(খণ্ড: ১)
মারহামুল ইলালিল মুদিলাতি ফির রাদ্দি আলা আইম্মাতিল মুতাযিলাহ
(পৃষ্ঠা: -)
مرهم العلل المعضلة في الرد على أئمة المعتزلة القسم: الفرق والردود
الكتاب: مرهم العلل المعضلة في الرد على أئمة المعتزلة
المؤلف: أبو محمد عفيف الدين عبد الله بن أسعد بن علي بن سليمان اليافعي (ت 768هـ)
المحقق: محمود محمد محمود حسن نصار
الناشر: دار الجيل - لبنان - بيروت
الطبعة: الأولى، 1412هـ - 1992م
عدد الصفحات: 171
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মারহামুল ইলাল আল-মুদিল্লাহ ফি আর-রাদ্দি আলা আইম্মাতিল মু'তাযিলা (মু'তাযিলা ইমামদের খণ্ডনে জটিল ব্যাধিসমূহের উপশমকারী মলম) বিভাগ: ফিরকা ও খণ্ডনতত্ত্ব
গ্রন্থ: মারহামুল ইলাল আল-মুদিল্লাহ ফি আর-রাদ্দি আলা আইম্মাতিল মু'তাযিলা (মু'তাযিলা ইমামদের খণ্ডনে জটিল ব্যাধিসমূহের উপশমকারী মলম)
লেখক: আবু মুহাম্মদ আফিফ উদ্দিন আব্দুল্লাহ বিন আসআদ বিন আলী বিন সুলাইমান আল-ইয়াফেয়ী (মৃত্যু ৭৬৮ হিজরী)
সম্পাদক/গবেষক: মাহমুদ মুহাম্মদ মাহমুদ হাসান নাসসার
প্রকাশক: দারুল জীল - লেবানন - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১২ হিজরী - ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মারহামুল ইলালিল মুদিলাতি ফির রাদ্দি আলা আইম্মাতিল মুতাযিলাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم رب يسر وأعن يَا كريم
الْحَمد لله رب الْعَالمين وَأفضل الصَّلَاة وَالتَّسْلِيم على رَسُوله سيدنَا مُحَمَّد النَّبِي الْكَرِيم وعَلى آله وَأَصْحَابه أَجْمَعِينَ وَبعد فَهَذَا سُؤال أرسل بِهِ إِلَيّ بعض فُقَهَاء الزيدية مُشْتَمل على بعض الْمسَائِل الخلافية مِمَّا يتَعَلَّق بأصول الدّين وَشَيْء من شبه الْمُعْتَزلَة المبتدعين وَهَذَا لَفظه مَا يرى الشَّيْخ فَخر الْإِسْلَام وسيط عقد النظام وَصدر الْمجَالِس وَنور الحنادس فِي نفي الثَّانِي عَن الله تَعَالَى بِظَاهِر النَّص فِي قَوْله تَعَالَى فَاعْلَم أَنه لَا إِلَه إِلَّا الله وَلما يعلم من دين الْأَنْبِيَاء صلوَات الله عَلَيْهِم ضَرُورَة هَل هُوَ مترتب على معرفَة الله تَعَالَى أَو معرفَة الله مترتبة عَلَيْهِ فَإِن قلت نفي الثَّانِي مترتب على معرفَة الله تَعَالَى فَمَا الطَّرِيق إِلَيْهَا على مذهبك فَإِن قلت الطَّرِيق إِلَيْهَا السّمع كَمَا تذهبون إِلَيْهِ فَهِيَ مشوشة عَلَيْك من وُجُوه أَحدهَا أَن السّمع مفتقر إِلَى معرفَة الله تَعَالَى وَمَعْرِفَة الله تَعَالَى مفتقرة إِلَى السّمع وَهَذَا دور مَحْض لأَنا لَا نَعْرِف السّمع حَتَّى نَعْرِف الله تَعَالَى وَلَا نَعْرِف الله تَعَالَى حَتَّى نَعْرِف السّمع فَلَا يحصلان وَلَا وَاحِد مِنْهُمَا فبأيهما نعترف وَمن أَيهمَا نعتذر لعمر الله أَنَّهَا مسئلة مجمجمة الذَّوْق مجمجمة الشوق تعتروها الْعُقُول وتتناحر فِيهَا الفحول فأجب بفتق صميمها وقشر أديمها الثَّانِي أَنما يَصح الِاسْتِدْلَال بِكَلَام الله تَعَالَى مهما كَانَ عدل حَكِيم لَا يفعل الْقَبِيح وَلَا يُريدهُ (قلت هَكَذَا لفظ السَّائِل بِالرَّفْع وَصَوَابه بِالنّصب عدلا حكيما) فَأَما مَا تجوزيكم الْقَبِيح عَلَيْهِ وإرادته بِكُل الكائنات من وُجُوه الْفساد من كفر وظلم وسواه. فَمَا الثِّقَة بِكَلَامِهِ وَمن هَاهُنَا انسد عَلَيْكُم بالنبوات من حَيْثُ جوز شيخكم أَبُو الْحسن الْأَشْعَرِيّ على الله تَعَالَى إِظْهَار المعجز على الْكَذَّابين وَمَا اعتذر بِهِ شيخكم ابْن الْخَطِيب الرَّازِيّ من
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। হে রব! আপনি সহজ করে দিন এবং সাহায্য করুন, হে মহানুভব।
সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর রাসূল, আমাদের নেতা, সম্মানিত নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর, এটি একটি প্রশ্ন যা জাইদিয়া মাজহাবের জনৈক ফকিহ আমার নিকট প্রেরণ করেছেন। এতে ধর্মতত্ত্বের (উসুলুদ্দীন) সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু মতপার্থক্যপূর্ণ মাসআলা এবং বিদআতি মুতাজিলাদের কতিপয় সংশয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রশ্নের পাঠটি নিম্নরূপ: ইসলামের গৌরব (ফখরুল ইসলাম), শৃঙ্খলার মধ্যস্থতাকারী, মজলিসসমূহের মধ্যমণি এবং অন্ধকারের আলোকবর্তিকা স্বরূপ শায়খ—মহান আল্লাহর বাণী—"সুতরাং জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই"—এর প্রকাশ্য নস বা পাঠ অনুযায়ী এবং নবীগণের (তাঁদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) ধর্ম থেকে অকাট্যভাবে যা জানা যায়, সেই ভিত্তিতে আল্লাহর ক্ষেত্রে দ্বিতীয় সত্তার অস্তিত্ব অস্বীকার করার বিষয়ে কী অভিমত পোষণ করেন? এই অস্বীকৃতি কি আল্লাহ তাআলার পরিচয়ের (মারেফত) ওপর নির্ভরশীল, নাকি আল্লাহর পরিচয় এর ওপর নির্ভরশীল? যদি আপনি বলেন যে, দ্বিতীয় সত্তার অস্তিত্ব অস্বীকার করা আল্লাহর পরিচয়ের ওপর নির্ভরশীল, তবে আপনার মাযহাব অনুযায়ী সেই পরিচয়ের পথ কী? আর যদি আপনি বলেন যে, পরিচয়ের পথ হলো শ্রুতি (সামআ বা ওহী)—যেমনটি আপনারা মনে করেন—তবে তা আপনার জন্য কয়েক দিক থেকে আপত্তিকর হবে। প্রথমত, ওহী বা শ্রুতি আল্লাহর পরিচয়ের ওপর মুখাপেক্ষী, আবার আল্লাহর পরিচয় শ্রুতির ওপর মুখাপেক্ষী। এটি একটি বিশুদ্ধ চক্রক (দওর)। কারণ আমরা ততক্ষণ পর্যন্ত শ্রুতিকে চিনতে পারি না যতক্ষণ না আল্লাহকে চিনি, আবার ততক্ষণ আল্লাহকে চিনি না যতক্ষণ না শ্রুতিকে চিনি। ফলে দুটির কোনোটিই অর্জিত হবে না। এমতাবস্থায় আমরা কোনটিকে স্বীকার করব আর কোনটির জন্য ওজর পেশ করব? আল্লাহর কসম! এটি এমন এক জটিল মাসআলা যা বুদ্ধিবৃত্তিকে আচ্ছন্ন করে এবং বিজ্ঞ পণ্ডিতরা এতে তর্কে লিপ্ত হয়। সুতরাং এর গূঢ় রহস্য উন্মোচন করে এবং এর প্রকৃত রূপটি স্পষ্ট করে উত্তর প্রদান করুন। দ্বিতীয়ত, আল্লাহর কালাম দ্বারা দলিল পেশ করা তখনই সঠিক হয় যখন তিনি এমন এক ন্যায়পরায়ণ ও প্রজ্ঞাবান হন যিনি কোনো মন্দ কাজ করেন না এবং মন্দ ইচ্ছা করেন না। (আমি বলছি: প্রশ্নকারীর মূল পাঠে শব্দ দুটি 'রাফ' বা পেশযুক্ত অবস্থায় ছিল, তবে এর সঠিক ব্যাকরণিক রূপ হবে 'নসব' বা জবরযুক্ত—অর্থাৎ ন্যায়পরায়ণ ও প্রজ্ঞাবান সত্তা হিসেবে)। কিন্তু আপনারা যেহেতু আল্লাহর ক্ষেত্রে মন্দ কাজ সম্ভবপর হওয়া এবং সৃষ্টিজগতের কুফর, জুলুম ও অন্যান্য ফাসাদ বা মন্দের ইচ্ছা করাকে বৈধ মনে করেন, তবে তাঁর কালামের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস কীভাবে সম্ভব? এখান থেকেই আপনাদের জন্য নবুওয়াতের পথ রুদ্ধ হয়ে যায়; কারণ আপনাদের শায়খ আবুল হাসান আল-আশআরি আল্লাহর ক্ষেত্রে মিথ্যাবাদীদের হাতে মুজিজা বা অলৌকিক নিদর্শনের প্রকাশ ঘটানোকে বৈধ সাব্যস্ত করেছেন। আর আপনাদের শায়খ ইবনুল খাতিব আর-রাজি এ বিষয়ে যে কৈফিয়ত দিয়েছেন তা হলো...
(খণ্ড: ১)
মারহামুল ইলালিল মুদিলাতি ফির রাদ্দি আলা আইম্মাতিল মুতাযিলাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
{قاتلوهم يعذبهم الله بِأَيْدِيكُمْ} فَهُوَ المعذب الموجد للعذاب. فَمَا أجري على أَيدي السادات الصحاب، وَقَالُوا بِهِ الْمجد وَالثَّوَاب، بالهمم العوالي والاكتساب - وَكَذَلِكَ قَوْله عز وجل لنَبيه الْكَرِيم المبجل صلى الله عليه وسلم [قل هَل تربصون بِنَا إِلَّا إِحْدَى الحسنيين وَنحن نتربص بكم أَن يُصِيبكُم الله بِعَذَاب من عِنْده أَو بِأَيْدِينَا] أَي بِعَذَاب ينزله من السَّمَاء أَو يظهره فِي الأَرْض بِغَيْر وَاسِطَة سَبَب بصاعقة أَو خسف أَو غير ذَلِك مِمَّا بِهِ العطب أَو بِوَاسِطَة أَيْدِينَا رميا وَضرب وطعنا بالقذاء وَيكون هُوَ المعذب. كَمَا قَالَ جلّ وعل {وَمَا رميت إِذْ رميت وَلَكِن الله رمى} وَقد صرح بِمَا ذكرنَا من الْخلق وَالْكَسْب قَول الْبَارِي قَالَ {فَإنَّا قد فتنا قَوْمك من بعْدك وأضلهم السامري} فيا لَيْت شعري مَا جَوَاب الْمُعْتَزلَة عَن هَذَا وَأَمْثَاله وماذا عَسى أَن يجيبوا فيا ليتهم فَهموا قَوْله تَعَالَى {ثمَّ تَابَ عَلَيْهِم ليتوبوا} فيرجعوا عَن اعْتِقَادهم الْبَاطِل وَإِلَى الْحق ينيبوا ويتحققوا الْحق فِي قَول الْحق حاكيا عَن الكليم الَّذِي فَضله [فتنا إِن هِيَ إِلَّا فتنتك تضل بهَا من تشَاء وتهدي من تشَاء] وعَلى الْجُمْلَة فَلَيْسَ يُؤثر فِي جَمِيع الْوُجُود إِلَّا قدرَة الموجد لحل مَوْجُود وَلَا يَقع من جَمِيع الْأَشْيَاء فِي ملكه مَا لَا يَشَاء فَلَو لم يرد من أحد عصيانا لما خلق لكل إِنْسَان شَيْطَانا. بل مَا كَانَ يخلق للعتاب نَارا وَلَا يُسَمِّي نَفسه غفارًا.
{তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো, আল্লাহ তোমাদের হাতেই তাদের শাস্তি দেবেন} সুতরাং তিনিই মূলত শাস্তিদাতা এবং শাস্তির প্রকৃত উদ্গাতা। আর সায়্যিদ সাহাবায়ে কেরামের হাতের মাধ্যমে যা পরিচালিত হয়েছে এবং যার দ্বারা তারা সুউচ্চ সংকল্প ও উপার্জনের মাধ্যমে মর্যাদা ও সওয়াব লাভ করেছেন তা-ও আল্লাহরই পক্ষ থেকে। তদ্রূপ মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ তাঁর সম্মানিত ও মহিমান্বিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: [বলুন, তোমরা কি আমাদের জন্য দুটি কল্যাণের যেকোনো একটির প্রতীক্ষায় আছ? আর আমরা তোমাদের জন্য প্রতীক্ষায় আছি যে, আল্লাহ তোমাদের নিজের পক্ষ থেকে কোনো আজাব দেবেন অথবা আমাদের হাতের মাধ্যমে দেবেন]। অর্থাৎ এমন আজাব যা তিনি আসমান থেকে অবতীর্ণ করেন অথবা জমিনে প্রকাশ করেন কোনো মধ্যস্থতাকারী কারণ ছাড়াই—যেমন বজ্রপাত, ভূমিধস বা অন্য কোনো ধ্বংসাত্মক উপায়; অথবা আমাদের হাতের মাধ্যমে নিক্ষেপ, প্রহার ও বর্শাঘাতের দ্বারা, এমতাবস্থায় তিনিই মূলত শাস্তিদাতা। যেমন মহান ও উচ্চতর সত্তা বলেছেন: {আর আপনি যখন নিক্ষেপ করেছিলেন, তখন আপনি নিক্ষেপ করেননি, বরং আল্লাহই নিক্ষেপ করেছিলেন}। সৃষ্টি এবং উপার্জনের যে বিষয়টি আমরা উল্লেখ করেছি, স্রষ্টা মহান আল্লাহর এই বাণী তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করে: {নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রস্থানের পর আপনার সম্প্রদায়কে পরীক্ষায় ফেলেছি এবং সামেরী তাদের পথভ্রষ্ট করেছে}। হায়! মুতাজিলা সম্প্রদায়ের নিকট এর এবং এর সমজাতীয় দলিলসমূহের কী উত্তর আছে এবং তারা কী-ই বা উত্তর দিতে পারে! তারা যদি মহান আল্লাহর এই বাণীটি বুঝতে পারত: {অতঃপর তিনি তাদের প্রতি দয়াপরবশ হলেন যেন তারা তাওবা করে}, তবে তারা তাদের ভ্রান্ত বিশ্বাস থেকে ফিরে আসত এবং সত্যের দিকে প্রত্যাবর্তন করত। আর তারা সত্যের বাণীর সেই হাকিকত উপলব্ধি করতে পারত যা সেই মহিমান্বিত কালিম (মুসা আ.) সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে: [এটি কেবল আপনার পক্ষ থেকে একটি পরীক্ষা; এর দ্বারা আপনি যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন]। মোদ্দাকথা হলো, সমগ্র অস্তিত্বে কেবল প্রতিটি অস্তিত্বের উদ্গাতার কুদরতই ক্রিয়াশীল এবং তাঁর রাজত্বে এমন কিছুই সংঘটিত হয় না যা তিনি ইচ্ছা করেন না। যদি তিনি কারো পক্ষ থেকে অবাধ্যতা না চাইতেন, তবে তিনি প্রত্যেক মানুষের জন্য শয়তান সৃষ্টি করতেন না। এমনকি তিনি তিরস্কার ও শাস্তির জন্য অগ্নি সৃষ্টি করতেন না এবং নিজেকে 'অত্যধিক ক্ষমাশীল' নামেও অভিহিত করতেন না।
(খণ্ড: ১)
মারহামুল ইলালিল মুদিলাতি ফির রাদ্দি আলা আইম্মাতিল মুতাযিলাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
مرهم الْعِلَل المعضلة فِي الرَّد على أَئِمَّة الْمُعْتَزلَة
জটিল ও দুঃসাধ্য ব্যাধিসমূহের উপশমকারী প্রলেপ: মুতাজিলা ইমামগণের খণ্ডন প্রসঙ্গে
(খণ্ড: ১)
মারহামুল ইলালিল মুদিলাতি ফির রাদ্দি আলা আইম্মাতিল মুতাযিলাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم
رب يسر واعن يَا كريم الْحَمد لله رب الْعَالمين وَأفضل الصَّلَاة وَالتَّسْلِيم على رَسُوله سيدنَا مُحَمَّد النَّبِي الْكَرِيم وعَلى آله وَأَصْحَابه أَجْمَعِينَ
وَبعد فَهَذَا سُؤال أرسل بِهِ إِلَيّ بعض فُقَهَاء الزيدية مُشْتَمل على بعض الْمسَائِل الخلافية مِمَّا يتَعَلَّق بأصول الدّين وَشَيْء من شبه الْمُعْتَزلَة المبتدعين وَهَذَا لَفظه مَا يرى الشَّيْخ فَخر الْإِسْلَام وسيط عقد النظام وَصدر الْمجَالِس وَنور الحنادس فِي نفي الثَّانِي عَن الله تَعَالَى بِظَاهِر النَّص من قَوْله تَعَالَى {فَاعْلَم أَنه لَا إِلَه إِلَّا الله} وَلما يعلم من دين الْأَنْبِيَاء صلوَات الله عَلَيْهِم ضَرُورَة هَل هُوَ مترتب على معرفَة الله تَعَالَى أَو معرفَة الله مترتبة عَلَيْهِ فَإِن قلت نفي الثَّانِي مترتب على معرفَة الله تَعَالَى فَمَا الطَّرِيق إِلَيْهَا على مذهبك
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে হে আমার রব, সহজ করে দিন এবং সাহায্য করুন, হে মহানুভব সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর রাসূল আমাদের নেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর, যিনি সম্মানিত নবী, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর।
অতঃপর, এটি একটি প্রশ্ন যা জনৈক জায়েদি ফকীহ আমার নিকট প্রেরণ করেছেন। এতে ধর্মের মূলনীতি সংক্রান্ত কিছু মতভেদপূর্ণ বিষয় এবং বিদআতি মুতাজিলাদের কিছু সংশয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রশ্নের শব্দগুলো নিম্নরূপ: "ইসলামের গৌরব, শৃঙ্খলার মধ্যমণি, মজলিসের প্রধান এবং অন্ধকারের আলোকবর্তিকা স্বরূপ শায়েখ মহান আল্লাহ তাআলার সাথে দ্বিতীয় কোনো উপাস্যকে অস্বীকার করার বিষয়ে কী মনে করেন, যা আল্লাহ তাআলার বাণী: 'অতএব জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই' এর প্রকাশ্য অর্থ এবং নবীগণের (তাঁদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) দ্বীন থেকে অকাট্যভাবে প্রমাণিত? এই বিষয়টি কি আল্লাহর মারেফাত বা পরিচয়ের ওপর নির্ভরশীল, নাকি আল্লাহর মারেফাত এর ওপর নির্ভরশীল? যদি আপনি বলেন যে, দ্বিতীয় সত্তার অস্বীকৃতি আল্লাহর মারেফাতের ওপর নির্ভরশীল, তবে আপনার মাযহাব অনুযায়ী সেই মারেফাত অর্জনের পথ কী?"
(খণ্ড: ১)
মারহামুল ইলালিল মুদিলাতি ফির রাদ্দি আলা আইম্মাতিল মুতাযিলাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
فان قلت الطَّرِيق إِلَيْهَا السّمع كَمَا تذهبون إِلَيْهِ فَهِيَ مشوشة عَلَيْك من وُجُوه أَحدهَا أَن السّمع مفتقر إِلَى معرفَة الله تَعَالَى وَمَعْرِفَة الله تَعَالَى مفتقرة إِلَى السّمع وَهَذَا دور مَحْض لأَنا لَا نَعْرِف السّمع حَتَّى نَعْرِف الله تَعَالَى وَلَا نَعْرِف الله تَعَالَى حَتَّى نَعْرِف السّمع فَلَا يحصلان وَلَا وَاحِد مِنْهُمَا فبأيهما نعترف وَمن أَيهمَا نعتذر لعمر الله إِنَّهَا مَسْأَلَة مجمجمة الذَّوْق محمحمة الشوق تعتورها الْعُقُول وتتفاخر فِيهَا الفحول فأجب بفتق صميمها وقشر أديمها
الثَّانِي انما يَصح الِاسْتِدْلَال بِكَلَام الله تَعَالَى مهما كَانَ عدل حَكِيم لَا يفعل الْقَبِيح وَلَا يُريدهُ قلت هَكَذَا لفظ السَّائِل بِالرَّفْع وَصَوَابه بِالنّصب عدلا حكيما فَأَما تجويزكم الْقَبِيح عَلَيْهِ بِكُل الكائنات من وُجُوه الْفساد من كفر وظلم وسوأة فَمَا الثِّقَة بِكَلَامِهِ وَمن هَا هُنَا انسد عَلَيْكُم بالنبوات من حَيْثُ جوز شيخكم أَبُو الْحسن الْأَشْعَرِيّ على الله تَعَالَى اظهار المعجز على الْكَذَّابين وَمَا اعتذر بِهِ شيخكم ابْن الْخَطِيب الرَّازِيّ من أَن المعجز مَوْضُوع للتصديق وتجويزكم الْقَبِيح على الله تَعَالَى لَا يقْدَح فِي صدق الرَّسُول فَإِنَّمَا هُوَ خُلُود من بحور الْهوى ومراوغة عَن الْحق وتخبط فِي تيه الْبَاطِل وضجع شيخكم أبي حَامِد هَكَذَا قَالَ وَصَوَابه بِالرَّفْع أَبُو حَامِد الْغَزالِيّ على أَصْحَابنَا الْمُعْتَزلَة بِكَلَام لم نفهم مَعْنَاهُ من قَوْله الطَّبْع قَابل وَالْعقل باعث والمعجز مُمكن وَالرَّسُول مبلغ
وَلَقَد سَأَلنَا أعلم أهل زَمَاننَا عَنهُ فَقَالَ مَا فهمنا غَرَضه من هَذَا الْكَلَام مَعَ أَنه النَّاقِل لكَلَامه ومعترف بفضلة من حيازه لقصبات السَّبق فِي الْأُصُول الْفِقْهِيَّة والمجاري القياسية
الْوَجْه الثَّالِث هَب أَنا سلمنَا أَن الطَّرِيق إِلَى مَعْرفَته كَلَامه فَالْكَلَام
যদি আপনি বলেন যে, আল্লাহকে জানার পথ হলো শ্রুতি বা ওহি, যেমনটি আপনাদের মতবাদ; তবে এটি আপনাদের জন্য কয়েক দিক থেকে বিভ্রান্তিকর। প্রথমত, ওহি নির্ভর করে আল্লাহ তাআলার পরিচয়ের ওপর, আর আল্লাহ তাআলার পরিচয় নির্ভর করে ওহির ওপর। এটি একটি নির্ভেজাল বৃত্তায়ন; কারণ আমরা যতক্ষণ আল্লাহ তাআলাকে না জানব ততক্ষণ ওহিকে চিনতে পারব না, আবার ওহিকে না চেনা পর্যন্ত আল্লাহ তাআলাকেও চিনতে পারব না। ফলে এ দুটির কোনোটিই অর্জিত হবে না। এমতাবস্থায় আমরা কোনটিকে স্বীকার করব আর কোনটির জন্য ওজর পেশ করব? আল্লাহর কসম! এটি এমন এক সমস্যা যা বোধশক্তিকে আচ্ছন্ন করে এবং জ্ঞানতৃষ্ণাকে প্রজ্জ্বলিত করে; এতে বুদ্ধিবৃত্তিক দ্বন্দ্ব চলে এবং শ্রেষ্ঠ পণ্ডিতগণ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হন। সুতরাং এর মূল রহস্য উদঘাটন করে এবং এর বাহ্যিক আবরণ উন্মোচন করে উত্তর প্রদান করুন।
দ্বিতীয়ত, আল্লাহ তাআলার বাণীর মাধ্যমে দলিল উপস্থাপন তখনই বৈধ হবে যখন তিনি হবেন ন্যায়পরায়ণ ও প্রজ্ঞাবান, যিনি কোনো মন্দ কাজ করেন না এবং তা ইচ্ছাও করেন না। আমি বলছি—প্রশ্নকারী এখানে শব্দটিকে ‘রাফ’ (পেশ) যুগে পাঠ করেছেন, কিন্তু এর সঠিক রূপ হবে ‘নাসব’ (জবর) যোগে—অর্থাৎ ‘ন্যায়পরায়ণ ও প্রজ্ঞাবান হিসেবে’। পক্ষান্তরে, কুফর, জুলুম ও অশ্লীলতার মতো জগতের যাবতীয় মন্দ বিষয়কে তাঁর ক্ষেত্রে বৈধ সাব্যস্ত করার মাধ্যমে আপনাদের যে দৃষ্টিভঙ্গি, তাতে তাঁর বাণীর ওপর কীভাবে আস্থা রাখা সম্ভব? আর এখান থেকেই নবুওয়তের পথ আপনাদের জন্য রুদ্ধ হয়ে গেছে; যেহেতু আপনাদের শায়খ আবুল হাসান আল-আشআরি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে মিথ্যাবাদীদের মাধ্যমে মুজিজা প্রদর্শন করাকে বৈধ মনে করেছেন। আর আপনাদের শায়খ ইবনুল খাতিব আর-রাজি যে ওজর পেশ করেছেন—অর্থাৎ মুজিজা মূলত সত্যতা প্রমাণের জন্যই নির্ধারিত এবং আল্লাহর ওপর মন্দের বৈধতা আরোপ করা রাসূলের সত্যবাদিতাকে ক্ষুণ্ণ করে না—তা মূলত প্রবৃত্তির তাড়না, সত্য থেকে বিচ্যুতি এবং বাতিলের গোলকধাঁধায় দিশেহারা হওয়া মাত্র। আপনাদের শায়খ আবু হামিদ—প্রশ্নকারী এখানে ‘আবি হামিদ’ বলেছেন, অথচ সঠিক হবে ‘আবু হামিদ’ আল-গাজালি—আমাদের মুতাজিলা বন্ধুদের ওপর এমন কিছু কথার মাধ্যমে আক্রমণ করেছেন যার অর্থ আমরা বুঝতে পারিনি; যেমন তাঁর এই উক্তি: ‘প্রকৃতি গ্রহণকারী, বুদ্ধি প্ররোচক, মুজিজা সম্ভবপর এবং রাসূল প্রচারকারী’।
আমরা আমাদের সময়ের শ্রেষ্ঠ আলিমকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন, ‘আমরা এই কথা দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য বুঝতে পারিনি’; যদিও তিনি নিজেই তাঁর বক্তব্যের বর্ণনাকারী এবং উসূলে ফিকহ ও কিয়াসের ক্ষেত্রে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও অগ্রগামিতার স্বীকৃতি প্রদানকারী।
তৃতীয় দিক: তর্কের খাতিরে যদি আমরা মেনেও নিই যে, তাঁকে জানার পথ হলো তাঁর বাণী, তবে সেই বাণী...
(খণ্ড: ১)
মারহামুল ইলালিল মুদিলাতি ফির রাদ্দি আলা আইম্মাতিল মুতাযিলাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
من أصل اللُّغَة مَا وضع لإِفَادَة معنى وَهَذَا لَا يَتَأَتَّى على مَذْهَب أَصْحَابك لِأَن الْكَلَام عِنْدهم مَا قَامَ بِذَات الْمُتَكَلّم وَكَانَت الْحُرُوف حكايات عَنهُ وَكَلَام الله تَعَالَى عنْدكُمْ لَيْسَ بِحرف وَلَا صَوت بل صفة وَاجِبَة لله تَعَالَى كالقادرية والعالمية وَأَن الَّذِي بَيْننَا لَيْسَ بِكَلَام الله على الْحَقِيقَة
فَانْظُر إِلَى جلافة شيخكم ابي الْحسن الْأَشْعَرِيّ وَكَيف استهواه الْجَهْل وأفرط بِهِ الْعَمى حَتَّى أنكر مَا هُوَ مَعْلُوم من دين الرَّسُول صلى الله عليه وسلم ضَرُورَة وَحَيْثُ قَالَ الله تبارك وتعالى {وَإِن أحد من الْمُشْركين استجارك فَأَجره حَتَّى يسمع كَلَام الله} فوصف الله تَعَالَى أَن هَذِه الأحرف كَلَامه دون أَن يكون شَيْء آخر كَلَام لَهُ قلت هَكَذَا لفظ السَّائِل بِالرَّفْع وَصَوَابه كلَاما بِالنّصب ثمَّ قَالَ وَلم يُحَقّق مَا ذهب إِلَيْهِ من الْمَعْنى الْقَائِم بِالذَّاتِ فَبَاعَ الْيَقِين بِالشَّكِّ وَقد طوينا الكشح عَن كثير من الْمسَائِل الدِّينِيَّة خوف التَّطْوِيل حَتَّى يبين الأنصاف أَو القَوْل بِالْخِلَافِ فَالْوَاجِب على من قعد فِي دست الْعلمَاء وَلبس شعارهم المجاذبة لأهداب النّظر والمقارعة بأسلحة الأنظار كَمَا ذهب إِلَيْهِ السّلف من المشائخ الْمُعْتَزلَة ومشائخكم وَمن سَائِر الْفرق فأجب شافيا لَا زلت ورد مُسْتَوْرِد للأعلام قلت هَكَذَا لَفظه بِالرَّفْع وَصَوَابه وردا مستوردا بِالنّصب وَالصَّلَاة على سيد الْأَنَام مُحَمَّد وَآله الْكِرَام انْتهى السُّؤَال
قَالَ العَبْد الْفَقِير إِلَى لطف اللَّطِيف الْخَبِير عبد الله بن اِسْعَدْ اليافعي اليمني الشَّافِعِي نزيل حرم الله المشرف الْمُعظم وَحرم رَسُوله المحروس الْمُحْتَرَم
الْجَواب وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق إِن هَذَا السُّؤَال فِيهِ محاولة إِيهَام ظُهُور حجج الْمُعْتَزلَة علينا بإبداء
ভাষার মূলনীতি অনুযায়ী, কোনো অর্থ প্রদানের উদ্দেশ্যেই শব্দ গঠিত হয়। কিন্তু আপনার সাথীদের মাযহাব অনুযায়ী এটি সম্ভব নয়; কারণ তাদের মতে, 'কালাম' বা কথা হলো তা-ই যা বক্তার সত্তার সাথে বিদ্যমান থাকে, আর বর্ণগুলো হলো তার বিবরণ বা বহিঃপ্রকাশ মাত্র। আপনাদের মতে আল্লাহ তাআলার কালাম কোনো বর্ণ বা শব্দ নয়, বরং এটি আল্লাহ তাআলার একটি আবশ্যকীয় গুণ, যেমন তাঁর ক্ষমতা (কাদিরিয়্যাহ) ও জ্ঞান (আলমিয়্যাহ)। আর আমাদের কাছে যা বিদ্যমান আছে, তা প্রকৃত অর্থে আল্লাহর কালাম নয়।
সুতরাং আপনার শাইখ আবুল হাসান আল-আশআরীর রুক্ষতা লক্ষ্য করুন এবং দেখুন কীভাবে অজ্ঞতা তাকে বিভ্রান্ত করেছে এবং অন্ধত্ব তাকে সীমা অতিক্রম করিয়েছে, এমনকি তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দ্বীনের অকাট্যভাবে জ্ঞাত বিষয়গুলোকেও অস্বীকার করেছেন। অথচ আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেছেন, "আর যদি মুশরিকদের কেউ তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে তাকে আশ্রয় দাও যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়।" এখানে আল্লাহ তাআলা এই বর্ণগুলোকেই তাঁর কালাম হিসেবে বর্ণনা করেছেন, অন্য কোনো কিছু তাঁর কালাম হওয়া ব্যতিরেকেই। (গ্রন্থকার বলেন:) আমি বলছি, প্রশ্নকারী এখানে শব্দটি রফ' (পেশ) যোগে উল্লেখ করেছেন, অথচ এর সঠিক রূপ হবে নসব (যবর) যোগে 'কালামান'। অতঃপর তিনি (প্রশ্নকারী) বললেন: তিনি (আশআরী) সত্তাগত অর্থের যে মতবাদ ব্যক্ত করেছেন তা প্রমাণ করতে পারেননি, ফলে তিনি নিশ্চিত বিশ্বাসকে সন্দেহের বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়েছেন। দীর্ঘায়িত হওয়ার ভয়ে আমরা অনেক ধর্মীয় মাসআলা আলোচনা করা থেকে বিরত থেকেছি, যাতে ইনসাফ স্পষ্ট হয় অথবা বিপরীত মত ব্যক্ত হয়। সুতরাং যারা উলামাদের আসনে উঠেন এবং তাদের ভূষণে ভূষিত হন, তাদের জন্য আবশ্যক হলো সূক্ষ্ম দৃষ্টির মাধ্যমে বিচার-বিশ্লেষণ করা এবং যুক্তি-তর্কের হাতিয়ার দিয়ে মোকাবিলা করা; যেমনটি মুতাজিলা মাশায়েখ, আপনাদের মাশায়েখ এবং অন্যান্য সকল দলের পূর্বসূরিগণ করেছেন। অতএব, একটি সন্তোষজনক উত্তর প্রদান করুন; আপনি সর্বদা জ্ঞানান্বেষীদের জন্য সুশীতল ঝর্ণাধারা হয়ে থাকুন। (গ্রন্থকার বলেন:) আমি বলছি, প্রশ্নকারী এখানে রফ' (পেশ) যোগে শব্দগুলো ব্যবহার করেছেন, অথচ সঠিক হবে নসব (যবর) যোগে 'ওয়ারদান মুসতাওরিদান' বলা। আর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানব মুহাম্মদ এবং তাঁর সম্মানিত বংশধরদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। - প্রশ্নের সমাপ্তি।
পরম দয়ালু ও সর্বজ্ঞ আল্লাহর অনুগ্রহের মুখাপেক্ষী বান্দা আবদুল্লাহ ইবনে আসআদ আল-ইয়াফেয়ী আল-ইয়ামেনি আশ-শাফিয়ী, যিনি আল্লাহর সম্মানিত ও মহিমান্বিত পবিত্র হারামের এবং তাঁর রাসুলের সংরক্ষিত ও শ্রদ্ধেয় হারামের বাসিন্দা, তিনি বলেন:
উত্তর এবং আল্লাহর পক্ষ থেকেই তাওফিক আসে: নিশ্চয়ই এই প্রশ্নের মাঝে মুতাজিলাদের দলিলসমূহকে আমাদের ওপর বিজয়ী হিসেবে জাহির করার একটি অপপ্রয়াস চালানো হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
মারহামুল ইলালিল মুদিলাতি ফির রাদ্দি আলা আইম্মাতিল মুতাযিলাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
السَّائِل شَيْئا من شبههم وأراجيفهم الَّتِي لَا تهولنا ورميهم لنا بمنجنيق مَحْض عقل عرضة للخطأ بأحجار اعتراضات فِي جدالنا لَا تنَال شوامخ حصون فروعنا وَلَا تزعزع رواسخ قَوَاعِد أصولنا الَّتِي هِيَ فِي تأسيسها بَين الْمَعْقُول وَالْمَنْقُول من الْكتاب وَالسّنة وَالْإِجْمَاع جَامِعَة الثَّابِتَة بالأدلة البليغة والحجج الْمَانِعَة والبراهين القاطعة المسفرة عَن محَاسِن السّنة الْبَيْضَاء وَعَن مَذْهَب الْحق الْمُؤَيد بالتوفيق وَصِحَّة الدَّلِيل النَّازِل فِي أَعلَى معالي الشّرف الأسني وذرى مفاخر الْمجد الأثيل الَّذِي اشْتهر فَضله فِي المجامع والمشاهد وَفِيه قلت من بعض قصائد العقائد
(نحلنا مذهبا يجلي قَدِيما
… لَهُ غر العلى عالي الجناب)
(مشينا فِي ضِيَاء من شموس
… وأثمار وَمن رب الشهَاب)
(من الْمَعْقُول وَالْمَنْقُول صدقا
… من الْأَخْبَار مَعَ آي الْكتاب)
(رويناها بِإِسْنَاد صَحِيح
… لنا لَا بافتراء واكتذاب)
(سلكنا سنة بَيْضَاء مشاها
… سَواد مُعظم أهل الركاب)
(وَلم نركب بنيات الطَّرِيق الَّتِي
… فِيهَا أَتَى نهي ارْتِكَاب)
(وَلَا يمشي بهَا إِلَّا شذوذ
… تمطو متن أخطار صعاب)
(وَفِي الْأَخْبَار جَاءَ من شَذَّ عَن ذِي
… سَواد شَذَّ فِي نَار الْعَذَاب)
(مَعَ التَّمْثِيل فِي القصوى من الشا
… لَهَا قد خص فِي أَخذ الذئاب)
قلت وَمن هَذِه الأبيات الْأَخِيرَة أَشرت إِلَى مَا ورد عَلَيْكُم بِالسَّوَادِ الْأَعْظَم وَمَا ورد إيَّاكُمْ وبنيات الطَّرِيق وَمَا ورد من شَذَّ
প্রশ্নকারী তাদের এমন কিছু সংশয় ও অমূলক প্রলাপের অবতারণা করেছেন যা আমাদের বিন্দুমাত্র ভীত করে না; তারা আমাদের দিকে কেবল ভ্রান্তির অবকাশ রাখা যুক্তিনির্ভর মেঝেনিক (পাথর নিক্ষেপক যন্ত্র) নিক্ষেপ করেছে আমাদের বিতর্কে আপত্তির পাথর ছুড়ে দিয়ে, যা আমাদের শাখা-বিধানের সুউচ্চ দুর্গের নাগাল পায় না এবং আমাদের মূলনীতিসমূহের সুদৃঢ় ভিত্তিকে টলাতে পারে না। এই মূলনীতিসমূহ কিতাব, সুন্নাহ ও ইজমার সমন্বয়ে বুদ্ধিগ্রাহ্য ও শ্রুতিসিদ্ধ দলিলের ওপর প্রতিষ্ঠিত; যা বাগ্মীতা ও অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমে সুপ্রমাণিত এবং যা উজ্জ্বল সুন্নাহর রূপমাধুর্য ও সত্যের সেই মাযহাবকে উন্মোচিত করে যা আল্লাহর তাওফিক ও সঠিক দলিলের মাধ্যমে সমর্থিত এবং যা মর্যাদার উচ্চ শিখরে ও সুপ্রাচীন গৌরবের তুঙ্গে আসীন। মজলিস ও মাহফিলে যার শ্রেষ্ঠত্ব সুপরিচিত এবং সে বিষয়েই আমি আকিদাবিষয়ক কিছু কবিতায় বলেছি:
(আমরা এমন এক মাযহাব গ্রহণ করেছি যা সুপ্রাচীন সত্যকে প্রকাশিত করে
… যার রয়েছে সমুন্নত মর্যাদা ও সুউচ্চ সম্মান)
(আমরা বিচরণ করেছি সূর্যের আলোয়
… আর ফলের বাগানে এবং ঐশী জ্যোতির প্রভুর সান্নিধ্যে)
(সত্যনিষ্ঠ বুদ্ধিগ্রাহ্য ও শ্রুতিসিদ্ধ দলিলের ভিত্তিতে
… যা হাদীস এবং কিতাবের আয়াতের সমন্বয়ে গঠিত)
(আমরা তা সহীহ সনদে বর্ণনা করেছি
… আমাদের নিকট কোনো মিথ্যা বা অপবাদ নেই)
(আমরা এক উজ্জ্বল সুন্নাহর পথ অনুসরণ করেছি যাতে চলেছেন
… কাফেলার অধিকাংশ লোক বা মহাসংখ্যক জামাত)
(আমরা পার্শ্বপথের সেই গলিপথসমূহে আরোহণ করিনি
… যে পথে চলার ব্যাপারে নিষেধ করা হয়েছে)
(ওই পথে কেবল বিচ্ছিন্ন একাকী পথভ্রষ্টরাই চলে
… যারা কঠিন বিপদের পিঠে সওয়ার হয়ে পথ অতিক্রম করে)
(আর হাদিসে এসেছে: যে ব্যক্তি এই মহাসংখ্যক জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন হলো
… সে শাস্তির আগুনেই বিচ্ছিন্ন হলো)
(সাথে রয়েছে পালের প্রান্তিক মেষের উপমা
… যাকে নেকড়ে ধরার জন্য নির্দিষ্ট করে নেওয়া হয়েছে)
আমি বলছি: এই শেষোক্ত পঙক্তিগুলোর মাধ্যমে আমি সেই সব বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছি যা তোমাদের নিকট 'সাওয়াদে আজম' বা মহাসংখ্যক জামাত সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে, এবং যা 'বুনিয়াতুত তরিক' বা বিচ্যুত পার্শ্বপথ থেকে সতর্কতা এবং 'যে বিচ্ছিন্ন হলো' সংক্রান্ত হাদিসসমূহে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মারহামুল ইলালিল মুদিলাতি ফির রাদ্দি আলা আইম্মাতিল মুতাযিলাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
شَذَّ فِي النَّار وَمَا ورد إِنَّمَا يَأْخُذ الذِّئْب القاصية من الْغنم
وَفِي مَذْهَب أهل السّنة ومدح أَعْلَامه الْأَئِمَّة قلت هَذِه القصيدة الْمُسَمَّاة بِعقد اللآلي الْمفصل بالياقوت الغالي فِي مدح عقيدة أهل الْحق ومذهبهم العالي والتغزل بِالْإِمَامِ أبي حَامِد الْغَزالِيّ وَغَيره من أَئِمَّتنَا أولي المناقب والمعالي
(لنا مَذْهَب شمس الْهدى ناهج جلي
… وَمذهب غير عَن صدا الزيغ مَا جلي)
(عقيدتنا عقد من الدّرّ والعلي
… على جيدها فِي ثغرها السلسل الْحلِيّ)
(تحلت حلى آي الْكتاب فأسفرت
… عَن السّنة الحسنا وبرهانها الْجَلِيّ)
(وَقَالَت بِإِجْمَاع جَمِيع محَاسِن
… ففاقت سواهَا بالجمال المكمل)
(لناظرها منا بزاهي جمَالهَا
… سبتهم وعنها ذُو اعتزال بمعزل)
(أَبَت أَن ترى تِلْكَ الحلى غير كاشف
… لأستار أسرار الْمَعَالِي فتجتلي)
(خَبِير بمكنون المحاسن مهتد
… لمَفْهُوم مَنْطُوق وتفصيل مُجمل)
(بِظَاهِر نَص وَافق الْعقل قَائِل
… وَمَا لم يُوَافق من محَال مؤول)
(نأي عَن حضيض الحشو نهج مشبه
… وغالي اعتزال للصفات معطل)
(بنهج وسيط بَين تَفْرِيط حَامِد
… وإفراط غال جَاوز الْحق مُبْطل)
(شموس الْهدى سَارَتْ بِهِ وبدوره
… أولو الرَّايَة الْبَيْضَاء والمنصب الْعلي)
(أيمتنا مَا بَين قطب مُحَقّق
… مشَاهد أسرار إِمَام الْهدى ولي)
(وَحبر إِمَام فِي الْعُلُوم مدقق
… مُفِيد الورى فِي كل فن مُحَصل)
(وتصنيفنا مَا بَين وضع قَوَاعِد
… إِذا بجبال صودمت لم تزلزل)
(وَرفع فروع فِي حصون شوامخ
… فَمَا رميها عَن منجنيق بموصل)
(لنا كم وجيز فِي بَيَان قَوَاعِد
… وَجمع معَان واختصار مطول)
(وَكم من بسيط فِي جلاء نفائس
… وإيضاح إيجاز وَحل لمشكل)
(وَكم ذِي اقتصاد مُودع رب قَاطع
… لإفحام خصم مثل مَاض بِهِ اعتلي)
(بكف همام ذب عَن مَنْهَج الْهدى
… بِحَرب نضال لَا يرى غير أول)
(كَمثل الْفَتى الحبر المباهي بفضله
… فغني بغزالي الْعلَا وتغزل)
যে দলছুট হয় সে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হয়; আর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, নেকড়ে কেবল দলছুট মেষকেই ধরে খায়।
আহলে সুন্নাতের মাযহাব এবং এর মহান ইমামগণের প্রশংসায় আমি এই কাসিদাটি রচনা করেছি, যার নাম ‘ইকদুল লাআলি আল-মুফাসসাল বিল-ইয়াকুতিল গালি’ (মূল্যবান ইয়াকুত দ্বারা সুশোভিত মুক্তার মালা)। এটি সত্যপন্থী আহলে সুন্নাতের আকিদা ও তাদের সুউচ্চ মাযহাবের প্রশংসায় এবং ইমাম আবু হামিদ আল-গাজালি ও আমাদের অন্যান্য গুণী ও মর্যাদাবান ইমামগণের প্রতি অনুরাগ প্রকাশে রচিত।
(আমাদের রয়েছে এমন এক মাযহাব যা হিদায়াতের সূর্যের মতো সুস্পষ্ট পথপ্রদর্শক
… অন্যদিকে অন্যদের মাযহাব বিচ্যুতি ও ভ্রান্তির মরিচা থেকে মুক্ত হতে পারেনি।)
(আমাদের আকিদা হলো সুউচ্চ মর্যাদা ও মুক্তার এক মালা
… যা এর কণ্ঠদেশের সুশোভিত অলঙ্কার এবং এর মুখে সুমিষ্ট স্বচ্ছ পানীয়র মতো।)
(এটি কুরআনের আয়াতের অলঙ্কারে ভূষিত হয়ে সুউচ্চ সুন্নাহ
… ও তার সুস্পষ্ট প্রমাণের আলোকচ্ছটা ছড়িয়েছে।)
(এটি সকল সৌন্দর্যের ঐকমত্যের কথা বলে
… ফলে পূর্ণাঙ্গ সৌন্দর্যে এটি অন্য সব কিছুকে ছাড়িয়ে গেছে।)
(এর প্রদীপ্ত সৌন্দর্যের দর্শককে এটি বিমোহিত করে
… আর মুতাজিলা বা বিচ্যুতিবাদীরা এর থেকে অনেক দূরে অবস্থান করে।)
(এই অলঙ্কারসমূহ কেবল সেই ব্যক্তির নিকট প্রকাশিত হতে চায়
… যে উচ্চতর মর্যাদার রহস্যের পর্দা উন্মোচন করে আলোকপ্রাপ্ত হয়েছে।)
(সে গোপন সৌন্দর্যের অভিজ্ঞ এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত
… বাক্যের মর্মার্থ ও সংক্ষিপ্ত বিষয়ের বিস্তারিত ব্যাখ্যায় পারদর্শী।)
(সে এমন এক প্রবক্তা যে বুদ্ধিগ্রাহ্য নসের বাহ্যিক অর্থের প্রবক্তা
… আর যা বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে অসম্ভব মনে হয় তা যৌক্তিক ব্যাখ্যা করে।)
(সে হাশবিয়াদের কদর্যতা ও সাদৃশ্যবাদীদের পথ থেকে দূরে থাকে
… এবং চরমপন্থী মুতাজিলাদের মতো গুণাবলি অস্বীকারকারী নয়।)
(এটি এমন এক মধ্যপন্থা যা শিথিলতাকারী প্রশংসাকারী
… এবং সত্য লঙ্ঘনকারী বাতিল চরমপন্থীর অতিরঞ্জনের মাঝামাঝি।)
(হিদায়াতের সূর্য ও চন্দ্রসমূহ এই পথেই পরিচালিত হয়েছেন
… তারা হলেন শ্বেত পতাকাধারী এবং সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী।)
(আমাদের ইমামগণের মধ্যে কেউ হলেন গবেষক ও আধ্যাত্মিক মেরুদণ্ড
… যিনি হিদায়াতের ইমাম ও ওলিদের রহস্য প্রত্যক্ষকারী।)
(আবার কেউ হলেন অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ইমাম, বিজ্ঞানের সূক্ষ্ম তত্ত্বে পারদর্শী
… যিনি প্রতিটি শিল্পে জ্ঞান আহরণ করে মানবজাতির কল্যাণ করেন।)
(আমাদের রচনাবলি এমন সব সুদৃঢ় মূলনীতি স্থাপন করেছে
… যা পাহাড়ের সাথে ধাক্কা খেলেও টলে যাবে না।)
(আর সুউচ্চ দুর্গের মতো শাখা-প্রশাখাগুলোকে এমনভাবে উন্নীত করা হয়েছে
… যে কোনো মিনজানিকের আঘাত সেখানে পৌঁছাতে পারে না।)
(আমাদের কতই না ‘ওয়াজিজ’ (সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ) রয়েছে যা মূলনীতি বর্ণনায়
… এবং অর্থের সংকলনে সার্থক সংক্ষিপ্তসার।)
(আবার কতই না ‘বাসিত’ (বিস্তারিত গ্রন্থ) রয়েছে যা মূল্যবান তত্ত্বসমূহকে উন্মোচন করে
… সংক্ষিপ্ত বিষয়কে স্পষ্ট করে এবং জটিল সমস্যার সমাধান দেয়।)
(আর কতই না ‘ইকতিসাদ’ (ভারসাম্যপূর্ণ গ্রন্থ) রয়েছে যা এমন ধারালো যুক্তি বহন করে
… যা শত্রুকে পরাস্ত করতে সুনিপুণ অস্ত্রের মতো কার্যকর।)
(এমন এক বীরের হাতে তা শোভা পায় যিনি হিদায়াতের পথ রক্ষায় লড়াই করেন
… এবং অগ্রভাগ ছাড়া আর কোথাও যার অবস্থান দেখা যায় না।)
(সেই যুবক মহাজ্ঞানীর ন্যায়, যার শ্রেষ্ঠত্ব গর্ব করার মতো
… সুতরাং তুমিও সেই সুউচ্চ মর্যাদাবান গাজালির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হও এবং তাঁর প্রতি অনুরাগের গীত গাও।)
(খণ্ড: ১)
মারহামুল ইলালিল মুদিলাতি ফির রাদ্দি আলা আইম্মাতিল মুতাযিলাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
(أَبى حَامِد غزال غزل مدقق
… من الْعلم لم يغزل كَذَاك بمغزل)
(بِهِ الْمُصْطَفى باهى لعيسى بن مَرْيَم
… جليل العطايا والكليم الْمفضل)
(أعندكم حبر كَهَذا فَقيل لَا
… وناهيك فِي هَذَا الفخار المؤثل)
(رَآهُ الْوَلِيّ الشاذلي فِي مَنَامه
… وَيَرْوِيه عَنهُ من طَرِيق مسلسل)
(رَوَاهُ ولي عَن ولي لنا وَعَن ولي
… رَوَاهُ ذَاك عَن رَابِع ولي)
(وَعَن شاذلي شاذلي وَهَكَذَا
… وَشَيخ فَشَيْخ مُسْندًا غير مُرْسل)
(كَذَاك روينَا عَنهُ جلد بن حرزهم
… على الطعْن فِي الْإِحْيَاء من خير مُرْسل)
(عَلَيْهِ صَلَاة الله قَالَ وَلم يزل
… إِلَى الْمَوْت أثر السَّوْط فِي ظَهره جلي)
(وأرويه أَيْضا مَعَ زيادات نَصه
… بتحقيق نقل عَن خَبِير رَوَاهُ لي)
(فَتى جده الحبر الإِمَام ابْن حرزهم
… أَبُو الْحسن المجلود فِي يَوْمه عَليّ)
(بَقِي موجعا خمْسا وَعشْرين لَيْلَة
… لخير يرَاهُ بعد من أَجله ابْتُلِيَ)
(رأى الْمُصْطَفى من بعْدهَا جا متوبا
… وموليه مسحا شافيا مَا بِهِ بلي)
(فشاهد فِي الْأَحْيَاء حسنا رَسُولنَا
… بِهِ شَاهد مَعَ مَا بِهِ لم أطول)
(وزفته أَمْلَاك السما بعد مَوته
… لَهُ أخرجُوا من تَحت ترب وجندل)
(فألبس خلعات غوال أَتَوا بهَا
… من الْخضر لم تنسج وتغزل بمغزل)
(واركب مركوبا من اللَّوْن كَائِنا
… حكى الْبَرْق إسراعا من الجو منزل)
(وراق الطباق السَّبع فِي الْحَال خارقا
… وَسبعين من حجب إِلَى عَال منزل)
(بذا شهد الصياد شيخ زَمَانه
… كَمَا أشهد الْمَذْكُور فِي كشفه الْجَلِيّ)
(وَقد شهد المرسي استاذ عصره
… لَهُ مَعَ شُيُوخ الْوَقْت بالمنزل الْعلي)
(وَمِمَّنْ رأى ذَاك الْمقَام إمامنا
… وَسَيِّدنَا نور الْهدى شَيخنَا عَليّ)
(كَذَا الشاذلي شيخ المشائخ قد حكى
… قضا حَاجَة الدَّاعِي بِهِ المتوسل)
(وَسمي لأَصْحَاب التصانيف سيدا
… وَذَا قَول إِسْمَاعِيل شمس الْهدى الْوَلِيّ)
(مقرّ الندى المشكور شيخ شُيُوخنَا
… إِمَام الْفَرِيقَيْنِ الحبيب المدلل)
(هُوَ الْحَضْرَمِيّ الْمَشْهُور من وقفت لَهُ
… بقول قفي شمس لأبلغ منزلي)
(وَكم عَالم قد قَالَ جَاءَ لديننا
… بِخمْس مئين كي يجدد مَا بلي)
(وتجديد دين فِي الحَدِيث بمحدث
… براس مئين فِي الأيمة مُجمل)
(আবু হামিদ গাজালি এমন এক সূক্ষ্ম জ্ঞান বয়ন করেছেন
… ইলমের এমন সুতা অন্য কোনো চরকায় কখনো কাটা হয়নি)
(তাঁর মাধ্যমে মুস্তফা (সা.) ঈসা ইবনে মারিয়াম
… এবং মহানুভব ও শ্রেষ্ঠত্বপ্রাপ্ত কালিম (মুসা আ.)-এর নিকট গর্ব প্রকাশ করেছেন)
(তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তোমাদের কাছে কি এমন কোনো বিজ্ঞ পণ্ডিত আছে?" উত্তর এল "না"
… আর এমন সুপ্রতিষ্ঠিত গৌরবের বর্ণনায় এটাই যথেষ্ট)
(ওলি শাযিলী তাঁকে স্বপ্নে দেখেছেন
… এবং তাঁর পক্ষ থেকে এক নিরবচ্ছিন্ন সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন)
(আমাদের নিকট এটি এক ওলি অপর ওলি থেকে বর্ণনা করেছেন
… এবং তিনি চতুর্থ এক ওলি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন)
(শাযিলী থেকে শাযিলী পর্যন্ত একইভাবে
… এবং শায়খ থেকে শায়খ পর্যন্ত এটি মুসনাদ হিসেবে বর্ণিত, মুরসাল নয়)
(একইভাবে আমরা ইবনে হিরযিহিমকে বেত্রাঘাত করার ঘটনা বর্ণনা করেছি
… সৃষ্টির সেরা রাসূলের নির্দেশে 'ইহইয়া' কিতাবের সমালোচনা করার কারণে)
(তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক; বর্ণনাকারী বলেন, মৃত্যু অবধি
… তাঁর পিঠে বেত্রাঘাতের সেই চিহ্ন সুস্পষ্ট ছিল)
(আমি এটি মূল পাঠের অতিরিক্ত অংশসহ বর্ণনা করছি
… একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তির থেকে প্রাপ্ত সুনিশ্চিত বর্ণনার ভিত্তিতে যা তিনি আমাকে শুনিয়েছেন)
(সেই যুবক, যার পিতামহ বিজ্ঞ ইমাম ইবনে হিরযিহিম
… আবুল হাসান, যাকে সেই দিন আলীর উপস্থিতিতে বেত্রাঘাত করা হয়েছিল)
(পঁচিশ রাত পর্যন্ত তিনি যন্ত্রণায় কাতর ছিলেন
… এক মহৎ কল্যাণের আশায় যা তিনি পরবর্তীতে প্রত্যক্ষ করেছিলেন, যার জন্যই তিনি এই পরীক্ষায় পড়েছিলেন)
(এরপর তিনি মুস্তফা (সা.)-কে দেখলেন, যিনি তওবা কবুলকারী হিসেবে এলেন
… এবং তাঁর ওপর এমন এক নিরাময়কারী স্পর্শ বুলিয়ে দিলেন যা সমস্ত কষ্ট দূর করে দিল)
(আমাদের রাসূল (সা.) 'ইহইয়া' কিতাবের সৌন্দর্য প্রত্যক্ষ করেছেন
… এর মাধ্যমেই তিনি সাক্ষী হয়েছিলেন, এ নিয়ে আর দীর্ঘ আলোচনা করব না)
(তাঁর মৃত্যুর পর আসমানের ফেরেশতারা তাঁকে অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন
… তাঁরা তাঁকে মাটি ও পাথরের তলা থেকে বের করে নিয়ে এসেছিলেন)
(তাঁকে মূল্যবান রাজকীয় পোশাক পরানো হয়েছিল যা তাঁরা নিয়ে এসেছিলেন
… বেহেশতের সবুজ রেশম থেকে, যা কোনো পার্থিব চরকায় বোনা হয়নি)
(তাঁকে এমন এক বর্ণাঢ্য বাহনে সওয়ার করা হয়েছিল
… যা আকাশ থেকে অবতীর্ণ বিজলীর ন্যায় দ্রুতগামী ছিল)
(তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সপ্তাকাশ ভেদ করে উড্ডয়ন করেছিলেন
… এবং সত্তরটি পর্দা অতিক্রম করে এক উচ্চ মাকামে পৌঁছেছিলেন)
(সমকালীন শায়খ আস-সায়্যাদ এ ব্যাপারে সাক্ষ্য দিয়েছেন
… যেমনটি তিনি তাঁর সুস্পষ্ট কাশফের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ করেছেন)
(সমকালীন উস্তাদ আল-মুরসিও সাক্ষ্য দিয়েছেন
… সমকালীন অন্যান্য শায়খদের সাথে তাঁর সেই উচ্চ মর্যাদার ব্যাপারে)
(সেই উচ্চ মাকাম যারা দেখেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আমাদের ইমাম
… এবং আমাদের সায়্যিদ, হেদায়েতের নূর, শায়খ আলী)
(একইভাবে শায়খুল মাশায়েখ আশ-শাযিলী বর্ণনা করেছেন
… তাঁর অসিলায় তওয়াসসুলকারী প্রার্থনাকারীর প্রয়োজন পূরণ হওয়ার কথা)
(গ্রন্থকারদের মাঝে তাঁকে 'সায়্যিদ' বা প্রধান হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে
… আর এটি ওলি ইসমাইল শামসুল হুদার উক্তি)
(দানশীলতার আধার, আমাদের শায়খদের শায়খ
… উভয় দলের ইমাম, সেই প্রিয় ও স্নেহধন্য মহাপুরুষ)
(তিনি সেই বিখ্যাত আল-হাদরামি, যার নির্দেশে সূর্য থমকে দাঁড়িয়েছিল
… এই বলে যে, "হে সূর্য! স্থির হও যতক্ষণ না আমি আমার গন্তব্যে পৌঁছাই")
(কত আলিমই না বলেছেন যে, তিনি আমাদের দ্বীনের জন্য আবির্ভূত হয়েছেন
… হিজরি পঞ্চম শতাব্দীর শুরুতে, যাতে জীর্ণ ও বিলুপ্তপ্রায় বিষয়াদি সংস্কার করা যায়)
(আর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, প্রত্যেক শতাব্দীর শুরুতে দ্বীনের সংস্কার সাধন করা হবে
… ইমামদের মধ্য থেকে মনোনীত একজন মুজাদ্দিদ বা সংস্কারকের মাধ্যমে)
(খণ্ড: ১)
মারহামুল ইলালিল মুদিলাতি ফির রাদ্দি আলা আইম্মাতিল মুতাযিলাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
(فَفِي الْمِائَة الأولى رَوَاهُ خَليفَة
… فيا مَا لَهَا من بعده مثله ولي)
(وَذَاكَ ابْن عبد للعزيز الَّذِي سما
… بسيرته الْحَسْنَاء ذُو الْمنزل الْعلي)
(وَخير وجود بَحر جود رَأْي الملا
… إِمَام الْأَنَام الشَّافِعِي لَهُ يَلِي)
(لَهُ منصب فِي الْعلم والفهم وَالْهدى
… شهير وَفِي الْآفَاق مذْهبه جلي)
(فريد زمَان فِي المناقب سَابق
… بِوَضْع أصُول والْحَدِيث مُعَلل)
(وَمن بعده للدّين شيخ أُصُوله
… وكاسي شعار الْحق كم من مضلل)
(أَبُو الْحسن الْمَشْهُور بالأشعري الَّذِي
… لَهُ حجَّة كالطود غير مزلزل)
(وَمن بعد فِي التَّجْدِيد أكْرم برابع
… إِمَام الْهدى الحبر النجيب الْمفضل)
(هُوَ الباقلاني بَحر علم أصولنا
… تلاطم أمواجا بهَا الْكَوْن قد ملي)
(حوى للمعالي والمحاسن قد زها
… ببستان فضل مزهر الْكَوْن مبقل)
(وخامسهم حبر مضى ذكر فَضله
… سراج بِهِ داجي الضلالات منجلي)
(إِمَام الْهدى المنبي عَن الْفضل منشدا
… سبوقا على الْمهْر الْأَغَر المحجل)
(غزلت لَهُم غزلا دَقِيقًا فَلم أجد
… لغزلي نساجا فَكسرت مغزلي)
(مُشِيرا إِلَى علم بِهِ متميز
… عَن إِدْرَاكه فهم الألبا بمعزل)
(تصانيفه فاقت بنفع وَكَثْرَة
… وحلة حسن لم بهَا الْغَيْر يرفل)
(وَكم حجَّة الْإِسْلَام حَاز فَضِيلَة
… وَكم حلية حسنا بِهِ فَضلهَا حلي)
(بهَا جَاهِل مَعَ حَاسِد طَاعن فَذا
… تعامى وعنها ذَاك أعمى قد ابْتُلِيَ)
(وَمَا ضرّ سلمى ذمّ عالي جمَالهَا
… ومنظرها الباهي ومنطقها الْحلِيّ)
(لَكِن ذمها جاراتها ونظائر
… وعبن جمالا فِي حلاها وَفِي الْحلِيّ)
(فَمَا سلمت حسناء من ذمّ حَاسِد
… وَصَاحب حق من عَدَاوَة مُبْطل)
(إِذا فِي الْفَتى زَاد الندى زَادَت العدى
… وقيت الردا قل فِي الْهدى وتمثل)
(دَلِيل الْعلَا كثر البلا هَكَذَا الملا
… وَلَوْلَا احتراق التبر بالنَّار مَا غلي)
(جلا لي مديح فِي مليح أيمة
… وَلَيْسَ كغزالي حلا لي تغزلي)
(فمدحي كعقد من لآلي أيمة
… بياقوت غزالي الْمَعَالِي مفصل)
(وَكم من إِمَام غير من قد مضى لنا
… من الْفضل والعلياء بالمنزل الْعلي)
(كحبر شهير بارع ماجد أبي الْمَعَالِي
… النجيب ابْن النجيب المبجل)
(প্রথম শতাব্দীতে একে বর্ণনা করেছেন একজন খলীফা
… হায়! তাঁর পরে তাঁর মতো আর কোনো শাসক আসেনি।)
(আর তিনি হলেন ইবনে আবদুল আযীয, যিনি
… স্বীয় সুন্দর জীবনচরিতের মাধ্যমে সুউচ্চ মর্যাদা লাভ করেছেন।)
(আর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ ও দানশীলতার সমুদ্র, যাঁকে জগতবাসী প্রত্যক্ষ করেছে—
… মানুষের ইমাম শাফিঈ, যিনি তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।)
(ইলম, প্রজ্ঞা ও হেদায়েতের ময়দানে তাঁর এক সুবিখ্যাত অবস্থান রয়েছে
… এবং দিগন্তজুড়ে তাঁর মাযহাব সুস্পষ্ট।)
(তিনি স্বীয় গুণাবলীতে যুগের অদ্বিতীয় ও অগ্রগামী
… উসূলে ফিকহ প্রণয়ন এবং ইলমে হাদীসের সূক্ষ্ম ত্রুটি উদ্ঘাটনে তিনি ছিলেন অনন্য।)
(আর তাঁর পরে দ্বীনের উসূল বা মূলনীতির শায়খ আবির্ভূত হলেন
… যিনি সত্যের ঝাণ্ডা সমুন্নত করেছেন এবং কত বিভ্রান্তকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন।)
(তিনি হলেন বিখ্যাত আবুল হাসান আল-আশআরী, যাঁর
… দলিলসমূহ পাহাড়ের মতো অটল ও অবিচল।)
(অতঃপর সংস্কারের ধারায় চতুর্থ হিসেবে কী এক মহান ব্যক্তিত্বের আগমন ঘটল
… তিনি হেদায়েতের ইমাম, বিজ্ঞ আলেম এবং অতিশয় মর্যাদাবান।)
(তিনি হলেন আল-বাকিল্লানী, আমাদের উসূল শাস্ত্রের ইলমের সমুদ্র
… যাঁর জ্ঞানের উত্তাল তরঙ্গে সারা বিশ্ব মুখরিত।)
(তিনি উচ্চমর্যাদা ও যাবতীয় সৌন্দর্যকে ধারণ করেছেন
… তাঁর অনুগ্রহের পুষ্পশোভিত উদ্যান দ্বারা জগত প্রস্ফুটিত ও শস্যশ্যামল হয়েছে।)
(আর তাঁদের মধ্যে পঞ্চম জন হলেন সেই মহা-পণ্ডিত, যাঁর শ্রেষ্ঠত্বের কথা পূর্বেই আলোচিত হয়েছে
… তিনি এমন এক প্রদীপ যা দিয়ে পথভ্রষ্টতার অন্ধকার দূরীভূত হয়।)
(তিনি হেদায়েতের ইমাম, যিনি স্বীয় শ্রেষ্ঠত্বের কথা প্রকাশ করেছেন
… শুক্ল ললাট ও শুভ্র পদবিশিষ্ট দ্রুতগামী শ্রেষ্ঠ ঘোড়ার ন্যায় অগ্রগামী হয়ে।)
(“আমি তাদের জন্য অতি সূক্ষ্ম সূতা কেটেছিলাম, কিন্তু আমার সেই সূতার কোনো বয়নকারী খুঁজে পেলাম না
… তাই আমি আমার চরকাটি ভেঙে ফেললাম।”)
(এটি এমন এক ইলমের প্রতি ইঙ্গিত যা দ্বারা তিনি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমন্ডিত
… যা অনুধাবন করা সাধারণ বুদ্ধিমানদের প্রজ্ঞারও অগম্য।)
(তাঁর রচনাবলী উপকারিতা ও প্রাচুর্যের দিক থেকে অনন্য
… এবং তা এমন এক সৌন্দর্যের পোশাকে সজ্জিত যা অন্য কেউ পরিধান করতে পারেনি।)
(‘হুজ্জাতুল ইসলাম’ কত যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন
… আর কত সৌন্দর্যমন্ডিত অলঙ্কার তাঁর মাধ্যমে সুশোভিত হয়েছে।)
(সে কারণে মূর্খ ও হিংসুকেরা তাঁর সমালোচনা করে; একজন
… সত্য দেখেও অন্ধ সেজেছে, আর অন্যজন অন্ধত্বের পরীক্ষায় নিপতিত হয়েছে।)
(আর ‘সালমা’র সুউচ্চ রূপ-লাবণ্য কারো নিন্দায় বিন্দুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয় না
… তার উজ্জ্বল অবয়ব এবং সুমিষ্ট বাকচাতুর্য চিরকাল অম্লান।)
(তবে তার প্রতিবেশিনী ও সমকক্ষরা তার নিন্দা করে
… এবং তার রূপ-লাবণ্য ও অলঙ্কারের সৌন্দর্যে খুঁত খুঁজে বেড়ায়।)
(কোনো রূপসীই হিংসুকের নিন্দা থেকে রেহাই পায়নি
… আর কোনো সত্যপন্থীই বাতিলপন্থীদের শত্রুতা থেকে মুক্ত থাকেনি।)
(যখন কোনো ব্যক্তির দানশীলতা বৃদ্ধি পায়, তখন তার শত্রুও বৃদ্ধি পায়
… ধ্বংস থেকে রক্ষা পেতে হেদায়েতের পথে অটল থাকো এবং ধৈর্য ধরো।)
(শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ হলো বিপদের আধিক্য—জগৎবাসীর নিয়ম এমনই
… আর আগুনের দহন ছাড়া স্বর্ণ কখনো খাঁটি হয় না।)
(মহৎ ইমামগণের এই গুণকীর্তন আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে
… কিন্তু ইমাম গাযালীর মতো কারো প্রশংসা আমার কাছে এত মিষ্টি মনে হয়নি।)
(সুতরাং আমার এই প্রশংসা হলো ইমামগণের গুণাবলীর মুক্তোর মালার মতো
… যা উচ্চমর্যাদার অধিকারী ইমাম গাযালীরূপী ইয়াকুত পাথর দ্বারা খচিত।)
(আমাদের মাঝে গত হওয়া এমন অনেক ইমাম রয়েছেন
… যাঁরা শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার সুউচ্চ আসনে আসীন।)
(যেমন সেই বিখ্যাত সুপণ্ডিত, পারদর্শী ও মহিমান্বিত ব্যক্তিত্ব আবু আল-মাআলী
… যিনি একজন উচ্চবংশীয় ও অত্যন্ত সম্মানিত মহৎ ব্যক্তি।)
(খণ্ড: ১)
মারহামুল ইলালিল মুদিলাতি ফির রাদ্দি আলা আইম্মাতিল মুতাযিলাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
(فَتى فَحل نظار وكبت مناظر
… ومفتاح مغلاق ومرهم معضل)
(وَخير إِمَام إسفرائيني جلا
… عرائس فضل سافرات لمجتلي)
(وَذي الْفضل واليمن الإِمَام ابْن فورك
… بحلة حسن الْعلم وَالدّين مجتلي)
(وَحبر أخير فِي الْمَعَالِي مقدم
… إِمَام الْهدى الرَّازِيّ بفخر مُجمل)
(وَحبر ببيضا قد جلى بيض فَضله
… فضاء الدجا من وَجههَا المتهلل)
(وَعز لعز الدّين دين الْهدى كَمَا
… عقيدته الحسنا حلى فاخر الْحلِيّ)
(كَذَلِك محيي الدّين أَحْيَاهُ إِذْ سقت
… تصانيفه الْحسنى الورى عذب منهل)
(إِمَامًا عُلُوم لَكِن الْفِقْه غَالب
… جليلان حلا من قُلُوب بمنزل)
(على عشرَة رمت اقتصارا وَكم لنا
… مجيد مقَال لِلْأُصُولِ مفصل)
(كَمثل الإِمَام الْبَيْهَقِيّ مَنْهَج الْهدى
… فَتى الْفضل وَالتَّحْقِيق حبر مفضل)
(وَحبر الْهدى بَحر المعالم والندى
… الْفَتى الْفَاضِل الْخطابِيّ المتفضل)
(وكائن دَقِيق الْعِيد حبر وراتق
… لمفتتق فتاق رتق بمشكل)
(وكل إِمَام ذِي مقَال مُحَقّق
… ومعتقد فِي أصل علم مُعَلل)
(كأشياخنا السادات من كل عَارِف
… من الراح فِي روض الْوِصَال مُعَلل)
(مسقى بكاسات الْهوى من مدامه
… بهَا رب نشوان معل ومنهل)
(إِذا ذاقها صب أرته جمال من
… يحب وأروته بأعذب منهل)
(وَإِن شم تِلْكَ الراح خَال عَن الْهوى
… يرى الدَّهْر مَشْغُولًا بِهِ ذَلِك الخلي)
(وَإِن سقيت نهلا وَعلا مقربا
… يوليه ملكا كم ولي لَهُ ولي)
(كَمثل شُيُوخ عازفين ثَلَاثَة
… شموس الْهدى أَرْبَاب ملك مخول)
(مربين مَا مِنْهُم يرى غير مرشد
… إِلَى الله بِاللَّه الْمُوفق موصل)
(عقائدهم مَشْهُورَة شاع ذكرهَا
… وَعَن فَضلهَا دَاري فضائلها سل)
(وَكن مثلهم فِي حب مَوْلَاك مشغفا
… فَمَا مِنْهُم عَن حب مَوْلَاهُم سَلِي)
(أبي الْقسم الْمولى الْقشيرِي حَبْرهمْ
… إِمَام هدى لم فَضله قطّ يجهل)
(وَشَيخ الْوُجُود السهروردي من جلا
… معارفه الْحسنى بزهو لمجتلي)
(وَشَيخ الْهدى بَحر الكرامات والندى
… الْفَتى الْقرشِي الْمولى الْوَجِيه المجلل)
(أُولَئِكَ أَشْيَاخ لنا وأيمة
… نباهي بهم فِي كل نَاد ومحفل)
(এক পরাক্রমশালী যুবক, সূক্ষ্মদর্শী গবেষক এবং তার্কিকদের পরাভূতকারী
… রুদ্ধ দ্বারের চাবিকাঠি এবং জটিল সমস্যার উপশমকারী মহৌষধ)
(এবং শ্রেষ্ঠ ইমাম আল-ইসফরাইনি, যিনি শ্রেষ্ঠত্বের সেই উজ্জ্বল নববধূদের অনাবৃত করেছেন
… যা প্রত্যক্ষকারীর নিকট অত্যন্ত সুস্পষ্ট)
(এবং অনুগ্রহ ও বরকতের অধিকারী ইমাম ইবন ফুরাক
… যিনি জ্ঞান ও ধর্মের সুশোভন পোশাকে বিভূষিত)
(উচ্চমর্যাদায় অগ্রগণ্য পরবর্তী যুগের এক মহান পণ্ডিত
… হিদায়াতের ইমাম আর-রাজি, যিনি সামগ্রিক গৌরবে ভাস্বর)
(বাইদওয়া নিবাসী এক পণ্ডিত, যাঁর শ্বেতশুভ্র শ্রেষ্ঠত্ব উদ্ভাসিত হয়েছে
… তাঁর হাস্যোজ্জ্বল মুখমণ্ডলের জ্যোতিতে অন্ধকারের দিগন্ত বিচ্ছুরিত হয়েছে)
(হিদায়াতের দ্বীনের জন্য ইযযুদ্দীন ছিলেন এক অনন্য গৌরব, ঠিক যেমন
… তাঁর চমৎকার আকিদাহ হলো বহুমূল্য অলঙ্কারসমূহের শ্রেষ্ঠ ভূষণ)
(তদ্রূপ মুহিউদ্দীন, যাঁর জীবন ধন্য হয়েছে; কারণ তাঁর
… অনবদ্য রচনাবলি সৃষ্টিজগতকে সুমিষ্ট ঝরনাধারা দিয়ে সিক্ত করেছে)
(সর্ববিদ্যায় পারদর্শী দুই ইমাম, তবে ফিকহ শাস্ত্রে তাঁদের প্রাধান্য অধিক
… এই দুই মহান ব্যক্তিত্ব মানুষের হৃদয়ে উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত)
(আমি কেবল দশজনের বর্ণনায় সীমাবদ্ধ থাকতে চেয়েছি; অথচ উসুল শাস্ত্রের
… বিশদ বিবরণে আমাদের কতই না গৌরবময় উক্তি রয়েছে)
(যেমন হিদায়াতের পথপ্রদর্শক ইমাম আল-বায়হাকি
… তিনি শ্রেষ্ঠত্ব ও গবেষণার মূর্ত প্রতীক এবং এক বরেণ্য পণ্ডিত)
(এবং হিদায়াতের মহাজ্ঞানী, জ্ঞান ও বদান্যতার সমুদ্র
… সেই গুণী ব্যক্তিত্ব আল-খাত্তাবি, যিনি অত্যন্ত দয়ালু ও মহানুভব)
(আর রয়েছেন ইবন দাকীকুল ঈদ—এক মহান পণ্ডিত এবং সেই শিল্পী
… যিনি বিচ্ছিন্ন বিষয়কে জোড়া দেন এবং জটিল গ্রন্থি উন্মোচন করেন)
(এবং সত্যনিষ্ঠ প্রতিটি ইমাম, যাঁর বক্তব্য সুপ্রতিষ্ঠিত
… এবং যাঁর আকিদাহ প্রামাণিক জ্ঞানের ভিত্তিতে যৌক্তিক)
(যেমন আমাদের আধ্যাত্মিক গুরু ও নেতৃবৃন্দ, যাঁদের প্রত্যেকেই আল্লাহওয়ালা
… এবং মিলনের উদ্যানে আধ্যাত্মিক সুধায় বারবার সিক্ত হয়েছেন)
(প্রেমের পেয়ালা থেকে সেই সুধায় তাঁরা তৃপ্ত হয়েছেন
… যার মাধ্যমে অনেক মত্ত ব্যক্তি বারবার সিক্ত ও পরিতৃপ্ত হয়েছেন)
(যখন কোনো অনুরাগী এর আস্বাদন পায়, তখন তা তাকে তাঁর প্রিয়তমের
… সৌন্দর্য দর্শন করায় এবং সুমিষ্ট প্রস্রবণ দ্বারা তাঁকে পরিতৃপ্ত করে)
(যদি প্রেমহীন কেউ সেই আধ্যাত্মিক সুধার ঘ্রাণ পায়
… তবে সে সারা দুনিয়াকে তা নিয়ে ব্যতিব্যস্ত দেখতে পায়, যদিও সে নিজে তা থেকে উদাসীন)
(আর যদি কোনো নৈকট্যপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে বারবার সেই সুধা পান করানো হয়
… তবে তা তাঁকে আধ্যাত্মিক রাজত্ব দান করে; তাঁর কতই না ওলী বা বন্ধু রয়েছেন!)
(যেমন দুনিয়াবিমুখ সেই তিন শায়খ
… তাঁরা হিদায়াতের সূর্য এবং আল্লাহপ্রদত্ত আধ্যাত্মিক সাম্রাজ্যের অধিপতি)
(তাঁরা এমন আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক, যাঁদের মাঝে কেবল সত্যের দিশারিই পরিলক্ষিত হয়
… তাঁরা আল্লাহর তৌফিকে আল্লাহরই দিকে মানুষকে পৌঁছে দেন)
(তাঁদের আকিদাহসমূহ সুপ্রসিদ্ধ এবং সর্বত্র বিস্তৃত
… তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে সেই অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করো যিনি তাঁদের গুণাবলি জানেন)
(তোমার রবের প্রেমে তুমিও তাঁদের মতো আত্মহারা হও
… কারণ তাঁদের কেউই নিজ রবের ভালোবাসা থেকে বিমুখ ছিলেন না)
(বিজ্ঞ পণ্ডিত আবুল কাসিম আল-কুশাইরী তাঁদেরই অন্তর্ভুক্ত
… তিনি হিদায়াতের এমন এক ইমাম যাঁর শ্রেষ্ঠত্ব কখনোই অজানা নয়)
(আরও রয়েছেন আধ্যাত্মিক জগতের মহাপুরুষ আস-সুহরাওয়ার্দী, যিনি
… তাঁর অপূর্ব মা'রিফাতকে দর্শকদের সামনে দীপ্তিময় করে তুলেছেন)
(এবং হিদায়াতের শায়খ, কারামত ও বদান্যতার সমুদ্র
… সেই কুরাইশী যুবক—যিনি এক সম্মানিত ও মহিমান্বিত ব্যক্তিত্ব)
(তাঁরাই আমাদের শায়খ এবং আমাদের ইমাম
… প্রতিটি সভা ও মজলিসে আমরা তাঁদের নিয়ে গর্ব করি)
(খণ্ড: ১)
মারহামুল ইলালিল মুদিলাতি ফির রাদ্দি আলা আইম্মাতিল মুতাযিলাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
(فيا ذَا اعتزال هَل شيوخك مثلهم
… تفاخرنا بل أَنْت عَن مثلهم خلي)
(فَمَا حجَّة الْإِسْلَام مَعَ شَيْخه أبي
… الْمَعَالِي واستاذ الْهدى طب معضل)
(ككعبي ضلالات ونظام بِدعَة
… وجبائي الزيغ الضليل المضلل)
(ثلاثتكم إِن بارزوا كثلاثة
… دعوا لبراز يَوْم بدر معجل)
(فَمَا لَبِثُوا إِذْ ذَاك إِلَّا هنيهة
… وحان حُلُول الْمُسْتَحق الْمُؤَجل)
(بأيدي ضراغيم ضوارم ثَلَاثَة
… قد انصرفت عَن رب قرب مجدل)
(ضراغيمنا فِي كل أَرض شهيرة
… بغاباتها من حولهَا نشو أشبل)
(وأقمارنا فِي كل أفق منيرة
… بهَا يهتدى فِي كل سهل وأجبل)
(زهت فِي سما عليا مناهج وَافَقت
… عقائدها حَقًا بهَا لم أطول)
(سوى عشرَة من شافعيات مَنْهَج
… وبضع منيرات زواهر كمل)
(وبدري هدى فِي المالكيات رَابِع
… بتجديد دين والقريشي الْمفضل)
(وبدرين مِنْهَا شَاهِدين لبدرنا
… بمجد وَسعد جَامع الْيمن مقبل)
(بدور كلا النهجين زاه بهاؤها
… بأنوارها ظلما الضلالات تنجلي)
(وَفِي حنفيات لطيف سَحَابَة
… أَتَاهَا من التكوين غير مبدل)
(وَفِي حشويات كسوفان أظلما
… وَعَن نهجها حاشي الإِمَام ابْن حَنْبَل)
(هما جِهَة مَا بَين شمس وَبَينهَا
… تحول وحرف فِي الْكَلَام الْمنزل)
(ورامد أصوات وبحة قَارِئ
… وحرفا كَلَام الله وَالْعرش يحلل)
(ونهج اعتزال مَعَ سواهُم كَلَامه
… تبَارك مَخْلُوق بجسم مقول)
(أَرَادوا بِصَوْت مَعَ حُرُوف منطقا
… لَهَا بافتراء مِنْهُم وَتقول)
(فَقَالُوا كَلَام الْجِسْم ذَاك مُصَرحًا
… وَلَا ينسبوه قطّ للْوَاحِد الْعلي)
(وَلَيْسَ لكم عَن ذَا محيص وَلَا لكم
… خلاص بِمَا جئْتُمْ بِهِ من تخيل)
(فقلتم كَلَام فِي جماد فجئتم
… بتخييل فرق موهم ذَا تخيل)
(وَمَا روم تَدْلِيس علينا بجائز
… فَمَا بَينه والحي فرق مفصل)
(فَمَا خلق إِدْرَاك وقدرة منطق
… لَهُ بمحال لَا وَلَا ذَا بمشكل)
(فَمَا الأَصْل فِي الْأَشْيَاء إِلَّا خُفْيَة
… فان لَا دَلِيل لَيْسَ غير مُبْطل)
(تسبح كل الكائنات بِحَمْدِهِ
… وَدَعوى مجَاز فِيهِ قَول لمبطل)
(হে মুতাজিলাপন্থী! তোমার শায়খগণ কি তাঁদের সমতুল্য
… যে তুমি আমাদের সামনে গর্ব করবে? বরং তুমি তো তাঁদের মতো ব্যক্তিত্ব থেকে রিক্ত।)
(হুজ্জাতুল ইসলাম এবং তাঁর শিক্ষক আবুল
… মাআলী ও হিদায়াতের শিক্ষক—যিনি জটিল সমস্যার সমাধানকারী—তাঁদের সামনে তোমাদের কী প্রমাণ আছে?)
(যেমন বিভ্রান্তির প্রচারক কা'বী ও বিদআতের নাজ্জাম
… এবং সত্যচ্যুত ও চরম পথভ্রষ্টকারী জুব্বাঈ।)
(তোমাদের এই তিনজন যদি যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়, তবে তারা যেন
… বদরের দিনে দ্রুত দ্বন্দ্বযুদ্ধের জন্য আহুত সেই তিনজনের মতো।)
(তখন তারা সামান্য মুহূর্তও টিকে থাকতে পারেনি
… এবং তাদের প্রাপ্য সেই নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে এসেছিল।)
(তিনটি তেজস্বী ও শিকারি সিংহের হাতে
… যারা ভূপাতিত শত্রুর কাছ থেকে ফিরে এসেছিল।)
(আমাদের সিংহরা প্রতিটি জনপদে প্রসিদ্ধ
… যাদের বনভূমিতে তাদের শাবকগণ বিচরণ করে।)
(আমাদের চন্দ্রসমূহ প্রতিটি দিগন্তে উজ্জ্বল
… যার মাধ্যমে সমতল ও পাহাড়ে পথ খুঁজে পাওয়া যায়।)
(সুউচ্চ আকাশে এমন সব পথ উদ্ভাসিত হয়েছে, যাদের আকিদাহ
… সত্যের অনুকূল; আমি এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করব না।)
(শাফিয়ী মাযহাবের দশজন এবং
… আরও কিছু উজ্জ্বল ও পূর্ণ নক্ষত্র ব্যতীত।)
(মালিকী মাযহাবের মাঝে হিদায়াতের দুটি পূর্ণিমা, চতুর্থজন
… দ্বীনের সংস্কারক এবং সেই শ্রেষ্ঠ কুরাইশী।)
(সেখানকার আরও দুটি পূর্ণিমা আমাদের পূর্ণিমার
… মহান মর্যাদা ও সৌভাগ্যের সাক্ষ্য দিচ্ছে।)
(উভয় পথের পূর্ণিমাগুলোর দীপ্তি অত্যন্ত উজ্জ্বল
… যাদের আলোতে বিভ্রান্তির অন্ধকার দূরীভূত হয়।)
(হানাফী মাযহাবের মাঝে রয়েছে এক সূক্ষ্ম মেঘমালা
… যা সৃজনতত্ত্ব (তাকভীন) থেকে অপরিবর্তনীয় রূপে এসেছে।)
(হাশভিয়্যাহদের মাঝে রয়েছে দুটি অন্ধকারাচ্ছন্ন গ্রহণ
… তবে ইমাম ইবনে হাম্বল তাদের পথ থেকে মুক্ত।)
(তারা সূর্য ও তার মধ্যকার এক অন্তরায়
… এবং অবতীর্ণ বাণীর ক্ষেত্রে এক বিচ্যুতি ও বিকৃতি।)
(স্বরের কর্কশতা ও পাঠকের কণ্ঠস্বর
… আল্লাহর কালামের অক্ষর এবং আরশের অবতরণ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ায়।)
(মুতাজিলা ও অন্যদের পথ হলো—বরকতময় আল্লাহর কালামকে
… দেহের মাঝে সৃষ্ট এক বিষয় বলা।)
(তারা তাদের মিথ্যাচার ও অপবাদের মাধ্যমে শব্দ ও অক্ষরের সমষ্টিকে
… আল্লাহর কথা হিসেবে সাব্যস্ত করতে চেয়েছে।)
(তারা স্পষ্টভাবে একে দেহের কথা বলেছে
… এবং সুউচ্চ এক সত্তার দিকে কখনোই তা নিসবত করেনি।)
(এ থেকে তোমাদের কোনো নিস্তার নেই, আর তোমাদের
… কল্পিত ধারণার মাধ্যমেও কোনো মুক্তি নেই।)
(তোমরা বললে যে জড় পদার্থের মাঝে কালাম সৃষ্টি হয়; এভাবে তোমরা
… এক বিভ্রান্তিকর কাল্পনিক পার্থক্যের অবতারণা করলে।)
(আমাদের সাথে প্রতারণা করা সম্ভব নয়
… কারণ এর এবং চিরঞ্জীব সত্তার মাঝে সুষ্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।)
(তাঁর জন্য উপলব্ধি ও বাকশক্তি সৃষ্টি করা
… অসম্ভব নয় এবং তা কোনো জটিল বিষয়ও নয়।)
(বস্তুর মূল রহস্য তো প্রচ্ছন্ন
… তাই যেখানে কোনো প্রমাণ নেই, সেখানে বাতুলতা ছাড়া আর কিছুই নেই।)
(সকল সৃষ্টি তাঁর প্রশংসায় তাসবীহ পাঠ করে
… আর এতে রূপকতার দাবি করা মিথ্যাবাদীর উক্তি।)
(খণ্ড: ১)
মারহামুল ইলালিল মুদিলাতি ফির রাদ্দি আলা আইম্মাতিল মুতাযিলাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
(فَهَلا كَلَام من ذِرَاع مسمم
… جعلتم كَلَام الله حَتَّى لَهُ تلِي)
(بِمذهب كل من اولي الرّبع ضحكه
… مصبحة الباكي الحزين المثكل)
(فَفِي الباطني كل الدَّوَابّ مُكَلّف
… لَهَا أَنَبِيًّا يُوحى إِلَى كل مُرْسل)
(وَمن عجب ثَوْر نَبِي بِقُرْبِهِ
… وتيس خصوه مَعَ حمَار محمل)
(وَلَا بعث والتكليف نَار وجنة
… لنَفس زكتْ عودا إِلَى الْفلك الْعلي)
(وَفِي الرافضي جِبْرِيل أخطا بوحيه
… إِلَى أَحْمد لم يُرْسل إِلَّا إِلَى عَليّ)
(فيا عجبا من مارق فِي ثَلَاثَة
… وَعشْرين عَاما للإله مجهل)
(وَكم ملحد فِي الْعَالمين مجسم
… وَكم مارق زنديق دين معطل)
(إِذا للصَّغِير وَالْكَبِير الْمُعَطل
… لقِيت لقِيت التيس يمشي مَعَ الطلي)
(وللكل كم سخرية وفضيحة
… وأعجوبة تحكي بهَا لم أطول)
(وَيَا طَالبا حفظ اعْتِقَاد مُحَقّق
… خلا عَن عيار صافيا عذب منهل)
(تلق عقيد الْحق فِي خَمْسَة عشر
… من النّظم تجْرِي حَافِظًا عَن مطول)
(تَعَالَى إِلَه عَن شريك ووالد
… وَولد وزوجات وَوصف ممثل)
(سميع بَصِير عَالم مُتَكَلم
… مُرِيد وَحي مصدر كلهَا يَلِي)
(بقدرته الْعُظْمَى وإتقان حِكْمَة
… يرى الْكَوْن فِي كن كَانَ بالقهر معتلي)
(علا بِجَمَال فِيهِ مجد جلال
… بعز كَمَال الْكِبْرِيَاء مكلل)
(صِفَات على جلت وَجل جلالها
… عقول الورى معقولة عَن تعقل)
(وكفهم عَن كَيفَ مَعَ أَيْن نافيا
… حروفا وخلقا للْكَلَام الْمنزل)
(وَلَا وَاجِب حاشا عَلَيْهِ وحاكم
… هُوَ الشَّرْع دون الْعقل ع القَوْل واعقل)
(وَفِي قدر مَعَ رُؤْيَة مَعَ شَفَاعَة
… وحوض وتعذيب بِقَبْر ومبتلي)
(وَبعث وميزان ونار وجنة
… وَقد خلقا ثمَّ الصِّرَاط وللولي)
(عَظِيم كرامات فَكل شَرِيعَة
… محا خير شرع جا بِهِ خير مُرْسل)
(فَآمن وَسلم للصحابة واعتقد
… جَمِيعًا وبجلهم وكالقوم فاعمل)
(وَأَقْبل على السادات وَأَقْبل مقالهم
… وَبَين أيادي الْقَوْم للْأَرْض قبل)
(وَقدم أَبَا بكر كَمَا للعلى علا
… وبالليث ربع ذِي الْمقَام الْعلي عَليّ)
(كَمَا قدموهم هم نُجُوم الْهدى فَعَن
… هدَاهُم فَلَا تعدل بذلك تعدل)
(তবে কেন বিষাক্ত বাহুর কথা সত্য বলে গ্রহণ করলে, অথচ আল্লাহর বাণীকে অস্বীকার করলে? এমনকি তুমি তা পাঠও কর।)
(এমন এক মতবাদে, যেখানে চতুর্থাংশের অধিপতিদের হাসি কেবল শোকার্ত ও সন্তানহারাদের ক্রন্দনকে প্রজ্জ্বলিত করে।)
(বাতেনী ফেরকার মতে, সকল চতুষ্পদ জন্তুই শরীয়তের বিধানে আদিষ্ট; এমনকি প্রতিটি প্রাণীর জন্য পৃথক নবী রয়েছে, যারা প্রতিটি রাসূলের নিকট ওহী নিয়ে আসে।)
(আশ্চর্যের বিষয় হলো, তাদের নিকট ষাঁড়ও নবী! তারা একটি খাসি করা ছাগল এবং ভারবাহী গাধাকেও বিশেষ মর্যাদায় ভূষিত করে।)
(তাদের মতে পরকাল বলতে কিছু নেই; আর ইবাদত-বন্দেগী, জাহান্নাম ও জান্নাত হলো কেবল সেই আত্মার রূপক মাত্র, যা পরিশুদ্ধ হয়ে উচ্চতর জ্যোতিষ্কের দিকে ফিরে যায়।)
(রাফেজীদের মতে, জিবরাঈল (আ.) ওহী নিয়ে ভুল করেছেন; তিনি আহমাদ (সা.)-এর নিকট প্রেরিত হননি, বরং ওহী কেবল আলীর (রা.) নিকট আসার কথা ছিল।)
(বিস্ময় লাগে সেই ধর্মত্যাগীর প্রতি, যে তেইশটি বছর ধরে মহান প্রতিপালক সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিল।)
(বিশ্বে কতই না এমন নাস্তিক রয়েছে যারা আল্লাহকে সাকার বা দেহধারী মনে করে, আর কতই না ধর্মত্যাগী ও যিন্দীক রয়েছে যারা দীনকে অকেজো বা অর্থহীন সাব্যস্ত করে।)
(যখন সেই বড় ও ছোট নাস্তিকদের সাথে আপনার দেখা হবে, মনে হবে যেন একটি পাঠা মেষশাবকের সাথে হেঁটে যাচ্ছে।)
(তাদের প্রত্যেকের মাঝে কতই না উপহাস ও কেলেঙ্কারি লুকিয়ে আছে, আর কতই না বিস্ময়কর কাহিনী যা বর্ণনা করে আমি দীর্ঘসূত্রিতা করব না।)
(হে সত্যনিষ্ঠ আকীদা অন্বেষণকারী, যা সকল ত্রুটিমুক্ত, স্বচ্ছ এবং সুপেয় ঝরনার মতো।)
(সত্য আকীদা গ্রহণ করুন এই পনেরোটি কাব্যছন্দের মাধ্যমে, যা আপনার দীর্ঘ অধ্যয়নের বিকল্প হিসেবে স্মরণে রাখার উপযোগী হবে।)
(মহান আল্লাহ অংশীদার, পিতা, সন্তান, স্ত্রী এবং যে কোনো সদৃশ গুণের ঊর্ধ্বে ও পবিত্র।)
(তিনি শ্রবণকারী, দর্শনকারী, সর্বজ্ঞ এবং কথা বলেন; তিনি ইচ্ছাশক্তিসম্পন্ন এবং ওহীর উৎস, এই সকল গুণাবলী তাঁরই।)
(তাঁর সুমহান কুদরত ও প্রজ্ঞার পূর্ণতায়, তিনি যখনই 'হও' বলেন, তখনই সমস্ত সৃষ্টিজগত তাঁর সার্বভৌমত্বে অস্তিত্বশীল হয়।)
(তিনি তাঁর সৌন্দর্য, মহিমা ও গাম্ভীর্যের দ্বারা সমুন্নত; এবং শ্রেষ্ঠত্ব ও পূর্ণতার মুকুটে বিভূষিত।)
(তাঁর সুউচ্চ গুণাবলী ও মহান মর্যাদা সৃষ্টিজগতের বুদ্ধিবৃত্তিক অনুধাবনের অতীত।)
(তাঁর সত্তার ক্ষেত্রে 'কেমন' বা 'কোথায়' বলা থেকে বিরত থাকুন; এবং অবতীর্ণ কালামের (কুরআন) ক্ষেত্রে সৃষ্টি হওয়া বা কেবল অক্ষরের সীমাবদ্ধতাকে অস্বীকার করুন।)
(আল্লাহর ওপর কোনো কিছু আবশ্যক নয় এবং তাঁর ওপর কোনো বিচারকও নেই; বিচারক হলো শরীয়ত, কেবল বুদ্ধি নয়; এই কথাটি বুঝুন এবং হৃদয়ে গেঁথে নিন।)
(তাকদীর, পরকালে আল্লাহর দিদার, শাফায়াত, হাউজে কাওসার এবং কবরের আযাব ও পরীক্ষার ওপর বিশ্বাস রাখুন।)
(পুনরুত্থান, মিযান (আমল মাপার পাল্লা), জাহান্নাম ও জান্নাতের ওপর বিশ্বাস রাখুন—যা ইতোমধ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে—এবং পুলসিরাত ও ওলীগণের ওপর বিশ্বাস রাখুন।)
(ওলীগণের কারামত মহান সত্য। সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল যে শ্রেষ্ঠ শরীয়ত নিয়ে এসেছেন, তা পূর্ববর্তী সকল শরীয়তকে রহিত করে দিয়েছে।)
(সুতরাং সকল সাহাবীর প্রতি ঈমান রাখুন, তাঁদের অনুগত হোন, তাঁদের সম্মান করুন এবং সেই মহৎ ব্যক্তিবর্গের ন্যায় আমল করুন।)
(সেই মহান ব্যক্তিবর্গের (সাহাবী ও সালাফ) প্রতি অগ্রসর হোন, তাঁদের বাণী গ্রহণ করুন এবং তাঁদের সামনে বিনয়ের সাথে মস্তক অবনত করুন।)
(মর্যাদার ক্রম অনুযায়ী আবুবকরকে (রা.) সর্বাগ্রে স্থান দিন; আর চতুর্থ স্থানে সেই সিংহতুল্য উচ্চ মর্যাদাবান আলী (রা.)-কে রাখুন।)
(তাঁরা যেমন তাঁদের অগ্রগণ্য করেছেন, তাঁরাই হেদায়েতের নক্ষত্র; সুতরাং তাঁদের প্রদর্শিত পথ থেকে বিচ্যুত হবেন না, তবেই আপনি সঠিক পথে থাকবেন।)
(খণ্ড: ১)
মারহামুল ইলালিল মুদিলাতি ফির রাদ্দি আলা আইম্মাতিল মুতাযিলাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
(وتخليد نَار خصّه كَافِرًا وَلَا
… بِكفْر لأهل الْقبْلَة افهمه وَاقْبَلْ)
(تباهت وفيهَا قد بدا لي توقف
… تَأَخّر كتبي بعد حزمي بِأول)
(مجانبة التَّفْضِيل فِي الآخرين أَو
… لثان أرى فِي الْفضل رابعهم يَلِي)
(وَفِي ذَا اخْتِلَاف عَن ظنون تَعَارَضَت
… وَدون جمال الْعلم إرخاء مُسبل)
(وَقد قَالَ منا قَائِلُونَ بِكُل مَا
… توقفت عَن حرم الأيمة مَا خلي)
(وَقد وقف الْفَارُوق فِي فضل سِتَّة
… وَذَاكَ الَّذِي الْقُرْآن فِي وَفقه تلِي)
(وَمَعَ ذَا فترتيب الملا فِي خِلَافه
… لذاك وُجُوه غَيرهَا فِي الْمفصل)
(وقلبي بِحَمْد الله فِي حب كلهم
… وَعلم بِمَا جا فِي على الْكل ممتلي)
(وَمن بعد ذَا أوصيك بِالْخَيرِ والتقى
… وَترك التواني والورى دع وَاقْبَلْ)
(وَلَا تَكُ مثلي عَاجِزا مُتَخَلِّفًا
… عَن الْخَيْر وَالدّين النَّصِيحَة فاقبل)
(وَقد صَحَّ أَن الْمَرْء مَعَ من أحبه
… فاحبب لأَصْحَاب الْهدى والتبتل)
(ولازم وداوم قرع بَاب مؤملا
… فَمَا خيب الْمولى رَجَاء مُؤَمل)
(ولليافعي بِاللَّه فَادع برحمة
… ونيل المنى فِي عَاجل ومؤجل)
(فَمَا هِيَ ثنت لَا عَن كلال عنانها
… وَمَعَ مائَة سَبْعُونَ زاهرة الْحلِيّ)
(بهَا وَاحِد ياقوتة مستعارة
… مضمنة فِي عقد در مفصل)
(وَكم عِنْد هَذَا تستعر من أجانب
… فَمَا ران من حلي الْأَجَانِب يحتلي)
(تحلت بِعقد من لآلي عقيدة
… يضيء الْهدى فِي وَجههَا المتهلل)
(إِذا ابتسمت فِي اللَّيْل عَن درسنة
… رَأَيْت دياجي الابتداعات تنجلي)
(وتمت بِحَمْد الله أزكى صلَاته
… على الْمُصْطَفى فاحت بمسك ومندل)
قلت وَقد رَأَيْت أَن أنبه على شَيْء فِي هَذِه القصيدة وَهُوَ قولي فِي تَفْسِير أحد كسوفي الْمَذْهَب الْمَذْكُور هما جِهَة مَا بَين شمس وَبَينهَا تحول أَعنِي حَالَتْ الْجِهَة العلوية بَين الْقَائِلين بهَا من الأقمار الأرضية وَبَين شمس الحضرة القدسية فخسفت كَمَا فِي حيلولة الأَرْض بَين الشَّمْس وَالْقَمَر المذهبة لنُور طلعته البهية على قَول من قَالَ أَن الأفلاك كروية على وَجه الِاسْتِعَارَة على تَقْدِير صِحَة قَول الفلكية
مَعَ أَنِّي قد استدللت على بطلَان قَوْلهم هَذَا بِعشْرَة أَدِلَّة عقلية ونقلية
(জাহান্নামের চিরস্থায়ী আবাস কেবল কাফিরদের জন্যই নির্দিষ্ট; কিবলা অনুসারীদের (মুসলিমদের)
… কুফরীর অভিযোগে অভিযুক্ত করো না, এটি উপলব্ধি করো এবং গ্রহণ করো।)
(এটি মহিমান্বিত হয়েছে, তবে এতে আমার মাঝে কিছুটা দ্বিধা পরিলক্ষিত হয়েছে
… দৃঢ় সংকল্পের পর আমার লেখনী বিলম্বিত হয়েছে।)
(পরবর্তীগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব নির্ণয় পরিহার করা, অথবা
… দ্বিতীয়জনের বিষয়ে আমি মনে করি শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে চতুর্থজন তাঁর অনুগামী।)
(আর এই বিষয়ে পরস্পরবিরোধী ধারণার কারণে মতভেদ রয়েছে
… এবং জ্ঞানের সৌন্দর্যের সামনে একটি প্রলম্বিত পর্দা ঝুলে আছে।)
(আমাদের মধ্যকার বক্তাগণ সে সব কিছুই বলেছেন
… আমি আজীবন ইমামগণের মর্যাদার বিষয়ে দ্বিধান্বিত ছিলাম।)
(ফারুক (রা.) ছয়জনের শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়ে থেমে গিয়েছিলেন
… আর সেটিই যার সাথে সামঞ্জস্য রেখে কুরআন অবতীর্ণ ও পাঠ করা হয়েছিল।)
(তা সত্ত্বেও, তাঁর খিলাফতের ধারাবাহিকতা রক্ষায় সমবেতগণের মাঝে
… বিস্তারিত বর্ণনায় এর অন্যান্য দিকও বিদ্যমান রয়েছে।)
(আল্লাহর প্রশংসা যে, আমার অন্তর তাঁদের সকলের ভালোবাসায়
… এবং তাঁদের প্রত্যেকের ব্যাপারে যা বর্ণিত হয়েছে সেই জ্ঞানে পরিপূর্ণ।)
(এরপর আমি তোমাকে কল্যাণ ও তাকওয়ার অসিয়ত করছি
… অলসতা বর্জন করো, সৃষ্টিজগতকে উপেক্ষা করো এবং সত্য গ্রহণ করো।)
(আমার মতো অক্ষম ও কল্যাণের পথে পশ্চাৎপদ হয়ো না
… দ্বীন হলো সদুপদেশ, সুতরাং তা গ্রহণ করো।)
(এটি বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত যে, মানুষ তারই সঙ্গী হবে যাকে সে ভালোবাসে
… অতএব হিদায়াত ও একনিষ্ঠ ইবাদতগুজারদের ভালোবাসো।)
(আশাবাদী হয়ে নিরন্তর আল্লাহর দুয়ারে করাঘাত করতে থাকো
… কেননা প্রতিপালক কোনো আশাবাদীর প্রত্যাশাকে ব্যর্থ করেন না।)
(আর আল্লাহর ওয়াস্তে ইয়াফিয়ীর জন্য রহমত কামনা করো
… এবং ইহকাল ও পরকালে মকসুদ হাসিলের দোয়া করো।)
(এটি কেবল দুটি শ্লোক নয় এবং এর গতির কোনো ক্লান্তিও নেই
… বরং এটি একশত সত্তরটি উজ্জ্বল অলঙ্কারে বিভূষিত।)
(এর মাঝে একটি ধার করা ইয়াকুত পাথর রয়েছে
… যা একটি সুবিন্যস্ত মুক্তার হারের মাঝে গেঁথে দেওয়া হয়েছে।)
(এখানে অন্যদের থেকে কত কিছুই না ধার করা হয়েছে
… তবে অন্যের অলঙ্কার দ্বারা কেউ প্রকৃত শোভাবর্ধন করে না।)
(এটি আকিদাহ বা বিশ্বাসের মুক্তামালায় সুশোভিত হয়েছে
… যার প্রফুল্ল চেহারায় হিদায়াতের নূর বিচ্ছুরিত হচ্ছে।)
(রাতের আঁধারে যখন এটি সুন্নাহর পাঠে স্মিতহাস্য দেয়
… তখন তুমি বিদআতের ঘোর অন্ধকার দূরীভূত হতে দেখবে।)
(আল্লাহর প্রশংসার সাথে এটি সমাপ্ত হলো এবং মুস্তফা (সা.)-এর প্রতি বর্ষিত হোক পবিত্রতম সালাত
… যা মিশক ও চন্দনের সুবাসে সুরভিত।)
আমি বলছি, আমি এই কবিতায় একটি বিষয়ে সতর্ক করা সমীচীন মনে করছি; আর তা হলো উল্লিখিত মতবাদের অন্যতম ‘গ্রহণে’র (eclipse) ব্যাখ্যায় আমার বক্তব্য। তা হলো সূর্য এবং এর মধ্যবর্তী অন্তরালের দিক। আমার উদ্দেশ্য হলো, ঊর্ধ্বজগত সেই পার্থিব চন্দ্রসমূহের (যাঁরা এর প্রবক্তা) এবং পবিত্র ঐশী সান্নিধ্যের সূর্যের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে তাতে গ্রহণ লেগেছে, ঠিক যেমন সূর্য ও চন্দ্রের মাঝে পৃথিবীর অন্তরায় হওয়া চন্দ্রের উজ্জ্বল জ্যোাতিকে বিলীন করে দেয়। এটি সেই মতানুসারে যারা মহাকাশীয় কক্ষপথসমূহকে গোলাকার বলে থাকে, যা আমি রূপক অর্থে ব্যবহার করেছি জ্যোতির্বিদদের বক্তব্য সঠিক হওয়ার অনুমিতিতে।
যদিও আমি তাদের এই বক্তব্যের অসারতা দশটি যৌক্তিক ও তাত্ত্বিক প্রমাণের মাধ্যমে সপ্রমাণ করেছি।
(খণ্ড: ১)
মারহামুল ইলালিল মুদিলাতি ফির রাদ্দি আলা আইম্মাতিল মুতাযিলাহ
(পৃষ্ঠা: ৪০)
فِي كتاب سراج التَّوْحِيد وَاضِحَة جلية وتكفي فِي الدّلَالَة على ذَلِك قَوْله تَعَالَى {إِذا بلغ مغرب الشَّمْس وجدهَا تغرب فِي عين حمئة} وَذَلِكَ من أقوى الْأَدِلَّة القطعية إِذْ أخبر ببلوغ ذِي القرنين مغْرِبهَا ووجوده لَهَا تغرب فِي تِلْكَ الْعين وجدانا لَا فِي رَأْي الْعين مَعَ تَأْكِيد ذَلِك بِوَصْف الْعين الْمَذْكُورَة إِذْ هِيَ مَوْصُوفَة فِي الْكتاب الممجد بالحمأة الَّتِي هِيَ الطين الْأسود فَمن قَالَ أَنَّهَا لَا تزَال تَدور وَلَيْسَ لَهَا مغرب فَهُوَ بِظَاهِر كَلَام الله عز وجل مكذب
وَكَذَلِكَ قولي وزفته أَمْلَاك السَّمَاء بعد مَوته إِلَى آخر الأبيات الْخَمْسَة أَشرت بذلك إِلَى مَا اشْتهر وَثَبت بِالْإِسْنَادِ فِي سيرة الشَّيْخ الْكَبِير الْعَارِف بِاللَّه أبي الْعَبَّاس الصياد قدس الله روحه
'সিরাজুত তাওহিদ' গ্রন্থে বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও উজ্জ্বল এবং এ বিষয়ে মহান আল্লাহর এই বাণীটিই প্রমাণের জন্য যথেষ্ট: "যখন সে সূর্যের অস্তাচলে পৌঁছাল, তখন সে সূর্যকে এক কর্দমাক্ত জলাশয়ে অস্ত যেতে দেখল।" এটি অন্যতম শক্তিশালী অকাট্য দলিল; কেননা এতে যুল-কারনাইনের সূর্যের অস্তস্থলে পৌঁছানোর সংবাদ দেওয়া হয়েছে এবং সেই জলাশয়ে তাঁর সূর্যকে অস্ত যেতে দেখার বিষয়টি বাস্তব উপলব্ধি হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, নিছক দৃষ্টিবিভ্রম হিসেবে নয়। এর সাথে উক্ত জলাশয়ের বর্ণনার মাধ্যমে বিষয়টি আরও সুনিশ্চিত করা হয়েছে; যেহেতু সেই মহিমান্বিত কিতাবে জলাশয়টিকে 'হামিআহ' বা কৃষ্ণবর্ণের কাদা দ্বারা বিশেষিত করা হয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি দাবি করে যে, সূর্য সর্বদা কেবল আবর্তনই করতে থাকে এবং এর কোনো নির্দিষ্ট অস্তাচল নেই, সে মহান আল্লাহর বাণীর প্রকাশ্য অর্থের অস্বীকারকারী।
অনুরূপভাবে আমার উক্তি—"তাঁর মৃত্যুর পর আসমানের ফেরেশতারা তাঁকে সমাদরে নিয়ে গেলেন"—এই মর্মে পরবর্তী পাঁচটি চরণ পর্যন্ত আমি সেই প্রসিদ্ধ বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছি, যা আল্লাহর পরিচয় লাভকারী মহান শায়খ আবু আব্বাস আস-সাইয়্যাদ (আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন)-এর জীবনচরিতে নির্ভরযোগ্য সনদের মাধ্যমে সুপ্রসিদ্ধ ও প্রমাণিত।
(খণ্ড: ১)
মারহামুল ইলালিল মুদিলাতি ফির রাদ্দি আলা আইম্মাতিল মুতাযিলাহ
(পৃষ্ঠা: ৪১)
منزلَة الْغَزالِيّ رضي الله عنه ومختصر ذَلِك أَنه قَالَ رضي الله عنه بَينا أَنا ذَات يَوْم قَاعد وَأَنا انْظُر إِلَى أَبْوَاب السَّمَاء وَهِي مفتحة إِذْ نزلت عصبَة من الْمَلَائِكَة وَمَعَهُمْ خلع خضر ودابة من الدَّوَابّ فوقفوا على رَأس قبر من الْقُبُور وأخرجوا شخصا من قَبره وألبسوه الْخلْع وأركبوه على الدَّابَّة فَصَعِدُوا بِهِ إِلَى السَّمَاء ثمَّ ذكر أَنهم لم يزَالُوا يصعدون بِهِ من سَمَاء إِلَى سَمَاء حَتَّى جَاوز السَّمَاوَات السَّبع وخرق بعْدهَا سبعين حِجَابا فَأحب أَن يعرف من هُوَ ذَلِك الشَّخْص فَقيل لَهُ هَذَا الْغَزالِيّ رضي الله عنه قَالَ وَلَا علم لي أَيْن بلغ انتهاؤه
قلت وَأما مَا أَشرت إِلَيْهِ من مباهاة النَّبِي صلى الله عليه وسلم للْمُنكر عَلَيْهِ فَسَيَأْتِي ذكره إِن شَاءَ الله تَعَالَى
قلت وَفِي استحسانه صلى الله عليه وسلم لإحياء عُلُوم الدّين دَلِيل وَاضح على كَون مَا تضمنه من أَن عقيدة الأشعرية حق وَكَذَا مَا اشْتَمَل عَلَيْهِ من طَرِيق الصُّوفِيَّة وعلومهم وأحوالهم وكراماتهم وَالله أعلم
قلت أَيْضا فِي مَذْهَبنَا هَذِه الأبيات
(لنا حصن عز من علا مجد مَذْهَب
… بِأَعْلَى سما مجد المفاخر شامخ)
(قَوَاعِده الغرا كتاب وَسنة
… وعقل وَإِجْمَاع أصُول رواسخ)
ইমাম গাজ্জালী (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর মর্যাদা এর সংক্ষিপ্ত সারমর্ম এই যে, তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন: একদা আমি উপবিষ্ট ছিলাম এবং আকাশের উন্মুক্ত দ্বারসমূহের পানে দৃষ্টিপাত করছিলাম। এমতাবস্থায় একদল ফেরেশতা অবতীর্ণ হলেন, যাঁদের নিকট সবুজ বর্ণের সম্মানসূচক পরিচ্ছদ এবং একটি বাহন ছিল। তাঁরা একটি কবরের পার্শ্বে দণ্ডায়মান হলেন এবং সেখান থেকে একজন ব্যক্তিকে বের করে আনলেন। অতঃপর তাঁরা তাঁকে সেই পরিচ্ছদ পরিধান করালেন এবং বাহনে আরোহণ করিয়ে আকাশের দিকে নিয়ে গেলেন। বর্ণনাকারী উল্লেখ করেছেন যে, তাঁরা তাঁকে নিয়ে এক আকাশ থেকে অন্য আকাশে আরোহণ করতে থাকলেন, এমনকি তাঁরা সপ্তাকাশ অতিক্রম করলেন এবং এরপর সত্তরটি পর্দা ভেদ করলেন। তিনি (বর্ণনাকারী) সেই ব্যক্তিটি কে তা জানতে চাইলেন, তখন তাঁকে বলা হলো— ইনি গাজ্জালী (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)। তিনি বলেন, তাঁর সেই আরোহণের চূড়ান্ত গন্তব্য কোথায় ছিল, সে বিষয়ে আমার কোনো জ্ঞান নেই।
আমি বলছি, যারা তাঁর (ইমাম গাজ্জালীর) প্রতি অস্বীকৃতি জানায়, তাদের মোকাবিলায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর গর্ব করার যে প্রসঙ্গের দিকে আমি ইঙ্গিত করেছি, আল্লাহ চাহেন তো অচিরেই তা বর্ণিত হবে।
আমি আরও বলছি, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক 'ইহয়াউ উলুমিদ্দীন' গ্রন্থটিকে উত্তম হিসেবে গ্রহণ করার মাঝে এই বিষয়ের সুস্পষ্ট প্রমাণ বিদ্যমান যে, উক্ত গ্রন্থে বর্ণিত আশআরি আকিদা সত্য; তদ্রূপ এতে সুফিগণের তরীকা, তাঁদের জ্ঞান, আধ্যাত্মিক অবস্থা ও কারামত সম্পর্কে যা কিছু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তাও সত্য। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
আমাদের মাযহাব সম্পর্কে আমি এই পঙক্তিগুলোও বলছি:
(আমাদের জন্য রয়েছে উচ্চ মর্যাদাপূর্ণ মাযহাবের এক সুদৃঢ় ও গৌরবময় দুর্গ
… যা শ্রেষ্ঠত্বের সুউচ্চ আকাশে সমুন্নত।)
(এর উজ্জ্বল ভিত্তি হলো পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ
… এবং বিবেক ও ইজমা—যা অত্যন্ত সুদৃঢ় মূলনীতি।)
(খণ্ড: ১)
মারহামুল ইলালিল মুদিলাতি ফির রাদ্দি আলা আইম্মাতিল মুতাযিলাহ
(পৃষ্ঠা: ৪২)
(إِذا مَا رمى من منجنيق اعتزالهم
… بجلمود عقل للتجادل دائخ)
(فَلَا لَاحق فَزعًا وَلَا بمزعزع
… لأصل وَلَا بَعْضًا عَن الْبَعْض فاسخ)
(حكم شرع دون عقل خلاف من
… بعقل عَن الشَّرْع الْأَحَادِيث سالخ)
(وَقد جَاءَ لَا تَعْذِيب من قبل بَعثه
… بشرع لمجموع الشَّرَائِع نَاسخ)
(وَلَا نَاسخ يلغي لمحكم حِكْمَة
… إِلَى حِين إسْرَافيل فِي الصُّور نافخ)
اقتراح السَّائِل بِالْجَوَابِ والإعراض عَنهُ قلت فَلَمَّا أرسل السَّائِل بالسؤال الْمَذْكُور إِلَيّ واقترح جَوَابه عَليّ لم ينشرح صَدْرِي للجواب فِي الْحَال بل مَال إِلَى الْإِعْرَاض عَنهُ والإهمال لكَون الْهوى على الْقُلُوب قد استحكم وَاتِّبَاع الْبَاطِل قد أعمى وأصم فَلَا يكون الْمُبْطل يتبعهُ بل يَدْفَعهُ بالجدال والمراء
ثمَّ انْشَرَحَ صَدْرِي بعد مُدَّة لهَذَا الْجَواب وَرَأَيْت أَنِّي إِن سلكت فِيهِ مَسْلَك الْبسط والإطناب احتجت فِي ذَلِك إِلَى تصنيف كتب لَا كتاب أبين فِيهَا قواعدنا وَمَا أشكل من كَلَام الْأَصْحَاب واستوعب مسَائِل الْأُصُول وأدلتها فِي الْمَعْقُول وَالْمَنْقُول فِي سَائِر الْأَبْوَاب
مَعَ كوني قد التزمت فِيمَا مضى ترك التصنيف وسد هَذَا الْبَاب فاقتصرت على شَيْء من الْبسط فِي الْكَلَام بِعِبَارَة وَاضِحَة غير نائية عَن الأفهام
وَلَوْلَا وجود بعض الْأَعْذَار لبلغت جهدي فِي رد إِيرَاد وابطال اعْتِرَاض وَبَيَان قَوَاعِد وكشف الْخمار عَن جمال عقيدة أهل السّنة الَّتِي هِيَ أجمل العقائد ومحاسن مَعَاني مَا أشكل على السَّائِل وأمامه من أَلْفَاظ حجَّة الْإِسْلَام أبي حَامِد وَسَائِر كَلَامه الْمُشْتَمل على بداعة الْمعَانِي وملاحة التَّرْتِيب وعجائب الْأَمْثِلَة وغرائب الْفَوَائِد الَّتِي من كشفت لَهُ الْعِنَايَة عَن جمَالهَا فَنظر بِعَين التَّوْفِيق لمحاسنها السّنيَّة سلبت عقله وهام فِي هَواهَا وَصَارَ من عصابتها السّنيَّة
وَفِي هَذَا الْمَعْنى الْمَذْكُور أنْشد وَأَقُول
(যখন তারা তাদের মুতাজিলা মতবাদের মিনজানিক থেকে
… বিতর্কে বিভ্রান্ত যুক্তির শিলাখণ্ড নিক্ষেপ করে)
(তখন তা না ভীতির কারণে পিছু হটে, না এর কোনো মূল বিচলিত হয়
… আর না এর এক অংশ অপর অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়)
(শরীয়তের বিধান নিছক বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তার মুখাপেক্ষী নয়, তাদের বিপরীত যারা
… নিজ বুদ্ধির জোরে শরীয়ত থেকে হাদীসসমূহকে বিচ্যুত করে দেয়)
(নিশ্চয়ই বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূল প্রেরণের পূর্বে এবং সকল শরীয়তকে রহিতকারী
… বিধান আসার আগে কোনো আজাব নেই)
(আর এমন কোনো রহিতকারী নেই যা হিকমতপূর্ণ অকাট্য বিধানকে বাতিল করবে
… যতক্ষণ না ইসরাফিল শিঙায় ফুৎকার দেবেন)
প্রশ্নকর্তার উত্তরের আবেদন এবং তা থেকে বিমুখতা আমি বললাম, যখন প্রশ্নকারী উল্লিখিত প্রশ্নটি আমার নিকট পাঠালেন এবং এর উত্তর প্রদানের প্রস্তাব করলেন, তখন তাৎক্ষণিকভাবে উত্তর দেওয়ার জন্য আমার অন্তর প্রস্তুত ছিল না; বরং তা উপেক্ষা ও অবহেলার দিকেই ঝুঁকে ছিল। কারণ প্রবৃত্তির চাহিদা হৃদয়ে বদ্ধমূল হয়ে আছে এবং অসত্যের অনুসরণ মানুষকে অন্ধ ও বধির করে দিয়েছে; ফলে বাতিলপন্থী ব্যক্তি সত্যের অনুসরণ করে না, বরং বিতর্ক ও ঝগড়ার মাধ্যমে তা প্রতিহত করে।
অতঃপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর এই উত্তরের জন্য আমার চিত্ত প্রশস্ত হলো। আমি অনুধাবন করলাম যে, আমি যদি এতে সবিস্তার বর্ণনার পথ অবলম্বন করি, তবে তার জন্য একটি গ্রন্থের পরিবর্তে বহু গ্রন্থ রচনার প্রয়োজন পড়বে; যাতে আমি আমাদের মাযহাবের মূলনীতিসমূহ এবং ইমামগণের যে সকল বক্তব্য অস্পষ্ট মনে হয় তা ব্যাখ্যা করতে পারি এবং যাবতীয় অধ্যায়ে যৌক্তিক ও শ্রুতিনির্ভর দলিলাদিসহ মূলনীতিগত মাসআলাসমূহ পূর্ণাঙ্গভাবে তুলে ধরতে পারি।
যদিও ইতিপূর্বে আমি গ্রন্থ রচনা পরিত্যাগ করার এবং এই পথ রুদ্ধ রাখার সংকল্প করেছিলাম, তত্রাপি আমি বোধগম্য ও প্রাঞ্জল ভাষায় কিছুটা বিস্তারিত আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলাম।
যদি কিছু প্রতিবন্ধকতা না থাকত, তবে আমি আপত্তির খণ্ডন, বিরোধিতার অসারতা প্রতিপাদন, মূলনীতিসমূহের ব্যাখ্যা এবং আহলে সুন্নাতের আকীদার সৌন্দর্যের আবরণ উন্মোচনে আমার সর্বোচ্চ শ্রম ব্যয় করতাম; যা মূলত সর্বোৎকৃষ্ট আকীদা। সেইসাথে প্রশ্নকারী এবং তার সম্মুখে থাকা ব্যক্তিদের নিকট হুজ্জাতুল ইসলাম আবু হামিদের যে সকল শব্দ ও বক্তব্য দুরূহ ঠেকেছে, সেগুলোর গূঢ় রহস্য উন্মোচন করতাম। তাঁর সেই সকল কালাম অপূর্ব ভাবধারা, চমৎকার বিন্যাস, বিস্ময়কর দৃষ্টান্ত এবং বিরল তথ্যাদিতে পরিপূর্ণ। ঐশ্বরিক অনুগ্রহ যার কাছে এই সৌন্দর্য উন্মোচিত করে এবং যে তাওফীকের দৃষ্টিতে এর মহিমান্বিত সৌন্দর্যের প্রতি দৃষ্টিপাত করে, তা তার বুদ্ধিকে হরণ করে নেয় এবং সে এর প্রেমে বিভোর হয়ে এই মহান জামাআতের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।
এই অর্থেই আমি আবৃত্তি করছি এবং বলছি:
(খণ্ড: ১)
মারহামুল ইলালিল মুদিলাতি ফির রাদ্দি আলা আইম্মাতিল মুতাযিলাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
مدح عقيدة أهل السّنة (لنا سنة حسنا سنى جمَالهَا
… على غير سنى مصون مخدر)
(فَإِن كشفت ريح الْعِنَايَة خدرها
… فأبصرها من لم لَهَا قطّ يبصر)
(سبت عقله الزاكي بزاهي جمَالهَا
… فهام بهَا من كَانَ عَنْهَا ينفر)
(وجا منهجا من نورها ناهجا بِهِ
… عصابتها تعلو وتزهو وتفخر)
(أَبُو حَامِد مِنْهُم وَكم من ملاحة
… لَهَا حجَّة الْإِسْلَام عَنْهَا تخبر)
(إِمَام الْهدى بَحر الْعُلُوم وَكَاشف
… لأستار أسرار الْعُلُوم الْمنور)
(فكم من ستور كاشفا عَن محَاسِن
… فلاح در أَلْفَاظ على تِلْكَ ينثر)
(فأضحت مليحات الْمعَانِي ضواحكا
… كَمَا بمليح عَن مليح تعبر)
(وَمن كامن قد باهى سيد الورى
… لمُوسَى وَعِيسَى فَهُوَ نعم الْمعبر)
(وَنعم طَرِيق سَارهَا عَن بَصِيرَة
… وَنور وتوفيق بهَا هُوَ أخبر)
(أعندكم حبر كَهَذا فَقيل لَا
… وناهيك ذَا مجد على الدَّهْر مفخر)
(عَن الْمُصْطَفى صلى عَلَيْهِ الهنا
… بذا الشاذلي بَحر الْحَقَائِق مخبر)
(مناما رَآهُ عَنهُ يرويهِ عَالِيا
… لنا كَابر عَن كَابر هُوَ أكبر)
(يحِق لنا أَن قد سلكنا طَريقَة
… بهَا سَار يرضاها النذير المبشر)
(لَهَا الْمُصْطَفى مستحسن ومعاقب
… لمنكرها جلدا مدى الدَّهْر نشكر)
(بذا صَحَّ إسنادي عَن ابْن حرازم
… فَقِيه بِلَاد الْعَرَب إِذْ كَانَ يذكر)
مدح كتاب إحْيَاء عُلُوم الدّين قلت قد أوضحت مَا أَشرت إِلَيْهِ فِي هذَيْن الْبَيْتَيْنِ الْأَخيرينِ فِي كتاب كِفَايَة المعتقد ونكاية المنتقد فِي فصل سلوك الطَّرِيقَة وَالْجمع بَين الشَّرِيعَة والحقيقة ومختصر ذَلِك أَن الشَّيْخ الإِمَام أَبَا الْحسن بن حرزهم بِكَسْر الْحَاء الْمُهْملَة وَسُكُون الرَّاء وَبعدهَا زَاي الْمَشْهُور بِابْن حرازم رضي الله عنه رأى لَيْلَة جُمُعَة فِي الْمَنَام كَأَنَّهُ دَاخل من بَاب الْجَامِع الَّذِي عَادَته يدْخل مِنْهُ
আহলে সুন্নাহর আকিদার প্রশংসা (আমাদের রয়েছে এক সুন্দর আদর্শ যার জ্যোতির্ময় সৌন্দর্য উজ্জ্বল
… অন্যান্যদের তুলনায় এটি সংরক্ষিত ও অবগুণ্ঠিত)
(যদি খোদায়ী অনুগ্রহের বাতাস তার পর্দা উন্মোচন করে দেয়
… তবে যার চোখ কখনও দেখেনি সেও তা প্রত্যক্ষ করবে)
(তার প্রদীপ্ত সৌন্দর্য তার পবিত্র বুদ্ধিকে মোহিত করেছে
… ফলে যে তা থেকে বিমুখ ছিল সেও তার প্রেমে মত্ত হয়েছে)
(তিনি তার নূর থেকে একটি কর্মপদ্ধতি নিয়ে এসেছেন যার ওপর তিনি চলেন
… তার দল শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে, প্রস্ফুটিত হয় এবং গর্বিত হয়)
(আবু হামিদ তাদেরই একজন, আর কতই না মাধুর্য
… যা সম্পর্কে হুজ্জাতুল ইসলাম আমাদের অবহিত করেন)
(হিদায়াতের ইমাম, ইলমের সমুদ্র এবং উন্মোচনকারী
… জ্ঞানের রহস্যময় নূরানী পর্দাগুলোর)
(সৌন্দর্যের ওপর থেকে তিনি কতই না আবরণ উন্মোচন করেছেন
… ফলে তার ওপর মুক্তার মতো শব্দমালা বর্ষিত হয়েছে)
(এতে অর্থসমূহের মাধুর্য হাস্যোজ্জ্বল হয়ে উঠেছে
… যেমন এক সুন্দর বস্তু অন্য সুন্দরের মাধ্যমে প্রকাশ পায়)
(নিভৃতচারীদের মধ্যে থেকে তিনি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতমের সামনে গর্বিত হয়েছেন
… মুসা ও ঈসা (আ.)-এর কাছে, আর তিনি কতই না উত্তম বর্ণনাকারী)
(আর কতই না উত্তম পথ যা তিনি অন্তর্দৃষ্টির সাথে পাড়ি দিয়েছেন
… নূর ও তাওফীকের সাথে, যা সম্পর্কে তিনি আমাদের জানিয়েছেন)
(তোমাদের কাছে কি এমন কোনো প্রাজ্ঞ আলিম আছে? বলা হলো, “না”
… আর তোমার জন্য এই মর্যাদা ও গৌরবই মহাকালের পাতায় যথেষ্ট)
(আমাদের ইলাহ যার ওপর দরূদ পাঠিয়েছেন সেই মুস্তফা (সা.) থেকে
… হাকীকতের সমুদ্র এই শাযিলী তা বর্ণনা করছেন)
(একটি স্বপ্নের মাধ্যমে তিনি তা দেখেছেন এবং উচ্চতর সনদে বর্ণনা করছেন
… আমাদের নিকট বড়দের থেকে বড়রা তা বর্ণনা করেছেন)
(এটি আমাদের জন্য যথাযথ যে আমরা এমন এক পথে চলেছি
… যা সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী নবী পছন্দ করেছেন)
(আল-মুস্তফা এটি পছন্দ করেছেন এবং তার জন্য শাস্তির বিধান দিয়েছেন
… যে এটি অস্বীকার করবে তার জন্য, এর জন্য আমরা চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকব)
(ইবনে হারাজাম থেকে এভাবেই আমার সনদ বিশুদ্ধ হয়েছে
… আরব ভূখণ্ডের ফকীহ যখনই তাঁর কথা স্মরণে আসে)
ইহইয়াউ উলূমিদ্দীন কিতাবের প্রশংসা আমি বলি: এই শেষোক্ত দুই চরণে আমি যা ইশারা করেছি, তা ‘কিফায়াতুল মু’তাকিদ ওয়া নিকায়াতুল মুনতাকিদ’ নামক কিতাবে ‘তরীকতের পথে চলা এবং শরীয়ত ও হাকীকতের সমন্বয়’ পরিচ্ছেদে বিস্তারিত বর্ণনা করেছি। এর সারসংক্ষেপ হলো: শায়খ ইমাম আবুল হাসান বিন হিরজিহিম (হা বর্ণে কাসরা, রা বর্ণে সুকুন এবং এরপর যা বর্ণ, যিনি ইবনে হারাজাম নামেই সমধিক পরিচিত), আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন, এক জুমুআর রাতে স্বপ্নে দেখলেন যে তিনি জামে মসজিদের সেই দরজা দিয়ে প্রবেশ করছেন যা দিয়ে তিনি সচরাচর প্রবেশ করে থাকেন।
(খণ্ড: ১)
মারহামুল ইলালিল মুদিলাতি ফির রাদ্দি আলা আইম্মাতিল মুতাযিলাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
وَإِذا بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأبي بكر وَعمر رضي الله عنهما جُلُوس فِي مَكَان من الْجَامِع والنور على ذَلِك الْمَكَان سَاطِع وَكَانَ قد بَالغ فِي الْإِنْكَار على كتاب الْإِحْيَاء وَأمر بِجمع نسخه وعزم على إحراقها يَوْم الْجُمُعَة الْمَذْكُور لكَونه بِزَعْمِهِ خلاف السّنة وَإِذا بِالْإِمَامِ أبي حَامِد الْغَزالِيّ رضي الله عنه قَائِم تجاه النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُول الله هَذَا خصمي فَإِن كَانَ الْأَمر كَمَا زعم تبت إِلَى الله تَعَالَى وَإِن كَانَ شَيْئا تستحسنه يَا رَسُول الله حصل لي من بركتك فَخذ لي حَقي من خصمي ثمَّ جثا على رُكْبَتَيْهِ وَصَارَ يزحف عَلَيْهِمَا إِلَى أَن وصل إِلَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَنَاوَلَهُ كتاب الْإِحْيَاء وَقَالَ انْظُر فِيهِ يَا رَسُول الله فَنظر فِيهِ صلى الله عليه وسلم ورقة ورقة إِلَى آخِره ثمَّ قَالَ (وَالله إِن هَذَا شَيْء حسن) ثمَّ نَاوَلَهُ أَبَا بكر فَنظر فِيهِ كَذَلِك ثمَّ قَالَ نعم وَالَّذِي بَعثك بِالْحَقِّ يَا رَسُول الله أَنه لحسن ثمَّ نَاوَلَهُ عمر فَنظر فِيهِ كَذَلِك ثمَّ قَالَ كَمَا قَالَ أَبُو بكر
فَأمر صلى الله عليه وسلم بتجريد الْمُنكر الْمَذْكُور وضربه حد المفتري فَجرد وَضرب ثمَّ شفع فِيهِ أَبُو بكر رضي الله عنه بعد خَمْسَة أسواط وَقَالَ يَا رَسُول الله إِنَّمَا فعل هَذَا اجْتِهَادًا فِي سنتك وتعظيما لَهَا فغفر لَهُ أَبُو حَامِد عِنْد ذَلِك
فَلَمَّا اسْتَيْقَظَ من مَنَامه وَأصْبح أعلم أَصْحَابه بِمَا جرى لَهُ وَمكث خَمْسَة وَعشْرين يَوْمًا وجعا من ذَلِك الضَّرْب ثمَّ رأى النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
হঠাৎ দেখা গেল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), আবু বকর এবং ওমর (রাদিআল্লাহু আনহুমা) মসজিদের একটি স্থানে উপবিষ্ট আছেন এবং সেই স্থানে নূরের জ্যোতি বিচ্ছুরিত হচ্ছে। তিনি (উক্ত ব্যক্তি) ‘ইহয়া’ কিতাবটির তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন এবং এর সকল পাণ্ডুলিপি একত্রিত করার আদেশ দিয়েছিলেন; এমনকি তার ধারণা অনুযায়ী এটি সুন্নাহ পরিপন্থী হওয়ার কারণে উল্লিখিত জুমুআর দিনে তা পুড়িয়ে ফেলার সংকল্প করেছিলেন। এমতাবস্থায় ইমাম আবু হামিদ আল-গাজালি (রাদিআল্লাহু আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সম্মুখে দণ্ডায়মান হয়ে আরজ করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল! এই ব্যক্তি আমার প্রতিপক্ষ। যদি বিষয়টি তেমনই হয় যেমনটি সে দাবি করেছে, তবে আমি মহান আল্লাহর নিকট তাওবা করছি। আর হে আল্লাহর রাসূল! যদি এটি এমন কিছু হয় যা আপনি পছন্দ করেন, তবে আপনার বরকতের অসিলায় আমার এই প্রতিপক্ষের নিকট থেকে আমার অধিকার আদায় করে দিন।" অতঃপর তিনি জানু পেতে বসলেন এবং হামাগুড়ি দিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট পৌঁছে তাঁকে ‘ইহয়া’ কিতাবটি প্রদান করে বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! এটি পাঠ করে দেখুন।" তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিতাবটির আদ্যোপান্ত প্রতিটি পৃষ্ঠা এক এক করে দেখলেন এবং বললেন, "আল্লাহর শপথ! নিশ্চয়ই এটি একটি উত্তম বস্তু।" অতঃপর তিনি এটি আবু বকরকে দিলেন, তিনিও একইভাবে তা দেখলেন এবং বললেন, "হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, এটি অবশ্যই উত্তম।" অতঃপর তিনি এটি ওমরের হাতে দিলেন এবং তিনিও আবু বকরের ন্যায় অভিমত ব্যক্ত করলেন।
অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উক্ত অস্বীকারকারীকে বিবস্ত্র করে অপবাদ আরোপকারীর দণ্ড প্রদানের নির্দেশ দিলেন। ফলে তাকে বিবস্ত্র করে বেত্রাঘাত করা হলো। পাঁচটি বেত্রাঘাতের পর আবু বকর (রাদিআল্লাহু আনহু) তার জন্য সুপারিশ করে বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! সে মূলত আপনার সুন্নাহর প্রতি সম্মান ও ইজতিহাদের বশবর্তী হয়েই এরূপ করেছে।" তখন ইমাম আবু হামিদ তাকে ক্ষমা করে দিলেন।
অতঃপর যখন তিনি নিদ্রা হতে জাগ্রত হয়ে সকাল করলেন, তখন তার সঙ্গীদের যা ঘটেছিল তা জানালেন। সেই বেত্রাঘাতের ব্যথায় তিনি পঁচিশ দিন শয্যাশায়ী থাকলেন। অতঃপর তিনি পুনরায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে স্বপ্নে দেখলেন।
(খণ্ড: ১)
মারহামুল ইলালিল মুদিলাতি ফির রাদ্দি আলা আইম্মাতিল মুতাযিলাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
مسح يَده الْكَرِيمَة الْمُبَارَكَة عَلَيْهِ فشفي قلبه وقالبه ثمَّ نظر فِي الْأَحْيَاء ففهمه فهما خلاف الْفَهم الأول ثمَّ فتح عَلَيْهِ ونال من الْمعرفَة بِاللَّه وَالْعلم الْبَاطِن وَالْفضل الْعَظِيم مَا نَالَ برحمة الله الْكَرِيم
قلت فَهَذَا مُخْتَصر مَا روينَاهُ بِالْأَسَانِيدِ الصَّحِيحَة عَن الشَّيْخ الْكَبِير الْعَارِف بِاللَّه الشهير أبي الْحسن الشاذلي رضي الله عنه وَعَن بعض ذُرِّيَّة الشَّيْخ الْكَبِير الْعَارِف بِاللَّه ابْن حرزهم الْمَذْكُور رضي الله عنه هُوَ عِنْدهم مَعْلُوم ومستفيض مَشْهُور وَفِي سيرة جده مَذْكُور مُحَقّق مسطور
أَخْبرنِي بِهَذَا الْمَذْكُور الرَّاوِي الْمَذْكُور من ذُرِّيَّة الشَّيْخ الْمَذْكُور محرما خَاشِعًا جاثيا على رُكْبَتَيْهِ فِي الْحرم الشريف زَاده الله شرفا
قَالَ الشَّيْخ الإِمَام أَبُو الْحسن الشاذلي وَلَقَد مَاتَ يَوْم مَاتَ وَأثر السِّيَاط ظَاهر على جِسْمه
أَخْبرنِي بذلك الشَّيْخ الْجَلِيل الْعَارِف بِاللَّه الفضيل الإِمَام شهَاب الدّين بن المتلق الشاذلي عَن الشَّيْخ الْكَبِير الْعَارِف بِاللَّه يلقوت الشاذلي عَن شَيْخه الشَّيْخ الْكَبِير الْعَارِف بِاللَّه قدوة الْمَسَاكِين
তিনি তাঁর সম্মানিত ও বরকতময় হস্ত তাঁর ওপর বুলিয়ে দিলেন, ফলে তাঁর অন্তর ও দেহ আরোগ্য লাভ করল। অতঃপর তিনি ‘এহ্ইয়া’ (উলূমিদ দীন) কিতাবটির প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন এবং পূর্বের তুলনায় ভিন্নতর এক গভীর উপলব্ধি লাভ করলেন। এরপর তাঁর জন্য আধ্যাত্মিক দ্বার উন্মোচিত হলো এবং তিনি দয়াময় আল্লাহর রহমতে রব্বানী মারিফাত, ইলমে বাতেন ও সুমহান মর্যাদা লাভ করলেন।
আমি বলছি: এটি হলো সেই সংক্ষিপ্ত সার যা আমরা সহীহ সনদসমূহের মাধ্যমে মহান শায়খ, আরিফ বিল্লাহ, সুপ্রসিদ্ধ আবুল হাসান আশ-শাজিলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এবং উল্লেখিত মহান শায়খ, আরিফ বিল্লাহ ইবনে হিরযিহিম (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কতিপয় বংশধর থেকে বর্ণনা করেছি। এটি তাঁদের নিকট সুপরিচিত, বহুল প্রচারিত ও প্রসিদ্ধ এবং তাঁর পিতামহের সীরাতগ্রন্থে সুনিশ্চিতভাবে লিপিবদ্ধ ও প্রমাণিত রয়েছে।
উক্ত শায়খের বংশধরদের মধ্য হতে উল্লেখিত বর্ণনাকারী আমাকে এই বিষয়টি অবহিত করেছেন; তখন তিনি ইহরাম অবস্থায় অত্যন্ত বিনয় ও নম্রতার সাথে হারামে শরীফে (আল্লাহ এর সম্মান বৃদ্ধি করুন) হাঁটু গেড়ে বসা ছিলেন।
শায়খ ইমাম আবুল হাসান আশ-শাজিলী বলেন: তিনি যেদিন ইন্তেকাল করেন, তখনো তাঁর দেহে চাবুকের আঘাতের চিহ্ন দৃশ্যমান ছিল।
মহান শায়খ, আরিফ বিল্লাহ, ফযীলতপ্রাপ্ত ইমাম শিহাবুদ্দীন বিন আল-মুতালাক আশ-শাজিলী আমাকে এ সংবাদ দিয়েছেন; তিনি মহান শায়খ, আরিফ বিল্লাহ ইয়াকুত আশ-শাজিলী থেকে এবং তিনি তাঁর উস্তাদ সুমহান শায়খ, আরিফ বিল্লাহ, অসহায়দের আদর্শ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মারহামুল ইলালিল মুদিলাতি ফির রাদ্দি আলা আইম্মাতিল মুতাযিলাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
بَحر المعارف ومعدن النُّور الْقُدسِي أبي الْعَبَّاس المرسي عَن شَيْخه أبي الْحسن الشاذلي الْمَذْكُور مَعْدن الْعُلُوم والأسرار والنور شيخ شُيُوخ العارفين رضي الله عنهم أَجْمَعِينَ وَإِلَى هَؤُلَاءِ الشُّيُوخ الْأَرْبَعَة أَشرت بِقَوْلِي فِيمَا تقدم
(رَوَاهُ ولي عَن ولي لنا وَعَن
… ولي رَوَاهُ ذَاك عَن رَابِع ولي)
الْجَواب وَهَا أَنا أشرع فِيمَا ذكرت من الْجَواب وَالله الْمُوفق للصَّوَاب
فَأَما قَول السَّائِل أَولا فِي نفي الثَّانِي عَن الله تَعَالَى فِي قَوْله عز وجل {فَاعْلَم أَنه لَا إِلَه إِلَّا الله} هَل هُوَ مترتب على معرفَة الله تَعَالَى أَو معرفَة الله تَعَالَى مترتبة عَلَيْهِ فَكَانَ يَنْبَغِي أَن يَقُول نفي إِلَه غير الله لمطابقة الْآيَة الَّتِي ذكر فَإِنَّهَا نَافِيَة لكل إِلَه سواهُ عز وجل وَلَيْسَ فِيهَا لتَعلق ذكر الثَّانِي مدْخل وَأَن يَقُول أم معرفَة الله ب أم عوضا عَن أَو
وَأما مَا ذكره من أَن الطَّرِيق إِلَى معرفَة الله تَعَالَى السّمع عندنَا فَلَيْسَ بِصَحِيح بل الطَّرِيق إِلَيْهَا عندنَا وَعِنْدهم النّظر لَكِن عندنَا يجب النّظر فِيهَا بِالسَّمْعِ وَعِنْدهم بِالْعقلِ فالسمع عندنَا طَرِيق إِلَى معرفَة وجوب النّظر الْموصل إِلَى الْمعرفَة لَا إِلَى الْمعرفَة نَفسهَا كَمَا زعم لِأَن الْأَمر بهَا مُوجب للنَّظَر الْمُعَرّف وَقد يخلف النّظر بخلف امْتِثَال الْأَمر فَتخلف الْمعرفَة لخلف الْمُعَرّف وَلَا يلْزم وجوده وجودهَا أَعنِي لَا يلْزم من وجود الْأَمر الَّذِي هُوَ السّمع وجود الْمَأْمُور بِهِ الَّذِي هُوَ الْمعرفَة وَدَلِيلنَا
মারেফাতের সমুদ্র এবং পবিত্র নূরের আধার আবুল আব্বাস আল-মুরসি, তাঁর শায়খ উল্লিখিত ইলম, রহস্য ও নূরের খনি, আরিফগণের শায়খদের শায়খ আবুল হাসান আশ-শাজিলি (আল্লাহ তাঁদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন। আর এই চারজন শায়খের দিকেই আমি পূর্বে আমার এই বাণীর মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছি:
(এটি বর্ণনা করেছেন আমাদের এক ওলী অন্য এক ওলী থেকে, আর তিনি... বর্ণনা করেছেন এক ওলী থেকে, যিনি তা বর্ণনা করেছেন চতুর্থ এক ওলী থেকে।)
উত্তর আর এখন আমি উল্লিখিত উত্তর প্রদান শুরু করছি এবং আল্লাহই সঠিক পথের তাওফিকদাতা।
প্রথমত প্রশ্নকারীর বক্তব্য—মহান আল্লাহর সত্তা থেকে দ্বিতীয় সত্তাকে অস্বীকার করার বিষয়ে আল্লাহর বাণী "জেনে রেখো যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই" প্রসঙ্গে—যে এটি কি আল্লাহ তাআলার মারেফাত বা পরিচয়ের ওপর নির্ভরশীল নাকি আল্লাহর পরিচয় এটার ওপর নির্ভরশীল? এখানে তার উচিত ছিল "আল্লাহ ছাড়া অন্য ইলাহকে অস্বীকার করা" বলা, যাতে তার উল্লিখিত আয়াতের সাথে মিল থাকে। কারণ আয়াতটি মহান আল্লাহ ছাড়া অন্য সকল উপাস্যকে অস্বীকার করে এবং এতে "দ্বিতীয়" সত্তার অনুষঙ্গ উল্লেখের কোনো সুযোগ নেই। আর তার উচিত ছিল "অথবা আল্লাহর মারেফাত" বলার ক্ষেত্রে 'বা' এর পরিবর্তে 'নাকি' ব্যবহার করা।
আর তিনি যা উল্লেখ করেছেন যে, আমাদের মতে আল্লাহ তাআলার পরিচয়ের পথ হলো শ্রবণ বা ওহী, তা সঠিক নয়। বরং আমাদের এবং তাদের মতে পরিচয়ের পথ হলো গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ। তবে পার্থক্য হলো, আমাদের নিকট গবেষণার আবশ্যকতা সাব্যস্ত হয় ওহী বা শ্রবণের মাধ্যমে, আর তাদের নিকট বিবেকের মাধ্যমে। সুতরাং আমাদের নিকট শ্রবণ বা ওহী হলো গবেষণার আবশ্যকতা জানার মাধ্যম যা পরিচয়ের দিকে নিয়ে যায়; তা সরাসরি পরিচয়ের মাধ্যম নয় যেমনটি তিনি ধারণা করেছেন। কারণ পরিচয়ের আদেশ গবেষণাকে আবশ্যক করে যা পরিচয় দানকারী। কখনো আদেশের আনুগত্য না করার কারণে গবেষণার বিচ্যুতি ঘটতে পারে, ফলে পরিচয় দানকারীর বিচ্যুতির কারণে পরিচয়েরও বিচ্যুতি ঘটে। আর আদেশের অস্তিত্ব (অর্থাৎ শ্রবণ) মানেই আদিষ্ট বিষয়ের (অর্থাৎ পরিচয়ের) অস্তিত্ব হওয়া আবশ্যক নয়। আমাদের দলিল হলো...
(খণ্ড: ১)
মারহামুল ইলালিল মুদিলাতি ফির রাদ্দি আলা আইম্মাতিল মুতাযিলাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
على أَن الْمُوجب للنَّظَر فِيهَا هُوَ السّمع دون الْعقل النَّقْل وَالْعقل
أما وجوب ذَلِك بِالسَّمْعِ فَيدل عَلَيْهِ النَّقْل وَأما عدم وجوده بِالْعقلِ فَيدل عَلَيْهِ الْعقل وَالنَّقْل
أما الأول وَهُوَ قَوْلنَا أَن الْمُوجب النّظر فِيهَا هُوَ السّمع فَقَوله تَعَالَى {قل انْظُرُوا مَاذَا فِي السَّمَاوَات وَالْأَرْض} وَنَحْو ذَلِك من الْآيَات الكريمات وَكَذَلِكَ الاجماع كَمَا سَيَأْتِي كَلَام إِمَام الْحَرَمَيْنِ فِي ذَلِك فِي الْفَصْل الرَّابِع إِن شَاءَ الله تَعَالَى
وَأما الثَّانِي وَهُوَ عدم وُجُوبه بِالْعقلِ فَسَيَأْتِي بَيَانه هادما لجَمِيع مَا بنوا عَلَيْهِ مَذْهَبهم الْفَاسِد من التحسين والتقبيح الْعقلِيّ فِي جَمِيع العقائد
وَأما جَوَاب السُّؤَال عَن أَي من نفي الثَّانِي وَوُجُود الْمعرفَة مترتب على الآخر فلنقدم على ذكره بَيَان الطَّرِيق الموصلة إِلَى الْمعرفَة فبذلك يَتَّضِح إِن شَاءَ الله بَيَان الطَّرِيق إِلَى معرفَة الصَّانِع جلّ وَعلا
اعْلَم أَن الطَّرِيق إِلَى مَعْرفَته تبارك وتعالى هِيَ النّظر فِي مصنوعاته فِي الملكوت الْعليا والسفلى وَمَا اشْتَمَلت عَلَيْهِ من الإتقان والانتظام وَالْحكم والإحكام وَغير ذَلِك مِمَّا يشْهد بِوُجُود الصَّانِع وجلاله وعظمته وكماله تَعَالَى فِي ذَاته وَصِفَاته
قَالَ قدوتنا وَسَيِّدنَا الإِمَام حجَّة الْإِسْلَام أَبُو حَامِد الْغَزالِيّ رضي الله عنه وَأولى مَا يستضاء بِهِ من الْأَنْوَار ويسلك من طَرِيق الِاعْتِبَار مَا أرشد إِلَيْهِ الْقُرْآن فَلَيْسَ بعد بَيَان الله بَيَان وَقد قَالَ الله تَعَالَى {ألم نجْعَل الأَرْض مهادا وَالْجِبَال أوتادا وخلقناكم أَزْوَاجًا} إِلَى قَوْله تَعَالَى {ألفافا}
বস্তুত এতে চিন্তাগবেষণা আবশ্যক হওয়ার ভিত্তি হলো শরয়ি বর্ণনা, বুদ্ধি নয়।
শরয়ি বর্ণনার মাধ্যমে এর আবশ্যকতা দলিল-প্রমাণের মাধ্যমে সুপ্রতিষ্ঠিত। পক্ষান্তরে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে তা আবশ্যক না হওয়ার বিষয়টি বুদ্ধি এবং বর্ণনা—উভয় মাধ্যমেই প্রমাণিত।
প্রথম বিষয়টি—অর্থাৎ এতে চিন্তাগবেষণা আবশ্যক হওয়ার ভিত্তি যে শরয়ি দলীল—তার প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: “আপনি বলুন, আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে তার প্রতি লক্ষ্য করো।” এই জাতীয় আরও অনেক আয়াত এবং তেমনিভাবে ইজমা বা ঐক্যমতও এর প্রমাণ, যা চতুর্থ পরিচ্ছেদে ইমামুল হারামাইনের আলোচনার মাধ্যমে ইনশাআল্লাহ স্পষ্টভাবে সামনে আসবে।
আর দ্বিতীয় বিষয়টি—অর্থাৎ বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে তা আবশ্যক না হওয়া—এর বর্ণনা সামনে বিস্তারিত আসবে, যা বুদ্ধিবৃত্তিক ভালো-মন্দের (তাহসিন ও তাকবিহ) ওপর ভিত্তি করে আকিদার সকল বিষয়ে তাদের গড়া ভ্রান্ত মতবাদকে সমূলে ধূলিসাৎ করে দেবে।
বুদ্ধিবৃত্তিক আবশ্যকতা অস্বীকার করা এবং আল্লাহর পরিচয় লাভের আবশ্যকতা—এদের একটি অন্যটির ওপর কীভাবে নির্ভরশীল, সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে আমরা আল্লাহর পরিচয় বা মারেফাত লাভের উপায়টি বর্ণনা করছি। এর মাধ্যমেই মহান স্রষ্টার পরিচয় লাভের পথটি ইনশাআল্লাহ সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে।
জেনে রাখুন, বরকতময় মহান আল্লাহর পরিচয় লাভের উপায় হলো ঊর্ধ্বজগত ও নিম্নজগতের তাঁর সৃষ্টিরাজির প্রতি গভীর দৃষ্টিপাত করা। এই সৃষ্টিজগৎ যে নিখুঁত গঠন, সুশৃঙ্খল বিন্যাস, নিগূঢ় প্রজ্ঞা ও সুদৃঢ় কৌশলের ওপর প্রতিষ্ঠিত—তা মহান স্রষ্টার অস্তিত্ব, তাঁর মহিমা, মাহাত্ম্য এবং তাঁর সত্তা ও গুণাবলির পূর্ণতার সাক্ষ্য দেয়।
আমাদের আদর্শ ও নেতা ইমাম হুজ্জাতুল ইসলাম আবু হামিদ আল-গাজালি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন: “আলোকবর্তিকা হিসেবে গ্রহণ করার জন্য এবং শিক্ষা লাভের পথ হিসেবে অনুসরণ করার জন্য সবচেয়ে উত্তম হলো কুরআন যা নির্দেশ করেছে। কেননা আল্লাহর বর্ণনার চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো বর্ণনা হতে পারে না।” আল্লাহ তাআলা বলেছেন: “আমি কি জমিনকে শয্যা এবং পাহাড়গুলোকে পেরেক হিসেবে সৃষ্টি করিনি? আর আমি তোমাদের জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি...” মহান আল্লাহর বাণী “ঘন বাগান” পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১)
মারহামুল ইলালিল মুদিলাতি ফির রাদ্দি আলা আইম্মাতিল মুতাযিলাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
وَقَالَ تَعَالَى {إِن فِي خلق السَّمَاوَات وَالْأَرْض وَاخْتِلَاف اللَّيْل وَالنَّهَار والفلك الَّتِي تجْرِي فِي الْبَحْر بِمَا ينفع النَّاس} إِلَى قَوْله تَعَالَى {لآيَات لقوم يعْقلُونَ}
وَقَالَ تَعَالَى {ألم تروا كَيفَ خلق الله سبع سماوات طباقا} إِلَى قَوْله تَعَالَى {ويخرجكم إخراجا}
وَقَالَ تَعَالَى {أَفَرَأَيْتُم مَا تمنون} إِلَى قَوْله تَعَالَى {نَحن جعلناها تذكرة ومتاعا للمقوين}
قَالَ وَلَيْسَ يخفى على من مَعَه أدنى مسكة إِذا تَأمل بِأَدْنَى فكرة مَضْمُون هَذِه الْآيَات وأدار نظره على عجائب خلق الله فِي الأَرْض وَالسَّمَاوَات وتدبر فطْرَة الْحَيَوَان والنبات أَن هَذَا الْأَمر العجيب وَالتَّرْتِيب الْمُحكم لَا يَسْتَغْنِي عَن صانع يدبره وفاعل يحكمه ويقدره بل تكَاد فطْرَة النُّفُوس تشهد بِكَوْنِهَا مقهورة تَحت التسخير ومصرفة بِمُقْتَضى تَدْبِير لذَلِك قَالَ الله تَعَالَى {أَفِي الله شكّ فاطر السَّمَاوَات وَالْأَرْض} وَقَالَ تَعَالَى {وَلَئِن سَأَلتهمْ من خلق السَّمَاوَات وَالْأَرْض ليَقُولن الله} انْتهى مُخْتَصرا
وَسَيَأْتِي أَيْضا بَيَان حكم النّظر فِي إِفَادَة الْعلم ووجوبه فِي معرفَة الله سُبْحَانَهُ فِي الْفَصْل الرَّابِع إِن شَاءَ الله تَعَالَى
قلت وَإِذا تَأمل النَّاظر فِي الْوُجُود وأحواله الْمُخْتَلفَة من الصَّنْعَة المتقنة المؤتلفة البديعة المحكمة العجيبة المنتظمة وَمَا فِيهِ من تغير الْأَحْوَال وتقلب الْأَيَّام والليال وَشَاهد جَمِيعه ناطقا وَشَاهدا بِلِسَان
মহান আল্লাহ বলেন, "নিশ্চয়ই আসমান ও জমিনের সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের পরিবর্তনের মাঝে এবং সমুদ্রের বুক চিরে মানুষের কল্যাণে বিচরণশীল জাহাজসমূহের মধ্যে..." মহান আল্লাহর বাণী "বুদ্ধিমান সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে" পর্যন্ত।
মহান আল্লাহ আরও বলেন, "তোমরা কি লক্ষ্য করোনি যে, আল্লাহ কীভাবে স্তরে স্তরে সপ্ত আকাশ সৃষ্টি করেছেন?" তাঁর বাণী "এবং তিনি তোমাদেরকে পূর্ণরূপে বের করে আনবেন" পর্যন্ত।
মহান আল্লাহ আরও বলেন, "তোমরা কি ভেবে দেখেছ তোমাদের বীর্যপাত সম্পর্কে?" তাঁর বাণী "আমি একে করেছি একটি স্মারক ও পথচারীদের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী" পর্যন্ত।
তিনি বলেন, সামান্যতম বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন কোনো ব্যক্তি যদি নূন্যতম চিন্তাশক্তি দিয়ে এই আয়াতসমূহের মর্ম উপলব্ধি করে এবং আসমান ও জমিনে আল্লাহর সৃষ্টির বিস্ময়কর নিদর্শনাদির প্রতি দৃষ্টিপাত করে, আর জীবজন্তু ও উদ্ভিদরাজির প্রকৃতির ওপর গভীরভাবে চিন্তা করে, তবে তার কাছে এটি মোটেও অস্পষ্ট থাকবে না যে—এই বিস্ময়কর ব্যবস্থা ও সুদৃঢ় বিন্যাস এমন এক কারিগরের মুখাপেক্ষীহীন হতে পারে না যিনি এর পরিচালনা করেন এবং এমন এক কর্তার অভাবমুক্ত হতে পারে না যিনি একে সুনিপুণ ও সুপরিমিত রূপ দান করেন। বরং মানুষের প্রবৃত্তি ও স্বভাবজাত ধর্মই সাক্ষ্য দেয় যে, তা এক বিশেষ কর্তৃত্বের অধীন এবং এক সুপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচালিত। এ কারণেই মহান আল্লাহ বলেছেন, "আল্লাহ সম্পর্কে কি কোনো সন্দেহ আছে, যিনি আসমান ও জমিনের স্রষ্টা?" তিনি আরও বলেছেন, "আর আপনি যদি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন যে, কে আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন, তবে তারা অবশ্যই বলবে—আল্লাহ।" (সংক্ষিপ্ত উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পরিচয় লাভের ক্ষেত্রে চিন্তা-গবেষণার জ্ঞানতাত্ত্বিক উপযোগিতা ও এর আবশ্যকতা সম্পর্কে চতুর্থ পরিচ্ছেদে বিস্তারিত আলোচনা আসবে, ইনশাআল্লাহ।
আমি বলি, কোনো পর্যবেক্ষক যখন এই মহাবিশ্বের অস্তিত্ব এবং এর বিচিত্র অবস্থাসমূহ নিয়ে চিন্তা করে—যেমন এর সুনিপুণ ও সুসমন্বিত কারুকার্য, চমৎকার ও সুদৃঢ় নির্মাণশৈলী এবং বিস্ময়কর শৃঙ্খলা; আর এতে বিদ্যমান অবস্থার পরিবর্তন ও দিবা-রাত্রির আবর্তন লক্ষ্য করে, তখন সে দেখতে পায় যে এসবের প্রতিটি বিষয়ই যেন বাকপটু জবান ও সাক্ষ্য প্রদানের মাধ্যমে বলছে...
(খণ্ড: ১)
মারহামুল ইলালিল মুদিলাতি ফির রাদ্দি আলা আইম্মাতিল মুতাযিলাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
الْحَال بِتَصْدِيق قَول الْحق الْملك الديَّان {كل يَوْم هُوَ فِي شَأْن} ومناسبة أَسْمَائِهِ الْحسنى تبارك وتعالى إِذْ من جُمْلَتهَا الْقَابِض الباسط الْخَافِض الرافع الْمعز المذل المحيي المميت الْمُقدم الْمُؤخر وَقَوله عز وجل {إِن مَعَ الْعسر يسرا} وتأكيد ذَلِك بِإِعَادَة اللَّفْظ ثَانِيًا لتأكد وُقُوعه لَا محَالة وَتَحْقِيق الْعلم بنفوذ علم الْقَضَاء السَّابِق المطابق للحكمة الْبَالِغَة بذلك واستمرار هَذِه الْحَالة حَتَّى علم ذَلِك بالاستقراء وَأنْشد فِيهِ الشُّعَرَاء من ذَلِك قَول بَعضهم
(إِذا مَا رماك الدَّهْر يَوْمًا بنكبة
… فهيئ لَهَا صبرا ووسع لَهَا صَدرا)
(فَإِن مقادير الزَّمَان عَجِيبَة
… فيوما نرى يسرا وَيَوْما نرى عسرا)
وَقَول آخر
(دع الْمَقَادِير تجْرِي فِي أعنتها
… وَلَا تبيتن إِلَّا خَالِي البال)
(مَا بَين غمضة عين وانتباهها
… يقلب الدَّهْر من حَال إِلَى حَال)
وَقَول آخر
(وَلما وقفنا للسلام تبادرت
… دموع إِلَى أَن كدت بالدمع أغرق)
(فَقلت لعَيْنِي هَل مَعَ الْوَصْل عِبْرَة
… فَقَالَ أَلسنا بعده نتفرق)
حِكَايَة قلت وَمن هَذَا مَا سَمِعت من بعض شُيُوخنَا قدس الله أَرْوَاحهم يحْكى أَنه مر إِنْسَان فِي الْأَزْمَان على راعي غنم فِي بعض البراري
সত্যের আধার, মহিমান্বিত অধিপতি ও বিচার দিবসের মালিক মহান আল্লাহর এই বাণীর সত্যায়নই হলো বর্তমান অবস্থা যে, "প্রতিদিন তিনি নতুন শানে (কাজে) আবির্ভূত হন।" এটি তাঁর আসমাউল হুসনা বা বরকতময় ও সুউচ্চ গুণবাচক নামসমূহের সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ; কেননা সেই নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো—সংকোচনকারী, প্রসারণকারী, অবনতকারী, উন্নীতকারী, সম্মানদানকারী, লাঞ্ছিতকারী, জীবনদানকারী, মৃত্যুদানকারী, অগ্রবর্তীকারী এবং পশ্চাদবর্তীকারী। এছাড়া মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে।" এর অনিবার্য সংঘটন নিশ্চিত করার জন্য এবং সেই বিষয়ের অন্তর্নিহিত সুগভীর হিকমতের সাথে সংগতিপূর্ণ পূর্বনির্ধারিত তাকদিরের কার্যকারিতা সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান লাভের উদ্দেশ্যে শব্দটিকে পুনরায় উল্লেখ করে তাকিদ প্রদান করা হয়েছে। আর এই অবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় ছিল যতক্ষণ না আরোহী পদ্ধতির (পর্যবেক্ষণ) মাধ্যমে তা পরিজ্ঞাত হয়। এ প্রসঙ্গে কবিগণ পংক্তি রচনা করেছেন, যেমন তাঁদের মধ্য থেকে জনৈকের উক্তি:
(যদি কালপ্রবাহ কোনোদিন তোমাকে বিপদে নিক্ষেপ করে
… তবে তার জন্য ধৈর্য ধারণ করো এবং বক্ষ প্রশস্ত করো।)
(নিশ্চয়ই সময়ের পরিক্রমা বড়ই বিস্ময়কর
… একদিন আমরা সুখের দেখা পাই, আর অন্যদিন দেখি কষ্ট।)
অন্যজনের উক্তি
(ভাগ্যের ফয়সালাকে তার আপন গতিতে চলতে দাও
… আর চিন্তামুক্ত চিত্তে নিশিযাপন করো।)
(চক্ষুর এক পলক ফেলা এবং তা উন্মুক্ত করার মধ্যবর্তী সময়েই
… মহাকাল এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তিত হয়ে যায়।)
এবং অপরজনের উক্তি
(যখন আমরা সম্ভাষণের জন্য দাঁড়ালাম, তখন অশ্রু বিগলিত হতে লাগল
… এমনকি আমি অশ্রুজলে নিমজ্জিত হওয়ার উপক্রম হলাম।)
(আমি আমার নয়নকে প্রশ্ন করলাম, মিলনের সময়ও কি অশ্রুপাত হয়?
… সে উত্তর দিল, এই মিলনের পরেই কি আমাদের বিচ্ছেদ ঘটবে না?)
উপাখ্যান আমি বলছি: এই প্রসঙ্গের অন্তর্ভুক্ত হলো যা আমি আমাদের জনৈক শায়খ (আল্লাহ তাঁদের রূহকে পবিত্র করুন) থেকে শুনেছি। তিনি বর্ণনা করেন যে, কোনো এক যুগে জনৈক ব্যক্তি কোনো এক জনমানবহীন প্রান্তরে এক মেষপালকের নিকট দিয়ে অতিক্রম করছিলেন।
(খণ্ড: ১)
মারহামুল ইলালিল মুদিলাতি ফির রাদ্দি আলা আইম্মাতিল মুতাযিলাহ
(পৃষ্ঠা: ৫০)
وَهُوَ طرب يُغني وَالْأَرْض مُجْدِبَة وَالنَّاس فِي ضيق وحزن فتعجب مِنْهُ ثمَّ غَابَ وَرجع فَوجدَ تِلْكَ الأَرْض مخصبة وَالنَّاس فِي سَعَة وَفَرح وَهُوَ يبكي فازداد عجبا مِنْهُ ثمَّ سَأَلَهُ عَن فرحه وَعَن حزن النَّاس وحزنه وَقت فَرَحهمْ فَقَالَ أما فرحي فِيمَا مضى فَكَانَ استبشارا بِهَذَا الخصب الَّذِي ترى وَأما حزني الْآن فلتوقع الجدب فِيمَا يَأْتِي من الزَّمَان
قلت وَمن هَذَا وَأَمْثَاله مَا يطول ذكره من الشواهد والبرهان على وحدانية إِلَه لَيْسَ لَهُ ثَان ومطابقة مَا قدمنَا من تَصْدِيق قَوْله تَعَالَى {كل يَوْم هُوَ فِي شَأْن}
وَكَذَلِكَ يشْهد على وحدانية الْإِلَه المعبود وعظيم مَا اتّصف بِهِ من الْقُدْرَة وَالْعلم وَالْفضل والجود وجود الْوُجُود على أكمل نظام وَأحسنه وأحكمه وأتقنه وَإِلَى شَيْء من الشواهد أَشرت حَيْثُ قلت فِي بعض القصائد
(لَهُ كل ذرات الْوُجُود شَوَاهِد
… على أَنه الْبَارِي الْإِلَه المصور)
(دجن الأَرْض والسبع السَّمَاوَات شادها
… وأتقنها للْعَالمين لينظروا)
(وأبدع حسن الصنع فِي ملكوتها
… وَفِي ملكوت الأَرْض كي يتفكروا)
(وأوتدها بالراسيات فَلم تمد
… وشقق أَنهَارًا بهَا تتفجر)
(وَأخرج مرعاها وَبث دوابها
… وللكل يَأْتِي مِنْهُ رزق مُقَدّر)
(من الْحبّ ثمَّ الْأَب والعشب الكلا
… ونخل وأعناب فواكه مثمر)
(فاضحت بِحسن الزهور تزهو رياضها
… وَفِي حلل نَسِيج الرّبيع تتبختر)
(وزان سَمَّاهَا بالمصابيح أَصبَحت
… وأمست تباهي الْحسن تزهو وتزهر)
(ترَاهَا إِذا جن الدجا قد تقلدت
… قلائد دري لدر تحقر)
(فيا نَاظرا زهر الْبَسَاتِين دونهَا
… أَظُنك أعمى لَيْسَ لِلْحسنِ تبصر)
তিনি তখন উল্লাসিত হয়ে গান গাইছিলেন, অথচ চারদিকে ছিল অনাবৃষ্টির রুক্ষতা এবং মানুষ ছিল চরম অভাব ও দুঃখের মধ্যে। এতে তিনি (পর্যবেক্ষক) বিস্মিত হলেন। অতঃপর তিনি চলে গেলেন এবং ফিরে এসে দেখলেন সেই ভূমি এখন শস্যশ্যামল ও উর্বর, আর মানুষ সচ্ছলতা ও আনন্দের মধ্যে রয়েছে; কিন্তু সেই ব্যক্তি তখন কাঁদছেন। এতে তাঁর বিস্ময় আরও বেড়ে গেল। অতঃপর তিনি তাঁকে তাঁর পূর্বের আনন্দ এবং মানুষের দুঃখের সময়ে তাঁর আনন্দের কারণ, আর এখন মানুষের আনন্দের সময়ে তাঁর কান্নার কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি উত্তর দিলেন, "আমার অতীতের আনন্দের কারণ ছিল এই উর্বরতার সুসংবাদ যা আপনি এখন দেখছেন। আর বর্তমানের দুঃখের কারণ হলো আগামী দিনে সম্ভাব্য অনাবৃষ্টির আশঙ্কা।"
আমি বলি: অদ্বিতীয় ইলাহের একত্ববাদের সাক্ষ্য ও প্রমাণের ক্ষেত্রে এটি এবং এই জাতীয় উদাহরণসমূহ অত্যন্ত দীর্ঘ। আর এটি আমাদের পূর্বে আলোচিত মহান আল্লাহর বাণীর সত্যতার সাথেও সংগতিপূর্ণ যে, "প্রতিটি দিন তিনি নতুন শানে (অবস্থায়) থাকেন।"
তদ্রূপ ইবাদতের যোগ্য সেই মাবুদের একত্ববাদ এবং তাঁর কুদরত, ইলম, ফজল ও দানশীলতা সংক্রান্ত সুমহান গুণাবলীর সাক্ষ্য দেয় এই মহাবিশ্বের অস্তিত্ব, যা অত্যন্ত নিখুঁত, সুন্দর, প্রজ্ঞাময় ও সুশৃঙ্খল অবয়বে বিদ্যমান। এই নিদর্শনের কিছু অংশের দিকে ইঙ্গিত করে আমি আমার কিছু কবিতায় বলেছি:
(অস্তিত্বের প্রতিটি অণু তাঁর একত্বের সাক্ষ্য বহন করে
… যে তিনিই প্রকৃত স্রষ্টা, উপাস্য এবং রূপদানকারী)
(তিনি পৃথিবীকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করেছেন এবং সপ্ত আকাশ নির্মাণ করেছেন
… আর বিশ্ববাসীর দেখার নিমিত্তে তা সুনিপুণ করেছেন)
(তিনি আকাশের সাম্রাজ্যে এবং জমিনের সাম্রাজ্যে সৃজনশীল নৈপুণ্য প্রকাশ করেছেন
… যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করতে পারে)
(তিনি সুদৃঢ় পর্বতমালা দিয়ে জমিনকে স্থির করেছেন যাতে তা নড়ে না যায়
… এবং এতে নদ-নদী প্রবাহিত করেছেন যা বিদীর্ণ হয়ে বেরিয়ে আসে)
(তিনি এর চারণভূমি উৎপন্ন করেছেন এবং এতে জীবজন্তু ছড়িয়ে দিয়েছেন
… আর প্রত্যেকের জন্য তাঁর পক্ষ থেকে নির্ধারিত রিযিক পৌঁছে থাকে)
(শস্যদানা, পশুখাদ্য এবং তৃণলতা থেকে শুরু করে
… খেজুর, আঙুর এবং ফলবান বৃক্ষসমূহ)
(ফলে এর বাগানগুলো পুষ্পরাজির সৌন্দর্যে বিকশিত হয়ে উঠল
… বসন্তের কারুকাজ করা বসনে সজ্জিত হয়ে যেন তা গর্বভরে দুলছে)
(তিনি এর আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুশোভিত করেছেন, যা প্রভাতে
… ও সন্ধ্যায় রূপের মহিমায় উজ্জ্বল ও প্রদীপ্ত হয়ে থাকে)
(যখন রাতের অন্ধকার ঘনিয়ে আসে, তখন তুমি তাদের দেখতে পাও যেন তারা পরিধান করেছে
… মুক্তার এমন হার যার কাছে সাধারণ মুক্তাও তুচ্ছ)
(ওহে দর্শক, যে এই উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজি ছেড়ে কেবল বাগানের ফুল দেখছে
… আমার মনে হয় তুমি অন্ধ, তুমি প্রকৃত সৌন্দর্য দেখতে পাও না)
(খণ্ড: ১)
মারহামুল ইলালিল মুদিলাতি ফির রাদ্দি আলা আইম্মাতিল মুতাযিলাহ
(পৃষ্ঠা: ৫১)
مَا أنكرهُ بعض النَّاس على حجَّة الْإِسْلَام أبي حَامِد الْغَزالِيّ وَالرَّدّ عَلَيْهِم قلت وَأما مَا أنكرهُ بعض النَّاس على الإِمَام حجَّة الْإِسْلَام رضي الله عنه وَنسبه إِلَيْهِ من الْكفْر وزعمه أَنه حصر الْقُدْرَة فِي قَوْله رضي الله عنه لَيْسَ فِي الْإِمْكَان أبدع من هَذَا الْوُجُود فقد أجبْت عَنهُ لما أرسل إِلَيّ بعض الْفُقَهَاء الطاعنين فِيهِ يسْأَل عَن الْجَواب فِي ذَلِك فِي معرض التَّعْرِيض بالإنكار عَلَيْهِ والإشعار بالْكفْر الَّذِي نسبه إِلَيْهِ فَذكرت فِي الْجَواب مَا يَقْتَضِي الْإِنْكَار على الْمُنكر عَلَيْهِ
وَقلت التَّكْفِير على الْمُكَفّر لَهُ بِمَا نسبه إِلَيْهِ وَهَا أَنا أُشير إِلَى مَا ذكرته بتقرير قدرته وَذَلِكَ أَن كَمَال الصَّنْعَة يدل على كَمَال الصَّانِع وَالنَّقْص على النَّقْص فَيلْزم على قَول الْمُنكر أَن يكون صَنْعَة هَذَا الْوُجُود نَاقِصَة بِالنِّسْبَةِ إِلَى صَنْعَة أكمل مِنْهَا وَذَلِكَ يسْتَلْزم نِسْبَة النَّقْص إِلَى الصَّانِع وَنسبَة النَّقْص إِلَى الصَّانِع تَعَالَى هِيَ عين الْكفْر
হুজ্জাতুল ইসলাম আবু হামিদ আল-গাজ্জালী (রহ.)-এর ওপর কিছু মানুষের আপত্তি এবং তাদের খণ্ডন আমি বলেছি: ইমাম হুজ্জাতুল ইসলাম (রা.)-এর ওপর কিছু মানুষ যে আপত্তি উত্থাপন করেছেন এবং তাঁর প্রতি কুফরের অপবাদ দিয়েছেন—এই দাবি করে যে, তিনি তাঁর এই উক্তি অর্থাৎ "সম্ভাব্যতার জগতে এই অস্তিত্বের চেয়ে অধিক নিখুঁত আর কিছু হওয়া সম্ভব নয়"—এর মাধ্যমে (আল্লাহর) কুদরত বা ক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করেছেন; আমি এর উত্তর তখনই দিয়েছিলাম যখন তাঁর সমালোচনাকারী কতিপয় ফকীহ্ এই বিষয়ে আমার কাছে জবাব চেয়ে পত্র পাঠিয়েছিলেন। তাদের সেই পত্র ছিল তাঁর প্রতি অস্বীকৃতি প্রকাশ এবং তাঁর ওপর আরোপিত কুফরের ইঙ্গিতবাহী। তাই আমি আমার জবাবে এমন কিছু উল্লেখ করেছিলাম যা খোদ সেই আপত্তিকারীর প্রতিই অস্বীকৃতি জ্ঞাপনকে আবশ্যক করে।
আমি আরও বলেছি যে, যে ব্যক্তি তাঁর প্রতি কুফর আরোপ করেছে, সেই কুফরের অভিযোগ মূলত তার নিজের দিকেই ফিরে যায়। এখন আমি মহান আল্লাহর কুদরত বা ক্ষমতার স্বরূপ বিশ্লেষণের মাধ্যমে আমার সেই বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করছি। আর তা হলো—সৃষ্টির পূর্ণতা যেমন স্রষ্টার পূর্ণতার প্রমাণ দেয়, তেমনি সৃষ্টির অপূর্ণতা স্রষ্টারই অপূর্ণতার দিকে ইঙ্গিত করে। সুতরাং আপত্তিকারীর বক্তব্য অনুযায়ী এটিই অনিবার্য হয়ে দাঁড়ায় যে, এই বিদ্যমান জগতের সৃষ্টি তার চেয়ে অধিকতর কোনো পূর্ণ সৃষ্টির তুলনায় অপূর্ণ। আর এর মাধ্যমে স্রষ্টার ওপর অপূর্ণতা আরোপ করা আবশ্যক হয়ে পড়ে, অথচ মহান স্রষ্টার প্রতি অপূর্ণতার এই সম্বন্ধ আরোপ করাই হলো প্রকৃত কুফর।
(খণ্ড: ১)
মারহামুল ইলালিল মুদিলাতি ফির রাদ্দি আলা আইম্মাতিল মুতাযিলাহ
(পৃষ্ঠা: ৫২)
وَأَقُول أَيْضا الصَّنْعَة صادرة عَن صِفَات الصَّانِع وَلَا أكمل من صِفَاته تَعَالَى فَلَا أكمل من صَنعته إِذْ صِفَاته تَعَالَى فِي نِهَايَة الْكَمَال والجلال فصنعته فِي غَايَة الْكَمَال وَالْجمال
وَأَقُول أَيْضا هَذَا الْوُجُود الدنيوي مِنْهُ والأخروي والعلوي والسفلي وَمَا اشْتَمَل عَلَيْهِ من أَنْوَاع الحكم الْبَالِغَة الباهرة والمحاسن الْبَاطِنَة وَالظَّاهِرَة أبدع كل بديع وَوُجُود أبدع من الأبدع محَال فوجود أبدع من هَذَا الْوُجُود محَال
فَإِن قَالَ يلْزم من هَذَا حصر الْقُدْرَة من كَابر فِي النزاع قلت لَا تعلق للقدرة بالمحال بِالْإِجْمَاع فَإِن لم ينْزع عَن النزاع وأصر على المكابرة زاعما أَن ذَلِك يُؤَدِّي إِلَى حصر الْقُدْرَة قلت لَهُ مَا تَقول هَل يُمكن فِي قدرَة الله تَعَالَى خلق أكمل من أكمل كل مَخْلُوق فَإِن قَالَ لَا فقد قَالَ يعجز الْقَادِر على كل شَيْء جلّ وَعلا وَإِن قَالَ نعم قلت فَهَل يُمكن أَن يخلق أكمل من أكمل مَخْلُوق فِي جَمِيع الأكوان والآفاق فَإِن قَالَ نعم فقد جعل أكمل من الْأَكْمَل وَهُوَ بَاطِل بالِاتِّفَاقِ وَإِن قَالَ لَا فقد حصر الْقُدْرَة على قِيَاسه وَكفر فِي ذَلِك نَفسه بِنَفسِهِ وَظهر بطلَان مَا ألزمهُ من التَّكْفِير بِزَعْمِهِ لحجة الْإِسْلَام وانقلب عَلَيْهِ مَا وَجهه إِلَيْهِ فِي ذَلِك الْإِلْزَام
وَهَذَا مَا اقتصرت عَلَيْهِ من الْجَواب عَن قَول الإِمَام أبي حَامِد علم الْأَعْلَام وَالله سبحانه وتعالى الْخَبِير العلام وكل من لَهُ بَصِيرَة يعلم أَن فِي هَذَا الْعَالم الَّذِي هُوَ عَالم الْملك وعالم الْحِكْمَة وعالم الْخلق وعالم الشَّهَادَة من الحكم الَّتِي هِيَ من المحاسن الْبَاطِنَة الفائقة على المحاسن الظَّاهِرَة مَا لَا تهتدي الْعُقُول إِلَّا إِلَى الْيَسِير مِنْهُ مِمَّا اشْتَمَلت عَلَيْهِ هَذِه الدَّار من خير وَشر ونفع وضر وصفو وكدر ومليح وقبيح وَسَقِيم وصحيح وكريم وشحيح وعالم وجاهل وَمَجْنُون وعاقل وناقص وكامل وفقير وغني وَضَعِيف وَقَوي وشريف ودني وجماد
আমি আরও বলি যে, শিল্পকর্ম আবশ্যিকভাবেই শিল্পীর গুণাবলি থেকে উৎসারিত হয়। আর মহান আল্লাহ তাআলার গুণাবলির চেয়ে অধিকতর নিখুঁত আর কিছুই নেই; সুতরাং তাঁর সৃষ্টির চেয়ে নিখুঁততর সৃষ্টি হওয়া সম্ভব নয়। যেহেতু মহান আল্লাহর গুণাবলি পূর্ণতা ও মহিমার চূড়ান্ত সীমায় আসীন, তাই তাঁর সৃষ্টিও পূর্ণতা ও সৌন্দর্যের চরম উৎকর্ষে বিদ্যমান।
আমি আরও বলি যে, এই জাগতিক অস্তিত্ব এবং পরলৌকিক, ঊর্ধ্বজাগতিক ও নিম্নজাগতিক জগতসমূহের অস্তিত্ব, আর এর অন্তর্ভুক্ত বিবিধ বিস্ময়কর প্রজ্ঞা ও নিগূঢ় ও প্রকাশ্য সৌন্দর্যাবলি হচ্ছে সকল উদ্ভাবনের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম উদ্ভাবন। আর যা শ্রেষ্ঠতম, তার চেয়ে অধিকতর শ্রেষ্ঠ কিছুর অস্তিত্ব অসম্ভব; সুতরাং বর্তমান এই অস্তিত্বের চেয়ে অধিকতর নিপুণ বা নিখুঁত অস্তিত্ব অসম্ভব।
যদি কোনো বিবাদকারী হঠকারিতা প্রদর্শন করে বলে যে, এর মাধ্যমে আল্লাহর ক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করা হচ্ছে, তবে আমি বলব: সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অসম্ভব বা যুক্তিহীন বিষয়ের সাথে ঐশ্বরিক ক্ষমতার কোনো সম্পর্ক নেই। যদি সে বিবাদ থেকে বিরত না হয় এবং নিজের জেদে অটল থেকে দাবি করে যে এটি ক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করার নামান্তর, তবে আমি তাকে বলব: আপনার অভিমত কী? মহান আল্লাহর ক্ষমতার পক্ষে কি প্রতিটি সৃষ্টির মধ্যে যা সবচেয়ে নিখুঁত, তার চেয়েও অধিকতর নিখুঁত কিছু সৃষ্টি করা সম্ভব? সে যদি বলে ‘না’, তবে সে সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহকে অক্ষম সাব্যস্ত করল। আর সে যদি বলে ‘হ্যাঁ’, তবে আমি বলব: তিনি কি সমস্ত মহাবিশ্ব ও দিগন্ত জুড়ে বিদ্যমান সকল সৃষ্টির মধ্যে যা সর্বাধিক নিখুঁত, তার চেয়েও অধিকতর নিখুঁত কিছু সৃষ্টি করতে সক্ষম? সে যদি বলে ‘হ্যাঁ’, তবে সে ‘সর্বাধিক নিখুঁতের চেয়েও অধিকতর নিখুঁত’ কিছুর অস্তিত্ব কল্পনা করল, যা সর্বসম্মতিক্রমে বাতিল। আর যদি সে বলে ‘না’, তবে সে তার নিজের মানদণ্ডেই ক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করল এবং এর মাধ্যমে নিজেই নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ সাব্যস্ত করল। ফলে ইসলামের প্রামাণ্য ব্যক্তিত্বের (হুজ্জাতুল ইসলাম) বিরুদ্ধে তার উত্থাপিত অভিযোগের অসারতা স্পষ্ট হলো এবং তার আপত্তি তার নিজের দিকেই প্রতিক্ষিপ্ত হলো।
ইমাম আবু হামিদ, যিনি বিশ্ববিখ্যাত মনীষীদের শিরোমণি, তাঁর উক্তির সপক্ষে আমার সংক্ষিপ্ত উত্তর এ পর্যন্তই। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাই সম্যক অবগত ও সর্বজ্ঞ। প্রজ্ঞা ও অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন মাত্রই জানেন যে, দৃশ্যমান এই জগত যা মূলত রাজত্ব, প্রজ্ঞা, সৃষ্টি ও চাক্ষুষ অভিজ্ঞতার জগত—এখানে এমন গভীর প্রজ্ঞাময় অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য বিদ্যমান যা বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে বহুগুণ শ্রেষ্ঠ। মানব বুদ্ধি যার অতি সামান্য অংশই অনুধাবন করতে সক্ষম। এই জগত কল্যাণ ও অকল্যাণ, উপকার ও অপকার, স্বচ্ছতা ও আবিলতা, সুন্দর ও কুৎসিত, রুগ্ন ও সুস্থ, মহৎ ও কৃপণ, জ্ঞানী ও মূর্খ, উন্মাদ ও বুদ্ধিমান, অপূর্ণ ও পূর্ণ, দরিদ্র ও ধনী, দুর্বল ও শক্তিশালী, উচ্চবংশীয় ও নীচ এবং জড়পদার্থের এক সংমিশ্রণ।
(খণ্ড: ১)
মারহামুল ইলালিল মুদিলাতি ফির রাদ্দি আলা আইম্মাতিল মুতাযিলাহ
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
حَيَوَان وإنس وجان وَملك وَشَيْطَان وطيور وسباع وبهائم وَسَائِر الْأَجْنَاس والأنواع مِمَّا لَيْسَ لِلْعَقْلِ فِي حصره اتساع مِمَّا اشْتَمَل عَلَيْهِ الْحَيَوَان والنبات وَالْأَرْض وَالسَّمَاوَات وانقسام ذَلِك إِلَى ذُكُور وإناث وَغير ذَلِك من الصِّفَات وَمِمَّا اشْتَمَلت عَلَيْهِ العقاقير من الْأَدْوِيَة النافعة والحشرات من السمُوم الناقعة وَمَا فِي الْجَوَاهِر من الْخَواص الَّتِي هِيَ للمضرات قامعة وانقسام الْخلق إِلَى صَامت وناطق ومخالف وموافق ومسهل وعائق وأعمى وبصير وطويل وقصير ومظلم ومنير وأصم وسامع وجامد ومائع وعاص وطائع ولين وخشن وعطر ومنتن وبليد وفطن وحزن وسرور وتيقظ وغرور وظل وحرور وَاخْتِلَاف اللُّغَات والألوان واختصاص حسن الْإِنْسَان بالفصاحة وَالْبَيَان والنبوة وَالْقُرْآن وَإِلَى خلق حُلْو وحامض وواضح وغامض وقابل ورافض ومالح وعذب ويابس وَرطب وخصب وجدب وبارد وحار ومتحرك وقار وفخر وعار وعافية وبلاء وَرخّص وَغَلَاء وداء ودواء وانقسام الْخلق أَيْضا إِلَى أخيار وأشرار وأبرار وفجار ومؤمنين وكفار ومصيرهم إِلَى موت وحساب وثواب وعقاب ونعيم وَعَذَاب وَالْجنَّة دَار الْفضل وَالنَّار دَار الْعدْل على مُقْتَضى الْقَضَاء السَّابِق الَّذِي هُوَ الأَصْل بحكمة الْحَكِيم الْعَلِيم الْجواد الْكَرِيم شَدِيد الْعقَاب الغفور الرَّحِيم وَغير ذَلِك مَا لَا يُحْصى مِمَّا اشْتَمَل على بَدَائِع الحكم المودعة فِي سَائِر أَجزَاء الْعَالم الْمُشْتَملَة على المحاسن الْبَاطِنَة الْمُشَاهدَة بِعَين البصيرة لَا عين الْبَصَر الَّتِي هِيَ بِالنِّسْبَةِ إِلَيْهَا حقيرة وَمن ذَلِك محَاسِن الْإِنْسَان الْبَاطِنَة أحسن وَأكْثر
قلت وَلَعَلَّ الْمُنكر الْمَذْكُور يتَوَهَّم أَن حسن هَذَا الْعَالم أَن يكون كُله مستحسنا بِعَين الْبَصَر بِأَن يكون جَمِيعه ألوانا حَسَنَة مُخْتَلفَة ونعيما دَائِما وَقُلُوبًا مؤتلفة دائمة الصفاء وَالسُّرُور خلية عَن كدر الأحزان والشرور كَامِلَة الرَّاحَة والزين سَالِمَة من التعتب والشين خلية عَن الصُّور القبيحة بِعَين الْبَصَر وحقارة الحشرات منزهة عَن الهموم
প্রাণী, মানুষ, জ্বিন, ফেরেশতা, শয়তান, পাখি, হিংস্র পশু, চতুষ্পদ জন্তু এবং অন্যান্য সকল প্রকার ও প্রজাতি, যা পরিবেষ্টন করার মতো প্রশস্ততা মানুষের বুদ্ধির নেই; যার অন্তর্ভুক্ত প্রাণীজগত, উদ্ভিদজগত, পৃথিবী এবং আকাশসমূহ। আর এগুলোর নর ও মাদীতে বিভক্তি এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্যসমূহ; আর ভেষজ উপাদানের মধ্যে নিহিত উপকারী ঔষধসমূহ, কীটপতঙ্গের তীব্র প্রাণঘাতী বিষসমূহ এবং মণি-মুক্তার সেই সব বৈশিষ্ট্য যা অনিষ্টতাকে নিবৃত্তকারী। সৃষ্টির আরও নানাবিধ বিভাজন, যেমন: নির্বাক ও সবাক, বিরোধী ও অনুসারী, সহজকারী ও বাধাদানকারী, অন্ধ ও চক্ষুষ্মান, দীর্ঘ ও হ্রস্ব, অন্ধকারাচ্ছন্ন ও আলোকোজ্জ্বল, বধির ও শ্রবণকারী, কঠিন ও তরল, পাপিষ্ঠ ও অনুগত, কোমল ও কর্কশ, সুগন্ধিযুক্ত ও দুর্গন্ধময়, নির্বোধ ও বুদ্ধিমান, দুঃখ ও আনন্দ, সতর্কতা ও মোহ এবং ছায়া ও প্রখর উত্তাপ। ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য এবং মানুষের সৌন্দর্যকে বাকপটুতা, প্রাঞ্জলতা, নবুওয়াত ও কুরআনের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করা। আরও সৃষ্টির প্রকারভেদ যেমন: মিষ্টি ও টক, স্পষ্ট ও অস্পষ্ট, গ্রহণকারী ও বর্জনকারী, লোনা ও মিষ্ট, শুষ্ক ও আর্দ্র, উর্বর ও অনুর্বর, শীতল ও উষ্ণ, গতিশীল ও স্থির, গৌরব ও কলঙ্ক, সুস্থতা ও বিপদ-আপদ, সুলভতা ও দুর্মূল্যতা এবং ব্যাধি ও নিরাময়। সৃষ্টির আরও বিভাজন রয়েছে নেককার ও বদকার, পুণ্যবান ও পাপিষ্ঠ এবং মুমিন ও কাফের হিসেবে; তাদের গন্তব্য হলো মৃত্যু, হিসাব-নিকাশ, সওয়াব ও আজাব এবং নেয়ামত ও শাস্তির দিকে। জান্নাত হলো অনুগ্রহের আলয় আর জাহান্নাম হলো ন্যায়ের আলয়—যা সেই আদি অনাদি ফয়সালার দাবি অনুযায়ী যা-ই মূল ভিত্তি; আর তা মহাপ্রজ্ঞাবান, সর্বজ্ঞ, পরম দাতা, মহানুভব, কঠোর শাস্তিদাতা এবং পরম ক্ষমাশীল ও দয়াময় আল্লাহর প্রজ্ঞার ফল। এছাড়াও রয়েছে অগণিত সৃষ্টি যা মহাবিশ্বের প্রতিটি অংশে গচ্ছিত চমৎকার সব প্রজ্ঞাকে ধারণ করে আছে; এসব প্রজ্ঞা এমন সব অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যকে অন্তর্ভুক্ত করে যা কেবল অন্তর্দৃষ্টির চোখেই অবলোকন করা সম্ভব, চর্মচক্ষু দিয়ে নয়—যা সেই অন্তর্দৃষ্টির তুলনায় অতি তুচ্ছ। আর মানুষের অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যসমূহ এর চেয়েও শ্রেষ্ঠতর ও বহুগুণ বেশি।
আমি বলি: সম্ভবত উক্ত অস্বীকারকারী ব্যক্তি এমনটি ধারণা করে যে, এই জগতের সৌন্দর্য হলো এর সবকিছুই চর্মচক্ষুর দৃষ্টিতে আকর্ষণীয় হওয়া; অর্থাৎ এর সবকিছুই বিভিন্ন সুন্দর রঙে রঞ্জিত হওয়া, চিরস্থায়ী নেয়ামত বিরাজ করা, অন্তরসমূহ পরস্পরের সাথে সম্প্রীতিময় হওয়া, সর্বদা স্বচ্ছতা ও আনন্দে পরিপূর্ণ থাকা, দুঃখ ও মন্দের পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত থাকা, পূর্ণ আরাম ও শোভাসম্পন্ন হওয়া, সকল প্রকার বিরক্তি ও কলঙ্ক থেকে নিরাপদ থাকা এবং চর্মচক্ষুর নিকট কুৎসিত দৃশ্য ও পোকামাকড়ের তুচ্ছতা থেকে মুক্ত হয়ে যাবতীয় দুশ্চিন্তা থেকে পবিত্র হওয়া।
(খণ্ড: ১)
মারহামুল ইলালিল মুদিলাতি ফির রাদ্দি আলা আইম্মাতিল মুতাযিলাহ
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
والسموم وَسَائِر المضرات جَامِعَة لجَمِيع الحظوظ الْمَطْلُوبَة الَّتِي يمِيل إِلَيْهَا الراغبون وَغير ذَلِك من صِفَات الْجنَّة الَّتِي قَالَ الله تَعَالَى فِي مدحها وخطاب أَهلهَا فِي كِتَابه الْمكنون {وفيهَا مَا تشتهيه الْأَنْفس وتلذ الْأَعْين وَأَنْتُم فِيهَا خَالدُونَ} وَلم يهتد إِلَى معرفَة المحاسن الْبَاطِنَة من لطافة الْمعَانِي وغرابة الحكم الْبَالِغَة
وَمن ذَلِك بِعَيْنِه أَن شين الدُّنْيَا سَبَب لزين الْآخِرَة وبغض الدُّنْيَا وتعبها وكدرها زِيَادَة فِي كَمَال الْجنَّة وَنَعِيمهَا وسرورها بل نَار الْآخِرَة وعذابها وَهُوَ أَنَّهَا زِيَادَة فِي نعيم الْجنَّة وعزها وَمَعْرِفَة قدرهَا وشرفها وعَلى الْجُمْلَة لَوْلَا الْبلَاء مَا عرف قدر الْعَافِيَة وَلَوْلَا الْعَذَاب مَا عرف قدر النَّعيم وَلَوْلَا النَّار مَا عرف قدر الْجنَّة
قلت وَلما وضعت هَذَا الْكَلَام خطر لي إنْشَاء نظم أَبْيَات لم يسْبق إِلَيْهَا النظام فَمَا استتم هَذَا الْكَلَام حَتَّى جال بفكري أَبْيَات فِي هَذَا الْمَعْنى الْمَذْكُور سبقني إِلَيْهَا الشَّيْخ الْعَارِف بِاللَّه الْفَقِيه الإِمَام أَبُو سُلَيْمَان دَاوُد الشاذلي الْمَشْهُور فأكتفيت بهَا لكَونهَا وافية بِهَذَا الْمَعْنى الَّذِي أَنا لَهُ قَاصد حَيْثُ قَالَ رضي الله عنه فِي بعض القصائد
(أيا نفس للمعنى الْأَجَل تطلبي
… وكفي عَن الدَّار الَّتِي قد تقضت)
(فكم أبعدت إلفا وَكم كدرت صفا
… وَكم جددت من ترحة بعد فرحة)
(كَذَا وضعت كَيْمَا تعدِي إِلَى الْعلَا
… فتكدريها من سر لطف وَحِكْمَة)
(فَلَو جعلت صفوا شغلت بحبها
… وَلم يَك فرق بَين دنيا وجنة)
(لعمرك مَا الدُّنْيَا بدار أخي حجى
… فيلهو بهَا عَن دَار فوز وَعزة)
(عَن الموطن الأسنا عَن الْقرب اللقا
… عَن الْعَيْش كل الْعَيْش عِنْد الْأَحِبَّة)
(فوَاللَّه لَوْلَا ظلمَة الذَّنب لم يطْلب
… لَك الْعَيْش يَوْمًا دون مي وَعزة)
قلت وَقد بَعدنَا فِي الْخُرُوج عَن الْمَقْصُود وَهَا نَحن إِلَى مَا كُنَّا بصدده من الِاسْتِدْلَال نعود
বিষাক্ত বস্তু ও যাবতীয় অনিষ্ট থেকে মুক্ত জান্নাত হলো সেই সকল কাঙ্ক্ষিত প্রাপ্তির সমাহার, যার প্রতি অনুরাগীরা আকৃষ্ট হয়। এ ছাড়াও রয়েছে জান্নাতের অন্যান্য গুণাবলি, যে সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা তাঁর সুরক্ষিত কিতাবে জান্নাতের প্রশংসা করে এবং এর অধিবাসীদের সম্বোধন করে বলেছেন: {সেখানে তা-ই রয়েছে যা মন আকাঙ্ক্ষা করে এবং যাতে নয়ন তৃপ্ত হয়; আর তোমরা সেখানে চিরস্থায়ী হবে}। সূক্ষ্ম অর্থ ও বিস্ময়কর প্রজ্ঞার যে অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য জান্নাতে রয়েছে, তা অনুধাবনের পথ অনেকেই খুঁজে পায় না।
ঠিক এ কারণেই দুনিয়ার কদর্যতা হলো আখেরাতের সৌন্দর্যের সোপান। দুনিয়ার প্রতি অনীহা, এর ক্লান্তি ও কলুষতা মূলত জান্নাতের পূর্ণতা, নেয়ামত ও আনন্দেরই আধিক্য স্বরূপ। এমনকি আখেরাতের আগুন ও এর শাস্তিও জান্নাতের নেয়ামত ও মর্যাদার মহিমা এবং এর গুরুত্ব অনুধাবনের মাধ্যম। সংক্ষেপে বলতে গেলে, বিপদ না থাকলে সুস্থতার কদর বোঝা যেত না, শাস্তি না থাকলে নেয়ামতের মূল্য জানা যেত না এবং জাহান্নাম না থাকলে জান্নাতের মাহাত্ম্য অনুধাবন করা সম্ভব হতো না।
আমি বলছি, যখন আমি এই কথাগুলো লিপিবদ্ধ করছিলাম, তখন আমার মনে এমন কিছু পঙ্ক্তি রচনার ধারণা এল যা ইতিপূর্বে কোনো কবি রচনা করেননি। কিন্তু আমার কথা শেষ হওয়ার আগেই আমার চিন্তায় এই একই ভাবধারা নিয়ে কিছু কবিতা ভেসে এল, যা প্রখ্যাত আল্লাহভীরু আরিফ, ফকিহ ও ইমাম আবু সুলাইমান দাউদ আশ-শাজিলি (রহ.) আগেই রচনা করে গিয়েছেন। সুতরাং আমি সেগুলোতেই তুষ্ট হলাম, কারণ আমার কাঙ্ক্ষিত অর্থ প্রকাশের জন্য সেগুলোই যথেষ্ট। তিনি তাঁর একটি কসিদায় বলেছেন:
(হে নফস! সুমহান অর্থের অন্বেষণ করো
… আর এই নশ্বর আবাস থেকে নিজেকে নিবৃত্ত করো)
(এ দুনিয়া কত প্রিয়জনকে দূরে ঠেলে দিয়েছে এবং কত নির্মলতাকে করেছে ঘোলাটে
… আর কত আনন্দের পর নতুন করে শোকের সঞ্চার করেছে)
(দুনিয়াকে এভাবেই সৃষ্টি করা হয়েছে যাতে তুমি উচ্চতার দিকে ধাবিত হও
… এর বিষণ্ণতা মূলত করুণা ও প্রজ্ঞারই এক রহস্য)
(যদি দুনিয়াকে কেবল সুখময় করা হতো, তবে তুমি এর প্রেমে মগ্ন হয়ে পড়তে
… তখন দুনিয়া ও জান্নাতের মাঝে কোনো পার্থক্য থাকত না)
(তোমার জীবনের শপথ! এই দুনিয়া কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তির আবাস হতে পারে না
… যে ব্যক্তি এর মোহে পড়ে সাফল্য ও সম্মানের চিরস্থায়ী আবাস থেকে বিমুখ থাকবে)
(সেই জ্যোতির্ময় স্বদেশ ও মহান সান্নিধ্য থেকে বিমুখ হয়ে
… সেই জীবন থেকে দূরে থাকবে যা মূলত প্রিয়জনদের সান্নিধ্যেই প্রকৃত জীবন)
(আল্লাহর কসম! যদি পাপের অন্ধকার না থাকত, তবে 'মায়' কিংবা 'আজজা'র পার্থিব মোহে পড়ে
… একদিনের জন্যও তোমার জীবন ব্যয়িত হতো না)
আমি বলছি, আমরা মূল প্রসঙ্গের বাইরে অনেকটা দূরে চলে এসেছি, এখন আমরা আমাদের পূর্বের আলোচনার প্রমাণাদি উপস্থাপনের দিকে ফিরে যাচ্ছি।