(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফী মানাকিবি উম্মাহাতিল মুমিনীন (পৃষ্ঠা: -)
كتاب الأربعين في مناقب أمهات المؤمنين   (ابن عساكر، أبو منصور)

القسم: كتب السنة


الكتاب: كتاب الأربعين في مناقب أمهات المؤمنين رحمة الله عليهن أجمعين

المؤلف: عبد الرحمن بن محمد بن الحسن، ابن منصور ابن عساكر الدمشقيّ الشافعي (ت 620هـ)

المحقق: محمد مطيع الحافظ , غزوة بدير

الناشر: دار الفكر - دمشق

الطبعة: الأولى، 1406

عدد الصفحات: 116

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মুমিন জননীদের মর্যাদা বিষয়ক চল্লিশ হাদিসের কিতাব   (ইবনে আসাকির, আবু মানসুর)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: মুমিন জননীদের মর্যাদা বিষয়ক চল্লিশ হাদিসের কিতাব (আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর রহমত বর্ষণ করুন)

লেখক: আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন হাসান, ইবনে মানসুর ইবনে আসাকির আল-দিমাশকি আশ-শাফিঈ (মৃত্যু ৬২০ হি.)

সম্পাদক: মুহাম্মদ মুতি আল-হাফিজ, গাজওয়াহ বুদাইর

প্রকাশক: দারুল ফিকর - দামেস্ক

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৬

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১৬

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের অনুরূপ রাখা হয়েছে]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফী মানাকিবি উম্মাহাতিল মুমিনীন (পৃষ্ঠা: ٣١)
‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

 

الْحَمد لله مسهل مَا صَعب من الْأُمُور الكائنات فاتح فاتحه الْفتُوح الميسرات المبشر فتحهَا بتطهير الأَرْض المقدسة من دنس الْكفْر والضلالات بطاهر سريرة مَالِكهَا وَنصر مَالك الأَرْض وَالسَّمَوَات المتقدس عَن الْحَدث وَالنُّقْصَان والآفات الْمُسْتَحق لكَمَال النعوت وَالصِّفَات المسبح بصنوف اللُّغَات الْمَحْمُود على جَمِيع الْأَفْعَال والحالات أَحْمَده على ترادف نعْمَة السابغات وترافد مننه السائغات حمدا دَائِما على ممر الْأَوْقَات والساعات

وَأشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ شَهَادَة منزهة عَن الشَّك والشبهات وَأشْهد أَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله (2 ب) صلى الله عليه وسلم استخرجه من أشرف الأباء والأمهات وابتعثه بالمعجزات البالغات والآيات والحجج الواضحات وَختم بِهِ النُّبُوَّة والرسلات وَخَصه بِأَفْضَل النِّسَاء والزوجات وشرفه بتحريمهن على الْمُؤمنِينَ بعد الْوَفَاة فأضاء بِنور رسَالَته حنادس الظُّلم والظلمات وانجلى بشمس مقَالَته سَحَاب الْكفْر والغوايات وأعز دينه بِأَصْحَابِهِ وَأَهله الَّذين هم لأمته كَالنُّجُومِ السائرات

فصلى الله عَلَيْهِ وَعَلَيْهِم أفضل الصَّلَوَات وعَلى أَزوَاجه الطَّيِّبَات الطاهرات المنزهات عَن قَول أهل الْإِفْك المبرآت وَسلم كثيرا إِلَى يَوْم الدّين وَنشر الْعِظَام الباليات
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল কঠিন জাগতিক বিষয়কে সহজকারী; বিজয়সমূহের প্রারম্ভিক ও সহজ বিজয়সমূহের উন্মোচনকারী; কুফর ও গোমরাহীর কলুষতা থেকে পবিত্র ভূমিকে পবিত্র করার মাধ্যমে যার বিজয় সুসংবাদ প্রদান করে; এর অধিকারীর পবিত্র অন্তঃকরণের মাধ্যমে এবং পৃথিবী ও আসমানসমূহের মালিকের সাহায্যের মাধ্যমে। যিনি সৃষ্টিজগত, অপূর্ণতা ও দোষ-ত্রুটি থেকে পবিত্র; যিনি পরিপূর্ণ গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্যের অধিকারী; যাকে বিভিন্ন ভাষায় মহিমান্বিত করা হয়; যিনি সকল কর্ম ও অবস্থায় প্রশংসিত। আমি তাঁর প্রশংসা করি তাঁর ধারাবাহিক ও পর্যাপ্ত নেয়ামত এবং তাঁর সুস্বাদু দানসমূহের জন্য; এমন প্রশংসা যা সর্বক্ষণ ও সবসময় নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই—এমন সাক্ষ্য যা সন্দেহ ও সংশয় থেকে মুক্ত। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল (২ খ), আল্লাহ তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। আল্লাহ তাঁকে শ্রেষ্ঠ পিতা ও মাতাদের বংশধারা থেকে বের করে এনেছেন এবং তাঁকে সুদূরপ্রসারী মুজেজা, নিদর্শন ও সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ প্রেরণ করেছেন। তাঁর মাধ্যমেই নবুয়ত ও রিসালতের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন এবং তাঁকে সর্বোত্তম নারী ও স্ত্রীদের দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন। তাঁর ইন্তেকালের পর মুমিনদের জন্য তাঁদেরকে হারাম (বিবাহ নিষিদ্ধ) করে মর্যাদা দান করেছেন। ফলে তাঁর রিসালতের আলো অন্ধকার ও তমসাকে আলোকিত করেছে এবং তাঁর বাণীর সূর্য কুফর ও বিভ্রান্তির মেঘমালাকে দূরীভূত করেছে। তিনি তাঁর সাহাবী ও আহলে বাইতের মাধ্যমে তাঁর দ্বীনকে সম্মানিত করেছেন, যারা তাঁর উম্মতের জন্য ভ্রাম্যমাণ নক্ষত্রতুল্য।

অতএব, আল্লাহর সর্বোত্তম রহমত বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁদের ওপর, আর তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন স্ত্রীদের ওপর, যারা অপবাদকারীদের কথা থেকে মুক্ত এবং নির্দোষ প্রমাণিত। আর কিয়ামত দিবস ও জীর্ণ হাড়সমূহের পুনরুত্থান পর্যন্ত তাঁদের ওপর অজস্র সালাম বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফী মানাকিবি উম্মাহাতিল মুমিনীন (পৃষ্ঠা: ٣٢)
أما بعد فَإِنِّي لما رَأَيْت جمَاعَة من الْأَئِمَّة الأجلاء والسادة الْعلمَاء رحمهم الله صنفوا كثيرا (3 أ) من الأربعينات فِي فنون حسان وَمَعَان مختلفات طَمَعا فِي الثَّوَاب الْمَوْعُود على ذَلِك كَمَا شهِدت بِهِ الْأَحَادِيث وَورد فِي الرِّوَايَات

وَذَلِكَ فِيمَا أخبرنَا بِهِ عَمِّي الْإِمَامُ الْحَافِظُ أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ هِبَةِ الله رَحْمَة الله عَلَيْهِ أناأبو بَكْرِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي بن مُحَمَّد الْأنْصَارِيّ بِبَغْدَاد وَأَبُو مُحَمَّد طَاهِر بن سُهَيْل بن بشر بن الإسفرايني بِدِمَشْق قَالَا نَا أَبُو بكر أَحْمد بن عَليّ بن ثَابت الْخَطِيب الْبَغْدَادِيّ أخبرنى مُحَمَّد بن جَعْفَر بن غيلَان الشُّرُوطِي نَا سعد بن مُحَمَّد بن إِسْحَاق الصَّيْرَفِي نَا مُحَمَّد بن عُثْمَان بن أبي شيبَة نَا مُحَمَّد بن حَفْص الحرامي كُوفِي نَا دُحَيْم الصَّيْدَاوِيُّ نَا أَبُو بكر بن عَيَّاش عَن عَاصِم عَن زر عَن عبد الله قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

(من حفظ على أمتِي أَرْبَعِينَ حَدِيثا يَنْفَعهُمْ الله بهَا قيل لَهُ ادخل من أَي أَبْوَاب الْجنَّة شِئْت) (3 ب) دُحَيْم هُوَ عبد الرَّحْمَن من بني الصيدا حَيّ من بني أَسد لَا من صيدا الَّتِي على السَّاحِل كُوفِي وَمُحَمّد الحرامي مَنْسُوب إِلَى أَبِيه من بني حرَام وزر هُوَ ابْن حُبَيْش

وَقد رُوِيَ معنى هَذَا الحَدِيث من وُجُوه عَن عبد الله بن عَبَّاس وَعَن أَمِير الْمُؤمنِينَ عَليّ وَعَن أبي الدَّرْدَاء وَعَن عبد الله بن عمر ومعاذ بن جبل وَأبي هُرَيْرَة وَغَيرهم رَضِي الله عَنْهُم

এরপর, আমি যখন দেখলাম যে একদল মহান ইমাম ও প্রথিতযশা আলেম—আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন—সুন্দর শিল্প ও বিভিন্ন অর্থের অন্তর্ভুক্ত অনেক (৩ ক) 'চল্লিশ হাদিস' সংকলন করেছেন, সেই প্রতিশ্রুত সওয়াবের আশায় যা হাদিসসমূহে সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে এবং বর্ণনাগুলোতে এসেছে।

আর তা হলো যা আমার চাচা ইমাম হাফেজ আবুল কাসিম আলী ইবনুল হাসান ইবনে হিবাতুল্লাহ—আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বাগদাদে আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল বাকি ইবনে মুহাম্মাদ আল-আনসারি এবং দামেস্কে আবু মুহাম্মাদ তাহির ইবনে সুহাইল ইবনে বিশর ইবনে আল-ইসফরাইনি; তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু বকর আহমদ ইবনে আলী ইবনে সাবিত আল-খাতিব আল-বাগদাদি; তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে জাফর ইবনে গায়লান আশ-শুরুতি; তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন সাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক আস-সাইরাফি; তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে উসমান ইবনে আবি শাইবা; তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন কুফার মুহাম্মাদ ইবনে হাফস আল-হারামি; তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন দুহায়ম আস-সাইদাউয়ি; তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনে আইয়াশ; তিনি আসিম থেকে, তিনি যির থেকে এবং তিনি আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

“যে ব্যক্তি আমার উম্মতের জন্য চল্লিশটি হাদিস মুখস্থ বা সংরক্ষণ করবে যার মাধ্যমে আল্লাহ তাদের উপকৃত করবেন, তাকে বলা হবে: তুমি জান্নাতের যে কোনো দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করো।” (৩ খ) দুহায়ম হলেন বনু আসাদ গোত্রের বনু সাইদা শাখার আব্দুর রহমান; তিনি উপকূলীয় সাইদা শহরের নন, বরং তিনি কুফার অধিবাসী। আর মুহাম্মাদ আল-হারামি তাঁর পিতার দিক থেকে বনু হারামের সাথে সম্বন্ধযুক্ত। আর যির হলেন ইবনে হুবায়শ।

এই হাদিসের মর্মার্থ আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস, আমিরুল মুমিনিন আলী, আবু দারদা, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর, মুয়াজ ইবনে জাবাল, আবু হুরায়রা এবং অন্যান্যদের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন) থেকে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।

(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফী মানাকিবি উম্মাহাতিল মুমিনীন (পৃষ্ঠা: ٣٣)
وَفِي بعض الرِّوَايَات

(من حفظ على أمتِي حَدِيثا وَاحِدًا يُقيم بِهِ سنة وَيرد بِهِ بِدعَة فَلهُ الْجنَّة)

وَهَذِه الرِّوَايَات كلهَا فِيهَا مَا يدل على عظم ثَوَاب نشر السّنة وقمع البدعه

وَقد أخبرنَا بذلك عَمِّي الْإِمَامُ الْحَافِظُ رحمه الله أَنا أَبُو الْقَاسِم زَاهِر بن طَاهِر بنيسابور أَنا الْأُسْتَاذ أَبُو الْقَاسِم الْقشيرِي أَنا الْحَاكِم أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ نَا أَبُو عَليّ الْحُسَيْن بن مُحَمَّد الصفاني بمرو أَنا أَبُو رَجَاء مُحَمَّد بن حمدوية (4 أ) نَا الْعَلَاء بن مسلمة نَا إِسْمَاعِيل بن يحيى التَّمِيمِي عَن سُفْيَان الثَّوْريّ عَن لَيْث عَن طَاوس عَن ابْن عَبَّاس قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

(من أدّى إِلَى أمتِي حَدِيثا وَاحِدًا يُقيم بِهِ سنة وَيرد بِهِ بِدعَة فَلهُ الْجنَّة)

وَهَذَا نَص قَاطع فِي حُصُول الثَّوَاب بِمُطلق الْأَدَاء دون الْحِفْظ وَيحْتَمل أَن يُرَاد بِالْحِفْظِ هَهُنَا ضبط تِلْكَ الْأَحَادِيث وتقييدها فِي الْكتب والمواظبة على نقلهَا وإبلاغها حَتَّى لَا تندرس على ممر الْأَزْمَان لقَوْله صلى الله عليه وسلم

(قيدوا الْعلم بِالْكتاب)

وَهَذِه الْأَحَادِيث وَإِن كَانَ أَئِمَّة الصَّنْعَة تكلمُوا فِي أسانيدها وَلَكِن فضل الله أعظم من ذَلِك وَقد قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم
এবং কিছু বর্ণনায় রয়েছে

(যে ব্যক্তি আমার উম্মতের জন্য একটি হাদিস সংরক্ষণ করবে, যার মাধ্যমে সে একটি সুন্নাত প্রতিষ্ঠা করবে এবং একটি বিদআত প্রতিহত করবে, তার জন্য জান্নাত রয়েছে)

আর এই সকল বর্ণনার মধ্যে এমন বিষয় রয়েছে যা সুন্নাহ প্রচার এবং বিদআত দমনের সুমহান সওয়াবের ওপর দলিল প্রদান করে।

আর এ বিষয়ে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার চাচা ইমাম হাফিজ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন), তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসিম জাহির ইবনে তাহির নিসাপুরে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উস্তাদ আবু আল-কাসিম আল-কুশাইরী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাকিম আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ আল-সাফফানি মার্ভে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু রাজা মুহাম্মদ ইবনে হামদুইয়াহ (৪ ক), তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আলা ইবনে মাসলামাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনে ইয়াহইয়া আত-তামিমি, তিনি সুফিয়ান আস-সাওরি থেকে, তিনি লাইস থেকে, তিনি তাউস থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

(যে ব্যক্তি আমার উম্মতের কাছে একটি হাদিস পৌঁছে দেবে, যার মাধ্যমে সে একটি সুন্নাত প্রতিষ্ঠা করবে এবং একটি বিদআত প্রতিহত করবে, তার জন্য জান্নাত রয়েছে)

আর এটি মুখস্থ করা ব্যতীত কেবল পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমেই সওয়াব অর্জিত হওয়ার ব্যাপারে একটি সুস্পষ্ট দলিল। এবং সম্ভাবনা রয়েছে যে, এখানে সংরক্ষণ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই হাদিসগুলোকে আয়ত্ত করা, কিতাবসমূহে লিপিবদ্ধ করা এবং সেগুলো বর্ণনা ও পৌঁছে দেওয়ার ওপর অবিচল থাকা, যাতে কালের আবর্তনে তা বিলুপ্ত হয়ে না যায়। কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

(তোমরা লিখনির মাধ্যমে জ্ঞানকে আবদ্ধ করো)

আর এই হাদিসগুলো, যদিও এই শাস্ত্রের ইমামগণ এগুলোর সনদ নিয়ে সমালোচনা করেছেন, তবে আল্লাহর অনুগ্রহ এর চেয়েও অনেক মহান। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফী মানাকিবি উম্মাহাতিল মুমিনীন (পৃষ্ঠা: ٣٤)
(من بلغه عَن الله تَعَالَى شَيْء فِيهِ فَضِيلَة فَأخذ بِهِ إِيمَانًا واحتسابا ورجاء ثَوَابه آتَاهُ الله ذَلِك وَإِن لم يكن كَذَلِك وَالله أعلم)

4 - ب) فَأَحْبَبْت أَن أكون من جُمْلَتهمْ وَأدْخل فِي زمرتهم ابْتِغَاء للثَّواب الجزيل وَالْأَجْر الْجَمِيل وَلما فتح مَوْلَانَا الْملك النَّاصِر صَلَاح الدُّنْيَا وَالدّين سُلْطَان الْإِسْلَام وَالْمُسْلِمين مُحي دولة أَمِير الْمُؤمنِينَ مَدِينَة حلب حرسها الله ولزمتني المهاجرة إِلَى بَابه الشريف شاكرا لإنعامه السَّابِق العميم ومهنئا بِهَذَا الْفَتْح الْعَظِيم رَأَيْت أَن أقدم الى خدمته هَدِيَّة يعم نَفعهَا وَيبقى أجرهَا وَلما لم أسمع أَن وَاحِدًا من الْعلمَاء صنف شَيْئا من مَنَاقِب أُمَّهَات الْمُؤمنِينَ مُفردا وَلَا رغب لجمعه من النَّاس أحد أَحْبَبْت أَن يكون فِي هَذِه الدولة ذكر مناقبهن عوضا عَمَّا مضى من سبهن وآثرت أَن أجمع فِي ذَلِك مُخْتَصرا (5 أ) وَإِن كَانَ فضلهن سَائِر مشتهرا وسميته

//‌‌ كتاب الْأَرْبَعين فِي مَنَاقِب أُمَّهَات الْمُؤمنِينَ رضي الله عنهن أَجْمَعِينَ

//

وقدمت فِيهِ مُقَدّمَة أذكر فِيهَا مَا خص بِهِ صلى الله عليه وسلم فِي أَمر النِّكَاح وَمَا أُبِيح لَهُ مِنْهُنَّ وَمِقْدَار عددهن وَمن دخل بهَا وَمن طلق مِنْهُنَّ وَمن مَاتَت عِنْده وَمن مَاتَ عَنْهُن ثمَّ أفرد لكل وَاحِدَة مِمَّن وَقع إِلَيّ فِي حَقّهَا خبر خَاص تَرْجَمَة على تَرْتِيب تَزْوِيجه صلى الله عليه وسلم بِهن رضي الله عنهن وأرضاهن راجيا فِي ذلم حسن الْمَغْفِرَة وَالثَّوَاب والأمن من سوء الْعَذَاب وعَلى الله أتوكل وَبِه أستعين وأسأله خير الْعلم وَالْعَمَل وَالْيَقِين إِنَّه ولي الْمُتَّقِينَ
(যার কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে সওয়াব সম্বলিত কোনো বিষয় পৌঁছাল, অতঃপর সে ঈমানের সাথে এবং প্রতিদানের আশায় তা গ্রহণ করল, আল্লাহ তাকে তা দান করবেন; যদিও বিষয়টি তেমন না হয়। আর আল্লাহই ভালো জানেন।)

৪ - খ) তাই আমি মহান সওয়াব ও সুন্দর প্রতিদানের প্রত্যাশায় তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হতে এবং তাঁদের দলের ভেতরে প্রবেশ করতে পছন্দ করলাম। যখন আমাদের অভিভাবক সুলতান আন-নাসির সালাহ উদ্-দুনিয়া ওয়াদ-দীন, ইসলাম ও মুসলিমদের সুলতান, আমিরুল মুমিনিনের রাষ্ট্রের পুনরুজ্জীবনকারী, আল্লাহ সংরক্ষিত হালাব শহর জয় করলেন; তখন তাঁর ব্যাপক পূর্ববর্তী অনুগ্রহের কৃতজ্ঞতাস্বরূপ এবং এই মহান বিজয় উপলক্ষে অভিনন্দন জানাতে তাঁর সম্মানীত দরবারে গমন করা আমার জন্য আবশ্যক হয়ে পড়ল। তখন আমি তাঁর খিদমতে এমন একটি উপহার পেশ করার সংকল্প করলাম যার কল্যাণ হবে ব্যাপক এবং যার সওয়াব হবে স্থায়ী। যেহেতু আমি শুনিনি যে আলেমগণের মধ্যে কেউ উম্মাহাতুল মুমিনিনের (মুমিনদের জননীগণের) মর্যাদা সম্পর্কে স্বতন্ত্র কোনো গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং মানুষের পক্ষ থেকেও কেউ তা সংকলনের আগ্রহ প্রকাশ করেনি; তাই আমি পছন্দ করলাম যে এই শাসনকালে তাঁদের গালাগাল করার অতীত ইতিহাসের পরিবর্তে তাঁদের মর্যাদার স্মৃতি বিদ্যমান থাকুক। আমি এ বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ সংকলন করতে অগ্রাধিকার দিলাম (৫ ক), যদিও তাঁদের মর্যাদা অত্যন্ত প্রসিদ্ধ ও সুপরিচিত। আর আমি এর নামকরণ করেছি:

//‌‌ কিতাবুল আরবাঈন ফি মানাকিবি উম্মাহাতিল মুমিনিন রাদিয়াল্লাহু আনহুন্না আজমায়িন (মুমিনদের জননীগণের মর্যাদাবিষয়ক চল্লিশ হাদিসের গ্রন্থ), আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হন।

//

এবং আমি এতে একটি ভূমিকা পেশ করেছি যাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিবাহের বিষয়ের বৈশিষ্ট্যসমূহ, তাঁদের মধ্য থেকে তাঁর জন্য যা বৈধ করা হয়েছে, তাঁদের সংখ্যা, কাদের সাথে তিনি বাসর করেছেন, তাঁদের মধ্য থেকে কাকে তিনি তালাক দিয়েছেন, কার মৃত্যু তাঁর কাছে থাকা অবস্থায় হয়েছে এবং কাদের রেখে তিনি ইন্তেকাল করেছেন—তা উল্লেখ করেছি। অতঃপর আমি তাঁদের প্রত্যেকের জন্য যাদের সম্পর্কে আমার কাছে বিশেষ বর্ণনা পৌঁছেছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাঁদের বিবাহের ক্রম অনুযায়ী স্বতন্ত্র পরিচিতি উল্লেখ করেছি; আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁদের সন্তুষ্ট রাখুন। এর মাধ্যমে আমি উত্তম ক্ষমা, সওয়াব এবং কঠিন আযাব থেকে নিরাপত্তা প্রত্যাশা করছি। আল্লাহর ওপরই আমি ভরসা করি এবং তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি। আমি তাঁর কাছে উত্তম জ্ঞান, আমল ও ইয়াকিনের প্রার্থনা করি; নিশ্চয়ই তিনি মুত্তাকিদের অভিভাবক।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফী মানাকিবি উম্মাহাতিল মুমিনীন (পৃষ্ঠা: ٣٥)
فَصْلٌ مِنْ خَصَائِصِهِ صلى الله عليه وسلم الزِّيَادَةُ عَلَى الْأَرْبَعِ (5 ب) إِلَى التِّسْعِ

 

وَفِيمَا فَوْقَ ذَلِكَ قَوْلَانِ أَحَدُهُمَا لَا يَحِلُّ لَهُ أَكْثَرَ مِنَ التِّسْعِ كَالْأَرْبَعِ فِي حَقِّنَا لَأَنَّهُ مَاتَ عَنْهُنَّ وَلَمْ يَصِحَّ أَنَّهُ زَادَ عَلَيْهِنَّ مَعَ مُبَالَغَتِهِ فِي بَابِ النِّكَاحِ

وَالثَّانِي أَنَّهُنَّ فِي حَقِّهِ كَالسَّرَارِي فِي حَقِّنَا فَلَهُ الزِّيَادَةُ مِنْ غَيْرِ حَصْرٍ تَشْرِيفًا لَهُ وَتَوْسِيعًا عَلَيْهِ لِمَّا رَزَقَهُ اللَّهُ مِنَ الْقُوَّةِ

وَالْقَوْلَانِ جَارِيَانِ فِي انْحِصَارِ طَلَاقِهِ فِي الثَّلَاثِ

وَجَازَ لَهُ النِّكَاحُ مِنْ غَيْرِ وَلِيٍّ وَلَا شُهُودَ عَلَى الصَّحِيحِ لَأَنَّ الْوَلِيَّ يُرَادُ لِتْحَصِيلِ الْكَفَاءَةِ وَلَا كُفْءَ أَكْفَأَ مِنْهُ صلى الله عليه وسلم وَكَذَا يَنْعَقِدُ مِنْ غَيْرِ شُهُودٍ لَأَنَّ الْمَقْصُودَ مِنَ الشُّهُودِ إِقَامَةُ الْحُجَّةِ عِنْدَ الْجُحُودِ وَهُوَ لَا يَجْحَدُ وَقِيلَ يُشْتَرَطُ لِتَوَقُّعِ جُحُودِ الزَّوْجَةِ النِّكَاحَ

وَأُبِيحَ لَهُ مِنْ غَيْرِ مَهْرٍ أَيْضًا وَبِلَفْظِ الْهِبَةِ لِقَوْلِهِ عز وجل {وَامْرَأَةً مُؤْمِنَةً إِن وهبت نَفسهَا للنَّبِي} الْآيَةَ

وَأُبِيحَ لَهُ تَرْكُ الْقَسْمِ بَيْنَ نِسَائِهِ عَلَى أَحَدِ الْوَجْهَيْنِ وَكَانَ يَقْسِمُ عَلَيْهِنَّ تَبَرُّعًا وَتَكَرُّمًا مُكَافَأَةً عَلَى اخْتِيَارِهِنَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ دُونَ زِينَةَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَقَدْ كَانَ
পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে একটি হলো চারের অধিক এবং নয়জন পর্যন্ত স্ত্রী রাখা।

 

এর অতিরিক্ত সংখ্যার ব্যাপারে দুটি মত রয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো, নয়জনের বেশি স্ত্রী রাখা তাঁর জন্য বৈধ ছিল না, যেমনটি আমাদের ক্ষেত্রে চারজন; কারণ তিনি নয়জন স্ত্রীকে রেখেই ইন্তেকাল করেছেন এবং বিবাহের ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও তিনি এর অতিরিক্ত করেছিলেন বলে সহীহভাবে প্রমাণিত হয়নি।

দ্বিতীয় মতটি হলো, তাঁর ক্ষেত্রে তাঁরা (স্ত্রীগণ) আমাদের জন্য দাসীদের মতো। ফলে তাঁর সম্মানার্থে এবং আল্লাহ প্রদত্ত শক্তির কারণে তাঁর ওপর প্রশস্ততা দান স্বরূপ তিনি কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারতেন।

তাঁর তালাক প্রদানের সংখ্যা তিনটির মধ্যে সীমাবদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রেও এই দুটি মত প্রযোজ্য।

সঠিক মতানুসারে অভিভাবক ও সাক্ষী ছাড়াই তাঁর জন্য বিবাহ করা বৈধ ছিল; কারণ অভিভাবকের প্রয়োজনীয়তা হলো সমতা (কুফু) অর্জনের জন্য, অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চেয়ে উত্তম সমকক্ষ আর কেউ নেই। অনুরূপভাবে সাক্ষী ছাড়াও বিবাহ সম্পন্ন হয়ে যেত, কেননা সাক্ষীর উদ্দেশ্য হলো অস্বীকার করার সময় প্রমাণ উপস্থাপন করা, আর তিনি কখনও অস্বীকার করবেন না। তবে একটি মতানুসারে বলা হয়েছে যে, স্ত্রীর পক্ষ থেকে বিবাহ অস্বীকারের আশঙ্কায় সাক্ষীর শর্ত রাখা হয়েছে।

মোহর ছাড়াও এবং 'হিবা' (দান) শব্দের মাধ্যমেও তাঁর জন্য বিবাহ বৈধ করা হয়েছিল; মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: "আর কোনো মুমিন নারী যদি নিজেকে নবীর নিকট নিবেদন করে..." (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)।

দুই মতের একটি অনুযায়ী, তাঁর জন্য নিজ স্ত্রীদের মধ্যে পালা বণ্টন বর্জন করাও বৈধ ছিল; তবে তিনি অনুগ্রহ ও সম্মান প্রদর্শন স্বরূপ তাঁদের মধ্যে পালা বণ্টন করতেন, যেন পার্থিব জীবনের চাকচিক্যের পরিবর্তে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে বেছে নেওয়ার বিনিময় প্রদান করা যায়; আর বাস্তবিকই তেমনটি ছিল।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফী মানাকিবি উম্মাহাতিল মুমিনীন (পৃষ্ঠা: ٣٦)
وَجَبَ عَلَيْهِ تَخْيِيرُهُنَّ لِقَوْلِهِ عز وجل {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ إِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا فَتَعَالَيْنَ أُمَتِّعَكُنَّ وَأُسَرِّحَكُنَّ سَرَاحًا جَمِيلًا} وَوَجَبَ إِرْسَالُ مَنِ اخْتَارَتِ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا صَوْنًا لِمَنْصِبِهِ عَنْ أَنْ يَتَأَذَّى بِهِ أَحَدٌ وَإِمْسَاكُ مَنِ اخْتَارَتْهُ وَاخْتَارَتِ اللَّهَ وَالدَّارَ الْآخِرَةَ لِقَوْلِهِ عز وجل {لَا يَحِلُّ لَكَ النِّسَاءُ مِنْ بَعْدُ وَلا أَنْ تَبَدَّلَ بِهِنَّ من أَزوَاج} الْآيَةُ وَقَالَ الشَّافِعِيُ رضي الله عنه نُسِخَتْ هَذِهِ الْآيَةُ بِالْآيَةِ السَّابِقَة فِي النّظم (6 أ) وَهِي قَوْله عز وجل {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَحْلَلْنَا لَكَ أَزْوَاجَكَ اللَّاتِي آتيت أُجُورهنَّ} الْآيَةَ وَهَذَا مِنْ عَجِيبِ النَّسْخِ وَلَمْ يُنْسَخْ فِي الْقُرْآنِ عَلَى مِثَال سِوَى قَوْلِهِ عز وجل {وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا وَصِيَّةً لأزواجهم مَتَاعا إِلَى الْحول} نُسِخَتْ بِقَوْلِهِ {وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ أَرْبَعَةَ أشهر وَعشرا} وَقَالَ أَبُو حَنِيفَةَ رضي الله عنه لَمْ تُنْسَخْ آيَةُ وُجُوبِ الْإِمْسَاكِ وَتَحْرِيمِ غَيْرِهِنَّ وَتَمَسَّكَ الشَّافِعِيُّ بِالْحَدِيثِ أَيْضًا وَهُوَ قَوْلُ عَائِشَةَ رضي الله عنها مَا مَاتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى أُبِيحَ لَهُ أَنْ يَتَزَوَّجَ مَنْ أَرَادَ وَيُطَلِّقَ مَنْ أَرَادَ وَالْمَعْنَى فِي ذَلِكَ أَنْ تكون لَهُ الْمِنَّة عَلَيْهِنَّ بإمسكهن مُقَابَلَةً

তাঁর ওপর তাদের ইখতিয়ার (পছন্দ করার সুযোগ) দেওয়া ওয়াজিব ছিল মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: "হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের বলুন, তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও তার সৌন্দর্য কামনা করো, তবে এসো, আমি তোমাদের ভোগের সামগ্রী দেব এবং তোমাদের উত্তম পন্থায় বিদায় দেব।" আর যে পার্থিব জীবন বেছে নেবে তাকে মুক্ত করে দেওয়া ওয়াজিব ছিল, যাতে তাঁর উচ্চ মর্যাদাকে হেয় করা থেকে তাঁর সম্মানকে রক্ষা করা যায়। আর যারা তাঁকে এবং আল্লাহ ও পরকালকে পছন্দ করেছে, তাদের গ্রহণ করে রাখা ওয়াজিব ছিল মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: "এরপর আপনার জন্য আর কোনো নারী বৈধ নয় এবং আপনার জন্য তাদের পরিবর্তে অন্য স্ত্রী গ্রহণ করাও বৈধ নয়..." (আয়াত)। ইমাম শাফেয়ী (রা.) বলেন, এই আয়াতটি কুরআনের সংকলনগত বিন্যাসে পূর্ববর্তী আয়াত দ্বারা রহিত হয়েছে (৬ ক), আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: "হে নবী! আমি আপনার জন্য আপনার সেই স্ত্রীদের বৈধ করেছি যাদের মোহরানা আপনি প্রদান করেছেন..." (আয়াত)। এটি নাসখ বা রহিতকরণের এক বিস্ময়কর উদাহরণ। কুরআনে এর অনুরূপ উদাহরণ আর নেই, কেবল মহান আল্লাহর এই বাণী ছাড়া: "তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করবে এবং স্ত্রীদের রেখে যাবে, তারা যেন তাদের স্ত্রীদের জন্য এক বছর পর্যন্ত সুবিধাদানের অসিয়ত করে যায়..." এটি রহিত হয়েছে তাঁর এই বাণী দ্বারা: "তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করবে এবং স্ত্রীদের রেখে যাবে, তারা চার মাস দশ দিন নিজেদের প্রতীক্ষায় রাখবে।" ইমাম আবু হানিফা (রা.) বলেন, স্ত্রীদের রাখা ওয়াজিব হওয়া এবং অন্য নারীদের নিষিদ্ধ হওয়ার আয়াতটি রহিত হয়নি। ইমাম শাফেয়ী একটি হাদিসকেও দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন, আর তা হলো আয়েশা (রা.)-এর উক্তি: "রাসূলুল্লাহ (সা.) মৃত্যুবরণ করেননি যতক্ষণ না তাঁর জন্য যাকে ইচ্ছা বিবাহ করা এবং যাকে ইচ্ছা তালাক দেওয়া বৈধ করা হয়েছিল।" এর অর্থ হলো, তাঁদের সাথে রাখার মাধ্যমে তাঁদের ওপর তাঁর অনুগ্রহ বজায় রাখা।

(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফী মানাকিবি উম্মাহাতিল মুমিনীন (পৃষ্ঠা: ٣٧)
لِاخْتِيَارِهِنَّ لَهُ وَلَوْ وَجَبَ عَلَيْهِ لَمَا كَانَ فِيهِ لَهُ مِنَّةٌ وَهَذَا عِلَّةُ مَنْ قَالَ بِعَدَمِ وجوب الْقسم بَينهُنَّ وَوَجَب (7 أ) عَلَى مَنْ لَهُ زَوْجَةٌ وَرَغِبَ فِي نِكَاحِهَا أَنْ يُطَلِّقَهَا زَوْجُهَا لِقِصَّةِ زَيْدٍ

وَمَنْ مَاتَ عَنْهَا حُرِّمَتْ عَلَى غَيْرِهِ إِكْرَامًا لَهُ لِأَنَّ الْعَرَبَ تَعْتَقِدُ ذَلِكَ سُبَّةً وَعَارًا

وَهَلْ تُحَرَّمُ مُطَلَّقَتِهِ صلى الله عليه وسلم فِيهِ ثَلَاثَةُ أَوْجَهٍ أَحَدُهُمَا تُحَرَّمُ كَالْمُتَوَفِّي عَنْهَا وَالثَّانِي لَا تُحَرَّمُ لَأَنَّهُ زَهِدَ فِيهَا وَانْتَهَى النِّكَاحُ نِهَايَتَهُ بِخِلَافِ الْمَوْتِ فَإِنَّ أَحْكَامَ النِّكَاحِ بَاقِيَّةٌ مَنْ وَجْهٍ وَلِهَذَا يَجُوزُ نَظَرُ الْمَرْأَةِ إِلَى زَوْجِهَا بَعْدَ الْمَوْتِ وَتُغَسِّلُهُ اتِّفَاقًا وَيُغَسِّلُهَا الزَّوْجُ عِنْدَ الشَّافِعِيِّ رضي الله عنه وَقَالَ أَبُو حَنِيفَةَ لَا يُغَسِّلُهَا بَلْ تُغَسِّلُهُ وَالثَّالِثُ وَهُوَ الْأَصَحُّ أَنَّهُ إِنْ بَنَى بِهَا فَلَا تَحِلُّ لِغَيْرِهِ وَإِلَّا حَلَّتْ وَدَلِيلُهُ مَا نُقِلَ أَنَّ عِكْرِمَةَ بْنَ أَبِي جَهْلٍ وَقِيلَ الْأَشْعُثُ بْنُ قَيْسٍ تزوج مطلقته فَأنْكر علبه عُمَرُ رضي الله عنه وَأَرَادَ فَسْخَ نِكَاحِهِ فَقَالَ إِنَّهُ لَمْ يَدْخُلْ بِهَا فَأَقَرَّ نِكَاحَهُ
তাদের পক্ষ থেকে তাঁকে বেছে নেওয়ার কারণে; আর যদি এটি তাঁর ওপর ওয়াজিব হতো, তবে এতে তাঁর জন্য কোনো অনুগ্রহ অবশিষ্ট থাকত না। যারা তাঁর জন্য স্ত্রীদের মাঝে পালা বণ্টন ওয়াজিব নয় বলে মত দিয়েছেন, এটি তাদের পেশকৃত কারণ। আর (৭ ক) যায়েদের ঘটনার প্রেক্ষিতে যার স্ত্রী আছে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বিবাহ করতে আগ্রহী হন, তার ওপর ওয়াজিব ছিল যেন তার স্বামী তাকে তালাক দিয়ে দেয়।

আর যাঁর থেকে তিনি ইন্তেকাল করেছেন, তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শনস্বরূপ তিনি অন্যের জন্য হারাম হয়ে গেছেন; কারণ আরবরা একে গ্লানি ও লজ্জা মনে করত।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী কি অন্যদের জন্য হারাম? এ বিষয়ে তিনটি অভিমত রয়েছে: প্রথমটি হলো, তিনি মৃত পতির স্ত্রীর ন্যায় হারাম হবেন। দ্বিতীয়টি হলো, তিনি হারাম হবেন না; কারণ তিনি তাঁর প্রতি অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং বৈবাহিক সম্পর্কটি তার চূড়ান্ত পরিণতির মাধ্যমে শেষ হয়েছে, যা মৃত্যুর বিপরীত। কেননা মৃত্যুর ক্ষেত্রে বৈবাহিক বিধানাবলি কোনো না কোনো দিক থেকে অবশিষ্ট থাকে। এই কারণেই মৃত্যুর পর স্ত্রীর জন্য স্বামীর প্রতি দৃষ্টিপাত করা বৈধ এবং সর্বসম্মতিক্রমে স্ত্রী তাকে গোসল দিতে পারে। ইমাম শাফেয়ী রাদিয়াল্লাহু আনহুর মতে স্বামীও তাকে গোসল দিতে পারে, কিন্তু ইমাম আবু হানিফা রহ. বলেছেন, স্বামী তাকে গোসল দিবে না বরং স্ত্রীই তাকে গোসল দিবে। তৃতীয়টি—যা অধিকতর শুদ্ধ—হলো: যদি তিনি তাঁর সাথে বাসর করে থাকেন তবে তিনি অন্যের জন্য হালাল হবেন না, অন্যথায় হালাল হবেন। এর দলিল হলো যা বর্ণিত হয়েছে যে, ইকরিমা বিন আবু জাহল—মতান্তরে আশআস বিন কায়েস—তাঁর তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে বিবাহ করেন, তখন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তার ওপর আপত্তি করেন এবং তার বিবাহ বিচ্ছেদ করতে চেয়েছিলেন। অতঃপর তিনি বললেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে বাসর করেননি, ফলে তিনি তার বিবাহ বহাল রাখেন।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফী মানাকিবি উম্মাহাতিল মুমিনীন (পৃষ্ঠা: ٣٨)
‌‌فَصْلُ وَأَمَّا عَدَدُهُنَّ (عَدَدُ أَزْوَاجِهِ صلى الله عليه وسلم

 

وَأَمَّا عَدَّدُهُنَّ فَقَدِ اخْتَلَفُوا فِيهِ كَثِيرًا وَالَّذِي صَحَّ مِنْ غَيْرِ خِلَافٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَزَوَّجَ إِحْدَى عَشْرَةَ امْرَأَةً كُلَّهُنَّ بَنَى بِهِنَّ وَتَزَوَّجَ غَيْرَهُنَّ وَلَمْ يَدْخُلْ بِهِنَّ وَقِيلَ بَنَى بِثَلَاثَ عَشْرَةَ امْرَأَةً وَتَزَوَّجَ خَمْسَ عَشْرَةَ امْرَأَةً وَقِيلَ ثَمَانِ عَشْرَةَ وَاخْتَلَفُوا فِي تَسْمِيَّتِهِنَّ وَاجْتَمَعَ عِنْدَهُ إِحْدَى عَشْرَةَ امْرَأَةً وَاخْتَلَفُوا فِي وَاحِدَةٍ مِنْهِنَّ فَقِيلَ رَيْحَانَةُ وَقِيلَ أَمُ شَرِيكٍ وَقِيلَ إِنَّ رَيْحَانَةَ سُرِّيَةٌ وَأُمَّ شَرِيكٍ لَمْ يَتَزَوَّجْ بِهَا وَلَا دَخَلَ بِهَا وَإِنَّمَا هِيَ مِنَ اللاتِي وَهَبْنَ أَنْفُسَهُنَّ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِذَلِكَ وَاخْتَلَفُوا أَيْضًا فِي تَقْدِيمِ بَعْضِهِنَّ عَلَى بَعْضٍ فِي التَّزْوِيجِ بِهِنَّ أَمَّا الْمُتَّفَقُ عَلَى أَنَّهُ بَنَى بِهِنَّ

‌‌فَالْأُولَى خَدِيجَةُ بِنْتُ خُوَيْلِدِ بْنِ أَسَدِ بْنِ عَبْدِ الْعُزَّى الْقُرَشِيَّةُ وَأُمُّهَا فَاطِمَةُ بِنْتُ زَائِدَةَ بْنِ جُنْدُبٍ
পরিচ্ছেদ: তাঁদের সংখ্যা প্রসঙ্গে (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের সংখ্যা)

 

আর তাঁদের সংখ্যার ব্যাপারে আলেমগণ অনেক মতভেদ করেছেন। তবে যে বিষয়টি কোনো মতভেদ ছাড়াই বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত তা হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগারোজন নারীকে বিবাহ করেছিলেন, যাঁদের প্রত্যেকের সাথেই তিনি দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করেছেন। তিনি তাঁদের ছাড়া আরও কয়েকজনকে বিবাহ করেছিলেন কিন্তু তাঁদের সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন করেননি। আরও বলা হয়েছে যে, তিনি তেরোজন নারীর সাথে দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করেছেন এবং পনেরোজন নারীকে বিবাহ করেছেন; আবার কারো মতে আঠারোজন। তাঁদের নাম নির্ধারণের ক্ষেত্রেও তাঁরা মতভেদ করেছেন। তাঁর কাছে এগারোজন স্ত্রী একত্রিত হয়েছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে একজনের ব্যাপারে মতপার্থক্য রয়েছে। বলা হয়েছে তিনি হলেন রায়হানা, আবার বলা হয়েছে তিনি হলেন উম্মু শারিক। আরও বলা হয়েছে যে, রায়হানা ছিলেন একজন দাসী, আর উম্মু শারিককে তিনি বিবাহ করেননি এবং তাঁর সাথে দাম্পত্য সম্পর্কও স্থাপন করেননি, বরং তিনি ছিলেন তাঁদের অন্তর্ভুক্ত যাঁরা নিজেদেরকে (নবীর কাছে) নিবেদন করেছিলেন। আর আল্লাহ এ বিষয়ে অধিক অবগত। তাঁদের বিবাহের ক্ষেত্রে কার আগে কে ছিলেন, সেটির ক্রমধারা নিয়েও তাঁরা মতভেদ করেছেন। তবে যাঁদের সাথে তিনি দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করেছেন বলে ঐকমত্য রয়েছে তাঁরা হলেন—

প্রথমজন হলেন খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ ইবনে আসাদ ইবনে আব্দুল উযযা আল-কুরাইশিয়্যা। তাঁর মা ফাতিমা বিনতে যায়িদা ইবনে জুনদুব।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফী মানাকিবি উম্মাহাতিল মুমিনীন (পৃষ্ঠা: ٣٩)
وَهِيَ أَوَّلُ امْرَأَةٍ تَزَوَّجَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنْ غَيْرِ خِلَافٍ قَبْلَ الْمَبْعَثِ بِخَمْسِ عَشْرَةَ سَنَةً وَكَانَتْ بِنْتُ أَرْبَعِينَ سنة وهوابن خَمْسٍ وَعِشْرِينَ سَنَةً وَكَانَتْ قَبْلَهُ تَحْتُ أَبِي هَالَةَ هِنْدِ بْنِ زَرَارَةَ بْنِ النَّبَّاشِ بْنِ عَدِيِّ أَحَدِ بَنِي أُسَيْد بْنِ عَمْرِو بْنِ تَمِيمٍ وَقَبْلَهُ عِنْدِ عَتِيقِ بْنِ عَابِدٍ

وَهِيَ أُمُّ أَوْلَادِهِ كلهم سوى إِبْرَاهِيم بن مَارِيَةَ الْقِبْطِيَّةِ فَوَلَدَتْ لَهُ الْقَاسِمَ وَبِه كَانَ يكنى وعبد الله وَهُوَ الطَّاهِرُ وَالطَّيِّبُ سُمِّيَ بِذَلِكَ لَأَنَّهُ وُلِدَ فِي الْإِسْلَامِ وَقِيلَ إِنَّ الطَّاهِرَ وَالطَّيِّبَ اسْمَانِ لِابْنَيْنِ وَقِيلَ إِنَّ اسْمَهُمَا عَبْدُ الْعُزَّى وَعَبْدُ مَنَافٍ وَوَلَدَتْ لَهُ مِنَ النِّسَاءِ زَيْنَبَ وَرُقَيَّةَ وَأُمَّ كُلْثُومَ وَفَاطِمَةَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِمْ أَجْمَعِينَ

تُوُفِّيَّتْ بِمَكَّةَ قَبْلَ الْهِجْرَةِ إِلَى الْمَدِينَةِ وَقَبْلَ فَرْضِ الصَّلَاةِ بِخْمَسٍ وَقِيلَ بِثَلَاثِ سِنِينَ وَفِي السَّنَةِ الَّتِي مَاتَ فِيهَا أَبُو طَالِبِ بْنُ عَبْدِ الْمُطَلِّبِ وَفِي كُلِّ ذَلِكَ خِلَافٌ وَكَانَ عُمْرُهَا وَقْتَ (8 ب) وَفَاتِهَا خَمْسًا وَسِتِّينَ سَنَةً وَقِيلَ خَمْسًا وَخَمْسِينَ فِي شَهِرَ رَمَضَانَ سَنَةَ عَشْرٍ مِنَ النُّبُوَّةِ وَلَمْ يَجْتَمِعْ مَعَهَا أَحَدٌ مِنْ نِسَائِهِ صَلَوَاتُ اللَّهِ عَلَيْهِنَّ وَقِيلَ زَوَّجَهَا مِنْهُ أَبُوهَا وَقِيلَ عَمُّهَا عَمْرٌو
তিনিই প্রথম নারী যাঁকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিবাহ করেছিলেন, এতে কোনো দ্বিমত নেই। এটি ছিল নবুওয়াত প্রাপ্তির পনেরো বছর আগের ঘটনা। তখন তাঁর বয়স ছিল চল্লিশ বছর এবং নবী ছিলেন পঁচিশ বছর বয়সের। তাঁর পূর্বে তিনি আবু হালাহ হিন্দ ইবনে যারারাহ ইবনে নাব্বাশ ইবনে আদিয়্যির স্ত্রী ছিলেন, যিনি বনু উসাইদ ইবনে আমর ইবনে তামীম গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আর তাঁরও আগে তিনি আতিক ইবনে আবিদের বিবাহাধীন ছিলেন।

তিনি মারিয়া আল-কিবতিয়ার গর্ভজাত পুত্র ইব্রাহিম ব্যতীত নবীর সকল সন্তানের জননী ছিলেন। তিনি তাঁর জন্য আল-কাসিমকে জন্ম দেন, যাঁর নামানুসারে নবীর উপনাম (কুনিয়াত) রাখা হয়েছিল। এরপর আবদুল্লাহ জন্মগ্রহণ করেন, যাঁর উপাধি ছিল আত-তাহির এবং আত-তায়্যিব। তাঁকে এই নামে অভিহিত করার কারণ ছিল যে তিনি ইসলামের আগমনের পর জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তবে বলা হয় যে, তাহির ও তায়্যিব ছিল দুইজন ভিন্ন পুত্রের নাম। আবার এও বলা হয় যে, তাঁদের নাম ছিল আবদুল উযযা এবং আবদু মানাফ। আর কন্যাদের মধ্যে তিনি নবীর জন্য যয়নাব, রুকাইয়া, উম্মু কুলসুম এবং ফাতিমাকে জন্ম দেন, তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

তিনি মদিনায় হিজরতের পূর্বে এবং সালাত ফরয হওয়ার পাঁচ বছর আগে, মতান্তরে তিন বছর আগে মক্কায় ইন্তেকাল করেন। এটি ছিল সেই বছর যে বছর আবু তালিব ইবনে আবদুল মুত্তালিব মৃত্যুবরণ করেছিলেন। এই সকল বর্ণনায় মতভেদ রয়েছে। তাঁর ইন্তেকালের (৮ খ) সময় তাঁর বয়স ছিল পঁয়ষট্টি বছর, আবার মতান্তরে পঞ্চান্ন বছর; যা ছিল নবুওয়াতের দশম বছরের রমজান মাসে। তাঁর জীবদ্দশায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্য কোনো স্ত্রী তাঁর সাথে একত্রে ছিলেন না, তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। বর্ণিত আছে যে, তাঁর পিতা তাঁর বিবাহ সম্পন্ন করেছিলেন, আবার কারো মতে তাঁর চাচা আমর এটি করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফী মানাকিবি উম্মাহাতিল মুমিনীন (পৃষ্ঠা: ٤٠)
‌‌الثَّانِيَّةُ سَوْدَةُ بِنْتُ زَمْعَةَ

 

ابْنِ قَيْسِ بْنِ عَبْدِ شَمْسِ بْنِ عَبْدِ وُدِّ بْنِ نَصْرِ بْنِ مَالِكٍ وَأُمُّهَا الشَّمُوسُ بِنْتُ قَيْسِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَمْرٍو مِنْ بَنِي النَّجَّارِ

وَتَزَوَّجَهَا بَعْدَ الْهِجْرَةِ وَقِيلَ فِي شَوَّالٍ قَبْلَ مُهَاجَرِهِ إِلَى الْمَدِينَةِ بَعْدَ وَفَاةِ خَدِيجَةَ وَكَانَتْ تَحْتُ السَّكْرَانِ بْنِ عَمْرٍو فَأَسْلَمَ وَتُوُفِّيَّ عَنْهَا

وَتُوُفِّيَّتْ فِي خِلَافَةِ مُعَاوِيَةَ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَخَمْسِينَ بِالْمَدِينَةِ

وَقِيلَ إِنَّهُ تَزَوَّجَ عَائِشَةَ قَبْلَ سَوْدَةَ وَالصَّحِيحُ أَنَّهُ تَزَوَّجَهَا فِي شَوَّالٍ إِلَّا أَنَّهُ لَمْ يدْخل بعائشة الى بَعْدَ سَنَتَيْنِ أَوْ ثَلَاثٍ فَيُحْتَمَلُ أَنَّ مَنْ قَالَ إِنَّ سَوْدَةَ قَبْلَ عَائِشَةَ مَعْنَاهُ بَيْنَ الرِّوَايَتَيْنِ
দ্বিতীয়জন: সাওদাহ বিনতে জামআহ

 

ইবনে কায়েস ইবনে আবদে শামস ইবনে আবদে ওদ ইবনে নাসর ইবনে মালিক। তাঁর মাতা হলেন আশ-শামুস বিনতে কায়েস ইবনে যায়েদ ইবনে আমর, যিনি বনু নাজ্জার গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে হিজরতের পর বিবাহ করেন। মতান্তরে বলা হয়েছে যে, খাদিজাহ (রা.)-এর ইনতিকালের পর এবং মদিনায় হিজরত করার পূর্বে শাওয়াল মাসে তাকে বিবাহ করেছিলেন। তিনি সাকরান ইবনে আমরের স্ত্রী ছিলেন; সাকরান ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং তাকে বিধবা রেখে মৃত্যুবরণ করেছিলেন।

তিনি চুয়ান্ন হিজরি সনে মুআবিয়া (রা.)-এর খিলাফতকালে মদিনায় ইনতিকাল করেন।

বলা হয়েছে যে, তিনি সাওদাহর পূর্বে আয়িশাহ (রা.)-কে বিবাহ করেছিলেন। তবে বিশুদ্ধ মত হলো, তিনি তাকে (সাওদাহকে) শাওয়াল মাসে বিবাহ করেছিলেন, কিন্তু আয়িশাহর সাথে দুই বা তিন বছর অতিক্রান্ত হওয়ার আগে বাসর যাপন করেননি। তাই যারা বলেন যে সাওদাহর বিবাহ আয়িশাহর পূর্বে হয়েছিল, তাদের বক্তব্যের উদ্দেশ্য হতে পারে এই দুই বর্ণনার মধ্যকার সমন্বয়।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফী মানাকিবি উম্মাহাতিল মুমিনীন (পৃষ্ঠা: ٤١)
الثَّالِثَة عَائِشَة (9 أ) بنت أبي بكر الصّديق عبد الله وَيُقَالُ عُتَيْقُ بْنُ أَبِي قُحَافَةَ (عُثْمَانَ بْنِ

) عَامِرِ بْنِ عَمْرِو بْنِ كَعْبٍ وَأُمُّهَا أُمُّ رُومَانَ بِنْتُ عَامِرِ بْنِ عُوَيْمِرٍ

هَاجَرَتْ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَتَزَوَّجَهَا بَعْدَ الْهِجْرَةِ وَقِيلَ بَلْ فِي شَوَّالٍ سَنَةَ عَشْرٍ مِنَ النُّبُوَّةِ قَبْلَ مُهَاجَرِهِ إِلَى الْمَدِينَةِ بِسَنَةٍ وَنِصْفِ أَوْ نَحْوِهَا وَكَانَتْ بِكْرًا وَلَمْ يَنْكِحْ بِكْرًا غَيْرَهَا وَلَمْ تَلِدْ لَهُ وَلَا غَيْرَهَا مِنَ الْحَرَائِرِ سِوَى خَدِيجَةَ بِنْتِ خُوَيْلِدٍ

وَنَكَحَهَا وَهِيَ ابْنَةُ سِتٍّ وَقِيلَ سَبْعُ سِنِينَ وَبَنَى بِهَا وَهِيَ ابْنَةُ تِسْعِ سِنِينَ وَتُوُفِّيَّ عَنْهَا وَهِيَ ابْنَةُ ثَمَانِ عَشْرَةَ

تُوُفِّيَّتْ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ لَيْلَةَ الثُّلَاثَاءِ لِسَبْعِ عَشْرَةَ مَضَتْ مِنْهُ وَذَلِكَ فِي سَنَةِ ثَمَانِ وَخَمْسِينَ وَصَلَّى عَلَيْهَا أَبُو هُرَيْرَةَ نَائِبُ مَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ بِالْمَدِينَةِ وَدُفِنَتْ بِالْبَقِيعِ بَعْدَ (الْوِتْرِ مِنْ لَيْلَتِهَا)

‌‌الرَّابِعَةُ حَفْصَةُ

 

بِنْتُ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ بْنِ نُفَيْلِ بْنِ عبد الْعُزَّى (9 ب) بْنِ رِيَاحٍ وَأُمُّهَا زَيْنَبُ بِنْتُ مَظْعُونِ بْنِ حَبِيبِ بْنِ وَهْبٍ
তৃতীয়জন হলেন আয়েশা (৯ ক) বিনতে আবু বকর সিদ্দিক আব্দুল্লাহ—যাঁকে আতিক ইবনে আবু কুহাফা (উসমান ইবনে

) বলা হয়—ইবনে আমের ইবনে আমর ইবনে কাব। তাঁর মা হলেন উম্মু রুমান বিনতে আমের ইবনে উয়াইমির। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে হিজরত করেন এবং তিনি তাঁকে হিজরতের পর বিবাহ করেন। বলা হয়, বরং মদিনায় হিজরতের প্রায় দেড় বছর বা তার কাছাকাছি সময় পূর্বে নবুওয়াতের দশম বর্ষের শাওয়াল মাসে। তিনি কুমারী ছিলেন এবং তিনি (নবী) তাঁকে ছাড়া অন্য কোনো কুমারীকে বিবাহ করেননি। তাঁর গর্ভে কোনো সন্তান জন্ম হয়নি এবং খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ ছাড়া অন্য কোনো স্বাধীন স্ত্রীর গর্ভেও তাঁর সন্তান হয়নি।

তিনি তাঁকে বিবাহ করেন যখন তাঁর বয়স ছিল ছয় বছর, মতান্তরে সাত বছর। তিনি তাঁর সাথে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন যখন তাঁর বয়স ছিল নয় বছর। নবী যখন ইন্তেকাল করেন তখন তাঁর বয়স ছিল আঠারো বছর।

তিনি আটান্ন হিজরি সনের রমজান মাসের সতেরো তারিখ অতিক্রান্ত হওয়ার পর মঙ্গলবার রাতে ইন্তেকাল করেন। মদিনায় মারওয়ান ইবনুল হাকামের প্রতিনিধি আবু হুরায়রা তাঁর জানাজার নামাজ পড়ান। সেই রাতের বিতর সালাতের পর তাঁকে জান্নাতুল বাকীতে দাফন করা হয়।

চতুর্থজন হাফসা

 

বিনতে ওমর ইবনুল খাত্তাব ইবনে নুফাইল ইবনে আব্দুল উযযা (৯ খ) ইবনে রিয়াহ। তাঁর মা হলেন জয়নব বিনতে মাজউন ইবনে হাবিব ইবনে ওয়াহাব।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফী মানাকিবি উম্মাহাতিল মুমিনীন (পৃষ্ঠা: ٤٢)
مَوْلِدُهَا قَبْلَ بَعْثِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِخَمْسِ سِنِينَ كَانَتْ تَحْتُ خُنَيْسِ بْنِ حُذَافَةَ بْنِ قَيْسِ بْنِ عَدِيٍّ فَتُوُفِّيَّ عَنْهَا

وَتَزَوَّجَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي شَعْبَانَ عَلَى رَأْسِ ثَلَاثِينَ شَهْرًا (مِنَ الْهِجْرَةِ) قَبْلَ أُحُدٍ فِي سَنَةِ ثَلَاثٍ وَقِيلَ سَنَةُ اثْنَتَيْنِ

وَتُوُفِّيَّتْ فِي شَعْبَانَ سَنَةَ خَمْسٍ وَأَرْبَعِينَ فِي خِلَافَةِ مُعَاوِيَةَ وَهِيَ ابْنَةُ سِتِّينَ سَنَةً وَصَلَّى عَلَيْهَا مَرْوَانُ وَدُفِنَتْ بِالْبَقِيعِ

‌‌الْخَامِسَةُ أُمُّ سَلَمَةَ

 

هِنْدُ بِنْتُ أَبِي أُمَيَّةَ سُهَيْلِ بْنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ وَأُمُّهَا عَاتِكَةُ بِنْتُ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ وَكَانَتْ قُرَشِيَّةَ مَخْزُومِيَّةَ وَكَانَتْ قَبْلَهُ تَحت أبي سَلمَة عبد الله بْنِ عَبْدِ الْأَسَدِ بْنِ هِلَالٍ فَتُوُفِّيَّ عَنْهَا

وَتَزَوَّجَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي شَوَّالٍ سَنَةِ أَرْبَعٍ وَتُوُفِّيَّتْ فِي ذِي الْقِعْدَةِ سَنَةِ تِسْعٍ وَخَمْسِينَ (وَكَانَ لَهَا يَوْمَ مَاتَتْ أَرْبَعٌ وَثَمَانُونَ) (10 أ)) سَنَةً صَلَّى عَلَيْهَا أَبُو هُرَيْرَةَ وَدُفِنَتْ بِالْبَقِيعِ
তাঁর জন্ম নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবুওয়াত প্রাপ্তির পাঁচ বছর আগে। তিনি খুনাইস ইবনে হুজাফা ইবনে কায়েস ইবনে আদীর বিবাহাধীনে ছিলেন, অতঃপর তিনি তাঁর মৃত্যুতে বিধবা হন।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হিজরতের ত্রিশ মাস পূর্ণ হওয়ার মাথায় ওহুদ যুদ্ধের আগে তিন হিজরীর শাবান মাসে তাঁকে বিবাহ করেন এবং বলা হয় এটি দুই হিজরীতে ছিল।

তিনি মুয়াবিয়ার খিলাফতকালে ৪৫ হিজরীর শাবান মাসে মৃত্যুবরণ করেন এবং তখন তাঁর বয়স ছিল ষাট বছর। মারওয়ান তাঁর জানাজার সালাত পড়ান এবং তাঁকে বাকিতে দাফন করা হয়।

পঞ্চম: উম্মে সালামাহ

 

হিন্দ বিনতে আবি উমাইয়া সুহাইল ইবনুল মুগীরা ইবনে আব্দুল্লাহ। তাঁর মাতা আতিকা বিনতে আমের ইবনে রাবিয়া। তিনি ছিলেন কুরাইশ বংশের মাখজুম গোত্রের। তিনি তাঁর (রাসূলের) পূর্বে আবু সালামাহ আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল আসাদ ইবনে হিলালের বিবাহাধীনে ছিলেন, অতঃপর তিনি তাঁর মৃত্যুতে বিধবা হন।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে চার হিজরীর শাওয়াল মাসে বিবাহ করেন এবং তিনি ঊনষাট হিজরীর যিলকদ মাসে মৃত্যুবরণ করেন (মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল চুরাশি বছর)। আবু হুরায়রা তাঁর জানাজার সালাত পড়ান এবং তাঁকে বাকিতে দাফন করা হয়।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফী মানাকিবি উম্মাহাতিল মুমিনীন (পৃষ্ঠা: ٤٣)
‌‌السَّادِسَّةُ جُوَيْرِيَةُ

 

بِنْتُ الْحَارِثِ بْنِ أَبِي ضِرَارٍ مِنْ خُزَاعَةَ

كَانَتْ تَحْتُ مَالِكِ بْنِ صَفْوَانَ وَقِيلَ مُسَافِعُ بْنُ صَفْوَانَ فَقُتِلَ يَوْمَ المر يسيع

تَزَوَّجَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ أَنْ أَعْتَقَهَا وَذَلِكَ بعد غَزْوَة المر يسيع وَكَانَتِ ابْنَةَ عِشْرِينَ سَنَةً

وَتُوُفِّيَّتْ وَهِيَ ابْنَةُ خَمْسٍ وَسِتِّينَ سَنَةً وَذَلِكَ فِي شَهْرِ رَبِيعِ الْأَوَّلِ سَنَةِ سَبْعٍ وَخَمْسِينَ فِي خِلَافَةِ مُعَاوِيَةَ وَقِيلَ سَنَةُ سِتِّينَ وَصَلَّى عَلَيْهَا مَرْوَانُ بْنُ الْحَكَمِ وَالِي الْمَدِينَةِ

‌‌السَّابِعَةُ زَيْنَبُ

 

بِنْتُ جَحْشِ بْنِ رِئَابِ بْنِ يَعْمُرَ بْنِ صَبْرَةَ بْنِ مُرَّةَ أُمُّهَا أُمَيْمَةُ بِنْتُ عَبْدِ الْمُطَلِّبِ بْنِ هَاشِمٍ وَكَانَتْ تَحْتُ زَيْدِ بْنِ حَارِثَةَ بن شُرَحْبِيل
ষষ্ঠজন: জুওয়াইরিয়া

 

খুজাআ গোত্রের হারিস ইবনে আবি জিরারের কন্যা।

তিনি মালিক ইবনে সাফওয়ানের অধীনে (স্ত্রী হিসেবে) ছিলেন, মতান্তরে মুসাফে' ইবনে সাফওয়ান; তিনি মুরাইসি'র যুদ্ধে নিহত হন।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে মুক্ত করার পর বিবাহ করেন এবং তা ছিল মুরাইসি'র যুদ্ধের পরে; সে সময় তাঁর বয়স ছিল বিশ বছর।

তিনি পঁয়ষট্টি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন; তা ছিল মুয়াবিয়ার খিলাফতকালে সাতান্ন হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসে, মতান্তরে ষাট হিজরীতে। মদিনার গভর্নর মারওয়ান ইবনুল হাকাম তাঁর জানাযার সালাত পড়ান।

সপ্তমজন: যয়নব

 

জাহাশ ইবনে রিয়াব ইবনে ইয়ামুর ইবনে সাবরা ইবনে মুররার কন্যা; তাঁর মাতা উমাইমা বিনতে আবদুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম। তিনি যায়েদ ইবনে হারিসা ইবনে শুরাহবিলের স্ত্রী ছিলেন।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফী মানাকিবি উম্মাহাতিল মুমিনীন (পৃষ্ঠা: ٤٤)
تَزَوَّجَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي ذِي الْقِعْدَةِ (سَنَةَ خَمْسٍ مِنَ الْهِجْرَةِ) وَهِيَ يَوْمَئِذٍ بِنْتُ خَمْسٍ وَثَلَاثِينَ سَنَةً (وَتُوُفِّيَّتْ) وَهِيَ ابْنَةُ ثَلَاثٍ وَخَمْسِينَ سَنَةً (10 ب) وَدُفِنَتْ بِالْبَقِيعِ وَصَلَّى عَلَيْهَا عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه وَهِيَ أَوَّلُ أَزْوَاجِهِ مَوْتًا (أَيْ بَعْدَهُ صلى الله عليه وسلم

‌‌الثَّامِنَةُ زَيْنَبُ

 

بِنْتُ خُزَيْمَةَ بْنِ الْحَارِث بن عبد الله بْنِ عَمْرِو بْنِ عَبْدِ مَنَافٍ

وَهِيَ أُمُّ الْمَسَاكِينِ كَانَتْ تُسَمَّى بِذَلِكَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَكَانَتْ تَحْتَ الطُّفَيْل بن الْحَارِث بن عبد المطلب بْنِ عَبْدِ مَنَافٍ فَطَلَّقَهَا وَتَزَوَّجَ بِهَا عُبَيْدَةُ بْنُ الْحَارِثِ وَقُتِلَ يَوْمَ بَدْرٍ شَهِيدًا

وَتَزَوَّجَ بِهَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَلَى رَأْسِ أَحَدٍ وَثَلَاثِينَ شَهْرًا مِنَ الْهِجْرَةِ فَمَكَثَتْ عِنْدَهُ ثَمَانِيَّةِ أَشْهُرٍ وَتُوُفِّيَّتْ فِي آخِرِ رَبِيعِ الْآخَرِ عَلَى رَأْسِ تِسْعٍ وَثَلَاثِينَ شَهْرًا مِنَ الْهِجْرَةِ وَصَلَّى عَلَيْهَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَدُفِنَتْ بِالْبَقِيعِ وَكَانَ سِنُّهَا يَوْمَ تُوُفِّيَّتْ نَحْوَ ثَلَاثِينَ سَنَةً كَذَا ذَكَرَهُ ابْنُ سَعْدٍ كَاتِبُ الْوَاقِدِيِّ

‌‌التَّاسِعَةُ أُمُّ حَبِيبَةَ

 

رَمْلَةُ بِنْتُ سُفْيَانَ صَخْرِ بْنِ حَرْبِ بْنِ أُمَيَّةَ بْنِ عَبْدِ شَمْسٍ وَأُمُّهَا صَفِيَّةُ بِنْتُ أَبِي الْعَاصِ بْنِ أُمَيَّةَ
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে জিলকদ মাসে (হিজরতের পঞ্চম বর্ষে) বিবাহ করেন এবং তখন তাঁর বয়স ছিল পঁয়ত্রিশ বছর। (তিনি যখন ইন্তেকাল করেন) তখন তাঁর বয়স ছিল তিপ্পান্ন বছর (১০ খ) এবং তাঁকে জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়। ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর জানাজার নামাজ পড়ান। তিনি ছিলেন নবীর স্ত্রীদের মধ্যে (অর্থাৎ তাঁর [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] ইন্তেকালের পর) প্রথম ইন্তেকালকারী।

‌‌অষ্টম: যয়নব

 

বিনতে খুজাইমা ইবনুল হারিস ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আব্দুল মানাফ।

তিনি ছিলেন 'উম্মুল মাসাকিন' (মিসকিনদের মাতা); জাহেলী যুগেও তাঁকে এই নামে ডাকা হতো। তিনি আব্দুল মুত্তালিব ইবনে আব্দুল মানাফের পুত্র তুফাইল ইবনুল হারিসের স্ত্রী ছিলেন। তুফাইল তাঁকে তালাক দিলে উবাইদাহ ইবনুল হারিস তাঁকে বিবাহ করেন এবং তিনি বদরের যুদ্ধে শহীদ হন।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হিজরতের একত্রিশ মাস পূর্ণ হওয়ার পর তাঁকে বিবাহ করেন। তিনি তাঁর নিকট আট মাস অবস্থান করেন এবং হিজরতের উনচল্লিশ মাস পূর্ণ হওয়ার পর রবিউস সানি মাসের শেষ দিকে ইন্তেকাল করেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জানাজার নামাজ পড়ান এবং তাঁকে জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়। ইন্তেকালের সময় তাঁর বয়স ছিল প্রায় ত্রিশ বছর; ওয়াকিদীর লেখক ইবনে সাদ এমনই উল্লেখ করেছেন।

‌‌নবম: উম্মে হাবিবা

 

রামলা বিনতে আবু সুফিয়ান সাখর ইবনে হারব ইবনে উমাইয়া ইবনে আব্দ শামস। তাঁর মাতা ছিলেন সাফিয়া বিনতে আবুল আস ইবনে উমাইয়া।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফী মানাকিবি উম্মাহাতিল মুমিনীন (পৃষ্ঠা: ٤٥)
كَانَتْ تَحْتَ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ جحش (11 أ) بْنِ رِئَابِ تُوُفِّيَّ بِأَرْضِ الْحَبَشَةِ بَعْدَ أَنِ ارْتَدَّ

وَتَزَوَّجَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم سَنَةَ سَبْعٍ مِنَ الْهِجْرَةِ وَهِيَ الَّتِي أَصْدَقَهَا النَّجَّاشِيُّ عَنْهُ صلى الله عليه وسلم وَكَانَ لَهَا يَوْمَ قَدِمَ بِهَا الْمَدِينَةَ بِضْعٌ وَثَلَاثُونَ سَنَةً

وَتُوُفِّيَّتْ فِي سَنَةِ أَرْبَعٍ وَأَرَبْعَيِنَ فِي خِلَافَةِ أَخِيهَا مُعَاوِيَةَ

‌‌الْعَاشِرَةُ صَفِيَّةُ

 

بِنْتُ حُيَيِّ بْنِ أَخْطَبَ مِنْ وَلَدِ هَارُونَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأُمُّهَا برة بنت سمؤل أُخْتُ رِفَاعَةَ

كَانَتْ تَحْتَ سَلَّامِ بن مشْكم الرقظي ثُمَّ خَلُفَ عَلَيْهَا كَنَانَةُ بْنُ الرَّبِيعِ بْنِ أَبِي الْحُقَيْقِ

سَبَاهَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مِنْ خَيْبَرَ وَكَانَتْ عَرُوسًا وَأَعْتَقَهَا وَتَزَوَّجَهَا بَعْدَ مَرْجِعِهِ مِنْ خَيْبَرَ وَكَانَ يَقْسِمُ لَهَا وَلِجُوَيْرِيَّةَ بِنْتِ الْحَارِثِ وَكَانَ سِنُّهَا وَقْتَ سَبَاهَا نَحْوَ سَبْعِ عَشْرَةَ سَنَةً

وَتُوُفِّيَّتْ سَنَةَ اثْنَتَيْنِ وَخَمْسِينَ مِنَ الْهِجْرَةِ فِي خِلَافَةِ مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ رضي الله عنه وَدُفِنَتْ بِالْبَقِيعِ وَقِيلَ سَنَةُ خَمْسِينَ
তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে জাহাশ (১১-অ) ইবনে রিআব-এর অধীনে ছিলেন, যে মুরতাদ হওয়ার পর আবিসিনিয়া ভূমিতে মৃত্যুবরণ করেছিল।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে হিজরীর সপ্তম বছরে বিবাহ করেন। তিনিই সেই নারী, যাঁর পক্ষ থেকে নাজ্জাশী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মোহরানা পরিশোধ করেছিলেন। যেদিন তাঁকে মদিনায় নিয়ে আসা হয়, তখন তাঁর বয়স ছিল ত্রিশের কোঠায়।

তিনি তাঁর ভাই মুয়াবিয়ার খিলাফতকালে চুয়াল্লিশ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।

‌‌দশম স্ত্রী সাফিয়া

 

নবী হারুন আলাইহিস সালামের বংশধর হুয়াই ইবনে আখতাবের কন্যা; এবং তাঁর মাতা ছিলেন রিফায়ার বোন বাররাহ বিনতে সামওয়াল।

তিনি সালাম ইবনে মিশকাম আল-কুরাযীর স্ত্রী ছিলেন, অতঃপর তাঁর পরবর্তী স্বামী ছিলেন কিনানা ইবনে রাবী ইবনে আবিল হুকাইক।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে খায়বার থেকে যুদ্ধবন্দী হিসেবে লাভ করেন, তখন তিনি নববধূ ছিলেন। তিনি তাঁকে মুক্ত করে দেন এবং খায়বার থেকে প্রত্যাবর্তনের পর তাঁকে বিবাহ করেন। তিনি তাঁর জন্য এবং জুওয়াইরিয়া বিনতে হারিসের জন্য পালানুযায়ী সময় বণ্টন করতেন। যখন তাঁকে বন্দী করা হয়, তখন তাঁর বয়স ছিল প্রায় সতেরো বছর।

তিনি হিজরী বাহান্ন সালে মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান রাযিয়াল্লাহু আনহুর খিলাফতকালে ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে বাক্বী’তে দাফন করা হয়। মতান্তরে তিনি পঞ্চাশ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফী মানাকিবি উম্মাহাতিল মুমিনীন (পৃষ্ঠা: ٤٦)
‌‌الْحَادِيَةَ عَشْرَةَ مَيْمُونَةُ

وَقِيلَ بَرَّةُ بنت الْحَارِث (11 ب) بْنِ حَزْنِ بْنِ بُجَيْرِ بْنِ الْهَزْمِ وَأُمُّهَا هِنْدُ بِنْتُ عَوْفِ بْنِ زُهَيْرٍ

وَكَانَتْ تَحْتَ مَسْعُودِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَبْدِ نَائِلٍ الثَّقَفِيِّ فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَفَارَقَهَا ثُمَّ خَلُفَ عَلَيْهَا أَبُو رُهْمِ بْنِ عَبْدِ الْعُزَّى بْنِ أَبِي قَيْسِ بْنِ عَبْدِ وُدٍّ فَتُوُفِّيَّ عَنْهَا فَتَزَوَّجَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم

وَهِيَ آخِرُ نِسَائِهِ تَزْوِيجًا وَمَوْتًا وَقِيلَ إِنَّهَا مَاتَتْ قَبْلَ عَائِشَةَ رضي الله عنها وَرَدَ ذَلِكَ فِي حَدِيثٍ صَحِيحٍ عَنْ عَائِشَةَ وَهِيَ خَالَةُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ وَنَكَحَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَنَةَ سَبْعٍ سَنَةُ عُمْرَةِ الْقَضَاءِ

وَتُوُفِّيَّتْ فِي سَنَةِ إِحْدَى وَسِتِّينَ فِي خِلَافَةِ يَزِيدَ بْنِ مُعَاوِيَةَ كَذَا ذَكَرَهُ ابْنُ سَعْدٍ وَكَانَ عُمْرُهَا نَحْوَ ثَمَانِينَ سَنَةً أَوْ إِحْدَى وَثَمَانِينَ وَدُفِنَتْ بُسَرِفَ فِي الْقُبَّةِ الْتَيِ بَنَى بِهَا فِيهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَمَا أَخَبَر بِذَلِكَ وَقِيلَ مَاتَتْ بِمَكَّةَ وَنُقِلَتْ إِلَيْهَا
একাদশ: মাইমুনা

আর বলা হয়েছে যে, তিনি বাররা বিনতে হারিস (১১ খ) ইবনে হাযন ইবনে বুজায়র ইবনে হাজম এবং তাঁর মাতা হলেন হিন্দ বিনতে আওফ ইবনে যুহায়ের।

তিনি জাহেলী যুগে মাসউদ ইবনে আমর ইবনে আবদ নায়েল আস-সাকাফীর বিবাহাধীনে ছিলেন এবং তিনি তাঁকে পৃথক করে দেন। এরপর আবু রুহম ইবনে আবদিল উযযা ইবনে আবি কায়স ইবনে আবদিল উদ তাঁকে বিবাহ করেন, অতঃপর তিনি মৃত্যুবরণ করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বিবাহ করেন।

তিনি বিবাহের দিক থেকে এবং মৃত্যুর দিক থেকেও তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে সর্বশেষ ছিলেন। আবার বলা হয় যে, তিনি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেন; আয়েশা থেকে বর্ণিত একটি সহীহ হাদীসে এটি এসেছে। তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসের খালা ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সপ্তম হিজরীতে উমরাতুল কাযার বছর তাঁকে বিবাহ করেন।

তিনি একষট্টি হিজরীতে ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার খিলাফতকালে ইন্তেকাল করেন; ইবনে সাদ এভাবেই উল্লেখ করেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় আশি বছর বা একাশি বছর। তাঁকে সারিফ নামক স্থানে সেই গম্বুজে দাফন করা হয় যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে বাসর করেছিলেন, যেমনটি তিনি সংবাদ দিয়েছেন। আর বলা হয় যে, তিনি মক্কায় ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে সেখানে স্থানান্তরিত করা হয়।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফী মানাকিবি উম্মাহাতিল মুমিনীন (পৃষ্ঠা: ٤٧)
وَهِيَ مِنَ اللَّاتِي وَهَبْنَ أَنْفُسَهُنَّ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

12 - أ) وَمَاتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ تِسْعٍ مِنْ هَؤُلَاءِ وَهُنَّ سَوْدَةُ وَعَائِشَةُ وَحَفْصَةُ وَأُمُّ سَلَمَةَ وَجُوَيْرِيَّةُ وَزَيْنَبُ بِنْتُ جَحْشٍ وَأُمُّ حَبِيبَةَ وَصَفِيَّةُ وَمَيْمُونَةُ وَكُلُّ وَاحِدَةٍ مِنْ هَؤُلَاءِ اتَّفَقَ النَّقَلَةُ عَلَى أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَزَوَّجَهَا وَبَنَى بِهَا وَاتَّفَقُوا عَلَى أَنَّهُ مَاتَ عَنِ التِّسْعِ الْمَذْكُورَاتِ وَاخْتَلَفُوا فِي التَّقْدِيمِ وَالتَّأْخِيرِ وَذَلِكَ اخْتِلَافٌ لَا يَضُرُّ وَاجْتَمَعَ عِنْدَهُ جَمِيعُ الْمَذْكُورَاتِ سِوَى خَدِيجَةَ فَإِنَّهَا مَاتَتَ وَلَمْ يَتَزَوَّجْ مَعَهَا غَيْرِهَا وَزَادَ بَعْضُهُمْ أَنَّهُ اجْتَمَعَ عِنْدَهُ إِحْدَى عَشْرَةَ امْرَأَةً فَقَالَ بَعْضُهُمْ هِيَ أُمُّ شريك بنت جَابر وريجانة بِنْتُ زَيْدِ بْنِ عَمْرٍو وَقِيلَ إِنَّهَا لم تزل سَرِيَّة وهوالصحيح
তিনি ছিলেন তাঁদের অন্তর্ভুক্ত যাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট নিজেদের নিবেদন করেছিলেন।

১২ - ক) আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এদের মধ্য থেকে নয়জন স্ত্রীকে রেখে ইন্তেকাল করেন। তাঁরা হলেন—সাওদা, আয়েশা, হাফসা, উম্মু সালামাহ, জুয়াইরিয়া, যায়নাব বিনতে জাহশ, উম্মু হাবিবা, সাফিয়্যাহ এবং মায়মুনা। বর্ণনাকারীগণ এ বিষয়ে একমত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের প্রত্যেককে বিবাহ করেছিলেন এবং তাঁদের সাথে দাম্পত্য জীবন শুরু করেছিলেন। তাঁরা এ বিষয়েও একমত যে, তিনি উল্লিখিত নয়জন স্ত্রীকে রেখে ইন্তেকাল করেছেন। তবে তাঁদের বিবাহের অগ্র-পশ্চাৎক্রম নিয়ে তাঁরা মতভেদ করেছেন, যা মূলত কোনো ক্ষতিকর মতভেদ নয়। খাদিজা ব্যতীত উল্লিখিত সকল স্ত্রী তাঁর নিকট একত্রে অবস্থান করেছিলেন; কারণ খাদিজা ইন্তেকাল করেছিলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জীবদ্দশায় অন্য কাউকে বিবাহ করেননি। কোনো কোনো বর্ণনাকারী উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর নিকট একত্রে এগারোজন স্ত্রী ছিলেন। তাঁদের মতে ওই দুজন হলেন—উম্মু শারীক বিনতে জাবের এবং রায়হানা বিনতে যায়েদ ইবনে আমর। তবে বলা হয়েছে যে, রায়হানা আজীবন দাসী হিসেবেই ছিলেন এবং এটিই সঠিক মত।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফী মানাকিবি উম্মাহাতিল মুমিনীন (পৃষ্ঠা: ٤٨)
‌‌ذِكْرُ مَا وَقَعَ إِلَيَّ مِمَّا وَرَدَ فِي مَنَاقِبَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ خَدِيجَةَ أُمِّ هِنْدٍ تُكَنَّى بِوَلَدٍ كَانَ لَهَا

 

الْحَدِيثُ الْأَوَّلُ

أَخْبَرَنَا أُسْتَاذِي الْإِمَامُ قُطْبُ الدِّينِ حُجَّةُ الْإِسْلَامِ إِمَامُ الْحَرَمَيْنِ أَبُو الْمَعَالِي مَسْعُود (12 ب) بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَسْعُودٍ النَّيْسَابُورِيُّ رحمه الله فِي جُمَادَى الْأُولَى سنة سبع وَسبعين وَخمْس مئة أَنَا الشَّيْخُ الْفَقِيهُ أَبُو مُحَمَّدِ عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الْبَيْهَقِيُّ أَنَا أَبُو بَكْرِ أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ مُوسَى الْبَيْهَقِيُّ الْحَافِظُ

وَأَخْبَرَنَا عَمِّي الْإِمَامُ الْعَالِمُ الْحَافِظُ الثِّقَةُ ثِقَةُ الدِّينِ صَدْرُ الْحُفَّاظِ مُحَدِّثُ الشَّامُ أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ هِبَةِ اللَّهِ الشَّافِعِيُّ قَدَّسَ اللَّهُ رُوحَهُ أَنَا الْفَقِيهُ الْإِمَامُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ الْفَرَّاوِيُّ الصَّاعِدِيُّ النَّيْسَابُورِيُّ أنَا أَبُو بَكْرِ الْبَيْهَقِيُّ أَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ نَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ نَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ نَا يُونُسُ بْنُ بَكِيرٍ عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أبي الْأَشْعَث الْكِنْدِيّ منأهل الْكُوفَةِ حَدَّثَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِيَاسَ بْنِ عَفِيفٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَفِيفٍ أَنَّهُ قَالَ

كُنْتُ امْرَأً تَاجِرًا فَقَدِمْتُ مِنًى أَيَّامَ الْحَجِّ وَكَانَ الْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الطّلب امَرْأً تَاجِرًا فَأَتَيْتُهُ أَبْتَاعُ مِنْهُ (13 أ) وَأَبِيعُهُ قَالَ فَبَيْنَا
মুমিনদের জননী, হিন্দের মা খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)—যিনি তাঁর এক সন্তানের নামে কুনিয়াত (উপনাম) গ্রহণ করেছিলেন—তাঁর মর্যাদা ও ফযীলত সম্পর্কে আমার নিকট যা পৌঁছেছে তার বর্ণনা

 

প্রথম হাদীস

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার উস্তাদ ইমাম, কুতুবুদ্দীন, হুজ্জাতুল ইসলাম, ইমামুল হারামাইন আবুল মাআলী মাসউদ (১২ খ) ইবন মুহাম্মাদ ইবন মাসউদ আন-নাইসাবুরী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) ৫৭৭ হিজরীর জুমাদাল উলা মাসে। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খুল ফকীহ আবু মুহাম্মাদ আব্দুল জাব্বার ইবন মুহাম্মাদ ইবন আহমদ আল-বাইহাকী। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফিয আবু বকর আহমদ ইবনুল হুসাইন ইবন আলী ইবন মুসা আল-বাইহাকী।

এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার চাচা ইমাম, আলিম, হাফিয, নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্ব, সিকাতুদ্দীন, সদরুল হুফফায, শামের মুহাদ্দিস আবুল কাসিম আলী ইবনুল হাসান ইবন হিবাতুল্লাহ আশ-শাফিয়ী (আল্লাহ তাঁর রূহকে পবিত্র করুন)। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ফকীহ ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনুল ফযল আল-ফাররাবি আস-সাঈদী আন-নাইসাবুরী। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আল-বাইহাকী। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিয। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস মুহাম্মাদ ইবন ইয়াকুব। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবন আব্দুল জাব্বার। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইউনুস ইবন বুকাইর, ইবন ইসহাক থেকে। তিনি বলেন, কুফা নিবাসী ইয়াহইয়া ইবনু আবিল আশআস আল-কিন্দি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ইসমাঈল ইবন ইয়াস ইবন আফিফ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন তাঁর পিতার সূত্রে, তিনি তাঁর দাদা আফিফ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন—

আমি একজন ব্যবসায়ী ছিলাম। হজের দিনগুলোতে আমি মিনায় আসলাম। আব্বাস ইবন আব্দুল মুত্তালিবও একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। আমি তাঁর নিকট কেনাবেচা করার উদ্দেশ্যে আসতাম (১৩ ক)। তিনি বলেন, এমতাবস্থায় যখন—
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফী মানাকিবি উম্মাহাতিল মুমিনীন (পৃষ্ঠা: ٤٩)
نَحْنُ إِذْ خَرَجَ رَجُلٌ مِنْ خِبَاءِ يُصَلِّي فَقَامَ تِجَاهَ الْكَعْبَةِ ثُمَّ خَرَجَتِ امْرَأَةٌ فَقَامَتْ تُصَلِّي وَخَرَجَ غُلَامٌ فَقَامَ يُصَلِّي مَعَهُ فَقلت يَا عَبَّاس ماهذا الدِّينُ إِنَّ هَذَا الدِّينُ مَا نَدْرِي مَا هُوَ فَقَالَ هَذَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ يَزْعُمُ أَن الله تبارك وتعالى أَرْسَلَهُ وَأَنَّ كُنُوزَ كِسْرَى وَقَيْصَرَ سَتُفْتَحُ عَلَيْهِ وَهَذِهِ امْرَأْتُهُ خَدِيجَةُ بِنْتُ خُوَيْلِدٍ آمَنَتْ بِهِ وَهَذَا الْغُلَامُ ابْنُ عَمِّهِ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ آمَنَ بِهِ

قَالَ عَفِيفٌ وَلَيْتَنِي كُنْتُ آمَنْتُ بِهِ يَوْمَئِذٍ فَكُنْتُ أَكُونُ ثَانِيًا

هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٍ مِنْ حَدِيثِ إِسْمَاعِيلَ بْنُ إِيَاسَ بْنِ عَفِيفٍ عَنْ أَبِيهِ إِيَاسَ عَنْ جَدِّهِ عُفَيْفٍ الْكِنْدِيِّ أَسْلَمَ بَعْدَ ذَلِكَ وَحَسُنَ إِسْلَامُهُ

وَقَوْلُهُ ثَانِيًّا يَعْنِي ثَانِيَّ الرِّجَالِ

تَابَعَهُ إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ وَقَالَ فِي الْحَدِيثِ

إِذْ خَرَجَ رَجُلٍ مِنْ خِبَاءٍ قَرِيبٍ مِنْهُ فَنَظَرَ إِلَى السَّمَاءِ فَلَمَّا رَآهَا قَدْ مَالَتْ يَعْنِي الشَّمْسَ قَامَ يُصَلِّي ثُمَّ ذَكَرَ قِيَامُ خَدِيجَةَ خَلْفَهُ

وَقَدْ صَحَّ أَنَّهَا أَوَّلُ مَنْ آمَنَ بِهِ صلى الله عليه وسلم وَقِيلَ هِيَ أَوَّلُ مَنْ آمن من النِّسَاء
আমরা সেখানে ছিলাম, এমন সময় একটি তাবু থেকে এক ব্যক্তি বেরিয়ে এসে সালাত আদায় করতে লাগলেন এবং কাবার দিকে মুখ করে দাঁড়ালেন। এরপর এক নারী বেরিয়ে এলেন এবং সালাতে দাঁড়ালেন। তারপর এক কিশোর বেরিয়ে এল এবং তাঁর সাথে সালাতে দাঁড়িয়ে গেল। আমি বললাম, হে আব্বাস! এই ধর্মটি কী? এই ধর্ম সম্পর্কে তো আমরা কিছুই জানি না। তিনি বললেন, ইনি হলেন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ। তিনি দাবি করেন যে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা তাঁকে রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন এবং অচিরেই কিসরা ও কায়সারের ধনভাণ্ডার তাঁর জন্য বিজিত হবে। আর এই নারী হলেন তাঁর স্ত্রী খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ, যিনি তাঁর ওপর ঈমান এনেছেন। আর এই কিশোরটি তাঁর চাচাতো ভাই আলী বিন আবি তালিব, সেও তাঁর ওপর ঈমান এনেছে।

আফিফ বললেন, হায়! আমি যদি সেদিন ঈমান আনতাম, তবে আমি দ্বিতীয় ব্যক্তি হতাম।

এটি ইসমাইল বিন ইয়াস বিন আফিফের সূত্র থেকে একটি সহীহ হাদীস, যা তিনি তাঁর পিতা ইয়াস থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা আফিফ আল-কিন্দি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (আফিফ) পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর ইসলাম সুন্দর হয়েছিল।

এবং তাঁর কথা "দ্বিতীয়", এর অর্থ হলো পুরুষদের মধ্যে দ্বিতীয় ব্যক্তি।

ইব্রাহিম বিন সাঈদ, মুহাম্মদ বিন ইসহাক থেকে এর অনুসরণ করেছেন এবং তিনি হাদীসে বলেছেন:

যখন তাঁর নিকটবর্তী একটি তাবু থেকে এক ব্যক্তি বের হলেন এবং আকাশের দিকে তাকালেন। যখন তিনি দেখলেন যে সূর্য হেলে পড়েছে, তখন তিনি সালাতে দাঁড়ালেন। এরপর তিনি তাঁর পেছনে খাদিজার দাঁড়ানোর কথা উল্লেখ করেছেন।

এটি বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত যে, তিনিই সর্বপ্রথম তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর ঈমান এনেছেন। আর বলা হয়েছে যে, নারীদের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম ঈমান এনেছেন।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফী মানাকিবি উম্মাহাতিল মুমিনীন (পৃষ্ঠা: ٥٠)
(13 ب) وَأَبُو بَكْرٍ مِنَ الرِّجَالِ وَعَلِيٌّ مِنَ الصِّبْيَانِ جَمْعًا بَيْنَ الرِّوَايَاتِ

وَقَدْ رُوِيَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ مِنْ قَوْلِهِ مُرْسَلًا إِنَّهَا أول من آمن

ولاشك أَنَّهُ لَا يَقُولُهُ إِلَّا عَنْ رِوَايَةٍ نُقِلَتْ إِلَيْهِ وَذَلِكَ فِيمَا أَخْبَرَنَا عَمِّي الْمَذْكُورُ وَأُسْتَاذِي الْمُسَمَّى بِالْإِسْنَادِ الْمُقَدَّمِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ قَالَ

وَكَانَتْ خَدِيجَةُ أَوَّلَ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم وَصَدَّقَ بِمَا جَاءَ بِهِ قَالَ

ثُمَّ إِنَّ جِبْرِيلَ عليه السلام أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ افْتُرِضَتْ عَلَيْهِ فَهَمَزَ لَهُ بِعَقِبِهِ فِي نَاحِيَّةِ الْوَادِي فَانْفَجَرَتْ لَهُ عين مَاء مزن فَتَوَضَّأ جِبْرِيل ومحمدا عليها السلام ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ وَسَجَدَ أَرْبَعَ سَجْدَاتٍ ثُمَّ رَجِعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ أَقَرَّ اللَّهُ عَيْنَهُ وَطَابَتْ نَفْسُهُ وَجَاءَهُ مَا يُحِبُّ مِنَ اللَّهِ فَأَخَذَ بِيَدِّ خَدِيجَةَ حَتَّى أَتَى بِهَا الْعَيْنَ فَتَوَضَّأَ كَمَا تَوَضَّأَ جِبْرِيلُ ثُمَّ رَكَعَ رَكْعَتَيْنِ وَأَرْبَعَ سَجْدَاتٍ هُوَ وَخَدِيجَةُ ثُمَّ كَانَ هُوَ وَخَدِيجَة يصليان سرا (14 أ) هَكَذَا ذَكَرَهُ ابْنُ إِسْحَاقَ وَقَالَ حِينَ افْتُرِضَتْ يَعْنِي الصَّلَاةَ

وَلَا شَكَّ أَنَّ هَذَا حِينَ فُرِضَتِ الصَّلَاةُ ابْتَدَاءً قَبْلَ مُهَاجَرِهِ إِلَى الْمَدِينَةِ ثُمَّ زِيدَتْ وَإِلَّا فَخَدُيجَةَ مَاتَتْ قَبْلَ أَنْ تُفَرْضَ الصَّلَاةَ بِخَمْسِ سِنِينَ يَعْنِي الصَّلَاةَ الْخَمْسِ لَيْلَةَ الْإِسْرَاءِ لِيَكُونَ جَمْعًا بَيْنَ الْحَدِيثَيْنِ وَاللَّهُ أَعْلَمُ
(১৩ খ) আর বর্ণনাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনের উদ্দেশ্যে বলা হয় যে, পুরুষদের মধ্যে আবু বকর এবং বালকদের মধ্যে আলী (প্রথম ঈমান এনেছেন)।

মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে মুরসাল হিসেবে তাঁর উক্তি বর্ণিত হয়েছে যে, তিনিই (খাদিজা) সর্বপ্রথম ঈমান এনেছেন।

আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তাঁর কাছে কোনো বর্ণনা না পৌঁছালে তিনি এ কথা বলতেন না। আর তা হলো যা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার উল্লিখিত চাচা এবং নামোল্লিখিত উস্তাদ কর্তৃক পূর্বোক্ত সনদে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি বলেন:

খাদিজা ছিলেন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর ঈমান আনয়নকারী এবং তিনি যা নিয়ে এসেছেন তাকে সত্যয়নকারী প্রথম ব্যক্তি। তিনি বলেন:

অতঃপর জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিকট আসলেন যখন তাঁর ওপর (সালাত) ফরজ করা হলো। তিনি উপত্যকার এক প্রান্তে তাঁর গোড়ালি দিয়ে আঘাত করলেন, ফলে তাঁর জন্য একটি স্বচ্ছ পানির ঝরনা প্রবাহিত হলো। অতঃপর জিবরাঈল ও মুহাম্মদ (আলাইহিমাস সালাম) ওজু করলেন। এরপর তিনি দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন এবং চারটি সেজদা করলেন। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফিরে আসলেন এমতাবস্থায় যে, আল্লাহ তাঁর চোখ জুড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং তাঁর অন্তরকে প্রশান্ত করেছিলেন, আর আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর নিকট তা-ই এসেছিল যা তিনি পছন্দ করেন। অতঃপর তিনি খাদিজার হাত ধরলেন এবং তাঁকে সেই ঝরনার কাছে নিয়ে আসলেন। খাদিজা তেমনভাবেই ওজু করলেন যেমনভাবে জিবরাঈল ওজু করেছিলেন। অতঃপর তিনি ও খাদিজা দুই রাকাত সালাত ও চারটি সেজদা আদায় করলেন। এরপর তিনি ও খাদিজা গোপনে সালাত আদায় করতেন। (১৪ ক) এভাবেই ইবনে ইসহাক এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, 'যখন ফরজ করা হয়েছে' অর্থাৎ সালাত।

আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এটি সালাত যখন প্রাথমিকভাবে ফরজ করা হয়েছিল তখনকার ঘটনা, যা তাঁর মদিনায় হিজরতের আগে ছিল; এরপর তা বৃদ্ধি করা হয়েছিল। অন্যথায়, খাদিজা পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ হওয়ার পাঁচ বছর পূর্বেই ইন্তেকাল করেছিলেন, অর্থাৎ ইসরার রাতে (ফরজ হওয়া) পাঁচ ওয়াক্ত সালাত; যেন এটি দুটি হাদিসের মধ্যে সমন্বয় স্বরূপ হয়। আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফী মানাকিবি উম্মাহাতিল মুমিনীন (পৃষ্ঠা: ٥١)
‌‌الْحَدِيثُ الثَّانِي

 

قَرَأْتُ عَلَى عَمِّي الْإِمَامَ الْعَالِمَ الصَّائِنَ أَبِي الْحُسَيْنِ هِبَةَ اللَّهِ بْنَ الْحَسَنِ الشَّافِعِيَّ رضي الله عنه فِي سَنَةِ ثَلَاث وَسِتِّينَ (وَخمْس مئة) وَأَخْبَرَنَا عَمِّي الْحَافِظُ رحمه الله أَيْضًا قَالَا أَنَا الشَّرِيفُ النَّسِيبُ أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ أَبِي الْحُسَيْنِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ الْحُسَيْنِيُّ فِي سنة سبع وَخمْس مئة قَالَ قَرَأْتُ عَلَى وَالِدِي قُلْتُ لَهُ أخْبركُم أَبُو عبد الله الْحُسَيْن بن عبد الله بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي كَامِلٍ الأطرابلسي إِجَازَةً أَنَا خَثْيَمَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ حَيْدَرَةَ الْقُرَشِيُّ نَا إِسْحَاقُ الدَّبَرِيُّ عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ عَنْ مَعْمَرٍ وَابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ هِشَامِ بن عُرْوَة (14 ب) عَن أَبِيه عَن عبد الله بْنِ جَعْفَرٍ أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ عليه السلام قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ

خَيْرُ نِسَائِهَا مَرْيَمُ (بِنْتُ عِمْرَانَ) وَخَيْرُ نِسَائِهَا خَدِيجَةُ بِنْتُ خُوَيْلِدٍ عليهما السلام هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٍ مِنْ حَدِيثِ أَبِي جَعْفَرِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ جَعْفَرٍ الطَّيَّارِ عَنْ عَمِّهِ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ أَبِي الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنهما

وَصَحِيحٌ مِنْ رِوَايَةِ أَبِي الْمِنْذِرِ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ بْنِ الْعَوَّامِ

اتَّفَقَ الْأَئِمَّةُ عَلَى إِخْرَاجِهِ فِي الصَّحِيحِ فَرَوَاهُ الْبُخَارِيُّ عَنْ مُحَمَّدٍ وَصَدَقَةَ عَنْ عَبْدَةَ وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَبْدَةَ بْنِ سُلَيْمَانَ الْكِلَابِيُّ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ وَأَخْرَجَهُ رُزَيْنٌ فِي مَجْمُوعِ الصِّحَاحِ
দ্বিতীয় হাদিস

 

আমি আমার চাচা, ইমাম, আলিম, আত্মসংযমী আবু আল-হুসাইন হিবাতুল্লাহ ইবনুল হাসান আশ-শাফিয়ী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট পাঁচশত তেষট্টি হিজরি সনে পাঠ করেছি। আমার চাচা হাফিয (রহিমাহুল্লাহ)-ও আমাদের খবর দিয়েছেন। তাঁরা উভয়ে বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উচ্চবংশীয় আশ-শরীফ আবু আল-কাসিম আলী ইবন আবিল হুসাইন ইবন আবিল হাসান আল-হুসাইনী পাঁচশত সাত হিজরি সনে। তিনি বলেন, আমি আমার পিতার নিকট পাঠ করেছি এবং তাঁকে বললাম যে, আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন ইবন আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আবি কামিল আল-আত্রাবুলুসী কি আপনাকে ইজাযত সূত্রে সংবাদ দিয়েছেন? আমাদের সংবাদ দিয়েছেন খাসায়মাহ ইবন সুলায়মান ইবন হায়দারাহ আল-কুরাশী; আমাদের বর্ণনা করেছেন ইসহাক আদ-দাবারী, তিনি আবদুর রাজ্জাক থেকে, তিনি মা'মার এবং ইবন জুরায়জ থেকে, তিনি হিশাম ইবন উরওয়াহ থেকে (১৪ খ), তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন জা'ফর থেকে বর্ণনা করেন যে, আলী ইবনে আবু তালিব (আলাইহিস সালাম) বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি:

তৎকালীন শ্রেষ্ঠ নারী ছিলেন মারইয়াম (বিনতে ইমরান) এবং তৎকালীন শ্রেষ্ঠ নারী হলেন খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ (আলাইহিমাস সালাম)। এটি আবু জাফর আবদুল্লাহ ইবন আবি আবদুল্লাহ জাফর আত-তাইয়ার-এর সূত্রে তাঁর চাচা আমীরুল মুমিনীন আবুল হাসান আলী ইবনে আবু তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত একটি সহীহ হাদিস।

এবং এটি আবু আল-মুনযির হিশাম ইবন উরওয়াহ ইবন আবু আবদুল্লাহ ইবন আয-যুবাইর ইবনুল আওয়াম-এর বর্ণনা থেকেও সহীহ।

ইমামগণ এটি সহীহ গ্রন্থে সংকলন করার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। ইমাম বুখারী এটি মুহাম্মদ ও সাদাকাহ থেকে, তাঁরা আবদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন; ইমাম মুসলিম এটি ইসহাক ইবন ইবরাহীম থেকে, তিনি আবদাহ ইবন সুলায়মান আল-কিলাবী থেকে এবং তিনি হিশাম ইবন উরওয়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন। আর রুজাইন এটি 'মাজমুউত সিহাহ' গ্রন্থে সংকলন করেছেন।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফী মানাকিবি উম্মাহাতিল মুমিনীন (পৃষ্ঠা: ٥٢)
وَقَوْلُهُ (خَيْرُ نِسَائِهَا) يَعْنِي (نِسَاءَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ)

‌‌الْحَدِيثُ الثَّالِثُ

 

أَخْبَرَنَا أُسْتَاذِي الْإِمَامُ قُطْبُ الدِّينِ حُجَّةُ الْإِسْلَامِ أَبُو الْمَعَالِي مَسْعُودُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَسْعُودٍ أَنَا الشَّيْخُ أَبُو مُحَمَّد عبد الْجَبَّار البهيق أَنا أَبُو بكر الْحَافِظ البهيقي أَنا أَبُو عبد الله الْحَافِظ (15 أ) وَأَبُو سَعِيدِ بْنُ أَبِي عُمَرَ وَقَالا نَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوب نَا أَحْمد بن عبد الجبار نَا يُونُسُ بْنُ بَكِيرٍ عَنِ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها قَالَت

مَا غِرْتُ عَلَى امْرَأَةٍ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا غِرْتُ عَلَى خَدِيجَةَ مِمَّا كُنْتُ أَسْمَعُ مِنْ ذِكْرِهِ لَهَا وَمَا تَزَوَّجَنِي إِلَّا بَعْدَ مَوْتِهَا بِثَلَاثِ سِنِينَ وَلَقَدْ أَمَرَهُ رَبُّهُ أَنْ يُبَشِّرَهَا بِبَيْتٍ فِي الْجَنَّةِ مِنْ قَصَبٍ لَانَصَبَ فِيهِ وَلَا صَخَبَ

هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٍ مِنْ حَدِيثِ أَبِي الْمُنْذِرِ هِشَامِ بن عُرْوَة وَيُقَال أبوعبيد الله هِشَام بن أبي عبد الله عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ بْنِ الْعَوَّامِ الْقُرَشِيُّ مِنْ عُلَمَاءِ التَّابِعِينَ وَأَثْبَاتِ الْمُحدثين رأى عبد الله بْنُ عُمَرَ وَجَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ وَزَادَ الْبُخَارِيُّ فِي صَحِيحِهِ
এবং তাঁর বাণী (তাদের মধ্যে সর্বোত্তম নারী) বলতে (আসমান ও যমীনের নারীদের) বুঝানো হয়েছে।

‌‌তৃতীয় হাদীস

 

আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আমার উস্তাদ ইমাম কুতুবুদ্দীন হুজ্জাতুল ইসলাম আবুল মাআলী মাসউদ বিন মুহাম্মাদ বিন মাসউদ। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবু মুহাম্মাদ আব্দুল জাব্বার আল-বাহীকি। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আল-হাফিয আল-বায়হাকী। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিয (১৫ ক) এবং আবু সাঈদ বিন আবু উমর। তাঁরা উভয়ে বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন আব্দুল জাব্বার। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইউনুস বিন বুকাইর হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রীদের মধ্যে আমি খাদিজার প্রতি যতটুকু ঈর্ষা পোষণ করতাম, অন্য কোনো নারীর প্রতি ততটা করতাম না। কারণ আমি রাসূলের মুখে তাঁর কথা প্রচুর শুনতাম। অথচ তাঁর মৃত্যুর তিন বছর পর তিনি আমাকে বিবাহ করেছিলেন। আর তাঁর রব তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তিনি তাঁকে জান্নাতে মণি-মুক্তা খচিত এমন একটি প্রাসাদের সুসংবাদ প্রদান করেন, যেখানে কোনো শোরগোল নেই এবং কোনো ক্লান্তি নেই।

এটি আবুল মুনযির হিশাম বিন উরওয়াহ বর্ণিত একটি সহীহ হাদীস। তাঁকে আবু আব্দুল্লাহ হিশাম বিন আবু আব্দুল্লাহ উরওয়াহ বিন যুবাইর বিন আওয়াম আল-কুরাইশীও বলা হয়। তিনি তাবিঈ উলামাদের অন্তর্ভুক্ত এবং নির্ভরযোগ্য মুহাদ্দিসগণের অন্যতম। তিনি আব্দুল্লাহ বিন উমর ও জাবির বিন আব্দুল্লাহকে দেখেছেন। ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি আরও বর্ধিতভাবে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফী মানাকিবি উম্মাহাতিল মুমিনীন (পৃষ্ঠা: ٥٣)
أَنَّهُ كَانَ يَذْبَحُ الشَّاةَ وَيُهْدِي مِنْهَا لِصَدَائِقَ خَدِيجَةَ

وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ أَيْضًا فِي صَحِيحِهِ مِنْ أَوْجُهٍ عَنْ هِشَامِ

وَفِيهِ مِنَ الْفَوَائِدِ إِخْبَارُهَا بِالْمَغْفِرَةِ لَهَا وَأَنَّهَا مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَفِيهِ دَلَالَةٌ عَلَى أَنَّ الْعَبْدَ قَدْ يَعْلَمُ مَوْضِعَهُ من الْجنَّة (51 ب) إِذَا كَانَ ذَلِكَ بِشِهَادَةِ نَبِيٍّ كَمَا أَخْبَرَ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ صِدِيقٌ وَعُمَرَ وَعُثْمَانَ وَعَلِيًّا شُهَدَاءٌ وَكَذَلِكَ شَهِدَ لَهُمْ بِالْجَنَّةِ وَلِغَيْرِهُمْ مِنَ الصَّحَابَةِ وَأَمَّا غَيْرُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلَا يَجُوزُ لَهُ أَنْ يَقْطَعَ لِأَحَدٍ بِجَنَّةٍ أَوْ نَارٍ سَوَاءَ كَانَ مُطَيعًا أَوْ عَاصِيًا وَأَمَّا إِذَا وَعَدَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى عَمَلٍ دُخُولَ الْجَنَّةِ وَالْمَغْفِرَةَ فَعَمِلَ عَامِلٌ ذَلِكَ الْعَمَلِ فَلَا نَقْطَعُ لَهُ بِالْمَوْعُودِ لَأَنَّا لَا نَعْرِفُ قَبُولَ عَمَلِهِ نَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الْحِرْمَانِ وَاللَّهُ أَعْلَمُ

‌‌الْحَدِيثُ الرَّابِعُ

 

وَبِالْإِسْنَادِ قَالَ الْبَيْهَقِيُّ أَنا أَبُو عبد الله الْحَافِظ نَا عبد الله مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ حَدَّثَنِي أَبِي حَدَّثَنِي قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ نَا مُحَمَّدُ بْنُ فَضْلٍ عَنْ عُمَارَةَ عَنْ أَبِي زُرْعَةَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ

أَتَى جِبْرِيلُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذِهِ خَدِيجَةَ أَتَتْكَ مَعَهَا إِنَاءٌ فِيهِ إِدَامٌ طَعَامٌ أَو وشراب فَإِذَا هِيَ أَتَتْكَ فَاقْرَأْ عليها السلام مِنْ رَبِّهَا وَمِنِّي وَبَشِّرْهَا بِبَيْت (16 أ) فِي الْجنَّة من قصب لاصخب فِيهِ وَلَا نَصَبَ
তিনি বকরি জবাই করতেন এবং তা থেকে খাদিজার বান্ধবীদের জন্য উপহার পাঠাতেন।

এবং ইমাম মুসলিমও তাঁর সহীহ গ্রন্থে হিশাম থেকে বিভিন্ন সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

এর উপযোগিতার মধ্যে রয়েছে তাঁকে (খাদিজাকে) ক্ষমার সংবাদ প্রদান এবং তিনি যে জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত তা জানানো। এতে এ বিষয়ের দলিল রয়েছে যে, বান্দা জান্নাতে তার অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারে (৫১ খ) যখন তা কোনো নবীর সাক্ষ্য দ্বারা হয়, যেমনটি তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে আবু বকর সিদ্দিক, উমর, উসমান ও আলী শহীদ এবং তেমনিভাবে তিনি তাঁদের এবং অন্য সাহাবীদের জন্য জান্নাতের সাক্ষ্য দিয়েছেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত অন্য কারো জন্য কোনো ব্যক্তির জান্নাত বা জাহান্নামের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া বৈধ নয়, সে অনুগত হোক বা পাপী। আর যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো কাজের বিনিময়ে জান্নাতে প্রবেশ ও ক্ষমার ওয়াদা করেন এবং কোনো আমলকারী সেই আমলটি করে, তখন আমরা তার জন্য সেই প্রতিশ্রুত বিষয়ের চূড়ান্ত নিশ্চয়তা দিই না, কারণ আমরা জানি না তার আমল কবুল হয়েছে কি না। আমরা বঞ্চনা থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাই। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

‌চতুর্থ হাদিস

 

এবং একই সনদে বায়হাকী বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন কুতাইবা বিন সাঈদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ফজল, উমারা থেকে, আবু যুরআহ থেকে, তিনি বলেন, আমি আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি:

জিবরাঈল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! এই যে খাদিজা আপনার কাছে আসছেন, তাঁর সাথে একটি পাত্র আছে যাতে সালুন, খাদ্য অথবা পানীয় রয়েছে। তিনি যখন আপনার নিকট পৌঁছাবেন, তখন তাঁকে তাঁর রবের পক্ষ থেকে এবং আমার পক্ষ থেকে সালাম বলবেন। আর তাঁকে জান্নাতে মুক্তার তৈরি এমন একটি গৃহের (১৬ ক) সুসংবাদ দিন যেখানে কোনো শোরগোল নেই এবং কোনো ক্লান্তি নেই।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফী মানাকিবি উম্মাহাতিল মুমিনীন (পৃষ্ঠা: ٥٤)
هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ مُتَّفَقٌ عَلَى صِحَّتِهِ مِنْ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ وَقَدِ اخْتُلِفَ فِي اسْمِهِ وَاسْمِ أَبِيهِ قِيلَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ صَخْرٍ وَهُوَ الْأَصَحُّ وَقِيلَ ابْنُ غَنَمٍ وَقِيلَ اسْمُهُ عَبْدُ شَمْسٍ وَقِيلَ عَامِرُ بْنُ عَبْدِ شَمْسٍ الدَّوْسِيُّ كَانَ مِنْ أَحْفَظِ أَصْحَابِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكَانَ مِنْ أَهْلِ الصُّفَّةِ وَدَعَا لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِالْحِفْظِ وَقَالَ (اللَّهُمَّ حَبِّبْهُ وَأُمَّهُ إِلَى عِبَادِكَ الْمُؤْمِنِينَ) رَوَى عَنْهُ الْعَدَدُ الْكَثِيرُ كَأَبِي سَلَمَةَ الزُّهْرِيِّ وَأَبِي زُرْعَةَ

أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ فِي صَحِيحِهِ عَنْ قُتَيْبَةَ بْنِ سَعِيدٍ كَمَا سُقْنَاهُ وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ عَنِ ابْنِ أَبِي شَيْبَةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ فُضَيْلٍ

وَأَمَا قَوْلُهُ مِنْ قَصَبٍ الْقَصَبُ فِي هَذَا الْحَدِيثِ اللُّؤْلُؤُ الْمُجَوَّفُ وَاسِعٌ كَالْقَصْرِ الْمَنِيفِ وَكُلُّ عَظْمٍ أَجْوَفُ فِيهِ مُخٌّ فَهُوَ قَصَبَةٌ هَكَذَا قَالَهُ أَهْلُ اللُّغَةِ وَقَالَ شَرِيكُ بن عبد الله فِي تَفْسِير هَذَا الحَدِيث (16 ب) إِنَّهُ مِنْ ذَهَبٍ فَيُحْتَمَلُ أَنَّهُ أَرَادَ أَنه بِنَاء مجوغ مِنَ الذَّهَبِ كَالْقَصْرِ

وَقَوْلُهُ لَا صَخَبَ وَقَدْ رُوِيَ بِالسِّينِ أَيْضًا وَلَا نَصَبَ الصَّخَبُ بِالسِّينِ وَالصَّادِ اخْتَلَاطُ الْأَصْوَاتِ وَارْتِفَاعُهَا وَقِيلَ لَيْسَ فِيهِ مَا يُؤْذِي سَاكِنَهُ وَالنَّصَبُ التَّعَبُ أَيْ لَا يَلْحَقُهَا تَعَبٌ فِيهِ

وَهَذَا لَا يَقُولُهُ إِلَّا عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لِأَنَّهُ إِخْبَار جِبْرِيلَ وَلَا يَعْلَمُهُ إِلَّا مِنْ جِهَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهَذَا كَحَدِيثِ عَائِشَةَ رضي الله عنها فِي بِدْءِ الْوَحْيِ
এটি একটি সহীহ হাদীস, যার বিশুদ্ধতার ওপর ঐকমত্য রয়েছে এবং এটি আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদীস। তার নাম এবং তার পিতার নামের ব্যাপারে মতপার্থক্য রয়েছে। বলা হয়েছে যে তার নাম আবদুর রহমান ইবনে সাখর এবং এটিই অধিকতর সঠিক; আবার বলা হয়েছে ইবনে গানাম; আবার বলা হয়েছে তার নাম আবদ শামস; আবার বলা হয়েছে দাউসী বংশীয় আমির ইবনে আবদ শামস। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হাদীস মুখস্থকারী ছিলেন এবং তিনি আহলে সুফফার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার স্মরণশক্তির জন্য দুআ করেছিলেন এবং বলেছিলেন: "হে আল্লাহ, তাকে এবং তার মাকে আপনার মুমিন বান্দাদের কাছে প্রিয় করে দিন।" তার থেকে বহু সংখ্যক রাবী বর্ণনা করেছেন যেমন আবু সালামা আল-জুহরী এবং আবু যুরআ।

ইমাম বুখারী তার সহীহ গ্রন্থে কুতায়বা ইবনে সাঈদ থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন যেভাবে আমরা উদ্ধৃত করেছি এবং ইমাম মুসলিম এটি ইবনে আবী শায়বা থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ফুহাইল থেকে বর্ণনা করেছেন।

আর তার কথা "কাসাব" (ফাঁপা বস্তু) প্রসঙ্গে: এই হাদীসে "কাসাব" বলতে ভেতরে ফাঁপা বড় মুক্তো বোঝানো হয়েছে যা সুউচ্চ প্রাসাদের মতো প্রশস্ত। প্রতিটি ফাঁপা হাড় যার ভেতরে মজ্জা থাকে তাকেও "কাসাবা" বলা হয়; ভাষাবিদগণ এমনটিই বলেছেন। শারীক ইবনে আবদুল্লাহ এই হাদীসের ব্যাখ্যায় (১৬ খ) বলেছেন যে এটি স্বর্ণ দিয়ে তৈরি, তাই ধারণা করা যায় তিনি এর দ্বারা স্বর্ণের তৈরি প্রাসাদের মতো ফাঁপা কোনো স্থাপনা বুঝিয়েছেন।

আর তার কথা "সখব" (হৈচৈ) নেই—এটি "সীন" বর্ণ দিয়েও বর্ণিত হয়েছে—এবং "নসব" (ক্লান্তি) নেই। "সীন" বা "সোয়াদ" বর্ণ দিয়ে "সখব" বলতে বিভিন্ন শব্দের সংমিশ্রণ ও উচ্চবাচ্যকে বোঝায়; আবার বলা হয়েছে যে এতে এমন কিছু নেই যা সেখানে বসবাসকারীকে কষ্ট দেয়। আর "নসব" হলো ক্লান্তি, অর্থাৎ সেখানে তাকে কোনো ক্লান্তি স্পর্শ করবে না।

আর এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে ছাড়া কেউ বলতে পারেন না কারণ এটি জিবরাঈলের সংবাদ এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যম ছাড়া এটি জানা সম্ভব নয়। এটি ওহী শুরুর অধ্যায়ে বর্ণিত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার হাদীসের মতো।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফী মানাকিবি উম্মাহাতিল মুমিনীন (পৃষ্ঠা: ٥٥)
‌‌الحَدِيث الْخَامِس

 

أخبرنما عَمِّي الْإِمَامُ الْحَافِظُ أَبُو الْقَاسِمِ رحمه الله أَنَا الشَّرِيفُ النَّسِيبُ أبوالقاسم عَلِيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحُسَيْنِيُّ قَالَ قَرَأْتُ عَلَى وَالِدِي قُلْتُ لَهُ أخْبركُم أَبُو عبد الله الْحُسَيْنُ إِجَازَةً أَنَا خَثْيَمَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْقُرَشِيُّ نَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الصُّورِيُّ نَا سُلَيْمَانُ بْنُ سَلَمَةَ الْخَبَايَرِيُّ نَا يَعْقُوبُ بْنُ الْجَهْمِ بْنِ سِوَارٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ جَرِيرٍ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

17 - أ) أَخْبَرَنِي جِبْرِيلُ عَنِ اللَّهِ تبارك وتعالى إِنَّ اللَّهَ يَقُولُ لَا يَتِمُّ نِكَاحٌ إِلَّا بِوَلِيٍّ وَشَاهِدَيْنِ وَأَنا خير وَلِيُّ خَدِيجَةَ)

هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ جِدًّا مِنْ حَدِيثِ أَبِي حَمْزَةَ أَنَسِ بْنِ مَالِكِ بْنِ النَّضْرِ بْنِ ضَمْضَمٍ الْخَزْرَجِيِّ الْأَنْصَارِيِّ مِنْ بَنِي النَّجَّارِ خَادِمُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَهْدَتْهُ أُمُّهُ أُمُّ سُلَيْمٍ لَهُ حِينَ قَدِمَ الْمَدِينَةَ وَخَدَمَهُ عَشْرَ سِنِينَ إِلَى حِينِ وَفَاتِهِ صلى الله عليه وسلم وَدَعَا لَهُ بِكَثْرَةِ الْوَلَدِ وَالْمَالِ قِيلَ إِنَّهُ رُزِقَ مِنْ صُلْبِهِ دُونَ وَلَدِ وَلَدِهِ مَا نَيف عَن المئة وَعشْرين وَقيل دفن مئة وَعِشْرِينَ مِنْ وَلَدِهِ وَوَلَدِ وَلَدِهِ دُونَ مَنْ عَاشَ لَهُ وَكَانَ شَجَرُهُ يَحْمِلُ فِي السَّنَةِ مَرَّتَيْنِ وَعمر قريب مئة وَسِتِّينَ سَنَةً وَفِي هَذَا كُلِّهِ خِلَافٌ وَكَانَ آخِرُ الصَّحَابَةِ مَوْتًا بِالْبَصْرَةِ وَلم يبْقى بَعْدَهِ مَنْ يُعَدُّ مِنَ الصَّحَابَةِ إِلَّا نَفَرٌ يَسِيرٌ مَاتَ سَنَةَ تِسْعِينَ وَقِيلَ إِحْدَى وَقِيلَ ثَلَاثٌ وَقَبْرُهُ بِالْبَصْرَةِ مَعْرُوفٌ

وَلَا يُعْرَفُ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْهُ إِلَّا مِنْ هَذَا الْوَجْه (17 ب) وَالصَّحِيحُ أَنَّ خَدِيجَةَ زَوَّجَهَا وَلِيُهَا كَمَا تَقَدَّمَ وَالَّتِي زُوِّجَتْ بِغَيْرِ وَلِيٍّ هِيَ زَيْنَبُ بِنْتُ جَحْشٍ على ماسيأتي إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى
পঞ্চম হাদিস

 

আমার চাচা ইমাম হাফিজ আবুল কাসিম (রাহিমাহুল্লাহ) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, অভিজাত বংশীয় শরীফ আবুল কাসিম আলী ইবন ইব্রাহিম আল-হুসাইনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আমি আমার পিতার নিকট পাঠ করেছি, আমি তাকে বললাম, আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন কি আপনাদের ইজাজতসূত্রে সংবাদ দিয়েছেন যে, খাসায়মাহ ইবন সুলাইমান আল-কুরাইশি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ ইবন সুলাইমান আস-সুরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সুলাইমান ইবন সালামাহ আল-খাবাইরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইয়াকুব ইবন আল-জাহাম ইবন সিওয়ার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আমর ইবন জারির থেকে, তিনি আব্দুল আজিজ ইবন সুহাইব থেকে, তিনি আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন:

১৭ - ক) জিবরাঈল আমাকে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহ বলেন, "অভিভাবক এবং দুইজন সাক্ষী ব্যতীত বিবাহ সম্পন্ন হয় না। আর আমিই খাদিজার সর্বোত্তম অভিভাবক।"

এই হাদিসটি আবু হামজাহ আনাস ইবন মালিক ইবনুন নাদর ইবন দামদাম আল-খাযরাজি আল-আনসারির বর্ণনা হতে অত্যন্ত বিরল (গরীব)। তিনি বনু নাজ্জার গোত্রের এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর খাদেম ছিলেন। নবীজি যখন মদিনায় আসলেন, তখন তাঁর মা উম্মু সুলাইম তাঁকে নবীজির খিদমতে উপহারস্বরূপ পেশ করেছিলেন। তিনি নবীজির ইন্তেকাল পর্যন্ত দশ বছর তাঁর খিদমত করেছেন। নবীজি তাঁর জন্য সন্তান ও সম্পদের আধিক্যের দোয়া করেছিলেন। বলা হয়ে থাকে যে, তাঁর নিজ ঔরস থেকে (নাতি-পুতি ব্যতীত) একশ বিশের অধিক সন্তান রিজিক হিসেবে প্রাপ্ত হয়েছিলেন। আরও বলা হয় যে, তিনি তাঁর সন্তানদের এবং নাতিদের মধ্য হতে একশ বিশজনকে দাফন করেছেন, আর যারা তাঁর জীবদ্দশায় বেঁচে ছিল তারা তো স্বতন্ত্র। তাঁর বাগানের গাছ বছরে দুইবার ফল দিত এবং তিনি প্রায় একশ ষাট বছর জীবন লাভ করেছিলেন। তবে এসব বর্ণনার মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তিনি বসরায় অবস্থানকারী সাহাবীদের মধ্যে সর্বশেষ মৃত্যুবরণকারী ছিলেন। তাঁর ইন্তেকালের পর সাহাবীদের মধ্যে গণ্য করা যায় এমন হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া আর কেউ অবশিষ্ট ছিলেন না। তিনি নব্বই হিজরিতে ইন্তেকাল করেন, কারও মতে বিরানব্বই হিজরিতে, আবার কারও মতে তিরানব্বই হিজরিতে। বসরার তাঁর কবরটি সুপরিচিত।

তাঁর থেকে বর্ণিত এই হাদিসটি এই সূত্র ব্যতিরেকে অন্য কোনোভাবে পরিচিত নয় (১৭ খ)। আর বিশুদ্ধ কথা হলো, খাদিজার বিবাহ তাঁর অভিভাবকই সম্পন্ন করেছিলেন যেমনটি পূর্বে আলোচিত হয়েছে। আর যাঁর বিবাহ অভিভাবক ব্যতীত (সরাসরি আল্লাহর পক্ষ থেকে) সম্পন্ন হয়েছিল তিনি হলেন যয়নব বিনতে জাহশ, যেমনটি ইনশাআল্লাহ তাআলা সামনে আলোচিত হবে।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফী মানাকিবি উম্মাহাতিল মুমিনীন (পৃষ্ঠা: ٥٦)
‌‌الْحَدِيثُ السَّادِسُ

 

أَخْبَرَنَا عَمِّي الْإِمَامُ الْحَافِظُ أَبُو الْقَاسِمِ أَنَا الْفَقِيهُ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ الْمُسْلِمِ الْفَرْضِيُّ أَنَا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بن عبد الواحد بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ السَّلَمِيُّ أَنَا جَدِّي أَبُو بَكْرٍ أَنَا أَبُو الدَّحْدَاحِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ التَّمِيمِيُّ نَا عَبْدُ الْوَهَّاب بن عبد الرحيم الْأَشْجَعِيُّ مِنْ قَرْيَةِ جَوْبَرَ نَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْفَزَّازِيُّ عَنْ وَائِل بن دَاوُد عَن عبد الله الْبَهِيِّ قَالَ قَالَتْ عَائِشَةُ رضي الله عنها

(كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا ذَكَرَ خَدِيجَةَ لَمْ يَكَدْ يَسْأَمُ مِنْ ثَنَاءٍ عَلَيْهَا وَاسْتِغْفَارٍ فَذَكَرَهَا ذَاتَ يَوْمٍ فَاحْتَمَلَتْنِي الْغَيْرَةُ فَقُلْتُ لقد عوضك الله كَبِيرَةِ السِّنِّ قَالَتْ فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غَضِبَ غَضَبًا أُسْقِطْتُ فِي جِلْدِي وَقُلْتُ فِي نَفْسِي اللَّهُمَّ إِنَّكَ إِنْ أَذْهَبْتَ (18) غَضَبَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِّي لَمْ أَعُدْ أَذْكُرْهَا بِسُوءٍ مَا بَقِيتُ فَلَمَا رَأَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَا لَقِيتُ قَالَ (كَيْفَ قُلْتِ وَاللَّهِ لَقَدْ آمَنَتْ بِي إِذْ كَفَرَ بِيَّ النَّاسُ وَآوَتْنِي إِذْ رَفَضَنِي النَّاسُ وَصَدَّقَتْنِي إِذْ كَذَّبَنِي النَّاسُ وَرُزِقَتْ مِنِّي الْوَلَدَ إِذْ حُرِمْتُمُوهُ) قَالَتْ فَغَدَا عَلَيَّ بِهَا وَرَاحَ شَهْرًا

هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ عبد الله الْبَهِيِّ عَنْ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ عَائِشَةَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِيقِ رضي الله عنها لَا يُعْلَمُ رَوَاهُ عَنْهُ غَيْرُ وَائِلِ بْنِ دَاوُدَ اللَّيْثِيِّ الْكُوفِيِّ رضي الله عنه وَاللَّهُ أَعْلَمُ
ষষ্ঠ হাদীস

 

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার চাচা, ইমাম হাফিয আবুল কাসিম; তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ফকীহ আবুল হাসান আলী বিন মুসলিম আল-ফারযী; তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আহমদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমদ আস-সুলামী; তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার দাদা আবু বকর; তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু দাহদাহ আহমদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল আত-তামীমী; তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহহাব বিন আব্দুর রাহীম আল-আশজাঈ, জওবার গ্রাম থেকে; তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মারওয়ান বিন মুয়াবিয়া আল-ফাযাযী, ওয়াইল বিন দাউদ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ আল-বাহি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন:

(রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খাদিজার কথা স্মরণ করতেন, তখন তাঁর প্রশংসা ও তাঁর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে তিনি ক্লান্তি বোধ করতেন না। একদিন তিনি তাঁর কথা স্মরণ করলেন, তখন আমার মধ্যে ঈর্ষা জেগে উঠল। আমি বললাম, আল্লাহ আপনাকে এক বৃদ্ধার পরিবর্তে উত্তম বিনিময় দান করেছেন। তিনি বলেন, তখন আমি দেখলাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনভাবে রাগান্বিত হলেন যে আমি লজ্জায় ও ভয়ে সংকুচিত হয়ে গেলাম। আমি মনে মনে বললাম, হে আল্লাহ, আপনি যদি আমার ওপর থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রাগ দূর করে দেন, তবে আমি যতদিন বেঁচে থাকব আর কখনো তাকে নেতিবাচকভাবে উল্লেখ করব না। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার অবস্থা দেখলেন, তিনি বললেন, "তুমি কী বললে? আল্লাহর শপথ, তিনি আমার প্রতি ঈমান এনেছিলেন যখন মানুষ আমাকে অস্বীকার করেছিল, তিনি আমাকে আশ্রয় দিয়েছিলেন যখন মানুষ আমাকে প্রত্যাখ্যান করেছিল, তিনি আমাকে সত্য বলে গ্রহণ করেছিলেন যখন মানুষ আমাকে মিথ্যাবাদী বলেছিল এবং তাঁর গর্ভ থেকেই আমাকে সন্তান দান করা হয়েছে যা থেকে তোমরা বঞ্চিত হয়েছ।") তিনি (আয়েশা) বলেন, এরপর এক মাস পর্যন্ত তিনি সকালে ও সন্ধ্যায় আমার কাছে তাঁর (খাদিজার) স্মৃতিচারণ করতে থাকলেন।

এটি উম্মুল মুমিনীন আয়েশা বিনতে আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত আবদুল্লাহ আল-বাহির হাদীসের একটি গারীব বর্ণনা। ওয়াইল বিন দাউদ আল-লাইসি আল-কুফি ব্যতীত আর কেউ এটি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন বলে জানা নেই। আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফী মানাকিবি উম্মাহাতিল মুমিনীন (পৃষ্ঠা: ٥٧)
‌‌الحَدِيث السَّابِع

 

أَخْبَرَنَا عَمِّي الْحَافِظُ أَنا أَبُو عبد الله الفراوي أَنا أَبُو الْحُسَيْن عبد الغفار بْنُ مُحَمَّدٍ الْفَارِسِيُّ أَنَا أَبُو أَحْمَدَ الْجَلُودِيُّ أَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سُفْيَانَ نَا مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ نَا سَهْلُ بْنُ عُثْمَانَ نَا حَفْصُ بْنُ غَيَّاثٍ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ

(مَا غِرْتُ عَلَى نِسَاءِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَّا على خَدِيجَة (18 ب) وَإِنِّي لَمْ أُدْرِكْهَا قَالَتْ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا ذَبَحَ الشَّاةَ فَيَقُولُ أَرْسِلُوا بِهَا إِلَى أَصْدِقَاءِ خَدِيجَةَ قَالَتْ فَأَغْضَبْتُهُ يَوْمًا فَقُلْتُ خَدِيجَةُ فَقَالَ إِنِّي رُزِقْتُ حُبَّهَا)

هَكَذَا رَوَاهُ مِسْلِمٌ فِي صَحِيحِهِ وَحَفْصٌ أَبُو عُمَرَ بْنُ غَيَّاثِ بْنِ طَلْقِ بْنِ مُعَاوِيَةَ بْنِ الْحَارِثِ كُوفِيٌّ قَاضِيهَا أَخْرَجَ الْبُخَارِيُّ حَدِيثَهُ فِي الصَّحِيحِ وَاللَّهُ أَعْلَمُ

هَذَا مَا وَقَعَ إِلَيَّ فِي فَضْلِهَا مُسْنَدًا وَقَدْ رَوَى ابْنُ رُزَيْنٍ فِي مَجْمُوعِ الصِّحَاحِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ

(كَمُلَ مِنَ الرِّجَالِ كَثِيرٌ وَلَمْ يَكْمُلْ مِنَ النِّسَاءِ إِلَّا أَرْبَعٌ مَرْيَمُ بِنْتُ عِمْرَانَ وَآسْيَةُ امْرَأَةُ فِرْعَوْنَ وَخَدِيجَةُ بِنْتُ خُوَيْلِدٍ وَفَاطِمَةُ بِنْتُ مُحَمَّدٍ وَفَضْلُ عَائِشَةَ عَلَى النِّسَاءِ كَفَضْلِ الثَّرِيدِ عَلَى سَائِرِ الطَّعَامِ)

وَلَا خَفَاءَ بِمُسَاعَدَتِهَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَتَثْبِيتِهَا لَهُ عِنْدَمَا بَدَأَ الْوَحْيُ إِلَيْهِ وَشَفَقَتِهَا عَلَيْهِ فَصَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَرَضِيَ عَنْهَا
সপ্তম হাদিস

 

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার চাচা আল-হাফিয, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-ফারাওয়ি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন আব্দুল গাফফার বিন মুহাম্মদ আল-ফারিসি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমদ আল-জালুদি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবরাহিম বিন সুফিয়ান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাহল বিন উসমান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাফস বিন গিয়াস, তিনি হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

(আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের মধ্যে খাদিজা (১৮ খ) ব্যতীত অন্য কারো প্রতি কখনো ঈর্ষা বোধ করিনি, অথচ আমি তাঁকে পাইনি। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই কোনো বকরি যবাই করতেন, তখন বলতেন: এটি খাদিজার বান্ধবীদের কাছে পাঠিয়ে দাও। তিনি বলেন: একদিন আমি তাঁকে রাগান্বিত করলাম এবং বললাম, খাদিজা! তখন তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আমাকে তাঁর ভালোবাসা রিযিক হিসেবে দান করা হয়েছে।)

এভাবেই ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। আর হাফস হলেন আবু উমর বিন গিয়াস বিন তালক বিন মুয়াবিয়া বিন আল-হারিস; তিনি কুফাবাসী ও সেখানকার বিচারক ছিলেন। ইমাম বুখারি তাঁর হাদিস সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

এটিই তাঁর (খাদিজার) মর্যাদা সম্পর্কে সূত্রসহ আমার নিকট পৌঁছেছে। আর ইবনে রুজাইন ‘মাজমুউস সিহাহ’ গ্রন্থে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন:

(পুরুষদের মধ্যে অনেকেই পূর্ণতা লাভ করেছেন, তবে নারীদের মধ্যে চারজন ব্যতীত কেউ পূর্ণতা লাভ করেনি: ইমরানের কন্যা মরিয়ম, ফেরাউনের স্ত্রী আছিয়া, খুয়াইলিদের কন্যা খাদিজা এবং মুহাম্মদের কন্যা ফাতিমা। আর সমস্ত খাদ্যের ওপর থারিদের শ্রেষ্ঠত্ব যেমন, সকল নারীর ওপর আয়েশার শ্রেষ্ঠত্ব তেমন।)

ওহী শুরু হওয়ার সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর সাহায্য করা ও তাঁকে সাহস জোগানোর ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা এবং তাঁর প্রতি তাঁর মমত্ববোধের বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্ট। সুতরাং আল্লাহর দরুদ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক এবং আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফী মানাকিবি উম্মাহাতিল মুমিনীন (পৃষ্ঠা: ٥٨)
‌‌ذِكْرُ مَا وَرَدَ فِي مَنَاقِبَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ عَائِشَةَ الصِّدِيقَةِ رضي الله عنها

 

هِيَ عَائِشَةُ أُمُّ عبد الله بِنْتُ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِيقِ كَنَّاهَا بِذَلِكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

‌‌الْحَدِيثُ الثَّامِنُ

 

أَخْبَرَنَا عمي الإِمَام الْحَافِظ أناأبو عبد الله الْفَرَاوِيُّ وَأَخْبَرَنَا أُسْتَاذِي الْإِمَامُ أَبُو الْمَعَالِي مَسْعُودٌ أَنَا أَبُو مُحَمَّدِ بن عبد الجبار قَالَا أَنَا أَبُو بَكْرِ أَحْمَدُ بن الْحُسَيْن البهيقي أَنا أَبُو عبد الله الْحَافِظُ وَأَبُو سَعِيدِ بْنُ أَبِي عَمْرٍو قَالَا نَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ نَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ نَا يُونُسُ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ

(أُرِيتُكِ فِي الْمَنَامِ مَرَّتَيْنِ أَرَى أَنَّ رَجُلًا يَحْمِلُكِ فِي سَرَقَةٍ حَرِيرٍ فَيَقُولُ هَذِهِ امْرَأَتُكَ فَأَكْشِفُ فَأَرَاكِ فَأَقُولُ إِنْ كَانَ هَذَا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ يُمْضِهِ)

اتَّفَقَ الْأَئِمَّةُ عَلَى صِحَّتِهِ فَرَوَاهُ أَبُو عبد الله مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل البُخَارِيّ (19 ب) فِي صَحِيحِهِ عَنْ مُعَلَّى عَنْ وَهِيبٍ بِمَعْنَاهُ وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ مِنْ حَدِيثِ هِشَامٍ أَيْضًا
উম্মুল মুমিনীন আয়িশা সিদ্দীকা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর মর্যাদা ও গুণাবলী সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার আলোচনা

 

তিনি হলেন আয়িশা উম্মু আব্দুল্লাহ, আবু বকর সিদ্দীকের কন্যা। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে এই উপনামে ভূষিত করেছেন।

‌অষ্টম হাদীস

 

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার চাচা ইমাম হাফিয, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-ফারাওয়ী। এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার উস্তাদ ইমাম আবুল মাআলি মাসউদ, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ ইবন আব্দুল জাব্বার। তাঁরা উভয়ে বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমাদ ইবনুল হুসাইন আল-বাইহাকী, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিয এবং আবু সাঈদ ইবন আবু আমর। তাঁরা উভয়ে বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবন ইয়াকুব, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ ইবন আব্দুল জাব্বার, তিনি ইউনুস থেকে, তিনি হিশাম ইবন উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

(তোমাকে স্বপ্নে দুবার আমাকে দেখানো হয়েছে। আমি দেখলাম জনৈক ব্যক্তি এক টুকরো রেশমি কাপড়ে তোমাকে বহন করে নিয়ে আসছে। এরপর সে বলল, 'ইনি আপনার স্ত্রী'। আমি যখন পর্দা উন্মোচন করলাম, তখন দেখলাম যে তা তুমি। তখন আমি বললাম, 'যদি এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে, তবে তিনি তা বাস্তবায়ন করবেন' ।)

ইমামগণ এর বিশুদ্ধতার ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছেন। আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন ইসমাইল আল-বুখারী (১৯ খ) তাঁর সহীহ গ্রন্থে মুআল্লা হতে, তিনি ওহীব হতে সমার্থবোধক বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম মুসলিমও হিশামের হাদীস হতে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফী মানাকিবি উম্মাহাতিল মুমিনীন (পৃষ্ঠা: ٥٩)
وَقَوْلُهُ سَرَقَةُ حَرِيرٍ بِفَتْحِ الرَّاءِ وَهِيَ الشُّقَّةُ وَيُمْضِهِ يُتْمِمْهُ وَاللَّهُ أَعْلَمُ وَمَنَامُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَنْزِلَةِ الْوَحْيِ

وَقَدْ رُوِيَ مُرْسَلًا وَأَتَمَّ مَتْنًا مِنْ هَذَا وَذَلِكَ فِيمَا

أَخْبَرَنَا عَمِّي الْإِمَامُ الْحَافِظُ رحمه الله قَالَ قَرَأت عَليّ بن أَبِي غَالِبِ بْنِ الْبَنَّا عَنْ أَبِي مُحَمَّدِ الْحَسَنُ الْجَوْهَرِيُّ أَنَا أَبُو عُمَرَ وَمُحَمَّدُ بْنُ الْعَبَّاسِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ زَكَرِيَا بْنِ حَيَوَيْهِ أَنَا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ مَعْرُوفِ بْنِ بِشْرٍ الْخَشَّابُ نَا الْحُسَيْنُ بْنُ الْفَهْمِ أَنَا أَبُو عبد الله مُحَمَّدُ بْنُ سَعْدٍ كَاتِبُ الْوَاقِدِيِّ أَنا مُحَمَّد بن عَمْرو ونا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ مَيْمُونٍ مَوْلَى عُرْوَةَ عَنْ حَبِيبٍ مَوْلَى عُرْوَةَ قَالَ

(لَمَّا مَاتَتْ خَدِيجَةُ حَزِنَ عَلَيْهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حُزْنًا شَدِيدًا فَبَعَثَ اللَّهُ جِبْرِيلَ فَأَتَاهُ بِعَائِشَةَ فِي مَهْدٍ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذِهِ تُذْهِبُ بِبَعْضِ حُزْنِكَ وَإِنَّ فِي هَذِه (20 أ) خَلَفًا مِنْ خَدِيجَةَ ثُمَّ رَدَّهَا فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَخْتَلِفُ إِلَى بَيْتِ أَبِي بَكْرٍ وَيَقُولُ يَا أُمَّ رُومَانَ اسْتَوْصِي بِعَائِشَةَ خَيْرًا وَاحْفَظِينِي فِيهَا فَكَانَ لِعَائِشَةَ بِذَلِكَ مَنْزِلَةٌ عِنْد أَهلهَا لَا يَشْعُرُونَ بِأَمْرِ اللَّهِ فِيهَا فَأَتَاهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا فِي بَعْضِ مَا كَانَ يَأْتِيهم وَكَانَ لايخطئه يَوْمٌ وَاحِدٌ أَنْ يَأْتِيَّ إِلَى بَيْتِ أَبِي بَكْرٍ مُنْذُ أَسْلَمَ إِلَى أَنْ هَاجَرَ فَيَجِدُ عَائِشَةَ مُتَسَتِّرَةً بِبَابِ دَارِ أَبِي بَكْرٍ تَبْكِي بُكَاءً حَزِينًا فَسَأَلَهَا فَشَكَتْ إِلَيْهِ أُمَّهَا وَذَكَرَتْ أَنَّهَا تُولَعُ بِهَا فَدَمِعَتْ عَيْنَا رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَدَخَلَ عَلَى أُمِّ رُومَانَ فَقَالَ يَا أُمَّ رُومَانَ أَلَمْ أُوصِيكِ بِعَائِشَةَ أَنْ تَحْفَظِينِي فِيهَا فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهَا بَلَّغَتِ الصِّدِيقَ عَنَّا فَأَغْضَبَتْهُ عَلَيْنَا فَقَالَ
এবং তাঁর কথা "সারাকাতু হারীর" (রেশমের টুকরো) এখানে ‘রা’ বর্ণে ফাতহা (যবর) হবে, যার অর্থ হলো রেশমের খণ্ড। আর "ইউমদিহি" মানে তিনি তা পূর্ণ করবেন। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্বপ্ন ওহীর সমতুল্য।

এটি মুরসাল হিসেবে বর্ণিত হয়েছে এবং এই পাঠের চেয়েও অধিক পূর্ণাঙ্গভাবে তা বর্ণিত হয়েছে যা আমাদের খবর দিয়েছেন আমার চাচা ইমাম হাফেজ (রহিমাহুল্লাহ)। তিনি বলেন: আমি আলী ইবনে আবি গালিব ইবনুল বান্নার কাছে পাঠ করেছি, তিনি আবু মুহাম্মদ আল-হাসান আল-জাওহারী থেকে, তিনি আবু উমর এবং মুহাম্মদ ইবনুল আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাকারিয়া ইবনে হাইওয়াইহ থেকে, তিনি আবু আল-হাসান আহমদ ইবনে মারুফ ইবনে বিশর আল-খাশ্শাব থেকে, তিনি হুসাইন ইবনুল ফাহম থেকে, তিনি আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে সাদ—যিনি ওয়াকিদীর লেখক ছিলেন—থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আমর থেকে এবং তিনি উরওয়ার মুক্তদাস আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে মায়মুন থেকে, তিনি উরওয়ার মুক্তদাস হাবিব থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন:

(যখন খাদিজা ইন্তেকাল করলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য অত্যন্ত শোকাতুর হলেন। তখন আল্লাহ জিবরাঈলকে পাঠালেন এবং তিনি একটি দোলনায় করে আয়েশাকে তাঁর কাছে নিয়ে আসলেন। তিনি বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! এই মেয়েটি আপনার শোকের কিছুটা লাঘব করবে এবং এর মধ্যে (২০ ক) খাদিজার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার উপাদান রয়েছে।’ এরপর তিনি তাকে ফিরিয়ে নিয়ে গেলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়মিত আবু বকরের ঘরে যাতায়াত করতেন এবং বলতেন, ‘হে উম্মে রুমান! আয়েশার সাথে উত্তম আচরণের উপদেশ গ্রহণ করো এবং আমার খাতিরে তাঁর প্রতি লক্ষ্য রেখো।’ ফলে আয়েশার মর্যাদা তাঁর পরিবারের কাছে অনেক বেড়ে গেল, যদিও তারা তাঁর ব্যাপারে আল্লাহর ফয়সালা সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছে আসলেন যেভাবে তিনি নিয়মিত আসতেন; ইসলাম গ্রহণের পর থেকে হিজরত করা পর্যন্ত এমন একটি দিনও অতিবাহিত হয়নি যেদিন তিনি আবু বকরের ঘরে আসতেন না। এমতাবস্থায় তিনি দেখলেন আয়েশা আবু বকরের ঘরের দরজার আড়ালে করুণভাবে কাঁদছেন। তিনি তাঁকে কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি তাঁর মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেন এবং উল্লেখ করলেন যে মা তাঁর সাথে অত্যন্ত কঠোরতা করছেন। এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দু’চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে গেল। তিনি উম্মে রুমানের কাছে প্রবেশ করলেন এবং বললেন, ‘হে উম্মে রুমান! আমি কি তোমাকে আয়েশার ব্যাপারে নসিহত করিনি যে আমার খাতিরে তাঁর প্রতি লক্ষ্য রাখবে?’ তিনি বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! সে সিদ্দীকের কাছে আমাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছে, ফলে তিনি আমাদের ওপর রাগান্বিত হয়েছেন।’ তখন তিনি বললেন: