(খণ্ড: ১) খুলাসাতু সিয়ারি সাইয়্যিদিল বাশার (পৃষ্ঠা: -)
خلاصة سير سيد البشر   (محب الدين الطبري)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: خلاصة سير سيد البشر

المؤلف: محب الدين أبو جعفر بن عبد الله بن محمد بن أبي بكر الطبري المكي الشافعي (615 - 694 هـ)

دراسة وتحقيق: د طلال بن جميل الرفاعي

الناشر: مكتبة نزار مصطفى الباز - مكة المكرمة، الرياض

الطبعة: الأولى، 1418 هـ - 1997 م

عدد الصفحات: 182

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মানবজাতির শ্রেষ্ঠতমের জীবনীসমূহের সারসংক্ষেপ   (মুহিব্বুদ্দীন আত-তবারী)

বিভাগ: সীরাত আন-নববীয়া


গ্রন্থ: মানবজাতির শ্রেষ্ঠতমের জীবনীসমূহের সারসংক্ষেপ

লেখক: মুহিব্বুদ্দীন আবু জাফর বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আবি বকর আত-তবারী আল-মাক্কী আশ-শাফিঈ (৬১৫ - ৬৯৪ হিজরি)

গবেষণা ও সম্পাদনা: ড. তলাল বিন জামিল আর-রিফায়ি

প্রকাশক: মাকতাবাতু নিযার মুস্তফা আল-বায - মক্কা মুকাররমা, রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) খুলাসাতু সিয়ারি সাইয়্যিদিল বাশার (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

 

الْحَمد لله على نواله وَله الشُّكْر على وَاسع أفضاله وَأفضل صلواته على النَّبِي مُحَمَّد وَآله وَبعد فَهَذَا مُخْتَصر فِيهِ ذكر نسب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وميلاده ونبذ من غَزَوَاته وأحواله وحجه وعمره وأسمائه وَصِفَاته وَبَعض مَكَارِم أخلاقه ومعجزاته وَذكر أَزوَاجه وبنيه وَبنَاته وأعمامه وعماته وَذكر خدمه وخيله ونعمه وسلاحه وأثاثه وثيابه ووفاته صلى الله عليه وسلم جمعته عقله عجلَان وعقيله أصل وإفتان من إثنى عشر مؤلفا مَا بَين كَبِير انتخبته وصغير اختصرته وسميته بخلاصة سير سيد الْبشر صلى الله عليه وسلم ويشتمل على أَرْبَعَة وَعشْرين فصلا
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য তাঁর দান-অনুগ্রহের ওপর এবং তাঁরই কৃতজ্ঞতা তাঁর প্রশস্ত কৃপার ওপর। তাঁর সর্বোত্তম দরুদ বর্ষিত হোক নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারের ওপর। অতঃপর, এটি একটি সংক্ষিপ্ত সার যাতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশপরিচয়, জন্ম, তাঁর যুদ্ধবিগ্রহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও তাঁর অবস্থাদি, তাঁর হজ ও ওমরাহ, তাঁর নাম ও গুণাবলী এবং তাঁর মহৎ চরিত্র ও মুজিযাসমূহের কিছু অংশ বর্ণিত হয়েছে। আরও বর্ণিত হয়েছে তাঁর স্ত্রীগণ, পুত্র-কন্যাগণ, চাচা ও ফুফুদের কথা। এতে তাঁর সেবকগণ, ঘোড়া, গবাদি পশু, অস্ত্রশস্ত্র, আসবাবপত্র, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং তাঁর ইন্তেকাল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণনাও রয়েছে। আমি এটি বারোটি গ্রন্থ থেকে সংকলন করেছি—যার বড়গুলো থেকে আমি চয়ন করেছি এবং ছোটগুলো থেকে সংক্ষেপণ করেছি। আমি এর নামকরণ করেছি ‘খুলাসাতু সিয়ারি সাইয়্যিদিল বাশার’ (মানবজাতির সরদারের সীরাতের সারসংক্ষেপ) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এটি চব্বিশটি পরিচ্ছেদ সম্বলিত।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতু সিয়ারি সাইয়্যিদিল বাশার (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌الْفَصْل الأول فِي نسبه صلى الله عليه وسلم

 

هُوَ أَبُو الْقَاسِم مُحَمَّد بن عبد الله بن عبد الْمطلب بن
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বংশপরিচয় প্রসঙ্গে

 

তিনি হলেন আবুল কাসিম মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিব ইবনে
(খণ্ড: ১) খুলাসাতু সিয়ারি সাইয়্যিদিল বাশার (পৃষ্ঠা: ১৯)
هَاشم بن عبد منَاف بن قصي بن كلاب بن مرّة بن كَعْب بن لؤَي بن غَالب بن فهر بن مَالك
হাশিম ইবনে আবদ মানাফ ইবনে কুসাই ইবনে কিলাব ইবনে মুররাহ ইবনে কাব ইবনে লুআই ইবনে গালিব ইবনে ফিহর ইবনে মালিক।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতু সিয়ারি সাইয়্যিদিল বাশার (পৃষ্ঠা: ২০)
ابْن النَّضر بن كنَانَة بن خُزَيْمَة بن مدركة بن إلْيَاس بن مُضر بن نزار بن معد بن عدنان بن أدد بن مقوم بن ناحور بن تيرح بن يعرب بن يشجب بن ثَابت بن إِسْمَاعِيل بن إِبْرَاهِيم خَلِيل الرَّحْمَن بن آزر بن ناحورا بن ياروخ بن راغوا بن فالخ بن عيير بن شامخ بن أرفخشد بن سَام بن نوح بن لامك بن متوشلخ بن خنوخ وَهُوَ إِدْرِيس أول بني آدم أعْطى النُّبُوَّة وَخط بالقلم بن يزدْ بن مهليل بن قيس بن يانوش بن شِيث

নজর ইবনে কিনানাহ ইবনে খুজায়মাহ ইবনে মুদরিকাহ ইবনে ইলিয়াস ইবনে মুদার ইবনে নিযার ইবনে মা'দ ইবনে আদনান ইবনে উদাদ ইবনে মুকাউউইম ইবনে নাহুর ইবনে তিরাহ ইবনে ইয়ারুব ইবনে ইয়াশজুব ইবনে সাবিত ইবনে ইসমাঈল ইবনে ইবরাহীম—যিনি রাহমানের বন্ধু—ইবনে আযার ইবনে নাহুরা ইবনে ইয়ারুখ ইবনে রাগওয়া ইবনে ফালিজ ইবনে আইয়ার ইবনে শামিখ ইবনে আরফাকশাদ ইবনে সাম ইবনে নূহ ইবনে লামাক ইবনে মাতুশালাখ ইবনে খানুখ—আর তিনি হলেন ইদ্রিস, আদম সন্তানদের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি যাঁকে নবুওয়াত প্রদান করা হয়েছিল এবং যিনি সর্বপ্রথম কলম দিয়ে লিখেছিলেন—ইবনে ইয়ারদ ইবনে মাহলাইল ইবনে কায়াস ইবনে ইয়ানুশ ইবনে শিস।

(খণ্ড: ১) খুলাসাতু সিয়ারি সাইয়্যিদিল বাশার (পৃষ্ঠা: ২১)
بن آدم عليه السلام وَالنّسب إِلَى عدنان مُتَّفق على صِحَّته وَمَا بعده مُخْتَلف فِيهِ إِلَّا أَنهم اتَّفقُوا على أَن النّسَب يرجع إِلَى إِسْمَاعِيل بن إِبْرَاهِيم خَلِيل الله تَعَالَى وقريش هم أَوْلَاد النَّضر وَقيل فهر بن مَالك وَقيل النَّضر بن كنَانَة وَقيل غير ذَلِك وَالْأول أصح وَأشهر وَأم رَسُول الله صلى الله عليه وسلم آمِنَة بنت وهب بن عبد منَاف بن زهرَة بن كلاب وَقد روى أَنَّهَا آمَنت بعد مَوتهَا

أخبرنَا بذلك الشَّيْخ الإِمَام الصَّالح أَبُو الْحسن عَليّ بن أبي عبد الله بن أبي المقير قِرَاءَة عَلَيْهِ بِالْمَسْجِدِ الْحَرَام وَأَنا أسمع سنة سِتّ وَثَلَاثِينَ وسِتمِائَة قَالَ أخبرنَا الشَّيْخ الْحَافِظ أَبُو الْفضل مُحَمَّد بن نَاصِر السلامى أجَازه قَالَ أخبرنَا أَبُو مَنْصُور مُحَمَّد بن أَحْمد بن عَليّ بن عبد الرَّزَّاق الْحَافِظ الزَّاهِد قَالَ أخبرنَا القَاضِي أَبُو بكر مُحَمَّد بن عَمْرو بن مُحَمَّد بن الْأَخْضَر حَدثنَا أَبُو غزيَّة مُحَمَّد بن يحى الزُّهْرِيّ قَالَ حَدثنَا عبد الْوَهَّاب بن مُوسَى الزُّهْرِيّ قَالَ حَدثنَا عبد الرَّحْمَن بن أبي الزِّنَاد عَن
আদমের সন্তান (আলাইহিস সালাম), এবং আদনান পর্যন্ত বংশপরম্পরার বিশুদ্ধতার বিষয়টি সর্বসম্মত এবং তার পরবর্তী বংশধারা সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে; তবে আলেমগণ এ বিষয়ে একমত যে, এই বংশধারা মহান আল্লাহর বন্ধু (খলীল) ইবরাহীমের পুত্র ইসমাঈলের দিকে ফিরে যায়। আর কুরাইশগণ হলো নজর-এর সন্তানাদি, বলা হয়েছে তারা ফিহর বিন মালিকের বংশধর, আবার বলা হয়েছে তারা নজর বিন কিনানার বংশধর, এ ছাড়াও অন্যান্য উক্তি রয়েছে, তবে প্রথমটিই অধিকতর সঠিক ও প্রসিদ্ধ। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাতা হলেন আমিনা বিনতে ওয়াহাব বিন আবদে মানাফ বিন জুহরা বিন কিলাব। আর বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তাঁর ইন্তেকালের পর ঈমান এনেছিলেন।

আমাদের এই সংবাদ দিয়েছেন নেককার শাইখ ইমাম আবুল হাসান আলী বিন আবু আব্দুল্লাহ বিন আবুল মুকাইয়ির, তাঁর নিকট মাসজিদুল হারামে পাঠ করার মাধ্যমে, আর আমি তা শুনছিলাম ছয়শত ছত্রিশ হিজরি সালে; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ হাফেজ আবুল ফজল মুহাম্মাদ বিন নাসির আস-সালামি ইজাজতসূত্রে; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মানসুর মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আলী বিন আব্দুর রাজ্জাক হাফেজ ও দুনিয়াবিমুখ (যাহিদ); তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাজি আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আমর বিন মুহাম্মাদ বিন আল-আখজার; আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু গাজিয়্যাহ মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আজ-জুহরি; তিনি বলেন: আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহহাব বিন মুসা আজ-জুহরি; তিনি বলেন: আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান বিন আবুয যিনাদ, (ইনি বর্ণনা করেছেন)... থেকে।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতু সিয়ারি সাইয়্যিদিল বাশার (পৃষ্ঠা: ২২)
هِشَام بن عُرْوَة عَن أَبِيه عَن عَائِشَة رضي الله عنها أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم نزل الْحجُون كئيبا حَزينًا فَأَقَامَ بِهِ مَا شَاءَ الله عز وجل ثمَّ رَجَعَ مَسْرُورا وَقَالَ سَأَلت رَبِّي عز وجل فأحيا لي أُمِّي فآمنت بِي ثمَّ ردهَا

হিশাম ইবনে উরওয়াহ তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অত্যন্ত বিষণ্ণ ও চিন্তিত অবস্থায় হাজুন নামক স্থানে অবতরণ করেন। সেখানে তিনি মহান আল্লাহ যতটুকু চাইলেন ততক্ষণ অবস্থান করেন। অতঃপর তিনি আনন্দিত অবস্থায় ফিরে আসেন এবং বলেন: "আমি আমার মহান রবের নিকট প্রার্থনা করেছি, ফলে তিনি আমার জন্য আমার মাতাকে জীবিত করেন এবং তিনি আমার প্রতি ঈমান আনেন; এরপর আল্লাহ তাঁকে পুনরায় পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেন।"

(খণ্ড: ১) খুলাসাতু সিয়ারি সাইয়্যিদিল বাশার (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌الْفَصْل الثَّانِي فِي ذكر ميلاده صلى الله عليه وسلم

 

ولد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بِمَكَّة عَام الْفِيل وَقيل بعده بِثَلَاثِينَ يَوْمًا وَقيل بِأَرْبَعِينَ يَوْمًا وَالْأول أصح فِي يَوْم الْإِثْنَيْنِ فِي شهر ربيع الأول وَقيل لليلتين خلتا مِنْهُ وَقيل لثمان وَصَححهُ كثير من
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জন্মবৃত্তান্ত প্রসঙ্গে

 

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় হস্তিবর্ষে জন্মগ্রহণ করেন। বলা হয় যে, তা ছিল হস্তিবর্ষের ত্রিশ দিন পর, আবার বলা হয় চল্লিশ দিন পর; তবে প্রথমোক্ত মতটিই অধিকতর বিশুদ্ধ। তাঁর জন্ম রবিউল আউয়াল মাসের সোমবার দিনে হয়েছিল। কেউ বলেছেন মাসের দুই দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর, আবার কেউ বলেছেন আট তারিখ; আর অনেক (বিদ্বান) একেই বিশুদ্ধ বলে গণ্য করেছেন।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতু সিয়ারি সাইয়্যিদিল বাশার (পৃষ্ঠা: ২৪)
الْعلمَاء وَقيل لِاثْنَتَيْ عشرَة لَيْلَة وَلم يذكر ابْن إِسْحَاق غَيره وَقيل لاثْنَيْنِ مِنْهُ من غير تَيَقّن وَقيل ولد فِي رَمَضَان لاثنتى عشرَة لَيْلَة خلت مِنْهُ وحملت بِهِ أمه فِي أَيَّام التَّشْرِيق فِي شعب أبي طَالب عِنْد الْحُجْرَة
বিদ্বানগণ। এবং বলা হয়েছে যে, বারো তারিখে (তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন) এবং ইবনে ইসহাক এটি ব্যতীত অন্য কোনো মত উল্লেখ করেননি। আরও বলা হয়েছে যে, উক্ত মাসের দুই তারিখে, তবে তা নিশ্চিত নয়। এবং বলা হয়েছে যে, রমজান মাসের বারো তারিখ অতিক্রান্ত হওয়ার পর তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন। আর তাঁর মাতা তাঁকে তাশরিকের দিনগুলোতে আবু তালিবের গিরিসঙ্কটে হুজরার নিকট গর্ভে ধারণ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতু সিয়ারি সাইয়্যিদিল বাশার (পৃষ্ঠা: ২৫)
الْوُسْطَى وَلَيْلَة ميلاده صلى الله عليه وسلم ارتجس إيوَان كسْرَى وَسَقَطت مِنْهُ أَربع عشرَة شرافة وخمدت نَار فَارس وَلم تخمد قبل ذَلِك بِأَلف عَام وغاصت بحيرة ساوة وأفزع ذَلِك كسْرَى
মধ্যবর্তী এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জন্মের রাতে কিসরার রাজপ্রাসাদ প্রকম্পিত হলো এবং তা থেকে চৌদ্দটি চূড়া ধসে পড়ল। পারস্যের অগ্নি নির্বাপিত হয়ে গেল, যা ইতিপূর্বে এক হাজার বছর ধরে কখনো নেভেনি। সাওয়া হ্রদ শুকিয়ে মাটির নিচে তলিয়ে গেল এবং এ বিষয়টি কিসরাকে আতঙ্কিত করে তুলল।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতু সিয়ারি সাইয়্যিদিল বাশার (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌الْفَصْل الثَّالِث ذكر نبذ من أَحْوَاله صلى الله عليه وسلم

 

وَلما ولدت آمِنَة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كَانَ فِي حجر جده عبد الْمطلب فاسترضعته امْرَأَة من بني سعد بن بكر يُقَال لَهَا حليمة بنت أبي ذُؤَيْب السعدية

فروى عَنْهَا أَنَّهَا قَالَت لما وَضعته فِي حجري أقبل ثدياى بِمَا شَاءَ الله من لبن فَشرب حَتَّى روى وَشرب مَعَه أَخُوهُ حَتَّى روى وناما وَمَا كَانَ ينَام قبل ذَلِك وَمَا كَانَ فِي ثدي مَا يرويهِ وَلَا فِي شارفنا مَا يغذيه وَقَامَ زَوجي إِلَى شارفنا تِلْكَ فَنظر إِلَيْهَا فَإِذا بهَا لحافل فَحلبَ مِنْهَا مَا شرب وشربت حَتَّى انتهينا ريا وشبعا فبتنا بِخَير لَيْلَة وَلما رجعت تعنى إِلَى بَلَدهَا ركبت أَتَانِي وَحَمَلته عَلَيْهَا فوَاللَّه لَقطعت بالركب مَا لَا يقدر عَلَيْهَا شَيْء من حمرهم حَتَّى إِن صواحبي ليقلن لي وَيحك يَا بنت أبي ذُؤَيْب أربعي علينا أَلَيْسَ هَذِه أتانك الَّتِي كنت خرجت عَلَيْهَا فَأَقُول لَهُنَّ بلَى وَالله إِنَّهَا لهي

فيقلن وَالله إِن لَهَا لشأنا وَكَانَت قبل ذَلِك قد أذمت بالركب حَتَّى شقّ عَلَيْهِم ضعفا وجعفا فقدمنا مَنَازلنَا وَمَا أعلم أَرضًا من أَرض الله أجدب مِنْهَا وَكَانَت غنمى تروح على حِين قدمنَا بهَا مَعنا شبعا فنحلب وَنَشْرَب وَمَا يحلب
তৃতীয় অধ্যায়: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অবস্থা ও ঘটনাবলির কিয়দাংশ আলোচনা

 

যখন আমিনা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রসব করলেন, তখন তিনি তাঁর দাদা আবদুল মুত্তালিবের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। অতঃপর বনু সা'দ বিন বকর গোত্রের হালিমা বিনতে আবি জুয়াইব আস-সা'দিয়া নামক এক মহিলা তাঁকে দুধ পান করানোর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

তাঁর (হালিমা) পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: যখন আমি তাঁকে আমার কোলে নিলাম, তখন আল্লাহ যা চাইলেন আমার স্তন দুটিতে সেই পরিমাণ দুধ উপচে পড়ল। অতঃপর তিনি তৃপ্ত হয়ে পান করলেন এবং তাঁর সাথে তাঁর (দুধ) ভাইও তৃপ্ত হয়ে পান করল। এরপর তারা দুজনেই ঘুমিয়ে পড়ল। অথচ এর আগে শিশুটি (ক্ষুধার কারণে) ঘুমাতে পারত না, কারণ আমার স্তনে তাকে তৃপ্ত করার মতো দুধ ছিল না এবং আমাদের বৃদ্ধ উটনীতেও তাকে পুষ্টি দেওয়ার মতো কিছু ছিল না। আমার স্বামী আমাদের সেই বৃদ্ধ উটনীটির কাছে গিয়ে দেখলেন সেটি দুধে পূর্ণ হয়ে আছে। তিনি তা থেকে দুধ দোহন করলেন, যা তিনি নিজেও পান করলেন এবং আমিও পান করলাম, এমনকি আমরা পরিপূর্ণ তৃপ্তি ও পরিতুষ্টি লাভ করলাম। এভাবে আমরা একটি অতি উত্তম রাত অতিবাহিত করলাম। এরপর যখন আমি—অর্থাৎ হালিমা—নিজের দেশে ফিরে আসছিলাম, তখন আমি আমার মাদী গাধার ওপর আরোহণ করলাম এবং তাঁকে সেটির ওপর বহন করলাম। আল্লাহর কসম! তখন আমি কাফেলার সাথে এমন দ্রুতবেগে পথ অতিক্রম করছিলাম যা তাদের কোনো গাধার পক্ষে সম্ভব ছিল না। এমনকি আমার সঙ্গিনীরা আমাকে বলতে লাগল, "আফসোস তোমার জন্য হে আবু জুয়াইবের কন্যা! আমাদের জন্য একটু থামো। এটা কি সেই একই গাধা নয় যার ওপর সওয়ার হয়ে তুমি এসেছিলে?" আমি তাদের বললাম, "হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! এটি সেই গাধাই।"

তখন তারা বলতে লাগল, "আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই এর বিশেষ কোনো রহস্য রয়েছে।" অথচ এর আগে এটি দুর্বলতা ও কৃশতার কারণে কাফেলার পেছনে পড়ে থাকত এবং তাদের জন্য কষ্টের কারণ হতো। অতঃপর আমরা আমাদের আবাসে পৌঁছলাম। আল্লাহর যমিনের মধ্যে এর চেয়ে অধিক শুষ্ক ও ঊষর কোনো এলাকা আমার জানা ছিল না। কিন্তু আমরা যখন তাঁকে নিয়ে সেখানে পৌঁছলাম, তখন আমার বকরিগুলো চারণভূমি থেকে সন্ধ্যাবেলা পেটভর্তি অবস্থায় ফিরে আসত। ফলে আমরা দুধ দোহন করতাম এবং পান করতাম, অথচ অন্যদের কেউ এক ফোঁটা দুধও দোহন করতে পারত না।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতু সিয়ারি সাইয়্যিদিল বাশার (পৃষ্ঠা: ২৭)
إِنْسَان قَطْرَة لبن وَمَا يجدهَا فِي ضرع حَتَّى كَانَ الْحَاضِر من قَومنَا يَقُولُونَ لرعيانهم وَيْلكُمْ اسرحوا حَيْثُ يسرح راعي بنت أبي ذُؤَيْب

‌‌قصَّة شقّ بَطْنه صلى الله عليه وسلم

 

فَلَمَّا شب وَبلغ سنتيه فَبَيْنَمَا هُوَ وَأَخُوهُ فِي
মানুষ এক ফোঁটা দুধ পেত না এবং ওলানে তা খুঁজে পাওয়া যেত না, এমনকি আমাদের গোত্রের উপস্থিত লোকেরা তাদের রাখালদের বলত, "তোমাদের ধ্বংস হোক! তোমরা সেখানেই চরাও যেখানে আবু জুয়াইবের কন্যার রাখাল চরায়।"

তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বক্ষ বিদীর্ণ করার ঘটনা

 

অতঃপর যখন তিনি বড় হলেন এবং দুই বছর বয়সে উপনীত হলেন, তখন তিনি এবং তাঁর (দুধ) ভাই যখন অবস্থান করছিলেন...
(খণ্ড: ১) খুলাসাতু সিয়ারি সাইয়্যিদিল বাশার (পৃষ্ঠা: ২৮)
بهم لنا إِذْ جَاءَ أَخُوهُ يشْتَد فَقَالَ لي ولأبيه ذَاك أخي الْقرشِي قد أَخذه رجلَانِ عَلَيْهِمَا ثِيَاب بيض فأضجعاه فشقا بَطْنه فهما يسوطانه قَالَت فخرجنا نَحوه فوجدناه قَائِما منتقعا وَجهه قَالَت فالتزمناه وَقُلْنَا مَالك قَالَ جَاءَنِي رجلَانِ عَلَيْهِمَا ثِيَاب بيض فأضجعاني فشقا بَطْني فَالْتَمَسَا فِيهِ شَيْئا لَا أَدْرِي مَا هُوَ قَالَت فرجعنا بِهِ إِلَى أحبائنا فَقَالَ
আমাদের নিকট যখন তাঁর ভাই দ্রুতবেগে ছুটে এল এবং আমাকে ও তাঁর পিতাকে বলল, "আমার সেই কুরাইশী ভাইটিকে সাদা পোশাক পরিহিত দুইজন লোক ধরে নিয়ে গেছে, তাঁরা তাঁকে শুইয়ে দিয়ে তাঁর উদর বিদীর্ণ করেছে এবং তাঁরা তাতে কিছু একটা নাড়াচাড়া করছে।" তিনি (হালিমা) বললেন, অতঃপর আমরা তাঁর অভিমুখে বেরিয়ে গেলাম এবং তাঁকে দণ্ডায়মান অবস্থায় পেলাম, তখন তাঁর চেহারা ছিল বিবর্ণ। তিনি বললেন, আমরা তাঁকে জড়িয়ে ধরলাম এবং জিজ্ঞাসা করলাম, "তোমার কী হয়েছে?" তিনি বললেন, "সাদা পোশাক পরিহিত দুইজন লোক আমার নিকট এল এবং তাঁরা আমাকে শুইয়ে দিল, অতঃপর আমার উদর বিদীর্ণ করল এবং তাতে কিছু একটা সন্ধান করল, আমি জানি না তা কী ছিল।" তিনি বললেন, অতঃপর আমরা তাঁকে নিয়ে আমাদের আবাসস্থলে ফিরে এলাম। তখন তিনি বললেন...
(খণ্ড: ১) খুলাসাতু সিয়ারি সাইয়্যিদিল বাশার (পৃষ্ঠা: ২৯)
أَبوهُ يَا حليمة لقد خشيت أَن يكون هَذَا الْغُلَام قد أُصِيب فألحقيه بأَهْله قبل أَن يظْهر بِهِ ذَلِك قَالَت فاحتملناه فقدمنا بِهِ على أمه فَقَالَت مَا أقدمك يَا ظئر وَقد كنت حريصة عَلَيْهِ وَلم تزل بهَا حَتَّى أخْبرتهَا خبْرَة فَقَالَت أمه كلا وَالله مَا للشَّيْطَان عَلَيْهِ سَبِيل وَإِن لِابْني هَذَا لشأنا أَفلا أخْبرك خَبره قَالَت بلَى قَالَت رَأَيْت حِين حملت بِهِ أَنه خرج مني نور أَضَاء لَهُ قُصُور بصرى من أَرض الشَّام ثمَّ حملت بِهِ فوَاللَّه مَا رَأَيْت من حمل قطّ كَانَ

তার পিতা বললেন, "হে হালিমা, আমি আশঙ্কা করছি যে এই শিশুটি কোনো অনিষ্ট দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে, তাই তার মধ্যে এর লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার আগেই তাকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দাও।" হালিমা বললেন, "অতঃপর আমরা তাকে বহন করে নিয়ে তার মায়ের নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি বললেন, 'হে ধাত্রী, তোমাকে কিসে ফিরিয়ে আনল? অথচ তুমি তাকে নিজের কাছে রাখার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলে।' তিনি ক্রমাগত তাকে জিজ্ঞাসা করতে থাকলেন যতক্ষণ না হালিমা তাকে প্রকৃত সংবাদ জানালেন। তখন তার মা বললেন, 'কখনোই নয়, আল্লাহর কসম! শয়তানের তার ওপর কোনো আধিপত্য নেই। নিশ্চয়ই আমার এই পুত্রের জন্য এক মহান মর্যাদা রয়েছে। আমি কি তোমাকে তার সম্পর্কে সংবাদ দেব না?' তিনি (হালিমা) বললেন, 'অবশ্যই।' আমিনা বললেন, 'আমি যখন তাকে গর্ভে ধারণ করেছিলাম, তখন দেখলাম যে আমার মধ্য থেকে এমন একটি নূর (আলো) নির্গত হলো যার দ্বারা সিরিয়া ভূখণ্ডের বুসরার প্রাসাদসমূহ আলোকিত হয়ে উঠল। অতঃপর আমি তাকে গর্ভে ধারণ করলাম, আল্লাহর কসম, আমি এমন কোনো গর্ভধারণ দেখিনি যা ছিল...’"

(খণ্ড: ১) খুলাসাতু সিয়ারি সাইয়্যিদিল বাশার (পৃষ্ঠা: ৩০)
أخف مِنْهُ ثمَّ وَقع حِين وَلدته وَإنَّهُ لواضع يَدَيْهِ بِالْأَرْضِ رَافع رَأسه إِلَى السَّمَاء دعيه عَنْك وانطلقي راشدة وأرضعته ثويبة أَيْضا جَارِيَة أبي
তার চেয়েও সহজতর; অতঃপর আমি যখন তাঁকে প্রসব করলাম তখন তিনি ভূমিষ্ঠ হলেন এবং তিনি তাঁর দুই হাত জমিনের ওপর স্থাপনকারী ও তাঁর মাথা আকাশের দিকে উত্তোলনকারী অবস্থায় ছিলেন। তাঁকে তোমার নিকট রেখে দাও এবং সুপথপ্রাপ্ত হয়ে প্রস্থান করো। আর আবু লাহাবের দাসী সুওয়াইবাও তাঁকে স্তন্যদান করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতু সিয়ারি সাইয়্যিদিল বাশার (পৃষ্ঠা: ৩১)
لَهب وأرضعت مَعَه حَمْزَة بن عبد الْمطلب وَأَبا سَلمَة عبد الله بن عبد الْأسد المَخْزُومِي بِلَبن ابْنهَا مسروح

‌‌حضانته صلى الله عليه وسلم

 

وحضنته أم أَيمن الحبشية حَتَّى كبر فَأعْتقهَا صلى الله عليه وسلم وَزوجهَا زيد بن حَارِثَة
লাহাব এবং তিনি তাঁর সাথে হামযা বিন আব্দুল মুত্তালিব ও আবু সালামা আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আসাদ আল-মাখযুমিকে তাঁর পুত্র মাসরুহ-এর দুধ পান করিয়েছেন।

‌‌তাঁর লালন-পালন (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)

 

এবং উম্মে আয়মান আল-হাবাশি তাঁকে লালন-পালন করেন যতক্ষণ না তিনি বড় হন, অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে মুক্ত করে দেন এবং যায়েদ বিন হারিসার সাথে তাঁর বিবাহ দেন।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতু সিয়ারি সাইয়্যিদিল বাশার (পৃষ্ঠা: ৩২)
فَولدت لَهُ أُسَامَة وَكَانَ ورثهَا من أَبِيه وَمَات أَبوهُ عبد الله بِيَثْرِب وَكَانَ لما تزوج آمِنَة وحملت مِنْهُ صلى الله عليه وسلم بعث بِهِ عبد الْمطلب يمتار تَمرا مِنْهَا فتوفى بهَا وَقيل بالأبواء بَين مَكَّة وَالْمَدينَة
অতঃপর তিনি তাঁর জন্য উসামাকে জন্ম দিলেন এবং তিনি তাঁকে তাঁর পিতার নিকট থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করেছিলেন। তাঁর পিতা আবদুল্লাহ ইয়াছরিবে মৃত্যুবরণ করেন। যখন তিনি আমিনাকে বিবাহ করেন এবং আমিনা তাঁর থেকে তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গর্ভে ধারণ করেন, তখন আবদুল মুত্তালিব তাঁকে সেখান থেকে খেজুর সংগ্রহের জন্য পাঠিয়েছিলেন; অতঃপর তিনি সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। আর বলা হয় যে, তিনি মক্কা ও মদিনার মধ্যবর্তী স্থান আবওয়াতে মৃত্যুবরণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতু সিয়ারি সাইয়্যিদিল বাশার (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وَقيل مَاتَ أَبوهُ وَقد أَتَى عَلَيْهِ ثَمَانِيَة وَعِشْرُونَ شهرا وَقيل سَبْعَة أشهر وَقيل شَهْرَان فَلَمَّا بلغ سِتّ سِنِين وَقيل أَرْبعا مَاتَت أمه فَيتم فِي حجر جده عبد الْمطلب فَلَمَّا بلغ ثَمَانِي سِنِين وشهرين وَعشرَة أَيَّام توفى عبد الْمطلب فَوَلِيه عَمه أَبُو طَالب وَكَانَ أَخ عبد الله لِأَبَوَيْهِ ومنحه الله كل خلق جميل حَتَّى لم يكن يعرف بَين قومه إِلَّا بالأمين
বলা হয়েছে যে, তাঁর পিতার মৃত্যু হয়েছিল যখন তাঁর বয়স ছিল আটাশ মাস। আবার বলা হয়েছে সাত মাস, এবং এ-ও বলা হয়েছে যে দুই মাস। অতঃপর যখন তিনি ছয় বছর বয়সে পৌঁছালেন—মতান্তরে চার বছর—তখন তাঁর মাতা ইন্তেকাল করলেন। ফলে তিনি তাঁর দাদা আব্দুল মুত্তালিবের তত্ত্বাবধানে এতিম হিসেবে লালিত-পালিত হতে থাকেন। যখন তিনি আট বছর দুই মাস দশ দিন বয়সে উপনীত হলেন, তখন আব্দুল মুত্তালিব ইন্তেকাল করলেন। অতঃপর তাঁর চাচা আবু তালিব তাঁর দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন; তিনি ছিলেন আব্দুল্লাহর সহোদর ভাই। আল্লাহ তাঁকে প্রতিটি সুন্দর চরিত্রে ভূষিত করেছিলেন, এমনকি তিনি তাঁর কওমের মাঝে কেবল ‘আল-আমিন’ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতু সিয়ারি সাইয়্যিদিল বাশার (পৃষ্ঠা: ৩৪)
1 - 2 3 4 5 6 نعم فَقَالَ وَالله لَئِن قدمت بِهِ الشَّام لتقتلنه الْيَهُود فَرده خوفًا عَلَيْهِ مِنْهُم ثمَّ
1 - 2 3 4 5 6 হ্যাঁ, তিনি বললেন: আল্লাহর শপথ! আপনি যদি তাকে নিয়ে সিরিয়াতে যান, তবে অবশ্যই ইহুদীরা তাকে হত্যা করবে। তাই তিনি তাদের পক্ষ থেকে তার ওপর বিপদের আশঙ্কায় তাকে ফেরত পাঠালেন। অতঃপর...
(খণ্ড: ১) খুলাসাতু সিয়ারি সাইয়্যিদিল বাশার (পৃষ্ঠা: ৩৫)
خرج صلى الله عليه وسلم مرّة ثَانِيَة إِلَى الشَّام مَعَ ميسرَة غُلَام خَدِيجَة فِي تِجَارَة لَهَا قبل أَن يَتَزَوَّجهَا فَلَمَّا قدم الشَّام نزل تَحت ظلّ شَجَرَة قَرِيبا من صومعة رَاهِب فَاطلع الراهب إِلَى ميسرَة فَقَالَ من هَذَا الرجل فَقَالَ لَهُ ميسرَة رجل من قُرَيْش من أهل الْحرم فَقَالَ مَا نزل تَحت هَذِه الشَّجَرَة قطّ إِلَّا نَبِي
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খাদিজার গোলাম মায়সারার সাথে তাঁর ব্যবসার উদ্দেশ্যে দ্বিতীয়বার শামের অভিমুখে বের হলেন, তাঁকে বিবাহ করার পূর্বে। অতঃপর যখন তিনি শামে পৌঁছালেন, তখন জনৈক সন্ন্যাসীর উপাসনালয়ের সন্নিকটে একটি বৃক্ষের ছায়ার নিচে অবস্থান নিলেন। তখন সেই সন্ন্যাসী মায়সারার প্রতি দৃষ্টিপাত করে জিজ্ঞেস করলেন, "এই ব্যক্তিটি কে?" মায়সারা তাকে বললেন, "তিনি কুরাইশ বংশীয় একজন লোক, পবিত্র হারামের অধিবাসী।" তখন সন্ন্যাসী বললেন, "এই বৃক্ষের নিচে নবী ব্যতীত অন্য কেউ কখনো অবস্থান করেনি।"
(খণ্ড: ১) খুলাসাতু সিয়ারি সাইয়্যিদিল বাশার (পৃষ্ঠা: ৩৬)
‌‌بَيْعه وشراؤه

 

ثمَّ بَاعَ صلى الله عليه وسلم سلْعَته وَاشْترى مَا أَرَادَ أَن يَشْتَرِيهِ ثمَّ أقبل قَافِلًا إِلَى مَكَّة فَقيل إِن ميسرَة قَالَ كَانَ إِذا كَانَت الهاجرة وَاشْتَدَّ الْحر نزل ملكان يظلانه من الشَّمْس وَهُوَ يسير على بعيره فَلَمَّا قدم مَكَّة باعت خَدِيجَة مَا جَاءَ بِهِ بأضعافه أَو قَرِيبا

‌‌سَبَب تَزْوِيجه خَدِيجَة

 

وأخبرها ميسرَة بقول الراهب وبإظلال الْملكَيْنِ لَهُ فَبعثت إِلَيْهِ وَعرضت نَفسهَا عَلَيْهِ فَقَالَت فيمَ يَزْعمُونَ يَا بن الْعم إِنِّي قد رغبت فِيك لقرابتك مني وشرفك فِي قَوْمك وسطتك فيهم وأمانتك عِنْدهم وَحسن خلقك
তাঁর ক্রয়-বিক্রয়

 

অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পণ্যসামগ্রী বিক্রয় করলেন এবং যা ক্রয় করার ইচ্ছা ছিল তা ক্রয় করলেন। এরপর তিনি মক্কার পথে প্রত্যাবর্তন করলেন। বর্ণিত আছে যে, মাইসারা বলেছিলেন, যখন দ্বিপ্রহর হতো এবং প্রচণ্ড উত্তাপ বৃদ্ধি পেত, তখন দুইজন ফেরেশতা অবতীর্ণ হয়ে তাঁকে সূর্যের তাপ থেকে ছায়া দান করতেন যখন তিনি তাঁর উটের পিঠে আরোহণ করে চলতেন। এরপর তিনি যখন মক্কায় পৌঁছালেন, তখন খাদিজা (রাযি.) তাঁর আনীত মালামাল দ্বিগুণ বা তার কাছাকাছি মূল্যে বিক্রয় করলেন।

খাদিজার সাথে তাঁর বিবাহের কারণ

 

মাইসারা তাঁকে (খাদিজাকে) পাদ্রীর বক্তব্য এবং দুইজন ফেরেশতার ছায়া প্রদানের ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করলেন। তখন খাদিজা (রাযি.) তাঁর নিকট সংবাদ পাঠালেন এবং নিজেকে তাঁর কাছে বিবাহের জন্য পেশ করলেন। তিনি বললেন (যেমনটি বর্ণিত হয়েছে)—হে চাচাতো ভাই! আপনার সাথে আমার আত্মীয়তা, আপনার জাতির মধ্যে আপনার মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব, আপনার আমানতদারি এবং আপনার উত্তম চরিত্রের কারণে আমি আপনার প্রতি আগ্রহী হয়েছি।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতু সিয়ারি সাইয়্যিদিল বাশার (পৃষ্ঠা: ৩৭)
وَصدق حَدِيثك ثمَّ عرضت نَفسهَا عَلَيْهِ وَكَانَت رضي الله عنها حازمة لَبِيبَة شريفة وَهِي يَوْمئِذٍ من أَوسط نسَاء قُرَيْش أَي أعدلهن وأفضلهن وأعظمهن شرفا وأكثرهن مَالا كل من قَومهَا قد كَانَ حَرِيصًا على ذَلِك مِنْهَا لَو يقدر عَلَيْهِ فَلَمَّا قَالَت لرَسُول الله ذَلِك (ذكره لأعمامه، فَخرج مَعَه مِنْهُم حَمْزَة بن عبد الْمطلب، حَتَّى دخل على خويلد بن أَسد فَخَطَبَهَا اليه فَقبل)
এবং আপনার কথার সত্যতা। অতঃপর তিনি তাঁর নিকট নিজেকে (বিয়ের জন্য) পেশ করলেন। তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) ছিলেন দৃঢ়চেতা, বুদ্ধিমতী ও সম্ভ্রান্ত। আর সে সময় তিনি কুরাইশ বংশীয় নারীদের মধ্যে আভিজাত্যের দিক থেকে ছিলেন শ্রেষ্ঠ; অর্থাৎ তাদের মধ্যে সর্বাধিক ভারসাম্যপূর্ণ, সর্বোত্তম, সম্মানের দিক থেকে সুমহান এবং সম্পদের দিক থেকে প্রাচুর্যময়। তাঁর সম্প্রদায়ের প্রত্যেকেই এই আত্মীয়তা লাভের ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিল, যদি তারা তা লাভে সক্ষম হতো। যখন তিনি আল্লাহর রাসূলের নিকট এ কথা ব্যক্ত করলেন, (তখন তিনি তা তাঁর চাচাদের নিকট উল্লেখ করলেন। ফলে তাঁদের মধ্য থেকে হামযাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব তাঁর সাথে বের হলেন এবং খুওয়াইলিদ ইবনে আসাদের নিকট প্রবেশ করলেন। অতঃপর তিনি তাঁর নিকট বিয়ের প্রস্তাব পেশ করলেন এবং তিনি তা গ্রহণ করলেন)।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতু সিয়ারি সাইয়্যিদিল বাশার (পৃষ্ঠা: ৩৮)
‌‌خطْبَة أَبى طَالب

 

وَحضر أَبُو طَالب ورؤساء مُضر فَخَطب أَبُو طَالب فَقَالَ الْحَمد لله الَّذِي جعلنَا من ذُرِّيَّة إِبْرَاهِيم وَزرع إِسْمَاعِيل وضئضى معد وعنصر مُضر وَجَعَلنَا حضنة بَيته وسواس حرمه وَجعل لنا بَيْتا محجوبا وحرما آمنا وَجَعَلنَا الْحُكَّام على النَّاس ثمَّ إِن ابْن أخي هَذَا مُحَمَّد بن عبد الله لَا يُوزن بِهِ رجل إِلَّا رجح بِهِ فَإِن كَانَ فِي المَال فَإِن المَال ظلّ زايل وَأمر حَائِل وَمُحَمّد من قد عَرَفْتُمْ قرَابَته وَقد خطب خَدِيجَة بنت خويلد وبذل لَهَا من الصَدَاق مَا آجله وعاجله من مَالِي كَذَا وَهُوَ وَالله بعد هَذَا لَهُ نبأ عَظِيم وخطب جليل فَتَزَوجهَا

‌‌سنة يَوْم تَزْوِيجه

 

وَقد بلغ صلى الله عليه وسلم خمْسا وَعشْرين سنة وشهرين وَعشرَة أَيَّام وَهِي يَوْمئِذٍ ابْنة ثَمَان وَعشْرين سنة وروى أَنه أصدقهَا اثنتى عشرَة أُوقِيَّة
আবু তালিবের ভাষণ

 

আবু তালিব এবং মুদার গোত্রের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হলেন। অতঃপর আবু তালিব ভাষণ প্রদান করে বললেন, "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের ইব্রাহিমের বংশধারা, ইসমাইলের বংশধর, মা'আদের বংশমূল এবং মুদারের মূল উপাদান থেকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি আমাদের তাঁর ঘরের তত্ত্বাবধায়ক এবং তাঁর হারামের সেবক করেছেন। তিনি আমাদের জন্য হজ্জের একটি গৃহ ও নিরাপদ হারাম নির্ধারণ করেছেন এবং আমাদের মানুষের উপর শাসক নিযুক্ত করেছেন। অতঃপর আমার এই ভ্রাতুষ্পুত্র মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহর সাথে যে কোনো পুরুষেরই তুলনা করা হোক না কেন, সে ওজনে তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ প্রমাণিত হবে। আর যদি সম্পদের কথা আসে, তবে সম্পদ তো এক ক্ষণস্থায়ী ছায়া এবং পরিবর্তনশীল বিষয় মাত্র। মুহাম্মদের বংশীয় মর্যাদা সম্পর্কে তোমরা অবগত আছ। সে খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদকে বিবাহের প্রস্তাব প্রদান করেছে এবং আমার সম্পদ থেকে তার জন্য নগদ ও বাকিতে নির্ধারিত পরিমাণ মোহরানা অর্পণ করেছে। আল্লাহর কসম, ভবিষ্যতে তাঁর এক মহান সংবাদ ও গুরুত্ববহ বিষয় রয়েছে।" অতঃপর তিনি তাকে বিবাহ করলেন।

তাঁর বিবাহের সময়কার বয়স

 

তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বয়স তখন পঁচিশ বছর দুই মাস দশ দিন পূর্ণ হয়েছিল এবং তিনি (খাদিজা) সেদিন আঠাশ বছর বয়সী ছিলেন। বর্ণিত আছে যে, তিনি তাঁকে বারো উকিয়া মোহরানা প্রদান করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতু সিয়ারি সাইয়্যিদিল বাশার (পৃষ্ঠা: ৩৯)
ذهب فَبَقيت عِنْده قبل الْوَحْي خمس عشرَة سنة وَبعده إِلَى مَا قبل الْهِجْرَة بِثَلَاث سِنِين فَمَاتَتْ ولرسول الله صلى الله عليه وسلم تسع وَأَرْبَعُونَ سنة وَثَمَانِية أشهر وَكَانَت لَهُ وَزِير صدق وروى أَن آدم عليه السلام قَالَ إِنِّي لسَيِّد الْبشر يَوْم الْقِيَامَة إِلَّا رجل من ذريتي فضل على بِاثْنَتَيْنِ كَانَت زَوجته عونا لَهُ وَكَانَت زَوْجَتي عونا عَليّ وأعانه الله على شَيْطَانه فَأسلم وَكفر شيطاني وروى أَن أول من أسلم من النِّسَاء خَدِيجَة وَمن الرِّجَال أَبُو بكر وَمن الغلمان على بن أبي طَالب وَقَالَ صلى الله عليه وسلم (أمرت أَن أبشر خَدِيجَة بِبَيْت فِي الْجنَّة من قصب لَا صخب فِيهِ وَلَا نصب) وأتى جِبْرِيل النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَقْْرِئ خَدِيجَة من رَبهَا السَّلَام فَقَالَ صلى الله عليه وسلم (يَا خَدِيجَة هَذَا جِبْرِيل يُقْرِئك من رَبك السَّلَام فَقَالَت الله السَّلَام وَمِنْه السَّلَام على جِبْرِيل السَّلَام)

তিনি ওহী অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে পনের বছর এবং এরপর হিজরতের তিন বছর পূর্ব পর্যন্ত তাঁর নিকট অবস্থান করেন। অতঃপর তিনি ইন্তেকাল করেন এবং তখন আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বয়স ছিল উনপঞ্চাশ বছর আট মাস। তিনি তাঁর জন্য একজন সত্যনিষ্ঠ উপদেষ্টা ছিলেন। বর্ণিত আছে যে, আদম (আলাইহিস সালাম) বলেছেন: "কিয়ামতের দিন আমি মানবজাতির সর্দার হবো, তবে আমার বংশধরদের মধ্যে এমন এক ব্যক্তি ব্যতীত যাকে আমার ওপর দুটি বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব দান করা হয়েছে: তাঁর স্ত্রী তাঁর জন্য অনুকূল সহায়িকা ছিলেন, আর আমার স্ত্রী ছিলেন আমার প্রতিকূলে; এবং আল্লাহ তাঁকে তাঁর শয়তানের বিরুদ্ধে সাহায্য করেছেন ফলে সে অনুগত (মুসলিম) হয়েছে, আর আমার শয়তান কুফরি করেছে।" বর্ণিত আছে যে, নারীদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন খাদিজা, পুরুষদের মধ্যে আবু বকর এবং বালকদের মধ্যে আলী ইবনে আবি তালিব। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন আমি খাদিজাকে জান্নাতে ফাঁপা মুক্তার তৈরি এমন একটি গৃহের সুসংবাদ দেই, যেখানে কোনো শোরগোল থাকবে না এবং কোনো ক্লান্তি থাকবে না।" জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিকট এসে বললেন: "খাদিজাকে তাঁর রবের পক্ষ থেকে সালাম জানান।" তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "হে খাদিজা, এই যে জিবরাঈল তোমাকে তোমার রবের পক্ষ থেকে সালাম দিচ্ছেন।" তখন তিনি বললেন: "আল্লাহই সালাম (শান্তি), তাঁর থেকেই শান্তি এবং জিবরাঈলের ওপরও শান্তি বর্ষিত হোক।"

(খণ্ড: ১) খুলাসাতু সিয়ারি সাইয়্যিদিল বাশার (পৃষ্ঠা: ৪০)
‌‌شُهُود بُنيان الْكَعْبَة

 

وَلما بلغ صلى الله عليه وسلم خمْسا وَثَلَاثِينَ سنة شهد بُنيان الْكَعْبَة وتراضت قُرَيْش بِحكمِهِ فِيهَا فَلَمَّا بلغ أَرْبَعِينَ سنة وَيَوْما بَعثه الله بشيرا وَنَذِيرا وَأَتَاهُ جِبْرِيل بِغَار حراء جبل بِمَكَّة يتعبد فِيهِ اللَّيَالِي ذَوَات الْعدَد فَقَالَ اقْرَأ فَقَالَ مَا أَنا بقارئ فَقَالَ صلى الله عليه وسلم فأخذني فغطني حَتَّى بلغ مني الْجهد ثمَّ أَرْسلنِي فَقَالَ اقْرَأ فَقلت مَا أَنا بقارئ فَقَالَ اقْرَأ {باسم رَبك الَّذِي خلق} إِلَى قَوْله {علم الْإِنْسَان مَا لم يعلم} فَرجع رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يرجف بهَا بوادره حَتَّى دخل على خَدِيجَة فَقَالَ زَمِّلُونِي زَمِّلُونِي فزملوه حَتَّى ذهب عَنهُ الْوَرع ثمَّ قَالَ أَي خَدِيجَة وأخبرها الْخَبَر وَقَالَ لقد خشيت على نَفسِي قَالَت لَهُ خَدِيجَة أبشر وَالله لَا يخزيك الله أبدا وَالله إِنَّك لتصل الرَّحِم وَتصدق الحَدِيث وَتحمل الْكل وتكسب الْمَعْدُوم وتقري الضَّيْف وَتعين على نَوَائِب الْحق وَانْطَلَقت بِهِ خَدِيجَة حَتَّى أَتَت بِهِ ورقة بن نَوْفَل وَهُوَ ابْن عَمها وَكَانَ امْرَءًا قد تنصر فِي
কা’বা পুনর্নির্মাণ প্রত্যক্ষ করা

 

যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পঁয়ত্রিশ বছরে উপনীত হলেন, তখন তিনি কা’বা গৃহের পুনর্নির্মাণ প্রত্যক্ষ করেন এবং কুরাইশরা সেখানে তাঁর ফয়সালার ব্যাপারে সন্তুষ্ট হয়েছিল। অতঃপর যখন তাঁর বয়স চল্লিশ বছর একদিন হলো, আল্লাহ তাঁকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করলেন। এমতাবস্থায় জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) মক্কার হেরা গুহায় তাঁর নিকট আসলেন, যেখানে তিনি নির্দিষ্ট সংখ্যক রাত ইবাদতে মগ্ন থাকতেন। তিনি (জিবরাঈল) বললেন, "পড়ুন।" তিনি (রাসূলুল্লাহ) বললেন, "আমি পাঠ করতে জানি না।" রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, "অতঃপর তিনি আমাকে ধরে সজোরে চেপে ধরলেন, এমনকি আমি অত্যন্ত কষ্ট অনুভব করলাম। তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিলেন।" এরপর বললেন, "পড়ুন।" আমি বললাম, "আমি পাঠ করতে জানি না।" অতঃপর তিনি বললেন, "পড়ুন আপনার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন" - তাঁর এই বাণী পর্যন্ত - "যিনি মানুষকে তা শিখিয়েছেন যা সে জানত না।" তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর ঘাড়ের মাংসপেশি কম্পিত অবস্থায় ফিরে এলেন। এমনকি তিনি খাদিজার নিকট প্রবেশ করে বললেন, "আমাকে বস্ত্রাবৃত করো, আমাকে বস্ত্রাবৃত করো।" ফলে তারা তাঁকে বস্ত্রাবৃত করে রাখল যতক্ষণ না তাঁর আতঙ্ক দূর হলো। তারপর তিনি বললেন, "হে খাদিজা!" এবং তাঁকে সমস্ত খবর জানিয়ে বললেন, "আমি আমার প্রাণের ব্যাপারে আশঙ্কা করছি।" খাদিজা তাঁকে বললেন, "সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আল্লাহর শপথ, আল্লাহ আপনাকে কখনোই লাঞ্ছিত করবেন না। আল্লাহর শপথ, আপনি তো আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখেন, সত্য কথা বলেন, অসহায়দের বোঝা বহন করেন, নিঃস্বদের জন্য উপার্জনের ব্যবস্থা করেন, মেহমানের মেহমানদারি করেন এবং হকের পথে আপতিত বিপদে সাহায্য করেন।" অতঃপর খাদিজা তাঁকে নিয়ে তাঁর চাচাতো ভাই ওয়ারাকা ইবনে নাওফলের কাছে গেলেন, যিনি জাহেলি যুগে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং...
(খণ্ড: ১) খুলাসাতু সিয়ারি সাইয়্যিদিল বাশার (পৃষ্ঠা: ৪১)
الْجَاهِلِيَّة وشيخا كَبِيرا قد عمى فَقَالَت يَا بن الْعم اسْمَع من ابْن أَخِيك فَقَالَ لَهُ ورقة يَا بن أخي مَاذَا ترى فَأخْبرهُ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم خبر مَا رأى فَقَالَ لَهُ ورقة هَذَا الناموس الَّذِي أنزل على مُوسَى يَا لَيْتَني فِيهَا جذعا يَا لَيْتَني أكون حَيا حِين يخْرجك قَوْمك قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَو مخرجي هم قَالَ نعم لم يَأْتِ رجل قطّ بِمثل مَا جِئْت بِهِ إِلَّا عودى وَإِن يدركني يَوْمك أنصرك نصرا مؤزرا ثمَّ لم ينشب ورقة أَن توفى وفتر الْوَحْي فَتْرَة حَتَّى حزن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِيمَا بلغنَا فغدا من أَهله مرَارًا لكَي يتردى من رُؤُوس شَوَاهِق جبال الْحرم فَكلما أوفى ذرْوَة جبل لكَي يلقِي نَفسه تبدا لَهُ جِبْرِيل فَقَالَ يَا مُحَمَّد إِنَّك لرَسُول حَقًا فيسكن لذَلِك جأشه وتعز نَفسه فَإِذا طَالَتْ عَلَيْهِ فَتْرَة الْوَحْي غَدا لمثل ذَلِك فيتبدا لَهُ جِبْرِيل عليه السلام فَيَقُول لَهُ مثل ذَلِك وَلما أتم الله نبوته انْصَرف صلى الله عليه وسلم لَا يَأْتِي على حجر وَلَا شجر

জাহেলী যুগের এবং একজন বৃদ্ধ ব্যক্তি যিনি অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। তখন তিনি (খাদিজাহ) বললেন, "হে চাচাতো ভাই! আপনার ভাতিজার কথা শুনুন।" ওয়ারাাকা তাঁকে বললেন, "হে ভাতিজা! তুমি কী দেখছো?" তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা দেখেছিলেন সেই সংবাদ তাঁকে জানালেন। ওয়ারাাকা তাঁকে বললেন, "ইনি সেই নামুস (গোপন রহস্য বহনকারী ফেরেশতা), যাকে মূসার নিকট অবতীর্ণ করা হয়েছিল। হায়! আমি যদি সেই সময়ে যুবক থাকতাম! হায়! আমি যদি তখন জীবিত থাকতাম যখন তোমার জাতি তোমাকে বের করে দেবে!" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তবে কি তারা আমাকে বের করে দেবে?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ, তুমি যা নিয়ে এসেছো এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসা প্রত্যেক ব্যক্তির সঙ্গেই শত্রুতা করা হয়েছে। আর যদি আমি তোমার সেই দিনটি পাই, তবে আমি তোমাকে প্রবলভাবে সাহায্য করব।" এরপর দ্রুতই ওয়ারাাকা মৃত্যুবরণ করলেন এবং ওহী স্থগিত হয়ে পড়ল। এমনকি আমাদের কাছে যা পৌঁছেছে সে অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত শোকাহত হলেন এবং তিনি বারবার হারামের সুউচ্চ পাহাড়ের চূড়াগুলোর দিকে যেতেন যাতে সেখান থেকে নিজেকে নিচে নিক্ষেপ করেন। যখনই তিনি নিজেকে ফেলে দেওয়ার জন্য কোনো পাহাড়ের চূড়ায় উঠতেন, জিবরাঈল তাঁর সামনে আত্মপ্রকাশ করতেন এবং বলতেন, "হে মুহাম্মদ! আপনি নিশ্চয়ই আল্লাহর সত্য রাসূল।" এর ফলে তাঁর অস্থিরতা শান্ত হতো এবং তাঁর চিত্ত আশ্বস্ত হতো। যখন ওহীর বিরতি দীর্ঘ হতো, তিনি আবারো অনুরূপ করতেন এবং জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তাঁর সামনে আত্মপ্রকাশ করে একই কথা বলতেন। আর যখন আল্লাহ তাঁর নবুওয়াত পূর্ণ করলেন, তখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরলেন; তিনি কোনো পাথর বা বৃক্ষের পাশ দিয়ে অতিক্রম করতেন না...

(খণ্ড: ১) খুলাসাতু সিয়ারি সাইয়্যিদিল বাশার (পৃষ্ঠা: ৪২)
إِلَّا سلم عَلَيْهِ سَلام عَلَيْك يَا رَسُول الله وَعَن جَابر بن سَمُرَة رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم (إِن بِمَكَّة الْآن لحجر كَانَ يسلم على ليَالِي بعثت أَنِّي لَا أعرفهُ الْآن) وَكَانَت نبوته يَوْم الِاثْنَيْنِ لثمان خلون من ربيع الأول فصدع بِأَمْر الله وَبلغ الرسَالَة ونصح الْأمة فشنف لَهُ الْقَوْم حَتَّى حاصروه وَأهل بَيته بِالشعبِ

‌‌حصاره فِي الشّعب

 

وَخرج من الْحصار وَله صلى الله عليه وسلم تسع وَأَرْبَعُونَ سنة وَبعد ذَلِك بِثمَانِيَة أشهر وَأحد وَعشْرين يَوْمًا مَاتَ عَمه أَبُو طَالب وَكَانَ موت خَدِيجَة رَضِي الله عَنْهَا
...ব্যতীত তাকে এই বলে সালাম প্রদান করত: "হে আল্লাহর রাসূল, আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।" জাবির ইবনে সামুরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই মক্কায় এমন একটি পাথর রয়েছে যা আমার নবুওয়াত প্রাপ্তির সময়কার রাতগুলোতে আমাকে সালাম দিত; আমি এখনো সেটিকে চিনি।" তাঁর নবুওয়াত প্রাপ্তি ছিল রবিউল আউয়াল মাসের আট দিন অতিবাহিত হওয়ার পর সোমবার দিনে। অতঃপর তিনি আল্লাহর আদেশে প্রকাশ্যে সত্য প্রচার করলেন, রিসালাতের বাণী পৌঁছে দিলেন এবং উম্মতকে নসিহত করলেন। তখন কওম তাঁর প্রতি শত্রুতা পোষণ করল, এমনকি তারা তাঁকে ও তাঁর পরিবারবর্গকে শিয়াবে (গিরিসঙ্কটে) অবরুদ্ধ করল।

‌‌শিয়াবে (গিরিসঙ্কটে) তাঁর অবরুদ্ধ অবস্থা

 

তিনি যখন অবরোধ থেকে মুক্ত হলেন তখন তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বয়স ছিল উনপঞ্চাশ বছর। এর আট মাস একুশ দিন পর তাঁর চাচা আবু তালিব ইন্তেকাল করেন এবং খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর মৃত্যুও (তৎকালে) হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতু সিয়ারি সাইয়্যিদিল বাশার (পৃষ্ঠা: ৪৩)
بعده بِثَلَاثَة أَيَّام وَلما بلغ الْخمسين سنة وَثَلَاثَة أشهر قدمت عَلَيْهِ جن نَصِيبين فأسلموا فَلَمَّا أَتَت عَلَيْهِ إِحْدَى وَخَمْسُونَ سنة وَتِسْعَة أشهر أسرى بِهِ من بَين زَمْزَم وَالْمقَام إِلَى بَيت الْمُقَدّس وَشرح صَدره واستخرج قلبه فَغسل بِمَاء زَمْزَم ثمَّ أُعِيد مَكَانَهُ ثمَّ حشي إِيمَانًا وَحِكْمَة ثمَّ أَتَى بِالْبُرَاقِ فَرَكبهُ وعرج بِهِ إِلَى السَّمَاء فَأخْبر صلى الله عليه وسلم أَنه لقى فِي السَّمَاء الدُّنْيَا آدم وَفِي الثَّانِيَة عِيسَى وَيحيى ابْن الْخَالَة وَفِي الثَّالِثَة يُوسُف وَفِي الرَّابِعَة إِدْرِيس وَفِي الْخَامِسَة هَارُون
তার তিন দিন পর এবং যখন তিনি পঞ্চাশ বছর তিন মাস বয়সে উপনীত হলেন, তখন নাসিবিনের জিনেরা তাঁর নিকট আগমন করল এবং তারা ইসলাম গ্রহণ করল। অতঃপর যখন তাঁর বয়স একান্ন বছর নয় মাস হলো, তখন তাঁকে যমযম ও মাকামের মধ্যবর্তী স্থান থেকে বাইতুল মুকাদ্দাসে নৈশভ্রমণে (ইসরা) নিয়ে যাওয়া হলো। তাঁর বক্ষ বিদীর্ণ করা হলো এবং তাঁর হৃৎপিণ্ড বের করা হলো, অতঃপর তা যমযমের পানি দ্বারা ধৌত করা হলো, এরপর তা যথাস্থানে ফিরিয়ে দেওয়া হলো এবং ঈমান ও হিকমত (প্রজ্ঞা) দ্বারা পরিপূর্ণ করা হলো। অতঃপর তাঁর নিকট বুরাক আনা হলো এবং তিনি তাতে আরোহণ করলেন ও তাঁকে আকাশে ঊর্ধ্বারোহণ (মিরাজ) করানো হলো। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সংবাদ দিলেন যে, তিনি প্রথম আকাশে আদমের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন, দ্বিতীয় আকাশে দুই খালাতো ভাই ঈসা ও ইয়াহইয়ার সাথে, তৃতীয় আকাশে ইউসুফের সাথে, চতুর্থ আকাশে ইদ্রিসের সাথে এবং পঞ্চম আকাশে হারূনের সাথে।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতু সিয়ারি সাইয়্যিদিল বাশার (পৃষ্ঠা: ৪৪)
وَفِي السَّادِسَة مُوسَى وَفِي السَّابِعَة إِبْرَاهِيم مُسْندًا ظَهره إِلَى الْبَيْت الْمَعْمُور وَفرض عَلَيْهِ وعَلى أمته الصَّلَوَات الْخمس فَلَمَّا بلغ ثَلَاثًا وَخمسين سنة هَاجر من مَكَّة إِلَى الْمَدِينَة وَكَانَت هجرته يَوْم الِاثْنَيْنِ لثمان خلون من ربيع الأول ودخوله الْمَدِينَة يَوْم الِاثْنَيْنِ وَكَانَت إِقَامَته بِمَكَّة بعد النُّبُوَّة ثَلَاث عشرَة سنة

‌‌عرضه على الْقَبَائِل

 

وَكَانَ يتبع النَّاس فِي مَنَازِلهمْ بعكاظ ومجن وَفِي المواسم يَقُول (من
ষষ্ঠ আকাশে মূসা এবং সপ্তম আকাশে ইবরাহীম, যিনি বাইতুল মামুরে পিঠ হেলান দিয়ে ছিলেন। তাঁর ও তাঁর উম্মতের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করা হয়। অতঃপর যখন তিনি তিপ্পান্ন বছর বয়সে উপনীত হলেন, তখন তিনি মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করলেন। তাঁর হিজরত ছিল রবিউল আউয়াল মাসের আট দিন অতিবাহিত হওয়ার পর সোমবার দিনে এবং তাঁর মদীনায় প্রবেশও ছিল সোমবার দিনে। নবুওয়াত লাভের পর মক্কায় তাঁর অবস্থানের সময়কাল ছিল তেরো বছর।

‌‌গোত্রসমূহের নিকট নিজেকে পেশ করা

 

তিনি উকায ও মাজান্নাহ মেলায় এবং হজের মৌসুমে মানুষের ডেরায় ডেরায় তাদের নিকট যেতেন এবং বলতেন (কে আছে
(খণ্ড: ১) খুলাসাতু সিয়ারি সাইয়্যিদিল বাশার (পৃষ্ঠা: ৪৫)
يؤويني من ينصرني حَتَّى أبلغ رِسَالَة رَبِّي وَله الْجنَّة) فَيَمْشِي بَين رحالهم وهم يشيرون إِلَيْهِ بالأصابع حَتَّى بعث الله لَهُ الْأَنْصَار فآمنوا بِهِ وَكَانَ الرجل مِنْهُم يسلم ثمَّ يَنْقَلِب إِلَى أَهله فيسلمون بِإِسْلَامِهِ حَتَّى لم يبْق دَار من الْأَنْصَار إِلَّا وفيهَا رَهْط من الْمُسلمين يظهرون الْإِسْلَام

‌‌مُدَّة صلَاته إِلَى بَيت الْمُقَدّس

 

وَكَانَ يُصَلِّي إِلَى بَيت الْمُقَدّس تِلْكَ الْمدَّة وَلَا يستدبر الْكَعْبَة بل يَجْعَلهَا بَين يَدَيْهِ وَصلى بعد قدومه الْمَدِينَة إِلَى بَيت الْمُقَدّس سَبْعَة عشر شهرا أَو سِتَّة عشر

‌‌هجرته مَعَ أبي بكر

 

وَلما هَاجر صلى الله عليه وسلم كَانَ مَعَه أَبُو بكر الصّديق وَمولى لَهُ يُقَال لَهُ عَامر بن فهَيْرَة ودليلهم عبد الله بن الْأُرَيْقِط اللَّيْثِيّ وَهُوَ كَافِر وَلم يعرف لَهُ إِسْلَام قَالَ أَبُو بكر
কে আমাকে আশ্রয় দিবে, কে আমাকে সাহায্য করবে যেন আমি আমার রবের বাণী পৌঁছে দিতে পারি, আর তার জন্য রয়েছে জান্নাত?) এরপর তিনি তাদের শিবিরের মধ্য দিয়ে পথ চলতেন এবং তারা তাঁর দিকে আঙুল দিয়ে ইশারা করত। অবশেষে আল্লাহ তাঁর জন্য আনসারদের পাঠালেন এবং তারা তাঁর ওপর ঈমান আনল। তাদের মধ্য থেকে কোনো ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরে যেত, অতঃপর তাঁর ইসলাম গ্রহণের কারণে তারাও ইসলাম গ্রহণ করত। এমনকি আনসারদের এমন কোনো ঘর বাকি থাকল না যেখানে একদল মুসলিম ছিল না যারা ইসলাম প্রকাশ করত।

‌‌বায়তুল মাকদিসের দিকে সালাত আদায়ের সময়কাল

 

তিনি সেই সময়কালে বায়তুল মাকদিসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতেন এবং কাবাকে পেছনে রাখতেন না, বরং একে নিজের সামনে রাখতেন। মদিনায় আসার পর তিনি সতেরো বা ষোলো মাস বায়তুল মাকদিসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করেছিলেন।

‌‌আবু বকরের সাথে তাঁর হিজরত

 

যখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হিজরত করলেন, তখন তাঁর সাথে ছিলেন আবু বকর সিদ্দিক এবং তাঁর একজন মুক্তদাস যাকে আমির বিন ফুহাইরা বলা হতো। আর তাদের পথপ্রদর্শক ছিল আবদুল্লাহ বিন উরাইকিত আল-লাইসি; সে ছিল কাফির এবং তার ইসলাম গ্রহণের কথা জানা যায় না। আবু বকর বললেন