(খণ্ড: ১) নিয়ামাতুয যারীয়াহ ফী নুসরতিশ শারীয়াহ (পৃষ্ঠা: -)
نعمة الذريعة في نصرة الشريعة   (إبراهيم الحلبي)

القسم: العقيدة


الكتاب: نعمة الذريعة في نصرة الشريعة

المؤلف: إبراهيم بن محمد بن إبراهيم الحَلَبي الحنفي (ت 956هـ)

المحقق: علي رضا بن عبد الله بن علي رضا

الناشر: دار المسير - الرياض

الطبعة: الأولى، 1419هـ - 1998م

عدد الصفحات: 226

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

নি’মাতুল যারিয়া ফী নুসরতিশ শারীয়াহ   (ইবরাহীম আল-হালাবী)

বিভাগ: আকিদাহ


বই: নি’মাতুল যারিয়া ফী নুসরতিশ শারীয়াহ

লেখক: ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম আল-হালাবী আল-হানাফী (মৃত্যু ৯৫৬ হি.)

সম্পাদক: আলী রিযা বিন আব্দুল্লাহ বিন আলী রিযা

প্রকাশক: দার আল-মাসীর - রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৯ হি. - ১৯৯৮ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২২৬

[বইয়ের পৃষ্ঠা বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) নিয়ামাতুয যারীয়াহ ফী নুসরতিশ শারীয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم وَبِه نستعين

 

الْحَمد لله رب الْعَالمين وَصلَاته وَسَلَامه على خير خلقه أَجْمَعِينَ مُحَمَّد سيد الْمُرْسلين وَخَاتم النَّبِيين وَإِمَام الْمُتَّقِينَ وقائد الغر المحجلين وعَلى آله وَأَصْحَابه أَعْلَام الْهدى وأئمة الدّين وعَلى سَائِر عباد الله الصَّالِحين صَلَاة وَسلَامًا دائمين متصلين إِلَى يَوْم جمع الْأَوَّلين [والآخرين وَبعد فَهَذِهِ أبحاث ظَهرت للخاطر الفاتر على مَوَاضِع من كتاب الفصوص قصدت بهَا نصْرَة الشَّرِيعَة وَأَهْلهَا وبينت ضلال فرقة الوجودية وجهلها وسميتها نعْمَة الذريعة فِي نصْرَة الشَّرِيعَة وَالله المطلع على النيات وَمَا تشْتَمل عَلَيْهِ الطويات وَهُوَ حسبي وَنعم الْوَكِيل

قَالَ فِي الديباجة أما بعد فَإِنِّي رَأَيْت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي مبشرة أريتها فِي الْعشْر الآخر من محرم سنة سبع وَعشْرين وسِتمِائَة بمحروسة دمشق وَبِيَدِهِ صلى الله عليه وسلم كتاب فَقَالَ لي خُذْهُ هَذَا كتاب فصوص الحكم خُذْهُ واخرج بِهِ إِلَى النَّاس يَنْتَفِعُونَ بِهِ فَقلت السّمع وَالطَّاعَة لله وَلِرَسُولِهِ ولأولي الْأَمر منا كَمَا أمرنَا إِلَى آخر مَا ذكر
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে এবং তাঁরই নিকট আমরা সাহায্য প্রার্থনা করি

 

সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং তাঁর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সৃষ্টির সর্বশ্রেষ্ঠ সত্তা, রাসূলগণের সরদার, নবীদের সমাপ্তিকারী, মুত্তাকীদের ইমাম এবং কিয়ামতের দিন উজ্জ্বল মুখমণ্ডল ও হাত-পা বিশিষ্ট হয়ে আগমনকারীদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গী-সাথীদের ওপর যারা হিদায়াতের ঝাণ্ডা ও দ্বীনের ইমাম এবং আল্লাহর সকল নেক বান্দাদের ওপর। এমন দরুদ ও সালাম যা চিরস্থায়ী ও নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রথম ও শেষ সময়ের সকল মানুষকে একত্রিত করার দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। অতঃপর, এগুলি হলো 'ফুসুস' কিতাবের কিছু বিষয়ের ওপর আমার ক্ষীণ মস্তিস্কে উদিত হওয়া কিছু গবেষণা, যার মাধ্যমে আমি শরীয়ত ও শরীয়তপন্থীদের সহযোগিতা করার সংকল্প করেছি এবং 'উজুদিয়া' সম্প্রদায়ের ভ্রষ্টতা ও মূর্খতা স্পষ্ট করেছি। আমি এর নাম দিয়েছি 'নি’মাতুজ জারি’আহ ফি নুসরতিশ শারী’আহ'। আল্লাহ নিয়তসমূহ এবং অন্তরের গোপন বিষয় সম্পর্কে সম্যক অবগত। তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

তিনি ভূমিকার বলেছেন: অতঃপর, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একটি সুসংবাদপূর্ণ স্বপ্নে দেখেছি যা আমাকে দেখানো হয়েছে ৬২৭ হিজরি সনের মহরম মাসের শেষ দশকে সুরক্ষিত দামেস্কে। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে একটি কিতাব ছিল। তিনি আমাকে বললেন, "এটি নাও; এটি 'ফুসুসুল হিকাম' কিতাব। এটি গ্রহণ করো এবং মানুষের কাছে নিয়ে যাও যাতে তারা এর দ্বারা উপকৃত হতে পারে।" তখন আমি বললাম, "আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং আমাদের উলুল আমরের আদেশ অনুযায়ী আমি শ্রবণ করলাম ও আনুগত্য করলাম"—তিনি যা উল্লেখ করেছেন তার শেষ পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১) নিয়ামাতুয যারীয়াহ ফী নুসরতিশ শারীয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
أَقُول هَذِه الرُّؤْيَا لَا يكَاد يُمكن صِحَّتهَا عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَإِن الْكتاب الْمَذْكُور مُشْتَمل على أَشْيَاء مناقضة للشرائع مِنْهَا قَاعِدَة أَن الْعَالم هُوَ صور الْحق سُبْحَانَهُ وَأَن من عبد شَيْئا فَإِنَّمَا عبد الله تَعَالَى وَمِنْهَا ذمّ أهل الشَّرْع ومدح الْكفَّار وتمهيد أعذارهم وَمِنْهَا الْقدح فِي بعض الْأَنْبِيَاء كَقَوْلِه فِي الْكَلِمَة النوحية الدعْوَة إِلَى الله تَعَالَى مكر بالمدعو أَدْعُو إِلَى الله فَهَذَا عين الْمَكْر فَمَا عبد غير الله تَعَالَى فِي كل معبود وَفِي الْكَلِمَة الإدريسية فَهُوَ عين مَا ظهر وَعين مَا بطن فِي حَال ظُهُوره وَمَا ثمَّ من يرَاهُ غَيره وَمَا ثمَّ من يبطن عَنهُ فَهُوَ ظَاهر لنَفسِهِ بَاطِن عَنهُ وَهُوَ الْمُسَمّى أَبَا سعيد الخراز وَغير ذَلِك من أَسمَاء المحدثات وَفِي الْكَلِمَة الإسماعلية وَمَا لوعيد الْحق عين تعاين وَفِي الْكَلِمَة الإسحاقية اعْلَم أيدنا الله تَعَالَى وَإِيَّاك أَن إِبْرَاهِيم الْخَلِيل قَالَ لِابْنِهِ إِنِّي أرى فِي الْمَنَام أَنِّي أذبحك والمنام حَضْرَة الخيال فَلم يعبرها

وَكَانَ كَبْش ظهر فِي صُورَة ابْن إِبْرَاهِيم فِي الْمَنَام فَصدق إِبْرَاهِيم الرُّؤْيَا فَفَدَاهُ ربه من وهم إِبْرَاهِيم بِالذبْحِ الْعَظِيم الَّذِي هُوَ تَعْبِير رُؤْيَاهُ عِنْد الله تَعَالَى وَهُوَ لَا يشْعر لِأَنَّهُ يعلم أَن موطن الخيال يطْلب التَّعْبِير فَغَفَلَ فَمَا وفى الموطن حَقه

وَفِي الْكَلِمَة الهودية أَنه تَعَالَى عين الْأَشْيَاء والأشياء محدودة وَإِن اخْتلفت حُدُودهَا فَهُوَ مَحْدُود بِحَدّ كل مَحْدُود فَمَا يحد شَيْء إِلَّا وَهُوَ حد الْحق

فَهُوَ الساري فِي مُسَمّى الْمَخْلُوقَات والمبدعات
আমি বলি, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত এই স্বপ্নের বিশুদ্ধতা প্রমাণিত হওয়া প্রায় অসম্ভব। কারণ, উল্লিখিত কিতাবটি শরিয়তের পরিপন্থী এমন সব বিষয়ে পরিপূর্ণ, যার মধ্যে একটি হলো এই মূলনীতি যে—জগত হলো মহিমান্বিত হকেরই (আল্লাহর) প্রতিচ্ছবি এবং যে ব্যক্তি যে জিনিসেরই উপাসনা করেছে, সে মূলত আল্লাহ তাআলারই ইবাদত করেছে। আরও রয়েছে শরিয়তপন্থীদের নিন্দা, কাফেরদের প্রশংসা এবং তাদের স্বপক্ষে অজুহাত তৈরি করা। আরও রয়েছে কিছু নবিগণের প্রতি কটাক্ষ; যেমন 'কালিমায়ে নুহিয়্যাহ' বা নুহ (আ.) সংক্রান্ত পরিচ্ছেদে তার বক্তব্য: "আল্লাহ তাআলার দিকে দাওয়াত দেওয়া হলো দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তির সাথে এক প্রকার প্রতারণা। আমি আল্লাহর দিকে ডাকছি—এটিই প্রকৃত প্রতারণা। সুতরাং প্রত্যেক উপাস্য বস্তুর মধ্যে আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করা হয়নি।" 'কালিমায়ে ইদ্রিসিয়্যাহ'-তে রয়েছে: "তিনিই যা প্রকাশ্য তার সারসত্তা এবং যা অপ্রকাশ্য তারও সারসত্তা তাঁর প্রকাশের অবস্থায়। সেখানে তাঁকে ছাড়া আর কেউ দেখার নেই এবং সেখানে এমন কেউ নেই যার কাছ থেকে তিনি প্রচ্ছন্ন থাকেন। সুতরাং তিনি স্বীয় সত্তার নিকট প্রকাশ্য এবং তাঁর থেকে প্রচ্ছন্ন। তিনিই আবু সাঈদ আল-খাররাজ নামে অভিহিত এবং অন্যান্য নব্যসৃষ্ট বস্তুর নামেও অভিহিত।" 'কালিমায়ে ইসমাইলিয়্যাহ'-তে রয়েছে: "আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত শাস্তির বাণীর কোনো চাক্ষুষ বাস্তবতা নেই।" 'কালিমায়ে ইসহাকিয়্যাহ'-তে রয়েছে: "জেনে রাখুন—আল্লাহ তাআলা আমাদের ও আপনাকে সাহায্য করুন—ইব্রাহিম খলিল তাঁর পুত্রকে বলেছিলেন, 'আমি স্বপ্নে দেখছি যে আমি তোমাকে জবেহ করছি।' আর স্বপ্ন হলো কল্পনার জগত, কিন্তু তিনি এর যথাযথ ব্যাখ্যা প্রদান করেননি।"

সেটি ছিল একটি দুম্বা যা স্বপ্নে ইব্রাহিমের পুত্রের আকৃতিতে প্রকাশিত হয়েছিল। ফলে ইব্রাহিম স্বপ্নটিকে সত্য ও বাস্তব মনে করেছিলেন, অতঃপর তাঁর প্রতিপালক ইব্রাহিমের সেই জবেহ করার ধারণা থেকে এক মহান কোরবানির মাধ্যমে তাঁকে মুক্তি দেন, যা আল্লাহ তাআলার নিকট তাঁর স্বপ্নের প্রকৃত ব্যাখ্যা ছিল। অথচ তিনি তা বুঝতে পারেননি; কারণ তিনি জানতেন যে কল্পনার জগত ব্যাখ্যার দাবি রাখে, কিন্তু তিনি অসতর্ক ছিলেন, ফলে তিনি সেই জগতের যথাযথ হক আদায় করতে পারেননি।

'কালিমায়ে হুদিয়্যাহ'-তে রয়েছে যে, তিনি (আল্লাহ তাআলা) হলেন বস্তুনিচয়ের সারসত্তা, আর বস্তুসমূহ সীমাবদ্ধ। যদিও তাদের সীমা ভিন্ন ভিন্ন, তবে তিনি প্রতিটি সীমাবদ্ধ বস্তুর সীমার দ্বারা সীমাবদ্ধ। সুতরাং কোনো কিছুই সীমাবদ্ধ হয় না যা মূলত হকের (আল্লাহর) সীমা নয়।

সুতরাং সৃষ্টি ও উদ্ভাবিত বস্তুসমূহের সংজ্ঞায় তিনিই পরিব্যাপ্ত।
(খণ্ড: ১) নিয়ামাতুয যারীয়াহ ফী নুসরতিশ শারীয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
فالعالم صورته وَهُوَ روح الْعَالم الْمُدبر لَهُ فَهُوَ الْإِنْسَان الْكَبِير

فإياك أَن تتقيد بِعقد وتكفر بِمَا سواهُ فيفوتك خير كثير بل يفوتك الْعلم بِالْأَمر على مَا هُوَ عَلَيْهِ فَكُن فِي نَفسك هيولى لصور المعتقدات كلهَا

وَفِي الْكَلِمَة الشعيبية فَلهَذَا قَالَ {لمن كَانَ لَهُ قلب} فَعلم تقلب الْحق فِي الصُّور بتقلبه فِي الأشكال فَمن نَفسه عرف نَفسه وَلَيْسَت نَفسه بِغَيْر لهوية الْحق

وَلَا شَيْء من الْكَوْن مِمَّا هُوَ كَائِن وَيكون بِغَيْر لهوية الْحق بل هُوَ عين الهوية وَفِي الهارونية وَكَانَ مُوسَى أعلم بِالْأَمر من هَارُون لِأَنَّهُ علم مَا عَبده أَصْحَاب الْعجل

لعلمه بِأَن الله تَعَالَى قد قضى أَن لَا يعبد إِلَّا إِيَّاه

وَمَا حكم الله تَعَالَى بِشَيْء إِلَّا وَقع فَكَانَ عتب مُوسَى أَخَاهُ هَارُون لما وَقع الْأَمر فِي إِنْكَاره وَعدم اتساعه فَإِن الْعَارِف من يرى الْحق فِي كل شَيْء بل يرَاهُ عين كل شَيْء

إِلَى غير ذَلِك من الكفريات والهذيانات الَّتِي أودعها فِي الْكتاب الْمَذْكُور

فَكيف يجوز إسنادها إِلَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم بل ذَلِك من أبطل الْمحَال أما على مَا هُوَ الْمَفْهُوم من التراكيب الوضعية فَظَاهر

وَكَذَا إِن فرض فرضا أَن المُرَاد غير مَا يفهم من ظَاهر تركيبه إِذْ من الْمحَال أَن يَأْمر النَّبِي صلى الله عليه وسلم بعد مضى سِتّمائَة سنة من زمن تَقْرِير شَرِيعَته الَّتِي مهدها هُوَ وَأَصْحَابه بِكَلَام ظَاهرهَا إِبْطَالهَا ومخالفتها وباطنه موافقتها وتحقيقها سِيمَا عِنْد فَسَاد الزَّمَان وَظُهُور الاعتقادات الْفَاسِدَة
জগৎ হলো তাঁরই রূপ, আর তিনি জগতের আত্মা ও তার পরিচালক; ফলে তিনি হলেন মহাবিশ্ব-মানব।

সুতরাং কোনো নির্দিষ্ট আকিদায় নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখা এবং তা ছাড়া অন্য কিছুকে অস্বীকার করা থেকে বিরত থাকো; অন্যথায় তোমার অনেক কল্যাণ হাতছাড়া হয়ে যাবে, বরং বিষয়ের প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে তোমার জ্ঞান অর্জন হবে না। তাই তুমি নিজের অন্তরে সমস্ত বিশ্বাসের রূপসমূহের জন্য 'হায়ুলা' বা মূল উপাদানের ন্যায় হয়ে যাও।

আর 'কালিমায়ে শুআইবিয়্যাহ' তে রয়েছে: এ কারণেই তিনি বলেছেন, "যার হৃদয় আছে তার জন্য।" ফলে তিনি আকারের পরিবর্তনের সাথে সাথে বিভিন্ন রূপান্তরে হকের পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে পারলেন। যে নিজের আত্মাকে চিনেছে, সে নিজের রবকে চিনেছে, আর তার সত্তা হকের স্বরূপ ছাড়া অন্য কিছু নয়।

মহাবিশ্বে যা কিছু আছে বা যা হবে, তার কোনো কিছুই হকের স্বরূপ ছাড়া নয়, বরং তিনি স্বয়ং সেই স্বরূপ। আর 'কালিমায়ে হারুনিয়্যাহ' তে রয়েছে: মুসা আলাইহিস সালাম এ বিষয়ে হারুন আলাইহিস সালাম অপেক্ষা অধিক জ্ঞান রাখতেন, কারণ তিনি জানতেন বাছুর পূজারীরা প্রকৃতপক্ষে কার ইবাদত করেছে।

কেননা তিনি জানতেন যে, মহান আল্লাহ ফয়সালা করে রেখেছেন যে, কেবল তাঁরই ইবাদত করা হবে।

আর আল্লাহ তাআলা যা কিছু ফয়সালা করেন তা অবশ্যই ঘটে থাকে। ফলে মুসা আলাইহিস সালাম তাঁর ভাই হারুনকে তিরস্কার করেছিলেন যখন হারুন বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন এবং সংকীর্ণতা প্রকাশ করেছিলেন। কেননা আরিফ বা তত্ত্বজ্ঞানী সেই ব্যক্তি, যিনি প্রতিটি বস্তুর মাঝে হককে দেখতে পান, বরং তাকে প্রতিটি বস্তুর মূল সত্তা হিসেবেই দেখেন।

এই জাতীয় আরও অনেক কুফরি ও প্রলাপসমূহ তিনি উল্লিখিত কিতাবে সন্নিবেশিত করেছেন।

সুতরাং কীভাবে এগুলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্পর্কিত করা বৈধ হতে পারে? বরং এটি অসম্ভব বিষয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় অসম্ভব। প্রচলিত ভাষাগত কাঠামোর আলোকে যা বুঝা যায়, তা তো অত্যন্ত স্পষ্ট।

একইভাবে যদি তর্কের খাতিরে ধরেও নেওয়া হয় যে, এসবের উদ্দেশ্য এর প্রকাশ্য অর্থ থেকে ভিন্ন কিছু, তবুও এটা অসম্ভব যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীদের প্রতিষ্ঠিত শরীয়ত প্রবর্তনের ছয়শ বছর পর তিনি এমন কথার আদেশ দেবেন যার বাহ্যিক রূপ শরীয়তকে বাতিল ও বিরোধিতা করে, আর যার অভ্যন্তরীণ রূপ তার সাথে সাদৃশ্য রাখে; বিশেষ করে যামানার বিপর্যয় ও ভ্রান্ত বিশ্বাসের প্রাদুর্ভাবের সময়ে।
(খণ্ড: ১) নিয়ামাতুয যারীয়াহ ফী নুসরতিশ শারীয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
والبدع وَغَلَبَة الشَّهَوَات والمعاصي على مَا لَا يخفى وَالله سبحانه وتعالى هُوَ الْمُسْتَعَان وَعَلِيهِ التكلان وَلَا حول وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه الْعلي الْعَظِيم

قَالَ فِي الْكَلِمَة الشيثية وَلَيْسَ هَذَا الْعلم إِلَّا لخاتم الرُّسُل وَخَاتم الْأَوْلِيَاء وَمَا يرَاهُ أحد من الْأَنْبِيَاء وَالرسل إِلَّا من مشكاة الرَّسُول الْخَاتم وَلَا يرَاهُ أحد من الْأَوْلِيَاء إِلَّا من مشكاة الْوَلِيّ الْخَاتم حَتَّى أَن الرُّسُل لَا يرونه مَتى رَأَوْهُ إِلَّا من مشكاة خَاتم الْأَوْلِيَاء فَإِن الرسَالَة والنبوة أَعنِي نبوة التشريع ورسالته ينقطعان وَالْولَايَة لَا تَنْقَطِع أبدا

فالمرسلون من كَونهم أَوْلِيَاء لَا يرَوْنَ مَا ذَكرْنَاهُ إِلَّا من مشكاة خَاتم الْأَوْلِيَاء

فَكيف من دونهم من الْأَوْلِيَاء

أَقُول انْظُر إِلَى هَذَا التصلف والتمدح فَإِنَّهُ يزْعم أَنه هُوَ خَاتم الْأَوْلِيَاء كَمَا قَالَ فِي أول الْبَاب الثَّالِث وَالْأَرْبَعِينَ من الفتوحات أَنا ختم الْولَايَة دون شكّ لَو رئي الْهَاشِمِي مَعَ الْمَسِيح وَذكر فِي مَوضِع آخر من الفتوحات على مَا نَقله شَارِحه القيصري أَنه رأى حَائِطا من ذهب وَفِضة وكمل إِلَّا مَوضِع لبنتين
এবং বিদআত, প্রবৃত্তির আধিপত্য ও পাপাচার এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যা গোপন নয়। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা হচ্ছেন একমাত্র সাহায্যস্থল এবং তাঁর ওপরই পূর্ণ নির্ভরতা। সুউচ্চ মহান আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই।

তিনি 'কালিমায়ে শয়ছিয়া'-তে বলেছেন: এই জ্ঞান কেবল খাতামুর রাসূল (রাসূলগণের সমাপ্তিকারী) ও খাতামুল আউলিয়া (ওলীগণের সমাপ্তিকারী)-এর জন্যই নির্দিষ্ট। নবী ও রাসূলগণের মধ্যে কেউই তা দেখেন না কেবল খাতামুর রাসূলের দীপাধার (মিশকাত) থেকে এবং ওলীগণের মধ্যে কেউই তা দেখেন না কেবল খাতামুল ওলীর দীপাধার থেকে। এমনকি রাসূলগণও যখন তা দেখেন, তা কেবল খাতামুল ওলীর দীপাধার থেকেই দেখেন। কেননা রিসালাত ও নবুওয়াত—অর্থাৎ বিধান সংবলিত নবুওয়াত ও রিসালাত—সমাপ্ত হয়ে যায়, কিন্তু বিলায়াত (আল্লাহর বন্ধুত্ব) কখনো সমাপ্ত হয় না।

সুতরাং রাসূলগণ ওলী হওয়ার দিক থেকে আমরা যা উল্লেখ করেছি তা কেবল খাতামুল ওলীর দীপাধার থেকেই দেখেন।

তাহলে তাঁদের নিম্নস্তরের ওলীদের অবস্থা কেমন হবে!

আমি বলি: এই দম্ভ ও আত্মপ্রশংসার দিকে লক্ষ্য করুন। কারণ তিনি দাবি করেন যে তিনিই হচ্ছেন খাতামুল আউলিয়া, যেমনটি তিনি ‘ফুতুহাত’-এর তেতাল্লিশতম অধ্যায়ের শুরুতে বলেছেন: "আমিই বিলায়াতের সমাপ্তি এতে কোনো সন্দেহ নেই, যদিও হাশেমীকে মসীহের সাথে দেখা যায়।" ফুতুহাতের অন্য এক স্থানে তিনি উল্লেখ করেছেন—যেমনটি তাঁর ব্যাখ্যাকারী কায়সারী উদ্ধৃত করেছেন—যে তিনি সোনা ও রূপার একটি দেয়াল দেখেছেন যা দুটি ইটের স্থান ব্যতীত পূর্ণাঙ্গ হয়ে গিয়েছিল।
(খণ্ড: ১) নিয়ামাতুয যারীয়াহ ফী নুসরতিশ শারীয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
إِحْدَاهمَا من ذهب وَالْأُخْرَى من فضَّة فانطبع مَوضِع تِلْكَ اللبنتين وَأَنه قَالَ وَأَنا لَا أَشك أَنِّي أَنا الرَّائِي وَأَنِّي أَنا المنطبع موضعهما وَبِي كمل الْحَائِط

ثمَّ عبرت الرُّؤْيَا بختام الْولَايَة

وَذكر الْمَنَام للمشائخ الَّذين كنت فِي عصرهم وَمَا قلت من الرَّائِي فعبروا بِمَا عبرت بِهِ

ثمَّ إِنَّه مَعَ هَذَا نفى هَذَا الْعلم الَّذِي مدحه عَن غَيره وَعَن غير خَاتم الْأَنْبِيَاء ففضل نَفسه على من سوى الْخَاتم من الْأَنْبِيَاء جَمِيعًا بطرِيق الِاسْتِقْلَال

وَادّعى أَنهم إِذا رَأَوْهُ فَإِنَّمَا يرونه من مشكاة خَاتم الْأَنْبِيَاء من حَيْثُ النُّبُوَّة

وَمن مشكاة الْأَوْلِيَاء من حَيْثُ الْولَايَة ثمَّ فضل نَفسه على خَاتم الْأَنْبِيَاء أَيْضا بِأَن عمم جَمِيع الرُّسُل أَنهم لَا يرونه من حَيْثُ ولايتهم إِلَّا من مشكاته وَخَاتم الْأَنْبِيَاء دَاخل فِي هَذَا الْعُمُوم ثمَّ صرح بذلك حَيْثُ قَالَ وَإِن كَانَ خَاتم الْأَوْلِيَاء فِي الحكم تَابعا لما جَاءَ بِهِ خَاتم الرُّسُل من التشريع فَذَلِك لَا يقْدَح فِي مقَامه وَلَا يُنَاقض مَا ذَهَبْنَا إِلَيْهِ فَإِنَّهُ من وَجه يكون أنزل كَمَا أَنه من وَجه يكون أَعلَى

وَقد ظهر فِي ظَاهر شرعنا مَا يُؤَيّد مَا ذَهَبْنَا إِلَيْهِ فِي فضل عمر فِي أُسَارَى بدر بالحكم فيهم وَفِي تأبير النّخل فَمَا يلْزم الْكَامِل
তাদের একটি ছিল স্বর্ণের এবং অন্যটি রূপার। অতঃপর সেই দুটি ইটের স্থানটি চিহ্নিত হলো। তিনি বলেন: আমি এতে কোনো সন্দেহ করি না যে আমিই ছিলাম সেই স্বপ্নদ্রষ্টা এবং আমিই সেই ব্যক্তি যার দ্বারা ঐ স্থানদ্বয় পূর্ণ হয়েছে, আর আমার মাধ্যমেই প্রাচীরটি সম্পন্ন হয়েছে।

অতঃপর আমি এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা করলাম বিলায়াতের পরিসমাপ্তি হিসেবে।

আর আমি যে যুগের মাশায়েখদের সমসাময়িক ছিলাম, তাদের নিকট এই স্বপ্নের কথা বর্ণনা করলাম। আমি স্বপ্নদ্রষ্টা সম্পর্কে যা বলেছিলাম, তারাও সেই একই ব্যাখ্যা প্রদান করলেন।

অতঃপর তিনি এর পাশাপাশি এই জ্ঞানকে—যার তিনি প্রশংসা করেছেন—অন্যদের থেকে এবং শেষ নবী ব্যতীত অন্য সবার থেকে নাকচ করেছেন। ফলে তিনি নিজেকে শেষ নবী ব্যতীত অন্য সকল নবীগণের ওপর স্বতন্ত্রভাবে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।

তিনি দাবি করেছেন যে, তারা যখন তা দেখেন, তখন তারা তা নবুওয়াতের দিক থেকে শেষ নবীর আলোর আধার থেকে দেখেন।

আর বিলায়াতের দিক থেকে আউলিয়াদের আলোর আধার থেকে দেখেন। এরপর তিনি নিজেকে শেষ নবীর ওপরও শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এই বলে যে, তিনি সকল রাসূলদের ক্ষেত্রে এই নিয়মকে সাধারণ করে দিয়েছেন যে, তারা বিলায়াতের দিক থেকে তাঁর আলোর আধার ব্যতীত তা দেখেন না; আর শেষ নবীও এই সাধারণ নিয়মের অন্তর্ভুক্ত। এরপর তিনি বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যেখানে তিনি বলেছেন: যদিও 'খাতমে আউলিয়া' বিধানের দিক থেকে শেষ রাসূল কর্তৃক আনীত শরীয়তের অনুসারী, তবে তা তাঁর মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে না এবং আমরা যে মত পোষণ করেছি তার সাথেও সাংঘর্ষিক নয়। কেননা তিনি এক দিক থেকে নিম্নবর্তী হলেও অন্য দিক থেকে উচ্চতর।

আর আমাদের শরীয়তের বাহ্যিক দিক থেকেও এমন কিছু প্রকাশ পেয়েছে যা বদরের যুদ্ধবন্দীদের বিষয়ে ফয়সালা প্রদানের ক্ষেত্রে উমরের শ্রেষ্ঠত্ব এবং খেজুর গাছ পরাগায়নের ঘটনার মাধ্যমে আমাদের মতকে সমর্থন করে; সুতরাং একজন কামিল বা পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তির জন্য যা আবশ্যক...
(খণ্ড: ১) নিয়ামাতুয যারীয়াহ ফী নুসরতিশ শারীয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
أَن يكون لَهُ التَّقَدُّم فِي كل شَيْء وَفِي كل مرتبَة وَإِنَّمَا نظر الرِّجَال إِلَى التَّقَدُّم فِي رتب الْعلم بِاللَّه هُنَا مطلبهم

وَأما حوادث الأكوان فَلَا تعلق لخواطرهم بهَا

فتحقق مَا ذَكرْنَاهُ

أَقُول انْظُر إِلَى دَعْوَاهُ أَنه أَعلَى من خَاتم الرُّسُل من وَجه وَانْظُر إِلَى استدلاله وتناقضه فِيهِ حَيْثُ اسْتدلَّ بِقصَّة عمر رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ فِي أُسَارَى بدر وبقصة تأبير النّخل على ادعائه أَن الْأَدْنَى يكون أَعلَى من وَجه ثمَّ نَاقض نَفسه وَهُوَ لَا يشْعر بقوله وَإِنَّمَا نظر الرِّجَال الخ

وَهل أُمُور الْحَرْب الَّتِي تضمنتها قصَّة عمر وتأبير النّخل إِلَّا من حوادث الأكوان الَّتِي لَا تعلق لنظر الرِّجَال بهَا وَأي تعلق لهاتين الْقصَّتَيْنِ بِالْعلمِ بِاللَّه تَعَالَى ثمَّ لَا يتم أَن الْعلم الَّذِي ذكره ومدحه هُوَ الْعلم بِاللَّه الْمُقْتَضِي للأفضلية بل هُوَ علم حوادث الأكوان أَيْضا فَإِن الْعلم بِأَن الْمنح والهبات والعطايا الذاتية لَا تكون إِلَّا عَن مَحل ذاتي وَأَن ذَلِك التجلي لَا يكون إِلَّا بِصُورَة استعداد المتجلى لَهُ إِنَّمَا يرجع إِلَى معرفَة حقائق المكونات ووقوعها على الْوَجْه الَّذِي وجدت عَلَيْهِ وَلَيْسَ ذَلِك من الْعلم بِاللَّه تَعَالَى فِي شَيْء إِنَّمَا الْعلم بِاللَّه تَعَالَى مَا يقتضى خَشيته كَمَا قَالَ سبحانه وتعالى {إِنَّمَا يخْشَى الله من عباده الْعلمَاء}

وَذَلِكَ هُوَ الْعلم بعظمته وجلاله وكبريائه وَسَائِر صِفَاته المفضي إِلَى امْتِثَال أوامره ونواهيه واقتفاء مَا يقرب إِلَيْهِ
যেন তাঁর সব কিছুতে এবং প্রত্যেকটি স্তরে শ্রেষ্ঠত্ব থাকে। আর মূলত পুরুষদের দৃষ্টি হলো আল্লাহ বিষয়ক ইলমের স্তরসমূহে শ্রেষ্ঠত্বের দিকে, এটাই তাদের উদ্দেশ্য।

আর সৃষ্টিজগতের ঘটনাবলির সাথে তাদের চিন্তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

সুতরাং আমরা যা উল্লেখ করেছি তা যাচাই করো।

আমি বলছি, তাঁর এই দাবির প্রতি লক্ষ্য করো যে তিনি একদিক দিয়ে শেষ রাসূলের চেয়েও উচ্চতর এবং তাঁর দলীলপ্রদান ও এর মধ্যকার বৈপরীত্যের দিকে তাকাও; যেখানে তিনি বদরের বন্দীদের ব্যাপারে উমর (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু)-এর ঘটনা এবং খেজুর গাছের পরাগায়নের ঘটনা দিয়ে তাঁর এই দাবির স্বপক্ষে দলীল দিয়েছেন যে, নিম্নতর ব্যক্তিও কোনো একদিক দিয়ে উচ্চতর হতে পারে। অতঃপর তিনি নিজেই নিজের কথার মাধ্যমে নিজের বিরোধিতা করেছেন অথচ তিনি তা টেরও পাননি— তাঁর এই কথার দ্বারা: "আর মূলত পুরুষদের দৃষ্টি..." ইত্যাদি।

উমরের ঘটনায় অন্তর্ভুক্ত যুদ্ধের বিষয়াবলি এবং খেজুর গাছের পরাগায়ন কি সৃষ্টিজগতের সেই সব ঘটনাবলির অন্তর্ভুক্ত নয়, যেগুলোর সাথে ঐ পুরুষদের দৃষ্টির কোনো সম্পর্ক নেই? আর আল্লাহ তাআলা বিষয়ক ইলমের সাথে এই দুটি ঘটনারই বা কী সম্পর্ক? তদুপরি, তিনি যে ইলমের উল্লেখ করেছেন এবং প্রশংসা করেছেন, তা শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানকারী আল্লাহ বিষয়ক ইলম হিসেবে সাব্যস্ত হয় না; বরং তা-ও সৃষ্টিজগতের ঘটনাবলি বিষয়ক ইলম। কেননা এই ইলম যে— সত্তাগত দান, উপহার ও উপঢৌকনসমূহ কেবল সত্তাগত আধার থেকেই হয়ে থাকে এবং সেই জ্যোতি বা বিকাশ কেবল জ্যোতিপ্রাপ্ত ব্যক্তির যোগ্যতার রূপ অনুযায়ীই হয়ে থাকে— তা মূলত সৃষ্টিসমূহের হাকীকত বা প্রকৃত অবস্থা এবং সেগুলো যেভাবে অস্তিত্ব লাভ করেছে তা জানার দিকেই ফিরে যায়। আর এর সাথে আল্লাহ তাআলা বিষয়ক ইলমের কোনো সম্পর্ক নেই। বরং আল্লাহ তাআলা বিষয়ক ইলম হলো তা-ই, যা তাঁর ভয় সৃষ্টি করে; যেমনটি তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমগণই তাঁকে ভয় করে।"

আর তা হলো তাঁর মহানুভবতা, মহিমা, শ্রেষ্ঠত্ব এবং তাঁর অন্যান্য গুণাবলি বিষয়ক ইলম, যা তাঁর আদেশ ও নিষেধ পালনের দিকে এবং তাঁর নৈকট্য দানকারী বিষয়সমূহের অনুসরণের দিকে ধাবিত করে।
(খণ্ড: ১) নিয়ামাতুয যারীয়াহ ফী নুসরতিশ শারীয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
فَهَذَا هُوَ الْعلم الْمُقْتَضِي للأفضلية فَإِن الْأَفْضَلِيَّة إِنَّمَا هِيَ بِكَثْرَة الثَّوَاب وَزِيَادَة الدَّرَجَات فِي الْقرب إِلَى الله تَعَالَى لَا معرفَة حقائق الْأَشْيَاء كَمَا ذهبت إِلَيْهِ الفلاسفة وَهَذِه الطَّائِفَة فَإِن الله تَعَالَى قد نفى الْعلم عَن مثل هَؤُلَاءِ فَقَالَ سبحانه وتعالى {وَلَكِن أَكثر النَّاس لَا يعلمُونَ يعلمُونَ ظَاهرا من الْحَيَاة الدُّنْيَا وهم عَن الْآخِرَة هم غافلون}

وَأي فَضِيلَة فِي معرفَة أَن الله تَعَالَى هُوَ الظَّاهِر فِي صور الْأَشْيَاء وَهِي الظَّاهِرَة فِيهِ فَهُوَ مرْآة لَهُ إِلَى آخر مَا ذكره هَذَا الشَّخْص فِي مثل هَذَا الْموضع وَكَيف ينْسب ويسند مثل هَذِه الخرافات إِلَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَمَا هِيَ إِلَّا تَضْييع أَوْقَات فِي غير طائل

وَالله سبحانه وتعالى هُوَ الْهَادِي المضل وَإِلَيْهِ يرجع الْأَمر كُله

ثمَّ قَالَ عقيب هَذَا وَلما مثل النَّبِي صلى الله عليه وسلم النُّبُوَّة بِالْحَائِطِ من اللَّبن وَقد كمل سوى مَوضِع لبنة فَكَانَ صلى الله عليه وسلم تِلْكَ اللبنة غير أَنه صلى الله عليه وسلم لَا يَرَاهَا إِلَّا كَمَا قَالَ لبنة وَاحِدَة

وَأما خَاتم الْأَوْلِيَاء فَلَا بُد لَهُ من هَذِه الرُّؤْيَا فَيرى مَا مثله بِهِ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَيرى فِي الْحَائِط مَوضِع لبنتين

واللبنتين من ذهب وَفِضة

فَيرى اللبنتين اللَّتَيْنِ ينقص الْحَائِط عَنْهُمَا وتكمل بهما لبنة فضَّة ولبنة ذهب

فَلَا بُد أَن يرى نَفسه تنطبع فِي مَوضِع تينك اللبنتين

فَيكون خَاتم الْأَوْلِيَاء تينك اللبنتين فيكمل الْحَائِط إِلَى آخر مَا ذكره

أَقُول هَذَا الْكَلَام فِيهِ اخْتِلَاف من وُجُوه مِنْهَا أَن الممثل على مَا ذكر هُوَ النُّبُوَّة فَأَي دخل لغير النَّبِي فِيهِ حَتَّى يكون مَوضِع لبنتين أَو لبنة
সুতরাং এটিই সেই জ্ঞান যা শ্রেষ্ঠত্বের দাবি রাখে। কেননা শ্রেষ্ঠত্ব তো কেবল সওয়াবের আধিক্য এবং আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভের ক্ষেত্রে মর্যাদা বৃদ্ধির মাধ্যমেই অর্জিত হয়; বস্তুর প্রকৃত হাকিকত বা স্বরূপ জানার মাধ্যমে নয়, যেমনটি দার্শনিক ও এই গোষ্ঠী মনে করে থাকে। মহান আল্লাহ তো এ জাতীয় লোকদের থেকে জ্ঞানকে নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: "কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না। তারা পার্থিব জীবনের বাহ্যিক দিক সম্পর্কে জানে, আর তারা পরকাল সম্পর্কে উদাসীন।"

আর এতে কী এমন ফজিলত রয়েছে যে, মহান আল্লাহ বস্তুর অবয়বে প্রকাশিত এবং বস্তুসমূহ তাঁর মধ্যে প্রকাশিত, ফলে তিনি তাদের জন্য দর্পণ স্বরূপ—এই ব্যক্তি এ স্থানে যা কিছু উল্লেখ করেছে তার শেষ পর্যন্ত। আর এ জাতীয় অলীক কল্পনা ও কুসংস্কার কীভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্পর্কিত ও আরোপিত করা যায়? এগুলো তো নিরর্থক কাজে সময় নষ্ট করা ছাড়া আর কিছুই নয়।

আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা হচ্ছেন পথপ্রদর্শক ও পথভ্রষ্টকারী এবং সকল বিষয় তাঁর কাছেই প্রত্যাবর্তন করে।

এরপর তিনি এর অব্যবহিত পরেই বললেন: যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুওয়াতকে ইটের একটি প্রাচীরের সাথে তুলনা করলেন, যা একটি ইটের জায়গা ছাড়া পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল, আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সেই ইটটি; তবে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেটিকে কেবল একটি ইট হিসেবেই দেখেছিলেন।

আর খাতামুল আউলিয়ার জন্য এই দর্শনটি অনিবার্য। ফলে তিনি তা-ই দেখেন যার উদাহরণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেশ করেছেন এবং তিনি প্রাচীরের মধ্যে দুটি ইটের জায়গা দেখতে পান।

আর এই দুটি ইট হলো স্বর্ণ ও রৌপ্যের।

অতঃপর তিনি সেই দুটি ইট দেখতে পান যার অভাবে প্রাচীরটি অপূর্ণ ছিল এবং যার দ্বারা তা পূর্ণতা পায়: একটি রৌপ্যের ইট এবং একটি স্বর্ণের ইট।

সুতরাং তিনি অবশ্যই নিজেকে সেই দুটি ইটের স্থানে মুদ্রিত দেখতে পাবেন।

ফলে খাতামুল আউলিয়া হবেন সেই দুটি ইট এবং এর মাধ্যমে প্রাচীরটি পূর্ণতা পাবে—তিনি যা উল্লেখ করেছেন তার শেষ পর্যন্ত।

আমি বলছি: এই কথার মধ্যে বিভিন্ন দিক থেকে অসংগতি রয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো, যা উদাহরণ দেওয়া হয়েছে তা হলো নবুওয়াত; সুতরাং এতে নবী ছাড়া অন্য কারও কী সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে যে সেখানে দুটি ইট বা একটি ইটের জায়গা থাকবে?
(খণ্ড: ১) নিয়ামাতুয যারীয়াহ ফী নুসরতিশ শারীয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
وَمِنْهَا أَنا لَو سلمنَا دخل الْولَايَة فِي ذَلِك لاقتضى أَن يكون مَوضِع كل نَبِي لبنتان فضية وذهبية وَيرى خَاتم الْأَوْلِيَاء النُّقْصَان مَوضِع لبنة لَا الْعَكْس

وَمِنْهَا قَوْله يرى نَفسه تنطبع مَوضِع تينك اللبنتين يَقْتَضِي أَن يكون للولاية وَحدهَا مَوضِع لبنتين فَيكون للنَّبِي مَوضِع أَربع لبنات فَانْظُر إِلَى هَذَا الاختلال والتناقض الَّذِي يَدعِي فِيهِ الْكَشْف والكشف الصَّحِيح لَا يحْتَمل التَّنَاقُض بِوَجْه مَا وَمِنْهَا أَنه فضل مقَام الْولَايَة المجددة عَن النُّبُوَّة على مقَام النُّبُوَّة وَاسْتدلَّ عَلَيْهِ بِالْأَخْذِ من الْمَعْدن الَّذِي يَأْخُذ مِنْهُ الْملك الموحي إِلَى الرَّسُول فَيُقَال لَهُ لَا نسلم أَن الْأَخْذ من الْمَعْدن مُخْتَصّ بِالْولَايَةِ الْمُجَرَّدَة بل هُوَ فِي الْولَايَة المقترنة بِالنُّبُوَّةِ أتم

فالرسول لَا شكّ أَنه يَأْخُذ من الْمَعْدن من حَيْثُ ولَايَته وَمن الْملك من حَيْثُ رسَالَته

فَهُوَ أفضل من الْوَلِيّ غير النَّبِي بِلَا شكّ

فَكيف جعل الْوَلِيّ الْمُجَرّد مَوضِع لبنتين إِحْدَاهمَا ذهب وَلم يَجْعَل النَّبِي كَذَلِك وَالْأَمر يَقْتَضِي الْعَكْس على تَقْدِير تَسْلِيمه إِلَّا أننا نرَاك جاهدا كل الْجهد فِي مدح نَفسك وتفضيلها فَلَمَّا لم يمكنك ادِّعَاء النُّبُوَّة عدلت إِلَى ادِّعَاء رُتْبَة تفضل فِيهَا نَفسك من وَجه على جَمِيع الْأَنْبِيَاء حَتَّى على سيد الْأَوَّلين والآخرين وَلنْ تعدو قدرك وَلنْ تتجاوز طورك عِنْد من فهم تلبيسك من عباد الله الْمُؤمنِينَ

وَمن هَذَا الْقَبِيل مَا قَالَ بعد ذَلِك وَهَذَا الْعلم كَانَ علم شِيث
এগুলোর মধ্যে একটি হলো, যদি আমরা মেনেও নিই যে বিলায়াত এর অন্তর্ভুক্ত, তবে এটি দাবি করে যে প্রত্যেক নবীর স্থান হবে দুটি ইট—একটি রূপার এবং একটি সোনার; আর 'খাতামুল আউলিয়া' কেবল একটি ইটের জায়গায় ঘাটতি দেখতে পাবেন, এর বিপরীত নয়।

এগুলোর মধ্যে আরও আছে তার বক্তব্য: তিনি নিজেকে ওই দুটি ইটের জায়গায় মুদ্রিত হতে দেখেন। এটি দাবি করে যে, কেবল বিলায়াতের জন্যই দুটি ইটের স্থান হবে, ফলে নবীর জন্য স্থান হবে চারটি ইটের। সুতরাং এই বিশৃঙ্খলা ও বৈপরীত্যের দিকে লক্ষ্য করুন, যার ক্ষেত্রে তিনি 'কাশফ'-এর দাবি করেন; অথচ সঠিক কাশফ কোনোভাবেই বৈপরীত্যের অবকাশ রাখে না। এগুলোর মধ্যে আরও একটি বিষয় হলো, তিনি নবুওয়াত থেকে পৃথক হওয়া নিছক বিলায়াতের মাকামকে নবুওয়াতের মাকামের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। আর এর স্বপক্ষে তিনি সেই উৎস থেকে গ্রহণের মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন, যেখান থেকে রাসূলের নিকট ওহী বহনকারী ফেরেশতা গ্রহণ করেন। তার প্রতি উত্তরে বলা হবে: আমরা এটি স্বীকার করি না যে সেই উৎস থেকে গ্রহণ করা কেবল নবুওয়াতহীন বিলায়াতের জন্য নির্দিষ্ট, বরং নবুওয়াত-সংশ্লিষ্ট বিলায়াতের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি পূর্ণাঙ্গ।

কেননা এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, রাসূল তার বিলায়াতের দিক থেকে সরাসরি সেই মূল উৎস থেকে গ্রহণ করেন এবং তার রিসালাতের দিক থেকে ফেরেশতার মাধ্যমে গ্রহণ করেন।

সুতরাং তিনি যে নবুওয়াতহীন ওলির চেয়ে শ্রেষ্ঠ, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

এমতাবস্থায় তিনি কীভাবে কেবল নিছক ওলির জন্য দুটি ইটের স্থান সাব্যস্ত করলেন—যার একটি স্বর্ণের—অথচ নবীর জন্য তা করলেন না? যদি আপনার দাবি মেনেও নেওয়া হয়, তবুও বিষয়টি এর উল্টো হওয়া আবশ্যক ছিল। কিন্তু আমরা আপনাকে নিজের প্রশংসা ও নিজেকে শ্রেষ্ঠ প্রতিপন্ন করার ক্ষেত্রে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে দেখছি। যখন আপনার পক্ষে নবুওয়াতের দাবি করা সম্ভব হয়নি, তখন আপনি এমন এক মর্তবা দাবির দিকে মোড় নিলেন যার মাধ্যমে আপনি কোনো না কোনো দিক থেকে নিজেকে সমস্ত নবীগণের ওপর, এমনকি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের সরদারের ওপরও শ্রেষ্ঠত্ব দান করেন। আল্লাহর মুমিন বান্দাদের মধ্যে যারা আপনার প্রতারণা বুঝতে পেরেছেন, তাদের কাছে আপনি আপনার নির্ধারিত সীমা ও সক্ষমতাকে কখনোই অতিক্রম করতে পারবেন না।

আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো যা তিনি এর পরে বলেছেন: "আর এই জ্ঞান ছিল শীস (আ.)-এর জ্ঞান।"
(খণ্ড: ১) নিয়ামাতুয যারীয়াহ ফী নুসরতিশ শারীয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩৯)
عَلَيْهِ السَّلَام وروحه هُوَ الممد لكل من يتَكَلَّم فِي مثل هَذَا من الْأَرْوَاح بل من روحه تكون الْمَادَّة لجَمِيع الْأَرْوَاح وَإِن كَانَ لَا يعقل ذَلِك من نَفسه فِي زمَان تركيب جسده العنصري إِلَى آخر مَا ذكر

أَقُول هَذَا مَعَ كَونه كذبا وخيالا لَا حَقِيقَة لَهُ فِيهِ تورية وإيهام أَنه يُرِيد بالختم ختم النُّبُوَّة

وَلَكِن ظَاهر دينه من مدح نَفسه وتفضيلها أَن مُرَاده ختم الْولَايَة يَعْنِي نَفسه

فَتَأمل وأنصف وَاعْلَم أَن دَعْوَاهُ ختمية الْولَايَة لما أخذت بخناق الحمقى من أَتْبَاعه الَّذين ألقوا إِلَيْهِ قياد التَّصْدِيق والإذعان لدعاويه لم يبْق لَهُم مجَال وَلَا طَرِيق لادعاء الْولَايَة إِلَّا أَن خصصوا دَعْوَاهُ بِالْولَايَةِ المحمدية فَقَالُوا هُوَ ختم الْولَايَة المحمدية دون غَيرهَا من الموسوية والعيسوية وَنَحْوهمَا وَأَنت ترى أَن كَلَامه وَاقع على الْحَائِط الْمَذْكُور فِي الحَدِيث الَّذِي ذكره النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَآله وَسلم وَهُوَ حَائِط النُّبُوَّة

وَمَفْهُومه أَن كل نَبِي بِمَنْزِلَة لبنة حَتَّى كَانَ صلى الله عليه وسلم مَوضِع اللبنة الْأَخِيرَة الَّتِي كَانَ الْحَائِط نَاقِصا مِنْهَا

وَأَن هَذَا الشَّخْص ادّعى مَا ذكره وَأَنه انطبع مَوضِع اللبنتين وَلم يبْق فِي الْحَائِط مَوضِع

وَلم يذكر هُوَ وَلَا غَيره أَن ثمَّ حيطانا أُخْرَى فذممهم بَاطِلَة بعد مَا أقرُّوا لَهُ بِصِحَّة دَعْوَاهُ كَمَا قَالَ الشَّيْخ شرف الدّين ابْن الْمقري فِي قصيدته
তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক এবং তাঁর রূহ হলো ঐ সকল রূহের সাহায্যকারী যারা এই ধরণের বিষয়ে কথা বলে, বরং তাঁর রূহ থেকেই সমস্ত রূহের উপাদান সংগৃহীত হয়, যদিও তাঁর পার্থিব দেহ গঠনের সময় তিনি স্বয়ং এটি অনুভব করতে পারতেন না - উল্লিখিত বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত।

আমি বলি, এটি মিথ্যা এবং কল্পনাপ্রসূত হওয়া সত্ত্বেও যার কোনো বাস্তবতা নেই, এতে এক ধরণের শব্দশ্লেষ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে যে, তিনি 'খতম' (সমাপ্তি) দ্বারা নবুওয়তের সমাপ্তি বুঝাতে চেয়েছেন।

কিন্তু নিজের প্রশংসা ও নিজেকে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানের মাধ্যমে তার মতাদর্শের যা বাহ্যিক প্রকাশ ঘটে, তা থেকে এটাই স্পষ্ট হয় যে তার উদ্দেশ্য হলো বেলায়েতের পরিসমাপ্তি, অর্থাৎ তিনি নিজেই সেই সমাপ্তকারী।

অতএব চিন্তা করুন ও ন্যায়বিচার করুন এবং জেনে রাখুন যে, যখন তার বেলায়েতের পরিসমাপ্তির দাবি তার সেই সব নির্বোধ অনুসারীদের কণ্ঠরোধ করল যারা তার দাবিগুলোর প্রতি অন্ধ বিশ্বাস ও আনুগত্যের লাগাম সঁপে দিয়েছিল, তখন তাদের কাছে বেলায়েত দাবি করার আর কোনো অবকাশ বা পথ অবশিষ্ট থাকল না। ফলে তারা তার দাবিকে কেবল 'মুহাম্মাদী বেলায়েত'-এর সাথে সুনির্দিষ্ট করে দিল। তারা বলল, তিনি মুহাম্মাদী বেলায়েতের পরিসমাপ্তি ঘটানো ব্যক্তি, মুসা (আ.) বা ঈসা (আ.)-এর বেলায়েত কিংবা অন্য কিছুর নয়। আর আপনি দেখছেন যে, তার এই কথাগুলো সেই দেয়ালের ওপরই বর্তায় যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর বর্ণিত হাদীসে উল্লেখিত হয়েছে, আর তা হলো নবুওয়তের দেয়াল।

এর মর্মার্থ হলো, প্রত্যেক নবী একেকটি ইটের ন্যায়, এমনকি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন সেই সর্বশেষ ইটের স্থান, যা ছাড়া দেয়ালটি অপূর্ণ ছিল।

আর এই ব্যক্তিটি যা উল্লেখ করেছে তা দাবি করেছে এবং সে নিজেকে সেই দুটি ইটের স্থানে স্থাপন করেছে, ফলে দেয়ালে আর কোনো স্থান অবশিষ্ট নেই।

অথচ সে বা অন্য কেউ এটি উল্লেখ করেনি যে সেখানে অন্য কোনো দেয়াল আছে; সুতরাং তার দাবির সত্যতা স্বীকার করে নেওয়ার পর তাদের এই অজুহাতসমূহ বাতিল বলে গণ্য হবে, যেমনটি শেখ শরফুদ্দীন ইবনুল মুকরি তাঁর কাসিদায় বলেছেন।
(খণ্ড: ১) নিয়ামাতুয যারীয়াহ ফী নুসরতিশ শারীয়াহ (পৃষ্ঠা: ৪০)
(فَلَا يدعوا من صدقوه ولَايَة … وَقد ختمت فليؤخذوا بالأقادر)

وَأما من لم يصدقهُ وَعلم أَن دَعْوَاهُ كذب وخيال فَلم تلْزمهُ هَذِه الْعهْدَة

وَقد وجد بعده أَوْلِيَاء لَا يُحصونَ كَثْرَة

وَقَالَ الشَّيْخ زين الدّين الخوافي فِي وَصيته وَالَّذِي يَدعِي أَنِّي خَاتم الْولَايَة فَهُوَ دائر حوالي عَالم الشطح فخاتم النُّبُوَّة هُوَ مُحَمَّد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَخَاتم الْولَايَة هُوَ مُحَمَّد الْمهْدي رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ

ثمَّ قَالَ بعيد ذَلِك فَمَا فِي أحد من الله شَيْء وَمَا فِي أحد من سوى نَفسه شَيْء الخ

أَقُول هَذَا الْمَعْنى يكرره كثيرا

وَهُوَ قَاعِدَة من قَوَاعِده وقواعد طائفته

وَهُوَ يؤل إِلَى الشّرك مَعَ ادعائهم التَّوْحِيد ويناقض قَوْله تَعَالَى {قل كل من عِنْد الله} وَنَحْوهَا من الْآيَات وَالْأَحَادِيث

وَمِنْه مَا قَالَ بعد هَذَا فَمن عرف استعداده عرف قبُوله

وَمَا كل من
(তাই যারা তাকে সত্য মনে করেছে তারা যেন বেলায়েত বা অভিভাবকত্বের দাবি না করে … আর তা যেহেতু শেষ হয়ে গেছে, তাই তাদের উচিত তাকদির অনুযায়ী বিষয়গুলোকে গ্রহণ করা।)

আর যারা তাকে সত্য মনে করেনি এবং জেনেছে যে তার দাবি মিথ্যা ও কল্পনাপ্রসূত, তাদের ওপর এই দায়বদ্ধতা বর্তাবে না।

আর তার পরেও অসংখ্য অগণিত অলি বা আল্লাহর প্রিয়ভাজন পাওয়া গেছে।

শেখ জয়নুদ্দীন খাফি তার ওসিয়তনামায় বলেছেন, "যে ব্যক্তি দাবি করে যে আমি বেলায়েতের সিলমোহর, সে মূলত শাতহ বা আধ্যাত্মিক উন্মাদনার জগতের আশেপাশে ঘুরপাক খাচ্ছে। কেননা নবুয়তের সিলমোহর হলেন আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং বেলায়েতের সিলমোহর হলেন মুহাম্মদ আল-মাহদী (রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু)।"

এরপর তিনি এর কিছুক্ষণ পরেই বলেছেন, "আল্লাহর পক্ষ থেকে কারো মধ্যে কিছুই নেই এবং নিজের সত্তা ছাড়া কারো মধ্যে কিছুই নেই" ইত্যাদি।

আমি বলছি, এই বক্তব্যটি তিনি বারবার পুনরাবৃত্তি করেন।

এটি তার এবং তার দলের অন্যতম মূলনীতি।

তাদের তাওহিদের দাবির সত্ত্বেও এটি শিরকের দিকে ধাবিত করে এবং মহান আল্লাহর বাণী "বলুন, সবকিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে" এবং অনুরূপ অন্যান্য আয়াত ও হাদিসসমূহের বিরোধী।

এরই অংশ হিসেবে তিনি এরপর বলেছেন, "সুতরাং যে তার যোগ্যতা সম্পর্কে জেনেছে, সে তার কবুলিয়ত বা গ্রহণীয়তা সম্পর্কে জেনেছে।"

আর এমন প্রত্যেক ব্যক্তি নয় যে...
(খণ্ড: ১) নিয়ামাতুয যারীয়াহ ফী নুসরতিশ শারীয়াহ (পৃষ্ঠা: ৪১)
عرف قبُوله عرف استعداده إِلَّا بعد الْقبُول

وَإِن كَانَ يعرفهُ مُجملا إِلَّا أَن بعض أهل النّظر من أَصْحَاب الْعُقُول الضعيفة يرَوْنَ أَن الله تَعَالَى لما ثَبت عِنْدهم أَنه فعال لما يَشَاء جوزوا على الله تَعَالَى مَا يُنَاقض الْحِكْمَة وَمَا هُوَ الْأَمر عَلَيْهِ فِي نَفسه إِلَى آخر مَا قَالَ

أَقُول هَذَا طعن فِي أهل السّنة وافتراء عَلَيْهِم أَنهم جوزوا على الله تَعَالَى سُبْحَانَهُ فعل مَا يُنَاقض الْحِكْمَة لقَولهم بِأَن الله تَعَالَى فعال لما يَشَاء وَأَنه مخترع الْأَشْيَاء كَمَا أَرَادَ لما أَرَادَ وَلَيْسَ للأشياء دخل وَلَا اقْتِضَاء لما وجدت عَلَيْهِ من الْأَحْوَال الْمُخْتَلفَة والمتفقة

بل ذَلِك بمحض إِرَادَته سبحانه وتعالى وَأَنت خَبِير بِأَنَّهُم لَا يلْزمهُم من ذَلِك تَجْوِيز فعل مَا يُنَاقض الْحِكْمَة عَلَيْهِ سُبْحَانَهُ بل هم الْقَائِلُونَ بِأَنَّهُ سبحانه وتعالى حَكِيم

وَأَن أَفعاله جَمِيعًا على مُقْتَضى الْحِكْمَة وَإِن لم تدركها عقولنا فِي بعض الْأَشْيَاء وهم الموحدون الْقَائِلُونَ لَا تَأْثِير فِي الْحَقِيقَة لغير فعل الله سبحانه وتعالى فِي شَيْء من الموجودات

على أَن الإستعداد ومعرفته لَا يُنَافِي الْإِسْنَاد إِلَيْهِ سُبْحَانَهُ فَإِن الاستعداد أَيْضا بخلقه تَعَالَى

وَقد صرح بِهِ هُوَ نَفسه فِي الْكَلِمَة العزيرية حَيْثُ قَالَ إِن الله تَعَالَى أعْطى كل شَيْء خلقه وَلم يعطك هَذَا الاستعداد الْخَاص فَمَا هُوَ خلقك وَلَو كَانَ خلقك لأعطاكه الْحق الَّذِي أخبر أَنه أعْطى كل شَيْء خلقه قَالَ فِي الْكَلِمَة النوحية اعْلَم أَن التَّنْزِيه عِنْد أهل الْحَقَائِق فِي الجناب الإلهي عين
তার গ্রহণযোগ্যতা জানা মানেই হলো তার যোগ্যতা জানা, তবে তা কবুল করার পরেই সম্ভব।

যদিও তিনি এটি সামগ্রিকভাবে জানেন, তবুও দুর্বল বুদ্ধিসম্পন্ন কিছু গবেষক মনে করেন যে, আল্লাহ তাআলা যখন তাদের কাছে প্রমাণিত হলো যে তিনি যা ইচ্ছা তা-ই করেন, তখন তারা আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে এমন কিছু বিষয়কে সম্ভব মনে করেছেন যা প্রজ্ঞার পরিপন্থী এবং যা বাস্তবতার বিপরীত। (তিনি যা বলেছেন তার শেষ পর্যন্ত)।

আমি বলি, এটি আহলে সুন্নাতের ওপর একটি অপবাদ এবং তাদের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যাচার যে, তারা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার জন্য প্রজ্ঞার পরিপন্থী কাজ করাকে বৈধ মনে করেন। কারণ তারা বলেন যে, আল্লাহ তাআলা যা ইচ্ছা তা-ই করেন এবং তিনি যা চেয়েছেন সেভাবে এবং যার জন্য চেয়েছেন সেভাবে সকল বস্তুর উদ্ভাবক। আর সৃষ্টিসমূহ যেসব বিভিন্ন বা সদৃশ অবস্থার ওপর বিদ্যমান রয়েছে, তাতে তাদের নিজস্ব কোনো প্রভাব বা কোনো কিছু দাবি করার অধিকার নেই।

বরং তা কেবলমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার খাঁটি ইচ্ছার মাধ্যমেই সংঘটিত হয়। আর আপনি অবগত আছেন যে, তাদের এই বক্তব্য থেকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার জন্য প্রজ্ঞার পরিপন্থী কাজ করাকে সম্ভব সাব্যস্ত করা অনিবার্য হয় না। বরং তারাই তো বলেন যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মহাপ্রজ্ঞাবান।

এবং তাঁর সকল কাজই প্রজ্ঞার দাবি অনুযায়ী সম্পন্ন হয়, যদিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমাদের বুদ্ধি তা উপলব্ধি করতে পারে না। তারাই মূলত সেই সকল একেশ্বরবাদী যারা বলেন যে, সৃষ্টিজগতের কোনো কিছুর ওপর প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কাজ ব্যতীত অন্য কারোর কোনো প্রভাব নেই।

তাছাড়া যোগ্যতা এবং তা জানা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার দিকে সম্পৃক্ত করার পরিপন্থী নয়, কারণ যোগ্যতাও আল্লাহ তাআলারই সৃষ্টি।

তিনি নিজেই 'কালিমায়ে উযাইরিয়্যাহ'-তে এটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যেখানে তিনি বলেছেন: আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক বস্তুকে তার সৃষ্টিগত বৈশিষ্ট্য দান করেছেন, আর তিনি যদি তোমাকে এই বিশেষ যোগ্যতাটি দান না করে থাকেন তবে তা তোমার সৃষ্টিগত বৈশিষ্ট্য নয়। আর যদি তা তোমার সৃষ্টিগত বৈশিষ্ট্য হতো তবে সত্য ইলাহ অবশ্যই তা তোমাকে দান করতেন, যিনি খবর দিয়েছেন যে তিনি প্রত্যেক বস্তুকে তার সৃষ্টিগত বৈশিষ্ট্য দান করেছেন। তিনি 'কালিমায়ে নূহিয়্যাহ'-তে বলেছেন: জেনে রেখো, সত্যসন্ধানীদের নিকট আল্লাহর মর্যাদার ক্ষেত্রে তানযিহ বা পবিত্রতা বর্ণনা করা হলো সরাসরি...
(খণ্ড: ১) নিয়ামাতুয যারীয়াহ ফী নুসরতিশ শারীয়াহ (পৃষ্ঠা: ৪২)
التَّحْدِيد وَالتَّقْيِيد

فالمنزه إِمَّا جَاهِل وَإِمَّا صَاحب سوء أدب

وَلَكِن إِذا أطلقاه وَقَالا بِهِ فالقائل بالشرائع الْمُؤمن إِذا نزه ووقف عِنْد التَّنْزِيه وَلم ير غير ذَلِك فقد أَسَاءَ الْأَدَب وأكذب الْحق وَالرسل صلوَات الله تَعَالَى عَلَيْهِم وَهُوَ لَا يشْعر ويتخيل أَنه فِي الْحَاصِل وَهُوَ فِي الْغَايَة

وَهُوَ كمن آمن بِبَعْض وَكفر بِبَعْض إِلَى آخر مَا ذكر

أَقُول الله تَعَالَى أعلم بِالَّذِي أَسَاءَ الْأَدَب فِي حَقه وَكذبه وَكذب رَسُوله وشرائعه

وَمن يتشبث بالمتشابه الَّذِي قَالَ تَعَالَى فِيهِ {فَأَما الَّذين فِي قُلُوبهم زيغ فيتبعون مَا تشابه مِنْهُ} وَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم لعَائِشَة رَضِي الله تَعَالَى عَنْهَا (فَإِذا رَأَيْت الَّذين يتبعُون مَا تشابه مِنْهُ فَأُولَئِك الَّذين سمى الله فاحذروهم)

ثمَّ نقُول لهَذَا الملبس الضال إِنَّك تعلم أَن الْكَلَام لَهُ حَقِيقَة ومجاز وصريح وكناية وَأَن حمل الْكَلَام على الْمجَاز أَو الْكِنَايَة عِنْد نصب الْقَرَائِن الحالية أَو القالية أَو الْعَقْلِيَّة لَيْسَ بإكذاب وَلَا إساءة أدب

فَمن أَيْن حكمت على الْمُؤمن بذلك عِنْد ذَلِك بادعائك أَن الْعَالم بِصُورَة الْحق وهويته فَالله تَعَالَى يقابلك بِمَا ابتدعت أَنْت وطائفتك إِنَّه عَزِيز ذُو انتقام

ثمَّ قَالَ وَلذَلِك ربط النَّبِي صلى الله عليه وسلم معرفَة الْحق بِمَعْرِِفَة النَّفس
সীমাবদ্ধকরণ ও শৃঙ্খলিতকরণ

সুতরাং আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনাকারী ব্যক্তি হয় মূর্খ, নয়তো সে শিষ্টাচারহীন।

কিন্তু তারা যখন একে নিঃশর্তভাবে প্রকাশ করে এবং তা প্রচার করে, তখন শরীয়তপন্থী মুমিন যদি কেবল আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করে এবং সেখানেই থেমে যায় এবং এর বাইরে অন্য কিছু না দেখে, তবে সে শিষ্টাচার লঙ্ঘন করল এবং সত্যকে ও রাসূলগণকে (আল্লাহর রহমত তাঁদের ওপর বর্ষিত হোক) মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। অথচ সে তা বুঝতেও পারছে না এবং কল্পনা করছে যে সে মূল উদ্দেশ্য লাভ করেছে, অথচ সে আসলে চরম বিভ্রান্তিতে রয়েছে।

আর সে ঐ ব্যক্তির মতো যে কিয়দংশে বিশ্বাস করল এবং কিয়দংশ অস্বীকার করল—উল্লিখিত বিষয়ের শেষ পর্যন্ত।

আমি বলি, আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভালো জানেন কে তাঁর হকের ব্যাপারে শিষ্টাচার লঙ্ঘন করেছে এবং তাঁকে, তাঁর রাসূলকে ও তাঁর শরীয়তসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে।

এবং কে সেই অস্পষ্ট বিষয়গুলো আঁকড়ে ধরে থাকে যার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "অতঃপর যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে তারা ফিতনা সৃষ্টি ও অপব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে অস্পষ্ট বিষয়গুলোর অনুসরণ করে।" এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-কে বলেছেন: "তুমি যখন এমন লোকদের দেখবে যারা অস্পষ্ট বিষয়গুলোর অনুসরণ করে, তখন তারা তারাই যাদের নাম আল্লাহ নিয়েছেন, সুতরাং তাদের থেকে সতর্ক থেকো।"

অতঃপর আমরা এই বিভ্রান্ত প্রতারককে বলি যে, তুমি তো জানো কথার আক্ষরিক, রূপক, স্পষ্ট এবং ইঙ্গিতবাহী অর্থ রয়েছে। আর পারিপার্শ্বিক, ভাষাগত বা যৌক্তিক আলামত বিদ্যমান থাকা অবস্থায় কোনো বক্তব্যকে রূপক বা ইঙ্গিতের অর্থে গ্রহণ করা কোনোভাবেই মিথ্যা প্রতিপন্ন করা নয় এবং কোনো শিষ্টাচার লঙ্ঘনও নয়।

এমতাবস্থায় তুমি কিসের ভিত্তিতে মুমিনের ওপর এমন হুকুম দিলে এবং দাবি করলে যে জগৎ হলো সত্যের অবয়ব ও তাঁর অস্তিত্ব? আল্লাহ তাআলা তোমার ও তোমার দলের নব-উদ্ভাবিত মতবাদের কারণে তোমার মোকাবিলা করবেন; নিশ্চয়ই তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রতিশোধ গ্রহণকারী।

এরপর তিনি বললেন: আর এই কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সত্যের পরিচিতিকে আত্মার পরিচিতির সাথে সংশ্লিষ্ট করেছেন।
(খণ্ড: ১) নিয়ামাতুয যারীয়াহ ফী নুসরতিশ শারীয়াহ (পৃষ্ঠা: ৪৩)
فَقَالَ من عرف نَفسه فقد عرف ربه

أَقُول هَذَا كذب وإلحاد فِي معنى الحَدِيث فِي تَقْدِير صِحَّته

وَإِنَّمَا مَعْنَاهُ أَن من عرف نَفسه بالحدوث عرف ربه بالقدم

وَمن عرفهَا بالفناء عرفه بِالْبَقَاءِ

وَمن عرفهَا بِالْعَجزِ عرفه بِالْقُدْرَةِ

إِلَى آخر مَا تتصف النَّفس مِمَّا هُوَ محَال فِي جَانب الْحق

وَقيل إِنَّه تَعْلِيق محَال بمحال فَإِن معرفَة هوية النَّفس وحقيقتها محَال

وَكَذَلِكَ معرفَة هويته تَعَالَى

على أَن أَئِمَّة الحَدِيث لم يثبتوه حَدِيثا

وَإِنَّمَا يحْكى عَن ابْن معَاذ الرَّازِيّ

ثمَّ قَالَ {سنريهم آيَاتنَا فِي الْآفَاق} وَهُوَ مَا خرج عَنْك وَفِي أنفسهم وَهُوَ عَيْنك

{حَتَّى يتَبَيَّن لَهُم} أَي للناظرين {أَنه الْحق} من حَيْثُ أَنَّك صورته وَهُوَ روحك

فَأَنت لَهُ كالصورة الجسمية لَك

وَهُوَ لَك كالروح الْمُدبر لصورة جسمك أَقُول هَذَا إلحاد من جملَة الإلحادات فِي آيَات الله تَعَالَى

وَسَيَأْتِي كثير مثل هَذَا الْإِلْحَاد

وَقد قَالَ تَعَالَى {إِن الَّذين يلحدون فِي آيَاتنَا لَا يخفون علينا أَفَمَن يلقى فِي النَّار خير أم من يَأْتِي آمنا يَوْم الْقِيَامَة} وَمَعَ هَذَا يسند مثل
তিনি বললেন: "যে ব্যক্তি নিজেকে চিনেছে, সে তার রবকে চিনেছে।"

আমি বলি: এটি মিথ্যা এবং হাদিসের অর্থের ক্ষেত্রে ধর্মদ্রোহিতা (ইলহাদ), যদি এর বিশুদ্ধতা ধরে নেওয়া হয়।

বরং এর অর্থ হলো: যে ব্যক্তি নিজেকে নশ্বর বা নব সৃষ্টি হিসেবে চিনেছে, সে তার রবকে অনাদি হিসেবে চিনেছে।

এবং যে ব্যক্তি নিজেকে মরণশীল হিসেবে চিনেছে, সে তাঁকে চিরঞ্জীব হিসেবে চিনেছে।

এবং যে ব্যক্তি নিজেকে অক্ষম হিসেবে চিনেছে, সে তাঁকে সর্বশক্তিমান হিসেবে চিনেছে।

আত্মার অন্যান্য গুণাবলিও অনুরূপ, যা মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে অসম্ভব।

আরও বলা হয়েছে যে, এটি একটি অসম্ভব বিষয়কে অন্য একটি অসম্ভব বিষয়ের সাথে শর্তযুক্ত করা; কারণ আত্মার পরিচয় ও তার প্রকৃত সত্তা জানা অসম্ভব।

ঠিক তেমনি মহান আল্লাহর সত্তাগত পরিচয় জানাও অসম্ভব।

তাছাড়া হাদিস বিশারদগণ এটিকে হাদিস হিসেবে সাব্যস্ত করেননি।

বরং এটি ইবনে মুয়াজ আর-রাজি থেকে বর্ণিত হয়েছে।

অতঃপর তিনি বললেন: {আমি শীঘ্রই তাদেরকে আমার নিদর্শনসমূহ দিগন্তসমূহে দেখাব}—যা তোমার বাইরে অবস্থিত, {এবং তাদের নিজেদের মধ্যে}—যা তোমার নিজের সত্তা।

{যাতে তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়} অর্থাৎ দর্শকদের কাছে, {যে তিনিই সত্য}—এই দিক থেকে যে তুমি তাঁর আকৃতি এবং তিনি তোমার রুহ।

সুতরাং তুমি তাঁর জন্য তেমনই, যেমন তোমার জন্য তোমার শারীরিক আকৃতি।

আর তিনি তোমার জন্য তেমনই, যেমন তোমার শরীরের আকৃতি পরিচালনাকারী রুহ। আমি বলি: এটি মহান আল্লাহর আয়াতের ক্ষেত্রে করা বিভিন্ন ধর্মদ্রোহিতার অন্তর্ভুক্ত।

এই ধরণের আরও অনেক ধর্মদ্রোহিতা সামনে আসবে।

মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই যারা আমার নিদর্শনসমূহের ব্যাপারে বক্রতা বা ধর্মদ্রোহিতা অবলম্বন করে, তারা আমার অগোচরে নয়। তবে কি যে ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে সে উত্তম, নাকি যে কিয়ামতের দিন নিরাপদ হয়ে আসবে?} এর পাশাপাশি তিনি এমন বিষয়কে সম্বন্ধযুক্ত করেন...
(খণ্ড: ১) নিয়ামাতুয যারীয়াহ ফী নুসরতিশ শারীয়াহ (পৃষ্ঠা: ৪৪)
هَذَا إِلَى أَمر رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وإذنه فِي ذَلِك

ثمَّ قَالَ قَالَ الله تَعَالَى {لَيْسَ كمثله شَيْء}

فنزه {وَهُوَ السَّمِيع الْبَصِير} فَشبه قَالَ تَعَالَى {لَيْسَ كمثله شَيْء} فَشبه وثنى {وَهُوَ السَّمِيع الْبَصِير} فنزه وأفرد

أَقُول هَذَا بِنَاء مِنْهُ على أَن اللَّام فِي السَّمِيع الْبَصِير للْجِنْس بِمُقْتَضى قَاعِدَته الخبيثة

وَإِنَّمَا هِيَ عِنْد أهل الْحق لكَمَال الْحَقِيقَة فَإِنَّهُ سُبْحَانَهُ هُوَ الْكَامِل فِي أَوْصَافه الَّتِي وصف بهَا نَفسه مِمَّا يُوصف بهَا غَيره فَهِيَ فِي غَيره كلا شَيْء بنسبتها إِلَيْهِ

كَمَا أَن وجودهم كلا شَيْء بِالنِّسْبَةِ إِلَى وجوده حَيْثُ قَالَ سُبْحَانَهُ {كل شَيْء هَالك إِلَّا وَجهه}

وَمرَاده بالتنزيه والتشبيه فِي كَلَامه الأول من حَيْثُ الْمَعْنى

وَفِي كَلَامه الثَّانِي من حَيْثُ اللَّفْظ حَيْثُ أثبت الْمثل فِي كمثله وأفرد بِإِدْخَال الْحصْر الْمُسْتَفَاد من اللَّام فِي السَّمِيع الْبَصِير وَهُوَ من الْإِلْحَاد

وَسَيَأْتِي لرده تَحْقِيق إِن شَاءَ الله تَعَالَى

ثمَّ قَالَ لَو أَن نوحًا جمع لِقَوْمِهِ بَين الدعوتين لأجابوه إِلَى آخر مَا قَالَ

أَقُول كَأَن نوحًا عليه السلام كَانَ جَاهِلا بطرِيق الدعْوَة إِلَى الله تَعَالَى وعلمتها أَنْت أَيهَا الضال المضل وَالله أعلم حَيْثُ يَجْعَل رسَالَته

فَالله تَعَالَى يجازيك على مَا قدحت فِي أنبيائه وَرُسُله الرَّاجِع إِلَى الْقدح فِيهِ بِمُقْتَضى الْآيَة الْمَذْكُورَة
এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশ এবং এই বিষয়ে তাঁর অনুমতির দিকেই ইঙ্গিত করে।

অতঃপর সে বলেছে, আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তাঁর সদৃশ কিছুই নেই"।

সুতরাং সে (প্রথম অংশে) পবিত্রতা বর্ণনা করল এবং "তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা" অংশে সাদৃশ্য প্রদান করল। সে বলল: আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "তাঁর সদৃশ কিছুই নেই" - এখানে সে সাদৃশ্য প্রদান করল ও দ্বিত্ব করল এবং "তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা" - এখানে সে পবিত্রতা বর্ণনা করল ও একত্ব সাব্যস্ত করল।

আমি বলি, এটি তার এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে যে, 'আস-সামিউল বাসীর' (সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা) শব্দদ্বয়ে 'লাম' অক্ষরটি তার জঘন্য মূলনীতি অনুযায়ী জাতি বা শ্রেণি বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।

অথচ সত্যপন্থীদের (আহলে হক) নিকট এটি বাস্তবতার পূর্ণতা প্রকাশের জন্য। কেননা আল্লাহ সুবহানাহু তাঁর সেই গুণাবলীতে পূর্ণাঙ্গ যা দ্বারা তিনি নিজেকে বিশেষিত করেছেন, যদিও অন্যকেও সেসব গুণের দ্বারা বিশেষিত করা হয়; কিন্তু আল্লাহর গুণের তুলনায় অন্যের গুণসমূহ তুচ্ছ ও অস্তিত্বহীন সদৃশ।

ঠিক যেমন তাঁর অস্তিত্বের তুলনায় তাদের অস্তিত্ব অস্তিত্বহীন সদৃশ, যেখানে আল্লাহ সুবহানাহু বলেছেন: "তাঁর সত্তা (চেহারা) ব্যতীত সবকিছুই ধ্বংসশীল"।

আর তার প্রথম উক্তিতে পবিত্রতা বর্ণনা (তানজিহ) ও সাদৃশ্য প্রদানের (তাশবিহ) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অর্থের দিক থেকে।

এবং তার দ্বিতীয় উক্তিতে (উদ্দেশ্য হলো) শব্দের দিক থেকে, যেখানে সে 'কামিসলিহি' (তাঁর সদৃশ)-এর মধ্যে সদৃশ সাব্যস্ত করেছে এবং 'আস-সামিউল বাসীর'-এর 'লাম' থেকে প্রাপ্ত সীমাবদ্ধতার মাধ্যমে একক সাব্যস্ত করেছে; আর এটি হলো ধর্মবিচ্যুতি (ইলহাদ)।

ইনশাআল্লাহ তাআলা, এটি খণ্ডন করার জন্য সামনে একটি সুক্ষ্ম বিশ্লেষণ আসবে।

অতঃপর সে বলেছে, "নূহ যদি তার সম্প্রদায়ের নিকট উভয় দাওয়াতের সমন্বয় করতেন, তবে তারা তাঁর ডাকে সাড়া দিত..." তার বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত।

আমি বলি, মনে হচ্ছে নূহ (আলাইহিস সালাম) আল্লাহ তাআলার দিকে দাওয়াতের পথ সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলেন, আর হে পথভ্রষ্ট ও পথভ্রষ্টকারী! তুমিই তা জেনে গিয়েছ! অথচ আল্লাহই ভালো জানেন তিনি কোথায় তাঁর রিসালাত অর্পণ করবেন।

সুতরাং আল্লাহ তাআলা আপনাকে তার প্রতিফল দেবেন যা আপনি তাঁর নবী ও রাসূলগণের প্রতি কটাক্ষ করেছেন, যা উল্লিখিত আয়াতের মর্ম অনুযায়ী স্বয়ং আল্লাহর প্রতিই কটাক্ষ করার নামান্তর।
(খণ্ড: ১) নিয়ামাতুয যারীয়াহ ফী নুসরতিশ শারীয়াহ (পৃষ্ঠা: ৪৫)
ثمَّ قَالَ فَعلم الْعلمَاء بِاللَّه مَا أَشَارَ إِلَيْهِ نوح فِي حق قومه من الثَّنَاء عَلَيْهِم بِلِسَان الذَّم وَعلم أَنهم إِنَّمَا لم يجيبوا دَعوته لما فِيهَا من الْفرْقَان وَالْأَمر قُرْآن لَا فرقان إِلَخ

أَقُول انْظُر كَيفَ يمهد أعذار الْكفَّار ويمدحهم وَالله سُبْحَانَهُ قد مَلأ كتبه بذمهم ويسند ذَلِك إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم

ثمَّ قَالَ وَلِهَذَا مَا اخْتصَّ بِالْقُرْآنِ إِلَّا مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم وَهَذِه الْأمة الَّتِي هِيَ خير أمة أخرجت للنَّاس {لَيْسَ كمثله شَيْء}

فَجمع الْأَمر فِي أَمر وَاحِد

فَلَو أَن نوحًا عليه السلام يَأْتِي بِمثل هَذِه الْآيَة لفظا لأجابوه إِلَخ

فلأي شَيْء مَا أجابوا مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم وَقد أَتَى بهَا لفظا فَعلم أَن شرطيته هَذِه كذب وَالْحق شَرْطِيَّة الله تَعَالَى

قَالَ تَعَالَى {وَلَو أننا نزلنَا إِلَيْهِم الْمَلَائِكَة وكلمهم الْمَوْتَى وحشرنا عَلَيْهِم كل شَيْء قبلا مَا كَانُوا ليؤمنوا إِلَّا أَن يَشَاء الله وَلَكِن أَكْثَرهم يجهلون}

قَالَ ثمَّ قَالَ عَن نَفسه أَنه دعاهم ليغفر لَهُم لَا ليكشف لَهُم وفهموا ذَلِك مِنْهُ صلى الله عليه وسلم

لذَلِك جعلُوا أَصَابِعهم فِي آذانهم واستغشوا ثِيَابهمْ وَهَذِه كلهَا صُورَة السّتْر الَّتِي
এরপর তিনি বললেন, ফলে আল্লাহ সম্পর্কে প্রাজ্ঞ আলেমগণ বুঝতে পেরেছেন যে, নূহ আলাইহিস সালাম তাঁর সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে নিন্দার ভাষায় যা ইঙ্গিত করেছেন তা মূলত তাদের প্রশংসাই ছিল। তিনি আরও বুঝতে পেরেছেন যে, তারা তাঁর দাওয়াতে এই কারণেই সাড়া দেয়নি কারণ তাতে ‘ফুরকান’ (পৃথকীকরণ) ছিল, অথচ বিষয়টি ছিল ‘কুরআন’ (একত্রীকরণ), ফুরকান নয় ইত্যাদি।

আমি বলি, দেখুন তিনি কীভাবে কাফিরদের অজুহাত দাঁড় করাচ্ছেন এবং তাদের প্রশংসা করছেন, অথচ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর কিতাবসমূহকে তাদের নিন্দায় পূর্ণ করে রেখেছেন। আর তিনি এই বিষয়টিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করছেন।

অতঃপর তিনি বললেন, এই কারণেই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং এই উম্মত—যারা মানবজাতির জন্য শ্রেষ্ঠ উম্মত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে—ব্যতীত কেউ ‘কুরআন’ (সমষ্টিগত রূপ) দ্বারা বিশিষ্ট হননি; (যেমন আয়াতে রয়েছে) "কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়"।

ফলে তিনি সমস্ত বিষয়কে একটি বিষয়েই সংহত করেছেন।

যদি নূহ আলাইহিস সালাম শাব্দিকভাবে এই আয়াতের অনুরূপ কিছু নিয়ে আসতেন, তবে তারা অবশ্যই তাতে সাড়া দিত ইত্যাদি।

তাহলে তারা কেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আহ্বানে সাড়া দেয়নি অথচ তিনি এটি শাব্দিকভাবেই নিয়ে এসেছিলেন? এর মাধ্যমে প্রতীয়মান হয় যে, তাঁর এই শর্তারোপ মিথ্যা; বরং প্রকৃত শর্তারোপ হচ্ছে আল্লাহ তাআলার।

আল্লাহ তাআলা বলেন, "যদি আমি তাদের কাছে ফেরেশতা নাযিল করতাম এবং মৃতরা তাদের সাথে কথা বলত এবং আমি সকল বস্তুকে তাদের সামনে সমবেত করতাম, তবুও তারা ঈমান আনত না, যদি না আল্লাহ ইচ্ছা করতেন; কিন্তু তাদের অধিকাংশই অজ্ঞ।"

তিনি বলেন, এরপর তিনি (ইবনুল আরাবি) নিজের সম্পর্কে বললেন যে, তিনি (নূহ) তাদের আহ্বান করেছিলেন যাতে তিনি তাদের ক্ষমা করতে পারেন, তাদের জন্য (গোপন সত্য) উন্মোচন করার জন্য নয়। আর তারাও তাঁর থেকে এটিই বুঝতে পেরেছিল।

এই কারণেই তারা তাদের কানে আঙুল ঢুকিয়ে দিয়েছিল এবং নিজেদের পোশাকে আবৃত করেছিল। আর এ সবই ছিল সেই আবরণের চিত্র যা...
(খণ্ড: ১) নিয়ামাতুয যারীয়াহ ফী নুসরতিশ শারীয়াহ (পৃষ্ঠা: ৪৬)
دعاهم إِلَيْهَا فَأَجَابُوا دَعوته بِالْفِعْلِ لَا بلبيك

أَقُول أنظر إِلَى هَذَا الْإِلْحَاد الَّذِي هُوَ من هذيانات المجانين فَإِن الْمَغْفِرَة فِي الْآيَة إِنَّمَا هِيَ للذنوب كَمَا تقدم قبلهَا من قَوْله {ليغفر لكم من ذنوبكم} لَا لأجسادهم الَّتِي ستروها بثيابهم وَلَا للمعنى الَّذِي أَرَادَهُ هَذَا الضال بِنَاء على قَاعِدَته الخبيثة أَنه دعاهم ليستر عَنْهُم كَونهم صُورَة الْحق لَا لينكشف لَهُم ذَلِك على أَنه يُنَاقض مَا قَالَ بعد ذَلِك فَقَالَ نوح عليه السلام فِي حكمته لِقَوْمِهِ {يُرْسل السَّمَاء عَلَيْكُم مدرارا} وَهِي المعارف الْعَقْلِيَّة فِي الْمعَانِي وَالنَّظَر الإعتباري {ويمددكم بأموال}

أَي بِمَا يمِيل بكم إِلَيْهِ فَإِذا مَال بكم إِلَيْهِ رَأَيْتُمْ صورتكم فِيهِ إِلَى أخر مَا هذى

أَقُول هَذَا من جملَة الْإِلْحَاد الَّذِي هُوَ كهذيان المجانين وَإِلَّا فَأَيْنَ الْأَمْوَال من الْميل فَإِن الأول واوي وَالثَّانِي يائي وَغير ذَلِك أظهر فِي الهذيان

وَكَأن الْقُرْآن نزل على اصطلاحاتهم الخبيثة وَلم ينزل على الموضوعات الْعَرَبيَّة الَّتِي يفهمها الْقَوْم الْمَبْعُوث إِلَيْهِم وَقَالَ وَالْأَمر مَوْقُوف إِلَخ يُقَال لَهُ فلأي شَيْء تتكلف هَذِه التكلفات الْبَارِدَة وتضيع زَمَانك بهَا فِي غير فَائِدَة

وَقَوله وَفِي نوح {أَلا تَتَّخِذُوا من دوني وَكيلا} خطأ
তিনি তাদের এর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন, ফলে তারা কাজের মাধ্যমে তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়েছিল, কেবল মৌখিক সম্মতির মাধ্যমে নয়।

আমি বলি, এই ধর্মহীনতার (ইলহাদ) দিকে লক্ষ করুন যা উন্মাদদের প্রলাপের অন্তর্ভুক্ত। কেননা আয়াতে ক্ষমা বলতে কেবল গুনাহর ক্ষমাই বোঝানো হয়েছে, যেমন এর পূর্বে তাঁর এই বাণী থেকে স্পষ্ট হয়: "যাতে তিনি তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করেন"। এটি তাদের সেই দেহের জন্য নয় যা তারা কাপড় দিয়ে ঢেকে রেখেছিল, আর সেই অর্থের জন্যও নয় যা এই পথভ্রষ্ট ব্যক্তি তার নিকৃষ্ট মূলনীতির ভিত্তিতে উদ্দেশ্য নিয়েছে—যে তিনি তাদের ডেকেছিলেন যাতে তাদের থেকে 'তারা সত্যের (আল্লাহর) রূপ' হওয়ার বিষয়টি গোপন থাকে, তা তাদের কাছে প্রকাশিত হওয়ার জন্য নয়। অথচ এটি তার পরবর্তী বক্তব্যের সাথে স্ববিরোধী। অতঃপর নূহ আলাইহিস সালাম তার হিকমতে নিজ সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে বললেন: "তিনি তোমাদের ওপর আকাশ থেকে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন", যা হলো অর্থ ও তাত্ত্বিক পর্যালোচনার ক্ষেত্রে বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞানসমূহ। "এবং তিনি তোমাদের ধন-সম্পদ দিয়ে সাহায্য করবেন"

অর্থাৎ যার মাধ্যমে তিনি তোমাদের তাঁর দিকে ঝুঁকিয়ে দেবেন; অতঃপর যখন তিনি তোমাদের তাঁর দিকে ঝুঁকিয়ে দেবেন, তখন তোমরা তাতে তোমাদের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাবে—তার প্রলাপের শেষ পর্যন্ত।

আমি বলি, এটি সেই ধর্মহীনতার (ইলহাদ) অন্তর্ভুক্ত যা উন্মাদদের প্রলাপের সদৃশ। নতুবা 'আমওয়াল' (ধন-সম্পদ) এর সাথে 'মায়ল' (ঝোঁকা)-এর সম্পর্ক কোথায়? কারণ প্রথমটি 'ওয়াও' অক্ষর ভিত্তিক শব্দমূল থেকে এবং দ্বিতীয়টি 'ইয়া' অক্ষর ভিত্তিক শব্দমূল থেকে; এছাড়াও অন্যান্য বিষয়গুলো প্রলাপ হিসেবে আরও বেশি স্পষ্ট।

যেন কুরআন তাদের নিকৃষ্ট পরিভাষা অনুযায়ী অবতীর্ণ হয়েছে, আর সেই আরবি ভাষাগত অর্থের ওপর অবতীর্ণ হয়নি যা সেই জাতি বুঝত যাদের কাছে এটি পাঠানো হয়েছিল। আর সে বলেছে: "এবং বিষয়টি স্থগিত..." ইত্যাদি। তাকে বলা হবে: কেন তুমি এই নিরর্থক কষ্টসাধ্য ব্যাখ্যাগুলো করছ এবং কোনো উপকার ছাড়াই এতে তোমার সময় নষ্ট করছ?

আর তার কথা: নূহ-এর বর্ণনায় "যাতে তোমরা আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে কর্মবিধায়ক হিসেবে গ্রহণ না করো"—এটি ভুল।
(খণ্ড: ১) নিয়ামাতুয যারীয়াহ ফী নুসরতিশ শারীয়াহ (পৃষ্ঠা: ৪৭)
إِنَّمَا الْخطاب فِيهِ لبني إِسْرَائِيل لَا لقوم نوح)

ثمَّ قَالَ {ومكروا مكرا كبارًا}

لِأَن الدعْوَة إِلَى الله تَعَالَى مكر بالمدعو لِأَنَّهُ مَا عدم من الْبِدَايَة فيدعى إِلَى الْغَايَة أدعوا إِلَى الله تَعَالَى فَهَذَا عين الْمَكْر {على بَصِيرَة} فنبه أَن الْأَمر لَهُ كُله فَأَجَابُوهُ مكرا كَمَا دعاهم

أَقُول انْظُر إِلَى هَذَا الْكفْر مَا أقبحه وَانْظُر إِلَى هَذَا الإجتراء مَا أخبثه وَهل هَذَا إِلَّا قصد إبِْطَال الشَّرَائِع وَانْظُر إِلَى هَذَا الهذيان فِي قَوْله لِأَنَّهُ مَا عدم من الْبِدَايَة فيدعى إِلَى الْغَايَة والدعوة إِنَّمَا هِيَ إِلَى عبَادَة الله تَعَالَى وتوحيده وَالْخُرُوج من الْكفْر والمعاصي لَا إِلَى ذَاته سبحانه وتعالى حَتَّى يَتَأَتَّى على مذْهبه الْخَبيث أَن الْحق عين الْأَشْيَاء القَوْل بِأَنَّهُ مَا عدم من الْبِدَايَة إِلَخ

وَمثل هَذِه الْمقَالة فِي الضلال مَا ذكر النفري فِي موقف مَا يَبْدُو

حَيْثُ قَالَ فَرَأَيْت مَا ينزل إِلَى الأَرْض مكرا وَمَا يصعد مِنْهَا شركا قَالَ شَارِحه الْعَفِيف التلمساني فِي شَرحه من مَا
নিশ্চয়ই এতে সম্বোধন বনী ইসরাঈলের জন্য, নূহের সম্প্রদায়ের জন্য নয়।)

অতঃপর তিনি বললেন {এবং তারা এক গুরুতর চক্রান্ত করল}

কারণ আল্লাহ তাআলার দিকে আহ্বান করা হলো আমন্ত্রিত ব্যক্তির সাথে এক প্রকার চক্রান্ত, যেহেতু সে শুরু থেকেই অস্তিত্বহীন ছিল না যে তাকে শেষ গন্তব্যের দিকে আহ্বান করা হবে। "আমি আল্লাহ তাআলার দিকে আহ্বান করি"—এটাই হলো চক্রান্তের মূল নির্যাস {সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে}। সুতরাং তিনি সতর্ক করলেন যে, সমস্ত বিষয় তাঁরই জন্য, ফলে তারা তাঁর আহ্বানে চক্রান্তের মাধ্যমে সাড়া দিল যেমনটি তিনি তাদের আহ্বান করেছিলেন

আমি বলি: এই কুফরির দিকে তাকাও, তা কতই না কদর্য! আর এই ধৃষ্টতার দিকে তাকাও, তা কতই না জঘন্য! শরীয়তসমূহকে বাতিল করাই কি এর উদ্দেশ্য নয়? তার এই প্রলাপের দিকে তাকাও যেখানে সে বলেছে, "যেহেতু সে শুরু থেকেই অস্তিত্বহীন ছিল না যে তাকে শেষ গন্তব্যের দিকে আহ্বান করা হবে"। অথচ দাওয়াত বা আহ্বান তো কেবল আল্লাহ তাআলার ইবাদত, তাঁর তাওহীদ এবং কুফরি ও গুনাহ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য; তাঁর পবিত্র সত্তার দিকে নয়—যাতে তার এই নিকৃষ্ট মতবাদ অনুসারে "হক বা সত্যই হলো বস্তুসমূহের মূল সত্তা" হিসেবে সাব্যস্ত হয়, যে কারণে সে বলেছে যে সে শুরু থেকেই অস্তিত্বহীন ছিল না ইত্যাদি

পথভ্রষ্টতার ক্ষেত্রে এই বক্তব্যের অনুরূপ হলো যা আন-নুফফারি তার 'মা ইয়াবদু' নামক অবস্থানে উল্লেখ করেছেন

যেখানে সে বলেছে: "আমি দেখেছি যা কিছু জমিনে নাজিল হয় তা চক্রান্ত, আর যা কিছু তা থেকে উপরে আরোহণ করে তা শিরক।" তার ব্যাখ্যাকার আল-আফিফ আত-তিলিমসানি তার ব্যাখ্যায় যা বলেছেন তা থেকে
(খণ্ড: ১) নিয়ামাতুয যারীয়াহ ফী নুসরতিশ শারীয়াহ (পৃষ্ঠা: ৪৮)
ينزل من السَّمَاء من الأصوار يَقْتَضِي الغيرية وَهِي مكر وَمَا يصعد هُوَ الْعَمَل بِمُقْتَضى ذَلِك الْمعِين وَهُوَ شرك لرؤية الْعَامِل أَنه صَاحب الْقُدْرَة فِي الْعَمَل وَأَنه هُوَ الْعَامِل حَقِيقَة وَهَذَا شرك

وَهَذَا الشّرك إِنَّمَا هُوَ مِمَّا ينزل لاقْتِضَائه الثنوية بقول قَالَ لكم انْتهى

فأجبته بِقَوْلِي إِن قَوْلكُم مكر وشرك شرك مِنْكُم على مُقْتَضى زعمكم حَيْثُ يلْزم مِنْهُ إِثْبَات ماكر وممكور بِهِ ومكر ومشرك ومشرك بِهِ وشرك بل جَمِيع قَوْلكُم قَالَ لي من هَذَا الْقَبِيل

فَأنْتم فِي الثنوية وتذمونها وَفِي الْحجاب وتذمونه

وقولكم لرؤية الْعَامِل إِلَخ

بَاطِل إِذْ لَيْسَ كل عَامل يرى أَنه هُوَ صَاحب الْقُدْرَة وَإِنَّمَا ذَلِك فِي بعض أهل الْبدع كالمعتزلة فالتعميم خطأ وافتراء

ثمَّ قَالَ فَقَالُوا فِي مَكْرهمْ (لَا تذرن ءالهتكم وَلَا تذرن ودا وَلَا سواعا وَلَا يَغُوث ويعوق ونسرا) فَإِنَّهُم إِذا تركوهم جهلوا من الْحق على قدر مَا تركُوا من هَؤُلَاءِ فَإِن للحق فِي كل معبود وَجها يعرفهُ من عرفه ويجهله من جَهله فِي المحمدين {وَقضى رَبك أَلا تعبدوا إِلَّا إِيَّاه} أَي حكم
আকাশ থেকে সুরক্ষিত কক্ষসমূহ থেকে যা অবতীর্ণ হয় তা ভিন্নতাকে (গাইরিয়্যাত) আবশ্যক করে এবং তা হলো একটি কৌশল (মকর)। আর যা ঊর্ধ্বে আরোহণ করে তা হলো সেই নির্দিষ্ট বিষয়ের প্রতিফলনস্বরূপ আমল, যা শিরক; কারণ আমলকারী মনে করে যে সে নিজেই আমলের ক্ষেত্রে ক্ষমতার অধিকারী এবং প্রকৃতপক্ষে সেই আমলকারী, আর এটিই শিরক।

আর এই শিরক মূলত নাজিল হওয়া বিষয়েরই ফলশ্রুতি, কারণ তা 'তিনি তোমাদের বলেছেন' এই বক্তব্যের মাধ্যমে দ্বৈতবাদের (ছানুয়িয়্যাহ) দাবি রাখে। সমাপ্ত।

অতঃপর আমি এই বলে তাকে উত্তর দিলাম যে, আপনাদের এই কথা যে 'কৌশল ও শিরক'—আপনাদের নিজেদের ধারণা অনুযায়ী এটি আপনাদের পক্ষ থেকেই শিরক; কারণ এর দ্বারা কৌশলী, যার সাথে কৌশল করা হয়েছে, কৌশল, শিরককারী, যার সাথে শিরক করা হয়েছে এবং শিরক—এসব কিছু সাব্যস্ত করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। বরং আপনাদের সমস্ত কথা 'তিনি আমাকে বলেছেন' এই জাতীয় বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত।

সুতরাং আপনারা নিজেরাই দ্বৈতবাদের মধ্যে নিমজ্জিত অথচ আপনারাই এর নিন্দা করছেন, এবং আপনারাই পর্দার আড়ালে রয়েছেন অথচ আপনারাই তার নিন্দা করছেন।

এবং আপনাদের কথা: 'আমলকারীর দেখার কারণে...' ইত্যাদি।

এটি অসার, কেননা প্রত্যেক আমলকারী এমনটি মনে করে না যে সে-ই ক্ষমতার অধিকারী; বরং এটি কেবল মুতাজিলাদের মতো কিছু বিদআতিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সুতরাং ঢালাওভাবে সাধারণীকরণ করা ভুল এবং অপবাদ।

অতঃপর তিনি বললেন, তারা তাদের চক্রান্তে বলেছিল: 'তোমরা তোমাদের উপাস্যদের পরিত্যাগ করো না; ওদ্দ, সুওয়া, ইয়াগুস, ইয়াউক ও নাসরকেও বর্জন করো না।' কারণ তারা যদি এদের বর্জন করত, তবে তারা সত্যের (আল্লাহর) ততটুকুই অজানা থেকে যেত যতটুকু তারা এদের বর্জন করেছে। কেননা প্রত্যেক উপাস্যের মধ্যেই পরম সত্যের একটি দিক বা প্রকাশ বর্তমান, যা জ্ঞানী ব্যক্তিরা চেনেন এবং মূর্খরা তা চেনে না। মুহাম্মদীগণের ক্ষেত্রে আয়াতটি হলো: 'আপনার রব ফয়সালা দিয়েছেন যে, তোমরা তিনি ব্যতীত অন্য কারও ইবাদত করবে না' অর্থাৎ তিনি এই হুকুম দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) নিয়ামাতুয যারীয়াহ ফী নুসরতিশ শারীয়াহ (পৃষ্ঠা: ৪৯)
أَقُول هَذَا بِنَاء مِنْهُ على قَاعِدَته الخبيثة أَن الْعَالم صور الْحق وَهُوَ على تَقْدِير تَسْلِيمه أَيْضا خطأ فَاحش بَيَانه على ذَلِك التَّقْدِير أَن الْحق سبحانه وتعالى أَمر أَن يعبد من حَيْثُ اطلاقه لتشتمل الْعِبَادَة جَمِيع الصُّور

وَنهى أَن يعبد مُقَيّدا بِبَعْض الصُّور لِأَن فِيهَا ترك مَا سوى ذَلِك الْبَعْض مِمَّا لَا يتناهى كَثْرَة

فَظهر أَن فَوت الْخَيْر الْكثير إِنَّمَا هُوَ فِي التقيد لَا فِي الْإِطْلَاق وَالله تَعَالَى هُوَ الْحَكِيم الْخَبِير فِيمَا أَمر وَنهى على لِسَان أنبيائه

ونوح وَغَيره من الرُّسُل عليهم السلام إِنَّمَا نهوا عَن عبَادَة الصُّور والأشخاص وَأمرُوا بِعبَادة الْحق من حَيْثُ هُوَ الْحق {وَمن يضلل الله فَمَا لَهُ من هاد}

وَقَوله أَي حكم إِن أَرَادَ الحكم بِمَعْنى الْأَمر فَمُسلم لَكِن لَا يُنَاسب مُرَاده مَا قبله وَمَا بعده وَإِن أَرَادَ الْقطع والجزم وَأَن لَا يَقع غَيره بِقَرِينَة مَا قبله وَمَا بعده فَهُوَ كذب إِذْ لَو كَانَ كَذَلِك لما صَحَّ قَوْله تَعَالَى {أَمر أَلا تعبدوا إِلَّا إِيَّاه} بل قضى بِمَعْنى أَمر لِئَلَّا يتناقض الْإِتْيَان

ثمَّ قَالَ فَمَا عبد غير الله فِي كل معبود أَقُول لَو كَانَ كَذَلِك لما نهى عَن عبَادَة غير الله تَعَالَى وَلما صدق قَوْله {وَلَا أَنْتُم عَابِدُونَ مَا أعبد} فَتَأمل وَالله تَعَالَى الْهَادِي

وَمَا بعد ذَلِك ظَاهر على قَاعِدَته الخبيثة
আমি বলি, এটি তার সেই নিকৃষ্ট মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে যে জগৎ হলো হকের (আল্লাহর) প্রতিচ্ছবি। এমনকি যদি তর্কের খাতিরে এটি মেনেও নেওয়া হয়, তবুও তা একটি জঘন্য ভুল। সেই অনুমানের ওপর ভিত্তি করে এর ব্যাখ্যা হলো: হক সুবহানাহু ওয়া তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন যেন তাঁর ইবাদত করা হয় তাঁর নিরঙ্কুশতার দিক থেকে, যাতে ইবাদত সমস্ত রূপকে শামিল করে।

আর তিনি নির্দিষ্ট কিছু রূপের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে তাঁর ইবাদত করতে নিষেধ করেছেন; কারণ এর মধ্যে সেই নির্দিষ্ট কিছু অংশ ব্যতীত অন্য সব কিছু পরিত্যাগ করা হয়, যা অগণিত।

সুতরাং এটি স্পষ্ট হলো যে, প্রভূত কল্যাণ হাতছাড়া হওয়া কেবল সীমাবদ্ধকরণের মধ্যেই ঘটে, নিরঙ্কুশতার মধ্যে নয়। আর আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীদের মাধ্যমে যা আদেশ ও নিষেধ করেছেন, সে বিষয়ে প্রজ্ঞাবান ও সম্যক অবগত।

নূহ এবং অন্যান্য রাসূলগণ (আলাইহিমুস সালাম) কেবল বিভিন্ন প্রতিকৃতি ও ব্যক্তির ইবাদত করতে নিষেধ করেছেন এবং হকের ইবাদত করার আদেশ দিয়েছেন এই হিসেবে যে, তিনি হক। "আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই।"

আর তার উক্তি "অর্থাৎ ফয়সালা", যদি তিনি ফয়সালা দ্বারা "আদেশ" উদ্দেশ্য নেন, তবে তা গ্রহণযোগ্য; কিন্তু তার পূর্বাপর বক্তব্যের সাথে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আর যদি তিনি পূর্বাপর প্রসঙ্গের ভিত্তিতে অকাট্য নিশ্চয়তা উদ্দেশ্য নেন যে এর বাইরে অন্য কিছু ঘটবে না, তবে তা মিথ্যা। কেননা বিষয়টি যদি তেমনই হতো, তবে আল্লাহ তাআলার এই বাণী সঠিক হতো না: "তিনি আদেশ করেছেন যে, তোমরা তিনি ব্যতীত অন্য কারও ইবাদত করবে না।" বরং এখানে 'কাযা' অর্থ হলো 'আদেশ করা', যাতে প্রসঙ্গের মধ্যে বৈপরীত্য সৃষ্টি না হয়।

এরপর তিনি বলেছেন, "প্রত্যেক উপাস্যের মধ্যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করা হয়নি।" আমি বলি, যদি বিষয়টি এমনই হতো, তবে আল্লাহ তাআলা ছাড়া অন্যের ইবাদত করতে নিষেধ করা হতো না এবং তাঁর এই বাণী সত্য হতো না: "আর তোমরা তাঁর ইবাদতকারী নও যাঁর ইবাদত আমি করি।" সুতরাং চিন্তা করে দেখুন; আর আল্লাহ তাআলাই সঠিক পথ প্রদর্শনকারী।

আর এরপর যা কিছু আছে, তা তার সেই নিকৃষ্ট মূলনীতির আলোকেই স্পষ্ট।
(খণ্ড: ১) নিয়ামাতুয যারীয়াহ ফী নুসরতিশ শারীয়াহ (পৃষ্ঠা: ৫০)
وَقَوله {وَبشر المخبتين} الَّذين خبت نَار طبيعتهم إِلَخ خطأ لِأَن المخبتين من الإخبات لامه تَاء لَا من الخبو الَّذِي لامه وَاو كَمَا حرفه وبدله

ثمَّ قَالَ {وَلَا تزد الظَّالِمين} لأَنْفُسِهِمْ المصطفين الَّذين أورثوا الْكتاب أول الثَّلَاثَة فقدمه على المقتصد وَالسَّابِق إِلَى آخر مَا ألحد

أَقُول هَذَا من جملَة الْإِلْحَاد فِي آيَات الله تَعَالَى فَإِن المُرَاد بالظالمين فِي سُورَة نوح عليه السلام غير المُرَاد بالظالم فِي سُورَة فاطر فَإِن الأول الْكَافِر وَالثَّانِي العَاصِي وتقديمه على المقتصد وَالسَّابِق لَيْسَ لتقدمه فِي الرُّتْبَة بل لمعنيين آخَرين لم يدركهما هَذَا الملحد أَو أدْرك وَلَكِن لبس كَمَا هِيَ عَادَته أَحدهمَا أَن لَا ييأس العَاصِي من الرَّحْمَة وَالْكَرم

وَالثَّانِي إبعاده عَن الْوَعْد ليخاف أَن يكون الضَّمِير فِيهِ مُخْتَصًّا بِالَّذِي يَلِيهِ وَهُوَ السَّابِق {وَمن لم يَجْعَل الله لَهُ نورا فَمَا لَهُ من نور}

وَقَوله صَاحب الطَّرِيق المستطيل مائل خَارج إِلَخ

كذب بل صَاحب الطَّرِيق المستطيل هُوَ المتوجه إِلَى مَا أَمر يه

وَصَاحب الْحَرَكَة الدورية سَعْيه غير موصل إِلَى مَقْصُود حائر كالحمار يدود بالرحى وَمَا بعد هَذَا أظهر من أَن يُنَبه عَلَيْهِ

بل يُقَال لَهُ جعلك الله تَعَالَى فِي تِلْكَ النَّار الَّتِي مدحتها ومدحت داخليها إِن لم يكن تَابَ قبل مَوته
এবং তাঁর উক্তি {বিনয়ীদের সুসংবাদ দিন} তারা যাদের স্বভাবের আগুন নিভে গেছে ইত্যাদি—এটি ভুল। কারণ ‘মুখবিতিন’ শব্দটি ‘ইখবাত’ থেকে আগত যার মূলবর্ণ হলো ‘তা’, এটি ‘খুবু’ থেকে নয় যার মূলবর্ণ ‘ওয়াও’, যেমনটি তিনি একে বিকৃত ও পরিবর্তন করেছেন।

অতঃপর তিনি বলেছেন {আর আপনি জালিমদের বৃদ্ধি করবেন না} যারা নিজেদের নফসের ওপর জুলুমকারী, সেই মনোনীত বান্দাগণ যাদের কিতাবের উত্তরাধিকারী করা হয়েছে, যারা তিন শ্রেণির মধ্যে প্রথম। অতঃপর তিনি তাকে ‘মুকতাসিদ’ (মধ্যমপন্থী) এবং ‘সাবিক’ (অগ্রগামী)-এর ওপর প্রধান্য দিয়েছেন, তার বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যার শেষ পর্যন্ত।

আমি বলি, এটি মহান আল্লাহর আয়াতসমূহের ক্ষেত্রে এক প্রকার বিকৃতির (ইলহাদ) অন্তর্ভুক্ত। কেননা সূরা নূহ-এ ‘জালিমিন’ দ্বারা যা উদ্দেশ্য, সূরা ফাতির-এ ‘জালিম’ দ্বারা তা উদ্দেশ্য নয়। প্রথমোক্তটি হলো কাফির এবং দ্বিতীয়টি হলো গুনাহগার। মুকতাসিদ ও সাবিকের পূর্বে একে উল্লেখ করা তার মর্যাদাগত শ্রেষ্ঠত্বের কারণে নয়, বরং অন্য দুটি কারণে যা এই ধর্মদ্রোহী উপলব্ধি করতে পারেনি, অথবা উপলব্ধি করলেও অভ্যাসবশত সত্য গোপন করেছে। তার একটি হলো, যাতে গুনাহগার ব্যক্তি আল্লাহর রহমত ও করুণা থেকে নিরাশ না হয়।

দ্বিতীয়টি হলো, তাকে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি থেকে দূরে রাখা যাতে সে এই ভয় পায় যে, জান্নাতের বর্ণনায় ব্যবহৃত সর্বনামটি হয়তো কেবল তার পরবর্তী শ্রেণির সাথে নির্দিষ্ট, আর তারা হলো ‘সাবিক’ (অগ্রগামী)। {আল্লাহ যার জন্য কোনো নূর রাখেননি, তার জন্য কোনো নূর নেই}।

এবং তাঁর উক্তি, "দীর্ঘ পথের অনুসারী বিপথগামী ও বিচ্যুত" ইত্যাদি।

এটি মিথ্যা; বরং দীর্ঘ পথের অনুসারী তো সেই ব্যক্তি, যে তাকে প্রদত্ত আদেশের দিকে ধাবিত হয়।

আর বৃত্তাকার গতির অনুসারীর প্রচেষ্টা তাকে গন্তব্যে পৌঁছে দেয় না; সে জাতাকলে আবদ্ধ গাধার ন্যায় লক্ষ্যহীনভাবে ঘুরপাক খায়। এর পরবর্তী বিষয়গুলো এতোই স্পষ্ট যে সেদিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করার প্রয়োজন নেই।

বরং তাকে বলা উচিত, মহান আল্লাহ আপনাকে সেই আগুনেই নিক্ষেপ করুন যার আপনি প্রশংসা করেছেন এবং যাতে প্রবেশকারীদেরও প্রশংসা করেছেন, যদি না তিনি মৃত্যুর পূর্বে তওবা করে থাকেন।
(খণ্ড: ১) নিয়ামাতুয যারীয়াহ ফী নুসরতিশ শারীয়াহ (পৃষ্ঠা: ৫১)
عَن هَذِه الضلالات والترهات هَذَا ثمَّ انْظُر إِلَى مَا ألحد بعد ذَلِك وحرف وَبدل وَالله الْمُسْتَعَان

قَالَ فِي الْكَلِمَة الإدرسية بعد مَا قرر قَاعِدَته الخبيثة قَالَ الخراز وَهُوَ وَجه من وُجُوه الْحق ولسان من ألسنته ينْطق عَن نَفسه بِأَن الله تَعَالَى لَا يعرف إِلَّا بجمعه بَين الأضداد فِي الحكم عَلَيْهِ بهَا فَهُوَ الأول وَالْآخر وَالظَّاهِر وَالْبَاطِن فَهُوَ عين مَا ظهر وَهُوَ عين مَا بطن فِي حَال ظُهُوره وَمَا ثمَّ من يرَاهُ غَيره وَمَا ثمَّ من يبطن عَنهُ فَهُوَ ظَاهر لنَفسِهِ بَاطِن عَنهُ وَهُوَ الْمُسَمّى أَبَا سعيد الخراز وَغير ذَلِك من أَسمَاء المحدثات إِلَى آخر مَا هذى

أَقُول لقد كذب على أبي سعيد الخراز فِي ادِّعَاء أَن مُرَاده مَا أَرَادَهُ من قَاعِدَته الخبيثة وَهَذَا دأبه فِي كذبه على مثل هَؤُلَاءِ لترويج باطله وَإِذا كَانَ قد كذب على رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي إِسْنَاد هَذِه الأباطيل القبيحة إِلَيْهِ فالكذب على من دونه أسهل بل الطامة الْكُبْرَى كذبه على رب الْعَالمين على مَا لَا يخفى على من لَهُ أدنى بَصِيرَة من نسبته إِلَيْهِ مَا لَا يجوز وتحريف كَلَامه عَمَّا أرداه وَكفى بِهِ حسيبا

ثمَّ إِنَّه أصل وَفرع على قَاعِدَته الخبيثة فِي هَذَا الْمحل إِلَى أَن قَالَ فالعلي لنَفسِهِ هُوَ الَّذِي يكون لَهُ الْكَمَال الَّذِي يسْتَغْرق بِهِ جَمِيع الْأُمُور الوجودية وَالنّسب العدمية بِحَيْثُ لَا يُمكن أَن يفوتهُ نعت مِنْهَا وَسَوَاء كَانَت محمودة عرفا وعقلا وَشرعا أَو مذمومة عرفا وعقلا وَشرعا
এই সকল পথভ্রষ্টতা ও অসার কথাবার্তা থেকে। অতঃপর লক্ষ্য করুন, এরপর তিনি কীভাবে সত্যচ্যুত হয়েছেন, বিকৃত করেছেন এবং পরিবর্তন করেছেন; আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

তিনি তাঁর ‘কালিমা ইদরিসিয়্যাহ’-তে তাঁর জঘন্য মূলনীতি স্থির করার পর বলেছেন: “খাররাজ বলেছেন—যিনি হকের দিকসমূহের একটি দিক এবং হকের যবানসমূহের একটি যবান যা তাঁর নিজের পক্ষ থেকে কথা বলে—যে, মহান আল্লাহকে কেবল তাঁর ওপর আরোপিত বিপরীতধর্মী বিষয়সমূহের মিলনের মাধ্যমেই চেনা যায়। কেননা তিনি প্রথম ও শেষ, প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য। অতএব যা প্রকাশ্য তিনি তাঁর মূল সত্তা, এবং যা অপ্রকাশ্য তা তাঁর প্রকাশের অবস্থাতেও তাঁরই মূল সত্তা। সেখানে তিনি ছাড়া তাঁকে দেখার মতো অন্য কেউ নেই, এবং তাঁর থেকে অপ্রকাশ্য থাকার মতোও কেউ নেই। সুতরাং তিনি নিজের নিকট প্রকাশ্য এবং নিজের নিকট অপ্রকাশ্য; আর তিনিই আবু সাঈদ খাররাজ নামে নামাঙ্কিত এবং নব্য সৃষ্টি হওয়া অন্যান্য নামেও নামাঙ্কিত...” তাঁর এই প্রলাপের শেষ পর্যন্ত।

আমি বলছি: আবু সাঈদ খাররাজের ওপর তিনি এই দাবি করে মিথ্যাচার করেছেন যে, খাররাজের উদ্দেশ্য তাই ছিল যা তিনি তাঁর জঘন্য মূলনীতি দ্বারা উদ্দেশ্য করেছেন। নিজের বাতিল মতবাদ প্রচারের উদ্দেশ্যে এই ধরণের ব্যক্তিদের ওপর মিথ্যা আরোপ করা তাঁর স্বভাব। যখন তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর এই কদর্য বাতিল বিষয়সমূহ আরোপ করার ক্ষেত্রে মিথ্যাচার করেছেন, তখন তাঁর নিম্নের ব্যক্তিদের ওপর মিথ্যা বলা আরও সহজ। বরং সবচাইতে বড় বিপর্যয় হলো রাব্বুল আলামীনের ওপর তাঁর মিথ্যাচার, যা সামান্যতম অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন ব্যক্তির কাছেও গোপন নয়; যেমন আল্লাহর প্রতি এমন বিষয় সম্বন্ধ করা যা জায়েয নয় এবং তাঁর কালামকে তাঁর উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত ও বিকৃত করা। আর হিসাব গ্রহণকারী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।

অতঃপর তিনি এই স্থানে তাঁর জঘন্য মূলনীতির ভিত্তিতে শাখা-প্রশাখা বিন্যাস করেছেন, শেষ পর্যন্ত তিনি বলেছেন: “যিনি স্বীয় সত্তাগতভাবে সুউচ্চ, তিনি এমন এক সত্তা যাঁর এমন পূর্ণতা রয়েছে যা দ্বারা তিনি সকল অস্তিত্বশীল বিষয় এবং অস্তিত্বহীন সম্বন্ধকে পরিবেষ্টন করে থাকেন, যার ফলে কোনো গুণই তাঁর থেকে বাদ পড়া সম্ভব নয়; চাই তা প্রথা, বিবেক ও শরীয়তের দৃষ্টিতে প্রশংসনীয় হোক অথবা প্রথা, বিবেক ও শরীয়তের দৃষ্টিতে নিন্দনীয় হোক।”
(খণ্ড: ১) নিয়ামাতুয যারীয়াহ ফী নুসরতিশ শারীয়াহ (পৃষ্ঠা: ৫২)
وَلَيْسَ ذَلِك إِلَّا لمسمى الله خَاصَّة وَأما غير مُسَمّى الله تَعَالَى خَاصَّة مِمَّا هُوَ مجلى لَهُ أَو صُورَة فِيهِ إِلَخ

أَقُول هَذَا ادِّعَاء أَن الله سُبْحَانَهُ يَتَّصِف بِصِفَات الذَّم تَعَالَى الله عَمَّا يَقُول الظَّالِمُونَ علوا كَبِيرا وَنَظِير هَذَا مَا ذكر فِي الْكَلِمَة الإبراهيمية حَيْثُ قَالَ بعد مَا ألحد فِي معنى الْخَلِيل إِلَى أَن قَالَ أَلا تَرَ الْحق يظْهر بِصِفَات المحدثات وَأخْبر بذلك عَن نَفسه وبصفات النَّقْص وبصفات الذَّم إِلَى أَن قَالَ فَإِن كَانَ الْحق هُوَ الظَّاهِر فالخلق مَسْتُور فِيهِ فَيكون الْخلق جَمِيع أَسمَاء الْحق سَمعه وبصره وَجَمِيع نسبه وإدراكاته وَإِن كَانَ الْخلق هُوَ الظَّاهِر فَالْحق مَسْتُور بَاطِن فِيهِ فَالْحق سمع الْخلق وبصره وَيَده وَرجله وَجَمِيع قواه كَمَا ورد فِي الْخَبَر الصَّحِيح

أَقُول هَذَا إلحاد فِي تَأْوِيل معنى الْخَبَر الصَّحِيح

وَتمسك بِظَاهِر الْمُتَشَابه

وَكَأَنَّهُ عميت بصيرته عَن الشّرطِيَّة فِي الْخَبَر الْمَذْكُور حَيْثُ قَالَ الله فِيهِ فَإِذا أحببته كنت سَمعه وبصره إِلَخ

وَلَو كَانَ كَمَا قَالَ هَذَا الضال المضل مَا كَانَ لاشْتِرَاط الْمحبَّة معنى ثمَّ حرف على قَاعِدَته الخبيثة إِلَى أَن قَالَ فَإِن قلت فَمَا فَائِدَة قَوْله {فَلَو شَاءَ لهداكم أَجْمَعِينَ} قُلْنَا لَو شَاءَ لَو حرف امْتنَاع لِامْتِنَاع فَمَا شَاءَ إِلَّا مَا هُوَ الْأَمر عَلَيْهِ وَلَكِن عين الْمُمكن قَابل
এটি কেবল বিশেষভাবে আল্লাহ নামধারী সত্তার জন্য; আর আল্লাহ তাআলা ছাড়া অন্য সব কিছু যা তাঁর জন্য প্রকাশস্থল বা তাঁর মধ্যে কোনো রূপ ইত্যাদি...

আমি বলি, এটি একটি দাবি যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা নিন্দনীয় গুণে গুণান্বিত। অথচ জালিমরা যা বলে তা থেকে আল্লাহ অতি সুউচ্চ ও মহান। এর সদৃশ হলো ইবরাহীমীয় কালিমায় যা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে তিনি 'খলীল' শব্দের অর্থে ধর্মবিচ্যুতি ঘটানোর পর বলেছেন: "তুমি কি দেখ না যে সত্য (আল্লাহ) নব্য সৃষ্টিসমূহের গুণাবলি নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেন এবং তিনি নিজেই নিজের সম্পর্কে সে সংবাদ দিয়েছেন? এমনকি ত্রুটিপূর্ণ ও নিন্দনীয় গুণাবলি দ্বারাও?" এরপর তিনি বলেছেন: "যদি সত্য (আল্লাহ) প্রকাশমান হন তবে সৃষ্টি তাঁর মধ্যে লুকায়িত থাকে, এমতাবস্থায় সৃষ্টিই হয় আল্লাহর সকল নাম, তাঁর শ্রবণ, তাঁর দৃষ্টি এবং তাঁর সকল সম্বন্ধ ও উপলব্ধি। আর যদি সৃষ্টি প্রকাশমান হয়, তবে সত্য (আল্লাহ) সৃষ্টির অন্তরালে নিহিত থাকেন। তখন সত্য (আল্লাহ) হন সৃষ্টির শ্রবণ, সৃষ্টির দৃষ্টি, আল্লাহর হাত, আল্লাহর পা এবং তার সকল শক্তি, যেমনটি সহীহ বর্ণনায় এসেছে।"

আমি বলি, এটি সহীহ হাদীসের অর্থের অপব্যাখ্যা ও ধর্মবিচ্যুতি।

এবং তিনি মুতাশাবিহ বা রূপক বিষয়ের বাহ্যিক অর্থ আঁকড়ে ধরেছেন।

আর মনে হচ্ছে উক্ত বর্ণনায় উল্লিখিত শর্তের ব্যাপারে তাঁর অন্তর্দৃষ্টি অন্ধ হয়ে গেছে, যেখানে আল্লাহ বলেছেন: "অতঃপর আমি যখন তাকে ভালোবাসি, তখন আমি তার কান ও চোখ হয়ে যাই" ইত্যাদি।

এই পথভ্রষ্ট ও পথভ্রষ্টকারী যা বলেছে তা যদি সত্য হতো, তবে ভালোবাসা শর্তযুক্ত হওয়ার কোনো অর্থ থাকত না। এরপর সে তার জঘন্য মূলনীতি অনুযায়ী বিকৃতি ঘটিয়ে বলেছে: "যদি তুমি বলো যে, তবে আল্লাহর এই বাণীর সার্থকতা কী যে— 'তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদের সকলকেই হিদায়াত দিতেন'? আমরা বলব, 'যদি' শব্দটি অসম্ভাব্যতা প্রকাশের অব্যয়। সুতরাং বিষয়টি যেমন হওয়ার কথা ছিল তিনি তেমনটি ছাড়া অন্য কিছু ইচ্ছা করেননি, তবে সম্ভবপর বস্তুর সত্তা তা গ্রহণের উপযোগী।"
(খণ্ড: ১) নিয়ামাতুয যারীয়াহ ফী নুসরতিশ শারীয়াহ (পৃষ্ঠা: ৫৩)
للشَّيْء ونقيضه فِي حكم دَلِيل الْعقل وَأي الْحكمَيْنِ المعقولين وَقع ذَلِك هُوَ الَّذِي كَانَ عَلَيْهِ الْمُمكن فِي حَال ثُبُوته وَمعنى لهداكم لبين لكم وَمَا كل مُمكن من الْعَالم فتح الله تَعَالَى عين بصيرته لإدراك الْأَمر فِي نَفسه على مَا هُوَ عَلَيْهِ فَمنهمْ الْعَالم وَالْجَاهِل

فَمَا شَاءَ الله فَمَا هدَاهُم أَجْمَعِينَ وَلَا يَشَاء وَكَذَلِكَ إِن يَشَأْ فَهَل يَشَاء هَذَا مَا لَا يكون

فمشيئته أحدية التَّعَلُّق وَهِي نِسْبَة تَابِعَة للْعلم وَالْعلم نِسْبَة تَابِعَة للمعلوم والمعلوم أَنْت وأحوالك

فَلَيْسَ للْعلم أثر لمعلوم بل للمعلوم أثر فِي الْعَالم فيعطيه من نَفسه مَا هُوَ عَلَيْهِ فِي عينه

وَإِنَّمَا ورد الْخطاب الإلهي بِحَسب مَا تواطأ عَلَيْهِ المخاطبون وَمَا أعطَاهُ النّظر الْعقلِيّ مَا ورد الْخطاب على مَا يُعْطِيهِ الْكَشْف إِلَى آخر مَا ذكر

أَقُول محصله أَنه سُبْحَانَهُ إِنَّمَا يَشَاء مَا يُمكن وُقُوعه ووجوده فِي الْخَارِج وَذَلِكَ دائر على استعداد الْمُمكن وقابليته فِي حَال ثُبُوته فِي الْعلم لَا على إِمْكَانه من حَيْثُ هُوَ مُمكن

فَإِذا علم الله تَعَالَى من الْمَعْلُوم الَّذِي يُرِيد إيجاده عدم استعداده وقابليته للهدى لَا يَشَاء هدايته وَلَو شَاءَ لهداه

أَو فمشيئته الْهِدَايَة معلقَة على الْعلم بقابلية استعداده لَهَا

فَإِذا انْتَفَى الْعلم بالقابلية انْتَفَت الْمَشِيئَة للهداية فانتفت الْهِدَايَة

مَعَ أَن الْمُمكن من حَيْثُ هُوَ مُمكن قَابل للهداية ونقيضها فورد الْخطاب الإلهي على هَذَا الْإِمْكَان لِأَنَّهُ هُوَ الَّذِي تواطأ عَلَيْهِ أهل اللُّغَة المخاطبون بِالْقُرْآنِ

وَلم يرد الْخطاب بِحَسب مَا يُعْطِيهِ الْكَشْف من أَنه لَا يَشَاء إِلَّا مَا عَلَيْهِ الشَّيْء من القابلية

هَذَا وَلَكِن المخاطبون كَمَا تواطؤا على مَا ذكرت فهم متواطئون على أَن التمدح إِنَّمَا يَصح بِالْأَمر الَّذِي
বিচারবুদ্ধির দলিলের হুকুমে কোনো বস্তু এবং তার বিপরীত অবস্থা—উভয়ই সম্ভব; আর এই দুই বুদ্ধিগম্য হুকুমের মধ্যে যা সংঘটিত হয়, তা-ই মূলত সেই বস্তুটির সাব্যস্ত থাকা অবস্থায় তার ওপর নির্ধারিত ছিল। 'তিনি তোমাদের হেদায়াত দিতেন' এর অর্থ হলো 'তিনি তোমাদের কাছে বর্ণনা করে দিতেন'। জগতের সকল সম্ভাব্য অস্তিত্বের জন্য আল্লাহ তাআলা তাদের অন্তর্দৃষ্টি উন্মোচন করে দেননি যেন তারা বিষয়বস্তুকে তার প্রকৃত স্বরূপে উপলব্ধি করতে পারে। তাই তাদের মধ্যে কেউ জ্ঞানী আবার কেউ অজ্ঞ।

সুতরাং আল্লাহ যা চাননি, তিনি তাদের সকলকে হেদায়াত দান করেননি এবং তিনি তা চাইবেনও না। একইভাবে, 'যদি তিনি চান'—তবে তিনি কি এমন কিছু চাইবেন যা হওয়ার নয়?

সুতরাং তাঁর ইচ্ছা বা মাশীয়াত হলো একক সংশ্লিষ্টতা। এটি এমন একটি সম্বন্ধ যা জ্ঞানের অনুগামী, আর জ্ঞান হলো জ্ঞাত বস্তুর অনুগামী। আর সেই জ্ঞাত বস্তু হলো তুমি এবং তোমার অবস্থাসমূহ।

অতএব, জ্ঞাত বস্তুর ওপর জ্ঞানের কোনো প্রভাব নেই, বরং পরিজ্ঞাত ব্যক্তির ওপর জ্ঞাত বস্তুর প্রভাব রয়েছে। ফলে জ্ঞাত বস্তু তার সত্তার প্রকৃত স্বরূপ অনুযায়ী তাকে তথ্য প্রদান করে।

খোদায়ী সম্বোধন অবতীর্ণ হয়েছে সেই অনুযায়ী যার ওপর সম্বোধিত ব্যক্তিগণ একমত হয়েছেন এবং যা বুদ্ধিবৃত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে; কাশফ বা আধ্যাত্মিক উন্মোচন যা প্রদান করে সেই অনুযায়ী সম্বোধন অবতীর্ণ হয়নি... শেষ পর্যন্ত যা উল্লেখ করা হয়েছে।

আমি বলছি, এর সারকথা হলো: সুবহানাহু ওয়া তাআলা কেবল সেটুকুই চান যার সংঘটিত হওয়া এবং বাহ্যিক অস্তিত্ব লাভ করা সম্ভব। আর তা আবর্তিত হয় সম্ভাব্য বস্তুর সেই যোগ্যতা ও সক্ষমতার ওপর যা তার জ্ঞানের মধ্যে সাব্যস্ত থাকাকালীন অবস্থায় ছিল, কেবল সম্ভব হওয়ার দিক থেকে তার সম্ভাবনার ওপর নয়।

সুতরাং আল্লাহ তাআলা যখন কোনো জ্ঞাত বস্তু সম্পর্কে—যাকে তিনি অস্তিত্ব দান করতে চান—জানেন যে হেদায়াতের প্রতি তার কোনো যোগ্যতা বা সক্ষমতা নেই, তখন তিনি তার হেদায়াত চান না। আর যদি তিনি চাইতেন, তবে অবশ্যই তাকে হেদায়াত দান করতেন।

অথবা, হেদায়াত প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর ইচ্ছা সেই হেদায়াতের প্রতি বান্দার যোগ্যতার জ্ঞানের সাথে সম্পৃক্ত।

সুতরাং যখন যোগ্যতার জ্ঞান অনুপস্থিত থাকে, তখন হেদায়াতের ইচ্ছাও অনুপস্থিত থাকে, ফলে হেদায়াতও আর থাকে না।

যদিও সম্ভাব্য বস্তু তার সম্ভাবনার দিক থেকে হেদায়াত এবং তার বিপরীত—উভয়ই গ্রহণ করার যোগ্য, তবুও খোদায়ী সম্বোধন এই সম্ভাবনার ওপর ভিত্তি করেই অবতীর্ণ হয়েছে। কারণ ভাষার পণ্ডিতগণ এবং কুরআনের সম্বোধিত ব্যক্তিগণ এর ওপরই একমত হয়েছেন।

আর সম্বোধনটি কাশফ যা প্রদান করে সেই অনুযায়ী অবতীর্ণ হয়নি—যেখানে বলা হয় যে, কোনো বস্তুর যে যোগ্যতা রয়েছে তা ব্যতীত তিনি অন্য কিছু চান না।

তবে কথা হলো, সম্বোধিত ব্যক্তিগণ আমি যা উল্লেখ করেছি তার ওপর যেমন একমত হয়েছেন, তেমনি তারা এ বিষয়েও একমত যে, প্রশংসা কেবল এমন বিষয়ের মাধ্যমেই সঠিক হয় যা...
(খণ্ড: ১) নিয়ামাতুয যারীয়াহ ফী নুসরতিশ শারীয়াহ (পৃষ্ঠা: ৫৪)
للمتمدح عَلَيْهِ قدرَة حَتَّى لَو قَالَ الْقَائِل لَو شِئْت لطرت لكني لَا أَشَاء مَعَ علمه بِعَدَمِ قدرته على الطيران لَكَانَ كَاذِبًا عِنْد نَفسه وَعند كل من عدم قدرته على ذَلِك بل مُطلقًا لآن خَبره غير مُطَابق للْوَاقِع تَعَالَى الله عَن ذَلِك علوا كَبِيرا

ثمَّ إِنَّه بنى على مَا سبق إِلَى أَن قَالَ وَإِن ثَبت أَنَّك الْمَوْجُود فَالْحكم لَك بِلَا شكّ وَإِن كَانَ الْحَاكِم الْحق فَلَيْسَ لَهُ إِلَّا إفَاضَة الْوُجُود عَلَيْك وَالْحكم لَك عَلَيْك

فَلَا تحمد إِلَّا نَفسك وَلَا تذم إِلَّا نَفسك وَمَا يبْقى للحق إِلَّا حمد إفَاضَة الْوُجُود لِأَن ذَلِك لَهُ لَا لَك

أَقُول انْظُر إِلَى سوء أدبه مَعَ الله تَعَالَى الْمُخَالف لقَوْله صلى الله عليه وسلم (فَمن وجد خيرا فليحمد الله تَعَالَى) {مَا أَصَابَك من حَسَنَة فَمن الله} وَغير ذَلِك من الْآيَات وَالْأَحَادِيث ثمَّ زَاد فِي إساءة الْأَدَب وَأظْهر الشّرك حَيْثُ قَالَ فَأَنت غذاؤه بِالْأَحْكَامِ وَهُوَ غذاؤك بالوجود فَتعين عَلَيْهِ مَا تعين عَلَيْك

فَالْأَمْر مِنْهُ إِلَيْك ومنك إِلَيْهِ

غير أَنَّك تسمى مُكَلّفا وَمَا كلفك إِلَّا بِمَا قلت لَهُ كلفني بحالك وَبِمَا أَنْت عَلَيْهِ وَلَا يُسمى مُكَلّفا اسْم مفعول

أَقُول يَعْنِي إِنَّمَا سميت مُكَلّفا لِأَنَّك قلت لَهُ اقْتِضَاء حالك كلفني

فَأَنت الَّذِي طلبت التَّكْلِيف مِنْهُ اقْتِضَاء حالك فَلم تكن مُكَلّفا
প্রশংসা দাবি করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সক্ষমতা থাকা আবশ্যক; এমনকি যদি কোনো বক্তা বলে, "যদি আমি চাইতাম তবে আমি উড়তাম, কিন্তু আমি তা চাই না," অথচ সে জানে যে তার ওড়ার সক্ষমতা নেই, তবে সে নিজের কাছে এবং যারা তার এই অক্ষমতা সম্পর্কে অবগত তাদের সবার কাছেই মিথ্যাবাদী বলে গণ্য হবে। বরং সে নিরঙ্কুশভাবে মিথ্যাবাদী, কারণ তার বক্তব্য বাস্তবতার সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। আল্লাহ তাআলা এ ধরনের বিষয় থেকে অনেক উচ্চে ও অতি পবিত্র।

অতঃপর তিনি পূর্ববর্তী আলোচনার ওপর ভিত্তি করে এ পর্যন্ত বললেন যে, "আর যদি এটি প্রমাণিত হয় যে আপনিই বিদ্যমান সত্তা, তবে সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে আপনার জন্যই। আর যদি বিচারক হক (আল্লাহ) হন, তবে তাঁর কাজ কেবল আপনার ওপর অস্তিত্বের ফয়যান (প্রবাহ) দান করা, আর আপনার ফয়সালা হবে আপনার নিজেরই অনুকূলে।"

সুতরাং আপনি নিজের সত্তা ছাড়া অন্য কারো প্রশংসা করবেন না এবং নিজের সত্তা ছাড়া অন্য কাউকে নিন্দা করবেন না। আর হক (আল্লাহ)-এর জন্য কেবল অস্তিত্ব প্রদানের প্রশংসাটুকুই অবশিষ্ট থাকে, কারণ সেটি তাঁরই প্রাপ্য, আপনার নয়।

আমি বলছি, আল্লাহ তাআলার সাথে তার এই চরম বেয়াদবি লক্ষ করুন, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী— "যে ব্যক্তি কল্যাণ লাভ করে, সে যেন আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করে"—এবং "আপনার কাছে যে কল্যাণ পৌঁছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে" ইত্যাদি আয়াত ও হাদীসের সরাসরি পরিপন্থী। অতঃপর সে তার বেয়াদবি আরও বৃদ্ধি করল এবং শিরক প্রকাশ করল যখন সে বলল, "সুতরাং আপনি আপনার অবস্থার বিধানাবলির মাধ্যমে তাঁর খাদ্য, আর তিনি অস্তিত্ব দানের মাধ্যমে আপনার খাদ্য; ফলে আপনার ওপর যা অবধারিত হয়েছে, তা তাঁর ওপরও অবধারিত হয়েছে।"

সুতরাং নির্দেশ তাঁর পক্ষ থেকে আপনার প্রতি এবং আপনার পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি।

পার্থক্য শুধু এই যে, আপনাকে 'মুকাল্লাফ' (দায়িত্বপ্রাপ্ত) বলা হয়, অথচ আপনার অবস্থার দাবি অনুযায়ী এবং আপনি যে অবস্থায় আছেন তার প্রেক্ষিতে আপনিই তাঁকে "আমাকে দায়িত্ব প্রদান করুন" বলার কারণে তিনি আপনাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আর তাঁকে 'মুকাল্লাফ' বা কর্মবাচ্যের বিশেষ্য হিসেবে নামকরণ করা হয় না।

আমি বলছি, এর অর্থ হলো—আপনাকে কেবল এ জন্যই মুকাল্লাফ বলা হয়েছে যে, আপনি নিজের অবস্থার প্রয়োজনে তাঁকে বলেছিলেন, "আমাকে দায়িত্ব দিন।"

সুতরাং আপনিই নিজের অবস্থার দাবি অনুযায়ী তাঁর কাছে দায়িত্ব প্রার্থনা করেছেন, তাই আপনি (অন্যের মাধ্যমে বাধ্য করা কোনো) মুকাল্লাফ বা দায়িত্বপ্রাপ্ত নন।
(খণ্ড: ১) নিয়ামাতুয যারীয়াহ ফী নুসরতিশ শারীয়াহ (পৃষ্ঠা: ৫৫)
بِمَعْنى أَنه كلفك حكما مِنْهُ عَلَيْك حَتَّى تكون اسْم مفعول بل أَنْت الَّذِي حكمت على نَفسك بل عَلَيْهِ

بِمَا اقْتَضَاهُ حالك فَانْظُر إِلَى هَذِه التكلفات الَّتِي أردْت بهَا الْإِشْرَاك بَين العَبْد والرب ثمَّ تمم ذَلِك بالأبيات حَيْثُ قَالَ

(فيحمدني وأحمده … ويعبدني فأعبده)

(فَفِي حَال أقربه … وَفِي الْأَعْيَان أجحده)

(فيعرفني وَأنْكرهُ … وأعرفه فأشهده)

(فَأَنِّي بالغني وَأَنا … أساعده وأسعده)

(لذاك الْحق أوجدني … فَأعلمهُ فأوجده)

(بذا جَاءَ الحَدِيث لنا … وحقق فِي مقْصده)

أَقُول قَالَ شَارِحه أَي يحمدني بإيجادي على صورته وتكميلي بنفسي ويعبدني بخلقي وإيجادي فَإِن ذَلِك نوع خدمَة وَعبادَة فأعبده بِالْفَاءِ للنتيجة أَي تترتب عبادتي على عِبَادَته لي بالإيجاد والإظهار ثمَّ اعتذر عَنهُ بِأَن إِطْلَاق الْعِبَادَة على الْحق وَإِن كَانَ تشنيعا ونوعا من سوء الْأَدَب فِي الظَّاهِر لَكِن أَحْكَام التجليات الإلهية إِذا غلبت على الْقلب بِحَيْثُ يُخرجهُ عَن دَائِرَة التَّكْلِيف وطور الْعقل لَا يقدر الْقلب على مُرَاعَاة الْأَدَب أصلا وَترك الْأَدَب أدب انْتهى
এর অর্থ এই যে, তিনি আপনার উপর তাঁর পক্ষ থেকে কোনো বিধান আরোপ করেছেন যাতে আপনি কর্মবাচ্য বা উদ্দেশ্য হন, এমন নয়; বরং আপনিই নিজের ওপর, এমনকি তাঁর ওপরেও ফয়সালা করেছেন

আপনার অবস্থার দাবি অনুযায়ী। সুতরাং এই কৃত্রিমতা ও কষ্টকল্পনার দিকে লক্ষ্য করুন, যার মাধ্যমে আপনি বান্দা ও রবের মধ্যে অংশীদারিত্ব সৃষ্টির ইচ্ছা করেছেন। অতঃপর তিনি এই বিষয়টি এই কবিতাগুলোর মাধ্যমে পূর্ণ করেছেন যেখানে তিনি বলেছেন

(সুতরাং তিনি আমার প্রশংসা করেন এবং আমিও তাঁর প্রশংসা করি … এবং তিনি আমার ইবাদত করেন ফলে আমিও তাঁর ইবাদত করি)

(এক অবস্থায় আমি তাঁকে স্বীকার করি … আবার বাস্তব সত্তার ক্ষেত্রে আমি তাঁকে অস্বীকার করি)

(তিনি আমাকে চেনেন আর আমি তাঁকে অস্বীকার করি … আমি তাঁকে চিনি তাই তাঁর সাক্ষ্য দিই)

(নিশ্চয়ই আমি তাঁর অমুখাপেক্ষিতার মাধ্যমে, আর আমিই … তাঁকে সাহায্য করি এবং সৌভাগ্য দান করি)

(সেই কারণে সত্য আল্লাহ আমাকে অস্তিত্ব দিয়েছেন … তাই আমি তাঁকে জানি এবং তাঁকে অস্তিত্ব দান করি)

(এই মর্মেই আমাদের কাছে হাদীস এসেছে … এবং এর উদ্দেশ্য যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে)

আমি বলছি: এর ব্যাখ্যাকার বলেছেন, অর্থাৎ তিনি আমাকে তাঁর নিজ সুরতে সৃষ্টি করে এবং তাঁর নিজের মাধ্যমে আমাকে পূর্ণতা দান করে আমার প্রশংসা করেন। আর তিনি আমাকে সৃষ্টি করার ও অস্তিত্ব দান করার মাধ্যমে আমার ইবাদত করেন। কেননা তা এক প্রকার সেবা ও ইবাদত। 'অতঃপর আমি তাঁর ইবাদত করি' এখানে 'ফা' বর্ণটি ফলাফল বুঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ অস্তিত্ব দান ও প্রকাশ করার মাধ্যমে আমার প্রতি তাঁর ইবাদতের ফলাফল হিসেবে আমার ইবাদত সাব্যস্ত হয়। অতঃপর তিনি তাঁর পক্ষ থেকে ওজর পেশ করে বলেন যে, সত্যের (আল্লাহর) প্রতি 'ইবাদত' শব্দের প্রয়োগ যদিও বাহ্যিকভাবে অত্যন্ত জঘন্য এবং এক প্রকার শিষ্টাচার বহির্ভূত বিষয়, কিন্তু যখন ঐশী তাজাল্লিয়াতের বিধানসমূহ হৃদয়ের ওপর এমনভাবে প্রভাব বিস্তার করে যে তা মানুষকে শরিয়তের দায়বদ্ধতা ও বিবেকের সীমানার বাইরে নিয়ে যায়, তখন অন্তর আদব বা শিষ্টাচার বজায় রাখতে একেবারেই সক্ষম থাকে না; আর এমতাবস্থায় শিষ্টাচার ত্যাগ করাই শিষ্টাচার বলে গণ্য হয়। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) নিয়ামাতুয যারীয়াহ ফী নুসরতিশ শারীয়াহ (পৃষ্ঠা: ৫৬)
وَهَذَا غير مُسلم أَنه فِي حَال الغلبات لِأَن ذَلِك لَا يودع فِي كتاب وَلَا يقْتَرن بسؤال وَجَوَاب ثمَّ انْظُر إِلَى اجترائه فِي قَوْله فَأَنِّي بالغنى الْمُخَالف لقَوْله تَعَالَى {يَا أَيهَا النَّاس أَنْتُم الْفُقَرَاء إِلَى الله وَالله هُوَ الْغَنِيّ الحميد}

وَنَحْوهَا من الْآيَات حَيْثُ حصر الْفقر فيهم والغنى فِيهِ سُبْحَانَهُ

وَلَئِن سلم أَنه سبحانه وتعالى لَا بُد لَهُ من مظهر فَهُوَ غَنِي عَن كل فَرد الْمظَاهر بِغَيْرِهِ فَكيف يكون مُحْتَاجا إِلَى معِين مِنْهَا

وَقَوله أساعده أَي فِي ظُهُور أَسْمَائِهِ وتجلياته وَجَمِيع كمالاته فِينَا لِأَن الْقَابِل مساعد للْفَاعِل فِي فعله بقبوله ذَلِك الْفِعْل وأسعده بِظُهُور جماله وجلاله فِي مرائي ذواتنا وَمظَاهر أعياننا فَإِن الإسعاد عبارَة عَن إِخْرَاج الكمالات الَّتِي فِي الْبَاطِن إِلَى الظَّاهِر وكمالات الْأَسْمَاء وظهوراتها كَانَت بأعياننا كَمَا جَاءَ فِي الحَدِيث (لَو لم تذنبوا لذهب الله بكم وَجَاء بِقوم يذنبون فيستغفرون الله فَيغْفر لَهُم) كَذَا فِي شرح القيصري وَهُوَ غير مُسلم فَإِن الْمَادَّة لَا تظهر كَمَال الْفَاعِل بل هُوَ الَّذِي يظْهر كَمَال نَفسه فِيهَا

قَالَ
এটি গ্রহণযোগ্য নয় যে, এটি আধ্যাত্মিক মত্ততার অবস্থায় হয়েছিল; কারণ এ ধরনের কথা কোনো কিতাবে লিপিবদ্ধ করা হয় না এবং প্রশ্নোত্তরের ধারায় আসে না। অতঃপর তার ধৃষ্টতার দিকে লক্ষ্য করুন যখন সে বলে: "আমি অমুখাপেক্ষিতার মাধ্যমে তাঁর সাহায্য করি", যা মহান আল্লাহর বাণীর পরিপন্থী: "হে লোকসকল! তোমরাই আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষী, আর আল্লাহই অভাবমুক্ত, প্রশংসিত।"

এবং এ জাতীয় অন্যান্য আয়াতসমূহ, যেখানে অভাবকে সৃষ্টিজীবের মধ্যে এবং অভাবমুক্ততাকে তাঁর মধ্যে (পবিত্র তিনি) সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।

আর যদি মেনেও নেওয়া হয় যে, মহান ও পবিত্র আল্লাহর জন্য প্রকাশের মাধ্যম হওয়া অপরিহার্য, তবুও তিনি অন্যের মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিটি একক মাধ্যম থেকে অমুখাপেক্ষী। সুতরাং তিনি সেগুলোর মধ্য থেকে কোনো সহায়কের প্রতি কীভাবে মুখাপেক্ষী হতে পারেন?

এবং তার উক্তি: "আমি তাঁকে সাহায্য করি", অর্থাৎ আমাদের মাঝে তাঁর নামসমূহ, জ্যোতিসমূহ এবং তাঁর সকল পূর্ণতার বহিঃপ্রকাশে; কারণ গ্রহণকারী সেই কাজ গ্রহণের মাধ্যমে কর্তার কাজে সহায়কের ভূমিকা পালন করে। আর "আমি তাঁকে সার্থক করি" আমাদের সত্তার আয়নায় এবং আমাদের অস্তিত্বের বহিঃপ্রকাশে তাঁর সৌন্দর্য ও মহিমা প্রকাশের মাধ্যমে। কেননা "ইসআদ" বলতে বুঝায় অভ্যন্তরীণ পূর্ণতাগুলোকে বাহ্যিকতায় প্রকাশ করা; আর নামসমূহের পূর্ণতা এবং সেগুলোর বহিঃপ্রকাশ আমাদের অস্তিত্বের মাধ্যমেই হয়েছে, যেমনটি হাদিসে এসেছে: "তোমরা যদি পাপ না করতে, তবে আল্লাহ তোমাদের সরিয়ে দিতেন এবং এমন এক সম্প্রদায় নিয়ে আসতেন যারা পাপ করত এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করত, ফলে তিনি তাদের ক্ষমা করে দিতেন।" কায়সারির ব্যাখ্যা গ্রন্থে এমনই রয়েছে। তবে এটি গ্রহণযোগ্য নয়; কারণ বস্তু বা উপাদান কর্তার পূর্ণতাকে প্রকাশ করে না, বরং তিনিই তাতে নিজের পূর্ণতাকে প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) নিয়ামাতুয যারীয়াহ ফী নুসরতিশ শারীয়াহ (পৃষ্ঠা: ৫৭)
وَمعنى فَأعلمهُ فأوجده أَي أعلمهُ فِي جَمِيع الْمظَاهر وأظهره فِيهَا للمحجوبين ثمَّ كمل بالأبيات الْأَخِيرَة حَيْثُ قَالَ

(فَنحْن لَهُ كَمَا ثبتَتْ … أدلتنا وَنحن لنا)

(وَلَيْسَ لَهُ سوى كوني … فَنحْن لَهُ كنحن بِنَا)

(فلي وَجْهَان هُوَ وَأَنا … وَلَيْسَ لَهُ أنابأنا)

(وَلَكِن فِي مظهره … فَنحْن لَهُ كَمثل إِنَّا)

أَقُول قَالَ شَارِحه أَي فَنحْن لَهُ غذَاء كَمَا نَحن مرايا إِذْ بِنَا ظُهُور كمالاته وَصِفَاته كَمَا مر وَنحن لنا غذَاء بِاعْتِبَار اختفاء أعياننا الثَّابِتَة وطابعنا الْكُلية فِي صورنا الخارجية أَو نَحن لَهُ ملك وَنحن لنا ملك أَيْضا إِذْ أعياننا حاكمة علينا كَمَا مر وَمثله الْبَيْت بعده

وَقَوله فلي وَجْهَان أَي وَجه الهوية وَوجه الأنانية

فَمن الْوَجْه الأول
আর "আমি তাকে জানিয়েছি এবং তাকে অস্তিত্ব দিয়েছি" এর অর্থ হলো, আমি তাকে সকল প্রকাশস্থলে জ্ঞাত করেছি এবং যারা পর্দাচ্ছন্ন তাদের নিকট সেগুলোতে তাকে প্রকাশ করেছি। এরপর তিনি শেষোক্ত কবিতাগুলোর মাধ্যমে তা পূর্ণ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন:

(সুতরাং আমরা তাঁরই জন্য, যেমনটি সাব্যস্ত হয়েছে … আমাদের দলিলসমূহ এবং আমরা আমাদের নিজেদের জন্য)

(আমার অস্তিত্ব ছাড়া তাঁর আর কিছুই নেই … অতএব আমরা তাঁর জন্য ঠিক তেমনি যেমনটি আমরা আমাদের মাধ্যমে)

(আমার দুটি দিক রয়েছে: তিনি এবং আমি … আর তাঁর জন্য 'আমি' দ্বারা কোনো 'আমি' নেই)

(কিন্তু তাঁর প্রকাশস্থলে … অতএব আমরা তাঁর জন্য আমাদের মতো)

আমি বলি: এর ব্যাখ্যাকার বলেছেন, অর্থাৎ আমরা তাঁর জন্য পুষ্টিস্বরূপ যেমন আমরা দর্পণস্বরূপ, যেহেতু আমাদের মাধ্যমেই তাঁর পূর্ণতা ও গুণাবলির বহিঃপ্রকাশ ঘটে যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর আমরা আমাদের নিজেদের জন্য পুষ্টিস্বরূপ, আমাদের বাহ্যিক রূপসমূহে আমাদের স্থির সত্তাসমূহ (আ’য়ানে সাবেতা) এবং আমাদের সামষ্টিক প্রকৃতির প্রচ্ছন্ন থাকার বিবেচনায়। অথবা আমরা তাঁর মালিকানাধীন এবং আমরা আমাদের নিজেদেরও মালিকানাধীন, যেহেতু আমাদের মূল সত্তাসমূহ আমাদের ওপর হুকুম চালায় যেমনটি আগে অতিক্রান্ত হয়েছে। এর পরবর্তী কবিতাটিও একই রূপ।

এবং তাঁর উক্তি "আমার দুটি দিক রয়েছে" অর্থাৎ সত্তাগত দিক (হুবিয়্যাত) এবং আমিত্বের দিক (আনানিয়্যাত)।

অতএব প্রথম দিক থেকে
(খণ্ড: ১) নিয়ামাতুয যারীয়াহ ফী নুসরতিশ শারীয়াহ (পৃষ্ঠা: ৫৮)
لَيْسَ بَيْننَا امتياز فَلَا ربوبية وَلَا عبودية وَمن الْوَجْه الثَّانِي يكون التميز وَتظهر الْعُبُودِيَّة والربوبية وَلَيْسَ لَهُ أَنا بِأَنا أَي لَيْسَ للحق أنانية بِسَبَب أنانيتي بل أنانيته بِذَاتِهِ وَهِي غنية عَمَّا سواهَا وأنانيتي مفتقرة إِلَيْهَا انْتهى

أَقُول فِيهِ من مناقضة قَوْله فَأَنِّي بالغنى إِلَخ فَاعْلَم أَنه قد قدر الْعَزِيز الْقَدِير بِحِكْمَتِهِ الباهرة أَن من ادّعى تعمقا فِي شَيْء زل فِي ادِّعَاء تعمقه فَوَقع فِي ضد مَا ادَّعَاهُ فهاتان طَائِفَتَانِ ادّعى كل مِنْهُمَا الْمُبَالغَة فِي التَّوْحِيد فَوَقَعت فِي الشّرك إِحْدَاهمَا الْمُعْتَزلَة سموا أنفسهم أهل الْعدْل والتوحيد وَقد أشركوا مَعَ الله تَعَالَى فِي خلق الْأَفْعَال مَا لَا يتناهى كَثْرَة وَالْأُخْرَى هِيَ هَذِه الطَّائِفَة سموا أنفسهم أهل الْوحدَة الْمُطلقَة وَقد نزعوا إِلَى مثل هَذَا الشّرك فنسأل الله تَعَالَى هِدَايَة الصِّرَاط الْمُسْتَقيم والثبات عَلَيْهِ

قَالَ فِي الْكَلِمَة الإسحاقية

(فدَاء نَبِي ذبح ذبح لقربان … وَأَيْنَ ثواج الْكَبْش من نوس إِنْسَان)

(وعظمه الله الْعَظِيم عناية … بِنَا أَو بِهِ لَا أدر من أَي ميزَان)

(وَلَا شكّ أَن الْبدن أعظم قيمَة … وَقد نزلت عَن ذبح كَبْش لقربان)
আমাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, ফলে কোনো প্রভুত্বও নেই এবং কোনো দাসত্বও নেই। আর দ্বিতীয় দিক থেকে পার্থক্য সৃষ্টি হয় এবং দাসত্ব ও প্রভুত্ব প্রকাশ পায়। তাঁর কোনো 'আমি' আমার 'আমি'র কারণে নেই, অর্থাৎ আমার আমিত্বের কারণে সত্যের (আল্লাহর) কোনো আমিত্ব নেই, বরং তাঁর আমিত্ব তাঁর নিজের সত্তার কারণেই। আর তা অন্য সবকিছু থেকে অমুখাপেক্ষী, পক্ষান্তরে আমার আমিত্ব তাঁর প্রতি মুখাপেক্ষী। সমাপ্ত।

আমি বলি: এতে তার সেই বক্তব্যের স্ববিরোধিতা রয়েছে যেখানে সে বলেছে "অতঃপর আমি অমুখাপেক্ষিতার মাধ্যমে..." ইত্যাদি। জেনে রাখুন যে, মহা পরাক্রমশালী সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাঁর চমৎকার হিকমতের মাধ্যমে এটি নির্ধারণ করেছেন যে, যে ব্যক্তি কোনো বিষয়ে গভীর পাণ্ডিত্যের দাবি করে, সে তার সেই দাবির মধ্যেই স্খলিত হয় এবং যা সে দাবি করে তার বিপরীতে পতিত হয়। এই হলো দুইটি দল, যাদের প্রত্যেকেই তাওহীদের ব্যাপারে অতিরঞ্জনের দাবি করেছে, অথচ তারা শিরকের মধ্যে নিপতিত হয়েছে। তাদের একটি হলো মুতাজিলা; তারা নিজেদেরকে 'আহলুল আদল ওয়াত তাওহীদ' (ন্যায়বিচার ও একত্ববাদের অনুসারী) বলে নাম দিয়েছে, অথচ তারা কর্ম সৃষ্টির ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর সাথে অগণিত অংশীদার সাব্যস্ত করে শিরক করেছে। আর অপরটি হলো এই দলটি; তারা নিজেদেরকে 'আহলুল ওয়াহদাতুল মুতলাকাহ' (পরম অদ্বৈতবাদের অনুসারী) বলে অভিহিত করেছে, অথচ তারা এই জাতীয় শিরকের দিকে ধাবিত হয়েছে। সুতরাং আমরা মহান আল্লাহর কাছে সরল পথের হিদায়াত এবং তার ওপর অটল থাকার প্রার্থনা করি।

'ইসহাকীয় বাণী' অধ্যায়ে তিনি বলেছেন:

(এক নবীর মুক্তিপণ হিসেবে এক যবেহকৃত পশুকে কুরবানির জন্য যবেহ করা হয়েছিল … আর মানুষের প্রাণের স্পন্দনের তুলনায় মেষের ডাক কোথায়?)

(এবং মহান আল্লাহ বিশেষ যত্নে তাকে মহিমান্বিত করেছেন … আমাদের মাধ্যমে না কি তাঁর মাধ্যমে, আমি জানি না কোন মানদণ্ডে।)

(এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে শরীরের মূল্য অনেক বেশি … অথচ তা কুরবানির জন্য একটি মেষ যবেহ করার স্তরে নেমে এসেছে)
(খণ্ড: ১) নিয়ামাতুয যারীয়াহ ফী নুসরতিশ শারীয়াহ (পৃষ্ঠা: ৫৯)
(فيا لَيْت شعري كَيفَ نَاب بِذَاتِهِ … شخيص كبيش عَن خَليفَة رحمان)

(ألم تدر أَن الْأَمر فِيهِ مُرَتّب … وَفَاء لأرباح وَنقص لخسران)

(فَلَا خلق أَعلَى من جماد وَبعده … نَبَات على قدر يكون وأوزان)

(وَذُو الْحسن بعد النبت وَالْكل عَارِف … بِخِلَافِهِ كشفا وإيضاح برهَان)

(وَأما الْمُسَمّى آدما فمقيد … بعقل وفكر مَعَ قلادة إِيمَان)

(بذا قَالَ سهل والمحق مثلنَا … لأَنا وإياهم بمنزل إِحْسَان)

(فَمن شهد الْأَمر الَّذِي قد شهدته … يَقُول بِقَوْلِي فِي خَفَاء وإعلان)

(فَلَا تلْتَفت قولا يُخَالف قَوْلنَا … وَلَا تبذر السمراء فِي أَرض عُمْيَان)

(هم الصم والبكم الَّذين أَتَى بهم … لأسماعنا الْمَعْصُوم فِي نَص قُرْآن)

أَقُول قَالَ شَارِحه القيصري وَاعْلَم أَن غَرَض الشَّيْخ فِي هَذِه الأبيات بَيَان سر التَّوْحِيد الظَّاهِر فِي كل من الصُّور الوجودية فِي صُورَة التَّعَجُّب نفيا لزعم المحجوبين وإثباتا لقَوْل الْمُوَحِّدين الْمُحَقِّقين

وَذَلِكَ أَن الْوُجُود الْحق هُوَ الظَّاهِر فِي صُورَة الْكَبْش كَمَا أَنه هُوَ الظَّاهِر فِي صُورَة إِسْحَاق

فَمَا نَاب عَن نَفسه وَمَا فدى مِنْهَا إِلَّا بِنَفسِهِ الظَّاهِر فِي الصُّورَة الكبشية فحصلت الْمُسَاوَاة فِي المفادات
(ওহ, আমার যদি জানা থাকত! কীভাবে একটি ক্ষুদ্র মেষ তার স্বীয় সত্তার মাধ্যমে … দয়াময় আল্লাহর খলীফার স্থলাভিষিক্ত হলো?)

(আপনি কি জানেন না যে, এই বিষয়টি এমনভাবে বিন্যস্ত রয়েছে … যা লাভের পূর্ণতা এবং ক্ষতির ঘাটতি স্বরূপ?)

(জড় পদার্থের চেয়ে উচ্চতর কোনো সৃষ্টি নেই এবং এর পরে রয়েছে … উদ্ভিদ, যা নির্দিষ্ট পরিমাণ ও পরিমাপে বিদ্যমান।)

(উদ্ভিদের পরে সংবেদনশীল জগত এবং প্রত্যেকেই … উন্মোচন ও স্পষ্ট প্রমাণের মাধ্যমে এর পার্থক্য সম্পর্কে অবগত।)

(আর যাকে আদম নামে অভিহিত করা হয়, সে … বিবেক ও চিন্তার সাথে ঈমানের অলঙ্কারে আবদ্ধ।)

(সাহল এমনটিই বলেছেন এবং সত্যের অনুসন্ধানীরাও আমাদের মতোই বলেন … কেননা আমরা এবং তারা ইহসানের স্তরে রয়েছি।)

(সুতরাং আমি যা প্রত্যক্ষ করেছি, যে ব্যক্তি তা প্রত্যক্ষ করবে … সে গোপনে ও প্রকাশ্যে আমার অনুরূপ কথাই বলবে।)

(অতএব, আমাদের বক্তব্যের পরিপন্থী কোনো কথার দিকে ভ্রূক্ষেপ করবেন না … এবং অন্ধদের ভূমিতে শস্যবীজ বপন করবেন না।)

(তারা হলো সেই বধির ও বোবা, যাদের সম্পর্কে … মাসুম (নবী) কুরআনের স্পষ্ট বাণীতে আমাদের কর্ণগোচর করেছেন।)

আমি বলছি, এর ব্যাখ্যাকার কায়সারী বলেছেন: জেনে রাখুন, এই কবিতাগুলোতে শাইখের উদ্দেশ্য হলো অস্তিত্বের প্রতিটি রূপের মধ্যে প্রকাশিত তাওহীদের রহস্য বর্ণনা করা। তিনি এটি বিস্ময় প্রকাশের ভঙ্গিতে ব্যক্ত করেছেন যাতে সত্য হতে বঞ্চিতদের ধারণা খণ্ডন করা যায় এবং সত্যনিষ্ঠ একত্ববাদীদের বক্তব্য সাব্যস্ত করা যায়।

আর তা এই যে, অস্তিত্বের পরম সত্যই মেষের আকৃতিতে প্রকাশিত হয়েছেন, ঠিক যেভাবে তিনি ইসহাকের আকৃতিতে প্রকাশিত হয়েছিলেন।

অতএব তিনি তো স্বয়ং নিজেরই স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন এবং মেষের আকৃতিতে আত্মপ্রকাশকারী নিজ সত্তার মাধ্যমেই নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। ফলে বিনিময়ের ক্ষেত্রে সমতা অর্জিত হয়েছে।