القسم: مسائل فقهية
الكتاب: مبلغ الأرب في فخر العرب
المؤلف: شهاب الدين أحمد بن محمد، ابن حجر الهيتمي (ت 974هـ)
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 14
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: মুবলাগিল আরাব ফি ফাখরিল আরব
লেখক: শিহাব আল-দীন আহমদ বিন মুহাম্মদ، ইবনে হাজার আল-হাইতামি (মৃত্যু ৯৭৪ হিজরি)
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
কারণ এখানে দুটি হাদিসের মধ্যে সমন্বয় সাধনের উদ্দেশ্যে খিলাফতে নবুওয়াতের প্রথম সময়কালকে বুঝানো হয়েছে, যদিও প্রথম হাদিসটি অধিক সহিহ (أصح)। খিলাফতে নবুওয়াতের প্রথম সময়কাল দ্বারা চার খলিফার শাসনকালকে বুঝানো হয়েছে, যা ছিল তিরিশ বছর; কেননা এটি হিজরি ৪০ সনে সমাপ্ত হওয়ার মাধ্যমে পূর্ণ হয়েছিল। একটি হাদিসে বারোজন খলিফার কয়েকজনকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে: (আমার পরে বারোজন খলিফা হবে, তাদের মধ্যে আবু বকর সিদ্দিক; তিনি আমার পরে সামান্য সময় অতিবাহিত করবেন, আর আরবের ঘূর্ণায়মান যাঁতাকলের সাথী, যিনি প্রশংসিত অবস্থায় জীবন অতিবাহিত করবেন এবং শহীদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করবেন)।
তারা জিজ্ঞেস করলেন: তিনি কে? তিনি বললেন: (উমর ইবনুল খাত্তাব। অতঃপর তিনি উসমানের দিকে ফিরে তাকালেন এবং বললেন: আল্লাহ যদি তোমাকে একটি জামা পরিধান করান, আর মানুষ যদি তা খুলে ফেলতে চায়, তবে তুমি তা খুলবে না)। তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন এবং এতে বিচিত্রতা (غرابة) রয়েছে বলে ইঙ্গিত করেছেন। আর আল-জাহাবি বলেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের মতো সুমহান মর্যাদা ও সূক্ষ্ম সমালোচনার অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও এটি আশ্চর্যের বিষয় যে, তিনি কীভাবে এ জাতীয় বাতিল (باطل) হাদিস বর্ণনা করেন এবং তা নিয়ে নীরব থাকেন। তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে, এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে এমন একজন আছেন যিনি অস্বীকৃত (منكر) এবং অদ্ভুত বর্ণনাসমূহের অধিকারী। তবে এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, অনেকে তাকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) বলেছেন।
আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ মুসনাদ-এর অতিরিক্ত অংশ বা জাওয়ায়েদুল মুসনাদ-এ আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার দুই কান শ্রবণ করেছে এবং আমার অন্তর রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে মুখস্থ রেখেছে যে: (মানুষ কুরাইশদের অনুসারী; তাদের সৎ লোকেরা কুরাইশদের সৎ লোকদের অনুসারী এবং তাদের মন্দ লোকেরা কুরাইশদের মন্দ লোকদের অনুসারী)।
এটি বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত (صحيح) যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন একটি ঘরের দরজায় দাঁড়ালেন যেখানে কুরাইশদের একদল লোক ছিল। তিনি দরজার দুই বাজু ধরে বললেন: (এই ঘরে কুরাইশ ছাড়া কি আর কেউ আছে?)
বলা হলো: হে আল্লাহর রাসুল, আমাদের ভাগ্নে অমুক ছাড়া আর কেউ নেই।
তিনি বললেন: (কোনো সম্প্রদায়ের ভাগ্নে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। অতঃপর তিনি বললেন: নিশ্চয়ই এই শাসন কর্তৃত্ব কুরাইশদের হাতে থাকবে; যতক্ষণ তারা দয়া প্রার্থনা করা হলে দয়া করবে এবং ইনসাফের সাথে বিচার ফয়সালা করবে)। (হাদিসের শেষ পর্যন্ত)।
আরও একটি বর্ণনা বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত (صحيح): (আমিরগণ কুরাইশ থেকে হবে যতক্ষণ তারা তিনটি কাজ করবে: যখন বিচার করবে তখন ন্যায়বিচার করবে, যখন দয়া প্রার্থনা করা হবে তখন দয়া করবে এবং যখন অঙ্গীকার করবে তখন তা পূর্ণ করবে)। (হাদিসের শেষ পর্যন্ত)।
এবং এই সংবাদটি: (ইমামগণ কুরাইশ থেকে হবে। তোমাদের ওপর তাদের যেমন অধিকার রয়েছে, তোমাদেরও তাদের ওপর অনুরূপ অধিকার রয়েছে; যতক্ষণ তারা দয়া প্রার্থনা করা হলে দয়া করবে, অঙ্গীকার করলে তা পূর্ণ করবে এবং বিচার করলে ন্যায়বিচার করবে)। (হাদিসের শেষ পর্যন্ত)।
আরেকটি বর্ণনায়, যার সনদে বিচিত্রতা (غرابة) রয়েছে: (ইমামগণ কুরাইশ থেকে হবে; তাদের সৎ ব্যক্তিরা সৎ লোকদের আমির এবং তাদের পাপাচারীরা পাপাচারীদের আমির। প্রত্যেকের জন্য অধিকার রয়েছে, সুতরাং প্রত্যেক অধিকারীকে তার অধিকার প্রদান করো। যদি তোমাদের ওপর কোনো হাবশি ক্রীতদাসকেও আমির নিযুক্ত করা হয়, তবে তার কথা শোনো ও আনুগত্য করো, যতক্ষণ না তোমাদের কাউকে তার ইসলাম এবং গর্দান উড়িয়ে দেওয়ার মধ্যে কোনো একটি বেছে নিতে বাধ্য করা হয়। যদি কাউকে তার ইসলাম এবং গর্দান উড়িয়ে দেওয়ার মধ্যে কোনো একটি বেছে নিতে বলা হয়, তবে সে যেন তার গর্দান পেতে দেয়, তার মা তাকে হারাক; কেননা তার দ্বীন চলে যাওয়ার পর তার জন্য দুনিয়া বা আখেরাত বলতে কিছু থাকবে না)।
বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত (صحيح): খিলাফত; এবং অন্য বর্ণনায়: (রাজত্ব কুরাইশদের মধ্যে এবং শাসন আনসারদের মধ্যে)।
অন্য বর্ণনায়: (বিচার ফয়সালা আনসারদের মধ্যে এবং দাওয়াত আবিসিনীয়দের মধ্যে)।
অন্য বর্ণনায়: (আজান আবিসিনীয়দের মধ্যে)। (হাদিসের শেষ পর্যন্ত)।
অন্য বর্ণনায়: (আর শরিয়ত ইয়ামেনে এবং আমানতদারি আজদ গোত্রে)।
একটি গ্রহণযোগ্য (حسن) বর্ণনায় রয়েছে: (মানুষ কল্যাণ ও অকল্যাণে কুরাইশদের অনুসারী)।
অন্য একটি গ্রহণযোগ্য (حسن) বর্ণনায় রয়েছে: (নিশ্চয়ই কুরাইশদের শ্রেষ্ঠ ইমামগণ সকল মানুষের শ্রেষ্ঠ ইমাম)।
তাবারানি এই সংবাদটি বর্ণনা করেছেন: (রামধনু হলো জমিনবাসীর জন্য নিমজ্জিত হওয়া থেকে নিরাপত্তা, আর... জমিনবাসীর জন্য নিরাপত্তা)।
অন্য বর্ণনায়: (আমার উম্মতের জন্য মতভেদ থেকে নিরাপত্তা হলো কুরাইশদের আনুগত্য করা; কুরাইশগণ আল্লাহর পরিজন)।
অন্য বর্ণনায় রয়েছে যে, তিনি এটি তিনবার বললেন: (সুতরাং যদি আরবের কোনো গোত্র তাদের বিরোধিতা করে, তবে তারা ইবলিসের দলভুক্ত হবে)। এর সনদে মতভেদপূর্ণ (مختلف فيه) বর্ণনাকারী রয়েছে।
যাইনুল ইরাকি বলেন: এই বিষয়ে সবচেয়ে চমৎকার উক্তি হলো আবু হাতিম আর-রাজির বক্তব্য, তিনি বলেছেন: সে সৎ (صالح), কিন্তু সুদৃঢ় (متين) নয়।
একটি গ্রহণযোগ্য (حسن) বর্ণনায় রয়েছে: (যে কুরাইশদের লাঞ্ছিত করতে চায়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন)।
অন্য এক বর্ণনায়, যার সনদও গ্রহণযোগ্য (حسن) আমর ইবনে উসমান (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তার পিতা তাকে বলেছিলেন: হে বৎস! যদি তুমি মানুষের কোনো বিষয়ের দায়িত্বশীল হও, তবে কুরাইশদের সম্মান করো। কেননা আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: (যে কুরাইশদের অপমান করল, আল্লাহ তাকে অপমানিত করবেন)।
অন্য বর্ণনায় রয়েছে: (আল্লাহ তাকে তার মৃত্যুর পূর্বেই অপমানিত করবেন)।
একটি হাদিস বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত (صحيح) যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) কুরাইশদের একত্রিত করে বললেন: (তোমাদের মধ্যে কি বহিরাগত কেউ আছে?) তারা বললেন: না, আমাদের ভাগ্নে, আমাদের চুক্তিবদ্ধ মিত্র এবং আমাদের মুক্ত দাসের বাইরে আর কেউ নেই। তিনি বললেন: (তোমাদের ভাগ্নে তোমাদেরই অন্তর্ভুক্ত, তোমাদের মিত্র তোমাদেরই অন্তর্ভুক্ত এবং তোমাদের মুক্ত দাসও তোমাদেরই অন্তর্ভুক্ত। নিশ্চয়ই কুরাইশগণ আমানত ও সত্যনিষ্ঠার প্রতীক। সুতরাং যে ব্যক্তি তাদের অকল্যাণ কামনা করবে, আল্লাহ তাকে অধোমুখে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন)।
আরও বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত (صحيح) যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) উমরকে বললেন: (আমার জন্য তোমার কওমকে একত্রিত করো)। অতঃপর উমর তাদেরকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ঘরের সামনে একত্রিত করলেন। এরপর তিনি বললেন: (তোমরা কি শুনছো? তোমাদের মধ্যে মুত্তাকিরাই কেবল আমার প্রকৃত বন্ধু। তোমরা যদি এমন হও তবে তো ভালো, অন্যথায় লক্ষ্য করো; কিয়ামতের দিন মানুষ আমল নিয়ে আসবে আর তোমরা বোঝা নিয়ে আসবে, ফলে তোমাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া হবে। অতঃপর তিনি স্বীয় হস্তদ্বয় উত্তোলন করে বললেন: হে লোকসকল! নিশ্চয়ই কুরাইশগণ আমানতের অধিকারী; সুতরাং যে ব্যক্তি তাদের অকল্যাণ কামনা করবে, আল্লাহ তাকে তার নাসারন্ধ্রে ভর দিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। তিনি এ কথাটি তিনবার বললেন)।
এই সংবাদটি বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত (صحيح): (কুরাইশরা যদি দম্ভ না করত, তবে আল্লাহর কাছে তাদের জন্য যা রয়েছে আমি তা তাদের জানিয়ে দিতাম)।
বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত (صحيح) যে, এক ব্যক্তি কুরাইশদের সমালোচনা করলে রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন: (কুরাইশদের গালি দিও না, কেননা অচিরেই তোমরা তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তিদের দেখবে যাদের আমল ও কাজের তুলনায় তোমরা তোমাদের আমল ও কাজকে তুচ্ছ জ্ঞান করবে। এবং যখন তোমরা তাদের দেখবে তখন তাদের অবস্থা দেখে ঈর্ষা করবে। কুরাইশরা যদি সীমা লঙ্ঘন না করত, তবে আল্লাহর কাছে তাদের জন্য যা রয়েছে তা আমি তাদের জানিয়ে দিতাম)।