(খণ্ড: ১)
আশ-শামাইলুশ শারীফাহ - মুস্তাললুন মিন ফায়দিল কাদীর লিল-মুনাওয়ী
(পৃষ্ঠা: -)
الشمائل الشريفة - مستل من فيض القدير للمناوي القسم: السيرة النبوية
الكتاب: الشمائل الشريفة
[وهو إفراد لباب الشمائل النبوية (كان. . .) من «الجامع الصغير» للسيوطي وشرحه «فيض القدير» للمناوي]
أفرده بالطبع وقدم له: حسن بن عبيد باحبيشي
الناشر: دار العلم، جدة - السعودية
الطبعة: الأولى، 1412 هـ - 1991 م
عدد الصفحات: 376
تنبيه: ملحق بآخر المطبوع جدول مقارنة بين تصحيح السيوطي والألباني لأحاديث هذا الباب، وليس ضمن هذه النسخة الإلكترونية
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আশ-শামায়েলুশ শারিফাহ - মুনাবীর ‘ফায়জুল কাদির’ থেকে সংগৃহীত বিভাগ: সিরাতুন নবী
গ্রন্থ: আশ-শামায়েলুশ শারিফাহ
[এটি সুয়ূতী রচিত ‘আল-জামিউস সগির’ এর নবীজীর বৈশিষ্ট্য (তিনি ছিলেন. . .) অধ্যায়ের একটি স্বতন্ত্র সংকলন এবং মুনাবীর এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘ফায়জুল কাদির’ হতে সংগৃহীত]
স্বতন্ত্রভাবে মুদ্রণ ও ভূমিকা প্রদান: হাসান বিন উবাইদ বাহুবাইশি
প্রকাশক: দারুল ইলম, জেদ্দা - সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১২ হিজরি - ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৭৬
দ্রষ্টব্য: মুদ্রিত কপির শেষে এই অধ্যায়ের হাদিসসমূহের ক্ষেত্রে সুয়ূতী এবং আলবানীর তাহকিকের (হাদিস বিশুদ্ধকরণ) একটি তুলনামূলক ছক সংযুক্ত রয়েছে, যা এই ইলেকট্রনিক সংস্করণে অন্তর্ভুক্ত নয়।
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আশ-শামাইলুশ শারীফাহ - মুস্তাললুন মিন ফায়দিল কাদীর লিল-মুনাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
(تَعْرِيف بِالْإِمَامِ الْمَنَاوِيّ «952 - 1031 هـ = 1545 - 1622 م» )
مُحَمَّد عبد الرؤوف بن تَاج العارفين ابْن عَليّ بن زيد العابدين الحدادي ثمَّ الْمَنَاوِيّ القاهري، زين الدّين: من كبار الْعلمَاء بِالدّينِ والفنون. انزوى للبحث والتصنيف، وَكَانَ قَلِيل الطَّعَام كثير السهر، فَمَرض وضعفت أَطْرَافه، فَجعل وَلَده تَاج الدّين مُحَمَّد يستملي مِنْهُ تآليفه. لَهُ نَحْو ثَمَانِينَ مصنفا، مِنْهَا الْكَبِير وَالصَّغِير والتام والناقص، عَاشَ فِي الْقَاهِرَة، وَتُوفِّي بهَا، من كتبه «كنوز الْحَقَائِق - ط» فِي الحَدِيث، و «التَّيْسِير - ط» فِي شرح الْجَامِع الصَّغِير مجلدان، اخْتَصَرَهُ من شَرحه الْكَبِير «فيض - الْقَدِير - ط» وَشرح «الشَّمَائِل لِلتِّرْمِذِي - ط» و «الْكَوَاكِب الدرية فِي تراجم السَّادة الصُّوفِيَّة - ط» فِي جزءين و «شرح قصيدة النَّفس، العينية لِابْنِ سينا - ط» و «الْجَوَاهِر المضيئة فِي الْآدَاب السُّلْطَانِيَّة - خَ» و «سيرة عمر بن عبد الْعَزِيز - خَ» و «تيسير الْوُقُوف على غوامض أَحْكَام الْوُقُوف - خَ» و «غَايَة الْإِرْشَاد إِلَى معرفَة أَحْكَام الْحَيَوَان والنبات والجماد - خَ» و «اليواقيت والدرر - خَ» فِي الحَدِيث، و «الفتوحات السبحانية - خَ» فِي شرح ألفية الْعِرَاقِيّ، فِي السِّيرَة النَّبَوِيَّة، و «الصفوة - خَ» فِي مَنَاقِب آل الْبَيْت، و «الطَّبَقَات الصُّغْرَى - خَ» وَيُسمى إرغام أَوْلِيَاء الشَّيْطَان، و «شرح الْقَامُوس الْمُحِيط - خَ» الأول مِنْهُ، و «آدَاب الْأكل وَالشرب - خَ» و «الدّرّ المنضود فِي ذمّ الْبُخْل ومدح الْجُود - خَ» و «التَّوْقِيف على مهمات التعاريف - خَ» ذيل لتعريفات الْجِرْجَانِيّ، و «بغية الْمُحْتَاج فِي معرفَة أصُول الطِّبّ والعلاج» و «تَارِيخ الْخُلَفَاء» و «عماد البلاغة» فِي الْأَمْثَال، وَكتاب فِي «التشريح وَالروح وَمَا بِهِ صَلَاح الْإِنْسَان وفساده» و «إحكام الأساس» اختصر بِهِ أساس البلاغة ورتبه كالقاموس.
(ইমাম আল-মানাওয়ীর পরিচয় «৯৫২ - ১০৩১ হিজরি = ১৫৪৫ - ১৬২২ খ্রিস্টাব্দ» )
মুহাম্মদ আবদুর রউফ ইবনে তাজুল আরিফীন ইবনে আলী ইবনে যাইনুল আবেদীন আল-হাদ্দাদী অতঃপর আল-মানাওয়ী আল-কাহিরাভী, যাইনুদ্দীন: তিনি দ্বীন এবং বিভিন্ন শাস্ত্রের অন্যতম মহান আলেম ছিলেন। তিনি গবেষণা ও গ্রন্থ রচনার জন্য নির্জনতা অবলম্বন করেছিলেন। তিনি অল্প আহার করতেন এবং অধিক রাত জাগতেন। ফলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাঁর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দুর্বল হয়ে যায়। এরপর তিনি তাঁর পুত্র তাজউদ্দীন মুহাম্মদকে তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ লিখে নিতে বলতেন। তাঁর প্রায় আশিটি গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে বড় ও ছোট এবং পূর্ণাঙ্গ ও অপূর্ণাঙ্গ উভয় প্রকার রয়েছে। তিনি কায়রোতে বসবাস করতেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে: ‘কুনুযুল হাকায়িক’ (ছাপা) - হাদীস শাস্ত্র; ‘আত-তায়সীর’ (ছাপা) - ‘আল-জামি আস-সগীর’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ দুই খণ্ডে, যা তিনি তাঁর বৃহৎ ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘ফায়যুল কাদীর’ (ছাপা) থেকে সংক্ষেপ করেছেন; তিরমিযী রচিত ‘আশ-শামাইল’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (ছাপা); ‘আল-কাওয়াকিবুদ দুররিয়্যাহ ফী তারাজিমিস সাদাতিল সুফিয়্যাহ’ (ছাপা) - দুই খণ্ডে; ইবনে সিনার ‘আল-আইনিয়্যাহ’ নামক রূহ বিষয়ক কাসিদার ব্যাখ্যাগ্রন্থ (ছাপা); ‘আল-জাওয়াহিরুল মুদিয়াহ ফীল আদাবিস সুলতানিয়্যাহ’ (পাণ্ডুলিপি); ‘সীরাতে উমর ইবনে আবদুল আযীয’ (পাণ্ডুলিপি); ‘তায়সীরুল উকুফ আলা গাওয়ামিদি আহকামিল উকুফ’ (পাণ্ডুলিপি); ‘গায়াতুল ইরশাদ ইলা মা’রিফাতি আহকামিল হাইওয়ান ওয়ান নাবাত ওয়াল জামাদ’ (পাণ্ডুলিপি); ‘আল-ইয়াওয়াকীত ওয়াদ দুরার’ (পাণ্ডুলিপি) - হাদীস শাস্ত্র; সীরাতে নববী বিষয়ক আল-ইরাকীর ‘আলফিয়্যাহ’-র ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘আল-ফুতুহতুস সুবহানিয়্যাহ’ (পাণ্ডুলিপি); আহলে বাইতের মর্যাদা বিষয়ক ‘আস-সাফওয়াহ’ (পাণ্ডুলিপি); ‘আত-তাবাকাতুস সুগরা’ (পাণ্ডুলিপি), যার নাম ‘ইরগামু আওলিয়াশ শায়তান’; ‘আল-কামুস আল-মুহিত’-এর প্রথম খণ্ডের ব্যাখ্যাগ্রন্থ (পাণ্ডুলিপি); ‘আদাবুল আকলি ওয়াশ শুরব’ (পাণ্ডুলিপি); ‘আদ-দুররুল মানযুদ ফী যাম্মিল বুখলি ওয়া মাদহিল জুদ’ (পাণ্ডুলিপি); ‘আত-তাওকীফ আলা মুহিম্মাতিত তারিফাত’ (পাণ্ডুলিপি) - যা জুরজানীর ‘তারিফাত’-এর পরিশিষ্ট; ‘বুগইয়াতুল মুহতাজ ফী মা’রিফাতি উসুলিত তিব্বি ওয়াল ইলাজ’; ‘তারীখুল খুলাফা’; প্রবাদ বিষয়ক ‘ইমাদুল বালাগা’; ব্যবচ্ছেদবিদ্যা, রূহ এবং মানুষের কল্যাণ ও বিপর্যয় বিষয়ক একটি কিতাব; এবং ‘ইহকামুল আসাস’ যার মাধ্যমে তিনি ‘আসাসুল বালাগা’ সংক্ষেপ করেছেন এবং অভিধানের ন্যায় বিন্যস্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আশ-শামাইলুশ শারীফাহ - মুস্তাললুন মিন ফায়দিল কাদীর লিল-মুনাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
(مُقَدّمَة المُصَنّف) الْحَمد لله الَّذِي بعث على رَأس كل مائَة سنة من يجدد لهَذِهِ الْأمة أَمر دينهَا وَأقَام فِي كل عصر من يحوط هَذِه الْملَّة بتشييد أَرْكَانهَا وتأييد سننها وتبيينها، وَأشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ: شَهَادَة يزيح ظلام الشكوك صبح يقينها، وَأشْهد أَن سيدنَا مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله: الْمَبْعُوث لرفع كلمة الْإِسْلَام وتشييدها، وخفض كلمة الْكفْر وتوهينها صلى الله عليه وسلم، وعَلى آله وَصَحبه لُيُوث الغابة وَأسد عرينها.
(هَذَا كتاب) أودعت فِيهِ من الْكَلم النَّبَوِيَّة الْوَفَاء، وَمن الحكم المصطفوية صنوفا، اقتصرت فِيهِ على الْأَحَادِيث الوجيزة، ولخصت فِيهِ من معادن الْأَثر إبريزة، وبالغت فِي تَحْرِير التَّخْرِيج: فَتركت القشر، وَأخذت اللّبَاب، وصنته عَمَّا تفرد بِهِ وَضاع أَو كَذَّاب، ففاق بذلك الْكتب الْمُؤَلّفَة فِي هَذَا النَّوْع، كالفائق والشهاب، وحوى من نفائس الصِّنَاعَة الحديثية مَا لم يودع قبله فِي كتاب.
(ورتبته) على حُرُوف المعجم، مراعيا أول الحَدِيث فَمَا بعده، تسهيلا على الطلاب.
(وسميته) الْجَامِع الصَّغِير، من حَدِيث البشير النذير، لِأَنَّهُ مقتضب من الْكتاب الْكَبِير الَّذِي سميته " جمع الْجَوَامِع "، وقصدت فِيهِ جمع الْأَحَادِيث النَّبَوِيَّة بأسرها.
وَهَذِه رموزه - (خَ) للْبُخَارِيّ، (م) لمُسلم، (ق) لَهما، (د) لأبي دَاوُد، (ت) لِلتِّرْمِذِي، (ن) للنسائي (هـ) لِابْنِ ماجة، (4) لهَؤُلَاء الْأَرْبَعَة، (3) لَهُم إِلَّا ابْن ماجة، (حم) لِأَحْمَد فِي مُسْنده، (عَم) لِابْنِهِ عبد الله فِي زوائده، (ك) للْحَاكِم: فَإِن كَانَ فِي مُسْتَدْركه أطلقت، وَإِلَّا بَينته، (خد) للْبُخَارِيّ فِي الْأَدَب (تخ) لَهُ فِي التَّارِيخ، (حب) لِابْنِ حبَان فِي صَحِيحه (طب) للطبراني فِي الْكَبِير (طس) لَهُ فِي الْأَوْسَط (طص) لَهُ فِي الصَّغِير، (ص) لسَعِيد بن مَنْصُور فِي سنَنه، (ش) لِابْنِ أبي شيبَة، (عب) لعبد الرَّزَّاق فِي الْجَامِع، (ع) لأبي يعلى فِي مُسْنده، (قطّ) للدارقطني: فَإِن كَانَ فِي السّنَن أطلقت، وَإِلَّا بَينته (فر) للديلمي
(গ্রন্থকারের ভূমিকা) সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি প্রতি একশত বছরের শুরুতে এমন ব্যক্তিকে প্রেরণ করেন যিনি এই উম্মতের জন্য তাদের দ্বীনের বিষয়াবলিকে সংস্কার করেন এবং যিনি প্রতিটি যুগে এমন ব্যক্তিদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন যারা এই মিল্লাতের স্তম্ভসমূহ মজবুত করার এবং এর সুন্নাতসমূহকে শক্তিশালী ও স্পষ্ট করার মাধ্যমে একে হিফাযত করেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; এমন এক সাক্ষ্য যার দৃঢ় বিশ্বাসের প্রভাত সন্দেহের সমস্ত অন্ধকারকে দূরীভূত করে। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল; যিনি ইসলামের বাণীকে সমুন্নত ও সুদৃঢ় করার জন্য এবং কুফরের বাণীকে অবনমিত ও দুর্বল করার জন্য প্রেরিত হয়েছেন। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক, যারা ছিলেন বনের সিংহ ও স্বীয় আবাসের শার্দুল।
(এটি এমন একটি কিতাব) যাতে আমি পর্যাপ্ত পরিমাণ নববী বাণী এবং বিভিন্ন প্রকারের মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হিকমত বা প্রজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করেছি। এতে আমি কেবল সংক্ষিপ্ত হাদীসসমূহের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি এবং আছারের (বর্ণনার) খনিসমূহ থেকে এর খাঁটি নির্যাসটুকু সংক্ষেপে তুলে ধরেছি। আমি এর তাখরীজ বা উৎস বর্ণনার পরিমার্জনে চূড়ান্ত প্রয়াস চালিয়েছি; ফলে আমি অসার অংশ বর্জন করেছি এবং মজ্জা গ্রহণ করেছি। একে আমি এমন বর্ণনাকারী থেকে রক্ষা করেছি যে এককভাবে বর্ণনা করেছে এবং যার কোনো হদিস নেই কিংবা যে মিথ্যাবাদী। এর ফলে এটি এই ধরণের সংকলনের মধ্যে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ যেমন 'আল-ফায়িক' ও 'আশ-শিহাব' এর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে। এটি হাদীস শাস্ত্রের এমন সব সূক্ষ্ম ও মূল্যবান বিষয় ধারণ করেছে যা ইতিপূর্বে কোনো কিতাবে সন্নিবেশিত হয়নি।
(এবং আমি একে বিন্যস্ত করেছি) অভিধানের বর্ণানুক্রমে, যেখানে হাদীসের প্রথম অক্ষর এবং তার পরবর্তী অক্ষরের ক্রম অনুসরণ করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীদের জন্য তা অনুসন্ধান করা সহজ হয়।
(এবং আমি এর নামকরণ করেছি) সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদীসের সংকলন 'আল-জামি আস-সাগীর'; কেননা এটি আমার 'জামি আল-জাওয়ামি' নামক বৃহৎ কিতাব থেকে চয়ন করা হয়েছে, যাতে আমি সমস্ত নববী হাদীস একত্রিত করার সংকল্প করেছি।
আর এগুলো হলো এর সংকেতসমূহ - (খ) বুখারীর জন্য, (ম) মুসলিমের জন্য, (ক) তাঁদের উভয়ের জন্য, (দ) আবু দাউদের জন্য, (ত) তিরমিযীর জন্য, (ন) নাসাঈর জন্য, (হ) ইবনে মাজাহর জন্য, (৪) এই চারজন সুনান গ্রন্থকারের জন্য, (৩) ইবনে মাজাহ ব্যতীত বাকি তিনজনের জন্য, (হাম) ইমাম আহমদের মুসনাদের জন্য, (আম) তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহর 'যাওয়ায়িদ' এর জন্য, (কা) হাকিমের জন্য: যদি তা তাঁর 'মুসতাদরাক' গ্রন্থে হয় তবে আমি কেবল সংকেত ব্যবহার করেছি, অন্যথায় তা স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছি, (খাদ) বুখারীর 'আল-আদাবুল মুফরাদ' এর জন্য, (তাখ) তাঁর 'তারীখ' এর জন্য, (হাব) ইবনে হিব্বানের 'সহীহ' এর জন্য, (তাব) তাবারানীর 'আল-মু'জামুল কাবীর' এর জন্য, (তাস) তাঁর 'আল-আওসাত' এর জন্য, (তাস) তাঁর 'আস-সাগীর' এর জন্য, (সা) সাঈদ ইবনে মানসুরের 'সুনান' এর জন্য, (শ) ইবনে আবী শায়বার জন্য, (আব) আব্দুর রাজ্জাকের 'আল-জামি' এর জন্য, (আ) আবু ইয়া'লার মুসনাদের জন্য, (কাত) দারাকুতনীর জন্য: যদি তা তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে হয় তবে কেবল সংকেত ব্যবহার করেছি, অন্যথায় তা স্পষ্ট করে দিয়েছি, (ফার) দায়লামীর জন্য।
(খণ্ড: ১)
আশ-শামাইলুশ শারীফাহ - মুস্তাললুন মিন ফায়দিল কাদীর লিল-মুনাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فِي مُسْند الفردوس، (حل) لأبي نعيم فِي الْحِلْية، (هَب) للبيهقي فِي شعب الْإِيمَان، (هق) لَهُ فِي السّنَن، (عد) لِابْنِ عدي فِي الْكَامِل، (عق) للعقيلي فِي الضُّعَفَاء (خطّ) للخطيب، فَإِن كَانَ فِي التَّارِيخ أطلقت، وَإِلَّا بَينته، وَالله أسأَل أَن يمن بقبوله، وَأَن يجعلنا عِنْده من حزبه المفلحين، وحزب رَسُوله آمين.
মুসনাদুল ফিরদাউস-এ; (হিল) দ্বারা ‘হিলইয়াহ’ গ্রন্থে আবু নুআইমকে, (হাব) দ্বারা ‘শুআবুল ঈমান’ গ্রন্থে বায়হাকীকে, (হাক) দ্বারা তাঁর ‘আস-সুনান’ গ্রন্থকে, (আদ) দ্বারা ‘আল-কামিল’ গ্রন্থে ইবনে আদিকে, (আক) দ্বারা ‘আদ-দুয়াফা’ গ্রন্থে উকাইলীকে এবং (খাত) দ্বারা আল-খাতিবকে বুঝানো হয়েছে। যদি তা ‘তারিখ’ গ্রন্থে হয় তবে আমি তা (নাম উল্লেখ না করে) সাধারণভাবে উল্লেখ করেছি, অন্যথায় আমি তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছি। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এটি কবুল করার অনুগ্রহ দান করেন এবং আমাদের তাঁর নিকট তাঁর সফলকাম দল ও তাঁর রাসূলের দলের অন্তর্ভুক্ত করেন। আমীন।
(খণ্ড: ১)
আশ-শামাইলুশ শারীফাহ - মুস্তাললুন মিন ফায়দিল কাদীর লিল-মুনাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
(مُقَدّمَة الشَّارِح)بسم الله الرحمن الرحيم
الْحَمد لله الَّذِي جعل الْإِنْسَان هُوَ الْجَامِع الصَّغِير، فطوى فِيهِ مَا تضمنه الْعَالم الْأَكْبَر الَّذِي هُوَ الْجَامِع الْكَبِير وشريف من شَاءَ من نَوعه فِي الْقَدِيم والْحَدِيث. بالهداية إِلَى خدمَة علم الحَدِيث، وأوقد لَهُ من مشكاة السّنة لاقتباس أنوارها مصباحا وضاحا، ومنحه من مقاليد الْأَثر مفتاحا فتاحا، وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على أَعلَى الْعَالمين منصبا، وأنفسهم نفسا وحسبنا الْمَبْعُوث بشيرا وَنَذِيرا وداعيا إِلَى الله بِإِذْنِهِ وسراجا منيرا، حَتَّى أشرق الْوُجُود برسالته ضِيَاء وابتهاجا، وَرَأَيْت النَّاس يدْخلُونَ فِي دين الله أَفْوَاجًا، ثمَّ على من الْتزم الْعَمَل بقضية هَدْيه الْعَظِيم الْمِقْدَار، من الْمُهَاجِرين وَالْأَنْصَار وَالتَّابِعِينَ لَهُم إِلَى يَوْم الْقَرار، الَّذين تناقلوا الْخَبَر وَالْأَخْبَار ونوروا مناهج الأقطار بأنوار المآثر والْآثَار، صَلَاة وَسلَامًا دائمين مَا ظَهرت بوازغ شموس الْأَخْبَار، ساطعة من آفَاق عِبَارَات من أُوتِيَ جَوَامِع الْكَلم والاختصار.
(وَبعد) فَهَذَا مَا اشتدت إِلَيْهِ حَاجَة المتفهم، بل وكل مدرس ومعلم، من شرح على الْجَامِع الصَّغِير لِلْحَافِظِ الْكَبِير الإِمَام الْجلَال الشهير، ينشر جواهره، ويبرز ضمائره. ويفصح عَن لغاته، ويكشف القناع عَن إشاراته، ويميط عَن وُجُوه خرائد اللثام، ويسفر عَن جمال حور مقصوراته الْخيام، وَيبين بَدَائِع مَا فِيهِ من سحر الْكَلَام، وَيدل على مَا حواه من دُرَر مجمعة على أحسن نظام ويخدمه بفوائد تَقربهَا الْعين، وفرائد يَقُول الْبَحْر الزاخر من أَيْن أَخذهَا من أَيْن؟ وتحقيقات تنزاح بهَا شبه الضَّالّين وتدقيقات ترتاح لَهَا نفوس المنصفين، وَتحرق نيرانها أَفْئِدَة الحاسدين، لَا يَعْقِلهَا إِلَّا الْعَالمُونَ، وَلَا يجحدها إِلَّا الظَّالِمُونَ، وَلَا يغص مِنْهَا إِلَّا كل مَرِيض الْفُؤَاد، من يهد الله فَهُوَ المهتد وَمن يضلل فَمَا لَهُ من هاد، وَمَعَ ذَلِك فَلم آل جهدا فِي الِاخْتِصَار والتجافي عَن مَنْهَج الْإِكْثَار فالمؤلفات تتفاضل بالزهر وَالثَّمَر، لَا بالهذر، وبالملح، لَا بِالْكبرِ، وبجموم اللطائف، لَا بتكثير الصحائف وبفخامة الْأَسْرَار، لَا بضخامة الْأَسْفَار، وبرقة الْحَوَاشِي، لَا بِكَثْرَة الغواشي، ومؤلف الْإِنْسَان على فَضله أَو نَقصه عنوان، وَهُوَ بأصغريه اللَّفْظ اللَّطِيف وَالْمعْنَى الشريف لَا بأكبريه اللَّفْظ الْكثير وَالْمعْنَى الكثيف، وهنالك يعرف الْفَرْض من النَّافِلَة، وَتعرض الْإِبِل فَرب مائَة لَا تَجِد فِيهَا رَاحِلَة، ثمَّ إِنِّي بعون أرْحم الرَّاحِمِينَ لم أَدخل بتآليفه فِي زمرة الناسخين، وَلم أسكن بتصنيفه فِي سوق الغث والسمين، بل أتيت بِحَمْد الله، بشوارد فرائد باشرت
(ব্যাখ্যাকারকের ভূমিকা)পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মানুষকে 'ক্ষুদ্র সংকলন' হিসেবে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তার মাঝে সেই সব বিষয় সন্নিবেশিত করেছেন যা মহাবিশ্ব তথা 'বৃহৎ সংকলন' ধারণ করে। আর তিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা প্রাচীন ও বর্তমান কালে হাদিস শাস্ত্রের খিদমতের হিদায়াত প্রদানের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন। তিনি সুন্নাহর দীপাধার থেকে তার জন্য নূর আহরণের নিমিত্তে এক উজ্জ্বল প্রদীপ প্রজ্বলিত করেছেন এবং তাকে আছারের চাবিকাঠি থেকে এক বিজয়ী চাবিকাঠি দান করেছেন। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সেই সত্তার ওপর যিনি পদমর্যাদায় বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সত্তা ও বংশমর্যাদায় সবচেয়ে মূল্যবান; যিনি আল্লাহর অনুমতিক্রমে সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী, তাঁর দিকে আহ্বানকারী এবং উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন; যার ফলে তাঁর রিসালাতের মাধ্যমে অস্তিত্ব জগত আলো ও আনন্দে উদ্ভাসিত হয়েছে এবং আপনি মানুষকে দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে দেখেছেন। অতঃপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁদের ওপর যাঁরা তাঁর মহান মর্যাদাপূর্ণ হেদায়েত পালনে অঙ্গীকারাবদ্ধ ছিলেন—সেই মুহাজির, আনসার এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাঁদের অনুসারীগণের ওপর, যাঁরা সংবাদ ও বর্ণনাগুলো আদান-প্রদান করেছেন এবং মণি-মুক্তো ও ঐতিহ্যের আলোয় দিগন্তের পথগুলোকে আলোকিত করেছেন; এমন চিরন্তন সালাত ও সালাম যা ততক্ষণ অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ সংবাদের সূর্যগুলো উদিত হতে থাকবে, যা সেই সত্তার বাচনভঙ্গির দিগন্ত থেকে উদ্ভাসিত যাঁকে সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক কথা এবং সংক্ষেপণ দান করা হয়েছে।
(অতঃপর) এটি এমন একটি বিষয় যার প্রতি গভীর প্রয়োজন রয়েছে অনুধাবনকারীর, বরং প্রত্যেক শিক্ষক ও শিক্ষাদানকারীর; যা হাফেজ আল-কাবীর, ইমাম আল-জালাল আল-শাহীরের (বিখ্যাত জালালুদ্দিন সুয়ূতী) রচিত 'আল-জামেউস সগির'-এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যা এর মণি-মুক্তোগুলো বিকিরণ করবে এবং এর অন্তর্নিহিত রহস্যগুলো প্রকাশ করবে। এটি এর ভাষাগত জটিলতা স্পষ্ট করবে, এর ইঙ্গিতসমূহ থেকে পর্দা উন্মোচন করবে, এর অস্পৃশ্য রূপসীদের চেহারা থেকে নেকাব সরিয়ে দেবে এবং এর তাবুর আড়ালে থাকা হুরদের সৌন্দর্য উন্মোচন করবে। এটি এর মধ্যে থাকা চমৎকার বাচনভঙ্গির যাদু বর্ণনা করবে এবং এটি ধারণ করে থাকা সর্বোত্তম বিন্যাসে সজ্জিত মুক্তোগুলোর পথ দেখাবে। এটি এমন সব উপকারিতা দিয়ে এর খিদমত করবে যা চোখকে শীতল করে এবং এমন সব দুর্লভ তথ্য প্রদান করবে যা দেখে বিশাল সমুদ্রও বলবে: তিনি এগুলো কোথা থেকে পেলেন, কোথা থেকে পেলেন? এটি এমন সব গবেষণা উপস্থাপন করবে যার মাধ্যমে পথভ্রষ্টদের সংশয় দূর হবে এবং এমন সব সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ দেবে যাতে ইনসাফকারীদের মন শান্ত হবে; আর এর তেজ হিংসুকদের অন্তর পুড়িয়ে দেবে। জ্ঞানীগণ ছাড়া কেউ তা বুঝবে না এবং জালেমগণ ছাড়া কেউ তা অস্বীকার করবে না; অন্তরব্যাধিগ্রস্ত লোক ছাড়া কেউ এর প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করবে না। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন সে-ই হিদায়াতপ্রাপ্ত, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই। তা সত্ত্বেও আমি সংক্ষেপ করার ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি করিনি এবং অতিবিস্তারের পথ এড়িয়ে চলেছি। কারণ কিতাবসমূহের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারিত হয় ফুল ও ফলের মাধ্যমে, অসার কথার মাধ্যমে নয়; এবং লালিত্যের মাধ্যমে, বিশালত্বের মাধ্যমে নয়; সূক্ষ্মতত্ত্বের প্রাচুর্যের মাধ্যমে, পৃষ্ঠার সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে নয়; রহস্যের গাম্ভীর্যের মাধ্যমে, কিতাবের স্থূলতার মাধ্যমে নয়; এবং টীকা-টিপ্পনীর কমনীয়তার মাধ্যমে, বাড়তি আবরণের আধিক্যের মাধ্যমে নয়। মানুষের রচনা তার শ্রেষ্ঠত্ব বা ত্রুটির পরিচয় বহন করে; মানুষ তার ক্ষুদ্রতম দুটি বিষয় তথা লালিত্যপূর্ণ শব্দ ও মহৎ অর্থের মাধ্যমে মূল্যায়িত হয়, তার বৃহত্তম দুটি বিষয় তথা দীর্ঘ বাক্য ও স্থূল অর্থের মাধ্যমে নয়। সেখানেই নফল থেকে ফরযকে পৃথক করা যায়; উটগুলো যখন পেশ করা হয়, তখন হয়তো একশটির মধ্যেও একটি সওয়ারিযোগ্য উট পাওয়া যায় না। অতঃপর আমি পরম করুণাময় আল্লাহর সাহায্যে আমার রচনার মাধ্যমে নিছক অনুলিপিকারীদের দলে অন্তর্ভুক্ত হইনি এবং আমার সংকলনের মাধ্যমে অসার ও সারগর্ভ মিশ্রিত বাজারে অবস্থান করিনি, বরং আমি আল্লাহর প্রশংসায় এমন সব দুর্লভ বিষয় নিয়ে এসেছি যা আমি সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছি।
(খণ্ড: ১)
আশ-শামাইলুশ শারীফাহ - মুস্তাললুন মিন ফায়দিল কাদীর লিল-মুনাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
اقتناصها وعجائب غرائب استخرجت من قَامُوس الْفِكر وعباب القريحة مغاصها، فَمن استلحق بعض أبكاره الحسان، لم ترده عَن الْمُطَالبَة بالبرهان، وَلم أعرف من أَلْفَاظه إِلَّا مَا كَانَ خفِيا، فقد قَالَ الصَّدْر القونوي: غَالب من يتَكَلَّم على الْأَحَادِيث إِنَّمَا يتَكَلَّم عَلَيْهَا من حَيْثُ إعرابها وَالْمَفْهُوم من ظَاهرهَا بِمَا لَا يخفى على من لَهُ أدنى مسكة فِي الْعَرَبيَّة وَلَيْسَ فِي ذَلِك كَبِير فَضِيلَة وَلَا مزِيد فَائِدَة، إِنَّمَا الشَّأْن فِي معرفَة مَقْصُوده صلى الله عليه وسلم وَبَيَان مَا تضمه كَلَامه من الحكم والأسرار بَيَانا تعضده أصُول الشَّرِيعَة، وَتشهد بِصِحَّتِهِ الْعُقُول السلمِيَّة، وَمَا سوى ذَلِك لَيْسَ من الشَّرْح فِي شَيْء، قَالَ ابْن السّكيت، خُذ من النَّحْو مَا تقيم بِهِ الْكَلَام فَقَط ودع الغوامض، وَلم أَكثر من نقل الْأَقَاوِيل والاختلافات، لما أَن ذَلِك على الطَّالِب من أعظم الْآفَات، إِذْ هُوَ كَمَا قَالَ حجَّة الْإِسْلَام يدهش عقله ويحير ذهنه، قَالَ: وليحذر من أستاذ عَادَته نقل الْمذَاهب وَمَا قيل فِيهَا فَإِن إضلاله أَكثر من إرشاده كَيْفَمَا كَانَ وَلَا يصلح الْأَعْمَى لقود العميان: وَمن كَانَ دأبه لَيْسَ إِلَّا إِعَادَة مَا ذكره الماضون وَجمع مَا دونه السَّابِقُونَ فَهُوَ منحاز عَن مَرَاتِب التَّحْقِيق معرج عَن ذَلِك الطَّرِيق بل هُوَ كحاطب ليل، وغريق فِي سيل، إِنَّمَا الحبر من عول على سليقته القويمة وقريحته السليمة مُشِيرا إِلَى مَا يسْتَند الْكَلَام إِلَيْهِ من الْمَعْقُول وَالْمَنْقُول، رامزا إِلَى ذَلِك رمز المفروغ مِنْهُ الْمُقَرّر فِي الْعُقُول: قَالَ حجَّة الْإِسْلَام فِي الْإِحْيَاء: " يَنْبَغِي أَن يكون اعْتِمَاد الْعلمَاء فِي الْعُلُوم على بصيرتهم وإدراكهم وبصفاء قُلُوبهم لَا على الصُّحُف والكتب وَلَا على مَا سَمِعُوهُ من غَيرهم فَإِنَّهُ إِن اكْتفى بِحِفْظ مَا يُقَال كَانَ وعَاء للْعلم لَا عَالما " اه فيا أَيهَا النَّاظر أعمل فِيهِ بِشَرْط الْوَاقِف من اسْتِيفَاء النّظر بِعَين الْعِنَايَة وَكَمَال الدِّرَايَة: لَا يحملك احتقار مُؤَلفه على التعسف، وَلَا الْحَظ النفساني على أَن يكون لَك عَن الْحق تخلف، فَإِن عثرت مِنْهُ على هفوة أَو هفوات، أَو صدرت فِيهِ عني كبوة أَو كبوات، فَمَا أَنا بالمتحاشي عَن الْخلَل، وَلَا بالمعصوم عَن الزلل، وَلَا هُوَ بِأول قَارُورَة كسرت وَلَا شُبْهَة مدفوعة زبرت، وَمن تفرد فِي سلوك السَّبِيل، لَا يَأْمَن من أَن يَنَالهُ أَمر ويبل، وَمن توَحد بالذهاب فِي الشعاب والقفار، فَلَا يبعد أَن تَلقاهُ الْأَهْوَال والأخطار، وكل أحد مَأْخُوذ من قَوْله ومتروك، ومدفوع إِلَى مَنْهَج مَعَ خطر الْخَطَأ مسلوك، وَلَا يسلم من الْخَطَأ إِلَّا من جعل التَّوْفِيق دَلِيله فِي مفترقات السبل، وهم الْأَنْبِيَاء وَالرسل، على أَنِّي علقته باستعجال، فِي مُدَّة الْحمل والفصال، والخواطر كسيرة، وَعين الْفُؤَاد غير قريرة، والقرائح قريحة والجوارح جريحة، من جنايات الْأَيَّام والآثام، تأديبا من الله عَن الركون إِلَى من سواهُ، واللياذ بِمن لَا تؤمن غَلَبَة هَوَاهُ، فرحم الله امْرَءًا قهر هَوَاهُ، وأطاع الْإِنْصَاف وَقواهُ، وَلم يعْتَمد الْعَنَت وَلَا قصد قصد من إِذا رأى حسنا ستره وعيبا أظهره ونشره، وليتأمله بِعَين الْإِنْصَاف لَا بِعَين الْحَسَد والانحراف فَمن طلب عَيْبا وجد وجد، وَمن افْتقدَ زلل أَخِيه بِعَين الرِّضَا والإنصاف فقد فقد، والكمال محَال لغير ذِي الْجلَال.
এগুলো শিকার করা এবং চিন্তা ও মেধার গভীর সমুদ্র থেকে উত্তোলিত অদ্ভুত ও বিস্ময়কর তত্ত্বসমূহ। সুতরাং যে কেউ এর কিছু নতুন ও সুন্দর চিন্তাধারাকে নিজের বলে দাবি করবে, তাকে তার প্রমাণ পেশ করা থেকে বিরত রাখা হবে না। আমি এর শব্দাবলির মধ্যে কেবল সেগুলোরই অর্থ স্পষ্ট করেছি যা ছিল অস্পষ্ট। কারণ সদর আল-কুনাবী বলেছেন: "হাদিসের ওপর যারা আলোচনা করেন, তাদের অধিকাংশই কেবল এর ব্যাকরণ এবং এর প্রকাশ্য অর্থ নিয়ে আলোচনা করেন, যা আরবির প্রাথমিক জ্ঞানসম্পন্ন কারো কাছেও অস্পষ্ট নয়। আর এতে কোনো বড় মর্যাদা বা অতিরিক্ত কোনো উপকার নেই। আসল বিষয় হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উদ্দেশ্য উপলব্ধি করা এবং তাঁর বাণীর অন্তর্ভুক্ত হিকমত ও রহস্যসমূহ এমনভাবে বর্ণনা করা যা শরীয়তের মূলনীতির দ্বারা সমর্থিত এবং সুস্থ বিবেক যার সঠিকতার সাক্ষ্য দেয়। এ ছাড়া অন্য কিছু প্রকৃত ব্যাখ্যার অন্তর্ভুক্ত নয়।" ইবনুল সিক্কীত বলেছেন: "ব্যাকরণ থেকে কেবল ততটুকুই গ্রহণ করো যা দিয়ে তোমার কথা সঠিক হয় এবং এর জটিল বিষয়গুলো ছেড়ে দাও।" আর আমি বিভিন্ন মতভেদ ও উক্তি উদ্ধৃত করে দীর্ঘ করিনি, কারণ এটি একজন শিক্ষার্থীর জন্য সবচেয়ে বড় আপদগুলোর একটি। কেননা এটি হুজ্জাতুল ইসলাম (ইমাম গাজালী) যেমনটি বলেছেন—তার আকলকে হতবিহ্বল করে দেয় এবং মেধাকে বিভ্রান্ত করে। তিনি বলেছেন: "এমন উস্তাদ থেকে সতর্ক থাকো যার স্বভাব কেবল বিভিন্ন মাযহাব ও সে সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা বর্ণনা করা। কারণ তার বিভ্রান্ত করার ক্ষমতা পথপ্রদর্শনের চেয়ে বেশি, আর অন্ধ তো অন্ধদের পথ দেখাতে পারে না।" যার অভ্যাস কেবল পূর্ববর্তীদের কথার পুনরাবৃত্তি করা এবং তাদের সংকলিত বিষয়গুলো একত্রিত করা, সে গবেষণার স্তর থেকে বিচ্যুত এবং সেই পথ থেকে বিমুখ। বরং সে হলো অন্ধকারে কাষ্ঠ সংগ্রহকারীর মতো অথবা বন্যার স্রোতে নিমজ্জিত ব্যক্তির মতো। প্রকৃত আলিম তো তিনি, যিনি তার সুদৃঢ় প্রকৃতি ও সুস্থ মেধার ওপর নির্ভর করেন এবং যুক্তিনির্ভর ও বর্ণনা-নির্ভর দলিলের দিকে ইশারা করেন, যেন তা বিবেকের নিকট এক প্রতিষ্ঠিত ও চূড়ান্ত বিষয়। হুজ্জাতুল ইসলাম 'ইহইয়া' গ্রন্থে বলেছেন: "উলামাদের উচিত হবে জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রে তাদের অন্তর্দৃষ্টি, উপলব্ধি এবং হৃদয়ের স্বচ্ছতার ওপর নির্ভর করা; কেবল পাণ্ডুলিপি, কিতাব কিংবা অন্যের নিকট থেকে যা শুনেছেন তার ওপর নয়। কেননা তিনি যদি কেবল শ্রুত বিষয় মুখস্থ করার ওপর সন্তুষ্ট থাকেন, তবে তিনি জ্ঞানের পাত্র হবেন মাত্র, আলিম নয়।" অতএব হে পাঠক! আপনি এতে রচয়িতার শর্ত অনুযায়ী মনোযোগ ও পূর্ণ বিচক্ষণতার সাথে দৃষ্টি নিবদ্ধ করুন। এর লেখকের প্রতি তুচ্ছজ্ঞান যেন আপনাকে অবিচারের দিকে ধাবিত না করে, আর ব্যক্তিগত স্বার্থ যেন আপনাকে সত্য বিমুখ না করে। যদি আপনি এতে কোনো বিচ্যুতি বা ভুল খুঁজে পান, অথবা আমার পক্ষ থেকে কোনো পদস্খলন ঘটে থাকে, তবে আমি ত্রুটিমুক্ত হওয়ার দাবি করি না এবং ভুলভ্রান্তি থেকে আমি নিষ্পাপ নই। এটিই প্রথম ভেঙে যাওয়া কাঁচের পাত্র নয় এবং এটিই প্রথম খণ্ডনযোগ্য সংশয় নয় যা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। যে ব্যক্তি কোনো পথে একাকী পথ চলে, সে বিপদাপদ থেকে নিরাপদ থাকে না। আর যে ব্যক্তি গিরিপথ ও জনমানবহীন প্রান্তরে একাকী ভ্রমণ করে, তার ভয়ংকর বিপদ ও ঝুঁকির সম্মুখীন হওয়া অসম্ভব নয়। প্রত্যেকের কথাই গ্রহণীয় কিংবা বর্জনীয় হতে পারে এবং প্রত্যেকেই এমন এক পথে ধাবিত যেখানে ভুলের আশঙ্কা বিদ্যমান। ভুলের হাত থেকে কেবল তারাই নিরাপদ থাকেন, যাদেরকে আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন মতভেদের মাঝে সঠিক পথের দিশা দান করেছেন, আর তারা হলেন নবী ও রাসূলগণ। তদুপরি আমি এটি তাড়াহুড়ো করে লিখেছি, যখন মন ছিল বিষাদগ্রস্ত, অন্তশ্চক্ষু ছিল অস্থির, মেধা ছিল ক্লান্ত এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ছিল ব্যথিত। এটি সময়ের প্রতিকূলতা ও পাপের পঙ্কিলতার ফলস্বরূপ, যাতে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাঁর সত্তা ব্যতীত অন্যের ওপর নির্ভর করা এবং প্রবৃত্তি দ্বারা তাড়িত ব্যক্তির আশ্রয় গ্রহণ করা থেকে বিরত রাখার এক শিক্ষা হয়। সুতরাং আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর রহম করুন, যে তার প্রবৃত্তিকে দমন করেছে এবং ন্যায়বিচারকে মান্য ও শক্তিশালী করেছে। সে যেন হঠকারিতার আশ্রয় না নেয় এবং এমন ব্যক্তির পথ অনুসরণ না করে, যে কোনো সৌন্দর্য দেখলে তা গোপন করে কিন্তু কোনো ত্রুটি দেখলে তা প্রকাশ ও প্রচার করে দেয়। আর সে যেন একে ইনসাফের চোখে দেখে, হিংসা ও বিদ্বেষের চোখে নয়। কেননা যে ব্যক্তি দোষ খুঁজে বেড়ায়, সে তা পেয়েই যায়। আর যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের ভুলকে সন্তুষ্টি ও ন্যায়বিচারের দৃষ্টিতে দেখে, সে তা খুঁজে পায় না। আর মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য পূর্ণতা অসম্ভব।
(খণ্ড: ১)
আশ-শামাইলুশ শারীফাহ - মুস্তাললুন মিন ফায়দিল কাদীর লিল-মুনাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২০)
وَلما من الله تَعَالَى بإتمام هَذَا التَّقْرِيب وَجَاء بِحَمْد الله آخِذا من كل مطلب بِنَصِيب، نَافِذا فِي الْغَرَض بسهمه الْمُصِيب، كامدا قُلُوب الحاسدين بمفهومه ومنطوقه، راغما أنوف المتصلفين لما اسْتَوَى على سوقه، سميته: (فيض الْقَدِير بشرح الْجَامِع الصَّغِير) وَيحسن أَن يترجم (بمصابيح التَّنْوِير على الْجَامِع الصَّغِير) ويليق أَن يَدعِي: (بالبدر الْمُنِير فِي شرح الْجَامِع الصَّغِير) ويناسب أَن يوسم (بالروض النَّضِير فِي شرح الْجَامِع الصَّغِير) . هَذَا: وَحَيْثُ أَقُول القَاضِي فَالْمُرَاد الْبَيْضَاوِيّ أَو الْعِرَاقِيّ فجدنا من قبل الْأُمَّهَات الْحَافِظ الْكَبِير زين الدّين الْعِرَاقِيّ، أَو جدي فقاضي الْقُضَاة يحيى الْمَنَاوِيّ، أَو ابْن حجر فخاتمة الْحفاظ أَبُو الْفضل الْعَسْقَلَانِي، رَحِمهم الله تَعَالَى سُبْحَانَهُ وَأَنا أَحْقَر الورى خويدم الْفُقَرَاء: مُحَمَّد الْمَدْعُو عبد الرؤوف الْمَنَاوِيّ، حفه الله بلطف سماوي: وَكَفاهُ شَرّ المعادي والمناوي، وَنور قَبره حِين إِلَيْهِ يأوي، وعَلى الله الاتكال وَإِلَيْهِ الْمرجع والمآل، لَا ملْجأ إِلَّا إِيَّاه، وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه، وَهَا أَنا أفيض فِي الْمَقْصُود مستفيضا من ولى الطول والجود.
যখন আল্লাহ তাআলা এই সংক্ষিপ্ত সংকলনটি সম্পন্ন করার অনুগ্রহ দান করলেন এবং আল্লাহর প্রশংসায় এটি প্রতিটি উদ্দেশ্য থেকে তার প্রাপ্য অংশ গ্রহণ করে, তার অব্যর্থ তীরের মাধ্যমে লক্ষ্যভেদে সফল হয়ে, এর মর্মার্থ ও শব্দমালার দ্বারা হিংসুকদের অন্তরকে দগ্ধ করে এবং যখন এটি তার কাণ্ডের ওপর ভর করে উঠে দাঁড়িয়ে দাম্ভিকদের অহংকার ধূলিসাৎ করে প্রকাশ পেল, তখন আমি এর নামকরণ করেছি: (ফায়দুল কাদির বি-শারহিল জামেউস সগির)। এর শিরোনাম (মাসাবিহুত তানভির আলাল জামেউস সগির) রাখাও উত্তম হতে পারে। একে (আল-বদরুল মুনির ফি শারহিল জামেউস সগির) নামে অভিহিত করাও সঙ্গত। আর (আর-রওদুন নাদির ফি শারহিল জামেউস সগির) হিসেবে চিহ্নিত করাও মানানসই।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: আমি যেখানেই 'কাযী' বলব, সেখানে উদ্দেশ্য হবে 'বায়দাবি'। আর 'ইরাকি' বলতে উদ্দেশ্য হবে আমাদের মাতামহ মহান হাফেজ যয়নুদ্দীন ইরাকি। অথবা 'আমার দাদা' বলতে উদ্দেশ্য হবে প্রধান বিচারপতি ইয়াহইয়া আল-মুনাওয়ি। অথবা 'ইবনে হাজার' বলতে উদ্দেশ্য হবে হাফেজদের সমাপনী ব্যক্তিত্ব আবুল ফজল আসকালানি, আল্লাহ তাআলা সুবহানাহু তাদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
আর আমি সৃষ্টির মধ্যে অতি নগণ্য এবং ফকীরদের ক্ষুদ্র সেবক: মুহাম্মদ, যাকে আবদুর রউফ আল-মুনাওয়ি বলে ডাকা হয়; আল্লাহ তাকে আসমানি অনুগ্রহ দ্বারা পরিবেষ্টিত করুন, শত্রু ও বিদ্বেষীদের অনিষ্ট থেকে তাকে রক্ষা করুন এবং যখন সে কবরের আশ্রয়ে যাবে তখন তার কবরকে আলোকিত করুন। আল্লাহর ওপরই সকল নির্ভরতা এবং তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন ও চূড়ান্ত গন্তব্য। তিনি ছাড়া কোনো আশ্রয় নেই এবং আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো শক্তি নেই। এখন আমি সুউচ্চ মর্যাদা ও মহানুভবতার মালিকের নিকট প্রাচুর্য প্রার্থনা করে মূল বিষয়ের অবতারণা করছি।
(খণ্ড: ১)
আশ-শামাইলুশ শারীফাহ - মুস্তাললুন মিন ফায়দিল কাদীর লিল-মুনাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ১)
الشَّمَائِل الشَّرِيفَة
মর্যাদাপূর্ণ বৈশিষ্ট্যসমূহ
(খণ্ড: ১)
আশ-শামাইলুশ শারীফাহ - মুস্তাললুন মিন ফায়দিল কাদীর লিল-মুনাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২১)
بَاب كَانَ وَهِي الشَّمَائِل الشَّرِيفَة قَالَ الرَّاغِب كلمة كَانَ هِيَ عبارَة عَمَّا مضى من الزَّمَان وَفِي كثير من وصف الله تنبئ عَن معنى الأزلية نَحْو وَكَانَ الله بِكُل شئ عليما
وَمَا اسْتعْمل مِنْهُ فِي جنس الشَّيْء مُتَعَلقا بِوَصْف لَهُ هُوَ مَوْجُود فِيهِ فينبه على أَن ذَلِك الْوَصْف لَازم لَهُ قَلِيل الانفكاك عَنهُ نَحْو وَكَانَ الإنسن كفورا
وَإِذا اسْتعْمل فِي الْمَاضِي جَازَ أَن يكون الْمُسْتَعْمل فِيهِ بَقِي على حَاله وَأَن يكون تغير نَحْو فلَان كَانَ كَذَا ثمَّ صَار كَذَا وَلَا فرق بَين مقدم ذَلِك الزَّمن وَقرب الْعَهْد بِهِ نَحْو كَانَ آدم كَذَا وَكَانَ زيد هُنَا وَقَالَ الْقُرْطُبِيّ زعم بَعضهم أَن كَانَ إِذا أطلقت عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وعَلى آله وَسلم لدوام الْكَثْرَة والشأن فِيهِ الْعرف وَإِلَّا فأصلها أَن تصدق على من فعل الشَّيْء وَلَو مرّة وَهِي الشَّمَائِل الشَّرِيفَة جمع شمئل بِالْكَسْرِ وَهُوَ الطَّبْع وَالْمرَاد صورته الظَّاهِرَة والباطنة وَهِي نَفسه وأوصافها ومعانيها الْخَاصَّة بهَا وَوجه إِيرَاد المُصَنّف لَهَا فِي هَذَا الْجَامِع مَعَ أَنه كُله من الْمَرْفُوع قَول الْحَافِظ ابْن حجر الْأَحَادِيث الَّتِي فِيهَا صفته صلى الله عليه وسلم دَاخِلَة فِي قسم الْمَرْفُوع اتِّفَاقًا
পরিচ্ছেদ: 'কানা' (তিনি ছিলেন) শব্দ এবং তা হলো মহান চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসমূহ রাঘিব (রহ.) বলেন, 'কানা' শব্দটি অতীত কাল বুঝানোর জন্য একটি অভিব্যক্তি। আল্লাহর গুণাবলি বর্ণনার ক্ষেত্রে এটি অধিকাংশ সময় অনাদিত্বের (আযালিয়্যাহ) অর্থ প্রদান করে। যেমন: "আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞাত ছিলেন" (অর্থাৎ তিনি অনাদিকাল থেকেই সর্বজ্ঞাত)।
আর যখন এই শব্দ কোনো বস্তুর প্রজাতির ক্ষেত্রে এমন গুণের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে ব্যবহৃত হয় যা তার মধ্যে বিদ্যমান, তখন এটি নির্দেশ করে যে সেই গুণটি তার জন্য অপরিহার্য এবং তা থেকে খুব কমই বিচ্ছিন্ন হয়। যেমন: "আর মানুষ ছিল অকৃতজ্ঞ" (অর্থাৎ অকৃতজ্ঞতা তার মজ্জাগত স্বভাব)।
আর যখন তা অতীত কালের বর্ণনায় ব্যবহৃত হয়, তখন এটি সম্ভব যে যার সম্পর্কে বলা হচ্ছে সে তার পূর্বের অবস্থায় বহাল আছে অথবা তার পরিবর্তন ঘটেছে। যেমন: "অমুক ব্যক্তি এমন ছিল, অতঃপর এমন হয়েছে"। এক্ষেত্রে সুদূর অতীত এবং নিকট অতীতের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। যেমন: "আদম (আ.) এমন ছিলেন" এবং "যায়েদ এখানে ছিল"।
কুরতুবী (রহ.) বলেন, কেউ কেউ ধারণা করেছেন যে, যখন 'কানা' শব্দটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর ক্ষেত্রে নিঃশর্তভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন তা গুণাবলির আধিক্য ও শান-মান সর্বদা বজায় থাকা নির্দেশ করে। অন্যথায় মূলগতভাবে শব্দটি তার ওপর প্রযোজ্য হয় যে কোনো কাজ অন্তত একবার করেছে। আর 'শামাইল' হলো মহান চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসমূহ, যা 'শিমাল' (শিন বর্ণের নিচে কাসরাসহ) শব্দের বহুবচন। এর অর্থ হলো স্বভাব বা প্রকৃতি। এখানে উদ্দেশ্য হলো তাঁর বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ অবয়ব, যা তাঁর সত্তা, তাঁর গুণাবলি এবং তাঁর সাথে সংশ্লিষ্ট বিশেষ অর্থসমূহকে নির্দেশ করে। এই সংকলনের সকল হাদিস 'মারফু' (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সরাসরি সম্বন্ধযুক্ত) হওয়া সত্ত্বেও লেখক কর্তৃক এখানে শামাইল অন্তর্ভুক্ত করার কারণ হলো হাফেজ ইবনে হাজার (রহ.)-এর বক্তব্য। তিনি বলেছেন: "যে সকল হাদিসে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা রয়েছে, তা সর্বসম্মতিক্রমে মারফু হাদিসের অন্তর্ভুক্ত"।
(খণ্ড: ১)
আশ-শামাইলুশ শারীফাহ - মুস্তাললুন মিন ফায়দিল কাদীর লিল-মুনাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২২)
1 - (كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَبيض مليحا مقصدا)
م ت فِي الشَّمَائِل عَن أبي الطُّفَيْل // صَحَّ //
كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَبيض مليحا مقصدا بِالتَّشْدِيدِ أَي مقتصدا يَعْنِي لَيْسَ بجسيم وَلَا نحيف وَلَا طَوِيل وَلَا قصير كَأَنَّهُ نحى بِهِ الْقَصْد من الْأُمُور قَالَ الْبَيْضَاوِيّ الْمَقْصد المقتصد يُرِيد بِهِ الْمُتَوَسّط بَين الطَّوِيل والقصير والناحل والجسيم وَقَالَ الْقُرْطُبِيّ الملاحة أَصْلهَا فِي الْعَينَيْنِ والمقصد المقتصد فِي جِسْمه وَطوله يَعْنِي كَانَ غير ضئيل وَلَا ضخم وَلَا طَوِيل ذَاهِبًا وَلَا قصير بل كَانَ وسطا م فِي صفة النَّبِي صلى الله عليه وسلم ت فى = كتاب الشَّمَائِل النَّبَوِيَّة = من حَدِيث الْجريرِي عَن أبي الطُّفَيْل عَامر بن وَاثِلَة وَرَوَاهُ عَنهُ أَيْضا أَبُو دَاوُد فِي الْأَدَب فَمَا أَوْهَمهُ كَلَامه من تفرد ذَيْنك بِهِ عَن الْأَرْبَعَة غير جيد قَالَ رَأَيْت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَمَا على وَجه الأَرْض رجل رَآهُ غَيْرِي قَالَ فَقلت كَيفَ رَأَيْته فَذكره وَفِي رِوَايَة لمُسلم عَنهُ أَيْضا كَانَ أَبيض مليح الْوَجْه
2 - (كَانَ أَبيض كَأَنَّمَا صِيغ من فضَّة رجل الشّعْر) ت فِيهَا عَن أبي هُرَيْرَة // صَحَّ //
كَانَ أَبيض كَأَنَّمَا صِيغ أَي خلق من الصوغ يَعْنِي الإيجاد أَي الْخلق قَالَ الزَّمَخْشَرِيّ من الْمجَاز فلَان حسن الصِّيغَة وَهِي الْخلقَة وصاغه الله صِيغَة حَسَنَة وَفُلَان بَين صيغه كَرِيمَة من أصل كريم من فضَّة بِاعْتِبَار مَا كَانَ يَعْلُو بياضه من الإضاءة ولمعان الْأَنْوَار والبريق الساطع فَلَا تدافع بَينه وَبَين مَا يَأْتِي عقبه من أَنه كَانَ مشربا بحمرة وآثره لتَضَمّنه نَعته بتناسب التَّرْكِيب وتماسك الْأَجْزَاء فَلَا اتجاه لجعله من الصوغ بِمَعْنى سبك الْفضة وَقد نَعته عَمه أَبُو طَالب بقوله
(وأبيض يستسقى الْغَمَام بِوَجْهِهِ
… ثمال الْيَتَامَى عصمَة للأرامل) وَفِي رِوَايَة لِأَحْمَد فَنَظَرت إِلَى ظَهره كَأَنَّهُ سبيكة فضَّة وَفِي أُخْرَى للبزار وَيَعْقُوب بن أبي سُفْيَان بِإِسْنَاد قَالَ ابْن حجر قوي عَن سعيد بن الْمسيب أَنه سمع أَبَا هُرَيْرَة يصفه فَقَالَ كَانَ شَدِيد الْبيَاض وَفِي رِوَايَة لأبي الطُّفَيْل عَن الطَّبَرَانِيّ مَا أنسى شدَّة بَيَاض وَجهه مَعَ شدَّة سَواد شعره رجل الشّعْر بِكَسْر
১ - (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন উজ্জ্বল গৌরবর্ণ, লাবণ্যময় এবং সুঠাম দেহের অধিকারী।)
ইমাম মুসলিম ও তিরমিযী আশ-শামাইল গ্রন্থে আবু তুফায়েল থেকে বর্ণনা করেছেন // সহীহ //
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন উজ্জ্বল গৌরবর্ণ, অত্যন্ত সুন্দর এবং 'মুকাসসাদ' (তশদীদ সহকারে), অর্থাৎ পরিমিত বা মধ্যম আকৃতির। এর অর্থ হলো, তিনি খুব স্থূল ছিলেন না, আবার খুব কৃশকায়ও ছিলেন না, অত্যন্ত দীর্ঘকায় ছিলেন না, আবার খর্বকায়ও ছিলেন না। যেন তিনি সব ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন করেছিলেন। আল-বায়যাভী বলেন: 'মুকাসসাদ' অর্থ 'মুকতাসিদ', এর দ্বারা তিনি দীর্ঘ ও খর্ব এবং কৃশ ও স্থূলের মধ্যবর্তী অবস্থাকে বুঝিয়েছেন। ইমাম কুরতুবী বলেন: লাবণ্যের মূল উৎস হলো দুই চোখ। আর 'মুকাসসাদ' হলো তাঁর দেহ ও উচ্চতায় পরিমিত হওয়া; অর্থাৎ তিনি খুব ক্ষুদ্রাকৃতির বা অতি বিশাল ছিলেন না, আবার অতি দীর্ঘ কিংবা অতি খর্ব ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন মধ্যম আকৃতির। ইমাম মুসলিম 'সিফাতুন নবী' (নবীজির বৈশিষ্ট্য) অধ্যায়ে এবং ইমাম তিরমিযী 'শামাইল' গ্রন্থে আল-জুরারী-এর মাধ্যমে আবু তুফায়েল আমির ইবনে ওয়াসিলা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এছাড়া আবু দাউদ 'আল-অদব' অধ্যায়ে এটি বর্ণনা করেছেন। ফলে তাঁর কথা থেকে যে ধারণা হতে পারে যে কেবল ওই দুইজনই কুতুবে সিত্তার মধ্য থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, তা সঠিক নয়। আবু তুফায়েল বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি এবং বর্তমানে পৃথিবীর বুকে আমি ছাড়া আর কেউ জীবিত নেই যিনি তাঁকে দেখেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি তাঁকে কেমন দেখেছেন? এরপর তিনি এই বর্ণনাটি উল্লেখ করেন। মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় তাঁর থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি ছিলেন উজ্জ্বল গৌরবর্ণ এবং সুন্দর চেহারার অধিকারী।
২ - (তিনি ছিলেন উজ্জ্বল গৌরবর্ণ, যেন রূপা দিয়ে গড়া এবং তাঁর চুল ছিল ঈষৎ কোঁকড়ানো।)
ইমাম তিরমিযী 'শামাইল' গ্রন্থে আবু হুরায়রা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন // সহীহ //
তিনি ছিলেন উজ্জ্বল গৌরবর্ণ, যেন তাঁকে 'সীয়গা' করা হয়েছে অর্থাৎ সৃষ্টি করা হয়েছে। এটি 'সাওগ' শব্দ থেকে উৎপন্ন যার অর্থ নির্মাণ বা সৃষ্টি। আল-যামাখশারী বলেন: রূপক অর্থে বলা হয় 'অমুকের গঠন সুন্দর', অর্থাৎ তার শারীরিক অবয়ব সুন্দর। আল্লাহ তাঁকে সুন্দর অবয়বে সৃষ্টি করেছেন এবং অমুক ব্যক্তি এক সম্মানিত বংশীয় মূল থেকে উদ্ভূত সুন্দর গঠনের অধিকারী। 'রূপা থেকে' (বলার কারণ) হলো তাঁর উজ্জ্বলতা, নূরানি আভা এবং দ্যুতির তীব্রতার কারণে। সুতরাং এর সাথে পরবর্তী বর্ণনার কোনো বৈপরীত্য নেই যেখানে বলা হয়েছে যে তাঁর গায়ের রঙ লালিমা মিশ্রিত সাদা ছিল। মূলত তাঁর সুসামঞ্জস্য শারীরিক গঠন এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের দৃঢ়তা বোঝানোর জন্য এই শব্দ চয়ন করা হয়েছে। তাই এখানে রূপা গলানো অর্থে 'সাওগ' গ্রহণ করার কোনো অবকাশ নেই। তাঁর চাচা আবু তালিব তাঁর প্রশংসা করে বলেছেন:
(তিনি এমন উজ্জ্বল গৌরবর্ণ, যাঁর চেহারার উসিলায় মেঘের নিকট বৃষ্টি প্রার্থনা করা হয়... তিনি ইয়াতীমদের আশ্রয় এবং বিধবা নারীদের রক্ষক)। ইমাম আহমদের এক বর্ণনায় আছে, 'আমি তাঁর পিঠের দিকে তাকালাম, তা যেন রূপার পিণ্ডের মতো ছিল'। বাযযার এবং ইয়াকুব ইবনে আবু সুফিয়ানের অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, যার সনদ সম্পর্কে ইবনে হাজার আসকালানী বলেছেন তা শক্তিশালী, সাঈদ ইবনে মুসায়্যিব থেকে বর্ণিত যে তিনি আবু হুরায়রাকে তাঁর বর্ণনা দিতে শুনেছেন। তিনি বলেছেন, তিনি ছিলেন অত্যন্ত শুভ্র বর্ণের। তাবারানীতে আবু তুফায়েল থেকে বর্ণিত এক বর্ণনায় আছে: 'আমি তাঁর চুলের চরম কৃষ্ণতার সাথে তাঁর চেহারার তীব্র শুভ্রতার কথা ভুলতে পারি না'। তিনি ছিলেন ঈষৎ কোঁকড়ানো চুলের অধিকারী (জিম অক্ষরে কাসরা বা জের সহকারে)...
(খণ্ড: ১)
আশ-শামাইলুশ শারীফাহ - মুস্তাললুন মিন ফায়দিল কাদীর লিল-মুনাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الْجِيم وَمِنْهُم من سكنها أَي مسرح الشّعْر كَذَا فِي الْفَتْح وَفسّر بِمَا فِيهِ تثن قَلِيل وَمَا فِي الْمَوَاهِب أَنه روى أَنه شعر بَين شعرين لَا رجل وَلَا سبط فَالْمُرَاد بِهِ الْمُبَالغَة فِي قلَّة التثني ت فِيهَا أَي الشَّمَائِل عَن أبي هُرَيْرَة رمز المُصَنّف لصِحَّته
3 - (كَانَ أَبيض مشربا بياضه بحمرة وَكَانَ أسود الحدقة أهدب الأشفار) الْبَيْهَقِيّ فِي الدَّلَائِل عَن على // صَحَّ //
كَانَ أَبيض مشربا بياضه بحمرة بِالتَّخْفِيفِ من الإشراب قَالَ الحرالي وَهُوَ مداخلة نَافِذَة سابغة كالشراب وَهُوَ المَاء الدَّاخِل كُلية الْجِسْم للطافته ونفوذه وَقَالَ الْبَيْهَقِيّ يُقَال إِن المشرب مِنْهُ حمرَة إِلَى السمرَة مَا ظهر مِنْهُ للشمس وَالرِّيح وَأما مَا تَحت الثِّيَاب فَهُوَ الْأَبْيَض الْأَزْهَر وروى مشربا بِالتَّشْدِيدِ اسْم مفعول من التشرب يُقَال بَيَاض مشرب بِالتَّخْفِيفِ فَإِذا شدد كَانَ للتكثير وَالْمُبَالغَة فَهُوَ هُنَا للْمُبَالَغَة فِي شدَّة الْبيَاض المائل إِلَى الْحمرَة وَكَانَ أسود الحدقة بِفَتَحَات أَي شَدِيد سَواد الْعين قَالَ فِي الْمِصْبَاح وَغَيره حدقة الْعين سوادها جمعه حدق وحدقات كقصب وقصبات وَرُبمَا قيل حداق كرقبة ورقاب أهدب الأشفار جمع شفر بِالضَّمِّ وبفتح حُرُوف الأجفان الَّتِي ينْبت عَلَيْهَا الشّعْر وَهِي الهدب بِالضَّمِّ والأهدب كَثِيره وَيُقَال لطويله أَيْضا وَمَا أوهم ظَاهر هَذَا التَّرْكِيب من أَن الأشفار هِيَ الْأَهْدَاب غير مُرَاد فَفِي الْمِصْبَاح عَن ابْن قُتَيْبَة الْعَامَّة تجْعَل أشفار الْعين الشّعْر وَهُوَ غلط وَفِي الْمغرب لم يذكر أحد من الثِّقَات أَن الأشفار الْأَهْدَاب فَهُوَ إِمَّا على حذف مُضَاف أَي الطَّوِيل شعر الأجفان وسمى النَّابِت باسم المنبت للملابسة الْبَيْهَقِيّ فى = كتاب الدَّلَائِل = أَي دَلَائِل النُّبُوَّة عَن عَليّ أَمِير الْمُؤمنِينَ وَرَوَاهُ عَنهُ التِّرْمِذِيّ أَيْضا لَكِن قَالَ أدعج الْعَينَيْنِ بدل أسود الحدقة
4 - (كَانَ أَبيض مشربا بحمرة ضخم الهامة أغر أَبْلَج أهدب الأشفار) الْبَيْهَقِيّ عَن عَليّ
জিম অক্ষরটি; এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে সুকুন দিয়ে পড়েছেন, অর্থাৎ চুলের বিন্যাস। 'ফাতহ' গ্রন্থে এমনই বর্ণিত হয়েছে এবং এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যাতে সামান্য ঢেউ রয়েছে। 'মাওয়াহিব' গ্রন্থে এসেছে যে, এটি বর্ণিত হয়েছে যে তাঁর চুল ছিল দুই ধরণের চুলের মাঝামাঝি, অতি কোঁকড়ানো নয় আবার একেবারে সোজাও নয়। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ঢেউয়ের স্বল্পতার আধিক্য প্রকাশ করা। ইমাম তিরমিজি 'শামাইল' গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং গ্রন্থকার এর বিশুদ্ধতার দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
৩ - (তিনি ছিলেন লালচে আভা মিশ্রিত শ্বেত বর্ণের, তাঁর চোখের মণি ছিল অত্যন্ত কালো এবং চোখের পাপড়ি ছিল দীর্ঘ।) বায়হাকি 'দালাইল' গ্রন্থে আলী (রা.) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন // সহিহ //
তিনি লালচে আভা মিশ্রিত শ্বেত বর্ণের ছিলেন—এখানে 'মুশরাবান' শব্দটি 'ইশরাব' থেকে হালকা উচ্চারণে গঠিত। আল-হারাল্লি বলেন, এটি হলো এমন এক নিবিড় সংমিশ্রণ যা পানীয়ের ন্যায় শরীরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে; যেমন পানি তার সূক্ষ্মতা ও গভীর প্রবাহের কারণে শরীরের প্রতিটি অঙ্গে মিশে যায়। বায়হাকি বলেন, বলা হয় যে, তাঁর শরীরের যে অংশ রোদ ও বাতাসের সংস্পর্শে আসত তাতে লালচে আভা ও শ্যামলতার মিশ্রণ ছিল; আর যা কাপড়ের নিচে থাকত তা ছিল ধবধবে উজ্জ্বল শ্বেত বর্ণ। 'মুশাররাবান' শব্দটিকে তাশদিদ সহযোগেও বর্ণনা করা হয়েছে, যা 'তাশাররুব' থেকে আগত কর্মবাচক বিশেষ্য। যদি তাশদিদ ছাড়া 'মুশরাব' পড়া হয় তবে তা সাধারণ মিশ্রণ বুঝায়, আর তাশদিদ দিলে তা আধিক্য ও অতিরঞ্জন বুঝায়। সুতরাং এখানে এর অর্থ হলো লালিমার দিকে ঝুঁকে থাকা অত্যধিক গাঢ় শ্বেত বর্ণ। তিনি অত্যন্ত কালো মণি বিশিষ্ট ছিলেন—অর্থাৎ চোখের কালোর অংশটি ছিল গভীর কৃষ্ণবর্ণ। 'মিসবাহ' ও অন্যান্য অভিধানে বলা হয়েছে, চোখের 'হাদাকাহ' বলতে এর কালো অংশকেই বুঝায়; এর বহুবচন হলো 'হাদাক' ও 'হাদাকাত'। কখনো 'হিদাক'ও বলা হয়। তাঁর চোখের পাপড়ি ছিল দীর্ঘ—'আশফার' হলো 'শুফর' শব্দের বহুবচন, যা চোখের পাতার কিনারা যেখানে লোম জন্মায়; আর পাপড়ির লোমকে 'হুদুব' বলা হয়। 'আহদাব' অর্থ যার পাপড়ি ঘন অথবা দীর্ঘ। এই বাক্যের বাহ্যিক রূপ থেকে পাপড়ি ও পাপড়ির লোম অভিন্ন মনে হওয়ার যে সম্ভাবনা তৈরি হয় তা সঠিক নয়। 'মিসবাহ' গ্রন্থে ইবনে কুতাইবা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, সাধারণ মানুষ চোখের পাপড়ির লোমকেই 'আশফার' বলে থাকে, যা ভুল। 'মাগরিব' গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে, নির্ভরযোগ্য আলেমদের কেউই 'আশফার' ও 'হুদুব'কে এক বলেননি। সুতরাং এখানে হয় তো একটি উহ্য শব্দ রয়েছে, যার অর্থ হবে—'দীর্ঘ পাপড়ির লোম বিশিষ্ট'। এখানে স্থানকে তার ওপর বিদ্যমান বস্তুর (লোমের) নামে নামকরণ করা হয়েছে। বায়হাকি 'দালাইলুন নুবুওয়াহ' গ্রন্থে আমিরুল মুমিনীন আলী (রা.) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিজিও তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি 'আসওয়াদুল হাদাকাহ' শব্দের পরিবর্তে 'আদআজুল আইনাইন' (গাঢ় কালো ও বড় চোখ) শব্দ ব্যবহার করেছেন।
৪ - (তিনি ছিলেন লালচে আভা মিশ্রিত শ্বেত বর্ণের, সুগঠিত ও বড় মস্তক বিশিষ্ট, উজ্জ্বল ললাট ও জোড়া লাগানো নয় এমন প্রশস্ত ভ্রু সম্পন্ন এবং দীর্ঘ চোখের পাপড়ি বিশিষ্ট।) বায়হাকি আলী (রা.) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আশ-শামাইলুশ শারীফাহ - মুস্তাললুন মিন ফায়দিল কাদীর লিল-মুনাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
كَانَ أَبيض مشربا بحمرة أَي مخالط بياضه حمرَة كَأَنَّهُ سقى بهَا ضخم الهامة بِالتَّخْفِيفِ أَي عَظِيم الرَّأْس وعظمه ممدوح مَحْبُوب لِأَنَّهُ أعون الإدراكات ونيل الكمالات أغر أَي صبيح أَبْلَج أَي مشرق مضيء وَقيل الأبلج من نقى مَا بَين حاجيه من الشّعْر فَلم يقترنا وَالِاسْم البلج بِالتَّحْرِيكِ وَالْعرب تحب البلج وَتكره الْقرن أهدب الأشفار قد سَمِعت مَا قيل فِيهِ وَحذف العاطف فِيهِ وَفِيمَا قبله ليَكُون أدعى إِلَى الإصغاء إِلَيْهِ وأبعث للقلوب على تفهم خطابه فَإِن اللَّفْظ إِذا كَانَ فِيهِ نوع غرابة وَعدم ألفة أصغى السّمع إِلَى تدبره والفكر فِيهِ فَجَاءَت الْمعَانِي مسرودة على نمط التعديد إشعارا بِأَن كلا مِنْهَا مُسْتَقل بِنَفسِهِ قَائِم بِرَأْسِهِ صَالح لانفراده بالغرض الْبَيْهَقِيّ فِي الدَّلَائِل عَن عَليّ أَمِير الْمُؤمنِينَ
5 - (كَانَ أحسن النَّاس وَجها وَأَحْسَنهمْ خلقا لَيْسَ بالطويل الْبَائِن وَلَا بالقصير) ق عَن الْبَراء // صَحَّ //
كَانَ أحسن النَّاس وَجها حَتَّى من يُوسُف قَالَ الْمُؤلف من خَصَائِصه أَنه أُوتى كل الْحسن وَلم يُؤْت يُوسُف إِلَّا شطره وَأَحْسَنهمْ خلقا بِضَم الْمُعْجَمَة على الْأَرْجَح فَالْأول إِشَارَة إِلَى الْحسن الْحسي وَالثَّانِي إِشَارَة إِلَى الْحسن الْمَعْنَوِيّ ذكره ابْن حجر وَمَا رَجحه مَمْنُوع فقد جزم الْقُرْطُبِيّ بِخِلَافِهِ فَقَالَ الرِّوَايَة بِفَتْح الْخَاء وَسُكُون اللَّام قَالَ أَرَادَ حسن الْجِسْم بِدَلِيل قَوْله بعده لَيْسَ بالطويل إِلَخ قَالَ وَأما مَا فِي حَدِيث أنس الْآتِي فروايته بِضَم الْخَاء وَاللَّام فَإِنَّهُ عَنى بِهِ حسن المعاشرة بِدَلِيل بَقِيَّة الْخَبَر وَفِي رِوَايَة وَأحسنه بِالْإِفْرَادِ وَالْقِيَاس الأول قَالَ أَبُو حَاتِم لَا يكادون يَتَكَلَّمُونَ بِهِ إِلَّا مُفردا وَقَالَ غَيره جرى على لسانهم بِالْإِفْرَادِ وَمِنْه حَدِيث ابْن عَبَّاس فِي قَول أبي سُفْيَان عِنْدِي أحسن الْعَرَب وأجمله أم حَبِيبَة بِالْإِفْرَادِ فِي الثَّانِي لَيْسَ بالطويل الْبَائِن بِالْهَمْز وَجعله بِالْيَاءِ وهم أَي الظَّاهِر قَوْله من بَاب ظهر أَو المفرط طولا الَّذِي بعد عَن حد الِاعْتِدَال وفَاق سواهُ من الرِّجَال وَلَا بالقصير بل كَانَ إِلَى الطول أقرب كَمَا أَفَادَهُ وصف الطَّوِيل بالبائن دون الْقصير بمقابله وَجَاء مُصَرحًا بِهِ فِي رِوَايَة الْبَيْهَقِيّ وَزعم أَن تَقْيِيد الْقصير بالمتردد فِي رِوَايَة لوُجُوب حمل الْمُطلق على الْمُقَيد يَدْفَعهُ أَن حمله عَلَيْهِ فِي النَّفْي لَا يجب وَفِي الْإِثْبَات تَفْصِيل ق عَن الْبَراء ابْن عَازِب وَرَوَاهُ عَنهُ أَيْضا جمع مِنْهُم الخرائطي
তিনি ছিলেন লালিমা মিশ্রিত শ্বেতবর্ণের, অর্থাৎ তাঁর শুভ্রতার সাথে লালিমা মিশ্রিত ছিল, যেন তাতে লাল রং ঢেলে দেওয়া হয়েছে। তিনি ছিলেন বৃহৎ মস্তকবিশিষ্ট। মস্তকের বিশালতা প্রশংসনীয় ও পছন্দনীয়; কারণ তা বোধশক্তি বৃদ্ধি এবং পূর্ণতা অর্জনে সহায়ক। তিনি ছিলেন উজ্জ্বল ললাটবিশিষ্ট, সুশ্রী ও দীপ্তিময়। বলা হয়েছে, ‘আবলাজ’ হলো সেই ব্যক্তি যার দুই ভ্রুর মাঝখানের স্থানটি পশমমুক্ত ও পরিষ্কার থাকে, ফলে ভ্রুদ্বয় একে অপরের সাথে মিলিত হয় না। এর মূল শব্দ হলো ‘বালাজ’। আরবরা ভ্রুদ্বয় পৃথক থাকাকে পছন্দ করত এবং জোড়া ভ্রুকে অপন্দ করত। তাঁর চোখের পাপড়ি ছিল দীর্ঘ। এই বর্ণনায় এবং এর পূর্ববর্তী বর্ণনাগুলোতে সংযোজক অব্যয় উহ্য রাখা হয়েছে যাতে তা শ্রোতার মনোযোগ অধিক আকর্ষণ করে এবং বক্তব্যের মর্মার্থ অনুধাবনে অন্তরকে উদ্বুদ্ধ করে। কেননা শব্দে যখন কিছুটা ভিন্নতা ও অপরিচিতি থাকে, তখন কান তা নিবিষ্ট হয়ে শোনে এবং অন্তর তা নিয়ে চিন্তা করে। ফলে গুণাবলিগুলো তালিকার মতো বিন্যস্ত হয়ে এসেছে এটি বোঝাতে যে, এগুলোর প্রতিটি স্বয়ংসম্পূর্ণ, স্বতন্ত্র এবং এককভাবে বর্ণনার যোগ্য। ইমাম বায়হাকী ‘দালাইলুন নুবুওয়াহ’ গ্রন্থে আমিরুল মুমিনীন আলী (রা.) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
৫ - (তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর চেহারার অধিকারী এবং দৈহিক গঠনে সবচেয়ে উত্তম; তিনি অতিশয় দীর্ঘদেহী ছিলেন না এবং খর্বকায়ও ছিলেন না।) বুখারী ও মুসলিম, আল-বারা থেকে বর্ণিত // সহীহ //
তিনি চেহারার দিক থেকে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর ছিলেন, এমনকি ইউসুফ (আ.)-এর চেয়েও। গ্রন্থকার বলেন, তাঁর একটি বৈশিষ্ট্য হলো তাঁকে পূর্ণ সৌন্দর্য দান করা হয়েছিল, আর ইউসুফ (আ.)-কে দান করা হয়েছিল সৌন্দর্যের অর্ধাংশ। ‘আহসানাহুম খুলুকান’ শব্দটিতে ‘খ’ বর্ণে পেশ হওয়াই অধিক বিশুদ্ধ মত। সে ক্ষেত্রে প্রথম অংশ দ্বারা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য সৌন্দর্যের দিকে ইশারা করা হয়েছে এবং দ্বিতীয় অংশ দ্বারা চারিত্রিক সৌন্দর্যের দিকে ইশারা করা হয়েছে, যা ইবনে হাজার উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি যা প্রাধান্য দিয়েছেন তা সর্বসম্মত নয়, কেননা ইমাম কুরতুবী নিশ্চিতভাবে এর বিপরীত মত পোষণ করেছেন। তিনি বলেছেন, বর্ণনাটি ‘খ’ বর্ণে যবর এবং ‘ল’ বর্ণে জযম যোগে অর্থাৎ ‘খালক’ (শারীরিক গঠন)। তিনি বলেন, এর দ্বারা দৈহিক সৌন্দর্যই উদ্দেশ্য, যার প্রমাণ পরবর্তী বাক্য ‘তিনি অতিশয় দীর্ঘদেহী ছিলেন না...’। পক্ষান্তরে আনাস (রা.)-এর পরবর্তী হাদীসে ‘খ’ ও ‘ল’ উভয় বর্ণে পেশ যোগে (খুলুক) বর্ণিত হয়েছে, কারণ সেখানে উত্তম আচরণের কথা বোঝানো হয়েছে যা হাদীসের অবশিষ্টাংশ থেকে স্পষ্ট। এক বর্ণনায় ‘আহসানাহু’ একবচনে এসেছে, তবে পূর্বেরটিই ভাষাগত নিয়মসম্মত। আবু হাতিম বলেন, তারা সাধারণত একবচন শব্দই ব্যবহার করে থাকেন। অন্যগণ বলেছেন, একবচন ব্যবহারই তাদের ভাষায় প্রচলিত ছিল। এর উদাহরণ হলো ইবনে আব্বাসের বর্ণিত হাদীস যেখানে আবু সুফিয়ান বলেছিলেন, ‘আমার কাছে আরবের সবচেয়ে সুন্দর ও লাবণ্যময়ী নারী উম্মে হাবীবা আছে’—এখানে দ্বিতীয় গুণের ক্ষেত্রে একবচন ব্যবহৃত হয়েছে। ‘অতিশয় দীর্ঘদেহী (আল-বাইনু)’ শব্দটি হামযা যোগে, আর ইয়াহ যোগে পড়া ভ্রমাত্মক। এর অর্থ হলো অত্যধিক দীর্ঘ যা স্বাভাবিকতা ছাড়িয়ে গেছে এবং অন্য পুরুষদের ছাড়িয়ে গেছে। তিনি খর্বকায় ছিলেন না বরং দীর্ঘকায় হওয়ার নিকটবর্তী ছিলেন। এটি বোঝা যায় এভাবে যে, দীর্ঘের ক্ষেত্রে ‘অতিশয়’ বিশেষণ ব্যবহার করা হয়েছে কিন্তু খর্বকায়ের ক্ষেত্রে তেমনটি করা হয়নি। বায়হাকীর বর্ণনায় বিষয়টি স্পষ্টভাবে এসেছে। কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, কোনো বর্ণনায় খর্বকায়ের ক্ষেত্রে ‘মুতারাদ্দিদ’ শব্দ দ্বারা সীমাবদ্ধ করা হয়েছে এবং সাধারণ শব্দকে এই সীমাবদ্ধ অর্থের ওপর প্রয়োগ করা আবশ্যক, তবে এই দাবি সঠিক নয়; কারণ নেতিবাচক বাক্যে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয় এবং ইতিবাচক বাক্যের ক্ষেত্রেও বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে। বুখারী ও মুসলিম এটি আল-বারা ইবনে আযিব থেকে বর্ণনা করেছেন এবং আল-খারাইতিসহ একদল মুহাদ্দিসও তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আশ-শামাইলুশ শারীফাহ - মুস্তাললুন মিন ফায়দিল কাদীর লিল-মুনাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
6 - (كَانَ أحسن الْبشر قدما) ابْن سعد عَن عبد الله بن بُرَيْدَة مُرْسلا // صَحَّ //
كَانَ أحسن الْبشر قدما بِفَتْح الْقَاف وَهِي من الْإِنْسَان مَعْرُوفَة وَهِي أُنْثَى وتصغيرها قديمَة وَالْجمع أَقْدَام وَقد روى ابْن صاعد عَن سراقَة قَالَ دَنَوْت من الْمُصْطَفى صلى الله عليه وسلم وَهُوَ على نَاقَته فَرَأَيْت سَاقه فِي غرزه كَأَنَّهَا جهارة أَي فِي شدَّة الْبيَاض فَلَا يُنَافِيهِ مَا ورد أَنه كَانَ فِي سَاقه حموشة ابْن سعد فِي الطَّبَقَات عَن عبد الله بن بريد مُرْسلا هُوَ قَاضِي مرو قَالَ الذَّهَبِيّ ثِقَة ولد سنة 15 وعاش مائَة سنة
7 - (كَانَ أحسن النَّاس خلقا) م د عَن أنس
كَانَ أحسن لفظ رِوَايَة التِّرْمِذِيّ من أحسن النَّاس خلقا بِالضَّمِّ لحيازته جَمِيع المحاسن والمكارم وتكاملها فِيهِ وَلما اجْتمع فِيهِ من خِصَال الْكَمَال وصفات الْجلَال وَالْجمال مَالا يحصره حد وَلَا يُحِيط بِهِ عد أثنى الله عَلَيْهِ بِهِ فِي كِتَابه بقوله {وَإنَّك لعلى خلق عَظِيم}
فوصفه بالعظم وزاده فِي المدحة بعلى المشعرة باستعلائه على معالي الاخلاق واستيلائه عَلَيْهَا فَلم يصل إِلَيْهَا مَخْلُوق وَكَمَال الْخلق إِنَّمَا ينشأ عَن كَمَال الْعقل لِأَنَّهُ الَّذِي تقتبس بِهِ الْفَضَائِل وتجتنب الرذائل وَقَضِيَّة كَلَام الْمُؤلف أَن هَذَا هُوَ الحَدِيث بِتَمَامِهِ وَالْأَمر بِخِلَافِهِ بل بَقِيَّته عَن مُسلم فَرُبمَا تحضر الصَّلَاة وَهُوَ فِي بيتنا فيأمر بالبساط الَّذِي تَحْتَهُ فيكنس ثمَّ ينضح ثمَّ يؤم رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وعَلى آله وَسلم ونقوم خَلفه فَيصَلي بِنَا وَكَانَ بساطهم من جريد النّخل كَذَا فِي // صَحِيح مُسلم //
فَائِدَة روى أَبُو مُوسَى بِإِسْنَاد مظلم كَمَا فِي الْإِصَابَة إِلَى هَدِيَّة عَن حَمَّاد عَن ثَابت عَن أنس قَالَ وَفد وَفد من الْيمن وَفِيهِمْ رجل يُقَال لَهُ ذؤالة بن عوقلة الثمالِي فَوقف بَين يَدي النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُول الله من أحسن النَّاس خلقا وخلقا قَالَ أَنا ياذؤالة وَلَا فَخر فَذكر حَدِيثا رَكِيك الْأَلْفَاظ م د عَن أنس ابْن مَالك تَمَامه فِي بعض الرِّوَايَات قَالَ أَي أنس وَكَانَ لي
৬ - (তিনি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর পায়ের অধিকারী ছিলেন) ইবনে সাদ, আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন // সহীহ //
‘কদম’ (পা) শব্দটি ‘ক্বাফ’ অক্ষরে ফাতহা (যবর) সহকারে, এটি মানুষের একটি সুপরিচিত অঙ্গ। এটি স্ত্রীলিঙ্গবাচক শব্দ, এর ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ হলো ‘কুদাইমাহ’ এবং এর বহুবচন হলো ‘আকদাম’। ইবনে সায়িদ সুরাকাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটবর্তী হলাম যখন তিনি তাঁর উটনীর ওপর ছিলেন। তখন আমি তাঁর পায়ের নলা তাঁর জিনের পাদানি (রাকাব)-এর মধ্যে দেখলাম, যা অত্যন্ত ধবধবে সাদা উজ্জ্বল ছিল। এটি তাঁর পায়ের নলায় চিকনতা থাকার বর্ণনার সাথে সাংঘর্ষিক নয়। ইবনে সাদ তাঁর ‘তাবাকাত’ গ্রন্থে আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি মার্ভের বিচারক (কাজী) ছিলেন। ইমাম যাহাবী বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য, ১৫ হিজরিতে জন্ম এবং একশত বছর জীবিত ছিলেন।
৭ - (তিনি চরিত্রের দিক থেকে মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম ছিলেন) মুসলিম ও আবু দাউদ, আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন।
‘কানা আহসান’ (তিনি ছিলেন সবচেয়ে সুন্দর), এটি ইমাম তিরমিযীর বর্ণনার শব্দ: ‘চরিত্রের দিক থেকে মানুষের মধ্যে অন্যতম সুন্দর’। এটি ‘খুলুক’ (চরিত্র) শব্দটিতে পেশ যোগে গঠিত, কারণ তাঁর মধ্যে সকল প্রকার সৌন্দর্য ও মহানুভবতা পূর্ণতা লাভ করেছিল। এবং তাঁর মধ্যে এমন পূর্ণতার বৈশিষ্ট্য এবং মর্যাদা ও সৌন্দর্যের গুণাবলী একত্রিত হয়েছিল যা কোনো সীমা দিয়ে আবদ্ধ করা যায় না এবং গণনা করে শেষ করা যায় না। আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে তাঁর প্রশংসা করে বলেছেন, {এবং নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী}।
সুতরাং তিনি তাঁকে ‘মহান’ (আযাম) গুণের মাধ্যমে বিশেষায়িত করেছেন এবং প্রশংসায় ‘আলা’ (উপর) শব্দ যোগ করেছেন, যা উচ্চমর্যাদাপূর্ণ চরিত্রের ওপর তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও আধিপত্য নির্দেশ করে। কোনো সৃষ্টিই সেই উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেনি। আর চরিত্রের পূর্ণতা মূলত আকল বা বুদ্ধির পূর্ণতা থেকেই উদ্ভূত হয়, কারণ এর মাধ্যমেই গুণাবলী অর্জন করা যায় এবং মন্দ স্বভাব বর্জন করা যায়। লেখকের বক্তব্যের দাবি অনুযায়ী এটিই হলো পূর্ণ হাদিস, কিন্তু বিষয়টি এর বিপরীত; বরং মুসলিমের বর্ণনায় এর অবশিষ্ট অংশ রয়েছে: ‘কখনও সালাতের সময় হতো যখন তিনি আমাদের ঘরে থাকতেন, তখন তিনি তাঁর নিচের বিছানার ব্যাপারে নির্দেশ দিতেন, ফলে সেটি ঝাড়ু দেওয়া হতো, এরপর পানি ছিটানো হতো, অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইমামতি করতেন এবং আমরা তাঁর পেছনে দাঁড়াতাম, তারপর তিনি আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করতেন’। আর তাদের বিছানা ছিল খেজুর পাতার তৈরি। ‘সহীহ মুসলিম’-এ এভাবেই বর্ণিত আছে।
ফায়দা: আবু মুসা একটি অন্ধকারচ্ছন্ন (অত্যন্ত দুর্বল) সনদে বর্ণনা করেছেন—যেমনটি ‘আল-ইসাবাহ’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে—হাদিয়্যাহ থেকে, তিনি হাম্মাদ থেকে, তিনি সাবিত থেকে, তিনি আনাস থেকে; তিনি বলেন: ইয়ামেন থেকে একটি প্রতিনিধি দল এলো, যাদের মধ্যে যুয়ালা ইবনে আওকালা আস-সুমালি নামক এক ব্যক্তি ছিল। সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে দাঁড়িয়ে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, সৃষ্টিগত অবয়ব এবং চরিত্রের দিক থেকে মানুষের মধ্যে কে সবচেয়ে সুন্দর? তিনি বললেন: আমি হে যুয়ালা, আর এতে কোনো অহংকার নেই। এরপর তিনি একটি হাদিস উল্লেখ করেন যার শব্দগুলো অত্যন্ত দুর্বল। মুসলিম ও আবু দাউদ আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, কিছু বর্ণনায় এর পূর্ণাঙ্গ রূপ এসেছে যে, আনাস বলেন: আমার একটি...
(খণ্ড: ১)
আশ-শামাইলুশ শারীফাহ - মুস্তাললুন মিন ফায়দিল কাদীর লিল-মুনাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
أَخ يُقَال لَهُ أَبُو عُمَيْر قَالَ أَحْسبهُ كَانَ فطيما فَكَانَ إِذا جَاءَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَرَآهُ قَالَ يَا أَبَا عُمَيْر مَا فعل النغير قَالَ فَكَانَ يلْعَب بِهِ هَكَذَا هُوَ عِنْد مُسلم وَفِيه أَيْضا عَنهُ كَانَ من أحسن النَّاس خلقا فأرسلني يَوْمًا لحَاجَة فَقلت وَالله لَا أذهب فَخرجت حَتَّى أَمر على صبيان يَلْعَبُونَ فِي السُّوق فَإِذا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قبض بقفاي من ورائي فَنَظَرت إِلَيْهِ وَهُوَ يضْحك فَقَالَ أنيس ذهبت حَيْثُ أَمرتك قلت نعم أَنا ذَاهِب
8 - (كَانَ أحسن النَّاس وأجود النَّاس وَأَشْجَع النَّاس) ق ت هـ عَن أنس // صَحَّ //
كَانَ أحسن النَّاس صُورَة وسيرة وأجود النَّاس بِكُل مَا ينفع حذف للتعميم أَو لفوت إحصائه كَثْرَة لِأَن من كَانَ أكملهم شرفا وأيقظهم قلبا وألطفهم طبعا وأعدلهم مزاجا جدير بِأَن يكون أسمحهم صلَة وأنداهم يدا وَلِأَنَّهُ مستغن عَن الفانيات بالباقيات الصَّالِحَات وَلِأَنَّهُ تخلق بِصِفَات الله تَعَالَى الَّتِي مِنْهَا الْجُود وَأَشْجَع النَّاس أَي أقواهم قلبا وأجودهم فِي حَال الْبَأْس فَكَانَ الشجاع مِنْهُم الَّذِي يلوذ بجانبه عِنْد التحام الْحَرْب وَمَا ولى قطّ مُنْهَزِمًا وَلَا تحدث أحد عَنهُ بفرار وَقد ثبتَتْ أشجعيته بالتواتر النقلي قَالَ المُصَنّف بل يُؤْخَذ ذَلِك من النَّص القرآني لقَوْله يأيها النَّبِي جهد الْكفَّار
فكلفه وَهُوَ فَرد جِهَاد الْكل و {لَا يُكَلف الله نفسا إِلَّا وسعهَا}
وَلَا ضير فِي كَون المُرَاد هُوَ وَمن مَعَه إِذْ غَايَته أَنه قوبل بِالْجمعِ وَذَلِكَ مُفِيد للمقصود وَقد جمع صِفَات القوى الثَّلَاث الْعَقْلِيَّة والغضبية والشهوية وَالْحسن تَابع لاعتدال المزاج المستتبع لصفات النَّفس الَّذِي بِهِ جودة القريحة الدَّالَّة على الْعقل واكتساب الْفَضَائِل وتجنب الرذائل والجود كَمَال الْقُوَّة الشهوية والغضبية كمالها الشجَاعَة وَهَذِه أُمَّهَات الْأَخْلَاق الفاضلة فَلذَلِك اقْتصر عَلَيْهَا قَالَه الطَّيِّبِيّ ق ت عَن أنس ابْن مَالك وَقَضِيَّة صَنِيع الْمُؤلف أَن هَذَا هُوَ الحَدِيث بِكَمَالِهِ وَالْأَمر بِخِلَافِهِ بل بَقِيَّته فِي البُخَارِيّ وَلَقَد فزع أهل الْمَدِينَة أَي لَيْلًا فَكَانَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم سبقهمْ على فرس أَي استعاره من أبي طَلْحَة وَقَالَ وَجَدْنَاهُ بحرا
[আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহুর] এক ভাই ছিল যাকে আবু উমাইর বলা হতো। বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয় সে তখন কেবল দুধ পান ছেড়েছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আসতেন এবং তাকে দেখতেন, তখন বলতেন: "হে আবু উমাইর, নুগাইর (ছোট পাখিটি) কী করেছে?" বর্ণনাকারী বলেন, সে সেটি নিয়ে খেলা করত। এটি ইমাম মুসলিমের বর্ণনাতেও একইভাবে রয়েছে। সেখানে আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: নবীজি মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। একদিন তিনি আমাকে একটি প্রয়োজনে পাঠালেন, তখন আমি বললাম: আল্লাহর কসম, আমি যাব না। এরপর আমি বের হলাম এবং বাজারে খেলাধুলা করছে এমন কিছু বালকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেছন দিক থেকে এসে আমার ঘাড় ধরলেন। আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখলাম তিনি হাসছেন। তিনি বললেন: "হে উনাইস, আমি তোমাকে যেখানে যেতে বলেছিলাম সেখানে কি গিয়েছ?" আমি বললাম: হ্যাঁ, আমি যাচ্ছি।
৮ - (তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর, সবচেয়ে দানশীল এবং সবচেয়ে সাহসী)। বুখারি, তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ, আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। // সহিহ //
তিনি অবয়ব ও চরিত্রে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর ছিলেন এবং যা কিছু কল্যাণকর তাতে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল ছিলেন। এখানে [কী দান করতেন তা] উহ্য রাখা হয়েছে ব্যাপকতা বোঝাতে অথবা এর আধিক্যের কারণে তা গণনা করা অসম্ভব বলে। কেননা, যিনি সম্মানে সবচেয়ে পূর্ণ, হৃদয়ের দিক থেকে সবচেয়ে সচেতন, স্বভাবের দিক থেকে সবচেয়ে দয়ালু এবং মেজাজের দিক থেকে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ, তিনিই আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষায় সবচেয়ে উদার এবং সবচেয়ে বড় দাতা হওয়ার উপযুক্ত। অধিকন্তু, তিনি নশ্বর পার্থিব বস্তুর পরিবর্তে অবিনশ্বর সৎকর্মের মাধ্যমে অভাবমুক্ত ছিলেন এবং তিনি আল্লাহ তাআলার গুণাবলীতে গুণান্বিত হয়েছিলেন, যার অন্যতম হলো দানশীলতা (জুদ)। আর মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সাহসী হওয়ার অর্থ হলো অন্তরের দিক থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী এবং যুদ্ধের ময়দানে সবচেয়ে দৃঢ়। তাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সাহসী হিসেবে গণ্য হতো, যে যুদ্ধের প্রচণ্ডতার সময় নবীজির পাশে আশ্রয় গ্রহণ করত। তিনি কখনো পরাজিত হয়ে রণক্ষেত্র ত্যাগ করেননি এবং কেউ কখনো তাঁর পলায়নের কথা উল্লেখ করেনি। তাঁর বীরত্ব ও সাহসিকতা নির্ভরযোগ্য বর্ণনার মাধ্যমে অকাট্যভাবে (তাওয়াতুর) প্রমাণিত। গ্রন্থকার বলেন, বরং এটি কুরআনের মূল পাঠ (নস) থেকেই গৃহীত হয়েছে, যেখানে আল্লাহ বলেছেন: "হে নবী, আপনি কাফেরদের বিরুদ্ধে জিহাদ করুন।"
ফলে তিনি একাকী হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহ তাঁকে সকলের বিরুদ্ধে জিহাদের দায়িত্ব দিয়েছেন। আর "আল্লাহ কোনো আত্মার ওপর তার সামর্থ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেন না।"
আর এতে কোনো ক্ষতি নেই যদি এর দ্বারা উদ্দেশ্য তিনি এবং তাঁর সঙ্গীরাও হন; কারণ এর চূড়ান্ত ফলাফল হলো যে তাঁকে একটি বিশাল বাহিনীর মোকাবিলা করতে হয়েছিল, যা মূল উদ্দেশ্যটিকেই প্রমাণ করে। তিনি তিনটি প্রধান মানবীয় শক্তির গুণাবলীই নিজ সত্তায় ধারণ করেছিলেন—বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তি (আকলিয়া), তেজ বা বীরত্ব (গাযবিয়্যাহ) এবং প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ (শাহওয়ানিয়্যাহ)। সৌন্দর্য হলো মেজাজের ভারসাম্যের অনুগামী, যা আত্মার এমন সব গুণাবলী বয়ে আনে যার মাধ্যমে তীক্ষ্ণ মেধা ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় পাওয়া যায় এবং যার দ্বারা সদ্গুণ অর্জন ও মন্দ কাজ বর্জন করা সহজ হয়। দানশীলতা হলো প্রবৃত্তি শক্তির পূর্ণতা এবং বীরত্ব হলো তেজ বা ক্রোধের শক্তির পূর্ণতা। এগুলোই হলো শ্রেষ্ঠ চরিত্রের মূলভিত্তি, একারণেই আল্লামা তিবি বলেন যে, তিনি এই তিনটির বর্ণনায় সীমাবদ্ধ থেকেছেন। বুখারি ও তিরমিজি আনাস ইবনে মালিক রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। লেখকের উপস্থাপনা ভঙ্গি থেকে মনে হতে পারে যে এটিই পূর্ণ হাদিস, কিন্তু বিষয়টি আসলে তেমন নয়। বরং এর অবশিষ্ট অংশ বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে: "একবার মদিনাবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়ল—অর্থাৎ রাতে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবার আগে একটি ঘোড়ায় চড়ে [শব্দের দিকে] ছুটে গেলেন—অর্থাৎ তিনি আবু তালহার কাছ থেকে একটি ঘোড়া ধার নিয়েছিলেন এবং [ফিরে এসে] বললেন: আমি একে সমুদ্রের মতো [গতিসম্পন্ন] পেয়েছি।"
(খণ্ড: ১)
আশ-শামাইলুশ শারীফাহ - মুস্তাললুন মিন ফায়দিল কাদীর লিল-মুনাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
هَكَذَا سَاقه فِي بَاب مدح الشجَاعَة فِي الْحَرْب وَفِي مُسلم فِي بَاب صفة النَّبِي صلى الله عليه وسلم عقب مَا ذكر وَلَقَد قرع أهل الْمَدِينَة ذَات لَيْلَة فَانْطَلق نَاس قبل الصَّوْت فَتَلقاهُمْ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم رَاجعا وَقد سبقهمْ إِلَى الصَّوْت وَهُوَ على فرس لأبي طَلْحَة عرى فِي عُنُقه السَّيْف وَهُوَ يَقُول لن تراعوا قَالَ وَجَدْنَاهُ بحرا أَو إِنَّه لبحر انْتهى
9 - (كَانَ أحسن النَّاس صفة وأجملها كَانَ ربعَة إِلَى الطول مَا هُوَ بعيد مَا بَين الْمَنْكِبَيْنِ أسيل الْخَدين شَدِيد سَواد الشّعْر أكحل الْعَينَيْنِ أهدب الأشفار إِذا وطئ بقدمه وطئ بكلها لَيْسَ لَهُ إخمص إِذا وضع رِدَاءَهُ عَن مَنْكِبَيْه فَكَأَنَّهُ سبيكة من فضَّة وَإِذا ضحك يتلألأ) الْبَيْهَقِيّ عَن أبي هُرَيْرَة // صَحَّ //
كَانَ أحسن النَّاس صفة وأجملها لما منحه الله من الصِّفَات الحميدة الجليلة كَانَ ربعَة إِلَى الطول مَا هُوَ بعيد مَا بَين الْمَنْكِبَيْنِ أسيل الْخَدين فِي رِوَايَة التِّرْمِذِيّ سهل الْخَدين أَي لَيْسَ فِي خديه نتوء وَلَا ارْتِفَاع وَأَرَادَ أَن خديه أسيلان قَلِيلا اللَّحْم رَقِيقا الْجلد شَدِيد سَواد الشّعْر أكحل الْعَينَيْنِ أَي شَدِيد سَواد أجفانهما أهدب الأشفار قَالَ ابْن حجر وَكَأن قَوْله أسيل الْخَدين هُوَ الْحَامِل على من سَأَلَ كَأَن وَجهه مثل السَّيْف إِذا وطئ بقدمه وطئ بكلها لَيْسَ لَهُ إخمص أَي لَا يلصق الْقدَم بِالْأَرْضِ عِنْد الْوَطْء قَالَ المُصَنّف وَغَيره وَذكر كثير أَنه كَانَ إِذا مَشى على الصخر غاصت قدماه فِيهِ وَلم أَقف لَهُ على أصل إِذا وضع رِدَاءَهُ عَن مَنْكِبَيْه فَكَأَنَّهُ سبيكة فضَّة وَإِذا ضحك يتلألأ أَي يلمع ويضئ وَلَا يخفى مَا فِي تعدد هَذِه الصِّفَات من الْحسن وَذَلِكَ لِأَنَّهَا بالتعاطف تصير كَأَنَّهَا جملَة وَاحِدَة قَالُوا وَمن تَمام الْإِيمَان بِهِ الْإِيمَان بِأَنَّهُ سُبْحَانَهُ خلق جسده على وَجه لم يظْهر قبله وَلَا بعده مثله وَفِي الْأَثر أَن خَالِد بن الْوَلِيد خرج فِي سَرِيَّة فَنزل بحي فَقَالَ سيد الْحَيّ صف لنا مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أما إِنِّي أفصل فَلَا فَقَالَ أجمل فَقَالَ الرَّسُول على قدر الْمُرْسل كَذَا فِي أسرار الْإِسْرَاء لِابْنِ الْمُنِير الْبَيْهَقِيّ فِي الدَّلَائِل عَن أبي هُرَيْرَة
এভাবেই তিনি যুদ্ধের ময়দানে বীরত্বের প্রশংসার অধ্যায়ে এটি বর্ণনা করেছেন। সহীহ মুসলিমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুণাবলি সংক্রান্ত অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে যে, এক রাতে মদিনাবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন, তখন কিছু মানুষ শব্দের উৎসের দিকে ছুটে গেলেন। পথে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাঁদের দেখা হলো, যিনি ইতিমধ্যেই শব্দের উৎসস্থল পরিদর্শন করে ফিরে আসছিলেন এবং তিনি তাঁদের আগেই সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন। তিনি আবু তালহার একটি জিনহীন ঘোড়ায় সওয়ার ছিলেন, তাঁর গলায় তলোয়ার ঝুলছিল এবং তিনি বলছিলেন, "তোমরা ভীত হয়ো না।" বর্ণনাকারী বলেন, "আমরা ঘোড়াটিকে সমুদ্রের মতো (দ্রুতগামী) পেয়েছি" অথবা "নিশ্চয়ই এটি একটি সমুদ্র।" সমাপ্ত।
৯ - (তিনি মানুষের মধ্যে শারীরিক অবয়বে সবচেয়ে সুন্দর ও সুশ্রী ছিলেন। তিনি ছিলেন মধ্যমাকৃতির তবে কিছুটা দীর্ঘাকৃতির দিকে ঝুঁকে পড়া, তাঁর দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান প্রশস্ত ছিল, তাঁর গাল দুটি ছিল মসৃণ ও কোমল, চুল ছিল অত্যন্ত কালো, চোখ দুটি ছিল গাঢ় কালো, চোখের পাপড়ি ছিল ঘন ও লম্বা। যখন তিনি তাঁর পা রাখতেন, পুরো পা দিয়ে রাখতেন, তাঁর পায়ের পাতার নিচে কোনো শূন্যস্থান ছিল না। যখন তিনি তাঁর কাঁধ থেকে চাদর সরিয়ে নিতেন, তখন তাঁকে যেন রুপার একটি পিণ্ডের মতো মনে হতো। আর যখন তিনি হাসতেন, তখন তাঁর মুখমণ্ডল ঝলমল করত।) বায়হাকী আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন // সহীহ //
আল্লাহ তাঁকে যেসব প্রশংসনীয় ও মহান গুণাবলি দান করেছিলেন, তার কারণে তিনি মানুষের মধ্যে দৈহিক বর্ণনায় শ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে সুন্দর ছিলেন। তিনি ছিলেন মধ্যমাকৃতির তবে কিছুটা দীর্ঘাকৃতির দিকে ঘেঁষা, তাঁর দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান প্রশস্ত ছিল এবং গাল দুটি ছিল মসৃণ। ইমাম তিরমিযীর বর্ণনায় এসেছে 'সহলুল খাদ্দাইন' অর্থাৎ তাঁর গাল দুটি উঁচানো বা হাড় বের হওয়া ছিল না। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাঁর গাল দুটি ছিল মসৃণ, যাতে মাংসের আধিক্য ছিল না এবং চামড়া ছিল পাতলা। চুল ছিল অত্যন্ত কালো। তিনি ছিলেন 'আকহালুল আইনাইন' অর্থাৎ তাঁর চোখের পাতা ছিল অত্যন্ত কালো। চোখের পাপড়ি ছিল দীর্ঘ। ইবনে হাজার বলেন, গাল দুটি মসৃণ হওয়া থেকেই সম্ভবত কেউ প্রশ্ন করেছিলেন যে, তাঁর চেহারা কি তলোয়ারের মতো লম্বাটে ছিল? যখন তিনি তাঁর পা রাখতেন, পুরো পা দিয়ে রাখতেন, তাঁর পায়ে কোনো 'ইখমাস' (পায়ের পাতার মধ্যভাগের খাঁজ) ছিল না, অর্থাৎ পা রাখার সময় পায়ের কোনো অংশ মাটি থেকে উপরে থাকত না। গ্রন্থকার এবং অন্যান্যরা বলেছেন এবং অনেকেই উল্লেখ করেছেন যে, তিনি যখন শক্ত পাথরের ওপর হাঁটতেন তখন তাঁর পা তাতে দেবে যেত, তবে আমি এই বর্ণনার কোনো নির্ভরযোগ্য মূল উৎস খুঁজে পাইনি। যখন তিনি তাঁর কাঁধ থেকে চাদর সরিয়ে নিতেন তখন তাঁকে রুপার পিণ্ডের মতো স্বচ্ছ ও উজ্জ্বল দেখাত। আর যখন তিনি হাসতেন তখন তা 'ইয়াতালাল্লা' বা দীপ্তি ছড়াত, অর্থাৎ উজ্জ্বল ও প্রদীপ্ত হতো। এই গুণাবলির আধিক্যের মধ্যে যে অনন্য সৌন্দর্য রয়েছে তা সুস্পষ্ট, কারণ এই গুণগুলো একত্রে মিলে যেন একটি পূর্ণাঙ্গ সৌন্দর্যের প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আলিমগণ বলেন, তাঁর প্রতি ঈমানের পূর্ণতা হলো এই বিশ্বাস পোষণ করা যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর পবিত্র দেহ মোবারককে এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন যার কোনো অনুরূপ তাঁর আগে বা পরে আর কেউ দেখেনি। আছারে বর্ণিত হয়েছে যে, খালিদ বিন ওয়ালিদ একটি সেনাদল নিয়ে বের হয়ে একটি গোত্রে যাত্রা বিরতি করেন। তখন সেই গোত্রের নেতা বললেন, "আমাদের কাছে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণনা দিন।" তিনি বললেন, "আমি যদি বিস্তারিত বর্ণনা দিতে যাই তবে তা সম্ভব নয়।" সে বলল, "তবে সংক্ষেপে বর্ণনা দিন।" তিনি বললেন, "প্রেরিত রাসূলের মহিমা তাঁকে প্রেরণকারীর (আল্লাহর) মহিমা অনুযায়ী।" ইবনে মুনীরের 'আসরারুল ইসরা' কিতাবে এমনটিই বর্ণিত হয়েছে। এটি বায়হাকী তাঁর 'দালাইলুন নুবুওয়াহ' গ্রন্থে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আশ-শামাইলুশ শারীফাহ - মুস্তাললুন মিন ফায়দিল কাদীর লিল-মুনাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
10 - (كَانَ أَزْهَر اللَّوْن كَأَن عرقه اللُّؤْلُؤ إِذا مَشى تكفأ) م عَن أنس
كَانَ أَزْهَر اللَّوْن أَي نيره وَحسنه وَفِي الصِّحَاح كَغَيْرِهِ الْأَبْيَض الْمشرق وَبِه أَو بالأبيض الْمُنِير فسره عَامَّة الْمُحدثين حملا على الْأَكْمَل أَو لقَرِينَة وَلَعَلَّ من فسره بالأبيض الممزوج بحمرة نظر إِلَى المُرَاد بِقَرِينَة الْوَاقِع قَالَ مُحَقّق وَالْأَشْهر فِي لَونه أَن الْبيَاض غَالب عَلَيْهِ سِيمَا فِيمَا تَحت الثِّيَاب لَكِن لم يكن كالجص بل نير ممزوج بحمرة غير صَافِيَة بل مَعَ نوع كدر كَمَا فِي الْمغرب وَلِهَذَا جَاءَ فِي رِوَايَة أسمر وَبِه يحصل التَّوْفِيق بَين الرِّوَايَات كَأَن عرقه محركا مَا يترشح من جلد الْإِنْسَان اللُّؤْلُؤ فِي الصفاء وَالْبَيَاض وَفِي خبر الْبَيْهَقِيّ عَن عَائِشَة كَانَ يخصف نَعله وَكنت أغزل فَنَظَرت إِلَيْهِ فَجعل جَبينه يعرق وَجعل عرقه يتَوَلَّد نورا إِذا مَشى تكفأ بِالْهَمْز وَتَركه أَي مَال يَمِينا وَشمَالًا م فِي المناقب عَن أنس ابْن مَالك وروى مَعْنَاهُ البُخَارِيّ
1 - (كَانَ أَشد حَيَاء من الْعَذْرَاء فِي خدرها) حم ق هـ عَن أبي سعيد // صَحَّ //
كَانَ أَشد حَيَاء بِالْمدِّ أَي استحياء من ربه وَمن الْخلق يعْنى حياؤه أَشد من حَيَاء الْعَذْرَاء الْبكر لِأَن عذرتها أَي جلدَة بَكَارَتهَا بَاقِيَة فِي خدرها فِي مَحل الْحَال أَي كائنة فِي خدرها بِالْكَسْرِ سترهَا الَّذِي يَجْعَل بِجَانِب الْبَيْت والعذراء فِي الْخلْوَة يشْتَد حياؤها أَكثر مِمَّا يكون خَارجه لكَون الْخلْوَة مَظَنَّة الْفِعْل بهَا وَمحل حيائه فِي غير الْحُدُود وَلِهَذَا قَالَ للَّذي اعْترف بِالزِّنَا أنكتها لَا يكنى كَمَا بَين فِي الصَّحِيح فِي = كتاب الْحُدُود = حم ق فِي صفة النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَفِي فضائله هـ فِي الزّهْد عَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ وَفِي الْبَاب أنس وَغَيره
1 - (كَانَ أَصْبِر النَّاس على أقذار النَّاس) ابْن سعد عَن إِسْمَاعِيل ابْن عَيَّاش مُرْسلا // صَحَّ //
كَانَ أَصْبِر النَّاس أَي أَكْثَرهم صبرا على أقذار النَّاس أَي مَا يكون من قَبِيح
১০ - (তাঁর গায়ের রঙ ছিল উজ্জ্বল, তাঁর ঘাম যেন মুক্তার মতো ছিল, যখন তিনি হাঁটতেন তখন কিছুটা ঝুঁকে চলতেন) মুসলিম আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন।
তাঁর গায়ের রঙ ছিল উজ্জ্বল অর্থাৎ তা ছিল জ্যোতির্ময় ও সুন্দর। 'আস-সিহাহ' ও অন্যান্য অভিধানে এর অর্থ করা হয়েছে অত্যন্ত শুভ্র ও উজ্জ্বল। অধিকাংশ মুহাদ্দিস একে সর্বোত্তম গুণের ওপর ভিত্তি করে অথবা কোনো প্রসঙ্গের কারণে 'উজ্জ্বল শুভ্র' দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন। সম্ভবত যারা একে লালমিশ্রিত শুভ্র বলেছেন, তারা বাস্তব অবস্থার নিরিখে এর অর্থ করেছেন। একজন গবেষক বলেছেন, তাঁর রঙের ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ মত হলো যে, তাঁর গায়ের রঙে শুভ্রতা প্রবল ছিল, বিশেষ করে যা পোশাকের নিচে আবৃত থাকত। তবে তা চুনের মতো সাদা ছিল না, বরং তা ছিল লাল মিশ্রিত উজ্জ্বল শুভ্রতা, যা একদম স্বচ্ছ ছিল না বরং কিছুটা গাঢ় আভার মিশ্রণ ছিল, যেমনটি 'আল-মাগরিব' গ্রন্থে উল্লেখ আছে। আর একারণেই এক বর্ণনায় 'শ্যামবর্ণ' শব্দ এসেছে এবং এর মাধ্যমেই বর্ণনাগুলোর মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করা হয়। 'যেন তাঁর ঘাম' (চামড়া থেকে যা নিঃসৃত হয়) স্বচ্ছতা ও শুভ্রতায় ছিল 'মুক্তার' মতো। বায়হাকিতে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রয়েছে: তিনি তাঁর জুতো মেরামত করছিলেন আর আমি সুতো কাটছিলাম। আমি তাঁর দিকে তাকালাম, তাঁর কপাল ঘামতে শুরু করল এবং তাঁর ঘাম থেকে আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছিল। 'যখন তিনি হাঁটতেন তখন তাকাফ্ফা' অর্থাৎ তিনি ডানে ও বামে সামান্য হেলে চলতেন (এটি তাঁর হাঁটার ক্ষিপ্রতা ও শক্তির পরিচায়ক)। মুসলিম 'ফাদায়িল' অধ্যায়ে আনাস ইবনে মালিক থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম বুখারিও এর মর্মার্থ বর্ণনা করেছেন।
১ - (তিনি পর্দার আড়ালে থাকা কুমারী মেয়ের চেয়েও বেশি লজ্জাশীল ছিলেন) আহমদ, বুখারি, মুসলিম ও ইবনে মাজাহ আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন // সহিহ //
তিনি ছিলেন অধিক লজ্জাশীল, অর্থাৎ তাঁর রবের প্রতি এবং সৃষ্টির প্রতি তাঁর লজ্জা ছিল অত্যধিক। অর্থাৎ তাঁর লজ্জা ছিল সেই কুমারী মেয়ের চেয়েও বেশি যার কুমারিত্ব অটুট রয়েছে এবং যে তার 'খিদর' বা পর্দার অন্তরালে অবস্থান করছে। 'খিদর' হলো ঘরের কোণে স্থাপিত পর্দা। নির্জনে থাকা কুমারী মেয়ের লজ্জা লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকার কারণে আরও বেশি হয়, কারণ নির্জনতা হলো কোনো কাজ সংঘটিত হওয়ার সম্ভাব্য স্থান। তাঁর এই লজ্জাশীলতা ছিল হদ বা দণ্ডবিধির ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য বিষয়গুলোতে। একারণেই জিনার স্বীকৃতি প্রদানকারী ব্যক্তিকে তিনি সরাসরি জিজ্ঞেস করেছিলেন (রূপক ব্যবহার না করে), যেমনটি বুখারির 'কিতাবুল হুদুদ'-এ বর্ণিত হয়েছে। ইমাম আহমদ, বুখারি ও মুসলিম নবীর গুণাবলি ও ফজিলত অধ্যায়ে এবং ইবনে মাজাহ যুহদ অধ্যায়ে আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এই অনুচ্ছেদে আনাস ও অন্যান্য সাহাবি থেকেও বর্ণনা রয়েছে।
১ - (মানুষের নোংরামি বা কটু আচরণের প্রতি তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে ধৈর্যশীল) ইবনে সা'দ ইসমাইল ইবনে আইয়্যাশ থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন // সহিহ //
তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে ধৈর্যশীল, অর্থাৎ মানুষের পক্ষ থেকে আসা নোংরামি বা কদর্য আচরণের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন সর্বাধিক ধৈর্য ধারণকারী।
(খণ্ড: ১)
আশ-শামাইলুশ শারীফাহ - মুস্তাললুন মিন ফায়দিল কাদীর লিল-মুনাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
فعلهم وسيء قَوْلهم لِأَنَّهُ لانشراح صَدره يَتَّسِع لما تضيق عَنهُ صُدُور الْعَامَّة فَكَانَت مساوئ أَخْلَاقهم ومدانئ أفعالهم وَسُوء مَسِيرهمْ وقبح سيرتهم فِي جنب صَدره كقطرة دم فِي قَامُوس اليم وَفِيه شرف الصَّبْر ابْن سعد فِي الطَّبَقَات عَن إِسْمَاعِيل ابْن عَيَّاش بِفَتْح الْمُهْملَة وَشد الْمُثَنَّاة وشين مُعْجمَة وَهُوَ ابْن سليم مُرْسلا هُوَ العنسى بالنُّون عَالم الشَّام فِي عصره صَدُوق فِي رِوَايَته عَن أهل بَلَده يخلط فِي غَيرهم
13 - (كَانَ أفلج الثنيتين إِذا تكلم ريء كالنور يخرج من بَين ثناياه) ت فِي الشَّمَائِل طب وَالْبَيْهَقِيّ عَن ابْن عَبَّاس // صَحَّ //
كَانَ أفلج الثنيتين أَي بعيد مَا بَين الثنايا والرباعيات والفلج وَالْفرق فُرْجَة بَين الثنيتين كَذَا فِي النِّهَايَة وَزَاد الْجَوْهَرِي رجل مفلج الثنايا أَي منفرجها قَالَ مُحَقّق فَلهُ مَعْنيانِ قيل أَكثر الفلج فِي الْعليا وَهِي صفة جميلَة لَكِن مَعَ الْقلَّة لِأَنَّهُ أتم فِي الفصاحة لاتساع الْأَسْنَان فِيهِ إِذا تكلم رئ كقيل على الْأَفْصَح وروى كضرب كالنور يخرج من بَين ثناياه جمع ثنية بِالتَّشْدِيدِ وَهِي الْأَسْنَان الْأَرْبَع الَّتِي فِي مقدم الْفَم ثِنْتَانِ فَوق وثنتان من تَحت قَالَ الطَّيِّبِيّ ضمير يخرج إِلَى الْكَلَام فَهُوَ تَشْبِيه فِي الظُّهُور إِلَى النُّور فالكاف زَائِدَة وحاصلة أَنه يخرج كَلَامه من بَين الثنايا الْأَرْبَع شَبِيها بِالنورِ فِي الظُّهُور قَالَ مُحَقّق والأنسب بِأول الحَدِيث أَن الْمَعْنى يخرج من الفلج مَا يشبه نور النَّجْم أَو نَحوه فَالضَّمِير إِلَى الْمُشبه الْمُقدر وَقيل يخرج من صفاء الثنايا تلألؤ
تَنْبِيه كَانَت ذَاته الشريفه كلهَا نورا ظَاهرا وَبَاطنا حَتَّى أَنه كَانَ يمنح لمن اسْتَحَقَّه من أَصْحَابه سَأَلَهُ الطُّفَيْل بن عَمْرو آيَة لِقَوْمِهِ وَقَالَ اللَّهُمَّ نور لَهُ فسطع لَهُ نور بَين عَيْنَيْهِ فَقَالَ أَخَاف أَن يكون مثلَة فتحول إِلَى طرف سَوْطه وَكَانَ يضيء فِي اللَّيْل المظلم فَسمى ذَا النُّور وَأعْطى قَتَادَة بن النُّعْمَان لما صلى مَعَه الْعشَاء فِي لَيْلَة مظْلمَة ممطرة عرجونا وَقَالَ انْطلق بِهِ فَإِنَّهُ سيضيء لَك من بَين يَديك عشرا وَمن خَلفك عشرا فَإِذا دخلت بَيْتك فسترى سوادا فَاضْرِبْهُ ليخرج فَإِنَّهُ الشَّيْطَان فَكَانَ كَذَلِك وَمسح وَجه رجل فَمَا زَالَ على وَجهه نورا وَمسح وَجه قَتَادَة بن
তাদের কাজ এবং তাদের মন্দ কথা, কারণ তাঁর বক্ষ প্রশস্ত হওয়ার কারণে তা এমন সব বিষয় ধারণ করত যা সাধারণ মানুষের বক্ষ সংকীর্ণ হয়ে যাওয়ার কারণে পারে না। ফলে তাদের মন্দ চরিত্র, নিকৃষ্ট কাজ, মন্দ আচরণ এবং কুৎসিত জীবনযাত্রা তাঁর বক্ষের বিশালতার বিপরীতে মহাসমুদ্রে এক ফোঁটা রক্তবিন্দুর মতো ছিল। এতে ধৈর্যের মর্যাদা বর্ণিত হয়েছে। ইবনে সাদ তাঁর 'তাবাকাত' গ্রন্থে ইসমাইল ইবনে আইয়াশ (আইন বর্ণে ফাতহা, ইয়া বর্ণে তাশদিদ এবং শিন বর্ণে নুক্তাসহ) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি ইবনে সুলাইম থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি হলেন আনসি (নুন বর্ণসহ), যিনি তাঁর যুগের শামের আলেম ছিলেন; তিনি নিজ দেশের অধিবাসীদের থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে সত্যবাদী ছিলেন, তবে অন্যদের ক্ষেত্রে বর্ণনায় সংমিশ্রণ ঘটাতেন।
১৩ - (তাঁর সামনের দুই দাঁতের মাঝখানে সামান্য ফাঁকা ছিল; যখন তিনি কথা বলতেন, তখন দেখা যেত যেন তাঁর সামনের দাঁতগুলোর মাঝখান দিয়ে নূর বের হচ্ছে।) তিরমিজি 'শামাইল'-এ, তাবারানি এবং বায়হাকি ইবনে আব্বাস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এটি সহিহ।
তাঁর সামনের দাঁত দুটির মাঝে ফাঁকা ছিল, অর্থাৎ সামনের দাঁত এবং পার্শ্ববর্তী দাঁতগুলোর মধ্যে দূরত্ব ছিল। 'ফালজ' এবং 'ফারক' মানে হলো সামনের দাঁত দুটির মাঝখানের ফাঁকা জায়গা, যেমনটি 'নিহায়া' গ্রন্থে রয়েছে। জাওহারি আরও যোগ করেছেন যে, এমন ব্যক্তিকে 'মুফাল্লাজুত সানায়া' বলা হয় যার দাঁতগুলো পৃথক পৃথক। জনৈক গবেষক বলেছেন, এর দুটি অর্থ আছে: বলা হয়েছে যে অধিকাংশ ফাঁকা স্থান উপরের দাঁতে ছিল এবং এটি একটি সুন্দর বৈশিষ্ট্য, তবে তা অল্প মাত্রায় হলে। কারণ দাঁতগুলো বিস্তৃত থাকলে তা বাগ্মিতায় অধিক পূর্ণতা আনে। 'রুই' শব্দটি সর্বাধিক বিশুদ্ধ মতে 'কুয়িলা' (বলা হয়েছে) এর ছন্দে উচ্চারিত হবে, আবার 'দোরিবা' এর ছন্দেও বর্ণিত হয়েছে। 'ছানায়া' হলো 'ছানিয়াহ' শব্দের বহুবচন, যা মুখের সামনের চারটি দাঁতকে বোঝায়; দুটি উপরে এবং দুটি নিচে। তিবি বলেছেন, 'বের হওয়া'র সর্বনামটি কথার দিকে ফিরেছে, সুতরাং এটি প্রকাশের দিক দিয়ে নূরের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ; এখানে 'কাফ' বর্ণটি অতিরিক্ত। সারকথা হলো, তাঁর কথাগুলো সামনের চারটি দাঁতের মাঝখান দিয়ে নূরের মতো প্রকাশিত হয়ে বের হতো। জনৈক গবেষক বলেছেন, হাদিসের শুরুর সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ অর্থ হলো যে, দাঁতের ফাঁকা অংশ থেকে নক্ষত্রের আলো বা তদ্রূপ কিছুর মতো উজ্জ্বলতা বের হতো; সেক্ষেত্রে সর্বনামটি এক উহ্য উপমেয়ের দিকে ফিরেছে। আবার বলা হয়েছে যে, দাঁতগুলোর স্বচ্ছতার কারণে সেখান থেকে উজ্জ্বল আভা বিচ্ছুরিত হতো।
সতর্কবার্তা: তাঁর পবিত্র সত্তা বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণভাবে সম্পূর্ণই নূর ছিল। এমনকি তিনি তাঁর সাহাবীদের মধ্যে যারা এর যোগ্য ছিলেন তাদেরকেও তা দান করতেন। তুফাইল ইবনে আমর তাঁর গোত্রের জন্য একটি নিদর্শন চাইলে তিনি বললেন, "হে আল্লাহ! তাকে নূর দান করুন।" তখন তাঁর দুই চোখের মাঝে নূর চমকাতে লাগল। তুফাইল বললেন, "আমি ভয় পাচ্ছি লোকে একে অঙ্গহানি বা কোনো রোগ মনে করবে।" তখন তা তাঁর চাবুকের মাথায় স্থানান্তরিত হলো এবং তা অন্ধকার রাতে আলো দিত, ফলে তাঁকে 'যুন নূর' (জ্যোতির্ময়) বলা হতো। কতাদাহ ইবনে নুমান যখন এক অন্ধকার বৃষ্টিমুখর রাতে তাঁর সাথে এশার সালাত আদায় করলেন, তখন তিনি তাঁকে একটি খেজুরের ডাল দিয়ে বললেন, "এটি নিয়ে যাও, এটি তোমার সামনে দশ হাত এবং পেছনে দশ হাত আলোকিত করবে। যখন তুমি ঘরে প্রবেশ করবে এবং কোনো কালো ছায়া দেখবে, তখন তাকে আঘাত করবে যাতে সে বেরিয়ে যায়, কারণ সে হলো শয়তান।" পরে তেমনই হয়েছিল। তিনি এক ব্যক্তির মুখমণ্ডল মুছে দিয়েছিলেন, ফলে তার চেহারায় সর্বদা নূর বিদ্যমান ছিল। তিনি কতাদাহ ইবনে...
(খণ্ড: ১)
আশ-শামাইলুশ শারীফাহ - মুস্তাললুন মিন ফায়দিল কাদীর লিল-মুনাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ملْحَان فَكَانَ لوجهه بريق حَتَّى كَانَ ينظر فِي وَجهه كَمَا ينظر فِي الْمرْآة إِلَى غير ذَلِك ت فِي = كتاب الشَّمَائِل طب = وَكَذَا فِي الْأَوْسَط وَالْبَيْهَقِيّ فِي الدَّلَائِل عَن ابْن عَبَّاس قَالَ الهيثمي وَفِيه عبد الْعَزِيز بن أبي ثَابت وَهُوَ // ضَعِيف جدا //
14 - (كَانَ حسن السبلة) طب عَن العذاه بن خَالِد // صَحَّ //
كَانَ حسن السبلة بِالتَّحْرِيكِ مَا أسبل من مقدم اللِّحْيَة على الصَّدْر ذكره الزَّمَخْشَرِيّ وَهُوَ الشعرات الَّتِي تَحت اللحى الْأَسْفَل أَو الشَّارِب وَفِي شرح المقامات للشربيني السبلة مقدم اللِّحْيَة وَرجل مُسبل وَفُلَان خَفِيف العذارين وهما مَا اتَّصل من اللِّحْيَة بالصدغ وهما العارضان وهما مَا نبت فِي الْخَدين من الشّعْر على عوارض الْأَسْنَان طب عَن العذاه بِفَتْح الْعين المهلمة وَشد الذَّال الْمُعْجَمَة وَآخره مُهْملَة ابْن خَالِد ابْن هودة العامري أسلم يَوْم حنين هُوَ وَأَبوهُ جَمِيعًا قَالَ الْبَيْهَقِيّ فِيهِ من لم أعرفهم
15 - (كَانَ خَاتم النُّبُوَّة فِي ظَهره بضعَة نَاشِزَة) ت فِيهَا عَن أبي سعيد // صَحَّ //
كَانَ خَاتم النُّبُوَّة فِي ظَهره بضعَة بِفَتْح الْبَاء قِطْعَة لحم نَاشِزَة بمعجمات مُرْتَفعَة من اللَّحْم وَفِي رِوَايَة مثل السّلْعَة وَأما مَا ورد من أَنَّهَا كَانَت كأثر محجم أَو كَالشَّامَةِ سَوْدَاء أَو خضراء ومكتوب عَلَيْهَا مُحَمَّد رَسُول الله أَو سر فَأَنت الْمَنْصُور وَنَحْو ذَلِك قَالَ ابْن حجر فَلم يثبت مِنْهَا شَيْء قَالَ الْقُرْطُبِيّ اتّفقت الْأَحَادِيث الثَّابِتَة على أَن الْخَاتم كَانَ شَيْئا بارزا أَحْمَر عِنْد كتفه الْأَيْسَر قدره إِذا قلل كبيضة الْحَمَامَة وَإِذا كثر جمع الْيَد وَفِي الْخَاتم أَقْوَال مُتَقَارِبَة وعد المُصَنّف وَغَيره جعل خَاتم النُّبُوَّة بظهره بِإِزَاءِ قلبه حَيْثُ يدْخل الشَّيْطَان من خَصَائِصه على الْأَنْبِيَاء وَقَالَ وَسَائِر الْأَنْبِيَاء كَانَ خاتمهم فِي يمينهم ت فِيهَا أَي الشَّمَائِل عَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ
মিলহান। তাঁর চেহারা মোবারক এত উজ্জ্বল ছিল যে, তাতে আয়নার মতো প্রতিচ্ছবি দেখা যেত এবং এর বাইরেও আরও বর্ণনা রয়েছে। তিরমিজি তাঁর ‘শামায়িল’ গ্রন্থে, তাবরানি ‘আল-আওসাত’-এ এবং বায়হাকি ‘দালাইলুন নুবুওয়াহ’-তে ইবনে আব্বাস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। হাইসামি বলেছেন, এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে আব্দুল আজিজ ইবনে আবি সাবিত রয়েছেন, যিনি অত্যন্ত দুর্বল।
১৪ - (তাঁর দাড়ির সম্মুখভাগ সুন্দর ছিল) তাবরানি, আল-আযাহ ইবনে খালিদ থেকে বর্ণনা করেছেন // সহিহ //
তাঁর ‘সাবালা’ (উচ্চারণে হরকতসহ) সুন্দর ছিল। সাবালা হলো দাড়ির সেই সম্মুখভাগ যা বুকের ওপর ঝুলে থাকে; ইমাম যামাখশারি এটি উল্লেখ করেছেন। এটি হলো নিচের চোয়ালের নিচের দিকের চুল অথবা গোঁফ। শারবিনি রচিত ‘শারহুল মাকামাত’-এ বলা হয়েছে, সাবালা হলো দাড়ির অগ্রভাগ। ‘রজুলুন মুসবিল’ অর্থ কাপড় ঝুলিয়ে রাখা ব্যক্তি। অমুক ব্যক্তির ‘আজ়ারাইন’ (কানের লতির পাশের চুল) পাতলা। এই দুটি হলো দাড়ির সেই অংশ যা কানের লতির সাথে যুক্ত থাকে। এই দুটিকে ‘আরিদাইন’ও বলা হয়, যা চোয়ালের দাঁত বরাবর গালের ওপর গজানো চুল। তাবরানি এটি আল-আযাহ (আইন বর্ণে ফাতহা, যা নুক্তাবিহীন এবং যাল বর্ণে তাসদিদ, যা নুক্তাযুক্ত এবং শেষে নুক্তাবিহীন হা) ইবনে খালিদ ইবনে হাওদাহ আল-আমেরি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি এবং তাঁর পিতা উভয়েই হুনাইনের যুদ্ধের দিন ইসলাম গ্রহণ করেন। বায়হাকি বলেছেন, এই বর্ণনায় এমন কিছু ব্যক্তি আছেন যাদের আমি চিনি না।
১৫ - (তাঁর পিঠ মোবারকে নবুওয়তের মোহর ছিল একটি উঁচু মাংসপিণ্ড) তিরমিজি এতে (শামায়িলে) আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন // সহিহ //
তাঁর পিঠ মোবারকে নবুওয়তের মোহর ছিল একটি ‘বিযআহ’ (বা বর্ণে ফাতহা যোগে), যার অর্থ মাংসের টুকরো। ‘নাশিযাহ’ (নুক্তাযুক্ত বর্ণসহ) অর্থ মাংসের উঁচু অংশ। অন্য বর্ণনায় একে ‘সিলআহ’ (মাংসের অর্বুদ) এর মতো বলা হয়েছে। আর যেসব বর্ণনায় এসেছে যে তা সিঙা লাগানোর চিহ্নের মতো ছিল, অথবা কালো বা সবুজ তিলের মতো ছিল এবং তাতে ‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ অথবা ‘গোপন কথা, আপনিই সাহায্যপ্রাপ্ত’ বা এই জাতীয় কিছু লেখা ছিল—সে সম্পর্কে হাফেজ ইবনে হাজার বলেন, এগুলোর কোনোটিই প্রমাণিত নয়। ইমাম কুরতুবি বলেন, সহিহ হাদিসসমূহ এ বিষয়ে একমত যে, মোহরটি ছিল তাঁর বাম কাঁধের কাছে লাল বর্ণের একটি উঁচু অংশ। এর আকার ন্যূনতম কবুতরের ডিমের মতো এবং সর্বোচ্চ হাতের মুষ্টির সমান। মোহর সম্পর্কে কাছাকাছি আরও কিছু বর্ণনা রয়েছে। গ্রন্থকার এবং অন্যান্যরা নবীজির পিঠে হৃদপিণ্ডের সোজাসুজি মোহর থাকাকে তাঁর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য করেছেন, কারণ সেখান দিয়েই শয়তান প্রবেশ করে। তিনি আরও বলেছেন যে, অন্যান্য নবীদের মোহর ছিল তাঁদের ডান হাতে। তিরমিজি তাঁর ‘শামায়িল’-এ আবু সাঈদ খুদরি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আশ-শামাইলুশ শারীফাহ - মুস্তাললুন মিন ফায়দিল কাদীর লিল-মুনাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
16 - (كَانَ خَاتمه غُدَّة حَمْرَاء مثل بَيْضَة الْحَمَامَة) ت عَن جَابر بن سَمُرَة // صَحَّ //
كَانَ خَاتمه غُدَّة بغين مُعْجمَة مَضْمُومَة ودال مُهْملَة مُشَدّدَة قَالَ الْمُؤلف وَرَأَيْت من صحفه بالراء وسألني عَنهُ فَقلت إِنَّمَا هُوَ بِالدَّال والغدة كَمَا فِي الْقَامُوس وَغَيره كل عقدَة فِي الْجَسَد أطاف بهَا شَحم وَفِي الْمِصْبَاح لحم يحدث بَين الْجلد وَاللَّحم يَتَحَرَّك بِالتَّحْرِيكِ حَمْرَاء أَي تميل حمرَة فَلَا تعَارض بَينه وَبَين رِوَايَته أَنه كَانَ لون بدنه قَالَ العصام وَفِيه رد لرِوَايَة أَنَّهَا سَوْدَاء أَو خضراء مثل بَيْضَة الْحَمَامَة أَي قدرا وَصُورَة لَا لَوْنهَا بِدَلِيل وصفهَا بالحمرة قبله وَفِي رِوَايَة لِابْنِ حبَان مثل البندقة من اللَّحْم وَفِي رِوَايَة للبيهقي مثل السّلْعَة وَفِي رِوَايَة للْحَاكِم وَالتِّرْمِذِيّ شعر يجْتَمع وَفِي رِوَايَة للبيهقي كالتفاحة وَكلهَا مُتَقَارِبَة وأصل التَّفَاوُت فِي نظر الرَّائِي بعد أَو قرب ت عَن جَابر بن سَمُرَة
17 - (كَانَ ربعَة من الْقَوْم لَيْسَ بالطويل الْبَائِن وَلَا بالقصير أَزْهَر اللَّوْن لَيْسَ بالأبيض الأمهق وَلَا بالآدم وَلَيْسَ بالجعد القطط ولابالسبط) ق ت عَن أنس // صَحَّ //
كَانَ ربعَة من الْقَوْم بِفَتْح الرَّاء وَكسر الْبَاء على مَا ذكره بَعضهم لَكِن الَّذِي رَأَيْته فِي الْفَتْح لِابْنِ حجر بِكَسْر الرَّاء وَسُكُون الْمُوَحدَة أَي مربوعا قَالَ والتأنيث بِاعْتِبَار النَّفس أه وَقَالَ غَيره هُوَ وصف يشْتَرك فِيهِ الْمُذكر والمؤنث وَيجمع على ربعات بِالتَّحْرِيكِ وَهُوَ شَاذ وَفَسرهُ بقوله لَيْسَ بالطويل الْبَائِن أَي الَّذِي يباين النَّاس بِزِيَادَة طوله وَهُوَ الْمعبر عَنهُ فِي رِوَايَة بالمشيب وَفِي رِوَايَة أُخْرَى بالممغط أَي المتناهي فِي الطول من بَان أَي ظهر على غَيره أَو فَارق من سواهُ وَلَا بالقصير زَاد الْبَيْهَقِيّ عَن عَليّ وَهُوَ إِلَى الطول أقرب وَوَقع فِي حَدِيث أبي هُرَيْرَة عِنْد الْهُذلِيّ فِي الزهريات قَالَ ابْن حجر // بِإِسْنَاد حسن // كَانَ ربعَة وَهُوَ إِلَى الطول أقرب أَزْهَر اللَّوْن أَي مشرقه نيره زَاد ابْن الْجَوْزِيّ وَغَيره فِي الرِّوَايَة كَأَن عرقه اللُّؤْلُؤ قَالَ فِي الرَّوْض الزهرة لُغَة إشراق فِي اللَّوْن أَي لون كَانَ من بَيَاض أَو غَيره وَقَول بَعضهم إِن الْأَزْهَر الْأَبْيَض خَاصَّة والزهر اسْم للأبيض
১৬ - (তাঁর মোহর ছিল কবুতরের ডিমের মতো লাল বর্ণের একটি মাংসপিণ্ড) তিরমিজি, জাবের ইবনে সামুরা থেকে। // সহিহ //
তাঁর মোহর ছিল ‘গুদদাহ’ (মাংসপিণ্ড); যা নুকতাযুক্ত ‘গাইন’ বর্ণের পেশ এবং নুকতাহীন ‘দাল’ বর্ণের তাশদীদ সহযোগে। লেখক বলেন, আমি কাউকে দেখেছি একে ‘রা’ দিয়ে ভুল পাঠ করতে এবং তিনি আমাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে আমি বললাম যে, এটি মূলত ‘দাল’ দিয়ে। ‘আল-কামুস’ ও অন্যান্য গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, ‘গুদদাহ’ হলো শরীরের প্রতিটি সেই গ্রন্থি যার চারপাশে চর্বি থাকে। ‘আল-মিসবাহ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, এটি চামড়া ও গোশতের মাঝখানে উৎপন্ন হওয়া এমন মাংসপিণ্ড যা নাড়া দিলে নড়ে। ‘লাল’ অর্থাৎ লালাভ আভার দিকে ঝুঁকে থাকা; সুতরাং তাঁর শরীরের রঙের বর্ণনার সাথে এই বর্ণনার কোনো বিরোধ নেই। আল-ইসাম বলেন, এতে সেই বর্ণনার খণ্ডন রয়েছে যেখানে একে কালো বা সবুজ বলা হয়েছে। ‘কবুতরের ডিমের মতো’ অর্থাৎ আকৃতি ও পরিমাণে, রঙের দিক থেকে নয়; কারণ ইতিপূর্বেই একে লাল বলে বর্ণনা করা হয়েছে। ইবনে হিব্বানের এক বর্ণনায় এসেছে, ‘মাংসের ছোট গোলকের মতো’। বায়হাকির বর্ণনায় রয়েছে, ‘টিউমার বা আবের মতো’। হাকেম ও তিরমিজির বর্ণনায় এসেছে, ‘একত্রিত হওয়া কিছু চুল’। বায়হাকির অন্য বর্ণনায় রয়েছে, ‘আপেলের মতো’। এই সব কটি বর্ণনা কাছাকাছি। বর্ণনাকারীর দেখার দূরত্বের কমবেশি বা নৈকট্যের কারণে এই সামান্য পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। তিরমিজি, জাবের ইবনে সামুরা থেকে বর্ণিত।
১৭ - (তিনি ছিলেন লোকদের মধ্যে মাঝারি গড়নের; অতিরিক্ত লম্বা ছিলেন না এবং বেঁটেও ছিলেন না। তিনি উজ্জ্বল বর্ণের ছিলেন; একদম ফ্যাকাশে সাদা ছিলেন না এবং কালো বা শ্যামলাও ছিলেন না। তাঁর চুল অতিরিক্ত কোঁকড়ানো ছিল না আবার একদম সোজাও ছিল না।) বুখারি, মুসলিম ও তিরমিজি আনাস থেকে। // সহিহ //
তিনি লোকদের মধ্যে ‘রাবআহ’ (মাঝারি গড়নের) ছিলেন; শব্দটি ‘র’ এর উপরে যবর এবং ‘ব’ এর নিচে যের দিয়ে, যেমনটি কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন। তবে ইবনে হাজারের ‘ফাতহুল বারী’ গ্রন্থে আমি যা দেখেছি তা হলো ‘র’ এর নিচে যের এবং ‘ব’ এর সাকিন যোগে, অর্থাৎ মাঝারি উচ্চতাসম্পন্ন। তিনি বলেন, এখানে স্ত্রীবাচক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে সত্তার দিক বিবেচনায়। অন্যরা বলেন, এটি এমন একটি গুণবাচক শব্দ যা নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। এর বহুবচন হলো ‘রাবাআত’ (হরকতের পরিবর্তনে), যা বিরল। তিনি এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন এই বলে যে, ‘অত্যধিক লম্বা ছিলেন না’ অর্থাৎ এমন দীর্ঘদেহী ছিলেন না যা অতিরিক্ত লম্বা হওয়ার কারণে অন্যদের থেকে তাঁকে আলাদা করে দিত। এক বর্ণনায় একে ‘মুশায়্যাব’ এবং অন্য বর্ণনায় ‘মুম্মাত’ বলা হয়েছে, যার অর্থ দৈর্ঘ্যের শেষ সীমা। এটি ‘বানা’ শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ অন্যের ওপর প্রকাশ পাওয়া বা অন্যদের থেকে পৃথক হওয়া। ‘এবং বেঁটেও ছিলেন না’। বায়হাকি আলীর সূত্রে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, ‘তিনি লম্বার কাছাকাছি ছিলেন’। হুযালির ‘যুহরিয়াত’ গ্রন্থে আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিসে এসেছে, ইবনে হাজার বলেন (হাসান সনদে): তিনি মাঝারি গড়নের ছিলেন এবং লম্বার কাছাকাছি ছিলেন। ‘উজ্জ্বল বর্ণ’ অর্থাৎ দীপ্তিময় ও আলোকময়। ইবনে জাওজি ও অন্যান্যরা বর্ণনায় যোগ করেছেন, ‘তাঁর ঘাম যেন মুক্তার মতো ছিল’। ‘আর-রাওদ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে, আভিধানিক অর্থে ‘যুহরাহ’ হলো রঙের উজ্জ্বলতা, চাই তা সাদা হোক বা অন্য কিছু। কারো কারো মতে ‘আযহার’ বিশেষ করে সাদাকেই বোঝায় এবং ‘যুহর’ হলো সাদার প্রতিশব্দ।
(খণ্ড: ১)
আশ-শামাইলুশ শারীফাহ - মুস্তাললুন মিন ফায়দিল কাদীর লিল-মুনাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৩২)
من النوار فَقَط خطأه أَبُو حنيفَة فِيهِ وَقَالَ إِنَّمَا الزهرة إشراق فِي الألوان كلهَا وَفِي حَدِيث يَوْم أحد نظرت إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَعَيناهُ تزهران تَحت المغفر اه وَقَالَ ابْن حجر قَوْله أَزْهَر اللَّوْن أَي أَبيض مشرب بحمرة وَقد ورد ذَلِك صَرِيحًا فِي رِوَايَات أخر صَرِيحَة عِنْد التِّرْمِذِيّ وَالْحَاكِم وَغَيرهمَا كَانَ أَبيض مشربا بياضه بحمرة لَيْسَ بالأبيض الأمهق كَذَا فِي الْأُصُول وَرِوَايَة أمهق لَيْسَ بأبيض قَالَ القَاضِي وهم وَلَا بالآدم بِالْمدِّ أَي وَلَا شَدِيد السمرَة وَإِنَّمَا يخالط بياضه الْحمرَة لَكِنَّهَا حمرَة بصفاء فَيصدق عَلَيْهِ أَنه أَزْهَر كَمَا ذكره الْقُرْطُبِيّ وَالْعرب تطلق على من هُوَ كَذَلِك أسمر وَالْمرَاد بالسمرة الَّتِي تخالط الْبيَاض وَلِهَذَا جَاءَ فِي حَدِيث أنس عِنْد أَحْمد وَالْبَزَّار قَالَ ابْن حجر // بِإِسْنَاد صَحِيح // صَححهُ ابْن حبَان أَنه كَانَ أسمر وَفِي الدَّلَائِل للبيهقي عَن أنس كَانَ أَبيض بياضه إِلَى السمرَة وَفِي لفظ لِأَحْمَد // بِسَنَد حسن // أسمر إِلَى الْبيَاض قَالَ ابْن حجر يُمكن تَوْجِيه رِوَايَة أمهق بالأمهق الْأَخْضَر اللَّوْن الَّذِي لَيْسَ بياضه فِي الْغَايَة وَلَا سمرته وَلَا حمرته فقد نقل عَن رُؤْيَة أَن المهق خضرَة المَاء فَهَذَا التَّوْجِيه على تَقْدِير ثُبُوت الرِّوَايَة وَلَيْسَ شعره بالجعد بِفَتْح الْجِيم وَسُكُون الْعين القطط بِفتْحَتَيْنِ أَي الشَّديد الجعودة الشبيه شعر السودَان وَلَا بالسبط بِفَتْح فَكسر أَو سُكُون المنبسط المسترسل الَّذِي لَا تكسر فِيهِ فَهُوَ متوسط بَين الجعودة والسبوطة ق د ت عَن أنس ابْن مَالك تبع فِي عزوه لِلشَّيْخَيْنِ ابْن الْأَثِير قَالَ الصَّدْر الْمَنَاوِيّ وَالظَّاهِر أَن مَا قَالَه وهم فَإِنِّي فحصت عَن قَول أنس كَانَ ربعَة من الْقَوْم فَلم أَقف عَلَيْهَا فِي مُسلم بل هِيَ رِوَايَة البُخَارِيّ وَلِهَذَا قَالَ عبد الْحق قَوْله كَانَ ربعَة من الْقَوْم من زِيَادَة البُخَارِيّ على مُسلم فَالصَّوَاب نِسْبَة هَذِه الرِّوَايَة للْبُخَارِيّ دونه
18 - (كَانَ شبح الذراعين بعيد مَا بَين الْمَنْكِبَيْنِ أهدب أشفار الْعَينَيْنِ) الْبَيْهَقِيّ عَن أبي هُرَيْرَة // صَحَّ //
كَانَ شبح الذراعين بشين مُعْجمَة فموحدة مَفْتُوحَة فحاء مُهْملَة عبلهما عريضهما ممتدهما فَفِي الْمُجْمل شبحت الشَّيْء مددته بعيد بِفَتْح فَكسر مَا بَين الْمَنْكِبَيْنِ أَي عريض أَعلَى الظّهْر وَمَا مَوْصُولَة أَو مَوْصُوفَة لَا زَائِدَة لِأَن بَين من الظروف اللَّازِمَة للإضافة فَلَا وَجه لإخراجه عَن الظَّرْفِيَّة بالحكم بِزِيَادَة مَا والمنكب مُجْتَمع
আবু হানিফা এতে তাঁকে ভুল সাব্যস্ত করেছেন এবং বলেছেন যে, উজ্জ্বলতা মূলত সকল বর্ণের মধ্যেই একটি বিশেষ ঔজ্জ্বল্য। ওহুদ যুদ্ধের দিনের একটি হাদিসে এসেছে: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দিকে তাকালাম, এমতাবস্থায় যে শিরস্ত্রাণের নিচে তাঁর চোখ দুটি উজ্জ্বল হয়ে জ্বলছিল। ইবনে হাজার বলেন, তাঁর ‘উজ্জ্বল বর্ণের’ হওয়ার অর্থ হলো তিনি ছিলেন লালিমা মিশ্রিত সাদা বর্ণের। তিরমিযী, হাকেম এবং অন্যদের বর্ণনায় এটি স্পষ্টভাবে এসেছে যে, তাঁর শুভ্রতা লালিমা মিশ্রিত ছিল, তিনি অত্যন্ত ফ্যাকাশে সাদা ছিলেন না। মূল কিতাবসমূহে এভাবেই রয়েছে। ‘অত্যন্ত সাদা’ এর বর্ণনায় এসেছে যে তিনি এমন সাদা ছিলেন না যা দেখতে ভালো লাগে না। কাজী বলেন, এটি একটি ভুল ধারণা। তিনি অতিরিক্ত শ্যামলা বর্ণের ছিলেন না। বরং তাঁর শুভ্রতার সাথে লালিমা মিশ্রিত ছিল, তবে তা ছিল অত্যন্ত স্বচ্ছ লালিমা। তাই তাঁর ক্ষেত্রে ‘উজ্জ্বল’ শব্দটি যথার্থ, যেমনটি কুরতুবী উল্লেখ করেছেন। আর আরবরা এ ধরনের বর্ণবিশিষ্ট ব্যক্তিকে ‘শ্যামল’ হিসেবেও অভিহিত করে। এখানে শ্যামল বর্ণ বলতে শুভ্রতার সাথে লালিমা মিশ্রিত বর্ণকে বোঝানো হয়েছে। এই কারণে আহমদ ও বায্যারের কিতাবে বর্ণিত আনাস (রা.)-এর হাদিসে এসেছে—ইবনে হাজার বলেন (সহিহ সনদে) এবং ইবনে হিব্বান একে সহিহ বলেছেন যে, তিনি শ্যামল বর্ণের ছিলেন। বায়হাকির ‘দালাইল’ গ্রন্থে আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি সাদা ছিলেন যার শুভ্রতা শ্যামলিমার দিকে ঝুঁকে ছিল। আহমদের এক বর্ণনায় (হাসান সনদে) এসেছে যে, তিনি শ্যামল বর্ণের ছিলেন যা শুভ্রতার দিকে ঝুঁকে ছিল। ইবনে হাজার বলেন, ‘অত্যন্ত সাদা নয়’ বর্ণনার ব্যাখ্যা এভাবে দেওয়া সম্ভব যে, এটি এমন এক বর্ণ যার শুভ্রতা, শ্যামলিমা বা লালিমা কোনোটিই চরম পর্যায়ে ছিল না। ‘রুইয়া’ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, ‘মাহাক’ হলো পানির স্বচ্ছতা। বর্ণনাটি সাব্যস্ত হওয়ার ভিত্তিতেই এই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। তাঁর চুল অত্যন্ত কোঁকড়ানো ছিল না, যেমনটা কৃষ্ণাঙ্গদের চুল হয়ে থাকে। আবার একেবারে সোজাও ছিল না যা সোজা হয়ে ঝুলে থাকে এবং যাতে কোনো ভাঁজ নেই। বরং তাঁর চুল ছিল কোঁকড়ানো এবং সোজার মাঝামাঝি। বুখারি, আবু দাউদ ও তিরমিযি এটি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে আসির এই বর্ণনাকে বুখারি ও মুসলিমের দিকে সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে তাঁর অনুসরণ করেছেন। সদরুল মানাভি বলেন, সম্ভবত তাঁর এই বক্তব্য একটি ভুল ধারণা। কেননা আমি আনাস (রা.)-এর উক্তি ‘তিনি লোকজনের মধ্যে মাঝারি উচ্চতার ছিলেন’ এটি মুসলিম শরিফে খুঁজে পাইনি, বরং এটি বুখারি শরিফের বর্ণনা। এ কারণেই আব্দুল হক বলেছেন, ‘তিনি লোকজনের মধ্যে মাঝারি উচ্চতার ছিলেন’ কথাটি মুসলিমের বর্ণনার ওপর বুখারির অতিরিক্ত বর্ণনা। সুতরাং এই বর্ণনাটিকে কেবল বুখারির দিকেই সম্বন্ধ করা সঠিক।
১৮ - (তিনি দীর্ঘ দুই বাহুবিশিষ্ট, প্রশস্ত দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থানবিশিষ্ট এবং চোখের দীর্ঘ ও ঘন পল্লববিশিষ্ট ছিলেন।) বায়হাকি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন // সহিহ //
তিনি ‘শাবাহুল যিরাআইন’ অর্থাৎ দীর্ঘ ও প্রশস্ত বাহুবিশিষ্ট ছিলেন। এটি শিন বর্ণের পর জবরযুক্ত বা এবং এরপর নুকতাহীন হা বর্ণ দ্বারা গঠিত, যার অর্থ হলো বাহুদ্বয় মাংসল, প্রশস্ত ও দীর্ঘ হওয়া। ‘মুজমাল’ গ্রন্থে আছে, কোনো কিছুকে দীর্ঘ বা প্রসারিত করা। তাঁর দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান প্রশস্ত ছিল, অর্থাৎ পিঠের উপরের অংশ ছিল চওড়া। এখানে ‘মা’ শব্দটি সম্বন্ধসূচক বা বিশেষণমূলক, এটি অতিরিক্ত নয়। কারণ ‘বাইন’ শব্দটি সম্বন্ধ হওয়ার জন্য অপরিহার্য একটি শব্দ, তাই একে এর মূল অবস্থা থেকে সরিয়ে দেওয়ার কোনো অবকাশ নেই। আর ‘মানকিব’ হলো কাঁধের জোড়া।
(খণ্ড: ১)
আশ-শামাইলুশ শারীফাহ - মুস্তাললুন মিন ফায়দিল কাদীর লিল-মুনাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
رَأس الْعَضُد والكتف وَبعد مَا بَينهمَا يدل على سَعَة الصَّدْر وَذَلِكَ آيَة النجابة وَجَاء فِي رِوَايَة بعيد مُصَغرًا تقليلا للبعد الْمَذْكُور إِيمَاء إِلَى أَن بعد مَا بَين مَنْكِبَيْه لم يكن وافيا منافيا للاعتدال أهدب أشفار الْعَينَيْنِ أَي طويلهما غزيرهما على مَا مر الْبَيْهَقِيّ فِي الدَّلَائِل عَن أبي هُرَيْرَة
19 - (كَانَ شعره دون الجمة وَفَوق الوفرة) ت فِي الشَّمَائِل هـ عَن عَائِشَة // صَحَّ //
كَانَ شعره دون الجمة وَفَوق الوفرة وَفِي حَدِيث التِّرْمِذِيّ وَغَيره فَلَا يُجَاوز شعره شحمة أُذُنَيْهِ إِذا هُوَ وفره أَي جعله وفرة فَالْمُرَاد أَن مُعظم شعره كَانَ عِنْد شحمة أُذُنه وَمَا اتَّصل بِهِ مسترسل إِلَى الْمنْكب والجمة شعر الرَّأْس المتجاوز شحمة الْأذن إِذا وصل الْمنْكب كَذَا فِي الصِّحَاح فِي حرف الْمِيم وَفِيه فِي بَاب الرَّاء المتجاوز من غير وُصُول وَفِي النِّهَايَة مَا سقط على الْمَنْكِبَيْنِ وَلَعَلَّ مُرَاده بالسقوط التجاوز وَفِي الْقَامُوس الوفرة مَا سَالَ على الْأذن أَو جَاوز الشحمة قَالَ أَبُو شامة وَقد دلّت صِحَاح الْأَخْبَار على أَن شعره إِلَى أَنْصَاف أُذُنَيْهِ وَفِي رِوَايَة يبلغ شحمة أُذُنَيْهِ وَفِي أُخْرَى بَين أُذُنَيْهِ وعاتقه وَفِي أُخْرَى يضْرب مَنْكِبَيْه وَلم يبلغنَا فِي طوله أَكثر من ذَلِك وَهَذَا الِاخْتِلَاف بِاعْتِبَار اخْتِلَاف أَحْوَاله فروى فِي هَذِه الْأَحْوَال المتعددة بعد مَا كَانَ حلقه فِي حج أَو عمْرَة وَأما كَونه لم ينْقل أَنه زَاد على كَونه يضْرب مَنْكِبَيْه فَيجوز كَون شعره وقف على ذَلِك الْحَد كَمَا يقف الشّعْر فِي حق كل إِنْسَان على حد مَا وَيجوز أَن يكون كَانَت عَادَته أَنه كلما بلغ هَذَا الْحَد قصره حَتَّى يكون إِلَى أَنْصَاف أُذُنَيْهِ أَو إِلَى شحمة أُذُنَيْهِ لَكِن لم ينْقل أَنه قصر شعره فِي غير نسك وَلَا حلقه وَلَعَلَّ مَا وصف بِهِ شعره من الْأَوْصَاف الْمَذْكُورَة كَانَ بعد حلقه لَهُ عمْرَة الْحُدَيْبِيَة سنة سِتّ فَإِنَّهُ بعد ذَلِك لم يتْرك حلقه مُدَّة يطول فِيهَا أَكثر من كَونه يضْرب مَنْكِبَيْه فَإِنَّهُ فِي سنة سبع اعْتَمر عمْرَة الْقَضَاء وَفِي ثَمَان اعْتَمر من الْجِعِرَّانَة وَفِي عشر حج اه ت فِي الشَّمَائِل هـ عَن عائشه
বাহুর উপরিভাগ ও কাঁধের সন্ধিস্থল এবং এই দুটির মধ্যবর্তী প্রশস্ততা বুকের প্রশস্ততা নির্দেশ করে, আর এটি আভিজাত্যের একটি লক্ষণ। একটি বর্ণনায় 'বা'ঈদ' (দূরত্ব) শব্দটি ক্ষুদ্রার্থক রূপে 'বুআইদ' এসেছে যা উল্লিখিত দূরত্বের স্বল্পতা নির্দেশ করে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, তাঁর দুই কাঁধের মধ্যবর্তী প্রশস্ততা মাত্রারিক্ত ছিল না যা তাঁর দৈহিক ভারসাম্যকে ক্ষুণ্ণ করে। তাঁর চোখের পাপড়ি ছিল দীর্ঘ ও ঘন, যেমনটি ইতিপূর্বে বায়হাকী তাঁর 'দালায়িল' গ্রন্থে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে আলোচনা করেছেন।
১৯ - (তাঁর চুল ছিল 'জুম্মা'র চেয়ে ছোট এবং 'ওয়াফরা'র চেয়ে বড়)। তিরমিযী শামায়িল গ্রন্থে এবং ইবনে মাজাহ আয়েশা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। // এটি সহীহ //
তাঁর চুল ছিল জুম্মার চেয়ে ছোট এবং ওয়াফরার চেয়ে বড়। তিরমিযী ও অন্যান্যদের হাদিসে এসেছে যে, তিনি যখন চুল 'ওয়াফরা' হিসেবে রাখতেন (অর্থাৎ পর্যাপ্ত পরিমাণে রাখতেন), তখন তা কানের লতি অতিক্রম করত না। এর উদ্দেশ্য হলো, তাঁর চুলের প্রধান অংশ ছিল কানের লতি পর্যন্ত এবং তার সাথে যা সংযুক্ত ছিল তা কাঁধ পর্যন্ত প্রলম্বিত ছিল। 'সিহাহ' অভিধানের 'মীম' বর্ণাধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, 'জুম্মা' হলো মাথার সেই চুল যা কানের লতি অতিক্রম করে কাঁধ পর্যন্ত পৌঁছে। আবার উক্ত অভিধানের 'রা' বর্ণাধ্যায়ে একে এমন চুল বলা হয়েছে যা লতি অতিক্রম করে কিন্তু কাঁধ পর্যন্ত পৌঁছে না। 'নিহায়া' গ্রন্থে বলা হয়েছে, যা কাঁধের ওপর ঝুলে থাকে; সম্ভবত ঝুলে থাকা দ্বারা লতি অতিক্রম করাই উদ্দেশ্য। 'কামুস' অভিধানে বলা হয়েছে, 'ওয়াফরা' হলো যা কানের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় অথবা লতি অতিক্রম করে। আবু শামাহ বলেন, সহীহ হাদিসসমূহ প্রমাণ করে যে তাঁর চুল ছিল কানের অর্ধেক পর্যন্ত। অন্য এক বর্ণনায় আছে তা কানের লতি পর্যন্ত পৌঁছাত, অন্যটিতে আছে লতি ও কাঁধের মাঝামাঝি পর্যন্ত, আবার অন্যটিতে আছে তা কাঁধ স্পর্শ করত। আমাদের কাছে তাঁর চুলের দৈর্ঘ্য এর চেয়ে বেশি হওয়ার কোনো বর্ণনা পৌঁছেনি। এই বিভিন্নতা মূলত তাঁর বিভিন্ন সময়ের অবস্থার প্রেক্ষিতে বর্ণিত হয়েছে। হজ বা উমরার সময় মাথা মুণ্ডন করার পর বিভিন্ন পর্যায়ে চুল বড় হওয়ার এই অবস্থাগুলো বর্ণিত হয়েছে। আর তাঁর চুল কাঁধ অতিক্রম করার কোনো বর্ণনা না থাকার কারণ হতে পারে যে, তাঁর চুলের বৃদ্ধি ঐ সীমাতেই থেমে যেত, যেমনটি প্রত্যেক মানুষের চুলের বৃদ্ধি একটি নির্দিষ্ট সীমায় গিয়ে থেমে যায়। অথবা এমনও হতে পারে যে, তাঁর অভ্যাস ছিল যখনই চুল এই সীমায় পৌঁছাত, তিনি তা ছোট করে ফেলতেন যাতে তা কানের অর্ধেক বা লতি পর্যন্ত থাকে। তবে হজ বা উমরার ইবাদত ব্যতীত অন্য কোনো সময় তিনি চুল ছোট করেছেন বা মুণ্ডন করেছেন এমনটি বর্ণিত হয়নি। সম্ভবত তাঁর চুলের উল্লিখিত গুণাবলি ষষ্ঠ হিজরীর হুদায়বিয়ার উমরার সময় মাথা মুণ্ডন করার পরবর্তী সময়ের। কারণ এর পরে তিনি দীর্ঘ সময় মাথা মুণ্ডন না করে থাকেননি যে তাঁর চুল কাঁধের নিচে চলে যাবে। কেননা সপ্তম হিজরীতে তিনি উমরাতুল কাযা পালন করেছেন, অষ্টম হিজরীতে জি'ররানা থেকে উমরা করেছেন এবং দশম হিজরীতে হজ পালন করেছেন। সমাপ্ত। তিরমিযী শামায়িল গ্রন্থে এবং ইবনে মাজাহ আয়েশা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আশ-শামাইলুশ শারীফাহ - মুস্তাললুন মিন ফায়দিল কাদীর লিল-মুনাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
20 - (كَانَ شَيْبه نَحْو عشْرين شَعْرَة) ت فِيهَا هـ عَن ابْن عمر // صَحَّ //
كَانَ شَيْبه نَحْو عشْرين شَعْرَة بَيْضَاء فِي مقدمه هَذَا بَقِيَّة الحَدِيث وَقد اقْتضى حَدِيث ابْن بشر أَن شَيْبه كَانَ لَا يزِيد على عشر شَعرَات لإيراده بِصِيغَة جمع الْقلَّة لَكِن خص ذَلِك بعنفقته فَيحْتَمل أَن الزَّائِد على ذَلِك فِي صدغيه كَمَا فِي حَدِيث الْبَراء لَكِن وَقع عِنْد ابْن سعد قَالَ ابْن حجر // بِإِسْنَاد صَحِيح // عَن حميد عَن أنس مَا عددت فِي رَأسه ولحيته إِلَّا أَربع عشرَة شَعْرَة وروى الْحَاكِم عَنهُ لَو عددت مَا أقبل من شَيْبه فِي رَأسه ولحيته مَا كنت أزيدهن على إِحْدَى عشرَة شيبَة وَفِي حَدِيث الْهَيْثَم ابْن زهر ثَلَاثُونَ عددا وَجمع بَينهمَا باخْتلَاف الْأَزْمَان وَبِأَن رِوَايَة ابْن سعد إِخْبَار عَن عده وَمَا عَداهَا إِخْبَار عَن الْوَاقِع فأنس لم يعد أَربع عشرَة وَهُوَ فِي الْوَاقِع سبع عشرَة أَو ثَمَان عشرَة أَو أَكثر وَذَلِكَ كُله نَحْو الْعشْرين ت فِيهَا أَي فِي الشَّمَائِل هـ كِلَاهُمَا عَن ابْن عمر ابْن الْخطاب وَرَوَاهُ عَنهُ أَيْضا ابْن رَاهَوَيْه وَابْن حبَان وَالْبَيْهَقِيّ
2 - (كَانَ ضخم الرَّأْس وَالْيَدَيْنِ والقدمين) خَ عَن أنس // صَحَّ //
كَانَ ضخم الرَّأْس أَي عظيمه وَفِي رِوَايَة ضخم الهامة وَالْيَدَيْنِ يَعْنِي الذراعين كَمَا جَاءَ مُبينًا هَكَذَا فِي رِوَايَة والقدمين يَعْنِي مَا بَين الكعب إِلَى الرّكْبَة وَجمع بَين الرَّأْس وَالْيَدَيْنِ والقدمين فِي مُضَاف لشدَّة تناسبهما إِذْ هِيَ جَمِيع أَطْرَاف الْحَيَوَان وَهُوَ بِدُونِهَا لَا يسماه خَ فِي بَاب اللبَاس عَن أنس ابْن مَالك
2 - (كَانَ ضليع الْفَم أشكل الْعَينَيْنِ منهوس الْعقب) م ت عَن جَابر بن سَمُرَة // صَحَّ //
كَانَ ضليع الْفَم بِفَتْح الضَّاد الْمُعْجَمَة أَي عظيمه أَو واسعه وَالْعرب تتمدح بعظمه وتذم صغره قَالَ الزَّمَخْشَرِيّ والضليع فِي الأَصْل الَّذِي عظمت أضلاعه ووفرت فأجفر جنباه ثمَّ اسْتعْمل فِي مَوضِع الْعَظِيم وَإِن لم يكن ثمَّ أضلاع وَقيل ضليعه مهزوله وذابله وَالْمرَاد ذبول شَفَتَيْه ورقتهما وحسنهما وَقيل هَذَا كِنَايَة عَن قُوَّة
২০ - (তাঁর পাকা চুল ছিল প্রায় বিশটি) তিরমিযী তাঁর 'শামাইল'-এ এবং ইবনে মাজাহ এটি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন। // সহীহ //
তাঁর পাকা চুল ছিল প্রায় বিশটি সাদা চুল যা তাঁর সম্মুখভাগে ছিল; এটি হাদীসের অবশিষ্টাংশ। ইবনে বিশরের হাদীস দাবি করে যে, তাঁর পাকা চুল দশটির বেশি ছিল না, কারণ এটি স্বল্পতা জ্ঞাপক বহুবচনের রূপে (জমউল কিল্লাত) বর্ণিত হয়েছে। তবে তা কেবল তাঁর নিচের ঠোঁটের নিচের চুলে (আনফাকাহ) সীমাবদ্ধ ছিল। সুতরাং সম্ভাবনা রয়েছে যে, এর অতিরিক্ত চুলগুলো তাঁর দুই রগ বা কানের পাশের চুলে (সুদগাই) ছিল, যেমনটি বারাআ-এর হাদীসে এসেছে। কিন্তু ইবনে সা'দের বর্ণনায় এসেছে—ইবনে হাজার বলেন // সহীহ সনদে // হুমাইদ থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেন যে, আমি তাঁর মাথা ও দাড়িতে মাত্র চৌদ্দটি চুল গণনা করেছি। আর হাকেম তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যদি আমি তাঁর মাথা ও দাড়ির সামনের দিকের পাকা চুলগুলো গণনা করতাম, তবে তা এগারোটির বেশি হতো না। আল-হাইসাম ইবনে যুহায়েরের হাদীসে ত্রিশটি সংখ্যার কথা এসেছে। এগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা হয়েছে সময়ের পার্থক্যের মাধ্যমে এবং ইবনে সা'দের বর্ণনাটি তাঁর নিজস্ব গণনার সংবাদ আর অন্যগুলো বাস্তব অবস্থার সংবাদ হিসেবে। ফলে আনাস হয়তো চৌদ্দটির বেশি গণনা করেননি, অথচ বাস্তবে তা সতেরো, আঠারো বা তার বেশি ছিল। আর এই সবগুলিই বিশের কাছাকাছি। 'ত' (তিরমিযী) দ্বারা উদ্দেশ্য তাঁর 'শামাইল' গ্রন্থ। 'হ' (ইবনে মাজাহ)—তাঁরা উভয়ে এটি উমর ইবনুল খাত্তাবের পুত্র (ইবনে উমর) থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে রাহওয়াইহ, ইবনে হিব্বান এবং বায়হাকীও এটি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।
২ - (তিনি বড় মাথা, হাত ও পা বিশিষ্ট ছিলেন) বুখারী আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন। // সহীহ //
তিনি বড় মাথা বিশিষ্ট ছিলেন। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, তিনি বড় মস্তক বিশিষ্ট ছিলেন। আর হাত বলতে এখানে বাহুদ্বয় বোঝানো হয়েছে, যেমনটি এক বর্ণনায় স্পষ্টভাবে এসেছে। আর পা বলতে গোড়ালি থেকে হাঁটু পর্যন্ত অংশ বোঝানো হয়েছে। মাথা, হাত ও পা-কে একই সম্বন্ধপদে একত্রিত করা হয়েছে কারণ এগুলোর মধ্যে গভীর সামঞ্জস্য রয়েছে, কেননা এগুলো প্রাণীর শরীরের সকল প্রান্তভাগ; আর এগুলো ছাড়া তাকে পূর্ণাঙ্গ বলা যায় না। বুখারী এটি 'পোশাক' অধ্যায়ে আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন।
২ - (তিনি প্রশস্ত মুখগহ্বর, চোখের শুভ্র অংশে লাল রেখা এবং মাংসহীন গোড়ালি বিশিষ্ট ছিলেন) মুসলিম ও তিরমিযী জাবির ইবনে সামুরা থেকে বর্ণনা করেছেন। // সহীহ //
তিনি প্রশস্ত মুখগহ্বর বিশিষ্ট ছিলেন, যা 'দাদ' বর্ণে জবর সহকারে পঠিত; অর্থাৎ তা বড় বা প্রশস্ত ছিল। আর আরবরা মুখের বিশালতাকে প্রশংসা করত এবং এর ছোট হওয়াকে নিন্দা করত। যামাখশারী বলেন, 'দালি' শব্দটি মূলত এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যার পাঁজরের হাড় বড় এবং সুসংহত, ফলে তার দুই পাশ প্রশস্ত হয়; পরবর্তীতে এটি বৃহৎ বা বড় অর্থে ব্যবহৃত হতে শুরু করে যদিও সেখানে পাঁজরের হাড়ের সংশ্লিষ্টতা না থাকে। কেউ কেউ বলেছেন, তাঁর 'দালি' অর্থ হলো কৃশ বা পাতলা, আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাঁর দুই ঠোঁটের পাতলা ও সুন্দর হওয়া। আবার বলা হয়েছে, এটি শক্তির রূপক...
(খণ্ড: ১)
আশ-শামাইলুশ শারীফাহ - মুস্তাললুন মিন ফায়দিল কাদীর লিল-মুনাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
فَصَاحَته وَكَونه يفْتَتح الْكَلَام ويختمه بأشداقه أشكل الْعَينَيْنِ أَي فِي بياضهما حمرَة على الصَّحِيح وَذَلِكَ مَحْمُود قَالَ مُحَقّق وَذَا يُنَافِيهِ كَونه أدعج منهوس الْعقب بإعجام الشين وإهمالها أَي قَلِيل لحم الْعقب بِفَتْح فَكسر مُؤخر الْقدَم فَفِي جَامع الْأُصُول رجل منهوس الْقَدَمَيْنِ والعقبين بسين وشين خَفِيف لحمهما وَفِي الْقَامُوس المنهوس من الرِّجَال قَلِيل اللَّحْم م ت كِلَاهُمَا عَن جَابر بن سَمُرَة
23 - (كَانَ ضخم الهامة عَظِيم اللِّحْيَة) الْبَيْهَقِيّ عَن عَليّ // صَحَّ //
كَانَ ضخم الهامة كبيرها وَعظم الرَّأْس يدل على الرزانة وَالْوَقار عَظِيم اللِّحْيَة غليظها كثيفها هَكَذَا وَصفه جمع مِنْهُم عَليّ وَابْن مَسْعُود وَغَيرهمَا وَفِي رِوَايَة حميد عَن أنس كَانَت لحيته قد مَلَأت من هَهُنَا إِلَى هَهُنَا وَمد بعض الروَاة يَدَيْهِ على عارضيه الْبَيْهَقِيّ فِي الدَّلَائِل عَن عَليّ أَمِير الْمُؤمنِينَ وروى التِّرْمِذِيّ نَحوه
24 - (كَانَ فخما مفخما يتلألأ وَجهه تلألؤ الْقَمَر لَيْلَة الْبَدْر أطول من المربوع وأقصر من المشذب عَظِيم الهامة رجل الشّعْر إِن انفرقت عقيصته فرق وَإِلَّا فَلَا يُجَاوز شعره شحمة أُذُنَيْهِ إِذا هُوَ وفره أَزْهَر اللَّوْن وَاسع الجبين أَزجّ الحواجب سوابغ فِي غير قرن بَينهمَا عرق يدره الْغَضَب اقنى الْعرنِين لَهُ نور يعلوه يحسبه من لم يتأمله أَشمّ كث اللحيه سهل الْخَدين ضليع الْفَم أشنب مفلج الْأَسْنَان دَقِيق المسربة كَأَن عُنُقه جيد دمية فِي صفاء الْفضة معتدل الْخلق بادنا متماسكا سَوَاء الْبَطن والصدر عريض الصَّدْر بعيد مَا بَين الْمَنْكِبَيْنِ ضخم الكراديس أنور المتجرد مَوْصُول مَا بَين اللبة والسرة بِشعر يجْرِي كالخط عاري الثديين والبطن مِمَّا سوى ذَلِك أشعر الذراعين والمنكبين وأعالي الصَّدْر طَوِيل الزندين رحب الرَّاحَة سبط الْقصب شثن الْكَفَّيْنِ والقدمين سَائل الْأَطْرَاف خمصان الأخمصين مسيح الْقَدَمَيْنِ ينبو عَنْهُمَا
তাঁর বাগ্মিতা এবং তাঁর কথার সূচনা ও সমাপ্তি গালের পার্শ্বদেশ দিয়ে হওয়া। তাঁর চোখ ছিল 'আশকাল', অর্থাৎ সহীহ মতানুসারে তাঁর চোখের সাদা অংশে লাল আভা ছিল, যা একটি প্রশংসনীয় গুণ। জনৈক গবেষক বলেছেন, এটি তাঁর চোখের গভীর কালো (আদআজ) হওয়ার গুণের পরিপন্থী নয়। 'মানহুসুল আকিব' (শিন বর্ণে নুক্তা দিয়ে বা নুক্তা ছাড়া) অর্থাৎ গোড়ালিতে গোশতের পরিমাণ কম ছিল। 'আকিব' (উচ্চারণে আইন বর্ণে জবর ও কাফ বর্ণে যের) বলতে পায়ের পেছনের অংশ বা গোড়ালি বোঝায়। 'জামেউল উসুল' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: তিনি ছিলেন সরু পা এবং সরু গোড়ালি বিশিষ্ট, অর্থাৎ উভয়ের গোশত ছিল কম। 'আল-কামুস' গ্রন্থে আছে: 'মানহুস' সেই ব্যক্তিকে বলা হয় যার গোশত কম। ইমাম মুসলিম ও ইমাম তিরমিজি উভয়েই জাবির ইবনে সামুরা (রা.) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
23 - (তিনি ছিলেন বড় মস্তক ও বিশাল দাড়ি বিশিষ্ট) বায়হাকী হযরত আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন // সহীহ //
তিনি ছিলেন বড় মস্তক বিশিষ্ট; আর মস্তকের বিশালতা গাম্ভীর্য ও মর্যাদার পরিচায়ক। তাঁর দাড়ি ছিল বিশাল, অর্থাৎ ঘন ও দীর্ঘ। আলী (রা.), ইবনে মাসউদ (রা.) এবং অন্যান্য একদল বর্ণনাকারী এভাবেই তাঁর বর্ণনা দিয়েছেন। হুমাইদ-এর বর্ণনায় আনাস (রা.) থেকে এসেছে: তাঁর দাড়ি এখান থেকে এই পর্যন্ত (পুরো মুখমন্ডল) পূর্ণ করে রাখত, আর বর্ণনাকারী তাঁর হাত দুটি তাঁর দুই গালের ওপর প্রসারিত করে দেখালেন। বায়হাকী 'আদ-দালায়েল' গ্রন্থে আমীরুল মুমিনীন আলী (রা.) থেকে এবং তিরমিজি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
24 - (তিনি ছিলেন স্বীয় সত্তায় মহিমান্বিত এবং অন্যের দৃষ্টিতেও অত্যন্ত সম্মানিত। পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় তাঁর চেহারা উজ্জ্বল ঝকমক করত। তিনি মাঝারি গড়নের ব্যক্তির চেয়ে কিছুটা লম্বা এবং খুব দীর্ঘদেহী ক্ষীণকায় ব্যক্তির চেয়ে কিছুটা খাটো ছিলেন। তিনি ছিলেন বৃহৎ মস্তক ও ঢেউ খেলানো চুল বিশিষ্ট। যদি তাঁর চুলের সিঁথি সহজে আলাদা করা যেত, তবে তিনি সিঁথি করতেন, নতুবা নয়। যখন তিনি চুল পরিপাটি করে রাখতেন, তা তাঁর কানের লতি অতিক্রম করত না। তাঁর গায়ের রঙ ছিল অত্যন্ত উজ্জ্বল। প্রশস্ত কপাল এবং চিকন ও দীর্ঘ ভ্রু বিশিষ্ট ছিলেন। ভ্রু দুটি ছিল ঘন কিন্তু জোড়া লাগানো নয়, এ দুটির মাঝখানে একটি রগ ছিল যা রাগান্বিত হলে ফুলে উঠত। তাঁর নাক ছিল লম্বা ও উন্নত এবং মাঝখানে কিছুটা উঁচু, যা থেকে একটি নূর ঠিকরে বের হত। যে ব্যক্তি মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য না করত, সে তাঁকে উচ্চনাসিক বিশিষ্ট মনে করত। তিনি ছিলেন ঘন দাড়ি বিশিষ্ট, সমতল গাল এবং বড় মুখগহ্বর বিশিষ্ট। তাঁর দাঁতগুলো ছিল অত্যন্ত সুন্দর এবং ফাঁকা ফাঁকা। তাঁর নাভি পর্যন্ত লম্বা পশমের রেখাটি ছিল অত্যন্ত সূক্ষ্ম। তাঁর ঘাড় ছিল যেন কারুকার্যমণ্ডিত পুতুলের গলার ন্যায় রূপার মত শুভ্র ও পরিচ্ছন্ন। তাঁর দৈহিক গঠন ছিল সুঠাম ও সুষম। দেহ ছিল মাংসল কিন্তু সুসংহত। পেট ও বুক ছিল সমান। চওড়া বুক এবং দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান ছিল প্রশস্ত। হাড়ের জোড়াগুলো ছিল বড় ও মজবুত। শরীরের অনাবৃত অংশ ছিল জ্যোতির্ময়। বুকের উপরিভাগ থেকে নাভি পর্যন্ত পশমের একটি রেখা ছিল যা সরু সুতার মত প্রলম্বিত। স্তনদ্বয় ও পেট পশমহীন ছিল। তবে হাত, কাঁধ এবং বুকের উপরিভাগ পশমযুক্ত ছিল। কব্জি ছিল দীর্ঘ এবং হাতের তালু ছিল প্রশস্ত। হাড়গুলো ছিল মজবুত ও সন্ধিগুলো ছিল শক্তিশালী। তাঁর হাতের তালু এবং পায়ের পাতা ছিল মাংসল। তাঁর হাত-পায়ের আঙ্গুলগুলো ছিল লম্বা ও সুন্দর। পায়ের তলা ছিল গভীর (মাঝখানে ফাঁপা)। তাঁর পায়ের পাতা ছিল মসৃণ যার ওপর থেকে পানি গড়িয়ে যেত।)
(খণ্ড: ১)
আশ-শামাইলুশ শারীফাহ - মুস্তাললুন মিন ফায়দিল কাদীর লিল-মুনাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
المَاء إِذا زَالَ زَالَ تقلعا ويخطو تكفؤا وَيَمْشي هونا ذريع المشية إِذا مَشى كَأَنَّمَا ينحط من صبب وَإِذا الْتفت الْتفت جَمِيعًا خافض الطّرف نظره إِلَى الأَرْض أطول من نظره إِلَى السَّمَاء جلّ نظره الملاحظة يَسُوق أَصْحَابه وَيبدأ من لقِيه بِالسَّلَامِ ت فِي الشَّمَائِل طب هَب عَن هِنْد ابْن أبي هَالة // صَحَّ //
كَانَ فخما بِفَتْح الْفَاء فمعجمة سَاكِنة أفْصح من كسرهَا أَي عَظِيما فِي نَفسه مفخما اسْم مفعول أَي مُعظما فِي صُدُور الصُّدُور وعيون الْعُيُون لَا يَسْتَطِيع مكابر أَن لَا يعظمه وَإِن حرص على ترك تَعْظِيمه كَانَ مُخَالفا لما فِي بَاطِنه فَلَيْسَتْ الفخامة جسمية وَقيل فخما عَظِيم الْقدر عِنْد صَحبه مفخما مُعظما عِنْد من لم يره قطّ وَهُوَ عَظِيم أبدا وَمن ثمَّ كَانَ أَصْحَابه لَا يَجْلِسُونَ عِنْده إِلَّا وهم مطرقون لَا يَتَحَرَّك من أحدهم شَعْرَة وَلَا يضطرب فِيهِ مفصل كَمَا قيل فِي قوم هَذِه حَالهم مَعَ سلطانهم
(كَأَنَّمَا الطير مِنْهُم فَوق رؤوسهم
… لَا خوف ظلم وَلَكِن خوف إجلال)
وَقيل فخامة وَجهه وعظمه وامتلاؤه مَعَ الْجمال والمهابة يتلألأ أَي يضيء ويتوهج وَجهه تلألؤ الْقَمَر أَي يتلألأ مثل تلألؤه فأعرب الْمُضَاف إِلَيْهِ إعرابه بعد حذفه للْمُبَالَغَة فِي التناسي لَيْلَة الْبَدْر أَي لَيْلَة أَربع عشرَة سمى بَدْرًا لِأَنَّهُ يسْبق طلوعه مغيب الشَّمْس فَكَأَنَّهُ يبدر بطلوعه وَالْقَمَر لَيْلَة الْبَدْر أحسن مَا يكون وَأتم وَلَا يُعَارضهُ قَول القَاضِي فِي تَفْسِير وَالشَّمْس وضحها وَالْقَمَر إِذا تلها
أَنه يبدر طلوعه غُرُوبهَا لَيْلَة الْبَدْر وطلوعها طلوعه أول الشَّهْر لِأَن مُرَاده بالغروب الإشراف عَلَيْهِ وَشبه الوصاف تلألؤ الْوَجْه بتلألؤ الْقَمَر دون الشَّمْس لِأَنَّهُ ظهر فِي عَالم مظلم بالْكفْر وَنور الْقَمَر أَنْفَع من نورها أطول من المربوع عِنْد إمعان التَّأَمُّل وربعة فِي بَادِي النّظر فَالْأول بِحَسب الْوَاقِع وَالثَّانِي بِحَسب الظَّاهِر وَلَا ريب أَن الطول فِي الْقَامَة بِغَيْر إفراط أحسن وأكمل وأقصر من المشذب بمعجمات آخِره مُوَحدَة اسْم فَاعل وَهُوَ الْبَائِن الطول مَعَ نحافة أَي نقص فِي اللَّحْم من قَوْلهم نَخْلَة شذباء أَي طَوِيلَة بشذب أَي قطع عَنْهَا جريدها وَوَقع فِي حَدِيث عَائِشَة عِنْد ابْن أبي خَيْثَمَة لم يكن أحد يماشيه من النَّاس ينْسب إِلَى الطول إِلَّا طاله رَسُول الله
পানির মতো যখন তিনি অপসারিত হতেন, সবলভাবে পা তুলতেন এবং সামনের দিকে ঝুঁকে পা ফেলতেন। তিনি অত্যন্ত গাম্ভীর্যের সাথে এবং দ্রুতগতিতে হাঁটতেন; যখন হাঁটতেন তখন মনে হতো যেন তিনি কোনো উঁচু স্থান থেকে নিচে নামছেন। তিনি যখন কারো দিকে মনোযোগ দিতেন, তখন পূর্ণাঙ্গভাবে ফিরতেন। তাঁর দৃষ্টি ছিল অবনত; আকাশের দিকে তাকানোর চেয়ে জমিনের দিকে তাঁর দৃষ্টি থাকত দীর্ঘতর। তাঁর অধিকাংশ দৃষ্টি ছিল পর্যবেক্ষণমূলক। তিনি তাঁর সাহাবীদের আগে আগে চলতেন এবং যার সাথে দেখা হতো তাকে প্রথমে সালাম দিতেন। (তিরমিযী ‘শামায়েল’ গ্রন্থে, তাবারানী এবং বায়হাকী ‘শুআবুল ঈমান’ গ্রন্থে হিন্দ ইবনে আবি হালা হতে বর্ণনা করেছেন। এটি সহীহ।)
তিনি ছিলেন ‘ফাখম’ (মহান বা মহিমান্বিত); ফা বর্ণে ফাতহাহ এবং পরবর্তী বর্ণ সাকিন হওয়া এটি কাসরা অপেক্ষা অধিক শুদ্ধ উচ্চারণ। অর্থাৎ তিনি স্বয়ং ছিলেন মহান। আর তিনি ছিলেন ‘মুফাখখাম’ (ইসম মাফউল); অর্থাৎ তিনি ছিলেন মানুষের হৃদয়ে এবং দৃষ্টিতে অত্যন্ত মর্যাদাবান। কোনো অহংকারী ব্যক্তিও তাঁকে সম্মান না করে পারত না, যদিও সে তাঁর সম্মান পরিহার করতে চাইত, তবে তা হতো তার মনের প্রকৃত অবস্থার বিপরীত। সুতরাং এই মহানুভবতা কেবল দৈহিক ছিল না। কারো মতে, ‘ফাখম’ অর্থ হলো তিনি তাঁর সাহাবীদের নিকট মহান মর্যাদার অধিকারী ছিলেন, আর ‘মুফাখখাম’ অর্থ হলো যিনি তাঁকে কখনো দেখেননি তাঁর কাছেও তিনি মহিমান্বিত ছিলেন। তিনি সর্বদা মহান। এ কারণেই তাঁর সাহাবীগণ যখন তাঁর নিকট বসতেন, তখন তাঁরা মাথা নিচু করে থাকতেন; তাঁদের কারোর একটি পশমও নড়ত না এবং শরীরের কোনো জোড়াও কম্পিত হতো না। যেমনটি কোনো জনসমষ্টি সম্পর্কে বলা হয় যখন তারা তাদের সুলতানের সামনে থাকে:
(যেন তাঁদের মাথার ওপর পাখি বসে আছে... কোনো জুলুমের ভয়ে নয়, বরং শ্রদ্ধাবোধের কারণে।)
বলা হয়েছে, তাঁর চেহারা ছিল অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ, বিশাল এবং লাবণ্যময়; সাথে ছিল সৌন্দর্য ও গাম্ভীর্য। তাঁর চেহারা মোবারক ‘ইয়াতালাল্লা’ অর্থাৎ বিচ্ছুরিত হতো এবং চমকাতো। ‘তালাল্লু আল-কামার’ তথা চাঁদের ঔজ্জ্বল্যের মতো তাঁর চেহারা উজ্জ্বল হতো। অতিশয়োক্তির উদ্দেশ্যে মুদাফ ইলাইহি-কে মুদাফ-এর স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। ‘লাইলাতুল বদর’ অর্থাৎ চৌদ্দ তারিখের রাত। একে বদর বলা হয় কারণ এটি সূর্য ডোবার পূর্বেই উদিত হয়, যেন এটি উদয় হতে তড়িঘড়ি করে। আর পূর্ণিমার রাতের চাঁদ সবচেয়ে সুন্দর ও পূর্ণাঙ্গ হয়। এর সাথে কাজী (আইয়াজ)-এর সেই বক্তব্যের কোনো বিরোধ নেই যা তিনি ‘অশ-শামসি ওয়া দুহাহা’ এবং ‘ওয়াল কামারি ইযা তালাহা’-এর তাফসীরে বলেছেন—
তা হলো পূর্ণিমার রাতে চাঁদের উদয় হওয়া সূর্যাস্তের সাথে সাথে ঘটে, আর মাসের শুরুতে এর উদয় হয় সূর্যাস্তের পর; কারণ সূর্যাস্ত বলতে এখানে তার কাছাকাছি হওয়া বোঝানো হয়েছে। বর্ণনাকারী চেহারার উজ্জ্বলতাকে সূর্যের পরিবর্তে চাঁদের সাথে তুলনা করেছেন কারণ তিনি কুফরের অন্ধকারে আচ্ছন্ন এক জগতে আবির্ভূত হয়েছেন, আর চাঁদের আলো সূর্যের আলোর চেয়ে অধিক উপকারী। গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে তিনি মধ্যম আকৃতির চেয়ে কিছুটা দীর্ঘ ছিলেন, যদিও সাধারণ দৃষ্টিতে তাঁকে মধ্যম আকৃতির মনে হতো। প্রথমটি বাস্তবতার নিরিখে এবং দ্বিতীয়টি বাহ্যিক দৃষ্টিতে। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, অতিরিক্ত না হয়ে দীর্ঘকায় হওয়া অধিক সুন্দর ও পূর্ণাঙ্গ। তিনি ‘মুশাযযাব’ (অত্যন্ত দীর্ঘ ও কৃশকায়) ছিলেন না। মুশাযযাব শব্দটি শেষ বর্ণের আগে তাশদীদসহ, যা দ্বারা এমন দীর্ঘদেহীকে বোঝায় যার মাংসে স্বল্পতা বা কৃশতা রয়েছে। যেমন বলা হয় ‘নাকলাতুন শাযবা’ অর্থাৎ এমন দীর্ঘ খেজুর গাছ যার ডালপালা কেটে ফেলা হয়েছে। ইবনে আবি খায়সামার বর্ণনায় আয়েশা হতে বর্ণিত হাদীসে এসেছে: কোনো দীর্ঘকায় ব্যক্তিই তাঁর সাথে হাঁটত না যাকে দীর্ঘ মনে হতো, তবে রাসূলুল্লাহ তাঁকে অতিক্রম করে যেতেন (অর্থাৎ রাসূলুল্লাহকেই দীর্ঘ মনে হতো)।
(খণ্ড: ১)
আশ-শামাইলুশ শারীফাহ - মুস্তাললুন মিন ফায়দিল কাদীর লিল-মুনাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَرُبمَا اكتنفه الرّجلَانِ الطويلان فيطولهما فَإِذا فارقاه نسبا إِلَى الطول وَنسب إِلَى الربعة عَظِيم الهامة بِالتَّخْفِيفِ رجل الشّعْر كَأَنَّهُ مشط فَلَيْسَ بسبط وَلَا جعد قَالَ الْقُرْطُبِيّ وَالرِّوَايَة فِي رجل بِفَتْح الرَّاء وَكسر الْجِيم وَهِي الْمَشْهُورَة وَقَالَ الْأَصْمَعِي يُقَال شعر رجل بِفَتْح فَكسر وَرجل بِفَتْح الْجِيم وَرجل بسكونها ثَلَاث لُغَات إِذا كَانَ بَين السبوطة والجعودة وَقَالَ غَيره شعرمرجل أَي مسرح وَكَانَ شعره بِأَصْل خلقته مسرحا إِن انفرقت عقيقته أَي إِن انقلبت عقيقته أَي شعر رَأسه انفرق بسهولة لخفة شعره حِينَئِذٍ فرق بِالتَّخْفِيفِ أَي جعل شعره نِصْفَيْنِ نصفا عَن يَمِينه وَنصفا عَن شِمَاله سمى عقيقة تَشْبِيها بِشعر الْمَوْلُود قبل أَن يحلق فاستعير لَهُ اسْمه وَإِلَّا بِأَن كَانَ مختلطا متلاصقا لَا يقبل الْفرق بِدُونِ ترجل فَلَا يفرقه بل يتْركهُ بِحَالهِ معقوصا أَي وفرة وَاحِدَة وَالْحَاصِل أَنه إِن كَانَ زمن قبُول الْفرق فرقه وَإِلَّا تَركه غير مفروق وَهَذَا أفضل من قَول جمع مَعْنَاهُ أَنه إِن انفرق بِنَفسِهِ تَركه مفروقا لعدم ملاءمته لقَوْله وَإِلَّا فَلَا لمصير مَعْنَاهُ وَإِلَّا فَلَا يتْركهُ مفروقا وَهُوَ رَكِيك وَهَذَا بِنَاء على جعل قَوْله وَإِلَّا فَلَا كلَاما تَاما وَجعل بَعضهم قَوْله فَلَا يُجَاوز شحمة أُذُنَيْهِ إِذا هُوَ وفره كلَاما وَاحِدًا وَفَسرهُ تَارَة بِأَنَّهُ لَا يجوز شحمة أُذُنَيْهِ إِذا أَعْفَاهُ من الْفرق وَقَوله إِذا هُوَ وفره بَيَان لقَوْله وَإِلَّا وَأُخْرَى بِأَنَّهُ إِذا انفرق لَا يجوز شحمة أُذُنَيْهِ فِي وَقت توفير الشّعْر قَالَ وَبِه يحصل الْجمع بَين الرِّوَايَات الْمُخْتَلفَة فِي كَون شعره وفرة وَكَونه جمة فَيُقَال يخْتَلف باخْتلَاف أزمنة الْفرق وَعَدَمه وَاعْلَم أَن الْمُصْطَفى صلى الله عليه وسلم كَانَ أَولا لَا يفرق تجنبا لفعل الْمُشْركين وموافقة لأهل الْكتاب ثمَّ فرق وَاسْتقر عَلَيْهِ أَزْهَر اللَّوْن أبيضه نيره وَهُوَ أحسن الألوان فَالْمُرَاد أَبيض اللَّوْن لَيْسَ بأمهق وَلَا آدم وَحِينَئِذٍ فاللون مُسْتَدْرك وَاسع الجبين يَعْنِي الجبينين وهما مَا اكتنف الْجَبْهَة عَن يَمِين وشمال وَالْمرَاد بسعتهما امتدادهما طولا وعرضا وَذَلِكَ مَحْمُود مَحْبُوب أَزجّ الحواجب أَي مرققهما مَعَ تقوس وغزارة شعر جمع حَاجِب وَهُوَ مَا فَوق الْعين بِلَحْمِهِ وشعره أَو هُوَ الشّعْر الَّذِي فَوق الْعظم وَحده سمى بِهِ لحجبه الشَّمْس عَن الْعين أَي مَنعه لَهَا والحجب الْمَنْع وَعدل عَن الحاجبين إِلَى الحواجب إِشَارَة إِلَى الْمُبَالغَة فِي امتدادهما حَتَّى صَار كعدة حواجب سوابغ بِالسِّين أفْصح من الصَّاد جمع سابغة أَي كاملات قَالَ الزَّمَخْشَرِيّ حَال من الْمَجْرُور وَهُوَ الحواجب وَهِي فاعلة فِي الْمَعْنى إِذْ تَقْدِيره أَزجّ حواجبه أَي زجت حواجبه فِي غير قرن بِالتَّحْرِيكِ أَي اجْتِمَاع يَعْنِي أَن طرفِي حاجبيه قد سبقا أَي
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কখনো কখনো দুইজন দীর্ঘকায় ব্যক্তির মাঝে চলতেন, তখন তাঁকে তাদের চেয়েও দীর্ঘ মনে হতো। কিন্তু যখন তারা তাঁর থেকে পৃথক হতো, তখন তাদের দীর্ঘকায় মনে হতো এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মধ্যমাকৃতির হিসেবে গণ্য করা হতো। তাঁর মাথা ছিল সুশ্রী এবং বড়। তাঁর চুল ছিল ঢেউখেলানো, যেন তা চিরুনি দিয়ে আঁচড়ানো; তা একেবারে সোজা ছিল না, আবার অত্যধিক কোঁকড়ানোও ছিল না। আল-কুরতুবী বলেছেন: 'রজল' শব্দটি রা-বর্ণে যবর এবং জিম-বর্ণে যের দিয়ে পাঠ করা হয়েছে এবং এটিই প্রসিদ্ধ। আল-আসমাঈ বলেছেন: চুলের বর্ণনায় 'রজল' শব্দটি তিনভাবে উচ্চারিত হয়; জিম-বর্ণে যের, যবর এবং সুকুন দিয়ে। এর অর্থ হলো চুল যখন একেবারে সোজা এবং অতিশয় কোঁকড়ানোর মাঝামাঝি বা ঢেউখেলানো হয়। অন্যরা বলেছেন, 'মুরজ্জাল' অর্থ হলো আঁচড়ানো বা সুবিন্যস্ত চুল। সৃষ্টির শুরু থেকেই তাঁর চুল ছিল স্বাভাবিকভাবে সুবিন্যস্ত। যদি তাঁর মাথার অগ্রভাগের চুল সহজে দুই ভাগে বিভক্ত হতো, তবে তিনি তা সিঁথি করতেন। অর্থাৎ তাঁর চুলকে দুই ভাগে—ডান দিকে অর্ধেক এবং বাম দিকে অর্ধেক—বিভক্ত করতেন। শিশুর জন্মের পর মাথা মুণ্ডন করার আগে যে চুল থাকে তার সাথে সাদৃশ্যের কারণে একে 'আকীকাহ' বলা হয়েছে। অন্যথায়, যদি চুলগুলো এমনভাবে মিশে থাকত যে আঁচড়ানো ছাড়া সিঁথি করা সম্ভব হতো না, তবে তিনি তা সিঁথি করতেন না; বরং তা সিঁথিহীন অবস্থায় একগুচ্ছ হিসেবে ছেড়ে দিতেন। সারকথা হলো, যদি সময়টি সিঁথি করার উপযোগী হতো তবে তিনি সিঁথি করতেন, অন্যথায় তা সিঁথি ছাড়াই ছেড়ে দিতেন। এটি ওই মতের চেয়ে উত্তম যেখানে বলা হয়েছে—চুল যদি নিজে থেকে বিভক্ত হতো তবেই তিনি তা সিঁথি করা অবস্থায় রাখতেন। কেউ কেউ বলেন যে, তাঁর চুল যখন তিনি ছেড়ে দিতেন তখন তা কানের লতি অতিক্রম করত না। তিনি আরও বলেছেন যে, বিভিন্ন বর্ণনায় তাঁর চুল কখনো কানের লতি পর্যন্ত আবার কখনো কাঁধ পর্যন্ত হওয়ার যে পার্থক্য পাওয়া যায়, তা সিঁথি করা বা না করার সময়ের ভিন্নতার কারণে হতে পারে। জেনে রাখুন যে, মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রথমে মুশরিকদের কর্ম পরিহার এবং আহলে কিতাবদের সাথে মিল রাখার উদ্দেশ্যে সিঁথি করতেন না, পরবর্তীতে তিনি সিঁথি করেছেন এবং এর ওপরই অবিচল ছিলেন। তাঁর গায়ের রঙ ছিল উজ্জ্বল শ্বেতবর্ণ এবং দীপ্তিময়, যা রঙের মধ্যে সর্বোত্তম। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এমন শ্বেতবর্ণ যা অত্যধিক ফ্যাকাশে নয় এবং শ্যামবর্ণও নয়। তাঁর ললাট বা কপালের দুই পাশ ছিল প্রশস্ত; অর্থাৎ কপালের ডানে ও বামে যে অংশ থাকে তার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ছিল প্রসারিত। এটি একটি প্রশংসনীয় ও পছন্দনীয় গুণ। তাঁর ভ্রু যুগল ছিল সরু, ধনুকাকৃতি এবং ঘন চুলবিশিষ্ট। ভ্রু হলো চোখের উপরের সেই অংশ যা মাংস ও চুল দ্বারা গঠিত; অথবা এটি হাড়ের উপরের চুল যা চোখকে প্রখরতা থেকে রক্ষা করে। এখানে দ্বিবচনের পরিবর্তে বহুবচন (হাওয়াজিব) ব্যবহার করে এর দৈর্ঘ্য ও পূর্ণতার আধিক্য নির্দেশ করা হয়েছে। যামাখশারী বলেছেন, এটি ভ্রুর পূর্ণতা বুঝায়। তাঁর ভ্রু যুগল ছিল দীর্ঘ ও পূর্ণাঙ্গ, কিন্তু তা জোড়া লাগানো ছিল না। অর্থাৎ তাঁর দুই ভ্রুর প্রান্তদ্বয় পরস্পর মিলিত ছিল না।
(খণ্ড: ১)
আশ-শামাইলুশ শারীফাহ - মুস্তাললুন মিন ফায়দিল কাদীর লিল-মুনাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
طالا حَتَّى كادا يَلْتَقِيَانِ وَلم يلتقيا بَينهمَا أَي الحاجبين عرق بِكَسْر فَسُكُون يدره أَي يحركه نافرا الْغَضَب كَانَ إِذا غضب امْتَلَأَ ذَلِك الْعرق دَمًا كَمَا يمتلئ الضَّرع لَبَنًا إِذا در فَيظْهر ويرتفع أقنى بقاف فنون مُخَفّفَة من القنا وَهُوَ ارْتِفَاع أَعلَى الْأنف وأحديداب وَسطه الْعرنِين أَي طَوِيل الْأنف مَعَ دقة أرنبته وَهُوَ بِكَسْر فَسُكُون الْأنف أَو مَا صلب مِنْهُ أَو أَوله حَيْثُ يكون الشم والقنا فِيهِ طوله ودقة أرنبته مَعَ حدب فِي وَسطه لَهُ أَي للعرنين أَو للنَّبِي صلى الله عليه وسلم وَهُوَ أقرب نور بنُون مَضْمُومَة يعلوه يغلبه من حسنه وبهاء رونقه يحسبه بِضَم السِّين وَكسرهَا أَي النَّبِي أَو عرنينه من لم يتأمله أَي يمعن النّظر فِيهِ أَشمّ مرتفعا قَصَبَة الْأنف قَالَ مُحَقّق وَذَا يُفِيد أَن قناه كَانَ قَلِيلا فَمن عكس انعكس عَلَيْهِ وَمن قَالَ الْمَشْهُور كَانَ أَشمّ فالكتب الْمَشْهُورَة تكذبه أه وَمرَاده الدلجى والشمم ارْتِفَاع قَصَبَة الْأنف وإشراف الأرنبة كث اللِّحْيَة وَفِي رِوَايَة لِلْحَارِثِ عَن أم معبد كثيف اللِّحْيَة بِفَتْح الْكَاف غير دقيقها وَلَا طويلها وفيهَا كَثَافَة كَذَا فِي النِّهَايَة وَفِي التَّنْقِيح كث اللِّحْيَة كثير شعرهَا غير مسبلة وَفِي الْقَامُوس كثت كثرت أُصُولهَا وكثفت وَقصرت وجعدت وَلذَا روى كَانَت ملتفة وَفِي شرح المقامات للشريشي كثة كَثِيرَة الْأُصُول بِغَيْر طول وَيُقَال للحية إِذا قصّ شعرهَا وَكثر إِنَّهَا لكثة وَإِذا عظمت وَكثر شعرهَا قيل إِنَّه لذُو عشنون فَإِذا كَانَت اللِّحْيَة قَليلَة فِي الذقن وَلم يكن فِي العارضين فَذَلِك السنوط والسناط وَإِذا لم يكن فِي وَجهه كثير شعر فَذَلِك الشطط واللحية بِكَسْر اللَّام وَفِي الْكَشَّاف الْفَتْح لُغَة الْحجاز الشّعْر النَّابِت على الذقن خَاصَّة سهل الْخَدين لَيْسَ فيهمَا نتوء وَلَا ارْتِفَاع وَهُوَ بِمَعْنى خبر الْبَيْهَقِيّ وَغَيره كَانَ أسيل الْخَدين لَيْسَ وَذَلِكَ أعذب عِنْد الْعَرَب ضليع بضاد مُعْجمَة الْفَم عظيمه أَو واسعه أشنب أَي أَبيض الْأَسْنَان مَعَ بريق وتحديد فِيهَا أَو هُوَ رونقها وماؤها أَو بردهَا وعذوبتها مفلج الْأَسْنَان أَي مفرج مَا بَين الثنايا دَقِيق بِالدَّال وروى بالراء المسربة بِضَم الرَّاء وتفتح وَضم الْمِيم وَسُكُون السِّين الْمُهْملَة مَا دق من شعر الصَّدْر كالخيط سَائِلًا إِلَى السُّرَّة كَأَن عُنُقه بِضَم الْمُهْملَة وبضم النُّون وتسكن جيد بِكَسْر وهما بِمَعْنى وَاحِد وَإِنَّمَا عبر بِهِ تفننا وَكَرَاهَة للتكرار اللَّفْظِيّ دمية كعجمة بِمُهْملَة ومثناة تحتية الصُّورَة المنقوشة من نَحْو رُخَام أَو عاج شبه عُنُقه بعنقها لِأَنَّهُ يتأنق فِي صنعتها مُبَالغَة فِي حسنها وخصها لكَونهَا كَانَت مألوفة عِنْدهم دون غَيرهَا فِي صفاء الْفضة حَال مُقَيّدَة لتشبيهه بِهِ أَي كَأَنَّهُ هُوَ حَال
ভ্রুদ্বয় দীর্ঘ ছিল এমনকি তা প্রায় মিলিত হওয়ার উপক্রম হতো কিন্তু পরস্পর মিলিত হতো না। তাদের মাঝে অর্থাৎ ভ্রুদ্বয়ের মাঝখানে একটি শিরা ছিল (উক্ত শব্দটিতে আইনের নিচে যের এবং র-এর উপর সাকিন), যা রাগের সময় রক্তপূর্ণ হয়ে ফুলে উঠত যেমন ওলান দুধে পূর্ণ হলে ফুলে ওঠে, ফলে তা দৃশ্যমান ও উন্নত হয়ে যেত। নাসিকা ছিল উন্নত ও খাড়া। ‘আকনা’ (ক্বাফ এবং নূন বর্ণ যোগে) শব্দটি ‘কানা’ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ নাকের অগ্রভাগ উঁচু হওয়া এবং মাঝখানটা সামান্য বক্র হওয়া। ‘আরনীন’ অর্থ দীর্ঘ নাসিকা যার অগ্রভাগ সূক্ষ্ম। এর উচ্চারণ নূনের নিচে যের এবং র-এর উপর সাকিন যোগে, যা নাকের শক্ত অংশ অথবা নাকের শুরুভাগ যেখানে ঘ্রাণ অনুভূত হয়। তাঁর নাসিকা ছিল দীর্ঘ এবং অগ্রভাগ ছিল সূক্ষ্ম এবং মধ্যভাগ সামান্য উঁচু। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নাসিকার ওপর একটি নূর বা আভা চমকাত যা তার সৌন্দর্য ও লাবণ্যকে আরও বাড়িয়ে দিত। যে ব্যক্তি গভীরভাবে লক্ষ্য করত না, সে তাঁর নাসিকাকে অনেক বেশি উঁচু মনে করত। জনৈক গবেষক বলেন, এর দ্বারা বোঝা যায় যে তাঁর নাকের উঁচু ভাবটা ছিল সামান্য। যে এর বিপরীত বলবে সে ভুল করবে। আর যারা বলেন যে প্রসিদ্ধ মতানুসারে তিনি ‘আশাম্ম’ (খুব উঁচু নাক বিশিষ্ট) ছিলেন, প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহ তাদের সেই দাবিকে নাকচ করে দেয়। ‘শামাম’ অর্থ হলো নাকের বাঁশি উঁচু হওয়া এবং নাকের অগ্রভাগ সামান্য ঝুলে থাকা। তিনি ছিলেন ঘন দাড়িবিশিষ্ট। আল-হারিসের রেওয়ায়েতে উম্মে মাবাদ থেকে বর্ণিত আছে যে তিনি ‘কাছিফুন লিহইয়াহ’ (ঘন দাড়িবিশিষ্ট) ছিলেন। এটি পাতলা বা অতি দীর্ঘ ছিল না বরং তাতে ঘনত্ব ছিল—যেমনটি ‘নিহায়া’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। ‘তানকীহ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে, ‘কাছুল লিহইয়াহ’ অর্থ যার দাড়ির চুল অনেক কিন্তু তা আলুথালু বা ঝুলন্ত নয়। ‘কামুস’ গ্রন্থে আছে, ‘কাছাত’ অর্থ যার গোড়া অনেক, ঘন, খাটো এবং কোঁকড়ানো; এজন্যই বর্ণিত হয়েছে যে তাঁর দাড়ি ছিল ঘন সন্নিবিষ্ট। শারিদীর ‘মাকামাত’ এর শারাহ-তে আছে, ‘কাছাহ’ হলো দৈর্ঘ্য ছাড়াই গোড়া থেকে অনেক চুল হওয়া। যখন দাড়ির চুল ছোট এবং ঘন হয় তখন তাকে ‘কাছাহ’ বলা হয়। আর যখন তা অনেক বড় ও ঘন হয় তখন তাকে ‘উশনুন’ বলা হয়। যদি চিবুকে সামান্য চুল থাকে এবং দুই গালে চুল না থাকে তবে তাকে ‘সানুত্ব’ বা ‘সিনাত্ব’ বলা হয়। আর যদি চেহারায় খুব বেশি চুল না থাকে তবে তাকে ‘শাতাত্ব’ বলা হয়। ‘লিহইয়াহ’ শব্দের ল্যাম বর্ণে যের যোগে উচ্চারণ হয়, তবে হিজাজের ভাষা অনুযায়ী এতে জবরও পড়া হয়; এর অর্থ হলো কেবল চিবুকে গজানো চুল। তাঁর গণ্ডদ্বয় (গাল) ছিল মসৃণ ও সমতল, তাতে কোনো অস্বাভাবিক উচ্চতা বা ফোলা ভাব ছিল না। এটি বায়হাকী ও অন্যান্যদের বর্ণিত ‘আসিলুল খাদাইন’ (কোমল ও মসৃণ গাল) শব্দের অর্থের সাথে সংগতিপূর্ণ। আরবদের নিকট এটিই ছিল অধিক পছন্দনীয়। তিনি ছিলেন প্রশস্ত মুখগহ্বর বিশিষ্ট। ‘শানিয়াব’ অর্থাৎ তাঁর দাঁতগুলো ছিল অত্যন্ত উজ্জ্বল এবং তাতে এক প্রকার ঝকঝকে সাদা ভাব ও ধারালো ভাব ছিল; অথবা এটি হলো দাঁতের লাবণ্য ও শুভ্রতা কিংবা শীতলতা ও মিষ্টতা। তিনি ছিলেন ‘মুফাল্লাজুল আসনান’ অর্থাৎ তাঁর সামনের দাঁতদ্বয়ের মাঝখানে সামান্য ফাঁক ছিল। তাঁর ‘মাসরুবা’ (মীম বর্ণে পেশ এবং সীন বর্ণে সাকিন যোগে) ছিল সূক্ষ্ম। এটি হলো বুকের উপরিভাগ থেকে নাভি পর্যন্ত পশমের সরু রেখা যা সুতার মতো লম্বা হয়ে নেমে গিয়েছিল। তাঁর গর্দান (ঘাড়) ছিল যেন কারুকার্যময় মূর্তির গলার ন্যায়। এখানে বৈচিত্র্য আনার জন্য এবং একই শব্দের পুনরাবৃত্তি এড়ানোর জন্য দুটি ভিন্ন শব্দ (উনুক্ব এবং জীদ) ব্যবহার করা হয়েছে। ‘দুমইয়াহ’ (দাল বর্ণে পেশ যোগে) অর্থ হলো মার্বেল পাথর বা হাতির দাঁত দিয়ে খোদাই করা সুন্দর প্রতিকৃতি। তাঁর গর্দানকে এর সাথে তুলনা করা হয়েছে কারণ এটি নির্মাণে অত্যন্ত নিপুণতা ও সৌন্দর্য প্রকাশ পায় এবং এটি তাদের নিকট অত্যন্ত পরিচিত ছিল। রূপার শুভ্রতা ও স্বচ্ছতার সাথে তুলনাটি তাঁর গর্দানের পরিচ্ছন্নতা ও উজ্জ্বলতা বোঝানোর জন্য একটি শর্তযুক্ত উপমা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আশ-শামাইলুশ শারীফাহ - মুস্তাললুন মিন ফায়দিল কাদীর লিল-মুনাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
صفائه قَالَ الزَّمَخْشَرِيّ وصف عُنُقه بالدمية فِي الاسْتوَاء والاعتدال وظرف الشكل وَحسن الْهَيْئَة والكمال وبالفضة فِي اللَّوْن وَالْإِشْرَاق وَالْجمال معتدل الْخلق أَي معتدل الصُّورَة الظَّاهِرَة يَعْنِي متناسب الْأَعْضَاء خلقا وحسنا بادنا أَي ضخم الْبدن لَكِن لَا مُطلقًا بل بِالنِّسْبَةِ لما يَأْتِي من كَونه شثن الْكَفَّيْنِ والقدمين جليل المشاش والكتد وَلما كَانَت البدانة قد تكون من كَثْرَة اللَّحْم وإفراط السّمن الْمُوجب لرخاوة الْبدن وَهُوَ مَذْمُوم دَفعه بقوله متماسكا يمسك بعض أَجْزَائِهِ بَعْضًا من غير ترزرز قَالَ الْغَزالِيّ لَحْمه متماسك يكَاد يكون على الْخلق الأول وَلم يضرّهُ السن أَرَادَ أَنه فِي السن الَّذِي من شَأْنه استرخاء اللَّحْم كَانَ كالشباب وَلَا يُنَاقض كَونه بادنا مَا فِي رِوَايَة الْبَيْهَقِيّ ضرب اللَّحْم لِأَن الْقلَّة وَالْكَثْرَة والخفة والتوسط من الْأُمُور النسبية المتفاوتة فَحَيْثُ قيل بادن أُرِيد عدم النحولة والهزال وَحَيْثُ قيل ضرب أُرِيد عدم السّمن التَّام
سَوَاء الْبَطن والصدر بِالْإِضَافَة أَو التَّنْوِين كِنَايَة عَن كَونه خميص الْبَطن والحشاء أَي ضامر الْبَطن من قبل طَوِيل النجاد أَي الْقَامَة عريض الصَّدْر فِي الشِّفَاء وَاسع الصَّدْر وَفِي الْمَوَاهِب رحب الصَّدْر وَالْعرض خلاف الطول قَالَ الْبَيْهَقِيّ كَانَ بَطْنه غير مستفيض فَهُوَ مسَاوٍ لصدره وظهره عريض فَهُوَ مسَاوٍ لبطنه أَو العريض بِمَعْنى الوسيع أَو مجَاز عَن احْتِمَال الْأُمُور بعيد مَا بَين الْمَنْكِبَيْنِ تَثْنِيَة منْكب مُجْتَمع عظم الْعَضُد والمنكب وَهُوَ لفظ مُشْتَرك يُطلق على مَا ذكر وعَلى الْمحل الْمُرْتَفع من الأَرْض وعَلى ريشة من أَربع فِي جنَاح الطير ضخم الكراديس أَي عَظِيم الألواح أَو الْعِظَام أَو رُؤُوس الْعِظَام وَقَالَ الْبَغَوِيّ الْأَعْضَاء وَفِيه دلَالَة على الْمَقْصُود وَقَالَ مُحَقّق وَالْمرَاد عِظَام تلِيق بالعظم كالأطراف والجوارح وَقد ثَبت عَظِيم الْأَطْرَاف والجوارح أنور المتجرد الرِّوَايَة بِفَتْح الرَّاء قَالَ الْبَغَوِيّ وَغَيره بِمَعْنى نيره قَالَ مُحَقّق وَلَا حَاجَة لَهُ لِأَن أفعل التَّفْضِيل إِذا أضيف فأحد معنييه التَّفْضِيل على غير الْمُضَاف إِلَيْهِ وَالْإِضَافَة للتوضيح فَكَأَنَّهُ قَالَ متجرده أنور من متجرد غَيره قَالَ الْبَغَوِيّ وَغَيره المتجرد مَا جرد عَنهُ الثِّيَاب وكشف من جسده أَي كَانَ مشرف الْبدن ثمَّ المُرَاد جَمِيع الْبدن وَالْقَوْل بِأَن المُرَاد مَا يستر غَالِبا ويجرد أَحْيَانًا متعقب بِالرَّدِّ مَوْصُول مَا بَين اللبة بِفَتْح اللَّام المنحر وَهِي التطامن الَّذِي فَوق الصَّدْر وأسفل الْحلق من الترقوتين والسرة بِشعر مُتَعَلق بموصول يجْرِي يَمْتَد شبهه بجريان المَاء وَهُوَ امتداده فِي سيلانه كالخط
তাঁর স্বচ্ছতা সম্পর্কে যামাখশারী বলেন, তিনি তাঁর ঘাড়ের বর্ণনা দিয়েছেন পুতুলের ঘাড়ের সাথে সামঞ্জস্য, সুঠামতা, আকৃতির লাবণ্য, সুন্দর গঠন ও পূর্ণতার দিক থেকে; আর বর্ণের স্বচ্ছতা, উজ্জ্বলতা ও সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে রূপার সাথে তুলনা করেছেন। পরিমিত সৃষ্টি অর্থাৎ তাঁর বাহ্যিক অবয়ব ছিল সুষম, যার অর্থ সৃষ্টিগতভাবে ও সৌন্দর্যে তাঁর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো ছিল পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি স্থূলকায় ছিলেন অর্থাৎ তাঁর দেহ ছিল বিশাল, তবে তা নিঃশর্তভাবে নয়; বরং পরবর্তীতে যা আসবে সেই পরিপ্রেক্ষিতে—যেমন তাঁর উভয় হাতের তালু ও পায়ের পাতা ছিল মাংসল এবং জোড়া ও কাঁধের হাড় ছিল সুবৃহৎ। যেহেতু স্থূলতা অনেক সময় অতিরিক্ত গোশত ও মেদবাহুল্যের কারণে হয় যা শরীরকে শিথিল করে দেয় এবং তা নিন্দনীয়, তাই তিনি 'সুসংহত' বলার মাধ্যমে তা নাকচ করেছেন—যার অর্থ তাঁর শরীরের এক অংশ অন্য অংশকে সুদৃঢ়ভাবে ধরে রাখত, কোনো প্রকার শিথিলতা ছাড়াই। ইমাম গাযালী বলেন, তাঁর গোশত ছিল সুসংহত, মনে হতো যেন তিনি তাঁর প্রাথমিক সৃষ্টির অবস্থাতেই আছেন এবং বার্ধক্য তাঁর কোনো ক্ষতি করতে পারেনি; তিনি বুঝিয়েছেন যে, যে বয়সে সাধারণত গোশত শিথিল হয়ে যায়, সেই বয়সেও তিনি যুবকদের মতো ছিলেন। তাঁর স্থূলকায় হওয়া বাইহাকীর বর্ণনায় থাকা 'সুগঠিত গোশত' এর সাথে সাংঘর্ষিক নয়; কারণ কম-বেশি, হালকা ও মধ্যম হওয়া আপেক্ষিক ও পরিবর্তনশীল বিষয়। সুতরাং যেখানে 'স্থূলকায়' বলা হয়েছে, সেখানে ক্ষীণকায় বা দুর্বল না হওয়া বুঝানো হয়েছে, আর যেখানে 'সুগঠিত' বলা হয়েছে, সেখানে অত্যধিক মেদ না থাকা বুঝানো হয়েছে।
তাঁর পেট ও বুক ছিল সমান (ইযাফত বা তানভীন সহকারে), যা তাঁর পেট ও উদর পাতলা হওয়ার রূপক—অর্থাৎ সামনের দিক থেকে তাঁর পেট ছিল সুঠাম; তিনি দীর্ঘ দেহের অধিকারী ছিলেন এবং চওড়া বক্ষবিশিষ্ট ছিলেন; 'আশ-শিফা' গ্রন্থে এসেছে প্রশস্ত বক্ষ এবং 'আল-মাওয়াহিব' গ্রন্থে এসেছে প্রশস্ত বক্ষ, আর প্রস্থ হলো দৈর্ঘ্যের বিপরীত। বাইহাকী বলেন, তাঁর পেট স্ফীত ছিল না, বরং তা বুকের সমান ছিল; এবং তাঁর পিঠ ছিল চওড়া, ফলে তা পেটের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল; অথবা 'চওড়া' বলতে প্রশস্ত বুঝানো হয়েছে, অথবা এটি বিষয়াদি সহ্য করার সক্ষমতার রূপক। তাঁর দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান ছিল প্রশস্ত; 'মানকিবাইন' হলো 'মানকিব'-এর দ্বিবচন, যা বাহু ও কাঁধের অস্থির সংযোগস্থল; এটি একটি বহু অর্থবোধক শব্দ যা উল্লিখিত অর্থের পাশাপাশি ভূমির উচ্চস্থান এবং পাখির ডানার চারটি পালকের একটির ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। তাঁর সন্ধিস্থলগুলো ছিল বড়, অর্থাৎ হাড়ের পাত বা হাড় অথবা হাড়ের অগ্রভাগগুলো ছিল বিশাল। ইমাম বাগভী বলেন, এর দ্বারা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বুঝানো হয়েছে এবং এতে উদ্দিষ্ট বিষয়ের ইঙ্গিত রয়েছে। একজন গবেষক বলেছেন, এর দ্বারা এমন হাড় বুঝানো হয়েছে যা বিশালতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেমন হাত-পা ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ; আর তাঁর হাত-পা ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সুবৃহৎ হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত। তাঁর শরীরের অনাবৃত অংশ ছিল অত্যধিক উজ্জ্বল; বর্ণনাটি যবর সহকারে। বাগভী ও অন্যান্যরা বলেন এর অর্থ উজ্জ্বল। জনৈক গবেষক বলেন, এর কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ যখন অধিকতর অর্থবোধক শব্দ সম্বন্ধযুক্ত হয়, তখন তার একটি অর্থ হয় অন্য কিছুর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করা এবং সম্বন্ধটি স্পষ্টীকরণের জন্য হয়; যেন তিনি বলতে চেয়েছেন তাঁর শরীরের উন্মুক্ত অংশ অন্যের উন্মুক্ত অংশের চেয়ে বেশি উজ্জ্বল। বাগভী ও অন্যরা বলেন, 'অনাবৃত অংশ' হলো যা থেকে কাপড় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং শরীরের যা প্রকাশ পেয়েছে; অর্থাৎ তাঁর শরীর ছিল উজ্জ্বল। এরপর এর দ্বারা পুরো শরীর উদ্দেশ্য হতে পারে; আর এই বক্তব্য যে—যা সাধারণত ঢাকা থাকে কিন্তু মাঝেমধ্যে অনাবৃত হয় তা-ই উদ্দেশ্য—তা খণ্ডনযোগ্য। তাঁর লুব্বাহ (লাম অক্ষরে যবর সহকারে, যার অর্থ নহর বা বুকের উপরিভাগ ও কণ্ঠনালীর নিচের হাড় দুটির মধ্যবর্তী নিচু স্থান) থেকে নাভি পর্যন্ত একটি পশমের রেখা দ্বারা সংযুক্ত ছিল; যা দীর্ঘ ছিল, পানির প্রবাহের সাথে একে তুলনা করা হয়েছে, যা রেখার মতো দীর্ঘ হয়ে বয়ে চলাকে বুঝায়।
(খণ্ড: ১)
আশ-শামাইলুশ শারীফাহ - মুস্তাললুন মিন ফায়দিল কাদীর লিল-মুনাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৪০)
الطَّرِيقَة المستطيلة فِي الشَّيْء والخط الطَّرِيق وَطَلَبه الاسْتقَامَة والاستواء فَشبه بالاستواء وروى كالخيط والتشبيه بالخط أبلغ وَهَذَا معنى دَقِيق المسربة الْمَار عاري الثديين والبطن مِمَّا سوى ذَلِك أَي لَيْسَ عَلَيْهِمَا شعر سوى ذَلِك وَمَا ذكر من أَن لفظ الثديين تَثْنِيَة ثدي هُوَ مَا فِي نسخ هَذَا الْجَامِع لَكِن فِي النِّهَايَة الثندوتين قَالَ وهما للرجل كالثديين للْمَرْأَة فَمن ضم الثَّاء همز وَمن فتحهَا لم يهمز أَرَادَ إِن لم يكن على ذَلِك الْموضع كثير لحم اهـ
وَالْأول هُوَ رِوَايَة الشِّفَاء وَغَيره وَقَول الْقُرْطُبِيّ وَلَا شعر تَحت إبطَيْهِ رده الْوَلِيّ الْعِرَاقِيّ بِأَنَّهُ لم يثبت والخصوصيه لَا تثبت بِالِاحْتِمَالِ أشعر أَي كثير شعر الذراعين تَثْنِيَة ذِرَاع مَا بَين مفصل الْكَفّ والمرفق وَفِي الْقَامُوس من طرف الْمرْفق إِلَى طرف الْأصْبع الْوُسْطَى والمنكبين وأعالى جمع أَعلَى الصَّدْر أَي كَانَ على هَذِه الثَّلَاثَة شعر غزير طَوِيل الزندين بِفَتْح الزَّاي عظما الذراعين تَثْنِيَة زند كفلس وَهُوَ مَا انحسر عَنهُ اللَّحْم من الذِّرَاع رحب الرَّاحَة واسعها حسا وَعَطَاء وَمن قصره على حَقِيقَة التَّرْكِيب أَو جعله كِنَايَة عَن الْجُود فَحسب فَغير مُصِيب قَالَ الزَّمَخْشَرِيّ ورحب الرَّاحَة أَي الْكَفّ دَلِيل الْجُود وصغرها دَلِيل الْبُخْل قَالَ مُحَقّق وَأما سَعَة الْقَدَمَيْنِ فَلم أَقف عَلَيْهِ لكنه يفهم مِمَّا مر أَنه ضخمها سبط الْقصب بِالْقَافِ أَي لَيْسَ فِي ذِرَاعَيْهِ وساقيه وفخذيه نتوء وَلَا تعقد والقصب جمع قَصَبَة كل عظم أجوف فِيهِ مخ شثن الْكَفَّيْنِ أَي فِي أنامله غلظ بِلَا قصر وَذَلِكَ يحمد فِي الرجل لكَونه أَشد لقبضه ويذم فِي النِّسَاء والقدمين وَذَا لَا يُعَارضهُ خبر البُخَارِيّ عَن أنس مَا مسست حَرِيرًا وَلَا ديباجا أَلين من كَفه لِأَن المُرَاد اللين فِي الْجلد والغلظ فِي الْعِظَام فيجتمع لَهُ نعومة الْبدن وقوته وَمن ثمَّ قَالَ ابْن بطال كَانَت كَفه ممتلئة لَحْمًا غير أَنَّهَا مَعَ ضخامتها لينَة أَو حَيْثُ وصف باللين واللطافة حَيْثُ لَا يعْمل بهما شَيْئا بل كَانَ بِالنِّسْبَةِ لأصل الْخلقَة وَحَيْثُ وصف بالغلظ والشثونة فبالنسبة إِلَى امتهانهن بِالْعَمَلِ فَإِنَّهُ يتعاطى كثيرا من أُمُوره سَائل الْأَطْرَاف بسين وَلَام أَي ممتدها كَذَا فِي النِّهَايَة لَكِن الْبَيْهَقِيّ وَغَيره فسروه بممتد الْأَصَابِع طوال غير متعقدة وَلَا متثنية وَيُؤَيِّدهُ رِوَايَة كَأَن أَصَابِعه قضبان فضَّة أَي أَغْصَانهَا وَالْوَجْه التَّعْمِيم فقد ورد سبط الْقصب وَفسّر بِكُل عظم ذِي مخ والسبوط الامتداد قَالَه أَبُو نعيم وروى شائل الْأَطْرَاف بشين مُعْجمَة أَي مرتفعها وَهُوَ قريب من سَائل من قَوْله شالت الْمِيزَان ارْتَفَعت إِحْدَى كفتيه يَعْنِي كَانَ مُرْتَفع الْأَصَابِع بِلَا
বস্তুর মধ্যে লম্বা পথ এবং রেখাকে পথ বলা হয় এবং এর দ্বারা সোজা হওয়া ও সমান হওয়া উদ্দেশ্য। তাই একে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার সাথে তুলনা করা হয়েছে। আবার সুতার ন্যায় বর্ণনাও এসেছে, তবে রেখার সাথে তুলনা করা অধিক স্পষ্ট। এটিই হলো 'সূক্ষ্ম মাসরুবাহ' (বক্ষ হতে নাভি পর্যন্ত চিকন লোমরাজি)-এর অর্থ। দুই স্তন ও পেট এই রেখা ব্যতীত অন্য লোম থেকে মুক্ত ছিল। অর্থাৎ এই অংশগুলো ছাড়া সেখানে অন্য কোনো চুল বা লোম ছিল না। 'ছাদইয়াইন' শব্দটি 'ছাদি'-এর দ্বিবচন, যা এই জামে’র পাণ্ডুলিপিগুলোতে পাওয়া যায়। তবে 'আন-নিহায়া' গ্রন্থে 'ছানদাওয়াতাইন' শব্দ এসেছে। তিনি বলেন, পুরুষের ক্ষেত্রে এই দুটি হলো নারীর স্তনদ্বয়ের মতো। যে ব্যক্তি 'ছা' বর্ণে পেশ দিয়ে পড়বে সে হামযা উচ্চারণ করবে এবং যে জবর দিয়ে পড়বে সে হামযা উচ্চারণ করবে না। তিনি এর দ্বারা বুঝাতে চেয়েছেন যদি সেই স্থানে অধিক গোশত না থাকে। সমাপ্ত।
প্রথমটিই হলো 'আশ-শিফা' ও অন্যান্য গ্রন্থের বর্ণনা। আর ইমাম কুরতুবীর বক্তব্য—'তাঁর বগলের নিচে কোনো লোম ছিল না'—এটিকে ওলী আল-ইরাকী প্রত্যাখ্যান করেছেন এই বলে যে, এটি প্রমাণিত নয়। আর কেবল সম্ভাবনার ভিত্তিতে কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্য সাব্যস্ত হয়না। 'আশআর' অর্থাৎ দুই হাত ও বাহুতে প্রচুর লোমবিশিষ্ট। 'জিরা' শব্দটি কবজি ও কনুইয়ের মধ্যবর্তী অংশের দ্বিবচন। 'আল-কামুস' গ্রন্থে বলা হয়েছে, কনুইয়ের প্রান্ত থেকে মধ্যমা আঙুলের প্রান্ত পর্যন্ত অংশকে 'জিরা' বলে। আর 'মানকিবাইন' (দুই কাঁধ) এবং 'আয়ালি' হলো 'আলা' শব্দের বহুবচন, যা বক্ষের উপরিভাগ বুঝায়। অর্থাৎ এই তিনটি অঙ্গে ঘন ও দীর্ঘ লোম ছিল। দুই কবজি দীর্ঘ ছিল। 'যানদাইন' শব্দটি 'যায়' বর্ণে জবরসহ, যা বাহুর দুটি হাড়কে বুঝায়। এটি 'যান্দ' শব্দের দ্বিবচন (যথা ফালস)। এটি বাহুর সেই অংশ যা থেকে গোশত পৃথক হয়ে থাকে। হাতের তালু প্রশস্ত ছিল। এটি বাহ্যিক গঠন এবং দানশীলতা—উভয় অর্থেই প্রশস্ত। যারা একে কেবল আক্ষরিক গঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেন অথবা যারা একে কেবল দানশীলতার রূপক হিসেবে গণ্য করেন, তারা সঠিক নন। যামাখশারী বলেন, হাতের তালুর প্রশস্ততা হলো দানশীলতার প্রমাণ এবং এর সংকীর্ণতা কৃপণতার প্রমাণ। জনৈক গবেষক বলেন, উভয় পায়ের প্রশস্ততার ব্যাপারে আমি সুনির্দিষ্ট কোনো বর্ণনা পাইনি, তবে পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে তাঁর পা দুটি ছিল বলিষ্ঠ ও স্থুল। হাড়গুলো ছিল মসৃণ ও সোজা। অর্থাৎ তাঁর বাহু, নলা এবং উরুতে কোনো উঁচু-নিচু ভাব বা গ্রন্থিলতা ছিল না। 'কাসাব' হলো 'কাসাবাহ' শব্দের বহুবচন, যার অর্থ হলো এমন প্রতিটি ফাঁপা হাড় যার ভেতরে মজ্জা থাকে। উভয় হাতের তালু ও আঙুলগুলো ছিল মাংসল। অর্থাৎ আঙুলগুলো খাটো হওয়া ছাড়াই কিছুটা মোটা ছিল। পুরুষের ক্ষেত্রে এটি প্রশংসনীয় কারণ এতে হাতের মুষ্টি অধিক শক্তিশালী হয়, কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে এটি ত্রুটি হিসেবে গণ্য। পায়ের পাতার ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ। এটি বুখারীর সেই হাদিসের পরিপন্থী নয় যেখানে আনাস (রা.) বর্ণনা করেছেন: "আমি তাঁর হাতের তালুর চেয়ে নরম কোনো রেশম বা দিবায স্পর্শ করিনি।" কারণ হাতের নরম ভাব ছিল চামড়ায় এবং স্থুলতা ছিল হাড়ের গঠনে। ফলে তাঁর মধ্যে শরীরের কোমলতা এবং শক্তি—উভয়ই বিদ্যমান ছিল। এই কারণেই ইবনে বাত্তাল বলেন, তাঁর হাতের তালু মাংসে পূর্ণ ছিল, তবে তা বলিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও ছিল নরম। অথবা যখন তাঁর হাতকে নরম ও সুকোমল বলা হয়েছে, তা ছিল কর্মহীন অবস্থার সাপেক্ষে বরং তা ছিল তাঁর মূল শারীরিক গঠন। আর যেখানে স্থুলতা বা রুক্ষতার বর্ণনা এসেছে, তা ছিল কর্মতৎপর অবস্থার সাপেক্ষে, কেননা তিনি নিজ হাতে অনেক কাজ সম্পাদন করতেন। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ছিল লম্বাটে। 'আন-নিহায়া' গ্রন্থে এমনই বলা হয়েছে। তবে বায়হাকী ও অন্যান্যরা এর ব্যাখ্যা করেছেন লম্বা আঙুল দ্বারা যা গ্রন্থিল বা বাঁকা ছিল না। এর সমর্থনে একটি বর্ণনা রয়েছে যে, তাঁর আঙুলগুলো যেন ছিল রুপার কাঠি বা ডাল। সঠিক মত হলো একে ব্যাপক অর্থে গ্রহণ করা। যেমন 'মসৃণ হাড়' বর্ণনা এসেছে যার ব্যাখ্যা করা হয়েছে মজ্জাযুক্ত প্রতিটি হাড়। আর 'সুবুত' মানে হলো দৈর্ঘ্য ও সোজা হওয়া। এটি আবু নুআয়ম বর্ণনা করেছেন। 'শাইলুল আতরাফ' (শীন বর্ণ দিয়ে) শব্দেও বর্ণিত হয়েছে, যার অর্থ হলো উঁচু হওয়া। এটি 'সায়িল'-এর কাছাকাছি অর্থ বহন করে। যেমন বলা হয় পাল্লা 'শালত' হয়েছে অর্থাৎ এক দিক উপরে উঠে গেছে। এর অর্থ হলো তাঁর আঙুলগুলো উঁচু ছিল কোনো প্রকার...
(খণ্ড: ১)
আশ-শামাইলুশ শারীফাহ - মুস্তাললুন মিন ফায়দিল কাদীর লিল-মুনাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৪১)
احديداب وَلَا تقبض وروى سائن بالنُّون وَهِي بِمَعْنى سَائل بِالسِّين الْمُهْملَة وَسَائِر بالراء من السّير بِمَعْنى طويلها ومحصول مَا وَقع الشَّك فِيهِ فِي هَذِه اللَّفْظَة سَائل بِمُهْملَة وبمعجمة وسائن بالنُّون وَسَائِر برَاء قَالَ الزَّمَخْشَرِيّ ومقصود الْكل أَنَّهَا غير متعقدة خمصان بِضَم الْمُعْجَمَة وَفتحهَا الأخمصين مُبَالغَة من الخمص أَي شَدِيد تجافى أَخْمص الْقدَم عَن الأَرْض وَهُوَ الْمحل الَّذِي لَا يلصق بهَا عِنْد الْوَطْء مسيح الْقَدَمَيْنِ أملسهما مستويهما لينهما بِلَا تكسر وَلَا تشقق جلد بِحَيْثُ ينبو عَنْهُمَا المَاء أَي يسيل ويمر سَرِيعا إِذا صب عَلَيْهِمَا لاصطحابهما إِذا زَالَ أَي النَّبِي صلى الله عليه وسلم زَالَ تقلعا أَي إِذا ذهب وَفَارق مَكَانَهُ رفع رجلَيْهِ رفعا بَائِنا متداركا إِحْدَاهمَا بِالْأُخْرَى مشْيَة أهل الجلادة فتقلعا حَال أَو مصدر مَنْصُوب أَي ذهَاب قلع والقلع فِي الأَصْل انتزاع الشَّيْء من أَصله أَو تحويله عَن مَحَله وَكِلَاهُمَا يصلح أَن يُرَاد هُنَا أَي ينْزع رجله عَن الأَرْض أَو يحولها بِقُوَّة ويخطو يمشي تكفؤا بِالْهَمْز وَتَركه أَي تمايل إِلَى قُدَّام من قَوْلهم كفأت الْإِنَاء إِذا قلبته أَو إِلَى يَمِين وشمال وَيُؤَيّد الأول قَوْله الْآتِي كَأَنَّمَا ينحط وَيَمْشي تفنن حَيْثُ عبر عَن الْمَشْي بعبارتين فِرَارًا من كَرَاهَة تكْرَار اللَّفْظ هونا بِفَتْح فَسُكُون أَي حَال كَونه هينا أَو هُوَ صفه لمصدر مَحْذُوف أَي مشيا هينا بلين ورفق والهون الرِّفْق ذريع كسريع وزنا وَمعنى المشية بِكَسْر الْمِيم أَي سريعها مَعَ سَعَة الخطوة فَمَعَ كَون مَشْيه بسكينة كَانَ يمد خطوته حَتَّى كَأَن الأَرْض تطوى لَهُ إِذا مَشى كَأَنَّمَا ينحط من صبب أَي منحدر من الأَرْض وَأَصله النُّزُول من علو إِلَى سفل وَمِنْه صببت المَاء وَالْمرَاد التَّشْبِيه بالمنحدر من علو إِلَى سفل بِحَيْثُ لَا إسراع وَلَا إبطاء وَخير الْأُمُور أوساطها قَالَ بَعضهم والمشيات عشرَة أَنْوَاع هَذِه أعدلها وَبِمَا تقرر يعرف أَنه لَا تعَارض بَين الْهون الَّذِي هُوَ عدم العجلة وَبَين الانحدار والتقلع الَّذِي هُوَ السرعة فَمَعْنَى الْهون الَّذِي لَا يعجل فِي مشيته وَلَا يسْعَى عَن قصد إِلَّا لحادث أَمر مُهِمّ وَأما الانحدار والقلع فمشيه الخلقي وَإِذا الْتفت الْتفت جَمِيعًا وَفِي رِوَايَة جمعا كضربا أَي شَيْئا وَاحِدًا فَلَا يسارق النّظر وَلَا يلوى عُنُقه كالطائش الْخَفِيف بل كَانَ يقبل وَيُدبر جَمِيعًا قَالَ الْقُرْطُبِيّ يَنْبَغِي أَن يخص بالتفاته وَرَاءه أما التفاته يمنه أَو يسرة فبعنقه خافض من الْخَفْض ضد الرّفْع الطّرف أَي الْبَصَر يَعْنِي إِذا نظر إِلَى شَيْء خفض بَصَره تواضعا وحياء من ربه وَذَلِكَ هُوَ شَأْن المتأمل المتفكر المشتغل بربه ثمَّ أرْدف ذَلِك بِمَا هُوَ كالتفسير لَهُ فَقَالَ نظره إِلَى الأَرْض
কুঁজো হওয়া বা সংকুচিত হওয়া নয়। 'সা-ইন' (নুন সহ) বর্ণিত হয়েছে, যা বিন্দুহীন 'সিন' যুক্ত 'সা-ইল' এর অর্থে ব্যবহৃত। আবার 'সা-ইর' (রা সহ) বর্ণিত হয়েছে যা চলা (সির) থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ দীর্ঘ। এই শব্দের ক্ষেত্রে সংশয়যুক্ত পাঠগুলোর সারসংক্ষেপ হলো: বিন্দুহীন সিন সহ 'সা-ইল', বিন্দুযুক্ত শিন সহ 'শা-ইল', নুন সহ 'সা-ইন' এবং রা সহ 'সা-ইর'। যামাখশারী বলেন, এগুলোর সবগুলোর উদ্দেশ্য হলো তা (আঙ্গুলগুলো) গিঁটযুক্ত বা বক্র ছিল না। 'খামসান' (খ এর পেশ বা জবর যোগে) হচ্ছে 'আখমাসাইন' এর আধিক্যবোধক রূপ, যা 'খামাস' থেকে আগত। অর্থাৎ পায়ের তলার মধ্যভাগ ভূমি থেকে অধিক পৃথক থাকা; এটি পায়ের সেই অংশ যা হাঁটার সময় মাটির সাথে লাগে না। 'মাসিহুল কাদামাইন' অর্থাৎ তাঁর পদযুগল ছিল মসৃণ, সমান্তরাল ও কোমল; চামড়ায় কোনো ভাঁজ বা ফাটা ছিল না। ফলে পানি ঢাললে তা গড়িয়ে দ্রুত চলে যেত এবং চটজলদি সরে যেত। যখন তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর স্থান ত্যাগ করতেন, তখন 'তাকাল্লু'র সাথে চলতেন। অর্থাৎ তিনি যখন হাঁটতেন এবং স্থান ত্যাগ করতেন, তখন তিনি তাঁর দুই পা এমনভাবে ভূমি থেকে উপরে তুলতেন যা স্পষ্টভাবে বোঝা যেত এবং এক কদমের পর অন্য কদম দ্রুত ফেলতেন, যা শক্তিশালী ও দৃঢ় ব্যক্তিদের হাঁটার ভঙ্গি। এখানে 'তাকাল্লুয়ান' শব্দটি অবস্থা (হাল) বা মানসুব মাজদার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যার অর্থ হলো উৎপাটিত করার মতো গতি। 'কালউ' শব্দের মূল অর্থ হলো কোনো কিছুকে তার মূল থেকে উপড়ে ফেলা বা স্বীয় স্থান থেকে সরিয়ে নেয়া। এখানে উভয় অর্থই প্রযোজ্য হতে পারে; অর্থাৎ তিনি তাঁর পা মাটি থেকে সজোরে তুলতেন অথবা প্রবল শক্তিতে কদম বাড়াতেন। তিনি 'তাকাফফু' (হামজা সহ বা ছাড়া) তথা সামনের দিকে ঝুঁকে হাঁটতেন। অর্থাৎ সামনের দিকে ঝুঁকে চলা; যেমন বলা হয় 'আমি পাত্রটি উল্টে দিলাম' যখন সেটিকে উপুড় করা হয়। অথবা এর অর্থ ডানে ও বামে হেলে চলা। তবে প্রথম অর্থটিকে পরবর্তী বাক্য 'যেন তিনি উচ্চভূমি থেকে নিচের দিকে নামছেন' সমর্থন করে। এখানে হাঁটার বিষয়টি দুটি ভিন্ন অভিব্যক্তির মাধ্যমে চমৎকারভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে যাতে একই শব্দের পুনরাবৃত্তির বিরক্তি এড়ানো যায়। 'হাওন' (হা এর জবর ও ওয়াও এর সাকিন সহ) অর্থাৎ ধীরস্থির ও শান্তভাবে। অথবা এটি একটি উহ্য মাজদারের গুণবাচক শব্দ, যার অর্থ নম্রতা ও কোমলতার সাথে সহজ সাবলীলভাবে হাঁটা। 'হাওন' মানে হলো নম্রতা। 'জারী' শব্দটি 'সারী' (দ্রুত) এর ওজনে ও অর্থে ব্যবহৃত। আর 'মিশইয়াহ' (মিম এর কাসরা সহ) অর্থ হলো দীর্ঘ পদক্ষেপে দ্রুত চলা। সুতরাং তাঁর হাঁটা শান্ত ও ধীরস্থির হওয়া সত্ত্বেও তিনি দীর্ঘ কদম ফেলতেন, যেন হাঁটার সময় জমিন তাঁর জন্য সংকুচিত হয়ে যেত। 'যেন তিনি উচ্চভূমি থেকে নিচের দিকে নামছেন'; অর্থাৎ ভূমির ঢালু অংশ দিয়ে অবতরণ করছেন। এর মূল অর্থ হলো ওপর থেকে নিচে নামা, যেখান থেকে 'আমি পানি ঢাললাম' কথাটি এসেছে। এখানে উদ্দেশ্য হলো উচ্চস্থান থেকে নিচে নামার সাথে তুলনা করা, যেখানে অতি দ্রুততা বা অতি ধীরতা কোনটিই নেই। আর সকল কাজের মধ্যে মধ্যমপন্থাই সর্বোত্তম। কেউ কেউ বলেন, হাঁটা দশ প্রকারের হয়ে থাকে এবং এটিই সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ। পূর্বোক্ত আলোচনার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, 'হাওন' (যা তাড়াহুড়ো না করাকে বোঝায়) এবং 'ইনহিতার' ও 'তাকাল্লু' (যা গতিশীলতাকে বোঝায়) এর মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। কেননা 'হাওন' এর অর্থ হলো তিনি অহেতুক তাড়াহুড়ো করতেন না এবং কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছাড়া দ্রুত দৌড়াতেন না। আর 'ইনহিতার' ও 'তাকাল্লু' ছিল তাঁর স্বাভাবিক ও সহজাত হাঁটার ধরণ। যখন তিনি ফিরে তাকাতেন, তখন পূর্ণাঙ্গভাবে (পুরো শরীর ঘুরিয়ে) ফিরে তাকাতেন। অন্য বর্ণনায় এসেছে 'জামআন', যা 'দারবান' এর ন্যায়; অর্থাৎ এককভাবে। তিনি আড়চোখে তাকাতেন না এবং অস্থিরমনা চপল ব্যক্তির ন্যায় কেবল ঘাড় মোচড়াতেন না, বরং তিনি পূর্ণাঙ্গভাবে সামনে আসতেন বা বিমুখ হতেন। কুরতুবী বলেন, এই পূর্ণাঙ্গভাবে ফিরে তাকানোর বিষয়টি কেবল পেছনের দিকে তাকানোর ক্ষেত্রে হওয়া উচিত। আর ডানে বা বামে তাকানোর ক্ষেত্রে ঘাড় ঘোরানোই যথেষ্ট। তিনি তাঁর দৃষ্টি নিচু রাখতেন ('খাফিদ' যা 'রাফ' বা উঁচু করার বিপরীত)। অর্থাৎ তিনি যখন কোনো কিছুর দিকে তাকাতেন, তখন তাঁর রবের প্রতি বিনয় ও লজ্জাবশত দৃষ্টি অবনত রাখতেন। এটিই হলো চিন্তাশীল, গবেষক এবং নিজ রবের স্মরণে নিমগ্ন ব্যক্তির বৈশিষ্ট্য। এরপর তিনি এর ব্যাখ্যাস্বরূপ বলেছেন, "তাঁর দৃষ্টি ছিল জমিনের দিকে" ।
(খণ্ড: ১)
আশ-শামাইলুশ শারীফাহ - মুস্তাললুন মিন ফায়দিল কাদীর লিল-মুনাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৪২)
حَال السُّكُوت وَعدم التحدث أطول من نظره إِلَى السَّمَاء لِأَنَّهُ كَانَ دَائِم المراقبة متواصل الْفِكر فنظره إِلَيْهَا رُبمَا مزق فكره ومزق خشوعه وَلِأَن نظر النُّفُوس إِلَى مَا تحتهَا أسبق لَهَا من نظرها إِلَى مَا علا عَلَيْهَا أما فِي غير حَال السُّكُوت والسكون فَكَانَ رُبمَا نظر إِلَى السَّمَاء بل جَاءَ فِي أبي دَاوُد وَكَانَ إِذا جلس يتحدث يكثر أَن يرفع طرفه إِلَى السَّمَاء وَهَذَا كُله فِي غير الصَّلَاة أما فِيهَا فَكَانَ ينظر إِلَيْهَا أَولا فَلَمَّا نزلت الَّذين هم فِي صلَاتهم خشعون أطرق
فَائِدَة رَأَيْت بِخَط الْحَافِظ مغلطاي أَن ابْن طغر ذكر أَن عليا أَتَاهُ رَاهِب بِكِتَاب وَرثهُ عَن آبَائِهِ كتبه أَصْحَاب الْمَسِيح فَإِذا فِيهِ (الْحَمد لله الَّذِي قضى فِيمَا قضى وسطر فِيمَا سطر أَنه باعث فِي الْأُمِّيين رَسُولا لَا فظ وَلَا غليظ وَلَا صخاب فِي الْأَسْوَاق وَلَا يَجْزِي بِالسَّيِّئَةِ السَّيئَة وَلَكِن يعْفُو ويصفح أمته الْحَمَّادُونَ نظره إِلَى الأَرْض أطول من نظره إِلَى السَّمَاء جلّ نظره بِضَم الْجِيم أَي معظمه وَأَكْثَره الملاحظة مفاعلة من اللحظ أَي النّظر بشق الْعين مِمَّا يَلِي الصدغ أَرَادَ بِهِ هُنَا أَنه كَانَ أَكثر نظره فِي حَال الْخطاب الملاحظة وَكَثْرَة الْفِكر فَلَا يُعَارض قَوْله إِذا الْتفت الْتفت جَمِيعًا يَسُوق أَصْحَابه أَي يقدمهم أَمَامه وَيَمْشي خَلفهم كَأَنَّهُ يسوقهم تواضعا وإرشادا ألى ندب مَشى كَبِير الْقَوْم وَرَاءَهُمْ وَلَا يدع احدا يمشي خَلفه أَو ليختبر حَالهم وَينظر إِلَيْهِم حَال تصرفهم فِي معاشهم وملاحظتهم لإخوانهم فيربي من يسْتَحق التربية ويكمل من يحْتَاج التَّكْمِيل ويعاقب من يَلِيق بِهِ المعاقبة ويؤدب من يُنَاسِبه التَّأْدِيب وَهَذَا شَأْن الْمولى مَعَ رَعيته أَو لَان الْمَلَائِكَة كَانَت تمشي خلف ظَهره أَو لغير ذَلِك وَإِنَّمَا تقدمهم فِي قصَّة جَابر رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ لِأَنَّهُ دعاهم إِلَيْهِ فجاؤا تبعا لَهُ وَيبدأ وَفِي رِوَايَة يبدر أَي يسْبق من لقِيه بِالسَّلَامِ حَتَّى الصّبيان تأديبا لَهُم وتعليما لمعالم الدّين ورسوم الشَّرِيعَة وَإِذا سلم عَلَيْهِ أحد رد عَلَيْهِ كتحيته أَو أحسن مِنْهَا فَوْرًا إِلَّا لعذر كَصَلَاة وبراز قَالَ ابْن الْقيم وَلم يكن يردهُ بِيَدِهِ وَلَا بِرَأْسِهِ وَلَا بِأُصْبُعِهِ إِلَّا فِي الصَّلَاة ثَبت بذلك عدَّة أَخْبَار وَلم يَجِيء مَا يعارضها إِلَّا شَيْء بَاطِل ت فِي الشَّمَائِل النَّبَوِيَّة طب هَب عَن هِنْد بن أبي هَالة بتَخْفِيف اللَّام وَكَانَ وصافا لحلية النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَهُوَ ربيبه إِذْ هُوَ ابْن خَدِيجَة وهالة اسْم لدارة الْقَمَر قتل مَعَ عَليّ يَوْم الْجمل وَقيل مَاتَ فِي طاعون عمواس وَبَقِي مُدَّة لم يجد من يدفنه لِكَثْرَة الْمَوْتَى حَتَّى نَادَى مُنَاد واربيب رَسُول الله فَترك النَّاس موتاهم ورفعوه على الْأَصَابِع حَتَّى
নীরব থাকা এবং কথা না বলার সময় তাঁর দৃষ্টি আকাশের দিকে তাকানোর চেয়ে দীর্ঘ হতো। কারণ তিনি সর্বদা পর্যবেক্ষণে থাকতেন এবং নিরবচ্ছিন্ন চিন্তামগ্ন থাকতেন। আকাশের দিকে তাকানো সম্ভবত তাঁর চিন্তায় বিঘ্ন ঘটাত এবং তাঁর বিনয় ও একাগ্রতাকে ব্যাহত করত। তদুপরি, মানুষের নফসের জন্য উপরের দিকের চেয়ে নিচের দিকে তাকানো অধিক সহজসাধ্য। তবে নীরবতা ও স্থির অবস্থার বাইরে তিনি মাঝে মাঝে আকাশের দিকে তাকাতেন। বরং আবু দাউদে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি যখন বসে কথা বলতেন, তখন প্রায়ই আকাশের দিকে তাঁর দৃষ্টি উঁচাতেন। আর এসবই সালাতের বাইরের অবস্থা। সালাতের ক্ষেত্রে তিনি প্রথম দিকে আকাশের দিকে তাকাতেন; যখন এই আয়াত নাজিল হলো— "যারা তাদের সালাতে বিনয়ী", তখন তিনি দৃষ্টি অবনত করলেন।
একটি উপকারী নোট: আমি হাফেজ মুগলতাইয়ের হস্তাক্ষরে দেখেছি যে, ইবনে তুগর উল্লেখ করেছেন যে, আলীর কাছে এক সন্ন্যাসী একটি কিতাব নিয়ে এসেছিলেন যা তিনি তাঁর পূর্বপুরুষদের থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিলেন এবং যা মসীহ (ঈসা)-এর অনুসারীরা লিখেছিলেন। তাতে লেখা ছিল: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি যা ফয়সালা করার তা করেছেন এবং যা লিপিবদ্ধ করার তা করেছেন— যে, তিনি উম্মিদের মধ্যে একজন রাসূল পাঠাবেন যিনি রুক্ষভাষী নন, কঠোর নন এবং বাজারে শোরগোলকারী নন। তিনি মন্দের বদলে মন্দ করেন না, বরং ক্ষমা ও মার্জনা করেন। তাঁর উম্মত হবে অত্যন্ত প্রশংসাকারী (হাম্মাদুন)। তাঁর মাটির দিকে তাকানো আকাশের দিকে তাকানোর চেয়ে দীর্ঘ হবে।" 'জুল্লা নাজারিহি' (جلّ نظره) জিম অক্ষরে পেশ দিয়ে, অর্থাৎ তাঁর অধিকাংশ ও বেশিরভাগ দৃষ্টি। 'আল-মুলাহাজাহ' (الملاحظة) শব্দটি 'লাহজ' (لحظ) থেকে এসেছে, যার অর্থ চোখের কোণ দিয়ে কনীনিকার পাশ দিয়ে দেখা। এখানে উদ্দেশ্য হলো, তাঁর বক্তব্যের সময় অধিকাংশ দৃষ্টি ছিল আড়চোখে তাকানো এবং গভীর চিন্তা। সুতরাং এটি তাঁর অন্য উক্তির সাথে সাংঘর্ষিক নয় যে, "তিনি যখন ফিরে তাকাতেন, তখন পুরোপুরি ফিরে তাকাতেন।" "তিনি তাঁর সাহাবীদের চালিত করতেন" (يَسُوق أَصْحَابه), অর্থাৎ তিনি তাঁদের সামনে এগিয়ে দিতেন এবং নিজে তাঁদের পেছনে হাঁটতেন। এটি তিনি বিনয়বশত এবং এই নির্দেশের প্রতি পথপ্রদর্শনের জন্য করতেন যে, কওমের বড় ব্যক্তি তাঁদের পেছনে হাঁটবেন। অথবা তিনি কাউকে তাঁর পেছনে হাঁটতে দিতেন না যাতে তাঁদের অবস্থা পরীক্ষা করতে পারেন এবং তাঁদের জীবনযাপন ও একে অপরের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। ফলে যিনি সংশোধনের যোগ্য তাঁকে সংশোধন করতেন, যাঁর পূর্ণতা প্রয়োজন তাঁকে পূর্ণতা দিতেন, যাঁর শাস্তির প্রয়োজন তাঁকে শাস্তি দিতেন এবং যাঁকে শিষ্টাচার শেখানো উচিত তাঁকে শিষ্টাচার শেখাতেন। এটিই প্রজার প্রতি অভিভাবকের কাজ। অথবা এটি এজন্য হতে পারে যে, ফেরেশতারা তাঁর পিঠের পেছনে হাঁটতেন, কিংবা অন্য কোনো কারণে। তবে জাবের (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ঘটনায় তিনি তাঁদের সামনে ছিলেন, কারণ তিনি তাঁদেরকে তাঁর দিকে ডেকেছিলেন এবং তাঁরা তাঁর অনুগামী হয়ে এসেছিলেন। তিনি শুরু করতেন—অন্য বর্ণনায় 'তিনি দ্রুত করতেন' (يبدر)—অর্থাৎ যাঁর সাথে দেখা হতো তাঁকে সালাম দিতে অগ্রণী হতেন। এমনকি শিশুদেরও সালাম দিতেন তাঁদের শিষ্টাচার শেখানোর জন্য এবং দ্বীনের নিদর্শন ও শরীয়তের নিয়মকানুন শিক্ষা দেওয়ার জন্য। যখন কেউ তাঁকে সালাম দিত, তিনি সাথে সাথে তার সালামের অনুরূপ বা তার চেয়ে উত্তম উত্তর দিতেন; তবে সালাত বা প্রাকৃতিক হাজত সারার মতো ওজর থাকলে ভিন্ন কথা। ইবনে আল-কাইয়্যিম বলেছেন: তিনি হাত, মাথা বা আঙুল দিয়ে সালামের উত্তর দিতেন না, কেবল সালাতের মধ্যে ছাড়া। এ বিষয়ে বেশ কিছু বর্ণনা সাব্যস্ত হয়েছে এবং এর বিপরীত কিছু পাওয়া যায় না কেবল বাতিল বর্ণনা ছাড়া। তিরমিযীর শামাইলুন নববিয়্যাহ, তাবারানি ও বাইহাকিতে হিন্দ ইবনে আবি হালা (হালা-তে ল্যাম বর্ণে তাশদিদ ছাড়া) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দৈহিক সৌন্দর্যের বর্ণনাকারী ছিলেন। তিনি নবীজির পালক পুত্র ছিলেন, যেহেতু তিনি খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর পুত্র। 'হালা' অর্থ চাঁদের চারপাশের জ্যোতির্বলয়। তিনি আলীর সাথে উটের যুদ্ধে (জঙ্গে জামাল) নিহত হন; আবার বলা হয় যে, তিনি আমওয়াসের প্লেগ রোগে মারা যান। অনেক লাশের আধিক্যের কারণে দীর্ঘক্ষণ তাঁকে দাফন করার লোক পাওয়া যাচ্ছিল না, অবশেষে এক আহ্বানকারী ডাকলেন: "হে আল্লাহর রাসূলের পালক পুত্র!" তখন মানুষ তাদের মৃতদের রেখে তাঁকে আঙুলের ডগায় তুলে নিয়ে গেল যতক্ষণ না...