(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারুল কাবীর ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: -)
المختصر الكبير في سيرة الرسول القسم: السيرة النبوية
الكتاب: المختصر الكبير في سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم
المؤلف: عز الدين بدر الدين بن جماعة الكناني (694 - 767 هـ)
المحقق: د سامي مكي العاني
الناشر: مؤسسة الرسالة (بيروت)، دار البشير (عمان)
الطبعة: الأولى، 1413 هـ - 1993 م
عدد الصفحات: 149
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
রাসূলের সীরাত বিষয়ক বৃহৎ সংক্ষিপ্তসার বিভাগ: সীরাতুন্নবী
গ্রন্থ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত বিষয়ক বৃহৎ সংক্ষিপ্তসার
লেখক: ইযযুদ্দীন বদর উদ্দীন বিন জামাআহ আল-কিনানী (৬৯৪ - ৭৬৭ হিজরি)
সম্পাদক: ড. সামী মাক্কী আল-আনী
প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ (বৈরুত), দারুল বাশীর (আম্মান)
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৩ হিজরি - ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৯
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারুল কাবীর ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
وَبِه نستعين الْحَمد لله حمداً يوافي جزيلَ نعمائه، ويكافئ مزيدَ آلائه. . وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على سيدنَا محمدٍ خَاتم أَنبيائه، وعَلى آله وَصَحبه وأوليائه. أما بعدُ: فَهَذَا مختصَر فِي سيرة سيّدنا محمدٍ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] جمعتُه من كتبٍ فِي الْمَغَازِي والسِيَر، واعتمدتُ فِيمَا فِيهِ من التَّصْحِيح وتأريخ الْمَغَازِي على الْحَافِظ النَّاقِد الحجّة، محدِّث الإِسلام شرف الدّين أبي مُحَمَّد عبد الْمُؤمن الدمياطيّ. واقتصرتُ فِي كثيرٍ ممّا فِيهِ خلافٌ على مَا حَرَّره، لاعتنائه بالسِيَر، وَطول ممارستِه لَهَا - رحِمَه الله تَعَالَى، ونفعَ بِمَا جمعتُه من ذَلِك، وسلكَ بِنَا فِي سُبل رِضَاهُ أحسنَ المسالك - آمين.
نَسَبُ رسولِ الله [صلى الله عليه وسلم] وأَسماؤُه هُوَ أَبُو الْقَاسِم محمَّد بن عبد الله بن عبد المطَّلب - واسْمه شَيْبةُ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
এবং তাঁরই নিকট আমরা সাহায্য প্রার্থনা করি সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এমন প্রশংসা যা তাঁর প্রচুর নিয়ামতের সমতুল্য এবং তাঁর অধিক অনুগ্রহের প্রতিদানস্বরূপ। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর, যিনি তাঁর নবীদের মোহর (সর্বশেষ নবী), এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবী ও আওলিয়াগণের ওপর। অতঃপর: এটি আল্লাহর রাসূল আমাদের নেতা মুহাম্মাদ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর সীরাত বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ, যা আমি মাগাযী ও সীরাত বিষয়ক গ্রন্থসমূহ থেকে সংকলন করেছি। এতে তথ্যের বিশুদ্ধিকরণ ও মাগাযীর তারিখ নির্ধারণের ক্ষেত্রে আমি হাফিজ, সমালোচক, হুজ্জাত এবং ইসলামের মুহাদ্দিস শরফুদ্দিন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল মুমিন আদ-দিমইয়াতির ওপর নির্ভর করেছি। সীরাতশাস্ত্রের প্রতি তাঁর বিশেষ যত্ন এবং এতে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে মতপার্থক্যপূর্ণ অনেক বিষয়ে আমি তাঁরই সম্পাদিত ও যাচাইকৃত তথ্যের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন। আমি যা সংকলন করেছি তা দ্বারা তিনি (আল্লাহ) যেন উপকার দান করেন এবং তাঁর সন্তুষ্টির পথে আমাদের সর্বোত্তম পন্থায় পরিচালিত করেন—আমীন।
আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর বংশপরিচয় ও নামসমূহ তিনি হলেন আবুল কাসিম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব—আর তাঁর (আব্দুল মুত্তালিবের) নাম হলো শাইবাহ।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারুল কাবীর ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الحَمد، بن هَاشم - واسْمه عَمْرو العُلا - بن عبد مَنَاف - واسْمه المُغيرة - بن قُصَيّ - واسْمه زَيْد ويُدعى مُجمّعاً - بن كِلاب بن مُرَّةَ بن كَعْب بن لُؤَيّ بن غالِب بن فِهْر، وَهُوَ قُرَيْش على الصَّحِيح، ابْن مالِك بن النَّضْر - واسْمه قيس، وَقيل: إِنَّه قُرَيْش - بن كِنَانَة بن خُزَيْمة بن مُدْرِكة: واسْمه عَامر، وَقيل: عَمْرو بن إلْيَاس بن مُضَر بن نِزَار بن مَعَدّ بن عَدنان. إِلَى هُنَا إِجْمَاع الأمّة.
আল-হামদ, হাশেমের পুত্র - এবং তাঁর নাম ছিল আমর আল-উলা - আবদে মানাফের পুত্র - এবং তাঁর নাম ছিল আল-মুগীরা - কুসাইয়ের পুত্র - এবং তাঁর নাম ছিল যায়েদ এবং তাঁকে মুজাম্মি (একত্রকারী) বলা হতো - কিলাবের পুত্র, মুররাহর পুত্র, কাবের পুত্র, লুয়াইয়ের পুত্র, গালিবের পুত্র, ফিহরের পুত্র, এবং বিশুদ্ধ মতানুসারে তিনিই হলেন কুরাইশ, মালিকের পুত্র আন-নাদরের পুত্র - এবং তাঁর নাম ছিল কায়স, আবার বলা হয়: তিনিই হলেন কুরাইশ - কিনানার পুত্র খুজায়মার পুত্র মুদরিকাহর পুত্র: এবং তাঁর নাম ছিল আমির, আবার বলা হয়: আমর, তিনি ইলিয়াসের পুত্র মুদারের পুত্র নিযারের পুত্র মাআদ-এর পুত্র আদনানের পুত্র। এই পর্যন্ত উম্মতের ঐক্যমত্য রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারুল কাবীর ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وَفِيمَا بعد عدنان إِلَى آدم خِلافٌ كثير، وعَدنان - بِلَا شكّ - من وَلَد إِسْمَاعِيل رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] وَالَّذِي اخْتَارَهُ بعض النسّابين فِي نسب عدنان أنَّه ابْن أُدّ بن أُدَد بن اليَسَع بن الهَميْسَع بن سَلامان بن نبت بن حَمَل بن قَيذار بن الذَّبِيح إِسْمَاعِيل بن الْخَلِيل إِبْرَاهِيم بن تارح، وَهُوَ آزر، بن ناحور بن ساروع بن أرغو بن فالغ بن عَابِر، وَهُوَ هود النبيّ / 1 ظ. [صلى الله عليه وسلم]- وَهُوَ جماع قيس ويَمن، ابْن شالخ بن أرفخشذ بن سَام بن نوح بن لَمك بن متُّوشلخ بن أَخْنُوخ، وَهُوَ إِدْرِيس النبيّ عليه السلام بن يارد بن مهلائيل بن قينان بن أنوش بن شِيث، وَهُوَ هبة الله، ابْن آدم أبي مُحَمَّد عَلَيْهِمَا الصَّلَاة وَالسَّلَام. قَالَ الْحَافِظ شرف الدّين الدمياطيّ: هَكَذَا سَاقه أَبُو عَليّ مُحَمَّد بن
আদনান থেকে আদম পর্যন্ত বংশপরম্পরার ব্যাপারে অনেক মতভেদ রয়েছে। তবে আদনান—নিঃসন্দেহে—আল্লাহর রাসূল ইসমাঈলের [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বংশধর। আদনানের বংশলতিকার ক্ষেত্রে কোনো কোনো বংশবিশারদ যা গ্রহণ করেছেন তা হলো: তিনি আদ ইবনে উদাদ ইবনে আল-ইয়াসা ইবনে আল-হামাইসা ইবনে সালামাত ইবনে নাবত ইবনে হামাল ইবনে কাইদার ইবনে জাবিহুল্লাহ ইসমাঈল ইবনে খলিলুল্লাহ ইব্রাহিম ইবনে তারাহ—যিনি আজর—ইবনে নাহুর ইবনে সারুগ ইবনে আরগু ইবনে ফালিগ ইবনে আবির। আর তিনি হলেন নবী হূদ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]—যিনি কায়েস ও ইয়ামানের আদিপুরুষ—ইবনে শালিহ ইবনে আরফাখশাদ ইবনে সাম ইবনে নূহ ইবনে লামাক ইবনে মাত্তুশালাখ ইবনে আখনুখ। আর তিনি হলেন নবী ইদ্রিস আলাইহিস সালাম। তিনি ইয়ারদ ইবনে মাহলাইল ইবনে কাইনান ইবনে আনূশ ইবনে শীস—যিনি হিবাতুল্লাহ—ইবনে আদম, যিনি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আদিপিতা, তাঁদের উভয়ের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। হাফেজ শরফুদ্দীন আদ-দিমইয়াতী বলেন: আবু আলী মুহাম্মাদ ইবনে... এভাবে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারুল কাবীর ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
أسعد بن عليّ النسّابة الجوّاني. وَقَالَ: وَهَذِه أصحّ الطّرق وأحسنها وأوضحها، وَهِي رِوَايَة شُيُوخنَا فِي النَسب. قلتُ: وَمَا ذكره من أنَّ الذَّبيح إِسْمَاعِيل هُوَ الَّذِي صحّحه جمَاعَة من محققي الْعلمَاء. وَأَكْثَرهم على أَنه إِسْحَاق [صلى الله عليه وسلم] .
وَمن أَسْمَائِهِ [صلى الله عليه وسلم] أحمدُ، والمَاحي، والحَاشر، والعَاقبُ، والمُقَفِّي، ونبيُّ التَّوبَة، ونبيُّ الرَّحْمة، ونبيُّ المَلْحَمة والفاتحُ، وعبدُ الله، والمبشِّر، والنَّذيرُ، والأمين، والمصطفى، والمتوكِّل، وطه ويَس. قَالَ ابْن دِحيَة فِي كِتَابه (المستوفي فِي أَسمَاء الْمُصْطَفى) إِنَّه إِذا فُحص
আসাদ বিন আলী আন-নাসসাবাহ আল-জাওয়ানি। তিনি বলেছেন: এটিই সবচেয়ে বিশুদ্ধ, উত্তম এবং সুস্পষ্ট পদ্ধতি, আর এটিই বংশবিদ্যা বিষয়ে আমাদের শায়খদের বর্ণনা। আমি বলছি: জাবিহ (কুরবানিকৃত ব্যক্তি) যে ইসমাইল, তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা একদল মুহাক্কিক আলেম বিশুদ্ধ বলে গণ্য করেছেন। তবে তাঁদের অধিকাংশের মতে তিনি হলেন ইসহাক (তাঁর উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)।
তাঁর (তাঁর উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) নামসমূহের মধ্যে রয়েছে আহমদ, আল-মাহি, আল-হাশির, আল-আকিব, আল-মুকাফফি, তওবার নবি, রহমতের নবি, যুদ্ধের নবি, আল-ফাতিহ, আবদুল্লাহ, সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী, আল-আমিন, আল-মুস্তফা, আল-মুতাওয়াক্কিল, ত্বহা এবং ইয়াসিন। ইবনে দিহইয়া তাঁর ‘আল-মুস্তাউফি ফি আসমায়িল মুস্তফা’ গ্রন্থে বলেছেন যে, যখন এটি অনুসন্ধান করা হয়...
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারুল কাবীর ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ১৯)
عَن جُمْلَتهَا من الْكتب المتقدِّمة، وَالْقُرْآن الْكَرِيم والْحَدِيث النَّبَوِيّ بلغت الثلاثمائة.
أمّ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] هِيَ آمنةُ بنتُ وَهْبٍ بن عبد مَنَاف بن زُهْرَةَ بن كِلاب بن مُرَّة. [وأُمُّها بَرَّة بنتُ عبد العُزّى بن عُثْمَان بن عبد الدَّار بن قصي بن كلاب، وأمُّها أمُّ حَبيب بنت أَسَد بن عبد العُزّي بن قُصيّ بن كِلاب] وأمُّها برّة بنت عَوْف بن عَبيد بن عَوِيج بن عَدِّيّ بن كَعْب. وأُمّ وهْب بن عبد مَناف قَيْلَة بنت أبي كَبْشَة وَجْز بن غَالب بن الْحَارِث بن عَمْرو بن مِلكان بن أَفصى بن حَارثة مِن خُزاعة. وَأَبُو كَبْشَة هَذَا هُوَ الَّذِي نُسب إِلَيْهِ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] فِي قَول أبي سُفيان بن حُرب حِين خرج من عِنْد هِرْقَل: لقد أمِرَ أمْرُ ابْن أبي كَبْشَة، إِنَّه ليخافُه مَلِكُ بني الْأَصْفَر. وعَبَدَ / 2 و. أَبُو كَبْشَة هَذَا الشِّعْرَى، وَخَالف العربَ، فَلذَلِك كَانَت قريشُ تَنسُبُ رسولَ الله [صلى الله عليه وسلم] إِلَيْهِ لمُخَالفَته لَهُم، كَمَا خالفَهم أَبُو كبْشة.
وَرُوِيَ أنّ آمِنَة بنت وهْب بن عبد مَنَاف كَانَت فِي حِجْر عمَّها وهُيب بن
পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ, পবিত্র কুরআন এবং নববী হাদীস থেকে সংগৃহীত এগুলোর সংখ্যা তিনশতে পৌঁছেছে।
রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর মাতা তিনি হলেন আমিনা বিনতে ওয়াহাব ইবনে আবদে মানাফ ইবনে জুহরা ইবনে কিলাব ইবনে মুররাহ। [এবং তাঁর মাতা বাররাহ বিনতে আবদিল উজ্জা ইবনে উসমান ইবনে আবদিল দার ইবনে কুসাই ইবনে কিলাব, এবং তাঁর মাতা উম্মু হাবিব বিনতে আসাদ ইবনে আবদিল উজ্জা ইবনে কুসাই ইবনে কিলাব] এবং তাঁর মাতা বাররাহ বিনতে আওফ ইবনে উবাইদ ইবনে আউইজ ইবনে আদি ইবনে কাব। এবং ওয়াহাব ইবনে আবদে মানাফের মাতা কাইলা বিনতে আবি কাবশা ওয়াজয ইবনে গালিব ইবনে হারিস ইবনে আমর ইবনে মিলকান ইবনে আফসা ইবনে হারিসাহ, যিনি খুজাআ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। আর এই আবু কাবশা হলেন সেই ব্যক্তি, যাঁর দিকে রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-কে সম্বন্ধিত করা হয়েছিল আবু সুফিয়ান ইবনে হারবের উক্তিতে, যখন তিনি হিরাক্লিয়াসের নিকট থেকে বেরিয়ে আসছিলেন: "ইবনে আবি কাবশার বিষয়টি তো শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, বনু আসফারের অধিপতিও তাকে ভয় পাচ্ছে।" এবং / ২ ও. এই আবু কাবশা 'শি'রা' নক্ষত্রের পূজা করতেন এবং আরবদের বিরোধিতা করতেন। এ কারণেই কুরাইশরা রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-কে তাঁর দিকে নিসবত করত (সম্বন্ধিত করত), কারণ তিনি তাদের বিরোধিতা করেছিলেন ঠিক যেমন আবু কাবশা তাদের বিরোধিতা করেছিলেন।
বর্ণিত আছে যে, আমিনা বিনতে ওয়াহাব ইবনে আবদে মানাফ তাঁর চাচা উহাইব ইবনে এর তত্ত্বাবধানে ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারুল কাবীর ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ২০)
عبد مَنَاف، فَمشى إِلَيْهِ عبد المطْلب بن هَاشم بِابْنِهِ عبد الله، فَخَطب آمنةَ، فزوّجها إيّاه، وخطب إِلَيْهِ عبد الْمطلب فِي مَجْلِسه ذَلِك ابنتَه هالةَ بنتُ وهُيب على نَفسه، فزوَّجه إِيَّاهَا. فَقَالَ النَّاس: فَلَجَ عبدُ الله على أَبيه، لأنَّ وهباً كَانَ من أشرف قُرَيْش. وَقيل: إِن الَّذِي زوّج آمِنَة أَبوهَا، فَدخل عبدُ الله على آمِنَة حِين تزوَّجها فوقعَ عَلَيْهَا، فَحملت برَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] فِي شِعْب أبي طَالب عِنْد الجَمْرَة الكُبرى، وَقيل: الْوُسْطَى.
ورويَ عَنْهَا أَنَّهَا كَانَت تَقول: مَا شعرتُ أَنِّي حملتُ بِهِ، وَلَا وجدتُ لَهُ ثِقْلاً كَمَا تجدُ النساءُ، إِلَّا أَنِّي أنكرتُ رفع حَيضَتي، وربّما كَانَت ترفعني وتعودُ وأتاني أتٍ وَأَنا بَين النَّائِم وَالْيَقظَان، فَقَالَ: هَل شَعرت أَنَّك حَملتِ؟ فَكَأَنِّي أَقُول: مَا أَدري. فَقَالَ: إنكِ قد حَملتِ سيِّدَ هَذِه الأُمَّة ونَبيَّها. وَذَلِكَ يَوْم الِاثْنَيْنِ. قَالَت: فَكَانَ ذَلِك ممّا يَقَّنَ عِنْدِي الحَملَ. ثمَّ أَمهلَني حَتَّى إِذا دَنَتْ ولادتي أَتَانِي ذَلِك الْآتِي فَقَالَ: قُولي أُعيذه بالواحدِ من شرِّ كلِّ حاسِد. قَالَت: فكنتُ أَقُول ذَلِك.
ويُروى أنّ الله تَعَالَى لمّا أَرَادَ خَلقَ نَبيِّه [صلى الله عليه وسلم] فِي بطن أمِّه آمِنَة فِي لَيْلَة رَجب لَيْلَة الْجُمُعَة أَمر فِي تِلْكَ اللَّيْلَة رضوانَ خازنَ الجِنانِ أنْ يفتح أَبْوَاب الفردوس، وَنُودِيَ فِي السَّمَوَات وَالْأَرْض، بأنّ النُّور الْمكنون المخزون الَّذِي يكون مِنْهُ النبيُّ الْهَادِي فِي هَذِه اللَّيْلَة يَستقرُّ فِي بطن أُمِّه الَّذِي فِيهِ يتمّ خَلْفُه، ويخرجُ إِلَى
আবদ মানাফের বংশধর (উহায়ব ইবনে আবদ মানাফ), তাঁর নিকট আবদুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম তাঁর পুত্র আবদুল্লাহকে নিয়ে গেলেন এবং আমিনার বিবাহের প্রস্তাব দিলেন। এরপর তিনি আমিনার সাথে তাঁর বিবাহ সম্পন্ন করলেন। সেই মজলিসেই আবদুল মুত্তালিব নিজের জন্য তাঁর কন্যা হালা বিনতে উহায়বকে বিবাহের প্রস্তাব দিলেন এবং তিনি তাঁর সাথেও বিবাহ সম্পন্ন করলেন। তখন লোকেরা বলতে লাগল: আবদুল্লাহ তাঁর পিতার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন, কারণ ওয়াহাব ছিলেন কুরাইশদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। আরও বলা হয় যে, আমিনার পিতা নিজেই তাঁর বিবাহ সম্পন্ন করেছিলেন। এরপর আবদুল্লাহ যখন আমিনার সান্নিধ্যে আসলেন এবং তাঁর সাথে মিলিত হলেন, তখন তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে গর্ভে ধারণ করলেন। এই ঘটনাটি ঘটেছিল জামরাতুল কুবরার নিকট আবু তালিবের গিরিপথে, আবার কারও মতে তা ছিল জামরাতুল উসতা।
আমিনা থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলতেন: আমি তাঁকে গর্ভে ধারণ করার বিষয়টি টেরই পাইনি এবং গর্ভবতী নারীদের মতো কোনো ভারী বোধও অনুভব করিনি। তবে আমার ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমি বিষয়টি খেয়াল করলাম; কখনো তা বন্ধ থাকত আবার কখনো দেখা দিত। এমতাবস্থায় তন্দ্রাচ্ছন্ন ও জাগ্রত অবস্থার মাঝামাঝি থাকাকালে একজন আগন্তুক আমার নিকট আসলেন এবং বললেন: আপনি কি অনুভব করেছেন যে আপনি গর্ভবতী হয়েছেন? আমি যেন উত্তর দিলাম: আমি জানি না। তিনি বললেন: আপনি এই উম্মতের নেতা এবং নবীকে গর্ভে ধারণ করেছেন। এই ঘটনাটি ছিল সোমবার দিনের। তিনি বলেন: এটিই আমার গর্ভধারণের বিষয়টি আমার নিকট নিশ্চিত করেছিল। এরপর সময় অতিবাহিত হলো এবং যখন আমার প্রসবের সময় নিকটবর্তী হলো, তখন সেই আগন্তুক পুনরায় আমার নিকট আসলেন এবং বললেন: আপনি বলুন, ‘আমি তাঁকে এক অদ্বিতীয় সত্তার (আল্লাহর) আশ্রয়ে সমর্পণ করছি প্রত্যেক হিংসুকের অনিষ্ট থেকে।’ তিনি বলেন: আমি সেটি পাঠ করতাম।
আরও বর্ণিত আছে যে, মহান আল্লাহ যখন জুমুআর রাতে এবং রজব মাসে তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁর মাতা আমিনার গর্ভে সৃষ্টির ইচ্ছা করলেন, তখন সেই রাতে তিনি জান্নাতের রক্ষক রিজওয়ানকে ফিরদাউসের দরজাগুলো খুলে দেওয়ার আদেশ দিলেন। আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে ঘোষণা করা হলো যে, সুপ্ত ও সংরক্ষিত সেই নূর—যা থেকে পথপ্রদর্শক নবী আবির্ভূত হবেন—তা আজ রাতে তাঁর মাতার গর্ভে থিতু হয়েছে, যেখানে তাঁর সৃষ্টি পূর্ণতা পাবে এবং তিনি আত্মপ্রকাশ করবেন...
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারুল কাবীর ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ২১)
النَّاس بشيراً وَنَذِيرا.
وَقيل: حَملتْ برَسُول الله [صلى الله عليه وسلم]- فِي أيّام / 2 ظ. التَّشريق. واختُلف فِي زمَان حَملِها برَسُول الله -[صلى الله عليه وسلم]- فَقيل: تِسْعَة أشهر، وَقيل: عشرَة، وَقيل: ثَمَانِيَة، وَقيل: سَبْعَة، وَقيل: ستّة. وَقيل غير ذَلِك. وتوفيّ عبدُ الله والدُ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] بدار النَّابِغَة بِالْمَدِينَةِ، عِنْد أخوالِه بني عَديّ بن النَجَّار. هَذَا هُوَ الْمَشْهُور.
وأغربَ عبد الْغَنِيّ فَحكى قولا أَنه توفّي بالأبواء بَين مَكَّة وَالْمَدينَة. وَتُوفِّي عبد الله، ورسولُ الله [صلى الله عليه وسلم] حَمْلٌ على الصَّحِيح. قيل: قبل وِلَادَته بشهرين، وَقيل: توفّي وَله شَهْرَان، وَقيل: سَبْعَة أَشهرٍ، وَقيل: ثَمَانِيَة وَعِشْرُونَ شهرا.
ولعَبْد الله يَوْم توفّي خمسٌ وَعِشْرُونَ سنة، وَقيل: ثمانٍ وَعِشْرُونَ. وَقيل: ثَلَاثُونَ، وَقيل: ثَمَان عشرَة. وَترك أُمَّ أَيمن، وخمسةَ أَجمالٍ، وقِطعةَ غَنمٍ، وسيفاً، وَهُوَ مأثور، فورِثَ ذَلِك رسولُ الله [صلى الله عليه وسلم] .
মানুষের জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে।
বলা হয়েছে: তিনি আইয়ামে তাশরীকের দিনগুলোতে আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-কে গর্ভে ধারণ করেছিলেন। আর তাঁর গর্ভকাল সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে; বলা হয়েছে: নয় মাস, কেউ বলেছেন: দশ মাস, কেউ বলেছেন: আট মাস, কেউ বলেছেন: সাত মাস, আবার কেউ বলেছেন: ছয় মাস। এ ছাড়া আরও অন্যান্য মতও রয়েছে। আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর পিতা আবদুল্লাহ মদিনার দারুন নাবিগায় তাঁর মাতুল বংশ বনু আদি বিন নাজ্জারের নিকট মৃত্যুবরণ করেন। এটিই প্রসিদ্ধ মত।
আব্দুল গণী একটি বিরল মত বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মক্কা ও মদিনার মধ্যবর্তী স্থান আবওয়াতে মৃত্যুবরণ করেন। বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী আবদুল্লাহ যখন মৃত্যুবরণ করেন, তখন আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] মাতৃগর্ভে ছিলেন। বলা হয়েছে: তাঁর জন্মের দুই মাস পূর্বে; আবার বলা হয়েছে: তাঁর বয়স যখন দুই মাস তখন তিনি ইন্তেকাল করেন। কেউ বলেছেন: সাত মাস বয়সে, আবার কেউ বলেছেন: আটাশ মাস বয়সে।
মৃত্যুকালে আবদুল্লাহর বয়স ছিল পঁচিশ বছর; কেউ বলেছেন: আটাশ, কেউ বলেছেন: ত্রিশ, আবার কেউ বলেছেন: আঠারো বছর। তিনি উম্মে আয়মান, পাঁচটি উট, এক পাল ভেড়া এবং একটি তলোয়ার রেখে যান, যার নাম ছিল ‘মা’সুর’। আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এগুলোর উত্তরাধিকার লাভ করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারুল কাবীর ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ২২)
مَولِدُ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] الْمَشْهُور أنّ سيّدنا رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] ولِدَ بمكّةَ عَام الْفِيل، وَقيل: بعده بِثَلَاثِينَ عَاما. وَقيل بِأَرْبَعِينَ، فِي شهر ربيعٍ الأول، يَوْم الِاثْنَيْنِ. قيل: لعشرةٍ خَلَت مِنْهُ، حِين طلع الفجرُ، وَقيل: ثَانِيَة، وَقيل: ثَالِثَة، وَقيل: ثامنه، وَقيل: ثَانِي عشره. وَلم يذكر ابْن إِسْحَاق غَيره.
وَقيل: فِي صَفَر، وَقيل: فِي الثَّانِي عشر من شهر رَمَضَان، وَقيل: فِي شهر ربيع الآخر. وَالصَّحِيح الأوَّل.
وَكَانَ قدومُ أَصْحَاب الْفِيل قبل ذَلِك فِي المحرَّم. وليلةَ ميلاده انشقَّ إيوَان كِسرى حَتَّى سُمع صوتُهَ، وَسقط مِنْهُ أَربع عشرَة شُرفةً، وخمدت نارُ فَارس، وَلم تَخمد قبل ذَلِك بأَلفِ عامٍ، وغاضت بُحيرة ساوة. وَرَأَتْ أمُّه آمنةُ حِين. وَضعته كأنّه خرج مِنْهَا نورٌ أَضَاءَت مِنْهُ قصورُ الشَّام.
ووُلدَ [صلى الله عليه وسلم] / 3 و. مختوناً مَسْرُوراً، مَقْبُوضَة أصابعُ يَدَيْهِ، مُشِيرا بالسَّبَّابة كالمسبِّح بهَا، وَرُوِيَ أَنّ عبد الْمطلب خَتَنَه يومَ سابِعه، وَجعل لَهُ مأدُبةً، وسمّاه
রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর জন্ম সুপ্রসিদ্ধ মত এই যে, আমাদের নেতা রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] হস্তীবর্ষে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। এবং বলা হয়: এর ত্রিশ বছর পর; আবার বলা হয়: চল্লিশ বছর পর; রবিউল আউয়াল মাসে, সোমবার দিনে। বলা হয়: মাসের দশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর ফজর উদিত হওয়ার সময়; আবার বলা হয়: দ্বিতীয় দিনে; কেউ বলেছেন: তৃতীয় দিনে; কেউ বলেছেন: অষ্টম দিনে; আবার কেউ বলেছেন: দ্বাদশ দিনে। ইবনে ইসহাক এটি ব্যতীত অন্য কোনো মত উল্লেখ করেননি।
আবার বলা হয়: সফর মাসে; কেউ বলেছেন: রমজান মাসের দ্বাদশ তারিখে; আবার কেউ বলেছেন: রবিউস সানি মাসে। তবে প্রথমটিই সঠিক।
হস্তীবাহিনীর আগমন ঘটেছিল এর আগে মহররম মাসে। তাঁর জন্মের রাতে কিসরার রাজপ্রাসাদ বিদীর্ণ হয়ে গিয়েছিল এমনকি তার শব্দও শোনা গিয়েছিল, এবং সেখান থেকে চৌদ্দটি গম্বুজ খসে পড়েছিল। পারস্যের অগ্নি নির্বাপিত হয়ে গিয়েছিল, যা ইতিপূর্বে এক হাজার বছর পর্যন্ত নির্বাপিত হয়নি। আর সাওয়া হ্রদ শুকিয়ে গিয়েছিল। তাঁর মাতা আমিনা তাঁকে জন্মদানের সময় দেখেছিলেন যেন তাঁর থেকে একটি নূর নির্গত হলো, যার মাধ্যমে সিরিয়ার প্রাসাদসমূহ আলোকিত হয়ে উঠল।
তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] / ৩ ও. খতনা করা এবং নাভি কাটা অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর উভয় হাতের আঙুলগুলো মুষ্টিবদ্ধ ছিল এবং তর্জনী দ্বারা ইশারা করছিলেন যেন তিনি এর দ্বারা তাসবিহ পাঠ করছেন। বর্ণিত আছে যে, আব্দুল মুত্তালিব সপ্তম দিনে তাঁর খতনা করান, তাঁর জন্য ভোজের আয়োজন করেন এবং তাঁর নাম রাখেন
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারুল কাবীর ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
مُحَمَّدًا. وَرُوِيَ أنَّ جِبْرِيل عليه السلام خَتنه حِين طهَّر قلبَه [صلى الله عليه وسلم] وَكَانَ إِبْلِيس يخرق السَّمَوَات السبعَ، فَلَمَّا وُلد عِيسَى [صلى الله عليه وسلم] حُجب من ثَلَاث سموات، وَكَانَ يصل إِلَى أَربَعٍ، فَلَمَّا وُلدَ مُحَمَّد [صلى الله عليه وسلم] حُجب من السَّبع، ورُميت الشَّيَاطِين بالشُّهب الثواقب. وَرُوِيَ أنّ إِبْلِيس رنَّ أربعَ رنّات، رنَّةً حِين لُعنَ، ورنّةً حِين أُهبط، ورنّةً حِين ولُد رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] ورنّةً حِين نزلت فَاتِحَة الْكتاب.
مَنْ أَرضَعَه وحَضَنه [صلى الله عليه وسلم] لمّا ولَدتْه [صلى الله عليه وسلم] أُمُّه أرضَعته سَبْعَة أَيَّام، ثمَّ أَرضعته ثُوَيْبَةُ الأَسلمية مولاة أبي لَهَبٍ أيّاماً، وأرضعت مَعَه أَبَا سَلمة عبد الله بن عبد الأَسَد المخزوميّ بلَبن ابْنهَا مَسْرُوح، وَهِي أمُّ عمِّه حمزةَ من الرَضَاعة.
وَكَانَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] يَصِلُها وَهِي بِمَكَّة. وَكَانَت خديجةُ تُكرمها، وَقيل: إِنَّهَا سَأَلت أَبَا لَهَبٍ فِي أنْ تبتاعها مِنْهُ لتِعتقِها فَلم يفعل، فلمّا هَاجر رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] إِلَى الْمَدِينَة أَعتقها أَبُو لَهَبٍ وَقيل: أعْتقهَا أَبُو لَهَبٍ حِين بشَّرتْه بِوِلَادَة رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] وَكَانَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] يبْعَث إِلَيْهَا من الْمَدِينَة بصِلةٍ وكِسوةٍ، حَتّى جَاءَهُ خبرُها أَنَّهَا قد توفيت مَرجِعَه من خيبَر، فَقَالَ: مَا فعل ابنُها مَسْروح؟ فَقيل: مَاتَ
মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। বর্ণিত আছে যে, জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) যখন তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অন্তর পবিত্র করেছিলেন তখন তাঁর খতনা করেছিলেন। ইবলিস সাত আসমানে বিচরণ করত; যখন ঈসা (আলাইহিস সালাম) জন্মগ্রহণ করলেন, তখন তাকে তিন আসমান থেকে বাধা দেওয়া হলো এবং সে চার আসমান পর্যন্ত পৌঁছাতে পারত। অতঃপর যখন মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জন্মগ্রহণ করলেন, তখন তাকে সাত আসমান থেকেই নিষিদ্ধ করা হলো এবং শয়তানদেরকে প্রদীপ্ত উল্কাপিণ্ড দ্বারা বিতাড়িত করা হলো। বর্ণিত আছে যে, ইবলিস চারবার উচ্চৈঃস্বরে আর্তনাদ করেছিল: একবার যখন তাকে অভিশপ্ত করা হলো, একবার যখন তাকে (জান্নাত থেকে) নামিয়ে দেওয়া হলো, একবার যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জন্মগ্রহণ করলেন এবং একবার যখন ফাতিহাতুল কিতাব নাজিল হলো।
যাঁরা তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুগ্ধদান করেছেন এবং লালন-পালন করেছেন যখন তাঁর মা তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জন্ম দিলেন, তিনি সাত দিন তাঁকে দুগ্ধদান করেন। এরপর আবু লাহাবের মুক্তদাসী সুওয়াইবা আল-আসলামিয়া কয়েকদিন তাঁকে স্তন্যদান করেন। তিনি তাঁর সাথে আবু সালামাহ আবদুল্লাহ ইবনে আব্দুল আসাদ আল-মাখজুমিকেও তাঁর পুত্র মাসরুহ-এর দুধ পান করান। তিনি তাঁর চাচা হামজারও দুগ্ধমাতা ছিলেন।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কায় থাকাকালীন তাঁর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতেন। খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) তাঁকে সম্মান করতেন। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি (খাদিজা) তাঁকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে আবু লাহাবের কাছ থেকে কিনে নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সে তাতে রাজি হয়নি। অতঃপর যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদীনায় হিজরত করলেন, তখন আবু লাহাব তাঁকে মুক্ত করে দেয়। অন্যমতে, আবু লাহাব তাঁকে তখনই মুক্ত করেছিল যখন তিনি তাকে রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জন্মের সুসংবাদ দিয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদীনা থেকে তাঁর কাছে উপহার ও পরিধেয় বস্ত্র পাঠাতেন, অবশেষে খয়বর থেকে ফেরার পথে তাঁর কাছে সংবাদ পৌঁছাল যে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "তাঁর পুত্র মাসরুহ কেমন আছে?" বলা হলো: "সে মারা গেছে।"
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারুল কাবীর ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
قبلهَا. وَلم يبقَ من قرابتها أَحدٌ. واختُلف فِي إسْلَامهَا، وَرَأى أَبَا لَهَب بعضُ أهلهِ فِي النّوم / 3 ظ. بِشَرِّ حَيْبَةٍ، فَقَالَ: مَاذَا لقيتَ؟ قَالَ أَبُو لَهَب: لم نَذقْ بَعدَكم رخاءً، غير أَنِّي سُقيتُ فِي هَذِه بعتاقتي ثُويبة. وَأَشَارَ إِلَى النُقرة الَّتِي بَين الإِبهام وَالَّتِي تَلِيهَا من الْأَصَابِع.
ثمَّ أَرضعته [صلى الله عليه وسلم] أُمُّ كَبشةَ، حليمةُ بنت أبي ذُؤَيْب عبد الله بن الْحَارِث السَّعْديّة، فَروِيَ عَنْهَا أَنَّهَا قَالَت: لما وضعتهُ فِي حِجْري أقبل عَلَيْهِ ثَديايَ بِمَا شَاءَ من اللَّبن، فَشرب حَتَّى رُوِيَ، وَشرب مَعَه أَخُوهُ حَتَّى رُوِيَ، وناما، وَمَا كَانَ أَخُوهُ ينَام قبل ذَلِك، وَمَا كَانَ فِي ثَدييّ مَا يرويهِ، وَلَا فِي شارفِنا مَا يُغذِّيه، وَقَامَ زَوجي إِلَى شارفنا، فَنظر إِلَيْهَا فَإِذا هِيَ حافلٌ، فحلَب مِنْهَا مَا شرب، وشربت حَتَّى انتهينا ريا وشبعاً. فبتنا بِخَير لَيْلَة، وَلما رَجعْنَا - تَعْنِي إِلَى بَلَدهَا - ركبت أَتَانِي، وحملتُه عَلَيْهَا، فوَاللَّه لَقَطعتْ بالرَّكب مَا يقدر عَلَيْهَا شيءٌ من حُمُرهم، حَتَّى إنَّ صَواحبي لَيقلْنَ لي: ويحكِ يَا بنت أبي ذُؤيب، ارْبَعي علينا، أَلَيْسَ هَذِه أتانُك الَّتِي كنتِ خرجتِ عَلَيْهَا؟ فَأَقُول لهنّ: بلَى وَالله، إِنَّهَا لهيَ. فيقلن: وَالله إنّ لَهَا لَشأناً. وَكَانَت قبل ذَلِك قد أضرّ بالرّكبِ انقطاعُها عَنْهُم لِضعفها وهزالها. قَالَت حليمة فقدِمنا منازلَنا، وَمَا أعلمُ أَرضًا من أرضِ الله أَجدَبَ مِنْهَا، وَكَانَت غَنمي تروح عليّ حِين قَدِمْنا بِهِ مَعنا شِباعاً،
তার পূর্বে। তার নিকটাত্মীয়দের আর কেউ অবশিষ্ট ছিল না। তার ইসলাম গ্রহণের বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। তাঁর পরিবারের কেউ কেউ আবু লাহাবকে স্বপ্নে / ৩ খ. অত্যন্ত শোচনীয় অবস্থায় দেখেছিল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: আপনি কীসের সম্মুখীন হয়েছেন? আবু লাহাব বললেন: তোমাদের ছেড়ে আসার পর আমি আর কোনো স্বস্তি পাইনি, তবে কেবল সুওয়াইবাহকে মুক্ত করার বিনিময়ে আমাকে এই জায়গা থেকে পানি পান করানো হয়। আর তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি এবং তার পাশের আঙুলের মধ্যবর্তী গর্তের দিকে ইশারা করলেন।
অতঃপর তাঁকে [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] স্তন্যদান করেন উম্মু কাবশাহ হালিমা বিনতে আবি যুয়াইব আবদুল্লাহ বিন হারিস আস-সাদিয়্যাহ। তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: যখন আমি তাঁকে আমার কোলে স্থাপন করলাম, তখন আমার স্তনদ্বয় তাঁর জন্য কাম্য পরিমাণ দুধে পূর্ণ হয়ে গেল। ফলে তিনি তৃপ্তিভরে পান করলেন এবং তাঁর সাথে তাঁর ভাইও তৃপ্তিভরে পান করল। এরপর তারা উভয়ে ঘুমিয়ে পড়ল, অথচ এর আগে তাঁর ভাই ঘুমাতে পারত না। আমার স্তনে তাঁকে তৃপ্ত করার মতো যথেষ্ট দুধ ছিল না এবং আমাদের বৃদ্ধা উটনীতেও তাঁকে পুষ্টি জোগানোর মতো কিছু ছিল না। আমার স্বামী আমাদের সেই বৃদ্ধা উটনীর কাছে গেলেন এবং দেখলেন সেটি দুধে পূর্ণ হয়ে আছে। তিনি তা থেকে দোহন করলেন এবং পান করলেন, আর আমিও পান করলাম যতক্ষণ না আমরা পুরোপুরি তৃপ্ত হলাম। আমরা অতি উত্তম একটি রাত অতিবাহিত করলাম। অতঃপর যখন আমরা ফিরে চললাম—অর্থাৎ তাঁর নিজ জনপদে—আমি আমার গাধীর ওপর আরোহণ করলাম এবং তাঁকে তার ওপর বহন করলাম। আল্লাহর কসম, সেটি কাফেলার অগ্রভাগে এমনভাবে পথ চলতে লাগল যে তাদের কোনো গাধাই তার নাগাল পাচ্ছিল না। এমনকি আমার সঙ্গিনীরা আমাকে বলতে লাগল: তোমার দুর্ভোগ হোক হে আবু যুয়াইবের কন্যা! আমাদের জন্য একটু ধীর হও; এটি কি সেই গাধী নয় যার ওপর চড়ে তুমি এসেছিলে? আমি তাদের বলতাম: আল্লাহর কসম, হ্যাঁ, এটিই সেই গাধী। তখন তারা বলত: আল্লাহর কসম, এর নিশ্চয়ই কোনো বিশেষ রহস্য আছে। অথচ ইতিপূর্বে দুর্বলতা ও কৃশতার কারণে সেটি পিছিয়ে পড়ে কাফেলার জন্য কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। হালিমা বলেন: এরপর আমরা আমাদের আবাসে পৌঁছালাম, আর আল্লাহর জমিনের মধ্যে এর চেয়ে অধিক অনুর্বর কোনো ভূমি আছে বলে আমার জানা ছিল না। অথচ আমরা যখন তাঁকে সাথে নিয়ে আসলাম, তখন আমার বকরিগুলো সন্ধ্যাবেলা পূর্ণ তৃপ্ত অবস্থায় আমার কাছে ফিরে আসত।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারুল কাবীর ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فنحلُب ونشربُ، وَمَا يحلُب إنسانٌ قَطْرة لبنٍ، وَمَا يجدهَا فِي ضَرع، حَتَّى كَانَ الحاضرُ من قَوْمنا يَقُولُونَ لرعاتهم: ويْلَكم اسرَحوا حَيْثُ يَسرَحُ راعي بنت أبي ذُؤَيب [فتروح أغنامهم جياعاً مَا تَبِضّ بقطرة لبنٍ، وَتَروح غنمي شِباعاً لَبَنًا] .
وأرضعتْ مَعَه [صلى الله عليه وسلم] ابنَ عمِّه أَبَا سُفْيَان بن الْحَارِث بن عبد الْمطلب بلبَن ابْنهَا / 4 و. عبد الله أخي أُنيَسةَ، وَقيل: حُذَافة وَهِي الشَّيماء، أَوْلَاد الْحَارِث بن عبد الْعُزَّى بن رِفَاعَة السَّعْدِيّ. وَقد قيل: إِنَّه أسلم، والشَّيماء هِيَ الَّتِي كَانَت تَحضُنُ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] مَعَ أُمِّها وتُوَرّكه، وَهِي الَّتِي قدِمتْ عَلَيْهِ فِي وَفد هَوازن.
وَكَانَ حَمزةُ عمُّ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] مُستَرضَعاً لَهُ فِي بَني سَعْد بن بَكْر، فأرضعت أمُّه رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] يَوْمًا وَهُوَ عِنْد أُمِّه حليمة، وَكَانَ حمزةُ رضيعَ النبيِّ [صلى الله عليه وسلم] من وَجْهَيْن، من جِهَة ثُويْبَة، وَمن جِهَة السَّعْديّة.
وَعند حليمة شُقَّ صَدره [صلى الله عليه وسلم] . ومُلئ حكمةَ وإيماناً، وَرُوِيَ عَنْهَا أَنَّهَا قَالَت: كَانَ يشبُّ فِي الْيَوْم شبابَ الصبيِّ فِي شهرٍ، فَلَمَّا شبّ ردّته إِلَى أمِّه وَهُوَ ابْن خمس سِنِين وشهرٍ، وَقيل: أَربع سِنِين، وَقيل: سنتَيْن وشهرٍ.
وقدمت حليمةُ على رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] مكةَ وَقد تزوجّ خديجةَ، فشكَتْ إِلَيْهِ
আমরা দোহন করতাম এবং পান করতাম, অথচ অন্য কেউ এক ফোঁটা দুধও দোহন করতে পারত না এবং পালের ওলানেও তা খুঁজে পেত না। এমনকি আমাদের গোত্রের লোকেরা তাদের রাখালদের বলত: "তোমাদের ধ্বংস হোক! তোমরা সেখানে চরাও যেখানে আবু জুয়াইবের কন্যার রাখাল চরায়।" ফলে তাদের ছাগলগুলো ক্ষুধার্ত অবস্থায় ফিরে আসত, এক ফোঁটা দুধও দিত না, আর আমার ছাগলগুলো দুধে পরিপূর্ণ ও তৃপ্ত হয়ে ফিরে আসত।
তিনি (হালিমা) তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাথে তাঁর চাচাতো ভাই আবু সুফিয়ান ইবনুল হারিস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবকেও তাঁর নিজ পুত্র আব্দুল্লাহর দুধ পান করিয়েছিলেন। এই আব্দুল্লাহ ছিলেন উনাইসার ভাই, আর বলা হয়ে থাকে: হুযাফা—যিনি শায়মা নামে পরিচিত—তাঁদের ভাই। তাঁরা হারিস ইবনে আব্দুল উযযা ইবনে রিফায়া আস-সাদীর সন্তান। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি (আবু সুফিয়ান) ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। আর শায়মা ছিলেন তিনি, যিনি তাঁর মায়ের সাথে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে লালন-পালন করতেন এবং কোলে নিতেন। তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি হাওয়াযিন গোত্রের প্রতিনিধি দলের সাথে রাসূলুল্লাহর কাছে এসেছিলেন।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চাচা হামযাহ বনু সাদ ইবনে বকর গোত্রে স্তন্যদানের জন্য অবস্থান করছিলেন। তাঁর (হামযাহর) মা একদিন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দুধ পান করিয়েছিলেন যখন তিনি তাঁর মা হালিমার কাছে ছিলেন। সুতরাং হামযাহ (রা.) দুই দিক থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দুধভাই ছিলেন: সুওয়াইবার দিক থেকে এবং সাদীয়্যার (হালিমা) দিক থেকে।
আর হালিমার কাছে থাকাকালীনই তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বক্ষ বিদীর্ণ করা হয় এবং তা প্রজ্ঞা ও ঈমান দ্বারা পরিপূর্ণ করে দেওয়া হয়। তাঁর (হালিমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলতেন: তিনি একদিনে ততটুকু বৃদ্ধি পেতেন যতটুকু অন্য বালক এক মাসে বৃদ্ধি পায়। যখন তিনি বড় হলেন, তখন হালিমা তাঁকে তাঁর মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিলেন, তখন তাঁর বয়স ছিল পাঁচ বছর এক মাস; মতান্তরে চার বছর, আবার কেউ বলেছেন দুই বছর এক মাস।
হালিমা মক্কায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে আসলেন যখন তিনি খাদিজা (রা.)-কে বিবাহ করেছিলেন। তখন তিনি তাঁর কাছে অভিযোগ করলেন...
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারুল কাবীর ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ২৬)
جَدْبَ الْبِلَاد، فكلّم لَهَا خَدِيجَة فأعطتها أَرْبَعِينَ رَأْسا من الْغنم، وبعيراً مُوقَّعاً للظعينة، أَي مذلَّلاً، فَانْصَرَفت إِلَى أَهلهَا.
قَالَ الشَّيْخ شرف الدّين الدمياطي رحمه الله: وَلَا يُعرف لَهَا صُحبة وَلَا إِسْلَام قَالَ: وَقد وَهلَ فِيهَا غير واحدٍ، فذكروها فِي الصَّحَابَة، وَلَيْسَ بِشَيْء، وحَضنَته [صلى الله عليه وسلم] أُمُّ أَيْمَن بَرَكةُ الحَبشيّة مَعَ أمِّه، وَبعد موتِها، وَكَانَ وَرِثها من أبيهِ، وَكَانَت دايتَه. وَقَالَت: مَا رَأَيْت رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] شكا جَوعاً قطّ، وَلَا عَطَشاً، وَكَانَ يَغْدُو إِذا أصبح فيشرب من ماءِ زَمْزَم شربةً، فربّما عَرضتُ عَلَيْهِ الْغذَاء فَيَقُول: أَنا شَبعان.
وَفَاة آمِنَة أمّ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] / 4 ظ
وَرُوِيَ أنَّ آمِنَة خرجت برَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] وَهُوَ ابْن سِتّ سِنِين إِلَى أَخْوَاله بني عَديّ بن النجّار بِالْمَدِينَةِ تزورهم بِهِ، وَمَعَهَا أُمُّ أَيْمَن تحضُنه، وهم على بَعِيرَيْنِ، فَنزلت بِهِ فِي دَار النَّابِغَة، فأقامت بِهِ عِنْدهم شهرا، فَكَانَ رَسُول الله
দেশের দুর্ভিক্ষ, তাই তিনি তাঁর জন্য খাদিজার সাথে কথা বললেন, ফলে তিনি তাঁকে চল্লিশটি ছাগল এবং হাওদা বহনের উপযোগী একটি বশীভূত উট দান করলেন। অতঃপর তিনি নিজ পরিবারের নিকট ফিরে গেলেন।
শেখ শরফ উদ্দিন আদ-দুমইয়াতি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন: তাঁর সাহাবিয়াত বা ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি জানা যায় না। তিনি বলেন: এ ব্যাপারে একাধিক ব্যক্তি ভ্রান্তির শিকার হয়েছেন এবং তাঁকে সাহাবীদের মধ্যে গণ্য করেছেন, যা ভিত্তিহীন। উম্মে আয়মান বারাকাহ আল-হাবাশিয়্যাহ রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মায়ের সাথে এবং তাঁর ইনতিকালের পর তাঁকে লালন-পালন করেন। তিনি তাঁকে পিতার উত্তরাধিকার হিসেবে লাভ করেছিলেন এবং তিনিই ছিলেন তাঁর ধাত্রী। তিনি বলেন: আমি কখনো আল্লাহর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ক্ষুধা বা তৃষ্ণার অভিযোগ করতে দেখিনি। তিনি ভোরে উঠে জমজমের পানি পান করতেন। কখনো আমি তাঁকে দুপুরের খাবারের প্রস্তাব দিলে তিনি বলতেন: আমি তৃপ্ত।
রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাতা আমিনার ইনতিকাল / ৪ (পৃষ্ঠার উল্টো পিঠ)
বর্ণিত আছে যে, আমিনা রাসূলুল্লাহকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাথে নিয়ে মদিনায় তাঁর মাতুলালয় বনু আদি ইবনে নাজ্জারের গোত্রে সাক্ষাতের জন্য বের হলেন, তখন তাঁর বয়স ছিল ছয় বছর। তাঁর সঙ্গে উম্মে আয়মান ছিলেন যিনি তাঁর দেখাশোনা করতেন। তাঁরা দুটি উটের আরোহী ছিলেন। তিনি তাঁকে নিয়ে দারুন নাবিগাহ-তে অবস্থান করেন এবং সেখানে এক মাস অবস্থান করেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ...
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারুল কাবীর ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
[صلى الله عليه وسلم] يذكر أموراً كَانَت فِي مقَامه ذَلِك، وَنظر إِلَى الدَّار حِين هَاجر إِلَى الْمَدِينَة فَقَالَ: هَا هُنَا نزلت بِي أُمِّي، وَفِي هَذِه الدَّار قُبِر أبي عبد الله، وأحسنتُ العومَ فِي بِئْر بني عَديّ بن النجار.
وَكَانَ قومٌ يَخْتَلِفُونَ ينظرُونَ إِلَيْهِ، فَقَالَت أُمُّ أَيْمن: فسمعتُ أحدَهم يَقُول: هُوَ نبيُّ هَذِه الأُمّة، وَهَذِه دَار هجرته، فوَعيْتُ ذَلِك كلَّه من كَلَامه. ثُمَّ رجعَتْ بِهِ أمُّه إِلَى مكّة، فلمّا كَانُوا بالأَبْواء تُوفِّيت آمِنَة بنت وهب، ودُفنت هُنَاكَ، فرجعتْ بِهِ أُمُّ أَيمن على البعيرَيْن اللذيْن قدمِوا عَلَيْهِمَا إِلَى مكّة. فَلَمَّا مرَّ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] فِي عُمرة الحُدَيْبيّة بالأَبْواء قَالَ: إنّ الله قد أذِنَ لمحمدٍ فِي زِيَارَة قبر أمّه، فَأَتَاهُ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] فأصلحه، وَبكى عِنْده، وَبكى الْمُسلمُونَ لبكاء رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] فَقيل لَهُ، فَقَالَ: أدركَتْني رحمتُها فبكيتُ.
وَقيل: تُوفّيت آمنةُ أُمُّ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] بِمَكَّة، ودُفنت فِي شِعبٍ من شِعاب الحَجون بمكَّةَ. حَكَاهُ ابْن الْأَثِير قَالَ: وَهُنَاكَ حطَّ النبيُّ [صلى الله عليه وسلم] على ابْن مَسْعُود لَيْلَة الجِنِّ. وَقيل: توفيت وَله -[صلى الله عليه وسلم]- ثَمَان سِنِين، وَقيل: سبعٌ، وَقيل: أربعٌ. والمشهورُ مَا حكيناه أَولا من أَنَّهَا توفيت بالأَبْواء وَرَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] ابْن ستِ سِنِين، وَبِذَلِك جزم ابْن سعد وَابْن فَارس وَالشَّيْخ شرف الدّين الدمياطيّ، وَغَيرهم، رَحِمهم الله تَعَالَى.
[আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক] তিনি তাঁর সেই অবস্থানের সময়কার কিছু বিষয় স্মরণ করছিলেন। তিনি যখন মদিনায় হিজরত করলেন, তখন একটি বাড়ির দিকে তাকিয়ে বললেন: "এখানে আমার মা আমাকে নিয়ে নেমেছিলেন, আর এই বাড়িতেই আমার পিতা আবদুল্লাহ সমাহিত হয়েছিলেন। আমি বনু আদি ইবনে নাজ্জারের কূপে বেশ ভালোভাবে সাঁতার কাটা শিখেছিলাম।"
সেখানে একদল লোক যাতায়াত করত এবং তাঁর দিকে তাকাচ্ছিল। উম্মে আয়মান বলেন: "আমি তাদের একজনকে বলতে শুনলাম—তিনিই এই উম্মতের নবী এবং এটিই তাঁর হিজরতের স্থান। আমি তাঁর কথা থেকে এই সবটুকু মনে রাখলাম।" এরপর তাঁর মা তাঁকে নিয়ে মক্কায় ফিরে আসছিলেন। তাঁরা যখন আবওয়া নামক স্থানে পৌঁছালেন, তখন আমিনা বিনতে ওয়াহাব ইন্তেকাল করলেন এবং সেখানেই তাঁকে দাফন করা হলো। এরপর উম্মে আয়মান সেই দুটি উটের পিঠে চড়িয়ে তাঁকে মক্কায় ফিরিয়ে নিয়ে আসলেন, যেগুলোতে চড়ে তাঁরা এসেছিলেন। যখন আল্লাহর রাসুল [আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক] হুদায়বিয়ার উমরার সময় আবওয়া অতিক্রম করছিলেন, তখন তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ মুহাম্মাদকে তাঁর মায়ের কবর যিয়ারত করার অনুমতি দিয়েছেন।" অতঃপর আল্লাহর রাসুল [আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক] সেখানে এলেন এবং কবরটি সংস্কার করলেন। তিনি সেখানে কাঁদলেন এবং আল্লাহর রাসুলের [আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক] ক্রন্দনে অন্য মুসলমানরাও কেঁদে ফেললেন। এ বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: "তাঁর প্রতি মমত্ববোধ আমাকে আবেগাপ্লুত করেছে, তাই আমি কাঁদলাম।"
কারো কারো মতে, আল্লাহর রাসুলের [আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক] মা আমিনা মক্কায় ইন্তেকাল করেছেন এবং মক্কার হাজুন অঞ্চলের একটি গিরিপথে তাঁকে দাফন করা হয়েছে। ইবনুল আসির এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "সেখানেই জিনদের রাতে নবী [আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক] ইবনে মাসউদের সাথে অবস্থান করেছিলেন।" আরও বলা হয়েছে যে, নবী [আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক]-এর বয়স যখন আট বছর তখন তিনি ইন্তেকাল করেন; কেউ বলেন সাত বছর, আবার কেউ বলেন চার বছর। তবে প্রসিদ্ধ মত সেটিই যা আমরা প্রথমে বর্ণনা করেছি যে, তিনি আবওয়াতে ইন্তেকাল করেন যখন আল্লাহর রাসুলের [আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক] বয়স ছিল ছয় বছর। ইবনে সাদ, ইবনে ফারিস, শেখ শরাফউদ্দিন দিমইয়াতি এবং অন্যান্যগণ এ বিষয়ে সুনিশ্চিত মত ব্যক্ত করেছেন, আল্লাহ তাআলা তাঁদের সকলের প্রতি রহম করুন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারুল কাবীর ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ضَمُّ عبد الْمطلب ثمَّ أبي طَالب رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] / 5
وَرُوِيَ أنّ عبد الْمطلب ضمَّ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] إِلَيْهِ بعد وَفَاة أمّه، ورقّ عَلَيْهِ رِقّةً لم يرقَّها على وَلَدِه، وَكَانَ يقرِّبه مِنْهُ ويُدْنيه، ويَدخل عَلَيْهِ إِذا خَلَا وَإِذا نامَ، وَكَانَ يَجلس على فرَاشه فَيَأْخذهُ أعمامُه ليؤخِّروه عَنهُ، فَيَقُول عبد الْمطلب إِذا رأى ذَلِك: دَعُوا ابْني، إِنَّه لَيؤنِسُ مُلْكاً. وَفِي رِوَايَة: دَعوا ابْني فوَاللَّه إنَّ لَهُ لَشأناً. وَقَالَ عبد الْمطلب لأمّ أَيْمن، وَكَانَت تحضنُ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] : يَا بَرَكة لَا تغفلي عَن ابْني فإنّي وجدتُه مَعَ غلمانٍ قَرِيبا من السِّدْرة، وإنّ أهل الْكتاب يَزْعمُونَ أنّ ابْني نبيُّ هَذِه الأمّة.
وَكَانَ عبد الْمطلب لَا يَأْكُل طَعَاما إِلَّا قَالَ: عليَّ بِابْني. فيُؤتى بِهِ إِلَيْهِ. ولمّا حَضرته الْوَفَاة أوصى أَبَا طَالب بِحِفْظ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] . وحِياطته. وَمَات فدُفن بالحَجون، وَهُوَ يَوْمئِذٍ ابْن اثْنَتَيْنِ وَثَمَانِينَ سنة، وَقيل: خمس وَتِسْعين، وَقيل: مائةٍ وعشرٍ، وَقيل: مائةٍ وَعشْرين، وَقيل: مائةٍ وَأَرْبَعين سنة.
سُئل رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] أَتذْكر موتَ عبد الْمطلب؟ قَالَ: نعم، أَنا يَوْمئِذٍ ابْن ثَمَان سِنِين. قَالَه الشَّيْخ شرف الدّين الدمياطي، وَجزم بِهِ، وَهُوَ الْمَشْهُور، وَقيل: تُوفِّي عبد المطَّلب، ولرسول الله [صلى الله عليه وسلم] ستُ سِنِين، وَقيل: عشرٌ، وَقيل:
আব্দুল মুত্তালিব ও অতঃপর আবু তালিব কর্তৃক আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-কে লালন-পালনের ভার গ্রহণ / ৫
বর্ণিত আছে যে, আব্দুল মুত্তালিব তাঁর মাতার ইন্তেকালের পর আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-কে নিজের আশ্রয়ে গ্রহণ করেন এবং তাঁর প্রতি এমন মমতা প্রদর্শন করেন যা তিনি তাঁর নিজের সন্তানদের প্রতিও করেননি। তিনি তাঁকে নিজের অত্যন্ত নিকটে রাখতেন এবং কাছে টেনে নিতেন। তিনি যখন নির্জনে থাকতেন কিংবা ঘুমানোর সময়ও তাঁর নিকট প্রবেশ করতেন। তিনি (রাসূল) তাঁর বিছানায় বসতেন, তখন তাঁর চাচারা তাঁকে সরিয়ে দিতে চাইলে আব্দুল মুত্তালিব তা দেখে বলতেন: "আমার পুত্রকে ছেড়ে দাও, সে তো রাজকীয় মহিমা অনুভব করছে।" অন্য এক বর্ণনায় আছে: "আমার পুত্রকে ছেড়ে দাও, আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই তার এক মহান ভবিষ্যৎ রয়েছে।" আব্দুল মুত্তালিব উম্মে আয়মানকে বললেন—যিনি আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-কে লালন-পালন করতেন— "হে বারাকাহ, আমার পুত্রের ব্যাপারে অসতর্ক হয়ো না; কেননা আমি তাকে কুল গাছের নিকট বালকদের সাথে পেয়েছি এবং আহলে কিতাবগণ দাবি করে যে, আমার এই পুত্র এই উম্মতের নবী হবে।"
আব্দুল মুত্তালিব কোনো খাবারই গ্রহণ করতেন না যতক্ষণ না বলতেন: "আমার পুত্রকে আমার কাছে নিয়ে এসো।" তখন তাঁকে তাঁর কাছে নিয়ে আসা হতো। যখন তাঁর মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো, তিনি আবু তালিবকে আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর হেফাযত ও রক্ষণাবেক্ষণ করার অসিয়ত করে গেলেন। তিনি মৃত্যুবরণ করলে হাজুন নামক স্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। সে সময় তাঁর বয়স ছিল বিরাশি বছর। কারো মতে পঁচানব্বই বছর, কারো মতে একশ দশ বছর, কারো মতে একশ বিশ বছর এবং কারো মতে একশ চল্লিশ বছর।
আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, "আপনি কি আব্দুল মুত্তালিবের মৃত্যুর কথা স্মরণ করতে পারেন?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, তখন আমার বয়স ছিল আট বছর।" এটি শায়খ শরফুদ্দিন আদ-দামইয়াতি বর্ণনা করেছেন এবং এর ওপরই দৃঢ় মত ব্যক্ত করেছেন, আর এটিই প্রসিদ্ধ। তবে কারো মতে যখন আব্দুল মুত্তালিব ইন্তেকাল করেন তখন আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর বয়স ছিল ছয় বছর, কারো মতে দশ বছর, আবার কারো মতে...
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারুল কাবীর ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ثلاثٌ، وَهُوَ أبعد الْأَقْوَال. ثمَّ كفله عمُّه أَبُو طَالب بعد وَفَاة عبد المطَّلب، وَكَانَ بِهِ رَفِيقًا، وَكَانَ يُحبّه حُبَّاً شَدِيدا لَا يُحبّه وَلَدَه، وَكَانَ لَا ينَام إلاّ إِلَى جَنبه، ويخرجُ فَيخرج مَعَه، وَكَانَ يَخصّه بِالطَّعَامِ، وَكَانَ إِذا أكل عِيالُ أبي طَالب فُرادى أَو جَمِيعًا لم يَشبعوا، وَإِذا أكل مَعَهم رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] شبِعوا، فَكَانَ إِذا أَرَادَ أَن يُغدِّيهم أَو / 5 ظ. يُعشِّيهم يَقُول: كَمَا أَنْتُم حَتَّى يَأْتِي ابْني، فَيَأْتِي رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] فيأكل مَعَهم. فيَفصِلون من طعامهم، وَكَانَ الصّبيان يُصْبِحُونَ شعثاً رُمْصَاً، ويَصبح رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] دَهيناً كحيلاً، وطهّره الله من دَنَس الْجَاهِلِيَّة، وَمن كل عَيبٍ، فَلم يعظّم لَهُم صَنَماً قطُّ، وَلم يحضر مَشهداً من مَشاهد كفرِهم، وَكَانُوا يطلبونه لذَلِك فَيمْتَنع ويعصمه الله تَعَالَى من ذَلِك. وَكَانَ يُعرَفُ فِي قومه بالأَمين، لِما شاهدوه من أَمانته وصِدْق طَهَارَته، وَصِفَاته العَليّة [صلى الله عليه وسلم]
خُرُوج النبيّ [صلى الله عليه وسلم] إِلَى الشَّام ثمَّ شهودُه بُنْيَانَ الْكَعْبَة لمّا بلغ النبيُّ [صلى الله عليه وسلم] اثْنَتَيْ عشرَة سنة وشهرين وَعشرَة أَيَّام، وَقيل: تسعَ سِنِين. خرج مَعَ عمّه أبي طَالب إِلَى الشَّام حَتَّى بلغ بُصْرى فَرَآهُ بَحيري الرَّاهبُ فَعرفهُ بصفتِه فجاءَ وأخذَ بِيَدِهِ، وَقَالَ: هَذَا سيّد الْعَالمين، هَذَا رَسُول
তিন (বছর), আর এটি সবচেয়ে দূরবর্তী মত। অতঃপর আব্দুল মুত্তালিবের ইন্তেকালের পর তাঁর চাচা আবু তালিব তাঁর লালন-পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি তাঁর প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ছিলেন এবং তাঁকে এতোটাই গভীরভাবে ভালোবাসতেন যে নিজের সন্তানদেরও তেমন ভালোবাসতেন না। তিনি তাঁকে ছাড়া ঘুমাতেন না এবং যেখানেই যেতেন তাঁকে সাথে নিয়ে যেতেন। তিনি তাঁকে খাবারের ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার দিতেন। আবু তালিবের পরিবারের সদস্যরা যখন একা একা বা একত্রে খেত, তখন তারা তৃপ্ত হতো না; কিন্তু যখন আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তাদের সাথে খেতেন, তখন তারা তৃপ্ত হতো। তাই যখন তিনি তাদের দুপুরের বা / ৫ বি. রাতের খাবার খাওয়াতে চাইতেন, তখন বলতেন: তোমরা স্থির থাকো যতক্ষণ না আমার পুত্র আসে। অতঃপর আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] আসতেন এবং তাদের সাথে খেতেন। ফলে খাবার খাওয়ার পরও অতিরিক্ত থেকে যেত। সকালে অন্য বালকেরা যখন এলোমেলো চুলে এবং চোখে পিঁচুটি নিয়ে ঘুম থেকে উঠত, তখন আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-কে দেখা যেত তৈলাক্ত চুলে এবং সুরমা লাগানো চোখে। আল্লাহ তাঁকে জাহেলিয়াতের পঙ্কিলতা এবং সকল প্রকার দোষ-ত্রুটি থেকে পবিত্র রেখেছিলেন। তিনি কখনো তাদের কোনো মূর্তিকে সম্মান করেননি এবং তাদের কুফরি মেলা বা অনুষ্ঠানগুলোতে উপস্থিত হননি। তারা তাঁকে এর জন্য ডাকলেও তিনি বিরত থাকতেন এবং মহান আল্লাহ তাঁকে তা থেকে রক্ষা করতেন। তাঁর আমানতদারি, পবিত্রতা ও সুউচ্চ গুণাবলির কারণে তিনি তাঁর কওমের নিকট 'আল-আমিন' (বিশ্বস্ত) নামে পরিচিত ছিলেন [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]
নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর শামে গমন এবং অতঃপর কাবার পুনর্নির্মাণে তাঁর উপস্থিতি যখন নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর বয়স বারো বছর দুই মাস দশ দিন হলো—কারো মতে নয় বছর—তখন তিনি তাঁর চাচা আবু তালিবের সাথে শামের উদ্দেশ্যে বের হলেন। যখন তিনি বুসরা পৌঁছালেন, তখন বাহিরা রাহেব তাঁকে দেখলেন এবং তাঁর বৈশিষ্ট্য দেখে চিনতে পারলেন। অতঃপর তিনি এসে তাঁর হাত ধরলেন এবং বললেন: ইনি বিশ্বজগতের সরদার, ইনি রাসূল...
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারুল কাবীর ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ربّ الْعَالمين، هذاَيبعثُه اللهُ رَحمةً للْعَالمين. فَقَالُوا لَهُ: من أينَ علمتَ هَذَا؟ قَالَ: إِنَّكُم حِين أقبلتم من العَقَبة لم يبقَ حَجَرٌ وَلَا شجرٌ إلاّ خَرَّ سَاجِدا، وَلَا يسْجد إِلَّا لنبيٍّ، وَإِنَّا نجده فِي كُتبنا. وَقَالَ لأبي طَالب: لَئِن قدمتَ بِهِ الشَّام لَتقتلنَّه اليهودُ. وَسَأَلَهُ أَنْ يردَّه خوفًا من الْيَهُود فردّه.
ثمَّ خرج [صلى الله عليه وسلم] مرّة ثَانِيَة إِلَى الشَّام مَعَ مَيْسَرة غُلَام خَدِيجة رضي الله عنها فِي تِجَارَة لَهَا قبل أنْ يتزوّجها، فَلَمَّا قدمَ الشامَ نزل تَحت ظلِّ شجرةٍ قَرِيبا من صَوْمعة لنَسْطُور الرَّاهب، فَقَالَ: مَا نزلَ تَحت هَذِه الشجرةِ قطُّ إِلَّا نبيٌّ. ثمَّ قَالَ لمَيْسَرة: أَفِي عَينيه حُمرَةٌ؟ قَالَ: نعم لَا تُفارقه. قَالَ: هُوَ نبيٌّ، وَهُوَ آخرِ الْأَنْبِيَاء / 6 و.
ثمَّ بَاعَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] سِلْعتَه، فَوَقع بَينه وَبَين رجل تَلاحٍ، فَقَالَ: احلِفْ بِاللات والعُزَّى. فَقَالَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] : مَا حلفتُ بهما قطُّ، إِنِّي لأمرُّ فأُعْرِض عَنْهُمَا. فَقَالَ الرجل: القولُ قولُك: ثمَّ قَالَ لِمَيْسَرةَ: هَذَا - واللهِ - نَبيٌّ تَجدُه أحبارُنا مَنعوتاً فِي كتبهمْ. وَكَانَ مَيْسَرةَ إِذا كَانَت الهاجرة واشتدَّ الحَرُّ يَرى مَلَكين يُظلِّلان رسولَ الله [صلى الله عليه وسلم] من الشَّمْس، فوعى ذَلِك كلَّه مَيْسَرةَ. وَكَانَ قد ألْقى الله عَلَيْهِ المحبَّة من مَيْسَرة، وَكَانَ كأنّه عبدٌ لَهُ. وَبَاعُوا تِجَارَتهمْ وربحوا ضعفَ مَا كَانُوا يربحون، فلمّا رجعُوا وَدخل رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] مَكَّة رَأَتْهُ خديجةُ وَهُوَ على بعيره، ومَلَكان يُظلَاّنه، فأَرتْه نِساءها فعجبنَ لذَلِك، وَدخل عَلَيْهَا رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] فَأَخْبرهَا بِمَا ربحوا فِي وجههم ذَلِك، فسُرَّت بِهِ، فَلَمَّا دخل مَيْسَرةُ عَلَيْهَا أخْبرته بِمَا رأتْ. فَقَالَ مَيْسَرةُ: قد رَأَيْت هَذَا منذُ خروجنا من الشَّام. وأخبرها بِمَا قَالَ نَسطور الراهبُ، وَبِمَا قَالَ الآخرُ.
বিশ্বজগতের প্রতিপালক, আল্লাহ তাঁকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে পাঠাবেন। তারা তাকে জিজ্ঞেস করল: আপনি এটি কোথা থেকে জানলেন? তিনি বললেন: আপনারা যখন আকাবাহ থেকে আসছিলেন, তখন এমন কোনো পাথর বা বৃক্ষ অবশিষ্ট ছিল না যা সিজদায় লুটিয়ে পড়েনি; আর নবী ব্যতীত কাউকে তারা সিজদা করে না। আমরা আমাদের কিতাবসমূহেও তাঁর উল্লেখ পাই। তিনি আবু তালিবকে বললেন: আপনি যদি তাঁকে নিয়ে শামে যান, তবে ইহুদিরা তাঁকে অবশ্যই হত্যা করে ফেলবে। তিনি ইহুদিদের ভয়ে তাঁকে ফিরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করলেন, ফলে তিনি তাঁকে ফিরিয়ে দিলেন।
অতঃপর তিনি [আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর উপর বর্ষিত হোক] খাদিজাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-র সঙ্গে বিবাহের পূর্বে তাঁর ব্যবসার পণ্য নিয়ে তাঁর গোলাম মায়সারাহর সাথে দ্বিতীয়বার শামের উদ্দেশ্যে বের হলেন। তিনি যখন শামে পৌঁছালেন, তখন জনৈক পাদ্রী নাসতুরের গির্জার নিকটবর্তী একটি গাছের ছায়াতলে অবতরণ করলেন। পাদ্রী বললেন: এই গাছের নিচে নবী ব্যতীত কখনো কেউ অবতরণ করেনি। অতঃপর তিনি মায়সারাহকে বললেন: তাঁর চোখে কি লাল আভা আছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তা সর্বদা থাকে। পাদ্রী বললেন: তিনি নবী এবং তিনিই সর্বশেষ নবী।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ [আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর উপর বর্ষিত হোক] তাঁর পণ্য বিক্রয় করলেন এবং তাঁর ও জনৈক ব্যক্তির মধ্যে বিতণ্ডা সৃষ্টি হলো। লোকটি বলল: লাত ও উযযার শপথ নিন। রাসূলুল্লাহ [আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর উপর বর্ষিত হোক] বললেন: আমি কখনো এ দুটির নামে শপথ করিনি; আমি এগুলোর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মুখ ফিরিয়ে নেই। লোকটি বলল: আপনার কথাই ঠিক। অতঃপর সে মায়সারাহকে বলল: আল্লাহর কসম, ইনিই সেই নবী যাঁর গুণাবলি আমাদের পণ্ডিতগণ তাঁদের কিতাবসমূহে লিপিবদ্ধ পান। মায়সারাহ প্রখর রোদে মধ্যাহ্নকালে দেখতেন যে, দুজন ফেরেশতা রাসূলুল্লাহ [আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর উপর বর্ষিত হোক]-কে রোদ থেকে ছায়া দিচ্ছে। মায়সারাহ এ সবই প্রত্যক্ষ করলেন। আল্লাহ মায়সারাহর অন্তরে তাঁর প্রতি ভালোবাসা উদ্রেক করে দিয়েছিলেন এবং তিনি যেন তাঁর দাসের মতো অনুগত হয়ে গিয়েছিলেন। তাঁরা তাঁদের পণ্য বিক্রয় করলেন এবং পূর্বের তুলনায় দ্বিগুণ মুনাফা লাভ করলেন। যখন তাঁরা ফিরে আসলেন এবং রাসূলুল্লাহ [আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর উপর বর্ষিত হোক] মক্কায় প্রবেশ করলেন, তখন খাদিজাহ তাঁকে তাঁর উটের পিঠে উপবিষ্ট অবস্থায় দেখলেন যে, দুজন ফেরেশতা তাঁকে ছায়া দিচ্ছে। তিনি তাঁর নারী সঙ্গিনীদের তা দেখালেন এবং তাঁরা এতে বিস্মিত হলেন। রাসূলুল্লাহ [আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর উপর বর্ষিত হোক] তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন এবং সফরে অর্জিত মুনাফার কথা জানালেন, এতে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হলেন। মায়সারাহ তাঁর নিকট উপস্থিত হলে তিনি তাঁকে যা দেখেছিলেন তা জানালেন। মায়সারাহ বললেন: শাম থেকে বের হওয়ার পর থেকেই আমি এটি প্রত্যক্ষ করছি। এরপর তিনি তাঁকে নাসতুর পাদ্রীর বক্তব্য এবং অন্য ব্যক্তির কথা সবিস্তারে জানালেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারুল কাবীর ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وَلما بلغ النبيُّ [صلى الله عليه وسلم] خمْسا وَثَلَاثِينَ سنة، وَقيل: خمْسا وَعشْرين، اجْتمعت قريشُ لِبُنيان الكعبةِ، وَالَّذِي حَملهم على ذَلِك أنّ بابَ الْكَعْبَة كَانَ بِالْأَرْضِ، وَكَانَ السَّيلُ يدْخل من أَعلَى مَكَّة حَتَّى يدْخل الْبَيْت، فانصدع، وسرق طِيبَ الكعبةِ، فخافوا أنْ ينهدم الْبَيْت. وَرُوِيَ أنّ سَبَب انهدامِها أَنّ امْرَأَة جَاءَت بِمجمرة تجمِّر الْكَعْبَة، سقطتْ مِنْهَا شرارةٌ فتعلّقت بكسوة الْكَعْبَة فاحترقت، وَلما أَجمعُوا على هدمها قَالَ بَعضهم: لَا تُدخلوا فِي بنائها من كَسْبكم إلاّ طيِّباً مَا لم تَقطعوا فِيهِ رَحِماً / 6 ظ. وَلم تَظلِموا فِيهِ أحدا. فَبَدَأَ الْوَلِيد بن المُغيرة بهَدْمها، وَأخذ المِعْولَ، ثمَّ قَامَ عَلَيْهَا يطْرَح الْحِجَارَة وَهُوَ يَقُول: اللَّهمَّ لم تُرَعْ إِنَّمَا نريدُ الْخَيْر. فهدَم وهَدمتْ قريشٌ.
ثمَّ أخذُوا فِي بنائها، فلمّا انْتَهوا إِلَى حَيْثُ يُوضَع الركنُ من الْبَيْت قَالَت كلُّ قَبيلَة: نَحن أحقُّ بِوَضْعِهِ. وَاخْتلفُوا حَتَّى همّوا بِالْقِتَالِ، وقرَّبت بَنو عبد الدَّار جَفْنةً مَمْلُوءَة دَمَاً، ثمَّ تعاقدوا هم وَبَنُو عَديّ على الْمَوْت، وأدخلوا أيديَهم فِي ذَلِك الدَّم فِي تِلْكَ الجَفْنة، فسُمُّوا " لَعَقة الدَّم " ثمَّ اتّفقوا على أنْ يجْعَلُوا بَينهم أَوّل مَنْ يدْخل من بَاب بني شَيبةَ، يقْضِي بَينهم، فَكَانَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] أوَّلَ مَنْ
যখন নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর বয়স পঁয়ত্রিশ বছর হলো—বলা হয়ে থাকে পঁচিশ বছর—তখন কুরাইশরা কাবা পুনর্নির্মাণের জন্য একত্রিত হলো। তাদের এ কাজে উদ্বুদ্ধ করার কারণ ছিল এই যে, কাবার দরজা মাটির সমতলে ছিল, ফলে মক্কার উঁচু এলাকা থেকে ঢল নেমে কাবার ভেতরে প্রবেশ করত এবং এতে ফাটল দেখা দিয়েছিল। এ ছাড়া কাবার সুগন্ধি চুরি হয়ে গিয়েছিল, তাই তারা ঘরটি ধসে যাওয়ার আশঙ্কা করছিল। বর্ণিত আছে যে, এর ভেঙে পড়ার কারণ ছিল এক মহিলা ধূপদানি নিয়ে কাবায় ধূপ দিতে এসেছিলেন; তখন সেখান থেকে একটি স্ফুলিঙ্গ কাবার গিলাফে গিয়ে পড়ে এবং তা পুড়ে যায়। যখন তারা এটি ভেঙে ফেলার ব্যাপারে একমত হলো, তখন তাদের কেউ কেউ বলল: এর নির্মাণ কাজে তোমাদের উপার্জনের কেবল পবিত্র অংশটুকুই ব্যয় করবে; যাতে কোনো আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা হয়নি / ৬ ظ এবং যাতে তোমরা কারও প্রতি জুলুম করোনি। অতঃপর ওয়ালিদ ইবনুল মুগীরা এটি ভাঙা শুরু করল এবং কুড়াল হাতে নিল। এরপর সে কাবার ওপর দাঁড়িয়ে পাথর সরাতে সরাতে বলতে লাগল: হে আল্লাহ! আমরা ভীত নই, আমরা কেবল কল্যাণই চাই। অতঃপর সে ভাঙল এবং কুরাইশরাও ভাঙল।
এরপর তারা এর নির্মাণ কাজ শুরু করল। যখন তারা ঘরের সেই পর্যায়ে পৌঁছাল যেখানে রুকন (হাজরে আসওয়াদ) স্থাপন করতে হয়, তখন প্রতিটি গোত্র বলল: এটি স্থাপন করার ক্ষেত্রে আমরাই অধিক হকদার। এ নিয়ে তাদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হলো, এমনকি তারা যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার উপক্রম করল। বনু আবদুদ দার রক্তে পূর্ণ একটি বড় পাত্র নিয়ে এল। অতঃপর তারা এবং বনু আদি মৃত্যু পর্যন্ত লড়ার অঙ্গীকার করল এবং ওই পাত্রের রক্তের ভেতর নিজেদের হাত ঢুকিয়ে দিল। এ কারণে তাদের "রক্ত চাটনকারী" বলা হয়। অতঃপর তারা এ বিষয়ে একমত হলো যে, বনু শায়বাহর দরজা দিয়ে যে ব্যক্তি সবার আগে প্রবেশ করবে, সে-ই তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেবে। আর রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি...
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারুল কাবীর ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৩২)
دخل من بَاب بني شيبَة، فَلَمَّا رَأَوْهُ قَالُوا: هَذَا الأمينُ، قد رَضينا بِمَا يقْضِي بَيْننَا، ثمَّ أَخْبرُوهُ الخبرَ، فوضعَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] رِدَاءَهُ، وبَسَطَه فِي الأَرْض، ثمَّ وضَع الرُّكْن فِيهِ، ثمَّ قَالَ: " لِتأخذْ كلُّ قبيلةٍ بناحيةٍ من الثَّوب، ثُمَّ ارفعوه جَمِيعًا " فَفَعَلُوا، حَتَّى إِذا بلغُوا بِهِ موضعَه، وضَعَه رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] بِيَدِهِ الطاهرة، ثمَّ بَنوا عَلَيْهِ، حَتَّى انْتَهوا إِلَى مَوضِع الخُشب، فَكَانَ خَمْسَة عشر جَائزاً سقفوا الْبَيْت عَلَيْهِ، وَبَنوهُ على ستّة أَعمدةٍ، وأخرجوا الحَجر من الْبَيْت. وحُكي أنّ ارْتِفَاع الْكَعْبَة كَانَ من عهد إِسْمَاعِيل تِسْعَة أَذرعٍ، وَلم يكن لَهَا سَقفٌ، فَلَمَّا بنتهَا قريشٌ زادوا فِيهَا تِسْعَة أَذرعٍ، وَرفعُوا بابَها عَن الأَرْض، ليدخلوا مَنْ شاؤوا ويَمنَعوا مَنْ شَاؤُوا.
مَبعثُ النبيّ [صلى الله عليه وسلم] كَانَ أول مَا بُدئ بِهِ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] من الوَحْي الرُّؤيا الصَّالِحَة فِي النّوم، فَكَانَ لَا يَرى رُؤْيا إلاّ جَاءَت 7 / و. مثلَ فَلَق الصُّبح، ثمَّ حُبِّبَ إِلَيْهِ الخَلاء، فَكَانَ يَخْلُو بغارِ حِرَاء فيتعبَّد فِيهِ اللَّيَالِي ذَات العَدَد قبل أنْ يَنزِع إِلَى أَهله، ويتزوَّد لذَلِك، ثمَّ يرجع إِلَى خَدِيجَة فيتزوَّد لمثلهَا، حَتَّى جَاءَهُ الحقُّ وَهُوَ فِي غَار حِرَاء، فَجَاءَهُ المَلكُ فَقَالَ: اقرأْ. قَالَ: فقلتُ: مَا أَنا بقارئ. قَالَ: فأَخذني فغطَّني حَتَّى بلغَ مِنّي الجَهْدَ، ثمَّ أَرسلني، فَقَالَ: اقرأْ. فقلتُ: مَا
তিনি বনু শায়বাহর দরজা দিয়ে প্রবেশ করলেন। যখন তারা তাঁকে দেখল, তারা বলল: "এই তো আল-আমিন (বিশ্বস্ত), তিনি আমাদের মধ্যে যা ফয়সালা করবেন তাতে আমরা সন্তুষ্ট।" অতঃপর তারা তাঁকে বিষয়টি অবহিত করল। তখন আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তাঁর চাদরটি রাখলেন এবং তা জমিনে বিছিয়ে দিলেন। তারপর রুকন (হাজরে আসওয়াদ) তাতে রাখলেন। এরপর তিনি বললেন: "প্রত্যেক গোত্র যেন কাপড়ের এক একটি প্রান্ত ধরে, অতঃপর তোমরা সকলে মিলে এটি উত্তোলন করো।" তারা তা-ই করল। যখন তারা এটিকে তার স্থানে নিয়ে পৌঁছাল, তখন আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তাঁর পবিত্র হাত দিয়ে তা স্থাপন করলেন। অতঃপর তারা এর ওপর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করল, যতক্ষণ না তারা কড়িকাঠের স্থানে পৌঁছাল। সেখানে পনেরোটি কড়িকাঠ ছিল যার ওপর তারা ঘরের ছাদ নির্মাণ করল। তারা এটি ছয়টি স্তম্ভের ওপর নির্মাণ করল এবং হাতীমকে (আল-হিজর) ঘরের বাইরে রাখল। বর্ণিত আছে যে, ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর যুগ থেকে কাবার উচ্চতা ছিল নয় হাত এবং এর কোনো ছাদ ছিল না। যখন কুরাইশরা এটি নির্মাণ করল, তখন তারা এতে আরও নয় হাত উচ্চতা বৃদ্ধি করল এবং এর দরজা জমিন থেকে উঁচুতে স্থাপন করল, যাতে তারা যাকে ইচ্ছা প্রবেশ করাতে পারে এবং যাকে ইচ্ছা বাধা দিতে পারে।
নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর নবুওয়াত প্রাপ্তি আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর প্রতি ওহী শুরুর প্রথম পর্যায় ছিল ঘুমের মধ্যে সত্য স্বপ্ন। তিনি যা-ই স্বপ্ন দেখতেন তা ভোরের আলোর ন্যায় স্পষ্ট হয়ে দেখা দিত। অতঃপর তাঁর কাছে নির্জনতা প্রিয় হয়ে উঠল। তিনি হেরা গুহায় নির্জনে অবস্থান করতেন এবং সেখানে পরিবারের কাছে ফিরে আসার আগে নির্দিষ্ট কয়েক রাত ইবাদতে নিমগ্ন থাকতেন। এজন্য তিনি প্রয়োজনীয় পাথেয় সাথে নিতেন। এরপর তিনি খাদিজার কাছে ফিরে আসতেন এবং অনুরূপ সময়ের জন্য আবার পাথেয় নিতেন। অবশেষে হেরা গুহায় থাকা অবস্থায় তাঁর কাছে সত্য (ওহী) আসলো। ফেরেশতা তাঁর কাছে এসে বললেন: "পড়ুন"। তিনি বললেন: "আমি তো পড়তে জানি না।" তিনি (রাসূল) বললেন: "অতঃপর তিনি আমাকে ধরে সজোরে চাপ দিলেন, এমনকি আমি প্রচণ্ড কষ্ট অনুভব করলাম। এরপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিলেন এবং বললেন: পড়ুন। আমি বললাম: আমি তো..."
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারুল কাবীর ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
أَنا بقارئ. قَالَ: فأَخذ فِي الثانيةَ فَغطَّني حى بلغ مني الجَهْدَ، ثمَّ أَرْسلنِي، فَقَالَ: اقرأْ. فقلتُ: مَا أَنا بقارئ. قَالَ: فأَخذني فغطَّني الثَّالِثَة حَتَّى بلغ منّي الجَهْدَ. ثمَّ أَرْسلنِي فَقَالَ: {اقْرَأ باسم رَبك الَّذِي خلق خلق الْإِنْسَان من علق اقْرَأ وَرَبك الأكرم الَّذِي علم بالقلم علم الْإِنْسَان مَا لم يعلم} فَرجع بهَا رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] يَرْجُف فؤادُه، فَدخل على خَدِيجَة بنت خوَيلد. فَقَالَ: زمِّلوني زمَّلوني. فزمّلوه حَتَّى ذهبَ عَنهُ الرَّوع. فَقَالَ لِخَدِيجَة، وأخبرها الخبرَ: " لقد خَشِيتُ على نَفسِي ". فَقَالَت خديجةُ: كَلاّ، وَالله مَا يُخزِيكَ اللهُ أبدا، إنَّك لَتَصِلُ الرَّحِمَ، وتَحمِلُ الكلَّ، وتَكسِبُ المعْدُومَ، وتَقْرِي الضَّيفَ، وتُعين على نَوَائِب الحقِّ.
فانطلقتْ بِهِ خديجةُ حَتَّى أَتت بِهِ ورَقَةَ بن نوفَل بن أسَد بن عبد العُزَّى، ابْن عمِّ خَدِيجَة، وَكَانَ امْرَءًا تنصَّر فِي الْجَاهِلِيَّة، وَكَانَ يكْتب الْكتاب العِبرانيّ، فَيكْتب من الإِنجيل بالعِبرانيّة مَا شَاءَ الله أنْ يكْتب. وَكَانَ شَيخا كَبِيرا قد عَمِيَ. فَقَالَت لَهُ خَدِيجَة: يَا بنَ عَمَّ، اسْمَعْ من ابْن أخيكَ. فَقَالَ لَهُ ورقة: يَا ابنَ أخي، مَاذَا ترى؟ فَأخْبرهُ خبرَ مَا رأى. فَقَالَ لَهُ ورَقَةُ: هَذَا النامُوسُ الَّذِي أُنزِلَ على مُوسى [صلى الله عليه وسلم] يَا لَيتني فِيهَا جَذَعٌ. يَا لَيْتَني أَكونُ حَيَّاً إِذْ يُخرجُكَ قومُك فَقَالَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] أَوَ مُخرِجيَّ هُمْ؟ قَالَ: نعم، لم يأتِ رجل قطُّ بِمثل مَا
আমি পড়তে জানি না। তিনি বললেন: অতঃপর তিনি আমাকে দ্বিতীয়বার ধরলেন এবং সজোরে চাপ দিলেন, যাতে আমি অত্যন্ত ক্লান্ত হয়ে পড়লাম। এরপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিলেন এবং বললেন: পড়। আমি বললাম: আমি পড়তে জানি না। তিনি বললেন: অতঃপর তিনি আমাকে তৃতীয়বার ধরলেন এবং সজোরে চাপ দিলেন যাতে আমি অত্যন্ত ক্লান্ত হয়ে পড়লাম। এরপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিলেন এবং বললেন: {পাঠ করো তোমার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন, সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্তপিণ্ড থেকে। পাঠ করো, আর তোমার রব অতি দয়ালু, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষকে শিখিয়েছেন যা সে জানত না।} এরপর আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] সেই আয়াতগুলো নিয়ে ফিরে আসলেন এবং তাঁর হৃদয় কাঁপছিল। তিনি খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদের নিকট প্রবেশ করলেন এবং বললেন: "আমাকে বস্ত্রাবৃত করো, আমাকে বস্ত্রাবৃত করো।" তখন তাঁরা তাঁকে বস্ত্রাবৃত করলেন যতক্ষণ না তাঁর ভয় দূর হলো। তিনি খাদিজাকে সব ঘটনা খুলে বললেন এবং বললেন: "আমি নিজের প্রাণের ব্যাপারে আশঙ্কা করছি।" খাদিজা বললেন: "কখনই না, আল্লাহর শপথ, আল্লাহ আপনাকে কখনও লাঞ্ছিত করবেন না। আপনি তো আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখেন, অসহায়ের বোঝা বহন করেন, নিঃস্বদের জন্য উপার্জনের ব্যবস্থা করেন, অতিথির সেবা করেন এবং বিপদগ্রস্ত সত্যপন্থীদের সাহায্য করেন।"
এরপর খাদিজা তাঁকে নিয়ে তাঁর চাচাতো ভাই ওরাকা ইবনে নওফাল ইবনে আসাদ ইবনে আব্দুল উয্যার নিকট গেলেন। তিনি জাহিলিয়াত যুগে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি হিব্রু কিতাব লিখতে জানতেন এবং আল্লাহর ইচ্ছায় ইঞ্জিল শরীফ হিব্রু ভাষায় লিখতেন। তিনি তখন অতি বৃদ্ধ এবং অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। খাদিজা তাঁকে বললেন: "হে চাচাতো ভাই! আপনার ভ্রাতুষ্পুত্রের কথা শুনুন।" তখন ওরাকা তাঁকে বললেন: "হে ভ্রাতুষ্পুত্র! তুমি কী দেখেছ?" তখন আল্লাহর রাসূল যা দেখেছিলেন তা বর্ণনা করলেন। ওরাকা তাঁকে বললেন: "ইনি তো সেই বার্তাবাহক (নামুস) যাকে মূসা [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর নিকট পাঠানো হয়েছিল। হায়! আমি যদি সেই সময়ে শক্তিশালী যুবক থাকতাম। হায়! আমি যদি তখন জীবিত থাকতাম যখন তোমার কওম তোমাকে বের করে দিবে।" আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন: "তবে কি তারা আমাকে বের করে দিবে?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, অতীতে কেউ এমন কিছু নিয়ে আসেনি যা তুমি নিয়ে এসেছ অথচ তার সাথে শত্রুতা করা হয়নি।"
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারুল কাবীর ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
جِئْت إِلَّا عودي. وَإِن يدركني يومُك أنصرك نصرا مؤزراً ثمَّ لم يَنْشَبْ ورَقَةُ / 7 ظ. أنْ تُوفِّيَ، وفتَرَ الْوَحْي.
قَالَ الزُّهْري: وَأَخْبرنِي أَبُو سَلَمة بن عبد الرَّحْمَن: أنّ جَابر بن عبد الله الأنصاريّ قَالَ وَهُوَ يحدِّث عَن فَتْرَة الْوَحْي، فَقَالَ فِي حديثٍ: " بَيْنَمَا أَنا أَمشي إذْ سمعتُ صَوتا من السماءِ، فرفعتُ بَصَري، فَإِذا المَلَكُ الَّذِي جاءَني بِحِرَاء جالسٌ على كُرسيٍّ بَين السماءِ وَالْأَرْض، فَرُعِبتُ مِنْهُ. فقلتُ: زَمِّلوني. فَأنْزل الله عز وجل {يَا أَيهَا المدثر} إِلَى قَوْله {فاهجر} فحميَ الوحيُ وتتابعَ ".
وَسَأَلَ الحارثُ بن هِشَام رسولَ الله [صلى الله عليه وسلم] فَقَالَ: يَا رَسُول الله! كَيفَ يأْتيكَ الوحيُ؟ فَقَالَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] : " أَحْيَانًا يأتيني مثلَ صَلْصَلة الجَرْس، وَهُوَ أَشَدُّه عليّ، فيُفْصَم عَنِّي وَقد وَعَيْتُ عَنهُ مَا قَالَ، وَأَحْيَانا يتمثَّلُ لي المَلَكُ رَجُلاً فأَعِي مَا يقولُ "
قَالَت عَائِشَة رضي الله عنها: " وَلَقَد رأيتُه يَنزِلُ عَلَيْهِ الوحيُ فِي الْيَوْم
...আমি তোমার সাহায্যকারী হতাম। আর যদি তোমার সেই দিনটি আমাকে পায়, তবে আমি তোমাকে বলিষ্ঠভাবে সাহায্য করব। এরপর বেশি সময় পার হয়নি যে ওরাকা / ৭ খ. মৃত্যুবরণ করলেন এবং ওহি স্থগিত হয়ে গেল।
যুহরি বলেন: আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারি ওহি স্থগিত থাকা সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে তাঁর হাদিসে বলেন: "একদা আমি হাঁটছিলাম, হঠাৎ আকাশ থেকে একটি শব্দ শুনতে পেলাম। আমি আমার দৃষ্টি উপরে তুললাম। দেখলাম, হেরা গুহায় যে ফেরেশতা আমার নিকট এসেছিলেন, তিনি আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে একটি কুরসিতে বসে আছেন। আমি তাঁকে দেখে অত্যন্ত ভীত হয়ে পড়লাম। এরপর আমি বললাম: আমাকে বস্ত্রাবৃত করো। তখন মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন {হে চাদর আবৃত!} থেকে {এবং অপবিত্রতা বর্জন করো} পর্যন্ত। এরপর ওহি তীব্রতর হলো এবং ধারাবাহিকভাবে আসতে লাগল।"
হারিস ইবনে হিশাম আল্লাহর রাসুলকে [তাঁর উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক] জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসুল! আপনার নিকট ওহি কীভাবে আসে? আল্লাহর রাসুল [তাঁর উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক] বললেন: "কখনো তা আমার নিকট ঘণ্টার ঝনঝনানির শব্দের মতো আসে, আর এটিই আমার জন্য সবচাইতে কষ্টকর হয়। এরপর তা আমার থেকে সমাপ্ত হয় যখন আমি তিনি যা বলেছেন তা আত্মস্থ করে ফেলি। আবার কখনো ফেরেশতা মানুষের রূপ ধারণ করে আমার নিকট আসেন এবং তিনি যা বলেন আমি তা আত্মস্থ করি।"
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: "আমি দেখেছি অত্যন্ত শীতের দিনে তাঁর উপর ওহি অবতীর্ণ হতে..."
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারুল কাবীর ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
الشديدِ البردِ فيفصِم عَنهُ، وَإِن جَبينه يتفصَّد عرقاً ". وَكَانَ مَبدأ النبوّة فِيمَا قيل يَوْم الإِثنين ثامن شهر ربيعٍ الأوّل. وَقيل فِي شهر رَمَضَان. وَقيل: فِي شهر رَجَب، وسِنُّه [صلى الله عليه وسلم] أَرْبَعُونَ سَنة. وَقيل: أَرْبَعُونَ وَعشرَة أَيَّام. وَقيل: أَرْبَعُونَ وشهران. وَقيل: ثلاثٌ وَأَرْبَعُونَ.
وروى ابنُ إِسْحَاق وغيرُه: أنّ جِبْرِيل [صلى الله عليه وسلم] أَتَى النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] أوّلَ مَا أُوحيَ إِلَيْهِ فعلَّمه الوضوءَ وصلّى بِهِ. فَأتى النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] خَدِيجَة فعلَّمها الوضوءَ وصلّى بهَا كَمَا فعل جِبْرِيل عليه السلام.
وَعَن مُقاتل بن سُليمان: أنّ الصَّلَاة فُرضت فِي أول الإِسلام رَكعتين بالغَداة ورَكعتين بالعَشِيِّ، ثمَّ فُرض الخَمسُ ليلةَ المِعراج. وَأقَام الرَّسُول [صلى الله عليه وسلم] بِمَكَّة بعد الْبعْثَة ثلاثَ سِنِين يَدْعُو إِلَى اللهِ مُستخفياً، ثمَّ نَزل عَلَيْهِ فِي السّنة الرَّابِعَة قَوْله تَعَالَى / 8 و. {فَاصْدَعْ بِمَا تُؤمر وَأعْرض عَن الْمُشْركين} وَقَوله تَعَالَى: {وأنذر عشيرتك الْأَقْرَبين} فأعلن الدُّعَاء إِلَى الإِسلام. وكفّار قُرَيْش غير مُنكرين لِما يَقُول، فَكَانَ إِذا مرَّ بهم فِي مجَالِسهمْ يُشيرون إِلَيْهِ: إنّ
প্রচণ্ড শীতের দিনেও যখন তাঁর থেকে ওহীর অবস্থা শেষ হতো, তখন তাঁর কপাল থেকে ঘাম ঝরঝর করে ঝরতে থাকত। নবুওয়াতের সূচনা সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে যে, তা ছিল রবিউল আউয়াল মাসের আট তারিখ সোমবার। কেউ বলেছেন রমজান মাসে, আবার কেউ বলেছেন রজব মাসে। সে সময় তাঁর বয়স ছিল চল্লিশ বছর। কেউ বলেছেন চল্লিশ বছর দশ দিন, কেউ বলেছেন চল্লিশ বছর দুই মাস, আবার কেউ বলেছেন তেতাল্লিশ বছর।
ইবনে ইসহাক ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন যে, জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ওহী নিয়ে সর্বপ্রথম যখন এসেছিলেন, তখন তাঁকে অজু শিখিয়েছিলেন এবং তাঁকে নিয়ে সালাত আদায় করেছিলেন। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খাদিজার নিকট আসলেন এবং তাঁকে অজু শিখিয়ে দিলেন এবং তাঁকে নিয়ে সেভাবেই সালাত আদায় করলেন যেভাবে জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) করেছিলেন।
মুকাতিল বিন সুলাইমান থেকে বর্ণিত: ইসলামের শুরুতে সকালে দুই রাকাত এবং সন্ধ্যায় দুই রাকাত সালাত ফরজ ছিল। অতঃপর মিরাজের রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করা হয়। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নবুওয়াত লাভের পর মক্কায় তিন বছর গোপনে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিতে থাকেন। অতঃপর চতুর্থ বর্ষে তাঁর ওপর মহান আল্লাহর বাণী অবতীর্ণ হয় / ৮ ও. {অতএব তোমাকে যা আদেশ করা হয়েছে তা প্রকাশ্যে প্রচার করো এবং মুশরিকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও} এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন}। ফলে তিনি ইসলামের দাওয়াত প্রকাশ্যে ঘোষণা করলেন। আর কুরাইশ কাফেররা তিনি যা বলতেন তা অস্বীকার করত না। ফলে তিনি যখন তাদের মজলিসগুলোর পাশ দিয়ে অতিক্রম করতেন, তখন তারা তাঁর দিকে ইশারা করে বলত: নিশ্চয়ই...
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারুল কাবীর ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
غُلَام بني عبد الْمطلب ليُكلَّم من السَّمَاء. فَكَانَ ذَلِك حَتَّى عابَ آلهتَهم، وذكرَ آبَاءَهُم الَّذين مَاتُوا على الْكفْر، فانتصبوا لعداوته وعداوة مَنْ آمنَ بِهِ، يُعذِّبون مَنْ لَا مَنَعةَ عِنْده أشدَّ الْعَذَاب، ويُؤذون من لَا يقدرونَ على عَذابه.
وَكَانَ أوّلَ مَنْ آمن بِهِ خديجةُ، وعليٌّ، وَأَبُو بكر، وَزيد بن حَارِثَة، ثمَّ عُثْمَان بن عفَّان، والزُّبير، وَعبد الرَّحْمَن بن عوْف، وَسعد بن أَبي وقَّاص، وَطَلْحَة بن عُبيد الله، بدُعاء أبي بكر إيّاهم إِلَى الْإِسْلَام، رضي الله عنهم.
ذِكُر الهجرتين إِلَى الحَبشةلمّا كثر الْمُؤْمِنُونَ، واشتدَّ عَلَيْهِم أَذَى الْمُشْركين أذِنَ الله تَعَالَى لَهُم فِي الْهِجْرَة إِلَى أَرض الْحَبَشَة، فَهَاجَرَ إِلَيْهَا اثْنَا عشَرَ رجلا، وأربعُ نسوةٍ: عُثمان بن عفَّان، وَهُوَ أَوّل مَنْ خرج فارّاً بدِينه. وَمَعَهُ زَوجته رقية بنت رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] وَأَبُو حُذيفة بن عُتْبة، وَزَوجته سَهْلة بنت سُهَيل، وَأَبُو سَلَمة بن عبد الْأسد، وَامْرَأَته أمّ سَلَمة، والزُّبير بن العَوَّام، ومُصْعب بن عُمَير، وَعبد الرَّحْمَن بن عَوْف، وَعُثْمَان بن مَظْعون، وعامر بن رَبيعة، وَامْرَأَته ليلى بنت أبي حَثْمةَ، وَأَبُو سَبْرة بن أبي رُهْم، وحاطِب بن عَمْرو العامريّان، وسُهَيل بن وَهْب. وَعبد الله بن مَسْعُود وَكَانَ مخرجُهم فِي شهر رَجَبٍ من السّنة الْخَامِسَة من النبوّة.
বনু আব্দুল মুত্তালিবের এক যুবক, যার সাথে আকাশ থেকে কথা বলা হয়। বিষয়টি এমনই ছিল যতক্ষণ না তিনি তাদের উপাস্যদের নিন্দা করলেন এবং তাদের সেই পিতৃপুরুষদের কথা উল্লেখ করলেন যারা কুফরির উপর মৃত্যুবরণ করেছিল। ফলে তারা তাঁর এবং তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারীদের শত্রুতায় লিপ্ত হলো। যাদের কোনো আশ্রয় বা সাহায্যকারী ছিল না, তারা তাদের কঠোরতম আযাব প্রদান করত এবং যাদেরকে আযাব দেওয়ার ক্ষমতা তাদের ছিল না, তাদের কষ্ট দিত।
তাঁর প্রতি সর্বপ্রথম ঈমান এনেছিলেন খাদিজাহ, আলী, আবু বকর এবং যায়েদ ইবনে হারিসা। অতঃপর আবু বকরের ইসলামের দাওয়াতের মাধ্যমে উসমান ইবনে আফফান, জুবাইর, আব্দুর রহমান ইবনে আউফ, সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস এবং তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ ঈমান আনেন, আল্লাহ তাঁদের সবার ওপর সন্তুষ্ট হন।
হাবাশায় দুই হিজরতের বর্ণনাযখন মুমিনদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল এবং তাদের ওপর মুশরিকদের নির্যাতন চরম আকার ধারণ করল, তখন আল্লাহ তাআলা তাদেরকে হাবাশার ভূমিতে হিজরত করার অনুমতি প্রদান করলেন। সেখানে বারোজন পুরুষ এবং চারজন নারী হিজরত করলেন: উসমান ইবনে আফফান, যিনি নিজের দ্বীন রক্ষার তাগিদে সর্বপ্রথম হিজরতকারী হিসেবে বের হয়েছিলেন। তাঁর সাথে ছিলেন তাঁর স্ত্রী আল্লাহর রাসূলের [আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক] কন্যা রুকাইয়াহ; এবং আবু হুজাইফা ইবনে উতবাহ ও তাঁর স্ত্রী সাহলা বিনতে সুহাইল; আবু সালামা ইবনে আব্দুল আসাদ ও তাঁর স্ত্রী উম্মে সালামা; জুবাইর ইবনুল আওয়াম, মুসআব ইবনে উমাইর, আব্দুর রহমান ইবনে আউফ, উসমান ইবনে মাজউন; আমের ইবনে রাবিয়া ও তাঁর স্ত্রী লায়লা বিনতে আবু হাসমাহ; আবু সাবরা ইবনে আবু রুহম ও হাতিব ইবনে আমর (উভয়ে আমেরী গোত্রের) এবং সুহাইল ইবনে ওয়াহাব। আর ছিলেন আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ। তাঁদের এই হিজরত নবুওয়াতের পঞ্চম বর্ষের রজব মাসে সংঘটিত হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারুল কাবীর ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
وَخرجت قُرَيْش فِي آثَارهم، فَلم يُدركوا مِنْهُم أَحداً. وَأَقَامُوا بالحَبَشة فِي أحسن جِوَارٍ، فبلَغهم أنّ أهل مَكَّة / 8 ظ. أَسْلمُوا فَرَجَعُوا إِلَى مَكَّة، حَتَّى إِذا كَانُوا دون مَكَّة بساعةٍ لَقوا رَكْباً من كِنانة، فَسَأَلُوهُمْ عَن قريشٍ، وَعَن حَالهم، فَذكرُوا مَا هُم عَلَيْهِ مِن الشرِّ، فائتمر الْقَوْم فِي الرُّجُوع إِلَى أَرض الْحَبَشَة [ثمَّ] قَالُوا: قد بَلغْنا مكةَ، ندخلُ فَنَنْظُر مَا فِيهِ قريشٌ، ويُحدث عهدا مَنْ أرادَ بأَهْله، ثمَّ يَرجع. فَدَخَلُوا مكةَ، وَلم يدْخل أحدٌ مِنْهُم إِلَّا بجوَارٍ أَو مُستخفيا، إِلَّا ابْن مَسْعُود فَإِنَّهُ مكث يَسِيرا ثمَّ رَجَعَ إِلَى أَرض الْحَبَشَة، وَلم يدْخل مَكَّة. وَكَانَ قدومهم مَكَّة فِي شوّال سنة خمسٍ من النبوّة، فَلَقوا من قُرَيْش تَعنيفاً شَدِيدا، ونالوهم بالأذى الشَّديد، وسَطَت بهم عَشَائِرهمْ، فأذِن لَهُم رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] فِي الْخُرُوج إِلَى أَرض الْحَبَشَة مرَّةً ثَانِيَة. فَقَالَ عُثْمَان: يَا رسولَ اللهِ، فهجرتُنا الأولى وَهَذِه إِلَى النجاشيّ، ولستَ مَعنا. فَقَالَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] : " أَنْتُم مهاجرون إِلَى الله وإليّ. لكم هَاتَانِ الهجرتان جَمِيعًا " فَقَالَ عُثْمَان: فحسبُنا يَا رَسُول الله. وَهَاجرُوا إِلَى الْحَبَشَة وَكَانَ عِدَّةُ مَنْ هاجرَ من الرِّجَال ثَلَاثَة وَثَمَانِينَ - إنْ كَانَ فيهم عمّار فَإِنَّهُ يُشكُّ فِيهِ - قَالَ ابْن إِسْحَاق: وَمن النِّسَاء إِحْدَى عشرَة قرشيّة وسبعُ غرائب. وَأَقَامُوا بِأَرْض الْحَبَشَة عِنْد النجاشيّ على أحسن حالٍ.
কুরাইশরা তাদের পদচিহ্ন অনুসরণ করে বের হলো, কিন্তু তাদের কাউকেই ধরতে পারল না। তারা হাবাশায় (আবিসিনিয়ায়) অত্যন্ত উত্তম আশ্রয়ে অবস্থান করলেন। অতঃপর তাদের কাছে সংবাদ পৌঁছাল যে, মক্কাবাসী / ৮ পৃষ্ঠা (পৃষ্ঠার উল্টো পিঠ) ইসলাম গ্রহণ করেছে; ফলে তারা মক্কার দিকে ফিরে এলেন। যখন তারা মক্কার এক ঘণ্টার পথ দূরত্বে পৌঁছালেন, তখন কিনানা গোত্রের একটি কাফেলার সাথে তাদের সাক্ষাৎ হলো। তারা তাদের কাছে কুরাইশদের এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তারা তাদের (কুরাইশদের) চরম শত্রুতা ও অনিষ্টের কথা উল্লেখ করল। তখন কাফেলার লোকেরা হাবাশার ভূমিতে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে পরামর্শ করলেন। [তারপর] তারা বললেন: "আমরা মক্কার নিকট পৌঁছে গেছি, সুতরাং আমরা প্রবেশ করে দেখি কুরাইশরা কী অবস্থায় আছে এবং যে তার পরিবারের সাথে দেখা করতে চায় সে দেখা করে নেবে, তারপর ফিরে আসবে।" অতঃপর তারা মক্কায় প্রবেশ করলেন। তাদের প্রত্যেকেই কারো আশ্রয় নিয়ে অথবা আত্মগোপন করে প্রবেশ করলেন; কেবল ইবনে মাসউদ ব্যতীত, কারণ তিনি সামান্য সময় অবস্থান করে মক্কায় প্রবেশ না করেই পুনরায় হাবাশার ভূমিতে ফিরে গেলেন। নবুওয়াতের পঞ্চম বর্ষের শাওয়াল মাসে তাদের মক্কায় আগমন ঘটেছিল। সেখানে তারা কুরাইশদের পক্ষ থেকে কঠোর নির্যাতনের সম্মুখীন হলেন এবং তারা তাদের চরম কষ্ট দিল। তাদের স্ব-স্ব গোত্রও তাদের ওপর চড়াও হলো। তখন আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তাদেরকে দ্বিতীয়বার হাবাশার দিকে হিজরত করার অনুমতি দিলেন। উসমান বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের প্রথম হিজরত এবং এই হিজরত—উভয়টিই নাজাশি-র কাছে, অথচ আপনি আমাদের সাথে নেই।" আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন: "তোমরা আল্লাহর দিকে এবং আমার দিকেই হিজরতকারী। তোমাদের জন্য এই উভয় হিজরতেরই সওয়াব রয়েছে।" উসমান বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! এটিই আমাদের জন্য যথেষ্ট।" অতঃপর তারা হাবাশায় হিজরত করলেন এবং হিজরতকারী পুরুষদের সংখ্যা ছিল তিরাশি জন—যদি তাদের মধ্যে আম্মার থেকে থাকেন, কেননা তার ব্যাপারে সন্দেহ আছে। ইবনে ইসহাক বলেন: নারীদের মধ্যে এগারোজন ছিলেন কুরাইশ বংশীয় এবং সাতজন ছিলেন অন্য গোত্রের। তারা হাবাশার ভূমিতে নাজাশি-র নিকট অত্যন্ত উত্তম অবস্থায় অবস্থান করলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারুল কাবীর ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
حصر قُرَيْش رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] فِي الشِعّب لما بلغ قُريْشًا بِمَكَّة إكرامُ النجاشيّ للْمُسلمين كبُر ذَلِك عَلَيْهِم، وغَضِبُوا على رسولِ الله [صلى الله عليه وسلم] وَأَصْحَابه، وَكَتَبُوا كتابا على بني هَاشم: أنْ لَا تُناكحوهم وَلَا تُبايعوهم وَلَا تخالطوهم. وَكَانَ الَّذِي كتب الصَّحِيفَة / 9 و. بَغيِض بن عَامر بن هَاشم بن عبد مَناف بن عبد الدَّار بن قصيّ، فشُلَّت يدُه، وعَلَّقوا الصحيفةَ فِي جَوف الْكَعْبَة، وحصروا بني هَاشم فِي شِعْب أبي طَالب لَيْلَة هِلَال المحرَّم سنة سبعٍ من النبوّة، وانحاز بَنو الْمطلب بن عبد مَناف إِلَى أبي طَالب فِي شِعْبه مَعَ بني هَاشم، وَخرج أَبو لَهَبٍ إِلَى قُرَيْش يُظاهرهم على بني هَاشم، وَبني المطّلب، وَقَطعُوا عَنْهُم المِيَرة والمادّةَ، فَكَانُوا لَا يخرجُون إِلَّا من مَوسِمٍ إِلَى مَوسِمٍ، حَتَّى بَلغهُمْ الجَهْدُ، وسُمعت أصوات صِبيانهم من وَرَاء الشِّعْب، فمِن قريشٍ مَنْ سَرَّه ذَلِك، ومِنهم مَنْ سَاءَهُ. وَقَالُوا: انْظُرُوا مَا أصَاب بَغْيضَ بن عَامر.
শিআবে (উপত্যকায়) কুরাইশ কর্তৃক আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-কে অবরুদ্ধ করা মক্কায় কুরাইশদের নিকট যখন নাজাশী কর্তৃক মুসলিমদের সম্মান প্রদর্শনের সংবাদ পৌঁছাল, তখন এটি তাদের নিকট অত্যন্ত অসহনীয় মনে হলো। তারা আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] ও তাঁর সাহাবীদের ওপর অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হলো এবং বনু হাশেমের বিরুদ্ধে একটি অঙ্গীকারনামা লিখল যে: তাদের সাথে কেউ বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করবে না, তাদের সাথে কোনো কেনাবেচা করবে না এবং তাদের সাথে মেলামেশা করবে না। আর যে ব্যক্তি এই দলিলটি লিখেছিল—৯/খ—সে ছিল বগিয বিন আমির বিন হাশেম বিন আব্দ মানাফ বিন আব্দুদ্দর বিন কুসাই, অতঃপর তার হাত অবশ হয়ে গিয়েছিল। তারা দলিলটি কাবার অভ্যন্তরে ঝুলিয়ে দিল এবং নবুয়তের সপ্তম বর্ষের মহররম মাসের চাঁদ দেখার রাতে বনু হাশেমকে শিআবে আবি তালিবে (আবু তালিবের উপত্যকায়) অবরুদ্ধ করল। বনু মুত্তালিব বিন আব্দ মানাফও বনু হাশেমের সাথে আবু তালিবের উপত্যকায় যোগ দিল। আর আবু লাহাব কুরাইশদের নিকট চলে গেল বনু হাশেম ও বনু মুত্তালিবের বিরুদ্ধে তাদের সহযোগিতা করার জন্য। তারা তাদের খাদ্য সরবরাহ ও সাহায্য বন্ধ করে দিল, যার ফলে তারা হজের মৌসুম ব্যতীত (উপত্যকা থেকে) বের হতে পারত না। এমনকি তারা চরম খাদ্যাভাব ও কষ্টে নিপতিত হলো এবং উপত্যকার বাইরে থেকে তাদের শিশুদের কান্নার আওয়াজ শোনা যেত। কুরাইশদের কেউ কেউ এতে আনন্দিত হতো আবার কেউ কেউ ব্যথিত হতো। আর তারা বলল: দেখ, বগিয বিন আমিরের কী দশা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারুল কাবীর ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
فأقاموا فِي الشِّعْب ثَلَاث سِنِين، ثمَّ أَطلَع اللهُ رسولَه على أمرِ صحيفتهم، وأنّ الأرَضَة أَكلت مَا كَانَ فِيهَا من ظُلْمٍ وجَوْر، وَبَقِي مَا كَانَ فِيهَا من ذِكر الله. فَأخْبرهُم أَبُو طَالب. فأرسلوا إِلَى الصَّحِيفَة فوجدوها كَمَا قَالَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] . وتلاوم رجالٌ من قريشٍ، فلبسوا السلاحَ، ثمَّ خَرجُوا إِلَى بني هَاشم وَبني المطَّلب، فأمروهم بِالْخرُوجِ إِلَى مساكنهم، فَفَعَلُوا. وَكَانَ خروجُهم من الشِّعْب فِي السّنة الْعَاشِرَة، وَقيل: مَكَثُوا فِي الشِّعْب سَنتين.
موت أبي طَالب وَخَدِيجَة ثمَّ خُرُوج النبيّ [صلى الله عليه وسلم] إِلَى الطَّائِف ثمَّ رُجُوعه إِلَى مَكَّة مَاتَ أَبُو طَالب فِي السّنة الْعَاشِرَة من البَعْث، وَقيل: فِي التَّاسِعَة بعد الْخُرُوج من الشِّعْب، وَله سبعٌ وَثَمَانُونَ سنة.
وَمَاتَتْ خَدِيجَة، فنالت قريشٌ من النبيِّ [صلى الله عليه وسلم] مَا لم تكن تَنال فِي حَيَاة أبي طَالب. فَخرج إِلَى الطَّائِف، هُوَ وَزيد بن حَارِثَة، وَذَلِكَ فِي ليالٍ بَقينَ من شَوَّال سنة عشرٍ / 9 ظ. من النبوَّة، وَقيل: غير ذَلِك. فَأَقَامَ بِالطَّائِف لَا يَدَعُ أحدا من أَشْرَافهم إلاّ جَاءَهُ وكلَّمه، فَلم يُجيبوه، وخافوا على أحداثهم، وَقَالُوا: يَا
তারা শিয়াবে (গিরিপথে) তিন বছর অবস্থান করলেন, অতঃপর আল্লাহ তাঁর রাসূলকে তাদের চুক্তিনামা সম্পর্কে অবগত করলেন যে, উইপোকা তাতে থাকা অন্যায় ও জুলুমের অংশটুকু খেয়ে ফেলেছে এবং তাতে আল্লাহর যিকির (নাম) সম্বলিত অংশটুকু অবশিষ্ট আছে। আবু তালিব তাদের এ কথা জানালেন। তারা চুক্তিনামাটি দেখতে পাঠালেন এবং আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] যা বলেছিলেন ঠিক তেমনই তা দেখতে পেলেন। কুরাইশদের কিছু লোক একে অপরকে ভর্ৎসনা করতে লাগল, এরপর তারা অস্ত্র ধারণ করল এবং বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিবের নিকট গিয়ে তাদেরকে নিজেদের বাসস্থানে ফিরে আসার নির্দেশ দিল; ফলে তারা তা-ই করল। গিরিপথ থেকে তাদের এই প্রস্থান ছিল দশম বর্ষে, আর বলা হয়ে থাকে যে, তারা গিরিপথে দুই বছর অবস্থান করেছিলেন।
আবু তালিব ও খাদিজার মৃত্যু, অতঃপর নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর তায়েফ গমন ও মক্কায় প্রত্যাবর্তন নবুওয়াতের দশম বর্ষে আবু তালিব মৃত্যুবরণ করেন, মতান্তরে গিরিপথ থেকে বের হওয়ার পর নবম বর্ষে; তখন তার বয়স ছিল সাতাশি বছর।
খাদিজাও মৃত্যুবরণ করেন, ফলে কুরাইশরা নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর সাথে এমন সব আচরণ করার সুযোগ পেল যা তারা আবু তালিবের জীবদ্দশায় করতে পারেনি। অতঃপর তিনি যায়েদ বিন হারিসাহকে সাথে নিয়ে তায়েফের উদ্দেশে রওয়ানা হলেন, এটি ছিল নবুয়তের দশম বর্ষের শাওয়াল মাসের শেষভাগের কয়েক রাতের ঘটনা, মতান্তরে অন্য সময়ে। তিনি তায়েফে অবস্থান করে তাদের প্রত্যেক অভিজাত ব্যক্তির নিকট গেলেন ও কথা বললেন, কিন্তু তারা তাঁর আহবানে সাড়া দিল না। বরং তারা তাদের কিশোর-যুবকদের নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়ল এবং বলল: হে...
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারুল কাবীর ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৪০)
مُحَمَّد أُخرج من بَلدنا. وأَغروا بِهِ سفهاءهم، فَجعلُوا يَرمونه بِالْحِجَارَةِ، حَتَّى إنَّ رِجْلَيْ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] لَتدْمَيَان، وَزيد بن حَارِثَة يَقيهِ بِنَفسِهِ. حَتَّى لقد شُجَّ فِي رَأسه شِجاجاً. فَانْصَرف رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] من الطَّائِف رَاجعا إِلَى مَكَّة وَهُوَ محزونٌ. فَلَمَّا نزل نَخلَةَ قَامَ يصلِّي من اللَّيْل فصُرِف إِلَيْهِ نفرٌ من الجِنِّ سبعةٌ من أهل نَصِيبِين فَاسْتَمعُوا الْقُرْآن وَهُوَ يقرأُ سُورَة الجِنِّ، وَلم يَشعر بهم رسولُ الله [صلى الله عليه وسلم] حَتَّى نزل عَلَيْهِ {وَإِذ صرفنَا إِلَيْك نَفرا من الْجِنّ يَسْتَمِعُون الْقُرْآن} وأسْلَموا.
وَأقَام بنخلَة أيّاماً ثمَّ أَرَادَ الرُّجُوع إِلَى مكةَ، فَقَالَ لَهُ زيد بن حَارِثَة: كَيفَ تدخُل عَلَيْهِم وهم أَخرجوك؟ فَقَالَ: " يَا زيد، إنَّ الله جاعلٌ لِما ترى فَرَجَاً ومَخْرَجاً، وإنَّ الله ناصرُ دينه، ومُظهر نبيّه " ثمَّ سَار إِلَى حِراء فَأرْسل رجلا من خُزَاعة إِلَى مُطْعِم بن عَديّ: أَدخُلُ فِي جوارك؟ فَقَالَ: نعم، ودعا بَنيهِ وقومَه، وَقَالَ: البسوا السلاحَ، وَكُونُوا عِنْد أَرْكَان الْبَيْت، فَإِنِّي قد أَجرْتُ محمَّداً. فَدخل رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] وَمَعَهُ زيد بن حَارِثَة حَتَّى انْتهى إِلَى الْمَسْجِد الْحَرَام، فَقَامَ مُطعم بن عَديّ على رَاحِلَته فَنَادَى: يَا معشرَ قريشٍ، إِنِّي قد أَجرتُ محمّداً فَلَا يَهِجْه أَحدٌ مِنْكُم. فَانْتهى رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] إِلَى الرُّكْن فاستلمه، وصلَّى رَكْعَتَيْنِ وَانْصَرف إِلَى بَيته، ومُطِعم بن عَديّ وَولده مُطيفون بِهِ.
মুহাম্মদকে আমাদের শহর থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তারা তাদের নির্বোধদের তার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছিল, ফলে তারা তাকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে থাকে, এমনকি আল্লাহর রাসূলের [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] দুই পা রক্তে রঞ্জিত হয়ে গিয়েছিল এবং জায়েদ ইবনে হারিসা নিজের জীবন দিয়ে তাকে রক্ষা করছিলেন। এমনকি তার মাথায় গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছিল। আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] ব্যথিত চিত্তে তায়েফ থেকে মক্কার উদ্দেশ্যে ফিরে চললেন। যখন তিনি নাখলা নামক স্থানে অবতরণ করলেন, তখন রাতে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে লাগলেন। তখন নাসিবিনের অধিবাসী সাতজন জিনের একটি দল তার দিকে ফিরে এল। তারা কুরআন শ্রবণ করল যখন তিনি সূরা জিন তিলাওয়াত করছিলেন। আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] তাদের উপস্থিতি টের পাননি যতক্ষণ না তার ওপর অবতীর্ণ হলো: "স্মরণ করো, যখন আমি তোমার দিকে জিনের একটি দলকে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম, যারা কুরআন শ্রবণ করছিল" এবং তারা ইসলাম গ্রহণ করল।
তিনি নাখলাতে কয়েক দিন অবস্থান করলেন, তারপর মক্কায় ফেরার ইচ্ছা পোষণ করলেন। তখন জায়েদ ইবনে হারিসা তাকে বললেন: আপনি কীভাবে তাদের কাছে প্রবেশ করবেন অথচ তারা আপনাকে বের করে দিয়েছে? তিনি বললেন: "হে জায়েদ, তুমি যা দেখছ সে বিষয়ে আল্লাহ অবশ্যই কোনো প্রশস্ততা ও পথ বের করে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর দ্বীনকে সাহায্য করবেন এবং তাঁর নবীকে বিজয়ী করবেন।" এরপর তিনি হেরা পর্বতের দিকে চললেন এবং খুজাআ গোত্রের এক ব্যক্তিকে মুতঈম ইবনে আদীর কাছে এই বার্তা দিয়ে পাঠালেন: আমি কি আপনার আশ্রয়ে প্রবেশ করতে পারি? তিনি বললেন: হ্যাঁ। এরপর তিনি তার সন্তানদের ও কওমকে ডাকলেন এবং বললেন: তোমরা অস্ত্র ধারণ করো এবং বাইতুল্লাহর স্তম্ভগুলোর কাছে অবস্থান নাও, কারণ আমি মুহাম্মদকে আশ্রয় দিয়েছি। অতঃপর আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] প্রবেশ করলেন এবং তার সাথে জায়েদ ইবনে হারিসা ছিলেন। তারা মসজিদে হারামে পৌঁছালে মুতঈম ইবনে আদী তার উটের ওপর দাঁড়িয়ে ঘোষণা করলেন: হে কুরাইশ সম্প্রদায়, আমি মুহাম্মদকে আশ্রয় দিয়েছি, সুতরাং তোমাদের কেউ যেন তাকে উত্যক্ত না করে। আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] রুকন পর্যন্ত গিয়ে তা স্পর্শ করলেন এবং দুই রাকাত সালাত আদায় করে নিজের ঘরে ফিরে গেলেন। আর মুতঈম ইবনে আদী ও তার সন্তানরা তাকে চারপাশ থেকে বেষ্টন করে পাহারা দিচ্ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারুল কাবীর ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৪১)
الْإِسْرَاء والمعراج ثمَّ أُسريَ بجَسَد رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] المكَرَّم، من الْمَسْجِد الْحَرَام إِلَى الْمَسْجِد الْأَقْصَى، ثمَّ عُرِجَ بِهِ إِلَى السَّمَاء العُليا، إِلَى سِدْرَة المُنتهى، إِلَى مستوىً سمِعَ فِيهِ صَريفَ الأقلام، وفُرض عَلَيْهِ وعَلى أُمَّته الصَّلَوَات الْخمس، وَذَلِكَ لَيْلَة سبع عشرَة / 10 و. من شهر ربيعٍ الأوّل، وَقيل: غير ذَلِك فِي تأريخه، والأوَّل هُوَ المرويُّ عَن عائشةَ وأُمِّ سَلَمة وأُمِّ هَانِئ، وَعبد الله بن عَمْرو وَعبد الله بن عَبَّاس رضي الله عنهم. وسِنُّه [صلى الله عليه وسلم] حِين الإِسراء اثْنَتَانِ وَخَمْسُونَ سَنة، وَقيل غير ذَلِك.
وَاخْتلف الْعلمَاء فِي الْإِسْرَاء والمعراج، هَل كَانَا فِي لَيْلَة وَاحِدَة، أَوْ لَا. وأيّهما كَانَ قبل الآخر. وَهل كَانَ ذَلِك كلُّه فِي الْيَقَظَة أَو فِي الْمَنَام. أَو بعضه فِي الْيَقَظَة، وَبَعضه فِي الْمَنَام. وَالْقَوْل أَنه كَانَ فِي الْمَنَام ضَعِيف عِنْد أهل الْعلم.
وَفِي صَبِيحَة لَيْلَة الْمِعْرَاج كَانَ نزُول جِبْرِيل عليه السلام وإمامتُه بالنبيّ [صلى الله عليه وسلم] ليُريَه أَوْقَات الصَّلَوَات الْخمس.
ইসরা ও মিরাজ অতঃপর আল্লাহর রাসূলের [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] সম্মানিত দেহসহ মাসজিদুল হারাম থেকে মাসজিদুল আকসা পর্যন্ত রাতে ভ্রমণ (ইসরা) করানো হয়। এরপর তাঁকে নিয়ে ঊর্ধ্বাকাশে আরোহণ (মিরাজ) করা হয় সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত, এবং এমন এক উচ্চতায় যেখানে তিনি কলমসমূহের ঘর্ষণের শব্দ শুনতে পান। সেখানে তাঁর ওপর এবং তাঁর উম্মতের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরজ করা হয়। এটি ঘটেছিল রবিউল আউয়াল মাসের সতেরো তারিখের রাতে; তবে এর তারিখের ব্যাপারে অন্য মতও রয়েছে। আর প্রথম মতটিই আয়েশা, উম্মে সালামা, উম্মে হানি, আবদুল্লাহ ইবনে আমর এবং আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত। ইসরার সময় তাঁর [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বয়স ছিল বায়ান্ন বছর, তবে এ ব্যাপারে অন্য মতও বর্ণিত আছে।
আলেমগণ ইসরা ও মিরাজ সম্পর্কে মতভেদ করেছেন যে, তা কি একই রাতে সংঘটিত হয়েছিল নাকি নয়; এবং কোন ঘটনাটি আগে হয়েছিল। তদ্রূপ পুরো বিষয়টি কি জাগ্রত অবস্থায় হয়েছিল নাকি স্বপ্নে, অথবা কিছু অংশ জাগ্রত অবস্থায় এবং কিছু অংশ স্বপ্নে—এ নিয়েও মতভেদ রয়েছে। তবে ইলমের অধিকারীগণের (আলেমদের) নিকট এটি স্বপ্নে হওয়ার মতটি দুর্বল।
মিরাজের রাতের পরদিন সকালে জিবরাঈল আলাইহিস সালামের অবতরণ ঘটে এবং তিনি নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-কে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের সময়সমূহ প্রদর্শন করার জন্য তাঁর ইমামতি করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারুল কাবীর ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৪২)
وَلما أَخبر رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] قُريْشًا بالإِسراء استهزؤوا بِهِ، فجلّى الله لَهُ بيتَ المقْدِس، فوصفَه لَهُم وَهُوَ ينظر إِلَيْهِ. وَقَالُوا: أَخبِرْنا عَن عِيْرنا. فَقَالَ: " مررتُ على عير بني فلَان بِالرَّوْحَاءِ قد أَضَلُّوا نَاقَة لَهُم، وَانْطَلَقُوا فِي طلبَهَا فمررت فانتهيتُ إِلَى رِحالهم، وَلَيْسَ بهَا مِنْهُم أَحدٌ، فَإِذا قَدحٌ من ماءٍ فشربتُ مِنْهُ فسَلوهم عَن ذَلِك. ثمَّ انْتَهَيْت إِلَى عِيْر بني فلانٍ بالأَبواء، يقدُمها جَملٌ أوْرقُ هَا هِيَ تَطلع عَلَيْكُم من الثَنيَّة، وفيهَا فلانٌ وفلانٌ، وعِدّتُها كَذَا وَكَذَا، وأَحمالُها كَذَا وَكَذَا " فانطَلَقوا فوجدوا الأمرَ كَمَا قَالَ [صلى الله عليه وسلم] فَرَمَوْهُ بالسِّحر، ولَجُّوا فِي طُغيانهم يَعمهُون.
بدءُ إِسْلَام الْأَنْصَار أَقَامَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] مَا أَقَامَ بمكّةَ يَدْعُو الْقَبَائِل إِلَى الله، ويَعرض نفسَه عَلَيْهِم كلَّ سنةٍ فِي المواسم أنْ يؤوه، حَتَّى يبلِّغ رِسَالَة: 10 /؟ . ربّه وَلَهُم الجَنَّة، وَلَيْسَت قبيلةَ من الْعَرَب تستجيبُ لَهُ، حَتَّى أَرَادَ الله إظهارَ دينه، وَنصر نبيّه وإنجازَ مَا وَعَدَه، فساقه إِلَى هَذَا الحيِّ من الْأَنْصَار، لِما يُرِيد اللهُ بهم الكرَامة، فَانْتهى إِلَى نفر مِنْهُم ثمانيةٍ عِنْد العَقبة فِي الْمَوْسِم، وهم يَحلِقون
যখন রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] কুরাইশদের ইসরা (নৈশভ্রমণ) সম্পর্কে সংবাদ দিলেন, তখন তারা তাঁকে নিয়ে উপহাস করল। এরপর আল্লাহ তাঁর সামনে বায়তুল মাকদিসকে উন্মোচিত করলেন এবং তিনি সেটির দিকে তাকিয়ে তাদের কাছে তার বর্ণনা দিলেন। তারা বলল: আমাদের কাফেলা সম্পর্কে আমাদের খবর দিন। তিনি বললেন: "আমি রাওহা নামক স্থানে অমুক গোত্রের কাফেলার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। তারা তাদের একটি উট হারিয়ে ফেলেছিল এবং সেটির সন্ধানে বেরিয়েছিল। আমি তাদের শিবিরের কাছে গিয়ে পৌঁছলাম, কিন্তু সেখানে তাদের কেউ ছিল না। তখন সেখানে পানির একটি পাত্র দেখে আমি তা থেকে পান করলাম। তোমরা এ ব্যাপারে তাদের জিজ্ঞেস করে নিও। অতঃপর আমি আবওয়া নামক স্থানে অমুক গোত্রের কাফেলার কাছে পৌঁছলাম। একটি ধূসর বর্ণের উট সেটির নেতৃত্বে ছিল। এই যে এখনই তারা গিরিপথ দিয়ে তোমাদের সামনে আত্মপ্রকাশ করবে। সেই কাফেলায় অমুক অমুক ব্যক্তি রয়েছে, তাদের সংখ্যা এবং মালপত্রের পরিমাণও নির্দিষ্ট।" এরপর তারা গিয়ে রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] যা বলেছিলেন ঠিক তেমনই দেখতে পেল। এরপরও তারা তাঁকে জাদুকর বলে আখ্যায়িত করল এবং নিজেদের অবাধ্যতায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে রইল।
আনসারদের ইসলাম গ্রহণের সূচনা রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] মক্কায় যতদিন অবস্থান করেছিলেন, বিভিন্ন গোত্রকে আল্লাহর পথে দাওয়াত দিতেন এবং প্রতি বছর হজের মৌসুমে নিজেকে তাদের সামনে পেশ করতেন যাতে তারা তাঁকে আশ্রয় প্রদান করে এবং তিনি তাঁর রবের রিসালাত প্রচার করতে পারেন; যার বিনিময়ে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। কিন্তু আরবের কোনো গোত্রই তাঁর ডাকে সাড়া দিচ্ছিল না। পরিশেষে যখন আল্লাহ তাঁর দ্বীনকে বিজয়ী করতে, তাঁর নবীকে সাহায্য করতে এবং তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করতে চাইলেন, তখন তিনি তাঁকে আনসারদের এই জনপদের দিকে পরিচালিত করলেন, কারণ আল্লাহ তাদের সম্মানিত করতে চেয়েছিলেন। হজের মৌসুমে আকাবার নিকট তিনি তাদের আটজনের একটি দলের কাছে পৌঁছলেন, তখন তারা মাথা মুণ্ডন করছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারুল কাবীর ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
رؤوسَهم، فَجَلَسَ إِلَيْهِم، فَدَعَاهُمْ إِلَى الله عز وجل وَقَرَأَ عَلَيْهِم الْقُرْآن، فَقَالَ بَعضهم لبعضٍ: إنّه النبيّ الَّذِي تُوعِدُكم بِهِ يهود، فَلَا يَسبِقُنَّكم إِلَيْهِ، فاستجابوا لله وَلِرَسُولِهِ، فآمنوا بِهِ، وصدّقوا، وهم أَسعد بن زُرَارة، ومَعَاذ بن عفراء، ورَافع بن مَالك، وذَكْوان بن عبد قيس، وعُبَادة بن الصَّامت، وَأَبُو عبد الرَّحْمَن يَزيد بن ثَعلبةَ من بَلِيٍّ حليفٌ لَهُم، وَأَبُو الهَيثم بن التَّيْهان حليفٌ لَهُم، وعُوَيم بن سَاعدة. وَقيل: بل كَانُوا ستَّةً، أسعد بن زُرَارة، وعَوْف بن الحارِث، ورَافع بن مَالك، وقُطْبة بن عَمْرو بن نابي، وَجَابِر بن عبد الله، لم يكن قبلهم أحدٌ، قَالَ الْوَاقِدِيّ: هَذَا عندنَا أثبتُ مَا سمعنَا فيهم، وَهُوَ المُجْتَمع عَلَيْهِ.
وَقدمُوا الْمَدِينَة فدَعَوْا إِلَى الْإِسْلَام حَتَّى فَشَا فِيهَا، وَلم يَبقَ دارٌ من دُور الْأَنْصَار إلاّ وفيهَا ذِكرٌ من رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] . فأوّل مسجدٍ قُرئ فِيهِ الْقُرْآن مَسْجِد بني زُرَيق، ثمَّ فِي الْعَام الْقَابِل لقِيه اثْنَا عشر رجلا من الْأَنْصَار عِنْد الْعقبَة، أسعَد بن زرَارة، وعَوْف ومُعاذ ابْنا عَفْراء، وذَكْوان بن عبد قيس، ورَافع بن مَالك، وقُطْبة بن عَامر، وَأَبُو عبد الرَّحْمَن يزِيد بن ثَعلبة من بَلِيٍّ حَلِيف، وعُبَادةَ بن الصَّامت، وعبّاس بن عُبَادة بن نَضْلة، وعُقْبة بن عَامر بن نابي، فَهَؤُلَاءِ عشرَة من الْخَزْرَج.
وَمن الْأَوْس رجلَانِ، عُوَيم بن سَاعدة وَأَبُو / 11 و. الهَيثم بن التَّيْهان من
...তাদের মাথার কাছে। তিনি তাদের নিকট বসলেন এবং তাদেরকে মহান আল্লাহর দিকে আহ্বান করলেন ও তাদের সামনে কুরআন পাঠ করলেন। তখন তারা একে অপরকে বলতে লাগল: "ইনিই সেই নবী যার ব্যাপারে ইয়াহুদীরা তোমাদের ভয় দেখাত, সুতরাং তারা যেন তোমাদের চেয়ে অগ্রগামী না হতে পারে।" অতঃপর তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আহ্বানে সাড়া দিলেন, ঈমান আনলেন এবং তাঁকে সত্য বলে স্বীকার করলেন। তারা হলেন আস'আদ বিন যুরারাহ, মু'আয বিন আফরা, রাফে' বিন মালিক, যাকওয়ান বিন আবদ কায়স, উবাদাহ বিন সামিত, তাদের মিত্র বালি গোত্রের আবু আবদুর রহমান ইয়াযীদ বিন সা'লাবাহ, তাদের মিত্র আবু আল-হাইসাম বিন তাইয়িহান এবং উওয়াইম বিন সা'দাহ। কারও মতে: বরং তারা ছিলেন ছয় জন; আস'আদ বিন যুরারাহ, আওফ বিন হারিস, রাফে' বিন মালিক, কুতবাহ বিন আমর বিন নাবি এবং জাবির বিন আবদুল্লাহ। তাদের পূর্বে আর কেউ (ঈমান আনতে) আসেনি। আল-ওয়াকিদি বলেন: আমাদের নিকট এটিই এ সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহের মধ্যে সর্বাধিক প্রমাণিত এবং এর ওপরই ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত।
তারা মদিনায় পৌঁছে ইসলামের দাওয়াত দিতে শুরু করলেন, ফলে সেখানে ইসলামের ব্যাপক প্রসার ঘটল। আনসারদের এমন কোনো ঘর বাকি ছিল না যেখানে রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর আলোচনা পৌঁছায়নি। সর্বপ্রথম যে মসজিদে কুরআন তিলাওয়াত করা হয়েছিল তা হলো বনু যুরাইক গোত্রের মসজিদ। অতঃপর পরবর্তী বছর আকাবার নিকট আনসারদের বারো জন লোক তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেন। তারা হলেন আস'আদ বিন যুরারাহ, আওফ ও মু'আয (আফরার দুই পুত্র), যাকওয়ান বিন আবদ কায়স, রাফে' বিন মালিক, কুতবাহ বিন আমির, বালি গোত্রের মিত্র আবু আবদুর রহমান ইয়াযীদ বিন সা'লাবাহ, উবাদাহ বিন সামিত, আব্বাস বিন উবাদাহ বিন নাযলাহ এবং উকবাহ বিন আমির বিন নাবি। এই দশজন ছিলেন খাযরাজ গোত্রের।
আর আউস গোত্র থেকে ছিলেন দুইজন— উওয়াইম বিন সা'দাহ এবং আবু / ১১ পৃষ্ঠা, উল্টো পিঠ। আল-হাইসাম বিন তাইয়িহান...