(খণ্ড: ১)
হাযযুল গালাসিম ফী ইফহামিল মুখাসিম ইনদা জারইয়ানিন নাযারি ফী আহকামিল কাদার
(পৃষ্ঠা: -)
حز الغلاصم في إفحام المخاصم عند جريان النظر في أحكام القدر القسم: العقيدة
الكتاب: حز الغلاصم في إفحام المخاصم عند جريان النظر في أحكام القدر
المؤلف: شيث بن إبراهيم بن محمد بن حيدرة، أبو الحسن القفطي، ضياء الدين المعروف بابن الحاج القناوي (ت 598هـ)
المحقق: عبد الله عمر البارودي
الناشر: مؤسسة الكتب الثقافية - بيروتب
الطبعة: الأولى، 1405
عدد الصفحات: 127
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
কদরের বিধি-বিধান পর্যালোচনার ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষকে নিরুত্তর করার লক্ষ্যে কণ্ঠনালী কর্তন বিভাগ: আকিদাহ
গ্রন্থ: কদরের বিধি-বিধান পর্যালোচনার ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষকে নিরুত্তর করার লক্ষ্যে কণ্ঠনালী কর্তন
লেখক: শিস বিন ইবরাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন হায়দারা, আবুল হাসান আল-কিফতি, যিয়াউদ্দীন যিনি ইবনুল হাজ আল-কানাওয়ি নামে পরিচিত (মৃত্যু ৫৯৮ হিজরি)
সম্পাদক/গবেষক: আব্দুল্লাহ উমর আল-বারুদি
প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুল কুতুব আস-সাকাফিয়াহ - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৫
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৭
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে মিল রাখা হয়েছে]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
হাযযুল গালাসিম ফী ইফহামিল মুখাসিম ইনদা জারইয়ানিন নাযারি ফী আহকামিল কাদার
(পৃষ্ঠা: ১৭)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم قَالَ الشَّيْخ الْفَقِيه الإِمَام حجَّة الاسلام ضِيَاء الدّين أَبُو الْحسن شِيث بن إِبْرَاهِيم بن مُحَمَّد بن حيدرة غفر الله لَهُ وَعَفا عَنهُالْحَمد لله نَاصِر الْحق ومعيله وخاذل الْبَاطِل ومتبعيه وَالصَّلَاة على إِمَام الْهدى مُحَمَّد الْمُصْطَفى وعَلى آله اهل الصدْق والوفى وَمن ولاهم وبهديهم اهْتَدَى وَسَلَامه وتحياته عَلَيْهِم إِلَى يَوْم الْجَزَاء
سَأَلت نور الله باطنك بأنوار الْإِيمَان وزين ظاهرك بوظائف الاسلام واستعملك فِي الدُّنْيَا بمتابعة السّنة وأسعدك فِي الْأُخْرَى بجواره فِي الْجنَّة وَلَا سلبك فِي الْمحيا ثوب التَّقْوَى واكرمك فِي الْحسنى بِطيب المثوى عِنْد الْمُجَاورَة وجريان المذاكرة أَن انتزع الْآيَات الَّتِي فِي كتاب الله تَعَالَى المتضمنة إِقَامَة الْحجَّة على صِحَة إعتقاد اهل السّنة فِي إِرَادَة الكائنات المنوطة بِخلق أَفعَال الْعباد وانها مُتَعَلقَة بِمَشِيئَة وإرادته دون خلقه
وَأَن الْخلق لَيْسَ لَهُم فِيهَا إِلَّا نوع إكتساب ومحاولة وَنسبَة وَإِضَافَة وَأَن ذَلِك كُله إِنَّمَا حصل لَهُم بتيسير الله تَعَالَى وَتَقْدِيره وإلهامه وتوفيقه فَلهُ الْخلق وَالْأَمر وَالتَّقْدِير وَالتَّدْبِير والتيسير والتعسير وَبِيَدِهِ الْهِدَايَة والاضلال وَالطَّاعَة والعصيان وَالْكفْر والايمان
وَلَا يجْرِي فِي ملكه وملكوته خير اَوْ شَرّ نفع أَو ضرّ فوز اَوْ خسر حَيَاة أَو موت غنى اَوْ فقر حُلْو اَوْ مر سر اَوْ جهر وَفَاء اَوْ غدر نصح اَوْ مكر عرف اَوْ نكر حَرَكَة أَو سُكُون قيام اَوْ قعُود قبض أَو بسط إِيمَان اَوْ كفر إِلَّا بإرادته ومشيئته وَعلمه وَقدرته
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। শায়খ, ফকীহ, ইমাম, হুজ্জাতুল ইসলাম জিয়াউদ্দীন আবুল হাসান শীস বিন ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন হায়দারা (আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন এবং মার্জনা করুন) বলেছেন:সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সত্যের সাহায্যকারী ও সহায় এবং বাতিলের ও তার অনুসারীদের লাঞ্ছিতকারী। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক হিদায়াতের ইমাম মুহাম্মাদ আল-মুস্তফার ওপর এবং তাঁর সত্যনিষ্ঠ ও প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারী পরিবার-পরিজনের ওপর, আর যারা তাঁদের ভালোবাসেন এবং তাঁদের প্রদর্শিত হিদায়াতের মাধ্যমে পথপ্রাপ্ত হন তাঁদের ওপর। কিয়ামত পর্যন্ত তাঁদের ওপর শান্তি ও অভিবাদন বর্ষিত হোক।
আপনি আবেদন করেছেন—আল্লাহ আপনার অন্তরকে ঈমানের আলোয় আলোকিত করুন, আপনার বাহ্যিক সত্তাকে ইসলামের বিধান পালনের মাধ্যমে সজ্জিত করুন, আপনাকে দুনিয়াতে সুন্নাহর অনুসরণে নিয়োজিত রাখুন, পরকালে জান্নাতে তাঁর সান্নিধ্যে সৌভাগ্যবান করুন, পার্থিব জীবনে আপনার থেকে তাকওয়ার পোশাক ছিনিয়ে না নিন এবং মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে অবস্থানের সময় আপনাকে উত্তম আবাসের মাধ্যমে সম্মানিত করুন—আমাদের পারস্পরিক আলোচনা ও অবস্থানকালে আমি যেন মহান আল্লাহর কিতাব থেকে সেই আয়াতসমূহ চয়ন করি, যা বান্দাদের কর্ম সৃষ্টির সাথে সংশ্লিষ্ট মহাবিশ্বের ঘটনাবলির ক্ষেত্রে আহলে সুন্নাতের আকিদার সত্যতার সপক্ষে প্রমাণ পেশ করে; এবং যা এই প্রমাণ দেয় যে, এসব বিষয় তাঁর মাখলুকের (সৃষ্টির) ইচ্ছাধীন নয় বরং তাঁরই ইচ্ছা ও অভিপ্রায়ের ওপর নির্ভরশীল।
আর মাখলুকের এতে কেবল এক প্রকার উপার্জন (কাসব), প্রচেষ্টা, সম্বন্ধ ও সম্পৃক্তি ছাড়া আর কোনো ভূমিকা নেই; এবং এসবই তাদের জন্য অর্জিত হয়েছে মহান আল্লাহর সহজীকরণ, নির্ধারণ, ইলহাম এবং তাওফীকের মাধ্যমে। সুতরাং সৃষ্টি, আদেশ, নির্ধারণ, পরিচালনা, সহজ করা এবং কঠিন করা একমাত্র তাঁরই। আল্লাহর হাতেই রয়েছে হিদায়াত ও গোমরাহি, আনুগত্য ও অবাধ্যতা এবং কুফর ও ঈমান।
তাঁর রাজত্ব ও সার্বভৌমত্বে ভালো বা মন্দ, উপকার বা অপকার, সফলতা বা ব্যর্থতা, জীবন বা মৃত্যু, সচ্ছলতা বা দারিদ্র্য, মিষ্টতা বা তিক্ততা, গোপন বা প্রকাশ্য, বিশ্বস্ততা বা বিশ্বাসঘাতকতা, শুভকামনা বা চক্রান্ত, পরিচিত বা অপরিচিত, গতি বা স্থিতি, দণ্ডায়মান হওয়া বা উপবেশন করা, সংকোচন বা প্রসারণ এবং ঈমান বা কুফর—এর কোনো কিছুই তাঁর ইচ্ছা, অভিপ্রায়, জ্ঞান ও ক্ষমতা ব্যতিরেকে সংঘটিত হয় না।
(খণ্ড: ১)
হাযযুল গালাসিম ফী ইফহামিল মুখাসিম ইনদা জারইয়ানিন নাযারি ফী আহকামিল কাদার
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فَمَا شَاءَ كَانَ وَمَا لم يَشَأْ لم يكن كَمَا روى ان قدريا دخل على الصَّادِق جَعْفَر بن مُحَمَّد عليهما السلام فَقَالَ لَهُ يَا ابْن بنت رَسُول الله تَعَالَى الله عَن الْفَحْشَاء فَقَالَ لَهُ جَعْفَر الصَّادِق يَا أَعْرَابِي وَجل رَبنَا ان يكون فِي ملكه مَا لَا يَشَأْ فَقَالَ القدري يَا ابْن بنت رَسُول الله أَيُحِبُّ رَبنَا ان يعْصى قَالَ يَا أَعْرَابِي أفيعصى رَبنَا قهرا قَالَ يَا ابْن بنت رَسُول الله أَرَأَيْت إِن صدني الْهدى فسلك بِي طَرِيق الردى أحسن بِي أم أَسَاءَ فَقَالَ عليه السلام إِن مَنعك شَيْئا هُوَ لَك فقد ظلم وأساء وَإِن مَنعك شَيْئا هُوَ لَهُ فَإِنَّهُ يخْتَص برحمته من يَشَاء فأفحم القدري وبهت وَلم يجد جَوَابا وَهَذَا كَلَام حجَّته فِيهِ فَمَا يحْتَاج إِلَى بَيَان وَلَا إِقَامَة برهَان وَلَكِن لَا ينْتَفع بِهِ إِلَّا من خلقه الله للجنة فَأَما من خلقه للنار فَلَا يسمعهُ وَلَا يلج فِي جوانح قلبه لِأَن الله تَعَالَى لم يخلق لَهُ سمعا يعيه بِهِ وَلَا بَصِيرَة وَلَا فهما فَإِن الله تَعَالَى يَقُول فِي مُحكم كِتَابه {وَلَقَد ذرأنا لِجَهَنَّم كثيرا من الْجِنّ وَالْإِنْس لَهُم قُلُوب لَا يفقهُونَ بهَا وَلَهُم أعين لَا يبصرون بهَا وَلَهُم آذان لَا يسمعُونَ بهَا أُولَئِكَ كالأنعام بل هم أضلّ} وَقَالَ تَعَالَى {وَمن كفر فأمتعه قَلِيلا ثمَّ أضطره إِلَى عَذَاب النَّار وَبئسَ الْمصير} قَالَ سُبْحَانَهُ {إِن الَّذين كفرُوا وظلموا لم يكن الله ليغفر لَهُم وَلَا ليهديهم طَرِيقا إِلَّا طَرِيق جَهَنَّم}
সুতরাং তিনি যা চেয়েছেন তা হয়েছে এবং যা তিনি চাননি তা হয়নি। যেমন বর্ণিত আছে যে, একজন ক্বাদারিয়াপন্থী (তাকদির অস্বীকারকারী) সাদিক জাফর ইবনে মুহাম্মদ (তাদের উভয়ের ওপর সালাম বর্ষিত হোক)-এর নিকট উপস্থিত হলেন এবং তাঁকে বললেন: হে রাসূলুল্লাহর কন্যার সন্তান! আল্লাহ তাআলা অশ্লীলতা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে। তখন জাফর আস-সাদিক তাঁকে বললেন: হে গ্রাম্য ব্যক্তি! আমাদের রব এর চেয়ে অতি মহান যে তাঁর রাজত্বে এমন কিছু ঘটবে যা তিনি চান না। তখন ক্বাদারিয়াপন্থী ব্যক্তিটি বললেন: হে রাসূলুল্লাহর কন্যার সন্তান! আমাদের রব কি এটি পছন্দ করেন যে তাঁর অবাধ্যতা করা হোক? তিনি বললেন: হে গ্রাম্য ব্যক্তি! তবে কি আমাদের রবের অবাধ্যতা কি তাঁর ওপর বিজয়ী হয়ে (জোরপূর্বক) করা হয়? তখন সে বলল: হে রাসূলুল্লাহর কন্যার সন্তান! আপনি কি মনে করেন যদি তিনি আমাকে হিদায়াত থেকে বিরত রাখেন এবং আমাকে ধ্বংসের পথে পরিচালিত করেন, তবে কি তিনি আমার প্রতি সদাচরণ করলেন নাকি মন্দ আচরণ করলেন? তখন তিনি (তাঁর ওপর সালাম বর্ষিত হোক) বললেন: যদি তিনি তোমাকে এমন কিছু থেকে বঞ্চিত করতেন যা তোমার প্রাপ্য ছিল, তবে তিনি জুলুম ও মন্দ আচরণ করতেন। কিন্তু যদি তিনি তোমাকে এমন কিছু থেকে বঞ্চিত করেন যা তাঁর নিজের, তবে তিনি যাকে ইচ্ছা তাঁর রহমতের জন্য নির্দিষ্ট করেন। ফলে ক্বাদারিয়াপন্থী ব্যক্তিটি নিরুত্তর ও হতভম্ব হয়ে পড়ল এবং কোনো জবাব খুঁজে পেল না। আর এটি এমন এক বক্তব্য যার প্রমাণ এর মধ্যেই বিদ্যমান, তাই এটি কোনো ব্যাখ্যা বা দলিল উপস্থাপনের মুখাপেক্ষী নয়। কিন্তু এটি দ্বারা কেবল তারাই উপকৃত হয় যাদের আল্লাহ জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। আর যাকে তিনি জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছেন, সে এটি শ্রবণ করবে না এবং এটি তার হৃদয়ের অন্তস্তলে প্রবেশ করবে না; কারণ আল্লাহ তাআলা তার জন্য এমন কোনো শ্রবণশক্তি সৃষ্টি করেননি যা দ্বারা সে তা ধারণ করতে পারে, আর না দিয়েছেন কোনো অন্তর্দৃষ্টি বা প্রজ্ঞা। কেননা আল্লাহ তাআলা তাঁর সুদৃঢ় কিতাবে বলেছেন: {আর নিশ্চয়ই আমি জাহান্নামের জন্য বহু জিন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছি; তাদের হৃদয় রয়েছে কিন্তু তা দিয়ে তারা উপলব্ধি করে না, তাদের চোখ রয়েছে কিন্তু তা দিয়ে তারা দেখে না এবং তাদের কান রয়েছে কিন্তু তা দিয়ে তারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায়, বরং তারা আরও অধিক পথভ্রষ্ট।} আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {আর যে কুফরি করে, আমি তাকে অল্পকাল জীবনোপভোগ করতে দেব, অতঃপর তাকে জাহান্নামের আজাবের দিকে বাধ্য করব; আর তা কতই না নিকৃষ্ট গন্তব্য।} তিনি পবিত্র সত্তা আরও বলেছেন: {নিশ্চয়ই যারা কুফরি করেছে এবং জুলুম করেছে, আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন না এবং তাদের কোনো পথ প্রদর্শন করবেন না—জাহান্নামের পথ ব্যতীত।}
(খণ্ড: ১)
হাযযুল গালাসিম ফী ইফহামিল মুখাসিম ইনদা জারইয়ানিন নাযারি ফী আহকামিল কাদার
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وَقَالَ فِي آخَرين {يُرِيد الله أَلا يَجْعَل لَهُم حظا فِي الْآخِرَة}
وَقَالَ تَعَالَى {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا اسْتجِيبُوا لله وَلِلرَّسُولِ إِذا دعَاكُمْ لما يُحْيِيكُمْ}
ثمَّ قَالَ {وَاعْلَمُوا أَن الله يحول بَين الْمَرْء وَقَلبه}
وَقَالَ تَعَالَى {وَالله يَدْعُو إِلَى دَار السَّلَام} فَعم بالدعوة ثمَّ قَالَ {وَيهْدِي من يَشَاء إِلَى صِرَاط مُسْتَقِيم} فَخص بالهداية
وَقَالَ تَعَالَى لنَبيه صلى الله عليه وسلم فِي شَأْن من كَانَ حَرِيصًا على هدايته {أَفَمَن زين لَهُ سوء عمله فَرَآهُ حسنا فَإِن الله يضل من يَشَاء وَيهْدِي من يَشَاء فَلَا تذْهب نَفسك عَلَيْهِم حسرات إِن الله عليم بِمَا يصنعون} ثمَّ كرر الدُّعَاء لِقَوْمِهِ وَأظْهر الشَّفَقَة عَلَيْهِم وهم معرضون عَن إجَابَته
أنزل اللع تَعَالَى عَلَيْهِ {وَإِن كَانَ كبر عَلَيْك إعراضهم فَإِن اسْتَطَعْت أَن تبتغي نفقا فِي الأَرْض أَو سلما فِي السَّمَاء فتأتيهم بِآيَة وَلَو شَاءَ الله لجمعهم على الْهدى فَلَا تكونن من الْجَاهِلين}
ثمَّ تمنوا عَلَيْهِ أماني وأقسموا بِاللَّه لَئِن أَتَاهُم مَا يتمنون ليُؤْمِنن بِهِ فَأنْزل الله
এবং তিনি অন্যদের সম্পর্কে বলেছেন, {আল্লাহ চান না যে আখিরাতে তাদের জন্য কোনো অংশ থাকুক।}
এবং মহান আল্লাহ বলেছেন, {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আহ্বানে সাড়া দাও, যখন তিনি তোমাদেরকে এমন কিছুর দিকে আহ্বান করেন যা তোমাদেরকে জীবন দান করে।}
অতঃপর তিনি বলেছেন, {আর জেনে রেখো যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষ ও তার হৃদয়ের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ান।}
এবং মহান আল্লাহ বলেছেন, {আর আল্লাহ শান্তির আবাসের দিকে আহ্বান করেন।} এখানে তিনি আহ্বানকে ব্যাপক করেছেন, অতঃপর বলেছেন, {এবং তিনি যাকে ইচ্ছা সরল পথের দিকে হেদায়েত দান করেন।} এখানে তিনি হেদায়েতকে নির্দিষ্ট করেছেন।
এবং মহান আল্লাহ তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শানে—যিনি তাদের হেদায়েতের জন্য অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন—বলেছেন, {তবে কি যার কাছে তার মন্দ কাজকে শোভনীয় করে দেখানো হয়েছে ফলে সে তাকে উত্তম মনে করে? নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দান করেন। সুতরাং তাদের জন্য আক্ষেপে যেন আপনার প্রাণ নিঃশেষ না হয়। নিশ্চয়ই তারা যা করে আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত।} অতঃপর তিনি তাঁর কওমের জন্য বারবার আহ্বান জানালেন এবং তাদের প্রতি মমত্ববোধ প্রকাশ করলেন, অথচ তারা তাঁর আহ্বানে সাড়া দেওয়া থেকে বিমুখ ছিল।
আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি নাযিল করেছেন, {আর যদি তাদের বিমুখতা আপনার নিকট অসহ্য হয়, তবে আপনি পারলে জমিনে কোনো সুড়ঙ্গ কিংবা আকাশে কোনো সিঁড়ি তালাশ করুন এবং তাদের কাছে কোনো নিদর্শন নিয়ে আসুন। আর আল্লাহ যদি চাইতেন তবে অবশ্যই তাদেরকে হেদায়েতের ওপর একত্রিত করতেন। সুতরাং আপনি কখনোই জ্ঞানহীনদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।}
অতঃপর তারা তাঁর কাছে নানা দাবি পেশ করল এবং আল্লাহর নামে শপথ করল যে, যদি তাদের কাছে তাদের কাঙ্ক্ষিত নিদর্শন আসে তবে তারা অবশ্যই তাতে ঈমান আনবে। তখন আল্লাহ নাযিল করলেন...
(খণ্ড: ১)
হাযযুল গালাসিম ফী ইফহামিল মুখাসিম ইনদা জারইয়ানিন নাযারি ফী আহকামিল কাদার
(পৃষ্ঠা: ২০)
على نبيه صلى الله عليه وسلم مجيبا لَهُم عَن تمنيهم وقسمهم فَقَالَ تَعَالَى {وأقسموا بِاللَّه جهد أَيْمَانهم لَئِن جَاءَتْهُم آيَة ليُؤْمِنن بهَا قل إِنَّمَا الْآيَات عِنْد الله وَمَا يشعركم أَنَّهَا إِذا جَاءَت لَا يُؤمنُونَ ونقلب أفئدتهم وأبصارهم كَمَا لم يُؤمنُوا بِهِ أول مرّة ونذرهم فِي طغيانهم يعمهون}
ثمَّ لما كَانَ خَبِيرا بحالهم وعالما بمالهم أنزل على نبيه صلى الله عليه وسلم فِي شَأْنهمْ تَبًّا لَهُم ووعيدا وتقريعا وتهديدا وتخريسا عَلَيْهِم وتنكيلا فَقَالَ
{وَلَو أننا نزلنَا إِلَيْهِم الْمَلَائِكَة وكلمهم الْمَوْتَى وحشرنا عَلَيْهِم كل شَيْء قبلا مَا كَانُوا ليؤمنوا إِلَّا أَن يَشَاء الله وَلَكِن أَكْثَرهم يجهلون}
وَقَالَ تَعَالَى عقيب هَذِه الْآيَات {وَكَذَلِكَ جعلنَا لكل نَبِي عدوا شياطين الْإِنْس وَالْجِنّ يوحي بَعضهم إِلَى بعض زخرف القَوْل غرُورًا وَلَو شَاءَ رَبك مَا فَعَلُوهُ فذرهم وَمَا يفترون}
فَانْظُر كَيفَ جزم وَقطع بِأَنَّهُ لَو فعل لَهُم مَا تمنوه لما آمنُوا إِلَّا ان يَشَاء الله وَكَذَلِكَ مَا يَفْعَله شياطين الْإِنْس وَالْجِنّ بالأنبياء وعداوتهم لَهُم وَمَا يوحي بَعضهم إِلَى بعض زخرف القَوْل غرُورًا فَقَالَ {وَلَو شَاءَ رَبك مَا فَعَلُوهُ} فعلق مَا صدر من غرورهم وعداوتهم للأنبياء عليهم السلام بمشيئته جل جلاله وَمثله قَوْله تَعَالَى {قَالَ الْمَلأ الَّذين استكبروا من قومه لنخرجنك يَا شُعَيْب وَالَّذين آمنُوا مَعَك من قريتنا أَو لتعودن فِي ملتنا قَالَ أولو كُنَّا كارهين قد افترينا على الله كذبا إِن عدنا فِي ملتكم بعد إِذْ نجانا الله مِنْهَا وَمَا يكون لنا أَن نعود فِيهَا إِلَّا أَن يَشَاء الله}
তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর তাদের আকাঙ্ক্ষা ও শপথের উত্তর দিয়ে মহান আল্লাহ নাযিল করলেন: "তারা আল্লাহর নামে কঠোর শপথ করে বলে যে, যদি তাদের কাছে কোনো নিদর্শন আসে তবে তারা অবশ্যই তাতে ঈমান আনবে। আপনি বলুন, নিদর্শনসমূহ তো কেবল আল্লাহরই কাছে। আর তোমাদের কে জানাবে যে, যখন তা আসবে তখনো তারা ঈমান আনবে না? আমি তাদের অন্তর ও চোখসমূহকে উল্টে দেব, যেমন তারা প্রথমবার তাতে ঈমান আনেনি। আর আমি তাদেরকে তাদের অবাধ্যতায় উদভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়াতে ছেড়ে দেব।"
অতঃপর যেহেতু তিনি তাদের অবস্থা সম্পর্কে সম্যক অবগত এবং তাদের পরিণাম সম্পর্কে পরিজ্ঞাত, তাই তিনি তাদের ব্যাপারে তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর তাদের জন্য ধ্বংসের সংবাদ, হুঁশিয়ারি, তিরস্কার, ভীতিপ্রদর্শন, নির্বাককরণ ও শাস্তি স্বরূপ নাযিল করলেন:
"আর আমি যদি তাদের কাছে ফেরেশতাদের নাযিল করতাম, আর মৃতরা তাদের সাথে কথা বলত এবং আমি সব বস্তুকে তাদের সামনে সমবেত করতাম, তবুও তারা ঈমান আনত না, যদি না আল্লাহ চাইতেন। কিন্তু তাদের অধিকাংশই মূর্খতা প্রকাশ করে।"
মহান আল্লাহ এই আয়াতগুলোর পর আরও বলেন: "আর এভাবেই আমি প্রত্যেক নবীর জন্য মানুষ ও জিনের মধ্য থেকে শয়তানদের শত্রু করেছি, যারা প্রতারণা করার জন্য একে অপরকে চাকচিক্যময় কথার কুমন্ত্রণা দেয়। আর যদি আপনার প্রতিপালক চাইতেন তবে তারা তা করত না। সুতরাং আপনি তাদেরকে এবং তাদের মিথ্যা রটনাকে ছেড়ে দিন।"
লক্ষ্য করুন, তিনি কীভাবে সুনিশ্চিতভাবে ও অকাট্যভাবে ঘোষণা করেছেন যে, তারা যা আকাঙ্ক্ষা করেছিল তা যদি তাদের জন্য করা হতো, তবুও তারা ঈমান আনত না, যদি না আল্লাহ চাইতেন। অনুরূপভাবে, মানুষ ও জিন শয়তানরা নবীদের সাথে যা করে এবং তাদের প্রতি শত্রুতা পোষণ করে, আর একে অপরকে প্রতারণামূলক চাকচিক্যময় কথার যে কুমন্ত্রণা দেয়, সে সম্পর্কে তিনি বলেন: "আর যদি আপনার প্রতিপালক চাইতেন তবে তারা তা করত না।" ফলে তিনি তাদের প্রতারণা এবং নবীদের (আলাইহিমুস সালাম) প্রতি তাদের শত্রুতা থেকে যা কিছু প্রকাশ পায়, তাকে তাঁর সুমহান ইচ্ছার সাথে সংশ্লিষ্ট করেছেন। এরই অনুরূপ মহান আল্লাহর বাণী: "তাঁর সম্প্রদায়ের অহংকারী নেতৃবৃন্দ বলল, হে শুআইব! আমরা অবশ্যই তোমাকে এবং তোমার সাথে যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে আমাদের জনপদ থেকে বের করে দেব অথবা তোমাদেরকে অবশ্যই আমাদের ধর্মে ফিরে আসতে হবে। তিনি বললেন, আমরা অপছন্দ করা সত্ত্বেও কি? আমরা আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করব যদি আমরা তোমাদের ধর্মে ফিরে যাই, অথচ আল্লাহ আমাদেরকে তা থেকে মুক্তি দিয়েছেন। আর আমাদের পক্ষে সম্ভব নয় যে আমরা তাতে ফিরে যাব, যদি না আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ চান।"
(খণ্ড: ১)
হাযযুল গালাসিম ফী ইফহামিল মুখাসিম ইনদা জারইয়ানিন নাযারি ফী আহকামিল কাদার
(পৃষ্ঠা: ২১)
فَأنْظر إِلَى الْأَنْبِيَاء عليهم السلام كَيفَ تفطنوا لقدر الله وَأَن جَمِيع الكائنات منوطة بِمَشِيئَة الله سُبْحَانَهُ وَلذَلِك قَالَ بعض الْمُوَحِّدين مَسَاكِين الْقَدَرِيَّة خالفوا فِي اعْتِقَادهم قَول الله سُبْحَانَهُ وَهُوَ رَبهم وخالقهم ومالكهم وَإِلَيْهِ مآلهم ومرجعهم وخالفوا الْمَلَائِكَة الَّذين هم خَاصَّة الله والعارفون بِاللَّه وَصِفَاته وهم أَحَق بِمَعْرِِفَة الْإِلَه جل جلاله وبصفاته وَأَحْكَامه فِي خلقه وهم الْقَائِلُونَ مَعَ ذَلِك {لَا علم لنا إِلَّا مَا علمتنا إِنَّك أَنْت الْعَلِيم الْحَكِيم} وخالفوا أَنْبيَاء الله وهم خَزَنَة وحيه والمصطفون من خلقه وخالفوا أهل الْجنَّة وخالفوا أهل النَّار وخالفوا شيخهم فِي الضلال إِبْلِيس وَرَجَعُوا فِي إعتقادهم إِلَى سوء رَأْيهمْ وَمَا زين لَهُم وَلم يجدو محيصا وَلَو شَاءَ الله مَا فَعَلُوهُ
أما مخالفتهم لقَوْل الله تَعَالَىفَإِنَّهُ سُبْحَانَهُ يَقُول {وَلَو شِئْنَا لآتينا كل نفس هداها وَلَكِن حق القَوْل مني لأملأن جَهَنَّم من الْجنَّة وَالنَّاس أَجْمَعِينَ}
وَقَول الله تَعَالَى {وَمَا كَانَ لنَفس أَن تؤمن إِلَّا بِإِذن الله}
অতএব আপনি নবীদের (আলাইহিমুস সালাম) প্রতি লক্ষ্য করুন, তারা কীভাবে আল্লাহর তকদির সম্পর্কে সচেতন হয়েছেন এবং অবগত হয়েছেন যে সকল সৃষ্টিজগত মহান আল্লাহর ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। আর এই কারণেই কোনো কোনো একত্ববাদী বলেছেন যে, অসহায় কাদারিয়া সম্প্রদায় তাদের আকিদায় মহান আল্লাহর বাণীর বিরোধিতা করেছে; অথচ তিনি তাদের রব, তাদের স্রষ্টা এবং তাদের মালিক এবং তাঁর দিকেই তাদের প্রত্যাবর্তন ও শেষ গন্তব্য। তারা ফেরেশতাদেরও বিরোধিতা করেছে যারা আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত এবং আল্লাহ ও তাঁর সিফাত সম্পর্কে প্রজ্ঞাবান; আর তাঁরাই ইলাহ (জল্লা জালালুহু), তাঁর সিফাত এবং তাঁর সৃষ্টির ওপর তাঁর বিধানাবলি সম্পর্কে জানার সর্বাধিক উপযুক্ত। তাঁরাই সেই সত্তা যারা বলেন, "আপনি আমাদের যা শিখিয়েছেন তা ছাড়া আমাদের কোনো জ্ঞান নেই; নিশ্চয়ই আপনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।" তারা আল্লাহর নবীদেরও বিরোধিতা করেছে যারা তাঁর ওহীর আমানতদার এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে মনোনীত। তারা জান্নাতবাসীদের বিরোধিতা করেছে, জাহান্নামবাসীদের বিরোধিতা করেছে এবং গোমরাহিতে তাদের গুরু ইবলিসেরও বিরোধিতা করেছে। তারা তাদের আকিদার ক্ষেত্রে তাদের মন্দ চিন্তা এবং তাদের সামনে যা সুশোভিত করা হয়েছে তার দিকেই ফিরে গেছে; অথচ তারা কোনো নিস্তার খুঁজে পাবে না, আর আল্লাহ চাইলে তারা তা করত না।
মহান আল্লাহ তাআলার বাণীর সাথে তাদের বিরোধিতার বিবরণকেননা মহান আল্লাহ বলেন, "আমি ইচ্ছা করলে প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার হিদায়াত দান করতাম; কিন্তু আমার পক্ষ থেকে এই কথা চূড়ান্ত হয়ে আছে যে, আমি অবশ্যই জিন ও মানুষ উভয় দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করব।"
এবং মহান আল্লাহর বাণী, "আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত ঈমান আনা কোনো প্রাণের পক্ষে সম্ভব নয়।"
(খণ্ড: ১)
হাযযুল গালাসিম ফী ইফহামিল মুখাসিম ইনদা জারইয়ানিন নাযারি ফী আহকামিল কাদার
(পৃষ্ঠা: ২২)
وَقَوله تَعَالَى {وَلَكِن الله حبب إِلَيْكُم الْإِيمَان وزينه فِي قُلُوبكُمْ وَكره إِلَيْكُم الْكفْر والفسوق والعصيان}
ثمَّ مدحهم على مَا خلقه فيهم وحببه إِلَيْهِم وزينه فِي قُلُوبهم وَمَا كرهه إِلَيْهِم وَهُوَ من عَظِيم كرمهه وإحسانه وفضله وامتنانه كَمَا يَفْعَله مُلُوك الدُّنْيَا مَعَ خواصهم فِيمَا تشاهده العيان ينعم عَلَيْهِ بِحسن الملبوس والزينة فِي المركوب وَالْخَيْل المسومة وَالسِّلَاح وَآلَة الْحَرْب المحملة فَإِذا عرض عَلَيْهِ الْجنُود والجيوش فِي يَوْم الزينه وَأَعْجَبهُ زِيّ بعض خواصه استحسنه وَقَالَ مَا رَأَيْت فِي الجيوش وزي العساكر أطرف من فلَان وَلَا أزين من زيه
وَإِذا حسن من الْمَخْلُوق هَذَا القَوْل فَهُوَ من خَالق الْخلق وأعمالهم أحسن وَأحسن فقس على ذَلِك جَمِيع مَا ورد فِي الْقُرْآن من الثَّنَاء الْجَمِيل على صَاحبه وَالْكل من صنع الله وخلقه مثل قَوْله {التائبون العابدون الحامدون السائحون الراكعون الساجدون الآمرون بِالْمَعْرُوفِ والناهون عَن الْمُنكر والحافظون لحدود الله}
وَقَوله تَعَالَى {إِن الَّذين يَتلون كتاب الله وَأَقَامُوا الصَّلَاة وأنفقوا من مَا رَزَقْنَاهُمْ سرا وَعَلَانِيَة يرجون تِجَارَة لن تبور ليوفيهم أُجُورهم ويزيدهم من فَضله إِنَّه غَفُور شكور}
ألهمهم لفعل الْخَيْر والأعمال الصَّالِحَة من تِلَاوَة كِتَابه الْكَرِيم وإقام الصَّلَاة وَنَفَقَة المَال وَهُوَ الَّذِي أَعْطَاهُم جَمِيع ذَلِك ويسرهم لَهُ ويسره عَلَيْهِم ثمَّ تفضل
এবং মহান আল্লাহর বাণী: "কিন্তু আল্লাহ ঈমানকে তোমাদের কাছে প্রিয় করে দিয়েছেন এবং তা তোমাদের অন্তরে সুশোভিত করেছেন, আর কুফর, পাপাচার ও অবাধ্যতাকে তোমাদের কাছে অপ্রিয় করে দিয়েছেন।"
অতঃপর তিনি তাদের প্রশংসা করেছেন সেই সব বিষয়ের ওপর যা তিনি তাদের মাঝে সৃষ্টি করেছেন, যা তাদের কাছে প্রিয় করেছেন, যা তাদের অন্তরে সুশোভিত করেছেন এবং যা তাদের কাছে অপ্রিয় করেছেন। আর এটি তাঁর মহান মহানুভবতা, ইহসান, অনুগ্রহ এবং কৃপারই অংশ; যেমনটি দুনিয়ার রাজন্যবর্গ তাদের ঘনিষ্ঠজনদের সাথে করে থাকেন যা চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করা যায়। তারা তাদের উত্তম পোশাক, বাহনের সাজসজ্জা, চিহ্নিত ঘোড়া, অস্ত্রশস্ত্র এবং যুদ্ধের সাজসরঞ্জাম দিয়ে ধন্য করেন। অতঃপর যখন কোনো উৎসবের দিনে তাঁর সামনে সৈন্যসামন্ত ও সেনাবাহিনী উপস্থিত করা হয় এবং তাঁর কোনো বিশেষ ঘনিষ্ঠজনের সাজসজ্জা তাঁকে মুগ্ধ করে, তখন তিনি তার প্রশংসা করেন এবং বলেন: আমি এই সকল সেনাবাহিনী ও সৈনিকদের সাজসজ্জার মাঝে অমুকের চেয়ে চমৎকার বা তার সাজসজ্জার চেয়ে সুন্দর আর কিছুই দেখিনি।
যদি সৃষ্টির পক্ষ থেকে এ জাতীয় কথা সুন্দর হয়, তবে মাখলুক ও তাদের আমলের স্রষ্টার পক্ষ থেকে তা আরও অধিক সুন্দর ও উত্তম। সুতরাং পবিত্র কোরআনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যে সকল সুন্দর প্রশংসা বর্ণিত হয়েছে, তার সবটুকুকে এর ওপর অনুমান করে নিন; অথচ এর প্রতিটিই আল্লাহর কর্ম এবং তাঁর সৃষ্টি। যেমন তাঁর বাণী: "তারা তওবাকারী, ইবাদতকারী, প্রশংসাকারী, রোজা পালনকারী, রুকুকারী, সেজদাকারী, সৎকাজের আদেশদানকারী, অসৎকাজে নিষেধকারী এবং আল্লাহর নির্ধারিত সীমানাসমূহ হেফাজতকারী।"
এবং মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয় যারা আল্লাহর কিতাব পাঠ করে, নামাজ কায়েম করে এবং আমি তাদের যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তারা এমন এক ব্যবসার আশা করে যা কখনো ধ্বংস হবে না। যাতে তিনি তাদের পুরস্কার পূর্ণভাবে দান করেন এবং আপন অনুগ্রহে আরও বাড়িয়ে দেন; নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম গুণগ্রাহী।"
তিনিই তাদের তাঁর সম্মানিত কিতাব পাঠ, নামাজ কায়েম এবং সম্পদ ব্যয়ের মতো কল্যাণকর কাজ ও সৎকর্মের প্রতি অনুপ্রাণিত করেছেন। আর তিনিই তাদের এই সবকিছু দান করেছেন, তাদের জন্য একে সহজ করেছেন এবং তাদের ওপর একে সুগম করেছেন; অতঃপর তিনি অনুগ্রহ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
হাযযুল গালাসিম ফী ইফহামিল মুখাসিম ইনদা জারইয়ানিন নাযারি ফী আহকামিল কাদার
(পৃষ্ঠা: ২৩)
عَلَيْهِم ومدحهم عَلَيْهِ وشكرهم ثمَّ سمى مَا يجازيهم بِهِ على ذَلِك أجرا وَمن أَيْن يسْتَحق العَبْد المربوب الْمَخْلُوق الْمَمْلُوك على خالقه وربه ومالكه وإلهه ومعبوده أجرا لَوْلَا جميل إحسانه وعظيم إمتنانه وجزيل كرمه وعطائه لَا عدمنا ذَلِك الْفضل الْعَظِيم والطول الجسيم
وَقَالَ تَعَالَى فِي آخر هَذِه السُّورَة مَا يُوَافق أَولهَا ويزيده وضوحا لمن أَرَادَ الله بِهِ خيرا وفهمه كِتَابه {يمنون عَلَيْك أَن أَسْلمُوا قل لَا تمنوا عَليّ إسلامكم بل الله يمن عَلَيْكُم أَن هدَاكُمْ للْإيمَان إِن كُنْتُم صَادِقين}
وَقَالَ تَعَالَى {من يهد الله فَهُوَ المهتد وَمن يضلل فَلَنْ تَجِد لَهُ وليا مرشدا}
والآيات فِي مثل هَذَا الْفَنّ لَا تحصى قد ذكرهَا الشَّيْخ الْفَقِيه الإِمَام الأوحد أَبُو الْقَاسِم عبد الرَّحْمَن بن الْحُسَيْن بن الْجبَاب رحمه الله عَلَيْهِ فِيمَا أملاه عَليّ وَهُوَ كتاب الاملاءله فِي مجلدين
وَأما قَول الْمَلَائِكَة فَقَالَت {لَا علم لنا إِلَّا مَا علمتنا إِنَّك أَنْت الْعَلِيم الْحَكِيم}
তাদের ওপর (আল্লাহর অনুগ্রহ), এবং তিনি এ জন্য তাদের প্রশংসা করেছেন ও শুকরিয়া জ্ঞাপন করেছেন; অতঃপর তিনি এর বিনিময়ে যা প্রদান করবেন তাকে ‘প্রতিদান’ হিসেবে নামকরণ করেছেন। একজন লালিত-পালিত, সৃষ্ট এবং মালিকানাধীন দাস তার স্রষ্টা, প্রতিপালক, মালিক, ইলাহ ও মাবুদের নিকট কীভাবে প্রতিদান পাওয়ার হকদার হতে পারে, যদি না তাঁর সুন্দর ইহসান, মহান অনুগ্রহ এবং সুপ্রচুর করুণা ও দান থাকত? আমরা যেন সেই মহান অনুগ্রহ এবং বিশাল নিয়ামত থেকে বঞ্চিত না হই।
মহান আল্লাহ এই সূরার শেষে এমন বিষয় উল্লেখ করেছেন যা এর শুরুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বিষয়টি সেই ব্যক্তির জন্য আরও স্পষ্ট করে দেয় যার জন্য আল্লাহ কল্যাণের ইচ্ছা করেন এবং যাকে তাঁর কিতাব বোঝার তৌফিক দেন: “তারা আপনার নিকট ইসলাম কবুল করাকে আপনার প্রতি অনুগ্রহ মনে করে। আপনি বলুন, ‘তোমরা তোমাদের ইসলাম গ্রহণকে আমার প্রতি অনুগ্রহ মনে করো না; বরং আল্লাহই তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন যে তিনি তোমাদের ঈমানের পথ দেখিয়েছেন, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো’।”
মহান আল্লাহ আরও ইরশাদ করেছেন: “আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন সেই সঠিক পথপ্রাপ্ত, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন আপনি কখনোই তার জন্য কোনো সাহায্যকারী পথপ্রদর্শক পাবেন না।”
এই বিষয়ের আয়াতসমূহ গণনা করে শেষ করা সম্ভব নয়। শাইখ, ফকিহ, অনন্য ইমাম আবুল কাসেম আব্দুর রহমান বিন আল-হুসাইন বিন আল-জাব্বাব (রাহিমাহুল্লাহ) আমার নিকট যা শ্রুতলিখন করিয়েছেন তাতে এগুলো বর্ণনা করেছেন, আর তা হলো দুই খণ্ডে সমাপ্ত তাঁর ‘কিতাবুল ইমলা’।
আর ফেরেশতাদের বক্তব্যের বিষয়ে তারা বলেছিল: “আমরা আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, আপনি আমাদের যা শিখিয়েছেন তা ব্যতীত আমাদের কোনো জ্ঞান নেই; নিশ্চয়ই আপনি সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।”
(খণ্ড: ১)
হাযযুল গালাসিম ফী ইফহামিল মুখাসিম ইনদা জারইয়ানিন নাযারি ফী আহকামিল কাদার
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وَأما قَول الْأَنْبِيَاء عليهم السلامفقد قَالَ شُعَيْب {إِن أُرِيد إِلَّا الْإِصْلَاح مَا اسْتَطَعْت وَمَا توفيقي إِلَّا بِاللَّه عَلَيْهِ توكلت وَإِلَيْهِ أنيب}
وَقَالَ نوح عليه السلام {وَلَا ينفعكم نصحي إِن أردْت أَن أنصح لكم إِن كَانَ الله يُرِيد أَن يغويكم هُوَ ربكُم وَإِلَيْهِ ترجعون}
وَقَالَ إِبْرَاهِيم {لَئِن لم يهدني رَبِّي لأكونن من الْقَوْم الضَّالّين}
وَقَالَ {الَّذِي خلقني فَهُوَ يهدين وَالَّذِي هُوَ يطعمني ويسقين} الْآيَة أفرده بالهداية كَمَا أفرده بالخلق والرزق والشفاء وَالْأَمَانَة والاحياء وَالْمَغْفِرَة يَوْم اللِّقَاء والأمامية والقدرية فِي هَذِه الْآيَات يُؤمنُونَ بِبَعْضِهَا ويكفرون
আর আম্বিয়া (আলাইহিমুস সালাম)গণের বাণীর বিষয়েশুয়াইব (আলাইহিস সালাম) বলেছেন, {আমি তো আমার সাধ্যমতো সংশোধনই চাই। আর আমার তাওফিক কেবল আল্লাহরই সাহায্যে; আমি তাঁরই ওপর ভরসা করি এবং তাঁরই অভিমুখী হই।}
নূহ (আলাইহিস সালাম) বলেছেন, {আমি যদি তোমাদের উপদেশ দিতে চাই, আর আল্লাহ যদি তোমাদের পথভ্রষ্ট করতে চান, তবে আমার সেই উপদেশ তোমাদের কোনো উপকারে আসবে না। তিনিই তোমাদের রব এবং তাঁর নিকটই তোমাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে।}
ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম) বলেছেন, {আমার রব যদি আমাকে পথপ্রদর্শন না করেন, তবে অবশ্যই আমি পথভ্রষ্ট সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।}
তিনি আরও বলেছেন, {যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, তিনিই আমাকে পথপ্রদর্শন করেন। আর যিনি আমাকে আহার দান করেন ও পানীয় পান করান...} - এই আয়াতে তিনি (ইবরাহিম আ.) আল্লাহকে পথপ্রদর্শনের ক্ষেত্রে একক সাব্যস্ত করেছেন, যেভাবে তিনি তাঁকে সৃষ্টি, রিযিক দান, আরোগ্য দান, আমানত, পুনর্জীবিত করা এবং সাক্ষাতের দিনে ক্ষমা করার ক্ষেত্রে একক সাব্যস্ত করেছেন। আর ইমামিয়া ও কাদরিয়া সম্প্রদায় এই আয়াতসমূহের কোনোটির ওপর ঈমান আনে এবং কোনোটিকে অস্বীকার করে।
(খণ্ড: ১)
হাযযুল গালাসিম ফী ইফহামিল মুখাসিম ইনদা জারইয়ানিন নাযারি ফী আহকামিল কাদার
(পৃষ্ঠা: ২৫)
بِبَعْضِهَا بيد أَنه لَو قيل لَهُم من خلق إِبْرَاهِيم الأواه لقالوا خلقه الله وَلَو قيل لَهُم من أطْعمهُ وسقاه لقالوا هُوَ الله وَلَو قيل لَهُم من أمرضه وشفاه لقالوا هُوَ الله ولوقيل لَهُم فَمن أَمَاتَهُ وأحياه لقالوا هُوَ الله وَلَو قيل لَهُم من يغْفر لَهُ يَوْم يلقاه لقالوا هُوَ الله ولوقيل فَمن الَّذِي إِلَى الْإِيمَان هداه قَالُوا وَلم يستحيوا هُوَ الَّذِي هدى نَفسه وَلم يهده الله وَنَفَوْا عَن الله سُبْحَانَهُ هدايته لإِبْرَاهِيم وهداية المهتدين أجميعن وأثبتوا لَهُ جَمِيع مَا تَضَمَّنت لَهُ هَذِه الْآيَات فليت شعري من الَّذِي قصر قدرَة الرب سُبْحَانَهُ وإرادته على بعض المقدورات والمرادات أَله مَعَ الله آله دون الله تَعَالَى الله عَمَّا يشركُونَ
وَهَكَذَا فعلت الحشوية إِذْ قيل لَهُم أَنْتُم تَقولُونَ مَعنا إِن الاله جل جلاله يعلم بِغَيْر قلب ويبطش بِغَيْر جارحة ويخلق بِغَيْر آلَة وَيسمع بِغَيْر أَصْمِخَة وآذان ويبصر بِغَيْر حدقة وأجفان فَمَا باله أَيْضا يتَكَلَّم بِغَيْر صَوت وحرف فَيكون كَلَامه سُبْحَانَهُ كَمَا قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم فضل كَلَام الله على كَلَام الْبشر كفضل الله على خلقه وَوجدنَا فضل الله على خلقه فِي قَوْله تَعَالَى {لَيْسَ كمثله شَيْء} فَيجب أَن يكون لَيْسَ كَمثل كَلَامه كَلَام وَإِذا كَانَ عِنْدهم أَن كَلَام الله صَوت وحرف وَكَلَام المخلوقين صَوت وحرف فقد صَار كَلَامه مثل كَلَام المخلوقين فَلَا فضل لكَلَامه على كَلَام الْبشر وعرضوا كَلَام رَسُول الله صلى الله عليه وسلم للكذب فِي قَوْله عليه السلام فضل كَلَام الله على كَلَام الْبشر كفضل الله على خلقه
وَكَذَلِكَ مَا قَالَه شُعَيْب فِي الْآيَة الْمُتَقَدّمَة وَهِي قَوْله {وَمَا يكون لنا أَن نعود فِيهَا إِلَّا أَن يَشَاء الله رَبنَا}
এর কিয়দংশ নিয়ে। তবে যদি তাদের বলা হতো যে, অতিশয় ক্রন্দনকারী ও বিনীত ইব্রাহীমকে কে সৃষ্টি করেছেন? তবে তারা বলত, তাঁকে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। যদি তাদের বলা হতো, কে তাঁকে আহার করিয়েছেন এবং পান করিয়েছেন? তবে তারা বলত, তিনি আল্লাহ। যদি তাদের বলা হতো, কে তাঁকে অসুস্থ করেছেন এবং আরোগ্য দান করেছেন? তবে তারা বলত, তিনি আল্লাহ। যদি তাদের বলা হতো, তবে কে তাঁকে মৃত্যু দান করেছেন এবং জীবিত করেছেন? তবে তারা বলত, তিনি আল্লাহ। যদি তাদের বলা হতো, যে দিন তাঁর সাথে সাক্ষাৎ হবে সেদিন কে তাঁকে ক্ষমা করবেন? তবে তারা বলত, তিনি আল্লাহ। আর যদি বলা হতো, তবে কে তাঁকে ঈমানের দিকে হেদায়েত দিয়েছেন? তবে তারা লজ্জিত না হয়েই বলত, তিনিই নিজের আত্মাকে হেদায়েত দিয়েছেন, আল্লাহ তাঁকে হেদায়েত দেননি। তারা আল্লাহ সুবহানাহুর পক্ষ থেকে ইব্রাহীম এবং সকল হেদায়েতপ্রাপ্তদের হেদায়েত প্রদানের বিষয়টি অস্বীকার করল, অথচ এই আয়াতসমূহ যা কিছু অন্তর্ভুক্ত করেছে তার সবটুকুই আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করল। হায়! আমি যদি জানতাম, কে প্রতিপালক সুবহানাহুর কুদরত ও ইচ্ছাকে কেবল কিছু নির্দিষ্ট সক্ষমতা ও ইচ্ছার বিষয়ের মাঝে সীমাবদ্ধ করল! আল্লাহর সাথে কি অন্য কোনো ইলাহ আছে? তারা যা শরিক করে আল্লাহ তা থেকে অতি ঊর্ধ্বে।
হাশাবিয়াগণও তেমনই করেছে। যখন তাদের বলা হলো, তোমরা আমাদের সাথে একমত হয়ে বল যে, ইলাহ জল্লা জালালুহু অন্তর ছাড়াই জানেন, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ছাড়াই আল্লাহর হাত দ্বারা পাকড়াও করেন, যন্ত্র ছাড়াই সৃষ্টি করেন, কানের ছিদ্র ও কর্ণেন্দ্রিয় ছাড়াই শোনেন এবং চোখের মণি ও পল্লব ছাড়াই দেখেন; তবে কেন তিনি শব্দ ও অক্ষর ছাড়াও কথা বলবেন না? ফলে সুবহানাহুর কালাম তেমনই হবে যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "মানুষের কথার উপর আল্লাহর বাণীর শ্রেষ্ঠত্ব তেমন, যেমন সৃষ্টির উপর আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব।" আমরা সৃষ্টির উপর আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে পাই যে, "কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়।" সুতরাং আবশ্যক হলো যে, তাঁর বাণীর সদৃশ কোনো বাণী থাকবে না। আর যদি তাদের নিকট আল্লাহর বাণী শব্দ ও অক্ষর হয় এবং মাখলুকের বাণীও শব্দ ও অক্ষর হয়, তবে তো তাঁর বাণী মাখলুকের বাণীর মতো হয়ে গেল। এমতাবস্থায় মানুষের বাণীর উপর তাঁর বাণীর কোনো শ্রেষ্ঠত্ব থাকে না। এর মাধ্যমে তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীকে মিথ্যার সম্মুখীন করল যেখানে তিনি আলাইহিস সালাম বলেছেন, "মানুষের কথার উপর আল্লাহর বাণীর শ্রেষ্ঠত্ব তেমন, যেমন সৃষ্টির উপর আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব।"
একইভাবে যা শুআইব পূর্ববর্তী আয়াতে বলেছেন, আর তা হলো তাঁর বাণী: "আর আমাদের জন্য তাতে ফিরে আসা সম্ভব নয়, যদি না আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ ইচ্ছা করেন।"
(খণ্ড: ১)
হাযযুল গালাসিম ফী ইফহামিল মুখাসিম ইনদা জারইয়ানিন নাযারি ফী আহকামিল কাদার
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وَقَالَ مُوسَى عليه السلام {إِن هِيَ إِلَّا فتنتك تضل بهَا من تشَاء وتهدي من تشَاء أَنْت ولينا فَاغْفِر لنا}
فَهَذَا قَول أنبيائه وهم أعرف خلق الله برَبهمْ وبصفاته وكل مَا ينطقون بِهِ فَهُوَ مُسْتَفَاد من بارئهم كَمَا قَالَ تَعَالَى فِي الْأَخْبَار عَن الْمُصْطَفى صلى الله عليه وسلم {وَمَا ينْطق عَن الْهوى إِن هُوَ إِلَّا وَحي يُوحى}
الا ترى أَن مُوسَى صلى الله على نَبينَا وَعَلِيهِ حَيْثُ قَالَ لرَبه فِي مناجاته {إِن هِيَ إِلَّا فتنتك تضل بهَا من تشَاء وتهدي من تشَاء}
إِنَّمَا اسْتَفَادَ ذَلِك من قَوْله تَعَالَى فِي شَأْن قومه الَّذين عبدُوا الْعجل الَّذين اتَّخذهُ السامري لَهُم من الْحلِيّ وَقَالُوا هَذَا إِلَهكُم وإله مُوسَى وَكَانَ فِي حَال الْمُنَاجَاة فَقَالَ لَهُ ربه {فَإنَّا قد فتنا قَوْمك من بعْدك} فَلَمَّا رَجَعَ إِلَى قومه وَرَأى الْعجل مَنْصُوبًا لِلْعِبَادَةِ وَله خوار قَالَ {إِن هِيَ إِلَّا فتنتك تضل بهَا من تشَاء وتهدي من تشَاء}
এবং মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, “এটি আপনার পরীক্ষা ছাড়া আর কিছু নয়, এর মাধ্যমে আপনি যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন। আপনি আমাদের অভিভাবক, সুতরাং আমাদের ক্ষমা করে দিন।”
এটি হলো তাঁর নবীদের বাণী, আর তাঁরা তাঁদের রব এবং তাঁর সিফাত সম্পর্কে আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী। তাঁরা যা কিছুই উচ্চারণ করেন, তা তাঁদের স্রষ্টার নিকট থেকেই প্রাপ্ত, যেমনটি আল্লাহ তাআলা আল-মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে সংবাদ দিতে গিয়ে বলেছেন, “তিনি প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না। এটি তো কেবল ওহী, যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়।”
আপনি কি দেখেন না যে মূসা (আমাদের নবী এবং তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক), যখন তিনি তাঁর রবের সাথে কথোপকথনের সময় বলেছিলেন, “এটি আপনার পরীক্ষা ছাড়া আর কিছু নয়, এর মাধ্যমে আপনি যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন।”
তিনি মূলত এটি লাভ করেছিলেন তাঁর কওমের অবস্থা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলার সেই বাণী থেকে, যারা বাছুর পূজা করেছিল—যা সামিরী তাদের অলঙ্কার দিয়ে তৈরি করেছিল এবং তারা বলেছিল, “এটি তোমাদের ইলাহ এবং মূসার ইলাহ।” এটি কথোপকথন চলাকালীন সময়ের ঘটনা ছিল, তখন তাঁর রব তাঁকে বলেছিলেন, “আমি আপনার প্রস্থানের পর আপনার কওমকে পরীক্ষায় ফেলেছি।” অতঃপর যখন তিনি তাঁর কওমের কাছে ফিরে আসলেন এবং দেখলেন যে ইবাদতের জন্য বাছুরটি স্থাপন করা হয়েছে এবং সেটি হাম্বা হাম্বা শব্দ করছে, তখন তিনি বললেন, “এটি আপনার পরীক্ষা ছাড়া আর কিছু নয়, এর মাধ্যমে আপনি যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন।”
(খণ্ড: ১)
হাযযুল গালাসিম ফী ইফহামিল মুখাসিম ইনদা জারইয়ানিন নাযারি ফী আহকামিল কাদার
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وَأما قَول أهل الْجنَّة
فَإِنَّهُم قَالُوا لما دخلوها {الْحَمد لله الَّذِي هدَانَا لهَذَا وَمَا كُنَّا لنهتدي لَوْلَا أَن هدَانَا الله}
واما قَول أهل النَّار
فَإِنَّهُم قَالُوا لما اخْتَصَمُوا مَا حَكَاهُ الله عَنْهُم حَيْثُ قَالَ سُبْحَانَهُ
{وبرزوا لله جَمِيعًا فَقَالَ الضُّعَفَاء للَّذين استكبروا إِنَّا كُنَّا لكم تبعا فَهَل أَنْتُم مغنون عَنَّا من عَذَاب الله من شَيْء قَالُوا لَو هدَانَا الله لهديناكم سَوَاء علينا أجزعنا أم صَبرنَا مَا لنا من محيص}
وَفِي قَوْله تَعَالَى {وسيق الَّذين كفرُوا إِلَى جَهَنَّم زمرا} إِلَى قَوْله {قَالُوا بلَى وَلَكِن حقت كلمة الْعَذَاب على الْكَافرين}
والمعتزلة يَقُولُونَ إِن هِدَايَة الله لِعِبَادِهِ إرْسَال الرُّسُل وإنزال الْكتب وَهَذِه الْآيَة تكذبهم وتذري عَلَيْهِم فِي إعتقادهم فِي الْآيَات الَّتِي فِي هَذَا الْكتاب أَيْضا حَيْثُ قَالُوا {لَو هدَانَا الله لهديناكم} فَإِن كَانَت الْهِدَايَة إرْسَال الرُّسُل وإنزال الْكتب فقد هدَاهُم الله فَلم قَالُوا {لَو هدَانَا الله لهديناكم}
فَتدبر الِاثْنَيْنِ جَمِيعًا يظْهر لَك فَسَاد إعتقادهم من كل وَجه وَأحمد الله واشكره على الْإِسْلَام وَالسّنة وَالْهِدَايَة والتوفيق
আর জান্নাতবাসীদের কথা প্রসঙ্গে
তারা যখন জান্নাতে প্রবেশ করল, তখন বলেছিল, “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের এই পথের দিশা দিয়েছেন। আল্লাহ আমাদের পথ না দেখালে আমরা পথ পেতাম না।”
আর জাহান্নামীদের কথা প্রসঙ্গে
তারা যখন একে অপরের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছিল, তখন তারা যা বলেছিল সে সম্পর্কে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বর্ণনা করে বলেছেন:
“তারা সবাই আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে, তখন দুর্বলেরা দাম্ভিকদের বলবে, ‘আমরা তো তোমাদের অনুসারী ছিলাম; এখন তোমরা কি আল্লাহর আযাব থেকে আমাদের কিছুটাও রক্ষা করতে পারবে?’ তারা বলবে, ‘আল্লাহ যদি আমাদের হেদায়েত দিতেন, তবে আমরাও তোমাদের হেদায়েত দিতাম। এখন আমরা অস্থিরতা প্রকাশ করি কিংবা ধৈর্য ধরি, উভয়ই আমাদের জন্য সমান; আমাদের পালানোর কোনো পথ নেই’।”
এবং মহান আল্লাহর বাণী: “আর যারা কুফরি করেছে তাদের দলে দলে জাহান্নামের দিকে হাঁকিয়ে নেওয়া হবে” হতে তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: “তারা বলবে, ‘হ্যাঁ, সত্য, কিন্তু কাফেরদের ওপর আযাবের বাণী অনিবার্য হয়ে গেছে’।”
মুতাজিলারা বলে যে, বান্দাদের প্রতি আল্লাহর হেদায়েত প্রদান বলতে কেবল রাসুল প্রেরণ এবং কিতাব অবতীর্ণ করাকেই বোঝায়। এই আয়াত তাদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করে এবং তাদের আকিদার অসারতা প্রকাশ করে দেয়, যেমনটি এই কিতাবের অন্যান্য আয়াতেও রয়েছে। যেখানে তারা বলেছে, “আল্লাহ যদি আমাদের হেদায়েত দিতেন, তবে আমরাও তোমাদের হেদায়েত দিতাম।” এখন হেদায়েত যদি কেবল রাসুল প্রেরণ এবং কিতাব অবতীর্ণ করাই হতো, তবে তো আল্লাহ তাদের হেদায়েত দিয়েছিলেনই; তাহলে কেন তারা বলল, “যদি আল্লাহ আমাদের হেদায়েত দিতেন, তবে আমরাও তোমাদের হেদায়েত দিতাম”?
অতএব এই উভয় বিষয়ের ওপর একত্রে চিন্তা করুন, তাহলে আপনার নিকট তাদের আকিদার ভ্রষ্টতা সব দিক থেকে স্পষ্ট হয়ে যাবে। আর ইসলাম, সুন্নাহ, হেদায়েত ও তাওফীকের জন্য আল্লাহর প্রশংসা ও শুকরিয়া আদায় করুন।
(খণ্ড: ১)
হাযযুল গালাসিম ফী ইফহামিল মুখাসিম ইনদা জারইয়ানিন নাযারি ফী আহকামিল কাদার
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وَأما قَول شيخهم إِبْلِيس الَّذِي اطاعوه فِي كل مَا زينه لَهُم وَلم يطاوعوه فِي هَذِه الْمَسْأَلَة فَإِنَّهُ قَالَ
{رب بِمَا أغويتني لأزينن لَهُم فِي الأَرْض ولأغوينهم أَجْمَعِينَ}
والإمامية مِنْهُم يلقنون أَوْلَادهم فِي حَال الصغر فَيَقُولُونَ لَهُم مَا أَحمَق السّنة يَعْتَقِدُونَ أَن الله هُوَ الَّذِي يضل وَيهْدِي ويزين الْمعاصِي للعاصي وَإِنَّمَا الْإِنْسَان هُوَ الَّذِي يفعل بِنَفسِهِ مَا يَشَاء دون خالقه ويوردون على الصَّبِي حِكَايَة عَن إِبْلِيس اللعين وآدَم عليه السلام إبتدعوها من تِلْقَاء أنفسهم لم تكن قطّ اجْتمع آدم صلى الله على نَبينَا وَعَلِيهِ وإبليس يَوْمًا فَقَالَ آدم عليه السلام لإبليس لَوْلَا أَنْت اغويتني مَا عصيت رَبِّي قَالُوا فَقَالَ إِبْلِيس يَا آدم فَمن أغواني أَنا حَتَّى عصيت رَبِّي وقصدهم ان يتلقف أبناؤهم هَذِه إِن الله سُبْحَانَهُ لما أَمر إِبْلِيس بِالسُّجُود أَرَادَ سُجُوده فَخَالف إِبْلِيس امْر الله وَعصى واستكبر وأبى كَمَا أخبرالله سُبْحَانَهُ عَنهُ وَلَو كَانَ مُطيعًا لسجد قلت لَهُ فقد امْر الْخَلِيل إِبْرَاهِيم عليه السلام بِذبح الْوَلَد وَلم يرد ذبحه وَلَو أَرَادَ ذبحه كَمَا أمره لذبحه وَهُوَ نَبِي مَعْصُوم مُطِيع لله تَعَالَى منزه عَن الْمُخَالفَة وَعَن الْجَهْل بِمَا أمره الله تَعَالَى وَعَن الْجَهْل بِصِفَات الله تَعَالَى
وَلَا يشك أحد أَن إِبْرَاهِيم أعرف بِاللَّه وبصفاته من الْقَدَرِيَّة والمعتزلة والإمامية فَقَالَ مَا أمره قطّ وَإِنَّمَا رأى مناما قلت منامات الْأَنْبِيَاء وَحي وَحقّ وَهِي من أَمر الله سُبْحَانَهُ وَقد أمره فِي الْمَنَام بِذبح وَلَده عليه السلام
وَوجه آخر
إِن إِسْمَاعِيل نَبِي كريم على الله ومعصوم عَن الْخَطَأ والزلل فِيمَا ينْطق بِهِ من أَحْكَام الله وَقد قَالَ لِأَبِيهِ إِبْرَاهِيم عليهما السلام حِين قَالَ لَهُ {يَا بني إِنِّي أرى فِي الْمَنَام أَنِّي أذبحك فَانْظُر مَاذَا ترى}
আর তাদের শাইখ ইবলিসের বক্তব্য, যাকে তারা তার সুশোভিত করা সকল বিষয়ে অনুসরণ করেছে কিন্তু এই মাসআলায় তার কথা মেনে নেয়নি, সে বলেছিল:
{হে আমার রব! যেহেতু আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, তাই আমি অবশ্যই তাদের জন্য যমীনে (পাপকে) সুশোভিত করব এবং তাদের সকলকেই পথভ্রষ্ট করব।}
তাদের মধ্যে ইমামিয়া সম্প্রদায় শৈশবকালেই তাদের সন্তানদের দীক্ষা দেয় এবং বলে যে, সুন্নিরা কতই না নির্বোধ! তারা বিশ্বাস করে যে, আল্লাহই পথভ্রষ্ট করেন, হিদায়াত দেন এবং পাপাচারীর জন্য পাপকর্মকে সুশোভিত করেন। অথচ মানুষ নিজেই তার স্রষ্টা ব্যতিরেকে যা ইচ্ছা তা করে থাকে। তারা শিশুদের কাছে অভিশপ্ত ইবলিস ও আদম (আলাইহিস সালাম)-এর একটি গল্প বর্ণনা করে, যা তারা নিজেরাই উদ্ভাবন করেছে এবং তা কখনও ঘটেনি—একদিন আদম (আমাদের নবী ও তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক) এবং ইবলিস একত্রিত হল। তখন আদম (আলাইহিস সালাম) ইবলিসকে বললেন: তুমি যদি আমাকে পথভ্রষ্ট না করতে, তবে আমি আমার রবের অবাধ্য হতাম না। তারা বলে, তখন ইবলিস বলল: হে আদম! তবে আমাকে কে পথভ্রষ্ট করল যে আমি আমার রবের অবাধ্য হলাম? তাদের উদ্দেশ্য হলো তাদের সন্তানদের মনে এই ধারণা গেঁথে দেওয়া যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যখন ইবলিসকে সিজদা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তখন তিনি তার সিজদা চেয়েছিলেন; কিন্তু ইবলিস আল্লাহর নির্দেশের বিরোধিতা করেছে, অবাধ্য হয়েছে, অহংকার করেছে এবং অস্বীকার করেছে—যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তার সম্পর্কে খবর দিয়েছেন। আর সে যদি অনুগত হতো তবে অবশ্যই সিজদা করত। আমি তাকে বললাম: খলিল ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-কে তো সন্তান জবেহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, অথচ তিনি (আল্লাহ) তার জবেহ হওয়া চাননি। যদি তিনি তাকে যেভাবে নির্দেশ দিয়েছিলেন সেভাবে তার জবেহ হওয়া চাইতেন, তবে তিনি তাকে জবেহ করেই ফেলতেন। অথচ তিনি (ইব্রাহিম) একজন মাসুম (নিষ্পাপ) নবী, আল্লাহ তাআলার অনুগত, এবং আল্লাহর নির্দেশের বিরোধিতা করা কিংবা আল্লাহ যা নির্দেশ দিয়েছেন সে সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা অথবা আল্লাহর গুণাবলি (সিফাত) সম্পর্কে অজ্ঞতা থেকে পবিত্র।
আর এতে কেউ সন্দেহ করে না যে, ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) কদরিয়া, মুতাজিলা ও ইমামিয়াদের চেয়ে আল্লাহ এবং তাঁর সিফাত সম্পর্কে অধিক অবগত ছিলেন। সে (প্রতিপক্ষ) বলল: তিনি তাকে কখনোই নির্দেশ দেননি, বরং তিনি তো কেবল একটি স্বপ্ন দেখেছিলেন। আমি বললাম: নবীদের স্বপ্ন ওহী এবং সত্য, আর তা আল্লাহ সুবহানাহুর পক্ষ থেকে নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত। আর তিনি স্বপ্নের মাধ্যমেই তাঁকে তাঁর সন্তান (আলাইহিস সালাম)-কে জবেহ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
অন্য একটি দিক হলো
ইসমাইল আল্লাহর নিকট একজন সম্মানিত নবী এবং আল্লাহর আহকাম (বিধান) বর্ণনার ক্ষেত্রে ভুল ও বিচ্যুতি থেকে মাসুম। তিনি তাঁর পিতা ইব্রাহিম (আলাইহিমাস সালাম)-কে বলেছিলেন যখন তিনি তাঁকে বললেন: {হে বৎস! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে আমি তোমাকে জবেহ করছি, এখন ভেবে দেখ তোমার অভিমত কী।}
(খণ্ড: ১)
হাযযুল গালাসিম ফী ইফহামিল মুখাসিম ইনদা জারইয়ানিন নাযারি ফী আহকামিল কাদার
(পৃষ্ঠা: ২৯)
فَأَجَابَهُ بقوله {افْعَل مَا تُؤمر} وحاشاه أَن يَقُول لِأَبِيهِ الْخَلِيل إفعل مَا تُؤمر وَهُوَ لم يُؤمر ولكان إِبْرَاهِيم يَقُول يَا بني مَا أمرت وَإِنَّمَا رَأَيْت فِي النّوم أَنِّي أذبحك فَأخذ يدندن ويتلعثم ويجمجم وَيَقُول قد وجد للذبح والتأم حلقه وهذ مِنْهُ حَرَكَة الْمَذْبُوح وخجل المحجوج وَلِهَذَا سمينا الرسَالَة الذابحة للكلاب النابحة وَقد سيمنا هَذَا الْكتاب باسم مُشْتَقّ مِنْهُ فِي الْمَعْنى فسميناه حز الغلاصم فِي إفحام المخاصم كل هَذَا فِرَارًا من الإنقياد للحق وحسدا لمن عثر عَلَيْهِ دونه وحرصا على تَصْحِيح إعتقاده إِن الْإِرَادَة هِيَ نفس الْأَمر وَالْبَاطِل لَا يقبل البصيرة أبدا وَلَا يتمشى أبدا كَيفَ يكون الذّبْح قد وجد وَالله تَعَالَى يَقُول {وفديناه بِذبح عَظِيم} فَلَا معنى للْفِدَاء إِن كَانَ الذّبْح قد وجد وَكَانَ هَذَا الْقَائِل إِمَامًا عَظِيما عِنْدهم كَبِير الشَّأْن يزْعم ويذبحون أَنه لَا تفلج لَهُ حجَّة وَلَا تقصم لَهُ عُرْوَة
وَمَا أحسن مَا جرى بَين مَجُوسِيّ وقدري وهما فِي إعتقاد هَذِه الْأمة سَوَاء لِأَن الْمَجُوس يَقُولُونَ بآلهين ويسمون الثنوية لذَلِك وَقد جَاءَ حَدِيث عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم يَقُول فِيهِ الْقَدَرِيَّة مجوس هَذِه الْأمة من حَيْثُ أَنهم جعلُوا مَعَ الله شُرَكَاء كثيرا فالخلق عِنْدهم خالقون لأفعالهم حسنها وقبيحها وَالْمَجُوس يجْعَلُونَ مَعَ الله شَرِيكا وَاحِدًا يخلق الشَّرّ لَا غير وَهَؤُلَاء يقلون إِن الْخلق يخلقون إِيمَانهم وكفرهم وطاعتهم وعصيانهم
وَلَقَد جرت هَذِه الْمَسْأَلَة للشَّيْخ الْفَقِيه الإِمَام الرشيد جمال الْفُقَهَاء ابي الطَّاهِر
অতঃপর তিনি তাকে এই বলে উত্তর দিলেন {তোমাকে যা আদেশ করা হয়েছে তা করো}। এটা অসম্ভব যে তিনি তাঁর পিতা খলীলকে বলবেন 'আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে তা করুন' অথচ তাঁকে প্রকৃতপক্ষে কোনো আদেশ করা হয়নি। অন্যথায় ইবরাহীম বলতেন, 'হে বৎস, আমাকে কোনো আদেশ করা হয়নি, আমি কেবল স্বপ্নে দেখেছি যে আমি তোমাকে যবেহ করছি'। অতঃপর সে গুঞ্জন করতে লাগল, তোতলাতে লাগল এবং অস্পষ্টভাবে বলতে লাগল যে যবেহ সম্পন্ন হয়ে গেছে এবং তার কণ্ঠনালী জোড়া লেগে গেছে। এটি ছিল তার পক্ষ থেকে যবেহকৃত পশুর ন্যায় ছটফটানি এবং তর্কে পরাজিত ব্যক্তির লজ্জা। এই কারণেই আমরা এই পত্রটির নাম রেখেছি 'ঘেউ ঘেউ করা কুকুরদের যবেহকারী' এবং এই কিতাবটির নাম এর অর্থের সাথে সংগতি রেখে রেখেছি 'বিবাদীকে নিরুত্তর করতে কণ্ঠনালী কর্তন'। এই সবকিছুই করা হয়েছে সত্যের আনুগত্য থেকে পলায়নের জন্য, তার পরিবর্তে যে সত্য লাভ করেছে তার প্রতি হিংসাবশত এবং নিজের এই বিশ্বাসকে সঠিক প্রমাণ করার লোভে যে 'ইচ্ছা' এবং 'আদেশ' মূলত একই বিষয়। অথচ বাতিল কখনোই অন্তর্দৃষ্টি গ্রহণ করে না এবং তা কখনোই কার্যকর হয় না। কীভাবে যবেহ সম্পন্ন হওয়া সম্ভব অথচ আল্লাহ তাআলা বলছেন {আমরা তাকে এক মহান যবেহযোগ্য পশুর বিনিময়ে মুক্ত করেছি}? যদি যবেহ সম্পন্ন হয়েই যেত তবে মুক্তিপণের কোনো অর্থ থাকত না। এই প্রবক্তা তাদের নিকট একজন মহান ইমাম ও উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। তারা ধারণা করত যে তার কোনো দলীল খণ্ডন করা যায় না এবং তার কোনো বন্ধন ছিন্ন করা যায় না।
একজন অগ্নিপূজক এবং একজন কাদারী (তকদীর অস্বীকারকারী) এর মধ্যে যা ঘটেছিল তা কতই না চমৎকার; অথচ এই উম্মতের আকিদায় তারা উভয়েই সমান। কারণ অগ্নিপূজকরা দুই ইলাহ্-এ বিশ্বাস করে এবং এ কারণেই তাদের দ্বিত্ববাদী বলা হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে যেখানে তিনি বলেছেন: কাদারিয়্যাহরা হলো এই উম্মতের অগ্নিপূজক, কারণ তারা আল্লাহর সাথে অনেক অংশীদার সাব্যস্ত করেছে। তাদের মতে সৃষ্টিরাই তাদের ভালো এবং মন্দ কর্মের স্রষ্টা। অথচ অগ্নিপূজকরা আল্লাহর সাথে কেবল একজন অংশীদার সাব্যস্ত করে যে কেবল মন্দ সৃষ্টি করে। আর এরা (কাদারিয়াহরা) বলে যে সৃষ্টিরাই তাদের ঈমান, কুফর, আনুগত্য এবং অবাধ্যতা সৃষ্টি করে।
এই মাসআলাটি শায়খ ফকীহ ইমাম রশীদ জামালুল ফু্কাহা আবু তাহেরের সামনে ঘটেছিল।
(খণ্ড: ১)
হাযযুল গালাসিম ফী ইফহামিল মুখাসিম ইনদা জারইয়ানিন নাযারি ফী আহকামিল কাদার
(পৃষ্ঠা: ৩০)
إِسْمَاعِيل بَين مكي بن عَوْف أعزه الله فِي مجْلِس رضوَان بن الوحشي وَهُوَ سُلْطَان مصر مَعَ رجل من كبار الأمامية يُقَال لَهُ ابْن الصَّغِير سَأَلَهُ رضوَان أَن يتَكَلَّم مَعَه فِي هَذِه الْمَسْأَلَة
قَالَ الشَّيْخ الْفَقِيه أَبُو طَاهِر فِي كتاب صنفه لرضوان هَذَا فِيهِ الرَّد على الإمامية يُقَال لَهُ كِفَايَة المقتصد وَنِهَايَة الْمُجْتَهد قرأته عَلَيْهِ رضي الله عنه وَهُوَ كتاب مُفِيد جدا أودع مناظرته مَعَه فِي هَذَا الْكتاب يَقُول فِيهِ سَأَلته عَن خلق الْأَفْعَال الَّتِي تصدر عَن الْعباد أَهِي خلق الله أَو خلق لَهُم قَالَ رضي الله عنه فَسَأَلته بِلَفْظ الْقُرْآن لَعَلَّه يتَنَبَّه أَو يستحي فَقلت لَهُ {هَل من خَالق غير الله} ففكر سَاعَة ثمَّ قَالَ الله خَالق أَفعاله والانسان خَالق أَفعاله قَالَ فَقلت إنفرد الانسان لخلق أَفعاله واستبد بهَا قَالَ نعم قَالَ فَقلت لَهُ يَا هَذَا لقد أشركت بِاللَّه فَقَالَ وَمن أَيْن أشركت بِاللَّه وتطاول لَهَا رضوَان وأصغى إِلَى مَا ألقِي فَقلت من جملَة أَفعَال الانسان وَهُوَ أشرف من سَائِر الْمَخْلُوقَات كلهَا الْجَوَاهِر وَبَقِيَّة الْأَعْرَاض فقد صَار مَا خلقه الانسان أشرف مِمَّا خلقه الله تَعَالَى وَالله يَقُول
{مَا اتخذ الله من ولد وَمَا كَانَ مَعَه من إِلَه إِذا لذهب كل إِلَه بِمَا خلق ولعلا بَعضهم على بعض سُبْحَانَ الله عَمَّا يصفونَ}
وَإِذا كَانَ الْإِنْسَان هُوَ خَالق الْإِيمَان وَهُوَ أفضل واشرف من بَقِيَّة الْمَخْلُوقَات فقد ذهب الانسان بِمَا خلق وَذهب الله بِمَا خلق وَعلا الْإِنْسَان على رب الْعباد جلّ ذَلِك الْجلَال أَن توزن صِفَاته بميزان عقل الإمامية واهل الاعتزال فَتَأمل راشدا هَذَا السُّؤَال وَهَذَا الْجَواب وَهَذَا الإفحام فِي هَذَا الْمقَام
ইসমাইল ইবনে মক্কি ইবনে আউফ (আল্লাহ তাঁকে সম্মানিত করুন) মিশরের সুলতান রিদওয়ান ইবনে আল-ওয়াহশির মজলিসে ইমামিয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান এক ব্যক্তি, যাকে ইবনে আস-সাগীর বলা হতো, তার মুখোমুখি হলেন। রিদওয়ান তাঁকে অনুরোধ করলেন যেন তিনি এই মাসআলায় তার সাথে আলোচনা করেন।
শাইখ আল-ফকিহ আবু তাহের এই রিদওয়ানের উদ্দেশ্যে রচিত একটি কিতাবে, যাতে ইমামিয়াদের খণ্ডন করা হয়েছে এবং যার নাম ‘কিফায়াতুল মুকতাসিদ ওয়া নিহায়াতুল মুজতাহিদ’, সেখানে উল্লেখ করেছেন—আমি তাঁর (শাইখের) কাছে কিতাবটি পাঠ করেছি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)—এটি একটি অত্যন্ত উপকারী কিতাব। তিনি এতে উক্ত ব্যক্তির সাথে তাঁর বিতর্কের বিবরণ দিয়েছেন। তিনি সেখানে বলেন: আমি তাকে বান্দাদের থেকে প্রকাশিত কর্মসমূহের সৃষ্টি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, সেগুলো কি আল্লাহর সৃষ্টি নাকি তাদের (বান্দাদের) নিজেদের সৃষ্টি? তিনি (শাইখ) বলেন: আমি তাকে কুরআনের শব্দ দিয়ে প্রশ্ন করলাম যেন সে সচেতন হয় অথবা লজ্জিত হয়। আমি তাকে বললাম, ‘আল্লাহ ব্যতীত কি কোনো স্রষ্টা আছে?’ সে কিছুক্ষণ চিন্তা করল, তারপর বলল, ‘আল্লাহ তাঁর নিজের কাজের স্রষ্টা এবং মানুষ তার নিজের কাজের স্রষ্টা।’ তিনি (শাইখ) বলেন: আমি বললাম, ‘তবে কি মানুষ তার কর্ম সৃষ্টিতে একক এবং সে বিষয়ে সে স্বাধীন?’ সে বলল, ‘হ্যাঁ।’ তিনি বলেন: আমি তাকে বললাম, ‘হে লোক! তুমি তো আল্লাহর সাথে শিরক করলে।’ সে বলল, ‘আমি কোন দিক দিয়ে আল্লাহর সাথে শিরক করলাম?’ রিদওয়ান তখন উৎসুক হলেন এবং যা বলা হচ্ছিল তাতে নিবিষ্ট মনে কান দিলেন। আমি বললাম, ‘মানুষের কর্মসমূহের মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা অন্য সকল সৃষ্টি—যেমন জাওহার (বস্তুনিচয়) ও অন্যান্য আরায (গুণাগুণ)—অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এর ফলে মানুষের সৃষ্টি আল্লাহ তাআলার সৃষ্টির চেয়ে শ্রেষ্ঠ হয়ে পড়ল। অথচ আল্লাহ তাআলা বলেন:
“আল্লাহ কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি এবং তাঁর সাথে কোনো উপাস্য নেই; যদি থাকত, তবে প্রত্যেক উপাস্য স্বীয় সৃষ্টি নিয়ে পৃথক হয়ে যেত এবং একে অপরের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করত। তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে আল্লাহ পবিত্র।”
আর যখন মানুষই ঈমানের স্রষ্টা এবং তা (ঈমান) বাকি সৃষ্টির চেয়ে উত্তম ও শ্রেষ্ঠ, তখন তো মানুষ তার সৃষ্টি নিয়ে পৃথক হয়ে গেল এবং আল্লাহ তাঁর সৃষ্টি নিয়ে পৃথক হয়ে গেলেন; আর মানুষ বান্দাদের রবের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করল। সেই মহান সত্তার মহিমা অত্যন্ত ঊর্ধ্বে যে, তাঁর সিফাতসমূহকে ইমামিয়া ও মুতাজিলাদের আকলের মানদণ্ডে পরিমাপ করা হবে। অতএব, হে সুপথগামী! এই প্রশ্ন, এই উত্তর এবং এই অবস্থানে প্রতিপক্ষকে নিরুত্তর করার বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করো।’
(খণ্ড: ১)
হাযযুল গালাসিম ফী ইফহামিল মুখাসিম ইনদা জারইয়ানিন নাযারি ফী আহকামিল কাদার
(পৃষ্ঠা: ৩১)
رَجعْنَا إِلَى مَا جرى بَين الْمَجُوسِيّ والقدري
فَإِن هَذَا الْكَلَام جرى فِي عرض مَا اوردناه لِأَنَّهُ يشاكله فاستوفينا الْمَقْصُود فِيهِ قَالَ القدري للمجوسي مَا لَك لَا تسلم فَقَالَ الْمَجُوسِيّ حَتَّى يُرِيد الله فَقَالَ القدري قد اراد الله وَلَكِن إِبْلِيس اللعين لَا يدعك فَمَا أحسن جَوَاب الْمَجُوسِيّ للقدري قَالَ إِن كَانَ الله يُرِيد إسلامي وَلم يردهُ إِبْلِيس فَكَانَ الَّذِي اراده إِبْلِيس دون مَا أَرَادَهُ الله فَأَنا مَعَ أقواهما فبهت القدري وَهَذَا دَلِيل التمانع فِي إِقَامَة الدَّلِيل على تَوْحِيد الله تَعَالَى لِأَن الْعلمَاء فرضوا هَذِه الْمَسْأَلَة على من يَقُول أَن للْعَالم إِلَهَيْنِ بِأَن قَالُوا لَو كَانَ للْعَالم إلهان لَكَانَ أَحدهمَا إِذا اراد حَيَاة جسم مَا وَأَرَادَ الآخر إماتته فَإِن تمّ مُرَاد أَحدهمَا دون الآخر فَهُوَ الْإِلَه حَقًا لنفوذ إِرَادَته ومشيئته وَالْآخر لَيْسَ بإله لقُصُور مَشِيئَته وعجزه ومحال أَن يتم مرادهما جَمِيعًا لِاسْتِحَالَة الْجمع بَين الضدين فَلَا يكون الْجِسْم حَيا مَيتا فِي حَال وَاحِد أبدا فَلَا بُد أَن ينفذ مُرَاد احدهما دون الآخر فَالَّذِي تمّ مُرَاده وغلبت مَشِيئَته هُوَ الْإِلَه فَاعْلَم ذَلِك وكرره فَهُوَ عِنْد الْعلمَاء النظار دَلِيل التَّوْحِيد وَهُوَ دَلِيل التمانع وَهُوَ مَضْمُون قَوْله تَعَالَى فِيمَا أرشدنا إِلَيْهِ {لَو كَانَ فيهمَا آلِهَة إِلَّا الله لفسدتا}
وَقَالَ آخر
مَسَاكِين الْقَدَرِيَّة أَرَادوا أَن يصفوا الرب سُبْحَانَهُ بِالْعَدْلِ وَسموا نفسوهم العدلية فوصفوه بِالْعَجزِ وَذَلِكَ أَن قَول الْقَدَرِيَّة وإعتقادهم أَن الله سُبْحَانَهُ أَرَادَ من خلقه أجميعن الايمان وَالطَّاعَة وَأَن إِبْلِيس أَرَادَ مِنْهُم الْكفْر والعصيان وَإِذا تَأَمَّلت مرادات إِبْلِيس فِي الدُّنْيَا وَجدتهَا أَكثر من مرادات الله سُبْحَانَهُ فَإِذا كَانَ الله تَعَالَى قد
আমরা অগ্নিউপাসক (মাজুসি) এবং কাদারিয়া মতাবলম্বীর মধ্যে যা ঘটেছিল তাতে ফিরে যাই।
নিশ্চয়ই এই আলোচনাটি আমাদের উপস্থাপিত প্রসঙ্গের মাঝেই এসেছে যেহেতু এটি তার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, তাই আমরা এতে উদ্দিষ্ট বিষয়টি পূর্ণাঙ্গভাবে আলোচনা করেছি। কাদারি ব্যক্তি অগ্নিউপাসককে বলল, "তোমার কী হয়েছে যে তুমি ইসলাম গ্রহণ করছ না?" অগ্নিউপাসক বলল, "যতক্ষণ না আল্লাহ চান।" তখন কাদারি বলল, "আল্লাহ তো চেয়েছেন, কিন্তু অভিশপ্ত ইবলিস তোমাকে তা করতে দিচ্ছে না।" কাদারির প্রতি অগ্নিউপাসকের উত্তরটি কতই না চমৎকার ছিল! সে বলল, "আল্লাহ যদি আমার ইসলাম গ্রহণ চান আর ইবলিস যদি তা না চায়, আর আল্লাহর চাওয়ার বিপরীতে যদি ইবলিসের চাওয়াটিই বাস্তবায়িত হয়, তবে আমি উভয়ের মধ্যে যে অধিক শক্তিশালী তার সাথেই আছি।" এতে কাদারি ব্যক্তিটি হতভম্ব হয়ে গেল। আর এটিই হলো মহান আল্লাহর তাওহীদের প্রমাণ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে 'দালিলে তামানূ' (পারস্পরিক বর্জনের যুক্তি)। কেননা আলেমগণ এই মাসআলাটি তাদের বিরুদ্ধে পেশ করেছেন যারা বলে যে জগতের জন্য দুইজন ইলাহ রয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, যদি জগতের দুইজন ইলাহ থাকতেন, তবে তাদের একজন যখন কোনো দেহের জীবন চাইতেন এবং অন্যজন তার মৃত্যু চাইতেন, এমতাবস্থায় যদি একজনের ইচ্ছা অন্যজনের ইচ্ছা ব্যতিরেকে পূর্ণ হতো, তবে তাঁর ইচ্ছা ও সংকল্প কার্যকর হওয়ার কারণে তিনিই হতেন প্রকৃত ইলাহ। আর অন্যজন তাঁর সংকল্পের অপূর্ণতা ও অক্ষমতার কারণে ইলাহ হতেন না। আর উভয়ের ইচ্ছা একসাথে পূর্ণ হওয়া অসম্ভব, কারণ পরস্পরবিরোধী দুটি বিষয়কে একত্রে সমাবেশ করা অসম্ভব। সুতরাং কোনো দেহ একই সময়ে কখনোই জীবিত ও মৃত হতে পারে না। তাই অবধারিতভাবে একজনের ইচ্ছা অন্যজনের ইচ্ছার ওপর কার্যকর হতে হবে। অতএব যাঁর ইচ্ছা পূর্ণ হলো এবং যাঁর সংকল্প বিজয়ী হলো, তিনিই হচ্ছেন ইলাহ। বিষয়টি জেনে রাখো এবং বারবার পাঠ করো, কারণ সূক্ষ্মদর্শী আলেমদের নিকট এটিই তাওহীদের দলিল এবং এটিই 'দালিলে তামানূ'। মহান আল্লাহ আমাদের যে বিষয়ের প্রতি পথনির্দেশ দিয়েছেন তা-ই এই বাণীর মর্মার্থ: "যদি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে আল্লাহ ব্যতীত আরও ইলাহ থাকত, তবে উভয়ই বিশৃঙ্খল (ধ্বংস) হয়ে যেত।"
অন্য একজন বলেছেন—
হতভাগা কাদারিয়া সম্প্রদায়! তারা রব সুবহানাহুকে ন্যায়পরায়ণতার গুণে গুণান্বিত করতে চেয়েছিল এবং নিজেদের 'আদলিয়া' (ন্যায়পন্থী) নামে অভিহিত করেছিল, কিন্তু তারা মূলত তাঁকে অক্ষমতার গুণে গুণান্বিত করেছে। আর তা এই কারণে যে, কাদারিয়াদের বক্তব্য ও বিশ্বাস হলো—আল্লাহ সুবহানাহু তাঁর সমস্ত সৃষ্টির নিকট থেকে ঈমান ও আনুগত্য চেয়েছিলেন, আর ইবলিস তাদের নিকট কুফর ও নাফরমানি চেয়েছিল। তুমি যদি পৃথিবীতে ইবলিসের ইচ্ছাসমূহের বাস্তবায়নের দিকে লক্ষ্য করো, তবে সেগুলোকে আল্লাহ সুবহানাহুর (শরিয়তগত) ইচ্ছার চেয়েও অধিক দেখতে পাবে। সুতরাং আল্লাহ তাআলা যদি...
(খণ্ড: ১)
হাযযুল গালাসিম ফী ইফহামিল মুখাসিম ইনদা জারইয়ানিন নাযারি ফী আহকামিল কাদার
(পৃষ্ঠা: ৩২)
أَرَادَ من الْكفَّار والعصاة الْإِيمَان وَالطَّاعَة فَمَا كَانَت وَأَرَادَ مِنْهُم إِبْلِيس الْعِصْيَان وَالْكفْر فَكَانَ مَا أرداه فقد نفذت مَشِيئَة إِبْلِيس وإرادته وَلم تنفذ مَشِيئَة الله وإرادته فَقَوْل النَّاس إِذن كَافَّة مَا شَاءَ الله كَانَ وَمَا لم يَشَأْ لم يكن بَاطِل وَالصَّحِيح على قَوْلهم وَسُوء إعتقادهم أَن يَقُول الْقَائِل مَا شَاءَ إِبْلِيس كَانَ وَمَا شَاءَ الله لم يكن ونستغفر الله من تسطير هَذِه الْكَلِمَات وَلَكِن حاكي الْكفْر لَيْسَ بِكَافِر وَللَّه الْحَمد على نعْمَة الْإِسْلَام وَالسّنة
فَمن رد ولَايَة الرب سُبْحَانَهُ إِلَى صُورَة لَو ردَّتْ إِلَى زعيم بَلْدَة لاستنكف أَن تنْسب إِلَيْهِ وَذَلِكَ أَن زعيم بَلْدَة إِذا علم أَن مَعَه فِي بَلَده معاندا لَهُ إِذا أَرَادَ أمرا أَرَادَ المعاند نقيضه ثمَّ يتم مُرَاد المعاند دون مُرَاد الزعيم وَهُوَ يعلم معاندة معانده وَلَا يُنكر عَلَيْهِ وَلَا يمنعهُ من عناده وَلَا يَنْفِيه من بَلَده وَلَا يقْتله فَهُوَ عَاجز عَنهُ وَالله يتعالى أَن يُوصف بِالْعَجزِ أَو الْجور وَلَو كَانَ كَذَلِك لخرج عَن الإلهية وانعزل عَن الربوبية وَلم يكن إِلَهًا مُطَاعًا وَهَذَا هُوَ دَلِيل التَّوْحِيد الَّذِي قدمنَا ذكره فَافْهَم
والقدرية إِنَّمَا ضلت فِي هَذِه الْمَسْأَلَة من حَيْثُ قاست عدل الله تَعَالَى على عدل عباده فَإِن عباده مأمورون ومنهيون ومملوكون ومربوبون وَلَيْسَ لَهُم ملك يتصرفون فِيهِ إِلَّا بِإِذن مالكهم فَمَا سوغه لَهُم سَاغَ لَهُم التَّصَرُّف فِيهِ وَمَا لم يَأْذَن لَهُم بِالتَّصَرُّفِ فِيهِ وَلَو كَانَ ملكهم لم يسغْ لَهُم ذَلِك وَقد شرع لَهُم جلّ وَعلا أَن من تصرف فِي ملكي بِغَيْر إذني أَو ملك أحد من خلقي بِغَيْر إِذْنه فقد ضل {وَمن يَتَعَدَّ حُدُود الله فَأُولَئِك هم الظَّالِمُونَ} وَمن تصرف فِي ملك الله بِغَيْر إِذْنه فقد ظلم وتعدى وَلَو كَانَ تصرفه فِي عبد من عبيده يُقيد مَا أذن لَهُ مَالِكه على الْحَقِيقَة فَإِنَّهُ سُبْحَانَهُ قد أذن لَهُ أَن يتَصَرَّف فِي عَبده تَصرفا خَاصّا لَا عَاما فَلَا يجوز لَهُ أَن يقطع يَده وَلَا يفقأ عينه وَلَا يجيعه وَلَا يضْربهُ وَلَا ينكحه فَمَتَى فعل شَيْئا من هَذَا وأشبهاهه فقد تعدى وظلم وجار وَعصى وَخَالف واستوجب الْعقُوبَة على ذَلِك من
তিনি কাফির ও পাপাচারীদের নিকট থেকে ঈমান ও আনুগত্য চেয়েছিলেন কিন্তু তা ঘটেনি, আর ইবলিস তাদের থেকে অবাধ্যতা ও কুফর চেয়েছিল এবং সে যা চেয়েছিল তা-ই হয়েছে; ফলে ইবলিসের ইচ্ছা ও অভিপ্রায় কার্যকর হলো অথচ আল্লাহর ইচ্ছা ও অভিপ্রায় কার্যকর হলো না— মানুষের এই সর্বজনীন কথা "আল্লাহ যা চেয়েছেন তা-ই হয়েছে এবং যা তিনি চাননি তা হয়নি" তবে তো বাতিল হয়ে যায়। বরং তাদের বক্তব্য ও মন্দ বিশ্বাস অনুযায়ী সঠিক কথাটি এই দাঁড়ায় যে, "ইবলিস যা চেয়েছে তা-ই হয়েছে এবং আল্লাহ যা চেয়েছেন তা হয়নি।" এই শব্দগুলো লিপিবদ্ধ করার কারণে আমরা আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি, তবে কুফরের বর্ণনাকারী কাফির নয়। ইসলাম ও সুন্নাহর নিআমতের জন্য আল্লাহর যাবতীয় প্রশংসা।
সুতরাং যে ব্যক্তি মহান রবের কর্তৃত্বকে এমন এক অবস্থায় নামিয়ে আনে, যা যদি কোনো জনপদের নেতার প্রতিও আরোপ করা হতো তবে তিনি তা নিজের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করতে ঘৃণা বোধ করতেন। বিষয়টি হলো, জনপদের নেতা যদি জানেন যে তার জনপদে এমন এক প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছে যে তার প্রতিটি ইচ্ছার বিপরীতে অবস্থান নেয়, অতঃপর নেতার ইচ্ছার পরিবর্তে সেই প্রতিদ্বন্দ্বীর ইচ্ছাই বাস্তবায়িত হয়, অথচ তিনি তার বিরোধিতা সম্পর্কে অবগত থেকেও তাকে বাধা দেন না, তার অবাধ্যতা প্রতিরোধ করেন না, তাকে এলাকা থেকে বহিষ্কার করেন না কিংবা তাকে হত্যা করেন না, তবে তিনি তার ব্যাপারে অক্ষম ও অপারগ। অথচ আল্লাহ তাআলা অক্ষমতা বা অন্যায়ের বিশেষণে বিশেষিত হওয়া থেকে সুউচ্চ ও পবিত্র। যদি বিষয়টি তেমনই হতো, তবে তিনি উপাস্য হওয়ার যোগ্যতা হারাতেন এবং রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্ব থেকে বিচ্যুত হতেন এবং তিনি আর আনুগত্যযোগ্য ইলাহ থাকতেন না। এটিই তাওহীদের সেই দলীল যা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি, অতএব বিষয়টি বুঝে নিন।
আর ক্বাদারিয়া সম্প্রদায় মূলত এই মাসআলায় এ কারণেই পথভ্রষ্ট হয়েছে যে, তারা মহান আল্লাহর ন্যায়বিচারকে তাঁর বান্দাদের ন্যায়বিচারের সাথে তুলনা করেছে। অথচ তাঁর বান্দারা আদিষ্ট, নিষিদ্ধ, মালিকানাধীন এবং প্রতিপালিত। তাদের প্রকৃত মালিকের অনুমতি ব্যতীত কোনো কিছু পরিচালনা বা নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার তাদের নেই। সুতরাং তিনি তাদের জন্য যা বৈধ করেছেন, সেটুকুই তাদের জন্য পরিচালনা করা বৈধ। আর যে বিষয়ে তিনি তাদের অনুমতি দেননি, সেটি তাদের বাহ্যিক মালিকানাধীন হলেও তাতে হস্তক্ষেপ করা তাদের জন্য বৈধ নয়। মহান আল্লাহ তাদের জন্য এই বিধান দিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি আমার অনুমতি ব্যতীত আমার মালিকানাধীন কোনো কিছুতে কিংবা আমার কোনো সৃষ্টির মালিকানাধীন কোনো কিছুতে তার অনুমতি ছাড়া হস্তক্ষেপ করবে, সে পথভ্রষ্ট হয়েছে। "আর যারা আল্লাহর সীমালঙ্ঘন করে, তারাই জালেম"। সুতরাং আল্লাহর অনুমতি ছাড়া তাঁর মালিকানাধীন বিষয়ে হস্তক্ষেপকারী ব্যক্তি জুলুম ও সীমালঙ্ঘন করল। এমনকি কোনো দাসের ওপর তার মালিকের হস্তক্ষেপও প্রকৃত মালিক কর্তৃক অনুমোদিত বিষয়ের দ্বারা সীমাবদ্ধ। কেননা মহান আল্লাহ তাকে তার দাসের ওপর কেবল বিশেষ কিছু হস্তক্ষেপের অনুমতি দিয়েছেন, সাধারণ বা নিরঙ্কুশ অনুমতি দেননি। অতএব তার জন্য দাসের হাত কাটা, তার চোখ উপড়ে ফেলা, তাকে ক্ষুধার্ত রাখা, তাকে প্রহার করা কিংবা বিবাহ দেওয়া বৈধ নয়। যখনই সে এসব বা এর সদৃশ কিছু করবে, তখনই সে সীমালঙ্ঘনকারী, জালেম, অন্যায্যকারী, পাপাচারী ও অবাধ্য হিসেবে গণ্য হবে এবং এর দরুন সে শাস্তির উপযুক্ত হবে...
(খণ্ড: ১)
হাযযুল গালাসিম ফী ইফহামিল মুখাসিম ইনদা জারইয়ানিন নাযারি ফী আহকামিল কাদার
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
الْمَالِك الْحَقِيقِيّ المشرع الَّذِي ارسل إِلَيْهِ وَإِلَى سَائِر خلقه الرُّسُل وحد لَهُم الْحُدُود وَأمر وَنهى ووعد وأوعد
بل إِذا قتل الْإِنْسَان نَفسه أدخلهُ النَّار وَقَالَ لَهُ لم تعديت على ملكي وتصرفت فِيهِ بِغَيْر إذاني فلأدخلنك نَارِي ولأوجبن عَلَيْك سخطي
والقدرية يذهلون عَن هَذِه الْأُمُور الالهية وَالْحكمَة الربانية ويقيسون عدل الْخَالِق على عدل الْمَخْلُوق فَمَا كَانَ مِنْهُم قبيحا عِنْدهم فَمثله عِنْدهم من الله قَبِيح وَهُوَ سُبْحَانَهُ {لَا يسْأَل عَمَّا يفعل وهم يسْأَلُون} وَلَا يُقَاس عدله بِعدْل الْعباد كَمَا قَالَ أَبُو حَامِد الْغَزالِيّ إِذْ العَبْد يتَصَوَّر مِنْهُ الظُّلم بتصرفه فِي ملك غَيره وَلَا يتَصَوَّر الظُّلم من الله سُبْحَانَهُ فَإِنَّهُ لَا يُصَادف لغيره ملكا حَتَّى يكون تصرفه فِيهِ ظلما فَكل مَا سواهُ من جن وإنس وَملك وَشَيْطَان وسماء وَارْضَ وحيوان ونبات وجوهر وَعرض ومدرك ومحسوس حَادث إخترعه بقدرته بعد أَن لم يكن فَإِذا تصرف فِي ملكه كَيفَ يُقَال لَهُ ظلمت وَلَو أَنه سُبْحَانَهُ حَيْثُ خلق أَبَانَا آدم عليه السلام من قِطْعَة من الطين أَعَادَهُ إِلَى النَّار فَمن ذَا الَّذِي يَقُول أَنه ظلمه وَهُوَ مَالِكه وموجده ومحدثه جلّ رَبنَا وتقدس عَمَّا يضيفه إِلَيْهِ الْمُلْحِدُونَ وَتَعَالَى علوا كَبِيرا
وَاعْلَم رَحِمك الله وَيسر لَك فهم كِتَابه الْعَزِيز وسره فِي قدره وَحكمه فِي خلقه وتصاريفه فِي تَدْبيره إِنَّك إِذا تَأَمَّلت آيَتَيْنِ من الْكتاب الْعَزِيز فكفتاك إِحْدَاهمَا
قَوْله تَعَالَى {قاتلوهم يعذبهم الله بِأَيْدِيكُمْ}
وَالْأُخْرَى قَوْله تَعَالَى {فَلم تَقْتُلُوهُمْ وَلَكِن الله قَتلهمْ وَمَا رميت إِذْ رميت وَلَكِن الله رمى}
তিনি প্রকৃত মালিক এবং শরীয়ত প্রণেতা, যিনি তাঁর নিকট এবং তাঁর সমগ্র সৃষ্টির নিকট রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন এবং তাদের জন্য সীমারেখা নির্ধারণ করে দিয়েছেন, আদেশ ও নিষেধ করেছেন এবং পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি ও শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এমনকি কোনো মানুষ যখন আত্মহত্যা করে, তিনি তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করান এবং তাকে বলেন: কেন তুমি আমার মালিকানাধীন বিষয়ের ওপর সীমালঙ্ঘন করলে এবং আমার অনুমতি ব্যতীত তাতে হস্তক্ষেপ করলে? সুতরাং আমি অবশ্যই তোমাকে আমার আগুনে প্রবেশ করাব এবং তোমার ওপর আমার ক্রোধ অবধারিত করব।
আর কাদারিয়া সম্প্রদায় এই সকল ইলাহী বিষয়াবলী এবং রব্বানী হিকমত সম্পর্কে গাফেল। তারা স্রষ্টার ইনসাফকে সৃষ্টির ইনসাফের ওপর কিয়াস (তুলনা) করে। ফলে তাদের নিকট নিজেদের যে কাজ মন্দ মনে হয়, আল্লাহর পক্ষ থেকেও তদ্রূপ কাজকে তারা মন্দ মনে করে। অথচ তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা—"তিনি যা করেন সে বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা যাবে না, বরং তাদেরকেই প্রশ্ন করা হবে।" বান্দাদের ন্যায়বিচারের সাথে তাঁর ন্যায়বিচারকে তুলনা করা যায় না, যেমনটি আবু হামিদ আল-গাযালী বলেছেন। কেননা, বান্দার ক্ষেত্রে অন্যের মালিকানাধীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার মাধ্যমে জুলুমের ধারণা করা সম্ভব, কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে জুলুমের কোনো ধারণা করা যায় না। কারণ তিনি অন্যের কোনো মালিকানা খুঁজে পাবেন না যে তাতে তাঁর হস্তক্ষেপ জুলুম হিসেবে গণ্য হবে। সুতরাং তিনি ব্যতীত যা কিছু আছে—জিন, ইনসান, ফেরেশতা, শয়তান, আসমান, জমিন, পশু-পাখি, উদ্ভিদ, জাওহার (মৌলিক বস্তু), আ’রাজ (গুণাবলি), এবং যা কিছু অনুভূত ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য—সবই নব্যসৃষ্ট (হাদিস), যা তিনি অস্তিত্বহীন থাকার পর তাঁর কুদরতের মাধ্যমে উদ্ভাবন করেছেন। অতএব, তিনি যখন তাঁর নিজ মালিকানাধীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেন, তখন তাঁকে কীভাবে বলা যায় যে 'আপনি জুলুম করেছেন'? এমনকি তিনি যখন আমাদের পিতা আদম আলাইহিস সালামকে এক খণ্ড মাটি থেকে সৃষ্টি করেছিলেন, তখন যদি তাকে পুনরায় আগুনেই ফিরিয়ে দিতেন, তবে কে বলার থাকতো যে তিনি তাঁর ওপর জুলুম করেছেন? অথচ তিনি তো তাঁর মালিক, অস্তিত্বদানকারী এবং উদ্ভাবনকারী। আমাদের রব সুমহান এবং মুলহিদরা তাঁর প্রতি যা আরোপ করে তা থেকে তিনি পবিত্র এবং অতি উচ্চ।
জেনে রাখুন, আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন এবং আপনার জন্য তাঁর মহান কিতাবের অনুধাবন, তাঁর তকদীরের রহস্য, তাঁর সৃষ্টির মধ্যকার হিকমত এবং তাঁর পরিচালনার বৈচিত্র্য অনুধাবন করা সহজ করে দিন। আপনি যদি মহান কিতাবের দুটি আয়াতের ওপর গভীরভাবে চিন্তা করেন, তবে তা আপনার জন্য যথেষ্ট হবে। তার একটি হলো:
মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করো, আল্লাহ তোমাদের হাতের মাধ্যমে তাদেরকে শাস্তি দেবেন।"
এবং অপর আয়াতটি হলো মহান আল্লাহর বাণী: "বস্তুত তোমরা তাদেরকে হত্যা করোনি, বরং আল্লাহই তাদেরকে হত্যা করেছেন। আর আপনি যখন নিক্ষেপ করেছিলেন, তখন আপনি নিক্ষেপ করেননি, বরং আল্লাহই নিক্ষেপ করেছিলেন।"
(খণ্ড: ১)
হাযযুল গালাসিম ফী ইফহামিল মুখাসিম ইনদা জারইয়ানিন নাযারি ফী আহকামিল কাদার
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
فَافْهَم فَإِن الله تَعَالَى هُوَ الْفَاعِل الْحَقِيقِيّ وَلَا فَاعل سواهُ وَلَا خَالق إِلَّا هُوَ قَالَ الله سُبْحَانَهُ {وَالله خَلقكُم وَمَا تَعْمَلُونَ} أَي خَلقكُم وعملكم
وافهم أَنه جلّ وَعز الْفَاعِل على الْحَقِيقَة وَغَيره فَاعل على الْمجَاز وَأَنه يتَصَرَّف فِي نِسْبَة أَفعَال خلقه الَّتِي خلقهَا تَارَة ينسبها إِلَى من اكتسبها وَظَهَرت للناظرين مِنْهُم فَيَقُول سُبْحَانَهُ {جَزَاء بِمَا كَانُوا يعْملُونَ} وَيَقُول {يعلمُونَ مَا تَفْعَلُونَ} {وَالله يعلم مَا تَصْنَعُونَ} وَشبه ذَلِك كثير
وَتارَة ينسبها إِلَى نَفسه لنه خَالِقهَا فَيَقُول سُبْحَانَهُ {فَلم تَقْتُلُوهُمْ وَلَكِن الله قَتلهمْ وَمَا رميت إِذْ رميت وَلَكِن الله رمى} {قاتلوهم يعذبهم الله بِأَيْدِيكُمْ} {نتلوا عَلَيْك من نبإ مُوسَى وَفرْعَوْن} {نَحن نقص عَلَيْك أحسن الْقَصَص}
وَيَقُول {فَإِذا قرأناه فَاتبع قرآنه} جَاءَ فِي التَّفْسِير فَإِذا قَرَأَهُ جِبْرِيل فَاتبع قِرَاءَته
সুতরাং বুঝে নিন যে, আল্লাহ তাআলা হলেন প্রকৃত কর্তা এবং তিনি ব্যতীত কোনো কর্তা নেই এবং তিনি ব্যতীত কোনো স্রষ্টা নেই। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন, {আর আল্লাহ তোমাদেরকে এবং তোমরা যা করো তা সৃষ্টি করেছেন}, অর্থাৎ তোমাদের এবং তোমাদের কাজগুলোকে সৃষ্টি করেছেন।
এবং বুঝে নিন যে, তিনি মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী, প্রকৃত অর্থে তিনিই কর্তা আর তিনি ছাড়া অন্যরা রূপক অর্থে কর্তা। তিনি তাঁর সৃষ্টির কর্মসমূহ যা তিনি সৃষ্টি করেছেন সেগুলোর সম্বন্ধের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আনেন; কখনও তিনি সেগুলোকে তাদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেন যারা তা অর্জন করেছে এবং দর্শকদের দৃষ্টিতে তাদের মাধ্যমেই তা প্রকাশ পেয়েছে। তখন তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন, {তারা যা করত তার প্রতিদানস্বরূপ}, এবং বলেন, {তারা জানে তোমরা যা করো}, {আর আল্লাহ জানেন তোমরা যা নির্মাণ করো} এবং এজাতীয় আরও অনেক কিছু রয়েছে।
আবার কখনও তিনি সেগুলোকে নিজের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেন কারণ তিনিই সেগুলোর স্রষ্টা। তখন তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন, {তোমরা তাদেরকে হত্যা করোনি, বরং আল্লাহই তাদেরকে হত্যা করেছেন। আর আপনি যখন নিক্ষেপ করেছিলেন, তখন আপনি নিক্ষেপ করেননি, বরং আল্লাহই নিক্ষেপ করেছেন}, {তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করো, আল্লাহ তোমাদের হাতের মাধ্যমে তাদেরকে শাস্তি প্রদান করবেন}, {আমি আপনার নিকট মুসা ও ফেরাউনের সংবাদ থেকে পাঠ করছি}, {আমি আপনার নিকট শ্রেষ্ঠ কাহিনী বর্ণনা করছি}।
এবং তিনি বলেন, {অতঃপর যখন আমি তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন}। তাফসীরে এসেছে: অর্থাৎ যখন জিবরাঈল তা পাঠ করেন, তখন আপনি তাঁর পাঠের অনুসরণ করুন।
(খণ্ড: ১)
হাযযুল গালাসিম ফী ইফহামিল মুখাসিম ইনদা জারইয়ানিন নাযারি ফী আহকামিল কাদার
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
وَكَذَلِكَ قَوْله {يَوْم ينْفخ فِي الصُّور} وَالْأمة وجيمع الْأُمَم مجموعون على أَن الَّذِي ينْفخ فِي الصُّور هُوَ إسْرَافيل عليه السلام فَإِذا تمدح جلّ وَعز نسب فعلك إِلَيْهِ {وَمَا رميت إِذْ رميت وَلَكِن الله رمى} وَإِذا أَرَادَ مديحك أَو شكرك أَو تبكيتك أَو ذمك قَالَ {جَزَاء بِمَا كَانُوا يعْملُونَ} و {التائبون العابدون} وَكَذَلِكَ أمرنَا إِذا دَعونَا أَن نَدْعُوهُ بأسمائه الْحسنى فَقَالَ {وَللَّه الْأَسْمَاء الْحسنى فَادعوهُ بهَا} فَنَقُول يَا هادي الْخلق اغْفِر لي وَلَا نقُول يَا مضل الْخلق وَيَا كاشف الضّر وَلَا نقُول يَا هازم الْمُؤمنِينَ يَوْم حنين وَلَا ياقاتل الْمُؤمنِينَ يَوْم أحد وَهَكَذَا تأدب مَعَه أنبياؤه عليهم السلام فَقَالَ إِبْرَاهِيم عليه السلام {الَّذِي خلقني فَهُوَ يهدين وَالَّذِي هُوَ يطعمني ويسقين} ثمَّ قَالَ {وَإِذا مَرضت فَهُوَ يشفين}
وَقَالَ تَعَالَى {بِيَدِك الْخَيْر} وَلم يقل بِيَدِك الْخَيْر وَالشَّر
وَحكي عَن بعض العارفين أَنه بَيْنَمَا هُوَ يُنَاجِي ربه وَيَقُول فِي مناجاته يَا رب أَنْت شِئْت وقضيت وحكمت وكتبت فَنُوديَ هَذَا أدب التَّوْحِيد فَأَيْنَ أدب العبيد
অনুরূপভাবে তাঁর বাণী {যেদিন শিঙায় ফুঁ দেওয়া হবে} এবং উম্মত ও সকল জাতি এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছে যে, শিঙায় যিনি ফুঁ দেবেন তিনি হলেন ইসরাফিল (আলাইহিস সালাম)। সুতরাং যখন তিনি মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী হিসেবে নিজের প্রশংসা করেন, তখন তিনি আপনার কাজকে নিজের দিকে সম্বন্ধ করেন: {এবং আপনি যখন নিক্ষেপ করেছিলেন, তখন আপনি নিক্ষেপ করেননি, বরং আল্লাহই নিক্ষেপ করেছিলেন}। আর যখন তিনি আপনার প্রশংসা করতে, শুকরিয়া জানাতে, কিংবা আপনাকে তিরস্কার বা নিন্দা করতে চান, তখন তিনি বলেন: {তারা যা করত তার প্রতিদানস্বরূপ} এবং {তওবাকারীগণ, ইবাদতকারীগণ}। অনুরূপভাবে তিনি আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমরা ডাকার সময় তাঁকে তাঁর সুন্দর নামসমূহ দ্বারা ডাকি। তিনি বলেছেন: {আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ, সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো}। অতএব আমরা বলি— হে সৃষ্টির পথপ্রদর্শক! আমাকে ক্ষমা করুন। আমরা বলি না— হে সৃষ্টির পথভ্রষ্টকারী! এবং আমরা বলি— হে কষ্ট দূরকারী! কিন্তু আমরা বলি না— হে হুনায়নের দিন মুমিনদের পরাজিতকারী! অথবা— হে উহুদের দিন মুমিনদের হত্যাকারী! এভাবেই তাঁর নবীগণ (আলাইহিমুস সালাম) তাঁর প্রতি শিষ্টাচার প্রদর্শন করেছেন। ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম) বলেছেন: {যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, তিনিই আমাকে পথপ্রদর্শন করেন। আর যিনি আমাকে আহার দান করেন এবং পান করান।} এরপর তিনি বলেছেন: {আর যখন আমি অসুস্থ হই, তখন তিনিই আমাকে আরোগ্য দান করেন।}
এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {আপনার হাতেই কল্যাণ}। তিনি বলেননি যে 'আপনার হাতে কল্যাণ ও অকল্যাণ'।
আর জনৈক আরেফ সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি যখন তাঁর রবের সাথে নিভৃতে প্রার্থনা করছিলেন এবং বলছিলেন: "হে রব! আপনিই ইচ্ছা করেছেন, ফয়সালা করেছেন, নির্দেশ দিয়েছেন এবং লিখে রেখেছেন।" তখন তাঁকে সম্বোধন করে বলা হলো: "এটি তো তাওহিদের শিষ্টাচার, কিন্তু বান্দার শিষ্টাচার কোথায়?"
(খণ্ড: ১)
হাযযুল গালাসিম ফী ইফহামিল মুখাসিম ইনদা জারইয়ানিন নাযারি ফী আহকামিল কাদার
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
فَقَالَ الْعَارِف وَأَنا عصيت وَأَنا اجترأت وَأَنا خَالَفت فَسمع هاتفا يَقُول وَأَنا سترت وَأَنا صفحت وَأَنا غفرت فَافْهَم هَذَا السِّرّ فَإِنَّهُ لَا يعقله إِلَّا الْعَالمُونَ
أَعنِي هَذَا وَمَا قَدمته من أَنه يتَصَرَّف فِي أَفعَال خلقه كَيفَ يَشَاء {لَا يسْأَل عَمَّا يفعل وهم يسْأَلُون}
فَإِنَّهُ قيل إِنَّه لَا يَلِيق بإلهيته وعدله وجوده أَن أَن يعذب خلقه لأجل مَا فعله فيهم من الاضلال وَالْكفْر والعصيان وَقد قَالَ
{إِن الله لَا يظلم مِثْقَال ذرة وَإِن تَكُ حَسَنَة يُضَاعِفهَا}
فَالْجَوَاب أَن تَقول من هَهُنَا غلطتم وظننتم أَن الله يعذب خلقه بكفرهم ومعاصيهم وَنحن نقُول أَنه لَا يُعَاقب وَلَا يعذب إِلَّا بِحَق الْملك وَجعل الْكفْر والعصيان عَلامَة على الْكَافِر والعاصي ولتصح الْمُعَامَلَة بَين الْمُؤمنِينَ والكافرين فيوالي أولياءه ويعادي أعداءه ويجاهد الْكفَّار ويعز الْمُؤمنِينَ كَمَا وصف أَصْحَاب نبيه عليه السلام فَقَالَ تَعَالَى {أَذِلَّة على الْمُؤمنِينَ أعزة على الْكَافرين} {أشداء على الْكفَّار رحماء بَينهم}
وَتَصِح المناكحة والموارثة والعيادة والموادة وَسَائِر معاملات الشَّرْع فَاعْلَم ذَلِك
وَالدَّلِيل على أَن الله سُبْحَانَهُ لَا يعذبهم إِلَّا بِكَوْنِهِ عبيده وَملكه قَول عِيسَى صلى الله عليه وسلم فِيمَا حَكَاهُ الله عَنهُ إِذْ يَقُول {إِن تُعَذبهُمْ فَإِنَّهُم عِبَادك} وَلم يقل عصوك وَانْظُر
আরিফ (জ্ঞানী) বললেন, "আমি অবাধ্য হয়েছি, আমি দুঃসাহস দেখিয়েছি এবং আমি বিরুদ্ধাচরণ করেছি।" অতঃপর তিনি এক অদৃশ্য আহ্বানকারীর শব্দ শুনতে পেলেন যিনি বলছিলেন, "আর আমি তা গোপন করেছি, আমি ক্ষমা করেছি এবং আমি মার্জনা করেছি।" সুতরাং তুমি এই রহস্য অনুধাবন করো, কারণ জ্ঞানীগণ ব্যতীত কেউ এটি অনুধাবন করতে পারে না।
আমি এটি এবং ইতিপূর্বে যা পেশ করেছি তা দ্বারা উদ্দেশ্য করছি যে, তিনি তাঁর সৃষ্টির কার্যাবলীর মধ্যে যেভাবে ইচ্ছা হস্তক্ষেপ করেন; "তিনি যা করেন সে বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হবে না, বরং তাদেরকেই প্রশ্ন করা হবে।"
কেননা এটি বলা হয়েছে যে, তাঁর ইলাহ হওয়া, তাঁর ইনসাফ এবং তাঁর দানশীলতার সাথে এটি সংগতিপূর্ণ নয় যে, তিনি তাঁর সৃষ্টিকে পথভ্রষ্টতা, কুফরি এবং অবাধ্যতা—যা তিনি নিজেই তাদের মাঝে কার্যকর করেছেন—তার জন্য শাস্তি দেবেন। অথচ তিনি বলেছেন:
"নিশ্চয়ই আল্লাহ অণু পরিমাণও জুলুম করেন না, আর যদি তা কোনো নেক আমল হয়, তবে তিনি তাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেন।"
এর উত্তরে তুমি বলবে যে, তোমরা এখান থেকেই ভুল করেছো এবং ধারণা করেছো যে, আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিকে তাদের কুফরি ও অবাধ্যতার কারণে শাস্তি দেন। অথচ আমরা বলছি যে, তিনি একমাত্র মালিকানা ও কর্তৃত্বের (মুলক) অধিকার বলেই শাস্তি প্রদান করেন। আর তিনি কুফরি ও অবাধ্যতাকে কাফির ও পাপাচারীর জন্য একটি নিদর্শন সাব্যস্ত করেছেন, যাতে মুমিন ও কাফিরদের মধ্যে পারস্পরিক লেনদেন সঠিক হয়। ফলে তিনি তাঁর বন্ধুদের সাথে বন্ধুত্ব করেন এবং শত্রুদের সাথে শত্রুতা করেন, কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদ করেন এবং মুমিনদের সম্মানিত করেন, যেমনটি মহান আল্লাহ তাঁর নবীর (আলাইহিস সালাম) সাহাবীদের গুণাবলি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন: "তারা মুমিনদের প্রতি নম্র ও কাফিরদের প্রতি কঠোর।" এবং "তারা কাফিরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে দয়াশীল।"
যাতে বিবাহ, উত্তরাধিকার, রোগীকে দেখতে যাওয়া, সৌহার্দ্য এবং শরয়ি অন্যান্য সকল প্রকার লেনদেন সঠিক ও শুদ্ধ হয়; সুতরাং তুমি এটি জেনে রেখো।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যে কেবল তাঁর দাস ও তাঁর মালিকানাধীন হওয়ার কারণেই তাদের শাস্তি দেন, তার দলিল হলো ঈসা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সেই কথা যা আল্লাহ তাঁর পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন, যখন তিনি বলেছিলেন: "যদি আপনি তাদের শাস্তি দেন, তবে তারা তো আপনারই দাস।" তিনি এ কথা বলেননি যে, 'তারা আপনার অবাধ্য হয়েছে'। তুমি লক্ষ্য করো—
(খণ্ড: ১)
হাযযুল গালাসিম ফী ইফহামিল মুখাসিম ইনদা জারইয়ানিন নাযারি ফী আহকামিল কাদার
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
إِلَى قَوْله تَعَالَى {وَمَا كُنَّا معذبين حَتَّى نبعث رَسُولا}
نستفد مِنْهُ أَنه سُبْحَانَهُ لَوْلَا أَن لَهُ أَن يعذبهم قبل مَجِيء الرُّسُل الْحق الْملك لما تمدح بقوله تَعَالَى {وَمَا كُنَّا معذبين حَتَّى نبعث رَسُولا} وَفِي ضمن الْآيَة مافي ضمن قَوْله تَعَالَى {ولنبلونكم حَتَّى نعلم الْمُجَاهدين مِنْكُم وَالصَّابِرِينَ} وَهُوَ سُبْحَانَهُ يعلم قبل أَن يبلوهم فتدبره وَمن تصرف فِي ملكه لَا يُقَال أَنه ظَالِم لِأَن الظُّلم هُوَ التَّصَرُّف فِي ملك الْغَيْر بِغَيْر إِذْنه وَالظُّلم أَيْضا أَن يتَعَدَّى الْمُكَلف مَا حد لَهُ مَالِكه
فَإِن كَانَ مَعَ الله شريك وَله ملك دون الله فيتصرف الله سُبْحَانَهُ فِي ملك شَرِيكه بِغَيْر إِذْنه فَهُوَ ظَالِم وَإِن كَانَ الله سُبْحَانَهُ مَالك الْأَعْيَان وَمَالك الكونين وَبِيَدِهِ ملكوت كل شَيْء وملكوت السَّمَوَات وَالْأَرْض وَلَا شريك مَعَه فِي ملكه وَلَا يتَصَوَّر الظُّلم مِنْهُ تَعَالَى أبدا فَإِنَّهُ تَعَالَى لَا يُصَادف لغيره ملكا حَتَّى يكون تصرفه فِيهِ ظلما وَلَا فَوْقه رب يحد لَهُ حدودا حَتَّى إِذا خَالف حدا من حُدُوده كَانَ ظَالِما كَمَا قَالَ {وَمن يَتَعَدَّ حُدُود الله فَأُولَئِك هم الظَّالِمُونَ} تَعَالَى الله عو ذَلِك علوا كَبِيرا بل هُوَ سُبْحَانَهُ يعذب من يَشَاء من خلقه بِمَا شَاءَ من عَذَابه
قَالَ الله تَعَالَى فِي مُحكم كِتَابه قَالَ {عَذَابي أُصِيب بِهِ من أَشَاء} وَلم يقل من عصى فإياك ثمَّ إياك أَن تقيس الدب بِالْعَبدِ والخالق بالمخلوق فتزل عَن صِرَاط رَبك الْمُسْتَقيم وَتَقَع فِي طَرِيق الشَّيْطَان الرَّجِيم الَّذِي قَاس بعقله قِيَاسا وَاحِدًا فزل عَن طَرِيق الله فَهَلَك مَعَ الهالكين وَنسب هَذَا الطَّرِيق إِلَيْهِ فَسُمي طَرِيق الشَّيْطَان الرَّجِيم وَذَلِكَ أَنه فكر فِي نَفسه وَقَالَ النَّار أشرف من الطين لِأَن النَّار
মহান আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত— "আর আমি ততক্ষণ শাস্তি দান করি না যতক্ষণ না আমি রাসূল প্রেরণ করি।"
এখান থেকে আমরা এই সারকথা লাভ করি যে, সত্যের মালিক আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যদি রাসূল প্রেরণের পূর্বেও তাদেরকে শাস্তি দেওয়ার অধিকার না রাখতেন, তবে তিনি তাঁর এই বাণী— "আর আমি ততক্ষণ শাস্তি দান করি না যতক্ষণ না আমি রাসূল প্রেরণ করি"— দ্বারা নিজের প্রশংসা করতেন না। আর এই আয়াতের মর্মার্থ হলো তা-ই, যা মহান আল্লাহর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত: "আর অবশ্যই আমি তোমাদের পরীক্ষা করব যতক্ষণ না আমি তোমাদের মধ্য হতে জিহাদকারী ও ধৈর্যশীলদের জেনে নিই।" অথচ তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদেরকে পরীক্ষা করার পূর্বেই সব জানেন; সুতরাং এ বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করো। আর যে ব্যক্তি নিজের মালিকানাধীন বিষয়ে কর্তৃত্ব করে, তাকে জালিম বলা হয় না; কারণ জুলুম হলো অন্যের মালিকানাধীন বিষয়ে তার অনুমতি ব্যতীত হস্তক্ষেপ করা। আর জুলুম এটাও যে, কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি তার মালিক কর্তৃক নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করে।
যদি আল্লাহর সাথে কোনো শরিক থাকত যার আল্লাহর কর্তৃত্বের বাইরে নিজস্ব মালিকানা আছে, আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যদি সেই শরিকের মালিকানাধীন বিষয়ে তার অনুমতি ব্যতীত হস্তক্ষেপ করতেন, তবে তিনি জালিম হতেন। কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যখন সমস্ত সত্তার মালিক, উভয় জগতের মালিক, এবং আল্লাহর হাতেই প্রতিটি জিনিসের রাজত্ব এবং আসমানসমূহ ও জমিনের রাজত্ব বিদ্যমান, আর তাঁর রাজত্বে কোনো শরিক নেই, তবে তাঁর পক্ষ থেকে জুলুমের বিষয়টি কখনোই কল্পনা করা যায় না। কারণ তিনি অন্য কারও মালিকানার সম্মুখীন হন না যে সেখানে তাঁর হস্তক্ষেপ জুলুম হবে, আর তাঁর উপরে এমন কোনো প্রতিপালকও নেই যিনি তাঁর জন্য কোনো সীমা নির্ধারণ করে দেবেন, ফলে সেই সীমা লঙ্ঘন করলে তিনি জালিম হবেন। যেমন তিনি বলেছেন: "আর যারা আল্লাহর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করে, তারাই জালিম।" আল্লাহ তাআলা এসকল বিষয় থেকে সুউচ্চ ও অতি মহান। বরং তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর সৃষ্টির মধ্য হতে যাকে ইচ্ছা তাঁর আজাব দ্বারা শাস্তি প্রদান করেন।
আল্লাহ তাআলা তাঁর সুসংহত কিতাবে বলেছেন: "আমার আজাব, আমি যাকে ইচ্ছা তাকে তা দ্বারা আঘাত করি।" তিনি এ কথা বলেননি যে, "যে অবাধ্য হয়েছে তাকে।" সুতরাং সাবধান, খবরদার! তুমি যেন প্রতিপালককে বান্দার সাথে এবং স্রষ্টাকে সৃষ্টির সাথে তুলনা করতে না যাও, অন্যথায় তুমি তোমার প্রতিপালকের সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়বে এবং বিতাড়িত শয়তানের পথে নিপতিত হবে। সেই শয়তান যে তার বুদ্ধিবৃত্তিক একটি মাত্র অনুমান করেছিল, ফলে সে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে ধ্বংসপ্রাপ্তদের সাথে ধ্বংস হয়ে গেল। আর এই পথটিকে তার দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে এবং একে "বিতাড়িত শয়তানের পথ" নামকরণ করা হয়েছে। আর তা হলো এই যে, সে মনে মনে চিন্তা করল এবং বলল: "আগুন মাটির চেয়ে শ্রেষ্ঠ, কারণ আগুন..."
(খণ্ড: ১)
হাযযুল গালাসিম ফী ইফহামিল মুখাসিম ইনদা জারইয়ানিন নাযারি ফী আহকামিল কাদার
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
نورانية والطين من الظلمَة فَإنَّا خير من آدم لِأَن النَّار خير من الطين
وَلَو علم أَن الْخَيْر من كَانَ عِنْد الله خيرا لأطاع ربه كَمَا أطاعت الْمَلَائِكَة أَجْمَعُونَ وَلَكِن جعله الله لأهل الشَّقَاء سَببا فاحتج بِهَذَا الِاحْتِجَاج وارتكب هَذَا اللجاج فَهَلَك هَلَاك الْأَبَد بِسوء نظره وَفَسَاد قِيَاسه وَلَو شَاءَ سحانه لعصمه وزين فِي قلبه الطَّاعَة كَمَا زينها للْمَلَائكَة أَو تَابَ عَلَيْهِ وَعَفا عَنهُ كَمَا عَفا وَتَابَ على آدم نبيه وَلَكِن قد أعلمتك أَنه يتَصَرَّف فِي فِي ملكه كَيفَ يَشَاء وَهَذَا معنى وَصفَة بِأَنَّهُ ماكر ومستدرج ومخادع
قَالَ أَبُو طَالب الْمَكِّيّ رَحْمَة الله عَلَيْهِ فِي كِتَابه الْمُسَمّى قوت الْقُلُوب يغْفر لمن يَشَاء الذَّنب الْعَظِيم ويعذب من يَشَاء على الذَّنب الحقير لبلايا من ملك بِعَمَلِهِ وَلَا ييأس مُسْرِف على نَفسه من عَفوه وَبِهَذَا يتَحَقَّق الْمَكْر فِي حَقه
وَقَالَ أَيْضا أوحى الله تَعَالَى إِلَى نَبِي أَو قَالَ لنَبِيّ قل لفُلَان كم ذَنْب واجهتني بِهِ غفرته لَك أهلك فِي دونه أمة من الْأُمَم
وَقَالَ إِن لله عَبْدَيْنِ إشتركا فِي الْمُخَالفَة آدم وإبليس هَذَا لَا تَأْكُل فَأكل وَهَذَا أَسجد فَمَا سجد فَتَابَ على آدم واجتباه وَلعن إِبْلِيس وجزاه
قَالَ ويشترك فِي الْمعْصِيَة الْوَاحِدَة الْمَكَان الْوَاحِد جمَاعَة فَيغْفر لبَعْضهِم ويعذب فِي الدُّنْيَا بَعضهم وَيَتُوب على بَعضهم وَيُؤَخر لعقوبة الْآخِرَة بَعضهم ويبدل بعد التَّوْبَة لبَعْضهِم سيئاتهم حَسَنَات
لَا يسْأَل عَمَّا يفعل وهم يسْأَلُون لَا يُقَال لما فعلت هَذَا وَلَا كَيفَ فعلت وكل من سواهُ يسئل لم فعل وَلم ترك لِأَن الْآمِر الْمُكَلف يسئله وَلَا مَالك مَعَ الله وَلَا دون الله وَلَا فَوق الله فيسئله عَن أمره أَو حُدُوده وَالتَّصَرُّف فِي ملكه بِغَيْر إِذْنه فَلَا يتَصَوَّر الظُّلم من الله أبدا فَاعْلَم
قَالَ أَبُو طَالب وَلَقَد عددت لأخوة يُوسُف الصّديق عليهم السلام وَفِي قَوْله
জ্যোতির্ময় এবং মাটি হলো অন্ধকার থেকে, তাই আমরা আদমের চেয়ে শ্রেষ্ঠ; কেননা আগুন মাটির চেয়ে উত্তম। যদি সে জানত যে, প্রকৃতপক্ষে কল্যাণ সেই যে আল্লাহর নিকট কল্যাণকর হিসেবে গণ্য, তবে সে তার রবের আনুগত্য করত যেভাবে সকল ফেরেশতারা আনুগত্য করেছিল। কিন্তু আল্লাহ একে দুর্ভাগাদের জন্য একটি কারণ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। ফলে সে এই কুযুক্তি প্রদান করল এবং এই হঠকারিতা অবলম্বন করল; ফলে তার মন্দ দৃষ্টি ও ভ্রান্ত কিয়াসের (অনুমানের) কারণে সে চিরস্থায়ীভাবে ধ্বংস হলো। সুবহানাহু ওয়া তাআলা যদি চাইতেন তবে তাকে রক্ষা করতেন এবং তার অন্তরে আনুগত্যকে সুশোভিত করতেন যেভাবে তিনি ফেরেশতাদের অন্তরে করেছিলেন, অথবা তার তাওবা কবুল করতেন ও তাকে ক্ষমা করে দিতেন যেভাবে তিনি তাঁর নবী আদমকে ক্ষমা করেছেন ও তাঁর তাওবা কবুল করেছেন। কিন্তু আমি তো তোমাকে জানিয়েছি যে, তিনি তাঁর রাজত্বে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে পরিচালনা করেন। আর এটাই হলো তাঁর সেই গুণের অর্থ যেখানে তাঁকে কৌশলী, ক্রমশ পাকড়াওকারী ও প্রতারণা নস্যাৎকারী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
আবু তালিব আল-মাক্কী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'কুতুল কুলুব' নামক গ্রন্থে বলেছেন: তিনি যার জন্য ইচ্ছা করেন তার বড় গুনাহও ক্ষমা করে দেন এবং যার জন্য ইচ্ছা করেন তাকে সামান্য গুনাহের কারণেও শাস্তি দেন যেন আমলের দ্বারা কোনো মালিক নিজের আমল নিয়ে পরীক্ষায় না পড়ে। আর নিজ নফসের ওপর সীমালঙ্ঘনকারী যেন আল্লাহর ক্ষমা থেকে নিরাশ না হয়। আর এর মাধ্যমেই তাঁর ক্ষেত্রে কৌশলের বাস্তবতা প্রমাণিত হয়।
তিনি আরও বলেছেন: আল্লাহ তাআলা কোনো এক নবীর প্রতি ওহী পাঠালেন অথবা কোনো এক নবীকে বললেন—অমুককে বলো যে, তুমি আমার সামনে কত গুনাহ নিয়ে উপস্থিত হয়েছ যা আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছি, অথচ তার চেয়েও কম অপরাধে আমি অন্য কোনো উম্মতকে ধ্বংস করে দিয়েছি।
তিনি বলেছেন: আল্লাহর এমন দুই বান্দা রয়েছেন যারা নাফরমানিতে শরিক ছিল—আদম ও ইবলিস। একে (আদমকে) বলা হয়েছিল 'খেয়ো না', তবুও সে খেল; আর ওকে (ইবলিসকে) বলা হয়েছিল 'সিজদাহ করো', কিন্তু সে সিজদাহ করল না। অতঃপর আল্লাহ আদমের তাওবা কবুল করলেন ও তাকে মনোনীত করলেন, আর ইবলিসকে অভিশাপ দিলেন ও তাকে প্রতিফল দিলেন।
তিনি বলেন: একদল লোক একই স্থানে একই পাপে লিপ্ত হয়, অতঃপর আল্লাহ তাদের কয়েকজনকে ক্ষমা করে দেন, কয়েকজনকে দুনিয়াতে শাস্তি দেন, কয়েকজনের তাওবা কবুল করেন, কয়েকজনের শাস্তিকে আখিরাতের জন্য বিলম্বিত করেন এবং কয়েকজনের তাওবার পর তাদের মন্দ আমলগুলোকে নেক আমল দ্বারা পরিবর্তন করে দেন।
তিনি যা করেন সে বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা যাবে না, বরং তাদেরকেই প্রশ্ন করা হবে। তিনি কেন এটি করলেন বা কীভাবে করলেন—তা বলা যাবে না। কিন্তু তিনি ব্যতীত অন্য সবাইকে প্রশ্ন করা হবে যে, তারা কেন এটি করল বা কেন এটি বর্জন করল; কারণ আদেশদানকারী ও দায়িত্বার্পণকারী সত্তা তাদের প্রশ্ন করবেন। আল্লাহর সাথে অন্য কোনো মালিক নেই, আল্লাহর নিচেও নেই এবং আল্লাহর ওপরেও নেই যে তাঁর আদেশ বা তাঁর সীমা বা তাঁর রাজত্বের পরিচালনার বিষয়ে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁকে প্রশ্ন করবে। সুতরাং আল্লাহর পক্ষ থেকে জুলুম কখনো কল্পনাও করা যায় না; অতএব জেনে রাখো।
আবু তালিব বলেছেন: আমি ইউসুফ সিদ্দীক (আলাইহিস সালাম)-এর ভাইদের জন্য গণনা করেছি এবং তাঁর এই বাণীতে-
(খণ্ড: ১)
হাযযুল গালাসিম ফী ইফহামিল মুখাসিম ইনদা জারইয়ানিন নাযারি ফী আহকামিল কাদার
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
تَعَالَى حِكَايَة عَنْهُم {اقْتُلُوا يُوسُف أَو اطرحوه أَرضًا يخل لكم وَجه أبيكم} إِلَى آخر الْقِصَّة
نيفا وَأَرْبَعين ذَنبا صفح عَنْهَا وغفرها لَهُم وَلم يحْتَمل لإبليس ذَنبا وَاحِدًا وَقد قيل إِنَّه عبد الله ثَمَانِينَ ألف سنة وَلم يبْق فِي السَّمَوَات السَّبع مَوضِع شبر إِلَّا سجد لله فِيهِ فأحبط الله جَمِيع حَسَنَاته وقرباته وَسَائِر أَعماله فِي طول مدَّته وَأَخذه بذنب وَاحِد
وَلم يحْتَمل لبلعمر بن باعوراء ذَنبا وَاحِدًا فسلبه بِالْإِيمَان والتوحيد وَحَدِيثه مَشْهُور وَفِي الْكتب مَذْكُور {فَلَا يَأْمَن مكر الله إِلَّا الْقَوْم الخاسرون}
وفكر بَعضهم فِي قَوْله تَعَالَى {ومكروا ومكر الله وَالله خير الماكرين} فلقي سمنون فَسَأَلَهُ عَنْهَا فتأوه وأنشا يَقُول ويقبح سواك الْفِعْل عِنْدِي فتفعله فَيحسن مِنْك ذاكا
فَقَالَ السَّائِل يَا سمنون سَأَلتك عَن آيَة فِي كتاب الله فأجبتني بِبَيْت من الشّعْر فَقَالَ لَهُ سمنون أنشدته لتعلم أَن فِي أقل قَلِيل أدل دَلِيل ثمَّ قَالَ لَهُ يَا هَذَا إمهاله لَهُم مَعَ مكره مكر بهم قلت صدق سمنون أَلا ترَاهُ قد قَالَ فِي مَوضِع آخر {ومكروا مكرا ومكرنا مكرا وهم لَا يَشْعُرُونَ فَانْظُر كَيفَ كَانَ عَاقِبَة مَكْرهمْ أَنا دمرناهم وقومهم أَجْمَعِينَ} وَفِيمَا هدد الله بِهِ الثقلَيْن قَوْله تَعَالَى {سنفرغ لكم أَيهَا الثَّقَلَان}
মহান আল্লাহ তাদের সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: {তোমরা ইউসুফকে হত্যা করো অথবা তাকে কোনো স্থানে নিক্ষেপ করো, তাহলে তোমাদের পিতার মনোযোগ কেবল তোমাদের প্রতিই নিবদ্ধ হবে} গল্পের শেষ পর্যন্ত।
চল্লিশটিরও বেশি পাপ তিনি মার্জনা করেছেন এবং তাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন, অথচ ইবলিসের একটি মাত্র পাপও তিনি সহ্য করেননি। বলা হয়ে থাকে যে, সে আশি হাজার বছর আল্লাহর ইবাদত করেছিল এবং সাত আসমানের এমন এক বিঘত জায়গাও বাকি ছিল না যেখানে সে আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদা করেনি; কিন্তু আল্লাহ তার দীর্ঘ সময়ের সমস্ত নেকি, নৈকট্য এবং যাবতীয় আমল বাতিল করে দিলেন এবং তাকে একটি মাত্র পাপের কারণে পাকড়াও করলেন।
আর তিনি বালআম বিন বাউরা-র একটি পাপকেও সহ্য করেননি, ফলে তার থেকে ঈমান ও তাওহীদ ছিনিয়ে নিলেন। তার কাহিনী প্রসিদ্ধ এবং কিতাবসমূহে বর্ণিত রয়েছে: {ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায় ছাড়া কেউই আল্লাহর কৌশল থেকে নিরাপদ বোধ করে না}।
তাদের কেউ কেউ মহান আল্লাহর বাণী {এবং তারা কৌশল করল আর আল্লাহও কৌশল করলেন, আর আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ কৌশলী} নিয়ে চিন্তা করছিলেন। অতঃপর তিনি সামনুনের সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন। তখন তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেললেন এবং কবিতা আবৃত্তি করতে লাগলেন: "তোমার পরিবর্তে অন্য কেউ সেই কাজটি করলে আমার কাছে তা মন্দ মনে হতো, কিন্তু তুমি যখন তা করো, তখন তোমার পক্ষ থেকে সেটিই উত্তম মনে হয়।"
প্রশ্নকারী বললেন, "হে সামনুন! আমি আপনাকে আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, আর আপনি আমাকে একটি কাব্য পঙ্ক্তির মাধ্যমে উত্তর দিলেন।" তখন সামনুন তাকে বললেন, "আমি এটি আবৃত্তি করেছি যাতে তুমি জানতে পারো যে, অতি নগণ্য জিনিসের মধ্যেও রয়েছে সুষ্পষ্ট দলিল।" অতঃপর তিনি তাকে বললেন, "হে ব্যক্তি! তাদের প্রতি তাঁর কৌশল সত্ত্বেও তাদের অবকাশ দানই হলো তাদের প্রতি আল্লাহর কৌশল।" আমি বলি, সামনুন সত্য বলেছেন। আপনি কি দেখছেন না যে, আল্লাহ অন্য জায়গায় বলেছেন: {তারা এক কৌশল অবলম্বন করেছিল এবং আমরাও এক কৌশল অবলম্বন করেছিলাম, অথচ তারা বুঝতে পারেনি। অতএব লক্ষ্য করো, তাদের কৌশলের পরিণতি কী হয়েছিল, আমরা তাদের এবং তাদের কওমকে সমূলে ধ্বংস করে দিয়েছিলাম}। আর আল্লাহ জিন ও ইনসানকে যে ধমক দিয়েছেন, তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {হে জিন ও মানুষ! আমি শীঘ্রই তোমাদের প্রতি মনোনিবেশ করব}।
(খণ্ড: ১)
হাযযুল গালাসিম ফী ইফহামিল মুখাসিম ইনদা জারইয়ানিন নাযারি ফী আহকামিল কাদার
(পৃষ্ঠা: ৪০)
سَأَلَ بَعضهم عَن مخرج هَذَا الْكَلَام فِي حق الله تَعَالَى وَقَالَ هَل الله تَعَالَى فِي شغل حَتَّى يفرغ مِنْهُ فَقيل لَهُ إِنَّمَا هَذَا على معنى الْإِمْهَال لَا على معنى الِاشْتِغَال فَإِن سُبْحَانَهُ كل يَوْم هُوَ فِي شَأْن وَلَا يشْغلهُ شان عَن شَأْن ومخرج هَذَا الْخطاب الْوَعيد والتهديد أَي سنعمد إِلَى مجازاتكم بعد أَن أمهلناكم وأملينا لكم
فَمن قَاس فعل الرب الْآمِر الْمَالِك على فعل المربوب الْمَأْمُور الْمَمْلُوك كَانَ كمن قَاس ذَات الرب على ذَات العَبْد فَجعل إلهه شبهه وَمثله جسما مصورا محدودا مُقَدرا وجوهرا متحيزا وكما لَا يجوز قِيَاس الذَّات على الذَّات فَكَذَلِك لَا تقاس الصِّفَات على الصِّفَات فَإِنَّهُ سُبْحَانَهُ يتعالى عَن مشابهة خلقه من كل الْجِهَات وَلَوْلَا مَا سبق بِهِ الْكتاب على أَلْسِنَة أنبيائه عليهم السلام من تنعيم الْمُؤمنِينَ وتعذيب الْكَافرين لجَاز لَهُ بِحَق الْملك أَن يدْخل الْكل مِنْهُم الْجنَّة أَو يدخلهم أَجْمَعِينَ النَّار وَلَا يكون سحانه ظَالِما وَلَا من الْحِكْمَة خَارِجا
قَالَ الله تَعَالَى {وَمَا كُنَّا معذبين حَتَّى نبعث رَسُولا}
وَقَالَ حِكَايَة عَن عِيسَى صلى الله عليه وسلم {إِن تُعَذبهُمْ فَإِنَّهُم عِبَادك وَإِن تغْفر لَهُم فَإنَّك أَنْت الْعَزِيز الْحَكِيم} قَالَ الْفَقِيه أَبُو حَفْص عمر الذَّهَبِيّ رَحْمَة الله عَلَيْهِ ظَفرت البارحة بأية
من كتاب الله تَعَالَى هِيَ أحب إِلَيّ من مائَة ألف قلت مَا هِيَ قَالَ الْقَدَرِيَّة والمعتزلة والامامية يَقُولُونَ إِن الله تَعَالَى يعذب خلقه بِذُنُوبِهِمْ وَلَا يجوز فِي حكمته أَن يغْفر لَهُم وَمَتى غفر لَهُم فَلَيْسَ بِحَكِيم فأكذبهم الله تَعَالَى فِي هَذِه الْآيَة كَمَا ترى {إِن تُعَذبهُمْ فَإِنَّهُم عِبَادك وَإِن تغْفر لَهُم فَإنَّك أَنْت الْعَزِيز الْحَكِيم}
فتبينها وتدبرها تعرف مقدارها وَمِقْدَار المبتهج بهَا وَهُوَ الْفَقِيه أَبُو حَفْص رَحْمَة الله عَلَيْهِ
তাদের কেউ কেউ মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে এই বক্তব্যের উৎস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন এবং বলেছেন, মহান আল্লাহ কি কোনো কাজে ব্যস্ত যে তিনি তা থেকে অবসর হবেন? তাকে বলা হলো, এটি অবকাশ দেওয়ার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, ব্যস্ত হওয়ার অর্থে নয়। কারণ তিনি সুবহানাহু প্রতি দিবস কোনো না কোনো কাজে রত থাকেন এবং এক কাজ তাকে অন্য কাজ থেকে বিমুখ বা ব্যস্ত রাখে না। এই সম্বোধনের উদ্দেশ্য হলো ধমক ও সতর্কবার্তা প্রদান; অর্থাৎ আমরা তোমাদের অবকাশ দেওয়ার ও সময় দেওয়ার পর তোমাদের প্রতিদান প্রদানের সংকল্প করব।
সুতরাং যে ব্যক্তি নির্দেশদাতা ও মালিক রবের কর্মকে আদিষ্ট ও মালিকানাধীন সৃষ্টির কর্মের ওপর তুলনা করল, সে যেন রবের সত্তাকে বান্দার সত্তার ওপর তুলনা করল। ফলে সে তার ইলাহকে নিজের সদৃশ ও উপমায় পরিণত করল—যাকে দেহধারী, চিত্রায়িত, সীমাবদ্ধ, পরিমাপযোগ্য এবং স্থান দখলকারী বস্তুরূপে সাব্যস্ত করল। আর যেভাবে সত্তাকে সত্তার ওপর তুলনা করা বৈধ নয়, তেমনিভাবে গুণাবলিকেও গুণাবলির ওপর তুলনা করা যাবে না। কারণ তিনি সুবহানাহু সর্বদিক থেকে তাঁর সৃষ্টির সদৃশ হওয়া থেকে ঊর্ধ্বে। আর যদি কিতাবে তাঁর নবীদের (তাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) যবানে মুমিনদের নেয়ামত দান ও কাফিরদের আজাব দেওয়ার বিষয়টি পূর্বনির্ধারিত না থাকত, তবে মালিকানার অধিকার বলে তিনি তাদের সকলকেই জান্নাতে দাখিল করতে পারতেন অথবা তাদের সকলকেই জাহান্নামে দাখিল করতে পারতেন; এমতাবস্থায় তিনি সুবহানাহু জালিম হতেন না এবং প্রজ্ঞার পরিপন্থীও কিছু হতো না।
মহান আল্লাহ বলেছেন, {আর আমি ততক্ষণ পর্যন্ত আজাব দিই না যতক্ষণ না একজন রাসূল প্রেরণ করি।}
তিনি ঈসা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেছেন, {যদি আপনি তাদের আজাব দেন তবে তারা তো আপনারই বান্দা, আর যদি আপনি তাদের ক্ষমা করেন তবে নিশ্চয়ই আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।} ফকিহ আবু হাফস ওমর আয-যাহাবি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন, গত রাতে আমি আল্লাহর কিতাব থেকে এমন একটি আয়াত পেয়েছি
যা আমার কাছে এক লক্ষ মুদ্রা অপেক্ষা অধিক প্রিয়। আমি বললাম, সেটি কী? তিনি বললেন, কাদারিয়া, মুতাযিলা এবং ইমামিয়া সম্প্রদায়ের লোকেরা বলে যে, মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিকে তাদের পাপের কারণে শাস্তি দেবেনই এবং তাঁর প্রজ্ঞায় এটি সম্ভব নয় যে তিনি তাদের ক্ষমা করবেন; আর যদি তিনি তাদের ক্ষমা করেন তবে তিনি প্রজ্ঞাময় নন। অথচ আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে তাদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছেন যেমনটি তুমি দেখছ: {যদি আপনি তাদের আজাব দেন তবে তারা তো আপনারই বান্দা, আর যদি আপনি তাদের ক্ষমা করেন তবে নিশ্চয়ই আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।}
অতএব তুমি এটি অনুধাবন করো এবং এতে চিন্তা-গবেষণা করো, তবেই তুমি এর গুরুত্ব এবং যিনি এটি পেয়ে আনন্দিত হয়েছেন—অর্থাৎ ফকিহ আবু হাফস (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)—তার মর্যাদাও বুঝতে পারবে।
(খণ্ড: ১)
হাযযুল গালাসিম ফী ইফহামিল মুখাসিম ইনদা জারইয়ানিন নাযারি ফী আহকামিল কাদার
(পৃষ্ঠা: ৪১)
وَقد ورد فِي الْقُرْآن الْعَظِيم قَوْله تَعَالَى {وَاتَّقوا فتْنَة لَا تصيبن الَّذين ظلمُوا مِنْكُم خَاصَّة} أَي تعم الصَّالح والطالح فلولا أَنه يتَصَرَّف فِي ملكه كَيفَ شَاءَ لما حسن مِنْهُ ذَلِك
فَاعْلَم وَلَا تقيس الْخَالِق على الْمَخْلُوق وَلَا الْمَالِك على الْمَمْلُوك والسر فِي هَذَا وَالله أعلم أَن تَسْمِيَة الرب سُبْحَانَهُ تتلقى من جِهَة الشَّرْع لَا من جِهَة الْعقل فَمَا سمى بِهِ نَفسه سَمَّاهُ بِهِ خلقه فنسميه مَاكِرًا وجبارا ومتكبرا وناسيا ومخادعا مزيفا ومستدرجا لوُرُود الشَّرْع بهَا وَهِي صِفَات ذمّ فِي حق أَنْفُسنَا إِذْ قُلْنَا فلَان جَبَّار متكبر ماكر مخادع وناس ومستدرج وَلَا نسمي الْإِلَه سُبْحَانَهُ عَاقِلا فَقِيها أديبا شَاعِرًا لبيبا ذكيا فطنا لعدم وُرُودهَا شرعا وَإِن كَانَت فِي حَقنا صِفَات مدح وَكَمَال فَلَا تقاس الملائك بالحدادين كَمَا قَالَ أَبُو حَامِد الْغَزالِيّ رَحْمَة الله عَلَيْهِ وَلَا الاله الْخَالِق بالمخلوقين جلّ الله وَتَعَالَى عَن التَّشْبِيه والتمثيل فَإِن قيل أَنْتُم تَقولُونَ إِن الرب يَأْمر عباده بِأَمْر وَهُوَ يُرِيد مِنْهُم خلاقه أَمر إِبْلِيس بِالسُّجُود وَلم يرد سُجُوده وَأمر فِرْعَوْن بِالْإِيمَان وَهُوَ يُرِيد أَن يَمُوت على كفره وَكَذَلِكَ سائد الْكفَّار والعصاة أَجْمَعِينَ وَهَذَا لَا يتَصَوَّر من الْعَاقِل كَيفَ يجوز للحكيم أَن يَأْمر عَبده بِأَمْر وَهُوَ لَا يُرِيد امتثاله وَمن فعل ذَلِك عد سَفِيها خَارِجا عَن الْحِكْمَة والعاقل منا لَو فعل ذَلِك لعد سَفِيها خَارج من حزب الْعُقَلَاء وَهَذَا لَا يتَصَوَّر من عَاقل وَلَا حَكِيم أَن يَفْعَله وَأَنْتُم تَقولُونَ يَا معشر السّنة إِن كل من مَاتَ على الْكفْر والعصيان وَقد أرسل إِلَيْهِ رَسُولا وَأمره بِالْإِيمَان وَالطَّاعَة إِنَّه لم يرد إيمَانه وَلَا طَاعَته فَكيف يتَصَوَّر هَذَا فأقيموا لأنفسكم من هَذَا القَوْل الَّذِي لَا يتَصَوَّر لعاقل
মহান কুরআনে মহান আল্লাহর বাণী বর্ণিত হয়েছে: {এবং তোমরা সেই ফিতনাকে ভয় করো, যা তোমাদের মধ্যে কেবল যারা অবিচার করেছে তাদেরকেই বিশেষভাবে গ্রাস করবে না।} অর্থাৎ এটি সৎ ও অসৎ সকলকেই গ্রাস করবে। সুতরাং তিনি যদি তাঁর রাজত্বে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে পরিচালনা না করতেন, তবে তাঁর পক্ষ থেকে এটি সমীচীন হতো না।
অতএব জেনে রাখো, তুমি স্রষ্টাকে সৃষ্টির সাথে তুলনা করো না এবং মালিককে মালিকানাধীন জিনিসের সাথে তুলনা করো না। এ বিষয়ের রহস্য—আর আল্লাহই ভালো জানেন—হলো এই যে, সুবহানাহু রব্ব-এর নামকরণ শরীয়তের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত, বিবেকের পক্ষ থেকে নয়। সুতরাং তিনি নিজেকে যা দ্বারা নামকরণ করেছেন, তাঁর সৃষ্টিও তাঁকে তা দ্বারাই নামকরণ করবে। তাই আমরা তাঁকে কৌশলী, প্রবল পরাক্রমশালী, অহংকারী, বিস্মরণকারী, ধোঁকা দানকারীর কৌশলের বিপরীতে কৌশলকারী, বাতিলকারী এবং ধাপে ধাপে পাকড়াওকারী হিসেবে অভিহিত করি; কারণ শরীয়তে এগুলোর বর্ণনা এসেছে। অথচ আমাদের নিজেদের ক্ষেত্রে এগুলো নিন্দনীয় গুণ, যখন আমরা বলি অমুক ব্যক্তি প্রবল পরাক্রমশালী, অহংকারী, কৌশলী, প্রতারক, বিস্মরণকারী বা ধাপে ধাপে বিপদে নিপতিতকারী। কিন্তু আমরা সুবহানাহু ইলাহকে বুদ্ধিমান, বিজ্ঞ, সাহিত্যিক, কবি, বিচক্ষণ, মেধাবী বা চতুর হিসেবে নামকরণ করি না, কারণ শরীয়তে এগুলোর বর্ণনা নেই; যদিও আমাদের ক্ষেত্রে এগুলো প্রশংসা ও পূর্ণতার গুণাবলি। সুতরাং কর্মকারদের সাথে ফেরেশতাদের তুলনা করো না, যেমনটি আবু হামিদ আল-গাজালি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন; আর সৃষ্টিজীবের সাথে স্রষ্টা ইলাহ-এরও তুলনা করো না। মহান আল্লাহ সাদৃশ্য ও উপমা থেকে অতি ঊর্ধ্বে ও পবিত্র। যদি বলা হয়: আপনারা বলেন যে, রব্ব তাঁর বান্দাদেরকে কোনো কাজের আদেশ দেন অথচ তিনি তাদের নিকট থেকে তার বিপরীতটি চান। তিনি ইবলিসকে সিজদা করার আদেশ দিয়েছেন অথচ তার সিজদা করা চাননি, এবং ফেরাউনকে ঈমান আনার আদেশ দিয়েছেন অথচ তিনি চেয়েছেন যে সে তার কুফুরির ওপরই মৃত্যুবরণ করুক; আর অন্যান্য সকল কাফের ও পাপাচারীদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ। এটি কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তির পক্ষ থেকে কল্পনা করা যায় না। একজন প্রজ্ঞাবান ব্যক্তির জন্য কীভাবে এটি বৈধ হতে পারে যে, তিনি তাঁর গোলামকে কোনো আদেশ দেবেন অথচ তিনি তার আনুগত্য চান না? যে ব্যক্তি এমনটি করবে তাকে নির্বোধ এবং প্রজ্ঞাহীন হিসেবে গণ্য করা হবে। আমাদের মধ্য থেকে কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি যদি এমনটি করত, তবে তাকে নির্বোধ এবং বুদ্ধিমানদের দলছুট মনে করা হতো। কোনো বুদ্ধিমান বা প্রজ্ঞাবান ব্যক্তির পক্ষে এমনটি করা অকল্পনীয়। আর হে সুন্নাহর অনুসারীগণ, আপনারাই তো বলেন যে, যে ব্যক্তি কুফুরি ও নাফরমানির ওপর মৃত্যুবরণ করেছে অথচ তার নিকট রাসূল পাঠানো হয়েছিল এবং তাকে ঈমান ও আনুগত্যের আদেশ দেওয়া হয়েছিল, আল্লাহ মূলত তার ঈমান ও আনুগত্য চাননি। এটি কীভাবে কল্পনা করা যায়? অতএব আপনাদের এই বক্তব্যের সপক্ষে যুক্তি দাঁড় করান যা কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তির কাছে অকল্পনীয়।
(খণ্ড: ১)
হাযযুল গালাসিম ফী ইফহামিল মুখাসিম ইনদা জারইয়ানিন নাযারি ফী আহকামিল কাদার
(পৃষ্ঠা: ৪২)
قُلْنَا قد ثَبت بِالدَّلِيلِ الْقَاطِع والبرهان الساطع أَن الله تَعَالَى يتَصَرَّف فِي ملكه كَيفَ يَشَاء وَلَا يتَصَوَّر مِنْهُ ظلم أبدا لِأَنَّهُ إِنَّمَا يتَصَرَّف فِي ملكه لَا فِي ملك لغيره فَلَا يلْزمنَا إعتراضكم وَقد مهدنا هَذِه الْقَاعِدَة وَإِنَّمَا يبْقى استبعادكم أَن يَقع الْأَمر من الْحَكِيم لخلقه وَهُوَ لَا يُرِيد امْتِثَال أمره وَنحن نقطع استبعادكم بِصُورَة نفرضها يشْهد الْعُقَلَاء أَنَّهَا حَسَنَة وَأَن الْآمِر حَكِيم فِيمَا امْر بِهِ وَفِيمَا أَرَادَهُ مُخَالفا لأَمره
فَنَقُول لَو أنعم السُّلْطَان على بعض خواصه بمملوك وهبه لَهُ وأكرمه بِأَن يكون خَادِمًا لَهُ تَشْرِيفًا لَهُ فأهانه وضربه وطرده فَدخل الْخَادِم على السُّلْطَان باكيا شاكيا فَقَالَ أَنْعَمت بِي على من يجهل قدري وَلَا يعرف مِقْدَار نِعْمَتك عَلَيْهِ فأهانني وضربني وطردني وَفِي إهانتي إهانتك أَيهَا الْملك فَغَضب السُّلْطَان لذَلِك وَقَالَ عَليّ بفلان فأحضر بَين يَدَيْهِ فعتب عَلَيْهِ وَقَالَ أكرمتك بمملوكي يخدمك فأهنته وضربته وطردته
قَالَ ايها الْملك عُذْري فِيمَا فعلت وَاضح فَقَالَ أوضح عذرك وَإِلَّا انتقمت مِنْك فَقَالَ مَا أَمرته قطّ بِأَمْر فامتثله فأغضبني فطردته فَقَالَ الْملك إستحق الْعقُوبَة والنكال وَلَكِن قد صرت لَهُ خصما فَلَا أقبلك عَلَيْهِ إِلَّا بِدَلِيل أَو شَهَادَة فَقَالَ ايها الْملك أحضرهُ إِلَيّ بَين يَديك وَأَنا آمره بِأَمْر فَإِن امتثله فقد كذبت فِي قولي واستحققت النكال والعقوبة وَإِن لم يمتثل أَمْرِي فقد صَحَّ عِنْد الْملك عُذْري وَالْملك مُخَيّر بعد ذَلِك فَعِنْدَ ذَلِك أرسل الْملك من أحضر الْغُلَام وَأمره سَيّده بِأَمْر فيا أَيهَا السامعون الْعُقَلَاء المنصفون تدبروا هَذِه الْقَضِيَّة وَقُولُوا مَا عنْدكُمْ فِيهَا هَل السَّيِّد يُرِيد امْتِثَال أمره أم لَا يُرِيد امْتِثَال أمره فَإِن كَانَ يُرِيد امْتِثَال أمره فقد عرض نَفسه للهلاك وَإِن كَانَ قد أمره وَهُوَ لَا يُرِيد امْتِثَال أمره بِمَا لَا يُرِيد وَهُوَ عَاقل حَكِيم وَقد أَمر أمرا جزما وَهُوَ لَا يُرِيد وُقُوع الْمَأْمُور بِهِ وَلَا يعد عِنْد سَائِر الْعُقَلَاء سَفِيها وَلَا خَارِجا عَن الْحِكْمَة بل لَو ارد وُقُوع الْمَأْمُور بِهِ لعد سَفِيها مَجْنُونا فَإِذا كَانَ هَذَا فِي مَخْلُوق والحس شَاهده والعقلاء تستحسنه وَلَا تستبعده فَمن استبعد أَن يَقع نَظِيره من الْمَالِك الْحَقِيقِيّ الَّذِي لَا مَالك فَوْقه يَأْمُرهُ ويزجره وَلَا حَكِيم مثله فَمَا أجهله بحقائق الْأُمُور مَا أجهله وَقد قيل رمتني بدائها وانسلت
আমরা বলি, অকাট্য দলিল ও উজ্জ্বল প্রমাণের মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর মালিকানাধীন রাজত্বে যেভাবে ইচ্ছা পরিচালনা করেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে কখনও জুলুমের কল্পনা করা যায় না। কারণ তিনি কেবল তাঁর নিজ মালিকানাধীন রাজত্বেই পরিচালনা করেন, অন্যের রাজত্বে নয়। সুতরাং আপনাদের আপত্তি আমাদের ওপর বর্তায় না। আমরা এই মূলনীতিটি সুপ্রতিষ্ঠিত করেছি। আপনাদের কেবল সেই অসম্ভাব্যতাটুকুই রয়ে যায় যে, একজন প্রজ্ঞাবান সত্তা তাঁর সৃষ্টির প্রতি কোনো আদেশ দেবেন অথচ তিনি সেই আদেশের বাস্তবায়ন চান না। আমরা আপনাদের এই অসম্ভাব্যতাকে একটি কল্পিত উদাহরণের মাধ্যমে খণ্ডন করছি, যার ব্যাপারে বিবেকবানরা সাক্ষ্য দেবেন যে এটি একটি উত্তম উদাহরণ এবং আদেশদাতা যা আদেশ করেছেন এবং তাঁর আদেশের বিপরীতে যা ইচ্ছা করেছেন, তাতে তিনি প্রজ্ঞাবান।
আমরা বলি, যদি কোনো সুলতান তাঁর কোনো এক বিশেষ ব্যক্তিকে একজন দাসের মাধ্যমে অনুগ্রহ দান করেন, তাকে সেটি উপহার দেন এবং তাকে সম্মানিত করার জন্য সেই দাসকে তার সেবক হিসেবে নিয়োগ করেন, কিন্তু সেই ব্যক্তি দাসটিকে লাঞ্ছিত করল, প্রহার করল এবং তাড়িয়ে দিল। অতঃপর দাসটি কাঁদতে কাঁদতে এবং অভিযোগ করতে করতে সুলতানের নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, "আপনি আমাকে এমন একজনের নিকট অর্পণ করেছেন যে আমার মর্যাদা জানে না এবং আপনার নেয়ামতের কদর বোঝে না। সে আমাকে লাঞ্ছিত করেছে, প্রহার করেছে এবং তাড়িয়ে দিয়েছে। হে বাদশাহ, আমাকে লাঞ্ছিত করার অর্থ আপনাকেই লাঞ্ছিত করা।" এতে সুলতান রাগান্বিত হলেন এবং বললেন, "অমুককে আমার কাছে নিয়ে এসো।" তাকে তাঁর সামনে উপস্থিত করা হলে তিনি তাকে তিরস্কার করলেন এবং বললেন, "আমি আমার দাসকে দিয়ে তোমাকে সম্মানিত করেছি যাতে সে তোমার সেবা করে, অথচ তুমি তাকে লাঞ্ছিত করলে, প্রহার করলে এবং তাড়িয়ে দিলে!"
সে বলল, "হে বাদশাহ, আমি যা করেছি তার সপক্ষে আমার ওজর স্পষ্ট।" তিনি বললেন, "তোমার ওজর স্পষ্ট করো, অন্যথায় আমি তোমার থেকে প্রতিশোধ নেব।" সে বলল, "আমি তাকে যখনই কোনো আদেশ দিয়েছি, সে তা পালন করেনি। ফলে সে আমাকে রাগান্বিত করেছে এবং আমি তাকে তাড়িয়ে দিয়েছি।" বাদশাহ বললেন, "সে শাস্তি ও দণ্ডের যোগ্য হয়েছে। কিন্তু যেহেতু তুমি তার প্রতিপক্ষ হয়েছ, তাই আমি প্রমাণ বা সাক্ষী ছাড়া তোমার কথা গ্রহণ করব না।" সে বলল, "হে বাদশাহ, তাকে আপনার সামনে আমার কাছে উপস্থিত করুন এবং আমি তাকে একটি আদেশ দেব। যদি সে তা পালন করে, তবে আমি আমার কথায় মিথ্যাবাদী প্রমাণিত হব এবং শাস্তি ও দণ্ডের যোগ্য হব। আর যদি সে আমার আদেশ পালন না করে, তবে বাদশাহর নিকট আমার ওজর সঠিক বলে প্রমাণিত হবে। এরপর বাদশাহর যা ইচ্ছা তা করার অধিকার থাকবে।" তখন বাদশাহ লোক পাঠিয়ে সেই গোলামকে আনালেন এবং তার মালিক তাকে একটি আদেশ দিলেন। হে বিবেকবান ও ন্যায়নিষ্ঠ শ্রোতাগণ, এই বিষয়টি চিন্তা করুন এবং আপনাদের অভিমত ব্যক্ত করুন। সেই মালিক কি তার আদেশের বাস্তবায়ন চান, নাকি চান না? যদি তিনি তার আদেশের বাস্তবায়ন চান, তবে তো তিনি নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিলেন। আর যদি তিনি তাকে আদেশ দিয়ে থাকেন এমন কিছুর যা তিনি চান না (অর্থাৎ তার বাস্তবায়ন চান না), তবে তিনি একজন বুদ্ধিমান ও প্রজ্ঞাবান হওয়া সত্ত্বেও দৃঢ়ভাবে এমন আদেশ দিয়েছেন যার বাস্তবায়ন তিনি চান না। আর সকল বিবেকবানের নিকট তিনি নির্বোধ বলে গণ্য হবেন না এবং প্রজ্ঞার পরিপন্থীও বিবেচিত হবেন না। বরং তিনি যদি আদিষ্ট বিষয়ের বাস্তবায়ন চাইতেন, তবেই তিনি নির্বোধ বা পাগল বলে গণ্য হতেন। সুতরাং যদি এটি একজন সৃষ্টির ক্ষেত্রে হয়, যার সাক্ষী হলো অনুভূতি এবং বিবেকবানরা যা উত্তম মনে করেন ও অসম্ভব মনে করেন না—তবে যার ওপরে কোনো মালিক নেই এবং যার সমতুল্য কোনো প্রজ্ঞাবান নেই, সেই প্রকৃত মালিকের পক্ষ থেকে অনুরূপ বিষয় ঘটাকে যে অসম্ভব মনে করে, সে বিষয়ের বাস্তবতা সম্পর্কে কতই না অজ্ঞ! সে কতই না অজ্ঞ! যেমনটি বলা হয়, "সে নিজের রোগ আমার ওপর চাপিয়ে দিয়ে সটকে পড়ল।"
(খণ্ড: ১)
হাযযুল গালাসিম ফী ইফহামিল মুখাসিম ইনদা জারইয়ানিন নাযারি ফী আহকামিল কাদার
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
فَإِن قَالُوا فقد أفسدتم مَذْهَب الْقَائِلين بِأَن الإدارة نفس الْأَمر وعنيتم أَن الْحَكِيم يَصح مِنْهُ أَن يَأْمر بِمَا لَا يُرِيد وَصورتهَا الصُّورَة الْمَذْكُورَة فِي الْعِيد مَعَ سَيّده إِذا أمره وَهُوَ لَا يُرِيد امْتِثَال أمره ويتبين مِنْهَا وجود الْأَمر مَعَ عدم الْإِرَادَة وَهَذَا هُوَ حَقِيقَة الْغَيْر من أَن يُوجد أَحدهمَا مَعَ عدم الآخر فَإِذا ثَبت هَذَا وقلتم إِن الله تَعَالَى أَمر الْكفَّار أَن يُؤمنُوا وَلم يرد إِيمَانهم فَمَا كَانَ مِنْهُم إِيمَان وَلَا وجد وقلتم مَا شَاءَ الله كَانَ وَمَا لم يَشَأْ لم يكن فقد وَقع كفرهم وَوجد فَإِذن قد أَرَادَهُ الله فَكيف يصبح من الْحَكِيم الْعدْل أَن يُرِيد أَمر فَإِذا كَانَ مَا أرد عاقب المكتسب لَهُ عَلَيْهِ وَهَذَا مَالا يَصح وجوده من الْحَكِيم وَلَا يتَصَوَّر الْبَتَّةَ وَلَو فعله لخرج عَن الْحِكْمَة وَصَارَ سَفِيها جائرا وَلَيْسَت هَذِه صفة الْعَاقِل منا فَكيف الاله الحيكم الْعدْل
وَكَذَلِكَ إِذا اراد الْعَاقِل منا من عَبده أمرا فَفعله العَبْد فعاقبه السَّيِّد على وجود مُرَاده كَانَ ظَالِما معرضًا للوم كَافَّة الْعُقَلَاء
قُلْنَا هَذَا ذُهُول مِنْكُم وغفلة عَمَّا أوردناه ونورد من ذَلِك أَنا قدمنَا أَن الله سُبْحَانَهُ لَا يُقَاس عدله بِعدْل الْعباد إِذْ العَبْد يتَصَوَّر مِنْهُ الظُّلم بتصرفه فِي ملك غَيره وَلَا يتَصَوَّر الظُّلم من الله تَعَالَى فَإِنَّهُ لَا يُصَادف لغيره ملكا حَتَّى يكون تصرفه فِيهِ ظلما وَمن ذَلِك أَيْضا أَنه قد ثَبت أَن الْإِرَادَة غير الْأَمر وَنحن لَا نقُول أَن الله تَعَالَى أَمر الْكفَّار بالْكفْر وعاقبهم على مَا أَمرهم بِهِ بل نقُول أَن الله تَعَالَى يَأْمر بِالْعَدْلِ والاحسان وَينْهى عَن الْفَحْشَاء وَالْمُنكر فَلم يبْق إِلَّا استبعادكم من كَون الْحَكِيم يُعَاقب على مَا أَرَادَ وقلتم أَنه لَا يتَصَوَّر وَلَا يَفْعَله الْحَكِيم أبدا قُلْنَا نَحن نفرض صُورَتَيْنِ ذكرهمَا عُلَمَاؤُنَا رضي الله عنهم فِي جَوَاز وُقُوع الْعقُوبَة من الْحَكِيم الْعدْل على مَا أَرَادَهُ وَلَا يعد سَفِيها وَلَا خَارِجا عَن الْحِكْمَة وَلَا يلومه الْعُقَلَاء على الْعقُوبَة
أما الصُّورَة الأولى فَأن يكون للعاقل منا عبيد وَفِيهِمْ عبد مُخَالف لسَيِّده وسالكا للطرائق الذميمة وَهُوَ يمقته ويبغضه ويتمنى أَن لَو أراحه الله مِنْهُ بِمَوْت أَو
তারা যদি বলে: তবে তো আপনারা সেই মতবাদীদের মতকে অসার করে দিলেন যারা বলে যে ইচ্ছা এবং আদেশ অভিন্ন। আর আপনারা এটিই বুঝাতে চেয়েছেন যে, প্রজ্ঞাবান সত্তার পক্ষে এমন বিষয়ের নির্দেশ দেওয়া সম্ভব যা তিনি ইচ্ছা করেন না। এর দৃষ্টান্তটি হলো গোলামের সেই অবস্থা যা ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে, যখন তার মনিব তাকে আদেশ দেয় অথচ সে চায় না যে তার আদেশের বাস্তবায়ন হোক; এবং এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও আদেশ বিদ্যমান থাকতে পারে। আর এটিই হলো 'ভিন্নতা'র প্রকৃত অর্থ যে, একটির অনুপস্থিতিতে অন্যটি বিদ্যমান থাকা। সুতরাং যখন এটি সাব্যস্ত হলো এবং আপনারা বললেন যে, আল্লাহ তাআলা কাফেরদের ঈমান আনার আদেশ দিয়েছেন অথচ তাদের ঈমান আনার ইচ্ছা করেননি, ফলে তাদের পক্ষ থেকে কোনো ঈমান প্রকাশ পায়নি এবং তা অস্তিত্ব লাভ করেনি; অথচ আপনারা বলেন যে, আল্লাহ যা চেয়েছেন তা-ই হয়েছে এবং যা তিনি চাননি তা হয়নি; সেহেতু তাদের কুফর সংঘটিত হয়েছে এবং অস্তিত্ব লাভ করেছে, সুতরাং প্রমাণিত হলো যে আল্লাহ তা ইচ্ছা করেছেন। এমতাবস্থায় একজন প্রজ্ঞাবান ও ন্যায়পরায়ণ সত্তার পক্ষে কীভাবে এটি সমীচীন হতে পারে যে, তিনি একটি বিষয় ইচ্ছা করবেন, আর যখন তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী তা সংঘটিত হবে তখন সেই কার্য সম্পাদনকারীকে তিনি তার ওপর শাস্তি প্রদান করবেন? এটি কোনো প্রজ্ঞাবান সত্তার পক্ষ থেকে হওয়া অসম্ভব এবং মোটেও কল্পনাযোগ্য নয়। যদি তিনি এটি করতেন তবে তিনি হিকমত বা প্রজ্ঞার সীমা থেকে বিচ্যুত হতেন এবং নির্বোধ ও জালেম বলে গণ্য হতেন। আমাদের মাঝে কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তিরই এটি বৈশিষ্ট্য নয়, তবে মহান প্রজ্ঞাবান ও ন্যায়পরায়ণ ইলাহের ক্ষেত্রে এটি কীভাবে সম্ভব?
অনুরূপভাবে, আমাদের মধ্য থেকে কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি যদি তার দাসের কাছে কোনো বিষয় ইচ্ছা করেন এবং দাস তা পালন করে, অতঃপর সেই মনিব যদি তার ইচ্ছার বাস্তবায়নের কারণে তাকে শাস্তি দেন, তবে তিনি জালেম হিসেবে গণ্য হবেন এবং সকল বুদ্ধিমান মানুষের নিন্দার পাত্র হবেন।
আমরা জবাবে বলব: এটি আপনাদের বিভ্রান্তি এবং আমরা যা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি এবং সামনে যা উল্লেখ করব সে বিষয়ে আপনাদের অসতর্কতা। আমরা আগেই বলেছি যে, মহান আল্লাহর ন্যায়বিচারকে বান্দার ন্যায়বিচারের সাথে তুলনা করা যাবে না। কারণ, বান্দার ক্ষেত্রে অন্যের মালিকানাধীন বিষয়ে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে জুলুমের ধারণা করা সম্ভব, কিন্তু মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে জুলুমের কল্পনা করা যায় না। কেননা তিনি অন্যের মালিকানাধীন এমন কিছুই পান না যে সেখানে তাঁর হস্তক্ষেপ জুলুম হিসেবে গণ্য হবে। এর মধ্য থেকে আরও একটি বিষয় হলো, এটি সুপ্রমাণিত যে ইচ্ছা এবং আদেশ এক নয়। আমরা এটি বলি না যে আল্লাহ তাআলা কাফেরদের কুফরের আদেশ দিয়েছেন এবং তিনি তাদের সেই বিষয়ের ওপর শাস্তি দিচ্ছেন যার আদেশ তিনি নিজেই দিয়েছেন। বরং আমরা বলি যে, আল্লাহ তাআলা ন্যায়বিচার ও সদাচরণের আদেশ দেন এবং অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করেন। সুতরাং এখন কেবল আপনাদের সেই সংশয়টুকুই অবশিষ্ট রইল যেখানে আপনারা মনে করছেন যে কোনো প্রজ্ঞাবান সত্তা তাঁর ইচ্ছাকৃত বিষয়ের ওপর শাস্তি দিতে পারেন না এবং এটি কখনও সম্ভব নয়। আমরা জবাবে বলছি: আমরা দুটি চিত্র বা উদাহরণ পেশ করছি যা আমাদের উলামায়ে কেরাম (আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন) বর্ণনা করেছেন। এই উদাহরণগুলো একজন প্রজ্ঞাবান ও ন্যায়পরায়ণ সত্তার পক্ষ থেকে নিজের ইচ্ছাকৃত বিষয়ের ওপর শাস্তি প্রদানের বৈধতা প্রমাণ করবে এবং তাঁকে নির্বোধ কিংবা হিকমত বহির্ভূত বলা হবে না, আর বুদ্ধিমানগণও এই শাস্তির কারণে তাঁকে নিন্দা করবে না।
প্রথম চিত্রটি হলো: আমাদের মধ্য থেকে কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তির একাধিক দাস রয়েছে এবং তাদের মধ্যে এমন এক দাস আছে যে তার মনিবের অবাধ্য এবং নিন্দনীয় পথে পরিচালিত হয়। ফলে মনিব তাকে ঘৃণা করেন ও চরম অপছন্দ করেন এবং মনে মনে কামনা করেন যে যদি আল্লাহ তাকে মৃত্যু অথবা অন্য কিছুর মাধ্যমে তাকে তার থেকে মুক্তি দিতেন।
(খণ্ড: ১)
হাযযুল গালাসিম ফী ইফহামিল মুখাসিম ইনদা জারইয়ানিন নাযারি ফী আহকামিল কাদার
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
بِمن يقْتله وَعلم النَّاس ذَلِك فِيهِ فَقتل ذَلِك الْغُلَام بعض مماليكه فَبَلغهُ قَتله ففرح بِهِ وسر ثمَّ وجد قَاتله فَأنْكر عَلَيْهِ قَتله الْغُلَام وَقَالَ لَهُ كَيفَ تقتل غلامي بِغَيْر إذني فَقَالَ سَيِّدي وَالله مَا قتلته إِلَّا لأريحك مِنْهُ لِأَنَّك تمقته وَعلمت مرادك فِيهِ فأرحت الدُّنْيَا مِنْهُ وأرحتك من سوء فعله فَأمر بقتْله وَهَذِه عُقُوبَة قد وجدت من عَاقل حَكِيم عَادل وَهِي عُقُوبَة على ماأراده وتمناه وَمَعَ ذَلِك لم يخرج من حزب الْعُقَلَاء وَلَا عَن الْحِكْمَة ولايلومه أحد بل لَو تَركه لعرض نَفسه لخطر الْمُطَالبَة من إلهه ومالكه على ترك الْقصاص فَإِنَّهُ الَّذِي امْر بقتل النَّفس بِالنَّفسِ فَكيف بِمَالك لَا آمُر فَوْقه يَأْمُرهُ ويزجره وَيحد لَهُ الْحُدُود وهويتصرف فِي ملكه تَصرفا كليا وَلَا يخَاف مُطَالبَة وَلَا عُقُوبَة ولالوما وَلَا حجرا وَهُوَ {لَا يسْأَل عَمَّا يفعل وهم يسْأَلُون} وَالصُّورَة الثَّانِيَة فِي ملكَيْنِ يملكَانِ الدُّنْيَا كل مِنْهَا فِي مَمْلَكَته فَخرج
أَحدهمَا على الآخر وجهز العساكر والجيوش إِلَى بِلَاد الْملك الآخر فدهمه بَغْتَة وَوصل إِلَى أَطْرَاف بِلَاده وَالْملك غافل عَنهُ فَلَمَّا صَحَّ عِنْده خَبره نَهَضَ إِلَيْهِ وَلم تكن عساكره وجيوشه مجتمعة وَخَافَ أَن يصل إِلَيْهِ فَتوجه مَعَ من حَضَره من جنده فشاهد جَيْشًا عرمرما وعساكر عَظِيمَة هائلة لَا يُطيق ملاقاته فلاطفه ولاينه بِكُل كَلَام رَقِيق وهاداه وجامله حَتَّى اسْتَحى مِنْهُ وَرجع عَن بِلَاده وَقد هادنه سنة لَا يُؤْذِيه ولايغير على بِلَاده فَلَمَّا انْصَرف عَنهُ عَائِدًا إِلَى بِلَاده ومملكته رجعت عَسَاكِر الْملك الَّتِي كَانَت غَائِبَة وهرعت إِلَيْهِ من كل فج عميق فَرَأى مَا أعجبه فتمنى أَن لَو نقض الْهُدْنَة بِأَمْر يحدث ليجد السَّبِيل إِلَى نقض الْعَهْد وَفسخ الْهُدْنَة الَّتِي بَينه وَبَينه فاتفق أَن غُلَاما لهَذَا الْملك خَالف عَلَيْهِ ونافق وَخرج عَلَيْهِ ثائرا فَسمع بِهِ ذَلِك الْملك الآخر فَجهز إِلَيْهِ جَيْشًا يتنصح بقتْله إِلَى الْملك فَلَقِيَهُ الْجَيْش فَقتل الْغُلَام فوصل الْخَبَر إِلَى الْملك بقتل غُلَامه الثائر عَلَيْهِ فَحَمدَ الله وَأثْنى عَلَيْهِ ثمَّ جَيش ذَلِك الْجَيْش الْعَظِيم إِلَى الْملك وَتَقَدَّمت رسائله إِلَيْهِ تَقول لَهُ فسخت مَا بيني وَبَيْنك بقتل غلامي فَبعث إِلَيْهِ مَا قتلته إِلَّا فِي طَاعَتك فَقَالَ لَهُ يَا هَذَا مَا أَمرتك بقتْله ولابد من لقائك واستبيح بلادك وقتلك فَلم يشْعر ذَلِك الْملك حَتَّى وطيء بِلَاده
যিনি তাকে হত্যা করবে এবং মানুষেরা তা তার সম্পর্কে জানত। অতঃপর সেই গোলামকে তার জনৈক মালিকানাধীন ব্যক্তি হত্যা করল। যখন তার হত্যার সংবাদ তার নিকট পৌঁছাল, তখন সে তাতে আনন্দিত ও প্রফুল্ল হলো। এরপর সে হত্যাকারীকে খুঁজে বের করল এবং তার অনুমতি ব্যতীত গোলামকে হত্যার কারণে তাকে তিরস্কার করল। সে তাকে বলল: "তুমি কীভাবে আমার অনুমতি ছাড়া আমার গোলামকে হত্যা করলে?" সে বলল: "হে আমার মনিব, আল্লাহর কসম! আমি তাকে কেবল আপনাকে তার থেকে স্বস্তি দিতেই হত্যা করেছি; কারণ আপনি তাকে ঘৃণা করতেন এবং আমি এ বিষয়ে আপনার উদ্দেশ্য জানতাম। তাই আমি দুনিয়াকে তার থেকে এবং আপনাকে তার মন্দ কাজ থেকে মুক্তি দিয়েছি।" অতঃপর তিনি তাকে হত্যার আদেশ দিলেন। আর এটি এমন এক শাস্তি যা একজন বুদ্ধিমান, প্রজ্ঞাবান ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির পক্ষ থেকে প্রদান করা হয়েছে। এটি ছিল এমন একটি বিষয়ের ওপর শাস্তি যা তিনি নিজেই চেয়েছিলেন এবং কামনা করেছিলেন; তা সত্ত্বেও তিনি বুদ্ধিমানদের দল থেকে কিংবা হিকমতের গণ্ডি থেকে বিচ্যুত হননি এবং কেউ তাকে এ জন্য নিন্দা করে না। বরং তিনি যদি তাকে ছেড়ে দিতেন, তবে কিসাস বা দণ্ডবিধি বর্জন করার কারণে তিনি নিজের ইলাহ ও মালিকের পক্ষ থেকে জবাবদিহিতার ঝুঁকির সম্মুখীন হতেন। কারণ তিনিই প্রাণের বদলে প্রাণ হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং সেই মালিকের (আল্লাহর) ক্ষেত্রে বিষয়টি কেমন হবে, যার উপরে কোনো নির্দেশদাতা নেই যিনি তাঁকে আদেশ করবেন বা নিষেধ করবেন কিংবা তাঁর জন্য কোনো সীমা নির্ধারণ করবেন? তিনি তাঁর রাজত্বে পূর্ণাঙ্গভাবে যা ইচ্ছা তা-ই করেন এবং তিনি কোনো জবাবদিহিতা, শাস্তি, নিন্দা বা বাধার ভয় করেন না। আর তিনি এমন যে, "তিনি যা করেন সে বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হবে না, বরং তাদেরকেই প্রশ্ন করা হবে।" দ্বিতীয় চিত্রটি হলো এমন দুই বাদশাহর বিষয়ে যারা পৃথিবী শাসন করে এবং প্রত্যেকেই তার নিজস্ব রাজ্যে অবস্থান করে। অতঃপর তাদের
একজন অন্যজনের বিরুদ্ধে বের হলো এবং অন্য বাদশাহর রাজ্যের দিকে সৈন্য ও বাহিনী সজ্জিত করল। সে অতর্কিতে তাকে আক্রমণ করল এবং তার রাজ্যের সীমানায় পৌঁছে গেল, অথচ সেই বাদশাহ তার ব্যাপারে অসতর্ক ছিলেন। যখন তার নিকট সংবাদটি নিশ্চিত হলো, তখন তিনি তার দিকে অগ্রসর হলেন, কিন্তু তার সৈন্য ও বাহিনীসমূহ একত্রিত ছিল না। তিনি ভয় পেলেন যে শত্রু তার নিকট পৌঁছে যাবে, তাই তিনি উপস্থিত সৈন্যদের নিয়ে বের হলেন। সেখানে তিনি এক বিশাল ও ভয়ানক বাহিনী প্রত্যক্ষ করলেন যার মোকাবিলা করার সামর্থ্য তার ছিল না। ফলে তিনি অত্যন্ত নম্র ও কোমল ভাষায় তার সাথে কথা বললেন, তাকে উপঢৌকন দিলেন এবং তার সাথে সৌজন্যমূলক আচরণ করলেন, যার ফলে সে লজ্জিত হলো এবং তার রাজ্য থেকে ফিরে গেল। সে এক বছরের জন্য এই মর্মে সন্ধি করল যে, সে তাকে কষ্ট দেবে না এবং তার রাজ্যে আক্রমণ করবে না। যখন সে তার নিজ রাজ্যে ফিরে গেল, তখন ঐ (প্রথম) বাদশাহর অনুপস্থিত বাহিনীগুলো ফিরে এল এবং দূর-দূরান্ত থেকে তার নিকট ছুটে এল। তিনি যা দেখলেন তাতে আনন্দিত হলেন এবং মনে মনে কামনা করতে লাগলেন যে, যদি কোনো একটি কারণ তৈরি হতো যার মাধ্যমে এই সন্ধি ভেঙে ফেলা যায়, যাতে তিনি চুক্তিভঙ্গ ও সন্ধি বাতিলের পথ খুঁজে পান। ঘটনাক্রমে ঐ বাদশাহর এক গোলাম তার অবাধ্য হলো, বিদ্রোহ করল এবং তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করল। অন্য বাদশাহ সেই সংবাদ শুনতে পেয়ে তার নিকট হিতৈষী সেজে তাকে হত্যার জন্য একটি সৈন্যদল পাঠাল। সৈন্যদল তার মুখোমুখি হয়ে সেই গোলামকে হত্যা করল। যখন বাদশাহর নিকট তার বিদ্রোহী গোলামের নিহত হওয়ার সংবাদ পৌঁছাল, তখন তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন। অতঃপর তিনি ঐ বাদশাহর বিরুদ্ধে এক বিশাল বাহিনী প্রস্তুত করলেন এবং তার নিকট এই মর্মে পত্র পাঠালেন যে: "আমার গোলামকে হত্যার মাধ্যমে আমি তোমার ও আমার মধ্যকার সন্ধি বাতিল করলাম।" সে তাকে উত্তর পাঠাল: "আমি তাকে কেবল আপনার আনুগত্য প্রদর্শন করতেই হত্যা করেছি।" তিনি তাকে বললেন: "হে লোক, আমি তোমাকে তাকে হত্যার নির্দেশ দিইনি। অবশ্যই আমি তোমার মুখোমুখি হব এবং তোমার দেশ ও জীবন লুণ্ঠন করব।" ফলে সেই বাদশাহ টেরও পেলেন না, তার আগেই তিনি তার রাজ্য পদদলিত করলেন।
(খণ্ড: ১)
হাযযুল গালাসিম ফী ইফহামিল মুখাসিম ইনদা জারইয়ানিন নাযারি ফী আহকামিল কাদার
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
وَقَتله وَملك بِلَاده وَوجد السَّبِيل إِلَى ذَلِك كُله بقتل الْغُلَام الَّذِي كَانَ يتَمَنَّى قَتله قبلغ مناه ونال مَا تمناه وَمَعَ ذَلِك حسن عِنْد الْعُقَلَاء النهوض إِلَيْهِ وَقَتله وَلم يلم عَلَيْهِ ولاذم فِي فعله بل أَتَتْهُ الْوُفُود من الْخَلَائق يهنونه بالظفر بذلك الْملك وببلاده وَلم يخرج عَن الْحِكْمَة وَلَا عد سَفِيها فِي فعله ولتعرض فعله الْآن على عقلك وعَلى عقل جَمِيع الْعُقَلَاء فَافْهَم هَذِه الْأَمْثِلَة تتَصَوَّر عنْدك كَيْفيَّة إِجْرَاء أقدار الله فِي خلقه وَيَنْقَطِع عَنْك شغب الخالين عَن الْعلم فَلَيْسَ من جهل كمن علم وَقَالَ الله تَعَالَى {قل هَل يَسْتَوِي الَّذين يعلمُونَ وَالَّذين لَا يعلمُونَ} وَقَالَ الله تَعَالَى لنَبيه عليه السلام {وَقل رب زِدْنِي علما} وَقَالَ تَعَالَى {إِنَّمَا يخْشَى الله من عباده الْعلمَاء}
بل مَا خلق الله السَّمَوَات وَالْأَرضين وَمَا بَينهمَا إِلَّا لأجل الْعلم كَمَا قَالَ تَعَالَى {الله الَّذِي خلق سبع سماوات وَمن الأَرْض مِثْلهنَّ يتنزل الْأَمر بَينهُنَّ لِتَعْلَمُوا أَن الله على كل شَيْء قدير} لَا على رَأْي الْقَدَرِيَّة الَّذين يَقُولُونَ إِن الله تَعَالَى إِنَّمَا هُوَ قَادر على أَفعاله دون أَفعَال خلقه سددك الله وأرشدك
তাকে হত্যা করা হলো এবং তার রাজ্য দখল করা হলো। আর এই সবকিছুর পথ প্রশস্ত হলো সেই কিশোরকে হত্যার মাধ্যমে, যাকে তিনি আগে থেকেই হত্যা করতে চেয়েছিলেন। ফলে তিনি তাঁর উদ্দেশ্য হাসিল করলেন এবং যা চেয়েছিলেন তা লাভ করলেন। তা সত্ত্বেও বুদ্ধিমানদের নিকট তাঁর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা এবং তাঁকে হত্যা করা প্রশংসনীয় সাব্যস্ত হয়েছে। তাঁর এই কাজের জন্য তাঁকে তিরস্কার করা হয়নি এবং কোনো নিন্দাও করা হয়নি। বরং সৃষ্টির বিভিন্ন প্রতিনিধিদল তাঁর কাছে এসে সেই রাজার ওপর বিজয় এবং তাঁর রাজ্য জয়ের জন্য তাঁকে অভিনন্দন জানাতে লাগল। তিনি প্রজ্ঞার পরিপন্থী কিছু করেননি এবং তাঁর এই কাজে তাঁকে নির্বোধও গণ্য করা হয়নি। এখন আপনি তাঁর এই কাজটিকে আপনার নিজের বিবেকের কাছে এবং সমস্ত বুদ্ধিমানদের বিবেকের কাছে উপস্থাপন করুন। সুতরাং এই উদাহরণগুলো অনুধাবন করুন, যাতে আপনার কাছে সৃষ্টির মাঝে আল্লাহর তাকদির কার্যকর হওয়ার পদ্ধতি চিত্রিত হয় এবং জ্ঞানশূন্য ব্যক্তিদের হট্টগোল আপনার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কেননা যে অজ্ঞ, সে কি সেই ব্যক্তির সমান হতে পারে যে জ্ঞানী? আল্লাহ তাআলা বলেছেন, {বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না তারা কি সমান হতে পারে?} এবং আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)-কে বলেছেন, {আর বলুন, হে আমার রব! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন।} এবং মহান আল্লাহ বলেছেন, {আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল জ্ঞানীরাই তাঁকে ভয় করে।}
বরং আল্লাহ আসমানসমূহ ও জমিনসমূহ এবং এগুলোর মধ্যবর্তী সবকিছু কেবল জ্ঞানের জন্যই সৃষ্টি করেছেন, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন, {আল্লাহই সেই সত্তা যিনি সাত আসমান এবং অনুরূপ সংখ্যক জমিন সৃষ্টি করেছেন। এগুলোর মাঝে নির্দেশ অবতীর্ণ হয় যাতে তোমরা জানতে পার যে, আল্লাহ সবকিছুর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।} এটি ক্বাদারিয়াদের মতবাদের মতো নয় যারা বলে যে, আল্লাহ তাআলা কেবল তাঁর নিজের কাজের ওপর ক্ষমতাবান, তাঁর সৃষ্টির কাজের ওপর নন। আল্লাহ আপনাকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন এবং সুপথ প্রদর্শন করুন।