(খণ্ড: ১)
অসীলাতুল ইসলাম বিন-নাবিয়্যি আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম
(পৃষ্ঠা: -)
وسيلة الإسلام بالنبي عليه الصلاة والسلام القسم: السيرة النبوية
الكتاب: وسيلة الإسلام بالنبي عليه الصلاة والسلام
المؤلف: أبو العباس أحمد بن الخطيب الشهير بـ (ابن قنفذ) القسنطيني، (ت 810 هـ)
تقديم وتعليق: سليمان الصيد (المحامي)
الناشر: دار الغرب الإسلامي، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1404 هـ - 1984 م
عدد الصفحات: 147
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর মাধ্যমে ইসলামের সোপান বিভাগ: সীরাতুন্নবী
গ্রন্থ: নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর মাধ্যমে ইসলামের সোপান
লেখক: আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আল-খাতীব, যিনি (ইবনে কুনফুজ) আল-কুসানতিনি হিসেবে পরিচিত، (মৃত্যু ৮১০ হি.)
উপস্থাপনা ও টীকা: সুলাইমান আস-সাইদ (আইনজীবী)
প্রকাশক: দারুল গারব আল-ইসলামি، বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম، ১৪০৪ হি. - ১৯৮৪ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৭
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
অসীলাতুল ইসলাম বিন-নাবিয়্যি আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম
(পৃষ্ঠা: ৩১)
كتاب وَسِيلَة الْإِسْلَام بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم وَصلى الله على سيدنَا ومولانا مُحَمَّد وَآله وَصَحبه وَسلم تَسْلِيمًا
قَالَ الشَّيْخ الإِمَام الْعَالم الْعَلامَة الأوحد الْمدرس الْمُفْتِي الْخَطِيب القَاضِي الأعدل أَبُو الْعَبَّاس أَحْمد بن الْخَطِيب قدس الله روحه بمنه الْحَمد لله الَّذِي من تواضع لله رَفعه وَمن تكبر عَلَيْهِ أذله وَوَضعه وَمن توسل إِلَيْهِ بِمُحَمد صلى الله عليه وسلم نجاه ونفعه أَحْمَده حمد من أحسن إِلَيْهِ وأشكره بشكر من أنعم عَلَيْهِ وأسأله الْأَمْن يَوْم الْوُقُوف بَين يَدَيْهِ وَأشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ الأول بِلَا بداية وَالْآخر بِلَا نِهَايَة الَّذِي لَهُ فِي كل شَيْء آيَة وَأشْهد أَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله الَّذِي أرْسلهُ للكافة بآياته وأيده بخوارق دعواته ومعجزاته الله أعلم حَيْثُ يَجْعَل رسالاته صلى الله عَلَيْهِ وعَلى آله صَلَاة مُتَّصِلَة الى يَوْم الْبَعْث وحياته
وَبعد فَإِن أولى مَا نظر فِيهِ الطَّالِب وعنى بِهِ الرَّاغِب سير الرَّسُول صلى الله عليه وسلم وَخَبره الَّذِي يزِيد فِي الْإِيمَان وَالْإِسْلَام ولامتداد مصنفاتها واتساع مجموعاتها رغب الراكد فِي اقتضاب ازهارها ليَكُون كالمدخل إِلَى جَمِيع أنوارها فأجبته بعد الِاعْتِرَاف بالتقصير وَالْعجز
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাধ্যমে ইসলামের উসিলা সংক্রান্ত কিতাব পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আর আল্লাহ আমাদের নেতা ও অভিভাবক মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সহচরদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন এবং পরিপূর্ণ সালাম অবতীর্ণ করুন।
শাইখ, ইমাম, আলেম, বিজ্ঞতম মনীষী, অদ্বিতীয়, শিক্ষক, মুফতি, খতিব, ন্যায়পরায়ণতম বিচারক আবুল আব্বাস আহমদ ইবনুল খতিব (আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন) বলেছেন: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আল্লাহর প্রতি বিনয়ী ব্যক্তিকে উচ্চ মর্যাদা দান করেন, আর যে তাঁর প্রতি অহংকার করে তাকে লাঞ্ছিত ও অবনমিত করেন; এবং যে ব্যক্তি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উসিলায় তাঁর নিকট প্রার্থনা করে, তাকে তিনি মুক্তি দান করেন ও উপকৃত করেন। আমি তাঁর প্রশংসা করি এমন ব্যক্তির মতো যার প্রতি তিনি অনুগ্রহ করেছেন এবং তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি এমন ব্যক্তির মতো যাকে তিনি নেয়ামত দান করেছেন। আমি তাঁর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করি সেই দিনের জন্য, যেদিন তাঁর সামনে দাঁড়াতে হবে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; তিনি অনাদি—যাঁর কোনো শুরু নেই, তিনি অনন্ত—যাঁর কোনো শেষ নেই; যাঁর নিদর্শন প্রতিটি বস্তুর মাঝে বিদ্যমান। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যাঁকে তিনি তাঁর নিদর্শনসমূহ দিয়ে সমগ্র মানবজাতির নিকট প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর দোয়ার অলৌকিকত্ব ও মুজিযা দ্বারা তাঁকে শক্তিশালী করেছেন; আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন কোথায় তিনি তাঁর রিসালত অর্পণ করবেন। আল্লাহ তাঁর ও তাঁর পরিবারের ওপর এমন রহমত বর্ষণ করুন যা কিয়ামত দিবস ও পুনরুত্থান পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন থাকে।
অতঃপর, জ্ঞানান্বেষীর জন্য সবচেয়ে উত্তম পর্যালোচনার বিষয় এবং ইচ্ছুক ব্যক্তির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অন্বেষণ হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত ও তাঁর সংবাদসমূহ, যা ঈমান ও ইসলামকে সমৃদ্ধ করে। এই বিষয়ের গ্রন্থাবলি অত্যন্ত দীর্ঘ এবং সংকলনসমূহ সুবিস্তৃত হওয়ার কারণে, অনুসন্ধিৎসু ব্যক্তি এর থেকে সারনির্যাস চয়নের ইচ্ছা পোষণ করে যাতে তা সকল জ্যোতির প্রবেশদ্বার হতে পারে। তাই আমি নিজের ত্রুটি ও অক্ষমতা স্বীকার করার পর তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছি।
(খণ্ড: ১)
অসীলাতুল ইসলাম বিন-নাবিয়্যি আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম
(পৃষ্ঠা: ৩২)
عَن الْخَوْض فِي هَذَا الْبَحْر الْعَظِيم رَغْبَة فِي الثَّوَاب وَالْأَجْر وتوسلا بِسَيِّد الْبشر الْمَبْعُوث إِلَى الْأسود والأحمر وَقربت فِي ذَلِك الْكَلَام على أرْفق قصد ومزار وَسميت هَذَا الْمَجْمُوع لظُهُور الْبركَة بِقِرَاءَة الحَدِيث النَّبَوِيّ فِي السّكُون وَالْحَرَكَة وَسِيلَة الْإِسْلَام بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ورتبته فِي سنة سبع وَثَمَانمِائَة بقسنطينة المحروسة على خَمْسَة أَبْوَاب وَالله المسؤول بالهداية إِلَى طَرِيق الصَّوَاب الْبَاب الأول فِي نسبه صلى الله عليه وسلم وَفِي أَسْمَائِهِ وَفِي تَارِيخ وِلَادَته وَمن قَامَ بحضانته الْبَاب الثَّانِي فِي أَزوَاجه صلى الله عليه وسلم وَأَوْلَاده وقرابته ومواليه وخدمه وخواصه الْبَاب الثَّالِث فِي مبعثه صلى الله عليه وسلم وبعوثه وغزواته ووفاته الْبَاب الرَّابِع فِي نبذ من معجزاته صلى الله عليه وسلم الْبَاب الْخَامِس فِي ذكر بعض السّنيَّة أَحْوَاله وَفضل صلى الله عليه وسلم وعَلى أَهله وَآله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
সওয়াব ও প্রতিদানের প্রত্যাশায় এবং কৃষ্ণকায় ও শ্বেতকায় সকলের নিকট প্রেরিত মানবজাতির নেতাকে উসিলা হিসেবে গ্রহণ করে এই সুবিশাল সমুদ্রে অবগাহন করার লক্ষে; এবং এই আলোচনাটিকে আমি অত্যন্ত সহজ গন্তব্য ও পন্থায় উপস্থাপিত করেছি। স্থিতি ও গতির সর্বাবস্থায় নববী হাদিস পাঠের বরকত প্রকাশের উদ্দেশ্যে আমি এই সংকলনটির নাম রেখেছি ‘ওয়াসিলাতুল ইসলাম বিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’। আমি এটি সংরক্ষিত কাসানতিনিয়াহ শহরে ৮০৭ হিজরি সনে পাঁচটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি। আল্লাহর নিকটই সঠিক পথের দিশা প্রার্থনা করছি। প্রথম অধ্যায়: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বংশপরিচয়, তাঁর নামসমূহ, তাঁর জন্মের ইতিহাস এবং যারা তাঁর লালন-পালন করেছেন তাদের বর্ণনায়। দ্বিতীয় অধ্যায়: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পত্নীগণ, তাঁর সন্তানগণ, তাঁর নিকটাত্মীয়গণ, তাঁর আযাদকৃত দাসগণ, তাঁর সেবকগণ এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহচরদের বর্ণনায়। তৃতীয় অধ্যায়: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নবুয়ত প্রাপ্তি, প্রেরিত বাহিনীসমূহ, যুদ্ধসমূহ এবং তাঁর ওফাত প্রসঙ্গে। চতুর্থ অধ্যায়: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুজিজাসমূহের সংক্ষিপ্ত আলোচনা প্রসঙ্গে। পঞ্চম অধ্যায়: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিছু মহান অবস্থা ও তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব এবং তাঁর পরিবার ও পরিজনের বর্ণনায়; তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
অসীলাতুল ইসলাম বিন-নাবিয়্যি আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
الْبَاب الأول فِي نسبه صلى الله عليه وسلم وَفِي أَسْمَائِهِ وَفِي تَارِيخ وِلَادَته وَمن قَامَ بحضانته
প্রথম অধ্যায়: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বংশপরিচয়, তাঁর নামসমূহ, তাঁর জন্ম তারিখ এবং যারা তাঁর লালন-পালনের দায়িত্ব পালন করেছেন তাঁদের বর্ণনায়।
(খণ্ড: ১)
অসীলাতুল ইসলাম বিন-নাবিয়্যি আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
الْفَصْل الأول فِي نسبه صلى الله عليه وسلم قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِن الله أصطفى من ولد إِبْرَاهِيم إِسْمَاعِيل وأصطفى من ولد إِسْمَاعِيل كنَانَة وأصطفى من بني كنَانَة قُريْشًا وأصطفى من قُرَيْش بني هَاشم وأصطفاني من بني هَاشم وَقَالَ صلى الله عليه وسلم النَّاس تَابع لقريش وَالنَّاس معادن خيارهم فِي الْجَاهِلِيَّة خيارهم فِي الْإِسْلَام إِذا فقهوا قَالَ ابْن حبيب لم يكن بطن فِي قُرَيْش إِلَّا وَله فِيهِ قرَابَة وَقَالَ صلى الله عليه وسلم بَنو هَاشم وَبَنُو عبد الْمطلب شَيْء وَعَن ابْن عَبَّاس قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لما خلق الله آدم أهبطني فِي صلبه إِلَى الأَرْض وَجَعَلَنِي فِي صلب نوح فِي السَّفِينَة وقذفني فِي النَّار فِي صلب إِبْرَاهِيم ثمَّ لم يزل ينقلني فِي الأصلاب الْكَرِيمَة إِلَى الْأَرْحَام الطاهرة حَتَّى أخرجني من أبوين لم يلتقيا على سفاح قطّ
فصل
فَهُوَ مُحَمَّد بن عبد الله بن عبد الْمطلب بن هَاشم بن عبد منَاف بن
প্রথম পরিচ্ছেদ তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বংশপরিচয় প্রসঙ্গে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ ইবরাহীমের সন্তানদের মধ্য থেকে ইসমাঈলকে মনোনীত করেছেন, ইসমাঈলের সন্তানদের মধ্য থেকে কিনানাহকে মনোনীত করেছেন, কিনানাহর বংশধরদের মধ্য থেকে কুরাইশকে মনোনীত করেছেন, কুরাইশের মধ্য থেকে বনু হাশিমকে মনোনীত করেছেন এবং বনু হাশিম থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন। এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, মানুষ কুরাইশের অনুসারী। আর মানুষ হলো খনিসমূহের ন্যায়; তাদের মধ্যে যারা জাহিলিয়াতের যুগে শ্রেষ্ঠ ছিল, ইসলামেও তারা শ্রেষ্ঠ, যদি তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান (ফিকহ) লাভ করে। ইবন হাবীব বলেছেন, কুরাইশের এমন কোনো শাখা ছিল না যাতে তাঁর বংশীয় আত্মীয়তা ছিল না। এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, বনু হাশিম ও বনু আব্দুল মুত্তালিব একই সত্তা। ইবন আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যখন আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করলেন, তখন তিনি আমাকে তাঁর মেরুদণ্ডে রেখে পৃথিবীতে অবতরণ করালেন, আমাকে নূহের মেরুদণ্ডে রেখে নৌকায় আরোহণ করালেন এবং ইবরাহীমের মেরুদণ্ডে রেখে আগুনের মধ্যে নিক্ষেপ করলেন। অতঃপর তিনি আমাকে সম্মানিত মেরুদণ্ডসমূহ থেকে পবিত্র গর্ভসমূহে স্থানান্তরিত করতে থাকলেন, শেষ পর্যন্ত আমাকে এমন দুই পিতামাতা থেকে বের করলেন যারা কখনও ব্যভিচারে মিলিত হননি।
পরিচ্ছেদ
তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুত্তালিব বিন হাশিম বিন আব্দু মানাফ বিন
(খণ্ড: ১)
অসীলাতুল ইসলাম বিন-নাবিয়্যি আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
قصي ابْن كلاب بن مرّة بن كَعْب بن لؤَي بن غَالب بن فهر بن مَالك بن النَّضر بن كنَانَة بن خُزَيْمَة بن مدركة بن الياس بن مُضر بن نزار بن معد بن عدنان هَذَا مُتَّفق عَلَيْهِ وَفِيمَا بعد عدنان إِلَى إِسْمَاعِيل عليه السلام إِلَى آدم عليه السلام خلاف
فصل وَعبد الله أقرّ بالعبودية لله تَعَالَى وَهُوَ الْمهْدي وَذَلِكَ أَن أَبَاهُ عبد الْمطلب استضعف نَفسه بعد حفر بِئْر زَمْزَم الَّذِي أَمر بحفره فِي الْمَنَام وأرادت قُرَيْش مشاركته فِيهِ فَقَالَ يَا رب إِن رزقتني عشرَة من الْوَلَد لأتقربن بِذبح وَاحِد عِنْد الْكَعْبَة فَلَمَّا جعل الله لَهُ ذَلِك أخبر أَوْلَاده بِهِ فَقَالُوا أفعل فرمن بالأقداح وَذَلِكَ شبه الْقرعَة ليخرج اسْم الذَّبِيح فَخرج عبد الله وَكَانَ أعز أَوْلَاده عَلَيْهِ فكرر مرَارًا فَلم يخرج إِلَّا عبد الله فعزم على ذبحه فمنعته أمه وَأَشَارَ من أَشَارَ إِلَيْهِ أَن يخرج إِلَى الكهانة فَفعل وسألها فَقَالَت اضْرِب على عشرَة من الْإِبِل وعَلى اسْم عبد الله فَإِن خرج عبد الله فزد عشرَة فَفعل فَلم يخرج إِلَّا عبد الله حَتَّى انْتهى إِلَى مائَة فَكلما كرر الضَّرْب لم يخرج إِلَّا الْإِبِل فَكَانَت فديته من الذّبْح مائَة من الْإِبِل فَسُمي عبد الله الذَّبِيح
কুসাই ইবনে কিলাব ইবনে মুররাহ ইবনে কাব ইবনে লুয়াই ইবনে গালিব ইবনে ফিহর ইবনে মালিক ইবনে আন-নাদর ইবনে কিনানাহ ইবনে খুজাইমাহ ইবনে মুদরিকাহ ইবনে ইলিয়াস ইবনে মুদার ইবনে নিজার ইবনে মা'আদ ইবনে আদনান। এ বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে এবং আদনানের পরবর্তী থেকে ইসমাঈল আলাইহিস সালাম হয়ে আদম আলাইহিস সালাম পর্যন্ত মতভেদ রয়েছে।
পরিচ্ছেদ এবং আবদুল্লাহ মহান আল্লাহর বন্দেগির স্বীকৃতি দিয়েছিলেন এবং তিনি ছিলেন সুপথপ্রাপ্ত। এর কারণ এই যে, তাঁর পিতা আবদুল মুত্তালিব স্বপ্নে নির্দেশিত হয়ে জমজম কূপ খননের পর নিজেকে অসহায় বোধ করেছিলেন এবং কুরাইশরা তাতে অংশীদার হতে চেয়েছিল। তখন তিনি বলেছিলেন, হে প্রতিপালক! যদি আপনি আমাকে দশটি পুত্র সন্তান দান করেন, তবে আমি আপনার নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে কাবার নিকটে তাদের একজনকে জবেহ করব। যখন আল্লাহ তাঁকে তা দান করলেন, তিনি তাঁর সন্তানদের বিষয়টি জানালেন। তারা বলল, আপনি আপনার অঙ্গীকার পূর্ণ করুন। তখন তারা তীরের মাধ্যমে লটারি করল যাতে জবেহযোগ্য ব্যক্তির নাম বেরিয়ে আসে। তাতে আবদুল্লাহর নাম বের হলো, অথচ তিনি ছিলেন তাঁর নিকট সন্তানদের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয়। তিনি বারবার লটারি করলেন কিন্তু প্রতিবারই আবদুল্লাহর নাম বের হলো। তখন তিনি তাঁকে জবেহ করার দৃঢ় সংকল্প করলেন, কিন্তু তাঁর মা তাঁকে বাধা দিলেন এবং পরামর্শদাতারা তাঁকে গণকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন। তিনি তা-ই করলেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করলেন। সে বলল, দশটি উট এবং আবদুল্লাহর নামের ওপর লটারি করো; যদি আবদুল্লাহর নাম বের হয় তবে আরও দশটি উট বৃদ্ধি করো। তিনি তা-ই করলেন, কিন্তু প্রতিবারই আবদুল্লাহর নাম বের হতে থাকল যতক্ষণ না উটের সংখ্যা একশতে পৌঁছাল। এরপর যতবারই লটারি করা হলো কেবল উটের নামই বের হতে লাগল। ফলে জবেহ করার পরিবর্তে তাঁর মুক্তিপণ হিসেবে একশত উট সাব্যস্ত হলো এবং আবদুল্লাহকে ‘জাবিহ’ (জবেহকৃত) নামে অভিহিত করা হয়।
(খণ্ড: ১)
অসীলাতুল ইসলাম বিন-নাবিয়্যি আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
فصل وَاسم عبد الْمطلب عَامر وَإِنَّمَا سمي بِعَبْد الْمطلب لِأَن عَمه الْمطلب بن عبد منَاف قدم بِهِ من الْمَدِينَة إِلَى مَكَّة رديفا خَلفه على بعير فَلَمَّا رَأَتْهُ قُرَيْش قَالَت عبد الْمطلب فَقَالَ لَهُم بل هُوَ ابْن أخي هَاشم وعاش عبد الْمطلب مائَة وَأَرْبَعين سنة وَكَانَت بركَة النُّبُوَّة ظَاهِرَة عَلَيْهِ
فصل
وَأما هَاشم فاسمه عمر وَكَانَ شرِيف المنصب فِي قومه وَكَانَ يطعم الطَّعَام فِي الشدائد يهشم الْخبز والكعك وينحر الْإِبِل للأهل وللحاج طَعَام يشبه الثَّرِيد فَسُمي بذلك هاشما وَتُوفِّي وَترك زَوجته سلمى بنت عَمْرو حَامِلا بِعَبْد الْمطلب
فصل
وَأما عبد منَاف فاسمه الْمُغيرَة وَكَانَ يُقَال لَهُ الْقَمَر لجماله
فصل
وَأما قصي فاسمه زيد مصدر زَاد يزِيد زيدا وَحَازَ الشّرف فِي قُرَيْش وقصي بِفَتْح الْقَاف مَأْخُوذ من الْبعد لِأَن أمه قصت بِهِ فِي بلد أَخْوَاله فقصي عَن قومه فَهُوَ تَصْغِير قاص بالصَّاد الْمُهْملَة
فصل
وَأما كلاب بِكَسْر الْكَاف فَهُوَ مصدر كالبت الْعَدو مُكَالَبَة وكلابا وَقيل جمع كلب لِأَن الْعَرَب يُرِيدُونَ الْكَثْرَة من مخوف كسباع وأنمار وذئاب وَقيل لبَعْضهِم لم تسمون أبناءكم بأشرار الْأَسْمَاء كذيب وكليب وذويب
পরিচ্ছেদ আব্দুল মুত্তালিবের নাম ছিল আমির। তাঁকে আব্দুল মুত্তালিব নামে অভিহিত করার কারণ হলো, তাঁর চাচা মুত্তালিব ইবনে আবদে মানাফ তাঁকে মদিনা থেকে মক্কায় উটের পিঠে নিজের পিছনে বসিয়ে নিয়ে এসেছিলেন। কুরাইশরা যখন তাঁকে দেখল, তখন তারা বলতে লাগল, "এ তো মুত্তালিবের গোলাম (আব্দুল মুত্তালিব)"। তখন তিনি তাদের বললেন, "বরং সে আমার ভাই হাশেমের ছেলে।" আব্দুল মুত্তালিব একশ চল্লিশ বছর বেঁচে ছিলেন এবং তাঁর মধ্যে নবুয়তের বরকত প্রকাশমান ছিল।
পরিচ্ছেদ
আর হাশেমের নাম ছিল আমর। তিনি স্বজাতির মধ্যে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানের অধিকারী ছিলেন। তিনি অভাব-অনটনের সময় খাদ্য দান করতেন; তিনি রুটি ও পিঠা গুঁড়ো করতেন এবং নিজ পরিবার ও হাজীদের জন্য উট জবাই করে সারীদের (ঝোল মাখানো রুটি) মতো খাবার প্রস্তুত করতেন। একারণেই তাঁর নাম 'হাশেম' (গুঁড়োকারী) রাখা হয়। তিনি তাঁর স্ত্রী সালমা বিনতে আমরকে আব্দুল মুত্তালিবের গর্ভবতী অবস্থায় রেখে মৃত্যুবরণ করেন।
পরিচ্ছেদ
আর আবদে মানাফের নাম ছিল মুগিরা। তাঁর সৌন্দর্যের কারণে তাঁকে 'চাঁদ' বলা হতো।
পরিচ্ছেদ
আর কুসাইয়ের নাম ছিল যায়িদ, যা 'যাদা-ইয়াযীদু-যাইদান' থেকে নিষ্পন্ন। তিনি কুরাইশ বংশের সকল শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা কুক্ষিগত করেছিলেন। 'কুসাই' শব্দটি কাফ অক্ষরে জবরসহ, যা 'দূরত্ব' থেকে গৃহীত। কারণ তাঁর মা তাঁকে নিয়ে তাঁর মামার দেশে চলে গিয়েছিলেন, ফলে তিনি নিজ জাতি থেকে দূরে চলে যান। তাই এটি 'কাসিন' (সাদ অক্ষরসহ) শব্দের ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ।
পরিচ্ছেদ
আর কিলাব (কাফ অক্ষরে যেরসহ) শব্দটি শত্রুর সাথে লড়াই করার অর্থবোধক ক্রিয়ামূল থেকে আগত। আবার বলা হয় যে, এটি 'কালব' (কুকুর) শব্দের বহুবচন। কারণ আরবরা হিংস্র পশু, চিতাবাঘ ও নেকড়ের মতো ভয়ংকর প্রাণীর আধিক্য বুঝানোর উদ্দেশ্যে এসব নামে নামকরণ করত। তাদের কাউকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, "আপনারা আপনাদের সন্তানদের নাম কেন নেকড়ে, কুকুর ও নেকড়ে ছানার মতো মন্দ নামে রাখেন?"
(খণ্ড: ১)
অসীলাতুল ইসলাম বিন-নাবিয়্যি আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
وعبيدكم بأحسنها كرباح ومرزوق فَقَالَ أبناؤها لأعدائنا وعبيدنا لأنفسنا أَي الْأَبْنَاء عدَّة لِلْعَدو وسهام فِي نحورهم فللعرب حِكْمَة فِي سر كَلَامهم واصطلاحهم وَكَانَ كلاب عَظِيم الْقدر وَهُوَ أول من سمى الشُّهُور الْعَرَبيَّة محرم وصفر إِلَخ
… ...
فصل وَأما مرّة فمنقول من الحنظلة وَغَيرهَا مِمَّا فِيهِ مرَارَة وَقيل مَنْقُول من اسْم شَجَرَة
فصل
وَأما كَعْب فمأخوذ من كَعْب الْقدَم لثُبُوته فِي المخاوف وَكَانَ سيدا فِي قومه عَظِيم الْقدر والمنصب وقرا الْكتب الْقَدِيمَة وَهُوَ الَّذِي سمي يَوْم الْعرُوبَة الْجُمُعَة وَكَانَ يخْطب يَوْم الْجُمُعَة فِي قُرَيْش وَيذكر لَهُم النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَأَنه من وَلَده وَيَأْمُرهُمْ بإتباعه
فصل
وَأما لؤَي فَهُوَ تَصْغِير لاء فَهُوَ البطء كَأَنَّهُمْ يُرِيدُونَ مِنْهُ ترك العجلة
فصل
وَأما غَالب فَهُوَ جماع قُرَيْش وَكَانَ سيدا فِي قومه
فصل
وَأما فهر بِكَسْر الْفَاء فَهُوَ اسْم مَنْقُول من الْحجر الأملس وَكَانَ
এবং তোমাদের গোলামদের জন্য সর্বোত্তম নামসমূহ রাখো, যেমন রাবাহ এবং মারযূক। বলা হয়ে থাকে, আমাদের সন্তানরা আমাদের শত্রুদের মোকাবিলা করার জন্য এবং আমাদের গোলামরা আমাদের নিজেদের খিদমতের জন্য। অর্থাৎ সন্তানরা হলো শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধের সরঞ্জাম এবং তাদের কণ্ঠনালীতে বিদ্ধ হওয়ার তীরস্বরূপ। সুতরাং আরবদের নিগূঢ় বক্তব্য ও পরিভাষার মধ্যে হিকমত বা প্রজ্ঞা নিহিত রয়েছে। আর কিলাব ছিলেন অত্যন্ত উচ্চমর্যাদার অধিকারী এবং তিনি সর্বপ্রথম মহররম, সফর ইত্যাদি আরবি মাসগুলোর নামকরণ করেন
… ...
পরিচ্ছেদ আর মুররাহ শব্দটি হানজালা (তিতা ফল) বা এই জাতীয় তিক্ত স্বাদের বস্তু থেকে নেওয়া হয়েছে। আবার কেউ কেউ বলেছেন এটি একটি বৃক্ষের নাম থেকে উদ্ভূত।
পরিচ্ছেদ
আর কা'ব নামটি পায়ের গোড়ালি থেকে নেওয়া হয়েছে, যা ভীতিপ্রদ মুহূর্তে অটল থাকার প্রতীক। তিনি তাঁর সম্প্রদায়ের সর্দার ছিলেন এবং অত্যন্ত মর্যাদা ও উচ্চাসনের অধিকারী ছিলেন। তিনি প্রাচীন কিতাবসমূহ পাঠ করেছিলেন এবং তিনিই 'আরূবাহ' দিবসের নাম 'জুমুআ' রেখেছিলেন। তিনি জুমুআর দিনে কুরাইশদের মাঝে খুতবা প্রদান করতেন এবং তাদের নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা উল্লেখ করতেন; আর বলতেন যে তিনি তাঁরই বংশধরদের অন্তর্ভুক্ত হবেন। তিনি তাদেরকে নবীর অনুসরণের নির্দেশ দিতেন।
পরিচ্ছেদ
আর লুআই হলো 'লা-আ' শব্দের ক্ষুদ্রবাচক রূপ, যার অর্থ হলো মন্থরতা; যেন তারা এর মাধ্যমে তাড়াহুড়ো বর্জন করার বিষয়টি বুঝাতে চেয়েছেন।
পরিচ্ছেদ
আর গালিব হলেন কুরাইশদের কেন্দ্রবিন্দু এবং তিনি তাঁর সম্প্রদায়ের সর্দার ছিলেন।
পরিচ্ছেদ
আর ফিহর ('ফা' বর্ণে কাসরা বা জের যোগে) শব্দটি মসৃণ পাথর থেকে নেওয়া হয়েছে। আর তিনি ছিলেন...
(খণ্ড: ১)
অসীলাতুল ইসলাম বিন-নাবিয়্যি আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
سيدا عَظِيما فِي الْعَرَب فصيحا ذُو حِكْمَة وَالصَّحِيح أَن من لم ينْسب إِلَى فهر فَلَيْسَ بقريشي وَقيل لَيْسَ أحد من قُرَيْش إِلَّا من ولد غَالب
فصل وَأما مَالك فَهُوَ من الْملك بِكَسْر الْمِيم وَهُوَ ظَاهر
فصل
وَأما النَّضر فَهُوَ من الْحسن وَالْجمال وَالنضير مَا يستحسن وَالنضْر بن كنَانَة هُوَ أول من سنّ فِي الْقَتْل مائَة من الْإِبِل وَكَانَت فِي الْعَرَب وأقرها الْإِسْلَام وَكَانَ النَّضر يوسر حَاجَة النَّاس بِمَالِه وقرشه والقرش بِالْقَافِ الْكسْب فَهُوَ على هَذَا أول من سمي بِقُرَيْش وَقيل غير ذَلِك
فصل
وَأما كنَانَة فالكنانة جعبة السِّهَام فَهِيَ ترفع وتضم مَا يضرع الشجعان
فصل
وَأما خُزَيْمَة فَهِيَ تَصْغِير خزمة وَهِي شَجَرَة تتَّخذ من قُلُوب كَذَا الْجَبَل وَهُوَ التخزم فَهُوَ للإصلاح
فصل
وَأما مدركة فاسمه عَامر وَلما شَردت إبل أَبِيه وأدركها سمي مدركة وَالْهَاء للْمُبَالَغَة كعلامة ونسابة
তিনি ছিলেন আরবদের মধ্যে একজন মহান নেতা, সুবক্তা এবং প্রজ্ঞাবান। সহীহ মতানুসারে, যাকে ফিহরের সাথে সম্বন্ধ করা হয় না সে কুরাইশ নয়। আবার বলা হয়েছে যে, গালিবের বংশধর ছাড়া আর কেউ কুরাইশ নয়।
পরিচ্ছেদ আর মালিকের ক্ষেত্রে বলা যায়, এটি 'মিলক' (মীম বর্ণে কাসরা বা যের সহ) থেকে উদ্ভূত এবং এটি সুস্পষ্ট।
পরিচ্ছেদ
আর নাজর-এর ক্ষেত্রে বলা যায়, এটি লাবণ্য ও সৌন্দর্য থেকে উদ্ভূত। 'নাজীর' অর্থ যা সুন্দর মনে করা হয়। নাজর বিন কিনানা হলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি হত্যার রক্তপণ হিসেবে একশত উট নির্ধারণের রীতি প্রবর্তন করেছিলেন, যা আরবদের মাঝে প্রচলিত ছিল এবং ইসলাম তা বহাল রেখেছে। নাজর নিজের ধন-সম্পদ ও উপার্জনের মাধ্যমে মানুষের প্রয়োজন মেটাতেন। আর 'কারশ' (কাফ বর্ণ দিয়ে) অর্থ হলো উপার্জন। সে হিসেবে তিনিই প্রথম ব্যক্তি যাকে 'কুরাইশ' নামকরণ করা হয়েছিল, তবে অন্য মতও রয়েছে।
পরিচ্ছেদ
আর কিনানা প্রসঙ্গে বলা যায়, কিনানা হলো তূণীর বা তূণ (তীর রাখার পাত্র); এটি এমন যা বীরদের কাবু করার সরঞ্জামসমূহ ধারণ ও একত্রিত করে।
পরিচ্ছেদ
আর খুজাইমা হলো 'খাজমা'-এর ক্ষুদ্রত্ববাচক রূপ। এটি একটি বৃক্ষ যা পাহাড়ের কেন্দ্র বা উচ্চতা থেকে সংগৃহীত হয়। এটি ছিদ্র করা বা গাঁথা অর্থ থেকে এসেছে, যা কোনো কিছু সংশোধনের উদ্দেশ্যে করা হয়।
পরিচ্ছেদ
আর মুদরিকা, তাঁর নাম ছিল আমির। যখন তাঁর পিতার উটগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পালিয়ে গিয়েছিল এবং তিনি সেগুলোর নাগাল পেয়েছিলেন বা ধরে ফেলেছিলেন, তখন তাঁর নাম রাখা হয় মুদরিকা। এখানে 'হা' বর্ণটি আধিক্য বোঝানোর জন্য যুক্ত হয়েছে, যেমনটা 'আল্লামাহ' এবং 'নাসসাবাহ' শব্দের ক্ষেত্রে হয়।
(খণ্ড: ১)
অসীলাতুল ইসলাম বিন-নাবিয়্যি আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম
(পৃষ্ঠা: ৪০)
فصل وَأما إلْيَاس فَهُوَ بِكَسْر الْهمزَة
فَمثل الياس النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَكَانَ لَهُ الشّرف فِي ظَهره بِالْحَجِّ وَقَالَ صلى الله عليه وسلم إِنَّه مُؤمن
فصل
وَأما مُضر فَسُمي بِهِ لبياضه وربيعه أَخُوهُ وَكَانَا مُؤمنين
فصل
وَأما نزار فَهُوَ بِكَسْر النُّون سمي بِهِ لِأَن أَبَاهُ كَانَ ينظر إِلَى نور النُّبُوَّة بَين عَيْنَيْهِ ففرح لذَلِك وَنحر وَأطْعم وَقَالَ هَذَا كُله نزر أَي قَلِيل فِي حق هَذَا الْمَوْلُود
فصل
وَأما معد فأصله من الْمعد بِكَسْر الْعين الْمُهْملَة فَهُوَ الْقُوَّة وَمِنْه اشتقاق الْمعدة
فصل
وَأما عدنان فَهُوَ من عدن الْمَكَان إِذْ أَقَامَ فِيهِ وَمِنْه جنَّات عدن وَمِنْه الْمَعْدن بِكَسْر الدَّال لِأَنَّهُ يُقَام فِيهِ لطلب جواهره وَكَانَ حائزا لحظوظ
পরিচ্ছেদ আর ইলিয়াস সম্পর্কে কথা হলো, এটি হামযাহ বর্ণের নিচে কাসরা (জের) যোগে উচ্চারিত হয়।
তিনি ইলিয়াস নবীর মতোই (নামের দিক দিয়ে)। তাঁর পৃষ্ঠদেশে (বংশধারায়) হজ্জের মাধ্যমে মর্যাদা নিহিত ছিল এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, তিনি অবশ্যই একজন মুমিন ছিলেন।
পরিচ্ছেদ
আর মুদার সম্পর্কে কথা হলো, তাঁর গাত্রবর্ণের শুভ্রতার কারণে তাঁকে এই নামে নামকরণ করা হয়েছিল এবং রাবিয়াহ ছিলেন তাঁর ভাই। তাঁরা উভয়ই মুমিন ছিলেন।
পরিচ্ছেদ
আর নিযার সম্পর্কে কথা হলো, এটি নূন বর্ণের নিচে কাসরা (জের) যোগে উচ্চারিত হয়। তাঁকে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে কারণ তাঁর পিতা তাঁর দুই চোখের মাঝখানে নবুওয়াতের নূর (জ্যোতি) দেখতে পেতেন। এতে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হলেন এবং পশু জবাই করে আপ্যায়ন করালেন এবং বললেন, "এই নবজাতকের হকের তুলনায় এ সবই অতি সামান্য (নাযর)।"
পরিচ্ছেদ
আর মা'আদ্দ সম্পর্কে কথা হলো, এর মূল উৎস হলো 'মা'দ', যা আইন বর্ণের নিচে কাসরা যোগে গঠিত; এর অর্থ হলো শক্তি। 'মি'দাহ' (পাকস্থলী) শব্দটির বুৎপত্তিও এখান থেকেই।
পরিচ্ছেদ
আর আদনান সম্পর্কে কথা হলো, এটি কোনো স্থানে অবস্থান করা অর্থে 'আদান' থেকে গৃহীত। 'জান্নাতে আদন' (স্থায়ী জান্নাত) এবং 'মা'দিন' (খনি—যা ডাল বর্ণের নিচে কাসরা যোগে উচ্চারিত হয়) শব্দদ্বয়ও এখান থেকেই এসেছে, কারণ মণি-মুক্তা আহরণের উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থান করা হয়। তিনি ছিলেন সকল সৌভাগ্যের অধিকারী।
(খণ্ড: ১)
অসীলাতুল ইসলাম বিন-নাবিয়্যি আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম
(পৃষ্ঠা: ৪১)
الشّرف وَالْمجد قَالَ الْجَوْزِيّ رحمه الله وَلَا خلاف أَنه من ولد إِسْمَاعِيل وَلَا خلاف أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم يَنْتَهِي إِلَيْهِ ثمَّ اخْتلف ان رفع اسْمه وَنسبه صلى الله عليه وسلم من عدنان إِلَى آدم فَمنهمْ من كرهه كمالك رحمه الله لعدم الثِّقَة وَمِنْهُم من أجَازه كَابْن إِسْحَاق وَغَيره وَسُئِلَ مَالك عَن رجل يرفع نسبه إِلَى آدم أَو إِلَى إِسْمَاعِيل فَأنكرهُ وَقَالَ من يُخبرهُ بذلك وَقيل بَين عدنان وَإِسْمَاعِيل أَرْبَعِينَ أَبَا وَقيل بَين عدنان وَإِسْمَاعِيل ثَمَانِيَة آبَاء وَقَالَ بَعضهم كَانَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم إِذا انْتهى إِلَى عدنان أمسك
মর্যাদা ও মহিমা। আল-জাওজি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, এতে কোনো দ্বিমত নেই যে তিনি ইসমাঈলের বংশধর এবং এতেও কোনো দ্বিমত নেই যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বংশধারা তাঁর পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছেছে। অতঃপর আদনান থেকে আদম পর্যন্ত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নাম ও বংশধারা উন্নীত করার বিষয়ে মতভেদ হয়েছে। তাঁদের মধ্যে নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাবে ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মতো কেউ কেউ একে অপছন্দ করেছেন, আবার ইবনে ইসহাক ও অন্যান্যদের মতো কেউ কেউ একে বৈধ বলেছেন। ইমাম মালিককে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে তার বংশধারাকে আদম বা ইসমাঈল পর্যন্ত উন্নীত করে; তিনি তা অস্বীকার করেন এবং বলেন, "তাকে এ বিষয়ে কে সংবাদ দিল?" বলা হয়ে থাকে যে, আদনান ও ইসমাঈলের মাঝে চল্লিশজন পিতৃপুরুষ রয়েছেন, আবার এ-ও বলা হয় যে তাঁদের মাঝে আটজন পিতৃপুরুষ রয়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন বংশধারা বর্ণনায় আদনান পর্যন্ত পৌঁছাতেন, তখন থেমে যেতেন।
(খণ্ড: ১)
অসীলাতুল ইসলাম বিন-নাবিয়্যি আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম
(পৃষ্ঠা: ৪২)
الْفَصْل الثَّانِي فِي أَسْمَائِهِ صلى الله عليه وسلم
قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لي خَمْسَة أَسمَاء
أَنا مُحَمَّد وَأَنا أَحْمد وَأَنا الماحي الَّذِي يمحي الله بِهِ الْكفْر وَأَنا الحاشر الَّذِي يحْشر النَّاس على قدمي وَأَنا العاقب صلى الله عليه وسلم
وَمُحَمّد مفعول مُبَالغَة وَهُوَ مَنْقُول من صفة الْمَفْعُول بفاء أَي أَنه يكثر حَمده فَهُوَ بِمَعْنى مَحْمُود أَي هُوَ مَحْمُود فِي الدُّنْيَا بِمَا يَقع لَهُ من الْعلم وَالْحكمَة ومحمود فِي الْآخِرَة بالشفاعة والرتبة الْعَالِيَة
وَلذَلِك قَالَ مُوسَى عليه السلام اللَّهُمَّ اجْعَلنِي من أمة مُحَمَّد
وَأحمد فعل من صفة الْحَمد فَهُوَ من الحامدين وَمَعَهُ لِوَاء الْحَمد وَهُوَ اللِّوَاء الَّذِي يكون تَحْتَهُ الحامدون لله تَعَالَى على كل حَال
وَخص بِصُورَة الْحَمد وَله الْمقَام الْمَحْمُود الَّذِي يحمده فِيهِ الْأَولونَ وَالْآخرُونَ
وَفتح عَلَيْهِ فِيهِ المحامد الَّتِي لم تقع على غَيره
والاشتقاق فيهمَا من أَسمَاء الله تَعَالَى
وَلِهَذَا أَشَارَ أَبُو طَالب بقوله فِي قصيدته
(وشق لَهُ من أُسَمِّهِ ليجله
… فذو الْعَرْش مَحْمُود وَهُوَ مُحَمَّد)
قَالَ بعض الْمُحَقِّقين مَا سَمِعت أحسن من بَيت أبي طَالب وَلَا أصدق من بَيت قالته الْعَرَب وَهُوَ هَذَا
(وَمَا حملت من نَاقَة فَوق حملهَا
… أبر وأوفى ذمَّة من مُحَمَّد)
وَقَالَ بَعضهم أنصف بَيت قالته الْعَرَب بَيت حسان وَهُوَ
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নামসমূহ প্রসঙ্গে।
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার পাঁচটি নাম রয়েছে।
আমি মুহাম্মদ, আমি আহমাদ, আমি আল-মাহি (মোচনকারী) যার মাধ্যমে আল্লাহ কুফরকে মোচন করবেন, আমি আল-হাশির (একত্রকারী) যার পায়ের ওপর মানুষকে হাশর করা হবে, এবং আমি আল-আকিব (সর্বশেষ নবী), সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
এবং 'মুহাম্মদ' শব্দটি আধিক্যবোধক কর্মবাচ্য (মাফঊল); এটি কর্মবাচ্যের গুণবাচক শব্দ হতে সংগৃহীত, যার অর্থ হলো—যার প্রশংসা বারবার করা হয়। সুতরাং এটি 'মাহমুদ' (প্রশংসিত) অর্থে ব্যবহৃত; অর্থাৎ তিনি দুনিয়াতে তাঁর অর্জিত ইলম ও হিকমতের কারণে প্রশংসিত, আর আখিরাতে শাফায়াত ও উচ্চ মর্যাদার কারণে প্রশংসিত।
একারণেই মুসা আলাইহিস সালাম বলেছিলেন, 'হে আল্লাহ! আমাকে মুহাম্মদের উম্মতভুক্ত করুন।'
আর 'আহমাদ' শব্দটি প্রশংসার গুণবাচক একটি রূপ, ফলে তিনি হলেন প্রশংসাকারীদের অন্যতম। তাঁর সাথে থাকবে 'লিওয়াউল হামদ' (প্রশংসার পতাকা), এটি এমন এক পতাকা যার নিচে সর্বাবস্থায় আল্লাহর প্রশংসা জ্ঞাপনকারীরা সমবেত হবে।
আর তাঁকে প্রশংসার বিশেষ রূপ দান করা হয়েছে এবং তাঁর জন্যই রয়েছে 'মাকামে মাহমুদ' (প্রশংসিত স্থান), যেখানে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল সৃষ্টি তাঁর প্রশংসা করবে।
সেখানে তাঁর জন্য প্রশংসার এমন সব দ্বার উন্মোচন করা হবে যা অন্য কারো জন্য করা হয়নি।
এবং এ উভয় নামের বুৎপত্তি মহান আল্লাহর নামসমূহ হতে গৃহীত।
একারণেই আবু তালিব তাঁর কাসিদায় ইঙ্গিত করে বলেছেন—
(আর তিনি তাঁর সম্মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিজের নাম হতে তাঁর নাম নির্গত করেছেন
… সুতরাং আরশের অধিপতি হলেন 'মাহমুদ' আর তিনি হলেন 'মুহাম্মদ')
জনৈক গবেষক বলেছেন, আমি আবু তালিবের এই পঙক্তির চেয়ে সুন্দর এবং আরবদের বলা এই পঙক্তির চেয়ে অধিক সত্য আর কিছু শুনিনি, আর তা হলো—
(কোনো উটনী তার পিঠের ওপর মুহাম্মদের চেয়ে অধিক পুণ্যবান এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষায় অধিক বিশ্বস্ত কাউকে বহন করেনি)
এবং কেউ কেউ বলেছেন, আরবদের বলা সর্বাধিক ন্যায়নিষ্ঠ পঙক্তি হলো হাসসানের পঙক্তিটি, আর তা হলো—
(খণ্ড: ১)
অসীলাতুল ইসলাম বিন-নাবিয়্যি আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
(أتهجوه وَلست لَهُ بكفؤ
… )
وَلَا يعرف من اسْمه مُحَمَّد قبل مبعثه صلى الله عليه وسلم إِلَّا أَقْوَامًا من الْعَرَب أَرْبَعَة
وَالسَّبَب أَن رجَالًا أَرْبَعَة من بني تَمِيم أخْبرهُم بعض الرهبان بِالشَّام أَن زمَان نَبِي أَعْرَابِي اسْمه مُحَمَّد قرب
فَنَذر كل من كَانَ لَهُ ولد أَن يُسَمِّيه مُحَمَّدًا رَجَاء أَن يكون هُوَ
فولد لَهُم أَرْبَعَة فسموهم بِمُحَمد حَكَاهُ الْبَغَوِيّ فِي كتاب الصَّحَابَة وَحَكَاهُ الْبَيْهَقِيّ على مَا نَقله الْحَافِظ أَبُو عبد الله مُحَمَّد بن أَحْمد بن حجاج
وَأما أَحْمد وَمَعْنَاهُ الخاضع لله تَعَالَى فَلم يسم بِهِ أحد قبله
وَقيل المسمون بِهِ نَحْو الثَّلَاثَة وَهَذَا ضرب من الاعجاز فَإِنَّهُ
… على الاعلام بِهَذَيْنِ الاسمين الكريمين أحقاب وأعمار وَلم يتسم بذلك أحد مَعَ اعتناء أهل الْكتاب بالتسمي بِمَا فِي الْكتب الْمنزلَة وَصرف الله الْخلق عَن ذَلِك
وَأما العاقب فَهُوَ الَّذِي جَاءَ عقيب الْأَنْبِيَاء عَلَيْهِم الصَّلَاة وَالسَّلَام وَهُوَ خاتمهم
وَله صلى الله عليه وسلم أَسمَاء أُخْرَى جلية الْمعَانِي صَحِيحَة المباني مَذْكُورَة فِي المصنفات
(তুমি কি তাঁর নিন্দা করছ অথচ তুমি তাঁর সমকক্ষ নও
… )
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বে আরবদের মাঝে মাত্র চারজন ব্যক্তি ব্যতীত আর কেউ ‘মুহাম্মদ’ নামে পরিচিত ছিল না।
এর কারণ হলো, বনু তামিমে’র চারজন ব্যক্তিকে সিরিয়ার জনৈক পাদ্রি জানিয়েছিলেন যে, মুহাম্মদ নামক একজন আরব নবীর আগমনের সময় নিকটবর্তী।
তখন তাদের মধ্যে যারই পুত্রসন্তান জন্মাত, সে এই আশায় তার নাম মুহাম্মদ রাখার মানত করত যে, হয়তো সেই হবে কাঙ্ক্ষিত নবী।
ফলে তাদের চারজন পুত্রসন্তান জন্মায় এবং তারা তাদের নাম মুহাম্মদ রাখেন। ইমাম বাগাবী ‘কিতাবুস সাহাবা’ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন হাজ্জাজের উদ্ধৃতিতে ইমাম বায়হাকীও এটি বর্ণনা করেছেন।
আর ‘আহমদ’ শব্দের অর্থ হলো মহান আল্লাহর প্রতি অনুগত; তাঁর পূর্বে আর কেউ এই নামে নামাঙ্কিত হয়নি।
কারও মতে এই নামে নামাঙ্কিত ব্যক্তির সংখ্যা ছিল তিনজনের মতো। এটি এক প্রকারের মুজিজা, কেননা এই দুটি সম্মানিত নাম জানা থাকা সত্ত্বেও যুগ যুগ ধরে কেউ এই নাম গ্রহণ করেনি, যদিও আহলে কিতাবগণ আসমানি কিতাবসমূহে উল্লেখিত নামসমূহ রাখার ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নশীল ছিল। আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিজগতকে এ থেকে বিমুখ করে রেখেছিলেন।
আর ‘আল-আকিব’ হলেন তিনি, যিনি নবীগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) পরে আগমন করেছেন এবং তিনি তাঁদের সিলসিলা সমাপ্তকারী।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আরও অনেক সুস্পষ্ট অর্থবোধক ও শক্তিশালী গঠনসম্পন্ন নাম রয়েছে, যা বিভিন্ন গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
অসীলাতুল ইসলাম বিন-নাবিয়্যি আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
الْفَصْل الثَّالِث فِي تَارِيخ وِلَادَته صلى الله عليه وسلم
لَا خلاف بَين الْعلمَاء أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم ولد عَام الْفِيل بعد قدومه مَكَّة
والفيل سَاقه جند الْحَبَشَة إِلَى مَكَّة فِي جيشهم يغزون بِهِ الْبَيْت الَّذِي يُرِيدُونَ هَدمه وزواله
فردهم الله تَعَالَى وَأرْسل عَلَيْهِم طيرا أبابيل ترميهم فأهلكتهم بحجارة صَغِيرَة من سجيل تَأتي بهَا فِي أفواهها فَتدخل بنقرها فِي رَأس الرجل مِنْهُم وَتخرج من دبره فَيَمُوت
وَكَانَت عِبْرَة عَظِيمَة
وشأنهم فِي الْأَمر الْعَظِيم أَن يؤرخ بِهِ
فولد صلى الله عليه وسلم عَام الْفِيل بعد قدومه مَكَّة بِخَمْسِينَ يَوْمًا
وَقيل غير ذَلِك وَاخْتلف فِي الشَّهْر الَّذِي ولد فِيهِ قيل فِي شهر رَمَضَان فِي الثَّانِي عشر مِنْهُ
حَكَاهُ ابْن عبد الْبر فِي الِاسْتِيعَاب وَقيل شهر ربيع الأول فِي لَيْلَة الِاثْنَيْنِ الثَّامِن مِنْهُ
وَقيل الثَّانِي عشر مِنْهُ
وَالَّذِي صَححهُ كثير من النَّاس أَنه الثَّامِن مِنْهُ
وَذَلِكَ قبل الْهِجْرَة بِاثْنَيْنِ وَخمسين عَاما وَتِسْعَة أشهر وَعشْرين يَوْمًا هلالية
وَقيل قبل الْهِجْرَة بِثَلَاثَة وَخمسين سنة هلالية غير خَمْسَة أَيَّام
وَولد فِي عشْرين من أبريل من عَام اثْنَيْنِ وَثَمَانمِائَة من تَارِيخ ذِي القرنين الاسكندري وَهِي سنة تَحْويل الْعَرَب الانتقالي العقربي المرتقب عِنْد
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জন্ম তারিখ প্রসঙ্গে
আলেমদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কায় হাতি আসার পর হস্তীবর্ষে জন্মগ্রহণ করেছেন।
হাবশার সৈন্যরা তাদের বাহিনীর সাথে হাতিটিকে মক্কায় নিয়ে এসেছিল সেই ঘর (কাবা) আক্রমণ করতে, যা তারা ধ্বংস ও নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল।
অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতিহত করলেন এবং তাদের ওপর একঝাঁক পাখি প্রেরণ করলেন যারা তাদের ওপর পাথর নিক্ষেপ করছিল। তিনি তাদের 'সিজ্জীল' (পোড়ামাটি) এর ছোট ছোট পাথর দিয়ে ধ্বংস করে দিলেন যা তারা তাদের মুখে করে নিয়ে এসেছিল; পাথরগুলো তাদের প্রত্যেকের মাথার তালু দিয়ে প্রবেশ করে মলদ্বার দিয়ে বেরিয়ে যেত এবং সে মারা যেত।
এটি ছিল এক মহান শিক্ষা।
আর গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইতিহাস বা বর্ষ গণনা করাই ছিল তাদের রীতি।
সুতরাং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কায় হাতি আসার পঞ্চাশ দিন পর হস্তীবর্ষে জন্মগ্রহণ করেন।
এ বিষয়ে অন্য মতামতও রয়েছে এবং তিনি কোন মাসে জন্মগ্রহণ করেছেন তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। বলা হয়েছে, তিনি রমজান মাসের বারো তারিখে জন্মগ্রহণ করেছেন।
ইবনে আব্দুল বার 'আল-ইসতিআব' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। আবার বলা হয়েছে, রবিউল আউয়াল মাসের অষ্টম তারিখ সোমবার রাতে।
কেউ কেউ বলেছেন বারো তারিখে।
অনেকের নিকট যে মতটি বিশুদ্ধ তা হলো অষ্টম তারিখ।
আর তা হিজরতের বাহান্ন চন্দ্রবছর নয় মাস বিশ দিন পূর্বের ঘটনা।
আবার বলা হয়েছে, হিজরতের তিপ্পান্ন চন্দ্রবছর পূর্ণ হতে পাঁচ দিন বাকি থাকতে।
তিনি আলেকজান্ডার যুল-কারনাইন পঞ্জিকার ৮০২ সনের ২০শে এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন। এটি ছিল আরবদের নিকট প্রত্যাশিত বৃশ্চিক রাশি সংক্রান্ত ক্রান্তিকালীন পরিবর্তনের বছর যা...
(খণ্ড: ১)
অসীলাতুল ইসলাম বিন-নাবিয়্যি আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
الأقدمين على مَا أَشَارَ إِلَيْهِ بعض الْعلمَاء
وَسنة الْولادَة وَهِي سنة خمس وَسبعين وسِتمِائَة وَثَلَاثَة الأول للطوفان فَإِن الَّذِي يؤرخ بِهِ أهل بابيل وَكَانَت وِلَادَته صلى الله عليه وسلم بِمَكَّة فِي آخر لَيْلَة الْمُبَارَكَة قبل انصداع الْفجْر قَالَه بَعضهم
والسهيلي فِي كتاب التَّعْرِيف ولد فِي شهر برج الْحمل يَعْنِي أبريل بطالع الظّهْر
قَالَ وَهِي منزلَة الْأَنْبِيَاء
وَنقل بَعضهم عَن الْخَوَارِزْمِيّ انه قَالَ رَأَيْت رِوَايَة بِخَط أبي ياس الْبَغْدَادِيّ أَنه ولد بِأول الْحُوت فِي أول السَّاعَة التَّاسِعَة من لَيْلَة الِاثْنَيْنِ الثَّامِن من شهر ربيع الأول عَام الْفِيل بِأول النُّور والزهرة فِي وَسطه بِالْحملِ وَالْقَمَر بالوسط بالأسد وبهرام بِأول السرطان
والعلويات على المقاربة بِأول الْعَقْرَب تَاسِع الْحُوت
قَالَ الإِمَام أَبُو عبد الله الأوسي وَقد اختبرته فَوَجَدته صَحِيحا
وَقَول من قَالَ ولد فِي شهر أكتوبر يُوَافق قَول من قَالَ ولد فِي شهر رَمَضَان
وَخرج ابْن إِسْحَاق عَن حسان بن ثَابت قَالَ وَالله إِنِّي لغلام ابْن سبع سِنِين إِذْ سَمِعت يَهُودِيّا يَقُول يَا معشر الْيَهُود طلع اللَّيْلَة نجم أَحْمد الَّذِي ولد فِيهِ
قَالَ ابْن إِسْحَاق وَكَانَ سنّ حسان بن ثَابت يَوْم قدومه صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَة سِتِّينَ سنة وَرَسُول الله صلى الله عليه وسلم ابْن خمس وَثَلَاثِينَ سنة
قَالَ ابْن عبد الْبر عَن الْخَوَارِزْمِيّ أَن قدوم الْفِيل مَكَّة كَانَ
প্রাচীন পণ্ডিতদের অভিমত অনুযায়ী, যেমনটি কিছু আলিম ইঙ্গিত করেছেন।
আর তাঁর জন্মের বছরটি হলো মহাপ্লাবনের তিন হাজার ছয়শত পঁচাত্তর বছর; কেননা ব্যবিলনবাসীরা এই সাল অনুযায়ী ইতিহাস গণনা করত। তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জন্ম হয়েছিল মক্কায়, বরকতময় রাতের শেষভাগে সুবহে সাদিক উদ্ভাসিত হওয়ার পূর্বে; এ কথা কেউ কেউ বলেছেন।
সুহায়লী ‘আত-তা’রীফ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি মেষ রাশির মাসে অর্থাৎ এপ্রিলে মধ্যাহ্নের লগ্নে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি বলেন: আর এটি হলো নবীদের স্তর।
কেউ কেউ আল-খাওয়ারিজমি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমি আবু ইয়াস আল-বাগদাদীর হস্তাক্ষরে একটি বর্ণনা দেখেছি যে, তিনি হাতি বছরের ৮ই রবিউল আউয়াল সোমবার রাতের নবম ঘণ্টার শুরুতে মীন রাশির প্রথমাংশে জন্মগ্রহণ করেন। তখন ছিল আলোর সূচনা, শুক্র গ্রহ ছিল মেষ রাশির মধ্যভাগে, চাঁদ ছিল সিংহ রাশির মধ্যভাগে এবং মঙ্গল গ্রহ ছিল কর্কট রাশির শুরুতে।
আর উচ্চস্থ গ্রহসমূহ বৃশ্চিক রাশির শুরুতে এবং মীন রাশির নবম অবস্থানে পরস্পরের সন্নিকটে ছিল।
ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-আউসী বলেন: আমি এটি পরীক্ষা করে দেখেছি এবং একে সঠিক পেয়েছি।
যারা বলেন তিনি অক্টোবর মাসে জন্মগ্রহণ করেছেন, তাদের বক্তব্য তাদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যারা বলেন তিনি রমজান মাসে জন্মগ্রহণ করেছেন।
ইবনে ইসহাক হাসসান বিন সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর কসম, আমি তখন সাত বছরের বালক ছিলাম, এমতাবস্থায় এক ইহুদিকে বলতে শুনলাম, ‘হে ইহুদি সম্প্রদায়! আজ রাতে আহমদের সেই নক্ষত্রটি উদিত হয়েছে, যার লগ্নে তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন।’
ইবনে ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মদীনায় আগমন করেন তখন হাসসান বিন সাবিতের বয়স ছিল ষাট বছর এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন পঁয়ত্রিশ বছর বয়সী।
ইবনে আব্দুল বার আল-খাওয়ারিজমি থেকে বর্ণনা করেন যে, মক্কায় হস্তিবাহিনীর আগমন ঘটেছিল...
(খণ্ড: ১)
অসীলাতুল ইসলাম বিন-নাবিয়্যি আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
لثلاث عشرَة لَيْلَة بقيت من شهر الْمحرم
قَالَ وَكَانَ أَوله بِالْجمعَةِ فَيكون صفر على هَذَا
أما أَن يكون بالسبت أَو بالأحد وَيكون ربيع الأول بالاثنين لِأَن الْولادَة فِي الِاثْنَيْنِ الثَّامِن
وَقَالَ بَعضهم ولد فِي لَيْلَة الِاثْنَيْنِ الثَّانِي لشهر ربيع الأول
وَهَذَا على أَنه بالأحد
وعَلى التَّقْدِيرَيْنِ يبعد أَن يكون الثَّانِي عشر مِنْهُ الِاثْنَيْنِ لِأَن الْمحرم بِالْجمعَةِ على مَا قَالَ الْخَوَارِزْمِيّ فِي نقل قَول ابْن عبد الْبر
وَبعث صلى الله عليه وسلم يَوْم الِاثْنَيْنِ الثَّامِن لشهر ربيع الأول سنة إِحْدَى وَأَرْبَعين من عَام الْفِيل وَكَانَ مولده إِلَى مبعثه أَرْبَعِينَ سنة
وَيَوْم وَاحِد من مبعثه إِلَى أول الْمحرم سنة الْهِجْرَة اثْنَتَا عشر سنة وَتِسْعَة أشهر وَعشْرين يَوْمًا
وَهِي ثَلَاثَة وَخَمْسُونَ سنة تَامَّة من عَام الْفِيل وَدخل الْمحرم سنة الْهِجْرَة بِالْجمعَةِ وَهُوَ الثَّامِن عشر من شهر تَوليته سنة ثَلَاث وَثَلَاثِينَ وَتِسْعمِائَة من تَارِيخ ذِي القرنين
وَقدم النَّبِي صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَة يَوْم الِاثْنَيْنِ الثَّامِن من شهر ربيع الأول سنة إِحْدَى عشر من الْهِجْرَة وَقيل فِي الثَّانِي عشر
إِنَّمَا رد التَّارِيخ من الْمحرم لِأَنَّهُ أول شَوَّال الْعَام
وَأول من وضع التَّارِيخ الْعَرَبِيّ عمر بن الْخطاب رضي الله عنه
وَتُوفِّي صلى الله عليه وسلم فِي ضحى يَوْم الِاثْنَيْنِ الثَّامِن من شهر ربيع الأول من سنة إِحْدَى عشر من الْهِجْرَة وَقيل الثَّانِي مِنْهُ فِي نصف النَّهَار
وَقَالَ الْخَوَارِزْمِيّ أول يَوْم مِنْهُ
وَقَول من قَالَ فِي ثَانِي الشَّهْر من فَفِي الِاثْنَيْنِ ولد وَفِي الِاثْنَيْنِ بعث وَفِي الِاثْنَيْنِ قدم الْمَدِينَة وَفِي الِاثْنَيْنِ توفّي
وكل اثْنَيْنِ من هَذِه هُوَ الثَّامِن لشهر ربيع الأول
فَأَقَامَ صلى الله عليه وسلم بعد مبعثه بِمَكَّة ثَلَاث عشرَة سنة وبالمدينة عشر سِنِين وَتُوفِّي صلى الله عليه وسلم وَهُوَ ابْن ثَلَاث وَسِتِّينَ سنة
قَالَه ابْن عَبَّاس وَغَيره
وَقيل ابْن سِتِّينَ وَالْأول أصح
মহররম মাসের তেরো দিন বাকি থাকতে।
তিনি বললেন, তার শুরু ছিল জুমুআবার, এই অনুযায়ী সফর মাস হবে এই ভিত্তিতে—
হয় শনিবার অথবা রবিবার, এবং রবিউল আউয়াল হবে সোমবার, কারণ জন্ম ছিল আটের সোমবার।
তাদের কেউ কেউ বলেছেন, রবিউল আউয়াল মাসের দ্বিতীয় তারিখ সোমবার রাতে তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন।
এটি এই ভিত্তিতে যে, (মাসের শুরু) রবিবার ছিল।
উভয় হিসাব অনুযায়ী এ মাসের বারো তারিখ সোমবার হওয়া সুদূরপরাহত, কারণ মহররম শুরু হয়েছিল জুমুআর দিনে, যেমনটি ইবনে আবদিল বার-এর উক্তি উদ্ধৃত করতে গিয়ে আল-খাওয়ারিজমি বলেছেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হস্তী সনের একচল্লিশতম বছরের রবিউল আউয়াল মাসের আট তারিখ সোমবার নবুওয়াত লাভ করেন এবং তাঁর জন্ম থেকে নবুওয়াত পর্যন্ত চল্লিশ বছর ছিল।
এবং তাঁর নবুওয়াত লাভ থেকে হিজরি সনের মহররমের শুরু পর্যন্ত একদিন, বারো বছর নয় মাস এবং বিশ দিন।
এটি হস্তী সন থেকে পূর্ণ তিপ্পান্ন বছর। হিজরি সনের মহররম শুরু হয়েছিল জুমুআর দিনে, যা জুলকারনাইন ইতিহাসের নয়শত তেত্রিশ সালের তাঁর শাসনভার গ্রহণের মাসের আঠারোতম দিন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিজরতের এগারোতম বছরের রবিউল আউয়াল মাসের আট তারিখ সোমবার মদিনায় পৌঁছান, এবং বলা হয় বারো তারিখে।
ইতিহাস গণনা মহররম থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে কারণ এটি বছরের প্রথম ভাগ।
আর আরবি ইতিহাস প্রথম প্রবর্তন করেন উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিজরি এগারোতম সালের রবিউল আউয়াল মাসের আট তারিখ সোমবার চাশতের সময় ইন্তেকাল করেন। এবং বলা হয় সে মাসের দুই তারিখে দ্বিপ্রহরের সময়।
খাওয়ারিজমি বলেছেন, মাসের প্রথম দিনে।
আর যারা মাসের দ্বিতীয় তারিখের কথা বলেছেন, তাদের মতে তিনি সোমবারে জন্মগ্রহণ করেছেন, সোমবারে নবুওয়াত লাভ করেছেন, সোমবারে মদিনায় পৌঁছেছেন এবং সোমবারে ইন্তেকাল করেছেন।
এবং এর প্রতিটি সোমবার ছিল রবিউল আউয়াল মাসের আট তারিখ।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুওয়াত লাভের পর মক্কায় তেরো বছর এবং মদিনায় দশ বছর অবস্থান করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ইন্তেকাল করেন তখন তাঁর বয়স ছিল তেষট্টি বছর।
ইবনে আব্বাস ও অন্যান্যরা এটি বলেছেন।
এবং বলা হয় ষাট বছর, তবে প্রথম মতটিই অধিকতর সঠিক।
(খণ্ড: ১)
অসীলাতুল ইসলাম বিন-নাবিয়্যি আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
الْفَصْل الرَّابِع فِيمَن قَامَ بحضانته صلى الله عليه وسلم اعْلَم أَن أم النَّبِي صلى الله عليه وسلم هِيَ آمِنَة بنت وهب بن عبد منَاف بن زهرَة لم يتَزَوَّج عبد الله غَيرهَا
وَكَانَ وهب سيد قومه وحملت بِهِ صلى الله عليه وسلم حِين وَقع عَلَيْهَا
وَذهب النُّور الْعَظِيم الَّذِي كَانَ بَين عَيْنَيْهِ
وَلذَلِك قَالَت الكاهنة الراغبة فِيهِ لَا جَاءَت لي بك وَمَا رغبت إِلَّا لأجل ذَلِك النُّور
وَلم يُولد لعبد الله غَيره فَلَا أَخ لَهُ وَلَا أُخْت
وَتُوفِّي عبد الله قبل وِلَادَته بِيَسِير وَدفن بِالْمَدِينَةِ عِنْد أَخْوَاله بني النجار وَكَانَ عمره نَحْو ثَلَاثِينَ سنة
وَلما ولد صلى الله عليه وسلم تولته مولاة أبي لَهب ثويبة أَيَّامًا مَعَ ابْن لَهَا من غَيره وأرضعت قبله حَمْزَة عَمه
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর লালন-পালনের দায়িত্ব পালন করেছেন জেনে রাখুন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাতা ছিলেন আমিনা বিনতে ওয়াহাব বিন আবদে মানাফ বিন জুহরাহ। আবদুল্লাহ তিনি ব্যতীত অন্য কাউকে বিবাহ করেননি।
ওয়াহাব তাঁর গোত্রের নেতা ছিলেন এবং যখন তিনি (আবদুল্লাহ) তাঁর (আমিনা) সঙ্গে মিলিত হলেন, তখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গর্ভে ধারণ করেন।
এবং সেই মহান নূর দূরীভূত হয়ে গেল যা তাঁর দুই চোখের মাঝখানে বিদ্যমান ছিল।
এ কারণেই যে গণক নারী তাঁর প্রতি আগ্রহী ছিল সে বলেছিল, "তুমি আমার কাছে এলে না"; সে কেবল সেই নূরের কারণেই তাঁর প্রতি আগ্রহী ছিল।
আবদুল্লাহর তিনি ব্যতীত আর কোনো সন্তান জন্ম নেয়নি, ফলে তাঁর কোনো ভাই বা বোন ছিল না।
তাঁর জন্মের অল্পকাল পূর্বে আবদুল্লাহ ইন্তেকাল করেন এবং মদিনায় তাঁর মামাদের বংশ বনী নাজ্জারের নিকট তাঁকে সমাহিত করা হয়। সে সময় তাঁর বয়স ছিল প্রায় ত্রিশ বছর।
যখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্মগ্রহণ করলেন, তখন আবু লাহাবের মুক্তদাসী সুওয়াইবাহ কয়েক দিন তাঁর লালন-পালন করেন। তখন তাঁর সাথে তাঁর অন্য এক পুত্রও ছিল এবং ইতিপূর্বে তিনি তাঁর চাচা হামযাহকেও স্তন্যদান করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
অসীলাতুল ইসলাম বিন-নাবিয়্যি আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
وَبعده أَبَا سَلمَة واسْمه عبد الله بن الْأسد زوج أم سَلمَة قبله وَهُوَ ابْن عمته برة وَأَخُوهُ من الرَّضَاع
وَكَانَت خَدِيجَة تكرم ثويبة
وَكَانَ صلى الله عليه وسلم يبْعَث لَهَا من الْمَدِينَة بكسوة وصلَة
ثمَّ أَرْضَعَتْه حليمة السعدية سنتَيْن وشهرين وَرَأَتْ الْعَجَائِب فِي مُدَّة رضاعه
وَكَانَ صلى الله عليه وسلم برهَا
وَحين وَردت عَلَيْهِ يَوْم خَيْبَر قَامَ إِلَيْهَا وَبسط لَهَا رِدَاءَهُ وَجَلَست عَلَيْهِ
وَلما ردته إِلَى أمه بعد رضاعه حضنته أم أَيمن خَادِم أَبِيه عِنْد أمه آمِنَة
وَأم أَيمن هَذِه اسْمهَا بركَة وَابْنهَا أَيمن بن عبيد الْأنْصَارِيّ وَمَات شَهِيدا يَوْم حنين
وَهِي أم أُسَامَة بن زيد بن حَارِثَة رضي الله عنهما
قَالَ صلى الله عليه وسلم فِي زيد بن حَارِثَة إِنَّه لمن أحب النَّاس إِلَيّ
وَقَالَ فِي أُسَامَة ابْنه إِنَّه لمن أحب النَّاس إِلَيّ بعده
وَلذَلِك كَانَ يُقَال لأسامة الْحبّ ابْن الْحبّ وأيمن أَخُو أُسَامَة من أمه
وَالْحجاج بن أَيمن حفيدها
قَالَ عبد الله بن عمر فِيهِ لَو رَآهُ صلى الله عليه وسلم لَأحبهُ
وَكَانَت أم أَيمن مكرمَة عِنْد النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَكَانَ يزورها
وَقَالَ أَبُو بكر لعمر بعد وَفَاة النَّبِي صلى الله عليه وسلم هَل لَك فِي زِيَارَة أم أَيمن فَقَالَ نعم فمضيا إِلَيْهَا
وَلما دخلا عَلَيْهَا بَكت بكاء شَدِيدا وَقَالَت إِنَّمَا بَكَيْت على إنقطاع الْوَحْي فَبَكَيَا مَعهَا
فصلوَتوفيت أمه آمِنَة وَهُوَ عليه الصلاة والسلام ابْن سِتّ سِنِين
এরপর আবু সালামাহ, তাঁর নাম আব্দুল্লাহ ইবনুল আসাদ, যিনি তাঁর পূর্বে উম্মে সালামাহর স্বামী ছিলেন। তিনি তাঁর ফুফু বাররার পুত্র এবং তাঁর দুধভাই।
আর খাদিজা সুওয়াইবাকে সম্মান করতেন।
এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা থেকে তাঁর জন্য পোশাক ও উপহার পাঠাতেন।
অতঃপর হালিমা সাদিয়া তাঁকে দুই বছর দুই মাস দুধ পান করান এবং তাঁর দুধ পানের সময়কালে তিনি অনেক বিস্ময়কর বিষয় প্রত্যক্ষ করেন।
এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রতি সদাচারী ছিলেন।
খায়বারের দিন তিনি যখন তাঁর কাছে এলেন, তখন তিনি তাঁর সম্মানে উঠে দাঁড়ালেন এবং তাঁর জন্য নিজের চাদর বিছিয়ে দিলেন, আর তিনি সেটির ওপর বসলেন।
দুধ পান করানোর পর হালিমা যখন তাঁকে তাঁর মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিলেন, তখন তাঁর মা আমিনার সান্নিধ্যে তাঁর পিতার পরিচারিকা উম্মে আয়মান তাঁকে লালন-পালন করেন।
আর এই উম্মে আয়মানের নাম ছিল বারাকাহ। তাঁর পুত্র আইমান ইবনে উবাইদ আল-আনসারি হুনাইনের যুদ্ধে শহীদ হন।
তিনি ছিলেন উসামা ইবনে যাইদ ইবনে হারিসা রাদিয়াল্লাহু আনহুমার মাতা।
যাইড ইবনে হারিসা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, "নিশ্চয় সে আমার কাছে মানুষের মধ্যে অন্যতম প্রিয় ব্যক্তি।"
এবং তাঁর পুত্র উসামা সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, "নিশ্চয় সে তাঁর পিতার পরে আমার কাছে মানুষের মধ্যে অন্যতম প্রিয় ব্যক্তি।"
একারণেই উসামাকে 'আল-হিব্ব ইবনুল হিব্ব' (প্রিয়ভাজনের পুত্র প্রিয়ভাজন) বলা হতো। আর আয়মান ছিলেন উসামার বৈপিত্রেয় ভাই (একই মায়ের সন্তান)।
হাজ্জাজ ইবনে আয়মান ছিলেন তাঁর পৌত্র।
আবদুল্লাহ ইবনে ওমর তাঁর সম্পর্কে বলেছিলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি তাঁকে দেখতেন তবে অবশ্যই তাঁকে ভালোবাসতেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে উম্মে আয়মান অত্যন্ত সম্মানিত ছিলেন এবং তিনি তাঁকে দেখতে যেতেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের পর আবু বকর ওমরকে বললেন, "আপনি কি উম্মে আয়মানকে দেখতে যেতে ইচ্ছুক?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ।" অতঃপর তাঁরা উভয়ে তাঁর কাছে গেলেন।
তাঁরা যখন তাঁর কাছে প্রবেশ করলেন, তখন তিনি ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলেন। তিনি বললেন, "আমি কাঁদছি কেবল ওহী বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে।" তখন তাঁরাও তাঁর সাথে কাঁদলেন।
পরিচ্ছেদতাঁর মাতা আমিনা ইন্তেকাল করেন যখন তিনি আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম ছয় বছরের বালক।
(খণ্ড: ১)
অসীলাতুল ইসলাম বিন-নাবিয়্যি আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
وَقيل ابْن أَربع سِنِين وكفله بعْدهَا جده عبد الْمطلب
وَتُوفِّي جده وَهُوَ ابْن ثَمَان سِنِين وشهرين وَعشرَة أَيَّام وَأوصى بِهِ عَمه أَبُو طَالب وَالِد عَليّ بن أبي طَالب
وَلما خرج فِي تِجَارَة إِلَى أَرض الشَّام أخرجه مَعَه حفظا عَلَيْهِ وسنه اثْنَا عشر عَاما وشهران وَعشرَة أَيَّام
وخطروا على الراهب فِي طريقهم وَنزل إِلَيْهِم وَكَانَ لَا ينزل إِلَى أحد
وَأخذ بيد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَقَالَ هَذَا سيد الْعَالمين وَرَسُول رب الْعَالمين يَبْعَثهُ الله رَحْمَة للْعَالمين
فَقَالَ أَشْيَاخ قُرَيْش من اعلمك بذلك
فَقَالَ إِنَّكُم حِين اشرفتم على الْعقبَة لم يبْق شجر وَلَا حجر إِلَّا خر سَاجِدا لَهُ وَلَا يسجدان إِلَّا لنَبِيّ
وحذرهم من الْيَهُود وَأمرهمْ بِرُجُوعِهِ فَرجع وزودهم وأودعهم
وَفِي هَذَا الطَّرِيق أظلته الغمامة وتحول طول ظلّ الشَّمْس إِلَيْهِ بعد أَن وجد النَّاس جُلُوسًا فِي ظلها صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
কেউ কেউ বলেছেন চার বছর বয়সে, এরপর তাঁর দাদা আবদুল মুত্তালিব তাঁর লালন-পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তাঁর দাদা ইন্তেকাল করেন যখন তাঁর বয়স ছিল আট বছর দুই মাস দশ দিন। তিনি তাঁর সম্পর্কে তাঁর চাচা আবু তালিবকে—যিনি আলী ইবনে আবি তালিবের পিতা—অসিয়ত করে যান।
যখন তিনি ব্যবসার উদ্দেশ্যে সিরিয়া অভিমুখে যাত্রা করেন, তখন তাঁকে সুরক্ষার মানসে সাথে নিয়ে যান; সে সময় তাঁর বয়স ছিল বারো বছর দুই মাস দশ দিন।
পথিমধ্যে তাঁরা জনৈক পাদ্রীর নিকট দিয়ে অতিক্রম করেন। তিনি তাঁদের উদ্দেশ্যে নিচে নেমে আসলেন, অথচ ইতিপূর্বে তিনি কখনও কারও জন্য নিচে নামতেন না।
তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাত ধরলেন এবং বললেন, “ইনি বিশ্বজগতের নেতা এবং রাব্বুল আলামীনের রাসূল; আল্লাহ তাঁকে বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করবেন।”
কুরাইশদের প্রবীণ ব্যক্তিবর্গ জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনি এ বিষয়ে কীভাবে অবগত হলেন?”
তিনি বললেন, “আপনারা যখন পাহাড়ের ঢাল দিয়ে আসছিলেন, তখন এমন কোনো বৃক্ষ বা পাথর অবশিষ্ট ছিল না যা তাঁর সামনে সিজদাবনত হয়নি। আর তারা নবী ছাড়া অন্য কাউকে সিজদা করে না।”
তিনি তাঁদের ইহুদিদের ব্যাপারে সতর্ক করলেন এবং তাঁকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তিনি ফিরে আসলেন। তিনি তাঁদের পাথেয় প্রদান করলেন এবং বিদায় জানালেন।
এই যাত্রাপথে মেঘ তাঁকে ছায়া দান করেছিল এবং সূর্যের ছায়া তাঁর দিকে সরে এসেছিল যখন তিনি লোকজনকে ছায়ায় উপবিষ্ট অবস্থায় পেলেন, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
(খণ্ড: ১)
অসীলাতুল ইসলাম বিন-নাবিয়্যি আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম
(পৃষ্ঠা: ৫১)
الْبَاب الثَّانِي فِي أَزوَاجه صلى الله عليه وسلم وَأَوْلَاده وقرابته ومواليه وخدمه وخواصه
দ্বিতীয় অধ্যায়: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পত্নীগণ, তাঁর সন্তানাদি, তাঁর নিকটাত্মীয়গণ, তাঁর মুক্তিকৃত দাসগণ, তাঁর সেবকগণ এবং তাঁর বিশিষ্ট সহচরগণ প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১)
অসীলাতুল ইসলাম বিন-নাবিয়্যি আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
الْفَصْل الأول فِي أَزوَاجه صلى الله عليه وسلم وأزواجه صلى الله عليه وسلم الْمَدْخُول بِهن إِحْدَى عشرَة امْرَأَة خَدِيجَة بنت خويلد وسويدة بنت زَمعَة وَعَائِشَة بنت أبي بكر رضي الله عنه وَحَفْصَة بنت عمر بن الْخطاب رضي الله عنه وَزَيْنَب بنت خُزَيْمَة وَأم حَبِيبَة بنت أبي سُفْيَان وَأم سَلمَة بنت أبي أُميَّة وَزَيْنَب بنت جحش وجويرة بنت الْحَارِث وَصفِيَّة بنت حييّ ومَيْمُونَة بنت الْحَارِث الْهِلَالِيَّة
وَتوفيت خَدِيجَة وَزَيْنَب فِي حَيَاته صلى الله عليه وسلم وَتُوفِّي هُوَ عَن تسع
فصل
وَأول أَزوَاجه صلى الله عليه وسلم خَدِيجَة بنت خويلد وَلم يتَزَوَّج عَلَيْهَا أحد حَتَّى توفيت وَتَزَوجهَا بعد خمس وَعشْرين سنة من عمره وسنها يَوْمئِذٍ أَرْبَعُونَ سنة وَلها ولد من غَيره اسْمه هِنْد بن أبي هَالة
وخطبها لَهُ أَبُو طَالب وَقَالَ هُوَ من عَرَفْتُمْ
يُرِيد أَنه صلى الله عليه وسلم كَانَ أفضل قومه مُرُوءَة وخلقا وَأَمَانَة وصدقا
وَلذَلِك يُسمى الآمين
فَتَزَوجهَا صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পত্নীগণ সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যেসব পত্নীর সাথে তিনি দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন, তাঁরা হলেন এগারোজন নারী: খাদীজা বিনতে খুওয়াইলিদ, সুওয়াইদাহ বিনতে জাম'আ, আয়েশা বিনতে আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু), হাফসা বিনতে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু), যয়নব বিনতে খুযায়মা, উম্মে হাবীবা বিনতে আবু সুফিয়ান, উম্মে সালামা বিনতে আবু উমাইয়া, যয়নব বিনতে জাহাশ, জুওয়াইরিয়া বিনতে আল-হারিস, সাফিয়া বিনতে হুয়াই এবং মায়মুনা বিনতে আল-হারিস আল-হিলালিয়্যাহ।
খাদীজা ও যয়নব তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জীবদ্দশাতেই ইন্তেকাল করেন এবং তিনি যখন ইন্তেকাল করেন তখন তাঁর নয়জন স্ত্রী জীবিত ছিলেন।
পরিচ্ছেদ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের মধ্যে প্রথম হলেন খাদীজা বিনতে খুওয়াইলিদ। তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত নবীজী অন্য কাউকে বিবাহ করেননি। তাঁর বয়স যখন পঁচিশ বছর তখন তিনি তাঁকে বিবাহ করেন এবং ওই সময় খাদীজার বয়স ছিল চল্লিশ বছর। অন্য স্বামী থেকে তাঁর একটি পুত্র সন্তান ছিল যার নাম হিন্দ বিন আবি হালাহ।
আবু তালিব তাঁর জন্য বিয়ের প্রস্তাব পেশ করেন এবং বলেন, "তিনি তো সেই যাকে তোমরা চেনো।"
এর দ্বারা তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মনুষ্যত্ব, চরিত্র, আমানতদারি ও সত্যবাদিতার দিক থেকে স্বীয় কওমের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন।
আর এ কারণেই তাঁকে 'আল-আমিন' (বিশ্বস্ত) বলা হতো।
অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বিবাহ করেন।
(খণ্ড: ১)
অসীলাতুল ইসলাম বিন-নাবিয়্যি আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
وَبقيت عِنْده بعد الْوَحْي تسع سِنِين وَثَمَانِية أشهر
وَهِي أول من آمَنت بِهِ وَبَلغهَا جِبْرِيل عليه السلام سَلام الْبَارِي جلّ وَعلا
فَقَالَ الرب يُقْرِئك السَّلَام
فَقَالَت الله السَّلَام وَمِنْه السَّلَام وَإِلَيْهِ يعود السَّلَام وَهُوَ ذُو الْجلَال وَالْإِكْرَام
وبشرها بِبَيْت من قصب الزمرد
وَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم خير نسَاء الْعَالمين أَرْبَعَة خَدِيجَة بنت خويلد وَمَرْيَم ابْنة عمرَان وآسية امْرَأَة فِرْعَوْن وَفَاطِمَة الزهراء ابْنة مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم وفضلها مَشْهُور وَتوفيت قبل الْهِجْرَة بِثَلَاث سِنِين وَأَرْبَعَة أشهر غير ثَلَاثَة أَيَّام وسنها خمس وَسِتُّونَ سنة
فصل وَتزَوج رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بعد خَدِيجَة سَوْدَة بنت زَمعَة بعد وَفَاة السَّكْرَان بن عمر عَنْهَا رضي الله عنه
وَلَا خلاف أَنه بنى بهَا قبل بنائِهِ بعائشة
وَاخْتلف هَل عقد عَلَيْهَا قبل عقده على عَائِشَة أَو بعده
وَكَانَت اسنت فهم صلى الله عليه وسلم بِطَلَاقِهَا فَقَالَت لَا تُطَلِّقنِي فَإِنِّي أُرِيد أَن أحْشر فِي أَزوَاجك وَقد وهبت يومي لعَائِشَة
وَكَانَت سَوْدَة تضحك النَّبِي صلى الله عليه وسلم
فَقَالَت لَهُ قُمْت يَوْمًا خَلفك يَا رَسُول الله فِي الصَّلَاة فأطلت الرُّكُوع حَتَّى استددت أنفي خوف أَن يقطر بِالدَّمِ
فَضَحِك النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَتوفيت فِي خلَافَة عمر وَهُوَ الَّذِي بعث إِلَيْهَا بغرارة دَرَاهِم ففرقتها
فصل
وَتزَوج رَسُول الله صلى الله عليه وسلم عَائِشَة وَهِي بنت سِتّ سِنِين وَذَلِكَ قبل
ওহী নাযিলের পর তিনি তাঁর সাথে নয় বছর আট মাস অবস্থান করেছিলেন।
তিনিই প্রথম ঈমান আনয়নকারী এবং জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তাঁর কাছে মহান প্রতিপালকের সালাম পৌঁছে দিয়েছিলেন।
অতঃপর প্রতিপালক বললেন, "তিনি (আল্লাহ) তোমাকে সালাম জানাচ্ছেন।"
উত্তরে তিনি বললেন, "আল্লাহ-ই শান্তি (সালাম), তাঁর থেকেই শান্তি আসে এবং তাঁর দিকেই শান্তি ফিরে যায়; তিনি মহিমাময় ও মহানুভব।"
এবং তিনি তাঁকে পান্না খচিত একটি প্রাসাদের সুসংবাদ প্রদান করেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "বিশ্বের শ্রেষ্ঠ নারী চারজন: খুয়াইলিদ তনয়া খাদিজা, ইমরান তনয়া মারইয়াম, ফিরআউনের স্ত্রী আসিয়া এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তনয়া ফাতিমা আয-যাহরা।" তাঁর মর্যাদা সুপ্রসিদ্ধ এবং তিনি হিজরতের তিন বছর চার মাস (তিন দিন কম) পূর্বে ইন্তেকাল করেন। সে সময় তাঁর বয়স ছিল পঁয়ষট্টি বছর।
পরিচ্ছেদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদিজার পর সওদা বিনতে যামআকে বিবাহ করেন; তাঁর স্বামী সাকরান ইবনে আমরের ইন্তেকালের পর।
এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই যে, আয়েশার সাথে বাসর যাপনের পূর্বেই তিনি সওদার সাথে বাসর যাপন করেছিলেন।
তবে এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে যে, আয়েশার সাথে বিবাহের চুক্তির পূর্বে নাকি পরে তিনি সওদার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন।
তিনি বয়স্কা হয়ে গিয়েছিলেন বিধায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে তালাক দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন। তখন তিনি আরজ করলেন, "আপনি আমাকে তালাক দেবেন না; কারণ আমি আপনার স্ত্রীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে হাশরে পুনরুত্থিত হতে চাই এবং আমি আমার (নির্ধারিত) দিনটি আয়েশাকে দান করলাম।"
সওদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হাসাতেন।
তিনি তাঁকে বলেছিলেন, "হে আল্লাহর রাসূল! একদিন আমি আপনার পেছনে সালাতে দাঁড়িয়েছিলাম। আপনি রুকু এত দীর্ঘ করেছিলেন যে, আমি নাক থেকে রক্ত ঝরার ভয়ে তা চেপে ধরেছিলাম।"
তা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসলেন। তিনি উমরের খিলাফতকালে ইন্তেকাল করেন। উমরই তাঁর কাছে এক থলে দিরহাম পাঠিয়েছিলেন যা তিনি বিতরণ করে দিয়েছিলেন।
পরিচ্ছেদ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশাকে বিবাহ করেন যখন তাঁর বয়স ছিল ছয় বছর। আর এটি ছিল...
(খণ্ড: ১)
অসীলাতুল ইসলাম বিন-নাবিয়্যি আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
الْهِجْرَة بِسنتَيْنِ وَبنى بهَا وَهِي بنت تسع سِنِين فِي سنة الْهِجْرَة وَأقَام مَعهَا تسع سِنِين فَكَانَت يَوْم وَفَاته صلى الله عليه وسلم بنت ثَمَانِي عشرَة سنة
وَكَانَ أصدقهَا أَرْبَعمِائَة دِرْهَم
وَمثل ذَلِك كَانَ صدَاق سَوْدَة بنت زَمعَة وَلم ينْكح بكرا غَيرهَا
وَكَانَت أعلم النَّاس بالفقه والطب والحساب والفرائض وَالشعر
وَقَالَ صلى الله عليه وسلم خُذُوا شطر دينكُمْ عَن هَذِه الْحُمَيْرَاء
وَقَالَ أَيْضا فضل عَائِشَة على النِّسَاء كفضل الثَّرِيد على سَائِر الطَّعَام
قَالَ الْعلمَاء قَالَ السُّهيْلي لَا يُطلق لفظ الثَّرِيد إِلَّا إِذا كَانَ بِاللَّحْمِ
وَفِي الحَدِيث سيد آدام الدُّنْيَا وَالْآخِرَة اللَّحْم
وَأجْمع النَّاس على فضل بنت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وفضلها عمر بِالْفَرْضِ
فَإِنَّهُ فرض لَهَا النَّبِي إثنا عشر ألفا وَفرض لكل وَاحِدَة من أُمَّهَات الْمُؤمنِينَ عشرَة آلَاف
وَكَانَت إِذا ذكرت يَوْم الْجمل حِين وقفت مَعَ من ضَارب عليا فِي دم عُثْمَان بَكت وزادت حَتَّى تبل خمارها وتقرأ قَوْله تَعَالَى {وَقرن فِي بيوتكن وَلَا تبرجن تبرج الْجَاهِلِيَّة الأولى} وَتقول يَا لَيْتَني كنت ورقة من ورق الشّجر
وَبعث إِلَيْهَا عبد الله بن الزبير بغرارتين مَمْلُوءَتَيْنِ بِالدَّرَاهِمِ ففرقت ذَلِك كُله من ساعتها وَكَانَت تَصُوم وَكَانَت تُفْتِي بِالْعلمِ ويسألها أكَابِر الصَّحَابَة ودامت فِي الْفتيا مُدَّة تقرب من خمسين لِأَنَّهَا توفيت سنة سبع وَخمسين من الْهِجْرَة وَصلى عَلَيْهَا أَبُو هُرَيْرَة وَأمرت أَن تدفن بِالبَقِيعِ خَارج الْمَدِينَة ومنعت أَن تدفن مَعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَقَالَت خلطت بعده
হিজরতের দুই বছর পূর্বে (তাঁর সাথে বিবাহ হয়) এবং হিজরি সনে তিনি তাঁর সাথে বাসর করেন যখন তাঁর বয়স ছিল নয় বছর। তিনি তাঁর সাথে নয় বছর অবস্থান করেন, ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের দিন তাঁর বয়স ছিল আঠারো বছর।
তাঁর মোহরানা ছিল চারশত দিরহাম।
সাওদা বিনতে জামআহ-এর মোহরানাও এরূপ ছিল। তিনি (রাসূলুল্লাহ) আয়েশা (রা.) ছাড়া অন্য কোনো কুমারী নারীকে বিবাহ করেননি।
তিনি ফিকহ, চিকিৎসা বিজ্ঞান, গণিত, ফারায়েদ (উত্তরাধিকার আইন) এবং কবিতায় মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন।
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "তোমরা তোমাদের দ্বীনের অর্ধেক এই হুমাইরা (আয়েশা) থেকে গ্রহণ করো।"
তিনি আরও বলেছেন, "নারীদের মধ্যে আয়েশার শ্রেষ্ঠত্ব হলো সমস্ত খাবারের ওপর সারীদের (মাংস ও রুটির ঝোলযুক্ত বিশেষ খাবার) শ্রেষ্ঠত্বের মতো।"
উলামায়ে কেরাম বলেন, সুহাইলি বলেছেন যে, মাংস ছাড়া ‘সারীদ’ শব্দটি ব্যবহার করা হয় না।
হাদিসে এসেছে, "দুনিয়া ও আখেরাতের শ্রেষ্ঠ সালন (ব্যঞ্জন) হলো মাংস।"
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যার (ফাতেমার) শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারে মানুষেরা ঐকমত্য পোষণ করেছেন এবং উমর (রা.) ভাতার (বৃত্তির) ক্ষেত্রে তাঁকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছিলেন।
কেননা তিনি তাঁর জন্য বারো হাজার (দিরহাম) নির্ধারণ করেছিলেন এবং উম্মুল মুমিনীনদের প্রত্যেকের জন্য দশ হাজার নির্ধারণ করেছিলেন।
তিনি যখন উষ্ট্রের যুদ্ধের (জঙ্গে জামাল) কথা স্মরণ করতেন—যেদিন তিনি উসমানের রক্তের (বদলার দাবিতে) আলীর বিরুদ্ধে লড়াইকারীদের সাথে অবস্থান নিয়েছিলেন—তখন তিনি এত কাঁদতেন যে তাঁর ওড়না ভিজে যেত। তিনি মহান আল্লাহর বাণী পাঠ করতেন: "তোমরা তোমাদের গৃহে অবস্থান করো এবং প্রাচীন জাহেলিয়াত যুগের মতো নিজেদের প্রদর্শন করো না।" এবং তিনি বলতেন, "হায়! আমি যদি গাছের একটি পাতা হতাম!"
আবদুল্লাহ ইবনুল জুবাইর তাঁর কাছে দিরহাম ভর্তি দুটি বস্তা পাঠিয়েছিলেন, তিনি সেই মুহূর্তেই তার সবটুকু বণ্টন করে দিলেন। তিনি রোজা রাখতেন এবং ইলম অনুযায়ী ফতোয়া দিতেন। বড় বড় সাহাবীগণ তাঁকে মাসআলা জিজ্ঞাসা করতেন। তিনি প্রায় পঞ্চাশ বছর যাবৎ ফতোয়া প্রদানের কাজ জারি রেখেছিলেন; কেননা তিনি হিজরি সাতান্ন সনে ইন্তেকাল করেন। আবু হুরায়রা (রা.) তাঁর জানাজার নামাজ পড়িয়েছেন। তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তাঁকে মদিনার বাইরে জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয় এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে দাফন হতে বারণ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, "আমি তাঁর পরে (নানা ঘটনায়) জড়িয়ে পড়েছি।"
(খণ্ড: ১)
অসীলাতুল ইসলাম বিন-নাবিয়্যি আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
فصل وَتزَوج رَسُول الله صلى الله عليه وسلم حَفْصَة بنت عمر بن الْخطاب رضي الله عنه شَقِيقَة عبد الله بن عمر سنة ثَلَاث من الْهِجْرَة وَأصْدقهَا أَرْبَعمِائَة دِرْهَم وَطَلقهَا النَّبِي صلى الله عليه وسلم لشدَّة فِي خلقهَا طَلْقَة وَبكى عمر لذَلِك وَجعل التُّرَاب على رَأسه وَقَالَ مَا يعبأ الله بعمر بعد هَذَا الْيَوْم
فَنزل جِبْرِيل عليه السلام وَقَالَ يَا مُحَمَّد الرب جلّ وَعلا يَأْمُرك برد حَفْصَة رَحْمَة بأبيها فَردهَا بِأَمْر الله
وَأخْبرهُ أَنَّهَا من أَزوَاجه فِي الْجنَّة
وَكَانَت وِلَادَتهَا قبل المبعث لخمس سِنِين
وَتوفيت سنة خمس وَأَرْبَعين من الْهِجْرَة
فصل
وَتزَوج رَسُول الله صلى الله عليه وسلم زَيْنَب بنت خُزَيْمَة ابْن حَارِث الْهِلَالِيَّة العامرية وَكَانَت تدعى فِي الْجَاهِلِيَّة أم الْمَسَاكِين لخدمتها إيَّاهُم كَانَت تَحت عبد الله بن جحش قتل عَنْهَا يَوْم أحد وَدفن مَعَ حَمْزَة
وَتوفيت فِي حَيَاته صلى الله عليه وسلم سنة خمس من الْهِجْرَة
فصل
وَتزَوج رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أم حَبِيبَة بنت أبي سُفْيَان وَأُخْت مُعَاوِيَة الَّتِي
পরিচ্ছেদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরতের তৃতীয় বর্ষে উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর কন্যা ও আবদুল্লাহ ইবনে উমরের সহোদরা হাফসা (রা.)-কে বিবাহ করেন। তিনি তাকে মোহরানা হিসেবে চারশ দিরহাম প্রদান করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মেজাজের কঠোরতার কারণে তাঁকে একবার তালাক প্রদান করেছিলেন। এতে উমর (রা.) ক্রন্দন করেন এবং নিজের মাথায় মাটি নিক্ষেপ করে বলেন, "আজকের দিনের পর আল্লাহ উমরকে নিয়ে আর কোনো পরোয়া করবেন না।"
অতঃপর জিবরাঈল আলাইহিস সালাম অবতীর্ণ হলেন এবং বললেন, "হে মুহাম্মদ! মহান প্রতিপালক তাঁর পিতার প্রতি রহমত স্বরূপ আপনাকে হাফসাকে ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন।" অতঃপর আল্লাহর নির্দেশে তিনি তাঁকে ফিরিয়ে নিলেন।
আর তিনি তাঁকে সংবাদ প্রদান করলেন যে, তিনি জান্নাতেও তাঁর স্ত্রীদের অন্তর্ভুক্ত।
তাঁর জন্ম হয়েছিল নবুওয়াত প্রাপ্তির পাঁচ বছর পূর্বে।
তিনি হিজরী পঁয়তাল্লিশ সালে ইন্তেকাল করেন।
পরিচ্ছেদ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিলালী গোত্রের আমেরী বংশের যায়নাব বিনতে খুজায়মা ইবনে হারিসকে বিবাহ করেন। জাহেলী যুগে মিসকীনদের সেবা করার কারণে তাঁকে ‘উম্মুল মাসাকীন’ (অসহায়দের মাতা) বলে ডাকা হতো। তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে জাহাশের বিবাহাধীনে ছিলেন, যিনি উহুদ যুদ্ধের দিনে শাহাদাত বরণ করেন এবং হামজা (রা.)-এর সাথে তাঁকে দাফন করা হয়।
তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় হিজরী পঞ্চম বর্ষে ইন্তেকাল করেন।
পরিচ্ছেদ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু সুফিয়ানের কন্যা ও মুয়াবিয়ার বোন উম্মে হাবীবা (রা.)-কে বিবাহ করেন, যিনি...
(খণ্ড: ১)
অসীলাতুল ইসলাম বিন-নাবিয়্যি আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
أسلمت قبل أَخِيهَا وأبيها
وَهَاجَرت إِلَى أَرض الْحَبَشَة وخطبها لَهُ النَّجَاشِيّ ملك الْحَبَشَة
فَكتب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فأجابته ووكلته وَأصْدقهَا عَنهُ النَّجَاشِيّ أَرْبَعمِائَة دِينَار وَأطْعم عَلَيْهَا
وَقَالَ الطَّعَام على التَّزْوِيج من سنة الْأَنْبِيَاء وَذَلِكَ فِي سنة سِتّ من الْهِجْرَة
وَبنى بهَا سنة سبع
وَبقيت إِلَى سنة أَربع وَأَرْبَعين من الْهِجْرَة ورد عَلَيْهَا أَبوهَا أَبُو سُفْيَان فِي الْمَدِينَة قب إِسْلَامه
فَلَمَّا دخل عَلَيْهَا طوت فرَاش النَّبِي صلى الله عليه وسلم
فَقَالَ لَهَا مَا هَذَا
فَقَالَت إِنَّك مُشْرك وَالْمُشْرِكُونَ نجس
فصل وَتزَوج رَسُول الله صلى الله عليه وسلم زَيْنَب بنت جحش وَهِي أم الحكم سنة خمس من الْهِجْرَة وَأصْدقهَا أَرْبَعمِائَة دِينَار
وَكَانَت عِنْد زيد بن حَارِثَة
وَهِي بنت عَمه صلى الله عليه وسلم إِلَّا أَن أمهَا أُمَيْمَة بنت عبد الْمطلب
وَلما خطبهَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَت أَو أَمر رَبِّي وَقَامَت إِلَى مَسْجِدهَا
فَأنْزل الله نِكَاحهَا فِي الْقُرْآن وَهُوَ قَوْله تَعَالَى فَلَمَّا قضى زيد مِنْهَا وطرا زوجنكها فَدخل رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بِغَيْر إِذن
وَكَانَت تفتخر على أُمَّهَات الْمُؤمنِينَ بذلك وَتقول إِن الله أنكحني إِيَّاه من فَوق سبع سماوات
وَقَالَ صلى الله عليه وسلم زَيْنَب أواهة
فَقَالَ عمر مَا الأواهة يَا رَسُول الله فَقَالَ الخاشع المتضرع
وَقَالَت عَائِشَة لم تكن امْرَأَة خير مِنْهَا فِي الدّين وَالصَّدَََقَة وَهِي أول أَزوَاجه لُحُوقا بِهِ صلى الله عليه وسلم
فصل
وَتزَوج رَسُول الله صلى الله عليه وسلم جوَيْرِية وَأصْدقهَا أَرْبَعمِائَة دِرْهَم وَكَانَت جميلَة عَلَيْهَا حلاوة وملاحة
وَتوفيت سنة خمس وَسِتِّينَ
তিনি তাঁর ভাই এবং পিতার পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেন।
এবং তিনি হাবাশা (আবিসিনিয়া) অভিমুখে হিজরত করেন। হাবাশার রাজা নাজাশী তাঁর পক্ষ থেকে (রাসূলুল্লাহর জন্য) বিয়ের প্রস্তাব পেশ করেন।
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পত্র পাঠালেন, তিনি তাতে সম্মতি দিলেন এবং (বিয়ের জন্য) প্রতিনিধি নিযুক্ত করলেন। নাজাশী তাঁর পক্ষ থেকে চারশত দিনার মোহরানা প্রদান করেন এবং ভোজের আয়োজন করেন।
এবং তিনি (নাজাশী) বললেন যে, বিবাহ উপলক্ষে আপ্যায়ন করা নবীদের সুন্নাত। এটি ছিল হিজরী ষষ্ঠ সালের ঘটনা।
এবং সপ্তম হিজরীতে তিনি তাঁর সাথে বৈবাহিক জীবন শুরু করেন।
তিনি চুয়াল্লিশ হিজরী পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। তাঁর পিতা আবু সুফিয়ান তাঁর ইসলাম গ্রহণের পূর্বে মদিনায় তাঁর কাছে এসেছিলেন।
যখন তিনি তাঁর কাছে প্রবেশ করলেন, তখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিছানাটি গুটিয়ে ফেললেন।
তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, "এটা কী?"
তিনি বললেন, "নিশ্চয়ই আপনি একজন মুশরিক এবং মুশরিকরা অপবিত্র।"
পরিচ্ছেদ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যয়নব বিনতে জাহাশকে (যিনি উম্মুল হাকাম নামে পরিচিত) পঞ্চম হিজরীতে বিবাহ করেন এবং তাঁকে চারশত দিনার মোহরানা প্রদান করেন।
তিনি পূর্বে যায়েদ ইবনে হারিসার বিবাহাধীনে ছিলেন।
তিনি ছিলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফুফাতো বোন, কারণ তাঁর মা উমাইমাহ বিনতে আব্দুল মুত্তালিব।
যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন, তখন তিনি বললেন, "আমার প্রতিপালক কি কোনো নির্দেশ দিয়েছেন?" এবং তিনি তাঁর সালাতের জায়গায় দাঁড়িয়ে গেলেন।
অতঃপর আল্লাহ কুরআনে তাঁর বিবাহের নির্দেশ নাযিল করেন। সেটি হলো মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর যায়েদ যখন তার সাথে প্রয়োজন শেষ করল (তালাক দিল), তখন আমি তাকে তোমার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করলাম।" এরপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুমতি ছাড়াই তাঁর ঘরে প্রবেশ করেন।
তিনি এ বিষয়ে উম্মুল মুমিনীনদের ওপর গর্ব করতেন এবং বলতেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ সাত আসমানের ওপর থেকে আমাকে তাঁর সাথে বিবাহ দিয়েছেন।"
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, "যয়নব হলেন অত্যন্ত কোমলহৃদয় ও আল্লাহর প্রতি নিবেদিত (আওয়াহাহ)।"
ওমর (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল! 'আওয়াহাহ' কী?" তিনি বললেন, "বিনয়ী ও আল্লাহর নিকট ক্রন্দনশীল প্রার্থনাকারী।"
আয়েশা (রা.) বলেন, "দ্বীনদারি ও দান-সদকার ক্ষেত্রে তাঁর চেয়ে উত্তম কোনো নারী ছিল না। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের পর তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম তাঁর সাথে মিলিত হন।"
পরিচ্ছেদ
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুওয়াইরিয়া (রা.)-কে বিবাহ করেন এবং তাঁকে চারশত দিরহাম মোহরানা প্রদান করেন। তিনি অত্যন্ত সুন্দরী, লাবণ্যময়ী ও আকর্ষণীয় ছিলেন।
তিনি পঁয়ষট্টি হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১)
অসীলাতুল ইসলাম বিন-নাবিয়্যি আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
فصل وَتزَوج رَسُول الله صلى الله عليه وسلم صَفِيَّة بنت حييّ بن أَخطب من ولد هَارُون عليه السلام فِي سنة سبع من الْهِجْرَة وَهِي بنت سبع عشرَة سنة
وَلما ملكهَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم حجبها وأعتقها وَتَزَوجهَا وَجعل عتقهَا صَدَاقهَا وَذَلِكَ خُصُوصا بِهِ
وَقيل كَانَ وَنسخ
وَلما بنى بهَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم جَاءَت نسَاء الْأَنْصَار ينظرن إِلَيْهَا وَعَائِشَة فِيهِنَّ متنقبة فعرفها رَسُول الله صلى الله عليه وسلم
فَلَمَّا خرجت خرج وَرَاءَهَا فحبسها وَقَالَ لَهَا كَيفَ رَأَيْت وَكَانَت صَفِيَّة عَاقِلَة
اذتها مَمْلُوكَة لَهَا فأعتقتها
وَتوفيت صَفِيَّة سنة خمسين من الْهِجْرَة
فصل
وَتزَوج رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مَيْمُونَة بنت الْحَارِث الْهِلَالِيَّة
وَكَانَت أُخْتهَا أم الْفضل عِنْد الْعَبَّاس
وَهِي أم عبد الله بن الْعَبَّاس وَأُخْته وَأُخْتهَا لبَابَة أم خَالِد بن الْوَلِيد
وَجَاء عَن شهَاب أَن مَيْمُونَة هِيَ الَّتِي وهبت نَفسهَا للنبيء وَنزل فِيهَا قَوْله تَعَالَى وَامْرَأَة مُؤمنَة إِن وهبت نَفسهَا للنبيء وَالسَّبَب أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم خطبهَا وَهِي راكبة على بَعِيرهَا
فَقَالَت للَّذي جاءها الْبَعِير وَمَا عَلَيْهِ لله وَرَسُوله وَذَلِكَ فِي سنة سبع من الْهِجْرَة
فصل
وَتزَوج رَسُول الله صلى الله عليه وسلم خُوَيْلَة الثعلبية وَتوفيت قبل الْبناء بهَا
পরিচ্ছেদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরি সপ্তম বর্ষে হারুন আলাইহিস সালামের বংশধর হুয়াই ইবনে আখতাবের কন্যা সাফিয়্যাহকে বিবাহ করেন। তখন তাঁর বয়স ছিল সতেরো বছর।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁকে অধিকারভুক্ত করলেন, তখন তাঁকে পর্দার অন্তরালে রাখলেন, তাঁকে মুক্ত করে দিলেন এবং তাঁকে বিবাহ করলেন। তিনি তাঁর মুক্তিকেই মোহর হিসেবে নির্ধারণ করেন এবং এটি কেবল তাঁর জন্যই বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিল।
বলা হয়ে থাকে যে, এটি পূর্বে প্রচলিত ছিল এবং পরে রহিত করা হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর সাথে বাসর সম্পন্ন করলেন, তখন আনসারী মহিলারা তাঁকে দেখার জন্য আসলেন। তাঁদের মধ্যে আয়িশাও ছিলেন, যিনি নেকাব পরিহিত ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে চিনতে পারলেন।
যখন তিনি বেরিয়ে গেলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পিছু পিছু গেলেন এবং তাঁকে থামিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, "তুমি তাকে কেমন দেখলে?" সাফিয়্যাহ ছিলেন অত্যন্ত বুদ্ধিমতী।
তাঁর এক দাসী তাঁকে কষ্ট দিয়েছিল, ফলে তিনি তাকে মুক্ত করে দেন।
সাফিয়্যাহ হিজরি পঞ্চাশ সনে ইন্তেকাল করেন।
পরিচ্ছেদ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মায়মুনা বিনতুল হারিস আল-হিলালিয়্যাহকে বিবাহ করেন।
তাঁর বোন উম্মুল ফজল ছিলেন আব্বাসের স্ত্রী।
তিনি ছিলেন আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসের জননী; আর তাঁর অপর বোন লুবাবা ছিলেন খালিদ ইবনুল ওয়ালিদের জননী।
শিহাব থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, মায়মুনাই সেই নারী যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট নিজেকে নিবেদন (হেবা) করেছিলেন এবং তাঁর সম্পর্কেই মহান আল্লাহর এই বাণী অবতীর্ণ হয়েছে: "এবং কোনো মুমিন নারী যদি নিজেকে নবীর নিকট নিবেদন করে"। এর কারণ ছিল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠান, তখন তিনি তাঁর উটের পিঠে আরোহী ছিলেন।
তখন তিনি প্রস্তাবককে বলেছিলেন, "উট এবং এর উপরে যা কিছু আছে সবই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য।" এটি হিজরি সপ্তম বর্ষের ঘটনা।
পরিচ্ছেদ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুওয়াইলা আস-সা'লাবিয়্যাহকে বিবাহ করেন এবং তাঁর সাথে বাসর হওয়ার পূর্বেই তিনি ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১)
অসীলাতুল ইসলাম বিন-নাবিয়্যি আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
وَكَذَلِكَ عمْرَة بنت يزِيد
وَكَذَلِكَ امْرَأَة من عمان
وَكَذَلِكَ أُخْرَى تميمية
وخطب إِلَى رجل ابْنَته فَاعْتَذر لَهُ أَن بهَا برصا
وَلم يكن بهَا برص فَمَا انْصَرف إِلَى بَيته وجد بهَا برصا وَخير امْرَأَة بعد أَن تزَوجهَا فَاخْتَارَتْ نَفسهَا فشفيت
একইভাবে আমরাহ বিনতে ইয়াজিদ।
একইভাবে ওমানের একজন নারী।
একইভাবে তামীম গোত্রের অন্য এক নারী।
তিনি এক ব্যক্তির নিকট তার কন্যার বিবাহের প্রস্তাব দিলে সে এই ওজর পেশ করল যে, তার শ্বেতী রোগ রয়েছে।
অথচ তার শ্বেতী রোগ ছিল না; কিন্তু সে যখন নিজ গৃহে প্রত্যাবর্তন করল, তখন দেখল যে তার শ্বেতী রোগ হয়েছে। আর তিনি এক নারীকে বিবাহের পর ইখতিয়ার (পছন্দ করার সুযোগ) প্রদান করলে সে নিজেকেই বেছে নিল, ফলে সে আরোগ্য লাভ করল।
(খণ্ড: ১)
অসীলাতুল ইসলাম বিন-নাবিয়্যি আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম
(পৃষ্ঠা: ৬০)
الْفَصْل الثَّانِي فِي أَوْلَاده صلى الله عليه وسلم وَاعْلَم أَنه لم يكن لرَسُول الله صلى الله عليه وسلم ولد إِلَّا من خَدِيجَة عليها السلام سوى وَلَده إِبْرَاهِيم عليه السلام فَإِنَّهُ ولد مَارِيَة الْقبْطِيَّة الَّتِي أهداها لَهُ الْمُقَوْقس ملك الاسكندرية فِي هَدِيَّة بعثها إِلَيْهِ
وَلم تحمل وَاحِدَة من نِسَائِهِ سوى عَائِشَة وأسقطت لَهُ جَنِينا وَاحِدًا خَاصَّة
فَولدت خَدِيجَة الْقَاسِم وَبِه كَانَ يكنى صلى الله عليه وسلم
ثمَّ الطّيب ثمَّ الطَّاهِر ثمَّ زَيْنَب ثمَّ رقية ثمَّ أم كُلْثُوم ثمَّ فَاطِمَة عليهم السلام
هَذَا هُوَ الصَّحِيح
وَقيل أم كُلْثُوم أَصْغَر من فَاطِمَة
وَمَات ذُكُور أَوْلَاده صلى الله عليه وسلم من خَدِيجَة صغَارًا
وَقيل لم يمت الْقَاسِم حَتَّى ركب الدَّابَّة
وَلَا خلاف أَن موت الطّيب والطاهر قبل الْبَعْث
وَاخْتلف فِي الْقَاسِم قيل مَاتَ بعد بَعثه
وَقيل قبل ذَلِك
وَوجدت عَلَيْهِ خَدِيجَة وجدا شَدِيدا
فَدخل عَلَيْهَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَهِي تبْكي عَلَيْهِ
فَقَالَ لَهَا إِن شِئْت أسمعك صَوته فِي الْجنَّة
فَقَالَت صدق الله وَرَسُوله
وَولد لَهُ إِبْرَاهِيم عليه السلام فِي ذِي الْحجَّة سنة ثَمَان من الْهِجْرَة
وَقَالَ ولد لي اللَّيْلَة غُلَام وسميته باسم أبي إِبْرَاهِيم
ثمَّ دَفعه إِلَى أم سُفْيَان ترْضِعه
وَكَانَ صلى الله عليه وسلم ينْطَلق فَيدْخل الْبَيْت وَيَأْخُذهُ ويقبله ثمَّ يرجع
وَتُوفِّي سنة عشْرين من الْهِجْرَة فِي يَوْم كسفت الشَّمْس فِيهِ
وَقَالَ إِن الشَّمْس وَالْقَمَر آيتان لَا يكسفان لمَوْت أحد وَلَا لِحَيَاتِهِ فَإِذا رَأَيْتُمْ ذَلِك فافزعوا إِلَى الصَّلَاة
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সন্তানদের বর্ণনা প্রসঙ্গে জেনে রাখুন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খাদিজা আলাইহাস সালাম ব্যতীত অন্য কোনো স্ত্রীর গর্ভে কোনো সন্তান জন্মায়নি, কেবল তাঁর পুত্র ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম ছাড়া। কেননা তিনি মারিয়া আল-কিবতিয়ার গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন, যাঁকে আলেকজান্দ্রিয়ার অধিপতি মুকাউকিস তাঁর নিকট প্রেরিত উপঢৌকনের সাথে উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন।
তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে আয়েশা ব্যতীত আর কেউ গর্ভধারণ করেননি এবং তাঁর (আয়েশার) কেবল একটি ভ্রূণপাত হয়েছিল।
খাদিজা আল-কাসিমকে জন্ম দেন এবং তাঁর মাধ্যমেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কুনিয়াত (উপনাম) রাখা হয়েছিল।
অতঃপর তৈয়িব, অতঃপর তাহির, অতঃপর যায়নাব, অতঃপর রুকাইয়াহ, অতঃপর উম্মে কুলসুম, অতঃপর ফাতিমা আলাইহিমুস সালাম জন্মগ্রহণ করেন।
এটিই বিশুদ্ধ মত।
বলা হয়ে থাকে যে, উম্মে কুলসুম ফাতিমার চেয়ে ছোট ছিলেন।
খাদিজার গর্ভে জন্ম নেওয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পুত্রসন্তানগণ শৈশবেই ইন্তেকাল করেন।
বলা হয়ে থাকে যে, আল-কাসিম সওয়ারিতে আরোহণ করার বয়স পর্যন্ত জীবিত ছিলেন।
এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, তৈয়িব ও তাহিরের মৃত্যু নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বেই হয়েছিল।
আল-কাসিমের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে; বলা হয় যে তিনি নবুওয়াত প্রাপ্তির পর ইন্তেকাল করেন।
আবার বলা হয় যে, তার পূর্বেই।
তাঁর বিয়োগে খাদিজা অত্যন্ত শোকাভিভূত হয়েছিলেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন যখন তিনি তাঁর জন্য কাঁদছিলেন।
তখন তিনি তাঁকে বললেন: "তুমি যদি চাও তবে আমি তোমাকে জান্নাতে তার কণ্ঠস্বর শুনিয়ে দিতে পারি।"
তিনি (খাদিজা) বললেন: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সত্য বলেছেন।"
হিজরি অষ্টম সনের জিলহজ মাসে তাঁর পুত্র ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি (রাসূলুল্লাহ) বললেন: "আজ রাতে আমার একটি পুত্রসন্তান জন্ম নিয়েছে এবং আমি আমার পিতা ইব্রাহিমের নামে তাঁর নামকরণ করেছি।"
অতঃপর তিনি তাঁকে দুধপান করানোর জন্য উম্মে সুফিয়ানের নিকট সমর্পণ করেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে যেতেন এবং ঘরে প্রবেশ করে তাঁকে কোলে নিতেন ও চুমু দিতেন, অতঃপর ফিরে আসতেন।
তিনি হিজরি বিশ সনে এমন এক দিনে ইন্তেকাল করেন যে দিন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল।
তিনি (রাসূলুল্লাহ) বললেন: "নিশ্চয়ই সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনাবলির মধ্য থেকে দুটি নিদর্শন; কারও মৃত্যু বা জন্মের কারণে এগুলোতে গ্রহণ লাগে না। সুতরাং তোমরা যখন তা দেখবে, তখন নামাজের দিকে ধাবিত হও।"
(খণ্ড: ১)
অসীলাতুল ইসলাম বিন-নাবিয়্যি আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম
(পৃষ্ঠা: ৬১)
وَبكى صلى الله عليه وسلم بِغَيْر صَوت
وَقَالَ تَدْمَع الْعين ويحزن الْقلب وَلَا نقُول مَا يسْخط الرب
وَقَالَ أنس لم يكن ليبقى لِأَن نَبِيكُم أحد الْأَنْبِيَاء
يُرِيد أَن ابْن النَّبِي نَبِي وَضعف لِأَن آدم نَبِي وَمَا فِي وَلَده لصلبه نَبِي غير شِيث
وَمَاتَتْ أمه مَارِيَة بعد وَفَاة النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِخمْس سِنِين
فصل وَبنَاته صلى الله عليه وسلم كُلهنَّ أدركن الْإِسْلَام فِي صغرهن وهاجرن
وأكبر بَنَاته وَزَيْنَب ولدت لَهُ صلى الله عليه وسلم وسنه صلى الله عليه وسلم ثَلَاثُونَ وَكَانَ يُحِبهَا
وخطبها أَبُو الْعَاصِ بن الرّبيع بن عبد الْعُزَّى وَهُوَ ابْن خَالَتهَا
فَإِن أمه هَالة بنت خويلد شَقِيقَة خَدِيجَة فَزَوجهَا لَهُ صلى الله عليه وسلم لنظر خَدِيجَة وَذَلِكَ قبل الْوَحْي
وَلما بعث صلى الله عليه وسلم ثَبت أَبُو الْعَاصِ زوج زَيْنَب على شركه وَهَاجَرت زَيْنَب وَتركته بِمَكَّة
وَشهد بَدْرًا مَعَ الْمُشْركين وَأخذ أَسِيرًا وافتداه أَخُوهُ عمر بقلادة كَانَت لِزَيْنَب
وَأخذ أَسِيرًا مرّة أُخْرَى وأطلقته زَيْنَب
وَقَالَ لَهَا صلى الله عليه وسلم أكرمي مثواه وَلَا تقربيه فَإِنَّهُ لَا يحل لَك
ثمَّ قدم الْمَدِينَة بعد ذَلِك وَحسن إِسْلَامه
وردهَا عَلَيْهِ النَّبِي صلى الله عليه وسلم
وَتوفيت سنة ثَمَان من الْهِجْرَة
وَاخْتلف فِي أَيهمَا أسن هِيَ أَو أَخُوهَا الْقَاسِم
فَقيل أول مَا ولدت خَدِيجَة زَيْنَب ثمَّ الْقَاسِم وَقيل بعكسه
وَتُوفِّي زَوجهَا أَبُو العَاصِي بن الرّبيع فِي ذِي الْحجَّة من عَام اثْنَي عشر من الْهِجْرَة وَترك مِنْهَا ابْنة اسْمهَا أُمَامَة وَهِي الَّتِي كَانَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم يحملهَا فِي الصَّلَاة
وَتزَوج عَليّ بن أبي طَالب أُمَامَة هَذِه بِوَصِيَّة فَاطِمَة
وَكَانَ أَبوهَا أوصى بهَا إِلَى الزبير بن الْعَوام فَزَوجهَا مِنْهُ الزبير
وَقَالَ لَهَا عَليّ عِنْد وَفَاته لآمن أَن
আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শব্দ না করে কাঁদলেন।
এবং তিনি বললেন, "চোখ অশ্রু বিসর্জন দেয় এবং হৃদয় ব্যথিত হয়, তবে আমরা এমন কিছু বলি না যা পালনকর্তাকে অসন্তুষ্ট করে।"
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, সে (ইব্রাহিম) বেঁচে থাকার ছিল না, কারণ তোমাদের নবী হলেন নবীদেরই একজন।
এর অর্থ হলো নবীর পুত্র নবীই হন, তবে এই মতটি দুর্বল; কারণ আদম আলাইহিস সালাম একজন নবী ছিলেন অথচ তাঁর সরাসরি ঔরসজাত সন্তানদের মধ্যে শীষ আলাইহিস সালাম ছাড়া আর কেউ নবী ছিলেন না।
আর তাঁর মা মারিয়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পাঁচ বছর পর মৃত্যুবরণ করেন।
পরিচ্ছেদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সকল কন্যাসন্তান তাদের শৈশবেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং হিজরত করেছিলেন।
তাঁর কন্যাদের মধ্যে জয়নব ছিলেন সবার বড়; তিনি তখন জন্মগ্রহণ করেন যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বয়স ছিল ত্রিশ বছর এবং তিনি তাঁকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন।
আবুল আস ইবনুর রাবী ইবনে আবদিল উযযা তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন, যিনি ছিলেন তাঁর খালাতো ভাই।
কেননা তাঁর মা হালা বিনতে খুওয়াইলিদ ছিলেন খাদীজাহ রাদিয়াল্লাহু আনহার সহোদরা বোন। খাদীজাহ রাদিয়াল্লাহু আনহার ইচ্ছানুসারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জয়নবকে তাঁর কাছে বিয়ে দেন এবং এটি ছিল ওহী নাযিল হওয়ার পূর্বের ঘটনা।
যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুওয়াত লাভ করলেন, তখন জয়নবের স্বামী আবুল আস তাঁর শিরকের ওপর অটল থাকলেন। ফলে জয়নব রাদিয়াল্লাহু আনহা হিজরত করলেন এবং তাঁকে মক্কায় রেখে আসলেন।
তিনি মুশরিকদের সাথে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং বন্দী হন। তখন তাঁর ভাই উমর একটি হারের বিনিময়ে তাঁর মুক্তিপণ প্রদান করেন যা জয়নব রাদিয়াল্লাহু আনহার ছিল।
তিনি পুনরায় আরেকবার বন্দী হয়েছিলেন এবং জয়নব তাঁকে মুক্ত করেছিলেন।
তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে (জয়নবকে) বলেছিলেন, "তুমি তাঁর মেহমানদারী করো কিন্তু তাঁর নিকটবর্তী হয়ো না, কারণ তিনি তোমার জন্য হালাল নন।"
অতঃপর তিনি এরপর মদীনায় আগমন করেন এবং সুন্দরভাবে ইসলাম গ্রহণ করেন।
তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জয়নবকে তাঁর নিকট ফিরিয়ে দেন।
তিনি হিজরী অষ্টম সনে ইন্তেকাল করেন।
জয়নব ও তাঁর ভাই কাসিমের মধ্যে কে বয়সে বড় ছিলেন সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে।
বলা হয়ে থাকে যে, খাদীজাহ রাদিয়াল্লাহু আনহার সন্তানদের মধ্যে প্রথমে জয়নব এবং পরে কাসিম জন্মগ্রহণ করেন; আবার এর বিপরীত মতও বর্ণিত আছে।
তাঁর স্বামী আবুল আস ইবনুর রাবী হিজরী দ্বাদশ সনের জিলহজ মাসে ইন্তেকাল করেন এবং তিনি উমামা নামক এক কন্যাসন্তান রেখে যান, যাঁর বিষয়ে বর্ণিত আছে যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজের সময় তাঁকে বহন করতেন।
ফাতেমাহ রাদিয়াল্লাহু আনহার অসিয়ত অনুযায়ী আলী ইবনে আবু তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু এই উমামাকে বিয়ে করেন।
উমামার পিতা তাঁর বিয়ের ব্যাপারে যুবাইর ইবনুল আওয়াম রাদিয়াল্লাহু আনহুকে অসিয়ত করেছিলেন, তাই যুবাইরই তাঁর বিয়ে সম্পন্ন করেন।
আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর ইন্তেকালের সময় উমামাকে বলেছিলেন যে, আমি আশঙ্কা করছি যে...
(খণ্ড: ১)
অসীলাতুল ইসলাম বিন-নাবিয়্যি আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম
(পৃষ্ঠা: ৬২)
يخطبك هَذَا الطاغية يَعْنِي مُعَاوِيَة فَإِن كَانَ لَك ارب فِي الرِّجَال فقد رضيت لَك الْمُغيرَة بن نَوْفَل
وَلما انْقَضتْ عدتهَا من عَليّ بعث إِلَيْهَا مُعَاوِيَة يخطبها وبذل لَهَا ألف دِينَار فَأَبت وَتَزَوَّجت الْمُغيرَة وَكَانَ وَليهَا ابْن خَالَتهَا الْحسن بن عَليّ رضي الله عنه وَولد للْمُغِيرَة يحيى بن الْمُغيرَة
فصل وَتزَوج عُثْمَان بن عَفَّان رضي الله عنه رقية بنت النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَولدت لَهُ وَهُوَ ابْن ثَلَاث وَثَلَاثِينَ سنة
وَكَانَت تَحت عتبَة بن أبي لَهب وفارقها قبل الْبناء بِأَمْر أَبِيه حِين نزلت {تبت يدا أبي لَهب} ودعا عَلَيْهِ النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَقَالَ اللَّهُمَّ سلط عَلَيْهِ كَلْبا من كلابك فاختطفه الْأسد فِي السّفر من بَين التُّجَّار فَأَكله وَله عقب
وَكَانَت رقية أجمل النِّسَاء وَشَكتْ بعثمان مرّة
فَقَالَ لَهَا صلى الله عليه وسلم مَا أحب للْمَرْأَة أَن تكْثر شكاية بَعْلهَا انصرفي إِلَى بَيْتك
وَتوفيت فِي شهر رَمَضَان السّنة الثَّالِثَة من الْهِجْرَة
وَعرض عَلَيْهِ عمر بن الْخطاب ابْنَته حَفْصَة فكست عَنهُ
فَبلغ ذَلِك النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يتَزَوَّج عُثْمَان من هُوَ خير مِنْهَا وتتزوج حَفْصَة من هُوَ خير من عُثْمَان
فَتزَوج رَسُول الله صلى الله عليه وسلم حَفْصَة وَتزَوج عُثْمَان أم كُلْثُوم بنت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي السّنة الثَّالِثَة بعد الْهِجْرَة
وَكَانَت تَحت عتيبة بن أبي لَهب وفارقها قبل الْبناء بِأَمْر أَبِيه كأخيه وأمهما حمالَة الْحَطب وَأسلم عتبَة ومعتب عَام الْفَتْح
وَتوفيت فِي السّنة التَّاسِعَة بعد الْهِجْرَة
وَلذَلِك يُقَال لَهُ ذِي
এই স্বৈরাচারী অর্থাৎ মুয়াবিয়া তোমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিবে, সুতরাং পুরুষদের ব্যাপারে তোমার যদি কোনো প্রয়োজন থাকে তবে আমি তোমার জন্য মুগীরা বিন নওফলকে পছন্দ করেছি।
আর যখন আলীর পক্ষ থেকে তার ইদ্দত শেষ হলো, মুয়াবিয়া তাকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়ে এক হাজার দিনার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করলেন এবং মুগীরাকে বিয়ে করলেন। তার অভিভাবক ছিলেন তার খালাতো ভাই হাসান বিন আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)। মুগীরার ঔরসে ইয়াহইয়া বিন মুগীরা জন্মগ্রহণ করেন।
পরিচ্ছেদ উসমান বিন আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কন্যা রুকাইয়্যাহকে বিয়ে করেন। যখন তিনি তেত্রিশ বছর বয়সের ছিলেন তখন তার সন্তান জন্মগ্রহণ করে।
তিনি উতবা বিন আবু লাহাবের বিবাহাধীনে ছিলেন এবং সহবাসের পূর্বেই তার পিতার আদেশে তিনি তাকে তালাক দেন, যখন 'আবু লাহাবের দুই হাত ধ্বংস হোক' আয়াত নাযিল হয়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার বিরুদ্ধে বদদোয়া করে বলেছিলেন, "হে আল্লাহ! আপনার কুকুরদের মধ্য থেকে একটি কুকুরকে তার উপর লেলিয়ে দিন।" অতঃপর এক ভ্রমণের সময় বণিকদের মাঝ থেকে তাকে একটি সিংহ ধরে নিয়ে যায় এবং তাকে খেয়ে ফেলে। তার উত্তরসূরি ছিল।
রুকাইয়্যাহ নারীদের মধ্যে অত্যন্ত সুন্দরী ছিলেন এবং একবার তিনি উসমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন।
তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন, "আমি কোনো নারীর জন্য তার স্বামীর ব্যাপারে অধিক অভিযোগ করা পছন্দ করি না। তুমি তোমার বাড়িতে ফিরে যাও।"
তিনি হিজরি তৃতীয় সনের রমজান মাসে মৃত্যুবরণ করেন।
ওমর বিন খাত্তাব তার কাছে তার কন্যা হাফসাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন, কিন্তু তিনি (উসমান) তাতে অনীহা প্রকাশ করলেন।
এ খবর যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে পৌঁছালো, তখন তিনি বললেন, "উসমান তাকে বিয়ে করবে যে হাফসার চেয়ে উত্তম, আর হাফসা তাকে বিয়ে করবে যে উসমানের চেয়ে উত্তম।"
অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাফসাকে বিয়ে করলেন এবং উসমান রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কন্যা উম্মে কুলসুমকে হিজরি তৃতীয় সনে বিয়ে করলেন।
তিনি উতাইবা বিন আবু লাহাবের বিবাহাধীনে ছিলেন। তার ভাইয়ের মতোই তার পিতার আদেশে সহবাসের পূর্বেই তিনি তাকে তালাক দেন। তাদের মা ছিল জ্বালানি কাষ্ঠ বহনকারিণী। উতবা এবং মুআত্তিব মক্কা বিজয়ের বছর ইসলাম গ্রহণ করেন।
তিনি হিজরি নবম সনে মৃত্যুবরণ করেন।
এ কারণেই তাকে 'যু' (দুই নূরের অধিকারী) বলা হয়।