(খণ্ড: ১) সালওয়াতুল কায়ীব বি-ওয়াফাতিল হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: -)
سلوة الكئيب بوفاة الحبيب صلى الله عليه وسلم   (ابن ناصر الدين الدمشقي)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: سلوة الكئيب بوفاة الحبيب صلى الله عليه وسلم

المؤلف: ابن ناصر الدين الدمشقي (ت 842 هـ)

تحقيق ودراسة: د صالح يوسف معتوق

(الأستاذ المساعد في علم الحديث، كلية الدراسات الإسلامية والعربية - دبي)

خرج أشعاره: أ د هاشم صالح مناع

(أستاذ الأدب العربي، كلية الدراسات الإسلامية والعربية - دبي)

الناشر: دار البحوث للدراسات الإسلامية وإحياء التراث - الإمارات

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 210

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

প্রিয়তমের (সা.) ওফাতে ব্যথিত হৃদয়ের সান্ত্বনা   (ইবনে নাসিরুদ্দিন আদ-দিমাশকি)

বিভাগ: সিরাতে নববী


কিতাব: প্রিয়তমের (সা.) ওফাতে ব্যথিত হৃদয়ের সান্ত্বনা

লেখক: ইবনে নাসিরুদ্দিন আদ-দিমাশকি (ওফাত ৮৪২ হিজরি)

সম্পাদনা ও গবেষণা: ড. সালেহ ইউসুফ মাতুক

(সহকারী অধ্যাপক, ইলমুল হাদিস বিভাগ, ইসলামিক অ্যান্ড অ্যারাবিক স্টাডিজ কলেজ - দুবাই)

কবিতার তখরিজ: প্রফেসর ড. হাশেম সালেহ মান্না

(আরবি সাহিত্যের অধ্যাপক, ইসলামিক অ্যান্ড অ্যারাবিক স্টাডিজ কলেজ - দুবাই)

প্রকাশক: দারুল বুহুস লিন-দিরাসাতিল ইসলামিয়া ওয়া ইহয়ায়িত তুরাস - আরব আমিরাত

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২১০

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) সালওয়াতুল কায়ীব বি-ওয়াফাতিল হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৮১)
‌‌(بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم)

 

‌‌(وَهُوَ تَعَالَى حسبي)

 

قَالَ الشَّيْخ الإِمَام الْعَالم الْكَبِير حَافظ الشَّام أَبُو بكر شمس الدّين مُحَمَّد بن أبي بكر عبد الله الشهير بِابْن نَاصِر الدّين الدِّمَشْقِي الشَّافِعِي، رَحمَه الله تَعَالَى:

‌‌(مُقَدّمَة الْمُؤلف)

 

الْحَمد لله الْحَيّ الْبَاقِي على الدَّوَام؛ الْمُنْفَرد بالعز والقهر والجلال وَالْإِكْرَام؛ الْحَاكِم بالحمام على الْخَاص ووالعام، فَلَا محيد لأحد عَنهُ وَلَو عمر ألف عَام، جعل الزَّرْع البشري بمنجل الْمَوْت حصيداً، وَفِي بيدر الأجداث بدياس البلى فقيداً، ويقسمه يَوْم يذرؤه
(পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে)

 

(এবং মহান আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট)

 

শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম, শামের হাফেজ আবু বকর শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর আব্দুল্লাহ, যিনি ইবনে নাসিরুদ্দিন আদ-দিমাশকি আশ-শাফেয়ি হিসেবে প্রসিদ্ধ, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি বলেছেন:

(লেখকের ভূমিকা)

 

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী; যিনি সম্মান, পরাক্রম, মহিমা ও মর্যাদায় অদ্বিতীয়; যিনি বিশেষ ও সাধারণ সকলের ওপর মৃত্যুর ফয়সালাকারী, ফলে তা থেকে কারোরই নিষ্কৃতি নেই, যদিও সে এক হাজার বছর আয়ু লাভ করে। তিনি মানব-ফসলকে মৃত্যুর কাস্তে দ্বারা কর্তিত করেছেন এবং কবরের খামারে জীর্ণতার মাড়াইকলে বিলীন করেছেন। আর যেদিন তিনি তাদের বিক্ষিপ্ত করবেন, সেদিন তাদের বিভক্ত করবেন...
(খণ্ড: ১) সালওয়াতুল কায়ীব বি-ওয়াফাতিল হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৮২)
خلقا جَدِيدا: فريقاً فِي الْجنَّة، وفريقاً فِي دَار الانتقام، فسبحانه من وَاحِد قهار جواد، وَارِث الْعباد والبلاد، باعث الرفات للمعاد، جَامع النَّاس ليَوْم تدحض فِيهِ الْأَقْدَام. نحمده على مَا سَاءَ وسر /، ونشكره على مَا حلا وَمر، ونؤمن بِمَا قدر من خير وَشر، ونسأله الرضى بِمَا قضى، وسطرته الأقلام. ونشهده أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ، ذُو الْقُدْرَة الباهرة، والسطوة الباطشة الْقَاهِرَة، المعيد خلقه بعد الفناء؛ فَإِذا هم بالساهرة فِي يَوْم لَا كالأيام، ونشهد أَن سيدنَا مُحَمَّدًا عَبده الْأمين، وَرَسُوله الْمَأْمُون، الَّذِي أنزل عَلَيْهِ فِي كِتَابه الْمكنون، مُخَاطبا لَهُ بقوله تَعَالَى: {إِنَّك ميت وَإِنَّهُم ميتون} . وَاخْتَارَ لَهُ على هَذِه الدُّنْيَا الدنية
নতুন সৃষ্টি হিসেবে: একদল জান্নাতে এবং একদল প্রতিশোধের আবাসে। অতএব মহিমা সেই একচ্ছত্র অধিপতি, মহা পরাক্রমশালী ও পরম দাতা সত্তার, যিনি বান্দাগণ ও জনপদসমূহের উত্তরাধিকারী, পুনরুত্থানের জন্য গলিত হাড়ের অবশিষ্টাংশকে পুনর্জীবিতকারী এবং মানুষের জমায়েতকারী এমন এক দিনে যাতে পদসমূহ পিছলে যাবে। আমরা তাঁর প্রশংসা করি যা কিছু অপ্রীতিকর ও আনন্দদায়ক তার ওপর /, এবং তাঁর শুকরিয়া আদায় করি মিষ্ট ও তিক্ততায়। তিনি কল্যাণ ও অকল্যাণের যা কিছু নির্ধারণ করেছেন আমরা তার ওপর ঈমান রাখি, এবং তিনি যে ফয়সালা করেছেন ও কলমসমূহ যা লিপিবদ্ধ করেছে, তার প্রতি আমরা তাঁর নিকট সন্তুষ্টি প্রার্থনা করি। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; তিনি বিস্ময়কর কুদরত এবং কঠোর ও পরাক্রমশালী পাকড়াওয়ের অধিকারী। তিনি তাঁর সৃষ্টিকে বিনাশের পর পুনরায় ফিরিয়ে আনবেন; অতঃপর তারা এক উন্মুক্ত প্রান্তরে উপস্থিত হবে এমন এক দিনে যা অন্য দিনগুলোর মতো নয়। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ তাঁর আমানতদার বান্দা এবং বিশ্বস্ত রাসূল, যার ওপর তিনি তাঁর সুরক্ষিত কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং তাঁকে সম্বোধন করে মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই আপনি মৃত্যুবরণ করবেন এবং তারাও মৃত্যুবরণ করবে}। এবং তিনি এই নগণ্য দুনিয়ার ওপর তাঁর জন্য মনোনীত করেছেন...
(খণ্ড: ১) সালওয়াতুল কায়ীব বি-ওয়াফাতিল হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৮৩)
الْوَسِيلَة فِي دَار السَّلَام، صلى الله أشرف الصَّلَوَات عَلَيْهِ، وسَاق من التَّحِيَّات أفضلهَا إِلَيْهِ، وأنزله الْمنزل المقرب لَدَيْهِ، وبلغه نِهَايَة المرام، وَأَعْلَى الْإِكْرَام، وَرَضي الله عَن آله الْأَشْرَاف / السَّادة، وَأَصْحَابه الْأَعْلَام القادة، وتابعيهم فِي الْهدى وَالْعِبَادَة، وَعَلَيْهِم من رَبنَا السَّلَام.
দারুস সালামে 'ওয়াসিলা' মর্যাদা; আল্লাহ তাঁর ওপর সর্বোত্তম দরূদ বর্ষণ করুন, এবং তাঁর প্রতি শ্রেষ্ঠতম অভিবাদনসমূহ প্রেরণ করুন, এবং তাঁকে তাঁর নিকটবর্তী মর্যাদাপূর্ণ স্থানে স্থান দান করুন, এবং তাঁকে আকাঙ্ক্ষার চূড়ান্ত লক্ষ্য ও সর্বোচ্চ সম্মানে পৌঁছে দিন। আল্লাহ তাঁর মর্যাদাবান বংশধর ও নেতৃবৃন্দের ওপর এবং তাঁর সুপ্রসিদ্ধ পথপ্রদর্শক সাহাবীবর্গের ওপর এবং হিদায়াত ও ইবাদতের পথে তাঁদের অনুসারীদের ওপর সন্তুষ্ট হোন; এবং আমাদের রবের পক্ষ থেকে তাঁদের সকলের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) সালওয়াতুল কায়ীব বি-ওয়াফাতিল হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৮৪)
‌‌(قصيدة فِي موت النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] )

شعر: [من السَّرِيع] :

(مَا الْأَمر فِي ذِي الدَّار إِلَّا مَنَام … كل سيدري حِين يَأْتِي الْحمام)

 

(يَقُول يَا لَيْت وأنى لَهُ … وَالْمَوْت قد أطلق فِيهِ السِّهَام /)

 

(يود لَو أمهله لَحْظَة … يَتُوب فِيهَا عَن ركُوب الْحَرَام)

 

(أَنى لَهُ التوب وَقد حشرجت … فِي الصَّدْر مِنْهُ النَّفس للاصطلام)

 

(يَا نائمين انتبهوا طالما … غر الأولى الماضين طول الْمقَام /)

 

(بَينا هم فِي غَفلَة إِذْ أَتَى … مَا كفهم عَن فعلهم وَالْكَلَام)

 

(وأسكنوا فِي حُفْرَة أذهبت … لحومهم لم تبْق غير الْعِظَام)

 

(بل أسحقت تِلْكَ الْعِظَام الَّتِي … وجوهها كَانَت تنير الظلام)

 

(يَا حسن مَا كُنَّا جَمِيعًا فمذ … ترحلوا عَنَّا أَقَامَ الغرام)

 

(وَكلما مر حَدِيث لَهُم … تضَاعف الشوق وَزَاد الهيام)
‌(নবীর [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] মৃত্যু বিষয়ক একটি কবিতা)

কবিতা: [সারী' ছন্দ থেকে]:

(এই ইহকালের বিষয়টি স্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই নয় … মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলে প্রত্যেকেই সত্যটি উপলব্ধি করবে)

 

(সে বলে, "হায় আফসোস!", কিন্তু তা আর কীভাবে সম্ভব … অথচ মৃত্যু ইতিপূর্বেই তার দিকে তীরের ঝাপটা ছুঁড়ে দিয়েছে /)

 

(সে আকাঙ্ক্ষা করে যদি তাকে একটি মুহূর্ত অবকাশ দেওয়া হতো … যাতে সে হারামে লিপ্ত হওয়া থেকে তওবা করতে পারত)

 

(তার জন্য আর তওবা কোথায় যখন বিনাশের সন্ধিক্ষণে … তার বক্ষপিঞ্জরে প্রাণবায়ু ঘড়ঘড় করছে)

 

(হে নিদ্রিতগণ! সজাগ হও, কারণ দীর্ঘ সময় … এ দীর্ঘ অবস্থান পূর্ববর্তীদের প্রতারিত করেছে /)

 

(তারা যখন অসতর্কতায় লিপ্ত ছিল, তখনই তা এসে পড়ল … যা তাদের কর্ম ও কথাবার্তা থেকে নিবৃত্ত করল)

 

(তাদেরকে এমন এক গর্তে শায়িত করা হয়েছে যা বিলীন করে দিয়েছে … তাদের মাংসসমূহ, আর হাড় ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট রাখেনি)

 

(বরং চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছে সেই সব হাড়কে … যাদের মুখমণ্ডল একসময় অন্ধকারকে আলোকিত করত)

 

(হায়! আমরা সবাই একত্রে কতই না সুখে ছিলাম, কিন্তু যখন থেকে … তারা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, হৃদয়ে গভীর শোক ও অনুরাগ বাসা বেঁধেছে)

 

(আর যখনই তাদের কোনো স্মৃতি আলোচিত হয় … তখনই ব্যাকুলতা দ্বিগুণ হয় এবং অনুরাগের আতিশয্য বেড়ে যায়)
(খণ্ড: ১) সালওয়াতুল কায়ীব বি-ওয়াফাতিল হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৮৫)
(لله هَذَا الْمَوْت لم يبْق ذَا … تقوى لتقواه وَلَا ذَا اجترام)

 

(وَلَو يحاشي أحدا فِي الورى … حاشى نَبِي الله ذَا الاحترام /)

 

(لكنه أنهله كأسه … وَهُوَ حبيب الله خير الْأَنَام)

 

(فماجت الأَرْض بِمن فَوْقهَا … لمَوْته وانهل صوب الْغَمَام)

 

(وكل عين أنزفت دمعها … وأهون الدمع عَلَيْهِ انسجام)

 

(وَأصْبح الْمَسْجِد من فَقده … يشكو كَذَاك الْبَيْت ثمَّ الْمقَام)

 

(بل كل أَرض عَمها فَقده … وَقد علاها بعد نور قتام)

 

(وَلم يجد خلق كأصحابه … إِذْ أودعوه تَحت تِلْكَ السَّلَام)
(আল্লাহর জন্যই এই মৃত্যু, যা কারো তাকওয়ার কারণে তাকে অবশিষ্ট রাখেনি … আর না কোনো অপরাধীকে)

 

(যদি সৃষ্টির কাউকেও অব্যাহতি দেওয়া হতো … তবে আল্লাহর সম্মানীত নবীকেই অব্যাহতি দেওয়া হতো /)

 

(কিন্তু মৃত্যু তাকে স্বীয় পেয়ালা পান করিয়েছে … অথচ তিনি আল্লাহর প্রিয় এবং সৃষ্টির সেরা মানব)

 

(তার মৃত্যুতে পৃথিবী তার অধিবাসীদের নিয়ে প্রকম্পিত হলো … আর মেঘমালা থেকে বৃষ্টি ঝরল)

 

(প্রতিটি চোখ তার অশ্রু বিসর্জন দিল … আর তার জন্য অঝোর ধারার অশ্রুই ছিল নগণ্যতম শোক)

 

(তার বিচ্ছেদে মসজিদ যেমন অভিযোগ করতে লাগল … অনুরূপভাবে বায়তুল্লাহ এবং মাকামও)

 

(বরং প্রতিটি ভূমিই তার বিচ্ছেদে আচ্ছন্ন হলো … এবং আলোর পর তার ওপর অন্ধকার ছেয়ে গেল)

 

(সৃষ্টির কেউ তার সাহাবীদের মতো ব্যথিত হয়নি … যখন তারা তাকে সেই পাথরের নিচে অর্পণ করেছিলেন)
(খণ্ড: ১) সালওয়াতুল কায়ীব বি-ওয়াফাতিল হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৮৬)
(وَانْصَرفُوا عَنهُ وكل لَهُ … حزن وهم لَا يُطيق الْكَلَام /)

 

(لله موت الْمُصْطَفى إِنَّه … رزء عَظِيم لَا يضاهي الْعِظَام)

 

(فموته الْخطب الْجَلِيل الَّذِي … هان بِهِ رزء الْجِيَاد الْكِرَام)

 

(لكنه حَيّ وَفِي رَوْضَة ال … وَسِيلَة الْعُظْمَى بِأَعْلَى مقَام)

 

(عَلَيْهِ صلى الله من فَضله … وسَاق تَسْلِيمًا إِلَيْهِ دوَام)

 

(ثمَّ على الْآل وَأَصْحَابه … وَالتَّابِعِينَ الأطيبين السَّلَام)

 

‌‌(الْإِشَارَة إِلَى دنو أَجله [صلى الله عليه وسلم] )

 

قَالَ الله تَعَالَى عز وجل مُخَاطبا لنَبيه الْكَرِيم عَلَيْهِ أفضل الصَّلَاة وَالتَّسْلِيم: بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم: {إِذا جَاءَ نصر الله وَالْفَتْح} إِلَى آخر السُّورَة.

المُرَاد بِالْفَتْح: فتح مَكَّة وَمَا داناها. وبالناس: فِيمَا قيل أهل الْيمن وَمَا والاها، لِأَنَّهُ لما / بَلغهُمْ هَذَا الْفَتْح الْمُبين قَالُوا: لَوْلَا أَن مُحَمَّدًا [صلى الله عليه وسلم] رَسُول من رب الْعَالمين، لصده عَن بَيته الْحَرَام، وَلم يبلغهُ من فَتحه المرام كَمَا فعل بتبع، وَأَصْحَاب
(তারা তাঁর নিকট থেকে ফিরে গেল এবং প্রত্যেকের জন্য রয়েছে … এমন শোক ও দুশ্চিন্তা যে কথা বলার শক্তি নেই /)

 

(আল্লাহর জন্যই মুস্তফার মৃত্যু; নিশ্চয়ই তা … এক মহান বিপদ যা অন্য কোনো বড় বিপদের সাথে তুলনা হয় না)

 

(তাঁর মৃত্যু এমন এক গুরুতর ঘটনা যার দ্বারা … শ্রেষ্ঠ সম্মানিতদের বিয়োগব্যথাও তুচ্ছ হয়ে পড়েছে)

 

(কিন্তু তিনি জীবিত এবং জান্নাতের বাগিচায় … ‘ওয়াসিলাতুল উজমা’র সর্বোচ্চ মাকামে রয়েছেন)

 

(আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে তাঁর উপর দরুদ বর্ষণ করুন … এবং তাঁর প্রতি নিরন্তর সালাম প্রেরণ করুন)

 

(অতঃপর তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণ এবং … পবিত্র তাবিঈগণের উপর শান্তি বর্ষিত হোক)

 

‌‌(তাঁর [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] ইন্তেকালের সময় ঘনিয়ে আসার ইঙ্গিত)

 

মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ তাআলা তাঁর সম্মানিত নবীকে (তাঁর প্রতি সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) সম্বোধন করে বলেছেন: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে: {যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে} - সূরার শেষ পর্যন্ত।

‘বিজয়’ বলতে মক্কা বিজয় ও তার নিকটবর্তী অঞ্চলসমূহকে বোঝানো হয়েছে। আর ‘মানুষ’ বলতে যা বলা হয়েছে তা হলো—ইয়ামেনের অধিবাসী এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষ; কারণ যখন তাদের কাছে এই সুস্পষ্ট বিজয়ের সংবাদ পৌঁছাল, তারা বলল: যদি মুহাম্মদ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বিশ্বজগতের প্রতিপালকের রসূল না হতেন, তবে আল্লাহ তাঁকে তাঁর পবিত্র ঘর থেকে নিবৃত্ত রাখতেন এবং তিনি তাঁর বিজয়ের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারতেন না, যেমনটি তুব্বা এবং হস্তীবাহিনীর অধিপতিদের সাথে করা হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) সালওয়াতুল কায়ীব বি-ওয়াফাতিল হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৮৭)
الْفِيل مِمَّن جعل كيدهم فِي تضليل؛ فَأَيْقنُوا حِينَئِذٍ برسالته احتجاجاً، ودخلوا طائعين فِي دين الله أَفْوَاجًا، وَأسْلمت الْقَبَائِل فُرَادَى وأزواجاً، وَلما شَاهد النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] ذَلِك وَرَآهُ علم أَن الْأَجَل قريب، فَاسْتَبْشَرَ بلقاء الله. وَهَذِه السُّورَة الشَّرِيفَة نزلت آخر السُّور الْعَظِيمَة، وفيهَا نعيت إِلَى / النَّبِي، [صلى الله عليه وسلم] ، نَفسه الْكَرِيمَة.

‌‌[كَثْرَة استغفاره [صلى الله عليه وسلم]]

 

خرج أَبُو الْقَاسِم الطَّبَرَانِيّ فِي مُعْجَمه الْأَوْسَط عَن ابْن عَبَّاس [رضي الله عنهما] فِي قَول الله عز وجل: {إِذا جَاءَ نصر الله / وَالْفَتْح} قَالَ: فتح مَكَّة، نعيت لرَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] نَفسه، فَاسْتَغْفر الله رَبك، وَاعْلَم أَنه قد حضر أَجلك.
হস্তিবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত যারা ছিল, আল্লাহ যাদের চক্রান্তকে ব্যর্থ করে দিয়েছিলেন; তারা তখন অকাট্য প্রমাণ হিসেবে তাঁর রিসালাতের সত্যতা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেছিল এবং আল্লাহর দ্বীনে আনুগত্যের সাথে দলে দলে প্রবেশ করেছিল। গোত্রসমূহ এককভাবে ও জোড়ায় জোড়ায় ইসলাম গ্রহণ করেছিল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন এটি প্রত্যক্ষ করলেন এবং দেখলেন, তখন তিনি বুঝতে পারলেন যে তাঁর অন্তিম সময় নিকটবর্তী। ফলে তিনি আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের সুসংবাদে আনন্দিত হলেন। এই বরকতময় সূরাটি মহান সূরাসমূহের মধ্যে সর্বশেষ নাযিল হয়েছিল এবং এর মাধ্যমে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর পবিত্র জীবনের সমাপ্তির সংবাদ প্রদান করা হয়েছিল।

‌‌[তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অধিক হারে ইস্তিগফার করার বর্ণনা]

 

আবুল কাসিম আত-তাবারানি তাঁর ‘আল-মুজামুল আওসাত’ গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার বাণী— {যখন আসবে আল্লাহর সাহায্য ও বিজয়} প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: এটি হচ্ছে মক্কা বিজয়। (এর মাধ্যমে) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট তাঁর ওফাতের সংবাদ দেওয়া হয়েছে। সুতরাং আপনি আপনার রব্ব আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং জেনে রাখুন যে আপনার বিদায়ের সময় উপস্থিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) সালওয়াতুল কায়ীব বি-ওয়াফাতিল হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৮৮)
وَهُوَ فِي الصَّحِيحَيْنِ عَن ابْن عَبَّاس بِمَعْنَاهُ. وَفِي الْبَاب أَحَادِيث سواهُ. فامتثل [صلى الله عليه وسلم] بِمَا أَمر بِهِ سَرِيعا. وسارع إِلَى مَا ندب إِلَيْهِ مُطيعًا.

روى الْحسن بن سُفْيَان من طَرِيق أبي مُجَاهِد عبد الله بن كيسَان الْمروزِي عَن عِكْرِمَة عَن ابْن عَبَّاس [رضي الله عنهما] قَالَ: " لما أقبل رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] من غَزْوَة حنين، وَأنزل الله عَلَيْهِ: {إِذا جَاءَ نصر الله} قَالَ: يَا عَليّ بن أبي طَالب، وَيَا فَاطِمَة: قد جَاءَ نصر الله وَالْفَتْح، وَرَأَيْت النَّاس يدْخلُونَ فِي دين الله أَفْوَاجًا، فسبحان رَبِّي وَبِحَمْدِهِ، وأستغفره إِنَّه كَانَ تَوَّابًا " أَكثر [صلى الله عليه وسلم] / على هَذَا الذّكر الْمُوَاظبَة، وَاسْتَعْملهُ بِهَذَا اللَّفْظ وَمَا قاربه.
এটি ইবনে আব্বাস থেকে একই অর্থে সহীহাইনে বর্ণিত হয়েছে। এবং এই বিষয়ে তিনি ছাড়াও আরও অনেক হাদীস রয়েছে। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা আদিষ্ট হয়েছিলেন তা দ্রুত পালন করলেন এবং যে বিষয়ের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছিল অনুগত হয়ে সেদিকে ধাবিত হলেন।

হাসান ইবনে সুফিয়ান, আবু মুজাহিদ আবদুল্লাহ ইবনে কায়সান আল-মারওয়াযী এর সূত্রে ইকরামা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: “যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হুনায়নের যুদ্ধ থেকে ফিরে আসলেন এবং আল্লাহ তাঁর ওপর নাযিল করলেন: {যখন আল্লাহর সাহায্য আসবে}, তখন তিনি বললেন: হে আলী ইবনে আবি তালিব এবং হে ফাতিমা! নিশ্চয়ই আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় এসে গেছে এবং আমি মানুষকে দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে দেখেছি। অতএব, আমার রবের পবিত্রতা বর্ণনা করছি তাঁর প্রশংসার সাথে এবং আমি তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি; নিশ্চয়ই তিনি তওবা কবুলকারী’।” তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই যিকিরের ওপর অধিক যত্নবান হলেন এবং এই শব্দে অথবা এর কাছাকাছি শব্দে এটি নিয়মিত পাঠ করতেন।
(খণ্ড: ১) সালওয়াতুল কায়ীব বি-ওয়াফাতিল হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৮৯)
قَالَت عَائِشَة [رضي الله عنها] مَا صلى النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] صَلَاة بعد أَن أنزلت عَلَيْهِ: {إِذا جَاءَ نصر الله وَالْفَتْح} إِلَّا يَقُول فِيهَا: " سُبْحَانَكَ رَبنَا وَبِحَمْدِك، اللَّهُمَّ اغْفِر لي ". وَصَحَّ عَنْهَا أَيْضا أَنَّهَا قَالَت: كَانَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] يكثر من قَول: " سُبْحَانَ الله وَبِحَمْدِهِ، أسْتَغْفر الله وَأَتُوب إِلَيْهِ " فَقلت: يَا رَسُول الله، أَرَاك تكْثر من قَول سُبْحَانَ الله وَبِحَمْدِهِ وَأَسْتَغْفِر الله وَأَتُوب إِلَيْهِ. فَقَالَ: " خبرني رَبِّي [عز وجل] أَنِّي سأرى عَلامَة فِي أمتِي، فَإِذا رَأَيْتهَا أكثرت من قَول: سُبْحَانَ / الله وَبِحَمْدِهِ، أسْتَغْفر الله وَأَتُوب إِلَيْهِ، فقد رَأَيْتهَا: {إِذا جَاءَ نصر الله وَالْفَتْح} فتح مَكَّة {وَرَأَيْت النَّاس يدْخلُونَ فِي دين الله أَفْوَاجًا} إِلَى آخر السُّورَة.
আয়েশা [রাদিয়াল্লাহু আনহা] বলেন, নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] তাঁর ওপর {যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে} নাযিল হওয়ার পর এমন কোনো সালাত আদায় করেননি যাতে তিনি এটি বলেননি: "হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি পবিত্র এবং আপনারই সকল প্রশংসা। হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন।" তাঁর থেকে এটিও বিশুদ্ধভাবে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] অধিক পরিমাণে বলতেন: "আল্লাহর পবিত্রতা ও তাঁর প্রশংসা বর্ণনা করছি, আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকট তওবা করছি।" আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনাকে "আল্লাহর পবিত্রতা ও তাঁর প্রশংসা বর্ণনা করছি, আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকট তওবা করছি" অধিক পরিমাণে বলতে দেখছি। তখন তিনি বললেন: "আমার প্রতিপালক [আযযা ওয়া জাল্লা] আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, অচিরেই আমি আমার উম্মতের মধ্যে একটি নিদর্শন দেখতে পাব। সুতরাং যখন আমি তা দেখতে পেলাম, তখন থেকে অধিক পরিমাণে বলতে শুরু করলাম: আল্লাহর পবিত্রতা ও তাঁর প্রশংসা বর্ণনা করছি, আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকট তওবা করছি। আর আমি তা প্রত্যক্ষ করেছি: {যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে} মক্কা বিজয় {এবং আপনি মানুষকে দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে দেখবেন} সূরার শেষ পর্যন্ত।"
(খণ্ড: ১) সালওয়াতুল কায়ীব বি-ওয়াফাতিল হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৯০)
ويروى عَن أم سَلمَة رضي الله عنها قَالَت: " وَكَانَ النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] فِي آخر عمره لَا يقوم وَلَا يقْعد / وَلَا يذهب وَلَا يَجِيء إِلَّا قَالَ: " سُبْحَانَ الله وَبِحَمْدِهِ " فَذكرت ذَلِك لَهُ فَقَالَ: " إِنِّي أمرت بذلك " وتلا هَذِه السُّورَة ".

بعْدهَا عَاشَ النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] سنتَيْن فِيمَا شاع.

‌‌[تَارِيخ نزُول سُورَة النَّصْر]

 

وَقيل: نزلت فِي أَوسط أَيَّام التَّشْرِيق من حجَّة الْوَدَاع.
উম্মে সালামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তাঁর জীবনের শেষ ভাগে দাঁড়ানো, বসা, যাওয়া কিংবা আসার প্রতিটি ক্ষেত্রেই 'সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি' পাঠ করতেন। আমি তাঁর কাছে এ কথা উল্লেখ করলে তিনি বললেন: 'আমাকে এরই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে' এবং তিনি এই সূরাটি পাঠ করলেন।"

এর পরে নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী দুই বছর জীবিত ছিলেন।

‌‌[সূরা আন-নাসর অবতীর্ণ হওয়ার ইতিহাস]

 

আবার বলা হয়েছে: এটি বিদায় হজ্জের আইয়ামে তাশরীকের মধ্যবর্তী দিনগুলোতে অবতীর্ণ হয়েছে।
(খণ্ড: ১) সালওয়াতুল কায়ীব বি-ওয়াফাতিল হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৯১)
وَذكر مقَاتل فِي تَفْسِير سُورَة النَّصْر جزما أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ عَاشَ بعْدهَا ثَمَانِينَ يَوْمًا.

وَالْمَشْهُور فِي هَذِه الْمدَّة يَقِينا أَنَّهَا بعد قَوْله تَعَالَى: {الْيَوْم أكملت لكم دينكُمْ وَأَتْمَمْت عَلَيْكُم نعمتي ورضيت لكم الْإِسْلَام دينا} .

حدث هَارُون ابْن أبي وَكِيع عنترة بن عبد الرَّحْمَن الشَّيْبَانِيّ الْكُوفِي عَن أَبِيه عَن عمر [رَضِي
الله عَنهُ] قَالَ: لما نزلت: {الْيَوْم أكملت لكم دينكُمْ وَأَتْمَمْت عَلَيْكُم نعمتي ورضيت لكم الْإِسْلَام دينا} بَكَى عمر [رضي الله عنه] ، وَقَالَ: يَا رَسُول الله، كُنَّا فِي
মুকাতিল সূরা আন-নাসরের তাফসীরে সুনিশ্চিতভাবে উল্লেখ করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর পরে আশি দিন জীবিত ছিলেন।

আর এই সময়ের ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে প্রসিদ্ধ হলো যে, তা মহান আল্লাহর এই বাণীর পরের কথা: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম, তোমাদের ওপর আমার নেয়ামতকে সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।"

হারুন ইবনে আবি ওয়াকি বর্ণনা করেছেন আনতারা ইবনে আবদুর রহমান আশ-শাইবানী আল-কুফি থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি উমর [রাদিয়াল্লাহু
আনহু] থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন এই আয়াত অবতীর্ণ হলো: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম, তোমাদের ওপর আমার নেয়ামতকে সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম", তখন উমর [রাদিয়াল্লাহু আনহু] কেঁদে ফেললেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা ছিলাম
(খণ্ড: ১) সালওয়াতুল কায়ীব বি-ওয়াফাতিল হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৯২)
/ زِيَادَة من ديننَا، فَلَمَّا أَن أكمل فَلَيْسَ بعد الْإِكْمَال إِلَّا النُّقْصَان. قَالَ: " صدقت ".

‌‌[فراسة عمر رضي الله عنه]

 

نظر [عمر رضي الله عنه] إِلَى سنة الله فِي عباده من نقص الشَّيْء بعد كَمَال ازدياده، وَعلم أَن نُقْصَان الدّين / موت خَاتم النَّبِيين صلى الله [عَلَيْهِ و] عَلَيْهِم أَجْمَعِينَ، فَبكى لذَلِك وازداد نحيباً، وَوَقع مَا علمه عمر قَرِيبا، لكنه خَفِي عَلَيْهِ لما وَقع بعد أَيَّام، لينفرد الصّديق بالتصديق قَائِما ذَلِك الْمقَام.

‌‌[مرض النَّبِي [صلى الله عليه وسلم]]

 

وَبعد نزُول آيَة الْإِكْمَال المتينة، رَجَعَ النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] من حجَّته إِلَى الْمَدِينَة، فَوجدَ يَوْم قدم صداعاً فِي رَأسه، وَفِي بدنه
...আমাদের দ্বীনের প্রবৃদ্ধি, আর যখন তা পূর্ণতা পেল, তখন পূর্ণতার পর অপূর্ণতা ব্যতীত আর কিছুই নেই।" তিনি বললেন: "তুমি সত্য বলেছ।"

‌‌[উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর প্রজ্ঞা]

 

[উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু] তাঁর বান্দাদের ব্যাপারে আল্লাহর সেই রীতির প্রতি লক্ষ্য করলেন যে, কোনো বিষয়ের পূর্ণতা লাভের পর তাতে ঘাটতি দেখা দেয়। তিনি বুঝতে পারলেন যে, দ্বীনের এই ঘাটতি বা সমাপ্তি হলো সর্বশেষ নবী—তাঁর এবং তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—এর ইন্তেকাল। তাই তিনি কেঁদে উঠলেন এবং তাঁর কান্নার আওয়াজ তীব্র হলো। উমর যা অনুধাবন করেছিলেন তা শীঘ্রই ঘটে গেল, কিন্তু কয়েকদিন পর যখন তা ঘটল, তখন বিষয়টি তাঁর কাছে অস্পষ্ট রয়ে গেল, যাতে সিদ্দীক (আবু বকর) সেই বিশেষ মুহূর্তে একনিষ্ঠ সত্যায়নকারীরূপে এককভাবে সেই মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হতে পারেন।

‌‌[নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অসুস্থতা]

 

দ্বীন পূর্ণতার সেই সুদৃঢ় আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হজ সম্পন্ন করে মদিনায় প্রত্যাবর্তন করলেন। পৌঁছানোর দিন তিনি তাঁর মাথায় প্রচণ্ড ব্যথা এবং শরীরে অসুস্থতা অনুভব করলেন।
(খণ্ড: ১) সালওয়াতুল কায়ীব বি-ওয়াফাতিল হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৯৩)
فَتْرَة. وَكَانَ كالمتحلل من آثَار السفرة، ثمَّ عوفي وَمرض فِي صفر سنة إِحْدَى عشرَة.

 

روى أَبُو مُحَمَّد الْمُعْتَمِر بن سُلَيْمَان بن طرخان التَّيْمِيّ الْبَصْرِيّ عَن أَبِيه قَالَ: إِن النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] مرض لاثْنَتَيْنِ وَعشْرين لَيْلَة من صفر، وَبَدَأَ وَجَعه عِنْد وليدة لَهُ يُقَال لَهَا: رَيْحَانَة، / - كَانَت من سبي الْيَهُود - وَكَانَ أول يَوْم مَرضه يَوْم السبت، فِي لَيْلَة هَذَا السبت الْمَذْكُور خرج النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] إِلَى البقيع، فَاسْتَغْفر لأهل الْقُبُور.

‌‌[زيارته مَقْبرَة البقيع]

 

وروى سيف بن عمر فِي الْفتُوح عَن مُبشر بن الْفضل
বিরতি। তিনি যেন সফরের ক্লান্তি থেকে মুক্ত হচ্ছিলেন, অতঃপর তিনি আরোগ্য লাভ করেন এবং এগারো হিজরি সনের সফর মাসে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

 

আবু মুহাম্মদ আল-মু'তামির ইবনে সুলাইমান ইবনে তারখান আত-তাইমি আল-বাসরি তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] সফর মাসের বাইশ তারিখে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার ব্যথার সূচনা হয়েছিল তার এক দাসীর নিকট যাকে রায়হানা বলা হতো—তিনি ইয়াহুদি বন্দীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—এবং তার অসুস্থতার প্রথম দিন ছিল শনিবার। এই উল্লিখিত শনিবারের রাতে নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বাকিতে বের হন এবং কবরবাসীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

‌‌[বাকি কবরস্থান জিয়ারত]

 

এবং সাইফ ইবনে উমর 'আল-ফুতুহ' গ্রন্থে মুবাশশির ইবনুল ফাদল থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) সালওয়াতুল কায়ীব বি-ওয়াফাতিল হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৯৪)
وَابْن اسحاق عَن عبد الله بن عمر العبلي - وَاللَّفْظ لَهُ - جَمِيعًا عَن عبيد بن جُبَير عَن عبد الله بن عَمْرو بن الْعَاصِ [رضي الله عنهما] عَن أبي مويهبة مولى رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] قَالَ: بَعَثَنِي رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] من جَوف اللَّيْل، فَقَالَ: " يَا أَبَا مويهبة إِنِّي أمرت أَن أسْتَغْفر لأهل البقيع، فَانْطَلق معي ". قَالَ: فَانْطَلَقت مَعَه،، قَالَ: فَلَمَّا وقف بَين أظهرهم، قَالَ: " السَّلَام عَلَيْكُم يَا أهل الْمَقَابِر، لِيهن لكم مَا أَصْبَحْتُم مِمَّا أصبح فِيهِ النَّاس، لَو تعلمُونَ مَا نجاكم الله مِنْهُ، أَقبلت الْفِتَن كَقطع اللَّيْل المظلم يتبع أخراها / أولاها. الْآخِرَة شَرّ من الأولى ". ثمَّ أقبل عَليّ فَقَالَ: يَا أَبَا مويهبة / هَل علمت أَنِّي قد أُوتيت مَفَاتِيح خَزَائِن الدُّنْيَا والخلد فِيهَا ثمَّ الْجنَّة؟ خيرت بَين ذَلِك وَبَين لِقَاء رَبِّي وَالْجنَّة ". قَالَ: قلت: بِأبي أَنْت وَأمي فَخذ مَفَاتِيح خَزَائِن الدُّنْيَا والخلد فِيهَا ثمَّ الْجنَّة. قَالَ: " لَا وَالله يَا أَبَا مويهبة، لقد اخْتَرْت لِقَاء رَبِّي وَالْجنَّة ". قَالَ: ثمَّ اسْتغْفر لأهل البقيع، ثمَّ انْصَرف؛ فَبَدَأَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] فِي وَجَعه الَّذِي قَبضه الله فِيهِ حِين

এবং ইবনে ইসহাক, আবদুল্লাহ বিন উমর আল-উবলি থেকে—আর শব্দাবলী তাঁরই—সকলেই উবাইদ বিন জুবায়ের থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আল-আস [রাযিয়াল্লাহু আনহুমা] থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর মুক্তদাস আবু মুওয়াইহিবা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] আমাকে গভীর রাতে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন: "হে আবু মুওয়াইহিবা! আমাকে বাকী কবরবাসীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার আদেশ দেওয়া হয়েছে, সুতরাং তুমি আমার সাথে চলো।" তিনি বলেন: আমি তাঁর সাথে চললাম। যখন তিনি তাদের মাঝে দাঁড়ালেন, তখন বললেন: "হে কবরবাসী! তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। মানুষ বর্তমানে যে অবস্থার সম্মুখীন, তার তুলনায় তোমরা যে অবস্থায় আছ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর হোক। আল্লাহ তোমাদের যে ফিতনা থেকে মুক্তি দিয়েছেন, তা যদি তোমরা জানতে! ফিতনাগুলো অন্ধকার রাতের ঘন অন্ধকারের মতো ধেয়ে আসছে, যার একটির পেছনে আরেকটি আসছে। পরের ফিতনাগুলো আগেরগুলোর চেয়ে ভয়াবহ।" অতঃপর তিনি আমার দিকে ফিরে বললেন: "হে আবু মুওয়াইহিবা! আমাকে পৃথিবীর ধন-ভাণ্ডারের চাবিকাঠি এবং এখানে চিরকাল থাকা ও পরবর্তীতে জান্নাত লাভের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। আমাকে এগুলোর মধ্যে এবং আমার রবের সাথে সাক্ষাৎ ও জান্নাতের মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার ইখতিয়ার দেওয়া হয়েছে।" তিনি (আবু মুওয়াইহিবা) বলেন: আমি বললাম: আমার বাবা-মা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক! আপনি পৃথিবীর ধন-ভাণ্ডারের চাবিকাঠি এবং এখানে চিরকাল থাকা ও পরবর্তীতে জান্নাতই গ্রহণ করুন। তিনি বললেন: "না আল্লাহর কসম হে আবু মুওয়াইহিবা! আমি আমার রবের সাথে সাক্ষাৎ এবং জান্নাতকেই বেছে নিয়েছি।" তিনি বলেন: এরপর তিনি বাকী কবরবাসীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলেন এবং ফিরে আসলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর সেই অসুস্থতা শুরু হলো যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর প্রাণ কবজ করেন সেই সময়...

(খণ্ড: ১) সালওয়াতুল কায়ীব বি-ওয়াফাতিল হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৯৫)
أصبح. خرجه الإمامان أَحْمد والدارمي فِي مسنديهما لِابْنِ إِسْحَاق.

‌‌[وجع النَّبِي [صلى الله عليه وسلم]]

 

وَحدث ابْن إِسْحَاق عَن الزُّهْرِيّ وَيزِيد بن رُومَان وَأبي بكر بن عبد الله: " أَن الَّذِي كَانَ، ابتدئ بِهِ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من وَجَعه الَّذِي لزمَه أَن دخل على عَائِشَة [رضي الله عنها] ، وَهُوَ يجد صداعاً، فَوَجَدَهَا تصدع / وَتقول: وَا رأساه، فَقَالَ [صلى الله عليه وسلم] : " بل أَنا وَالله يَا عَائِشَة وَا رأساه " قَالَت:
সকাল হলো। ইমাম আহমদ এবং দারেমী তাঁদের মুসনাদদ্বয়ে ইবনে ইসহাকের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

‌‌[নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অসুস্থতা]

 

ইবনে ইসহাক যুহরী, ইয়াযীদ ইবনে রুমান এবং আবু বকর ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যে অসুস্থতা তাঁর সাথে স্থায়ী হয়েছিল তার সূচনা হয়েছিল এভাবে যে, তিনি আয়েশা [রাদিয়াল্লাহু আনহা]-এর নিকট প্রবেশ করলেন এমতাবস্থায় যে তিনি মাথাব্যথা অনুভব করছিলেন। তিনি তাকেও মাথাব্যথায় আক্রান্ত পেলেন / এবং তিনি বলছিলেন: 'হায়, আমার মাথা!' তখন তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন: 'বরং হে আয়েশা, আল্লাহর কসম, আমারই মাথা (ব্যথা করছে)!' তিনি বললেন:
(খণ্ড: ১) সালওয়াতুল কায়ীব বি-ওয়াফাতিল হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৯৬)
فوَاللَّه لطار عني مَا أجد، وكدت أَن أستطار، فسكنني بالمزاح على تجشم مِنْهُ، فَقَالَ: " وَمَا ضرك يَا عَائِشَة لَو مت قبلي فأقوم عَلَيْك وأليك، وأصلي عَلَيْك؟ ! قَالَت: فتفاءلت لَهُ: فَمَا نجاني مِمَّا خشيت الحذر، وَقلت: أجل وَالله لكَأَنِّي بك قد فعلت وَقد أعرست بِبَعْض نِسَائِك فِي بَيْتِي من آخر ذَلِك الْيَوْم. فَتَبَسَّمَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] ثمَّ تَمَادى بِهِ وَجَعه، وَهُوَ فِي ذَلِك يدورعلى نِسَائِهِ حَتَّى اسْتعزَّ برَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] ، وَهُوَ فِي بَيت مَيْمُونَة [رضي الله عنها] قَالَت: فَلَمَّا رَأَوْا مَا بِهِ اجْتمع رَأْي من فِي الْبَيْت على أَن يلدوه وتخوفوا / أَن يكون بِهِ ذَات الْجنب، فَفَعَلُوا، ثمَّ فرج عَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] ،
আল্লাহর কসম, আমার কষ্টগুলো যেন উবে গেল এবং আমি প্রায় উম্মাদ বা আত্মহারা হয়ে যাচ্ছিলাম। অতঃপর তিনি কষ্ট সত্ত্বেও আমার সাথে কৌতুক করে আমাকে শান্ত করলেন। তিনি বললেন: "হে আয়েশা, তুমি যদি আমার আগে মারা যাও, তবে তাতে তোমার ক্ষতি কী? আমি নিজেই তোমার যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করতাম, তোমার কাফন-দাফনের ব্যবস্থা করতাম এবং তোমার জানাজার নামাজ পড়তাম!" আয়েশা (রা.) বলেন: তখন আমি তার সেই কথার ওপর নিজের মৃত্যু কল্পনা করলাম; আর আমি যা আশঙ্কা করছিলাম তা থেকে সতর্কতা আমাকে রক্ষা করতে পারল না। আমি বললাম: হ্যাঁ, আল্লাহর কসম, মনে হচ্ছে আপনি সত্যিই তা করতেন এবং সেই দিনের শেষ ভাগে আপনি আমার ঘরে আপনার অন্য কোনো স্ত্রীর সাথে বাসর উদযাপন করতেন। তখন আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] মুচকি হাসলেন। এরপর তার ব্যথা ক্রমাগত বাড়তে থাকল। এমতাবস্থায় তিনি তার স্ত্রীদের ঘরে যাতায়াত করছিলেন, অবশেষে আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর অসুস্থতা অত্যন্ত প্রবল হয়ে উঠল, তখন তিনি মাইমুনা [রাদিয়াল্লাহু আনহা]-এর ঘরে ছিলেন। আয়েশা (রা.) বলেন: যখন উপস্থিত লোকজন তার অবস্থা দেখলেন, তখন ঘরে উপস্থিত সকলে একমত হলেন যে তারা তার মুখের এক পাশ দিয়ে ওষুধ প্রবেশ করিয়ে দেবেন (লুদুদ করবেন)। তারা আশঙ্কা করছিলেন যে তার ‘জাতুল জাম্ব’ (পার্শ্বশূল বা ফুসফুসের রোগ) হয়েছে। ফলে তারা তা করলেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] কিছুটা সুস্থতা বোধ করলেন।
(খণ্ড: ১) সালওয়াতুল কায়ীব বি-ওয়াফাতিল হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৯৭)
وَقد لدوه، فَقَالَ من فعل / هَذَا فهبنه واعتللن بِالْعَبَّاسِ [رضي الله عنه] ، فَاتخذ جَمِيع من فِي الْبَيْت الْعَبَّاس سَببا، وَلم يكن لَهُ فِي ذَلِك رَأْي. فَقَالُوا: يَا رَسُول الله، عمك الْعَبَّاس أَمر بذلك، وتخوفنا أَن تكون بك ذَات الْجنب. فَقَالَ: " أَنَّهَا من الشَّيْطَان. وَلم يكن الله [عز وجل] ليسلطه عَليّ، وَلَا ليرميني بهَا، وَلَكِن هَذَا عمل النِّسَاء، لَا يبْقى فِي الْبَيْت أحد إِلَّا لد إِلَّا عمي الْعَبَّاس، فَإِن يَمِيني لَا تناله "، فلدوا كلهم، ولدت مَيْمُونَة، وَكَانَت صَائِمَة لقَوْل رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] .

ثمَّ خرج رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] إِلَى بَيت عَائِشَة - وَكَانَ يَوْمهَا - بَين الْعَبَّاس وَعلي وَالْفضل مُمْسك بظهره، وَرجلَاهُ تخطان فِي الأَرْض حَتَّى دخل على عَائِشَة فَلم يزل عِنْدهَا مَغْلُوبًا لَا يقدر على الْخُرُوج، وَغير مغلوب وَهُوَ يقدر على الْخُرُوج / من بَيتهَا إِلَى غَيره ". غَلَبَة النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] فِي شكواه كَانَت من شدَّة حماه.
অতঃপর তারা তাকে ওষুধ সেবন করাল। তিনি বললেন, "কে এটি করেছে?" তারা তাকে ভয় পেল এবং আব্বাসের [আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন] ওপর দায় চাপাল। ঘরের সকলে আব্বাসকে উছিলা হিসেবে গ্রহণ করল, অথচ এ বিষয়ে তার কোনো মতামত ছিল না। তারা বলল: "হে আল্লাহর রাসুল, আপনার চাচা আব্বাস এর নির্দেশ দিয়েছেন এবং আমরা আশঙ্কা করছিলাম যে আপনার 'জাতুল জানব' (পার্শ্বশূল) হয়েছে।" তিনি বললেন: "এটি শয়তানের পক্ষ থেকে। আল্লাহ [মহা মহিমান্বিত] তাকে আমার ওপর আধিপত্য দান করার নন এবং আমাকে তা দ্বারা আক্রান্ত করারও নন। বরং এটি নারীদের কাজ। ঘরের এমন কেউ বাকি থাকবে না যাকে ওষুধ সেবন করানো হবে না, কেবল আমার চাচা আব্বাস ব্যতীত; কারণ আমার শপথ তাকে স্পর্শ করবে না।" অতঃপর তাদের সকলকেই ওষুধ সেবন করানো হলো। এমনকি মায়মুনাকেও ওষুধ সেবন করানো হলো অথচ তিনি রোজা রাখা অবস্থায় ছিলেন; আল্লাহর রাসুলের [আল্লাহর সালাত ও সালাম তার ওপর বর্ষিত হোক] নির্দেশের কারণে এমনটি করা হয়েছিল।

অতঃপর আল্লাহর রাসুল [আল্লাহর সালাত ও সালাম তার ওপর বর্ষিত হোক] আয়েশার ঘরের দিকে বের হলেন—সেদিন তার পালা ছিল—তিনি আব্বাস ও আলীর মাঝখানে ছিলেন এবং ফজল তার পিঠ ধরে রেখেছিলেন, আর তার পা দুটি মাটির ওপর হেঁচড়ে যাচ্ছিল। অবশেষে তিনি আয়েশার নিকট প্রবেশ করলেন। এরপর তিনি তার নিকট কখনো অসুস্থতায় এমনভাবে কাতর হয়ে থাকতেন যে বের হতে পারতেন না, আবার কখনো কাতর হতেন না এবং তার ঘর থেকে অন্য কোথাও বের হওয়ার সামর্থ্য রাখতেন। অসুস্থতার সময় নবীর [আল্লাহর সালাত ও সালাম তার ওপর বর্ষিত হোক] এই কাতরতা ছিল তার জ্বরের তীব্রতার কারণে।
(খণ্ড: ১) সালওয়াতুল কায়ীব বি-ওয়াফাতিল হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৯৮)
‌‌[شدَّة الْحمى الَّتِي نزلت بِالنَّبِيِّ [صلى الله عليه وسلم]]

 

خرج الإِمَام أَحْمد فِي الْمسند، وَكتاب الزّهْد، وَابْن سعد فِي الطَّبَقَات، وَابْن أبي الدُّنْيَا فِي كتاب الْمَرَض وَالْكَفَّارَات، وَالْحَاكِم فِي مُسْتَدْركه، وَصَححهُ، وَاللَّفْظ لِأَحْمَد من حَدِيث أبي سعيد الْخُدْرِيّ [رضي الله عنه] قَالَ: وضع رجل يَده على النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] فَقَالَ: وَالله مَا أُطِيق أَن أَضَع يَدي عَلَيْك من شدَّة حماك فَقَالَ النَّبِي صلى الله / عَلَيْهِ وَسلم: إِنَّا معشر الْأَنْبِيَاء يُضَاعف لنا الْبلَاء كَمَا يُضَاعف لنا الْأجر. إِن كَانَ
[নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর আপতিত প্রবল জ্বরের বর্ণনা]

 

ইমাম আহমাদ মুসনাদ ও কিতাবুয যুহদ গ্রন্থে, ইবনে সাদ তাবাকাত গ্রন্থে, ইবনে আবিদ দুনিয়া কিতাবুল মারায ওয়াল কাফফারাত গ্রন্থে এবং হাকেম তাঁর মুস্তাদরাক গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন ও একে সহীহ বলেছেন; আর এই শব্দগুলো আহমাদের বর্ণনার, যা আবু সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর তাঁর হাত রাখলেন এবং বললেন: আল্লাহর শপথ, আপনার জ্বরের তীব্রতার কারণে আপনার ওপর আমার হাত রাখার সামর্থ্য আমার নেই। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: আমরা নবী সমাজ, আমাদের জন্য পরীক্ষাকে দ্বিগুণ করা হয় যেমন আমাদের জন্য প্রতিদানকেও দ্বিগুণ করা হয়। নিশ্চয়ই...
(খণ্ড: ১) সালওয়াতুল কায়ীব বি-ওয়াফাতিল হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৯৯)
النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] من الْأَنْبِيَاء [عَلَيْهِم الصَّلَاة وَالسَّلَام] ليبتلى بالقمل حَتَّى يقْتله، وَإِن النَّبِي [[صلى الله عليه وسلم]] من الْأَنْبِيَاء [عَلَيْهِم الصَّلَاة وَالسَّلَام] ليبتلى بالفقر حَتَّى يَأْخُذ العباءة فيجوبها، وَإِن كَانُوا ليفرحون بالبلاء كَمَا يفرحون بالرخاء " وَله شَاهد من حَدِيث عمر بن الْخطاب، وَابْن مَسْعُود، وَأبي
নবীগণের [তাঁদের ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক] মধ্য হতে জনৈক নবী [তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক]-কে উকুন দ্বারা পরীক্ষায় ফেলা হতো এমনকি তা তাঁকে মেরে ফেলত। আর নবীগণের [তাঁদের ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক] মধ্য হতে জনৈক নবী [[তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক]] দারিদ্র্য দ্বারা এমনভাবে পরীক্ষিত হতেন যে তিনি একটি পশমি চাদর গ্রহণ করতেন এবং তা ছিদ্র করে পরিধান করতেন। আর তাঁরা বিপদে ঠিক তেমনি আনন্দিত হতেন যেমন তোমরা সচ্ছলতায় আনন্দিত হও। "এবং উমর ইবনুল খাত্তাব, ইবনে মাসউদ ও উবাই-এর বর্ণিত হাদিস থেকে এর একটি সমর্থনকারী বর্ণনা রয়েছে।
(খণ্ড: ১) সালওয়াতুল কায়ীব বি-ওয়াফাতিল হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১০০)
الدَّرْدَاء، وَعَائِشَة، وَفَاطِمَة / بنت الْيَمَان [رضي الله عنهم] .

‌‌[رَغْبَة أبي بكر فِي تمريض النَّبِي [صلى الله عليه وسلم]]

 

وَحين أصَاب النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] من وعكه شدَّة، سَأَلَهُ أَبُو بكر [رضي الله عنه] أَن يمرضه عِنْده.

روى سيف فِي الْفتُوح عَن ابْن عمر [رضى الله عَنْهُمَا] ، قَالَ: جَاءَ أَبُو بكر [رضي الله عنه] إِلَى النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] فَقَالَ: يَا رَسُول الله، إيذن لي فأمرضك وأكون الَّذِي أقوم عَلَيْك. فَقَالَ: " يَا أَبَا بكر إِن لم تحمل أزواجي وبناتي علاجي ازدادت مصيبتي عَلَيْهِم عظما، وَقد وَقع أجرك على الله تَعَالَى ". وَكَانَ عَلَيْهِ أفضل الصَّلَاة وَالسَّلَام يقسم بَين نِسَائِهِ حظهن من
আদ-দারদা, আয়েশা, এবং ফাতিমা / বিনতে আল-ইয়ামান [আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন]।

[নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর পরিচর্যা করার বিষয়ে আবু বকরের আকাঙ্ক্ষা]

 

যখন নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তীব্র অসুস্থতায় আক্রান্ত হলেন, তখন আবু বকর [আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন] তাঁর কাছে আরজি পেশ করলেন যেন তিনি তাঁর পরিচর্যা করার সুযোগ পান।

সাঈফ 'আল-ফুতুহ' গ্রন্থে ইবনে উমর [আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন] থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর [আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন] নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে অনুমতি দিন যেন আমি আপনার সেবা করতে পারি এবং আপনার দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করতে পারি। তখন তিনি বললেন: "হে আবু বকর, আমার স্ত্রী ও কন্যারা যদি আমার চিকিৎসার ভার বহন না করে, তবে তাদের ওপর আমার বিপদের কষ্ট আরও বৃদ্ধি পাবে, আর তোমার প্রতিদান মহান আল্লাহর কাছে সাব্যস্ত হয়ে আছে।" এবং তাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক, তিনি তাঁর স্ত্রীদের মাঝে তাঁদের প্রাপ্য অংশ বণ্টন করতেন...
(খণ্ড: ১) সালওয়াতুল কায়ীব বি-ওয়াফাতিল হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১০১)
الْأَيَّام إِلَى أَن ضعف عَن الْمَشْي من شدَّة بلائه، فَكَانَ يحمل فِي ثوب ليقضي نوب نِسَائِهِ.

‌‌[تمريضه فِي بَيت عَائِشَة]

 

قَالَت عَائِشَة [رضي الله عنها] لما اشْتَكَى رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] جعل يَدُور بَين نِسَائِهِ ويتحامل، فَقَالَ يَوْمًا لَهُنَّ وَهن مجتمعات / عِنْده: " قد تَرين مَا قد أصابني من الشكوى، وَهُوَ يشْتَد عَليّ / أَن أدور بينكن، فَلَو أذنتن لي فَكنت فِي بَيت إحداكن حَتَّى أعلم مَا يصنع الله بِي ". فَقَالَت إِحْدَاهُنَّ: أَي نَبِي الله قد أذنا لَك، وعرفنا الْبَيْت الَّذِي تُرِيدُ، فتحول إِلَيْهِ فالزمه؛ فَإنَّا لَو قَدرنَا أَن نفديك بِأَنْفُسِنَا فَدَيْنَاك، وسررناك. قَالَ: " فَأَي بَيت هُوَ "؟ قَالَت: بَيت عَائِشَة لَا تعدل بِهِ. قَالَ: " صدقت ". قَالَت: فتحول إِلَى بَيْتِي.
দিনগুলো অতিবাহিত হতে থাকল যতক্ষণ না তিনি তাঁর কষ্টের তীব্রতায় হাঁটার শক্তি হারিয়ে ফেললেন। ফলে তাঁকে একটি কাপড়ে বহন করে নিয়ে যাওয়া হতো যাতে তিনি তাঁর স্ত্রীদের নিকট যাওয়ার পালাগুলো পূর্ণ করতে পারেন।

‌‌[আয়েশার ঘরে তাঁর সেবাশুশ্রূষা]

 

আয়েশা [আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন] বলেন, যখন আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] অসুস্থ হলেন, তখন তিনি তাঁর স্ত্রীদের মাঝে ঘুরে বেড়াতেন এবং কষ্ট সহ্য করে চলাফেরা করতেন। একদিন তাঁরা সকলে তাঁর নিকট সমবেত থাকা অবস্থায় তিনি তাঁদের বললেন: "তোমরা তো দেখতেই পাচ্ছ আমার কী ধরনের অসুস্থতা হয়েছে, আর তোমাদের মাঝে ঘুরে বেড়ানো আমার জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই তোমরা যদি আমাকে অনুমতি দাও, তবে আমি তোমাদের কারো একজনের ঘরে অবস্থান করতাম যতক্ষণ না আমি জানতে পারি আল্লাহ আমার সাথে কী করেন।" তাঁদের একজন বললেন: হে আল্লাহর নবী, আমরা আপনাকে অনুমতি দিলাম এবং আমরা জানি আপনি কোন ঘরটি চাচ্ছেন। সুতরাং আপনি সেখানে স্থানান্তরিত হোন এবং সেখানেই অবস্থান করুন। কারণ আমরা যদি নিজেদের জীবনের বিনিময়ে আপনাকে উৎসর্গ করতে পারতাম, তবে অবশ্যই আমরা আপনাকে উৎসর্গ করতাম এবং আপনাকে আনন্দিত করতাম। তিনি বললেন: "তাহলে সেই ঘরটি কোনটি?" তিনি বললেন: আয়েশার ঘর, আপনি এর কোনো বিকল্প করবেন না। তিনি বললেন: "তুমি সত্য বলেছ।" আয়েশা বলেন: অতঃপর তিনি আমার ঘরে স্থানান্তরিত হলেন।
(খণ্ড: ১) সালওয়াতুল কায়ীব বি-ওয়াফাতিল হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১০২)
تحول إِلَى بَيت عَائِشَة رضي الله عنها، بِمَا بِهِ من غمَّة مُتكئا على عَليّ وَالْعَبَّاس رضي الله عنهما، وَالْفضل بن الْعَبَّاس آخذ بظهره، وَرجلَاهُ تخطان الأَرْض من شدَّة ضره. فَكَانَت عَائِشَة رضي الله عنها تعالجه بالأدوية الموصوفة، وتعوذه بالمعوذات الشَّرِيفَة الْمَعْرُوفَة.

قَالَت عَائِشَة رضي الله عنها: إِن رَسُول الله / صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذا أَوَى إِلَى فرَاشه، جمع كفيه ثمَّ نفث فيهمَا ب: {قل هُوَ الله أحد} و {قل أعوذ بِرَبّ الفلق} و {قل أعوذ بِرَبّ النَّاس} ثمَّ يمسح بهما مَا اسْتَطَاعَ من جسده، يبْدَأ بهما على رَأسه وَوَجهه وَمَا أقبل من جسده، فيفعل ذَلِك ثَلَاث مَرَّات.
তিনি অত্যন্ত অসুস্থ ও ভারাক্রান্ত অবস্থায় আলী এবং আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর ওপর ভর দিয়ে আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর ঘরে স্থানান্তরিত হলেন। এ সময় ফজল ইবন আব্বাস তাঁর পিঠ ধরে রেখেছিলেন এবং ব্যথার তীব্রতায় তাঁর পা দুটি মাটিতে দাগ কেটে যাচ্ছিল। আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) তাঁকে নির্দেশিত ঔষধের মাধ্যমে চিকিৎসা করতেন এবং সুপরিচিত ও বরকতময় মুআউওয়াযাত (আশ্রয় প্রার্থনার সূরাসমূহ) পাঠ করে তাঁর ওপর ঝাড়ফুঁক করতেন।

আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণনা করেন যে: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখনই তাঁর বিছানায় শয়ন করতেন, তখন তিনি তাঁর দুই হাতের তালু একত্রিত করতেন, অতঃপর তাতে ফুঁ দিতেন: ‘বলুন, তিনি আল্লাহ এক’, ‘বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি প্রভাতের রবের কাছে’ এবং ‘বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি মানুষের রবের কাছে’। এরপর তিনি হাত দুটির মাধ্যমে তাঁর দেহের যতটুকু সম্ভব মাসাহ করতেন। তিনি তাঁর মাথা, মুখমণ্ডল এবং দেহের সম্মুখভাগ থেকে মাসাহ শুরু করতেন। তিনি এরূপ তিনবার করতেন।
(খণ্ড: ১) সালওয়াতুল কায়ীব বি-ওয়াফাতিল হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১০৩)
قَالَت عَائِشَة [رضي الله عنها] : فَلَمَّا اشْتَكَى رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] كَانَ يَأْمُرنِي أَن أفعل ذَلِك بِهِ.

‌‌[رقية السيدة عَائِشَة رضي الله عنها النَّبِي [صلى الله عليه وسلم]]

 

وَفِي مُسْند الإِمَام أَحْمد عَن ابْن أبي مليكَة، قَالَ: قَالَت عَائِشَة [رضي الله عنها] : مرض رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] فَوضعت يَدي على صَدره، فَقلت: أذهب الباس رب النَّاس، أَنْت الطَّبِيب، وَأَنت الشافي وَكَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول /: " وألحقني بالرفيق الْأَعْلَى، وألحقني بالرفيق الْأَعْلَى ".
আয়েশা [রাদিয়াল্লাহু আনহা] বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] অসুস্থ হলেন, তখন তিনি আমাকে তাঁর প্রতি তা-ই করার নির্দেশ দিতেন।

‌‌[নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি সাইয়্যেদাহ আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর রুকইয়াহ]

 

এবং ইমাম আহমাদ-এর মুসনাদে ইবনে আবু মুলাইকাহ থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন: আয়েশা [রাদিয়াল্লাহু আনহা] বলেছেন: রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] অসুস্থ হলেন, তখন আমি আমার হাত তাঁর বুকের ওপর রাখলাম এবং বললাম: হে মানুষের রব! কষ্ট দূর করে দিন, আপনিই চিকিৎসক এবং আপনিই আরোগ্য দানকারী। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলছিলেন /: "এবং আমাকে সুউচ্চ বন্ধুর সান্নিধ্যে পৌঁছে দিন, এবং আমাকে সুউচ্চ বন্ধুর সান্নিধ্যে পৌঁছে দিন।"
(খণ্ড: ১) সালওয়াতুল কায়ীব বি-ওয়াফাতিল হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১০৪)
‌‌[مسارة النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] لفاطمة]

 

وَصَحَّ عَن عَائِشَة رضي الله عنها قَالَت: إِن كُنَّا أَزوَاج النَّبِي / [صلى الله عليه وسلم] عِنْده جَمِيعًا، لم تغادر منا وَاحِدَة، فَأَقْبَلت فَاطِمَة تمشي، لَا وَالله مَا تخفى مشيتهَا من مشْيَة رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] ، فَلَمَّا رَآهَا رحب، وَقَالَ: " مرْحَبًا بِابْنَتي "، ثمَّ أَجْلِسهَا عَن يَمِينه أَو عَن شِمَاله، ثمَّ سَارهَا فَبَكَتْ بكاء شَدِيدا، فَلَمَّا رأى حزنها سَارهَا، فَإِذا هِيَ تضحك. فَقلت لَهَا - أَنا من بَين
‌[ফাতিমার নিকট নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর গোপন কথা বলা]

 

আর আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সকল স্ত্রীগণ তাঁর নিকট একত্রে ছিলাম, আমাদের মধ্য থেকে একজনও অনুপস্থিত ছিলেন না। তখন ফাতিমা হেঁটে আসলেন; আল্লাহর কসম, তাঁর হাঁটার ভঙ্গি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাঁটার ভঙ্গি থেকে মোটেও আলাদা ছিল না। যখন তিনি তাঁকে দেখলেন, তখন তাঁকে অভ্যর্থনা জানালেন এবং বললেন: "আমার কন্যার জন্য স্বাগতম"। অতঃপর তাঁকে তাঁর ডান পাশে অথবা বাম পাশে বসালেন। তারপর তাঁর কানে কানে গোপনে কিছু কথা বললেন, তখন তিনি (ফাতিমা) উচ্চস্বরে কাঁদতে লাগলেন। এরপর যখন তিনি তাঁর দুঃখ দেখলেন, তখন পুনরায় তাঁর কানে কানে কিছু কথা বললেন, এমতাবস্থায় তিনি হাসতে লাগলেন। তখন আমি তাঁকে বললাম—আমি আমাদের মধ্য থেকে...
(খণ্ড: ১) সালওয়াতুল কায়ীব বি-ওয়াফাতিল হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১০৫)
نِسَاءَهُ -: خصك رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] بالسر من بَيْننَا، ثمَّ أَنْت تبكين؟ ! فَلَمَّا قَامَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] سَأَلتهَا: عَم سارك؟ قَالَت: مَا كنت لأفشي على رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] سره، فَلَمَّا توفّي [صلى الله عليه وسلم] ، قلت: عزمت عَلَيْك بِمَا لي عَلَيْك من الْحق أَلا أَخْبَرتنِي؟ قَالَت: أما الْآن، فَنعم. فأخبرتني، قَالَت: أما حِين سَارَّنِي فِي الْأَمر الأول فَإِنَّهُ أَخْبرنِي / أَن جِبْرِيل [صلى الله عليه وسلم] كَانَ يُعَارضهُ بِالْقُرْآنِ كل سنة مرّة، وَإنَّهُ قد عارضني بِهِ الْعَام مرَّتَيْنِ، فَلَا أرى الْأَجَل إِلَّا قد اقْترب، فاتقي الله واصبري، فَإِنِّي نعم السّلف أَنا لَك. قَالَت: فَبَكَيْت بُكَائِي الَّذِي رَأَيْت. فَلَمَّا رأى جزعي سَارَّنِي الثَّانِيَة، فَقَالَ: يَا فَاطِمَة أَلا ترْضينَ أَن تَكُونِي سيدة نسَاء الْمُؤمنِينَ، أَو سيدة نسَاء هَذِه الْأمة؟ .

‌‌[الْكتاب الَّذِي أَرَادَ النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] أَن يَكْتُبهُ لأمته]

 

وَمن حرصه [صلى الله عليه وسلم] على الائتلاف أَرَادَ أَن يكْتب لأمته مَا يرفع بعده الِاخْتِلَاف.

صَحَّ عَن عبيد الله بن عبد الله بن عتبَة عَن ابْن عَبَّاس
তাঁর স্ত্রীগণ বললেন -: রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] আমাদের মধ্য থেকে কেবল তোমাকেই নিভৃতে একটি গোপন কথা বলেছেন, তারপরও তুমি কাঁদছ?! অতঃপর যখন রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] উঠে দাঁড়ালেন, তখন আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম: তিনি তোমাকে নিভৃতে কী বলেছেন? তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর গোপন রহস্য ফাঁস করতে পারি না। অতঃপর যখন তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] ইন্তেকাল করলেন, তখন আমি বললাম: তোমার ওপর আমার যে অধিকার রয়েছে তার দোহাই দিয়ে বলছি, তুমি কি আমাকে বলবে না? তিনি বললেন: এখন বলা যায়। অতঃপর তিনি আমাকে জানালেন, তিনি বললেন: যখন তিনি প্রথমবার আমার সাথে নিভৃতে কথা বললেন, তখন তিনি আমাকে সংবাদ দিলেন যে, জিবরাঈল [আলাইহিস সালাম] প্রতি বছর একবার তাঁর সাথে কুরআন পর্যালোচনা করতেন, আর এই বছর তিনি আমার সাথে দুইবার তা পর্যালোচনা করেছেন। তাই আমি আমার অন্তিম সময় ঘনিয়ে আসা ছাড়া আর কিছু দেখছি না। সুতরাং তুমি আল্লাহকে ভয় করো এবং ধৈর্য ধারণ করো, কারণ আমি তোমার জন্য কতই না উত্তম পূর্বগামী। তিনি বললেন: তখন আমি কাঁদলাম যেমনটি তুমি দেখেছিলে। যখন তিনি আমার ব্যাকুলতা দেখলেন, তখন দ্বিতীয়বার নিভৃতে আমাকে বললেন: হে ফাতিমা, তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তুমি মুমিনদের নারীদের নেত্রী অথবা এই উম্মতের নারীদের নেত্রী হবে? .

‌‌[সেই কিতাব যা নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তাঁর উম্মতের জন্য লিখতে চেয়েছিলেন]

 

উম্মতের ঐক্যের প্রতি তাঁর [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] প্রবল আগ্রহের কারণে তিনি তাঁর উম্মতের জন্য এমন কিছু লিখতে চেয়েছিলেন যা তাঁর পরবর্তী মতভেদ দূর করে দেবে।

উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবা থেকে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সূত্রে সহীহভাবে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১) সালওয়াতুল কায়ীব বি-ওয়াফাতিল হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১০৬)
[رضي الله عنهما] أَنه قَالَ: " يَوْم الْخَمِيس وَمَا يَوْم الْخَمِيس " ثمَّ بَكَى حَتَّى بل دمعه الْحَصَى. قَالَ: " لما حضر رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَفِي الْبَيْت رجال، فَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم /: " هلموا أكتب لكم كتابا لَا تضلوا بعده ". فَقَالَ بَعضهم: إِن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] قد غَلبه الوجع وعندكم الْقُرْآن، حَسبنَا كتاب الله، فَاخْتلف أهل الْبَيْت واختصموا، فَمنهمْ من يَقُول: قربوا يكْتب لكم كتابا لَا تضلوا بعده، وَمِنْهُم من يَقُول غير ذَلِك. فَلَمَّا أَكْثرُوا اللَّغْو وَالِاخْتِلَاف، قَالَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] : " قومُوا ".
[আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন] তিনি বললেন: "বৃহস্পতিবার, আর বৃহস্পতিবার কী!" অতঃপর তিনি এমনভাবে কাঁদলেন যে তাঁর চোখের অশ্রু কঙ্করগুলোকে ভিজিয়ে দিল। তিনি বললেন: "যখন রাসুলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর অন্তিম সময় উপস্থিত হলো এবং ঘরে কিছু লোক উপস্থিত ছিল, তখন নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন: 'তোমরা এসো, আমি তোমাদের জন্য এমন একটি লিপি লিখে দেই যার পর তোমরা আর কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না।' তখন তাদের কেউ কেউ বললেন: 'নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর ওপর ব্যথার তীব্রতা প্রবল হয়েছে, আর তোমাদের কাছে কুরআন রয়েছে; আমাদের জন্য আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট।' ফলে ঘরের লোকজনের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হলো এবং তারা বিতর্কে লিপ্ত হলো। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলছিলেন: 'তোমরা (লেখার সরঞ্জাম) কাছে নিয়ে এসো যাতে তিনি তোমাদের জন্য সেই লিপিটি লিখে দিতে পারেন যার পর তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না', আবার তাদের কেউ কেউ ভিন্ন কথা বলছিলেন। যখন তাদের হট্টগোল ও মতভেদ বৃদ্ধি পেল, তখন রাসুলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন: 'তোমরা এখান থেকে উঠে যাও'।"
(খণ্ড: ১) সালওয়াতুল কায়ীব বি-ওয়াফাতিল হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১০৭)
قَالَ عبيد الله: فَكَانَ يَقُول ابْن عَبَّاس: " إِن الرزية كل الرزية مَا حَال بَين رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] وَبَين أَن يكْتب لَهُم ذَلِك الْكتاب لاختلافهم ولغطهم ".

‌‌[الْإِشَارَة الصَّرِيحَة فِي اسْتِخْلَاف الصّديق]

 

وَخرج الإِمَام أَحْمد فِي مُسْنده عَن ابْن أبي مليكَة عَن عَائِشَة [رضي الله عنها] قَالَت: لما ثقل رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم]
উবায়দুল্লাহ বলেন: এরপর ইবনে আব্বাস বলতেন: "নিশ্চয়ই সবচেয়ে বড় বিপদ হলো তা-ই, যা আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর মাঝে এবং তাঁর সেই কিতাব (নির্দেশনা) লিখে দেওয়ার মাঝে প্রতিবন্ধক হয়েছিল তাদের মতবিরোধ ও শোরগোলের কারণে।"

‌‌[সিদ্দিক (রা.)-কে স্থলাভিষিক্ত করার ব্যাপারে সুস্পষ্ট ইঙ্গিত]

 

ইমাম আহমদ তাঁর মুসনাদে ইবনে আবি মুলাইকা থেকে এবং তিনি আয়িশা [রাদিয়াল্লাহু আনহা] থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর অসুস্থতা বৃদ্ধি পেল (তিনি শয্যাশায়ী হলেন)
(খণ্ড: ১) সালওয়াতুল কায়ীব বি-ওয়াফাতিল হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১০৮)
قَالَ لعبد الرَّحْمَن بن أبي بكر: " ايتني بكتف أَو لوح حَتَّى أكتب / لأبي بكر كتابا لَا يخْتَلف عَلَيْهِ ". فَلَمَّا ذهب عبد الرَّحْمَن ليقوم، قَالَ: " أَبى الله والمؤمنون أَن يخْتَلف عَلَيْك يَا أَبَا بكر ". وَجَاء من طَرِيق مُحَمَّد بن ثَابت عَن أَبِيه عَن أنس مَرْفُوعا بِنَحْوِهِ.

وَجَاءَت الْإِشَارَة الصَّرِيحَة إِلَى خلَافَة الصّديق الصَّحِيحَة، مِنْهَا مَا ثَبت عَن عَائِشَة رضي الله عنها، قَالَت:
তিনি আবদুর রহমান ইবনে আবু বকরকে বললেন: "আমার কাছে পশুর কাঁধের হাড় অথবা একটি তক্তি নিয়ে এসো, যাতে আমি আবু বকরের জন্য একটি লিপি লিখে দিতে পারি যেন তাঁর ব্যাপারে কেউ মতভেদ না করে।" যখন আবদুর রহমান উঠতে উদ্যত হলেন, তখন তিনি বললেন: "হে আবু বকর, আল্লাহ এবং মুমিনগণ তোমার ব্যাপারে দ্বিমত করাকে অস্বীকার করছেন।" আর মুহাম্মাদ ইবনে সাবিতের মাধ্যমে তাঁর পিতার সূত্রে আনাস (রা.) হতে মারফু হিসেবে অনুরূপ বর্ণনা এসেছে।

সিদ্দিকের সঠিক খিলাফতের ব্যাপারে সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বর্ণিত হয়েছে; তার মধ্যে একটি হলো আয়েশা (রা.) হতে যা প্রমাণিত হয়েছে, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) সালওয়াতুল কায়ীব বি-ওয়াফাতিল হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১০৯)
ثقل رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] فَقَالَ: " أصلى النَّاس "؟ قُلْنَا: لَا. هم ينتظرونك يَا رَسُول الله. قَالَ: " ضَعُوا لي مَاء فِي المخضب ". قَالَت فَفَعَلْنَا، فاغتسل، فَذهب لينوء فَأُغْمِيَ عَلَيْهِ، ثمَّ أَفَاق، فَقَالَ: " أصلى النَّاس "؟ قُلْنَا: لَا. هم ينتظرونك يَا رَسُول الله. قَالَ: ضَعُوا مَاء فِي المخضب، فَفَعَلْنَا، فاغتسل ثمَّ ذهب لينوء، فَأُغْمِيَ عَلَيْهِ، ثمَّ أَفَاق، فَقَالَ: أصلى النَّاس؟ قُلْنَا: لَا. هم ينتظرونك يَا رَسُول الله. وَالنَّاس عكوف فِي الْمَسْجِد ينتظرون النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] لصَلَاة الْعشَاء الْآخِرَة. فَأرْسل النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] إِلَى أبي بكر رضي الله عنه بِأَن يُصَلِّي بِالنَّاسِ. فَأَتَاهُ الرَّسُول / فَقَالَ: إِن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَأْمُرك أَن تصلي بِالنَّاسِ. فَقَالَ أَبُو بكر وَكَانَ رجلا رَقِيقا: يَا عمر، صل بِالنَّاسِ. فَقَالَ لَهُ عمر: أَنْت أَحَق بذلك. فصلى أَبُو

আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর অসুস্থতা তীব্র হলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "লোকেরা কি সালাত আদায় করেছে?" আমরা বললাম: না, হে আল্লাহর রাসূল; তারা আপনার প্রতীক্ষায় রয়েছে। তিনি বললেন: "আমার জন্য বড় পাত্রে পানি রাখো।" তিনি (আয়েশা রা.) বললেন: আমরা তা করলাম। অতঃপর তিনি গোসল করলেন এবং কষ্ট করে ওঠার চেষ্টা করতেই মূর্ছিত হয়ে পড়লেন। এরপর যখন তাঁর জ্ঞান ফিরল, তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন: "লোকেরা কি সালাত আদায় করেছে?" আমরা বললাম: না, হে আল্লাহর রাসূল; তারা আপনার প্রতীক্ষায় রয়েছে। তিনি বললেন: "বড় পাত্রে পানি রাখো।" আমরা তা করলাম। তিনি গোসল করলেন এবং কষ্ট করে ওঠার চেষ্টা করতেই মূর্ছিত হয়ে পড়লেন। এরপর যখন তাঁর জ্ঞান ফিরল, তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন: "লোকেরা কি সালাত আদায় করেছে?" আমরা বললাম: না, হে আল্লাহর রাসূল; তারা আপনার প্রতীক্ষায় রয়েছে। তখন লোকেরা মসজিদে শেষ ইশা'র সালাতের জন্য নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর প্রতীক্ষায় অবস্থান করছিল। অতঃপর নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট এই মর্মে বার্তা পাঠালেন যে, তিনি যেন লোকদের সালাত পরিচালনা করেন। বার্তাবাহক তাঁর কাছে এসে বললেন: আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] আপনাকে লোকদের সালাত পরিচালনা করার নির্দেশ দিচ্ছেন। তখন আবু বকর—যিনি ছিলেন অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের মানুষ—বললেন: হে উমর, আপনি লোকদের সালাত পরিচালনা করুন। উমর তাঁকে বললেন: আপনিই এর অধিক হকদার। অতঃপর আবু বকর সালাত পরিচালনা করলেন।