(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সূল ফী খাসাইসির রাসূল
(পৃষ্ঠা: -)
غاية السول في خصائص الرسول القسم: السيرة النبوية
الكتاب: غاية السول في خصائص الرسول صلى الله عليه وسلم
المؤلف: أبو حفص عمر بن علي الأنصاري الشهير بـ ابن الملقن [ت 804 هـ]
المحقق: عبد الله بحر الدين عبد الله
أصل التحقيق: رسالة ماجستير، قسم الدراسات الإسلامية بالجامعة الإسلامية - المدينة المنورة 1400 هـ
الناشر: دار البشائر الإسلامية، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1414 هـ - 1993 م
عدد الصفحات: 308
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
গায়াতুস সুল ফি খাসায়েসির রাসূল বিভাগ: সিরাতে নববী
বই: গায়াতুস সুল ফি খাসায়েসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
লেখক: আবু হাফস উমর বিন আলী আল-আনসারী, ইবনুল মুলাক্কিন নামে পরিচিত [মৃত্যু ৮০৪ হিজরি]
গবেষক ও সম্পাদক: আব্দুল্লাহ বাহরুদ্দীন আব্দুল্লাহ
গবেষণার মূল উৎস: মাস্টার্স থিসিস، ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় - মদিনা মুনাওয়ারা ১৪০০ হিজরি
প্রকাশক: দারুল বাশায়ের আল-ইসলামিয়া، বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৪ হিজরি - ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩০৮
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সূল ফী খাসাইসির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم اللَّهُمَّ اختم بِخَير يَا كريم {رَبنَا آتنا من لَدُنْك رَحْمَة وهيئ لنا من أمرنَا رشدا}
قَالَ الشَّيْخ الإِمَام الْعَلامَة فريد دهره ووحيد عصره الحازم اليقظ الْأَعَز الفطن الْمُحَقق جَامع أشتات الْفَضَائِل صدر المدرسين رحْلَة الطالبين سراج الدّين أَبُو حَفْص عمر ابْن الشَّيْخ الإِمَام الْعَلامَة مفتي الْفرق نور الدّين أبي الْحسن عَليّ ابْن الشَّيْخ الإِمَام الْعَلامَة شهَاب الدّين أَحْمد أبي الْعَبَّاس الشهير بِابْن الملقن الْأنْصَارِيّ الشَّافِعِي - أدام الله النَّفْع بِعُلُومِهِ بِمُحَمد وَآله آمين
أَحْمد الله على إفضاله وأشكره عَليّ توالي آلائه وأصلي على أشرف مخلوقاته وَخَاتم أنبيائه وعَلى آله وَأَصْحَابه وَشرف وكرم
وَبعد فَهَذَا مُخْتَصر نَافِع إِن شَاءَ الله تَعَالَى فِيمَا يتَعَلَّق بخصائص
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। হে মহানুভব আল্লাহ! কল্যাণের মাধ্যমে সমাপ্ত করুন। {হে আমাদের পালনকর্তা! আপনার নিকট থেকে আমাদের অনুগ্রহ দান করুন এবং আমাদের কার্যাবলীকে সঠিক পথে পরিচালিত করার ব্যবস্থা করুন।}
শাইখ, ইমাম, মহাজ্ঞানী, সমকালীন যুগের অদ্বিতীয় ও অনন্য ব্যক্তিত্ব, দূরদর্শী, সজাগ, পরম সম্মানিত, তীক্ষ্ণধী, গবেষক, বিবিধ গুণাবলির সমাহারকারী, শিক্ষকগণের শিরোমণি, জ্ঞানান্বেষীদের গন্তব্যস্থল, সিরাজুদ্দীন আবু হাফস উমর ইবনে শাইখ ইমাম আল্লামা মুফতি আন-নূরুদ্দীন আবুল হাসান আলী ইবনে শাইখ ইমাম আল্লামা শিহাবুদ্দীন আহমাদ আবুল আব্বাস—যিনি ইবনে মুলক্কিন আল-আনসারী আশ-শাফিয়ী নামে প্রসিদ্ধ—বলেন; আল্লাহ যেন মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিজনের উসিলায় তাঁর ইলমের দ্বারা উপকার অব্যাহত রাখেন, আমীন।
আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি তাঁর অনুগ্রহের জন্য এবং তাঁর অফুরন্ত নেয়ামতরাজির জন্য তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আর আমি তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবীর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও তাঁর সাহাবীগণের ওপর দরুদ পাঠ করছি; আল্লাহ তাঁদের সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি করুন।
অতঃপর, এটি রাসুলুল্লাহর বৈশিষ্ট্যসমূহ (খাসায়েস) সংক্রান্ত বিষয়ে একটি উপকারী সংক্ষিপ্ত সার, ইনশাআল্লাহ তাআলা।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সূল ফী খাসাইসির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৬৮)
أشرف المخلوقين وَأفضل السَّابِقين واللاحقين صلى الله عليه وسلم وعَلى سَائِر النَّبِيين وَآل كل وَسَائِر الصَّالِحين
والمزني رضي الله عنه افْتتح كتاب النِّكَاح بهَا وَتَابعه الْأَصْحَاب وَسبب ذَلِك أَن خَصَائِصه فِي النِّكَاح كَثِيرَة ثمَّ ذكرُوا غَيرهَا تبعا لَهَا وَهَذَا الملخص فِيهِ مَا ذَكرُوهُ إِن شَاءَ الله تَعَالَى مَعَ زَوَائِد مهمة
وَقد منع ابْن خيران من الْكَلَام فِيهَا فِي النِّكَاح والإمامة كَمَا حَكَاهُ الْمَاوَرْدِيّ وَأطلق فِي الرَّوْضَة الْحِكَايَة عَن الصَّيْمَرِيّ عَنهُ لِأَنَّهُ أَمر انْقَضى فَلَا معنى للْكَلَام فِيهِ
সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম এবং পূর্বসূরি ও উত্তরসূরিদের মধ্যে সর্বোত্তম, তাঁর প্রতি এবং সকল নবী, তাঁদের পরিবারবর্গ ও সকল পুণ্যবান বান্দাদের প্রতি আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
ইমাম মুযানী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এটি দিয়ে বিবাহের অধ্যায়টি শুরু করেছেন এবং অনুসারীগণ (আসহাব) তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন। এর কারণ হলো, বিবাহ সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর) বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ প্রচুর। অতঃপর তাঁরা সেগুলোর অনুবর্তী হিসেবে অন্যান্য বিষয়ও আলোচনা করেছেন। ইনশাআল্লাহ, এই সংক্ষিপ্ত সার সংকলনটিতে তাঁরা যা উল্লেখ করেছেন তা গুরুত্বপূর্ণ কিছু সংযোজনীসহ স্থান পাবে।
ইবনে খাইরান বিবাহ এবং ইমামত অধ্যায়ে এ বিষয়ে আলোচনা করতে নিষেধ করেছেন, যেমনটি মাওয়ার্দী বর্ণনা করেছেন। 'রওদাহ' গ্রন্থে সায়মিরীর সূত্রে তাঁর থেকে এই বর্ণনাটি সাধারণভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে; কেননা এটি এমন এক বিষয় যা অতিবাহিত হয়ে গেছে, তাই এ নিয়ে আলোচনার কোনো সার্থকতা নেই।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সূল ফী খাসাইসির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
وَإِنَّمَا يشرع الِاجْتِهَاد فِي النَّوَازِل الَّتِي تقع أَو تتَوَقَّع وَمَال إِلَيْهِ الْغَزالِيّ وَنسبه إِلَى الْمُحَقِّقين تبعا لإمامه
فَإِنَّهُ قَالَ فِي نهايته لَيْسَ يسوغ إِثْبَات خَصَائِص رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بالأقيسة الَّتِي يناط بهَا الْأَحْكَام الْعَامَّة فِي النَّاس وَلَكِن الْوَجْه مَا جَاءَ بِهِ الشَّرْع من غير ابْتِغَاء مزِيد عَلَيْهِ
وَالَّذِي ذكره الْمُحَقِّقُونَ فِي ذَلِك أَن الْمسَائِل الَّتِي اخْتلف الْأَصْحَاب فِي خَصَائِص رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَذكر الْخلاف فِيهَا خبط غير مُفِيد فَإِنَّهُ لَا يتَعَلَّق بِهِ حكم ناجز تمس الْحَاجة إِلَيْهِ وَإِنَّمَا يجْرِي الْخلاف فِيمَا لَا نجد بدا من إِثْبَات حكم فِيهِ فَإِن الأقيسة لَا مجَال لَهَا فِي ذَلِك وَإِنَّمَا المتبع فِيهِ النُّصُوص وَمَا لَا نَص فِيهِ فالاختيار فِي ذَلِك هجوم على غيب بِلَا فَائِدَة وَاسْتَحْسنهُ ابْن الصّلاح أَيْضا وَقَالَ إِنَّه قد انْقَضى وَلَيْسَ فِيهِ من دَقِيق الْعلم مَا يتَعَلَّق بِهِ التدرب وَلَا وَجه لتضييع الزَّمَان برجم الظنون فِيهِ
وَأما الْجُمْهُور فَإِنَّهُم جوزوا ذَلِك لما فِيهِ من الْعلم
قَالَ النَّوَوِيّ رَحمَه الله تَعَالَى وَالصَّوَاب الْجَزْم بِهِ بل باستحبابه وَلَو
বস্তুত ইজতিহাদ কেবল সেই সকল নতুন উদ্ভূত সমস্যার ক্ষেত্রেই বিধিবদ্ধ যা সংঘটিত হয়েছে অথবা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। ইমাম আল-গাজালি এই মতের দিকেই ঝুঁকেছেন এবং তাঁর ইমামের অনুসরণ করে একে গবেষক আলেমদের অভিমত হিসেবে নিরূপণ করেছেন।
কেননা তিনি তাঁর ‘নিহায়াহ’ গ্রন্থে বলেছেন যে, সাধারণ মানুষের বিধান যার ওপর নির্ভরশীল, সেই কিয়াস বা তুলনামূলক বিশ্লেষণের মাধ্যমে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ সাব্যস্ত করা বৈধ নয়। বরং সঠিক পন্থা হলো শরিয়ত যা নিয়ে এসেছে তা-ই গ্রহণ করা এবং এর অতিরিক্ত কোনো কিছুর অনুসন্ধান না করা।
এ বিষয়ে গবেষক আলেমগণ যা উল্লেখ করেছেন তা হলো— আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে যে সকল মাসআলায় ফকিহগণের মাঝে মতভেদ রয়েছে, সেখানে সেই মতভেদ উল্লেখ করা একটি নিরর্থক বিভ্রান্তি। কারণ এর সাথে এমন কোনো তাৎক্ষণিক বিধান সম্পৃক্ত নয় যার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। বরং মতভেদ কেবল সেই ক্ষেত্রেই হওয়া উচিত যেখানে বিধান সাব্যস্ত করা ছাড়া আমাদের কোনো গত্যন্তর নেই। কেননা এসব ক্ষেত্রে কিয়াসের কোনো অবকাশ নেই, বরং কেবল অকাট্য দলীলাদির অনুসরণ করতে হবে। আর যে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট দলীল নেই, সেখানে নিজের পছন্দমতো কিছু নির্ধারণ করা অহেতুক অদৃশ্যের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার নামান্তর। ইবনুল সালাহও একে উত্তম মনে করেছেন এবং বলেছেন যে, এটি অতিবাহিত হয়ে গেছে এবং এর মধ্যে এমন কোনো সূক্ষ্ম জ্ঞান নেই যার মাধ্যমে অনুশীলনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তাই অমূলক ধারণার বশবর্তী হয়ে সময় নষ্ট করার কোনো যুক্তি নেই।
তবে জুমহুর বা সংখ্যাধিক্য আলেম একে বৈধ বলেছেন, কারণ এর মধ্যে জ্ঞানতাত্ত্বিক উপকারিতা রয়েছে।
ইমাম আন-নববী রহিমাহুল্লাহ তাআলা বলেছেন, সঠিক সিদ্ধান্ত হলো একে নিশ্চিতভাবে গ্রহণ করা, বরং এটি মুস্তাহাব হওয়া, যদিও
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সূল ফী খাসাইসির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৭০)
قيل بِوُجُوبِهِ لم يكن بَعيدا لِأَنَّهُ رُبمَا وجد جَاهِل بعض الخصائص ثَابِتَة فِي الحَدِيث الصَّحِيح فَعمل بِهِ أخذا بِأَصْل التأسي فَوَجَبَ بَيَانهَا لتعرف وَلَا يعْمل بهَا
وَأما مَا يَقع فِي ضمن الخصائص مِمَّا لَا فَائِدَة فِيهِ الْيَوْم فقليل لَا يَخْلُو أَبْوَاب الْفِقْه عَن مثله للتدرب وَمَعْرِفَة الْأَدِلَّة وَتَحْقِيق الشَّيْء على مَا هُوَ عَلَيْهِ
وَقَالَ ابْن الرّفْعَة فِي مطلبه قد يُقَال بالتوسط فيتكلم فِيمَا جرى فِي الصَّدْر الأول من ذَلِك دون مَا لم يجر مِنْهُ قَالَ وَسِيَاق كَلَام الْوَسِيط يرشد إِلَيْهِ وَقد جَاءَ فِي السّنة مَا يُبينهُ وَهُوَ قَوْله صلى الله عليه وسلم عَام الْفَتْح (إِن الله أذن لرَسُوله وَلم يَأْذَن لكم وَإِنَّمَا أدن لَهُ سَاعَة من نَهَار)
এর ওয়াজিব হওয়ার কথা যা বলা হয়েছে তা অবাস্তব নয়। কারণ, অনেক সময় কোনো অজ্ঞ ব্যক্তি সহীহ হাদীসে বর্ণিত কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্যের সন্ধান পেতে পারে এবং অনুসরণের মূলনীতি অনুযায়ী তার ওপর আমল করে ফেলতে পারে। অতএব, এই বৈশিষ্ট্যগুলো বর্ণনা করা ওয়াজিব যাতে সেগুলো চেনা যায় এবং সে অনুযায়ী আমল করা না হয়।
আর বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত এমন বিষয় যা বর্তমানে ফলপ্রসূ নয়, তা অতি সামান্য। ফিকহ শাস্ত্রের বিভিন্ন অধ্যায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ, দলীলসমূহ অনুধাবন এবং কোনো বিষয়কে তার প্রকৃত অবস্থার ওপর যাচাই করার জন্য এই জাতীয় বিষয় থেকে মুক্ত নয়।
ইবনুল রিফআহ তাঁর 'মাতলাব' গ্রন্থে বলেছেন, এ ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বনের কথা বলা যেতে পারে; অর্থাৎ প্রথম যুগে এ সংক্রান্ত যেসব বিষয় সংঘটিত হয়েছিল তা নিয়ে আলোচনা করা হবে, আর যা সংঘটিত হয়নি তা নিয়ে আলোচনা করা হবে না। তিনি বলেন, 'ওয়াসীত' গ্রন্থের বক্তব্যের প্রেক্ষাপট সেদিকেই ইঙ্গিত করে। সুন্নাহর মধ্যেও এমন বর্ণনা এসেছে যা একে স্পষ্ট করে দেয়, আর তা হলো মক্কা বিজয়ের বছর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর রাসূলকে অনুমতি দিয়েছেন কিন্তু তোমাদের অনুমতি দেননি; আর তাঁর জন্য দিনের সামান্য সময়ের জন্যই কেবল তা বৈধ করা হয়েছিল।"
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সূল ফী খাসাইসির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৭১)
وَنحن نقتدي فِي هَذَا التصنيف بالجمهور ونقيد مَا تيَسّر - بِحَمْد الله - فِيهِ جعله الله نَافِعًا بِمُحَمد وَآله
আমরা এই গ্রন্থ সংকলনে জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের অনুসরণ করছি এবং আল্লাহর প্রশংসার সাথে এতে যা সহজসাধ্য হয়েছে তা লিপিবদ্ধ করছি; আল্লাহ একে মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গের অসিলায় উপকারী করুন।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সূল ফী খাসাইসির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৭২)
وَاعْلَم أَنه صلى الله عليه وسلم اخْتصَّ بواجبات ومحرمات ومباحات وفضائل فَهَذِهِ أَرْبَعَة أَنْوَاع
النَّوْع الأول
الواحبات وَالْحكمَة فِي اخْتِصَاصه بهَا زِيَادَة الدَّرَجَات لما ورد عَن الله تَعَالَى (لن يتَقرَّب إِلَيّ المتقربون بِمثل أَدَاء مَا افترضت عَلَيْهِم) ذكره الرَّافِعِيّ من عِنْده وَلم يسْندهُ - وَهُوَ فِي صَحِيح البُخَارِيّ - وَعلم الله أَنه أقوم بهَا وأصبر عَلَيْهَا من غَيره
জেনে রাখুন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিছু ওয়াজিব, হারাম, মুবাহ ও ফযীলতের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিলেন। এই হলো চারটি প্রকার।
প্রথম প্রকার
ওয়াজিবসমূহ তাঁকে এই বৈশিষ্ট্যসমূহ প্রদানের রহস্য হলো তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করা; যেমনটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে: "নৈকট্য অন্বেষণকারীগণ আমার নৈকট্য অর্জনের ক্ষেত্রে আমি তাদের ওপর যা ফরয করেছি তার পালনের মতো আর কোনো কিছু দ্বারা আমার অধিক নিকটবর্তী হতে পারে না।" ইমাম রাফেয়ি এটি তাঁর পক্ষ থেকে উল্লেখ করেছেন এবং এর সনদ বর্ণনা করেননি—অথচ এটি সহীহ বুখারীতে বিদ্যমান—আর আল্লাহ জানতেন যে, তিনি এই দায়িত্বসমূহ পালনে অন্যদের অপেক্ষা অধিক সুদৃঢ় এবং অধিক ধৈর্যশীল।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সূল ফী খাসাইসির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৭৩)
النَّوْع الأول
الواحبات وَالْحكمَة فِي اخْتِصَاصه بهَا زِيَادَة الدَّرَجَات لما ورد عَن الله تَعَالَى (لن يتَقرَّب إِلَيّ المتقربون بِمثل أَدَاء مَا افترضت عَلَيْهِم) ذكره الرَّافِعِيّ من عِنْده وَلم يسْندهُ - وَهُوَ فِي صَحِيح البُخَارِيّ - وَعلم الله أَنه أقوم بهَا وأصبر عَلَيْهَا من غَيره
প্রথম প্রকার
ওয়াজিবসমূহ আর তাঁর সাথে এগুলোকে সুনির্দিষ্ট করার রহস্য হলো মর্যাদা বৃদ্ধি করা; কেননা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: (নৈকট্য অন্বেষণকারীরা আমার প্রতি ঐরূপ কোনো কিছুর মাধ্যমেই নৈকট্য লাভ করতে পারবে না, যেরূপ তারা আমার নির্দেশিত আবশ্যিক কার্যাবলি পালনের মাধ্যমে অর্জন করে থাকে।) ইমাম রাফেয়ী এটি তাঁর পক্ষ থেকে উল্লেখ করেছেন এবং কোনো সনদ বর্ণনা করেননি—অথচ এটি সহীহ আল-বুখারীতে রয়েছে—আর আল্লাহ জানতেন যে, তিনি অন্যদের তুলনায় এগুলো পালনে অধিক সুদৃঢ় এবং এগুলোর ওপর অধিক ধৈর্যশীল।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সূল ফী খাসাইসির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৭৪)
قَالَ الإِمَام قَالَ بعض عُلَمَائِنَا الْفَرِيضَة يزِيد ثَوَابهَا على ثَوَاب النَّافِلَة بسبعين دَرَجَة واستأنس بِمَا رَوَاهُ سلمَان الْفَارِسِي أَنه عليه الصلاة والسلام قَالَ فِي رَمَضَان (من تقرب فِيهِ فِيهِ بخصلة من خِصَال الْخَيْر كَانَ كمن أدّى فَرِيضَة فِيمَا سواهُ وَمن أدّى فَرِيضَة فِيهِ كَانَ كمن أدّى سبعين فَرِيضَة فِيمَا سواهُ)
وَهُوَ حَدِيث أخرجه ابْن خُزَيْمَة فِي صَحِيحه وَالْبَيْهَقِيّ فِي شعب
ইমাম বলেন, আমাদের কোনো কোনো আলিম বলেছেন যে, ফরজের সওয়াব নফলের সওয়াবের তুলনায় সত্তর গুণ বৃদ্ধি পায়। তিনি সালমান আল-ফারসি বর্ণিত একটি হাদিসের মাধ্যমে এর সপক্ষে প্রমাণ পেশ করেছেন যে, তিনি (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) রমজান সম্পর্কে বলেছেন, "যে ব্যক্তি এই মাসে কোনো একটি নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করবে, সে অন্য সময়ে একটি ফরজ আদায়কারীর ন্যায় হবে। আর যে ব্যক্তি এই মাসে একটি ফরজ আদায় করবে, সে অন্য সময়ে সত্তরটি ফরজ আদায়কারীর ন্যায় হবে।"
এটি এমন একটি হাদিস যা ইবনে খুজাইমা তাঁর সহিহ গ্রন্থে এবং বায়হাকি তাঁর 'শুআব' গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সূল ফী খাসাইসির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৭৫)
الْإِيمَان فقابل النَّفْل فِيهِ بِالْفَرْضِ فِي غَيره وقابل الْفَرْض فِيهِ بسبعين فرضا فِي غَيره فأشعر فِي هَذَا بِأَن الْفَرْض يزِيد على النَّفْل بسبعين دَرَجَة من طَرِيق الفحوى
وَهَذَا النَّوْع يَنْقَسِم إِلَى مُتَعَلق بِالنِّكَاحِ وَإِلَى غَيره وَفِي الْقسم الثَّانِي مسَائِل
الأولى وَالثَّانيَِة وَالثَّالِثَة صَلَاة الضُّحَى والأضحى وَالْوتر وَاسْتدلَّ أَصْحَابنَا لذَلِك بِحَدِيث ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ
ঈমান। সুতরাং তিনি এর মধ্যে নফল ইবাদতকে অন্য সময়ের ফরজের সমতুল্য করেছেন এবং এর মধ্যকার ফরজকে অন্য সময়ের সত্তরটি ফরজের সমতুল্য করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি এই বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বক্তব্যের গূঢ়ার্থ অনুযায়ী ফরজ নফলের চেয়ে সত্তর গুণ বেশি মর্যাদা রাখে।
আর এই প্রকারটি বিবাহ-সংক্রান্ত এবং বিবাহ-বহির্ভূত—এই দুই ভাগে বিভক্ত। দ্বিতীয় ভাগে কয়েকটি মাসআলা রয়েছে।
প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয়: চাশতের নামাজ, ঈদুল আযহার নামাজ এবং বিতর নামাজ। আমাদের (মাযহাবের) ফকিহগণ এর সপক্ষে ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সূল ফী খাসাইসির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৭৬)
(ثَلَاث هن عَليّ فَرَائض وَلكم تطوع النَّحْر وَالْوتر وركعتا الضُّحَى)
رَوَاهُ الإِمَام أَحْمد فِي مُسْنده وَالْبَيْهَقِيّ فِي سنَنه كَذَلِك وَالدَّارَقُطْنِيّ وَقَالَ الْفجْر بدل الضُّحَى
وَابْن عدي وَلَفظه (ثَلَاث عَليّ فَرِيضَة وَلكم تطوع الْوتر وَالضُّحَى وركعتا الْفجْر)
وَالْحَاكِم فِي مُسْتَدْركه شَاهدا بِلَفْظ (ثَلَاث هن عَليّ فَرَائض وَلكم تطوع النَّحْر وَالْوتر وركعتا الْفجْر)
نقد المُصَنّف لهَذَا الحَدِيث ومدار هَذَا الحَدِيث على أبي جناب الْكَلْبِيّ واسْمه يحيى بن أبي حَيَّة وَاسم أبي حَيَّة حييّ رَوَاهُ عَن عِكْرِمَهْ عَن ابْن عَبَّاس وَأَبُو جناب هَذَا
(তিনটি বিষয় আমার জন্য ফরজ এবং তোমাদের জন্য নফল: কুরবানি, বিতর এবং দুহার দুই রাকাত)
ইমাম আহমাদ তার মুসনাদে এবং আল-বায়হাকি তার সুনানে একইভাবে এটি বর্ণনা করেছেন। দারা-কুতনিও এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি ‘দুহা’র পরিবর্তে ‘ফজর’ শব্দ উল্লেখ করেছেন।
ইবনে আদি এটি বর্ণনা করেছেন যার শব্দবিন্যাস হলো: (তিনটি বিষয় আমার উপর ফরজ এবং তোমাদের জন্য নফল: বিতর, দুহা এবং ফজরের দুই রাকাত)
আল-হাকিম তার মুসতাদরাক গ্রন্থে একটি সমর্থক বর্ণনা (শাহিদ) হিসেবে এই শব্দে উল্লেখ করেছেন: (তিনটি বিষয় আমার জন্য ফরজ এবং তোমাদের জন্য নফল: কুরবানি, বিতর এবং ফজরের দুই রাকাত)
এই হাদিস সম্পর্কে গ্রন্থকারের সমালোচনা এই হাদিসটির মূল কেন্দ্রবিন্দু (মাদার) হলেন আবু জানাব আল-কালবি; তার নাম ইয়াহইয়া বিন আবি হাইয়্যাহ, এবং আবু হাইয়্যাহর নাম হলো হাইয়াই। তিনি এটি ইকরিমা থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন। আর এই আবু জানাব...
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সূল ফী খাসাইসির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৭৭)
ضَعِيف مُدَلّس وَقد عنعن وَإِن وَثَّقَهُ بَعضهم
وَاخْتلف كَلَام ابْن حبَان فِيهِ فَذكره فِي ثقاته وضعفائه
وَقَالَ الإِمَام أَحْمد أَحَادِيثه مَنَاكِير قلت فَكيف أخرجت لَهُ فِي مسندك وَقَالَ الْبَيْهَقِيّ فِي خلافياته أَبُو جناب هَذَا لَيْسَ بِالْقَوِيّ وَقَالَ فِي سنَنه ضَعِيف
وَقَالَ ابْن الصّلاح هَذَا حَدِيث غير ثَابت ضعفه الْبَيْهَقِيّ فِي خلافياته
قلت وَلِهَذَا الحَدِيث طَرِيق ثَان من حَدِيث جَابر الْجعْفِيّ عَن
তিনি দুর্বল, মুদাল্লিস এবং তিনি ‘আন’ শব্দযোগে বর্ণনা করেছেন, যদিও কেউ কেউ তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।
তার ব্যাপারে ইবনে হিব্বানের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে; তিনি তাকে তাঁর ‘সিকাত’ (নির্ভরযোগ্য রাবীদের তালিকা) এবং ‘দুয়াফা’ (দুর্বল রাবীদের তালিকা)—উভয় গ্রন্থেই উল্লেখ করেছেন।
ইমাম আহমাদ বলেন, তার বর্ণিত হাদিসসমূহ মুনকার (অগ্রহণযোগ্য)। আমি বলি, তবে আপনি আপনার ‘মুসনাদ’ গ্রন্থে কেন তার থেকে হাদিস বর্ণনা করলেন? আর বায়হাকী তাঁর ‘খিলাফিয়াত’ গ্রন্থে বলেছেন, এই আবু জানাব শক্তিশালী নন এবং তাঁর ‘সুনান’ গ্রন্থে তাকে দুর্বল বলেছেন।
ইবনে আস-সালাহ বলেন, এই হাদিসটি সাব্যস্ত নয়; বায়হাকী তাঁর ‘খিলাফিয়াত’ গ্রন্থে একে দুর্বল বলেছেন।
আমি বলি, এই হাদিসের দ্বিতীয় একটি সূত্র রয়েছে জাবির আল-জু’ফীর হাদিস থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সূল ফী খাসাইসির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৭৮)
عِكْرِمَة عَن ابْن عَبَّاس مَرْفُوعا (أمرت بركعتي الْفجْر وَالْوتر وَلَيْسَ عَلَيْكُم) رَوَاهُ الْبَزَّار وَجَابِر ضَعِيف
وَرَوَاهُ الإِمَام أَحْمد وَلم يذكر لَفْظَة (عَلَيْكُم) وَقَالَ بدلهَا (وَلم يكْتب) وَفِي رِوَايَة (أمرت بركعتي الضُّحَى وَلم تؤمروا بهَا وَأمرت بالأضحى وَلم يكْتب)
وَطَرِيق ثَالِث من طَرِيق وضاح بن يحيى عَن منْدَل عَن يحيى بن سعيد عَن عِكْرِمَة عَن ابْن عَبَّاس مَرْفُوعا (ثَلَاث عَليّ فَرِيضَة وَهن لكم تطوع الْوتر وركعتا الْفجْر وركعتا الضُّحَى) وَهُوَ ضَعِيف قَالَ ابْن حبَان لَا يحْتَج بِهِ فالوضاح كَانَ يروي عَن الثِّقَات الْأَحَادِيث المقلوبة الَّتِي كَأَنَّهَا معمولة وَقد ضعفه ابْن الْجَوْزِيّ فِي علله فَقَالَ هَذَا حَدِيث لَا يَصح وَقَالَ فِي الْأَعْلَام أَيْضا إِنَّه حَدِيث لَا يثبت
ইকরিমাহ ইবনে আব্বাস থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "আমাকে ফজরের দুই রাকাত এবং বিতরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আর তা তোমাদের উপর (অপরিহার্য) নয়।" আল-বাযযার এটি বর্ণনা করেছেন এবং জাবির দুর্বল।
ইমাম আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি "তোমাদের উপর" শব্দটি উল্লেখ করেননি, বরং তার পরিবর্তে বলেছেন: "এবং তা ফরজ করা হয়নি"। অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: "আমাকে চাশতের দুই রাকাতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যা তোমাদেরকে দেওয়া হয়নি, এবং আমাকে কোরবানির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কিন্তু তা ফরজ করা হয়নি।"
তৃতীয় একটি সূত্র হচ্ছে ওয়াদদাহ ইবনে ইয়াহইয়া-এর মাধ্যমে, তিনি মানদাল থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেন: "তিনটি বিষয় আমার জন্য ফরজ কিন্তু তোমাদের জন্য নফল; বিতর, ফজরের দুই রাকাত এবং চাশতের দুই রাকাত।" এটি একটি দুর্বল বর্ণনা। ইবনে হিব্বান বলেছেন, এটি দ্বারা দলিল পেশ করা যাবে না। কেননা ওয়াদদাহ নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের থেকে এমন সব ওলটপালট হাদিস বর্ণনা করতেন যা কৃত্রিম মনে হতো। ইবনে আল-জাওযি তার 'আল-ইলাল' গ্রন্থে এটিকে দুর্বল আখ্যায়িত করে বলেছেন, "এই হাদিসটি সহিহ নয়।" তিনি 'আল-আ'লাম' গ্রন্থেও বলেছেন যে, এটি এমন হাদিস যা প্রমাণিত নয়।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সূল ফী খাসাইসির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৭৯)
فتلخص ضعف الحَدِيث من جَمِيع طرقه وَحِينَئِذٍ فَفِي ثُبُوت خُصُوصِيَّة هَذِه الثَّلَاثَة بِهِ نظر
فَإِن الَّذِي يَنْبَغِي وَلَا يعدل إِلَى غَيره أَن لَا تثبت خُصُوصِيَّة إِلَّا بِدَلِيل صَحِيح على أَنه قد جَاءَ مَا يُعَارضهُ وَهُوَ مَا أخرجه الدَّارَقُطْنِيّ من حَدِيث قَتَادَة عَن أنس مَرْفُوعا (أمرت بالوتر والأضحى وَلم يعزم عَليّ)
وَرَوَاهُ ابْن شاهين فِي ناسخه ومنسوخه وَقَالَ (وَلم تفرض عَليّ) لكنه حَدِيث ضَعِيف فِيهِ عبد الله بن مُحَرر وَهُوَ ضَعِيف باجماعهم وَذكر ابْن
সারসংক্ষেপে, হাদিসটির সকল সূত্র থেকেই এর দুর্বলতা স্পষ্ট হয়; এমতাবস্থায় এই তিনটির বৈশিষ্ট্য সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সংশয় থেকে যায়।
প্রকৃতপক্ষে যা সমীচীন এবং যা থেকে বিচ্যুত হওয়া উচিত নয় তা হলো, সহিহ দলিল ব্যতীত কোনো বৈশিষ্ট্যই সাব্যস্ত হবে না; অধিকন্তু এর পরিপন্থী বর্ণনাও বর্ণিত হয়েছে, আর সেটি হলো যা আদ-দারাকুতনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন যে, (আমাকে বিতর ও কুরবানির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তবে তা আমার ওপর আবশ্যক করা হয়নি)।
ইবনে শাহিন তার 'নাসিখ ওয়া মানসুখ' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন (এবং তা আমার ওপর ফরজ করা হয়নি), কিন্তু এটি একটি দুর্বল হাদিস। এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাররার রয়েছেন, যিনি তাদের সর্বসম্মত মতে দুর্বল। আর ইবনে উল্লেখ করেছেন...
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সূল ফী খাসাইসির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৮০)
شاهين فِي نَاسخ ومنسوخة حَدِيث ابْن عَبَّاس الْمُتَقَدّم من طَرِيق الوضاح وَحَدِيث أنس هَذَا ثمَّ قَالَ الحَدِيث الأول أقرب إِلَى الصَّوَاب من الثَّانِي لِأَن فِيهِ عبد الله بن مُحَرر وَلَيْسَ بمرضي عِنْدهم قَالَ وَلَا أعلم النَّاسِخ مِنْهُمَا لصَاحبه
قَالَ وَلَكِن الَّذِي يشبه أَن يكون حَدِيث عبد الله بن مُحَرر - على مَا فِيهِ - نَاسِخا للْأولِ لِأَنَّهُ لَيْسَ يثبت أَن هَذِه الصَّلَوَات فرض
وَهَذَا كُله كَلَام عَجِيب فَلَا نَاسخ وَلَا مَنْسُوخ لِأَن النّسخ إِنَّمَا يُصَار إِلَيْهِ عِنْد تعَارض الْأَدِلَّة الصَّحِيحَة وَلَا مُعَارضَة إِذا
ثمَّ هَهُنَا أُمُور تنبه لَهَا
أَحدهَا أحسن بعض الْأَصْحَاب فِيمَا حكى عَن أبي الْعَبَّاس الرَّوْيَانِيّ فَقَالَ إِن الْأُضْحِية وَالْوتر لما يجب عَلَيْهِ وَقد يشْهد للوتر فَقَط فعله صلى الله عليه وسلم على الرَّاحِلَة
শাহীন তাঁর 'নাসিখ ওয়া মানসুখ' গ্রন্থে ইবনে আব্বাসের পূর্বোল্লিখিত হাদিস যা ওয়াদ্দাহ-এর সূত্রে বর্ণিত এবং আনাস (রা.)-এর এই হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন, প্রথম হাদিসটি দ্বিতীয়টির তুলনায় সত্যের অধিক নিকটবর্তী। কারণ দ্বিতীয় বর্ণনায় আবদুল্লাহ ইবন মুহররার রয়েছেন, যিনি তাদের (মুহাদ্দিসগণের) নিকট গ্রহণযোগ্য নন। তিনি আরও বলেন, আমি জানি না এই দুটির মধ্যে কোনটি অপরটির নাসিখ (রহিতকারী)।
তিনি বলেন, তবে আবদুল্লাহ ইবন মুহররারের হাদিসটি—তার মধ্যে যে দুর্বলতা রয়েছে তা সত্ত্বেও—প্রথমটির জন্য নাসিখ হওয়ার সদৃশ মনে হয়, কারণ এই সালাতগুলো যে ফরজ তা প্রমাণিত নয়।
আর এই পুরো কথাটিই অত্যন্ত বিস্ময়কর। এখানে কোনো নাসিখও নেই এবং মানসুখও নেই। কারণ নাসিখ-মানসুখের সিদ্ধান্ত কেবল তখনই নেওয়া হয় যখন সহিহ দলিলসমূহের মধ্যে বৈপরীত্য দেখা দেয়, অথচ এখানে তো কোনো বৈপরীত্যই নেই।
অতঃপর এখানে কিছু বিষয় রয়েছে যেগুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন।
তার মধ্যে একটি হলো, আমাদের কোনো কোনো সঙ্গী (ফকিহ) আবু আব্বাস আর-রুয়ানি থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা চমৎকার বলেছেন। তিনি বলেছেন, কুরবানি এবং বিতর তাঁর (রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর) ওপর ওয়াজিব ছিল। আর কেবল বিতরের ক্ষেত্রে তাঁর বাহনের ওপর সালাত আদায় করার আমলটি এর স্বপক্ষে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপিত হতে পারে।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সূল ফী খাসাইসির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৮১)
لَكِن قَالَ النَّوَوِيّ فِي شرح الْمُهَذّب فِي كَلَامه عَن الْوتر أَن من خَصَائِصه صلى الله عليه وسلم جَوَاز فعل هَذَا الْوَاجِب الْخَاص بِهِ عَلَيْهِ على الرَّاحِلَة
وَفِي ذهني أَن الْقَرَافِيّ الْمَالِكِي ادّعى وُجُوبه عَلَيْهِ فِي الْحَضَر دون السّفر وَهُوَ كَمَا ظَنَنْت فَإِنَّهُ قَالَ فعل الْوتر فِي السّفر على الرَّاحِلَة وَالْوتر لم يكن وَاجِبا عَلَيْهِ إِلَّا فِي الْحَضَر صرح بِهِ فِي شرح الْمَحْصُول وَشرح التنقية والحليمي فِي شعب الْإِيمَان وَالشَّيْخ عز الدّين فِي قَوَاعِده
ثَانِيهَا روى التِّرْمِذِيّ عَن عَطِيَّة الْعَوْفِيّ عَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ قَالَ كَانَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الضُّحَى حَتَّى نقُول لَا يَدعهَا
কিন্তু ইমাম নববী শারহুল মুহাজ্জাব গ্রন্থে বিতর সংক্রান্ত আলোচনায় বলেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল তাঁর জন্য নির্ধারিত এই ওয়াজিব ইবাদতটি সওয়ারীর পিঠে আদায় করার বৈধতা।
এবং আমার স্মৃতিতে আছে যে, মালিকী ফকীহ আল-কারাফী দাবি করেছেন যে বিতর তাঁর ওপর কেবল মুকীম অবস্থায় ওয়াজিব ছিল, সফরে নয়। আর বিষয়টি ঠিক তেমনটিই যেমনটি আমি ধারণা করেছিলাম, কেননা তিনি বলেছেন: সফরে সওয়ারীর ওপর বিতর আদায় করা হতো, অথচ বিতর কেবল মুকীম থাকা অবস্থাতেই তাঁর ওপর ওয়াজিব ছিল। তিনি এ কথাটি 'শারহুল মাহসুল', 'শারহুত তানকিয়াহ', হালীমী 'শুআবুল ঈমান'-এ এবং শায়খ ইযযুদ্দীন তাঁর 'কাওয়াইদ' গ্রন্থে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।
দ্বিতীয়ত: ইমাম তিরমিযী আতিয়্যাহ আল-আওফী থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাশতের নামায এমনভাবে নিয়মিত পড়তেন যে আমরা বলতে শুরু করতাম যে তিনি এটি আর কখনো ত্যাগ করবেন না।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সূল ফী খাসাইসির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৮২)
ويدعها حَتَّى نقُول لَا يُصَلِّي ثمَّ قَالَ // حسن غَرِيب //
وَهُوَ بِظَاهِرِهِ يَقْتَضِي عدم الْوُجُوب
وَكَذَا حَدِيث عبد الله بن شَقِيق قلت لعَائِشَة أَكَانَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الضُّحَى قَالَت لَا إِلَّا أَن يَجِيء من مغيبه // رَوَاهُ مُسلم //
وحديثها أَيْضا مَا رَأَيْت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يسبح سبْحَة الضُّحَى وَإِنِّي لأسبحها // رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم //
وَلم أر من قَالَ بِهِ وَنَقله النَّوَوِيّ فِي شرح الْمُهَذّب عَن الْعلمَاء أَنه صلى الله عليه وسلم كَانَ لَا يداوم على صَلَاة الضُّحَى مَخَافَة أَن تفرض على الْأمة فيعجزوا عَنْهَا وَكَانَ يَفْعَلهَا فِي بعض الْأَوْقَات
এবং তিনি এটি ছেড়ে দিতেন যতক্ষণ না আমরা বলতাম যে তিনি আর সালাত আদায় করবেন না। এরপর তিনি বললেন: এটি হাসান গারিব।
এবং এর বাহ্যিক অর্থ এটি ওয়াজিব বা অপরিহার্য না হওয়াকেই নির্দেশ করে।
অনুরূপভাবে আবদুল্লাহ ইবনে শাকিক বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: আমি আয়েশাকে জিজ্ঞাসা করলাম, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি চাশতের সালাত আদায় করতেন? তিনি বললেন: না, তবে যখন তিনি সফর থেকে ফিরে আসতেন (তখন আদায় করতেন)। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
এবং তাঁর বর্ণিত আরেকটি হাদিস: আমি রাসুলুল্লাহকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কখনো চাশতের নফল সালাত আদায় করতে দেখিনি, অথচ আমি তা আদায় করি। এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
এবং আমি কাউকে এটি (ওয়াজিব হওয়ার কথা) বলতে দেখিনি। ইমাম নববি ‘শারহুল মুহাজ্জাব’ গ্রন্থে আলেমদের থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চাশতের সালাতে নিয়মিত ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেন না এই ভয়ে যে, পাছে এটি উম্মতের ওপর ফরজ করে দেওয়া হয় এবং তারা তা পালনে অক্ষম হয়ে পড়ে। তাই তিনি কোনো কোনো সময়ে এটি আদায় করতেন।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সূল ফী খাসাইসির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৮৩)
قلت وَكَيف يجمع بَين هَذَا وَبَين مَا ذكره فِي الرَّوْضَة وَغَيرهَا أَنَّهَا وَاجِبَة عَلَيْهِ وَلَو قَالَ إِنَّه عليه الصلاة والسلام كَانَ يظهرها فِي وَقت ويخفيها فِي وَقت آخر لَكَانَ أولى
وَادّعى الْمَاوَرْدِيّ أَنه صلى الله عليه وسلم لما صلاهَا يَوْم الْفَتْح واظب عَلَيْهَا إِلَى أَن مَاتَ وَفِيه نظر
فَفِي سنَن أبي دَاوُد عَن عبد الرَّحْمَن بن أبي ليلى
আমি বলি, এর সাথে 'আর-রাওদাহ' ও অন্যান্য কিতাবে তিনি যা উল্লেখ করেছেন যে এটি তাঁর ওপর ওয়াজিব ছিল, তার সমন্বয় কীভাবে সম্ভব? যদি তিনি বলতেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো সময় তা প্রকাশ করতেন এবং অন্য সময় তা গোপন রাখতেন, তবে তা অধিকতর সমীচীন হতো।
আল-মাওয়ার্দি দাবি করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন এটি আদায় করার পর থেকে ইন্তেকাল পর্যন্ত এর ওপর অবিচল ছিলেন, তবে এ বিষয়ে আপত্তির অবকাশ রয়েছে।
কেননা সুনানে আবু দাউদে আবদুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে:
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সূল ফী খাসাইসির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৮৪)
قَالَ مَا أخبرنَا أحد أَنه رأى النَّبِي صلى الله عليه وسلم صلى الضُّحَى غير أم هَانِئ فَإِنَّهَا أخْبرت بهَا يَوْم فتح مَكَّة وَلم يره أحد صَلَّاهُنَّ بعد
وَذكر البُخَارِيّ فِي صَحِيحه من حَدِيث أنس أَن رجلا صنع طَعَاما ودعا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم ونضح لَهُ طرف الْحَصِير فصلى فِيهِ رَكْعَتَانِ فَقَالَ فلَان بن فلَان بن الْجَارُود لأنس أَكَانَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الضُّحَى قَالَ مَا رَأَيْته صلى غير ذَلِك الْيَوْم
لَا جرم ذهبت طَائِفَة من السّلف إِلَى حَدِيث عَائِشَة السَّابِق وَلم يرَوا صَلَاة الضُّحَى حَكَاهُ ابْن بطال وَأبْعد بَعضهم فَقَالَ إِنَّهَا بِدعَة
তিনি বলেন, উম্মে হানি ব্যতীত আমাদের নিকট কেউ এই মর্মে সংবাদ দেননি যে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে চাশতের নামাজ আদায় করতে দেখেছেন। কেননা তিনি মক্কা বিজয়ের দিন এই সংবাদ দিয়েছিলেন এবং এরপর আর কেউ তাকে তা আদায় করতে দেখেনি।
ইমাম বুখারি তার সহিহ গ্রন্থে আনাস-এর বর্ণিত হাদিস থেকে উল্লেখ করেছেন যে, এক ব্যক্তি খাবার প্রস্তুত করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দাওয়াত দিলেন এবং একটি চাটাইয়ের এক প্রান্তে পানি ছিটিয়ে দিলেন, অতঃপর তিনি সেখানে দুই রাকাত নামাজ আদায় করলেন। তখন জনৈক ব্যক্তি—ইবনুল জারুদ—আনাসকে জিজ্ঞাসা করলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি চাশতের নামাজ পড়তেন? তিনি বললেন, আমি তাকে সেই দিন ব্যতীত অন্য কোনো দিন তা পড়তে দেখিনি।
নিঃসন্দেহে সালাফদের একদল আয়েশার পূর্বোক্ত হাদিসের দিকে গিয়েছেন এবং তারা চাশতের নামাজকে (সুন্নত হিসেবে) গণ্য করেননি, যা ইবনে বাত্তাল বর্ণনা করেছেন। এমনকি তাদের কেউ কেউ আরও দূরবর্তী মত পোষণ করে বলেছেন যে, এটি একটি বিদআত।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সূল ফী খাসাইসির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৮৫)
وَحكى الطَّبَرِيّ عَن جمَاعَة اسْتِحْبَاب فعلهَا غبا وَهُوَ رِوَايَة عَن أَحْمد
وَذَهَبت طَائِفَة على أَنَّهَا إِنَّمَا تفعل لسَبَب من الْأَسْبَاب وَأَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم إِنَّمَا فعلهَا لسَبَب فَصلَاته لَهَا يَوْم الْفَتْح كَانَت من أجل الْفَتْح
ثَالِثهَا هَل كَانَ الْوَاجِب عَلَيْهِ صلى الله عليه وسلم إِذا قُلْنَا بِهِ - أقل الضُّحَى أَو أَكْثَرهَا أَو أدنى كمالها لم أر فِي ذَلِك نقلا نعم فِي رِوَايَة لِأَحْمَد (أمرت بركعتي الضُّحَى وَلم تؤمروا بهَا) وَقد سلفت
رَابِعهَا هَل كَانَ الْوَاجِب عَلَيْهِ فِي الْوتر أَقَله أم أَكْثَره أم أدنى كَمَاله لم أر فِيهِ نقلا
خَامِسهَا هَل كَانَ الْأَضْحَى فِي الحَدِيث السالف وَكَلَام أَصْحَابنَا المُرَاد بِهِ الضَّحَايَا كَمَا قَالَه ابْن الصّلاح يُقَال أضحى فِي الْوَاحِد وَالْجمع أضحى وَيُقَال ضحية وضحايا وأضحية وأضاحي بِالتَّشْدِيدِ
وَهَذَا التَّقْرِير قد يفهم أَنه كَانَ الْوَاجِب عَلَيْهِ ضحايا فِي كل سنة وَلَعَلَّ الْإِشَارَة بِهِ إِلَى وجوب ذَلِك فِي الأعوام
وَقد ضحى صلى الله عليه وسلم بكبشين كَمَا أخرجه البُخَارِيّ وَمُسلم من حَدِيث
তাবারী একটি দল থেকে এটি মাঝে মাঝে আদায় করার মুস্তাহাব হওয়ার কথা বর্ণনা করেছেন, যা আহমাদ থেকেও একটি বর্ণনা।
একদল আলিমের মত হলো যে, এটি কেবল কোনো বিশেষ কারণেই আদায় করা হবে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি কেবল কোনো বিশেষ কারণেই আদায় করেছিলেন; তাই মক্কা বিজয়ের দিনে তাঁর এই নামাজ আদায় করা ছিল বিজয়ের কারণে।
তৃতীয়ত: যদি আমরা একে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর ওয়াজিব বলি, তবে সেই ওয়াজিব কি চাশতের সর্বনিম্ন অংশ ছিল, নাকি সর্বোচ্চ অংশ, নাকি এর ন্যূনতম পূর্ণতা? এ বিষয়ে আমি কোনো বর্ণনা দেখিনি। তবে আহমাদের একটি বর্ণনায় রয়েছে: "আমাকে চাশতের দুই রাকাতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আর তোমাদেরকে এর নির্দেশ দেওয়া হয়নি", যা ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।
চতুর্থত: বিতরের ক্ষেত্রে তাঁর ওপর যা ওয়াজিব ছিল, তা কি এর সর্বনিম্ন অংশ, নাকি সর্বোচ্চ অংশ, নাকি এর ন্যূনতম পূর্ণতা? এ বিষয়ে আমি কোনো বর্ণনা দেখিনি।
পঞ্চমত: পূর্বোক্ত হাদিসে এবং আমাদের সঙ্গীদের বক্তব্যে 'আল-আদহা' দ্বারা কি কোরবানি উদ্দেশ্য ছিল, যেমনটি ইবনুল সালাহ বলেছেন? একবচনে 'আদহা' এবং বহুবচনেও 'আদহা' বলা হয়। এছাড়া 'দাহিয়্যাহ' ও 'দাহায়া' এবং তাশদীদসহ 'উদহিয়্যাহ' ও 'আদাহি'ও বলা হয়।
এই ব্যাখ্যা থেকে হয়তো বোঝা যায় যে, প্রতি বছর কোরবানি করা তাঁর ওপর ওয়াজিব ছিল এবং সম্ভবত এর দ্বারা বছরগুলোতে এর আবশ্যিকতার দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি ভেড়া কোরবানি করেছিলেন, যেমনটি বুখারী ও মুসলিম [অমুকের] হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সূল ফী খাসাইসির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৮৬)
عَائِشَة وَفِي ابْن ماجة وَالْحَاكِم من حَدِيث أبي هُرَيْرَة وَعَائِشَة أَنه صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذا أَرَادَ أَن يُضحي اشْترى كبشين عظيمين
… الحَدِيث
سادسها وَقع فِي كَلَام الْآمِدِيّ وَتَبعهُ ابْن الْحَاجِب عد رَكْعَتي الْفجْر من خَصَائِصه وَلم أر لَهما سلفا فِي ذَلِك وَحَدِيث ابْن عَبَّاس السالف يشْهد لَهُ لكنه ضَعِيف كَمَا سلف (وَرَأَيْت صَاحب الْفُصُول من الْحَنَابِلَة عدهما من خَصَائِصه)
আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত এবং ইবনে মাজাহ ও হাকেম-এ আবু হুরায়রা ও আয়েশা (রা.)-এর হাদিস হতে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন কোরবানি করার ইচ্ছা করতেন তখন দুটি বড় মেষ ক্রয় করতেন
… হাদিসটি পূর্ণ।
ষষ্ঠত: আল-আমেদীর বক্তব্যে এসেছে এবং ইবনুল হাজিব তাঁর অনুসরণ করেছেন যে, ফজরের দুই রাকাতকে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অনন্য বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমি তাঁদের পূর্বে কোনো পূর্বসূরির বক্তব্য দেখিনি। ইতিপূর্বে উল্লিখিত ইবনে আব্বাস (রা.)-এর হাদিসটি এর স্বপক্ষে প্রমাণ দেয়, তবে তা পূর্বেই বর্ণিত হয়েছে যে দুর্বল। (আমি হাম্বলি মাযহাবের ‘আল-ফুসুল’ প্রণেতাকে দেখেছি যে তিনি এ দুই রাকাতকে তাঁর অনন্য বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত করেছেন)।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সূল ফী খাসাইসির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৮৭)
الْمَسْأَلَة الرَّابِعَة التَّهَجُّد أَكَانَ وَاجِبا عَلَيْهِ قَالَ الْقفال وَهُوَ أَن يُصَلِّي بِاللَّيْلِ وَإِن قل
قَالَ الله تَعَالَى {وَمن اللَّيْل فتهجد بِهِ نَافِلَة لَك} الْآيَة
أَي زِيَادَة على ثَوَاب الْفَرَائِض بِخِلَاف تهجد غَيره فَإِنَّهُ جَابر للنقصان المتطرق إِلَى الْفَرَائِض وَهُوَ عليه الصلاة والسلام مَعْصُوم عَن تطرق الْخلَل إِلَى مفروضاته وَقد غفر لَهُ مَا تقدم من ذَنبه وَمَا تَأَخّر حَكَاهُ إِمَام الْحَرَمَيْنِ وَذكر الْبَغَوِيّ فِي تَفْسِيره نَحوه
قَالَ الْحسن وَغَيره لَيْسَ لأحد نَافِلَة إِلَّا النَّبِي صلى الله عليه وسلم لِأَن فَرَائِضه كَامِلَة وَأما غَيره فَلَا يَخْلُو عَن نقص فنوافله تكمل فَرَائِضه
وَاسْتدلَّ الْبَيْهَقِيّ فِي
চতুর্থ মাসআলা: তাহাজ্জুদ। এটি কি তাঁর (রাসূলুল্লাহর) উপর ওয়াজিব ছিল? আল-কাফফাল বলেন, তাহাজ্জুদ হলো রাতে সালাত আদায় করা, যদিও তা পরিমাণে অল্প হয়।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ আদায় করো, যা তোমার জন্য অতিরিক্ত।} - আয়াত।
অর্থাৎ এটি ফরয ইবাদতসমূহের সওয়াবের ওপর অতিরিক্ত বৃদ্ধি; যা অন্যদের তাহাজ্জুদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কারণ অন্যদের তাহাজ্জুদ তাদের ফরয কার্যাবলীতে ঘটে যাওয়া ত্রুটির ক্ষতিপূরণকারী। আর তিনি (তাঁর উপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) তাঁর ফরয ইবাদতসমূহে কোনো প্রকার বিচ্যুতি ঘটা থেকে মাসূম বা সংরক্ষিত। উপরন্তু তাঁর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। ইমামুল হারামাইন এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম বাগাভীও তাঁর তাফসীরে অনুরূপ উল্লেখ করেছেন।
হাসান (বসরী) ও অন্যান্যরা বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত অন্য কারো জন্য নিছক অতিরিক্ত সওয়াব হিসেবে কোনো নফল নেই; কেননা তাঁর ফরযসমূহ পরিপূর্ণ। পক্ষান্তরে অন্যরা ত্রুটি থেকে মুক্ত নয়, তাই তাদের নফলসমূহ তাদের ফরযের অপূর্ণতাকে পূর্ণ করে।
বাইহাকী নিম্নোক্ত বিষয়ে দলিল পেশ করেছেন...
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সূল ফী খাসাইসির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৮৮)
دَلَائِل النُّبُوَّة عَن مُجَاهِد وَكَذَا ابْن الْمُنْذر فِي تَفْسِيره وَذكر - أَعنِي ابْن الْمُنْذر - عَن الضَّحَّاك نَحوه
وَذكره سُلَيْمَان بن حَيَّان عَن أبي غَالب عَن أبي أُمَامَة
… إِلَخ
ثمَّ اسْتدلَّ الرَّافِعِيّ وَغَيره أَيْضا بِحَدِيث عَائِشَة رضي الله عنها أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ (ثَلَاث هن عَليّ فَرَائض وَهن لكم سنة الْوتر والسواك وَقيام اللَّيْل)
وَهُوَ حَدِيث ضَعِيف أخرجه الْبَيْهَقِيّ فِي سنَنه وخلافياته وَفِي سَنَده مُوسَى بن عبد الرَّحْمَن الصَّنْعَانِيّ
قَالَ ابْن عدي مُنكر الحَدِيث وضع على ابْن جريج عَن عَطاء عَن ابْن عَبَّاس كتابا فِي التَّفْسِير جمعه من كَلَام مقَاتل الْكَلْبِيّ وَقَالَ الْبَيْهَقِيّ مُوسَى هَذَا ضَعِيف جدا وَلم يثبت فِي هَذَا إِسْنَاد
وَاعْلَم أَن الشَّيْخ أَبَا حَامِد نقل بعد حِكَايَة ذَلِك عَن الْأَصْحَاب
দালাইলুন নুবুওয়াহ-তে মুজাহিদ থেকে বর্ণিত এবং অনুরূপভাবে ইবনুল মুনযির তার তাফসীরে বর্ণনা করেছেন; তিনি—অর্থাৎ ইবনুল মুনযির—আদ-দাহহাক থেকে এর অনুরূপ উল্লেখ করেছেন।
আর এটি সুলায়মান ইবনে হাইয়ান আবু গালিব থেকে, তিনি আবু উমামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন
... ইত্যাদি।
অতঃপর ইমাম রাফেই এবং অন্যান্যরা আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিস দ্বারাও দলিল পেশ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তিনটি বিষয় আমার জন্য ফরজ এবং তোমাদের জন্য সুন্নাত: বিতর, মিসওয়াক এবং কিয়ামুল লাইল।"
এটি একটি দুর্বল হাদিস, যা ইমাম বায়হাকী তার 'সুনান' এবং 'খিলাফিয়্যাত' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে মুসা ইবনে আব্দুর রহমান আস-সানআনী রয়েছেন।
ইবনে আদি বলেন: তিনি মুনকারুল হাদিস (পরিত্যক্ত হাদিস বর্ণনাকারী); তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাসের সূত্রে একটি তাফসীর গ্রন্থ জাল করেছেন যা তিনি মুকাতিল আল-কালবীর কথা থেকে সংগ্রহ করেছিলেন। ইমাম বায়হাকী বলেন: এই মুসা অত্যন্ত দুর্বল এবং এই বিষয়ে কোনো সনদই প্রমাণিত নয়।
জেনে রাখুন যে, শাইখ আবু হামিদ এটি বর্ণনা করার পর মাযহাবের অনুসারী ফকীহগণের (আসহাব) পক্ষ থেকে তা উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সূল ফী খাসাইসির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৮৯)
أَن الشَّافِعِي نَص على أَنه نسخ وُجُوبه فِي حَقه كأمته قَالَ الشَّيْخ أَبُو عَمْرو بن الصّلاح وَالنَّوَوِيّ فِي الرَّوْضَة وَهَذَا هُوَ الصَّحِيح الَّذِي تشهد لَهُ الْأَحَادِيث مِنْهَا حَدِيث سعد بن هِشَام عَن عَائِشَة فِي مُسلم وَقد قَالَ لَهَا انبئيني عَن قيام رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَت أَلَسْت تقْرَأ يَأ يها المزمل
فَقَالَت كَانَ الله فرض قيام اللَّيْل من أول هَذِه السُّورَة فَقَامَ عليه الصلاة والسلام وَأَصْحَابه حولا وَأمْسك الله خاتمتها اثْنَي عشر شهرا حَتَّى أنزل الله فِي آخرهَا التَّخْفِيف فَصَارَ قيام اللَّيْل تَطَوّعا بعد فَرِيضَة
وَفِي آخِره فَانْطَلَقت إِلَى ابْن عَبَّاس رضي الله عنه فَحَدَّثته بحديثها فَقَالَ صدقت
وأشارت رضي الله عنها بِالْآخرِ إِلَى قَوْله
ইমাম শাফেঈ এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তার (রাসূলুল্লাহর) ক্ষেত্রেও এর আবশ্যকতা রহিত হয়ে গেছে যেমনটি তার উম্মতের ক্ষেত্রে হয়েছে। শায়খ আবু আমর ইবনে আস-সালাহ এবং আন-নাওয়াবী ‘আর-রাওদাহ’ গ্রন্থে বলেছেন, এটিই সঠিক মত যার সাক্ষ্য হাদিসসমূহ প্রদান করে। তার মধ্যে মুসলিম শরীফে বর্ণিত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে সাদ বিন হিশামের হাদিসটি অন্যতম; তিনি তাকে বলেছিলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কিয়ামুল লাইল (রাতের সালাত) সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন।’ তিনি বললেন, ‘তুমি কি “ইয়া আইয়্যুহাল মুয্যাম্মিল” পাঠ করো না?’
অতঃপর তিনি বললেন, আল্লাহ তাআলা এই সূরার শুরু থেকে রাতের সালাত ফরজ করেছিলেন, ফলে তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) এবং তার সাহাবীগণ এক বছর যাবৎ তা পালন করেন। আর আল্লাহ এর শেষাংশ বারো মাস পর্যন্ত স্থগিত রাখেন, অবশেষে আল্লাহ এর শেষ দিকে লাঘবকারী বিধান অবতীর্ণ করেন। ফলে কিয়ামুল লাইল ফরজ হওয়ার পর নফল হিসেবে গণ্য হয়।
এর শেষে রয়েছে: ‘অতঃপর আমি ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে গেলাম এবং তাকে তার হাদিসটি বর্ণনা করলাম, তখন তিনি বললেন, “তিনি সত্য বলেছেন”।’
তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহা) ‘শেষাংশ’ বলতে আল্লাহর এই বাণীর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন:
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সূল ফী খাসাইসির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৯০)
{علم أَن لن تحصوه فَتَابَ عَلَيْكُم} وَبَعْضهمْ قَالَ إِن النَّاسِخ قَوْله تَعَالَى {وَمن اللَّيْل فتهجد بِهِ نَافِلَة لَك} وَقَوله تَعَالَى {علم أَن لن تحصوه فَتَابَ عَلَيْكُم} نَاسخ لقِيَام اللَّيْل فِي حق أمته وَفِيه نظر لِأَن الْخطاب فِي أول السُّورَة للنَّبِي صلى الله عليه وسلم وَقد شركته فِيهِ فالخطاب فِي آخرهَا إِذا يتَوَجَّه لمن يتَوَجَّه إِلَيْهِ الْخطاب فِي أَولهَا
وَقد قيل إِن الْمَنْسُوخ من صَلَاة اللَّيْل مَا كَانَ مُقَدرا وَأما أصل الْوُجُوب فَهُوَ بَاقٍ لقَوْله تَعَالَى فاقرؤا مَا تيَسّر مِنْهُ
فَتكون الْآيَة كَقَوْلِه تَعَالَى {فَمَا اسْتَيْسَرَ من الْهَدْي}
إِذْ لَا بُد من الْهَدْي فَكَذَلِك لَا بُد من صَلَاة اللَّيْل
{তিনি জানেন যে তোমরা তা আয়ত্ত করতে পারবে না, তাই তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষমাপরবশ হয়েছেন} এবং তাদের কেউ কেউ বলেছেন যে, রহিতকারী হলো মহান আল্লাহর বাণী: {এবং রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ আদায় করো, যা তোমার জন্য এক অতিরিক্ত বিধান}। আর মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি জানেন যে তোমরা তা আয়ত্ত করতে পারবে না, তাই তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষমাপরবশ হয়েছেন} তাঁর উম্মতের ক্ষেত্রে কিয়ামুল লাইল বা রাতের নামাযের রহিতকারী। তবে এতে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে, কারণ সূরার শুরুতে সম্বোধন ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি এবং উম্মতও তাঁর সাথে এতে অংশীদার ছিল; সুতরাং সূরার শেষের সম্বোধন তাদের প্রতিই নিবদ্ধ হবে যাদের প্রতি সূরার শুরুর সম্বোধন নিবদ্ধ ছিল।
আর বলা হয়েছে যে, রাতের নামাযের যা রহিত হয়েছে তা হলো এর নির্ধারিত সময় বা পরিমাণ; কিন্তু এর মূল আবশ্যকতা এখনো বিদ্যমান রয়েছে, মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: "অতএব তোমরা তার মধ্য থেকে যতটুকু সহজ ততটুকু পাঠ করো।"
ফলে আয়াতটি মহান আল্লাহর এই বাণীর মতো হবে: {পশু কুরবানীর মধ্য হতে যা সহজলভ্য হয়}
যেহেতু কুরবানীর পশু থাকা আবশ্যক, ঠিক তেমনি রাতের নামায থাকা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সূল ফী খাসাইসির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৯১)
والْحَدِيث الصَّحِيح من حَدِيث عَائِشَة رضي الله عنها (أَفلا أكون عبدا شكُورًا) من جملَة مَا يدل على عدم وُجُوبه عَلَيْهِ وَلَا أعلم أحدا قَالَ بِوُجُوبِهِ علينا دونه
تَنْبِيهَات
الأول ان إِن قلت قَوْله تَعَالَى {نَافِلَة لَك} يَقْتَضِي أَن ذَلِك غير وَاجِب عَلَيْهِ قَالَ الْجَوْهَرِي النَّفْل والنافلة عَطِيَّة التَّطَوُّع حَيْثُ لَا يجب وَمِنْه نَافِلَة الصَّلَاة وَالنَّفْل التَّطَوُّع
فَالْجَوَاب أَن النَّافِلَة الزِّيَادَة وَمِنْه قَوْله تَعَالَى {وَيَعْقُوب نَافِلَة} وَلَا يلْزم مِنْهُ كَونهَا غير وَاجِبَة
الثَّانِي حَدِيث جَابر الطَّوِيل - فِي الْحَج - الثَّابِت فِي صَحِيح مُسلم أَنه صلى الله عليه وسلم أَتَى الْمزْدَلِفَة فصلى بهَا الْمغرب وَالْعشَاء بِأَذَان وَإِقَامَتَيْنِ وَلم
আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত সহীহ হাদীস—"আমি কি একজন কৃতজ্ঞ বান্দা হব না?"—সেই সব দলিলের অন্তর্ভুক্ত যা তাঁর ওপর এটি ওয়াজিব না হওয়ার প্রমাণ বহন করে। আর আমি এমন কাউকে জানি না যিনি বলেছেন যে এটি তাঁর ওপর ব্যতীত কেবল আমাদের ওপর ওয়াজিব।
সতর্কীকরণসমূহ
প্রথমত: যদি বলা হয় যে আল্লাহ তাআলার বাণী {আপনার জন্য অতিরিক্ত} দাবি করে যে এটি তাঁর ওপর ওয়াজিব ছিল না; আল-জাওহারী বলেছেন: 'নাফল' এবং 'নাফিলা' হলো ঐচ্ছিক দান যা ওয়াজিব নয়, এবং এর থেকেই 'সালাতুল নাফিলা' (নফল নামায) এসেছে এবং 'নাফল' মানে হলো ঐচ্ছিক কর্ম।
এর উত্তর হলো, 'নাফিলা' শব্দের অর্থ হলো অতিরিক্ত। এর থেকেই আল্লাহ তাআলার বাণী {এবং ইয়াকুবকে অতিরিক্ত হিসেবে (দান করলাম)}। আর এর দ্বারা এটি অনাবশ্যক হওয়া অবধারিত হয় না।
দ্বিতীয়ত: সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হজ্জ সংক্রান্ত জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর দীর্ঘ হাদীস, যেখানে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুযদালিফায় আসলেন এবং সেখানে এক আযান ও দুই ইকামতের মাধ্যমে মাগরিব ও এশা সালাত আদায় করলেন এবং তিনি...
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সূল ফী খাসাইসির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৯২)
يسبح بَينهمَا شَيْئا ثمَّ اضْطجع حَتَّى طلع الْفجْر فصلى الْفجْر حِين تبين لَهُ الصُّبْح بِأَذَان وَإِقَامَة دَال على عدم وجوب الْوتر والتهجد لِأَن الظَّاهِر أَنه لم يفعلهما تِلْكَ اللَّيْلَة
وَقد يُجَاب عَن التَّهَجُّد بِأَنَّهُ لَعَلَّه إِذْ ذَاك كَانَ مَنْسُوخا وَفِي هَذَا رد على مَا خرج بِهِ الدَّارمِيّ من أَصْحَابنَا فِي استذكاره من أَن الْجَامِع بِالْمُزْدَلِفَةِ يَأْتِي بالوتر دون سنة الْعشَاء وَالَّذِي نَص عَلَيْهِ الشَّافِعِي فِي الْأُم وَغَيرهَا أَن السّنة ترك النَّفْل بعد الْعشَاء كَمَا يسن تَركه بعد الْمغرب وَصرح بِهِ الْمَاوَرْدِيّ وَالْقَاضِي حُسَيْن وَغَيرهمَا وَأبْعد الْعجلِيّ فَقَالَ يَأْتِي فَقَالَ إِنَّه يَأْتِي بِسنة الْمغرب بعد الْعشَاء ثمَّ سنة الْعشَاء بعد الْوتر وَهُوَ مصادم للنَّص
الثَّالِث قَالَ الرَّافِعِيّ مُقْتَضى الرَّاوِي عَن عَائِشَة - أَي الَّذِي سلف - وَكَلَام الْأَئِمَّة هُنَا كَون الْوتر غير التَّهَجُّد الْمَأْمُور بِهِ وَذَلِكَ مُخَالف لما مر فِي بَاب صَلَاة التَّطَوُّع أَنه يشبه أَن يكون الْوتر هُوَ التَّهَجُّد ويعتضد بِهِ الْوَجْه الْمَذْكُور هُنَاكَ عَن رِوَايَة القَاضِي الرَّوْيَانِيّ
قَالَ وَكَأن التغاير أظهر وَكَذَا قَالَ فِي تذنيبه على الشرحين إِنَّه الْأَظْهر وَتَبعهُ صَاحب الْحَاوِي الصَّغِير
قلت وَحَدِيث عَائِشَة فِي
তিনি সে দুটির মাঝে কোনো নফল সালাত আদায় করলেন না, অতঃপর সুবহে সাদিক হওয়া পর্যন্ত শুয়ে থাকলেন। যখন আজান ও ইকামতের মাধ্যমে সকাল তাঁর কাছে স্পষ্ট হলো তখন তিনি ফজরের সালাত আদায় করলেন। এটি বিতর এবং তাহাজ্জুদ ওয়াজিব না হওয়ার প্রমাণ বহন করে, কারণ বাহ্যত তিনি সেই রাতে এ দুটি আদায় করেননি।
তাহাজ্জুদের ব্যাপারে এই জবাব দেওয়া হতে পারে যে, সম্ভবত সেই সময় এটি রহিত ছিল। আর এর মধ্যে আমাদের সাথীদের মধ্যে আদ-দারিমী তাঁর 'আল-ইসতিযকার' গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন তার খণ্ডন রয়েছে; তিনি বলেছিলেন যে, মুজদালিফায় দুই সালাত একত্রকারী ব্যক্তি বিতর আদায় করবেন তবে এশার সুন্নাত নয়। অথচ ইমাম শাফেয়ী 'আল-উম্ম' ও অন্যান্য গ্রন্থে যা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন তা হলো—এশার পরে নফল বর্জন করাই সুন্নাত, যেমনটি মাগরিবের পরে তা বর্জন করা সুন্নাত। আল-মাওয়ার্দী, কাজী হুসাইন এবং অন্যান্যরাও এটি স্পষ্টভাবে বলেছেন। আল-ইজলী আরও দূরবর্তী মত দিয়ে বলেছেন যে, তিনি এশার পরে মাগরিবের সুন্নাত আদায় করবেন, অতঃপর বিতরের পরে এশার সুন্নাত আদায় করবেন—যা সরাসরি মূল ভাষ্যের পরিপন্থী।
তৃতীয়ত: ইমাম রাফেয়ী বলেছেন, আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত বর্ণনাকারীর দাবি—অর্থাৎ যা আগে অতিক্রান্ত হয়েছে—এবং এখানে ইমামগণের বক্তব্য অনুযায়ী বিতর হলো আদিষ্ট তাহাজ্জুদ থেকে ভিন্ন কিছু। আর এটি নফল সালাত অধ্যায়ে যা অতিবাহিত হয়েছে তার পরিপন্থী; সেখানে বলা হয়েছিল যে সম্ভবত বিতরই হলো তাহাজ্জুদ। আর সেখানে কাজী রুয়ানির বর্ণনা থেকে প্রাপ্ত অভিমতটি সেটির সপক্ষেই ছিল।
তিনি বলেন, এ দুটির ভিন্ন হওয়াই অধিকতর স্পষ্ট। অনুরূপভাবে তিনি দুই শারাহর (ব্যাখ্যাগ্রন্থ) ওপর তাঁর 'তাযনীব' গ্রন্থেও বলেছেন যে এটিই অধিকতর স্পষ্ট মত, এবং 'আল-হাবী আস-সগীর' প্রণেতাও তাঁর অনুসরণ করেছেন।
আমি বলছি, আয়েশা (রা.)-এর হাদিসটি...
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সূল ফী খাসাইসির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৯৩)
الصَّحِيحَيْنِ (مَا كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يزِيد فِي رَمَضَان وَلَا غَيره على إِحْدَى عشرَة رَكْعَة يُصَلِّي أَرْبعا فَلَا تسْأَل عَن حسنهنَّ وطولهن ثمَّ يُصَلِّي أَرْبعا فَلَا تسْأَل عَن حسنهنَّ وطولهن ثمَّ يُصَلِّي ثَلَاثًا) يدل على أَن التَّهَجُّد هُوَ عين الْوتر نعم حَدِيثهَا الآخر يدل على مُقَابلَة وَهُوَ مَا أخرجه مُسلم عَنْهَا أَنَّهَا قَالَت كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي من اللَّيْل ثَلَاث عشرَة رَكْعَة يُوتر من ذَلِك بِخمْس لَا يجلس فِي شَيْء إِلَّا فِي آخرهَا
الرَّابِع فَصلَاته عليه السلام بِاللَّيْلِ كَانَت أنواعا
أ - سِتّ رَكْعَات مفصولات ويوتر بِثَلَاث رَوَاهُ ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما
ب - إِحْدَى عشرَة مفصولات ويوتر بِوَاحِدَة روته عَائِشَة رضي الله عنها
ج - ثَلَاث عشرَة كَذَلِك
সহীহাইন-এ বর্ণিত হয়েছে যে, (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাদান কিংবা রমাদানের বাইরে এগারো রাকাতের বেশি পড়তেন না। তিনি চার রাকাত পড়তেন, সুতরাং তুমি সেগুলোর সৌন্দর্য ও দৈর্ঘ্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো না; এরপর আরও চার রাকাত পড়তেন, সুতরাং সেগুলোর সৌন্দর্য ও দৈর্ঘ্য সম্পর্কেও জিজ্ঞাসা করো না; অতঃপর তিন রাকাত পড়তেন)। এটি প্রমাণ করে যে, তাহাজ্জুদই হলো বিতর। তবে আয়েশা (রা.)-এর অপর একটি বর্ণনা এর বিপরীত পদ্ধতির প্রমাণ দেয়, যা ইমাম মুসলিম তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে তেরো রাকাত সালাত আদায় করতেন, এর মধ্যে পাঁচ রাকাত বিতর পড়তেন এবং কেবল শেষ রাকাতেই বসতেন।
চতুর্থত: রাতে তাঁর সালাত আদায় কয়েক পদ্ধতির ছিল:
ক - ছয় রাকাত পৃথক পৃথকভাবে এবং তিন রাকাত বিতর। এটি ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণনা করেছেন।
খ - এগারো রাকাত পৃথক পৃথকভাবে এবং এক রাকাত বিতর। এটি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেছেন।
গ - একইভাবে তেরো রাকাত।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সূল ফী খাসাইসির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৯৪)
د - ثَمَان رَكْعَات موصولات ويوتر بِخمْس مُتَوَالِيَة لَا يجلس إِلَّا فِي آخرهَا
هـ - تسع تسع رَكْعَات لَا يجلس فِي شَيْء مِنْهُنَّ إِلَّا فِي الثَّامِنَة ثمَّ ينْهض وَلَا يسلم ثمَّ يُصَلِّي التَّاسِعَة وَيسلم وَيُصلي رَكْعَة بعد مَا يسلم
وسبع رَكْعَات كالتسع الْمَذْكُورَة ثمَّ يُصَلِّي بعْدهَا رَكْعَتَيْنِ جَالِسا مثنى ويوتر بِثَلَاث مَوْصُولَة
ز - أَربع رَكْعَات رُوِيَ فَتَأمل ذَلِك
ঘ - বিরতিহীনভাবে আট রাকাত এবং ধারাবাহিকভাবে পাঁচ রাকাত বিতর, যার কেবল শেষ রাকাতেই বসবে।
ঙ - নয় রাকাত, যার অষ্টম রাকাত ব্যতীত অন্য কোনোটিতে বসবে না, অতঃপর দাঁড়িয়ে যাবে এবং সালাম ফিরাবে না, এরপর নবম রাকাত পড়বে ও সালাম ফিরাবে এবং সালাম ফেরানোর পর এক রাকাত সালাত পড়বে।
এবং সাত রাকাত হলো উল্লিখিত নয় রাকাতের পদ্ধতির অনুরূপ, এরপর তার পরে বসে দুই রাকাত সালাত আদায় করবে জোড়ায় জোড়ায় এবং তিন রাকাত একত্রে মিলিয়ে বিতর পড়বে।
ছ - চার রাকাত বর্ণিত হয়েছে, সুতরাং বিষয়টি অনুধাবন করুন।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সূল ফী খাসাইসির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৯৫)
فَائِدَة حكى النَّوَوِيّ فِي شرح مُسلم فِي بَاب صَلَاة اللَّيْل عَن بعض السّلف أَنه يجب على الْأمة من قيام اللَّيْل مَا يَقع عَلَيْهِ الِاسْم وَلَو قدر حلب شَاة قَالَ وَهُوَ غلط مَرْدُود بِإِجْمَاع من قبله مَعَ النُّصُوص الصَّحِيحَة أَنه لَا وَاجِب إِلَّا الصَّلَوَات الْخمس
الْخَامِس تَعْبِيره فِي الرَّوْضَة فِي التَّهَجُّد بِالصَّحِيحِ لأجل الْوَجْه الآخر أَنه نسخ فِي حَقه فإياك أَن تعترض عَلَيْهِ كَمَا وَقع لبَعْضهِم
السَّادِس ذكر فِي (الرَّوْضَة) فِي كتاب السّير أَن الله تَعَالَى فرض من قيام اللَّيْل أَولا مَا ذكر فِي سُورَة المزمل ثمَّ نسخه بِمَا (فِي آخرهَا ثمَّ نسخه بالخمس)
السَّابِع السِّوَاك وَكَانَ وَاجِبا عَلَيْهِ صلى الله عليه وسلم على الصَّحِيح وَاسْتدلَّ لَهُ بِحَدِيث عَائِشَة السالف وَقد علمت ضعفه
একটি জ্ঞাতব্য বিষয়: ইমাম নববী শরহে মুসলিম-এর রাতের সালাত অধ্যায়ে জনৈক পূর্বসূরীর বরাত দিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, উম্মতের ওপর রাতের সালাত ততটুকু আদায় করা ওয়াজিব যা এই নামের অন্তর্ভুক্ত হয়, যদিও তা একটি ছাগল দোহন করার সময়ের সমান হয়। তিনি বলেন: এটি একটি ভুল মত এবং এটি তাঁর পূর্ববর্তীগণের ঐকমত্য ও বিশুদ্ধ দলিলসমূহের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যাত যে, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ছাড়া আর কোনো সালাত ওয়াজিব নেই।
পঞ্চম: রওদাহ কিতাবে তাহাজ্জুদ প্রসঙ্গে তাঁর 'বিশুদ্ধ মত' অভিব্যক্তিটি অন্য একটি মতের প্রেক্ষিতে যে, এটি তাঁর জন্য রহিত হয়ে গিয়েছিল। সুতরাং তাঁর ওপর আপত্তি করা থেকে সতর্ক থাকুন যেমনটি তাঁদের কেউ কেউ করেছেন।
ষষ্ঠ: তিনি রওদাহ কিতাবের যুদ্ধাভিযান অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা প্রথমে রাতের সালাত সেভাবে ফরজ করেছিলেন যেভাবে সূরা মুয্যাম্মিলে বর্ণিত হয়েছে, অতঃপর সেই সূরার শেষাংশ দ্বারা তা রহিত করেন এবং পরবর্তীতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত দ্বারা তা রহিত করেন।
সপ্তম: মেসওয়াক করা। বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী এটি তাঁর (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) ওপর ওয়াজিব ছিল। এর সপক্ষে আয়েশার বর্ণিত পূর্বোক্ত হাদীসটি দ্বারা দলিল পেশ করা হয়েছে, যার দুর্বলতা সম্পর্কে আপনি ইতোমধ্যে অবগত হয়েছেন।