(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবি আজওয়াজিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: -)
المنتخب من كتاب أزواج النبي صلى الله عليه وسلم القسم: كتب السنة
الكتاب: المنتخب من كتاب أزواج النبي صلى الله عليه وسلم
المؤلف: الزبير بن بكار بن عبد الله القرشي الأسدي المكي (ت 256 هـ)
المحقق: سكينة الشهابي [ت 1427 هـ]
الناشر: مؤسسة الرسالة - بيروت
الطبعة: الأولى، 1403
عدد الصفحات: 63
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহধর্মিণীগণ গ্রন্থ থেকে নির্বাচিত সংকলন বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহধর্মিণীগণ গ্রন্থ থেকে নির্বাচিত সংকলন
লেখক: আয-যুবাইর ইবনে বাক্কার ইবনে আব্দুল্লাহ আল-কুরাশী আল-আসাদী আল-মাক্কী (মৃত্যু ২৫৬ হিজরি)
তাহকীক: সুকাইনা আশ-শিহাবী [মৃত্যু ১৪২৭ হিজরি]
প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৩
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৩
[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ রাখা হয়েছে]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবি আজওয়াজিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
1 -
ذِكْرُ خَدِيجَةَ بِنْتِ خُوَيْلِدٍ أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيٍّ الصَّيْرَفِيُّ الْكُوفِيُّ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ عَلَى بَابِ دَارِهِ أبنا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُوسَى بْنِ الْقَاسِمِ بْنِ الصَّلْتِ فِي سَنَةِ خَمْسٍ وَتِسْعِينَ وثلاثمائه قَالَ أبنا أَبُو عمروعثمان بْنُ أَحْمَدَ الدَّقَّاقُ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ السَّمَّاكِ قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي ذِي الْحِجَّةِ سَنَةَ سَبْعٍ وَثَلاثِينَ وَثَلاثِمِائَةٍ أبنا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْبَرَاءِ قِرَاءَةً عَلَيْهِ ثَنَا الزُّبَيْرُ بْنُ بَكَّارٍ بِسُرَّ مَنْ رَأَى سَنَةَ سِتٍّ وَأَرْبَعِينَ وَمِائَتَيْنِ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ وَهُوَ ابْنُ زُبَالَةَ حَدَّثَنِي غَيْرُ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْهُمْ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ وَأُسَامَةُ بْنُ حَفْصٍ عَنْ يُونُسَ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ وَعَبْدُ الرَّزَّاقِ بْنُ هَمَّامٍ عَنْ مَعْمَرٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ عَنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ وَبَعْضُهُمْ يَزِيدُ عَلَى بَعْضٍ وَإِلَى كُلٍّ قَدْ أُسْنِدَتْ حَدِيثُهُمْ
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمَّا اسْتَوَى وَبَلَغَ أَشُدَّهُ وَلَيْسَ لَهُ كَثِيرُ مَالٍ اسْتَأْجَرَتْهُ
১ -
খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ-এর আলোচনা আবু হুসাইন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আলী আস-সাইরাফি আল-কুফি তাঁর বাড়ির দরজায় তাঁর সামনে আমার পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু হাসান আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন মুসা বিন কাসিম বিন আস-সালত ৩৯৫ হিজরি সালে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু আমর উসমান বিন আহমদ আদ-দাক্কাক—যিনি ইবনুল সাম্মাক নামে পরিচিত—৩৩৭ হিজরি সালের জিলহজ মাসে তাঁর সামনে পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু হাসান মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আল-বারা তাঁর সামনে পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, জুবায়ের বিন বাক্কার ২৪৬ হিজরি সালে ‘সুররা মান রাআ’ নামক স্থানে আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন হাসান—যিনি ইবনে জুবাল্লাহ—আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আলেমদের মধ্যে একাধিক ব্যক্তি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তাদের মধ্যে আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ হিশাম বিন উরওয়া থেকে, উসামা বিন হাফস ইউনুস থেকে এবং তিনি ইবনে শিহাব থেকে, আব্দুর রাজ্জাক বিন হাম্মাম মা’মার থেকে এবং তিনি ইবনে শিহাব থেকে এবং আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহাব লাইস বিন সাদ থেকে বর্ণনা করেছেন—তাদের একেকজন অন্যের চেয়ে বর্ণনায় কিছু তথ্য বেশি উল্লেখ করেছেন এবং তাঁদের প্রত্যেকের হাদিসই সনদবদ্ধ করা হয়েছে—
নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন পূর্ণতা লাভ করলেন এবং পূর্ণ যৌবনে পদার্পণ করলেন, অথচ তাঁর নিকট অধিক ধনসম্পদ ছিল না, তখন তিনি (খাদিজা) তাঁকে নিযুক্ত করলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবি আজওয়াজিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
خَدِيجَةُ بِنْتُ خُوَيْلِدٍ إِلَى سُوقِ حُبَاشَةَ وَاسْتَأْجَرَتْ مَعَهُ رَجُلا مِنْ قُرَيْشٍ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا رَأَيْتُ صَاحِبَةً خَيْرًا مِنْ خَدِيجَةَ مَا كُنَّا نَرْجِعُ أَنَا وَصَاحِبِي إِلا وَعِنْدَهَا تُحْفَةٌ مِنْ طَعَامٍ تَخْبَؤُهُ لَنَا
قَالَ اللَّيْثُ فِي حَدِيثِهِ اسْتَأْجَرَتْهُ بِسَقْبٍ يَدْفَعُهُ إِلَيْهِ غُلامُهَا مَيْسَرَةُ إِذَا رَجَعَ مِنْ سَفَرِهِ فَرَأَى مَيْسَرَةُ مِنْ يُمْنِهِ وَخُلُقِهِ وَالْبَرْكَةِ فِي سَفَرِهِ وَالزِّيَادَةِ فِي الرِّبْحِ مَا اشْتَدَّ بِهِ حُبُّهُ إِيَّاهُ فَقَدِمَ وَهُوَ يَهْتِفُ بِهِ فَسَبَقَ إِلَى خَدِيجَةَ فَأَخْبَرَهَا خَبَرَ مَا أَصَابَ مِنَ الظَّفَرِ وَالرِّبْحِ وَمَا رَأَى مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ فَأَرِنِيهِ فَلَمَّا أَقْبَلَتِ الْعِيرُ أَشَارَ لَهَا إِلَيْهِ وَإِذَا سَحَابَةٌ تُظِلُّهُ وَتَسِيرُ مَعَهُ فَأَمَرَتْ لَهُ بِسَقْبٍ آخَرَ وَعَلِقَهُ قَلْبُهَا لِمَا أَرَادَ اللَّهُ بِهَا مِنَ السَّعَادَةِ
وَقَالَ هِشَامٌ فِي حَدِيثِهِ عَنْ أَبِيهِ اسْتَأَجْرَتَهُ إِلَى الشَّامِ وَخَرَجَ مَعَهُ غُلامُهَا مَيْسَرَةُ حَتَّى قَدِمَا الشَّامَ فَنَزَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي ظِلِّ شَجَرَةِ صَوْمَعَةٍ قَرِيبًا مِنْ رَاهِبٍ فَاطَّلَعَ الرَّاهِبُ إِلَى مَيْسَرَةَ وَقَالَ مَنْ نَزَلَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ قُرَيْشٍ مِنْ أَهْلِ الْحَرَمِ قَالَ مَا نَزَلَ تَحْتَ هَذِهِ الشَّجَرَةِ قَطُّ إِلا نَبِيٌّ قَالَ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا كَانَتِ الظَّهِيرَةُ وَاشْتَدَّ الْحَرُّ لَمْ يَزَلْ مَلَكَانِ يُظِلَّانِهِ مِنَ الشَّمْسِ فَلَمَّا قَدِمَ مَيْسَرَةُ عَلَى خَدِيجَةَ أَخْبَرَهَا بِقَوْلِ الرَّاهِبِ وَمَا رَأَى مِنَ الْمَلَكَيْنِ فَبَعَثَتْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَت يَا بن عَمِّ إِنِّي قَدْ رَغِبْتُ فِيكَ
খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ তাঁকে হুবাশা বাজারে (ব্যবসার উদ্দেশ্যে) পাঠালেন এবং তাঁর সাথে কুরাইশ বংশীয় এক ব্যক্তিকে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে নিযুক্ত করলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "আমি খাদিজার চেয়ে উত্তম কোনো নিয়োগকর্ত্রী দেখিনি। আমি ও আমার সঙ্গী যখনই ফিরে আসতাম, তাঁর কাছে আমাদের জন্য লুকানো কোনো না কোনো উপাদেয় খাবার থাকত।"
লাইস তাঁর বর্ণনায় বলেন, তিনি (খাদিজা) তাঁকে একটি উটের বাচ্চার বিনিময়ে নিয়োগ করেছিলেন, যা সফর থেকে ফিরে আসার পর তাঁর ভৃত্য মাইসারা তাঁকে প্রদান করবে। মাইসারা তাঁর (রাসূলের) সৌভাগ্য, চরিত্র, সফরের বরকত এবং লভ্যাংশের প্রাচুর্য দেখে তাঁর প্রতি গভীর ভালোবাসা পোষণ করতে লাগলেন। তিনি ফিরে এসে উচ্চস্বরে তাঁর প্রশংসা করছিলেন এবং খাদিজার কাছে আগেভাগে পৌঁছে অর্জিত সাফল্য ও লভ্যাংশের খবর দিলেন এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে যা দেখেছিলেন তা বর্ণনা করলেন। তিনি (খাদিজা) বললেন, "আমাকে তাঁকে দেখাও।" যখন কাফেলা এগিয়ে এল, মাইসারা তাঁর দিকে ইশারা করলেন; তখন দেখা গেল একটি মেঘ তাঁকে ছায়া দিচ্ছে এবং তাঁর সাথে সাথে চলছে। তখন তিনি (খাদিজা) তাঁকে আরও একটি উটের বাচ্চা প্রদানের নির্দেশ দিলেন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর জন্য নির্ধারিত সৌভাগ্যের কারণে তাঁর অন্তর তাঁর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ল।
হিশাম তাঁর বর্ণনায় তাঁর পিতার সূত্রে বলেন, তিনি (খাদিজা) তাঁকে সিরিয়ার উদ্দেশ্যে নিয়োগ করেন এবং তাঁর সাথে তাঁর ভৃত্য মাইসারাও বের হলেন। সিরিয়ায় পৌঁছে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক পাদ্রীর গির্জার নিকটবর্তী একটি গাছের ছায়ায় অবস্থান নিলেন। পাদ্রী মাইসারার প্রতি লক্ষ্য করে বললেন, "এই গাছের নিচে কে অবস্থান নিয়েছে?" তিনি বললেন, "হারাম এলাকার কুরাইশ বংশীয় এক ব্যক্তি।" পাদ্রী বললেন, "এই গাছের নিচে নবী ছাড়া আর কেউ কখনো অবতরণ করেনি।" তিনি বলেন, যখন দুপুর হতো এবং রোদের তীব্রতা বৃদ্ধি পেত, তখন দুইজন ফেরেশতা অনবরত তাঁকে সূর্যের তাপ থেকে ছায়া দান করতেন। মাইসারা খাদিজার নিকট ফিরে এসে পাদ্রীর কথা এবং দুই ফেরেশতার ছায়া দেওয়ার বিষয়টি জানালেন। তখন খাদিজা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে খবর পাঠালেন এবং বললেন, "হে চাচাতো ভাই! আমি আপনার প্রতি আগ্রহী হয়েছি।"
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবি আজওয়াজিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
قَالَ ابْنُ شِهَابٍ فِي حَدِيثِهِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا قَدِمْتُ مِنْ سُوقِ حُبَاشَةَ قُلْتُ لِصَاحِبِي انْطَلِقْ بِنَا نَتَحَدَّثُ عِنْدَ خَدِيجَةَ فَبَيْنَا نَحْنُ نَتَحَدَّثُ عِنْدَهَا إِذْ دخلت علينا منتشية من مولدات قُرَيْش فَقَالَت مُحَمَّدًا هَذَا وَالَّذِي يَحْلِفُ بِهِ إِنْ جَاءَ لَخَاطِبًا فَقُلْتُ كَلا فَلَمَّا خَرَجْتُ أَنَا وَصَاحِبِي قَالَ أَمن خطْبَة خَدِيجَة تَسْتَحي فَوَاللَّهِ مَا مِنْ قُرَشِيَّةٍ إِلا تَرَاكَ لَهَا كُفُوًا فَرَجِعْتُ إِلَيْهَا مَرَّةً أُخْرَى أَنَا وَصَاحِبِي فَجَاءَتْ تِلْكَ الْوَلِيدَةُ فَقَالَتْ مِثْلَ قَوْلِهَا الأَوَّلِ فَقُلْتُ أَجَلْ عَلَى اسْتِحْيَاءٍ فَلَمْ تَعْصِنَا خَدِيجَةُ وَلا أُخْتُهَا فَانْطَلَقْتُ إِلَى أَبِيهَا خُوَيْلِدِ بْنِ أَسَدٍ وَهُوَ ثَمِلٌ مِنَ الشَّرَابِ فَقَالَتْ هَذَا ابْنُ أَخِيكَ مُحَمَّدٌ يَخْطُبُ خَدِيجَةَ وَقَدْ رَضِيتُ فَدَعَاهُ فَسَأَلَهُ عَنْ ذَلِكَ فَأَنْكَحَهُ فَخَلَّقَتْ أَبَاهَا وَحَلَّتْ عَلَيْهِ حُلَّةً فَدَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِهَا فَلَمَّا صَحَا الشَّيْخُ مِنْ سُكْرِهِ قَالَ مَا هَذَا الْخَلُوقُ وَمَا هَذِهِ الْحُلَّةُ قَالَتْ أُخْتُ خَدِيجَةَ كَسَاكَهَا ابْنُ أَخِيكَ مُحَمَّدٌ زَوَّجْتَهُ خَدِيجَةَ وَقَدْ بَنَا بِهَا فَأَنْكَرَ الشَّيْخُ ثُمَّ صَارَ إِلَى أَنْ سَلَّمَ وَاسْتَحْيَا وَطَفِقَتْ رُجَّازٌ مِنْ قُرَيْشٍ تَقُولُ
ইবনে শিহাব তাঁর বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: যখন আমি হুবাসাহ বাজার থেকে ফিরে এলাম, তখন আমি আমার সঙ্গীকে বললাম, ‘চলো আমরা খাদিজার নিকট গিয়ে কথাবার্তা বলি।’ যখন আমরা সেখানে অবস্থান করে কথা বলছিলাম, তখন কুরাইশদের দাসীদের মধ্য হতে এক প্রাণবন্ত নারী আমাদের নিকট প্রবেশ করল। সে বলল, ‘এই কি সেই মুহাম্মদ? যাঁর নামে শপথ করা হয় তাঁর কসম! তিনি যদি বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে আসতেন (তবে তা সাদরে গৃহীত হতো)।’ আমি বললাম, ‘কখনোই নয়।’ অতঃপর যখন আমি ও আমার সঙ্গী বের হয়ে এলাম, তখন সে (সঙ্গী) বলল, ‘আপনি কি খাদিজার নিকট বিবাহের প্রস্তাব দিতে লজ্জা বোধ করছেন? আল্লাহর কসম, কুরাইশদের এমন কোনো নারী নেই যে আপনাকে নিজের জন্য উপযুক্ত জীবনসঙ্গী হিসেবে গণ্য করবে না।’ তখন আমি ও আমার সঙ্গী পুনরায় তাঁর নিকট ফিরে গেলাম। সেই দাসীটি পুনরায় এসে পূর্বের ন্যায় কথা বলল। আমি লজ্জাবনত হয়ে বললাম, ‘হ্যাঁ।’ অতঃপর খাদিজা ও তাঁর বোন আমাদের বিমুখ করলেন না। এরপর তিনি (খাদিজার বোন) তাঁর পিতা খুওয়াইলিদ ইবনে আসাদের নিকট গেলেন, তখন তিনি মদ্যপানে মত্ত অবস্থায় ছিলেন। তিনি বললেন, ‘এই আপনার ভাতিজা মুহাম্মদ খাদিজার বিবাহের প্রস্তাব দিচ্ছেন এবং খাদিজাও এতে সম্মত হয়েছে।’ তখন তিনি তাঁকে ডাকলেন এবং এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে তাঁদের বিবাহ সম্পন্ন করে দিলেন। এরপর তিনি (খাদিজার বোন) তাঁর পিতাকে সুগন্ধি মাখিয়ে দিলেন এবং তাঁকে একটি নতুন পোশাক পরিধান করালেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর (খাদিজার) সাথে দাম্পত্য জীবন শুরু করলেন। বৃদ্ধ পিতা যখন নেশামুক্ত হয়ে সচেতন হলেন, তখন তিনি বললেন, ‘এই সুগন্ধি কিসের এবং এই পোশাকই বা কোথা থেকে এল?’ খাদিজার বোন বললেন, ‘আপনার ভাতিজা মুহাম্মদ আপনাকে এটি পরিয়েছেন; আপনি তাঁর সাথে খাদিজার বিবাহ দিয়েছেন এবং তিনি তাঁর সাথে দাম্পত্য জীবন শুরু করেছেন।’ বৃদ্ধ লোকটি প্রথমে এটি অস্বীকার করতে চাইলেন, কিন্তু পরিশেষে তিনি বিষয়টি মেনে নিলেন ও লজ্জিত হলেন। আর কুরাইশের কবিরা ছন্দোবদ্ধ কবিতায় বলতে লাগল—
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবি আজওয়াজিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
. لَا تَزْهَدِي خَدِيجُ فِي مُحَمَّدْ
… جلدٌ يُضِيءُ كَضِيَاءِ الْفَرْقَدْ
… قَالَتْ فَلَبِثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَعَ خَدِيجَةَ حَتَّى وَلَدَتْ لَهُ بَعْضَ بَنَاتِهِ وَكَانَ لَهَا وَلَهُ الْقَاسِمُ وَوَلَدَتْ لَهُ بَنَاتَهُ الأَرْبَعَ زَيْنَبَ وَفَاطِمَةَ وَرُقَيَّةَ وَأُمَّ كُلْثُومٍ
قَالَ هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى عُمُومَتِهِ فَذَكَرَ لَهُمْ مَا قَالَتْ لَهُ خَدِيجَةُ فَخَرَجَ مَعَهُ حَمْزَةُ بْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ حَتَّى دَخَلَ عَلَى عَمِّهَا عَمْرِو بْنِ أَسَدٍ فَزَوَّجَهُ فَوَلَدَتْ لَهُ قَبْلَ أَنْ يَنْزِلَ عَلَيْهِ الْوَحْيُ وَلَدَهُ كُلَّهُمْ الْقَاسِمَ وَالطَّاهِرَ وَالطَّيِّبَ وَرُقَيَّةَ وَزَيْنَبَ وَأُمَّ كُلْثُومٍ وَفَاطِمَةَ
ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْبَرَاءِ ثَنَا الزُّبَيْرُ بْنُ بكار حَدثنِي مُحَمَّد بن الْحسن عَن عبد الله بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ عَمْرُو بْنُ أَسَدٍ مُحَمَّدُ بن عبد الله بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ يَخْطُبُ خَدِيجَةَ بِنْتَ خُوَيْلِدٍ هَذَا الْفَحْلُ لَا يُقْرَعُ أَنْفُهُ
ثَنَا مُحَمَّدٌ أَنا الزُّبَيْرُ بْنُ بَكَّارٍ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْحسن عَن عبد الله بْنِ وَهْبٍ عَنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ
. হে খাদীজা, মুহাম্মাদের প্রতি অনীহা প্রকাশ করো না
… তাঁর গাত্রচর্ম ফারকাদ নক্ষত্রের আলোর ন্যায় উজ্জ্বল
… তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খাদীজার সাথে অবস্থান করলেন যতক্ষণ না তিনি তাঁর সন্তানদের প্রসব করলেন। তাঁদের কাসিম নামে এক পুত্র ছিল এবং তিনি তাঁর জন্য চার কন্যা যায়নব, ফাতিমা, রুকাইয়াহ এবং উম্মে কুলসুমকে জন্ম দেন।
হিশাম ইবনে উরওয়াহ তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর চাচাদের নিকট গমন করলেন এবং খাদীজা তাঁকে যা বলেছিলেন তা তাঁদের নিকট ব্যক্ত করলেন। অতঃপর হামযাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিব তাঁর সাথে বের হলেন এবং তাঁরা খাদীজার চাচা আমর ইবনে আসাদের নিকট উপস্থিত হলেন। অতঃপর তিনি তাঁর সাথে বিয়ে সম্পন্ন করলেন। তাঁর প্রতি ওহী অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বেই খাদীজা তাঁর সকল সন্তানকে জন্ম দেন: কাসিম, তাহির, তায়্যিব, রুকাইয়াহ, যায়নব, উম্মে কুলসুম এবং ফাতিমা।
মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে আল-বারা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যুবাইর ইবনে বাক্কার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আল-হাসান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমর ইবনে আসাদ বলেছিলেন, মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব খাদীজা বিনতে খুওয়াইলিদকে বিবাহের প্রস্তাব দিচ্ছেন; তিনি এমন এক শ্রেষ্ঠ পুরুষ যার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা যায় না।
মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যুবাইর ইবনে বাক্কার আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে আল-হাসান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব থেকে, তিনি লাইস ইবনে সাদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন—
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবি আজওয়াজিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
أَرْسَلَتْ خَدِيجَةُ إِلَى عَمِّهَا عَمْرِو بْنِ أَسَدٍ فَصَنَعَتْ لَهُ طَعَامًا وَشَرَابًا حَتَّى إِذَا أَخَذَ فِيهِ الشَّرَابُ أَرْسَلَتْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ أَقْبِلْ أَنْتَ وَنَفَرٌ مِنْ أَهْلِ بَيْتِكَ فَلْيَخْطُبُوا إِلَيْهِ فَإِنَّهُ سَيُزَوِّجُكَ فَأَتَوْهُ فَكَلَّمُوهُ فَزَوَّجَهَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَتْ مَكَانَهَا بِحُلَّةٍ حِبَرَةٍ فَأُلْقِيَتْ عَلَيْهِ وَبِبَعِيرٍ فَنُحِرَ فَأَكَلَ مِنْهُ النَّاسُ وَبِطِيبٍ فَطُيِّبَ بِهِ فَلَمَّا أَفَاقَ مِنَ الْخَمْرِ قَالَ مَا هَذَا العبير وَمَا هَذَا الْحَبِيرُ وَمَا هَذَا النَّحِيرُ قَالُوا زوجت مُحَمَّد بن عبد الله خَدِيجَةَ بِنْتَ خُوَيْلِدٍ قَالَ مَا فَعَلْتُ قَالَتْ خَدِيجَةُ لَا تَجْمَعْ عَلَيَّ أَمْرَيْنَ أفتت عَلَيَّ بِنَفْسِي وَلَمْ تُؤَامِرْنِي ثُمَّ تُسَفِّهُ نَفْسَكَ عِنْدَ قُرَيْشٍ وَقَدْ حَضَرَكَ فُلانٌ وَفُلانٌ فَإِنَّ الرَّجُلَ وَإِن يكن حدث السن قَلِيل المَال فَإِنَّ لَهُ نَسَبًا فَاضِلا فِي قَوْمِهِ فَاسْكُتْ عَلَى مَا صَنَعْتَ فَأَنَا كُنْتُ أَحَقَّ بِالْغَضَبِ مِنْكَ فَقَبِلَ ذَلِكَ وَسَكَتَ عَنْهُ وَبَنَى بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم
ثَنَا مُحَمَّدٌ ثَنَا الزُّبَيْرُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ عَن عبد السَّلَام بن عبد الله عَنْ مَعْرُوفِ بْنِ خَرَّبُوذَ قَالَ قَالَ عَمَّارُ بْنُ يَاسِرٍ أَنَا أَعْلَمُ النَّاسِ بِتَزْوِيجِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَدِيجَةَ كُنْتُ صَدِيقًا لَهُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَأَقْبَلْتُ مَعَهُ وَهُوَ ابْنُ بِضْعٍ وَعِشْرِينَ سَنَةً فَمَرَرْنَا
খাদিজা তাঁর চাচা আমর বিন আসাদের নিকট লোক পাঠালেন এবং তাঁর জন্য আহার ও পানীয়র ব্যবস্থা করলেন। পানীয় যখন তাঁর ওপর প্রভাব বিস্তার করল (অর্থাৎ তিনি নেশাগ্রস্ত হলেন), তখন তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট সংবাদ পাঠালেন যে, আপনি আপনার পরিবারের একদল লোকসহ আগমন করুন এবং তাঁরা যেন চাচার নিকট বিয়ের প্রস্তাব দেন; কেননা তিনি আপনার সাথে বিয়ে দিয়ে দেবেন। তাঁরা তাঁর নিকট আসলেন এবং তাঁর সাথে কথা বললেন, ফলে তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাঁর বিয়ে সম্পন্ন করলেন। অতঃপর তিনি (খাদিজা) তখনই একটি কারুকার্যখচিত চাদরের আদেশ দিলেন যা তাঁর (চাচার) গায়ে জড়িয়ে দেওয়া হলো এবং একটি উটের আদেশ দিলেন যা জবাই করা হলো এবং মানুষ তা থেকে আহার করল। আর সুগন্ধির আদেশ দিলে তাঁকে সুগন্ধি মাখানো হলো। যখন তিনি মদ্যপানের নেশা থেকে সচেতন হলেন, তখন বললেন: এই সুগন্ধি কিসের? এই সুন্দর পোশাক কিসের? আর এই জবাইকৃত পশুই বা কিসের? তাঁরা বললেন: আপনি খুওয়াইলিদের কন্যা খাদিজাকে আবদুল্লাহর পুত্র মুহাম্মাদের সাথে বিয়ে দিয়েছেন। তিনি বললেন: আমি এমনটি করিনি। খাদিজা বললেন: আমার ওপর দুটি বিষয় একত্রিত করবেন না। আপনি কি আমার ওপর আমার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিলেন অথচ আমার সাথে পরামর্শ করেননি, অতঃপর কুরাইশদের নিকট নিজেকে নির্বোধ সাব্যস্ত করছেন? অথচ আপনার নিকট অমুক অমুক উপস্থিত ছিলেন। নিশ্চয়ই ব্যক্তিটি (মুহাম্মাদ) যদিও বয়সে তরুণ এবং অল্প সম্পদের অধিকারী, কিন্তু নিজ কওমের মধ্যে তাঁর বংশমর্যাদা অত্যন্ত শ্রেষ্ঠ। সুতরাং আপনি যা করেছেন তার ওপর স্থির থাকুন; কেননা আপনার চেয়ে আমারই রাগান্বিত হওয়ার অধিকার বেশি ছিল। অতঃপর তিনি তা গ্রহণ করলেন এবং এ বিষয়ে নীরব থাকলেন। এরপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে দাম্পত্য জীবন শুরু করলেন।
আমাদের নিকট মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট জুবায়ের বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুস সালাম বিন আবদুল্লাহ থেকে, তিনি মারুফ বিন খাররুবুজ থেকে, তিনি বলেন, আম্মার বিন ইয়াসির বলেছেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে খাদিজার বিবাহের বিষয়ে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক অবগত। জাহেলি যুগে আমি তাঁর বন্ধু ছিলাম। আমি তাঁর সাথে আসছিলাম যখন তাঁর বয়স ছিল বিশ বছরের কিছু বেশি। তখন আমরা অতিক্রম করছিলাম...
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবি আজওয়াজিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَإِذَا خَدِيجَةُ وَأُخْتُهَا هَالَةُ تَبِيعَانِ أُدْمًا بِالْحَزْوَرَةِ فَنَظَرَتْ خَدِيجَةُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكَانَ يُسْتَضَاءُ بِهِ فِي اللَّيْلَةِ الظَّلْمَاءِ وَيَنْظُرُ إِلَيْهِ النَّاظِرُ حَتَّى يَسْأَمَ قَالَ عَمَّارٌ فَلَحِقَتْنِي هَالَةُ فَقَالَتْ يَا عَمَّارُ أَمَا لِصَدِيقِكَ هَذَا حَاجَةٌ فِي خَدِيجَةَ قَالَ فَلَمْ يَكُنْ حَاجَتَهَا الْمَالُ إِنَّمَا حَاجَتَهَا الصَّلاحُ فَقُلْتُ وَاللَّهِ مَا أَدْرِي قَالَتْ فَأَخْبِرْهُ فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ وَاضِعْهَا وَعِدْهَا يَوْمًا نَأْتِيهَا فِيهِ قَالَ فَفَعَلْتُ فَلَمَّا كَانَ ذَلِكَ الْيَوْمَ سَقَتْ عَمَّهَا عَمْرَو بْنَ أَسَدٍ حَتَّى سَكِرَ ثُمَّ دَهَنَتْهُ بِدُهْنٍ أَصْفَرَ وَطَرَحَتْ عَلَيْهِ بُرْدَ حِبَرَةٍ وَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي نَفَرٍ مِنْ أَصْحَابِهِ وَتَزَوَّجَهَا ثُمَّ انْصَرَفُوا فَلَمَّا أَفَاقَ الشَّيْخُ قَالَ مَا هَذِهِ النَّقِيعَةُ يَعْنِي الْبَقَرَةَ وَمَا هَذَا الْبُرْدُ وَمَا هَذَا الدُّهْنُ قَالُوا هَذِهِ نَقِيعَةٌ وَبُرْدٌ أَهْدَاهُ لَكَ خَتَنُكَ قَالَ وَمَنْ خَتَنِي قَالَ مُحَمَّدُ بن عبد الله بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَصَاحَ وَخَرَجَ يَشْتَدُّ حَتَّى أَتَى بَابَ الْكَعْبَةِ فَقَالَ يَا مَعْشَرَ قُرَيْشٍ إِنَّ خَدِيجَةَ وَهَالَةَ غَلَبَتَانِي عَلَى نَفْسِي وَزَعَمَتَا أَنِّي زَوَّجْتُ رَجُلا لَا أَعْرِفُهُ فَكَيْفَ يَكُونُ هَذَا فَخَلا بِهِ بَنُو هَاشِمٍ فَقَالُوا لَهُ لَا تَكَلَّمْ بِهَذَا فَنَحْنُ نَشْهَدُ أَنَّكَ زَوَّجْتَهُ فَقَالَ ابْعَثُوا إِلَيْهِ حَتَّى أَنْظُرَ إِلَيْهِ فَوَاللَّهِ مَا أَعْرِفُهُ فَلَمَّا نَظَرَ إِلَيْهِ قَالَ إِنْ كُنْتُ زَوَّجْتُهُ فَكَسَبِيلُ ذَاكَ وَإِنْ وَلَمْ أَكُنْ زَوَّجْتُهُ فَأُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ زَوَّجْتُهُ قَالَ فَكَانَ عَمَّارٌ يَقُولُ هَذَا تَزْوِيجُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَدِيجَةَ وَيَغْضَبُ إِذَا قِيلَ استأجرته وأرسلته
সাফা ও মারওয়ার মাঝামাঝি স্থানে; তখন খাদিজা ও তাঁর বোন হালা হাজওয়ারাহ নামক স্থানে চামড়া বিক্রি করছিলেন। তখন খাদিজা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে তাকালেন; তাঁকে দেখলে অন্ধকার রাতেও আলো উদ্ভাসিত হতো এবং কোনো দর্শক তাঁর দিকে তাকালে ক্লান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকিয়েই থাকত। আম্মার বলেন, এরপর হালা আমার কাছে আসলেন এবং বললেন, হে আম্মার! খাদিজার ব্যাপারে তোমার এই বন্ধুর কি কোনো আগ্রহ আছে? তিনি বলেন, আসলে তাঁর (খাদিজার) লক্ষ্য ধন-সম্পদ ছিল না, বরং তাঁর লক্ষ্য ছিল সততা ও নেককারিতা। আমি বললাম, আল্লাহর কসম, আমি জানি না। তিনি বললেন, তবে তাঁকে বিষয়টি জানাও। এরপর আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসলাম এবং তাঁকে বিষয়টি অবহিত করলাম। তিনি বললেন, তাঁর সাথে কথা বলো এবং একটি দিন নির্ধারণ করো যেদিন আমরা তাঁর কাছে যাব। তিনি বলেন, আমি তাই করলাম। যখন সেই নির্দিষ্ট দিনটি আসলো, তিনি (খাদিজা) তাঁর চাচা আমর ইবনে আসাদকে পানীয় পান করালেন এমনকি তিনি মাতাল হয়ে গেলেন। তারপর তিনি তাঁকে হলুদ সুগন্ধি মাখিয়ে দিলেন এবং তাঁর ওপর একটি ইয়ামানি কারুকার্যখচিত চাদর পরিয়ে দিলেন। এরপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর একদল সাহাবীর সাথে আসলেন এবং তাঁকে বিবাহ করলেন, তারপর তাঁরা ফিরে গেলেন। যখন সেই বৃদ্ধের নেশা কাটল, তিনি বললেন, এই ভোজ তথা জবাইকৃত পশুর মাংস কিসের? এই চাদরই বা কিসের এবং এই সুগন্ধিই বা কিসের? তাঁরা বললেন, এগুলো হচ্ছে সেই ভোজ এবং চাদর যা আপনার জামাতা আপনাকে উপহার দিয়েছেন। তিনি বললেন, আমার জামাতা কে? তাঁরা বললেন, আব্দুল মুত্তালিবের পৌত্র, আব্দুল্লাহর পুত্র মুহাম্মদ। তখন তিনি চিৎকার করে দ্রুতবেগে বেরিয়ে পড়লেন এমনকি কাবার দরজায় গিয়ে পৌঁছালেন। তিনি বললেন, হে কুরাইশ সম্প্রদায়! খাদিজা ও হালা আমার ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে এবং তারা দাবি করছে যে আমি এমন এক ব্যক্তির সাথে বিয়ে দিয়েছি যাকে আমি চিনি না। এটা কীভাবে সম্ভব? তখন বনু হাশিমের লোকেরা তাঁকে একান্তে নিয়ে গেল এবং তাঁকে বলল, আপনি এমন কথা বলবেন না; আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনিই তাঁকে বিয়ে দিয়েছেন। তিনি বললেন, তাঁর কাছে লোক পাঠাও যাতে আমি তাঁকে দেখতে পারি; আল্লাহর কসম, আমি তাঁকে চিনি না। যখন তিনি তাঁর দিকে তাকালেন, তখন বললেন, আমি যদি তাঁকে বিয়ে দিয়ে থাকি তবে তো তাই হলো, আর যদি আমি তাঁকে বিয়ে না দিয়ে থাকি তবে আমি আপনাদের সাক্ষী রাখছি যে আমি এখন তাঁকে বিয়ে দিয়ে দিলাম। বর্ণনাকারী বলেন, আম্মার বলতেন, এভাবেই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে খাদিজার বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল। আর কেউ যখন বলত যে খাদিজা তাঁকে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে নিয়োগ দিয়েছিলেন এবং পণ্যের সাথে পাঠিয়েছিলেন, তখন তিনি রাগান্বিত হতেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবি আজওয়াজিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
فَوَلَدَتْ لَهُ خَدِيجَةُ قَبْلَ أَنْ يُكْرِمَهُ اللَّهُ بِمَا أَكْرَمَهُ مِنَ النُّبُوَّةِ وَالرِّسَالَةِ الْقَاسِمَ وَرُقَيَّةَ وَزَيْنَبَ وَأُمَّ كُلْثُومٍ وَوَلَدَتْ لَهُ فِي الإِسْلامِ الطّيب وَهُوَ عبد الله وَفَاطِمَةَ
ثَنَا مُحَمَّدٌ ثَنَا الزُّبَيْرُ بْنُ بَكَّارٍ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْمُغَيِرَةِ قَالَ: كَانَتْ أُمَامَةُ بِنْتُ أَبِي الْعَاصِ وَأُمُّهَا زَيْنَبُ بِنْتُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عِنْدَ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ فَلَمَّا تُوُفِّيَ عَنْهَا قَالَ لَهَا لَا تَزَوَّجِي فَإِنْ أَرَدْتِ التَّزَوُّجَ فَلا تَخْرُجِي مِنْ رَأْيِ الْمُغِيرَةِ بْنِ نَوْفَلٍ فَخَطَبَهَا مُعَاوِيَةُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ فَجَاءَتْ إِلَى الْمُغِيرَةِ تَسْتَأْمِرُهُ فَقَالَ لَهَا أَنَا خَيْرٌ لَكِ مِنْهُ فَاجْعَلِي أَمْرَكِ إِلَيَّ فَفَعَلَتْ فَدَعَا رِجَالا فَتَزَوَّجَهَا
ثَنَا مُحَمَّدٌ ثَنَا الزُّبَيْرُ بْنُ بَكَّارٍ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ عَنْ أَنَسِ بْنِ عِيَاضٍ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عُثْمَانَ وَغَيْرِهِ قَالَ وَأَمَّا رُقَيَّةُ بِنْتُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكَانَتْ عِنْدَ عُتْبَةَ بْنِ أَبِي لَهَبٍ وَبَنَى بِهَا فَلَمَّا أُنْزِلَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم {تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ} قَالَتِ الْعَوْرَاءُ أُمُّ جَمِيلٍ بِنْتُ حَرْبِ بْنِ أُمَيَّةَ وَهِيَ أُمُّ عُتْبَةَ بْنِ أَبِي لَهَبٍ وَهِيَ حَمَّالَةُ الْحَطَبِ
খাদিজাহ তাঁর জন্য আল-কাসিম, রুকাইয়াহ, যায়নব ও উম্মু কুলসুমকে জন্ম দেন, আল্লাহ তাঁকে নবুওয়াত ও রিসালাতের মাধ্যমে যা দিয়ে সম্মানিত করেছেন তার পূর্বে। আর ইসলামের যুগে তিনি তাঁর জন্য আত-তাইয়িব—যিনি আবদুল্লাহ—ও ফাতিমাহকে জন্ম দেন।
মুহাম্মদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আয-যুবাইর ইবনে বাক্কার আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে হাসান আমাকে আবদুল আযীয ইবনে মুহাম্মদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আল-মুগীরাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু আল-আসের কন্যা উমামাহ—যাঁর মা ছিলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা যায়নব—আলী ইবনে আবি তালিবের স্ত্রী ছিলেন। যখন আলী ইন্তেকাল করলেন, তখন তিনি তাঁকে বলেছিলেন: তুমি বিবাহ করো না, আর যদি তুমি বিবাহ করতে চাও তবে আল-মুগীরাহ ইবনে নাওফালের মতের বাইরে যেও না। অতঃপর মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান তাঁকে বিবাহের প্রস্তাব দিলে তিনি আল-মুগীরাহর কাছে পরামর্শের জন্য আসেন। তিনি (মুগীরাহ) তাঁকে বললেন: আমি তোমার জন্য তাঁর চেয়ে উত্তম, তাই তোমার বিষয়টি আমার ওপর ন্যস্ত করো। তিনি তাই করলেন, অতঃপর তিনি কিছু লোককে ডাকলেন এবং তাঁকে বিবাহ করলেন।
মুহাম্মদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আয-যুবাইর ইবনে বাক্কার আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে হাসান আমাকে আনাস ইবনে ইয়াদ থেকে, তিনি আবু বকর ইবনে উসমান ও অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা রুকাইয়াহর কথা; তিনি আবু লাহাবের পুত্র উতবার স্ত্রী ছিলেন এবং তিনি তাঁর সাথে দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ‘আবু লাহাবের হাত দুটি ধ্বংস হোক’ অবতীর্ণ হলো, তখন আল-আওরা উম্মু জামিল বিনতে হারব ইবনে উমাইয়াহ—যিনি ছিলেন উতবা ইবনে আবি লাহাবের মা এবং জ্বালানি কাঠ বহনকারী—বললেন:
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবি আজওয়াজিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
أَيَهْجُونَا مُحَمَّدٌ وَنُمْسِكُ ابْنَتَهُ فَطَلِّقْهَا نُنْكِحْكَ غَيْرَهَا فَأَنْكَحَتْهُ بِنْتَ أَبِي الْعَاصِ بْنِ أُمَيَّةَ فَوَلَدَتْ لَهُ جَارِيَةً فَتَزَوَّجَهَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ بْنِ حَرْبٍ ثُمَّ خَلَفَ عَلَى رُقَيَّةَ بِنْتِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ فَوَلَدَتْ لَهُ عَبْدَ اللَّهِ فَمَاتَ وَاشْتَكَتْ رُقَيَّةُ الْمَرَضَ الَّذِي تُوُفِّيَتْ فِيهِ فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى بَدْرٍ وَلِذَاكَ تَخَلَّفَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ عَنْ بَدْرٍ فَهَلَكَتْ رُقَيَّةُ مِنْ ذَلِكَ الْمَرَضِ وَأَمَّا أُمُّ كُلْثُومٍ فَكَانَتْ عِنْدَ عُتَيْبَةَ بْنِ أَبِي لَهب وَلم يدْخل بهَا حَتَّى تنبأ اللَّهُ تبارك وتعالى مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَبُو لَهَبٍ رَأْسِي مِنْ رَأْسِكَ حَرَامٌ حَتَّى تُفَارِقَ ابْنَتَهُ فَفَارَقَهَا فَخَلَفَ عَلَى أُمِّ كُلْثُومٍ بِنْتِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عُثْمَانُ فَهَلَكَتْ عِنْدَهُ
ثَنَا مُحَمَّدٌ ثَنَا الزُّبَيْرُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ عَنْ مُحَمَّد بن عبد الرَّحْمَن ابْن هِشَامٍ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ قَالَ
لَمَّا وُضِعَتْ عِنْدَ الْقَبْرِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِيَنْزِلْ فِي قَبْرِهَا رَجُلانِ لَمْ يُقَارِفَا النِّسَاءَ الْبَارِحَةَ فَنَزَلَ فِي قَبْرِهَا رَجُلانِ كَانَ أَحَدُهُمَا طَلْحَةُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ
قَالَ وَكَانَتْ فَاطِمَةُ عِنْدَ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ فَوَلَدَتْ لَهُ الْحَسَنَ وَالْحُسَيْنَ وَزَيْنَبَ وَأُمَّ كُلْثُومٍ وَرُقَيَّةَ
فَكَانَتْ زَيْنَبُ بِنْتُ عَلِيٍّ عِنْدَ ابْنِ عَمِّهَا عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ فَوَلَدَتْ لَهُ عَليّ بن عبد الله وَأُمَّ كُلْثُومٍ بِنْتَ عَبْدِ اللَّهِ الَّتِي تَزَوَّجَهَا الْحَجَّاجُ بْنُ يُوسُفَ فَفَرَّقَ بَيَنْهُمَا عَبْدُ الْمَلِكِ بن مَرْوَان وَهُوَ كَانَ أذن لَهُ فِيهِ تَزَوُّجِهَا وَكَانَتْ أُمُّ كُلْثُومٍ
"মুহাম্মদ কি আমাদের নিন্দা করবে আর আমরা তাঁর কন্যাকে আটকে রাখব? তাকে তালাক দাও, আমরা তোমাকে অন্য কারো সাথে বিবাহ দেব।" অতঃপর তারা তাঁকে আবু আল-আস ইবনে উমাইয়ার কন্যার সাথে বিবাহ দিল এবং সে তাঁর জন্য এক কন্যাসন্তান জন্ম দিল, যাকে ইয়াজিদ ইবনে আবি সুফিয়ান ইবনে হারব বিবাহ করেন। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা রুকাইয়াহর পরবর্তী স্বামী হলেন উসমান ইবনে আফফান। রুকাইয়াহ তাঁর গর্ভে আব্দুল্লাহকে জন্ম দেন, যে ইন্তেকাল করে। রুকাইয়াহ সেই রোগে আক্রান্ত হলেন যে রোগে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। সেই সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের উদ্দেশ্যে বের হলেন এবং এই কারণেই উসমান ইবনে আফফান বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকলেন। অবশেষে রুকাইয়াহ সেই রোগেই মৃত্যুবরণ করেন। আর উম্মে কুলসুমের বিষয় হলো, তিনি উতাইবাহ ইবনে আবি লাহাবের অধীনে ছিলেন, কিন্তু তিনি তাঁর সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন করেননি যতক্ষণ না আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নবুওয়াত দান করলেন। তখন আবু লাহাব বলল: "যতক্ষণ না তুমি তাঁর কন্যাকে ত্যাগ করবে, ততক্ষণ তোমার সাথে আমার সম্পর্ক ছিন্ন।" ফলে সে তাঁকে ত্যাগ করল। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা উম্মে কুলসুমকে উসমান বিবাহ করেন এবং তিনি তাঁর বিবাহবন্ধনে থাকাবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যুবাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে হিশাম থেকে, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন:
যখন তাঁকে কবরের পাশে রাখা হলো, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "এমন দুইজন ব্যক্তি তাঁর কবরে নামুক যারা গত রাতে স্ত্রীদের সাথে সহবাস করেনি।" তখন দুইজন ব্যক্তি তাঁর কবরে নামলেন, যাদের একজন ছিলেন তালহা ইবনে উবাইদিল্লাহ।
তিনি বলেন: ফাতিমা আলী ইবনে আবি তালিবের বিবাহবন্ধনে ছিলেন এবং তিনি তাঁর জন্য হাসান, হুসাইন, জয়নাব, উম্মে কুলসুম ও রুকাইয়াহকে জন্ম দেন।
আলীর কন্যা জয়নাব তাঁর চাচাতো ভাই আব্দুল্লাহ ইবনে জাফরের বিবাহবন্ধনে ছিলেন। তিনি তাঁর গর্ভে আলী ইবনে আব্দুল্লাহ এবং আব্দুল্লাহর কন্যা উম্মে কুলসুমকে জন্ম দেন, যাকে হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ বিবাহ করেছিলেন। অতঃপর আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটান, যদিও তিনি নিজেই তাঁকে বিবাহের অনুমতি দিয়েছিলেন। আর উম্মে কুলসুম...
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবি আজওয়াজিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ٣١)
بِنْتُ عَلِيٍّ عِنْدَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَوَلَدَتْ لَهُ زَيْدًا فَقَتَلَ زَيْدَ بْنَ عُمَرَ خَالِدُ ابْن أَسْلَمَ مَوْلَى عُمَرَ قَالَ قَتَلَهُ وَهُوَ لَا يَعْرِفُهُ رَمَاهُ بِحَجَرٍ
وَتَزَوَّجَ رُقَيَّةَ بِنْتَ عُمَرَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ نُعَيْمِ بْنِ النَّحَّامِ فَلَمْ تَلِدْ مِنْهُ ثُمَّ هَلَكَ عُمَرُ عَنْ أُمِّ كُلْثُومٍ فَتَزَوَّجَهَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ فَلَمْ تَلِدْ مِنْهُ
ثَنَا مُحَمَّدٌ ثَنَا الزُّبَيْرُ بْنُ بَكَّارٍ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَسَنٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ
وُلِدَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم من خَدِيجَة الْقَاسِم وعبد الله وَفَاطِمَةُ وَزَيْنَبُ وَرُقَيَّةُ وَأُمُّ كُلْثُومٍ
ثَنَا مُحَمَّدٌ ثَنَا الزُّبَيْرُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَسَنٍ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ
تُوُفِّيَ الْقَاسِمُ ابْنُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمَكَّةَ فَمَرَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ آتٍ مِنْ جِنَازَتِهِ عَلَى الْعَاصِ بْنِ وَائِلٍ وَابْنِهِ عَمْرٍو فَقَالَ عَمْرٌو حِينَ رَأَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنِّي لأَشْنَؤُهُ فَقَالَ الْعَاصُ لَا جَرَمَ لَقَدْ أَصْبَحَ أَبْتَرَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عز وجل {إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ الأبتر}
ثَنَا مُحَمَّدٌ ثَنَا الزُّبَيْرُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَسَنٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ وَهْبٍ عَنِ ابْنِ لَهِيعَةَ عَنْ أَبِي الأَسْوَدِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ نَوْفَلٍ قَالَ
وَلَدَتْ خَدِيجَةُ بِنْتُ خُوَيْلِدٍ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْقَاسِم والطاهر وَالطّيب وعبد الله وَزَيْنَبَ وَرُقَيَّةَ وَأُمَّ كُلْثُومٍ وَفَاطِمَةَ
ثَنَا مُحَمَّدٌ ثَنَا الزُّبَيْرُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَسَنٍ عَنْ حَاتِم بناإسماعيل عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلانَ عَنْ عَامِرِ بْنِ عبد الله عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمَانَ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ قَالَ
আলীর কন্যা উমর ইবনুল খাত্তাবের বিবাহে ছিলেন এবং তিনি তাঁর জন্য যায়িদকে জন্ম দেন। উমরের আযাদকৃত গোলাম খালিদ ইবনে আসলাম যায়িদ ইবনে উমরকে হত্যা করেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তাকে না চিনে হত্যা করেছিলেন; তিনি তাকে পাথর নিক্ষেপ করেছিলেন।
এবং উমরের কন্যা রুকাইয়াহকে ইব্রাহিম ইবনে নুয়াইম ইবনে আন-নাহহাম বিবাহ করেন, কিন্তু তাঁর গর্ভে কোনো সন্তান হয়নি। অতঃপর উমর উম্মু কুলসুমকে (উত্তরাধিকারী) রেখে ইন্তেকাল করেন, এরপর আবদুল্লাহ ইবনে জাফর তাঁকে বিবাহ করেন, তবে তাঁর গর্ভেও কোনো সন্তান হয়নি।
মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যুবাইর ইবনে বাক্কার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে হাসান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি জাফর ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঔরসে খাদিজার গর্ভে কাসিম, আবদুল্লাহ, ফাতিমা, যায়নাব, রুকাইয়াহ এবং উম্মু কুলসুম জন্মগ্রহণ করেন।
মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যুবাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে হাসান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি জাফর ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পুত্র কাসিম মক্কায় ইন্তেকাল করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর জানাজা থেকে ফিরছিলেন, তখন তিনি আস ইবনে ওয়ায়িল এবং তার পুত্র আমরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। আমর যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখলেন, তখন বললেন, "আমি তাকে ঘৃণা করি।" তখন আস বলল, "নিশ্চয়ই সে এখন নির্বংশ হয়ে গেছে।" তখন মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: "নিশ্চয়ই আপনার প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীই তো নির্বংশ।"
মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যুবাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে হাসান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব থেকে, তিনি ইবনে লাহিয়াহ থেকে, তিনি আবুল আসওয়াদ মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে নাওফাল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
খুওয়াইলিদের কন্যা খাদিজা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য কাসিম, তাহির, তায়্যিব, আবদুল্লাহ, যায়নাব, রুকাইয়াহ, উম্মু কুলসুম এবং ফাতিমাকে জন্ম দেন।
মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যুবাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে হাসান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন হাতিম ইবনে ইসমাঈল থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আজলান থেকে, তিনি আমির ইবনে আবদুল্লাহ থেকে, তিনি আমর ইবনে সুলাইমান থেকে, তিনি আবু কাতাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবি আজওয়াজিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ حَامِلٌ أُمَامَةَ بِنْتِ أَبِي الْعَاصِ بِنْتِ زَيْنَبَ ابْنَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكَانَ كُلَّمَا رَكَعَ وَضَعَهَا فَإِذَا قَامَ حَمَلَهَا
ثَنَا مُحَمَّدٌ ثَنَا الزُّبَيْرُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ حَدَّثَنِي عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ وَالثِّقَةُ عِنْدَهُ
أَنَّ رَجُلا مِنْ أَهْلِ الْحِيرَةِ رَأَى خَدِيجَةَ بِنْتَ خُوَيْلِدِ بْنِ أَسَدِ بْنِ عبد الْعُزَّى ابْن قُصَيِّ فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَقَالَ إِنَّ هَذِهِ لَزَوْجُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الَّذِي يُبْعَثُ فِي الأُمِّيِّينَ
ثَنَا مُحَمَّدٌ ثَنَا الزُّبَيْرُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَسَنٍ حَدَّثَنِي أُسَامَةُ بْنُ حَفْصٍ وَغَيْرُهُ عَنْ يُونُسَ بْنِ يَزِيدَ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ
تَزَوَّجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَدِيجَةَ بِمَكَّةَ وَهِيَ أَوَّلُ امْرَأَةٍ تَزَوَّجَ وَكَانَتْ قَبْلَهُ عِنْدَ أَبِي هَالَةَ التَّمِيمِيِّ
ثَنَا مُحَمَّدٌ ثَنَا الزُّبَيْرُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَسَنٍ حَدَّثَنِي أَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عُثْمَانَ الْيَرْبُوعِيِّ وَغَيْرِهِ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَزَوَّجَ خَدِيجَةَ بِنْتَ خُوَيْلِدِ بْنِ أَسَدِ بن عبد الْعُزَّى ابْن قُصَيٍّ وَهِيَ أَوَّلُ امْرَأَةٍ تَزَوَّجَهَا وَهُوَ يَوْمَئِذٍ ابْنُ ثَلاثِينَ سَنَةً وَكَانَتْ قَبْلَهُ عِنْدَ عَتِيقِ بن عَائِذ بن عبد الله بْنِ عَمْرِو بْنِ مَخْزُومٍ فَوَلَدَتْ لَهُ جَارِيَةً يُقَال لَهَا أم مُحَمَّد فَتَزَوجهَا ابْنَ عَمٍّ لَهَا يُقَالُ لَهُ صَيْفِيُّ بْنُ أبي رِفَاعَة بن عَائِذ بن عبد الله وَهَلَكَ عَتِيقٌ عَنْ خَدِيجَةَ فَتَزَوَّجَهَا أَبُو هَالَةَ بن مَالك أحد بن عَمْرِو بْنِ تَمِيمٍ ثُمَّ أَحَدُ بَنِي أَسِيدٍ وَبَعْضُ النَّاسِ يَقُولُ أَبُو هَالَةَ قَبْلَ عَتِيقٍ فَولدت لأبي
আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা যায়নাবের মেয়ে উমামাহ বিনতে আবিল আসকে বহন করছিলেন। তিনি যখনই রুকু করতেন তাকে নামিয়ে রাখতেন এবং যখন দাঁড়াতেন তাকে তুলে নিতেন।
আমাদের কাছে মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে জুবায়র বর্ণনা করেছেন, আমার কাছে মুহাম্মদ ইবনে হাসান বর্ণনা করেছেন, আমার কাছে আব্দুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ এবং তার নিকট নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যে:
হীরাহ অধিবাসীদের একজন ব্যক্তি জাহিলিয়্যাতের যুগে খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ ইবনে আসাদ ইবনে আব্দুল উযযা ইবনে কুসাইকে দেখেছিলেন এবং বলেছিলেন, "নিশ্চয়ই তিনি সেই নবীর স্ত্রী যিনি উম্মীদের (নিরক্ষরদের) মধ্যে প্রেরিত হবেন।"
আমাদের কাছে মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে জুবায়র বর্ণনা করেছেন, আমার কাছে মুহাম্মদ ইবনে হাসান বর্ণনা করেছেন, আমার কাছে উসামাহ ইবনে হাফস ও অন্যান্যরা ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় খাদিজাকে বিবাহ করেছিলেন এবং তিনি ছিলেন তাঁর বিবাহিত প্রথম নারী। তাঁর পূর্বে তিনি আবু হালাতুত তামিমি-র স্ত্রী ছিলেন।
আমাদের কাছে মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে জুবায়র বর্ণনা করেছেন, আমার কাছে মুহাম্মদ ইবনে হাসান বর্ণনা করেছেন, আমার কাছে আনাস ইবনে ইয়াদ আবু বকর ইবনে উসমান আল-ইয়ারবুয়ি ও অন্যান্য আলেমদের থেকে বর্ণনা করেছেন যে:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ ইবনে আসাদ ইবনে আব্দুল উযযা ইবনে কুসাইকে বিবাহ করেন এবং তিনি ছিলেন তাঁর বিবাহিত প্রথম নারী। তখন তাঁর বয়স ছিল ত্রিশ বছর। তাঁর পূর্বে তিনি আতিক ইবনে আইজ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে মাখজুমের অধীনে ছিলেন এবং তিনি তাঁর ঘরে একটি কন্যা সন্তান প্রসব করেছিলেন যাকে উম্মে মুহাম্মদ বলা হয়। অতঃপর তাঁকে (উম্মে মুহাম্মদকে) তাঁর এক চাচাতো ভাই বিবাহ করেন যাকে সাইফি ইবনে আবি রিফাআ ইবনে আইজ ইবনে আব্দুল্লাহ বলা হয়। আতিক খাদিজাকে রেখে মৃত্যুবরণ করেন, এরপর আবু হালা ইবনে মালিক—যিনি বনু আমর ইবনে তামিম এবং পরবর্তীতে বনু আসিদ গোত্রের একজন ছিলেন—তাঁকে বিবাহ করেন। কিছু লোক বলেন যে, আবু হালা আতিকের পূর্বে ছিলেন। অতঃপর তিনি আবু (হালা)-র ঘরে জন্ম দেন...
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবি আজওয়াজিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
هَالة: هَالة وَهِنْد وَوَلَدَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْقَاسِمَ وَالطَّاهِرَ وَالطَّيِّبَ وَزَيْنَبَ وَرُقَيَّةَ وَأُمَّ كُلْثُومٍ وَفَاطِمَةَ فَأَمَّا الذُّكُورُ كُلُّهُمْ فَمَاتُوا بِمَكَّةَ وَأَمَّا الْبَنَاتُ فَتَزَوَّجْنَ كُلُّهُنَّ
ثَنَا مُحَمَّدٌ ثَنَا الزُّبَيْرُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَسَنٍ عَنْ خَالِدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ قَالَ نَكَحَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَدِيجَةَ وَهُوَ ابْنُ سَبْعٍ وَثَلاثِينَ سَنَةً
ثَنَا مُحَمَّدٌ ثَنَا الزُّبَيْرُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ فُلَيْحٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ عِيَاضٍ عَنِ ابْن شهَاب قَالَ وَكَانَت خَدِيجَةُ بِنْتُ خُوَيْلِدٍ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَبْلَ أَنْ يُنَزَّلَ عَلَيْهِ الْقُرْآنُ ثُمَّ نُزِّلَ عَلَيْهِ الْقُرْآنُ وَهِيَ عِنْدَهُ وَهِيَ أَوَّلُ مَنْ صَدَّقَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَآمَنَ بِهِ ثُمَّ تُوُفِّيَتْ بِمَكَّةَ قَبْلَ أَنْ يَخْرُجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْمَدِينَة بِثَلَاث سِنِين
ثَنَا مُحَمَّدٌ ثَنَا الزُّبَيْرُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَسَنٍ عَنْ أُسَامَةَ بْنِ حَفْصٍ عَنْ يُونُسَ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ تُوُفِّيَتْ خَدِيجَةُ قَبْلَ أَنْ تُفْرَضَ الصَّلاةُ
ثَنَا مُحَمَّدٌ ثَنَا الزُّبَيْرُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَسَنٍ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ عَنْ كُرَيْبٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم
হালাহ: হালাহ এবং হিন্দ। তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য আল-কাসিম, আত-তহির, আত-তয়্যিব, যয়নাব, রুকাইয়াহ, উম্মু কুলসুম এবং ফাতিমাহকে জন্ম দিয়েছিলেন। পুত্র সন্তানদের সকলেই মক্কায় মৃত্যুবরণ করেন, আর কন্যারা সকলেই বিবাহিতা ছিলেন।
মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আয-যুবায়র আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন খালিদ ইবনে ইসমাঈল থেকে, তিনি ইবনে জুরায়জ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদিজাহকে বিবাহ করেন যখন তাঁর বয়স ছিল সাইত্রিশ বছর।
মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আয-যুবায়র আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ফুলায়হ থেকে, তিনি ইয়াযীদ ইবনে ইয়াদ থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: খাদিজাহ বিনতে খুওয়াইলিদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ছিলেন তাঁর ওপর কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে। অতঃপর তাঁর ওপর কুরআন অবতীর্ণ হয় যখন তিনি তাঁর নিকট ছিলেন এবং তিনিই সর্বপ্রথম ব্যক্তি যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সত্য বলে স্বীকার করেন ও তাঁর ওপর ঈমান আনেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় হিজরত করার তিন বছর পূর্বে তিনি মক্কায় ইন্তেকাল করেন।
মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আয-যুবায়র আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন উসামাহ ইবনে হাফস থেকে, তিনি ইউনুস থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়িশাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: সালাত ফরয হওয়ার পূর্বেই খাদিজাহ ইন্তেকাল করেন।
মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আয-যুবায়র আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল আযীয ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি মূসা ইবনে উকবাহ থেকে, তিনি কুরায়ব থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবি আজওয়াজিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
سَيِّدَةُ نِسَاءِ أَهْلِ الْجَنَّةِ مَرْيَمُ بِنْتُ عِمْرَانَ ثُمَّ فَاطِمَةُ ثُمَّ خَدِيجَةُ ثُمَّ آسِيَةُ امْرَأَةُ فِرْعَوْنَ
ثَنَا مُحَمَّدٌ ثَنَا الزُّبَيْرُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَسَنٍ حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ الثَّوْبَانِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ مُهَاجِرِ بْنِ قُنْفُذٍ أَنَّ عَجُوزًا سَوْدَاءَ دَخَلَتْ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَحَيَّاهَا وَقَالَ كَيْفَ أَنْتِ وَكَيْفَ حَالُكُمْ فَلَمَّا خَرَجَتْ قَالَتْ عَائِشَةُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلِهَذِهِ السَّوْدَاءِ تُحَيِّي وَتَصْنَعُ مَا أَرَى قَالَ إِنَّهَا كَانَتْ تَغْشَانَا فِي حَيَاةِ خَدِيجَةَ وَإِنَّ حُسْنَ الْعَهْدِ مِنَ الإِيمَانِ
ونا مُحَمَّدٌ ثَنَا الزُّبَيْرُ حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنِي شَيْخٌ مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ قَالَ: هِيَ أُمُّ زُفَرَ مَاشِطَةُ خَدِيجَةَ
ثَنَا مُحَمَّدٌ ثَنَا الزُّبَيْرُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ عَنْ مَرْوَانَ بْنِ مُعَاوِيَةَ عَنْ وَائِلِ بْنِ دَاوُد عَن عبد الله الْبَهِيِّ قَالَ أَطْعَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَدِيجَةَ مِنْ عِنَبِ الْجَنَّةِ
জান্নাতবাসী নারীদের নেত্রী হলেন মারইয়াম বিনতে ইমরান, এরপর ফাতিমা, এরপর খাদিজা এবং এরপর ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া।
মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জুবাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আমাকে বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ আস-সাওবানি আমাকে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে মুহাজির ইবনে কুনফুজ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, একজন কৃষ্ণাঙ্গ বৃদ্ধা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন। তিনি তাকে সাদর সম্ভাষণ জানালেন এবং বললেন, “আপনি কেমন আছেন? আপনাদের কী অবস্থা?” যখন তিনি চলে গেলেন, আয়েশা (রা.) বললেন, “হে আল্লাহর রাসুল! আপনি কি এই কৃষ্ণাঙ্গ মহিলার প্রতি এমন সম্মান প্রদর্শন করছেন এবং এমন আচরণ করছেন যা আমি দেখছি?” তিনি বললেন, “নিশ্চয়ই তিনি খাদিজার জীবদ্দশায় আমাদের নিকট আসতেন। আর সুসম্পর্ক রক্ষা করা ঈমানের অংশ।”
মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জুবাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুলাইমান ইবনে আবদুল্লাহ আমাকে বর্ণনা করেছেন, মক্কার অধিবাসীদের মধ্য থেকে একজন শায়েখ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: তিনি ছিলেন উম্মু জুফার, খাদিজার কেশবিন্যাসকারিণী।
মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জুবাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আমাকে মারওয়ান ইবনে মুয়াবিয়া থেকে, তিনি ওয়ায়েল ইবনে দাউদ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ আল-বাহি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদিজাকে জান্নাতের আঙুর খাইয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবি আজওয়াজিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
2 -
قِصَّةُ تَزَوُّجِ عَائِشَةَ رضي الله عنها ثَنَا مُحَمَّدٌ ثَنَا الزُّبَيْرُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَسَنٍ حَدَّثَنِي غَيْرُ وَاحِدٍ مِنْهُمْ عَنِ الثِّقَةِ عِنْدَهُ وَمُحَمَّدُ بْنُ طَلْحَةَ قَالا تَزَوَّجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ سَوْدَةَ عَائِشَةَ بِنْتَ أَبِي بَكْرٍ فِي شَوَّالٍ سَنَةَ عَشْرٍ مِنَ النُّبُوَّةِ قَبْلَ الْهِجْرَةِ بِثَلاثِ سِنِينَ وَأَوْلَمَ عَلَيْهَا بِهَدَايَا الأَنْصَارِ وَطَلَبُوا فِي ذَلِكَ إِذْنَهُ فَأَذِنَ لَهُمْ فَاتَّعَدُوا الْمَسْجِدَ وَغَدَوْا عَلَيْهِ بِالْقِنْعِ فِيهَا التَّمْرِ وَالْجَفْنَةِ فِيهَا الْوَدَكُ لَحْمٌ أَوْ غَيْرُهُ وَكَانَ يَوْمُهَا كَثِيرَ الأَطْبَاقِ وَالْجِفَانِ
أَنا مُحَمَّدٌ ثَنَا الزُّبَيْرُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ عَنْ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْهُمْ أُسَامَةُ بْنُ حَفْصٍ عَنْ مُوسَى عَنِ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَزَوَّجَ عَائِشَةَ بِنْتَ أَبِي بَكْرٍ فِي شَوَّالٍ سَنَةَ عَشْرٍ مِنَ النُّبُوَّةِ قَبْلَ الْهِجْرَة بِثَلَاث سِنِين وأعرس بهَا بِالْمَدِينَةِ فِي شَوَّالٍ عَلَى رَأْسِ ثَمَانِيَةَ عَشَرَ شَهْرًا مِنْ مَهَاجِرِهِ إِلَى الْمَدِينَةِ وَتُوُفِّيَتْ عَائِشَةُ لَيْلَةَ الثُّلاثَاءِ لِسَبْعَ عَشْرَةَ مَضَتْ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ بَعْدَ الْوِتْرِ سَنَةَ ثَمَانٍ وَخَمْسِينَ وَدُفِنَتْ مِنْ لَيْلَتهَا
২ -
আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর বিবাহের ঘটনা মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আয-যুবায়ের আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন হাসান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তাদের মধ্যে একাধিক ব্যক্তি তাদের নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন এবং মুহাম্মদ ইবন তালহাও বর্ণনা করেছেন, তারা উভয়েই বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওদাহর পর আয়েশা বিনত আবু বকরকে নবুওয়াতের দশম বর্ষের শাওয়াল মাসে হিজরতের তিন বছর আগে বিয়ে করেন। আর তিনি আনসারদের পক্ষ থেকে পাওয়া উপহারের মাধ্যমে ওলীমার আয়োজন করেন। তারা এই বিষয়ে তাঁর অনুমতি চেয়েছিলেন এবং তিনি তাদের অনুমতি দেন। ফলে তারা মসজিদে একত্রিত হন এবং তাঁর নিকট ঝুড়ি নিয়ে আসেন যাতে খেজুর ছিল এবং বড় পাত্র নিয়ে আসেন যাতে চর্বিমিশ্রিত মাংস বা অন্য কিছু ছিল। আর সেদিন সেখানে অনেক থালা এবং পাত্র ছিল।
মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আয-যুবায়ের আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনুল হাসান একাধিক আলিম থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তাদের মধ্যে উসামা ইবন হাফসও ছিলেন, তিনি মূসা থেকে, তিনি ইবন শিহাব থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা বিনত আবু বকরকে নবুওয়াতের দশম বর্ষের শাওয়াল মাসে হিজরতের তিন বছর আগে বিয়ে করেন। আর তিনি মদিনায় হিজরত করার আঠারো মাস পূর্ণ হওয়ার পর শাওয়াল মাসে তাঁর সাথে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন। আয়েশা আটান্ন হিজরির রমজান মাসের সতেরো তারিখ অতিবাহিত হওয়ার পর মঙ্গলবার রাতে বিতর সালাতের পর ইন্তেকাল করেন এবং সে রাতেই তাঁকে দাফন করা হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবি আজওয়াজিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
ثَنَا مُحَمَّدٌ ثَنَا الزُّبَيْرُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مُوسَى أَبِي غَزِيَّةَ عَنْ أَبِي الْبَسَّامِ سَعِيدِ بْنِ عُمَارَةَ بْنِ غَزِيَّةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: خَرَجْنَا مَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَزْوَةِ بَدْرٍ حَتَّى إِذَا كُنَّا بِالأَثِيلِ عِنْدَ الأَرَاكِ قَالَتْ فَذَهَبْتُ لِحَاجَتِي فَدَخَلْتُ فِي خِلالِ الأَرَاكِ فَبَيْنَا أَنَا كَذَلِكَ إِذَا نَحْنُ بِشَخْصٍ رَجُلٍ يَتَخَلَّلُ الأَرَاكَ عَلَى بَعِيرٍ فَذَهَبْتُ فَإِذَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَقْبَلَ حَتَّى نَزَلَ عِنْدِي فَلَمَّا فَرَغْتُ مِنْ حَاجَتِي قَالَ تَعَالَيْ أُسَابِقُكِ فَشَدَدْتُ دِرْعِي عَلَى بَطْنِي ثُمَّ خَطَطْنَا خَطًّا فَعُجْت عَلَيْهِ فَاسْتَبَقْنَا فَسَبَقَنِي فَقَالَ هَذِهِ مَكَانُ ذِي الْمَجَازِ وَكَانَ جَاءَ يَوْمًا وَنَحْنُ بِذِي الْمَجَازِ وَأَنَا جَارِيَةٌ قَدْ بَعَثَنِي أَبِي بِشَيْءٍ فَقَالَ أَعْطِنِيهِ فَأَبَيْتُ فَسَعَيْتُ وَسَعَى عَلَى أَثَرِي فَلَمْ يُدْرِكْنِي
ثَنَا مُحَمَّدٌ ثَنَا الزُّبَيْرُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ سَيَّارٍ أَبِي الْحَكَمِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا قَالَتْ رَأَيْتُ جِبْرِيلَ عليه السلام عَلَيْهِ عِمَامَةٌ حَمْرَاءُ سَادِلُهَا بَيْنَ كَتِفَيْهِ
ثَنَا مُحَمَّدٌ ثَنَا الزُّبَيْرُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَسَنٍ عَن الْمُغيرَة بن عبد الرَّحْمَن عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ
মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যুবাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আমাকে মুহাম্মদ ইবনে মূসা আবু গাযিয়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবুল বাসসাম সাঈদ ইবনে উমারাহ ইবনে গাযিয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে বদর যুদ্ধে বের হলাম, অবশেষে যখন আমরা আরাক গাছের নিকট আসীল নামক স্থানে পৌঁছালাম, তখন আমি আমার প্রয়োজনে বের হলাম এবং আরাক গাছের আড়ালে প্রবেশ করলাম। এমতাবস্থায় হঠাৎ আমি এক ব্যক্তিকে উটের পিঠে চড়ে আরাক গাছের ভেতর দিয়ে আসতে দেখলাম। আমি কাছে গিয়ে দেখলাম তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। তিনি এগিয়ে এলেন এবং আমার নিকট অবতরণ করলেন। যখন আমি আমার প্রয়োজন শেষ করলাম, তিনি বললেন, "এসো, আমি তোমার সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করি।" তখন আমি আমার চাদরটি পেটের সাথে শক্ত করে বাঁধলাম, তারপর আমরা একটি রেখা টানলাম এবং দৌড় শুরু করলাম। তিনি আমাকে হারিয়ে দিলেন এবং বললেন, "এটি যুল-মাজাযের সেই দিনের বদলা।" ইতিপূর্বে একদিন তিনি এসেছিলেন যখন আমরা যুল-মাজাযে ছিলাম এবং আমি তখন অল্পবয়সী মেয়ে ছিলাম; আমার পিতা আমাকে কোনো একটি বস্তু দিয়ে পাঠিয়েছিলেন। তিনি বললেন, "এটি আমাকে দাও।" আমি দিতে অস্বীকার করলাম এবং দৌড়ে পালালাম। তিনি আমার পিছু নিলেন কিন্তু আমাকে ধরতে পারলেন না।
মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যুবাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আমাকে আবদুল আযীয ইবনে মুহাম্মদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি সাইয়্যার আবু হাকাম থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন, "আমি জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-কে দেখেছি, তাঁর মাথায় একটি লাল পাগড়ি ছিল যার প্রান্তভাগ তিনি তাঁর দুই কাঁধের মাঝখানে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন।"
মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যুবাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে হাসান আমাকে মুগীরা ইবনে আবদুর রহমান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন—
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবি আজওয়াজিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَضْلُ عَائِشَةَ عَلَى النِّسَاءِ كَفَضْلِ الثَّرِيدِ عَلَى سَائِرِ الطَّعَامِ
ثَنَا مُحَمَّدٌ ثَنَا الزُّبَيْرُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَسَنٍ عَنْ حَاتِمِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ عَنْ مُصْعَبِ بْنِ ثَابِتٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ دِينَارٍ أَوْ ابْنِ زَبَّانَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِلرِّجَالِ حَوَارِيٌّ وَلِلنِّسَاءِ حَوَارِيَّةٌ فَحَوَارِيُّ الرِّجَالِ الزُّبَيْرُ وَحَوَارِيَّةُ النِّسَاءِ عَائِشَةُ
قَالَ أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْبَرَاءِ سَمِعْتُ الزُّبَيْرَ يَقُولُ حَوَارِيِّي الزُّبَيْرُ قَالَ خُلْصَانِي وَمِنْ ذَلِكَ قيل للدقيق الحوراي خُلْصَانُ الدَّقِيقِ قَالَ وَسَمِعْتُ الزُّبَيْرَ يَقُولُ لَمْ يَقُلِ النَّاسُ فِي مَوَاتِيمِهِمْ وَاحَرْبَاهْ حَتَّى مَاتَ حَرْبُ بْنُ أُمَيَّةَ فَصَحَنَ النِّسَاءُ وَقُلْنَ وَاحَرْبَاهْ فَأَمَالَهُ النَّاسُ وَاحَرْبَاهْ
ثَنَا مُحَمَّدٌ ثَنَا الزُّبَيْرُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَسَنٍ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبَانٍ هُوَ السَّعْدِيُّ عَنْ صَالِحٍ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ زَيْدٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اللَّهُمَّ وفقها
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নারীদের ওপর আয়েশার শ্রেষ্ঠত্ব হচ্ছে সমস্ত খাবারের ওপর সারীদের (মাংস ও রুটি দিয়ে তৈরি বিশেষ খাদ্য) শ্রেষ্ঠত্বের মতো।"
মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জুবায়ের আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন হাসান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন হাতিম ইবন ইসমাইল থেকে, তিনি মুসআব ইবন সাবিত থেকে, তিনি আতা ইবন দীনার অথবা ইবন যাব্বান থেকে, তিনি ইয়াজীদ ইবন আবি হাবীব থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "পুরুষদের জন্য হাওয়ারী (নিষ্ঠাবান সাহায্যকারী) রয়েছে এবং নারীদের জন্য হাওয়ারীয়াহ রয়েছে। পুরুষদের মধ্যে হাওয়ারী হলেন জুবায়ের এবং নারীদের মধ্যে হাওয়ারীয়াহ হলেন আয়েশা।"
আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনুল বারা বলেন: আমি জুবায়েরকে বলতে শুনেছি, তিনি (রাসূল) বলেছেন: "আমার হাওয়ারী হলেন জুবায়ের।" জুবায়ের বলেন: "অর্থাৎ আমার একান্ত বন্ধু।" আর এ কারণেই বাছাইকৃত বা পরিচ্ছন্ন আটাকে 'হাওয়ারী' বলা হয়। তিনি (রাবী) বলেন: আমি জুবায়েরকে আরও বলতে শুনেছি: মানুষ তাদের শোকগাঁথায় 'ওয়া হারবাহ' (হায় আফসোস) বলত না যতক্ষণ না হারব ইবন উমাইয়া মারা যান। তখন নারীরা বিলাপ করে বলতে লাগল 'ওয়া হারবাহ', এরপর মানুষ একে 'ওয়া হারবাহ' হিসেবেই বলতে শুরু করল।
মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জুবায়ের আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন হাসান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল আজিজ ইবন আবান থেকে—যিনি আস-সাদী—তিনি সালিহ থেকে, তিনি জাফর ইবন যায়িদ থেকে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "হে আল্লাহ, আপনি তাকে তাওফিক (সঠিক পথের সামর্থ্য) দান করুন।"
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবি আজওয়াজিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
ثَنَا مُحَمَّدٌ ثَنَا الزُّبَيْرُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْحسن عَن عبد الله بْنِ وَهْبٍ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ نَافِعٍ وَغَيْرِهِ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ قَالَ صَلَّيْنَا عَلَى عَائِشَةَ وَأُمِّ سَلَمَةَ زَوْجَتَيِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَسَطَ الْبَقِيعِ وَالإِمَامُ يَوْمَ صَلَّيْنَا على عَائِشَة أَبُو هُرَيْرَة وَحضر ذَلِك عبد الله بن عمر وَدخل قبر عَائِشَة عبد الله وَعُرْوَة ابْنا الزبير وَالقَاسِم وعبد الله ابْنا مُحَمَّد بن أبي بكر وعبد الله بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ وَمَاتَتْ سَنَةَ ثَمَانٍ وَخَمْسِينَ فِي رَمَضَانَ لِسَبْعَ عَشْرَةَ مَضَتْ مِنْهُ بَعْدَ الْوِتْرِ وَدُفِنَتْ مِنْ لَيْلَتِهَا
ثَنَا مُحَمَّدٌ ثَنَا الزُّبَيْرُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَسَنٍ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ طَلْحَةَ عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ عَائِشَةَ لَمَّا تُوُفِّيَتْ قَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ اذْهَبِي إِلَيْكِ وَاللَّهِ مَا كَانَ عَلَى الأَرْضِ نَسَمَةٌ أَحَبَّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْكِ ثُمَّ أَدْرَكْتُهَا فَقَالَتْ أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ بَعْدَ أَبِيهَا وَمَاتَتْ عَائِشَةُ فِي خِلافَةِ مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ
ثَنَا مُحَمَّدٌ ثَنَا الزُّبَيْرُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَسَنٍ عَنْ مَعْنِ بْنِ عِيسَى عَنْ فَائِدٍ عَنْ مُنْقِذٍ الْحَفَّارِ قَالَ كَانَ فِي الْمَقْبُرَةِ قَبْرَانِ مَطَابِقَانِ بِالْحِجَارَةِ لَيْسَ فِيهَا غَيْرُهُمَا قَبْرُ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَقَبْرُ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا
আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট যুবাইর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব থেকে, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি নাফে' এবং অন্যান্য আলেমদের থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুই সহধর্মিণী আয়েশা ও উম্মে সালামার জানাজার সালাত বাকী'র মাঝখানে আদায় করেছি। যেদিন আমরা আয়েশার জানাজা পড়ি, সেদিন ইমাম ছিলেন আবু হুরায়রা। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আয়েশার কবরে নেমেছিলেন যুবাইরের দুই পুত্র আব্দুল্লাহ ও উরওয়াহ, মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকরের দুই পুত্র কাসিম ও আব্দুল্লাহ এবং আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর। তিনি আটান্ন হিজরি সনের রমজান মাসের সতেরো তারিখ অতিক্রান্ত হওয়ার পর বিতর সালাতের পরে ইন্তেকাল করেন এবং সেই রাতেই তাঁকে দাফন করা হয়।
আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট যুবাইর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে মুহাম্মাদ ইবনে হাসান বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে তালহা থেকে, তিনি আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহধর্মিণী উম্মে সালামাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, আয়েশা যখন ইন্তেকাল করলেন, তখন উম্মে সালামাহ বললেন: তুমি চলে গেলে; আল্লাহর কসম, যমীনের বুকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তোমার চেয়ে বেশি প্রিয় আর কেউ ছিল না। অতঃপর তিনি নিজেকে সংশোধন করে বললেন, আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, তাঁর পিতার পরে। আর আয়েশা মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ানের খিলাফতকালে ইন্তেকাল করেন।
আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট যুবাইর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে মুহাম্মাদ ইবনে হাসান বর্ণনা করেছেন মা'ন ইবনে ঈসা থেকে, তিনি ফায়েদ থেকে, তিনি মুনকিয আল-হাফফার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: কবরস্থানে পাথর দিয়ে ঢাকা দুটি কবর ছিল, সেখানে ওই দুটি ছাড়া আর কোনো কবর ছিল না; একটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহধর্মিণী আয়েশার কবর এবং অন্যটি হাসান ইবনে আলীর (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন) কবর।
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবি আজওয়াজিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ٣٩)
3 -
قِصَّةُ تَزَوُّجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلمحَفْصَةَ بِنْتَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ
ونا مُحَمَّدٌ ثَنَا الزُّبَيْرُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَسَنٍ عَنْ أُسَامَةَ بْنِ حَفْصٍ عَنْ يُونُسَ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ وَمُحَمَّدِ بْنِ طَلْحَةَ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَزَوَّجَ حَفْصَةَ بِنْتَ عُمَرَ وَكَانَتْ قَبْلَهُ عِنْدَ خُنَيْسِ بْنِ حُذَافَةَ وَقَدْ شَهِدَ بَدْرًا وَأَمْهَرَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بُسَاطًا وَوِسَادَتَيْنِ وَكِسَاءً رَحْبًا يَفْتَرِشَانِهِ فِي الْقَيْظِ وَالشِّتَاءِ نِصْفَهُ وَيَلْتَحِفَانِ نِصْفَهُ وَإِنَاءَيْنِ أَخْضَرَيْنِ وَأَوْلَمَ عَلَيْهَا الْمُهَاجِرُونَ دُونَ الأَنْصَارِ وَطِبَّةً مَأْقُوطَةً بِسمن وتمر عَجْوَة وَسَوِيقًا مَلْتُوتًا وَكَانَتْ تَفْخَرُ عَلَى عَائِشَةَ تَقُولُ قَوْمِي وَحِزْبِي خَيْرٌ مِنْ قَوْمِكِ وَحِزْبِكِ
ثَنَا مُحَمَّدٌ ثَنَا الزُّبَيْرُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَسَنٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مُوسَى أَبِي غَزِيَّةَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي زَيْدٍ عَنْ رُبَيْحِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ تَزَوَّجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَفْصَةَ بِنْتَ عُمَرَ فِي شَعْبَانَ عَلَى رَأْسِ ثَلاثِينَ شَهْرًا مِنَ الْهِجْرَةِ قَبْلَ أُحُدٍ بِشَهْرَيْنِ
৩ -
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিবাহের ঘটনাউমর ইবনুল খাত্তাবের কন্যা হাফসাকে
আমাদের নিকট মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট যুবাইর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমার নিকট মুহাম্মদ ইবনে হাসান বর্ণনা করেছেন উসামাহ ইবনে হাফস থেকে, তিনি ইউনুস থেকে, তিনি ইবনে শিহাব ও মুহাম্মদ ইবনে তালহা থেকে, তিনি উসমান ইবনে আব্দুর রহমান থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরের কন্যা হাফসাকে বিবাহ করেন। তাঁর পূর্বে তিনি খুনাইস ইবনে হুজাফার স্ত্রী ছিলেন, যিনি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে মোহরানা হিসেবে একটি বিছানা (কার্পেট), দুটি বালিশ এবং একটি প্রশস্ত চাদর প্রদান করেন, যার অর্ধেক অংশ তাঁরা গ্রীষ্ম ও শীতকালে বিছাতেন এবং বাকি অর্ধেক অংশ গায়ে জড়াতেন; আর প্রদান করেছিলেন দুটি সবুজ পাত্র। আনসারগণ ব্যতীত মুহাজিরগণ তাঁর ওলিমার আয়োজন করেন, যাতে ছিল ঘি ও আজওয়া খেজুর মিশ্রিত পনিরের মিষ্টান্ন এবং আলোড়িত ছাতু। তিনি আয়েশার নিকট গর্ব করে বলতেন, "আমার সম্প্রদায় ও আমার দল তোমার সম্প্রদায় ও দলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।"
আমাদের নিকট মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট যুবাইর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমার নিকট মুহাম্মদ ইবনে হাসান বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে মুসা আবি গাজিয়্যাহ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আবি যায়েদ থেকে, তিনি রুবাইহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আবি সাঈদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরতের ত্রিশ মাস পূর্ণ হওয়ার প্রাক্কালে শাবান মাসে উমরের কন্যা হাফসাকে বিবাহ করেন, যা ছিল উহুদ যুদ্ধের দুই মাস পূর্বে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবি আজওয়াজিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ٤٠)
ثَنَا مُحَمَّدٌ ثَنَا الزُّبَيْرُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَسَنٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم طَلَّقَ حَفْصَةَ فَجَزِعَ عُمَرُ وَهَلَعَ وَقَالَ لَوْ كَانَ لِلَّهِ فِي آلِ عُمَرَ حَاجَةٌ مَا طَلَّقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَفْصَة فَلَمَّا خرج رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لِلصَّلاةِ أَذَّنَ بِلالٌ ثُمَّ أَقَامَ الصَّلاةَ فَلَمَّا قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْقِبْلَةِ رَجَعَ حَتَّى أَتَى بَيْتَ حَفْصَةَ فَقَالَ إِنَّ جِبْرِيلَ عَرَضَ لِي فِي الْقِبْلَةِ فَقَالَ رَاجع حَفْصَة فَإِنَّهَا صؤوم قؤوم وَإِنَّهَا زَوْجَتُكَ فِي الْجَنَّةِ ثُمَّ ذَهَبَ
ثَنَا مُحَمَّدٌ ثَنَا الزُّبَيْرُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَسَنٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مُوسَى عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي زَيْدٍ عَنْ رُبَيْحِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ تُوُفِّيَتْ حَفْصَةُ بِنْتُ عُمَرَ سَنَةَ خَمْسٍ وَأَرْبَعِينَ وَصَلَّى عَلَيْهَا مَرْوَانُ بْنُ الْحَكَمِ وَهُوَ عَامِلُ الْمَدِينَةِ يَوْمَئِذٍ عِنْدَ مَوْضِعِ الْجَنَائِزِ وَجَعَلَ عَلَيْهَا نَعْشًا وَمَشَى مَعَهَا إِلَى الْبَقِيعِ وَجَلَسَ حَتَّى فَرَغَ مِنْ دَفْنِهَا وَحَمَلَهَا مَرْوَانُ بَيْنَ عَمُودَيِ السَّرِيرِ مِنْ دَارِ بَنِي حَزْمٍ إِلَى دَارِ شُعْبَةَ وَحَمَلَهَا أَبُو هُرَيْرَةَ بَيْنَ عَمُودَيْ سَرِيرِهَا مِنْ دَارِ شُعْبَةَ إِلَى قَبْرِهَا وَأَرْسَلَ مَرْوَانُ بْنُ الْحَكَمِ حِينَ انْصَرَفَ مِنْ حضرتها إِلَى عبد الله بْنِ عُمَرَ بِعَزِيمَةٍ فِي الصَّحِيفَةِ الَّتِي كَانَتْ عِنْدَهَا فَمَحَاهَا وَنَزَلَ فِي قَبْرِ حَفْصَةَ بِنْتِ عُمَرَ عَبْدُ اللَّهِ وَعَاصِمٌ ابْنَا عُمَرَ وَعُبَيْدُ الله وَسَالم وحمزه بَنو عبد الله بن عمر
মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন জুবাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন মুহাম্মাদ ইবনে হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল থেকে, তিনি ইবনে আবি মুলাইকাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাফসাকে তালাক দিয়েছিলেন। এতে উমর অত্যন্ত মর্মাহত ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লেন এবং বললেন, "যদি আল্লাহর নিকট উমরের পরিবারের কোনো গুরুত্ব থাকত, তবে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাফসাকে তালাক দিতেন না।" যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাতের জন্য বের হলেন, বিলাল আজান দিলেন এবং এরপর সালাতের ইকামাত দিলেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন কিবলার দিকে (নামাজে) দাঁড়ালেন, তখন তিনি ফিরে আসলেন এবং হাফসার ঘরে পৌঁছে বললেন, "নিশ্চয়ই জিবরীল কিবলার দিকে আমার সামনে আত্মপ্রকাশ করলেন এবং বললেন: হাফসাকে পুনরায় গ্রহণ করুন, কেননা তিনি অধিক রোজা পালনকারী ও অধিক রাত জেগে ইবাদতকারী এবং তিনি জান্নাতে আপনার স্ত্রী।" এরপর তিনি চলে গেলেন।
মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন জুবাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন মুহাম্মাদ ইবনে হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে মুসা থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আবি জাইদ থেকে, তিনি রুবাইহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আবি সাঈদ আল-খুদরি থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: উমরের কন্যা হাফসা পঁয়তাল্লিশ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। মারওয়ান ইবনুল হাকাম, যিনি ওই সময় মদিনার গভর্নর ছিলেন, জানাজার স্থানে তার জানাজা পড়ান। তিনি তার লাশের ওপর একটি আচ্ছাদনযুক্ত খাটিয়া স্থাপন করেন এবং বাকি গোরস্থান পর্যন্ত তার সঙ্গে হেঁটে যান এবং তার দাফন শেষ হওয়া পর্যন্ত সেখানে বসে থাকেন। মারওয়ান খাটিয়ার দুই খুঁটির মাঝখানে ধরে বনু হাজমের বাড়ি থেকে শু'বাহর বাড়ি পর্যন্ত তাকে বহন করেন। আর আবু হুরায়রা তাকে শু'বাহর বাড়ি থেকে তার কবর পর্যন্ত খাটিয়ার দুই খুঁটির মাঝখানে ধরে বহন করেন। মারওয়ান ইবনুল হাকাম জানাজা থেকে ফিরে আসার সময় আবদুল্লাহ ইবনে উমরের নিকট সেই সহীফার (পবিত্র কুরআনের লিপি) ব্যাপারে অটল নির্দেশ পাঠালেন যা হাফসার নিকট সংরক্ষিত ছিল, অতঃপর তিনি তা মিটিয়ে (ধ্বংস করে) ফেলেন। আর উমরের দুই পুত্র আবদুল্লাহ ও আসিম এবং আবদুল্লাহ ইবনে উমরের পুত্রগণ—উবায়দুল্লাহ, সালিম ও হামজা হাফসা বিনতে উমরের কবরে নামলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবি আজওয়াজিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ٤١)
4 -
قِصَّةُ تَزَوُّجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلمزَيْنَبَ بِنْتَ خُزَيْمَةَ الْهِلالِيَّةَ
ثَنَا مُحَمَّدٌ ثَنَا الزُّبَيْرُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَسَنٍ عَنْ أُسَامَةَ بْنُ حَفْصٍ عَنْ يُونُسَ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَن أنس يَعْنِي بْنِ عِيَاضٍ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عُثْمَانَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَزَوَّجَ زَيْنَبَ بِنْتَ خُزَيْمَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ إِحْدَى نِسَاءِ بَنِي عَبْدِ مَنَافِ بْنِ هِلالِ بْنِ عَامِرِ بْنِ صَعْصَعَةَ وَكَانَ يُقَالُ لَهَا أُمُّ الْمَسَاكِينَ تَزَوَّجَهَا بِالْمَدِينَةِ وَكَانَتْ قَبْلَهُ عِنْدَ الطُّفَيْلِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ الْمُطَّلِبِ شَهِدَ بَدْرًا وَيُقَالُ كَانَتْ عِنْدَ عُبَيْدَةَ بْنِ الْحَارِثِ مَاتَ مِنَ الْجِرَاحَةِ الَّتِي أَصَابَتْهُ يَوْمَ بَدْرٍ وَأَصْدَقَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَشَرَةَ أَوَاقٍ وَأَوْلَمَ عَلَيْهَا جَزُورًا فَكَثُرَ الْمَسَاكِينُ فَتَرَكَهُمُ النَّاس وَالطَّعَام ثُمَّ غَدَا النَّاسُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ خَلا لَهُمْ وَجْهُهُ فَجَعَلَ الرَّجُلُ يَأْتِي بِالْهَرِيسَةِ فَلَمْ يَجْتَمِعْ لَهُمْ إِلا الْهَرَائِسُ فَدَعَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُبَارِكَ لَهُمْ فِيهَا
৪ -
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক জয়নাব বিনতে খুজাইমাহ আল-হিলালিয়্যাহকে বিবাহ করার ঘটনামুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জুবায়ের আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আমার নিকট উসামাহ ইবনে হাফস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইউনুস থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আনাস অর্থাৎ ইবনে ইয়াদ থেকে, তিনি আবু বকর ইবনে উসমান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জয়নাব বিনতে খুজাইমাহ ইবনে আব্দুল্লাহকে বিবাহ করেন, যিনি বনু আব্দ মানাফ ইবনে হিলাল ইবনে আমির ইবনে সা’সা’আ গোত্রের একজন নারী ছিলেন। তাকে ‘উম্মুল মাসাকিন’ (মিসকিনদের মা) বলা হতো। তিনি তাকে মদিনায় বিবাহ করেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পূর্বে তিনি তুফাইল ইবনুল হারিস ইবনুল মুত্তালিবের স্ত্রী ছিলেন, যিনি বদরের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন। আবার বলা হয় যে, তিনি উবাইদাহ ইবনুল হারিসের স্ত্রী ছিলেন, যিনি বদরের যুদ্ধে প্রাপ্ত আঘাতের কারণে মারা যান। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে দশ উকিয়া মোহর প্রদান করেন এবং তার বিবাহ উপলক্ষে একটি উট জবাই করে ওলিমা খাওয়ান। এতে অনেক মিসকিন সমবেত হয়েছিল, ফলে মানুষজন তাদের জন্য খাবার রেখে চলে যায়। পরদিন সকালে লোকজন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসেন এবং তিনি তাদের জন্য অবসর হন। তখন লোকজন হারিসাহ (এক প্রকার খাবার) নিয়ে আসতে শুরু করেন, ফলে তাদের নিকট কেবল হারিসাহই জমা হতে থাকে। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই খাবারে বরকতের জন্য তাদের জন্য দোয়া করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবি আজওয়াজিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ٤٢)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ ثَنَا الزُّبَيْرُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حسن عَن غير وَاحِد مِنْهُم ابراهيم ابْن مُحَمَّدٍ عَنْ عَبْدِ الْمَجِيدِ بْنِ سُهَيْلٍ وَكَثِيرِ بْنِ زَيْدٍ عَنِ الْمُطَّلِبِ أَنَّ زَيْنَبَ بِنْتَ خُزَيْمَةَ كَانَتْ قَبْلَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عِنْدَ الطُّفَيْلِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ الْمُطَّلِبِ فَلَمَّا خَطَبَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَعَلَتْ أَمْرَهَا إِلَيْهِ فَتَزَوَّجَهَا وَأَشْهَدَ وَأَصْدَقَهَا اثْنَتَيْ (عَشْرَةَ أُوِقَيَّةً وَنَشَا) فِي رَمَضَانَ عَلَى رَأْسِ أَحَدٍ وَثَلاثِينَ شَهْرًا مِنْ مَهَاجِرِهِ فَمَكَثَتْ عِنْدَهُ ثَمَانِيَةَ أَشْهُرٍ وَتُوُفِّيَتْ فِي آخِرِ شَهْرِ رَبِيعٍ الآخَرِ عَلَى رَأْسِ تِسْعَةٍ وَثَلاثِينَ شَهْرًا وَدَفَنَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْبَقِيعِ وَصَلَّى عَلَيْهَا صلى الله عليه وسلم
5 -
قِصَّةُ تَزَوُّجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلمأُمَّ سَلَمَةَ بِنْتَ أَبِي أُمَيَّةَ
ثَنَا مُحَمَّدٌ ثَنَا الزُّبَيْرُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَسَنٍ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ حُسَيْنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خَطَبَ أُمَّ سَلَمَةَ فَقَالَتْ كَيْفَ بِي وَرِجَالِي بِمَكَّةَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُزَوِّجُكِ ابْنُكِ وَيَشْهَدُ لَكِ رِجَالٌ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاجْتَمَعُوا لِذَاكَ فَخَطَبَهَا إِلَى ابْنِهَا فَقَالَ مَا تَسُوقُ إِلَيْهَا مِنَ الصَّدَاقِ فَقَالَ كَمَا أَصْدَقْتُ عَائِشَةَ صَحْفَةً كَثِيفَةً وَقَدحًا كثيفا وفراشا
মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যুবাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন হাসান একাধিক ব্যক্তি থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যাদের মধ্যে ইব্রাহিম ইবন মুহাম্মদ রয়েছেন, তিনি আব্দুল মাজিদ ইবন সুহাইল ও কাসির ইবন যায়িদ থেকে, তিনি মুত্তালিব থেকে বর্ণনা করেন যে, যায়নাব বিনতে খুজায়মা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসার আগে তুফাইল ইবনুল হারিস ইবনুল মুত্তালিবের নিকট ছিলেন। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বিবাহের প্রস্তাব দিলেন, তখন তিনি তাঁর বিবাহের বিষয়টি রাসূলুল্লাহর ওপর অর্পণ করলেন। অতঃপর তিনি তাঁকে বিবাহ করলেন, সাক্ষী রাখলেন এবং বারো ওকিয়া ও এক নাশা মোহরানা প্রদান করলেন। এটি ছিল হিজরতের একত্রিশতম মাসের শুরুতে রমজান মাসে। তিনি তাঁর নিকট আট মাস অবস্থান করেন এবং রবিউস সানি মাসের শেষ দিকে হিজরতের ঊনচল্লিশতম মাসের শুরুতে ইন্তেকাল করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বাকী’ গোরস্থানে দাফন করেন এবং তাঁর জানাজার নামাজ পড়ান।
৫ -
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিবাহের কাহিনীউম্মে সালামা বিনতে আবি উমাইয়া
মুহাম্মদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, যুবাইর আমাদের বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন হাসান কাসিম ইবন আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি হুসাইন ইবন আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে সালামার নিকট বিবাহের প্রস্তাব পাঠালেন। তখন তিনি বললেন, "আমার কী অবস্থা হবে অথচ আমার পুরুষ আত্মীয়রা তো মক্কায় রয়েছে?" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমার পুত্র তোমাকে বিবাহ দেবে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের মধ্য থেকে একদল লোক তোমার জন্য সাক্ষী থাকবে।" অতঃপর তারা সেই উদ্দেশ্যে একত্রিত হলেন এবং তিনি তাঁর পুত্রের নিকট তাঁর বিবাহের প্রস্তাব দিলেন। তখন সে (পুত্র) বলল, "আপনি মোহরানা হিসেবে তাঁকে কী প্রদান করবেন?" তিনি বললেন, "আয়েশাকে যা দিয়েছিলাম—একটি বড় খাদ্যপাত্র, একটি বড় পানপাত্র এবং একটি বিছানা।"
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবি আজওয়াজিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ٤٣)
حشوه لِيف والمجشة فَقَالَ الْغُلامُ وَمَا الْمجشة قَالَ الرَّحَى ثُمَّ دَخَلَ عَلَيْهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الظُّلْمَةِ لَيْلَةَ دَخَلَ عَلَيْهَا فَوَطِئَ عَلَى ابْنَتِهَا زَيْنَبَ فَصَاحَتْ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَا هَذَا قَالُوا زَيْنَبُ ثُمَّ دَخَلَ عَلَيْهَا لَيْلَةً أُخْرَى فِي ظُلْمَةٍ فَقَالَ انْظُرُوا زُنَابَكُمْ هَذِهِ لَا أَطَأُ عَلَيْهَا وَدَخَلَتْ زَيْنَبُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَغْتَسِلُ فَنَضَحَ فِي وَجْهِهَا قَالَ فَحَدَّثَنِي بَعْضُ وَلَدِهَا أَنَّهُ لَمْ يَزَلْ يُرَى فِي وَجْهِهَا مَاءُ الشَّبَابِ حَتَّى كَبَرَتْ وَعَجِزَتْ
ثَنَا مُحَمَّدٌ ثَنَا الزُّبَيْرُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَسَنّ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلالٍ عَنْ كَثِيرِ بْنِ زَيْدٍ عَنِ الْمُطَّلِبِ قَالَ لَقَدْ دَخَلَتْ أَيُّمُ الْعَرَبِ عَلَى سَيِّدِ الْمُسْلِمِينَ (أَوَّلَ الْعِشَاءِ) عَرُوسًا وَقَامَتْ آخِرَ اللَّيْلِ تَطْحَنُ يَعْنِي أُمَّ سَلَمَةَ
ثَنَا مُحَمَّدٌ ثَنَا الزُّبَيْرُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَسَنٍ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَن مُحَمَّد بن عبد الله بْنِ عَمْرِو بْنِ عُثْمَانَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَكُنْ يَشْرَبُ شَرَابًا فِيهِ رِيحٌ وَأَنَّهُ كَانَ يَنْصَرِفُ إِلَى بَيْتِ أُمِّ سَلَمَةَ فَيَلْعَقُ مِنْ عَسَلٍ كَانَ عِنْدَهَا وَأَنَّ بَعْضَ أَزْوَاجِهِ أَرْسَلَ إِلَى بَعْضٍ
এর পুর ছিল খেজুরের আঁশ এবং মিজাশাহ। বালকটি জিজ্ঞাসা করল, মিজাশাহ কী? তিনি বললেন, যাতা। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বাসর রাতে অন্ধকারের মধ্যে তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন এবং তাঁর কন্যা যয়নবের ওপর পা রাখলেন। তখন সে চিৎকার করে উঠল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এটা কী? তারা বলল, যয়নব। এরপর তিনি অন্য এক রাতে অন্ধকারের মধ্যে তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন এবং বললেন, তোমাদের এই ছোট্ট যয়নবের প্রতি লক্ষ্য রেখো যেন আমি তাঁর ওপর পা না রাখি। আর যয়নব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রবেশ করলেন যখন তিনি গোসল করছিলেন, তখন তিনি তাঁর মুখে পানির ছিটা দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তাঁর সন্তানদের কেউ আমাকে জানিয়েছেন যে, বৃদ্ধা ও অশক্ত হওয়া পর্যন্ত তাঁর চেহারায় যৌবনের সজীবতা সর্বদা বিরাজমান ছিল।
মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যুবাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে হাসান আমার নিকট সুলাইমান ইবনে বিলাল থেকে, তিনি কাসীর ইবনে যাইদ থেকে, তিনি মুত্তালিব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আরবের সেই বিধবা নারী নববধূ হিসেবে মুসলিমদের নেতার নিকট (ইশার শুরুর দিকে) প্রবেশ করলেন এবং রাতের শেষ ভাগে যাতা পেষার কাজে দাঁড়িয়ে গেলেন—অর্থাৎ উম্মে সালামা।
মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যুবাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে হাসান আমার নিকট আব্দুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে উসমান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন কোনো পানীয় পান করতেন না যাতে কোনো প্রকার গন্ধ থাকত। তিনি উম্মে সালামার ঘরে যেতেন এবং তাঁর নিকট থাকা মধু চেটে খেতেন। আর তাঁর জনৈক স্ত্রী অপর স্ত্রীর নিকট বার্তা পাঠালেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবি আজওয়াজিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ٤٤)
إِذَا جَاءَكُنَّ فَقُلْنَ مَا رِيحُ هَذِهِ الْمَغَافِيرِ مِنْكَ فَفَعَلْنَ فَتَرَكَ أَنْ يَلْعَقَ مِنْ عُكَّةِ أُمِّ سَلَمَةَ كَانَ لَا يَأْكُلُ طَعَامًا فِيهِ ريح المغافير صمغ العرفط هُوَ شَجَرٌ خَشِنٌ لِصَمْغِهِ رِيحٌ
ثَنَا مُحَمَّدٌ ثَنَا الزُّبَيْرُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَسَنٍ عَنْ غَيْرِ وَاحِد من أهل الْعلم مِنْهُم عبد الله بْنِ وَهْبٍ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ نَافِعٍ وَأَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عُثْمَانَ أَنَّ أُمَّ سَلَمَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم توفيت فِي (130 ب) الْقَعْدَةِ سَنَةَ تِسْعٍ وَخَمْسِينَ مِنْ مَهَاجِرِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَصَلَّى عَلَيْهَا أَبُو هُرَيْرَةَ بِالْبَقِيعِ وَنَزَلَ فِي
قَبْرِهَا سَلَمَةُ وَعُمَرُ ابْنَاهَا وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أُمَيَّةَ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبِ بْنِ زَمْعَةَثَنَا مُحَمَّدٌ ثَنَا الزُّبَيْرُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَسَنٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ يُونُسَ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ كَانَتْ أُمُّ سَلَمَةَ زَوْجُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم آخِرَ نِسَاءِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَفَاةً
ثَنَا مُحَمَّدٌ ثَنَا الزُّبَيْرُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَسَنٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَلِيٍّ قَالَ
حُفِرَ لِسَالِمٍ الْبَانكِيّ مَوْلَى مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ بِالْبَقِيعِ فَأَخْرَجُوا حَجَرًا طَوِيلا فَإِذَا فِيهِ مَكْتُوبٌ هَذَا قَبْرُ أُمِّ سَلَمَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ مُقَابل خوخة آل نبيه فأهيل عَلَيْهِ التُّرَاب وحفر لِسَالِمٍ مَوْضِعٌ آخَرُ
যখন তিনি তোমাদের নিকট আসবেন, তখন তোমরা বলো: ‘আপনার থেকে এই মাগাফিরের গন্ধ কিসের?’ তারা তাই করল। ফলে তিনি উম্মে সালামার মধুভাণ্ড থেকে তা গ্রহণ করা বর্জন করলেন। তিনি এমন কোনো খাদ্য গ্রহণ করতেন না যাতে মাগাফিরের গন্ধ থাকত। মাগাফির হলো উরফুত নামক একটি রুক্ষ গাছের আঠা, যার আঠায় বিশেষ গন্ধ রয়েছে।
মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যুবায়ের আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন হাসান আমার নিকট একাধিক ইলম অন্বেষণকারী ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবন ওয়াহব ছিলেন, তিনি ইবন জুরাইজ থেকে, তিনি নাফে থেকে; এবং আনাস ইবন ইয়াদ আবু বকর ইবন উসমান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী উম্মে সালামা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিজরতের উনষাটতম সালের যিলকদ মাসে (১৩০ খ) ইন্তেকাল করেন। আবু হুরায়রা বাকী কবরস্থানে তাঁর জানাজার সালাত পড়ান এবং তাঁর কবরে নামেন
তাঁর দুই পুত্র সালামা ও উমর, এবং আব্দুল্লাহ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আবি উমাইয়া ও আব্দুল্লাহ ইবন ওয়াহব ইবন জামআহ।মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যুবায়ের আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন হাসান আমার নিকট মুহাম্মদ ইবন জাফর ইবন আবি কাসীর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইউনুস থেকে, তিনি ইবন শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের মধ্যে উম্মে সালামা সর্বশেষ ইন্তেকাল করেন।
মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যুবায়ের আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন হাসান আমার নিকট ইব্রাহিম ইবন আলী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
মুহাম্মদ ইবন আলীর মুক্তদাস সালিম আল-বানকির জন্য বাকী কবরস্থানে কবর খনন করার সময় তারা একটি দীর্ঘ পাথর বের করেন, যাতে লেখা ছিল: এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী উম্মে সালামার কবর; এবং এটি আল-নাবিহ পরিবারের ছোট দরজার বিপরীতে অবস্থিত। অতঃপর পাথরটির ওপর মাটি ছিটিয়ে দেওয়া হয় এবং সালিমের জন্য অন্য স্থানে কবর খনন করা হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবি আজওয়াজিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ٤٥)
6 -
قِصَّةُ تَزْوِيجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلمجُوَيْرِيَةَ بِنْتَ الْحَارِثِ بْنِ أَبِي ضِرَارٍ
ثَنَا مُحَمَّدٌ ثَنَا الزُّبَيْرُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَسَنٍ عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ عَنْ مُجَاهِدٍ أَنَّ جُوَيْرِيَةَ قَالَتْ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِنَّ نِسَاءَكَ يَفْخَرْنَ عَلِيَّ قَالَ أَوَلَمْ أُعْظِمْ صَدَاقَكِ أَلَمْ أَعْتِقْ كُلَّ أَسِيرٍ مِنْ بَنِي الْمُصْطَلِقِ
ثَنَا مُحَمَّدٌ ثَنَا الزُّبَيْرُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَسَنٍ عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عِيسَى ابْنِ بِنْتِ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ عُمَرَ الأَنْصَارِيِّ عَنْ أَبِيهِ قَالَ تَزَوَّجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جُوَيْرِيَةَ بِنْتَ الْحَارِثِ بْنِ أبي ضرار بن الْحَارِث بن مَالك جُذَيْمَةَ بْنِ سَعْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ سَعْدٍ هُوَ المصطلق أَخذهَا يَوْم الْمُريْسِيع وَكَانَت قبله عِنْد صَفْوَان بن ذِي شقر وَكَانَ قد قَالَ
৬ -
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিবাহের বিবরণজুওয়াইরিয়া বিনতে আল-হারিস বিন আবি দিরার
আমাদের নিকট মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট জুবায়ের বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন হাসান আমার কাছে বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান বিন উইয়াইনাহ থেকে, তিনি ইবনে আবি নাজিহ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেন যে, জুওয়াইরিয়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, "আপনার স্ত্রীগণ আমার ওপর গর্ব করেন।" তিনি বললেন, "আমি কি তোমার মোহরানাকে মহান করিনি? আমি কি বনু মুস্তালিকের প্রত্যেক বন্দীকে মুক্ত করে দিইনি?"
আমাদের নিকট মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট জুবায়ের বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন হাসান আমার কাছে বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন ঈসা থেকে—যিনি দাউদ বিন আবি হিন্দের কন্যার পুত্র—তিনি ইয়াহইয়া বিন উমর আল-আনসারী থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুওয়াইরিয়া বিনতে আল-হারিস বিন আবি দিরার বিন আল-হারিস বিন মালিক জুজাইমা বিন সা'দ বিন আমর বিন সা'দ-কে বিবাহ করেন, আর এই ব্যক্তিই (জুজাইমা) হলেন আল-মুস্তালিক। তিনি তাঁকে মুরাইসি'র যুদ্ধের দিনে গ্রহণ করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পূর্বে তিনি সাফওয়ান বিন যিশ-শাকর-এর বিবাহাধীনে ছিলেন এবং সে বলেছিল...
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবি আজওয়াজিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ٤٦)
شِعْرًا يَوْمَئِذٍ
… أَنَا ابْنُ ذِي شُقَرَ وَجَدِّي مَبْذُول
… رُمْحٌ طَوِيلٌ وَحُسَامٌ مَصْقُولٌ
وَقَدْ عَلِمْتُ الْيَوْمَ أَنِّي مَقْتُولٌ
ثَنَا مُحَمَّدٌ ثَنَا الزُّبَيْرُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَسَنٍ عَنْ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْهُمْ أُسَامَةُ بْنُ حَفْصٍ عَنْ يُونُسَ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ وَأَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عُثْمَانَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَبَى جُوَيْرِيَةَ بِنْتَ الْحَارِثِ بْنِ أَبِي ضِرَارٍ إِحْدَى خُزَاعَةَ ثُمَّ إِحْدَى بلمصطلق يَوْمَ الْمُرَيْسِيعِ وَكَانَتْ قَبْلَهُ عِنْدَ ابْنِ عَمٍّ لَهَا فَجَاءَ أَبُوهَا فَافْتَدَاهَا ثُمَّ أَنْكَحَهَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدُ وَتُوُفِّيَتْ فِي شَهْرِ رَبِيعٍ الأَوَّلِ سَنَةَ سِتٍّ وَخَمْسِينَ وَصَلَّى عَلَيْهَا مَرْوَانُ بن الحكم
সেই দিনের কবিতা
… আমি যিশ-শুকারের পুত্র এবং আমার পিতামহ মাবজুল
… দীর্ঘ বর্শা এবং শাণিত কৃপাণ
আর আজ আমি নিশ্চিত জেনেছি যে আমি নিহত হতে চলেছি
মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জুবাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন হাসান আমার নিকট একাধিক আলেম থেকে বর্ণনা করেছেন যাদের মধ্যে উসামা ইবন হাফস রয়েছেন, ইউনুস থেকে, তিনি ইবন শিহাব থেকে এবং আনাস ইবন ইয়াজ আবূ বকর ইবন উসমান থেকে যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুরাইসি’ যুদ্ধের দিন খুজাআ তথা বনু মুস্তালিক গোত্রের জুওয়াইরিয়া বিনতে আল-হারিস ইবন আবি দিরারকে যুদ্ধবন্দী হিসেবে লাভ করেছিলেন। ইতিপূর্বে তিনি তাঁর এক চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী ছিলেন। অতঃপর তাঁর পিতা এসে মুক্তিপণ দিয়ে তাঁকে মুক্ত করেন এবং এরপর তিনি তাঁকে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে বিবাহ দান করেন। তিনি ছাপ্পান্ন হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে ইন্তেকাল করেন এবং মারওয়ান ইবনুল হাকাম তাঁর জানাজার সালাত পড়ান।
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবি আজওয়াজিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ٤٧)
7 -
رَيْحَانَةُ بِنْتُ زَيْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ قُنَافَةَ أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو طَالِبٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْفَتْحِ الْحَرْبِيُّ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُوسَى بْنِ الْقَاسِمِ بْنِ الصَّلْتِ إِجَازَةً أبنا أَبُو عَمْرٍو عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ الدَّقَّاقُ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ السَّمَّاكِ قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي ذِي الْحِجَّةِ سَنَةَ سَبْعٍ وَثَلاثِينَ وَثَلاثِمِائَةٍ أبنا الزُّبَيْرُ بْنُ بَكَّارٍ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ زُبَالَةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مُوسَى بْنِ يَعْقُوبَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي صَعْصَعَةَ عَنْ أَيُّوبَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَن بن عبد الله بْنِ صَعْصَعَةَ أَنَّ رَيْحَانَةَ بِنْتَ زَيْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ قُنَافَةَ قَالَتْ كُنْتُ تَحْتَ زَوْجٍ مُحِبٍّ لِي مُكْرِمٍ فَقُلْتُ لَا أَسْتَخْلِفُ بَعْدَهُ وَكُنْتُ ذَاتَ جَمَالٍ فَلَمَّا سُبِيَ بَنُو قُرَيْظَةَ عُرِضَ السَّبْيُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكنت فِيمَن عرض عَلَيْهِ فأمربي فَعُزِلْتُ وَكَانَ يَكُونُ لَهُ صَفِيٌّ مِنْ كُلِّ غَنِيمَةٍ فَلَمَّا عُزِلْتُ خَارَ اللَّهُ لِي فَأُرْسِلْتُ إِلَى بَيْتِ أُمِّ الْمُنْذِرِ بِنْتِ قَيْسٍ أَيَّامًا حَتَّى قُتِلَ الأُسَارَى وَفُرِّقَ السَّبْيُ فَدَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَيَّ فَاخْتَبَأْتُ مِنْهُ فَدَعَانِي فَأَجْلَسَنِي بَيْنَ يَدَيْهِ فَقَالَ (إِنِ اخْتَرْتِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ اخْتَارَكِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِنَفْسِهِ) فَقُلْتُ فَإِنِّي أَخْتَارُ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَلَمَّا أَسْلَمْتُ أَعْتَقَنِي وَتَزَوَّجَنِي وَأَصْدَقَنِي اثْنَيْ عَشْرَةَ أُوقِيَّةً وَنَشًّا كَمَا كَانَ يُصْدِقُ نِسَاءَهُ وَأَعْرَسَ بِي فِي بَيْتِ أُمِّ الْمُنْذِرِ وَكَانَ يُقَسِّمُ لِي كَمَا كَانَ يُقَسِّمُ لِنِسَائِهِ وَضَرَبَ عَلَيَّ الْحِجَّابَ
৭ -
রায়হানা বিনতে যাইদ বিন আমর বিন কুনাফা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবু তালিব মুহাম্মদ বিন আলী বিন আল-ফাতহ আল-হারবি তার কাছে আমার পাঠের মাধ্যমে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন মুসা বিন আল-কাসিম বিন আস-সালত ইজাযাহ মারফত; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর উসমান বিন আহমদ আদ-দাক্কাক, যিনি ইবনুস সাম্মাক নামে পরিচিত, ৩৩৭ হিজরী সনের জিলহজ মাসে তার কাছে পাঠের মাধ্যমে; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যুবায়ের বিন বাক্কার; মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন যুবলা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন মুসা বিন ইয়াকুব বিন মুহাম্মদ বিন আবি সা'সাআহ থেকে, তিনি আইয়ুব বিন আবদুর রহমান বিন আবদুল্লাহ বিন সা'সাআহ থেকে বর্ণনা করেন যে, রায়হানা বিনতে যাইদ বিন আমর বিন কুনাফা বলেছেন: আমি এমন একজন স্বামীর অধীনে ছিলাম যিনি আমাকে ভালোবাসতেন ও সম্মান করতেন। আমি বলেছিলাম যে, তার পরে আমি আর কাউকে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করব না। আমি সুন্দরী ছিলাম। যখন বনু কুরাইজা বন্দি হলো, তখন বন্দিদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে পেশ করা হলো। যাদেরকে তার কাছে পেশ করা হয়েছিল আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। তিনি আমার ব্যাপারে আদেশ দিলেন এবং আমাকে আলাদা করা হলো। আর প্রতিটি গনীমত থেকে তার জন্য একটি মনোনীত অংশ থাকতো। যখন আমাকে আলাদা করা হলো, আল্লাহ আমার জন্য কল্যাণ নির্ধারণ করলেন এবং আমাকে কয়েক দিনের জন্য উম্মুল মুনজির বিনতে কায়সের বাড়িতে পাঠানো হলো, যতক্ষণ না যুদ্ধবন্দিদের হত্যা করা হলো এবং বন্দিদের বণ্টন করা হলো। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে প্রবেশ করলেন, তখন আমি তার কাছ থেকে আত্মগোপন করলাম। তিনি আমাকে ডাকলেন এবং তার সামনে বসালেন, অতঃপর বললেন: "তুমি যদি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে বেছে নাও, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে নিজের জন্য পছন্দ করে নেবেন।" আমি বললাম: "আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকেই বেছে নিচ্ছি।" আমি যখন ইসলাম গ্রহণ করলাম, তিনি আমাকে মুক্ত করে দিলেন এবং আমাকে বিয়ে করলেন। তিনি আমাকে বারো উকিয়া ও এক নাশ মোহর প্রদান করলেন, যেমনটি তিনি তাঁর অন্যান্য স্ত্রীদের মোহর দিতেন। তিনি উম্মুল মুনজিরের বাড়িতে আমার সাথে বাসর করেন। তিনি আমার জন্য সেভাবেই সময় বণ্টন করতেন যেভাবে তিনি তাঁর অন্যান্য স্ত্রীদের জন্য করতেন এবং তিনি আমার ওপর পর্দার বিধান আরোপ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবি আজওয়াজিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ٤٨)
وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِهَا مُعْجَبًا لَا تَسْأَلُهُ شَيْئًا إِلا أَعْطَاهَا إِيَّاهُ لَقَدْ قِيلَ لَهَا لَوْ كُنْتُ سَأَلْتِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَبَى قُرَيْظَةَ لأَعْتَقَهُمْ فَكَانَتْ تَقُولُ لَمْ يَخْلُ بِي حَتَّى فَرَّقَ السَّبْيَ فَلَمْ تَزَلْ عِنْدَهُ حَتَّى تُوُفِّيَتْ مَرْجِعَهُ مِنْ حَجَّةِ الْوَدَاعِ فَدَفَنَهَا بِالْبَقِيعِ وَكَانَ تَزَوُّجُهُ إِيَّاهَا سَنَةَ سِتٍّ مِنَ الْهِجْرَةِ
ثَنَا مُحَمَّدٌ أبنا الزُّبَيْرُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَسَنٍ عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عِيسَى عَنْ يَحْيَى بْنِ عُمَرَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كَانَتْ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم رَيْحَانَةُ بِنْتُ شَمْعُونَ أَمَةً لَهُ
8 -
فَخْرُ زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ عَلَى نِسَاءِ النَّبِيِّ ثَنَا مُحَمَّدٌ ثَنَا الزُّبَيْرُ بْنُ بَكَّارٍ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَسَنٍ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبَانٍ عَنْ عِيسَى بْنِ طِهْمَانَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كَانَتْ زَيْنَبُ تَفْخَرُ عَلَى نِسَاءِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم تَقُولُ اللَّهُ عز وجل أَنْكَحَنِي من السَّمَاء
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রতি মুগ্ধ ছিলেন; তিনি তাঁর নিকট যা-ই চাইতেন, তিনি তাকে তা-ই দান করতেন। তাঁকে বলা হয়েছিল, "আপনি যদি বনু কুরাইজার বন্দীদের বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আবেদন করতেন, তবে তিনি তাদের মুক্ত করে দিতেন।" তখন তিনি বলতেন, "বন্দীদের বণ্টন সম্পন্ন করার আগে তিনি আমার সাথে নির্জনে মিলিত হননি।" বিদায় হজ থেকে ফেরার পথে তাঁর ইন্তেকাল পর্যন্ত তিনি তাঁর নিকটেই ছিলেন। তিনি তাঁকে জান্নাতুল বাকিতে দাফন করেন। তাঁর সাথে তাঁর বিবাহ হয়েছিল হিজরি ষষ্ঠ সনে।
মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যুবাইর আমাদের খবর দিয়েছেন, মুহাম্মাদ ইবনে হাসান আমার নিকট ইসহাক ইবনে ঈসা থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে উমর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রায়হানা বিনতে শামউন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তাঁর দাসী হিসেবে ছিলেন।
৮ -
নবীপত্নীদের ওপর যয়নাব বিনতে জাহশের গৌরব মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যুবাইর ইবনে বাক্কার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে হাসান আমার নিকট আবদুল আযীয ইবনে আবান থেকে, তিনি ঈসা ইবনে তিহমান থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যয়নাব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যান্য স্ত্রীদের সামনে গৌরব প্রকাশ করে বলতেন, "আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী আসমান থেকে আমার বিবাহ দিয়েছেন।"
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবি আজওয়াজিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ٤٩)
9 -
سَبَب تَسْمِيَة صَفِيَّة حَدثنَا مُحَمَّدٌ أنبا الزُّبَيْرُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَسَنٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ أَنَّ اسْمَ صَفِيَّةَ حَبِيبَةً وَلَكِنَّهَا سُمِّيَتْ صَفِيَّة لأَنَّهَا كَانَتْ صَفِيَّةً لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ خَيْبَرَ
৯ -
সাফিয়্যাহর নামকরণের কারণ মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যুবায়ের আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে হাসান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল থেকে, তিনি ইবনে আবি মুলাইকাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, সাফিয়্যাহর নাম ছিল হাবীবা, কিন্তু তাঁকে সাফিয়্যাহ নামকরণ করা হয়েছে কারণ তিনি খাইবারের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাফিয়্যাহ (যুদ্ধলব্ধ মালের মধ্য থেকে মনোনীত অংশ) ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবি আজওয়াজিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ٥٠)
10 -
قِصَّةُ تَزَوُّجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلمأُمَّ حَبِيبَةَ بِنْتَ أَبِي سُفْيَانَ
أنبا مُحَمَّدٌ أنبا الزُّبَيْرُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَسَنٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ زُهَيْرٍ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَتْ أُمُّ حَبِيبَةَ كنت بِأَرْض الْحَبَشَة مَعَ زَوجي عبيد الله بْنِ جَحْشٍ فَرَأَيْتُهُ بِأَسْوَأِ صُورَةٍ وَشَرِّهَا فَفَزِعْتُ وَقُلْتُ تَغَيَّرَتْ وَاللَّهِ حَالُهُ فَلَمَّا أَصْبَحْتُ قَالَ لِي إِنِّي نَظَرْتُ فِي الدِّينِ فَلَمْ أَرَ دِينًا خَيْرًا مِنَ النَّصْرَانِيَّةِ وَرَجَعَ إِلَى النَّصْرَانِيَّةِ فَقُلْتُ لَهُ وَاللَّهِ مَا خَيْرٌ لَكَ وَأَخْبَرْتُهُ مَا رَأَيْتُ لَهُ فَلَمْ يَحْفَلْ بِذَلِكَ وَأَكَبَّ عَلَى الْخَمْرِ حَتَّى مَاتَ فَأُرِيَ فِي النَّوْمِ كَأَنَّ أَبِي يَقُولُ لِي يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ فَفَزِعْتُ فَأَوَّلْتُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَزَوَّجُنِي فَمَا هُوَ إِلا أَنِ انْقَضَتْ عِدَّتِي فَمَا شَعَرْتُ إِلا بِرَسُولِ النَّجَاشِيِّ جَارِيَةٍ يُقَالُ لَهَا أَبْرَهَةُ كَانَتْ تَقُومُ عَلَى ثِيَابِهِ وَدَهْنِهِ فَاسْتَأْذَنَتْ عَلَيَّ فَأَذِنْتُ لَهَا فَقَالَتْ إِنَّ الْمَلِكَ يَقُولُ لَكِ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَتَبَ إِلَيَّ أَنْ أُزَوِّجَكَهُ فَقُلْتُ بَشَّرَكِ اللَّهُ بِخَيْرٍ وَقَالَتْ يَقُولُ لَكِ الْمَلِكُ وَكِّلِي مَنْ يُزَوِّجُكِ فَأَرْسَلَتْ إِلَى خَالِد بن سعيد
১০ -
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আবু সুফিয়ানের কন্যা উম্মে হাবিবার সাথে বিবাহের কাহিনীমুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, যুবায়ের আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে হাসান আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে জুহাইর থেকে, তিনি ইসমাইল ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উম্মে হাবিবা বলেছেন, আমি আমার স্বামী উবাইদুল্লাহ ইবনে জাহশের সাথে হাবাশা (আবিসিনিয়া) ভূমিতে ছিলাম। সেখানে আমি তাকে অত্যন্ত কুৎসিত ও নিকৃষ্ট অবস্থায় (স্বপ্নে) দেখলাম, এতে আমি আতঙ্কিত হলাম এবং বললাম, আল্লাহর কসম, তার অবস্থা পরিবর্তিত হয়ে গেছে। যখন ভোর হলো, সে আমাকে বলল, আমি ধর্মসমূহ নিয়ে চিন্তা করেছি এবং খ্রিষ্টধর্মের চেয়ে উত্তম কোনো ধর্ম দেখিনি। এরপর সে খ্রিষ্টধর্মে ফিরে গেল। তখন আমি তাকে বললাম, আল্লাহর কসম, এতে তোমার জন্য কোনো কল্যাণ নেই এবং আমি (স্বপ্নে) যা দেখেছি তা তাকে জানালাম। কিন্তু সে তাতে কোনো ভ্রুক্ষেপ করল না এবং মদপানে মত্ত থাকল, এমনকি সে মৃত্যুবরণ করল। এরপর আমি স্বপ্নে দেখলাম, যেন কেউ আমাকে বলছেন, "হে মুমিনদের মা!" এতে আমি চমকে উঠলাম এবং এর ব্যাখ্যা করলাম যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বিবাহ করবেন। আমার ইদ্দত শেষ হতে না হতেই হঠাৎ নাজ্জাশীর পক্ষ থেকে আবরাহা নামক এক দাসী দূতী হিসেবে আমার কাছে এল, যে রাজার পোশাক-পরিচ্ছদ ও সুগন্ধির দায়িত্ব পালন করত। সে আমার কাছে আসার অনুমতি চাইল এবং আমি তাকে অনুমতি দিলাম। সে বলল, রাজা আপনাকে বলছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কাছে পত্র লিখেছেন যেন তিনি আপনার সাথে তাঁর বিবাহ সম্পন্ন করে দেন। আমি বললাম, আল্লাহ আপনাকে সুসংবাদ দান করুন। সে বলল, রাজা আপনাকে বলছেন, আপনার পক্ষ থেকে এমন কাউকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করুন যিনি আপনার বিবাহ সম্পন্ন করবেন। তখন আমি খালিদ ইবনে সাঈদের কাছে লোক পাঠালাম।
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবি আজওয়াজিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ٥١)
فَوَكَّلَتْهُ وَأعْطيت أَبْرَهَة إسوارين مِنْ فِضَّةٍ وَخَدَمَتَيْنِ كَانَتَا عَلَيَّ وَخَوَاتِيمَ فِضَّةً كَانَتْ فِي أَصَابِعِ رِجْلِي سُرُورًا بِمَا بَشَّرَتْنِي بِهِ فَلَمَّا كَانَ الْعَشِيُّ أَمَرَ النَّجَاشِيُّ جَعْفَرَ بن أبي طَالب وَمن هُنَاكَ من الْمُسلمين يحْضرُون وَخَطَبَ النَّجَاشِيُّ فَقَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ الْمَلِكِ الْقُدُّوسِ السَّلَام الْمُؤمن الْمُهَيْمِن الْعَزِيز الْجَبَّار أشهد أَلا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوله وَأَنه الَّذِي بشر بِهِ عِيسَى بن مَرْيَمَ أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَتَبَ إِلَيَّ أَنْ أُزَوِّجَهُ أُمَّ حَبِيبَةَ بِنْتَ أَبِي سُفْيَانَ فَأَجَبْتُ إِلَى مَا دَعَا إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ أَصْدَقْتُهَا أَرْبَعَ مِائَةِ دِينَارٍ ثُمَّ سَكَبَ الدَّنَانِيرَ بَيْنَ أَيْدِي الْقَوْمِ فَتَكَلَّمَ خَالِدُ بْنُ سَعِيدٍ فَقَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ أَحْمَدُهُ وَأَسْتَغْفِرُهُ وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ أَرْسَلَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ أَمَّا بَعْدُ فَقَدْ أَجَبْتُ إِلَى مَا دَعَا إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَزَوَّجْتُهُ أُمَّ حَبِيبَةَ بِنْتَ أَبِي سُفْيَانَ فَبَارَكَ اللَّهُ لِرَسُولِهِ وَدَفَعَ الدَّنَانِيرَ إِلَى خَالِدِ بْنِ سَعِيدٍ فَقَبَضَهَا ثُمَّ أَرَادُوا أَنْ يَقُومُوا فَقَالَ اجْلِسُوا فَإِنَّ سُنَّةَ الأَنْبِيَاءِ إِذَا تَزَوَّجُوا أَنْ يُؤْكَلَ طَعَامٌ عَلَى التَّزَوُّجِ فَدَعَا بِطَعَامٍ فَأَكَلُوا ثُمَّ تَفَرَّقُوا
ثَنَا مُحَمَّدٌ أبنا الزُّبَيْرُ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَسَنٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ طَلْحَةَ قَالَ قَدِمَ خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ وَعَمْرُو بْنُ الْعَاصِ بِأُمِّ حَبِيبَةَ مِنْ أَرْضِ الْحَبَشَةِ عَام الْهُدْنَة
অতঃপর আমি তাকে উকিল নিযুক্ত করলাম এবং আবরাহাকে রূপার দুটি চুড়ি ও দুটি পায়ের অলঙ্কার উপহার দিলাম যা আমি পরিহিত ছিলাম এবং আমার পায়ের আঙুলের রূপার আংটিগুলোও প্রদান করলাম, সে আমাকে যে সুসংবাদ দিয়েছিল তাতে আনন্দিত হয়ে। যখন সন্ধ্যা হলো, নাজাশী জাফর ইবনে আবি তালিব এবং সেখানে উপস্থিত মুসলমানদের হাজির হওয়ার নির্দেশ দিলেন। নাজাশী খুতবা প্রদান করলেন এবং বললেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মহান অধিপতি, অতি পবিত্র, শান্তিদাতা, নিরাপত্তা দানকারী, রক্ষাকর্তা, পরাক্রমশালী ও মহাপ্রতাপশালী। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, এবং তিনি সেই ব্যক্তি যাঁর সম্পর্কে ঈসা ইবনে মারিয়াম সুসংবাদ দিয়েছিলেন। অতঃপর, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট এই মর্মে পত্র লিখেছেন যে, আমি যেন আবু সুফিয়ানের কন্যা উম্মে হাবীবাকে তাঁর সাথে বিবাহ দিই। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা আহবান করেছেন আমি তাতে সম্মতি প্রদান করেছি এবং আমি তাঁর পক্ষ থেকে চারশ দিনার মোহরানা প্রদান করেছি। এরপর তিনি সমবেত লোকদের সম্মুখে দিনারগুলো ঢেলে দিলেন। অতঃপর খালিদ ইবনে সাঈদ কথা বললেন এবং বললেন: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমি তাঁরই প্রশংসা করি ও তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। তিনি তাঁকে হেদায়েত ও সত্য দ্বীন সহকারে পাঠিয়েছেন যেন তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে। অতঃপর, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা আহবান করেছেন আমি তাতে সম্মতি জানিয়েছি এবং আবু সুফিয়ানের কন্যা উম্মে হাবীবাকে তাঁর সাথে বিবাহ দান করেছি। আল্লাহ তাঁর রাসূলের জন্য বরকত নাযিল করুন। অতঃপর তিনি দিনারগুলো খালিদ ইবনে সাঈদের নিকট অর্পণ করলেন এবং তিনি তা গ্রহণ করলেন। এরপর তারা যখন উঠে যেতে চাইলেন, তখন তিনি বললেন, আপনারা বসুন। কেননা নবীদের সুন্নত হলো যে, যখন তাঁরা বিবাহ করেন তখন বিবাহের উপলক্ষে খাবার খাওয়ানো হয়। এরপর তিনি খাবার আনালেন এবং সকলে আহার করলেন, অতঃপর তারা প্রস্থান করলেন।
মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জুবায়ের আমাদের জানিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন তালহা থেকে, তিনি বলেন: সন্ধির বছর খালিদ বিন ওয়ালিদ এবং আমর ইবনুল আস হাবাশা ভূমি থেকে উম্মে হাবীবাকে নিয়ে আসেন।