(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইসুল কুবরা
(পৃষ্ঠা: -)
الخصائص الكبرى القسم: السيرة النبوية
الكتاب: الخصائص الكبرى
المؤلف: عبد الرحمن بن أبي بكر، جلال الدين السيوطي (ت 911هـ)
الناشر: دار الكتب العلمية - بيروت
سنة النشر:
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-খাসায়েসুল কুবরা বিভাগ: সীরাতুন্নবী
কিতাব: আল-খাসায়েসুল কুবরা
লেখক: আবদুর রহমান ইবনে আবি বকর, জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী (মৃত্যু: ৯১১ হিজরি)
প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ - বৈরুত
প্রকাশের বছর:
খণ্ড সংখ্যা: ২
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইসুল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ১)
ـ[الخصائص الكبرى]ـ
المؤلف: عبد الرحمن بن أبي بكر، جلال الدين السيوطي (المتوفى: 911هـ)
الناشر: دار الكتب العلمية - بيروت
سنة النشر:
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
[আল-খাসাইসুল কুবরা]
লেখক: আবদুর রহমান বিন আবি বকর, জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতী (মৃত্যু: ৯১১ হিজরি)
প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ - বৈরুত
প্রকাশের বছর:
খণ্ড সংখ্যা: ২
[বইটির নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইসুল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ৩)
خطْبَة الْكتاب الْحَمد لله الَّذِي اطلع فِي سَمَاء النُّبُوَّة سِرَاجًا لامعا وقمرا منيرا وأطلع من اكمام الرسَالَة ثمرا يانعا وزهرا منيرا تبَارك اسْمه وتمت كَلمه وعمت نعمه وجمت حكمه وَجرى بِمَا كَانَ وَبِمَا يكون قلمه وأوجد الانام من الْعَدَم وَجعل الضياء وَالظُّلم وَخلق اللَّوْح والقلم وَقدر الْآجَال والارزاق والاعمال وَقسم أَحْمَده وَهُوَ الْمَحْمُود أزلا وابدا وأشكره مستزيدا من نعمه مسترفدا واستهديه وَمن يضلل الله فَلَنْ تَجِد لَهُ وليا مرشدا واستنصره وَلنْ تَجِد من دونه ملتحدا واستكفيه وَله الْحول وَالْقُوَّة سرمدا واستعينه وَنعم الْمولى والنصير مؤيدا واعتصم بِهِ واستمسك بحبله وَمن استمسك بِهِ فَلَا انفصام لَهُ ابدا واشهد ان لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ إِلَهًا وَاحِدًا أحدا فَردا صمدا لم يتَّخذ صَاحِبَة وَلَا ولدا تنزه عَن سمات المحدثات فَلَا جسم وَلَا عرض وَلَا صَوت وَلَا انْتِقَال وَلَا يحويه مَكَان وَلَا زمَان وَلَا يخْطر بالبال وَلَا يُدْرِكهُ الْعقل وَلَا يُحِيط بِهِ الادراك وَلَا للذهن الى حَقِيقَته مجَال واشهد ان سيدنَا مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله نَبِي مَا ضل وَمَا غوى {وَمَا ينْطق عَن الْهوى} {وَلَقَد رَآهُ نزلة أُخْرَى عِنْد سِدْرَة الْمُنْتَهى عِنْدهَا جنَّة المأوى} وَسمع صريف الاقلام بالمستوى وَكتب الرَّحْمَن اسْمه على الْعَرْش إِذْ اسْتَوَى وآذن باسمه فِي الْمُبْتَدَأ فِي الارض وَفِي السما وَيَوْم النشأة الاخرى سلم عَلَيْهِ الْحجر وَالشَّجر ودر لَهُ ضرع
গ্রন্থের ভূমিকা সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি নবুওয়তের আকাশে একটি উজ্জ্বল প্রদীপ ও একটি দীপ্তিময় চাঁদ উদিত করেছেন এবং রেসালাতের আবরণ হতে একটি পরিপক্ব ফল ও একটি জ্যোতির্ময় ফুল প্রস্ফুটিত করেছেন। বরকতময় তাঁর নাম, পূর্ণ তাঁর বাণী, ব্যাপক তাঁর নেয়ামতসমূহ এবং প্রচুর তাঁর হিকমত। যা অতীতে ঘটেছে এবং ভবিষ্যতে যা ঘটবে, তা তাঁর কলম দ্বারা লিপিবদ্ধ হয়েছে। তিনি সৃষ্টিজগতকে অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে এনেছেন, আলো ও অন্ধকার সৃষ্টি করেছেন এবং লাওহ ও কলম সৃষ্টি করেছেন। তিনি আয়ু, রিজিক ও আমল নির্ধারণ করেছেন এবং তা বণ্টন করেছেন। আমি তাঁর প্রশংসা করি, আর তিনি অনাদি ও অনন্তকাল ধরে প্রশংসিত। আমি তাঁর নেয়ামতের প্রাচুর্য ও সাহায্য কামনায় তাঁর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আমি তাঁর নিকট হেদায়েত প্রার্থনা করছি; আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, আপনি তার জন্য কোনো সাহায্যকারী পথপ্রদর্শক পাবেন না। আমি তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি; আর আপনি তিনি ব্যতীত কোনো আশ্রয়স্থল পাবেন না। আমি তাঁর কাছেই পর্যাপ্ততা কামনা করি, আর চিরকাল সমস্ত সামর্থ্য ও শক্তি কেবল তাঁরই। আমি তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করছি; তিনি কতই না উত্তম অভিভাবক এবং সাহায্যকারী। আমি তাঁরই আশ্রয় নিচ্ছি এবং তাঁর রশি দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরছি; আর যে ব্যক্তি তাঁর রশি দৃঢ়ভাবে ধারণ করে, তার জন্য কস্মিনকালেও কোনো বিচ্ছিন্নতা নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; তিনি অদ্বিতীয় ও পরমনির্ভরশীল এক ইলাহ। তিনি কোনো সঙ্গিনী বা সন্তান গ্রহণ করেননি। তিনি সৃষ্টিজগতের বৈশিষ্ট্যসমূহ থেকে পবিত্র; তাই তাঁর ক্ষেত্রে কোনো শরীর নেই, কোনো গুণাগুণ (আরায) নেই, কোনো শব্দ নেই, কোনো স্থানান্তর নেই এবং কোনো স্থান বা কাল তাঁকে পরিবেষ্টন করে না। তিনি কল্পনায় আসেন না, বুদ্ধি তাঁকে আয়ত্ত করতে পারে না, উপলব্ধি তাঁকে বেষ্টন করতে পারে না এবং তাঁর প্রকৃত সত্তার হাকিকত পর্যন্ত পৌঁছাতে মেধার কোনো অবকাশ নেই। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল; তিনি এমন এক নবী যিনি পথভ্রষ্ট হননি এবং বিপথগামীও হননি {এবং তিনি প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না}। {নিশ্চয়ই তিনি তাকে আরেকবার দেখেছিলেন, সিদরাতুল মুনতাহার নিকটে, যার কাছে জান্নাতুল মাওয়া অবস্থিত}। আর তিনি মুস্তাওয়ায় কলমসমূহের ঘর্ষণের শব্দ শুনেছিলেন। আর রহমান আরশের ওপর যখন উঠলেন, তখন তিনি তাঁর নাম আরশের ওপর লিপিবদ্ধ করেছেন। তিনি পৃথিবীর শুরুতে এবং আসমানে তাঁর নাম ঘোষণা করেছেন। আর পরকালের পুনরুত্থানের দিনেও তা হবে। পাথর ও গাছ তাঁকে সালাম জানিয়েছে এবং তাঁর জন্য পশুর ওলান দুধে পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইসুল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ৪)
الْجَذعَة بالدرر وحن الْجذع لفراقه حَتَّى خار خوار الْبَقر ونبع المَاء من اصابعه وَمن الارض انفجر وَانْشَقَّ لَهُ وَكَانَ يناغيه فِي مهده الْقَمَر وَحي لَهُ الْمَيِّت وَآمَنت لدعوته اسكفة الْبَاب وحوائط الْبَيْت وَأَشَارَ إِلَى السَّحَاب بالغيث فَأجَاب من غير ريث هيث صلى الله عليه وسلم صَلَاة سعد عِنْد الْمَمَات وتسعف عِنْد أهوال المسئلة بالثبات وتجيز على الصِّرَاط اذا كثر الزالون والزالات وعَلى آله وَصَحبه نُجُوم الْهدى وليوث العدى وغيوث الندى مَا صَاح حاد وشدا وَرَاح شاد وَغدا وصاب غاد وَهدى وَغَابَ صَاد وبدا وصال باد وودى وسال وَاد وجدى
هَذَا كتاب مرقوم يشْهد بفضله المقربون وسحاب مركوم يحيى بوابله الأقصون وَالْأَقْرَبُونَ كتاب نَفِيس جليل مَحَله من الْكتب مَحل الدرة من الأكليل أَو مَوضِع السَّجْدَة من آي التَّنْزِيل كتاب أمرعت قطراته وأينعت ثمراته وعبقت زهراته وأشرقت انواره ونيراته وصدقت أخباره آيَاته كتاب بسقت فنونه وأورقت غصونه واتسقت اسانيده ومتونه كتاب يُؤجر قارئه ومستمعه ويحفظ بِهِ ان شَاءَ الله تَعَالَى مُؤَلفه فِيمَا يَأْتِيهِ ويدعه ويثبته بالْقَوْل الثَّابِت إِذا حَان مصرعه وَيكون لَهُ فِي عرصات الْقِيَامَة نور يسْعَى بَين يَدَيْهِ ويتبعه كتاب جمع فأوعى مَا كل عَن جمعه ووهى كل بَطل شَدِيد القوى كتاب فاق الْكتب فِي نَوعه جمعا واتقانا يشْرَح صُدُور المهتدين ايقانا ويزداد بِهِ الَّذين آمنُوا إِيمَانًا ديوَان مستوف لما تناسخته السفرة الْكِرَام البررة مستوعب لما تناقلته أَئِمَّة الحَدِيث بأسانيدها الْمُعْتَبرَة مُشْتَمل على مَا اخْتصَّ بِهِ سيد الْمُرْسلين من المعجزات الباهرة والخصائص الَّتِي أشرقت إشراق البدور السافرة وأوردت فِيهِ كلما ورد ونزهته عَن الاخبار الْمَوْضُوعَة وَمَا يرد وتتبعت الطّرق والشواهد لما ضعف من حَيْثُ السَّنَد ورتبته أقساما متناسقة وأبوابا متلاحقة بِحَيْثُ جَاءَ بِحَمْد الله كَامِلا فِي فنه وابلا مطرد جنه سابغة ذيوله سَائِغَة نيوله حلله ضافية ومناهله صَافِيَة وموارده كَافِيَة ومصادره وافية لَا تجمع وَارِدَة إِلَّا وَهِي فِيهِ مسموعة وَلَا تسمع شاردة إِلَّا وتراها فِي ديوانه مَجْمُوعَة قربت فِيهِ مَا كَانَ بَعيدا
খোরমার শুষ্ক কাণ্ডটি তাঁর বিচ্ছেদে রোদন করেছিল, এমনকি তা গাভীর হাম্বা রবের ন্যায় শব্দ করেছিল। তাঁর আঙুলসমূহ থেকে পানি নির্গত হয়েছিল এবং জমিন থেকেও তা বিদীর্ণ হয়ে বেরিয়ে এসেছিল। চাঁদ তাঁর জন্য দ্বিধাবিভক্ত হয়েছিল এবং দোলনায় থাকাকালীন তা যেন তাঁর সাথে কথা বলত। তাঁর জন্য মৃত জীবিত হয়েছিল এবং দরজার চৌকাঠ ও ঘরের দেয়ালসমূহ তাঁর আহ্বানের প্রতি ঈমান এনেছিল। তিনি মেঘমালার প্রতি বৃষ্টির ইশারা করলে কোনো প্রকার বিলম্ব ছাড়াই তা সাড়া দিয়েছিল। আল্লাহ তাঁর ওপর এমন রহমত বর্ষণ করুন, যা মৃত্যুর সময় সৌভাগ্য বয়ে আনবে, কবরের সওয়াল-জওয়াবের ভয়াবহতায় অটলতা দান করবে এবং যখন পদস্খলনকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে তখন পুলসিরাত পার হতে সাহায্য করবে। আরও রহমত বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার ও সাথীদের ওপর, যারা হেদায়েতের নক্ষত্ররাজি, শত্রুদের মোকাবিলায় বীর সিংহ এবং দানশীলতায় বৃষ্টির ন্যায়; যতক্ষণ কোনো উটচালক সজোরে গান গায় এবং গায়ক সুর তোলে, সকালের বৃষ্টি বর্ষিত হয় এবং তৃষ্ণার্তের তৃষ্ণা দূর হয়, আর কোনো বিচরণকারী তার গন্তব্যে পৌঁছায়।
এটি একটি লিখিত কিতাব, নৈকট্যশীলগণ যার শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য দেন; এটি এক ঘন মেঘমালা, যার বারিধারায় দূর ও নিকটবর্তীরা জীবন লাভ করে। এটি এক অমূল্য ও মহান কিতাব, কিতাবসমূহের মাঝে এর মর্যাদা মুকুটে মণি-মুক্তার ন্যায়, অথবা অবতীর্ণ কিতাবের আয়াতসমূহের মাঝে সিজদাহর স্থানের মতো। এটি এমন এক কিতাব যার বিন্দুগুলো ভূমিকে শস্যশ্যামল করেছে, যার ফলগুলো পক্ক হয়েছে, যার পুষ্পরাজি সুবাসিত হয়েছে, যার নূর ও জ্যোতিসমূহ উদ্ভাসিত হয়েছে এবং যার সংবাদসমূহ এর নিদর্শনগুলোকে সত্য প্রমাণিত করেছে। এটি এমন এক কিতাব যার শাখা-প্রশাখা উচ্চ হয়েছে, যার পল্লবসমূহ সুশোভিত হয়েছে এবং যার সনদ ও মতনসমূহ সুবিন্যস্ত হয়েছে। এটি এমন এক কিতাব যার পাঠক ও শ্রবণকারী সওয়াবপ্রাপ্ত হয় এবং এর মাধ্যমে ইনশাআল্লাহ তায়ালা এর লেখককে তাঁর আগত ও অনাগত সকল বিষয়ে হেফাজত করা হবে; তাঁর অন্তিম সময়ে তাঁকে অটল বাণীর (কালিমা) ওপর স্থির রাখা হবে এবং কিয়ামতের ময়দানে এটি তাঁর জন্য এমন এক নূর হবে যা তাঁর সামনে ও পেছনে ধাবিত হবে। এটি এমন এক কিতাব যা সংকলনে কোনো ত্রুটি করা হয়নি এবং যা সংকলন করতে গিয়ে বড় বড় শক্তিধর ব্যক্তিরাও ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। এটি তার নিজস্ব ধারায় সংকলন ও নিখুঁত বিন্যাসের দিক থেকে অন্যান্য কিতাবকে ছাড়িয়ে গেছে; এটি হেদায়েতপ্রাপ্তদের অন্তরকে নিশ্চিত বিশ্বাসের মাধ্যমে প্রশস্ত করে এবং এর মাধ্যমে মুমিনদের ঈমান বৃদ্ধি পায়। এটি এমন এক সংকলন যা সম্মানিত ও পুণ্যবান লিপিকারদের লিপিবদ্ধ বিষয়সমূহকে পরিপূর্ণরূপে ধারণ করেছে এবং হাদিসের ইমামগণ নির্ভরযোগ্য সনদে যা কিছু বর্ণনা করেছেন তা বিস্তারিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এটি এমন এক কিতাব যা সাইয়্যেদুল মুরসালিন (সা.)-এর সেই সকল উজ্জ্বল মুজিজা ও অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহকে ধারণ করে আছে যা অনাবৃত পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় উদ্ভাসিত। এতে আমি বর্ণিত সকল বিষয় উল্লেখ করেছি এবং একে জাল ও প্রত্যাখ্যাত বর্ণনা থেকে পবিত্র রেখেছি। সনদের দিক থেকে যা কিছু দুর্বল ছিল, তার জন্য আমি বিভিন্ন সূত্র ও সমর্থক বর্ণনা অনুসন্ধান করেছি। আমি একে সুসংগত অধ্যায় ও অনুচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছি, যার ফলে আল্লাহর প্রশংসায় এটি নিজ শিল্পে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করেছে; যেন এক অবিরাম বারিধারা, এর সুফলগুলো সুদূরপ্রসারী, এর দানসমূহ তৃপ্তিদায়ক, এর ভূষণসমূহ পর্যাপ্ত, এর প্রস্রবণসমূহ স্বচ্ছ, এর উৎসসমূহ যথেষ্ট এবং এর উপাদানসমূহ পরিপূর্ণ। এমন কোনো প্রচলিত বর্ণনা নেই যা এতে সংগৃহীত হয়নি, এবং এমন কোনো বিরল বর্ণনা নেই যা এই সংকলনে একত্রিত করা হয়নি। এতে আমি দূরবর্তী বিষয়সমূহকে নিকটবর্তী করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইসুল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ৫)
وآنست مَا كَانَ فريدا وأهلت مَا كَانَ شَرِيدًا وَفتحت لكل غَرِيبَة وصيدا وشرحت بِهِ صُدُور قوم مُؤمنين وَقُلُوب طَائِفَة آمِنين وغظت بِهِ الجاحدين والمفسدين والطائفة المبتدعة والملحدين والفلاسفة المتمردين ورجوت بِهِ الْحسنى وَمن يهده الله فَهُوَ من المهتدين
এবং যা নিঃসঙ্গ ছিল আমি তাকে অন্তরঙ্গ করেছি এবং যা বিতাড়িত ছিল তাকে আপন করেছি। আর প্রতিটি বিরল বিষয়ের জন্য আমি দ্বার উন্মুক্ত করেছি। এর মাধ্যমে আমি মুমিন সম্প্রদায়ের বক্ষসমূহ এবং নিরাপদ একদলের অন্তরসমূহ উন্মোচিত করেছি। আর এর দ্বারা আমি অস্বীকারকারী, ফাসাদ সৃষ্টিকারী, বিদআতী দল, নাস্তিক ও বিদ্রোহী দার্শনিকদের ক্রোধান্বিত করেছি। আমি এর মাধ্যমে সর্বোত্তম প্রতিদানের আশা করি; আর আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন, সে-ই হিদায়েতপ্রাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইসুল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ৭)
بَاب خُصُوصِيَّة النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِكَوْنِهِ أول النَّبِيين فِي الْخلق وَتقدم نبوته واخذ الْمِيثَاق عَلَيْهِ
اخْرُج ابْن أبي حَاتِم فِي تَفْسِيره وَأَبُو نعيم فِي الدَّلَائِل من طرق عَن قَتَادَة عَن الْحسن عَن أبي هُرَيْرَة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي قَوْله تَعَالَى {وَإِذ أَخذنَا من النَّبِيين ميثاقهم} الْآيَة قَالَ كنت أول النَّبِيين فِي الْخلق وَآخرهمْ فِي الْبَعْث فَبَدَأَ بِهِ قبلهم
وَأخرج أَبُو سهل الْقطَّان فِي جُزْء من أَمَالِيهِ عَن سهل بن صَالح الْهَمدَانِي قَالَ سَأَلت أَبَا جَعْفَر مُحَمَّد بن عَليّ كَيفَ صَار مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم يتَقَدَّم الْأَنْبِيَاء وَهُوَ آخر من بعث قَالَ إِن الله تَعَالَى لما اخذ من بني آدم من ظُهُورهمْ ذرياتهم وأشهدهم على أنفسهم أَلَسْت بربكم كَانَ مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم أول من قَالَ بلَى وَلذَلِك صَار يتَقَدَّم الْأَنْبِيَاء وَهُوَ آخر من بعث
وَأخرج أَحْمد وَالْبُخَارِيّ فِي تَارِيخه وَالطَّبَرَانِيّ وَالْحَاكِم وَالْبَيْهَقِيّ وَأَبُو نعيم عَن ميسرَة الْفجْر قَالَ قلت يَا رَسُول الله مَتى كنت نَبيا قَالَ وآدَم بَين الرّوح والجسد
واخرج احْمَد وَالْحَاكِم وَالْبَيْهَقِيّ عَن الْعِرْبَاض بن سَارِيَة قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول إِنِّي عِنْد الله فِي ام الْكتاب لخاتم النَّبِيين وَإِن آدم لَمُنْجَدِل فِي طينته
وَأخرج الْحَاكِم وَالْبَيْهَقِيّ وَأَبُو نعيم عَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه قيل للنَّبِي صلى الله عليه وسلم مَتى وَجَبت لَك النُّبُوَّة قَالَ بَين خلق آدم وَنفخ الرّوح فِيهِ
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিশেষত্ব যে তিনি সৃষ্টির দিক থেকে প্রথম নবী, তাঁর নবুওয়াত অগ্রবর্তী হওয়া এবং তাঁর নিকট থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করার পরিচ্ছেদ।
ইবনে আবি হাতিম তাঁর তাফসীরে এবং আবু নুআইম 'দালাইল' গ্রন্থে একাধিক সূত্রে কাতাদাহ হতে, তিনি হাসান হতে, তিনি আবু হুরায়রা হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর এই বাণী— "যখন আমি নবীদের কাছ থেকে তাদের অঙ্গীকার গ্রহণ করলাম" (আয়াত)—এর ব্যাপারে বলেছেন: "আমি সৃষ্টির দিক থেকে নবীদের মধ্যে প্রথম এবং প্রেরিত হওয়ার দিক থেকে তাদের শেষ।" তাই আল্লাহ তাদের পূর্বে তাঁকে দিয়ে শুরু করেছেন।
আবু সাহল আল-কাত্তান তাঁর 'আমালি'র একটি অংশে সাহল ইবনে সালিহ আল-হামদানি হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আলীকে জিজ্ঞাসা করলাম, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কীভাবে নবীদের অগ্রবর্তী হলেন অথচ তিনি প্রেরিত হওয়ার দিক থেকে সর্বশেষ? তিনি বললেন: মহান আল্লাহ যখন বনী আদমের পিঠ থেকে তাদের বংশধরদের বের করলেন এবং তাদের নিজেদের ব্যাপারে সাক্ষ্য রাখলেন যে, "আমি কি তোমাদের রব নই?", তখন মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সর্বপ্রথম বলেছিলেন, "অবশ্যই (হ্যাঁ)"। আর এই কারণেই তিনি নবীদের অগ্রবর্তী হয়েছেন, যদিও তিনি প্রেরিত হওয়ার দিক থেকে সবার শেষে।
আহমদ, বুখারী তাঁর 'তারিখ'-এ, তাবারানী, হাকেম, বায়হাকী এবং আবু নুআইম মায়সারা আল-ফাজর হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কখন নবী ছিলেন? তিনি বললেন: "তখন, যখন আদম আত্মা ও শরীরের মধ্যবর্তী অবস্থায় ছিলেন।"
আহমদ, হাকেম এবং বায়হাকী ইরবাদ ইবনে সারিয়া হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, "নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর নিকট উম্মুল কিতাবে সর্বশেষ নবী হিসেবে লিখিত ছিলাম যখন আদম তাঁর কাদার মধ্যে নিক্ষিপ্ত অবস্থায় ছিলেন।"
হাকেম, বায়হাকী এবং আবু নুআইম আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণনা করেছেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনার জন্য নবুওয়াত কখন নির্ধারিত হয়েছে? তিনি বললেন: "আদমের সৃষ্টি এবং তাঁর মধ্যে আত্মা ফুঁকে দেওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে।"
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইসুল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ৮)
واخرج الْبَزَّار وَالطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط وَأَبُو نعيم من طَرِيق الشّعبِيّ عَن ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما قَالَ قيل يَا رَسُول الله مَتى كنت نَبيا قَالَ وآدَم بَين الرّوح والجسد
وَأخرج أَبُو نعيم عَن الصنَابحِي قَالَ قَالَ عمر رضي الله عنه مَتى جعلت نَبيا قَالَ وآدَم منجدل فِي الطين مُرْسل
وَأخرج ابْن سعد عَن ابْن ابي الجدعاء قَالَ قلت يَا رَسُول الله مَتى كنت نَبيا قَالَ إِذْ آدم بَين الرّوح والجسد
وَأخرج ابْن سعد عَن مطرف بن عبد الله بن الشخير أَن رجلا سَأَلَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مَتى كنت نَبيا قَالَ بَين الرّوح والطين من آدم
وَأخرج ابْن سعد عَن عَامر قَالَ قَالَ رجل للنَّبِي صلى الله عليه وسلم مَتى استنبئت قَالَ وآدَم بَين الرّوح والجسد حِين اخذ مني الْمِيثَاق
وَأخرج الطَّبَرَانِيّ وَأَبُو نعيم عَن أبي مَرْيَم الغساني ان اعرابيا قَالَ للنَّبِي صلى الله عليه وسلم أَي شَيْء كَانَ اول نبوتك قَالَ اخذ الله مني الْمِيثَاق كَمَا أَخذ من النَّبِيين ميثاقهم ودعوة أبي ابراهيم وبشرى عِيسَى وَرَأَتْ امي فِي منامها انه خرج من بَين رِجْلَيْهَا سراج اضاءت لَهُ قُصُور الشَّام
فَائِدَة فِي ان رِسَالَة النَّبِي صلى الله عليه وسلم عَامَّة لجَمِيع الْخلق والانبياء واممهم كلهم من امته قَالَ الشَّيْخ تَقِيّ الدّين السُّبْكِيّ فِي كِتَابه التَّعْظِيم والْمنَّة فِي {لتؤمنن بِهِ ولتنصرنه} فِي هَذِه الْآيَة من التنويه بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وتعظيم قدره الْعلي مَا لَا يخفي وَفِيه مَعَ ذَلِك انه على تَقْدِير مَجِيئه فِي زمانهم يكون الْأَمر مُرْسلا إِلَيْهِم فَتكون نبوته
আল-বাজার, আত-তাবারানি 'আল-আওসাত' গ্রন্থে এবং আবু নুআইম আশ-শা'বির সূত্রে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কখন নবী ছিলেন? তিনি বললেন: "যখন আদম আত্মা ও দেহের অন্তর্বর্তী অবস্থায় ছিলেন।"
আবু নুআইম আস-সুনাবিহি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, আপনাকে কখন নবী বানানো হয়েছে? তিনি বললেন: "যখন আদম মাটিতে সংমিশ্রিত অবস্থায় ছিলেন, তখনই আমি প্রেরিত নবী ছিলাম।"
ইবনে সাদ ইবনে আবিল জাদআ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কখন নবী ছিলেন? তিনি বললেন: "যখন আদম আত্মা ও দেহের অন্তর্বর্তী অবস্থায় ছিলেন।"
ইবনে সাদ মুতাররিফ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আশ-শিখখির থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলেন: আপনি কখন নবী ছিলেন? তিনি বললেন: "আদমের আত্মা ও মাটির মধ্যবর্তী সময়ে।"
ইবনে সাদ আমির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বললেন: আপনি কখন নবুয়ত প্রাপ্ত হয়েছেন? তিনি বললেন: "যখন আদম আত্মা ও দেহের অন্তর্বর্তী অবস্থায় ছিলেন, সেই সময়ে যখন আমার থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করা হয়েছিল।"
তাবারানি এবং আবু নুআইম আবু মারিয়াম আল-গাসসানি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক গ্রাম্য ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করল: আপনার নবুয়তের সূচনা কী ছিল? তিনি বললেন: "আল্লাহ আমার থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন যেমন তিনি অন্যান্য নবীদের থেকে তাঁদের অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন; আমি আমার পিতা ইব্রাহিমের দোয়া এবং ঈসার সুসংবাদ। আর আমার মা স্বপ্নে দেখেছিলেন যে, তাঁর দুই পায়ের মাঝখান থেকে একটি প্রদীপ নির্গত হয়েছে যার আলোতে শামের প্রাসাদসমূহ উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছিল।"
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর রিসালাত সকল সৃষ্টিজগতের জন্য ব্যাপক হওয়া এবং সকল নবী ও তাঁদের উম্মতগণ তাঁর উম্মতের অন্তর্ভুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে একটি জ্ঞাতব্য বিষয় শাইখ তাকীউদ্দীন আস-সুবকী তাঁর 'আত-তা'জীম ওয়াল মিন্নাহ' গ্রন্থে {অবশ্যই তোমরা তাঁর প্রতি ঈমান আনবে এবং তাঁকে সাহায্য করবে} এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন: এই আয়াতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রশংসা এবং তাঁর সুউচ্চ মর্যাদার যে মহিমা বর্ণিত হয়েছে তা সুস্পষ্ট। এর সাথে এতে আরও রয়েছে যে, যদি ধরে নেওয়া হয় তিনি তাঁদের (অন্যান্য নবীদের) যুগে আগমন করতেন, তবে তিনি তাঁদের প্রতিও রাসূল হিসেবে প্রেরিত হতেন, এমতাবস্থায় তাঁর নবুয়ত...
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইসুল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ৯)
ورسالته عَامَّة لجَمِيع الْخلق من زمن آدم إِلَى يَوْم الْقِيَامَة وَتَكون الْأَنْبِيَاء واممهم كلهم من أمته وَيكون قَوْله بعثت إِلَى النَّاس كَافَّة لَا يخْتَص بِهِ النَّاس من زَمَانه إِلَى يَوْم الْقِيَامَة بل يتَنَاوَل من قبلهم أَيْضا ويتبين بذلك معنى قَوْله صلى الله عليه وسلم كنت نَبيا وآدَم بَين الرّوح والجسد وَأَن من فسره بِعلم الله بِأَنَّهُ سيصير نَبيا لم يصل إِلَى هَذَا الْمَعْنى لِأَن علم الله مُحِيط بِجَمِيعِ الْأَشْيَاء وَوصف النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِالنُّبُوَّةِ فِي ذَلِك الْوَقْت يَنْبَغِي ان يفهم مِنْهُ أَنه امْر ثَابت لَهُ فِي ذَلِك الْوَقْت وَلِهَذَا رأى آدم اسْمه مَكْتُوبًا على الْعَرْش مُحَمَّد رَسُول الله فَلَا بُد أَن يكون ذَلِك معنى ثَابتا فِي ذَلِك الْوَقْت وَلَو كَانَ المُرَاد بذلك مُجَرّد الْعلم بِمَا سيصير فِي الْمُسْتَقْبل لم يكن لَهُ خُصُوصِيَّة بِأَنَّهُ نَبِي وآدَم بَين الرّوح والجسد لِأَن جَمِيع الْأَنْبِيَاء يعلم الله نبوتهم فِي ذَلِك الْوَقْت وَقَبله فَلَا بُد من خُصُوصِيَّة للنَّبِي صلى الله عليه وسلم لأَجلهَا أخبر بِهَذَا الْخَبَر إعلاما لأمته ليعرفوا قدره عِنْد الله تَعَالَى فَيحصل لَهُم الْخَيْر بذلك
قَالَ فَإِن قلت أُرِيد ان افهم ذَلِك الْقدر الزَّائِد فَإِن النُّبُوَّة وصف لَا بُد ان يكون الْمَوْصُوف بِهِ مَوْجُودا وَإِنَّمَا يكون بعد بُلُوغ أَرْبَعِينَ سنة أَيْضا فَكيف يُوصف بِهِ قبل وجوده وَقبل إرْسَاله وَإِن صَحَّ ذَلِك فَغَيره كَذَلِك
قلت قد جَاءَ ان الله تَعَالَى خلق الْأَرْوَاح قبل الأجساد فقد تكون الْإِشَارَة بقوله كنت نَبيا إِلَى روحه الشَّرِيفَة اَوْ إِلَى حَقِيقَته والحقائق تقصر عقولنا عَن مَعْرفَتهَا وانما يعلمهَا خَالِقهَا وَمن امده بِنور الهي ثمَّ ان تِلْكَ الْحَقَائِق يُؤْتِي الله كل حَقِيقَة مِنْهَا مَا يَشَاء فِي الْوَقْت الَّذِي يَشَاء فحقيقة النَّبِي صلى الله عليه وسلم قد تكون من قبل خلق آدم آتَاهُ الله ذَلِك الْوَصْف بِأَن يكون خلقهَا متهيئة لذَلِك وأفاضه عَلَيْهَا من ذَلِك الْوَقْت فَصَارَ نَبيا وَكتب اسْمه على الْعَرْش وَأخْبر عَنهُ بالرسالة ليعلم مَلَائكَته وَغَيرهم كرامته عِنْده فحقيقته مَوْجُودَة من ذَلِك الْوَقْت وَإِن تَأَخّر جسده الشريف المتصف بهَا واتصاف حَقِيقَته بالاوصاف الشَّرِيفَة المفاضة عَلَيْهِ من الحضرة الالهية وانما يتَأَخَّر الْبَعْث والتبليغ وكل مَا لَهُ من جِهَة الله تَعَالَى وَمن جِهَة تأهل ذَاته الشَّرِيفَة وَحَقِيقَته معجل لَا تَأْخِير فِيهِ وَكَذَلِكَ استنباؤه وايتاؤه الْكتاب وَالْحكم والنبوة وَإِنَّمَا الْمُتَأَخر تكونه
তাঁর রিসালাত আদম (আলাইহিস সালাম)-এর সময় থেকে কিয়ামত পর্যন্ত সমস্ত সৃষ্টির জন্য ব্যাপক এবং সকল নবী ও তাঁদের উম্মতগণ সবাই তাঁর উম্মতের অন্তর্ভুক্ত। "আমাকে সকল মানুষের নিকট পাঠানো হয়েছে"—তাঁর এই বাণীর অর্থ কেবল তাঁর সময় থেকে কিয়ামত পর্যন্ত সময়ের মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি তাঁর পূর্ববর্তীদেরও অন্তর্ভুক্ত করে। এর মাধ্যমেই তাঁর এই বাণীর অর্থ স্পষ্ট হয় যে, "আমি তখনো নবী ছিলাম যখন আদম রুহ ও শরীরের মধ্যবর্তী অবস্থায় ছিলেন।" যারা এর ব্যাখ্যা আল্লাহর কেবল এই জ্ঞান দ্বারা করেন যে—তিনি ভবিষ্যতে নবী হবেন—তারা এই প্রকৃত অর্থে পৌঁছাতে পারেননি। কারণ আল্লাহর জ্ঞান সমস্ত বস্তুকে পরিবেষ্টন করে আছে। সেই সময়ে নবীকে নবুওয়তের গুণে গুণান্বিত করা থেকে এটিই বোঝা উচিত যে, তা সেই সময়ে তাঁর জন্য একটি প্রতিষ্ঠিত বিষয় ছিল। এই কারণেই আদম (আলাইহিস সালাম) আরশের ওপর তাঁর নাম "মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল" হিসেবে লিখিত দেখেছিলেন। অতএব, সেই সময়ে এটি একটি প্রতিষ্ঠিত হাকিকত বা বাস্তবতা হওয়া আবশ্যক। যদি এর দ্বারা কেবল ভবিষ্যতে কী হবে সে সম্পর্কে আল্লাহর জ্ঞান উদ্দেশ্য হতো, তবে আদম রুহ ও শরীরের মধ্যবর্তী থাকা অবস্থায় তাঁর নবী হওয়ার কোনো বিশেষত্ব থাকত না; কারণ সকল নবীর নবুওয়ত সম্পর্কেই আল্লাহ সেই সময়ে এবং তার আগেও জানতেন। তাই নবীর জন্য এমন কোনো বিশেষত্ব থাকা আবশ্যক যার জন্য তিনি তাঁর উম্মতকে এ সংবাদ দিয়েছেন, যাতে তারা আল্লাহর নিকট তাঁর মর্যাদা সম্পর্কে জানতে পারে এবং এর মাধ্যমে তারা কল্যাণ লাভ করতে পারে।
তিনি বললেন, যদি আপনি বলেন: আমি সেই অতিরিক্ত বিষয়টি বুঝতে চাই; কারণ নবুওয়ত এমন একটি গুণ যার জন্য গুণান্বিত সত্তার অস্তিত্ব থাকা জরুরি। আর নবুওয়ত তো সাধারণত চল্লিশ বছর পূর্ণ হওয়ার পরেই প্রাপ্ত হয়। তবে তাঁর অস্তিত্বের পূর্বে এবং তাঁকে পাঠানোর পূর্বে কীভাবে তাঁকে এই নবুওয়তের গুণে গুণান্বিত করা হলো? আর যদি এটি তাঁর ক্ষেত্রে সঠিক হয়, তবে অন্যদের ক্ষেত্রেও কেন এমনটি হবে না?
আমি বললাম, বর্ণিত আছে যে আল্লাহ তাআলা শরীরের পূর্বে রুহসমূহ সৃষ্টি করেছেন। অতএব "আমি নবী ছিলাম" বলতে তাঁর সম্মানিত রুহ অথবা তাঁর হাকিকত বা প্রকৃত সত্তার দিকে ইশারা হতে পারে। হাকিকতসমূহ সম্পর্কে জানার ব্যাপারে আমাদের বুদ্ধি অত্যন্ত সীমাবদ্ধ; কেবল তাদের স্রষ্টা এবং যাদের তিনি ঐশ্বরিক নূর দ্বারা সাহায্য করেছেন তারাই তা জানেন। অতঃপর আল্লাহ সেই সকল হাকিকতের প্রত্যেকটিকে যা ইচ্ছা এবং যখন ইচ্ছা দান করেন। সুতরাং নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর হাকিকত আদম সৃষ্টির পূর্বেই এই নবুওয়তের গুণপ্রাপ্ত হয়ে থাকতে পারে, এভাবে যে আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিকে এর জন্য প্রস্তুত করেছিলেন এবং সেই সময় থেকেই তাঁর ওপর নবুওয়তের করুণা ঢেলে দিয়েছিলেন। ফলে তিনি নবী হন, আরশের ওপর তাঁর নাম লিপিবদ্ধ করা হয় এবং তাঁর রিসালাত সম্পর্কে ঘোষণা করা হয়, যাতে ফেরেশতা ও অন্যান্যরা আল্লাহর নিকট তাঁর মর্যাদা সম্পর্কে জানতে পারে। অতএব তাঁর হাকিকত সেই সময় থেকেই বিদ্যমান ছিল, যদিও তাঁর সম্মানিত শরীর যা এই গুণে গুণান্বিত তা পরে এসেছে। তাঁর হাকিকত ঐশ্বরিক সান্নিধ্য থেকে প্রাপ্ত মহান গুণাবলীতে গুণান্বিত ছিল। কেবল রিসালাত প্রচার এবং নবুওয়তের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি বিলম্বিত হয়েছিল। আল্লাহর পক্ষ থেকে যা কিছু প্রাপ্ত এবং তাঁর সম্মানিত সত্তা ও হাকিকতের যোগ্যতার বিষয়গুলো ত্বরান্বিত ছিল, তাতে কোনো বিলম্ব ছিল না। তেমনিভাবে তাঁর নবী মনোনীত হওয়া, তাঁকে কিতাব, প্রজ্ঞা ও নবুওয়ত প্রদান করার বিষয়টিও তাৎক্ষণিক ছিল; কেবল তাঁর পার্থিব অবয়ব বা দেহের গঠন প্রক্রিয়াই ছিল বিলম্বিত।
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইসুল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ১০)
وتنقله إِلَى ان ظهر صلى الله عليه وسلم وَغَيره من أهل الْكَرَامَة قد تكون افاضة الله تَعَالَى تِلْكَ الْكَرَامَة عَلَيْهِ بعد وجوده بِمدَّة كَمَا يَشَاء سُبْحَانَهُ وَلَا شكّ ان كل مَا يَقع فَالله عَالم بِهِ من الازل وَنحن نعلم علمه بذلك بالادلة الْعَقْلِيَّة والشرعية وَيعلم النَّاس مِنْهَا مَا يصل اليهم عِنْد ظُهُوره كعلمهم نبوة النَّبِي صلى الله عليه وسلم حِين نزل عَلَيْهِ الْقُرْآن فِي أول مَا جَاءَهُ جِبْرِيل وَهُوَ فعل من افعاله تَعَالَى من جملَة معلوماته وَمن آثَار قدرته وإرادته واختياره فِي مَحل خَاص يَتَّصِف بهَا فهاتان مرتبتان الأولى مَعْلُومَة بالبرهان وَالثَّانيَِة ظَاهِرَة للعيان وَبَين المرتبتين وسائط من أَفعاله تَعَالَى تحدث على حسب اخْتِيَاره مِنْهَا مَا يظْهر لَهُم بعد ذَلِك وَمِنْهَا مَا يحصل لَهُ كَمَال لذَلِك الْمحل وان لم يظْهر لأحد من المخلوقين وَذَلِكَ يَنْقَسِم إِلَى كَمَال يقارن ذَلِك الْمحل من حِين خلقه وَإِلَى كَمَا يحصل لَهُ بعد ذَلِك وَلَا يصل علم ذَلِك الينا إِلَّا بالْخبر الصَّادِق وَالنَّبِيّ صلى الله عليه وسلم خير الْخلق فَلَا كَمَا لمخلوق اعظم من كَمَاله وَلَا مَحل أشرف من مَحَله فَعرفنَا بالْخبر الصَّحِيح حُصُول ذَلِك الْكَمَال من قبل خلق آدم لنبينا صلى الله عليه وسلم من ربه سُبْحَانَهُ وانه أعطَاهُ النُّبُوَّة من ذَلِك الْوَقْت ثمَّ اخذ لَهُ المواثيق على الانبياء ليعلموا انه الْمُقدم عَلَيْهِم وانه نَبِيّهم ورسولهم وَفِي اخذ المواثيق وَهِي فِي معنى الِاسْتِخْلَاف وَلذَلِك دخلت لَام الْقسم فِي {لتؤمنن بِهِ ولتنصرنه} الْآيَة
لَطِيفَة أُخْرَى فِي أَن اخذ الْمِيثَاق من النَّبِيين لنبينا صلى الله عليه وسلم وَعَلَيْهِم كَإِيمَانِ الْبيعَة الَّتِي تُؤْخَذ للخلفاء وَهِي كَأَنَّهَا إِيمَان الْبيعَة الَّتِي تُؤْخَذ للخلفاء وَلَعَلَّ ايمان الْخُلَفَاء اخذت من هُنَا فَانْظُر هَذَا التَّعْظِيم الْعَظِيم للنَّبِي صلى الله عليه وسلم من ربه سبحانه وتعالى فاذا عرفت ذَلِك فالنبي صلى الله عليه وسلم هُوَ نَبِي الْأَنْبِيَاء وَلِهَذَا ظهر ذَلِك فِي الْآخِرَة جَمِيع الْأَنْبِيَاء تَحت لوائه وَفِي الدُّنْيَا كَذَلِك لَيْلَة الاسراء صلى بهم
وَلَو اتّفق مَجِيئه فِي زمن آدم ونوح وابراهيم ومُوسَى وَعِيسَى وَجب عَلَيْهِم وعَلى أممهم
এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রকাশ পাওয়া পর্যন্ত তা স্থানান্তরিত হতে থাকে। অন্য সকল অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারীদের ক্ষেত্রে হতে পারে যে, মহান আল্লাহ তাদের অস্তিত্ব লাভের কিছু সময় পর তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী সেই অলৌকিক ক্ষমতা বা কারামত তাদের ওপর বর্ষণ করেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যা কিছু ঘটে মহান আল্লাহ অনাদিকাল থেকেই তা অবগত। আমরা বুদ্ধিভিত্তিক ও শরয়ি দলিলের মাধ্যমে তাঁর সেই জ্ঞান সম্পর্কে জানতে পারি। মানুষের কাছে যা প্রকাশিত হয়, কেবল ততটুকুই তারা জানতে পারে; যেমন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) প্রথমবার আসার পর যখন কুরআন অবতীর্ণ হলো, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুয়ত সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান লাভ করা। এটি মহান আল্লাহর কর্মসমূহের একটি কর্ম এবং তাঁর অসীম জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত, যা একটি নির্দিষ্ট আধারে তাঁর ক্ষমতা, ইচ্ছা ও নির্বাচনের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হয়। সুতরাং এখানে দুটি স্তর রয়েছে: প্রথমটি প্রমাণের মাধ্যমে জ্ঞাত এবং দ্বিতীয়টি চাক্ষুষভাবে দৃশ্যমান। এই দুই স্তরের মধ্যবর্তী পর্যায়ে মহান আল্লাহর আরও কিছু কর্মের মাধ্যম রয়েছে যা তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী সঙ্ঘটিত হয়। এগুলোর কিছু মানুষের কাছে পরবর্তীতে প্রকাশিত হয়, আর কিছু সেই আধারের পূর্ণতা হিসেবে অর্জিত হয় যদিও তা সৃষ্টির কারোর নিকট প্রকাশ পায় না। এটি আবার দুই ভাগে বিভক্ত: এমন পূর্ণতা যা সৃষ্টির শুরু থেকেই সেই আধারের সাথে মিশে থাকে, এবং এমন পূর্ণতা যা পরবর্তীতে অর্জিত হয়। সত্য সংবাদ ব্যতীত আমাদের নিকট এ সংক্রান্ত জ্ঞান পৌঁছানো সম্ভব নয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সৃষ্টির সেরা; তাই কোনো সৃষ্টির পূর্ণতাই তাঁর পূর্ণতার চেয়ে মহান নয় এবং কোনো আধারই তাঁর আধারের চেয়ে অধিক সম্মানিত নয়। অতএব সহিহ সংবাদের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য তাঁর মহান রবের পক্ষ থেকে আদম (আলাইহিস সালাম)-এর সৃষ্টির পূর্বেই সেই পূর্ণতা অর্জিত হয়েছিল এবং তিনি তাঁকে সেই সময় থেকেই নবুয়ত দান করেছিলেন। এরপর তিনি অন্যান্য নবীদের নিকট থেকে তাঁর ব্যাপারে অঙ্গীকার গ্রহণ করেন যেন তাঁরা জানতে পারেন যে, তিনি তাঁদের অগ্রগামী এবং তিনি তাঁদেরও নবী ও রাসুল। এই অঙ্গীকার গ্রহণ মূলত স্থলাভিষিক্তকরণের অর্থ বহন করে। একারণেই আয়াতের "অবশ্যই তোমরা তাঁর ওপর ঈমান আনবে এবং অবশ্যই তাঁকে সাহায্য করবে" অংশে শপথের লাম যুক্ত হয়েছে।
আরেকটি সূক্ষ্ম আলোচনা: নবীদের নিকট থেকে আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যাপারে অঙ্গীকার গ্রহণ করা খলিফাদের জন্য গৃহীত বায়াতের শপথের ন্যায় এটি যেন খলিফাদের জন্য গৃহীত বায়াতের শপথের ন্যায়। সম্ভবত খলিফাদের বায়াতের বিষয়টি এখান থেকেই গ্রহণ করা হয়েছে। সুতরাং লক্ষ্য করুন, মহান রবের পক্ষ থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি এটি কত বড় সম্মান প্রদর্শন! আপনি যখন এটি জানলেন, তখন স্পষ্ট হলো যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন নবীদেরও নবী। একারণেই পরকালে এটি প্রকাশিত হবে যে সমস্ত নবী তাঁর পতাকাতলে থাকবেন এবং দুনিয়াতেও মিরাজের রাতে তিনি তাঁদের নিয়ে সালাত আদায় করেছেন।
আর যদি আদম, নূহ, ইব্রাহিম, মুসা ও ঈসা (আলাইহিমুস সালাম)-এর যুগে তাঁর আগমন ঘটত, তবে তাঁদের ওপর এবং তাঁদের উম্মতদের ওপর (তাঁর অনুসরণ) ওয়াজিব হতো।
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইসুল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ১১)
الْإِيمَان بِهِ ونصرته وَبِذَلِك أَخذ الله الْمِيثَاق عَلَيْهِم فنبوته عَلَيْهِم ورسالته اليهم مغنى حَاصِل لَهُ وَإِنَّمَا امْرَهْ يتَوَقَّف على اجْتِمَاعهم مَعَه فَتَأَخر ذَلِك الامر رَاجع إِلَى وجودهم لَا إِلَى عدم اتصافهم بِمَا يَقْتَضِيهِ وَفرق بَين توقف الْفِعْل على قبُول الْمحل وتوقفه على اهلية الْفَاعِل فَهُنَا لَا توقف من جِهَة الْفَاعِل وَلَا من جِهَة ذَات النَّبِي صلى الله عليه وسلم الشَّرِيفَة وَإِنَّمَا هُوَ من جِهَة وجود الْعَصْر الْمُشْتَمل عَلَيْهِ فَلَو وجد فِي عصرهم لَزِمَهُم اتِّبَاعه بِلَا شكّ وَلِهَذَا يَأْتِي عِيسَى فِي آخر الزَّمَان على شَرِيعَته وَهُوَ نَبِي كريم على حَاله لَا كَمَا يظنّ بعض النَّاس أَنه يَأْتِي وَاحِدًا من هَذِه الامة نعم هُوَ وَاحِد من هَذِه الامة لما قُلْنَاهُ من اتِّبَاعه للنَّبِي صلى الله عليه وسلم وَإِنَّمَا يحكم بشريعة نَبينَا مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم بِالْقُرْآنِ وَالسّنة وكل مَا فيهمَا من أَمر أَو نهي فَهُوَ مُتَعَلق بِهِ كَمَا يتَعَلَّق بِسَائِر الْأمة وَهُوَ نَبِي كريم على حَاله لم ينقص مِنْهُ شَيْء وَكَذَلِكَ لَو بعث النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي زَمَانه أَو فِي زمَان مُوسَى وابراهيم ونوح وآدَم كَانُوا مستمرين على نبوتهم ورسالتهم إِلَى أممهم وَالنَّبِيّ صلى الله عليه وسلم نَبِي عَلَيْهِم وَرَسُول إِلَى جَمِيعهم فنبوته ورسالته أَعم وأشمل وَأعظم ومتفق مَعَ شرائعهم فِي الْأُصُول لِأَنَّهَا لَا تخْتَلف
وَتقدم شَرِيعَته صلى الله عليه وسلم فِيمَا عساه يَقع الِاخْتِلَاف فِيهِ من الْفُرُوع إِمَّا على سَبِيل التَّخْصِيص وَإِمَّا على سَبِيل النّسخ أَو لَا نسخ وَلَا تَخْصِيص بل تكون شَرِيعَة النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي تِلْكَ الْأَوْقَات بِالنِّسْبَةِ إِلَى أُولَئِكَ الْأُمَم مَا جَاءَت بِهِ انبياؤهم وَفِي هَذَا الْوَقْت بِالنِّسْبَةِ إِلَى هَذِه الْأمة هَذِه الشَّرِيعَة والاحكام تخْتَلف باخْتلَاف الاشخاص والأوقات وَبِهَذَا بَان لنا معنى حديثين كَانَا خفِيا عَنَّا
أَحدهمَا قَوْله صلى الله عليه وسلم بعثت إِلَى النَّاس كَافَّة كُنَّا نظن انه من زَمَانه إِلَى يَوْم الْقِيَامَة فَبَان انه جَمِيع النَّاس أَوَّلهمْ وَآخرهمْ
وَالثَّانِي قَوْله صلى الله عليه وسلم كنت نَبيا وآدَم بَين الرّوح والجسد كُنَّا نظن أَنه بِالْعلمِ فَبَان أَنه زَائِد على ذَلِك مَا شرحناه وَإِنَّمَا يفْتَرق الْحَال بَين مَا بعد وجود جسده صلى الله عليه وسلم وبلوغه الْأَرْبَعين وَمَا قبل ذَلِك بِالنِّسْبَةِ إِلَى الْمَبْعُوث إِلَيْهِم وتأهلهم لسَمَاع كَلَامه لَا بِالنِّسْبَةِ اليه وَلَا اليهم لَو تأهلوا قبل ذَلِك وَتَعْلِيق الْأَحْكَام على الشُّرُوط قد يكون
তাঁর প্রতি ঈমান আনা এবং তাঁকে সাহায্য করা—আর এরই ভিত্তিতে আল্লাহ তাঁদের নিকট থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছেন। সুতরাং তাঁদের ওপর তাঁর নবুওয়াত এবং তাঁদের প্রতি তাঁর রিসালাত তাঁর জন্য সাব্যস্ত একটি বিষয়। বস্তুত তাঁর বিষয়টি নির্ভর করে তাঁর সাথে তাঁদের একত্রিত হওয়ার ওপর। সুতরাং সেই বিষয়টি বিলম্বিত হওয়া তাঁদের অস্তিত্বের সাথে সম্পৃক্ত, যা সেটির দাবি অনুযায়ী তাঁদের গুণাবলি বিদ্যমান না থাকার সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। আর কোনো কাজের স্থলের গ্রহণের ওপর নির্ভর করা এবং তা কর্তার যোগ্যতার ওপর নির্ভর করার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এখানে কর্তার পক্ষ থেকে কিংবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মানিত সত্তার পক্ষ থেকে কোনো নির্ভরশীলতা নেই; বরং তা হলো সেই যুগের অস্তিত্বের দিক থেকে যা তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করে। অতএব যদি তিনি তাঁদের যুগে বিদ্যমান থাকতেন, তবে নিঃসন্দেহে তাঁদের জন্য তাঁর অনুসরণ করা আবশ্যক হতো। এ কারণেই ঈসা আলাইহিস সালাম শেষ জামানায় তাঁর শরিয়তের ওপর ভিত্তি করে আগমন করবেন, অথচ তিনি তাঁর নবী হিসেবে নিজ মর্যাদা ও অবস্থায় বহাল থাকবেন; কিছু মানুষ যেমন ধারণা করে যে তিনি এই উম্মতের একজন সাধারণ ব্যক্তি হিসেবে আসবেন, বিষয়টি তেমন নয়। হ্যাঁ, তিনি এই উম্মতের একজন অন্তর্ভুক্ত, কারণ যেমনটি আমরা বলেছি তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসারী হবেন। তিনি আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শরিয়ত অর্থাৎ কুরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমেই ফয়সালা করবেন। আর কুরআন ও সুন্নাহর সকল আদেশ ও নিষেধ তাঁর ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে যেমনটি উম্মতের অন্যান্যদের ক্ষেত্রে হয়। অথচ তিনি তাঁর নবী হিসেবে স্বীয় মর্যাদায় বহাল থাকবেন এবং তাঁর মধ্য থেকে কোনো কিছুরই কমতি হবে না। একইভাবে যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সময়ে কিংবা মূসা, ইব্রাহিম, নূহ এবং আদম আলাইহিমুস সালাম-এর সময়ে প্রেরিত হতেন, তবে তাঁরাও তাঁদের উম্মতদের প্রতি স্বীয় নবুওয়াত ও রিসালাতে বহাল থাকতেন, আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের সবার ওপর নবী এবং তাঁদের সকলের প্রতি রাসূল হতেন। কারণ তাঁর নবুওয়াত ও রিসালাত অধিক ব্যাপক, অধিক অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং মহান। আর তা মূলনীতিসমূহের ক্ষেত্রে তাঁদের শরিয়তসমূহের সাথে একমত, কেননা মূলনীতিতে কোনো মতভেদ নেই।
আর উপশাখাগুলোর ক্ষেত্রে যেখানে মতভেদের সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শরিয়ত অগ্রাধিকার পাবে; তা হয় নির্দিষ্টকরণের মাধ্যমে, অথবা রহিতকরণের মাধ্যমে, অথবা কোনো রহিতকরণ বা নির্দিষ্টকরণ ছাড়াই। বরং সেই সময়ে ওই উম্মতদের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শরিয়ত হতো সেটিই যা তাঁদের নবীগণ নিয়ে এসেছিলেন, আর বর্তমান সময়ে এই উম্মতের ক্ষেত্রে শরিয়ত হলো এটিই। আর ব্যক্তি ও সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে বিধানের পরিবর্তন ঘটে থাকে। এর মাধ্যমেই আমাদের কাছে এমন দুটি হাদিসের অর্থ স্পষ্ট হয়েছে যা আগে আমাদের কাছে অস্পষ্ট ছিল।
প্রথমটি হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "আমাকে সমগ্র মানবজাতির নিকট পাঠানো হয়েছে।" আমরা মনে করতাম যে এর অর্থ হলো তাঁর সময় থেকে কিয়ামত পর্যন্ত; কিন্তু এখন স্পষ্ট হলো যে এর অর্থ হলো প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকল মানুষ।
দ্বিতীয়টি হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "আমি তখনও নবী ছিলাম যখন আদম রুহ ও শরীরের মধ্যবর্তী অবস্থায় ছিলেন।" আমরা মনে করতাম যে এটি কেবল জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত ছিল; কিন্তু এখন স্পষ্ট হলো যে বিষয়টি এর চেয়েও বেশি কিছু, যা আমরা ব্যাখ্যা করেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্র দেহের অস্তিত্ব এবং চল্লিশ বছর বয়সে উপনীত হওয়ার পরবর্তী অবস্থা এবং তার পূর্ববর্তী অবস্থার মধ্যে পার্থক্য কেবল যাদের নিকট তাঁকে পাঠানো হয়েছে তাঁদের সাপেক্ষে এবং তাঁর বাণী শোনার জন্য তাঁদের যোগ্য হয়ে ওঠার সাপেক্ষে। এটি তাঁর নিজের সত্তার সাপেক্ষে নয়, আর না তাঁদের সাপেক্ষে যদি তাঁরা এর আগে যোগ্য হয়ে উঠতেন। আর কোনো শর্তের ওপর বিধানের নির্ভরশীল হওয়া তো সম্ভব হতে পারে।
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইসুল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ১২)
بِحَسب الْمحل الْقَابِل وَقد يكون بِحَسب الْفَاعِل الْمُتَصَرف فَهُنَا التَّعْلِيق إِنَّمَا هُوَ بِحَسب الْمحل الْقَابِل وَهُوَ الْمَبْعُوث اليهم وقبولهم سَماع الْخطاب والجسد الشريف الَّذِي يخاطبهم بِلِسَانِهِ وَهَذَا كَمَا يُوكل الْأَب رجلا فِي تَزْوِيج ابْنَته اذا وجدت كفوا فالتوكيل صَحِيح وَذَلِكَ الرجل أهل للوكالة ووكالته ثَابِتَة وَقد يحصل توقف التَّصَرُّف على وجود كفو وَلَا يُوجد إِلَّا بعد مُدَّة وَذَلِكَ لَا يقْدَح فِي صِحَة الْوكَالَة واهلية الْوَكِيل انْتهى كَلَام السُّبْكِيّ بِلَفْظِهِ وَالله اعْلَم
بَاب خصوصيته صلى الله عليه وسلم بِكِتَابَة اسْمه الشريف مَعَ اسْم الله تَعَالَى على الْعَرْش وَسَائِر مَا فِي الملكوت
اخْرُج الْحَاكِم وَالْبَيْهَقِيّ وَالطَّبَرَانِيّ فِي الصَّغِير وَأَبُو نعيم وَابْن عَسَاكِر عَن عمر بن الْخطاب رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لما اقْتَرَف آدم الْخَطِيئَة قَالَ يَا رب بِحَق مُحَمَّد لما غفرت لي قَالَ وَكَيف عرفت مُحَمَّدًا قَالَ لِأَنَّك لما خلقتني بِيَدِك ونفخت فِي من روحك رفعت رَأْسِي فَرَأَيْت على قَوَائِم الْعَرْش مَكْتُوبًا لَا إِلَه إِلَّا الله مُحَمَّد رَسُول الله فَعلمت انك لم تضف إِلَى اسْمك إِلَّا احب الْخلق إِلَيْك قَالَ صدقت يَا آدم وَلَوْلَا مُحَمَّد مَا خلقتك
واخرج ابْن عَسَاكِر عَن كَعْب الاحبار قَالَ ان الله انْزِلْ على آدم عصيا بِعَدَد الْأَنْبِيَاء وَالْمُرْسلِينَ ثمَّ اقبل على ابْنه شِيث فَقَالَ أَي بني انت خليفتي من بعدِي فَخذهَا بعمارة التَّقْوَى والعروة الوثقى فَكلما ذكرت الله فاذكر الى جنبه اسْم مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم فَإِنِّي رَأَيْت اسْمه مَكْتُوبًا على سَاق الْعَرْش وَأَنا بَين الرّوح والطين ثمَّ إِنِّي طفت السَّمَوَات فَلم أر فِي السَّمَوَات موضعا إِلَّا رَأَيْت اسْم مُحَمَّد مَكْتُوبًا عَلَيْهِ وَأَن رَبِّي اسكنني الْجنَّة فَلم ار فِي الْجنَّة قصرا وَلَا غرفَة إِلَّا اسْم مُحَمَّد مَكْتُوبًا عَلَيْهِ وَلَقَد رَأَيْت اسْم مُحَمَّد مَكْتُوبًا على نحور الْحور الْعين وعَلى ورق قصب آجام الْجنَّة وعَلى ورق شَجَرَة
গ্রহণকারী আধারের যোগ্যতা অনুযায়ী, আবার কখনো তা ব্যবস্থা গ্রহণকারী কর্তার অবস্থা অনুযায়ী হয়। সুতরাং এখানে বিষয়টি গ্রহণকারী আধারের সাথে সংশ্লিষ্ট, আর তারা হলো যাদের নিকট তাঁকে পাঠানো হয়েছে এবং তাদের পক্ষ থেকে বাণী শ্রবণ করা ও সেই পবিত্র দেহের মাধ্যমে তাদের সাথে সম্বোধন করা যা তাদের সাথে তাঁর নিজ ভাষায় কথা বলে। এটি অনেকটা এমন যে, কোনো পিতা যেমন তাঁর কন্যার বিয়ের জন্য কোনো ব্যক্তিকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করলেন এই শর্তে যে যদি কোনো উপযুক্ত পাত্র পাওয়া যায়। এমতাবস্থায় এই প্রতিনিধিত্ব (ওকালত) সঠিক এবং সেই ব্যক্তিও প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্য এবং তাঁর প্রতিনিধিত্ব সাব্যস্ত। তবে অনেক সময় উপযুক্ত পাত্র পাওয়ার ওপর কাজ সম্পন্ন হওয়া নির্ভর করে এবং দীর্ঘ সময় অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত পাত্র পাওয়া যায় না। কিন্তু এটি সেই প্রতিনিধিত্বের সঠিকতা বা প্রতিনিধির যোগ্যতাকে ক্ষুণ্ণ করে না। সুবকী-র বক্তব্য হুবহু শেষ হলো। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
অধ্যায়: আরশ ও সমগ্র সৃষ্টিজগতে মহান আল্লাহর নামের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম মোবারক লিখিত থাকার বিশেষত্ব সম্পর্কে।
হাকিম, বায়হাকী, তাবারানী ‘আস-সগীর’ গ্রন্থে, আবু নুয়াইম এবং ইবনে আসাকির ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আদম যখন ভুল করে বসলেন, তখন তিনি বললেন: হে রব, আমি মুহাম্মাদের উসিলায় আপনার নিকট প্রার্থনা করছি যেন আপনি আমাকে ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ বললেন: হে আদম, তুমি মুহাম্মাদকে কীভাবে চিনলে? তিনি বললেন: কারণ আপনি যখন আমাকে আপনার হাত দিয়ে সৃষ্টি করলেন এবং আমার মধ্যে আপনার পক্ষ থেকে রুহ ফুঁকে দিলেন, তখন আমি মাথা তুলে আরশের স্তম্ভসমূহের ওপর লেখা দেখলাম ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’। তখন আমি বুঝতে পারলাম যে, সৃষ্টির মধ্যে আপনার কাছে সবচেয়ে প্রিয় না হলে আপনি আপনার নামের সাথে কারো নাম যুক্ত করতেন না। আল্লাহ বললেন: হে আদম, তুমি সত্য বলেছ। আর মুহাম্মাদ না হলে আমি তোমাকে সৃষ্টি করতাম না।
ইবনে আসাকির কাব আল-আহবার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহ তাআলা আদমের ওপর নবী ও রাসূলগণের সংখ্যা অনুযায়ী লাঠি অবতীর্ণ করলেন। অতঃপর তিনি তাঁর পুত্র শীসের দিকে মনোযোগ দিলেন এবং বললেন: হে আমার প্রিয় পুত্র, তুমি আমার পরে আমার খলিফা (স্থলাভিষিক্ত)। সুতরাং তুমি একে তাকওয়া ও সুদৃঢ় বন্ধনের মাধ্যমে ধারণ করো। যখনই তুমি আল্লাহর জিকির করবে, তাঁর নামের সাথে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামও স্মরণ করবে। কেননা আমি তাঁর নাম আরশের স্তম্ভের ওপর লিখিত দেখেছি এমতাবস্থায় যে আমি রুহ ও মাটির মাঝখানে ছিলাম। অতঃপর আমি আকাশমণ্ডলী ভ্রমণ করেছি এবং আকাশের এমন কোনো স্থান দেখিনি যেখানে মুহাম্মাদের নাম লিখিত নেই। আমার রব আমাকে জান্নাতে বসবাস করতে দিয়েছিলেন, ফলে আমি জান্নাতের এমন কোনো প্রাসাদ বা কক্ষ দেখিনি যেখানে মুহাম্মাদের নাম লেখা ছিল না। আমি হুরদের গ্রীবাদেশে, জান্নাতের নহরের নলের পাতায় এবং জান্নাতের গাছের পাতায় মুহাম্মাদের নাম লিখিত দেখেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইসুল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
طُوبَى وعَلى ورق سِدْرَة الْمُنْتَهى وعَلى أَطْرَاف الْحجب وَبَين اعين الْمَلَائِكَة فَأكْثر ذكره فان الْمَلَائِكَة تذكره فِي كل ساعاتها
واخرج ابْن عدي وَابْن عَسَاكِر عَن انس قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لما عرج بِي رَأَيْت على سَاق الْعَرْش مَكْتُوبًا لَا إِلَه إِلَّا الله مُحَمَّد رَسُول الله أيدته بعلي
واخرج ابْن عَسَاكِر عَن عَليّ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَيْلَة أسرِي بِي رَأَيْت على الْعَرْش مَكْتُوبًا لَا إِلَه إِلَّا الله مُحَمَّد رَسُول الله أَبُو بكر الصّديق عمر الْفَارُوق عُثْمَان ذُو النورين
وَأخرج أَبُو يعلى وَالطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط وَابْن عَسَاكِر وَالْحسن بن عَرَفَة فِي جزئه الْمَشْهُور عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَيْلَة أسرِي بِي عرج بِي الى السَّمَاء مَا مَرَرْت بسماء إِلَّا وجدت اسْمِي فِيهَا مَكْتُوبًا مُحَمَّد رَسُول الله وَأَبُو بكر الصّديق خَلْفي
واخرج الْبَزَّار عَن ابْن عمر قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لما عرج بِي إِلَى السَّمَاء مَا مَرَرْت بسماء إِلَّا وجدت اسْمِي فِيهَا مَكْتُوبًا مُحَمَّد رَسُول الله
واخرج الدَّارَقُطْنِيّ فِي الافراد والخطيب وَابْن عَسَاكِر عَن أبي الدَّرْدَاء عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ رَأَيْت لَيْلَة أسرِي بِي فِي الْعَرْش فرندة خضرَة فِيهَا مَكْتُوب بِنور أَبيض لَا إِلَه إِلَّا الله مُحَمَّد رَسُول الله ابو بكر الصّديق عمر الْفَارُوق
واخرج ابْن عَسَاكِر عَن جَابر قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مَكْتُوب على بَاب الْجنَّة لَا اله إِلَّا الله مُحَمَّد رَسُول الله
واخرج أَبُو نعيم فِي الْحِلْية عَن ابْن عَبَّاس قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مَا فِي الْجنَّة شَجَرَة عَلَيْهَا ورقة إِلَّا مَكْتُوب عَلَيْهَا لَا إِلَه إِلَّا الله مُحَمَّد رَسُول الله
তুবাতে, সিদরাতুল মুনতাহার পাতায়, পর্দার প্রান্তসমূহে এবং ফেরেশতাদের চোখের সামনে (তাঁর নাম লিখিত আছে), সুতরাং তোমরা তাঁর জিকির অধিক পরিমাণে করো, কারণ ফেরেশতারা প্রতি মুহূর্তে তাঁর জিকির করে।
ইবনে আদি ও ইবনে আসাকির আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: যখন আমাকে মিরাজে নিয়ে যাওয়া হলো, আমি আরশের পায়ের ওপর লিখিত দেখলাম: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, আমি তাকে আলীর মাধ্যমে শক্তিশালী করেছি।
ইবনে আসাকির আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: যে রাতে আমাকে মিরাজে নিয়ে যাওয়া হলো, আমি আরশের ওপর লিখিত দেখলাম: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, আবু বকর সিদ্দিক, উমর ফারুক, উসমান যুন-নূরাইন।
আবু ইয়ালা, তাবারানি ‘আল-আওসাত’-এ, ইবনে আসাকির এবং হাসান ইবনে আরাফাহ তাঁর প্রসিদ্ধ ‘জুয’-এ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: যে রাতে আমাকে মিরাজে নিয়ে যাওয়া হলো, আমাকে আকাশের দিকে নিয়ে যাওয়া হলো; আমি যে আকাশই অতিক্রম করেছি সেখানে আমার নাম লিখিত পেয়েছি: মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এবং আবু বকর সিদ্দিক আমার পেছনে।
বাজ্জার ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: যখন আমাকে আকাশে মিরাজে নিয়ে যাওয়া হলো, আমি যে আসমানই অতিক্রম করেছি সেখানে আমার নাম লিখিত পেয়েছি: মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল।
দারা কুতনি ‘আল-আফরাদ’-এ, খতিব এবং ইবনে আসাকির আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: যে রাতে আমাকে মিরাজে নিয়ে যাওয়া হলো, আমি আরশে একটি সবুজ রেশমি বস্ত্র দেখলাম যাতে শ্বেত নূর দ্বারা লিখিত ছিল: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, আবু বকর সিদ্দিক, উমর ফারুক।
ইবনে আসাকির জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: জান্নাতের দরজায় লিখিত আছে: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল।
আবু নুয়াইম ‘আল-হিলয়াহ’ গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: জান্নাতে এমন কোনো গাছ নেই যার প্রত্যেকটি পাতায় ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল’ লিখিত নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইসুল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وَأخرج الْحَاكِم وَصَححهُ عَن ابْن عَبَّاس قَالَ أوحى الله إِلَى عِيسَى آمن بِمُحَمد وَمر من أدْركهُ من أمتك ان يُؤمنُوا بِهِ فلولا مُحَمَّد مَا خلقت آدم وَلَا الْجنَّة وَلَا النَّار وَلَقَد خلقت الْعَرْش على المَاء فاضطرب فَكتبت عَلَيْهِ لَا إِلَه إِلَّا الله مُحَمَّد رَسُول الله فسكن قَالَ الذَّهَبِيّ فِي سَنَده عَمْرو بن أَوْس لَا يدْرِي من هُوَ
وَأخرج ابْن عَسَاكِر من طَرِيق أبي الزبير عَن جَابر قَالَ بَين كَتِفي آدم مَكْتُوب مُحَمَّد رَسُول الله خَاتم النَّبِيين
بَاب
أخرج الْبَزَّار عَن أبي ذَر رَفعه أَن الْكَنْز الَّذِي ذكره الله فِي كِتَابه لوح من ذهب مصمت فِيهِ بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم عجبت لمن أَيقَن بِالْقدرِ كَيفَ ينصب عجبت مِمَّن ذكر النَّار ثمَّ يضْحك عجبت مِمَّن ذكر الْمَوْت ثمَّ غفل لَا إِلَه إِلَّا الله مُحَمَّد رَسُول الله
وَورد مثله عَن عمر وَعلي أخرجهُمَا الْبَيْهَقِيّ وَعَن ابْن عَبَّاس أخرجه الخرائطي فِي كتاب قمع الْحِرْص
وَأخرج الطَّبَرَانِيّ عَن عبَادَة بن الصَّامِت قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كَانَ فص خَاتم سُلَيْمَان بن دَاوُد سماويا ألقِي اليه فَوَضعه فِي خَاتمه وَكَانَ نقشه أَنا الله لَا إِلَه إِلَّا أَنا مُحَمَّد عَبدِي ورسولي
واخرج الْعقيلِيّ فِي الضُّعَفَاء وَابْن عدي عَن جَابر بن عبد الله قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كَانَ نقش خَاتم سُلَيْمَان بن دَاوُد لَا إِلَه إِلَّا الله مُحَمَّد رَسُول الله
واخرج ابْن عَسَاكِر وَابْن النجار فِي تاريخيهما عَن أبي الْحسن عَليّ بن عبد الله الْهَاشِمِي الرقي قَالَ دخلت بِلَاد الْهِنْد فَرَأَيْت فِي بعض قراها شَجَرَة ورد أسود ينفتح عَن وردة كَبِيرَة طيبَة الرَّائِحَة سَوْدَاء عَلَيْهَا مَكْتُوب بِخَط أَبيض لَا إِلَه إِلَّا الله مُحَمَّد رَسُول الله أَبُو بكر الصّديق عمر الْفَارُوق فشككت فِي ذَلِك وَقلت انه مَعْمُول فعمدت
হাকিম বর্ণনা করেছেন এবং একে সহীহ বলেছেন ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহ ঈসার প্রতি ওহী পাঠালেন যে, "তুমি মুহাম্মাদের প্রতি ঈমান আনো এবং তোমার উম্মতের মধ্যে যারা তাকে পাবে তাদেরকে নির্দেশ দাও যেন তারা তার প্রতি ঈমান আনে। কারণ মুহাম্মদ না হলে আমি আদমকে সৃষ্টি করতাম না, জান্নাত সৃষ্টি করতাম না এবং জাহান্নামও সৃষ্টি করতাম না। আর আমি যখন পানির ওপর আরশ সৃষ্টি করলাম, তখন তা কাঁপতে শুরু করল। অতঃপর আমি তার ওপর 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল) লিখে দিলাম, ফলে তা স্থির হয়ে গেল।" যাহাবী এর সনদে বলেছেন, আমর বিন আউস নামক এক ব্যক্তি আছে যার পরিচয় জানা নেই।
ইবনে আসাকির আবু জুবাইরের সূত্রে জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আদমের দুই কাঁধের মাঝখানে লেখা ছিল "মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ খাতামুন নাবিয়্যিন" (মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল, নবীদের সমাপ্তি)।
পরিচ্ছেদ
বাজ্জার আবু যার থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ তাঁর কিতাবে যে ধনভাণ্ডারের কথা উল্লেখ করেছেন তা হলো একটি নিরেট স্বর্ণের ফলক, যাতে লেখা ছিল: "বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। আমি ওই ব্যক্তির জন্য বিস্মিত হই যে তকদিরে বিশ্বাস করে, অথচ সে কীভাবে চিন্তিত ও পরিশ্রান্ত হয়? আমি ওই ব্যক্তির জন্য বিস্মিত হই যে জাহান্নামের কথা উল্লেখ করে, অথচ সে হাসে। আমি ওই ব্যক্তির জন্য বিস্মিত হই যে মৃত্যুর কথা স্মরণ করে, অথচ সে গাফেল থাকে। আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল।"
অনুরূপ বর্ণনা ওমর ও আলী থেকেও বর্ণিত হয়েছে যা বায়হাকি বর্ণনা করেছেন। ইবনে আব্বাস থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে যা খরাইতি 'কামউল হিরস' কিতাবে বর্ণনা করেছেন।
তাবারানি উবাদাহ বিন সামিত থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "সুলাইমান বিন দাউদের আংটির পাথরটি ছিল আসমানি, যা তার প্রতি নিক্ষেপ করা হয়েছিল। অতঃপর তিনি তা তাঁর আংটিতে স্থাপন করেন। তাতে খোদাই করা ছিল: 'আমিই আল্লাহ, আমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, মুহাম্মাদ আমার বান্দা ও রাসুল'।"
উকাইলি 'আদ-দুয়াফা' গ্রন্থে এবং ইবনে আদি জাবির বিন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "সুলাইমান বিন দাউদের আংটির খোদাই ছিল: 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল)।"
ইবনে আসাকির ও ইবনে নাজ্জার তাঁদের ইতিহাস গ্রন্থদ্বয়ে আবুল হাসান আলী বিন আব্দুল্লাহ আল-হাশেমি আর-রাক্কি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ভারত ভূখণ্ডে প্রবেশ করলাম। সেখানে একটি গ্রামে আমি কালো গোলাপের একটি গাছ দেখলাম, যার থেকে একটি বড় ও সুগন্ধযুক্ত কালো গোলাপ প্রস্ফুটিত হচ্ছিল। তার ওপর সাদা হরফে লেখা ছিল: "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ, আবু বকর সিদ্দিক, ওমর ফারুক।" এতে আমার সন্দেহ হলো এবং আমি মনে করলাম এটি হয়তো কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে। তাই আমি মনস্থির করলাম...
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইসুল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
إِلَى حَبَّة لم تفتح ففتحتها فَرَأَيْت فِيهَا كَمَا رَأَيْت فِي سَائِر الْورْد وَفِي الْبَلَد مِنْهُ شَيْء كثير وَأهل تِلْكَ الْقرْيَة يعْبدُونَ الْحِجَارَة لَا يعْرفُونَ الله عز وجل
بَاب ذكره فِي الآذان فِي عهد آدم وَفِي الملكوت الْأَعْلَى
أخرج أَبُو نعيم فِي الْحِلْية وَابْن عَسَاكِر من طَرِيق عَطاء عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم نزل آدم بِالْهِنْدِ واستوحش فَنزل جبرئيل عليه السلام فَنَادَى بالاذان الله اكبر الله اكبر أشهد أَن لَا اله إِلَّا الله مرَّتَيْنِ أشهد أَن مُحَمَّد رَسُول الله مرَّتَيْنِ قَالَ آدم من مُحَمَّد قَالَ آخر ولدك من الْأَنْبِيَاء
وَأخرج الْبَزَّار عَن عَليّ قَالَ لما اراد الله ان يعلم رَسُوله الآذان أَتَاهُ جبرئيل عليه السلام بِدَابَّة يُقَال لَهَا الْبراق فَذهب يركبهَا فاستصعبت فَقَالَ لَهَا جبرئيل اسكني فوَاللَّه مَا ركبك عبد اكرم على الله من مُحَمَّد فركبها حَتَّى انْتهى إِلَى الْحجاب الَّذِي يَلِي الرَّحْمَن فَبَيْنَمَا هُوَ كَذَلِك إِذْ خرج ملك من الْحجاب فَقَالَ الْملك الله اكبر الله اكبر فَقيل لَهُ من وَرَاء الْحجاب صدق عَبدِي لَا إِلَه إِلَّا أَنا فَقَالَ الْملك وَأشْهد أَن مُحَمَّدًا رَسُول الله فَقيل من وَرَاء الْحجاب صدق عَبدِي انا أرْسلت مُحَمَّدًا قَالَ الْملك حَيّ على الصَّلَاة حَيّ على الْفَلاح قد قَامَت الصَّلَاة ثمَّ قَالَ الله اكبر الله اكبر فَقيل من وَرَاء الْحجاب صدق عَبدِي أَنا اكبر انا أكبر ثمَّ قَالَ لَا إِلَه إِلَّا الله فَقيل من وَرَاء الْحجاب صدق عَبدِي لَا إِلَه إِلَّا أَنا ثمَّ اخذ الْملك بيد مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم فقدمه فَأَما اهل السَّمَوَات فيهم آدم ونوح فَيَوْمئِذٍ أكمل الله لمُحَمد الشّرف على اهل السَّمَوَات وَالْأَرْض
...একটি কুঁড়ির কাছে গেলাম যা তখনো প্রস্ফুটিত হয়নি, আমি সেটি উন্মোচন করলাম এবং তাতেও অন্যান্য সকল গোলাপের মতো (একই বিষয়) দেখতে পেলাম। সেই জনপদে এই জাতীয় ফুল প্রচুর পাওয়া যায়। আর সেই গ্রামের অধিবাসীরা পাথরের পূজা করত, তারা মহান আল্লাহ (মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত) সম্পর্কে জানত না।
অনুচ্ছেদ: আদম (আলাইহিস সালাম)-এর যুগে এবং ঊর্ধ্বজগতে আযানে তাঁর নাম উল্লেখ হওয়া প্রসঙ্গে
আবু নুআয়িম 'আল-হিলইয়াহ' গ্রন্থে এবং ইবনে আসাকির আতার সূত্রে আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "আদম (আলাইহিস সালাম) হিন্দুস্তানে অবতরণ করলেন এবং একাকীত্ব বোধ করলেন। তখন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) অবতীর্ণ হলেন এবং আযান দিলেন: আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই (দুইবার), আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল (দুইবার)। আদম (আলাইহিস সালাম) জিজ্ঞেস করলেন, মুহাম্মদ কে? তিনি বললেন, নবীদের মধ্যে তিনি আপনার সর্বশেষ সন্তান।"
আল-বাযযার আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন আল্লাহ তাঁর রাসূলকে আযান শিক্ষা দিতে চাইলেন, তখন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাঁর কাছে বুরাক নামক একটি বাহন নিয়ে আসলেন। তিনি যখন সেটিতে আরোহণ করতে চাইলেন, তখন সেটি অবাধ্যতা প্রকাশ করল। তখন জিবরাঈল তাকে বললেন, "স্থির হও! আল্লাহর কসম, তোমার ওপর এমন কোনো বান্দা আরোহণ করেননি যিনি আল্লাহর নিকট মুহাম্মদের চেয়ে অধিক সম্মানিত।" অতঃপর তিনি তাতে আরোহণ করলেন এবং সেই পর্দা পর্যন্ত পৌঁছালেন যা পরম দয়াময় আল্লাহর নিকটবর্তী। তিনি সেই অবস্থায় থাকাকালীন পর্দা থেকে একজন ফেরেশতা বের হয়ে আসলেন। সেই ফেরেশতা বললেন: আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার। পর্দার আড়াল থেকে বলা হলো: "আমার বান্দা সত্য বলেছে, আমি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই।" ফেরেশতা বললেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল। পর্দার আড়াল থেকে বলা হলো: "আমার বান্দা সত্য বলেছে, আমিই মুহাম্মদকে প্রেরণ করেছি।" ফেরেশতা বললেন: সালাতের জন্য এসো, কল্যাণের জন্য এসো, সালাত দাঁড়িয়ে গেছে। এরপর তিনি বললেন: আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার। পর্দার আড়াল থেকে বলা হলো: "আমার বান্দা সত্য বলেছে, আমিই সর্বশ্রেষ্ঠ, আমিই সর্বশ্রেষ্ঠ।" এরপর তিনি বললেন: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। পর্দার আড়াল থেকে বলা হলো: "আমার বান্দা সত্য বলেছে, আমি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই।" অতঃপর সেই ফেরেশতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাত ধরলেন এবং তাঁকে সামনে এগিয়ে দিলেন (ইমামতির জন্য)। আর আসমানবাসীদের মধ্যে আদম ও নূহ (আলাইহিমুস সালাম) ছিলেন। সেদিন আল্লাহ আসমান ও যমীনের অধিবাসীদের ওপর মুহাম্মদের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বকে পূর্ণতা দান করলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইসুল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
بَاب خصوصيته بِأخذ الْمِيثَاق على النَّبِيين أَن يُؤمنُوا بِهِ
قَالَ الله تَعَالَى {وَإِذ أَخذ الله مِيثَاق النَّبِيين لما آتيتكم من كتاب وَحِكْمَة ثمَّ جَاءَكُم رَسُول مُصدق لما مَعكُمْ لتؤمنن بِهِ ولتنصرنه قَالَ أأقررتم وأخذتم على ذَلِكُم إصري قَالُوا أقررنا قَالَ فَاشْهَدُوا وَأَنا مَعكُمْ من الشَّاهِدين}
أخرج ابْن أبي حَاتِم عَن السّديّ فِي الْآيَة قَالَ لم يبْعَث نَبِي قطّ من لدن نوح إِلَّا أَخذ الله ميثاقه ليُؤْمِنن بِمُحَمد ولينصرنه إِن خرج وَهُوَ حَيّ وَإِلَّا أَخذ على قومه أَن يُؤمنُوا بِهِ وينصروه إِن خرج وهم أَحيَاء
وَأخرج ابْن عَسَاكِر من طَرِيق كريب عَن ابْن عَبَّاس قَالَ لم يزل الله تَعَالَى يتَقَدَّم فِي النَّبِي إِلَى آدم فَمن بعده وَلم تزل الْأُمَم تتباشر بِهِ وتستفتح بِهِ حَتَّى أخرجه الله فِي خير أمة وَفِي خير قرن وَفِي خير أَصْحَاب وَفِي خير بلد فَأَقَامَ بِهِ مَا شَاءَ الله وَهُوَ حرم إِبْرَاهِيم ثمَّ أخرجه إِلَى طيبَة وَهِي حرم مُحَمَّد فَكَانَ مبعثه من حرم وَمُهَاجره إِلَى حرم
بَاب دُعَاء ابراهيم عليه السلام بِهِ
أخرج ابْن جرير فِي تَفْسِيره عَن أبي الْعَالِيَة قَالَ لما قَالَ ابراهيم عليه السلام {رَبنَا وَابعث فيهم رَسُولا مِنْهُم} الْآيَة قيل لَهُ قد اسْتُجِيبَ لَك وَهُوَ كَائِن فِي آخر الزَّمَان
وَأخرج احْمَد وَالْحَاكِم وَالْبَيْهَقِيّ عَن الْعِرْبَاض بن سَارِيَة قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم انا دَعْوَة أبي إِبْرَاهِيم وَبشَارَة عِيسَى عليهما السلام
وَأخرج ابْن عَسَاكِر عَن عبَادَة بن الصَّامِت قَالَ قيل يَا رَسُول الله أخبرنَا عَن
নবীদের থেকে তাঁর ওপর ঈমান আনার অঙ্গীকার গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষত্বের অধ্যায়।
মহান আল্লাহ বলেন, “আর স্মরণ করো যখন আল্লাহ নবীদের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন এই মর্মে যে, ‘আমি তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত যা কিছু দিয়েছি, এরপর তোমাদের কাছে থাকা কিতাবের সত্যায়নকারী হিসেবে যখন একজন রাসূল আসবেন, তখন তোমরা অবশ্যই তাঁর ওপর ঈমান আনবে এবং তাঁকে সাহায্য করবে।’ তিনি বললেন, ‘তোমরা কি স্বীকার করলে এবং এর ওপর আমার দেওয়া প্রতিশ্রুতি (অঙ্গীকার) গ্রহণ করলে?’ তারা বলল, ‘আমরা স্বীকার করলাম।’ তিনি বললেন, ‘তবে তোমরা সাক্ষী থাকো এবং আমিও তোমাদের সাথে সাক্ষীদের অন্তর্ভুক্ত রইলাম’।”
ইবনে আবি হাতিম আস-সুদ্দী থেকে এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর সময় থেকে এমন কোনো নবী প্রেরিত হননি, যাঁর থেকে আল্লাহ এই অঙ্গীকার গ্রহণ করেননি যে, তিনি অবশ্যই মুহাম্মাদের ওপর ঈমান আনবেন এবং তাঁকে সাহায্য করবেন যদি তিনি তাঁর জীবদ্দশায় আত্মপ্রকাশ করেন। অন্যথায় তিনি তাঁর উম্মতের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিতেন যেন তারা তাঁর ওপর ঈমান আনে এবং তাঁকে সাহায্য করে, যদি তিনি তাদের জীবদ্দশায় আত্মপ্রকাশ করেন।
ইবনে আসাকির কুরাইবের সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহ তাআলা আদম (আলাইহিস সালাম) ও তাঁর পরবর্তী নবীদের কাছে এই নবীর ব্যাপারে অগ্রিম সংবাদ প্রদান অব্যাহত রেখেছিলেন। উম্মতগণ নিরন্তর তাঁর আগমনের সুসংবাদ দিত এবং তাঁর মাধ্যমে বিজয় প্রার্থনা করত, যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম উম্মত, সর্বোত্তম যুগ, সর্বোত্তম সাহাবী এবং সর্বোত্তম ভূখণ্ডে আত্মপ্রকাশ করালেন। সেখানে তিনি অবস্থান করলেন যতক্ষণ আল্লাহ চাইলেন এবং সেটি ছিল ইবরাহিমের হারাম (মক্কা)। অতঃপর আল্লাহ তাঁকে তাইবায় (মদিনা) নিয়ে গেলেন, যা মুহাম্মাদের হারাম। ফলে তাঁর নবুওয়াত প্রাপ্তি ছিল এক হারাম থেকে এবং হিজরত ছিল অন্য হারামের দিকে।
ইবরাহিম আলাইহিস সালামের তাঁর জন্য দুআ করার অধ্যায়।
ইবনে জারীর তাঁর তাফসীরে আবুল আলিয়া থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন ইবরাহিম আলাইহিস সালাম বললেন, “হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি তাদের মধ্য থেকেই একজন রাসূল পাঠান” (আয়াত), তখন তাঁকে বলা হলো, “আপনার দুআ কবুল করা হয়েছে এবং তিনি শেষ জামানায় আবির্ভূত হবেন।”
আহমদ, হাকেম এবং বায়হাকী ইরবায ইবনে সারিয়াহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমি আমার পিতা ইবরাহিমের দুআ এবং ঈসার সুসংবাদ (আলাইহিমাস সালাম)।”
ইবনে আসাকির উবাদাহ ইবনে সামেত থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আরজ করা হলো, “হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের অবহিত করুন...”
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইসুল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
نَفسك قَالَ نعم انا دَعْوَة أبي ابراهيم وَكَانَ آخر من بشر بِي عِيسَى بن مَرْيَم عَلَيْهِمَا الصَّلَاة وَالسَّلَام
واخرج ابْن سعد من طَرِيق جُوَيْبِر عَن الضَّحَّاك أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ أَنا دَعْوَة أبي إِبْرَاهِيم قَالَ وَهُوَ يرفع الْقَوَاعِد من الْبَيْت {رَبنَا وَابعث فيهم رَسُولا مِنْهُم} حَتَّى أتم الله
بَاب اعلام الله بِهِ ابراهيم عليه السلام وَآله
أخرج ابْن سعد عَن ابْن عَبَّاس قَالَ لما أَمر إِبْرَاهِيم بِإِخْرَاج هَاجر حمل على الْبراق فَكَانَ لَا يمر بِأَرْض عذبة سهلة إِلَّا قَالَ انْزِلْ هَا هُنَا يَا جبرئيل فَيَقُول لَا حَتَّى أَتَى مَكَّة فَقَالَ جبرئيل انْزِلْ يَا ابراهيم قَالَ حَيْثُ لَا ضرع وَلَا زرع قَالَ نعم هَا هُنَا يخرج النَّبِي الْأُمِّي من ذُرِّيَّة ابْنك الَّذِي تتمّ بِهِ الْكَلِمَة الْعليا
وَأخرج عَن الشّعبِيّ قَالَ فِي مجلة ابراهيم عليه السلام أَنه كَائِن من ولدك شعوب وشعوب حَتَّى يَأْتِي النَّبِي الْأُمِّي الَّذِي يكون خَاتم الْأَنْبِيَاء
وَأخرج عَن مُحَمَّد بن كَعْب الْقرظِيّ قَالَ لما خرجت هَاجر بابنها اسماعيل تلقاها متلق فَقَالَ يَا هَاجر إِن ابْنك أَبُو شعوب كَثِيرَة وَمن شعبه النَّبِي الْأُمِّي سَاكن الْحرم
وَأخرج عَنهُ أَيْضا قَالَ أوحى الله إِلَى يَعْقُوب أَنِّي أبْعث من ذريتك ملوكا وأنبياء حَتَّى ابْعَثْ النَّبِي الحرمي الَّذِي تبني أمته هيكل بَيت الْمُقَدّس وَهُوَ خَاتم الْأَنْبِيَاء واسْمه أَحْمد
আপনার নিজের সম্পর্কে (বলুন)। তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি আমার পিতা ইব্রাহীমের দোয়া এবং সর্বশেষ ব্যক্তি যিনি আমার সুসংবাদ দিয়েছেন তিনি হলেন মারইয়াম তনয় ঈসা (তাঁদের উভয়ের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)।
ইবনে সাদ জুওয়াইবার সূত্রে যহহাক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আমি আমার পিতা ইব্রাহীমের দোয়া। তিনি (ইব্রাহীম) যখন কাবাঘরের ভিত্তি স্থাপন করছিলেন তখন বলেছিলেন, {হে আমাদের পালনকর্তা! তাদের মধ্য থেকে তাদের কাছে একজন রাসূল প্রেরণ করুন} যতক্ষণ না আল্লাহ তা পূর্ণ করেছেন।
পরিচ্ছেদ: আল্লাহ কর্তৃক ইব্রাহীম (আলাইহিস সালাম) ও তাঁর বংশধরদের এই বিষয়ে অবহিত করা।
ইবনে সাদ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, যখন ইব্রাহীমকে হাজেরাকে নিয়ে বের হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো, তখন তাঁকে বোরাকে আরোহণ করানো হলো। তিনি যখনই কোনো সুফলা ও সমতল ভূমির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি বলছিলেন, হে জিবরাঈল! এখানে কি অবতরণ করব? জিবরাঈল বলছিলেন, না; যতক্ষণ না তিনি মক্কায় পৌঁছালেন। তখন জিবরাঈল বললেন, হে ইব্রাহীম! অবতরণ করুন। তিনি (ইব্রাহীম) বললেন, এমন স্থানে যেখানে কোনো পশুপাল কিংবা শস্য নেই? জিবরাঈল বললেন, হ্যাঁ, এখানেই আপনার এই পুত্রের বংশধর থেকে সেই উম্মী নবী আবির্ভূত হবেন, যাঁর মাধ্যমে সুউচ্চ বাণী পূর্ণতা লাভ করবে।
এবং শাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, ইব্রাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর সহীফায় লিখিত ছিল যে, আপনার বংশধর থেকে বহু জাতি ও গোষ্ঠী আবির্ভূত হবে, যতক্ষণ না সেই উম্মী নবী আসবেন যিনি হবেন শেষ নবী।
এবং মুহাম্মদ বিন কাব আল-কুরাজি থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, যখন হাজেরা তাঁর পুত্র ইসমাইলকে নিয়ে বের হলেন, তখন একজনের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হলো। সে বলল, হে হাজেরা! নিশ্চয়ই আপনার এই পুত্র বহু জাতির পিতা হবেন এবং তাঁর বংশধরদের থেকেই সেই উম্মী নবী আসবেন যিনি হেরেমের অধিবাসী হবেন।
তাঁর থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা ইয়াকুবের প্রতি ওহী পাঠালেন যে, আমি আপনার বংশধরদের মধ্য থেকে অনেক রাজা-বাদশাহ ও নবী প্রেরণ করব, অবশেষে আমি সেই হরমী নবীকে (হেরেমের নবী) প্রেরণ করব যাঁর উম্মত বায়তুল মুকাদ্দাসের স্থাপনা নির্মাণ করবে, এবং তিনি হবেন শেষ নবী, যাঁর নাম আহমদ।
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইসুল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
بَاب إِعْلَام الله بِهِ مُوسَى عليه السلام
أخرج الطَّبَرَانِيّ عَن أبي أُمَامَة الْبَاهِلِيّ قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول لما بلغ ولد معد بن عدنان أَرْبَعِينَ رجلا وَقَعُوا فِي عَسْكَر مُوسَى فانتبهوه فَدَعَا عَلَيْهِم مُوسَى فَأوحى الله إِلَيْهِ لَا تدع عَلَيْهِم فَإِن مِنْهُم النَّبِي الْأُمِّي النذير البشير وَمِنْهُم الْأمة المرحومة أمة مُحَمَّد الَّذين يرضون من الله باليسير من الرزق ويرضى الله مِنْهُم بِالْقَلِيلِ من الْعَمَل فيدخلهم الْجنَّة بقول لَا إِلَه إِلَّا الله نَبِيّهم مُحَمَّد بن عبد الله بن عبد الْمطلب المتواضع فِي هَيئته الْمُجْتَمع لَهُ اللب فِي سُكُوته ينْطق بالحكمة وَيسْتَعْمل الْحلم
أخرجته من خير جيل من أمة قُرَيْش ثمَّ أخرجته صفوة من قُرَيْش فَهُوَ خير من خير إِلَى خير هُوَ وَأمته إِلَى خير يصيرون
بَاب ذكره فِي التَّوْرَاة والانجيل وَسَائِر كتب الله الْمنزلَة
قَالَ الله تَعَالَى {الَّذين يتبعُون الرَّسُول النَّبِي الْأُمِّي الَّذِي يجدونه مَكْتُوبًا عِنْدهم فِي التَّوْرَاة وَالْإِنْجِيل} وَقَالَ تَعَالَى مُحَمَّد رَسُول الله وَالَّذين مَعَه أشداء على الْكفَّار رحماء بَينهم تراهم سجدا يَبْتَغُونَ فضلا من الله ورضوانا سِيمَاهُمْ فِي وُجُوههم من أثر السُّجُود ذَلِك مثلهم فِي التَّوْرَاة وَمثلهمْ فِي الْإِنْجِيل كزرع أخرج شطاه الْآيَة
وَأخرج البُخَارِيّ عَن عَطاء بن يسَار قَالَ لقِيت عبد الله بن عَمْرو بن الْعَاصِ قلت أَخْبرنِي عَن صفة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ أجل وَالله إِنَّه لموصوف فِي التَّوْرَاة بِبَعْض صفته فِي الْقُرْآن {يَا أَيهَا النَّبِي إِنَّا أَرْسَلْنَاك شَاهدا وَمُبشرا وَنَذِيرا} وحرزا للأميين أَنْت عَبدِي ورسولي سميتك المتَوَكل لَيْسَ بِفَظٍّ وَلَا غليظ وَلَا
আল্লাহ কর্তৃক মূসা (আলাইহিস সালাম)-কে তাঁর সম্পর্কে অবহিত করার অধ্যায়।
তাবারানি আবু উমামা আল-বাহিলি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: যখন মাআদ ইবন আদনানের বংশধররা চল্লিশজন পুরুষে উপনীত হলো, তারা মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর সৈন্যদলে আক্রমণ করল। ফলে মূসা (আলাইহিস সালাম) তাদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করলেন। তখন আল্লাহ তাঁর নিকট ওহী পাঠালেন: তাদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করবেন না, কারণ তাদের থেকেই আসবেন উম্মি নবী, সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা। আর তাদের অন্তর্ভুক্ত হলো সেই রহমতপ্রাপ্ত উম্মত, মুহাম্মাদের উম্মত, যারা আল্লাহর পক্ষ থেকে সামান্য রিজিক পেয়েই সন্তুষ্ট থাকে এবং আল্লাহও তাদের সামান্য আমলেই সন্তুষ্ট হন। আল্লাহ তাদের 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' ঘোষণার কারণে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। তাদের নবী হলেন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুত্তালিব, যিনি তাঁর বেশভূষায় বিনয়ী, যাঁর নীরবতায় প্রজ্ঞা পুঞ্জীভূত থাকে, যিনি হিকমতপূর্ণ কথা বলেন এবং সহনশীলতা অবলম্বন করেন।
আমি তাকে কুরাইশ বংশের শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম থেকে বের করেছি, অতঃপর তাকে কুরাইশদের মধ্য হতে বাছাইকৃত হিসেবে বের করেছি। সুতরাং তিনি সর্বোত্তম ধারা হতে সর্বোত্তম ধারায় আগত এবং তিনি ও তাঁর উম্মত কল্যাণের দিকেই ধাবিত হবে।
তাওরাত, ইঞ্জিল এবং আল্লাহর নাযিলকৃত অন্যান্য কিতাবসমূহে তাঁর উল্লেখের অধ্যায়।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {যারা অনুসরণ করে এই রাসূলের, যিনি উম্মি নবী, যাঁর কথা তারা তাদের নিকট রক্ষিত তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায়।} এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর সাথে যারা আছে তারা কাফিরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর, নিজেদের মধ্যে অত্যন্ত দয়ালু। আপনি তাদের রুকু ও সিজদাবনত অবস্থায় আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অন্বেষণ করতে দেখবেন। তাদের চিহ্ন তাদের চেহারায় সিজদার প্রভাবে বিদ্যমান। তাওরাতে তাদের দৃষ্টান্ত এরূপ এবং ইঞ্জিলে তাদের দৃষ্টান্ত সেই শস্যের ন্যায় যা থেকে অঙ্কুর নির্গত হয়... (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)।
বুখারি আতা বিন ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস (রাযি.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করে বললাম: আমাকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর গুণাবলি সম্পর্কে জানান। তিনি বললেন: হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! কুরআনে তাঁর যে সব গুণ বর্ণিত হয়েছে, তাওরাতেও তাঁর কিছু গুণের বর্ণনা রয়েছে: {হে নবী! আমি আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে} এবং উম্মিদের জন্য আশ্রয়স্থল হিসেবে। আপনি আমার বান্দা ও আমার রাসূল। আমি আপনার নাম রেখেছি 'মুতাওয়াক্কিল' (নির্ভরকারী)। তিনি কর্কশভাষী নন, কঠোর স্বভাবের নন এবং...
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইসুল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
صخاب فِي الاسواق وَلَا يحزي بِالسَّيِّئَةِ السَّيئَة وَلَكِن يعْفُو ويصفح وَلنْ يقبضهُ الله حَتَّى يُقيم بِهِ الْملَّة العوجاء بِأَن يَقُولُوا لَا إِلَه إِلَّا الله وَيفتح بِهِ أعينا عميا وآذانا صمًّا وَقُلُوبًا غلفًا
وَأخرج ابْن عَسَاكِر فِي تَارِيخ دمشق من طَرِيق مُحَمَّد بن حَمْزَة بن عبد الله بن سَلام عَن جده عبد الله بن سَلام أَنه لما سمع بمخرج النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِمَكَّة خرج فَلَقِيَهُ فَقَالَ لَهُ النَّبِي صلى الله عليه وسلم انت ابْن سَلام عَالم اهل يثرب قَالَ نعم قَالَ ناشدتك بِاللَّه الَّذِي انْزِلْ التَّوْرَاة على مُوسَى هَل تَجِد صِفَتي فِي كتاب الله قَالَ انسب رَبك يَا مُحَمَّد فارتج النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُ جبرئيل {قل هُوَ الله أحد الله الصَّمد لم يلد وَلم يُولد وَلم يكن لَهُ كفوا أحد} فَقَالَ ابْن سَلام أشهد أَنَّك رَسُول الله وان الله مظهرك ومظهر دينك على الاديان وَإِنِّي لأجد صِفَتك فِي كتاب الله يَا أَيهَا النَّبِي إِنَّا أَرْسَلْنَاك شَاهدا وَمُبشرا وَنَذِيرا أَنْت عَبدِي ورسولي سميتك المتَوَكل لَيْسَ بِفَظٍّ وَلَا غليظ وَلَا صخاب فِي الْأَسْوَاق وَلَا يَجْزِي بِالسَّيِّئَةِ مثلهَا وَلَكِن يعْفُو ويصفح وَلنْ يقبضهُ الله حَتَّى يَسْتَقِيم بِهِ الْملَّة المعوجة حَتَّى يَقُولُوا لَا إِلَه إِلَّا الله وَيفتح بِهِ أعينا عميا وآذانا صمًّا وَقُلُوبًا غلفًا
ثمَّ اخْرُج من طَرِيق زيد بن اسْلَمْ عَن عبد الله بن سَلام قَالَ صفة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي التَّوْرَاة إِنَّا ارسلناك شَاهدا وَمُبشرا فَذكره إِلَى آخِره
واخرج الدَّارمِيّ فِي مُسْنده وَالْبَيْهَقِيّ من طَرِيق عَطاء بن يسَار عَن ابْن سَلام مثله
واخرج الدَّارمِيّ فِي مُسْنده وَابْن عَسَاكِر عَن كَعْب قَالَ فِي السطر الاول مُحَمَّد رَسُول الله عَبدِي الْمُخْتَار لَا فظ وَلَا غليظ وَلَا صخاب فِي الْأَسْوَاق وَلَا يَجْزِي بِالسَّيِّئَةِ السَّيئَة وَلَكِن يعْفُو ويصفح وَيغْفر مولده بِمَكَّة وهجرته بِطيبَة وَملكه بِالشَّام وَفِي السطر الثَّانِي مُحَمَّد رَسُول الله أمته الْحَمَّادُونَ يحْمَدُونَ الله فِي السَّرَّاء وَالضَّرَّاء يحْمَدُونَ
হাটে-বাজারে শোরগোলকারী নন এবং মন্দের বিনিময়ে মন্দ করেন না; বরং তিনি ক্ষমা করেন ও উপেক্ষা করেন। আল্লাহ তাকে ততক্ষণ পর্যন্ত মৃত্যু দেবেন না, যতক্ষণ না তিনি তার মাধ্যমে বক্র মিল্লাতকে সোজা করেন এই ঘোষণার মাধ্যমে যে, 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই'। আর তার মাধ্যমে তিনি অন্ধ চোখ, বধির কান এবং আবৃত অন্তরসমূহ উন্মুক্ত করে দেবেন।
ইবনে আসাকির 'তারিখে দামেশক'-এ মুহাম্মাদ ইবনে হামজা ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সালামের সূত্রে তার দাদা আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যখন তিনি মক্কায় নবীর (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তার ওপর বর্ষিত হোক) আবির্ভাবের সংবাদ পেলেন, তখন তিনি বের হয়ে তার সাথে সাক্ষাৎ করলেন। নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তার ওপর বর্ষিত হোক) তাকে বললেন: "আপনি কি ইয়াসরিবের পণ্ডিত ইবনে সালাম?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" নবী বললেন: "আমি আপনাকে সেই আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, যিনি মূসার ওপর তাওরাত নাজিল করেছেন, আপনি কি আল্লাহর কিতাবে আমার বৈশিষ্ট্য খুঁজে পান?" তিনি বললেন: "হে মুহাম্মাদ, আপনার রবের পরিচয় দিন।" তখন নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তার ওপর বর্ষিত হোক) বিচলিত হলেন, এমতাবস্থায় জিবরাঈল তার কাছে এসে বললেন: "বলুন, তিনি আল্লাহ, এক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাকেও জন্ম দেওয়া হয়নি। আর তার সমতুল্য কেউ নেই।" তখন ইবনে সালাম বললেন: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি আল্লাহর রাসূল এবং আল্লাহ আপনাকে ও আপনার দ্বীনকে অন্য সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করবেন। আর আমি আল্লাহর কিতাবে আপনার বৈশিষ্ট্য এভাবেই খুঁজে পাই: 'হে নবী! আমি আপনাকে সাক্ষী, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠিয়েছি। আপনি আমার বান্দা ও রাসূল, আমি আপনার নাম রেখেছি মুতাওয়াক্কিল (নির্ভরকারী)। তিনি রূঢ় নন, কঠোর স্বভাবের নন এবং হাটে-বাজারে শোরগোলকারী নন। তিনি মন্দের বিনিময়ে অনুরূপ মন্দ করেন না; বরং তিনি ক্ষমা করেন ও উপেক্ষা করেন। আল্লাহ তাকে ততক্ষণ পর্যন্ত মৃত্যু দেবেন না, যতক্ষণ না তিনি তার মাধ্যমে বক্র মিল্লাতকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন এবং তারা বলে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। আর তার মাধ্যমে তিনি অন্ধ চোখ, বধির কান এবং আবৃত অন্তরসমূহ খুলে দেবেন'।"
অতঃপর তিনি যায়েদ ইবনে আসলামের সূত্রে আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তাওরাতে রাসূলুল্লাহর (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তার ওপর বর্ষিত হোক) বৈশিষ্ট্য হলো—'নিশ্চয়ই আমি আপনাকে সাক্ষী ও সুসংবাদদাতা হিসেবে পাঠিয়েছি...' অতঃপর তিনি শেষ পর্যন্ত উল্লেখ করেছেন।
দারেমি তার 'মুসনাদ'-এ এবং বায়হাকি আতা ইবনে ইয়াসারের সূত্রে ইবনে সালাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
দারেমি তার 'মুসনাদ'-এ এবং ইবনে আসাকির কাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: প্রথম পঙক্তিতে আছে—'মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, আমার মনোনীত বান্দা; তিনি রূঢ় নন, কঠোর নন এবং হাটে-বাজারে শোরগোলকারী নন। তিনি মন্দের বিনিময়ে মন্দের প্রতিশোধ নেন না, বরং মার্জনা করেন, উপেক্ষা করেন এবং ক্ষমা করেন। তার জন্ম মক্কায়, হিজরত তায়বায় এবং তার রাজত্ব শামে।' দ্বিতীয় পঙক্তিতে আছে—'মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, তার উম্মত হলো অধিক প্রশংসাকারী, তারা সুখে ও দুঃখে আল্লাহর প্রশংসা করে; তারা প্রশংসা করে...'
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইসুল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ২০)
الله فِي كل منزل ويكبرونه على كل شرف رُعَاة الشَّمْس يصلونَ الصَّلَاة إِذا جَاءَ وَقتهَا وَلَو كَانُوا على رَأس كناسَة ويأتزرون على اوساطهم ويوضئون اطرافهم وأصواتهم بِاللَّيْلِ فِي جو السَّمَاء كأصوات النَّحْل
وَأخرج الدَّارمِيّ وَابْن سعد وَابْن عَسَاكِر عَن أبي فَرْوَة عَن ابْن عَبَّاس أَنه سَأَلَ كَعْب الاحبار كَيفَ تَجِد نعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي التَّوْرَاة فَقَالَ كَعْب نجده مُحَمَّد ابْن عبد الله يُولد بِمَكَّة ويهاجر الى طابة وَيكون ملكه بِالشَّام وَلَيْسَ بفحاش وَلَا بصخاب فِي الْأَسْوَاق وَلَا يُكَافِئ بِالسَّيِّئَةِ السَّيئَة وَلَكِن يعْفُو وَيغْفر أمته الْحَمَّادُونَ يحْمَدُونَ الله فِي كل سراء وَيُكَبِّرُونَ الله على كل نجد يوضئون أَطْرَافهم ويأتزرون فِي أوساطهم ويصفون فِي صلَاتهم كَمَا يصفونَ فِي قِتَالهمْ دويهم فِي مَسَاجِدهمْ كَدَوِيِّ النَّحْل يسمع مناديهم فِي جو السَّمَاء
وَأخرج الزبير بن بكار فِي أَخْبَار الْمَدِينَة وَأَبُو نعيم عَن ابْن مَسْعُود قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم صِفَتي أَحْمد المتَوَكل مولده مَكَّة وَمُهَاجره إِلَى طيبَة لَيْسَ بِفَظٍّ وَلَا غليظ يَجْزِي بِالْحَسَنَة الْحَسَنَة وَلَا يُكَافِئ بِالسَّيِّئَةِ أمته الْحَمَّادُونَ ويأتزرون على انصافهم ويوضئون أطرفهم أَنَاجِيلهمْ فِي صُدُورهمْ يصفونَ للصَّلَاة كَمَا يصفونَ لِلْقِتَالِ قُرْبَانهمْ الَّذِي يَتَقَرَّبُون بِهِ إِلَيّ دِمَاؤُهُمْ رُهْبَان بِاللَّيْلِ لُيُوث بِالنَّهَارِ
وَأخرج ابْن سعد وَالْحَاكِم وَصَححهُ وَالْبَيْهَقِيّ وَأَبُو نعيم عَن عَائِشَة قَالَت إِن النَّبِي صلى الله عليه وسلم مَكْتُوب فِي الانجيل لَا فظ وَلَا غليظ وَلَا صخاب فِي الاسواق وَلَا يَجْزِي بِالسَّيِّئَةِ مثلهَا وَلَكِن يعْفُو ويصفح
وَأخرج الْبَيْهَقِيّ وَأَبُو نعيم عَن أم الدَّرْدَاء امْرَأَة أبي الدَّرْدَاء قَالَت قلت لكعب كَيفَ تَجِدُونَ صفة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي التَّوْرَاة قَالَ كُنَّا نجده مَوْصُوفا فِيهَا مُحَمَّد رَسُول الله اسْمه المتَوَكل لَيْسَ بِفَظٍّ وَلَا غليظ وَلَا صخاب فِي الاسواق وَأعْطِي المفاتيح ليبصر الله بِهِ أعينا عورا وَيسمع بِهِ آذَانا صمًّا وَيُقِيم بِهِ السّنة معوجة حَتَّى
তারা প্রতিটি স্থানে আল্লাহর প্রশংসা করে এবং প্রতিটি উচ্চ ভূমিতে তাঁর বড়ত্ব ঘোষণা করে। তারা সূর্যের প্রতি লক্ষ্য রাখে (সময়ের জন্য), যখন সালাতের সময় হয় তারা সালাত আদায় করে, এমনকি যদি তারা আবর্জনার স্তূপের উপরেও থাকে। তারা তাদের কোমরে কাপড় (লুঙ্গি) বাঁধে, তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধৌত করে (অজু করে) এবং রাতে আকাশের পরিবেশে তাদের কণ্ঠস্বর মৌমাছির গুঞ্জনের মতো শোনায়।
দারেমী, ইবনে সাদ এবং ইবনে আসাকির আবু ফারওয়া থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি কাব আল-আহবারকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: আপনি তাওরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গুণাবলী কেমন পান? কাব বললেন: আমরা তাঁকে পাই এভাবে—মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ, মক্কায় জন্মগ্রহণ করবেন, তাবাহ-তে হিজরত করবেন এবং সিরিয়ায় তাঁর রাজত্ব হবে। তিনি অশ্লীলভাষী নন এবং বাজারে শোরগোলকারী নন। তিনি মন্দের বদলে মন্দ করেন না, বরং ক্ষমা ও মার্জনা করেন। তাঁর উম্মত হলো অত্যন্ত প্রশংসাকারী, যারা প্রতিটি সচ্ছলতায় আল্লাহর প্রশংসা করে এবং প্রতিটি উচ্চ ভূমিতে আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করে। তারা তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধৌত করে, কোমরে কাপড় বাঁধে এবং তাদের যুদ্ধে যেভাবে সারিবদ্ধ হয়, সালাতেও সেভাবেই সারিবদ্ধ হয়। তাদের মসজিদে তাদের গুঞ্জন মৌমাছির গুঞ্জনের মতো। তাদের আহ্বানকারীর শব্দ আকাশের দিগন্তে শোনা যায়।
জুবায়ের বিন বাক্কার ‘আখবারুল মদিনা’ গ্রন্থে এবং আবু নুআইম ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার গুণাবলী হলো—আহমাদ, আল্লাহর ওপর ভরসাকারী (আল-মুতাওয়াক্কিল)। তাঁর জন্মস্থান মক্কায় এবং তাঁর হিজরতস্থল তাইবাহ-তে। তিনি রূঢ় নন এবং কঠোর স্বভাবের নন। তিনি সুন্দরের প্রতিদানে সুন্দর প্রদান করেন এবং মন্দের বদলে মন্দ করেন না। তাঁর উম্মত হলো অত্যন্ত প্রশংসাকারী। তারা তাদের শরীরের অর্ধাংশ পর্যন্ত কাপড় (লুঙ্গি) পরিধান করে, তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধৌত করে এবং তাদের কিতাব তাদের অন্তরে থাকে। তারা সালাতের জন্য সেভাবেই সারিবদ্ধ হয় যেভাবে যুদ্ধের জন্য সারিবদ্ধ হয়। তাদের কোরবানি, যার মাধ্যমে তারা আমার নৈকট্য লাভ করে, তা হলো তাদের রক্ত (শাহাদাত)। তারা রাতে ইবাদতকারী এবং দিনে সিংহ।"
ইবনে সাদ, হাকেম (যিনি একে সহিহ বলেছেন), বায়হাকী এবং আবু নুআইম আয়েশা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে ইনজিলে লেখা আছে—তিনি রূঢ় নন, কঠোর নন এবং বাজারে শোরগোলকারী নন। তিনি মন্দের বদলে মন্দ করেন না, বরং ক্ষমা ও মার্জনা করেন।
বায়হাকী এবং আবু নুআইম উম্মুদ দারদা (আবু দারদার স্ত্রী) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি কাবকে বললাম, আপনি তাওরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গুণাবলী কেমন পান? তিনি বললেন: আমরা তাঁকে সেখানে এভাবে বর্ণিত পাই—মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, তাঁর নাম আল-মুতাওয়াক্কিল। তিনি রূঢ় নন, কঠোর নন এবং বাজারে শোরগোলকারী নন। তাঁকে চাবিকাঠি দেওয়া হয়েছে যাতে আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে অন্ধ চোখগুলোকে দৃষ্টি দান করেন, বধির কানগুলোকে শ্রবণশক্তি দান করেন এবং তাঁর মাধ্যমে বিচ্যুত পথকে সোজা করেন যতক্ষণ না...
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইসুল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ২১)
يشْهدُوا ان لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ يعين الْمَظْلُوم ويمنعه من ان يستضعف
وَأخرج ابو نعيم عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم ان مُوسَى لما نزلت عَلَيْهِ التَّوْرَاة وَقرأَهَا فَوجدَ فِيهَا ذكر هَذِه الْأمة قَالَ يَا رب إِنِّي اجد فِي الألواح أمة هم الْآخرُونَ السَّابِقُونَ فأجعلها امتي قَالَ تِلْكَ أمة أَحْمد قَالَ يَا رب إِنِّي أجد فِي الألواح امة هم المستجيبون والمستجاب لَهُم فاجعلها امتي قَالَ تِلْكَ أمة أَحْمد قَالَ يَا رب إِنِّي أجد فِي الألواح أمة أَنَاجِيلهمْ فِي صُدُورهمْ يقرؤنه ظَاهرا فاجعلها امتي قَالَ تِلْكَ امة احْمَد قَالَ يَا رب إِنِّي أجد فِي الألواح امة يَأْكُلُون الْفَيْء فاجعلها امتي قَالَ تِلْكَ امة أَحْمد قَالَ يَا رب إِنِّي اجد فِي الالواح امة يجْعَلُونَ الصَّدَقَة فِي بطونهم يؤجرون عَلَيْهَا فاجعلها امتي قَالَ تِلْكَ امة أَحْمد قَالَ يَا رب إِنِّي أجد فِي الألواح أمة إِذا هم أحدهم بحسنة فَلم يعملها كتبت لَهُ حَسَنَة وَاحِدَة وَإِن عَملهَا كتبت لَهُ عشر حَسَنَات فاجعلها أمتِي قَالَ تِلْكَ أمة احْمَد قَالَ يَا رب إِنِّي اجد فِي الألواح امة إِذا هم أحدهم بسيئة فَلم يعملها لم تكْتب وَإِن عَملهَا كتبت عَلَيْهِ سَيِّئَة وَاحِدَة فاجعلها أمتِي قَالَ تِلْكَ امة أَحْمد قَالَ يَا رب إِنِّي أجد فِي الألواح امة يُؤْتونَ الْعلم الأول وَالْعلم الآخر فيقتلون قُرُون الضَّلَالَة والمسيح الدَّجَّال فاجعلها أمتِي قَالَ تِلْكَ امة احْمَد قَالَ يَا رب فَاجْعَلْنِي من أمة أَحْمد فَأعْطِي عِنْد ذَلِك خَصْلَتَيْنِ فَقَالَ {يَا مُوسَى إِنِّي اصطفيتك على النَّاس برسالاتي وبكلامي فَخذ مَا آتيتك وَكن من الشَّاكِرِينَ} قَالَ قدر رضيت يَا رب
وَأخرج أَبُو نعيم عَن عبد الرَّحْمَن الْمعَافِرِي ان كَعْب الْأَحْبَار رأى حبر الْيَهُود يبكي فَقَالَ لَهُ مَا يبكيك قَالَ ذكرت بعض الْأَمر فَقَالَ لَهُ كَعْب أنْشدك بِاللَّه لَئِن أَخْبَرتك مَا أبكاك لتصدقني قَالَ نعم قَالَ انشدك بِاللَّه هَل تَجِد فِي كتاب الله الْمنزل أَن مُوسَى نظر فِي التَّوْرَاة فَقَالَ رب إِنِّي أجد أمة فِي التَّوْرَاة خير أمة اخرجت للنَّاس يأمرون بِالْمَعْرُوفِ وَينْهَوْنَ عَن الْمُنكر ويؤمنون بِالْكتاب الاول وَالْكتاب الآخر
তারা সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; তিনি মজলুমকে সাহায্য করেন এবং তাকে দুর্বল গণ্য হওয়া থেকে রক্ষা করেন।
আবু নুয়াইম আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মূসা (আ.)-এর ওপর যখন তাওরাত নাজিল হলো এবং তিনি তা পাঠ করলেন, তখন তাতে এই উম্মতের উল্লেখ পেলেন। তিনি বললেন, হে আমার রব! আমি ফলকসমূহে এমন এক উম্মতের কথা পাচ্ছি যারা (আগমনের দিক থেকে) সবার শেষে কিন্তু (মর্যাদার দিক থেকে) অগ্রগামী হবে; সুতরাং তাদের আমার উম্মত করে দিন। আল্লাহ বললেন, তারা আহমদের উম্মত। তিনি বললেন, হে আমার রব! আমি ফলকসমূহে এমন এক উম্মতের কথা পাচ্ছি যারা (আল্লাহর ডাকে) সাড়া দানকারী এবং যাদের দোয়া কবুল করা হয়; সুতরাং তাদের আমার উম্মত করে দিন। আল্লাহ বললেন, তারা আহমদের উম্মত। তিনি বললেন, হে আমার রব! আমি ফলকসমূহে এমন এক উম্মতের কথা পাচ্ছি যাদের কিতাবসমূহ তাদের হৃদয়ে থাকবে এবং তারা তা মুখস্থ পাঠ করবে; সুতরাং তাদের আমার উম্মত করে দিন। আল্লাহ বললেন, তারা আহমদের উম্মত। তিনি বললেন, হে আমার রব! আমি ফলকসমূহে এমন এক উম্মতের কথা পাচ্ছি যারা গনিমতের মাল ভক্ষণ করবে; সুতরাং তাদের আমার উম্মত করে দিন। আল্লাহ বললেন, তারা আহমদের উম্মত। তিনি বললেন, হে আমার রব! আমি ফলকসমূহে এমন এক উম্মতের কথা পাচ্ছি যারা সদকা নিজেদের পেটে গ্রহণ করবে (অর্থাৎ নিজেরা ভোগ করবে) এবং তার বিনিময়ে সওয়াব পাবে; সুতরাং তাদের আমার উম্মত করে দিন। আল্লাহ বললেন, তারা আহমদের উম্মত। তিনি বললেন, হে আমার রব! আমি ফলকসমূহে এমন এক উম্মতের কথা পাচ্ছি যাদের কেউ যদি কোনো নেক কাজের সংকল্প করে কিন্তু তা করতে না পারে, তবে তার জন্য একটি নেকি লেখা হয়; আর যদি সে তা সম্পন্ন করে, তবে তার জন্য দশটি নেকি লেখা হয়। সুতরাং তাদের আমার উম্মত করে দিন। আল্লাহ বললেন, তারা আহমদের উম্মত। তিনি বললেন, হে আমার রব! আমি ফলকসমূহে এমন এক উম্মতের কথা পাচ্ছি যাদের কেউ যদি কোনো মন্দ কাজের সংকল্প করে কিন্তু তা না করে, তবে তা লেখা হয় না; আর যদি সে তা করে ফেলে, তবে তার বিরুদ্ধে মাত্র একটি গুনাহ লেখা হয়। সুতরাং তাদের আমার উম্মত করে দিন। আল্লাহ বললেন, তারা আহমদের উম্মত। তিনি বললেন, হে আমার রব! আমি ফলকসমূহে এমন এক উম্মতের কথা পাচ্ছি যাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল জ্ঞান দান করা হবে এবং তারা পথভ্রষ্ট প্রজন্মসমূহ ও মসীহ দাজ্জালকে ধ্বংস করবে; সুতরাং তাদের আমার উম্মত করে দিন। আল্লাহ বললেন, তারা আহমদের উম্মত। তিনি বললেন, হে আমার রব! তবে আমাকেই আহমদের উম্মতভুক্ত করে দিন। তখন তাঁকে দুটি বৈশিষ্ট্য দান করা হলো এবং আল্লাহ বললেন, "হে মূসা! আমি তোমাকে আমার রিসালাত ও কালামের মাধ্যমে মানুষের ওপর মনোনীত করেছি, সুতরাং আমি তোমাকে যা দান করেছি তা গ্রহণ করো এবং কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হও"। মূসা (আ.) বললেন, হে আমার রব! আমি সন্তুষ্ট হলাম।
আবু নুয়াইম আবদুর রহমান আল-মুয়াফিরি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, কা’ব আল-আহবার জনৈক ইহুদি পণ্ডিতকে কাঁদতে দেখে তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কেন কাঁদছেন? সে বলল, আমি একটি বিষয় স্মরণ করেছি। কা’ব তাকে বললেন, আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আমি যদি আপনাকে আপনার কান্নার কারণ বলে দিই তবে আপনি কি আমাকে সত্যয়ন করবেন? সে বলল, হ্যাঁ। কা’ব বললেন, আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আপনি কি আল্লাহর নাজিলকৃত কিতাবে এটি পান না যে, মূসা (আ.) তাওরাতের দিকে নজর দিলেন এবং বললেন: হে রব! আমি তাওরাতে এমন এক উম্মতের বর্ণনা পাচ্ছি যারা মানবজাতির জন্য আবির্ভূত হওয়া শ্রেষ্ঠ উম্মত; তারা সৎকাজের আদেশ দেয়, মন্দ কাজে নিষেধ করে এবং প্রথম কিতাব ও শেষ কিতাবের ওপর ঈমান আনে।
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইসুল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ২২)
ويقاتلون اهل الضَّلَالَة حَتَّى يقاتلوا الاعور الدَّجَّال فَقَالَ مُوسَى رب اجعلهم أمتِي قَالَ هم امة أَحْمد قَالَ الحبر نعم
قَالَ كَعْب فأنشدك بِاللَّه هَل تَجِد فِي كتاب الله الْمنزل أَن مُوسَى نظر فِي التَّوْرَاة فَقَالَ يَا رب إِنِّي أجد امة هم الْحَمَّادُونَ رُعَاة الشَّمْس المحكمون إِذا أَرَادوا أمرا قَالُوا نفعله إِن شَاءَ الله فاجعلهم أمتِي قَالَ هم أمة أَحْمد قَالَ الحبر نعم
قَالَ كَعْب انشدك بِاللَّه هَل تَجِد فِي كتاب الله الْمنزل ان مُوسَى نظر فِي التَّوْرَاة فَقَالَ يَا رب إِنِّي اجد امة إِذا أشرف أحدهم على شرف كبر الله وَإِذا هَبَط وَاديا حمد الله الصَّعِيد لَهُم طهُور والارض لَهُم مَسْجِد حَيْثُ مَا كَانُوا يتطهرون من الْجَنَابَة طهورهم بالصعيد كطهورهم بِالْمَاءِ حَيْثُ لَا يَجدونَ المَاء غر محجلون من آثَار الْوضُوء فاجعلهم أمتِي قَالَ هم أمة أَحْمد قَالَ الحبر نعم
قَالَ كَعْب انشدك بِاللَّه هَل تَجِد فِي كتاب الله الْمنزل ان مُوسَى نظر فِي التَّوْرَاة فَقَالَ رب إِنِّي أجد أمة مَرْحُومَة ضعفاء يَرِثُونَ الْكتاب واصطفيتهم فَمنهمْ ظَالِم لنَفسِهِ وَمِنْهُم مقتصد وَمِنْهُم سَابق بالخيرات وَلَا أجد أحدا مِنْهُم الا مرحوما فاجعلهم أمتِي قَالَ هم امة احْمَد قَالَ الحبر نعم
قَالَ كَعْب انشدك بِاللَّه هَل تَجِد فِي كتاب الله الْمنزل ان مُوسَى نظر فِي التَّوْرَاة فَقَالَ يَا رب إِنِّي أجد فِي التَّوْرَاة امة مصاحفهم فِي صُدُورهمْ يلبسُونَ ألوان ثِيَاب اهل الْجنَّة يصفونَ فِي صلَاتهم كَصُفُوف الْمَلَائِكَة أَصْوَاتهم فِي مَسَاجِدهمْ كَدَوِيِّ النَّحْل لَا يدْخل النَّار مِنْهُم أحد إِلَّا بَرِيء من الْحَسَنَات مثل مَا برِئ الْحجر من ورق الشّجر فاجعلهم امتي قَالَ هم أمة أَحْمد قَالَ الحبر نعم
فَلَمَّا عجب مُوسَى من الْخَيْر الَّذِي أعطَاهُ الله مُحَمَّدًا وَأمته قَالَ يَا لَيْتَني من أمة أَحْمد فَأوحى الله اليه ثَلَاث آيَات يرضيه بِهن {يَا مُوسَى إِنِّي اصطفيتك على النَّاس برسالاتي وبكلامي} الْآيَة فَرضِي مُوسَى كل الرِّضَا
এবং তারা পথভ্রষ্টদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে যতক্ষণ না তারা কানা দাজ্জালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। তখন মূসা বললেন, হে রব! তাদেরকে আমার উম্মত করে দিন। আল্লাহ বললেন, তারা আহমদের উম্মত। আল-হিবর বললেন, হ্যাঁ।
কাব বললেন, আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, আপনি কি আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাবে পান যে, মূসা তাওরাতের দিকে তাকালেন এবং বললেন—হে আমার রব! আমি এমন এক উম্মতের কথা পাচ্ছি যারা হবে অতিশয় প্রশংসাকারী, সূর্যের গতিপথ পর্যবেক্ষণকারী এবং বিজ্ঞ বিচারক। যখন তারা কোনো কাজ করার ইচ্ছা করবে, তখন বলবে ‘ইনশাআল্লাহ’ (যদি আল্লাহ চান) আমরা তা করব। সুতরাং তাদেরকে আমার উম্মত করে দিন। আল্লাহ বললেন, তারা আহমদের উম্মত। আল-হিবর বললেন, হ্যাঁ।
কাব বললেন, আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, আপনি কি আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাবে পান যে, মূসা তাওরাতের দিকে তাকালেন এবং বললেন—হে আমার রব! আমি এমন এক উম্মতের কথা পাচ্ছি যাদের কেউ যখন কোনো উঁচুতে উঠবে তখন আল্লাহর তাকবির পাঠ করবে এবং যখন কোনো উপত্যকায় নামবে তখন আল্লাহর প্রশংসা করবে। পবিত্র মাটি তাদের জন্য পবিত্রতার মাধ্যম এবং সমগ্র জমিন তাদের জন্য সিজদার স্থান; তারা যেখানেই থাকুক না কেন তারা জানাবাত (অপবিত্রতা) থেকে পবিত্রতা অর্জন করবে। পানি না পেলে মাটির মাধ্যমে তাদের পবিত্রতা অর্জন পানির মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জনের মতোই হবে। অজুর চিহ্নের কারণে তাদের হাত-পা ও কপাল উজ্জ্বল হবে। সুতরাং তাদেরকে আমার উম্মত করে দিন। আল্লাহ বললেন, তারা আহমদের উম্মত। আল-হিবর বললেন, হ্যাঁ।
কাব বললেন, আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, আপনি কি আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাবে পান যে, মূসা তাওরাতের দিকে তাকালেন এবং বললেন—হে রব! আমি এমন এক উম্মতের কথা পাচ্ছি যারা দয়াপ্রাপ্ত ও দুর্বল, তারা কিতাবের উত্তরাধিকারী হবে এবং আমি তাদের মনোনীত করেছি; ফলে তাদের কেউ নিজের প্রতি অবিচারকারী, কেউ মধ্যমপন্থী এবং কেউ নেক কাজে অগ্রগামী। আর তাদের মধ্যে এমন কাউকে পাচ্ছি না যে দয়াপ্রাপ্ত নয়। সুতরাং তাদেরকে আমার উম্মত করে দিন। আল্লাহ বললেন, তারা আহমদের উম্মত। আল-হিবর বললেন, হ্যাঁ।
কাব বললেন, আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, আপনি কি আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাবে পান যে, মূসা তাওরাতের দিকে তাকালেন এবং বললেন—হে আমার রব! আমি তাওরাতে এমন এক উম্মতের বিবরণ পাচ্ছি যাদের কিতাবসমূহ তাদের অন্তরে থাকবে। তারা জান্নাতবাসীদের পোশাকের ন্যায় বিভিন্ন রঙের পোশাক পরিধান করবে। তারা তাদের সালাতে ফেরেশতাদের সারির মতো কাতারবদ্ধ হবে। তাদের মসজিদগুলোতে তাদের আওয়াজ মৌমাছির গুঞ্জনের মতো হবে। তাদের মধ্য থেকে কেউ জাহান্নামে প্রবেশ করবে না, তবে কেবল সে-ই যার কোনো নেক আমল নেই, যেমন পাথর বৃক্ষের পাতা থেকে মুক্ত থাকে। সুতরাং তাদেরকে আমার উম্মত করে দিন। আল্লাহ বললেন, তারা আহমদের উম্মত। আল-হিবর বললেন, হ্যাঁ।
যখন আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ এবং তাঁর উম্মতকে যে কল্যাণ দান করেছেন তাতে মূসা আশ্চর্যান্বিত হলেন, তখন তিনি বললেন, হায়! আমি যদি আহমদের উম্মতের অন্তর্ভুক্ত হতাম। তখন আল্লাহ তাঁর নিকট তিনটি আয়াত ওহী করলেন যা দিয়ে তাঁকে সন্তুষ্ট করলেন— {হে মূসা! আমি আমার রিসালাত ও আমার কালামের মাধ্যমে তোমাকে মানুষের ওপর মনোনীত করেছি...} আয়াত শেষ পর্যন্ত। এতে মূসা সম্পূর্ণরূপে সন্তুষ্ট হলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইসুল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وَأخرج ابو نعيم عَن سعيد بن أبي هِلَال أَن عبد الله بن عَمْرو قَالَ لكعب الاحبار أَخْبرنِي عَن صفة مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم وَأمته قَالَ اجدهم فِي كتاب الله أَن أَحْمد وَأمته حمادون يحْمَدُونَ الله على كل خير وَشر يكبرُونَ الله على كل شرف ويسبحون الله فِي كل منزل نداؤهم فِي جو السَّمَاء لَهُم دوِي فِي صلَاتهم كَدَوِيِّ النَّحْل على الصخر يصفونَ فِي الصَّلَاة كَصُفُوف الْمَلَائِكَة ويصفون فِي الْقِتَال كصفوفهم فِي الصَّلَاة إِذا غزوا فِي سَبِيل الله كَانَت الْمَلَائِكَة بَين أَيْديهم وَمن خَلفهم برماح شَدَّاد إِذا حَضَرُوا الصَّفّ فِي سَبِيل الله كَانَ عَلَيْهِم مظلا وَأَشَارَ بِيَدِهِ كَمَا تظل النسور على وكورها لَا يتأخرون زحفا أبدا حَتَّى يحضرهم جبرئيل عليه السلام
وَأخرج أَبُو نعيم فِي الْحِلْية عَن انس قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم اوحى الله الى مُوسَى نَبِي بني اسرائيل انه من لَقِيَنِي وَهُوَ جَاحد بِأَحْمَد ادخلته النَّار قَالَ يَا رب وَمن أَحْمد قَالَ مَا خلقت خلقا اكرم عَليّ مِنْهُ كتبت اسْمه مَعَ اسْمِي فِي الْعَرْش قبل أَن أخلق السَّمَوَات وَالْأَرْض إِن الْجنَّة مُحرمَة على جَمِيع خلقي حَتَّى يدخلهَا هُوَ وَأمته قَالَ وَمن أمته قَالَ الْحَمَّادُونَ يحْمَدُونَ صعُودًا وهبوطا وعَلى كل حَال يشدون أوساطهم ويطهرون اطرافهم صائمون بِالنَّهَارِ رُهْبَان بِاللَّيْلِ اقبل مِنْهُم الْيَسِير وأدخلهم الْجنَّة بِشَهَادَة ان لَا إِلَه إِلَّا الله قَالَ اجْعَلنِي نَبِي تِلْكَ الْأمة قَالَ نبيها مِنْهَا قَالَ اجْعَلنِي من أمة ذَلِك النَّبِي قَالَ استقدمت واستأخر وَلَكِن سأجمع بَيْنك وَبَينه فِي دَار الْجلَال
وَأخرج ابْن أبي حَاتِم وَأَبُو نعيم عَن وهب بن مُنَبّه قَالَ اوحى الله إِلَى اشعياء اني باعث نَبيا أُمِّيا افْتَحْ بِهِ آذَانا صمًّا وَقُلُوبًا غلفًا وَأَعْيُنًا عميا مولده بِمَكَّة وَمُهَاجره بِطيبَة وَملكه بِالشَّام عَبدِي المتَوَكل الْمُصْطَفى الْمَرْفُوع الحبيب المتحبب الْمُخْتَار لَا يَجْزِي بِالسَّيِّئَةِ السَّيئَة وَلَكِن يعْفُو ويصفح وَيغْفر رحِيما بِالْمُؤْمِنِينَ يبكي للبهيمة المثقلة ويبكي للْيَتِيم فِي حجر الأرملة لَيْسَ بِفَظٍّ وَلَا غليظ وَلَا صخاب فِي الاسواق وَلَا متزين بالفحش وَلَا قَوَّال بالخنا لَو يمر إِلَى جنب السراج لم يطفه من سكينته وَلَو
আবু নুআইম সাঈদ ইবন আবি হিলাল থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবন আমর কাব আল-আহবারকে বললেন, আমাকে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর উম্মতের গুণাবলি সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বললেন, আমি আল্লাহর কিতাবে তাদের গুণাবলি এই পাই যে, আহমাদ ও তাঁর উম্মত হবে অধিক প্রশংসাকারী; তারা প্রতিটি ভালো ও মন্দ অবস্থায় আল্লাহর প্রশংসা করবে। তারা প্রতিটি উচ্চ স্থানে আল্লাহর তাকবির পাঠ করবে এবং প্রতিটি গন্তব্যস্থলে আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করবে। আকাশের শূন্যলোকে তাদের আহ্বান প্রতিধ্বনিত হবে। সালাতে তাদের গুঞ্জন পাথরের ওপর মৌমাছির গুঞ্জনের মতো হবে। তারা সালাতে ফেরেশতাদের সারির মতো কাতারবদ্ধ হবে এবং যুদ্ধের ময়দানেও তাদের কাতারবদ্ধ হওয়া সালাতের কাতারের মতোই হবে। যখন তারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে, তখন ফেরেশতারা তাদের সামনে ও পেছনে শক্তিশালী বর্শা নিয়ে অবস্থান করবে। যখন তারা আল্লাহর পথে যুদ্ধের সারিতে উপস্থিত হবে, তখন তাদের ওপর একটি ছায়া থাকবে—এই বলে কাব নিজ হাত দিয়ে ইশারা করলেন যেভাবে ইগল তার বাসার ওপর ছায়া দিয়ে থাকে। তারা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে কখনো পিছু হটবে না যতক্ষণ না জিবরাইল (আলাইহিস সালাম) তাদের নিকট উপস্থিত হন।
আবু নুআইম 'আল-হিলইয়া' গ্রন্থে আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: আল্লাহ বনী ইসরাইলের নবী মুসার নিকট ওহি পাঠালেন যে, যে ব্যক্তি আমার সাথে সাক্ষাৎ করবে অথচ আাহমাদের ব্যাপারে অস্বীকৃতি জ্ঞাপনকারী হবে, আমি তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাব। মুসা বললেন, হে রব! আহমাদ কে? আল্লাহ বললেন, আমি তাঁর চেয়ে অধিক সম্মানিত কোনো সৃষ্টি সৃষ্টি করিনি। আসমান ও জমিন সৃষ্টির পূর্বেই আমি আরশে আমার নামের সাথে তাঁর নাম লিখে রেখেছি। আমার সকল সৃষ্টির জন্য জান্নাত হারাম যতক্ষণ না তিনি ও তাঁর উম্মত সেখানে প্রবেশ করবে। মুসা বললেন, তাঁর উম্মত কারা? আল্লাহ বললেন, তারা অধিক প্রশংসাকারী; তারা আরোহণ ও অবরোহণকালে এবং সকল অবস্থায় আল্লাহর প্রশংসা করে। তারা তাদের কোমর শক্ত করে বাঁধে এবং তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পবিত্র রাখে। তারা দিনে রোজা পালনকারী এবং রাতে ইবাদতকারী। আমি তাদের থেকে সামান্য আমল কবুল করি এবং 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'র সাক্ষ্যের বিনিময়ে তাদের জান্নাতে প্রবেশ করাই। মুসা বললেন, আমাকে সেই উম্মতের নবী বানিয়ে দিন। আল্লাহ বললেন, তাদের নবী তাদের মধ্য থেকেই হবে। মুসা বললেন, আমাকে তবে সেই নবীর উম্মতভুক্ত করে দিন। আল্লাহ বললেন, তুমি অগ্রবর্তী হয়েছ এবং তিনি পরবর্তী হয়েছেন, তবে আমি অচিরেই তোমাদের 'দারুল জালাল'-এ একত্রিত করব।
ইবন আবি হাতিম ও আবু নুআইম ওহাব ইবন মুনাব্বিহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আল্লাহ আশইয়ার নিকট ওহি পাঠালেন যে, আমি একজন নিরক্ষর নবী পাঠাতে যাচ্ছি, যার মাধ্যমে আমি বধির কান, আবরণবেষ্টিত হৃদয় এবং অন্ধ চোখসমূহ উন্মুক্ত করে দেব। তাঁর জন্ম মক্কায়, হিজরতস্থল তাইবায় এবং তাঁর রাজত্ব শামে। তিনি আমার বান্দা, যিনি কেবল আমার ওপর নির্ভরশীল, মনোনীত, উচ্চ মর্যাদাবান, প্রিয়, মহব্বতকারী এবং পছন্দনীয়। তিনি মন্দের বদলা মন্দ দিয়ে দেন না, বরং ক্ষমা ও মার্জনা করেন এবং ক্ষমা করে দেন। মুমিনদের প্রতি তিনি অতি দয়ালু। তিনি ভারাক্রান্ত পশুর জন্য কাঁদেন এবং বিধবার কোলে থাকা এতিম শিশুর জন্য ক্রন্দন করেন। তিনি রূঢ় নন, কঠোর স্বভাবের নন, বাজারে শোরগোলকারী নন, অশ্লীলতায় সজ্জিত নন এবং কটুভাষী নন। তিনি যদি কোনো প্রদীপের পাশ দিয়েও অতিক্রম করেন, তবে তাঁর স্থিরতা ও গাম্ভীর্যের কারণে সেটি নির্বাপিত হবে না। এমনকি যদি...
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইসুল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
يمشي على الْقصب الرعراع يَعْنِي اليافع لم يسمع من تَحت قَدَمَيْهِ أبعثه مبشرا وَنَذِيرا اسدده لكل جميل وَأهب لَهُ كل خلق كريم اجْعَل السكينَة لِبَاسه وَالْبر شعاره وَالتَّقوى ضَمِيره وَالْحكمَة معقوله والصدق وَالْوَفَاء طَبِيعَته وَالْعَفو وَالْمَغْفِرَة وَالْمَعْرُوف خلقه وَالْعدْل سيرته وَالْحق شَرِيعَته وَالْهدى إِمَامه والاسلام مِلَّته وَأحمد اسْمه اهدي بِهِ من بعد الضَّلَالَة وَاعْلَم بِهِ بعد الْجَهَالَة وَأَرْفَع بِهِ بعد الْخَمَالَة واسمي بِهِ بعد النكرَة واكثر بِهِ بعد الْقلَّة وَأغْنِي بِهِ بعد الْعيلَة وَأجْمع بِهِ بعد الْفرْقَة واؤلف بِهِ بَين قُلُوب واهواء مُتَشَتِّتَة وأمم مُخْتَلفَة وَأَجْعَل أمته خير أمة أخرجت للنَّاس أمرا بِالْمَعْرُوفِ ونهيا عَن الْمُنكر وتوحيدا بِي وإيمانا بِي وإخلاصا لي وَتَصْدِيقًا لما جَاءَت بِهِ رُسُلِي وهم رُعَاة الشَّمْس طُوبَى لتِلْك الْقُلُوب وَالْوُجُوه والأرواح الَّتِي اخلصت لي ألهمهم التَّسْبِيح وَالتَّكْبِير والتحميد والتوحيد فِي مَسَاجِدهمْ ومجالسهم مضاجعهم ومتقلبهم ومثواهم ويصفون فِي مَسَاجِدهمْ كَمَا تصف الْمَلَائِكَة حول عَرْشِي هم أوليائي وأنصاري انتقم بهم من أعدائي عَبدة الْأَوْثَان يصلونَ لي قيَاما وقعودا وركعا وَسجدا وَيخرجُونَ من دِيَارهمْ واموالهم ابْتِغَاء مرضاتي ألوفا ويقاتلون فِي سبيلي صُفُوفا وزحوفا اختم بِكِتَابِهِمْ الْكتب وبشريعتهم الشَّرَائِع وبدينهم الْأَدْيَان فَمن أدركهم فَلم يُؤمن بِكِتَابِهِمْ وَلم يدْخل فِي دينهم وشريعتهم فَلَيْسَ مني وَهُوَ مني بَرِيء وأجعلهم أفضل الْأُمَم وأجعلهم امة وسطا شُهَدَاء على النَّاس إِذا غضبوا هللوني وَإِذا قبضوا كبروني واذا تنازعوا سبحوني يطهرون الْوُجُوه والأطراف ويشدون الثِّيَاب الى الانصاف ويهللون على التلال والاشراف قُرْبَانهمْ دِمَاؤُهُمْ واناجيلهم صُدُورهمْ رهبانا بِاللَّيْلِ ليوثا بِالنَّهَارِ يناديهم مناديهم فِي جو السَّمَاء لَهُم دوِي كَدَوِيِّ النَّحْل طُوبَى لمن كَانَ مَعَهم وعَلى دينهم ومناهجهم وشريعتهم ذَلِك فضلي أوتيه من اشاء وَأَنا ذُو الْفضل الْعَظِيم
وَأخرج الْبَيْهَقِيّ عَن ابْن عَبَّاس قَالَ قدم الجادور بن عبد الله فَأسلم وَقَالَ وَالَّذِي بَعثك بِالْحَقِّ لقد وجدت وصفك فِي الانجيل وَلَقَد بشر بك ابْن البتول
তিনি কচি ও দোদুল্যমান ঘাসের ওপর দিয়ে হাঁটেন, অর্থাৎ তিনি একজন যুবক; তাঁর পায়ের নিচ থেকে কোনো শব্দ শোনা যায় না। আমি তাঁকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করব। আমি তাঁকে প্রতিটি সুন্দর কাজের জন্য সুদৃঢ় করব এবং তাঁকে প্রতিটি উত্তম চরিত্র দান করব। আমি প্রশান্তিকে তাঁর পোশাক, পুণ্যকে তাঁর ভূষণ, তাকওয়াকে তাঁর অন্তঃকরণ, প্রজ্ঞাকে তাঁর বিচারবুদ্ধি, সত্যবাদিতা ও বিশ্বস্ততাকে তাঁর প্রকৃতি, ক্ষমা, মার্জনা ও সদাচারকে তাঁর স্বভাব, ন্যায়বিচারকে তাঁর কর্মপদ্ধতি, সত্যকে তাঁর শরিয়ত, হিদায়াতকে তাঁর ইমাম এবং ইসলামকে তাঁর মিল্লাত বা আদর্শ করব। আহমদ তাঁর নাম। তাঁর মাধ্যমে আমি ভ্রষ্টতার পর পথ প্রদর্শন করব, অজ্ঞতার পর জ্ঞান দান করব, অখ্যাত থাকার পর সুখ্যাতি দান করব, অপরিচিত থাকার পর পরিচিতি দান করব, সংখ্যায় অল্প হওয়ার পর সংখ্যায় বৃদ্ধি করব, অভাবের পর সচ্ছলতা দান করব এবং অনৈক্যের পর ঐক্যবদ্ধ করব। তাঁর মাধ্যমে আমি বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন হৃদয়, বিক্ষিপ্ত খেয়াল-খুশি এবং ভিন্ন ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে হৃদ্যতা সৃষ্টি করব। আমি তাঁর উম্মতকে সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত করব যারা মানুষের কল্যাণের জন্য আবির্ভূত হয়েছে; তারা সৎকাজের আদেশ করবে, অসৎকাজে নিষেধ করবে, আমার একত্ববাদে বিশ্বাস রাখবে, আমার প্রতি ঈমান আনবে, আমার জন্য একনিষ্ঠ হবে এবং আমার রাসুলগণ যা নিয়ে এসেছেন তা সত্য বলে স্বীকার করবে। তারা হলো সূর্যের পাহারাদার (নামাজের ওয়াক্ত পর্যবেক্ষণকারী)। সেই সকল হৃদয়, চেহারা এবং আত্মার জন্য মহা কল্যাণ যারা আমার প্রতি একনিষ্ঠ হয়েছে। আমি তাদের মসজিদে, মজলিসে, শয্যায়, চলাফেরায় এবং আবাসস্থলে তাদের অন্তরে তাসবিহ, তাকবির, তাহমিদ এবং তাওহিদের অনুপ্রেরণা দেব। তারা তাদের মসজিদে সেভাবে কাতারবদ্ধ হবে যেভাবে ফেরেশতারা আমার আরশের চারপাশে কাতারবদ্ধ হয়। তারা আমার বন্ধু ও সাহায্যকারী। তাদের মাধ্যমে আমি আমার শত্রু মূর্তিপূজারিদের থেকে প্রতিশোধ নেব। তারা দাঁড়িয়ে, বসে, রুকু ও সেজদারত অবস্থায় আমার জন্য নামাজ পড়বে। তারা আমার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে হাজার হাজার সংখ্যায় নিজেদের ঘরবাড়ি ও ধনসম্পদ ছেড়ে বেরিয়ে আসবে। তারা আমার পথে সারিবদ্ধ ও দলবদ্ধ হয়ে লড়াই করবে। আমি তাদের কিতাব দিয়ে সকল কিতাব, তাদের শরিয়ত দিয়ে সকল শরিয়ত এবং তাদের দ্বীন দিয়ে সকল দ্বীনকে সমাপ্ত করব। সুতরাং যে ব্যক্তি তাদের সময় পাবে অথচ তাদের কিতাবের প্রতি ঈমান আনবে না এবং তাদের দ্বীন ও শরিয়তে প্রবেশ করবে না, সে আমার কেউ নয় এবং আমিও তার থেকে দায়মুক্ত। আমি তাদের সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত এবং মধ্যপন্থী উম্মত করব যারা মানুষের ওপর সাক্ষী হবে। যখন তারা রাগান্বিত হবে তখন তারা আমার একত্ববাদ ঘোষণা করবে, যখন তারা সংকটে পড়বে তখন আমার বড়ত্ব প্রকাশ করবে এবং যখন তারা বিবাদে লিপ্ত হবে তখন আমার পবিত্রতা বর্ণনা করবে। তারা তাদের চেহারা ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পবিত্র করবে, তারা তাদের পোশাক পায়ের নলার অর্ধেক পর্যন্ত উঁচু করে বাঁধবে এবং তারা পাহাড় ও উচ্চভূমিতে তাওহিদের ধ্বনি তুলবে। তাদের রক্তই তাদের কুরবানি এবং তাদের বক্ষই তাদের ইঞ্জিল (কুরআন)। তারা রাতে ইবাদতকারী এবং দিনে সিংহবিক্রম যোদ্ধা। তাদের আহ্বানকারী আকাশের দিগন্তে তাদের আহ্বান করবে। মৌমাছির গুঞ্জনের মতো তাদের তিলাওয়াতের গুঞ্জন শোনা যাবে। সেই ব্যক্তির জন্য মহা কল্যাণ যে তাদের সাথে থাকবে এবং তাদের দ্বীন, আদর্শ ও শরিয়তের ওপর অটল থাকবে। এটি আমার অনুগ্রহ, আমি যাকে ইচ্ছা তা দান করি এবং আমি মহা অনুগ্রহশীল।
বায়হাকী ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জাদুর বিন আবদুল্লাহ আগমন করে ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং বললেন, "সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, আমি ইঞ্জিল কিতাবে আপনার গুণাবলি পেয়েছি এবং কুমারীর পুত্র (ঈসা আ.) আপনার সুসংবাদ দিয়েছেন।"
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইসুল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وَأخرج ابو نعيم عَن سعيد بن الْمسيب أَن الْعَبَّاس قَالَ لكعب الْأَحْبَار مَا مَنعك ان تسلم فِي عهد النَّبِي صلى الله عليه وسلم وابي بكر حَتَّى اسلمت الْآن فِي عهد عمر فَقَالَ إِن أبي كتب لي كتابا من التَّوْرَاة فَدفعهُ إِلَى وَقَالَ اعْمَلْ بِهَذَا وَاتبعهُ وَأخذ عَليّ بِحَق الْوَالِد ان لَا أفض هَذَا الْخَاتم وَختم على سَائِر كتبه فَلَمَّا رَأَيْت الاسلام قد ظهر وَلم أر إِلَّا خيرا قَالَت لي نَفسِي لَعَلَّ أَبَاك قد غيب عَنْك علما ففضضت الْخَاتم فاذا فِيهِ صفة مُحَمَّد وَأمته فَجئْت الْآن فاسلمت
وَأخرج أَبُو نعيم من طَرِيق شهر بن حَوْشَب عَن كَعْب قَالَ إِن أبي كَانَ من أعلم النَّاس بِمَا انْزِلْ الله على مُوسَى وَكَانَ لم يدّخر عني شَيْئا مِمَّا كَانَ يعلم فَلَمَّا حَضَره الْمَوْت دَعَاني فَقَالَ لي يَا بني انك قد علمت أَنِّي لم أدخر عَنْك شَيْئا مِمَّا كنت أعلمهُ إِلَّا أَنِّي قد حبست عَنْك ورقتين فيهمَا نَبِي يبْعَث قد اطل زَمَانه فَكرِهت ان اخبرك بذلك فَلَا آمن عَلَيْك ان يخرج بعض هَؤُلَاءِ الْكَذَّابين فتطيعه وَقد جعلتهما فِي هَذِه الكوة الَّتِي ترى وطينت عَلَيْهِمَا فَلَا تعرضن لَهما وَلَا تنظرن فيهمَا حينك هَذَا فَإِن الله إِن يرد بك خيرا وَيخرج ذَلِك النَّبِي تتبعه ثمَّ إِنَّه قد مَاتَ فدفناه فَلم يكن شَيْء أحب إِلَيّ من أَن أنظر فِي الورقتين ففتحت الكوة ثمَّ استخرجت الورقتين فاذا فيهمَا مُحَمَّد رَسُول الله خَاتم النَّبِيين لَا نَبِي بعده مولده بِمَكَّة وَمُهَاجره بِطيبَة لَا فظ وَلَا غليظ وَلَا صخاب فِي الْأَسْوَاق وَيجْزِي بِالسَّيِّئَةِ الْحَسَنَة وَيَعْفُو ويصفح أمته الْحَمَّادُونَ الَّذين يحْمَدُونَ الله على كل حَال تدلل السنتهم بِالتَّكْبِيرِ وينصر نَبِيّهم على كل من ناوأه يغسلون فروجهم ويأتزرون على اوساطهم أَنَاجِيلهمْ فِي صُدُورهمْ وتراحمهم بَينهم تراحم بني الْأُم وهم أول من يدْخل الْجنَّة يَوْم الْقِيَامَة من الْأُمَم فَمَكثت مَا شَاءَ الله ثمَّ بَلغنِي ان النَّبِي صلى الله عليه وسلم قد خرج بِمَكَّة فأخرت حَتَّى استثبت ثمَّ بَلغنِي انه توفّي وَأَن خَلِيفَته قد قَامَ مقَامه وجاءتنا جُنُوده فَقلت لَا ادخل فِي هَذَا الدّين حَتَّى انْظُر سيرتهم وأعمالهم فَلم أزل أدافع ذَلِك وأؤخره لاستثبت حَتَّى قدم علينا عُمَّال عمر بن الْخطاب رضي الله عنه فَلَمَّا رَأَيْت وفاءهم بالعهد وَمَا صنع الله لَهُم على الاعداء علمت أَنهم هم الَّذين كنت أنْتَظر فوَاللَّه اني ذَات لَيْلَة فَوق سطحي فَإِذا رجل من الْمُسلمين يَتْلُو
আবু নুআইম সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব থেকে বর্ণনা করেন যে, আব্বাস কাব আল-আহবারকে জিজ্ঞাসা করলেন, "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবু বকরের যুগে ইসলাম গ্রহণ করতে আপনাকে কিসে বাধা দিয়েছিল যে, আপনি এখন ওমরের যুগে ইসলাম গ্রহণ করলেন?" তিনি বললেন, "নিশ্চয়ই আমার পিতা আমার জন্য তাওরাত থেকে একটি কিতাব লিখেছিলেন এবং তা আমাকে দিয়ে বলেছিলেন: 'এর ওপর আমল করবে এবং এর অনুসরণ করবে।' তিনি পিতার অধিকারের দোহাই দিয়ে আমার থেকে প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন যেন আমি এই মোহরটি না ভাঙি। আর তিনি তাঁর অবশিষ্ট কিতাবসমূহের ওপর মোহর মেরে দিয়েছিলেন। অতঃপর যখন আমি দেখলাম ইসলাম বিজয়ী হয়েছে এবং আমি কল্যাণ ছাড়া আর কিছুই দেখছি না, তখন আমার মন আমাকে বলল—হয়তো তোমার পিতা তোমার কাছে কোনো ইলম গোপন করেছেন। সুতরাং আমি মোহরটি ভাঙলাম এবং তাতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর উম্মতের বিবরণ পেলাম। ফলে আমি এখন এসে ইসলাম গ্রহণ করলাম।"
আবু নুআইম শাহর ইবনে হাওশাব-এর সূত্রে কাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই আমার পিতা মহান আল্লাহ কর্তৃক মূসার ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে সে সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক অবগত ছিলেন। তিনি যা জানতেন তার কোনো কিছুই আমার কাছে গোপন করেননি। অতঃপর যখন তাঁর মৃত্যু উপস্থিত হলো, তিনি আমাকে ডাকলেন এবং বললেন, 'হে বৎস! তুমি জানো যে আমি যা জানতাম তার কোনো কিছুই তোমার কাছে গোপন রাখিনি; তবে আমি দুটি পাতা তোমার কাছ থেকে আটকে রেখেছি যাতে এমন একজন নবীর উল্লেখ আছে যিনি প্রেরিত হবেন এবং যাঁর সময় অতি নিকটে। আমি তোমাকে তা জানানো অপছন্দ করেছিলাম কারণ আমি তোমার ব্যাপারে নিরাপদ বোধ করিনি যে, কোনো মিথ্যাবাদী আবির্ভূত হলে তুমি হয়তো তার আনুগত্য করবে। আমি সে দুটিকে এই গর্তে রেখেছি যা তুমি দেখতে পাচ্ছ এবং সেটির ওপর কাদা দিয়ে লেপে দিয়েছি। সুতরাং এখন তুমি সেগুলোর কাছে যেও না এবং তাতে দৃষ্টিপাত করো না। আল্লাহ যদি তোমার কল্যাণ চান এবং সেই নবীর আবির্ভাব ঘটে তবে তুমি তাঁর অনুসরণ করো।' অতঃপর তিনি ইন্তেকাল করলেন এবং আমরা তাঁকে দাফন করলাম। তখন সেই দুই পাতায় যা আছে তা দেখার চেয়ে অধিক প্রিয় আমার কাছে আর কিছু ছিল না। আমি গর্তটি খুললাম এবং পাতা দুটি বের করলাম। তাতে লেখা ছিল: 'মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, নবীদের মোহর (শেষ নবী), তাঁর পরে আর কোনো নবী নেই। তাঁর জন্মস্থান মক্কায় এবং হিজরতস্থান তাইবায়। তিনি রূঢ় স্বভাবের নন, কঠোর হৃদয়ের নন এবং বাজারে উচ্চৈঃস্বরে শোরগোলকারী নন। তিনি মন্দের বদলে মন্দ করেন না বরং উত্তম আচরণ করেন এবং ক্ষমা ও মার্জনা করেন। তাঁর উম্মত হবে অনেক বেশি প্রশংসাকারী, যারা সর্বাবস্থায় আল্লাহর প্রশংসা করবে। তাদের জিহ্বায় তাকবিরের ধ্বনি উচ্চকিত হবে এবং তাদের নবীকে তাঁর সকল বিরোধীদের বিরুদ্ধে সাহায্য করা হবে। তারা তাদের লজ্জাস্থান ধৌত করবে এবং কোমরে লুঙ্গি পরিধান করবে। তাদের ইঞ্জিল (আসমানি কিতাব) হবে তাদের বক্ষপটে (কণ্ঠস্থ)। তাদের পারস্পরিক মমতা হবে আপন ভাইদের মমতার মতো। কিয়ামতের দিন সকল উম্মতের মধ্যে তারাই সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে।' এরপর আল্লাহ যতদিন চাইলেন আমি সেভাবেই থাকলাম। অতঃপর আমার কাছে সংবাদ পৌঁছাল যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় আবির্ভূত হয়েছেন। কিন্তু বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমি বিলম্ব করলাম। পরে আমার কাছে খবর এল যে, তিনি ইন্তেকাল করেছেন এবং তাঁর খলিফা তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। এরপর যখন তাঁদের সেনাবাহিনী আমাদের নিকট এল, আমি বললাম, 'আমি এই ধর্মে প্রবেশ করব না যতক্ষণ না তাঁদের চরিত্র ও কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করি।' আমি বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলাম এবং বিলম্ব করছিলাম। অবশেষে আমাদের নিকট ওমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহুর নিযুক্ত প্রতিনিধিরা এলেন। যখন আমি তাদের অঙ্গীকার পূর্ণ করা এবং শত্রুদের বিরুদ্ধে আল্লাহর সাহায্য প্রত্যক্ষ করলাম, তখন আমি বুঝলাম যে এরাই সেই লোক যাদের জন্য আমি অপেক্ষা করছিলাম। আল্লাহর কসম, এক রাতে আমি আমার ঘরের ছাদের ওপর ছিলাম, এমতাবস্থায় জনৈক মুসলিমকে তিলাওয়াত করতে শুনলাম..."
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইসুল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
قَول الله يَا أَيهَا الَّذين أوتو الْكتاب آمنُوا بِمَا نزلنَا مُصدقا لما مَعكُمْ من قبل أَن نطمس وُجُوهًا الْآيَة فَلَمَّا سَمِعت هَذِه الْآيَة خشيت ان لَا أصبح حَتَّى يحول الله وَجْهي فِي قفاي فَمَا كَانَ شَيْء أحب إِلَيّ من الصَّباح فَغَدَوْت على الْمُسلمين واخرجه ابْن عَسَاكِر من طَرِيق الْمسيب بن رَافع وَغَيره عَن كَعْب وَأخرج الْبَيْهَقِيّ عَن وهب بن مُنَبّه قَالَ إِن الله أوحى إِلَى دَاوُد فِي الزبُور يَا دَاوُد إِنَّه سَيَأْتِي من بعْدك نَبِي اسْمه أَحْمد وَمُحَمّد صَادِقا نَبيا لَا أغضب عَلَيْهِ أبدا وَلَا يعصيني أبدا وَقد غفرت لَهُ مَا تقدم من ذَنبه وَمَا تَأَخّر وَأمته أمة مَرْحُومَة أَعطيتهم من النَّوَافِل مثل مَا أَعْطَيْت الْأَنْبِيَاء وافترضت عَلَيْهِم الْفَرَائِض الَّتِي افترضت على الانبياء وَالرسل حَتَّى يأتوني يَوْم الْقِيَامَة ونورهم مثل نور الْأَنْبِيَاء وَذَلِكَ اني افترضت عَلَيْهِم ان يَتَطَهَّرُوا فِي كل صَلَاة كَمَا افترضت على الْأَنْبِيَاء وأمرتهم بِالْغسْلِ من الْجَنَابَة كَمَا أمرت الْأَنْبِيَاء وأمرتهم بِالْحَجِّ كَمَا أمرت الْأَنْبِيَاء وأمرتهم بِالْجِهَادِ كَمَا أمرت الرُّسُل يَا دَاوُد إِنِّي فضلت مُحَمَّد وَأمته على الْأُمَم كلهم أَعطيتهم سِتّ خِصَال لم أعْطهَا غَيرهم من الْأُمَم لَا اؤاخذهم بالْخَطَأ وَالنِّسْيَان الحَدِيث وَسَيَأْتِي بَقِيَّته
وَأخرج الطَّبَرَانِيّ وَالْبَيْهَقِيّ وَأَبُو نعيم وَابْن عَسَاكِر عَن الفلتان بن عَاصِم قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم فجَاء رجل فَقَالَ لَهُ النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَتَقْرَأُ التَّوْرَاة قَالَ نعم قَالَ والانجيل قَالَ نعم فَنَاشَدَهُ هَل تجدني فِي التَّوْرَاة والانجيل قَالَ نجد نعتا مثل نعتك وَمثل هيئتك ومخرجك وَكُنَّا نرجو ان يكون منا فَلَمَّا خرجت تخوفنا ان تكون أَنْت هُوَ فَنَظَرْنَا فَإِذا لَيْسَ أَنْت هُوَ قَالَ وَلم ذَلِك قَالَ إِن مَعَه من أمته سبعين ألفا لَيْسَ عَلَيْهِم حِسَاب وَلَا عَذَاب وَإِنَّمَا مَعَك نفر يسير قَالَ وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ لأَنا هُوَ انهم لأمتي وانهم لأكْثر من سبعين ألفا وَسبعين ألفا
وَأخرج الطَّبَرَانِيّ وَابْن حبَان وَالْحَاكِم وَالْبَيْهَقِيّ وابو نعيم عَن عبد الله بن سَلام قَالَ إِن الله لما اراد هدي زيد بن سعنة قَالَ زيد بن سعنة إِنَّه لم يبْق من عَلَامَات النُّبُوَّة
আল্লাহর বাণী: "হে কিতাবপ্রাপ্তগণ! তোমাদের নিকট যা রয়েছে তার সত্যায়নকারী হিসেবে আমি যা অবতীর্ণ করেছি তার ওপর ঈমান আনো, আমি কোনো কোনো মুখমণ্ডলকে বিকৃত করে দেওয়ার পূর্বেই..."—আয়াত। (কা’ব বলেন), যখন আমি এই আয়াতটি শুনলাম, তখন আমি এই ভয়ে ভীত হলাম যে সকাল হওয়ার আগেই আল্লাহ হয়তো আমার মুখমণ্ডলকে ঘুরিয়ে আমার ঘাড়ের দিকে নিয়ে যাবেন। ফলে সকাল হওয়া পর্যন্ত কোনো কিছুই আমার নিকট অধিক প্রিয় ছিল না। এরপর আমি ভোরেই মুসলমানদের নিকট চলে গেলাম। এটি ইবনে আসাকির মুসাইয়িব ইবনে রাফি ও অন্যদের সূত্রে কা’ব থেকে বর্ণনা করেছেন। এবং বায়হাকী ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি যবুর কিতাবে ওহী অবতীর্ণ করেন যে, "হে দাউদ! শীঘ্রই তোমার পরে একজন নবী আসবেন যাঁর নাম হবে আহমদ ও মুহাম্মদ; তিনি সত্যবাদী নবী, যাঁর ওপর আমি কখনো ক্রুদ্ধ হব না এবং তিনি কখনো আমার অবাধ্য হবেন না। আমি তাঁর পূর্বের ও পরের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছি। তাঁর উম্মত হবে দয়াপ্রাপ্ত উম্মত। আমি তাদেরকে এমন কিছু নফল ইবাদত দান করেছি যা আমি নবীদের দান করেছিলাম, এবং তাদের ওপর এমন কিছু ফরজ কর্তব্য নির্ধারণ করেছি যা আমি নবী ও রাসূলদের ওপর নির্ধারণ করেছিলাম। এমনকি কিয়ামতের দিন তারা আমার নিকট উপস্থিত হবে এমতাবস্থায় যে তাদের নূর হবে নবীদের নূরের মতো। আর তা এ কারণে যে, আমি তাদের ওপর প্রত্যেক নামাজের জন্য পবিত্রতা অর্জন করা ফরজ করেছি যেমনটি আমি নবীদের ওপর ফরজ করেছিলাম। আমি তাদেরকে জানাবাত থেকে গোসল করার আদেশ দিয়েছি যেমনটি আমি নবীদের আদেশ দিয়েছি। আমি তাদেরকে হজের আদেশ দিয়েছি যেমনটি আমি নবীদের আদেশ দিয়েছি এবং আমি তাদেরকে জিহাদের আদেশ দিয়েছি যেমনটি আমি রাসূলদের আদেশ দিয়েছি। হে দাউদ! নিশ্চয়ই আমি মুহাম্মদ ও তাঁর উম্মতকে সকল উম্মতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি। আমি তাদেরকে ছয়টি বৈশিষ্ট্য দিয়েছি যা তাদের ছাড়া অন্য কোনো উম্মতকে দিইনি: আমি তাদের ভুল ও বিস্মৃতিবশত কৃত কাজের জন্য পাকড়াও করব না..."—হাদীসটির অবশিষ্ট অংশ সামনে আসবে।
তাবারানি, বায়হাকী, আবু নুআইম ও ইবনে আসাকির ফালতান ইবনে আসিম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি এল এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: "তুমি কি তাওরাত পাঠ করো?" সে বলল: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "এবং ইঞ্জিল?" সে বলল: "হ্যাঁ।" তখন তিনি তাকে কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন: "তুমি কি তাওরাত ও ইঞ্জিলে আমার কথা পাও?" সে বলল: "আমরা আপনার গুণের মতো গুণ, আপনার অবয়বের মতো অবয়ব এবং আপনার আবির্ভাবস্থলের মতো স্থান পাই। আমরা আশা করতাম যে সেই নবী আমাদের মধ্য থেকেই হবেন। কিন্তু যখন আপনার প্রকাশ ঘটল, তখন আমরা আশঙ্কা করলাম যে আপনিই হয়তো সেই ব্যক্তি। অতঃপর আমরা অনুসন্ধান করলাম এবং দেখলাম যে আপনি সেই ব্যক্তি নন।" তিনি বললেন: "তা কেন?" সে বলল: "নিশ্চয়ই তাঁর সাথে তাঁর উম্মতের সত্তর হাজার লোক থাকবে যাদের কোনো হিসাব বা আজাব হবে না, অথচ আপনার সাথে তো অল্প কয়েকজন লোক।" তিনি বললেন: "যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ! নিশ্চয়ই আমিই সেই ব্যক্তি, আর তারা আমারই উম্মত এবং তারা সত্তর হাজার ও আরও সত্তর হাজারের চেয়েও অনেক বেশি।"
তাবারানি, ইবনে হিব্বান, হাকেম, বায়হাকী ও আবু নুআইম আবদুল্লাহ ইবনে সালাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহ যখন যায়েদ ইবনে সা’নাহকে হেদায়েত দেওয়ার ইচ্ছা করলেন, তখন যায়েদ ইবনে সা’নাহ বললেন: নবুওয়াতের আলামতগুলোর মধ্য থেকে এমন কোনো আলামত বাকি ছিল না...
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইসুল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
شَيْء إِلَّا وَقد عرفتها فِي وَجه مُحَمَّد حِين نظرت إِلَيْهِ إِلَّا اثْنَتَيْنِ لم اخبرهما مِنْهُ يسْبق حلمه جَهله وَلَا تزيده شدَّة الْجَهْل عَلَيْهِ إِلَّا حلما فَكنت أتلطف لَهُ لِأَن أخالطه فأعرف حلمه وجهله فابتعت مِنْهُ تَمرا مَعْلُوما إِلَى أجل وأعطيته الثّمن فَلَمَّا كَانَ قبل مَحل الْأَجَل بيومين اَوْ بِثَلَاثَة أَتَيْته فَأخذت بِمَجَامِع قَمِيصه وردائه وَنظرت إِلَيْهِ بِوَجْه غليظ ثمَّ قلت أَلا تقضي يَا مُحَمَّد حَقي فوَاللَّه انكم يَا بني عبد الْمطلب لمطل وَلَقَد كَانَ لي بمخالطتكم علم فَقَالَ عمر بن الْخطاب أَي عَدو الله أَتَقول لرَسُول الله مَا اسْمَع فوَاللَّه لَوْلَا مَا أحاذر فَوته لضَرَبْت بسيفي رَأسك وَرَسُول الله صلى الله عليه وسلم ينظر الى عمر بِسُكُون وتؤدة وَتَبَسم ثمَّ قَالَ أَنا وَهُوَ كُنَّا أحْوج إِلَى غير هَذَا مِنْك يَا عمر أَن تَأْمُرنِي بِحسن الْأَدَاء وتأمره بِحسن التباعة اذْهَبْ بِهِ يَا عمر فاقضه حَقه وزده عشْرين صَاعا مَكَان مَا رعته فَفعل فَقلت يَا عمر كل عَلَامَات النُّبُوَّة قد عرفتها فِي وَجه رَسُول الله صلى الله عليه وسلم حِين نظرت إِلَيْهِ إِلَّا اثْنَتَيْنِ لم اخبرهما مِنْهُ يسْبق حلمه جَهله وَلَا تزيده شدَّة الْجَهْل عَلَيْهِ إِلَّا حلما فقد خبرتهما فأشهدك أَنِّي قد رضيت بِاللَّه رَبًّا وبالاسلام دينا وَبِمُحَمَّدٍ نَبيا
وَأخرج ابْن سعد عَن الزُّهْرِيّ ان يَهُودِيّا قَالَ مَا كَانَ بَقِي شَيْء من نعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي التَّوْرَاة إِلَّا رَأَيْته إِلَّا الْحلم وَإِنِّي اسلفته ثَلَاثِينَ دِينَارا فِي تمر إِلَى أجل مَعْلُوم وَذكر نَحوه وَفِي آخِره فَقَالَ يَا عمر مَا حَملَنِي على مَا صنعت إِلَّا أَنِّي قد كنت رَأَيْت فِي رَسُول الله صلى الله عليه وسلم صفته فِي التَّوْرَاة كلهَا إِلَّا الْحلم فاختبرت حلمه الْيَوْم فَوَجَدته كَمَا وصف فِي التَّوْرَاة فَأسلم الْيَهُودِيّ وَأهل بَيته
وَأخرج ابو نعيم من طَرِيق يُوسُف بن عبد الله بن سَلام عَن ابيه قَالَ إِنِّي اجد فِي مَا اقْرَأ من الْكتب انه ترفع راية بِمَكَّة الله مَعَ صَاحبهَا وصاحبها مَعَ الله يظهره الله على جَمِيع الْقرى
وَأخرج ابْن سعد وَابْن عَسَاكِر من طَرِيق مُوسَى بن يَعْقُوب الزمعِي عَن سهل مولى
আমি যখনই মুহাম্মাদের চেহারার দিকে তাকিয়েছি, তখনই তাতে নবুওয়াতের সকল নিদর্শন চিনে নিয়েছি; কেবল দুটি নিদর্শন ব্যতীত যা তখনো আমি তাঁর মাঝে পরীক্ষা করিনি: তাঁর সহনশীলতা তাঁর প্রতি করা মূর্খতাপূর্ণ আচরণের ওপর প্রাধান্য পাবে, এবং তাঁর প্রতি চরম মূর্খতাপূর্ণ আচরণ করা হলেও তা কেবল তাঁর সহনশীলতাই বৃদ্ধি করবে। আমি তাঁর সাথে মেলামেশার মাধ্যমে এই সহনশীলতা ও মূর্খতা (ক্রোধের অনুপস্থিতি) পরীক্ষা করার সুযোগ খুঁজছিলাম। অতঃপর আমি একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাঁর কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ খেজুর ক্রয় করলাম এবং তাঁকে তার মূল্য পরিশোধ করলাম। যখন মেয়াদের সময় শেষ হওয়ার দু-তিন দিন বাকি ছিল, তখন আমি তাঁর কাছে আসলাম এবং তাঁর জামা ও চাদর শক্ত করে ধরলাম। আমি কঠোর ও কর্কশ দৃষ্টিতে তাঁর দিকে তাকিয়ে বললাম: হে মুহাম্মাদ! তুমি কি আমার প্রাপ্য পরিশোধ করবে না? আল্লাহর কসম, আমি জানি যে হে আব্দুল মুত্তালিবের বংশধরেরা, তোমরা পাওনা পরিশোধে গড়িমসি করে থাকো। তোমাদের সাথে মেলামেশার কারণে আমার এ বিষয়ে পূর্বেই জানাশোনা ছিল। তখন উমর ইবনুল খাত্তাব বললেন: হে আল্লাহর শত্রু! তুমি আল্লাহর রাসূলের সাথে এমন কথা বলছ যা আমি শুনছি? আল্লাহর কসম, যদি আমি সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা না করতাম, তবে আমার তলোয়ার দিয়ে তোমার মস্তক দ্বিখণ্ডিত করে দিতাম। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত প্রশান্তি ও ধীরস্থিরতার সাথে উমরের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন। অতঃপর তিনি বললেন: হে উমর! আমাদের দুজনের জন্য তোমার কাছে অন্যরূপ আচরণ কাম্য ছিল; তা হলো তুমি আমাকে সুন্দরভাবে পাওনা পরিশোধের নির্দেশ দিতে আর তাকে সুন্দরভাবে পাওনা আদায়ের তাকিদ দিতে। হে উমর, তাকে নিয়ে যাও এবং তার পাওনা পরিশোধ করো এবং তাকে আতঙ্কিত করার বিনিময়ে আরও বিশ সা' খেজুর বৃদ্ধি করে দাও। উমর তাই করলেন। তখন আমি বললাম: হে উমর! যখনই আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারার দিকে তাকিয়েছি, তখনই নবুওয়াতের সকল নিদর্শন চিনে নিয়েছি; কেবল দুটি নিদর্শন ব্যতীত যা আমি তাঁর মাঝে পরীক্ষা করিনি—তাঁর সহনশীলতা তাঁর প্রতি করা মূর্খতাপূর্ণ আচরণের ওপর প্রাধান্য পাবে এবং তাঁর প্রতি চরম মূর্খতাপূর্ণ আচরণ করা হলেও তা কেবল তাঁর সহনশীলতাই বৃদ্ধি করবে। এখন আমি তা পরীক্ষা করে নিলাম। তাই আমি তোমাকে সাক্ষী রাখছি যে, আমি আল্লাহকে প্রতিপালক হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মাদকে নবী হিসেবে গ্রহণ করে সন্তুষ্ট হলাম।
ইবনে সাদ যুহরী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, একজন ইহুদি বলেছিলেন: তাওরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যত গুণাবলি বর্ণিত হয়েছে তার সবই আমি তাঁর মাঝে দেখেছি, কেবল সহনশীলতা ব্যতীত। আমি একটি নির্দিষ্ট মেয়াদে তাঁর কাছ থেকে ত্রিশ দিনারের বিনিময়ে খেজুর ক্রয় করলাম... (অতঃপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা উল্লেখ করলেন এবং এর শেষে রয়েছে) তিনি বললেন: হে উমর! আমি যা করেছি তা কেবল এজন্যই করেছি যে, আমি তাওরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সকল বৈশিষ্ট্য প্রত্যক্ষ করেছিলাম, কেবল সহনশীলতা ব্যতীত। আজ আমি তাঁর সেই সহনশীলতা পরীক্ষা করলাম এবং তা তাওরাতের বর্ণনার অবিকল পেলাম। অতঃপর সেই ইহুদি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা ইসলাম গ্রহণ করলেন।
আবু নুআইম ইউসুফ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম-এর সূত্রে তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি যেসব কিতাব পাঠ করি তাতে পেয়েছি যে, মক্কায় একটি পতাকা উত্তোলিত হবে; আল্লাহ তাঁর (সেই পতাকাধারীর) সাথে থাকবেন এবং তিনি আল্লাহর সাথে থাকবেন। আল্লাহ তাঁকে সকল জনপদের ওপর বিজয়ী করবেন।
ইবনে সাদ এবং ইবনে আসাকির মূসা ইবনে ইয়াকুব আল-যামআঈ-এর সূত্রে সাহল মাওলা থেকে বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইসুল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
غثيمة انه كَانَ نَصْرَانِيّا من اهل مريس وَكَانَ يَتِيما فِي حجر عَمه قَالَ فَأخذت الْإِنْجِيل فَقَرَأته حَتَّى مرت بِي ورقة ملصقة بغرى ففتقتها فَوجدت فِيهَا نعت مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم انه لَا قصير وَلَا طَوِيل أَبيض ذُو ضفرين بَين كَتفيهِ خَاتم يكثر الاحتباء وَلَا يقبل الصَّدَقَة ويركب الْحمار وَالْبَعِير ويحتلب الشَّاة ويلبس قَمِيصًا مرقوعا وَمن فعل ذَلِك فقد برِئ من الْكبر وَهُوَ يفعل ذَلِك وَهُوَ من ذُرِّيَّة اسماعيل اسْمه احْمَد قَالَ سهل فَلَمَّا انْتَهَيْت إِلَى هَذَا من ذكر مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم جَاءَ عمي فَلَمَّا رأى الورقة ضَرَبَنِي وَقَالَ مَا لَك وَفتح هَذِه الورقة وقراءتها فَقلت فِيهَا نعت النَّبِي أَحْمد فَقَالَ إِنَّه لم يَأْتِ بعد
وَأخرج الْبَيْهَقِيّ من طَرِيق عمر بن الحكم بن رَافع بن سِنَان قَالَ حَدثنِي بعض عمومتي وآبائي انه كَانَت عِنْدهم ورقة يتوارثونها فِي الْجَاهِلِيَّة حَتَّى جَاءَ الاسلام فَلَمَّا قدم النَّبِي صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَة أَتَوْهُ بهَا مَكْتُوب فِيهَا بِسم الله وَقَوله الْحق وَقَول الظَّالِمين فِي تباب هَذَا الذّكر لأمة تَأتي فِي آخر الزَّمَان يسبلون أَطْرَافهم ويأتزرون على اوساطهم ويخوضون الْبحار إِلَى اعدائهم فيهم صَلَاة لَو كَانَت فِي قوم نوح مَا أهلكوا بالطوفان وَفِي عَاد مَا اهلكوا بِالرِّيحِ وَفِي ثَمُود مَا اهلكوا بالصيحة فَعجب النَّبِي صلى الله عليه وسلم لما فِيهَا لما قُرِئت عَلَيْهِ
وَأخرج ابْن مندة فِي الصَّحَابَة عَن أنس أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ بَعَثَنِي الله هدى وَرَحْمَة للْعَالمين وبعثني لأمحو المزامير وَالْمَعَازِف فَقَالَ أَوْس بن سمْعَان وَالَّذِي بَعثك بِالْحَقِّ إِنِّي لأجدها فِي التَّوْرَاة كَذَلِك
وَأخرج الْبَيْهَقِيّ وَأَبُو نعيم عَن كَعْب الْأَحْبَار انه سمع رجلا يَقُول رَأَيْت فِي الْمَنَام كَأَن النَّاس جمعُوا لِلْحسابِ فدعي الْأَنْبِيَاء فجَاء مَعَ كل نَبِي أمته وَرَأى لكل نَبِي نورين وَلكُل من اتبعهُ نورا يمشي بِهِ فدعي مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم فَإِذا لكل شَعْرَة فِي رَأسه وَوَجهه نور على حِدة يُثبتهُ من نظر إِلَيْهِ وَلكُل من اتبعهُ نوران يمشي بهما كنور
গাসাইমাহ হতে বর্ণিত যে, তিনি মারিস অঞ্চলের অধিবাসীদের মধ্যে একজন খ্রিস্টান ছিলেন এবং তিনি তাঁর চাচার তত্ত্বাবধানে এক ইয়াতীম হিসেবে লালিত-পালিত হচ্ছিলেন। তিনি বলেন, আমি ইঞ্জিল হাতে নিলাম এবং তা পাঠ করলাম। একপর্যায়ে আমি আঠা দিয়ে লাগানো একটি পাতার দেখা পেলাম। আমি তা খুলে ফেললাম এবং তাতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গুণাবলি দেখতে পেলাম যে, তিনি অধিক খাটোও নন এবং অধিক লম্বাও নন, তিনি উজ্জ্বল শ্বেত বর্ণের, তাঁর মাথার চুলে দুটি বিনুনি রয়েছে এবং তাঁর দুই কাঁধের মাঝখানে মোহরে নবুওয়াত রয়েছে। তিনি অধিকাংশ সময় দুই হাঁটু খাড়া করে বসে হাত দিয়ে পেঁচিয়ে ধরে বসেন, তিনি সদকা গ্রহণ করেন না, গাধা ও উটের পিঠে আরোহণ করেন, ছাগলের দুধ দোহন করেন এবং তালি লাগানো জামা পরিধান করেন। আর যে ব্যক্তি এমনটি করবে সে অহংকার থেকে মুক্ত হবে; আর তিনি তা করেন। তিনি ইসমাইল আলাইহিস সালাম-এর বংশধর এবং তাঁর নাম আহমদ। সাহল বলেন, যখন আমি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বর্ণনার এই অংশে পৌঁছলাম, তখন আমার চাচা এলেন। তিনি যখন পাতাটি দেখলেন, আমাকে প্রহার করলেন এবং বললেন, "তোমার কী হয়েছে যে এই পাতাটি খুললে এবং পড়লে?" আমি বললাম, এতে নবী আহমদের গুণাবলি রয়েছে। তিনি বললেন, "তিনি এখনও আসেননি।"
বায়হাকী উমর ইবনে হাকাম ইবনে রাফে ইবনে সিনান-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার জনৈক চাচা ও পিতৃপুরুষগণ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তাঁদের কাছে একটি চিরকুট ছিল যা জাহেলিয়াতের যুগ থেকে তাঁরা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়ে আসছিলেন। যখন ইসলাম আসলো এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় আগমন করলেন, তখন তারা সেটি নিয়ে তাঁর কাছে আসলেন। তাতে লেখা ছিল: আল্লাহর নামে শুরু করছি, তাঁর কথা সত্য এবং জালেমদের কথা ধ্বংসের মধ্যে রয়েছে। এই আলোচনা শেষ যামানায় আসা এমন এক উম্মতের জন্য যারা তাদের লুঙ্গির প্রান্ত ঝুলিয়ে রাখে এবং কোমরে ইজার বাঁধে। তারা তাদের শত্রুদের মোকাবেলায় সমুদ্র পাড়ি দেবে। তাদের মধ্যে এমন একটি সালাত থাকবে যা যদি নূহের কওমের মধ্যে থাকত তবে তারা প্লাবনে ধ্বংস হতো না, আ'দ জাতির মধ্যে থাকলে তারা প্রচণ্ড বাতাসে ধ্বংস হতো না এবং সামূদ জাতির মধ্যে থাকলে তারা মহানাদে ধ্বংস হতো না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সামনে যখন এটি পাঠ করা হলো তখন এর বিষয়বস্তু দেখে বিস্ময় প্রকাশ করলেন।
ইবনে মানদাহ 'আস-সাহাবাহ' গ্রন্থে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ আমাকে বিশ্বজগতের জন্য হিদায়াত ও রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছেন এবং আমাকে বাঁশি ও বাদ্যযন্ত্র নির্মূল করার জন্য পাঠিয়েছেন। তখন আউস ইবনে সামআন বললেন, "যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন তাঁর কসম, আমি তাওরাতেও অনুরূপ পেয়েছি।"
বায়হাকী ও আবু নুআঈম কাব আল-আহবার থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এক ব্যক্তিকে বলতে শুনেছেন: "আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন হাশরের ময়দানে মানুষের হিসাবের জন্য সমবেত করা হয়েছে। অতঃপর নবীদের ডাকা হলো এবং প্রত্যেক নবীর সাথে তাঁর উম্মত আসলো। তিনি দেখলেন প্রত্যেক নবীর জন্য দুটি করে নূর রয়েছে এবং যারা তাঁর অনুসরণ করেছে তাদের প্রত্যেকের জন্য একটি করে নূর রয়েছে যার মাধ্যমে তারা চলাচল করছে। অতঃপর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ডাকা হলো এবং দেখা গেল তাঁর মাথার প্রতিটি চুলে এবং তাঁর চেহারায় আলাদা আলাদা নূর রয়েছে যা তাঁর দিকে তাকানো ব্যক্তিকে স্থির করে দেয়। আর তাঁর অনুসারীদের প্রত্যেকের জন্য দুটি করে নূর রয়েছে যা নিয়ে তারা নূরের ন্যায় চলাচল করছে।"
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইসুল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الْأَنْبِيَاء فَقَالَ كَعْب بِاللَّه الَّذِي لَا إِلَه إِلَّا هُوَ لقد رَأَيْت هَذَا فِي مَنَامك قَالَ نعم قَالَ وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ إِنَّهَا لصفة مُحَمَّد وَأمته وَصفَة الْأَنْبِيَاء واممها فِي كتاب الله لكَأَنَّمَا قَرَأَهُ من التَّوْرَاة
وَأخرج ابْن عساكرعن ابْن مَسْعُود قَالَ خَمْسَة بشر بهم قبل ان يَكُونُوا إِسْحَاق وَيَعْقُوب {فبشرناها بِإسْحَاق وَمن وَرَاء إِسْحَاق يَعْقُوب} وَيحيى {أَن الله يبشرك بِيَحْيَى} وَعِيسَى {إِن الله يبشرك بِكَلِمَة مِنْهُ} وَمُحَمّد صلى الله عليه وسلم {وَمُبشرا برَسُول يَأْتِي من بعدِي اسْمه أَحْمد} فَهَؤُلَاءِ اخبر بهم من قبل أَن يَكُونُوا
وَأخرج أَبُو نعيم فِي الْحِلْية عَن وهب قَالَ كَانَ فِي بني اسرائيل رجل عصى الله مِائَتي سنة ثمَّ مَاتَ فَأَخَذُوهُ فألقوه على مزبلة فَأوحى الله إِلَى مُوسَى ان اخْرُج فصل عَلَيْهِ قَالَ يَا رب بَنو اسرائيل شهدُوا انه عصاك مِائَتي سنة فَأوحى الله إِلَيْهِ هَكَذَا كَانَ إِلَّا أَنه كَانَ كلما نشر التَّوْرَاة وَنظر إِلَى اسْم مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم قبله وَوَضعه على عَيْنَيْهِ وَصلى عَلَيْهِ فَشَكَرت لَهُ ذَلِك وغفرت ذنُوبه وَزَوجته سبعين حوراء
وَأخرج ابْن سعد عَن ابي هُرَيْرَة قَالَ أَتَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بَيت الْمدَارِس فَقَالَ أخرجُوا إِلَيّ أعلمكُم فَقَالُوا عبد الله بن صوريا فَخَلا بِهِ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَنَاشَدَهُ بِدِينِهِ وَبِمَا أنعم الله بِهِ عَلَيْهِم وأطعمهم من الْمَنّ والسلوى وظللهم بِهِ من الْغَمَام أتعلم أَنِّي رَسُول الله قَالَ اللَّهُمَّ نعم وَإِن الْقَوْم ليعرفون مَا أعرف وان صِفَتك ونعتك لمبين فِي التَّوْرَاة وَلَكنهُمْ حسدوك قَالَ فَمَا يمنعك انت قَالَ اكره خلاف قومِي وَعَسَى ان يتبعوك ويسلموا فَأسلم
নবীদের। তখন কা'ব বললেন, সেই আল্লাহর শপথ যিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, নিশ্চয়ই আপনি এটি আপনার স্বপ্নে দেখেছেন। তিনি বললেন, হ্যাঁ। কা'ব বললেন, যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ, এটি আল্লাহর কিতাবে মুহাম্মদ ও তাঁর উম্মতের বৈশিষ্ট্য এবং নবীদের ও তাঁদের উম্মতদের বৈশিষ্ট্য, যেন তিনি তা তাওরাত থেকেই পাঠ করেছেন।
ইবনে আসাকির ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: পাঁচজন ব্যক্তির ব্যাপারে তারা অস্তিত্বে আসার পূর্বেই সুসংবাদ প্রদান করা হয়েছিল—ইসহাক ও ইয়াকুব: {অতঃপর আমি তাকে সুসংবাদ দিলাম ইসহাকের এবং ইসহাকের পরে ইয়াকুবের}, ইয়াহইয়া: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে ইয়াহইয়ার সুসংবাদ দিচ্ছেন}, ঈসা: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে তাঁর পক্ষ থেকে একটি কালেমার সুসংবাদ দিচ্ছেন}, এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম): {এবং এমন একজন রাসূলের সুসংবাদদাতা হিসেবে যিনি আমার পরে আসবেন, যাঁর নাম হবে আহমদ}। সুতরাং এঁদের ব্যাপারে তাঁরা সৃষ্টি হওয়ার পূর্বেই সংবাদ দেওয়া হয়েছিল।
আবু নুয়াইম 'হিলইয়া' গ্রন্থে ওহাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বনী ইসরাঈলের মাঝে এক ব্যক্তি ছিল যে দুইশ বছর আল্লাহর অবাধ্যতা করেছিল। অতঃপর সে মারা গেলে তারা তাকে নিয়ে একটি আবর্জনার স্তূপে নিক্ষেপ করল। তখন আল্লাহ মূসার প্রতি ওহী পাঠালেন যে, 'বেরিয়ে যাও এবং তার জানাযার সালাত আদায় করো।' তিনি বললেন, 'হে রব! বনী ইসরাঈল সাক্ষ্য দিচ্ছে যে সে দুইশ বছর আপনার অবাধ্যতা করেছে।' তখন আল্লাহ তাঁর প্রতি ওহী পাঠালেন, 'বিষয়টি এমনই ছিল, কিন্তু সে যখনই তাওরাত খুলত এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নামের দিকে তাকাত, তখন সে তা চুম্বন করত এবং নিজের চোখের ওপর রাখত ও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠাত। তাই আমি তার এই কাজের কদর করেছি এবং তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিয়েছি আর সত্তরজন হুরকে তার সাথে বিবাহ দিয়েছি।'
ইবনে সা'দ আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) 'বায়তুল মাদারিস'-এ (ইহুদিদের শিক্ষালয়) আসলেন এবং বললেন, 'তোমাদের মাঝে সবচেয়ে বড় আলেমকে আমার কাছে বের করে দাও।' তারা বলল, 'আব্দুল্লাহ ইবনে সুরিয়া'। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার সাথে একান্তে বসলেন এবং তাকে তার দ্বীনের কসম দিলেন এবং আল্লাহ তাদের ওপর যে অনুগ্রহ করেছেন, তাদের মান্না ও সালওয়া খাইয়েছেন এবং মেঘমালা দিয়ে ছায়া দান করেছেন—তার কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি কি জানো যে আমি আল্লাহর রাসূল?' সে বলল, 'হে আল্লাহ, হ্যাঁ। এবং এই সম্প্রদায় তা-ই জানে যা আমি জানি। আপনার গুণ ও বৈশিষ্ট্য তাওরাতে স্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে, কিন্তু তারা আপনার প্রতি হিংসা পোষণ করে।' তিনি বললেন, 'তবে তোমাকে কিসে বাধা দিচ্ছে?' সে বলল, 'আমি আমার সম্প্রদায়ের বিরোধিতা করা অপছন্দ করি। আশা করা যায় তারা আপনার অনুসরণ করবে এবং ইসলাম গ্রহণ করবে।' অতঃপর সে ইসলাম গ্রহণ করল।
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইসুল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وَأخرج احْمَد وَابْن سعد عَن أبي صَخْر الْعقيلِيّ قَالَ حَدثنِي رجل من الْأَعْرَاب قَالَ مر رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بِيَهُودِيٍّ مَعَه سفر فِيهِ التَّوْرَاة يقْرؤهَا على ابْن لَهُ مَرِيض فَقَالَ لَهُ النَّبِي صلى الله عليه وسلم يَا يَهُودِيّ نشدتك بِالَّذِي انْزِلْ التَّوْرَاة على مُوسَى أتجد فِي توراتك نعتي وصفتي ومخرجي فَأَوْمأ بِرَأْسِهِ ان لَا فَقَالَ ابْنه لكني أشهد بِالَّذِي أنزل التَّوْرَاة على مُوسَى انه ليجد نعتك وزمانك وصفتك ومخرجك فِي كِتَابه وَأَنا اشْهَدْ ان لَا إِلَه إِلَّا الله وانك رَسُول الله فَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم اقيموا الْيَهُودِيّ عَن صَاحبكُم وَقبض الْفَتى فصلى عَلَيْهِ النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَأخرج الْبَيْهَقِيّ نَحوه من حَدِيث أنس وَابْن مَسْعُود
وَأخرج ابْن سعد من طَرِيق الْكَلْبِيّ عَن أبي صَالح عَن ابْن عَبَّاس قَالَ بعثت قُرَيْش النَّضر بن الْحَارِث وَعقبَة بن ابي معيط وَغَيرهمَا إِلَى يهود يثرب وَقَالُوا لَهُم سلوهم عَن مُحَمَّد فقدموا الْمَدِينَة فَقَالُوا أَتَيْنَاكُم لأمر حدث فِينَا منا غُلَام يَتِيم حقير يَقُول قولا عَظِيما يزْعم انه رَسُول الرَّحْمَن قَالُوا صفوا لنا صفته فوصفوا لَهُم قَالُوا فَمن تبعه مِنْكُم قَالُوا سفلتنا فَضَحِك حبر مِنْهُم وَقَالَ هَذَا النَّبِي الَّذِي نجد نَعته ونجد قومه أَشد النَّاس لَهُ عَدَاوَة
وَأخرج الْحَاكِم وَالْبَيْهَقِيّ وَابْن عَسَاكِر عَن عَليّ بن ابي طَالب ان يَهُودِيّا كَانَ لَهُ على رَسُول الله صلى الله عليه وسلم دَنَانِير فتقاضى النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُ مَا عِنْدِي مَا أَعطيتك قَالَ فَإِنِّي لَا افارقك يَا مُحَمَّد حَتَّى تُعْطِينِي قَالَ إِذا اجْلِسْ مَعَك فَجَلَسَ مَعَه فصلى النَّبِي صلى الله عليه وسلم الظّهْر وَالْعصر وَالْمغْرب وَالْعشَاء والغداة وَكَانَ اصحاب النَّبِي صلى الله عليه وسلم يتهددون الْيَهُودِيّ ويتوعدونه فَقَالُوا يَا رَسُول الله يَهُودِيّ يحبسك قَالَ مَنَعَنِي رَبِّي ان اظلم معاهدا وَلَا غَيره فَلَمَّا ترجل النَّهَار أسلم الْيَهُودِيّ وَقَالَ شطر مَالِي فِي سَبِيل الله أما وَالله مَا فعلت الَّذِي فعلت بك إِلَّا لأنظر إِلَى نعتك فِي التَّوْرَاة مُحَمَّد بن عبد الله مولده بِمَكَّة وَمُهَاجره بِطيبَة وَملكه بِالشَّام لَيْسَ بِفَظٍّ وَلَا غليظ وَلَا صخاب فِي الاسواق وَلَا متزين بالفحشاء وَلَا قَوَّال للخنا
ইমাম আহমাদ ও ইবনে সাদ আবু সাখর আল-আকিলি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, এক মরুবাসী আমাকে জানিয়েছেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক ইয়াহুদির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যার কাছে তাওরাত সম্বলিত একটি কিতাব ছিল। সে তার এক অসুস্থ ছেলের সামনে সেটি পাঠ করছিল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন, "হে ইয়াহুদি! যিনি মুসার ওপর তাওরাত অবতীর্ণ করেছেন তাঁর কসম দিয়ে আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করছি, তুমি কি তোমার তাওরাতে আমার গুণাবলি, বৈশিষ্ট্য এবং আমার আবির্ভাবস্থল খুঁজে পাও?" সে তার মাথা নেড়ে না সূচক ইশারা করল। তখন তার ছেলে বলল, "কিন্তু আমি সেই সত্তার সাক্ষ্য দিচ্ছি যিনি মুসার ওপর তাওরাত অবতীর্ণ করেছেন যে, তিনি অবশ্যই আপনার গুণাবলি, সময়, বৈশিষ্ট্য এবং আবির্ভাবস্থল তাঁর কিতাবে খুঁজে পান। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আপনি আল্লাহর রাসুল।" তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, "তোমাদের এই ইয়াহুদি সঙ্গীকে সরিয়ে দাও (অর্থাৎ তার জানাজার ব্যবস্থা করো)।" অতঃপর কিশোরটি ইন্তেকাল করল এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার জানাজা পড়ালেন। বায়হাকিও আনাস এবং ইবনে মাসউদ থেকে অনুরুপ হাদিস বর্ণনা করেছেন।
ইবনে সাদ কালবির সূত্রে আবু সালেহ থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, কুরাইশরা নজর ইবনুল হারিস এবং উকবা ইবনে আবি মুআইতসহ আরও কয়েকজনকে ইয়াসরিবের ইয়াহুদিদের কাছে পাঠাল এবং তাদের বলল যে, তোমরা তাদের মুহাম্মদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো। তারা মদিনায় এসে বলল, "আমরা তোমাদের কাছে একটি বিষয়ের জন্য এসেছি যা আমাদের মধ্যে নতুন করে ঘটেছে। আমাদের মধ্য থেকে একজন অনাথ দরিদ্র যুবক এক গুরুতর কথা বলছে এবং দাবি করছে যে সে রহমানের রাসুল।" ইয়াহুদিরা বলল, "আমাদের কাছে তার বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করো।" তারা তার বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করল। ইয়াহুদিরা জিজ্ঞেস করল, "তোমাদের মধ্য থেকে কারা তার অনুসরণ করছে?" তারা বলল, "আমাদের নিচুতলার সাধারণ মানুষেরা।" তখন তাদের এক আলেম হেসে উঠলেন এবং বললেন, "এ-ই সেই নবী যাঁর গুণাবলি আমরা কিতাবে পাই এবং আমরা আরও পাই যে তাঁর আপন সম্প্রদায়ই হবে তাঁর চরম শত্রু।"
হাকেম, বায়হাকি এবং ইবনে আসাকির আলী ইবনে আবি তালিব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক ইয়াহুদি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে কিছু স্বর্ণমুদ্রা (দিনার) পেত। সে নবীর কাছে পাওনা পরিশোধের দাবি জানাল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন, "তোমাকে দেওয়ার মতো কিছু এই মুহূর্তে আমার কাছে নেই।" সে বলল, "হে মুহাম্মদ! যতক্ষণ আপনি আমাকে আমার পাওনা না দেবেন ততক্ষণ আমি আপনাকে ছেড়ে যাব না।" তিনি বললেন, "তবে আমি তোমার সাথে বসব।" অতঃপর তিনি তার সাথে বসলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেখানে জোহর, আসর, মাগরিব, এশা এবং ফজর পর্যন্ত সালাত আদায় করলেন। নবীর সাহাবিগণ সেই ইয়াহুদিকে ভয় দেখাচ্ছিলেন এবং ধমক দিচ্ছিলেন। তারা বললেন, "হে আল্লাহর রাসুল! এক ইয়াহুদি আপনাকে আটকে রেখেছে?" তিনি বললেন, "আমার রব আমাকে কোনো চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তি বা অন্য কারও ওপর জুলুম করতে নিষেধ করেছেন।" যখন দিন অনেকটা গড়াল, তখন ইয়াহুটি ইসলাম গ্রহণ করল এবং বলল, "আমার সম্পদের অর্ধেক আল্লাহর রাস্তায় দান করলাম। আল্লাহর কসম! আমি আপনার সাথে যা করেছি তা কেবল তাওরাতে আপনার বর্ণিত গুণাবলি মিলিয়ে দেখার জন্যই করেছি—মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ, যাঁর জন্ম মক্কায়, হিজরত মদিনায় এবং রাজত্ব সিরিয়ায়; তিনি রূঢ় বা কঠোর স্বভাবের নন, হাটে-বাজারে শোরগোলকারী নন, অশ্লীলতায় লিপ্ত নন এবং মন্দ কথা বলেন না।"
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইসুল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وَأخرج التِّرْمِذِيّ وَحسنه عَن عبد الله بن سَلام قَالَ مَكْتُوب فِي التَّوْرَاة صفة مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم وَعِيسَى بن مَرْيَم يدْفن مَعَه
واخرج ابو الشَّيْخ فِي تَفْسِيره عَن سعيد بن جُبَير قَالَ قَالَ الَّذين آمنُوا من اصحاب النَّجَاشِيّ للنجاشي ائْذَنْ لنا فلنأت هَذَا النَّبِي الَّذِي كُنَّا نجده فِي الْكتاب فَأتوا فأسلموا فَشَهِدُوا أحدا
وَأخرج الزبير بن بكار فِي أَخْبَار الْمَدِينَة عَن كَعْب قَالَ إِن فِي كتاب الله الَّذِي انْزِلْ على مُوسَى ان الله قَالَ للمدينة يَا طيبَة يَا طابة يَا مسكينة لَا تقبلي الْكُنُوز ارْفَعْ أجاجيرك على أجاجير الْقرى
وَأخرج عَن الْقَاسِم بن مُحَمَّد قَالَ بَلغنِي أَن للمدينة فِي التَّوْرَاة أَرْبَعِينَ اسْما
بَاب أَخْبَار الاحبار والرهبان بِهِ قبل مبعثه
أخرج الْحَاكِم وَالْبَيْهَقِيّ عَن سلمَان الْفَارِسِي أَنه سُئِلَ كَيفَ كَانَ اول اسلامك قَالَ كنت يَتِيما من رام هُرْمُز وَكَانَ أبي دهقان رام هُرْمُز يخْتَلف إِلَى معلم يُعلمهُ فَلَزِمته لأَكُون فِي كنفه وَكَانَ لي اخ أكبر مني وَكَانَ مستغنيا بِنَفسِهِ وَكنت غُلَاما فَقِيرا فَكَانَ إِذا قَامَ من مَجْلِسه تفرق من يحفظه فَإِذا تفَرقُوا خرج فتقنع بِثَوْبِهِ ثمَّ صعد الْجَبَل فَكَانَ يفعل ذَلِك غير مرّة متنكرا فَقلت لَهُ أما إِنَّك تفعل كَذَا وَكَذَا فَلم لَا تذْهب بِي مَعَك قَالَ انت غُلَام وأخاف أَن يظْهر مِنْك شَيْء قلت لَا تخف قَالَ فَإِن فِي هَذَا الْجَبَل قوما لَهُم عبَادَة وَصَلَاح يذكرُونَ الله ويذكرون الْآخِرَة يَزْعمُونَ انا عَبدة النيرَان وَعَبدَة الْأَوْثَان وَأَنا عل غير دين قلت فَاذْهَبْ بِي مَعَك إِلَيْهِم قَالَ حَتَّى استأمرهم فاستأمرهم فَقَالُوا جِيءَ بِهِ فَذَهَبت مَعَه فانتهيت اليهم فَإِذا هم سِتَّة
ইমাম তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে হাসান (উত্তম) বলেছেন আবদুল্লাহ ইবনে সালাম থেকে, তিনি বলেন: তাওরাতে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গুণাবলী এবং ঈসা ইবনে মারইয়াম তাঁর সাথে সমাহিত হবেন—একথা লিখিত আছে।
আবু আশ-শাইখ তাঁর তাফসীরে সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নাজাশীর সঙ্গীদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছিলেন তারা নাজাশীকে বললেন, "আমাদের অনুমতি দিন যাতে আমরা এই নবীর কাছে যেতে পারি যাঁকে আমরা কিতাবে (ভবিষ্যদ্বাণী) পেয়েছিলাম।" অতঃপর তারা আসলেন, ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং ওহুদ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করলেন।
যুবায়ের ইবনে বাক্কার 'আখবারুল মদিনা'-এ কাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর কিতাব যা মূসার ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল তাতে রয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা মদিনাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: "হে তাইবাহ, হে তাবাহ, হে মিসকিনাহ! তুমি ধন-ভাণ্ডার গ্রহণ করো না। তোমার অট্টালিকা বা ছাদসমূহকে অন্যান্য জনপদ বা গ্রামের ছাদগুলোর চেয়ে উচ্চ করো।"
আল-কাসিম ইবনে মুহাম্মদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তাওরাতে মদিনার চল্লিশটি নাম রয়েছে।
পরিচ্ছেদ: তাঁর নবুয়ত প্রাপ্তির পূর্বে যাজক ও পাদ্রীদের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সংবাদসমূহ
ইমাম হাকেম ও বায়হাকী সালমান আল-ফারসী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল তাঁর ইসলাম গ্রহণের সূচনা কীভাবে হয়েছিল? তিনি বলেন: আমি রাম হুরমুজের একজন পিতৃহীন বালক ছিলাম। আমার পিতা রাম হুরমুজের একজন দেহকান (ভূস্বামী) ছিলেন এবং তিনি একজন শিক্ষকের নিকট যাতায়াত করতেন যিনি তাঁকে শিক্ষা দিতেন। আমি তাঁর সান্নিধ্যে থাকার জন্য তাঁর সাথে লেগে থাকতাম। আমার এক বড় ভাই ছিল যে নিজের ব্যাপারে স্বাবলম্বী ছিল, আর আমি ছিলাম একজন দরিদ্র বালক। শিক্ষক যখন তাঁর মজলিস থেকে উঠতেন তখন তাঁর পাহারাদার বা ছাত্ররা চলে যেত। তারা চলে গেলে তিনি নিজের কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে পাহাড়ের উপরে উঠে যেতেন। তিনি ছদ্মবেশে কয়েকবার এমনটি করেছিলেন। তখন আমি তাঁকে বললাম, "আপনি তো এমন এমন কাজ করেন, আমাকে কেন আপনার সাথে নিয়ে যান না?" তিনি বললেন, "তুমি ছোট বালক, আমি আশঙ্কা করি তোমার থেকে কোনো গোপন বিষয় প্রকাশ হয়ে পড়ে কি না।" আমি বললাম, "আশঙ্কা করবেন না।" তিনি বললেন, "এই পাহাড়ে একদল লোক আছে যাদের ইবাদত ও নেক আমল রয়েছে। তারা আল্লাহর জিকির করে এবং আখেরাতের কথা স্মরণ করে। তারা মনে করে যে আমরা অগ্নি উপাসক ও মূর্তিপূজারী এবং আমি তাদের থেকে ভিন্ন দ্বীনের ওপর আছি।" আমি বললাম, "আমাকে আপনার সাথে তাদের কাছে নিয়ে চলুন।" তিনি বললেন, "দাঁড়াও আমি তাদের থেকে অনুমতি নেই।" অতঃপর তিনি তাদের অনুমতি চাইলেন এবং তারা বলল, "তাকে নিয়ে এসো।" এরপর আমি তাঁর সাথে গেলাম এবং তাদের কাছে পৌঁছালাম। আমি দেখলাম তারা সেখানে ছয়জন ছিলেন।