(খণ্ড: ১) গায়াতুস সূল ফী সীরাতির রাসূল (পৃষ্ঠা: -)
غاية السول في سيرة الرسول   (عبد الباسط الملطي)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: غاية السول في سيرة الرسول

المؤلف: عبد الباسط بن خليل بن شاهين الملطي، ثم القاهري، زين الدين (ت 920هـ)

المحقق: دكتور محمد كمال الدين عز الدين علي

الناشر: عالم الكتب - بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1408هـ - 1988م

عدد الصفحات: 67

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

রাসুলের জীবনীতে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য   (আব্দুল বাসিত আল-মালতি)

বিভাগ: সিরাত আন-নববীয়াহ (রাসুলের জীবনী)


বই: রাসুলের জীবনীতে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য

লেখক: আব্দুল বাসিত বিন খলীল বিন শাহীন আল-মালতি, অতঃপর আল-কাহিরি, যয়নুদ্দীন (মৃত্যু ৯২০ হিজরি)

সম্পাদক: ডক্টর মুহাম্মদ কামাল উদ্দীন ইযযুদ্দীন আলী

প্রকাশক: আলমুল কুতুব - বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৮ হিজরি - ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৭

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বরকরণ মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) গায়াতুস সূল ফী সীরাতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

 

‌‌مُقَدّمَة الْمُؤلف

 

الْحَمد لله الَّذِي بعث رَسُوله مُحَمَّدًا بِالْحَقِّ بشيرا وَنَذِيرا وداعيا إِلَيْهِ بِإِذْنِهِ وسراجا منيرا فَأخْرج بِهِ من الظُّلُمَات إِلَى النُّور وَهدى بِهِ خلقا كثيرا صلى الله عليه وسلم وعَلى آله وَصَحبه وَسلم متواليا مُتَّصِلا اتِّصَالًا كَبِيرا متأرجا عطرا نافحا مسكا شاذيا عبيرا

وَبعد فَيَقُول العَبْد الْفَقِير إِلَى الله تَعَالَى الحفي عبد الباسط الْحَنَفِيّ غفر الله تَعَالَى لَهُ ذنُوبه وَستر عَلَيْهِ عيوبه

هَذِه رِسَالَة شريفة وتحفة منيفة تشْتَمل على نبذة مختصرة من سيرة نَبينَا مُحَمَّد سيد الْأَوَّلين والآخرين صلى الله عليه وسلم وعَلى آله وَصَحبه أَجْمَعِينَ وَسلم تَسْلِيمًا كثيرا إِلَى يَوْم الدّين سميتها بغاية السؤل فِي سيرة الرَّسُول جمعتها على طَريقَة الإختصار نزهة لِذَوي الْأَلْبَاب والأبصار وَبِاللَّهِ تَعَالَى فِي ترتيبها وَجَمعهَا أستعين وَعَلِيهِ سُبْحَانَهُ أتوكل وَهُوَ الْمعِين
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

লেখকের ভূমিকা

 

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর রাসূল মুহাম্মদকে সত্যসহ সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী, তাঁর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী এবং উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে প্রেরণ করেছেন। অতঃপর তাঁর মাধ্যমে তিনি অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে এনেছেন এবং তাঁর দ্বারা বহু সৃষ্টিকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর অবারিত, নিরবচ্ছিন্ন এবং সুগন্ধিযুক্ত কস্তুরীর ন্যায় সুবাসিত সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।

অতঃপর, মহান আল্লাহর মুখাপেক্ষী বান্দা আব্দুল বাসিত আল-হানাফী—আল্লাহ তাঁর গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন এবং তাঁর দোষত্রুটি গোপন রাখুন—বলছেন:

এটি একটি সম্মানিত পুস্তিকা এবং এক মহান উপহার, যা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের নেতা আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জীবনীর সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ নিয়ে গঠিত। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর কিয়ামত পর্যন্ত অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। আমি এর নামকরণ করেছি ‘গায়াতুস সুল ফী সীরাতির রাসূল’ (রাসূলের জীবনীতে আকাঙ্ক্ষার চূড়ান্ত লক্ষ্য)। এটি আমি সংক্ষেপণ পদ্ধতিতে সংকলন করেছি, যা জ্ঞানী ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য আনন্দদায়ক হবে। এটি বিন্যাস ও সংকলন করার ক্ষেত্রে আমি মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁরই ওপর ভরসা করছি, আর তিনিই একমাত্র সাহায্যকারী।
(খণ্ড: ১) গায়াতুস সূল ফী সীরাতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌الْفَصْل الأول

 

‌‌ذكر نسبه صلى الله عليه وسلم

 

أعلم أيدك الله تَعَالَى وحماك وبعين كنفه وَحفظه وعنايته وكلاءته رعاك أَن نسب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَشرف وكرم أشرف الْأَنْسَاب وأفخره بَين الْأَعْرَاب وَهُوَ مِنْهُ صلى الله عليه وسلم إِلَى عدنان النّسَب الْمُتَّفق عَلَيْهِ فَلَا خلاف فِيهِ بَين عُلَمَاء النّسَب وَأما من عدنان إِلَى آدم فقد اخْتلف فِيهِ اخْتِلَافا كثيرا

وَنحن نذْكر النّسَب إِلَى عدنان وَمِنْه إِلَى آدم عليه السلام مُتَّصِلا ونتكلم على مَا فِيهِ وَفِي أَسْمَائِهِ بِخِلَاف مَا اشْتهر من الْكَلَام فَنَقُول

هُوَ صلى الله عليه وسلم مُحَمَّد بن عبد الله بن عبد الْمطلب بن هَاشم بن عبد منَاف بن قصي بن كلاب بن مرّة بن كَعْب بن لؤَي بن غَالب بن فهر بن مَالك بن النَّضر بن كنَانَة بن خُزَيْمَة ابْن مدركة بن إلْيَاس بن مُضر بن نزار بن معد بن عدنان بن أدد بن مقوم بن ناحور بن تيرح بن يعرب بن يشخب بن نابت بن إِسْمَاعِيل بن إِبْرَاهِيم خَلِيل الرَّحْمَن بن آزر بن ناحور بن شاروخ بن راعو بن فالج بن عيبر بن شالخ بن أرفخشذ بن سَام بن نوح بن لامك بن متوشلخ بن خنوخ بن يرد بن مهليل بن قينن بن يانش بن شِيث بن آدم عَلَيْهِ السَّلَام
প্রথম পরিচ্ছেদ

 

তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বংশপরিচয়ের উল্লেখ

 

জেনে রাখুন—আল্লাহ তাআলা আপনাকে সাহায্য করুন, রক্ষা করুন এবং তাঁর হেফাযত, তত্ত্বাবধান ও আশ্রয়ের দৃষ্টিতে আপনার প্রতিপালন করুন—নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশপরম্পরা, মর্যাদা ও আভিজাত্য আরবদের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত ও গৌরবময়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আদনান পর্যন্ত বংশধারাটি সর্বসম্মত; এ নিয়ে বংশতত্ত্ববিদদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই। তবে আদনান থেকে আদম আলাইহিস সালাম পর্যন্ত বংশধারার ক্ষেত্রে অনেক মতভেদ রয়েছে।

আমরা আদনান পর্যন্ত এবং আদনান থেকে আদম আলাইহিস সালাম পর্যন্ত ধারাবাহিক বংশপরম্পরা উল্লেখ করব এবং সে সম্পর্কে ও তার নামসমূহ নিয়ে বহুল প্রচলিত বর্ণনার বিপরীতে আলোচনা করব। আমরা বলছি:

তিনি হলেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম ইবনে আব্দে মানাফ ইবনে কুসাই ইবনে কিলাব ইবনে মুররাহ ইবনে কাব ইবনে লুয়াই ইবনে গালিব ইবনে ফিহর ইবনে মালিক ইবনে নাদর ইবনে কিনানাহ ইবনে খুযাইমাহ ইবনে মুদরিকাহ ইবনে ইলিয়াস ইবনে মুদার ইবনে নিযার ইবনে মা'আদ ইবনে আদনান ইবনে আদাদ ইবনে মাকূম ইবনে নাহূর ইবনে তাইরাহ ইবনে ইয়ারুব ইবনে ইয়াশখুব ইবনে নাবিত ইবনে ইসমাইল ইবনে ইবরাহীম খলীলুর রহমান ইবনে আযার ইবনে নাহূর ইবনে শারূখ ইবনে রাঊ ইবনে ফালিজ ইবনে আইবার ইবনে শালিজ ইবনে আরফাখশাদ ইবনে সাম ইবনে নূহ ইবনে লামাক ইবনে মুতূশাল্লাখ ইবনে খানূখ ইবনে ইয়ারিদ ইবনে মাহলাইল ইবনে কীনান ইবনে ইয়ানিশ ইবনে শীস ইবনে আদম আলাইহিস সালাম।
(খণ্ড: ১) গায়াতুস সূল ফী সীরাতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ২৬)
وَأعلم أَن فِي هَذِه الْأَسْمَاء الْمَذْكُورَة مَا شهر بِمَا ذَكرْنَاهُ وَهُوَ فِي الْحَقِيقَة لقب وَالِاسْم غَيره فعبد الْمطلب اسْمه شيبَة الْحَمد وهَاشِم اسْمه عَمْرو وَعبد منَاف اسْمه الْمُغيرَة وقصى اسْمه زيد وَيُسمى جمعا أَيْضا ومدركة اسْمه عَامر وإلياس اسْمه حُسَيْن وآزر أَبُو إِبْرَاهِيم واسْمه تارح وشالخ يُقَال إِنَّه نَبِي الله هود عليه السلام وخنوخ هُوَ إِدْرِيس عليه السلام وَهُوَ أول من خطّ بالقلم وَأعْطى النُّبُوَّة

وَقد قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم (لَا تجاوزوا معد بن عدنان كذب النسابون)

فَفِيهِ دَلِيل على أَن النّسَب إِلَى عدنان هُوَ الْمُتَّفق عَلَيْهِ
জেনে রাখুন যে, উল্লিখিত এই নামগুলোর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা আমাদের বর্ণিত নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, অথচ বাস্তবে তা হলো উপাধি এবং প্রকৃত নাম অন্য কিছু। আব্দুল মুত্তালিবের নাম ছিল শায়বাতুল হামদ, হাশেমের নাম ছিল আমর, আব্দে মানাফের নাম ছিল আল-মুগীরা, কুসাইয়ের নাম ছিল যায়েদ—যাকে ‘জুমআ’ নামেও অভিহিত করা হতো, মুদরিকাহর নাম ছিল আমির, ইলিয়াসের নাম ছিল হুসাইন, ইব্রাহিমের পিতা আযর—যার প্রকৃত নাম ছিল তরাহ, শালেখ সম্পর্কে বলা হয় যে তিনি আল্লাহর নবী হুদ (আলাইহিস সালাম) এবং খানুখ হলেন ইদ্রিস (আলাইহিস সালাম); তিনি সর্বপ্রথম কলম দিয়ে লিখেছিলেন এবং তাঁকে নবুওয়াত দান করা হয়েছিল।

আর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (তোমরা মাআদ বিন আদনানকে অতিক্রম করো না; বংশবিদগণ মিথ্যা বলেছে)

এতে এই প্রমাণ রয়েছে যে, আদনান পর্যন্ত বংশপরম্পরাটিই সর্বসম্মত।
(খণ্ড: ১) গায়াতুস সূল ফী সীরাতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌الْفَصْل الثَّانِي

 

‌‌ذكر أمه صلى الله عليه وسلم

 

هِيَ آمِنَة بنت وهب بن عبد منَاف بن زهرَة بن كلاب بن مرّة هُنَا تَجْتَمِع مَعَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم

مَاتَت فِي نفَاسهَا بِهِ صلى الله عليه وسلم وَقيل غير ذَلِك

وَذكر السُّهيْلي فِي كِتَابه الرَّوْض الْأنف أَن الله تَعَالَى أَحْيَا لَهُ والدته ووالده فَأَسْلمَا على يَدَيْهِ ثمَّ مَاتَا

وَمن الْعلمَاء من قَالَ إنَّهُمَا مَاتَا فِي زمن الفترة وَأَمرهمَا إِلَى الله تَعَالَى وَالْأول لَيْسَ بِكَثِير من معجزاته عَلَيْهِ السَّلَام
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

 

‌‌তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাতার বর্ণনা

 

তিনি হলেন আমিনা বিনতে ওয়াহাব বিন আবদে মানাফ বিন জুহরা বিন কিলাব বিন মুররাহ। এখানে তাঁর বংশধারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে মিলিত হয়েছে।

তিনি তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রসবের পর নিফাস অবস্থায় থাকাকালীন মৃত্যুবরণ করেন এবং এ সম্পর্কে অন্য কথাও বর্ণিত হয়েছে।

সুহাইলি তাঁর ‘আর-রাওদুল উনুফ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর জন্য তাঁর পিতা ও মাতাকে পুনর্জীবিত করেছিলেন, অতঃপর তাঁরা তাঁর নিকট ইসলাম গ্রহণ করেন এবং পুনরায় মৃত্যুবরণ করেন।

আলেমদের কেউ কেউ বলেছেন যে, তাঁরা ‘ফাতরাত’ (দুই নবীর আগমনের অন্তর্বর্তীকালীন সময়) যুগে মৃত্যুবরণ করেছেন এবং তাঁদের বিষয়টি আল্লাহ তাআলার ওপর ন্যস্ত। আর প্রথম বিষয়টি তাঁর (আলাইহিস সালাম) মুজিজাসমূহের তুলনায় অধিক কিছু নয়।
(খণ্ড: ১) গায়াতুস সূল ফী সীরাতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌الْفَصْل الثَّالِث

 

‌‌ذكر أَعْمَامه

صلى الله عليه وسلم

كَانُوا تِسْعَة فِي الْعدَد وهم

أَبُو طَالب وَكَانَ اسْمه عبد منَاف وَهُوَ وَالِد عَليّ كرم الله وَجهه

وَالزُّبَيْر وَكَانَ يكنى بِأبي طَاهِر

وَكَانَا شقيقا وَالِده عبد الله وَأَبُو الْفضل الْعَبَّاس

وَحَمْزَة أَبُو يعلى وَهُوَ أَخُو النَّبِي صلى الله عليه وسلم من الرَّضَاع كَانَت أرضعتهما أمة لأبي لَهب تسمى ثويبة

والْحَارث

وحجل وَكَانَ يلقب الغيداق لِكَثْرَة مَا كَانَ يَفْعَله من الْخَيْر

والمقوم وَهُوَ شَقِيق حَمْزَة

وَضِرَار وَهُوَ شَقِيق الْعَبَّاس

وَأَبُو لَهب وَكَانَ اسْمه عبد الْعزي وَهُوَ شَقِيق حجل وَكَانَ يعادي النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَأنْزل الله تَعَالَى فِي حَقه {تبت يدا أبي لَهب}

وَهَؤُلَاء أَعْمَامه من الرِّجَال صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
তৃতীয় পরিচ্ছেদ

 

তাঁর চাচাগণের আলোচনা

আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক

তাঁরা সংখ্যায় ছিলেন নয়জন এবং তাঁরা হলেন:

আবু তালিব, এবং তাঁর নাম ছিল আবদ মানাফ এবং তিনি ছিলেন আলী (আল্লাহ তাঁর চেহারাকে মর্যাদামণ্ডিত করুন)-এর পিতা।

এবং আয-যুবাইর, যাঁর উপনাম (কুনিয়া) ছিল আবু তাহির।

তাঁরা উভয়ে তাঁর পিতা আবদুল্লাহর সহোদর ভাই ছিলেন; এবং আবুল ফজল আল-আব্বাস।

এবং হামযাহ আবু ইয়ালা, তিনি ছিলেন নবী (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর দুধভাই; আবু লাহাবের সুওয়াইবাহ নামক এক দাসী তাঁদের উভয়কে দুধ পান করিয়েছিলেন।

এবং আল-হারিস।

এবং হাজল, যাকে 'আল-গাইদাক' উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল তাঁর অধিক পরিমাণে কল্যাণকর কাজ করার কারণে।

এবং আল-মুকাউউইম, যিনি হামযাহর সহোদর ভাই ছিলেন।

এবং দিরার, যিনি আল-আব্বাসের সহোদর ভাই ছিলেন।

এবং আবু লাহাব, যাঁর নাম ছিল আবদুল উজ্জা এবং তিনি হাজলের সহোদর ভাই ছিলেন; তিনি নবী (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর সাথে শত্রুতা করতেন, ফলে আল্লাহ তাআলা তাঁর ব্যাপারে অবতীর্ণ করেন— {আবু লাহাবের হাত দুটি ধ্বংস হোক}।

এবং পুরুষদের মধ্যে এঁরাই ছিলেন তাঁর চাচাগণ, আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) গায়াতুস সূল ফী সীরাতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌الْفَصْل الرَّابِع

 

‌‌ذكر عماته من النِّسَاء صلى الله عليه وسلم

 

كن سِتا

أم حَكِيم

وعاتكة تزوج صلى الله عليه وسلم بابنتها أم سَلمَة بنت أبي أُميَّة

وَأُمَيْمَة وَتزَوج أَيْضا بابنتها زَيْنَب بنت جحش

وأروي

وبرة

وَهَؤُلَاء الْخمس شقيقات أَبِيه

وَصفِيَّة وَهِي أم الزبير بن الْعَوام وَكَانَت قد أسلمت وَهِي شَقِيقَة حَمْزَة رَضِي الله عَنْهُمَا
চতুর্থ পরিচ্ছেদ

 

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফুফুদের আলোচনা

 

তাঁরা ছিলেন ছয়জন

উম্মে হাকীম

এবং আতিকাহ; তাঁর কন্যা উম্মে সালামাহ বিনতে আবি উমাইয়্যাহকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিবাহ করেছিলেন

এবং উমাইমাহ; তাঁর কন্যা যায়নব বিনতে জাহাশকেও তিনি বিবাহ করেছিলেন

এবং আরওয়া

এবং বাররাহ

এবং এই পাঁচজন ছিলেন তাঁর পিতার সহোদরা বোন

এবং সাফিয়্যাহ; তিনি ছিলেন যুবাইর ইবনুল আওয়ামের মাতা এবং তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি হামযাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সহোদরা বোন ছিলেন।
(খণ্ড: ১) গায়াতুস সূল ফী সীরাতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌الْفَصْل الْخَامِس

 

‌‌ذكر مولده وأحواله بِمَكَّة المشرفة صلى الله عليه وسلم

 

ولد صلى الله عليه وسلم بِمَكَّة فِي لَيْلَة الِاثْنَيْنِ وَثَمَانِينَ ثَانِي عشر ربيع الأول فِي عَام الْفِيل بعد قدوم أَبْرَهَة بالفيل بسبعة وَخمسين يَوْمًا

وَذكر أَصْحَاب النجامة من أهل الزيج أَنه صلى الله عليه وسلم ولد لَيْلَة الِاثْنَيْنِ لثمان خلون من ربيع الأول بعد قدوم الْفِيل بِخَمْسِينَ لَيْلَة ووافقت لَيْلَة مولده الْيَوْم الثَّانِي وَالْعِشْرين من نيسان سنة اثْنَتَيْنِ وَثَمَانِينَ وَثَمَانمِائَة للإسكندر ذِي القرنين

وَزَعَمُوا أَن الطالع كَانَ حِينَئِذٍ عشْرين دَرَجَة من برج الجدي وَكَانَ المُشْتَرِي وزحل فِي ثَلَاث دَرَجَات من الْعَقْرَب مقترنين وَهِي دَرَجَة وسط الشتَاء وَتَكَلَّمُوا على أَحْكَام هَذَا الطالع بِكَلَام كثير لَيْسَ هَذَا محلا لبيانه

وَمَات أَبوهُ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ بِبَطن أمه وَقيل مَاتَ وَهُوَ ابْن شَهْرَيْن وَقيل أَرْبَعَة وَقيل سنة وَنصفا وَقيل زِيَادَة على سنتَيْن
পঞ্চম অধ্যায়

 

সম্মানিত মক্কায় তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জন্ম ও জীবনাবস্থার বর্ণনা

 

তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হস্তীবাহিনীর বছরে, আবরাহার হস্তীবাহিনী নিয়ে আগমনের সাতান্ন দিন পর, রবিউল আউয়াল মাসের বারো তারিখ সোমবার রাতে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন।

জ্যোতির্বিজ্ঞানিগণ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হস্তীবাহিনীর আগমনের পঞ্চাশ রাত পর, রবিউল আউয়াল মাসের আট রাত অতিক্রান্ত হওয়ার পর সোমবার রাতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মের রাতটি সেকান্দার যুল-কারনাইনের পঞ্জিকা মতে ৮৮২ সনের ২২শে এপ্রিলের সাথে মিলে গিয়েছিল।

তারা দাবি করেছেন যে, সে সময় লগ্ন ছিল মকর রাশির বিশ ডিগ্রি এবং বৃহস্পতি ও শনি বৃশ্চিক রাশির তিন ডিগ্রিতে পরস্পরের সাথে মিলিত অবস্থায় ছিল; আর এটি ছিল শীতকালের মধ্যবর্তী সময়। এই লগ্নের ফলাফল সম্পর্কে তারা দীর্ঘ আলোচনা করেছেন, তবে এটি এখানে বর্ণনার ক্ষেত্র নয়।

তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পিতা ইন্তেকাল করেন যখন তিনি তাঁর মায়ের গর্ভে ছিলেন। কারো মতে তিনি ইন্তেকাল করেন যখন তাঁর বয়স ছিল দুই মাস, কারো মতে চার মাস, কারো মতে দেড় বছর, আবার কারো মতে দুই বছরের কিছু বেশি।
(খণ্ড: ১) গায়াতুস সূল ফী সীরাতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৩১)
وَكَانَ شَابًّا حِين مَاتَ بلغ من السن خمْسا وَعشْرين سنة وَكَانَ يكنى أَبَا أَحْمد

وَهُوَ الذَّبِيح الَّذِي نذر عبد الْمطلب ذبحه ثمَّ فدَاه بِمِائَة من الْإِبِل فَكَانَت الدِّيَة فِي شرع وَلَده عليه السلام

وَلِهَذَا كَانَ يُقَال لَهُ ابْن الذبيحين

وَمَاتَتْ أمه وَهُوَ ابْن أَربع سِنِين وَقيل سِتّ سِنِين وَكَانَت مَضَت بِهِ إِلَى أَخْوَاله بِالْمَدِينَةِ لتزورهم وعادت بِهِ إِلَى مَكَّة فَمَاتَتْ بالأبواء وَهِي رَاجِعَة

وَكَانَت قد استرضعت لَهُ بعد مولده صلى الله عليه وسلم حليمة ابْنة أبي ذُؤَيْب السعدية وَبَقِي عِنْدهَا خمس سِنِين وَرَأَتْ من بركاته شَيْئا كثيرا وَعِنْدهَا شقّ صَدره وملىء إِيمَانًا وَحِكْمَة

وحضنته أم أَيمن بركَة الحبشية وَكَانَ قد ورثهَا عَن أَبِيه فَلَمَّا كبر أعْتقهَا وَزوجهَا

وكفله جده عبد الْمطلب وَمَات وَله من الْعُمر مائَة وَعشر سِنِين وَكَانَ عمر النَّبِي صلى الله عليه وسلم ثَمَان سِنِين فَكَفَلَهُ بعده عَمه أَبُو طَالب

وَقرن بِهِ حِينَئِذٍ اسرافيل إِلَى أَن بلغ اثْنَتَيْ عشرَة سنة

وَخرج بِهِ عَمه إِلَى الشَّام وَجَرت نَوَادِر تشهد برسالته

وَقرن بِهِ جِبْرِيل تسعا وَعشْرين سنة

ثمَّ خرج إِلَى الشَّام مرّة ثَانِيَة مَعَ غُلَام لِخَدِيجَة يُقَال لَهُ ميسرَة ليتجر لَهَا
তিনি যখন মারা যান তখন তিনি ছিলেন একজন যুবক, তাঁর বয়স হয়েছিল পঁচিশ বছর এবং তাঁর উপনাম ছিল আবু আহমদ।

তিনিই সেই যাবিহ (যাকে যবেহ করার সংকল্প করা হয়েছিল), যাঁকে আব্দুল মুত্তালিব যবেহ করার মানত করেছিলেন, অতঃপর একশত উটের বিনিময়ে তাঁর মুক্তিপণ প্রদান করেন। ফলে তাঁর সন্তান (রাসূলুল্লাহ) আলাইহিস সালামের শরীয়তে রক্তপণ এটাই সাব্যস্ত হয়।

এ কারণেই তাঁকে ‘দুই যাবিহ-এর সন্তান’ বলা হতো।

তাঁর মাতার মৃত্যু হয় যখন তাঁর বয়স ছিল চার বছর, মতান্তরে ছয় বছর। মাতা তাঁকে নিয়ে তাঁর মদীনার মামাদের বাড়িতে গিয়েছিলেন তাঁদের সাথে দেখা করার জন্য। মক্কায় ফেরার পথে ‘আবওয়া’ নামক স্থানে তিনি ইন্তেকাল করেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মের পর আবু জুয়াইবের কন্যা হালিমা আস-সাদিয়া তাঁকে দুধ পান করিয়েছিলেন এবং তিনি তাঁর কাছে পাঁচ বছর অবস্থান করেছিলেন। হালিমা তাঁর মধ্যে বহু বরকত প্রত্যক্ষ করেছিলেন এবং তাঁর কাছে থাকাকালীনই তাঁর বক্ষ বিদীর্ণ করা হয় এবং তা ঈমান ও হিকমতে পরিপূর্ণ করে দেওয়া হয়।

উম্মে আয়মান বারাকাহ আল-হাবাশিয়া তাঁকে লালন-পালন করেছিলেন; নবীজী তাঁকে তাঁর পিতার নিকট থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিলেন। অতঃপর তিনি যখন বড় হলেন, তখন তাঁকে মুক্ত করে দিলেন এবং তাঁর বিবাহ সম্পন্ন করলেন।

তাঁর দাদা আব্দুল মুত্তালিব তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তিনি একশত দশ বছর বয়সে মারা যান এবং তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বয়স ছিল আট বছর। তাঁর পর তাঁর চাচা আবু তালিব তাঁর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

তখন থেকে তাঁর বারো বছর বয়স হওয়া পর্যন্ত ইসরাফিলকে তাঁর সাথী করে দেওয়া হয়েছিল।

তাঁর চাচা তাঁকে সাথে নিয়ে সিরিয়া সফরে গিয়েছিলেন এবং সেখানে তাঁর নবুওয়াতের সাক্ষ্যবাহী অনেক অলৌকিক ঘটনা ঘটেছিল।

অতঃপর জিবরীলকে তাঁর সাথে ঊনত্রিশ বছর পর্যন্ত রাখা হয়েছিল।

অতঃপর তিনি দ্বিতীয়বার খাদিজার গোলাম মাইসারার সাথে তাঁর ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে সিরিয়া সফরে যান।
(খণ্ড: ১) গায়াতুস সূল ফী সীরাতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৩২)
فَكَانَ ميسرَة يَقُول رَأَيْته إِذا اشْتَدَّ الْحر نزل ملكان يظلانه ثمَّ لما عَاد من سفرته تزوج بخديجة بنت خويلد وَكَانَ سنه خمْسا وَعشْرين سنة تزيد شَيْئا وَكَانَ سنّهَا أَرْبَعِينَ سنة

وَلما بلغ خمْسا وَثَلَاثِينَ سنة شهد بُنيان الْكَعْبَة ورضيت قُرَيْش بِحكمِهِ وَوضع الْحجر الْأسود بِيَدِهِ

وَلما أكمل الْأَرْبَعين ابتعثه الله تَعَالَى برسالته إِلَى كَافَّة النَّاس بشيرا وَنَذِيرا

ظهر لَهُ جِبْرِيل عليه السلام بِغَار حراء فِي شهر ربيع الأول وَقيل فِي رَمَضَان بنمط من ديباج فِيهِ خمس آيَات من سُورَة الْقَلَم وَقَالَ لَهُ {اقْرَأ} ثَلَاث مَرَّات ويغطه ثمَّ فِي الثَّالِثَة قَالَ {اقْرَأ باسم رَبك الَّذِي خلق} إِلَى قَوْله {علم الْإِنْسَان مَا لم يعلم}

وَكَانَ أول من آمن بِهِ زوجه خَدِيجَة من النِّسَاء وَعلي بن أبي طَالب من الصّبيان وَأَبُو بكر الصّديق من الرِّجَال وَزيد بن حَارِثَة من الموَالِي ثمَّ أسلم عُثْمَان بن عَفَّان وَطَلْحَة وَالزُّبَيْر وَعبد الرَّحْمَن بن عَوْف وَسعد بن أبي وَقاص ثمَّ أسلم بعد هَؤُلَاءِ أَبُو عُبَيْدَة بن الْجراح

وَقَالَ جمَاعَة من الْعلمَاء إِن أَبَا بكر رضي الله عنه أول النَّاس إسلاما

وَأقَام صلى الله عليه وسلم ثَلَاث سِنِين وَهُوَ يخفي أمره حَتَّى أمره الله تَعَالَى بإظهاره
মাইসারা বলতেন: যখন প্রচণ্ড গরম পড়ত, তখন আমি দেখতাম যে দু’জন ফেরেশতা নেমে তাঁকে ছায়া দান করছেন। অতঃপর যখন তিনি তাঁর সফর থেকে ফিরে এলেন, তিনি খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদকে বিয়ে করেন। তখন তাঁর বয়স ছিল পঁচিশ বছরের কিছুটা বেশি এবং খাদিজার বয়স ছিল চল্লিশ বছর।

যখন তিনি পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে পৌঁছালেন, তিনি কাবা পুনর্নির্মাণ প্রত্যক্ষ করেন। কুরাইশরা তাঁর ফয়সালায় সন্তুষ্ট হয়েছিল এবং তিনি স্বহস্তে হাজরে আসওয়াদ স্থাপন করেন।

যখন তিনি চল্লিশ বছর পূর্ণ করলেন, তখন আল্লাহ তাআলা তাঁকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে সমস্ত মানুষের প্রতি তাঁর রিসালাত দিয়ে প্রেরণ করলেন।

জিবরাঈল আলাইহিস সালাম হেরা গুহায় রবিউল আউয়াল মাসে তাঁর সামনে আবির্ভূত হলেন—মতান্তরে বলা হয় রমজান মাসে—রেশমি বস্ত্রের একটি টুকরো নিয়ে যাতে সূরা আল-কলমের পাঁচটি আয়াত ছিল। তিনি তাঁকে তিনবার বললেন, “পাঠ করুন” এবং তাঁকে প্রবলভাবে চাপ দিলেন। অতঃপর তৃতীয়বার বললেন, “পাঠ করুন আপনার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন” হতে তাঁর বাণী “শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে তা যা সে জানত না” পর্যন্ত।

নারীদের মধ্যে সর্বপ্রথম তাঁর ওপর ঈমান আনেন তাঁর স্ত্রী খাদিজা, বালকদের মধ্যে আলী ইবনে আবু তালিব, পুরুষদের মধ্যে আবু বকর সিদ্দীক এবং মুক্তদাসদের মধ্যে যায়দ ইবনে হারিসাহ। অতঃপর উসমান ইবনে আফফান, তালহা, জুবাইর, আবদুর রহমান ইবনে আউফ এবং সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস ইসলাম কবুল করেন। তাঁদের পর আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ ইসলাম গ্রহণ করেন।

একদল আলিম বলেছেন যে, মানুষের মধ্যে আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহুই সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন বছর পর্যন্ত তাঁর দাওয়াতের বিষয় গোপন রাখলেন, যে পর্যন্ত না আল্লাহ তাআলা তাঁকে তা প্রকাশ করার নির্দেশ দিলেন।
(খণ্ড: ১) গায়াতুস সূল ফী সীরাতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وَهَاجَر الْمُسلمُونَ إِلَى أَرض الْحَبَشَة فِي السّنة الْخَامِسَة من مبعثه من كَثْرَة أَذَى الْكفَّار من قُرَيْش

وَقدم عَلَيْهِ جن نَصِيبين فأسلموا وَله خَمْسُونَ سنة

وَمَاتَتْ خَدِيجَة بعد عشر سِنِين من المبعث وَكَذَا عَمه أَبُو طَالب

وَأسرى بِهِ إِلَى بَيت الْمُقَدّس ثمَّ ركب الْبراق وعرج بِهِ إِلَى السَّمَاء ثمَّ ارْتَفع حَتَّى دنا من ربه فَتَدَلَّى وَرَأى ربه جلّ وَعلا وَشَاهد عجائب الملكوت وفرضت الصَّلَاة فِي لَيْلَة الْمِعْرَاج
কুরাইশ কাফিরদের অত্যধিক নির্যাতনের কারণে নবুওয়াতের পঞ্চম বছরে মুসলিমগণ হাবাশা অভিমুখে হিজরত করেন।

এবং তাঁর পঞ্চাশ বছর বয়সে নাসিবিনের জিনরা তাঁর নিকট আসে এবং তারা ইসলাম গ্রহণ করে।

নবুওয়াতের দশ বছর পর খাদিজা ইন্তেকাল করেন এবং একইভাবে তাঁর চাচা আবু তালিবও।

তাঁকে রাতের বেলা বাইতুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়, অতঃপর তিনি বুরাকে আরোহণ করেন এবং তাঁকে আসমানের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়, তারপর তিনি আরও উপরে উঠলেন এমনকি তাঁর রবের নিকটবর্তী হলেন ও অত্যন্ত কাছে পৌঁছে গেলেন, আর তিনি তাঁর মহান ও উচ্চমর্যাদাশীল রবকে দেখলেন এবং রাজত্বের আশ্চর্যজনক বিষয়াবলি প্রত্যক্ষ করলেন এবং মিরাজের রাতে সালাত ফরয করা হয়।
(খণ্ড: ১) গায়াতুস সূল ফী সীরাতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৩৪)
‌‌الْفَصْل السَّادِس

 

‌‌ذكر هجرته من مَكَّة إِلَى الْمَدِينَة صلى الله عليه وسلم

لما بلغ من الْعُمر ثَلَاثًا وَخمسين سنة هَاجر إِلَى الْمَدِينَة بعد أَن وافاه جمَاعَة من الْأَوْس والخزرج وَبَايَعُوهُ وشاع ذكره بِالْمَدِينَةِ وذاع وَلم يبْق بهَا دَار إِلَّا وَكَانَ فِيهَا ذكره صلى الله عليه وسلم وترددوا إِلَيْهِ مرّة بعد الْمرة وكرة بعد الكرة ثمَّ بَايعُوهُ على الْإِسْلَام وعَلى نصرته وعَلى الْحَرْب

وَكَانَت هجرته من مَكَّة فِي نصف النَّهَار من يَوْم الِاثْنَيْنِ لثمان خلون من ربيع الأول ودخلها يَوْم الِاثْنَيْنِ نصف النَّهَار لِاثْنَتَيْ عشرَة لَيْلَة خلت من ربيع الْمَذْكُور وَنزل بقباء على كُلْثُوم بن الْهدم فَأَقَامَ إِلَى يَوْم الْجُمُعَة وَصلى الْجُمُعَة فِي بني سَالم وَسَار وَمَعَهُ أَبُو بكر الصّديق وعامر بن فهير مولى أبي بكر وَعبد الله بن أريقط حَتَّى بَركت نَاقَته على بَاب الْمَسْجِد مَسْجده الْيَوْم وَكَانَ مربدا ليتيمين كَانَا فِي حجر معَاذ بن عفراء فَاشْتَرَاهُ وَأَخُوهُ معوذ بن عفراء وجعلاه للْمُسلمين وَأقَام صلى الله عليه وسلم نازلا على أبي أَيُّوب خَالِد بن زيد حَتَّى بنى الْمَسْجِد والمساكن
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ

 

মক্কা থেকে মদিনায় তাঁর হিজরতের আলোচনা (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)

যখন তাঁর বয়স তিপ্পান্ন বছর পূর্ণ হলো, তখন আউস ও খাযরাজ গোত্রের একদল লোক তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁর হাতে বায়আত গ্রহণ করার পর তিনি মদিনায় হিজরত করেন। মদিনায় তাঁর चर्चा ছড়িয়ে পড়ল এবং সুখ্যাতি লাভ করল। সেখানে এমন কোনো ঘর বাকি ছিল না যেখানে তাঁর (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) আলোচনা হতো না। তাঁরা বারবার এবং পুনঃপুন তাঁর নিকট যাতায়াত করতে লাগলেন। অতঃপর তাঁরা ইসলামের ওপর, তাঁকে সাহায্য করার ওপর এবং যুদ্ধের ওপর তাঁর হাতে বায়আত গ্রহণ করলেন।

মক্কা থেকে তাঁর হিজরতের যাত্রা শুরু হয়েছিল সোমবার দ্বিপ্রহরের সময়, যখন রবিউল আউয়াল মাসের আট দিন অতিবাহিত হয়েছিল। আর তিনি মদিনায় প্রবেশ করেন সোমবার দ্বিপ্রহরের সময়, যখন উক্ত রবিউল আউয়াল মাসের বারো রাত অতিবাহিত হয়েছিল। তিনি কুবায় কুলসুম ইবনুল হাদমের মেহমান হলেন এবং সেখানে শুক্রবার পর্যন্ত অবস্থান করলেন। তিনি বনু সালেম গোত্রে জুমার সালাত আদায় করলেন এবং পথ চললেন। তাঁর সাথে ছিলেন আবু বকর সিদ্দিক, আবু বকরের মুক্তদাস আমির বিন ফুহাইরা এবং আবদুল্লাহ বিন উরাইকিত। অবশেষে তাঁর উটটি মসজিদের দরজার নিকট গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল, যা বর্তমানে তাঁর মসজিদ। এই স্থানটি ছিল দুইজন এতিম বালকের খেজুর শুকানোর জায়গা, যারা মুয়ায বিন আফরার তত্ত্বাবধানে ছিল। অতঃপর তিনি (মুয়ায) এবং তাঁর ভাই মুআউওয়িয বিন আফরা সেটি ক্রয় করলেন এবং মুসলমানদের জন্য নির্ধারণ করে দিলেন। নবি (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) আবু আইয়ুব খালিদ বিন যায়েদের গৃহে মেহমান হিসেবে অবস্থান করলেন যতক্ষণ না মসজিদ ও আবাসস্থলসমূহ নির্মিত হলো।
(খণ্ড: ১) গায়াতুস সূল ফী সীরাতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৩৫)
فتحول صلى الله عليه وسلم إِلَى مساكنه

ثمَّ لحق بِهِ عَليّ بن أبي طَالب رضي الله عنه وَكَانَ تَأَخّر بِمَكَّة لرد مَا كَانَ عِنْده من ودائع النَّاس

وأتمت صَلَاة الْحَضَر بعد شهر وتحولت الْقبْلَة من بَيت الْمُقَدّس إِلَى الْكَعْبَة فِي رَجَب وَقيل شعْبَان بعد سَبْعَة عشر شهرا

وَفرض الصَّوْم زَكَاة الْفطر بعد سنة من الْهِجْرَة وَسَبْعَة أشهر

وَبعد أَربع سِنِين حرمت الْخمر

وَفِي هَذِه السّنة فِي غَزْوَة ذَات الرّقاع نزلت صَلَاة الْخَوْف وَقيل فِي سنة خمس

وَفِي السّنة السَّادِسَة فرض الْحَج

وفيهَا كَانَ الإستسقاء

وَفِي سنة سبع وَقيل ثَمَان كَانَ اتِّخَاذ الْمِنْبَر وَكَانَ دَرَجَتَيْنِ وبسطة وَزَاد فِيهِ مُعَاوِيَة لما ولي سِتّ دَرَجَات
অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বাসভবনে স্থানান্তরিত হলেন।

এরপর আলী বিন আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর সাথে মিলিত হলেন; মানুষের গচ্ছিত আমানতসমূহ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য তিনি মক্কায় অবস্থান করেছিলেন।

এক মাস পর স্থায়ী নিবাসীদের সালাত পূর্ণাঙ্গ করা হয় এবং হিজরতের সতের মাস পর রজব মাসে—মতান্তরে শাবান মাসে—কিবলা বায়তুল মাকদিস থেকে কাবার দিকে পরিবর্তিত হয়।

হিজরতের এক বছর সাত মাস পর সিয়াম ও যাকাতুল ফিতর ফরয করা হয়।

চার বছর পর মদ হারাম করা হয়।

এই বছর জাতুর রিকা যুদ্ধে সালাতুল খাওফ (ভয়ের নামায) অবতীর্ণ হয়, মতান্তরে এটি পঞ্চম হিজরীতে হয়েছিল।

ষষ্ঠ হিজরীতে হজ্জ ফরয করা হয়।

এবং এই বছরেই ইস্তিসকা (বৃষ্টির প্রার্থনা) করা হয়েছিল।

সপ্তম হিজরীতে—মতান্তরে অষ্টম হিজরীতে—মিম্বর তৈরি করা হয়, যা ছিল দুই ধাপ ও একটি বসার স্থান বিশিষ্ট; পরবর্তীতে মুয়াবিয়া যখন ক্ষমতাসীন হন তখন তিনি এতে আরও ছয়টি ধাপ বৃদ্ধি করেন।
(খণ্ড: ১) গায়াতুস সূল ফী সীরাতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৩৬)
‌‌الْفَصْل السَّابِع

 

‌‌ذكر غَزَوَاته وبعوثه صلى الله عليه وسلم

 

لم يزل صلى الله عليه وسلم قَائِما فِي الله تَعَالَى مُجْتَهدا فِي نصْرَة دينه مُجَاهدًا فِي سَبيله ناصرا لِلْإِسْلَامِ من حِين أذن الله تَعَالَى لَهُ بمجاهدة الْكفَّار إِلَى أَن فَارق الدُّنْيَا نَحوا من ثَلَاث وَعشْرين سنة فَكَانَت جملَة غَزَوَاته فِي هَذِه الْمدَّة خمْسا وَعشْرين غزَاة وَقيل سبعا وَعشْرين حضر مِنْهَا وَقَاتل بِنَفسِهِ عليه السلام فِي سبع وَهِي

غَزْوَة الخَنْدَق وَبدر وَأحد وَبني قُرَيْظَة وَبني المصطلق وحنين والطائف

وَقيل قَاتل أَيْضا بوادي الْقرى والغابة وَبني النَّضِير وَله صلى الله عليه وسلم ولأصحابه رضوَان الله عَلَيْهِم فِي هَذِه الْغَزَوَات ومشاهدها الحكايات النادرة الغريبة العجيبة والأيادي الْبَيْضَاء بِمَا يطول الشَّرْح فِي ذكر ذَلِك وَبَيَانه

وَأما بعوثه وسراياه إِلَى النواحي والجهات فَكَانَت نَحوا من خمسين نصر الله تَعَالَى فِيهَا الْإِسْلَام وَفتحت فِيهَا الفتوحات وَكَانَت مَوَاقِف مَشْهُودَة ببركته صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
সপ্তম পরিচ্ছেদ

 

তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুদ্ধসমূহ ও প্রেরণকৃত অভিযানসমূহের বর্ণনা

 

মহান আল্লাহ যখন থেকে কাফেরদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার অনুমতি প্রদান করেছেন, তখন থেকে শুরু করে ইন্তেকাল করা পর্যন্ত প্রায় তেইশ বছর যাবত তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করতে সচেষ্ট ছিলেন এবং তাঁর পথে জিহাদ করে ইসলামের সাহায্যকারী হিসেবে অবিচল ছিলেন। এই সময়ের মধ্যে তাঁর মোট যুদ্ধের (গাজওয়া) সংখ্যা ছিল পঁচিশটি, মতান্তরে সাতাশটি। এর মধ্যে সাতটি যুদ্ধে তিনি (আলাইহিস সালাম) সশরীরে উপস্থিত ছিলেন এবং যুদ্ধ করেছেন, সেগুলো হলো:

খন্দক যুদ্ধ, বদর, উহুদ, বনু কুরাইজা, বনু মুস্তালিক, হুনাইন এবং তায়েফ।

কারো মতে তিনি ওয়াদি আল-কুরা, আল-গাবাহ এবং বনু নাদিরেও যুদ্ধ করেছেন। এই সকল যুদ্ধ ও রণক্ষেত্রে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) বহু বিরল, অদ্ভুত ও বিস্ময়কর কাহিনী এবং মহৎ অবদান রয়েছে, যার বিস্তারিত বর্ণনা ও ব্যাখ্যা অনেক দীর্ঘ হবে।

আর বিভিন্ন জনপদে ও দিকে তাঁর প্রেরিত বাহিনী ও ছোট যুদ্ধাভিযানগুলোর (সারায়া) সংখ্যা ছিল প্রায় পঞ্চাশটি। এগুলোর মাধ্যমে মহান আল্লাহ ইসলামকে সাহায্য করেছেন, বহু বিজয় অর্জিত হয়েছে এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বরকতে এগুলো ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় ঘটনা।
(খণ্ড: ১) গায়াতুস সূল ফী সীরাতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৩৭)
‌‌الْفَصْل الثَّامِن

 

‌‌ذكر حجه وعمره صلى الله عليه وسلم

 

حج صلى الله عليه وسلم قبل أَن يفْرض الْحَج مرَّتَيْنِ وَبعد أَن فرض مرّة وَاحِدَة وَهِي الَّتِي تعرف بِحجَّة الْوَدَاع

خرج صلى الله عليه وسلم فِي حجَّته هَذِه نَهَارا بعد أَن اغْتسل وترجل وأدهن وتطيب فَبَاتَ بِذِي الحليفة وَقَالَ (أَتَانِي آتٍ من رَبِّي اللَّيْلَة فَقَالَ صل فِي هَذَا الْوَادي الْمُبَارك وَقل لبيْك عمْرَة فِي حجَّة) فَأحْرم بهما قَارنا وَدخل مَكَّة فِي بكرَة الْأَحَد من كداء من الثَّنية الْعليا وأتى بِجَمِيعِ أَفعَال الْحَج فَلَمَّا فرغ توجه إِلَى الْمَدِينَة الشَّرِيفَة وَمَات من عَامه ذَلِك

وَأما عمره صلى الله عليه وسلم فَكَانَت أَربع كلهَا فِي ذِي ال الْقعدَة
অষ্টম পরিচ্ছেদ

 

‌তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হজ ও উমরার বিবরণ

 

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ ফরজ হওয়ার পূর্বে দুই বার এবং হজ ফরজ হওয়ার পর এক বার হজ করেছেন, আর এটিই বিদায় হজ হিসেবে পরিচিত।

তিনি তাঁর এই হজের উদ্দেশ্যে দিনের বেলা বের হলেন—গোসল সম্পাদন, কেশ বিন্যাস, তৈল মর্দন ও সুগন্ধি ব্যবহারের পর। অতঃপর তিনি যুল-হুলাইফায় রাত যাপন করলেন এবং বললেন: "আজ রাতে আমার রবের পক্ষ থেকে একজন আগন্তুক আমার নিকট আসলেন এবং বললেন, ‘এই বরকতময় উপত্যকায় সালাত আদায় করুন এবং বলুন: হজের সাথে উমরার জন্য লাব্বাইক’।" অতঃপর তিনি ক্বিরানকারী হিসেবে উভয়টির জন্য ইহরাম বাঁধলেন এবং রবিবার ভোরে উচ্চ গিরিপথের ‘কাদা’ নামক স্থান দিয়ে মক্কায় প্রবেশ করলেন এবং হজের সমস্ত কার্যাদি সম্পন্ন করলেন। এরপর যখন তিনি অবসর হলেন, তখন মদিনা শরীফের দিকে রওনা হলেন এবং সেই বছরই ইন্তেকাল করলেন।

আর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উমরা ছিল চারটি, যার সবগুলোই ছিল যুল-কা’দাহ মাসে।
(খণ্ড: ১) গায়াতুস সূল ফী সীরাতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৩৮)
‌‌الْفَصْل التَّاسِع

 

‌‌ذكر أَوْصَافه صلى الله عليه وسلم

 

كَانَ ربع الْقَامَة بعيد مَا بَين الْمَنْكِبَيْنِ أَزْهَر اللَّوْن مشربا بحمرة يطول الطَّوِيل إِذا مَا شاه وَإِذا مَشى مَعَ الْقصير ساواه وَاسع الجبين أَزجّ الحاجبين أَبْلَج أقنى الْأنف كثيف اللِّحْيَة بارز العنفقة سهل الْخَدين شثن الْكَفَّيْنِ يبلغ شعره شحمة أُذُنَيْهِ شَيْبه حول ذقنه مفلج الْأَسْنَان شَدِيد سَواد الحدقة ظَاهر الْوَضَاءَة يتلألأ وَجهه نورا كَالْقَمَرِ لَيْلَة الْبَدْر حسن الْخلق معتدله دَقِيق المسربة شثن الْقَدَمَيْنِ أجمل النَّاس وأبهاهم وَأَحْسَنهمْ وأحلاهم حُلْو الْمنطق أفْصح الْأَنَام لِسَانا وَأَقْوَاهُمْ جأشا وجنانا

وَكَانَ خَاتم النُّبُوَّة بَين كَتفيهِ وَفِي كيفيته اخْتِلَاف

وَجُمْلَة القَوْل فِيهِ صلى الله عليه وسلم أَنه أكمل الْعَالم وأجمله وَأحسنه خلقا وخلقا صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
নবম পরিচ্ছেদ

 

‌তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গুণাবলির বর্ণনা

 

তিনি ছিলেন মাঝারি গড়নের, তাঁর দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান ছিল প্রশস্ত, গায়ের রঙ ছিল উজ্জ্বল ও লালচে আভার মিশ্রণ। দীর্ঘদেহী ব্যক্তির সঙ্গে চললে তিনি তাকে ছাড়িয়ে যেতেন এবং খাটো ব্যক্তির সঙ্গে চললে তাঁর উচ্চতা তাদের সমান মনে হতো। তাঁর কপাল ছিল প্রশস্ত, ভ্রুদ্বয় ছিল দীর্ঘ ও সূক্ষ্ম, দুই ভ্রুর মাঝখানটি ছিল উজ্জ্বল, নাক ছিল খাড়া ও উন্নত। তাঁর দাড়ি ছিল ঘন, নিচের ঠোঁটের নিচের পশম ছিল সুস্পষ্ট, গাল দুটি ছিল মসৃণ এবং হাতের তালু ছিল প্রশস্ত ও মাংসল। তাঁর চুল কানের লতি পর্যন্ত পৌঁছাত এবং থুতনির আশেপাশে কিছু শুভ্র চুল ছিল। তাঁর দাঁতগুলো ছিল সুবিন্যস্ত ও ফাঁক ফাঁক, চোখের মণি ছিল গভীর কালো। তাঁর অবয়বে এক সুস্পষ্ট লাবণ্য বিদ্যমান ছিল, তাঁর চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের মতো নূরের আভায় ঝলমল করত। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সুন্দর ও সুষম শারীরিক গঠনের অধিকারী। তাঁর বুক থেকে নাভি পর্যন্ত পশমের একটি সরু রেখা ছিল এবং তাঁর দুই পা ছিল মাংসল ও মজবুত। তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর, সবচেয়ে দীপ্তিময়, সর্বোত্তম এবং সবচেয়ে আকর্ষণীয়। তাঁর কথা ছিল অত্যন্ত মিষ্টি, তিনি ছিলেন সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে প্রাঞ্জলভাষী এবং হৃদয়ে ও সাহসে সবার চেয়ে শক্তিশালী।

তাঁর দুই কাঁধের মাঝে নবুয়তের মোহর ছিল, আর এর প্রকৃতি সম্পর্কে বিভিন্ন বর্ণনা রয়েছে।

সারকথা হলো, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন জগতের সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ও সুন্দরতম মানুষ এবং সৃষ্টিগত অবয়ব ও চারিত্রিক মাধুর্যে সর্বোত্তম, তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) গায়াতুস সূল ফী সীরাতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৩৯)
‌‌الْفَصْل الْعَاشِر

 

‌‌ذكر أَسْمَائِهِ صلى الله عليه وسلم

 

قَالَ صلى الله عليه وسلم (أَنا مُحَمَّد وَأحمد وَأَنا الماحي وَأَنا الحاشر وَأَنا المقفى وَنَبِي التَّوْبَة وَنَبِي الرَّحْمَة وَنَبِي الملحمة)

وَأعلم أيدك الله تَعَالَى أَن كَثْرَة الْأَسْمَاء تدل على شرف الْمُسَمّى

قَالَ بعض الْعلمَاء للنَّبِي صلى الله عليه وسلم ألف اسْم وَمِنْهَا

طه

وَيس

والمزمل

والمدثر

والسراج الْمُنِير

والبشير

والنذير

والداعي

وَعبد الله

وَغير ذَلِك من الْأَسْمَاء وَله فِي التَّوْرَاة أَيْضا وَفِي الْإِنْجِيل أَسمَاء بالعبرانية والسريانية تدل على شرفه صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
দশম পরিচ্ছেদ

 

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নামসমূহের আলোচনা

 

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "আমি মুহাম্মদ ও আহমদ, আমি আল-মাহি (বিমোচনকারী), আমি আল-হাশির (একত্রকারী), আমি আল-মুক্বাফফা (সর্বশেষ আগমনকারী), তাওবার নবী, রহমতের নবী এবং যুদ্ধের নবী।"

জেনে রাখুন—আল্লাহ তাআলা আপনাকে সাহায্য করুন—নামের আধিক্য নামধারী ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে।

কোনো কোনো আলিম বলেছেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এক হাজার নাম রয়েছে, তন্মধ্যে কয়েকটি হলো:

ত্ব-হা

ইয়া-সীন

আল-মুযযাম্মিল

আল-মুদ্দাসসির

আস-সিরাজুল মুনীর

আল-বাশীর

আন-নাযীর

আদ-দাঈ

আবদুল্লাহ

এবং এ ছাড়াও আরও অনেক নাম। তাওরাত ও ইঞ্জিলেও হিব্রু ও সুরিয়ানি ভাষায় তাঁর এমন সব নাম রয়েছে যা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উচ্চ মর্যাদাকে নির্দেশ করে।
(খণ্ড: ১) গায়াতুস সূল ফী সীরাতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৪০)
‌‌الْفَصْل الْحَادِي عشر

 

‌‌ذكر أخلاقه صلى الله عليه وسلم

 

كَانَ صلى الله عليه وسلم خلقه الْقُرْآن يرضى لرضاه ويغضب لغضبه وَكَانَ لَا يغْضب لنَفسِهِ قطّ وَلَا ينْتَقم لَهَا فَإِن انتهكت حرمات الله تَعَالَى انتقم لله وَإِذا غضب لم يقم أحد لغضبه

أسخى النَّاس وأجودهم مَا قَالَ لمن سَأَلَهُ شَيْئا لَا قطّ

أصدق النَّاس لهجة وأوفاهم ذمَّة وألينهم عَرِيكَة وأحلمهم وَأَكْثَرهم حَيَاء حَافظ الطّرف نظره إِلَى الأَرْض أَكثر من نظره إِلَى السَّمَاء متواضعا رحِيما مشفقا عفيفا متفقدا لأَصْحَابه كثير التودد إِلَيْهِم مكرما لَهُم يقبل معذرة من اعتذر إِلَيْهِ الْقوي والضعيف عِنْده فِي الْحق سَوَاء لَا يترفع على أحد من الْخلق وَكَانَ لَا يجلس وَلَا يقوم إِلَّا على ذكر

وَكَانَ صلى الله عليه وسلم يجلس حَيْثُ يَنْتَهِي بِهِ الْمجْلس وَكَانَ يعْفُو ويصفح وَيعود المرضى وَيشْهد الْجَنَائِز وَيُحب الْمَسَاكِين وَلَا يحقر فَقِيرا لفقره وَلَا يهاب ملكا لملكه يعظم النِّعْمَة وَإِن قلت مَا عَابَ طَعَاما قطّ

يحفظ الْجَار وَيكرم الضَّيْف

ويخصف نَعله ويرقع ثَوْبه بِيَدِهِ وَركب الْفرس والبغل وَالْحمار وَلم يكن متكبرا وَلَا متجبرا يردف خَلفه عَبده أَو غَيره

وَكَانَ أَكثر جُلُوسه إِلَى الْقبْلَة يُطِيل صلَاته وَيقصر خطبَته كثير
একাদশ পরিচ্ছেদ

 

‌রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চরিত্রের বর্ণনা

 

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চরিত্র ছিল আল-কুরআন। কুরআনের সন্তুষ্টিতে তিনি সন্তুষ্ট হতেন এবং কুরআনের অসন্তুষ্টিতে তিনি রাগান্বিত হতেন। তিনি কখনো নিজের জন্য রাগান্বিত হতেন না এবং নিজের স্বার্থে প্রতিশোধ নিতেন না। তবে মহান আল্লাহর পবিত্র বিধানাবলি ও অলঙ্ঘনীয় সীমাসমূহ লঙ্ঘিত হলে তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন। আর যখন তিনি রাগান্বিত হতেন, তখন তাঁর ক্রোধের সামনে কেউ দাঁড়াতে পারত না।

তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বাপেক্ষা দানশীল ও বদান্য। তাঁর কাছে কিছু চাওয়া হলে তিনি কখনো 'না' বলতেন না।

তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বাধিক সত্যবাদী, অঙ্গীকার পালনে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, সবচেয়ে কোমল স্বভাবের এবং সর্বাপেক্ষা ধৈর্যশীল ও লজ্জাশীল। তিনি দৃষ্টি অবনত রাখতেন; আকাশের চেয়ে জমিনের দিকেই তাঁর দৃষ্টি অধিক নিবদ্ধ থাকত। তিনি ছিলেন বিনয়ী, দয়ালু, করুণাময় ও পবিত্র চরিত্রের অধিকারী। তিনি সর্বদা তাঁর সাহাবীদের খবরাখবর রাখতেন, তাঁদের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল ছিলেন এবং তাঁদের সম্মান করতেন। কেউ তাঁর নিকট ওজর পেশ করলে তিনি তা গ্রহণ করতেন। সত্য ও ন্যায়ের ক্ষেত্রে তাঁর কাছে সবল ও দুর্বল সমান ছিল। সৃষ্টির কারো ওপর তিনি শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করতেন না। আল্লাহর জিকির ব্যতিরেকে তিনি বসতেন না এবং উঠতেন না।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মজলিসের যেখানে পৌঁছাতেন সেখানেই বসে পড়তেন। তিনি ক্ষমা ও মার্জনা করতেন, অসুস্থদের দেখতে যেতেন, জানাজায় উপস্থিত হতেন এবং মিসকিনদের ভালোবাসতেন। তিনি কোনো দরিদ্র ব্যক্তিকে তার দারিদ্র্যের কারণে তুচ্ছজ্ঞান করতেন না এবং কোনো রাজাকে তার রাজত্বের কারণে ভয় পেতেন না। তিনি নেয়ামতকে বড় মনে করতেন, তা যৎসামান্য হলেও। তিনি কখনো খাবারের কোনো ত্রুটি ধরতেন না।

তিনি প্রতিবেশীর হক রক্ষা করতেন এবং মেহমানকে সম্মান করতেন।

তিনি নিজ হাতে জুতা সেলাই করতেন এবং নিজের কাপড়ে তালি দিতেন। তিনি ঘোড়া, খচ্চর ও গাধায় আরোহণ করতেন। তিনি অহঙ্কারী বা স্বৈরাচারী ছিলেন না। তিনি তাঁর বাহনের পেছনে নিজের গোলাম বা অন্য কাউকে বসিয়ে নিতেন।

তাঁর অধিকাংশ উপবেশন ছিল কিবলামুখী। তিনি সালাত দীর্ঘ করতেন এবং খুতবা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত করতেন।
(খণ্ড: ১) গায়াতুস সূল ফী সীরাতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৪১)
الإستغفار فِي آنَاء اللَّيْل وَالنَّهَار يَصُوم يَوْم الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيس وَالْأَيَّام الْبيض وَيَوْم الْجُمُعَة غَالِبا وعاشوراء وَكَانَ كثير الصَّوْم فِي شعْبَان وَصَامَ محرما كَامِلا تنام عَيناهُ وَلَا ينَام قلبه

يقبل الْهَدِيَّة ويكافىء عَلَيْهَا

وَكَانَ لَا يتأنق فِي مأكل وَلَا مشرب قَلِيل الْأكل يخْتَار الْجُوع على الشِّبَع ويعصب على بَطْنه الْحجر من الْجُوع وآتاه الله تَعَالَى مَفَاتِيح خَزَائِن الأَرْض وكنوزها وَصَارَت الْجبَال ذَهَبا وَسَأَلته أَن يقبلهَا فينفقها فِي سَبِيل الله فَامْتنعَ من ذَلِك وَاخْتَارَ مَا عِنْد الله تَعَالَى وَالدَّار الْآخِرَة وَكَانَ يحقر الدُّنْيَا ويعظم الْآخِرَة

وَكَانَ يحب الطّيب وَيكرهُ الرَّائِحَة الخبيثة الكريهة وَيُحب التَّيَامُن فِي جَمِيع شؤونه

وَكَانَ فِي سَفَره لَا يُفَارق الدّهن والمكحلة والمرآة والمشط والسواك والمقراض وَالْخَيْط والإبرة

وَكَانَ يمزح فِي بعض الأحيان وَلَا يَقُول إِلَّا حَقًا

وَله أَخْلَاق حسان لَا تعد وَلَا تحد وَبِاللَّهِ الْمُسْتَعَان
রাত ও দিনের বিভিন্ন সময়ে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। তিনি সোমবার, বৃহস্পতিবার, আইয়ামে বিয এবং সাধারণত জুমুআর দিন ও আশুরার দিনে রোজা রাখতেন। তিনি শাবান মাসে অধিক রোজা রাখতেন এবং পুরো মহররম মাস রোজা পালন করেছিলেন। তাঁর দুই চোখ ঘুমাত কিন্তু তাঁর অন্তর ঘুমাত না।

তিনি উপহার গ্রহণ করতেন এবং তার প্রতিদান দিতেন।

তিনি খাদ্য ও পানীয়ের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার বিলাসিতা করতেন না। তিনি অল্প আহার করতেন এবং পরিতৃপ্তির চেয়ে ক্ষুধাকেই বেছে নিতেন। ক্ষুধার তাড়নায় তিনি পেটে পাথর বাঁধতেন। মহান আল্লাহ তাঁকে পৃথিবীর ধনভাণ্ডার ও গুপ্তধনের চাবিকাঠি দান করেছিলেন এবং পাহাড়সমূহ স্বর্ণে পরিণত হয়েছিল। পাহাড়গুলো তাঁকে তা গ্রহণ করে আল্লাহর পথে ব্যয় করার আবেদন করেছিল, কিন্তু তিনি তা গ্রহণে অসম্মতি জানান এবং আল্লাহ তাআলার নিকট যা রয়েছে এবং পরকালকেই বেছে নেন। তিনি দুনিয়াকে তুচ্ছ জ্ঞান করতেন এবং পরকালকে মহিমান্বিত করতেন।

তিনি সুগন্ধি পছন্দ করতেন এবং দুর্গন্ধ ও অপ্রীতিকর ঘ্রাণ অপছন্দ করতেন। তিনি তাঁর যাবতীয় কাজে ডান দিক থেকে শুরু করা পছন্দ করতেন।

সফর অবস্থায় তেল, সুরমাদানি, আয়না, চিরুনি, মিসওয়াক, কাঁচি, সুতা ও সুই সর্বদা তাঁর সাথে থাকত।

তিনি মাঝে মাঝে কৌতুক করতেন, তবে সত্য ব্যতীত অন্য কিছুই বলতেন না।

তাঁর সুন্দর চরিত্র ও গুণাবলি গণনাতীত ও সীমাহীন। আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১) গায়াতুস সূল ফী সীরাতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৪২)
‌‌الْفَصْل الثَّانِي عشر

 

‌‌ذكر زَوْجَاته صلى الله عليه وسلم

 

مَاتَ صلى الله عليه وسلم عَن تسع وَهُوَ من خصوصياته صلى الله عليه وسلم وَهن

عَائِشَة ابْنة أبي بكر الصّديق

وَحَفْصَة بنت عمر بن الْخطاب

وَسَوْدَة بنت زَمعَة

وَأم حَبِيبَة وَاسْمهَا رَملَة بنت أبي سُفْيَان أُخْت مُعَاوِيَة

وَأم سَلمَة هِنْد بنت أبي أُميَّة

وَزَيْنَب بنت جحش

وَجُوَيْرِية بنت الْحَارِث

ومَيْمُونَة بنت الْحَارِث

وَصفِيَّة بنت حييّ

هَؤُلَاءِ التسع اللَّاتِي مَاتَ عَنْهُن صلى الله عليه وسلم

وَأما غَيْرهنَّ فخديجة رضي الله عنها مَاتَت قبله

وَتزَوج صلى الله عليه وسلم جمَاعَة من النِّسَاء غير من ذكرنَا فمنهن من مَاتَ قبله ومنهن من طَلقهَا ومنهن من عقد عَلَيْهَا وَطَلقهَا قبل الدُّخُول ومنهن من خطبهَا وَلم يعْقد عَلَيْهَا وَهن
দ্বাদশ পরিচ্ছেদ

 

‌রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পত্নীগণের আলোচনা

 

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নয়জন স্ত্রী রেখে ইন্তেকাল করেছেন, আর এটি ছিল তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যতম অনন্য বৈশিষ্ট্য। তাঁরা হলেন:

আবু বকর সিদ্দীকের কন্যা আয়েশা

উমর ইবনুল খাত্তাবের কন্যা হাফসা

যামআহ-এর কন্যা সাওদা

উম্মে হাবীবা, তাঁর নাম রামলা বিনতে আবু সুফিয়ান, যিনি মুয়াবিয়ার বোন

উম্মে সালামা, হিন্দ বিনতে আবু উমাইয়াহ

যায়নাব বিনতে জাহশ

জুওয়াইরিয়া বিনতে হারিস

মায়মুনা বিনতে হারিস

সাফিয়া বিনতে হুয়াই

এই নয়জন হলেন তাঁরা, যাঁদের রেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেছেন।

আর তাঁরা ব্যতীত অন্যদের মধ্যে খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা তাঁর পূর্বেই ইন্তেকাল করেছিলেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমরা যাঁদের কথা উল্লেখ করেছি তাঁরা ছাড়াও আরও একদল নারীকে বিবাহ করেছিলেন; তাঁদের মধ্যে কেউ তাঁর আগে ইন্তেকাল করেছিলেন, কাউকে তিনি তালাক দিয়েছিলেন, কারও সাথে তিনি বিবাহের আকদ (চুক্তি) করেছিলেন কিন্তু মিলনের পূর্বেই তালাক দিয়েছিলেন, আবার কাউকে তিনি বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছিলেন কিন্তু আকদ সম্পন্ন হয়নি। তাঁরা হলেন:
(খণ্ড: ১) গায়াতুস সূল ফী সীরাতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৪৩)
زَيْنَب بنت خُزَيْمَة وَمَاتَتْ بعد شَهْرَيْن أَو ثَلَاثَة من حِين عقد عَلَيْهَا

وَفَاطِمَة بنت الضَّحَّاك وَخَيرهَا فَاخْتَارَتْ الدُّنْيَا ففارقها وَلم تنَلْ طائلا

وَتزَوج شراف أُخْت دحْيَة الْكَلْبِيّ

وَخَوْلَة بنت الْهُذيْل

وَأَسْمَاء بنت كَعْب الْجَوْنِية

وَعمرَة بنت يزِيد

والعالية بنت ظبْيَان

ومليكة الليثية وَمَا خطب أَربع

فجملة من خطبهَا وَتَزَوجهَا أَيْضا ثَلَاث وَعِشْرُونَ امْرَأَة
জয়নব বিনতে খুজায়মাহ; তিনি তাঁর সাথে বিবাহের চুক্তির দুই বা তিন মাস পরেই ইন্তেকাল করেন।

এবং ফাতিমা বিনতে আদ-দাহহাক; তাঁকে পছন্দ করার সুযোগ দেওয়া হলে তিনি দুনিয়াকে বেছে নিয়েছিলেন, ফলে তিনি তাঁর থেকে পৃথক হয়ে যান এবং তিনি কোনো বিশেষ মর্যাদা লাভ করতে পারেননি।

এবং তিনি দিহয়্যা আল-কালবীর বোন শারাফকে বিবাহ করেছিলেন।

এবং খাওলাহ বিনতে আল-হুযাইল।

এবং আসমা বিনতে কা'ব আল-জাওনিয়্যাহ।

এবং আমরাহ বিনতে ইয়াযিদ।

এবং আল-আলিয়া বিনতে যবইয়ান।

এবং মুলাইকা আল-লাইসিয়্যাহ; আর যাঁদের নিকট তিনি বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন তাঁদের সংখ্যা ছিল চারজন।

সুতরাং যাঁদের নিকট তিনি বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন এবং যাঁদের বিবাহ করেছিলেন, তাঁদের সর্বমোট সংখ্যা তেইশ জন নারী।
(খণ্ড: ১) গায়াতুস সূল ফী সীরাতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৪৪)
‌‌الْفَصْل الثَّالِث عشر

 

‌‌ذكر أَوْلَاده صلى الله عليه وسلم

 

قَالَ جمَاعَة من الْعلمَاء مِنْهُم ابْن إِسْحَاق وَغَيره إِن أَوْلَاده عليه السلام ثَمَانِيَة أَرْبَعَة من الذُّكُور وَأَرْبع من الْبَنَات فَأَما الذُّكُور فالقاسم وَبِه كَانَ يكني عليه السلام وَالطّيب وَيُسمى عبد الله والطاهر وَإِبْرَاهِيم وَأما الْإِنَاث فزينب ورقية وَأم كُلْثُوم وَفَاطِمَة وَلَا خلاف بَين أحد أَن جَمِيع أَوْلَاده عليه السلام من خَدِيجَة رضي الله عنها إِلَّا إِبْرَاهِيم فانه من مَارِيَة الْقبْطِيَّة

فَأَما الذُّكُور من ولد خَدِيجَة رضي الله عنها فماتوا أطفالا قبل مبعثه عليه السلام وَقيل غير ذَلِك وَأما إِبْرَاهِيم فَمَاتَ فِي حَيَاته عليه السلام وَأما الْبَنَات فكلهن لحقن الْإِسْلَام
ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ

 

তাঁর (তাঁর উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) সন্তানদের আলোচনা

 

ইবনে ইসহাকসহ একদল আলেম বলেছেন যে, তাঁর (তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক) সন্তান ছিল আটজন; চারজন পুত্র এবং চারজন কন্যা। পুত্রদের মধ্যে ছিলেন আল-কাসিম, যাঁর মাধ্যমে তাঁর (তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক) উপনাম রাখা হয়েছিল, আত-তাইয়িব—যাঁকে আবদুল্লাহও বলা হতো, আত-তাহির এবং ইব্রাহিম। আর কন্যাদের মধ্যে ছিলেন জয়নব, রুকাইয়াহ, উম্মে কুলসুম এবং ফাতিমা। এ ব্যাপারে কারও মধ্যে কোনো মতভেদ নেই যে, ইব্রাহিম ব্যতীত তাঁর (তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক) সকল সন্তানই খাদিজা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর গর্ভজাত ছিলেন; কেননা ইব্রাহিম ছিলেন মারিয়া আল-কিবতিয়্যার গর্ভজাত।

খাদিজা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর গর্ভজাত পুত্রগণ তাঁর (তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক) নবুওয়াত লাভের পূর্বেই শৈশবে মৃত্যুবরণ করেন; এ বিষয়ে ভিন্ন মতও বর্ণিত আছে। আর ইব্রাহিম তাঁর (তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক) জীবদ্দশাতেই মৃত্যুবরণ করেন। আর কন্যারা সকলেই ইসলামের যুগ পেয়েছিলেন এবং তা গ্রহণ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) গায়াতুস সূল ফী সীরাতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৪৫)
‌‌الْفَصْل الرَّابِع عشر

 

‌‌ذكر صحابته رضي الله عنهم

 

كَانُوا جمَاعَة كَبِيرَة أختلف فِي عَددهمْ من عشْرين ألف إِلَى اكثر من ذَلِك وأجلهم الْعشْرَة الْمَشْهُود لَهُم بِالْجنَّةِ وهم أَبُو بكر وَهُوَ أفضل هَذِه الْأمة بِإِجْمَاع أهل السّنة وَالْجَمَاعَة وَعمر وَعُثْمَان وَعلي وَهَؤُلَاء هم الْخُلَفَاء الراشدون وَأما السِّتَّة الْأُخَر فطلحة وَالزُّبَيْر وَسعد وَسَعِيد وَأَبُو عُبَيْدَة بن الْجراح وَعبد الرَّحْمَن بن عَوْف وَكَانُوا هداة الدّين وأئمة الْإِسْلَام رضي الله عنهم أَجْمَعِينَ
চতুর্দশ অধ্যায়

 

‌তাঁর সাহাবীগণের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) আলোচনা

 

তাঁরা ছিলেন এক বিশাল জামাত। তাঁদের সংখ্যা বিশ হাজার থেকে শুরু করে তারও অধিক বলে মতভেদ রয়েছে। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাবান হলেন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সেই দশজন। তাঁরা হলেন আবু বকর—যিনি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের ঐকমত্যে এই উম্মতের মাঝে সর্বোত্তম—এবং উমর, উসমান ও আলী; তাঁরাই হলেন খুলাফায়ে রাশিদুন। আর অন্য ছয়জন হলেন তালহা, যুবাইর, সাদ, সাঈদ, আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ এবং আব্দুর রহমান ইবনে আউফ। তাঁরা ছিলেন দ্বীনের পথপ্রদর্শক এবং ইসলামের ইমাম, আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
(খণ্ড: ১) গায়াতুস সূল ফী সীরাতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৪৬)
‌‌الْفَصْل الْخَامِس عشر

 

‌‌ذكر النجباء من أَصْحَابه صلى الله عليه وسلم

 

كَانُوا اثْنَي عشر نَفرا وهم أَبُو بكر وَعمر وَعلي وَحَمْزَة وجعفر وَأَبُو ذَر الْغِفَارِيّ وسلمان الْفَارِسِي وَعبد الله بن مَسْعُود وَحُذَيْفَة بن الْيَمَان والمقداد بن الْأسود وعمار بن يَاسر وبلال الحبشي رَضِي الله عَنْهُم
পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ

 

তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবীগণের মধ্য থেকে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গের আলোচনা

 

তাঁরা ছিলেন বারো জন ব্যক্তি। তাঁরা হলেন—আবু বকর, উমর, আলী, হামযা, জাফর, আবু যর আল-গিফারী, সালমান আল-ফারিসী, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান, মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ, আম্মার ইবনে ইয়াসির এবং বিলাল আল-হাবাশী (আল্লাহ তাঁদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হন)।
(খণ্ড: ১) গায়াতুস সূল ফী সীরাতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৪৭)
‌‌الْفَصْل السَّادِس عشر

 

‌‌ذكر كِتَابه من أَصْحَابه صلى الله عليه وسلم

 

كتب لَهُ صلى الله عليه وسلم الْخُلَفَاء الْأَرْبَعَة وعامر بن فهَيْرَة وَعبد الله بن الأرقم وَأبي بن كَعْب وثابت بن قيس بن الشماس وخَالِد بن سعيد وَعبد الله بن أبي سرح وَمُعَاوِيَة بن أبي سُفْيَان وَزيد بن ثَابت وحَنْظَلَة بن الرّبيع وشرحبيل بن حَسَنَة رَضِي الله عَنْهُم
ষোড়শ অধ্যায়

 

‌রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের মধ্য থেকে তাঁর লিপিকারদের বিবরণ

 

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য চার খলিফা, আমির ইবনে ফুহাইরা, আবদুল্লাহ ইবনুল আরকাম, উবাই ইবনে কা'ব, সাবিত ইবনে কায়েস ইবনে শামমাস, খালিদ ইবনে সাঈদ, আবদুল্লাহ ইবনে আবি সারহ, মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান, জায়েদ ইবনে সাবিত, হানজালা ইবনুর রাবী এবং শুরাহবিল ইবনে হাসানা রাদিয়াল্লাহু আনহুম (ওহী ও অন্যান্য বিষয়) লিখেছেন।
(খণ্ড: ১) গায়াতুস সূল ফী সীরাতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৪৮)
‌‌الْفَصْل السَّابِع عشر

 

‌‌ضَرْبَة الْأَعْنَاق بَين يَدَيْهِ صلى الله عليه وسلم

 

وَكَانَ جمَاعَة من أَصْحَابه صلى الله عليه وسلم يضْربُونَ الْأَعْنَاق بَين يَدَيْهِ وهم عَليّ وَالزُّبَيْر والمقداد بن الْأسود وَعَاصِم بن ثَابت بن أبي الأقلح وَمُحَمّد بن مسلمة رضي الله عنهم أَجْمَعِينَ
সপ্তদশ পরিচ্ছেদ

 

তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্মুখে গর্দান কর্তন

 

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবী তাঁর সম্মুখে গর্দান কর্তন করতেন। তাঁরা হলেন— আলী, যুবায়ের, মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ, আসিম ইবনে সাবিত ইবনে আবিল আকলাহ এবং মুহাম্মদ ইবনে মাসলামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন)।
(খণ্ড: ১) গায়াতুস সূল ফী সীরাতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৪৯)
‌‌الْفَصْل الثَّامِن عشر

 

‌‌ذكر رسله وقصاده إِلَى الْمُلُوك بالنواحي والجهات

 

كَانُوا عشرَة من أَصْحَابه صلى الله عليه وسلم وَعَلَيْهِم الرضْوَان وهم عَمْرو بن أُميَّة إِلَى النَّجَاشِيّ ملك الْحَبَشَة وَحين وافاه بِكِتَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم تنَاوله بِيَدِهِ وَوَضعه على عَيْنَيْهِ وَنزل عَن سَرِيره وَجلسَ على الأَرْض وَأجَاب إِلَى الْإِسْلَام وَأسلم وآوى الصَّحَابَة حِين هَاجرُوا إِلَيْهِ وَمَات فِي حَيَاة النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي سنة تسع من الْهِجْرَة وَصلى عَلَيْهِ فِي يَوْم مَوته

ودحية الْكَلْبِيّ إِلَى قَيْصر ملك الرّوم وَهُوَ هِرقل فهم بِالْإِسْلَامِ فَلم يُوَافقهُ أَصْحَابه فَأمْسك خوفًا على ملكه

وَعبد الله بن حذافة السَّهْمِي إِلَى كسْرَى ملك الْفرس فَلم يُؤمن بِهِ فَدَعَا النَّبِي صلى الله عليه وسلم عَلَيْهِ حِين بلغه أَنه مزق كِتَابه فَمَا أَفْلح بعْدهَا ومزق الله تَعَالَى ملكه

وحاطب بن أبي بلتعة إِلَى الْمُقَوْقس ملك الْإسْكَنْدَريَّة ومصر فقارب الْإِسْلَام وَبعث إِلَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم بهدية فِيهَا ألف مِثْقَال من ذهب ومارية الْقبْطِيَّة وَأُخْتهَا سِيرِين وَبغلة شهباء وَهِي الدلْدل وثيابا وَعَسَلًا وطبيبا وَغير ذَلِك فَقبل الْجَمِيع ورد الطَّبِيب وَقَالَ (نَحن أنَاس لَا نَأْكُل كثيرا فَلَا نحتاج إِلَى طَبِيب)
অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ

 

বিভিন্ন অঞ্চল ও দিকের রাজন্যবর্গের প্রতি প্রেরিত তাঁর রাসূল ও দূতগণের আলোচনা

 

তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দশজন সাহাবী ছিলেন এবং তাঁদের ওপর আল্লাহর সন্তুষ্টি বর্ষিত হোক। তাঁরা হলেন—আবিসিনিয়ার সম্রাট নাজ্জাশীর নিকট প্রেরিত আমর বিন উমাইয়া। যখন তাঁর নিকট আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পত্র পৌঁছল, তিনি তা নিজ হাতে গ্রহণ করলেন এবং তাঁর চোখের ওপর রাখলেন। তিনি তাঁর সিংহাসন থেকে নেমে মাটির ওপর বসলেন এবং ইসলামের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইসলাম গ্রহণ করলেন। সাহাবীগণ যখন তাঁর নিকট হিজরত করেছিলেন, তিনি তাঁদের আশ্রয় দিয়েছিলেন। তিনি হিজরি নবম সনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশাতেই ইন্তেকাল করেন এবং তাঁর মৃত্যুর দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জানাজা আদায় করেন।

এবং রোম সম্রাট কায়সারের (যিনি হেরাক্লিয়াস) নিকট প্রেরিত দিহইয়া কালবী। তিনি ইসলাম গ্রহণের সংকল্প করেছিলেন, কিন্তু তাঁর সঙ্গীরা তাঁর সাথে একমত না হওয়ায় তিনি স্বীয় রাজত্ব হারানোর ভয়ে বিরত থাকেন।

এবং পারস্য সম্রাট কিসরার নিকট প্রেরিত আবদুল্লাহ বিন হুজাফা আস-সাহমী। তিনি তাঁর প্রতি ঈমান আনেননি। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতে পারলেন যে সে তাঁর পত্রটি ছিঁড়ে ফেলেছে, তখন তিনি তার বিরুদ্ধে বদদোয়া করলেন। এরপর সে আর সফল হতে পারেনি এবং মহান আল্লাহ তার রাজত্বকে ছিন্নভিন্ন করে দেন।

এবং আলেকজান্দ্রিয়া ও মিসরের অধিপতি মুকাউকিসের নিকট প্রেরিত হাতিব বিন আবি বালতাআ। তিনি ইসলামের নিকটবর্তী হয়েছিলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপহার পাঠিয়েছিলেন, যার মধ্যে ছিল এক হাজার মিসকাল সোনা, মারিয়া কিবতিয়া ও তাঁর বোন সিরিন, দুলদুল নামক একটি সাদা-ধূসর খচ্চর, কিছু পোশাক, মধু, একজন চিকিৎসক ও অন্যান্য সামগ্রী। তিনি সবকিছু গ্রহণ করলেন কিন্তু চিকিৎসককে ফেরত পাঠিয়ে বললেন, "আমরা এমন এক জাতি যারা বেশি আহার করি না, তাই আমাদের চিকিৎসকের প্রয়োজন নেই।"
(খণ্ড: ১) গায়াতুস সূল ফী সীরাতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৫০)
وَعَمْرو بن الْعَاصِ إِلَى ملكي عمان فَأَسْلمَا وسليط بن عَمْرو العامري إِلَى هَوْذَة صَاحب الْيَمَامَة فَأكْرمه لكنه لم يسلم

وشجاع بن وهب إِلَى الْحَارِث الغساني ملك البلقاء فحنق وَرمى بِالْكتاب

وَالْمُهَاجِر بن أبي أُميَّة إِلَى الْحَارِث الْحِمْيَرِي ملك الْيمن والْعَلَاء بن الْحَضْرَمِيّ إِلَى الْمُنْذر بن سَاوَى ملك الْبَحْرين فَأسلم

وَأَبُو مُوسَى الْأَشْعَرِيّ إِلَى الْيمن وَمَعَهُ معَاذ بن جبل فَأسلم مُلُوكهمْ وغالب اهل الْيمن من غير قتال وَكَانَت الْبركَة ببلادهم وَالْخَيْر وَالصَّلَاح
এবং আমর ইবনুল আস ওমানের দুই রাজার নিকট গমন করেন এবং তাঁরা উভয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন; আর সালীত ইবনে আমর আল-আমিরী ইয়ামামার অধিপতি হাওযার নিকট গমন করেন, সে তাঁকে সম্মান প্রদর্শন করলেও ইসলাম গ্রহণ করেনি।

এবং শুজা ইবনে ওয়াহাব বালকার রাজা হারিস আল-গাসসানীর নিকট গমন করেন, তখন সে ক্রুদ্ধ হয় এবং পত্রটি ছুঁড়ে ফেলে দেয়।

আর মুহাজির ইবনে আবী উমাইয়্যাহ ইয়ামানের রাজা হারিস আল-হিমইয়ারীর নিকট এবং আলা ইবনুল হাদরামী বাহরাইনের রাজা মুনযির ইবনে সাওয়ার নিকট প্রেরিত হন, অতঃপর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন।

আর আবু মূসা আল-আশআরী ইয়ামানের উদ্দেশ্যে প্রেরিত হন এবং তাঁর সাথে মুআয ইবনে জাবাল ছিলেন; ফলে তাঁদের রাজন্যবর্গ এবং ইয়ামানের অধিকাংশ লোক কোনো যুদ্ধ ছাড়াই ইসলাম গ্রহণ করেন। আর তাঁদের ভূখণ্ডে বরকত, কল্যাণ ও পুণ্য বিদ্যমান ছিল।
(খণ্ড: ১) গায়াতুস সূল ফী সীরাতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৫১)
‌‌الْفَصْل التَّاسِع عشر

 

‌‌ذكر عُبَيْدَة وجواريه وخدمه عليه السلام

 

كَانَ موَالِيه نَحوا من ثَلَاثِينَ نَفرا ذُكُورا وَقيل أَكثر من ذَلِك وَمن 20 ب الْإِنَاث نَحوا من عشر

فَأَما الذُّكُور فزيد بن حَارِثَة وَابْنه أُسَامَة وأعتقهما وثوبان وأبوكبشة سليم وَأعْتقهُ

وأنسه وَأعْتقهُ

وشقران واسْمه صَالح وَأعْتقهُ

ورباح وَأعْتقهُ

ويسار وَقَتله العرنيون

وَأَبُو رَافع وهبه لَهُ عَمه الْعَبَّاس فَلَمَّا أسلم الْعَبَّاس جَاءَ إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مبشرا بِإِسْلَامِهِ فَأعْتقهُ وزوجه سلمى من إمائه صلى الله عليه وسلم

وَأَبُو مويهبة وَأعْتقهُ

وفضالة

وَرَافِع وَأعْتقهُ

ومدعم
ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ

 

‌তাঁর (আলাইহিস সালাম) মুক্তদাস, দাসী ও সেবকদের বর্ণনা

 

তাঁর মুক্তদাসদের সংখ্যা ছিল পুরুষদের মধ্যে প্রায় ত্রিশজন, মতান্তরে এর চেয়েও বেশি; আর নারীদের মধ্যে ছিল প্রায় দশজন।

পুরুষদের মধ্যে ছিলেন যায়েদ ইবনে হারিসা এবং তাঁর পুত্র উসামা—তিনি তাঁদের উভয়কে মুক্ত করেছিলেন; এবং সাওবান ও আবু কাবশাহ সুলাইম—যাঁকে তিনি মুক্ত করেছিলেন।

এবং আনাসাহ—যাঁকে তিনি মুক্ত করেছিলেন।

এবং শুকরান, যাঁর নাম ছিল সালিহ—তিনি তাঁকে মুক্ত করেছিলেন।

এবং রাবাহ—তিনি তাঁকে মুক্ত করেছিলেন।

এবং ইয়াসার, যাঁকে উরাইনাবাসীরা হত্যা করেছিল।

এবং আবু রাফি'; তাঁর চাচা আব্বাস তাঁকে তাঁর নিকট উপহার দিয়েছিলেন। অতঃপর যখন আব্বাস ইসলাম গ্রহণ করলেন, তখন তিনি (আবু রাফি') রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তাঁর ইসলাম গ্রহণের সুসংবাদ নিয়ে আসলেন, ফলে তিনি তাঁকে মুক্ত করে দিলেন এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাসীদের মধ্য থেকে সালমার সাথে তাঁর বিয়ে দিলেন।

এবং আবু মুওয়াইহিবাহ—যাঁকে তিনি মুক্ত করেছিলেন।

এবং ফাদালাহ।

এবং রাফি'—যাঁকে তিনি মুক্ত করেছিলেন।

এবং মিদ'আম।
(খণ্ড: ১) গায়াতুস সূল ফী সীরাতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৫২)
وكركرة

وَزيد جد هِلَال بن يسَار

وَعبيد

وطهمان

ومأبور القبطي

وواقد

وَأَبُو وَاقد

وَهِشَام

وَأَبُو ضميرَة وَأعْتقهُ

وحنين

وَأَبُو عسيب

وَأَبُو عبيد

وسفينة

وَأَبُو هِنْد

وأنجشة الْحَادِي

وَأَبُو لبَابَة وَأما الْإِنَاث من موَالِيه فبركة

وَأم رَافع سلمى

وَرَيْحَانَة
কারকারাহ

এবং হিলাল ইবনে ইয়াসারের দাদা যায়েদ

এবং উবাইদ

এবং তাহমান

এবং মাবুর আল-কিবতি

এবং ওয়াকিদ

এবং আবু ওয়াকিদ

এবং হিশাম

এবং আবু দামিরাহ, যাঁকে তিনি মুক্ত করেছিলেন

এবং হুনাইন

এবং আবু আসিব

এবং আবু উবাইদ

এবং সাফিনা

এবং আবু হিন্দ

এবং উনজাশাহ আল-হাদি

এবং আবু লুবাবাহ; আর তাঁর নারী মুক্ত দাসীদের মধ্যে ছিলেন বারাকাহ

এবং উম্মে রাফি সালমা

এবং রায়হানা