(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়াহ - ইসমাইল আল-আসবাহানী (পৃষ্ঠা: -)
دلائل النبوة - إسماعيل الأصبهاني   (إسماعيل التيمي الأصبهاني)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: كتاب دلائل النبوة

المؤلف: قوام السنة إسماعيل بن محمد بن الفضل التيمي الأصبهاني (457 - 535 هـ)

المحقق: أبو عبد الله محمد بن محمد الحداد

الناشر: دار طيبة، الرياض - السعودية

الطبعة: الأولى، 1409 هـ - 1988 م

عدد الصفحات: 236

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

দালাইলুন নুবুওয়াহ - ইসমাইল আল-আসবাহানী   (ইসমাইল আত-তাইমি আল-আসবাহানী)

বিভাগ: সীরাতুন্নবী


বই: কিতাব দালাইলুন নুবুওয়াহ (নবুওয়াতের প্রমাণাদি গ্রন্থ)

লেখক: কাওয়ামুস সুন্নাহ ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল ফাদল আত-তাইমি আল-আসবাহানী (৪৫৭ - ৫৩৫ হিজরি)

তাহকীক: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-হাদ্দাদ

প্রকাশক: দার তাইয়িবাহ, রিয়াদ - সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৯ হিজরি - ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৩৬

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়াহ - ইসমাইল আল-আসবাহানী (পৃষ্ঠা: ২৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌[مُقَدّمَة المُصَنّف]

الْحَمد لله مُدبر اللَّيْل وَالنَّهَار مُقَلِّب الْقُلُوب والأبصار ذِي النعم والآلاء لَا يخفى عَلَيْهِ شَيْء فِي الأَرْض وَلَا فِي السَّمَاء أَحْمَده حمد شَاكر لآلائه مقرا بنعمائه وَأْشَهَدُ أَنَّ لَا إِلَهَ إِلَا اللَّهَ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ عدَّة للقائه وأمانا من عَذَابه وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ خَاتم أنبيائه صلى الله عَلَيْهِ وعَلى آله وَأَصْحَابه وَأهل بَيته وأزواجه وَسلم تَسْلِيمًا.

ثمَّ إِن جمَاعَة من أهل الْعلم سَأَلُونِي أَن أملي عَلَيْهِم مُخْتَصر فِي دَلَائِل النُّبُوَّة ومعجزات النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يعتمدون عَلَيْهِ ويسكنون إِلَيْهِ فأجبتهم إِلَى ذَلِك وتوخيت الِاخْتِصَار والإيجاز وضممت إِلَى ذَلِك طرفا من مبعثه ومغازيه ومولده صلى الله عليه وسلم وسراياه مستعينا بِاللَّه وراغبا إِلَيْهِ أَن يَنْفَعنِي بِهِ والناظرين فِيهِ جعلنَا الله مِمَّن يعْمل بِالْعلمِ مُؤديا لحقه وَلَا جعلنَا مِمَّن يستخف بِهِ وَصلى الله على من ذلت النُّفُوس لدلائل نبوته ودانت الْعُقُول لقبُول معجزته وعَلى آله وَأَصْحَابه وعترته.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

‌‌[গ্রন্থকারের ভূমিকা]

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি রাত ও দিনের পরিচালক, অন্তর ও দৃষ্টিসমূহের পরিবর্তনকারী, নেয়ামত ও অনুগ্রহের অধিকারী; যার কাছে জমিন ও আসমানের কোনো কিছুই গোপন নয়। আমি তাঁর নেয়ামতরাজির স্বীকৃতি দিয়ে তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞ হয়ে তাঁর প্রশংসা করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; যা তাঁর সাথে সাক্ষাতের পাথেয় এবং তাঁর আজাব থেকে নিরাপত্তার উপায়। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল এবং সর্বশেষ নবী। তাঁর উপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ, তাঁর আহলে বাইত ও তাঁর স্ত্রীদের উপর আল্লাহর দরুদ ও অধিক পরিমাণে সালাম বর্ষিত হোক।

অতঃপর, আলেমদের একটি দল আমার কাছে আবেদন করেছেন যেন আমি নবুওয়তের প্রমাণাদি এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুজেযাসমূহ নিয়ে তাঁদের জন্য একটি সংক্ষিপ্ত সার সংকলন করি, যার ওপর তাঁরা নির্ভর করতে পারেন এবং যাতে তাঁরা প্রশান্তি লাভ করেন। আমি তাঁদের সেই আহবানে সাড়া দিয়েছি এবং বিষয়টিকে সংক্ষিপ্ত ও সারগর্ভ করার চেষ্টা করেছি। এর সাথে আমি তাঁর জন্ম, নবুওয়ত প্রাপ্তি, যুদ্ধাভিযান ও সেনাদল প্রেরণের কিছু বিবরণও যুক্ত করেছি। আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়ে এবং তাঁরই নিকট এই প্রার্থনা করে যে, তিনি যেন এর মাধ্যমে আমাকে এবং পাঠকদের উপকৃত করেন। আল্লাহ আমাদের এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা ইলম অনুযায়ী আমল করে তার হক আদায় করে, আর আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত না করুন যারা একে অবজ্ঞা করে। আর আল্লাহর দরুদ বর্ষিত হোক সেই মহান সত্তার ওপর, যাঁর নবুওয়তের দলীলের সামনে প্রবৃত্তি অবনত হয়েছে এবং যাঁর মুজেযাকে মেনে নিতে বুদ্ধিবিবেক বশ্যতা স্বীকার করেছে; এবং তাঁর পরিবার, সাহাবী ও বংশধরদের ওপরও।
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়াহ - ইসমাইল আল-আসবাহানী (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌فَمِنْ عَلامَاتِ نُبُوَّةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

 

مَا كَانَ قَبْلَ مَوْلِدِهِ

1 - مَا أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ أنبا هِبَةُ اللَّهِ بْنُ الْحَسَنِ أنبا مُحَمَّدُ بْنُ عبد الرحمن بن الْعَبَّاس ثَنَا عبد الله بْنُ مُحَمَّدٍ الْبَغَوِيُّ ثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ ثَنَا فَرَجُ بْنُ فَضَالَةَ عَنْ لُقْمَانَ بْنِ عَامِرٍ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ رضي الله عنه قَالَ قِيلَ يَا رَسُول الله مَا كَانَ بدؤ أَمْرِكَ قَالَ دَعْوَةُ إِبْرَاهِيمَ وَبُشْرَى عِيسَى وَرَأَتْ أُمِّي خَرَجَ مِنْهَا نُورًا أَضَاءَتْ لَهَا قُصُورُ الشَّامِ

‌‌فَصْلٌ وَمِنْ عَلَامَاتِ نُبُوَّتِهِ فِي حَالِ صِبَاهُ

 

2 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ أنبا هِبَةُ اللَّهِ بْنُ الْحَسَنِ أنبا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْفَارِسِيُّ أنبا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْحسن بن عبد العزيز الْجَرَوِيُّ ثَنَا أَبُو الْأَشْعَثِ أَحْمَدُ بْنُ الْمِقْدَامِ ثَنَا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيّ ثَنَا جَعْفَر بن عبد الله بْنِ عُثْمَانَ الْقُرَشِيُّ حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ قَالَ سَمِعْتُ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي ذَرٍّ الْغِفَارِيِّ رَضِيَ الله قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيفَ علمت أَنَّك نَبيا أَوَّلَ مَا عَلِمْتَ حَتَّى عَلِمْتَ ذَاكَ وَاسْتَيْقَنْتَ قَالَ يَا أَبَا ذَرٍّ أَتَانِي مَلَكَانِ وَأَنَا بِبَطْحَاءِ مَكَّةَ فَوَقَعَ أَحَدُهُمَا فِي الْأَرْضِ وَالْآخَرُ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ فَقَالَ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ أَهُوَ هُوَ قَالَ هُوَ هُوَ قَالَ زِنْهُ بِرَجُلٍ فَوُزِنْتُ رجل فَرَجَحْتُهُ ثُمَّ قَالَ زِنْهُ بِعَشَرَةٍ فَوَزَنُونِي بِعَشَرَةٍ فَوَزَنْتُهُمْ فَرَجَحْتُهُمْ ثُمَّ قَالَ زِنْهُ بِمِائَةٍ فَوَزَنُونِي بِمِائَةٍ فَرَجَحْتُهُمْ ثُمَّ قَالَ زِنْهُ بِأَلْفٍ فَوَزَنُونِي بِأَلْفٍ فَرَجَحْتُهُمْ فَجَعَلُوا يَنْشُرُونَ عَلَيَّ مِنْ كَفَةِ الْمِيزَانِ فَقَالَ أَحَدُهُمَا لِلْآَخَرِ لَوْ وَزَنْتُهُ بِأُمَّتِهِ رَجَحَهَا ثُمَّ قَالَ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ شُقَّ بَطْنَهُ فَشَقَّ بَطْنِي ثُمَّ قَالَ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ أَخْرِجْ قَلْبَهُ أَوْ قَالَ شُقَّ قَلْبَهُ فَشَقَّ قَلْبِي فَأَخْرَجَ مَغْزَى الشَّيْطَانِ عَلَقَ لِدَمٍ فَطَرَحَهَا ثُمَّ قَالَ أَحَدُهُمَا للْآخر اغسل بَطْنه غسل الْإِنَاءَ وَقَلْبَهُ غَسْلَ الْمِلَاءَةِ ثُمَّ رَمَى بِسِكِّينِةٍ كَأَنَّهُ زُمُرُّدَةٌ بَيْضَاءُ فَأُدْخِلَتْ قَلْبِي ثُمَّ قَالَ أَحَدُهُمَا لِلْآخَرِ خِطْ بَطْنَهُ فَخَاطَ
‌নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়তের নিদর্শনাবলি

 

তাঁর জন্মের পূর্বে যা ঘটেছিল

১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবন আলী, তিনি সংবাদ দিয়েছেন হিবাতুল্লাহ ইবনুল হাসান থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবন আবদুর রহমান ইবনুল আব্বাস থেকে, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ আল-বাগাওয়ী, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আলী ইবনুল জা'দ, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ফারাজ ইবন ফাদ্বালাহ, তিনি লুকমান ইবন আমের থেকে, তিনি আবু উমামাহ আল-বাহিলি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার নবুওয়তের সূচনা কীভাবে হয়েছিল? তিনি বললেন: "আমি ইবরাহিমের দুআ এবং ঈসার সুসংবাদ। আর আমার মা (আমার জন্মের সময়) দেখেছিলেন যে, তাঁর থেকে একটি নূর (আলো) নির্গত হয়েছে যার মাধ্যমে তাঁর জন্য শাম দেশের প্রাসাদসমূহ আলোকিত হয়ে গিয়েছিল।"

‌পরিচ্ছেদ: তাঁর শৈশবকালীন নবুওয়তের নিদর্শনাবলি

 

২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবন আলী, তিনি সংবাদ দিয়েছেন হিবাতুল্লাহ ইবনুল হাসান থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন আল-ফারিসি থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন জাফর ইবন মুহাম্মাদ আল-হাসান ইবন আবদুল আজিজ আল-জারায়ি থেকে, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবুল আশআছ আহমদ ইবনুল মিকদাম, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু দাউদ আত-তায়ালিসি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন জাফর ইবন আবদুল্লাহ ইবন উসমান আল-কুরাশি, আমার কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন উমর ইবন উরওয়াহ ইবন যুবাইর, তিনি বলেন: আমি উরওয়াহ ইবন যুবাইরকে আবু যার আল-গিফারি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি সর্বপ্রথম কীভাবে জানলেন যে আপনি একজন নবী, এমনকি আপনি তা নিশ্চিতভাবে অবগত হলেন? তিনি বললেন: "হে আবু যার! আমি যখন মক্কার বাতহা নামক উপত্যকায় ছিলাম তখন আমার কাছে দুজন ফেরেশতা আসলেন। তাঁদের একজন জমিনে অবতরণ করলেন এবং অন্যজন আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থানে ছিলেন। তাঁদের একজন তাঁর সঙ্গীকে বললেন, ইনিই কি সেই ব্যক্তি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, ইনিই তিনি। এরপর তিনি বললেন, তাঁকে একজন মানুষের সাথে ওজন করো। তখন আমাকে একজন মানুষের সাথে ওজন করা হলো এবং আমি তাঁর চেয়ে ভারী হলাম। তারপর তিনি বললেন, তাঁকে দশজনের সাথে ওজন করো। তখন তাঁরা আমাকে দশজনের সাথে ওজন করলেন এবং আমি তাঁদের চেয়েও ভারী হলাম। তারপর তিনি বললেন, তাঁকে একশ জনের সাথে ওজন করো। তখন তাঁরা আমাকে একশ জনের সাথে ওজন করলেন এবং আমি তাঁদের চেয়েও ভারী হলাম। এরপর তিনি বললেন, তাঁকে এক হাজারের সাথে ওজন করো। তখন তাঁরা আমাকে এক হাজারের সাথে ওজন করলেন এবং আমি তাঁদের চেয়েও ভারী হলাম। তখন ওজন করার পাল্লা থেকে তাঁরা আমার ওপর (অধিক ওজনের কারণে) ঝুঁকে পড়ছিলেন। এরপর তাঁদের একজন অপরজনকে বললেন, যদি আপনি তাঁকে তাঁর পুরো উম্মতের সাথেও ওজন করেন, তবে তিনি তাঁদের সবার চেয়েও ভারী হবেন। এরপর তাঁদের একজন অপরজনকে বললেন, তাঁর পেট বিদীর্ণ করো। তখন তিনি আমার পেট বিদীর্ণ করলেন। এরপর একজন তাঁর সঙ্গীকে বললেন, তাঁর হৃদপিণ্ড বের করো অথবা বললেন, তাঁর হৃদপিণ্ড বিদীর্ণ করো। তখন তিনি আমার হৃদপিণ্ড বিদীর্ণ করলেন এবং শয়তানের অংশ একটি জমাট রক্তপিণ্ড বের করে তা ছুড়ে ফেলে দিলেন। এরপর তাঁদের একজন অন্যজনকে বললেন, তাঁর পেট ধৌত করো যেভাবে পাত্র ধৌত করা হয় এবং তাঁর হৃদপিণ্ড ধৌত করো যেভাবে কাপড় ধৌত করা হয়। এরপর তিনি তাতে প্রশান্তি (সাকিনাহ) স্থাপন করলেন যা দেখতে ধবধবে সাদা পান্নার মতো ছিল এবং তা আমার হৃদপিণ্ডে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হলো। এরপর তাঁদের একজন অপরজনকে বললেন, তাঁর পেট সেলাই করে দাও। তখন তিনি তা সেলাই করে দিলেন।"
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়াহ - ইসমাইল আল-আসবাহানী (পৃষ্ঠা: ৩২)
بَطْنِي فَجَعَلَ الْخَاتِمَ بَيْنَ كَتِفَيَّ فَمَا هُوَ إِلَّا أَنْ وَلَّيَا عَنِّي فَكَأَنَّمَا أُعَايِنُ الْأَمْرَ مُعَايَنَةً

3 - أخبرنَا إِسْمَاعِيل بن عبد الرحمن الصَّابُونِي انبا عبد الغافر الْفَارِسِيُّ أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سُفْيَانَ ثَنَا مُسْلِمٌ ثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخٍ ثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ ثَنَا ثَابِتٌ الْبُنَانِيُّ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَتَاهُ جِبْرِيلُ وَهُوَ يَلْعَبُ مَعَ الغلامان فَأَخَذَهُ فَصَرَعَهُ فَشَقَّ عَنْ قَلْبِهِ فَاسْتَخْرَجَ الْقَلْبَ فَاسْتَخْرَجَ مِنْهُ عَلَقَةً فَقَالَ هَذَا حَظُّ الشَّيْطَانِ مِنْكَ ثُمَّ غَسَلَهُ فِي طَسْتٍ مِنْ ذَهَبٍ بِمَاءِ زَمْزَمَ ثُمَّ لَأَمَهُ ثُمَّ أَعَادَهُ فِي مَكَانِهِ وَجَاءَ الْغِلْمَانُ يَسْعَوْنَ إِلَى أُمِّهِ يَعْنِي حَلِيمَةَ فَقَالُوا إِنَّ مُحَمَّدًا قَدْ قُتِلَ فَاسْتَقْبَلُوهُ وَهُوَ مُنْتَقِعُ اللَّوْنِ قَالَ أَنَسٌ رضي الله عنه وَقَدْ كُنْتُ أَرَى أَثَرَ ذَلِكَ الْمخيط فِي صَدْرِهِ وَفِي رِوَايَةِ أَنَسٍ عَنْ أَبِي ذَرٍّ رضي الله عنهما أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فُرِجَ سَقْفُ بَيْتِي وَأَنَا بِمَكَّةَ فَنَزَلَ جِبْرِيلُ فَفَرَجَ صَدْرِي ثُمَّ غَسَلَهُ مِنْ مَاءِ زَمْزَمَ ثُمَّ جَاءَ بِطَسْتٍ مِنْ ذَهَبٍ مَمْلُوءٍ حِكْمَةً وإيمانا فأفرغها فِي صَدْرِي ثُمَّ أَطْبَقَهُ ثُمَّ أَخَذَ بِيَدِي فَعَرَجَ بِيَ السَّمَاءَ وَذَكَرَ حَدِيثَ الْإِسْرَاءِ

وَفِي رِوَايَةِ أَنَسٍ عَنْ مَالِكِ بْنِ صَعْصَعَةَ رَجُلٍ مِنْ قَوْمِهِ قَالَ قَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَا أَنَا عِنْدَ الْبَيْتِ بَيْنَ النَّائِمِ وَالْيَقْظَانِ إِذْ سَمِعْتُ قَائِلًا يَقُولُ أَحَدٌ (لِيُسَلِّمَهُ) بَيْنَ الرَّجُلَيْنِ فَأُتِيتُ فَانْطُلِقَ بِي فَأُتِيتُ بِطَسْتٍ مِنْ ذَهَبٍ فِيهَا مِنْ مَاءِ زَمْزَمَ فَشُرِحَ صَدْرِي إِلَى كَذَا وَكَذَا قَالَ قَتَادَةُ قُلْتُ لِلَّذِي مَعِي مَا يَعْنِي قَالَ إِلَى أَسْفَلِ بَطْنِهِ فَاسْتُخْرِجَ قَلْبِي فَغُسِلَ بِمَاءِ زَمْزَمَ ثُمَّ أُعِيدَ مَكَانَهُ ثُمَّ حُشِيَ إِيمَانًا وَحِكْمَةً ثُمَّ أُتِيتُ بِدَابَّةٍ أَبْيَضَ يُقَالُ لَهُ الْبُرَاقُ فَوْقَ الْحِمَارِ وَدُونَ الْبَغْلِ يَقَعُ خُفُّهُ عِنْدَ انْقِضَاءِ طَرَفِهِ فَحُمِلْتُ عَلَيْهِ ثُمَّ انْطَلَقْنَا حَتَّى أَتَيْنَا السَّمَاءَ الدُّنْيَا وَذَكَرَ حَدِيثَ الْمِعْرَاجِ

‌‌فَصْلٌ وَمِنْ عَلَامَاتِ نُبُوَّتِهِ صلى الله عليه وسلم

 

مَا رُوِيَ مِنِ انْشِقَاقِ الْقَمَرِ

4 - انبا أَبُو مُحَمَّد السَّمرقَنْدِي انبا عبد الصمد العَاصِي ثَنَا أَبُو الْعَبَاسِيِّ الْبَجِيرِيُّ ثَنَا أَبُو حَفْصٍ الْبَجِيرِيُّ ثَنَا عَبْدُ بن حميد ثَنَا عبد الرزاق عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه قَالَ سَأَلَ أَهْلُ مَكَّةَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم آيَةً فَانْشَقَّ الْقَمَرُ بِمَكَّةَ فَنَزَلَتْ اقْتَرَبَتِ السَّاعَةُ وَانْشَقَّ الْقَمَر وَفِي رِوَايَة عبد الله رضي الله عنه انْشَقَّ الْقَمَرُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شقتين فَقَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اشْهَدُوا اشْهَدُوا
...আমার পেট, অতঃপর তিনি আমার দুই কাঁধের মাঝখানে মোহরটি স্থাপন করলেন। অতঃপর তারা যখন আমার নিকট থেকে চলে গেলেন, তখন আমার এমন মনে হচ্ছিল যেন আমি বিষয়টি চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করছি।

৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল ইবনে আবদুর রহমান আস-সাবুনী, তিনি আবদুল গাফির আল-ফারিসী থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ঈসা থেকে, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইবরাহিম ইবনে সুফিয়ান, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুসলিম, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন শায়বান ইবনে ফাররুখ, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন সাবিত আল-বুনানী, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন কিশোরদের সাথে খেলছিলেন, তখন জিবরীল (আলাইহিস সালাম) তাঁর নিকট আসলেন। অতঃপর তিনি তাঁকে ধরে শুইয়ে দিলেন এবং তাঁর বক্ষ বিদীর্ণ করে অন্তর বের করলেন। এরপর তিনি তা থেকে একটি রক্তপিণ্ড বের করে বললেন, ‘এটি তোমার মধ্য থেকে শয়তানের অংশ’। তারপর তিনি একটি সোনার তশতরিতে যমযমের পানি দিয়ে সেটি ধৌত করলেন। এরপর তিনি সেটি জোড়া দিলেন এবং পুনরায় স্বস্থানে ফিরিয়ে দিলেন। এদিকে কিশোরেরা দৌড়ে তাঁর মায়ের (অর্থাৎ হালিমা) নিকট গেল এবং বলতে লাগল, ‘নিশ্চয় মুহাম্মদকে হত্যা করা হয়েছে’। তখন তারা তাঁর দিকে অগ্রসর হলো এবং তাঁকে বিবর্ণ অবস্থায় পেল। আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ‘আমি তাঁর বক্ষে সেই সেলাইয়ের চিহ্ন দেখতে পেতাম’। আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আবু যার (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর বর্ণনায় আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘আমি যখন মক্কায় ছিলাম, তখন আমার ঘরের ছাদ উন্মুক্ত করা হলো এবং জিবরীল অবতরণ করলেন। অতঃপর তিনি আমার বক্ষ বিদীর্ণ করলেন এবং যমযমের পানি দিয়ে তা ধৌত করলেন। এরপর তিনি হিকমত ও ঈমানে পরিপূর্ণ একটি স্বর্ণের তশতরি নিয়ে আসলেন এবং তা আমার বক্ষে ঢেলে দিলেন। এরপর তিনি তা জোড়া লাগিয়ে দিলেন এবং আমার হাত ধরে আমাকে আসমানের দিকে নিয়ে গেলেন...’ এবং তিনি ইসরা-এর হাদিস উল্লেখ করেন।

এবং আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে তাঁর গোত্রের জনৈক ব্যক্তি মালিক ইবনে সা’সা’আ-এর বর্ণনায় আছে যে, তিনি বলেন: আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘একদা আমি বাইতুল্লাহর নিকট তন্দ্রাচ্ছন্ন ও জাগ্রত অবস্থার মাঝামাঝি ছিলাম, তখন শুনলাম জনৈক ব্যক্তি বলছে (তাকে সমর্পণ করার জন্য) যে দুইজন লোকের মাঝখানে আছে। অতঃপর আমার নিকট আসা হলো এবং আমাকে নিয়ে যাওয়া হলো। এরপর আমার নিকট একটি স্বর্ণের তশতরি আনা হলো যাতে যমযমের পানি ছিল। অতঃপর আমার বক্ষ এখান থেকে ওখান পর্যন্ত বিদীর্ণ করা হলো’। কাতাদাহ বলেন, আমি আমার সঙ্গীকে জিজ্ঞাসা করলাম, এর দ্বারা তিনি কী বুঝিয়েছেন? তিনি বললেন, ‘পেটের নিম্নভাগ পর্যন্ত’। ‘অতঃপর আমার অন্তর বের করা হলো এবং যমযমের পানি দিয়ে ধৌত করা হলো, তারপর তা স্বস্থানে ফিরিয়ে দেওয়া হলো। এরপর তা ঈমান ও হিকমত দিয়ে পূর্ণ করা হলো। এরপর আমার নিকট একটি সাদা চতুষ্পদ জন্তু আনা হলো যাকে বুরাক বলা হয়, যা গাধার চেয়ে বড় এবং খচ্চরের চেয়ে ছোট; তার দৃষ্টির শেষ সীমানায় সে তার পা রাখত। অতঃপর আমাকে তার ওপর সওয়ার করানো হলো এবং আমরা চলতে লাগলাম যতক্ষণ না দুনিয়ার আসমানে পৌঁছলাম...’ এবং তিনি মেরাজের হাদিস উল্লেখ করেন।

‌‌পরিচ্ছেদ: এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নবুওয়াতের নিদর্শনসমূহের মধ্য থেকে

 

চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়ার বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে

৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আস-সামারকান্দী, তিনি আবদুস সামাদ আল-আসী থেকে, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবুল আব্বাসী আল-বাজীরী, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু হাফস আল-বাজীরী, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবদ ইবনে হুমাইদ, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবদুর রাজ্জাক, তিনি মা’মার থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মক্কাবাসীগণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট একটি নিদর্শন চাইল, তখন মক্কায় চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হলো। অতঃপর অবতীর্ণ হলো: ‘কিয়ামত নিকটবর্তী হয়েছে এবং চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছে’। এবং আবদুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণনায় আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে চাঁদ দুই টুকরো হয়ে বিভক্ত হয়েছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের বললেন, ‘তোমরা সাক্ষী থাকো, তোমরা সাক্ষী থাকো’।
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়াহ - ইসমাইল আল-আসবাহানী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌‌‌فَصْلٌ وَمِنْ عَلَامَاتِ نُبُوَّتِهِ صلى الله عليه وسلم مَا رُوِيَ أَنَّهُمْ كَانُوا يَسْمَعُونَ تَسْبِيحَ الطَّعَامِ وَهُوَ يُؤْكَلُ وَمَا رُوِيَ أَنَّ

الْمَاءَ جُعِلَ يَنْبُعُ مِنْ بَيْنِ أَصَابِعِهِ

5 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ يَحْيَى بن أَحْمد انبا عبد الصمد الْعَاصِمِيُّ أَنَا أَبُو الْعَبَاسِ الْبَجِيرِيُّ ثَنَا أَبُو حَفْصٍ الْبَجِيرِيُّ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ ثَنَا أَبُو أَحْمَدَ الزُّبَيْرِيُّ ثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَن عبد الله رضي الله عنه قَالَ إِنَّكُمْ تَعُدُّونَ الْآيَاتِ عَذَابًا وَإِنَّا كُنَّا نَعُدُّهَا بَرَكَةً عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَقَدْ كُنَّا نَأْكُلُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الطَّعَامَ وَنَحْنُ نَسْمَعُ تَسْبِيحَ الطَّعَامِ قَالَ وَأُتِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِإِنَاءٍ فَوَضَعَ يَدَيْهِ فِيهِ فَجَعَلَ الْمَاءَ يَنْبُعُ مِنْ بَيْنِ أَصَابِعِهِ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم حَيَّ عَلَى الطَّهُورِ الْمُبَارَكِ وَالْبَرَكَةُ مِنَ السَّمَاءِ حَتَّى تَوَضَّأْنَا كُلُّنَا

6 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عبد الله الشَّاهِدُ أَنَا الْقَاضِي أَبُو بَكْرٍ أَحْمد بن مُحَمَّد بن عبد الرحمن ثَنَا عبد الله مُحَمَّدُ بْنُ مَنْدُوَيْهِ ثَنَا ابْنُ حَكِيمٍ ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ نَصْرٍ ثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ ثَنَا مِسْعَرٌ عَن عبد الجبار بْنِ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ حَدَّثَنِي أَهْلِي عَنْ أَبِي قَالَ أُتِيَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِدَلْوٍ مِنْ مَاءٍ فَشَرِبَ ثُمَّ مَجَّ فِي الدَلْوِ ثُمَّ صَبَّ فِي الْبِئْرِ فَفَاحَ فِيهَا رِيحُ الْمسك

فصل

 

7 - أخبرنَا عبد الرزاق بن عبد الكريم فِي كِتَابِهِ أَنَا أَبُو طَاهِرٍ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَسُوحِيُّ أَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الْمُهَنْدِسُ فِي كِتَابِهِ ثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ خَلَفٍ ثَنَا عبد الرحمن ابْن عبد الله عبد الحكم المقرىء ثَنَا عبد الرحمن بْنُ زِيَادِ بْنِ أَنْعُمٍ ثَنَا زِيَادُ بْنُ نُعَيْمٍ قَالَ سَمِعْتُ
‌‌‌‌পরিচ্ছেদ এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নবুওয়াতের নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো যা বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁরা খাবারের তাসবীহ পাঠ শুনতে পেতেন যখন তা ভক্ষণ করা হচ্ছিল এবং যা বর্ণিত হয়েছে যে,

পানি তাঁর আঙ্গুলসমূহের মধ্যভাগ থেকে উৎসারিত হতে লাগল।

৫ - আবু মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া ইবনে আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবদুস সামাদ আল-আসিমি থেকে, তিনি আবুল আব্বাস আল-বাজিরি থেকে, তিনি আবু হাফস আল-বাজিরি থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে বাশার থেকে, তিনি আবু আহমদ আজ-জুবাইরি থেকে, তিনি ইসরাঈল থেকে, তিনি মানসুর থেকে, তিনি ইবরাহিম থেকে, তিনি আলকামা থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "তোমরা নিদর্শনসমূহকে আজাব (শাস্তি) গণ্য করো, অথচ আমরা সেগুলোকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে বরকত হিসেবে গণ্য করতাম। আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে খাবার খেতাম এবং আমরা খাবারের তাসবীহ পাঠ শুনতে পেতাম।" তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট একটি পাত্র আনা হলো, তিনি তাঁর হাত তাতে রাখলেন, তখন তাঁর আঙ্গুলসমূহের মধ্যভাগ থেকে পানি উৎসারিত হতে লাগল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "বরকতময় পবিত্রতার (পানির) দিকে এসো, আর বরকত তো আসমান থেকে (আল্লাহর পক্ষ থেকে) আসে।" পরিশেষে আমরা সকলেই অজু সম্পন্ন করলাম।

৬ - মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ আশ-শাহিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি কাজী আবু বকর আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে মানদুইয়াহ থেকে, তিনি ইবনে হাকিম থেকে, তিনি ইবরাহিম ইবনে নাসর থেকে, তিনি আবু নুয়াইম থেকে, তিনি মিসআর থেকে, তিনি আব্দুল জাব্বার ইবনে ওয়াইল ইবনে হুজর থেকে এবং তিনি তাঁর পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এক বালতি পানি আনা হলো, তিনি তা থেকে পান করলেন এবং বালতির মধ্যে কুলি করলেন, অতঃপর তা কূপে ঢেলে দিলেন। ফলে সেই কূপে মিশকের সুঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ল।

পরিচ্ছেদ

 

৭ - আবদুর রাজ্জাক ইবনে আব্দুল কারীম তাঁর কিতাবে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবু তাহির উমর ইবনে মুহাম্মদ আল-মাসুহি থেকে, তিনি আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-মুহান্দিস থেকে তাঁর কিতাবে, তিনি আলী ইবনে হাসান ইবনে খালাফ থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আব্দুল হাকাম আল-মুকরি থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে জিয়াদ ইবনে আনআম থেকে এবং তিনি জিয়াদ ইবনে নুয়াইম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি শুনেছি...
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়াহ - ইসমাইল আল-আসবাহানী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
زِيَادَ بْنَ الْحَارِثِ الصُّدَائِيَّ قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَبَايَعْتُهُ عَلَى الْإِسْلَامِ فَأُخْبِرْتُ أَنَّهُ قَدْ بَعَثَ جَيْشًا إِلَى قَوْمِي فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ارْدُدِ الْجَيْشَ وَأَنَا لَكَ بِإِسْلَامِ قَوْمِي وَطَاعَتِهِمْ قَالَ اذْهَبْ فَرُدَّهُمْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ رَاحِلَتِي قَدْ كَلَّتْ وَلَكِنِ ابْعَثْ إِلَيْهِمْ رَجُلًا قَالَ فَبَعَثَ إِلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلًا وَكَتَبْتُ مَعَهُ إِلَيْهِمْ فَرَدَّهُمْ قَالَ الصُّدَائِيُّ فَقَدِمَ وَفْدُهُمْ بِإِسْلَامِهِمْ فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَا أَخا صداء انك المطاع فِي قَوْمِكَ قُلْتُ بَلِ اللَّهُ هَدَاهُمْ لِلْإِسْلَامِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَفَلَا أُؤَمِّرُكَ عَلَيْهِمْ قُلْتُ بَلَى فَكَتَبَ لِي كِتَابًا قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مُرْ لِي بِشَيْءٍ مِنْ صَدَقَاتِهِمْ فَكَتَبَ لِي كِتَابًا آخَرَ بِذَلِكَ وَكَانَ ذَلِكَ فِي بَعْضِ أَسْفَارِهِ فَنَزَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَنْزِلًا فَأَتَى أَهْلُ ذَلِكَ الْمَنْزِلِ يَشْكُونَ عَامِلَهُمْ يَقُولُونَ أَخَذَنَا بِشَيْءٍ كَانَ بَيْنَنَا وَبَيْنَهُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَوَ فَعَلَ قَالُوا نَعَمْ فَالْتَفَتَ لِأَصْحَابِهِ وَأَنَا فِيهِمْ فَقَالَ لَا خَيْرَ فِي الْإِمَارَةِ لِرَجُلٍ مُؤْمِنٍ قَالَ الصُّدَائِيُّ فَدَخَلَ قَوْلُهُ فِي نَفْسِي ثُمَّ إِنَّهُ أَتَاهُ آخَرُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَعْطِنِي فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ سَأَلَ النَّاسَ عَنْ ظَهْرِ غِنًى فَهُوَ صُدَاعٌ فِي الرَّأْسِ وَدَاءٌ فِي الْبَطْنِ فَقَالَ السَّائِلُ فَأَعْطِنِي مِنَ الصَّدَقَةِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ اللَّهَ لَمْ يَرْضَ فِيهِ بِحُكْمِ نَبِيٍّ وَلَا غَيْرِهِ حَتَّى حَكَمَ فِيهَا فَجَزَّأَهَا ثَمَانِيَةَ أَجْزَاءٍ فَإِنْ كُنْتَ مِنْ تِلْكَ الْأَجْزَاءِ أَعْطَيْتُكَ أَوْ أَعْطَيْنَاكَ حَقَّكَ قَالَ الصُّدَائِيُّ فَدَخَلَ ذَلِكَ فِي نَفْسِي لَأَنِّي سَأَلْتُهُ مِنَ الصَّدَقَاتِ وَأَنَا غَنِيٌّ ثُمَّ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ اعْتَشَى مِنْ أَوَّلِ اللَّيْلِ فَلَزِمْتُهُ وَكُنْتُ قَوِيًّا وَكَانَ أَصْحَابُهُ يَنْقَطِعُونَ عَنْهُ وَيَسْتَأْخِرُونَ حَتَّى لَمْ يَبْقَ مَعَهُ غَيْرِي فَلَمَّا كَانَ أَوَانُ صَلَاةِ الصُّبْحِ أَمَرَنِي فَأَذَّنْتُ وَجَعَلْتُ أَقُولُ أُقِيمُ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَيَنْظُرُ إِلَى نَاحِيَةِ الْمَشْرِقِ فَيَقُولُ لَا حَتَّى إِذَا طَلَعَ الْفَجْرُ نَزَلَ فَتَبَرَّزَ ثُمَّ انْصَرَفَ إِلَيَّ وَقَدْ تَلَاحَقَ أَصْحَابُهُ فَقَالَ هَلْ مِنْ مَاءٍ يَا أَخَا صُدَاءٍ فَقُلْتُ لَا الْمَاءُ شَيْءٌ قَلِيلٌ لَا يَكْفِيكَ قَالَ اجْعَلْهُ فِي إِنَاءٍ ثُمَّ ائْتِنِي بِهِ فَفَعَلْتُ فَوَضَعَ كَفَّهُ فِي الْإِنَاءِ فَرَأَيْتُ بَيْنَ كُلِّ إِصْبَعَيْنِ مِنْ أَصَابِعِهِ عَيْنًا تَفُورُ فَقَالَ لَوْلَا أَنِّي أستحي مِنْ رَبِّي يَا أَخَا صُدَاءٍ لَسَقَيْنَا وَاسْتَقَيْنَا نَادِ فِي النَّاسِ مَنْ لَهُ حَاجَةٌ بِالْمَاءِ فَنَادَيْتُ فِيهِمْ فَأَخَذَ مَنْ أَرَادَ مِنْهُمْ ثُمَّ جَاءَ بِلَالٌ وَأَرَادَ أَنْ يُقِيمَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ أَخَا صُدَاءٍ هُوَ أَذَّنَ وَمَنْ أَذَّنَ فَهُوَ يُقِيمُ قَالَ الصُّدَائِيُّ فَأَقَمْتُ فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَاتَهُ أَتَيْتُهُ بِالْكِتَابَيْنِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَعْفِنِي مِنْ هَذَيْنِ فَقَالَ وَمَا ذَاكَ فَقُلْتُ إِنِّي سَمِعْتُكَ تَقُولُ لَا خَيْرَ فِي الْإِمَارَةِ لِرَجُلٍ مُؤمن وَأَنا أومن بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَسَمِعْتُكَ تَقُولُ

যিয়াদ ইবনুল হারিস আস-সুদায়ী বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম এবং ইসলামের ওপর তাঁর হাতে বায়আত গ্রহণ করলাম। আমাকে জানানো হলো যে, তিনি আমার কওমের বিরুদ্ধে এক সৈন্যদল পাঠিয়েছেন। তখন আমি বললাম, "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এই সৈন্যদল ফিরিয়ে নিন, আমি আপনার নিকট আমার কওমের ইসলাম গ্রহণ এবং আনুগত্যের জিম্মাদার হচ্ছি।" তিনি বললেন, "যাও এবং তাদের ফিরিয়ে আনো।" আমি বললাম, "হে আল্লাহর রাসূল! আমার বাহন ক্লান্ত হয়ে পড়েছে, তবে আপনি তাদের নিকট কোনো একজনকে পাঠান।" তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিকট এক ব্যক্তিকে পাঠালেন এবং আমি তার সাথে তাদের নিকট একটি চিঠি লিখে দিলাম; ফলে তিনি তাদের ফিরিয়ে নিয়ে আসলেন। আস-সুদায়ী বলেন, অতঃপর তাদের একটি প্রতিনিধি দল ইসলাম গ্রহণ করে উপস্থিত হলো। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, "হে সুদার ভাই! নিশ্চয়ই তুমি তোমার কওমের মধ্যে মান্যবর ব্যক্তি।" আমি বললাম, "বরং আল্লাহই তাদেরকে ইসলামের হিদায়েত দিয়েছেন।" আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আমি কি তোমাকে তাদের ওপর আমীর (নেতা) নিযুক্ত করব না?" আমি বললাম, "হ্যাঁ।" তখন তিনি আমার জন্য একটি নিয়োগপত্র লিখে দিলেন। আমি বললাম, "হে আল্লাহর রাসূল! তাদের সদাকা থেকে আমার জন্য কিছু বরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশ দিন।" তখন তিনি সেই মর্মে আমার জন্য আরেকটি পত্র লিখে দিলেন। ঘটনাটি তাঁর কোনো এক সফরের সময়কার। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি স্থানে অবতরণ করলেন। সেই স্থানের অধিবাসীরা তাদের আমিল (কর্মকর্তা) সম্পর্কে অভিযোগ করতে আসলো। তারা বলছিল যে, জাহেলিয়াত যুগে আমাদের ও তার মাঝে কোনো একটি বিষয় ছিল, যা নিয়ে সে আমাদের পাকড়াও করছে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "সে কি সত্যিই এমন করেছে?" তারা বলল, "হ্যাঁ।" তখন তিনি তাঁর সাহাবীদের দিকে তাকালেন—আমিও তাঁদের মধ্যে ছিলাম—এবং বললেন, "মুমিন ব্যক্তির জন্য নেতৃত্বে কোনো কল্যাণ নেই।" আস-সুদায়ী বলেন, তাঁর এই কথাটি আমার মনে গেঁথে গেল। অতঃপর আরেক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে বলল, "হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে কিছু দান করুন।" আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "যে ব্যক্তি অভাবহীন থাকা সত্ত্বেও মানুষের কাছে চায়, তা হবে তার মাথার যন্ত্রণা এবং পেটের রোগ।" তখন সেই সাহায্যপ্রার্থী বলল, "তাহলে আমাকে সদাকা থেকে দিন।" আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ সদাকার বণ্টনের ক্ষেত্রে কোনো নবী বা অন্য কারো ফয়সালায় সন্তুষ্ট হননি, যতক্ষণ না তিনি নিজেই এ ব্যাপারে ফয়সালা দিয়েছেন। তিনি একে আটটি ভাগে বিভক্ত করেছেন। যদি তুমি সেই আটটি ভাগের কোনো একটির অন্তর্ভুক্ত হও, তবে আমি তোমাকে তোমার হক দেব অথবা আমরা তোমাকে তোমার হক দেব।" আস-সুদায়ী বলেন, এই কথাটি আমার মনে বিঁধল; কারণ আমি সচ্ছল হওয়া সত্ত্বেও তাঁর কাছে সদাকার মাল চেয়েছিলাম। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের প্রথম ভাগেই যাত্রা শুরু করলেন। আমি তাঁর সাথে লেগে থাকলাম। আমি শক্তিশালী ছিলাম, আর তাঁর সাহাবীরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছিলেন এবং পেছনে থেকে যাচ্ছিলেন, এমনকি পরিশেষে আমি ছাড়া তাঁর সাথে আর কেউ রইল না। যখন ফজরের নামাজের সময় হলো, তিনি আমাকে নির্দেশ দিলেন এবং আমি আযান দিলাম। আমি বলতে লাগলাম, "হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি ইকামত দেব?" তিনি পূর্ব দিগন্তের দিকে তাকাচ্ছিলেন এবং বলছিলেন, "না।" পরিশেষে যখন ফজর উদিত হলো, তিনি বাহন থেকে নামলেন এবং প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারলেন। অতঃপর তিনি আমার দিকে ফিরে আসলেন এবং ততক্ষণে তাঁর সাহাবীরাও পৌঁছে গেছেন। তিনি বললেন, "হে সুদার ভাই! তোমাদের কাছে কি পানি আছে?" আমি বললাম, "না, পানি সামান্যই আছে যা আপনার একার জন্যও পর্যাপ্ত নয়।" তিনি বললেন, "সেটি একটি পাত্রে রাখো এবং আমার কাছে নিয়ে এসো।" আমি তাই করলাম। তিনি তাঁর হাতের তালু সেই পাত্রের মধ্যে রাখলেন, তখন আমি তাঁর প্রতিটি আঙ্গুলের মাঝখান থেকে ঝর্ণার মতো পানি প্রবাহিত হতে দেখলাম। তিনি বললেন, "হে সুদার ভাই! যদি আমি আমার রবের প্রতি লজ্জাবোধ না করতাম, তবে আমরা নিজেরাও তৃপ্ত হতাম এবং আমাদের বাহনগুলোকেও পান করাতাম। মানুষের মাঝে ঘোষণা করে দাও, যার পানির প্রয়োজন সে যেন আসে।" আমি তাদের মধ্যে ঘোষণা করলাম এবং যার যার প্রয়োজন ছিল সে পানি নিল। অতঃপর বিলাল আসলেন এবং ইকামত দিতে চাইলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "নিশ্চয়ই সুদার ভাই আযান দিয়েছে, আর যে আযান দেয় সেই ইকামত দেয়।" আস-সুদায়ী বলেন, তখন আমি ইকামত দিলাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামাজ শেষ করলেন, আমি সেই দুটি পত্র নিয়ে তাঁর নিকট আসলাম। আমি বললাম, "হে আল্লাহর রাসূল! এই দুটি দায়িত্ব থেকে আমাকে অব্যাহতি দিন।" তিনি বললেন, "তা কেন?" আমি বললাম, "আমি আপনাকে বলতে শুনেছি যে, মুমিন ব্যক্তির জন্য নেতৃত্বে কোনো কল্যাণ নেই; আর আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান রাখি। এবং আমি আপনাকে আরও বলতে শুনেছি যে..."

(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়াহ - ইসমাইল আল-আসবাহানী (পৃষ্ঠা: ৩৫)
لِلسَائِلِ مَنْ سَأَلَ عَنْ ظَهْرِ غِنًى فَهُوَ صُدَاعٌ فِي الرَّأْسِ وَدَاءٌ فِي الْبَطْنِ وَقَدْ سَأَلْتُكَ وَأَنَا غَنِيٌّ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هُوَ ذَاكَ إِنْ شِئْتَ فَاقْبَلْ وَإِنْ شِئْتَ فَدَعْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَدُلَّنِي عَلَى رَجُلٍ أُؤَمِّرُهُ عَلَيْهِمْ فَدَلَلْتُهُ عَلَى رَجُلٍ مِنَ الْوَفْدِ الَّذِينَ قَدِمُوا عَلَيْهِ فَأَمَّرَهُ عَلَيْنَا ثُمَّ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ لَنَا بِئْرًا إِذَا كَانَ الشِّتَاءُ وَسِعَنَا مَاؤُهَا وَاجْتَمَعْنَا عَلَيْهَا وَإِذَا كَانَ من الصَّيْفُ قَلَّ مَاؤُهَا وَتَفَرَّقْنَا عَلَى مِيَاهٍ حَوْلَنَا وَقَدْ أَسْلَمْنَا وَكُلُّ من حولنا عَدو فَادْعُ اللَّهَ لَنَا فِي بِئْرِنَا أَنْ يَسَعَنَا مَاؤُهَا فَنَجْتَمِعُ عَلَيْهَا وَلَا نَتَفَرَّقُ قَالَ فَدَعَا بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ فَفَرَكَهُنَّ وَدَعَا فِيهِنَّ ثُمَّ قَالَ اذْهَبُوا بِهَذِهِ الْحَصَيَاتِ فَإِذَا أَتَيْتُمُ الْبِئْرَ فَأَلْقُوا وَاحِدَةً وَاحِدَةً وَاذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ فَمَا اسْتَطَعْنَا بَعْدَ ذَلِكَ أَنْ نَنْظُرَ فِي قَعْرِهَا يَعْنِي الْبِئْرَ

8 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيٍّ السِّمْسَارُ أنبا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عبد الله التَّاجِرُ أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سُلَيْمٍ الْمَخْرَمِيُّ ثَنَا الزُّبَيْرُ بْنُ بَكَّارٍ ثَنَا أَبُو ضَمْرَةَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ وَهْبِ بْنِ كَيْسَانَ عَنْ جَابِرِ بن عبد الله رضي الله عنهما أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَاهُ تُوُفِّيَ وَتَرَكَ عَلَيْهِ ثَلَاثِينَ وَسْقًا لِرَجُلٍ مِنَ الْيَهُودِ فَاسْتَنْظَرَهُ جَابِرٌ فَأَبَى أَنْ يُنْظِرَهُ فَكَلَّمَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِيَشْفَعَ لَهُ إِلَيْهِ فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكَلَّمَ الْيَهُودِيَّ لِيَأْخُذَ ثَمَرَةَ نَخْلِهِ بِالدَّيْنِ وَأَبَى وَدَخَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم النَّخْلَ فَمَشَى فِيهَا ثُمَّ قَالَ لِجَابِرٍ جُدَّ لَهُ فَأَوْفِهِ الَّذِي لَهُ فَجَدَّ لَهُ بَعْدَمَا رَجَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَوْفَاهُ ثَلَاثِينَ وَسْقًا وَفَضِلَتْ لَهُ سَبْعَةَ عَشَرَ وَسْقًا فَجَاءَ جَابِرٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِيُخْبِرَهُ بِالَّذِي فَعَلَ فَوَجَدَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الْعَصْرَ فَلَمَّا انْصَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَاءَهُ فَأَخْبَرَهُ أَنَّهُ قَدْ أَوْفَاهُ وَأَخْبَرَهُ بِالْفَضْلِ الَّذِي فَضِلَ لَهُ فَقَالَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَخْبِرْ عُمَرَ فَذَهَبَ جَابِرٌ إِلَى عُمَرَ رضي الله عنهما فَأَخْبَرَهُ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ رضي الله عنه لَقَدْ عَلِمْتُ حِينَ مَشَى فِيهَا لَيُبَارِكَنَّ اللَّهُ تَعَالَى فِيهَا

9 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ انا إِبْرَاهِيم أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سُلَيْمٍ ثَنَا الزُّبَيْرُ ثَنَا أَبُو غَزِيَّةَ عَنْ فُلَيْحِ بْنِ سُلَيْمَانَ عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبُيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَعْضِ مَغَازِيهِ فأرملوا فجَاء مِنْ أَصْحَابِهِ يَسْتَأْذِنُونَ فِي نَحْرِ إِبِلِهِمْ فَأَذِنَ لَهُمْ فَجَاءَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِبِلُهُمْ تَحْمِلُهُمْ وَتُبَلِّغُهُمْ عَدُوَّهُمْ بَلِ ادْعُهُمْ بِغُبَّرَاتِ الزَّادِ فَجَاءَ النَّاسُ بِمَا بَقِيَ مَعَهُمْ
সাহায্যপ্রার্থীর বিষয়ে, যে ব্যক্তি সচ্ছলতা থাকা সত্ত্বেও চায়, তা মাথায় মাথাব্যথা এবং পেটে রোগস্বরূপ। আমি আপনার কাছে চেয়েছিলাম অথচ আমি সচ্ছল ছিলাম। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: এটা তেমনই, তুমি চাইলে তা গ্রহণ করো অথবা চাইলে ছেড়ে দাও। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আমাকে এমন এক ব্যক্তির সন্ধান দাও যাকে আমি তাদের ওপর আমির নিযুক্ত করতে পারি। তখন আমি তাকে সেই প্রতিনিধি দলের এক ব্যক্তির কথা জানালাম যারা তার কাছে এসেছিল, ফলে তিনি তাকে আমাদের ওপর আমির নিযুক্ত করলেন। তারপর আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের একটি কুয়া রয়েছে, যখন শীতকাল আসে তখন এর পানি আমাদের জন্য যথেষ্ট হয় এবং আমরা এর চারপাশে সমবেত হই। কিন্তু যখন গ্রীষ্মকাল আসে তখন এর পানি কমে যায় এবং আমরা আমাদের চারপাশের পানির উৎসগুলোতে ছড়িয়ে পড়ি। আমরা ইসলাম গ্রহণ করেছি অথচ আমাদের চারপাশের সবাই শত্রু। অতএব আমাদের কুয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন এর পানি আমাদের জন্য যথেষ্ট হয় এবং আমরা এর নিকট সমবেত থাকতে পারি ও বিচ্ছিন্ন না হই। তিনি (বর্ণনাকারী) বললেন: তখন তিনি সাতটি কঙ্কর চাইলেন এবং সেগুলো ঘষলেন ও তাতে দোয়া করলেন। তারপর বললেন: এই কঙ্করগুলো নিয়ে যাও, যখন তোমরা কুয়ার নিকট পৌঁছাবে তখন একটি একটি করে নিক্ষেপ করবে এবং আল্লাহর নাম স্মরণ করবে। এরপর থেকে আমরা তার অর্থাৎ কুয়ার গভীরের দিকে তাকাতে সক্ষম হইনি (পানির আধিক্যের কারণে)।

8 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আলী আস-সিমসার, তিনি ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ আত-তাজির থেকে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন সুলাইম আল-মাখরামি, আমাদের বর্ণনা করেছেন জুবাইর বিন বাক্কার, আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু দামরাহ, হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, তিনি ওয়াহব বিন কাইসান থেকে, তিনি জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে তার পিতা ইন্তেকাল করেন এবং এক ইহুদি ব্যক্তির কাছে তার ত্রিশ ওয়াসাক ঋণ ছিল। জাবির তার কাছে সময় চেয়েছিলেন কিন্তু সে তাকে সময় দিতে অস্বীকার করল। তখন জাবির রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কথা বললেন যেন তিনি তার জন্য সুপারিশ করেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন এবং ইহুদি লোকটির সাথে কথা বললেন যেন সে ঋণের বিনিময়ে তার খেজুর বাগানের ফল গ্রহণ করে, কিন্তু সে অস্বীকার করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুর বাগানে প্রবেশ করলেন এবং তাতে হাঁটলেন। এরপর জাবিরকে বললেন: তার জন্য খেজুর সংগ্রহ করো এবং তার প্রাপ্য পরিশোধ করো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে যাওয়ার পর তিনি তার জন্য সংগ্রহ করলেন এবং তাকে ত্রিশ ওয়াসাক পূর্ণ করে দিলেন, আর তার নিকট সতেরো ওয়াসাক অতিরিক্ত থাকল। জাবির রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসলেন যা করেছেন তা তাকে জানাতে। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আসরের সালাত আদায় করতে পেলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত শেষ করলেন, তিনি তার কাছে আসলেন এবং তাকে জানালেন যে তিনি তার ঋণ পরিশোধ করেছেন এবং অবশিষ্ট অতিরিক্ত অংশ সম্পর্কেও তাকে জানালেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: উমরকে সংবাদ দাও। জাবির উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর কাছে গিয়ে তাকে জানালেন। উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাকে বললেন: আমি তখনই জেনেছিলাম যখন তিনি (নবীজি) সেখানে হেঁটেছিলেন যে, আল্লাহ তাআলা অবশ্যই তাতে বরকত দান করবেন।

9 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আহমদ, তিনি ইব্রাহিম থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন সুলাইম থেকে, আমাদের বর্ণনা করেছেন জুবাইর, আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু গাজিয়্যাহ, ফুলাইহ বিন সুলাইমান থেকে, তিনি সুহাইল বিন আবি সালেহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা কোনো এক যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বের হলাম, তখন পাথেয় শেষ হয়ে গেল। ফলে তার সাহাবীদের কিছু লোক এসে তাদের উট জবাই করার অনুমতি চাইল। তিনি তাদের অনুমতি দিলেন। এমতাবস্থায় উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আসলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! তাদের উট তো তাদের বহন করে এবং শত্রুর নিকট পৌঁছায়; বরং আপনি তাদের অবশিষ্ট পাথেয় নিয়ে ডাকুন। তখন লোকেরা তাদের সাথে অবশিষ্ট যা ছিল তা নিয়ে আসল।
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়াহ - ইসমাইল আল-আসবাহানী (পৃষ্ঠা: ৩৬)
فَجَمَعَهُ ثُمَّ دَعَا بِالْبَرَكَةِ ثُمَّ دَعَا بِأَوْعِيَتِهِمْ فملاؤا كُلَّ وِعَاءٍ وَفَضِلَ فَضْلٌ كَثيِرٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عِنْدَ ذَلِكَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنِّي عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ مَنْ لَقِيَ اللَّهَ عز وجل غَيْرَ شَاكٍّ دَخَلَ الْجَنَّةَ

قَالَ الْإِمَامُ رحمه الله الْجَدُّ الْقَطْعُ يُقَالُ جَدَدْتُ الثَمَرَةَ أَجْدً إِذَا صَرَمْتَهُ وَأَيَّامُ الْجِدَادِ أَيَّامُ الصِّرَامِ وَالْوَسْقُ الْحَمْلُ وَالْإِنْظَارُ التَّأْخِيرُ وَالتَّأْجِيلُ وَأَرْمَلُوا نَفِدَ زَادُهُمْ وَالْغُبَّرَاتُ الْبَقَايَا يُقَالُ غَبَرَ إِذَا بَقِيَ

10 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بن أَحْمد السَّمرقَنْدِي انا عبد الصمد الْعَاصِمِيُّ نَا أَبُو الْعَبَّاسِ الْبَجِيرِيُّ نَا أَبُو حَفْصٍ الْبَجِيرِيُّ نَا مَحْمُودُ بْنُ خِدَاشٍ ثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ ثَنَا عَوْفٌ الْأَعْرَابِيُّ عَنْ أَبِي رَجَاءٍ الْعُطَارِدِيِّ ثَنَا عِمْرَانُ بْنُ حُصَيْنٍ الْخُزَاعِيُّ قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ وَإِنَّا سَرَيْنَا لَيْلَةً حَتَّى إِذَا كَانَ فِي آخِرِ الْلَيلِ وَقَعْنَا تِلْكَ الْوَقْعَةَ وَلَا وَقْعَةَ عِنْدَ الْمُسَافِرِ أَحْلَى مِنْهَا قَالَ فَمَا أَيْقَظَنَا إِلَّا حَرُّ الشَّمْسِ فَكَانَ أَوَّلَ مَنِ اسْتَيْقَظَ فُلَانٌ ثُمَّ فُلَانٌ يُسَمِّيهِمْ أَبُو رَجَاءَ وَيُسَمِّيهِمْ عَوفٌ ثُمَّ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه الرَّابِعُ وَكَانَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا نَامَ لَمْ نُوقِظْهُ حَتَّى يَكُونَ هُوَ الَّذِي يَسْتَيْقِظُ لِأَنَّا لَا نَدْرِي مَا يَحْدُثُ لَهُ فِي نَوْمِهِ فَلَمَّا اسْتَيْقَظَ عُمَرُ فَرَأَى مَا قَدْ أَصَابَ النَّاسَ وَكَانَ رَجُلًا جَلِيدًا أَجْوَفَ جَعَلَ يُكَبِّرُ وَيَرْفَعُ صَوْتَهُ بِالتَّكْبِيرِ حَتَّى اسْتَيْقَظَ بِصَوْتِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا اسْتَيْقَظَ اشْتَكَى النَّاسُ إِلَيْهِ الَّذِي أَصَابَهُمْ فَقَالَ لَا ضَيْرَ قَالَ عَوْفٌ أَوْ قَالَ لَا يُضِيرُ فَارْتَحِلُوا فَارْتَحَلُوا وَكَانَ غَيْرَ بَعِيدٍ ثمَّ نزل فَنُوديَ للصَّلَاة فصل بِالنَّاسُ فَلَمَّا سَلَّمَ إِذَا بِرَجُلٍ مُعْتَزِلٍ لَمْ يُصَلِّ مَعَ النَّاسِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا لَكَ لَمْ تُصَلِّ مَعَ النَّاسِ قَالَ أَصَابَتْنِي جَنَابَةٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَلَا مَاءَ قَالَ عَلَيْكَ بِالصَّعِيدِ فَإِنَّهُ يَكْفِيكَ ثُمَّ سَارَ فَلَمَّا سَارَ شَكَا النَّاسُ إِلَيْهِ الْعَطَشَ فَدَعَا فُلَانًا يُسَمِّيهِ أَبُو رَجَاءَ وَنَسِيَهُ عَوْفٌ وَدَعَا عَلِيًّا رضي الله عنه وَقَالَ لَهُمَا اذْهَبَا وَابْغِيَا الْمَاءَ فَانْطَلَقَا فَيَلْقَيَانِ امْرَأَةً عَلَى بَعِيرٍ لَهَا مِنْ مَزَادَتَيْنِ مِنْ مَاء أَو سطيحتين فَقَالَ لَهَا مَتَى عَهْدُكِ بِالْمَاءِ فَقَالَتْ أَمْسِ هَذِهِ السَّاعَةِ قَالَتْ نَفَرُنَا خُلُوفٌ فَقَالَا انْطَلِقِي إِذًا قَالَتْ أَيْنَ قَالَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ إِلَى هَذَا الَّذِي يُقَال الصابيء قَالَ هُوَ الَّذِي تَعْنِينَهُ انْطَلِقِي فَجَاءَا بِهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فحدثا الْحَدِيثَ فَاسْتَنْزَلُوهَا عَنْ بَعِيرِهَا وَدَعَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِإِنَاءٍ فَأَفْرَغَ فِيهِ مِنْ أَفْوَاهِ الْمَزَادَتَيْنِ أَوِ السَّطِيحَتَيْنِ ثُمَّ مَضْمَضَ ثُمَّ أَعَادَهُ
অতঃপর তিনি তা একত্রিত করলেন, তারপর বরকতের দোয়া করলেন, এরপর তাদের পাত্রগুলো নিয়ে আসার আহ্বান জানালেন। ফলে তারা প্রতিটি পাত্র পূর্ণ করল এবং প্রচুর অতিরিক্ত রয়ে গেল। সেই মুহূর্তে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি তাঁর বান্দা ও রাসূল। যে ব্যক্তি কোনো প্রকার সন্দেহ পোষণ না করে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"

ইমাম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আল-জাদ্দু" অর্থ কেটে ফেলা। বলা হয় "জাদাদ্দুতুছ ছামারাতা" যখন আপনি ফলটি গাছ থেকে পেড়ে নেন। আর "আইয়ামুল জিদাদ" অর্থ ফল সংগ্রহের দিনসমূহ। "আল-ওয়াসকু" অর্থ বোঝা। "আল-ইনজার" অর্থ বিলম্ব করা ও সময় দেওয়া। "আরমালু" অর্থ তাদের পাথেয় ফুরিয়ে যাওয়া। "আল-গুব্বারাত" অর্থ অবশিষ্টাংশ। বলা হয় "গাবারা" যখন কিছু অবশিষ্ট থাকে।

10 - হাসান ইবনে আহমদ আস-সামারকান্দি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুস সামাদ আল-আসিমী আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: আবুল আব্বাস আল-বাজীরি আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু হাফস আল-বাজীরি আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মাহমুদ ইবনে খিদাশ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মারওয়ান ইবনে মুয়াবিয়া আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আউফ আল-আ’রাবী আবু রাজা আল-উতারিদি থেকে আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইমরান ইবনে হুসাইন আল-খুজায়ি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা এক সফরে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ছিলাম। আমরা সারা রাত পথ চললাম। যখন রাতের শেষভাগ হলো, তখন আমরা বিশ্রামের জন্য এমনভাবে গা এলিয়ে দিলাম যে, একজন মুসাফিরের কাছে এর চেয়ে আরামদায়ক বিশ্রাম আর হয় না। তিনি বলেন, সূর্যের তাপ ছাড়া আর কিছুই আমাদের জাগাতে পারল না। সর্বপ্রথম যিনি জাগ্রত হলেন তিনি হলেন অমুক, এরপর অমুক—আবু রাজা ও আউফ তাদের নাম উল্লেখ করেছিলেন—অতঃপর চতুর্থ ব্যক্তি হিসেবে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জাগ্রত হলেন। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন ঘুমাতেন, আমরা তাঁকে জাগাতাম না যতক্ষণ না তিনি নিজেই জাগ্রত হতেন; কারণ তাঁর ঘুমের অবস্থায় তাঁর কাছে কী ওহী বা অবস্থা অবতীর্ণ হচ্ছে তা আমরা জানতাম না। যখন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জাগ্রত হলেন এবং দেখলেন মানুষের কী দশা হয়েছে, তখন তিনি ছিলেন একজন বলিষ্ঠ ও উচ্চকণ্ঠের অধিকারী ব্যক্তি, তিনি উচ্চস্বরে তাকবীর দিতে শুরু করলেন। তাঁর তাকবীরের শব্দে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জাগ্রত হলেন। যখন তিনি জাগ্রত হলেন, তখন সাহাবীগণ তাদের বিপত্তির কথা তাঁর কাছে নিবেদন করলেন। তিনি বললেন, "কোনো ক্ষতি নেই"—আউফ বলেন, অথবা তিনি বলেছিলেন— "এতে কোনো ক্ষতি হবে না, তোমরা যাত্রা শুরু করো।" অতঃপর তারা যাত্রা করলেন এবং অল্প দূর গিয়ে তিনি অবতরণ করলেন। অতঃপর সালাতের জন্য আযান দেওয়া হলো এবং তিনি লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। যখন তিনি সালাম ফিরালেন, তখন দেখলেন এক ব্যক্তি পৃথক হয়ে আছে, সে লোকদের সাথে সালাত আদায় করেনি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, "হে অমুক, তোমার কী হয়েছে যে তুমি লোকদের সাথে সালাত আদায় করলে না?" সে বলল, "হে আল্লাহর রাসূল! আমি অপবিত্র হয়ে পড়েছি, আর কোনো পানি নেই।" তিনি বললেন, "তুমি পবিত্র মাটি ব্যবহার করো, নিশ্চয়ই তা তোমার জন্য যথেষ্ট।" অতঃপর তিনি পথ চলতে শুরু করলেন। পথ চলাকালে লোকজন তাঁর কাছে তৃষ্ণার অভিযোগ করল। তখন তিনি একজনকে—আবু রাজা তার নাম নিয়েছিলেন কিন্তু আউফ তা ভুলে গেছেন—এবং আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে ডাকলেন। তিনি তাদের উভয়কে বললেন, "তোমরা যাও এবং পানি তালাশ করো।" অতঃপর তারা বেরিয়ে পড়লেন এবং এক মহিলার দেখা পেলেন যে তার উটের পিঠে দুই মশক বা দুই পাত্র পানি নিয়ে যাচ্ছিল। তারা তাকে জিজ্ঞেস করল, "তুমি কখন পানির সন্ধান পেয়েছিলে?" সে বলল, "গতকাল এই সময়ে। আর আমাদের পুরুষরা পেছনে রয়ে গেছে।" তারা বলল, "তাহলে আমাদের সাথে চলো।" সে বলল, "কোথায়?" তারা বলল, "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে।" সে বলল, "সেই ব্যক্তির কাছে যাকে 'সাবি' (ধর্মত্যাগী) বলা হয়?" তারা বলল, "তিনিই তিনি যাকে তুমি উদ্দেশ্য করছ, চলো।" অতঃপর তারা তাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে নিয়ে এলেন এবং সব ঘটনা বর্ণনা করলেন। সাহাবীগণ তাকে উট থেকে নামালেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি পাত্র চাইলেন। এরপর তিনি দুই মশকের মুখ থেকে তাতে পানি ঢাললেন। অতঃপর তিনি কুলি করলেন এবং সেই পানি পুনরায় মশকের ভেতর ঢেলে দিলেন।
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়াহ - ইসমাইল আল-আসবাহানী (পৃষ্ঠা: ৩৭)
فِي الْإِنَاءِ ثُمَّ أَعَادَهُ فِي أَفْوَاهِهِمَا وَأَوْكَاهُمَا وَأَطْلَقَ الْعَزَالِيَ وَنُودِيَّ فِي النَّاس أَن اسقوا واستستقوا فَسَقَى مَنْ سَقَى وَاسْتَقَى مَنِ اسْتَقَى وَآخِرُ ذَلِكَ أَنْ أَعْطَى الرَّجُلَ الَّذِي أَصَابَتْهُ الْجَنَابَةُ إِنَاءً مِنْ مَاءٍ وَقَالَ لَهُ أَفْرِغْهُ عَلَيْكَ وَهِيَ قَائِمَةٌ تَنْظُرُ إِلَى مَا يُصْنَعُ بِمَائِهَا قَالَ وَايْمُ اللَّهِ لَقَدْ أَقْلَعَ عَنْهَا حِينَ أَقْلَعَ وَإِنَّهُ لَا يُخَيَّلُ إِلَيْهَا أَنَّهَا أَشَدُّ مَلْآةٍ مِمَّا كَانَتْ حَيْثُ ابْتَدَأَ فِيهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا رزأناك من ماءك مِنْ شَيْءٍ وَلَكِنَّ اللَّهَ هُوَ سَقَانَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اجْمَعُوا لَهَا فَجمعُوا لَهَا بَيْنِ دَقِيقَةٍ وَسُوَيْقَةٍ وَعَجْوَةٍ حَتَّى جَمَعُوا لَهَا مِنْهُ طَعَامًا فَجَعَلُوهُ فِي ثَوْبٍ ثُمَّ حَمَلُوهُ بَيْنَ ثَدْيِهَا فَأَتَتْ أَهْلَهَا وَقَدِ احْتَبَسَتْ عَلَيْهِمْ فَقَالُوا مَا حَبَسَكِ يَا فُلَانَةُ فَقَالَتْ الْعَجَبُ لَقِيَنِي رَجُلَانِ فَذَهَبَا بِي إِلَى هَذَا الَّذِي يُقَال لَهُ الصابيء فَفعل بماءي كَذَا وَكَذَا لِلَّذِي كَانَ فَوَاللَّهِ إِنَّهُ لَأَخْيَرُ مَنْ بَيْنَ هَذِهِ وَهَذِهِ تَعْنِي السَّمَاءَ وَالْأَرْضَ وَإِنَّهُ لَرَسُولُ اللَّهِ حَقًّا وَكَانَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ بَعْدِ يُغِيرُونَ عَلَى مَنْ حَوْلِهِمْ وَلَا يُصِيبُونَ الْقَوْمَ الَّتِي هِيَ مِنْهُمْ فَقَالَتْ لِقَوْمِهَا وَاللَّهِ مَا أَدْرِي عَنْ عَمْدٍ يَدَعُنَا هَؤُلَاءِ أَمَا لَكُمْ فِي الْإِسْلَامِ فَطَاوَعُوهَا فَجَاءُوا جَمِيعًا فَدَخَلُوا فِي الْإِسْلَامِ

قَالَ الْإِمَامُ رحمه الله وَقَعْنَا تِلْكَ الْوَقْعَةِ أَيْ نِمْنَا تِلْكَ النَوْمَةَ الثَقِيلَةَ قَوْلُهُ كَانَ رَجُلًا جَلِيدًا أَجْوَفَ أَيْ قَوِيًّا رَفِيعَ الصَّوْتِ وَالْمَزَادَةُ الْقِرْبَةُ الْكَبِيرَةُ وَكَذَلِكَ السَّطِيحَةُ وَقَوْلُهَا وَنَفَرُنَا خُلُوفٌ أَيْ غَابَ الرِّجَالُ وَبَقِيَ النِّسَاءُ وَالصِّبْيَانُ وَأَفْرَغَ أَيْ صَبَّ وَالْعَزَالِي جَمْعُ الْعَزْلَاءِ وَهِيَ فَمُ الْقِرْبَةِ مِنْ جَانِبِهَا وَأَقْلَعَ أَيْ كَفَّ وَأَمْسَكَ وَالْمَلْآةُ الِامْتِلَاءُ مَا رَزَأْنَاكِ أَيْ مَا نَقَصْنَاكِ فَابْغِيَانَا أَيْ فَابْغَيَا لَنَا يُقَالُ بَغَيْتُهُ الشَّيْءَ أَيْ طَلَبْتُهُ لَهُ وَالْهَاءُ فِي دَقِيقَةٍ وَسُوَيْقَةٍ تَدُلُّ عَلَى الْقِلَّةِ أَيْ قِطْعَةٌ مِنَ الدَّقِيقِ قَلِيلَةٌ وَكَذَلِكَ السُّوَيْقُ وَالصَّرْمُ أَبْيَاتٌ مُجْتَمِعَةٌ وَنَفَرٌ يَسِيرُ وَقَوْلُهُ أَوْكَاهُمَا أَيْ شَدَّ أَفْوَاهَهُمَا

‌‌فَصْلٌ

 

11 - أَخْبَرَنَا حَكِيمُ بْنُ أَحْمَدَ الإِسْفَرَايِينِيُّ قَدِمَ عَلَيْنَا أَنَا جَدِّي أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الإِسْفَرَايِينِيُّ ثَنَا الْأَصَمُّ ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْبُرْلُسِيُّ ثَنَا ضِرَارُ بْنُ صَرْدٍ ثَنَا عَائِذ ابْن حَبِيبٍ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِد عَن عبد الله الْمدنِي قَالَ سَمِعت عبد الرحمن بْنَ أَبِي بَكْرٍ رضي الله عنهما يَقُولُ كَانَ فُلَانٌ يَجْلِسُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا تَكَلَّمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم اخْتَلَجَ
পাত্রে, তারপর তিনি তা আবার তাদের মুখে ফিরিয়ে দিলেন এবং সেগুলো বেঁধে দিলেন এবং পানির নির্গমন মুখগুলো খুলে দিলেন। মানুষের মধ্যে ঘোষণা করা হলো যে, তোমরা পান করাও এবং নিজেরা পানি সংগ্রহ করো। ফলে যারা পান করানোর তারা করাল এবং যারা সংগ্রহ করার তারা করল। সবশেষে তিনি সেই ব্যক্তিকে এক পাত্র পানি দিলেন যার জানাবাত (অপবিত্রতা) হয়েছিল এবং তাকে বললেন: "এটি তোমার ওপর ঢেলে দাও।" সেই মহিলা দাঁড়িয়ে দেখছিল তার পানি দিয়ে কী করা হচ্ছে। বর্ণনাকারী বলেন: আল্লাহর কসম, যখন তিনি শেষ করলেন, তখন আমাদের কাছে মনে হচ্ছিল যে, সেই মশক দুটি আগের চেয়ে আরও বেশি পূর্ণ হয়ে আছে যখন থেকে কাজ শুরু করা হয়েছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "আমরা তোমার পানির সামান্যতম অংশও কমাইনি, বরং আল্লাহই আমাদের পান করিয়েছেন।" এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "তার জন্য কিছু সংগ্রহ করো।" তখন তারা তার জন্য ময়দা, ছাতু এবং আজওয়া খেজুর একত্রিত করলেন, এমনকি তারা তার জন্য বেশ কিছু খাদ্যসামগ্রী জমা করলেন। সেগুলো একটি কাপড়ে রাখা হলো এবং তার সওয়ারির ওপর তার সামনে তুলে দেওয়া হলো। এরপর সে তার পরিবারের কাছে ফিরে গেল, অথচ সে তাদের কাছে ফিরতে দেরি করেছিল। তারা বলল: "হে অমুক, কিসে তোমাকে আটকে রেখেছিল?" সে বলল: "আশ্চর্য বিষয়! আমার সাথে দুই ব্যক্তির দেখা হয়েছিল, তারা আমাকে সেই ব্যক্তির কাছে নিয়ে গেল যাকে 'সাবি' (ধর্মত্যাগী) বলা হয়। সে আমার পানির সাথে এই এই করল যা হওয়ার ছিল। আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই তিনি এই দুইয়ের (আকাশ ও পৃথিবীর দিকে ইশারা করে) মধ্যবর্তী সবকিছুর চেয়ে শ্রেষ্ঠ, অথবা তিনি সত্যিই আল্লাহর রাসূল।" এরপর থেকে মুসলমানরা তার আশপাশের গোত্রগুলোর ওপর আক্রমণ চালাত, কিন্তু সেই মহিলা যে গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিল তাদের কোনো ক্ষতি করত না। তখন সে তার গোত্রকে বলল: "আল্লাহর কসম, আমি জানি না তারা কি ইচ্ছাকৃতভাবে আমাদের ছেড়ে দিচ্ছে? তোমাদের কি ইসলাম গ্রহণ করার কোনো ইচ্ছা আছে?" তারা তার কথা মেনে নিল এবং সকলে ইসলামে দাখিল হলো।

ইমাম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আমরা সেই অবস্থায় পতিত হলাম" অর্থাৎ আমরা সেই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হলাম। তাঁর বাণী: "সে ছিল একজন শক্তিশালী এবং উচ্চকণ্ঠের মানুষ"। "আল-মাজাদাহ" হলো বড় চামড়ার মশক, আর "আস-সাতিহাহ" শব্দটিও তাই। তাঁর কথা "আমাদের পুরুষরা অনুপস্থিত ছিল" অর্থাৎ পুরুষরা সেখানে ছিল না এবং নারী ও শিশুরাই রয়ে গিয়েছিল। "আফরাগা" অর্থ ঢালল। "আল-আজালি" হলো "আল-আজলা" এর বহুবচন, যা মশকের পার্শ্ববর্তী নির্গমন মুখ। "আকলা'আ" অর্থ বিরত হওয়া বা থেমে যাওয়া। "আল-মালআহ" অর্থ পূর্ণ হওয়া। "মা রাজা'নাকি" অর্থ আমরা তোমার কিছু হ্রাস করিনি। "ফাবগিয়ানা" অর্থ আমাদের জন্য তালাশ করো। বলা হয় "বাগায়তুহু আশ-শায়আ" অর্থাৎ আমি তার জন্য বস্তুটি তালাশ করেছি। "দাকিকাহ" এবং "সুওয়াইকাহ" শব্দ দুটিতে শেষে 'হা' অল্পতা নির্দেশ করে, অর্থাৎ সামান্য পরিমাণ ময়দা এবং ছাতু। "আস-সারম" হলো কয়েকটি ঘর এবং সামান্য কয়েকজন লোক। তাঁর কথা "আওকাহুমা" অর্থাৎ তিনি তাদের মুখগুলো শক্ত করে বেঁধে দিলেন।

‌‌পরিচ্ছেদ

 

11 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাকিম ইবনে আহমাদ আল-ইসফারায়িনি, তিনি যখন আমাদের কাছে এসেছিলেন। তিনি বলেন: আমার দাদা আবু আল-হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-ইসফারায়িনি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-আসাম্ম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবরাহিম ইবনে সুলায়মান আল-বুরলুসি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: দিরার ইবনে সারদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আইয ইবনে হাবিব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইসমাঈল ইবনে আবি খালিদ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ আল-মাদানি থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আমি আবদুর রহমান ইবনে আবি বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে বসত। যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কথা বলতেন, তখন সে মুখভঙ্গি করে তা নকল করত।
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়াহ - ইসমাইল আল-আসবাহানী (পৃষ্ঠা: ৩৮)
بِوَجْهِهِ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ كُنْ كَذَلِكَ فَلَمْ يَزَلْ يَخْتَلِجُ حَتَّى مَاتَ

قَالَ الْإِمَامُ الِاخْتِلَاجُ الِارْتِعَادُ كَانَ يُحَرِّكُ شَفَتَيْهِ وَذَقْنَهُ اسْتِهْزَاءً بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَحْكِي مَا فَعَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَدَعَا عَلَيْهِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَبَقيَ كَذَلِك يرتعد بِوَجْهِهِ إِلَى أَنْ مَاتَ

‌‌فَصْلٌ فِي ذِكْرِ رَجُلٍ مِنَ الْيَهُودِ أَخْبَرَ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ عز وجل فِي التَّوْرَاةِ مِنْ صِفَةِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ

وَسَلَّمَ فِي مَرَضِهِ وَآمَنَ بِهِ ثُمَّ مَاتَ

12 - أَخْبَرَنَا أَبُو زَكَرِيَّا قَالَ وَجَدْتُ فِي كتاب جدي أبي عبد الله أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ سَعْدٍ وَعَلِيَّ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ نَصْرٍ وَأَحْمَدَ بْنَ إِسْحَاقَ قَالُوا ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَيُّوبَ ثَنَا أَبُو سَلَمَةَ مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ ثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ عبد الله ابْن مَسْعُودٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ قَالَ ابْتَعَثَ اللَّهُ نَبِيَّهُ صلى الله عليه وسلم بِإِدْخَالِ رَجُلٍ الْجَنَّةَ فَدَخَلَ الْكَنِيسَةَ فَإِذَا هُوَ بِيَهُودٍ يقرأون التَّوْرَاةَ فَأَتَوْا عَلَى صِفَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا رَأُوا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمْسَكُوا وَفِي نَاحِيَةِ الْكَنِيسَةِ رَجُلٌ مَرِيضٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا لَكُمْ أَمْسَكْتُمْ فَقَالَ الْمَرِيضُ إِنَّهُمْ أَتَوْا عَلَى صِفَةِ نَبِيٍّ فَأَمْسَكُوا ثُمَّ جَاءَ الْمَرِيضُ يَحْبُو حَتَّى أَخَذَ التَّوْرَاةَ فَقَرَأَهَا حَتَّى أَتَى عَلَى صِفَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأُمَّتِهِ فَقَالَ هَذِهِ صِفَتُكَ وَصِفَةُ أَمَّتِكَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ ثُمَّ مَاتَ فَقَالَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لُوا أَخَاكُمْ

13 - قَالَ أَبُو عبد الله وَأخْبرنَا مُحَمَّد بن عبد الله بْنِ الْمُنْذِرِ وَعَلِيُّ بْنُ نَصْرٍ قَالَا ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَيُّوبَ ثَنَا أَبُو سَلمَة ثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ ثَنَا سعيد الْجريرِي عَن عبد الله بن قدامَة ابْن صَخْرٍ الْعُقَيْلِيِّ حَدَّثَنِي أَعْرَابِيٌّ قَالَ قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ بِجَلُوبَةٍ لِي فَقُلْتُ لَأَسْمَعَنَّ مِنْ هَذَا الرَّجُلِ فَأَتَيْتُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ بَيْنَ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ رضي الله عنهما وَاضِعٌ يَدَيْهِ عَلَيْهِمَا قَالَ وَرَجُلٌ يَقْرَأُ التَّوْرَاةَ عَلَى ابْنٍ لَهُ مَرِيضٍ فَقَالَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أُنْشِدُكَ بِالَّذِي أَنْزَلَ التَّوْرَاةَ عَلَيْكُمْ هَلْ تَجِدُ صِفَتِي وَمَخْرَجِي فَقَالَ لَا فَوَضَعَ يَدَيْهِ عَلَى الصِّفَةِ فَقَالَ ابْنُهُ بَلَى وَالَّذِي أَنْزَلَهَا إِنَّ فِيهِ لَصِفَتَكَ وَصِفَةَ أُمَّتِكَ وَمَخْرَجَكَ وَأَنَا أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ ثُمَّ مَاتَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لُوا أَخَاكُمْ

قَالَ الْإِمَامُ يَحْبُو أَيْ يَمْشِي عَلَى عَجُزِهِ كَمَا يَفْعَلُ الصَبِيُّ الطِفْلُ الَّذِي لَا يَقْدِرُ عَلَى الْقِيَامِ وَقَوْلُهُ لُوا أَمْرُ الْجَمَاعَةِ مِنْ قَوْلِكَ وَلِيَ يَلِي عَلَى وَزْنِ قُوا أَنْفُسَكُمْ أَيْ تَوَلَّوْا غُسْلَهُ وَتَكْفِينَهُ
তার মুখমণ্ডল দ্বারা (ব্যঙ্গ করতে লাগল), তখন নবী তাকে বললেন, "তুমি এমনই হয়ে যাও।" ফলে সে মৃত্যু পর্যন্ত খিঁচুনিরত বা কম্পিত অবস্থায় থাকল।

ইমাম বলেন: "আল-ইখতিলাজ" অর্থ হলো কম্পন। সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উপহাস করার উদ্দেশ্যে তার ঠোঁট ও চিবুক নাড়াচ্ছিল এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করছিলেন তা অনুকরণ করছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বিরুদ্ধে বদদোয়া করলেন, ফলে সে মৃত্যু পর্যন্ত তার মুখমণ্ডলসহ এভাবেই কম্পিত অবস্থায় রয়ে গেল।

‌‌পরিচ্ছেদ: ইহুদিদের মধ্যকার জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে আলোচনা, যে তার অসুস্থ অবস্থায় তাওরাতে মহান আল্লাহ নাযিলকৃত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বৈশিষ্ট্যসমূহ সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছিল, তাঁর ওপর ঈমান এনেছিল এবং অতঃপর মৃত্যুবরণ করেছিল

অসুস্থ অবস্থায় তাঁর ওপর ঈমান এনেছিল এবং অতঃপর মৃত্যুবরণ করেছিল।

১২ - আবু যাকারিয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আমার দাদা আবু আব্দুল্লাহর কিতাবে পেয়েছি যে, মুহাম্মাদ ইবনে সাদ, আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে নাসর এবং আহমাদ ইবনে ইসহাক বলেছেন: মুহাম্মাদ ইবনে আইয়ুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু সালামাহ মুসা ইবনে ইসমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট আতা ইবনে সাইব থেকে, তিনি আবু উবাইদাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে এবং তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আল্লাহ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জান্নাতে জনৈক ব্যক্তির প্রবেশের উসিলা হিসেবে পাঠালেন। অতঃপর তিনি একটি গির্জায় প্রবেশ করলেন এবং সেখানে কিছু ইহুদিকে তাওরাত পাঠ করতে দেখলেন। যখন তারা নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গুণাবলির বর্ণনায় পৌঁছাল, তখন তারা পড়া বন্ধ করে দিল। গির্জার এক কোণে একজন অসুস্থ লোক ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমাদের কী হয়েছে যে তোমরা থেমে গেলে?" তখন অসুস্থ লোকটি বলল, "তারা একজন নবীর গুণাবলির বর্ণনায় পৌঁছেছে তাই থেমে গেছে।" অতঃপর অসুস্থ লোকটি হামাগুড়ি দিয়ে এসে তাওরাতটি নিল এবং পড়তে লাগল। অবশেষে সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর উম্মতের গুণাবলির বর্ণনায় পৌঁছাল এবং বলল, "এগুলো আপনার এবং আপনার উম্মতের গুণাবলি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং নিশ্চয়ই আপনি আল্লাহর রাসূল।" অতঃপর সে মৃত্যুবরণ করল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমরা তোমাদের ভাইয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করো।"

১৩ - আবু আব্দুল্লাহ বলেন এবং মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল মুনযির ও আলী ইবনে নাসর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে আইয়ুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ আল-জুরাইরি আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে কুদামাহ ইবনে সাখর আল-উকাইলি থেকে বর্ণনা করেছেন, আমার কাছে জনৈক বেদুইন বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমি আমার বিক্রয়যোগ্য পশু নিয়ে মদিনায় আসলাম। আমি মনে মনে বললাম, আমি অবশ্যই এই ব্যক্তির থেকে কিছু শুনব। অতঃপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলাম, এমতাবস্থায় যে তিনি আবু বকর ও উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর মাঝে ছিলেন এবং তাঁর হাত দুটি তাঁদের উভয়ের ওপর রেখেছিলেন। তিনি বলেন: সেখানে এক ব্যক্তি তার অসুস্থ ছেলের সামনে তাওরাত পড়ছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, "আমি তোমাকে তাঁর কসম দিয়ে বলছি যিনি তোমাদের ওপর তাওরাত নাযিল করেছেন, তুমি কি সেখানে আমার গুণাবলি এবং আমার আবির্ভাবস্থল খুঁজে পাও?" সে বলল, "না"। এবং সে গুণাবলির ওপর তার হাত রেখে আড়াল করল। তখন তার পুত্র বলল, "অবশ্যই, যাঁর শপথ করে তিনি এটি নাযিল করেছেন, এতে আপনার গুণাবলি, আপনার উম্মতের বৈশিষ্ট্য এবং আপনার আবির্ভাবের কথা রয়েছে। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আপনি আল্লাহর রাসূল।" অতঃপর সে মৃত্যুবরণ করল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমরা তোমাদের ভাইয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করো।"

ইমাম বলেন: "ইয়াহবু" অর্থাৎ সে তার নিতম্বের ওপর ভর করে চলে, যেমনটি এমন শিশু করে যে দাঁড়াতে সক্ষম নয়। আর তাঁর উক্তি "লুউ" হলো জামাআতের প্রতি নির্দেশ, যা "ওয়ালি-ইয়ালি" শব্দমূল থেকে নির্গত, যেমন "কুউ আনফুসাকুম" (তোমরা নিজেদের রক্ষা করো)-এর ওজনে। এর অর্থ হলো, তোমরা তার গোসল এবং কাফন-দাফনের দায়িত্ব গ্রহণ করো।
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়াহ - ইসমাইল আল-আসবাহানী (পৃষ্ঠা: ৩৯)
وَدَفْنَهُ وَالْجَلُوبَةُ الْإِبِلُ الَّتِي تُجْلَبُ مِنْ مَكَانٍ إِلَى مَكَانٍ

‌‌فَصْلٌ فِي ذِكْرِ الْعُكَّةِ الَّتِي كَانَتْ فَارِغَةً فَعَادَتْ مُمْتَلِئَةً

 

قَالَ أَهْلُ اللُّغَةِ الْعُكَّةُ وِعَاءُ السَّمْنِ

14 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي الْفَتْحِ أَنَا عبد الرحمن بن أبي بكر ثَنَا عبد الله بن مُحَمَّد ابْن مُحَمَّدٍ ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرٍو ثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخٍ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ زِيَادٍ الْبُرْجُمِيُّ ثَنَا أَبُو ظِلَالٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه عَنْ أُمِّهِ رضي الله عنها قَالَتْ كَانَتْ لِي شَاةٌ فَجَمَعْتُ سَمْنَهَا فِي عُكَّةٍ فَبَعَثْتُ بِهَا مَعَ زَيْنَبَ فَقُلْتُ يَا زَيْنَبُ أَبْلِغِي هَذِهِ الْعُكَّةَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْتَدِمُ بِهَا قَالَتْ فَجَاءَتْ زَيْنَبُ بِهَا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذِهِ سَمْنٌ بَعَثَتْ بِهَا أُمُّ سُلَيْمٍ قَالَ فَفَرِّغُوا لَهَا عُكَّتَهَا فَفُرِّغَتِ الْعُكَّةُ وَدُفِعَتْ إِلَيْهَا فَجَاءَتْ وَأُمُّ سُلَيْمٍ لَيْسَتْ فِي الْبَيْتِ فَعَلَّقَتِ الْعُكَّةَ عَلَى وَتِدٍ فَجَاءَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ فَرَأَتِ الْعُكَّةَ مُمْتَلِئَةً تَقْطُرُ سَمْنًا فَقَالَتْ يَا زَيْنَبُ أَلَيْسَ أَمَرْتُكِ أَنْ تُبَلِّغِي هَذِهِ الْعُكَّةَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْتَدِمُ بِهَا قَالَتْ قَدْ فَعَلْتُ فِإِنْ لَمْ تُصَدِّقِينِي فَتَعَالِي مَعِي إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَذَهَبَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ وَزَيْنَبُ مَعَهَا إِلَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي بَعَثْتُ إِلَيْكَ مَعَهَا بِعُكَّةٍ فِيهَا سَمْنٌ فَقَالَ قَدْ جَاءَتْ بِهَا فَقَالَتْ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ إِنَّهَا مُمْتَلِئَةٌ سَمْنًا تَقْطُرُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَتَعْجَبِينَّ أُمَّ سُلَيْمٍ أَنَّ اللَّهَ أَطْعَمَكِ كَمَا أَطْعَمْتِ نبيه

15 - وثنا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرٍو ثَنَا أَبُو بَكْرٍ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ ثَنَا عَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ عَنْ يَحْيَى بْنِ جَعْدَةَ عَنْ جَدَّتِهِ قَالَ جَاءَتْ أُمُّ مَالِكٍ الْأَنْصَارِيَّةُ بِعُكَّةِ سَمْنٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِلَال فَعَصَرَهَا ثُمَّ دَفَعَهَا إِلَيْهَا فَرَجَعَتْ فَإِذَا هِيَ مَمْلُوءَةٌ فَأَتَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ نَزَلَ فِيَّ شَيْءٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ وَمَا ذَاكَ يَا أُمَّ مَالِكٍ قَالَتْ رَدَدْتَ عَلَيَّ هديتي قَالَ فَدَعَا بِلَال فَسَأَلَهُ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لَقَدْ عَصَرْتُهَا حَتَّى اسْتَحْيَيْتُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هَنِيئًا لَكِ يَا أُمَّ مَالِكٍ هَذِهِ بَرَكَةٌ عَجَّلَ اللَّهُ لَكِ ثَوَابَهَا
এবং তা দাফন করা। 'আল-জালুবাহ' হলো সেই উট যা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে (বিক্রয় বা অন্য প্রয়োজনে) আনা হয়।

‌পরিচ্ছেদ: সেই ঘিয়ের পাত্রের আলোচনায় যা খালি হয়ে গিয়েছিল, অতঃপর পূর্ণ হয়ে ফিরে এসেছিল

 

ভাষাবিদগণ বলেন, 'আল-উক্কাহ' হলো ঘি রাখার পাত্র।

১৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ ইবনে আবুল ফাতহ, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ থেকে, তিনি আহমাদ ইবনে আমর থেকে, তিনি শাইবান ইবনে ফাররুখ থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে যিয়াদ আল-বুরজুমি থেকে, তিনি আবু জিলাল থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি তাঁর মাতা (উম্মে সুলাইম) (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমার একটি ছাগল ছিল। আমি সেটির ঘি একটি পাত্রে জমা করলাম। অতঃপর আমি যাইনাবের মাধ্যমে তা পাঠিয়ে দিলাম এবং বললাম, হে যাইনব! এই ঘিয়ের পাত্রটি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট পৌঁছে দাও যেন তিনি তা দিয়ে সালন হিসেবে গ্রহণ করেন। তিনি (যাইনব) বলেন, অতঃপর যাইনব তা নিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এটি ঘি, উম্মে সুলাইম এটি পাঠিয়েছেন। তিনি বললেন: তোমরা তাঁর জন্য তাঁর পাত্রটি খালি করে দাও। ফলে পাত্রটি খালি করা হলো এবং তাকে (যাইনবকে) দিয়ে দেওয়া হলো। যাইনব সেটি নিয়ে আসলেন, তখন উম্মে সুলাইম ঘরে ছিলেন না। তিনি পাত্রটি একটি পেরেকের সাথে ঝুলিয়ে রাখলেন। অতঃপর উম্মে সুলাইম আসলেন এবং দেখলেন যে পাত্রটি পূর্ণ হয়ে ঘি টপকাচ্ছে। তিনি বললেন, হে যাইনব! আমি কি তোমাকে নির্দেশ দিইনি যে এই পাত্রটি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট পৌঁছে দিতে যেন তিনি তা সালন হিসেবে ব্যবহার করেন? যাইনব বললেন, আমি তা করেছি। যদি আপনি আমাকে বিশ্বাস না করেন, তবে আমার সাথে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে চলুন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর উম্মে সুলাইম এবং যাইনব উভয়ে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে গেলেন। তিনি (উম্মে সুলাইম) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি যাইনাবের মাধ্যমে আপনার কাছে ঘিভর্তি একটি পাত্র পাঠিয়েছিলাম। তিনি বললেন: সে তা নিয়ে এসেছিল। তিনি (উম্মে সুলাইম) বললেন, সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে হিদায়াত এবং সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন, নিশ্চয়ই সেটি ঘি দিয়ে পূর্ণ হয়ে টপকাচ্ছে। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: হে উম্মে সুলাইম! আপনি কি এতে আশ্চর্যান্বিত হচ্ছেন যে, আল্লাহ আপনাকে আহার করিয়েছেন যেমনটি আপনি তাঁর নবীকে আহার করিয়েছিলেন?

১৫ - এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে আমর, তিনি আবু বকর থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে ফুযাইল থেকে, তিনি আতা ইবনে সাইব থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে জাদা থেকে, তিনি তাঁর দাদী থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, উম্মে মালিক আল-আনসারী (রাদিয়াল্লাহু আনহা) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এক পাত্র ঘি নিয়ে আসলেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিলালকে নির্দেশ দিলেন, ফলে তিনি তা নিংড়ে (খালি করে) নিলেন। অতঃপর তিনি তা তাঁকে ফিরিয়ে দিলেন। তিনি (উম্মে মালিক) ফিরে গিয়ে দেখলেন যে সেটি পূর্ণ হয়ে আছে। অতঃপর তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার ব্যাপারে কি কোনো কিছু নাযিল হয়েছে? তিনি বললেন: হে উম্মে মালিক, বিষয়টি কী? তিনি বললেন, আপনি আমার উপহার আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। বর্ণনাকারী বলেন, তখন তিনি বিলালকে ডাকলেন এবং এ সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করলেন। বিলাল বললেন, সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, আমি তা এমনভাবে নিংড়েছি যে আমি শেষ পর্যন্ত লজ্জাবোধ করেছি। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: হে উম্মে মালিক! আপনার জন্য শুভ সংবাদ। এটি একটি বরকত যার প্রতিদান আল্লাহ আপনার জন্য দুনিয়াতেই ত্বরান্বিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়াহ - ইসমাইল আল-আসবাহানী (পৃষ্ঠা: ৪০)
‌‌فَصْلٌ

 

16 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْخَيْرِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ هَارُونَ أَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ مَرْدَوَيْهِ ثَنَا مُحَمَّد ابْن عَلِيِّ بْنِ دُحَيْمٍ ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَازِمٍ الْغِفَارِيُّ ثَنَا بَكْرُ بن عبد الرحمن القَاضِي ثَنَا زِيَاد ابْن عبد الله الْبَكَّائِيُّ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ ح قَالَ أَبُو بَكْرِ بْنُ مرْدَوَيْه وثنا مُحَمَّد بن سعيد ابْن دَاوُدَ ثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ ثَنَا مِنْجَابُ بْنُ الْحَارِثِ قَالَ قَالَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ يُوسُف عَن زِيَاد بن عبد الله عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ ح قَالَ أَبُو بكر بن مرْدَوَيْه وثنا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ ثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الْعَبَّاسِ الرَّازِيُّ ثَنَا سَهْلُ بْنُ عُثْمَانَ ثَنَا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا بْنِ أَبِي زَائِدَةَ عَنْ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ ح قَالَ أَبُو بكر بن مرْدَوَيْه وثنا سُلَيْمَان ثَنَا مُحَمَّد بن عبد الله الْحَضْرَمِيُّ ثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ ثَنَا يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ عَنْ مَحْمُودِ بن لبيد عَن عبد الله بْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنه قَالَ حَدَّثَنِي سَلْمَانُ حَدِيثَهُ مِنْ فِيهِ قَالَ كُنْتُ رَجُلًا فَارِسِيًّا مِنْ أَهْلِ أَصْبَهَانَ مِنْ قَرْيَةٍ يُقَالُ لَهَا جَيُّ وَكَانَ أَبِي دِهْقَانَ قَرْيَتُهُ وَكُنْتُ أَحَبُّ خَلْقِ اللَّهِ إِلَيْهِ فَلَمْ يَزَلْ بِهِ حُبُّهُ إِيَايَّ حَتَّى حَبَسَنِي فَي بَيْتِهِ كَمَا تُحْبَسُ الْجَارِيَةُ فَاجْتَهَدْتُ فِي الْمَجُوسِيَّةِ حَتَّى كُنْتُ قَاطِنَ النَّارِ أُوقِدُهَا لَا أَتْرُكُهَا تَخْبُو سَاعَةً وَكَانَتْ لِأَبِي ضَيْعَةٌ عَظِيمَةٌ فَشُغِلَ يَوْمًا فَقَالَ لِي يَا بُنَيَّ إِنِّي قَدْ شُغِلْتُ هَذَا الْيَوْمَ عَنْ ضَيْعَتِي فَاذْهَبْ إِلَيْهَا فَطَالِعْهَا وَأْمُرْ فِيهَا بِبَعْضِ مَا تُرِيدُ ثُمَّ قَالَ لِي لَا تَحْتَبِسُ عَلَيَّ فَإِنَّكَ إِنِ احْتَبَسْتَ عَلَيَّ كُنْتَ أَهَمَّ إِلَيَّ مِنْ ضَيْعَتِي وَشَغَلْتَنِي عَنْ كُلِّ شَيْءٍ مِنْ أَمْرِي فَخَرَجْتُ أُرِيدُ ضَيْعَتَهُ أَسِيرُ إِلَيْهَا فَمَرَرْتُ بِكَنِيسَةٍ مِنْ كَنَائِسِ النَّصَارَى فَسَمِعْتُ أَصْوَاتَهُمْ فِيهَا وَهُمْ يُصَلُّونَ وَكُنْتُ لَا أَدْرِي مَا أَمْرُ النَّاسِ لِحَبْسِ أَبِي إِيَايَّ فِي بَيْتِهِ فَلَمَّا سَمِعْتُ أَصْوَاتَهُمْ دَخَلْتُ عَلَيْهِمْ أَنْظُرُ مَا يَصْنَعُونَ فَلَمَّا رَأَيْتُهُمْ أَعْجَبَتْنِي صَلَوَاتَهُمْ وَرَغِبْتُ فِي أَمْرِهِمْ وَقُلْتُ هَذَا وَاللَّهِ خَيْرٌ مِنَ الَّذِي نَحْنُ عَلَيْهِ فَمَا بَرِحْتُ مِنْ عِنْدِهِمْ حَتَّى غَرَبَتِ الشَّمْسُ وَتَرَكْتُ ضَيْعَةَ أَبِي ثُمَّ قُلْتُ لَهُمْ مَنْ أَبْصَرَكُمْ بِهَذَا الدِّينِ قَالُوا رَجُلٌ بِالشَّامِ ثُمَّ رَجَعْتُ إِلَى أَبِي وَقَدْ بَعَثَ فِي طَلَبِي وَقَدْ شَغَلْتُهُ عَنْ عَمَلِهِ قَالَ أَيْ بُنَيَّ أَيْنَ كُنْتُ أَلَمْ أَعْهَدْ إِلَيْكَ مَا عَهِدْتُ قُلْتُ إِنِّي مَرَرْتُ بِنَاسٍ يُصَلُّونَ فِي كَنِيسَةٍ لَهُم فَدخلت إِلَيْهِم فَمَا زلت عِنْدَهُمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ حَتَّى غَرَبَتِ الشَّمْسُ قَالَ أَبِي أَيْ بُنَيَّ لَيْسَ فِي ذَلِكَ الدِّينِ خَيْرٌ دِينُكَ وَدِينُ آبَائِكَ خَيْرٌ مِنْهُ ثُمَّ حَبَسَنِي فِي بَيْتِهِ وَبَعَثْتُ إِلَى النَّصَارَى فَقُلْتُ إِذَا قَدِمَ عَلَيْكُم ركب الشَّامِ فَأَخْبِرُونِي
পরিচ্ছেদ

 

১৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল খায়ের মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন হারুন, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর বিন মারদুওয়াইহ, তিনি বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আলী বিন দুহাইম, তিনি বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আহমাদ বিন হাযিম আল-গিফারি, তিনি বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন বকর ইবনে আবদুর রহমান আল-কাদি, তিনি বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন জিয়াদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-বাক্কায়ি, তিনি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে। (বর্ণনার অন্য সূত্রে) আবু বকর বিন মারদুওয়াইহ বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ বিন সাঈদ ইবনে দাউদ, তিনি বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আলী বিন মুহাম্মদ বিন সাঈদ, তিনি বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মিনজাব ইবনুল হারিস, তিনি বলেন, ইব্রাহিম ইবনে ইউসুফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জিয়াদ ইবনে আবদুল্লাহ থেকে, তিনি ইবনে ইসহাক থেকে। (বর্ণনার অন্য সূত্রে) আবু বকর বিন মারদুওয়াইহ বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন সুলাইমান বিন আহমাদ, তিনি বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন হাসান বিন আব্বাস আর-রাজি, তিনি বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন সাহল বিন উসমান, তিনি বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইয়াহইয়া বিন জাকারিয়্যা বিন আবি জায়িদাহ, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে। (বর্ণনার অন্য সূত্রে) আবু বকর বিন মারদুওয়াইহ বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন সুলাইমান, তিনি বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-হাদরামি, তিনি বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইবনু নুমাইর, তিনি বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইউনুস বিন বুকাইর, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি আসিম বিন উমর বিন কাতাদাহ থেকে, তিনি মাহমুদ বিন লাবিদ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, সালমান (রা.) তাঁর নিজের মুখে তাঁর কাহিনী আমার কাছে এভাবে বর্ণনা করেছেন: তিনি বলেন, আমি ছিলাম পারস্যের ইসফাহান অঞ্চলের 'জাই' নামক গ্রামের একজন অধিবাসী। আমার পিতা ছিলেন তাঁর গ্রামের প্রধান। আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে আমিই ছিলাম তাঁর কাছে সবচাইতে প্রিয়। আমার প্রতি তাঁর ভালোবাসা এতটাই প্রবল ছিল যে, শেষ পর্যন্ত তিনি আমাকে তাঁর ঘরে আটকে রাখতেন যেভাবে দাসী বা কুমারী মেয়েদের আটকে রাখা হয়। আমি অগ্নিপূজায় (মাজুসি ধর্ম) এতটাই কঠোর পরিশ্রম ও সাধনা করেছিলাম যে, শেষ পর্যন্ত আমি সেই অগ্নিকুণ্ডের রক্ষক নিযুক্ত হলাম; আমি সর্বদা আগুন জ্বালিয়ে রাখতাম এবং এক মুহূর্তের জন্যও তা নিভতে দিতাম না। আমার পিতার একটি বিশাল কৃষি খামার ছিল। একদিন তিনি কোনো কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন, তাই তিনি আমাকে বললেন, "হে বৎস! আজ আমি খামারের কাজে যেতে পারছি না, তুমি সেখানে যাও এবং সেটির দেখাশোনা করো এবং সেখানে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দাও।" এরপর তিনি আমাকে তাকিদ দিয়ে বললেন, "ফিরে আসতে দেরি করো না, কারণ তুমি যদি দেরি করো তবে সেই খামারের চেয়ে তোমার চিন্তাই আমার কাছে বড় হয়ে দাঁড়াবে এবং তোমার কারণে আমি আমার অন্য সব কাজ ভুলে যাব।" সুতরাং আমি তাঁর খামারের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লাম। যাওয়ার পথে আমি খ্রিস্টানদের একটি গির্জার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। আমি সেখানে তাদের প্রার্থনা করার আওয়াজ শুনতে পেলাম। আমার পিতার ঘরে দীর্ঘকাল বন্দি থাকার কারণে বাইরের মানুষের অবস্থা সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা ছিল না। যখন আমি তাদের আওয়াজ শুনলাম, তারা কী করছে তা দেখার জন্য আমি তাদের কাছে প্রবেশ করলাম। যখন আমি তাদের দেখলাম, তাদের প্রার্থনা আমার কাছে খুব ভালো লাগল এবং তাদের ধর্মের প্রতি আমি আগ্রহী হয়ে উঠলাম। আমি বললাম, "আল্লাহর শপথ! আমরা যে ধর্মের ওপর আছি, এটি তার চেয়েও উত্তম।" আমি সূর্যাস্ত পর্যন্ত তাদের কাছেই অবস্থান করলাম এবং আমার পিতার খামারে গেলাম না। এরপর আমি তাদের জিজ্ঞেস করলাম, "এই ধর্মের মূল উৎস কোথায়?" তারা বলল, "শাম (সিরিয়া) দেশে।" এরপর আমি আমার পিতার কাছে ফিরে এলাম। এদিকে তিনি লোক পাঠিয়ে আমার খোঁজ করেছিলেন এবং আমার জন্য তিনি তাঁর অন্য সব কাজ ফেলে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। তিনি আমাকে বললেন, "হে বৎস! তুমি কোথায় ছিলে? আমি কি তোমাকে যা বলার তা বলিনি?" আমি বললাম, "আমি এমন কিছু লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম যারা তাদের গির্জায় প্রার্থনা করছিল। তাদের সেই পদ্ধতি দেখে আমি তাদের কাছে রয়ে গেলাম এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত তাদের প্রার্থনা দেখলাম।" আমার পিতা বললেন, "হে বৎস! ওই ধর্মে কোনো কল্যাণ নেই। তোমার ধর্ম এবং তোমার পূর্বপুরুষদের ধর্মই তার চেয়ে উত্তম।" এরপর তিনি আমাকে শিকল দিয়ে বেঁধে ঘরে বন্দি করে রাখলেন। আমি তখন খ্রিস্টানদের কাছে সংবাদ পাঠালাম যে, যখনই শাম দেশ থেকে কোনো বণিক কাফেলা আসবে, তারা যেন আমাকে খবর দেয়।
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়াহ - ইসমাইল আল-আসবাহানী (পৃষ্ঠা: ৪১)
بِهِمْ فَقَدِمَ عَلَيْهِمْ رَكْبٌ مِنَ الشَّامِ تُجَّارٌ مِنَ النَّصَارَى فَأَخْبَرُونِي بِهِمْ فَقُلْتُ لَهُمْ إِذَا قَضَوْا حَوَائِجَهُمْ وَأَرَادُوا الرَّجْعَةَ إِلَى بِلَادِهِمْ فَآذِنُونِي فَلَمَّا أَرَادُوا الرَّجْعَةَ إِلَى بِلَادِهِمْ أَخْبَرُونِي بِهِمْ فَأَلْقَيْتُ الْحَدِيدَ مِنْ رِجْلِيَّ ثُمَّ خَرَجْتُ مَعَهُمْ حَتَّى قَدِمْتُ الشَّامَ فَلَمَا قَدِمْتُهَا قُلْتُ مَنْ أَفْضَلُ أَهْلِ الدِّينِ عِلْمًا قَالُوا الْأَسْقُفُ فِي الْكَنِيسَةِ فَجِئْتُهُ فَقُلْتُ إِنِّي قَدْ رَغِبْتُ فِي هَذَا الدِّينِ وَأَتَعَلَّمُ مِنْكَ فَأُصَلِّي مَعَكَ قَالَ فَادْخُلْ فَدَخَلْتُ وَكَانَ رَجُلَ سَوْءٍ يَأْمُرُ بِالصَّدَقَةِ وَيُرَغِّبُهُمْ فِيهَا فَإِذَا جَمَعُوا إِلَيْهِ شَيْئًا مِنْهَا اكْتَنَزَهُ لِنَفْسِهِ فَلَمْ يُعْطِ إِنْسَانًا مِنْهَا شَيْئًا حَتَّى جَمَعَ قِلَالًا مِنْ ذَهَبٍ وَوَرِقٍ فَأَبْغَضْتُهُ بُغْضًا شَدِيدًا لَمَّا رَأَيْتُهُ يَصْنَعُ ثُمَّ مَاتَ فَاجْتَمَعَتْ إِلَيْهِ النَّصَارَى لِيَدْفِنُوهُ فَقُلْتُ لَهُمْ إِنَّ هَذَا كَانَ رَجُلَ سَوْءٍ يَأْمُرُكُمْ بِالصَّدَقَةِ وَيُرَغِّبُكُمْ فِيهَا فَإِذَا جِئْتُمُوهُ بِهَا اكْتَنَزَهَا لِنَفْسِهِ وَلَمْ يُعْطِ الْمَسَاكِينَ مِنْهَا شَيْئًا قَالُوا وَمَا عِلْمُكَ بِذَلِكَ قُلْتُ لَهُمْ فَأَنَا أَدُلُّكُمْ عَلَى كَنْزِهِ قَالُوا فَدُلَّنَا عَلَيْهِ فَدَلَلْتُهُمْ عَلَيْهِ فَاسْتَخْرَجُوهُ ذَهَبًا وَوَرِقًا فَلَمَّا رَأَوْهَا قَالُوا وَاللَّهِ لَا نَدْفِنُهُ أَبَدًا فَصَلَبُوهُ ثُمَّ رَجَمُوهُ بِالْحِجَارَةِ وَكَانَ ثَمَّ رَجُلٌ آخَرُ فَجَعَلُوهُ مَكَانَهُ قَالَ يَقُولُ سَلْمَانُ فَمَا رَأَيْتُ رَجُلًا لَا يُصَلِّي الْخَمْسَ أَفْضَلَ مِنْهُ أَزْهَدَ فِي الدُنْيَا وَلَا أَرْغَبَ فِي الْآخِرَةِ وَلَا أَدْأَبَ لَيْلًا وَنَهَارًا مِنْهُ فَأَحْبَبْتُهُ حُبًّا لَمْ أُحِبَّهُ شَيْئًا قَطُّ فَمَازِلْتُ مَعَهُ زَمَانًا ثُمَّ حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ فَقُلْتُ لَهُ يَا فَلَانُ إِنِّي كُنْتُ مَعَكَ فَأَحْبَبْتُكَ حُبًّا لَمْ أُحِبَّهُ شَيْئًا قطّ وَقد حضرك مَا تَرَى مِنْ أَمْرِ اللَّهِ فَإِلَى مَنْ تُوصِي بِي وَمَا تَأْمُرُنِي قَالَ أَيْ بُنَيَّ وَاللَّهِ مَا أَعْلَمُ أَحَدًا عَلَى مَا كُنْتُ عَلَيْهِ لَقَدْ هَلَكَ النَّاسُ وَبُدِّلُوا وَتَرَكُوا كَثِيرًا مِمَّا كَانُوا عَلَيْهِ إِلَّا رَجُلًا بِالْمَوْصِلِ وَهُوَ فُلَانٌ وَهُوَ عَلَى مَا كُنْتُ عَلَيْهِ فَالْحَقْ بِهِ فَلَمَّا مَاتَ وَغُيِّبَ لَحِقْتُ بِصَاحِبِ الْمَوْصِلِ فَقُلْتُ لَهُ يافلان إِنَّ فُلَانًا أَوْصَانِي عِنْدَ مَوْتِهِ أَنْ أَلْحَقَ بِكَ وَأَخْبَرَنِي أَنَّكَ عَلَى أَمْرِهِ قَالَ فَأَقِمْ عِنْدِي فَأَقَمْتُ عِنْدَهُ فَوَجَدْتُهُ خَيْرَ رَجُلٍ عَلَى أَمْرِ صَاحِبِهِ فَمَا لَبِثَ أَنْ مَاتَ فَلَمَّا حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ قُلْتُ لَهُ يَا فُلَانُ إِنَّ فُلَانًا أَوْصَى بِي إِلَيْكَ وَأَمَرَنِي أَنْ أَلْحَقَ بِكَ وَقَدْ حَضَرَكَ مِنْ أَمْرِ اللَّهِ مَا تَرَى فَإِلَى مَنْ تُوصِي بِي وَمَا تَأْمُرُنِي قَالَ يَا بُنَيَّ مَا أَعْلَمُ بَقِيَ أَحَدٌ آمُرُكَ أَنْ تَأْتِيَهُ إِلَّا رَجُلًا بِعَمُّورِيَّةَ بِأَرْضِ الرُّومِ عَلَى مِثْلِ مَا نَحْنُ عَلَيْهِ فَلَمَّا مَاتَ وَغُيِّبَ لَحِقْتُ بِصَاحِبِ عَمُّورِيَّةَ فَأَخْبَرْتُهُ خَبَرِي فَقَالَ أَقِمْ عِنْدِي فَأَقَمْتُ عِنْدَ رَجُلٍ عَلَى هَدْيِ أَصْحَابِهِ وَأَمْرِهِمْ وَاكْتَسَبْتُ حَتَّى كَانَتْ عِنْدِي بُقَيْرَاتٌ وَغَنَيمَةٌ ثُمَّ نَزَلَ بِهِ أَمْرُ اللَّهِ فَلَمَّا حُضِرَ قُلْتُ لَهُ يَا فُلَانُ إِنِّي كُنْتُ مَعَ فُلَانٍ فَأَوْصَى بِي إِلَى فُلَانٍ ثُمَّ أَوْصَى

তাদের সম্পর্কে আমি জানতে পারলাম। সিরিয়া (শাম) থেকে একদল খ্রিস্টান ব্যবসায়ী কাফেলা তাদের নিকট আসল। তারা আমাকে তাদের খবর দিলে আমি তাদের বললাম, যখন তারা তাদের প্রয়োজন সেরে নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা করবে, তখন আমাকে যেন সংবাদ দেয়। যখন তারা নিজেদের দেশে ফেরার ইচ্ছা করল, তারা আমাকে জানালো। তখন আমি আমার পা থেকে লোহার বেড়ি খুলে ফেললাম এবং তাদের সাথে বেরিয়ে পড়লাম। পরিশেষে আমি সিরিয়ায় পৌঁছলাম। সেখানে পৌঁছে আমি জিজ্ঞেস করলাম, এই দ্বীনের অনুসারীদের মধ্যে জ্ঞানের দিক থেকে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি কে? তারা বলল, গির্জার বিশপ। আমি তার কাছে গেলাম এবং বললাম, আমি এই দ্বীনের প্রতি আগ্রহী হয়েছি; আমি আপনার সান্নিধ্যে থেকে শিখতে চাই এবং আপনার সাথে উপাসনা করতে চাই। তিনি বললেন, ভেতরে আসো। আমি প্রবেশ করলাম। কিন্তু তিনি ছিলেন একজন মন্দ লোক। তিনি মানুষকে দান-সদকার আদেশ দিতেন এবং তাতে উদ্বুদ্ধ করতেন; কিন্তু মানুষ যখন তার কাছে সদকার মাল জমা করত, তিনি তা নিজের জন্য গচ্ছিত রাখতেন এবং অভাবী মানুষকে তার কিছুই দিতেন না। এভাবে তিনি সোনা ও রুপার সাতটি বড় কলস পূর্ণ করেছিলেন। তার এই কর্মকাণ্ড দেখে আমি তাকে তীব্রভাবে ঘৃণা করতে লাগলাম। অতঃপর তিনি মারা গেলেন। খ্রিস্টানরা তাকে দাফন করার জন্য একত্রিত হলো। আমি তাদের বললাম, এই ব্যক্তি একজন মন্দ লোক ছিল। সে আপনাদের সদকা করার নির্দেশ দিত এবং তাতে উৎসাহিত করত, কিন্তু আপনারা যখন সদকা নিয়ে আসতেন, সে তা নিজের জন্য জমিয়ে রাখত এবং মিসকিনদের কিছুই দিত না। তারা বলল, তুমি এ বিষয়ে কীভাবে জানলে? আমি বললাম, আমি তোমাদের তার সেই গুপ্তধনের সন্ধান দিচ্ছি। তারা বলল, তবে আমাদের পথ দেখাও। আমি তাদের সেই স্থানের পথ দেখিয়ে দিলাম। তারা সেখান থেকে সোনা ও রুপা বের করল। তা দেখে তারা বলল, আল্লাহর কসম, আমরা তাকে কখনোই দাফন করব না। অতঃপর তারা তাকে ক্রুশবিদ্ধ করল এবং পাথর নিক্ষেপ করল। এরপর তারা তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে অন্য একজনকে নিযুক্ত করল। সালমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমি এমন কোনো ব্যক্তি দেখিনি যে (ইসলামপূর্ব যুগে) পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে না অথচ তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ, দুনিয়াবিমুখ, আখিরাতমুখী এবং দিনরাত ইবাদতে তার চেয়ে বেশি একনিষ্ঠ। আমি তাকে এমনভাবে ভালোবাসলাম যা ইতিপূর্বে আর কাউকেই বাসিনি। আমি দীর্ঘকাল তার সাথে অবস্থান করলাম। অতঃপর যখন তার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এল, আমি তাকে বললাম, হে অমুক! আমি আপনার সাথে ছিলাম এবং আপনাকে প্রাণ দিয়ে ভালোবেসেছি। এখন আল্লাহর বিধান (মৃত্যু) আপনার নিকট উপস্থিত হয়েছে যা আপনি দেখতেই পাচ্ছেন। এখন আপনি আমাকে কার কাছে যাওয়ার অসিয়ত করছেন এবং আমাকে কী নির্দেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেন, হে বৎস! আল্লাহর কসম, আমি বর্তমানে এমন কাউকে চিনি না যে সেই হকের ওপর অটল আছে যার ওপর আমি ছিলাম। মানুষ ধ্বংস হয়ে গেছে, তারা (দ্বীন) পরিবর্তন করে ফেলেছে এবং তারা যে পথে ছিল তার অধিকাংশ বর্জন করেছে। তবে মসুলে একজন লোক আছেন, তিনি হলেন অমুক। তিনি সেই হকের ওপর আছেন যার ওপর আমি ছিলাম। তুমি তার সাথে গিয়ে মিলিত হও। যখন তিনি মারা গেলেন এবং তাকে দাফন করা হলো, আমি মসুলে সেই ব্যক্তির নিকট উপস্থিত হলাম। আমি তাকে বললাম, হে অমুক! অমুক ব্যক্তি তার মৃত্যুর সময় আমাকে আপনার নিকট আসার অসিয়ত করেছেন এবং জানিয়েছেন যে আপনি তার আদর্শের ওপর আছেন। তিনি বললেন, তুমি আমার নিকট অবস্থান করো। আমি তার নিকট থাকলাম এবং তাকে তার সঙ্গীর মতোই একজন উত্তম ব্যক্তি হিসেবে পেলাম। অল্পদিন পরেই তার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এল। যখন তার মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো, আমি তাকে বললাম, হে অমুক! অমুক ব্যক্তি আমাকে আপনার কাছে অসিয়ত করেছিলেন এবং আপনার সাথে থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এখন আপনার নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে যা আসার (মৃত্যু) তা এসে পড়েছে। এখন আপনি আমাকে কার নিকট যাওয়ার অসিয়ত করছেন এবং আমাকে কী নির্দেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেন, হে বৎস! আমার জানা মতে এমন কেউ অবশিষ্ট নেই যার কাছে যাওয়ার নির্দেশ আমি তোমাকে দিতে পারি; তবে রোম দেশের ‘আম্মুরিয়া’ নামক স্থানে একজন লোক আছেন যিনি আমাদের আদর্শের ওপর অটল। যখন তিনি মারা গেলেন এবং তাকে দাফন করা হলো, আমি আম্মুরিয়ার সেই ব্যক্তির সাথে দেখা করলাম এবং তাকে আমার পূর্বাপর সব কথা জানালাম। তিনি বললেন, তুমি আমার নিকট থাকো। আমি এমন এক ব্যক্তির সান্নিধ্যে থাকলাম যিনি তার সঙ্গীদের হেদায়েত ও আদর্শের ওপর অটল ছিলেন। সেখানে আমি কিছু উপার্জন করলাম, ফলে আমার কিছু ছোট গাভী ও ভেড়া হলো। অতঃপর তার ওপরও আল্লাহর বিধান (মৃত্যু) অবতীর্ণ হলো। যখন তার মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো, আমি তাকে বললাম, হে অমুক! আমি ইতিপূর্বে অমুকের সাথে ছিলাম, তিনি আমাকে অমুকের কাছে যাওয়ার অসিয়ত করেছিলেন, এরপর তিনি আমাকে আপনার কাছে অসিয়ত করেছিলেন...

(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়াহ - ইসমাইল আল-আসবাহানী (পৃষ্ঠা: ৪২)
بِي فُلَانٌ إِلَى فُلَانٍ ثُمَّ أَوْصَى بِي فُلَانٌ إِلَيْكَ فَإِلَى مَنْ تَوصِي بِي وَإِلَى مَنْ تَأْمُرُنِي قَالَ وَاللَّهِ مَا أَعْلَمُ أَصْبَحَ عَلَى مِثْلِ مَا نَحْنُ عَلَيْهِ أَحَدٌ مِنَ النَّاسِ آمُرُكَ أَنْ تَأْتَيَهُ وَلَكِنْ قَدْ أَظَلَّكَ زمَان نَبِي هُوَ مَبْعُوثٌ بِدَينِ إِبْرَاهِيمَ عليهما السلام بِأَرْضِ الْعَرَبِ إِلَى أَرْضٍ أَظُنُّهُ قَالَ ذَاتُ نَخْلٍ بِهِ عَلَامَاتٌ لَا تَخْفَى يَأْكُلُ الْهَدِيَّةَ وَلَا يَأْكُلُ الصَّدَقَةَ بَيْنَ كَتِفَيْهِ خَاتَمُ النُّبُوَّة فَإِن اسْتَطَعْتَ أَنْ تَلْحَقَ بِتِلْكَ الْبِلَادِ فَافْعَلْ ثُمَّ مَاتَ وَغُيِّبَ فَمَكَثْتُ بِعَمُورِيَّةَ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ أَمْكُثَ ثُمَّ مَرَّ بِي نَفْرٌ مِنْ كَلْبٍ تُجَّارٌ فَقُلْتُ لَهُمْ تَحْمِلُونِي إِلَى أَرْضِ الْعَرَبِ وَأُعْطِيكُمْ بَقَرَاتِي هَذِهِ وَغُنَيْمَتِي هَذِهِ قَالُوا نَعَمْ فَأَعْطَيْتُهُمْ وَحَمَلُونِي مَعَهُمْ حَتَّى إِذَا قَدِمُوا وَادِيَ الْقُرَى ظَلَمُونِي فَبَاعُونِي مِنْ رَجُلٍ يَهُودِيٍّ فَكُنْتُ عِنْدَهُ فَرَأَيْتُ النَّخْلَ فَرَجَوْتُ الْبَلَدَ الَّذِي وَصَفَ لِي صَاحِبِي وَلَمْ يَحُقَّ فِي نَفْسِي فَبَيْنَا أَنَا عِنْدَهُ قَدِمَ عَلَيْهِ ابْنُ عَمٍّ لَهُ مِنْ بَنِي قُرَيْظَةَ فَابْتَاعَنِي مِنْهُ فَحَمَلَنِي إِلَى الْمَدِينَةِ فَوَاللَّهِ مَا هُوَ إِلَّا أَنْ رَأَيْتُهَا عَرَفْتُهَا بِصَفَةِ صَاحِبِي فَأَقَمْتُ بِهَا فَبَعَثَ اللَّهُ رَسُولَهُ صلى الله عليه وسلم وَأَقَامَ بِمَكَّةَ مَا أَقَامَ مَا أَسْمَعُ لَهُ بِذِكْرٍ مَعَ مَا أَنَا فِيهِ مِنْ شُغْلِ الرِّقِّ ثُمَّ هَاجَرَ إِلَى الْمَدِينَةِ فَوَاللَّهِ إِنِّي لَفِي رَأْسِ عِذْقٍ لِسَيِّدِي أَعْمَلُ فِيهِ بَعْضَ الْعَمَلِ وَسَيِّدِي جَالِسٌ إِذْ أَقْبَلَ ابْنُ عَمٍّ لَهُ حَتَّى وَقَفَ عَلَيَّ فَقَالَ قَاتَلَ اللَّهُ ابْنَيْ قَيْلَةَ وَاللَّهِ إِنَّهُمْ لَيَجْتَمِعُونَ عَلَى رَجُلٍ قَدِمَ عَلَيْهِمْ مِنْ مَكَّةَ الْيَوْمَ يَزْعَمُونَ أَنَّهُ نَبِيٌّ فَلَمَّا سَمِعْتُهَا أَخَذَنِي الْفَرَحُ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنِّي سَاقِطٌ عَلَى سَيِّدِي وَنَزَلْتُ عَنِ النَّخْلَةِ وَجَعَلْتُ أَقُولُ لِابْنِ عَمِّهِ ذَلِكَ مَا تَقُولُ فَغَضِبَ سَيِّدِي فَلَطَمَنِي لَطْمَةً شَدِيدَةً ثُمَّ قَالَ مَا لَكَ وَلِهَذَا أَقْبِلْ عَلَى عَمَلِكَ قُلْتُ لَا شَيْءَ إِنَّمَا أَرَدْتُ أَنْ أَسْتَثْبِتَهُ عَمَّا قَالَ وَقَدْ كَانَ عِنْدِي شَيْءٌ قَدْ جَمَعْتُهُ فَلَمَّا أَمْسَيْتُ أَخَذْتُهُ ثُمَّ ذَهَبْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ بِقِبَاءَ فَدَخَلْتُ عَلَيْهِ فَقُلْتُ لَهُ إِنَّهُ بَلَغَنِي أَنَّكَ رَجُلٌ صَالِحٌ وَمَعَكَ أَصْحَابٌ لَكَ غُرَبَاءُ ذَوُو حَاجَةٍ وَهَذَا شَيْءٌ كَانَ عِنْدِي صَدَقَةٌ فَرَأَيْتُكُمْ أَحَقُّ بِهِ مِنْ غَيْرِكُمْ وَقَرَّبْتُهُ إِلَيْهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِأَصْحَابِهِ كُلُوا وَأَمْسَكَ هُوَ فَلَمْ يَأْكُلْ مِنْهُ فَقُلْتُ فِي نَفْسِي هَذِهِ وَاحِدَةٌ ثُمَّ انْصَرَفْتُ عَنْهُ فَجَمَعْتُ شَيْئًا وَتَحَوَّلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْمَدِينَةِ ثُمَّ جِئْتُهُ فَقُلْتُ رَأَيْتُكَ لَا تَأْكُلُ الصَّدَقَةَ وَهَذِهِ هَدِيَّةٌ أَكْرَمْتُكَ بِهَا فَأَكَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْهَا وَأَمَرَ أَصْحَابَهُ فَأَكَلُوا فَقُلْتُ فِي نَفْسِي هَاتَانِ ثِنْتَانِ ثُمَّ جِئْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِبَقِيعِ الْغَرْقَدِ قَدِ اتَّبَعَ جِنَازَةَ رَجُلٍ مِنَ الْأَنْصَارِ وَهُوَ جَالِسٌ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ ثُمَّ اسْتَدَرْتُ أَنْظُرُ هَلْ أَرَى الْخَاتَمَ الَّذِي وَصَفَ لِي صَاحِبِي فَلَمَّا رَآنِي رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اسْتَدَرْتُ عَرَفَ

অমুক ব্যক্তি আমাকে অমুকের নিকট সোপর্দ করেছিলেন, অতঃপর তিনি আমাকে আপনার নিকট সোপর্দ করেছেন। এখন আপনি আমাকে কার নিকট যাওয়ার অসিয়ত করছেন এবং আমাকে কার নিকট যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেন, 'আল্লাহর শপথ, বর্তমানে আমি এমন কাউকে জানি না যে আমাদের এই দ্বীনের ওপর অটল আছে এবং যার নিকট আমি তোমাকে যাওয়ার নির্দেশ দিতে পারি। তবে একজন নবীর আগমনের সময় ঘনিয়ে এসেছে, যিনি ইবরাহিম আলাইহিস সালামের দ্বীন নিয়ে আরব ভূমিতে প্রেরিত হবেন এবং এমন এক ভূমির দিকে হিজরত করবেন যা (আমার ধারণা মতে তিনি বলেছিলেন) খেজুর বাগান পরিবেষ্টিত। তাঁর মধ্যে এমন কিছু নিদর্শন থাকবে যা গোপন থাকবে না: তিনি হাদিয়া গ্রহণ করবেন কিন্তু সদকা ভক্ষণ করবেন না এবং তাঁর দুই কাঁধের মাঝে নবুওয়তের মোহর থাকবে। যদি তুমি সেই ভূখণ্ডে পৌঁছাতে সক্ষম হও, তবে তা করো।' অতঃপর তিনি মৃত্যুবরণ করলেন এবং তাঁকে দাফন করা হলো। আমি আম্মুরিয়ায় আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী কিছুদিন অবস্থান করলাম। অতঃপর কালব গোত্রের একদল ব্যবসায়ী আমার নিকট দিয়ে যাওয়ার সময় আমি তাদের বললাম, 'তোমরা কি আমাকে আরব ভূখণ্ডে নিয়ে যাবে? বিনিময়ে আমি তোমাদের আমার এই গাভীগুলো এবং এই ছাগলগুলো দিয়ে দেব।' তারা রাজি হলো। আমি তাদের সেগুলো দিয়ে দিলাম এবং তারা আমাকে তাদের সাথে নিয়ে চলল। যখন তারা ওয়াদিউল কুরা-তে পৌঁছাল, তারা আমার প্রতি জুলুম করল এবং এক ইহুদি ব্যক্তির নিকট আমাকে বিক্রি করে দিল। আমি তার নিকট থাকতে লাগলাম এবং সেখানে খেজুর গাছ দেখে আশা পোষণ করলাম যে, এটিই হয়তো আমার সাথীর বর্ণিত সেই শহর। তবে আমি নিশ্চিত হতে পারছিলাম না। এমতাবস্থায় বনু কুরাইজা গোত্রের এক ব্যক্তি তার নিকট এল এবং আমাকে ক্রয় করে মদিনায় নিয়ে গেল। আল্লাহর শপথ, শহরটি দেখামাত্রই আমি আমার সাথীর বর্ণনা অনুযায়ী তা চিনে ফেললাম। আমি সেখানে অবস্থান করতে লাগলাম। ইতোমধ্যে আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাঠালেন। তিনি মক্কায় যতদিন অবস্থান করার করলেন, কিন্তু দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকায় আমি তাঁর কোনো সংবাদ পাইনি। অতঃপর তিনি মদিনায় হিজরত করলেন। আল্লাহর শপথ, আমি তখন আমার মনিবের একটি খেজুর গাছের মাথায় কাজ করছিলাম এবং আমার মনিব নিচে বসে ছিলেন। হঠাৎ তাঁর এক চাচাতো ভাই এসে তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে বলল, 'আল্লাহ কায়লার সন্তানদের ধ্বংস করুন! আল্লাহর শপথ, তারা এখন কুবা নামক স্থানে এমন এক ব্যক্তির নিকট সমবেত হচ্ছে যে আজ মক্কা থেকে তাদের নিকট এসেছে; তারা দাবি করছে যে সে একজন নবী।' যখনই আমি এ কথা শুনলাম, আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও শিহরিত হলাম যে আমার মনে হলো আমি আমার মনিবের ওপর পড়ে যাব। আমি দ্রুত খেজুর গাছ থেকে নেমে এলাম এবং তাঁর সেই চাচাতো ভাইকে বলতে লাগলাম, 'আপনি কী বলছেন?' এতে আমার মনিব রাগান্বিত হয়ে আমাকে সজোরে চড় মারলেন এবং বললেন, 'এসবের সাথে তোমার কী সম্পর্ক? নিজের কাজে মন দাও।' আমি বললাম, 'কিছু না, আমি কেবল তাঁর কথাটি নিশ্চিত হতে চেয়েছিলাম।' আমার নিকট কিছু খাবার জমানো ছিল। সন্ধ্যা হলে আমি তা নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গেলাম, তখন তিনি কুবা-তে অবস্থান করছিলেন। আমি তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, 'আমি জানতে পেরেছি যে আপনি একজন নেককার মানুষ এবং আপনার সাথে আপনার এমন কিছু সাথী রয়েছেন যারা প্রবাসী ও অভাবী। আমার নিকট সদকার এই খাবারগুলো ছিল, আমি মনে করলাম অন্য কারো তুলনায় আপনারাই এর বেশি হকদার।' আমি তা তাঁর সামনে পেশ করলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের বললেন, 'তোমরা খাও', কিন্তু তিনি নিজে তা থেকে কিছুই খেলেন না। আমি মনে মনে বললাম, 'এটি একটি নিদর্শন।' অতঃপর আমি তাঁর নিকট থেকে ফিরে এলাম এবং পুনরায় কিছু খাবার সংগ্রহ করলাম। ইতোমধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় স্থানান্তরিত হলেন। আমি পুনরায় তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, 'আমি দেখেছি যে আপনি সদকা খান না, তাই এটি আপনার সম্মানে একটি হাদিয়া।' তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে তা থেকে খেলেন এবং সাহাবীদেরও খেতে বললেন; তাঁরাও খেলেন। আমি মনে মনে বললাম, 'এটি দ্বিতীয় নিদর্শন।' অতঃপর আমি বাকী আল-গারকাদ নামক স্থানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গেলাম। তিনি তখন একজন আনসারীর জানাজার পেছনে যাচ্ছিলেন এবং সেখানে উপবিষ্ট ছিলেন। আমি তাঁকে সালাম দিলাম এবং তাঁর পেছনে ঘুরে দেখার চেষ্টা করতে লাগলাম যে, আমার সাথী আমাকে নবুওয়তের যে মোহরের কথা বলেছিলেন তা দেখতে পাই কি না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আমাকে তাঁর পেছনে ঘুরতে দেখলেন, তখন তিনি বুঝতে পারলেন...'

(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়াহ - ইসমাইল আল-আসবাহানী (পৃষ্ঠা: ৪৩)
أَنِّي أَسْتَثْبِتُ مِنْ شَيْءٍ وُصِفَ لِي فَأَلْقَى رِدَائَهُ عَنْ ظَهْرِهِ فَنَظَرْتُ إِلَى الْخَاتَمِ فَعَرَفْتُهُ فَأَكْبَبْتُ عَلَيْهِ أُقَبِّلُهُ وَأَبْكِي فَقَالَ لِي رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَحَوَّلْ فَتَحَوَّلْتُ فَجَلَسْتُ بَيْنَ يَدَيْهِ فَقَصَصْتُ عَلَيْهِ حَدِيثِي كَمَا حَدَّثْتُكَ يَا ابْنَ عَبَّاسٍ فَأَعْجَبَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَسْمَعَ ذَلِكَ أَصْحَابُهُ ثُمَّ شَغَلَ سَلْمَانَ الرِّقُّ حَتَّى فَاتَهُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بدر وَأحد ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَاتِبْ يَا سلمَان فكاتبت صَاحِبي على ثَلَاثمِائَة نَخْلَةٍ أُحْيِيهَا لَهُ وَبِأَرْبَعِينَ أُوقِيَّةً فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَعِينُوا أَخَاكُمْ فَأَعَانُونِي الرَّجُلُ بِثَلَاثِينَ وَالرَّجُلُ بِعِشْرِينَ وَالرَّجُلُ بِخمْس عشرَة وَالرجل بِعشر وَالرَّجُلُ بِقَدْرِ مَا عِنْدَهُ حَتَّى اجْتمعت لي ثَلَاثمِائَة نَخْلَةٍ فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَا سَلْمَانُ فَأَرِنِي حَتَّى أَكُونَ أَنَا أَضَعُهُ بِيَدَيَّ فَفَقَرْتُ لَهَا وَأَعَانَنِي أصاحبي حَتَّى إِذَا فَرَغْتُ جِئْتُهُ فَأَخْبَرْتُهُ فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم معي إِلَيْهَا فَجَعَلْتُ أُقَرِّبُ إِلَيْهِ الْوَدِيَّ وَيَضَعُهُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدِهِ مَا مَاتَ مِنْهَا وَدِيَّةٌ وَاحِدَةٌ فَأَدَّيْتُ النَّخْلَ وَبَقِيَ عَلَيَّ الْمَالُ فَأَتَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِ بَيْضَةِ الدَّجَاجَةِ مِنْ ذَهَبٍ مِنْ بَعْضِ الْمَغَازِي فَقَالَ مَا فَعَلَ الْفَارِسِيُّ الْمُكَاتِبُ فَدُعِيتُ لَهُ فَقَالَ خُذْ هَذِهِ فَأَدِّ مَا عَلَيْكَ فَقُلْتُ وَأَيْنَ تَقَعُ هَذِهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ مِمَّا عَلَيَّ فَقَالَ خُذْهَا فَإِنَّ اللَّهَ سَيُؤَدِّيهَا عَنْكَ فَوَزَنْتُ لَهُ مِنْهَا وَالَّذِي نَفْسُ سَلْمَانَ بِيَدِهِ أَرْبَعِينَ أُوقِيَّةً وَأَوْفَيْتُهُمْ حَقَّهُمْ وَعَتَقَ سَلْمَانُ وَشَهِدَ مَعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْخَنْدَقَ ثُمَّ لَمْ يَفُتْهُ مَشْهَدٌ

قَالَ الْإِمَامُ رحمه الله قَوْلُهُ قَاطِنٌ النَّارِ يَعْنِي الَّذِي يَقُومُ بِتَعَهُّدِهَا وَإِيقَادِهَا تَخْبُو أَيْ تطفىء وَيُقَالُ خَبَتِ النَّارُ إِذَا أُطْفِئَتْ وَقَوْلُهُ ابْنَيْ قَيْلَةَ يَعْنِي الْأَوِسَ وَالْخَزْرَجَ وَالْعِذْقُ النَّخْلَةُ فَفَقَرْتُ أَيْ حَفَرْتُ حُفَيْرَةً يُغْرَسُ فِيهَا النَّخْلُ وَالْوَدِيُّ النَخْلُ الصِغَارُ تُغْرَسُ

‌‌فَصْلٌ

 

17 - أَخْبَرَنَا الشَّرِيفُ أَبُو نَصْرٍ الزَّيْنَبِيُّ أَنَا أَبُو طَاهِرٍ الْمُخَلِّصُ ثَنَا عبد الله بن مُحَمَّد الْبَغَوِيّ ثَنَا عبد الله بْنُ مُطِيعٍ ثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَر ثَنَا حمد ح قَالَ الْبَغَوِيّ وحَدثني جدي وَهَارُون بن عبد الله وَابْنُ زَنْجَوَيْهِ قَالُوا ثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَنَا حُمَيْدٌ قَالَ سُئِلَ انس ابْن مَالُكٍ رضي الله عنه هَلْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَرْفَعُ يَدَيْهِ فِي الدُّعَاءِ قَالَ نَعَمْ بَيْنَا هُوَ جُمُعَةً يَخْطُبُ النَّاسَ فَقِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَحَطَ الْمَطَرُ وَأَجْدَبَتِ الْأَرْضُ فَادْعُ اللَّهَ عَزَّ

আমি সেই বিষয়টি নিশ্চিত হতে চাচ্ছিলাম যা আমাকে বর্ণনা করা হয়েছিল। এরপর তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পিঠ থেকে চাদর সরিয়ে দিলেন। আমি মোহরটি দেখলাম এবং তা চিনে ফেললাম। এরপর আমি তাঁর ওপর ঝুঁকে পড়লাম, তা চুম্বন করতে লাগলাম এবং কাঁদতে লাগলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, 'ঘুরে বসো'। আমি ঘুরে তাঁর সামনে বসলাম। হে ইবনে আব্বাস, আপনার কাছে যেভাবে বর্ণনা করেছি, সেভাবে তাঁর কাছে আমার কাহিনী বর্ণনা করলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের কাছে এই ঘটনা শোনাতে পছন্দ করলেন। এরপর দাসত্বের কারণে সালমান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বদর ও উহুদ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'হে সালমান, তুমি মুক্তির জন্য চুক্তিবদ্ধ হও।' তখন আমি আমার মালিকের সাথে তিনশত খেজুর গাছ রোপণ করে সেগুলো জীবিত করা এবং চল্লিশ উকিয়া স্বর্ণের বিনিময়ে চুক্তিবদ্ধ হলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'তোমরা তোমাদের ভাইকে সাহায্য করো।' তখন সাহাবীগণ আমাকে সাহায্য করলেন; কেউ ত্রিশটি চারা গাছ দিয়ে, কেউ বিশটি, কেউ পনেরটি, কেউ দশটি—এভাবে প্রত্যেকে তার সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করলেন, যতক্ষণ না আমার কাছে তিনশত খেজুরের চারা জমা হলো। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, 'হে সালমান, তুমি গর্তগুলো খনন করো এবং আমি যাতে নিজ হাতে সেগুলো রোপণ করতে পারি সেজন্য কাজ শেষ হলে আমাকে জানাও।' সুতরাং আমি গর্তগুলো খনন করলাম এবং আমার সাথীরা আমাকে সাহায্য করলেন। যখন আমি কাজ শেষ করলাম, তাঁর কাছে এসে তাঁকে খবর দিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সাথে সেই জমির দিকে বের হলেন। আমি তাঁর কাছে চারাগুলো এগিয়ে দিচ্ছিলাম আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে সেগুলো রোপণ করছিলেন। সেসবের একটি চারাও মারা যায়নি। এভাবে আমি খেজুর গাছের শর্ত পূর্ণ করলাম, কিন্তু আর্থিক দেনা তখনও আমার ওপর বাকি ছিল। এরপর কোনো এক যুদ্ধ থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে মুরগির ডিমের মতো স্বর্ণের একটি টুকরো আসলো। তিনি বললেন, 'সেই চুক্তিবদ্ধ পারস্যবাসী ব্যক্তিটি কী করেছে?' আমাকে তাঁর কাছে ডাকা হলো। তিনি বললেন, 'এটি নাও এবং তোমার দেনা পরিশোধ করো।' আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রাসূল, আমার ওপর যে দেনা রয়েছে তার তুলনায় এটি কতটুকুই বা হবে?' তিনি বললেন, 'এটি নাও, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমার পক্ষ থেকে তা পরিশোধ করে দেবেন।' সালমানের প্রাণ যাঁর হাতে—সেই আল্লাহর শপথ! আমি তা দিয়ে ওজন করলাম এবং চল্লিশ উকিয়া পূর্ণ করে তাদের পাওনা মিটিয়ে দিলাম। এভাবে সালমান মুক্ত হলেন এবং তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে খন্দকের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন, এরপর কোনো যুদ্ধেই তিনি অনুপস্থিত থাকেননি।

ইমাম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: তাঁর কথা 'কাতিনুন নার' এর অর্থ হলো—যে আগুনের দেখাশোনা ও তা প্রজ্জ্বলনের দায়িত্ব পালন করে। 'তাখবু' মানে নিভে যাওয়া। বলা হয়—আগুন নিভে গেছে যখন তা নির্বাপিত হয়। তাঁর কথা 'ইবনা কাইলাহ' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আউস ও খাজরাজ গোত্র। 'আল-ইযক' মানে খেজুর গাছ। 'ফাফাকারতু' মানে আমি গর্ত খনন করেছি যাতে খেজুর রোপণ করা যায়। 'আল-ওয়াদি' মানে ছোট খেজুরের চারা যা রোপণ করা হয়।

পরিচ্ছেদ

 

১৭ - শরীফ আবু নাসর আল-যাইনাবী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু তাহির আল-মুখাল্লিস আমাদের জানিয়েছেন, আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-বাগাওয়ী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ বিন মুতি' আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইসমাঈল বিন জাফর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, হুমাইদ থেকে... (হ) এবং বাগাওয়ী বলেন, আমার দাদা, হারুন বিন আবদুল্লাহ এবং ইবনে যানজাওয়াইহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন, ইয়াযীদ বিন হারুন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, হুমাইদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি দোয়ার সময় তাঁর হাত তুলতেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। একদিন জুমার দিনে যখন তিনি মানুষের উদ্দেশ্যে খুতবা দিচ্ছিলেন, তখন বলা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেছে এবং মাটি শুকিয়ে গেছে, সুতরাং আল্লাহর কাছে দোয়া করুন।
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়াহ - ইসমাইল আল-আসবাহানী (পৃষ্ঠা: ৪৪)
وَجَلَّ فَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى رَأَيْتُ بَيَاضَ إِبِطَيْهِ فَاسْتَسْقَى وَمَا أَرَى فِي السَّمَاء سَحَابَة فَمَا قَضَيْنَا الصَّلَاةَ حَتَّى إِنَّ الشَّابَّ القَرِيبَ الدَّارِ لَيَهُمُّهُ الرُجُوعُ إِلَى أَهْلِهِ فَدَامَتْ جُمُعَةً فَلَمَّا كَانَتِ الْجُمُعَةُ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ تَهَدَّمَتِ الْبُيُوتُ وَاحْتُبِسَ الرُّكْبَانُ وَهَلَكَ الْمَالُ فَتَبَسَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ بِيَدَيْهِ هَكَذَا فَفَرَّقَ بَيْنَ يَدَيْهِ اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلَا عَلَيْنَا قَالَ فَتَكَشَطَتْ عَنِ الْمَدِينَةِ

قَالَ الْإِمَامُ رحمه الله قَالَ أَهْلُ اللُّغَةِ احْتِبَاسُ الْمَطَرِ وَالْجَدْبُ ضِدُّ الْخِصْبِ وَأَهَمَّهُ الْأَمْرُ أَيْ أَحْزَنَهُ وَأَزْعَجَهُ وَقَوْلُهُ حَوَالَيْنَا أَيْ أَمْطِرْ حَوْلَنَا فَتَكَشَطَتْ أَيْ فَتَكَشَّفَتْ وَالْكَشْطُ الْقَشْرُ

18 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ السِّمْسَارُ انا إِبْرَاهِيم بن عبد الله بْنِ خُورْشِيدَ قَوْلَةَ أَنَا أَبُو عِيسَى حَمْزَةُ بْنُ الْحُسَيْنِ السِّمْسَارُ ثَنَا طَاهِرُ بْنُ خَالِدٍ ثَنَا أَبِي ثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ مَبْرُورٍ عَنْ يُونُسَ الْأَيْلِيِّ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها أَنَّهَا قَالَتْ شَكَا النَّاسُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قُحُوطَ الْمَطَرِ قَالَ فَأَمَرَ بِمِنْبَرٍ فَوُضِعَ لَهُ فِي الْمُصَلَّى وَوَعَدَ النَّاسَ يَوْمًا يَخْرُجُونَ فِيهِ قَالَتْ فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ بَدَا حَاجِبُ الشَّمْسِ وَقَعَدَ عَلَى الْمِنْبَرِ ثُمَّ قَالَ إِنَّكُمْ شَكَوْتُمْ جَدْبَ جَنَابِكُمْ وَاسْتِئْخَارَ الْمَطَرِ عَنْ إِبَّانِ زَمَانِهِ عَنْكُمْ وَقَدْ أَمَرَكُمُ اللَّهُ أَنْ تَدْعُوهُ وَوَعَدَكُمْ أَنْ يَسْتَجِيبَ لَكُمْ ثُمَّ قَالَ الْحَمْدُ للَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ يَفْعَلُ مَا يُرِيدُ مِنْ ذَلِكَ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ الْغَنِيُّ وَنَحْنُ الْفُقَرَاءُ أَنْزِلْ عَلَيْنَا الْغَيْثَ وَتَجْعَلْ مَاءَهُ لَنَا قُوَّةً وَبَلَاغًا إِلَى حَيْنٍ ثُمَّ رَفَعَ يَدَيْهِ فَلَمْ يَزَلْ فِي الرَّفْعِ حَتَّى يُرَى بَيَاضُ إِبِطَيْهِ ثُمَّ حَوَّلَ إِلَى النَّاسِ ظَهْرَهُ وَقَلَبَ أَوْ حَوَّلَ رِدَاءَهُ وَهُوَ رَافِعٌ يَدَيْهِ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ ثُمَّ نَزَلَ فَصَلَّى بِنَا مَا شَاءَ اللَّهُ وَمَا يُرَى سَحَابٌ فَرَعَدَتْ وَبَرَقَتْ ثُمَّ أَمْطَرَتْ بِإِذْنِ اللَّهِ فَلَمْ يَأْتِ مَسْجِدَهُ حَتَّى سَالَ السُّيُولُ فَضَحِكَ حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ وَقَالَ أَشْهَدُ أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ وَأَنِّي عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

قَالَ الْإِمَامُ رحمه الله قَالَ أَهْلُ اللُّغَةِ الْجَنَابُ الْفِنَاءُ وَالنَّاحِيَةُ وَاسْتِئْخَارُ الْمَطَرِ مَصْدَرُ اسْتَأْخَرَ أَيْ تَأَخَّرَ وَالْإِبَّانُ الْوَقْتُ الْبَلَاغُ الْكِفَايَةُ
মহান ও মহিমান্বিত, অতপর তিনি তাঁর দুই হাত উঠালেন এমনকি আমি তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখতে পেলাম। এরপর তিনি বৃষ্টির প্রার্থনা করলেন অথচ আকাশে কোনো মেঘ দেখছিলাম না। আমরা সালাত শেষ করতে না করতেই অবস্থা এমন হলো যে, নিকটবর্তী বাড়ির যুবকেরও তার পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ল। এক সপ্তাহ ধরে বৃষ্টি চলতে থাকল। যখন পরবর্তী জুমুআ এল, তখন তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল! ঘরবাড়ি ধসে পড়ছে, পথচারীরা আটকে পড়েছে এবং সম্পদ ধ্বংস হচ্ছে। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুচকি হাসলেন এবং নিজের দুই হাত দিয়ে এভাবে ইঙ্গিত করলেন, তিনি তাঁর হাত দুটি প্রসারিত করলেন (এবং বললেন): হে আল্লাহ! আমাদের চারপাশে বর্ষণ করুন, আমাদের ওপর নয়। বর্ণনাকারী বলেন: ফলে মদিনার আকাশ থেকে মেঘ সরে গেল।

ইমাম রহিমাহুল্লাহ বলেন: ভাষাবিদগণ বলেছেন, বৃষ্টির স্বল্পতা ও অনাবৃষ্টি হলো উর্বরতার বিপরীত। 'আহাম্মাহুল আমরু' মানে বিষয়টি তাকে চিন্তিত ও বিচলিত করেছে। তাঁর বাণী 'আমাদের চারপাশে' এর অর্থ হলো—আমাদের চারপাশে বৃষ্টি বর্ষণ করুন। 'তাকাশশাতাত' মানে মেঘমুক্ত হওয়া বা সরে যাওয়া, আর 'কাশত' অর্থ হলো উপরিভাগ উন্মুক্ত করা।

১৮ - মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ আস-সিমসার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবরাহীম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে খুরশিদ কাওলাহ আমাদের জানিয়েছেন, আবু ঈসা হামযাহ ইবনুল হুসাইন আস-সিমসার আমাদের জানিয়েছেন, তাহির ইবনে খালিদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আমার পিতা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, কাসিম ইবনে মাবরুর ইউনুস আল-আইলি থেকে, তিনি হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: মানুষ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে অনাবৃষ্টির অভিযোগ করল। তিনি একটি মিম্বারের নির্দেশ দিলেন এবং তা সালাতের স্থানে (ঈদগাহে) রাখা হলো। তিনি মানুষের জন্য একটি নির্দিষ্ট দিন নির্ধারণ করলেন যেদিন তারা বের হবে। আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বের হলেন যখন সূর্যের উপরিভাগ দৃশ্যমান হলো এবং তিনি মিম্বারের ওপর বসলেন। অতপর তিনি বললেন: তোমরা তোমাদের এলাকায় অনাবৃষ্টির এবং নির্ধারিত সময়ে বৃষ্টি হতে বিলম্ব হওয়ার অভিযোগ করেছ। অথচ আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন তোমরা তাঁর কাছে দুআ করো এবং তিনি তোমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তিনি তোমাদের ডাকে সাড়া দেবেন। অতপর তিনি বললেন: সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি বিচার দিবসের অধিপতি। আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি যা ইচ্ছা তা-ই করেন। হে আল্লাহ, আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আপনি অভাবমুক্ত আর আমরা অভাবী। আমাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষণ করুন এবং আপনি যা বর্ষণ করবেন তা আমাদের জন্য শক্তির পাথেয় ও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যথেষ্ট করুন। এরপর তিনি তাঁর দুই হাত উঠালেন এবং হাত তোলা অব্যাহত রাখলেন এমনকি তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখা গেল। অতপর তিনি মানুষের দিকে নিজের পিঠ ফেরালেন এবং নিজের চাদর উল্টে দিলেন (বা ঘুরিয়ে নিলেন) যখন তিনি হাত উঠিয়ে রেখেছিলেন। এরপর তিনি মানুষের অভিমুখী হলেন এবং নিচে নেমে আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন যা আল্লাহ চাইলেন। তখনো কোনো মেঘ দেখা যাচ্ছিল না, কিন্তু হঠাৎ মেঘের গর্জন ও বিদ্যুৎ চমকালো এবং আল্লাহর নির্দেশে বৃষ্টি শুরু হলো। তিনি তাঁর মসজিদে পৌঁছানোর আগেই বন্যার স্রোত বইতে শুরু করল। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন এমনভাবে হাসলেন যে তাঁর মাড়ির দাঁত দেখা যাচ্ছিল এবং তিনি বললেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান এবং আমি তাঁর বান্দা ও রাসূল।

ইমাম রহিমাহুল্লাহ বলেন: ভাষাবিদগণ বলেছেন, 'জানাব' অর্থ আঙিনা বা পার্শ্ববর্তী অঞ্চল। 'ইস্তি'খারুল মাতার' শব্দটি 'ইস্তা'খারা' থেকে উদ্ভূত যার অর্থ দেরি হওয়া। 'ইব্বান' অর্থ সময় এবং 'বালাগ' অর্থ হলো পর্যাপ্ততা।
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়াহ - ইসমাইল আল-আসবাহানী (পৃষ্ঠা: ৪৫)
‌‌فَصْلٌ فِي سُجُودِ الشَّجَرِ وَالْحَجَرِ لَهُ صلى الله عليه وسلم

 

19 - أخبرنَا أَبُو عَمْرو عبد الوهاب بن أبي عبد الله أَنَا وَالِدِي أَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّد ابْن زِيَادٍ ومُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ قَالَا ثَنَا عَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ الدُّورِيُّ ثَنَا قُرَادُ أَبُو نَوحٍ ثَنَا يُونُس ابْن أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي مُوسَى عَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ رضي الله عنه أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ مَعَ أَبِي طَالِبٍ إِلَى الشَّامِ فِي تِجَارَةٍ فَلَقِيَهُ رَاهِبٌ وَفِي رِوَايَةٍ فَخَرَجَ مَعَهُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بأشياح قُرَيْشٍ فَلَمَّا أَشْرَفُوا عَلَى الرَّاهِبِ هَبَطُوا فَحَلُّوا رَوَاحِلَهُمْ فَجَعَلَ يَتَخَلَّلُهُمْ حَتَّى جَاءَ فَأَخَذَ بِيَدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ هَذَا سَيِّدُ الْعَالَمِينَ هَذَا رَسُولُ رَبِّ الْعَالَمِينَ هَذَا يَبْعَثُهُ اللَّهُ رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ فَقَالَ لَهُ أَشْيَاخُ قُرَيْشٍ مَا عِلْمُكَ قَالَ إِنَّكُمْ حِينَ أَشْرَفْتُمْ مِنَ الْعَقَبَةِ لَمْ يَبْقَ شَجَرٌ وَلَا حَجَرٌ إِلَّا خَرَّ سَاجِدًا وَلَا يَسْجُدُونَ إِلَّا لِنَبِيٍّ وَإِنِّي أَعْرِفُهُ بِخَاتَمِ النُّبُوَّة أَسْفَل من غُضْرُوفِ كَتِفِهِ مِثْلِ التُّفَّاحَةِ فَصَنَعَ لَهُمْ طَعَامًا فَلَمَّا أَتَاهُمْ بِهِ وَكَانَ هُوَ عليه السلام فِي رَعْيَةِ الْإِبِلِ فَقَالَ أَرْسِلُوا إِلَيْهِ فَأَقْبَلَ وَعَلَيْهِ غَمَامَةٌ تُظِلُّهُ فَلَمَّا دَنَا مِنَ الْقَوْمِ وَجَدَهُمْ قَدْ سَبَقُوهُ إِلَى فَيْءِ الشَّجَرَةِ فَلَمَّا جَلَسَ مَالَ فَيْءُ الشَّجَرَةِ عَلَيْهِ فَقَالَ انْظُرُوا إِلَى فَيْءِ هَذِهِ الشَّجَرَةِ مَالَ عَلَيْهِ قَالَ فَبَيْنَا هُوَ قَائِمٌ عَلَيْهِمْ وَهُوَ يَنَاشِدُهُمْ أَنْ لَا يَذْهَبُوا بِهِ إِلَى الرُّومَ إِذَا رَأَوْهُ عَرَفُوهُ بِالصِّفَةِ فَقَتَلُوهُ فَالْتَفَتَ فَإِذَا هُوَ بِسَبْعَةِ نَفَرٍ قَدْ أَقْبَلُوا مِنَ الرُّومِ فَاسْتَقْبَلَهُمْ فَقَالَ مَا جَاءَكُمْ قَالُوا جِئْنَا لِهَذَا النَّبِيِّ بَلَغَنَا أَنَّهُ خَارج فِي هَذِه الطَّرِيقِ وَلَمْ يَبْقَ طَرِيقٌ إِلَّا وَقَدْ بُعِثَ إِلَيْهِ نَاسٌ وَإِنَّا أُخْبِرْنَا خَبَرَهُ فَمَضَيْنَا إِلَى طَرِيقِكَ فَقَالَ لَهُمْ هَلْ خَلَّفْتُمْ خَلْفَكُمْ أَحَدًا هُوَ خَيْرٌ مِنْكُمْ قَالُوا لَا إِنَّمَا أُخْبِرْنَا خَبَرُهُ أَوْ قَالَ اخْتَرْنَا خِيْرَةً فَمَضَيْنَا إِلَى طَرِيقِكَ هَذَا قَالَ أَفَرَأَيْتُم أَمر أَرَادَ اللَّهُ عز وجل أَنْ يَقْضِيَهُ هَلْ يَسْتَطِيعُ أَحَدٌ مِنَ النَّاسِ رَدَّهُ قَالُوا لَا قَالَ فَتَابِعُوهُ وَأَقَامُوا قَالَ فَأَتَاهُمْ فَقَالَ أَنْشُدُكُمْ أَيُّكُمْ وَلِيُّهُ فَقَالَ أَبُو طَالِبٍ قَالَ فَلَمْ يَزَلْ يُنَاشِدُهُ حَتَّى رَدَّهُ أَبُو طَالِبٍ وَبَعَثَ مَعَهُ أَبُو بَكْرٍ بِلَالًا وَزَوَّدَهُ الراهب من الكعك وَالزَّيْت

20 - وَأخْبرنَا أَبُو عُمَرَ أَنَا وَالِدِي أَنَا عُمَرُ بْنُ الرَّبِيعِ بْنِ سُلَيْمَانَ ثَنَا بَكْرُ بْنُ سَهْلٍ ثَنَا عبد الغني بْنُ سَعِيدٍ الثَقَفِيُّ ثَنَا مُوسَى بن عبد الرحمن الصَنْعَانِيُّ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنِ ابْنِ عَبَاسٍ رضي الله عنه ح وَعَنْ مُقَاتِلٍ عَنِ الضَّحَّاكِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ
পরিচ্ছেদ: গাছ ও পাথরের তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি সিজদাহ করা প্রসঙ্গে।

 

১৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আবু আব্দুল্লাহ, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ এবং মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব থেকে; তাঁরা বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ আদ-দুরি, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কুরাদ আবু নাউহ, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইউনুস ইবনে আবু ইসহাক, তিনি আবু বকর ইবনে আবু মুসা থেকে, তিনি আবু মুসা আল-াশআরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবু তালিবের সাথে ব্যবসার উদ্দেশ্যে সিরিয়া অভিমুখে বের হলেন। পথে এক পাদ্রীর সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হলো। অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুরাইশদের প্রবীণদের সাথে বের হলেন। যখন তাঁরা পাদ্রীর সন্নিকটে পৌঁছালেন, তখন তাঁরা নিচে নামলেন এবং তাঁদের বাহনগুলো বাঁধনমুক্ত করলেন। এরপর পাদ্রী তাঁদের মধ্য দিয়ে হেঁটে আসতে শুরু করলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাত ধরলেন। অতঃপর তিনি বললেন, "ইনি বিশ্বজগতের সর্দার, ইনি বিশ্বজগতের রবের রাসূল, আল্লাহ তাঁকে বিশ্বজগতের রহমত স্বরূপ প্রেরণ করবেন।" কুরাইশদের প্রবীণরা তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, "আপনার কাছে এর কী প্রমাণ আছে?" তিনি বললেন, "আপনারা যখন পাহাড়ের উঁচু পথ (আকাবা) দিয়ে নামছিলেন, তখন এমন কোনো গাছ বা পাথর বাকি ছিল না যা সিজদায় লুটিয়ে পড়েনি; আর তারা নবী ছাড়া আর কাউকে সিজদাহ করে না। আর আমি তাঁকে তাঁর কাঁধের হাড়ের নিচে থাকা মোহরে নবুওয়াত দেখে চিনতে পেরেছি, যা একটি আপেলের মতো।" এরপর পাদ্রী তাঁদের জন্য খাবার তৈরি করলেন। যখন তিনি খাবার নিয়ে আসলেন, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উট চরাচ্ছিলেন। পাদ্রী বললেন, "তাঁকে ডেকে পাঠান।" তখন তিনি আসলেন এবং একটি মেঘ খণ্ড তাঁকে ছায়া দান করছিল। যখন তিনি লোকগুলোর কাছাকাছি পৌঁছালেন, দেখলেন তাঁরা আগেই গাছের ছায়ায় জায়গা দখল করে নিয়েছেন। তিনি বসার পর গাছের ছায়া তাঁর দিকে ঝুঁকে পড়ল। পাদ্রী বললেন, "এই গাছের ছায়ার দিকে দেখো, এটি তাঁর ওপর ঝুঁকে পড়েছে।" বর্ণনাকারী বলেন, পাদ্রী যখন তাঁদের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তখন তিনি তাঁদেরকে আল্লাহর দোহাই দিয়ে অনুনয় করছিলেন যেন তাঁরা তাঁকে রোমকদের কাছে নিয়ে না যান; কারণ রোমকরা যদি তাঁকে দেখে তবে তাঁর গুণাবলী দেখে চিনে ফেলবে এবং তাঁকে হত্যা করবে। এমতাবস্থায় তিনি রোম থেকে আসা সাতজন লোকের দিকে লক্ষ্য করলেন যারা সেদিকে আসছিল। তিনি তাঁদের সামনে এগিয়ে গেলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, "তোমরা কেন এসেছ?" তাঁরা বললেন, "আমরা এই নবীর খোঁজে এসেছি। আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে তিনি এই পথে বের হবেন। এমন কোনো পথ বাকি নেই যেখানে একদল লোক পাঠানো হয়নি। আমাদের কাছেও তাঁর খবর পৌঁছানো হয়েছে, তাই আমরা এই পথে অগ্রসর হয়েছি।" পাদ্রী তাঁদের বললেন, "তোমাদের পেছনে কি তোমাদের চেয়ে উত্তম কেউ রয়েছে?" তাঁরা বললেন, "না, আমাদের কাছে তাঁর খবর দেওয়া হয়েছে (অথবা বললেন) আমাদের মধ্য থেকে সেরা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে, তাই আমরা আপনার এই পথে অগ্রসর হয়েছি।" পাদ্রী বললেন, "বলো তো, আল্লাহ তাআলা কোনো বিষয় ফয়সালা করার ইচ্ছা করলে মানুষের মধ্যে কেউ কি তা রুখতে পারে?" তাঁরা বললেন, "না।" পাদ্রী বললেন, "তবে তোমরা তাঁর আনুগত্য করো।" এবং তাঁরা সেখানেই অবস্থান করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর পাদ্রী তাঁদের কাছে এসে বললেন, "আমি আপনাদের আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলছি, আপনাদের মধ্যে তাঁর অভিভাবক কে?" আবু তালিব বললেন, "আমি।" পাদ্রী অনবরত তাঁকে অনুরোধ করতে থাকলেন, শেষ পর্যন্ত আবু তালিব তাঁকে ফেরত পাঠালেন। আবু বকর তাঁর সাথে বিলালকে পাঠালেন এবং পাদ্রী তাঁকে কিছু পিঠা ও জয়তুনের তেল পাথেয় হিসেবে দিলেন।

২০ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু উমর, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি উমর ইবনে রাবী ইবনে সুলাইমান থেকে, তিনি বকর ইবনে সাহল থেকে, তিনি আব্দুল গনি ইবনে সাঈদ আস-সাকাফি থেকে, তিনি মুসা ইবনে আব্দুর রহমান আস-সানআনি থেকে, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে। (অন্য সূত্রে) মুকাতিল থেকে, তিনি দাহহাক থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত...
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়াহ - ইসমাইল আল-আসবাহানী (পৃষ্ঠা: ৪৬)
رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ رضي الله عنه صَحِبَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ ابْنُ عَشْرٍ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ابْنُ عِشْرِينَ سَنَةً وَهُمْ يُرِيدُونَ الشَّامَ فِي تِجَارَةٍ حَتَّى إِذَا نَزَلُوا مَنْزِلًا فِيهِ سِدْرَةٌ قَعَدَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي ظِلِّهَا وَمَضَى أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه إِلَى رَاهِبٍ يُقَالُ لَهُ بَحِيرَا يَسْأَلُهُ عَنْ شَيْءٍ فَقَالَ لَهُ مَنِ الرَّجُلُ الَّذِي فِي ظِلِّ السِّدْرَةِ فَقَالَ لَهُ ذَلِك مُحَمَّد بن عبد الله بن عبد المطلب فَقَالَ هَذَا وَاللَّهِ نَبِيٌّ مَا اسْتَظَلَّ تَحْتَهَا بَعْدَ عِيسَى بْنِ مَرْيَمَ عليه السلام إِلَّا مُحَمَّدٌ وَوَقَعَ فِي قَلْبِ أَبِي بَكْرٍ الْيَقِين والتصديق فَلَمَّا نبىء النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

‌‌فَصْلٌ

 

21 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بن أَحْمد السَّمرقَنْدِي انا عبد الصمد الْعَاصِمِيُّ ثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ الْبَجِيرِيُّ ثَنَا أَبُو حَفْصٍ الْبَجِيرِيُّ حَدَّثَنِي أَبِي ثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ ثَنَا عبد الواحد بْنُ أَيْمَنَ قَالَ سَمِعْتُ أُبَيَّ عَنْ جَابِرٍ رضي الله عنه قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُومُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ إِلَى شَجَرَةٍ أَوْ نَخْلَةٍ فَقَالَتِ امْرَأَةٌ مِنَ الْأَنْصَارِ أَوْ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَا نَجْعَلُ لَكَ مِنْبَرًا قَالَ إِنْ شِئْتُمْ فَجْعَلُوا لَهُ مِنْبَرًا فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ الْجُمُعَةِ ذَهَبَ إِلَى الْمِنْبَرِ فَصَاحَتِ النَّخْلَةُ صِيَاحَ الصَبِيِّ فَنَزَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَضَمَّهَا إِلَيْهِ فَكَانَتْ تَئِنُّ أَنِينَ الصَبِيِّ الَّذِي يُسَكَّتُ قَالَ كَانَتْ تَبْكِي عَلَى مَا تَسْمَعُ مِنَ الذِّكْرِ عِنْدَهَا

22 - وَحدثنَا أَبُو حَفْصٍ الْبَجِيرِيُّ ثَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ ثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عمر وَيحيى ابْن كَثِيرٍ قَالَا ثَنَا مُعَاذُ بْنُ الْعَلَاءِ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَخْطُبُ إِلَى جِذْعٍ فَلَمَّا اتَّخَذَ الْمِنْبَرَ حَنَّ الْجِذْعُ حَتَّى أَتَاهُ فَالْتَزَمَهُ

23 - أَخْبَرَنَا أَبُو نَصْرٍ الزَّيْنَبِيُّ أَنَا أَبُو طَاهِرٍ المخلص ثَنَا عبد الله بْنُ مُحَمَّدٍ الْبَغَوِيُّ ثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخٍ ثَنَا مُبَارَكُ بْنُ فَضَالَةَ ثَنَا الْحَسَنُ عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه قَالَ كَانَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ إِلَى جنب خَشَبَة مُسْند ظَهْرَهُ إِلَيْهَا فَلَمَّا كَثُرَ النَّاسُ قَالَ ابْنُوا لِي مِنْبَرًا قَالَ فَبَنَوْا لَهُ مِنْبَرًا لَهُ عَتَبَتَانِ فَلم قَامَ عَلَى الْمِنْبَرِ يَخْطُبُ حَنَّتِ الْخَشَبَةُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ أَنَسٌ وَأَنَا فِي الْمَسْجِدِ فَسَمِعْتُ الْخَشَبَةَ تَحِنُّ حَنِينَ الْوَالِهِ فَمَا زَالَتْ تَحِنُّ حَتَّى نَزَلَ إِلَيْهَا فَاحْتَضَنَهَا فَسكت فَكَانَ الْحَسَنُ إِذَا حَدَّثَ بِهَذَا الْحَدِيثِ بَكَى ثُمَّ
আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন, বর্ণনা করা হয়েছে যে, আবু বকর সিদ্দিক (রা.) যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গী হলেন, তখন তাঁর বয়স ছিল দশ বছর এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বয়স ছিল বিশ বছর। তাঁরা ব্যবসার উদ্দেশ্যে শাম অভিমুখে যাচ্ছিলেন। যাত্রাপথে তাঁরা যখন একটি স্থানে যাত্রা বিরতি করলেন যেখানে একটি কুল গাছ ছিল, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার ছায়ায় বসলেন। আবু বকর (রা.) বুহাইরা নামক এক পাদ্রীর কাছে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে গেলেন। পাদ্রী তাকে জিজ্ঞেস করলেন, "কুল গাছের ছায়ায় বসে থাকা ওই ব্যক্তিটি কে?" তিনি উত্তর দিলেন, "উনি আব্দুল্লাহর পুত্র মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব।" তখন পাদ্রী বললেন, "আল্লাহর কসম, ইনিই নবী! ঈসা ইবনে মারিয়াম (আলাইহিস সালাম)-এর পর মুহাম্মদ ছাড়া আর কেউ এই গাছের নিচে ছায়া গ্রহণ করেনি।" তখন আবু বকর (রা.)-এর অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস ও সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হলো। অতঃপর যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নবুয়তপ্রাপ্ত হলেন...

‌‌পরিচ্ছেদ

 

২১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ হাসান ইবনে আহমদ আস-সামারকান্দি, তিনি আবদুস সামাদ আল-আসিমী থেকে, তিনি আবুল আব্বাস আল-বাজিরি থেকে, তিনি আবু হাফস আল-বাজিরি থেকে, তিনি আমার পিতা থেকে, তিনি আবু নুয়াইম থেকে, তিনি আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আইমান থেকে, তিনি উবাই থেকে বর্ণনা করেছেন যে, জাবির (রা.) বলেছেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জুমার দিনে একটি গাছ বা খেজুর গাছের পাশে দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন। তখন একজন আনসারি মহিলা বা পুরুষ বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি আপনার জন্য একটি মিম্বর তৈরি করে দেব না?" তিনি বললেন, "তোমরা চাইলে করতে পারো।" অতঃপর তারা তাঁর জন্য একটি মিম্বর তৈরি করল। যখন জুমার দিন এল, তিনি মিম্বরের দিকে গেলেন, তখন খেজুর গাছটি শিশুর মতো চিৎকার করে কেঁদে উঠল। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মিম্বর থেকে নেমে তাকে জড়িয়ে ধরলেন, তখন সেটি সান্ত্বনা দেওয়া শিশুর মতো ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল। তিনি বললেন, "সে তার কাছে আল্লাহর জিকির শোনার কারণে কাঁদছিল।"

২২ - আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু হাফস আল-বাজিরি, তিনি আমর ইবনে আলী থেকে, তিনি উসমান ইবনে উমর এবং ইয়াহইয়া ইবনে কাসির থেকে, তাঁরা উভয়ই মুয়াজ ইবনে আল-আলা থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি গাছের গুঁড়ির পাশে দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন। যখন মিম্বর গ্রহণ করা হলো, তখন গুঁড়িটি করুণ সুরে কেঁদে উঠল, এমনকি তিনি তার কাছে এসে তাকে জড়িয়ে ধরলেন।

২৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নাসর আয-যাইনাবি, তিনি আবু তাহির আল-মুখলিস থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-বাগাওয়ী থেকে, তিনি শাইবান ইবনে ফাররুখ থেকে, তিনি মুবারক ইবনে ফাদালা থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জুমার দিনে একটি কাঠখণ্ডের পাশে পিঠ হেলান দিয়ে খুতবা দিতেন। যখন মানুষের সংখ্যা বেড়ে গেল, তখন তিনি বললেন, "আমার জন্য একটি মিম্বর তৈরি করো।" তিনি বলেন, তারা তাঁর জন্য দুই ধাপবিশিষ্ট একটি মিম্বর তৈরি করল। যখন তিনি মিম্বরের ওপর দাঁড়িয়ে খুতবা দিতে শুরু করলেন, কাঠখণ্ডটি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিরহে করুণ সুরে কেঁদে উঠল। আনাস (রা.) বলেন, আমি তখন মসজিদে ছিলাম এবং কাঠখণ্ডটিকে সন্তানহারা ব্যাকুল মায়ের মতো কাঁদতে শুনলাম। সেটি কাঁদতেই থাকল যতক্ষণ না তিনি মিম্বর থেকে নেমে এসে তাকে জড়িয়ে ধরলেন, তখন সেটি শান্ত হলো। হাসান যখনই এই হাদিস বর্ণনা করতেন, তখন কাঁদতেন এবং বলতেন...
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়াহ - ইসমাইল আল-আসবাহানী (পৃষ্ঠা: ৪৭)
قَالَ يَا عِبَادَ اللَّهِ الْخَشَبَةُ تَحِنُّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ شَوْقًا إِلَيْهِ لِمَكَانِهِ مِنَ اللَّهِ عز وجل فَأَنْتُمْ أَحَقُّ أَنْ تَشْتَاقُوا إِلَى لِقَائِهِ صلى الله عليه وسلم

قَالَ الْإِمَامُ رحمه الله قَوْلُهُ عَتَبَتَانِ أَيْ دَرَجَتَانِ وَالْوَالِهِ الذَاهِبُ الْعَقْلِ لِشِدَّةٍ تُصِيبُهُ أَوْ مُصِيبَةٍ تَنَالُهُ وَاحْتَضَنَهَا أَيْ ضَمَّهَا إِلَى حُضْنِهِ وَالْحُضْنُ مَا دُونَ الْإِبِطِ

‌‌‌‌فَصْلٌ فِي تَسْبِيحِ الْحَصَى فِي يَدِهِ

 

24 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَليّ الْمقري ثَنَا هِبَةُ اللَّهِ بْنُ الْحَسَنِ انا مُحَمَّد بن الْحُسَيْن الْفَارِسِي ثَنَا عبد الله بْنُ أَحْمَدَ الصِرَّارِيُّ ثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ شَاذَانُ ثَنَا قُرَيْشُ بْنُ أَنَسٍ ح قَالَ هِبَةُ اللَّهِ وَأنا الْقَاسِمُ بْنُ جَعْفَرٍ أَنَا عَلِيُّ بْنُ إِسْحَاقَ ثَنَا عَلِيُّ بْنُ حَرْبٍ ثَنَا قُرَيْشُ ابْن أَنَسٍ ثَنَا صَالِحُ بْنُ أَبِي الْأَخْضَرِ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ سُوَيْدِ بْنِ يَزِيدَ السُّلَمِيِّ قَالَ مَرَرْتُ بِمَسْجِدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا أَبُو ذَرٍّ رضي الله عنه فَسَلَّمْتُ وَجَلَسْتُ إِلَيْهِ فَذَكَرَ عُثْمَانَ فَقَالَ لَا أَقُولُ أَبَدًا إِلَّا خَيْرًا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ لِشَيْءٍ رَأَيْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي خَلَوَاتِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَا يُعْلَمُ مِنْهُ فَمر بِي فتابعته حَتَّى انْتَهَى إِلَى مَوْضِعٍ قَدْ سَمَّاهُ فَجَلَسَ فَقَالَ يَا أَبَا ذَرٍّ مَا جَاءَ بِكَ قُلْتُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ إِذْ جَاءَ أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه فَسَلَّمَ وَجَلَسَ عَنْ يَمِينِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذْ جَاءَ عُمَرُ فَسَلَّمَ وَجَلَسَ عَن يَمِين أَبُو بَكْرٍ إِذْ جَاءَ عُثْمَانُ وَجَلَسَ عَنْ يَمِينِ عُمَرَ رضي الله عنه فَتَنَاوَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم سَبْعَ أَوْ تِسْعَ حَصَيَاتٍ فَسَبَّحْنَ حَتَّى سَمِعْتُ لَهُنَّ حَنِينًا كَحَنِينِ النَّحْلِ ثُمَّ وَضَعَهُنَّ فخرسن ثمَّ أخذهن فوضعهن فِي يَدِ أَبِي بَكْرٍ فَسَبَّحْنَ حَتَّى سَمِعْتُ لَهُنَّ حَنِينًا كَحَنِينِ النَّحْلِ ثُمَّ وَضَعَهُنَّ فَخَرَسْنَ ثُمَّ تَنَاوَلَهُنَّ فَوَضَعَهُنَّ فِي يَدِ عُمَرَ فَسَبَّحْنَ حَتَّى سَمِعْتُ لَهُنَّ حَنِينًا كَحَنِينِ النَّحْلِ ثُمَّ وَضَعَهُنَّ فَخَرَسْنَ ثُمَّ تَنَاوَلَهُنَّ فَوَضَعَهُنَّ فِي يَدِ عُثْمَانَ فَسَبَّحْنَ حَتَّى سَمِعْتُ لَهُنَّ حَنِينًا كَحَنِينِ النَّحْلِ ثُمَّ وَضَعَهُنَّ فَخَرَسْنَ

قَالَ هِبَةُ اللَّهِ اللَّفْظُ لِحَدِيثِ عَلِيِّ بْنِ حَرْبٍ

فَصْلٌ

 

25 - أَخْبَرَنَا الشَّرِيفُ أَبُو نَصْرٍ الزَّيْنَبِيُّ رحمه الله أَنَا أَبُو طَاهِرٍ المخلص ثَنَا يحيى
তিনি বললেন, "হে আল্লাহর বান্দাগণ! কাঠখণ্ডটি মহান আল্লাহর নিকট রাসূলুল্লাহর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মর্যাদার কারণে তাঁর প্রতি ব্যাকুলতায় ক্রন্দন করেছে; সুতরাং তাঁর সাক্ষাতের আকাঙ্ক্ষা করার বিষয়ে তোমরাই অধিক হকদার।"

ইমাম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: তাঁর উক্তি 'আতাবাহ' এর অর্থ হলো দুই ধাপ। 'ওয়ালিহ' অর্থ হলো সেই ব্যক্তি যে কোনো তীব্র সংকট বা বিপদের কারণে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। 'ওয়াহ্তাদ্বানাহা' অর্থ হলো তিনি একে বুকে জড়িয়ে ধরলেন, আর 'হুদন' হলো বগলের নিচের অংশ।

‌‌‌‌অনুচ্ছেদ: তাঁর হাতে কঙ্করসমূহের তাসবিহ পাঠের বিবরণ

 

২৪ - আহমদ ইবনে আলী আল-মুকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন হিবাতুল্লাহ ইবনুল হাসান আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন আল-ফারিসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ আস-সিরারি আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ইসহাক ইবনে ইবরাহিম শাযান আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন কুরাইশ ইবনে আনাস আমাদের বর্ণনা করেছেন; (দ্বিতীয় সূত্র) হিবাতুল্লাহ বলেন এবং আল-কাসিম ইবনে জাফর আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আলী ইবনে ইসহাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আলী ইবনে হারব আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন কুরাইশ ইবনে আনাস আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন সালেহ ইবনে আবিল আখদার জুহরি থেকে, তিনি সুয়াইদ ইবনে ইয়াজিদ আস-সুলামি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, সেখানে আবু যার রাদিয়াল্লাহু আনহুকে পেলাম। আমি তাঁকে সালাম দিলাম এবং তাঁর পাশে বসলাম। এরপর তিনি উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর কথা উল্লেখ করে তিনবার বললেন, আমি তাঁর সম্পর্কে সর্বদা কল্যাণকর কথাই বলব। কারণ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একান্ত সান্নিধ্যে এমন কিছু দেখেছি যা অন্য কেউ জানে না। তিনি আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তাই আমি তাঁর অনুসরণ করলাম যতক্ষণ না তিনি একটি নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছালেন এবং বসলেন। তিনি বললেন, "হে আবু যার! কী কারণে এসেছ?" আমি বললাম, "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।" এরপর আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু আসলেন এবং সালাম দিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ডান পাশে বসলেন। এরপর উমর আসলেন এবং সালাম দিয়ে আবু বকরের ডান পাশে বসলেন। এরপর উসমান আসলেন এবং উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর ডান পাশে বসলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাতটি অথবা নয়টি কঙ্কর তুলে নিলেন। সেগুলো তাসবিহ পাঠ করতে লাগল, এমনকি আমি সেগুলোর মৌমাছির গুঞ্জনের মতো শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। অতঃপর তিনি সেগুলো রাখলেন এবং সেগুলো নিরব হয়ে গেল। এরপর তিনি সেগুলো নিয়ে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাতে রাখলেন, সেগুলো তাসবিহ পাঠ করতে লাগল এমনকি আমি সেগুলোর মৌমাছির গুঞ্জনের মতো শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। অতঃপর তিনি সেগুলো রাখলেন এবং সেগুলো নিরব হয়ে গেল। এরপর তিনি সেগুলো নিয়ে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাতে রাখলেন, সেগুলো তাসবিহ পাঠ করতে লাগল এমনকি আমি সেগুলোর মৌমাছির গুঞ্জনের মতো শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। অতঃপর তিনি সেগুলো রাখলেন এবং সেগুলো নিরব হয়ে গেল। এরপর তিনি সেগুলো নিয়ে উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাতে রাখলেন, সেগুলো তাসবিহ পাঠ করতে লাগল এমনকি আমি সেগুলোর মৌমাছির গুঞ্জনের মতো শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। অতঃপর তিনি সেগুলো রাখলেন এবং সেগুলো নিরব হয়ে গেল।

হিবাতুল্লাহ বলেন: এই শব্দগুলো আলী ইবনে হারবের বর্ণিত হাদিসের।

অনুচ্ছেদ

 

২৫ - শরিফ আবু নাসর আয-যাইনাবি (রাহিমাহুল্লাহ) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আবু তাহির আল-মুখলিস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন ইয়াহইয়া আমাদের বর্ণনা করেছেন
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়াহ - ইসমাইল আল-আসবাহানী (পৃষ্ঠা: ৪৮)
ابْن صَاعِدٍ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ الْوَلِيدِ الْكِنْدِيُّ ثَنَا إِسْحَاقُ بن مَنْصُور عَن عبد الله بْنِ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ عَنْ جَابِرٍ رضي الله عنه قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَفْرٍ فَأَصْبَحُوا فَمَاجَ النَّاسُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا لَكُمْ قَالُوا لَيْسَ مَعَ أَحَدٍ مِنَ الْقَوْمِ مَاءٌ إِلَّا الَّذِي فِي تَوْرِكَ قَالَ فَوَضَعَ يَدَيْهِ فِي التَّوْرِ فَقَالَ توضؤا فَجَعَلَ الْمَاءُ يَفُورُ مِنْ بَيْنَ أَصَابِعِهِ حَتَّى تَوَضَّأْنَا وَسَقَيْنَا قُلْنَا لِجَابِرٍ كَمْ أَنْتُمْ قَالَ لَوْ كُنَّا مِائَةَ أَلْفٍ كَفَانَا قُلْنَا كَمْ أَنْتُمْ قَالَ أَرْبَعَ عَشْرَ مائَة أَو خمس عشر مائَة

26 - وَأخْبرنَا أَبُو نَصْرٍ أَنَا أَبُو طَاهِرٍ ثَنَا يَحْيَى بْنُ صَاعِدٍ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي صَفْوَانَ الثَقَفِيُّ بِالْبَصْرَةَ ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ حَبِيبِ بْنِ الشَّهِيدِ ثَنَا أَبِي عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ الْمَكِّيّ عَن جَابر بن عبد الله بْنِ عَمْرِو بْنِ حِرَامٍ قَالَ أَمَرَ أَبِي بِخَزِيرَةٍ فَصُنِعَتْ ثُمَّ أَمَرَنِي فَأَتَيْتُ بِهَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ مَا هَذَا يَا جَابِرُ أَلَحْمٌ ذَا قَالَ فَقُلْتُ لَا يَا رَسُول الله وَلَكِن أبي مر بِخَزِيرَةِ وَأَمَرَنِي أَنْ آتِيكَ بِهَا فَأَخذهَا ثمَّ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قُلْتُ نَعَمْ قَالَ مَا قَالَ قَالَ قُلْتُ قَالَ أَلَحْمٌ ذَا يَا جَابرُ فَقُلْتُ لَا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَلَكِنْ أَبِي أَمَرَ بِخَزِيرَةٍ فَصُنِعَتْ وَأَمَرَنِي فَأَتَيْتُكَ بِهَا فَقَالَ أَبِي عَسَى أَنْ يَكُونَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اشْتَهَى اللَّحْمَ فَقَامَ إِلَى دَاجِنٍ لَهُ فَأَمَرَ بِهَا فَذُبِحَتْ ثُمَّ أَمَرَ بِهَا فَشُوِيَتْ ثُمَّ أَمَرَنِي فَحَمَلْتُهَا إِلَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَتَيْتُهُ وَهُوَ فِي مَجْلِسِهِ فَقَالَ لِي مَا هَذَا يَا جَابِرُ فَقُلْتُ أَتَيْتُ أَبِي فَقَالَ لِي هَلْ رَأَيْتَ رَسُولَ اللَّهِ فَقُلْتُ نَعَمْ فَقَالَ هَلْ قَالَ شَيْء قُلْتُ نَعَمْ قَالَ مَا هَذَا يَا جَابِرُ أَلَحْمٌ ذَا فَقَالَ أَبِي عَسَى أَنْ يَكُونَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اشْتَهَى اللَّحْمَ فَقَامَ إِلَى دَاجِنٍ فَأَمَرَ بِهَا فَذُبِحَتْ ثُمَّ أَمَرَ بِهَا فَشُوِيَتْ ثُمَّ أَمَرَنِي فَأَتَيْتُكَ بِهَا فَقَالَ جَزَاكُمُ اللَّهُ مَعْشَرَ الْأَنْصَارِ خَيْرًا وَلَا سِيمَا آلِ عَمْرو ابْن حِرَامٍ وَسَعْدِ بْنِ عَبَادَةَ

قَالَ الْإِمَامُ رحمه الله قَوْلُهُ مَاجَ النَّاسُ أَيِ اضْطَرَبُوا وَدَخَلَ بَعْضُهُمْ فِي بَعْضٍ وَالتَّوْرُ شِبْهُ الْإِجَانَةِ أَوِ الطَّسْتِ مِنَ الصُّفْرِ وَالْخَزِيرَةُ بِالَخَاءِ الْمُعَجَمَةِ وَبَعْدَهَا زَايٍ مُعْجَمَةٍ وَبَعْدِهَا يَاءٍ وَبَعْدَ الْيَاءِ رَاءٍ مُهْمَلَةٍ لَحْمٌ يُقَطَّعُ صِغَارًا وَيُصَبُّ عَلَيْهِ مَاءٌ كَثِيرٌ فَإِذَا نَضَجَ ذُرَّ عَلَيْهِ الدَّقِيقُ وَالْحَرِيرَةُ بِالْحَاءِ الْمُهْمَلَةِ وَرَاءٍ بَيْنَ مُهْمَلَتَيْنِ حِسَاءٌ مِنْ دَقِيقٍ وَدَسَمٍ وَالدَّاجِنُ الشَّاةُ الَّتِي تُرَبَّى فِي الْبَيْتِ
ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে উমর ইবনুল ওয়ালিদ আল-কিন্দি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক ইবনে মানসুর আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে মুররাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি সালিম ইবনে আবিল জা’দ থেকে, তিনি জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক সফরে ছিলাম। ভোর হলে মানুষ অস্থির হয়ে পড়ল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তোমাদের কী হয়েছে? তারা বলল: আপনার পাত্রে যা আছে তা ছাড়া কাফেলার কারো কাছে আর কোনো পানি নেই। তিনি বলেন: এরপর তিনি পাত্রে তাঁর দুই হাত রাখলেন এবং বললেন: তোমরা ওজু করো। তখন তাঁর আঙুলসমূহের মাঝখান থেকে পানি উপচে পড়তে লাগল, এমনকি আমরা ওজু করলাম এবং পশুদের পানি পান করালাম। আমরা জাবিরকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনারা কতজন ছিলেন? তিনি বললেন: আমরা যদি এক লক্ষও হতাম, তবে তা আমাদের জন্য যথেষ্ট হতো। আমরা পুনরায় জিজ্ঞাসা করলাম, আপনারা কতজন ছিলেন? তিনি বললেন: চৌদ্দশ’ অথবা পনেরশ’ জন।

২৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নাসর, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহির, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে উসমান ইবনে আবি সাফওয়ান আস-সাকাফি বসরার অধিবাসী, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে হাবিব ইবনে শাহীদ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা আমর ইবনে দিনার আল-মাক্কি থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে হারাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমার পিতা ‘খাযিরা’ (এক প্রকার খাবার) তৈরির নির্দেশ দিলেন, যা তৈরি করা হলো। এরপর তিনি আমাকে নির্দেশ দিলে আমি তা নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম। তিনি বললেন: হে জাবির! এটি কী? এটি কি মাংস? জাবির বলেন, আমি বললাম: না, হে আল্লাহর রাসূল! বরং আমার পিতা খাযিরা তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং আমাকে তা আপনার নিকট নিয়ে আসতে বলেছেন। এরপর তিনি তা গ্রহণ করলেন। পরবর্তীতে আমি পুনরায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে ফিরে আসলে (আমার পিতা) বললেন, তিনি কী বলেছেন? জাবির বলেন, আমি বললাম, তিনি জিজ্ঞাসা করেছেন: হে জাবির! এটি কি মাংস? তখন আমি বললাম: না, হে আল্লাহর রাসূল! বরং আমার পিতা খাযিরা তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন যা তৈরি করা হয়েছে এবং তিনি আমাকে তা আপনার নিকট নিয়ে আসতে বলেছিলেন। তখন আমার পিতা বললেন: সম্ভবত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাংস খেতে পছন্দ করেছেন। এরপর তিনি তাঁর একটি গৃহপালিত পশুর কাছে গিয়ে তা জবাই করার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তা ঝলসে আমাকে দিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পাঠালেন। আমি তাঁর কাছে আসলাম, তখন তিনি মজলিসে বসা ছিলেন। তিনি আমাকে বললেন: হে জাবির! এটি কী? আমি বললাম: আমি আমার পিতার নিকট গিয়েছিলাম এবং তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি রাসূলুল্লাহকে দেখেছিলে? আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি কি কিছু বলেছেন? আমি বললাম: হ্যাঁ, তিনি বলেছেন: হে জাবির! এটি কি মাংস? তখন আমার পিতা বললেন: সম্ভবত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাংসের আকাঙ্ক্ষা করেছেন। অতঃপর তিনি তাঁর একটি গৃহপালিত পশুর নিকট গিয়ে তা জবাই ও ঝলসানোর নির্দেশ দিলেন এবং সেটি আমাকে দিয়ে আপনার নিকট পাঠালেন। তখন তিনি বললেন: হে আনসার সম্প্রদায়! আল্লাহ তোমাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন, বিশেষ করে আমর ইবনে হারামের পরিবার এবং সাদ ইবনে উবাদাহকে।

ইমাম রাহিমাহুল্লাহ বলেন: ‘মাজা আন-নাস’ অর্থ হলো তারা অস্থির হয়ে পড়ল এবং বিশৃঙ্খলভাবে একে অন্যের সাথে মিশে গেল। ‘তওর’ হলো পিতল বা ব্রোঞ্জের তৈরি গামলা বা বড় থালার সদৃশ পাত্র। আর ‘খাযিরা’ (নুকতাযুক্ত ‘খা’, এরপর নুকতাযুক্ত ‘যা’, এরপর ‘ইয়া’ এবং শেষে নুকতাহীন ‘রা’) হলো এমন মাংস যা ছোট ছোট টুকরো করে কাটা হয় এবং তাতে প্রচুর পানি ঢালা হয়, যখন তা সুসিদ্ধ হয় তখন তার ওপর আটা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। আর ‘হারিরা’ (নুকতাহীন ‘হা’ এবং দুই নুকতাহীন ‘রা’-এর মাঝে ‘ইয়া’) হলো আটা এবং চর্বি দিয়ে তৈরি এক প্রকার পাতলা স্যুপ। আর ‘দাজিন’ হলো সেই ছাগল বা ভেড়া যা ঘরে লালন-পালন করা হয়।
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়াহ - ইসমাইল আল-আসবাহানী (পৃষ্ঠা: ৪৯)
‌‌فَصْلٌ فِي دَلَائِلِ نُبُوَّتِهِ صلى الله عليه وسلم قَبْلَ بَعْثَتِهِ

 

27 - أخبرنَا عبد الرحمن بن إِسْمَاعِيل الصَّابُونِي ثَنَا عبد الغافر الْفَارِسِيُّ أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سُفْيَان بْنُ الْحَجَّاجِ ثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ ثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ طَهْمَانَ حَدَّثَنِي سِمَاكُ بْنُ حَرْبٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنِّي لَأَعْرَفُ حَجَرًا بِمَكَّةَ كَانَ يُسَلِّمُ عَلَيَّ قَبْلَ أَنْ أبْعث إِنِّي لأعرفه الْآن

28 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَرْدَوَيْهِ أَنَا أَبُو سَعِيدِ بْنُ حَسَنَوَيْهِ ثَنَا شَاكِرُ بْنُ جَعْفَرٍ الْمُعَدَّلُ ثَنَا عُمَيْرُ بْنُ مِرْدَاسٍ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بُكَيْرٍ ثَنَا أَيُّوبُ بْنُ جَابِرٍ عَنْ صَدَقَةَ بْنِ سَعِيدٍ عَنْ مُصْعَبِ بْنِ شَيْبَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ خَرَجْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ حُنَيْنٍ وَاللَّهِ مَا أَخْرَجَنِي الْإِسْلَامُ وَلَا مَعْرِفَةٌ بِهِ وَلَكِنِّي أَنِفْتُ أَنْ يُظْهِرَ هَوَازِنَ عَلَى قُرَيْشٍ فَقُلْتُ وَأَنَا وَاقِفٌ مَعَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنِّي أَرَى خَيْلًا بُلْقًا قَالَ يَا شَيْبَةُ إِنَهُ لَا يَرَاهُ إِلَّا كَافِر فَضرب يَده على صَدره ثُمَّ قَالَ اللَّهُمَّ اهْدِ شَيْبَةَ ثُمَّ ضَرَبَ بِهَا الثَّانِيةَ فَقَالَ اللَّهُمَّ اهْدِ شَيْبَةَ ثُمَّ ضَرَبَ بهَا الثَّالِثَة فَقَالَ اللَّهُمَّ اهد شيبَة فوا الله مَا رَفَعَ يَدَهُ مِنْ صَدْرِي فِي الثَّالِثَةِ حَتَّى مَا كَانَ أَحَدٌ مِنْ خَلْقِ اللَّهِ أَحَبَّ إِلَيَّ مِنْهُ قَالَ فَالْتَقَى النَّاسُ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى نَاقَةٍ أَوْ بَغْلَةٍ وَعُمَرُ آخِذٌ بِلِجَامِهِ وَالْعَبَّاسُ آخِذٌ بِثَفَرِ دَابَّتِهِ فَانْهَزَمَ الْمُسْلِمُونَ فَنَادَى الْعَبَّاسُ بِصَوْتٍ لَهُ جَهِيرٍ أَوْ جَهْوَرِيٍّ فَقَالَ أَيْنَ الْمُهَاجِرُونَ الْأَوَّلُونَ أَيْنَ أَصْحَابُ الْبَقَرَةِ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فَرَمَاهُ قُدُمًا هَا أَنَا النَّبِيُّ لَا كَذِبَ أَنا ابْن عبد المطلب فَعَطَفَ الْمُسْلِمُونَ فَاصْطَكُّوا بِالْسُيُوفِ فَقَالَ صلى الله عليه وسلم الْآنَ حَمِيَ الْوَطِيسُ قَالَ وَهَزَمَ اللَّهُ الْمُشْرِكِينَ

قَالَ الْإِمَامُ رحمه الله قَالَ أهل التَّارِيخ شيبَة ابْن عُثْمَانَ بْنِ طَلْحَةَ بْنِ أَبِي طَلْحَة بن عبد العزى ابْن عُثْمَان بن عبد الله بن عبد الدار بْنِ قُصَيٍّ الْحَجَبِيُّ أَسْلَمَ يَوْمَ حُنَيْنٍ وَأَيُّوبُ بْنُ جَابِرٍ هُوَ الْحَنَفِيُّ وَثَفَرُ الدَّابَّةِ حَبْلٌ يُشَدُّ تَحْتَ ذَنَبِهِ وَقَوْلُهُ قُدُمًا أَيْ تَقَدَّمُوا وَهَا تَنْبِيهٌ فَعَطَفَ الْمُسْلِمُونَ أَيْ فَأَقْبَلُوا فَاصْطَكُّوا بِالسُيُوفِ أَيْ تَضَارَبُوا بِهَا بِقَوَّةٍ وَالْوَطِيسُ التَنُّورُ وَالْمَعْنَى اشْتَدَّ الْحَرْبُ وَحَمِيَ كَمَا يَحْمَى التَنُّورُ وَالْبُلْقُ جَمْعُ الْأَبْلَقِ وَهُوَ الَّذِي يُخَالِطُ سَوَادَهُ بَيَاضٌ
নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নবুওয়াতের নিদর্শনাবলী সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ

 

২৭ - আবদুর রহমান ইবনে ইসমাইল আস-সাবুনী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল গাফির আল-ফারিসী আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সুফিয়ান ইবনুল হাজ্জাজ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, ইয়াহইয়া ইবনে আবি বুকাইর আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইবরাহীম ইবনে তাহমান থেকে, সিমাক ইবনে হারব আমার কাছে বর্ণনা করেছেন জাবির ইবনে সামুরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি মক্কার এমন একটি পাথরকে চিনি, যা আমার নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বে আমাকে সালাম দিত; আমি এখনো সেটিকে চিনি।"

২৮ - আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মারদুওয়াইহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু সাঈদ ইবনে হাসানওয়াইহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, শাকির ইবনে জাফর আল-মুআদ্দাল আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, উমাইর ইবনে মিরদাস আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, মুহাম্মাদ ইবনে বুকাইর আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আইয়ুব ইবনে জাবির আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন সাদাকা ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি মুসআব ইবনে শায়বাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, হুনাইনের যুদ্ধের দিন আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে বের হলাম। আল্লাহর শপথ, ইসলাম গ্রহণ বা ইসলামের প্রতি কোনো অনুরাগ আমাকে বের করেনি, বরং কুরাইশদের ওপর হাওয়াযিন গোত্র বিজয়ী হোক—এটা আমি অপছন্দ করছিলাম। এমতাবস্থায় যখন আমি তাঁর সাথে দাঁড়িয়েছিলাম, তখন বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), আমি সাদা-কালো রঙের ঘোড়া দেখতে পাচ্ছি। তিনি বললেন: "হে শায়বাহ, কাফের ছাড়া কেউ এটা দেখতে পায় না।" অতঃপর তিনি শায়বাহর বুকের ওপর তাঁর হাত মারলেন এবং বললেন: "হে আল্লাহ, শায়বাহকে হিদায়াত দিন।" অতঃপর তিনি দ্বিতীয়বার তাঁর হাত মারলেন এবং বললেন: "হে আল্লাহ, শায়বাহকে হিদায়াত দিন।" অতঃপর তিনি তৃতীয়বার তাঁর হাত মারলেন এবং বললেন: "হে আল্লাহ, শায়বাহকে হিদায়াত দিন।" আল্লাহর শপথ, তৃতীয়বার তিনি আমার বুক থেকে তাঁর হাত সরানোর আগেই আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে তিনি আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় হয়ে গেলেন। তিনি বলেন, অতঃপর মানুষেরা যুদ্ধে লিপ্ত হলো। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি উট বা খচ্চরের ওপর ছিলেন, উমর তার লাগাম ধরে ছিলেন এবং আব্বাস তাঁর জানোয়ারের পেছনের রশি ধরে ছিলেন। তখন মুসলিমরা পিছু হটতে শুরু করল। আব্বাস উচ্চস্বরে ডাক দিলেন: "হে প্রাথমিক হিজরতকারীরা কোথায়! হে সূরা বাকারার সঙ্গীরা কোথায়!" আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জানোয়ারকে সামনের দিকে চালিত করে বলছিলেন: "আমিই নবী, আমি মিথ্যা বলছি না; আমি আবদুল মুত্তালিবের সন্তান।" তখন মুসলিমরা ফিরে এল এবং তলোয়ারের প্রচণ্ড আঘাত শুরু হলো। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "এখন চুল্লি উত্তপ্ত হয়েছে।" রাবী বলেন, আল্লাহ মুশরিকদের পরাজিত করলেন।

ইমাম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ইতিহাসবিদরা বলেছেন: শায়বাহ হলেন উসমান ইবনে তালহা ইবনে আবি তালহা ইবনে আবদিল উযযা ইবনে উসমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদিদ দার ইবনে কুসাই আল-হাজাবী। তিনি হুনাইনের দিন ইসলাম গ্রহণ করেন। আইয়ুব ইবনে জাবির হলেন আল-হানাফী। জানোয়ারের 'সাফার' হলো এমন রশি যা তার লেজের নিচে বাঁধা থাকে। তাঁর উক্তি 'কুদুমান' অর্থ হলো এগিয়ে যাওয়া। 'হা' শব্দটি সতর্ককারী। মুসলিমরা 'আতাফা' করল অর্থাৎ তারা ফিরে আসল। তলোয়ারের 'ইস্তিকাক' মানে হলো একে অপরের ওপর শক্তিশালী আঘাত। 'ওয়াতীস' হলো চুল্লি বা তন্দুর। এর অর্থ হলো যুদ্ধ তীব্র হয়েছে এবং চুল্লির মতো উত্তপ্ত হয়েছে। 'বুলক' শব্দটি 'আবলাক'-এর বহুবচন, যার অর্থ হলো এমন প্রাণী যার কালোর সাথে সাদা মিশ্রিত থাকে।
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়াহ - ইসমাইল আল-আসবাহানী (পৃষ্ঠা: ৫০)
‌‌‌‌فَصْلٌ

 

29 - ذَكَرَ الْوَاقِدِيُّ عَنِ الضَّحَّاكِ بْنِ عُثْمَانَ عَنْ مَخْرَمَةَ بْنِ سُلَيْمَان عَن إِبْرَاهِيم ابْن مُحَمَّدِ بْنِ طَلْحَةَ قَالَ قَالَ طَلْحَة بن عبيد الله رضي الله عنه حَضَرْتُ سُوقَ بُصْرَى فَإِذَا رَاهِبٌ فِي صَوْمَعَتِهِ يَقُولُ سَلُوا أَهْلَ هَذَا الْمَوْسِمِ أَفِيهِمْ مِنْ أَهْلِ الْحَرَمِ قَالَ طَلْحَة فَقلت نعم هَلْ ظَهَرَ أَحْمَدُ بَعْدُ قُلْتُ وَمن أَحْمد قَالَ ابْن عبد الله بن عبد المطلب هَذَا شَهْرُهُ الَّذِي يَخْرُجُ فِيهِ وَهُوَ آخِرُ الْأَنْبِيَاءِ وَمَخْرَجُهُ مِنَ الْحَرَمِ وَمُهَاجَرُهُ إِلَى نَخْلٍ وَحَرَّةٍ وَسِبَاخٍ فَإِيَّاكَ أَنْ تُسْبِقَ إِلَيْهِ قَالَ طَلْحَةُ فَوَقَعَ فِي قَلْبِي مَا قَالَ فَخَرَجْتُ سَرِيعًا حَتَّى قَدِمْتُ مَكَّةَ فَقُلْتُ هَلْ كَانَ مِنْ حَدَثٍ قَالُوا نَعَمْ مُحَمَّدٌ الْأَمِينُ تَنَبَّأَ وَقَدْ تَبِعَهُ ابْنُ أَبِي قُحَافَةَ فَخَرَجْتُ حَتَّى دَخَلْتُ عَلَى أَبِي بَكْرٍ فَقُلْتُ اتَّبَعْتَ هَذَا الرَّجُلَ قَالَ نَعَمْ فَانْطَلِقْ فَادْخُلْ عَلَيْهِ فَاتَّبِعْهُ فَإِنَّهُ يَدْعُو إِلَى الْحَقِّ فَأَخْبَرَهُ طَلْحَةُ بِمَا قَالَ الرَّاهِبُ فَخَرَجَ أَبُو بَكْرٍ بِطَلْحَةَ فَدَخَلَ بِهِ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَسْلَمَ طَلْحَةُ وَأَخْبَرَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمَا قَالَ الرَّاهِبُ فَسُرَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِذَلِكَ فَلَمَّا أَسْلَمَ أَبُو بَكْرٍ وَطَلْحَةُ رضي الله عنهما أَخَذَهُمَا نَوْفَلُ بْنُ خُوَيْلِدِ بْنِ الْعَدَوِيَّةِ فَشَدَّهُمَا فِي حَبْلٍ وَاحِدٍ فَلَمْ يَمْنَعْهُمَا بَنُو تَيْمٍ وَكَانَ نَوْفَلُ بْنُ خُوَيْلِدِ يُدْعَى أَشَدَّ قُرَيْشٍ فَلِذَلِكَ سُمِّيَ أَبُو بَكْرٍ وَطَلْحَةُ الْقَرِينَيْنِ

قَالَ الْإِمَامُ بُصْرَى بَلْدَةٌ بَالشَّامِ وَالْمَوْسِمُ مَجْمَعُ النَّاسِ لِلتِّجَارَةِ وَالْحَرَّةُ أَرْضٌ فِيهَا حِجَارَةٌ سُودٌ

فَصْلٌ

 

30 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيٍّ السِّمْسَارُ أَنَا أَبُو إِسْحَاقَ بْنُ خُورْشِيدَ قَوْلَةُ أَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سُلَيْمٍ ثَنَا الزُّبَيْرُ بْنُ بَكَّارٍ ثَنَا يَحْيَى بْنُ الْمِقْدَامِ عَنْ عَمِّهِ مُوسَى بْنِ يَعْقُوبَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ عبد الله عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ سُلَيْمَانَ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ عَنْ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ قَالَ سَمِعْنَا صَوْتًا من السَّمَاء وَقع إِلَى الْأَرْضِ كَأَنَّهُ صَوْتُ حَصَاةٍ فِي طَسْتٍ وَرَمَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِتِلْكَ الْحَصَيَاتِ يَوْمَ بَدْرٍ فَانْهَزَمْنَا
পরিচ্ছেদ

 

২৯ - ওয়াকিদি দাহহাক ইবনে উসমান থেকে, তিনি মাখরামা ইবনে সুলাইমান থেকে, তিনি ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে তালহা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: আমি বুসরার বাজারে উপস্থিত ছিলাম, এমতাবস্থায় একজন পাদ্রি তাঁর মঠে অবস্থানরত অবস্থায় বলছিলেন, "তোমরা এই মৌসুমে সমবেত লোকদের জিজ্ঞেস করো, তাদের মধ্যে কি হারাম শরীফের কোনো লোক আছে?" তালহা বলেন, আমি বললাম, "হ্যাঁ"। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "আহমদ কি আবির্ভূত হয়েছেন?" আমি বললাম, "আহমদ কে?" তিনি বললেন, "আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিবের পুত্র। এটিই সেই মাস যাতে তাঁর আবির্ভাব হওয়ার কথা। তিনি শেষ নবী। হারাম শরীফ থেকে তাঁর আবির্ভাব হবে এবং খেজুর বাগান, কৃষ্ণবর্ণের পাথুরে ভূমি ও লোনা মাটির ভূমিতে তাঁর হিজরত হবে। সাবধান! তুমি যেন তাঁর কাছে পৌঁছাতে অন্যদের চেয়ে পিছিয়ে না পড়ো।" তালহা বলেন, তাঁর কথাটি আমার অন্তরে গেঁথে গেল। আমি দ্রুত বের হয়ে মক্কায় এলাম এবং জিজ্ঞেস করলাম, "নতুন কোনো ঘটনা ঘটেছে কি?" তারা বলল, "হ্যাঁ, বিশ্বস্ত মুহাম্মদ নবুওয়তের দাবি করেছেন এবং আবু কুহাফার পুত্র তাঁর অনুসরণ করেছেন।" আমি বেরিয়ে আবু বকরের কাছে গেলাম এবং বললাম, "আপনি কি এই লোকটির অনুসরণ করেছেন?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ। তুমিও তাঁর কাছে যাও এবং তাঁর অনুসরণ করো, কারণ তিনি সত্যের দিকে আহ্বান জানাচ্ছেন।" তালহা পাদ্রির কথা তাঁকে জানালেন। অতঃপর আবু বকর তালহাকে সাথে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গেলেন এবং তালহা ইসলাম গ্রহণ করলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকেও পাদ্রির কথা জানালেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতে আনন্দিত হলেন। যখন আবু বকর ও তালহা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) ইসলাম গ্রহণ করলেন, তখন নওফেল ইবনে খুয়াইলিদ ইবনে আল-আদাবিয়্যাহ তাঁদের উভয়কে ধরে একটি রশি দিয়ে একত্রে বেঁধে ফেললেন। বনু তাইম গোত্র তাঁদের রক্ষা করতে এগিয়ে আসেনি। নওফেল ইবনে খুয়াইলিদ কুরাইশদের মধ্যে অত্যন্ত শক্তিশালী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এ কারণেই আবু বকর ও তালহাকে 'আল-কারিনাইন' (একত্রিত জোড়া) বলা হয়।

ইমাম বলেন, বুসরা হলো শামের একটি শহর। মৌসুম হলো বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে মানুষের সমবেত হওয়ার স্থান। আর হাররাহ হলো এমন ভূমি যেখানে কালো পাথর থাকে।

পরিচ্ছেদ

 

৩০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আলী আস-সিমসার, তিনি আবু ইসহাক ইবনে খুরশিদ কাওলাহ থেকে, তিনি আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুলাইম থেকে, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন জুবাইর ইবনে বাক্কার, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে মিকদাম, তিনি তাঁর চাচা মুসা ইবনে ইয়াকুব থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবদুল্লাহ থেকে, তিনি আবু বকর ইবনে সুলাইমান ইবনে আবি হাসমাহ থেকে, তিনি হাকিম ইবনে হিজাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: আমরা আসমান থেকে জমিনে একটি আওয়াজ পতিত হতে শুনলাম, যা ছিল অনেকটা তশতরি বা বড় পাত্রে কঙ্করের পতনের শব্দের মতো। বদরের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই কঙ্করগুলো নিক্ষেপ করলেন এবং আমরা পরাজিত হলাম।
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়াহ - ইসমাইল আল-আসবাহানী (পৃষ্ঠা: ৫১)
‌‌‌‌‌‌فَصْلٌ

 

31 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ السِّمْسَارُ أَنَا أَبُو إِسْحَاقَ بْنُ خُورْشِيدَ قَوْلَةُ أَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ ابْن سُلَيْمٍ ثَنَا الزُّبَيْرُ ثَنَا أَبُو ضَمرَة عَن عبد الله بن عبد العزيز عَنْ عُمَرَ بْنِ مِرْدَاسِ بْنِ عبد الرحمن الْجُنْدَعِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ابْسُطْ ثَوْبَكَ فَبَسَطْتُهُ ثُمَّ حَدَّثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامَّةَ النَّهَارِ ثُمَّ ضَمَمْتُ ثَوْبِي إِلَى بَطْنِي فَمَا نَسِيتُ شَيْئًا مِمَّا حَدَّثَنِي

فَصْلٌ

 

32 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ أَنَا هِبَةُ اللَّهِ بْنُ الْحَسَنِ أَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُبَيْدٍ أَنَا عَلِيُّ بْنُ عبد الله بْنِ مُبَشِّرٍ أَنَا أَحْمَدُ بْنُ سِنَانَ ثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ ثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ أَبِي ظَبْيَانَ عِنِ ابْنِ عَبَاسٍ رضي الله عنه قَالَ أُتِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم رجل من بن عَامِرٍ فَقَالَ أَرِنِي هَذَا الْخَاتَمَ الَّذِي بَيْنَ كَتِفَيْكَ فَإِنْ يَكُ بك طب داويتك فَإِنِّي أَطَبُّ الْعَرَبِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِنِّي أُرِيكَ آيَةً قَالَ نَعَمْ قَالَ ادْع الْعَذْقَ فَنَظَرَ إِلَى عَذْقٍ فِي نَخْلَةٍ فَدَعَاهُ فَجَاءَ يَنْقِزُ حَتَّى قَامَ بَيْنَ يَدَيْهِ فَقَالَ قَلْ لَهُ يرجع قَالَ فَرجع إِلَى مَكَانَهُ فَقَالَ يَا بَنِي عَامِرٍ مَا رَأَيْتُ كَالْيَوْمِ أَسْحَرَ

قَالَ الْإِمَامُ رحمه الله قَالَ أَهْلُ اللُّغَةِ الطِّبُّ السِّحْرُ وَالطَّبِيبُ الْمُدَاوِي وَقَوْلُهُ أَطَبُّ الْعَرَبِ أَيْ أَعْلَمُهُمْ بِالْمُدَاوَاةِ وَالْعَذْقُ غُصْنُ النَّخْلِ وَنَقَزَ إِذَا وَثَبَ يَنْقِزُ

فَصْلٌ

 

33 - أَخْبَرَنَا عَاصِمُ بْنُ الْحَسَنِ بِبَغْدَادَ أَنَا أَبُو عُمَرَ بْنُ مَهْدِيٍّ ثَنَا الْحُسَيْن بن يحيى ابْن عَيَّاشٍ ثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ هُوَ الزَّعْفَرَانِيُّ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ الطَّنَافِسِيُّ ثَنَا مِسْعَرٌ عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ سَعْدِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ رَأَيْتُ عَنْ يَمِينِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعَنْ شِمَالِهِ يَوْمَ أُحُدٍ رَجُلَيْنِ عَلَيْهِمَا ثِيَابٌ بَيَاضٌ لَمْ أَرَهُمَا قَبْلَ وَلَا بعد

34 - وَحَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ ثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ يَعْنِي عَنْ جَدِّهِ عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَاصٍ رضي الله عنه قَالَ لَقَدْ رَأَيْتُ عَنْ يَمِينِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعَنْ يَسَارِهِ يَوْمَ أُحُدٍ رَجُلَيْنِ عَلَيْهِمَا ثِيَابٌ بَيَاضٌ يُقَاتِلَانِ عَنْهُ كَأَشَدِّ الْقِتَالِ مَا رَأَيْتُهُمَا قَبْلَ وَلَا بَعْدُ
পরিচ্ছেদ

 

৩১ - আবু বকর আস-সিমসার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু ইসহাক ইবনে খুরশীদ কওলাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুলাইম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, যুবায়ের আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু দামরাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল আজিজ থেকে, তিনি উমর ইবনে মিরদাস ইবনে আবদুর রহমান আল-জুনদাঈ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন, "তোমার চাদরটি বিছিয়ে দাও।" অতঃপর আমি তা বিছিয়ে দিলাম। এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দিনের অধিকাংশ সময় আমার সাথে কথা বললেন। এরপর আমি আমার চাদরটি আমার বুকের সাথে জড়িয়ে নিলাম, ফলে তিনি আমাকে যা যা বলেছিলেন তার কিছুই আমি ভুলে যাইনি।

পরিচ্ছেদ

 

৩২ - আহমদ ইবনে আলী ইবনুল হুসাইন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হিবাতুল্লাহ ইবনুল হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ ইবনে উবাইদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আলী ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুবাশশির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ ইবনে সিনান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুয়াবিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-আ’মাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু যাবইয়ান থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: বনু আমির গোত্রের এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল, "আপনার দুই কাঁধের মাঝখানে যে মোহরটি রয়েছে তা আমাকে দেখান। যদি আপনার কোনো রোগ থেকে থাকে তবে আমি আপনার চিকিৎসা করব, কারণ আমি আরবদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ চিকিৎসক।" তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, "আমি তোমাকে একটি নিদর্শন দেখাব।" সে বলল, "হ্যাঁ।" তিনি খেজুরের একটি কাঁদিকে ডাকলেন। সে ব্যক্তি একটি খেজুর গাছের কাঁদির দিকে তাকাল, তিনি সেটিকে ডাকলে সেটি লাফাতে লাফাতে এসে তাঁর সামনে দাঁড়াল। এরপর তিনি সেটিকে ফিরে যেতে বললেন। বর্ণনাকারী বলেন, সেটি তার স্থানে ফিরে গেল। তখন সে ব্যক্তি বলল, "হে বনু আমির! আজকের মতো এত বড় জাদুকর আমি আর কখনো দেখিনি।"

ইমাম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: ভাষাবিদগণ বলেছেন, 'তিব্ব' অর্থ জাদু এবং 'তবিব' অর্থ চিকিৎসাকারী। আর তাঁর উক্তি 'আরবদের শ্রেষ্ঠ চিকিৎসক' অর্থাৎ চিকিৎসার বিষয়ে তাদের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী। আর 'আল-আযক' হলো খেজুর গাছের শাখা। আর 'নাক্বাযা' মানে লাফিয়ে চলা বা লাফ দেওয়া।

পরিচ্ছেদ

 

৩৩ - আসিম ইবনুল হাসান বাগদাদে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু উমর ইবনে মাহদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-হুসাইন ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আইয়াশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ—যিনি আয-যাফরানী—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ আত-তানাফিসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মিসআর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাদ ইবনে ইবরাহিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি সাদ ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উহুদের যুদ্ধের দিন আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ডানে ও বামে সাদা কাপড় পরিহিত দুজন ব্যক্তিকে দেখেছি, যাঁদের আমি এর আগে বা পরে কখনো দেখিনি।

৩৪ - এবং আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুলাইমান ইবনে দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবরাহিম ইবনে সাদ তাঁর পিতা থেকে, অর্থাৎ তাঁর দাদা থেকে, তিনি সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি উহুদের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ডানে ও বামে সাদা কাপড় পরিহিত দুজন ব্যক্তিকে দেখেছি, তাঁরা তাঁর পক্ষ হয়ে অত্যন্ত কঠোরভাবে যুদ্ধ করছিলেন; আমি তাঁদের এর আগে বা পরে কখনো দেখিনি।
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়াহ - ইসমাইল আল-আসবাহানী (পৃষ্ঠা: ৫২)
‌‌‌‌فَصْلٌ

 

35 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ السَّمَرْقَنْدِيُّ الْحَافِظُ رحمه الله أَنَا عبد الصمد بْنُ نَصْرٍ العَاصِمِيُّ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عِمْرَانَ الشَّاشِيُّ ثَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْبَجِيرِيُّ ثَنَا أَبُو نَشِيطٍ مُحَمَّدُ بْنُ هَارُونَ بْنِ نَشِيطٍ ثَنَا عُمَرُ بْنُ الرَّبِيعِ بْنِ طَارِقٍ الْهِلَالِيُّ ثَنَا يَحْيَى هُوَ ابْنُ أَيُّوبَ عَنْ حُمَيْدٍ قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه يُحَدِّثُ أَنَّ رَجُلًا كَانَ يَكْتُبُ لِلنَبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَكَانَ قَدْ قَرَأَ الْبَقَرَةَ وَآلَ عِمْرَانَ وَكَانَ الرَّجُلُ إِذَا قَرَأَ الْبَقَرَةَ وَآلَ عِمَرَانَ عُدَّ فِينَا قَالَ فَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُمْلِي عَلَيْهِ غَفُورًا رَحِيمًا فَيَكْتُبُ عَلِيمًا حَكِيمًا فَيَقُولُ لِلنَبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَكْتُبُ كَذَا وَكَذَا فَيْقُولُ لَهُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم اكْتُبْ كَيْفَ شِئْتَ وَيُمْلِي عَلَيْهِ عَلِيمًا حَكِيمًا فَيَقُولُ أَكْتُبُ سَمِيعًا بَصِيرًا فَيَقُولُ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم اكْتُبْ فَهُوَ كَذَلِكَ قَالَ فَارْتَدَّ عَنِ الْإِسْلَامِ وَلَحِقَ بِالْمُشْرِكِينَ فَقَالَ أَنَا أَعْلَمُكُمْ بِمُحَمَّدٍ إِنْ كَانَ لَيَقُولُ اكْتُبْ مَا شِئْتَ فَمَاتَ فَقَالَ إِنَّ الْأَرْضَ لَنْ تَقْبَلَهُ قَالَ أَنَسٌ فَأَخْبَرَنِي أَبُو طَلْحَةَ أَنَّهُ أَتَى الْأَرْضَ الَّتِي مَاتَ فِيهَا فَوَجَدَهُ مَنْبُوذًا فَقَالَ أَبُو طَلْحَةَ مَا شَأْنُ هَذَا الرَّجُلِ قَالُوا قَدْ دَفَنَّاهُ فَلَمْ تَقْبَلْهُ الْأَرْضُ

قَالَ الْإِمَامُ رحمه الله كَذَا فِي كِتَابِي عُدَّ فِينَا وَالْمَحْفُوظُ جَدَّ فِينَا أَيْ عَظُمَ فِي نُفُوسِنَا وَقُلُوبِنَا وَقَوْلُهُ مَنْبُوذًا أَيْ مَطْرُوحًا عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ وَقَوْلُهُ اكْتُبْ كَيْفَ شِئْتَ يَعْنِي اكْتُبْ هَذِهِ الْكَلِمَةَ كَيْفَ شِئْتَ إِنْ شِئْتَ غَفُورًا رَحِيمًا وَإِنْ شِئْتَ عَلِيمًا حَكِيمًا فَقَدْ نَزَلَ جَبْرَيلُ عليه السلام بِهِمَا جَمِيعًا

فَصْلٌ

 

36 - أَخْبَرَنَا عبد الرحمن بْنُ مُحَمَّدٍ السِّمْسَارُ أَنَا عَلِيُّ بْنُ مَاشَاذَةَ ثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ زَيْدٍ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى ثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ سَالِمٍ ثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه قَالَ كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي غُزَاةِ تَبُوكَ فَشَدَّ ذِئْبٌ عَلَى غَنَمٍ فَأَخَذَ مِنْهَا فَشَدَّتِ الرِّعَاءَ عَلَيْهِ فَقَالَ الذِّئْبُ طَعْمَةٌ أَطْعَمَنِيهَا اللَّهُ عز وجل تَنْزِعُونَهَا مِنِّي قَالَ فَتَعَجَّبَ الْقَوْمُ فَقَالَ مَا تَعْجَبُونَ مِنْ كَلَام ذِئْب وَقَدْ نَزَلَ الْوَحْيُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَمَنْ مُصَدِّقٌ وَمُكَذِّبٌ
‌‌‌পরিচ্ছেদ

 

৩৫ - হাফেজ হাসান বিন আহমদ আস-সামারকান্দি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবদুস সামাদ বিন নাসর আল-আসিমী আমাদের জানিয়েছেন, মুহাম্মাদ বিন আহমদ বিন ইমরান আশ-শাশী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, উমর বিন মুহাম্মাদ আল-বাজীরী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু নাশীত মুহাম্মাদ বিন হারুন বিন নাশীত আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, উমর বিন রাবী’ বিন তারিক আল-হিলালী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইয়াহইয়া (তিনি ইবনে আইয়ুব) হুমায়দ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি আনাস বিন মালিককে (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) বর্ণনা করতে শুনেছি যে, জনৈক ব্যক্তি নবীজির (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) জন্য ওহী লিখত। সে সূরা আল-বাকারাহ ও সূরা আলে ইমরান পাঠ করেছিল। যখন কোনো ব্যক্তি সূরা আল-বাকারাহ ও সূরা আলে ইমরান পাঠ করত, তখন আমাদের মাঝে তাকে অত্যন্ত মর্যাদাবান বলে গণ্য করা হতো। আনাস বলেন, নবীজি (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) তাকে 'গফুরুন রাহীম' (অতি ক্ষমাশীল পরম দয়ালু) লিখাতেন, কিন্তু সে 'আলীমান হাকীমান' (সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়) লিখে ফেলত। সে নবীজিকে (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) জিজ্ঞাসা করত, আমি কি এভাবে এভাবে লিখব? তখন নবীজি (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) তাকে বলতেন, "তুমি যেভাবে চাও সেভাবেই লেখো।" আবার তিনি তাকে 'আলীমান হাকীমান' লিখাতেন, তখন সে বলত, আমি কি 'সামীউন বাসীর' (সর্বশ্রোতা সর্বদ্রষ্টা) লিখব? তখন নবীজি (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলতেন, "লেখো, কারণ এটিও সে রকমই।" আনাস বলেন, এরপর সে ইসলাম থেকে বিচ্যুত হয়ে মুশরিকদের সাথে গিয়ে যোগ দিল। সে বলতে লাগল, "আমি মুহাম্মাদ সম্পর্কে তোমাদের চেয়ে ভালো জানি। তিনি তো আমাকে বলতেন তুমি যা ইচ্ছা তা লেখো।" এরপর সে মারা গেল। তখন নবীজি বললেন, "নিশ্চয়ই জমিন তাকে গ্রহণ করবে না।" আনাস বলেন, আবু তালহা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি সেই জমিনে গিয়েছিলেন যেখানে সে মারা গিয়েছিল। তিনি সেখানে তাকে নিক্ষিপ্ত অবস্থায় পেলেন। আবু তালহা বললেন, "এই লোকটির ব্যাপার কী?" তারা বলল, "আমরা তাকে দাফন করেছিলাম, কিন্তু জমিন তাকে গ্রহণ করেনি।"

ইমাম (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন, আমার কিতাবে এভাবেই আছে 'আমাদের মাঝে গণ্য করা হতো', তবে সংরক্ষিত পাঠ হলো 'আমাদের মাঝে মর্যাদাবান হয়েছিল' অর্থাৎ আমাদের মনে ও হৃদয়ে সে মহান হয়ে উঠেছিল। আর তাঁর কথা 'মানবূযান' এর অর্থ হলো জমিনের উপরিভাগে নিক্ষিপ্ত বা ফেলে রাখা অবস্থায়। আর তাঁর কথা 'তুমি যেভাবে চাও লেখো' অর্থাৎ তুমি এই শব্দটি যেভাবে চাও লেখো; যদি চাও 'গফুরুন রাহীম' লেখো আর যদি চাও 'আলীমান হাকীমান' লেখো, কারণ জিবরীল (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) উভয়টি নিয়েই অবতীর্ণ হয়েছিলেন।

পরিচ্ছেদ

 

৩৬ - আবদুর রহমান বিন মুহাম্মাদ আস-সিমসার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আলী বিন মাশাযা আমাদের জানিয়েছেন, ইসহাক বিন ইবরাহীম বিন যায়িদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আলী বিন হাসান বিন সালিম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আল-হুসাইন বিন সুলায়মান আবদুল মালিক বিন উমায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আনাস বিন মালিক (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আমি তাবুক যুদ্ধে নবীজির (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) সাথে ছিলাম। তখন একটি নেকড়ে একপাল ছাগলের ওপর আক্রমণ করল এবং সেখান থেকে একটি নিয়ে নিল। রাখালরা তাকে ধরার জন্য দ্রুত ছুটল। তখন নেকড়েটি বলল, "এটি এমন এক আহার যা আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী আমাকে দান করেছেন, আর তোমরা তা আমার থেকে কেড়ে নিচ্ছ?" আনাস বলেন, এতে লোকেরা বিস্মিত হলো। তখন নেকড়েটি বলল, "তোমরা একটি নেকড়ের কথায় বিস্মিত হচ্ছ? অথচ আল্লাহর রাসূলের (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) ওপর ওহী অবতীর্ণ হচ্ছে, যেখানে কেউ বিশ্বাস করছে আবার কেউ তা অস্বীকার করছে।"
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়াহ - ইসমাইল আল-আসবাহানী (পৃষ্ঠা: ৫৩)
‌‌فَصْلٌ فِي جَرَيَانِ الْمَاءِ بَيْنَ أَصَابِعِهِ

 

37 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ زَاهِرٍ الطُّوسِيُّ أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْفَارِسِيُّ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سُفْيَانَ ثَنَا مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ ثَنَا هَارُونُ بْنُ مَعْرُوفٍ وَمُحَمَّدُ ابْن عَبَّادٍ حَدَّثَنِي وَتَقَارَبَا فِي لَفْظِ الْحَدِيثِ وَالسِّيَاقِ لِهَارُونَ قَالَا ثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ مُجَاهِدٍ أَبِي حَزْرَةَ عَنْ عَبَادَةَ بْنِ الْوَلِيدِ بْنِ عَبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ خَرَجْتُ أَنَا وَأَبِي نَطْلُبُ الْعِلْمَ فِي هَذَا الْحَيِّ مِنَ الْأَنْصَارِ قَبْلَ أَنْ يَهْلَكُوا وَكَانَ أَوَّلُ مَنْ لَقَيْنَا أَبَا الْيَسَرِ صَاحِبَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَمَعَهُ غُلَامٌ لَهُ مَعَهُ ضِمَامَةٌ مِنْ صُحُفٍ وَعَلَى أَبِي الْيَسَرِ بُرْدَةٌ وَمَعَافِرِيٌّ وَعَلَى غُلَامِهِ بُرْدَةٌ وَمَعَافِرِيٌّ فَقَالَ لَهُ أبي ياعم إِنِّي أَرَى فِي وَجْهِكِ سَفْعَةٌ مِنْ غَضَبٍ قَالَ أَجَلْ كَانَ لِي عَلَى فُلَانٍ الْحِزَامِيِّ فَأَتَيْتُ أَهْلَهُ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَقُلْتُ ثَمَّ هُوَ قَالُوا لَا فَخَرَجَ عَلَيَّ ابْنٌ لَهُ جَفْرٌ فَقُلْتُ أَيْنَ أَبُوكَ قَالَ سَمِعَ صَوْتَكَ فَدَخَلَ أَرِيكَةَ أُمِّي فَقُلْتُ اخْرُجْ إِلَيَّ فَقَدْ عَلِمْتُ أَيْنَ أَنْتَ فَخَرَجَ فَقُلْتُ مَا حَمَلَكَ عَلَى أَنِ اخْتَبَأْتَ مِنِّي قَالَ أَنَا وَاللَّهِ أُحَدِّثُكَ ثُمَّ لَا أَكْذِبُكَ خَشِيتُ وَاللَّهِ أَنْ أُحَدِّثَكَ فَأَكْذِبَكَ وَأَنْ أَعِدَكَ فَأُخْلِفَكَ وَكُنْتَ صَاحِبَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكُنْتُ وَاللَّهِ مُعْسِرًا قَالَ قُلْتُ آالله قَالَ آالله قلت آالله قَالَ آالله قلت آالله قَالَ آالله فَقَالَ بِصَحِيفَتِهِ فَمَحَاهَا بِيَدِهِ فَقَالَ فَإِنْ وَجَدْتَ قَضَاءً فَاقْضِ وَإِلَّا أَنْتَ فِي حِلٍّ فَأَشْهَدُ بَصَرُ عَيْنَيَّ هَاتَيْنِ وَوَضَعَ إصْبَعَهُ عَلَى عَيْنَيْهِ وَسَمْعُ أُذُنَيَّ هَاتَيْنِ وَوَعَاهُ قَلْبِي وَأَشَارَ إِلَى مَنَاطِ قَلْبِهِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَقُولُ مَنْ أَنْظَرَ مُعْسِرًا أَوْ وَضَعَ عَنْهُ أَظَلَّهُ اللَّهُ فِي ظِلِّهِ قَالَ فَقُلْتُ لَهُ أَنَا يَا عَمُّ لَوْ أَنَّكَ أَخَذْتَ بُرْدَةَ غُلَامِكَ وَأَعْطَيْتَهُ مَعَافِرَيَّكَ أَوْ أَخَذْتَ مَعَافِرَيَّهِ وَأَعْطَيْتَهُ بُرْدَتَكَ فَكَانَتْ علَيْكَ حُلَّةٌ وَعَلَيْهِ حُلَّةٌ فَمَسَحَ رَأْسِي وَقَالَ اللَّهُمَّ بَارِكْ فيِهِ يَا ابْنَ أَخِي بَصَرُ عَيْنَيَّ هَاتَيْنِ وَسَمْعُ أُذُنَيَّ هَاتَيْنِ وَوَعَاهُ قَلْبِي هَذَا وَأَشَارَ إِلَى مَنَاطِ قَلْبِهِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَقُولُ أَطْعِمُوهُمْ مِمَّا تَأْكُلُونَ وَاكْسُوهُمْ مِمَّا تَلْبَسُونَ وَكَانَ أَنْ أُعْطِيَهُ مِنْ مَتَاعِ الدُّنْيَا أَهْوَنُ عَلَيَّ مِنْ أَنْ يَأَخُذَ مِنْ حَسَنَاتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ ثُمَّ مَضَيْنَا حَتَّى أَتَيْنَا جَابر بن عبد الله فَي مَسْجِدِهِ وَهُوَ يُصَلِّيَ فِي ثَوْبٍ وَاحِدِ مُشْتَمِلًا
তাঁর আঙুলসমূহের মাঝখান দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়া সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

 

৩৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে জহির আত-তুসি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম আল-ফারিসি, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ঈসা, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুফিয়ান, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হারুন ইবনে মারুফ ও মুহাম্মদ ইবনে আব্বাদ; হারুনের বর্ণিত হাদীসের শব্দ ও প্রসঙ্গের কাছাকাছি বর্ণনা করে তারা উভয়ে বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হাতিম ইবনে ইসমাইল, ইয়াকুব ইবনে মুজাহিদ আবু হাজরা থেকে, তিনি উবাদাহ ইবনে ওয়ালিদ ইবনে উবাদাহ ইবনে সামিত থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি এবং আমার পিতা আনসারদের এই মহল্লায় ইলম অন্বেষণের জন্য বের হলাম তারা মৃত্যুবরণ করার আগে। আমাদের সাথে সর্বপ্রথম যার সাক্ষাৎ হলো তিনি হলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথী আবু ইয়াসার। তাঁর সাথে তাঁর এক গোলাম ছিল যার কাছে কিতাবপত্রের একটি বান্ডিল ছিল। আবু ইয়াসারের গায়ে একটি চাদর ও একটি মাআফিরি বস্ত্র ছিল এবং তাঁর গোলামের গায়েও একটি চাদর ও একটি মাআফিরি বস্ত্র ছিল। আমার পিতা তাঁকে বললেন: হে চাচা! আমি আপনার চেহারায় রাগের চিহ্ন দেখতে পাচ্ছি। তিনি বললেন: হ্যাঁ, অমুক হিজামির কাছে আমার পাওনা ছিল। আমি তার পরিবারের কাছে এসে তাকে সালাম দিলাম এবং বললাম, সে কি সেখানে আছে? তারা বলল: না। তখন তার এক ছোট ছেলে আমার কাছে বেরিয়ে এল। আমি বললাম: তোমার পিতা কোথায়? সে বলল: তিনি আপনার কণ্ঠস্বর শুনেছেন এবং আমার মায়ের পালঙ্কের নিচে ঢুকে পড়েছেন। আমি বললাম: আমার কাছে বেরিয়ে এসো, কারণ আমি জেনে গেছি তুমি কোথায় আছ। তখন সে বের হয়ে এল। আমি বললাম: আমার কাছ থেকে লুকিয়ে থাকতে তোমাকে কিসে উদ্বুদ্ধ করল? সে বলল: আল্লাহর কসম, আমি আপনাকে বলছি এবং আপনার কাছে মিথ্যা বলব না; আল্লাহর কসম, আমি এই ভয়ে ছিলাম যে আপনার সাথে কথা বললে মিথ্যা বলব এবং আপনার কাছে প্রতিশ্রুতি দিলে তা ভঙ্গ করব। আর আপনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী, আর আল্লাহর কসম আমি অভাবগ্রস্ত ছিলাম। তিনি বললেন: আমি বললাম: আল্লাহর কসম (তুমি কি অভাবগ্রস্ত)? সে বলল: আল্লাহর কসম। আমি বললাম: আল্লাহর কসম? সে বলল: আল্লাহর কসম। আমি বললাম: আল্লাহর কসম? সে বলল: আল্লাহর কসম। অতঃপর তিনি তাঁর পাওনাপত্রের খাতাটি নিলেন এবং নিজের হাত দিয়ে তা মুছে ফেললেন। তারপর বললেন: যদি তুমি পরিশোধের সামর্থ্য পাও তবে পরিশোধ করো, অন্যথায় তুমি দায়মুক্ত। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আমার এই দুই চোখের দৃষ্টি দিয়ে — এবং তিনি তাঁর দুই চোখের উপর আঙুল রাখলেন — এবং আমার এই দুই কানের শ্রবণ দিয়ে এবং আমার হৃদয় তা ধারণ করেছে — এবং তিনি তাঁর হৃদয়ের মূল কেন্দ্রের দিকে ইশারা করলেন — রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে যে: "যে ব্যক্তি কোনো অভাবগ্রস্তকে সময় দেবে অথবা তার ঋণ মাফ করে দেবে, আল্লাহ তাকে তাঁর ছায়ায় ছায়া দান করবেন।" বর্ণনাকারী বলেন: আমি তাঁকে বললাম: হে চাচা! আপনি যদি আপনার গোলামের চাদরটি নিতেন এবং তাকে আপনার মাআফিরি বস্ত্রটি দিতেন, অথবা তার মাআফিরি বস্ত্রটি নিতেন এবং তাকে আপনার চাদরটি দিতেন, তবে আপনার গায়েও এক জোড়া পূর্ণ পোশাক হতো এবং তার গায়েও এক জোড়া পূর্ণ পোশাক হতো। তখন তিনি আমার মাথায় হাত বুলালেন এবং বললেন: হে আল্লাহ! তাকে বরকত দিন। হে ভ্রাতুষ্পুত্র! আমার এই দুই চোখের দৃষ্টি, আমার এই দুই কানের শ্রবণ এবং আমার এই হৃদয় তা ধারণ করেছে — এবং তিনি তাঁর হৃদয়ের মূল কেন্দ্রের দিকে ইশারা করলেন — রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে যে: "তোমরা যা খাও তা থেকে তাদের খাওয়াও এবং তোমরা যা পরিধান করো তা থেকে তাদের পরিধান করাও।" আর কিয়ামতের দিন সে আমার নেক আমলসমূহ থেকে গ্রহণ করবে তার চেয়ে দুনিয়ার সম্পদ থেকে তাকে দিয়ে দেওয়া আমার কাছে অনেক বেশি সহজ। অতঃপর আমরা চলতে থাকলাম যতক্ষণ না জাবির ইবনে আবদুল্লাহর কাছে তাঁর মসজিদে পৌঁছলাম, তখন তিনি এক কাপড়ে তা জড়িয়ে নামায পড়ছিলেন।
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়াহ - ইসমাইল আল-আসবাহানী (পৃষ্ঠা: ৫৪)
بِهِ فَتَخَطَّيْتُ الْقَوْمَ حَتَّى جَلَسْتُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْقِبْلَةِ فَقُلْتُ يَرْحَمُكَ اللَّهُ تُصَلِّيَ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ وَرِدَاؤُكَ إِلَى جَنْبِكَ فَقَالَ بِيَدِهِ فِي صَدْرِي هَكَذَا وَفَرَّقَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ وَقَوَّسَهَا أَرَدْتُ أَنْ يَدْخُلَ عَلَيَّ الْأَحْمَقُ مِثْلُكَ فَيَرَانِي كَيْفَ أَصْنَعُ فَيَصْنَعُ مِثْلَهُ

أَتَانَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي مَسْجِدِنَا هَذَا وَفِي يَدِهِ عُرْجُونُ بْنُ طَابٍ فَرَأَى فِي قِبْلَةِ الْمَسْجِدِ نُخَامَةً فَحَكَّهَا بِالْعُرْجُونِ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا فَقَالَ أَيُّكُمْ يُحِبُّ أَنْ يُعْرِضَ اللَّهُ عَنْهَ قَالَ فَخَشَعْنَا ثُمَّ قَالَ أَيُّكُمْ يُحِبُّ أَنْ يُعْرِضَ اللَّهُ عَنْهَ قُلْنَا لَا أَيّنَا يارسول اللَّهِ قَالَ فَإِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا قَامَ يُصَلِّي فَإِنَّ اللَّهَ تبارك وتعالى قِبَلُ وَجْهِهِ فَلَا يَبْصُقَنَّ قِبَلَ وَجْهِهِ وَلَا عَنْ يَمِينِهِ وَلْيَبْصُقْ عَنْ يَسَارِهِ تَحْتَ رِجْلِهِ الْيُسْرَى فَإِنَّ عَجِلَتْ بِهِ بَادِرَةٌ فَلْيَقِلْ بِثَوْبِهِ هَكَذَا ثُمَّ طَوَى ثَوْبَهُ بَعْضَهُ عَلَى بَعْضٍ وَقَالَ أَرُونِي عَبِيرًا فَقَامَ فَتًى مِنَ الْحَيِّ يَشْتَدُّ إِلَى أَهْلِهِ فَجَاءَ بِخَلُوقٍ فِي رَاحَتِهِ فَأَخَذَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَعَلَهُ عَلَى رَأْسِ الْعُرْجُونِ ثُمَ لَطَّخَ بِهِ عَلَى أَثَرِ النُخَامَةِ قَالَ جَابِرٌ فَمِنْ هُنَاكَ جَعَلْتُمُ الْخَلُوقَ فِي مَسَاجِدِكُمْ

سِرْنَا مَعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَزْوَةِ بَطْنِ بُوَاطٍ وَهُوَ يَطْلُبُ الْمَجْدِيُّ بْنُ عَمْرٍو الْجُهَنِيّ وَكَانَ الناصح يَعْقُبُهُ مِنَّا الْخَمْسَةُ وَالسِّتَّةُ وَالسَّبْعَةُ فَدَارَتْ عُقْبَةُ رَجُلٍ مِنَ الْأَنْصَارِ على نَاصح لَهُ فَأَنَاخَهُ فَرَكِبَهُ ثُمَّ بَعَثَهُ فَتَلَدَّنَ عَلَيْهِ بَعْضَ التَلَدُّنِ فَقَالَ شَأْ لَعَنَكَ اللَّهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ هَذَا اللَّاعِنُ بَعَيْرَهُ قَالَ أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ انْزِلْ عَنْهُ فَلَا تَصْحَبْنَا بِمَلْعُونٍ لَا تَدْعُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ وَلَا تدعوا على أَوْلَادكُم وَلَا تَدْعُوا عَلَى أَمْوَالِكُمْ لَا تُوَافِقُوا من الله سَاعَة يسئل فِيهَا عَطَاءً فَيَسْتَجِيبُ لَكُمْ

سِرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى إِذَا كَانَ عُشَيْشِيَّةً وَدَنَوْنَا مِنْ مِيَاهِ الْعَرَبِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ رَجُلٌ يَتَقَدَّمُنَا فَيَمْدُرُ الْحَوْضَ فَيَشْرَبُ وَيَسْقِينَا قَالَ جَابَرٌ فَقُمْتُ فَقُلْتُ هَذَا رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَيُّ رَجُلٍ مَعَ جَابِرٍ فَقَامَ جَبَّارُ بْنُ صَخْرٍ فَانْطَلَقْنَا إِلَى الْبِئْرِ فَنَزَعْنَا فِي الْحَوْضِ سِجْلًا أَوْ سِجْلَيْنِ ثُمَّ مَدَرْنَاهُ ثُمَّ نَزَعْنَا فِيهِ حَتَّى أَفْهَقْنَاهُ وَكَانَ أَوَّلَ طَالِعٍ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أتأذنان قُلْنَا نعم يارسول اللَّهِ فَأَشْرَعَ نَاقَتَهُ فَشَرِبَتْ يَعْنِي ثُمَّ شَنَّ لَهَا فَفَشَجَّتْ فَبَالَتْ ثُمَّ عَدَلَ بِهَا فَأَنَاخَهَا ثُمَّ جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْحَوْضِ فَتَوَضَّأَ مِنْهُ ثُمَّ قُمْتُ فَتَوَضَّأْتُ مِنْ مُتَوَضَّإِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَهَبَ جَبَّارُ بْنُ صَخْرٍ يَقْضِي حَاجَتَهُ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِيُصَلِّي وَكَانَتْ عَلَيَّ بُرْدَةٌ ذَهَبْتُ أَنْ أُخَالِفَ
আমি তাঁর কাছে যাওয়ার জন্য লোকেদের কাতার অতিক্রম করলাম এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর ও কিবলার মাঝখানে বসলাম। আমি বললাম, "আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন, আপনি একটি মাত্র কাপড়ে সালাত আদায় করছেন অথচ আপনার চাদরটি আপনার পাশেই রয়েছে?" তখন তিনি তাঁর হাত দিয়ে আমার বুকে এভাবে আঘাত করলেন এবং তাঁর আঙ্গুলগুলো পৃথক করে বাঁকা করলেন। তিনি বললেন, "আমি চেয়েছিলাম তোমার মতো কোনো নির্বোধ আমার কাছে আসুক এবং দেখুক আমি কীভাবে কাজ করছি, যাতে সেও অনুরূপ করতে পারে।"

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এই মসজিদে আসলেন, তাঁর হাতে ইবনে তাব নামক খেজুরের একটি ডাল ছিল। তিনি মসজিদের কিবলার দিকে কিছু শ্লেষ্মা দেখতে পেলেন এবং সেটি ডালটি দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করলেন। এরপর তিনি আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, "তোমাদের মধ্যে কে পছন্দ করে যে আল্লাহ তার থেকে বিমুখ হয়ে থাকুন?" বর্ণনাকারী বলেন, এতে আমরা ভীত ও বিনীত হলাম। এরপর তিনি পুনরায় বললেন, "তোমাদের মধ্যে কে পছন্দ করে যে আল্লাহ তার থেকে বিমুখ হয়ে থাকুন?" আমরা বললাম, "হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের কেউই তা পছন্দ করে না।" তিনি বললেন, "তোমাদের কেউ যখন সালাতে দাঁড়ায়, তখন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তার চেহারার সামনে থাকেন। অতএব সে যেন তার সামনের দিকে অথবা তার ডান দিকে থুতু না ফেলে; বরং তার বাম দিকে তার বাম পায়ের নিচে থুতু ফেলে। আর যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে থুতু চলে আসে তবে সে যেন তার কাপড়ে এভাবে করে।" এরপর তিনি তাঁর কাপড়ের এক অংশ অন্য অংশের ওপর ভাজ করলেন। এরপর বললেন, "আমাকে কিছু সুগন্ধি এনে দাও।" তখন গোত্রের এক যুবক দ্রুত দৌড়ে তার পরিবারের কাছে গেল এবং তার তালুতে করে কিছু সুগন্ধি নিয়ে আসলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা গ্রহণ করলেন এবং খেজুরের ডালের মাথায় লাগালেন, তারপর শ্লেষ্মার চিহ্নের ওপর তা লেপে দিলেন। জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, "সেদিন থেকেই তোমরা তোমাদের মসজিদসমূহে সুগন্ধি ব্যবহারের প্রথা চালু করেছ।"

আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বাতনে বুওয়াত অভিযানে বের হলাম। তিনি মাকদি ইবনে আমর আল-জুহানিকে খুঁজছিলেন। আমাদের পাঁচ, ছয় বা সাতজন পর্যায়ক্রমে একটি উটের পিঠে আরোহণ করতাম। একবার এক আনসারি ব্যক্তির তাঁর উটের পিঠে আরোহণের পালা এল। তিনি উটটিকে বসালেন এবং তার ওপর চড়লেন, এরপর তাকে উঠতে নির্দেশ দিলেন। উটটি কিছুটা অবাধ্যতা করল। তখন তিনি বললেন, "চল! আল্লাহ তোকে লানত করুন।" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "নিজের উটকে অভিশাপ প্রদানকারী এ ব্যক্তিটি কে?" তিনি বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল, আমি।" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তার পিঠ থেকে নেমে পড়। অভিশপ্ত কোনো কিছু নিয়ে আমাদের সঙ্গী হয়ো না। তোমরা নিজেদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করো না, তোমাদের সন্তানদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করো না এবং তোমাদের সম্পদের বিরুদ্ধেও বদদোয়া করো না; পাছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন কোনো সময়ের সাথে মিলে যায় যখন যা চাওয়া হয় তিনি তা প্রদান করেন এবং তোমাদের দোয়া কবুল করে নেন।"

আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে চলছিলাম। যখন সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল এবং আমরা আরবদের এক জলাশয়ের নিকটবর্তী হলাম, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "কে আছে এমন ব্যক্তি যে আমাদের আগে যাবে এবং হাউজ মেরামত করবে এবং নিজে পান করবে ও আমাদের পান করাবে?" জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি দাঁড়িয়ে বললাম, "হে আল্লাহর রাসূল, এই যে আমি প্রস্তুত।" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "জাবিরের সাথে আর কে যাবে?" তখন জাব্বার ইবনে সাখর দাঁড়ালেন। আমরা কূপের দিকে গেলাম এবং হাউজে এক বা দুই বালতি পানি তুললাম, এরপর কাদা দিয়ে সেটি লেপে ঠিক করলাম। এরপর তাতে পানি পূর্ণ করলাম এমনকি তা কানায় কানায় ভরে গেল। আমাদের কাছে সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন এবং বললেন, "তোমরা কি আমাকে অনুমতি দেবে?" আমরা বললাম, "হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল।" তিনি তাঁর উটকে হাউজের ধারে নিলেন এবং সেটি পানি পান করল। এরপর তিনি উটটির রশি টানলেন, সেটি পা ফাঁক করে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করল। এরপর তিনি উটটিকে সরিয়ে একপাশে বসালেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাউজের কাছে আসলেন এবং তা থেকে অজু করলেন। এরপর আমি উঠলাম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অজুর অবশিষ্ট পানি দিয়ে অজু করলাম। জাব্বার ইবনে সাখর তাঁর প্রয়োজনে গেলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে দাঁড়ালেন। আমার গায়ে একটি ছোট চাদর ছিল, আমি সেটি বিপরীত দিক থেকে পেঁচিয়ে গায়ে দিতে চাইলাম...
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়াহ - ইসমাইল আল-আসবাহানী (পৃষ্ঠা: ৫৫)
بَيْنَ طَرَفَيْهَا فَلَمْ تَبْلُغْ بِي وَكَانَتْ لَهَا ذَبَاذَبُ فَنَكَّسْتُهَا ثُمَّ خَالَفْتُ بَيْنَ طَرَفَيْهَا ثُمَّ تَوَاقَصْتُ عَلَيْهَا ثُمَّ جِئْتُ حَتَّى قُمْتُ عَنْ يَسَارِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخَذَ بِيَدِي فَأَدَارَنِي حَتَّى أَقَامَنِي عَنْ يَمِينِهِ ثُمَّ جَاءَ جَبَّارُ بْنُ صَخْرٍ فَتَوَضَّأَ ثُمَّ جَاءَ فَقَامَ عَنْ يَسَارِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخَذْنَا بِيَدِهِ جَمِيعًا فَدَفَعَنَا حَتَّى أَقَامَنَا خَلْفَهُ فَجَعَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَرْمُقُنِي وَأَنَا لَا أَشْعُرُ ثُمَّ فَطِنْتُ بِهِ فَقَالَ هَكَذَا بِيَدِهِ يَعْنِي شُدَّ وَسَطَكَ فَلَمَّا فَرَغَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ يَا جَابِرُ قُلْتُ لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِذَا كَانَ وَاسِعًا فَخَالِفْ بَيْنَ طَرَفَيْهِ وَإِذَا كَانَ ضَيِّقًا فَاشْدُدْهُ عَلَى حَقْوِكَ سِرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكَانَ قُوتُ كُلٍّ مِنَّا كُلَّ يَوْمٍ تَمْرَةً فَكَانَ يَمَصُّهَا ثُمَّ يصرها فِي ثَوْبه وَكُنَّا نتخبط بِقِسِيِّنَا وَنَأْكُلُ حَتَّى قَرُحَتْ أَشَدَاقُنَا فَأُقْسِمُ أُخْطِئُهَا رَجُلٌ يَوْمًا فَانْطَلَقْنَا بِهِ نَنَعَشُهُ فَأَشْهَدْنَا لَهُ أَنَّهُ لَمْ يُعْطِهَا فَأُعْطِيَهَا فَقَامَ فَأَخَذَهَا

سِرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى نَزَلْنَا وَادِيًا أَفْيَحَ فَذَهَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْضِي حَاجَةً فَاتَّبَعْتُهُ بِإِدَاوَةٍ مِنْ مَاءٍ فَنَظَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ يَرَ شَيْئًا يسْتَتر بِهِ فَإِذا شجرتان بشاطيء الْوَادِي فَانْطَلَقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى إِحْدَاهُمَا فَأَخَذَ بِغُصْنٍ مِنْ أَغْصَانِهَا فَقَالَ انْقَادِي عَلَيَّ بِإِذْنِ اللَّهِ فَانْقَادَتْ مَعَهُ كَالْبَعِيرِ الْمَخْشُوشِ الَّذِي يُصَانِعُ قَائِدَهُ حَتَّى أَتَى الشَّجَرَةَ الْأُخْرَى فَأَخَذَ بِغُصْنٍ مِنْ أَغْصَانِهَا فَقَالَ انْقَادِي بِإِذْنِ اللَّهِ فَانْقَادَتْ مَعَهُ كَذَلِكَ حَتَّى إِذَا كَانَ بِالْمَنْصَفِ مِمَّا بَيْنَهُمَا لَاءَمَ بَيْنَهُمَا يَعْنِي جَمَعَهُمَا فَقَالَ الْتَئِمَا عَلَيَّ بِإِذْنِ اللَّهِ فَالْتَأَمَتَا قَالَ جَابِرٌ فَخَرَجْتُ أُحْضِرُ مَخَافَةَ أَنْ يَحُسَّ بِقُرْبِي فيبتعد رَسُول الله فَجَلَسْتُ أُحَدِّثُ نَفْسِي فَحَانَتْ مِنِّي لَفْتَةٌ فَإِذَا أَنَا بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُقْبِلًا وَإِذَا الشَّجَرَتَانِ افْتَرَقَتَا فَقَامَتْ كُلُّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا عَلَى سَاقٍ فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَفَ وِقْفَةً فَقَالَ بِرَأْسِهِ هَكَذَا وَأَشَارَ ابْنُ إِسْمَاعِيلَ بِرَأْسِهِ يَمِينًا وَشِمَالًا ثُمَّ أَقْبَلَ فَلَمَّا انْتَهَى إِلَيَّ قَالَ يَا جَابِرُ هَلْ رَأَيْتَ مَقَامِي قُلْتُ نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ فَانْطَلِقْ إِلَى الشَّجَرَتَيْنِ فَاقْطَعْ مِنْ كُلِّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا غُصْنًا فَأَقْبِلْ بِهِمَا حَتَّى إِذَا قُمْتَ مَقَامِي فَأَرْسِلْ غُصْنًا عَنْ يَمِينِكَ وَغُصْنًا عَنْ يَسَارِكَ قَالَ جَابِرٌ فَقُمْتُ فَأَخَذْتُ حجر فَكَسَرْتُهُ وَحَسَرْتُهُ فَانْدَلَقَ لِي فَأَتَيْتُ الشَّجَرَتَيْنِ فَقَطَعْتُ مِنْ كُلِّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا غُصْنًا ثُمَّ أَقْبَلْتُ أَجُرُّهُمَا حَتَّى قُمْتُ مُقَامَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرْسَلْتُ غُصْنًا عَنْ يَمِينِي وَغُصْنًا عَنْ يَسَارِي ثُمَّ لَحِقْتُ فَقُلْتُ قَدْ فَعَلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَعَمَّ ذَاكَ قَالَ إِنِّي مَرَرْتُ بِقَبْرَيْنِ يُعَذَّبَانِ فَأَحْبَبْتُ بِشَفَاعَتِي أَنْ يُرَفِّهَ عَنْهُمَا مَادَامَ الْغُصْنَانِ رَطْبَيْنِ قَالَ فَأَتَيْنَا الْعَسْكَرَ فَقَالَ رَسُولُ
(কাপড়ের) দুই প্রান্তের মাঝখানে, কিন্তু তা আমার নাভি পর্যন্ত পৌঁছালো না। কাপড়ে কিছু ঝুলন্ত অংশ ছিল, আমি তা উল্টে দিলাম, তারপর এর দুই প্রান্ত বিপরীত দিক দিয়ে ঘুরিয়ে নিলাম। এরপর আমি কুঁজো হয়ে তা ধরে রাখলাম এবং এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাম পাশে দাঁড়ালাম। তখন তিনি আমার হাত ধরলেন এবং আমাকে ঘুরিয়ে তাঁর ডান পাশে দাঁড় করালেন। এরপর জব্বার ইবনে সাখর আসলেন এবং ওযু করলেন। অতঃপর তিনি এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাম পাশে দাঁড়ালেন। তখন তিনি আমাদের উভয়ের হাত ধরলেন এবং আমাদের পেছনে ঠেলে দিলেন যতক্ষণ না আমাদের তাঁর পেছনে দাঁড় করালেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার দিকে আড়চোখে তাকাতে লাগলেন যা আমি অনুভব করতে পারিনি। পরে আমি তা বুঝতে পারলাম। তখন তিনি তাঁর হাত দিয়ে ইশারা করলেন, যার অর্থ ছিল ‘তোমার কোমর শক্ত করে বেঁধে নাও’। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষ করলেন, তিনি বললেন, "হে জাবির!" আমি বললাম, "আমি হাজির, হে আল্লাহর রাসূল!" তিনি বললেন, "কাপড় যদি প্রশস্ত হয় তবে তার দুই প্রান্ত বিপরীত দিক থেকে জড়িয়ে নেবে, আর যদি সংকীর্ণ হয় তবে তা তোমার কোমরে শক্ত করে বেঁধে নেবে।" আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে পথ চলছিলাম। আমাদের প্রত্যেকের প্রতিদিনের খাবার ছিল মাত্র একটি করে খেজুর। আমরা তা চুষতাম এবং পরে নিজ কাপড়ে বেঁধে রাখতাম। আমরা আমাদের ধনুক দিয়ে গাছের পাতা ঝরিয়ে নিতাম এবং তা খেতাম, এমনকি আমাদের গালের পাশে ক্ষত হয়ে গিয়েছিল। আমি কসম করে বলছি, একদিন এক লোক তার খেজুরটি হারালো। আমরা তাকে সাহায্য করার জন্য নিয়ে গেলাম এবং সাক্ষ্য দিলাম যে তাকে তা দেওয়া হয়নি। অতঃপর তাকে তা দেওয়া হলো এবং সে দাঁড়িয়ে তা গ্রহণ করল।

আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে পথ চললাম যতক্ষণ না আমরা একটি প্রশস্ত উপত্যকায় অবতরণ করলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের জন্য গেলেন। আমি পানির একটি পাত্র নিয়ে তাঁর অনুসরণ করলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আড়ালের জন্য কিছু খুঁজলেন কিন্তু কিছুই পেলেন না। হঠাৎ উপত্যকার কিনারায় দুটি গাছ দেখা গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেগুলোর একটির কাছে গেলেন এবং তার একটি ডাল ধরলেন। এরপর বললেন, "আল্লাহর অনুমতিতে আমার অনুগত হও।" তখন সেটি তাঁর অনুগত হয়ে সাথে চলল, যেমন নাকফেঁড়া উট তার চালকের অনুগত হয়ে চলে। এরপর তিনি দ্বিতীয় গাছটির কাছে আসলেন এবং তার একটি ডাল ধরলেন। তিনি বললেন, "আল্লাহর অনুমতিতে অনুগত হও।" সেটিও একইভাবে তাঁর সাথে চলল। যখন তিনি দুই গাছের মাঝামাঝি জায়গায় পৌঁছালেন, তখন তিনি সে দুটিকে মিলিয়ে দিলেন অর্থাৎ একত্রিত করলেন। তিনি বললেন, "আল্লাহর অনুমতিতে আমার জন্য তোমরা উভয়ে মিলিত হও।" তখন গাছ দুটি মিলিত হয়ে গেল। জাবির বলেন, আমি সেখান থেকে দ্রুত সরে আসলাম এই ভয়ে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সান্নিধ্য অনুভব করলে হয়তো দূরে চলে যাবেন। আমি বসে মনে মনে কথা বলছিলাম। হঠাৎ আমি তাকিয়ে দেখলাম যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগিয়ে আসছেন এবং গাছ দুটি আলাদা হয়ে গেছে এবং প্রত্যেকে তার নিজ কাণ্ডের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। আমি দেখলাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুক্ষণ থমকে দাঁড়ালেন এবং তাঁর মাথা দিয়ে এভাবে ইশারা করলেন—ইবনে ইসমাইল তাঁর মাথা ডানে ও বামে নেড়ে ইশারা করে দেখালেন। এরপর তিনি এগিয়ে আসলেন। যখন তিনি আমার কাছে পৌঁছালেন, তিনি বললেন, "হে জাবির! তুমি কি আমার দাঁড়ানোর স্থানটি দেখেছ?" আমি বললাম, "হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল!" তিনি বললেন, "তাহলে গাছ দুটির কাছে যাও এবং তাদের প্রত্যেকটি থেকে একটি করে ডাল কাটো। এরপর ডাল দুটি নিয়ে আমার দাঁড়ানোর স্থানে গিয়ে তোমার ডান পাশে একটি ডাল এবং বাম পাশে একটি ডাল ফেলে দাও।" জাবির বলেন, আমি উঠলাম এবং একটি পাথর নিয়ে তা ভেঙে ধারালো করলাম। এরপর আমি গাছ দুটির কাছে গিয়ে তাদের প্রত্যেকটি থেকে একটি করে ডাল কাটলাম। তারপর ডাল দুটি টেনে নিয়ে এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেখানে দাঁড়িয়েছিলেন সেখানে দাঁড়ালাম এবং আমার ডান দিকে একটি ও বাম দিকে একটি ডাল ফেলে দিলাম। এরপর আমি তাঁর সাথে মিলিত হয়ে বললাম, "হে আল্লাহর রাসূল! আমি তা সম্পন্ন করেছি। কিন্তু কেন এমনটি করা হলো?" তিনি বললেন, "আমি দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম যাদের আজাব দেওয়া হচ্ছিল। তাই আমি আমার সুপারিশের মাধ্যমে চেয়েছি যে, যতক্ষণ ডাল দুটি সতেজ থাকবে ততক্ষণ যেন তাদের আজাব লাঘব করা হয়।" বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আমরা সৈন্যদলে ফিরে আসলাম। তখন রাসূলুল্লাহ...
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়াহ - ইসমাইল আল-আসবাহানী (পৃষ্ঠা: ৫৬)
اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَا جَابِرُ نَادِ بِوَضُوءٍ فَقُلْتُ أَلَا بِوَضُوءٍ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَجَدْتُ فِي الرَّكْبِ مِنْ قَطْرَةٍ وَكَانَ رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ يُبَرِّدُ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَاءَ فِي أَشْجَابٍ لَهُ عَلَى حِمَارَةٍ مِنْ جَرِيدِ قَالَ فَقَالَ لِي انْطَلِقْ إِلَى فُلَانٍ الْأَنْصَارِيِّ فَانْظُرْ هَلْ فِي أشجابيه من شَيْء فال فَانْطَلَقْتُ إِلَيْهِ فَنَظَرْتُ فِيهَا فَلَمْ أَجِدْ إِلَّا قَطْرَةً فِي عَزْلَاءِ شَجْبٍ مِنْهَا لَوْ أَنِّي أُفْرِغُهُ شَرِبَهُ يَابِسُهُ فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَمْ أَجِدْ فِيهَا إِلَّا قَطْرَةً فِي عَزْلَاءِ شَجْبٍ مِنْهَا لَوْ أَنِّي أُفْرِغُهُ لَشَرِبَهُ يَابِسُهُ قَالَ اذْهَبْ فَأْتِنِي بِهِ فَأَتَيْتُهُ بِهِ فَأَخَذَهُ بِيَدِهِ فَجَعَلَ يَتَكَلَّمُ بِشَيْءٍ لَا أَدْرِي مَا هُوَ وَيَغْمِزُهُ بِيَدَيْهِ ثُمَّ أَعَطَانِيهِ فَقَالَ يَا جَابِرُ نَادِ بِجَفْنَةٍ فَقُلْتُ يَا جَفْنَةَ الرَّكْبِ فَأُتِيتُ بِهَا تُحْمَلُ فَوَضَعْتُهَا بَيْنَ يَدَيْهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدَيْهِ فِي الْجَفْنَةِ هَكَذَا فَبَسَطَهَا وَفَرَّقَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ ثُمَّ وَضَعَهَا فِي قَعْرِ الْجَفْنَةِ وَقَالَ خُذْ يَا جَابِرُ فَصُبَّ عَلَيَّ وَقُلْ بِسْمِ اللَّهِ فَصَبَبْتُ عَلَيْهِ وَقُلْتُ بِسْمِ اللَّهِ فَرَأَيْتُ الْمَاءَ يَتَفَوَّرُ مِنْ بَيْنِ أَصَابِعِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ فَارَتِ الْجَفْنَةُ وَدَارَتْ حَتَّى امْتَلَأَتْ فَقَالَ يَا جَابِرُ نَادِ مَنْ كَانَ لَهُ حَاجَةٌ بِمَاءٍ قَالَ فَأَتَى النَّاسُ فَاسْتَقَوْا حَتَّى رَوُوا قَالَ فَقُلْتُ هَلْ بَقِيَ أَحَدٌ لَهُ حَاجَةٌ بِمَاءٍ فَرَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدَيْهِ مِنَ الْجَفْنَةِ وَهِيَ مَلْأَى

وَشَكَا النَّاسُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْجُوعَ فَقَالَ عَسَى اللَّهُ أَنْ يُطْعِمَكُمْ فَأَتَيْنَا سَيْفَ الْبَحْرِ فَزَخَرَ الْبَحْرُ زَخْرَةً فَأَلْقَى دَابَّةً فَأَوْرَيْنَا عَلَى شِقِّهَا النَّارَ فَاطَّبَخْنَا وَشَوَيْنَا وَأَكَلْنَا وَشَبَعْنَا قَالَ جَابِرٌ فَدَخَلْتُ أَنَا وَفُلَانٌ وَفُلَانٌ حَتَّى عَدَّ خَمْسَةٌ فِي حِجَاجِ عَيْنِهَا مَا يَرَانَا أَحَدٌ حَتَّى خَرَجْنَا فَأَخَذْنَا ضِلَعًا مِنْ أَضْلَاعِهِ فَقَوَّسْنَاهُ ثُمَّ دَعَوْنَا بِأَعْظَمِ رَجُلٍ فِي الرَّكْبِ وَأَعْظَمِ جَمَلٍ فِي الرَّكْبِ وَأَعْظَمِ كِفْلٍ فِي الرَّكْبِ فَدخل تَحْتَهُ مَا يطأطىء رَأْسَهُ

قَالَ الْإِمَامُ رحمه الله فِي الْحَدِيثِ آيَاتٌ مِنْ دَلَائِلِ نُبُوَّةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْهَا انْقِلَاعُ الشَّجَرَتَيْنِ وَاجْتِمَاعُهُمَا ثُمَّ افْتِرَاقُهُمَا وَمِنْهَا فَوَرَانُ الْمَاءِ مِنْ بَيْنَ أَصَابِعِهِ وَأَخْذُ النَّاسِ الْكَثِيرَ مِنْهُ ثُمَّ لَمْ يَنْقُصْ مَعَ كَثْرَةِ مَا أُخِذَ مِنْهُ وَغَيْرُ ذَلِكَ مِنَ الْآيَاتِ وَأَمَّا شرح الْأَلْفَاظ الغربية فِيهِ فَقَوْلُهُ ضِمَامَةٌ مِنْ صُحُفٍ أَيْ صُحُفٌ مَضْمُومَةٌ أَيْ جَمَاعَةُ كُتُبٍ وَاللُّغَةُ الْفَصِيحَةُ إِضْمَامَةٌ وَالْمَعَافِرِيُّ ثَوْبٌ يَمَنِيُّ وَالسَّفْعَةُ تَغَيُّرٌ فِي الْوَجْهِ وَسَوَادٌ وَفِي كِتَابِي الْخِزَامِيِّ بِالزَايِّ الْمُعْجَمَةِ وَالْجَفْرُ الَّذِي قَوِيَ وَغَلُظَ بَعْدَمَا يُفْطَمُ وَالْأَرِيكَةُ الْحَجْلَةُ وَفِي كِتَابِي بَصُرَ عَيْنَيَّ وَسَمِعَ أُذْنَيَّ وَحَقُّهُ مِنَ الْإِعْرَابِ عَيْنَاي وأذناي فإمَّا أَن يكون وَقع مِنَ الرَّاوِي وَإِمَّا أَنْ يَكُونَ
আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) বললেন: হে জাবির! অজুর পানির জন্য ঘোষণা দাও। আমি বললাম: অজুর পানি কি আছে? তিনি বললেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, আমি কাফেলার মধ্যে এক ফোঁটা পানিও পাইনি। জনৈক আনসারী ব্যক্তি খেজুরের ডাল দিয়ে তৈরি একটি স্ট্যান্ডের ওপর রাখা তাঁর চামড়ার থলেতে আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর জন্য পানি ঠান্ডা করতেন। তিনি আমাকে বললেন: অমুক আনসারীর কাছে যাও এবং দেখো তার মশকগুলোতে কিছু আছে কি না। আমি তার কাছে গেলাম এবং সেগুলো পরীক্ষা করলাম, কিন্তু একটি জরাজীর্ণ মশকের মুখে এক ফোঁটা পানি ছাড়া আর কিছু পেলাম না। যদি আমি তা ঢালতাম, তবে তার শুষ্ক চামড়াই তা শুষে নিত। আমি আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর কাছে এসে বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমি তাতে জরাজীর্ণ মশকের মুখে মাত্র এক ফোঁটা পানি ছাড়া আর কিছুই পাইনি, যা ঢাললে তার শুষ্ক অংশই তা শুষে নিত। তিনি বললেন: যাও, সেটি আমার কাছে নিয়ে এসো। আমি সেটি তাঁর কাছে নিয়ে এলাম। তিনি সেটি নিজের হাত দিয়ে ধরলেন এবং এমন কিছু বলতে লাগলেন যা আমি বুঝতে পারছিলাম না এবং তা নিজের দুই হাত দিয়ে টিপছিলেন। তারপর তিনি সেটি আমাকে দিয়ে বললেন: হে জাবির, একটি বড় পাত্রের জন্য ঘোষণা দাও। আমি বললাম: হে কাফেলার বড় পাত্রওয়ালা! তখন একটি বড় পাত্র বহন করে আনা হলো এবং আমি তা তাঁর সামনে রাখলাম। আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) তাঁর দুই হাত বড় পাত্রের মধ্যে এভাবে রাখলেন, তিনি হাত প্রসারিত করলেন এবং নিজের আঙুলগুলোর মাঝে ফাঁক করলেন। অতঃপর তিনি হাত পাত্রের তলায় রাখলেন এবং বললেন: হে জাবির, নাও এবং আমার ওপর ঢালো আর 'বিসমিল্লাহ' বলো। আমি তাঁর ওপর পানি ঢাললাম এবং 'বিসমিল্লাহ' বললাম। তখন আমি দেখলাম আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর আঙুলগুলোর মাঝখান থেকে পানি উপচে বের হচ্ছে। এরপর পাত্রটি পানিতে কানায় কানায় ভরে উথলে উঠতে লাগল। তখন তিনি বললেন: হে জাবির, যার পানির প্রয়োজন তাকে ডাকো। তিনি বলেন, লোকেরা এল এবং তারা পানি পান করল যতক্ষণ না তারা তৃপ্ত হলো। আমি বললাম: আর কি কেউ আছে যার পানির প্রয়োজন? তখন আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) পাত্র থেকে তাঁর দুই হাত তুলে নিলেন, এমতাবস্থায় সেটি পূর্ণ ছিল।

এবং লোকেরা আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর কাছে ক্ষুধার অভিযোগ করল। তিনি বললেন: হয়তো আল্লাহ তোমাদের আহার দেবেন। অতঃপর আমরা সমুদ্রতীরে এলাম। তখন সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠল এবং একটি বিশাল সামুদ্রিক প্রাণী তীরে নিক্ষেপ করল। আমরা তার এক পাশে আগুন জ্বালালাম এবং তা রান্না করলাম ও ঝলসলাম এবং খেলাম ও তৃপ্ত হলাম। জাবির বলেন, আমি এবং অমুক ও অমুক—এভাবে তিনি পাঁচজন গণনা করলেন—সেই প্রাণীটির চোখের কোটরে প্রবেশ করলাম এবং আমরা বের না হওয়া পর্যন্ত কেউ আমাদের দেখতে পায়নি। এরপর আমরা তার একটি পাঁজর নিলাম এবং সেটিকে ধনুকের মতো খাড়া করলাম। তারপর আমরা কাফেলার সবচেয়ে দীর্ঘকায় ব্যক্তি, সবচেয়ে বড় উট এবং সবচেয়ে উঁচু পিঠওয়ালা আরোহী পশুকে ডাকলাম, সেটি তার নিচ দিয়ে চলে গেল অথচ তাকে মাথা নিচু করতে হয়নি।

ইমাম (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন: এই হাদিসে নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর নবুওয়াতের অনেক নিদর্শন রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে দুটি গাছের উপড়ে আসা, তাদের একত্রিত হওয়া এবং পুনরায় পৃথক হয়ে যাওয়া। আরও রয়েছে তাঁর আঙুলগুলোর মাঝখান থেকে পানির নহর প্রবাহিত হওয়া এবং অসংখ্য মানুষের সেখান থেকে পানি গ্রহণ করা, অথচ প্রচুর পানি নেওয়ার পরেও তা হ্রাস না পাওয়া। এছাড়াও আরও অনেক নিদর্শন রয়েছে। আর এতে ব্যবহৃত দুর্লভ শব্দাবলির ব্যাখ্যা হলো: 'দিমামাতুন মিন সুহুফ' অর্থ সংকলিত পুস্তিকা অর্থাৎ বইয়ের সমষ্টি। বিশুদ্ধ ভাষাগত রূপ হলো 'ইদমামাতুন'। 'মাআফিরি' হলো ইয়ামেনি কাপড়। 'সাফআহ' হলো চেহারার বিবর্ণতা বা কালচে ভাব। আমার কিতাবে এটি 'জি' বর্ণ দিয়ে 'খিজামি' রূপে রয়েছে। 'জাফর' হলো সেই বাচ্চা যা দুধ ছাড়ানোর পর শক্তিশালী ও হৃষ্টপুষ্ট হয়েছে। 'আরিকাহ' হলো মশারিযুক্ত পালঙ্ক। আমার কিতাবে 'বাসুরা আইনাইয়্যা' এবং 'সামিআ উজুনাইয়্যা' রয়েছে, তবে ব্যাকরণগতভাবে সঠিক রূপ হলো 'আইনায়া' ও 'উজুনায়া'। এটি হয় বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে ঘটেছে অথবা...
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়াহ - ইসমাইল আল-আসবাহানী (পৃষ্ঠা: ৫৭)
لُغَةً وَإِمَّا أَنْ يَكُونَ كُتِبَ بِالْيَاءِ وَتَلَفَّظَ بِهِ الرَّاوِي بِالْأَلِفِ فَيَكُونُ نَوْعَ اصْطِلَاحٍ فِي الْكِتَابَةِ وَمَنَاطُ الْقَلْبِ مَعْلَقُ الْقَلْبِ وَفِي رِوَايَةٍ نِيَاطُ قَلْبِهِ وَقَوْلُهُ رَسُولَ اللَّهِ بِالنَصْبِ يَتَعَلَّقُ بِقَوْلِهِ وَسَمِعَ أُذُنَيَّ وَالْحُلَّةُ إِزَارٌ وَرِدَاءٌ وَالْمَعَافِرِيُّ بُرْدٌ يَمَنِيُّ وَقَوْلُهُ وَأَعْطَيْتُهُ مَعَافِرِيَّكَ أَيْ لَوْ كَانَ الثَوْبَانِ مِنْ جِنْسٍ وَاحِدِ كَانَ أَحْسَنُ وَكَأَنَّ الْبُرْدَةَ كَانَتْ دُونَ الْمَعَافِرِيِّ فَأَرَادَ رضي الله عنه أَنْ يُسَوِيَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ غُلَامِهِ فِي اللِّبَاسِ وَقَوْلُ مُشْتَمِلًا أَيْ مُلْتَحِفًا بِهِ أَيْ غَطَّى بِهِ بَدَنَهُ وَالْعُرْجُونُ جَرِيدُ النَّخْلِ وَابْنُ طَابٍ نَوْعٌ مِنَ النَّخْلِ أَوْ مِنْ ثَمَرِ النَّخْلِ وَقَوْلُهُ فَخَشِعْنَا أَيْ فَخَشِينَا وَالْعَبِيرُ نَوْعٌ مِنَ الطِّيبِ وَكَذَلِكَ الْخَلُوقُ وَبَطْنِ بُوَاطٍ مَوْضِعٌ بِالْبَاءِ الْمَفْتُوحَةِ الْمَعْجَمَةِ بِوَاحِدَةٍ مِنْ تَحْتِهَا وَالنَّاضِحُ الْبَعِيرُ يُسْتَقَى عَلَيْهِ وَيَعْقُبُهُ أَيْ يَتَعَاقَبُهُ فِي الرُّكُوبِ إِذَا نَزَلَ وَاحِدٌ رَكِبَ آخَرُ وَقَوْلُهُ فَدَارَتْ عُقْبَةُ رَجُلٍ أَيْ فَجَاءَتْ نَوْبَةُ رُكُوبِهِ وَتلَدَّنَ عَلَيْهِ أَيْ تَعَسَّرَ وَلَمْ يَنْبَعِثْ وَقَوْلُهُ شَأْ زَجْرٌ لِلْبَعِيرِ إِذَا أَرَادَ صَاحِبُهُ أَنْ يُقِيمَهُ وَعُشَيْشِيَةٌ تَصْغِيرُ عَشِيَّةٍ وَيَمْدُرُ الْحَوْضَ أَيْ يُصْلِحُه بِالطِّينِ وَالْمِدْرِ وَالسَّجْلُ الدَلْوُ الْعَظِيمُ وَأفْهَقْنَاهُ أَيْ مَلَأْنَاهُ وَأَشْرَعَ نَاقَتَهُ أَيْ أَرْسَلَهَا نَحْوَ الْمَاءِ يُقَالُ أَشْرَعْتُ الرُّمْحَ نَحْوَهُ وَالشَّرِيعَةُ مَوْرِدُ الْمَاءِ وَقَوْلُهُ شَنَقَ لَهَا أَيْ كَفَّ زِمَامَهَا وَقَوْلُهُ فَشَجَّتْ أَيْ تَفَاجَّتْ لِتَبُولَ وَرُوِيَ فَشَّجَتْ بِتَشْدِيدِ الشِينِ وَالذَبَاذِبُ مَا يَتَحَرَكُ مِنْ أَهْدَابِ الثَّوْبِ وَقَوْلُهُ ثُمَّ تَوَاقَصَتْ عَلَيْهَا أَيْ رَفَعَ مِنْكَبَيْهِ حَتَّى أَلْزَقَهُمَا بِأَصْلِ عُنُقِهِ وَالْوَقْصُ قِصَرُ الْعُنْقِ وَقَوْلُهُ يَرْمُقُنِي أَيْ يَنْظُرُ إِلَيَّ وَقَوْلُهُ نَخْطتَبِطُ أَيْ نَضْرِبُ الشَّجَرَ بِقِسِيِّنَا لِيَسْقُطَ وَرَقُهَا وَقَوْلُهُ فَأُقْسِمُ أُخْطِئُهَا رَجُلٌ مِنَّا لَوْ كَانَ أَخْطَأَهَا أَيْ جَاوَزَهَا وَلَمْ تَصِلْ إِلَيْهِ يَعْنِي إِلَى الرَّجُلِ تِلْكَ التَّمْرَةُ كَانَ أَظْهَرُ وَنَنْعَشُهُ نَرْفَعُهُ وَالْأَفْيَحُ الْوَاسِعُ وَالْمَخْشُوشُ الَّذِي فِي أَنْفِهِ الْخُشَاشُ وَهُوَ الزِّمَامُ يُصَانِعُ يُدَارِي بِالْمَنْصَفِ يُقَالُ نَصَّفَ يُنَصِّفُ أَيْ بَلَغَ النِّصْفَ وَالْمَنْصَفُ الْمَوْضِعُ أُحْضِرُ أَعْدُو لَفْتَةٌ فَعْلَةٌ مِنَ الِالْتِفَاتِ فَيَنْبَعِدُ أَيْ يَبْعُدُ وَرُوِيَ فَيُبْعَدُ بِضَمِّ الْيَاءِ وَحَسَرْتُهُ أَيْ حَدَدْتُه فَانْذَلَقَ بِالذَالِ الْمُعْجَمَةِ أَيْ تَحَدَّدَ وَقَوْلُهُ فَعَمَّ ذَاكَ أَيْ لِمَ فَعَلْتَ ذَاكَ أَنْ يُرَفِّهَ عَنْهُ يُقَالُ رَفَّهْتُ عَنْهُ أَيْ نَفَّسْتُ عَنْهُ الْكُرْبَةَ أَشْجَابُ جَمْعُ شَجْبٍ وَهُوَ الشَّيْءُ الخَلِقُ حَمَارَةِ مِنْ جَرِيدٍ ثَلَاثَةُ أَعْوَادٍ يُشَدُّ أَطْرَافُهَا وَتُنْصَبُ وَيُخَالَفُ بَيْنَ أَرْجُلِهَا وَيُعَلِّقُ عَلَيْهَا الْقِرْبَةُ وَعَزْلَاءُ الْقِرْبَةِ فَمُهَا أُفْرِغُهُ أَصُبُّهُ يَابِسُهُ أَيْ يَابِسُ الشَّجْبِ أَيِ الَّذِي ذَهَبَ مِنْهُ البلل ويبس وَقَوله ياجفنة الرَّكْبِ أَيْ يَا صَاحِبَ جَفْنَةِ الرَّكْبِ يَتَفَوَّرُ يَتَفَعَّلُ مِنْ فَارَ يَفُورُ سَيْفُ الْبَحْرِ شَاطِئُهُ زَخِرَ الْبَحْرُ أَيْ مَدَّ وَكَثُرَ مَاؤُهُ فَأَوْرَيْنَا فَأَوْقَدْنَا فَاطَّبَخْنَا

ভাষাগতভাবে; অথবা হতে পারে এটি 'ইয়া' দিয়ে লেখা হয়েছে এবং বর্ণনাকারী তা 'আলিফ' দিয়ে উচ্চারণ করেছেন, ফলে এটি লেখার একটি পরিভাষা হিসেবে গণ্য হবে। হৃদয়ের 'মানাত' অর্থ হৃদয়ের ঝুলে থাকার স্থান, আর এক বর্ণনায় এসেছে তার হৃদয়ের 'নিয়্যাত'। 'রাসুলুল্লাহ' শব্দটির নসব হওয়ার কারণ তা 'আমার দুই কান শুনেছে' অংশের সাথে সংশ্লিষ্ট। 'হুল্লা' অর্থ হলো লুঙ্গি ও চাদর। 'মাআফিরি' হলো ইয়ামেনি চাদর। তাঁর কথা 'আমি তোমাকে তোমার মাআফিরি দিয়েছি' এর অর্থ হলো—যদি কাপড় দুটি একই প্রকারের হতো তবে তা অধিকতর সুন্দর হতো; এবং সম্ভবত চাদরটি মাআফিরি থেকে নিচু মানের ছিল, তাই তিনি (রা.) তাঁর ও তাঁর গোলামের পোশাকের মধ্যে সমতা বজায় রাখতে চেয়েছিলেন। 'মুশতামিলান' অর্থ হলো শরীরে জড়িয়ে নেওয়া অর্থাৎ এর মাধ্যমে তার শরীর আবৃত করা। 'উর্জুন' হলো খেজুরের ডাল। 'ইবনে তাব' এক প্রকার খেজুর গাছ বা খেজুরের ফল। তাঁর কথা 'আমরা খশি'না' অর্থ হলো আমরা ভীত হলাম। 'আবির' এক প্রকার সুগন্ধি, তদ্রূপ 'খালুক'ও। 'বাতনে বুওয়াত' একটি জায়গার নাম যা 'বা' বর্ণে জবর এবং নিচে এক নুক্তা দিয়ে উচ্চারিত হয়। 'নাদিহ' হলো পানি সেচ দেওয়ার উট। 'ইয়া'কুবুহু' অর্থ হলো একজনের পর অন্যজন আরোহণের ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রম অনুসরণ করা; যখন একজন নামে তখন অন্যজন আরোহণ করে। তাঁর কথা 'একজন ব্যক্তির পা রাখার পালা আসল' অর্থাৎ তার আরোহণের সময় হলো। 'তালাদ্দানা আলাইহি' অর্থ তার জন্য কঠিন হলো এবং সে অগ্রসর হলো না। 'শা' শব্দটি উটকে দাঁড় করানোর জন্য চালকের ব্যবহৃত শব্দ। 'উশাইশিয়া' হলো 'আশিয়্যাহ' (বিকেল) এর ক্ষুদ্র রূপ। 'ইয়ামদুরু আল-হাওদা' অর্থ সে কাদা ও মাটির মাধ্যমে হাউজ সংস্কার করছে। 'সাজল' অর্থ বড় বালতি। 'আফহাকনাহু' অর্থ আমরা তা পূর্ণ করলাম। 'আশরাআ নাকাতাহু' অর্থ সে তার উষ্ট্রীকে পানির দিকে পাঠাল; বলা হয়ে থাকে 'আমি তার দিকে বর্শা তাক করলাম'। 'শারিয়াহ' হলো পানি পানের ঘাট। তাঁর কথা 'শানাফা লাহা' অর্থ সে তার লাগাম টেনে ধরল। তাঁর কথা 'ফাশাজজাত' অর্থ সে প্রস্রাব করার জন্য দুই পা প্রশস্ত করল; এটি শিন বর্ণে তাশদিদ দিয়ে 'ফাশ্শাজজাত' হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে। 'যাবাযিব' হলো কাপড়ের ঝালরের সেই অংশ যা নড়াচড়া করে। তাঁর কথা 'অতঃপর তার ওপর তাওয়াকাসাত' অর্থ সে তার দুই কাঁধ উঁচু করল এমনকি তা তার ঘাড়ের গোঁড়ার সাথে মিলিয়ে দিল। 'ওয়াকস' অর্থ ঘাড় খাটো হওয়া। তাঁর কথা 'ইয়ারমুকুনি' অর্থ সে আমার দিকে তাকাচ্ছে। তাঁর কথা 'নাখতাবিতু' অর্থ আমরা আমাদের ধনুক দিয়ে গাছে আঘাত করি যাতে তার পাতাগুলো ঝরে পড়ে। তাঁর কথা 'আমি শপথ করছি যে আমাদের মধ্য থেকে একজন লোক তা ভুল করত'—যদি সে তা অতিক্রম করে যেত এবং সেই খেজুরটি তার কাছে না পৌঁছাত তবে সেটি অধিক স্পষ্ট হতো। 'নানাশুহু' অর্থ আমরা তাকে উত্তোলন করি। 'আফইয়াহ' অর্থ প্রশস্ত। 'মাখশুশ' যার নাকে 'খুশাশ' অর্থাৎ লাগাম লাগানো আছে। 'ইউসানিউ' অর্থ নম্র আচরণ করা বা তোশামোদ করা। 'মানসাফ' শব্দটি 'নাসসাফা-ইউনাসসিফু' থেকে এসেছে যার অর্থ অর্ধেক পর্যন্ত পৌঁছানো; এবং 'মানসাফ' একটি স্থানের নাম। 'উহদিরু' অর্থ আমি দৌড়াই। 'লাফতাতুন' অর্থ একবার ফিরে তাকানো। 'ফায়ানবায়িদু' অর্থ সে দূরে সরে যায়; এটি ইয়া বর্ণে পেশ দিয়ে 'ফাইয়ুবআদু' হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে। 'হাসারতুহু' অর্থ আমি তাকে ধারালো করলাম। 'ইনযালাকা' যা যাল (বিন্দুযুক্ত) বর্ণ দিয়ে, যার অর্থ ধারালো হওয়া। তাঁর কথা 'ফাআম্মা যাকা' অর্থ কেন তুমি এমন করলে? 'আন ইউরাফফিহা আনহু' বলা হয়—আমি তার থেকে কষ্ট লাঘব করেছি অর্থাৎ তার দুঃখ দূর করেছি। 'আশজাব' হলো 'শাজব' এর বহুবচন, যার অর্থ জীর্ণ ও পুরাতন বস্তু। 'হামারা' হলো খেজুরের ডাল দিয়ে তৈরি তিনটি কাষ্ঠখণ্ড যার প্রান্তগুলো বেঁধে খাড়া করে রাখা হয় এবং পাগুলো ছড়িয়ে রাখা হয় যাতে তার ওপর পানির মশক ঝুলিয়ে রাখা যায়। 'আযলাউল কিরবাহ' হলো মশকের মুখ। 'উফরিগুহু' অর্থ আমি তা ঢালি। 'ইয়াবিসুহু' অর্থ শাজব-এর শুষ্ক অংশ অর্থাৎ যেখান থেকে আর্দ্রতা চলে গিয়ে শুকিয়ে গেছে। 'হে কাফেলার পেয়ালাওয়ালা' অর্থ হে কাফেলার পেয়ালার মালিক। 'ইয়াতাফাওয়ারু' শব্দটি 'ফারা-ইয়াফুরু' মূলধাতু থেকে 'তাফায়াল' ওজনে এসেছে। 'সাইফুল বাহর' অর্থ সমুদ্রের তীর। 'যাখারাল বাহরু' অর্থ সমুদ্র উত্তাল হলো এবং তার পানি বৃদ্ধি পেল। 'ফাউরাইনা' অর্থ আমরা আগুন জ্বালালাম। 'ফাত্তাবাখনা' অর্থ অতঃপর আমরা রান্না করলাম।

(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়াহ - ইসমাইল আল-আসবাহানী (পৃষ্ঠা: ৫৮)
لُغَةً فِي طَبَخْنَا حِجَاجُ عَيْنِهَا أَيْ غَارُ عَيْنِهَا بِأَعْظَمِ رَحْلٍ وَرُوِيَ الْحَاءُ وَهُوَ الْقَتَبُ وَرُوِيَ بِأَعْظَمِ رَجُلٍ بِالْجِيمِ وَالضَمُّ وَالْكِفْلُ كِسَاءٌ يُطْرَحُ عَلَى الْبَعِيرِ

38 - أَخْبَرَنَا عَاصِمُ بْنُ الْحَسَنِ بِبَغْدَادَ أَنَا أَبُو عُمَرَ بْنُ مَهْدِيٍّ ح وَأَخْبَرَنَا أَبُو عبد الله ابْن السَّيْبَرِيِّ أَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ السَّكَرِيُّ ح وَأخْبرنَا أَبُو عبد الله النِّعَالِيُّ أَنَا أَبُو الْحَسَنِ بْنُ رِزْقَوَيْهِ قَالُوا أَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ أَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ ثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاش عَن عَاصِم ابْن أَبِي النُّجُودِ عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْش عَن عبد الله بْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه قَالَ كُنْتُ أَرْعَى غَنَمًا لِعُقْبَةَ بْنِ أَبِي مُعَيْطٍ فَمَرَّ بِي رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبُو بَكْرٍ فَقَالَ لِي يَا غُلَامُ هَلْ مِنْ لَبَنٍ قُلْتُ نَعَمْ وَلَكِنِّي مُؤْتَمَنٌ قَالَ فَهَلْ مِنْ شَاةٍ لَمْ يَنْزُ عَلَيْهَا الْفَحْلُ قَالَ فَأَتَيْتُهُ بِشَاةٍ فَمسح ضرْعهَا فَنزل لبن فحلبه فِي إِنَاءٍ فَشَرِبَ وَسَقَى أَبَا بَكْرٍ قَالَ ثُمَّ قَالَ لِلضَّرْعِ اقْلُصْ فَقَلُصَ قَالَ ثُمَّ أَتَيْتُهُ بَعْدَ هَذَا فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلِّمْنِي مِنْ هَذَا الْقَوْلِ قَالَ فَمَسَحَ رَأْسِي وَقَالَ يَرْحَمُكَ اللَّهُ فَإِنَّكَ غُلَيْمٌ مُعَلَّمٌ

39 - وَأَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ أَنَا هِبَةُ اللَّهِ بْنُ الْحَسَنِ أَنَا جَعْفَر بن عبد الله ابْن يَعْقُوبَ أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ هَارُونَ الرَّوْيَانِيُّ ثَنَا أَبُو رَبِيعٍ ثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ زر عَن عبد الله رضي الله عنه قَالَ كُنْتُ غُلَامًا يَافِعًا فِي غَنَمٍ لِعُقْبَةَ بْنِ أَبِي مُعَيْطٍ أَرْعَاهَا فَأَتَى عَلَيَّ رَسُولُ اللَّهِ وَأبَوُ بَكْرٍ مَعَهُ قَالَ فَقَالَ يَا غُلَامُ هَلْ عِنْدَكَ مِنْ لَبَنٍ قَالَ فَقُلْتُ نَعَمْ وَلَكِنِّي مُؤْتَمَنٌ قَالَ فُقَالَ إِيتِنِي بِشَاةٍ لَمْ يَنْزُ عَلَيْهَا الْفَحْل قَالَ فَأَتَيْتُهُ بِعَنَاقٍ جَذَعَةٍ فَاعْتَقَلَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ثُمَّ جَعَلَ يَمْسَحُ ضَرْعَهَا وَيَدْعُو حَتَّى نَزَّلَتْ قَالَ وَأَتَاهُ أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه بِصَحْنٍ أَوْ قَالَ بِصَخْرٍ فَاحْتَلَبَ فِيهِ ثُمَّ قَالَ لِأَبِي بَكْرٍ اشْرَبْ فَشَرِبَ أَبُو بَكْرٍ ثُمَّ شَرِبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِلضَّرْعِ أَقْلِصْ فَقَلُصَ فَعَادَ كَمَا كَانَ قَالَ ثُمَّ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ عَلِّمْنِي مِنْ هَذَا الْكَلَامِ أَوْ مِنْ هَذَا الْقُرْآنِ قَالَ فَمَسَحَ رَأْسِي ثُمَّ قَالَ إِنَّكَ غُلَامٌ مُعَلَّمٌ فَأَخَذْتُ مِنْهُ سَبْعِينَ سُورَة مانزعنتها وَفِي رِوَايَةٍ مَا رِوَايَةِ مَا نَازَعَنِيهَا بَشَرٌ

قَالَ الْإِمَامُ رحمه الله قَوْلُهُ يَافِعًا أَيْ بَلَغْتُ حَدَّ الرُّجُولِيَّةِ وَالْيَفَاعُ الْمَكَانُ الْمُرْتَفِعُ وَعَنَاقٌ جَذَعَةٌ يَعْنِي جَدْيًا لَمْ يُتَمَّ لَهُ سَنَةٌ وَفِي رِوَايَةٍ بِصَخْرَةٍ مُنْقَعِرَةٍ أَيْ لَهَا قَعْرٌ أقْلُصْ أَيِ
ভাষাগতভাবে, আমাদের রান্নায় 'হিজাজু আইনহা' অর্থ তার চোখের কোটর। 'বি-আ'জমি রাহিলিন' (হা বর্ণযোগে) বর্ণনায় এসেছে, যার অর্থ উটের গদি। আবার 'বি-আ'জমি রাজুলিন' (জিম এবং পেশযোগে) বর্ণনায়ও এসেছে। আর 'কিফল' হলো একটি কাপড় যা উটের পিঠে বিছানো হয়।

৩৮ - বাগদাদে আসিম ইবনুল হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু উমর ইবনে মাহদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (হ), আবু আব্দুল্লাহ ইবনে সাইবারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুহাম্মদ আস-সাক্কারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (হ), আবু আব্দুল্লাহ আন-নিআলী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু হাসান ইবনে রিজকাওয়াইহি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তারা সকলে বলেছেন: ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ আস-সাফফার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাসান ইবনে আরাফাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর ইবনে আইয়াশ আমাদের আসিম ইবনে আবি আন-নুজুদ থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি জির ইবনে হুবাইশ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: আমি উকবা ইবনে আবি মুআইতের ছাগল চরাতাম। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবু বকর আমার পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। তিনি আমাকে বললেন: হে বালক! তোমার কাছে কি দুধ আছে? আমি বললাম: হ্যাঁ, তবে আমি তো আমানতদার। তিনি বললেন: তবে তোমার কাছে কি এমন কোনো বকরি আছে যার সাথে পাঠার মিলন ঘটেনি? তিনি (ইবনে মাসউদ) বললেন: আমি তাঁর কাছে একটি বকরি নিয়ে আসলাম। তিনি তার স্তনে হাত বুলালেন, তখন দুধ নামল। এরপর তিনি একটি পাত্রে দুধ দোহন করলেন এবং পান করলেন ও আবু বকরকে পান করালেন। তিনি বললেন: এরপর তিনি স্তনকে বললেন: সংকুচিত হও, তখন তা সংকুচিত হয়ে গেল। তিনি (ইবনে মাসউদ) বললেন: এরপর আমি তাঁর কাছে এসে বললাম: হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমাকে এই কথা থেকে কিছু শিক্ষা দিন। তিনি আমার মাথায় হাত বুলালেন এবং বললেন: আল্লাহ তোমার ওপর রহম করুন, নিশ্চয়ই তুমি একজন শিক্ষিত বালক।

৩৯ - আহমাদ ইবনে আলী ইবনুল হুসাইন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হিবাতুল্লাহ ইবনুল হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, জাফর ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াকুব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে হারুন আর-রুইয়ানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু রাবী আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আবু আওয়ানাহ আমাদের আসিম থেকে, তিনি জির থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি উকবা ইবনে আবি মুআইতের ছাগল পালের মাঝে একজন বয়ঃসন্ধিকালের বালক ছিলাম, আমি সেগুলো চরাতাম। তখন রাসুলুল্লাহ এবং তাঁর সাথে আবু বকর আমার কাছে আসলেন। তিনি বললেন: হে বালক! তোমার কাছে কি কিছু দুধ আছে? তিনি (ইবনে মাসউদ) বললেন: আমি বললাম: হ্যাঁ, তবে আমি তো আমানতদার। তিনি বললেন: তবে আমাকে এমন একটি বকরি এনে দাও যার সাথে পাঠার মিলন ঘটেনি। তিনি বললেন: আমি তাঁর কাছে এক বছরের কম বয়সী একটি মাদী বাচ্চা নিয়ে আসলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটিকে ধরলেন। তিনি বললেন: এরপর তিনি তার স্তনে হাত বুলাতে লাগলেন এবং দোয়া করতে লাগলেন, এমনকি দুধ নেমে এল। তিনি বললেন: আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু একটি থালা বা একটি পাথর নিয়ে আসলেন, তখন তিনি তাতে দোহন করলেন। এরপর তিনি আবু বকরকে বললেন: পান করো। তখন আবু বকর পান করলেন, এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পান করলেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্তনকে বললেন: সংকুচিত হও, তখন তা সংকুচিত হয়ে গেল এবং আগের মতো হয়ে গেল। তিনি বললেন: এরপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে এই কথা থেকে বা এই কুরআন থেকে কিছু শিক্ষা দিন। তিনি আমার মাথায় হাত বুলালেন এবং বললেন: নিশ্চয়ই তুমি একজন শিক্ষিত বালক। এরপর আমি তাঁর থেকে সত্তরটি সুরা গ্রহণ করেছি যা আমার থেকে কেউ কেড়ে নিতে পারেনি (অন্য বর্ণনায়: যা নিয়ে কোনো মানুষ আমার সাথে বিবাদ করতে পারেনি)।

ইমাম রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: তাঁর কথা 'ইয়াফিআন' অর্থ আমি পুরুষত্বের সীমায় পৌঁছেছি। আর 'ইয়াফা' হলো উঁচু স্থান। 'আনাকুন জাযাআতুন' মানে হলো এমন ছাগলছানা যার এক বছর পূর্ণ হয়নি। অন্য বর্ণনায় আছে 'বি-সাখরাতিল মুনকাইরাতিন' অর্থাৎ যার গভীরতা আছে। 'আকলুস' অর্থ হলো...