর্ণনাটি (خبر) সহিহ (صحيح): (যে আনসারদের ভালোবাসবে আল্লাহ তাকে ভালোবাসবেন, আর যে আনসারদের প্রতি বিদ্বেষ রাখবে আল্লাহ তার ওপর অসন্তুষ্ট হবেন)।
(খণ্ড: ১) মাবলাগুল আরাব ফী ফখরিল আরব (পৃষ্ঠা: ৭)
وخبر: (والذي نفسي بيده لا يحب رجل الأنصار حتى يلقى الله تبارك وتعالى وهو يحبه، ولا يبغض الأنصار رجل حتى يلقى الله تبارك وتعالى وهو يبغضه) .

وصح عن أنس رضى الله تعالى عنه قال: افتخرت الحيان من الأنصار: الأوس والخزرج، فقالت الأوس للخزرج: منا غسيل الملائكة حنظلة بن الراهب - أي لأنهم غسلوه يوم أحد لموته جنبا، كان يجامع أهله فسمع الدعاء للقتال فخرج، واستشهد - ومنا من اهتز له عرش الرحمن سعد بن معاذ، ومنا من حمته الدبر عاصم بن ثابت، ومنا من أجيزت شهادته شهادة رجلين خزيمة بن ثابت.

وثال الخزرجيون: منا أربعة جمعوا القرآن على عهد رسول الله صلى الله تعالى عليه وآله وسلم، ولم يجمعه غيرهم: زيد بن ثابت، وأبو زيد، وأبي بن كعب، ومعاذ بن جبل) .

وصح خبر: (من أحب الأنصار أحبه الله، ومن أبغض الأنصار أبغضه الله) .

وخبر: (من أحب الأنصار فبحبي أحبهم، ومن أبغض الأنصار فببغضى أبغضهم) .

وأخرج الشيخان وغيرهما عن أنس قال: قالت الأنصار يوم فتح مكة: أعطى قريشا، والله إن هذا لهو العجب، سيوفنا تقطر من دماء قريش، وغنائمنا ترد عليهم، فبلغ ذلك النبي صلى الله تعالى عليه وآله وسلم فدعا الأنصار، وقال: (ما الذي بلغني عنكم؟) وكانوا لا يكذبون، فقالوا: هو الذي بلغك.

فقال: (أو لا ترضون أن يرجع الناس بالغنائم إلى بيوتهم، وترجعون برسول الله صلى الله تعالى عليه وآله وسلم - وكرم ومجد وشرف وعظم وفخر - إلى بيوتكم، لو سلكت الأنصار واديا أو شعبا لسلكت وادى الأنصار أو شعبهم) .

وفي رواية صحيحة: (والذي نفسي بيده لولا الهجرة لكنت امرأ من الأنصار، ولو سلكت الناس شعبا، والأنصار شعبا، لسلكت شعب الأنصار، اللهم ارحم الأنصار، وأبناء الأنصار، وأبناء أبناء الأنصار) فبكى الأنصار حتى خضبوا لحاهم، وقالوا رضينا برسول الله صلى الله تعالى عليه وآله وسلم قسما وحظا.

وفي البخارى: (لو أن الأنصار سلكوا واديا أو شعبا لسلكت وادى الأنصار، ولولا الهجرة لكنت امرأ من الأنصار) .

وصح أنه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم قال على المنبر: (ألا إن الناس دثار، والأنصار شعار، ولو سلك الناس واديا، وسلك الأنصار واديا لسلكت شعب الأنصار، ولولا الهجرة كنت امرأ من الأنصار، فمن ولى أمر الأنصار فليحسن إلى محسنهم، وليتجاوز عن مسيئهم، ومن أفزعهم، فقد أفزعني) .

وروى الطبراني في أكبر معاجمه بسند فيه مقال: أنه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم قسم غنائم حنين، ففضل كثيرا من قبائل العرب، فبلغه من الأنصار ما سبق، فقال: (يا معشر الأنصار ألم يمن الله عليكم بالإيمان، وخصكم بالكرامة، وسماكم بأحسن الأسماء أنصار الله وأناصر رسوله، لولا الهجرة لكنت امرأ من الأنصار، ولو سلك الناس واديا، وسلكتم واديا لسلكت واديكم، أفلا ترضون أن يذهب الناس بهذه الغنائم الشاة والغنم والبعير، وتذهبون برسول الله صلى الله تعالى عليه وآله وسلم) .

فلما سمعت الأنصار قول رسول الله صلى الله تعالى عليه وآله وسلم قالوا: رضينا. قال: أجيبوني فما قلب؟ قال الأنصار: يا رسول الله صلى الله عليك وعلى آلك وصحبك وسلم وجدتنا في ظلمة، وأخرجنا الله بك إلى النور، ووجدتنا على شفا حفرة من النار فأنقذنا الله بك، ووجدتنا ضلالا فهدانا الله بك، فرضينا بالله ربا، وبالإسلام دينا، وبمحمد نبيا، فاصنع يا رسول الله ما شئت في أوسع الحل.

فقال رسول الله صلى الله تعالى عليه وآله وسلم: (أما والله لو أجبتموني بغير هذا القول لقلت صدقتهم، لو قلتم ألم تأتنا طريدا، فآويناك، ومكذوبا فصدقناك، ومخذولا فنصرناك، وقبلنا ما رد الناس عليك، لو قلتم هذا لصدقتم) .

فقال الأنصار: بل لله المن علينا، والفضل على غيرنا، ثم بكوا وكثر بكاؤهم، وبكى النبي صلى الله تعالى عليه وآله وسلم معهم.

وفي البخاري عن ابن عباس - رضي الله تعالى عنه - قال: خرج رسول الله صلى الله تعالى عليه وآله وسلم وعليه ملحفة متعطفا بها على منكبيه، وعليه عصابة دسماء، حتى جلس على المنبر فحمد الله وأثنى عليه، ثم قال: (أما بعد، أيها الناس فإن الناس سيكثرون، وتقل الأنصار حتى يكونوا كالملح في الطعام، فمن ولى منكم أمرا يضر فيه أحدهم أو ينفعه، فليقبل من محسنهم، ويتجاوز عن مسيئهم) .
এবং একটি বর্ণনা (خبر): "সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, কোনো ব্যক্তি আনসারদের ততক্ষণ ভালোবাসবে না যতক্ষণ না সে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার সাথে সাক্ষাৎ করবে এমতাবস্থায় যে আল্লাহও তাকে ভালোবাসেন। আর কোনো ব্যক্তি আনসারদের প্রতি ততক্ষণ বিদ্বেষ পোষণ করবে না যতক্ষণ না সে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার সাথে সাক্ষাৎ করবে এমতাবস্থায় যে আল্লাহও তার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করেন।"

আনাস (রা.) থেকে বিশুদ্ধ (صحيح) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আনসারদের দুটি গোত্র—আউস ও খাজরাজ—পরস্পর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করছিল। আউস গোত্র খাজরাজদের লক্ষ্য করে বলল: আমাদের মধ্য থেকে রয়েছেন ফেরেশতাদের মাধ্যমে গোসলপ্রাপ্ত হানজালা ইবনে রাহিব—অর্থাৎ যেহেতু উহুদের যুদ্ধের দিন অপবিত্র অবস্থায় শাহাদাত বরণ করায় ফেরেশতারা তাকে গোসল করিয়েছিলেন; তিনি তার স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়েছিলেন, অতঃপর যুদ্ধের আহ্বান শুনে বেরিয়ে পড়েন এবং শাহাদাত বরণ করেন। আমাদের মধ্য থেকে আরও রয়েছেন সেই ব্যক্তি যার (মৃত্যুতে) দয়াময় আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠেছিল, তিনি হলেন সাদ বিন মুয়াজ। আমাদের মধ্য থেকে রয়েছেন যাকে ভীমরুল রক্ষা করেছিল, তিনি হলেন আসিম বিন সাবিত। আর আমাদের মধ্য থেকে রয়েছেন এমন এক ব্যক্তি যার সাক্ষ্যকে দুই ব্যক্তির সাক্ষ্যের সমান গণ্য করা হয়েছে, তিনি হলেন খুজাইমা বিন সাবিত।

খাজরাজীরা বলল: আমাদের মধ্য থেকে চারজন এমন রয়েছেন যারা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে কুরআন সংকলন করেছেন এবং তারা ব্যতীত অন্য কেউ তা সংকলন করেনি: জায়েদ বিন সাবিত, আবু জায়েদ, উবাই ইবনে কাব এবং মুয়াজ বিন জাবাল।

একটি বিশুদ্ধ (صحيح) বর্ণনা (خبر) হলো: "যে আনসারদের ভালোবাসল আল্লাহ তাকে ভালোবাসবেন, আর যে আনসারদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করল আল্লাহ তার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবেন।"

এবং অপর একটি বর্ণনা (خبر): "যে আনসারদের ভালোবাসল সে মূলত আমার প্রতি ভালোবাসার কারণেই তাদের ভালোবাসল, আর যে আনসারদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করল সে মূলত আমার প্রতি বিদ্বেষের কারণেই তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করল।"

শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) এবং অন্যান্যরা আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মক্কা বিজয়ের দিন আনসাররা বলল: (নবী সা.) কুরাইশদের দান করছেন, আল্লাহর কসম, এটি সত্যিই আশ্চর্যের বিষয়; আমাদের তলোয়ারগুলো থেকে কুরাইশদের রক্ত ঝরছে অথচ আমাদের অর্জিত গনিমতের মাল তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে! নবী (সা.)-এর কাছে এই সংবাদ পৌঁছালে তিনি আনসারদের ডাকলেন এবং বললেন: "তোমাদের পক্ষ থেকে আমার কাছে কী সংবাদ পৌঁছেছে?" তারা কখনো মিথ্যা বলতেন না, তাই তারা বললেন: "আপনার কাছে যা পৌঁছেছে তা-ই সত্য।"

তিনি বললেন: "তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, লোকেরা গনিমতের মাল নিয়ে তাদের ঘরে ফিরবে আর তোমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে—যিনি মহান মর্যাদা, গৌরব ও শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী—তোমাদের ঘরে নিয়ে ফিরবে? যদি আনসাররা কোনো উপত্যকা বা গিরিপথ দিয়ে চলে, তবে আমি আনসারদের উপত্যকা বা গিরিপথ দিয়েই চলব।"

একটি বিশুদ্ধ (صحيحة) বর্ণনায় (رواية) এসেছে: "সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, যদি হিজরত না হতো তবে আমি আনসারদেরই একজন হতাম। যদি লোকেরা এক গিরিপথ দিয়ে চলে আর আনসাররা অন্য গিরিপথ দিয়ে চলে, তবে আমি আনসারদের গিরিপথ দিয়েই চলব। হে আল্লাহ! আপনি আনসারদের ওপর রহম করুন, আনসারদের সন্তানদের ওপর এবং আনসারদের সন্তানদের সন্তানদের ওপরও রহম করুন।" এতে আনসাররা এত কাঁদলেন যে তাদের দাড়ি ভিজে গেল এবং তারা বললেন: "আমরা বন্টন ও প্রাপ্য হিসেবে রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে পেয়েই সন্তুষ্ট।"

বুখারি গ্রন্থে রয়েছে: "যদি আনসাররা কোনো উপত্যকা বা গিরিপথ দিয়ে চলে, তবে আমি আনসারদের উপত্যকা দিয়েই চলব। আর হিজরত না হলে আমি আনসারদেরই একজন হতাম।"

এটিও বিশুদ্ধভাবে (صح) প্রমাণিত যে, তিনি (সা.) মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন: "জেনে রেখো, মানুষ হলো বহিরাবরণ আর আনসার হলো অন্তরাবরণ। যদি মানুষ কোনো উপত্যকা দিয়ে চলে আর আনসাররা অন্য উপত্যকা দিয়ে চলে, তবে আমি আনসারদের গিরিপথ দিয়েই চলব। যদি হিজরত না হতো তবে আমি আনসারদেরই একজন হতাম। সুতরাং যে ব্যক্তি আনসারদের কোনো বিষয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হবে, সে যেন তাদের নেককারদের প্রতি সদয় হয় এবং তাদের ভুলকারীদের ক্ষমা করে দেয়। আর যে ব্যক্তি তাদের ভীত করল, সে মূলত আমাকেই ভীত করল।"

তাবরানি তার বৃহৎ মুজাম গ্রন্থে এমন একটি সনদে (سند) বর্ণনা করেছেন যাতে কিছুটা সমালোচনা রয়েছে (فيه مقال): নবী (সা.) হুনাইনের গনিমত বন্টন করার সময় আরবের বিভিন্ন গোত্রকে অনেক বেশি প্রাধান্য দিয়ে দান করেন। তখন আনসারদের পক্ষ থেকে পূর্বে উল্লিখিত কথাগুলো তাঁর কাছে পৌঁছালে তিনি বললেন: "হে আনসার সম্প্রদায়! আল্লাহ কি ঈমানের মাধ্যমে তোমাদের ওপর অনুগ্রহ করেননি? তোমাদের বিশেষ মর্যাদায় ভূষিত করেননি? এবং তোমাদের সর্বোত্তম নামে নামিন করেননি—'আল্লাহর আনসার' ও 'রাসূলের সাহায্যকারী' হিসেবে? যদি হিজরত না হতো তবে আমি আনসারদেরই একজন হতাম। যদি মানুষ এক উপত্যকা দিয়ে চলে আর তোমরা অন্য উপত্যকা দিয়ে চলো, তবে আমি তোমাদের উপত্যকা দিয়েই চলব। তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, মানুষ এই গনিমতের বকরি, ভেড়া ও উট নিয়ে যাবে আর তোমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে সাথে নিয়ে ফিরবে?"

যখন আনসাররা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কথা শুনলেন, তারা বললেন: "আমরা সন্তুষ্ট।" তিনি বললেন: "আমাকে উত্তর দাও।" আনসাররা বলল: "হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! আপনি আমাদের অন্ধকারে পেয়েছিলেন, আল্লাহ আপনার মাধ্যমে আমাদের আলোর দিকে নিয়ে এসেছেন। আপনি আমাদের জাহান্নামের গর্তের কিনারায় পেয়েছিলেন, আল্লাহ আপনার মাধ্যমে আমাদের রক্ষা করেছেন। আপনি আমাদের পথভ্রষ্ট অবস্থায় পেয়েছিলেন, আল্লাহ আপনার মাধ্যমে আমাদের পথ দেখিয়েছেন। সুতরাং আমরা আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মদ (সা.)-কে নবী হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট। হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! আপনি যা ইচ্ছা করতে পারেন, আমাদের পক্ষ থেকে পূর্ণ অনুমতি রয়েছে।"

রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: "শোনো, আল্লাহর কসম! যদি তোমরা এই কথার পরিবর্তে অন্য কিছু বলতে তবে তোমরা সত্যই বলতে। যদি তোমরা বলতে: 'আপনি কি বিতাড়িত অবস্থায় আমাদের কাছে আসেননি এবং আমরা কি আপনাকে আশ্রয় দেইনি? আপনি কি মিথ্যারোপের শিকার হয়ে আসেননি এবং আমরা কি আপনাকে সত্য বলে গ্রহণ করিনি? আপনি কি অসহায় অবস্থায় আসেননি এবং আমরা কি আপনাকে সাহায্য করিনি? মানুষ যা প্রত্যাখ্যান করেছিল আমরা কি তা গ্রহণ করিনি?'—যদি তোমরা এ কথাগুলো বলতে তবে অবশ্যই সত্য বলতে।"

তখন আনসাররা বললেন: "বরং আল্লাহর অনুগ্রহ আমাদের ওপর এবং আমাদের পরিবর্তে অন্যদের ওপর তাঁর বিশেষ কৃপা রয়েছে।" এরপর তারা অঝোরে কাঁদলেন এবং নবী (সা.)-ও তাদের সাথে কাঁদলেন।

বুখারি গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ঘর থেকে বের হলেন এমতাবস্থায় যে তাঁর কাঁধে একটি চাদর জড়ানো ছিল এবং মাথায় একটি তেলের দাগযুক্ত পট্টি বাঁধা ছিল। অতঃপর তিনি মিম্বরে বসে আল্লাহর প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা করলেন। এরপর বললেন: "অতঃপর হে লোকসকল! ভবিষ্যতে মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে কিন্তু আনসারদের সংখ্যা হ্রাস পাবে, এমনকি তারা খাবারের লবণের মতো হয়ে যাবে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এমন কোনো বিষয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হবে যার মাধ্যমে সে কারো ক্ষতি বা উপকার করার ক্ষমতা রাখে, সে যেন তাদের নেককারদের থেকে (সদাচরণ) গ্রহণ করে এবং তাদের ভুলকারীদের ক্ষমা করে দেয়।"
(খণ্ড: ১) মাবলাগুল আরাব ফী ফখরিল আরব (পৃষ্ঠা: ৮)
وأخرج الشيخان عن أنس قال: مر أبو بكر والعباس رضي الله عنهما بمجلس من مجالس الأنصار، وهم يبكون، فقال: ما يبكيكم؟ قالوا: ذكرنا مجلس النبي صلى الله تعالى عليه وآله وسلم، فدخل على النبي صلى الله تعالى عليه وآله وسلم فأخبره بذلك، قال: فخرج النبي صلى الله تعالى عليه وآله وسلم، وقد عصب على رأسه حاشية برد، قال: فصد النبر، ولم يصعده بعد ذلك اليوم، فحمد الله وأثنى عليه ثم قال: (أوصيكم بالأنصار فإنهم كرشى وعيبتي، وقد قضوا الذي عليهم، وبقى الذي لهم فاقبلوا من محسنهم، وتجاوزوا عن مسيئهم) .

وفي خبر حسن: كتب أبو بكر إلى عمرو بن العاص أن رسول الله صلى الله تعالى عليه وآله وسلم قال في الأنصار: (اقبلوا من محسنهم، وتجاوزوا عن مسيئهم) .

وفي آخر حسن أيضا أن أبا سعيد الخدري قال: قال رجل من الأنصار لصحابه: أما والله لقد كنت أحدثكم أنه قد استقامت الأمور، لقد آثر عليكم، فردوا عليه ردا عنيفا، فبلغ ذلك النبي صلى الله تعالى عليه وآله وسلم فجاءهم، فقال لهم أشياء لا أعرفها، قالوا: بلى يا رسول.

قال: (فكنتم لا تركبون الخيل) ، فكلما قال لهم شيئا، قالوا: بلى يا رسول الله.

قال: فلما رآهم لا يردون عليه شيئا، قال: (أفلا تقولون خذلك قومك فنصرناك، وأخرجك قومك فآويناك) .

قالوا: نحن لا نقول ذلك يا رسول الله، أنت تقوله.

قال: (يا معشر الأنصار ألا ترضون أن يذهب الناس بالدنيا، وتذهبون برسول الله صلى الله تعالى عليه وآله وسلم.

قالوا: بلى يا رسول الله.

قال: (ولولا الهجرة لكنت امرأ من الأنصار، الأنصار كرشى، أهل بيتي وعيبتي التي أوبت إليها، فاعفوا عن مسيئهم، واقبلوا من محسنهم) .

وصح أنه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم قام خطيبا فحمد الله وأثنى عليه، واستغفر للشهداء الذين قتلوا بأحد، ثم قال: (إنكم يا معشر المهاجرين تزيدون، والأنصار لا يزيدون، وإن الأنصار عيبتي التي أويت إليها، أكرموا كريمهم، وتجاوزوا عن مسيئهم، فإنهم قد قضوا الذي عليهم، وبقى الذي لهم) .

وصح أيضا: أنه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم خرج عاصبا رأسه فقال في خطبيته: (أما بعد. يا معشر المهاجرين إنكم أصبحتم تزيدون، وأصبحت الأنصار لا تزيد على هيئتها التي هي عليها اليوم، وإن الأنصار عيبتي التي أويت إليها، فأكرموا كريمهم، وتجاوزوا عن مسيئهم) .

وفي رواية: (إن لكل بني عيبة وعيبتي هذا الحي من الأنصار، ولولا الهجرة كنت امرأ من الأنصار، والأنصار شعار، والناس دثار، فمن ملك من الأمر شيئا فليحسن إلى محسنهم، ويتجاوز عن مسيئهم) .

وفي الصحيحين أنه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم لما قسم غنائم حنين فأعطى المؤلفة دون الأنصار، وبلغه عنهم ما سبق، قال لهم ما سبق، وفي آخره: (لو سلكت الناس واديا أو شعبا، وسلك الأنصار واديا وشعبا لسلكت وادي الأنصار، وشعبها، الأنصار شعار والناس دثار، إنكم ستلقون بعدى أثرة، فاصبروا حتى تلقوني على الحوض) .

وفي البخاري: (فتجدون أثرة شديدة، فاصبروا حتى تلقوا الله ورسوله، فإني على الحوض) .

وفيهما أن رجلا من الأنصار قال لرسول الله صلى الله تعالى عليه وآله وسلم: ألا تستعملني كما استعملت فلانا؟ قال: (ستلقون بعدي أثرة فاصبروا حتى تلقوني على الحوض) .

وفي البخاري أنه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم دعا الأنصار إلى أن يعطيهم البحرين، فقالوا: لا إلا أن تقطع لإخواننا من المهاجرين مثلها، قال: (إما لا، فاصبروا حتى تلقوني، فإنه سيصيبكم بعدي أثرة) .

وفي حديث حسن أن أسيد بن حضير من أكابر الأنصار قال للنبي صلى الله تعالى عليه وآله وسلم: جزاكم الله عنا خيرا يا رسول الله.

قال: (وأنتم فجزاكم الله عني خيرا ما علمت أعفة صبر) .

قال: وسمعت رسول الله صلى الله تعالى عليه وآله وسلم يقول: (إنكم ستلقون بعدي أثرة فاصبروا حتى تلقوني) .

وفي حديث حسن غريب: أن الأنصار كانوا إذا وجدوا نخلهم قسم الرجل ثمرة نصفين، أحدهما أقل من الآخر، ثم يجعلون السعف مع أقلتهما، ثم يخبرون المسلمين، فيأخذون أكثرهما، ويأخذ الأنصار أقلهما، من أجل السعف، حتى فتحت خيبر، فقال صلى الله تعالى عليه وآله وسلم: (قد وافيتم بالذي كان لنا عليكم، فإن شئتم أن تطيب أنفسكم بنصيبكم من خيبر، وتطيب لكم ثماركم فعلتم) .
শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর ও আব্বাস (রা.) আনসারদের মজলিসগুলোর মধ্য হতে একটি মজলিসের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, এমতাবস্থায় তারা (আনসাররা) কাঁদছিলেন। তিনি (আবু বকর) জিজ্ঞাসা করলেন: তোমরা কাঁদছ কেন? তারা বললেন: আমরা নবী (সা.)-এর মজলিসের কথা স্মরণ করছি। অতঃপর তিনি নবী (সা.)-এর কাছে প্রবেশ করে বিষয়টি তাঁকে অবহিত করলেন। বর্ণনাকারী বলেন: তখন নবী (সা.) বের হলেন, এমতাবস্থায় তাঁর মাথায় একটি চাদরের পাড় দিয়ে পট্টি বাঁধা ছিল। তিনি মিম্বরে আরোহণ করলেন—আর সেই দিনের পর তিনি আর কখনো মিম্বরে আরোহণ করেননি—অতঃপর তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন এবং বললেন: (আমি তোমাদেরকে আনসারদের বিষয়ে অসিয়ত করছি, কেননা তারা আমার একান্ত আপনজন ও গোপনীয় বিষয়ের আধার। তারা তাদের দায়িত্ব পালন করেছে এবং তাদের যা পাওনা তা এখনো অবশিষ্ট রয়েছে। অতএব, তোমরা তাদের মধ্যকার নেককারদের আমল কবুল করো এবং তাদের ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিও)।

একটি হাসান (حسن) বর্ণনায় এসেছে: আবু বকর (রা.) আমর ইবনুল আস (রা.)-এর কাছে লিখেছিলেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) আনসারদের সম্পর্কে বলেছেন: (তোমরা তাদের নেককারদের আমল গ্রহণ করো এবং তাদের ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিও)।

অন্য একটি হাসান (حسن) বর্ণনায় আরও রয়েছে যে, আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) বলেছেন: এক আনসারী ব্যক্তি তাঁর সঙ্গীদের বলেছিলেন: আল্লাহর কসম, আমি তোমাদেরকে বলতাম যে যখন বিষয়গুলো সুসংহত হবে, তখন অন্যদেরকে তোমাদের ওপর প্রাধান্য দেওয়া হবে। তারা তাঁকে কঠোরভাবে জবাব দিলেন। এই সংবাদ নবী (সা.)-এর কাছে পৌঁছালে তিনি তাদের নিকট আসলেন এবং তাঁদেরকে এমন কিছু কথা বললেন যা আমি জানি না। তারা বললেন: হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসুল!

তিনি বললেন: (তোমরা কি ঘোড়ায় চড়তে পারতে না?) তিনি যখনই তাঁদেরকে কোনো কথা বলতেন, তারা বলতেন: হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসুল।

তিনি যখন দেখলেন যে তারা কোনো প্রতিউত্তর করছে না, তখন তিনি বললেন: (তোমরা কি বলবে না যে, আপনার কওম আপনাকে লাঞ্ছিত করেছিল আর আমরা আপনাকে সাহায্য করেছি, এবং আপনার কওম আপনাকে বের করে দিয়েছিল আর আমরা আপনাকে আশ্রয় দিয়েছি?)

তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, আমরা তেমনটি বলব না, আপনিই তা বলছেন।

তিনি বললেন: (হে আনসার সম্প্রদায়, তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, মানুষ দুনিয়া নিয়ে ফিরে যাবে আর তোমরা আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে নিয়ে ফিরে যাবে?)

তারা বললেন: হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসুল।

তিনি বললেন: (যদি হিজরত না থাকত, তবে আমি আনসারদেরই একজন হতাম। আনসারগণ আমার অতি আপনজন, আমার পরিবার এবং আমার সেই গোপনীয় বিষয়ের আধার যাদের কাছে আমি আশ্রয় নিয়েছি। অতএব, তাদের ভুলত্রুটি ক্ষমা করো এবং তাদের নেককারদের আমল গ্রহণ করো)।

সহিহ (صح) সূত্রে প্রমাণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) খতিব হিসেবে দাঁড়ালেন এবং আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন। অতঃপর উহুদ যুদ্ধে নিহত শহীদদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলেন। তারপর বললেন: (হে মুহাজির সম্প্রদায়, তোমাদের সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু আনসারদের সংখ্যা বাড়ছে না। আর আনসাররা হলো আমার সেই গোপনীয় বিষয়ের আধার যাদের কাছে আমি আশ্রয় নিয়েছি। অতএব, তোমরা তাদের সম্মানিত ব্যক্তিদের সম্মান করো এবং তাদের ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দাও। কেননা তারা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছে এবং তাদের যা পাওনা তা অবশিষ্ট রয়েছে)।

সহিহ (صح) সূত্রে আরও প্রমাণিত যে: রাসুলুল্লাহ (সা.) মাথায় পট্টি বাঁধা অবস্থায় বের হলেন এবং তাঁর খুতবায় বললেন: (অতঃপর, হে মুহাজির সম্প্রদায়, তোমরা সংখ্যায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছ, কিন্তু আনসাররা বর্তমানে যে অবস্থায় আছে তার চেয়ে বাড়ছে না। আর আনসাররা হলো আমার সেই গোপনীয় বিষয়ের আধার যাদের কাছে আমি আশ্রয় নিয়েছি। অতএব, তোমরা তাদের সম্মানিত ব্যক্তিদের সম্মান করো এবং তাদের ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দাও)।

অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে: (প্রত্যেক ব্যক্তিরই গোপনীয় আধার থাকে এবং আমার গোপনীয় আধার হলো আনসারদের এই গোত্র। যদি হিজরত না থাকত তবে আমি আনসারদেরই একজন হতাম। আনসাররা হলো শরীরের সাথে লেগে থাকা ভেতরের পোশাকের মতো আর অন্য মানুষ হলো বাইরের পোশাকের মতো। সুতরাং যে ব্যক্তি শাসনের কোনো দায়িত্ব লাভ করবে, সে যেন তাদের নেককারদের প্রতি সদাচরণ করে এবং তাদের ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দেয়)।

সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম) গ্রন্থে রয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন হুনায়নের গণিমত বণ্টন করলেন এবং আনসারদের বাদ দিয়ে মুআল্লাফাতুল কুলুবদের (যাদের অন্তর জয় করা উদ্দেশ্য) দান করলেন, তখন তাঁদের পক্ষ থেকে আসা অভিযোগের কথা তাঁর কাছে পৌঁছালে তিনি তাঁদেরকে পূর্বে বর্ণিত কথাগুলো বলেন। সেই কথার শেষে ছিল: (যদি মানুষ কোনো উপত্যকা বা গিরিপথে চলে আর আনসাররা অন্য কোনো উপত্যকা বা গিরিপথে চলে, তবে আমি আনসারদের উপত্যকা ও গিরিপথেই চলব। আনসাররা হলো অন্তর্বাস এবং অন্য মানুষ হলো বহির্্বাস। নিশ্চয়ই তোমরা আমার পরে বৈষম্য ও স্বজনপ্রীতির সম্মুখীন হবে, সুতরাং তোমরা ধৈর্য ধরো যতক্ষণ না হাওজে কাওসারে আমার সাথে সাক্ষাৎ করো)।

সহিহ বুখারিতে রয়েছে: (তোমরা চরম বৈষম্যের শিকার হবে, সুতরাং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সাথে সাক্ষাৎ করা পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করো। কেননা আমি হাওজে কাওসারে থাকব)।

সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম) গ্রন্থে রয়েছে যে, জনৈক আনসারী ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বললেন: আপনি কি আমাকে নিয়োগ দেবেন না যেমনটি অমুককে নিয়োগ দিয়েছেন? তিনি বললেন: (তোমরা আমার পরে বৈষম্যের সম্মুখীন হবে, সুতরাং তোমরা ধৈর্য ধরো যতক্ষণ না হাওজে কাওসারে আমার সাথে সাক্ষাৎ করো)।

সহিহ বুখারিতে রয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) আনসারদেরকে বাহরাইন অঞ্চলটি প্রদান করতে চাইলেন। তখন তারা বললেন: না, যতক্ষণ না আপনি আমাদের মুহাজির ভাইদের জন্যও অনুরূপ কিছু বরাদ্দ করেন। তিনি বললেন: (যদি তোমরা তা না চাও, তবে ধৈর্য ধরো যতক্ষণ না আমার সাথে সাক্ষাৎ করো। কেননা আমার পরে তোমরা বৈষম্যের শিকার হবে)।

একটি হাসান (حسن) হাদিসে বর্ণিত আছে যে, আনসারদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি উসাইদ বিন হুদাইর (রা.) নবী (সা.)-কে বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, আল্লাহ আমাদের পক্ষ থেকে আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন।

তিনি বললেন: (আল্লাহ তোমাদেরকেও আমার পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দিন; আমি তোমাদেরকে পবিত্র ও ধৈর্যশীল হিসেবেই জেনেছি)।

উসাইদ (রা.) বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: (নিশ্চয়ই তোমরা আমার পরে বৈষম্যের সম্মুখীন হবে, সুতরাং তোমরা ধৈর্য ধরো যতক্ষণ না আমার সাথে সাক্ষাৎ করো)।

একটি হাসান গরিব (حسن غريب) হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: আনসারদের খেজুর যখন পাকত, তখন তারা সেই খেজুরগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করতেন। এক ভাগ অন্য ভাগের চেয়ে কম হতো। এরপর তাঁরা সেই কম ভাগের দিকে ডালপালা রেখে দিতেন এবং মুসলিমদের (মুহাজিরদের) খবর দিতেন। তখন মুহাজিররা বেশি অংশটি নিতেন এবং আনসাররা ডালপালার কারণে কম অংশটি নিতেন। খয়বর বিজয় পর্যন্ত এভাবেই চলতে থাকে। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন: (তোমরা আমাদের প্রতি তোমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছ। এখন তোমরা যদি চাও তবে খয়বর থেকে প্রাপ্ত অংশ নিয়ে নিজেদের মনকে খুশি করতে পারো এবং তোমাদের খেজুরের ফলনও তোমাদের জন্য রাখতে পারো, তবে তোমরা তা করতে পারো)।
(খণ্ড: ১) মাবলাগুল আরাব ফী ফখরিল আরব (পৃষ্ঠা: ৯)
فقالوا: فإنه قد كان لكم علينا شروط، ولنا عليكم شروط، بأن لنا الجنة، فقد فعلنا الذي سألتنا على أن لنا شرطنا.

قال: فكذلكم لكم هذا.

وفي آخر حسن غريب أيضا: أنه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم قال: (أسلمت الملائكة طوعا، وأسلمت الأنصار طوعا، وأسلمت عبد القيس طوعا) .

وفي آخر حسن غريب أيضا: (ألا إن لكل شيء تركة وضيعة، وإن تركني وضيعتي الأنصار، فاحفظوني فيهم) .

ومر في أدعيته صلى الله تعالى عليه وآله وسلم لقبائل العرب ما يتعلق بالدعاء للأنصار، وسيأتي قوله صلى الله تعالى عليه وآله وسلم: (ليس لهم مولى دون الله ورسوله) .

وفي حديث غريب أيضا: (الأنصار أحبائي، وفي الدين إخواني، وعلى الأعداء أعواني) .

‌‌الباب الرابع

‌‌فصل في فضائل قبائل العرب مجتمعة

أخرج الشيخان خبر: (قريش والأنصار وجهينة ومزينة وأسلم وأشجع، وغفار موالي ليس لهم مولى دون الله ورسوله) .

وفي رواية لمسلم بعد ذكر أولئك: (ومن كان من بني عبد الله موالي دون الناس، والله ورسوله مولاهم) .

وفي رواية لأحمد: (ومن كان من بني كعب) .

وفي مسلم: (أسلم وغفار، ومزينة، وما كان من جهينة خير من بني تميم، وبني عامر، والحليفين أسد وعطفان) .

وفيه أيضا: (والذي نفسي بيده لغفار وأسلم ومزينة، ومن كان من جهينة، أو قال شيء جهينة، ومن كان من مزينة خير عند الله يوم القيامة من أسد وطيء، وغطفان) .

وفيه عنه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم أيضا: (أسلم وغفار وشيء من مزينة وجهينة، أو قال: شيء من جهينة ومزينة خير عند الله، قال: أحسبه قال: يوم القيامة من أسد وعطفان وهوازن وتميم) .

وفيه أيضا كالبخاري: (أسلم وغفار ومزينة وجهينة خير من بني تميم، وبني عامر، ومن الحليفين بني أسد وغطفان) .

وفي حديث حسن: كان رسول الله صلى الله تعالى عليه وآله وسلم يعرض يوما خيلا، وعند عيينة بن حصين بن بدر الفزارى، فقال له النبي صلى الله تعالى عليه وآله وسلم (أنا أعرف بالخيل منك) .

فقال عيينة: وأنا أعرف بالرجال منك.

فقال له النبي صلى الله تعالى عليه وآله وسلم: (وكيف ذلك؟) .

فقال: خير الرجال رجال يحملون سيوفهم على عواتقهم، جاعلي رماحهم على مناسج خيولهم، لابسي البرد، من أهل نجد.

فقال رسول الله صلى الله تعالى عليه وآله وسلم: (كذبت، بل خيار الرجال رجال أهل اليمن، والإيمان يمان، إلى الخم وجذام، ومأكول حمير خير من أكلها، وحضرموت خير من بني الحارث، والله ما أبالى لو هلك الحارثان جميعا، لعن الله الملوك الأربعة: جمدا ومحرشا وأبضعة، وأختهم العمردة، ثم قال: أمرني ربي أن ألعن قريشا مرتين فلعنتهم، وأمرني أن أصلي عليهم فصليت عليهم، ثم قال: لعن الله تميم بن مرة خمسا، وبكر بن وائل سبعا، ولعن الله قبيلتين من قبائل بني تميم مقاعس، وملادس، ثم قال: عصية عصت الله ورسوله، غير قيس وجعدة وعصمة، ثم قال: أسلم وغفار ومزينة وأحلافهم من جهينة خير من بني أسد وتميم وغطفان وهوازن، عند الله يوم القيامة، ثم قال: شر قبيلتين في العرب نجران وبنو تغلب، وأكثر القبائل في الجنة مذحج، ومأكول حمير خير من أكلها، قال: ما مضى خير مما بقى.

وفي رواية لأحمد: (وأنا يمان، وحضرموت خير من بني الحارث ولا أبالي أن يهلك الحيان كلاهما، فلا قيل، ولا ملك، ولا قاهر إلا الله) .

وزاد بعد العمروة: (وكانت تأتي المسلمين إذا سجدوا فتركبهم، وأنا لا أبالي أن يهلك الحيان كلاهما) .

وقال بعد قوله: (عصية عصت الله ورسوله، إلا مازن وقيس، ثم قال: قبيلتان لا يدخل الجنة منهم أحد أبدا منا عش وملادس) . وزعم أنهما قبيلتان تاهتا اتبعتا المشرق في عام، فانقطعتا في ناحية من الأرض، لا يوصل إليهما، وذلك في الجاهلية.

وفي أخرى صحيحة إلا أن فيها أنقطاعا: (وما كول حمير خير من أكلها، وحضرموت خير من كندة) .

وفي رواية للطبراني: (إن من خيار الناس الأملوك أملوك حمير وسفيان والسكون والأشعريين) .

وفي خبر حسن: (قريش والأنصار، وجهينة، ومزينة، وأسلم، وغفار، وأشجع، وسليم أوليائي ليس لهم ولى دون الله ورسوله) .
তারা বললেন: "আমাদের প্রতি আপনাদের কিছু শর্ত ছিল এবং আপনাদের প্রতি আমাদেরও কিছু শর্ত ছিল যে, আমাদের জন্য জান্নাত থাকবে। অতএব আমরা তা করেছি যা আপনারা আমাদের কাছে চেয়েছিলেন এই শর্তে যে, আমাদের জন্য আমাদের প্রাপ্য শর্তটি থাকবে।"

তিনি বললেন: "তোমাদের জন্য এটি অবধারিত।"

অন্য একটি হাসান (حسن) ও গরিব (غريب) হাদিসে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ফেরেশতারা স্বেচ্ছায় ইসলাম কবুল করেছেন, আনসারগণ স্বেচ্ছায় ইসলাম কবুল করেছেন এবং আব্দুল কায়স গোত্র স্বেচ্ছায় ইসলাম কবুল করেছে।"

অন্য একটি হাসান (حسن) ও গরিব (غريب) হাদিসে আরও এসেছে: "জেনে রেখো, প্রত্যেক জিনিসেরই পরিত্যক্ত সম্পদ ও অসহায় পরিবার থাকে। আমার পরিত্যক্ত সম্পদ ও অসহায় পরিবার হলো আনসারগণ। অতএব তোমরা তাদের বিষয়ে আমার হক রক্ষা করো।"

আরব গোত্রগুলোর জন্য নবী সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের দোয়াগুলোর মধ্যে আনসারদের জন্য দোয়ার বিষয়টি অতিক্রান্ত হয়েছে। আর শীঘ্রই নবী সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী আসবে যে: "আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ছাড়া তাদের আর কোনো অভিভাবক নেই।"

অন্য একটি গরিব (غريب) হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: "আনসারগণ আমার প্রিয়পাত্র, দ্বীনের ক্ষেত্রে তারা আমার ভাই এবং শত্রুদের বিরুদ্ধে তারা আমার সাহায্যকারী।"

‌‌চতুর্থ অধ্যায়

‌‌সামগ্রিকভাবে আরব গোত্রসমূহের ফজিলত বিষয়ক পরিচ্ছেদ

শাইখাইন এই সংবাদটি বর্ণনা করেছেন যে: "কুরাইশ, আনসার, জুহাইনা, মুযাইনা, আসলাম, আশজা এবং গিফার হলো আমার বন্ধু; আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ছাড়া তাদের আর কোনো অভিভাবক নেই।"

মুসলিম-এর একটি বর্ণনায় তাদের উল্লেখ করার পর বলা হয়েছে: "এবং বনু আব্দুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত যারা মানুষের পরিবর্তে অন্য কাউকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেনি, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই তাদের অভিভাবক।"

আহমাদ-এর একটি বর্ণনায় রয়েছে: "এবং যারা বনু কাবের অন্তর্ভুক্ত।"

মুসলিম-এ বর্ণিত হয়েছে: "আসলাম, গিফার, মুযাইনা এবং জুহাইনা গোত্রের অবশিষ্টাংশ বনু তামিমি, বনু আমির এবং দুই মিত্র গোত্র আসাদ ও গাতফানের চেয়ে উত্তম।"

সেখানে আরও বর্ণিত হয়েছে: "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট গিফার, আসলাম, মুযাইনা এবং জুহাইনা গোত্রের অবশিষ্টাংশ অথবা তিনি বলেছেন জুহাইনার কিছু অংশ এবং মুযাইনার কিছু অংশ আসাদ, তাই এবং গাতফান গোত্রের চেয়ে উত্তম হবে।"

সেখানে নবী সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে: "আসলাম, গিফার এবং মুযাইনা ও জুহাইনার কিছু অংশ অথবা তিনি বলেছেন জুহাইনা ও মুযাইনার কিছু অংশ আল্লাহর নিকট -বর্ণনাকারী বলেন- আমার ধারণা তিনি বলেছেন কিয়ামতের দিন আসাদ, গাতফান, হাওয়াযিন এবং তামিমিদের চেয়ে উত্তম হবে।"

সেখানে বুখারি-র ন্যায় আরও বর্ণিত হয়েছে: "আসলাম, গিফার, মুযাইনা এবং জুহাইনা গোত্র বনু তামিমি, বনু আমির এবং দুই মিত্র গোত্র বনু আসাদ ও গাতফানের চেয়ে উত্তম।"

একটি হাসান (حسن) হাদিসে বর্ণিত আছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম একদিন ঘোড়া পরিদর্শন করছিলেন, তখন তাঁর নিকট উয়াইনা ইবনে হিসন ইবনে বদর আল-ফাযারি উপস্থিত ছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: "আমি তোমার চেয়ে ঘোড়া সম্পর্কে অধিক অবগত।"

উয়াইনা বললেন: "আমি আপনার চেয়ে পুরুষদের সম্পর্কে অধিক অবগত।"

নবী সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: "তা কীভাবে?"

তিনি বললেন: "সর্বোত্তম পুরুষ হলো তারা যারা তাদের কাঁধে তলোয়ার বহন করে, ঘোড়ার পিঠের কুঁজে তাদের বল্লম রাখে এবং চাদর পরিধান করে; তারা নজদ অধিবাসী।"

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তুমি মিথ্যা বলেছ, বরং সর্বোত্তম পুরুষ হলো ইয়েমেনবাসী। ঈমান হলো ইয়েমেনি, যা লাখম ও জুযাম পর্যন্ত বিস্তৃত। হিমইয়ারের মাকুল গোত্র আকাল গোত্রের চেয়ে উত্তম এবং হাজরামাউত বনু হারিস গোত্রের চেয়ে উত্তম। আল্লাহর শপথ, আমি পরোয়া করি না যদি উভয় হারিস গোত্রই ধ্বংস হয়ে যায়। আল্লাহ চারজন রাজাকে অভিশপ্ত করেছেন: জামদ, মুহরিশ, আবযা এবং তাদের বোন আমরদা।" অতঃপর তিনি বললেন: "আমার রব আমাকে কুরাইশদের দুইবার অভিশাপ দিতে আদেশ করেছেন, তাই আমি তাদের অভিশাপ দিয়েছি। আবার তাদের জন্য রহমতের দোয়া করতে আদেশ করেছেন, তাই আমি তাদের জন্য রহমতের দোয়া করেছি।" এরপর তিনি বললেন: "আল্লাহ তামিম ইবনে মুররাকে পাঁচবার এবং বকর ইবনে ওয়ায়িলকে সাতবার অভিশাপ দিয়েছেন। আল্লাহ বনু তামিম গোত্রের দুটি শাখা মুকায়সিস ও মুলাদিসকে অভিশাপ দিয়েছেন।" এরপর তিনি বললেন: "আসিয়্যাহ গোত্র আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অবাধ্যতা করেছে, তবে কায়স, জাদা এবং আসমা এর অন্তর্ভুক্ত নয়।" এরপর তিনি বললেন: "আসলাম, গিফার, মুযাইনা এবং জুহাইনা থেকে তাদের মিত্ররা কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট বনু আসাদ, তামিমি, গাতফান ও হাওয়াযিন গোত্রের চেয়ে উত্তম হবে।" এরপর তিনি বললেন: "আরবদের মধ্যে নিকৃষ্টতম দুই গোত্র হলো নাজরান ও বনু তাগলিব এবং জান্নাতে সর্বাধিক সংখ্যক হবে মাজহিজ গোত্র। হিমইয়ারের মাকুল গোত্র আকাল গোত্রের চেয়ে উত্তম।" তিনি আরও বললেন: "যা অতিবাহিত হয়েছে তা অবশিষ্ট যা রয়েছে তার চেয়ে উত্তম।"

আহমাদ-এর একটি বর্ণনায় রয়েছে: "এবং আমি ইয়েমেনি। হাজরামাউত বনু হারিস গোত্রের চেয়ে উত্তম। আমি পরোয়া করি না যদি উভয় গোত্রই ধ্বংস হয়ে যায়। আল্লাহ ছাড়া কোনো বিচারক, রাজা বা পরাক্রমশালী নেই।"

আমরদা-এর বর্ণনার পর তিনি আরও বাড়িয়ে বলেছেন: "সে মুসলিমরা যখন সিজদা করত তখন তাদের কাছে আসত এবং তাদের উপর চড়ে বসত। আমি পরোয়া করি না যদি উভয় গোত্রই ধ্বংস হয়ে যায়।"

'আসিয়্যাহ আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অবাধ্যতা করেছে'—এই কথার পর তিনি আরও বলেছেন: "তবে মাযিন ও কায়স ব্যতীত। এরপর তিনি বললেন: এমন দুটি গোত্র রয়েছে যাদের মধ্যে কেউ কখনও জান্নাতে প্রবেশ করবে না, তারা হলো মুনাশ ও মুলাদিস।" বর্ণনাকারী ধারণা করেন যে, তারা এমন দুটি গোত্র যারা পথ হারিয়ে এক বছরে পূর্ব দিকে চলে গিয়েছিল এবং পৃথিবীর এক প্রান্তে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল যেখানে পৌঁছানো সম্ভব নয়; আর এটি ছিল জাহেলি যুগে।

অন্য একটি সহিহ (صحيحة) বর্ণনায়, যাতে ইনকিতা (انقطاعا) বা বিচ্ছিন্নতা রয়েছে, তাতে এসেছে: "হিমইয়ারের মাকুল গোত্র আকাল গোত্রের চেয়ে উত্তম এবং হাজরামাউত কিন্দাহ গোত্রের চেয়ে উত্তম।"

তাবারানি-র একটি বর্ণনায় রয়েছে: "মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম হলো আমলুকগণ—অর্থাৎ হিমইয়ারের রাজা এবং সুফিয়ান, সাকুন ও আশআরি গোত্রসমূহ।"

একটি হাসান (حسن) সংবাদে বর্ণিত হয়েছে: "কুরাইশ, আনসার, জুহাইনা, মুযাইনা, আসলাম, গিফার, আশজা এবং সুলাইম গোত্র আমার বন্ধু; আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ছাড়া তাদের আর কোনো অভিভাবক নেই।"
(খণ্ড: ১) মাবলাগুল আরাব ফী ফখরিল আরব (পৃষ্ঠা: ১০)
وفي خبر فيه ضعف: (ألا رجل يخبرني عن مضر؟) فقال رجل: أنا أخبرك يا رسول الله، أما وجهها الذي فيه سمعها وبصرها فهذا الحي من قريش، وأما لسانها الذي تعرب به في أنديتها فهذا الحي من بني أسد بن خزيمة، وأما كاهلها فهذا الحي من بني تميم) .

وفي خبر ضعيف عن أبي الدرداء قال: أتيت النبي صلى الله تعالى عليه وآله وسلم جماعة من العرب يتفاخرون فيما بينهم، فدخل رسول الله صلى الله تعالى عليه وآله وسلم فقال: (ما هذا يا أبا الدرداء الذي اسمع؟) .

فقلت: يا رسول الله هذه العرب تتفاخر فيما بينها.

فقال رسول الله صلى الله تعالى عليه وآله وسلم: (يا أبا الدرداء إذا فاخرت ففاخر بقريش، وإذا كاثرت فكاثر بتميم، وإذا حاربت فحارب بقيس، ألا إن وجهها كنانة، ولسانها أسد، وفرسانها قيس.

يا أبا الدرداء إن لله فرسانا في سمائه يحارب بهم أعداءه، وهم الملائكة، وله فرسان في الأرض يحارب بهم أعداءه وهم قيس.

يا أبا الدرداء إن آخر من يقاتل عن الإسلام حين لا يبقى إلا ذكره، ومن القرآن إلا رسمه، لرجل من قيس) .

قلت يا رسول الله أي قيس؟ قال: (من سليم) .

وفي حديث حسن غريب عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: ذكرت القبائل عند رسول الله صلى الله تعالى عليه وآله وسلم، فسألوه عن بني عامر؟ فقال: (جمل أزهر ياكل من أطراف الشجر) .

وسألوه عن هوازن، فقال: (زهرة تنبع ماء) .

وسألوه عن بني تميم، فقال: (ثبت الأقدام، رجح الأحلام، عظم الهام، وأشد الناس على الدجال في آخر الزمان، هضبة حمراء لا يضرها من ناوأها) .

‌‌فصل فضائل أحمس

مر أنه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم (برك على خيل أحمس ورجالها خمس مرات) ، رواه الشيخان.

وصح قدوم وفد أحمس، ووفد قيس على رسول الله صلى الله تعالى عليه وآله وسلم فقال: (ابدءوا بالأحمسين قبل القيسيين) ثم دعا لأحمس فقال: (اللهم بارك في أحمس، وخيلها، ورجالها سبع مرات) .

وفي رواية صحيحة أيضا: قد وفد بجيلة على رسول الله صلى الله تعالى عليه وآله وسلم، فقال: (اكتبوا البجليين، وابدءوا بالأحمسيين) .

وأحمس من بجيلة يجتمع نسبهم مع نسب النبي صلى الله تعالى عليه وآله وسلم في نزار بن معد.

‌‌فصل في فضائل قبيلة الأزد

في حديث غريب: (الأزد أسد الله في الأرض، بريد الناس أن يضعوهم، ويأبى الله إلا أن يرفعهم، وليأتين على الناس زمان يقول الرجل: يا ليت أبي كان أزديا، ويا ليت أمي كانت أزدية) .

وصح عن أنس بن مالك أنه قال: (إن لم نكن من الأزد فلسنا من الناس) .

وفي حديث غريب: (نعم الحي الأسد) أي الأزد، إذ يقال بالسين والزاي (والأشعريون لا يفرون في القتال، ولا يغلون، هم مني، وأنا منهم) .

وفي حديث حسن أنه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم قال: (نعم القود الأزد، نقية قلوبهم، بارة أيمانهم، طيبة أفواههم) .

وفي حديث غريب: (الأزد مني وأنا منهم، أغضب لهم إذا غضبوا، وأرضى لهم إذا رضوا) فقال معاوية لراوية: إنما ذلك لقريش.

فقال راوية: لو كذبت رسول الله صلى الله تعالى عليه وآله وسلم لجعلتها لقومي.

ومن الحديث الحسن: (العلم في قريش، والأمانة في الأزد) .

وحديث: (الأمانة في الأزد، والحياء في قريش) .

وحديث نظر رسول الله صلى الله تعالى عليه وآله وسلم إلى عصابة قد أقبلت، فقال: (أتاكم الأزد أحسن الناس وجوها، وأعذبهم أفواها، وأصدقهم لغة) .

وفي حديث صحيح غريب: (نعم المرضعون أهل عمان) يعني الأزد، ويجتمعون معه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم في عابر بن شالخ.

‌‌فصل من فضائل بني خزيمة

أسد بني خزيمة يجتمعون معه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم في خزيمة بن مدركة، مر قريبا أنهم لسان مضر، الذي تعرب به في أنديتها.

‌‌فصل من فضائل أسلم وأشجع

أسلم يجتمعون معه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم في عابر بن شالخ بن أرفشخذ بن سام بن نوح صلى الله تعالى عليه وآله وسلم.

وأشجع يجتمعون معه في مضر بن نزار، مر في حديث (إن هذين موالى ليس لهم مولى دون الله ورسوله) .

وفي آخر عن قبائل منهم أشجع (موالي دون الناس، والله ورسوله مولاهم) .

وفي أخر عن قبائل منهم أسلم: (أنهم خير من بني تميم) .

وفي آخر عن قبائل أسلم وأشجع أنهم: (حلفاء موالى ليس لهم من دون الله ورسوله مولى) .
একটি বর্ণনা যাতে দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে: (এমন কোনো লোক কি নেই যে আমাকে মুদার সম্পর্কে জানাবে?) তখন এক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, আমি আপনাকে জানাব। এর যে চেহারা যাতে শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি রয়েছে তা হলো কুরাইশের এই গোত্র; আর এর যে জিহ্বা যার মাধ্যমে তারা তাদের সভাসমূহে মনের ভাব প্রকাশ করে তা হলো বনু আসাদ ইবনে খুজাইমা গোত্র; আর এর যে স্কন্ধ তা হলো বনু তামিম গোত্র।

আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত একটি দুর্বল (ضعيف) বর্ণনায় রয়েছে, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের নিকট আসলাম যখন একদল আরব নিজেদের মধ্যে বংশগৌরব করছিল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম প্রবেশ করে বললেন: (হে আবু দারদা, আমি একি শুনছি?)

আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল, এই আরবরা নিজেদের মধ্যে বংশগৌরব করছে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বললেন: (হে আবু দারদা, যখন তুমি বংশগৌরব করবে তখন কুরাইশদের নিয়ে করো, যখন সংখ্যাধিক্য প্রকাশ করবে তখন তামিমদের নিয়ে করো, আর যখন যুদ্ধ করবে তখন কাইসদের নিয়ে যুদ্ধ করো। জেনে রেখো, আরবের চেহারা হলো কিনানা, জিহ্বা হলো আসাদ এবং অশ্বারোহী বাহিনী হলো কাইস।

হে আবু দারদা, আল্লাহর জন্য তাঁর আসমানে এমন অশ্বারোহী রয়েছে যাদের মাধ্যমে তিনি তাঁর শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন, তারা হলো ফেরেশতাকুল; আর জমিনেও তাঁর অশ্বারোহী রয়েছে যাদের মাধ্যমে তিনি তাঁর শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন, তারা হলো কাইস।

হে আবু দারদা, ইসলামের শেষভাগে যখন এর নাম ছাড়া আর কিছু অবশিষ্ট থাকবে না এবং কুরআনের কেবল লিপি অবশিষ্ট থাকবে, তখন ইসলামের পক্ষে যুদ্ধকারী সর্বশেষ ব্যক্তিটি হবে কাইস গোত্রের জনৈক ব্যক্তি)।

আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, কোন কাইস? তিনি বললেন: (সুলাইম গোত্র থেকে)।

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত একটি হাসান (حسن) ও গরিব (غريب) হাদিসে রয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সামনে বিভিন্ন গোত্রের আলোচনা করা হলো। তখন তারা বনু আমির সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: (এক উজ্জ্বল বর্ণের উট যা গাছের ডালপালা থেকে খায়)।

তারা হাওয়াযিন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: (একটি ফুল যা থেকে পানি নির্গত হয়)।

তারা বনু তামিম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: (তারা অবিচল পদযুগল, প্রজ্ঞাবান বিচারবুদ্ধি ও সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী; শেষ জামানায় দাজ্জালের বিরুদ্ধে তারা হবে কঠোরতম মানুষ। তারা লাল বর্ণের পাহাড়ের ন্যায়, যার শত্রুতা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারে না)।

আহমাস গোত্রের ফযিলত বিষয়ক পরিচ্ছেদ

পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (আহমাস গোত্রের ঘোড়া এবং পুরুষদের জন্য পাঁচবার বরকতের দোয়া করেছেন), যা শাইখাইন (ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম) বর্ণনা করেছেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের নিকট আহমাস গোত্রের প্রতিনিধি দল এবং কাইস গোত্রের প্রতিনিধি দলের আগমনের বিষয়টি সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত হয়েছে। তখন তিনি বললেন: (কাইসদের পূর্বে আহমাসদের দিয়ে শুরু করো)। এরপর তিনি আহমাদের জন্য দোয়া করে বললেন: (হে আল্লাহ, আহমাস গোত্রে এবং তাদের ঘোড়া ও পুরুষদের মধ্যে বরকত দান করুন), এটি সাতবার বললেন।

একটি সহিহ (صحيح) বর্ণনায় আরও রয়েছে: বাজিলা গোত্র রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের নিকট প্রতিনিধি পাঠালে তিনি বললেন: (বাজিলা গোত্রভুক্তদের নাম তালিকাভুক্ত করো এবং আহমাসীদের দিয়ে শুরু করো)।

আর আহমাস হলো বাজিলা গোত্রের শাখা, যাদের বংশধারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের বংশধারার সাথে নিযার ইবনে মা'দ-এ গিয়ে মিলিত হয়।

আযদ গোত্রের ফযিলত বিষয়ক পরিচ্ছেদ

একটি গরিব (غريب) হাদিসে রয়েছে: (আযদ হলো জমিনে আল্লাহর সিংহ। মানুষ তাদেরকে ছোট করতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তাদেরকে উচ্চ করা ছাড়া কিছুই চান না। মানুষের নিকট এমন এক সময় আসবে যখন কোনো ব্যক্তি বলবে: হায়, আমার পিতা যদি আযদ গোত্রীয় হতেন! হায়, আমার মা যদি আযদ গোত্রীয় হতেন!)।

আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে সহিহ (صحيح) সূত্রে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: (আমরা যদি আযদ গোত্রীয় না হতাম, তবে আমরা মানুষ হিসেবে গণ্য হতাম না)।

একটি গরিব (غريب) হাদিসে বর্ণিত: (আসাদ কতই না উত্তম গোত্র!) অর্থাৎ আযদ গোত্র, কারণ একে সিন এবং যা উভয় বর্ণ দিয়ে উচ্চারণ করা হয়। (আর আশআরিগণ যুদ্ধে পলায়ন করে না এবং তারা খেয়ানত করে না; তারা আমার এবং আমি তাদের)।

একটি হাসান (حسن) হাদিসে রয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: (নেতৃত্বের জন্য আযদ কতই না চমৎকার; তাদের অন্তরসমূহ স্বচ্ছ, তাদের কসমসমূহ সত্যনিষ্ঠ এবং তাদের কথা অত্যন্ত মিষ্ট)।

একটি গরিব (غريب) হাদিসে রয়েছে: (আযদ আমার এবং আমি তাদের; তারা রাগান্বিত হলে আমি তাদের জন্য রাগান্বিত হই এবং তারা সন্তুষ্ট হলে আমি তাদের ওপর সন্তুষ্ট হই)। তখন মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু রাবিয়াকে বললেন: এটি কেবল কুরাইশদের জন্য।

তখন রাবিয়া বললেন: যদি আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের ওপর মিথ্যা আরোপ করতাম, তবে একে আমার নিজ গোত্রের জন্য নির্দিষ্ট করতাম।

হাসান (حسن) হাদিসের অন্তর্ভুক্ত হলো: (জ্ঞান কুরাইশদের মধ্যে এবং আমানতদারি আযদ গোত্রের মধ্যে)।

এবং আরও একটি হাদিস: (আমানতদারি আযদ গোত্রের মধ্যে এবং লজ্জা কুরাইশদের মধ্যে)।

আরও একটি হাদিসে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম একটি আগন্তুক দলের দিকে তাকিয়ে বললেন: (তোমাদের নিকট আযদ গোত্র এসেছে, যারা মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর চেহারার অধিকারী, সবচেয়ে মিষ্টভাষী এবং সবচেয়ে সত্যবাদী)।

একটি সহিহ (صحيح) ও গরিব (غريب) হাদিসে বর্ণিত: (ওমানবাসী কতই না উত্তম লালনপালনকারী)। এখানে উদ্দেশ্য হলো আযদ গোত্র; তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাথে আবির ইবনে শালিহ-এ গিয়ে মিলিত হন।

বনু খুজাইমা গোত্রের ফযিলত বিষয়ক পরিচ্ছেদ

বনু খুজাইমার আসাদ গোত্র নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাথে খুজাইমা ইবনে মুদরিকাহ-তে গিয়ে মিলিত হন। অচিরেই পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তারা হলো মুদারের জিহ্বা, যার মাধ্যমে তারা তাদের সভাগুলোতে মনের ভাব প্রকাশ করে।

আসলাম ও আশজা গোত্রের ফযিলত বিষয়ক পরিচ্ছেদ

আসলাম গোত্র নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাথে আবির ইবনে শালিহ ইবনে আরফাকশাদ ইবনে সাম ইবনে নুহ আলাইহিস সালামের বংশধারায় গিয়ে মিলিত হন।

আর আশজা গোত্র তাঁর সাথে মুদার ইবনে নিযারের মাধ্যমে মিলিত হন। পূর্বে একটি হাদিসে অতিবাহিত হয়েছে যে: (নিশ্চয়ই এই দুই গোত্র এমন বন্ধু যাদের আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ছাড়া আর কোনো অভিভাবক নেই)।

অন্য এক বর্ণনায় তাদের মধ্যকার আশজা গোত্র সম্পর্কে এসেছে যে: (তারা অন্য মানুষ বাদ দিয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলেরই অনুগত বন্ধু)।

অন্য এক বর্ণনায় তাদের মধ্যকার আসলাম গোত্র সম্পর্কে এসেছে যে: (তারা বনু তামিম গোত্রের চেয়ে উত্তম)।

অন্য এক বর্ণনায় আসলাম ও আশজা গোত্র সম্পর্কে এসেছে যে: (তারা এমন মিত্র ও বন্ধু যাদের জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ছাড়া আর কোনো অভিভাবক নেই)।
(খণ্ড: ১) মাবলাগুল আরাব ফী ফখরিল আরব (পৃষ্ঠা: ১১)
وفي الأحاديث: (وأسلم سالمها الله تعالى) .

‌‌فصل من فضائل الأشعريين

الأشعريون من اليمن يجتمعون معه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم في عابرين شالخ.

روى الشيخان: (إن الأشعريين إذا رملوا في الغزو، أو قل طعام غيرهم بالمدينة جمعوا ما كان عندهم في ثوب واحد، ثم اقتسموه بينهم ف إناء واحد، فهم مني، وأنا منهم) .

وتقدم في حديث مسلم أنهم من خيار الناس، ومر حديث: (نعم الحي الأزد، والأشعريون لا يقهرون في القتال، ولا يغلون فهم مني، وأنا منهم) .

‌‌فصل من فضائل بعض قبائل العرب

روى أحمد حديث: (صلى الله تعالى عليه وآله وسلم على السكون والسكاسك، وعلى خولان العالية، وعلى الأملوك أملوك ردمان) .

وردمان بطن من رعين.

ومر (إن من خيار الناس الأملوك أملوك حمير) .

‌‌فصل من فضائل بني بكر بن وائل

بنو بكر بن وائل يجتمعون معه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم في نزار بن معد.

ومر أنه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم دعا لهم، فقال: (اللهم اجبر كسيرهم، ووآو طريدهم، ولا ترني فيهم سائلا) وفي رواية عائلا.

وفي حديث حسن: (إن العدو لا يظفر على قوم لواؤهم، أو قال رآياتهم مع رجل من بني بكر بن وائل) .

‌‌فصل من فضائل تجيب وتميم

تجيب يجتمعون معه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم في يعرب بن يشجب، مر أثناء حديث (وتجيب أجابت الله ورسوله) .

تميم يجتمعون معه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم في إلياس بن مضر.

في الصحيحين: أن أبا هريرة قال: أحبهم لثلاث سمعتهن من رسول الله صلى الله عليه وسلم: (هم أشد الناس على الرجال) ولما جاءت صدقاتهم قال: (هذه صدقات قومنا، وكانت منهم سبية عند عائشة، فقال صلى الله تعالى عليه وآله وسلم: (أعتقيها فإنها من ولد إسماعيل) .

وصح أنه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم لما رأى زكاتهم قال: (هذه نعم قومي) .

ونال رجل منهم عند رسول الله صلى الله تعالى عليه وآله وسلم فقال: (لا تقل لبني تميم إلا خيرا، فإنهم أطول الناس رماحا على الدجال) .

وفي رواية: (لهم أشد قتالا في الملاحم) .

وفي حديث ضعيف: (هم ثبت الأقدام، ضخام الهام، نصار الحق في آخر الزمان، أشد قوما على الدجال) .

وفي حديث ضعيف عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: ربما ضرب النبي صلى الله تعالى عليه وآله وسلم على كتفي، وقال: (أحبوا بني تميم) .

وفي حديث: (وإذا كاثرت فكاثر بتميم) .

ومر حديث: (ثبت الأقدام، رجح الأحلام، أولوا أفهام، عظم الهام، أشد الناس على الدجال في آخر الزمان) .

أحاديث: وأما كاهلها أي مضر، فهذا الحي من بني تميم.

‌‌فصل من فضائل ثقيف

ثقيف يجتمعون معه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم في إلياس بن مضر، مر فيهم حديث صحيح: (اللهم إهد ثقيفا) .

وأخرج الترمذي يسند في بعض رجاله نظر: أنا أعرابيا أعطى للنبي صلى الله تعالى عليه وآله وسلم بكرة، فعوضه منها ست بكرات، فتسخطها، فبلغ ذلك النبي صلى الله تعالى عليه وآله وسلم، فحمد الله وأثنى عليه، ثم قال: (إن فلانا أهدى إليَّ ناقة فعوضته منها ست بكرات فظل ساخطا، لقد هممت أن لا أقبل هدية إلا من قرشى أو أنصارى أو ثقفى، أو دوسى) .

وفي رواية وهي أصح: أهدى رجل من بني فزارة إلى النبي صلى الله عليه وآله وسلم ناقة من إبله التي كانوا أصابوا بالغابة، فعوضه منها بعض العوض فتسخط، فسمعت رسول الله صلى الله تعالى عليه وآله وسلم على المنبر يقول: (إن رجالا من العرب يهدى أحدهم الهدية فأعوضه منها بقدر ما عندي، ثم يتسخطه، فيظل يتسخط فيه عليَّ، وأيم الله لا أقبل بعد مقامي هذا من رجل من العرب إلا من قرشي أو أنصارى أو ثقفي أو دوسى) .

وفي رواية صحيحة: (لقد هممت أن لا أهب إلا من قرشى أو أنصارى أو ثقفي) .

‌‌فصل من فضائل جذام وجهينة

جذام ينتسبون إلى حضرموت الأكبر، ومر فيهم (خير الرجال رجال أهل اليمن، والإيمان يمان إلى لخم وجذام) الحديث.

وصح أيضا: (الإيمان يمان - هكذا - إلى لخم وجذام) .

وصح أيضا: يديه وقال: (الإيمان يمان، والحكمة ههنا، إلى لخم وجذام) .

جهينة ينسبون لقضاعة، ويجتمعون معه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم في معد بن عدنان، وقيل: قضاعة بن حمير بن سبأ.

وفي حديث غريب رواته ثقات إلا واحد لم يعدل ولا جرح:
হাদিসসমূহ ডিএ এসেছে: (আসলাম গোত্রকে আল্লাহ তাআলা শান্তিতে রাখুন)।

‌আশআরীগণের ফযিলত সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ

আশআরীগণ ইয়েমেনের অধিবাসী, যারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাথে আবির বিন শালিখের বংশে গিয়ে মিলিত হন।

শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) বর্ণনা করেছেন: (নিশ্চয়ই আশআরীগণ যখন যুদ্ধে খাদ্যাভাবের সম্মুখীন হয় অথবা মদিনায় তাদের পরিবার-পরিজনের খাবার কমে যায়, তখন তারা তাদের কাছে যা আছে তা একটি কাপড়ে জমা করে, অতঃপর তা একটি পাত্রের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করে নেয়। সুতরাং তারা আমার এবং আমি তাদের)।

এবং সহিহ মুসলিম-এর হাদিসে পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, তারা সর্বোত্তম লোকেদের অন্তর্ভুক্ত। আর একটি হাদিস গত হয়েছে যে: (আজদ গোত্র কতই না চমৎকার! আর আশআরীগণ যুদ্ধে পরাজিত হয় না এবং তারা খেয়ানত করে না; সুতরাং তারা আমার এবং আমি তাদের)।

‌আরবের কিছু গোত্রের ফযিলত সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ

ইমাম আহমাদ একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন: (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম সুকুন ও সাকাসিক গোত্র, উচ্চভূমির খাওলান এবং রাদমান-এর শাসকগণের জন্য দোয়া করেছেন)।

আর রাদমান হলো রুয়াইন গোত্রের একটি শাখা।

এবং অতিক্রান্ত হয়েছে যে, (নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ হলো হিমইয়ারের শাসকগণ)।

‌বনু বকর বিন ওয়াইল-এর ফযিলত সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ

বনু বকর বিন ওয়াইল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাথে নিযার বিন মাআদ-এর বংশে গিয়ে মিলিত হন।

এবং অতিক্রান্ত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তাদের জন্য দোয়া করেছেন, তিনি বলেছেন: (হে আল্লাহ! তাদের ভগ্ন দশাকে পূর্ণ করুন, তাদের বিতাড়িতদের আশ্রয় দিন এবং তাদের মধ্যে কোনো যাচককে আমাকে দেখিও না)। অন্য এক বর্ণনায় আছে, দরিদ্রকে (দেখিও না)।

একটি হাসান (حسن) হাদিসে এসেছে: (নিশ্চয়ই শত্রু এমন কোনো সম্প্রদায়ের ওপর জয়ী হতে পারবে না যাদের পতাকা—অথবা বলেছেন নিশান—বনু বকর বিন ওয়াইল গোত্রের কোনো ব্যক্তির নিকট থাকবে)।

‌তুজিব ও তামীম গোত্রের ফযিলত সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ

তুজিব রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাথে ইয়ারুব বিন ইয়াশজুব-এর বংশে গিয়ে মিলিত হন। একটি হাদিসের মধ্যে অতিক্রান্ত হয়েছে: (আর তুজিব সম্প্রদায় আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ডাকে সাড়া দিয়েছে)।

তামীম রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাথে ইলিয়াস বিন মুযার-এর বংশে গিয়ে মিলিত হন।

সহিহাইন-এ বর্ণিত আছে যে, আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শোনা তিনটি কারণে আমি তাদের ভালোবাসি: (তারা মানুষের ওপর অত্যন্ত কঠোর)। আর যখন তাদের সদকা আসলো, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: (এগুলো আমাদেরই কওমের সদকা)। আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহার নিকট ওই গোত্রের একজন বন্দি নারী ছিল, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বললেন: (তাকে মুক্ত করে দাও, কারণ সে ইসমাইল আলাইহিস সালামের বংশধর)।

এবং এটি সহিহ (صح) যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম যখন তাদের জাকাত দেখলেন তখন বললেন: (এগুলো আমারই কওমের গবাদিপশু)।

তাদের মধ্যে জনৈক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের নিকট মর্যাদাপ্রাপ্ত হলেন, তখন তিনি বললেন: (বনু তামীম সম্পর্কে ভালো ছাড়া আর কিছু বলো না; কারণ তারা দাজ্জালের বিরুদ্ধে দীর্ঘতম বর্শার অধিকারী হবে)।

অন্য এক বর্ণনায় এসেছে: (মহামর্যাদাপূর্ণ যুদ্ধসমূহে তারা সবচেয়ে কঠোর যোদ্ধা হবে)।

একটি দুর্বল (ضعيف) হাদিসে রয়েছে: (তারা সুদৃঢ় পদধারী, বিশালাকার মস্তকধারী, শেষ জামানায় সত্যের সাহায্যকারী এবং দাজ্জালের বিরুদ্ধে কঠোরতম জাতি)।

আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত একটি দুর্বল (ضعيف) হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম মাঝে মাঝে আমার কাঁধে হাত দিয়ে বলতেন: (বনু তামীমকে ভালোবাসো)।

একটি হাদিসে এসেছে: (আর যখন সংখ্যাধিক্যের গর্ব করবে, তখন তামীম গোত্রকে দিয়ে তা করো)।

এবং একটি হাদিস অতিক্রান্ত হয়েছে: (তারা সুদৃঢ় পদধারী, বিজ্ঞ বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন, ধীসম্পন্ন, বিশালাকার মস্তকধারী এবং শেষ জামানায় দাজ্জালের বিরুদ্ধে কঠোরতম মানুষ)।

হাদিসসমূহ: আর মুযারের কুঁজ বা ভরকেন্দ্র হলো বনু তামীমের এই গোষ্ঠী।

‌সাকিফ গোত্রের ফযিলত সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ

সাকিফ গোত্র রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাথে ইলিয়াস বিন মুযার-এর বংশে গিয়ে মিলিত হন। তাদের সম্পর্কে একটি সহিহ (صحيح) হাদিস অতিক্রান্ত হয়েছে: (হে আল্লাহ! আপনি সাকিফ গোত্রকে হিদায়াত দান করুন)।

ইমাম তিরমিজি এমন এক সনদে বর্ণনা করেছেন যার কোনো কোনো বর্ণনাকারীর ব্যাপারে পর্যালোচনা (نظر) রয়েছে: জনৈক গ্রাম্য ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে একটি উটের বাচ্চা উপহার দিল, বিনিময়ে তিনি তাকে ছয়টি উটের বাচ্চা দিলেন। কিন্তু সে এতে অসন্তুষ্ট হলো। বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের নিকট পৌঁছালে তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন এবং বললেন: (অমুক আমাকে একটি উটনি উপহার দিয়েছে এবং আমি তাকে এর বিনিময়ে ছয়টি উটের বাচ্চা দিয়েছি, তবুও সে অসন্তুষ্ট। আমি সংকল্প করেছি যে, কুরাইশ, আনসার, সাকিফ অথবা দাউস গোত্রের লোক ছাড়া আর কারো উপহার গ্রহণ করব না)।

অন্য এক বর্ণনায়—যা অধিকতর সহিহ (أصح)—রয়েছে: বনু ফাজারা গোত্রের জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে তার সেই উটগুলো থেকে একটি উটনি উপহার দিল যা তারা 'গাবাহ' নামক স্থান থেকে লাভ করেছিল। তিনি তাকে এর কিছু বিনিময় দিলেন কিন্তু সে অসন্তুষ্ট হলো। আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি: (আরবের কিছু লোক এমন যে, তারা কেউ উপহার দেয় আর আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী তাকে বিনিময় প্রদান করি, এরপর সে তাতে অসন্তুষ্ট হয় এবং আমার ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করতে থাকে। আল্লাহর কসম! আমার এই অবস্থানের পর আমি কুরাইশ, আনসার, সাকিফ অথবা দাউস গোত্রের লোক ছাড়া আর কোনো আরব ব্যক্তির উপহার গ্রহণ করব না)।

একটি সহিহ (صحيحة) বর্ণনায় রয়েছে: (আমি সংকল্প করেছি যে, কুরাইশ, আনসার অথবা সাকিফ গোত্র ছাড়া আর কাউকে কিছু প্রদান করব না)।

‌জুযাম ও জুহাইনা গোত্রের ফযিলত সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ

জুযাম গোত্র হাজরামাউত আল-আকবার-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত। তাদের সম্পর্কে হাদিসে অতিক্রান্ত হয়েছে: (শ্রেষ্ঠ পুরুষ হলো ইয়েমেনবাসী এবং ঈমান হলো ইয়েমেনি যা লাখম ও জুযাম গোত্র পর্যন্ত বিস্তৃত)।

এবং এটিও সহিহ (صح) হয়েছে: (ঈমান হলো ইয়েমেনি—এভাবে ইশারা করলেন—লাখম ও জুযাম গোত্র পর্যন্ত)।

এবং এটিও সহিহ (صح) হয়েছে যে, তিনি হাত দিয়ে ইশারা করে বললেন: (ঈমান হলো ইয়েমেনি এবং প্রজ্ঞা এখানে—অর্থাৎ লাখম ও জুযাম গোত্রের দিকে)।

জুহাইনা গোত্র কুযাআ-র দিকে সম্বন্ধযুক্ত এবং তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাথে মাআদ বিন আদনানের বংশে গিয়ে মিলিত হন। মতান্তরে তারা হলেন কুযাআ বিন হিমইয়ার বিন সাবা।

একটি গরিব (غريب) হাদিসে, যার বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات), তবে একজন ব্যতীত যার ব্যাপারে কোনো তাদীল (عدل) -প্রশংসা- বা জরাহ (جرح) -আঘাত- করা হয়নি:
(খণ্ড: ১) মাবলাগুল আরাব ফী ফখরিল আরব (পৃষ্ঠা: ১২)
(جهينة مني، وأنا منهم، غضبوا لغضبي، ورضوا لرضائي، أغضب لغضبهم، وأرضى لرضاهم، من أغضبهم فقد أغضبني، ومن أغضبني فقد أغضب الله تعالى) .

وفي الخبر الصحيح أنهم مع قبائل آخر (موالى ليس مولى من دون الله ورسوله) .

‌‌فصل من فضائل قبيلتي حضرموت وحمير

مر في الخبر الصحيح: (حضرموت خبر من بني الحارث) .

ومر خبر: (حضرموت خبر من كندة) .

حمير قبيلة باليمن من قحطان بن عامر، تجتمع معه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم في عامر بن شالخ في حديث غريب: جاء رجل إلى النبي صلى الله تعالى عليه وآله وسلم، فقال يا رسول الله العن حميرا، فأعرض عنه، ثم جاءه من الشق الآخر، فأعرض عنه، ثم جاءه من الشق الآخر فأعرض عنه، ثم من الشق الآخر فأعرض عنه، ثم جاء من الشق الآخر فأعرض عنه، فقال صلى الله تعالى عليه وآله وسلم: (رحم الله حميرا، أفواههم سلام، وأيديهم طعام، فهم أهل أمن وأمان) .

‌‌فصل من فضائل قبيلتي خولان ودوس

خولان العالية من قضاعة يجتمعون معه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم في معد ابن عدنان، وقيل: من حمير بن سبأ، ويجتمعون في عامر بن شالخ.

روى أحمد والطبراني (أنه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم صلى على خولان العالية) .

دوس بطن كبير من الأزد في الصحيحن أن الطفيل بن عمرو الدوسي جاء للنبي صلى الله تعالى عليه وآله وسلم فقال: إن دوسا قد هلكت، وعصت، أبت، فادع الله عليهم وظن الناس أنه يدعو عليهم فقال.

(اللهم اهد دوسا، وائت بهم) .

وفي حديث في سنده مقال قدم عليه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم أربعمائة من دوس، فقال: (مرحبا أحسن الناس وجوها، وأطيبهم أفواها، وأعظمهم أمانة) .

‌‌فصل من فضائل السكاسك والسكون

السكاسك والسكون بطنان كبيران من كندة.

روى أحمد (صلى الله تعالى عليه وآله وسلم على السكاسك والسكون) .

وفي حديث صحيح لكن فيه إنقطاع عن معاذ بعثني رسول الله صلى الله تعالى عليه وآله وسلم إلى اليمن فقال: (لعلك أن تمر بقبري ومسجدي، لقد بعثتك إلى قوم رقيقة قلوبهم، يقاتلون على الحق مرتين، فقاتل عمن أطاعك منهم من عصاك، ثم يغيثون إلى الإسلام حتى تبادر المرأة زوجها والولد والده، والأخ أخاه، فأنزل بين الحيين السكون والسكاسك) .

‌‌فصل من فضائل قبيلتي سليم وطيىء وغيرهما

سليم يجتمعون معه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم في مضر بن نزار، قال فيهم صلى الله تعالى عليه وآله وسلم مع قبائل مرت: (أوليائي ليس لهم ولى من دون الله ورسوله) ، بتوضيعة بن ربيعة يجتمعون معه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم في نزار بن معد.

أخرج الطبراني بسند فيه مجهول: أن رجلا منهم أتى النبي صلى الله تعالى عليه وآله وسلم فقال له: من أنت؟ فقال: أن من ضبيعة بن ربيعة.

فقال صلى الله تعالى عليه وآله وسلم: (خير ربيعة عبد القيس، ثم الحي الذي أنت منهم) .

طىء يجتمعون معه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم في عابر بن شالخ.

في مسلم عن عمر - رضي الله تعالى عنه - قال: أول صدقة بيضت وجه رسول الله صلى الله تعالى عليه وآله وسلم، ووجه أصحابه صدقة طىء.

‌‌فصل ما جاء في فضائل بعض قبائل العرب

بنو عامر بن صعصعة يجتمعون معه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم في مضر بن نزار.

مر أنه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم سئل عنهم فقال: (جمل أزهر يأكل من أطراف الشجر) .

وفي حديث حسن: أتينا النبي صلى الله تعالى عليه وآله وسلم بالأبطح، وهو في قبة له حمراء، فقال: من أنتم؟ فقلنا: من بني عامر.

فقال: مرحبا، وفي رواية (مرحبا بكم أنتم) ، وفي رواية: (وأنا منكم) .

بنو عاملة يجتمعون معه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم في عابر بن شالخ.

مر في حديث حسن: (والإيمان إلى لخم وجذام وعاملة) .

عبد القيس يجتمعون معه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم في نزار بن معد.

في حديث غريب (أنا حجيج من ظلم عبد القيس) .

وفي آخر حسن: (خير أهل المشرق عبد القيس) .

وفي آخر غريب: (إنهم لما وفدوا عليه قال لهم: (أسلمت عبد القيس طوعا، وأسلم الناس كرها، فبارك الله في عبد القيس، وموالى عبد القيس) .

ومر حديث: (اللهم اغفر لعبد القيس ثلاثا) .

‌‌فصل من فضائل بني عبيد

بنو عبيد بطن من تميم يجتمعون معه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم في إلياس ابن مضر.
(জুহাইনা আমার থেকে, আর আমি তাদের থেকে। তারা আমার অসন্তুষ্টিতে অসন্তুষ্ট হয় এবং আমার সন্তুষ্টিতে সন্তুষ্ট হয়। আমি তাদের অসন্তুষ্টিতে অসন্তুষ্ট হই এবং তাদের সন্তুষ্টিতে সন্তুষ্ট হই। যে তাদের রাগান্বিত করল সে আমাকেই রাগান্বিত করল, আর যে আমাকে রাগান্বিত করল সে মহান আল্লাহ তাআলাকেই রাগান্বিত করল।)

এবং সহিহ (صحيح) সংবাদে এসেছে যে, তারা অন্যান্য গোত্রের সাথে আল্লাহর পক্ষ থেকে নিযুক্ত বন্ধু (মওলা), আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ব্যতীত তাদের কোনো অভিভাবক নেই।

‌‌হাদরামাউত ও হিমইয়ার গোত্রদ্বয়ের ফজিলাত সম্পর্কিত একটি পরিচ্ছেদ

সহিহ (صحيح) সংবাদে বর্ণিত হয়েছে: (হাদরামাউত বনু হারিসের চেয়ে উত্তম)।

আরও সংবাদ বর্ণিত হয়েছে: (হাদরামাউত কিন্দাহর চেয়ে উত্তম)।

হিমইয়ার হলো ইয়ামেনের একটি গোত্র যা কাহতান বিন আমিরের বংশোদ্ভূত। একটি গরিব (غريب) হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আমির বিন শালিখের বংশপরম্পরায় মিলিত হয়: এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল, 'হে আল্লাহর রাসুল! হিমইয়ার গোত্রকে লানত করুন।' তিনি তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। অতঃপর সে অন্য দিক থেকে এল, তিনি মুখ ফিরিয়ে নিলেন। এভাবে সে কয়েকবার বিভিন্ন দিক থেকে এল এবং তিনি মুখ ফিরিয়ে নিলেন। অবশেষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: (আল্লাহ হিমইয়ারের প্রতি রহম করুন; তাদের মুখমণ্ডল সালাম স্বরূপ এবং তাদের হাত অন্নদানকারী। তারা নিরাপত্তা ও প্রশান্তির অধিকারী)।

‌‌খাওলান ও দাওস গোত্রদ্বয়ের ফজিলাত সম্পর্কিত একটি পরিচ্ছেদ

কুদায়াহ বংশের খাওলানুল আলিয়াহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মাআদ ইবনে আদনানের বংশে মিলিত হয়। কেউ কেউ বলেছেন তারা হিমইয়ার বিন সাবার বংশোদ্ভূত এবং তারা আমির বিন শালিখের বংশে মিলিত হয়।

আহমদ এবং তাবারানি বর্ণনা করেছেন (যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাওলানুল আলিয়াহ গোত্রের জন্য দোয়া করেছেন)।

দাওস হলো আজদ বংশের একটি বড় শাখা। সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, তুফাইল বিন আমর আদ-দাওসি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন: 'দাওস গোত্র ধ্বংস হয়ে গেছে, তারা অবাধ্য হয়েছে এবং অস্বীকার করেছে। সুতরাং আপনি তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে বদদোয়া করুন।' লোকজন ধারণা করল যে তিনি তাদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করবেন, কিন্তু তিনি বললেন:

(হে আল্লাহ! দাওস গোত্রকে হেদায়েত দিন এবং তাদেরকে ইসলামের দিকে নিয়ে আসুন)।

এবং একটি হাদিসে যার সনদে আপত্তি (مقال) রয়েছে, বর্ণিত হয়েছে যে দাওস গোত্রের চারশ লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আগমন করলে তিনি বললেন: (মারহাবা! তারা মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর চেহারার অধিকারী, তাদের মুখমণ্ডল সবচেয়ে পবিত্র এবং আমানতদারিতায় তারা সবচেয়ে মহান)।

‌‌সাকাসিক ও সাকুন গোত্রের ফজিলাত সম্পর্কিত একটি পরিচ্ছেদ

সাকাসিক ও সাকুন হলো কিন্দাহ বংশের দুটি বড় শাখা।

আহমদ বর্ণনা করেছেন (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাকাসিক ও সাকুন গোত্রের জন্য দোয়া করেছেন)।

এবং একটি সহিহ (صحيح) হাদিসে, তবে তাতে বিচ্ছিন্নতা (إنقطاع) রয়েছে, মুয়াজ (রা.) থেকে বর্ণিত যে: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ইয়ামেনে পাঠানোর সময় বললেন: (সম্ভবত তুমি আমার কবর ও মসজিদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে। আমি তোমাকে এমন এক জাতির কাছে পাঠাচ্ছি যাদের অন্তর অত্যন্ত কোমল, তারা সত্যের জন্য দুইবার যুদ্ধ করবে। সুতরাং তাদের মধ্যে যারা তোমার আনুগত্য করবে, তাদেরকে নিয়ে অবাধ্যদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো। অতঃপর তারা ইসলামের দিকে দ্রুত ধাবিত হবে, এমনকি একজন নারী তার স্বামীর আগে, সন্তান তার পিতার আগে এবং ভাই তার ভাইয়ের আগে ইসলামের দিকে অগ্রসর হবে। অতঃপর তুমি সাকুন ও সাকাসিক গোত্রদ্বয়ের মাঝে অবস্থান করবে)।

‌‌সুলাইম, তাইয়্যি এবং অন্যান্য গোত্রের ফজিলাত সম্পর্কিত একটি পরিচ্ছেদ

সুলাইম গোত্র নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মুদার বিন নিযারের বংশে মিলিত হয়। ইতিপূর্বে উল্লিখিত গোত্রগুলোর সাথে তাদের সম্পর্কেও তিনি বলেছিলেন: (তারা আমার বন্ধু, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ব্যতীত তাদের কোনো অভিভাবক নেই)। বনু দুবাইআ বিন রাবিআ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে নিযার বিন মাআদ-এর বংশে মিলিত হয়।

তাবারানি এমন একটি সনদে বর্ণনা করেছেন যাতে একজন অজ্ঞাত (مجهুল) বর্ণনাকারী রয়েছে: তাদের মধ্যকার এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এলে তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: 'তুমি কে?' সে বলল: 'আমি দুবাইআ বিন রাবিআ গোত্রের লোক'।

অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: (রাবিআ গোত্রের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো আবদুল কায়েস, তারপর সেই গোত্র যেখান থেকে তুমি এসেছ)।

তাইয়্যি গোত্র নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আবের বিন শালিখের বংশে মিলিত হয়।

মুসলিম-এ বর্ণিত ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: প্রথম যে সদকা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের চেহারাকে উজ্জ্বল ও আনন্দিত করেছিল, তা ছিল তাইয়্যি গোত্রের সদকা।

‌‌আরবের কিছু গোত্রের ফজিলাত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার পরিচ্ছেদ

বনু আমির বিন সা'সাআ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মুদার বিন নিযারের বংশে মিলিত হয়।

পূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন: (তারা হলো উজ্জ্বল শ্বেত উষ্ট্রের মতো যা গাছের অগ্রভাগ থেকে ভক্ষণ করে)।

এবং একটি হাসান (حسن) হাদিসে বর্ণিত: আমরা আবতাহ নামক স্থানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এলাম, তখন তিনি একটি লাল চামড়ার তাঁবুতে ছিলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: 'তোমরা কারা?' আমরা বললাম: 'বনু আমিরের লোক'।

তিনি বললেন: 'মারহাবা'। অন্য রেওয়ায়েতে আছে (তোমাদের প্রতি মারহাবা), আবার অন্য রেওয়ায়েতে আছে: (আর আমিও তোমাদের অন্তর্ভুক্ত)।

বনু আমিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আবের বিন শালিখের বংশে মিলিত হয়।

একটি হাসান (حسن) হাদিসে পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে: (আর ঈমান হলো লাখম, জুযাম এবং আমিলা গোত্রের মাঝে)।

আবদুল কায়েস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে নিযার বিন মাআদ-এর বংশে মিলিত হয়।

একটি গরিব (غريب) হাদিসে রয়েছে (যে ব্যক্তি আবদুল কায়েসের প্রতি জুলুম করবে, আমি তার বিরুদ্ধে কিয়ামতের দিন দলিল পেশকারী হব)।

অন্য একটি হাসান (حسن) হাদিসে আছে: (পূর্বাঞ্চলীয় অধিবাসীদের মধ্যে আবদুল কায়েস শ্রেষ্ঠ)।

অন্য একটি গরিব (غريب) হাদিসে বর্ণিত: (যখন তাদের প্রতিনিধি দল তাঁর কাছে এল, তিনি তাদের সম্পর্কে বললেন: আবদুল কায়েস স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেছে, যেখানে অন্যান্য মানুষ অনিচ্ছাসত্ত্বেও ইসলাম গ্রহণ করেছে। সুতরাং আল্লাহ আবদুল কায়েস এবং তাদের বন্ধুদের ওপর বরকত নাজিল করুন)।

পূর্বে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে: (হে আল্লাহ! আবদুল কায়েসকে ক্ষমা করুন - তিনবার)।

‌‌বনু উবাইদ-এর ফজিলাত সম্পর্কিত একটি পরিচ্ছেদ

বনু উবাইদ হলো তামীম বংশের একটি শাখা, তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ইলিয়াস বিন মুদারের বংশে মিলিত হয়।
(খণ্ড: ১) মাবলাগুল আরাব ফী ফখরিল আরব (পৃষ্ঠা: ১৩)
في حديث في سنده مقال عن يزيد بن معبد قال: وفدت على النبي صلى الله تعالى عليه وآله وسلم فسألني عن اليمامة فيمن العدل، من أهلها، فأردت أن أقول في بني عبد الدار، ثم كرهت أن أكذب النبي صلى الله تعالى عليه وآله وسلم، فقلت: العدل فيهم في بني عبيد، فقال: (صدقت أرض تثبت على شدة، ولن تهلك) .

قالوا: يا رسول الله بماذا؟ قال: (بأنهم يعملون بأيديهم، ويؤاكلون عبيدهم) .

‌‌فصل من فضائل بني عذرة وبني عنبر

بنو عذرة بن سعد بن قضاعة وهي: قيل: من معد،، وقيل: من اليمن. في حديث أنهم أول من أدى الصدقة طائعين من قبل أنفسهم.

بنو العنبر من تميم، ويقال فيهم بلعنبر‌‌ يجتمعون معه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم في إلياس بن مضر.

صح عن عائشة - رضي الله تعالى عنها - أنه كان عليها رقبة من بني إسماعيل، فجاء سبى من بني خولان، فأرادت أن تعتق منهم، فنهاها صلى الله تعالى عليه وآله وسلم، ثم جاء سبي من بني العنبر، فأمرها النبي صلى الله تعالى عليه وآله وسلم أن تعتق منهم.

وفي حديث غريب: (أولئك - بنو العنبر - قومنا) .

‌‌فصل من فضائل قبيلة عنزة

عنزة حي من ربيعة ويجتمعون معه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم في نزار بن معد.

في حديث حسن: أن عمر سأل حنظلة بن نعيم، وقد وفد عليه، ممن أنت؟ قال: من عنزة، فقال: سمعت رسول الله صلى الله تعالى عليه وآله وسلم يقول: (حي من ههنا - وأشار بيده نحو المشرق - مبغى عليهم منصورون) .

ومر حديث له: لما قدم عليه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم وفدهم قال: من هؤلاء؟ قالوا: عنزة، قال: بخٍ بخ بخ بخٍ، نعم الحي عنزة) الحديث.

‌‌فصل من فضائل قبيلة قيس

قيس ويمن، قال الزين العراقي: الظاهر أن قيسا هذا هو بن عيلان بالمهملة كما يدل عليه حديثان تقدما، ويأتيان، وهو ابن مضر.

وقيل: قيس بن عيلان بن مضر، وعيلان بالمهملة فرسه، أو رجل حصانه أو كلبه، ويجتمعون معه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم في مضر بن نزار.

وفي حديث حسن غريب: ذكرت قيس عند رسول الله صلى الله تعالى عليه وآله وسلم، فقال: (رحم الله قيسا) .

قيل: يا رسول الله تترحم على قيس؟ قال: (نعم إنه كان على دين إسماعيل، يا قيس حي يمنا يا يمن حي قيسا، إ قيسا فرسان الله في الأرض، والذي نفسي بيده ليأتين على الناس زمان ليس لهذا الدين نامر غير قيس، إن قيسا ضراء الله في الأرض) يعنى أسد الله.

وفي حديث غريب: (رحم الله قيسا، رحم الله قيسا، رحم الله قيسا، إن لله فرسانا من أهل السماء مسومين، ومن الأرض معلومين، ففرسان الله في الأرض قيس إنما قيس بيضة تفلقت عنا أهل البيت) ومر في حديث (وأما فرسانها - أي مضر - فهذا الحي من قيس عيلان) .

ومر في آخر: (وإذا حاربت فحارب بقيس، فإنهم فرسان الله في أرضه، يحارب بهم أعداءه، وإنهم آخر من يقاتل عن الإسلام) .

‌‌فصل من فضائل قبائل متفرقة

بنو كعب: يطلقون على قبائل متعددة.

ومر فيهم حديث: (إن الله ورسوله مولاهم) لم يدر من المراد فيهم.

لخم: قبيلة باليمن من قحطان يجتمعون معه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم في عابر بن شالخ.

مر فيهم حديث: (الإيمان إلى لخم وجذام) .

مذحج: بالذال المعجمة كمجلس قبيلة باليمن تجتمع معه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم في عابر بن شالخ.

مر حديث: (وأكثر القبائل في الجنة مذحج) .

بنو مرة بن عبيد بطن من تميم.

في حديث غريب أن عكراش منهم، لما قدم بصدقاتهم إلى النبي صلى الله تعالى عليه وآله وسلم قال هذه إبل قومي، هذه صدقات قومي، ثم انطلق به صلى الله تعالى عليه وآله وسلم إلى بيت أم سلمه، فقدمت له قصعة من ثريد، فطاشت يده فيها فأمسكها صلى الله تعالى عليه وآله وسلم بيساره، ثم قال: (كل من موضع واحد، فإنه طعام واحد) .

ثم قدم لهم طبق فيه ألوان رطب وتمر، فحال يده، فقال: (يا عكراش كل من حيث شئت، فإنه من غيرلون واحد، ثم أتى بماء فغسل يده، ثم مسح بيل كفيه يديه ووجهه وذراعيه ورأسه ثم قال: (يا عكراش هكذا الوضوء مما غيرت النار) .

‌‌فصل مزينة

يجتمعون معه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم

‌‌في إلياس بن مضر. ومزينة قيل: ذكر، وقيل: أنثى هي أمة.

مر في حديث في الصحيحين أنهم من جملة قبائل (ليس مولى دون الله ورسوله) .

فصل
একটি হাদিসে, যার সনদে সমালোচনা আছে (في سنده مقال), ইয়াজিদ বিন মা'বাদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের নিকট প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত হলাম। তিনি আমাকে ইয়ামামা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন যে, সেখানকার অধিবাসীদের মধ্যে ন্যায়পরায়ণ কারা? আমি বনু আবদুদ দারের কথা বলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের নিকট মিথ্যা বলা অপছন্দ করলাম। তাই আমি বললাম: তাদের মধ্যে ন্যায়পরায়ণতা বনু উবাইদ গোত্রের মধ্যে রয়েছে। তিনি বললেন: (তুমি সত্য বলেছ, সেটি এমন এক ভূমি যা কঠোরতার ওপর অটল থাকে এবং কখনো ধ্বংস হবে না)।

লোকেরা জিজ্ঞেস করল: হে আল্লাহর রাসূল, কিসের কারণে? তিনি বললেন: (এ কারণে যে, তারা নিজ হাতে কাজ করে এবং তাদের অধীনস্থদের সাথে নিয়ে আহার করে)।

‌‌পরিচ্ছেদ: বনু উযরাহ ও বনু আম্বারের ফযিলত প্রসঙ্গে

বনু উযরাহ বিন সাদ বিন কুযাআহ: বলা হয় যে, তারা মাদ-এর বংশধর, আবার বলা হয় যে, তারা ইয়ামানের বংশধর। একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, তারা প্রথম গোত্র যারা নিজেদের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছায় জাকাত প্রদান করেছিল।

বনু আম্বার তামীম গোত্রের অন্তর্ভুক্ত, তাদের 'বালআম্বার'ও বলা হয়। তারা নবী সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের বংশধারার সাথে ইলিয়াস বিন মুযার-এ গিয়ে মিলিত হয়।

আয়েশা (রা.) থেকে বিশুদ্ধ (صحيح) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁর জিম্মায় বনু ইসমাইল গোত্রের একজন দাস মুক্ত করার মানত ছিল। এরপর বনু খাওলান গোত্র থেকে কিছু যুদ্ধবন্দী এল, তিনি তাদের মধ্য থেকে কাউকে মুক্ত করতে চাইলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে নিষেধ করলেন। এরপর যখন বনু আম্বার গোত্র থেকে যুদ্ধবন্দী এল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে তাদের মধ্য থেকে দাস মুক্ত করার নির্দেশ দিলেন।

একটি অপরিচিত (غريب) হাদিসে এসেছে: (ওরা—বনু আম্বার—আমাদেরই কওম)।

‌‌পরিচ্ছেদ: আনযাহ গোত্রের ফযিলত

আনযাহ হলো রাবিআহ গোত্রের একটি শাখা এবং তারা নবী সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের বংশধারার সাথে নিযার বিন মাদ-এ গিয়ে মিলিত হয়।

একটি উত্তম (حسن) হাদিসে বর্ণিত: উমর (রা.) হানজালা বিন নুআইমকে জিজ্ঞেস করলেন, যখন তিনি তাঁর কাছে প্রতিনিধি হিসেবে এলেন—তুমি কোন গোত্রের? তিনি বললেন: আনযাহ গোত্রের। উমর (রা.) বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: (এখান থেকে একটি গোত্র—তিনি হাত দিয়ে পূর্ব দিকে ইশারা করলেন—যাদের ওপর বিদ্রোহ করা হবে কিন্তু তারা সাহায্যপ্রাপ্ত ও বিজয়ী হবে)।

তাদের সম্পর্কে অন্য একটি হাদিস গত হয়েছে যে: যখন তাদের প্রতিনিধি দল নবী সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের নিকট এল, তিনি বললেন: এরা কারা? তারা বলল: আনযাহ। তিনি বললেন: (সাবাশ, সাবাশ! আনযাহ কতই না উত্তম গোত্র) হাদিস শেষ পর্যন্ত।

‌‌পরিচ্ছেদ: কাইস গোত্রের ফযিলত

কাইস এবং ইয়ামান। জাইন আল-ইরাকি বলেন: বাহ্যত এই কাইস হলো আইলান-এর পুত্র, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত এবং সামনে আগত দুটি হাদিস থেকে বোঝা যায়। আর সে হলো মুযার-এর পুত্র।

বলা হয়: কাইস বিন আইলান বিন মুযার; আইলান হলো তার ঘোড়া বা তার ঘোড়সওয়ার অথবা তার শিকারি কুকুর। তারা নবী সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাথে মুযার বিন নিযার-এ গিয়ে মিলিত হয়।

একটি উত্তম অপরিচিত (حسن غريب) হাদিসে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সামনে কাইস গোত্রের উল্লেখ করা হলে তিনি বললেন: (আল্লাহ কাইসের ওপর রহম করুন)।

জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কি কাইসের জন্য দোয়া করছেন? তিনি বললেন: (হ্যাঁ, সে ইসমাইল (আ.)-এর দ্বীনের ওপর ছিল। হে কাইস, তোমরা ইয়ামানের সাথে বন্ধুত্ব করো; হে ইয়ামান, তোমরা কাইসের সাথে বন্ধুত্ব করো। নিশ্চয়ই কাইস যমীনে আল্লাহর অশ্বারোহী বাহিনী। সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, মানুষের ওপর এমন এক সময় আসবে যখন কাইস ছাড়া এই দ্বীনের আর কোনো সাহায্যকারী থাকবে না। নিশ্চয়ই কাইস যমীনে আল্লাহর সিংহ)।

অন্য একটি অপরিচিত (غريب) হাদিসে এসেছে: (আল্লাহ কাইসকে রহম করুন, আল্লাহ কাইসকে রহম করুন, আল্লাহ কাইসকে রহম করুন। নিশ্চয়ই আসমানবাসীদের মধ্যে আল্লাহর কিছু চিহ্নিত অশ্বারোহী বাহিনী রয়েছে এবং যমীনবাসীদের মধ্যেও সুপরিচিত বাহিনী রয়েছে। যমীনে আল্লাহর অশ্বারোহী বাহিনী হলো কাইস। কাইস হলো একটি ডিমের মতো যা আমাদের আহলে বাইতের জন্য উন্মোচিত হয়েছে)। অন্য একটি হাদিসে গত হয়েছে: (আর মুযার গোত্রের অশ্বারোহী হলো কাইস আইলানের এই শাখা)।

আরেকটি হাদিসের শেষে গত হয়েছে: (আর যখন তুমি যুদ্ধ করবে, তখন কাইসকে নিয়ে যুদ্ধ করো। কারণ তারা যমীনে আল্লাহর অশ্বারোহী বাহিনী, যাদের মাধ্যমে তিনি তাঁর শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। এবং তারাই সর্বশেষ দল যারা ইসলামের পক্ষে লড়াই করবে)।

‌‌পরিচ্ছেদ: বিবিধ গোত্রের ফযিলত

বনু কাব: এই নাম একাধিক গোত্রের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

তাদের সম্পর্কে হাদিস গত হয়েছে যে: (নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল তাদের অভিভাবক)। তবে এর দ্বারা সুনির্দিষ্টভাবে কাদের বোঝানো হয়েছে তা জানা যায়নি।

লাখম: ইয়ামানের একটি গোত্র যা কাহলানের বংশোদ্ভূত। তারা নবী সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাথে আবির বিন শালিহ-এ গিয়ে মিলিত হয়।

তাদের সম্পর্কে হাদিস গত হয়েছে যে: (ঈমান লাখম ও জুযাম গোত্রের দিকে)।

মাযহিজ: ইয়ামানের একটি গোত্র, তারা নবী সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাথে আবির বিন শালিহ-এ গিয়ে মিলিত হয়।

হাদিস গত হয়েছে: (জান্নাতে অধিকাংশ গোত্র হবে মাযহিজ)।

বনু মুররাহ বিন উবাইদ তামীম গোত্রের একটি শাখা।

একটি অপরিচিত (غريب) হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, উকরাশ তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি যখন তাদের জাকাত নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের নিকট এলেন, তখন বললেন: এগুলো আমার কওমের উট এবং আমার কওমের জাকাত। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে নিয়ে উম্মে সালামাহ (রা.)-এর ঘরে গেলেন। উম্মে সালামাহ (রা.) তাঁদের সামনে সারীদের (এক প্রকার খাবার) একটি পাত্র পেশ করলেন। উকরাশ পাত্রের বিভিন্ন দিকে হাত বাড়াচ্ছিলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বাম হাত দিয়ে উকরাশের হাতটি ধরলেন এবং বললেন: (একই স্থান থেকে খাও, কারণ এটি একই প্রকারের খাবার)।

এরপর তাঁদের সামনে একটি থালা আনা হলো যাতে বিভিন্ন প্রকারের কাঁচা ও পাকা খেজুর ছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম নিজের হাত সরিয়ে (বিভিন্ন দিক থেকে) খেতে থাকলেন এবং বললেন: (হে উকরাশ, তোমার যেখান থেকে ইচ্ছা খাও, কারণ এগুলো সব এক প্রকারের নয়)। এরপর পানি আনা হলো, তিনি হাত ধুলেন এবং তাঁর হাতের তালু দিয়ে মুখমণ্ডল, দুই হাত, বাহু ও মাথা মুছলেন। তারপর বললেন: (হে উকরাশ, আগুন দিয়ে রন্ধনকৃত খাবার খাওয়ার পর অজু (وضوء) এভাবেই করতে হয়)।

‌‌পরিচ্ছেদ: মুযাইনাহ

তারা নবী সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাথে মিলিত হয়

‌‌ইলিয়াস বিন মুযার-এ। মুযাইনাহ সম্পর্কে বলা হয়: এটি কোনো পুরুষের নাম, আবার বলা হয়: এটি জনৈক মহিলার নাম।

সহীহাইন-এর একটি হাদিসে গত হয়েছে যে, তারা সেই সকল গোত্রের অন্তর্ভুক্ত যাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে: (আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ছাড়া তাদের আর কোনো অভিভাবক নেই)।

পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) মাবলাগুল আরাব ফী ফখরিল আরব (পৃষ্ঠা: ১৪)
بنو مضر، وأخرج تمام خبر: (مضر صخرة الله التي لا تقل) .

‌‌‌‌‌‌‌‌فصل

‌‌المغافر: قبيلة باليمن يجتمعون معه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم في عابر بن شالخ.

في حديث حسن: أنه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم أتى بثوب من عملهم فلعنوا، فقال صلى الله تعالى عليه وآله وسلم لمن لعنهم: (لا تلعنهم فإنهم منى، وأنا منهم) .

فصل

بنو ناجية: بطن من قريش يجتمعون معه صلى الله تعالى في لؤى بن غالب.

روى أحمد أنه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم قال فيهم: (أنا منهم، وهم مني) .

فصل

النخع: قبيلة كبيرة من مذحج‌‌ يجتمعون معه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم في عابر بن شالخ.

في الحديث الصحيح عن ابن مسعود - رضي الله تعالى عنه - قال: سمعت رسول الله صلى الله تعالى عليه وآله وسلم يدعو لهذا الحي من النخع، أو يثني عليهم حتى تمنيت أن أكون منهم.

‌‌فصل همدان

يجتمعون معه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم في عابر.

في حديث صحيح منقطع: (همدان هامة اليمن) .

فصل

هوازن: من قيس بن عيلان يجتمعون معه صلى الله تعالى عليه وآله وسلم في مضر.

مر فيهم أنهم زهرة تنبع ماء

‌‌خاتمة

في حديث حسن: (أنا سابق العرب إلى الجنة) .

وفي آخر حسن أيضا: (السباق أربعة: أنا سابق العرب، وسلمان سابق فارس، وبلال سابق الحبشة، وصهيب سابق الروم) .

وفي خبر ضعيف غريب: (والذي نفسي بيده ما أنزل الله وحيا قط على نبيه إلا بالعربية، ثم يكون بعد بلغة قومه بلسانه) .

ومر خبر: (أنا عربي، والقرآن عربي، وكلام أهل الجنة عربي) .

وردوه وحديث آخر بمعناه ضعيفان.

وصحح الحاكم حديث: (من أحسن منكم أن يتكلم بالعربية فلا يتكلم بالفارسية، فإنه يورث النفاق) .

وحديث: (إن التكلم بالفارسية يزيد في الخبث، وينقص المروؤة) .

وردوه بأنه حديث باطل أو ضعيف جدا.

وفقنا الله للإستمساك بالسنن الأعدل، الأقوم، وتجاوز عنا ما علمنا وما لم نعلم، إنه على كل شيء قدير، وبالإجابة جدير.

تم بحمد الله
বনু মুদার। আর তাম্মাম একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন: (মুদার হলো আল্লাহর শিলাখণ্ড যা টলে না)।

‌‌‌‌‌‌‌‌পরিচ্ছেদ

‌‌আল-মুগাফির: ইয়ামানের একটি গোত্র, যারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাথে আবির ইবনে শালিহ-এর মাধ্যমে মিলিত হয়।

একটি হাসান (حسن) হাদিসে বর্ণিত আছে যে: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের নিকট তাদের হস্তশিল্পের একটি কাপড় আনা হলো। তখন লোকেরা তাদের অভিশাপ দিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম লানত প্রদানকারীদের বললেন: (তাদের অভিশাপ দিও না, কারণ তারা আমার অন্তর্ভুক্ত এবং আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত)।

পরিচ্ছেদ

বনু নাজিয়াহ: কুরাইশের একটি শাখা, যারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলার সাথে লুআই ইবনে গালিব-এর মাধ্যমে মিলিত হয়।

ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তাদের সম্পর্কে বলেছেন: (আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত এবং তারা আমার অন্তর্ভুক্ত)।

পরিচ্ছেদ

নাখাহ: মাজহিজ গোত্রের একটি বড় শাখা‌‌ যারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাথে আবির ইবনে শালিহ-এর মাধ্যমে মিলিত হয়।

ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু হতে বর্ণিত একটি সহিহ (صحيح) হাদিসে তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে নাখাহ গোত্রের এই দলের জন্য দোয়া করতে শুনেছি অথবা তাদের প্রশংসা করতে শুনেছি, এমনকি আমি আকাঙ্ক্ষা করেছিলাম যে আমিও যদি তাদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।

‌‌হামদান পরিচ্ছেদ

তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাথে আবিরের মাধ্যমে মিলিত হয়।

একটি বিচ্ছিন্ন (منقطع) সহিহ (صحيহ) হাদিসে আছে: (হামদান হলো ইয়ামানের চূড়া)।

পরিচ্ছেদ

হাওয়াযিন: কায়েস ইবনে আয়লানের বংশধর, যারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাথে মুদারে মিলিত হয়।

তাদের সম্পর্কে ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তারা এমন এক প্রস্ফুটিত ফুল যা থেকে পানি প্রবাহিত হয়।

‌‌উপসংহার

একটি হাসান (حسن) হাদিসে আছে: (আমি আরবদের মধ্যে সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশকারী)।

অন্য আরেকটি হাসান (حسن) হাদিসেও আছে: (অগ্রগামী ব্যক্তি চারজন: আমি আরবদের মধ্যে অগ্রগামী, সালমান পারস্যের মধ্যে অগ্রগামী, বিলাল হাবশার মধ্যে অগ্রগামী এবং সুহাইব রোমানদের মধ্যে অগ্রগামী)।

একটি দুর্বল (ضعيف) এবং গরিব (غريب) বর্ণনায় আছে: (সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, আল্লাহ তাঁর কোনো নবীর প্রতি ওহি অবতীর্ণ করলেই তা কেবল আরবিতেই করতেন, অতঃপর তা সেই নবীর সম্প্রদায়ের ভাষায় তাঁর মুখ দিয়ে ব্যক্ত হতো)।

একটি বর্ণনা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে: (আমি আরবি, কুরআন আরবি এবং জান্নাতবাসীদের ভাষাও আরবি)।

মুহাদ্দিসগণ এটি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং সমার্থক অন্য একটি হাদিসসহ উভয়টিই দুর্বল (ضعيف)।

ইমাম আল-হাকিম এই হাদিসটিকে সহিহ (صحح) সাব্যস্ত করেছেন: (তোমাদের মধ্যে যার পক্ষে সুন্দরভাবে আরবিতে কথা বলা সম্ভব, সে যেন ফারসিতে কথা না বলে; কারণ এটি নিফাক বা কপটতা সৃষ্টি করে)।

এবং এই হাদিসটিও: (নিশ্চয়ই ফারসি ভাষায় কথা বলা মন্দ স্বভাব বৃদ্ধি করে এবং মনুষ্যত্ব কমিয়ে দেয়)।

মুহাদ্দিসগণ এটি বাতিল (باطل) অথবা অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جدا) হাদিস হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবচেয়ে ন্যায়নিষ্ঠ ও সুদৃঢ় সুন্নাহসমূহকে আঁকড়ে ধরার তৌফিক দান করুন এবং আমরা যা জানি ও যা জানি না সেসব বিষয়ে আমাদের ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই তিনি সব বিষয়ে ক্ষমতাবান এবং দোয়া কবুলের যোগ্য।

আল্লাহর প্রশংসার সাথে সমাপ্ত হলো।