(খণ্ড: ১)
আল-মুকতাফা মিন সীরাতিল মুসতাফা
(পৃষ্ঠা: -)
المقتفى من سيرة المصطفى القسم: السيرة النبوية
الكتاب: المقتفى من سيرة المصطفى صلى الله عليه وسلم
المؤلف: الحسن بن عمر بن الحسن بن حبيب، أبو محمد، بدر الدين الحلبي (ت 779هـ)
المحقق: د مصطفى محمد حسين الذهبي
الناشر: دار الحديث - القاهرة - مصر
الطبعة: الأولى، 1416هـ - 1996م
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 244
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-মুক্তাফা মিন সিরাতিল মুস্তফা বিভাগ: সিরাতুন নববি
গ্রন্থ: আল-মুক্তাফা মিন সিরাতিল মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
লেখক: আল-হাসান বিন উমর বিন আল-হাসান বিন হাবিব, আবু মুহাম্মদ, বদরুদ্দিন আল-হালাবি (মৃত্যু ৭৭৯ হিজরি)
সম্পাদক: ড. মুস্তফা মুহাম্মদ হুসাইন আয-যাহাবি
প্রকাশক: দারুল হাদিস - কায়রো - মিশর
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৬ হিজরি - ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪৪
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতাফা মিন সীরাতিল মুসতাফা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
مُقَدّمَة الْمُؤلف الْحَمد لله الَّذِي جَمعنَا على محبَّة سيد الْبشر ونفعنا بسيرته الَّتِي حسن مِنْهَا الْمُبْتَدَأ وطاب الْخَبَر وأهلنا لخدمة سنته الشَّرِيفَة وفضلنا بِاتِّبَاع أَحْكَامه المنيرة وأعلامه المنيفة وَالصَّلَاة على نبيه مُحَمَّد صَاحب السِّيرَة السّريَّة وساحب سحائب الْفضل والشرف على سَائِر الْبَريَّة وعَلى آله وَصَحبه المرضية سكنات كل مِنْهُم وحركاته وَعَلِيهِ وَعَلَيْهِم السَّلَام وَرَحْمَة الله وَبَرَكَاته
وَبعد. . فَإِن أحسن الحَدِيث كتاب الله الْكَرِيم وَخير الْهدى مَا نقل عَن الْمَوْصُوف بالخلق الْعَظِيم فالسعيد من امتثل أوَامِر كِتَابه وَرَسُوله واقتفى من أثرهما مَا يبلغ بِهِ غَايَة قَصده وسوله وفقنا الله لاتباع محبته ومراضيه وهدانا فِيمَا بَقِي من الْعُمر وَعَفا عَمَّا جرى فِي ماضيه بمنه وَطوله وقوته وَحَوله
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
লেখকের ভূমিকা সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের মানবজাতির নেতার প্রতি ভালোবাসার ভিত্তিতে একত্রিত করেছেন এবং তাঁর সীরাত (জীবনী) দ্বারা আমাদের উপকৃত করেছেন, যার সূচনা অতি উত্তম এবং সংবাদ অত্যন্ত মনোরম। তিনি আমাদের তাঁর সম্মানিত সুন্নাহর খিদমত করার যোগ্য করেছেন এবং তাঁর আলোকিত বিধানাবলি ও সুউচ্চ নিদর্শনাদি অনুসরণের মাধ্যমে আমাদের শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। আর সালাত (দরুদ) বর্ষিত হোক তাঁর নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, যিনি মহিমান্বিত সীরাতের অধিকারী এবং যিনি সমগ্র সৃষ্টির ওপর অনুগ্রহ ও মর্যাদার মেঘমালা বিস্তারকারী। আরও দরুদ বর্ষিত হোক তাঁর পরিবারবর্গ ও সন্তোষপ্রাপ্ত সাহাবীগণের ওপর—যাঁদের প্রতিটি স্থিতি ও গতি (আচার-আচরণ) ছিল আল্লাহর সন্তুষ্টির অনুগামী। তাঁর ওপর এবং তাঁদের সকলের ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।
অতঃপর... নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী হলো আল্লাহর সম্মানিত কিতাব এবং সর্বোত্তম হেদায়েত হলো তা, যা মহান চরিত্রের অধিকারী (নবী) থেকে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং সেই ব্যক্তিই সৌভাগ্যবান, যে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের নির্দেশাবলি পালন করে এবং তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে, যা তাকে তার চূড়ান্ত লক্ষ্য ও অভীষ্টে পৌঁছে দেয়। আল্লাহ আমাদের তাঁর ভালোবাসা ও সন্তুষ্টির পথে চলার তাওফিক দান করুন এবং জীবনের অবশিষ্ট সময়ে আমাদের হেদায়েত দান করুন ও তাঁর অনুগ্রহ, দান, শক্তি ও সামর্থ্যের মাধ্যমে অতীতে যা অতিক্রান্ত হয়েছে তা ক্ষমা করুন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতাফা মিন সীরাতিল মুসতাফা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
نسب النَّبِي صلى الله عليه وسلم هُوَ أَبُو الْقَاسِم مُحَمَّد بن عبد الله بن عبد الْمطلب بن هَاشم بن عبد منَاف بن قصي بن كلاب بن مرّة بن كَعْب بن لؤَي بن غَالب بن فهر بن مَالك بن النَّضر بن كنَانَة بن خُزَيْمَة بن مدركة ابْن إلْيَاس بن مُضر بن نزار بن معد بن عدنان بن أدد بن
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশপরিচয় তিনি হলেন আবুল কাসেম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম ইবনে আব্দুল মানাফ ইবনে কুসাই ইবনে কিলাব ইবনে মুররাহ ইবনে কা’ব ইবনে লুআই ইবনে গালিব ইবনে ফিহর ইবনে মালিক ইবনে আন-নাদর ইবনে কিনানা ইবনে খুজাইমা ইবনে মুদরিকাহ ইবনে ইলিয়াস ইবনে মুদার ইবনে নিজার ইবনে মা’আদ ইবনে আদনান ইবনে আদাদ ইবনে
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতাফা মিন সীরাতিল মুসতাফা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
اليسع بن الهميسع بن سلامان بن نبت بن حمل بن قيذار بن إِسْمَاعِيل بن إِبْرَاهِيم بن تارح بن ناحور بن ساروع بن أرعواء بن فالع بن غابر بن شالخ بن أرفخشد بن سَام بن نوح بن لمك بن متوشلح بن أَخْنُوخ بن يرد بن مهلائيل بن قنيان بن أنوش بن شِيث بن آدم أبي الْبشر عليه السلام
(نسب عَلَيْهِ مهابة وجلالة
… بالمصطفى خير الورى أقْصَى الأرب)
(نسب أَضَاء الْأُفق بِنور من
… لولاه مَا طلع الْهلَال وَلَا غرب)
(نسب رفيع ضم جَامع شَمله
… أَعْيَان سَادَات الْأَعَاجِم وَالْعرب)
আল-ইয়াসা ইবনুল হামায়সা ইবনে সালামিন ইবনে নাবত ইবনে হামাল ইবনে কাইদার ইবনে ইসমাঈল ইবনে ইবরাহিম ইবনে তারেহ ইবনে নাহুর ইবনে সারুগ ইবনে আরউয়া ইবনে ফালিগ ইবনে গাবির ইবনে শালিখ ইবনে আরফাখশাদ ইবনে সাম ইবনে নূহ ইবনে লামাক ইবনে মাতুশালাখ ইবনে আখনুখ ইবনে ইয়ারদ ইবনে মাহলায়িল ইবনে কায়নান ইবনে আনুশ ইবনে শীস ইবনে আদম—যিনি মানবজাতির পিতা, তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।
(এমন এক বংশধারা যার ওপর গাম্ভীর্য ও মহিমা বিরাজমান
… সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মুস্তাফার মাধ্যমে যা চূড়ান্ত আকাঙ্ক্ষা)
(এমন এক বংশধারা যা দিগন্তকে আলোকিত করেছে এমন এক নূর দ্বারা যার
… কারণে না হলে উদিত হতো না বাঁকা চাঁদ আর হতো না অস্ত)
(উন্নত এক বংশধারা যার সংহতি একত্র করেছে
… অনারব ও আরবদের বিশিষ্ট নেতাদের)
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতাফা মিন সীরাতিল মুসতাফা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
تَزْوِيج آمِنَة من عبد الله بن عبد الْمطلب تزوج عبد الله بن عبد الْمطلب وَالِد ملاذ المقترب وعياذ المغترب آمِنَة أم الإِمَام الْأَعْظَم الَّذِي وفر الله من الْكَرَامَة قسمه وبحياته أقسم
وَهِي بنت وهب بن عبد منَاف بن زهرَة بن كلاب المحمية من أسلحة قَومهَا بالبتر المواضي والصم الصلاب وَكَانَت فِي حجر عَمها وهيب مبرأة من شين الشين وعيب الْعَيْب فَخَطَبَهَا مِنْهُ عبد الْمطلب لوَلَده قَاصِدا جمع الشمل بَين لبوته وأسده فَأحْسن جَوَابه وَقبل خطبَته وخطابه وَمن نجله عبد الله زَوجهَا وبالإكليل الأرضي بل السماوي توجها يَا لَهُ عقدا بلغ بِهِ أهل الْإِيمَان غَايَة الْأَمَانِي وقرانا طارت بأنباء نبوته حمائم التهاني
(واستبشر الْكَوْن وشمس الضُّحَى
… خلقت الْآفَاق بالزعفران)
(والبدر للزهر غَدا قَائِلا
… يَا قوم مَا أسعد هَذَا الْقُرْآن)
আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুত্তালিবের সাথে আমিনার বিবাহ নিকটবর্তীদের আশ্রয়স্থল এবং প্রবাসীদের অবলম্বন (রাসূল ﷺ)-এর পিতা আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুত্তালিব সেই মহান ইমামের মহীয়সী জননী আমিনাকে বিবাহ করেন, যাঁর মর্যাদার অংশকে আল্লাহ পূর্ণতা দান করেছেন এবং যাঁর জীবনের শপথ করেছেন।
তিনি ছিলেন ওহব বিন আব্দু মানাফ বিন জুহরাহ বিন কিলাবের কন্যা, যিনি স্বীয় গোত্রের ধারালো তলোয়ার এবং সুদৃঢ় বর্মের দ্বারা সুরক্ষিত ছিলেন। তিনি তাঁর চাচা উহাইব-এর তত্ত্বাবধানে ছিলেন এবং যাবতীয় কলঙ্ক ও দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত ছিলেন। আব্দুল মুত্তালিব তাঁর পুত্রের জন্য তাঁর নিকট বিয়ের প্রস্তাব পেশ করেন, যার উদ্দেশ্য ছিল সিংহী ও সিংহের মাঝে মিলন ঘটানো। তিনি উত্তম উত্তর দিলেন এবং তাঁর প্রস্তাব ও আহ্বান গ্রহণ করলেন। অতঃপর তিনি তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহর সাথে তাঁর বিবাহ সম্পন্ন করলেন এবং তাঁদেরকে পার্থিব নয় বরং আসমানি মুকুট দ্বারা ভূষিত করলেন। কতই না চমৎকার সেই বিবাহবন্ধন, যার মাধ্যমে মুমিনগণ তাঁদের চরম আকাঙ্ক্ষায় উপনীত হয়েছেন এবং এমন এক মিলন, যার নবুওয়াতের সুসংবাদ নিয়ে অভিনন্দনের কপোতদল ডানা মেলেছিল।
(সমগ্র মহাবিশ্ব ও পূর্বাহ্নের সূর্য আনন্দিত হলো
… আর দিগন্তসমূহ জাফরান দ্বারা রঞ্জিত হলো)
(আর পূর্ণিমা চাঁদ নক্ষত্ররাজির উদ্দেশ্যে বলতে লাগলো
… হে সম্প্রদায়! এই মিলন কতই না সৌভাগ্যমণ্ডিত!)
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতাফা মিন সীরাতিল মুসতাফা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
حمل آمنهُ بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لما حملت بِهِ لم تَجِد شَيْئا من الثّقل وَلَا اعتراها بِسَبَبِهِ تبرم وَلَا ملل وأتاها آتٍ حسن الْكَلَام وَهِي مَا بَين الْيَقَظَة والمنام مخبرا أَنَّهَا حملت بِسَيِّد الْأمة ونبيها واشتملت على شمس بكرتها وقمر عشيها
ثمَّ أَتَاهَا حِين دنا وَقت وِلَادَتهَا وتكملت محَاسِن درة وِلَادَتهَا فَقَالَ عوذيه بِالْوَاحِدِ من شَرّ كل حَاسِد وَأمرت أَن تسميه مُحَمَّدًا وَفِي رِوَايَة أَحْمد يَا لَهُ سيف شرفه الْمَشْهُور لَا يغمد
(يَا بنت وهب أَبْشِرِي وتمتعي
… فَلَقَد حملت بِسَيِّد الْأَشْرَاف)
(ذَاك الَّذِي من شَاءَ يعرف قدره
… فَعَلَيهِ بالأنفال والأعراف)
وَفَاة وَالِده عبد الله بن عبد الْمطلب خرج عبد الله فِي فتية من تجار قُرَيْش إِلَى الشَّام شائما وميض برقة المتألق فِيمَن شام فَلَمَّا فرغوا من قضى أوطارهم وَانْصَرفُوا رَاجِعين إِلَى دِيَارهمْ مروا بِأَكْنَافِ الْمَدِينَة بِمَا مَعَهم من البضائع الثمينة فَتخلف بهَا عِنْد أَخْوَاله من بني النجار واشتغل بِمَرَض نَفسه عَن المتجر والتجار
আমিনার নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে গর্ভে ধারণ করা যখন তিনি তাঁকে গর্ভে ধারণ করলেন, তখন তিনি কোনো প্রকার ভার অনুভব করেননি এবং এর কারণে তাঁর কোনো বিরক্তি বা অবসাদও দেখা দেয়নি। তাঁর নিকট তন্দ্রা ও নিদ্রার মধ্যবর্তী অবস্থায় এক সুমিষ্টভাষী আগন্তুক আগমন করলেন এবং সংবাদ দিলেন যে, তিনি এই উম্মতের সরদার ও তাঁদের নবীর গর্ভধারণ করেছেন এবং তিনি তাঁর প্রভাতের সূর্য ও সন্ধ্যার চন্দ্রকে নিজ উদরে ধারণ করেছেন।
অতঃপর যখন প্রসবের সময় নিকটবর্তী হলো এবং তাঁর প্রসবের মুক্তার সৌন্দর্য পূর্ণতা পেল, তখন সেই আগন্তুক পুনরায় এসে বললেন, "প্রত্যেক হিংসুকের অনিষ্ট থেকে তাঁকে এক অদ্বিতীয় সত্তার (আল্লাহর) আশ্রয়ে সমর্পণ করো।" আর তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হলো যেন তিনি তাঁর নাম রাখেন ‘মুহাম্মাদ’, অন্য এক বর্ণনায় ‘আহমাদ’। কতই না চমৎকার সেই তলোয়ার, যার সুপ্রসিদ্ধ মর্যাদা কখনো কোষবদ্ধ হয় না!
(হে ওহবের কন্যা! সুসংবাদ গ্রহণ করো এবং আনন্দিত হও... কারণ তুমি সকল অভিজাত ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির সরদারকে গর্ভে ধারণ করেছ।)
(তিনি এমন এক সত্তা, যার মর্যাদা কেউ জানতে চাইলে... সে যেন সূরা আনফাল ও সূরা আরাফ পাঠ করে।)
তাঁর পিতা আবদুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের মৃত্যু আবদুল্লাহ কুরাইশ বণিকদের একদল যুবকের সাথে সিরিয়ার পথে বের হলেন, যারা ছিল বিদ্যুতের ন্যায় উজ্জ্বল সফলতার প্রত্যাশী। যখন তারা তাদের ব্যবসায়িক প্রয়োজন সম্পন্ন করলেন এবং নিজ গৃহের পানে ফিরে আসছিলেন, তখন তারা তাদের সাথে থাকা মূল্যবান পণ্যসামগ্রী নিয়ে মদিনার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল দিয়ে অতিক্রম করলেন। অতঃপর তিনি সেখানে বনু নাজ্জার গোত্রীয় তাঁর মামাদের নিকট থেকে গেলেন এবং নিজের অসুস্থতার কারণে ব্যবসা ও বণিকদল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতাফা মিন সীরাতিল মুসতাফা
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وَاسْتمرّ موثقًا بِقَيْد الوصب إِلَى أَن حَان أَجله واقترب فَدفن بدار النَّابِغَة وتقلصت طلاله السابغة ومني بعد خمس وَعشْرين بملازمة الضريح وَرَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَوْمئِذٍ حمل على الصَّحِيح
وَفِيه تَقول آمِنَة من أَبْيَات
(عَفا جَانب الْبَطْحَاء من نجل شيبَة
… وجاور لحدا خَارِجا فِي الغماغم)
(دَعَتْهُ المنايا دَعْوَة فأجابها
… وَمَا تركت فِي النَّاس مثل ابْن هَاشم)
مولد النَّبِي صلى الله عليه وسلم عَام الْفِيل ولد فِي أَيمن طالع وأسعده وَحل فِي أفضل وَقت مَحْمُود بأحمده وَأَقْبل وخيل الْخَيْر تقاد بَين يَدَيْهِ وَقدم قدوم الْغَيْث إِلَى الأَرْض المحتاجة إِلَيْهِ وَذَلِكَ يَوْم الْإِثْنَيْنِ حِين طلع الْفجْر وَمضى اللَّيْل عَازِمًا على الهجر لعشر خلون من ربيع الأول عَام الْفِيل أَهلا بِهِ من عَام بالنجاة زعيم وبالنجاح كَفِيل
তিনি অসুস্থতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ রইলেন যতক্ষণ না তাঁর অন্তিম সময় ঘনিয়ে এল। অতঃপর তিনি 'দারুন নাবিগাহ'-তে সমাহিত হলেন এবং তাঁর বিস্তৃত ছায়া সংকুচিত হয়ে গেল। পঁচিশ বছর বয়সে তিনি কবরের সাহচর্যে লিপ্ত হলেন, আর তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাতৃগর্ভে অবস্থান করছিলেন—এটাই বিশুদ্ধ মত।
এ বিষয়ে আমিনা কয়েকটি কাব্যচরণে বলেন:
(বাতহার প্রান্তর শায়বার বংশধরশূন্য হয়ে গেল... এবং তিনি জনালয় বহির্ভূত এক কবরের প্রতিবেশী হলেন)
(মৃত্যু তাঁকে আহ্বান করল এবং তিনি তাতে সাড়া দিলেন... আর মৃত্যু মানুষের মাঝে হাশিমের তনয়ের মতো কাউকে অবশিষ্ট রাখল না)
হস্তীবর্ষে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্ম তিনি অতি শুভ ও সৌভাগ্যবান লগ্নে জন্মগ্রহণ করলেন এবং 'আহমাদ' রূপে সর্বোত্তম প্রশংসিত সময়ে শুভাগমন করলেন। তিনি অগ্রসর হলেন এমতাবস্থায় যে তাঁর সম্মুখে কল্যাণের অশ্বরাজি ধাবমান ছিল। তাঁর আগমন ছিল তৃষ্ণার্ত ভূমিতে বারিধারার আগমনের ন্যায়। আর তা ছিল হস্তীবর্ষের রবিউল আউয়াল মাসের দশ তারিখ, সোমবার দিন—যখন উষার উদয় ঘটছিল এবং রজনী বিদায় নিচ্ছিল। ধন্য সেই বছর, যা মুক্তির বার্তাবাহক এবং সফলতার নিশ্চয়তা প্রদানকারী।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতাফা মিন সীরাতিল মুসতাফা
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وَلم يؤم أمه تَعب وَلَا نصب الدَّهْر لَهَا شرك نصب بل سعدت بِقُرْبِهِ واتصاله وبعدت عَن الْمَشَقَّة فِي حمله وفصاله وَرفعت بِمَا وضعت ولاحت عَلَيْهَا أنوار الْوَقار ولمعت
فَلَمَّا انْفَصل مِنْهَا وانتقل محروسا بِالْمَلَائِكَةِ عَنْهَا برز نظيفا مختونا مَسْرُورا قطع مِنْهُ السِّرّ من اتَّخذهُ محبوبا محبورا وَظهر لَهُ من السِّرّ مَا حير الصَّامِت والمعرب وَخرج مَعَه نور أَضَاء لَهُ مَا بَين الْمشرق وَالْمغْرب حَتَّى بَين أَعْنَاق الْإِبِل ببصرا وزين قُصُور الشَّام فَلم يدع مِنْهَا قصرا
وعَلى الأَرْض وَقع صلى الله عليه وسلم رَافعا رَأسه إِلَى السَّمَاء مُعْتَمدًا على يَدَيْهِ ثمَّ أَخذ بكفه قَبْضَة من تُرَاب الأَرْض إِشَارَة إِلَى أَنه يملكهَا كلهَا فِي الطول وَالْعرض
ثمَّ أدَّت مَا حَملته من الْأَمَانَة آمِنَة وَكَانَت مِمَّا تَشْكُو الْحَوَامِل آمِنَة وَقيل لما اشْتَدَّ بهَا طلق النّفاس وَكَانَت فريدة بسطت أكف شكواها إِلَى ذِي
তাঁর মাতাকে কোনো ক্লান্তি বা অবসাদ স্পর্শ করেনি, আর মহাকাল তাঁর জন্য কোনো কষ্টের জাল বিস্তার করেনি। বরং তিনি তাঁর নৈকট্য ও সংযোগে সৌভাগ্যবতী হয়েছিলেন এবং তাঁর গর্ভধারণ ও স্তন্যদান ত্যাগের কষ্ট থেকে দূরে ছিলেন। যা তিনি প্রসব করেছিলেন তার মাধ্যমে তিনি উচ্চ মর্যাদা লাভ করেছিলেন এবং তাঁর ওপর গাম্ভীর্যের নূরসমূহ প্রকাশিত ও উদ্ভাসিত হয়েছিল।
যখন তিনি তাঁর থেকে পৃথক হলেন এবং ফেরেশতাদের দ্বারা সংরক্ষিত হয়ে স্থানান্তরিত হলেন, তখন তিনি পরিচ্ছন্ন, খতনা করা ও আনন্দিত অবস্থায় আত্মপ্রকাশ করলেন। তাঁর নাভি কর্তন করা হয়েছিল তাঁর পক্ষ থেকে যিনি তাঁকে প্রিয় ও আনন্দিত হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর থেকে এমন রহস্য প্রকাশিত হলো যা মৌন ও বক্তা উভয়কেই স্তব্ধ করে দিল। তাঁর সাথে এমন এক নূর নির্গত হলো যা তাঁর জন্য পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যবর্তী স্থানকে আলোকিত করে দিল, এমনকি তা বুসরার উটগুলোর ঘাড়কেও স্পষ্ট করে তুলল এবং শামের প্রাসাদগুলোকে সুশোভিত করল, ফলে কোনো প্রাসাদই বাকি রইল না।
আর তিনি (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) তাঁর মস্তক আকাশের দিকে উত্তোলন করে এবং তাঁর দুই হাতের ওপর ভর দিয়ে ভূমিতে পতিত হলেন। অতঃপর তিনি তাঁর হাতের তালু দিয়ে এক মুষ্টি মাটি গ্রহণ করলেন, যা এই বিষয়ের ইঙ্গিত ছিল যে, তিনি সমগ্র জগতের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের মালিক হবেন।
অতঃপর আমিনা তাঁর বহনকৃত আমানত প্রসব করলেন এবং গর্ভবতী মহিলারা সচরাচর যা নিয়ে অভিযোগ করে, তা থেকে তিনি নিরাপদ ছিলেন। বলা হয়েছে যে, যখন তাঁর প্রসব বেদনা তীব্র হলো এবং তিনি একাকী ছিলেন, তখন তিনি তাঁর ফরিয়াদের হাত প্রসারিত করলেন তাঁর দিকে যিনি মহান...
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতাফা মিন সীরাতিল মুসতাফা
(পৃষ্ঠা: ৩২)
الأيادي الحميدة فَإِن هِيَ بمريم ابْنة عمرَان وآسية بنت مُزَاحم ومعهن جمَاعَة من الْحور الحسان الأعاظم فَحِينَئِذٍ أَسْفر فِي بَيتهَا صبح السَّعَادَة وَذهب عَنْهَا الْحزن وأبدت لَهَا السِّيَادَة
وَكَانَت قابلته الشِّفَاء بنت عَمْرو بن عَوْف وحاضنته أم أَيمن الَّتِي أمنت بِهِ عَظِيم الشدائد وَالْخَوْف فَمَا أكْرم أَيَّام مولده الشريف عِنْد من عرف قدرهَا وَمَا أعظم بركتها عِنْد من عرف سرها ونشرها وحقيق بِيَوْم كَانَ فِيهِ وجود النَّبِي أَن يتَّخذ عيدا وخليق بِوَقْت اسْتَقَرَّتْ فِيهِ غرته أَن يعْقد طالعا سعيدا إِذْ قد انبسق فِيهِ عَن جَوْهَرَة الْكَوْن بيض الشّرف وَفِيه ظَهرت الدرة المصونة من بَاطِن الصدف وأبرز سَابق السعد من كمون الْعَدَم وبمكة المشرفة أنْجز صَادِق الْوَعْد بمضمون الْكَرم
وَقد خصت لَيْلَة ظُهُوره وَيَوْم سطوع ضوء نوره بخصائص لَا تتناهى ومزايا لَا تضاهى وَلَا تباهى إِذْ هُوَ سيد ولد آدم ومعولهم وَخَاتم النَّبِيين وأولهم فصلى الله عَلَيْهِ وعَلى آله الطيبين وَسلم تَسْلِيمًا وعَلى الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ
(بَدَت لنا فِي ربيع طلعة الْقَمَر
… من وَجه من فاق كل البدو والحضر)
(تجمع الْحسن فِيهِ فَهُوَ واحده
… وَكَانَ فِي صُورَة فاقت على الصُّور)
(إِن لم أزر قَبره يَا سعد فِي عمري
… من بعد هَذَا الجفا يَا ضَيْعَة الْعُمر)
প্রশংসিত সাহায্যকারিণীগণ ছিলেন ইমরানের কন্যা মারইয়াম এবং মুজাহিমের কন্যা আছিয়া, আর তাঁদের সাথে ছিল শ্রেষ্ঠ রূপসী হুরদের এক দল। সেই মুহূর্তে আমিনার ঘরে সৌভাগ্যের প্রভাত উদ্ভাসিত হলো, তাঁর থেকে দুঃখ বিদায় নিল এবং তাঁর জন্য শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশিত হলো।
তাঁর ধাত্রী ছিলেন শিফা বিনতে আমর বিন আউফ এবং লালনকারিনী ছিলেন উম্মে আয়মান, যিনি তাঁর মাধ্যমে মহান বিপদ ও ভয় থেকে নিরাপত্তা লাভ করেছিলেন। তাঁর পবিত্র জন্মলগ্নের দিনগুলো কতই না মর্যাদাপূর্ণ সেই ব্যক্তির কাছে যে তার কদর জানে, আর তার বরকত কতই না মহান সেই ব্যক্তির কাছে যে তার রহস্য ও মাহাত্ম্য সম্পর্কে অবগত। যে দিনে নবীর অস্তিত্ব প্রকাশ পেয়েছে, সেই দিনটিকে উৎসব হিসেবে গ্রহণ করাই সঙ্গত, আর যে সময়ে তাঁর শুভ ললাট উদিত হয়েছে, তাকে এক সৌভাগ্যের লগ্ন হিসেবে গণ্য করা উচিত। কেননা সেই সময়েই মহাবিশ্বের মণি-মুক্তার সম্মানের জ্যোতি বিচ্ছুরিত হয়েছে এবং ঝিনুকের ভেতর থেকে সংরক্ষিত মুক্তা প্রকাশিত হয়েছে। অনস্তিত্বের অন্তরাল থেকে পূর্বনির্ধারিত সৌভাগ্য প্রকাশিত হয়েছে এবং মক্কা মোয়াজ্জমায় মহানুভবতার সারমর্ম অনুযায়ী সত্য প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হয়েছে।
তাঁর আবির্ভাবের রজনী এবং তাঁর নূরের আলোকচ্ছটা উদ্ভাসিত হওয়ার দিনটিকে এমন অগণিত বৈশিষ্ট্য এবং অতুলনীয় ও অনুপম মর্যাদায় ভূষিত করা হয়েছে যার কোনো শেষ নেই। কারণ তিনি আদম সন্তানদের নেতা ও শ্রেষ্ঠ আশ্রয় এবং তিনি সর্বশেষ নবী ও সকল নবীর অগ্রগণ্য। সুতরাং আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গের ওপর রহমত ও প্রচুর শান্তি বর্ষণ করুন এবং তাঁর সাহাবী ও তাবেয়ীদের ওপরও রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(রবিউল আউয়াল মাসে আমাদের সামনে পূর্ণিমার চাঁদের উদয় উদ্ভাসিত হয়েছে
… এমন এক সত্তার চেহারার মাধ্যমে যিনি সমস্ত মরুচারী ও নগরবাসীর চেয়ে শ্রেষ্ঠ।)
(সকল সৌন্দর্য তাঁর মাঝে পুঞ্জীভূত হয়েছে, তাই তিনি অনন্য
… এবং তিনি এমন এক অবয়বে আবির্ভূত হয়েছেন যা সমস্ত অবয়বের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।)
(হে সাদ! আমি যদি জীবনে তাঁর রওজা জিয়ারত করতে না পারি
… তবে এই বিচ্ছেদের পর আমার জীবনটা কতই না বৃথা!)
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতাফা মিন সীরাতিল মুসতাফা
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
(صلى عَلَيْهِ إِلَه الْعَرْش مَا صدحت
… حمائم الْوَرق فِي الآصال وَالْبكْر)
وَمِمَّا مدح بِهِ شهر مولده الشريف
(لهَذَا الشَّهْر فِي الْإِسْلَام فضل
… ومنقبة يفوق على الشُّهُور)
(فمولود بِهِ وَاسم وَمعنى
… وآيات بهرن لَدَى الظُّهُور)
(ربيع فِي ربيع فِي ربيع
… وَنور فَوق نور فَوق نور) وَمن كَلَام سيدنَا الْعَبَّاس عَم رَسُول الله صلى الله عليه وسلم
(وَأَنت لما ولدت أشرقت
… الأَرْض وضاءت بنورك الْأُفق)
(فَنحْن فِي ذَلِك الضياء وَفِي
… النُّور وسبل الرشاد نخترق)
(আরশের ইলাহ তাঁর ওপর দরূদ বর্ষণ করুন, যতক্ষণ
… বৃক্ষরাজির ঘুঘুগুলো সন্ধ্যা ও ভোরে কলকাকলি করে)
এবং তাঁর মর্যাদাপূর্ণ জন্ম মাসকে যেসকল কবিতার মাধ্যমে প্রশংসা করা হয়েছে তার অন্তর্ভুক্ত হলো:
(ইসলামে এই মাসের এমন ফযিলত
… ও মর্যাদা রয়েছে যা অন্য সব মাসকে ছাড়িয়ে যায়)
(কেননা এতে এমন এক সত্তার জন্ম হয়েছে যাঁর নাম ও গুণাগুণ মহিমান্বিত
… আর যাঁর আবির্ভাবের সময় প্রকাশিত নিদর্শনসমূহ সকলকে বিমোহিত করেছে)
(বসন্তের ভেতর বসন্ত, তার মাঝে বসন্ত
… এবং জ্যোতির ওপর জ্যোতি, তার ওপর আরও জ্যোতি) এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাচা আমাদের নেতা আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বাণী থেকে সংকলিত:
(আর আপনি যখন জন্মগ্রহণ করলেন, তখন পৃথিবী উদ্ভাসিত হলো
… এবং আপনার নূরে দিগন্ত আলোকিত হয়ে উঠল)
(সুতরাং আমরা সেই প্রোজ্জ্বল আভা ও
… জ্যোতির মাঝে রয়েছি এবং হিদায়াতের পথে এগিয়ে চলছি)
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতাফা মিন সীরাতিল মুসতাফা
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
الْآيَات الَّتِي ظَهرت بمولده صلى الله عليه وسلم لما ولد الرَّسُول الْمُصْطَفى وقرت بِهِ عُيُون أهل الوفا والصفا وَظهر إِلَى الْوُجُود رَحْمَة إِلَى جَمِيع النَّاس وكسي من أَجله الْوُجُود أَفْخَر لِبَاس وَفتحت أَبْوَاب الْجنان وتزخرفت لقدومه استبشارا وخمدت النيرَان وأغلق مِنْهَا الْأَبْوَاب منَّة وإشعارا وَانْشَقَّ عِنْد ذَاك إيوَان كسْرَى لهيبته حَتَّى سمع الْقَوْم صَوت انصداعه ورجته وَسَقَطت مِنْهُ أَربع عشرَة شرفة كَمَا رَوَاهُ الْقَوْم وَأخْبر من رَآهُ أَن الشق طولا فِي سقفه وَهُوَ بَاقٍ إِلَى الْيَوْم وخمدت نَار فَارس الَّتِي كَانُوا يعبدونها وَلم تخمد قبل ذَلِك بِأَلف عَام بل كَانُوا يوقرونها فَلَمَّا خمدت يَوْم المولد الشريف لم يقدر على إيقادها القوى مِنْهُم وَلَا الضَّعِيف وغاضت بحيرة ساوة بعد أَن كَانَت السفن فِيهَا تركب فأضحت لَيْلَة المولد الشريف وأرضها يابسة وَمِنْهَا يتعجب
وحرست السَّمَاء بِالشُّهُبِ وَمنع مِنْهَا كل شَيْطَان وتكسرت تَعْظِيمًا لَهُ الْأَصْنَام والصلبان
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্মের সময় প্রকাশিত নিদর্শণসমূহ যখন মনোনীত রাসূল জন্মগ্রহণ করলেন এবং তাঁর আগমনে অনুগত ও বিশুদ্ধচিত্ত ব্যক্তিদের চক্ষু শীতল হলো, আর তিনি সমস্ত মানুষের জন্য রহমত হিসেবে অস্তিত্বের জগতে আবির্ভূত হলেন এবং তাঁর সম্মানে এই অস্তিত্ব জগতকে অত্যন্ত গৌরবমণ্ডিত পোশাক পরিধান করানো হলো; তখন জান্নাতের দরজাগুলো উন্মুক্ত করা হলো এবং তাঁর আগমনে সুসংবাদস্বরূপ তা সুসজ্জিত করা হলো। (জাহান্নামের) আগুন নির্বাপিত হলো এবং অনুগ্রহ ও ঘোষণা হিসেবে তার দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হলো। সেই সময় তাঁর গাম্ভীর্যের কারণে কিসরার রাজপ্রাসাদ বিদীর্ণ হলো, এমনকি লোকেরা তার ফেটে যাওয়ার শব্দ ও প্রকম্পন শুনতে পেল। তা থেকে চৌদ্দটি চূড়া ভেঙে পড়ল, যেমনটি বর্ণনাকারীরা বর্ণনা করেছেন। আর যারা তা দেখেছেন তারা সংবাদ দিয়েছেন যে, এর ছাদের ফাটলটি লম্বালম্বিভাবে হয়েছিল যা আজ অবধি বিদ্যমান। পারস্যের যে আগুনের তারা পূজা করত তা নিভে গেল, যা এর আগে এক হাজার বছর পর্যন্ত কখনও নির্বাপিত হয়নি, বরং তারা একে অত্যন্ত ভক্তি করত। যখন পবিত্র জন্মলগ্নে তা নিভে গেল, তখন তাদের মধ্যকার শক্তিশালী কিংবা দুর্বল কেউই তা পুনরায় প্রজ্বলিত করতে সক্ষম হলো না। সাওয়া হ্রদের পানি শুকিয়ে ভূগর্ভে চলে গেল, অথচ ইতিপূর্বে তাতে বড় বড় জাহাজ চলাচল করত; ফলে পবিত্র জন্মের রাতে তার ভূমি শুষ্ক হয়ে গেল এবং মানুষ এই ঘটনায় বিস্ময়াভিভূত হলো।
উল্কাপিণ্ড দ্বারা আকাশকে সুরক্ষিত করা হলো এবং সেখান থেকে প্রত্যেক শয়তানকে প্রতিহত করা হলো। আর তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শনার্থে মূর্তিসমূহ ও ক্রুশগুলো ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতাফা মিন সীরাতিল মুসতাফা
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
وانفلقت عَنهُ البرمة الَّتِي وضعت عَلَيْهِ فرْقَتَيْن وشق بَصَره ينظر إِلَى السَّمَاء رَأْي الْعين
قَالَت أمه لما وَلدته خرج من فَرجي نور أَضَاء لَهُ قُصُور الشَّام فسبحان من حباه الْهِدَايَة والعناية وَالْبر وَالْإِكْرَام وَقَالَ فِي حَقه إِظْهَارًا لعلو فَضله وتذكيرا {يَا أَيهَا النَّبِي إِنَّا أَرْسَلْنَاك شَاهدا وَمُبشرا وَنَذِيرا وداعيا إِلَى الله بِإِذْنِهِ وسراجا منيرا وَبشر الْمُؤمنِينَ بِأَن لَهُم من الله فضلا كَبِيرا}
(وَلكم رَأينَا آيَة مَشْهُورَة
… نَص الْكتاب بهَا غَدا مَشْهُورا)
(خمدت لَهُ نَار الْمَجُوس ونكست
… أصنامهم ودعوا هُنَاكَ ثبورا)
(وأتى بشيرا بالهداية والتقى
… فلكم سيدعو هاديا وبشيرا)
এবং তাঁকে ঢেকে রাখার জন্য যে ডেকচিটি রাখা হয়েছিল তা বিদীর্ণ হয়ে দুভাগ হয়ে গেল এবং তিনি চক্ষু মেলে আকাশের দিকে চাক্ষুষ দৃষ্টিতে তাকাতে লাগলেন।
তাঁর জননী বলেন, যখন আমি তাঁকে প্রসব করলাম, তখন আমার জরায়ু থেকে এমন এক নূর নির্গত হলো যার আলোতে সিরিয়ার প্রাসাদসমূহ উদ্ভাসিত হয়ে উঠল। অতএব মহা পবিত্র সেই সত্তা, যিনি তাঁকে হিদায়াত, বিশেষ তত্ত্বাবধান, পুণ্য ও সম্মান দান করেছেন। এবং তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা প্রকাশের নিমিত্তে ও স্মরণার্থে তাঁর সম্পর্কে তিনি (আল্লাহ) বলেছেন: {হে নবী! নিশ্চয় আমি আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে, এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও এক উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে। আর আপনি মুমিনদের সুসংবাদ দিন যে, তাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে রয়েছে মহা অনুগ্রহ।}
(আমরা কতই না প্রসিদ্ধ নিদর্শন প্রত্যক্ষ করেছি
… যার বর্ণনায় কিতাব সুবিদিত হয়েছে)
(তাঁর আগমনে অগ্নিপূজকদের আগুন নিভে গেল এবং তাদের মূর্তিসমূহ
… মস্তক অবনত করল এবং সেখানে তারা ধ্বংসকে আহ্বান করতে লাগল)
(তিনি হিদায়াত ও তাকওয়ার সুসংবাদ নিয়ে এসেছেন
… পথপ্রদর্শক ও সুসংবাদদাতা হিসেবে তিনি কতই না আহ্বান করবেন)
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতাফা মিন সীরাতিল মুসতাফা
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
وَمن أحسن مَا نظم
(ومولده قد كَانَ فِيهِ عجائب
… ونكست الْأَصْنَام حَقًا بِلَا مرا)
(وإيوان كسْرَى قد تصدع هَيْبَة
… لطه رَسُول الله أفضل من قرا)
(وأخمدت النيرَان فِي أَرض فَارس
… وبشرت الرهبان قولا تسطرا)
(وأصبحت الأكوان تزهوا تفاخرا
… بوجدان من بِالْفَضْلِ قد زَان الورى)
(فصلى عَلَيْهِ الله رَبِّي مُسلما
(
… ...
… ...
… ...
… ...
… ... .)
رضاعه صلى الله عليه وسلملما برز إِلَى الْوُجُود ذَلِك الحبيب المحبوب وَشرح الله بِهِ الصُّدُور وَأنزل حبه فِي الْقُلُوب أَرْضَعَتْه أمه سَبْعَة أَيَّام ثمَّ أَرْضَعَتْه بعد ذَلِك ثويبة لَا على الدَّوَام بل أَتَت حليمة السعدية فتولت رضاعه فَكَانَ لَهَا خير
এবং যা কিছু কাব্যিক আকারে রচিত হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম উত্তম হলো:
(তাঁর জন্মের সময় অনেক অলৌকিক ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল
… এবং মূর্তিসমূহ প্রকৃতপক্ষে কোনো সন্দেহ ছাড়াই নতমস্তক হয়েছিল)
(পারস্য সম্রাটের রাজপ্রাসাদ ভয়ে বিদীর্ণ হয়েছিল
… আল্লাহর রাসূল ত্বহার সম্মানে, যিনি সৃষ্টির মাঝে সর্বোত্তম পাঠক)
(পারস্য ভূমির অগ্নিসমূহ নির্বাপিত হয়েছিল
… এবং ধর্মযাজকরা লিখিত বাণীর মাধ্যমে সুসংবাদ প্রদান করেছিল)
(সমগ্র বিশ্বজগত গর্বে উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছিল
… এমন একজনের উপস্থিতিতে যিনি নিজ শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে সৃষ্টিজগতকে সুশোভিত করেছেন)
(অতঃপর আমার প্রতিপালক আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)
(
… ...
… ...
… ...
… ...
… ... .)
তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুগ্ধপানযখন সেই পরম প্রিয় অস্তিত্ব লাভ করলেন এবং আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে বক্ষসমূহকে উন্মোচিত করে দিলেন ও মানুষের অন্তরে তাঁর প্রতি ভালোবাসা স্থাপন করলেন, তখন তাঁর মাতা তাঁকে সাত দিন স্তন্যপান করালেন। অতঃপর তাঁকে সুয়াইবাহ স্তন্যদান করেন, তবে তা নিয়মিত ছিল না। বরং এরপর হালিমা আস-সাদিয়া আগমন করেন এবং তাঁর স্তন্যদানের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন, যা তাঁর জন্য মহাকল্যাণ বয়ে এনেছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতাফা মিন সীরাতিল মুসতাফা
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
تِجَارَة وصناعة قَالَت لما وَضعته فِي حجري أقبل عَلَيْهِ ثدياي بِمَا شَاءَ من اللَّبن فَشرب حَتَّى روى مَحْفُوظًا بالعناية محفوفا بالمنن وَشرب أَخُوهُ عبد الله تَعْنِي ابْنهَا ثمَّ نَام وَمَا كَانَ فِي ثديها مَا يغذيه قبل أَن ترْضع خير الْأَنَام وَدرت شياهها بِاللَّبنِ بعد أَن كَانَت لَا تروى ناهلا وأسرعت أتانها فِي السّير بعد الضير وَكَانَت ثاقلا
وَأسْلمت حليمة على الْمَشْهُور وعدت من الصحابيات وحفتها الْعِنَايَة معْجزَة لسَيِّد السادات وَخير البريات
(فازت حليمة من رضَاع مُحَمَّد
… خير الورى طرا بأعظم مقصد)
(نَالَتْ من البركات حِين مَضَت بِهِ
… والسعد قارنها بطلعة أَحْمد)
(قد در مِنْهَا الثدي حِين رضاعه
… أمنت بِهِ من كل جهد مجهد)
(وأتانها للركب قد سبقت بهَا
… فَرحا وتيها بالرسول الأمجد)
(أغنامها صَارَت شباعا كلما
… سرحت تجود لَهَا بدر مُزْبِد)
(وَرَأَتْ من الْخيرَات وَهِي تحفها
… وَالنَّاس فِي مَحل وعيش أنكد)
ব্যবসা ও শিল্প। তিনি (হালিমা) বললেন, যখন আমি তাঁকে আমার কোলে রাখলাম, তখন আমার স্তনদ্বয় আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী পর্যাপ্ত দুগ্ধ নিয়ে তাঁর প্রতি ধাবিত হলো। তিনি পান করলেন এবং তৃপ্ত হলেন; তিনি ঐশী তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত ও অনুগ্রহে পরিবেষ্টিত ছিলেন। তাঁর (দুধ) ভাই আবদুল্লাহ—অর্থাৎ তাঁর (হালিমার) পুত্র—পান করল এবং তারপর ঘুমিয়ে পড়ল। অথচ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতমকে দুগ্ধপান করানোর পূর্বে তাঁর স্তনে তাকে পুষ্ট করার মতো কিছুই ছিল না। তাঁর বকরিগুলো দুগ্ধে উপচে পড়ল, অথচ ইতিপূর্বে সেগুলো একজন তৃষ্ণার্তকেও তৃপ্ত করতে পারত না। তাঁর মাদী গাধাটি কষ্টের পর চলার গতিতে দ্রুতগামী হয়ে উঠল, অথচ আগে তা অত্যন্ত ভারাক্রান্ত ও মন্থর ছিল।
প্রসিদ্ধ মতানুসারে হালিমা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং তিনি নারী সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সাইয়্যিদুস সাদাত এবং সর্বোত্তম সৃষ্টি (রাসূলুল্লাহ ﷺ)-এর মুজিজা হিসেবে বিশেষ ঐশী সাহায্য তাঁকে পরিবেষ্টন করেছিল।
(হালিমা সমগ্র সৃষ্টির সেরা মুহাম্মাদকে দুগ্ধপান করানোর মাধ্যমে এক মহান লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েছেন
… )
(যখন তিনি তাঁকে নিয়ে প্রস্থান করলেন, তখন তিনি অফুরন্ত বরকত লাভ করলেন
… এবং আহমাদ (ﷺ)-এর আবির্ভাবে সৌভাগ্য তাঁর সাথী হলো)
(তাঁর দুগ্ধপানের সময় স্তন হতে দুধ প্রবাহিত হলো
… তাঁর অসিলায় তিনি সকল প্রকার চরম কষ্ট থেকে নিরাপদ হলেন)
(তাঁর মাদী গাধাটি মহিমান্বিত রাসূলের আগমনে আনন্দ ও গৌরবে
… কাফেলার অন্যান্য সওয়ারিদের পেছনে ফেলে দ্রুত সামনে এগিয়ে গেল)
(তাঁর মেষগুলো যখনই চারণভূমিতে যেত, তৃপ্ত হয়ে ফিরে আসত
… এবং তাকে ফেনাযুক্ত প্রচুর দুগ্ধ দান করত)
(তিনি এমন সব কল্যাণ দেখতে পেলেন যা তাঁকে ঘিরে রেখেছিল
… অথচ অন্য মানুষরা অনাবৃষ্টি এবং অত্যন্ত সংকীর্ণ জীবন যাপনের মধ্যে ছিল)
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতাফা মিন সীরাতিল মুসতাফা
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
(نَالَتْ بِهِ كل المسرة والهنا
… فَهُوَ الَّذِي قد سَاد كل مسود) صلى الله عليه وسلم ذكر شقّ صَدره الشريف
لما بلغ سنه صلى الله عليه وسلم ثَلَاث سِنِين وَقيل أَرْبعا حسب مَا قيل عَمَّن فِي رِوَايَته سعى شقّ صَدره الشريف وَهُوَ فِي دَار بني سعد عِنْد حليمة وحف بالمكارم وملىء بالأخلاق الْعَظِيمَة
ثمَّ لما بلغ من الْعُمر عشرَة أَعْوَام ومنحه الله الْهِدَايَة وَالْبر والإنعام شقّ صَدره الشريف مرّة ثَانِيَة وَغسل وملىء إِيمَانًا وَحِكْمَة زاكية
ثمَّ لما بَعثه الله رَحْمَة للْعَالمين شقّ صَدره وملىء من الْحِكْمَة وَالْيَقِين
وشق رَابِعا فِي لَيْلَة الْإِسْرَاء والمعراج كَمَا سطر وَحصر عِنْد طوائف الْعلمَاء وحرر
وَكَانَ عِنْد شقّ صَدره الشريف يزْدَاد شرفا وَيُعْطِي من الرشاد عزة وتحفا
(وشق صدر الْمُصْطَفى وَهُوَ فِي
… دَار بني سعد بِلَا مرية)
(তার মাধ্যমে সকল আনন্দ ও সুখ অর্জিত হয়েছে
… কেননা তিনি সেই সত্তা যিনি সকল নেতার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাঁর সম্মানিত বক্ষ বিদীর্ণ করার আলোচনা।
যখন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বয়স তিন বছরে উপনীত হলো, এবং কারো বর্ণনা অনুযায়ী চার বছর বলা হয়েছে, তখন তাঁর সম্মানিত বক্ষ বিদীর্ণ করার কাজ সম্পন্ন হলো। সে সময় তিনি বনু সাদ গোত্রের জনপদে হালিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর নিকট অবস্থান করছিলেন। তিনি শ্রেষ্ঠত্বের গুণাবলীতে পরিবেষ্টিত ছিলেন এবং মহান চরিত্রে পরিপূর্ণ ছিলেন।
অতঃপর যখন তাঁর বয়স দশ বছর পূর্ণ হলো এবং আল্লাহ তাঁকে হিদায়াত, পুণ্য ও নেয়ামত দান করলেন, তখন দ্বিতীয়বার তাঁর সম্মানিত বক্ষ বিদীর্ণ করা হলো এবং তা ধৌত করে ঈমান ও পবিত্র প্রজ্ঞায় পরিপূর্ণ করা হলো।
অতঃপর যখন আল্লাহ তাঁকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করলেন, তখন তাঁর বক্ষ বিদীর্ণ করা হলো এবং তা প্রজ্ঞা ও দৃঢ় বিশ্বাস (ইয়াকিন) দ্বারা পূর্ণ করা হলো।
এবং চতুর্থবার ইসরা ও মিরাজের রাতে বক্ষ বিদীর্ণ করা হলো, যেমনটি আলেমগণের বিভিন্ন দল কর্তৃক লিপিবদ্ধ ও সংকলিত হয়েছে এবং সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তাঁর সম্মানিত বক্ষ বিদীর্ণ করার প্রতিটি সময়ে তাঁর মর্যাদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছিল এবং তিনি সঠিক পথের নির্দেশনার মাধ্যমে সম্মান ও অনন্য উপহার প্রাপ্ত হচ্ছিলেন।
(নিঃসন্দেহে মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্ষ বিদীর্ণ করা হয়েছে যখন তিনি
… বনু সাদ গোত্রের জনপদে ছিলেন)।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতাফা মিন সীরাতিল মুসতাফা
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
(كشقه وَهُوَ ابْن عشر وَفِي
… معراجه وَقبل فِي الْبعْثَة)
وَفَاة أمه آمِنَة وكفالة جده عبد الْمطلب لَهُ لما بلغ عمره صلى الله عليه وسلم سِتّ سِنِين وقرت بِهِ أعين أَهله الفائزين خرجت بِهِ أمه إِلَى الْمَدِينَة لزيارة أخوال أَبِيه بني النجار ومعهما أم أَيمن حاضنة الرَّسُول الْمُخْتَار فأقاموا شهرا ثمَّ خَرجُوا رَاجِعين إِلَى الْحرم فَلَمَّا كَانُوا بالأبواء مَاتَت أم سيد الْأُمَم فَدخلت بِهِ أم أَيمن إِلَى مَكَّة وضمه جده إِلَيْهِ وَكَانَ يعلى مَنْزِلَته ويرق عَلَيْهِ وَيَقُول إِن لوَلَدي هَذَا شَأْنًا وَقد كَانَ مَا قَالَ وَفَوق مَا تمنى وَلم يزل يكفله إِلَى أَن بلغ ثَمَان سِنِين وَقيل تسعا وَقيل عشرا وَقيل غير ذَلِك كَمَا أثْبته من لَهُ ادّعى وَمَات جده عِنْد ذَلِك وَذهب إِلَى مَوْلَاهُ بعد أَن أوصى أَبَا طَالب بِحِفْظ رَسُول الله
(أصُول الْمُصْطَفى أَصْحَاب مجد
… لَهُم شرف يخص لَدَى الثِّقَات)
(فَمَا مِنْهُم فَتى إِلَّا ويرجى
… لفك شَدَائِد أَو معضلات)
(طَوِيل الباع شيبَة ذَا الْمَعَالِي
… كريم الخيم مَحْمُود الهبات)
(যেমন তাঁর বক্ষ বিদীর্ণ হওয়া যখন তাঁর বয়স ছিল দশ বছর, এবং
… তাঁর মেরাজের সময়, আর বলা হয়েছে নবুওয়াত লাভের প্রাক্কালে)
তাঁর মাতা আমিনার মৃত্যু এবং তাঁর দাদা আব্দুল মুত্তালিবের তত্ত্বাবধানে আসা যখন তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বয়স ছয় বছর পূর্ণ হলো এবং তাঁর মাধ্যমে তাঁর সফল পরিজনদের চক্ষু শীতল হলো, তখন তাঁর মাতা তাঁকে নিয়ে তাঁর পিতার মামাবাড়ি বনু নাজ্জার গোত্রের সাথে সাক্ষাৎ করতে মদিনার উদ্দেশ্যে বের হলেন। তাঁদের সাথে মনোনীত রাসূলের লালনকারিণী উম্মে আয়মানও ছিলেন। তাঁরা সেখানে এক মাস অবস্থান করার পর হারামের (মক্কা) অভিমুখে রওয়ানা হলেন। যখন তাঁরা আবওয়া নামক স্থানে পৌঁছালেন, তখন উম্মতকুলের সরদারের মাতা ইন্তেকাল করলেন। উম্মে আয়মান তাঁকে নিয়ে মক্কায় প্রবেশ করলেন এবং তাঁর দাদা তাঁকে নিজের কাছে টেনে নিলেন। তিনি তাঁর মর্যাদা সমুন্নত রাখতেন ও তাঁর প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ছিলেন এবং বলতেন: "নিশ্চয়ই আমার এই পুত্রের এক মহান ভবিষ্যৎ রয়েছে।" তিনি যা বলেছিলেন এবং যা আকাঙ্ক্ষা করেছিলেন, বাস্তবে তার চেয়েও বেশি কিছু ঘটেছিল। তিনি তাঁকে আট বছর বয়স পর্যন্ত লালন-পালন করতে থাকেন—বলা হয়ে থাকে নয় বছর, আবার কেউ বলেন দশ বছর, এছাড়াও ভিন্ন মত রয়েছে যেমনটি নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিবর্গ বর্ণনা করেছেন। এই সময়ে তাঁর দাদা ইন্তেকাল করেন এবং আবু তালিবকে আল্লাহর রাসূলের হিফাজতের অসিয়ত করে যাওয়ার পর তিনি তাঁর মাওলার (পরম প্রভুর) নিকট চলে যান।
(মুস্তফার পূর্বপুরুষগণ হলেন সুমহান মর্যাদার অধিকারী
… নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের নিকট তাঁদের রয়েছে বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব)
(তাঁদের মধ্যে এমন কোনো বীর নেই যার কাছে প্রত্যাশা করা যায় না
… কঠিন বিপদ কিংবা জটিল সমস্যা নিরসনের জন্য)
(উচ্চ মর্যাদার অধিকারী প্রশস্ত হস্ত শায়বাহ (আব্দুল মুত্তালিব)
… তিনি ছিলেন স্বভাবজাতভাবে উদার এবং তাঁর দানসমূহ ছিল প্রশংসিত)
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতাফা মিন সীরাতিল মুসতাফা
(পৃষ্ঠা: ৪০)
(وصُولا لِلْقَرَابَةِ هبرزيا
… وغيثا فِي السنين الممحلات)
(عقيل بني كنَانَة والمرجى
… إِذا مَا الدَّهْر أقبل بالهبات)
ضم أبي طَالب للنَّبِي صلى الله عليه وسلم سنة ثَمَان من الْفِيل فَلَمَّا توفّي عبد الْمطلب ضمه عَمه أَبُو طَالب فظفر مِنْهُ بأفخر الْكُنُوز وأسنى المطالب وَكَانَ يُحِبهُ حبا شَدِيدا ويلقى عَلَيْهِ من الْكَرَامَة ظلا مديدا وَيجمع بِهِ شَمله وَيعرف بركته وفضله ويقدمه على أَوْلَاده وينشرح بمضيه إِلَيْهِ وترداده
وَخرج بِهِ إِلَى الشَّام فِي أَشْيَاخ من قُرَيْش فَذهب عَنْهُم بِصُحْبَتِهِ النصب وطاب لَهُم الْعَيْش ومروا فِي سيرهم بِالرَّاهِبِ الْمُسَمّى بحيرا فَنزل إِلَيْهِم مفارقا لعادته وصنع لَهُم طَعَاما كثيرا وَأخذ بيد سيد الراحلين والقادمين وَقَالَ هَذَا يَبْعَثهُ الله رَحْمَة للْعَالمين وَأخْبرهمْ برفعة نجومه وَسُجُود الْحجر وَالشَّجر عِنْد قدومه وَأَن الغمامة أظلته دون من قبله من الْقَوْم وَبعده وَمَا رَآهُ من صفته الَّتِي كَانَ يجدهَا مَكْتُوبَة عِنْده
وَكَانَ صلى الله عليه وسلم إِذْ ذَاك ابْن اثنتى عشرَة سنة وشب مَعَ أبي طَالب يكلأه ويحفظه من لَا يَأْخُذهُ نوم وَلَا سنة لما يُرِيد من كرامته ويختار من نبوته وإمامته حَتَّى كَانَ أفضل قومه مُرُوءَة وجوارا وَأَحْسَنهمْ خلقا وأرفعهم
(আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষাকারী এবং শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি
… এবং দুর্ভিক্ষ পীড়িত বছরগুলোতে বৃষ্টির ন্যায়)
(বনু কিনানার বুদ্ধিমান ব্যক্তি এবং আশার স্থল
… যখন কাল তার দান-সামগ্রী নিয়ে উপস্থিত হয়)
হস্তীবর্ষের অষ্টম সালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আবু তালিবের নিজ জিম্মায় গ্রহণ যখন আব্দুল মুত্তালিব ইন্তেকাল করলেন, তখন তাঁর চাচা আবু তালিব তাঁকে নিজের আশ্রয়ে গ্রহণ করলেন। ফলে তিনি তাঁর মাধ্যমে সবচেয়ে মূল্যবান ধনভাণ্ডার এবং সর্বোচ্চ লক্ষ্য অর্জন করলেন। তিনি তাঁকে অত্যধিক ভালোবাসতেন এবং তাঁর ওপর সম্মানের দীর্ঘ ছায়া বিস্তার করতেন। তিনি তাঁর মাধ্যমে নিজের শৃঙ্খলা বজায় রাখতেন এবং তাঁর বরকত ও শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তিনি তাঁকে নিজ সন্তানদের ওপর অগ্রাধিকার দিতেন এবং তাঁর আসা-যাওয়ায় ও সান্নিধ্যে অত্যন্ত আনন্দিত হতেন।
তিনি তাঁকে কুরাইশ বংশের প্রবীণ ব্যক্তিদের সাথে সিরিয়ার উদ্দেশ্যে নিয়ে বের হলেন। তাঁর সাহচর্যের কারণে তাঁদের ক্লান্তি দূর হয়ে গেল এবং তাঁদের সফর আনন্দদায়ক হলো। যাত্রাপথে তাঁরা বুহাইরা নামক এক সন্ন্যাসীর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সে তার চিরাচরিত অভ্যাস ভেঙে তাঁদের কাছে নেমে এল এবং তাঁদের জন্য প্রচুর খাবারের আয়োজন করল। সে আগত ও গত হওয়া সকলের সরদারের হাত ধরল এবং বলল, "একে আল্লাহ বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করবেন।" সে তাঁদেরকে তাঁর উচ্চ মর্যাদা এবং তাঁর আগমনে পাথর ও বৃক্ষের সিজদা করার সংবাদ দিল। সে আরও জানাল যে, মেঘমালা তাঁর আগে বা পরের অন্য কারো পরিবর্তে কেবল তাঁকেই ছায়া দান করছিল। সে তাঁর মধ্যে সেই সব বৈশিষ্ট্য দেখতে পেল যা সে নিজের কাছে লিখিত কিতাবে পেয়েছিল।
তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বয়স ছিল বারো বছর। তিনি আবু তালিবের সান্নিধ্যে বেড়ে উঠতে লাগলেন; আর যাঁর তন্দ্রা বা নিদ্রা স্পর্শ করে না, তিনি তাঁকে রক্ষা ও তত্ত্বাবধান করছিলেন। কারণ আল্লাহ তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করতে চেয়েছিলেন এবং তাঁকে নবুয়ত ও ইমামতের জন্য মনোনীত করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি তাঁর কওমের মধ্যে ব্যক্তিত্ব ও প্রতিবেশীসুলভ আচরণে শ্রেষ্ঠতম, চরিত্রে সর্বোত্তম এবং মর্যাদায় সর্বোচ্চ ব্যক্তিতে পরিণত হলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতাফা মিন সীরাতিল মুসতাফা
(পৃষ্ঠা: ৪১)
منارا وأجزلهم عفة وصيانة وأعظمهم حلما وَأَمَانَة لَا يُمَارِي وَلَا يداجي وَلَا يَمِين حَتَّى سمي لما جمع فِيهِ من الْأُمُور الصَّالِحَة بالأمين
(نَبِي بحيرا هام فِي در بحره
… وَفِي الْوَصْف من آيَاته حارت الْفِكر)
(نَبِي أظلته الغمامة إِذْ مَشى
… وَعَن أمره جَاءَت إِلَى نَحوه الشّجر)
(وخاطبه ظَبْي الفلاة وضبها
… ووافى إِلَى الظامي بدعوته الْمَطَر)
(عَلَيْهِ سَلام الله مَا هبت الصِّبَا
… وَمَا غرد الْقمرِي واتسق الْقَمَر)
أعمام النَّبِي صلى الله عليه وسلم وعماته (أعمام النَّبِي صلى الله عليه وسلمأَبُو الْفضل الْعَبَّاس الْمَخْصُوص بأنواع من الشّرف وأجناس وَالِد الْخُلَفَاء الْكِرَام الطَّائِف العاكف بِالْبَيْتِ بَيت الله الْحَرَام
وَحَمْزَة أَسد الله وَرَسُوله والناصب للْمُشْرِكين شرك رماحه ونصوله عَاشَ سعيدا وَمَات يَوْم أحد شَهِيدا
والْحَارث أكبر وَلَده وَأول مَعْدُود من أسلحته وعدده حضر حفر
তিনি ছিলেন আলোকবর্তিকা এবং চারিত্রিক পবিত্রতা ও সুরক্ষায় অনন্য, আর সহনশীলতা ও আমানতদারিতায় শ্রেষ্ঠ। তিনি বিবাদ করতেন না, তোষামোদ করতেন না এবং সত্য থেকে বিচ্যুত হতেন না, এমনকি তাঁর মধ্যে উত্তম গুণাবলির সমাবেশের কারণে তাঁকে 'আল-আমিন' (বিশ্বস্ত) নামে অভিহিত করা হয়েছিল।
(এমন এক নবী, যাঁর জ্ঞান-সমুদ্রের মুক্তো আহরণে বুহাইরা বিমোহিত হয়েছিলেন
… এবং যাঁর গুণাবলির বর্ণনায় চিন্তাশক্তি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিল।)
(এমন এক নবী, যাঁর চলার পথে মেঘমালা ছায়া প্রদান করত
… এবং যাঁর নির্দেশে বৃক্ষরাজি তাঁর সান্নিধ্যে ছুটে আসত।)
(মরুভূমির হরিণ ও সাণ্ডা যাঁর সাথে কথা বলেছিল
… এবং যাঁর প্রার্থনায় তৃষ্ণার্তের নিকট বৃষ্টি পৌঁছেছিল।)
(তাঁর ওপর আল্লাহর শান্তি বর্ষিত হোক যতক্ষণ পূবালী বাতাস প্রবাহিত হবে
… এবং যতক্ষণ ঘুঘু পাখি ডাকবে ও চাঁদ পূর্ণতা পাবে।)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচাগণ ও ফুফুগণ (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচাগণ)আবুল ফজল আব্বাস, যিনি বহুবিধ শ্রেষ্ঠত্ব ও সম্মানে ভূষিত, সম্মানিত খলিফাদের পিতা, যিনি আল্লাহর পবিত্র ঘর বাইতুল্লাহর তাওয়াফকারী ও ইতিকাফকারী ছিলেন।
এবং হামজা, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সিংহ এবং মুশরিকদের বিরুদ্ধে স্বীয় বর্শা ও তীরের ফলার জাল বিস্তারকারী; তিনি সৌভাগ্যবান হিসেবে জীবন অতিবাহিত করেছেন এবং উহুদের দিন শহীদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন।
এবং আল-হারিস, তিনি তাঁর (আবদুল মুত্তালিবের) জ্যেষ্ঠ সন্তান এবং তাঁর শক্তি ও লোকবলের মধ্যে প্রথম গণ্য; তিনি (জমজম কূপ) খননকার্যে উপস্থিত ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতাফা মিন সীরাতিল মুসতাফা
(পৃষ্ঠা: ৪২)
زَمْزَم وَكَانَ بِهِ يتَمَسَّك وَله يلْزم
وَأَبُو طَالب عبد منَاف مَعْدن الْجُود وَمَعْقِل الأضياف وَالِد أَمِير الْمُؤمنِينَ عَليّ وناصر الْمفضل على كل نَبِي وكل ولي
وَأَبُو طَاهِر الزبير الْمَوْصُوف بِدفع الضيم والضير
وحجل الْمُسَمّى بالمغيرة صَاحب الْمَغَانِم الجزيلة والمكارم الغزيرة
وَأَبُو هِنْد الْمُقَوّم الَّذِي مَا نَام عَن حفظ الذمام وَلَا هوم
وَأَبُو نَافِع ضرار الْقَائِل إِذا حمي الْوَطِيس لَا فرار
وَمصْعَب الْمُسَمّى بالغيداق والشهير بِكَثْرَة الْخَيْر وَحسن الْأَخْلَاق
وَعبد الْكَعْبَة كاشف غمام الغموم الصعبة
وَقثم هلك صَغِيرا وَترك عَيْش أَبِيه بعد حلوه مريرا
وَأَبُو لَهب عبد الْعُزَّى الَّذِي كَانَت حمية الْجَاهِلِيَّة تؤزه أزا
عمات النَّبِي صلى الله عليه وسلمصَفِيَّة الوفية المؤمنة المهاجرة الزكية
والبيضاء أم حَكِيم توءمة وَالِد النَّبِي الْكَرِيم
وعاتكة مالكة الصون وَالْقدر وصاحبة الرُّؤْيَا الصادقة فِي وقْعَة بدر
জমজম (কূপের) সাথে তিনি লেগে থাকতেন এবং এর খেদমত আঁকড়ে ধরতেন।
এবং আবু তালিব আবদে মানাফ, যিনি দানশীলতার আকর এবং অতিথিদের আশ্রয়স্থল; তিনি আমিরুল মুমিনীন আলীর পিতা এবং সমস্ত নবী ও ওলীর ওপর শ্রেষ্ঠত্বপ্রাপ্ত (নবী)-এর সাহায্যকারী।
এবং আবু তাহির যুবাইর, যিনি জুলুম ও ক্ষতি প্রতিহত করার গুণে গুণান্বিত।
এবং হাজল, যাঁর নাম ছিল মুগিরা; তিনি ছিলেন প্রচুর গনীমত এবং অগাধ মহত্ত্বের অধিকারী।
এবং আবু হিন্দ আল-মুকাউউইম, যিনি অঙ্গীকার রক্ষায় কখনো ঘুমাননি এবং তন্দ্রাচ্ছন্নও হননি।
এবং আবু নাফে' দিরার, যিনি বলতেন: যখন যুদ্ধের ময়দান উত্তপ্ত হয়, তখন পালানোর অবকাশ নেই।
এবং মুসআব, যাকে আল-গায়দাক বলা হতো এবং যিনি প্রচুর কল্যাণ ও উত্তম চরিত্রের জন্য সুপরিচিত ছিলেন।
এবং আবদে কাবা, যিনি কঠিন দুঃখের মেঘমালা দূরকারী ছিলেন।
এবং কুসাম, যিনি শৈশবেই মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর পিতার মধুময় জীবনকে তিক্ততায় বিষাদময় করে দিয়ে যান।
এবং আবু লাহাব আবদে উজ্জা, যাকে জাহেলিয়াতের অহমিকা প্রচণ্ডভাবে প্ররোচিত করত।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফুফুগণসাফিয়্যাহ, যিনি ছিলেন অনুগত, মুমিন, হিজরতকারী ও পবিত্র।
এবং আল-বায়দা উম্মে হাকিম, যিনি ছিলেন সম্মানিত নবীর পিতার যমজ বোন।
এবং আতিকাহ, যিনি মর্যাদা ও উচ্চশানের অধিকারিণী এবং বদর যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সত্য স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতাফা মিন সীরাতিল মুসতাফা
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
وَأُمَيْمَة أم زَيْنَب الطاهرة زَوْجَة الْمَبْعُوث بِالْآيَاتِ الباهرة
وأروى أم طليب الَّتِي لَا نقص فِي محتدها وَلَا عيب
وبرة أم أبي سَلمَة الَّتِي رفع الْمجد لكل من وَلَدهَا علمه
فَلَقَد أحسن مطرود بن كَعْب الْخُزَاعِيّ حَيْثُ يَقُول من أَبْيَات
(يَا أَيهَا الرجل المحول رَحْله
… هلا سَأَلت عَن آل عبد منَاف)
(المنعمين إِذا النُّجُوم تَغَيَّرت
… والظاعنين لرحلة الإيلاف)
(والمطعمين إِذا الرِّيَاح تناوحت
… حَتَّى تغيب الشَّمْس فِي الرجاف)
এবং উমাইমাহ হলেন পবিত্র যয়নবের মাতা, যিনি উজ্জ্বল নিদর্শনসহ প্রেরিত মহাপুরুষের পত্নী।
এবং আরওয়া হলেন তুলাইবের মাতা, যাঁর আভিজাত্যে কোনো ঘাটতি বা ত্রুটি নেই।
এবং বাররাহ হলেন আবু সালামার মাতা, যাঁর সন্তানদের প্রত্যেকের জন্য মর্যাদা তাঁর নিশানকে সুউচ্চ করেছে।
মাতরুদ ইবনে কাব আল-খুজায়ি তাঁর কিছু কাব্যাংশে চমৎকার ব্যক্ত করেছেন:
(হে ওই ব্যক্তি, যে তার সফরের আসবাবপত্র নামিয়েছে
... তুমি কি আবদে মানাফের বংশধরদের সম্পর্কে সংবাদ নিয়েছ?)
(নক্ষত্ররাজি বিমুখ হওয়ার সংকটেও তারা অনুগ্রহ দানকারী
... এবং তারা কুরাইশদের ইলাফ সফরের যাত্রী।)
(তীব্র বায়ু প্রবাহের দিনেও তারা অন্নদানকারী
... যতক্ষণ না সূর্য দিগন্ত রেখায় অস্তমিত হয়।)
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতাফা মিন সীরাতিল মুসতাফা
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
حَرْب الْفجار فِي شَوَّال سنة عشْرين من الْفِيل حضر النَّبِي صلى الله عليه وسلم صُحْبَة أَعْمَامه حَرْب الْفجار متدرعا لأمه الشّرف مُتَقَلِّدًا سيف الفخار فَجعل ينبل عَلَيْهِم وَيرد مَا يَقع من سِهَام عدوهم إِلَيْهِم وَكَانَ الَّذِي أوقد النَّار وهيج الضرام قتل البراض بن قيس عُرْوَة الرّحال فِي الشَّهْر الْحَرَام فثارت أعصار الْفِتْنَة وطارت غربان المحنة وتأهب قُرَيْش وَقيس عَاما لهَذِهِ الْحَرْب ثمَّ التقى الْفَرِيقَانِ لَا يفرقون من الطعْن وَالضَّرْب فَقتل مِنْهُم خلق كثير وَكَانَت الكرة على قيس فِي الْأَخير ثمَّ سكنوا وللسلم جنحوا وَاتَّفَقُوا على دِيَة الْقَتْلَى واصطلحوا
وَفِي قتل عُرْوَة يَقُول لبيد بن ربيعَة من أَبْيَات
(وَبلغ إِن عرضت بني ثمير
… وأخوال الْقَتِيل بني هِلَال)
হস্তীবর্ষের বিশতম বর্ষের শাওয়াল মাসে ফিজার যুদ্ধ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর চাচাদের সাথে ফিজার যুদ্ধে উপস্থিত হয়েছিলেন। তিনি সম্মানের বর্ম পরিহিত এবং গৌরবের তলোয়ার ধারণকারী ছিলেন। তিনি তাদের (চাচাদের) তীরের জোগান দিচ্ছিলেন এবং শত্রুপক্ষ থেকে আসা তীরগুলো কুড়িয়ে তাদের কাছে ফিরিয়ে দিচ্ছিলেন। এই যুদ্ধের আগুন প্রজ্বলিত হওয়ার এবং দাবানল উসকে দেওয়ার কারণ ছিল হারাম মাসে আল-বাররাদ ইবনে কায়স কর্তৃক উরওয়া আর-রাহহালের হত্যাকাণ্ড। ফলে ফিতনার ঘূর্ণিঝড় উত্থিত হলো এবং মুসিবতের কাকেরা উড়তে শুরু করল। কুরাইশ এবং কায়স গোত্র এক বছর ধরে এই যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করল। অতঃপর উভয় পক্ষ মুখোমুখি হলো এবং তারা আঘাত ও প্রহারে কোনো দ্বিধা করল না। এতে বহু মানুষ নিহত হলো এবং শেষ পর্যন্ত কায়স গোত্র পরাজিত হলো। অতঃপর তারা শান্ত হলো এবং শান্তির দিকে ঝুঁকে পড়ল। তারা নিহতদের রক্তপণের ব্যাপারে একমত হলো এবং সন্ধি স্থাপন করল।
উরওয়ার হত্যার ব্যাপারে লাবীদ ইবনে রবীআহ কতিপয় পঙ্ক্তিতে বলেন:
(আর যদি তোমার দেখা হয় তবে বনু থুমাইরের কাছে সংবাদ পৌঁছে দাও
… এবং নিহতের মামার বংশ বনু হিলালের নিকট।)
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতাফা মিন সীরাতিল মুসতাফা
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
(بِأَن الْوَافِد الرّحال أَمْسَى
… مُقيما عِنْد ثيمن ذِي طلال)
حلف الفضول فِي ذِي الْقعدَة من السّنة الْمَذْكُورَة ثمَّ حضر صلى الله عليه وسلم حلف الفضول وَهُوَ أَمر وَجهه فِي الظَّاهِر مَقْبُول دَعَا إِلَيْهِ الزبير بن عبد الْمطلب ونقم على من يتَخَلَّف عَنهُ من قُرَيْش ويحتجب
فَاجْتمعُوا فِي دَار عبد الله بن جدعَان وأكلوا عِنْده مأدبة خير مطعام ومظعان
ثمَّ تحالفوا وتعاقدوا وَبِاللَّهِ الْخَالِق تَعَاهَدُوا على أَن يَكُونُوا مَعَ الْمَظْلُوم حَتَّى يُؤَدِّي حَقه إِلَيْهِ فَسَمتْهُ قُرَيْش حلف الفضول وَهُوَ مسمي وَقع الإسم عَلَيْهِ
(قل لقريش إِن وَردت حيهم
… يَا أمة سادوا بِخَير الرُّسُل)
(যেহেতু আগন্তুক পথিক সন্ধ্যা অতিবাহিত করেছে
… থাইমান যি তালালের নিকট অবস্থানকারী হিসেবে)
উল্লিখিত বছরের জিলকদ মাসে হিলফুল ফুদুল অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিলফুল ফুদুলে উপস্থিত হলেন এবং এটি ছিল এমন একটি বিষয় যার বাহ্যিক দিকটি ছিল গ্রহণযোগ্য। জুবায়ের ইবনে আব্দুল মুত্তালিব এর দিকে আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং কুরাইশদের মধ্যে যারা এর থেকে পিছিয়ে ছিল বা বিমুখ ছিল তাদের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।
অতঃপর তারা আব্দুল্লাহ ইবনে জাদআনের ঘরে সমবেত হলেন এবং সেখানে শ্রেষ্ঠ আতিথেয়তাকারী ও খাদ্য দানকারীর ভোজসভায় আহার করলেন।
এরপর তারা পরস্পর অঙ্গীকারাবদ্ধ হলেন ও চুক্তিতে আবদ্ধ হলেন এবং সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর নামে এই প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করলেন যে, তারা মজলুমের পাশে থাকবেন যতক্ষণ না তার অধিকার তার নিকট ফিরিয়ে দেওয়া হয়; ফলে কুরাইশরা এর নাম রাখল 'হিলফুল ফুদুল' এবং এটি একটি যথার্থ নাম হিসেবে পরিগণিত হলো।
(কুরাইশদের বলে দাও যদি তুমি তাদের জনপদে প্রবেশ করো
… হে সেই জাতি যারা শ্রেষ্ঠ রাসূলের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছ)
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতাফা মিন সীরাতিল মুসতাফা
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
(حلف الفضول مِنْكُم قد اغتدى
… بِسَيِّد الكونين حلف الْفضل)
خُرُوج النَّبِي صلى الله عليه وسلم إِلَى الشَّام سنة خَمْسَة وَعشْرين من الْفِيل فَلَمَّا بلغ عليه السلام عشْرين وَخَمْسَة أَعْوَام ودارت الْأَقْوَال فِيهِ بَين الأقوام قصد الشَّام بِإِشَارَة عَمه أبي طَالب ورحل فِي تِجَارَة لِخَدِيجَة الطاهرة من المثالب وَخرج مَعَه غلامها ميسرَة وسافر وأوجه الْحَظ لتلقيه مسفرة حَتَّى قدم إِلَى بصرى مَحْفُوظًا بِعَين الْعِنَايَة فِي الْإِقَامَة والمسرى فَنزل فِي ظلّ شَجَرَة هُنَاكَ لَا ينزل تحتهَا إِلَّا من نبأه سامك السماك أخبر بذلك الراهب نسطور حسب مَا هُوَ عِنْده فِي الْكتاب مسطور
وَكَانَ ميسرَة يسر بِمَا يرى من بركته الوافرة ويشاهد ملكَيْنِ يظلانه من الْحر وَقت الهاجرة ثمَّ بَاعَ التِّجَارَة فائزا بِالرِّبْحِ الزَّائِد وَعَاد ولسان الْحَال يَقُول مرْحَبًا بالصلة والعائد
(أما الشآم فَإِن غيث المزن من
… بركاته عَن أرضه لَا يرحل)
(তোমাদের মধ্য হতে হিলফুল ফুদুল ভোরে যাত্রা করেছে
… উভয় জগতের সরদারের সাথে ফজিলতের এই অঙ্গীকার)
হস্তীবর্ষের পঁচিশতম বছরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সিরিয়া অভিমুখে যাত্রা যখন তাঁর (আলাইহিস সালাম) বয়স পঁচিশ বছর হলো এবং জনগণের মাঝে তাঁকে নিয়ে আলোচনার পরিধি বিস্তৃত হলো, তখন তিনি তাঁর চাচা আবু তালিবের ইঙ্গিতে সিরিয়া গমনের ইচ্ছা পোষণ করলেন এবং সকল দোষ-ত্রুটিমুক্ত ও পবিত্রা খাদিজার ব্যবসায়িক মালামাল নিয়ে সফর করলেন। তাঁর সাথে তাঁর গোলাম মাইসারা বের হলেন এবং তিনি সফর করলেন এমতাবস্থায় যে, সৌভাগ্যের জ্যোতি তাঁকে গ্রহণের জন্য উজ্জ্বল হয়ে ছিল। অবশেষে তিনি অবস্থান ও ভ্রমণের সকল অবস্থায় খোদায়ী হেফাযত ও বিশেষ তত্ত্বাবধানে ‘বুসরা’ নামক স্থানে পৌঁছালেন। সেখানে তিনি একটি গাছের ছায়ায় অবতরণ করলেন, যার নিচে আকাশমন্ডলীর উচ্চতা দানকারী মহান আল্লাহ যাকে নবুওয়াত দান করেছেন তিনি ব্যতীত অন্য কেউ অবতরণ করেন না। পাদ্রী নাস্তুরা এই বিষয়ে সংবাদ দিলেন, যা তার নিকট কিতাবে লিখিত ছিল।
আর মাইসারা তাঁর মধ্যে যে প্রচুর বরকত দেখতে পাচ্ছিলেন তাতে আনন্দিত হচ্ছিলেন এবং তিনি প্রত্যক্ষ করছিলেন যে, ভরদুপুরে প্রচণ্ড রৌদ্রে দুই ফেরেশতা তাঁর ওপর ছায়া বিস্তার করছে। অতঃপর তিনি অধিক মুনাফা অর্জনপূর্বক ব্যবসা সম্পন্ন করলেন এবং ফিরে আসলেন; তখন সমকালীন অবস্থা যেন বলছিল—আগত এবং এই মহামূল্যবান ব্যক্তিত্বের প্রতি স্বাগতম।
(সিরিয়া এমন এক দেশ যেখানকার মেঘের বারিধারা তাঁর
… বরকতের কারণে এর ভূমি হতে কখনও বিদায় নেয় না)
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতাফা মিন সীরাতিল মুসতাফা
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
(وَالْخَيْر منثال عَلَيْهِ وَكَيف لَا
… وَإِلَيْهِ قد وافى النَّبِي الْمُرْسل)
بِنَاء الْكَعْبَة سنة خَمْسَة وَثَلَاثِينَ من الْفِيل كَانَ السَّيْل يدْخل الْبَيْت فانصدع فخافوا عَلَيْهِ أَن يتهدم وَيَقَع وَأَقْبَلت فِي الْبَحْر سفينة نفر من الرّوم وَكَانَ رَأْسهمْ بِنَاء يُقَال لَهُ باقوم فدفعتها الرّيح إِلَى الشعيبة فتكسرت فَعلمت قُرَيْش إِذْ ذَاك أَن أُمُور الْبناء تيسرت فابتاعوا من خشبها مَا ارْتَفع ونفع وكلموا الرُّومِي فِي رُجُوعه مَعَهم للْبِنَاء فَرجع فَجمعُوا الْآلَات بالجرم المطهر لِذَوي الزِّيَارَة وَكَانَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم ينْقل مَعَهم الْحِجَارَة فَلَمَّا فرغوا أَجمعُوا على هدمها فهدموا وحكموا فِي هَذِه الْقَضِيَّة بِمَا ألهموا لَا بِمَا علمُوا
ثمَّ أخذُوا فِي الْعَمَل مبادرين إِلَيْهِ وميزوا الْبَيْت واقترعوا عَلَيْهِ فَوَقع لكل قَبيلَة جِدَار من أَرْبَعَة واجتهدوا فِي بِنَاء بَيت مَا أشرفه وأرفعه فَلَمَّا انْتَهوا إِلَى حَيْثُ يوضع الْحجر طلبت كل قَبيلَة الْفَوْز بِوَضْعِهِ وَالظفر
وَوَقع بَينهم الْخلاف ثمَّ رَضوا بِحكم صَاحب الْعدْل والإنصاف فَحَضَرَ صلى الله عليه وسلم وَحكم بَينهم بِمَا جنح كل مِنْهُم إِلَيْهِ وَسلم حملوه بأطراف رِدَاء أَلْقَاهُ
(কল্যাণ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক এবং কেনই বা হবে না
… আর তাঁর নিকটই প্রেরিত নবী আগমন করেছেন)
হস্তীবর্ষের পঁয়ত্রিশতম বছরে কাবা নির্মাণ ঢলের পানি (কাবা) ঘরে প্রবেশ করত, ফলে তা ফেটে গিয়েছিল। তারা ঘরটি ধসে পড়ার এবং ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছিলেন। ইতোমধ্যে সমুদ্রপথে রোমানদের একটি দলবাহী জাহাজ আসছিল, যাদের প্রধান ছিলেন বাকুম নামক এক স্থপতি। প্রবল বাতাস জাহাজটিকে শুয়াইবা বন্দরের দিকে ঠেলে দেয় এবং সেখানে তা ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। তখন কুরাইশরা বুঝতে পারল যে, নির্মাণের কাজ সহজ হয়ে গেছে। তারা সেই জাহাজের কাঠ থেকে উন্নত ও প্রয়োজনীয় কাঠসমূহ ক্রয় করল। তারা সেই রোমান ব্যক্তির সাথে কথা বলল যেন সে নির্মাণের জন্য তাদের সাথে ফিরে আসে। অতঃপর সে ফিরে এল। তারা জিয়ারতকারীদের জন্য পবিত্র স্থানে নির্মাণ সামগ্রী একত্রিত করল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের সাথে পাথর বহন করছিলেন। যখন তারা প্রস্তুতি সম্পন্ন করলেন, তখন তারা তা ভেঙে ফেলার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করলেন এবং তা ভেঙে ফেললেন। তারা এই বিষয়ে ইলহামি বা ঐশী নির্দশনা অনুযায়ী ফয়সালা করলেন, যা কেবল তাদের জাগতিক জ্ঞানের ভিত্তিতে ছিল না।
অতঃপর তারা দ্রুততার সাথে কাজে নেমে পড়লেন এবং ঘরের সীমানা পৃথক করলেন। তারা এ নিয়ে লটারি করলেন এবং চারটি দেয়ালের একেকটি দেয়াল একেকটি গোত্রের ভাগে পড়ল। তারা এমন এক ঘর নির্মাণে আপ্রাণ চেষ্টা করলেন যা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও সুউচ্চ। যখন তারা সেই পর্যায়ে পৌঁছালেন যেখানে পাথর (হাজরে আসওয়াদ) স্থাপন করতে হবে, তখন প্রতিটি গোত্রই তা স্থাপনের সৌভাগ্য ও বিজয় অর্জনে মরিয়া হয়ে উঠল।
ফলে তাদের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হলো। এরপর তারা ন্যায় ও ইনসাফপ্রয়ণ ব্যক্তির ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট হলেন। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উপস্থিত হলেন এবং তাদের মধ্যে এমন এক ফয়সালা করলেন যার প্রতি তারা সকলেই ঝুঁকে পড়ল এবং তা মেনে নিল। তিনি নিজের চাদর বিছিয়ে দিলেন এবং তারা সেই চাদরের চার প্রান্ত ধরে তা বহন করল।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতাফা মিন সীরাতিল মুসতাফা
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
عَلَيْهِ ثمَّ رَفعه مِنْهُ وَوَضعه فِي مَكَانَهُ بيدَيْهِ وشيدوه ورصفوه وَأَقَامُوا عمده وبالخشب سقفوه وَجعلُوا الْحجر من وَرَاء الْجِدَار وأبقوه رفيع الذّكر جليل الْقدر عَليّ الْمنَار
(وَفِي ذَلِك يَقُول الزبير بن عبد الْمطلب من أَبْيَات
(فقمنا حاشدين إِلَى بِنَاء
… لنا مِنْهُ الْقَوَاعِد وَالتُّرَاب)
(أعز بِهِ المليك بني لؤَي
… فَلَيْسَ لأصله مِنْهُم ذهَاب)
(وَقد حشدت هُنَاكَ بَنو عدي
… وَمرَّة قد تقدمها كلاب)
(فبوأنا المليك بِذَاكَ عزا
… وَعند الله يلْتَمس الثَّوَاب)
الْإِنْذَار برَسُول الله صلى الله عليه وسلمأنذر بِهِ صلى الله عليه وسلم جمَاعَة من الْكُهَّان وبشرت بظهوره الْأَحْبَار والرهبان واعترف بنبوته العارفون من أهل التَّوْرَاة وَالْإِنْجِيل وَقَامَت الْأَدِلَّة على رسَالَته وَالنَّهَار غير مُحْتَاج إِلَى دَلِيل
এর ওপর; অতঃপর তিনি তাকে সেখান থেকে উত্তোলন করলেন এবং নিজ দুই হাতে তাকে তার স্থানে স্থাপন করলেন। তারা তা সুদৃঢ়ভাবে নির্মাণ করল, সুবিন্যস্ত করল এবং এর স্তম্ভগুলো স্থাপন করল। আর কাঠের মাধ্যমে এর ছাদ তৈরি করল। তারা পাথরটিকে দেওয়ালের পেছনে রাখল এবং একে উচ্চ মর্যাদাশীল, মহান গুরুত্বসম্পন্ন ও সুউচ্চ মিনার হিসেবে বহাল রাখল।
(আর সে বিষয়ে জুবাইর ইবনুল মুত্তালিব কিছু পঙক্তিতে বলেন:
(অতঃপর আমরা সমবেত হয়ে একটি নির্মাণের দিকে দাঁড়ালাম
... যার ভিত্তি ও মাটি ছিল আমাদেরই)
(এর মাধ্যমে মহান রাজাধিরাজ (আল্লাহ) লুয়াই বংশকে সম্মানিত করেছেন
... ফলে তাদের বংশপরম্পরা হতে এর বিলুপ্তি নেই)
(সেখানে বনু আদি একত্রিত হয়েছিল
... এবং মুররাহ, যার অগ্রে ছিল কিলাব)
(এর মাধ্যমে মহান রাজাধিরাজ (আল্লাহ) আমাদের মর্যাদাপূর্ণ স্থানে প্রতিষ্ঠিত করেছেন
... আর আল্লাহর কাছেই সওয়াব প্রত্যাশা করা হয়)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আগমনের পূর্বাভাসএকদল গণক তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আগমনের ব্যাপারে আগাম বার্তা দিয়েছিল এবং পণ্ডিত ও সন্ন্যাসীরা তাঁর আবির্ভাবের সুসংবাদ দিয়েছিল। তাওরাত ও ইঞ্জিল কিতাবধারীদের মধ্যে যারা জ্ঞানী ছিলেন তারা তাঁর নবুওয়াতকে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। তাঁর রিসালাতের সপক্ষে অকাট্য প্রমাণাদি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, আর দিনের আলোর জন্য কোনো প্রমাণের প্রয়োজন হয় না।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতাফা মিন সীরাতিল মুসতাফা
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
فَمن قَول الْحَارِث الرائش
(وَيَأْتِي بعدهمْ رجل عَظِيم
… نَبِي لَا يرخص فِي الْحَرَام)
(يُسمى أحمدا ياليت إِنِّي
… أعمر بعد مبعثه بعام)
وَمن قَول تبع
(شهِدت على أَحْمد أَنه
… نَبِي من الله باري النسم)
(فَلَو مد عمري إِلَى عمره
… لَكُنْت وزيرا لَهُ وَابْن عَم)
(وجاهدت بِالسَّيْفِ أعداءه
… وفرجت عَن صَدره كل غم) وَمن قَول خطر بن مَالك الكاهن
(أَقْسَمت بِالْكَعْبَةِ والأركان
… )
(والبلد المؤتمن السدان
… )
(قد منع السّمع عتاة الجان
… )
(بثاقب من كف ذِي سُلْطَان
… )
আল-হারিস আর-রাইশ এর উক্তি হতে
(তাদের পরে একজন মহান ব্যক্তি আসবেন
… এমন এক নবী যিনি হারামের বিষয়ে কোনো শিথিলতা করবেন না)
(তাঁর নাম হবে আহমাদ, হায়! আমি যদি
… তাঁর নবুয়ত প্রাপ্তির পর এক বছর জীবিত থাকতাম)
এবং তুব্বা এর উক্তি হতে
(আমি আহমাদের ব্যাপারে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে তিনি
… প্রাণকুলের স্রষ্টা আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত নবী)
(যদি আমার আয়ু তাঁর সময় পর্যন্ত দীর্ঘ হতো
… তবে আমি তাঁর উজির ও ভ্রাতৃসম হতাম)
(এবং তলোয়ার দিয়ে তাঁর শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদ করতাম
… এবং তাঁর বক্ষ থেকে সকল দুঃখ-চিন্তা দূর করে দিতাম) এবং কাহিন খাতর বিন মালিক এর উক্তি হতে
(আমি কাবার এবং রুকনসমূহের শপথ করছি
… )
(এবং নিরাপদ নগরী ও তার খাদেমদের শপথ
… )
(অবাধ্য জিনদের জন্য আড়ি পেতে শোনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে
… )
(ক্ষমতার অধিকারীর (আল্লাহর) হাতের উজ্জ্বল উল্কাপিন্ড দ্বারা
… )
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতাফা মিন সীরাতিল মুসতাফা
(পৃষ্ঠা: ৫০)
(من أجل مَبْعُوث عَظِيم الشان
… )
(يبْعَث بالتنزيل وَالْقُرْآن
… ) وَمن قَوْله
(أرى لقومي مَا أرى لنَفْسي
… )
(أَن يتبعوا خير نَبِي الْإِنْس
… )
(برهانه مثل شُعَاع الشَّمْس
… )
(يبْعَث من مَكَّة دَار الحمس
… )
(بمحكم التَّنْزِيل غير اللّبْس
… ) وَمن قَول سطيح الكاهن لعبد الْمَسِيح
رَسُول كسْرَى عبد الْمَسِيح على جمل مشيح جَاءَ إِلَى سطيح حِين أوفى على الضريح بَعثك ملك ساسان لارتجاس الإيوان وخمود النيرَان ورؤيا الموبذان إِذا كثرت التِّلَاوَة وَظهر صَاحب الهراوة وَغَارَتْ بحيرة ساوة وفاض مَاء السماوة فَلَيْسَتْ الشَّام لسطيح شاما
(মহান মর্যাদাসম্পন্ন একজন প্রেরিত মহাপুরুষের কারণে
… )
(যিনি ওহী ও কুরআনের সাথে প্রেরিত হবেন
… ) এবং তাঁর বাণী থেকে
(আমি আমার জাতির জন্য তা-ই কল্যাণকর মনে করি যা নিজের জন্য করি
… )
(যাতে তারা মানবজাতির শ্রেষ্ঠ নবীকে অনুসরণ করে
… )
(তাঁর প্রমাণ সূর্যের কিরণের ন্যায় উজ্জ্বল
… )
(তিনি মক্কা থেকে প্রেরিত হবেন যা বীরদের (হুমস) আবাসভূমি
… )
(সুস্পষ্ট ও সংশয়মুক্ত অকাট্য প্রত্যাদেশসহ
… ) এবং আবদুল মসীহের প্রতি সতীহ কাহিনের উক্তি থেকে
কিসরার দূত আবদুল মসীহ এক দ্রুতগামী উটে চড়ে সতীহ-এর কাছে এসেছে এমন সময় যখন সে কবরের দ্বারপ্রান্তে (মৃত্যুমুখে) উপনীত। সাসানীয় সম্রাট তোমাকে পাঠিয়েছেন রাজপ্রাসাদের প্রকম্পন, অগ্নিসমূহের নির্বাপণ এবং প্রধান পুরোহিতের স্বপ্নের কারণে। যখন তিলাওয়াত বৃদ্ধি পাবে, লাঠিধারী (নবী) আবির্ভূত হবেন, সাওয়া হ্রদ শুকিয়ে যাবে এবং সামাওয়াহ-এর পানি উপচে পড়বে, তখন সতীহ-এর জন্য শাম (সিরিয়া) আর শাম থাকবে না।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতাফা মিন সীরাতিল মুসতাফা
(পৃষ্ঠা: ৫১)
وَمن قَول سَواد بن قَارب الكاهن
(عجبت للجن وتطلابها
… وشدها العيس بأقتابها)
(تهوي إِلَى مَكَّة تبغي الْهدى
… مَا صَادِق الْجِنّ ككذابها)
(فارحل إِلَى الصفوة من هَاشم
… لَيْسَ قداماها كأذنابها) وَمن قَول ورقة بن نَوْفَل الحبر
(وظني بِهِ أَن سَوف يبْعَث صَادِقا
… كَمَا أرسل العبدان هود وَصَالح)
(ومُوسَى وَإِبْرَاهِيم حَتَّى يرى لَهُ
… بهاء ومنشور من الذّكر وَاضح) وَمِمَّا سمع من جَوف صنم يُقَال لَهُ ضمار
(قل للقبائل من قُرَيْش كلهَا
… أودى ضمار وفاز أهل الْمَسْجِد)
গণক সাওয়াদ ইবনে কারিবের উক্তি থেকে
(আমি জিনদের এবং তাদের অনুসন্ধানের ব্যাপারে আশ্চর্যান্বিত হয়েছি
… এবং তাদের উটের ওপর পিঠের গদি বাঁধার ব্যাপারে)
(তারা হিদায়াত অন্বেষণে মক্কার দিকে দ্রুত ধাবিত হচ্ছে
… জিনদের সত্যবাদীরা তো তাদের মিথ্যাবাদীদের মতো নয়)
(সুতরাং তুমি বনী হাশিমের মনোনীত ব্যক্তির কাছে যাত্রা করো
… তাদের অগ্রবর্তী ব্যক্তিরা তো তাদের পশ্চাদপদদের মতো নয়) আলেম ওরাকা ইবনে নওফলের উক্তি থেকে
(তার সম্পর্কে আমার ধারণা এই যে, তিনি সত্যবাদী হিসেবে প্রেরিত হবেন
… যেমন হুদ ও সালিহ নামক দুই বান্দাকে প্রেরণ করা হয়েছিল)
(এবং মূসা ও ইব্রাহীমকে, যতক্ষণ না তার জন্য স্পষ্ট যিকর বা উপদেশবাণীর দীপ্তি ও প্রচার পরিলক্ষিত হয়) 'জিমার' নামক একটি মূর্তির ভেতর থেকে যা শোনা গিয়েছিল তার মধ্যে রয়েছে
(কুরাইশদের সকল গোত্রকে বলো
… জিমার ধ্বংস হয়েছে এবং মসজিদের অধিবাসীরা সফল হয়েছে)
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতাফা মিন সীরাতিল মুসতাফা
(পৃষ্ঠা: ৫২)
(إِن الَّذِي ورث النُّبُوَّة وَالْهدى
… بعد ابْن مَرْيَم من قُرَيْش مهتدي)
(أودى ضمار وَكَانَ يعبد مرّة
… قبل الْكتاب إِلَى النَّبِي مُحَمَّد)
مبعث النَّبِي صلى الله عليه وسلم سنة أَرْبَعِينَ من الْفِيل بَعثه الله لأربعين سنة من عمره وزين آفَاق النُّبُوَّة بضوء قمره وأتحفه بالكرامة وَألقى عَلَيْهِ مقاليد الزعامة
وبدىء من الْوَحْي بالرؤيا الصادقة وغدت نَفسه إِلَى الْخلْوَة فِي حراء وامقة فَكَانَ يُقيم فِي غاره اللَّيَالِي ذَات الْعدَد وَلم يزل حَتَّى فَجْأَة الْحق من الْفَرد الصَّمد
ثمَّ ظهر لَهُ جِبْرِيل وبشره بالرسالة وأفاض عَلَيْهِ من قبل الله ملابس الْجَلالَة وتلطف بِهِ ليفرق بَينه وَبَين الْفرق وَأخرج لَهُ كتابا فِي نمط وَقَالَ لَهُ {اقْرَأ باسم رَبك الَّذِي خلق} ثمَّ ضرب بِرجلِهِ الأَرْض فتفجرت بِالْعينِ فَعلمه الْوضُوء وَأمره أَن يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ ثمَّ انْصَرف وَمضى وَتَركه مُقيما فِي روض الرضى وَذَلِكَ يَوْم الْإِثْنَيْنِ لسبع عشرَة خلت من رَمَضَان وَملك الْفرس يَوْمئِذٍ أبرويز بن هُرْمُز بن كسْرَى أنو شرْوَان
(নিশ্চয় তিনি, যিনি নবুওয়াত এবং হিদায়াতের উত্তরাধিকার লাভ করেছেন
… ইবনে মারইয়ামের পর কুরাইশদের মধ্য থেকে এক হেদায়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব)
(দেমার ধ্বংস হয়ে গেল অথচ এক সময় তার উপাসনা করা হতো
… কিতাব অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনের প্রাক্কালে)
হস্তীবাহিনীর ঘটনার চল্লিশতম বছরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াত প্রাপ্তি আল্লাহ তাঁকে তাঁর বয়সের চল্লিশতম বছরে রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেন এবং তাঁর নবুওয়াতের দিগন্তকে তাঁর চন্দ্রালোকে সুশোভিত করেন। তাঁকে মর্যাদাপূর্ণ উপহারে সিক্ত করেন এবং তাঁর ওপর নেতৃত্বের চাবিকাঠি অর্পণ করেন।
আর ওহীর সূচনা হয়েছিল সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে এবং তাঁর অন্তর হেরা গুহায় নির্জনবাসের প্রতি অনুরাগী হয়ে ওঠে। তিনি সেখানে বেশ কয়েক রাত অবস্থান করতেন এবং এভাবেই কাটছিল যতক্ষণ না একক অমুখাপেক্ষী সত্তার পক্ষ থেকে আকস্মিকভাবে তাঁর কাছে সত্য (ওহী) উপনীত হলো।
অতঃপর জিবরাঈল তাঁর নিকট আবির্ভূত হলেন এবং তাঁকে রিসালাতের সুসংবাদ দিলেন। আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর ওপর মহিমার পোশাক পরিধান করালেন এবং তাঁর প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ প্রদর্শন করলেন যাতে তাঁর মধ্য থেকে অস্থিরতা দূর হয়। তিনি তাঁর জন্য একটি কাপড়ে মোড়ানো কিতাব বের করলেন এবং তাঁকে বললেন, {পাঠ করুন আপনার প্রতিপালকের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন}। অতঃপর তিনি (জিবরাঈল) তাঁর পা দিয়ে মাটিতে আঘাত করলেন, ফলে একটি ঝরনাধারা উৎসারিত হলো। তিনি তাঁকে ওযু শিক্ষা দিলেন এবং তাঁকে দুই রাকাত নামাজ পড়ার নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি বিদায় নিলেন এবং চলে গেলেন, আর তাঁকে সন্তুষ্টির উদ্যানে রেখে গেলেন। সেটি ছিল রমজানের সতেরো তারিখ অতিক্রান্ত হওয়ার পর সোমবার দিন। সে সময়ে পারস্যের সম্রাট ছিলেন কিসরা আনুশিরওয়ানের পুত্র হরমুজের পুত্র পারভেজ।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতাফা মিন সীরাতিল মুসতাফা
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
وَلما بدىء بِالنُّبُوَّةِ وَنزل جِبْرِيل إِلَيْهِ كَانَ لَا يمر بِحجر وَلَا شجر إِلَّا سلم عَلَيْهِ
وَأقَام يَدْعُو إِلَى الله سرا ثَلَاث سِنِين إِلَى أَن أنزل عَلَيْهِ {وأنذر عشيرتك الْأَقْرَبين} فأظهر الدعْوَة وَثَبت أَرْكَان الهمة وَبلغ الرسَالَة وَأدّى الْأَمَانَة ونصح الْأمة
(بعث المقفى من قُرَيْش رَحْمَة
… للْعَالمين وملجأ للنَّاس)
(وافاه جِبْرِيل وَأَقْبل نَحوه
… بِبِشَارَة الْإِكْرَام والإيناس)
(وَعَلِيهِ أسبل خلعة نبوية
… يمحو سناها ظلمَة الأغلاس)
(أكْرم بِهِ من مُرْسل آيَاته
… مَشْهُودَة يَوْم الندى والباس)
ذكر الثَّمَانِية السَّابِقين إِلَى الْإِيمَان أول ذكر آمن بِاللَّه وَرَسُوله عَليّ بن أبي طَالب وَهَذِه منقبة لَا نَظِير لوجهها النَّضِير فِي المناقب أسلم وَهُوَ ابْن عشر سِنِين وَاتبع من لم يزل بِهِ
যখন নবুওয়াত শুরু হলো এবং জিবরাঈল তাঁর কাছে অবতরণ করলেন, তখন তিনি কোনো পাথর বা গাছের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলে সেটি তাঁকে সালাম দিত।
তিনি তিন বছর গোপনে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিতে থাকলেন, যতক্ষণ না তাঁর ওপর অবতীর্ণ হলো: {এবং আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন}। তখন তিনি দাওয়াত প্রকাশ করলেন, সংকল্পের স্তম্ভগুলোকে সুদৃঢ় করলেন, রিসালাত পৌঁছে দিলেন, আমানত আদায় করলেন এবং উম্মতকে নসিহত করলেন।
(কুরাইশদের মধ্য থেকে শেষ নবীকে রহমত হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে
… বিশ্ববাসীর জন্য এবং মানুষের আশ্রয়স্থল হিসেবে)
(জিবরাঈল তাঁর কাছে এলেন এবং তাঁর দিকে অগ্রসর হলেন
… সম্মান ও হৃদ্যতার সুসংবাদ নিয়ে)
(এবং তাঁর ওপর নবুওয়াতের পোশাক পরিয়ে দেওয়া হলো
… যার উজ্জ্বলতা শেষ রাতের অন্ধকারকে দূরীভূত করে)
(কতই না সম্মানিত সেই রাসূল, যাঁর নিদর্শনসমূহ
… দান ও বীরত্বের দিনে সুপরিচিত)
ঈমান আনয়নে অগ্রগামী আটজন ব্যক্তির আলোচনা পুরুষদের মধ্যে সর্বপ্রথম যিনি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান এনেছেন তিনি হলেন আলী ইবনে আবু তালিব। এটি এমন এক মর্যাদা যার উজ্জ্বল রূপের কোনো তুলনা অন্যান্য মর্যাদার মধ্যে নেই। তিনি দশ বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং এমন একজনের অনুসরণ করেন যিনি সর্বদা তাঁর সাথেই ছিলেন।